(খণ্ড: ১)
তাহকীকুর রুজহান বিসাওমি ইয়াউমিশ শাক্কি মিন রামাদান
(পৃষ্ঠা: -)
تحقيق الرجحان بصوم يوم الشك من رمضان القسم: مسائل فقهية
الكتاب: تحقيق الرجحان بصوم يوم الشك من رمضان
المؤلف: مرعي بن يوسف بن أبى بكر بن أحمد الكرمى المقدسي الحنبلى (ت 1033هـ)
المحقق: عبد الكريم بن صنيان العمري
الناشر: مطبعة ابن تيمية، القاهرة، مصر
الطبعة: الأولى
عدد الصفحات: 181
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
তাহক্বীকুর রুজহান বি সাওমি ইয়াউমিশ শাক্কি মিন রামাদান বিভাগ: ফিকহ সংক্রান্ত মাসায়েল
গ্রন্থ: তাহক্বীকুর রুজহান বি সাওমি ইয়াউমিশ শাক্কি মিন রামাদান
লেখক: মারয়ী বিন ইউসুফ বিন আবু বকর বিন আহমদ আল-কারমি আল-মাকদিসি আল-হাম্বলি (মৃত্যু ১০৩৩ হি.)
সম্পাদক (محقق): আব্দুল কারিম বিন সুনাইয়ান আল-উমারি
প্রকাশক: মাতবাআতু ইবনে তাইমিয়া, কায়রো, মিশর
সংস্করণ: প্রথম
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৮১
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলা’য় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুর রুজহান বিসাওমি ইয়াউমিশ শাক্কি মিন রামাদান
(পৃষ্ঠা: ৩)
مقدمة…تحقيق الرجان بصوم يوم الشك من رمضان
تأليف: العلامة مرعي بن يوسف الكرمي المقدسي الحنبلي، المتوفي سنة 1033هـ
دراسة وتحقيق وتعليق: الدكتور عبد الركريم بن صنيتان العمري
بسم الله الرحمن الرحيم
إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونستهديه، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن نبينا محمداً عبده ورسوله، صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه، وأتباعه بإحسان إلى يوم الدين، وسلم تسليماً كثيراً.
أما بعد: فإن الإشتغال بالعلوم الشرعية، من أسمى ميزات طالب العلم، ومن أجل العلوم النافعة التي حث الشارع على تلقيها، والتزود منها، والحرص على الإلمام بها، علم الفقه.
قال تعالى: {وَمَا كَانَ الْمُؤْمِنُونَ لِيَنْفِرُوا كَافَّةً فَلَوْلا نَفَرَ مِنْ كُلِّ فِرْقَةٍ مِنْهُمْ طَائِفَةٌ لِيَتَفَقَّهُوا فِي الدِّينِ وَلِيُنْذِرُوا قَوْمَهُمْ إِذَا رَجَعُوا إِلَيْهِمْ لَعَلَّهُمْ يَحْذَرُونَ} 1.
وقال عليه الصلاة والسلام: "من يرد الله به خيراً يفقهه في الدين"2.
وهذا كتاب لطيف في الفقه المقارن، تحدث فيه مصنفه عن إحدى مسائل الفقه الهامة، هي مسألة: "صوم يوم الشك من رمضان".
وقد عرض فيها أقوال الأئمة الأربعة، أصحاب المذاهب المشهورة، وأورد أدلة كلٍ وناقشها بأسلوب مبسط، ومرتب، وخالٍ من التكلف.
وقد عثرت على هذا الكتاب أثناء إحدى مطالعاتي لفهارس المخطوطات في إحدى المكتبات، ومن ثمّ بذلت جهدي في جمع نسخ الكتاب الأخرى.
--------------------------------------------
ভূমিকা…রমজানের সন্দেহযুক্ত দিনে রোজা রাখার বিষয়ে 'তাহক্বীক আল-রুজান'
রচনায়: আল্লামা মারয়ী ইবনে ইউসুফ আল-কারমী আল-মাকদিসী আল-হানবালী, মৃত্যু ১০৩৩ হিজরী
গবেষণা, সম্পাদনা ও টীকা: ডক্টর আব্দুল কারিম ইবনে সানিতান আল-উমারি
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি, তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট হেদায়েত কামনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শনকারী কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নবী মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল। তাঁর উপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবীগণ এবং যারা কিয়ামত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁদের সকলের উপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
অতঃপর: শরয়ী জ্ঞানচর্চায় নিমগ্ন হওয়া একজন জ্ঞান অন্বেষীর শ্রেষ্ঠতম বৈশিষ্ট্য এবং এটি সেই সকল উপকারী ইলমের অন্তর্ভুক্ত যা অর্জন করতে এবং যে বিষয়ে সম্যক জ্ঞান লাভে শরীয়ত প্রবর্তক উৎসাহিত করেছেন, আর তা হলো ফিকহ শাস্ত্র।
আল্লাহ তাআলা বলেন: "মুমিনদের পক্ষে এ কথা শোভনীয় নয় যে, তারা সকলে একযোগে অভিযানে বের হবে; তবে তাদের প্রত্যেক দলের একটি অংশ কেন বের হয় না, যাতে তারা দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করতে পারে এবং যখন তারা তাদের সম্প্রদায়ের নিকট ফিরে আসবে তখন তাদেরকে সতর্ক করতে পারে, যাতে তারা সাবধান হয়।" ১
এবং নবী (সা.) বলেছেন: "আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করেন।" ২
এটি তুলনামূলক ফিকহ বিষয়ক একটি চমৎকার গ্রন্থ, যেখানে লেখক ফিকহ শাস্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি মাসআলা নিয়ে আলোচনা করেছেন, আর তা হলো: "রমজানের সন্দেহযুক্ত দিনে রোজা রাখা"।
এতে তিনি প্রসিদ্ধ মাযহাব চতুষ্টয়ের ইমামগণের অভিমতসমূহ তুলে ধরেছেন এবং প্রত্যেকের দলিল পেশ করে অত্যন্ত সহজ, সুশৃঙ্খল ও সাবলীলভাবে সেগুলোর ওপর আলোচনা করেছেন।
পাণ্ডুলিপির ক্যাটালগসমূহ পর্যালোচনাকালে একটি লাইব্রেরিতে আমি এই গ্রন্থটির সন্ধান পাই। অতঃপর আমি গ্রন্থটির অন্যান্য পাণ্ডুলিপি সংগ্রহের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুর রুজহান বিসাওমি ইয়াউমিশ শাক্কি মিন রামাদান
(পৃষ্ঠা: ৪)
فأحببت أن أسهم إسهاماً متواضعاً في إخراج شيء من كتب التراث الإسلامي، التي تزخر بها مختلف خزائن المخطوطات في العالم.
راجياً من الله العلي القدير أن يكون عملي هذا خالصاً لوجهه الكريم، إنه على كل شيء قدير.
وصلى الله وسلم وبارك على نبينا محمد، وعلى آله وصحبه أجمعين.
المحقق
আমি বিশ্বের বিভিন্ন পাণ্ডুলিপি সংগ্রহশালাগুলোতে সমৃদ্ধ হয়ে থাকা ইসলামি ঐতিহ্যের গ্রন্থাবলির মধ্য থেকে কোনো একটি অংশ প্রকাশে এক বিনম্র অবদান রাখার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করেছি।
মহান পরাক্রমশালী আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি যেন আমার এই কাজটি কেবল তাঁর সন্তুষ্টির জন্যই একনিষ্ঠ হয়; নিশ্চয়ই তিনি সকল বিষয়ে সর্বশক্তিমান।
আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত, শান্তি ও বরকত বর্ষিত হোক।
গবেষক-সম্পাদক (المحقق)
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুর রুজহান বিসাওমি ইয়াউমিশ শাক্কি মিন রামাদান
(পৃষ্ঠা: ৭)
أولاً: دراسة حياة المصنف
ترجمة المصنف
مصادر ترجمته:
وردت ترجمة المصنف في المصادر الآتية1:
- كشف الظنون عن أسامي الكتب والفنون: لحاجي خليفة 2/1948.
- خلاصة الأثر في أعيان القرن الحادي عشر: للمحبي 4/358.
- نفحة الريحانة ورشحة طلاء الحانة: للمحبي أيضاً 2/86.
- النعت الأكمل لأصحاب الإمام أحمد بن حنبل: للغزي 189.
- عنوان المجد في تاريخ نجد: لابن بشر 38.
- السحب الوابلة على ضرائح الحنابلة: لابن حميد 463.
- إيضاح المكنون في الذيل على كشف الظنون: لإسماعيل باشا 1/7، 18، 34، 50، وغيرها.
- هدية العارفين أسماء المؤلفين وآثار المصنفين له أيضاً 2/426.
- المدخل إلى مذهب الإمام أحمد بن حنبل: لابن بدران 442.
- مختصر طبقات الحنابلة: للشطي 98.
- الأعلام للزركلي 7/203.
- معجم المؤلفين، لكحالة 12/218.
- مصطلحات الفقه الحنبلي: للثقفي: 220.
- مفاتيح الفقه الحنبلي، له أيضاً 2/193.
--------------------------------------------
প্রথমত: গ্রন্থকারের জীবনবৃত্তান্ত পর্যালোচনা
গ্রন্থকারের জীবনী
তাঁর জীবনীর উৎসসমূহ:
গ্রন্থকারের জীবনী নিম্নলিখিত উৎসসমূহে বর্ণিত হয়েছে১:
- কাশফ উজ-জুনুন আন আসামিল কুতুবি ওয়াল ফুনুন: হাজি খলিফা প্রণীত ২/১৯৪৮।
- খুলাসাতুল আসার ফি আইয়ানিল কারনিল হাদি আশার: আল-মুহিব্বি প্রণীত ৪/৩৫৮।
- নাফহাতুর রাইহানা ওয়া রাশহাতু তিলায়িল হানা: এটিও আল-মুহিব্বি প্রণীত ২/৮৬।
- আন-নাতুল আকমাল লি আসহাবি ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল: আল-গাজ্জি প্রণীত ১৮৯।
- উনওয়ানুল মাজদ ফি তারিখি নাজদ: ইবনে বিশর প্রণীত ৩৮।
- আস-সুহুবুল ওয়াবিলাহ আলা দরাইহিল হানাবিলাহ: ইবনে হুমাইদ প্রণীত ৪৬৩।
- ইদাহুল মাকনুন ফিজ-জাইল আলা কাশফিজ-জুনুন: ইসমাইল পাশা প্রণীত ১/৭, ১৮, ৩৪, ৫০ এবং অন্যান্য।
- হাদিয়াতুল আরিফিন আসমাউল মুয়াল্লিফিন ওয়া আসারুল মুসান্নিফিন: এটিও তাঁর প্রণীত ২/৪২৬।
- আল-মাদখাল ইলা মাযহাবি ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল: ইবনে বাদরান প্রণীত ৪৪২।
- মুখতাসারু তাবাকাতিল হানাবিলাহ: আশ-শাত্তি প্রণীত ৯৮।
- আল-আলাম: আজ-যিরিকলি প্রণীত ৭/২০৩।
- মুজামুল মুয়াল্লিফিন: কাহহালা প্রণীত ১২/২১৮।
- মুসতালাহাতুল ফিকহিল হাম্বালি: আস-সাকাফি প্রণীত: ২২০।
- মাফাতিহুল ফিকহিল হাম্বালি: এটিও তাঁর প্রণীত ২/১৯৩।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুর রুজহান বিসাওমি ইয়াউমিশ শাক্কি মিন রামাদান
(পৃষ্ঠা: ৮)
الناظرين)) ، وكان يدرّس بجامع ابن طولون بالقاهرة، حتى توفي بها سنة (1044هـ) 1.
(2) محمد بن أحمد المرداوي، الحنبلي2.
العلامة الفقيه، شيخ الحنابلة في عصره بالقاهرة، ومرجعهم، كان جبلاً من جبال العلم، بحراً من بحور الإتقان، أخذ العلم عن التقي الفتوحي، والشيخ عبد الله الشنشوري الفرضي، وغيرهما، وأخذ عن جماعة منهم المصنف، والشيخ منصور البهوتي، والشيخ عثمان الفتوحي، وخلق غيرهم، مات بمصر سنة (1026هـ) .
(3) محمد حجازي بن محمد بن عبد الله، الشهير بالواعظ، القلقشندي، الشافعي3 المتوفى سنة (1035هـ) .
الإمام المحدث فقيه مصري، نشأ بالقاهرة وحفظ القرآن، ومتوناً أخرى في النحو والقراءات والفقه، وأخذ العلم عن أكثر من ثلاثمائة شيخ.
من مصنافته الكثيرة: ((شرح الجامع الصغير للسيوطي)) و ((سواء الصراط)) .
(4) يحيى بن موسى بن أحمد بن موسى الحجاوي المقدسي الحنبلي4.
الإمام البارع المسند، المحدث الفرضي، أخذ الحديث وغيره بدمشق عن جماعة منهم والده، والبدر الغزي، ومنصور بن إبراهيم الشامي، وانتقل إلى القاهرة فأخذ بها عن التقي الفتوحي، ودرس بالجامع الأزهر، وكانت له حلقات مشهورة مشهودة، وقد أخذ عنه جماعة منه المصنف، والشيخ محمد بن النقيب، والقاضي محمود بن عبد الحميد، والشيخ منصور البهوتي، وغيرهم، وكانت وفاته بالقاهرة.
--------------------------------------------
আল-নাজিরিন)) , এবং তিনি কায়রোর ইবনে তুলুন মসজিদে শিক্ষকতা করতেন, অবশেষে ১০৪৪ হিজরিতে সেখানে ইন্তেকাল করেন। ১।
(২) মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-মারদাউয়ি, আল-হাম্বলি ২।
তিনি এক মহান আল্লামা ও ফকিহ, কায়রোতে তাঁর সমসাময়িক হাম্বলিদের শায়খ এবং তাঁদের প্রধান নির্ভরযোগ্য কর্তৃপক্ষ ছিলেন। তিনি ছিলেন ইলমের এক সুউচ্চ পাহাড় এবং পারদর্শিতার এক বিশাল সমুদ্র। তিনি তাকি আল-ফুতুহি এবং উত্তরাধিকার শাস্ত্রের পণ্ডিত শায়খ আব্দুল্লাহ আশ-শানশুরি প্রমুখের নিকট থেকে ইলম অর্জন করেন। তাঁর নিকট থেকে গ্রন্থকার, শায়খ মনসুর আল-বাহুতি, শায়খ উসমান আল-ফুতুহি এবং আরও এক বিশাল জনগোষ্ঠী জ্ঞান অর্জন করেন। তিনি ১০২৬ হিজরিতে মিসরে মৃত্যুবরণ করেন।
(৩) মুহাম্মদ হিজাজি বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ, যিনি ওয়ায়েজ হিসেবে সুপরিচিত, আল-কালকাশান্দি, আশ-শাফিয়ি ৩; যিনি ১০৩৫ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।
তিনি ইমাম, হাদিস বিশারদ (محدث) ও মিসরীয় ফকিহ ছিলেন। তিনি কায়রোতে বেড়ে ওঠেন এবং কুরআন হিফজ করেন, সেই সঙ্গে নাহু, কিরাত ও ফিকহ শাস্ত্রের বিভিন্ন মূলপাঠ (متون) মুখস্থ করেন। তিনি তিনশ জনেরও বেশি শায়খের নিকট থেকে ইলম অর্জন করেন।
তাঁর অসংখ্য রচনার মধ্যে অন্যতম: ((শারহু আল-জামি আস-সগির লিস-সুয়ুতি)) এবং ((সাওয়াউস সিরাত)) ।
(৪) ইয়াহিয়া বিন মুসা বিন আহমদ বিন মুসা আল-হিজ্জাউয়ি আল-মাকদিসি আল-হাম্বলি ৪।
তিনি একজন প্রাজ্ঞ ইমাম, মুসনাদ, হাদিস বিশারদ (محدث) ও উত্তরাধিকার শাস্ত্রের পণ্ডিত ছিলেন। তিনি দামেস্কে তাঁর পিতা, বদর আল-গাজ্জি এবং মনসুর বিন ইবরাহিম আশ-শামি প্রমুখ একদল আলিমের নিকট হাদিস ও অন্যান্য শাস্ত্রের পাঠ গ্রহণ করেন। এরপর তিনি কায়রোতে চলে যান এবং সেখানে তাকি আল-ফুতুহির নিকট ইলম অর্জন করেন। তিনি আল-আজহার মসজিদে শিক্ষকতা করতেন এবং তাঁর পাঠদানের মজলিসগুলো ছিল অত্যন্ত প্রসিদ্ধ ও জনাকীর্ণ। তাঁর নিকট থেকে একদল আলিম ইলম হাসিল করেন, যাঁদের মধ্যে গ্রন্থকার, শায়খ মুহাম্মদ বিন আন-নাকিব, কাজি মাহমুদ বিন আব্দুল হামিদ, শায়খ মনসুর আল-বাহুতি এবং আরও অনেকে রয়েছেন। কায়রোতে তাঁর মৃত্যু হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুর রুজহান বিসাওমি ইয়াউমিশ শাক্কি মিন রামাদান
(পৃষ্ঠা: ৯)
تلاميذه:
رغم أن المصنف رحمه الله قد بلغ منزلة عالية في العلم، ووصل إلى منصب الإقراء والإفتاء والتدريس، وقطع زمانه في ذلك، إلا أن مصادر ترجمته لم تذكر له تلميذاً واحداً، إلا أنه من خلال قيامي بعملية استقراء ومتابعة في كتب التراجم، أمكن الوقوف على أسماء بعض تلاميذه، وهم:
(1) أحمد بن يحيى بن يوسف الحنبلي الكرمي، أبو العباس المقدسي1.
كان من العلماء العاملين، وأحد العباد الزاهدين، ولد في القدس، وقرأ القرآن بطور كرم، ثم رحل إلى القاهرة، وأخذ بها الفقه وغيره عن عمه المصنف، وعن العلامة منصور البهوتي، وجمال الدين يوسف الفتوحي، وغيرهم. وكانت له حلقة بالجامع الأزهر، يدرس فيها العلوم الدينية، وكان حسن السيرة، مات سنة: (1091) هـ.
(2) عبد الباقي بن عبد الباقي بن عبد القادر البعلي الأزهري الحنبلي2.
مفتي الحنابلة بدمشق، كان علماً بارزاً في مختلف العلوم، اشتهر بابن فقيه فصة، أخذ الفقه عن المصنف، وعن القاضي محمود بن عبد الحميد، وعن الشهاب أحمد الوفائي المفلحي، وعن الشيخ منصور البهوتي، وغيرهم، مات سنة (1071) هـ.
(3) محمد بن موسى بن محمد الجمازي، المالكي3.
أحد الفضلاء الأعيان، له اشتغال بالأدب، وولي القضاء بمصر، ومن مشايخة المصنف، ومحمد بن محمد الغزي، وعبد الواحد الرشيدي، مات سنة (1065هـ) .
من مصنفاته: ((شرح الأندليسة في العروض)) و ((الحجة)) .
--------------------------------------------
তাঁর ছাত্রবৃন্দ:
যদিও গ্রন্থকার (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) ইলমের এক উচ্চ শিখরে পৌঁছেছিলেন এবং ইলমুল কিরাত শিক্ষা প্রদান, ইফতা ও পাঠদানের আসনে আসীন হয়েছিলেন এবং জীবনের এক দীর্ঘ সময় তাতে ব্যয় করেছিলেন, তথাপি তাঁর জীবনীগ্রন্থগুলোতে তাঁর একজন ছাত্রের নামও উল্লেখ করা হয়নি। তবে জীবনীগ্রন্থগুলোতে আমার পক্ষ থেকে পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধান ও পর্যালোচনার (استقراء ومتابعة) মাধ্যমে তাঁর কতিপয় ছাত্রের নাম পাওয়া সম্ভব হয়েছে, তাঁরা হলেন:
(১) আহমদ বিন ইয়াহইয়া বিন ইউসুফ আল-হাম্বলি আল-কারমি, আবু আল-আব্বাস আল-মাকদিসি১।
তিনি আমলকারী আলেম এবং অন্যতম দুনিয়াবিমুখ ইবাদতকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি কুদসে জন্মগ্রহণ করেন এবং ‘তুরে কারম’-এ কুরআন পাঠ করেন। অতঃপর তিনি কায়রো সফর করেন এবং সেখানে তাঁর চাচা (অত্র গ্রন্থের লেখক), আল্লামা মনসুর আল-বুহুতি, জামালুদ্দিন ইউসুফ আল-ফুতুহি ও অন্যান্যদের নিকট ফিকহ ও অন্যান্য শাস্ত্রের পাঠ গ্রহণ করেন। জামিউল আজহারে তাঁর একটি পাঠচক্র ছিল, যেখানে তিনি ইলমে দ্বীন শিক্ষা দিতেন। তিনি সচ্চরিত্রের অধিকারী ছিলেন এবং হিজরি ১০৯১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
(২) আব্দুল বাকি বিন আব্দুল বাকি বিন আব্দুল কাদির আল-বালি আল-আজহারি আল-হাম্বলি২।
দামেস্কের হাম্বলিগণের মুফতি। তিনি বিভিন্ন শাস্ত্রে একজন প্রথিতযশা ইমাম ছিলেন এবং ‘ইবনে ফকিহ ফাসসা’ নামে প্রসিদ্ধ ছিলেন। তিনি গ্রন্থকার, কাযি মাহমুদ বিন আব্দুল হামিদ, শিহাব আহমদ আল-ওয়াফায়ি আল-মুফলিহি, শেখ মনসুর আল-বুহুতি এবং অন্যান্যদের নিকট ফিকহ শাস্ত্রের পাঠ গ্রহণ করেন। তিনি হিজরি ১০৭১ সালে ইন্তেকাল করেন।
(৩) মুহাম্মদ বিন মুসা বিন মুহাম্মদ আল-জাম্মাজি, আল-মালিকি৩।
অন্যতম বিশিষ্ট ও বরেণ্য ব্যক্তিত্ব। সাহিত্যের প্রতি তাঁর বিশেষ অনুরাগ ছিল এবং তিনি মিশরে বিচারকার্যের (قضاء) দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন অত্র গ্রন্থের লেখক, মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল-গাযযি এবং আব্দুল ওয়াহিদ আল-রাশিদি। তিনি হিজরি ১০৬৫ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাবলি: "শারহুল আন্দালুসিয়াহ ফিল আরুজ" এবং "আল-হুজ্জাহ"।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুর রুজহান বিসাওমি ইয়াউমিশ শাক্কি মিন রামাদান
(পৃষ্ঠা: ১০)
مصنفاته:
لقد قدّم المصنف – رحمه الله مؤلفات قيمة للمكتبة الإسلامية في شتى أنواع العلوم من الفقه والتفسير واللغة والأدب، والنحو وغير ذلك.
وهو أحد المكثرين من التصنيف والتحقيق. وقد ترك وراءه العشرات من الكتب والرسائل، وإليك بياناً بأسماء مصنفاته مع الإشارة إلى المطبوع منها، أو الذي لا يزال مخطوطاً:
1- الآيات المحكمات والمتشابهات 1.
2- إتحاف ذوي الألباب2، في قوله تعالى {يَمْحُوا اللَّهُ مَا يَشَاءُ وَيُثْبِتُ وَعِنْدَهُ أُمُّ الْكِتَابِ} 3. (خ)
3- إحكام الأساس4، في قوله تعالى {إِنَّ أَوَّلَ بَيْتٍ وُضِعَ لِلنَّاسِ} 5. (خ)
4- إخلاص الوداد، في صدق الميعاد6.
5- الأدلة الوفية، بتصويب قول الفقهاء والصوفية7.
6- إرشاد ذوي الأفهام، لنزول عيسى عليها السلام8. (خ)
7- إرشاد ذوي العرفان، لما في العمر من الزيادة والنقصان. (ط) .
8- إرشاد من كان قصده، إعراب لا إله إلا الله وحده9.
--------------------------------------------
তাঁর রচনাবলী:
গ্রন্থকার – রাহিমাহুল্লাহ – ফিকহ, তাফসির, ভাষা, সাহিত্য, নাহু (ব্যাকরণ) সহ বিভিন্ন শাস্ত্রের ইসলামি পাঠাগারে মূল্যবান গ্রন্থাবলী উপহার দিয়েছেন।
তিনি অধিক গ্রন্থ রচনা ও যাচাইকরণের (تحقيق) ক্ষেত্রে প্রসিদ্ধ ব্যক্তিদের অন্যতম। তিনি তাঁর পেছনে কয়েক ডজন বই ও রিসালা (পুস্তিকা) রেখে গেছেন। নিম্নে তাঁর রচনাবলীর নামের একটি তালিকা প্রদান করা হলো, যেখানে মুদ্রিত (مطبوع) অথবা যা এখনও পাণ্ডুলিপি (مخطوط) আকারে রয়ে গেছে তা নির্দেশ করা হয়েছে:
১- আল-আয়াত আল-মুহকামাত ওয়া আল-মুতাশাবিহাত ১।
২- ইতহাফ যাবি আল-আলবাব ২, মহান আল্লাহর এই বাণীর ব্যাখ্যায় {আল্লাহ যা ইচ্ছা মিটিয়ে দেন এবং যা ইচ্ছা বহাল রাখেন, আর তাঁর নিকটেই রয়েছে উম্মুল কিতাব} ৩। (পাণ্ডুলিপি (مخطوط))
৩- ইহকাম আল-আসাস ৪, মহান আল্লাহর এই বাণীর ব্যাখ্যায় {নিশ্চয়ই মানবজাতির জন্য সর্বপ্রথম যে ঘরটি নির্মিত হয়েছিল...} ৫। (পাণ্ডুলিপি (مخطوط))
৪- ইখলাস আল-বিদাদ, ফি সিদক আল-মিয়াদ ৬।
৫- আল-আদিল্লাহ আল-ওয়াফিয়্যাহ, বি-তাসবিব কাওল আল-ফুকাহা ওয়া আস-সুফিয়্যাহ ৭।
৬- ইরশাদ যাবি আল-আফহাম, লি-নুজুল ঈসা আলাইহিস সালাম ৮। (পাণ্ডুলিপি (مخطوط))
৭- ইরশাদ যাবি আল-ইরফান, লিমা ফিল উমর মিন আল-জিয়াদাহ ওয়াল নুকসান। (মুদ্রিত (مطبوع))।
৮- ইরশাদ মান কানা কাসদুহু, ই’রাব লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু ৯।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুর রুজহান বিসাওমি ইয়াউমিশ শাক্কি মিন রামাদান
(পৃষ্ঠা: ১১)
اسمه ونسبه:
هو: العلامة مرعي بن يوسف بن أبي بكر بن أحمد بن أبي بكر بن يوسف بن أحمد الكرمي، المقدسي، الحنبلي1.
?فالكرمي: نسبة إلى (طور كرم) وهي بلدة تقع بالقرب من مدينة نابلس بفلسطين، وتعرف اليوم باسم (طولكرم) ، ونسب المصنف إليها لأنه ولد ونشأ بها2.
?والمقدسي: بفتح الميم وسكون القاف وكسر الدار والسين، نسبة إلى بيت المقدس، المدينة المقدسة المعروفة، حيث بدأ المصنف رحمه الله طلبه للعلم بها، وتتلمذ على عدد من علمائها قبل أن ينتقل إلى مصر3.
?والحنبلي: نسبة إلى مذهب الإمام الشهير أحمد بن حنبل رحمه الله، وقد أشار المصنف إلى نسبته إلى هذا المذهب، وشدة تمسكه به، بقوله4:
لئن قلّد الناس الأئمة إنني
… لفي مذهب الحبر ابن حنبل راغب
أقلد فتواه وأعشق قوله
… وللناس فيما يعشقون مذاهب
? مولده
ولد المصنف في بلدة (طور كرم) 5، وهي بلدة تقع الآن إلى الشمال الغربي من مدينة نابلس، التي تتوسط إقليم المرتفعات الجبلية بفلسطين، وتبعد عن القدس بحوالي تسعة وستين كيلاً إلى الشمال منها6.
--------------------------------------------
তাঁর নাম ও বংশপরিচয়:
তিনি হলেন: প্রাজ্ঞ আলেম (العلامة) মারঈ ইবনে ইউসুফ ইবনে আবি বকর ইবনে আহমাদ ইবনে আবি বকর ইবনে ইউসুফ ইবনে আহমাদ আল-কারমি, আল-মাকদিসি, আল-হানবালি ১।
? 'আল-কারমি': এটি (তুর কারম)-এর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত, যা ফিলিস্তিনের নাবলুস শহরের নিকটবর্তী একটি জনপদ এবং বর্তমানে (তুলকারম) নামে পরিচিত। লেখককে এই স্থানের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে কারণ তিনি সেখানে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং বেড়ে উঠেছেন ২।
? 'আল-মাকদিসি': মীম-এ ফাতহ, ক্বাফ-এ সুকুন এবং দাল ও সীন-এ কাসরা যোগে উচ্চারিত; এটি বাইতুল মাকদিসের সাথে সম্পর্কিত সুপরিচিত পবিত্র শহর। লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) সেখানেই তাঁর ইলম অন্বেষণ শুরু করেন এবং মিশরে গমনের পূর্বে সেখানকার একদল আলেমের নিকট শিক্ষা গ্রহণ করেন ৩।
? 'আল-হানবালি': এটি বিখ্যাত ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাহিমাহুল্লাহ)-এর মাযহাবের প্রতি সম্পৃক্ত। লেখক এই মাযহাবের প্রতি তাঁর সম্বন্ধ এবং এর প্রতি তাঁর সুদৃঢ় অনুরাগের কথা এভাবে ব্যক্ত করেছেন ৪:
মানুষ যদি অন্যান্য ইমামদের অনুকরণ করে, তবে আমি তো প্রাজ্ঞ আলেম (الحبر) ইবনে হাম্বলের মাযহাবেরই অনুরাগী
… আমি তাঁর ফতোয়া অনুসরণ করি এবং তাঁর কথাকে ভালোবাসি, আর মানুষের ভালোবাসার তো ভিন্ন ভিন্ন মাযহাব ও পথ রয়েছে
? তাঁর জন্ম
লেখক (তুর কারম) জনপদে জন্মগ্রহণ করেন ৫। এটি বর্তমানে নাবলুস শহরের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত একটি শহর, যা ফিলিস্তিনের পাহাড়ি উচ্চভূমি অঞ্চলের মধ্যভাগে অবস্থিত এবং জেরুজালেম থেকে উত্তরে প্রায় উনসত্তর কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ৬।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুর রুজহান বিসাওমি ইয়াউমিশ শাক্কি মিন রামাদান
(পৃষ্ঠা: ১২)
ولم يذكر المؤرخون تاريخ ولادة المصنف، ولم أعثر عليها في شيء من المصادر التي ترجمت له، وإنما ذكروا فقط تاريخ وفاته1، دون الإشارة إلى سني عمره حتى يتسنّى معرفة تاريخ ولادته.
?نشأته ومكانته العلمية:
كانت نشأته في بلدته (طور كرم) ، حيث ترعرع بها، وحفظ القرآن فيها، ثم انتقل شاباً إلى مدينة القدس، وبها بدأ حياته العلمية، حيث حرص على ملازمة العلماء في حلقاتهم العلمية التي كانت تلقى من خلالها كافة أنواع العلوم والمعارف.
فتتلمذ على أشهر المشائخ الموجودين بها، واستفاد من كل ما لديهم من العلوم، فدأب على ملازمتهم، ينهل من مناهلهم الثرة العذبة، ويغدي أفكاره بالعلوم الشرعية التي كانت تلقى في المساجد والمدارس هنالك2.
ثم انتقل بعد ذلك إلى القاهرة3، شأنه شأن سائر طلاب العلم في مواصلة رحلاتهم العلمية، والإنتقال من بلد إلى آخر، كذلك فأن القاهرة تعد مركزاً من مراكز العلوم الهامة، وموطناً يتوافد عليه طلبة العلم من كل مكان.
فتتلمذ على كبار مشائخها في الجامع الأزهر، حيث كان شغوفاً بالعلم وأهله، مجالساً للعلماء، حتى تبوّأ مكانة مرموقة، فتصدر للإقراء والتدريس – بعد ذلك – بالجامع الأزهر، منهمكاً انهماكاً كلياً على العلوم، قاطعاً زمانه في الإفتاء، والتحقيق والتصنيف، حتى قصده طلاب العلم من كل مكان4.
ومع تلك المكانة العالية التي وصل إليها في التعليم والتصنيف فقد كان أحد
--------------------------------------------
ঐতিহাসিকগণ গ্রন্থকারের জন্মতারিখ উল্লেখ করেননি এবং তাঁর জীবনী (ترجمة) আলোচনা করা হয়েছে এমন কোনো উৎসে আমি এটি খুঁজে পাইনি। বরং তারা শুধুমাত্র তাঁর মৃত্যু তারিখ১ উল্লেখ করেছেন, তাঁর বয়সের কোনো উল্লেখ ছাড়াই, যার ফলে তাঁর জন্মতারিখ জানা সম্ভব হতো।
তাঁর বেড়ে ওঠা ও ইলমি মর্যাদা (المكانة العلمية):
তাঁর বেড়ে ওঠা ছিল তাঁর নিজ শহর (তুলকারাম)-এ, সেখানে তিনি প্রতিপালিত হন এবং কুরআন হিফজ করেন। অতঃপর যুবক বয়সে তিনি জেরুজালেম শহরে স্থানান্তরিত হন এবং সেখানেই তাঁর ইলমি জীবনের সূচনা হয়। সেখানে তিনি আলেমদের মজলিসে (حلقات علمية) নিয়মিত উপস্থিত থাকার বিষয়ে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন, যার মাধ্যমে সকল প্রকার জ্ঞান ও বিজ্ঞান প্রদান করা হতো।
সেখানে বিদ্যমান প্রসিদ্ধ শাইখদের নিকট তিনি শিক্ষা গ্রহণ করেন এবং তাঁদের নিকট থাকা সকল প্রকার ইলম থেকে উপকৃত হন। তিনি নিরবচ্ছিন্নভাবে তাঁদের সাহচর্যে থাকতেন, তাঁদের জ্ঞানসমৃদ্ধ ও সুমিষ্ট ঝরনাধারা থেকে জ্ঞান আহরণ করতেন এবং সেখানকার মসজিদ ও মাদরাসাগুলোতে প্রদানকৃত শরয়ি বিজ্ঞান (العلوم الشرعية) দ্বারা নিজের চিন্তাধারাকে সমৃদ্ধ করতেন২।
অতঃপর তিনি কায়রোতে চলে যান৩, যেমনটি অন্যান্য ইলম অন্বেষণকারীগণ (طلاب العلم) তাদের ইলমি সফর (الرحلات العلمية) অব্যাহত রাখতে এবং এক দেশ থেকে অন্য দেশে স্থানান্তরিত হওয়ার ক্ষেত্রে করে থাকেন। একইভাবে কায়রোকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইলমি কেন্দ্র এবং একটি আবাসস্থল হিসেবে বিবেচনা করা হতো যেখানে সব জায়গা থেকে ইলম অন্বেষণকারীগণ (طلبة العلم) আসতেন।
তিনি জামে আজহারে সেখানকার বড় বড় শাইখদের কাছে শিক্ষা গ্রহণ করেন। তিনি জ্ঞান ও জ্ঞানীদের প্রতি অত্যন্ত অনুরাগী এবং আলেমদের সান্নিধ্যকামী ছিলেন, এমনকি তিনি এক উচ্চমর্যাদায় অধিষ্ঠিত হন। এরপর তিনি জামে আজহারে কিরাত ও অধ্যাপনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি ইলমের কাজে নিজেকে পূর্ণরূপে নিয়োজিত করেন এবং ফতোয়া প্রদান (الإفتاء), তাহকিক বা যাচাই-বাছাই (التحقيق) ও গ্রন্থ সংকলন (التصنيف) এর কাজে সময় অতিবাহিত করেন, এমনকি সব জায়গা থেকে ইলম অন্বেষণকারীগণ (طلاب العلم) তাঁর উদ্দেশ্য আসতে শুরু করেন৪।
শিক্ষা ও গ্রন্থ সংকলন (التصنيف)-এর ক্ষেত্রে তিনি যে উচ্চমর্যাদায় পৌঁছেছিলেন, তা সত্ত্বেও তিনি ছিলেন অন্যতম
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুর রুজহান বিসাওমি ইয়াউমিশ শাক্কি মিন রামাদান
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الشعراء المرموقين المبدعين، وله ديوان شعر مشهور1، ومن جيّد شعره قوله2:
إنما الناس بلاء ومحن
… وهموم وغموم وفتن
وعناء وضناء قربهم
… وهلاك ليس فيهم مؤتن
حسنوا ظاهرهم كي يخدعوا
… ليس في باطنهم شيء حسن
ليس من خالطهم في راحة
… ضاع منه الدين والمال وزن
فاحذرن عشرتهم واتركها
… واجتنبهم سيما هذا الزمن
?شيوخه:
لم تذكر المصادر التي ترجمت له سوى أربعة من مشايخه الذين تلقى العلم عنهم3، رغم إشارتها إلى رحلاته العلمية، التي بدأت من بلدته (طور كرم) ، ثم القدس، وانتهت بمقر إقامته الدائم القاهرة4.
إلا أن تلك المصادر أشارت إلى أنه تلقى العلم عن كثير من علماء مصر.
قال المحبي: وأخذ بها – أي القاهرة- عن كثير من المشايخ المصريين5.
وشيوخه الذين أشارت إليهم المصادر هم:
(1) أحمد بن محمد بن علي الغنيمي، الأنصاري الحنفي.
كان أحد المتقنين للمذهب الشافعي، ثم انتقل بعد ذلك إلى المذهب الحنفي، وقد كان متبحراً في سائر العلوم والفنون، وأحد المحققين المدققين في التأليف والتصنيف.
فمن مصنافه: ((ابتهاج الصدور)) في النحو، ((بهجة
--------------------------------------------
তিনি ছিলেন একজন খ্যাতিমান ও সৃজনশীল কবি এবং তাঁর একটি প্রসিদ্ধ কাব্যগ্রন্থ (দীওয়ান) রয়েছে১। তাঁর উৎকৃষ্ট কবিতাগুলোর মধ্যে রয়েছে২:
মানুষ কেবল পরীক্ষা ও বিপদ-আপদ
… আর দুশ্চিন্তা, বিষণ্ণতা ও ফিতনা
তাদের সান্নিধ্য কেবল কষ্ট ও ক্লান্তি
… আর ধ্বংস, তাদের মাঝে কোনো বিশ্বস্ত ব্যক্তি নেই
তারা তাদের বাহ্যিক রূপ সুন্দর করেছে প্রতারণা করার জন্য
… অথচ তাদের অন্তরে ভালো কিছুই নেই
যারা তাদের সাথে মেলামেশা করে তারা শান্তিতে নেই
… তাদের থেকে দ্বীন, সম্পদ ও মর্যাদা হারিয়ে গেছে
সুতরাং তাদের সাহচর্য থেকে সতর্ক থাকো এবং তা বর্জন করো
… তাদের এড়িয়ে চলো, বিশেষ করে এই সময়ে
তাঁর শিক্ষকগণ:
তাঁর জীবনী বিষয়ক উৎসগুলোতে কেবল চারজন শিক্ষকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে যাদের কাছ থেকে তিনি জ্ঞান অর্জন করেছেন৩, যদিও সেগুলোতে তাঁর জ্ঞানান্বেষণমূলক সফরের ইঙ্গিত রয়েছে, যা শুরু হয়েছিল তাঁর নিজ শহর (তুলকার্ম) থেকে, অতঃপর জেরুজালেম এবং শেষ হয়েছিল তাঁর স্থায়ী আবাসন কায়রোতে৪।
তবে সেই উৎসগুলো ইঙ্গিত দেয় যে তিনি মিশরের বহু আলেমের কাছ থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন।
আল-মুহিব্বি বলেন: তিনি সেখানে - অর্থাৎ কায়রোতে - অনেক মিশরীয় মাশায়েখদের কাছ থেকে (জ্ঞান) গ্রহণ করেছেন৫।
সূত্রসমূহে তাঁর যে সকল শিক্ষকের কথা উল্লেখ করা হয়েছে তাঁরা হলেন:
(১) আহমদ বিন মুহাম্মাদ বিন আলি আল-গুনাইমি, আল-আনসারি আল-হানাফি।
তিনি শাফেয়ি মাজহাবে সুনিপুণ (متقن) পণ্ডিতদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, অতঃপর তিনি হানাফি মাজহাবে স্থানান্তরিত হন। তিনি সকল জ্ঞান ও কলায় পারদর্শী ছিলেন এবং গ্রন্থ রচনা ও সংকলনের ক্ষেত্রে একজন সূক্ষ্মদর্শী গবেষক ছিলেন।
তাঁর রচিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে: নাহু শাস্ত্রের ওপর ‘ইবতিহাজুস সুদুর’, ‘বাহজাত...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুর রুজহান বিসাওমি ইয়াউমিশ শাক্কি মিন রামাদান
(পৃষ্ঠা: ১৪)
9- أرواح الأشباح، في الكلام على الأرواح1.
10- أزهار الفلاة، في آية قصر الصلاة2.
11- أقاويل الثقات، في تأويل الأسماء والصفات، والآيات المحكمات والمشتبهات. (ط) .
12- إيقاظ3 العارفين، على حكم أوقاف السلاطين.
13- بديع الإنشاء والصفات، في المكاتبات والمراسلات (ط) .
14- البرهان في تفسير القرآن، لم يكمله4.
15- بشرى ذوي الإحسان، لمن يقضي حوائج الإخوان5.
16- بشرى من استبصر، وأمر بالمعروف ونهى عن المنكر6.
17- بهجة الناظرين، وآيات المستدلين (ط) .
18- تحقيق البرهان في إثبات حقيقة الميزان (ط) .
19- تحقيق البرهان في شأن الدخان، الذي يشربه الناس الآن (ط) .
20- تحقيق الخلاف في أصحاب الأعراف (ط) .
21- تحقيق الرجحان بصوم يوم الشك من رمضان.
وهو كتابنا هذا، وسيأتي الكلام عليها إن شاء الله تعالى.
22- تحقيق الظنون، بأخبار الطاعون7. (خ) .
23- تحقيق المقالة، هل الأفضل في حق النبي الولاية، أو النبوة أو الرسالة8؟.
--------------------------------------------
9- আরওয়াহুল আশবাহ, ফীল কালামি আলাল আরওয়াহ (আত্মা সম্পর্কিত আলোচনা)১।
10- আজহারুল ফালাহ, ফী আয়াতি কাসরিস সালাহ (নামাজ কসর করার আয়াত প্রসঙ্গে)২।
11- আকাওয়ীলুস সিকাত, ফী তাওয়ীলিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত, ওয়াল আয়াতিল মুহকামাত ওয়াল মুতাশাবিহাত। (মুদ্রিত)।
12- ইয়িকাজুল৩ আরিফীন, আলা হুকমি আওকাফিস সালাতীন।
13- বাদীউল ইনশা ওয়াস সিফাত, ফীল মুকাতাবাত ওয়াল মুরাসালত (চিঠিপত্র ও যোগাযোগ প্রসঙ্গে) (মুদ্রিত)।
14- আল-বুরহান ফী তাফসীরিল কুরআন, যা তিনি সম্পন্ন করতে পারেননি৪।
15- বুশরা যাওয়িল ইহসান, লিমান ইয়াকদী হাওয়ায়িজাল ইখওয়ান৫।
16- বুশরা মানিস্তাবসারা, ওয়া আমারা বিল মারুফি ওয়া নাহা আনিল মুনকার৬।
17- বাহজাতুন নাজীরীন, ওয়া আয়াতুল মুস্তাদিললীন (মুদ্রিত)।
18- তাহকীকুল বুরহান ফী ইসবাতী হাকীকাতিল মীযান (মুদ্রিত)।
19- তাহকীকুল বুরহান ফী শানিদ দুখান, আল্লাযী ইয়াশরাবুহুন নাসুল আন (বর্তমানে মানুষ যে ধূমপান করে সে সম্পর্কে) (মুদ্রিত)।
20- তাহকীকুল খিলাফ ফী আসহাবিল আরাফ (মুদ্রিত)।
21- তাহকীকুর রুজহান বিসাওমি ইয়াউমিশ শাক্কি মিন রামাদান।
এটিই আমাদের এই বর্তমান গ্রন্থ, এবং ইনশাআল্লাহ তাআলা এর ওপর আলোচনা সামনে আসবে।
22- তাহকীকুজ জুনুন, বিআখবারিত তাউন৭। (পাণ্ডুলিপি)।
23- তাহকীকুল মাকালাহ, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ক্ষেত্রে কি বেলায়েত শ্রেষ্ঠ, নাকি নবুওয়াত নাকি রিসালাত৮?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুর রুজহান বিসাওমি ইয়াউমিশ শাক্কি মিন রামাদান
(পৃষ্ঠা: ১৫)
24- تسكين الأشواق بأخبار العشاق1.
25- تشويق الأنام إلى حج بيت الله الحرام2. (خ)
26- تلخيص أوصاف المصطفى صلى الله عليه وسلم وذكر من بعده من الخلفاء3.
27- تنبيه الماهر، على غير ما هو المتبادر. من الأحاديث الواردة في الصفات4.
28- تنوير بصائر المقلدين في مناقب الأئمة المجتهدين5. (خ)
29- تهذيب الكلام، في حكم أرض مصر والشام6.
30- توضيح البرهان، في الفرق بين الإسلام والإيمان7.
31- توقيف الفريقين على خلود أهل الدارين8. (خ) .
32- الحجج المبينة في إبطال اليمين مع البينة9.
33- الحكم الملكية والكلم الأزهرية10. (خ)
34- دفع الشبهة والغرر عمن يحتج على المعاصي بالقدر. (ط)
35- دليل الحكام في الوصول إلى دار السلام11.
36- دليل الطالب، لنيل المطالب. (ط)
--------------------------------------------
২৪- তাসকিনুল আশওয়াক বি আখবারিল উশশাক (প্রেমিকদের সংবাদে অনুরাগের প্রশান্তি)১।
২৫- তাশউইকুল আনাম ইলা হাজ্জি বাইতিল্লাহিল হারাম (আল্লাহর পবিত্র ঘর হজের জন্য সৃষ্টিজগতকে উৎসাহিতকরণ)২। (পাণ্ডুলিপি)
২৬- তালখিসু আওসাফিল মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া যিকরুল মান বাদাহু মিনাল খুলাফা (মুস্তফা ﷺ-এর গুণাবলির সারসংক্ষেপ এবং তাঁর পরবর্তী খলিফাদের বর্ণনা)৩।
২৭- তানবিহুল মাহির আলা গাইরি মা হুয়াল মুতাবাদির; মিনাল আহাদিসিল ওয়ারিদাতি ফিস সিফাত (সিফাত বা বৈশিষ্ট্য (الصفات) সংক্রান্ত বর্ণিত হাদিসসমূহের সচরাচর বোধগম্য অর্থের বাইরের অর্থ সম্পর্কে দক্ষদের সতর্কীকরণ)৪।
২৮- তানউইরু বাসাইরিল মুকাল্লিদিন ফি মানাকিবিল আইম্মাতিল মুজতাহিদিন (মুজতাহিদ ইমামগণের উচ্চমর্যাদা বর্ণনায় মুকাল্লিদদের অন্তর্দৃষ্টির আলোকায়ন)৫। (পাণ্ডুলিপি)
২৯- তাহজিবুল কালাম ফি হুকমি আরদি মিসরা ওয়াশ শাম (মিসর ও শামের ভূমির বিধান সম্পর্কে আলোচনার পরিশোধন)৬।
৩০- তাওদিহুল বুরহান ফিল ফারকি বাইনাল ইসলামি ওয়াল ইমান (ইসলাম ও ইমানের মধ্যকার পার্থক্যের প্রমাণের স্পষ্টীকরণ)৭।
৩১- তাওকিফুল ফারিকাইন আলা খুলুদি আহলিদ দারাইন (উভয় জাহানবাসীর চিরস্থায়ী অবস্থানের বিষয়ে দুই পক্ষকে অবহিতকরণ)৮। (পাণ্ডুলিপি)
৩২- আল-হুজাজুল মুবাইয়িনাহ ফি ইবতালিল ইয়ামিন মায়াল বাইয়িনাহ (সাক্ষ্য-প্রমাণের উপস্থিতিতে শপথের অসারতা বর্ণনায় সুস্পষ্ট দলিলসমূহ)৯।
৩৩- আল-হিকামুল মুলকিয়্যাহ ওয়াল কালিমুল আজহারিয়্যাহ (রাজকীয় প্রজ্ঞা এবং উজ্জ্বল বাণীসমূহ)১০। (পাণ্ডুলিপি)
৩৪- দাফউশ শুবহাতি ওয়াল গারারি আম্মান ইয়াহতাযজু আলাল মাআসি বিল কাদার (তাকদিরের দোহাই দিয়ে পাপাচার সাব্যস্তকারীদের সংশয় ও বিভ্রান্তির নিরসন)। (মুদ্রিত)
৩৫- দালিলুল হুক্কাম ফিল উসুলি ইলা দারিস সালাম (দারুস সালাম বা শান্তির নিবাসে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে শাসকদের পথনির্দেশিকা)১১।
৩৬- দালিলুত তালিব লিনাইলিল মাতালিব (উদ্দেশ্য হাসিলে শিক্ষার্থীর পথনির্দেশক)। (মুদ্রিত)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুর রুজহান বিসাওমি ইয়াউমিশ শাক্কি মিন রামাদান
(পৃষ্ঠা: ১৬)
37- دليل الطالبين، لكلام النحويين1. (خ)
38- ديوان الكرمي2.
39- رفع التلبيس، عمن توقف فيما كفر به إبليس3 (خ) .
40- روض العارفين، وتسليك المريدين4.
41- الروض النضر، في الكلام على الخضر5. (خ)
42- رياض الأزهار. في حكم السماع والأوتار6. (خ)
43- السراج المنير في استعمال الذهب والحرير7.
44- سلوان المصاب بفرقة الأحباب8.
45- سلوك الطريقة، في الجمع بين كلام أهل الشريعة والحقيقة9.
46- شفاء الصدور، في زيارة المشاهد والقبور. (ط)
47- الشهادة الزكية في ثناء الأئمة على ابن تيمية. (ط)
48- غاية المنتهى في الجمع بين الإقناع والمنتهى. (ط)
49- فتح المنان بتفسير آية الامتنان10.
50- فرائد فوائد الفكر في الإمام المهدي المنتظر11. (خ) .
--------------------------------------------
৩৭- দালিলুত ত্বালিবীন, লি কালামিন নাহউইয়্যীন। (পাণ্ডুলিপি)
৩৮- দিওয়ানুল কারমী।
৩৯- রাফ'ুত তালবীস, আম্মান তাওয়াক্ক্বাফা ফীমা কাফফারা বিহি ইবলীস। (পাণ্ডুলিপি)
৪০- রওদুল আরিফীন, ওয়া তাসলীকুল মুরীদীন।
৪১- আর-রওদুন নাযির, ফিল কালামি আলাল খিদির। (পাণ্ডুলিপি)
৪২- রিয়াদুল আযহার, ফী হুকমিস সামা'ই ওয়াল আওতার। (পাণ্ডুলিপি)
৪৩- আস-সিরাজুল মুনীর ফী ইস্তি'মালিল যাহাবি ওয়াল হারীর।
৪৪- সিলওয়ানুল মুসাব বি-ফুরক্বাতিল আহবাব।
৪৫- সুলুকুত ত্বরীক্বাহ, ফিল জাম'ই বাইনা কালামি আহলিশ শারীয়াহ ওয়াল হাক্বীক্বাহ।
৪৬- শিফাউস সুদূর, ফী যিয়ারাতিল মাশাহিদি ওয়াল কুবূর। (মুদ্রিত)
৪৭- আশ-শাহাদাতুয যাকীয়্যাহ ফী সানাউল আইম্মাহ আলা ইবনি তাইমীয়্যাহ। (মুদ্রিত)
৪৮- গায়াতুল মুনতাহা ফিল জাম'ই বাইনাল ইক্বনা' ওয়াল মুনতাহা। (মুদ্রিত)
৪৯- ফাতহুল মান্নান বি-তাফসিরি আয়াতিল ইমতিনান।
৫০- ফারায়িদু ফাওয়ায়িদিল ফিকর ফিল ইমামিল মাহদিল মুনতাজার। (পাণ্ডুলিপি)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুর রুজহান বিসাওমি ইয়াউমিশ শাক্কি মিন রামাদান
(পৃষ্ঠা: ১৭)
51- الفوائد الموضوعة في الأحاديث الموضوعة (ط) .
52- قرة عين الودود بمعرفة المقصور والمدود1.
53- قلائد العقيان، في فضائل سلاطين آل عثمان2. (خ) .
54- قلائد العقيان3، في قوله تعالى {إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالْأِحْسَان} 4.
55- قلائد المرجان في الناسخ والمنسوخ من القرآن. (ط) .
56- القول البديع، في علم البديع5.
57- القول المعروف، في فضائل المعروف6. (خ) .
58- الكلمات البينات7، في قوله تعالى {وَبَشِّرِ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ} 8. (خ)
59- الكواكب الدرية. في مناقب المجتهد ابن تيمية. (ط)
60- لطائف المعارف9.
61- اللفظ الموطا، في بيان الصلاة الوسطى. (ط)
62- ما يفعله الأطباء والداعون لدفع شر الطاعون10.
63- محرك سواكن الغرام، إلى حج بيت الله الحرام11. (خ) .
--------------------------------------------
৫১- জাল (موضوع) হাদিসসমূহের মধ্যে সংকলিত মনগড়া (موضوع) ফায়দা (মুদ্রিত)।
৫২- মাকসুর ও মাদুদ সম্পর্কে জানার ক্ষেত্রে প্রিয়জনের চোখের শীতলতা১।
৫৩- উসমানীয় বংশের সুলতানদের শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনায় স্বর্ণহার২। (পাণ্ডুলিপি)।
৫৪- মহান আল্লাহর বাণী {নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়বিচার ও সদাচরণের নির্দেশ দেন}৪-এর ব্যাখ্যায় স্বর্ণহার৩।
৫৫- কুরআনের রহিতকারী (ناسخ) ও রহিতকৃত (منسوخ) আয়াতসমূহের বর্ণনায় প্রবালহার। (মুদ্রিত)।
৫৬- অলঙ্কারশাস্ত্রে চমৎকার বক্তব্য৫।
৫৭- সৎকর্মের ফযিলত বর্ণনায় সুপরিচিত বক্তব্য৬। (পাণ্ডুলিপি)।
৫৮- মহান আল্লাহর বাণী {এবং যারা ঈমান এনেছে ও সৎকাজ করেছে তাদের সুসংবাদ দিন}৮-এর ব্যাখ্যায় সুস্পষ্ট বাণীসমূহ৭। (পাণ্ডুলিপি)
৫৯- মুজতাহিদ ইবনে তাইমিয়্যাহর জীবনচরিতে উজ্জ্বল নক্ষত্ররাজি। (মুদ্রিত)
৬০- জ্ঞানের সূক্ষ্ম বিষয়াবলি৯।
৬১- সালাতুল উসতা (মধ্যবর্তী সালাত) বর্ণনায় সুবিন্যস্ত শব্দাবলি। (মুদ্রিত)
৬২- প্লেগ মহামারীর অনিষ্ট দূর করতে চিকিৎসক ও দোয়াকারীদের করণীয়১০।
৬৩- আল্লাহর পবিত্র ঘর হজের প্রতি সুপ্ত অনুরাগ সঞ্চারকারী১১। (পাণ্ডুলিপি)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুর রুজহান বিসাওমি ইয়াউমিশ শাক্কি মিন রামাদান
(পৃষ্ঠা: ১৮)
64- مرآة الفكر، في المهدي المنتظر1.
65- المسائل اللطيفة في فسخ الحج إلى العمرة الشريفة2.
66- مسبوك الذهب في فضل العرب، وشرف العلم على شرف النسب. (ط)
67- المسرة والبشارة، في فضل السلطنة والوزارة3.
68- مقدمة الخائض في علم الفرائض4.
69- النادرة الغريبة والواقعة العجيبة5.
70- نزهة المتفكر6.
71- نزهة الناظرين، في تاريخ من ولي مصر من الخلفاء والسلاطين7. (خ)
72- نزهة الناظرين، في فضائل الغزاة والمجاهدين8.
? وفاته وثناء العلماء عليه:
بعد أن أمضى حياته في طلب العلم متنقلاً من مكان لآخر، ثم إيصاله ما تغذى به من العلوم النافعة إلى طلاب العلم، من خلال قيامه بالتدريس والتعليم، وبعد أن ترك وراءه العشرات من مختلف الكتب والرسائل، توفي الإمام العلامة مرعي بن يوسف الكرمي، وكانت وفاته بمدينة القاهرة.
وللمؤرخين في تاريخ وفاته قولان:
الأول: أن وفاته كانت في شهر ربيع الأول سنة ثلاث وثلاثين وألف من
--------------------------------------------
64- মিরআতুল ফিকর ফীল মাহদিল মুনতাজার১।
65- আল-মাসাইলুল লতিফাহ ফী ফাসখিল হাজ্জি ইলাল উমরাতিশ শারিফাহ২।
66- মাসবুকুজ জাহাব ফী ফাদলিল আরব, ওয়া শারাফুল ইলমি আলা শারাফিন নাসাব। (মুদ্রিত)
67- আল-মাসাররাহ ওয়াল বিশারাহ ফী ফাদলিস সালতানাহ ওয়াল উইজারাহ৩।
68- মুকাদ্দিমাতুল খাউদ ফী ইলমিল ফারায়িদ (علم الفرائض)৪।
69- আন-নাদিরাতুল গারিবাহ ওয়াল ওয়াকিয়াতুল আজি বাহ৫।
70- নুজহাতুল মুতাফাক্কির৬।
71- নুজহাতুন নাজিনিন ফী তারিখি মান ওয়ালিয়া মিসরা মিনাল খুলাফা ওয়াস সালাতিন৭। (পাণ্ডুলিপি)
72- নুজহাতুন নাজিনিন ফী ফাদাইলিল গুজাত ওয়াল মুজাহিদিন৮।
? তাঁর মৃত্যু এবং তাঁর প্রতি আলেমগণের প্রশংসা:
এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পরিভ্রমণ করে জ্ঞান অন্বেষণে তাঁর জীবন অতিবাহিত করার পর, অতঃপর শিক্ষকতা ও পাঠদানের মাধ্যমে তিনি যে সকল উপকারী জ্ঞান অর্জন করেছিলেন তা জ্ঞানান্বেষীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পর এবং তাঁর পেছনে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর কয়েক ডজন কিতাব ও রিসালাহ রেখে যাওয়ার পর, ইমাম আল্লামা মারয়ী ইবনে ইউসুফ আল-কারমী মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যু হয়েছিল কায়রো শহরে।
তাঁর মৃত্যুর তারিখ সম্পর্কে ঐতিহাসিকদের দুটি অভিমত রয়েছে:
প্রথমটি: তাঁর মৃত্যু হয়েছিল এক হাজার তেত্রিশ হিজরি সনের রবিউল আউয়াল মাসে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুর রুজহান বিসাওমি ইয়াউমিশ শাক্কি মিন রামাদান
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الهجرة، هذا قول جمهور المؤرخين1
الثاني: أن وفاته كانت ضحى يوم الأربعاء، الموافق للخامس والعشرين من شهر ذي القعدة سنة اثنتين وثلاثين وألف من الهجرة.
وقد نقل هذا القول العلامة محمد بن عبد الله بن حميد، المتوفي سنة (1295هـ) في كتابه السحب الوابلة2، حيث قال:
رأيت في ظهر الغاية – أي غاية المنتهى- بخط شيخ مشايخنا العمدة الضابط الشيخ محمد بن سلوم، نقلاً أن وفاته ضحوة يوم الأربعاء لخمس بقيت من ذي القعدة سنة (32) ، وكان له مشهد عظيم، وجلالة تليق به، انتهى.
إلا أن الذي يترجح لي – والله أعلم- أن القول الأول في تاريخ وفاته هو الأرجح، فهو الذي أثبته جميع المترجمين له، ودونوه في كتبهم، وأجمعوا عليه، دون القول الثاني.
ولقد كانت لمنزلته المرموقة التي وصل إليها، واطلاعه الواسع، وتضلعه في العلوم، أثرٌ كبير في ثناء العلماء عليه، ورفعهم من قدره وشأنه، فأثنوا عليه خيراً، وسطروا في كتبهم مكانته التي وصل إليها، وخدمته العلمية الجليلة التي قدمها للعلم وأهله، لم ينقصوا منها شيئاً.
فقال عنه المؤرخ محمد أمين المحبي (ت1111هـ) :
أحد أكابر علماء الحنابلة بمصر، كان إماماً محدثاً فقيهاً، ذا اطلاع واسع على نقول الفقه، ودقائق الحديث، ومعرفة تامة بالعلوم المتداولة3.
وقال عنه أيضاً: كان منهمكاً على العلوم انهماكاً كلياً، فقطع زمانه
--------------------------------------------
হিজরি; এটিই অধিকাংশ ঐতিহাসিকের (جمهور المؤرخين) অভিমত।১
দ্বিতীয়ত: তাঁর মৃত্যু হয়েছিল বুধবার দ্বিপ্রহরের পূর্বে (ضحى), যা হিজরি এক হাজার বত্রিশ সনের পঁচিশে জিলকদ মাসের সাথে সংগতিপূর্ণ।
প্রাজ্ঞ আল্লামা (العلامة) মুহাম্মাদ বিন আবদুল্লাহ বিন হুমাইদ (মৃত ১২৯৫ হি.) তাঁর আস-সুহুবুল ওয়াবিলাহ২ গ্রন্থে এই অভিমতটি উদ্ধৃত করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন:
আমি গায়াতুল মুনতাহা-এর শেষ পৃষ্ঠায় আমাদের শিক্ষকদের শিক্ষক, নির্ভরযোগ্য (العمدة) ও সুসংরক্ষণকারী (الضابط) শায়খ মুহাম্মাদ বিন সালুম-এর হস্তাক্ষরে একটি উদ্ধৃতি দেখেছি যে, তাঁর মৃত্যু হয়েছিল (১০)৩২ হিজরি সনের জিলকদ মাসের পাঁচ দিন অবশিষ্ট থাকতে বুধবার চাশতের সময় (ضحوة)। তাঁর জানাজায় বিশাল জনসমাগম হয়েছিল এবং তাঁর যোগ্য মর্যাদা ও গাম্ভীর্য প্রকাশ পেয়েছিল। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।
তবে আমার নিকট যা অগ্রগণ্য (الراجح) মনে হয়—আর আল্লাহ-ই ভালো জানেন—তা হলো তাঁর মৃত্যুর তারিখের ক্ষেত্রে প্রথম অভিমতটিই অধিকতর সঠিক (الأرجح)। কারণ তাঁর সকল জীবনীকার এটিই সাব্যস্ত করেছেন, তাঁদের গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করেছেন এবং দ্বিতীয় মতটির পরিবর্তে এ বিষয়ে একমত (أجمعوا) হয়েছেন।
তাঁর অর্জিত সুউচ্চ মর্যাদা, ব্যাপক অধ্যয়ন এবং ইলমের গভীরতা আলেমদের নিকট তাঁর প্রশংসা লাভ এবং তাঁর সম্মান ও মর্যাদা বৃদ্ধিতে বড় প্রভাব ফেলেছিল। ফলে তাঁরা তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন এবং তাঁদের গ্রন্থে তাঁর সেই সুউচ্চ অবস্থান ও ইলম ও আহলে ইলমদের প্রতি তাঁর মহান খেদমতের কথা লিপিবদ্ধ করেছেন; তাঁরা এতে কোনো কমতি করেননি।
ঐতিহাসিক মুহাম্মাদ আমিন আল-মুহিব্বী (মৃত ১১১১ হি.) তাঁর সম্পর্কে বলেছেন:
তিনি মিসরের হাম্বলি আলেমদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন ইমাম (إمام), হাদিস বিশারদ (محدث) ও ফকিহ (فقيه)। ফিকহ শাস্ত্রের উদ্ধৃতি এবং হাদিসের সূক্ষ্ম বিষয়াবলির (دقائق الحديث) ওপর তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্য ছিল এবং প্রচলিত জ্ঞান-বিজ্ঞানে তাঁর পূর্ণ দক্ষতা ছিল।৩
তিনি আরও বলেছেন: তিনি জ্ঞানার্জনে সম্পূর্ণরূপে নিমগ্ন থাকতেন, আর এভাবেই তিনি তাঁর সময় অতিবাহিত করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুর রুজহান বিসাওমি ইয়াউমিশ শাক্কি মিন রামাদান
(পৃষ্ঠা: ২০)
بالإفتاء والتدريس والتحقيق والتصنيف، فسارت بتآليف الركبان، ومع كثرة أضداده وأعدائه، ما أمكن أن يطعن فيها أحد، ولا أن ينظر بعين الإزدراء إليها1.
وقال عنه أيضاً:
مقدم في العلوم الشرعية، غير متأخر في العلوم الأدبية المرعيّة، فهو من الفضل في منتهاه، ومن الأدب في محل سهاه، وله جودة وإتقان، وتمسك بالهدى وإيقان2.
وقال عنه المؤرخ محمد كمال الدين الغزي (ت1214هـ) :
شيخ مشايخ الإسلام، وأحد العلماء المحققين الأعلام، واحد عصره وأوانه، ووحيد دهره وزمانه، صاحب التآليف العديدة، والفوائد الفريدة، والتحريرات المفيدة، خاتمة أعيان العلماء المتأخرين، من سمت بعلومه سماء المفاخر، فهو العلامة بالتحقيق، والفهامة عند أهل التدقيق والتنميق3.
وقال أيضاً:.... جمع من العلوم أصنافاً، ومن الفهوم أضعافاً، وفاق الجميع بالإتفاق، وانعقد عليه الإجماع من أهل الخلاف والوفاق4.
وقال مادحاً إياه5:
حوى السبق في كل المعارف يا له
… إمام همام حاز كل العوارف
وقد صار ممنوحاً بكل فضيلة
… بظل ظليل بالعوارف وارف
وحاز بجد واجتهاد ومنحةٍ
… لما عنه حقاً كل كل الغطارف
سقى الله ترباً ضمه وابل الحيا
… بجنات عدن آمناً من مخاوف
--------------------------------------------
ফতোয়া প্রদান (ইফতা), অধ্যাপনা, গবেষণা (تحقيق) এবং গ্রন্থ রচনার কাজে তিনি নিমগ্ন ছিলেন। তাঁর গ্রন্থসমূহ দেশ-বিদেশে খ্যাতি লাভ করেছিল। তাঁর প্রচুর বিরোধী ও শত্রু থাকা সত্ত্বেও, কেউ সেগুলোর সমালোচনা করার সুযোগ পায়নি এবং কেউ সেগুলোর দিকে অবজ্ঞার দৃষ্টিতে তাকাতেও সক্ষম হয়নি।১।
তিনি তাঁর সম্পর্কে আরও বলেন:
তিনি শরয়ি জ্ঞানসমূহে অগ্রগামী ছিলেন এবং সমাদৃত সাহিত্যশাস্ত্রেও পিছিয়ে ছিলেন না। তিনি শ্রেষ্ঠত্বের চূড়ান্ত শিখরে এবং শিষ্টাচারের সর্বোচ্চ স্তরে আসীন ছিলেন। তাঁর কাজ ছিল মানসম্পন্ন ও নিখুঁত (إتقان); এছাড়া তিনি হেদায়াত এবং দৃঢ় বিশ্বাসের (إيقان) ওপর অটল ছিলেন।২।
ঐতিহাসিক মুহাম্মদ কামালুদ্দিন আল-গাজ্জি (মৃত্যু ১২১৪ হিজরি) তাঁর সম্পর্কে বলেন:
তিনি শায়খুল মাশায়িখিল ইসলাম, বরেণ্য গবেষক (محقق) আলেমদের অন্যতম, আপন যুগের অদ্বিতীয় ও কালের অনন্য ব্যক্তিত্ব। তিনি বহু গ্রন্থ, দুর্লভ জ্ঞানগর্ভ শিক্ষা এবং উপকারী গবেষণাপত্রের রচয়িতা। তিনি পরবর্তী যুগের (متأخرين) বিদগ্ধ আলেমদের শেষ প্রতিনিধি, যাঁর জ্ঞানের দ্বারা গৌরবের আকাশ উচ্চতা লাভ করেছে। তিনি গবেষণার (تحقيق) ক্ষেত্রে মহাজ্ঞানী এবং সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ (تدقيق) ও অলঙ্করণ বিশারদদের নিকট প্রজ্ঞাবান হিসেবে স্বীকৃত।৩।
তিনি আরও বলেন: .... তিনি বিভিন্ন প্রকারের জ্ঞান এবং বহুগুণ প্রজ্ঞা অর্জন করেছিলেন। সর্বসম্মতিক্রমে তিনি সকলকে ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন এবং মতবিরোধকারী ও একমত পোষণকারী নির্বিশেষে সকলের ঐক্যমত (إجماع) তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।৪।
তাঁর প্রশংসা করে তিনি বলেন:৫।
তিনি সমস্ত বিদ্যায় অগ্রগামিতা অর্জন করেছেন, কি চমৎকার! তিনি এমন এক মহান ইমাম যিনি সকল উচ্চতর জ্ঞান লাভ করেছেন
… তিনি প্রতিটি শ্রেষ্ঠত্ব ও গুণের অধিকারী হয়েছেন, সুশীতল ছায়ার ন্যায় তাঁর জ্ঞান ও দাক্ষিণ্য চতুর্দিকে বিস্তৃত
… নিজ প্রচেষ্টা, কঠোর পরিশ্রম এবং ঐশ্বরিক দানে তিনি এমন এক স্তরে পৌঁছেছেন, যেখানে পৌঁছাতে বড় বড় গুণী ব্যক্তিরাও ক্লান্ত হয়ে পড়ে
… আল্লাহ সেই মাটিকে প্রচুর বৃষ্টিপাতে সিক্ত করুন যা তাঁকে ধারণ করে আছে, তাঁকে জান্নাতুল আদনে সকল ভয় থেকে মুক্ত ও নিরাপদ রাখুন
… --------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুর রুজহান বিসাওমি ইয়াউমিশ শাক্কি মিন রামাদান
(পৃষ্ঠা: ২১)
ولا زال رضوان الإله مباكراً
… ثرى ضمه ما حن بيت لطائف
وقال عنه العلامة عثمان بن عبد الله بن بشر، المتوفى سنة (1290هـ) :
الشيخ العالم العلامة، كانت له اليد الطولى في معرفة الفقه وغيره، صنف مصنفات عديدة في فنون من العلم1.
وقال عنه العلامة محمد بن عبد الله بن حميد (ت1295هـ) :
العالم العلامة، البحر الفهامة، المدقق المحقق، المفسر المحدث، الفقيه الأصولي النحوي، أحد أكابر علماء الحنابلة بمصر2.
وقال عنه العلامة عبد القادر بن بدران (ت1349هـ) :
العلامة بقية المجتهدين، أحد أكابر علماء هذا المذهب بمصر3.
وقال عنه المؤرخ محمد جميل الشطي (ت1379هـ) :
شيخ الإسلام أوحد العلماء الأعلام، فريد عصره وزمانه، ووحيد دهره
وأوانه، صاحب التآليف العديدة، والتحريرات المفيدة4.
--------------------------------------------
আল্লাহর সন্তুষ্টির বর্ষণ সর্বদা সেই পবিত্র মাটির ওপর অব্যাহত থাকুক যা তাঁকে ধারণ করেছে, যতক্ষণ বায়তুল্লাহর প্রতি ব্যাকুলতা বিদ্যমান থাকবে।
… আর তাঁর সম্পর্কে আল্লামা উসমান বিন আব্দুল্লাহ বিন বিশর (মৃত্যু: ১২৯০ হিজরি) বলেছেন:
তিনি ছিলেন শাইখ, বিজ্ঞ আলেম ও মহাপণ্ডিত; ফিকহ (فقه) ও অন্যান্য শাস্ত্রের জ্ঞানে তাঁর বিশেষ পারদর্শিতা ছিল। তিনি জ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন ১।
আর তাঁর সম্পর্কে আল্লামা মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন হুমাইদ (মৃত্যু: ১২৯৫ হিজরি) বলেছেন:
তিনি ছিলেন বিজ্ঞ আলেম, মহাপণ্ডিত, প্রজ্ঞার অতল সমুদ্র, সূক্ষ্মদর্শী গবেষক (محقق), মুফাসসির (مفسر), মুহাদ্দিস (محدث), ফকীহ (فقيه), উসুলবিদ (أصولي) ও ব্যাকরণবিদ; তিনি মিশরের হাম্বলী আলেমদের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন ২।
আর তাঁর সম্পর্কে আল্লামা আব্দুল কাদির বিন বদরান (মৃত্যু: ১৩৪৯ হিজরি) বলেছেন:
তিনি ছিলেন মহাপণ্ডিত ও মুজতাহিদগণের (مجتهدين) উত্তরসূরি এবং মিশরে এই মাযহাবের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলেম ৩।
আর ঐতিহাসিক মুহাম্মদ জামিল আশ-শাত্তি (মৃত্যু: ১৩৭৯ হিজরি) তাঁর সম্পর্কে বলেছেন:
তিনি ছিলেন শাইখুল ইসলাম, বরেণ্য আলেমদের মধ্যে অনন্য, তাঁর যুগের অপ্রতিদ্বন্দ্বী ও সময়ের অদ্বিতীয় ব্যক্তিত্ব; তিনি বহু গ্রন্থ ও উপকারী গবেষণালব্ধ রচনার রচয়িতা ৪।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুর রুজহান বিসাওমি ইয়াউমিশ শাক্কি মিন রামাদান
(পৃষ্ঠা: ২৫)
ثانياً: دراسة الكتاب
? نسبة الكتاب إلى المؤلف:
نسبة كتاب ((تحقيق الرجحان بصوم يوم الشك من رمضان)) لمصنفه مرعي بن يوسف الكرمي المقدسي الحنبلي، ثابتة ثبوتاً أكيداً، وذلك من خلال النظر إلى غلاف الكتاب الذي دوّن عليه العنوان، حيث كتب عليه اسم الكتاب، ومؤلفه.
كما أن نسبة الكتاب للمصنف قد وردت في كتب التراجم التالية:
- خلاصة الأثر للمحبي 4/359.
- النعت الأكمل للغزي 193.
- السحب الوابلة لابن حميد 465.
- إيضاح المكنون لإسماعيل باشا 1/265.
- هدية العارفين لإسماعيل باشا أيضاً 2/426.
- مختصر طبقات الحنابلة للشطي 98.
- مصطلحات الفقه الحنبلي للثقفي 222.
- مفاتيح الفقه الحنبلي له أيضاً 195.
وقد ورد عنوان الكتاب في معظم هذه المصادر كما أثبته، إلا أن ابن حميد في السحب الوابلة ص 465، ذكره بعنوان: تحقيق الرجحان في صوم يوم الغيم من رمضان، وهذا مخالف لكل من ذكر الكتاب ونسبه للمصنف، كما يخالف العنوان الذي ذكر على الغلاف، فضلاً عن أن المصنف في مقدمة الكتاب ذكره بنفس العنوان الذي أثبته.
দ্বিতীয়ত: গ্রন্থ পরিচিতি
? লেখকের প্রতি গ্রন্থটির সম্পৃক্ততা:
মারঈ বিন ইউসুফ আল-কারমী আল-মাকদিসী আল-হাম্বলীর প্রতি ‘তাহক্বীকুর রুজহান বি-সাওমি ইয়াউমিশ শাক্কি মিন রমাদান’ গ্রন্থটির সম্পৃক্ততা (نسبة) অকাট্যভাবে সাব্যস্ত (ثابتة)। এটি গ্রন্থের প্রচ্ছদ পর্যালোচনার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায়, যেখানে গ্রন্থটির নাম এবং এর রচয়িতা (مصنف)-এর নাম লিপিবদ্ধ রয়েছে।
এছাড়াও রচয়িতা (مصنف)-এর প্রতি গ্রন্থটির সম্পৃক্ততা (نسبة) নিম্নোক্ত জীবনীমূলক গ্রন্থ (كتب التراجم) সমূহে বর্ণিত হয়েছে:
- আল-মুহিব্বী রচিত খুলাসাতুল আসার ৪/৩৫৯।
- আল-গাযযী রচিত আন-নাতুল আকমাল ১৯৩।
- ইবনে হুমাইদ রচিত আস-সুহুবুল ওয়াবিলাহ ৪৬৫।
- ইসমাইল পাশা রচিত ঈযাহুল মাকনুন ১/২৬৫।
- ইসমাইল পাশা রচিত হাদিয়াতুল আরিফীন ২/৪২৬।
- আশ-শাত্তী রচিত মুখতাসার তাবাকাতুল হানাবিলাহ ৯৮।
- আস-সাক্বাফী রচিত মুসতালাহাতুল ফিকহিল হাম্বলী ২২২।
- আস-সাক্বাফী রচিত মাফাতিহুল ফিকহিল হাম্বলী ১৯৫।
অধিকাংশ উৎসে গ্রন্থটির শিরোনাম আমি যেভাবে সাব্যস্ত (ثابتة) করেছি সেভাবেই এসেছে। তবে ইবনে হুমাইদ ‘আস-সুহুবুল ওয়াবিলাহ’ (পৃষ্ঠা ৪৬৫)-এ শিরোনামটি ‘তাহক্বীকুর রুজহান ফী সাওমি ইয়াউমিল গাইমি মিন রমাদান’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এটি সেই সকল ব্যক্তিদের বর্ণনার বিপরীত (مخالف) যারা এই গ্রন্থটি সম্পর্কে আলোচনা করেছেন এবং রচয়িতা (مصنف)-এর প্রতি সম্পৃক্ত (نسبة) করেছেন। এছাড়া এটি প্রচ্ছদে উল্লিখিত শিরোনামের পরিপন্থী (مخالف)। অধিকন্তু, রচয়িতা (مصنف) নিজেও গ্রন্থের ভূমিকায় (مقدمة) শিরোনামটি সেভাবেই উল্লেখ করেছেন যেভাবে আমি তা সাব্যস্ত (ثابتة) করেছি।
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুর রুজহান বিসাওমি ইয়াউমিশ শাক্কি মিন রামাদান
(পৃষ্ঠা: ২৬)
موضوع الكتاب:
تحدث المصنف في كتابه هذا عن حكم صوم يوم الشك من رمضان.
حيث ذكر أنه لما رأى اختلاف العلماء قديماً وحديثاً في هذه المسألة، أراد أن يوضح في هذا الكتاب أقوالهم وأدلتهم.
وقد رتب المصنف كتابه هذا على مقدمة وأربعة أبواب، وخاتمة.
أما المقدمة: فقد تحدث فيها عن الشك، وكيفية وقوعه، ثم ذكر فيها الحالات التي يصام فيها يوم الشك، ومتى يجوز، أو يحرم، أو يكره، أو يستحب صومه، وحكم صيامه بنية رمضان، أو عن غير رمضان.
أما الباب الأول: فقد عرض فيه المصنف أقوال الأئمة الأربعة في حكم صوم يوم الشك، فذكر أولاً مذهب الحنفية، وبين الأوجه التي يصام فيها يوم الشك عندهم، ثم ذكر مذهب المالكية، فالشافعية، فالحنابلة.
أما الباب الثاني: فقد أورد فيه أقوال الصحابة القائلين بصوم يوم الشك.
أما الباب الثالث: فقد عرض فيه أدلة الحنابلة القائلين بوجوب صوم يوم الشك، وأورد الأحاديث بأسانيدها، وبيّن وجه الدلالة منها لمذهبهم، ثم أورد اعتراضات قد يوردها الخصم، وأجب عليها.
أما الباب الرابع والأخير: فقد أورد فيه أدلة العلماء القائلين بعدم وجوب صوم يوم الشك، والقائلين بحرمته، ثم أعقب ذلك بالإجابة على تلك الأدلة وناقشها.
أما الخاتمة: فقد بيّن المصنف فيها أنه ينبغي ترك الإعتراض على الأئمة مبيناً الأسباب الداعية إلى التسليم لهم، وذكر أن جمهور العلماء رجحوا القول بأن كل مجتهد مصيب، وأنه ينبغي عدم التطاول على العلماء أو التعرض لهم بسوء.
গ্রন্থের বিষয়বস্তু:
মুসান্নিফ (গ্রন্থকার) তাঁর এই গ্রন্থে রমজানের সন্দেহযুক্ত দিনে (يوم الشك) রোজা রাখার বিধান সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।
যেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, যখন তিনি এই মাসআলার বিষয়ে প্রাচীন ও বর্তমান আলেমদের মধ্যকার মতপার্থক্য লক্ষ্য করলেন, তখন তিনি তাঁদের বক্তব্য ও দলীলসমূহ এই গ্রন্থে স্পষ্ট করতে চাইলেন।
মুসান্নিফ তাঁর এই গ্রন্থটিকে একটি ভূমিকা, চারটি অধ্যায় এবং একটি উপসংহারে বিন্যস্ত করেছেন।
ভূমিকা প্রসঙ্গে: এতে তিনি সন্দেহ (الشك) এবং তা কীভাবে ঘটে সে সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। অতঃপর তিনি সেই অবস্থাগুলো উল্লেখ করেছেন যাতে সন্দেহযুক্ত দিনে রোজা রাখা হয়; এবং কখন এই রোজা রাখা জায়েজ (يجوز), হারাম (يحرم), মাকরূহ (يكره) কিংবা মুস্তাহাব (يستحب) হয়। এছাড়া রমজানের নিয়তে বা রমজান ব্যতীত অন্য কোনো নিয়তে এই রোজা রাখার বিধানও বর্ণনা করেছেন।
প্রথম অধ্যায় প্রসঙ্গে: এতে মুসান্নিফ সন্দেহযুক্ত দিনে রোজা রাখার বিধান সম্পর্কে চার ইমামের অভিমত উপস্থাপন করেছেন। প্রথমে তিনি হানাফি মাযহাবের কথা উল্লেখ করেছেন এবং তাঁদের নিকট সন্দেহযুক্ত দিনে রোজা রাখার পদ্ধতিসমূহ বর্ণনা করেছেন। এরপর ধারাবাহিকভাবে মালিকি, শাফেয়ি ও হাম্বলি মাযহাবের কথা উল্লেখ করেছেন।
দ্বিতীয় অধ্যায় প্রসঙ্গে: এতে তিনি ঐসব সাহাবীদের বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন যাঁরা সন্দেহযুক্ত দিনে রোজা রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন।
তুতীয় অধ্যায় প্রসঙ্গে: এতে তিনি সেই সকল হাম্বলিদের দলীলসমূহ উপস্থাপন করেছেন যাঁরা সন্দেহযুক্ত দিনে রোজা রাখাকে ওয়াজিব (وجوب) মনে করেন। তিনি বর্ণনাসূত্রসহ (أسانيد) হাদিসগুলো উল্লেখ করেছেন এবং তাঁদের মাযহাবের সপক্ষে দলীলের প্রয়োগরীতি (وجه الدلالة) স্পষ্ট করেছেন। অতঃপর প্রতিপক্ষ যেসব আপত্তি উত্থাপন করতে পারে তা উল্লেখ করে তার উত্তর প্রদান করেছেন।
চতুর্থ ও শেষ অধ্যায় প্রসঙ্গে: এতে তিনি ঐসব আলেমদের দলীল উল্লেখ করেছেন যাঁরা সন্দেহযুক্ত দিনে রোজা রাখা ওয়াজিব নয় বলে মনে করেন এবং যাঁরা এর নিষিদ্ধতার (حرمته) প্রবক্তা। এরপর তিনি উক্ত দলীলগুলোর জবাব দিয়েছেন এবং সেগুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন।
উপসংহার প্রসঙ্গে: এতে মুসান্নিফ স্পষ্ট করেছেন যে, ইমামদের ওপর আপত্তি করা বর্জন করা উচিত এবং তাঁদের প্রতি আনুগত্য প্রকাশের কারণসমূহ বর্ণনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, জুমহুর (جمهور) আলেম এই মতটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন যে, প্রত্যেক মুজতাহিদই (مجتهد) সঠিক; আর আলেমদের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন বা তাঁদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা থেকে বিরত থাকা উচিত।
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুর রুজহান বিসাওমি ইয়াউমিশ শাক্কি মিন রামাদান
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وصف النسخ المعتمدة في التحقيق
اعتمدت في تحقيق هذا الكتاب على ثلاث نسخ خطية.
وإليك وصفاً شاملاً لكل واحدة من تلك النسخ:
?النسخة الأولى?
وهي النسخة المحفوظة بالمكتبة الظاهرية بدمشق، ضمن مجموع يحتوي على عدة رسائل.
وهذا الكتاب هو الرسالة السابعة في الترتيب، ويبدأ من ورقة (71-84) ، وهذا المجموع محفوظ تحت رقم: (58) 1.
وقد كتبت هذه النسخة بخط عادي، وعدد أوراقها أربع عشرة ورقة، وعدد أسطرها خمسة وعشرون سطراً، في كل سطر: إحدى عشرة كلمة تقريباً.
وتاريخ نسخها: يوم الخميس 26 محرم سنة 1154هـ، كما ورد ذلك في آخرها، حيث قال ناسخها:
[وكان الفراغ من كتابة هذه المقدمة على يد العبد الفقير عبد الرحمن بن يوسف بن غنائم بن عنايا الحنبلي، المقدسي، الأزهري، الشامي، سنة 1154هـ، ألف ومائة في شهر الله المحرم، نهار سادس وعشرين، نهار الخميس سنة ألف ومائة وأربعة وخمسين] ، انتهى.
وقد اعتبرت هذه النسخة أصلاً، وذلك لأنها أقرب النسخ الثلاث إلى زمن المؤلف، ولقلة السقط والأخطاء فيها.
--------------------------------------------
সম্পাদনায় (تحقيق) নির্ভরযোগ্য (المعتمدة) পাণ্ডুলিপিগুলোর (النسخ) বর্ণনা
এই গ্রন্থটি সম্পাদনার (تحقيق) ক্ষেত্রে আমি তিনটি হস্তলিখিত (خطية) পাণ্ডুলিপির (نسخة) ওপর নির্ভর করেছি।
উক্ত পাণ্ডুলিপিগুলোর (نسخة) প্রত্যেকটির বিস্তারিত বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
প্রথম পাণ্ডুলিপি (النسخة الأولى)
এটি দামেস্কের জাহিরিয়া লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত একটি সংকলনের (مجموع) অন্তর্ভুক্ত, যাতে বেশ কিছু রিসালা (رسالة) রয়েছে।
এই গ্রন্থটি ক্রমানুসারে সপ্তম রিসালা (رسالة), যা ৭১-৮৪ নম্বর পৃষ্ঠা (ورقة) পর্যন্ত বিস্তৃত এবং এই সংকলনটি (مجموع) ৫৮/১ নম্বরের অধীনে সংরক্ষিত।
এই পাণ্ডুলিপিটি (نسخة) সাধারণ হস্তলিপিতে লিখিত, এর পৃষ্ঠাসংখ্যা চৌদ্দটি এবং প্রতি পৃষ্ঠায় পঁচিশটি করে লাইন রয়েছে। প্রতি লাইনে আনুমানিক এগারোটি করে শব্দ রয়েছে।
এটি অনুলিপি (نسخ) করার তারিখ: বৃহস্পতিবার, ২৬শে মহররম, ১১৫৪ হিজরি। যেমনটি এর শেষে উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে এর অনুলিপিকার (ناسخ) বলেন:
[এই ভূমিকাটি (مقدمة) লিখে সমাপ্ত করেছেন অভাবী বান্দা আবদুর রহমান বিন ইউসুফ বিন গানায়িম বিন আনায়া আল-হাম্বলি, আল-মাকদিসি, আল-আযহারি, আশ-শামি; ১১৫৪ হিজরি সালে, আল্লাহর মাস মহররমের ছাব্বিশ তারিখ, বৃহস্পতিবার, এক হাজার একশত চুয়ান্ন সনে]। সমাপ্ত।
এই পাণ্ডুলিপিটিকে (نسخة) মূল ভিত্তি (أصل) হিসেবে গণ্য করা হয়েছে; কারণ এটি তিনটি পাণ্ডুলিপির (نسخة) মধ্যে লেখকের (المؤلف) সময়ের সবচেয়ে নিকটবর্তী এবং এতে পাঠচ্যুতি (سقط) ও ভুল-ভ্রান্তি কম রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুর রুজহান বিসাওমি ইয়াউমিশ শাক্কি মিন রামাদান
(পৃষ্ঠা: ২৮)
النسخة الثانية?
هي أحدى محفوظات دار الكتب المصرية، فقه حنبلي، تحت رقم (153) ، وقد وقفت على هذه النسخة، واطلعت عليها بنفسي.
وعدد أوراقها: إحدى عشرة ورقة، في كل ورقة: سبعة وعشرون سطراً، في كل سطر حوالي أربع عشرة كلمة، مكتوبة بخط عادي.
وقد نسخت يوم الأربعاء 26/ شعبان سنة 1190هـ، حيث ورد في آخرها قول الناسخ:
[وقد تم نسخها يوم الأربعاء المبارك سادس وعشرين من شهر شعبان، سنة 1190، ألف ومائة وتسعين، على يد الفقير: محمد بن خير الدين فتيان الشافعي النابلسي
… ] .
وقد رمزت لهذه النسخة بـ (ك) .
?النسخة الثالثة?
عثرت على هذه النسخة في قسم المخطوطات بجامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية بالرياض، وهي إحدى المحفوظات فيه، تحت رقم 4963/خ.
وعدد أوراق هذه النسخة ثماني عشرة ورقة، كل ورقة: سبعة عشر سطراً، كل سطر: بمعدل عشر كلمات، وقد كتبت بخط عادي رديء، إذ أنها مليئة بالأخطاء الإملائية والنحوية، إذ لا تخلو صفحة واحدة من عدة أخطاء إملائية ونحوية.
ويعود تاريخ نسخها إلى سنة 1315هـ، إذ ورد في آخرها ما نصه:
[وهذه النسخة منقولة من قلم المرحوم عبد الرحمن بن عبد العزيز بن أحمد بن عبد الرحمن الزبيري مسكناً موطناً، الحنبلي مذهباً، عفا الله عنه وعن والديه، في شهر صفة سنة 1227هـ، والله أعلم.
দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপি?
এটি ‘দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ’-তে সংরক্ষিত সংগ্রহগুলোর অন্যতম, বিষয়: হাম্বলি ফিকহ, নম্বর: (১৫৩)। আমি এই পাণ্ডুলিপিটি পরীক্ষা করেছি এবং ব্যক্তিগতভাবে এটি পর্যবেক্ষণ করেছি।
এর পত্রসংখ্যা: এগারোটি পাতা। প্রতি পাতায় সাতাইশটি লাইন এবং প্রতি লাইনে প্রায় চৌদ্দটি শব্দ রয়েছে। এটি সাধারণ হস্তাক্ষরে লিখিত।
এটি বুধবার, ২৬ শাবান ১১৯০ হিজরিতে অনুলিপি করা হয়েছে। এর শেষে অনুলিপিকারীর বক্তব্য এভাবে এসেছে:
[এই অনুলিপিটি সম্পন্ন হয়েছে বরকতময় বুধবার, শাবান মাসের ছাব্বিশ তারিখে, ১১৯০ (এক হাজার একশত নব্বই) সনে, অভাবী বান্দা: মুহাম্মদ ইবনে খাইরুদ্দিন ফিতইয়ান আশ-শাফেয়ি আন-নাবুলুসি
… এর হাতে]।
আমি এই পাণ্ডুলিপিটিকে (কাফ) সংকেত দ্বারা চিহ্নিত করেছি।
তৃতীয় পাণ্ডুলিপি?
আমি এই পাণ্ডুলিপিটি রিয়াদের ইমাম মুহাম্মদ ইবনে সউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাণ্ডুলিপি বিভাগে পেয়েছি। এটি সেখানে সংরক্ষিত সংগ্রহগুলোর অন্যতম, যার নম্বর ৪৯৬৩/খ।
এই পাণ্ডুলিপির পত্রসংখ্যা আঠারোটি। প্রতি পাতায় সতেরোটি লাইন এবং প্রতি লাইনে গড়ে দশটি শব্দ রয়েছে। এটি সাধারণ এবং নিম্নমানের হস্তাক্ষরে লিখিত; কারণ এটি বানান ও ব্যাকরণগত ভুলে পরিপূর্ণ। এমনকি একটি পৃষ্ঠাও একাধিক বানান ও ব্যাকরণগত ভুল থেকে মুক্ত নয়।
এর অনুলিপিকরণের ইতিহাস ১৩১৫ হিজরি সনের। এর শেষে নিম্নোক্ত পাঠটি বর্ণিত হয়েছে:
[এই পাণ্ডুলিপিটি মরহুম আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুল আজিজ ইবনে আহমদ ইবনে আব্দুর রহমান আজ-জুবাইরির (আবাস ও জন্মসূত্রে জুবাইরি) কলম থেকে অনুলিপি করা হয়েছে, যিনি মাযহাবগতভাবে হাম্বলি ছিলেন। আল্লাহ তাকে এবং তার পিতামাতাকে ক্ষমা করুন। এটি ১২২৭ হিজরির সফর মাসে সম্পন্ন হয়েছে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুর রুজহান বিসাওমি ইয়াউমিশ শাক্কি মিন রামাদান
(পৃষ্ঠা: ২৯)
كتبت هذه النسخة عصر يوم الجمعة ربيع أول 22، سنة 1315هـ، من أولها مقابلة إلى هذه الصفحة الأخيرة، بقلم بعض أصحابنا عن أمرنا ونظرنا، لأن هذا المجموع كله لي، وفي حوزتي، وأنا الفقير إلى الله تعالى، عبد الله ابن الشيخ إبراهيم الغملاس الحنبلي، كان الله له، ومعينه. آمين] انتهى.
وقد رمزت لهذه النسخة بـ (س) .
এই পাণ্ডুলিপি (نسخة) টি ১৩১৫ হিজরি সালের ২২শে রবিউল আউয়াল, শুক্রবার আসরের সময় লিখিত হয়েছে। এর শুরু থেকে এই শেষ পৃষ্ঠা পর্যন্ত আমাদের নির্দেশ ও তত্ত্বাবধানে আমাদের জনৈক সঙ্গীর লেখনীর মাধ্যমে পাঠ-সংকলন (مقابلة) করা হয়েছে। কারণ এই সম্পূর্ণ সংকলন (مجموع) টি আমার এবং আমারই অধিকারে। আর আমি মহান আল্লাহর মুখাপেক্ষী, আবদুল্লাহ ইবন শেখ ইবরাহিম আল-গুমলাস আল-হাম্বলি; আল্লাহ তাঁর সহায় ও সাহায্যকারী হোন। আমিন।] সমাপ্ত।
আর আমি এই পাণ্ডুলিপি (نسخة) টিকে 'স' প্রতীক (رمز) দ্বারা চিহ্নিত করেছি।
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুর রুজহান বিসাওমি ইয়াউমিশ শাক্কি মিন রামাদান
(পৃষ্ঠা: ৩০)
عملي في التحقيق
يتلخص عملي في تحقيق هذا الكتاب بالآتي:
أولاً: لما كانت النسخة الظاهرية هي أقرب النسخ الثلاث من زمن المؤلف، حيث إن تاريخ نسخها كان سنة (1154هـ) ، ووفاة المؤلف كانت سنة (1033هـ) ، ولأن هذه النسخة قليلة السقط والأخطاء، لذا فقد اعتبرتها أصلاً، فنسختها، وقابلت النسختين الأخريين عليها، حيث رمزت لنسخة دار الكتب المصرية بـ (ك) ، ولنسخة جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية بـ (س) .
ثانياً: نسخت الأصل حسب قواعد الإملاء والخط الحديثة.
ثالثاً: قابلت النسختين الأخريين على الأصل، وأوضحت الفروق بينهما وبين الأصل، فما كان من خطأ أو سقط أو فرق، أشرت إليه في الحاشية، مبيناً مكانه من النسخ الثلاث.
? رابعاً: قد يقتضي السياق في بعض الأحيان إضافة عبارة أوكلمة ما، لا يستقيم المعنى إلا بها، فأضيفها في الأصل، وأشير إلى ذلك في الحاشية، علماً بأن هذا نادر جداً.
? خامساً: رقمت الآيات القرآنية الكريمة الواردة في الكتاب، وتثبت منها في مواضعها من المصحف الشريف، وأشرت في الحاشية إلى رقم الآية واسم السورة.
سادساً: قمت بتخريج الأحاديث النبوية الشريفة، فإن كان الحديث في الصحيحين أو في أحدهما، اكتفيت بتخريجه منهما أو من أحدهما، وإن لم يكن كذلك، بحثت عنه في مظانه من كتب الأحاديث الأخرى، كالسنن،
সম্পাদনায় আমার পদ্ধতি
এই গ্রন্থটি সম্পাদনার (تحقيق) ক্ষেত্রে আমার কর্মপদ্ধতি নিম্নরূপ:
প্রথমত: যেহেতু জাহিরিয়া পাণ্ডুলিপিটি লেখকের সময়ের সবচেয়ে কাছাকাছি—এর অনুলিপি করার তারিখ ছিল ১১৫৪ হিজরি এবং লেখকের মৃত্যু হয়েছিল ১০৩৩ হিজরিতে—এবং যেহেতু এই পাণ্ডুলিপিতে স্খলন (سقط) ও ভুলভ্রান্তি কম ছিল, তাই আমি এটিকে মূল (أصل) হিসেবে গ্রহণ করেছি। অতঃপর আমি এটি অনুলিপি করেছি এবং অন্য দুটি পাণ্ডুলিপির সাথে এর তুলনা করেছি। সেখানে আমি মিসরীয় কুতুবখানা পাণ্ডুলিপিকে (ক) এবং ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় পাণ্ডুলিপিকে (স) প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত করেছি।
দ্বিতীয়ত: আমি আধুনিক বানান ও লিখনরীতি অনুযায়ী মূল পাঠটি অনুলিপি করেছি।
第三ত: আমি মূল পাঠের সাথে অন্য দুটি পাণ্ডুলিপির তুলনা করেছি এবং মূল পাঠের সাথে সেগুলোর পার্থক্য স্পষ্ট করেছি। কোনো ভুল, স্খলন (سقط) বা পার্থক্য থাকলে আমি টীকায় তা উল্লেখ করেছি এবং তিনটি পাণ্ডুলিপিতে তার অবস্থান নির্দেশ করেছি।
চতুর্থত: কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিকতার খাতিরে এমন কোনো শব্দ বা বাক্য যোগ করার প্রয়োজন হতে পারে যার ব্যতিরেকে অর্থ স্পষ্ট হয় না; সেক্ষেত্রে আমি মূল পাঠে তা যোগ করেছি এবং টীকায় সেদিকে ইঙ্গিত করেছি। তবে উল্লেখ্য যে, এটি অত্যন্ত বিরল।
পঞ্চমত: আমি গ্রন্থে উল্লিখিত কুরআনের আয়াতসমূহের নম্বর প্রদান করেছি এবং পবিত্র মাসহাফের নির্দিষ্ট স্থান থেকে তা যাচাই করেছি। টীকায় আমি আয়াত নম্বর ও সূরার নাম উল্লেখ করেছি।
ষষ্ঠত: আমি হাদিসসমূহের সূত্র নির্দেশ (تخريج) করেছি। হাদিসটি যদি সহীহাইন বা তাদের কোনো একটিতে থাকে, তবে আমি কেবল সেখান থেকেই সূত্র নির্দেশ (تخريج) করার ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছি। আর যদি তা না হয়, তবে আমি হাদিসের অন্যান্য উৎস গ্রন্থ যেমন সুনান গ্রন্থসমূহে তা অনুসন্ধান করেছি।
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুর রুজহান বিসাওমি ইয়াউমিশ শাক্কি মিন রামাদান
(পৃষ্ঠা: ৩১)
والمسانيد، والمصنفات، ثم بحثت عن قوة ذلك الحديث وضعفه في الكتب التي تهتم بهذا الشأن، ثم أبين درجته.
سابعاً: ثبت أقوال الفقهاء الواردة في الكتاب من مصادرها الأصيلة، فنقلت أقوال كل إمام من كتب مذهبه، وبينت القول الصواب المعتمد في المذهب إن وجد أكثر من قول في المسألة.
ثامناً: شرحت الألفاظ والكلمات الغريبة الواردة في الكتاب، والتي تحتاج إلى بيان، معتمداً في ذلك على الكتب التي تهتم بهذا الشأن.
تاسعاً: ترجمت لجميع الأعلام الذي أوردهم المصنف في كتابه ترجمة موجزة، عند ذكر العلم أول مرة، وأشرت في الحاشية إلى مصادر ترجمته.
عاشراً: وضعت فهارس عامة للكتاب في آخره، تعين القارئ عند الرجوع إلى بغيته منه، فاشتملت هذه الفهارس على الآتي:
(1) فهرس للآيات القرآنية الكريمة، مرتبة حسن ترتيب السور في المصحف الشريف.
(2) فهرس للأحاديث النبوية الشريفة، مرتبة على الحروف الهجائية.
(3) فهرس لأثار الصحابة والتابعين، مرتبة على الحروف الهجائية.
(4) فهرس للأعلام المترجم لهم وقد رتبتهم ترتيباً هجائياً.
(5) فهرس للمصادر والمراجع التي اعتمدت عليها في إخراج هذا الكتاب مرتبة على الفنون.
فهرس تفصيلي للموضوعات الواردة في الكتاب.
এবং মুসনাদ ও মুসান্নাফ গ্রন্থসমূহ। এরপর আমি উক্ত হাদিসের সবলতা (قوة) ও দুর্বলতা (ضعف) নিয়ে সংশ্লিষ্ট কিতাবসমূহে অনুসন্ধান করেছি এবং পরবর্তীতে এর মান (درجة) বর্ণনা করেছি।
সপ্তম: কিতাবে বর্ণিত ফকিহগণের উক্তিগুলো তাঁদের মূল উৎস থেকে যাচাই করেছি। আমি প্রত্যেক ইমামের বক্তব্য তাঁর মাযহাবের কিতাবসমূহ থেকে উদ্ধৃত করেছি এবং কোনো মাসআলায় একাধিক বক্তব্য থাকলে মাযহাবের সঠিক ও নির্ভরযোগ্য (معتمد) মতটি বর্ণনা করেছি।
অষ্টম: কিতাবে ব্যবহৃত যে সকল দুর্বোধ্য (غريب) শব্দ ও পরিভাষার ব্যাখ্যার প্রয়োজন ছিল, সংশ্লিষ্ট কিতাবসমূহের ওপর নির্ভর করে আমি সেগুলো ব্যাখ্যা করেছি।
নবম: মুসান্নিফ তাঁর কিতাবে যে সকল বরেণ্য ব্যক্তিত্বের নাম উল্লেখ করেছেন, তাঁদের নাম প্রথমবার আসার সময় একটি সংক্ষিপ্ত জীবনী প্রদান করেছি এবং পাদটীকায় তাঁদের জীবনীর উৎসগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করেছি।
দশম: কিতাবের শেষে সাধারণ নির্ঘণ্ট যুক্ত করেছি, যা পাঠককে তার কাঙ্ক্ষিত বিষয় খুঁজে পেতে সহায়তা করবে। নির্ঘণ্টগুলো নিম্নোক্ত বিষয়গুলো নিয়ে গঠিত:
(১) পবিত্র কুরআনের আয়াতসমূহের নির্ঘণ্ট, যা মুসহাফের সূরাগুলোর বিন্যাস অনুযায়ী সাজানো হয়েছে।
(২) নবিজির হাদিসসমূহের নির্ঘণ্ট, যা বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজানো।
(৩) সাহাবী ও তাবিঈগণের আছার (أثار) সমূহের নির্ঘণ্ট, যা বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজানো।
(৪) যে সকল বরেণ্য ব্যক্তির জীবনী প্রদান করা হয়েছে তাঁদের নির্ঘণ্ট; আমি তাঁদের বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজিয়েছি।
(৫) কিতাবটি সম্পাদনায় যে সকল মূল উৎস ও সহায়ক গ্রন্থের ওপর নির্ভর করা হয়েছে সেগুলোর নির্ঘণ্ট, যা বিষয়ভিত্তিক বিন্যস্ত।
কিতাবে বর্ণিত বিষয়াবলির বিস্তারিত নির্ঘণ্ট।
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুর রুজহান বিসাওমি ইয়াউমিশ শাক্কি মিন রামাদান
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
مقدمة المؤلفمقدمة المؤلف
…القسم التحقيقي
بسم الله الرحمن الرحيم
[وبه ثقتي، وعلي توكلي] 1
[اللهم] 2 لا آلاء إلا آلاؤك، يا ذا الآلاء لا إله إلا أنت، لا معونة إلا بك، الحمد لله ذي الطول والإحسان، [والعفو والغفران] 3، والجود والإمتنان، الذي جعل عدة الشهور اثني عشر شهراً من قديم الزمان، وجعل أعظمها، وأفضلها شهر رمضان، وأوجب صيامه، وسن قيامه على أهل الإيمان، أحمده سبحانه على ما منح من مزيد فضل وعرفان، وأشكره شكر معترف بنعمه، مغترف من بحر كرمه وموجه الهتان، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، شهادة ينزاح معها غيم الشك4، ويلوح بها هلال الإيقان، وأشهد أن سيدنا محمداً عبده ورسوله، أفضل العالمين على الإطلاق، وسيد الأكوان، صلى الله وسلم عليه صلاة تملأ العرش والفرش والأركان، وعلى آله وأصحابه، [القائل كثير منهم: لأن أصوم يوماً من] 5 شعبان أحب إلي من أن أفطر يوماً من رمضان6. صلاة وسلاماً دائمين متلازمين، لا يعتريهما نقصان، وسلم تسليماً.
أما بعد: فيقول أحقر الورى، وأذل الفقراء، مرعي بن يوسف المقدسي الحنبلي: إن الأئمة العلماء المجتهدين7، والسادة الفضلاء
--------------------------------------------
লেখকের ভূমিকালেখকের ভূমিকা
…গবেষণা ও সম্পাদনা বিভাগ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি
[তাঁরই ওপর আমার নির্ভরতা এবং তাঁরই প্রতি আমার ভরসা] ১
[হে আল্লাহ!] ২ আপনার নিআমত ব্যতীত কোনো প্রকৃত নিআমত নেই, হে নিআমতসমূহের মালিক! আপনি ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই। আপনার সাহায্য ব্যতীত কোনো সাহায্য নেই। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি মহানুভবতা ও ইহসানের অধিকারী, [ক্ষমা ও মার্জনা] ৩, এবং দান ও বদান্যতার মালিক; যিনি অনাদিকাল থেকে মাসের সংখ্যা বারোটি নির্ধারণ করেছেন এবং তাদের মধ্যে রমজান মাসকে সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বোত্তম করেছেন। আর ঈমানদারদের ওপর এর সিয়াম (রোজা) ফরজ করেছেন এবং এর কিয়াম (রাতের নামাজ) সুন্নাত সাব্যস্ত করেছেন। আমি তাঁর সুপবিত্র প্রশংসা করছি তাঁর প্রদান করা অতিরিক্ত ফজল ও মারেফাতের জন্য। আমি তাঁর নিআমতসমূহের স্বীকৃতি প্রদানকারী হিসেবে এবং তাঁর বদান্যতা ও প্রবল রহমতের বর্ষণের সমুদ্র থেকে গ্রহণকারী হিসেবে তাঁর শুকরিয়া আদায় করছি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই, তিনি এক এবং অদ্বিতীয়, তাঁর কোনো শরিক নেই; এমন এক সাক্ষ্য যার মাধ্যমে সন্দেহের মেঘমালা দূরীভূত হয় এবং সুনিশ্চিত বিশ্বাসের হিলাল (উদিত চন্দ্র) উদ্ভাসিত হয়। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসুল, যিনি নিরঙ্কুশভাবে সকল সৃষ্টির মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং মহাবিশ্বের সরদার। তাঁর ওপর, তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সাহাবীদের ওপর এমন রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক যা আরশ, জমিন ও এর প্রতিটি প্রান্ত পূর্ণ করে দেয়। [তাদের অনেকে বলতেন: শাবান মাসে একদিন রোজা রাখা আমার নিকট রমজান মাসে একদিন রোজা ভঙ্গ করার চেয়ে অধিক প্রিয়] ৫। এমন রহমত ও শান্তি যা সর্বদা বিদ্যমান ও অবিচ্ছিন্ন থাকে, যাতে কোনো ঘাটতি আসে না। এবং তাঁর ওপর সালাম বর্ষিত হোক।
অত:পর: সৃষ্টির মধ্যে অতি নগণ্য এবং অভাবী মারঈ ইবন ইউসুফ আল-মাকদিসি আল-হানবালি বলছেন: নিশ্চয়ই ইমামগণ, আলিমগণ, মুজতাহিদ (مجتهدين) ৭ এবং মর্যাদাবান ব্যক্তিবর্গ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুর রুজহান বিসাওমি ইয়াউমিশ শাক্কি মিন রামাদান
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
الراسخين، قد اختلفوا في صوم يوم الشك قديماً وحديثاً، ورووا بذلك آثاراً وحديثاً.
فمنهم من ذهب إلى وجوب صومه احتياطاً.
ومنهم من ذهب إلى تحريمه استباطاً.
ومنهم من ذهب إلى جواز صومه مع كراهة التنزيه.
ومنهم من ذهب إلى الجواز من غير كراهة ولا تمويه.
ولم يزل الناس في أمر صوم يوم الشك، كل عام يضطربون، ويحتارون في أنفسهم كيف يصومون؟ ولمن يقلدون؟
فلما رأيت ذلك، وشاهدت ما هنالك، أحببت أن أذكر في هذه المسألة بيان1 مذاهب الأئمة الأربعة2 المجتهدين، وبيان أدلتهم في ذلك، ترغيباً للمقلدين، ناحياً في ذلك سبيل الإنصاف، مجانباً طريق الميل والإعتساف، وسميته: (تحقيق الرجحان بصوم يوم الشك من رمضان)
فأقول وبالله التوفيق، ومنه أرجو الهداية إلى أقوم طريق:
--------------------------------------------
সুপ্রতিষ্ঠিত বিদ্বানগণ (الراسخين), প্রাচীনকাল ও আধুনিক যুগে সন্দেহের দিন (يوم الشك) রোজা রাখা সম্পর্কে মতভেদ করেছেন এবং এ বিষয়ে বিভিন্ন বর্ণনা (آثار) ও হাদিস বর্ণনা করেছেন।
তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ সতর্কতা (احتياط) স্বরূপ সেদিন রোজা রাখাকে ওয়াজিব (وجوب) সাব্যস্ত করার দিকে গিয়েছেন।
আবার তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্তের (استنباط) ভিত্তিতে তা হারাম (تحريم) হওয়ার অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ মাকরূহে তানজিহী (كراهة التنزيه) সহকারে তা জায়েজ (جواز) হওয়ার দিকে গিয়েছেন।
আবার তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ কোনো প্রকার মাকরূহ (كراهة) বা অস্পষ্টতা ছাড়াই তা জায়েজ (جواز) হওয়ার দিকে গিয়েছেন।
সন্দেহের দিন (يوم الشك) রোজা রাখার বিষয়ে মানুষ সর্বদা প্রতি বছর দ্বিধাগ্রস্ত থাকে এবং নিজেদের মনে বিভ্রান্ত হয় যে, তারা কীভাবে রোজা রাখবে? আর তারা কার অনুসরণ (تقليد) করবে?
যখন আমি এটি দেখলাম এবং সেখানে বিদ্যমান পরিস্থিতি প্রত্যক্ষ করলাম, তখন অনুসরণকারীদের (مقلدين) আগ্রহী করার উদ্দেশ্যে এই মাসআলায় চার মুজতাহিদ (مجتهدين) ইমামের মাযহাব (مذاهب) এবং এ বিষয়ে তাঁদের দলিলসমূহ (أدلة) বর্ণনা করা পছন্দ করলাম। এক্ষেত্রে আমি ইনসাফ বা ন্যায়নিষ্ঠার পথ অবলম্বন করেছি এবং পক্ষপাত ও অন্যায়ের পথ পরিহার করেছি। আমি এর নাম দিয়েছি: ‘তাহকিকুর রুজহান বিসাওমি ইয়াওমিশ শাক্কি মিন রামাদান’।
অতঃপর আমি বলছি—আর আল্লাহর কাছেই তাওফিক বা সামর্থ্য প্রার্থনা করছি এবং তাঁরই নিকট সরলতম পথের হিদায়াত কামনা করছি:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুর রুজহান বিসাওমি ইয়াউমিশ শাক্কি মিন রামাদান
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
مقدمة
اعلم –وفقك الله تعالى- أن الشك عبارة عما استوى فيه طرف1 العلم والجهل2، وذلك بأن يغم هلال رمضان، بنحو سحاب وقتر3 في اليوم التاسع والعشرين من شعبان، فيقع الشك في اليوم4 الثلاثين أنه من شعبان أو رمضان.
وهذه المسألة، قد اختلف فيها علماء السلف ومن بعدهم:
فمنهم من صام يوم الشك من رمضان5 مطلقاً في الصحو والغيم6 احتياطاً، وبعضهم كره صومه مطلقاً في الصحو والغيم7 كراهة الزيادة في الشهر.
وبعضهم فرق /8 بين الصحو والغيم، لظهور العدم في الصحو دون الغيم، فالذين صاموه احتياطاً إنما صاموه لجواز أن يكون قد رآه غيرهم فيقضونه فيما بعد، وأما لو علموا أنه لم يره أحد لم يصوموا9.
--------------------------------------------
উপক্রমণিকা
জেনে রাখুন—আল্লাহ তাআলা আপনাকে তাওফিক দান করুন—যে, সন্দেহ (الشك) হলো এমন এক বিষয় যাতে জ্ঞান (العلم) এবং অজ্ঞতা (الجهل) এর উভয় দিক সমান হয়ে যায়। আর তা এভাবে হয় যে, শাবান মাসের উনত্রিশ তারিখে মেঘ কিংবা ধূলিকণা (القتر) সদৃশ কোনো কারণে রমজানের চাঁদ উহ্য থেকে যায়, ফলে ত্রিশতম দিনটি শাবানের নাকি রমজানের—সে বিষয়ে সন্দেহ (الشك) তৈরি হয়।
এই মাসআলার ক্ষেত্রে সালাফ (السلف) এবং তাঁদের পরবর্তী উলামায়ে কেরাম মতভেদ করেছেন:
তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ আকাশ পরিষ্কার হোক বা মেঘাচ্ছন্ন, সতর্কতা স্বরূপ (احتياطاً) সন্দেহযুক্ত দিনটিতে (يوم الشك) রমজানের নিয়তে ঢালাওভাবে রোজা রাখতেন। আবার কেউ কেউ মাসে অতিরিক্ত বৃদ্ধির আশঙ্কায় আকাশ পরিষ্কার বা মেঘাচ্ছন্ন উভয় অবস্থাতেই এই দিনে রোজা রাখাকে ঢালাওভাবে অপছন্দনীয় (كره) মনে করতেন।
অন্যান্যরা আকাশ পরিষ্কার থাকা এবং মেঘাচ্ছন্ন থাকার মধ্যে পার্থক্য করেছেন; কারণ আকাশ পরিষ্কার থাকলে চাঁদ না থাকার বিষয়টি স্পষ্ট হয়, যা মেঘাচ্ছন্ন অবস্থায় হয় না। যারা সতর্কতা স্বরূপ (احتياطاً) রোজা রাখতেন, তারা কেবল এই সম্ভাবনা থেকে রাখতেন যে, হতে পারে অন্য কেউ চাঁদ দেখেছে এবং পরবর্তীতে তাদের সেই রোজা কাজা করতে হতে পারে। কিন্তু যদি তারা জানতেন যে কেউ চাঁদ দেখেনি, তবে তারা রোজা রাখতেন না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুর রুজহান বিসাওমি ইয়াউমিশ শাক্কি মিন রামাদান
(পৃষ্ঠা: ৫০)
كما أن الجمهور الذين كرهوا صومه، لم يلتفتوا إلى هذا الجواز، إذ الحكم ممدود إلى وقوع الرؤية لا إلى جوازها1.
واختلف هؤلاء، هل يجوز صومه أو يكره أو يحرم أو يستحب أن يصام بنية غير رمضان إذا لم يوافق عادة؟
على أربعة أقوال: هذا يجوزه، وهذا يستحبه حملاً للنهي عن صوم رمضان، وهذا يكرهه، وهذا يحرمه لنهيه عن التقدم، ولخوف الزيادة، ولمعان أخر2.
ثم إذا صامه بغير نية رمضان، أو بنية المكروه، فهل يجزئه إذا تبيّن من رمضان، أو لا يجزئه، بل عليه القضاء؟ قولان للأئمة3.
وإذا لم يتبين أنه رؤي إلا من النهار، فهل يجزئه إنشاء النية من النهار؟ قولان للأئمة4.
ولو تبين أنه رؤي في مكان آخر، فهل يجب القضاء أم لا يجب مطلقاً؟
أم يجب إذا كان دون مسافة قصر؟
أم إذا كانت الرؤية في الإقليم؟
أم إذا كان العمل واحداً؟ 5.
وهل تثبت الرؤية بقول الواحد أو الإثنين مطلقاً؟ 6، أم لا بد في
--------------------------------------------
তেমনিভাবে জমহুর (সংখ্যাগরিষ্ঠ) আলেমগণ যারা এই দিনে রোজা রাখাকে অপছন্দনীয় (مكروه) মনে করেছেন, তারা এই বৈধতার (جواز) দিকে ভ্রুক্ষেপ করেননি। কারণ, বিধানটি চাঁদ দেখার বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট, চাঁদ দেখার বৈধতার (جواز) সাথে নয়।১
এ বিষয়ে তারা মতভেদ করেছেন যে, যদি কারো অভ্যাসের সাথে না মিলে, তবে রমজানের নিয়ত ছাড়া এই দিনে রোজা রাখা কি বৈধ (جائز), নাকি অপছন্দনীয় (مكروه), নাকি হারাম (حرام), নাকি মুস্তাহাব (مستحب)?
এক্ষেত্রে চারটি অভিমত রয়েছে: কেউ একে বৈধ (جائز) বলেছেন; কেউ একে মুস্তাহাব (مستحب) মনে করেছেন—রমজানের রোজা থেকে নিষেধের প্রেক্ষাপটে; কেউ একে অপছন্দনীয় (مكروه) বলেছেন; আবার কেউ একে হারাম (حرام) বলেছেন—রমজানের আগে রোজা রাখতে নিষেধ করার কারণে, রমজানে অতিরিক্ত যুক্ত হওয়ার আশঙ্কায় এবং অন্যান্য কারণে।২
অতঃপর, যদি কেউ রমজানের নিয়ত ছাড়া বা অপছন্দনীয় (مكروه) পন্থায় নিয়ত করে রোজা রাখে, পরে যদি প্রমাণিত হয় যে দিনটি রমজানের ছিল, তবে কি তা যথেষ্ট (مجزئ) হবে, নাকি যথেষ্ট (مجزئ) হবে না বরং তার ওপর কাজা (قضاء) ওয়াজিব হবে? এ বিষয়ে ইমামগণের দুটি অভিমত রয়েছে।৩
আর যদি দিনের বেলা ছাড়া চাঁদ দেখার বিষয়টি স্পষ্ট না হয়, তবে দিনের বেলা নিয়ত করা কি তার জন্য যথেষ্ট (مجزئ) হবে? এ বিষয়ে ইমামগণের দুটি অভিমত রয়েছে।৪
যদি প্রমাণিত হয় যে অন্য কোনো স্থানে চাঁদ দেখা গেছে, তবে কি কাজা (قضاء) করা ওয়াজিব (واجب) হবে, নাকি মোটেও ওয়াজিব (واجب) হবে না?
নাকি সফর সংক্ষেপকরণের দূরত্বের (مسافة قصر) মধ্যে হলে কাজা ওয়াজিব (واجب) হবে?
নাকি যদি চাঁদ দেখা একই ভূখণ্ডের (إقليم) মধ্যে হয় তবে ওয়াজিব হবে?
নাকি যদি আমল বা পদ্ধতি এক হয়? ৫.
আর চাঁদ দেখার বিষয়টি কি একজনের বা দুইজনের কথার ভিত্তিতেই সাধারণভাবে (مطلقاً) সাব্যস্ত (ثابت) হবে? ৬, নাকি আবশ্যক...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুর রুজহান বিসাওমি ইয়াউমিশ শাক্কি মিন রামাদান
(পৃষ্ঠা: ৫১)
الصحو من عدد كثير؟ 1.
خلاف بين الأئمة كل ذلك مبسوط في كتب الفقه، والذي يخصنا هنا مجرد2 بيان مسألة صوم يوم الشك، (والله سبحانه وتعالى أعلم) 3.
--------------------------------------------
আকাশ মেঘমুক্ত থাকলে কি অধিক সংখ্যক লোকের সাক্ষ্য প্রয়োজন? ১.
ইমামগণের মধ্যে এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে যা ফিকহ শাস্ত্রের গ্রন্থসমূহে বিস্তারিত আলোচিত হয়েছে। আমাদের এখানে সংশ্লিষ্ট বিষয়টি হলো কেবল ২ সন্দেহযুক্ত দিনে রোজা রাখার মাসআলা স্পষ্ট করা, (আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সর্বজ্ঞ) ৩।
--------------------------------------------