(খণ্ড: ১)
তাহকীকু মুনিফির রুতবাহ লিমান সাবাতা লাহু শারীফুস সোহবাহ
(পৃষ্ঠা: -)
تحقيق منيف الرتبة لمن ثبت له شريف الصحبة القسم: علوم الحديث
الكتاب: تحقيق منيف الرتبة لمن ثبت له شريف الصحبة
المؤلف: صلاح الدين أبو سعيد خليل بن كيكلدي بن عبد الله الدمشقي العلائي (ت 761هـ)
المحقق: عبد الرحيم محمد أحمد القشقري
الناشر: دار العاصمة، الرياض، المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1410هـ
عدد الصفحات: 120
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
তাহক্বীকু মুনিফির রুতবা লিমান সাবাতা লাহু শারিফুস সুহবাহ বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث)
গ্রন্থ: তাহক্বীকু মুনিফির রুতবা লিমান সাবাতা লাহু শারিফুস সুহবাহ
লেখক: সালাহউদ্দীন আবু সাঈদ খলীল ইবন কায়কালদী ইবন আব্দুল্লাহ আদ-দিমাশকী আল-আলাই (মৃত্যু ৭৬১ হি.)
গবেষক: আব্দুর রহীম মুহাম্মদ আহমদ আল-কাশকারী
প্রকাশক: দারুল আসিমাহ, রিয়াদ, সৌদি আরব
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১০ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২০
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
তাহকীকু মুনিফির রুতবাহ লিমান সাবাতা লাহু শারীফুস সোহবাহ
(পৃষ্ঠা: ٥)
مقدمة…كتاب تحقيق منيف الرتبة لمن ثبت له شريف الصحبة
تأليف: الإمام العالم المجتهد: خليل بن كيكلدي العلائي، ت (761هـ)
دراسة وتحقيق: د. عبد الرحيم محمد أحمد القشقري أستاذ مساعد بكلية الحديث الشريف، بالجامعة الإسلامية
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله الذي نزه أصحاب محمد صلى الله عليه وسلم من النقائص، وعدلهم من سبع سمواته بقوله: {كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ} .
وبقوله: {وَالسَّابِقُونَ الْأَوَّلُونَ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُمْ بِإِحْسَانٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ وَأَعَدَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي تَحْتَهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَداً ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ} . (التوبة آية: 100) .
وآيات كثيرة تدل على فضلهم وعدالتهم، وأحاديث ثابتة عن المصطفى صلى الله عليه وسلم تدل على أن أحداً منا مهما عمل فلن يبلغ مد أحدهم ولا نصيفه.
وقد ظهرت فرق أعمى الله أبصارها عن الأدلة الواردة في حق صحابة رسول الله صلى الله عليه وسلم فأخذوا يكيلون الشتائم ويرمون فضلاءهم بكل أنواع الفسق والفجور دون مراعاة لحق الصحبة، وما ذاك إلا لغرض في نفوسهم المريضة، فبئست تلك النفوس، وبئست تلك الأغراض.
وقد تعلق أولئك القوم بأحاديث ساقطة لتأييد ما ذهبوا إليه ضاربين عرض الحائط جميع المصطلحات والقواعد التي تعارف عليها العقلاء من الناس، فضلاً عن المسلمين الذين آمنوا بكتاب الله المنزل فيه تزكية صحابة رسول الله، وسنة نبيه الثابتة والتي تؤكد فضلهم وعدالتهم.
فمن الأدلى التي ساقوها لتأييد ما ذهبوا إليه حادثتان:
ভূমিকা…কিতাব: মুনীফুর রুতবাহ লিমান সাবাতা লাহু শারীফুস সোহবাহ-এর তাহকীক
রচনা: ইমাম, আলেম, মুজতাহিদ (مجتهد): খলীল বিন কাইকালদী আল-আলাঈ, মৃত্যু (৭৬১ হিজরি)
গবেষণা ও সম্পাদনা: ড. আবদুর রহীম মুহাম্মদ আহমদ আল-কাশগারী, সহকারী অধ্যাপক, কুল্লিয়াতুল হাদিস শরীফ, ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণকে সকল ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে পবিত্র করেছেন এবং সাত আসমানের উপর থেকে তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে তাঁদেরকে ন্যায়নিষ্ঠ (عدلهم) সাব্যস্ত করেছেন: {তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত, মানবজাতির কল্যাণের জন্য যাদের আবির্ভাব ঘটানো হয়েছে।}।
এবং তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: {আর মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা প্রথম অগ্রগামী এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসরণ করেছে, আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে। তিনি তাদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছেন জান্নাত, যার তলদেশ দিয়ে নদী প্রবাহিত, সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে। এটাই মহাসাফল্য।} (আত-তাওবাহ, আয়াত: ১০০)।
এবং আরও অনেক আয়াত রয়েছে যা তাঁদের মর্যাদা ও ন্যায়নিষ্ঠার (عدالة) প্রমাণ দেয়। আর মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত অনেক সাব্যস্ত (ثابتة) হাদিস রয়েছে যা নির্দেশ করে যে, আমাদের মধ্যে কেউ যতই আমল করুক না কেন, সে তাঁদের একজনের এক ‘মুদ’ (এক অঞ্জলি পরিমাণ) কিংবা তার অর্ধেক আমলের মর্যাদাতেও পৌঁছাতে পারবে না।
এমন কিছু দলের উদ্ভব ঘটেছে যাদের দৃষ্টিকে আল্লাহ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণের হকের ব্যাপারে বর্ণিত দলীলসমূহ থেকে অন্ধ করে দিয়েছেন। ফলে তারা তাঁদের গালিগালাজ করতে শুরু করেছে এবং সাহচর্যের হকের তোয়াক্কা না করে তাঁদের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের সব ধরণের পাপাচার ও পঙ্কিলতার অপবাদ দিচ্ছে। এটি তাদের অসুস্থ অন্তরের হীন উদ্দেশ্য ছাড়া আর কিছুই নয়। কতই না মন্দ সেই আত্মাগুলো এবং কতই না নিকৃষ্ট সেই উদ্দেশ্যসমূহ!
সেই গোষ্ঠী তাদের মতবাদকে সমর্থন করার জন্য কিছু পরিত্যক্ত (ساقطة) হাদিসের আশ্রয় নিয়েছে। তারা বুদ্ধিমান মানুষের স্বীকৃত সকল পরিভাষা ও মূলনীতিকে সম্পূর্ণ বিসর্জন দিয়েছে। এমনকি তারা সেই সব মুসলিমদেরও তোয়াক্কা করেনি যারা আল্লাহর নাজিলকৃত কিতাবের প্রতি ঈমান এনেছে—যাতে রাসুলুল্লাহর সাহাবীগণের পবিত্রতা বা নির্ভরযোগ্যতা (تزكية) ঘোষণা করা হয়েছে—এবং তাঁর নবীর সাব্যস্ত (ثابتة) সুন্নাহর প্রতিও, যা তাঁদের মর্যাদা ও ন্যায়নিষ্ঠাকে (عدالة) সুনিশ্চিত করে।
তারা তাদের মতবাদকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য যে প্রমাণগুলো উপস্থাপন করেছে, তার মধ্যে দুটি ঘটনা হলো:
(খণ্ড: ১)
তাহকীকু মুনিফির রুতবাহ লিমান সাবাতা লাহু শারীফুস সোহবাহ
(পৃষ্ঠা: ٦)
الأولى منهما: ما روي عن عطاء بن السائب أن عبد الله بن الزبير قال يوماً لأصحابه: أتدرون ما تأويل هذا الحديث..؟ من كذب علي متعمداً. فقالوا: لا علم لنا بذلك، فقال: إن رجلاً من المدينة عشق امرأة، فأتى أهلها فلم يزوجوه منها فلبس حلة وأتى أهلها وقال لهم: إن رسول الله صلى الله عليه وسلم بعثني إليكم لكي أتضيف في أي بيت شئت من بيوتكم، وكان ينتظر أن ينام عندهم
… ليتصل بتلك المرأة، فأتى رجل منهم رسول الله فقال له: إن فلاناً يزعم أنك أمرته أن يبيت في أي بيوتنا شاء، فقال: كذب والله. ثم أرسل رجلاً وأمره أن يضرب عنقه إن تمكن منه ويحرقه في النار، فلما خرج دعاه رسول الله ونهاه عن إحراقه بعد قتله، لأنه لا يعذب في النار إلا رب النار.
ورويت هذه الحادثة عن طريق صالح بن حيان عن إبن بريده عن أبيه بتفاوت يسير لا يغير المعنى.
والدليل الثاني: رواه إبن سعد في الطبقات والطبراني، عن المنقع التيمي أنه قال: أتيت النبي صلى الله عليه وسلم بصدقة إبلنا وقلت له: إن فيها ناقتين هدية لك، فأمر بعزل الهدية عن الصدقة، فمكث أياماً وخاض الناس أن رسول الله باعث خالد بن الوليد إلى رقيق مصر فمصدقهم. فقلت: والله ما عند أهلنا من مال، فأتيت النبي صلى الله عليه وسلم فقلت له: إن الناس خاضوا في كذا وكذا، فرفع النبي صلى الله عليه وسلم يديه حتى نظرت إلى بياض إبطه، وقال: اللهم لا أحل لهم أن يكذبوا علي. قال المنقع فلم أحدث بحديث عن النبي صلى الله عليه وسلم إلا حديثاً نطق به كتاب أو جرت به سنة يكذب عليه في حياته فكيف بعد موته.
وقد نظرت في هذين الدليلين فلم أرهما على شرط المحدثين
এ দুটির মধ্যে প্রথমটি হলো: আতা ইবনে সাইব থেকে যা বর্ণিত হয়েছে যে, আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর একদিন তাঁর সঙ্গীদের উদ্দেশ্যে বললেন: তোমরা কি এই হাদিসের ব্যাখ্যা (تأويل) জানো..? ‘যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করবে...’। তারা বললেন: এ বিষয়ে আমাদের কোনো জ্ঞান নেই। তখন তিনি বললেন: মদিনার এক ব্যক্তি এক নারীর প্রেমে পড়েছিল। সে তার পরিবারের নিকট বিয়ের প্রস্তাব পাঠালে তারা তাকে বিয়ে দেয়নি। অতঃপর সে একটি সুন্দর পোশাক পরিধান করে তাদের নিকট গিয়ে বলল: রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে তোমাদের নিকট পাঠিয়েছেন যেন আমি তোমাদের ঘরগুলোর মধ্যে যেটিতে ইচ্ছা মেহমান হিসেবে থাকতে পারি। সে অপেক্ষা করছিল যে কখন সে তাদের নিকট রাত যাপন করবে
… যাতে সে ঐ নারীর সাথে মিলিত হতে পারে। তখন তাদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট এসে বলল: অমুক ব্যক্তি দাবি করছে যে, আপনি তাকে আমাদের যে ঘরে ইচ্ছা রাত যাপন করার নির্দেশ দিয়েছেন। রাসুল (সা.) বললেন: আল্লাহর কসম, সে মিথ্যা বলেছে। অতঃপর তিনি একজন লোককে পাঠালেন এবং তাকে নির্দেশ দিলেন যে, যদি সে তাকে কাবু করতে পারে তবে যেন তার শিরচ্ছেদ করে এবং তাকে আগুনে পুড়িয়ে ফেলে। লোকটি যখন বের হয়ে গেল, তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে ডাকলেন এবং তাকে হত্যার পর দাহ করতে নিষেধ করলেন; কারণ আগুনের রব ব্যতীত অন্য কেউ আগুন দ্বারা শাস্তি দেয় না।
এবং এই ঘটনাটি বর্ণনা সূত্রে (طريق) সালেহ ইবনে হাইয়্যান থেকে ইবনে বুরাইদাহর মাধ্যমে তাঁর পিতার নিকট থেকে সামান্য পার্থক্যের সাথে বর্ণিত হয়েছে যা মূল অর্থের কোনো পরিবর্তন ঘটায় না।
দ্বিতীয় দলিল: এটি ইবনে সাদ তাঁর তাবাকাত গ্রন্থে এবং তাবারানি বর্ণনা করেছেন; যা আল-মুনকা আল-তাইমি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছিলেন: আমি আমাদের উটের সদকা নিয়ে নবী (সা.)-এর নিকট এলাম এবং তাঁকে বললাম: এর মধ্যে দুটি উষ্ট্রী আপনার জন্য উপহার। তখন তিনি সদকা থেকে উপহারটি পৃথক করার নির্দেশ দিলেন। এরপর তিনি কয়েক দিন অতিবাহিত করলেন এবং লোকেরা বলাবলি করতে লাগল যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) খালিদ ইবনুল ওয়ালিদকে মিসরের দাসদের নিকট সদকা আদায়কারী হিসেবে পাঠাচ্ছেন। আমি বললাম: আল্লাহর কসম, আমাদের পরিজনের নিকট কোনো ধন-সম্পদ নেই। অতঃপর আমি নবী (সা.)-এর নিকট এসে তাঁকে বললাম: মানুষ এই এই বিষয়ে আলোচনা করছে। তখন নবী (সা.) তাঁর দুই হাত উত্তোলন করলেন এমনকি আমি তাঁর বগলের শুভ্রতা দেখতে পেলাম। তিনি বললেন: হে আল্লাহ! আমি তাদের জন্য আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করা বৈধ করিনি। মুনকা বলেন: এরপর আমি নবী (সা.) থেকে এমন কোনো হাদিস বর্ণনা করিনি যা কিতাবে (কুরআনে) স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়নি কিংবা সুন্নাহ (سنة) হিসেবে সাব্যস্ত হয়নি। তাঁর জীবদ্দশাতেই তাঁর ওপর মিথ্যা রটানো হয়েছে, তাহলে তাঁর তিরোধানের পর কী অবস্থা হবে!
আমি এই দলিল দুটি পর্যালোচনা করেছি এবং হাদিস বিশারদগণের (المحدثين) শর্ত (شرط) অনুযায়ী এগুলোকে সাব্যস্ত হতে দেখিনি।
(খণ্ড: ১)
তাহকীকু মুনিফির রুতবাহ লিমান সাবাতা লাহু শারীফুস সোহবাহ
(পৃষ্ঠা: ٧)
الذين لا يقبلون من الأحاديث إلا ما ثبت عن رسول الله صلى الله عليه وسلم.
فالحديث الأول أورده ابن الجوزي في موضوعاته محتجاً به، وهو لا يصلح للاحتجاج لأن في سنده عطاء بن السائب.
قال فيه الحافظ: صدوق اختلط1، والراوي عنه داود بن الزبرقان. قال فيه البخاري: حديثه مقارب.
وقال ابن معين: ليس بشيء. وقال أبو زرعة: متروك. وقال أبو داود: ضعيف ترك حديثه2.
أما طريق صالح بن حيان، فلا يكون مسانداً لرواية ابن الزبير، لأن الراوي صالح بن حيان ضعفه ابن معين، وقال مرة: ليس بذاك.
وقال البخاري: فيه نظر. وقال النسائي: ليس بثقة. وقال ابن عدي: عامة ما يرويه غير محفوظ3.
أما الحديث الثاني، فهو لا يصلح أيضاً للاحتجاج به، لأنه من رواية سيف بن هارون البرجمي.
قال فيه النسائي والدارقطني: ضعيف.
وفي رواية الدارقطني: ضعيف متروك4.
وقال إبن حبان: يروي عن الأثبات الموضوعات5.
--------------------------------------------
যারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সাব্যস্ত (ثبت) হওয়া ব্যতীত অন্য কোনো হাদিস গ্রহণ করেন না।
প্রথম হাদিসটি ইবনুল জাওযি তাঁর মাওদুয়াত গ্রন্থে দলীল হিসেবে উল্লেখ করেছেন, অথচ এটি দলীল হিসেবে পেশ করার উপযোগী নয়। কারণ এর সনদে (سند) আতা ইবনে সাইব রয়েছেন।
হাফিজ তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: তিনি সত্যবাদী (صدوق), তবে স্মৃতিবিভ্রাটের শিকার (اختلط)১ হয়েছিলেন। আর তাঁর থেকে বর্ণনাকারী হলেন দাউদ ইবনে যাবরাকান। ইমাম বুখারি তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: তাঁর হাদিস কাছাকাছি মানের।
ইবনে মাঈন বলেছেন: তিনি উল্লেখযোগ্য কিছু নন (ليس بشيء)। আবু যুরআহ বলেছেন: তিনি পরিত্যক্ত (متروك)। আবু দাউদ বলেছেন: তিনি দুর্বল (ضعيف), তাঁর হাদিস বর্জন করা হয়েছে২।
সালেহ ইবনে হাইয়্যানের সূত্রের (طريق) কথা বলতে গেলে, এটি ইবনুল জুবায়েরের বর্ণনার জন্য সমর্থক হতে পারে না। কারণ বর্ণনাকারী সালেহ ইবনে হাইয়্যানকে ইবনে মাঈন দুর্বল (ضعفه) আখ্যা দিয়েছেন এবং একবার বলেছেন: তিনি তেমন কিছু নন (ليس بذاك)।
ইমাম বুখারি বলেছেন: তাঁর ব্যাপারে আপত্তি রয়েছে (فيه نظر)। নাসায়ি বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة) নন। ইবনে আদি বলেছেন: তাঁর বর্ণিত অধিকাংশ হাদিসই সংরক্ষিত (غير محفوظ) নয়৩।
দ্বিতীয় হাদিসটির কথা বলতে গেলে, এটিও দলীল হিসেবে পেশ করার উপযোগী নয়। কারণ এটি সাইফ ইবনে হারুন আল-বুরজুমির বর্ণনা।
নাসায়ি ও দারা কুতনি তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: তিনি দুর্বল (ضعيف)।
দারা কুতনির অন্য বর্ণনায় এসেছে: তিনি দুর্বল (ضعيف) ও পরিত্যক্ত (متروك)৪।
ইবনে হিব্বান বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য (أثبات) বর্ণনাকারীদের সূত্রে জাল (موضوعات) হাদিস বর্ণনা করেন৫।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহকীকু মুনিফির রুতবাহ লিমান সাবাতা লাহু শারীফুস সোহবাহ
(পৃষ্ঠা: ٨)
وعصمة بن بشير البرجمي
قال فيه الذهبي: عصمة بن بشير عن الفزع، قال الدارقطني: هما مجهولان، والخبر منكر1.
فلا يصلح إذاً أن يكون مستمداً لمن أراد إثبات الكذب ووقوعه في عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم. إلا أن الحسيني صاحب كتاب الموضوعات في الآثار والأخبار "يرى أن الصحابة كانوا يكذبون إستدلالاً بهذين الحديثين. وقد تقدم ما فيهما من علل.
وهذا والله تحامل من المؤلف على صحابة رسول الله صلى الله عليه وسلم العدول الأخيار، ولم يكتف بهذا، بل نص على أنه مهما كان الحال فسواء صحت هذه المرويات أو لم تصح، فالمعاصرون للنبي صلى الله عليه وسلم لم يكونوا في مستوى واحد كغيرهم من سائر الناس في مختلف العصور. فمنهم الصديقون الأبرار ومنهم المسلم الذي لم يبلغ مرتبة الأبرار، ومنهم المتستر بالإسلام الذي يستبيح كل شيء في سبيل تحقيق أهدافه ورغباته.
ثم تناقض ذلك المؤلف فقال: ونحن لا ندعي وقوع الكذب منهم على الرسول في حياته بصورة قاطعة، لأن الأرقام التي بأيدينا لا تنتهي إلى هذه النتيجة، ثم رجع عن هذا القول، وألبس الصحابة لباس الكذب حين قال: ولكنا لا نستبعده بل نقر به اعتماداً على هذه المرويات2.
أهذا هو المنهج العلمي؟ لا أظن ذلك، وإنما هي أحقاد دفينة في
--------------------------------------------
এবং আসিমা বিন বাশির আল-বুরজুমি
ইমাম আয-যাহাবি তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: আসিমা বিন বাশির আল-ফাযা থেকে বর্ণনা করেছেন; ইমাম দারা কুতনি বলেছেন: তারা উভয়ই অপরিচিত (مجهولان), এবং বর্ণনাটি অগ্রহণযোগ্য (منكر)১।
সুতরাং, যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে মিথ্যাচারের অস্তিত্ব ও তার ঘটনার প্রমাণ দিতে চান, এটি তাদের জন্য দলিল হিসেবে উপযুক্ত হতে পারে না। তবে 'আল-মাওদুআত ফিল আসার ওয়াল আখবার' গ্রন্থের লেখক আল-হুসাইনি মনে করেন যে, সাহাবীগণ মিথ্যা বলতেন এবং এর সপক্ষে তিনি এই দুটি হাদিসের মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন। অথচ এই দুটি হাদিসের মধ্যে যে সকল ত্রুটি (علل) রয়েছে তা ইতিপূর্বেই বর্ণিত হয়েছে।
আল্লাহর কসম, এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ন্যায়পরায়ণ (عدول) ও শ্রেষ্ঠ সাহাবীদের বিরুদ্ধে লেখকের একটি চরম পক্ষপাতমূলক আচরণ। তিনি কেবল এখানেই ক্ষান্ত হননি, বরং এটিও উল্লেখ করেছেন যে, পরিস্থিতি যাই হোক না কেন—এই বর্ণনাগুলো (مرويات) বিশুদ্ধ (صحت) হোক বা না হোক—নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সমসাময়িক ব্যক্তিবর্গ অন্যান্য যুগের সাধারণ মানুষের মতোই বিভিন্ন স্তরের ছিলেন। তাদের মধ্যে কেউ ছিলেন পরম সত্যবাদী ও পুণ্যবান, কেউ ছিলেন এমন মুসলিম যারা পুণ্যবানদের স্তরে পৌঁছাতে পারেননি, আবার কেউ ছিলেন ইসলামের ছদ্মবেশধারী যারা নিজেদের উদ্দেশ্য ও কামনা চরিতার্থ করার জন্য সবকিছুকেই বৈধ মনে করতেন।
অতঃপর সেই লেখক স্ববিরোধী কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন: "আমরা রাসূলের জীবদ্দশায় সাহাবীদের পক্ষ থেকে তাঁর ওপর মিথ্যারোপের বিষয়টি অকাট্যভাবে দাবি করছি না, কারণ আমাদের হাতে থাকা তথ্য-উপাত্ত এই সিদ্ধান্তে পৌঁছায় না।" এরপর তিনি এই বক্তব্য থেকে ফিরে আসেন এবং সাহাবীদের ওপর মিথ্যার অপবাদ আরোপ করেন যখন তিনি বলেন: "কিন্তু আমরা এটিকে অসম্ভব মনে করি না, বরং এই বর্ণনাগুলোর (مرويات) ওপর ভিত্তি করে আমরা এটি স্বীকার করি"২।
এটিই কি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি? আমি তেমনটি মনে করি না, বরং এটি হচ্ছে অন্তরে প্রোথিত এক গভীর বিদ্বেষ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহকীকু মুনিফির রুতবাহ লিমান সাবাতা লাহু শারীফুস সোহবাহ
(পৃষ্ঠা: ٩)
نفوس ضعيفة منذ العصور المتقدمة، وما ذاك إلا لهدم أساس الشريعة الإسلامية التي أتى بها محمد بن عبد الله، وحملها صحابته الأخيار بكل صدق وأمانة وإخلاص وتضحيات، وبذلوا في سبيل إعلائها الغالي والنفيس.
وقد قيد الله للرد على هؤلاء أئمة أجلاء منهم الإمام العالم خليل بن كيكلدي العلائي رحمه الله رحمة واسعة في كتابه الذي بين أيدينا، فجاء رده موجزاً في عبارته وقوياً في أدلته، ومنصفاً في ترجيحه للحق دون الميل لهوى شخصي أو تعصب مذهبي. وقد تعلقت به حال قراءتي له، فعزمت على إخراجه وتحقيقه مشاركة مني في الدفاع عن الصحابة الذي عدلهم الله ورسوله. وأسأل الله أن ينفع به جميع المسلمين إنه ولي ذلك والقادر عليه.
التعريف بالمؤلف وكتابه منيف الرتبة:
هو الإمام الفقيه الأصولي المحدث الأديب الحافظ صلاح الدين خليل بن كيكلدي بن عبد الله الدمشقي الشافعي. المعروف بالعلائي، ويكنى بأبي سعيد.
وكان مولده في أحد الربيعين سنة أربع وتسعين وستمائة، بمدينة دمشق، ويرى إبن العماد الحنبلي أنه ولد في شهر ربيع الأول.
وبدأ مشوار العلم في سن مبكر جداً، ولا يستبعد أن يكون طلبه للعلم كان في الخامسة من عمره. لأنه حكى عن نفسه أنه سمع صحيح الإمام مسلم رحمه الله سنة ثلاث وسبعمائة، وكان عمره آنذاك تسع سنوات، وذلك بعد حفظه لكتاب الله وتمكنه من أصول اللغة العربية.
وبهذين يتأهل لدراسة المزيد من علوم الشريعة التي ابتدأها بسماع
প্রাচীনকাল থেকেই কিছু দুর্বল মানসিকতার লোক ছিল, আর এটি ছিল মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ (সা.) আনীত ইসলামী শরীয়তের ভিত্তি ধ্বংস করার হীন উদ্দেশ্যে। তাঁর মহান সাহাবীগণ অত্যন্ত সত্যবাদিতা, বিশ্বস্ততা, নিষ্ঠা ও ত্যাগের সাথে তা বহন করেছেন এবং একে সমুন্নত রাখতে তারা তাদের মূল্যবান সবকিছু বিলিয়ে দিয়েছেন।
আল্লাহ তাআলা এদের খণ্ডন করার জন্য একদল মহান ইমামকে নিয়োজিত করেছেন, যাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন বিজ্ঞ ইমাম খলিল ইবনে কাইকালদি আল-আলাই (রহ.)। আমাদের সামনে থাকা তাঁর এই কিতাবটিতে তিনি তা করেছেন। তাঁর এই খণ্ডনটি শব্দচয়নে সংক্ষিপ্ত কিন্তু দলিলে অত্যন্ত শক্তিশালী এবং ব্যক্তিগত খেয়াল-খুশি বা মাযহাবী গোঁড়ামির ঊর্ধ্বে থেকে সত্যকে প্রাধান্য দেওয়ার ক্ষেত্রে ইনসাফপূর্ণ। আমি যখন কিতাবটি পাঠ করি, তখন এর প্রতি গভীর আগ্রহ অনুভব করি। তাই সাহাবায়ে কেরামের পক্ষ থেকে প্রতিরক্ষায় শরিক হওয়ার উদ্দেশ্যে আমি এটি সম্পাদনা ও তাহকিক করার সংকল্প করি, যাদের ন্যায়পরায়ণতা (عدل) স্বয়ং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল নিশ্চিত করেছেন। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যে তিনি যেন এর মাধ্যমে সকল মুসলিমকে উপকৃত করেন; নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান।
লেখক এবং তাঁর উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন কিতাবের পরিচিতি:
তিনি হলেন ইমাম, ফকিহ, উসুলবিদ (أصولي), মুহাদ্দিস (محدث), সাহিত্যিক ও হাফেজ (حافظ) সালাহউদ্দীন খলিল ইবনে কাইকালদি ইবনে আবদুল্লাহ আদ-দিমাশকি আশ-শাফেঈ। তিনি 'আল-আলাই' নামে প্রসিদ্ধ এবং তাঁর উপনাম হলো আবু সাঈদ।
তিনি ৬৯৪ হিজরি সনের রবিউল আউয়াল বা রবিউস সানি মাসে দামেস্ক শহরে জন্মগ্রহণ করেন। ইবনুল ইমাদ আল-হাম্বলি মনে করেন যে তিনি রবিউল আউয়াল মাসে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।
তিনি অতি শৈশবেই জ্ঞান অন্বেষণের সফর শুরু করেন এবং এমনটি হওয়া অসম্ভব নয় যে তাঁর ইলম অর্জন পাঁচ বছর বয়স থেকেই শুরু হয়েছিল। কারণ তিনি নিজের সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি ৭০৩ হিজরিতে ইমাম মুসলিম (রহ.)-এর সহিহ মুসলিম শ্রবণ করেছেন, তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র নয় বছর। আর এটি ছিল আল্লাহর কিতাব (কুরআন) হেফজ করার এবং আরবি ভাষার মূলনীতিতে পারদর্শিতা অর্জনের পরবর্তী ঘটনা।
এই দুটির মাধ্যমেই তিনি শরীয়তের অন্যান্য উচ্চতর জ্ঞান অর্জনের জন্য যোগ্য হয়ে ওঠেন, যা তিনি শ্রবণ (سماع) করার মাধ্যমে শুরু করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
তাহকীকু মুনিফির রুতবাহ লিমান সাবাতা লাহু শারীফুস সোহবাহ
(পৃষ্ঠা: ١٠)
صحيح الإمام مسلم، وصحيح الإمام البخاري، وعلم الفقه والفرائض.
وكان لهذا التبكير في التحصيل أثر كبير في إستيعابه للمسائل العلمية الدقيقة التي تطرق إليها في مؤلفاته، وكانت الحجة على من عليه. وكان من نتيجته أيضاً كثرة المؤلفات التي خلفها لنا في كل فن، والتي سبق ذكرها في مقدمة تحقيقي لكتاب النقد الصحيح، وسأذكر في هذه العجالة بعضها.
شيوخه:
قال إبن العماد الحنبلي:
بلغ عدد شيوخه بالسماع سبعمائة.
وأخذ علم الحديث عن المزي وغيره.
وأخذ الفقه عن الشيخين. البرهان الفزاري ولازمه وخرج له مشيخة. والكمال الزملكاني وتخرج به وعلق عنه كثيراً. انتهى.
ومن شيوخه أيضاً: الشيخ نجم الدين القحفازي الذي ابتدأ قراءة العربية عليه. والشيخ زكي الدين الزكوي الذي أخذ عنه الفقه وعلم الفرائض.
أقوال العلماء فيه:
قال السبكي: كان حافظاً ثقة ثبتاً عارفاً بأسماء الرجال والعلل والمتون.
وقال الحافظ ابن كثير: كانت له يد طولى بمعرفة العالي والنازل،
সহিহ ইমাম মুসলিম, সহিহ ইমাম বুখারি এবং ফিকহ ও ফারায়িজ শাস্ত্র।
অর্জনের ক্ষেত্রে এই ক্ষিপ্রতার এক বিরাট প্রভাব ছিল তাঁর রচনাবলিতে আলোচিত সূক্ষ্ম ইলমি বিষয়গুলো অনুধাবনের ক্ষেত্রে এবং তা ছিল বিরোধীদের বিপক্ষে অকাট্য দলিল (الحجة)। এর অন্য একটি ফলশ্রুতি ছিল প্রতিটি শাস্ত্রেই তাঁর রেখে যাওয়া অসংখ্য কিতাব, যা ইতিপূর্বে আমার সম্পাদিত 'আন-নাকদুস সহিহ' কিতাবের ভূমিকায় উল্লিখিত হয়েছে; সংক্ষেপে আমি এখানে তাঁর কিছু কিতাবের কথা উল্লেখ করছি।
তাঁর শাইখগণ:
ইবনুল ইমাদ আল-হাম্বলি বলেন:
সরাসরি শ্রবণ (السماع) করার মাধ্যমে তাঁর শাইখদের সংখ্যা সাতশতে পৌঁছেছিল।
তিনি আল-মিযযি ও অন্যদের নিকট থেকে হাদিস শাস্ত্র গ্রহণ করেন।
তিনি দুই শাইখের নিকট থেকে ফিকহ অর্জন করেছেন; বুরহান আল-ফাজারি, যাঁর সান্নিধ্যে তিনি সর্বদা ছিলেন এবং যাঁর জন্য তিনি একটি মাশইয়াখাহ (উস্তাদ-তালিকা) সংকলন করেছেন; আর আল-কামাল আজ-জামলাকানি, যাঁর অধীনে তিনি ব্যুৎপত্তি অর্জন করেছেন এবং তাঁর থেকে প্রচুর টীকা লিপিবদ্ধ করেছেন। সমাপ্ত।
তাঁর শাইখদের মধ্যে আরও রয়েছেন: শাইখ নাজমুদ্দিন আল-কাহফাযি, যাঁর নিকট তিনি আরবি পাঠ শুরু করেন; এবং শাইখ জাকিউদ্দিন আজ-জাকুয়ি, যাঁর নিকট থেকে তিনি ফিকহ ও ফারায়িজ শাস্ত্র অর্জন করেন।
তাঁর সম্পর্কে উলামায়ে কেরামের উক্তি:
আস-সুবকি বলেন: তিনি হাফেজ (حافظ), নির্ভরযোগ্য (ثقة) ও সুদৃঢ় (ثبت) ছিলেন এবং বর্ণনাকারীদের পরিচয় (أسماء الرجال), হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি (العلل) ও মূল পাঠ (المتون) সম্পর্কে বিজ্ঞ ছিলেন।
হাফেজ ইবনে কাসির বলেন: উচ্চ ও নিম্ন স্তরের (العالي والنازل) সনদ সম্পর্কে তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্য ছিল,
(খণ্ড: ১)
তাহকীকু মুনিফির রুতবাহ লিমান সাবাতা লাহু শারীফুস সোহবাহ
(পৃষ্ঠা: ١١)
وتخريج الأجزاء والفوائد. وله مشاركة قوية في الفقه واللغة العربية والأدب.
وقال الحافظ الذهبي: وهو من أخص تلاميذه. كان إماماً في الفقه والنحو والأصول، مفتناً في علوم الحديث ومعرفة الرجال. علاّمة في معرفة المتون والأسانيد فمصنفاته تنبئ عن إمامته في كل فن. وقال في معجمه: معدود في الأذكياء. وله يد طولى في فن الحديث ورجاله.
وقال إبن العماد: جد واجتهد حتى فاق أهل عصره في الحفظ والإتقان.
رحلاته:
لم تذكر الكتب التي ترجمت للمؤلف أنه ارتحل كثيراً، ولعل ذلك يعود إلى أن المؤلف اكتفى بالسماع من أهل بلده، لأنه عاش في عصر كان معظم العلماء في مدينة دمشق1.
فالرحلة لم تكن ضرورة ملحة إلا إذا كان للحج، وقد قام بها المؤلف مراراً. أو للتدريس وقد قام بها في القدس، حيث أقام بها مدرساً بالصلاحية واستقر بها مدة طويلة يدرس ويفتي ويصنف إلى آخر عمره، حيث كانت وفاته في تلك الديار، وذلك في ثالث المحرم عام إحدى وسبعين وستمائة، ودفن بمقبرة باب الرحمة إلى جانب السور. بعد حياة حافلة بالعلم والعمل، فرحمه الله رحمة واسعة وأسكنه فسيح جناته.
--------------------------------------------
এবং 'জুয' (অংশসমূহ) ও 'ফাওয়াইদ' (উপকারিতা) সমূহের তাখরিজ (تخريج)। ফিকহ, আরবি ভাষা ও সাহিত্যে তাঁর শক্তিশালী বিচরণ ছিল।
হাফিজ আয-যাহাবি বলেন: তিনি তাঁর একান্ত ছাত্রদের অন্যতম ছিলেন। তিনি ফিকহ, নাহু (ব্যাকরণ) ও উসুল (মূলনীতি)-শাস্ত্রে একজন ইমাম (إمام) ছিলেন এবং হাদিস বিজ্ঞান ও রিজাল শাস্ত্রে (معرفة الرجال) পারদর্শী ছিলেন। তিনি মতন (متون) ও সনদ (أسانيد) পরিচিতিতে আল্লামা (علاّمة) ছিলেন; তাঁর রচনাবলি প্রতিটি শাস্ত্রে তাঁর ইমামতির সাক্ষ্য দেয়। তিনি তাঁর 'মু'জাম' গ্রন্থে বলেন: তাকে অত্যন্ত মেধাবীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। হাদিস শাস্ত্র ও এর বর্ণনাকারীদের (رجال) বিষয়ে তাঁর গভীর পাণ্ডিত্য ছিল।
ইবনুল ইমাদ বলেন: তিনি কঠোর পরিশ্রম ও সাধনা করেছেন, এমনকি হেফজ (حفظ) ও ইত্তকান (إتقان) এর ক্ষেত্রে তিনি তাঁর সমসাময়িকদের ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন।
তাঁর সফরসমূহ:
লেখকের জীবনী নিয়ে রচিত গ্রন্থগুলোতে তিনি খুব বেশি সফর করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়নি। সম্ভবত এর কারণ হলো, লেখক তাঁর নিজ শহরের আলেমদের নিকট থেকে শ্রবণ (سماع) করেই সন্তুষ্ট ছিলেন; কেননা তিনি এমন এক যুগে বসবাস করতেন যখন অধিকাংশ আলেম দামেস্ক শহরে অবস্থান করতেন ১।
তাই হজের উদ্দেশ্য ব্যতীত সফর করা খুব একটা জরুরি ছিল না, আর লেখক একাধিকবার হজ পালন করেছেন। অথবা অধ্যাপনার উদ্দেশ্যে সফর; তিনি জেরুজালেমে (আল-কুদস) তা করেছেন। সেখানে তিনি 'সালাহিয়া' মাদরাসায় শিক্ষক হিসেবে অবস্থান করেন এবং জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত দীর্ঘকাল সেখানে অবস্থান করে শিক্ষকতা, ফতোয়া প্রদান ও গ্রন্থ রচনায় অতিবাহিত করেন। সেখানেই তিনি ইন্তেকাল করেন। তাঁর মৃত্যু হয়েছিল ৬৬১ হিজরির ৩রা মহরম এবং তাঁকে প্রাচীরের পাশে 'বাবুর রাহমাহ' গোরস্থানে দাফন করা হয়। ইলম ও আমল সমৃদ্ধ এক কর্মময় জীবনের পর মহান আল্লাহ তাঁকে ব্যাপক রহমত দান করুন এবং জান্নাতুল ফিরদাউসে স্থান দিন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহকীকু মুনিফির রুতবাহ লিমান সাবাতা লাহু শারীফুস সোহবাহ
(পৃষ্ঠা: ١٢)
مؤلفاته:
إن الباحث في حياة المؤلف يدرك تماماً مدى الجهد الذي بذله في إيصال العلوم النافعة للأجيال الذين عاصروه ومن جاء بعده. وقد ذكرت الكتب التي تناولت حياته بالترجمة جملة كبيرة من المصنفات في شتى العلوم الشرعية تجاوزت في عددها الخمسين مصنفاً بين كتاب كبير تجاوز المجلدات الكبيرة، وأجزاء صغيرة مثل هذا الجزء الذي بين أيدينا.
وقد ذكرت في مقدمة تحقيقي لكتاب النقد الصحيح ما مجموعه سبعة وأربعون كتاباً فأغنى ذكره هناك عن الإعادة في هذه العجالة. إلا أنه من المناسب أن أورد مصنفاته الموجودة بين أيدينا سواء كانت مخطوطة أو ما طبع منها وهي قليلة جداً بالنسبة لما فُقد أو مازال في أرفف المكتبات العالمية.
فمن مؤلفاته المطبوعة:
1- إجمال الإصابة في أقوال الصحابة.
وهو جزء صغير أفرده لاستيفاء القول في حكم – أقوال الصحابة- من حيث كونها حجة في الأحكام الشرعية أم لا1.
2- بغية الملتمس في سباعيات حديث الإمام مالك بن أنس2.
3- تحقيق المراد في أن النهي يقتضي الفساد3.
--------------------------------------------
তাঁর রচনাবলি:
লেখকের জীবনীর একজন গবেষক স্পষ্টভাবে অনুধাবন করতে পারেন যে, তিনি তাঁর সমসাময়িক এবং পরবর্তী প্রজন্মের কাছে উপকারী জ্ঞান পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে কতটা প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন। তাঁর জীবনচরিত (ترجمة) সংক্রান্ত গ্রন্থগুলোতে বিভিন্ন শরয়ী বিজ্ঞানে তাঁর রচিত বিপুল সংখ্যক গ্রন্থের উল্লেখ পাওয়া যায়, যার সংখ্যা পঞ্চাশটি ছাড়িয়ে গেছে। এগুলোর মধ্যে যেমন বিশালাকার একাধিক খণ্ডের গ্রন্থ রয়েছে, তেমনি রয়েছে আমাদের হাতে থাকা এই পুস্তিকাটির মতো ক্ষুদ্র পুস্তিকা (جزء)।
আমি আমার সম্পাদিত (تحقيق) 'আন-নাকদুস সহীহ' গ্রন্থের ভূমিকায় তাঁর মোট সাতচল্লিশটি বইয়ের কথা উল্লেখ করেছি, বিধায় এই সংক্ষিপ্ত পরিসরে পুনরায় সেগুলোর অবতারণা করার প্রয়োজন নেই। তবে তাঁর বর্তমানে বিদ্যমান রচনাগুলো উল্লেখ করা সমীচীন মনে করছি, চাই তা পাণ্ডুলিপি (مخطوطة) আকারে হোক কিংবা মুদ্রিত; যদিও বিলুপ্ত হওয়া বা বিশ্বের বিভিন্ন লাইব্রেরির তাকে সংরক্ষিত বইগুলোর তুলনায় এগুলোর সংখ্যা খুবই নগণ্য।
তাঁর মুদ্রিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে:
1- ইজমালুল ইসাবাহ ফী আকওয়ালিস সাহাবাহ।
এটি একটি ক্ষুদ্র পুস্তিকা (جزء) যা তিনি সাহাবীদের উক্তি (أقوال الصحابة)-র বিধান সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনার জন্য নির্দিষ্ট করেছেন; বিশেষ করে শরয়ী বিধানে তা প্রমাণ (حجة) হিসেবে গণ্য হবে কি না, সে বিষয়ে।
2- বুগয়াতুল মুলতামিস ফী সুবাইয়াত হাদিসিল ইমাম মালিক বিন আনাস।
3- তাহকীকুল মুরাদ ফী আন্নান নাহইয়া ইয়াকতাদিল ফাসাদ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহকীকু মুনিফির রুতবাহ লিমান সাবাতা লাহু শারীফুস সোহবাহ
(পৃষ্ঠা: ١٣)
4- جامع التحصيل لأحكام المراسيل1.
5- جزء في تفسير الباقيات الصالحات وفضلها2.
6- النقد الصحيح لما أعترض عليه من أحاديث المصابيح3.
أما مؤلفاته المخطوطة فهي ما يلي:
1- الأشباه والنظائر.
وقفت على نسخة منه في الجامعة العثمانية تحت رقم 362-297، وعدد أوراقه 219 ورقة.
2- تفصيل الإجمال في تعارض بعض الأقوال والأفعال.
منه نسخة مصورة في مكتبة الجامعة الإسلامية قسم المخطوطات، تحت رقم 1304.
3- تلقيح الفهوم في صيغ العموم.
منه نسخة مصورة في مكتبة الجامعة الإسلامية قسم المخطوطات، تحت رقم 647 / 648.
4- التنبيهات المجملة على المواضع المشكلة.
يحققه الدكتور مرزوق بن هياس الزاهراني معتمداً فيه على نسختين مختلفتين، وقد أوشك على الانتهاء منه.
5- تهذيب الأصول إلى مختصر جامع الأصول.
منه نسخة مصورة في مكتبة الجامعة الإسلامية قسم المخطوطات، تحت رقم 2510.
--------------------------------------------
৪- জামিউত তাহসীল লি আহকামিল মারাসীল১।
৫- জুজউ ফী তাফসীরিল বাকিয়াতিস সালিহাত ওয়া ফাদলিহা২।
৬- আন-নাকদুস সহীহ লিমা উ'তুরিদা আলাইহি মিন আহাদিসিল মাসাবীহ৩।
তার পাণ্ডুলিপি আকারে থাকা গ্রন্থসমূহ নিম্নরূপ:
১- আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর।
আমি ওসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৬২-২৯৭ নম্বরের অধীনে এর একটি পাণ্ডুলিপি দেখেছি এবং এর পত্র সংখ্যা ২১৯টি।
২- তাফসীলুল ইজমাল ফী তা'আরুদি বাদিল আকওয়ালি ওয়াল আফআল।
এর একটি ফটোকপি ইসলামিক ইউনিভার্সিটির লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপি বিভাগে ১৩০৪ নম্বরের অধীনে সংরক্ষিত রয়েছে।
৩- তালকিহুল ফুহুম ফী সিয়াগিল উমুম।
এর একটি ফটোকপি ইসলামিক ইউনিভার্সিটির লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপি বিভাগে ৬৪৭ / ৬৪৮ নম্বরের অধীনে সংরক্ষিত রয়েছে।
৪- আত-তানবিহাতুল মুজমলাহ আলাল মাওয়াদিল মুশকিলাহ।
ডক্টর মারজুক বিন হায়াস আল-জাহরানি এটি দুইটি ভিন্ন পাণ্ডুলিপির ওপর ভিত্তি করে সম্পাদনা করছেন এবং তিনি এর কাজ প্রায় সমাপ্ত করে এনেছেন।
৫- তাহযীবুল উসুল ইলা মুখতাসার জামিউল উসুল।
এর একটি ফটোকপি ইসলামিক ইউনিভার্সিটির লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপি বিভাগে ২৫১০ নম্বরের অধীনে রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহকীকু মুনিফির রুতবাহ লিমান সাবাতা লাহু শারীফুস সোহবাহ
(পৃষ্ঠা: ١٤)
6- توفية الكيل لمن حرم لحوم الخيل.
يحققه الدكتور عبد الكريم صنيتان العمري، بكلية الشريعة بالجامعة الإسلامية، وهو على وشك الانتهاء منه.
7- جزء فيه أحاديث منتقاة من جزء أبي مسعود بن الفرات.
منه نسخة مصورة في جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية بالرياض عن الأصل المخطوط في المكتبة الأحمدية. ورقمه في الجامعة 516/ 13 ص (ل70 –72) في 3 لقطات.
8- مجمع الفوائد.
منه نسخة مخطوطة في مكتبة الشيخ عارف حكمت بالمدينة تحت رقم 493 عام.
9- رسالة في تفسير {يَا أَهْلَ الْكِتَابِ لا تَغْلُوا فِي دِينِكُمْ} .
منه نسخة مخطوطة في دار الكتب المصرية تحت رقم 3602. ح ضمن مجموع من 48ق –68ق.
10- رسالة في تفسير قوله تعالى: {وَاذْكُرْ فِي الْكِتَابِ مُوسَى} .
منه نسخة مخطوطة في دار الكتب المصرية تحت رقم 2121 ب، ضمن مجموع من 1ق - 7ق.
11- رفع الأشكال عن حديث صيام ستة أيام من شوال.
ذكره د. عمر فلاته في مقدمة كتابه المراسيل للعلائي 1/ 15، وقال: موجود في القاهرة.
12- شفاء المسترشدين في حكم إختلاف المجتهدين.
منه نسخة في مكتبة كوبريللي باسطمبول، تحت رقم 386/ 2.
13- العدة في أدعية الكرب والشدة.
منه نسخة مخطوطة في مكتبة كوبريللي تحت رقم 334 ب م
৬- তাওফিয়াতুল কায়ল লিমান হাররামা লুহুমাল খায়ল।
মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের শরিয়াহ অনুষদের ডক্টর আব্দুল করিম সানিতান আল-উমরি এটি সম্পাদনা করছেন এবং তিনি এর কাজ সমাপ্তির পথে।
৭- আবু মাসুদ বিন আল-ফুরাতের খণ্ড (جزء) থেকে নির্বাচিত (منتقاة) হাদিস সম্বলিত একটি খণ্ড (جزء)।
এর একটি ফটোকপি সংস্করণ রিয়াদের ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে সংরক্ষিত আছে, যা মাকতাবাতুল আহমাদিয়্যাহ-তে থাকা মূল পাণ্ডুলিপি থেকে সংগৃহীত। বিশ্ববিদ্যালয়ে এর নম্বর ৫১৬/ ১৩ পৃষ্ঠা (৭০-৭২ পৃষ্ঠা) ৩টি স্লাইডে।
৮- মাজমাউল ফাওয়ায়িদ।
এর একটি পাণ্ডুলিপি মদিনার শায়খ আরিফ হিকমত লাইব্রেরিতে সাধারণ নম্বর ৪৯৩-এর অধীনে সংরক্ষিত আছে।
৯- {হে কিতাবধারীগণ, তোমরা তোমাদের দ্বীনের ব্যাপারে অতিরঞ্জন করো না} - এই আয়াতের তাফসির বিষয়ক একটি পুস্তিকা।
এর একটি পাণ্ডুলিপি মিশরের দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ-তে ৩৬০২ ح নম্বরে সংরক্ষিত, যা ৪৮ক – ৬৮ক পৃষ্ঠা সম্বলিত একটি সংকলনের অন্তর্ভুক্ত।
১০- মহান আল্লাহর বাণী: {এবং এই কিতাবে মূসার কথা আলোচনা করুন} - এর তাফসির বিষয়ক একটি পুস্তিকা।
এর একটি পাণ্ডুলিপি মিশরের দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ-তে ২১২১ ب নম্বরে সংরক্ষিত, যা ১ক – ৭ক পৃষ্ঠা সম্বলিত একটি সংকলনের অন্তর্ভুক্ত।
১১- রাফউল আশকাল আন হাদিস সিয়াম সিত্তা আইয়্যাম মিন শাওয়াল (শাওয়ালের ছয় রোজা সংক্রান্ত হাদিসের অস্পষ্টতা নিরসন)।
ডক্টর ওমর ফাল্লাতাহ আল-আলাইয়ি রচিত আল-মরাসিল গ্রন্থের ভূমিকার ১/ ১৫ পৃষ্ঠায় এটি উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: এটি কায়রোতে বিদ্যমান আছে।
১২- শিফাউল মুস্তারশিদিন ফি হুকমি ইখতিলাফিল মুজতাহিদিন।
এর একটি অনুলিপি ইস্তাম্বুলের কোপরুলু লাইব্রেরিতে ৩৮৬/ ২ নম্বরের অধীনে সংরক্ষিত।
১৩- আল-উদ্দাহ ফি আদইয়াতিল কারবি ওয়াশ শিদ্দাহ।
এর একটি পাণ্ডুলিপি কোপরুলু লাইব্রেরিতে ৩৩৪ ب م নম্বরের অধীনে সংরক্ষিত।
(খণ্ড: ১)
তাহকীকু মুনিফির রুতবাহ লিমান সাবাতা লাহু শারীফুস সোহবাহ
(পৃষ্ঠা: ١٥)
ونسخة في مكتبة برلين تحت رقم: 4148.
14- الفتاوى المستغربة.
منه نسخة مصورة في مكتبة الجامعة الإسلامية بقسم المخطوطات تحت رقم 6868 ف.
15- الفصول المفيدة في الواو المزيدة.
منه نسخة مصورة في مكتبة الجامعة الإسلامية تحت رقم: 2709، من ورقة 109- 126.
16- حديث "قطع في مجن" وما يتعلق به.
منه نسخة في مكتبة الجامعة الإسلامية تحت رقم: 542.
17- كشف النقاب عما روى الشيخان للأصحاب.
منه نسخة مصورة في مكتبة الجامعة الإسلامية تحت رقم: 1770.
18- الكلام في بيع الفضولي.
منه نسخة مصورة في مكتبة الجامعة الإسلامية تحت رقم: 878.
19- المجموع المذهب في قواعد المذهب.
منه نسخة مصورة في مكتبة الجامعة الإسلامية تحت رقم: 1790.
20- الوشي المعلم فيمن روى عن أبيه عن جده.
لم يبق من الكتاب سوى قطعة وقفت عليها مصورة في مكتبة شيخنا الفاضل الشيخ حماد بن محمد الأنصاري حفظه الله.
এবং বার্লিন লাইব্রেরিতে ৪১৪৮ নম্বরের অধীনে এর একটি অনুলিপি রয়েছে।
১৪- আল-ফাতাওয়া আল-মুসতাগরাবাহ।
এর একটি ফটোকপি পাণ্ডুলিপি ইসলামিক ইউনিভার্সিটির লাইব্রেরিতে পাণ্ডুলিপি বিভাগে ৬৮৬৮-ফ নম্বরের অধীনে সংরক্ষিত আছে।
১৫- আল-ফুসুল আল-মুফিদা ফিল ওয়াও আল-মাজিদা।
এর একটি ফটোকপি পাণ্ডুলিপি ইসলামিক ইউনিভার্সিটির লাইব্রেরিতে ২৭০৯ নম্বরের অধীনে ১০৯-১২৬ পৃষ্ঠা পর্যন্ত সংরক্ষিত আছে।
১৬- "কাতআ ফি মিজান" (ঢাল চুরির জন্য হাত কাটা) সংক্রান্ত হাদিস এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়াদি।
এর একটি পাণ্ডুলিপি ইসলামিক ইউনিভার্সিটির লাইব্রেরিতে ৫৪২ নম্বরের অধীনে রয়েছে।
১৭- কাশফুল নিকাব আম্মা রাওয়া আশ-শাইখানি লিল আসহাব।
এর একটি ফটোকপি পাণ্ডুলিপি ইসলামিক ইউনিভার্সিটির লাইব্রেরিতে ১৭৭০ নম্বরের অধীনে সংরক্ষিত আছে।
১৮- আল-কালাম ফি বাইয়িল ফুদুলি।
এর একটি ফটোকপি পাণ্ডুলিপি ইসলামিক ইউনিভার্সিটির লাইব্রেরিতে ৮৭৮ নম্বরের অধীনে সংরক্ষিত আছে।
১৯- আল-মাজমু আল-মুদহাক্কাব ফি কাওয়াইদিল মাযহাব।
এর একটি ফটোকপি পাণ্ডুলিপি ইসলামিক ইউনিভার্সিটির লাইব্রেরিতে ১৭৯০ নম্বরের অধীনে সংরক্ষিত আছে।
২০- আল-ওয়াশি আল-মুআল্লাম ফিমান রাওয়া আন আবিহি আন জাদ্দিহি।
বইটির কেবল একটি অংশই অবশিষ্ট রয়েছে, যা আমি আমাদের শ্রদ্ধেয় শাইখ হাম্মাদ বিন মুহাম্মদ আল-আনসারি (আল্লাহ তাকে হেফাজত করুন)-এর লাইব্রেরিতে ফটোকপি হিসেবে দেখার সুযোগ পেয়েছি।
(খণ্ড: ১)
তাহকীকু মুনিফির রুতবাহ লিমান সাবাতা লাহু শারীফুস সোহবাহ
(পৃষ্ঠা: ١٦)
مصدار ترجمة المؤلف:
1- الأنس الجليل 2/107.
2- البداية والنهاية 14/267.
3- تذكرة الحفاظ 4/1507.
4- الدارس 1/60.
5- الدرر الكامنة 2/91.
6- ذيل طبقات الحفاظ ص 360.
7- الرسالة المستطرفة ص 63.
8- شذرات الذهب 6/190.
9- طبقات الشافعية 10/36.
10- العبر 4/186.
11- معجم الشيوخ للذهبي 1/223.
12- مقدمة كتاب المراسيل للدكتور عمر حسن فلاته.
13- مقدمة تحقيقي لكتاب النقد الصحيح للعلائي.
14- فهرس الفهارس 2/790.
وصف النسخ:
لقد اعتمدت في تحقيقي لهذا الكتاب على أربع نسخ مختلفة من أصل خمس نسخ قمت بجمعها في أوقات متباينة، مما جعلني أعيد النظر في تحقيق الكتاب ثلاث مرات قبل دفعها إلى المطبعة لكتون متداولة بين أيدي الباحثين. وكانت النسخ المتعددة خير معين لي على إخراج النص كما أراده المؤلف بدون تصحيف أو تحريف.
লেখকের জীবনীর উৎসসমূহ:
১- আল-উন্স আল-জালিল ২/১০৭।
২- আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া ১৪/২৬৭।
৩- তাযকিরাতুল হুফফাজ ৪/১৫০৭।
৪- আদ-দারিস ১/৬০।
৫- আদ-দুরারুল কামিনা ২/৯১।
৬- যাইল তাবাকাতিল হুফফাজ পৃষ্ঠা ৩৬০।
৭- আর-রিসালাতুল মুস্তাতরাফা পৃষ্ঠা ৬৩।
৮- শাযারাতুয যাহাব ৬/১৯০।
৯- তাবাকাতুশ শাফিয়্যাহ ১০/৩৬।
১০- আল-ইবার ৪/১৮৬।
১১- ইমাম যাহাবীর মুজামুশ শুয়ুখ ১/২২৩।
১২- ডক্টর ওমর হাসান ফাল্লাতাহ রচিত আল-মারাসিল গ্রন্থের ভূমিকা।
১৩- আল-আলাই রচিত আন-নাকদ আস-সহিহ গ্রন্থের আমার সম্পাদিত (تحقيق) সংস্করণের ভূমিকা।
১৪- ফিহরিসুল ফাহারিস ২/৭৯০।
পাণ্ডুলিপির বর্ণনা:
এই গ্রন্থটি সম্পাদনার (تحقيق) ক্ষেত্রে আমি বিভিন্ন সময়ে সংগৃহীত পাঁচটি পাণ্ডুলিপির মধ্যে চারটি ভিন্ন পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি। এর ফলে গবেষকদের ব্যবহারের জন্য মুদ্রণে পাঠানোর পূর্বে আমাকে তিনবার গ্রন্থটির সম্পাদনা (تحقيق) পর্যালোচনা করতে হয়েছে। এই একাধিক পাণ্ডুলিপি আমাকে কোনো বর্ণবিকৃতি (تصحيف) বা শব্দবিকৃতি (تحريف) ছাড়াই গ্রন্থকার যেভাবে চেয়েছিলেন ঠিক সেভাবেই মূল পাঠটি উদ্ধার করতে সর্বোত্তম সহায়তা প্রদান করেছে।
(খণ্ড: ১)
তাহকীকু মুনিফির রুতবাহ লিমান সাবাতা লাহু শারীফুস সোহবাহ
(পৃষ্ঠা: ١٧)
وكانت أولى النسخ الأربع نسخة الأسكوريال، وهي ضمن مجموعة تحتوي على مؤلفات العلائي. ورقمها: 1612.
الناسخ وتاريخ النسخ:
لم يذكر الناسخ اسمه بعد الانتهاء من نسخ الكتاب كعادة النساخ. وذلك اكتفاء بما ذكره في أول المجموعة التي تضمنت هذا الكتاب وغيره. وقد ذكرالناسخ اسمه في نهاية كتاب التنبيهات المجملة. وحيث أن الخط واحد مع اختلاف في تاريخ النسخ. فإن الناسخ لهذا الكتاب هو محمد بن أحمد بن الصميدي الذي نسخ كتاب التنبيهات في الثامن من شهر جمادى الأولى سنة ست وسبعين وسبعمائة، وكتاب منيف الرتبة في التاسع عشر من جمادى الأولى من تلك السنة.
ومن خلال نسخي لهذه النسخة التي جعلتها أصلاً تبين لي أن الناسخ بذل جهداً وعنابة في نسخ الكتاب، تجلى ذلك في الاهتمام بالعناوين وبداية الأحاديث التي أوردها المصنف بخط يغاير الخط الذي استعمله في تسطير الكتاب، ولم ينس كتابة الكلمة من الورقة المقابلة في آخر سطر من الورقة السابقة حتى لا تتداخل الأوراق عند عدم كتابة أرقامها في أعلى الورقة.
ويظهر أنه قابل بين نسخته والنسخة التي نقل عنها، بدليل الدائرة المنقوطة بعد انتهاء المعلومة. وهو مصطلح معروف لدى علماء هذا الشأن. ومن أجل هذه الميزات الآنفة الذكر إضافة إلى جودة الخط ووضوحه، وعدم وجود سقط جوهري أو تحريم أو تصحيف ذي ضرر على مادة الكتاب، جعلت هذه النسخة أصلاً في التحقيق. والنسخ التي
চারটি পাণ্ডুলিপির মধ্যে প্রথমটি ছিল এসকোরিয়াল পাণ্ডুলিপি, যা আল-আলাইয়্যাহর রচনাবলি সংবলিত একটি সংকলনের অন্তর্ভুক্ত। এর নম্বর হলো: ১৬১২।
অনুলিপিকার ও অনুলিপির তারিখ:
অনুলিপিকারদের প্রথা অনুযায়ী কিতাবটির অনুলিপি সম্পন্ন করার পর তিনি নিজের নাম উল্লেখ করেননি। বরং এই কিতাবসহ অন্যান্য রচনা ধারণকারী সংকলনের শুরুতে যা উল্লেখ করেছেন তা-ই যথেষ্ট মনে করেছেন। অনুলিপিকার তার নাম 'আত-তামবিহাতুল মুজমলাহ' কিতাবের শেষে উল্লেখ করেছেন। যেহেতু অনুলিপি তৈরির তারিখে ভিন্নতা থাকলেও হস্তলিপি অভিন্ন, তাই এই কিতাবটির অনুলিপিকার হলেন মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন আস-সুমাইদি, যিনি ৭৭৬ হিজরি সনের ৮ জুমাদাল উলা তারিখে 'আত-তামবিহাত' এবং ওই বছরের ১৯ জুমাদাল উলা তারিখে 'মুনিফুর রুতবাহ' কিতাবটি অনুলিপি করেছিলেন।
এই পাণ্ডুলিপিটি অনুলিপি করার সময়—যাকে আমি মূল পাণ্ডুলিপি (أصل) হিসেবে গ্রহণ করেছি—আমার কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে, অনুলিপিকার কিতাবটির অনুলিপি তৈরিতে ব্যাপক শ্রম ও নিষ্ঠা ব্যয় করেছেন। শিরোনামগুলোর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান এবং লেখক কর্তৃক বর্ণিত হাদিসসমূহের প্রারম্ভিক অংশগুলোকে কিতাবের মূল লেখার চেয়ে ভিন্ন শৈলীর লিপিতে ফুটিয়ে তোলার মাধ্যমে তা প্রকাশ পেয়েছে। এছাড়া পৃষ্ঠার উপরে নম্বর লেখা না থাকলেও পাতাগুলো যাতে ওলটপালট না হয়ে যায়, সেজন্য তিনি পূর্ববর্তী পৃষ্ঠার শেষ লাইনে পরবর্তী পৃষ্ঠার প্রথম শব্দটি লিখতে ভুলেননি।
প্রমাণিত হয় যে, তিনি তার অনুলিপিটিকে যেখান থেকে নকল করেছেন তার সাথে মিলিয়ে সংশোধন (مقابلة) করেছিলেন; কোনো তথ্যের সমাপ্তিতে ফোঁটাযুক্ত বৃত্তের চিহ্ন এর প্রমাণ। এটি এই শাস্ত্রের পণ্ডিতদের নিকট একটি সুপরিচিত পরিভাষা (مصطلح)। উল্লিখিত এই বৈশিষ্ট্যগুলোর পাশাপাশি হস্তলিপির উৎকর্ষ ও স্পষ্টতা এবং কিতাবের মূল বিষয়ের ওপর প্রভাব ফেলে এমন কোনো মৌলিক পাঠ বিচ্যুতি (سقط), বিকৃতি (تحريف) বা লিপি বিভ্রাট (تصحيف) না থাকার কারণে, আমি এই পাণ্ডুলিপিটিকে পাণ্ডুলিপি সম্পাদনার (تحقيق) ক্ষেত্রে মূল ভিত্তি (أصل) হিসেবে গ্রহণ করেছি। আর অন্যান্য পাণ্ডুলিপি যা
(খণ্ড: ১)
তাহকীকু মুনিফির রুতবাহ লিমান সাবাতা লাহু শারীফুস সোহবাহ
(পৃষ্ঠা: ١٨)
سيأتي ذكرها فرعاً لها في التصحيح والتكميل عند المقابلة.
عدد أوراق النسخة: 27 ورقة.
مسطرتها: 19 سطراً.
النسخة الثانية:
وهي نسخة مصورة عن الأصل المخطوط في مكتبة جامعة برنستون بالولايات المتحدة الأمريكية. تحت رقم هـ 785 – وقد تفضل الشيخ نظام يعقوبي مشكوراً بإرسال نسخة مصورة عنها، فجزاه الله عني خير الجزاء، وأجزل له المثوبة في الدارين.
وتقع النسخة في 29 ورقة من الحجم المتوسط، وتمتاز بوضوح خطها ووجود بعض الفوارق الجيدة عن النسخة التي اعتمدتها في التحقيق، وقد أشرت إلى تلك الفوارق في الحاشية عند التحقيق، فأغنى ذلك عن إعادته هنا.
وتوفرت فيها ميزان النسخة الأصلية من تمام الضبط وإثبات الكلمة الأولى في آخر الورقة التي تسبق العبارات الموجودة في الورقة التالية. والاعتناء بالمقابلة من الأصل المنقول منه، بدليل إثبات الكلمات الساقطة في حاشية النسخة. إلا أن الناسخ لم يهتم بذكر اسمه ولا تاريخ نسخه للكتاب، وقد أدى هذا التصرف إلى أن أجعلها نسخة أخرى للمقابلة والتصحيح عند الحاجة.
النسخة الثالثة:
وهي نسخة مصورة من مكتبة خدابخش والمحفوظة هناك تحت رقم 3183/2 وعدد أوراقها 33 ورقة تحتوي كل ورقة على 19
পাঠ-মিলানোর (مقابلة) সময় সংশোধন (تصحيح) ও পরিমার্জনের (تكميل) ক্ষেত্রে এর আনুষঙ্গিক উল্লেখ আসবে।
কপির পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৭ পৃষ্ঠা।
লাইন বিন্যাস: ১৯ লাইন।
দ্বিতীয় কপি:
এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটি লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত মূল পাণ্ডুলিপির একটি আলোকচিত্র সংস্করণ। যার নম্বর হলো এইচ-৭৮৫। শায়খ নিজাম ইয়াকুবি অনুগ্রহ করে এর একটি কপি পাঠিয়ে আমাকে বাধিত করেছেন; আল্লাহ তাকে আমার পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন এবং উভয় জগতে তাকে প্রচুর সওয়াব দান করুন।
এই কপিটি মাঝারি আকারের ২৯ পৃষ্ঠা বিশিষ্ট। এর হস্তাক্ষর অত্যন্ত স্পষ্ট এবং গবেষণার (تحقيق) কাজে আমি যে কপিটিকে মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছি, তার সাথে এতে কিছু চমৎকার পার্থক্য রয়েছে। আমি গবেষণার (تحقيق) সময় পাদটীকায় সেই পার্থক্যগুলো উল্লেখ করেছি, যা এখানে পুনরায় উল্লেখ করার প্রয়োজনীয়তা দূর করেছে।
এতে মূল কপির বৈশিষ্ট্যসমূহ বিদ্যমান রয়েছে, যেমন পূর্ণাঙ্গ নির্ভুলতা (ضبط) এবং পরবর্তী পৃষ্ঠার শুরুর শব্দটি পূর্ববর্তী পৃষ্ঠার শেষে উল্লেখ করা। এছাড়া যে মূল উৎস থেকে এটি নকল করা হয়েছে তার সাথে পাঠ-মিলানোর (مقابلة) ব্যাপারে বিশেষ যত্ন নেওয়া হয়েছে, যার প্রমাণ হলো কপির পাদটীকায় বাদ পড়া শব্দগুলোর অন্তর্ভুক্তি। তবে লিপিকার তার নাম কিংবা গ্রন্থটি নকল করার তারিখ উল্লেখ করার ব্যাপারে গুরুত্ব দেননি। এ কারণে আমি প্রয়োজন সাপেক্ষে পাঠ-মিলানো (مقابلة) ও সংশোধনের (تصحيح) জন্য এটিকে একটি সহায়ক কপি হিসেবে গণ্য করেছি।
তৃতীয় কপি:
এটি খোদা বখশ লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত একটি আলোকচিত্র সংস্করণ, যা সেখানে ৩১৮৩/২ নম্বরে রক্ষিত আছে। এর পৃষ্ঠা সংখ্যা ৩৩ এবং প্রতি পৃষ্ঠায় ১৯টি করে লাইন রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
তাহকীকু মুনিফির রুতবাহ লিমান সাবাতা লাহু শারীফুস সোহবাহ
(পৃষ্ঠা: ١٩)
سطراً. والخط قريب جداً إلى الخط الفارسي. وفيها بعض الإلحاقات مما يدل على أنها قوبلت بعد الانتهاء منها.
ويكاد يكون الاختلاف بينها وبين النسخ الأخرى نادرة جداً. وقد أثبت بعضها في الحاشية.
النسخة الرابعة:
وهي نسخة المتحف الوطني بكراتشي، ضمن مجموعة تحمل رقم 1980 وتقع في 28 ورقة وتحتوي كل ورقة على 18 سطراً. وقد أتحفني بها فضيلة الأستاذ الدكتور ضياء الرحمن الأعظمي، فجزاء الله خيراً ونفع بعلمه المسملين.
وتمتاز هذه النسخة كسابقتها من جودة الخط ووضوحه، مع بعض الفوارق الخفيفة. وقد أثبتها في الحاشية أثناء المراجعة.
التعريف بالكتاب:
عنوان الكتاب هو: ((تحقيق منيف الرتبة لمن ثبت له شريف الصحبة)) .
وقد اتفقت النسخ التي اعتمدتها على هذه التسمية، إلا أن الكتاني رحمه الله ذكر في فهرس الفهاري 2 /790 أن من مؤلفاته كتاب تحقيق منصب الرتبة لمن ثبت له شريف الصحبة، وأظنه تصحف عليه كلمة منصب من كلمة منيف، ونظراً لورود الاسم حسبما ذكرت بعاليه في النسخ المذكورة، فإنني اعتمدته في غلاف الكتاب.
লাইন। এবং হস্তাক্ষর ফারসি লিপির অত্যন্ত কাছাকাছি। এতে কিছু সংযুক্তি (إلحاقات) রয়েছে যা নির্দেশ করে যে, পাণ্ডুলিপিটি সম্পন্ন হওয়ার পর তা পুনরায় যাচাই (مقابلة) করা হয়েছে।
এই পাণ্ডুলিপি এবং অন্যান্য পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যে পার্থক্য খুবই নগণ্য। তার কিছু আমি টীকা (حاشية)-তে উল্লেখ করেছি।
চতুর্থ পাণ্ডুলিপি:
এটি করাচি জাতীয় জাদুঘরের একটি পাণ্ডুলিপি, যা ১৯৮০ নম্বর সংকলনের অন্তর্ভুক্ত। এটি ২৮টি পত্র (ورقة) নিয়ে গঠিত এবং প্রতিটি পৃষ্ঠায় ১৮টি করে লাইন রয়েছে। এটি আমাকে উপহার দিয়েছেন সম্মানিত প্রফেসর ডক্টর জিয়াউর রহমান আজমি; আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন এবং তার ইলমের মাধ্যমে মুসলিমদের উপকৃত করুন।
পূর্ববর্তী কপির মতো এই পাণ্ডুলিপিটিও উন্নত হস্তাক্ষর এবং স্পষ্টতার দিক দিয়ে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত, তবে সামান্য কিছু পার্থক্য রয়েছে। পর্যালোচনার সময় আমি সেগুলো টীকা (حاشية)-তে লিপিবদ্ধ করেছি।
গ্রন্থ পরিচিতি:
গ্রন্থের শিরোনাম হলো: ((তাহক্বীকু মুনিফির রুতবা লিমান সাবাতা লাহু শারিফুস সুহবা))।
আমি যে পাণ্ডুলিপিগুলোর ওপর নির্ভর করেছি সেগুলো এই নামকরণের ব্যাপারে একমত। তবে আল্লামা কাত্তানি (রহিমাহুল্লাহ) ফিহরিসুল ফাহারিস (২/৭৯০) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, লেখকের গ্রন্থাবলীর মধ্যে 'তাহক্বীকু মানসাবির রুতবা লিমান সাবাতা লাহু শারিফুস সুহবা' নামক একটি গ্রন্থ রয়েছে। আমার ধারণা, 'মুনিফ' শব্দের স্থলে 'মানসাব' শব্দটি বর্ণ বিপর্যয় (تصحيف)-এর শিকার হয়েছে। উপরে উল্লিখিত পাণ্ডুলিপিগুলোতে নামটি যেভাবে বর্ণিত হয়েছে, সেই গুরুত্ব বিবেচনা করে আমি কিতাবের প্রচ্ছদে সেটিই গ্রহণ করেছি।
(খণ্ড: ১)
তাহকীকু মুনিফির রুতবাহ লিমান সাবাতা লাহু শারীফুস সোহবাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
موضوعه:
قال المؤلف في مقدمة كتابه:
هذا الكتاب يشتمل على تحقيق من يتصف بهذه الرتبة التي هي الصحبة الشريفة، وبماذا تثبت من الطرق حتى يحكم للواحد منهم بالرتبة المنيفة.
وقد تطرق رحمه الله إلى مواضيع هامة جداً لم يتطرق إليها مجتمعة من قبله أحد. وقد حصر كلامه في كتابه هذا على ثلاث مسائل:
المسألة الأولى:
في تعريف الصحبة. وحكى في ذلك أقوال الأئمة المتقدمين، والتي بلغت مجموعها ستة أقوال. ثم أورد ما يمكن إيراده من المعارضة ورد ما يمكن رده، وخلص إلى نتيجة رأى أنها صحيحة لا يمكن ردها.
المسألة الثانية:
الطرق التي يمكن بها إثبات الصحبة. وأنها تثبت تارة بالتواتر وتارة بالاستفاضة القاصرة عن التواتر وتارة بأن يروى عن آحاد الصحابة أنه صحابي، وتارة بقوله وإخباره عن نفسه بعد ثبوت عدالته أنه صحابي.
المسألة الثالثة:
في تقرير عدالة الصحابة رضي الله عنهم. وأنه لا عبرة بمن حط على الصحابة أو خاض فيما شجر بينهم. ثم أورد جملة من الأدلة التي
এর বিষয়বস্তু:
গ্রন্থকার তাঁর কিতাবের ভূমিকায় বলেছেন:
এই কিতাবটি সেই সকল ব্যক্তিদের নির্ভরযোগ্য অনুসন্ধান অন্তর্ভুক্ত করে যারা এই সুউচ্চ মর্যাদা অর্থাৎ সম্মানিত সাহচর্য (صحبة) লাভে ভূষিত হয়েছেন; এবং কোন কোন পন্থায় তা প্রমাণিত হয় যার মাধ্যমে তাঁদের কাউকে এই মহান মর্যাদার অধিকারী হিসেবে গণ্য করা যায়।
তিনি (রহিমাহুল্লাহ) এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনা করেছেন যা তাঁর পূর্বে আর কেউ একত্রে আলোচনা করেননি। তিনি এই কিতাবে তাঁর বক্তব্যকে তিনটি বিষয়ের ওপর সীমাবদ্ধ রেখেছেন:
প্রথম বিষয়:
সাহচর্য (صحبة)-এর সংজ্ঞার বর্ণনায়। এই বিষয়ে তিনি পূর্ববর্তী ইমামগণের অভিমতসমূহ উল্লেখ করেছেন, যার সংখ্যা মোট ছয়টি। এরপর তিনি সম্ভাব্য আপত্তিসমূহ উপস্থাপন করেন এবং যা খণ্ডনযোগ্য তা খণ্ডন করেন। পরিশেষে তিনি এমন একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হন যাকে তিনি সঠিক (صحيحة) বলে মনে করেছেন এবং যা প্রত্যাখ্যান করার অবকাশ নেই।
দ্বিতীয় বিষয়:
সাহচর্য (صحبة) প্রমাণের পদ্ধতিসমূহ। এটি কখনো নিরবচ্ছিন্ন (تواتر) পন্থায় প্রমাণিত হয়, কখনো নিরবচ্ছিন্নতার চেয়ে কম সুপ্রসিদ্ধ (استفاضة) পন্থায় প্রমাণিত হয়, আবার কখনো একক (آحاد) সাহাবীগণের বর্ণনার মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে তিনি একজন সাহাবী। কখনো ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) সাব্যস্ত হওয়ার পর নিজের সম্পর্কে প্রদত্ত বার্তার মাধ্যমেও প্রমাণিত হয় যে তিনি একজন সাহাবী।
তৃতীয় বিষয়:
সাহাবীগণের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) সুনিশ্চিত করার বর্ণনায়। যারা সাহাবীগণের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করে কিংবা তাঁদের মধ্যকার বিবাদপূর্ণ বিষয়ে লিপ্ত হয়, তাঁদের কোনো গুরুত্ব নেই। অতঃপর তিনি এমন কিছু দলিল উল্লেখ করেন যা...
(খণ্ড: ১)
তাহকীকু মুনিফির রুতবাহ লিমান সাবাতা লাহু শারীফুস সোহবাহ
(পৃষ্ঠা: ٢١)
تؤكد عدالة الصحابة من الكتاب والسنة الصحيحة وإجماع الأمة.. وأورد أدلة من ذهب إلى أنهم غير عدول، وناقشها نقاشاً علمياً رد فيها كل تخرصاتهم واجتهاداتهم الخاطئة في فهم النصوص الواردة. وختم كتابه بفصل عن التهم التي أوردها بعض الناس في حق أبي هريرة رضي الله عنه ورواياته عن النبي صلى الله عليه وسلم وردها رداً شافياً فرحمه الله رحمة واسعة، وأسكنه فسيح جناته
إثبات الكتاب للمؤلف:
إن الأدلة قائمة على أن هذا الكتاب الذي بين أيدينا هو كتاب الإمام العلائي.
فقد اعتمد الحافظ إبن حجر نصاً واحداً في كتابه الإصابة 1/10-11. إلا أنه لم يشر إلى إسم الكتاب. بل اكتفى بقوله: قال العلائي. وعند رجوعي إلى الأصل وجدت الكلام الذي نقله الحافظ منطبقاً على ما في هذا الكتاب.
وكذلك فعل الإمام السخاوي. حيث نقل نصين عن الكتاب في فتح المغيث 3/ 89-104 دون الإشارة إلى عنوان الكتاب.
والسيوطي أيضاً نقل نصاً واحداً وعزاه إلى العلائي دون الإشارة إلى عنوان الكتاب، إلا أن المقارنة أثبتت أنهم نقلوا هذه المعلومات من كتاب منيف الرتبة.
وأما الكتاني فقد ذكر إسم الكتاب مصحفاً كما أشرت إليه آنفاً.
فهذه الأدلة تكفي لإثبات نسبة الكتاب للعلائي بعنوانه الذي
এটি কুরআন, বিশুদ্ধ (صحيحة) সুন্নাহ এবং উম্মাহর ঐক্যমত্য (إجماع) থেকে সাহাবীগণের ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) নিশ্চিত করে। তিনি ঐ সকল ব্যক্তিদের দলিলসমূহও উল্লেখ করেছেন যারা মনে করেন যে সাহাবীগণ ন্যায়পরায়ণ (عدول) নন, এবং তিনি সেগুলো নিয়ে এমন পাণ্ডিত্যপূর্ণ আলোচনা করেছেন যেখানে তিনি তাদের সকল ভিত্তিহীন দাবি এবং উদ্ধৃত পাঠসমূহ বোঝার ক্ষেত্রে তাদের ভুল ইজতিহাদ বা ব্যাখ্যার খণ্ডন করেছেন। তিনি তার গ্রন্থটি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে তাঁর বর্ণিত হাদিসসমূহ সম্পর্কে কিছু মানুষের তোলা অভিযোগ এবং সেগুলোর সন্তোষজনক খণ্ডনমূলক একটি পরিচ্ছেদ দিয়ে সমাপ্ত করেছেন। আল্লাহ তাঁকে অসীম রহমতে সিক্ত করুন এবং জান্নাতুল ফিরদাউসে স্থান দান করুন।
লেখকের প্রতি গ্রন্থটির নিসবত সাব্যস্তকরণ:
আমাদের হাতে থাকা এই গ্রন্থটি যে ইমাম আলায়ীর রচিত, সে বিষয়ে শক্ত প্রমাণাদি বিদ্যমান।
হাফিজ ইবনে হাজার তাঁর আল-ইসাবাহ গ্রন্থের ১/১০-১১ পৃষ্ঠায় একটি উদ্ধৃতির ওপর নির্ভর করেছেন। তবে তিনি সেখানে বইটির নাম উল্লেখ করেননি; বরং তিনি কেবল 'আলায়ী বলেছেন' কথাটুকুই যথেষ্ট মনে করেছেন। আমি যখন মূল উৎসের দিকে ফিরে গেলাম, তখন হাফিজের উদ্ধৃত কথাটি এই বইটির বক্তব্যের সাথে হুবহু মিলে যেতে দেখলাম।
অনুরূপভাবে ইমাম সাখাবীও করেছেন। তিনি ফাতহুল মুগীস গ্রন্থের ৩/৮৯-১০৪ পৃষ্ঠায় এই বই থেকে দুটি উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন, কিন্তু বইটির শিরোনামের দিকে কোনো ইঙ্গিত করেননি।
সুয়ূতীও একটি উদ্ধৃতি বর্ণনা করেছেন এবং সেটি বইয়ের নাম উল্লেখ ছাড়াই আলায়ীর দিকে নিসবত করেছেন। তবে তুলনামূলক পর্যালোচনায় প্রমাণিত হয়েছে যে, তাঁরা এই তথ্যগুলো মুনিফুর রুতবাহ নামক গ্রন্থ থেকেই গ্রহণ করেছেন।
আর কাত্তানী বইটির নাম কিছুটা বিকৃত (مصحفاً) ভাবে উল্লেখ করেছেন, যেমনটি আমি ইতিপূর্বে ইঙ্গিত করেছি। সুতরাং এই দলিলগুলো বইটিকে এর বর্তমান শিরোনামে ইমাম আলায়ীর দিকে সম্পৃক্ত করার জন্য যথেষ্ট।
(খণ্ড: ১)
তাহকীকু মুনিফির রুতবাহ লিমান সাবাতা লাহু শারীফুস সোহবাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
أثبته، بما لا يدع مجالاً للشك، وبهذه النقولات التي اعتمدها العلماء بعده في كتبهم نستدل على أهمية الكتاب، وما تطرق إليه من مواضيع فيه تدور في فلك الصحابة رضوان الله عليهم.
عملي في التحقيق:
كان جل اهتمامي في تحقيق النص وإخراجه وضبطه ضبطاً تاماً على قدر الاستطاعة، وذلك بالرجوع إلى النسخ المتوافرة لدي، والتي أشرت إليها آنفاً وبالرجوع إلى المراجع التي اعتمدها في نقل معلوماته.
ثم التعليق على المواضع التي أرى أنه لا بد من التعليق عليها.
ولذا لم أطل في الحاشية لأن القارئ يريد الوقوف على ما في أصل المؤلف، ثم إن كثيراً من الروايات التي استند عليها المؤلف في كتابه هي من الصحيحين أو أحدهما. وما كان فيه ضعف نبه عليه، فأغنى ذلك عن التعليق الذي يفوت الفائدة من نص الكتاب، والله الموفق والهادي إلى الصواب. وصلى الله على نبينا محمد وعلى آل وصحبه وسلم.
وكتبه
د. عبد الرحيم بن محمد القشقري
في المدينة النبوية عام 1409
আমি এটি এমনভাবে সাব্যস্ত করেছি যাতে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই; আর তাঁর পরবর্তী আলিমগণ তাঁদের কিতাবসমূহে যেসব উদ্ধৃতি গ্রহণ করেছেন, তার মাধ্যমে আমরা এই কিতাবটির গুরুত্ব এবং এতে আলোচিত বিষয়াবলি—যা মূলত সাহাবী (رضوان الله عليهم) -গণের মর্যাদাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে—তা অনুধাবন করতে পারি।
তাহকীক বা পাণ্ডুলিপি সম্পাদনায় আমার কর্মপদ্ধতি:
আমার মূল মনোযোগ ছিল সাধ্যানুযায়ী পাঠ্যটির বিশুদ্ধিকরণ (تحقيق), সংকলন এবং এর পূর্ণাঙ্গ বিন্যাসের (ضبط) প্রতি। আর এটি সম্পন্ন হয়েছে আমার নিকট বিদ্যমান পাণ্ডুলিপিগুলোর সহায়তায়—যেগুলোর কথা আমি ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি—এবং লেখক তাঁর তথ্য বর্ণনায় যেসব মূল গ্রন্থের ওপর নির্ভর করেছেন, সেগুলোর দিকে প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে।
এরপর যেসব স্থানে টীকা প্রদান অপরিহার্য বলে মনে হয়েছে, আমি সেসব স্থানে টীকা যুক্ত করেছি।
একারণে আমি পাদটীকায় খুব বেশি দীর্ঘ করিনি; কারণ পাঠক লেখকের মূল বক্তব্যের ওপর মনোনিবেশ করতে চান। তদুপরি, লেখক তাঁর কিতাবে যেসব বর্ণনার ওপর নির্ভর করেছেন, তার অধিকাংশই সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম) বা এই দুই কিতাবের কোনো একটির অন্তর্ভুক্ত। আর যেসব বর্ণনায় দুর্বলতা (ضعف) ছিল, তিনি তা নির্দেশ করে দিয়েছেন; ফলে এমন অতিরিক্ত টীকা প্রদানের প্রয়োজন হয়নি যা মূল পাঠ্যের উপকারিতাকে ব্যাহত করতে পারত। আল্লাহ-ই তাওফিকদাতা এবং সঠিক পথের দিশারি। আমাদের নবী মুহাম্মদ (ﷺ), তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
এটি লিখেছেন
ড. আবদুর রহীম বিন মুহাম্মদ আল-কাশকারী
মদীনা নববীয়া, ১৪০৯ হিজরী
(খণ্ড: ১)
তাহকীকু মুনিফির রুতবাহ লিমান সাবাতা লাহু শারীফুস সোহবাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
ملاحظة: توجد صورة لنسحة الاسكوريل باسبابيا
দ্রষ্টব্য: স্পেনের এসকোরিয়াল পাণ্ডুলিপি (نسخة)-এর একটি ছবি বিদ্যমান।
(খণ্ড: ১)
তাহকীকু মুনিফির রুতবাহ লিমান সাবাতা লাহু শারীফুস সোহবাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
ملاحظة: توجد هنا صورة لنسخة برنستون "امريكا"
দ্রষ্টব্য: এখানে প্রিন্সটন "আমেরিকা" পাণ্ডুলিপির একটি চিত্র রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
তাহকীকু মুনিফির রুতবাহ লিমান সাবাতা লাহু শারীফুস সোহবাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
نسخة خدا بخش بالهند
ভারতের খোদা বখশ পাণ্ডুলিপি
(খণ্ড: ১)
তাহকীকু মুনিফির রুতবাহ লিমান সাবাতা লাহু শারীফুস সোহবাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
نسخة التحف الوطني بكرتشي
করাচির জাতীয় জাদুঘর পাণ্ডুলিপি
(খণ্ড: ১)
তাহকীকু মুনিফির রুতবাহ লিমান সাবাতা লাহু শারীফুস সোহবাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
المسألة الأولى: في تعريف الصحابي…نص، كتاب تحقيق منيف الرتبة لمن ثبت له شريف الصحبة
للإمام الحافظ العلائي
بسم الله الرحمن الرحيم
وما توفيق إلا بالله. أما بعد:
حمداً لله الذي وسع كل شيء رحمة وعلماً، وفضل من اجتباه بما آتاه من جميل الرغائب وجزيل النعمى (ويسر للخير من هداه إليه فكان للسابقين المزية العظمى) 1، والصلاة والسلام على سيدنا محمد المبعوث برحمة ورحمى المنعوت بأشرف الصفات حكمة وحكماً. الذي فتح به قلوباً غلفاً وعيوناً عمياً وآذاناً صماً. وعلى آله وصحبه الحائزين به نعماً جماً. الفائزين لما خصوا به من صحبته بالمحل الأسمى.
فإن الله سبحانه وتعالى اختص نبيه صلى الله عليه وسلم بصحابة جعلهم خير أمته، والسابقين إلى تصديقه وتبعيته والمجاهدين بين يديه والباذلين نفوسهم تقرباً إليه (والناقلين لسننه وقضاياه، والمقتدين به في أفعاله ومزاياه) 2، فلا خير إلا وقد سبقوا إليه من بعدهم. ولا فضل إلا وقد استفرغوا فيه جهدهم. فجميع هذا الدين راجع إلى نقلهم وتعليمهم. ومتلقى من جهتهم بإبلاغهم وتفهيمهم. فلهم مثل أجور كل من اهتدى بشيء من ذلك على مر الأزمان. وذلك فضل الله يؤتيه من يشاء بالطول والإحسان.
--------------------------------------------
প্রথম মাসআলা: সাহাবীর (صحابي) সংজ্ঞার বর্ণনায়…'তাহক্বীক্ব মুনিফ আর-রুতবা লি-মান সাবাতা লা-হু শারিফ আস-সুহবাহ্' গ্রন্থের মূল পাঠ
ইমাম হাফিজ (حافظ) আল-আলাই-এর রচিত
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি
আমার সকল তাওফিক কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকে। অতপর:
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যাঁর দয়া ও জ্ঞান প্রতিটি বস্তুকে পরিবেষ্টন করে আছে। এবং তিনি যাঁকে মনোনীত করেছেন, তাঁকে উত্তম বিষয়সমূহ ও প্রচুর নিআমত প্রদানের মাধ্যমে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন (এবং তিনি যাকে হিদায়াত দিয়েছেন, তার জন্য কল্যাণের পথকে সহজ করে দিয়েছেন; ফলে অগ্রবর্তীদের জন্য রয়েছে সুমহান বৈশিষ্ট্য) ১। এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি, যাঁকে রহমত হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে এবং যিনি হিকমত ও প্রজ্ঞার বিচারে শ্রেষ্ঠ গুণাবলীতে গুণান্বিত; যাঁর মাধ্যমে তিনি রুদ্ধ হৃদয়, অন্ধ চোখ এবং বধির কানসমূহ উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীদের (صحابة) প্রতি, যাঁরা তাঁর মাধ্যমে অঢেল নিআমত লাভ করেছেন; এবং তাঁর সাহচর্যের (صحبة) বিশেষ মর্যাদার কারণে সর্বোচ্চ স্থানে সফল হয়েছেন।
নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তাআলা তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে এমন কিছু সাহাবীর (صحابة) মাধ্যমে বিশিষ্টতা দান করেছেন, যাঁদের তিনি তাঁর উম্মতের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিতে পরিণত করেছেন। তাঁরাই তাঁর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন ও তাঁর আনুগত্যের ক্ষেত্রে অগ্রগামী, তাঁর সামনে জিহাদকারী এবং তাঁর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে নিজেদের জীবন উৎসর্গকারী (এবং তাঁরাই তাঁর সুন্নাহ (سنن) ও ফয়সালাসমূহের বর্ণনাকারী (ناقل), এবং তাঁর কার্যাবলি ও গুণাবলির অনুসারী) ২। কোনো কল্যাণ নেই যেখানে তাঁরা পরবর্তীগণের চেয়ে অগ্রগামী হননি, আর কোনো ফযিলত নেই যেখানে তাঁরা নিজেদের প্রচেষ্টাকে পূর্ণরূপে ব্যয় করেননি। সুতরাং এই দ্বীনের সবকিছুই তাঁদের বর্ণনা (نقل) ও শিক্ষার দিকেই প্রত্যাবর্তন করে; এবং তাঁদের প্রচার ও উপলব্ধির মাধ্যমেই তা তাঁদের পক্ষ থেকে গৃহীত হয়েছে। যুগ পরম্পরায় এর মাধ্যমে যারা হিদায়াতপ্রাপ্ত হয়েছে, তাঁদের প্রত্যেকের সমান সওয়াব তাঁদের জন্যই সাব্যস্ত হবে। আর এটিই আল্লাহর অনুগ্রহ, যা তিনি স্বীয় করুণা ও দয়াগুণে যাকে ইচ্ছা দান করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহকীকু মুনিফির রুতবাহ লিমান সাবাতা লাহু শারীফুস সোহবাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
وهذا الكتاب يشتمل على تحقيق من يتصف بهذه الرتبة التي هي الصحبة الشريفة، وبماذا تثبت من الطرق حتى يحكم للواحد منهم بالرتبة المنيفة. ثم إثبات العدالة لجميعهم رضي الله عنهم، وأنه لا يشذ عن هذه المنقبة أحد منهم، وذكر المذاهب الشاذة وبيان ما يعتمد من قويم المسالك.
وبالله تعالى التوفيق. وإياه نسأل الهداية إلى أقصد الطريق. إنه بالإجابة جدير وعلى ما يشاء قدير.
والكلام فيما قصدنا له ينحصر في ثلاث مسائل:
المسألة الأولى: فيما يثبت به إسم الصحبة حتى ينطلق على من قام به إسم الصحابي، وفي ذلك مذاهب متباينة.
الأولى: وهو الذي عليه جمهور أهل الحديث.
"أنه كل مسلم رآه النبي صلى الله عليه وسلم ولو لحظة وعقل منه شيئاًَ، فهو صحابي، سواء كان ذلك قليلاً أو كثيراً".
وهذا ما حكاه القاضي عياض وغيره عن أحمد بن حنبل رحمه الله.
ورواه عبدوس بن مالك قال: سمعت أبا عبد الله يعني أحمد بن حنبل رحمه الله يقول:
"كل من صحبه سنة أو شهراً أو ساعة أو رآه فهو من
এই গ্রন্থটি ওই সকল ব্যক্তিদের স্বরূপ উন্মোচনে নিবেদিত যারা এই সুমহান মাকাম তথা সম্মানিত সাহাবিয়্যাত (صحبة) লাভে ধন্য, এবং কোন পন্থায় তা সাব্যস্ত হয় যাতে তাঁদের মধ্য হতে এক-একজনের জন্য এই উচ্চ মর্যাদার ফায়সালা প্রদান করা যায়। অতঃপর তাঁদের সকলের ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) সাব্যস্ত করা — আল্লাহ তাঁদের ওপর সন্তুষ্ট হোন — এবং এটি নিশ্চিত করা যে, তাঁদের কেউই এই শ্রেষ্ঠত্ব হতে বিচ্যুত নন; সেই সাথে এ বিষয়ে বিচ্ছিন্ন (شاذة) মতসমূহ উল্লেখ করা এবং সঠিক পদ্ধতিগুলোর মধ্য হতে যা নির্ভরযোগ্য তা বর্ণনা করা।
আর আল্লাহর নিকটই তাওফিক প্রার্থনা করি। আমরা তাঁর নিকটই সরল পথের হিদায়াত কামনা করি। নিশ্চয়ই তিনি প্রার্থনা কবুল করার যোগ্য এবং তিনি যা ইচ্ছা করেন তা সম্পাদনে সক্ষম।
আমাদের উদ্দিষ্ট আলোচনা তিনটি মাসআলার মধ্যে সীমাবদ্ধ:
প্রথম মাসআলা: যার দ্বারা সাহাবিয়্যাত (صحبة) সাব্যস্ত হয় যাতে যার মধ্যে তা বিদ্যমান তার ওপর 'সাহাবি (صحابي)' নামটির প্রয়োগ করা যায়। এ বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত রয়েছে।
প্রথমটি: আর এটিই অধিকাংশ (جمهور) হাদিস বিশারদদের অভিমত।
“যিনি ইসলাম গ্রহণ অবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছেন, যদিও তা এক মুহূর্তের জন্য হয় এবং তাঁর থেকে কিছু অনুধাবন করেছেন, তবে তিনি একজন সাহাবি (صحابي); এক্ষেত্রে তাঁর সাহচর্য অল্প হোক বা দীর্ঘ।”
আর এটিই কাজী ইয়াজ ও অন্যান্যগণ আহমাদ বিন হাম্বল (রহ.) থেকে বর্ণনা করেছেন।
আবদুস বিন মালিক বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু আব্দুল্লাহ অর্থাৎ আহমাদ বিন হাম্বল (রহ.)-কে বলতে শুনেছি:
“যে ব্যক্তি এক বছর, এক মাস বা এক ঘণ্টা তাঁর সাহচর্যে ছিলেন কিংবা তাঁকে দেখেছেন, তবে তিনি...”
(খণ্ড: ১)
তাহকীকু মুনিফির রুতবাহ লিমান সাবাতা লাহু শারীফুস সোহবাহ
(পৃষ্ঠা: ٣١)
أصحابه"1.
وقال البخاري في صحيحه: "من صحب النبي صلى الله عليه وسلم أو رآه من المسلمين فهو من أصحابه"2.
وأخرج أبو داود في سننه حديث طارق بن شهاب أن النبي صلى الله عليه وسلم قال:
1 -"الجمعة حق واجب على كل مسلم
… الحديث".
ثم قال أبو داود عقيبه: طارق بن شهاب قد رأى النبي صلى الله عليه وسلم، ولم يسمع منه شيئاً. فدل إخراجه الحديث في سننه على أنه مسند، ولولا أن طارقاً يعد من الصحابة لمجرد الرؤية، وإلا كان تابعياً، فيكون الحديث مرسلاً3.
قال الشيخ أبو عمرو بن الصلاح رحمه الله:
"المعروف في طريقة أهل الحديث أن كل مسلم رأى النبي صلى الله عليه وسلم فهو من الصحابة".
قال: وبلغنا عن أبي المظفر بن السمعاني المروزي أنه قال:
"أصحاب الحديث يطلقون اسم الصحابة على كل من روى عنه حديثاً أو كلمة. ويتوسعون حتى يعدون من رآه رؤية من الصحابة. وهذا لشرف منزلة النبي صلى الله عليه وسلم. أعطوا كل من رآه حكم الصحبة"4.
والقول الثاني: وهو أضيق من الأول قليلاً، أنه لا يكتفي بمجرد الرؤية، لكن لا بد مما ينطلق عليه اسم الصحبة ولو ساعة.
--------------------------------------------
তাঁর সাহাবিগণ (أصحابه)"১।
ইমাম বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে বলেছেন: "মুসলমানদের মধ্যে যিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহচর্য লাভ করেছেন অথবা তাঁকে দেখেছেন, তিনি তাঁর সাহাবিদের (أصحابه) অন্তর্ভুক্ত"২।
আবু দাউদ তাঁর সুনান গ্রন্থে তারিক বিন শিহাবের একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:
১ -"জুমুআ প্রত্যেক মুসলমানের ওপর একটি অপরিহার্য অধিকার
… হাদিস"।
অতঃপর আবু দাউদ এর পরপরই বলেন: তারিক বিন শিহাব নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে দেখেছেন, কিন্তু তাঁর থেকে সরাসরি কোনো কিছু শ্রবণ করেননি। তাঁর সুনান গ্রন্থে হাদিসটি সংকলন করা প্রমাণ করে যে এটি একটি মুসনাদ (مسند) হাদিস; আর যদি কেবল দেখার কারণে তারিককে সাহাবিদের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করা না হতো, তবে তিনি তাবিয়ি (تابعي) হতেন, ফলে হাদিসটি বিচ্ছিন্ন (مرسل) হিসেবে গণ্য হতো৩।
শেখ আবু আমর ইবনুল সালাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:
"মুহাদ্দিসগণের (أهل الحديث) পদ্ধতিতে এটি সুপরিচিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে দেখেছেন এমন প্রত্যেক মুসলমানই সাহাবিদের (الصحابة) অন্তর্ভুক্ত।"
তিনি বলেন: আবুল মুজাফফর ইবনুল সামআনি আল-মারওয়াজি থেকে আমাদের নিকট পৌঁছেছে যে তিনি বলেছেন:
"হাদিস বিশারদগণ (أصحاب الحديث) সাহাবি (الصحابة) শব্দটি এমন প্রত্যেকের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করেন যিনি তাঁর (নবীজি) থেকে কোনো হাদিস বা বাক্য বর্ণনা করেছেন। তারা এই সংজ্ঞায় আরও প্রশস্ততা অবলম্বন করেন, এমনকি যারা তাঁকে কেবল এক নজর দেখেছেন তাদেরকেও সাহাবিদের অন্তর্ভুক্ত করেন। এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উচ্চ মর্যাদার কারণে। যারা তাঁকে দেখেছেন তাদের প্রত্যেককেই তারা সাহচর্যের (الصحبة) বিধান দিয়েছেন"৪।
আর দ্বিতীয় মতটি হলো: এটি প্রথম মতের চেয়ে কিছুটা সংকীর্ণ; এতে কেবল দর্শনকেই যথেষ্ট মনে করা হয় না, বরং এমন মাত্রার সাহচর্য থাকা আবশ্যক যাকে সাহচর্য (الصحبة) বলা যায়, তা এক মুহূর্তের জন্য হলেও।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহকীকু মুনিফির রুতবাহ লিমান সাবাতা লাহু শারীফুস সোহবাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
لطيفة حكاه بعض أئمة الحديث المتأخرين عن الواقدي أنه قال:
"ورأيت أهل العلم يقولون: كل من رأى رسول الله صلى الله عليه وسلم وقد أدرك الحلم فأسلم وعقل أمر الدين ورضيه، فهو عندنا ممن صحب النبي صلى الله عليه وسلم ولو ساعة من النهار"1.
وهكذا قال الآمدي في الأحكام ناقلاً له عن أكثر أصحابنا:
"أن الصحابي من رأى النبي صلى الله عليه وسلم وصحبه ولو ساعة، وإن لم يختص به اختصاص المصحوب، ولا روى عنه ولا طالت مدة صحبته"2.
وعبارة الشيخ صفي الدين الأرموي في نهاية الوصول نحو هذا.
وهي أعم من قول الواقدي المتقدم آنفاً. من جهة أن ذاك اشترط فيه البلوغ، ولم يقيد الآمدي والأرموي كلامهما بذلك. بل يدخل فيه أيضاً الصبي المميز كمحمود بن الربيع الذي عقل عن النبي صلى الله عليه وسلم مجة مجها في وجهه وهو ابن خمس سنين3. وعده البخاري وغيره من الصحابة لذلك. فيمكن لذلك أن يجعل الكلامان قولين متباينين.
وأما ابن الحاجب فإنه اختار في مختصريه القول الذي نقلناه أولاً عن أحمد بن حنبل والجمهور من الاكتفاء بمجرد الرؤية4.
--------------------------------------------
একটি সূক্ষ্ম বিষয় যা হাদিসের পরবর্তী সময়ের কিছু ইমাম আল-ওয়াকিদি থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন:
"আমি আলেমদের বলতে শুনেছি: যে ব্যক্তিই রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে দেখেছেন এবং সাবালকত্বে পৌঁছেছেন, অতঃপর ইসলাম গ্রহণ করেছেন এবং দ্বীনের বিষয়াবলি অনুধাবন করেছেন ও তাতে সন্তুষ্ট ছিলেন, তিনি আমাদের নিকট নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সহচর্য (صحبة) লাভকারীদের অন্তর্ভুক্ত, যদিও তা দিনের সামান্য সময়ের জন্য হয়।"১
এভাবেই আল-আমিদি 'আল-আহকাম' গ্রন্থে আমাদের অধিকাংশ আলেমদের পক্ষ থেকে উদ্ধৃত করে বলেছেন:
"সাহাবী (صحابي) হলেন তিনি, যিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে দেখেছেন এবং তাঁর সহচর্য (صحبة) লাভ করেছেন যদিও তা সামান্য সময়ের জন্য হয়, যদিও তিনি তাঁর সাথে বিশেষভাবে অতিবাহিতকারী না হন, তাঁর থেকে কোনো বর্ণনা করেননি এবং তাঁর সহচর্যের (صحبة) মেয়াদ দীর্ঘ না হয়।"২
শায়খ সাফি আদ-দীন আল-আরমাউয়ি-এর 'নিহায়াত আল-উসুল' গ্রন্থের ভাষ্যও এর অনুরূপ।
এটি পূর্বে বর্ণিত আল-ওয়াকিদির বক্তব্যের তুলনায় অধিক ব্যাপক। কারণ তিনি (আল-ওয়াকিদি) তাতে সাবালকত্ব অর্জনের শর্তারোপ করেছিলেন, কিন্তু আল-আমিদি এবং আল-আরমাউয়ি তাঁদের বক্তব্যে একে সেই শর্তে সীমাবদ্ধ করেননি। বরং এর মধ্যে অনুধাবনক্ষম শিশু (صبي مميز) যেমন মাহমুদ ইবনুর রবিও অন্তর্ভুক্ত হবেন, যিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কর্তৃক তাঁর মুখে কুলি করে ছিটিয়ে দেওয়া পানি অনুধাবন করেছিলেন যখন তাঁর বয়স ছিল পাঁচ বছর।৩ ইমাম বুখারি এবং অন্যান্যরা এ কারণেই তাঁকে সাহাবীদের (صحابة) অন্তর্ভুক্ত করেছেন। সুতরাং, এ কারণে এই দুই বক্তব্যকে দুটি ভিন্ন মত হিসেবে গণ্য করা সম্ভব।
আর ইবনুল হাজিব তাঁর সংক্ষিপ্তসার গ্রন্থদ্বয়ে সেই মতটিকেই গ্রহণ করেছেন যা আমরা প্রথমে আহমাদ বিন হাম্বল এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ (جمهور) আলেমদের থেকে বর্ণনা করেছি, যা হলো কেবল দেখার ওপর নির্ভর করা।৪
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহকীকু মুনিফির রুতবাহ লিমান সাবাতা লাহু শারীফুস সোহবাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
((القول الثالث)) : إن الصحابي أنما ينطلق على من رأى النبي صلى الله عليه وسلم واختص به اختصاص المصحوب، وطالت مدة صحبته، وإن لم يرو عنه.
حكاه هكذا الآمدي والأرموي عن جماعة ولم يسموهم1.
ونقله ابن الصلاح عن أبي المظفر بن السمعاني أنه ذكر أن اسم الصحابي من حيث اللغة. والظاهر إنما يقع على من طالت صحبته للنبي صلى الله عليه وسلم وكثرت مجالسته له على طريق التتبع له والأخذ عنه.
قال: وهذا طريق الأصوليين2.
((القول الرابع)) : إن هذا الاسم إنما يسمى به من طالت صحبته للنبي صلى الله عليه وسلم وأخذ عنه العلم. حكاه الآمدي هكذا عن عمر بن يحيى3.
وعبر غيره عن هذا القول بأن يجمع بين الصحبة الطويلة والرواية عنه صلى الله عليه وسلم. وهذا أقرب، لأنه من المعلوم أن من طالت صحبته للنبي صلى الله عليه وسلم فلا بد وأن يتحمل عنه شيئاً ما، ولو من أفعاله التي شاهدها.
لكن يرد على هذا القائل: أنه لا يعرف خلاف بين العلماء في أن من طالت صحبته ولم يحدث عنه صلى الله عليه وسلم بشيء. أنه معدود من الصحابة، لكن وقوع مثل ذلك نادر جداً. إذ لا يلزم من عدم وصول رواية عن ذلك الصاحب إلينا أن لا يكون روى شيئاً عن النبي صلى الله عليه وسلم مما سمعه أو شاهده.
--------------------------------------------
((তৃতীয় মত)) : সাহাবি (الصحابي) শব্দটি কেবল তাঁর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছেন এবং তাঁর সাথে নিবিড়ভাবে যুক্ত ছিলেন, আর তাঁর সাহচর্যের (صحبة) সময়কাল দীর্ঘ ছিল, যদিও তিনি তাঁর থেকে কোনো বর্ণনা না-ও করে থাকেন।
আল-আমিদি এবং আল-আরমাভি একদল আলিমের বরাত দিয়ে এভাবেই এটি বর্ণনা করেছেন, তবে তাঁরা তাঁদের নাম উল্লেখ করেননি।১
ইবনুস সালাহ এটি আবু আল-মুজাফ্ফার বিন আল-সামআনি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি উল্লেখ করেছেন: শাব্দিক এবং বাহ্যিক দিক থেকে সাহাবি (الصحابي) নামটির প্রয়োগ কেবল তাঁদের ওপরই হয় যাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সাহচর্য (صحبة) দীর্ঘ ছিল এবং তাঁর অনুসরণ ও তাঁর থেকে ইলম গ্রহণের (الأخذ) উদ্দেশ্যে তাঁর মজলিসে অধিক উপস্থিত থাকতেন।
তিনি বলেন: এটিই উসুলবিদদের (الأصوليين) পদ্ধতি।২
((চতুর্থ মত)) : এই নামে কেবল তাঁকে অভিহিত করা হয় যার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে দীর্ঘ সাহচর্য (صحبة) ছিল এবং তাঁর থেকে ইলম অর্জন করেছেন। আল-আমিদি উমর বিন ইয়াহইয়া থেকে এভাবেই এটি বর্ণনা করেছেন।৩
অন্যরা এই মতটি এভাবে ব্যক্ত করেছেন যে, এতে দীর্ঘ সাহচর্য (صحبة) এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা (الرواية) করার বিষয়ের সমন্বয় ঘটবে। এটিই অধিকতর সঠিক বলে মনে হয়, কারণ এটি সর্বজনবিদিত যে, যাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে দীর্ঘ সাহচর্য (صحبة) ছিল, তিনি অবশ্যই তাঁর থেকে কোনো কিছু গ্রহণ (يتحمل) করেছেন, যদিও তা তাঁর প্রত্যক্ষ করা কোনো কর্ম হয়ে থাকে।
তবে এই প্রবক্তার প্রতি উত্তর হলো: ওলামায়ে কেরামের মধ্যে এমন কোনো মতভেদ জানা নেই যে, যাঁর সাহচর্য (صحبة) দীর্ঘ ছিল কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কোনো কিছু বর্ণনা (يحدث) করেননি, তিনিও সাহাবিদের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে গণ্য হবেন। তবে এ ধরনের ঘটনা ঘটা অত্যন্ত বিরল। কারণ আমাদের কাছে কোনো সাহাবির বর্ণনা (رواية) না পৌঁছানোর অর্থ এই নয় যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা শুনেছেন বা দেখেছেন তা থেকে কিছুই বর্ণনা করেননি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহকীকু মুনিফির রুতবাহ লিমান সাবাতা লাহু শারীফুস সোহবাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٤)
((القول الخامس)) : وهو أضيق المذاهب. ما حكاه إبن الصلاح وغيره عن سعيد بن المسيب أنه قال:
"لا يعد الصحابي إلا من أقام مع النبي صلى الله عليه وسلم سنة أو سنتين، وغزا معه غزوة أو غزوتين"1.
قال الشيخ أبو عمرو:
وكان المراد بهذا إن صح عنه راجع إلى المحكى عن الأصوليين. ولكن في عبارته ضيق يوجب أن لا يعد في الصحابة جرير بن عبد الله رضي الله عنه ومن شاركه في فقد ظاهر ما اشترطه فيهم ممن لا نعرف خلافاً في عده من الصحابة2.
قلت: مثل وائل بن حجر، ومعاوية بن الحكم السلمي. وخلق كثير ممن أسلم سنة تسع وبعدها.
وقدم عليه صلى الله عليه وسلم فأقام عنده أياماً ثم رجع إلى قومه، وروى عنه أحاديث.
اللهم إلا أن يؤول كلام سعيد بن المسيب على من يعطي كمال الصحبة المقتضى للعدالة، على ما اختاره الإمام المازري كما سيأتي إن شاء الله من قوله:
إن العدالة المطلقة إنما يحكم بها لأمثال هؤلاء.
--------------------------------------------
((পঞ্চম মত)) : এটি মতবাদগুলোর মধ্যে সর্বাধিক সংকীর্ণ। ইবনে আস-সালাহ এবং অন্যান্যরা সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন:
"সেই ব্যক্তি ব্যতীত কাউকে সাহাবী (صحابي) গণ্য করা হবে না যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে এক বা দুই বছর অবস্থান করেছে এবং তাঁর সাথে এক বা দুটি যুদ্ধে (غزوة) অংশগ্রহণ করেছে।"১
শাইখ আবু আমর বলেছেন:
যদি এটি তাঁর থেকে সহীহ (صحيح) ভাবে বর্ণিত হয়ে থাকে, তবে এর উদ্দেশ্য হবে মূলনীতিবিদদের (الأصوليين) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তার অনুরূপ। কিন্তু তাঁর এই বক্তব্যে এমন সংকীর্ণতা রয়েছে যা জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এবং তাঁর সাথে অন্যান্যদের সাহাবীগণের (الصحابة) অন্তর্ভুক্ত না করাকে আবশ্যক করে দেয়, যারা তাঁর উল্লিখিত শর্তসমূহ বাহ্যিকভাবে পূরণ করেননি; অথচ তাঁদের সাহাবী হিসেবে গণ্য করার ব্যাপারে কোনো মতভেদ আছে বলে আমাদের জানা নেই।২
আমি বলি: যেমন ওয়ায়েল ইবনে হুজর এবং মুয়াবিয়া ইবনে হাকাম আস-সুলামী। এছাড়া এমন বহু সংখ্যক লোক যারা নবম হিজরী সনে বা তার পরে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন।
তাঁরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আগমন করেছিলেন এবং কয়েক দিন অবস্থান করার পর পুনরায় নিজ কওমের কাছে ফিরে গিয়েছিলেন এবং তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন।
তবে সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিবের বক্তব্যকে ঐ ব্যক্তির ক্ষেত্রে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে যাকে ন্যায়পরায়ণতা (العدالة) সাব্যস্ত হওয়ার জন্য পূর্ণাঙ্গ সাহচর্য (صحبة) প্রদান করা হয়েছে, যেমনটি ইমাম মাযিরী পছন্দ করেছেন। ইনশাআল্লাহ তাঁর নিম্নোক্ত বক্তব্য থেকে তা সামনে আসবে:
নিশ্চয়ই নিঃশর্ত ন্যায়পরায়ণতার (العدالة) হুকুম কেবল তাঁদের মতো ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেই প্রদান করা হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহকীকু মুনিফির রুতবাহ লিমান সাবাতা লাহু শারীফুস সোহবাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٥)
وهو قول مرجوح أيضاً كما سنبينه إن شاء الله تعالى.
((القول السادس)) : وهو أوسع المذاهب، ما حكاه القاضي عياض قال:
ذهب أبو عمر بن عبد البر في آخرين إلى أن إسم الصحبة وفضيلتها حاصلة لكل من رآه وأسلم في حياته، أو ولد وإن لم يره، وإذا كان ذلك قبل وفاته بساعة ولكن كان معهم في زمن واحد. وجمعه وإياه عصر مخصوص.
قلت: إن كان هذا أخذه القاضي عياض من تصريح إبن عبد البر وغيره بذلك، ففيه من الأشكال ما سيأتي. وإن كان مأخوذاً من إدخالهم أمثال هؤلاء في كتب الصحابة التي صنفوها، فقد صرح إبن عبد البر بأنه إنما أدخل مثل الأحنف بن قيس، والصنابحي، وأولاد الصحابة الذين ولدوا في حياته صلى الله عليه وسلم، ولا يثبت لأحد منهم رؤية لموته صلى الله عليه وسلم وهم صغار جداً. ليستكمل بذكرهم القرن الذي أشار إليه النبي صلى الله عليه وسلم بأنه خير القرون. يعني لا لأنهم من الصحابة. فقد حكم على روايتهم عن النبي صلى الله عليه وسلم بالإرسال في غير موضع من كتبه، فعرف مقصده بذكرهم في كتاب الصحابة1.
هذا حاصل المذاهب التي وقفت عليها في هذه المسألة، ويتعلق بها مباحثات.
الأولى: إن الصحبة لها اعتباران.
أحدهما: من حيث الوضع.
والآخر: من حيث العرف.
--------------------------------------------
এটিও একটি অপ্রাধান্যযোগ্য (مرجوح) মত, যেমনটি আমরা ইনশাআল্লাহ সামনে স্পষ্ট করব।
((ষষ্ঠ অভিমত)) : এটি সর্বাধিক প্রশস্ত মাযহাব, যা কাজী আইয়ায বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন:
আবু উমর ইবনে আব্দুল বার ও অন্যান্যরা এই মত পোষণ করেছেন যে, সাহাবী হওয়ার নাম ও এর মর্যাদা এমন প্রত্যেকের জন্য অর্জিত হবে যারা তাঁকে (নবী ﷺ) দেখেছেন এবং তাঁর জীবদ্দশায় ইসলাম গ্রহণ করেছেন, অথবা তাঁর যুগে জন্মগ্রহণ করেছেন যদিও তাঁকে দেখেননি, এমনকি তা যদি তাঁর ইন্তেকালের এক ঘণ্টা আগেও হয় কিন্তু তাঁরা একই সময়ে বিদ্যমান ছিলেন। একটি নির্দিষ্ট যুগ তাঁদের উভয়কে একত্রিত করেছে।
আমি বলছি: কাজী আইয়ায যদি এটি ইবনে আব্দুল বার ও অন্যদের সুস্পষ্ট বক্তব্য থেকে গ্রহণ করে থাকেন, তবে তাতে এমন কিছু জটিলতা রয়েছে যা সামনে আসবে। আর যদি এটি তাঁদের সংকলিত সাহাবী বিষয়ক গ্রন্থসমূহে এ জাতীয় ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করার কারণে ধরে নেওয়া হয়, তবে ইবনে আব্দুল বার নিজেই সুস্পষ্ট করেছেন যে, তিনি আহনাফ ইবনে কাইস, আস-সুনাবিহি এবং সাহাবীগণের ওইসব সন্তানদের ন্যায় ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন যারা রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর জীবদ্দশায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন, অথচ তাঁর ইন্তেকালের সময় তাঁরা অত্যন্ত শিশু হওয়ার কারণে তাঁদের কারো পক্ষেই সরাসরি দর্শন (رؤية) প্রমাণিত নয়। তিনি তাঁদের উল্লেখ করেছেন যাতে নবী ﷺ যে প্রজন্মকে 'সর্বোত্তম প্রজন্ম' হিসেবে ইঙ্গিত করেছেন, তাঁদের বর্ণনার মাধ্যমে তা পূর্ণতা পায়। অর্থাৎ তাঁরা সাহাবী হওয়ার কারণে নয়। কেননা তিনি তাঁর কিতাবের একাধিক স্থানে নবী ﷺ থেকে তাঁদের বর্ণিত হাদিসকে বিচ্ছিন্ন (مرسل) বলে হুকুম দিয়েছেন। সুতরাং সাহাবী বিষয়ক গ্রন্থে তাঁদের উল্লেখ করার উদ্দেশ্য এর মাধ্যমেই স্পষ্ট হয়ে যায়।
এই মাসআলায় আমি যেসব মাযহাবের সন্ধান পেয়েছি তার সারসংক্ষেপ এটিই, আর এর সাথে কিছু পর্যালোচনা সংশ্লিষ্ট রয়েছে।
প্রথমত: সাহাবী হওয়ার দুটি প্রেক্ষিত রয়েছে।
একটি হলো: শাব্দিক প্রয়োগের দিক থেকে।
অন্যটি হলো: প্রচলিত সংজ্ঞার (العرف) দিক থেকে।
--------------------------------------------