(খণ্ড: ১)
তাদবীনুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ ফিল কারনাইনিস সানি ওয়াস স্যালিসি লিল হিজরাহ
(পৃষ্ঠা: -)
تدوين السنة النبوية في القرنين الثاني والثالث للهجرة القسم: علوم الحديث
الكتاب: تدوين السنة النبوية في القرنين الثاني والثالث للهجرة
المؤلف: محمد بن صادق بنكيران
الناشر: مجمع الملك فهد لطباعة المصحف الشريف بالمدينة المنورة
عدد الصفحات: 57
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
হিজরি দ্বিতীয় ও তৃতীয় শতাব্দীতে সুন্নাহর লিপিবদ্ধকরণ (تدوين) বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث)
গ্রন্থ: হিজরি দ্বিতীয় ও তৃতীয় শতাব্দীতে সুন্নাহর লিপিবদ্ধকরণ (تدوين)
লেখক: মুহাম্মাদ বিন সাদিক বেনকিরান
প্রকাশক: মদিনা মুনাওয়ারার পবিত্র কুরআন মুদ্রণের জন্য বাদশাহ ফাহদ কমপ্লেক্স
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৭
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
তাদবীনুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ ফিল কারনাইনিস সানি ওয়াস স্যালিসি লিল হিজরাহ
(পৃষ্ঠা: ১)
تدوين السنة النبوية في القرنين الثاني والثالث للهجرة
إعداد الدكتور محمد بنكيران
بسم الله الرحمن الرحيم
مدخل:تعد عملية تدوين السنة النبوية واحدة من أهم العمليات في تاريخ الإسلام على نحو عام، أفنى فيها أجيال من العلماء أعمارهم، وركزوا فيها أخلص جهودهم، واستخدموا لإنجاحها نبوغهم وإبداعهم وثاقب فكرهم، ونالت من اهتمامهم وعنايتهم الشيء الكثير، وهي تحظى في الدرس الحديثي بمكانة خاصة ومتميزة من حيث قيمتها والأهمية التي تكتسبها، وذلك لكونها المرآة المجلية لطبيعة عمل المحدثين تجاه السنة النبوية وحقيقته وآثاره، والمبرزة للمقاصد والأغراض التي كانوا يطمحون إلى تحقيقها من وراء هذه العملية والتي وجد فيها ما هو منهجي، وما هو نقدي، وما هو عقدي، وما هو أصولي، وما هو فقهي استنباطي، وما هو حضاري. وبناء على هذا فهي بوابة رئيسة لأكثر من مجال، وميدان خصب بالدلالات والإشارات، ومفتاح للرؤية الشمولية والنسق العام الذي تحرك في إطاره المحدثون في خدمتهم للسنة النبوية وعنايتهم بها، وهي الواجهة التي تعكس حقيقة اتجاهاتهم واختياراتهم، الأمر الذي يجعل من هذه القضية إحدى القضايا التي تتطلب الدرس العميق والبحث الموسع.
হিজরি দ্বিতীয় ও তৃতীয় শতাব্দীতে সুন্নাহর সংকলন ও লিপিবদ্ধকরণ (تدوين)
ড. মুহাম্মদ বেনকিরান কর্তৃক প্রস্তুতকৃত
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকা:সাধারণভাবে সুন্নাহর সংকলন ও লিপিবদ্ধকরণ (تدوين) প্রক্রিয়াটি ইসলামি ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচিত। আলেমদের বহু প্রজন্ম এতে তাদের পুরো জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের একনিষ্ঠ প্রচেষ্টা এতে নিবদ্ধ করেছেন এবং একে সফল করার জন্য তারা তাদের প্রতিভা, সৃজনশীলতা ও সুতীক্ষ্ণ চিন্তাশক্তিকে কাজে লাগিয়েছেন। এটি তাদের প্রচুর মনোযোগ ও যত্ন লাভ করেছে। হাদিস অধ্যয়নের ক্ষেত্রে এর মূল্য ও অর্জিত গুরুত্বের কারণে এটি একটি বিশেষ ও স্বতন্ত্র মর্যাদার অধিকারী। কারণ এটি সুন্নাহর প্রতি মুহাদ্দিসগণের কাজের প্রকৃতি, তার বাস্তবতা ও প্রভাবের একটি স্বচ্ছ দর্পণ এবং এটি সেই সব লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে ফুটিয়ে তোলে যা তারা এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অর্জনের আকাঙ্ক্ষা করতেন। এর মধ্যে পদ্ধতিগত (منهجي), পর্যালোচনামূলক (نقدي), আকীদাহগত (عقدي), মূলনীতিগত (أصولي), গবেষণালব্ধ ফিকহী (استنباطي) এবং সভ্যতা সংশ্লিষ্ট দিক খুঁজে পাওয়া যায়। এর ভিত্তিতে, এটি একাধিক বিষয়ের প্রধান প্রবেশদ্বার এবং বিভিন্ন অর্থ ও ইঙ্গিতে সমৃদ্ধ এক উর্বর ক্ষেত্র। এটি সেই সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি ও সাধারণ কাঠামোর চাবিকাঠি যার অধীনে মুহাদ্দিসগণ সুন্নাহর সেবা ও পরিচর্যায় সচেষ্ট ছিলেন। এটি এমন এক বাতায়ন যা তাদের ঝোঁক ও পছন্দের প্রকৃত রূপকে প্রতিফলিত করে, যা এই বিষয়টিকে এমন এক বিষয়ে পরিণত করে যার জন্য গভীর অধ্যয়ন এবং বিস্তৃত গবেষণার প্রয়োজন।
(খণ্ড: ১)
তাদবীনুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ ফিল কারনাইনিস সানি ওয়াস স্যালিসি লিল হিজরাহ
(পৃষ্ঠা: ১)
1-
تحديد المصطلحات:إن عنوان هذا العرض هو "تدوين السنة النبوية في القرون الثاني والثالث والرابع"، فهل يعني ذلك أن ما وقع في هذه القرون المتباينة يسمى جميعه تدويناً، وأن ما جرى استعماله من المصطلحات في هذه القضية هو مصطلح التدوين فقط دون أي مصطلح آخر؟.
إن مسألة المصطلح مهمة جدا في مثل هذه المجالات كما هو معلوم وهو
1-
পরিভাষা (مصطلح) নির্ধারণ:এই উপস্থাপনার শিরোনাম হলো "দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শতাব্দীতে সুন্নাহ নববী সংকলন (تدوين)", তবে কি এর অর্থ এই যে, এই ভিন্ন ভিন্ন শতাব্দীগুলোতে যা কিছু সংঘটিত হয়েছে তার সবটুকুই সংকলন (تدوين) হিসেবে অভিহিত হবে এবং এই বিষয়ে কেবল সংকলন (تدوين) পরিভাষাটিই (مصطلح) ব্যবহৃত হয়েছে, অন্য কোনো পরিভাষা (مصطلح) নয়?
যেমনটি জানা আছে যে, এই ধরনের ক্ষেত্রগুলোতে পরিভাষা (مصطلح) সংক্রান্ত বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তা
(খণ্ড: ১)
তাদবীনুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ ফিল কারনাইনিস সানি ওয়াস স্যালিসি লিল হিজরাহ
(পৃষ্ঠা: ২)
يرمز إلى وجود التطور أو عدمه؛ وذلك لأن تعدد المصطلحات وتباينها يشير إلى أن العملية قد مرت بأطوار متعددة، وكان لها في كل مرحلة مناهج جديدة، وخصائص وميزات مباينة لما سبق، فكان لابد من تمييزها على مستوى المصطلح، والعكس بالعكس، أي: إن وجود مصطلح واحد يعني جمودها على وضع واحد، وبُعْدها عن أي شكل من أشكال التطور.
وبناء على ذلك فإن ما يتداول في قضيتنا هاته ليس هو مصطلح التدوين فقط، بل معه مصطلحان اثنان: هما الكتابة والتصنيف.
فمما ورد في الكتابة: ما رواه أبو هريرة رضي الله عنه قال: لما فتح الله على رسول صلى الله عليه وسلم مكة، قام في الناس، فحمد الله وأثنى عليه، (وخطب خطبة) فقام أبو شاه، رجل من أهل اليمن، فقال: اكتبوا لي يا رسول الله، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "اكتبوا لأبي شاه" (1) ، ومثله كذلك ما ورد عن عبد الله بن عمرو بن العاص قال: كنت أكتب كل شيء أسمعه من رسول الله صلى الله عليه وسلم أريد حفظه، فنهتني قريش وقالوا: أتكتب كل شيء تسمعه، ورسول الله صلى الله عليه وسلم بَشَرٌ يتكلم في الغضب والرضا، فأمسكت عن الكتاب، فذكرت ذلك لرسول الله صلى الله عليه وسلم، فأومأ بأصبعه إلى فيه فقال: "اكتب فوالذي نفسي بيده ما يخرج منه إلا حقٌّ" (2) .
ومما ورد في التدوين قول الإمام الزهري محمد بن مسلم (ت 124هـ) :
--------------------------------------------
এটি বিবর্তনের অস্তিত্ব বা অনস্তিত্বের প্রতীক হিসেবে কাজ করে; কেননা পরিভাষার আধিক্য ও বৈচিত্র্য নির্দেশ করে যে, এই প্রক্রিয়াটি বিভিন্ন স্তরের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে। প্রতিটি পর্যায়ে এর নতুন নতুন পদ্ধতিসমূহ (مناهج), বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলি ছিল যা পূর্ববর্তী পর্যায় থেকে ভিন্ন। তাই পরিভাষার স্তরে এগুলোকে পৃথকভাবে চিহ্নিত করা অপরিহার্য ছিল। এর বিপরীতটি একইভাবে সত্য, অর্থাৎ একটিমাত্র পরিভাষার উপস্থিতি মানে হলো একটি নির্দিষ্ট অবস্থায় স্থবিরতা এবং যেকোনো প্রকারের বিবর্তন থেকে দূরত্ব।
এর ওপর ভিত্তি করে বলা যায় যে, আমাদের আলোচ্য বিষয়ে শুধুমাত্র সংকলন (تدوين) পরিভাষাটিই প্রচলিত নয়, বরং এর সঙ্গে আরও দুটি পরিভাষা রয়েছে: সেগুলো হলো লিখন (كتابة) এবং শ্রেণীবদ্ধকরণ (تصنيف)।
লিখনের (كتابة) বিষয়ে যা বর্ণিত হয়েছে: আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহ যখন তাঁর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্য মক্কা বিজয় সম্পন্ন করলেন, তখন তিনি লোকদের মাঝে দাঁড়ালেন। এরপর আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করলেন (এবং একটি ভাষণ দিলেন)। তখন ইয়েমেনের অধিবাসী আবু শাহ নামক এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! আমার জন্য এটি লিখে দিন। তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "তোমরা আবু শাহ-এর জন্য লিখে দাও।" (১), একইভাবে যা আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে যা কিছু শুনতাম তা মুখস্থ করার উদ্দেশ্যে লিখে রাখতাম। তখন কুরাইশরা আমাকে নিষেধ করল এবং বলল: তুমি কি যা কিছু শোন সবই লিখে রাখো? অথচ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একজন মানুষ, তিনি রাগান্বিত ও সন্তুষ্ট উভয় অবস্থাতেই কথা বলেন। ফলে আমি লেখা থেকে বিরত থাকলাম এবং বিষয়টি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জানালাম। তিনি নিজের আঙ্গুল দিয়ে তাঁর পবিত্র মুখের দিকে ইশারা করে বললেন: "তুমি লেখো, সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ, এখান থেকে সত্য ছাড়া অন্য কিছু বের হয় না।" (২)।
আর সংকলন (تدوين) সম্পর্কে ইমাম জুহরি মুহাম্মদ ইবনে মুসলিম (মৃত্যু ১২৪ হিজরি)-এর উক্তিটি বর্ণিত হয়েছে:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাদবীনুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ ফিল কারনাইনিস সানি ওয়াস স্যালিসি লিল হিজরাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
"لم يدون هذا العلم أحد قبل تدويني" (1) ، وقال الإمام مالك بن أنس: "أول من دون العلم ابن شهاب" (2) .
ومما ورد في التصنيف قول عبد الرزاق الصنعاني: "أول من صنف الكتب ابن جريج" (3) وقول ابن عدي عن يحيى الحماني: إنه أول من صنف المسند بالكوفة، وقال: "وأول من صنف المسند بالبصرة مسدد، وأول من صنف المسند بمصر أسد السنة" (4) .
وإذا كانت هذه النقول ذات دلالات واضحة على اختصاص كل مرحلة بمصطلح، فإنه لا ينبغي القطع بذلك إلا بعد الوقوف على المعنى اللغوي لكل واحد من هذه المصطلحات.
أ- معنى الكتابة لغة:
جاء في لسان العرب لابن منظور في مادة كتب: "كَتَب الشيءَ يَكْتُبه كَتْباً وكِتاباً وكِتابةً، وكَتَّبه: خَطَّه؛ قال أَبو النجم:
أَقْبَلْتُ من عِنْدِ زيادٍ كالخَرِفْ
… تَخُطُّ رِجْلايَ بخَطٍّ مُخْتَلِِفْ
تُكَتِّبانِ في الطَّريقِ لامَ ألِفْ
ونقل عن الأَزهري في معنى الكِتاب أنه اسم لما كُتب مَجْمُوعاً.
وبناء عليه يكون معنى الكتابة هو النسخ وخط الحروف وهي عملية
--------------------------------------------
"আমার সংকলনের (تدوين) আগে কেউ এই ইলম সংকলন (تدوين) করেনি" (১), এবং ইমাম মালিক ইবনে আনাস বলেন: "সর্বপ্রথম ইলম সংকলন (تدوين) করেছেন ইবনে শিহাব" (২)।
শ্রেণিবিন্যাস বা গ্রন্থ রচনা (تصنيف) সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তার মধ্যে আব্দুর রাজ্জাক আস-সান’আনীর বক্তব্য হলো: "সর্বপ্রথম কিতাবসমূহের শ্রেণিবিন্যাস (تصنيف) করেছেন ইবনে জুরাইজ" (৩) এবং ইয়াহইয়া আল-হিমানীর সূত্রে ইবনে আদীর বক্তব্য হলো: তিনি কুফায় সর্বপ্রথম মুসনাদ শ্রেণিবিন্যাস (تصنيف) করেছেন, এবং তিনি বলেন: "বসরায় সর্বপ্রথম মুসনাদ শ্রেণিবিন্যাস (تصنيف) করেছেন মুসাদ্দাদ, আর মিশরে সর্বপ্রথম মুসনাদ শ্রেণিবিন্যাস (تصنيف) করেছেন আসাদ আস-সুন্নাহ" (৪)।
যদিও এই উদ্ধৃতিগুলো প্রতিটি স্তরের জন্য নির্দিষ্ট পরিভাষার ব্যবহারের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়, তবুও এই পরিভাষাগুলোর প্রত্যেকটির আভিধানিক (لغة) অর্থ জানার আগে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসা উচিত নয়।
ক- আভিধানিক (لغة) অর্থে লিখনের (كتابة) পরিচয়:
ইবনে মনজুরের লিসানুল আরব গ্রন্থে ‘কা-তা-বা’ (كتب) মূলশব্দের আলোচনায় এসেছে: "সে বিষয়টি লিখেছে, লিখছে, লিখন বা গ্রন্থাকারে রূপ দান; আর সে তা লিপিবদ্ধ করেছে অর্থাৎ রেখাঙ্কন করেছে; আবু আন-নাজম বলেন:
আমি জিয়াদের কাছ থেকে এমনভাবে ফিরলাম যেন আমি বুদ্ধিভ্রষ্ট বৃদ্ধ
… আমার পা দুটি ভিন্ন ভিন্ন রেখায় পথ আঁকছে
তারা রাস্তার ওপর যেন ‘লাম-আলিফ’ হরফ লিখছে (تكتيبان)"
আর কিতাব (كتاب) শব্দের অর্থ সম্পর্কে আল-আযহারী থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, এটি এমন বিষয়ের নাম যা একত্রিতভাবে লেখা হয়েছে।
এর ওপর ভিত্তি করে লিখনের (كتابة) অর্থ দাঁড়ায় অনুলিপি করা এবং অক্ষরসমূহ রেখাঙ্কন করা, যা একটি প্রক্রিয়া...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাদবীনুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ ফিল কারনাইনিস সানি ওয়াস স্যালিসি লিল হিজরাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
بسيطة تتحقق في القليل مما قد يقع على ورقة، أو ربما بعضها، كما يمكن أن تتحقق في أكثر من ذلك.
ب- معنى التدوين لغة:
أما التدوين فالذي يظهر من معناه اللغوي أنه لا يتحقق إلا في الشيء الكثير، وهو بذلك لا يرادف معنى الكتابة؛ لأنه لا يماثلها في البساطة، بل هو أوسع وأشمل وربما أعقد، فالدِّيوانُ هو كما قال كل من ابن منظور والفيروزابادي مُجْتَمَعُ الصُّحُفِ، وجمعه: دَواوِينُ ودَياوِينُ، وعليه فيكون التدوين هو عملية ضمِّ الصحائف إلى بعضها، وجَمْعِ ما تمَّتْ كتابته فيها في كتاب كبير هو الديوان.
ج- معنى التصنيف لغة:
يظهر من الدلالة اللغوية لهذه الكلمة أن الفارق بينها وبين التدوين لا يرجع إلى القلة والكثرة كما هو الحال بين كلمتي الكتابة والتدوين، وإنما يتمثل في معنى آخر لابد أن يتضمنه التصنيف وهو الترتيب والتمييز والتبويب، فقد جاء في القاموس المحيط للفيروزابادي: "الصَّنف والصِّنف: النوع والضَّرْب. جمع "أصناف وصنوف ". وبالكسر وحده (أي الصِّنف) الصفة، ثم قال: صَنَّفه تصنيفا جعله أصنافا، وميز بعضها عن بعض "، وقال المناوي في التعاريف: "الصنف الطائفة من كل شيء أو النوع يقال: صَنَّفَ متاعه جعله أصنافا، ومنه تصنيف الكتب" (1) .
وبمقابلة النقول السابقة مع هذه الدلالات اللغوية يتبين أنه يتعين التحري
--------------------------------------------
এটি একটি সাধারণ প্রক্রিয়া যা কাগজের সামান্য অংশে বা হয়তো তার কিছু অংশে যা লেখা হয় তার মাধ্যমেই অর্জিত হতে পারে, আবার তার চেয়ে বেশি কিছুর মাধ্যমেও এটি বাস্তবায়িত হতে পারে।
খ- আভিধানিক অর্থে সংকলন (تدوين)-এর অর্থ:
পক্ষান্তরে সংকলন (تدوين) শব্দের আভিধানিক অর্থ থেকে যা স্পষ্ট হয় তা হলো, এটি কেবল বড় বা বেশি কোনো বিষয়ের মাধ্যমেই সম্ভব হয়। আর এ কারণেই এটি লিখন (كتابة)-এর সমার্থক নয়; কেননা এটি লিখনের মতো সাধারণ কোনো বিষয় নয়, বরং এটি অধিকতর বিস্তৃত, ব্যাপক এবং সম্ভবত কিছুটা জটিলও বটে। ইবনে মানজুর এবং ফিরোজাবাদি উভয়েই যেমনটি বলেছেন, 'দিওয়ান' (ديوان) হলো অনেকগুলো সহিফা বা পাতার সমষ্টি, যার বহুবচন হলো 'দাওয়াবিন' ও 'দায়াবিন'। সুতরাং সেই অনুযায়ী সংকলন (تدوين) হলো পাতাগুলোকে একে অপরের সাথে যুক্ত করার এবং সেগুলোতে যা কিছু লেখা হয়েছে তা একটি বৃহৎ কিতাব তথা দিওয়ানে একত্রিত করার একটি প্রক্রিয়া।
গ- আভিধানিক অর্থে শ্রেণিবিন্যাস (تصنيف)-এর অর্থ:
এই শব্দের ভাষাগত তাৎপর্য থেকে বোঝা যায় যে, এর এবং সংকলন (تدوين)-এর মধ্যে পার্থক্যটি অল্প বা বেশির ওপর ভিত্তি করে নয়—যেমনটি লিখন (كتابة) এবং সংকলন (تدوين) শব্দ দুটির ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। বরং এর ভিত্তি হলো অন্য একটি অর্থ যা শ্রেণিবিন্যাস (تصنيف)-এর মধ্যে থাকা অপরিহার্য; আর তা হলো বিন্যাস (ترتيب), পার্থক্যকরণ (تمييز) এবং পরিচ্ছেদ বিন্যাস (تبويب)। ফিরোজাবাদির আল-কামুস আল-মুহিত গ্রন্থে এসেছে: "সানফ ও সিনফ অর্থ হলো: প্রকার ও ধরন। এর বহুবচন 'আসনাফ' ও 'সুনুফ'। আর কাসরা-সহ (অর্থাৎ সিনফ) এর অর্থ হলো বৈশিষ্ট্য।" এরপর তিনি বলেন: "সে বিষয়টিকে শ্রেণিবিন্যাস (تصنيف) করেছে অর্থাৎ একে বিভিন্ন প্রকারে বিভক্ত করেছে এবং একটি থেকে অন্যটিকে পৃথক করেছে।" আল-মুনাবি আত-তা'রিফাত গ্রন্থে বলেছেন: "সিনফ হলো প্রতিটি জিনিসের একটি দল বা প্রকার। বলা হয়: সে তার পণ্যসামগ্রীকে শ্রেণিবদ্ধ (صنف) করেছে অর্থাৎ সেগুলোকে বিভিন্ন ভাগে বিন্যস্ত করেছে, আর কিতাব শ্রেণিবিন্যাস (تصنيف) করাও এই অর্থ থেকেই এসেছে।" (১)।
পূর্বোক্ত উদ্ধৃতিসমূহকে এই আভিধানিক অর্থগুলোর সাথে তুলনা করলে এটি স্পষ্ট হয় যে, যথাযথ অনুসন্ধান করা আবশ্যক...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাদবীনুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ ফিল কারনাইনিস সানি ওয়াস স্যালিসি লিল হিজরাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
والتدقيق في استعمال المصطلحات في هذه القضية، وحيث إنه من المؤكد أن السنة النبوية خضعت للتطور من هذه الناحية، فإن المراحل التي تدرجت عبرها منها ما ينبغي أن يسمى كتابة لا غير، ومنها ما ينبغي أن يسمى تدوينا لكونه لا ينطبق عليه إلا معنى التدوين، ومنها ما ينبغي أن يسمى تصنيفا لتوافر كل مواصفات التصنيف فيه.
وبناء على هذا: نعدُّ الدكتور فؤاد سيزكين موفقا حينما قسم أطوار كتابة السنة النبوية إلى ثلاث مراحل: أولاها مرحلة الكتابة، والثانية مرحلة التدوين، والثالثة مرحلة التصنيف (1) .
ونعني بالكتابة ما تم في عهد النبي صلى الله عليه وسلم والصحابة وذلك في القرن الأول الهجري، وكان التدوين في نهاية هذا القرن على يد ابن شهاب الزهري بأمر من الخليفة عمر بن عبد العزيز (ت 101هـ) ، وبعده مباشرة بدأت عملية التصنيف التي توسع فيها جيل تلامذة الزهري رحمه الله.
وليس هناك من الناحية الزمنية تماثل بين هذه المراحل كما هو واضح، فمرحلة التدوين هي أقصر المراحل، وقد تمَّ في وقت قياسي؛ لأن عمر بن عبد العزيز هو الذي كان الآمر للزهري به؛ ولم تستغرق خلافته أكثر من سنتين، وما مات حتى أكمل الزهريُّ مهمته، بينما استغرقت الكتابة قرنا كاملا، أما التصنيف فاستغرق أضعاف ذلك.
هذه هي أهم النقاط التي كان لابد من التنبيه لها وبيانها بين يدي هذا
--------------------------------------------
এই বিষয়ে পারিভাষিক শব্দ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সূক্ষ্মতা বজায় রাখা প্রয়োজন। যেহেতু এটি নিশ্চিত যে নববী সুন্নাহ এই দিক থেকে বিবর্তনের মধ্য দিয়ে গিয়েছে, তাই এটি যে পর্যায়গুলো অতিক্রম করেছে তার মধ্যে কোনোটিকে কেবল লিখন (كتابة) বলা উচিত, কোনোটিকে সংকলন (تدوين) বলা উচিত কারণ সেটি কেবল সংকলনের সংজ্ঞার সাথেই সামঞ্জস্যপূর্ণ, আর কোনোটিকে বিন্যাস (تصنيف) বলা উচিত কারণ তাতে বিন্যাসের সকল বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান রয়েছে।
এরই ভিত্তিতে: আমরা ডক্টর ফুয়াদ সেজগিনকে যথার্থ মনে করি যখন তিনি নববী সুন্নাহর লিখন পদ্ধতিকে তিনটি পর্যায়ে বিভক্ত করেছেন: প্রথমটি লিখন (كتابة) পর্যায়, দ্বিতীয়টি সংকলন (تدوين) পর্যায় এবং তৃতীয়টি বিন্যাস (تصنيف) পর্যায় (১)।
লিখন (كتابة) বলতে আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সাহাবায়ে কেরামের যুগে হিজরি প্রথম শতাব্দীতে যা সম্পাদিত হয়েছিল তাকে বুঝাই। আর সংকলন (تدوين) প্রক্রিয়াটি এই শতাব্দীর শেষভাগে খলিফা উমর বিন আব্দুল আজিজ (মৃত্যু ১০১ হি.)-এর নির্দেশে ইবনে শিহাব যুহরীর হাতে সম্পন্ন হয়। এর অব্যবহিত পরেই বিন্যাস (تصنيف) প্রক্রিয়া শুরু হয়, যা ইমাম যুহরী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর ছাত্রপরম্পরার মাধ্যমে ব্যাপকতা লাভ করে।
সময়ের দিক থেকে এই পর্যায়গুলোর মধ্যে কোনো সমতা নেই, যা অত্যন্ত স্পষ্ট। সংকলন (تدوين) পর্যায়টি ছিল সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত এবং তা রেকর্ড সময়ে সম্পন্ন হয়েছে; কারণ উমর বিন আব্দুল আজিজ নিজেই যুহরীকে এর নির্দেশ দিয়েছিলেন। তাঁর খিলাফতকাল দুই বছরের বেশি স্থায়ী হয়নি এবং তাঁর ইন্তেকালের পূর্বেই যুহরী তাঁর দায়িত্ব সম্পন্ন করেছিলেন। অন্যদিকে লিখন (كتابة) প্রক্রিয়া পূর্ণ এক শতাব্দীকাল ব্যাপী চলেছিল, আর বিন্যাস (تصنيف) প্রক্রিয়াটি তার চেয়েও বহুগুণ সময় নিয়েছিল।
এই প্রসঙ্গের প্রারম্ভে এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর প্রতি আলোকপাত করা এবং তা স্পষ্ট করা আবশ্যক ছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাদবীনুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ ফিল কারনাইনিস সানি ওয়াস স্যালিসি লিল হিজরাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
العرض، والتي على أساسها سيتم تناول تدوين السنة النبوية في هذه القرون الثلاثة، وبها يظهر أن تقسيم المراحل كان ينبغي أن يؤخذ فيه بعين الاعتبار ما لكل مرحلة من الخصائص المنهجية والنقدية والعلمية فذلك أولى من تقسيمها زمنيا، لأنه قد يتقاسم القرن مرحلتان.
ولا يفوتني هنا أن أنبه على صعوبة هذا الموضوع وتشعب أطرافه نظراً لتناوله فترة زمنية طويلة ومراحل مختلفة ومتباينة، ولأجل ذلك سأحاول التركيز والاختصار قدر المستطاع.
উপস্থাপন, যার ভিত্তিতে এই তিন শতাব্দীতে সুন্নাহর সংকলন (تدوين) আলোচনা করা হবে; এর মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয় যে, পর্যায়ক্রমিক বিভাজনের ক্ষেত্রে প্রতিটি পর্যায়ের পদ্ধতিগত (المنهجية), সমালোচনামূলক (النقدية) এবং জ্ঞানতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যসমূহ বিবেচনায় নেওয়া উচিত ছিল। কালানুক্রমিক বিভাজনের চেয়ে এটিই অধিকতর শ্রেয়, কারণ একটি শতাব্দী দুটি পৃথক পর্যায়ের অংশীদার হতে পারে।
এখানে এই বিষয়ের জটিলতা এবং এর বিভিন্ন দিকের বিস্তৃতি সম্পর্কে উল্লেখ করা প্রয়োজন, যেহেতু এটি একটি দীর্ঘ সময়কাল এবং বিভিন্ন ও বৈচিত্র্যময় পর্যায়কে অন্তর্ভুক্ত করে। এই কারণেই আমি যথাসম্ভব নিবিড়ভাবে এবং সংক্ষেপে আলোচনার চেষ্টা করব।
(খণ্ড: ১)
তাদবীনুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ ফিল কারনাইনিস সানি ওয়াস স্যালিসি লিল হিজরাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
2-
تدوين السنة النبوية في القرن الثاني الهجري:كان تعامل المسلمين مع السنة النبوية منذ أول يوم يقوم على أساسين اثنين هما: الحفظ في الصدور والتقييد في الصحف، وعلى الرغم من أن الحفظ في البداية كان هو الغالب بسبب المنع النبوي من الكتابة الذي اقتضته ظروف معينة فإن الكتابة ظلت حاضرة، ولكن بصورة محدودة إلى حد ما إلا أنها كانت تعرف مع الأيام توسعا وانتشاراً؛ بسبب ارتفاع الأسباب الداعية إلى منعها شيئا فشيئا من جهة، ثم بسبب تكاثر الدواعي إلى ضرورة حفظها بهذا الطريق. وفي بيان هذا يقول ابن الأثير: "وكان اعتمادهم أولاً على الحفظ والضبط في القلوب والخواطر غير ملتفتين إلى ما يكتبونه، ولا معوِّلين على ما يسطرونه محافظة على هذا العلم كحفظهم كتاب الله عز وجل، فلما انتشر الإسلام، واتسعت البلاد، وتفرقت الصحابة في الأقطار وكثرت الفتوح ومات معظم الصحابة وتفرق أصحابهم وأتباعهم وقلَّ الضبط احتاج العلماء إلى تدوين الحديث وتقييده بالكتابة، ولعمري إنها الأصل، فإن الخاطر يغفل، والذهن يغيب، والذكر يهمل، والقلم يحفظ ولا ينسى" (1) .
--------------------------------------------
২-
হিজরি দ্বিতীয় শতাব্দীতে সুন্নাহর সংকলন (تدوين):প্রথম দিন থেকেই সুন্নাহর সাথে মুসলিমদের সম্পৃক্ততা দুটি ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল: স্মৃতিতে সংরক্ষণ (الحفظ في الصدور) এবং পাণ্ডুলিপিতে লিপিবদ্ধকরণ (التقييد في الصحف)। যদিও শুরুর দিকে বিশেষ পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে নবিজি (সা.) কর্তৃক লিখন নিষিদ্ধ করার কারণে মুখস্থ রাখার বিষয়টিই প্রধান ছিল, তবুও লিখন পদ্ধতি বিদ্যমান ছিল; তবে তা একটি নির্দিষ্ট পর্যায় পর্যন্ত সীমিত ছিল। অবশ্য সময়ের আবর্তনে এর সম্প্রসারণ ও প্রচার বাড়তে থাকে; একদিকে যেমন লিখন নিষিদ্ধ হওয়ার কারণগুলো ধীরে ধীরে দূর হয়ে যাচ্ছিল, অন্যদিকে এই পদ্ধতিতে সুন্নাহ সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তাও বৃদ্ধি পাচ্ছিল। এ প্রসঙ্গে ইবনুল আসির বলেন: "প্রাথমিক পর্যায়ে তাদের নির্ভরতা ছিল অন্তরে মুখস্থ রাখা এবং স্মৃতিশক্তির প্রখরতার (الضبط) ওপর। তারা যা লিখতেন তার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করতেন না এবং যা লিপিবদ্ধ করতেন তার ওপর নির্ভরও করতেন না। তারা এই ইলমকে (জ্ঞান) সেভাবেই সংরক্ষণ করতেন যেভাবে মহান আল্লাহর কিতাবকে সংরক্ষণ করতেন। অতঃপর যখন ইসলামের প্রসার ঘটল, ভূখণ্ড বিস্তৃত হলো, সাহাবিগণ বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়লেন, বিজয়াভিযান বৃদ্ধি পেল এবং অধিকাংশ সাহাবি ইন্তেকাল করলেন এবং তাঁদের সাথি ও অনুসারীরা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেন এবং স্মৃতিশক্তির নির্ভুলতা (الضبط) কমে এল, তখন উলামায়ে কেরাম হাদিস সংকলন (تدوين) ও তা লিখে রাখার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন। আমার জীবনের শপথ! এটিই (লিখন) হলো মূল ভিত্তি; কেননা মন অমনোযোগী হয়, মেধা বিলুপ্ত হয় এবং স্মরণশক্তি অবহেলা করে, কিন্তু কলম তা সংরক্ষণ করে এবং বিস্মৃত হয় না" (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাদবীনুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ ফিল কারনাইনিস সানি ওয়াস স্যালিসি লিল হিজরাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
ولم يقف الأمر عند هذا الحد فقط، بل عرفت السنة النبوية ظاهرة خطيرة جداً هي ظاهرة الوضع والاختلاق، فكانت داعيا أساسياً لدى العلماء الذين فطنوا لبداياتها الأولى إلى التوقف عن أي تحرج من كتابة السنة والانطلاق نحو تدوينها تدوينا رسميا في نهاية القرن الأول الهجري، وذلك في عهد الخليفة عمر بن عبد العزيز الذي كلف ابن شهاب الزهري بالعملية.
وهو لشدة اهتمامه بالقضية وحرصه على أن يُولِيَها ما تستحقه من العناية والاهتمام، لم يكتف فقط باختيار الإمام الزهري والاعتماد عليه؛ إدراكاً منه لقوة تمكنه وتفوقه على سائر علماء عصره وإنما اهتدى إلى أن يعبئ جهود علماء الأمة الإسلامية كافة؛ لتتم العملية على أكمل وجه، فأرسل إلى سائر عماله على الأقاليم الإسلامية يأمرهم بجمع السنة قائلا: "انظروا إلى حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم فاجمعوه" (1) .
وربما لم يُكْتَبْ أن يصلَنا من هذه الكتب التي كتبها عمر إلا كتابٌ واحد هو ما أرسله إلى عامله على المدينة أبي بكر بن محمد بن عمرو بن حزم يأمره فيه بجمع السنن، ولا يبعد أن يكون السبب في اشتهار خطاب عمر لأهل المدينة دون غيره راجعا إلى أهميته وذلك لكونه يتضمن الأمر بجمع حديث المدينة المنورة؛ لقوله فيه على ما في بعض الروايات: انظر ما كان عندك - أي في بلدك - من حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم فاكتبه" (2) ، وحديث المدينة يأتي في الدرجة الأولى من حيث الأهمية لشموله أولا ثم لصحته ثانيا، والشمول راجع
--------------------------------------------
বিষয়টি কেবল এই সীমানাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং সুন্নাহর ইতিহাসে একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক প্রবণতা দেখা দিয়েছিল, তা হলো জালকরণ (الوضع) এবং বানোয়াট বর্ণনা (الاختلاق)-এর প্রবণতা। এটিই ছিল সেই সকল আলেমদের জন্য একটি মৌলিক উদ্দীপক—যারা এর প্রাথমিক লক্ষণগুলো আঁচ করতে পেরেছিলেন—যাতে তারা সুন্নাহ লিপিবদ্ধ করার ক্ষেত্রে সকল দ্বিধাদ্বন্দ্ব ঝেড়ে ফেলে প্রথম হিজরি শতাব্দীর শেষভাগে এর আনুষ্ঠানিক সংকলন (تدوين)-এর দিকে অগ্রসর হন। এটি ঘটেছিল খলিফা উমর ইবনে আবদুল আজিজের শাসনামলে, যিনি ইবনে শিহাব আল-জুহরিকে এই প্রক্রিয়ার দায়িত্ব প্রদান করেছিলেন।
তিনি এই বিষয়টির প্রতি অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছিলেন এবং একে যথাযথ যত্ন ও মনোযোগ প্রদানের ব্যাপারে সচেষ্ট ছিলেন। তিনি কেবল ইমাম জুহরিকে নির্বাচন করা এবং তাঁর ওপর নির্ভর করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি—যদিও তিনি তাঁর সমকালীন সকল আলেমের ওপর তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্য ও শ্রেষ্ঠত্বের কথা উপলব্ধি করেছিলেন—বরং তিনি সমগ্র মুসলিম উম্মাহর আলেমদের প্রচেষ্টাকে ঐক্যবদ্ধ করার দিকে মনোনিবেশ করেছিলেন; যাতে এই প্রক্রিয়াটি সুচারুরূপে সম্পন্ন হয়। তাই তিনি বিভিন্ন মুসলিম অঞ্চলের সকল কর্মকর্তাদের কাছে সুন্নাহ সংগ্রহের নির্দেশ দিয়ে এই মর্মে পত্র পাঠান যে: "তোমরা আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিসের প্রতি দৃষ্টি দাও এবং তা সংগ্রহ করো।" (১)।
উমর কর্তৃক লিখিত এই গ্রন্থ বা পত্রসমূহের মধ্যে সম্ভবত কেবল একটি পত্রই আমাদের নিকট পৌঁছানো নির্ধারিত ছিল, যা তিনি মদিনার গভর্নর আবু বকর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনে হাজমের কাছে পাঠিয়েছিলেন এবং তাতে তাকে সুনান সংগ্রহের নির্দেশ দিয়েছিলেন। অন্যান্যদের তুলনায় মদিনাবাসীদের প্রতি উমরের এই চিঠির প্রসিদ্ধি লাভের কারণটি সম্ভবত এর গুরুত্বের মধ্যেই নিহিত। কারণ এতে মদিনা মুনাওয়ারার হাদিস সংগ্রহের নির্দেশ অন্তর্ভুক্ত ছিল। কেননা কিছু বর্ণনা (رواية) অনুযায়ী তাতে বলা হয়েছে: "তোমার নিকট—অর্থাৎ তোমার শহরে—আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যে হাদিস রয়েছে তা দেখো এবং লিখে নাও" (২)। আর মদিনার হাদিস গুরুত্বের দিক থেকে প্রথম স্তরে অবস্থান করে; প্রথমত এর ব্যাপকতার কারণে এবং দ্বিতীয়ত এর বিশুদ্ধতা (صحة)-এর কারণে। আর এই ব্যাপকতার কারণ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাদবীনুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ ফিল কারনাইনিস সানি ওয়াস স্যালিসি লিল হিজরাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
إلى كون المدينة المنورة دار مقام النبي صلى الله عليه وسلم والصحابة من بعده، فكانت بذلك منبع السنة النبوية قولا تلقاه التابعون من أفواه الصحابة وعملا توارثوه عنهم، وأما الصحة فلأنَّ أصح طرق السنن ما يرويه أهل الحرمين مكة والمدينة، فإن التدليس فيهم قليل، والاشتهار بالكذب ووضع الحديث عندهم عزيز، كما قال الخطيب البغدادي (1) :
"وربما كان السبب في تخصيص أبي بكر دون غيره من أهل المدينة راجعاً بالإضافة إلى كونه أميرا عليها إلى ما كان يمتاز به من مؤهلات مهمة فاق بها غيره، حيث كان تابعيا فقيها ضليعا في علم القضاء، بل لم يكن عند أحد بالمدينة من القضاء ما كان عنده، وكانت له خبرة بالسيرة النبوية، ويصفه الإمام مالك فيقول: "ما رأيت مثل أبي بكر بن حزم أعظم مروءة ولا أتم حالا ولا رأيت مثل ما رأى" (2) ، وكانت خالته هي عمرة بنت عبد الرحمن، وقد أخبر الإمام مالك أن عمر أمره بجمع الحديث من عند خالته هاته والقاسم بن محمد بن أبي بكر (3) ، ومن المؤكد أن ذلك لم يكن من نافلة القول وإنما لعلم عمر بمكانة عمرة في حفظ الحديث وروايته، فهي المدنية التابعية الثقة التي كان يقول عنها عمر نفسه: "لم يبق أحد أعلم بحديث عائشة من عمرة" وكانت هي والقاسم وعروة أثبت الناس في حديث عائشة (4) ، وكانت عائشة كما هو معلوم من بين السبعة المكثرين عن النبي صلى الله عليه وسلم، وكان القاسم بن
--------------------------------------------
মদিনা মুনাওয়ারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর পরবর্তী সাহাবীগণের আবাসস্থল হওয়ার কারণে এটি সুন্নাহর উৎসে পরিণত হয়েছিল—মৌখিক বক্তব্যের মাধ্যমে যা তাবিঈগণ (تابعي) সাহাবীগণের মুখ থেকে গ্রহণ করেছিলেন এবং আমল বা কর্মের মাধ্যমে যা তাঁরা তাঁদের থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করেছিলেন। আর বিশুদ্ধতার কারণ হলো, সুন্নাহর বিশুদ্ধতম পথ বা মাধ্যম হলো যা হারামাইন (মক্কা ও মদিনা) বাসীরা বর্ণনা করেন; কারণ তাঁদের মধ্যে তাদলিস বা তথ্য গোপন (تدليس) ছিল সামান্য এবং তাঁদের মাঝে মিথ্যার (كذب) পরিচিতি ও হাদিস জালকরণ (وضع الحديث) ছিল অত্যন্ত বিরল, যেমনটি খতিব আল-বাগদাদি (১) বলেছেন:
"সম্ভবত মদিনার অন্যান্যদের বাদ দিয়ে বিশেষভাবে আবু বকরকে নির্বাচিত করার কারণ ছিল—সেখানকার আমির হওয়ার পাশাপাশি—তাঁর সেই অনন্য যোগ্যতা ও বৈশিষ্ট্যসমূহ যার মাধ্যমে তিনি অন্যদের ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন। কেননা তিনি ছিলেন একজন তাবিঈ (تابعي), ফকিহ এবং বিচারকার্য বা কাজা শাস্ত্রে অত্যন্ত দক্ষ; বরং মদিনার আর কারো কাছে বিচারকার্য সম্পর্কে তাঁর মতো গভীর জ্ঞান ছিল না এবং সীরাত বা নববী জীবনী সম্পর্কেও তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্য ছিল। ইমাম মালিক তাঁর বর্ণনা দিয়ে বলেন: 'আমি আবু বকর ইবনে হাজমের মতো সুমহান ব্যক্তিত্ব ও পূর্ণাঙ্গ গুণের অধিকারী আর কাউকে দেখিনি, এবং তিনি যে প্রজ্ঞা বা অবস্থার সম্মুখীন হয়েছিলেন তাও অন্য কারো মধ্যে দেখিনি' (২)। তাঁর খালা ছিলেন আমরাহ বিনতে আবদুর রহমান। ইমাম মালিক বর্ণনা করেছেন যে, উমর (ইবনে আবদুল আজিজ) তাঁকে তাঁর এই খালা এবং কাসিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবু বকরের নিকট থেকে হাদিস সংকলনের নির্দেশ দিয়েছিলেন (৩)। এবং এটি নিশ্চিত যে, এটি কোনো অপ্রাসঙ্গিক কথা ছিল না, বরং হাদিস সংরক্ষণ ও বর্ণনার ক্ষেত্রে আমরাহ-এর সুউচ্চ মর্যাদা সম্পর্কে উমরের অবগতির কারণেই এমনটি হয়েছিল। তিনি ছিলেন মদিনাবাসী তাবিঈ (تابعي) এবং নির্ভরযোগ্য (ثقة), যাঁর সম্পর্কে উমর নিজে বলতেন: 'আমরাহ-এর চেয়ে আয়েশা (রা.)-এর বর্ণিত হাদিস সম্পর্কে অধিক জ্ঞানী আর কেউ অবশিষ্ট নেই।' আয়েশা (রা.)-এর হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে তিনি, কাসিম এবং উরওয়াহ ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সুদৃঢ় (أثبت) (৪)। আর আয়েশা (রা.) যেমনটি সর্বজনবিদিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে অধিক হাদিস বর্ণনাকারী সেই সাতজন বর্ণনাকারীদের অন্যতম ছিলেন। এবং কাসিম ইবনে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাদবীনুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ ফিল কারনাইনিস সানি ওয়াস স্যালিসি লিল হিজরাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
محمد بالإضافة إلى ما سبق - ثقة رفيعا عالما فقيها إماما ورعا كثير الحديث (1) .
وإذا أخذنا نفحص الروايات المتعلقة بجمع أبي بكر بن حزم - وهي قليلة جدا - نجد أنها تثبت قيامه بمهمة الجمع هاته: فقد أخرج الفسوي بإسناده عن ابن وهب عن مالك أن عمر بن عبد العزيز كتب إلى أبي بكر بن عمرو ابن حزم أن يكتب له العلم من عند عمرة بنت عبد الرحمن والقاسم بن محمد فقلت لمالك: السنن؟ قال: نعم، قال: فكتبها له" (2) .
وليس يثبت من خلال ما وصَلَنَا من الروايات أن أبا بكر أرسل شيئا من ذلك إلى عمر بن عبد العزيز، بل صَرَّح الإمام مالك في إحدى الروايات عنه أن عمر توفي قبل أن يبعث إليه أبو بكر بما كتبه (3) ، وأما عن مصير تلك الكتب فقد سأل مالك عبد الله بن أبي بكر فقال: ضاعت (4) .
ولم يكن هناك ما يمنع الزهري من القيام بعمله على أحسن وجه، بالرغم من ضياع ما كتبه ابن حزم، وذلك بحكم ما عُرِفَ عنه من سعة العلم بالحديث، ولا سيما حديث المدنيين والحجازيين؛ فقد روى الفسوي عن جعفر بن ربيعة قال: قلت لعراك بن مالك: من أفقه أهل المدينة؟ قال: "أما أعلمهم بقضايا رسول الله وقضايا أبي بكر وعمر وعثمان وأفقههم فقها وأعلمهم بما مضى من أمر الناس فسعيد بن المسيب، وأما أغزرهم حديثا
--------------------------------------------
মুহাম্মদ উপর্যুক্ত গুণাবলি ছাড়াও ছিলেন—একজন উচ্চপদস্থ নির্ভরযোগ্য (ثقة), বিজ্ঞ আলেম, ফকিহ (فقيه), ইমাম, পরহেজগার এবং অধিক হাদিস বর্ণনাকারী (كثير الحديث) (১)।
আমরা যদি আবু বকর ইবন হাযমের হাদিস সংকলন সংক্রান্ত বর্ণনাগুলোর (الروايات)—যা সংখ্যায় অত্যন্ত কম—চুলচেরা বিশ্লেষণ করি, তবে দেখতে পাই যে সেগুলো তাঁর এই সংকলন কাজ সম্পাদনকে প্রমাণ করে: আল-ফাসাউই তাঁর সনদসহ (إسناده) ইবন ওয়াহাব থেকে এবং তিনি মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন যে, উমর ইবন আবদুল আজিজ আবু বকর ইবন আমর ইবন হাযমকে লিখেছিলেন যেন তিনি আমরাহ বিনতে আবদুর রহমান এবং কাসিম ইবন মুহাম্মদের নিকট রক্ষিত ইলম (জ্ঞান) লিপিবদ্ধ করেন। আমি মালিককে জিজ্ঞেস করলাম: সুনান? তিনি বললেন: হ্যাঁ। বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর তিনি তা তাঁর জন্য লিখেছিলেন (২)।
আমাদের কাছে পৌঁছানো বর্ণনাগুলোর (الروايات) মাধ্যমে এটি প্রমাণিত হয় না যে আবু বকর এর কোনো অংশ উমর ইবন আবদুল আজিজের কাছে পাঠিয়েছিলেন, বরং ইমাম মালিক তাঁর থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনায় (الروايات) স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, আবু বকর তাঁর লিখিত বিষয়গুলো পাঠানোর পূর্বেই উমর ইন্তেকাল করেন (৩)। আর সেই পাণ্ডুলিপিগুলোর পরিণতি সম্পর্কে মালিক আবদুল্লাহ ইবন আবু বকরকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন: সেগুলো হারিয়ে গেছে (৪)।
ইবন হাযমের লিখিত পাণ্ডুলিপি হারিয়ে যাওয়া সত্ত্বেও যুহরিকে তাঁর কাজ সর্বোত্তমভাবে সম্পন্ন করতে কোনো কিছুই বাধা দিতে পারেনি, কারণ হাদিস শাস্ত্রে তাঁর ব্যাপক পাণ্ডিত্যের কথা সর্বজনবিদিত ছিল, বিশেষ করে মদিনাবাসী ও হিজাজবাসীদের হাদিসের ক্ষেত্রে। আল-ফাসাউই জাফর ইবন রাবিয়াহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি ইরাক ইবন মালিককে জিজ্ঞেস করলাম: মদিনাবাসীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় ফকিহ (فقيه) কে? তিনি বললেন: "রাসূলুল্লাহর ফয়সালাসমূহ এবং আবু বকর, উমর ও উসমানের ফয়সালাসমূহ সম্পর্কে যিনি সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী এবং ফিকহশাস্ত্রে যিনি তাদের মধ্যে গভীর প্রজ্ঞাবান ও মানুষের অতীত ঘটনাবলী সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি অবগত, তিনি হলেন সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব। আর হাদিসের প্রাচুর্যের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাদবীনুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ ফিল কারনাইনিস সানি ওয়াস স্যালিসি লিল হিজরাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
فعروة بن الزبير ولا تشأ أن تُفَجِّر من عبيد الله بن عبد الله بحراً إلا فجرته؛ قال: ثم يقول لي عراك بن مالك: وأعلمهم عندي جميعا ابن شهاب فإنه جمع علمهم جميعا إلى علمه " (1) .
وقد أمر عمر بن عبد العزيز بكتب ما جمعه الزهري من الحديث في دفاتر ودواوين وبعث بها إلى الأمصار الإسلامية حسبما روى ابن عبد البر عن ابن شهاب نفسه قال: "أمرنا عمر بن عبد العزيز بجمع السنن فكتبناها دفترا دفترا، فبعث إلى كل أرض له عليها سلطان دفترا" (2) .
وبإمكاننا الجزم بأن للزهري في هذه القضية فضلا من جهتين فضل السبق إلى التدوين وفضل التفرد بإنجازه، ولهذا قال إبراهيم بن سعد: "إن أول من وضع للناس هذه الأحاديث ابن شهاب" (3) ، ومثله قال مالك وقد تقدم، وكان الزهري يقول: "لم يدون هذا العلم أحد قبل تدويني" (4) .
وأما عن تفرده فقد شاع عند كثير من الدارسين اعتقاد بأن عمر بن عبد العزيز حينما أراد أن يدون السنة كاتب العلماء والولاة في ذلك، وكان شأن الزهري في ذلك شأن غيره من العلماء (5) .
ولكن الصحيح في ذلك هو أن عمر اعتمد اعتمادا كليا على الإمام الزهري الذي كان يقيم معه في عاصمة الخلافة، وكانت كتبه إلى الآفاق
--------------------------------------------
উরওয়াহ বিন আল-জুবায়ের এবং উবাইদুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহর জ্ঞানের সমুদ্র থেকে তুমি যতটুকু ইচ্ছা ঝরনাধারা প্রবাহিত করতে পারো; তিনি বলেন: এরপর ইরাক বিন মালিক আমাকে বলতেন: "আমার নিকট ইবনে শিহাবই তাঁদের সবার চেয়ে অধিক জ্ঞানী, কারণ তিনি তাঁদের সবার জ্ঞানকে নিজের জ্ঞানের সাথে একত্রিত করেছিলেন।" (১) ।
ওমর বিন আব্দুল আজিজ যুহরি সংগৃহীত হাদিসসমূহ বিভিন্ন খাতা ও নথিপত্রে লিপিবদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং সেগুলো বিভিন্ন ইসলামি জনপদে পাঠিয়েছিলেন, যেমনটি ইবনে আব্দিল বার স্বয়ং ইবনে শিহাব থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: "ওমর বিন আব্দুল আজিজ আমাদের সুন্নাহ সংগ্রহের নির্দেশ দিলেন, তাই আমরা তা খণ্ডে খণ্ডে লিখলাম। এরপর তিনি তাঁর শাসনাধীন প্রতিটি ভূখণ্ডে একটি করে খণ্ড পাঠালেন।" (২) ।
আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি যে, এই বিষয়ে যুহরির শ্রেষ্ঠত্ব দুই দিক থেকে: সংকলনের (التدوين) ক্ষেত্রে অগ্রগামী হওয়া এবং তা সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে একক কৃতিত্ব অর্জন করা। এজন্যই ইব্রাহিম বিন সাদ বলেন: "নিশ্চয়ই ইবনে শিহাবই প্রথম ব্যক্তি যিনি মানুষের জন্য এই হাদিসসমূহ বিধিবদ্ধ করেছেন" (৩) । ইমাম মালিকও অনুরূপ কথা বলেছেন যা ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে। যুহরি বলতেন: "আমার সংকলনের (التدوين) পূর্বে আর কেউ এই ইলম সংকলন (تدوين) করেনি" (৪) ।
আর তাঁর একক কৃতিত্বের বিষয়ে অনেক গবেষকের নিকট এই ধারণা প্রচলিত আছে যে, ওমর বিন আব্দুল আজিজ যখন সুন্নাহ সংকলন (التدوين) করতে চাইলেন, তখন তিনি এ ব্যাপারে আলেম ও গভর্নরদের নিকট পত্র লিখেছিলেন এবং এ ক্ষেত্রে যুহরির অবস্থা অন্যান্য আলেমদের মতোই ছিল (৫) ।
তবে এ বিষয়ে সঠিক (الصحيح) কথা হলো এই যে, ওমর পুরোপুরিভাবে ইমাম যুহরির ওপর নির্ভর করেছিলেন, যিনি খিলাফতের রাজধানীতে তাঁর সাথেই অবস্থান করতেন এবং তাঁর লিখিত গ্রন্থসমূহ দিগদিগন্তে পৌঁছেছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাদবীনুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ ফিল কারনাইনিস সানি ওয়াস স্যালিসি লিল হিজরাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
لأجل الاستعانة بها فقط، ومن الأدلة على ذلك عدم ثبوت وصول كتاب إلى الزهري من عمر في ذلك في مقابل اشتهار كتابه إلى ابن حزم، بالرغم من عدم تمكنه من إرسال أي شيء إلى عمر وضياع تلك الكتب كما مر، فكيف يعقل أن يشتهر كتاب عمر، لابن حزم، ولا ينقل - فضلا عن أن يشتهر - كتابه لابن شهاب؟.
إنه الدليل الواضح على أن الزهري كان هو القائم بأمر التدوين وأن غيره ممن كوتب فلأجل أن يساعده فقط.
وتفيد الروايات أن هذه المدونات انتشرت في البلاد الإسلامية انتشاراً واسعاً وتداولها طلبة العلم، ومن ذلك ما روي أن إسحاق بن راشد قدم الري فجعل يقول: أخبرنا الزهري، فسئل: أين لقيته؟ فقال: "لم ألقه، مررت ببيت المقدس فوجدت كتابا له ثم" (1) . وورد أيضا أن حديث الزهري عن أنس في الصدقات الذي رواه عنه سلمة بن عمرو القاضي جاء في آخره: "هذا كتاب ابن شهاب الزهري بخطه فيما أخبرني به أبو عمرو الأوزاعي عنه" (2) .
كما يظهر من جهة أخرى أن كثيرا من هذه المدونات بقيت في دار الخلافة بعد وفاة الزهري في خلافة هشام ويزيد من بعده، فكان ينتفع بها طلاب العلم ويروون منها، ويذكر علي بن المديني فيمن روى منها الوليد بن محمد الموقري (3) .
واستمر الأمر على هذا الحال إلى أن حملت من دار الخلافة عند مقتل الوليد بن يزيد سنة 126هـ ولا يعلم مصيرها بعد ذلك. أخرج ابن سعد
--------------------------------------------
এটি শুধুমাত্র তার কাছ থেকে সাহায্য গ্রহণের উদ্দেশ্যে ছিল। এর একটি প্রমাণ হলো, এ বিষয়ে যুহরীর নিকট উমরের কোনো কিতাব পৌঁছানোর বিষয়টি প্রমাণিত নয়, পক্ষান্তরে ইবনে হাজমের নিকট তার কিতাব পৌঁছানোর বিষয়টি সুপ্রসিদ্ধ। যদিও ইবনে হাজম উমরের নিকট কোনো কিছু পাঠাতে সক্ষম ছিলেন না এবং সেই কিতাবগুলো হারিয়ে গিয়েছিল যেমনটি আগে উল্লেখ করা হয়েছে। এমতাবস্থায় ইবনে হাজমের নিকট প্রেরিত উমরের কিতাবটি সুপ্রসিদ্ধ হওয়া এবং ইবনে শিহাবের নিকট প্রেরিত কিতাবটি বর্ণিত না হওয়া—সুপ্রসিদ্ধ হওয়া তো দূরের কথা—কীভাবে যুক্তিযুক্ত হতে পারে?
এটি একটি স্পষ্ট প্রমাণ যে, যুহরীই ছিলেন লিপিবদ্ধকরণ (التدوين) প্রক্রিয়ার দায়িত্বে নিয়োজিত মূল ব্যক্তি এবং যাদেরকে পত্র লেখা হয়েছিল তারা কেবল তাকে সহায়তা করার জন্যই ছিল।
বর্ণনাগুলো (الروايات) থেকে জানা যায় যে, এই সংকলনগুলো (المدونات) ইসলামী জনপদগুলোতে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং ইলম অন্বেষণকারীরা সেগুলো নিয়ে চর্চা করতেন। এর মধ্যে একটি হলো, বর্ণিত আছে যে ইসহাক বিন রাশিদ রায় শহরে এসে বলতে শুরু করলেন: 'যুহরী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন'। তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো: আপনি তার সাথে কোথায় সাক্ষাৎ করেছেন? তিনি বললেন: "আমি তার সাথে সাক্ষাৎ করিনি, আমি বায়তুল মাকদিস অতিক্রম করার সময় সেখানে তার একটি কিতাব পেয়েছিলাম" (১)। আরও বর্ণিত হয়েছে যে, আনাস (রা.)-এর সূত্রে সদাকাহ সম্পর্কিত যুহরীর হাদিসটি যা সালামাহ বিন আমর আল-কাদি তার থেকে বর্ণনা করেছেন, তার শেষে উল্লেখ আছে: "এটি ইবনে শিহাব যুহরীর নিজ হাতের লেখায় লিখিত কিতাব, যা সম্পর্কে আবু আমর আল-আওযায়ী আমাকে তার সূত্রে অবহিত করেছেন" (২)।
অন্যদিকে এটিও প্রতীয়মান হয় যে, হিশাম এবং তার পরবর্তী ইয়াযীদের খিলাফতকালে যুহরীর ইন্তেকালের পর এই সংকলনগুলোর (المدونات) অনেকগুলোই খিলাফত প্রাসাদে রয়ে গিয়েছিল। ফলে ইলম অন্বেষণকারীরা সেগুলো থেকে উপকৃত হতেন এবং সেখান থেকে বর্ণনা (يروون) করতেন। আলী ইবনুল মাদিনী তাদের মধ্যে ওয়ালীদ বিন মুহাম্মাদ আল-মাওকারী (৩)-এর নাম উল্লেখ করেছেন যারা এগুলো থেকে বর্ণনা করেছেন।
১২৬ হিজরীতে ওয়ালীদ বিন ইয়াযীদের হত্যাকাণ্ডের সময় খিলাফত প্রাসাদ থেকে এগুলো সরিয়ে নেওয়া পর্যন্ত এই অবস্থা বজায় ছিল এবং এর পরে সেগুলোর পরিণতি কী হয়েছিল তা আর জানা যায়নি। ইবনে সাদ উদ্ধৃত করেছেন (أخرج)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাদবীনুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ ফিল কারনাইনিস সানি ওয়াস স্যালিসি লিল হিজরাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
عن معمر قال: "كنا نرى أنا قد أكثرنا عن الزهري حتى قتل الوليد بن يزيد فإذا الدفاتر قد حملت على الدواب من خزائنه، يقول: من علم الزهري" (1) .
وأما من الناحية المنهجية والنقدية - وهما أهم ما ينبغي الوقوف عنده في هذه القضية - فقد توافر في هذا التدوين أمران اثنان هما الشمول والتوثيق.
فبخصوص الأمر الأول يمكن القول بأن السنة وإن كتبت قبل هذه الفترة أي في زمن الصحابة والتابعين فإنه لم يراع في كتابتها بُعد الشمول أو الاستقصاء، ويتبين هذا من خلال ما وصلنا من مدونات الصحابة في الحديث حيث نجد أن صحيفة علي بن أبي طالب مثلا لم تشتمل إلا على أحاديث متعلقة ببعض الأحكام الشرعية، هي أحكام الدِّيات ومقاديرها وأصنافها وحكم تخليص الأسير من يد العدو، وبعض أحكام القصاص وغيره.. (2) ، ومثل هذه الصحيفة باقي الصحائف الأخرى.
وكان الشائع عند طلاب الحديث في عصر الزهري تدوين بعض الحديث فقط كأحاديث الأحكام الشرعية مثلا، أما الإمام الزهري فكان يكتب - وهو ما يزال في مرحلة الطلب - كل ما تتلقفه أذناه من الحديث النبوي، سواء أتعلق الأمر بأحاديث الأحكام أم بغيرها من أبواب الدين وميادينه، ويؤكد هذا ما رواه الخطيب البغدادي وابن عبد البر في جامعيهما عن أبي الزناد قال: "كنا نكتب الحلال والحرام، وكان الزهري يكتب كل ما سمع، فلما احتيج إليه علمت أنه أعلم الناس" (3) .
(1) الفسوي: المعرفة والتاريخ ج1: 638 – أبو نعيم الحلية ج3: 361.
(2) انظر فتح الباري 1: 204-205.
(3) الخطيب: الجامع لأخلاق الراوي وآداب السامع 2: 188 – ابن عبد البر: جامع بيان العلم وفضله 1: 88.
মা'মার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমরা মনে করতাম যে আমরা যুহরি থেকে অনেক বেশি হাদিস সংগ্রহ করেছি, কিন্তু যখন ওয়ালিদ ইবনে ইয়াজিদ নিহত হলো, তখন দেখা গেল যে তার কোষাগার থেকে চতুষ্পদ জন্তুর পিঠে করে খাতাগুলো (الدفاتر) বহন করা হচ্ছে; তিনি বলতেন: এগুলো যুহরির ইলম।" (১)।
আর পদ্ধতিগত (المنهجية) এবং পর্যালোচনাগত (النقدية) দিক থেকে—যা এই বিষয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার দাবি রাখে—এই সংকলন (التدوين) প্রক্রিয়ায় দুটি বিষয় বিদ্যমান ছিল: সামগ্রিকতা (الشمول) এবং প্রামাণ্যতা (التوثيق)।
প্রথম বিষয়টির ক্ষেত্রে বলা যায় যে, সুন্নাহ যদিও এই সময়ের আগে অর্থাৎ সাহাবী ও তাবিঈদের (التابعين) যুগে লিখিত হয়েছিল, তবুও তার লিপিবদ্ধকরণে সামগ্রিকতা (الشمول) বা পূর্ণাঙ্গতার (الاستقصاء) বিষয়টি রক্ষা করা হয়নি। সাহাবীদের থেকে আমাদের কাছে যে সব হাদিস সংকলন (مدونات) পৌঁছেছে তা থেকে এটি স্পষ্ট হয়। যেমন আমরা দেখতে পাই যে, আলী ইবনে আবি তালিবের সহিফায় (صحيفة) কেবল কিছু শরয়ি বিধান (الأحكام الشرعية) সংক্রান্ত হাদিস ছিল, যেমন: রক্তপণ (الدِّيات), তার পরিমাণ ও প্রকারভেদ, শত্রুর হাত থেকে বন্দি মুক্ত করার বিধান এবং কিসাস (القصاص) ও অন্যান্য কিছু বিধিবিধান... (২)। অন্য সব সহিফাও এর অনুরূপ ছিল।
যুহরির যুগে হাদিসের শিক্ষার্থীদের মধ্যে কেবল কিছু নির্দিষ্ট হাদিস লিপিবদ্ধ বা সংকলন (تدوين) করার প্রচলন ছিল, যেমন শরয়ি বিধানের (الأحكام الشرعية) হাদিসগুলো। কিন্তু ইমাম যুহরি—যখন তিনি শিক্ষার্থী পর্যায়ে ছিলেন তখনই—নবীজির হাদিস হিসেবে যা-ই তার কানে আসত তা-ই লিখে রাখতেন, চাই তা বিধান সংক্রান্ত (أحاديث الأحكام) হাদিস হোক বা দ্বীনের অন্য কোনো অধ্যায় ও ক্ষেত্র সংশ্লিষ্ট হোক। খতিব আল-বাগদাদি এবং ইবনে আবদিল বার তাদের কিতাবদ্বয়ে আবুয যিনাদ থেকে যা বর্ণনা করেছেন তা একথাই নিশ্চিত করে। তিনি বলেন: "আমরা কেবল হালাল ও হারাম লিখে রাখতাম, আর যুহরি যা শুনতেন তার সবই লিখতেন। এরপর যখন তার জ্ঞানের প্রয়োজন পড়ল, তখন আমি বুঝতে পারলাম যে তিনি মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী।" (৩)।
(১) আল-ফাসাউয়ি: আল-মারিফাত ওয়াত তারিখ, খণ্ড ১: ৬৩৮ – আবু নুয়াইম: আল-হিলইয়াহ, খণ্ড ৩: ৩৬১।
(২) দেখুন: ফাতহুল বারি ১: ২০৪-২০৫।
(৩) আল-খতিব: আল-জামি' লি-আখলাকির রাওয়ি ওয়া আদাবিস সামি' ২: ১৮৮ – ইবনে আবদিল বার: জামি' বয়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি ১: ৮৮।
(খণ্ড: ১)
তাদবীনুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ ফিল কারনাইনিস সানি ওয়াস স্যালিসি লিল হিজরাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
ولم يكن يقتصر على المرفوع من قول النبي صلى الله عليه وسلم، بل كان يدون ما جاء عن الصحابة أيضا ملحقا إياه بالسنن فقد روي عن صالح بن كيسان قال: "اجتمعت أنا والزهري ونحن نطلب العلم فقلنا نكتب السنن فكتبنا ما جاء عن النبي صلى الله عليه وسلم ثم قال: نكتب ما جاء عن أصحابه فإنه سنة فقلت أنا: ليس بسنة فلا نكتبه، قال: فكتب، ولم أكتب، فأنجح، وضيعت" (1) .
ولاشك أن هذه الرغبة التي لازمت الزهري منذ البداية قد خلفت أثارها على عمله وتدوينه فاتصف هو الآخر بالشمول، إلا أنه شمول في إطار السنن المرفوعة إلى النبي صلى الله عليه وسلم، وما في حكمها من أقوال الصحابة، بدليل كتاب عمر ابن عبد العزيز لابن حزم الذي حدد فيه نوعية العلم المرغوب في جمعه حيث قال: "انظر ما كان من حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم أو سُنَّة ماضية أو حديث عمرة" (2) وهذا يدل على أن مأثور الصحابة لم يكن مقصودا لديه بالتدوين، بل ورد في رواية أخرى ما يرفع احتمال أي شك في هذا حيث قال: "ولا تقبل إلا حديث النبي صلى الله عليه وسلم" (3) . ويؤيد هذا أيضا ما روي عن ابن وهب حين أخبره مالك بكتاب عمر لابن حزم في جمع الحديث فقال: "قلت لمالك: السنن؟ قال: نعم" (4) .
ولاشك أن المقصود بالسنن في قول الزهري: "أمرنا عمر بن عبد العزيز
--------------------------------------------
তিনি কেবল নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণীর মধ্যে যা মারফু (مرفوع) ছিল তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না; বরং তিনি সাহাবায়ে কেরাম থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তাও লিপিবদ্ধ করতেন এবং সেগুলোকে সুনান এর সাথে যুক্ত করতেন। সালেহ বিন কাইসান থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: "আমি এবং জুহরি ইলম অন্বেষণকালে একত্রিত হলাম। আমরা বললাম, আমরা সুনান লিপিবদ্ধ করব। ফলে আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা লিপিবদ্ধ করলাম। এরপর তিনি (জুহরি) বললেন: আমরা সাহাবায়ে কেরাম থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তাও লিপিবদ্ধ করব, কারণ সেটিও সুন্নাহ (سنة)। আমি বললাম: সেটি সুন্নাহ (سنة) নয়, তাই আমরা তা লিখব না। সালেহ বলেন: ফলে তিনি লিখলেন, আর আমি লিখলাম না; পরিণামে তিনি সফল হলেন আর আমি সুযোগটি হারালাম।" (১) ।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, জুহরির মধ্যে শুরু থেকেই বিদ্যমান এই আগ্রহ তাঁর কর্ম ও সংকলনের ওপর প্রভাব ফেলেছিল, যার ফলে তাঁর কাজও ব্যাপকতার বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছিল। তবে এই ব্যাপকতা ছিল নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি মারফু (مرفوع) হিসেবে সম্বন্ধযুক্ত সুনান এবং সেই পর্যায়ের সাহাবীদের বাণীর কাঠামোর মধ্যে। এর প্রমাণ ইবনে হাজমের প্রতি উমর ইবনে আব্দুল আজিজের সেই চিঠি, যেখানে তিনি যে ধরণের ইলম সংগ্রহ করতে হবে তার সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদিস অথবা কোনো অতীত সুন্নাহ (سنة) কিংবা আমরাহ থেকে বর্ণিত হাদিস—যা পাও তার দিকে লক্ষ করো (এবং তা সংগ্রহ করো)" (২)। এটি নির্দেশ করে যে, সাহাবীদের আছার (مأثور) সংকলন করা তাঁর মূল উদ্দেশ্য ছিল না। বরং অন্য একটি বর্ণনায় এমন কিছু এসেছে যা এ বিষয়ে সকল সংশয় নিরসন করে, যেখানে তিনি বলেছেন: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদিস ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণ করো না" (৩)। ইবনে ওয়াহাব থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনাও একে সমর্থন করে; যখন ইমাম মালিক তাকে হাদিস সংগ্রহের বিষয়ে ইবনে হাজমের প্রতি উমরের চিঠির কথা জানিয়েছিলেন, তখন ইবনে ওয়াহাব বলেন: "আমি মালিককে জিজ্ঞাসা করলাম: সুনান? তিনি বললেন: হ্যাঁ" (৪)।
আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, জুহরির উক্তি— "উমর ইবনে আব্দুল আজিজ আমাদের আদেশ দিয়েছেন..." —এক্ষেত্রে সুনান দ্বারা উদ্দেশ্য হলো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাদবীনুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ ফিল কারনাইনিস সানি ওয়াস স্যালিসি লিল হিজরাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
بكتب السنن فكتبناها دفترا دفترا.." (1) هو هذا.
وأما بخصوص الأمر الآخر أي: جانب التوثيق والتمحيص، فلم يفت الخليفة عمر بن عبد العزيز أن ينتبه له ويوليه من العناية والاهتمام ما هو جدير به، فعمل بذلك على تدوين السنة نقية صحيحة النسبة إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، ولاشك أن اختياره للإمام الزهري في حد ذاته كان أثرا من آثار اهتمامه بهذا الجانب، فلقد كان ابن شهاب - إلى جانب كونه إماما ثقة مبرزا في الحديث- مشهورا بشدة تحريه ونقده للروايات. ويعكس هذا بوضوح ما قاله عمرو بن دينار عنه: "ما رأيت أبصر بحديث من الزهري" (2) ، وكان إذا حدث أتى بالحديث على وجهه مع ذكر إسناده والتركيز عليه ويقول: "لا يصلح أن يرقى السطح إلا بدرجة" (3) .
وذهب كثير من الباحثين إلى عدِّه أول من أسند الحديث اعتمادا على قول الإمام مالك "أول من أسند الحديث ابن شهاب " (4) ، ولأجل هذا تُعدُّ أحاديث الإمام الزهري وأسانيده من أحسن الأسانيد، قال الإمام أحمد بن حنبل: "الزهري أحسن الناس حديثا وأحسن الناس إسنادا" (5) ، وليس في عصره من يضاهيه في معرفته بالإسناد، وإن وجد من ينافسه في كثرة الرواية واتساعه في الرجال وعلمه بفقه الحديث، يقول الإمام أبو داود الطيالسي:
--------------------------------------------
"...সুনান গ্রন্থসমূহ লিখন প্রসঙ্গে; অতঃপর আমরা সেগুলো একের পর এক দপ্তরে (রেজিস্টার আকারে) লিখেছিলাম।" (১) এটিই সেই বিষয়।
আর অন্য বিষয়টি সম্পর্কে, অর্থাৎ: নির্ভরযোগ্যতা যাচাই (توثيق) এবং বিচার-বিশ্লেষণ (تمحيص) এর দিকটি; খলিফা উমর ইবনে আব্দুল আজিজ এ বিষয়ে সজাগ থাকতে এবং একে যথাযথ যত্ন ও গুরুত্ব প্রদান করতে ভুল করেননি। এর মাধ্যমে তিনি সুন্নাহকে অত্যন্ত স্বচ্ছ এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি সহিহ (صحيحة) সম্বন্ধযুক্ত হিসেবে সংকলন করার কাজ করেছেন। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ইমাম যুহরিকে তাঁর নির্বাচন করাটা ছিল এই বিষয়ের প্রতি তাঁর বিশেষ গুরুত্বারোপেরই একটি বহিঃপ্রকাশ। কেননা ইবনে শিহাব—হাদিসের ক্ষেত্রে একজন বিশিষ্ট নির্ভরযোগ্য (ثقة) ইমাম হওয়ার পাশাপাশি—বর্ণনাগুলো যাচাই-বাছাই এবং সূক্ষ্ম সমালোচনার (نقد) ক্ষেত্রে তাঁর কঠোরতার জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন। আমর ইবনে দিনার তাঁর সম্পর্কে যা বলেছেন, তাতে এটি স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে: "আমি যুহরির চেয়ে হাদিস সম্পর্কে অধিক দূরদৃষ্টিসম্পন্ন আর কাউকে দেখিনি।" (২) আর তিনি যখন হাদিস বর্ণনা করতেন, তখন তিনি হাদিসের সনদ (إسناد) উল্লেখ করে এবং সেটির ওপর গুরুত্বারোপ করে তা যথাযথভাবে উপস্থাপন করতেন এবং বলতেন: "সিঁড়ি ছাড়া ছাদে ওঠা সম্ভব নয়।" (৩)।
অনেক গবেষক তাঁকে সর্বপ্রথম হাদিসের সনদ বর্ণনা (أسند) কারী হিসেবে গণ্য করেছেন, ইমাম মালিকের এই উক্তির ওপর ভিত্তি করে যে: "ইবনে শিহাবই সর্বপ্রথম হাদিসের সনদ বর্ণনা (أسند) করেছেন।" (৪) আর এই কারণেই ইমাম যুহরির হাদিসসমূহ এবং তাঁর সনদগুলো (أسانيد) সর্বোত্তম সনদসমূহের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল বলেছেন: "যুহরি হাদিসের বর্ণনায় মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং সনদের (إسنادا) বিচারেও তিনি মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ।" (৫) তাঁর যুগে সনদ (إسناد) বিষয়ক জ্ঞানে তাঁর সমকক্ষ কেউ ছিল না; যদিও বর্ণনার আধিক্য, বর্ণনাকারী বা রাবি (الرجال) সংক্রান্ত গভীর জ্ঞান এবং হাদিসের ফিকহ (فقه الحديث) সম্পর্কে তাঁর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো লোক বিদ্যমান ছিল। ইমাম আবু দাউদ তায়ালিসি বলেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাদবীনুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ ফিল কারনাইনিস সানি ওয়াস স্যালিসি লিল হিজরাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
"وجدنا الحديث عند أربعة: الزهري وقتادة والأعمش وأبي إسحاق، وكان قتادة أعلمهم بالاختلاف وكان الزهري أعلمهم بالإسناد
… " (1) .
ويُرْوى عنه الكثير مما يدل على معرفته بصحيح الروايات وجيدها ودقة علمه بمخارج السنن وتمييزه لصحيحها من سقيمها، ومن ذلك توقيه الرواية عن أهل العراق، وتحذيره منها، بقوله: "إذا سمعت بالحديث العراقي فاردد به ثم اردد" (2) ، ويروي عنه النعمان بن راشد فيقول: "سمعت ابن شهاب يحدث بحديث يزيد بن أبي أنيسة فقلت: يا أبا بكر من حدثك بهذا؟ قال: أنت حدثتنيه، ممن سمعته؟ فقلت: رجل من أهل الكوفة، قال أفسدته، إن في حديث أهل الكوفة دغلا كثيرا" (3) .
وقد كان كلام الزهري هذا من أهم ما اعتمده المحدِّثون في تضعيف رواية أهل العراق.
فكان تعيين الزهري - وهو بهذه المنزلة - على رأس القائمين بتدوين السنة كافيا بأن يجعلها تخضع لمقاييس محدودة مضبوطة منع معها تسرب الموضوع إليها، ويؤكد هذه الحقيقة قول الزهري وهو يشرح البواعث على قيامه بالتدوين: "لولا أحاديث تأتينا من قبل المشرق ننكرها لا نعرفها ما كتبت حديثا ولا أَذِنْتُ في كتابته" (4) .
--------------------------------------------
"আমরা হাদিস পেয়েছি চারজনের নিকট: জুহরি, কাতাদাহ, আমাশ এবং আবু ইসহাক। তাদের মধ্যে কাতাদাহ মতভেদ সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জানতেন এবং জুহরি সনদ (إسناد) সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জানতেন
… " (১) ।
তাঁর থেকে এমন অনেক বর্ণনা পাওয়া যায় যা বর্ণনার সহিহ (صحيح) ও উত্তম (جيد) হওয়ার ব্যাপারে তাঁর প্রজ্ঞা, সুনানের উৎসসমূহ সম্পর্কে তাঁর সূক্ষ্ম জ্ঞান এবং সুস্থ (صحيح) বর্ণনাকে রুগ্ন (سقيم) বর্ণনা থেকে পৃথক করার সক্ষমতা প্রমাণ করে। এর মধ্যে একটি হলো ইরাকবাসীদের থেকে বর্ণনা গ্রহণের ক্ষেত্রে তাঁর সতর্কতা এবং এ ব্যাপারে তাঁর হুঁশিয়ারি; তিনি বলতেন: "যখন তুমি ইরাকি হাদিস শুনবে, তখন তা প্রত্যাখ্যান করো, তারপর আবারও প্রত্যাখ্যান করো" (২)। নুমান ইবনে রাশিদ তাঁর থেকে বর্ণনা করে বলেন: "আমি ইবনে শিহাবকে ইয়াজিদ ইবনে আবি আনিসার একটি হাদিস বর্ণনা করতে শুনলাম। আমি বললাম: হে আবু বকর, আপনাকে এটি কে বর্ণনা করেছেন? তিনি বললেন: তুমিই তো আমাকে এটি বর্ণনা করেছ, তুমি কার কাছ থেকে এটি শুনেছ? আমি বললাম: কুফার একজন লোকের কাছ থেকে। তিনি বললেন: তুমি এটি নষ্ট করে দিলে; নিশ্চয়ই কুফাবাসীদের হাদিসের মধ্যে অনেক ভেজাল (دغل) থাকে" (৩)।
মুহাদ্দিসগণ ইরাকবাসীদের বর্ণনাকে দুর্বল (تضعيف) সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে জুহরির এই বক্তব্যকে অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
জুহরির মতো উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন একজন ব্যক্তির সুন্নাহ সংকলনকারীদের অগ্রভাগে থাকাটাই সুন্নাহকে সুনির্দিষ্ট ও সুসংহত মানদণ্ডের অধীনে নিয়ে আসার জন্য যথেষ্ট ছিল, যা সুন্নাহর মধ্যে জাল (موضوع) হাদিসের অনুপ্রবেশ রদ করেছিল। সংকলন কার্যে প্রবৃত্ত হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জুহরির একটি বক্তব্য এই সত্যকে নিশ্চিত করে: "পূর্বদিক থেকে আমাদের কাছে আসা এমন কিছু হাদিস যদি না থাকত যা আমরা প্রত্যাখ্যানযোগ্য (نكر) মনে করি এবং চিনি না, তবে আমি কোনো হাদিস লিখতাম না এবং তা লিখার অনুমতিও দিতাম না" (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাদবীনুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ ফিল কারনাইনিস সানি ওয়াস স্যালিসি লিল হিজরাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وكأننا بالزهري يريد بعمله هذا حصر صحيح السنة النبوية؛ جرَّاء إحساسه بالوضع فيها.
هذا وقد كان عمل الزهري هذا بداية حقيقية لمرحلة أخرى جديدة دخلتها السنة المطهرة على يد تلامذته من بعده، الذين ارتفع لديهم الحاجز النفسي الذي سيطر في السابق على أكثر العلماء فبادروا إلى التصنيف فيها، وكونوا النواة الأساس للتصنيف في الحديث، وكان منهم الركائز الأساسية لقيام المنهج المعرفي في العالم الإسلامي.
মনে হয় যেন জুহরি তাঁর এই কর্মের মাধ্যমে সুন্নাহর সহিহ (صحيح) হাদিসসমূহকে নির্দিষ্ট করতে চেয়েছিলেন; কারণ তিনি এতে হাদিস জালকরণের (الوضع) বিষয়টি অনুভব করেছিলেন।
আর জুহরির এই পদক্ষেপটি ছিল পবিত্র সুন্নাহর ইতিহাসে এক নতুন পর্যায়ের প্রকৃত সূচনা, যা তাঁর পরবর্তী ছাত্রদের হাত ধরে এক নতুন যুগে প্রবেশ করে। তাঁদের মধ্য থেকে সেই মনস্তাত্ত্বিক বাধা দূর হয়ে গিয়েছিল যা ইতিপূর্বে অধিকাংশ আলিমকে আচ্ছন্ন করে রেখেছিল; ফলে তাঁরা হাদিস শাস্ত্রের সংকলন ও বিন্যাসে ব্রতী হন এবং হাদিস সংকলনের মূল ভিত্তি স্থাপন করেন। মুসলিম বিশ্বে জ্ঞানতাত্ত্বিক পদ্ধতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাঁরাই ছিলেন প্রধান স্তম্ভ।
(খণ্ড: ১)
তাদবীনুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ ফিল কারনাইনিস সানি ওয়াস স্যালিসি লিল হিজরাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
- التصنيف وبدايته في القرن الثاني:
اتفقت المصادر على أن أول من صنف مطلقا: هشام بن حسان (ت147هـ) وأبو محمد عبد الملك بن جريج (ت150هـ) ومحمد بن إسحاق (ت151هـ) ومعمر بن راشد (ت153هـ) وسعيد بن أبي عروبة (ت 156هـ) وأبو عمرو الأوزاعي (ت156هـ) ومحمد بن عبد الرحمن ابن أبي ذئب (ت158هـ) والربيع بن صبيح (ت160هـ) وشعبة بن الحجاج (ت160هـ) وسفيان الثوري (ت161هـ) وحماد بن سلمة (ت167هـ) والليث بن سعد (ت 175هـ) وهؤلاء اختلف في أيهم كان الأسبق.
وبعدهم مالك بن أنس (ت179هـ) وعبد الله بن المبارك (ت181هـ) ويحيى بن زكريا بن أبي زائدة (ت183هـ) وهشيم بن بشير (ت188هـ) وجرير بن عبد الحميد (ت188هـ) وعبد الله بن وهب (ت197هـ) ووكيع ابن الجراح (ت197هـ) وسفيان بن عيينة (ت198هـ) وعبد الملك بن عبد الرحمن الذماري (ت200هـ) ، وأبو داود الطيالسي (ت204هـ) ، وعبد الرزاق الصنعاني (ت211هـ) ، ومحمد بن يوسف الفريابي (ت212هـ) .. (1) وأغلب هؤلاء تلامذة للزهري.
قال الترمذي رحمه الله في العلل: "وجدنا غير واحد من الأئمة تكلفوا من التصنيف ما لم يسبقوا إليه منهم هشام بن حسان وعبد الملك بن عبد العزيز بن جريج وسعيد بن أبي عروبة ومالك بن أنس وحماد بن سلمة وعبد الله بن
--------------------------------------------
সংকলন (تصنيف) এবং দ্বিতীয় শতাব্দীতে এর সূচনা:
উৎসসমূহ এই বিষয়ে একমত হয়েছে যে, যারা সাধারণভাবে সর্বপ্রথম সংকলন করেছেন (صنف): হিশাম বিন হাসসান (মৃত্যু ১৪৭ হিজরি), আবু মুহাম্মদ আব্দুল মালিক বিন জুরাইজ (মৃত্যু ১৫০ হিজরি), মুহাম্মদ বিন ইসহাক (মৃত্যু ১৫১ হিজরি), মা'মার বিন রাশিদ (মৃত্যু ১৫৩ হিজরি), সাঈদ বিন আবু আরুবাহ (মৃত্যু ১৫৬ হিজরি), আবু আমর আল-আওজায়ি (মৃত্যু ১৫৬ হিজরি), মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান ইবনে আবি জিব (মৃত্যু ১৫৮ হিজরি), রাবি বিন সবিহ (মৃত্যু ১৬০ হিজরি), শু'বা বিন হাজ্জাজ (মৃত্যু ১৬০ হিজরি), সুফিয়ান সাওরি (মৃত্যু ১৬১ হিজরি), হাম্মাদ বিন সালামাহ (মৃত্যু ১৬৭ হিজরি) এবং লাইস বিন সা'দ (মৃত্যু ১৭৫ হিজরি)। তাঁদের মধ্যে কে সর্বপ্রথম ছিলেন সে বিষয়ে মতভেদ রয়েছে।
তাঁদের পরে রয়েছেন মালিক বিন আনাস (মৃত্যু ১৭৯ হিজরি), আব্দুল্লাহ বিন মুবারক (মৃত্যু ১৮১ হিজরি), ইয়াহইয়া বিন জাকারিয়া বিন আবু জাইদাহ (মৃত্যু ১৮৩ হিজরি), হুশাইম বিন বাশির (মৃত্যু ১৮৮ হিজরি), জারির বিন আব্দুল হামিদ (মৃত্যু ১৮৮ হিজরি), আব্দুল্লাহ বিন ওয়াহাব (মৃত্যু ১৯৭ হিজরি), ওয়াকি ইবনুল জাররাহ (মৃত্যু ১৯৭ হিজরি), সুফিয়ান বিন উয়াইনাহ (মৃত্যু ১৯৮ হিজরি), আব্দুল মালিক বিন আব্দুর রহমান আদ-জিমারি (মৃত্যু ২০০ হিজরি), আবু দাউদ আত-তায়ালিসি (মৃত্যু ২০৪ হিজরি), আব্দুর রাজ্জাক আস-সানআনি (মৃত্যু ২১১ হিজরি) এবং মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আল-ফিরইয়াবি (মৃত্যু ২১২ হিজরি)... (১) আর তাঁদের অধিকাংশই ছিলেন যুহরির ছাত্র।
ইমাম তিরমিজি (রহ.) আল-ইলাল গ্রন্থে বলেছেন: "আমরা ইমামদের (أئمة) মধ্য থেকে একাধিক ব্যক্তিকে পেয়েছি যারা সংকলনের (تصنيف) এমন কষ্টসাধ্য দায়িত্ব পালন করেছেন যার নজির তাঁদের পূর্বে ছিল না; তাঁদের মধ্যে হিশাম বিন হাসসান, আব্দুল মালিক বিন আব্দুল আজিজ বিন জুরাইজ, সাঈদ বিন আবু আরুবাহ, মালিক বিন আনাস, হাম্মাদ বিন সালামাহ এবং আব্দুল্লাহ বিন..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাদবীনুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ ফিল কারনাইনিস সানি ওয়াস স্যালিসি লিল হিজরাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
المبارك ويحيى بن زكريا بن أبي زائدة ووكيع بن الجراح وعبد الرحمن بن مهدي وغيرهم من أهل العلم والفضل صنفوا، فجعل الله تبارك وتعالى في ذلك منفعة كثيرة، فنرجو لهم بذلك الثواب الجزيل من عند الله لما نفع الله المسلمين به فهم القدوة فيما صنفوا" (1) .
وقال أبو طالب المكي مفصلا بعض ذلك: "أول كتاب صنف في الإسلام كتاب ابن جريج في الآثار وحروف من التفسير عن مجاهد وعطاء وأصحاب ابن عباس، ثم كتاب معمر بن راشد الصنعاني باليمن جمع فيه سننا منشورة مبوبة، ثم كتاب الموطأ بالمدينة لمالك بن أنس رضي الله عنه في الفقه، ثم جمع ابن عيينة كتاب الجوامع في السنن والأبواب، وكتاب التفسير في أحرف من علم القرآن، وجامع سفيان الثوري الكبير رضي الله عنه في الفقه والأحاديث، فهذه مِنْ أول ما صُنِّف ووُضِع من الكتب بعد وفاة سعيد بن المسيب وخيار التابعين وبعد عشرين أو أكثر ومائة من التاريخ.." (2) .
ويظهر من هذا أن التصنيف في السنة على هذا النحو من الترتيب والتبويب كان على غير المسانيد وإنما على الأبواب الفقهية، وأن أصحابه اتجهوا به في هذه الفترة أي: في منتصف القرن الثاني إلى ميدانين اثنين هما التفسير والفقه، وكانت الطبقة الأولى من هؤلاء كالربيع بن صبيح وسعيد بن أبي عروبة، ربما تصنف كل باب على حِدَة، بينما اتجهت الطبقة التي بعدها إلى جمع أبواب متعددة في الكتاب الواحد، إلا أن القاسم المشترك بينهم هو تدوين أقوال الصحابة والتابعين وفتاواهم، أي: الموقوف والمقطوع إلى جانب المرفوع،
--------------------------------------------
"...ইবনুল মুবারক, ইয়াহইয়া বিন জাকারিয়া বিন আবি যাইদাহ, ওয়াকি ইবনুল জাররাহ, আবদুর রহমান বিন মাহদী এবং ইলম ও ফযীলতের অধিকারী অন্যান্য ব্যক্তিগণ সংকলন করেছেন। ফলে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা তাতে প্রভূত কল্যাণ নিহিত করেছেন। আমরা আল্লাহর নিকট তাঁদের জন্য মহান প্রতিদানের আশা করি, যেহেতু আল্লাহ এর মাধ্যমে মুসলিমদের উপকৃত করেছেন; সুতরাং তাঁরা যা সংকলন করেছেন সে বিষয়ে তাঁরাই অনুসরণীয় আদর্শ।" (১)।
আবু তালিব আল-মাক্কি এর বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে বলেন: "ইসলামে সর্বপ্রথম যে কিতাব সংকলিত হয়েছে তা হলো ইবনে জুরাইজের কিতাব, যা মুজাহিদ, আতা এবং ইবনে আব্বাসের সাহচর্যে থাকা ব্যক্তিদের থেকে বর্ণিত আসার (الآثار) এবং তাফসীরের কিছু বিষয়ের ওপর রচিত। এরপর ইয়ামেনে মা'মার বিন রাশিদ আস-সান’আনীর কিতাব, যাতে তিনি বিন্যস্ত ও অধ্যায়ভিত্তিক বিভিন্ন সুনান সংকলন করেছেন। এরপর মদিনায় মালিক বিন আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এর ফিকহ বিষয়ক কিতাব মুওয়াত্তা। এরপর ইবনে উইয়াইনাহ সুনান ও অধ্যায়সমূহের ওপর জামে (الجوامع) কিতাবসমূহ এবং কুরআনের ইলমের বিভিন্ন পঠনরীতি সংক্রান্ত তাফসীর গ্রন্থ সংকলন করেন। আর ফিকহ ও হাদিস বিষয়ে সুফিয়ান আস-সাওরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এর আল-জামে আল-কাবীর। এগুলো হচ্ছে সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব ও শ্রেষ্ঠ তাবেয়ীদের ইনতিকালের পর এবং হিজরি ১২০ বা তার কিছুকাল পরে সর্বপ্রথম সংকলিত ও রচিত কিতাবসমূহের অন্তর্ভুক্ত..." (২)।
এখান থেকে এটি প্রতীয়মান হয় যে, সুন্নাহর সংকলনে বিন্যাস ও অধ্যায় বিন্যাসের এই ধারা মুসনাদ সমূহের পদ্ধতিতে ছিল না, বরং তা ছিল ফিকহী অধ্যায়সমূহের বিন্যাসে। আর সংকলকগণ এই সময়ে অর্থাৎ দ্বিতীয় হিজরি শতকের মাঝামাঝি সময়ে দুটি বিষয়ের দিকে মনোনিবেশ করেছিলেন, তা হলো তাফসীর এবং ফিকহ। তাঁদের মধ্যে প্রথম স্তরের সংকলকগণ যেমন রাবী বিন সাবিহ এবং সাঈদ বিন আবি আরুবাহ, সম্ভবত প্রতিটি অধ্যায় পৃথকভাবে সংকলন করতেন। অপরদিকে তাঁদের পরবর্তী স্তরের সংকলকগণ একটি কিতাবে বহু অধ্যায় একত্রিত করার দিকে ধাবিত হন। তবে তাঁদের সকলের মধ্যে একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য ছিল সাহাবী ও তাবেয়ীদের উক্তি এবং তাঁদের ফতোয়াসমূহ লিপিবদ্ধ করা; অর্থাৎ মারফু (المرفوع) বর্ণনার পাশাপাশি মাওকুফ (الموقوف) ও মাকতু (المقطوع) বর্ণনাগুলোও সংকলন করা হতো।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাদবীনুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ ফিল কারনাইনিস সানি ওয়াস স্যালিসি লিল হিজরাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وكان منهم من يضمن الكتاب اختياراته وآراءه كالإمام مالك رحمه الله.
وكانت هذه المصنفات تعنون إمَّا بـ"المصنف" أو "الموطأ" أو "الجامع" أو "السنن" وكانت السنن هي الغالبة؛ إذ قَلَّ إمام من الأئمة ليس له سنن، فابن جريج وابن أبي عروبة والأوزاعي وحماد بن سلمة وابن المبارك وابن أبي زائدة ووكيع، كل هؤلاء كانت لهم سنن.
وإذا كانت كتب السنن تعرّف كما ورد في "الرسالة المستطرفة " للكتاني بأنها الكتب المرتبة على الأبواب الفقهية من الإيمان والطهارة والصلاة والزكاة إلى آخرها وليس فيها شيء من الموقوف، وقال: "لأن الموقوف لا يسمى في اصطلاحهم سنة ويسمى حديثا" (1) ، فإن هذه الصورة لم تتحقق إلا في الطور الأخير وذلك في القرن الثالث كما سيأتي، أما في هذه الفترة فكانت السنن تجمع الموقوف والمقطوع مع المرفوع كما تقدم.
فلماذا كانت البداية على هذا النحو، وكانت هذه الخصائص بالذات؟
الجواب أن العوامل التي تحكمت في هذه المرحلة واتجاهاتها كانت مغايرة للعوامل التي سادت زمن الزهري، وظهرت على منهج التدوين وأبعاده لديه، حيث كان من أهمها: التأسيس الفقهي والأصولي وما اقتضاه ذلك من تركيز الجهود لمزيد من الجمع لما تفرق من السنة النبوية وترتيبه على أبواب الفقه والتعقيب عليه بالرأي الفقهي أحيانا.
وكان منها أيضا ما تعرضت له السنة من هجوم أريد به النيل من حجيتها والطعن في مدى قبولها بذريعة ما لابسها من الدخيل والمكذوب.
--------------------------------------------
তাদের মধ্যে কেউ কেউ কিতাবের মধ্যে নিজ পছন্দ ও মতামত অন্তর্ভুক্ত করতেন, যেমন ইমাম মালিক (রহ.)।
এই সংকলনগুলোর শিরোনাম হতো 'মুসান্নাফ', 'মুয়াত্তা', 'জামে' অথবা 'সুনান'; আর 'সুনান' শিরোনামটিই ছিল সর্বাধিক প্রচলিত। কেননা এমন ইমাম খুব কমই ছিলেন যার কোনো 'সুনান' ছিল না। যেমন ইবনে জুরাইজ, ইবনে আবি আরুবাহ, আওজায়ি, হাম্মাদ বিন সালামাহ, ইবনুল মুবারক, ইবনে আবি যায়িদাহ এবং ওকি—এঁদের প্রত্যেকেরই 'সুনান' গ্রন্থ ছিল।
কাত্তানির 'আর-রিসালাহ আল-মুসতাতরাফাহ' গ্রন্থে 'সুনান' গ্রন্থসমূহের সংজ্ঞা যেভাবে দেওয়া হয়েছে তা হলো—এমন কিতাব যা ঈমান, পবিত্রতা, নামাজ, জাকাত থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত ফিকহী অধ্যায়সমূহের ক্রমানুসারে বিন্যস্ত এবং তাতে কোনো 'মৌকুফ (موقوف)' বর্ণনা নেই। তিনি বলেছেন: "কেননা তাঁদের পরিভাষায় 'মৌকুফ (موقوف)' বর্ণনাকে সুন্নাহ বলা হয় না, বরং তাকে হাদিস বলা হয়" (১)। তবে এই রূপটি কেবল শেষ পর্যায়ে অর্থাৎ তৃতীয় শতাব্দীতে বাস্তবায়িত হয়েছিল, যা সামনে আসবে। পক্ষান্তরে এই প্রাথমিক যুগে 'সুনান' গ্রন্থগুলো 'মারফু (مرفوع)' বর্ণনার সাথে সাথে 'মৌকুফ (موقوف)' ও 'মাকতু (مقطوع)' বর্ণনারও সমষ্টি ছিল, যেমনটি আগে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে কেন শুরুটা এভাবে হয়েছিল এবং কেন এই বিশেষ বৈশিষ্ট্যগুলো বজায় ছিল?
উত্তর হলো, এই পর্যায়ের নিয়ন্ত্রক উপাদান ও প্রবণতাসমূহ ইমাম জুহরির যুগে প্রচলিত উপাদানগুলোর চেয়ে ভিন্ন ছিল, যা তাঁর সংকলন পদ্ধতি ও তার পরিধিতে ফুটে উঠেছিল। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল: ফিকহী ও উসুলি ভিত্তি স্থাপন এবং এর প্রয়োজনে বিক্ষিপ্ত সুন্নাহকে অধিক হারে সংগ্রহ করে ফিকহী অধ্যায় অনুযায়ী বিন্যস্ত করার জন্য প্রচেষ্টার একাগ্রতা এবং মাঝেমধ্যে তার ওপর ফিকহী রায় বা মতামত প্রদান।
এর মধ্যে আরেকটি কারণ ছিল সুন্নাহর ওপর পরিচালিত সেই আক্রমণ, যার উদ্দেশ্য ছিল সুন্নাহর প্রামাণ্যতাকে ক্ষুণ্ণ করা এবং এতে অনুপ্রবেশকৃত 'প্রক্ষিপ্ত (دخيل)' ও 'বানোয়াট (مكذوب)' বর্ণনার অজুহাতে এর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাদবীনুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ ফিল কারনাইনিস সানি ওয়াস স্যালিসি লিল হিজরাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
وقد وضح أستاذنا الدكتور فاروق حمادة في هذا الصدد أن مصنفات القرن الثاني الهجري - بالنظر إلى هذه العوامل - إنما نشأت لتردَّ على أهل الزيغ والبدع والانحرافات والأهواء كالقدرية والخوارج والرافضة وأمثالهم، وخاض علماء الحديث في هذه المرحلة معركة إثبات السنة وحجيتها وبيان موقعها في حياة المسلمين (1) .
وكما لم يكن من شرط هذه الكتب الاقتصار على المرفوع وحده حيث أوردت إلى جانبه الموقوف والمقطوع - كما تقدم - فإنها لم تقتصر كذلك على الصحيح المتصل، فاستطردت إلى المراسيل والمنقطعات والبلاغات، ولعل السبب في ذلك في الغالب خوفهم من الوقوع في الموضوع من الحديث المرفوع وتوقيهم من أن يتسرب إلى كتبهم منه شيء ولاسيما أن المرحلة مرحلة تمحيص وغربلة ونقد وتثبت من الأسانيد فكان أن استبدلوا الموقوفات والمقطوعات بالمسندات المرفوعات لعدم اقتضاء الأولى من التحري والتشدد ما تقتضيه هذه، وقد جاء النص على هذا صريحا لدى الخطيب البغدادي في ثنايا حديثه عن طرائق تصنيف الحديث في جامعه حيث قال: "وهذان النوعان - أي الموقوف والمرسل - أكثر ما في كتب المتقدمين إذ كانوا لكثير من المسندات مستنكرين" (2) .
ثم أورد بإسناده عن محمد بن يحيى بن كثير قال: قال أبو نعيم: سلني ولا تسلني عن الطويل، ولا المسند، أما الطويل فكنَّا لا نحفظه، وأما المسند فكان الرجل إذا والى بين حديثين مسندين رفعنا إليه رؤوسنا استنكارا لما جاء به" (3) .
--------------------------------------------
এ প্রসঙ্গে আমাদের উস্তাদ ডক্টর ফারুক হামাদাহ স্পষ্ট করেছেন যে, হিজরি দ্বিতীয় শতাব্দীর সংকলনগুলো—এই সব কারণ বিবেচনায়—মূলত বিভ্রান্তি, বিদআত, বিচ্যুতি ও কুপ্রবৃত্তির অনুসারী যেমন কাদরিয়া, খারেজি, রাফেজি ও তাদের সমজাতীয়দের জবাব দেওয়ার জন্যই রচিত হয়েছিল। এই পর্যায়ে হাদিস বিশারদগণ সুন্নাহর প্রামাণ্যতা ও প্রামাণিকতা প্রতিষ্ঠা এবং মুসলিম জীবনে এর অবস্থান স্পষ্ট করার এক সংগ্রামে লিপ্ত হয়েছিলেন (১)।
এবং যেহেতু এই কিতাবগুলোর শর্ত কেবল রাসুলের দিকে সম্বন্ধযুক্ত (مرفوع) বর্ণনার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না—বরং এর পাশাপাশি সাহাবির দিকে সম্বন্ধযুক্ত (موقوف) এবং তাবেয়ির দিকে সম্বন্ধযুক্ত (مقطوع) বর্ণনাও উল্লেখ করা হয়েছে, যেমনটি পূর্বে আলোচিত হয়েছে—তেমনি এগুলো শুধুমাত্র সংযুক্ত সহিহ (الصحيح المتصل) বর্ণনার মধ্যেও সীমাবদ্ধ ছিল না। ফলে তারা মুরসাল বা বিচ্ছিন্ন (مراسيل), বিচ্ছিন্ন (منقطعات) এবং বালাগাত (بلاغات) বর্ণনার দিকেও প্রসারিত হয়েছে। সম্ভবত এর প্রধান কারণ ছিল রাসুলের দিকে সম্বন্ধযুক্ত (مرفوع) হাদিসের ক্ষেত্রে জাল (موضوع) বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ভয় এবং তাদের কিতাবগুলোতে এমন কিছু যাতে অনুপ্রবেশ না করে সে বিষয়ে সতর্কতা। বিশেষ করে যেহেতু এই পর্যায়টি ছিল সনদসমূহের পরীক্ষা-নিরীক্ষা, যাচাই-বাছাই, সমালোচনা এবং সুনিশ্চিতকরণের পর্যায়। তাই তারা সাহাবির দিকে সম্বন্ধযুক্ত (موقوفات) এবং তাবেয়ির দিকে সম্বন্ধযুক্ত (مقطوعات) বর্ণনাগুলোকে মুসনাদ (مسندات) ও রাসুলের দিকে সম্বন্ধযুক্ত (مرفوعات) বর্ণনার বিকল্প হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন; কারণ প্রথমোক্তগুলোর ক্ষেত্রে সেই গভীর অনুসন্ধান ও কঠোরতার প্রয়োজন ছিল না যা শেষোক্তগুলোর ক্ষেত্রে আবশ্যক ছিল। এ বিষয়ে খতিব বাগদাদির বর্ণনায় স্পষ্ট বক্তব্য এসেছে, যেখানে তিনি তার জামে গ্রন্থে হাদিস সংকলনের পদ্ধতিগুলো সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেছেন: "এই দুই প্রকার—অর্থাৎ সাহাবির দিকে সম্বন্ধযুক্ত (موقوف) এবং মুরসাল বা বিচ্ছিন্ন (مرسل)—পূর্ববর্তীদের কিতাবসমূহে সবচেয়ে বেশি বিদ্যমান, কারণ তারা অনেক মুসনাদ (مسندات) বর্ণনার ব্যাপারে অস্বীকৃতি জ্ঞাপনকারী (مستنكرين) ছিলেন" (২)।
এরপর তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে কাসিরের সূত্রে তার সনদে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আবু নুয়াইম বলেছেন: "তুমি আমাকে অন্য বিষয়ে জিজ্ঞাসা করো, কিন্তু দীর্ঘ বর্ণনা কিংবা মুসনাদ (مسند) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করো না। দীর্ঘ বর্ণনার কথা যদি বলো, তবে আমরা তা মুখস্থ করতাম না। আর মুসনাদ (مسند) বর্ণনার ব্যাপারে কথা হলো, কোনো ব্যক্তি যখন পরপর দুটি মুসনাদ (مسند) হাদিস বর্ণনা করত, তখন সে যা নিয়ে এসেছে তার প্রতি অস্বীকৃতি বা বিস্ময়ের (استنكارا) কারণে আমরা তার দিকে মাথা তুলে তাকাতাম" (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাদবীনুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ ফিল কারনাইনিস সানি ওয়াস স্যালিসি লিল হিজরাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
وفي هذا ما يدل على أن الإسناد لم يعرف في هذه المرحلة اكتماله ونضجه واستقراره بعد.
এবং এর মধ্যে এমন প্রমাণ রয়েছে যা নির্দেশ করে যে, এই পর্যায়ে বর্ণনাসূত্র (إسناد) এখনও পূর্ণতা, পরিপক্কতা ও স্থিতিশীলতা লাভ করেনি।
(খণ্ড: ১)
তাদবীনুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ ফিল কারনাইনিস সানি ওয়াস স্যালিসি লিল হিজরাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
3-
تدوين السنة النبوية في القرن الثالث الهجري:يعدُّ هذا القرن أهم فترة في تاريخ السنة النبوية على الإطلاق سواء من حيث تدوين المتون أو من حيث نضج القواعد النقدية واكتمالها ونضج ما يرتبط بها من الدراسات والأبحاث في علم الرجال وعلم العلل وفقه الحديث والعلوم المتعلقة بذلك وقضية الإسناد، ولذلك استحق أن يسمى عند الدارسين بالعصر الذهبي للسنة.
وقد اتجه المصنفون فيه إلى تطوير ما فتقه شيوخهم في هذا الميدان وبلورته وترسيخه على أسس متينة وقوية، وهكذا توالت المصنفات وعمت كل البلاد الإسلامية، وبلغت في الكثرة والتنوع مدى بعيدا، ويمكن أن نذكر من هؤلاء المصنفين: أسد بن موسى الأموي (ت212هـ) ، وعبيد الله بن موسى العبسي (ت213هـ) ، وعبد الله بن الزبير الحميدي (ت219هـ) وأحمد بن منيع البغوي (ت224هـ) ، وسعيد بن منصور (ت227هـ) ، ونعيم بن حماد الخزاعي (ت228هـ) ، ومسدد بن مسرهد البصري (ت228هـ) ، وعلي بن الجعد الجوهري (ت230هـ) ، وعبد الله بن محمد الجعفي المسندي (ت229هـ) ، ويحيى بن معين (ت233هـ) ، وعلي بن المديني (ت234هـ) ، وأبا خثيمة زهير بن حرب (ت234هـ) ، وأبا بكر بن أبي شيبة (ت235هـ) ، وإسحاق بن راهويه (ت238هـ) ، وخليفة بن خياط (ت240هـ) ، وأحمد بن حنبل (ت241هـ) ، وإسحاق بن إبراهيم بن نصر السعدي (ت242هـ) ، والحسن الحلواني (ت242هـ) ، وأحمد بن منيع
3-
হিজরি তৃতীয় শতাব্দীতে সুন্নাহর সংকলন:এই শতাব্দীকে সুন্নাহর ইতিহাসে সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তা মূল পাঠ (متون) সংকলনের দিক থেকেই হোক কিংবা পর্যালোচনার নীতিমালা (قواعد نقدية) পরিপক্কতা ও পূর্ণতা লাভ এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বর্ণনাকারী বিষয়ক জ্ঞান (علم الرجال), হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি বিষয়ক জ্ঞান (علم العلل), হাদিসের প্রজ্ঞা (فقه الحديث) ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিদ্যা এবং সনদ (إسناد) সংক্রান্ত গবেষণার বিকাশের দিক থেকেই হোক। একারণেই গবেষকদের নিকট এটি সুন্নাহর 'স্বর্ণযুগ' হিসেবে অভিহিত হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে।
এই যুগের গ্রন্থকারগণ তাঁদের উস্তাদদের উন্মোচিত বিষয়গুলোকে আরও উন্নত ও বিকশিত করার এবং সেগুলোকে সুদৃঢ় ও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করার দিকে মনোনিবেশ করেছিলেন। এভাবে ধারাবাহিকভাবে গ্রন্থ সংকলিত হতে থাকে এবং তা সমগ্র মুসলিম বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। এই সময়ে রচিত গ্রন্থাবলি সংখ্যা এবং বৈচিত্র্যের দিক থেকে এক সুদূরপ্রসারী উচ্চতায় পৌঁছেছিল। এই সংকলকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন: আসাদ বিন মুসা আল-উমাবি (মৃ. ২১২ হি.), উবাইদুল্লাহ বিন মুসা আল-আবসি (মৃ. ২১৩ হি.), আবদুল্লাহ বিন আল-জুবাইর আল-হুমাইদি (মৃ. ২১৯ হি.), আহমদ বিন মানি আল-বাগাউই (মৃ. ২২৪ হি.), সাঈদ বিন মানসুর (মৃ. ২২৭ হি.), নুয়াইম বিন হাম্মাদ আল-খুজায়ি (মৃ. ২২৮ হি.), মুসাদ্দাদ বিন মুসারহাদ আল-বাসরি (মৃ. ২২৮ হি.), আলী বিন আল-জাদ আল-জাওহারি (মৃ. ২৩০ হি.), আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-জুফি আল-মুসনাদি (মৃ. ২২৯ হি.), ইয়াহইয়া বিন মাইন (মৃ. ২৩৩ হি.), আলী বিন আল-মাদিনি (মৃ. ২৩৪ হি.), আবু খাইসামা জুহাইর বিন হারব (মৃ. ২৩৪ হি.), আবু বকর বিন আবি শাইবা (মৃ. ২৩৫ হি.), ইসহাক বিন রাহুইয়াহ (মৃ. ২৩৮ হি.), খলিফা বিন খাইয়াত (মৃ. ২৪০ হি.), আহমদ বিন হাম্বল (মৃ. ২৪১ হি.), ইসহাক bin ইবরাহিম bin নাসর আস-সাদি (মৃ. ২৪২ হি.), আল-হাসান আল-হুলওয়ানি (মৃ. ২৪২ হি.) এবং আহমদ বিন মানি।
(খণ্ড: ১)
তাদবীনুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ ফিল কারনাইনিস সানি ওয়াস স্যালিসি লিল হিজরাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
(ت 244هـ) ، وعبد بن حميد (ت249هـ) ، وإسحاق بن منصور (ت251هـ) ، ومحمد بن هشام السدوسي (ت251هـ) ، وعبد الله بن عبد الرحمن الدارمي (ت255هـ) ومحمد بن إسماعيل البخاري (ت256هـ) ، ومسلم بن الحجاج القشيري (ت261هـ) ومحمد بن يزيد ابن ماجه (ت273هـ) ، وأبا داود سليمان بن الأشعث (ت275هـ) ، وأبا عيسى محمد بن عيسى بن سورة الترمذي (ت279هـ) ، وأبا عبد الرحمن أحمد بن شعيب النسائي (ت303هـ) .
وقد اتجه المصنفون في مطلع هذا القرن إلى تأليف "المسانيد" وهي الكتب التي موضوعها جعل حديث كل صحابي على حدة صحيحا كان أو حسنا أو ضعيفا مرتبين على حروف الهجاء في أسماء الصحابة أو على القبائل أو السابقة في الإسلام أو الشرافة النسبية أو غير ذلك (1) ، وقد صارت هي الطاغية لدرجة أنه قل إمام من الأئمة إلا وألَّف مسندا، الأمر الذي يشبه إلى حد بعيد ظاهرة تأليف السنن في منتصف القرن الثاني كما تقدم.
ويُعَدُّ تصنيف "المسانيد" توجها من المحدثين نحو إفراد الأحاديث المرفوعة بالجمع والتدوين دون غيرها من الموقوف والمقطوع كما هو الحال في السابق لأن الحجة تقوم به بعد كلام الله تعالى كما نبه على ذلك أستاذنا الدكتور فاروق حمادة حفظه الله (2) . قال الحافظ ابن حجر: "وصنف أبو محمد عبد الملك بن عبد العزيز بن جريج بمكة، وأبو عمرو عبد الرحمن بن عمرو
--------------------------------------------
(মৃত্যু ২৪৪ হি.), এবং আবদ ইবনে হুমাইদ (মৃত্যু ২৪৯ হি.), এবং ইসহাক ইবনে মানসুর (মৃত্যু ২৫১ হি.), এবং মুহাম্মদ ইবনে হিশাম আস-সাদূসী (মৃত্যু ২৫১ হি.), এবং আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান আদ-দারিমি (মৃত্যু ২৫৫ হি.) এবং মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারি (মৃত্যু ২৫৬ হি.), এবং মুসলিম ইবনে হাজ্জাজ আল-কুশাইরি (মৃত্যু ২৬১ হি.) এবং মুহাম্মদ ইবনে ইয়াজিদ ইবনে মাজাহ (মৃত্যু ২৭৩ হি.), এবং আবু দাউদ সুলাইমান ইবনে আশআস (মৃত্যু ২৭৫ হি.), এবং আবু ঈসা মুহাম্মদ ইবনে ঈসা ইবনে সাওরা আত-তিরমিজি (মৃত্যু ২৭৯ হি.), এবং আবু আবদুর রহমান আহমদ ইবনে শুআইব আন-নাসায়ি (মৃত্যু ৩০৩ হি.)।
এই শতাব্দীর শুরুতে সংকলকগণ "মুসনাদ" গ্রন্থ রচনার দিকে মনোনিবেশ করেন। এগুলো এমন সব গ্রন্থ যার বিষয়বস্তু হলো প্রত্যেক সাহাবীর বর্ণিত হাদিসকে পৃথকভাবে বিন্যস্ত করা, তা সহিহ (صحيح) হোক বা হাসান (حسن) অথবা দুর্বল (ضعيف); যা সাহাবীদের নামের বর্ণানুক্রম অনুসারে, অথবা গোত্রীয় পরিচয়, ইসলাম গ্রহণে অগ্রগণ্যতা, বংশীয় মর্যাদা কিংবা অন্য কোনো মানদণ্ডের ভিত্তিতে সাজানো হয় (১)। এই ধারাটি এতটাই প্রভাবশালী হয়ে ওঠে যে, ইমামদের মধ্যে খুব কমই এমন ছিলেন যারা একটি মুসনাদ রচনা করেননি। বিষয়টি অনেকটা দ্বিতীয় শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে সুনান গ্রন্থ রচনার প্রবণতার সাথে অনেকাংশেই সাদৃশ্যপূর্ণ, যেমনটি ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে।
মুহাদ্দিসগণের নিকট "মুসনাদ" বিন্যাস করার বিষয়টি হলো কেবল মারফু (مرفوع) হাদিসগুলোকে সংগ্রহ ও সংকলনে স্বতন্ত্র রূপ দেওয়ার একটি প্রয়াস, যেখানে মাওকুফ (موقوف) ও মাকতু (مقطوع) বর্ণনাগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, যা পূর্ববর্তী সংকলন রীতির ব্যতিক্রম ছিল। কেননা আল্লাহ তাআলার বাণীর পর কেবল এগুলোর (মারফু হাদিসের) মাধ্যমেই দলিল প্রতিষ্ঠিত হয়, যেমনটি আমাদের উস্তাদ ডক্টর ফারুক হামাদা (হাফিজাহুল্লাহ) উল্লেখ করেছেন (২)। হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: "মক্কায় আবু মুহাম্মদ আবদুল মালিক ইবনে আবদুল আজিজ ইবনে জুরাইজ এবং আবু আমর আবদুর রহমান ইবনে আমর সংকলন করেন..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাদবীনুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ ফিল কারনাইনিস সানি ওয়াস স্যালিসি লিল হিজরাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الأوزاعي بالشام، وأبو عبد الله سفيان بن سعيد الثوري بالكوفة، وأبو سلمة حماد بن سلمة بن دينار بالبصرة، ثم تلاهم كثير من أهل عصرهم في النسج على منوالهم. إلى أن رأى بعض الأئمة منهم أن يفرد حديث النبي صلى الله عليه وسلم خاصة، وذلك على رأس المائتين، فصنف عبيد الله بن موسى العبسي الكوفي مسنداً وصنف مسدد بن مسرهد البصري مسنداً، وصنف أسد بن موسى الأموي مسنداً وصنف نعيم بن حماد الخزاعي نزيل مصر مسنداً، ثم اقتفى الأئمة بعد ذلك أثرهم، فقلَّ إمام من الحفاظ إلا وصنف حديثه على المسانيد كالإمام أحمد بن حنبل وإسحاق بن راهويه وعثمان بن أبي شيبة، وغيرهم من النبلاء. ومنهم من صَنَّفَ على الأبواب وعلى المسانيد معا كأبي بكر بن أبي شيبة" (1) .
ومع أن المسانيد تعد تطوراً في التأليف الحديثي ونضجاً على المستوى المنهجي والنقدي معا، فإنها لم تكن – على رغم من ذلك- تقتصر على الصحيح فقط، وإنما تورد بعضا من الأحاديث التي لم تبلغ درجة الصحة، كما سبق في كلام الكتاني رحمه الله، وملحظهم في ذلك أمور منها:
أولاً: ما ذكره الحافظ ابن حجر وهو أن الغرض الأساس عند من يصنف على المسانيد هو جمع حديث كل صحابي على حدة، سواء أكان يصلح للاحتجاج به أم لا، ثم ذكر الحافظ أنَّ مَنْ عرف من أصحاب المسانيد بانتقاء الأحاديث الصحيحة قليل كإسحاق بن راهويه وأحمد بن حنبل، ومع ذلك فقد وقع في كتبهم ما لا يبلغ درجة الصحة من الضعيف والمنكر (2) .
--------------------------------------------
শামে ইমাম আওযায়ী, কুফায় আবু আব্দুল্লাহ সুফিয়ান ইবনে সাঈদ সাওরী এবং বসরায় আবু সালামাহ হাম্মাদ ইবনে সালামাহ ইবনে দিনার এই ধারার সূচনা করেন। পরবর্তীতে তাঁদের যুগের আরও অনেক আলিম তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেন। হিজরি দ্বিতীয় শতকের শুরুতে কিছু ইমাম কেবল নবী (সা.)-এর হাদিসসমূহ স্বতন্ত্রভাবে সংকলনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। ফলে উবায়দুল্লাহ ইবনে মুসা আল-আবসি আল-কুফি একটি মুসনাদ সংকলন করেন; মুসাদ্দাদ ইবনে মুসারহাদ আল-বাসরি একটি মুসনাদ সংকলন করেন; আসাদ ইবনে মুসা আল-উমায়ি একটি মুসনাদ সংকলন করেন এবং মিশরের অধিবাসী নুআইম ইবনে হাম্মাদ আল-খুযায়ি একটি মুসনাদ সংকলন করেন। অতঃপর পরবর্তী ইমামগণ তাঁদের পথ অনুসরণ করেন। হাফিজদের মধ্যে খুব কম ইমামই ছিলেন যারা মুসনাদ বিন্যাসে হাদিস সংকলন করেননি, যেমন ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল, ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহি, উসমান ইবনে আবি শাইবাহ এবং অন্যান্য প্রাজ্ঞ ব্যক্তিত্ব। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ একইসাথে অধ্যায় এবং মুসনাদ উভয় ভিত্তিতে সংকলন করেছেন, যেমন আবু বকর ইবনে আবি শাইবাহ। (১) .
যদিও মুসনাদ গ্রন্থসমূহ হাদিস সংকলন ও পদ্ধতিগত ও গবেষণামূলক পর্যায়ে একটি উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হিসেবে বিবেচিত হয়, তা সত্ত্বেও এগুলো কেবল সহিহ (صحيح) হাদিসের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। বরং এতে এমন কিছু হাদিসও স্থান পেয়েছে যা বিশুদ্ধতার (صحة) স্তরে পৌঁছায়নি, যেমনটি আল-কাত্তানি (রহ.)-এর বক্তব্যে ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। এর পেছনে তাঁদের বেশ কিছু উদ্দেশ্য ছিল, যার মধ্যে রয়েছে:
প্রথমত: হাফিজ ইবনে হাজার যা উল্লেখ করেছেন তা হলো—মুসনাদ রচয়িতাদের মূল লক্ষ্য ছিল প্রতিটি সাহাবীর হাদিস পৃথকভাবে একত্রিত করা, তা প্রমাণের যোগ্য (الاحتجاج) হোক বা না হোক। হাফিজ আরও উল্লেখ করেন যে, মুসনাদ রচয়িতাদের মধ্যে যারা কেবল সহিহ (صحيح) হাদিস বাছাই করার জন্য পরিচিত ছিলেন তাঁরা সংখ্যায় অত্যন্ত নগণ্য, যেমন ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহি এবং আহমাদ ইবনে হাম্বল। তা সত্ত্বেও তাঁদের কিতাবসমূহে এমন কিছু হাদিস পাওয়া যায় যা দুর্বল (ضعيف) ও মুনকার (منكر) হওয়ার কারণে বিশুদ্ধতার (صحة) স্তরে পৌঁছায়নি (২) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাদবীনুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ ফিল কারনাইনিস সানি ওয়াস স্যালিসি লিল হিজরাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
ومنها أيضا ملحظ آخر نبه له الشيخ أبو زهو وهو الإشارة - من خلال كثرة الطرق التي يوردونها - إلى أن طرق الحديث قد تتعدَّد، فيبلغ مبلغ الصحيح أو أنه يصلح للاعتبار، ومنها ما تتبين صحته فيما بعد لأهل الحديث ونقاده، إلا أن هذه الطريقة هي - في نظره - ذات عيوب، لأن المطالع لها
-إذا لم يكن من أهل الفن المتضلعين فيه الواقفين على أحوال المتون والأسانيد- تعذَّر عليه الوقوف على درجة الحديث من الصحة والضعف والاحتجاج به أو عدمه (1) .
وبالإضافة إلى هذا النقص، هناك جانب آخر يعد من سلبياتها وهو عدم ترتيبها على أبواب الفقه، وذلك ما يجعل الوقوف على الأحكام الشرعية منها شاقا على غير الحفاظ المتقنين لعدم التناسب في جمع الحديث بين موضوعاتها.
هكذا إذن يتبين أن السنة النبوية عرفت على مستوى التدوين تطوراً مستمراً وسيراً يوما بعد يوم نحو الكمال، فقد كان المصنفون في البداية يخلطون الصحيح والمتصل بالمرسل والبلاغ والمنقطع، والسنن بالموقوفات ثم لا يبين معظمهم ذلك ولا يوضحه.
وخير دليل على ذلك أن موطأ الإمام مالك الذي يعد أصح الكتب في هذه الفترة، أو هو بحسب عبارة الشافعي أكثر الكتب صوابا، لا يخلو من المراسيل وما شاكلها، وإن تحرى فيها الصحة والثبوت وهي لأجل ذلك حجة عنده وعند من يقلده.
--------------------------------------------
এছাড়াও শেখ আবু জাহওয়ু আরেকটি লক্ষ্যণীয় বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন, আর তা হলো—হাদিসের বর্ণনা পদ্ধতির আধিক্যের মাধ্যমে ইঙ্গিত প্রদান করা যে, হাদিসের সনদসূত্রসমূহ (طرق) একাধিক হতে পারে, যার ফলে তা সহিহ (صحيح) পর্যায়ে উন্নীত হয় অথবা তা বিচার-বিবেচনাযোগ্য (اعتبار) হওয়ার উপযুক্ত হয়। এর মধ্যে এমন কিছু হাদিসও থাকে যেগুলোর বিশুদ্ধতা (صحة) পরবর্তীতে হাদিস বিশারদ ও সমালোচকদের নিকট স্পষ্ট হয়। তবে তাঁর মতে, এই পদ্ধতিটি ত্রুটিযুক্ত; কারণ এর পাঠক যদি—
—এই শাস্ত্রের সুগভীর পাণ্ডিত্যের অধিকারী না হন এবং হাদিসের মূল পাঠসমূহ (متون) ও সনদসমূহ (أسانيد) সম্পর্কে সম্যক অবগত না হন—তবে তাঁর পক্ষে হাদিসের বিশুদ্ধতা (صحة), দুর্বলতা (ضعف) এবং এর দলিল হিসেবে গ্রহণীয়তা (احتجاج) বা বর্জনীয়তা নির্ণয় করা অসম্ভব হয়ে পড়ে (১)।
এই অপূর্ণতা ছাড়াও এর আরেকটি নেতিবাচক দিক রয়েছে, আর তা হলো ফিকহী পরিচ্ছেদ অনুসারে এটি বিন্যস্ত না থাকা। বিষয়ের সাথে হাদিসের সংকলন সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ায় দক্ষ হাফেজগণ (حفاظ) ব্যতীত অন্যদের পক্ষে হাদিস থেকে শরিয়তের বিধানসমূহ উদ্ঘাটন করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।
এভাবেই এটি স্পষ্ট হয় যে, হাদিস সংকলনের ক্ষেত্রে নববী সুন্নাহ একটি নিরবচ্ছিন্ন বিবর্তন ও দিনদিন পূর্ণতার দিকে অগ্রসর হওয়ার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে। প্রাথমিক যুগের সংকলকগণ সহিহ (صحيح) এবং সংযুক্ত (متصل) হাদিসের সাথে বিচ্ছিন্ন (مرسل), সনদবিহীন বর্ণনা (بلاغ), এবং বিচ্ছিন্ন-সূত্র (منقطع) হাদিসকে সংমিশ্রণ করতেন, এবং সুন্নাহর সাথে মাওকুফ বর্ণনা (موقوفات)-সমূহকেও একত্র করতেন; অতঃপর তাঁদের অধিকাংশই সেটি বর্ণনা বা স্পষ্ট করতেন না।
এর সর্বোত্তম প্রমাণ হলো ইমাম মালিকের মুয়াত্তা, যা এই সময়ের সবচেয়ে বিশুদ্ধ (صحيح) গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত, অথবা ইমাম শাফেয়ীর ভাষায় যা সর্বাধিক নির্ভুল গ্রন্থ। এটিও বিচ্ছিন্ন (مرسل) বর্ণনা এবং এই জাতীয় বর্ণনা থেকে মুক্ত নয়, যদিও তিনি এতে বিশুদ্ধতা (صحة) ও প্রামাণিকতার অনুসন্ধান করেছেন। আর এ কারণেই এটি তাঁর নিকট এবং তাঁর অনুসারীদের নিকট দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাদবীনুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ ফিল কারনাইনিস সানি ওয়াস স্যালিসি লিল হিজরাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
فحينما اتجه المحدثون بعد ذلك إلى تأليف المسانيد كان الغرض لديهم هو العناية بوصل الأسانيد أولاً مع الاقتصار على المرفوع منها إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم لأنه المراد عند الاحتجاج، وقد نستطرد هنا إلى القول بأن هذا الاتجاه تطور في النهاية، مُسْفرا عن اختيار مصطلح "السنن" عنوانا جديدا للكتب التي ليس فيها شيء من الموقوف (1) ، وهي ما سنرجئ الكلام عليه إلى حين.
هذا الوضع الذي كانت عليه المصنفات الحديثية كان يوازيه في الناحية الفكرية للمجتمع الإسلامي وضع مضطرب جدا، حسبما وضَّح الدكتور فاروق حمادة، فقال: "أطلت الأفكار من كل جانب، وأرادت كلُّ فكرة فرض نفسها بقوة متذرعة بكل الحجج، ولم تبق فكرة من الأفكار التي راجت آنئذ إلا وحاولت النيل من الحركة الحديثية (المعتزلة - الباطنية - إخوان الصفا - التشيع - التصوف - القدرية - الجهمية القائلون بخلق القرآن - المجسمة - الراوندية
… وغيرهم) (2) .
لقد كان المبتدعة من المعتزلة وغيرهم يشوشون على أهل الحديث بالقول بعدم حجية خبر الآحاد بدعوى اختلاط السنة بالمكذوب والمختلق، وكان المحدثون خصوما لهم، يحاجونهم ويعملون على دحض مزاعمهم، كما كانوا في الوقت نفسه خصوماً لبعض أهل الفقه الذين اشترطوا للعمل بخبر الآحاد شروطا زائدة عما تطلبه علماء الحديث، وذلك كأن يكون المتن سالما من المعارضة للقرآن أو للسنة المشهورة، وألا يكون مما تعم به البلوى، وألا يكون
--------------------------------------------
এরপর যখন হাদিস বিশারদগণ (المحدثون) মুসনাদ গ্রন্থসমূহ সংকলনের দিকে মনোনিবেশ করলেন, তখন তাদের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল প্রথমত সনদসমূহের নিরবচ্ছিন্নতার (وصل الأسانيد) প্রতি বিশেষ যত্নশীল হওয়া এবং কেবল রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছেছে এমন মারফু (المرفوع) হাদিসগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা; কারণ দলিল হিসেবে পেশ করার (الاحتجاج) ক্ষেত্রে এগুলোই ছিল মূল লক্ষ্য। আমরা এখানে প্রসঙ্গক্রমে বলতে পারি যে, এই ধারাটি শেষ পর্যন্ত বিবর্তিত হয় এবং এমন সব কিতাবের জন্য 'সুনান' পরিভাষাটি একটি নতুন শিরোনাম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে যেগুলোতে মৌকুফ (الموقوف) পর্যায়ের কোনো বর্ণনা নেই। এ বিষয়ে আমরা যথাসময়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
হাদিস বিষয়ক সংকলনগুলোর এই পরিস্থিতির সমান্তরালে তৎকালীন মুসলিম সমাজের বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষেত্রে এক অত্যন্ত অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছিল, যেমনটি ডক্টর ফারুক হামাদাহ ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেন: "সব দিক থেকে নানা মতাদর্শের উদ্ভব ঘটছিল এবং প্রতিটি মতাদর্শই সব ধরনের যুক্তির অজুহাতে নিজেকে জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাচ্ছিল। তৎকালীন সময়ে প্রচলিত এমন কোনো চিন্তাধারা ছিল না যা হাদিস আন্দোলনের (الحركة الحديثية) ক্ষতি করার চেষ্টা করেনি (যেমন: মুতাজিলা, বাতেনিয়া, ইখওয়ানাস সাফা, শিয়া মতবাদ, তাসাউফ, কাদারিয়া, কুরআন সৃষ্টির প্রবক্তা জাহমিয়া, মুজাসসিমা, রাওয়ান্দিয়া
… এবং অন্যান্যরা) (২)।
মুতাজিলাসহ অন্যান্য বিদআতিরা (المبتدعة) এই দাবি করে হাদিস গবেষকদের কাজে বিঘ্ন ঘটাত যে, সুন্নাহর সাথে মিথ্যা (المكذوب) ও বানোয়াট (المختلق) বিষয়ের সংমিশ্রণ ঘটায় একক সূত্রে বর্ণিত সংবাদ (خبر الآحاد) প্রামাণ্য (حجية) হিসেবে গণ্য হবে না। হাদিস বিশারদগণ (المحدثون) তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে তাদের সাথে বিতর্কে লিপ্ত হতেন এবং তাদের অমূলক দাবিগুলো নস্যাৎ করতে সচেষ্ট ছিলেন। একই সময়ে তারা ফিকহবিদদের একাংশেরও প্রতিপক্ষ ছিলেন যারা একক সূত্রে বর্ণিত সংবাদ (خبر الآحاد) অনুযায়ী আমল করার জন্য হাদিস বিশারদদের নির্ধারিত শর্তের বাইরে অতিরিক্ত কিছু শর্তারোপ করেছিলেন। যেমন- মতন (المتن) কুরআন কিংবা মশহুর সুন্নাহর (السنة المشهورة) পরিপন্থী না হওয়া এবং বিষয়টি এমন না হওয়া যা ব্যাপক সংশ্লিষ্ট বিষয়ের (تعم به البلوى) অন্তর্ভুক্ত...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাদবীনুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ ফিল কারনাইনিস সানি ওয়াস স্যালিসি লিল হিজরাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
مما أعرض عنه الأئمة من الصدر الأول، وألا يخالفه راويه من الصحابة قولا أو عملا (1) .
وكان من نتائج شرطهم هذا أن وافقوا المتبدعة من المتكلمين في جزء من موقفهم تجاه السنة النبوية، وضيقوا دائرة المقبول منها موسعين من ساحة القياس.
من هنا رأى المحدثون مجابهة هؤلاء أيضا كما جابهوا الآخرين وقد تمت هذه المجابهة على نحو عملي وتطبيقي وليست بالقول فقط، حيث بين أهل الحديث لهؤلاء أن ما يصح من الحديث مع التشديد في الشروط كثير فاتجهوا إلى تجريد الصحيح وإفراده بالتأليف، إلا أن ذلك لم يكن منهم تجاوبا مع هذا المعطى وحده وإنما مع حاجة الأمة إلى كتاب خاص بالصحيح المسند من الحديث، وكان أول من فتح الباب في هذا المجال هو الإمام البخاري الذي أخبر عن هذا المعطى الأخير بقوله: "كنت عند إسحاق بن راهويه فقال لنا بعض أصحابنا: "لو جمعتم كتابا مختصراً لسنن النبي صلى الله عليه وسلم، فوقع ذلك في قلبي فأخذت في جمع هذا الكتاب" (2) ، وقد جعل اسمه: "الجامع الصحيح المسند المختصر من أمور رسول الله صلى الله عليه وسلم وسننه وأيامه" وأفرده لأصح الصحيح خاصة لا مطلق الصحيح، قاصداً فيه الاختصار فقط، وليس الاستقصاء. وفي هذا الإطار يجب أن يفهم قوله المشهور: "أحفظ مائة ألف حديث صحيح ومائتي
--------------------------------------------
এমন বিষয় যা থেকে প্রথম যুগের ইমামগণ বিমুখ থেকেছেন এবং সাহাবীর (صحابي) নিজ বর্ণিত হাদিসের বিপরীতে তাঁর কথা বা কাজ না থাকা (১)।
তাঁদের এই শর্তারোপের অন্যতম ফলাফল ছিল এই যে, তাঁরা সুন্নাহর প্রতি অবস্থানের ক্ষেত্রে ইলমুল কালামে পারদর্শী বিদআতি (المتبدعة) সম্প্রদায়ের একাংশের সাথে একমত হয়েছিলেন এবং গ্রহণযোগ্য (المقبول) হাদিসের গণ্ডিকে সংকুচিত করে কিয়াসের ক্ষেত্রকে প্রশস্ত করেছিলেন।
এখান থেকেই মুহাদ্দিসগণ তাদের মোকাবিলা করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন, ঠিক যেভাবে তাঁরা অন্যদের মোকাবিলা করেছিলেন। এই মোকাবিলা কেবল বক্তব্যের মাধ্যমে নয়, বরং প্রায়োগিক ও বাস্তব পন্থায় সম্পন্ন হয়েছিল। এক্ষেত্রে আহলে হাদিসগণ তাদের সামনে স্পষ্ট করে দেন যে, শর্তাবলির কঠোরতা সত্ত্বেও সহিহ (صحيح) হাদিসের সংখ্যা অনেক। ফলে তাঁরা সহিহ (صحيح) হাদিসসমূহকে সংকলিত ও পৃথক কিতাব আকারে রচনার দিকে মনোনিবেশ করেন। তবে তাঁদের এই পদক্ষেপ কেবল উক্ত বাস্তবতার প্রতিক্রিয়াস্বরূপ ছিল না, বরং উম্মতের নিকট সহিহ মুসনাদ হাদিস সম্বলিত বিশেষ কিতাবের প্রয়োজনীয়তাও এর কারণ ছিল। এই ক্ষেত্রে প্রথম যিনি এই দ্বার উন্মোচন করেন তিনি হলেন ইমাম বুখারী। তিনি এই প্রেক্ষাপট সম্পর্কে বলেন: "আমি ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ-এর নিকট ছিলাম। তখন আমাদের কোনো এক সাথী বললেন: 'আপনারা যদি নবী (সা.)-এর সুনানসমূহের একটি সংক্ষিপ্ত কিতাব সংকলন করতেন!' বিষয়টি আমার অন্তরে দাগ কাটল এবং আমি এই কিতাবটি সংকলনে আত্মনিয়োগ করলাম" (২)। তিনি এর নামকরণ করেন: "আল-জামি আল-সহিহ আল-মুসনাদ আল-মুখতাসার মিন উমুরি রাসূলিল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া সুনানিহি ওয়া আইয়ামিহি"। তিনি একে কেবল সর্বাধিক সহিহ (أصح الصحيح) হাদিসগুলোর জন্য সুনির্দিষ্ট করেছিলেন, সাধারণ সহিহ (مطلق الصحيح) হাদিসের জন্য নয়; যেখানে তাঁর উদ্দেশ্য ছিল কেবল সংক্ষিপ্তকরণ, পূর্ণাঙ্গ সংগ্রহ নয়। আর এই প্রেক্ষাপটেই তাঁর প্রসিদ্ধ উক্তিটি অনুধাবন করা উচিত: "আমি এক লক্ষ সহিহ (صحيح) হাদিস এবং দুই লক্ষ
--------------------------------------------