(খণ্ড: ১) তারিখু আসমাইল দুয়াফাউ ওয়াল কাযযাবিন (পৃষ্ঠা: -)
تاريخ أسماء الضعفاء والكذابين   (ابن شاهين)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: تاريخ أسماء الضعفاء والكذابين

المؤلف: أبو حفص عمر بن أحمد بن عثمان بن أحمد بن محمد بن أيوب بن أزداذ البغدادي المعروف بـ ابن شاهين (ت 385هـ)

المحقق: عبد الرحيم محمد أحمد القشقري

الناشر: -

الطبعة: الأولى، 1409هـ/1989م

عدد الصفحات: 222

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

দুর্বল ও মিথ্যাবাদীদের নামের ইতিহাস   (ইবনে শাহীন)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ


বই: দুর্বল ও মিথ্যাবাদীদের নামের ইতিহাস

লেখক: আবু হাফস ওমর বিন আহমদ বিন ওসমান বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আইয়ুব বিন আজদাদ আল-বাগদাদি, ইবনে শাহীন হিসেবে পরিচিত (মৃ. ৩৮৫ হিজরি)

সম্পাদক: আব্দুর রহিম মুহাম্মদ আহমদ আল-কাশকারি

প্রকাশক: -

সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৯ হিজরি/১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২২২

[বইয়ের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) তারিখু আসমাইল দুয়াফাউ ওয়াল কাযযাবিন (পৃষ্ঠা: ٥)
‌‌مقدمة

…

كتاب تاريخ أسماء الضعفاء والكذابين للإمام أبي حفص عمر بن أحمد شاهين المتوفى سنة 385هـ

دراسة والتحقيق الدكتور عبد الرحيم محمد أحمد القشقري الأستاذ المساعد بكلية الحديث الشريف

بسم الله الرحمن الرحيم

إن الحمد لله نحمده ونستغفره ونستهديه. ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا. من يهده الله فلا مضلل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأصلي وأسلم على نبي الهدى والرحمة. وبعد:

فإن هذا الكتاب الذي بين أيدينا من الكتب التي أشار إليها النقاد منذ زمن بعيد، ولقد بذ مؤلف رحمه الله جهداً في نقل أقوال الأئمة أمثال الإمام أحمد بن حنبل وابن معين والقطان وغيرهم من أئمة النقد في ذلك العصر. وسار فيه على المنهج الذي انتهجه في كتابه الثقات من غير تعقيب ،لأنه بين في مقدمته أنه يذكر كل راوٍ ضعفه النقاد.

وقد تبين لي أثناء العمل فيه أنه يذكر بعض الرواة الذين تقدم ذكرهم في الثقات لمجرد قول ناقد فيه. ولعل المؤلف رحمه الله تنبه لهذا الأمر فألف كتابه القيم ((ذكر من اختلف فيه)) حيث وضع أولئك الرواة في ميزان النقد. وضعف من يستحق التضعيف ووثق من يستحق التوثيق بأدلة علمية قاطعة.

وقد رأيت إتماماً للفائدة تحقيق الجزء الذي وقفت عليه من كتاب المشار إليه وسينتشر قريباً بإذن الله.

وفي الختام أود أشكر جميع من شجعني على إحياء هذا التراث المبارك. واعتذر عما وقع من السهو والنسيان.

وصلى الله وبارك على نبينا محمد وعلى آله وصحبه وسلم.

كتبه د. عبد الرحيم أحمد القشقري

بالمدينة النبوية بتاريخ 15-6-1407هـ
ভূমিকা

...

ইমাম আবু হাফস ওমর বিন আহমদ শাহীন (মৃত্যু ৩৮৫ হিজরি) রচিত দুর্বল ও মিথ্যুক বর্ণনাকারীদের নামের ইতিহাসের গ্রন্থ

গবেষণা ও সম্পাদনা: ড. আবদুর রহিম মুহাম্মদ আহমদ আল-কাশকারি, সহকারী অধ্যাপক, কুল্লিয়াতুল হাদিস আশ-শরিফ

পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট হেদায়েত কামনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি হেদায়েত ও রহমতের নবীর ওপর দরুদ ও সালাম পাঠ করছি। অতঃপর:

আমাদের সম্মুখে বিদ্যমান এই গ্রন্থটি এমন একটি বই যার দিকে দীর্ঘকাল পূর্ব থেকেই সমালোচকগণ ইঙ্গিত করে আসছেন। এর লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) ইমাম আহমদ বিন হাম্বল, ইবনে মাইন, আল-কাত্তান এবং সেই যুগের অন্যান্য সমালোচক ইমামগণের উক্তি উদ্ধৃত করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট শ্রম ব্যয় করেছেন। তিনি এতে সেই পদ্ধতিই অনুসরণ করেছেন যা তিনি তাঁর ‘আস-সিকাত’ গ্রন্থে অবলম্বন করেছিলেন, কোনো প্রকার মন্তব্য ছাড়াই; কারণ তিনি তাঁর ভূমিকায় স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি এমন প্রত্যেক বর্ণনাকারীকে উল্লেখ করবেন যাদেরকে সমালোচকগণ দুর্বল সাব্যস্ত করেছেন।

এই গ্রন্থের ওপর কাজ করার সময় আমার কাছে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, তিনি এমন কিছু বর্ণনাকারীকেও এখানে উল্লেখ করেছেন যাদের আলোচনা ইতিপূর্বে ‘আস-সিকাত’ গ্রন্থে অতিক্রান্ত হয়েছে, শুধুমাত্র কোনো একজন সমালোচকের মন্তব্যের কারণে। সম্ভবত লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) এই বিষয়টি উপলব্ধি করেছিলেন, তাই তিনি তাঁর মূল্যবান গ্রন্থ ‘যিকর মান ইখতালিফা ফিহি’ (যাদের ব্যাপারে মতভেদ করা হয়েছে তাদের আলোচনা) রচনা করেছেন; যেখানে তিনি ঐসব বর্ণনাকারীদের সমালোচনার মানদণ্ডে বিচার করেছেন। সেখানে তিনি অকাট্য জ্ঞানতাত্ত্বিক দলিলের ভিত্তিতে যাকে দুর্বল বলা সমীচীন তাকে দুর্বল এবং যাকে নির্ভরযোগ্য বলা সমীচীন তাকে নির্ভরযোগ্য সাব্যস্ত করেছেন।

ফায়দা বা উপকারের পূর্ণতার লক্ষ্যে আমি উল্লিখিত গ্রন্থের যে অংশটুকু পেয়েছি তা সম্পাদনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং আল্লাহর ইচ্ছায় তা শীঘ্রই প্রকাশিত হবে।

পরিশেষে, যারা আমাকে এই বরকতময় ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করতে উৎসাহিত করেছেন আমি তাঁদের সকলকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। অনিচ্ছাকৃত কোনো ভুলভ্রান্তি বা বিস্মৃতির জন্য আমি ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর দরুদ, বরকত ও শান্তি বর্ষণ করুন।

লিখেছেন: ড. আবদুর রহিম আহমদ আল-কাশকারি

মদিনা নববীয়্যাহ, তারিখ: ১৫-০৬-১৪০৭ হিজরি।
(খণ্ড: ১) তারিখু আসমাইল দুয়াফাউ ওয়াল কাযযাবিন (পৃষ্ঠা: ٧)
علم الجرح والتعديل

ونعني به الكلام على أحوال الرواة من حيث العدالة والضبط وعدمه لنتمكن من معرفة مدى صحة رواياتهم التي وصلت إلينا أو ضعفها، وهو فن من الفنون التي اختصت بها الأمة الإسلامية دون غيرها من الأمم.

وبمعرفة هذا الفن قواعده. تمكن سلفنا الصالح من الحفاظ على سنة المصطفى صلى الله عليه وسلم وبقائها صافيا من تحريف المبطلين وكيد المنافقين.

ولم يكن الدافع لدراسة أحوال الرواة هوى في النفس للطعن في الناس أو محاباة لأحد وإن كان ذلك الواحد قريباً عزيزاً بل للإنصاف وإحقاق الحق.

وقد سئل الإمام الناقد علي بن المديني عن أبيه. فقال سلوا غيري، فأعادوا فأطرق، ثم رفع رأسه فقال: هو الدين، أبي ضعيف1. ويقول شعبة الحجاج: ولو حابيت أحداً حابيت هشام بن حسان كان ختني. ولكن لم يكن يحفظ2.

نفهم مما تقدم ذكره أن الجرح والتعديل إنما كان لحماية الدين والمحافظة على نقاء الشريعة؛ لأنه أقوى من روابط النسب والمادة.

وقد اختار النقاد عبارات مهذبة تنال من حفظ الرواة وعدالتهم دون الإشارة إلى أي صفة أخرى ليس لها تعلق بمجال الضبط والعدالة لأن البحث في غير ذلك المجال من الغيبة التي نهينا عنها.

--------------------------------------------

1 فتح المغيث 3/322.

2 الكامل 1/81 وهناك أمثلة أخرى أوردها السخاوي في فتح المغيث 3/322
জারহ ও তাদিল শাস্ত্র

এর দ্বারা আমাদের উদ্দেশ্য হলো বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্যতা ও হেফজশক্তি বা এর অভাবের দিক থেকে তাঁদের অবস্থা সম্পর্কে আলোচনা করা, যাতে আমাদের কাছে পৌঁছানো তাঁদের বর্ণিত হাদিসগুলোর বিশুদ্ধতা বা দুর্বলতার মাত্রা আমরা জানতে পারি। এটি এমন এক বিদ্যা যাতে ইসলামি উম্মাহ অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর তুলনায় অনন্য বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত।

এই বিদ্যা ও এর নীতিমালার জ্ঞানের মাধ্যমেই আমাদের সালাফে সালেহীন (সৎকর্মশীল পূর্বসূরিগণ) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহকে সংরক্ষণ করতে এবং বাতিলপন্থীদের বিকৃতি ও মুনাফিকদের চক্রান্ত থেকে একে স্বচ্ছ রাখতে সক্ষম হয়েছেন।

বর্ণনাকারীদের অবস্থা পর্যালোচনার উদ্দেশ্য মানুষের নিন্দা করা বা কারো প্রতি পক্ষপাতিত্ব করার মতো কুপ্রবৃত্তি ছিল না, যদিও সেই ব্যক্তি নিকটাত্মীয় বা প্রিয়জন হোক না কেন; বরং এর উদ্দেশ্য ছিল ইনসাফ ও সত্য প্রতিষ্ঠা করা।

একদা পারদর্শী ইমাম আলী ইবনুল মাদিনীকে তাঁর পিতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো। তিনি বললেন, "তোমরা অন্য কাউকে জিজ্ঞাসা করো।" তাঁরা আবারও জিজ্ঞাসা করলে তিনি মাথা নিচু করে থাকলেন। এরপর মাথা তুলে বললেন, "এটি দ্বীনের বিষয়; আমার পিতা (বর্ণনাকারী হিসেবে) দুর্বল।"১ এবং শু'বা ইবনুল হাজ্জাজ বলেন, "যদি আমি কারো প্রতি পক্ষপাতিত্ব করতাম, তবে হিশাম ইবনে হাসসানের প্রতি করতাম, কারণ সে ছিল আমার জামাতা। কিন্তু তার হেফজশক্তি ভালো ছিল না।"২

উপরোক্ত আলোচনা থেকে আমরা বুঝতে পারি যে, জারহ ও তাদিল মূলত দ্বীন রক্ষা এবং শরিয়তের শুভ্রতা বজায় রাখার জন্যই ছিল; কারণ এটি বংশীয় বা বৈষয়িক সম্পর্কের চেয়েও অধিক শক্তিশালী।

আর সমালোচকগণ বর্ণনাকারীদের হেফজশক্তি ও নির্ভরযোগ্যতার মানদণ্ড নির্ণয়ে মার্জিত শব্দ চয়ন করেছেন, তাঁদের এমন কোনো গুণের উল্লেখ করা ছাড়াই যা হেফজ ও নির্ভরযোগ্যতার বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়। কেননা এই ক্ষেত্রের বাইরে অন্য বিষয়ে আলোচনা করা গিবত বা পরনিন্দার অন্তর্ভুক্ত, যা থেকে আমাদের নিষেধ করা হয়েছে।

--------------------------------------------

১ ফাতহুল মুগিস ৩/৩২২।

২ আল-কামিল ১/৮১ এবং সাখাভি ফাতহুল মুগিস ৩/৩২২-এ আরও কিছু উদাহরণ উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) তারিখু আসমাইল দুয়াফাউ ওয়াল কাযযাবিন (পৃষ্ঠা: ٨)
ومن دراسة القدامى لأقوال من سبقهم من الأئمة استطاعوا تصنيف النقاد إلى ثلاثة أقسام:

القسم الأول:

متعنت في التوثيق متثبت في التعديل يغمز الراوي بالغلطتين والثلاث فهذا إذا وثق شخصاً فعض على قوله بنواجذك وتمسك بتوثيقه، وإذا ضعف رجلاً فانظر هل وافقه غيره على تضعيفه. فان وافقه ولم يوثق ذلك الرجل أحد من الحذاق فهو ضعيف، وإن وثقه أحد فهذا هو الذي قالوا فيه: لا يقبل فيه الجرح إلا مفسراً؛ يعني لا يكفي فيه قول ابن معين مثلاً: هو ضعيف ولم يبين سبب ضعفه، ثم يجيء البخاري وغيره يوثقه. ومثال هذا يختلف في تصحيح حديثه وتضعيفه.

القسم الثاني:

متسامح كالترمذي والحاكم وابن حزم.

القسم الثالث:

معتدل كالإمام أحمد والدارقطني وابن عدي1.

((تاريخ ظهور هذا الفن)) .

لقد ظهر علم الجرح والتعديل في عهد مبكر جداً. يعود إلى عهد الصحابة رضوان الله تعالى عليهم كما ذكر ذلك الحافظ الذهبي حيث قال:

"وتكلم في الرجال جماعة من الصحابة"2 ثم من التابعين كالشعبي وابن سيرين. ولكنه في التابعين بقلة لقلة الضعف في متبوعهم إذ أكثرهم صحابة عدول، وغير الصحابة من المتبوعين أكثرهم ثقات ولا يكاد يوجد في القرن الأول

--------------------------------------------

1 فتح المغيث 3/325 بتصرف.

2 لا يعني هذا أن الصحابة كانوا يطعنون في عدالة بعضهم وإنما يعني إنهم تكلموا بعضهم من قبل ضبطهم وإتقانهم كما فعلت عائشة رضي الله عنها.
পূর্ববর্তীগণ তাদের পূর্বসূরি ইমামদের বক্তব্যসমূহ পর্যালোচনার মাধ্যমে সমালোচকদের তিনটি শ্রেণিতে বিভক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন:

প্রথম শ্রেণি:

নির্ভরযোগ্য সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে কঠোর এবং আদল (ন্যায়নিষ্ঠতা) নির্ধারণে অত্যন্ত সূক্ষ্ম; যিনি দুই-তিনটি ভুলের কারণেই বর্ণনাকারীর সমালোচনা করেন। সুতরাং তিনি যদি কাউকে নির্ভরযোগ্য বলেন, তবে তার বক্তব্যকে আপনার মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরুন এবং তার করা নির্ভরযোগ্যতা দানকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরুন। আর তিনি যদি কোনো ব্যক্তিকে দুর্বল সাব্যস্ত করেন, তবে লক্ষ্য করুন যে অন্য কেউ তার এই দুর্বল সাব্যস্ত করার বিষয়ের সাথে একমত কি না। যদি অন্য কেউ তার সাথে একমত হন এবং বিজ্ঞ ইমামদের কেউ ওই ব্যক্তিকে নির্ভরযোগ্য না বলেন, তবে তিনি দুর্বল। আর যদি কেউ তাকে নির্ভরযোগ্য বলেন, তবে এটিই সেই ক্ষেত্র যেখানে উলামায়ে কেরাম বলেন: এক্ষেত্রে ব্যাখ্যাযুক্ত (মুফাসসার) জারহ ব্যতীত সমালোচনা গ্রহণযোগ্য হবে না; অর্থাৎ, ইবনে মুঈন (উদাহরণস্বরূপ) বললেন যে তিনি দুর্বল, কিন্তু তার দুর্বলতার কারণ স্পষ্ট করলেন না—এতটুকু যথেষ্ট নয়, যেখানে ইমাম বুখারি এবং অন্যরা তাকে নির্ভরযোগ্য বলছেন। এই ধরনের রাবির হাদিস সহিহ বা জইফ হওয়ার ক্ষেত্রে মতভেদ পরিলক্ষিত হয়।

দ্বিতীয় শ্রেণি:

শিথিল; যেমন তিরমিজি, হাকেম এবং ইবনে হাজম।

তৃতীয় শ্রেণি:

মধ্যপন্থী; যেমন ইমাম আহমাদ, দারাকুতনি এবং ইবনে আদি ১।

((এই শাস্ত্রের উৎপত্তির ইতিহাস))।

জারহ ও তাদিল শাস্ত্র অত্যন্ত প্রাথমিক যুগে আত্মপ্রকাশ করেছে। এটি সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর যুগ থেকেই শুরু হয়েছে, যেমনটি হাফেজ জাহাবি উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: "সাহাবাদের একটি জামাত বর্ণনাকারীদের বিষয়ে আলোচনা করেছেন।" ২ এরপর তাবিঈগণের মধ্য হতে শাবি এবং ইবনে সিরিন (প্রমুখ আলোচনা করেছেন)। তবে তাবিঈদের যুগে এর ব্যাপ্তি কম ছিল, কারণ যাদের থেকে তারা হাদিস গ্রহণ করতেন তাদের মধ্যে দুর্বলতার হার ছিল খুবই সামান্য। যেহেতু তাদের অধিকাংশ ছিলেন সাহাবী যারা ন্যায়নিষ্ঠ (আদিল), আর সাহাবী ব্যতীত অন্যদের মধ্যেও অধিকাংশ ছিলেন নির্ভরযোগ্য। প্রথম শতাব্দীতে এমনটি (দুর্বলতা) খুব একটা পাওয়া যেত না।

--------------------------------------------

১ ফাতহুল মুগিস ৩/৩২৫, কিছুটা পরিমার্জিত।

২ এর অর্থ এই নয় যে সাহাবায়ে কেরাম একে অপরের ন্যায়নিষ্ঠতা (আদালত) নিয়ে প্রশ্ন তুলতেন; বরং এর অর্থ হলো তারা একে অপরের স্মৃতিশক্তি (জব্ত) ও নির্ভুলতার বিষয়ে আলোচনা করেছেন, যেমনটি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) তারিখু আসমাইল দুয়াফাউ ওয়াল কাযযাবিন (পৃষ্ঠা: ٩)
الذي انقرض من الصحابة وكبار التابعين ضعيف إلا الواحد بعد الواحد. كالحارث الأعور والمختار الكذاب، فلما مضى القرن الأول ودخل الثاني كان في أوائله من أوساط التابعين جماعة من الضعفاء الذين ضعفوا غالباً من قبل تحملهم وضبطهم للحديث، فتراهم يرفعون الموقوف ويرسلون كثيراً، ولهم غلط. كأبي هارون العبدي. فلما كان عند آخر عصر التابعين وهو حدود الخمسين ومائة تكلم في التوثيق والتضعيف طائفة من الأئمة.

فقال أبو حنيفة: ما رأيت أكذب من جابر الجعفي.

وضعف الأعمش جماعة ووثق آخرين.

ونظر في الرجال شعبة وكان متثبتاً لا يكاد يروي إلا عن ثقة وكذا كان مالك1.

وممن إذا قال في هذا العصر قبل قوله: معمر، وهشام الدستوائي، والأوزاعي، والثوري، وابن ماجشون، وحماد بن سلمة، والليث وغيرهم.

ثم طبقة أخرى بعد هؤلاء. كابن المبارك، وهشيم، وأبي اسحاق، الفزاري، والمعافي بن عمران الموصلي، وبشير بن مفضل، وابن عيين وغيرهم.

ثم طبقة أخرى في زمانهم كابن علية، وابن وهب، ووكيع.

ثم انتدب في زمانهم أيضاً لنقد الرجال الحافظان الحجتان يحيي بن سعيد القطان وابن مهدي. فمن جرحا لا يكاد ينمدل جرحه. ومن وثقاه فهو المقبول ومن اختلفا فيه – وذلك – اجتهاد في أمره.

ثم كان بعدهم ممن إذا قال سمع منه. إمامنا الشافعي، ويزيد بن هارون، وأبو داود الطيالسي، وعبد الرزاق،. والفريابي، وأبو عاصم النبيل، وبعدهم طبقة أخرى كالحميدي، والقعنبي، وأبي عبيد، ويحيي بن يحيي، وأبي الوليد الطيالسي.

ثم صنفت الكتاب ودونت في الجرح والتعديل والعلل2

--------------------------------------------

1 فتح المغيث 3/318

2 المصدر السابق.
সাহাবী ও জ্যেষ্ঠ তাবিঈদের মধ্যে যারা অতিবাহিত হয়েছেন, তাদের মধ্যে দুর্বল বর্ণনাকারী বিরল, কেবল দুই-একজন ব্যতীত। যেমন হারিস আল-আওয়ার এবং মুখতার আল-কাযযাব। অতঃপর যখন প্রথম শতাব্দী অতিক্রান্ত হলো এবং দ্বিতীয় শতাব্দী শুরু হলো, তখন এর প্রথমার্ধে মধ্যম স্তরের তাবিঈদের মধ্যে একদল দুর্বল বর্ণনাকারীর আবির্ভাব ঘটল। হাদিস গ্রহণ ও সংরক্ষণে (যাবত) দুর্বলতার কারণেই মূলত তারা দুর্বল হিসেবে গণ্য হন। দেখা যায় যে, তারা মাওকুফ হাদিসকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেন এবং প্রচুর পরিমাণে মুরসাল বর্ণনা করেন; তাদের অনেক ভুলভ্রান্তিও রয়েছে। যেমন আবু হারুন আল-আবদি। যখন তাবিঈদের যুগের শেষ সময় উপস্থিত হলো—যা ১৫০ হিজরির কাছাকাছি সময়—তখন একদল ইমাম বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্যতা (তাওসিক) ও দুর্বলতা (তাদয়িফ) নিয়ে আলোচনা শুরু করলেন।

ইমাম আবু হানিফা বলেন: আমি জাবির আল-জু’ফি অপেক্ষা বড় মিথ্যাবাদী আর কাউকে দেখিনি।

আ’মাশ একদল বর্ণনাকারীকে দুর্বল বলেছেন এবং অন্যদের নির্ভরযোগ্য বলেছেন।

শু’বাহ বর্ণনাকারীদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতেন; তিনি অত্যন্ত সাবধানী ও দৃঢ় ছিলেন, নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি ছাড়া কারো থেকে হাদিস বর্ণনা করতেন না। ইমাম মালিকের অবস্থানও তদ্রূপ ছিল।১

এই যুগে যাদের মন্তব্য গৃহীত হতো, তাদের মধ্যে রয়েছেন: মা’মার, হিশাম আদ-দাস্তুওয়াই, আওযাঈ, সাওরি, ইবনুল মাজিশুন, হাম্মাদ বিন সালামাহ, লাইস এবং অন্যান্যগণ।

তাদের পরে অপর এক স্তর; যেমন—ইবনুল মুবারক, হুশাইম, আবু ইসহাক আল-ফাযারি, মু’আফি বিন ইমরান আল-মাওসিলি, বুশাইর বিন মুফাদ্দাল, ইবনে উয়াইনাহ এবং অন্যান্যগণ।

অতঃপর তাদের সমসাময়িক আরও একটি স্তর; যেমন—ইবনে উলাইয়াহ, ইবনে ওয়াহাব এবং ওয়াকি।

অতঃপর তাদের যুগেও বর্ণনাকারীদের সমালোচনার জন্য দুই হাফেজ ও প্রামাণ্য ব্যক্তিত্ব আত্মনিয়োগ করেন—ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান এবং ইবনে মাহদি। তারা যাকে জারহ (দোষারোপ) করেছেন, তার সেই ক্ষত যেন আর উপশম হয় না। আর তারা যাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন, সে মকবুল বা গ্রহণযোগ্য। আর যে বিষয়ে তাদের মধ্যে মতভেদ হয়েছে, তা মূলত উক্ত বর্ণনাকারীর ব্যাপারে তাদের ইজতিহাদ বা গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত।

অতঃপর তাদের পরে এমন একদল আসলেন যাদের কথা মান্য করা হতো; যেমন—আমাদের ইমাম শাফেঈ, ইয়াযিদ বিন হারুন, আবু দাউদ আত-তায়ালিসি, আবদুর রাজ্জাক, ফিরইয়াবি, আবু আসিম আন-নাবিল। তাদের পরে আরও এক স্তর; যেমন—হুমাইদি, কা’নাবি, আবু উবাইদ, ইয়াহইয়া বিন ইয়াহইয়া এবং আবু ওয়ালিদ আত-তায়ালিসি।

এরপর 'জারহ ওয়া তা’দিল' এবং 'ইলাল' শাস্ত্রে কিতাবসমূহ রচিত ও সংকলিত হয়েছে।২

--------------------------------------------

১ ফাতহুল মুগিস ৩/৩১৮

২ পূর্বোক্ত উৎস।
(খণ্ড: ১) তারিখু আসমাইল দুয়াফাউ ওয়াল কাযযাবিন (পৃষ্ঠা: ١٠)
وقد أطال الإمام السخاوي رحمه الله في ذكر طبقات النقاد بعد طبقة بالترتيب الزمني. وعدَّ الحافظ بن حجر رحمه الله ممن تفوق في الجرح والتعديل على جميع من أدركه، وإن البسط طوى بعده إلا لمن شاء الله1.

تاريخ ظهور المصنفات في الجرح والتعديل

استمر الاهتمام بالرجال خلال النصف الأول من القرن الثالث الهجري وظهر نسبياً من التخصص في علم الرجال. يظهر بصورة خاصة عند يحيي بن معين (ت233هـ) وعلي بن المديني (ت234هـ) . وقد نما التصنيف في علم الجرح والتعديل خلال القرن الثالث الرابع واختص بعض هذه المصنفات بالضعفاء، وبعضها بالثقات، في حين جمع البعض الآخر بين الضعفاء والثقات.

وقد ظهرت هذه الأنواع الثلاث من المصنفات في وقت واحد وذلك في حدود منتصف القرن الثالث الهجري. وشكلت أقوال المتكلمين الأوائل في الرجال قبل تصنيف الكتاب مادة رئيسية في هذه المصنفات حيث دونت أقوالهم التي كان أهل الحديث يتناقلونها شفاهاً كما يتناقلون الحديث. وكذلك فإن المصنفات المتأخرة اعتمدت على المصنفات الأولى ونقلت أقوال مؤلفيها في الرجال. فلا يخلو مصنف في الجرح والتعديل من كلام يحيي بن معين وعلي بن المديني وأحمد بن حنبل، وقد استخدمت مصنفات الجرح والتعديل الألفاظ التي أطلقها المتكلمون القدماء للدلالة على جرح الرواة أو تعديلهم، ولكن هذه الألفاظ التي اكتسبت تحديدات أدق في المصنفات المتأخرة مما أدى إلى تبلورها وحصر عددها وتعين مدلولها، وفي بداية ظهور المصنفات نقل المصنفون عبارات السابقين في الجرح والتعديل، ولم يكن ثمة اتفاق على هذه الألفاظ والعبارات فأصبحت لكل مصنف مصطلحات ذات مدلول خاص. وهذا يتطلب من

--------------------------------------------

1 فتح المغيث 3/322
ইমাম সাখাভী (রহিমাহুল্লাহ) কালানুক্রম অনুসারে এক প্রজন্মের পর অন্য প্রজন্মের সমালোচকদের স্তরসমূহ বর্ণনায় দীর্ঘ আলোচনা করেছেন। তিনি হাফেজ ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ)-কে তাঁর সমসাময়িক সকলের ওপর জারহ ও তা’দীলে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী হিসেবে গণ্য করেছেন; তাঁর পরে এই বিষয়ের বিস্তৃতি সংকুচিত হয়ে এসেছে, তবে আল্লাহ যার ক্ষেত্রে চেয়েছেন (তা ভিন্ন)১।

জারহ ও তা’দীল বিষয়ক গ্রন্থাবলি রচনার ইতিহাস

হিজরি তৃতীয় শতাব্দীর প্রথমার্ধ জুড়ে বর্ণনাকারীদের (রিজাল) প্রতি মনোযোগ অব্যাহত থাকে এবং ইলমুর রিজাল বা বর্ণনাকারী বিজ্ঞানে আপেক্ষিকভাবে বিশেষায়ন লক্ষ্য করা যায়। এটি বিশেষভাবে ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন (মৃ. ২৩৩ হি.) এবং আলী ইবনুল মাদীনী (মৃ. ২৩৪ হি.)-এর মাঝে বিশেষভাবে পরিলক্ষিত হয়। তৃতীয় ও চতুর্থ শতাব্দীতে জারহ ও তা’দীল বিজ্ঞানে গ্রন্থ রচনার পরিধি বিস্তৃত হয়। এই গ্রন্থগুলোর কোনোটি দুর্বল বর্ণনাকারীদের জন্য, কোনোটি নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের জন্য নির্দিষ্ট ছিল, আবার কোনো কোনোটিতে দুর্বল ও নির্ভরযোগ্য উভয় প্রকার বর্ণনাকারীকে একত্র করা হয়েছিল।

এই তিন প্রকারের গ্রন্থাবলি একই সময়ে অর্থাৎ হিজরি তৃতীয় শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে প্রকাশিত হয়। গ্রন্থ সংকলনের পূর্বে বর্ণনাকারীদের সম্পর্কে প্রাথমিক যুগের ইমামদের উক্তিগুলো এই গ্রন্থসমূহের প্রধান উপাদানে পরিণত হয়। তাঁদের সেই বক্তব্যগুলো, যা হাদিস বিশারদগণ হাদিসের মতোই মৌখিকভাবে আদান-প্রদান করতেন, এখানে লিপিবদ্ধ করা হয়। অনুরূপভাবে, পরবর্তী যুগের গ্রন্থগুলো পূর্ববর্তী গ্রন্থগুলোর ওপর নির্ভর করেছে এবং বর্ণনাকারীদের সম্পর্কে সেই গ্রন্থকারদের উক্তিগুলো উদ্ধৃতি হিসেবে গ্রহণ করেছে। ফলে জারহ ও তা’দীলের এমন কোনো গ্রন্থ নেই যা ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন, আলী ইবনুল মাদীনী এবং আহমাদ ইবনে হাম্বলের বক্তব্য বর্জিত। জারহ ও তা’দীল বিষয়ক গ্রন্থাবলিতে বর্ণনাকারীদের দোষারোপ বা গুণগান বুঝাতে প্রাচীন ইমামদের ব্যবহৃত শব্দাবলিই ব্যবহার করা হয়েছে। তবে এই শব্দগুলো পরবর্তী গ্রন্থগুলোতে আরও সূক্ষ্ম সংজ্ঞা লাভ করে, যার ফলে এগুলো পূর্ণ রূপ পায়, সংখ্যায় সীমাবদ্ধ হয় এবং এগুলোর সুনির্দিষ্ট অর্থ নির্ধারিত হয়। গ্রন্থ রচনার প্রাথমিক যুগে সংকলকগণ জারহ ও তা’দীলের ক্ষেত্রে পূর্বসূরিদের পরিভাষাগুলো নকল করতেন। তবে এই শব্দ ও পরিভাষাগুলোর ব্যাপারে কোনো সর্বসম্মত ঐকমত্য ছিল না, যার ফলে প্রত্যেক সংকলকের কাছে পরিভাষাগুলোর বিশেষ অর্থ বিদ্যমান ছিল। এটি... থেকে দাবি করে যে—

--------------------------------------------

১ ফাতহুল মুগীস ৩/৩২২
(খণ্ড: ১) তারিখু আসমাইল দুয়াফাউ ওয়াল কাযযাবিন (পৃষ্ঠা: ١١)
المتتبع ليس فقط معرف مدلولات هذه المصطلحات على وجه العموم بل معرفة مدلولاتها النسبية وكيفية استعمالها عند كل واحد1.

أنواع كتب الجرح والتعديل

يمكن تصنيف المؤلفات في الجرح والتعديل إلى ثلاثة أصناف. فمنها التي تناولت الضعفاء من الرواة فقط. ومنها التي تناولت الثقات. ومنها التي جمعت بين الثقات والضعفاء. وقد تقدم التصنيف في الضعفاء وفي جمع بين الثقات والضعفاء على أفراد الثقات في التصنيف. حيث ألف يحيي بن معين (ت233هـ) أول مصنف في الضعفاء وكذلك أول مصنف في الجمع بين الثقات والضعفاء. أما كتب الثقات فأول من صنف فيها أبو الحسن أحمد بن عبد الله صالح العجلي (ت261هـ) وكذلك فان التصنيف في الضعفاء أكثر من التصنيف في الثقات فقد صنف في الضعفاء حتى نهاية القرن الخامس الهجري عشرون مصنفاً. ولم يصنف خلال هذه الفترة في الثقات سوى أربع مصنفا أما المصنفات التي تجمع بين الثقات والضعفاء فهي كثيرة أيضاً وما صنف خلال القرون الثالث والرابع والخامس يبلغ خمسة وعشرين مصنفاً2.

مؤلفوا كتب الضعفاء3.

قال الدكتور أكرم العمري:

"أول من عرفته صنف في الضعفاء.

1- يحيي بن معين (ت 233هـ) 4.

--------------------------------------------

1 بحوث في التاريخ السنة ص85.

2 بحوث في تاريخ السنة المشرفة ص 88.

3 أورد المؤلفين حسبما ذكره الدكتور أكرم العمري في كتابه بحوث في تاريخ السنة المشرفة. وأضفت إلى ما ذكره بعض المعلومات المتعلقة بمؤلفاتهم.

4 سراي أحمد الثالث 624 (من 21ب-29أ) وانقره صائب 1557 (ص29أ-36ب) تاريخ التراث 1/1/203
একজন অনুসন্ধিৎসু ব্যক্তির জন্য কেবল এই পরিভাষাগুলোর সাধারণ অর্থ জানাই যথেষ্ট নয়, বরং এগুলোর আপেক্ষিক অর্থ এবং প্রত্যেক ইমামের নিকট এগুলোর ব্যবহারের পদ্ধতি জানাও প্রয়োজন ১।

জারহ ও তা'দীল বিষয়ক গ্রন্থাবলির প্রকারভেদ

জারহ ও তা'দীল বিষয়ক কিতাবসমূহকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। এর মধ্যে কিছু কিতাব কেবল দুর্বল বর্ণনাকারীদের নিয়ে রচিত। কিছু কিতাব কেবল নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের নিয়ে রচিত। আর কিছু কিতাব নির্ভরযোগ্য এবং দুর্বল উভয় ধরনের বর্ণনাকারীদেরই অন্তর্ভুক্ত করেছে। দুর্বল বর্ণনাকারীদের বিষয়ে এবং নির্ভরযোগ্য ও দুর্বল বর্ণনাকারীদের একত্রে সংকলনের কাজ, নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের এককভাবে সংকলন করার পূর্বেই শুরু হয়েছে। কেননা ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন (মৃ. ২৩৩ হি.) দুর্বল বর্ণনাকারীদের বিষয়ে প্রথম গ্রন্থ রচনা করেন এবং নির্ভরযোগ্য ও দুর্বলদের একত্রে সংকলনেও তিনিই প্রথম গ্রন্থকার। নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের বিষয়ে সর্বপ্রথম গ্রন্থ রচনা করেন আবুল হাসান আহমদ ইবনে আবদুল্লাহ সালেহ আল-ইজলি (মৃ. ২৬১ হি.)। একইভাবে, দুর্বল বর্ণনাকারীদের বিষয়ে রচিত গ্রন্থের সংখ্যা নির্ভরযোগ্যদের নিয়ে রচিত গ্রন্থের চেয়ে অনেক বেশি। পঞ্চম হিজরি শতাব্দীর শেষ পর্যন্ত দুর্বল বর্ণনাকারীদের বিষয়ে বিশটি গ্রন্থ রচিত হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের বিষয়ে মাত্র চারটি গ্রন্থ রচিত হয়েছে। আর নির্ভরযোগ্য ও দুর্বলদের একত্রে সংকলন করা গ্রন্থের সংখ্যাও অনেক; তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শতাব্দীতে এ জাতীয় রচিত গ্রন্থের সংখ্যা পঁচিশটিতে পৌঁছেছে ২।

দুর্বল বর্ণনাকারীদের বিষয়ক গ্রন্থাবলির লেখকগণ ৩।

ড. আকরাম আল-উমারি বলেন:

"দুর্বল বর্ণনাকারীদের নিয়ে প্রথম যিনি গ্রন্থ রচনা করেছেন বলে আমি জানি, তিনি হলেন:

১- ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন (মৃ. ২৩৩ হি.) ৪।

--------------------------------------------

১. বুহুস ফি তারিখিস সুন্নাহ, পৃষ্ঠা ৮৫।

২. বুহুস ফি তারিখিস সুন্নাহ আল-মুশাররাফাহ, পৃষ্ঠা ৮৮।

৩. লেখক ড. আকরাম আল-উমারির 'বুহুস ফি তারিখিস সুন্নাহ আল-মুশাররাফাহ' গ্রন্থে উল্লিখিত বর্ণনানুসারে গ্রন্থকারদের নাম উল্লেখ করেছেন। আর আমি তাঁর বর্ণনার সাথে তাদের গ্রন্থাবলি সংক্রান্ত কিছু তথ্য যোগ করেছি।

৪. সারায় আহমদ আস-সালিস ৬২৪ (২১খ-২৯ক থেকে) এবং আঙ্কারা সাইব ১৫৫৭ (২৯ক-৩৬খ পৃষ্ঠা) তারিখুত তুরাস ১/১/২০৩।
(খণ্ড: ১) তারিখু আসমাইল দুয়াফাউ ওয়াল কাযযাবিন (পৃষ্ঠা: ١٢)
1 - وعلي بن المديني (ت 234هـ) 1.

2- ومحمد بن عبد الله البرقي الزهري (ت 249هـ) 2.

3- وأبو حفص عمرو بن علي الفلاس (ت 249هـ) وهو جزء صغير فيما ذكره ابن خير3.

4- ومحمد بن إسماعيل البخاري (ت 256هـ) في كتابيه ((الضعفاء الكبير)) و ((الضعفاء الصغير)) 4.

5- وإبراهيم بن يعقوب السعدي الجوزجاني (ت 259هـ) 5.

أورد المؤلف الرواة الذين تكلم فيهم بالنسبة لمدن الرواة التي وجدوا فيها فابتدأ بمدينة الكوفة التي ابتليت بالخوارج والرافضة والمرجئة. ثم البصرة التي ابتليت بالقدرية. ثم المدينة والشام والجزيرة وأهل مكة.

وفي خلال الكتاب ذكر الفرق الضالة والنحل الفاسدة من خوارج وسبأية وغيرها6.

6- وأبو زرعة الرازي7.

وقد ضمن أبو زرعة في كتابه (382) رجلا من الضعفاء أو الذين تكلم فيهم ولا يورد ألفاظ التجريح في أكثر الرواة. وعلى وجه الدقة. استخدم

--------------------------------------------

1 الجامع لأخلاق الراوي 2/360.

2 تذكرة الحفاظ 2/569.

3 فهرس ابن خير ص212

4 بحوث في تاريخ السنة ص90 ويقصد المؤلف بكتاب الضعفاء الكبير. كتاب التاريخ. إذ أن الملاحظ من منهج الإمام البخاري في هذا الكتاب إكثاره من جرح الرواة والعكس قليل ولأجل هذا أطلق الدكتور العمري اسم الضعفاء عليه. والله أعلم

5 طبع بتحقيق السيد صبحي السامرائي.

6 مقدمة أحوال الرجال ص21.

7 طبع بتحقيق الدكتور سعدي الهاشمي.
১ - আলী বিন আল-মাদিনী (মৃ. ২৩৪ হি.) ১।

২- মুহাম্মাদ বিন আবদুল্লাহ আল-বারকী আজ-জুহরী (মৃ. ২৪৯ হি.) ২।

৩- আবু হাফস আমর বিন আলী আল-ফাল্লাস (মৃ. ২৪৯ হি.), এটি একটি ছোট অংশ যেমনটি ইবনুল খায়র উল্লেখ করেছেন ৩।

৪- মুহাম্মাদ বিন ইসমাঈল আল-বুখারী (মৃ. ২৫৬ হি.) তাঁর 'আদ-দুয়াফা আল-কাবীর' এবং 'আদ-দুয়াফা আস-সাগীর' নামক কিতাবদ্বয়ে ৪।

৫- ইবরাহীম বিন ইয়াকুব আস-সা'দী আল-জুযজানী (মৃ. ২৫৯ হি.) ৫।

লেখক সেই বর্ণনাকারীদের উল্লেখ করেছেন যাদের সম্পর্কে সমালোচনা করা হয়েছে, তাদের শহরগুলোর প্রেক্ষিতে যেখানে তারা অবস্থান করতেন। তিনি কুফা নগরী দিয়ে শুরু করেছেন যা খাওয়ারিজ, রাফেজি এবং মুরজিয়াদের (ফিতনা) দ্বারা আক্রান্ত হয়েছিল। এরপর বসরা যা কাদরিয়াদের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছিল। অতঃপর মদিনা, শাম, জাজিরা এবং মক্কাবাসীদের আলোচনা করেছেন।

কিতাবের বিভিন্ন স্থানে তিনি বিভ্রান্ত দল এবং ভ্রষ্ট মতবাদসমূহ যেমন: খাওয়ারিজ, সাবায়িয়া এবং অন্যদের কথা উল্লেখ করেছেন ৬।

৬- আবু যুরআহ আর-রাযী ৭।

আবু যুরআহ তার কিতাবে ৩৮২ জন দুর্বল বা সমালোচিত বর্ণনাকারীকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং তিনি অধিকাংশ বর্ণনাকারীর ক্ষেত্রে সমালোচনামূলক শব্দ ব্যবহার করেননি। সূক্ষ্মভাবে বলতে গেলে, তিনি ব্যবহার করেছেন...

--------------------------------------------

১ আল-জামি লি-আখলাকির রাবী ২/৩৬০।

২ তাযকিরাতুল হুফফায ২/৫৬৯।

৩ ফিহরিস ইবনুল খায়র, পৃ. ২১২।

৪ সুন্নাহর ইতিহাস বিষয়ক গবেষণা, পৃ. ৯০। লেখক 'আদ-দুয়াফা আল-কাবীর' কিতাব দ্বারা 'কিতাবুত তারিখ' বুঝিয়েছেন। কেননা এই কিতাবে ইমাম বুখারীর অনুসৃত পদ্ধতিতে লক্ষ্য করা যায় যে, তিনি বর্ণনাকারীদের সমালোচনা (জারহ) অনেক বেশি করেছেন এবং এর বিপরীতটি কম করেছেন; এ কারণেই ডক্টর আল-উমারী এর নাম 'আদ-দুয়াফা' রেখেছেন। আল্লাহই ভালো জানেন।

৫ সাইয়্যেদ সুবহী আস-সামাররাঈ-এর সম্পাদনায় মুদ্রিত।

৬ মুকাদ্দিমাহ আহওয়ালুর রিজাল, পৃ. ২১।

৭ ডক্টর সা'দী আল-হাশিমীর সম্পাদনায় মুদ্রিত।
(খণ্ড: ১) তারিখু আসমাইল দুয়াফাউ ওয়াল কাযযাবিন (পৃষ্ঠা: ١٣)
عبارات الجرح في (38) رجلا. أما طريقته في تناول الرواة فهي مشابهة للإمام البخاري في كتابه الضعفاء الصغير. وقد يتفق معه في بعض الرواة فينقل أحياناً أقوال نفس الأئمة الذين نقل عنهم البخاري ويخالفه في الحكم على كثير من الرجال، واتفاقهما على تجريح هؤلاء الرواة يرجع إلى تأثرهما بنفس المنهج في المدرسة التي ينتميان إليها في الجرح والتعديل. وربما أورد بعض الرواة الثقات الذين ضعفوا بشيء أو تكلم فيهم أحد الأئمة بنوع من التجريح1.

8- والنسائي (ت 303هـ) 2.

9- وأبو يحيي زكريا الساجي (ت 320هـ) 3.

10- ومحمد بن أحمد بن حماد الدولابي (ت320هـ)

11- وأبو جعفر محمد بن عمرو العقيلي (ت322هـ) 4.

وقد ترجم فيه للضعفاء. سواء كان الضعف في عدالتهم أو ضبطهم، فقد ذكر من نسب إلى الكذب ووضع الحديث، ومن غلب على حديثه الوهم، ومن يتهم في بعض حديثه ، ومجهول روى ما لايتابع عليه، وصاحب بدعة يغلو فيها ويدعوا إليها -وإن كانت حالة في الحديث مستقيمة- كما ذكر باباً في تليين أحوال من نقل عنه الحديث من لم ينقل على صحة.

والكتاب مرتب على حروف المعجم لكنه لا يراعي ذلك بدقة5.

12- وعبد الله بن محمد بن عدي الجرجاني (ت 323هـ) .

قال الحافظ الذهبي: "وله تصانيف في الفقه. وكتاب الضعفاء في عشرة أجزاء6.

--------------------------------------------

1 أبو زرعة الرازي وجهوده في السنة2/302 بتصرف.

2 طبع عدة طبعات

3 فهرست ابن خير ص 210 وسماه ((كتاب الضعفاء والمتروكين والمنسوبين إلى البدعة من المحدثين والعلل)) .

4 طبع بتحقيق د. عبد المعطي أمين قلعجي.

5 موارد الخطيب البغدادي ص326هـ

6 تذكرة الحفاظ 3/817.
৩৮ জন ব্যক্তির ক্ষেত্রে জারহ (সমালোচনা)-এর শব্দাবলি ব্যবহার করা হয়েছে। রাবীদের (বর্ণনাকারী) পর্যালোচনার ক্ষেত্রে তাঁর পদ্ধতি ইমাম বুখারীর 'আয-যুয়াফা আস-সাগীর' গ্রন্থের পদ্ধতির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। অনেক সময় তিনি কিছু রাবীর ক্ষেত্রে তাঁর (বুখারীর) সাথে একমত হন এবং সেই একই ইমামদের বক্তব্য উদ্ধৃত করেন যাদের থেকে বুখারী উদ্ধৃত করেছেন; আবার অনেক ব্যক্তির (রাবীর) হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে তিনি তাঁর বিরোধিতা করেন। এই রাবীদের জারহ (সমালোচনা) করার ক্ষেত্রে তাঁদের উভয়ের ঐকমত্যের কারণ হলো, জারহ ও তা'দীল শাস্ত্রে তাঁরা যে অভিন্ন ঘরানার অন্তর্ভুক্ত, সেই একই মানহাজ বা পদ্ধতির দ্বারা তাঁরা প্রভাবিত। সম্ভবত তিনি এমন কিছু নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) রাবীকেও উল্লেখ করেছেন যাদের কোনো কারণে দুর্বল বলা হয়েছে অথবা কোনো ইমাম তাঁদের ব্যাপারে কোনো ধরনের সমালোচনামূলক মন্তব্য করেছেন।১

৮- এবং নাসায়ী (মৃত্যু ৩০৩ হিজরী) ২।

৯- এবং আবু ইয়াহইয়া যাকারিয়া আস-সাজী (মৃত্যু ৩২০ হিজরী) ৩।

১০- এবং মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন হাম্মাদ আদ-দাওলাবী (মৃত্যু ৩২০ হিজরী)

১১- এবং আবু জাফর মুহাম্মদ বিন আমর আল-উকায়লী (মৃত্যু ৩২২ হিজরী) ৪।

এতে তিনি দুর্বল রাবীদের জীবনী আলোচনা করেছেন। দুর্বলতা তাদের ন্যায়পরায়ণতা (আদালত) বা স্মৃতিশক্তি (যাব্ত)—উভয় ক্ষেত্রেই হতে পারে। তিনি এমন রাবীদের উল্লেখ করেছেন যাদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার ও হাদীস জাল করার অভিযোগ রয়েছে, এবং যাদের বর্ণনায় বিভ্রান্তি প্রবল, এবং যাদের কোনো কোনো হাদীস নিয়ে অভিযোগ রয়েছে, এবং এমন অজ্ঞাত রাবী যিনি এমন বর্ণনা করেছেন যার কোনো সমর্থক বর্ণনা নেই, এবং এমন বিদআতী যে তার বিদআতে অতিরঞ্জন করে এবং সেদিকে আহ্বান জানায়—যদিও হাদীসের ক্ষেত্রে তার অবস্থা সঠিক হয়। তদ্রূপ তিনি এমন রাবীদের অবস্থা শিথিল করার বিষয়ে একটি অধ্যায় উল্লেখ করেছেন যাদের থেকে হাদীস বর্ণিত হয়েছে কিন্তু তা সহীহ হিসেবে প্রমাণিত নয়।

গ্রন্থটি বর্ণানুক্রমিকভাবে বিন্যস্ত, তবে তিনি তা সুক্ষ্মভাবে অনুসরণ করেননি।৫

১২- এবং আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আদী আল-জোরজানী (মৃত্যু ৩২৩ হিজরী)।

হাফেজ যাহাবী বলেন: "ফেকাহ শাস্ত্রে তাঁর সংকলনসমূহ রয়েছে। আর তাঁর দুর্বল রাবীদের বিষয়ক গ্রন্থটি দশ খণ্ডে সমাপ্ত।"৬

--------------------------------------------

১ আবু যুরআহ আর-রাযী এবং সুন্নাহর সংরক্ষণে তাঁর প্রচেষ্টা ২/৩০২ কিছুটা পরিবর্তনসহ।

২ এটি কয়েকবার মুদ্রিত হয়েছে।

৩ ফিহরিস্ত ইবনে খাইর পৃষ্ঠা ২১০; তিনি এর নাম দিয়েছেন "মুহাদ্দিসদের মধ্যে দুর্বল ও বর্জনীয় এবং বিদআতের সাথে সম্পর্কযুক্ত রাবীদের জীবনী ও ইল্লাত (ত্রুটি) সংক্রান্ত গ্রন্থ"।

৪ ড. আবদুল মু'তী আমীন কালআজী-এর সম্পাদনায় মুদ্রিত।

৫ মাওয়ারিদুল খতীব আল-বাগদাদী পৃষ্ঠা ৩২৬ হিজরী।

৬ তাযকিরাতুল হুফফায ৩/৮১৭।
(খণ্ড: ১) তারিখু আসমাইল দুয়াফাউ ওয়াল কাযযাবিন (পৃষ্ঠা: ١٤)
13- وأبو العرب محمد بن أحمد بن تميم القيرواني (ت 333 هـ) .

14- وأبو علي. سعيد بن عثمان بن السكن (ت 353هـ) .

ذكره ابن خير وقال: "لم يتم تأليفه"1.

15- ومحمد بن أحمد بن حبان البستي (ت 354هـ) .

واسم كتابه "المجروحون من المحدثين والضعفاء والمتروكين".

قال الأستاذ/محمود إبراهيم زايد:

ألف ابن حبان كتاباً من أكبر كتبه هو ((التاريخ الكبير)) ولكنه رأي صعوبة تنال ما في هذا الكتاب لأنه جمع بين الثقات والمجروحين فاختصر من هذا الكتاب كتابيه ((الثقات – والمجروحين)) .

وقد سار المؤلف رحمه الله في كتابه على منهج علمي دقيق حيث وضع قواعده العشرين في التضعيف والجرح وترك الرجال، وفي التراجم يذكر اسم الرجل كاملا والحكم عليه والأسباب التي استند إليه في تكوين هذا الحكم. وينهي الترجمة برواية الأحاديث التي أنكرها المحدثون عليه2.

وقد اعتمد الحفاظ بعده على هذا الكتاب اعتماداً كلياً في نقل المادة العلمية منه. وكان للحافظ الذهبي يد طويل في انتقاد كتاب المجروحين حيث أورد المؤلف بعض الثقات وقدح فيهم بما لا يقدح. وكان رد الذهبي رداً قاسياً كما حصل في ترجم أفلح بن سعيد القبائي الذي قال فيه ابن حبان: "يروي عن الثقات الموضوعات وعن الأثبات الملزوقات، لايحل الاحتجاج بهولا الرواية عنه بحال"، ثم أورد له حديث ((إن طالت بك مدة)) 3.

وقال الذهبي في معرض رده: "ابن حبان ربما قصب الثقة حتى كأنه لا

--------------------------------------------

1 فهرست ابن خير 211.

2 مقدمة المجروحين 1/نبتصرف.

3 المجروحين 1/176.
১৩- এবং আবু আল-আরব মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন তামিম আল-কায়রাওয়ানি (মৃত্যু ৩৩৩ হিজরি)।

১৪- এবং আবু আলি সাঈদ বিন উসমান বিন আস-সাকান (মৃত্যু ৩৫৩ হিজরি)।

ইবনুল খায়ের এটি উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: "এর সংকলন সম্পন্ন হয়নি" ১।

১৫- এবং মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন হিব্বান আল-বুস্তি (মৃত্যু ৩৫৪ হিজরি)।

তাঁর গ্রন্থের নাম "আল-মাজরুহিনা মিনাল মুহাদ্দিসিনা ওয়াদ দুয়াফা ওয়াল মাত্রুকিন" (মুহাদ্দিসগণের মধ্যে সমালোচিত, দুর্বল ও বর্জিত বর্ণনাকারীগণ)।

উস্তাদ মাহমুদ ইবরাহিম জায়েদ বলেন:

ইবনে হিব্বান তাঁর অন্যতম বৃহৎ গ্রন্থ "আত-তারিখুল কাবির" (বড় ইতিহাস) রচনা করেছিলেন। কিন্তু তিনি এই কিতাব থেকে তথ্য আহরণ করা কঠিন মনে করলেন, কারণ তিনি এতে নির্ভরযোগ্য এবং সমালোচিত উভয় ধরনের বর্ণনাকারীদের একত্র করেছিলেন। তাই তিনি এই গ্রন্থটি থেকে সংক্ষেপ করে তাঁর অন্য দুটি গ্রন্থ "আস-সিকাত" (নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীগণ) এবং "আল-মাজরুহিন" (সমালোচিত বর্ণনাকারীগণ) প্রস্তুত করেন।

লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর গ্রন্থে একটি সূক্ষ্ম বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন, যেখানে তিনি বর্ণনাকারীদের দুর্বল সাব্যস্ত করা, সমালোচনা করা এবং বর্জনের ক্ষেত্রে তাঁর বিশটি মূলনীতি নির্ধারণ করেছেন। জীবনীর আলোচনায় তিনি ব্যক্তির পূর্ণ নাম উল্লেখ করেন, তাঁর সম্পর্কে হুকুম বা সিদ্ধান্ত প্রদান করেন এবং যে সকল কারণের ওপর ভিত্তি করে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন তা বর্ণনা করেন। তিনি জীবনীর সমাপ্তি টানেন এমন সব হাদিস বর্ণনার মাধ্যমে যা মুহাদ্দিসগণ ওই ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রত্যাখ্যান করেছেন ২।

পরবর্তী হাফেজগণ (হাদিস বিশারদগণ) ইলমি উপাদান সংগ্রহের ক্ষেত্রে এই কিতাবের ওপর পূর্ণমাত্রায় নির্ভর করেছেন। হাফেজ যাহাবীর "আল-মাজরুহিন" কিতাবটির পর্যালোচনায় বিরাট ভূমিকা ছিল, কারণ লেখক (ইবনে হিব্বান) সেখানে কিছু নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীকে উল্লেখ করেছেন এবং তাঁদের এমন সব বিষয়ে অভিযুক্ত করেছেন যা প্রকৃতপক্ষে ত্রুটি নয়। যাহাবীর প্রত্যুত্তর ছিল অত্যন্ত কঠোর, যেমনটি দেখা যায় আফলাহ বিন সাঈদ আল-কুবায়ীর জীবনীর বর্ণনায়, যাঁর সম্পর্কে ইবনে হিব্বান বলেছিলেন: "তিনি নির্ভরযোগ্যদের বরাতে জাল হাদিস এবং সুদৃঢ় বর্ণনাকারীদের বরাতে ভিত্তিহীন বিষয় বর্ণনা করেন। তাঁর মাধ্যমে দলিল গ্রহণ করা এবং কোনো অবস্থাতেই তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করা বৈধ নয়।" এরপর তিনি তাঁর বর্ণিত একটি হাদিস উল্লেখ করেন "যদি তোমার হায়াত দীর্ঘ হয়" ৩।

যাহাবী তাঁর জবাবের প্রসঙ্গে বলেন: "ইবনে হিব্বান মাঝে মাঝে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীকে এমনভাবে আক্রমণ করেন যে মনে হয় যেন তিনি..."

--------------------------------------------

১ ফিহরিসত ইবনে খায়ের ২১১।

২ মুকাদ্দিমা আল-মাজরুহিন ১/সংক্ষেপিত।

৩ আল-মাজরুহিন ১/১৭৬।
(খণ্ড: ১) তারিখু আসমাইল দুয়াফাউ ওয়াল কাযযাবিন (পৃষ্ঠা: ١٥)
يدري ما يخرج من رأسه". ثم بين أن الحديث الذي أورده حديث صحيح رواه الإمام مسلم رحمه الله1.

ولا شك في أن هذا تحامل من الإمام الذهبي رحمه الله. لأن ابن حبان مجتهد والمجتهد يجوز عليه الخطاء والصواب. ومن المستبعد أن يصر ابن حبان على خطاه إذا بان له ذلك. وهو القائل في كتابه المجروحين:

" إنما نملي بعد هذا الكتاب كتاب الفضل من النقلة ونذكر كل شيخ اختلف فيه أئمة ممن ضعفه بعضهم ووثقه البعض، ونذكر السبب الداعي لهم إلى ذلك ونحتج لكل واحد منهم، ونذكر الصواب فيه لئلا نطلق على مسلم الجرح بغير علم ولا يقال فيه أكثر مما فيه"2.

وقد التزم رحمه الله بهذا المنهج وذكر أفلح بن سعيد في الطبقة الرابعة من الثقات، وعد الحافظ ابن حجر صنيعه هذا من غفلاته3.

وكذلك صنع في سفيان بن حسين حيث أورده في المجروحين وقال: "يروي عن الزهري المقلوبات … إلخ"4.

وقال في التابعين: "يجب أن يمحى اسمه من كتاب المجروحين"5.

والأمثلة على ذلك كثيرة. ولا يمكن إيرادها في هذه المقدمة. وإنما ذكرت هذين المثالين لتنبيه طالب العلم على عدم التسرع في الحكم على المؤلف والمؤلفه.

--------------------------------------------

1 ميزان الاعتدال 1/274.

2 المجروحين 1/292.

3 تهذيب التهذيب 1/368.

4 المجروحين 1/358.

5 الثقات. تبع التابعين 59لوحة ب
"সে জানে না তার মাথা থেকে কী বের হচ্ছে।" তারপর তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি যে হাদিসটি উল্লেখ করেছেন তা ইমাম মুসলিম (রহিমাহুল্লাহ) কর্তৃক বর্ণিত একটি সহীহ হাদিস।১

নিঃসন্দেহে এটি ইমাম যাহাবী (রহিমাহুল্লাহ)-এর পক্ষ থেকে একটি কঠোরতা বা পক্ষপাতমূলক আচরণ। কারণ ইবনে হিব্বান একজন মুজতাহিদ, আর মুজতাহিদের ক্ষেত্রে ভুল এবং সঠিক উভয়ই হওয়া সম্ভব। আর ইবনে হিব্বানের কাছে যদি তার ভুল স্পষ্ট হয়ে যায়, তবে তিনি সেই ভুলের ওপর অটল থাকবেন—এটি অসম্ভব। তিনি নিজেই তাঁর 'আল-মাজরুহীন' গ্রন্থে বলেছেন:

"আমরা এই কিতাবের পর বর্ণনাকারীদের শ্রেষ্ঠত্ব বিষয়ক একটি কিতাব সংকলন করব এবং এমন প্রত্যেক শায়খের কথা উল্লেখ করব যাদের ব্যাপারে ইমামগণের মধ্যে মতভেদ রয়েছে; যাদের কাউকে কেউ দুর্বল বলেছেন আবার কেউ নির্ভরযোগ্য বলেছেন। আমরা তাঁদের এই সিদ্ধান্তের কারণ উল্লেখ করব এবং তাঁদের প্রত্যেকের পক্ষ থেকে দলিল পেশ করব। আর এ বিষয়ে যা সঠিক তা উল্লেখ করব, যাতে ইলম ছাড়া কোনো মুসলিমের ওপর 'জারহ্' (ত্রুটিারোপ) করা না হয় এবং তার ব্যাপারে যা সত্য, তার চেয়ে অতিরিক্ত কিছু না বলা হয়।"২

তিনি (রহিমাহুল্লাহ) এই পদ্ধতির ওপর অটল ছিলেন এবং আফলাহ বিন সাঈদকে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের (সিক্বাত) চতুর্থ স্তরে উল্লেখ করেছেন। হাফেজ ইবনে হাজার তাঁর এই কাজকে তাঁর অসতর্কতামূলক ভুলসমূহের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।৩

অনুরূপভাবে তিনি সুফিয়ান বিন হুসাইনের ক্ষেত্রেও করেছেন, যেখানে তাকে 'আল-মাজরুহীন' গ্রন্থে উল্লেখ করে বলেছেন: "তিনি যুহরি থেকে উল্টো হাদিস বর্ণনা করেন... ইত্যাদি।"৪

আবার তাবেঈদের বর্ণনায় তিনি বলেছেন: "তার নাম 'আল-মাজরুহীন' কিতাব থেকে মুছে ফেলা উচিত।"৫

এরকম উদাহরণ আরও অনেক আছে, যা এই ভূমিকায় উল্লেখ করা সম্ভব নয়। আমি কেবল এই দুটি উদাহরণ উল্লেখ করেছি যাতে ইলম অন্বেষণকারী লেখক এবং তাঁর রচনার ওপর তড়িঘড়ি করে কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক হতে পারেন।

--------------------------------------------

১ মীযানুল ই'তিদাল ১/২৭৪।

২ আল-মাজরুহীন ১/২৯২।

৩ তাহযীবুত তাহযীব ১/৩৬৮।

৪ আল-মাজরুহীন ১/৩৫৮।

৫ আস-সিক্বাত। তাবাউত তাবেঈন ৫৯ পৃষ্ঠা (খ)
(খণ্ড: ১) তারিখু আসমাইল দুয়াফাউ ওয়াল কাযযাবিন (পৃষ্ঠা: ١٦)
فائدتان:

الأولى: هناك مختصران لهذا الكتاب.

أحدهما: للإمام أبي الفضل محمد بن طاهر المقدسي (ت 507هـ) وكتابه ((معرفة التذكرة في الأحاديث الموضوعة)) 1 رتب فيه أحاديث كتاب المجروحين مقتصراً على اللفظ المتداولة من المتن، ولم يشرح المؤلف إلى أوهام صاحب الأصل. كما أنه لم يشر إلى أصل كتابه.

وثانيهما: للإمام أبي عبد الله شمس الدين محمد بن أبي الفتح البعلي (ت 709هـ) وكتابه ((مختصر المجروحين)) 2 جردفيها الرواة ونقل أقوال المؤلف دون الإشارة إلى الأحاديث الموضوعة.

الفائدة الثانية:

للكتاب طبعتان.

إحداهما:طبع العزيزية بالهند، وتمتاز بحواشي الإمام الدارقطني التي عملها لكتاب المجروحين. وفيها تراجم ليست موجودة في الطبعة الأخرى وفي الأخرى تراجم ليست في هذه.

ثانيهما: طبعة حلب بتحقيق الأستاذ/ محمود إبراهيم زايد.

16- وعبد الله بن عدي الجرجاني (ت 356هـ) .

في كتابه "الكامل في ضعفاء الرجال"3.

قال السخاوي: "هو أكمل الكتب المصنفة قبله وأجلها ولكنه توسع – فيه – لذكره كل من تكلم فيه وإن كان ثقة. ولذا لا يستحسن أن يقال الكامل

--------------------------------------------

1 طبع بتحقيق الشيخ/عماد الدين أحمد حيدر

2 وقفت على نسخة مصورة في مكتبة المخطوطات بالجامعة الإسلامية.

3 طبع بدار الفكر للطباعة والنشر بيروت.
দুটি জ্ঞাতব্য বিষয়:

প্রথমটি: এই কিতাবটির দুটি সংক্ষিপ্তসার রয়েছে।

একটি হলো: ইমাম আবু আল-ফাদল মুহাম্মদ বিন তাহির আল-মাকদিসি (মৃত্যু ৫০৭ হিজরি)-এর, তাঁর কিতাবটির নাম ‘মা’রিফাতুত তাযকিরাহ ফিল আহাদিসিল মাওদুআহ’ ১। এতে তিনি ‘কিতাবুল মাজরুহীন’-এর হাদিসগুলোকে বিন্যস্ত করেছেন এবং কেবল মতনের প্রচলিত শব্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকেছেন; লেখক মূল কিতাবের লেখকের ভুল-ভ্রান্তিগুলো ব্যাখ্যা করেননি। পাশাপাশি তিনি তাঁর কিতাবের মূল উৎসের দিকেও কোনো ইঙ্গিত করেননি।

এবং দ্বিতীয়টি হলো: ইমাম আবু আব্দুল্লাহ শামসুদ্দিন মুহাম্মদ বিন আবি আল-ফাতহ আল-বালি (মৃত্যু ৭০৯ হিজরি)-এর, তাঁর কিতাবটির নাম ‘মুখতাসারুল মাজরুহীন’ ২। এতে তিনি বর্ণনাকারীদের তালিকা পৃথক করেছেন এবং জাল হাদিসগুলোর প্রতি কোনো ইঙ্গিত ছাড়াই মূল লেখকের বক্তব্যসমূহ উদ্ধৃত করেছেন।

দ্বিতীয় জ্ঞাতব্য বিষয়:

এই কিতাবটির দুটি মুদ্রিত সংস্করণ রয়েছে।

একটি হলো: ভারতের আজিজিয়া সংস্করণ, এটি ইমাম দারা কুতনি কর্তৃক ‘কিতাবুল মাজরুহীন’-এর ওপর কৃত টীকা বা হাশিয়ার কারণে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত। এতে এমন কিছু জীবনী রয়েছে যা অন্য সংস্করণে নেই, আবার অন্য সংস্করণেও এমন কিছু জীবনী রয়েছে যা এই সংস্করণে নেই।

দ্বিতীয়টি হলো: প্রফেসর মাহমুদ ইবরাহিম জায়েদ সম্পাদিত হালাব (আলেপ্পো) সংস্করণ।

১৬- আব্দুল্লাহ বিন আদি আল-জুরজানি (মৃত্যু ৩৫৬ হিজরি)।

তাঁর ‘আল-কামিল ফি দুয়াফাইর রিজাল’ ৩ কিতাবে।

সাখাভি বলেন: “এটি তার পূর্বে সংকলিত কিতাবগুলোর মধ্যে অধিক পূর্ণাঙ্গ ও সুমহান, তবে তিনি এতে অতি বিস্তার ঘটিয়েছেন—যাদের সম্পর্কেই সামান্য সমালোচনা করা হয়েছে তাদের সবাইকে তিনি এতে উল্লেখ করেছেন, যদিও বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য হয়ে থাকেন। একারণেই এটিকে ‘আল-কামিল’ (পূর্ণাঙ্গ) বলা সমীচীন নয়...

--------------------------------------------

১. এটি শেখ ইমাদ উদ্দিন আহমদ হায়দারের সম্পাদনায় মুদ্রিত হয়েছে।

২. আমি মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাণ্ডুলিপি লাইব্রেরিতে এর একটি ছায়ালিপি (ফটোকপি) দেখেছি।

৩. এটি বৈরুতের দারুল ফিকর প্রকাশনী থেকে মুদ্রিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) তারিখু আসমাইল দুয়াফাউ ওয়াল কাযযাবিন (পৃষ্ঠা: ١٧)
للناقصين"1 وقد سبقه إلى هذا الثناء الإمام الحافظ الدارقطني حينما سأله السهمي أن يؤلف كتاباً في الضعفاء فقال: "أليس عندك كتاب ابن عدي فقال بلى. فرد عليه بقوله: فيه كفاية لا يزاد عليه"2.

وقدم ابن عدي لكتابه بمقدمة نفيسة تكلم فيها عن تحفظ الصحابة في رواية الحديث، ومن اختار قلة الرواية ولم يكثر الحديث ومن كان لا يرى كتابة الحديث من الأئمة؛ ومن كان يكتب منهم، ثم ذكر من استجاز لنفسه الكلام في الرجال من الصحابة والتابعين ومن بعدهم طبقة طبقة إلى زمانه. وذكر فضائلهم والمعنى الذي به يستحقون الكلام في الرجال وتسليم الأئمة لهم بذلك.

أما تراجمه لا يطيل في الأنساب بل يقتصر على ذكر أسماء الشيوخ وأسماء آبائهم ونسبتهم إلى المصر أو القبيلة، ويذكر بعض شيوخه وتلاميذه ونماذج من رواياته الضعيفة وفي الغالب حديثاً أو حديثين، وينقل أقوال أئمة الجرح والتعديل في صاحب الترجمة بالأسانيد التي لا يخل بذكرها ولا يذكر سني والوفيات. وليس سائر من أوردهم في كتابه مقطوع بضعفهم بل فيهم ثقات ولكنه أوردهم لأنه التزم إخراج كل من تكلم فيه بجرح فقد ترجم مثلاً لخليفة بن خياط أحد شيوخ البخاري وذكر ما قيل في جرحه ثم رد الجرح ووثقه3.

وقد اهتم بكتاب الكامل اهتماما خاصاً لكونه أجل مصنف في هذا الباب. فذيل عليه الحافظ أبي الفضل محمد بن طاهر المقدسي (ت507هـ) بكتاب سماه ((تكملة الكامل)) 4.وبكتاب آخر سماه ((الذخيرة في الأحاديث

--------------------------------------------

1 فتح المغيث 3/314.

2 تذكرة الحفاظ 3/941.

3 بحوث في التاريخ السنة المشرفة ص96 بتصرف.

4 فتح المغيث 3/314.
"...ত্রুটিপূর্ণদের জন্য"১ এবং এই প্রশংসার ক্ষেত্রে ইমাম হাফিজ দারা কুতনী তাঁর পূর্বেই এই কথা ব্যক্ত করেছেন, যখন আস-সাহমী তাঁকে দুর্বল বর্ণনাকারীদের বিষয়ে একটি কিতাব সংকলন করার অনুরোধ করেছিলেন। তখন তিনি (দারা কুতনী) বললেন: "তোমার কাছে কি ইবনে আদীর কিতাবটি নেই?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ, আছে।" তখন তিনি তাঁকে এই বলে উত্তর দিলেন: "এতে যথেষ্ট তথ্য রয়েছে, এর ওপর আর বাড়ানোর প্রয়োজন নেই।"২।

ইবনে আদী তাঁর কিতাবের শুরুতে একটি মূল্যবান ভূমিকা প্রদান করেছেন, যাতে তিনি হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে সাহাবীগণের সতর্কতা, যারা অল্প হাদিস বর্ণনা করাকে বেছে নিয়েছিলেন এবং অধিক হাদিস বর্ণনা করেননি, এবং ইমামগণের মধ্যে যারা হাদিস লিখে রাখাকে অপছন্দ করতেন ও যারা লিখে রাখতেন—তা নিয়ে আলোচনা করেছেন। অতঃপর তিনি সাহাবী, তাবিঈ এবং তাঁদের পরবর্তী স্তরসমূহের মধ্যে যারা তাঁর সময় পর্যন্ত বর্ণনাকারীদের (রিজাল) সম্পর্কে আলোচনা করাকে বৈধ মনে করেছেন, তাঁদের স্তরানুসারে উল্লেখ করেছেন। তিনি তাঁদের শ্রেষ্ঠত্ব এবং সেইসব কারণসমূহ উল্লেখ করেছেন যার ভিত্তিতে তাঁরা বর্ণনাকারীদের সমালোচনা করার অধিকার রাখেন এবং অন্যান্য ইমামগণ তাঁদের এই যোগ্যতাকে মেনে নিয়েছেন।

তাঁর জীবনচরিত (তরাজুম) বর্ণনার ক্ষেত্রে তিনি বংশপরিচয়ে দীর্ঘ করেন না, বরং তিনি শাইখদের নাম, তাঁদের পিতার নাম এবং শহর বা গোত্রের সাথে তাঁদের সম্পৃক্ততা উল্লেখ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেন। তিনি বর্ণনাকারীর কিছু উস্তাদ ও ছাত্র এবং তাঁর দুর্বল বর্ণনাসমূহের উদাহরণ স্বরূপ সাধারণত একটি বা দুটি হাদিস উল্লেখ করেন। তিনি বর্ণনাকারীদের সম্পর্কে জারহ ও তা'দীল (সমালোচনা ও সংশোধন) এর ইমামগণের বক্তব্যসমূহ সনদসহ উদ্ধৃত করেন যা বর্ণনার ক্ষেত্রে তিনি কোনো ত্রুটি করেন না, তবে তিনি মৃত্যুসন উল্লেখ করেন না। তাঁর কিতাবে যাদের উল্লেখ করা হয়েছে তাঁরা সকলেই নিশ্চিতভাবে দুর্বল নন, বরং তাঁদের মধ্যে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীও রয়েছেন। কিন্তু তিনি তাঁদের উল্লেখ করেছেন কারণ তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন যে, যার সম্পর্কেই সমালোচনামূলক কোনো মন্তব্য করা হয়েছে তাকেই তিনি উল্লেখ করবেন। উদাহরণস্বরূপ, তিনি ইমাম বুখারীর অন্যতম শাইখ খলিফা বিন খাইয়াত-এর জীবনী বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর সম্পর্কে করা সমালোচনা উল্লেখ করেছেন, অতঃপর সেই সমালোচনা খণ্ডন করে তাঁকে নির্ভরযোগ্য হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন।৩।

আল-কামিল কিতাবটির প্রতি তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন, কারণ এটি এই বিষয়ের ওপর সর্বশ্রেষ্ঠ রচনা। হাফিজ আবুল ফজল মুহাম্মদ বিন তাহির আল-মাকদিসি (মৃত্যু: ৫০৭ হিজরি) এই কিতাবের ওপর একটি পরিশিষ্ট (যাইল) লিখেছেন যার নাম দিয়েছেন "তাকমিলাতুল কামিল"।৪ এবং অন্য একটি কিতাব লিখেছেন যার নাম "আজ-যাখিরাহ ফিল আহাদিস

--------------------------------------------

১ ফাতহুল মুগিস ৩/৩১৪।

২ তাযকিরাতুল হুফফাজ ৩/৯৪১।

৩ বুহুস ফি তারিখিস সুন্নাহ আল-মুশাররাফাহ, পৃষ্ঠা ৯৬, পরিমার্জিত।

৪ ফাতহুল মুগিস ৩/৩১৪।
(খণ্ড: ১) তারিখু আসমাইল দুয়াফাউ ওয়াল কাযযাবিন (পৃষ্ঠা: ١٨)
الموضوعة)) 1 حيث عمل في كتاب المجروحين من ترتيب للأحاديث الموضوعة التي أوردها ابن عدي في كتابه.

وكذلك ذيل عليه الحافظ أحمد بن محمد بن مفرج المعروف بالنباتي (ت 637هـ) 2 بكتاب سماه ((الحافل)) اعتمد عليه الحافظ الذهبي كثيراً في كتابه ميزان الاعتدال3 وللكتاب مختصران:

أحدهما: للإمام أحمد بن أبيك بن عبد الله الدمياطي (ت 749هـ) واسم كتابه ((عمدة الفاضل في اختصار الكامل)) 4.

وثانيهما: لتقي الدين المقريزي (ت 845هـ) .

ويعرف كتابه بمختصر الكامل. وهو مجلد واحد5.

17- وأبو الفتح محمد بن الحسين الأزدي. (ت 374هـ) .

قال الحافظ الذهبي:

له مصنف كبير في الضعفاء وهو قوي النفس في الجرح وهاه جماعة بلا مستند طائل6.

18- والدارقطني (ت 385هـ) ،في كتابه ((الضعفاء والمتروكين)) 7.

19- وابن شاهين (ت 385هـ) في كتابه ((الضعفاء والكذابين)) 8 وهو الكتاب الذي بين أيدينا وسيأتي الكلام عليه مفضلاً في بابه.

--------------------------------------------

1 توجد من نسخة مصورة من مكتبات تركيا في مكتبة المخطوطات بالجامعة الإسلامية.

2 تذكرة الحفاظ 3/1425.

3 ميزان الاعتدال 1/1.

4 من مخطوطات برلين رقم 9944في 114بخط المؤلف.

5 مخطوط في تركيا. مكتبة مراد منلا تحت رقم 569.

6 تذكرة الحفاظ 3/967.

7 حققه د. موقف عبد القادر. وكتب عنه مقدمة جيدة فطالعه.

8 لم يذكره د. أكرم العمري. ولعله لم يقف عليه.
আল-মাওদুআত)) ১ যেখানে তিনি ইবনে আদীর কিতাবে বর্ণিত জাল হাদিসগুলোর বিন্যাসের ক্ষেত্রে কিতাবুল মাজরুহীনের উপর কাজ করেছেন।

অনুরূপভাবে হাফেজ আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন মুফাররাজ, যিনি আন-নাবাতী (মৃত্যু ৬৩৭ হিজরি) নামে পরিচিত, ২ তিনি এর ওপর একটি পরিশিষ্ট লিখেছেন যার নাম দিয়েছেন 'আল-হাফিল'। হাফেজ যাহাবী তাঁর 'মিযানুল ইতিদাল' ৩ গ্রন্থে এর ওপর অনেক বেশি নির্ভর করেছেন। বইটির দুটি সংক্ষিপ্তসার রয়েছে:

প্রথমটি: ইমাম আহমদ বিন আবীক বিন আব্দুল্লাহ আদ-দামইয়াতি (মৃত্যু ৭৪৯ হিজরি) কর্তৃক রচিত এবং তাঁর বইটির নাম 'উমদাতুল ফাদিল ফি ইখতিসারিল কামিল' ৪।

এবং দ্বিতীয়টি: তাকিউদ্দিন আল-মাকরিজি (মৃত্যু ৮৪৫ হিজরি) কর্তৃক রচিত।

তাঁর বইটি 'মুখতাসার আল-কামিল' নামে পরিচিত। এটি এক খণ্ডে সমাপ্ত ৫।

১৭- এবং আবুল ফাতহ মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন আল-আযদি (মৃত্যু ৩৭৪ হিজরি)।

হাফেজ যাহাবী বলেছেন:

দুর্বল বর্ণনাকারীদের বিষয়ে তাঁর একটি বিশাল গ্রন্থ রয়েছে। তিনি জারাহ (সমালোচনা) করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সাহসী ছিলেন। একদল আলেম কোনো জোরালো প্রমাণ ছাড়াই তাঁকে দুর্বল বলেছেন ৬।

১৮- এবং আদ-দারাকুতনি (মৃত্যু ৩৮৫ হিজরি), তাঁর 'আদ-দুআফা ওয়াল মাত্রুকুন' ৭ কিতাবে।

১৯- এবং ইবনে শাহীন (মৃত্যু ৩৮৫ হিজরি) তাঁর 'আদ-দুআফা ওয়াল কাযযাবিন' ৮ কিতাবে; এটিই সেই কিতাব যা বর্তমানে আমাদের হাতে রয়েছে এবং এর সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ে এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা আসবে।

--------------------------------------------

১ তুরস্কের লাইব্রেরিগুলো থেকে সংগৃহীত একটি ফটোকপি সংস্করণ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাণ্ডুলিপি লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত আছে।

২ তাযকিরাতুল হুফফাজ ৩/১৪২৫।

৩ মিযানুল ইতিদাল ১/১।

৪ বার্লিন পাণ্ডুলিপি নম্বর ৯৯৪৪, লেখকের নিজ হাতের লেখায় ১১৪ পৃষ্ঠায়।

৫ তুরস্কে সংরক্ষিত পাণ্ডুলিপি। মুরাদ মোল্লা লাইব্রেরি, নম্বর ৫৬৯।

৬ তাযকিরাতুল হুফফাজ ৩/৯৬৭।

৭ এটি ড. মুওয়াফফাক আব্দুল কাদির সম্পাদনা করেছেন এবং তিনি এর ওপর একটি চমৎকার ভূমিকা লিখেছেন, তাই এটি পড়ুন।

৮ ড. আকরাম আল-উমারি এটি উল্লেখ করেননি। সম্ভবত তিনি এটি পাননি।
(খণ্ড: ১) তারিখু আসমাইল দুয়াফাউ ওয়াল কাযযাবিন (পৃষ্ঠা: ١٩)
17- وأبو عبد الله محمد بن عبد الله الحاكم النيسابوري (ت 405هـ) في كتابه المدخل 1.

18- وأبو نعيم الأصبهاني (ت 430هـ) 2.

وهو في الرجال الضعفاء الذين أخرج عنهم في مستخرجه على صحيح الإمام مسلم رحمه الله3.

22- وأبو بكر الحازمي. محمد بن موسى (ت 584هـ) في كتابه ((الضعفاء والمجهولون)) 4.

23- ويوسف بن أحمد الشيرازي (ت 585هـ) 5.

24- وأبو الفرج بن الجوزي (ت 597هـ) وكتابه ((الضعفاء والمتروكين)) 6 وانظر المقدمة النفيسة التي كتبها المحقق.

25- والذهبي محمد بن أحمد بن عثمان (ت 748هـ) .

وله تواليف متعددة في هذا الباب. منها:

أ- المغني في الضعفاء7.

احتوى على ذكر الكذابين والوضاعين. ثم على ذكر المتروكين الهالكين ثم على الضعفاء من المحدثين والناقلين. ثم على كثيري الوهم من الصادقين. ثم

--------------------------------------------

1 حققه د. ربيع بن هادي.وهو عبارة عن القسم الأول من الكتاب.

2 ما بعد أبي نعيم لم يذكره د. أكرم العمري.

3 مقدمة التحقيق ص29بقلم د. فاروق حمادة محقق كتاب الضعفاء.

4 مقدمة كتاب الضعفاء لأبي نعيم ص30.

5 ميزان الاعتدال 1/118 ومقدمة أبي نعيم ص30.

6 طبع بتحقيق أبي الفداء عبد الله القاضي في ثلاثة أجزاء

7 طبع بتحقيق د. نور الدين عتر.
১৭- এবং আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-হাকিম আন-নাইসাপুরী (মৃ. ৪০৫ হি.) তাঁর 'আল-মাদখাল' কিতাবে ১।

১৮- এবং আবু নুআইম আল-আসফাহানি (মৃ. ৪৩০ হি.) ২।

আর এটি সেই দুর্বল রাবীদের (বর্ণনাকারীদের) অন্তর্ভুক্ত, যাদের বর্ণনা তিনি ইমাম মুসলিম (রহিমাহুল্লাহ)-এর সহীহ গ্রন্থের উপর রচিত তাঁর 'মুস্তাখরাজ' গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন ৩।

২২- এবং আবু বকর আল-হাযিমি, মুহাম্মদ বিন মুসা (মৃ. ৫৮৪ হি.) তাঁর 'আয-যুয়াফা ওয়াল মাজহুলুন' কিতাবে ৪।

২৩- এবং ইউসুফ বিন আহমাদ আশ-শিরাজি (মৃ. ৫৮৫ হি.) ৫।

২৪- এবং আবুল ফারাজ বিন আল-জাওযি (মৃ. ৫৯৭ হি.) এবং তাঁর কিতাব 'আয-যুয়াফা ওয়াল মাতরুকিন' ৬ এবং মুহাক্কিক (গবেষক) কর্তৃক লিখিত মূল্যবান ভূমিকাটি দেখুন।

২৫- এবং আয-যাহাবি মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন উসমান (মৃ. ৭৪৮ হি.)।

এই বিষয়ে তাঁর একাধিক রচনা রয়েছে। সেগুলোর মধ্যে:

ক- আল-মুগনি ফিয়াদ-যুয়াফা ৭।

এতে মিথ্যাবাদী ও জাল বর্ণনাকারীদের আলোচনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এরপর বর্জনীয় ও ধ্বংসপ্রাপ্তদের আলোচনা, অতঃপর মুহাদ্দিস ও বর্ণনাকারীদের মধ্যে যারা দুর্বল তাদের আলোচনা। এরপর সত্যবাদীদের মধ্যে যারা প্রচুর ভুল করতেন তাদের আলোচনা। অতঃপর...

--------------------------------------------

১ এটি ড. রাবি বিন হাদি তাহকিক করেছেন। আর এটি কিতাবটির প্রথম অংশ মাত্র।

২ আবু নুআইমের পরবর্তী অংশটুকু ড. আকরাম আল-উমারি উল্লেখ করেননি।

৩ তাহকিক অংশের ভূমিকা, পৃষ্ঠা ২৯, কলমে: ড. ফারুক হামাদাহ, যিনি 'আয-যুয়াফা' কিতাবের মুহাক্কিক।

৪ আবু নুআইমের 'আয-যুয়াফা' কিতাবের ভূমিকা, পৃষ্ঠা ৩০।

৫ মিজানুল ইতিদাল ১/১১৮ এবং আবু নুআইমের ভূমিকা, পৃষ্ঠা ৩০।

৬ আবুল ফিদা আব্দুল্লাহ আল-কাদি-এর তাহকিকে তিন খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে।

৭ ড. নুর উদ্দিন ইতর-এর তাহকিকে মুদ্রিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) তারিখু আসমাইল দুয়াফাউ ওয়াল কাযযাবিন (পৃষ্ঠা: ٢٠)
على الثقات الذين فيهم شيء من اللين. أو تعنت بذكر بعضهم أحد من الحافظين. ثم على خلق كثير من المجهولين1.

ب- ديوان الضعفاء والمتروكين 2.

ولعله اختصار لكتاب المغني. مع التغير في بعض عبارات الجرح والتعديل وقد ذكر المؤلف أنه ذكر فيه خلقاً من المجهولين وأناساً ثقات فيهم لين، ورتبه على حروف المعجم بأخصر عبارة وألخص إشارة 3.

ج- ذيل الديوان4.

ذكر فيه الرواة الذين لم يذكرهم في الأصل.

د- ميزان الاعتدال في نقد الرجال5.

قال في مقدمته: "كتاب جليل مبسوط في إيضاح نقلة العلم النبوي وحملة الأثار، ألفته بعد كتابي المنعوت بالمغني، وطولت العبارة، وفيه أسماء عدة من الرواة زائداً على من في المغني زدت معظمهم من الكتاب الحافل المذيل على الكامل لابن عدي"6.

ويعتبر كتاب الميزان من أجل الكتب المتأخرة التي تطرقت لذكر الضعفاء والدفاع عن الثقات الذين طعن الأئمة فيهم لمجرد وهم أو خطا في الاجتهاد، وقد كان رده مؤلماً أحياناً كما مر بنا عند الكلام على منهج ابن حبان في كتابه الضعفاء والمؤاخذات عليه، وكثيراً ما كان يلزم جانب الأدب مع من سبقه من الأئمة لأنهم أصحاب فضل وعلم.

--------------------------------------------

1 المغني في الضعفاء 1/4.

2 طبع بتحقيق الشيخ/حماد بن محمد الأنصاري.

3 ديوان الضعفاء ص1.

4 طبع بتحقيق الشيخ/ حماد بن محمد الأنصاري.

5 طبع بتحقيق الشيخ/محمد علي بجاوي.

6 ميزن الاعتدال 1/1 وانظر ما قاله عن منهجه في ص2-3.
সেই নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের ওপর (আবর্তিত) যাদের মধ্যে সামান্য দুর্বলতা রয়েছে। অথবা যাদের কয়েকজনের ব্যাপারে কোনো কোনো হাফিজ (হাদিস বিশারদ) কঠোরতা প্রদর্শন করেছেন। অতঃপর অনেক অজানা (মাজহুল) বর্ণনাকারীদের ওপর১।

খ- দিওয়ানুল দুয়াফা ওয়াল মাতরুকিন ২।

সম্ভবত এটি আল-মুগনি কিতাবটির সংক্ষিপ্তসার। এতে 'জারহ ও তাদিল' (সমালোচনা ও গুণগান)-এর কিছু শব্দ চয়নে পরিবর্তন আনা হয়েছে। লেখক উল্লেখ করেছেন যে, তিনি এতে অনেক অজানা (মাজহুল) বর্ণনাকারী এবং এমন কিছু নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীকে উল্লেখ করেছেন যাদের মধ্যে কিছুটা দুর্বলতা ছিল। তিনি এটি বর্ণানুক্রমে সাজিয়েছেন অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ভাষ্য ও সংকেতের মাধ্যমে ৩।

গ- জাইলুদ দিওয়ান ৪।

এতে তিনি সেই বর্ণনাকারীদের উল্লেখ করেছেন যাদের মূল গ্রন্থে উল্লেখ করেননি।

ঘ- মিজানুল ইতিদাল ফি নাকদির রিজাল ৫।

তিনি এর ভূমিকায় বলেছেন: "এটি একটি মহান ও বিস্তারিত গ্রন্থ যা নববী জ্ঞান ও আসার (হাদিস ও বর্ণনা) বহনকারীদের বর্ণনার স্পষ্টীকরণে রচিত। আমি এটি আমার 'আল-মুগনি' নামক কিতাবটির পর রচনা করেছি এবং এতে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। এতে 'আল-মুগনি'র অতিরিক্ত আরও অনেক বর্ণনাকারীর নাম রয়েছে, যাদের অধিকাংশ আমি ইবনে আদির 'আল-কামিল'-এর পরিশিষ্ট সম্বলিত পূর্ণাঙ্গ কিতাব থেকে বৃদ্ধি করেছি" ৬।

আল-মিজান কিতাবটি পরবর্তী যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত হয়, যা দুর্বল বর্ণনাকারীদের বর্ণনার পাশাপাশি সেই সব নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের পক্ষাবলম্বন করে যাদের ওপর ইমামগণ কেবল সন্দেহ বা ইজতিহাদী ভুলের কারণে অপবাদ দিয়েছিলেন। কখনও কখনও তার প্রতিবাদ ছিল কঠোর ও বেদনাদায়ক, যেমনটি ইবনে হিব্বানের 'আদ-দুয়াফা' কিতাবের মানহাজ ও তার ওপর আপত্তির আলোচনার সময় আমরা অতিক্রম করেছি। তবে প্রায়শই তিনি তার পূর্বসূরী ইমামদের প্রতি আদব বজায় রাখতেন, কারণ তারা ছিলেন মর্যাদা ও জ্ঞানের অধিকারী।

--------------------------------------------

১ আল-মুগনি ফিত দুয়াফা ১/৪।

২ এটি শায়খ হাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ আল-আনসারির তাহকিকে মুদ্রিত হয়েছে।

৩ দিওয়ানুল দুয়াফা পৃষ্ঠা ১।

৪ এটি শায়খ হাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ আল-আনসারির তাহকিকে মুদ্রিত হয়েছে।

৫ এটি শায়খ মুহাম্মাদ আলি বাজাওয়ির তাহকিকে মুদ্রিত হয়েছে।

৬ মিজানুল ইতিদাল ১/১ এবং পৃষ্ঠা ২-৩ এ তার মানহাজ সম্পর্কে তিনি যা বলেছেন তা দেখুন।
(খণ্ড: ১) তারিখু আসমাইল দুয়াফাউ ওয়াল কাযযাবিন (পৃষ্ঠা: ٢١)
وتتجلى أهمية هذا الكتاب في اعتناء الحفاظ به، وتكميل نواقصه وتهذيب ما يمكن تهذيبه، وقد حفظت لنا المكتبات العالمية مجموعة لا بأس بها من تلك المؤلفات، وبقي البعض في طي الضياع لا نعرف عنه شيئاً.

فمن كتب التي وصلت إلينا كتاب الإمام الحجة الحافظ نب حجر العسقلاني والمشهور بلسان الميزان هذب فيه الأصل بحذف أسما من أخرج له الأئمة ستة في كتبهم أو بعضهم. لأن رجال التهذيب إما أئمة موثقون وإما ثقات مقبولون وإما قوم ساء حفظهم ولم يطرحوا وإما قوم تركوا وجرحوا. ولم يقف الحافظ ابن حجر العسقلاني أمام كتاب الميزان جامداً وإنما كانت له زيادات قيمة سواءً كانت تلك زيادات في ايراد بعض التراجم التي غفل عنها صاحب الأصل أو كانت في عبارات بعض العلماء التي لم يوردها الذهبي في كتابه.

ولو أن الله قيض لهاذا الكتاب لجنة علمية لتحقيقه واخراجه بثوب آخر أدق وأضبط مما هو عليه لإستفاد طلاب العلم. لاسيما في زماننا هذا حيث يتعثر البحث في ثنايا المخطوطات.

وله كتابان آخران هما ((تقويم اللسان وتحرير الميزان)) ذكر فيه الرواة الذين ذكرهم الحافظ الذهبي في الميزان دون أن يذكر مستنده في تضعيفه1.

وكذلك وصل إلينا كتاب ((ذيل الميزان الاعتدال)) 2.

للحافظ أبي الفضل عبد الرحيم بن الحسين المعروف بالعراقي (ت 806هـ) استدرك فيه على الذهبي تراجم أشخاص قد تكلموا فيهم. كان ينبغي أن يذكرهم في كتابه حسب المنهج الذي رسمه في مقدمته3.

--------------------------------------------

1 جمال الدرر 75لوحة أ.

2 طبع بتحقيق د. عبد القيوم عبد رب النبي.

3 ذيل الميزان ص8.
এই কিতাবের গুরুত্ব হাফেজগণের এর প্রতি বিশেষ যত্ন প্রদান, এর অপূর্ণতা পূরণ এবং যতটুকু সম্ভব সংস্কার করার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বিশ্বজুড়ে পাঠাগারসমূহ আমাদের জন্য এই জাতীয় সংকলনগুলোর একটি বড় অংশ সংরক্ষণ করে রেখেছে, তবে কিছু অংশ হারিয়ে গেছে যা সম্পর্কে আমরা কিছুই জানি না।

আমাদের কাছে পৌঁছানো কিতাবগুলোর মধ্যে ইমাম, হুজ্জাত, হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানির কিতাব অন্যতম, যা লিসানুল মিজান নামে প্রসিদ্ধ। এতে তিনি মূল কিতাবকে সংস্কার করেছেন এমন বর্ণনাকারীদের নাম বাদ দিয়ে যাদের কথা ছয় ইমাম তাদের কিতাবসমূহে অথবা তাদের কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন। কারণ তাহজিব কিতাবের বর্ণনাকারীরা হয় নির্ভরযোগ্য ইমাম, অথবা গ্রহণযোগ্য নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি, অথবা এমন সম্প্রদায় যাদের মুখস্থশক্তি দুর্বল হওয়া সত্ত্বেও তাদের বর্জন করা হয়নি, অথবা এমন সম্প্রদায় যাদের পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে এবং যাদের ব্যাপারে সমালোচনা করা হয়েছে। হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি মিজান কিতাবটির সামনে স্থবির হয়ে থাকেননি, বরং এতে তার মূল্যবান সংযোজন রয়েছে; চাই তা এমন কিছু জীবনী বর্ণনার ক্ষেত্রে হোক যা মূল লেখক এড়িয়ে গিয়েছিলেন, অথবা কিছু আলেমদের এমন উক্তি হোক যা যাহাবি তার কিতাবে উল্লেখ করেননি।

আল্লাহ যদি এই কিতাবটি তাহকিক করার জন্য এবং বর্তমানের তুলনায় আরও সূক্ষ্ম ও সুশৃঙ্খল রূপে প্রকাশের জন্য একটি ইলমি কমিটিকে নিয়োজিত করতেন, তবে ইলম অন্বেষণকারীরা উপকৃত হতো। বিশেষ করে আমাদের এই যুগে, যেখানে পাণ্ডুলিপির ভেতরে অনুসন্ধান চালানো অনেক কঠিন বিষয়।

তার আরও দুটি কিতাব রয়েছে, যা হলো ((তাকউিমুল লিসান ওয়া তাহরিরুল মিজান))। এতে তিনি সেই বর্ণনাকারীদের উল্লেখ করেছেন যাদের কথা হাফেজ যাহাবি মিজান-এ উল্লেখ করেছেন কিন্তু তাদের দুর্বল বলার পেছনে তার দলীল উল্লেখ করেননি১।

একইভাবে আমাদের কাছে পৌঁছেছে কিতাব ((যাইলু মিজানিল ইতিদাল)) ২।

এটি হাফেজ আবুল ফজল আবদুর রহিম ইবনুল হুসাইন, যিনি আল-ইরাকি (মৃত্যু ৮০৬ হিজরি) নামে পরিচিত, তার রচিত। এতে তিনি যাহাবির ওপর এমন ব্যক্তিদের জীবনী নিয়ে পর্যালোচনা করেছেন যাদের ব্যাপারে সমালোচনা করা হয়েছে। যাহাবির উচিত ছিল তার কিতাবে তাদেরকে উল্লেখ করা, যে কর্মপন্থা তিনি তার ভূমিকায় লিখেছিলেন৩ সেই অনুযায়ী।

--------------------------------------------

১ জামাউল দুরার ৭৫, পৃষ্ঠা ক।

২ ডক্টর আবদুল কাইউম আবদু রব্বুন নবি-এর তাহকিকসহ মুদ্রিত।

৩ যাইলুল মিজান, পৃষ্ঠা ৮।
(খণ্ড: ১) তারিখু আসমাইল দুয়াফাউ ওয়াল কাযযাবিন (পৃষ্ঠা: ٢٢)
ووصل إلينا أيضاً. كتاب ((نقد الهميان في معيار الميزان)) و ((نثل الهميان في معيار الميزان)) كلاهما لسبط بن العجمي تلميذ الحافظ العراقي (ت 841هـ) 1 وللحسيني كتاب ((التعليق على ميزان الاعتدال)) بين فيه كثيراً من الأوهام واستدرك عليه عدة أسماء2.

26- وبسط بن العجمي (ت 841هـ) .

وكتابه ((الكشف الحثيث عمن رمى في وضع الحديث)) 3.

ذكر في مقدمة كتابه:

إنه أورد فيه من رمى بوضع الحديث ممن ذكرهم الذهبي في ميزان الاعتدال وزاد عليهم تراجم من موضوعات ابن الجوزي والتلخيص الذهبي لمستدرك الحاكم4.

27- ومحمد بن علي بن عراق. في مقدمة كتابه ((تنزيه الشريعة)) .

حيث ذكر فصلاً في سر أسماء الوضاعين والكذابين ومن كان يسرق الحديث ويقلب الأخبار ومن اتهم بالكذب ووضع من رواة الأخبار لخصه من الميزان، والمغني وذيله، ولسان الميزان، والكشف الحثيث5.

--------------------------------------------

1 المصدر السابق ص8.

2 مقدمة ذيل تذكرة الحفاظ ص1.

3 طبع بتحقيق الشيخ/صبحي السامرائي.

4 الكشف الحثيث ص24.

5 تنزيه الشريعة 1/17.
আমাদের নিকট আরও পৌঁছেছে। 'নাকদুল হিমইয়ান ফি মায়ারিল মিজান' এবং 'নাথলুল হিমইয়ান ফি মায়ারিল মিজান' নামক কিতাবদ্বয়। উভয়টি হাফেজ ইরাকীর ছাত্র সিবত ইবনুল আজামির (মৃত্যু ৮৪১ হিজরি) রচনা। ১ এবং হুসাইনীর 'আত-তালিক আলা মিজানিল ইতিদাল' নামক একটি কিতাব রয়েছে, যেখানে তিনি অনেক বিভ্রম স্পষ্ট করেছেন এবং বেশ কিছু নাম সংযোজন করেছেন। ২

২৬- এবং সিবত ইবনুল আজামি (মৃত্যু ৮৪১ হিজরি)।

এবং তার কিতাব 'আল-কাশফুল হাসিস আম্মান রুমিয়া ফি ওয়াদইল হাদিস'। ৩

তিনি তার কিতাবের ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন:

তিনি এতে তাদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন যাদের ওপর হাদিস জাল করার অভিযোগ আনা হয়েছে এবং যাদের কথা জাহাবি 'মিজানুল ইতিদাল'-এ উল্লেখ করেছেন। এছাড়াও তিনি ইবনুল জাওযীর 'মাওদুআত' এবং হাকেমের 'মুসতাদরাক'-এর জাহাবি কর্তৃক সংক্ষিপ্তসার (তালখিস) থেকে আরও কিছু জীবনী যোগ করেছেন। ৪

২৭- এবং মুহাম্মদ বিন আলী বিন ইরাক। তার 'তানযিহুশ শরীয়াহ' কিতাবের ভূমিকায়।

যেখানে তিনি জালিয়াত ও মিথ্যাবাদীদের নামের তালিকার রহস্যের ওপর একটি পরিচ্ছেদ উল্লেখ করেছেন, এবং যারা হাদিস চুরি করত, সংবাদ ওলটপালট করত এবং যাদের বিরুদ্ধে বর্ণনাকারীদের মধ্যে মিথ্যাচার ও হাদিস জাল করার অভিযোগ আনা হয়েছিল। তিনি এটি মিজান, আল-মুগনি ও তার পরিশিষ্ট, লিসানুল মিজান এবং আল-কাশফুল হাসিস থেকে সংক্ষেপিত করেছেন। ৫

--------------------------------------------

১ পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ৮।

২ 'জাইলু তাজকিরাতিল হুফফাজ'-এর ভূমিকা, পৃষ্ঠা ১।

৩ শায়খ সুবজি আস-সামাররায়ীর সম্পাদনায় মুদ্রিত।

৪ আল-কাশফুল হাসিস, পৃষ্ঠা ২৪।

৫ তানযিহুশ শরীয়াহ ১/১৭।
(খণ্ড: ১) তারিখু আসমাইল দুয়াফাউ ওয়াল কাযযাবিন (পৃষ্ঠা: ٢٣)
التعريف بالمؤلف

اسمه ونسبه:

هو الإمام الواعظ أبو حفص عمر بن أحمد بن عثمان بن أحمد بن محمد بن أيوب بن ازداد المعروف بابن شاهين. نسبة لجده والد أمه وهو بنسبته أشهر.

مولده ونشأته:

ولد المؤلف سنة سبع وتسعين ومائتين في بغداد. وترعرع في جو علمي بحت؛ حيث والده المحدث أحمد بن عثمان أبو الطيب السمسار، وجده لأمه أحمد بن محمد بن يوسف بن شاهين، وكان لهما أبعد الأثر في تهيئته علمية أدت إلى نبوغه في كثير من المجالات العلمية وكانت بداية سماعة لحديث رسول الله صلى الله عليه وسلم وكتابته له سنة ثمان وثلاثمائة وعمره آن ذاك إحدى عشرة سنة.

شيوخه وتلامذته:

سمع من محمد بن محمد بن الباغندي، وشعيب بن محمد الذراء، وأبا خبيب بن البرتي، وأبا عبد الله بن عفير، ومحمد بن هارون المجدر، وغيرهم من الأعلام. وتتلمذ عليه ابنه عبيد الله، والبرقاني، وأبو القاسم التنوحي، وخلق لا تكفي هذه العجالة لإيراد أسمائهم.

رحلاته:

لم يكتف المؤلف رحمه الله بالأخذ من شيوخ بلده؛ لأن عادة العلماء في زمنه الإنتقال والتغرب من أجل تحصيل العلوم واكتساب المعرفة، وكان للمؤلف رحلة إلى واسط والرقة ودمشق وطرابلس ومصر وعدد من الأقطار التي كانت
লেখকের পরিচিতি

তাঁর নাম ও বংশপরিচয়:

তিনি হলেন ইমাম, ওয়ায়েজ আবু হাফস উমর বিন আহমাদ বিন উসমান বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আইয়ুব বিন ইজদাদ, যিনি ইবনে শাহীন নামে পরিচিত। এটি তাঁর নানার নামের সাথে সম্পৃক্ত এবং এই নামেই তিনি অধিক প্রসিদ্ধ।

তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা:

লেখক ২৯৭ হিজরি সনে বাগদাদে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একটি বিশুদ্ধ ইলমি পরিবেশে লালিত-পালিত হন; যেখানে তাঁর পিতা ছিলেন মুহাদ্দিস আহমাদ বিন উসমান আবু তাইয়্যিব আস-সিমসার এবং তাঁর নানা ছিলেন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন ইউসুফ বিন শাহীন। তাঁর ইলমি প্রস্তুতির ক্ষেত্রে এই দুইজনের সুদূরপ্রসারী প্রভাব ছিল, যা অনেক জ্ঞানশাখায় তাঁর পারদর্শিতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তিনি ৩০৮ হিজরি সনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিস শ্রবণ ও তা লিপিবদ্ধ করা শুরু করেন, তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র এগারো বছর।

তাঁর শিক্ষক ও ছাত্রবৃন্দ:

তিনি মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আল-বাগন্দি, শুআইব বিন মুহাম্মাদ আজ-জারা‘, আবু খুবাইব বিন আল-বারতি, আবু আব্দুল্লাহ বিন উফাইর, মুহাম্মাদ বিন হারুন আল-মুজাদ্দির এবং অন্যান্য বরেণ্য ব্যক্তিবর্গের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন। তাঁর কাছে ইলম অর্জন করেছেন তাঁর পুত্র উবাইদুল্লাহ, আল-বারকানি, আবু আল-কাসিম আত-তানুখি এবং এমন এক বিশাল সৃষ্টি যাদের নাম এই সংক্ষিপ্ত পরিসরে উল্লেখ করা সম্ভব নয়।

তাঁর সফরসমূহ:

লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) কেবল নিজ শহরের শায়খদের নিকট থেকে ইলম গ্রহণ করেই ক্ষান্ত হননি; কারণ তৎকালীন আলেমদের রীতিই ছিল ইলম অর্জন ও জ্ঞান অন্বেষণের উদ্দেশ্যে দেশান্তর হওয়া এবং সফর করা। লেখক ওয়াসিত, রাক্কা, দামেস্ক, ত্রিপোলি, মিসর এবং এমন অনেক জনপদে সফর করেছিলেন যা ছিল
(খণ্ড: ১) তারিখু আসমাইল দুয়াফাউ ওয়াল কাযযাবিন (পৃষ্ঠা: ٢٤)
تعتبر بحق مراكز الثقافة والعلوم الإسلامية ومما لاشك فيه أنه قد استفاد استفادة عظيمتاً تجلت في كثرة مصنفاته التي بلغت ثلاثة مائته وثلاثين مصنفاً في كل فن ومجال.

ثناء العلماء عليه:

قال الإمام الدارقطني – وهو من اقرانه: " ابن شاهين يلج على الخطأ وهو ثقة".

وقال الأزهري: " ثقة، عنده عن البغوي سبعمائته جزء".

وقال ابن الفوارس بن أبي الفوارس: "ثقةإمام صنف مالم يصنفه أحد".

وقال بن ماكولا: "ثقة مأمون سمع بالشام وفارس والبصرة جمع الأبواب والتراجم وصنف شياءً كثيراً".

وقال الإمام الذهبي: "الحافظ الإمام المفيد المكثر محدث العراق"1.

مؤلفاته:

أجمع الذين ترجموا له في مؤلفاتهم أنه صاحب تصانيف كثيرة وفي مواضيع مختلفة إلا إننا لم نقف إلا على القليل منها ولم نستطيع الجزم بفقدانها، لأن الأيام كفيلة بإثبات تلك المؤلفات وجوداً وعدماً. وقد بذلت الجهد في الوقوف على أسماء أو أعيان مؤلفاته فما استطعت الوقوف إلا أقل قليل ولعل في هذا القليل خير كثير.

فمن مصنفاته التي وقفت أسمائها أو أعيانها هي ما يلي:

1 - الإفراد.

2- الأمالي.

3- تاريخ أسماء الثقات.

4- الترغيب في فضائل الأعمال.

--------------------------------------------

1 لمزيد من تفصيلات في ترجمته انظر: مقدمة الترغيب في فضائل الأعمال للدكتور صالح الوعيل.
এগুলো প্রকৃতপক্ষে ইসলামি সংস্কৃতি ও বিজ্ঞানের কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হয় এবং এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তিনি এখান থেকে প্রভূত উপকার লাভ করেছিলেন, যা তাঁর বিপুল সংখ্যক রচনার মধ্য দিয়ে ফুটে উঠেছে। তাঁর রচনার সংখ্যা প্রতিটি শিল্প ও ক্ষেত্রে তিনশ ত্রিশটি পর্যন্ত পৌঁছেছে।

তাঁর সম্পর্কে আলেমদের প্রশংসা:

ইমাম দারাকুতনি—যিনি তাঁর সমসাময়িকদের একজন—বলেছেন: "ইবন শাহীন ভুলের ওপর দিয়ে যান (অর্থাৎ অসাবধানতাবশত ভুল করেন), তবে তিনি নির্ভরযোগ্য।"

আল-আজহারি বলেন: "তিনি নির্ভরযোগ্য, আল-বাগাওয়ি থেকে তাঁর কাছে সাতশত জুয (অংশ) রয়েছে।"

ইবনুল ফাওয়ারিস বিন আবি আল-ফাওয়ারিস বলেন: "তিনি একজন নির্ভরযোগ্য ইমাম, তিনি এমন সব গ্রন্থ রচনা করেছেন যা অন্য কেউ করেনি।"

ইবনু মাকুলা বলেন: "তিনি নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত; তিনি শাম, পারস্য ও বসরায় ইলম অর্জন করেছেন। তিনি বিভিন্ন অধ্যায় ও জীবনী সংকলন করেছেন এবং প্রচুর পরিমাণে গ্রন্থ রচনা করেছেন।"

ইমাম আয-যাহাবি বলেন: "তিনি হাফেজ, ইমাম, অত্যন্ত উপকারী ও অধিক বর্ণনাকারী, ইরাকের মুহাদ্দিস"১।

তাঁর রচনাবলি:

যাঁরা তাঁদের গ্রন্থে তাঁর জীবনী বর্ণনা করেছেন, তাঁরা এ বিষয়ে একমত যে তিনি বিভিন্ন বিষয়ের ওপর অসংখ্য গ্রন্থের রচয়িতা। তবে আমরা এর মধ্য থেকে খুব অল্প কিছুরই খোঁজ পেয়েছি এবং এগুলো হারিয়ে গেছে বলে আমরা নিশ্চিত করে বলতে পারি না। কেননা সময় পরিক্রমাই এসকল রচনার অস্তিত্ব বা বিলুপ্তি প্রমাণ করার জন্য যথেষ্ট। আমি তাঁর রচনাবলির নাম বা মূল কপিগুলো সম্পর্কে জানার আপ্রাণ চেষ্টা করেছি, কিন্তু খুব সামান্যই জানতে পেরেছি। আর সম্ভবত এই সামান্যর মধ্যেই অনেক কল্যাণ নিহিত আছে।

তাঁর যেসব রচনার নাম বা মূল কপি সম্পর্কে আমি জানতে পেরেছি সেগুলো নিম্নরূপ:

১ - আল-ইফরাদ।

২- আল-আমালি।

৩- তারিখ আসমাউস সিকাত।

৪- আত-তারগিব ফি ফাদাইলিল আমাল।

--------------------------------------------

১ তাঁর জীবনী সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে দেখুন: ডক্টর সালিহ আল-ওয়াইল সম্পাদিত আত-তারগিব ফি ফাদাইলিল আমাল-এর ভূমিকা।
(খণ্ড: ১) তারিখু আসমাইল দুয়াফাউ ওয়াল কাযযাবিন (পৃষ্ঠা: ٢٥)
5- جزء فيه أحاديث ابن شاهين عن شيوخه.

6- ذكر من اختلف في توثيقه وتضعيفه.

7- الرباعيات.

8 - شرح مذاهب أهل السنة.

9- الضعفاء والكذابين – وهو الكتاب الذي بين أيدينا.

10- فضائل شهر رمضان.

11 - فضائل فاطمة رضي الله عنها.

12- كتاب الجنائز.

13- كتاب الصلاة.

14 - كتاب من روى عن أبيه من الصحابة والتابعين.

15 - الناسخ والمنسوخ.

وغيرها من المؤلفات التي يطول المقام بذكرها وقد استوفى الأستاذ صالح الوعيل. إيراد عناوين كتبه التي تركها لنا في مقدمة تحقيقه لكتاب الترغيب في فضائل الأعمال.

وفاته:

توفي المؤلف يوم الأحد الموافق للحادي عشر من ذي الحجة. وقيل لاثني عشر خلون. ودفن بباب حرب عند قبر الإمام أحمد بن حنبل رحمهما الله جميعاً.
৫- একটি খণ্ড যাতে তাঁর উস্তাদদের থেকে বর্ণিত ইবনে শাহীনের হাদিসসমূহ রয়েছে।

৬- যাদের নির্ভরযোগ্যতা ও দুর্বলতা নিয়ে মতভেদ রয়েছে তাদের বর্ণনা।

৭- আর-রুবাইয়াত।

৮ - শারহু মাযাহিব আহলিস সুন্নাহ (আহলুস সুন্নাহর আকিদার ব্যাখ্যা)।

৯- আদ-দুয়াফা ওয়াল কাযযাবিন (দুর্বল ও মিথ্যাবাদী বর্ণনাকারীগণ) – এটিই সেই গ্রন্থ যা বর্তমানে আমাদের সামনে রয়েছে।

১০- রমজান মাসের ফজিলত।

১১ - ফাতিমা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর ফজিলত।

১২- জানাজা সংক্রান্ত কিতাব।

১৩- সালাত সংক্রান্ত কিতাব।

১৪ - সাহাবি ও তাবেয়িদের মধ্যে যারা নিজ পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন তাদের কিতাব।

১৫ - আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ (রহিতকারী ও রহিতকৃত)।

এছাড়াও তাঁর আরও অনেক রচনা রয়েছে যা এখানে বিস্তারিত উল্লেখ করা দীর্ঘসাধ্য হবে। উস্তাদ সালেহ আল-ওয়াইল তাঁর সম্পাদিত 'আত-তারগীব ফি ফাদায়িলিল আমাল' গ্রন্থের তাহকিকের ভূমিকায় লেখকের রেখে যাওয়া কিতাবসমূহের শিরোনামগুলো বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করেছেন।

তাঁর মৃত্যু:

লেখক ১১ই জিলহজ রোজ রবিবার ইন্তেকাল করেন। কারো মতে ১২ তারিখ অতিক্রান্ত হওয়ার পর। তাঁকে 'বাব হারব'-এ ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাহিমাহুল্লাহ)-এর কবরের পাশে দাফন করা হয়। আল্লাহ তাঁদের উভয়ের ওপর রহমত বর্ষণ করুন।
(খণ্ড: ১) তারিখু আসমাইল দুয়াফাউ ওয়াল কাযযাবিন (পৃষ্ঠা: ٢٦)
وصف المخطوط وما يتعلق به

عنوان الكتاب ومنهجه:

ذكر المؤلف كتابه هذا بعنوان ((كتاب تاريخ أسماء الضعفاء والكذابين)) والذين اعتمدوا عليه أطلقوا له عنوان ((الضعفاء)) اختصاراً للعنوان الذي ارتضاه المؤلف، ومن المعلوم أن كلمة ((الضعفاء)) تشمل الكذابين أيضاً لأنه من نوع من الضعف القبيح

ومن خلال عملي في هذا الكتاب تبين لي أن المؤلف سار على المنهج الذي سلكه في كتاب ((الثقات)) في الإعتماد على أقوال النقاد السابقين كالإمام أحمد بن حنبل ويحيي بن معين وغير هما دون التصرف أو الإبداع كأنه مجرد ناقل لأقوالهم، ويلاحظ عليه إيراده بعض الثقات لمجرد قول ناقد فيه. ولعله عمل هذا قصداً. أو تنبه له أثناء التأليف وعند الإنتهاء ألف كتابه ((المختلف فيهم)) فجاء كتاباً جمع فيه خلاصة الرأي في ذلك الراوي الذي اختلف النقاد في توثيقهم أو تضعيفهم. إلا أنه لم يستوعبهم.

وثمة ملاحظة أخرى وهي تكرار بعض الرواة في الباب الواحد واعتبارهم اثنين أو ثلاثة وقد أشرت إلى ذلك في الحاشية أثناء التحقيق ولا حاجة لنا لإعادته هنا. وبالله التوفيق.

أهميته:

يعتبر هذا الكتاب من الكتب المهمة في الضعفاء، لا لأنه جاء بشيء جديد وإنما لاعتماده على مصادر ليس لها ترتيب معين مثل كتب الجرح والتعديل لابن معين والعلل للإمام أحمد، فالوقوف على راوٍ معين في أحد مؤلفين يعتبر
পাণ্ডুলিপির বর্ণনা এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি

গ্রন্থের শিরোনাম ও এর পদ্ধতি:

লেখক তাঁর এই কিতাবটিকে "দুর্বল ও মিথ্যাবাদীদের নামসমূহের ইতিহাসের কিতাব" শিরোনামে উল্লেখ করেছেন। আর যারা এর ওপর নির্ভর করেছেন তারা লেখকের মনোনীত শিরোনামের সংক্ষিপ্তরূপ হিসেবে একে "আদ-দুআফা" (দুর্বল বর্ণনাকারীগণ) শিরোনামে অভিহিত করেছেন। এটি সুবিদিত যে, "দুর্বল" শব্দটি মিথ্যাবাদীদেরও অন্তর্ভুক্ত করে, কারণ এটি এক প্রকার নিকৃষ্ট দুর্বলতা।

এই কিতাবে কাজ করার সময় আমার কাছে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, লেখক তাঁর "আস-সিকাত" (নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীগণ) গ্রন্থে যে পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন, এখানেও সেই একই পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন। তিনি ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল এবং ইয়াহইয়া বিন মায়ীন ও তাঁদের ন্যায় পূর্ববর্তী সমালোচকদের উক্তিগুলোর ওপর কোনো প্রকার রদবদল বা সৃজনশীলতা প্রদর্শন না করে কেবল তাঁদের উক্তির একজন বর্ণনাকারী হিসেবে নির্ভর করেছেন; যেন তিনি কেবল তাঁদের উক্তিগুলোর একজন সংকলক মাত্র। তাঁর ব্যাপারে এটিও লক্ষ্যণীয় যে, তিনি কিছু নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীকেও এখানে উল্লেখ করেছেন কেবল কোনো একজন সমালোচকের মন্তব্যের কারণে। সম্ভবত তিনি এটি উদ্দেশ্যমূলকভাবেই করেছেন। অথবা গ্রন্থ রচনার সময় তিনি এ বিষয়ে সচেতন হয়েছেন এবং লেখা শেষ করার পর তিনি তাঁর "আল-মুখতালাফু ফীহিম" (যাদের বিষয়ে মতভেদ রয়েছে) কিতাবটি রচনা করেন। ফলে এটি এমন একটি কিতাব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে যেখানে তিনি এমন সব বর্ণনাকারীদের ব্যাপারে মতামতের সারসংক্ষেপ জমা করেছেন যাদের নির্ভরযোগ্যতা বা দুর্বলতার বিষয়ে সমালোচকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তবে তিনি তাঁদের সবাইকে এখানে অন্তর্ভুক্ত করতে পারেননি।

আরেকটি পর্যবেক্ষণ হলো, একই অধ্যায়ে কিছু বর্ণনাকারীর পুনরাবৃত্তি হওয়া এবং তাঁদেরকে দুই বা তিনজন গণ্য করা। তাহক্বীক করার সময় আমি টীকায় সেদিকে ইঙ্গিত করেছি, তাই এখানে তা পুনরায় উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই। আর আল্লাহর কাছেই তাওফীক প্রার্থনা করছি।

এর গুরুত্ব:

দুর্বল বর্ণনাকারীদের বিষয়ে রচিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে এই কিতাবটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়। এটি কোনো নতুন কিছু নিয়ে আসার কারণে নয়, বরং এমন সব উৎসের ওপর নির্ভর করার কারণে যার কোনো নির্দিষ্ট বিন্যাস নেই; যেমন ইবনে মায়ীন-এর জারহ ও তা'দীল এবং ইমাম আহমাদ-এর আল-ইলাল। সুতরাং কোনো নির্দিষ্ট বর্ণনাকারী সম্পর্কে কোনো একটি গ্রন্থে তথ্য পাওয়াকে গণ্য করা হয়...
(খণ্ড: ১) তারিখু আসমাইল দুয়াফাউ ওয়াল কাযযাবিন (পৃষ্ঠা: ٢٧)
شاقاً قبل ترتيبهما وفهرستهما من قبل الأستاذة الأفاضل. د. أحمد محمد نور سيف الذي رتب كتاب ابن معين برواية الدوري. ود. طلعت قوج بيكيت وإسماعيل جراح أوغلي. في فهرسة الجزء الأولى من كتاب العلل للإمام أحمد. وهم متأخرون عن ابن شاهين بقرون كثيرة، إضافة إلى اعتماد المؤلف على مصادر يعز وجودها في عصرنا. مثل كتاب ((الرجال والعلل)) 1 لأبي جعفر محمد بن عبد الله بن عمار (ت 242هـ) وابن أبي خيثمة. وابن رشيد وغيرهم.

وكذلك اعتماد من جاء بعده من النقاد على كتابه مثل الحافظ أبي بكر أحمد بن علي الخطيب البغدادي (ت 463هـ) في كتابه القيم ((تاريخ بغداد)) وقد حصرت المواضع التي استفاد منها في ((المجلد الثاني عشر والثالث عشر من كتابه)) 2 فوجدتها أربعة مواضيع في المجلد الثاني عشر.

الموضع الأول:12/182 ترجمة عمرو بن عبيد. نص رقم 444من الضعفاء.

الموضع الثاني:12/191 ترجمة عمر بن جميع. نص رقم 450 من الضعفاء.

الموضع الثالث: 12/193 ترجمة عمرو بن الأزهر. نص رقم 440 من الضعفاء.

الموضع الرابع: 12/328 ترجمة غسان بن عبيد. نص رقم 500 من الضعفاء.

وأربعة مواضيع في المجلد الثالث عشر.

الموضع الأول: 13/110 ترجمة مصعب بن سلام. نص رقم 636 من الضعفاء.

الموضع الثاني: 13/168 ترجمة مقاتل بن سليمان. نص رقم 641 من الضعفاء.

--------------------------------------------

1 تذكرة الحفاظ 2/494.

2 وهناك مواضع في المجلدات الباقية يغني عنها ما ذكرته هنا
মান্যবর উস্তাদদের দ্বারা এগুলো বিন্যস্ত ও নির্ঘণ্টভুক্ত হওয়ার আগে তা অত্যন্ত দুরূহ ছিল। ড. আহমদ মুহাম্মদ নূর সাইফ, যিনি আদ-দাওরীর বর্ণনায় ইবনে মাঈনের কিতাব বিন্যস্ত করেছেন। এবং ড. তালাত কুজ বেকেত ও ইসমাইল জাররাহ অগলু, ইমাম আহমাদের 'কিতাবুল ইলাল'-এর প্রথম খণ্ডের নির্ঘণ্ট প্রণয়নে (কাজ করেছেন)। তাঁরা ইবনে শাহীনের চেয়ে কয়েক শতাব্দী পরের। এছাড়া লেখক এমন সব উৎসের ওপর নির্ভর করেছেন যা আমাদের যুগে পাওয়া দুষ্কর। যেমন আবু জাফর মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আম্মার (মৃত্যু ২৪২ হি.)-এর কিতাব 'আর-রিজাল ওয়াল ইলাল', ইবনে আবি খাইসামা, ইবনে রাশিদ এবং অন্যান্য।

একইভাবে তাঁর পরবর্তী সমালোচকগণ তাঁর কিতাবের ওপর নির্ভর করেছেন, যেমন হাফেজ আবু বকর আহমদ বিন আলী আল-খাতিব আল-বাগদাদী (মৃত্যু ৪৬৩ হি.) তাঁর মূল্যবান গ্রন্থ 'তারিখে বাগদাদ'-এ। তাঁর কিতাবের দ্বাদশ ও ত্রয়োদশ খণ্ডে তিনি যেসব স্থান থেকে উপকৃত হয়েছেন, আমি তা চিহ্নিত করেছি এবং দ্বাদশ খণ্ডে চারটি স্থান পেয়েছি।

প্রথম স্থান: ১২/১৮২, আমর বিন উবাইদ-এর জীবনী। 'আদ-দুয়াফা' গ্রন্থের ৪৪৪ নং বর্ণনা।

দ্বিতীয় স্থান: ১২/১৯১, উমর বিন জামি'-এর জীবনী। 'আদ-দুয়াফা' গ্রন্থের ৪৫০ নং বর্ণনা।

তৃতীয় স্থান: ১২/১৯৩, আমর বিন আল-আযহার-এর জীবনী। 'আদ-দুয়াফা' গ্রন্থের ৪৪০ নং বর্ণনা।

চতুর্থ স্থান: ১২/৩২৮, গাসসান বিন উবাইদ-এর জীবনী। 'আদ-দুয়াফা' গ্রন্থের ৫০০ নং বর্ণনা।

এবং ত্রয়োদশ খণ্ডে চারটি স্থান।

প্রথম স্থান: ১৩/১১০, মুসআব বিন সাল্লাম-এর জীবনী। 'আদ-দুয়াফা' গ্রন্থের ৬৩৬ নং বর্ণনা।

দ্বিতীয় স্থান: ১৩/১৬৮, মুকাতিল বিন সুলাইমান-এর জীবনী। 'আদ-দুয়াফা' গ্রন্থের ৬৪১ নং বর্ণনা।

--------------------------------------------

১. তাযকিরাতুল হুফফাজ ২/৪৯৪।

২. অবশিষ্ট খণ্ডগুলোতেও আরও কিছু স্থান রয়েছে, তবে আমি এখানে যা উল্লেখ করেছি তা-ই যথেষ্ট।
(খণ্ড: ১) তারিখু আসমাইল দুয়াফাউ ওয়াল কাযযাবিন (পৃষ্ঠা: ٢٨)
الموضع الثالث: 13/215 ترجمة مبارك بن فضالة. نص رقم 634 من الضعفاء.

الموضع الرابع: 13/248 ترجمة مندل بن علي. نص رقم 640 من الضعفاء.

المصادر التي اعتمدها المؤلف في كتابه:

اعتمد المؤلف على مصادر هامة في الجرح والتعديل. بعضها برواية متصلة وبعضها وجادة من كتب، وقد اختلف اعتماده على تلك المصادر كثر وقلة حسب حاجته في جرح الرواة الذين أوردهم في كتابه. فمن تلك المصادر أقوال الإمام يحيي بن معين بروايته التالية:

1- رواية أبي الفضل العباس بن محمد بن حاتم الدوري (ت 271هـ) 1 أكثر من 400 نص.

2- رواية بن أبي خيثمة – أحمد بن زهير بن حرب. (ت 279هـ) 2 16 نصاً. وهي النصوص الآتية:

34-46-85-86-87-88-100-242-314-452-461-592-602-611-713.

3- رواية مفضل بن غسان الغلابي.15-نصاً وهي ما يلي:

30-31-63-119-120-159-160-171-179-333-384-476-524-611-715.

4- رواية إسحاق بن منصور الكوسج (ت 251هـ) 3.

3 نصوص. وهي 172-313-332.

--------------------------------------------

1 تذكرة الحفاظ 2/579.

2 المصدر السابق 2/596.

3 المصدر السابق 2/524.
তৃতীয় স্থান: ১৩/২১৫ মুবারক ইবন ফাদালাহ-এর জীবনী। ‘আদ-দু’আফা’ (দুর্বল বর্ণনাকারী) গ্রন্থের ৬৩৪ নম্বর পাঠ।

চতুর্থ স্থান: ১৩/২৪৮ মানদাল ইবন আলী-এর জীবনী। ‘আদ-দু’আফা’ গ্রন্থের ৬৪০ নম্বর পাঠ।

লেখক তাঁর গ্রন্থে যেসব উৎসের ওপর নির্ভর করেছেন:

লেখক ‘জারহ ওয়া তাদীল’ (বর্ণনাকারীদের সমালোচনা ও সত্যায়ন) শাস্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ উৎসসমূহের ওপর নির্ভর করেছেন। এগুলোর মধ্যে কিছু নিরবচ্ছিন্ন বর্ণনাসূত্রে প্রাপ্ত এবং কিছু পাণ্ডুলিপি বা গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত। তিনি তাঁর গ্রন্থে উল্লেখিত বর্ণনাকারীদের ওপর ‘জারহ’ (সমালোচনা) করার প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী এই উৎসগুলোর ওপর কম-বেশি নির্ভর করেছেন। এই উৎসগুলোর মধ্যে ইমাম ইয়াহইয়া ইবন মাঈন-এর উক্তিগুলো নিম্নোক্ত বর্ণনাগুলোর মাধ্যমে সংগৃহীত হয়েছে:

১- আবু আল-ফজল আল-আব্বাস ইবন মুহাম্মাদ ইবন হাতিম আদ-দুরি (ওফাত ২৭১ হিজরি)-এর বর্ণনা ১: ৪০০টিরও বেশি পাঠ।

২- ইবন আবি খাইসামাহ—আহমাদ ইবন জুহাইর ইবন হারব (ওফাত ২৭৯ হিজরি)-এর বর্ণনা ২: ১৬টি পাঠ। পাঠগুলো নিম্নরূপ:

৩৪-৪৬-৮৫-৮৬-৮৭-৮৮-১০০-২৪২-৩১৪-৪৫২-৪৬১-৫৯২-৬০২-৬১১-৭১৩।

৩- মুফাদদাল ইবন গাসসান আল-গাল্লাবি-এর বর্ণনা: ১৫টি পাঠ, যা নিম্নরূপ:

৩০-৩১-৬৩-১১৯-১২০-১৫৯-১৬০-১৭১-১৭৯-৩৩৩-৩৮৪-৪৭৬-৫২৪-৬১১-৭১৫।

৪- ইসহাক ইবন মানসুর আল-কাউসাজ (ওফাত ২৫১ হিজরি)-এর বর্ণনা ৩।

৩টি পাঠ। সেগুলো হলো ১৭২-৩১৩-৩৩২।

--------------------------------------------

১ তাজকিরাতুল হুফফাজ ২/৫৭৯।

২ পূর্বোক্ত উৎস ২/৫৯৬।

৩ পূর্বোক্ত উৎস ২/৫২৪।
(খণ্ড: ১) তারিখু আসমাইল দুয়াফাউ ওয়াল কাযযাবিন (পৃষ্ঠা: ٢٩)
3نصوص. وهي 224-375-684.

6- رواية يزيد بن الهيثم (ت 284هـ) 2.

4 نصوص. وهي 7-175-332-670.

7- رواية محمد بن إسحاق الصغاني (ت 207هـ)

2 نصاً. وهما رقم 6-460.

8- رواية حنبل بن إسحاق بن حنبل بن هلال (ت 273هـ) 4.

نصاً واحداً. رقم 703.

9- رواية معاوية بن صالح الدمشقي (ت 263هـ) 5.

نصاً واحداً. رقم 21.

10- رواية حسين بن محمد بن عبد الرحمن بن فهم (ت 289هـ) 6.

نصاً واحداً. رقم 685.

11- رواية محمد بن عوف الحمصي (ت 272هـ) 7.

نصاً واحداً. رقم 644.

12- رواية عبد الله بن أحمد بن حنبل (ت 290هـ)

نصاً واحداً. رقم 368.

13- رواية طاهر بن أبي خباب.

نصاً واحداً. رقم 382.

--------------------------------------------

1 المصدر السابق 2/626.

2 تاريخ بغداد 14/349.

3 تذكرة الحفاظ 2/573

4 المصدر السابق 2/600.

5 تهذيب التهذيب 10/212.

6 تاريخ بغداد 8/93.

7 تذكرة الحفاظ 2/581.
৩টি পাঠ। সেগুলো হলো ২২৪-৩৭৫-৬৮৪।

৬- ইয়াজিদ বিন আল-হাইসামের বর্ণনা (মৃ. ২৮৪ হি.) ২।

৪টি পাঠ। সেগুলো হলো ৭-১৭৫-৩৩২-৬৭০।

৭- মুহাম্মদ বিন ইসহাক আস-সাগানি-এর বর্ণনা (মৃ. ২০৭ হি.)

২টি পাঠ। সেগুলো হলো নম্বর ৬-৪৬০।

৮- হাম্বল বিন ইসহাক বিন হাম্বল বিন হিলাল-এর বর্ণনা (মৃ. ২৭৩ হি.) ৪।

একটি পাঠ। নম্বর ৭০৩।

৯- মুয়াবিয়া বিন সালিহ আদ-দিমাশকি-এর বর্ণনা (মৃ. ২৬৩ হি.) ৫।

একটি পাঠ। নম্বর ২১।

১০- হুসাইন বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান বিন ফাহম-এর বর্ণনা (মৃ. ২৮৯ হি.) ৬।

একটি পাঠ। নম্বর ৬৮৫।

১১- মুহাম্মদ বিন আউফ আল-হিমসি-এর বর্ণনা (মৃ. ২৭২ হি.) ৭।

একটি পাঠ। নম্বর ৬৪৪।

১২- আবদুল্লাহ বিন আহমাদ বিন হাম্বল-এর বর্ণনা (মৃ. ২৯০ হি.)

একটি পাঠ। নম্বর ৩৬৮।

১৩- তাহির বিন আবি খাব্বাব-এর বর্ণনা।

একটি পাঠ। নম্বর ৩৮২।

--------------------------------------------

১. পূর্বোক্ত উৎস ২/৬২৬।

২. তারিখ বাগদাদ ১৪/৩৪৯।

৩. তাযকিরাতুল হুফফায ২/৫৭৩

৪. পূর্বোক্ত উৎস ২/৬০০।

৫. তাহযিবুত তাহযিব ১০/২১২।

৬. তারিখ বাগদাদ ৮/৯৩।

৭. তাযকিরাতুল হুফফায ২/৫৮১।
(খণ্ড: ১) তারিখু আসমাইল দুয়াফাউ ওয়াল কাযযাবিন (পৃষ্ঠা: ٣٠)
وإن معظم هذه الروايات لم تصل إلينا بل حفظت لنا في كتب المتأخرين، منها كتاب الضعفاء لابن شاهين. وكل ما أراد أن يقف على مافي هذه الروايات المفقودة لابد له أن يعود إلى مثل هذا الكتاب الذي أورد معظم النصوص المشار إليها – عدا رواية الدوري – بإسناد المؤلف إلى الإمام يحيي بن معين مما يؤكد القيمة العلمية التي أشرت إليها سابقاً.

واعتمد أيضاً على أقوال الإمام أحمد بن حنبل رحمه الله برواية ابنه عبد الله؛ حيث نقل عنه ((74 نصاً)) .

ومن رواية حنبل نصاً واحداً. وهو رقم 45.

ومن رواية ابن شوكر نصاً واحداً. وهو رقم 440.

وعلى كتاب ((الرجال والعلل)) لمحمد بن عبد الله بن عمار.

وعن عثمان ابن أبي شيبة ((12نصاً)) .

وعن يحيي بن سعيد القطان ((9 نصوص بواسطة علي بن المديني)) برقم -16-54-77-99-290-392-452-597-660 و ((4 نصوص)) بواسطة يحيي بن معين عنه. وهي رقم 6-71-82-164-وعن أحمد بن صالح المصري. (ت 248هـ) 1.

((9نصوص)) رقم 22-104-150-271-325-409-507-605-699 وهناك بعض النصوص التي اعتمد فيها نقولات عن بعض الإءمة لم يعرف لهم مؤلفات في الجرح أو التعديل أمثال الإمام شعبة بن الحجاج وجعفر بن عون وهشام بن يوسف ونصر بن علي الجهضمي وأبي بكر بن عياش، إلا عنه لم يكثر النقل عنهم اكتفاءً بما حصل عليه بواسطة المؤلفات التي أشرت إلى مؤلفيها في هذا الباب.

--------------------------------------------

1 تذكرة الحفاظ 2/495.
নিশ্চয়ই এই বর্ণনাগুলোর অধিকাংশই সরাসরি আমাদের নিকট পৌঁছেনি, বরং সেগুলো পরবর্তী যুগের আলেমদের গ্রন্থসমূহে আমাদের জন্য সংরক্ষিত রয়েছে; যার মধ্যে ইবনে শাহীনের 'কিতাবুয যুআফা' অন্যতম। আর যে ব্যক্তি এই হারানো বর্ণনাগুলোতে কী রয়েছে তা অবগত হতে চায়, তাকে অবশ্যই এই ধরণের গ্রন্থের দিকে ফিরে আসতে হবে, যা নির্দেশিত অধিকাংশ উদ্ধৃতি—আদ-দৌরীর বর্ণনা ব্যতীত—লেখকের সনদে ইমাম ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন পর্যন্ত উল্লেখ করেছে। এটি সেই ইলমি গুরুত্বকেই নিশ্চিত করে যা আমি পূর্বে উল্লেখ করেছি।

তিনি ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রহিমাহুল্লাহ)-এর উক্তিগুলোর ওপরও নির্ভর করেছেন তাঁর পুত্র আবদুল্লাহর বর্ণনার মাধ্যমে; যেখানে তিনি তাঁর থেকে ((৭৪টি উদ্ধৃতি)) বর্ণনা করেছেন।

আর হাম্বলের বর্ণনা থেকে একটি উদ্ধৃতি; যা ৪৫ নম্বর।

আর ইবনে শওকরের বর্ণনা থেকে একটি উদ্ধৃতি; যা ৪৪০ নম্বর।

এবং মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আম্মারের 'আল-রিজাল ওয়াল ইলাল' গ্রন্থের ওপর।

এবং উসমান ইবনে আবি শায়বাহ থেকে ((১২টি উদ্ধৃতি))।

আর ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান থেকে ((আলী ইবনুল মাদিনীর মাধ্যমে ৯টি উদ্ধৃতি)), যার নম্বর: ১৬-৫৪-৭৭-৯৯-২৯০-৩৯২-৪৫২-৫৯৭-৬৬০ এবং ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনের মাধ্যমে তাঁর থেকে ((৪টি উদ্ধৃতি))। সেগুলো হলো ৬-৭১-৮২-১৬৪ নম্বর। আর আহমাদ ইবনে সালিহ আল-মিসরি (মৃত্যু ২৪৮ হিজরি) থেকে। ১

((৯টি উদ্ধৃতি)) নম্বর: ২২-১০৪-১৫০-২৭১-৩২৫-৪০৯-৫০৭-৬০৫-৬৯৯। এছাড়াও সেখানে কিছু উদ্ধৃতি রয়েছে যেগুলোতে তিনি এমন কিছু ইমামের উদ্ধৃতির ওপর নির্ভর করেছেন যাদের জারাহ বা তাদিল বিষয়ক কোনো গ্রন্থ জানা নেই, যেমন— ইমাম শু'বাহ ইবনুল হাজ্জাজ, জাফর ইবনে আউন, হিশাম ইবনে ইউসুফ, নাসর ইবনে আলী আল-জাহদামি এবং আবু বকর ইবনে আইয়াশ। তবে তিনি তাঁদের থেকে অধিক উদ্ধৃতি প্রদান করেননি, বরং এই পরিচ্ছেদে আমি যাদের কথা উল্লেখ করেছি তাঁদের গ্রন্থসমূহের মাধ্যমে যা সংগৃহীত হয়েছে তার ওপর নির্ভর করাই যথেষ্ট মনে করেছেন।

--------------------------------------------

১ তাযকিরাতুল হুফফাজ ২/৪৯৫।
(খণ্ড: ১) তারিখু আসমাইল দুয়াফাউ ওয়াল কাযযাবিন (পৃষ্ঠা: ٣١)
نسبة الكتاب:

تضافرت الأدلة القاطعة في نسبة هذا الكتاب إلى الإمام بن شاهين منها:

1- تسريح المؤلف نفسه في مقدمة الضعفاء حين قال:

" وذكرت هؤلاء في كتابي هذا على مثل ما ذكرت الثقات ليقرب على المستفيد إدراك ما أراد … إلخ"1.

والمعروف أن كتاب الثقات أشهر من الضعفاء، وأجمع المتأخرون أن نقل منه وعزو ما فيه إلى ابن شاهين.

2- اعتماد النقاد عل نصوصه والإشارة إليه. مثل الحافظ بن حجر. إذ قال في ترجمة أزهر بن سنان. " ذكره بن شاهين في الضعفاء"2 وكذلك في ترجمة خالد بن إلياس3.

وترجمة إبراهيم بن إسماعيل المكي4.

وترجمة غياث بن إبراهيم النخعي5.

3- اعتماد الإمام الخطيب البغدادي ونقله لبعض النصوص التي تطابقت مع نصوص الكتاب وقد أشرت إلى ذلك عند بيان أهمية الكتاب.

وهذه الأدلة كلها تدل بما لا يدع مجالاً للشك على عن كتاب الضعفاء من تأليف الإمام بن شاهين رحمه الله.

نسخ الكتاب:

اعتمدت في تحقيق الكتاب على نسخ فريدة وهي نسخة ابن يوسف بمراكش. ولم أتمكن من العثور على نسخة أخرى مساندة لها. إلا أن وجود

--------------------------------------------

1 الضعفاء ق1 لوحة أ.

2 تهذيب التهذيب 1/204.

3 المصدر السابق 3/81.

4 لسان الميزان 1/34.

5 المصدر السابق 4/422.
কিতাবের নিসবত বা সম্বন্ধযুক্তকরণ:

এই কিতাবটি ইমাম ইবনে শাহীনের প্রতি সম্বন্ধযুক্ত হওয়ার ব্যাপারে সুনিশ্চিত প্রমাণসমূহ একত্রিত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:

১- লেখক স্বয়ং ‘আদ-দু'আফা’ কিতাবের ভূমিকায় স্পষ্ট করে বলেছেন:

"আমি আমার এই কিতাবে এদেরকে ঠিক সেভাবেই উল্লেখ করেছি যেভাবে আমি নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের (আল-সিকাত) উল্লেখ করেছি, যাতে উপকারপ্রার্থী যা চায় তা অনুধাবন করা তার জন্য সহজ হয়... ইত্যাদি।"১

আর এটি সুপরিচিত যে, ‘আল-সিকাত’ কিতাবটি ‘আদ-দু'আফা’র চেয়েও অধিক প্রসিদ্ধ এবং পরবর্তী আলিমগণ একমত হয়েছেন যে তারা তা থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন এবং এর বিষয়বস্তুকে ইবনে শাহীনের দিকেই সম্বন্ধযুক্ত করেছেন।

২- সমালোচকদের (নাক্কাদ) এর ভাষ্যের ওপর নির্ভর করা এবং এর প্রতি ইঙ্গিত করা। যেমন হাফেজ ইবনে হাজার। তিনি আজহার ইবনে সিনানের জীবনীতে বলেছেন: "ইবনে শাহীন তাকে আদ-দু'আফা কিতাবে উল্লেখ করেছেন।"২ অনুরূপভাবে খালিদ ইবনে ইলিয়াস৩ এর জীবনীতে।

এবং ইব্রাহিম ইবনে ইসমাইল আল-মাক্কি৪ এর জীবনীতে।

এবং গিয়াস ইবনে ইব্রাহিম আল-নাখায়ীর৫ জীবনীতে।

৩- ইমাম খতিব আল-বাগদাদীর (এর ওপর) নির্ভর করা এবং এমন কিছু ভাষ্য উদ্ধৃত করা যা এই কিতাবের ভাষ্যের সাথে হুবহু মিলে যায়; আমি কিতাবটির গুরুত্ব বর্ণনার সময় এ বিষয়ে ইঙ্গিত করেছি।

আর এই সমস্ত প্রমাণসমূহ কোনো প্রকার সন্দেহ ছাড়াই নির্দেশ করে যে, ‘আদ-দু'আফা’ কিতাবটি ইমাম ইবনে শাহীন (রহিমাহুল্লাহ)-এর রচনা।

কিতাবের পাণ্ডুলিপি:

কিতাবটির তাহকীক করার ক্ষেত্রে আমি একটি একক পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি, আর তা হলো মরক্কোর ইবনে ইউসুফ পাণ্ডুলিপি। আমি এর সহায়ক অন্য কোনো পাণ্ডুলিপি খুঁজে পেতে সক্ষম হইনি। তবে এর অস্তিত্ব...

--------------------------------------------

১ আদ-দু'আফা, খণ্ড ১, পাতা ক।

২ তাহযীবুত তাহযীব ১/২০৪।

৩ পূর্বোক্ত উৎস ৩/৮১।

৪ লিসানুল মীজান ১/৩৪।

৫ পূর্বোক্ত উৎস ৪/৪২২।
(খণ্ড: ১) তারিখু আসমাইল দুয়াফাউ ওয়াল কাযযাবিন (পৃষ্ঠা: ٣٢)
بعض المراجع التي اعتمدها المصنف يسرت إخراج المادة على الوجه الذي أرى أنه أقرب إلى الصواب إن شاء الله.

عملي في التحقيق:

أولا: قمت بنسخ المخطوط معتمداً فيه على الأصل الوحيد الذي وقفت عليه في مكتبة سيدي يوسف بمراكش.

ثانياً: بذلت الجهد في تقويم النص وضبطه معتمداً على المراجع التي اعتمدت على هذا الكتاب لاسيما تاريخ بغداد للخطيب البغدادي.

ثالثاً: رجعت إلى المصادر التي اعتمدها المؤلف بمؤلفه أو المصادر التي ذكرت المادة العلمية التي أشار إليها بن شاهين عند التعذر في الوقوف على الأصل.
গ্রন্থকার কর্তৃক ব্যবহৃত কিছু তথ্যসূত্র বিষয়বস্তুটিকে এমনভাবে উপস্থাপন করা সহজ করে দিয়েছে যা আমার দৃষ্টিতে সঠিকের অধিকতর নিকটবর্তী, ইনশাআল্লাহ।

সম্পাদনার ক্ষেত্রে আমার কর্মপদ্ধতি:

প্রথমত: আমি পাণ্ডুলিপিটি অনুলিপি করেছি সেই একমাত্র মূল কপির ওপর নির্ভর করে যা আমি মাররাকেশের সিদি ইউসুফ লাইব্রেরিতে পেয়েছি।

দ্বিতীয়ত: আমি মূল পাঠ্য সংশোধন ও বিন্যাসে প্রচেষ্টা ব্যয় করেছি এমন সব তথ্যসূত্রের ওপর নির্ভর করে যা এই কিতাবটির ওপর ভিত্তি করে রচিত হয়েছে, বিশেষ করে খতিব আল-বাগদাদীর 'তারিখ বাগদাদ'।

তৃতীয়ত: মূল উৎস খুঁজে পাওয়া দুঃসাধ্য হলে আমি লেখক তাঁর গ্রন্থে যেসকল উৎসের ওপর নির্ভর করেছেন সেগুলোর দিকে অথবা ইবনে শাহিন যে ইলমী বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন সেই তথ্যসম্বলিত অন্যান্য উৎসের দিকে প্রত্যাবর্তন করেছি।
(খণ্ড: ১) তারিখু আসমাইল দুয়াফাউ ওয়াল কাযযাবিন (পৃষ্ঠা: ٣٧)
‌‌نص المحقق

‌‌مقدمة المؤلف

…

نص كتاب الضعفاء والكذابين للإمام أبي حفص عمر بن شاهين ت سنة 385هـ

تحقيق ودراسة الدكتور عبد الرحيم محمد أحمد القشقري
সম্পাদকের বক্তব্য

লেখকের ভূমিকা

…

ইমাম আবু হাফস উমর বিন শাহীন (মৃত্যু ৩৮৫ হিজরি) বিরচিত দুর্বল ও মিথ্যাবাদীদের বিষয়ক কিতাবের মূল পাঠ

সম্পাদনা ও গবেষণা: ডক্টর আব্দুর রহীম মুহাম্মাদ আহমাদ আল-কাশকারী
(খণ্ড: ১) তারিখু আসমাইল দুয়াফাউ ওয়াল কাযযাবিন (পৃষ্ঠা: ٣٩)
بسم الله الرحمن الرحيم

عن أبي حفص بن شاهين قال:

"كتاب أسماء الكذابين في حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم، والذين يضعفون في الحديث، والذين يكذبون في الرواية، والذين يركبون الأسانيد على المتون الضعيفة وهو أشد الكذب، والذين يتعدون في السماع فيحدثون عن من لم يروه قط، أو يحدثون عن من لم يروه بأكثر مما سمعوا، والذين يتهاونون بالتصريح في حضور المجالس، فيشتغل أحدهم بالحديث، ولو سؤل على وجه الامتحان لما درى ما يسمع. وذكر من ضعف في الحديث.

وذكرت هؤلاء في كتابي هذا على مثل ما ذكرت الثقات، ليقرب على المستفيد إدراك ما أراد من هؤلاء.

ونسأل الله المعونة على ما قصدناه من ذلك.

أنا – خيثمة بن سليمان بن حيدرة القرشي بأطرابلس – نا – أبو عتبة أحمد بن الفرج الحمصي – نا – بقية عن أبي العلاء عن مجاهد عن ابن عباس قال؛

قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:

"هلاك أمتي بالعصبية والقدرية والراوية عن غير ثبت" 1.

--------------------------------------------

1 رواه ابن عبد البر في مقدمة التمهيد وقال:

"هذا حديث انفرد به بقيه عن أبي العلاء. وهو إسناد فيه ضعف لا تقوم به الحجة. ورواه البزار بسنده إلى هارون بن هارون عن مجاهد عن ابن عباس" … وقال عقبة: "لا نعلمه يروي بهذا اللفظ من وجه صحيح. وإنما ذكرناه إذ لا يحفظ من وجه أحسن من هذا وهارون ليس بالمعروف بالنقل". ورواه الطبراني في الأوسط من أبي قتادة. وفي سنده سويد بن عبد العزيز.

انظر: المحدث الفاصل 412،المعجم الكبير 11/89، زوائد مسند البزار 1/248.التمهيد 1/58، ميزان الاعتدال 4/287، الجامع الأزهر 3/76.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

আবু হাফস বিন শাহীন থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:

"রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসের ক্ষেত্রে মিথ্যাবাদীদের নামসমূহ, এবং যারা হাদীসে দুর্বল, আর যারা বর্ণনায় মিথ্যাচার করে, এবং যারা দুর্বল মূলপাঠের (মতন) ওপর সনদ (সূত্র) আরোপ করে—যা মিথ্যার নিকৃষ্টতম রূপ, এবং যারা শ্রবণের (সামা’) ক্ষেত্রে সীমা লঙ্ঘন করে ফলে তারা এমন ব্যক্তিদের থেকে বর্ণনা করে যাদের তারা কখনো দেখেনি, অথবা তারা যা শুনেছে তার চেয়েও বেশি এমন ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করে যাকে তারা দেখেছে, এবং যারা মজলিসে উপস্থিতির ব্যাপারে স্পষ্টীকরণে অবহেলা করে, ফলে তাদের কেউ হাদীসে মগ্ন থাকে অথচ পরীক্ষার জন্য তাকে জিজ্ঞাসা করা হলে সে কী শুনছে তা জানে না। আর তিনি তাদের কথা উল্লেখ করেছেন যারা হাদীসে দুর্বল।

আমি আমার এই কিতাবে এদেরকে সেভাবেই উল্লেখ করেছি যেভাবে নির্ভরযোগ্যদের (সিক্বাহ) উল্লেখ করেছি, যাতে সত্যানুসন্ধানীদের জন্য এদের সম্পর্কে কাঙ্ক্ষিত তথ্য লাভ করা সহজ হয়।

আমরা যে সংকল্প করেছি সে ব্যাপারে আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি।

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন খাইসামাহ বিন সুলাইমান বিন হাইদারাহ আল-কুরাশী আত্রাবলুসে — তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু উতবাহ আহমদ বিন আল-ফারাজ আল-হিমসী — তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বাকিয়্যাহ — আবু আল-আলা থেকে — মুজাহিদ থেকে — ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন;

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

"আমার উম্মতের ধ্বংস নিহিত রয়েছে গোঁড়ামি, কাদারিয়া মতবাদ এবং অনির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে বর্ণনা করার মধ্যে।" ১।

--------------------------------------------

১. এটি বর্ণনা করেছেন ইবনে আবদিল বার ‘আত-তামহীদ’-এর ভূমিকায় এবং তিনি বলেছেন:

"এটি এমন একটি হাদীস যা আবু আল-আলা থেকে বর্ণনায় বাকিয়্যাহ একক হয়ে গেছেন। আর এটি এমন একটি সনদ যাতে দুর্বলতা রয়েছে যা দ্বারা দলীল প্রতিষ্ঠিত হয় না। আর আল-বাত্তার তার সনদে হারুন বিন হারুন থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন" … এবং উকবাহ বলেছেন: "সহীহ কোনো সূত্রে এই শব্দে এটি বর্ণিত হয়েছে বলে আমাদের জানা নেই। আমরা এটি উল্লেখ করেছি কেবল এজন্য যে, এর চেয়ে উত্তম কোনো সূত্রে এটি সংরক্ষিত নেই এবং হারুন বর্ণনাকারী হিসেবে পরিচিত নন।" আর তাবারানী ‘আল-আওসাত’-এ আবু কাতাদাহ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। আর এর সনদে সুওয়াইদ বিন আব্দুল আজিজ রয়েছেন।

দেখুন: আল-মুহাদ্দিস আল-ফাসিল ৪১২, আল-মু’জাম আল-কাবীর ১১/৮৯, যাওয়ায়েদ মুসনাদ আল-বাত্তার ১/২৪৮, আত-তামহীদ ১/৫৮, মিজানুল ইতিদাল ৪/২৮৭, আল-জামে আল-আযহার ৩/৭৬।