(খণ্ড: ১)
তাজরিবাতি মায়াল ইজাজিল ইলমি ফিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
تجربتي مع الإعجاز العلمي في السنة النبوية القسم: علوم الحديث
الكتاب: تجربتي مع الإعجاز العلمي في السنة النبوية
المؤلف: صالح بن أحمد رضا
الناشر: مجمع الملك فهد لطباعة المصحف الشريف بالمدينة المنورة
عدد الصفحات: 56
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
সুন্নাহর বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্ব বিষয়ে আমার অভিজ্ঞতা বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র
গ্রন্থ: সুন্নাহর বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্ব বিষয়ে আমার অভিজ্ঞতা
লেখক: সালেহ বিন আহমদ রেজা
প্রকাশক: মদিনা মুনাওয়ারায় পবিত্র কুরআন মুদ্রণের জন্য বাদশাহ ফাহাদ কমপ্লেক্স
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৬
[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
তাজরিবাতি মায়াল ইজাজিল ইলমি ফিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১)
ال
مقدمة:الحمد لله الذي جعلنا من أمة محمد صلى الله عليه وسلم التي أضاء القرآن دربها، الحمد لله الذي أنار العقول المسلمة بنور الوحي الإلهي، فلم تتخبط في الظلام، ولم تَضِعْ في متاهات الدنيا، الحمد لله الذي حفظ لنا الإسلام بحفظ كتابه المنزل، وحفظ سنة نبيه محمد صلى الله عليه وسلم المرسل. والصلاة والسلام الأتمّان الأكملان على المبعوث رحمة للعالمين، وهدى، وسلاماً، وأمناً للعالمين، الذي علمه من العلوم ما لم يطلع عليه أحد من قبله، فأنار العقول، وأوضح الكثير مما لم يعرفه ويطلع عليه أحد إلا في القرون الحالية، فكان علمه إعجازاً ربانياً للعالمين.
أما بعد.
فإنني منذ علمت بانعقاد هذه الندوة في المدينة المنورة، وأنا أفكر في البحث الذي أريد أن أتقدم به إليكم فيه، حتى قابلت صاحب الفضيلة " محمد سالم بن شديد العوفي" حفظه الله تعالى في ندوة " القرآن الكريم" التي عقدت في كلية الشريعة والدراسات الإسلامية بالشارقة، فطلب مني أن أتقدم بموضوع عن الإعجاز، وذلك بعدما اطلع على كتابي الموسوم بـ " الإعجاز العلمي في السنة النبوية" فكان ذلك إشارة بأن أكتب حول الإعجاز العلمي في السنة النبوية. ولما كان المحور الموجود في أعمال هذه الندوة الوحيد المتعلق بالإعجاز هو" قواعد تناول الإعجاز العلمي والطبي في السنة النبوية، وضوابطه" جعلت هذا البحث بهذا العنوان"تجربتي مع الإعجاز العلمي في السنة النبوية"، وأقصد تجربتي مع هذا الكتاب، وما فيه من الإعجاز، ولهذا سأتناول موضوعات الكتاب بعد أن أضع الضوابط، لأطبق القواعد على ما عملته، والله ولي التوفيق.
ভূমিকা:সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উম্মতভুক্ত করেছেন, যাঁর পথকে কুরআন আলোকিত করেছে। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি মুসলিমদের বুদ্ধিবৃত্তিকে ঐশী ওহীর আলোয় উদ্ভাসিত করেছেন, ফলে তা অন্ধকারে পথ হারায়নি এবং পার্থিব জগতের গোলকধাঁধায় হারিয়ে যায়নি। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর অবতীর্ণ কিতাব সংরক্ষণের মাধ্যমে আমাদের জন্য ইসলামকে হেফাজত করেছেন এবং তাঁর প্রেরিত (المرسل) নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহকে সংরক্ষণ করেছেন। এবং পূর্ণাঙ্গ ও নিখুঁত দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক বিশ্বজগতের রহমত, হেদায়েত, শান্তি ও নিরাপত্তার উৎস হিসেবে প্রেরিত সেই মহান সত্তার প্রতি, যাঁকে আল্লাহ এমন সব জ্ঞান শিক্ষা দিয়েছেন যা ইতিপূর্বে অন্য কাউকেও অবগত করা হয়নি। অতঃপর তিনি বুদ্ধিবৃত্তিকে আলোকিত করেছেন এবং এমন অনেক বিষয় স্পষ্ট করেছেন যা বর্তমান শতাব্দীসমূহ ছাড়া ইতিপূর্বে কেউ জানতে বা অবগত হতে পারেনি; ফলে তাঁর সেই জ্ঞান ছিল বিশ্ববাসীর জন্য এক ঐশী অলৌকিকত্ব।
অতঃপর।
মদিনা মুনাওয়ারায় এই সেমিনার আয়োজনের সংবাদ পাওয়ার পর থেকেই আমি এখানে কোন বিষয়টি নিয়ে গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করব তা নিয়ে ভাবছিলাম। অবশেষে শারজাহর ‘কুল্লিয়াতুশ শরীয়াহ ওয়াদ দিরাসাতিল ইসলামিয়্যাহ’-তে অনুষ্ঠিত ‘আল-কুরআন আল-কারীম’ সেমিনারে যখন শ্রদ্ধেয় ‘মুহাম্মদ সালেম বিন শাদিদ আল-আওফী’ (হাফিজাহুল্লাহ)-এর সাথে আমার সাক্ষাৎ হলো, তখন তিনি আমাকে ‘ইজাজ’ (অলৌকিকত্ব) বিষয়ে একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করতে অনুরোধ করলেন। এটি ছিল মূলত আমার ‘আস-সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ-তে বৈজ্ঞানিক মোজেজা’ নামক গ্রন্থটি দেখার পর তাঁর পক্ষ থেকে একটি ইঙ্গিত যে, আমি যেন নববী সুন্নাহর বৈজ্ঞানিক মোজেজা নিয়ে কিছু লিখি। যেহেতু এই সেমিনারের কার্যক্রমে মোজেজা সংশ্লিষ্ট একমাত্র প্রতিপাদ্য বিষয়টি ছিল ‘নববী সুন্নাহর বৈজ্ঞানিক ও চিকিৎসা সংক্রান্ত মোজেজা পর্যালোচনার নীতিমালা ও নিয়মাবলি’, তাই আমি আমার এই গবেষণার শিরোনাম নির্ধারণ করেছি ‘নববী সুন্নাহর বৈজ্ঞানিক মোজেজা নিয়ে আমার অভিজ্ঞতা’। এখানে আমি আমার উক্ত গ্রন্থ এবং তাতে বিদ্যমান মোজেজা সংক্রান্ত অভিজ্ঞতার কথা বুঝিয়েছি। এই কারণে কিতাবটির বিষয়বস্তু আলোচনার পূর্বে আমি এ সংক্রান্ত নীতিমালাগুলো উল্লেখ করব, যাতে আমার সম্পাদিত কাজের ওপর উক্ত নিয়মাবলি প্রয়োগ করতে পারি। আর আল্লাহই তাওফিকদাতা।
(খণ্ড: ১)
তাজরিবাতি মায়াল ইজাজিল ইলমি ফিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২)
خطة البحث:
سأسير في هذا البحث وفق الخطة التالية:
1- معنى الإعجاز–لغة واصطلاحاً- وتحرير التعريف المختار.
2- معجزة رسول الله صلى الله عليه وسلم.
3- سر الإعجاز في القرآن العظيم.
4- وجوه الإعجاز كما تؤخذ من كتاب الله تعالى.
5- وجوه الإعجاز في السنة النبوية.
6- ضوابط القول بالإعجاز.
7- عملي في الكتاب.
والله أسأل أن أكون قد وفقت، وأصبت السداد في ذلك، فهو وليي عليه توكلت، وإليه أنبت.
গবেষণার পরিকল্পনা:
আমি এই গবেষণায় নিম্নলিখিত পরিকল্পনা অনুযায়ী অগ্রসর হব:
১- অলৌকিকত্ব (إعجاز)-এর শাব্দিক (لغة) ও পারিভাষিক (اصطلاحاً) অর্থ এবং নির্বাচিত সংজ্ঞাটির বিশ্লেষণ।
২- আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুজিজা (معجزة)।
৩- মহান কুরআনের অলৌকিকত্বের (إعجاز) রহস্য।
৪- আল্লাহর কিতাব থেকে সংগৃহীত অলৌকিকত্বের (إعجاز) দিকসমূহ।
৫- সুন্নাহ (سنة)-র মধ্যে অলৌকিকত্বের (إعجاز) দিকসমূহ।
৬- অলৌকিকত্ব (إعجاز) সাব্যস্ত করার নীতিমালা (ضوابط)।
৭- কিতাবটিতে আমার কর্মপদ্ধতি।
আমি আল্লাহর নিকট তাওফিক প্রার্থনা করছি এবং আমি যেন সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি; তিনিই আমার অভিভাবক, তাঁর ওপরই আমি ভরসা করেছি এবং তাঁরই দিকে আমি প্রত্যাবর্তন করি।
(খণ্ড: ১)
তাজরিবাতি মায়াল ইজাজিল ইলমি ফিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
تجربتي مع الإعجاز العلمي في السنة النبوية
إعداد الدكتور/ صالح أحمد رضا
بسم الله الرحمن الرحيم
الإعجاز لغة واصطلاحاًالعجز– في اللسان العربي-: الضعف، وأصله التأخر عن الشيء، والقصور عن فعله، وهو ضد القدرة.
وأعجزت فلاناً، وعجزته، وعاجزته: جعلته عاجزاً، وجاء في القرآن الكريم: {وَمَا أَنْتُمْ بِمُعْجِزِينَ} في آيات كثيرة (1) ، والمقصود بها أن المخاطب بها لا يعجز الله تعالى، بل هو سبحانه قادر عليهم، وهم في قبضته، وتحت قهره، ومشيئته.
وجاء على لسان ابن آدم أنه قال: {أَعَجَزْتُ أَنْ أَكُونَ مِثْلَ هَذَا الْغُرَابِ} [المائدة: 31] أي ضعفت في عقلي وتفكيري أن أفعل هذا الفعل، ولم أهتد إليه لضعفي وعجزي، وظاهر أن العجز هنا في هذه الآية هو ضعف في التفكير، وعدم التوصل بفكره إلى حفر حفرة يواري فيها جثمان أخيه المقتول، فإنه بعد أن رأى فعل الغراب واراه فقد كان عاجزاً في فكره قادراً بعمله، فالعجز يطلق على الأمور المادية والمعنوية. ومصدر أعجز: إعجاز،
--------------------------------------------
সুন্নাহর বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্ব (إعجاز) বিষয়ে আমার অভিজ্ঞতা
উপস্থাপনায়: ড. সালেহ আহমদ রেদা
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
ভাষাগত ও পারিভাষিক অর্থে অলৌকিকত্ব (إعجاز)আরবি ভাষায় 'আল-আজর' (العجز) অর্থ হলো: দুর্বলতা (الضعف), এর মূল অর্থ হলো কোনো বিষয় থেকে পিছিয়ে পড়া এবং তা সম্পাদনে সীমাবদ্ধতা বা অপারগতা; এটি সক্ষমতার (القدرة) বিপরীত।
আমি অমুককে অক্ষম করেছি (أعجزت فلاناً), তাকে দুর্বল করেছি (عجزته), এবং তাকে অপারগ করে দিয়েছি (عاجزته)—এর অর্থ হলো: আমি তাকে অক্ষম (عاجزاً) করে দিয়েছি। পবিত্র কুরআনের অনেক আয়াতে এসেছে: {وَمَا أَنْتُمْ بِمُعْجِزِينَ} [তোমরা কোনোভাবেই তাঁকে অক্ষম (معجزين) করতে পারবে না] (১), এর মাধ্যমে উদ্দেশ্য হলো, যাদের প্রতি এই সম্বোধন করা হয়েছে তারা আল্লাহ তাআলাকে অক্ষম করতে পারবে না, বরং তিনি তাদের ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান এবং তারা তাঁর করায়ত্ত, তাঁর দমন ও ইচ্ছাধীন।
আদমের সন্তানের জবানিতে এসেছে যে সে বলেছিল: {أَعَجَزْتُ أَنْ أَكُونَ مِثْلَ هَذَا الْغُرَابِ} [আমি কি এই কাকটির মতো হতেও অক্ষম (أعجزت) হয়ে গেলাম?] [আল-মায়িদাহ: ৩১]। অর্থাৎ, এই কাজটি করার ক্ষেত্রে আমার বুদ্ধি ও চিন্তা শক্তি দুর্বল (ضعفت) হয়ে পড়েছে এবং আমার দুর্বলতা ও অক্ষমতার (عجزي) কারণে আমি এর সঠিক দিশা পাইনি। এটা স্পষ্ট যে, এই আয়াতে 'অক্ষমতা' (العجز) বলতে চিন্তাশক্তির দুর্বলতা এবং নিজের নিহত ভাইয়ের মরদেহ গোপন করার জন্য গর্ত খনন করার চিন্তা পর্যন্ত পৌঁছাতে না পারাকে বোঝানো হয়েছে। কাকের কাজ দেখার পর সে তাকে কবরস্থ করেছিল; ফলে সে তার চিন্তায় অক্ষম (عاجزاً) হলেও কর্মে সক্ষম ছিল। সুতরাং অক্ষমতা (العجز) শব্দটি বস্তুগত ও অর্থগত—উভয় বিষয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হয়। আর 'আ'জাযা' (أعجز) এর মাসদার বা ক্রিয়ামূল হলো 'ই'জায' (إعجاز)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাজরিবাতি মায়াল ইজাজিল ইলমি ফিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
ومنه اشتقت "المعجزة" وهي اسم فاعل ألحقت به التاء للمبالغة (1) .
وأما في الاصطلاح: فيدور تعريف من عرفها من علمائنا السابقين على المعنى التالي: "أمر خارق للعادة، مقرون، مع عدم المعارضة".
بين مطول في التعريف ومختصر له.
وجاء في شرح العقيدة الطحاوية–نقلاً عن ابن تيمية دون ذكره: "المعجزة في اللغة تعم كل خارق للعادة، وفي عرف أئمة أهل العلم المتقدمين كالإمام أحمد بن حنبل، وغيره، ويسمونها"الآيات" (2) .
هذا، ولم تكن كلمة إعجاز ولا معجزة شائعة في الاستعمال، وإنما جاء في القرآن الكريم إطلاق اسم"الآية" و" البينة"و "البينات"، وجاء وصف معجزات الأنبياء–عليهم السلام بأنها برهان (3) .
وقد بدأ استعمالها- أي المعجزة- في أواخر القرن الثاني، وأوائل القرن الثالث في كتابات العلماء الذين ألفوا في بيان دلائل الإعجاز في القرآن
--------------------------------------------
এখান থেকেই "মু'জিযা" শব্দটি উদ্ভূত হয়েছে, যা একটি কর্তৃবাচক বিশেষ্য (اسم فاعل); এর সাথে অতিশয়োক্তি বা আধিক্য (مبالغة) বোঝাতে ‘তা’ বর্ণটি যুক্ত করা হয়েছে (১)।
আর পারিভাষিক (اصطلاح) সংজ্ঞার ক্ষেত্রে: আমাদের পূর্ববর্তী আলেমদের মধ্যে যারা এর সংজ্ঞা প্রদান করেছেন, তাঁদের বক্তব্যসমূহ নিম্নোক্ত অর্থের চারপাশেই আবর্তিত হয়: "এমন এক স্বভাব-বিপরীত (خارق للعادة) বিষয়, যা [নবুওয়াতের দাবির সাথে] যুক্ত এবং যার কোনো প্রতিপক্ষ নেই।"
কেউ এই সংজ্ঞাকে দীর্ঘ করেছেন আবার কেউ সংক্ষিপ্ত করেছেন।
শারহুল আকিদাহ আত-তহবিয়্যাহ গ্রন্থে—ইবনে তাইমিয়্যাহর নাম উল্লেখ না করে তাঁর থেকে উদ্ধৃত হয়েছে: "আভিধানিক ভাষায় মু'জিযা সমস্ত স্বভাব-বিপরীত (خارق للعادة) বিষয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে। আর পূর্ববর্তী বিদগ্ধ আলেমদের পরিভাষায় (عرف), যেমন ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল ও অন্যান্যগণ, তাঁরা একে 'আয়াত' বা নিদর্শন (الآيات) নামে অভিহিত করতেন (২)।
উল্লেখ্য যে, 'ই'জায' কিংবা 'মু'জিযা' শব্দ দুটি পূর্বে ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রচলিত ছিল না। বরং পবিত্র কুরআনে 'আয়াত' (الآية), 'বাইয়্যিনাহ' (البينة) এবং 'বাইয়্যিনাত' (البينات) শব্দগুলো ব্যবহৃত হয়েছে। আর নবীগণের—আলাইহিমুস সালাম—মু'জিযাগুলোকে 'বুরহান' বা প্রমাণ (برهان) হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে (৩)।
আর এই মু'জিযা শব্দের ব্যবহার শুরু হয়েছে দ্বিতীয় হিজরি শতাব্দীর শেষভাগে এবং তৃতীয় শতাব্দীর শুরুর দিকে ঐসব আলেমদের লেখনীতে, যারা কুরআনের অলৌকিকত্বের প্রমাণাদি (دلائل الإعجاز) বর্ণনায় গ্রন্থ রচনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাজরিবাতি মায়াল ইজাজিল ইলমি ফিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
الكريم، فاستعملوا كلمة "الإعجاز والمعجزة".
هذا بالنسبة لما في القرآن الكريم أما خوارق العادة التي جاءت في السنة النبوية، فقد أطلق عليها علماء السنة "علامات النبوة" كما جاء في أبواب صحيح البخاري، وكذا " دلائل النبوة " ألف بهذا الاسم كتباً أئمة مثل: أبي نعيم، والبيهقي، والماوردي، والفريابي"
ولكن العلماء لم يفرقوا بين الدلائل والمعجزات، لأن الأصل في المعجزة أن تكون أمام من ينكر النبوة، وأما الدلائل فهي أعم من ذلك فقد تكون أمام المؤمنين تقوي إيمانهم، وأمام غيرهم تدلهم على أن من ظهرت على يده هو مؤيد من قبل الله تعالى.
وقد قام كثيرون ممن تحدث عن المعجزة بتعريفها تعريفاً جديداً ليدخل فيها ما عُدّ حديثاً من أوجه الإعجاز، وقد اخترت تعريفاً أرجو أن يكون موفقاً، ويكون جامعاً مانعاً، وهو: "المعجزة أمر يجريه الله تعالى على يد نبيه، أو علم يبديه في قوله، لا يقدر أحد من الخلق على الإتيان بمثله في زمانه، يكون دليلاً على نبوته لخروجه عن طاقة الخلق".
فيكون التعريف جامعاً لجميع الوجوه التي تعد من الإعجاز حسب ما أرى، وإني أرى أن ما عُدّ من دلائل النبوة، وعلاماتها هو من الإعجاز بلا شك ولا ريب؛ لأن خرق العادة فيها كان لإثبات نبوة محمد صلى الله عليه وسلم أجراه الله عز وجل ليؤكد للمؤمنين إيمانهم، ويزيدهم رسوخاً في هذا الإيمان، والتسليم لرسول الله المصطفى صلى الله عليه وسلم ما قاله، وشرعه، وأمر به، وذلك لأن خرق العادة له بمنزلة قول الله سبحانه"صدق عبدي بما يقول"، والفاعل فيها هو الله تعالى وحده لا شريك له إذ ليست من طبيعة فعل البشر.
সম্মানিত [কুরআন], তারা "অলৌকিকত্ব (الإعجاز)" এবং "অলৌকিক নিদর্শন (المعجزة)" শব্দ দুটি ব্যবহার করেছেন।
এটি পবিত্র কুরআনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আর সুন্নাহতে বর্ণিত প্রথা-বহির্ভূত অলৌকিক বিষয়াবলীকে (خوارق العادة) সুন্নাহর আলেমগণ "নবুওয়তের আলামতসমূহ (علامات النبوة)" বলে অভিহিত করেছেন, যেমনটি সহিহ বুখারীর অধ্যায়গুলোতে এসেছে। একইভাবে একে "নবুওয়তের প্রমাণাদি (دلائل النبوة)"-ও বলা হয়; এই নামে আবু নুআইম, বায়হাকী, মাওয়ারদী এবং ফিরইয়াবীর মতো ইমামগণ গ্রন্থ রচনা করেছেন।
তবে আলেমগণ প্রমাণাদি (الدلائل) ও অলৌকিক নিদর্শনসমূহের (المعجزات) মধ্যে পার্থক্য করেননি। কারণ, অলৌকিক নিদর্শনের (المعجزة) মূল বৈশিষ্ট্য হলো এটি নবুওয়ত অস্বীকারকারীদের সামনে উপস্থাপিত হওয়া। আর প্রমাণাদি (الدلائل) এর চেয়েও ব্যাপক; কারণ এটি মুমিনদের সামনে তাদের ঈমানকে শক্তিশালী করার জন্য হতে পারে, আবার অন্যদের সামনে এই নির্দেশিকা হিসেবে হতে পারে যে, যার হাতে এটি প্রকাশিত হয়েছে তিনি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্যপ্রাপ্ত।
অলৌকিক নিদর্শন (المعجزة) নিয়ে আলোচনাকারীদের অনেকে এর নতুন সংজ্ঞা প্রদান করেছেন, যাতে আধুনিককালে অলৌকিকত্বের (الإعجاز) যেসব দিক চিহ্নিত হয়েছে সেগুলো এতে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। আমি এমন একটি সংজ্ঞা নির্বাচন করেছি যা সঠিক এবং সুসংহত ও পূর্ণাঙ্গ (جامعاً مانعاً) হবে বলে আশা করি। তা হলো: "অলৌকিক নিদর্শন (المعجزة) হলো এমন একটি বিষয় যা মহান আল্লাহ তাঁর নবীর মাধ্যমে প্রকাশ করেন, অথবা এমন কোনো জ্ঞান যা তাঁর বাণীর মাধ্যমে প্রকাশ করেন, যার অনুরূপ কিছু করার ক্ষমতা তৎকালীন কোনো সৃষ্টির ছিল না; যা তাঁর নবুওয়তের প্রমাণ (دليلاً) হিসেবে গণ্য হয়, কারণ তা সৃষ্টির সাধ্যের বাইরে।"
আমার দৃষ্টিতে এই সংজ্ঞাটি অলৌকিকত্বের (الإعجاز) অন্তর্ভুক্ত সকল দিককে পরিবেষ্টনকারী হবে। আমি মনে করি, নবুওয়তের প্রমাণাদি (دلائل النبوة) ও এর আলামতসমূহকে (علاماتها) যা কিছু হিসেবে গণ্য করা হয়, তা নিঃসন্দেহে অলৌকিকত্বের (الإعجاز) অন্তর্ভুক্ত। কারণ, এর মধ্যে প্রথা-বহির্ভূত বিষয় (خرق العادة) ঘটার উদ্দেশ্য ছিল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়ত প্রমাণ করা। মহান আল্লাহ এটি মুমিনদের ঈমান সুদৃঢ় করতে এবং এই ঈমান ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেছেন, শরীয়ত হিসেবে দিয়েছেন এবং নির্দেশ দিয়েছেন, তার প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণে তাদের অবিচলতা বৃদ্ধি করতে প্রকাশ করেছেন। কারণ, তাঁর জন্য এই প্রথা-বহির্ভূত ঘটনা (خرق العادة) মহান আল্লাহর এই বাণীর সমতুল্য যে, "আমার বান্দা যা বলছে তাতে সে সত্যবাদী"। আর এর প্রকৃত কর্তা হলেন একমাত্র অংশীদারহীন মহান আল্লাহ, কেননা এটি মানুষের স্বাভাবিক কর্মক্ষমতার অন্তর্ভুক্ত নয়।
(খণ্ড: ১)
তাজরিবাতি মায়াল ইজাজিল ইলমি ফিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
وأما قولي"في زمانه" فذلك لتدخل الأمور العلمية التي تحدث عنها القرآن العظيم في ثنايا آياته، وتحدث عنها رسول الله صلى الله عليه وسلم في أحاديثه المتنوعة، حيث كانت غير مدركة في زمانه، وأصبحت اليوم يستطيع تبينها، ومعرفة كنهها الكثير، وذلك لأن كثيراً من الأمور التي تحدث عنها الوحي أصبحت تفهم شيئاً فشيئاً كلما حدثت اكتشافات جديدة أوضحت أموراً في هذا الكون الفسيح، تكشف ما احتواه الوحي من السبق في الإخبار عن حقائق علمية كانت في أذهان المؤمنين أمراً عادياً، بينما هي في نظر علماء الهيئة، وعلماء الكون حقيقة لم يتوصل إليها الإنسان إلا في عصر العلم الذي نعيش، ولذلك نرى أن الله تعالى قال في كتابه العظيم بصيغة المستقبل: {سَنُرِيهِمْ آيَاتِنَا فِي الْآفَاقِ وَفِي أَنْفُسِهِمْ حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُ الْحَقُّ} [فصلت: 53] . فاكتشاف الحقائق العلمية في الكون، وفي النفس الإنسانية دليل واضح بأن ما أنزل على محمد النبي الأمي صلى الله عليه وسلم حق لا مرية فيه لمن ينظر بعين باصرة، وعقل متفتح.
আর আমার "তাঁর সময়ে" উক্তিটির উদ্দেশ্য হলো সেই বৈজ্ঞানিক বিষয়গুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা যা মহান কুরআন তার আয়াতের অন্তরালে বর্ণনা করেছে এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বিভিন্ন হাদিসে উল্লেখ করেছেন। এ বিষয়গুলো তাঁর সময়ে উপলব্ধিযোগ্য ছিল না, কিন্তু আজ অনেকেই সেগুলো স্পষ্টভাবে বুঝতে এবং সেগুলোর প্রকৃত স্বরূপ উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হয়েছে। এর কারণ হলো, ওহীর মাধ্যমে বর্ণিত অনেক বিষয়ই নতুন নতুন আবিষ্কারের ফলে ধীরে ধীরে বোধগম্য হচ্ছে, যা এই বিশাল মহাবিশ্বের অনেক রহস্যকে স্পষ্ট করে দিচ্ছে। এটি ওহীর সেই অগ্রবর্তী সংবাদ প্রদানের শ্রেষ্ঠত্বকে উন্মোচন করে যা এমন কিছু বৈজ্ঞানিক সত্যের সাথে সংশ্লিষ্ট যা মুমিনদের নিকট সাধারণ বিষয় ছিল, অথচ জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও বিশ্বতত্ত্ববিদদের দৃষ্টিতে তা এমন এক বাস্তবতা যা মানুষ আমাদের বর্তমান বিজ্ঞানের যুগ ব্যতীত ইতিপূর্বে অর্জন করতে সক্ষম হয়নি। একারণেই আমরা দেখি যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর মহান কিতাবে ভবিষ্যৎকালবাচক রূপ ব্যবহারের মাধ্যমে বলেছেন: {শীঘ্রই আমি তাদেরকে আমার নিদর্শনসমূহ দিগন্তবলয়ে এবং তাদের নিজেদের মধ্যে দেখাব, যতক্ষণ না তাদের কাছে এটি সুস্পষ্ট হয় যে তা সত্য} [ফুসসিলাত: ৫৩]। সুতরাং মহাবিশ্বে এবং মানবসত্তার মাঝে বৈজ্ঞানিক সত্যসমূহের আবিষ্কার একটি সুস্পষ্ট প্রমাণ যে, উম্মী নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর যা অবতীর্ণ হয়েছে তা এক অকাট্য সত্য; সেই ব্যক্তির জন্য যে গভীর পর্যবেক্ষণ এবং উন্মুক্ত বুদ্ধিসম্পন্ন।
(খণ্ড: ১)
তাজরিবাতি মায়াল ইজাজিল ইলমি ফিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
معجزة رسول الله محمد صلى الله عليه وسلملكل نبي من أنبياء الله الكرام معجزة يعرف بها، يظهرها الله تعالى على يديه تكون دافعاً لقومه على الإيمان به وتصديقه بأنه نبي من عند الله تعالى، لأن كل دعوى لا بد أن يكون عليها دليل، وجرت سنة الله تعالى في هذه المعجزات أن تكون وفق ما مهر فيه قوم كل نبي، مع التفوق الكبير الذي تتصف به المعجزة في ذلك المجال ذاته ليظهر صدق النبي بصورة واضحة للعيان لا ريب فيها، وليعظم أثر تلك المعجزة في النفوس. فنوح–عليه السلام أوتي من الجدل الذي اضطر معه قومه أن يقولوا له عند فقدانهم للحجة عليه: {قَالُوا يَا نُوحُ قَدْ جَادَلْتَنَا فَأَكْثَرْتَ جِدَالَنَا فَأْتِنَا بِمَا تَعِدُنَا إِنْ كُنْتَ مِنَ الصَّادِقِينَ} [هود: 32] .
وقوم فرعون عندما كانوا يعتمدون على السحرة في كثير من شؤونهم، وكان للسحرة مكانتهم في المجتمع، حيث كان الساحر يخيل لأعين الناس بفعل غير واقع، وكأنه واقع، جاءت معجزة موسى-عليه السلام-على وفق ذلك، فلما ألقى السحرة حبالهم وعصيهم خيل للناس من سحرهم أنها تسعى، فلما ألقى موسى-عليه السلام عصاه انقلبت ثعباناً حقيقياً ابتلع حبال السحرة وعصيَّهم، علم السحرة– وهم أدرى الناس بنوع أفعال السحرة- أن هذا الأمر الذي جاء به موسى- عليه السلام-ليس من جنس أفعالهم، فكانوا لذلك أول من أذعن لهذه المعجزة.
وهكذا كانت معجزة عيسى-عليه السلام في إحياء الموتى، وإبراء الأكمه، والأبرص من جنس ما برع اليهود فيه من علم الطب.
আল্লাহর রাসুল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অলৌকিক নিদর্শন (معجزة)আল্লাহর সম্মানিত নবিগণের মধ্য থেকে প্রত্যেক নবীর জন্যই এমন একটি অলৌকিক নিদর্শন (معجزة) থাকে যার মাধ্যমে তাঁকে চেনা যায়। আল্লাহ তাআলা তাঁদের হাতে তা প্রকাশ করেন যা তাঁদের কওমকে তাঁর ওপর ঈমান আনতে এবং তিনি যে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে প্রেরিত নবী তা বিশ্বাস করতে উদ্বুদ্ধ করে। কেননা প্রতিটি দাবির পক্ষেই প্রমাণ থাকা আবশ্যক। আর এই অলৌকিক নিদর্শনগুলোর (معجزات) ক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলার রীতি (سنة) হলো তা এমন বিষয়ে হওয়া যাতে প্রত্যেক নবীর কওম পারদর্শী ছিল। এর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে সেই অলৌকিক নিদর্শনটি (معجزة) এমন সুউচ্চ শ্রেষ্ঠত্বপূর্ণ হওয়া যা নবীর সত্যতাকে মানুষের সামনে সন্দেহাতীতভাবে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে এবং মানুষের হৃদয়ে সেই নিদর্শনের প্রভাবকে সুমহান করে। যেমন নূহ আলাইহিস সালামকে এমন বাকপটুতা ও যুক্তিনির্ভর বিতর্কের শক্তি দেওয়া হয়েছিল যার ফলে তাঁর কওম তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অকাট্য প্রমাণ (حجة) পেশ করতে না পেরে বলতে বাধ্য হয়েছিল: {তারা বলল, হে নূহ! তুমি আমাদের সাথে বিতর্ক করেছ এবং আমাদের সাথে অনেক বেশি বিতর্ক করেছ। সুতরাং তুমি যদি সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হও, তবে আমাদের যে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছ তা নিয়ে এসো} [হুদ: ৩২]।
আর ফেরাউনের কওম যখন তাদের অনেক কর্মকাণ্ডে জাদুকরদের ওপর নির্ভর করত এবং সমাজে জাদুকরদের একটি বিশেষ মর্যাদা ছিল—যেখানে জাদুকর অবাস্তব বিষয়কে মানুষের চোখের সামনে বাস্তব হিসেবে কল্পনা করাত—তখন মূসা আলাইহিস সালামের অলৌকিক নিদর্শন (معجزة) সেটির আলোকেই এসেছিল। ফলে জাদুকরেরা যখন তাদের দড়ি ও লাঠিগুলো নিক্ষেপ করল, তখন তাদের জাদুর প্রভাবে মানুষের কাছে মনে হলো সেগুলো দৌড়াচ্ছে। অতঃপর মূসা আলাইহিস সালাম যখন তাঁর লাঠি নিক্ষেপ করলেন, তখন সেটি একটি প্রকৃত অজগরে রূপান্তরিত হয়ে জাদুকরদের দড়ি ও লাঠিগুলোকে গিলে ফেলল। তখন জাদুকরেরা—যারা জাদুকরী কর্মকাণ্ডের ধরন সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পারদর্শী ছিল—বুঝতে পারল যে, মূসা আলাইহিস সালাম যা নিয়ে এসেছেন তা জাদুর সমজাতীয় নয়। এ কারণেই তারা সর্বপ্রথম এই অলৌকিক নিদর্শনের (معجزة) প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছিল।
একইভাবে ঈসা আলাইহিস সালামের অলৌকিক নিদর্শন (معجزة) যেমন মৃতকে জীবিত করা, জন্মান্ধ ও কুষ্ঠরোগীকে নিরাময় করা ছিল সেই চিকিৎসা বিজ্ঞানের সমজাতীয়, যাতে ইয়াহুদিরা অত্যন্ত পারদর্শী ছিল।
(খণ্ড: ১)
তাজরিবাতি মায়াল ইজাজিল ইলমি ফিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
وهكذا كل نبي من أنبياء الله تعالى كانت معجزته من النوع الذي برع فيه قومه، ولما كان العرب ليس لهم إلا اللسان، والمقدرة الكاملة على البيان، والرفعة المشهودة في جودة التعبير، كانت المعجزة التي جاءت متحدية لهم من جنس ما برعوا به، ولما كانت الرسالة المحمدية خاتم الرسالات، وكانت ستبقى إلى آخر الدنيا تشهد تقدم الإنسان في العقل والتفكير والعلم، حتى يملك ناصيته، كان لابد أن تكون هذه المعجزة مستمرة مع الدعوة في كل عصر، تمد الدعاة بأنواع من المعجزات توافق كل عصر يظهرونها للناس حتى يؤمنوا بصدق نبوة محمد صلى الله عليه وسلم.
ولقد بين الله تعالى في كتابه العزيز أن ما امتاز به رسول الله محمد صلى الله عليه وسلم على غيره من البشر الذين يعيشون فوق هذه الأرض إنما هو الوحي الذي يصله برب السموات والأرضين، قال تعالى {وَكَذَلِكَ أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ رُوحاً مِنْ أَمْرِنَا مَا كُنْتَ تَدْرِي مَا الْكِتَابُ وَلا الْأِيمَانُ وَلَكِنْ جَعَلْنَاهُ نُوراً نَهْدِي بِهِ مَنْ نَشَاءُ مِنْ عِبَادِنَا وَإِنَّكَ لَتَهْدِي إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ، صِرَاطِ اللَّهِ الَّذِي لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ أَلا إِلَى اللَّهِ تَصِيرُ الْأُمُورُ} [الشورى: 52-53] .
وقال-جل ذكره-: {قُلْ إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ مِثْلُكُمْ يُوحَى إِلَيَّ أَنَّمَا إِلَهُكُمْ إِلَهٌ وَاحِدٌ فَمَنْ كَانَ يَرْجُوا لِقَاءَ رَبِّهِ فَلْيَعْمَلْ عَمَلاً صَالِحاً وَلا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهِ أَحَداً} [الكهف: 110] فذكر الله تعالى أن محمداً صلى الله عليه وسلم لا يفترق عن البشر إلا بالوحي الذي يصله برب السماء، هذا الوحي الذي يأتيه من إله الكون الذي بيده ملكوت كل شيء، فهو سبحانه الذي يُعلِّمه من علمه، ويُلْقي في قلبه هذه العلوم التي تفيض على لسانه حقائق لا يستطيع أحد أن يأتي بمثلها في زمن خيَّم عليه الظلام والجهل،
একইভাবে আল্লাহ তাআলার প্রত্যেক নবীর অলৌকিক নিদর্শন ছিল সেই ধরনের যাতে তাঁর কওম পারদর্শিতা অর্জন করেছিল। যেহেতু আরবদের ভাষা ও অলঙ্কারশাস্ত্রের পূর্ণ দক্ষতা এবং সাবলীল প্রকাশভঙ্গির উচ্চতর শ্রেষ্ঠত্ব ছাড়া অন্য কোনো পুঁজি ছিল না, তাই তাদের প্রতি চ্যালেঞ্জ হিসেবে উপস্থাপিত অলৌকিক নিদর্শনটিও ছিল তাদের সেই পারদর্শিতার বিষয়ের সমগোত্রীয়। যেহেতু মুহাম্মাদী রিসালাত ছিল সর্বশেষ রিসালাত এবং এটি কিয়ামত পর্যন্ত মানুষের বিবেক, চিন্তা ও জ্ঞানের অগ্রগতির সাক্ষী হিসেবে অবশিষ্ট থাকবে—যতক্ষণ না মানুষ তার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ লাভ করে—তাই এই অলৌকিক নিদর্শনটি প্রতিটি যুগে দাওয়াতের সাথে নিরবচ্ছিন্নভাবে থাকা অপরিহার্য ছিল। এটি প্রত্যেক যুগের উপযোগী বিভিন্ন প্রকারের অলৌকিকতা দিয়ে দাঈদের শক্তিশালী করবে, যা তারা মানুষের সামনে প্রকাশ করবেন যাতে তারা মুহাম্মদ (সা.)-এর নবুওয়াতের সত্যতার ওপর ঈমান আনতে পারে।
আল্লাহ তাআলা তাঁর মহাগ্রন্থে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই পৃথিবীতে বসবাসকারী অন্যান্য মানুষের ওপর রাসূলুল্লাহ মুহাম্মদ (সা.)-এর যে বিশেষ শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে, তা হলো কেবল ওহি, যা তাঁকে আসমান ও জমিনের রবের সাথে সংযুক্ত করে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {এভাবেই আমি আপনার প্রতি আমার নির্দেশ থেকে রূহ (ওহি) অবতীর্ণ করেছি; আপনি জানতেন না কিতাব কী এবং ঈমান কী। কিন্তু আমি একে একটি আলো বানিয়েছি, যার মাধ্যমে আমি আমার বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করি। আর নিশ্চয়ই আপনি সরল পথের দিকে দাওয়াত দিচ্ছেন—সেই আল্লাহর পথ, আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সব যাঁর। জেনে রাখো, সকল বিষয় আল্লাহর দিকেই প্রত্যাবর্তিত হয়।} [শুরা: ৫২-৫৩] .
মহামহিমান্বিত আল্লাহ আরও বলেন: {বলুন, আমি তো তোমাদের মতোই একজন মানুষ, আমার প্রতি ওহি আসে যে, তোমাদের ইলাহ কেবল এক ইলাহ। সুতরাং যে তার রবের সাথে সাক্ষাতের আশা রাখে, সে যেন সৎকাজ করে এবং তার রবের ইবাদতে কাউকে শরিক না করে।} [কাহফ: ১১০]। সুতরাং আল্লাহ তাআলা উল্লেখ করেছেন যে, মুহাম্মদ (সা.) কেবল সেই ওহির মাধ্যমেই অন্যান্য মানুষ থেকে পৃথক, যা তাঁকে আসমানের রবের সাথে সম্পৃক্ত করে। এই ওহি তাঁর নিকট মহাবিশ্বের সেই ইলাহের পক্ষ থেকে আসে যাঁর হাতে সবকিছুর রাজত্ব। তিনিই সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁকে আপন জ্ঞান থেকে শিক্ষা দান করেন এবং তাঁর হৃদয়ে এমন সব জ্ঞান ঢেলে দেন যা তাঁর পবিত্র রসনা থেকে এমন সব বাস্তব সত্য হিসেবে প্রবাহিত হয়, যার অনুরূপ কেউ এমন এক যুগে পেশ করতে সক্ষম ছিল না যখন অন্ধকার ও অজ্ঞতা চারপাশ আচ্ছন্ন করে রেখেছিল।
(খণ্ড: ১)
তাজরিবাতি মায়াল ইজাজিল ইলমি ফিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
اللهم إلا إذا كان يوحى إليه، وقد أعلمنا الله تعالى أن محمداً صلى الله عليه وسلم هو خاتم رسل الله تعالى، وأن رسالته هي خاتم الرسالات، وأنه أرسل للناس كافة بينما كان من قبله من الرسل يرسل إلى أمته، وقومه، وكذا جاءت أحاديث تبين ذلك، ولن أعرض لذلك خوف الإطالة.
ولعل ذلك- أقصد عالمية الرسالة وختم النبوة- كان لما علم الله تعالى من أن البشرية ستصل في عهد هذه الأمة إلى نهاية النضج العقلي، والتقدم العلمي، وعند إدراكها ذلك تدرك تماماً ما حواه "الوحي" الذي جاء محمداً صلى الله عليه وسلم من علوم دقيقة لم تكن تعرف الإنسانية عنها الكثير، سواء أكان ذلك في كتاب ربنا أم في سنة نبينا.
وقد بيّن الله تعالى لنا أنه عَلَّم هذا الرسول من العلوم ما لم يعلم، قال
-جل وعز-: {وَأَنْزَلَ اللَّهُ عَلَيْكَ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَعَلَّمَكَ مَا لَمْ تَكُنْ تَعْلَمُ وَكَانَ فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكَ عَظِيماً} [النساء: 113] وقد أمر الله تعالى رسوله أن يدعوه بزيادة هذه العلوم، والفهوم التي أعطيها فضلاً من الله ونعمة، وكأنها مقصودة بعينها، قال سبحانه: {وَقُلْ رَبِّ زِدْنِي عِلْماً} [طه: 114] فهذه العلوم التي جاءت عن رسول الله صلى الله عليه وسلم إنما هي من الوحي الرباني الذي أوحاه الله إليه، ومن العلوم التي علَّمها رسول الله صلى الله عليه وسلم ولذا قال النبي صلى الله عليه وسلم:
"ما من الأنبياء نبي إلا أُعطي من الآيات ما مثله آمن عليه البشر، وإنما كان الذي أوتيت وحياً أوحاه الله إلي، فأرجو أن أكون أكثرهم تابعاً يوم
আল্লাহ তাআলা যদি তাঁর প্রতি ওহি নাজিল না করতেন (তা ভিন্ন কথা)। আল্লাহ তাআলা আমাদের জানিয়েছেন যে, মুহাম্মদ (সা.) হলেন আল্লাহ তাআলার সর্বশেষ রাসুল এবং তাঁর রিসালাত হলো সর্বশেষ রিসালাত। তাঁকে সমস্ত মানুষের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে, অথচ তাঁর পূর্ববর্তী রাসুলগণকে তাঁদের নিজ নিজ উম্মত ও সম্প্রদায়ের নিকট প্রেরণ করা হতো। অনুরূপভাবে এমন অনেক হাদিস রয়েছে যা বিষয়টি স্পষ্ট করে, তবে দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কায় আমি সেগুলো বর্ণনা করব না।
সম্ভবত এটি—আমি বলতে চাচ্ছি রিসালাতের বিশ্বজনীনতা ও নবুওয়াতের পরিসমাপ্তি—এজন্য ছিল যে, আল্লাহ তাআলা জানতেন যে মানবজাতি এই উম্মতের যুগে বুদ্ধিবৃত্তিক পরিপক্বতা এবং বৈজ্ঞানিক উন্নতির চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাবে। আর যখন তারা তা অর্জন করবে, তখন মুহাম্মদ (সা.)-এর নিকট আসা ‘ওহি’র অন্তর্ভুক্ত সেই সূক্ষ্ম জ্ঞানসমূহ পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারবে যা সম্পর্কে মানবজাতি ইতিপূর্বে খুব বেশি কিছু জানত না; চাই তা আমাদের রবের কিতাবে বর্ণিত হোক অথবা আমাদের নবীর সুন্নাহতে।
আল্লাহ তাআলা আমাদের নিকট স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি এই রাসুলকে এমন সব জ্ঞান শিক্ষা দিয়েছেন যা তিনি জানতেন না। তিনি
—মহামহিম—বলেছেন: {আর আল্লাহ আপনার প্রতি কিতাব ও হিকমত (প্রজ্ঞা) নাজিল করেছেন এবং আপনাকে এমন বিষয় শিক্ষা দিয়েছেন যা আপনি জানতেন না। আপনার ওপর আল্লাহর অনুগ্রহ অত্যন্ত মহান।} [নিসা: ১১৩] আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসুলকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে অনুগ্রহ ও নেয়ামত হিসেবে প্রাপ্ত এই জ্ঞান ও প্রজ্ঞা বৃদ্ধির জন্য তাঁর কাছে প্রার্থনা করেন, যেন সেগুলোই বিশেষভাবে অভীষ্ট। তিনি পবিত্রতা তাঁরই: {আর আপনি বলুন, হে আমার রব! আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করে দিন।} [ত্বহা: ১১৪] সুতরাং রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে আগত এই জ্ঞানসমূহ মূলত সেই খোদায়ি ওহি যা আল্লাহ তাঁর প্রতি নাজিল করেছেন এবং সেই ইলম বা জ্ঞানের অংশ যা আল্লাহ স্বয়ং রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে শিক্ষা দিয়েছেন। আর একারণেই নবী (সা.) বলেছেন:
“নবীদের মধ্যে এমন কোনো নবী ছিলেন না যাঁকে এমন সব নিদর্শন প্রদান করা হয়নি যার ওপর ভিত্তি করে মানুষ ঈমান এনেছে। আর আমাকে যা প্রদান করা হয়েছে তা হলো ওহি যা আল্লাহ আমার প্রতি নাজিল করেছেন। অতএব আমি আশা করি কিয়ামতের দিন তাঁদের মধ্যে আমার অনুসারীর সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি হবে।”
(খণ্ড: ১)
তাজরিবাতি মায়াল ইজাজিল ইলমি ফিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
القيامة" (1) .
فبين رسول الله صلى الله عليه وسلم أن معجزات الأنبياء–عليهم الصلاة والسلام-كانت من النوع الذي يقر به أهل أزمنتهم معه على صدق من تظهر منه لأنها كانت خارقة للعادة بصورة لا يستطيع أحد أن يأتي بمثله في زمانهم من الأمور الحسية التي تبهر الأسماع والأبصار، ومن ثَم العقول، فتذعن لصاحبها بالصدق.
وأما محمد صلى الله عليه وسلم فكانت معجزته علمية عقلية مصدرها الوحي الرباني الذي يكون لإدراكه، ومعرفة كنهه، وحقيقته فسحة عمر الإنسانية، ومضي الزمان الذي يعيش فيه الإنسان فوق هذه الأرض، فلا تنقضي عجائبه، ففي كل زمان يظهر من هذا الوحي علامة بينة، وبرهان ساطع، وآية واضحة على صدق من جاء بهذا الوحي، وأنه نبي مرسل من عند الله تعالى العليم الخبير.
وكلمة "الوحي" هنا تشمل القرآن الكريم المنزل على محمد صلى الله عليه وسلم والسنة المطهرة التي عُلِّمها رسول الله صلى الله عليه وسلم لأن كليهما من الوحي الذي جاء به محمد من قبل ربه–جل جلاله: {وَإِذَا تُتْلَى عَلَيْهِمْ آيَاتُنَا بَيِّنَاتٍ قَالَ الَّذِينَ لا يَرْجُونَ لِقَاءَنَا ائْتِ بِقُرْآنٍ غَيْرِ هَذَا أَوْ بَدِّلْهُ قُلْ مَا يَكُونُ لِي أَنْ أُبَدِّلَهُ مِنْ تِلْقَاءِ نَفْسِي إِنْ أَتَّبِعُ إِلَّا مَا يُوحَى إِلَيَّ إِنِّي أَخَافُ إِنْ عَصَيْتُ
--------------------------------------------
কিয়ামত" (১)।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেছেন যে, নবীগণের (আলাইহিমুস সালাম) মুজিজাসমূহ এমন প্রকারের ছিল যা তাঁদের সমসাময়িক যুগের মানুষ সেই মুজিজা প্রদর্শনকারীর সত্যতা স্বীকার করতে বাধ্য হতো। কারণ সেগুলো ছিল এমন অলৌকিক বিষয় যা সেই সময়ে অন্য কারও পক্ষে করা সম্ভব ছিল না। এগুলি ছিল এমন সব ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয় যা শ্রবণ ও দর্শনেন্দ্রিয়কে এবং পরবর্তীতে বুদ্ধিবৃত্তিকে বিমোহিত করত, ফলে তারা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সত্যতার কাছে নতি স্বীকার করত।
আর মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুজিজা ছিল জ্ঞানতাত্ত্বিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক, যার উৎস ছিল ঐশী ওহী। এই ওহীর মর্মার্থ, স্বরূপ ও হাকিকত অনুধাবনের সুযোগ মানবজাতির পুরো আয়ুষ্কাল জুড়ে এবং পৃথিবীতে মানুষের বসবাসের দীর্ঘ সময়ব্যাপী বিস্তৃত। এর বিস্ময়কর দিকগুলোর কখনো শেষ নেই। প্রতিটি যুগে এই ওহী থেকে সুস্পষ্ট আলামত, উজ্জ্বল প্রমাণ এবং অকাট্য নিদর্শন প্রকাশিত হয় সেই সত্তার সত্যতার ওপর যিনি এই ওহী নিয়ে এসেছেন; আর এই যে তিনি সর্বজ্ঞাত ও পরম অবহিত মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত (مرسل) একজন নবী।
এখানে "ওহী" শব্দটি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর নাযিলকৃত পবিত্র কুরআন এবং পবিত্র সুন্নাহ—যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে শিক্ষা দেওয়া হয়েছে—উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে। কেননা উভয়েই সেই ওহীর অন্তর্ভুক্ত যা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মহান রবের পক্ষ থেকে নিয়ে এসেছেন: "আর যখন তাদের কাছে আমাদের সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ পাঠ করা হয়, তখন যারা আমাদের সাথে সাক্ষাতের আশা পোষণ করে না তারা বলে, 'এটি ছাড়া অন্য কোনো কুরআন নিয়ে এসো অথবা একে পরিবর্তন করো।' আপনি বলুন, 'নিজ পক্ষ থেকে এটি পরিবর্তন করা আমার কাজ নয়। আমার প্রতি যা ওহী করা হয়, আমি কেবল তারই অনুসরণ করি। আমি যদি আমার প্রতিপালকের অবাধ্য হই, তবে আমি ভয় করি..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাজরিবাতি মায়াল ইজাজিল ইলমি ফিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
رَبِّي عَذَابَ يَوْمٍ عَظِيمٍ، قُلْ لَوْ شَاءَ اللَّهُ مَا تَلَوْتُهُ عَلَيْكُمْ وَلا أَدْرَاكُمْ بِهِ فَقَدْ لَبِثْتُ فِيكُمْ عُمُراً مِنْ قَبْلِهِ أَفَلا تَعْقِلُون} [يونس: 15-16] .
وقد بين الله تعالى للمشركين الذين طلبوا من النبي صلى الله عليه وسلم الآيات الباهرات، والمعجزات الواضحات أن القرآن كافيهم حيث قال: {وَقَالُوا لَوْلا أُنْزِلَ عَلَيْهِ آيَاتٌ مِنْ رَبِّهِ قُلْ إِنَّمَا الْآياتُ عِنْدَ اللَّهِ وَإِنَّمَا أَنَا نَذِيرٌ مُبِينٌ، أَوَلَمْ يَكْفِهِمْ أَنَّا أَنْزَلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ يُتْلَى عَلَيْهِمْ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَرَحْمَةً وَذِكْرَى لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ} [العنكبوت: 50-51] وسكوت القرآن عن النوع الثاني من الوحي الذي هو السنة النبوية ليس إلا لأنه بشري الأسلوب لا يستطيع أن يُدرِك ما فيه من المعرفة والعلم إلا المؤمن المتعمق، والعالم المدقق، فأشار إليهم بالقرآن الذي هو كلام الله تعالى الذي لا يستطيع العربي إلا أن يذعن لقرعه القلوب، وامتلاكه الأسماع.
وقال سبحانه: {الر كِتَابٌ أَنْزَلْنَاهُ إِلَيْكَ لِتُخْرِجَ النَّاسَ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ بِإِذْنِ رَبِّهِمْ إِلَى صِرَاطِ الْعَزِيزِ الْحَمِيدِ} [إبراهيم: 1] فأنت يا محمد قد أنزل إليك القرآن لتقوم بهداية الناس إلى الله تعالى بالقرآن، وبالسنة الموحاة إليك مما يتأتى إخراجهم مما هم فيه من الظلمات بما تبينه لهم من الحق، وذلك بإذن الله تعالى لك في ذلك.
وانظر في هذا إلى قوله تعالى: {وَالنَّجْمِ إِذَا هَوَى، مَا ضَلَّ صَاحِبُكُمْ وَمَا غَوَى، وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى، إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى} [النجم: 1-4] ، فالله
...আমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে এক মহা দিবসের আজাবের। বলুন, যদি আল্লাহ চাইতেন তবে আমি এটি তোমাদের নিকট তিলাওয়াত করতাম না এবং তিনি তোমাদের এটি জানাতেন না। অবশ্যই আমি তোমাদের মাঝে এর আগে একটি জীবনকাল অতিবাহিত করেছি। তবে কি তোমরা অনুধাবন করবে না?} [ইউনূস: ১৫-১৬]।
এবং মহান আল্লাহ সেই সকল মুশরিকদের নিকট বর্ণনা করেছেন যারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট উজ্জ্বল নিদর্শন ও সুস্পষ্ট মুজিযা দাবি করেছিল যে, কুরআনই তাদের জন্য যথেষ্ট; যেখানে তিনি বলেছেন: {এবং তারা বলে, তার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তার নিকট নিদর্শনসমূহ কেন অবতীর্ণ করা হলো না? বলুন, নিদর্শনসমূহ তো কেবল আল্লাহরই নিকট। আর আমি তো কেবল একজন সুস্পষ্ট সতর্ককারী। তাদের জন্য কি এটা যথেষ্ট নয় যে, আমি আপনার নিকট কিতাব অবতীর্ণ করেছি যা তাদের নিকট তিলাওয়াত করা হয়? এতে অবশ্যই মুমিন সম্প্রদায়ের জন্য রহমত ও উপদেশ রয়েছে।} [আল-আনকাবুত: ৫০-৫১]। ওহির (وحي) দ্বিতীয় প্রকার যা হলো নবীর সুন্নাহ (سنة), সে বিষয়ে কুরআনের নিরব থাকার কারণ এছাড়া আর কিছু নয় যে, এর প্রকাশভঙ্গি মানবিক পর্যায়ের; যার জ্ঞান ও প্রজ্ঞা কেবল গভীর মনোযোগী মুমিন এবং সূক্ষ্মদর্শী আলেম ছাড়া আর কেউ উপলব্ধি করতে পারে না। তাই তিনি তাদের কুরআনের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন যা মহান আল্লাহর কালাম, যা অন্তরে করাঘাত করে এবং যা শ্রবণেন্দ্রিয়কে বশীভূত করে ফেলে, ফলে একজন আরবের পক্ষে তা মেনে নেওয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকে না।
এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: {আলিফ-লাম-রা; এটি একটি কিতাব যা আমি আপনার নিকট অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি মানুষকে তাদের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন, পরাক্রমশালী ও প্রশংসিত আল্লাহর পথের দিকে।} [ইব্রাহিম: ১]। অতএব, হে মুহাম্মদ! আপনার নিকট কুরআন অবতীর্ণ করা হয়েছে যাতে আপনি কুরআনের মাধ্যমে এবং আপনার প্রতি ওহি (وحي) হিসেবে প্রত্যাদেশকৃত (موحى) সুন্নাহর (سنة) মাধ্যমে মানুষকে আল্লাহর দিকে হেদায়াত দান করেন, যার ফলে তাদের বর্তমান অন্ধকার থেকে সত্য সুস্পষ্ট করার মাধ্যমে তাদের বের করে আনা সম্ভব হয়; আর এটি আপনার জন্য আল্লাহর অনুমতিক্রমেই।
আর এই বিষয়ে মহান আল্লাহর এই বাণীর দিকে লক্ষ্য করুন: {শপথ নক্ষত্রের যখন তা অস্তমিত হয়। তোমাদের সঙ্গী বিভ্রান্ত হননি এবং বিপথগামীও হননি। আর তিনি নিজ প্রবৃত্তি থেকে কথা বলেন না। এটি তো ওহি (وحي) যা তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হয়।} [আন-নাজম: ১-৪] , অতএব আল্লাহ
(খণ্ড: ১)
তাজরিবাতি মায়াল ইজাজিল ইলমি ফিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
تعالى يبين لقريش أن محمداً صلى الله عليه وسلم رسوله الأمين، ما أضاع الحق الذي أرسل به، ولا ابتعد عن الطريق الصحيح في دعواه النبوة، ودعوته لكم بتوحيد الله تعالى، وقال عنه"صاحبكم" يعني الذي صحبكم وصحبتموه في طفولته وصباه وشبابه، ورجولته، وعرفكم بكل ما عندكم من العقائد والعبادات والعادات، وعرفتموه بالعقل الصريح، والرأي السديد، والأمانة التامة، والصدق الكامل، ولم يتبع سبل الغواية، والفساد التي تعرفونها تمام المعرفة، وإنما الذي دعاكم به، وخاطبكم به إنما هو وحي من عند الله تعالى يوحيه إليه، فهو لا يتكلم عن هوى نفسه، وأمنياته التي تتصورونها يطلب بذلك مكانة من الدنيا، فيكذب أو يفتري على الله تعالى، بل هو بار راشد صادق لا ينطق إلا عن الوحي الذي يأتيه، سواء أكان هذا الذي يتكلم به من عنده أم كلاماً ينسبه إلى الرب سبحانه.
والدليل على أن المقصود بالوحي هنا الكتاب والسنة أنه صلى الله عليه وسلم لما جمع قريشاً ودعاهم إلى التوحيد تحدث إليهم بحديثه، ولم يخاطبهم بآيات من القرآن الكريم.
[انظر الأحاديث الواردة في أول الدعوة (1) ] وقال عبد الله بن عمرو- رضي الله عنهما: " كنت أكتب كل شيء أسمعه من رسول الله صلى الله عليه وسلم أريد حفظه، فنهتني قريش، وقالوا: تكتب كل شيء سمعته من رسول الله؟ ورسول الله صلى الله عليه وسلم بشر يتكلم في الغضب والرضا! فأمسكت عن الكتاب، فذكرت ذلك لرسول
--------------------------------------------
মহান আল্লাহ কুরাইশদের নিকট বর্ণনা করছেন যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর বিশ্বস্ত রাসুল; তিনি তাঁর নিকট প্রেরিত সত্যকে বিনষ্ট করেননি এবং তাঁর নবুওয়াতের দাবি ও তোমাদের প্রতি মহান আল্লাহর তাওহিদের দাওয়াতের ক্ষেত্রে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হননি। মহান আল্লাহ তাঁর সম্পর্কে বলেছেন "তোমাদের সাথী", অর্থাৎ যিনি তোমাদের সাথে অবস্থান করেছেন এবং তোমরাও তাঁর শৈশব, বাল্যকাল, যৌবন ও পূর্ণ বয়সে তাঁর সাহচর্য পেয়েছ। তিনি তোমাদের নিকট বিদ্যমান আকিদা, ইবাদত ও রীতিনীতি সম্পর্কে সম্যক অবগত ছিলেন, আর তোমরাও তাঁকে স্বচ্ছ বিচারবুদ্ধি, সঠিক মতামত, পূর্ণ আমানতদারি ও নিখুঁত সত্যবাদিতার গুণে ভূষিত হিসেবে চিনতে। তিনি কখনও ভ্রষ্টতা ও ফাসাদের পথে চলেননি যা তোমরা খুব ভালোভাবেই জানো। বরং তিনি তোমাদের যে বিষয়ের দিকে আহ্বান করেছেন এবং যে ভাষায় সম্বোধন করেছেন তা কেবল মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ ওহী। তিনি তাঁর নিজ প্রবৃত্তি কিংবা তোমাদের কল্পিত সেই সকল আকাঙ্ক্ষা থেকে কথা বলেন না যার মাধ্যমে তিনি পার্থিব মর্যাদা কামনা করবেন অথবা আল্লাহর নামে মিথ্যা বা অপবাদ আরোপ করবেন। বরং তিনি একনিষ্ঠ পুণ্যবান, সঠিক পথপ্রাপ্ত ও সত্যবাদী; তাঁর কাছে আগত ওহী ব্যতীত তিনি কোনো কথা বলেন না— চাই তা তাঁর নিজের পক্ষ থেকে বলা কথা হোক কিংবা মহান রবের প্রতি সম্বন্ধযুক্ত কোনো কথা।
এখানে ওহী দ্বারা কুরআন ও সুন্নাহ (سنة) উভয়ই উদ্দেশ্য হওয়ার প্রমাণ হলো, যখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কুরাইশদের একত্র করলেন এবং তাদের তাওহিদের প্রতি আহ্বান জানালেন, তখন তিনি তাঁর নিজস্ব হাদিস দ্বারা তাদের সাথে কথা বলেছিলেন এবং তাদের প্রতি পবিত্র কুরআনের আয়াত দ্বারা সম্বোধন করেননি।
[দাওয়াতের সূচনালগ্নে বর্ণিত হাদিসসমূহ দেখুন (১)] আর আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন: "আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট থেকে যা কিছু শুনতাম তা মুখস্থ করার উদ্দেশ্যে লিখে রাখতাম। তখন কুরাইশরা আমাকে নিষেধ করে বলল: তুমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছ থেকে শোনা সব কিছুই কি লিখে রাখছ? অথচ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একজন মানুষ, তিনি রাগ ও সন্তুষ্টি উভয় অবস্থাতেই কথা বলেন! এরপর আমি লেখা থেকে বিরত রইলাম এবং বিষয়টি রাসুলুল্লাহর নিকট উল্লেখ করলাম...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাজরিবাতি মায়াল ইজাজিল ইলমি ফিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الله، فأومأ إلى فيه، وقال: "اكتب، فوالذي نفسي بيده ما خرج منه إلا حق" (1) .
فهذا دليل واضح على أن رسول الله صلى الله عليه وسلم ما ينطق عن الهوى، ولا يخرج منه في كلامه إلا الحق، سواء فيما يتكلم به من عند نفسه، أو ما نسبه إلى ربه، فكله وحي من عند الله تعالى عَلَّمه إياه، وملأه في صدره، فهو يصدر عنه.
لذلك نرى في كتاب الله تعالى الآيات الكثيرة التي يأمرنا الله بها أن نطيع هذا الرسول صلى الله عليه وسلم واعتبر طاعته من طاعته تعالى، وليس ذلك إلا لأنه يتكلم بالوحي، وينطق به، ويأمر بشريعة الله سبحانه، ويبين سنن الهدى التي أمره الله تعالى أن يبلغها، بل إن العلماء عدوا قوله، وفعله، وسكوته صلى الله عليه وسلم سنة متبعة تفيد حكماً
قال الله تعالى: {مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ وَمَنْ تَوَلَّى فَمَا أَرْسَلْنَاكَ عَلَيْهِمْ حَفِيظاً} [النساء: 80] .
وقال–جل وعز-: {إِنَّمَا كَانَ قَوْلَ الْمُؤْمِنِينَ إِذَا دُعُوا إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ لِيَحْكُمَ بَيْنَهُمْ أَنْ يَقُولُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ، وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ
--------------------------------------------
আল্লাহর কসম, এরপর তিনি তাঁর মুখের দিকে ইঙ্গিত করলেন এবং বললেন: "তুমি লেখো, সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ, এ থেকে সত্য ছাড়া আর কিছুই বের হয় না" (১)।
এটি একটি স্পষ্ট প্রমাণ যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রবৃত্তির বশবর্তী হয়ে কথা বলেন না এবং তাঁর কথা থেকে সত্য ছাড়া অন্য কিছু প্রকাশ পায় না; চাই তিনি নিজের পক্ষ থেকে যা বলেন অথবা তাঁর রবের দিকে যা নিসবত করেন; এর সবই মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা ওহি যা তিনি তাঁকে শিখিয়েছেন এবং তাঁর অন্তরে পূর্ণ করে দিয়েছেন, ফলে তা তাঁর মাধ্যমেই নিঃসৃত হয়।
এ কারণেই আমরা মহান আল্লাহর কিতাবে এমন অনেক আয়াত দেখতে পাই যেখানে আল্লাহ আমাদের এই রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আনুগত্য করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং তাঁর আনুগত্যকে স্বয়ং আল্লাহর আনুগত্য হিসেবে গণ্য করেছেন। এটি কেবল এজন্যই যে, তিনি ওহির মাধ্যমে কথা বলেন, তা উচ্চারণ করেন, আল্লাহর শরিয়তের আদেশ দেন এবং হেদায়েতের সুন্নাহ (سنة) সমূহ বর্ণনা করেন যা প্রচার করার জন্য মহান আল্লাহ তাঁকে নির্দেশ দিয়েছেন। বরং ওলামায়ে কেরাম তাঁর কথা, কাজ এবং মৌনসম্মতিকে অনুসরণীয় সুন্নাহ (سنة) হিসেবে গণ্য করেছেন যা বিধান (حكم) প্রদান করে।
মহান আল্লাহ বলেন: {যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল। আর যে বিমুখ হল, আমি আপনাকে তাদের উপর রক্ষণাবেক্ষণকারী হিসেবে পাঠাইনি} [আন-নিসা: ৮০]।
তিনি আরও বলেন: {মুমিনদের কথা তো এই যে, যখন তাদের আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে ডাকা হয় যেন তিনি তাদের মধ্যে বিচার করে দেন, তারা বলে: আমরা শুনলাম ও মানলাম। আর তারাই সফলকাম। আর যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে...}
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাজরিবাতি মায়াল ইজাজিল ইলমি ফিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وَيَخْشَ اللَّهَ وَيَتَّقْهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الْفَائِزُونَ} [النور: 51-52] .
وقال سبحانه: {فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} [النور: 63] ، إلى آيات كثيرة.
والقرآن الكريم في أكثر من أربعين آية يأمر بطاعة الله تعالى وطاعة رسوله، وينهى عن معصيته، ومعصية رسوله، ولا ريب أن طاعة الرسول إنما تكون بما جاء في الكتاب أو بما جاء في السنة المطهرة، ولو لم تكن حقاً لما أمر الله تعالى بقبولها، وطاعتها، وأنَّى لرسول الله محمد بن عبد الله أن يتكلم بالحق، ويوافق شرع الله سبحانه، لولا ما أعطاه الله من الوحي، والعلم الذي يقصر عنه كل البشر.
ورسول الله صلى الله عليه وسلم المؤيد من الله–جل وعز- في كل أمر يقدم عليه، وفي كل أمر ينطق به قد أوضح أن طاعته من طاعة الله تعالى، وأن سنته من الوحي الذي أنزله الله عليه، وليست من ذاته، فعن أبي رافع رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال:
"لا ألفين أحدكم متكئاً على أريكته يأتيه الأمر من أمري مما أمرت به أو نهيت عنه، فيقول: لا أدري، ما وجدناه في كتاب الله اتبعناه" (1) .
--------------------------------------------
...এবং আল্লাহকে ভয় করে ও তাঁর অবধ্যতা হতে সতর্ক থাকে (تقوى); তারাই সফলকাম। [সূরা আন-নূর: ৫১-৫২] ।
মহান আল্লাহ আরও বলেন: ‘অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো বিপর্যয় নেমে আসবে অথবা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি তাদের গ্রাস করবে।’ [সূরা আন-নূর: ৬৩], এ রূপ আরও অনেক আয়াত রয়েছে।
কুরআন মাজীদে চল্লিশটিরও বেশি আয়াতে আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তাঁর ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হতে নিষেধ করা হয়েছে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, রাসূলের আনুগত্য কেবল তা-ই যা কিতাব (কুরআন) বা পবিত্র সুন্নাহ (سنة) এর মাধ্যমে এসেছে। সুন্নাহ যদি সত্য না হতো, তবে আল্লাহ তাআলা তা গ্রহণ ও তার আনুগত্য করার নির্দেশ দিতেন না। আল্লাহর দেওয়া ওহী (وحي) এবং এমন জ্ঞান—যা অর্জনে সকল মানুষ অক্ষম—তা ব্যতীত আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহর পক্ষে সত্য কথা বলা এবং আল্লাহর শরীয়তের অনুকূল হওয়া কীভাবে সম্ভব হতো?
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপ ও প্রতিটি কথায় মহামহিম আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্যপ্রাপ্ত। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, তাঁর আনুগত্য করা মানেই আল্লাহর আনুগত্য করা এবং তাঁর সুন্নাহ (سنة) হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর ওপর অবতীর্ণ ওহী (وحي), তা তাঁর নিজস্ব কোনো বিষয় নয়। আবু রাফে রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
“আমি যেন তোমাদের কাউকে এমন অবস্থায় না পাই যে, সে তার আসনে হেলান দিয়ে বসে থাকবে, আর তার কাছে আমার পক্ষ থেকে কোনো আদেশ কিংবা নিষেধ পৌঁছালে সে বলবে—আমরা জানি না, আল্লাহর কিতাবে আমরা যা পাব কেবল তারই অনুসরণ করব।” (১) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাজরিবাতি মায়াল ইজাজিল ইলমি ফিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وعن المقدام بن معد يكرب رضي الله عنه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "ألا إني أوتيت الكتاب ومثله معه وفي رواية"وما يعدله معه "ألا يوشك رجل شبعان على أريكته يقول: عليكم بهذا القرآن، فما وجدتم فيه من حلال، فأحلوه، وما وجدتم فيه من حرام فحرموه" زاد في رواية"ألا وإنه ليس كذلك" (1) .
فكل ما حرمه رسول الله صلى الله عليه وسلم في سنته إنما هو إخبار عن تحريم الله تعالى لذلك الأمر، أو أمر من الله تعالى بأن هذا الذي حرمه رسول الله صلى الله عليه وسلم هو حرام عند الله تعالى، فيجب على المؤمنين أن يأخذوا بما جاءهم في السنة المطهرة، لأنها وحي من عند الله تعالى، وليست من رأي، أو هوى لرسول الله صلى الله عليه وسلم، وإن كان هواه صلى الله عليه وسلم تبعاً لشريعة الله– عز وجل.
--------------------------------------------
মিকদাম ইবনে মা’দী কারিব (রা.) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "সাবধান! আমাকে কিতাব এবং এর সাথে এর অনুরূপ আরও কিছু প্রদান করা হয়েছে। অন্য বর্ণনায় এসেছে— 'এবং এর সমতুল্য আরও কিছু এর সাথে।' সাবধান! শীঘ্রই এমন এক সময় আসবে যখন কোনো তৃপ্ত ব্যক্তি তার পালঙ্কে হেলান দিয়ে বসে বলবে: তোমাদের জন্য এই কুরআনই যথেষ্ট; এতে যা হালাল পাবে তা-ই হালাল হিসেবে গ্রহণ করবে আর যা হারাম পাবে তা-ই হারাম হিসেবে গ্রহণ করবে।" অন্য এক বর্ণনায় বর্ধিত হয়েছে— "সাবধান! বিষয়টি মোটেও তেমন নয়।" (১) .
সুতরাং রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর সুন্নাহর মধ্যে যা কিছু হারাম করেছেন, তা মূলত মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে সেই বিষয়টি হারাম হওয়ার সংবাদ প্রদান মাত্র, অথবা আল্লাহর পক্ষ থেকে এক নির্দেশ যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) যা হারাম করেছেন তা আল্লাহর নিকটও হারাম। অতএব মুমিনদের জন্য সুন্নাহর মাধ্যমে যা এসেছে তা গ্রহণ করা অপরিহার্য, কারণ তা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা ওহি (وحي), তা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিজস্ব কোনো রায় (رأي) বা খেয়ালখুশি নয়; যদিও তাঁর ইচ্ছা সর্বদা মহান আল্লাহর শরিয়তের অনুগামী ছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাজরিবাতি মায়াল ইজাজিল ইলমি ফিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
سر الإعجاز في القرآن الكريمما السر في كون القرآن الكريم معجزاً؟
سؤال تردد كثيراً عند الذين كتبوا عن الإعجاز في كتاب الله تعالى، والجواب عنه قريب سهل ميسر، وذلك لأنه كلام الله تعالى، قال الله- عز وجل: {وَإِنْ أَحَدٌ مِنَ الْمُشْرِكِينَ اسْتَجَارَكَ فَأَجِرْهُ حَتَّى يَسْمَعَ كَلامَ اللَّهِ ثُمَّ أَبْلِغْهُ مَأْمَنَهُ ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ قَوْمٌ لا يَعْلَمُونَ} [التوبة: 6] .
والكلام صفة من صفات الله تعالى نعتقد بها كما جاءت، وقد قال الله تعالى: {قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ، اللَّهُ الصَّمَدُ، لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ، وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُواً أَحَدٌ} [سورة الإخلاص] وقال – جل ثناؤه-: {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ} [الشورى: 11] .
فالله أحد في ذاته، أحد في صفاته- ومنها الكلام- أحد في أسمائه، أحد في أفعاله، ليس كمثله شيء في ذاته، ولا في أسمائه، ولا في صفاته، ولا في أفعاله، فليس لله مثيل، ولا شبيه، ولا مكافئ في ذلك كله يستطيع أن يأتي بكلام مثل كلام الله تعالى! فكيف يكون له من خلقه نظير يساميه، أو قريب يدانيه، وهو مالك الملك، خالق الخلق تعالى وتقدس، وتنزه عن الشبيه، والمثيل؟
فإعجاز القرآن العظيم كان لأنه صفة من صفات الله تعالى، وصفات الله عز وجل _ لا يمكن لأحد أن يتصف بمثلها أبداً، أو يدانيها، بأي صورة من الصور مهما حاول، وقصد إلى ذلك وجهد، حتى لو اجتمعت كل الجن
পবিত্র কুরআনের অলৌকিকত্বের রহস্যপবিত্র কুরআন অলৌকিক হওয়ার পেছনের রহস্য কী?
আল্লাহর কিতাবের অলৌকিকত্ব নিয়ে যারা লিখেছেন, তাদের মাঝে এই প্রশ্নটি অনেক আলোচিত হয়েছে। এর উত্তর অত্যন্ত নিকটবর্তী ও সহজ; আর তা হলো—এটি মহান আল্লাহর বাণী। আল্লাহ মহিমান্বিত ও পরাক্রমশালী বলেন: "আর মুশরিকদের মধ্যে যদি কেউ তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে, তবে তাকে আশ্রয় দাও যাতে সে আল্লাহর বাণী শুনতে পায়। তারপর তাকে তার নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দাও। এটি এ জন্য যে, তারা এমন এক সম্প্রদায় যারা জ্ঞান রাখে না।" [আত-তাওবাহ: ৬]।
কথা বলা মহান আল্লাহর গুণাবলির একটি গুণ, যার ওপর আমরা বর্ণিত রূপেই বিশ্বাস পোষণ করি। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "বলুন, তিনিই আল্লাহ, অদ্বিতীয়। আল্লাহ অমুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও জন্ম দেওয়া হয়নি। আর তাঁর সমতুল্য কেউ নেই।" [সূরা আল-ইখলাস]। এবং তিনি—যাঁর প্রশংসা মহান—বলেছেন: "কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়, আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।" [আশ-শূরা: ১১]।
আল্লাহ তাঁর সত্তায় একক, তাঁর গুণাবলিতে—যার মধ্যে কথা বলাও অন্তর্ভুক্ত—একক, তাঁর নামসমূহে একক এবং তাঁর কার্যাবলিতে একক। তাঁর সত্তা, নামসমূহ, গুণাবলি কিংবা কার্যাবলিতে কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়। সুতরাং আল্লাহর কোনো সমকক্ষ, সদৃশ বা সমতুল্য নেই যে এই সবকিছুর ক্ষেত্রে আল্লাহর বাণীর মতো কোনো বাণী নিয়ে আসতে সক্ষম হবে! তাঁর সৃষ্টির মধ্য থেকে কীভাবে তাঁর এমন কোনো সমকক্ষ থাকতে পারে যে তাঁর সমমর্যাদাপূর্ণ হবে কিংবা তাঁর নিকটবর্তী হবে, অথচ তিনি সমগ্র রাজত্বের মালিক এবং সকল সৃষ্টির স্রষ্টা? তিনি অতি মহান, পবিত্র এবং কোনো সদৃশ বা সমতুল্য থাকা থেকে মুক্ত!
সুতরাং মহান কুরআনের অলৌকিকত্ব এ কারণেই যে, এটি মহান আল্লাহর গুণাবলির একটি গুণ। আর মহান আল্লাহর গুণাবলি এমন যে, কেউ কখনও সেগুলোর মতো গুণের অধিকারী হতে পারে না কিংবা কোনোভাবেই সেগুলোর ধারেকাছেও পৌঁছাতে পারে না; সে যত চেষ্টাই করুক না কেন এবং এর জন্য যত পরিশ্রমই ব্যয় করুক না কেন, এমনকি যদি সমস্ত জিন জাতি একত্রিত হয়...
(খণ্ড: ১)
তাজরিবাতি মায়াল ইজাজিল ইলমি ফিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وكل الإنس متعاونين متكاتفين ليأتوا بمثل هذا القرآن؛ فلن يستطيعوا إلى ذلك سبيلاً: {قُلْ لَئِنِ اجْتَمَعَتِ الْأِنْسُ وَالْجِنُّ عَلَى أَنْ يَأْتُوا بِمِثْلِ هَذَا الْقُرْآنِ لا يَأْتُونَ بِمِثْلِهِ وَلَوْ كَانَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ ظَهِيراً} [الإسراء: 88] .
ولهذا الذي ذكرت جاء في آيات التحدي التي تحدى الله تعالى فيها العرب أن يأتوا بمثل هذا القرآن، الاستفتاح في كل آية منها بزعم المشركين أن القرآن من قول محمد بن عبد الله افتراه، وزعم أنه من عند الله تعالى، فقال لهم: إن كان هذا القرآن بشرياً– على زعمكم-قد افتراه، وتقوله محمد صلى الله عليه وسلم وهو بشر مثلكم، فأنتم إذا كنتم تستطيعون أن تأتوا بقرآن مفترى مثل ما جاء به محمد بزعمكم فأتوا به، ولكنكم لا تستطيعون أن تأتوا بمثله لأن القرآن كلام الله، وأنتم بشر مخلوقون، وأنَّى لبشر أن يأتي بمثل صفة الله في الكلام؟! هيهات هيهات. قال الله تعالى: {أَمْ يَقُولُونَ تَقَوَّلَهُ بَلْ لا يُؤْمِنُونَ، فَلْيَأْتُوا بِحَدِيثٍ مِثْلِهِ إِنْ كَانُوا صَادِقِينَ} [الطور: 33-34] .
وقال–جل وعلا-: {أَمْ يَقُولُونَ افْتَرَاهُ قُلْ فَأْتُوا بِعَشْرِ سُوَرٍ مِثْلِهِ مُفْتَرَيَاتٍ وَادْعُوا مَنِ اسْتَطَعْتُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ، فَإِلَّمْ يَسْتَجِيبُوا لَكُمْ فَاعْلَمُوا أَنَّمَا أُنْزِلَ بِعِلْمِ اللَّهِ وَأَنْ لا إِلَهَ إِلَّا هُوَ فَهَلْ أَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [هود: 13-14] وقال سبحانه: {أَمْ يَقُولُونَ افْتَرَاهُ قُلْ فَأْتُوا بِسُورَةٍ مِثْلِهِ وَادْعُوا مَنِ اسْتَطَعْتُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ} [يونس: 38] وقال–جل جلاله: {وَإِنْ كُنْتُمْ فِي رَيْبٍ مِمَّا نَزَّلْنَا عَلَى عَبْدِنَا فَأْتُوا بِسُورَةٍ مِّنْ مِثْلِهِ وَادْعُوا شُهَدَاءَكُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ
সমস্ত মানুষ পরস্পর সহযোগিতায় এবং একতাবদ্ধভাবে যদি এই কুরআনের মতো কিছু আনতে চায়, তবে তারা কখনোই এর কোনো পথ পাবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন: "বলুন, যদি এই কুরআনের অনুরূপ আনার জন্য মানুষ ও জিন সমবেত হয়, তবে তারা এর অনুরূপ আনতে পারবে না, যদিও তারা একে অপরের সাহায্যকারী হয়।" [আল-ইসরা: ৮৮]।
আমি যা উল্লেখ করেছি তার কারণেই চ্যালেঞ্জের সেই আয়াতগুলোতে আল্লাহ তাআলা আরবদের প্রতি এই কুরআনের মতো কিছু নিয়ে আসার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন। এর প্রতিটি আয়াতে মুশরিকদের সেই দাবির খণ্ডন করে শুরু করা হয়েছে যাতে তারা দাবি করেছিল যে, এই কুরআন মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহর কথা, যা তিনি নিজেই মিথ্যা উদ্ভাবন (افتراه) করেছেন এবং দাবি করেছেন যে এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে। তিনি তাদের উদ্দেশ্যে বলেছেন: যদি এই কুরআন তোমাদের দাবি অনুযায়ী মানবীয় হয় যা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজে মিথ্যা উদ্ভাবন (افتراه) করেছেন এবং বানিয়েছেন—অথচ তিনিও তোমাদের মতোই একজন মানুষ—তবে তোমরা যদি তোমাদের দাবি অনুযায়ী মুহাম্মাদের নিয়ে আসা বিষয়ের মতো কোনো মিথ্যা উদ্ভাবিত (مفترى) কুরআন নিয়ে আসতে সক্ষম হও, তবে তা নিয়ে এসো। কিন্তু তোমরা এর অনুরূপ কিছু আনতে পারবে না; কারণ কুরআন হলো আল্লাহর কালাম, আর তোমরা হলে সৃষ্ট জীব। আর কোনো মানুষের পক্ষে আল্লাহর গুণাবলির মতো কথা আনা কীভাবে সম্ভব?! অসম্ভব, তা অসম্ভব। আল্লাহ তাআলা বলেন: "নাকি তারা বলে যে, সে এটি বানিয়ে নিয়েছে? বরং তারা ঈমান আনবে না। তারা যদি সত্যবাদী হয়, তবে এর মতো কোনো হাদিস নিয়ে আসুক।" [আত-তুর: ৩৩-৩৪]।
এবং মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেন: "নাকি তারা বলে যে, সে এটি মিথ্যা উদ্ভাবন (افتراه) করেছে? বলুন, তবে তোমরা এর মতো দশটি মিথ্যা উদ্ভাবিত (مفتريات) সূরা নিয়ে এসো এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য যাকে পারো ডেকে নাও, যদি তোমরা সত্যবাদী হও। অতঃপর তারা যদি তোমাদের ডাকে সাড়া না দেয়, তবে জেনে রেখো যে, এটি আল্লাহর জ্ঞান অনুসারেই অবতীর্ণ হয়েছে এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো সত্য মাবুদ নেই; সুতরাং তোমরা কি আত্মসমর্পণকারী হবে?" [হুদ: ১৩-১৪]। মহান আল্লাহ আরও বলেন: "নাকি তারা বলে যে, সে এটি মিথ্যা উদ্ভাবন (افتراه) করেছে? বলুন, তবে তোমরা এর মতো একটি সূরা নিয়ে এসো এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য যাকে পারো ডেকে নাও, যদি তোমরা সত্যবাদী হও।" [ইউনূস: ৩৮]। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "আর আমি আমার বান্দার প্রতি যা অবতীর্ণ করেছি তাতে যদি তোমাদের কোনো সন্দেহ থাকে, তবে তোমরা এর মতো একটি সূরা নিয়ে এসো এবং আল্লাহ ছাড়া তোমাদের সাক্ষীদের ডেকে নাও..."
(খণ্ড: ১)
তাজরিবাতি মায়াল ইজাজিল ইলমি ফিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ، فَإِنْ لَمْ تَفْعَلُوا وَلَنْ تَفْعَلُوا فَاتَّقُوا النَّارَ الَّتِي وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ أُعِدَّتْ لِلْكَافِرِينَ} [البقرة: 23-24] .
فالآيات كلها تبدأ بهذا الشرط، فإن كنتم أيها العرب الفصحاء تقولون: إن محمداً تقوَّل هذا القرآن على الله تعالى، أو افتراه، ونسبه إلى ربه، أو أصابكم شك وريب في جواز ذلك، فأنتم وهو متماثلون في البشرية وفي كونكم عرباً، متقاربون في الإمكانات فافعلوا فعله، وهاتوا قرآناً مثل ما جاء به هو– على زعمكم- من عند أنفسكم كما فعل هو فجاء بقرآن من عند نفسه كما تدعون.
ولذلك جاء الرد عليهم في سورة هود: {فَاعْلَمُوا أَنَّمَا أُنْزِلَ بِعِلْمِ اللَّهِ وَأَنْ لا إِلَهَ إِلَّا هُوَ فَهَلْ أَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [هود: 14] وفي سورة يونس الحكم القاطع بذلك: {وَمَا كَانَ هَذَا الْقُرْآنُ أَنْ يُفْتَرَى مِنْ دُونِ اللَّهِ وَلَكِنْ تَصْدِيقَ الَّذِي بَيْنَ يَدَيْهِ وَتَفْصِيلَ الْكِتَابِ لا رَيْبَ فِيهِ مِنْ رَبِّ الْعَالَمِينَ} [يونس: 37] .
فلا أحد إلا الله يمكن أن يأتي بمثل هذا القرآن أما البشر فعاجزون لبشريتهم أن يأتوا بمثله، وكفى بها ضعفاً، قال الله تعالى: {الم، تَنْزِيلُ الْكِتَابِ لا رَيْبَ فِيهِ مِنْ رَبِّ الْعَالَمِينَ، أَمْ يَقُولُونَ افْتَرَاهُ بَلْ هُوَ الْحَقُّ مِنْ رَبِّكَ لِتُنْذِرَ قَوْماً مَا أَتَاهُمْ مِنْ نَذِيرٍ مِنْ قَبْلِكَ لَعَلَّهُمْ يَهْتَدُونَ} [السجدة: 1-3] .
{...যদি তোমরা সত্যবাদী হও। অতঃপর যদি তোমরা তা না করো—আর কখনোই তা করতে পারবে না—তবে সেই আগুনকে ভয় করো, যার জ্বালানি হবে মানুষ ও পাথর, যা কাফিরদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।} [আল-বাকারা: ২৩-২৪] .
আয়াতসমূহ এই শর্তের মাধ্যমেই শুরু হয়েছে। সুতরাং হে সাবলীল ভাষী আরবগণ, যদি তোমরা মনে করো যে, মুহাম্মাদ এই কুরআন আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করে নিজে তৈরি করেছেন অথবা এটি মিথ্যা উদ্ভাবন (افتراه) করেছেন এবং তাঁর প্রতিপালকের দিকে নিসবত করেছেন, অথবা এ বিষয়ের বৈধতা সম্পর্কে তোমাদের মনে কোনো সন্দেহ ও সংশয় জাগে, তবে তোমরা এবং তিনি তো মানবত্বের দিক থেকে সদৃশ এবং আরবি হওয়ার ক্ষেত্রেও সমান। সামর্থ্যের বিচারেও তোমরা কাছাকাছি; সুতরাং তাঁর মতো কাজ করে দেখাও এবং তোমাদের দাবি অনুযায়ী—তিনি যেমন নিজের পক্ষ থেকে এটি নিয়ে এসেছেন—তোমরাও তেমনি তোমাদের পক্ষ থেকে অনুরূপ একটি কুরআন নিয়ে আসো।
আর এই কারণেই সূরা হুদে তাদের প্রতি উত্তর দেওয়া হয়েছে: {তবে জেনে রেখো, এটি আল্লাহর জ্ঞান অনুসারেই অবতীর্ণ হয়েছে এবং তিনি ছাড়া অন্য কোনো সত্য ইলাহ নেই। তবে কি তোমরা আত্মসমর্পণকারী হবে?} [হুদ: ১৪]। আর সূরা ইউনুসে এ বিষয়ে চূড়ান্ত ফয়সালা বর্ণিত হয়েছে: {আর এই কুরআন আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও পক্ষ থেকে মিথ্যা উদ্ভাবন (يفتري) করা সম্ভব নয়; বরং এটি তার সম্মুখস্থ কিতাবসমূহের সত্যায়ন এবং কিতাবের বিশদ ব্যাখ্যা, এতে কোনো সন্দেহ নেই, যা বিশ্বজগতের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আগত।} [ইউনুস: ৩৭] .
সুতরাং আল্লাহ ছাড়া আর কারও পক্ষে এই কুরআনের অনুরূপ কিছু আনা সম্ভব নয়। পক্ষান্তরে মানুষ তাদের মানবীয় সীমাবদ্ধতার কারণে এর অনুরূপ কিছু আনতে অক্ষম, আর এটি তাদের দুর্বলতা (ضعف) প্রমাণের জন্য যথেষ্ট। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আলিফ-লাম-মীম। এই কিতাবের অবতরণ বিশ্বজগতের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। নাকি তারা বলে যে, সে এটি মিথ্যা উদ্ভাবন (افتراه) করেছে? বরং এটি তোমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে প্রেরিত সত্য, যাতে তুমি এমন এক জাতিকে সতর্ক করতে পারো যাদের কাছে তোমার আগে কোনো সতর্ককারী আসেনি, যেন তারা সঠিক পথ প্রাপ্ত হয়।} [আস-সাজদাহ: ১-৩] .
(খণ্ড: ১)
তাজরিবাতি মায়াল ইজাজিল ইলমি ফিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وجوه الإعجاز في القرآن الكريم
مدخل…وجوه الإعجاز في القرآن الكريم (1)
هذا من جهة سبب الإعجاز، ومصدره أما بالنسبة لأوجه الإعجاز فإني قد حاولت أن أستخرجها من كتاب الله تعالى مستقرئاً الآيات التي تحدثت عن القرآن الكريم، وقبل المضي في هذا السبيل سأتحدث عن الوجه المعجز في القرآن الكريم، ولعل أقرب التعاريف لذلك هو:
"كل مزية في القرآن خارجة عن طاقة المخلوقين، أو علمهم وقت نزول القرآن".
وبهذا يدخل كل مزية في القرآن لم تأت في غيره سواء كانت في النظم، أو المعاني البيانية، وكذا ما ورد فيه من القضايا العلمية التي لم يكن للإنسان معرفة بها حين نزول القرآن الكريم، وإن عرفها بعد ذلك.
وإني بالرغم من ذكر الوجه المعجز في القرآن فقد اعتمدت على الآيات القرآنية التي تحدثت عن القرآن العظيم وأخذت منها وجوه الإعجاز، فقد وجدت أن كتاب الله قد أشار إلى جميع الوجوه التي ذكرها الأقدمون
--------------------------------------------
পবিত্র কুরআনের অলৌকিকত্বের (إعجاز) দিকসমূহভূমিকা…পবিত্র কুরআনের অলৌকিকত্বের (إعجاز) দিকসমূহ (১)
এটি অলৌকিকত্বের (إعجاز) কারণ এবং উৎসের দিক থেকে; আর অলৌকিকত্বের (إعجاز) দিকগুলোর ক্ষেত্রে আমি মহান আল্লাহর কিতাব থেকে পবিত্র কুরআন সম্পর্কে আলোচনা করা আয়াতসমূহ অনুসন্ধানের মাধ্যমে সেগুলো উদ্ঘাটন করার চেষ্টা করেছি। এই পথে অগ্রসর হওয়ার পূর্বে আমি পবিত্র কুরআনের অলৌকিক (معجز) দিকটি নিয়ে আলোচনা করব। সম্ভবত এর সবচেয়ে নিকটবর্তী সংজ্ঞা হলো:
"কুরআনের এমন প্রতিটি বৈশিষ্ট্য যা সৃষ্টির সাধ্যাতীত অথবা কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার সময় তাদের জ্ঞানের বহির্ভূত ছিল।"
এর মাধ্যমে কুরআনের এমন প্রতিটি বৈশিষ্ট্য অন্তর্ভুক্ত হয় যা অন্য কোথাও আসেনি, চাই তা তার গাঠনিক বিন্যাস হোক কিংবা আলঙ্কারিক অর্থের ক্ষেত্রে। একইভাবে এতে বর্ণিত সেই সমস্ত বৈজ্ঞানিক বিষয়সমূহও অন্তর্ভুক্ত হবে যা পবিত্র কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার সময় মানুষের জানাশোনার মধ্যে ছিল না, যদিও পরবর্তীকালে তারা তা জানতে পেরেছে।
পবিত্র কুরআনের অলৌকিক (معجز) দিকটি উল্লেখ করা সত্ত্বেও আমি পবিত্র কুরআন সম্পর্কে আলোচনা করা মহান কুরআনের আয়াতসমূহের ওপর নির্ভর করেছি এবং সেখান থেকেই অলৌকিকত্বের (إعجاز) দিকগুলো গ্রহণ করেছি। কারণ আমি দেখেছি যে, আল্লাহর কিতাব সেই সমস্ত দিকের প্রতি ইশারা করেছে যা পূর্ববর্তীগণ উল্লেখ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাজরিবাতি মায়াল ইজাজিল ইলমি ফিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
والمحدثون، وبكلمات أدق، وأجمع للمعاني، وبخاصة في أوائل السور، وبعض الحروف المقطعة التي جاءت في أوائل السور وقد ذهب بعض العلماء إلى أن هذه الحروف المقطعة إشارة إلى تحدّى العرب بالقرآن، وأنه مؤلف من حروف تتحدثون بمثلها، ورغم ذلك لا تستطيعون أن تأتوا بمثل هذا القرآن نظماً وبياناً، وجمعاً لعلوم شتى، وفنون متنوعة.
هذا ولم تتعد وجوه الإعجاز التي استنبطتها أربعة في الإجمال، وهي:
1- كونه عربياً.
2- أنه حق.
3- أنه هدى.
4- أنه شريف، وشرف حملته (1) .
هذا ما رأيته، وسأبين ذلك بالتفصيل، وأذكر ما يدخل في كل وجه من هذه الوجوه من نواحي الإعجاز التي ذكرها العلماء في ذلك، والله المستعان، وعليه التكلان.
--------------------------------------------
হাদিস বিশারদগণ (المحدثون), আরও সুনির্দিষ্ট শব্দে এবং অর্থের ব্যাপকতায়, বিশেষ করে সূরার শুরুভাগে এবং সূরার শুরুতে আসা কিছু বিচ্ছিন্ন অক্ষরসমূহের (الحروف المقطعة) ক্ষেত্রে। কিছু আলেম এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, এই বিচ্ছিন্ন অক্ষরসমূহ (الحروف المقطعة) হলো কুরআনের মাধ্যমে আরবদের প্রতি একটি চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত। তা এই যে, এটি এমন সব অক্ষরের সমন্বয়ে গঠিত যেগুলোর মাধ্যমে তোমরা কথা বলে থাকো, তা সত্ত্বেও তোমরা এর বিন্যাস, প্রাঞ্জলতা এবং বিভিন্ন ইলম ও বিচিত্র কলার সমাহার ঘটিয়ে এই কুরআনের অনুরূপ কিছু নিয়ে আসতে সক্ষম নও।
সারসংক্ষেপে, আমি অলৌকিকত্বের (الإعجاز) যে দিকগুলো বের করেছি তা চারটির বেশি নয়, সেগুলো হলো:
১- এটি আরবি হওয়া।
২- এটি সত্য (حق)।
৩- এটি হিদায়াত (هدى)।
৪- এটি মর্যাদাপূর্ণ (شريف) এবং এর বাহকদেরও মর্যাদা রয়েছে (১)।
এটিই আমার অভিমত, এবং আমি তা বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করব। এই প্রতিটি বিষয়ের অধীনে আলেমগণ অলৌকিকত্বের (الإعجاز) যে দিকগুলো উল্লেখ করেছেন তা আমি বর্ণনা করব। আল্লাহই সাহায্যকারী এবং তাঁর ওপরই ভরসা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাজরিবাতি মায়াল ইজাজিল ইলমি ফিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
الوجه الأول: كونه عربياًقال الله تعالى: {الر تِلْكَ آيَاتُ الْكِتَابِ الْمُبِينِ، إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ قُرْآناً عَرَبِيّاً لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ} [يوسف: 1-2]
وقال– عز من قائل -: {حم، تَنْزِيلٌ مِنَ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ، كِتَابٌ فُصِّلَتْ آيَاتُهُ قُرْآناً عَرَبِيّاً لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ} [فصلت: 1-3] .
وقال سبحانه: {حم، وَالْكِتَابِ الْمُبِينِ، إِنَّا جَعَلْنَاهُ قُرْآناً عَرَبِيّاً لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ} [الزخرف: 1-3] .
وقال جل ثناؤه: {وَإِنَّهُ لَتَنْزِيلُ رَبِّ الْعَالَمِينَ، نَزَلَ بِهِ الرُّوحُ الْأَمِينُ، عَلَى قَلْبِكَ لِتَكُونَ مِنَ الْمُنْذِرِينَ، بِلِسَانٍ عَرَبِيٍّ مُبِينٍ} [الشعراء: 192-195] .
وقال – جل ذكره -: {وَكَذَلِكَ أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ قُرْآناً عَرَبِيّاً لِتُنْذِرَ أُمَّ الْقُرَى وَمَنْ حَوْلَهَا} [الشورى: 7] .
إلى غير ذلك من الآيات القرآنية التي ذكرت إنزال القرآن باللسان العربي، فقد ذكر الله تعالى أن اختيار اللغة العربية، واللسان العربي لينزل به القرآن الكريم هذا القرآن لقوم يعلمون العربية، وطرائقها، وأساليبها، وبلاغتها، وأدبها فيعقلون عن الله تعالى ما أراده بكل لفظٍ، وتركيبٍ، وبيانٍ، ووجهٍ، فيشمل ذلك نظم القرآن، ومتانة نسجه، وقوة أسلوبه، وروعة بيانه، وكون كلمه إنما يقع من نفس القارئ والسامع موضع القبول، وتصادف من
প্রথম দিক (وجه): এটি আরবি ভাষায় হওয়ামহান আল্লাহ তাআলা বলেন: {আলিফ-লাম-রা; এগুলো সুস্পষ্ট কিতাবের আয়াত। নিশ্চয় আমি এটি আরবি কুরআন হিসেবে অবতীর্ণ করেছি যাতে তোমরা বুঝতে পারো।} [ইউসুফ: ১-২]
মহান মহিমাময় সত্তা বলেন: {হা-মীম। এটি পরম করুণাময়, অসীম দয়ালুর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। এমন এক কিতাব যার আয়াতসমূহ বিশদভাবে বর্ণিত হয়েছে আরবি কুরআন হিসেবে সেই কওমের জন্য যারা জ্ঞান রাখে।} [ফুসসিলাত: ১-৩] .
পবিত্র সত্তা বলেন: {হা-মীম। শপথ সুস্পষ্ট কিতাবের! নিশ্চয় আমি একে আরবি কুরআন করেছি যাতে তোমরা বুঝতে পারো।} [আয-যুখরুফ: ১-৩] .
তাঁর প্রশংসা মহিমান্বিত, তিনি বলেন: {আর নিশ্চয় এটি বিশ্বজগতের রবের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। তা নিয়ে বিশ্বস্ত রূহ অবতীর্ণ হয়েছেন, আপনার হৃদয়ে—যাতে আপনি সতর্ককারীদের অন্তর্ভুক্ত হন, সুস্পষ্ট আরবি ভাষায়।} [আশ-শুআরা: ১৯২-১৯৫] .
তাঁর স্মরণ মহিমান্বিত, তিনি বলেন: {আর এভাবেই আমি আপনার নিকট আরবি কুরআন ওহী করেছি যাতে আপনি উম্মুল কুরা (মক্কা) ও তার চারপাশের লোকজনকে সতর্ক করতে পারেন।} [আশ-শূরা: ৭] .
এ ছাড়াও কুরআনের এমন আরও অনেক আয়াত রয়েছে যাতে আরবি ভাষায় কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা উল্লেখ করেছেন যে, কুরআনুল কারীম অবতীর্ণ করার জন্য আরবি ভাষা ও আরবি জবানকে নির্বাচন করা হয়েছে সেই কওমের জন্য যারা আরবি ভাষা, এর গতিপ্রকৃতি, রীতি-পদ্ধতি, অলঙ্কারশাস্ত্র ও সাহিত্য সম্পর্কে জ্ঞান রাখে। ফলে তারা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রতিটি শব্দ (لفظ), বাক্য গঠন (تركিব), বর্ণনাভঙ্গি (بيان) ও প্রেক্ষিত (وجه) দ্বারা যা উদ্দেশ্য নেওয়া হয়েছে তা অনুধাবন করতে পারে। এর অন্তর্ভুক্ত হলো কুরআনের ছন্দময় বিন্যাস, এর গাঁথুনির সুদৃঢ়তা, শৈলীর শক্তি, বর্ণনার চমৎকারিত্ব এবং এর শব্দাবলি যা পাঠক ও শ্রোতার অন্তরে কবুলিয়াতের স্থান করে নেয় এবং যা সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়...
(খণ্ড: ১)
তাজরিবাতি মায়াল ইজাজিল ইলমি ফিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
قلبه موطن الارتياح والانشراح لكونها جاءت مرتبة الترتيب اللائق بها من جهة المعنى.
فكل هذه الوجوه إنما يعرفها أهل اللسان العربي الذين تعمقوا في فهمه، ورسخت أقدامهم في أرضه، ففهموا ما لم يصل ويفطن إليه غيرهم.
وقد سماه الله تعالى أحسن الحديث في قوله سبحانه: {اللَّهُ نَزَّلَ أَحْسَنَ الْحَدِيثِ كِتَاباً مُتَشَابِهاً مَثَانِيَ تَقْشَعِرُّ مِنْهُ جُلُودُ الَّذِينَ يَخْشَوْنَ رَبَّهُمْ ثُمَّ تَلِينُ جُلُودُهُمْ وَقُلُوبُهُمْ إِلَى ذِكْرِ اللَّهِ ذَلِكَ هُدَى اللَّهِ يَهْدِي بِهِ مَنْ يَشَاءُ وَمَنْ يُضْلِلِ اللَّهُ فَمَا لَهُ مِنْ هَادٍ} [الزمر: 23] فهو أحسن الحديث من كل ناحية من نواحي البلاغة والبيان والنحو والصرف، والتقديم والتأخير، والسؤال والقسم
… لا يصل إلى حسنه كتاب آخر.
وقد أشارت هذه الآية إلى ما في القرآن الكريم من تشابه، وتكرار، فهو آيات تتوارد على قضية واحدة، ولكنها في كل موضع تختلف عن الموضع الآخر في تناولها، وإنما يدرك حسنها أهل الصنعة والعلم والمعرفة والبيان.
وقال تعالى: {نَحْنُ نَقُصُّ عَلَيْكَ أَحْسَنَ الْقَصَصِ بِمَا أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ هَذَا الْقُرْآنَ} [يوسف: 3] .
والقصة فن من فنون العربية قائم بنفسه، وللقصة في القرآن حديث، بل أحاديث تظهر مدى الإعجاز فيها، فأشارت هذه الآية إلى القصة لينبه
তার অন্তর প্রশান্তি ও প্রফুল্লতার চারণভূমিতে পরিণত হয়, কারণ তা অর্থের দিক থেকে উপযুক্ত বিন্যাসে সজ্জিত হয়ে এসেছে।
এই সকল দিক কেবল তারাই অনুধাবন করতে পারেন যারা আরবি ভাষার পারদর্শী, যারা এর গভীরতায় প্রবেশ করেছেন এবং এই ভাষায় যাদের পদচারণা সুদৃঢ় হয়েছে; ফলে তারা এমন সব বিষয় বুঝতে পেরেছেন যা অন্য কেউ অনুধাবন বা লক্ষ্য করতে সক্ষম হয়নি।
মহান আল্লাহ স্বীয় বাণীতে একে শ্রেষ্ঠ হাদিস হিসেবে অভিহিত করেছেন: "আল্লাহ অবতীর্ণ করেছেন শ্রেষ্ঠ হাদিস, এমন এক কিতাব যা সামঞ্জস্যপূর্ণ (متشابها) এবং বারবার পঠিত (مثاني); এতে তাদের লোম খাড়া হয়ে যায় যারা তাদের পালনকর্তাকে ভয় করে, অতঃপর তাদের চামড়া ও অন্তর আল্লাহর স্মরণে বিনম্র হয়। এটাই আল্লাহর পথপ্রদর্শন, তিনি যাকে চান এর মাধ্যমে পথ দেখান। আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন তার কোনো পথপ্রদর্শক নেই" [যুমার: ২৩]। সুতরাং অলঙ্কারশাস্ত্র (بلاغة), বাগ্মিতা (بيان), নাহু (نحو), সরফ (صرف), পদের অগ্রগমন ও পশ্চাদগমন (تقديم وتأخير), প্রশ্ন ও শপথ—সর্বদিক থেকেই এটি শ্রেষ্ঠ হাদিস
… অন্য কোনো কিতাব এর সৌন্দর্যের স্তরে পৌঁছাতে পারে না।
এই আয়াতটি পবিত্র কুরআনের সামঞ্জস্যতা (تشابه) এবং পুনরাবৃত্তির (تكرار) প্রতি ইঙ্গিত করেছে; এটি এমন কিছু আয়াত যা একটি বিষয়ের উপরেই ধারাবাহিকভাবে আসে, কিন্তু প্রতিটি স্থানে উপস্থাপনার দিক থেকে তা অন্য স্থান থেকে ভিন্ন হয়। কেবল শিল্পকুশলী, বিজ্ঞ, জ্ঞানী এবং বাগ্মিতাসম্পন্ন (بيان) ব্যক্তিরাই এর সৌন্দর্য উপলব্ধি করতে পারেন।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "আমি তোমার কাছে এই কুরআন ওহি হিসেবে পাঠানোর মাধ্যমে সর্বোত্তম কাহিনী (أحسن القصص) বর্ণনা করছি" [ইউসুফ: ৩] ।
আর কাহিনী বলা আরবি সাহিত্যের একটি স্বতন্ত্র শিল্প। কুরআনের কাহিনীর ক্ষেত্রে বিশেষ আলোচনা (হাদিস), বরং একাধিক আলোচনা (হাদিস) রয়েছে যা এর অলৌকিকত্বের (إعجاز) মাত্রা ফুটিয়ে তোলে। সুতরাং এই আয়াতটি কাহিনীর প্রতি ইঙ্গিত করেছে যাতে সতর্ক করা যায়
(খণ্ড: ১)
তাজরিবাতি মায়াল ইজাজিল ইলমি ফিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الباحثين لها بصورة خاصة (1) .
والطرف الثاني الذي تشير إليه الآيات الكريمة في كون القرآن عربي اللسان، ويطلب من أهل اللسان أن يعقلوا ما فيه" المقدرة على استنباط الأحكام" ومعرفة وجه التشريع في كل آية، وفي كل لفظة من كلمات القرآن، وماذا تؤدي هذه الكلمة من معنى"فهو حمال أوجه"، وماذا يفيد هذا المعنى من حكم، ولهذا نرى الفقهاء يختلفون في إعطاء حكم لمسألة واحدة، وأدلتهم فيها من كتاب الله تعالى كل بحسب علمه وفهمه، واستنباطه.
وهذا إنما يخوض فيه أهل أصول الفقه الذين تمرسوا فيه، وعرفوا الدلالات والخاص والعام، والمطلق والمقيد، والنص، والمقيد، والمجمل والمبيّن
… فأعطوا لكلٍ حكمه الذي يفيده النص الذي جاء فيه، وهم وإن اعتمدوا كثيراً على أصول اللغة العربية، وما تفيده من أحكام إلا أنهم أضافوا إليها قواعد خاصة استخرجوها من كتاب الله وسنة نبيه.
--------------------------------------------
বিশেষত এর গবেষকগণ (১)।
দ্বিতীয় দিকটি যার প্রতি পবিত্র আয়াতসমূহ নির্দেশ করে—অর্থাৎ কুরআন আরবি ভাষায় অবতীর্ণ হওয়া এবং এই ভাষার অধিকারীদের কাছে যা দাবি করা হয়—তা হলো এতে যা আছে তা অনুধাবন করা, তথা "বিধান উদ্ভাবন (استنباط الأحكام)" করার সক্ষমতা এবং প্রতিটি আয়াতে ও কুরআনের প্রতিটি শব্দে শরয়ি বিধান (التشريع)-এর দিকগুলো অনুধাবন করা। এই শব্দগুলো কী অর্থ প্রকাশ করে—কেননা তা "বহুবিধ অর্থের ধারক (حمال أوجه)"—এবং এই অর্থ থেকে কী বিধান (حكم) অর্জিত হয়। এই কারণেই আমরা দেখি যে, ফকিহগণ (الفقهاء) একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে বিধান (حكم) প্রদানের ক্ষেত্রে মতপার্থক্য করেন, যেখানে তাঁদের প্রত্যেকের দলিল আল্লাহর কিতাব থেকে এবং প্রত্যেকেই নিজ নিজ জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও উদ্ভাবন (استنباط)-এর ভিত্তিতে তা পেশ করেন।
এতে কেবল উসুলুল ফিকহ (أصول الفقه) বিশারদগণই বিচরণ করেন, যাঁরা এতে পারদর্শী এবং দালালত বা অর্থের নির্দেশকসমূহ (الدلالات), বিশেষ (الخاص) ও সাধারণ (العام), নিঃশর্ত (المطلق) ও শর্তযুক্ত (المقيد), অকাট্য পাঠ (النص), শর্তযুক্ত (المقيد), এবং সংক্ষিপ্ত (المجمل) ও বিস্তারিত (المبيّن) বিষয়গুলো সম্পর্কে সম্যক অবগত
… ফলে তাঁরা প্রত্যেকটিকে এর যথাযথ বিধান (حكم) প্রদান করেন যা সংশ্লিষ্ট পাঠ (النص) থেকে অর্জিত হয়। যদিও তাঁরা আরবি ভাষার মূলনীতি এবং তা থেকে প্রাপ্ত বিধানগুলোর ওপর বহুলাংশে নির্ভর করেন, তবুও তাঁরা এর সাথে কিছু বিশেষ নীতিমালা যুক্ত করেছেন যা তাঁরা আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবীর সুন্নাহ (سنة نبيه) থেকে আহরণ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাজরিবাতি মায়াল ইজাজিল ইলমি ফিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الوجه الثاني: أنه حقفهو حق لا يأتيه الباطل من أي وجه من الوجوه، فهو حق في أخباره التي يوردها، وهو حق في أحكامه التي يقررها، وهو حق في إحكامه لا يستطيع أحد أن يجد فيه وجهاً من الوجوه بعيداً عن الحق، أو مضطرباً في حكمه، لا شك فيه، ولا ريب في شيء منه، وكل من قرأه، وأمعن النظر فيه، علم أنه حق وصدق.
قال-جل شأنه-: {وَلَوْ كَانَ مِنْ عِنْدِ غَيْرِ اللَّهِ لَوَجَدُوا فِيهِ اخْتِلافاً كَثِيراً} [النساء: 82] .
فلما كان من عند الله تعالى كان حقاً ولم يكن فيه أي اختلاف.
وقال ـ عز من قائل ـ: {المص، كِتَابٌ أُنْزِلَ إِلَيْكَ فَلا يَكُنْ فِي صَدْرِكَ حَرَجٌ مِنْهُ لِتُنْذِرَ بِهِ وَذِكْرَى لِلْمُؤْمِنِينَ} [الأعراف: 1-2]
وقال سبحانه: {فَإِنْ كُنْتَ فِي شَكٍّ مِمَّا أَنْزَلْنَا إِلَيْكَ فَاسْأَلِ الَّذِينَ يَقْرَأُونَ الْكِتَابَ مِنْ قَبْلِكَ لَقَدْ جَاءَكَ الْحَقُّ مِنْ رَبِّكَ فَلا تَكُونَنَّ مِنَ الْمُمْتَرِينَ} [يونس: 94] .
وقال الله تعالى: {المر تِلْكَ آيَاتُ الْكِتَابِ وَالَّذِي أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ الْحَقُّ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لا يُؤْمِنُونَ} [الرعد: 1] .
وقال سبحانه: {بَلْ أَتَيْنَاهُمْ بِالْحَقِّ وَإِنَّهُمْ لَكَاذِبُونَ} [المؤمنون: 90] .
وقال – جلّ ثناؤه -: {وَإِنَّهُ لَكِتَابٌ عَزِيزٌ، لا يَأْتِيهِ الْبَاطِلُ
দ্বিতীয় দিক: এটি সত্যএটি এমন সত্য যাতে কোনো দিক থেকেই মিথ্যার সংমিশ্রণ ঘটে না। এটি তার উপস্থাপিত সংবাদসমূহে সত্য, এটি তার নির্ধারিত বিধানসমূহে সত্য এবং এটি তার সুবিন্যস্ত গাঁথুনিতে সত্য। কেউ এতে সত্যবিমুখ কোনো দিক খুঁজে পাবে না অথবা এর বিচারে কোনো অসংলগ্নতা (مضطرب) পাবে না। এতে কোনো সন্দেহ নেই এবং এর কোনো অংশে কোনো সংশয় নেই। যে ব্যক্তিই এটি পাঠ করেছে এবং গভীরভাবে চিন্তা করেছে, সে নিশ্চিতভাবে জেনেছে যে এটি ধ্রুব সত্য ও নির্ভুল।
তিনি—তাঁর শান সুমহান—বলেছেন: {যদি তা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও পক্ষ থেকে হতো, তবে তারা এতে অনেক বৈপরীত্য দেখতে পেত।} [নিসা: ৮২] ।
যেহেতু এটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ, তাই এটি সত্য এবং এতে কোনো বৈসাদৃশ্য নেই।
পরাক্রমশালী সত্তা হিসেবে তিনি বলেছেন: {আলিফ-লাম-মীম-সাদ, এটি একটি কিতাব যা আপনার প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছে; সুতরাং আপনার অন্তরে যেন এটি নিয়ে কোনো সঙ্কোচ না থাকে, যাতে আপনি এর মাধ্যমে সতর্ক করতে পারেন এবং এটি মুমিনদের জন্য এক উপদেশ।} [আ'রাফ: ১-২]
পবিত্র সত্তা বলেছেন: {আমি আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ করেছি সে সম্পর্কে যদি আপনি কোনো সন্দেহে থাকেন, তবে তাদের জিজ্ঞাসা করুন যারা আপনার পূর্বের কিতাব পাঠ করে। অবশ্যই আপনার রবের পক্ষ থেকে আপনার নিকট সত্য এসেছে, সুতরাং আপনি সংশয়বাদীদের অন্তর্ভুক্ত হবেন না।} [ইউনুস: ৯৪] ।
আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আলিফ-লাম-মীম-রা, এগুলো কিতাবের আয়াত। আর আপনার রবের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা সত্য, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ ঈমান আনে না।} [রাদ: ১] ।
পবিত্র সত্তা বলেছেন: {বরং আমি তাদের নিকট সত্য নিয়ে এসেছি এবং তারা অবশ্যই মিথ্যাবাদী (كاذبون)।} [মুমিনুন: ৯০] ।
তিনি—তাঁর প্রশংসা মহিমান্বিত—বলেছেন: {আর নিশ্চয়ই এটি এক সম্মানিত কিতাব। এতে কোনো দিক থেকেই মিথ্যার প্রবেশাধিকার নেই...
(খণ্ড: ১)
তাজরিবাতি মায়াল ইজাজিল ইলমি ফিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ وَلا مِنْ خَلْفِهِ تَنْزِيلٌ مِنْ حَكِيمٍ حَمِيدٍ} [فصلت: 41-42] .
إلى آيات أخر اقتصرت على ما ذكرت للاختصار، كلها تبين أن هذا القرآن حق لا مرية فيه، وسيبقى هذا وصفه إلى أن يرث الله تعالى الأرض وما عليها.
ومما يدخل ضمن كونه حقاً أنه لا يستطيع أحد أنْ يُدخل فيه شيئاً مما ليس منه، أو يبدل، أو يغير منه شيئاً، أو ينقص أو يزيد، وقد جاء ذلك صريحاً في كتاب الله تعالى بالنسبة لنبي الله صلى الله عليه وسلم فكيف بغيره!
قال تعالى: {وَلَوْ تَقَوَّلَ عَلَيْنَا بَعْضَ الْأَقَاوِيلِ، لَأَخَذْنَا مِنْهُ بِالْيَمِينِ، ثُمَّ لَقَطَعْنَا مِنْهُ الْوَتِينَ، فَمَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ عَنْهُ حَاجِزِينَ} [الحاقة: 44-47] هذا جزاء من يتقول على الله بعض الأقاويل، فينسب إليه ما لم يقل، فما ظنكم أيها الناس بمن ينسب كتاباً كاملاً لله جل في علاه! وليبقى القرآن المعجزة الخالدة لرسول الله صلى الله عليه وسلم، وليبقى القرآن حقاً في كل زمان، وكل مكان إلى أن يرث الله الأرض وما عليها، فتبقى هذه المعجزة محفوظة لا يقدر أحد على إجراء أي تغيير، أو تبديل فيها تكفل الله تعالى بحفظها، فقال– عز من قائل-: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} [الحجر: 9] .
إننا اليوم بعد أربعة عشر قرناً من نزول القرآن على نبي الله سيدنا محمد صلى الله عليه وسلم لو أخذنا أحدث طبعات هذا القرآن الكريم– في أي مكان من المعمورة- وقارنَّا بينها وبين ما هو محفوظ في مكتبات الدنيا من نسخ القرآن المخطوطة منذ زمن مديد لما وجدنا بينهما أي اختلاف، هذا رغم تعرض البلاد الإسلامية إلى الاحتلال الذي أراد أن يسلب البلاد الإسلامية كل خصائصها،
...সামনে থেকে কিংবা পেছন থেকে। এটি প্রজ্ঞাময়, পরম প্রশংসিতের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।" [ফুসসিলাত: ৪১-৪২]।
সংক্ষেপ করার প্রয়োজনে আমি যা উল্লেখ করেছি তা ছাড়াও আরও অনেক আয়াত রয়েছে, যার সবকটিই স্পষ্ট করে যে এই কুরআন সত্য, এতে কোনো সন্দেহ নেই। আর পৃথিবী ও এর ওপর যা কিছু আছে তার মালিকানা আল্লাহর কাছে ফিরে না আসা পর্যন্ত (কিয়ামত পর্যন্ত) এটিই এর বৈশিষ্ট্য হিসেবে অবশিষ্ট থাকবে।
কুরআন সত্য হওয়ার একটি দিক হলো যে, এর অংশ নয় এমন কোনো কিছু এতে প্রবেশ করানোর সাধ্য কারো নেই, অথবা এর কোনো কিছু পরিবর্তন বা পরিমার্জন করা, কিংবা এতে কোনো কিছু হ্রাস বা বৃদ্ধি করার ক্ষমতা কারো নেই। আল্লাহর কিতাবে স্বয়ং আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ব্যাপারে এ বিষয়টি স্পষ্টভাবে এসেছে, তাহলে অন্যদের ক্ষেত্রে তা কীভাবে সম্ভব!
মহান আল্লাহ বলেন: "আর তিনি যদি আমাদের নামে কোনো কথা বানিয়ে বলতেন, তবে অবশ্যই আমি তাঁর ডান হাত ধরে ফেলতাম, অতঃপর আমি তাঁর জীবন-ধমনী কেটে দিতাম। ফলে তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যে তাঁকে রক্ষা করতে পারত।" [আল-হাক্কাহ: ৪৪-৪৭]। এটি সেই ব্যক্তির প্রতিদান যে আল্লাহর নামে কোনো কথা বানিয়ে বলে এবং তিনি যা বলেননি তা তাঁর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করে। হে লোকসকল! তবে আপনাদের কী ধারণা সেই ব্যক্তি সম্পর্কে যে একটি পূর্ণাঙ্গ কিতাব সুউচ্চ মহান আল্লাহর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করে! আর কুরআন যেন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চিরন্তন মুজিজা হিসেবে টিকে থাকে এবং কুরআন যেন প্রতিটি যুগে ও প্রতিটি স্থানে সত্য হিসেবে বিদ্যমান থাকে যতক্ষণ না আল্লাহ পৃথিবীর উত্তরাধিকারী হন। ফলে এই মুজিজা সংরক্ষিত (محفوظ) থাকবে; এর মধ্যে কোনো পরিবর্তন বা পরিমার্জন করার সাধ্য কারো নেই, স্বয়ং আল্লাহ তাআলা এর সংরক্ষণের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই আমিই এই উপদেশ (যিকর) অবতীর্ণ করেছি এবং অবশ্যই আমি এর সংরক্ষক।" [আল-হিজর: ৯]।
আজ আল্লাহর নবী আমাদের নেতা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার চৌদ্দশ বছর পর, আমরা যদি পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে এই পবিত্র কুরআনের আধুনিকতম কোনো মুদ্রণ সংগ্রহ করি এবং বিশ্বের পাঠাগারগুলোতে সুদীর্ঘ কাল ধরে সংরক্ষিত (محفوظ) কুরআনের পাণ্ডুলিপিগুলোর সাথে তা তুলনা করি, তবে আমরা এ দুটির মধ্যে কোনো পার্থক্য খুঁজে পাব না। এটি সত্ত্বেও যে মুসলিম দেশগুলো এমন উপনিবেশের শিকার হয়েছিল যা এই দেশগুলোর সকল বৈশিষ্ট্য ছিনিয়ে নিতে চেয়েছিল।
(খণ্ড: ১)
তাজরিবাতি মায়াল ইজাজিল ইলমি ফিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
ولو أخطأ أحد من الناس كبيراً أو صغيراً في شكل حرف من حروف هذا القرآن، لرد عليه الحفظة المنتشرون في كل بقاع الدنيا، حتى لو كان طفلاً صغيراً.
ومن الحق الذي في كتاب الله تعالى " المغيبات" التي كانت قبل النبي صلى الله عليه وسلم وكذا قصص الأنبياء السابقين التي ذكرت في كتاب الله سبحانه. قال تعالى في أول سورة يوسف: {نَحْنُ نَقُصُّ عَلَيْكَ أَحْسَنَ الْقَصَصِ بِمَا أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ هَذَا الْقُرْآنَ} [يوسف: 3] وجاء في آخر السورة {لَقَدْ كَانَ فِي قَصَصِهِمْ عِبْرَةٌ لِأُولِي الْأَلْبَابِ مَا كَانَ حَدِيثاً يُفْتَرَى وَلَكِنْ تَصْدِيقَ الَّذِي بَيْنَ يَدَيْهِ وَتَفْصِيلَ كُلِّ شَيْءٍ وَهُدىً وَرَحْمَةً لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ} [يوسف: 111] فأحسن القصص هو أصدقها.
وقال تعالى: {طسم، تِلْكَ آيَاتُ الْكِتَابِ الْمُبِينِ، نَتْلُو عَلَيْكَ مِنْ نَبَأِ مُوسَى وَفِرْعَوْنَ بِالْحَقِّ لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ} [القصص: 1-3] وجاء بعد ذكر قصة مريم: {ذَلِكَ مِنْ أَنْبَاءِ الْغَيْبِ نُوحِيهِ إِلَيْكَ وَمَا كُنْتَ لَدَيْهِمْ إِذْ يُلْقُونَ أَقْلامَهُمْ أَيُّهُمْ يَكْفُلُ مَرْيَمَ وَمَا كُنْتَ لَدَيْهِمْ إِذْ يَخْتَصِمُونَ} [آل عمران: 44] .
وجاء بعد قصة موسى- عليه السلام: {وَمَا كُنْتَ بِجَانِبِ الْغَرْبِيِّ إِذْ قَضَيْنَا إِلَى مُوسَى الْأَمْرَ وَمَا كُنْتَ مِنَ الشَّاهِدِينَ، وَلَكِنَّا أَنْشَأْنَا قُرُوناً فَتَطَاوَلَ عَلَيْهِمُ الْعُمُرُ وَمَا كُنْتَ ثَاوِياً فِي أَهْلِ مَدْيَنَ تَتْلُو
যদি ছোট বা বড় কোনো মানুষ এই কুরআনের একটি অক্ষরের আকৃতিতেও ভুল করে, তবে পৃথিবীর সমস্ত প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা হাফেজগণ তার ভুল সংশোধন করে দেবেন, এমনকি সে যদি কোনো ছোট শিশুও হয়।
আল্লাহ তাআলার কিতাবে বিদ্যমান সত্য বিষয়াবলির অন্যতম হলো 'অদৃশ্য বিষয়সমূহ' (المغيبات), যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পূর্ববর্তী সময়ের ছিল। অনুরূপভাবে পূর্ববর্তী নবীগণের সেই সব কাহিনী, যা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার কিতাবে বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহ তাআলা সূরা ইউসুফ-এর শুরুতে এরশাদ করেছেন: {আমি আপনার কাছে এই কুরআন ওহী করার মাধ্যমে আপনার নিকট সর্বোত্তম কাহিনী বর্ণনা করছি} [ইউসুফ: ৩]। সূরার শেষে এসেছে: {তাদের কাহিনীতে অবশ্যই বুদ্ধিমানদের জন্য শিক্ষা রয়েছে; এটি কোনো মিথ্যা বানোয়াট (مفترى) হাদিস নয়, বরং এটি তার পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যয়ন এবং প্রতিটি বিষয়ের বিস্তারিত বিবরণ আর মুমিন সম্প্রদায়ের জন্য হিদায়াত ও রহমত} [ইউসুফ: ১১১]। সুতরাং সর্বোত্তম কাহিনী হলো সেটিই যা সর্বাধিক সত্য।
আল্লাহ তাআলা আরও এরশাদ করেছেন: {ত্ব-সীন-মীম। এগুলো সুস্পষ্ট কিতাবের আয়াত। আমি আপনার কাছে মুমিন সম্প্রদায়ের জন্য মূসা ও ফিরআউনের কাহিনী সত্য সহকারে পাঠ করছি} [আল-কাসাস: ১-৩]। মারইয়াম আলাইহাস সালামের কাহিনী উল্লেখ করার পর এসেছে: {এটি অদৃশ্যের সংবাদ যা আমি আপনার কাছে ওহী করছি। আপনি তাদের নিকট উপস্থিত ছিলেন না যখন তারা তাদের কলম নিক্ষেপ করছিল যে, কে মারইয়ামের দায়িত্ব গ্রহণ করবে, এবং আপনি তাদের নিকট ছিলেন না যখন তারা বিতর্কে লিপ্ত হয়েছিল} [আলি ইমরান: ৪৪] ।
মূসা আলাইহিস সালামের কাহিনীর পর এসেছে: {আপনি পশ্চিম প্রান্তে উপস্থিত ছিলেন না যখন আমি মূসার নিকট নির্দেশ পাঠিয়েছিলাম, আর আপনি প্রত্যক্ষদর্শীদের অন্তর্ভুক্তও ছিলেন না। কিন্তু আমি অনেক প্রজন্ম সৃষ্টি করেছিলাম, অতঃপর তাদের ওপর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়েছিল। আর আপনি মাদইয়ানবাসীদের মধ্যে অবস্থানকারী ছিলেন না যে আপনি তাদের কাছে...}
(খণ্ড: ১)
তাজরিবাতি মায়াল ইজাজিল ইলমি ফিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
عَلَيْهِمْ آيَاتِنَا وَلَكِنَّا كُنَّا مُرْسِلِينَ} [القصص: 44-45] .
وقال تعالى: {تِلْكَ مِنْ أَنْبَاءِ الْغَيْبِ نُوحِيهَا إِلَيْكَ مَا كُنْتَ تَعْلَمُهَا أَنْتَ وَلا قَوْمُكَ مِنْ قَبْلِ هَذَا فَاصْبِرْ إِنَّ الْعَاقِبَةَ لِلْمُتَّقِينَ} [هود: 49]
ومن الحق الذي فيه، ما فيه من الإخبار عما سيقع في مستقبل الأيام من الوقائع، سواء في الحياة الدنيا، أو ما بعدها من حوادث الآخرة، كظهور يأجوج ومأجوج، وإخراج الدابة، ووصول الإنسان في العلم إلى درجة يظن معها أنه قادر على كل شيء في هذه الدنيا، وقيام الساعة بما فيها من الأهوال....
ومن الحق الذي في هذا القرآن ما فيه من الدلالات العلمية الباهرة، قال الله تعالى مشيراً إلى هذا الوجه من الإعجاز: {حم، تَنْزِيلُ الْكِتَابِ مِنَ اللَّهِ الْعَزِيزِ الْحَكِيمِ، إِنَّ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ لَآياتٍ لِلْمُؤْمِنِينَ، وَفِي خَلْقِكُمْ وَمَا يَبُثُّ مِنْ دَابَّةٍ آيَاتٌ لِقَوْمٍ يُوقِنُونَ، وَاخْتِلافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ وَمَا أَنْزَلَ اللَّهُ مِنَ السَّمَاءِ مِنْ رِزْقٍ فَأَحْيَا بِهِ الْأَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا وَتَصْرِيفِ الرِّيَاحِ آيَاتٌ لِقَوْمٍ يَعْقِلُونَ، تِلْكَ آيَاتُ اللَّهِ نَتْلُوهَا عَلَيْكَ بِالْحَقِّ فَبِأَيِّ حَدِيثٍ بَعْدَ اللَّهِ وَآيَاتِهِ يُؤْمِنُونَ} [الجاثية: 1-6] .
فبين أن ميدان الإعجاز الذي ينبغي أن يمضي فيه عقل الإنسان مفكراً ومتدبراً هو هذه الطبيعة المحيطة به من أرض وسماء.. وفي الخلق–خلق الإنسان والحيوان- وفي الليل والنهار، وفي مظاهر الطبيعة من مطر نازل، وأرض تحيا بعد يباس
… إلى ما هنالك.
وبعد أن ذكر الله تعالى الذي يكذب بآيات الله تعالى قال: {هَذَا هُدىً
...তাদের নিকট আমাদের আয়াতসমূহ (পাঠকারী হিসেবে), কিন্তু আমরাই ছিলাম রাসূল প্রেরণকারী} [আল-কাসাস: ৪৪-৪৫]।
এবং মহান আল্লাহ বলেন: {এগুলো অদৃশ্যের সংবাদ, যা আমি আপনার প্রতি ওহি হিসেবে প্রেরণ করছি, যা ইতিপূর্বে আপনি জানতেন না এবং আপনার কওমও জানত না। সুতরাং আপনি ধৈর্য ধারণ করুন। নিশ্চয়ই শুভ পরিণাম মুত্তাকিদের জন্য।} [হুদ: ৪৯]
আর এর মধ্যে বিদ্যমান সত্যের একটি দিক হলো, ভবিষ্যতে সংঘটিতব্য ঘটনাবলি সম্পর্কে সংবাদ প্রদান; চাই তা ইহকালীন জীবনের হোক অথবা মৃত্যুর পরবর্তী পরকালীন জীবনের বিষয়াবলি হোক। যেমন: ইয়াজুজ ও মাজুজের আবির্ভাব, দাব্বাতুল আরদ (ভূপৃষ্ঠের প্রাণী) বের হওয়া এবং বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে মানুষের এমন পর্যায়ে উপনীত হওয়া যেখানে সে ধারণা করে যে সে এই দুনিয়ার সবকিছুর ওপর সক্ষম, আর কিয়ামত সংঘটিত হওয়া ও এর ভয়াবহতা...
আর এই কুরআনে বিদ্যমান সত্যের আরও একটি দিক হলো এর চমৎকার বৈজ্ঞানিক নির্দেশনাবলি। মহান আল্লাহ মুজিজার এই দিকের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন: {হা-মীম। পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় আল্লাহর পক্ষ থেকে এ কিতাব অবতীর্ণ। নিশ্চয়ই আসমান ও জমিনে মুমিনদের জন্য নিদর্শনাবলি রয়েছে। আর তোমাদের সৃষ্টিতে এবং তিনি যেসব জীবজন্তু ছড়িয়ে দিয়েছেন তার মধ্যে নিদর্শনাবলি রয়েছে এমন সম্প্রদায়ের জন্য যারা নিশ্চিত বিশ্বাসী। আর রাত-দিনের পরিবর্তন এবং আল্লাহ আকাশ থেকে যে রিজিক বর্ষণ করেন, অতঃপর তার মাধ্যমে ভূমিকে তার মৃত্যুর পর পুনর্জীবিত করেন এবং বায়ুর পরিবর্তনে নিদর্শনাবলি রয়েছে এমন সম্প্রদায়ের জন্য যারা অনুধাবন করে। এগুলো আল্লাহর আয়াত, যা আমি আপনার নিকট যথাযথভাবে তিলাওয়াত করছি। অতএব আল্লাহ ও তাঁর আয়াতের পর তারা আর কোন হাদিসের ওপর ঈমান আনবে?} [আল-জাছিয়া: ১-৬]।
তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, মুজিজার ক্ষেত্র—যাতে মানুষের বুদ্ধিকে চিন্তা ও গবেষণায় নিয়োজিত করা উচিত—তা হলো তাকে পরিবেষ্টিত এই প্রকৃতি, যা আকাশ ও পৃথিবী নিয়ে গঠিত... এবং সৃষ্টিজগতের মধ্যে—মানুষ ও প্রাণীর সৃষ্টিতে—রাত ও দিনের মধ্যে এবং বৃষ্টির অবতরণ ও শুষ্কতার পর ভূমির পুনর্জীবনের মতো প্রাকৃতিক নিদর্শনে
… এবং আরও যা কিছু রয়েছে।
যারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করে তাদের কথা উল্লেখ করার পর মহান আল্লাহ বলেন: {এটি পথনির্দেশ...
(খণ্ড: ১)
তাজরিবাতি মায়াল ইজাজিল ইলমি ফিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وَالَّذِينَ كَفَرُوا بِآياتِ رَبِّهِمْ لَهُمْ عَذَابٌ مِنْ رِجْزٍ أَلِيمٌ، اللَّهُ الَّذِي سَخَّرَ لَكُمُ الْبَحْرَ لِتَجْرِيَ الْفُلْكُ فِيهِ بِأَمْرِهِ وَلِتَبْتَغُوا مِنْ فَضْلِهِ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ، وَسَخَّرَ لَكُمْ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ جَمِيعاً مِنْهُ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآياتٍ لِقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ} [الجاثية: 11-13] وهنا يبين سبحانه أن التسخير آية باهرة من آيات الله تعالى تدل على وجوب الإذعان للخالق العظيم.. ويدخل في ذلك كل القوانين التي تسير عليها الطبيعة، فإنها من صنع الله الذي أتقن كل شيء وهيأه لما فيه خير الإنسان، وصلاحه، فكأن الله تعالى يشير إلينا إلى أن نفكر بما في كتاب الله المنزل إلينا من إشارات علمية في هذه المجالات المختلفة لنذعن ونقر بألوهيته التي تشهد بها كل حقائق الكون، ونقر بنبوة محمد صلى الله عليه وسلم الذي نزل عليه هذا القرآن العظيم، يقول د. عبد الرحمن حسن حبنكه: "ومن الحقائق الثابتة أن القرآن المجيد حق لا ريب فيه، فلا يمكن أن يختلف مع الواقع في شيء (1) ".
ومن الحق الذي في القرآن ما جاء فيه من الوعد والوعيد، والإخبار بحدوثه في مستقبل الزمان قَرُب الزمان أو بَعُد، فكل ما جاء من أخبار فلا بد أن تحدث، لأنه من الله تعالى العليم الخبير. وأورد مثالاً على ذلك قوله تعالى: {الم، غُلِبَتِ الرُّومُ، فِي أَدْنَى الْأَرْضِ وَهُمْ مِنْ بَعْدِ غَلَبِهِمْ سَيَغْلِبُونَ، فِي بِضْعِ سِنِينَ لِلَّهِ الْأَمْرُ مِنْ قَبْلُ وَمِنْ بَعْدُ وَيَوْمَئِذٍ يَفْرَحُ الْمُؤْمِنُونَ، بِنَصْرِ اللَّهِ يَنْصُرُ مَنْ يَشَاءُ وَهُوَ
--------------------------------------------
আর যারা তাদের প্রতিপালকের নিদর্শনাবলি অস্বীকার করে, তাদের জন্য রয়েছে অতি যন্ত্রণাদায়ক কঠিন শাস্তি। আল্লাহই সমুদ্রকে তোমাদের জন্য নিয়োজিত করেছেন যাতে তাঁরই আদেশে তাতে জাহাজ চলাচল করে এবং যাতে তোমরা তাঁর অনুগ্রহ সন্ধান করতে পারো এবং যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো। আর তিনি আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সব কিছুই তাঁর পক্ষ থেকে তোমাদের কল্যাণে নিয়োজিত করেছেন। নিশ্চয়ই এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শনাবলি রয়েছে} [আল-জাছিয়াহ: ১১-১৩]। এখানে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বর্ণনা করেছেন যে, (সৃষ্টিজগতকে মানুষের) বশীভূত করে দেওয়া মহান আল্লাহর নিদর্শনাবলির মধ্য থেকে একটি অত্যন্ত চমৎকার নিদর্শন, যা সেই মহান স্রষ্টার সামনে আত্মসমর্পণের আবশ্যকতা নির্দেশ করে। প্রকৃতির যে সমস্ত নিয়ম অনুযায়ী বিশ্ব পরিচালিত হচ্ছে তার সবই এর অন্তর্ভুক্ত। কেননা এগুলো আল্লাহরই সৃষ্টি, যিনি প্রতিটি বস্তুকে অত্যন্ত সুনিপুণভাবে তৈরি করেছেন এবং মানুষের কল্যাণ ও মঙ্গলের জন্য প্রস্তুত করেছেন। যেন আল্লাহ তাআলা আমাদের এই ইঙ্গিত দিচ্ছেন যে, আমরা যেন আমাদের প্রতি অবতীর্ণ আল্লাহর কিতাবে বর্ণিত এই বিভিন্ন ক্ষেত্রের বৈজ্ঞানিক ইঙ্গিতগুলো নিয়ে চিন্তা করি; যাতে আমরা তাঁর উলুহিয়্যাত বা উপাস্য হওয়ার প্রতি অনুগত হই এবং তা স্বীকার করি, যার সাক্ষ্য মহাবিশ্বের প্রতিটি বাস্তবতা প্রদান করে। আর আমরা যেন মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নবুওয়তের স্বীকৃতি প্রদান করি, যাঁর ওপর এই মহান কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে। ড. আবদুর রহমান হাসান হাবান্নাকাহ বলেন: "এটি একটি প্রতিষ্ঠিত সত্য যে, কুরআন মাজিদ সন্দেহাতীতভাবে সত্য। সুতরাং কোনো বিষয়েই বাস্তবতার সাথে এর বৈপরীত্য ঘটা অসম্ভব (১)।"
কুরআনের সত্যতার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হলো এতে বর্ণিত পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি ও শাস্তির হুঁশিয়ারি এবং নিকটবর্তী বা দূরবর্তী ভবিষ্যতে ঘটবে এমন ঘটনাবলির সংবাদ। সুতরাং এতে আগত প্রতিটি সংবাদ অবশ্যই বাস্তবায়িত হবে, কারণ তা সর্বজ্ঞ ও সম্যক অবহিত আল্লাহর পক্ষ থেকে। এর একটি উদাহরণ হিসেবে তিনি মহান আল্লাহর এই বাণী পেশ করেছেন: {আলিফ-লাম-মীম। রোমানরা পরাজিত হয়েছে, নিকটবর্তী এলাকায়। কিন্তু তারা তাদের এই পরাজয়ের পর শীঘ্রই বিজয়ী হবে, কয়েক বছরের মধ্যে। পূর্বের ও পরের সকল ফয়সালা আল্লাহরই। আর সেদিন মুমিনগণ আনন্দিত হবে আল্লাহর সাহায্যে। তিনি যাকে ইচ্ছা সাহায্য করেন এবং তিনি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাজরিবাতি মায়াল ইজাজিল ইলমি ফিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الْعَزِيزُ الرَّحِيمُ} [الروم: 1-5] .
قال ابن الجوزي في زاد المسير: ذكر أهل التفسير في سبب نزولها أنه كان بين فارس والروم حرب فغلبت فارس الروم، فبلغ ذلك رسول الله صلى الله عليه وسلم وأصحابه، فشق ذلك عليهم، وفرح المشركون بذلك لأن فارس لم يكن لهم كتاب، وكانوا يجحدون البعث، ويعبدون الأصنام، والروم أصحاب كتاب، فقال المشركون لأصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم:
إنكم أهل كتاب، والنصارى أهل كتاب، ونحن أميون، وقد ظهر إخواننا من أهل فارس على إخوانكم من الروم، فإن قاتلتمونا لنظهرن عليكم، فنزلت هذه الآية، فخرج بها أبو بكر الصديق رضي الله عنه إلى المشركين، فقالوا: هذا كلام صاحبك! فقال: الله أنزل هذا. فقالوا لأبي بكر: نراهنك على أن الروم لا تغلب فارس، فقال أبو بكر: البضع ما بين الثلاث إلى التسع، فقالوا: الوسط من ذلك ست، فوضعوا الرهان
… وفي رواية "أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال له: "ألا احتطت، فإن البضع ما بين الثلاث والتسع" فخرج أبو بكر فقال لهم: أزايدكم في الخطر، وأمد في الأجل إلى تسع سنين، فقهرهم أبو بكر، وأخذ رهانهم" (1) . فالمشركون راهنوا لأنهم لا يؤمنون أنه من عند الله، وأبو بكر راهن لأنه يعتقد اعتقاداً جازماً أنه من عند الله تعالى، وأنه حق لا مرية فيه.
--------------------------------------------
{আল-আযীযুর রাহীম} [আর-রুম: ১-৫]।
ইবনুল জাওজি জাদুল মাসির গ্রন্থে বলেন: তাফসিরবিদগণ এর শানে নুযুল (سبب النزول) প্রসঙ্গে উল্লেখ করেছেন যে, পারস্য ও রোমের মধ্যে যুদ্ধ হয়েছিল এবং পারস্য রোমের ওপর জয়লাভ করেছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীদের কাছে যখন এই সংবাদ পৌঁছালো, তখন তা তাঁদের নিকট অত্যন্ত বেদনাদায়ক মনে হলো। অন্যদিকে মুশরিকরা এতে আনন্দিত হলো, কারণ পারস্যবাসীদের কোনো কিতাব ছিল না, তারা পরকাল অস্বীকার করত এবং মূর্তিপূজা করত; আর রোমবাসীরা ছিল আহলে কিতাব। ফলে মুশরিকরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের উদ্দেশে বলল:
“তোমরা আহলে কিতাব এবং খ্রিস্টানরাও আহলে কিতাব, আর আমরা উম্মী। আমাদের ভাই পারস্যবাসীরা তোমাদের ভাই রোমবাসীদের ওপর জয়ী হয়েছে। তোমরা যদি আমাদের সাথে যুদ্ধ করো, তবে আমরাও তোমাদের ওপর জয়ী হবো।” তখন এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। আবু বকর আস-সিদ্দিক রাযিয়াল্লাহু আনহু এটি নিয়ে মুশরিকদের নিকট গেলেন। তারা বলল, “এটি কি তোমার সঙ্গীর কথা?” তিনি বললেন, “আল্লাহ এটি অবতীর্ণ করেছেন।” তখন তারা আবু বকরকে বলল, “রোম যে পারস্যের ওপর জয়লাভ করবে না—এ বিষয়ে আমরা তোমার সাথে বাজি (رهان) ধরব।” আবু বকর বললেন, “‘বিদ্’ (بضع) বলতে তিন থেকে নয় পর্যন্ত সংখ্যাকে বোঝায়।” তারা বলল, “এর মাঝামাঝি ছয় নির্ধারণ করা হোক।” এরপর তারা বাজি ধরল
… আর একটি বর্ণনা (رواية)-তে এসেছে যে, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বলেছিলেন: ‘তুমি কেন আরও সতর্কতা অবলম্বন করলে না? কারণ ‘বিদ্’ (بضع) হলো তিন থেকে নয় পর্যন্ত সময়কাল।’ এরপর আবু বকর বের হয়ে তাদের বললেন, ‘আমি বাজির পরিমাণ বাড়িয়ে দিচ্ছি এবং মেয়াদকাল নয় বছর পর্যন্ত দীর্ঘ করছি।’ পরিশেষে আবু বকর তাদের ওপর জয়ী হলেন এবং বাজির পাওনা বুঝে নিলেন।” (১)। মুশরিকরা বাজি ধরেছিল কারণ তারা বিশ্বাস করত না যে এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ; আর আবু বকর বাজি ধরেছিলেন কারণ তিনি সুদৃঢ় বিশ্বাস রাখতেন যে এটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ এবং এটি নিছক সত্য যাতে কোনো সন্দেহ নেই।
--------------------------------------------