(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল্লাতী কীলা ফীহা লা ফারকা ইনদাল হানাবিলাতি ফিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: -)
المسائل التي قيل فيها لا فرق عند الحنابلة في العبادات   (عهود بنت عيسى بعيطي)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: المسائل التي قيل فيها لا فرق عند الحنابلة في العبادات

رسالة: ماجستير - قسم الفقه، كلية الشريعة، جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية بالرياض

إعداد: عهود بنت عيسى بعيطي

إشراف: بدرية بنت صالح السياري

العام الجامعي: 1443 - 1444 هـ

عدد الصفحات: 527

[كتاب إلكتروني بترقيم الشاملة]

تاريخ النشر بالشاملة: 18 ربيع الآخر 1444

ইবাদতের ক্ষেত্রে হাম্বলি মাযহাবের নিকট যে সকল মাসআলায় কোনো পার্থক্য নেই বলে বলা হয়েছে   (উহুদ বিনতে ঈসা বাইতি)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলা


গ্রন্থ: ইবাদতের ক্ষেত্রে হাম্বলি মাযহাবের নিকট যে সকল মাসআলায় কোনো পার্থক্য নেই বলে বলা হয়েছে

গবেষণাপত্র: মাস্টার্স - ফিকহ বিভাগ, শরীয়াহ অনুষদ, রিয়াদের ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়

প্রস্তুতিতে: উহুদ বিনতে ঈসা বাইতি

তত্ত্বাবধানে: বদরিয়া বিনতে সালেহ আস-সায়্যারি

শিক্ষাবর্ষ: ১৪৪৩ - ১৪৪৪ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫২৭

[শামিলা নাম্বারিং অনুযায়ী ইলেকট্রনিক গ্রন্থ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ১৮ রবিউস সানি ১৪৪৪

(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল্লাতী কীলা ফীহা লা ফারকা ইনদাল হানাবিলাতি ফিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: ১)
المملكة العربية السعودية

وزارة التعليم

جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية

كلية الشريعة بالرياض

قسم الفقه

 

المسائل التي قيل فيها لا فرق عند الحنابلة في العبادات

 

رسالة مقدمة لنيل درجة الماجستير في الفقه

 

إعداد:

عهود بنت عيسى بعيطي

 

إشراف:

د. بدرية بنت صالح السياري

الأستاذ المشارك في قسم الفقه بالكلية

 

العام الجامعي: 1443 - 1444 هـ، 2021 - 2022 م
সৌদি আরব রাজ্য

শিক্ষা মন্ত্রণালয়

ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

রিয়াদ শরীয়াহ অনুষদ

ফিকহ বিভাগ

 

ইবাদতের ক্ষেত্রে হাম্বলীদের নিকট যে সকল মাসআলায় কোনো পার্থক্য নেই বলে বলা হয়েছে

 

ফিকহ শাস্ত্রে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের জন্য উপস্থাপিত গবেষণাপত্র

 

প্রস্তুতকারক:

ওহুদ বিনতে ঈসা বাইতি

 

তত্ত্বাবধানে:

ড. বদরিয়া বিনতে সালেহ আল-সাইয়ারি

অনুষদের ফিকহ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক

 

শিক্ষাবর্ষ: ১৪৪৩ - ১৪৪৪ হিজরি, ২০২১ - ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল্লাতী কীলা ফীহা লা ফারকা ইনদাল হানাবিলাতি ফিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله المتوحد بالجلال وكمال الجمال، المتفرد بتصريف الأمور على التفصيل والإجمال، امتن على عباده بمزيد الإنعام والإفضال، أحمده سبحانه وهو المحمود على كل حال، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له الكبير المتعال، جل وتعالى عن النظراء والشركاء والأمثال، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله كريم المزايا والخصال، صلى الله عليه وعلى آله وصحبه خير صحب وآل، وسلم تسليمًا كثيرًا إلى يوم المآل.

أما بعد:

فإن علم الفقه في الشريعة من أشرف العلوم وأسماها، ومرتبته جديرة أن يدعى للإنسان بها، كما قال النبي صلى الله عليه وسلم وهو يدعو لابن عباس رضي الله عنهما: «اللَّهُمَّ فَقِّهْهُ فِي الدِّينِ»(1).

وأعظم من هذا أن حيازة المرء للفقه في الدين من علامة إرادة الله به خيرًا، كما جاء في الحديث الشريف: «مَنْ يُرِدِ اللَّهُ بِهِ خَيْرًا يُفَقِّهْهُ فِي الدِّينِ»(2).

ومن المعلوم أن مسائل الفقه كثيرةٌ جدًا ومتنوعة ولا يمكن حصرها ومنها ماهو متشابه في الحكم ومنها في الصورة والحكم، وقد أشار بعض فقهاء الحنابلة في كتبهم إلى ذلك بعبارة لا فرق، فأحببت جمع هذه المسائل تحت عنوان: "المسائل التي قيل فيها لا فرق عند الحنابلة".

 

‌‌أهمية الموضوع:

تبرز أهمية الموضوع فيما يلي:

1. يساعد على تقريب الأحكام الشرعية.

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري في كتاب الوضوء، باب وضع الماء عند الخلاء (1/ 41) (143)، ومسلم في كتاب فضائل الصحابة رضي الله عنهم، باب من فضائل عبدالله بن عباس رضي الله عنهما (4/ 1927) (2477)، واللفظ للبخاري.

(2) رواه البخاري في كتاب العلم، باب من يرد الله به خيرًا يفقهه في الدين (1/ 25) (71) ومسلم في كتاب الزكاة، باب النهي عن المسألة (2/ 719) (1037).
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি মহিমা ও সৌন্দর্যের পূর্ণতায় একক, যিনি বিস্তারিত ও সামগ্রিকভাবে সকল বিষয় পরিচালনায় অদ্বিতীয়। তিনি তাঁর বান্দাদের ওপর প্রচুর নিয়ামত ও অনুগ্রহের মাধ্যমে দয়া করেছেন। আমি তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করি এবং তাঁর প্রশংসা করি, আর তিনি সর্বাবস্থায় প্রশংসিত। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই, তিনি সুমহান ও সুউচ্চ। তিনি সমকক্ষ, অংশীদার ও সদৃশ হওয়া থেকে পবিত্র ও ঊর্ধ্বে। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, যিনি অত্যন্ত সম্মানিত বৈশিষ্ট্য ও গুণের অধিকারী। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীদের ওপর—যাঁরা সর্বোত্তম সাহাবী ও পরিবার—রহমত বর্ষণ করুন এবং শেষ দিবস পর্যন্ত প্রচুর শান্তি অবতীর্ণ করুন।

অতঃপর:

শরীয়াতে ফিকহ শাস্ত্র অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও সুউচ্চ ইলম, এবং এর মর্যাদা এমনই যে কোনো ব্যক্তির জন্য এই ইলম লাভের দোয়া করা বাঞ্ছনীয়; যেমনটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর জন্য দোয়া করার সময় বলেছিলেন: "হে আল্লাহ! তাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান (ফিকহ) দান করুন।"(১)।

এর চেয়েও বড় কথা হলো, কোনো ব্যক্তির দ্বীনের ফিকহ অর্জন করা আল্লাহর পক্ষ থেকে তার কল্যাণ চাওয়ার একটি লক্ষণ; যেমনটি হাদীস শরীফে এসেছে: "আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের সঠিক বুঝ বা গভীর জ্ঞান (ফিকহ) দান করেন।"(২)।

এটি সুপরিচিত যে, ফিকহী মাসআলাসমূহ অত্যন্ত ব্যাপক ও বৈচিত্র্যময় এবং সেগুলোকে সীমাবদ্ধ করা সম্ভব নয়। এগুলোর মধ্যে কিছু বিধানের দিক থেকে সদৃশ, আবার কিছু আকৃতি ও বিধান উভয় দিক থেকে সদৃশ। হাম্বলী ফকীহগণের কেউ কেউ তাঁদের কিতাবসমূহে এ বিষয়টিকে "কোনো পার্থক্য নেই" পরিভাষার মাধ্যমে ইঙ্গিত করেছেন। তাই আমি এই মাসআলাগুলোকে একটি শিরোনামের অধীনে সংকলন করা পছন্দ করেছি, যার নাম: "হাম্বলী মাযহাবে যেসব মাসআলার ক্ষেত্রে 'কোনো পার্থক্য নেই' বলা হয়েছে।"

 

‌‌বিষয়ের গুরুত্ব:

বিষয়টির গুরুত্ব নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর মাধ্যমে ফুটে ওঠে:

১. এটি শরয়ী বিধানসমূহকে নিকটবর্তী বা সহজবোধ্য করতে সাহায্য করে।

--------------------------------------------

(১) বুখারী এটি 'কিতাবুল ওযু', পরিচ্ছেদ: 'শৌচাগারের কাছে পানি রাখা' (১/৪১) (১৪৩)-এ বর্ণনা করেছেন; এবং মুসলিম 'কিতাব ফাদায়িলুস সাহাবা' (রাযিয়াল্লাহু আনহুম), পরিচ্ছেদ: 'আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর ফযীলত' (৪/১৯২৭) (২৪৭৭)-এ বর্ণনা করেছেন। শব্দগুলো বুখারীর।

(২) বুখারী এটি 'কিতাবুল ইলম', পরিচ্ছেদ: 'আল্লাহ যার কল্যাণ চান তাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করেন' (১/২৫) (৭১)-এ এবং মুসলিম 'কিতাবুল যাকাত', পরিচ্ছেদ: 'চাওয়ার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা' (২/৭১৯) (১০৩৭)-এ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল্লাতী কীলা ফীহা লা ফারকা ইনদাল হানাবিলাতি ফিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: ৩)
2. يفيد في دراسة النوازل الفقهية وإلحاق المسائل بعضها ببعض.

3. معرفة جوامع الأحكام وفوارقها.

4. يمنع الخلل في الأقيسة والإلحاقات

 

‌‌أسباب اختيار الموضوع:

وقد دفعني إلى اختيار هذا الموضوع عدة أسباب أهمها ما يأتي:

1. ورود مسائل هذا الموضوع في العديد من أبواب الفقه، والتي قد يحتاج إلى تحقيق القول فيها.

2. معرفة الأسس التي يقول على أساسها الفقهاء في بعض المسائل لا فرق.

3. التعرف على مناهج الفقهاء في جمع شتات المسائل التي لا فرق بينها في الحكم؛ تسهيلا على الدارسين.

 

‌‌أهداف الموضوع:

أهمها ما يأتي:

1. جمع المسائل التي قيل فيها: (لا فرق) عند الحنابلة، مع بيان سبب الإلحاق وعدم التفريق.

2. دراسة آراء المذاهب الأربعة فيها، وبيان القول الراجح في تلك المسائل.

 

‌‌ضابط الموضوع:

المسائل التي صرح الحنابلة بعدم التفريق بينها في الحكم.

ولقد اعتمدت في جمعها على: كتاب المغني لابن قدامة، والشرح الكبير لابن أبي عمر، والإنصاف للمرداوي، وكشاف القناع للبهوتي.

الدراسات السابقة:

من خلال البحث والسؤال في قوائم وفهارس المكتبات، لم أقف على دراسة بهذا العنوان.
2. এটি আধুনিক ফিকহী সমস্যা (নাওয়াযিল) অধ্যয়নে এবং একটি মাসআলাকে অন্যটির সাথে যুক্ত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

3. বিধানসমূহের সামষ্টিক রূপ এবং তাদের মধ্যকার পার্থক্যগুলো সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা।

4. এটি কিয়াস (যৌক্তিক অনুমান) এবং মাসআলা সংযোজনের ক্ষেত্রে ত্রুটি রোধ করে।

 

‌‌বিষয়টি নির্বাচনের কারণসমূহ:

বেশ কিছু কারণ আমাকে এই বিষয়টি নির্বাচনে উদ্বুদ্ধ করেছে, যার মধ্যে প্রধানগুলো নিম্নরূপ:

1. এই বিষয়ের মাসআলাগুলো ফিকহের অনেক অধ্যায়ে বিদ্যমান রয়েছে, যেগুলোর ক্ষেত্রে চূড়ান্ত বক্তব্য যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন।

2. সেই ভিত্তিগুলো জানা যেগুলোর ওপর ভিত্তি করে ফকিহগণ কিছু মাসআলার ক্ষেত্রে বলেন যে, 'এতে কোনো পার্থক্য নেই'।

3. শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে যেসব মাসআলার বিধানে কোনো পার্থক্য নেই, সেই বিক্ষিপ্ত মাসআলাগুলো একত্র করার ক্ষেত্রে ফকিহগণের পদ্ধতি সম্পর্কে অবগত হওয়া।

 

‌‌বিষয়ের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ:

প্রধান উদ্দেশ্যগুলো নিম্নরূপ:

1. হাম্বলী মাজহাব অনুযায়ী যেসব মাসআলার ক্ষেত্রে বলা হয়েছে যে 'কোনো পার্থক্য নেই', সেগুলো একত্র করা এবং সেই সাথে একটিকে অন্যটির সাথে যুক্ত করার ও পার্থক্য না করার কারণ বর্ণনা করা।

2. এ বিষয়ে চার মাজহাবের মতামত অধ্যয়ন করা এবং সেই মাসআলাগুলোতে অগ্রগণ্য (রাজ্যেহ) মতটি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করা।

 

‌‌বিষয়ের নীতিমালা:

সেই মাসআলাগুলো যেগুলোর বিধানে কোনো পার্থক্য নেই বলে হাম্বলীগণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।

আমি এগুলো সংকলনের ক্ষেত্রে ইবনে কুদামার আল-মুগনি, ইবনে আবি ওমরের আশ-শারহুল কাবীর, মারদাভির আল-ইনসাফ এবং বাহুতির কাশশাফুল কিনা গ্রন্থের ওপর নির্ভর করেছি।

পূর্ববর্তী গবেষণাসমূহ:

লাইব্রেরির তালিকা ও নির্ঘণ্টসমূহে অনুসন্ধান ও জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে আমি এই শিরোনামে কোনো গবেষণার সন্ধান পাইনি।
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল্লাতী কীলা ফীহা লা ফারকা ইনদাল হানাবিলাতি ফিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌منهج البحث:

اتبعت في إعداد هذا الموضوع على الآتي:

أولًا: المنهج الخاص:

1. ذكر نص المسألة وصورتها عند الحاجة أو نحو ذلك.

2. بيان سبب الإلحاق وعدم التفريق في المسألة.

ثانيًا: المنهج العام:

أخذت في إعداد البحث بالمنهج المعتمد من قسم الفقه بكلية الشريعة، وهو ما يأتي:

أولًا: أصور المسألة المراد بحثها تصويرا دقيقا قبل بيان حكمها، ليتضح المقصود من دراستها.

ثانيًا: إذا كانت المسألة من مواضع الاتفاق، فأذكر حكمها بدليلها، مع توثيق الاتفاق من مظانه المعتبرة.

ثالثًا: إذا كانت المسألة من مسائل الخلاف، فأتبع ما يلي:

(1) تحرير محل الخلاف، إذا كانت بعض صور المسألة محل خلاف، وبعضها محل اتفاق.

(2) ذكر الأقوال في المسألة، وبيان من قال بها من أهل العلم، ويكون عرض الخلاف حسب الاتجاهات الفقهية، متبعة كل قول بأدلته.

(3) الاقتصار على المذاهب الفقهية المعتبرة، مع العناية بذكر ما تيسر الوقوف عليه من أقوال السلف الصالح، وإذا لم أقف على المسألة في مذهب ما، فأسلك بها مسلك التخريج.

(4) توثيق الأقوال من كتب أهل المذهب نفسه.

(5) استقصاء أدلة الأقوال، مع بيان وجه الاستدلال من الأدلة النقلية، وذكر ما يرد على الأدلة من مناقشات، وما يجاب به عنها إن كانت.

(6) الترجيح، مع بيان سببه وذكر ثمرة الخلاف إن وجدت.

رابعًا: الاعتماد على أمهات المصادر والمراجع الأصيلة في التحرير والتوثيق والتخريج والجمع.

خامسًا: التركيز على موضوع البحث وتجنب الاستطراد.
গবেষণা পদ্ধতি:

এই বিষয়টি প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে আমি নিম্নোক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করেছি:

প্রথমত: বিশেষ পদ্ধতি:

১. মাসআলার ভাষ্য উল্লেখ করা এবং প্রয়োজন সাপেক্ষে এর চিত্রায়ন বা অনুরূপ কিছু বর্ণনা করা।

২. মাসআলায় সংশ্লিষ্ট করার এবং পার্থক্য না করার কারণ বর্ণনা করা।

দ্বিতীয়ত: সাধারণ পদ্ধতি:

গবেষণাটি প্রস্তুতির ক্ষেত্রে আমি শরীয়াহ অনুষদের ফিকহ বিভাগ কর্তৃক অনুমোদিত পদ্ধতি গ্রহণ করেছি, যা নিম্নরূপ:

প্রথমত: যে মাসআলাটি নিয়ে গবেষণা করা হবে, তার বিধান বর্ণনার আগে সেটিকে নিখুঁতভাবে চিত্রায়ন করা, যাতে এর অধ্যয়নের উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়।

দ্বিতীয়ত: মাসআলাটি যদি ঐকমত্যের (ইজমা) বিষয় হয়, তবে তার দলিলসহ বিধান উল্লেখ করা এবং নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে সেই ঐকমত্যের বিষয়টি নথিবদ্ধ করা।

তৃতীয়ত: মাসআলাটি যদি মতভেদপূর্ণ (ইখতিলাফ) বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হয়, তবে আমি নিম্নোক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করেছি:

(১) মতভেদের ক্ষেত্র নির্ধারণ করা, যদি মাসআলার কিছু চিত্র মতভেদপূর্ণ এবং কিছু ঐকমত্যপূর্ণ হয়।

(২) মাসআলাটি নিয়ে বিভিন্ন মতামত উল্লেখ করা এবং কোন্ কোন্ আলেম তা বলেছেন তা বর্ণনা করা; এক্ষেত্রে মতভেদ উপস্থাপনের সময় ফিকহী ধারাগুলো অনুসরণ করা হবে এবং প্রতিটি মতের সাথে তার দলিলসমূহ যুক্ত করা হবে।

(৩) নির্ভরযোগ্য ফিকহী মাযহাবগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা এবং সালাফে সালেহীনের যেসব বক্তব্য পাওয়া সহজসাধ্য হবে তা উল্লেখ করার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া। যদি কোনো নির্দিষ্ট মাযহাবে আমি মাসআলাটি না পাই, তবে সেক্ষেত্রে 'তাখরীজ'-এর পদ্ধতি অবলম্বন করা।

(৪) সংশ্লিষ্ট মাযহাবের মূল কিতাবসমূহ থেকে মতামতের সত্যতা যাচাই করা।

(৫) মতামতগুলোর দলিলসমূহ বিস্তারিতভাবে অনুসন্ধান করা এবং একই সাথে বর্ণনাধর্মী (নাকলি) দলিলসমূহ থেকে দলিলের যৌক্তিক ভিত্তি বর্ণনা করা। দলিলগুলোর ওপর কোনো আপত্তি বা আলোচনা থাকলে তা উল্লেখ করা এবং এর কোনো জবাব থাকলে তাও প্রদান করা।

(৬) অগ্রাধিকার প্রদান (তারজীহ), এর কারণ বর্ণনা করা এবং মতভেদের কোনো প্রভাব থাকলে তা উল্লেখ করা।

চতুর্থত: লিখনী তৈরি, তথ্য যাচাই, তাখরীজ ও সংকলনের ক্ষেত্রে মূল উৎস ও নির্ভরযোগ্য আকর গ্রন্থসমূহের ওপর নির্ভর করা।

পঞ্চমত: গবেষণার বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করা এবং অপ্রাসঙ্গিক আলোচনা এড়িয়ে চলা।
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল্লাতী কীলা ফীহা লা ফারকা ইনদাল হানাবিলাতি ফিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: ৫)
سادسًا: العناية بضرب الأمثلة؛ وخاصة الواقعية.

سابعًا: تجنب ذكر الأقوال الشاذة.

ثامنًا: العناية بدراسة ما جد من القضايا مما له صلة واضحة بالبحث.

تاسعًا: ترقيم الآيات، وبيان سورها.

عاشرًا: تخريج الأحاديث وبيان ما ذكره أهل الشأن في درجتها - إن لم تكن في الصحيحين أو أحدهما - فإن كانت كذلك فأكتفي حينئذ بتخريجها.

حادي عشر: تخريج الآثار من مصادرها الأصيلة، والحكم عليها.

ثاني عشر: التعريف بالمصطلحات، وشرح الغريب الوارد في صلب الموضوع.

ثالث عشر: العناية بقواعد اللغة العربية، والإملاء، وعلامات الترقيم.

رابع عشر: الترجمة للأعلام غير المشهورين عند أول ورود لها.

خامس عشر: خاتمة البحث عبارة عن ملخص للرسالة، يعطي فكرة واضحة عما تضمنته الرسالة، مع إبراز أهم النتائج التي توصلت إليها من خلال هذا البحث.

سادس عشر: أتبع الرسالة بالفهارس الفنية المتعارف عليها، وتشمل:

- فهرس الآيات.

- فهرس الأحاديث.

- فهرس الآثار.

- فهرس الأعلام.

- فهرس المصادر والمراجع.

- فهرس الموضوعات.
ষষ্ঠত: উদাহরণ প্রদানের প্রতি বিশেষ যত্নশীল হওয়া; বিশেষ করে বাস্তবধর্মী উদাহরণ।

সপ্তমত: বিচ্ছিন্ন মতামত উল্লেখ করা পরিহার করা।

অষ্টমত: গবেষণার সাথে স্পষ্ট সম্পর্কযুক্ত নতুন উদ্ভূত বিষয়গুলো নিয়ে অধ্যয়নের প্রতি গুরুত্বারোপ করা।

নবমত: আয়াতসমূহের নম্বর প্রদান এবং সেগুলোর সূরা বর্ণনা করা।

দশমত: হাদীসসমূহের তাখরীজ (উৎস নির্দেশ) করা এবং সেগুলোর মান সম্পর্কে বিশেষজ্ঞগণ যা উল্লেখ করেছেন তা বর্ণনা করা—যদি তা সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম) অথবা এই দুটির কোনো একটিতে না থাকে—আর যদি সেখানে থাকে, তবে সেক্ষেত্রে শুধু তাখরীজ করাই যথেষ্ট মনে করা।

একাদশ: আছারসমূহ (সাহাবী ও তাবিঈগণের বর্ণনা) মূল উৎস থেকে বর্ণনা করা এবং সেগুলোর মান নির্ধারণ করা।

দ্বাদশ: পারিভাষিক শব্দাবলীর পরিচয় প্রদান এবং মূল বিষয়ের মধ্যে আসা দুর্বোধ্য শব্দসমূহের ব্যাখ্যা করা।

ত্রয়োদশ: আরবি ব্যাকরণ, বানানরীতি এবং বিরামচিহ্নের প্রতি বিশেষ লক্ষ্য রাখা।

চতুর্দশ: অখ্যাত ব্যক্তিদের প্রথমবার উল্লেখের সময় তাদের পরিচিতি প্রদান করা।

পঞ্চদশ: গবেষণার উপসংহার হবে গবেষণাপত্রটির একটি সারসংক্ষেপ, যা গবেষণাপত্রটিতে যা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে সে সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারণা প্রদান করবে এবং এই গবেষণার মাধ্যমে প্রাপ্ত গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলগুলো ফুটিয়ে তুলবে।

ষোড়শ: গবেষণাপত্রের শেষে প্রচলিত গবেষণামূলক নির্ঘণ্টসমূহ (ইন্ডেক্স) সংযোজন করা, যার অন্তর্ভুক্ত হলো:

- আয়াতসমূহের নির্ঘণ্ট।

- হাদীসসমূহের নির্ঘণ্ট।

- আছারসমূহের নির্ঘণ্ট।

- ব্যক্তিদের নির্ঘণ্ট।

- উৎস ও তথ্যসূত্রের নির্ঘণ্ট।

- বিষয়সূচির নির্ঘণ্ট।
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল্লাতী কীলা ফীহা লা ফারকা ইনদাল হানাবিলাতি ফিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: ৬)
المسائل التي قيل فيها لا فرق عند الحنابلة في العبادات

 

‌‌تقسيمات البحث:

يتكون هذا الموضوع من: مقدمة، وتمهيد وأربعة فصول وخاتمة وفهارس.

المقدمة: وفيها: التعريف بأهمية الموضوع، وأسباب اختياره، وأهدافه، والدراسات السابقة، ومنهج البحث، وتقسيماته.

التمهيد: حقيقة الفرق ونفي الفارق وحجية نفي الفارق وأهمية الفروق الفقهية، وفيه مطلبان:

المبحث الأوّل: المراد بالفرق والألفاظ ذات الصلة، وفيه مطلبان:

المطلب الأوّل: المراد بالفرق.

المطلب الثاني: الألفاظ ذات الصلة.

المبحث الثاني: معنى نفي الفارق وحجيته، وفيه مطلبان:

المطلب الأوّل: معنى نفي الفارق.

المطلب الثاني: حجية نفي الفارق.

المبحث الثالث: أهمية الفروق الفقهية.

الفصل الأوّل: المسائل التي قيل فيها لا فرق عند الحنابلة في الطهارة، وفيه ثلاثة مباحث:

المبحث الأوّل: المسائل التي قيل فيها لا فرق عند الحنابلة في المياه والآنية والاستنجاء، وفيه ستة مطالب:

المطلب الأوّل: لا فرق في طهورية الماء الذي خالطه التراب بين وقوعه عن قصد أو غير قصد.

المطلب الثاني: لا فرق في التنجس بين يسير النجاسة وكثيرها.

المطلب الثالث: لا فرق بين البول القليل والكثير إذا وقع في البئر.

المطلب الرابع: لا فرق بين النجاسة من ولوغ الكلب، وبين نجاسة يده أو غير ذلك من أجزائه.
ইবাদতের ক্ষেত্রে হাম্বলীদের নিকট যেসব মাসআলায় কোনো পার্থক্য নেই বলা হয়েছে

 

‌‌গবেষণার বিভাজনসমূহ:

এই বিষয়টি ভূমিকা, প্রারম্ভিকা, চারটি অধ্যায়, উপসংহার এবং নির্ঘণ্টসমূহের সমন্বয়ে গঠিত।

ভূমিকা: এতে রয়েছে: বিষয়ের গুরুত্বের পরিচয়, এটি নির্বাচনের কারণসমূহ, এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ, পূর্ববর্তী গবেষণাসমূহ, গবেষণা পদ্ধতি এবং এর বিভাজনসমূহ।

প্রারম্ভিকা: পার্থক্যের (ফারক) হাকীকত, পার্থক্য খণ্ডন (নাফিউল ফারেক), পার্থক্য খণ্ডনের প্রামাণিকতা এবং ফিকহী পার্থক্যসমূহের গুরুত্ব; এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: পার্থক্য এবং সংশ্লিষ্ট শব্দাবলি দ্বারা যা উদ্দেশ্য, এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: পার্থক্য দ্বারা যা উদ্দেশ্য।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: সংশ্লিষ্ট শব্দাবলি।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: পার্থক্য খণ্ডনের অর্থ এবং এর প্রামাণিকতা, এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: পার্থক্য খণ্ডনের অর্থ।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: পার্থক্য খণ্ডনের প্রামাণিকতা।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ফিকহী পার্থক্যসমূহের গুরুত্ব।

প্রথম অধ্যায়: পবিত্রতা (তাহারাত)-এর ক্ষেত্রে হাম্বলীদের নিকট যেসব মাসআলায় কোনো পার্থক্য নেই বলা হয়েছে, এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: পানি, পাত্র এবং ইস্তিনজার ক্ষেত্রে হাম্বলীদের নিকট যেসব মাসআলায় কোনো পার্থক্য নেই বলা হয়েছে, এতে ছয়টি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: মাটির সাথে মিশ্রিত পানির পবিত্রতা বজায় থাকার ক্ষেত্রে তা ইচ্ছাকৃতভাবে হোক বা অনিচ্ছাকৃতভাবে হোক—তার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: অপবিত্র (নাজাসাত) হওয়ার ক্ষেত্রে অল্প নাপাকি এবং অধিক নাপাকির মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: কূপে অল্প বা অধিক প্রস্রাব পড়ার ক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য নেই।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: কুকুরের মুখ দেওয়ার কারণে সৃষ্ট নাপাকি এবং তার পা বা শরীরের অন্যান্য অঙ্গের নাপাকির মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল্লাতী কীলা ফীহা লা ফারকা ইনদাল হানাবিলাতি ফিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: ৭)
المطلب الخامس: لا فرق في طهارة شعر الحيوان بين حياته وموته.

المطلب السادس: لا فرق بين الحجر الكبير الذي له ثلاث شعب وبين ثلاثة أحجار في التطهير.

المبحث الثاني: المسائل التي قيل فيها لا فرق عند الحنابلة في سنن الفطرة والوضوء والمسح على الخفين، وفيه خمسة مطالب:

المطلب الأوّل: لا فرق في غسل اليدين إذا قام النائم من نومه، بين كونها مطلقة أو مشدودة.

المطلب الثاني: لا فرق بين المستحاضة ومن به سلس البول في المسح على الخفين.

المطلب الثالث: لا فرق في الخارج من غير السبيلين بين قليله وكثيره.

المطلب الرابع: لا فرق في نقض الوضوء بمس الفرج بين العامد و غيره.

المطلب الخامس: لا فرق في نقض الوضوء بأكل لحم الجزور بين قليله وكثيره والنيئ وغيره.

المبحث الثالث: المسائل التي قيل فيها لا فرق عند الحنابلة في الغسل، والتيمم، وإزالة النجاسة، والحيض، وفيه أحد عشر مطلبًا:

المطلب الأوّل: لا فرق في غسل من انقطع حيضها ونفاسها بين أن تنوي الوطء، أو حله.

المطلب الثاني: لا فرق في التيمم بين سفر الطاعة والمعصية.

المطلب الثالث: لا فرق في التيمم بين كون الجبيرة على كسر أو جرح.

المطلب الرابع: لا فرق في النية للتيمم بين ما وجب بالشرع، وما وجب بالنذر.

المطلب الخامس: لا فرق في بطلان تيمم لابس العمامة وغيرها بالخلع بين أن يكون مسح عليها قبل التيمم أو لا.

المطلب السادس: لا فرق بين رطب النجاسة وجافها.

المطلب السابع: لا فرق في التطهير بين الحاصل بفعل الله تعالى أو فعل الآدمي.

المطلب الثامن: لا فرق في عدم النجاسة بالموت بين المسلم والكافر.
পঞ্চম অনুচ্ছেদ: পশুর পশম বা চুল পবিত্র হওয়ার ক্ষেত্রে তার জীবিত বা মৃত অবস্থার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ: পবিত্রতা অর্জনের ক্ষেত্রে তিনটি কোণবিশিষ্ট একটি বড় পাথর এবং তিনটি পৃথক পাথরের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: হাম্বলি মাজহাব মতে ফিতরাতের সুন্নতসমূহ, অজু এবং মোজার ওপর মাসাহ করার ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলোতে কোনো পার্থক্য নেই বলা হয়েছে। এতে পাঁচটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার পর দুই হাত ধোয়ার ক্ষেত্রে হাত খোলা থাকা বা বাঁধা থাকার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: মোজার ওপর মাসাহ করার ক্ষেত্রে ইস্তিহাজাগ্রস্ত নারী এবং বহুমূত্র রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: মল-মূত্র ত্যাগের রাস্তা ব্যতীত শরীরের অন্য কোনো স্থান থেকে নির্গত বস্তুর ক্ষেত্রে তার অল্প বা বেশির মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: লজ্জাস্থান স্পর্শ করার মাধ্যমে অজু ভঙ্গের ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃতভাবে স্পর্শকারী এবং অনিচ্ছাকৃতভাবে স্পর্শকারীর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

পঞ্চম অনুচ্ছেদ: উটের মাংস খাওয়ার মাধ্যমে অজু ভঙ্গের ক্ষেত্রে তার অল্প বা বেশি এবং কাঁচা বা রান্না করা মাংসের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: হাম্বলি মাজহাব মতে গোসল, তায়াম্মুম, নাপাকি দূর করা এবং ঋতুস্রাব সংক্রান্ত যে বিষয়গুলোতে কোনো পার্থক্য নেই বলা হয়েছে। এতে এগারোটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: যার ঋতুস্রাব (হায়েজ) ও নিফাস বন্ধ হয়েছে, তার গোসলের ক্ষেত্রে সহবাসের নিয়ত করা বা সহবাস হালাল হওয়ার নিয়ত করার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: তায়াম্মুমের ক্ষেত্রে সফরটি আনুগত্যের হোক বা পাপাচারের, তার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: তায়াম্মুমের ক্ষেত্রে জাবيرة (পট্টি) ভাঙা হাড়ের ওপর থাকা বা ক্ষতের ওপর থাকার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: তায়াম্মুমের নিয়তের ক্ষেত্রে শরয়িভাবে ওয়াজিব হওয়া ইবাদত এবং মানতের মাধ্যমে ওয়াজিব হওয়া ইবাদতের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

পঞ্চম অনুচ্ছেদ: পাগড়ি বা অনুরূপ বস্তু পরিধানকারী তা খুলে ফেললে তায়াম্মুম বাতিল হওয়ার ক্ষেত্রে, তায়াম্মুমের আগে তার ওপর মাসাহ করা হয়েছিল কি না তার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ: ভেজা নাপাকি এবং শুকনো নাপাকির মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

সপ্তম অনুচ্ছেদ: পবিত্রতা অর্জনের ক্ষেত্রে তা মহান আল্লাহ তাআলার কাজের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়া বা মানুষের কাজের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়ার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

অষ্টম অনুচ্ছেদ: মৃত্যুর কারণে অপবিত্র না হওয়ার ক্ষেত্রে মুসলিম এবং অমুসলিমের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল্লাতী কীলা ফীহা লা ফারকা ইনদাল হানাবিলাতি ফিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: ৮)
المطلب التاسع: لا فرق بين أن يكون زمن الدم أكثر من زمن الطهر أو مثله أو أقل.

المطلب العاشر: لا فرق في الحيض بين نساء العرب وغيرهن.

المطلب الحادي عشر: لا فرق في الاستمتاع بالحائض فيما دون الفرج بين من يأمن على نفسه مواقعة المحظور أو يخاف ذلك.

الفصل الثاني: المسائل التي قيل فيها لا فرق عند الحنابلة في الصلاة، وفيه مبحثان:

المبحث الأوّل: المسائل التي قيل فيها لا فرق عند الحنابلة في الأذان والإقامة، وشروط الصلاة، وصفة الصلاة، وفيه واحد وعشرون مطلبًا:

المطلب الأوّل: لا فرق في استحباب الصيت والأمانة للمؤذن بين الحر والعبد، والبصير والأعمى.

المطلب الثاني: لا فرق في الإبراد بالظهر بين البلاد الحارة وغيرها.

المطلب الثالث: لا فرق في انكشاف العورة في الصلاة بين الفرجين وغيرهما.

المطلب الرابع: لا فرق في ستر العورة بين الظلمة وغيرها.

المطلب الخامس: لا فرق في صلاة العاري بين الخلوة وغيرها.

المطلب السادس: لا فرق في الصلاة في المقبرة بين القديمة والحديثة.

المطلب السابع: لا فرق في الصلاة في الحمام بين مكان الغسل وصب الماء.

المطلب الثامن: لا فرق في الصلاة في المجزرة والمزبلة، بين ما كان منها طاهرًا ونجسًا، ولا بين كون الطريق فيها سالكًا أو لم يكن.

المطلب التاسع: لا فرق في الصلاة في الأرض المغصوبة بين غصبه لرقبة الأرض وغصبه منافعها.

المطلب العاشر: لا فرق بين قليل النجاسة وكثيرها في عدم صحة الصلاة معها.
নবম পরিচ্ছেদ: রক্তের সময়কাল পবিত্রতার সময়কাল থেকে বেশি হওয়া, সমান হওয়া অথবা কম হওয়ার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

দশম পরিচ্ছেদ: ঋতুস্রাবের ক্ষেত্রে আরব নারী ও অনারব নারীদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

একাদশ পরিচ্ছেদ: লজ্জাস্থান ব্যতীত ঋতুবতী নারীর সাথে কামতৃপ্তি লাভের ক্ষেত্রে, যে ব্যক্তি নিষিদ্ধ কাজে লিপ্ত হওয়া থেকে নিরাপদ বোধ করে এবং যে ব্যক্তি তা ভয় পায়—উভয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

দ্বিতীয় অধ্যায়: সালাতের ক্ষেত্রে হাম্বলি মাযহাবে যেসব মাসআলায় কোনো পার্থক্য নেই বলে বর্ণিত হয়েছে। এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: আযান, ইকামত, সালাতের শর্তাবলি এবং সালাতের পদ্ধতির ক্ষেত্রে হাম্বলি মাযহাবে যেসব মাসআলায় কোনো পার্থক্য নেই বলে বর্ণিত হয়েছে। এতে একুশটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: মুয়াজ্জিনের জন্য সুকণ্ঠ ও আমানতদারিতা মুস্তাহাব হওয়ার ক্ষেত্রে স্বাধীন ও ক্রীতদাস এবং চক্ষুষ্মান ও অন্ধের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: যোহরের সালাত ঠান্ডা করে পড়ার (ইবরাদ) ক্ষেত্রে গরম দেশ এবং অন্যান্য দেশের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সালাতের মধ্যে সতর উন্মোচিত হওয়ার ক্ষেত্রে লজ্জাস্থানদ্বয় এবং শরীরের অন্যান্য সতরভুক্ত অংশের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: সতর আবৃত করার ক্ষেত্রে অন্ধকার এবং আলোর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: বস্ত্রহীন ব্যক্তির সালাত আদায়ের ক্ষেত্রে নির্জনতা এবং জনসমক্ষে থাকার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: কবরস্থানে সালাত আদায়ের ক্ষেত্রে পুরাতন ও নতুন কবরস্থানের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

সপ্তম পরিচ্ছেদ: গোসলখানায় সালাত আদায়ের ক্ষেত্রে গোসলের স্থান এবং পানি ঢালার স্থানের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

অষ্টম পরিচ্ছেদ: জবাইখানা ও আবর্জনার স্তূপে সালাত আদায়ের ক্ষেত্রে সেটি পবিত্র কি অপবিত্র, অথবা সেখানে যাতায়াতের পথ থাকুক বা না থাকুক—এর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

নবম পরিচ্ছেদ: জবরদখলকৃত ভূমিতে সালাত আদায়ের ক্ষেত্রে ভূমির মূল মালিকানা দখল করা এবং এর উপযোগ বা সুবিধা দখল করার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

দশম পরিচ্ছেদ: নাপাকি থাকা অবস্থায় সালাত সহীহ না হওয়ার ক্ষেত্রে নাপাকির পরিমাণ অল্প হওয়া এবং বেশি হওয়ার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল্লাতী কীলা ফীহা লা ফারকা ইনদাল হানাবিলাতি ফিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: ৯)
المطلب الحادي عشر: لا فرق في الصلاة مع وجود الدم بين كونه مجتمعًا أو متفرقًا.

المطلب الثاني عشر: لا فرق في صحة صلاة من في ثوبه بلغم، بين البلغم الذي يخرج من الرأس والبلغم الخارج من الصدر.

المطلب الثالث عشر: لا فرق في الصلاة بالاجتهاد إلى جهة ظنا أنها القبلة فتبين الخطأ، بين أن تكون الأدلة ظاهرة أو مستورة.

المطلب الرابع عشر: لا فرق في إسماع المصلي نفسه إماما كان أو غيره، بين أن يكون رجلًا أو امرأة.

المطلب الخامس عشر: لا فرق في جهر المنفرد بالقراءة في الصلاة بين القضاء والأداء.

المطلب السادس عشر: لا فرق بين وجود العذر وعدمه في وجوب مباشرة المصلي لشيء من أعضاء سجوده إلا الجبهة.

المطلب السابع عشر: لا فرق في صحة صلاة الناسي للفائتة، بين أن يكون قد سبق منه ذكر الفائتة أو لم يسبق منه لها ذكر.

المطلب الثامن عشر: لا فرق في الترتيب مع سعة الوقت وضيقه، بين كون الحاضرة جمعة أو غيرها.

المطلب التاسع عشر: لا فرق في قيام المسبوق قبل أن يسلم الإمام التسليمة الثانية بلا عذر يبيح له مفارقة الإمام، بين العمد والذكر وضدهما.

المطلب العشرون: لا فرق في بطلان الصلاة بالبكاء إن بان حرفان بين كونه غلب على صاحبه أو لم يغلب.

المطلب الحادي والعشرون: لا فرق في المرور بين يدي المصلي بين الفرض والنفل والجنازة.
একাদশ বিষয়: রক্ত বিদ্যমান থাকা অবস্থায় সালাত আদায়ের ক্ষেত্রে রক্ত একস্থানে পুঞ্জীভূত থাকা অথবা বিক্ষিপ্ত থাকা—উভয় অবস্থার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

দ্বাদশ বিষয়: যার পোশাকে কফ রয়েছে তার সালাত শুদ্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে, সেই কফ মাথা থেকে নির্গত হওয়া আর বুক থেকে নির্গত হওয়ার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

ত্রয়োদশ বিষয়: কোনো এক দিককে কিবলা মনে করে ইজতিহাদ করে সালাত আদায়ের পর যদি ভুল প্রকাশ পায়, তবে সে ক্ষেত্রে কিবলার আলামতসমূহ সুস্পষ্ট থাকা বা অস্পষ্ট থাকার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

চতুর্দশ বিষয়: সালাত আদায়কারী ইমাম হোক বা অন্য কেউ, নিজের কিরাত নিজেকে শোনানোর ক্ষেত্রে পুরুষ ও নারীর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

পঞ্চদশ বিষয়: একাকী সালাত আদায়কারীর উচ্চৈঃস্বরে কিরাত পাঠের ক্ষেত্রে কাজা সালাত এবং সময়মতো আদায়কৃত সালাতের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

ষোড়শ বিষয়: কপাল ব্যতীত সিজদার অন্যান্য অঙ্গসমূহ সরাসরি জমিন বা জায়নামাজে রাখা ওয়াজিব হওয়ার ক্ষেত্রে ওজর থাকা বা না থাকার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

সপ্তদশ বিষয়: ছুটে যাওয়া সালাতের কথা ভুলে যাওয়া ব্যক্তির সালাত শুদ্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে, পূর্বে তার সেই সালাতের কথা স্মরণে আসা বা না আসার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

অষ্টাদশ বিষয়: সময়ের প্রশস্ততা বা সংকীর্ণতার ক্ষেত্রে সালাতের ধারাবাহিকতা (তরতিব) রক্ষার হুকুমে বর্তমান সালাতটি জুমুআ হোক বা অন্য কোনো সালাত—এর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

উনবিংশ বিষয়: ইমাম দ্বিতীয় সালাম ফেরানোর পূর্বে মাসবুক ব্যক্তির (ইমাম থেকে পৃথক হওয়ার মতো কোনো বৈধ ওজর ব্যতীত) দাঁড়িয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে, বিষয়টি ইচ্ছাকৃত ও স্মরণে থাকা অবস্থায় হওয়া এবং এর বিপরীত (অনিচ্ছাকৃত বা বিস্মৃতি) অবস্থায় হওয়ার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

বিংশ বিষয়: কান্নার কারণে যদি দুটি অক্ষর প্রকাশিত হয়ে যায় তবে সালাত বাতিল হওয়ার ক্ষেত্রে, সেই কান্না নিয়ন্ত্রণহীনভাবে প্রবল হয়ে আসা বা না আসার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

একবিংশ বিষয়: সালাত আদায়কারীর সামনে দিয়ে অতিক্রম করার নিষিদ্ধতার ক্ষেত্রে ফরজ, নফল এবং জানাজা সালাতের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল্লাতী কীলা ফীহা লা ফারকা ইনদাল হানাবিলাতি ফিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: ১০)
المبحث الثاني: المسائل التي قيل فيها لا فرق عند الحنابلة في سجود السهو، وصلاة التطوع، وصلاة الجماعة، وصلاة أهل الأعذار، وصلاة الجمعة، وصلاة العيدين، وفيه ستة عشر مطلبًا:

المطلب الأوّل: لا فرق في سجود السهو بين أن يسلم عن نقص ركعة أو أقل.

المطلب الثاني: لا فرق في بطلان الصلاة بكثير الحركة دون يسيرها بين عمدها وسهوها.

المطلب الثالث: لا فرق في سجود السهو بين الفرض والنافلة.

المطلب الرابع: لا فرق في التطوع في أوقات النهي بين مكة وغيرها.

المطلب الخامس: لا فرق في وقت الزوال بين الجمعة وغيرها، ولا بين الشتاء والصيف.

المطلب السادس: لا فرق في حصول العلم بسماع التكبير بين أن يكون المأموم في المسجد أو في غيره.

المطلب السابع: لا فرق في الصلاة إلى المتحدثين والنائم بين الفريضة والنافلة.

المطلب الثامن: لا فرق في إمامة المرأة والخنثى بين الفرض والنفل.

المطلب التاسع: لا فرق في كراهة وقوف الإمام أعلى من المأموم بين قصد التعليم وعدمه.

المطلب العاشر: لا فرق في جمع التقديم والتأخير بين النازل والسائر.

المطلب الحادي عشر: لا فرق في الهرب من العدو هربا مباحا، بين الحضر والسفر.

المطلب الثاني عشر: لا فرق في استحباب إقامة الجمعة عقيب الزوال بين شدة الحر، وبين غيره.

المطلب الثالث عشر: لا فرق في تعلق الحكم بالنداء عقيب جلوس الإمام على المنبر، بين أن يكون ذلك قبل الزوال أو بعده.

المطلب الرابع عشر: لا فرق في السماع، والإنصات في خطبة الجمعة بين القريب والبعيد.

المطلب الخامس عشر: لا فرق في لزوم الجمعة على أهل المصر بين القريب والبعيد.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: যে সকল মাসআলায় হাম্বলি মাযহাব অনুযায়ী সাহু সাজদাহ, নফল সালাত, জামায়াতে সালাত, ওযরপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সালাত, জুমার সালাত এবং দুই ঈদের সালাতের ক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে; এতে ষোলোটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: এক রাকাত বা তার কম ঘাটতি রেখে সালাম ফিরিয়ে ফেললে সাহু সাজদাহর ক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য নেই।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: অল্প নড়াচড়া নয় বরং অধিক নড়াচড়ার মাধ্যমে সালাত বাতিল হয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ইচ্ছা করে করা এবং ভুলবশত করার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: ফরয এবং নফল সালাতের মধ্যে সাহু সাজদাহর ক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য নেই।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: নিষিদ্ধ সময়ে নফল সালাত আদায়ের ক্ষেত্রে মক্কা এবং অন্যান্য স্থানের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

পঞ্চম অনুচ্ছেদ: সূর্য ঢলে পড়ার (যাওয়াল) সময়ের ক্ষেত্রে জুমার দিন এবং অন্যান্য দিনের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই, এবং শীতকাল ও গ্রীষ্মকালের মধ্যেও কোনো পার্থক্য নেই।

ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ: তাকবির শোনার মাধ্যমে ইমামের অবস্থা জানার ক্ষেত্রে মুক্তাদি মসজিদে থাকুক বা মসজিদের বাইরে, কোনো পার্থক্য নেই।

সপ্তম অনুচ্ছেদ: কথা বলতে থাকা ব্যক্তি বা ঘুমন্ত ব্যক্তির দিকে মুখ করে সালাত আদায়ের ক্ষেত্রে ফরয এবং নফল সালাতের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

অষ্টম অনুচ্ছেদ: নারী ও হিজড়ার ইমামতির ক্ষেত্রে ফরয এবং নফল সালাতের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

নবম অনুচ্ছেদ: মুক্তাদির চেয়ে উঁচুতে ইমামের দাঁড়ানো মাকরূহ হওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষাদানের উদ্দেশ্য থাকা বা না থাকার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

দশম অনুচ্ছেদ: সালাত জমায়ে তাকদিম (এগিয়ে আনা) এবং জমায়ে তাখির (পিছিয়ে দেওয়া)-এর ক্ষেত্রে বিরতি নেওয়া যাত্রী এবং চলন্ত যাত্রীর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

একাদশ অনুচ্ছেদ: শত্রুর নিকট থেকে বৈধভাবে পলায়ন করার ক্ষেত্রে মুকিম এবং মুসাফিরের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

দ্বাদশ অনুচ্ছেদ: সূর্য ঢলে পড়ার সাথে সাথে জুমার সালাত কায়েম করা মুস্তাহাব হওয়ার ক্ষেত্রে প্রচণ্ড গরম বা অন্য কোনো অবস্থার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

ত্রয়োদশ অনুচ্ছেদ: ইমাম মিম্বারে বসার পর আজান হলে হুকুম কার্যকর হওয়ার ক্ষেত্রে তা সূর্য ঢলার আগে হোক বা পরে হোক, কোনো পার্থক্য নেই।

চতুর্দশ অনুচ্ছেদ: জুমার খুতবা শোনা এবং চুপ থাকার ক্ষেত্রে নিকটবর্তী এবং দূরবর্তী ব্যক্তির মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

পঞ্চদশ অনুচ্ছেদ: শহরের বাসিন্দাদের ওপর জুমা আবশ্যক হওয়ার ক্ষেত্রে নিকটবর্তী এবং দূরবর্তী ব্যক্তির মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল্লাতী কীলা ফীহা লা ফারকা ইনদাল হানাবিলাতি ফিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: ১১)
المطلب السادس عشر: لا فرق بين من كبر قبل سلام الإمام، في صلاة ما فاته يوم العيد على صفته وبين من فاتته الجمعة.

الفصل الثالث: المسائل التي قيل فيها لا فرق عند الحنابلة في الزكاة، والصيام، وفيه مبحثان.

المبحث الأوّل: المسائل التي قيل فيها لا فرق عند الحنابلة في الزكاة، وفيه خمسة مطالب:

المطلب الأوّل: لا فرق في ضمان الزكاة إن هلكت في يد الإمام إذا تسلفها بين أن يسأله رب المال أو الفقراء أو لم يسأله أحد.

المطلب الثاني: لا فرق في زكاة الحلي المباح بين أن يكون ملكًا لرجل أو امرأة.

المطلب الثالث: لا فرق في ثبوت الزكاة في عروض التجارة بين أن يملك بعوض أو بغير عوض.

المطلب الرابع: لا فرق بين الدين الحال والمؤجل في الزكاة.

المطلب الخامس: لا فرق في زكاة صداق المرأة بين كون القبض قبل الدخول أو بعده.

المبحث الثاني: المسائل التي قيل فيها لا فرق عند الحنابلة في الصيام، وفيه أربعة مطالب:

المطلب الأوّل: لا فرق بين قليل القيء وكثيره.

المطلب الثاني: لا فرق في وجوب كفارة الوطء على الصائم بين كون الفرج قبلًا أو دبرًا، من ذكر أو أنثى.

المطلب الثالث: لا فرق في مشروعية صيام ستة أيام من شوال بين كونها متتابعة أو متفرقة.

المطلب الرابع: لا فرق في اعتكاف المكاتب بغير إذن سيده بين كونه واجبًا أو غير واجب.

الفصل الرابع: المسائل التي قيل فيها لا فرق عند الحنابلة في الحج، والجهاد، وفيه مبحثان:

المبحث الأوّل: المسائل التي قيل فيها لا فرق عند الحنابلة في الحج، وفيه سبعة عشر مطلبًا:
ষোড়শ অনুচ্ছেদ: ঈদের দিন ইমামের সালাম ফিরানোর আগে যে ব্যক্তি তাকবীর দিয়েছে, তার ছুটে যাওয়া নামাযের ধরণ এবং যার জুমুআ ছুটে গেছে তাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

তৃতীয় অধ্যায়: যাকাত ও রোযা সংক্রান্ত মাসয়ালাসমূহ যাতে হাম্বলী মাযহাব মতে কোনো পার্থক্য নেই বলা হয়েছে, এবং এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে।

প্রথম পরিচ্ছেদ: যাকাত সংক্রান্ত মাসয়ালাসমূহ যাতে হাম্বলী মাযহাব মতে কোনো পার্থক্য নেই বলা হয়েছে, এবং এতে পাঁচটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: যাকাত যদি অগ্রিম গ্রহণ করার পর তা ইমামের হাতে থাকাবস্থায় বিনষ্ট হয়, তবে তার যিম্মাদারীর ক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য নেই, চাই সম্পদের মালিক বা অভাবী ব্যক্তিরা তা চেয়ে থাকুক অথবা কেউ না চেয়ে থাকুক।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: বৈধ অলঙ্কারের যাকাতের ক্ষেত্রে তা কোনো পুরুষের মালিকানাধীন হোক বা নারীর, তাতে কোনো পার্থক্য নেই।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: ব্যবসায়িক পণ্যের যাকাত সাব্যস্ত হওয়ার ক্ষেত্রে তা বিনিময়ের মাধ্যমে অর্জিত হোক বা বিনিময়হীনভাবে, তাতে কোনো পার্থক্য নেই।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: যাকাতের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক পরিশোধযোগ্য ঋণ এবং মেয়াদী ঋণের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

পঞ্চম অনুচ্ছেদ: নারীর মোহরানার যাকাতের ক্ষেত্রে তা সহবাসের পূর্বে হস্তগত হোক বা পরে, তাতে কোনো পার্থক্য নেই।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: রোযা সংক্রান্ত মাসয়ালাসমূহ যাতে হাম্বলী মাযহাব মতে কোনো পার্থক্য নেই বলা হয়েছে, এবং এতে চারটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: অল্প বমি এবং অধিক বমির মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: রোযাদারের সহবাসের কারণে কাফফারা ওয়াজিব হওয়ার ক্ষেত্রে যৌনাঙ্গ সামনের হোক বা পেছনের, পুরুষ হোক বা নারী, তাতে কোনো পার্থক্য নেই।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: শাওয়ালের ছয় রোযা শরীয়তসম্মত হওয়ার ক্ষেত্রে তা লাগাতার রাখা হোক বা বিচ্ছিন্নভাবে, তাতে কোনো পার্থক্য নেই।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: মুকাতাব দাসের তার মনিবের অনুমতি ছাড়া ইতিকাফ করার ক্ষেত্রে তা ওয়াজিব হোক বা নফল, তাতে কোনো পার্থক্য নেই।

চতুর্থ অধ্যায়: হজ্জ ও জিহাদ সংক্রান্ত মাসয়ালাসমূহ যাতে হাম্বলী মাযহাব মতে কোনো পার্থক্য নেই বলা হয়েছে, এবং এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: হজ্জ সংক্রান্ত মাসয়ালাসমূহ যাতে হাম্বলী মাযহাব মতে কোনো পার্থক্য নেই বলা হয়েছে, এবং এতে সতেরোটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল্লাতী কীলা ফীহা লা ফারকা ইনদাল হানাবিলাতি ফিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: ১২)
المطلب الأوّل: لا فرق بين قاطني مكة وغيرهم ممن هو بها في الإهلال بالحج أو العمرة من مكة.

المطلب الثاني: لا فرق في تطيب من أراد الإحرام بين ما يبقى عينه من الطيب، أو أثره.

المطلب الثالث: لا فرق بين قتل القمل، أو إزالته بإلقائه على الأرض، أو بالزئبق.

المطلب الرابع: لا فرق في وجوب الفدية بين حلق الشعر أو إزالته بالنورة، أو قصه أو غير ذلك.

المطلب الخامس: لا فرق في وجوب الفدية بين العامد والمخطئ، ومن له عذر ومن لا عذر له.

المطلب السادس: لا فرق في فساد الحج بالجماع بين أن يكون الوطء في القبل أو الدبر من آدمي أو بهيمة.

المطلب السابع: الوطء قبل رمي جمرة العقبة يفسد الحج، لا فرق بين ما قبل الوقوف وبعده.

المطلب الثامن: لا فرق بين من حلق ومن لم يحلق، في عدم إفساد حجه بالوطء بعد الرمي.

المطلب التاسع: لا فرق في ضمان الصيد بالدلالة والإشارة بين كون الدال في الحل أو الحرم.

المطلب العاشر: لا فرق بين الحصر العام في حق الحاج وبين الخاص في حق شخص واحد.

المطلب الحادي عشر: لا فرق في جواز تأخير الحلق والتقصير إلى آخر النحر بين القليل والكثير، والعامد والساهي.

المطلب الثاني عشر: لا فرق في رمي جمرة العقبة يوم النحر بين الرمي بعد الفجر وبعد طلوع الشمس.

المطلب الثالث عشر: لا فرق في ترك المبيت بمنى بين ليلة وأكثر.

المطلب الرابع عشر: لا فرقَ في تأخير المتمتع صيام الثلاثة أيام في الحج عن يوم النحر، بين تأخيرها لعذر أو لغيره.
প্রথম বিষয়: মক্কায় বসবাসকারী এবং যারা সেখানে অবস্থান করছেন তাদের মধ্যে মক্কা থেকে হজ্জ বা উমরার ইহরাম বাঁধার ক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য নেই।

দ্বিতীয় বিষয়: যিনি ইহরাম করতে চান তার সুগন্ধি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সুগন্ধির মূল অংশ অবশিষ্ট থাকা বা কেবল তার চিহ্ন অবশিষ্ট থাকার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

তৃতীয় বিষয়: উকুন হত্যা করা, অথবা তা মাটিতে ফেলে দিয়ে অপসারণ করা, কিংবা পারদ ব্যবহারের মাধ্যমে তা দূর করার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

চতুর্থ বিষয়: চুল মুণ্ডন করা, নূরা দিয়ে তা দূর করা, অথবা তা ছাঁটা বা অন্য কোনো উপায়ে অপসারণের মাধ্যমে ফিদইয়া ওয়াজিব হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য নেই।

পঞ্চম বিষয়: ফিদইয়া ওয়াজিব হওয়ার ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃতকারী ও ভুলকারী এবং যার ওজর আছে আর যার ওজর নেই, তাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

ষষ্ঠ বিষয়: সহবাসের মাধ্যমে হজ্জ বাতিল হওয়ার ক্ষেত্রে মিলনটি মানুষের সাথে হোক বা পশুর সাথে, কিংবা তা সামনের পথে হোক বা পিছনের পথে, কোনো পার্থক্য নেই।

সপ্তম বিষয়: জামরাতুল আকাবায় পাথর নিক্ষেপের পূর্বে সহবাস হজ্জকে বাতিল করে দেয়; এক্ষেত্রে উকুফ (আরাফায় অবস্থান)-এর পূর্বের বা পরের সময়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

অষ্টম বিষয়: পাথর নিক্ষেপের পর সহবাসের ফলে হজ্জ বাতিল না হওয়ার ক্ষেত্রে, যিনি মাথা মুণ্ডন করেছেন এবং যিনি করেননি তাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

নবম বিষয়: ইশারা বা পথপ্রদর্শনের মাধ্যমে শিকারের ক্ষতিপূরণ আবশ্যক হওয়ার ক্ষেত্রে পথপ্রদর্শনকারী ব্যক্তি হিল (হারামের বাইরের এলাকা) অথবা হারামের ভেতরে থাকার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

দশম বিষয়: হাজীর ক্ষেত্রে সাধারণ প্রতিবন্ধকতা এবং কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে বিশেষ প্রতিবন্ধকতার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

একাদশ বিষয়: কুরবানির শেষ সময় পর্যন্ত মাথা মুণ্ডন বা চুল ছোট করা বিলম্বিত করার বৈধতার ক্ষেত্রে সময়ের পরিমাণ অল্প বা বেশি হওয়া এবং ইচ্ছাকৃতকারী বা ভুলকারীর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

দ্বাদশ বিষয়: কুরবানির দিনে জামরাতুল আকাবায় পাথর নিক্ষেপের ক্ষেত্রে সুবহে সাদেকের পর এবং সূর্যোদয়ের পর পাথর নিক্ষেপের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

ত্রয়োদশ বিষয়: মিনায় রাত্রিযাপন বর্জন করার ক্ষেত্রে এক রাত বা তার অধিক সময়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

চতুর্দশ বিষয়: তামাত্তু হজ্জ পালনকারীর হজ্জের তিন দিনের রোজা কুরবানির দিন থেকে বিলম্বিত করার ক্ষেত্রে, তা কোনো ওজরের কারণে হোক বা ওজর ব্যতীত হোক, কোনো পার্থক্য নেই।
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল্লাতী কীলা ফীহা লা ফারকা ইনদাল হানাবিলাতি ফিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: ১৩)
المطلب الخامس عشر: لا فرق في وجوب الهدي على من فاته الوقوف بعرفة بين كونه ساق الهدي أو لا.

المطلب السادس عشر: لا فرق في ولد الهدية بين ما عينه ابتداء وبين ما عينه بدلا عن الواجب في ذمته.

المطلب السابع عشر: لا فرق في وقت الذبح للأضحية بين أهل المصر وغيرهم.

المبحث الثاني: المسائل التي قيل فيها لا فرق عند الحنابلة في الجهاد، وفيه ثلاثة مطالب:

المطلب الأوّل: لا فرق في عدم قبول الجزية ممن تهود أو تنصر، بين من دخل في دينهم قبل تبديل كتابهم، أو بعده.

المطلب الثاني: لا فرق في أخذ الجزية ممن ولد بين كتابيين ومن ولد بين كتابي ووثني.

المطلب الثالث: لا فرق في أخذ الجزية من أهل الكتاب بين كونهم عجما أو عربا.

الخاتمة.

الفهارس، وتشتمل على:

فهرس الآيات القرآنية.

فهرس الأحاديث.

فهرس الآثار.

فهرس الأعلام.

فهرس الكلمات الغريبة.

فهرس المصادر والمراجع.

فهرس الموضوعات.
পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ: আরাফায় অবস্থান (উকুফ) করতে না পারার কারণে হাদি ওয়াজিব হওয়ার ক্ষেত্রে সেই ব্যক্তি হাদি সাথে করে নিয়ে আসুক বা না আসুক—উভয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

ষোড়শ পরিচ্ছেদ: হাদির বাচ্চার হুকুমের ক্ষেত্রে সেটি শুরুতেই (নফল হিসেবে) নির্দিষ্ট করা পশু হোক কিংবা নিজের জিম্মায় থাকা ওয়াজিবের পরিবর্তে নির্দিষ্ট করা পশু হোক—উভয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

সপ্তদশ পরিচ্ছেদ: কুরবানি জবেহ করার সময়ের ক্ষেত্রে শহরবাসী এবং অন্যদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

দ্বিতীয় অধ্যায়: জিহাদ বিষয়ে হাম্বলি মাজহাব মতে যে সকল মাসআলায় 'কোনো পার্থক্য নেই' বলা হয়েছে, এবং এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: যারা ইহুদি বা খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করেছে তাদের নিকট থেকে জিযয়া গ্রহণ না করার ক্ষেত্রে তারা তাদের কিতাব বিকৃত হওয়ার আগে সেই ধর্মে প্রবেশ করুক বা পরে—উভয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: জিযয়া গ্রহণের ক্ষেত্রে যাদের জন্ম পিতা-মাতা উভয় কিতাবীর ঘরে হয়েছে এবং যাদের জন্ম একজন কিতাবী ও একজন মূর্তিপূজকের ঘরে হয়েছে—উভয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: আহলে কিতাবদের নিকট থেকে জিযয়া গ্রহণের ক্ষেত্রে তারা অনারব হোক বা আরব—উভয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

উপসংহার।

নির্ঘণ্টসমূহ, যা নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে:

কুরআনের আয়াতের নির্ঘণ্ট।

হাদিসের নির্ঘণ্ট।

আসার (সাহাবী ও তাবিঈদের বাণী)-এর নির্ঘণ্ট।

ব্যক্তিবর্গের নামের নির্ঘণ্ট।

দুষ্পাচ্য শব্দাবলির নির্ঘণ্ট।

তথ্যসূত্র ও সহায়ক গ্রন্থাবলির নির্ঘণ্ট।

বিষয়সূচি।
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল্লাতী কীলা ফীহা লা ফারকা ইনদাল হানাবিলাতি ফিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌شكر وتقدير

وبعد، فهذا جهدٌ بشري؛ وقد أبى الله العصمة إلا لكتابه؛ فلا أدّعي الكمال لكن حسبي أني بذلت وسعي؛ وأرجو أن أكون قد أسهمت في هذا البحث بشيء من جهد المقلّ.

وأخيرًا، فإني أحمد الله عز وجل وأشكره وأثني عليه بما يليق بجلاله وعظمته على ما منّ به من إتمام هذا البحث؛ وأسأله سبحانه القبول؛ وأن يجعله خالصًا لوجهه الكريم.

ثم أرفع أعلى مقامات الشكر والامتنان محاطة بلطيف البر والإحسان إلى مقام والديّ الكريمين على إحسانهما إليّ بتربيتي وتوجيهي لطريق العلم الشرعي وتقديمهما محض النصيحة وخالصها ودعواتهما المباركة، أسأل الله أن يرفع في العالمين ذكرهما؛ وأن يعلي في الجنان قدرهما ومقرّهما.

وأتوجه بأعطر الشكر وأعبقه لمن كان لها الفضل بعد الله تعالى في إخراج هذا البحث، والمشرفة عليه، الدكتورة: بدرية بنت صالح السياري؛ التي أفدت منها الأدب أولًا؛ ثم أفدت من توجيهاتها السديدة وملحوظاتها المفيدة التي أحاطتني بها في تواضع جمّ وخلق رفيع مع كثرة مشاغلها وتزاحم أعمالها؛ أسأل الله أن يجزيها عني خير الجزاء؛ ويثقل بما قدمت موازينها حين تلقاه.

ولا يفوتني أن أشكر كاتبتي الفاضلة: مروة كومان التي صاحبتني في كتابة هذه الرسالة بطول صبرٍ وحلمٍ وأمانة وحِرص، وكانت عيني التي أُبصرُ بها، فشكر الله لها بذلها وإعانتها وجزاها عني خيرًا.

والشكر بعد ذلك موصول لجامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية؛ ممثلة في هذه الكلية المباركة: كلية الشريعة، وأخص أصحاب الفضيلة أعضاء هيئة التدريس بقسم الفقه على ما لقيته منهم من توجيه وعون وسداد رأي.

والحمد لله في البدء؛ والحمد لله في الختام؛ والحمد لله على الدوام.

الحمد لله أولًا وآخرًا، وباطنًا وظاهرًا.

وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
কৃতজ্ঞতা স্বীকার

এরপর কথা হলো, এটি একটি মানবিক প্রচেষ্টা; আর আল্লাহ কেবল তাঁর কিতাবের জন্যই নির্ভুলতা নির্ধারণ করেছেন। তাই আমি পূর্ণতার দাবি করি না, তবে আমার জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে আমি আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি। আমি আশা করি এই গবেষণায় সামান্য সামর্থ্য অনুযায়ী কিছু অবদান রাখতে পেরেছি।

পরিশেষে, আমি মহান আল্লাহর প্রশংসা করছি, তাঁর কৃতজ্ঞতা আদায় করছি এবং তাঁর মাহাত্ম্য ও গাম্ভীর্যের উপযোগী গুণগান করছি—এই গবেষণা সম্পন্ন করার মাধ্যমে তিনি যে অনুগ্রহ করেছেন তার জন্য। আমি তাঁর কাছে এর কবুলিয়াত প্রার্থনা করছি এবং আবেদন করছি যেন তিনি এটিকে একান্তই তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন।

এরপর আমি গভীর কৃতজ্ঞতা ও বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করছি আমার সম্মানিত পিতামাতার প্রতি, তাঁদের অসীম অনুগ্রহ, সঠিক লালন-পালন এবং আমাকে শরয়ী ইলমের পথে পরিচালিত করার জন্য। তাঁরা আমাকে অকৃত্রিম ও খাঁটি উপদেশ এবং তাঁদের বরকতময় দোয়ার মাধ্যমে ধন্য করেছেন। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন উভয় জগতে তাঁদের স্মরণকে সমুন্নত করেন এবং জান্নাতে তাঁদের মর্যাদা ও অবস্থানকে উচ্চতর করেন।

মহান আল্লাহর পরে এই গবেষণাটি সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে যাঁর অবদান অনস্বীকার্য, সেই সম্মানিত তত্ত্বাবধায়ক ডক্টর বদরিয়্যাহ বিনতে সালেহ আস-সায়্যারী-এর প্রতি আমি সুগন্ধিময় ও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। আমি তাঁর কাছ থেকে প্রথমত শিষ্টাচার শিখেছি; এরপর তাঁর সঠিক দিকনির্দেশনা এবং অত্যন্ত উপকারী পর্যবেক্ষণসমূহ থেকে উপকৃত হয়েছি, যা তিনি তাঁর প্রবল ব্যস্ততা সত্ত্বেও অত্যন্ত বিনয় ও উন্নত চারিত্রিক মাধুর্যের সাথে আমাকে প্রদান করেছেন। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন তাকে আমার পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন এবং আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের দিন তাঁর এই কাজকে তাঁর আমলনামার পাল্লায় ভারী করে দেন।

আমার শ্রদ্ধেয় লেখিকা মারওয়া কুমান-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে ভুলছি না, যিনি অত্যন্ত ধৈর্য, সহনশীলতা, আমানতদারি ও একনিষ্ঠতার সাথে এই গবেষণাপত্রটি লেখার সময় আমার সঙ্গী ছিলেন। তিনি ছিলেন আমার সেই চোখ যার মাধ্যমে আমি দেখেছি। আল্লাহ তাঁর এই পরিশ্রম ও সহযোগিতার জন্য জাযা দান করুন এবং তাকে আমার পক্ষ থেকে কল্যাণ দান করুন।

অতঃপর ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, বিশেষ করে এই বরকতময় অনুষদ—শরীয়াহ অনুষদ এবং বিশেষভাবে ফিকহ বিভাগের সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দের প্রতি, তাঁদের মূল্যবান দিকনির্দেশনা, সহায়তা এবং সঠিক মতামতের জন্য।

শুরুতে সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, শেষেও সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং সর্বদা সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই জন্য।

শুরুতে ও শেষে এবং গোপনে ও প্রকাশ্যে আল্লাহরই প্রশংসা।

আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল্লাতী কীলা ফীহা লা ফারকা ইনদাল হানাবিলাতি ফিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌التمهيد:

حقيقة الفرق ونفي الفارق وحجية نفي الفارق وأهمية الفروق الفقهية

وفيه ثلاثة مباحث:

المبحث الأوّل: المراد بالفرق والألفاظ ذات الصلة.

المبحث الثاني: معنى نفي الفارق وحجيته.

المبحث الثالث: أهمية الفروق الفقهية.
উপক্রমণিকা:

পার্থক্যের স্বরূপ, পার্থক্য নাকচকরণ, পার্থক্য নাকচকরণের প্রামাণিকতা এবং ফিকহি পার্থক্যসমূহের গুরুত্ব

এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: পার্থক্যের উদ্দেশ্য এবং সংশ্লিষ্ট শব্দসমূহ।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: পার্থক্য নাকচকরণের অর্থ ও এর প্রামাণিকতা।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ফিকহি পার্থক্যসমূহের গুরুত্ব।
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল্লাতী কীলা ফীহা লা ফারকা ইনদাল হানাবিলাতি ফিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌المبحث الأوّل: المراد بالفرق والألفاظ ذات الصلة

وفيه مطلبان:

 

‌‌المطلب الأوّل: المراد بالفرق:

‌‌الفرق لغة:

"الفاء والراء والقاف أصل صحيح يدل على تمييز وتزييل بين شيئين"(1).

"الفرق: خلاف الجمع … وفارق الشيء مفارقة، وفراقًا: باينه"(2)، "وتفارق القوم وافترقوا، أي: فارق بعضهم بعضًا"(3)، ويراد به: الفصل بين الشيئين. وجمعه: فروق، ويقال: فرق له عن الشيء: بينه له(4)، وفرق لي هذا الأمر، إذا تبين ووضح(5).

 

‌‌الفرق اصطلاحًا:

عرف العلماء الفرق في الاصطلاح بعدة تعريفات، منها:

أنه: "إبداء معنى مناسب للحكم في إحدى الصورتين مفقود في الأخرى"(6).

نوقش هذا التعريف بأنه غير جامع؛ لأن فيه قصر للفارق في المناسبة في إحدى الصورتين دون

--------------------------------------------

(1) معجم مقاييس اللغة، لابن فارس (4/ 493).

(2) المحكم والمحيط الأعظم، لابن سيده، مادة: قرف (6/ 383 - 384).

(3) العين، الخليل بن أحمد، مادة: قرف (5/ 147).

(4) انظر: المحكم والمحيط الأعظم، لابن سيده، مادة: رفق (6/ 384).

(5) انظر: المغرب، المطرزي، مادة: فرق (358).

(6) شرح تنقيح الفصول، للقرافي (403).
প্রথম পরিচ্ছেদ: ফিরাক (পার্থক্য/উপদল) এর উদ্দেশ্য এবং সংশ্লিষ্ট শব্দসমূহ

এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

 

প্রথম অনুচ্ছেদ: ফিরাক এর উদ্দেশ্য:

আভিধানিক অর্থে ফিরাক:

"ফা, রা এবং কাফ একটি সহীহ মূল ভিত্তি যা দুটি বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য এবং পৃথকীকরণ নির্দেশ করে"(১)।

"ফিরাক: একত্রিত হওয়ার বিপরীত... এবং সে বিষয়টি থেকে পৃথক হয়েছে (মুফারা-কাহ) ও বিচ্ছিন্ন হয়েছে (ফিরা-ক): অর্থাৎ সে তা থেকে আলাদা হয়েছে"(২), "আর কওম বিচ্ছিন্ন হয়েছে, অর্থাৎ: তাদের একে অপর থেকে আলাদা হয়ে গেছে"(৩)। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: দুটি বিষয়ের মধ্যে ব্যবধান করা। এর বহুবচন হলো: ফুরূক। আর বলা হয়: 'ফারাকা লাহু আনিল শাই': অর্থাৎ সে তার জন্য বিষয়টি স্পষ্ট করেছে(৪)। আর 'ফারাকা লি হাযাল আমর' বলা হয় তখন, যখন তা প্রকাশিত ও স্পষ্ট হয়(৫)।

 

পারিভাষিক অর্থে ফিরাক:

বিদ্বানগণ পরিভাষায় ফিরাক-এর বেশ কিছু সংজ্ঞা দিয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে:

এটি হলো: "দুটি অবস্থার একটিতে বিধানের অনুকূল এমন একটি অর্থ প্রকাশ করা যা অন্যটিতে অনুপস্থিত"(৬)।

এই সংজ্ঞাটি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে যে এটি পূর্ণাঙ্গ নয়; কারণ এতে পার্থক্যকারী বিষয়টিকে কেবল একটি অবস্থার উপযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে...

--------------------------------------------

(১) মু'জামু মাকায়িসিল লুগাহ, ইবনু ফারিস (৪/ ৪৯৩)।

(২) আল-মুহকাম ওয়াল মুহিতুল আ'জম, ইবনু সীদাহ, মূলশব্দ: ক্ব-র-ফ (৬/ ৩৮৩ - ৩৮৪)।

(৩) আল-আইন, খলিল ইবনু আহমদ, মূলশব্দ: ক্ব-র-ফ (৫/ ১৪৭)।

(৪) দেখুন: আল-মুহকাম ওয়াল মুহিতুল আ'জম, ইবনু সীদাহ, মূলশব্দ: র-ফ-ক্ব (৬/ ৩৮৪)।

(৫) দেখুন: আল-মুগরিব, আল-মুতরজি, মূলশব্দ: ফ-র-ক্ব (৩৫৮)।

(৬) শারহু তানকীহিল ফুসুল, আল-কারাফী (৪০৩)।
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল্লাতী কীলা ফীহা লা ফারকা ইনদাল হানাবিলাতি ফিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: ১৭)
الأخرى، وفيه احتراز عن الفروق الفاسدة التي لا يعتد بها للتفريق بين الصورتين، أو المسألتين(1).

وعُرِّف أنه: "المعارضة المتضمنة لمخالفة الفرع الأصل في علة الحكم"(2).

نوقش هذا التعريف باقتصاره على ذكر الاختلاف بين الفرع والأصل دون بيان لنوعه(3).

وقيل هو: "إبداء خصوصية في الأصل هي شرط للوصف مع بيان انتفائها في الفرع أو بيان مانع من الحكم فيه مع انتفاء ذلك المانع في الأصل"(4).

نوقش أن الفرق في هذا التعريف راجع إلى إحدى المعارضتين، إما المعارضة في الأصل أو في الفرع، أو بالعكس، وعليه فإن التعريف لا يكون جامعًا(5).

وعُرِّف أيضًا أنه: "إبداء وصف في الأصل يصلح أن يكون علة مستقلة للحكم، أو جزء علته"(6).

نوقش أن هذا التعريف فيه قصر على إبداء الخصوصية في الأصل، ولم يتطرق إلى ما في الفرع من خصوصية تصلح أن تكون مانعًا من حكم العلة(7).

وبعد ذكر جملة من تعريفات العلماء بمصطلح الفرق يمكن تعريفه بأنه إبداء وصف في الأصل أو الفرع يناسب ما اختص به من الحكم، يفرق به بين الأصل والفرع.

سبب اختيار التعريف:

لكونه جامعًا مانعًا.

وبعد بيان حقيقة الفرق تحسن الإشارة إلى أن ما ذكرناه هو حقيقته عند الأصوليين؛ بينما هو عند الفقهاء عبارة عن "وجوه الاختلاف بين الفروع الفقهية التي يشبه بعضها بعضًا في الصورة، ولكنها تختلف فيما بينها في الأحكام"(8).

--------------------------------------------

(1) انظر: الفروق الفقهية والأصولية، يعقوب الباحسين (15).

(2) الكافية في الجدل، الجويني (69).

(3) انظر: الفروق الفقهية والأصولية (14 - 15).

(4) تيسير التحرير، بأمير بادشاه (4/ 148).

(5) انظر: الفرق الفقهية والأصولية (18 - 19).

(6) نهاية الوصول في دراية الأصول، صفي الدين الهندي (8/ 3469).

(7) انظر: الفروق الفقهية والأصولية (18).

(8) الفروق الفقهية والأصولية (13).
অন্যটি, এবং এর মধ্যে এমন ত্রুটিপূর্ণ পার্থক্যের বিরুদ্ধে সতর্কতা রয়েছে যা দুই অবস্থা বা দুই মাসআলার মধ্যে পার্থক্য করার ক্ষেত্রে ধর্তব্য নয়(১).

এটিকে এভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে যে: "এটি এমন এক বিরোধিতা যা হুকুমের কারণের (ইল্লাত) ক্ষেত্রে ফার’ (শাখা) এর আসলের (মূল) সাথে ভিন্নতাকে অন্তর্ভুক্ত করে"(২).

এই সংজ্ঞাটি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে যে, এতে শুধুমাত্র ফার’ এবং আসলের মধ্যে পার্থক্যের উল্লেখ করা হয়েছে, কিন্তু এর ধরন বর্ণনা করা হয়নি(৩).

এবং বলা হয়েছে এটি হলো: "আসলের মধ্যে এমন একটি বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করা যা গুণের (ওসফ) জন্য শর্ত, সাথে ফার’ এর মধ্যে তা অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি বর্ণনা করা; অথবা এতে (ফার’-এ) হুকুমের ক্ষেত্রে কোনো বাধার (মানে’) উল্লেখ করা, অথচ আসলের ক্ষেত্রে সেই বাধাটি অনুপস্থিত থাকা"(৪).

আলোচনা করা হয়েছে যে, এই সংজ্ঞায় পার্থক্যটি দুটি বিরোধিতার একটির দিকে ফিরে যায়; হয় আসলে বিরোধিতা অথবা ফার’-এ বিরোধিতা, অথবা এর বিপরীত। ফলস্বরূপ, সংজ্ঞাটি জামে’ (সার্বিক) হয় না(৫).

এটিকে এভাবেও সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে যে: "আসলে এমন একটি বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করা যা হুকুমের জন্য একটি স্বতন্ত্র কারণ হতে পারে বা হুকুমের কারণের অংশ হওয়ার যোগ্য"(৬).

আলোচনা করা হয়েছে যে, এই সংজ্ঞায় কেবল আসলের মধ্যে বৈশিষ্ট্য প্রকাশের ওপর সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে, আর ফার’-এর মধ্যে থাকা এমন কোনো বৈশিষ্ট্যের অবতারণা করা হয়নি যা ইল্লাত বা কারণের হুকুমের ক্ষেত্রে বাধা হতে পারে(৭).

আলেমদের পক্ষ থেকে 'ফারক' পরিভাষার একগুচ্ছ সংজ্ঞা উল্লেখ করার পর, একে এভাবে সংজ্ঞায়িত করা যেতে পারে যে, এটি হলো আসল বা ফার’-এর মধ্যে এমন বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করা যা সংশ্লিষ্ট হুকুমের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যার মাধ্যমে আসল ও ফার’-এর মধ্যে পার্থক্য করা হয়।

সংজ্ঞাটি নির্বাচনের কারণ:

এটি জামে’ (সার্বিক) ও মানে’ (বর্জনীয় বিষয়মুক্ত) হওয়ার কারণে।

ফারক-এর স্বরূপ স্পষ্ট করার পর এই বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করা ভালো যে, আমরা যা উল্লেখ করেছি তা হলো উসুলবিদদের নিকট এর স্বরূপ; পক্ষান্তরে ফকীহদের নিকট এটি হলো "ঐসব ফিকহি শাখা-মাসআলার মধ্যে পার্থক্যের দিকসমূহ যা বাহ্যিক আকৃতিতে একে অপরের সদৃশ, কিন্তু হুকুমের ক্ষেত্রে নিজেদের মধ্যে ভিন্ন"(৮).

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-ফুরুক আল-ফিকহিয়্যাহ ওয়াল উসুলিয়্যাহ, ইয়াকুব আল-বাহুসাইন (১৫)।

(২) আল-কাফিয়্যাহ ফিল জাদাল, আল-জুওয়াইনি (৬৯)।

(৩) দেখুন: আল-ফুরুক আল-ফিকহিয়্যাহ ওয়াল উসুলিয়্যাহ (১৪ - ১৫)।

(৪) তাইসিরুত তাহরির, আমির বাদশাহ (৪/ ১৪৮)।

(৫) দেখুন: আল-ফারক আল-ফিকহিয়্যাহ ওয়াল উসুলিয়্যাহ (১৮ - ১৯)।

(৬) নিহায়াতুল উসুল ফি দিরায়াতিল উসুল, সাফিউদ্দিন আল-হিন্দি (৮/ ৩৪৬৯)।

(৭) দেখুন: আল-ফুরুক আল-ফিকহিয়্যাহ ওয়াল উসুলিয়্যাহ (১৮)।

(৮) আল-ফুরুক আল-ফিকহিয়্যাহ ওয়াল উসুলিয়্যাহ (১৩)।
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল্লাতী কীলা ফীহা লা ফারকা ইনদাল হানাবিলাতি ফিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌المطلب الثاني: الألفاظ ذات الصلة:

- (سواء):

مصطلح (سواء) استخدمه العلماء كثيرًا في كتبهم، على اختلاف مذاهبهم.

ومعنى السواء: العدل، والنصفة(1)، وسواء الشئ: وسطه. قال تعالى: {فِي سَوَاءِ الْجَحِيمِ (55)}(2)، وهذا لا يساوي ذاك، أي: لا يعادله، وهما على سوية من هذا الأمر، أي: على سواء(3)، واستوى القوم في كذا، أي: أصبحوا سواسية فيه(4)، "وبنو فلان سواء وسواس، إذا استووا في خير أو شر. والسي: المثل"(5).

" سواء، وسوى، وسوى غير منون جاء في غير حديث، فالسواء ممدود، بمعنى: مثل، ومنه: {إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا سَوَاءٌ عَلَيْهِمْ أَأَنْذَرْتَهُمْ أَمْ لَمْ تُنْذِرْهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ (6)}(6) "(7).

ولكن على الرغم من الفرق بين سواء، ولا فرق من حيث اللغة، إلا أن الفقهاء الذين استخدموا مصطلح لا فرق يسوون بينه وبين لفظ سواء.

جاء في شرح مختصر الطحاوي: " … فكذلك القرعة في العبيد، هي بهذه المنزلة سواء، لا فرق بينهما"(8).

--------------------------------------------

(1) تهذيب اللغة، الأزهري، مادة: سوا (13/ 86).

(2) سورة الصافات، من الآية (55).

(3) الصحاح تاج اللغة وصحاح العربية، الجوهري (6/ 2384 - 2385).

(4) تهذيب اللغة، الأزهري، مادة: سوا (13/ 84).

(5) المخصص، لابن سيده (3/ 377).

(6) سورة البقرة، آية (6).

(7) مشارق الأنوار على صحاح الآثار، عياض (2/ 231).

(8) (8/ 334).
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সংশ্লিষ্ট শব্দাবলি:

- (সাওয়া):

'সাওয়া' পরিভাষাটি আলেমগণ তাদের গ্রন্থে বিভিন্ন মাযহাব নির্বিশেষে প্রচুর পরিমাণে ব্যবহার করেছেন।

আর সাওয়া-এর অর্থ হলো: ন্যায়বিচার ও সমতা। আর কোনো কিছুর সাওয়া মানে হলো তার মধ্যভাগ। মহান আল্লাহ বলেছেন: {জাহান্নামের মাঝখানে (৫৫)}। আর এটি সেটির সমান নয়, অর্থাৎ: এটি তার সমতুল্য নয়। তারা উভয়ই এই বিষয়ে সমপর্যায়ে রয়েছে, অর্থাৎ: সমান অবস্থানে। জনপদ কোনো বিষয়ে সমান হয়েছে, অর্থাৎ: তারা তাতে সমান হয়ে গিয়েছে। "আর অমুক গোত্রের সন্তানরা সাওয়া এবং সাওয়াস, যখন তারা কল্যাণ বা অকল্যাণে সমান হয়। আর সিয়্যি মানে হলো: সদৃশ।"

"সাওয়া, সুওয়া এবং তানউইনহীন সুওয়া একাধিক হাদীসে এসেছে। সাওয়া শব্দটি মামদুদ (দীর্ঘ স্বরবিশিষ্ট), যার অর্থ: সদৃশ বা মত। এর উদাহরণ হলো: {নিশ্চয় যারা কুফরি করেছে, আপনি তাদেরকে সতর্ক করুন বা না করুন, উভয়ই তাদের জন্য সমান, তারা ঈমান আনবে না (৬)}।"

তবে ভাষাগত দিক থেকে সাওয়া এবং 'লা ফারক্ব' (পার্থক্য নেই) এর মধ্যে পার্থক্য থাকলেও, যে সকল ফকিহ 'লা ফারক্ব' পরিভাষাটি ব্যবহার করেছেন, তারা একে সাওয়া শব্দের সমার্থক হিসেবে গণ্য করেন।

শারহু মুখতাসার আত-তহাবী-তে এসেছে: " ...অনুরূপভাবে দাসদের ক্ষেত্রে লটারিও এই পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত এবং সমান, এ দুয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।"

--------------------------------------------

(১) তাহযীবুল লুগাহ, আল-আযহারী, শব্দমূল: সাওয়া (১৩/ ৮৬)।

(২) সূরা আস-সাফফাত, আয়াত (৫৫) এর অংশ।

(৩) আস-সিহাহ তাজুল লুগাহ ওয়া সিহাহুল আরাবিয়্যাহ, আল-জাওহারী (৬/ ২৩৮৪ - ২৩৮৫)।

(৪) তাহযীবুল লুগাহ, আল-আযহারী, শব্দমূল: সাওয়া (১৩/ ৮৪)।

(৫) আল-মুখাসসাস, ইবনে সীদাহ (৩/ ৩৭৭)।

(৬) সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত (৬)।

(৭) মাশারিকুল আনোয়ার আলা সিহাহিল আসার, ইয়ায (২/ ২৩১)।

(৮) (৮/ ৩৩৪)।
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল্লাতী কীলা ফীহা লা ফারকা ইনদাল হানাবিলাতি ফিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: ১৯)
جاء في عيون الأدلة: " فإن قيل: على هذا أنه قد تقابل في الكفارة يقينان، … قيل: الأمران سواء لا فرق بينهما، … "(1).

جاء في التهذيب: " وعندنا: لا فرق بين أن يكون قيمته أقل أو أكثر، … وإن كان على البراءة- بر بكل حال، سواء كانت قيمته أقل من حقه أو أكثر"(2).

جاء في المغني: " أن تكون السهام متفقة والقيمة مختلفة، … ويفعل في إخراج السهام مثل الذي قبله سواء، لا فرق بينهما"(3).

ومن خلال النصوص السابقة يتبين لنا أن معنى لا فرق عند الفقهاء هو التسوية بين المسألتين، وعلى ذلك يكون الاتفاق بين أئمة المذاهب على أن مصطلح (لا فرق)، ومصطلح (سواء) لا فرق بينهما.

--------------------------------------------

(1) (2/ 645).

(2) (8/ 140).

(3) (10/ 109).
'উয়ুনুল আদিল্লাহ'-তে এসেছে: "যদি বলা হয়: এর ওপর ভিত্তি করে কাফফারার ক্ষেত্রে দুটি সুনিশ্চিত বিষয় মুখোমুখি হয়েছে, … বলা হয়: উভয় বিষয়ই সমান, এদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই, … "(১).

'আত-তাহজীব'-এ এসেছে: "আর আমাদের নিকট: মূল্য কম হোক বা বেশি হোক—এর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই, … আর যদি তা দায়মুক্তির ভিত্তিতে হয়, তবে সর্বাবস্থায় সে দায়মুক্ত হবে, চাই তার মূল্য তার পাওনার চেয়ে কম হোক বা বেশি"(২).

'আল-মুগনি'-তে এসেছে: "অংশগুলো অভিন্ন হওয়া এবং মূল্য ভিন্ন ভিন্ন হওয়া, … এবং অংশ বের করার ক্ষেত্রে পূর্বেরটির মতোই একইভাবে কাজ করা হবে, এদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই"(৩).

পূর্বোক্ত উদ্ধৃতিসমূহের মাধ্যমে আমাদের কাছে এটি স্পষ্ট হয় যে, ফকিহগণের নিকট 'কোনো পার্থক্য নেই' (লা ফারক) এর অর্থ হলো দুটি বিষয়ের মধ্যে সমতা বিধান করা। সেই হিসেবে মাযহাবের ইমামগণের মধ্যে এই ব্যাপারে ঐক্য রয়েছে যে, 'কোনো পার্থক্য নেই' পরিভাষা এবং 'সমান' (সাওয়া) পরিভাষা—এই দুটির মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

--------------------------------------------

(১) (২/ ৬৪৫)।

(২) (৮/ ১৪০)।

(৩) (১০/ ১০৯)।
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল্লাতী কীলা ফীহা লা ফারকা ইনদাল হানাবিলাতি ফিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌المبحث الثاني: معنى نفي الفارق وحجيته،

وفيه مطلبان:

 

‌‌المطلب الأوّل: معنى نفي الفارق.

عند تتبع مصطلح "نفي الفارق" في كتب أصول الفقه، فإننا نجد أن أكثرهم لا يعرِّفه بتعريف محدد، إما لوضوحه عندهم، أو لأنه يرد في بعض مباحث القياس.

وممن بين معناه اصطلاحًا ابن القيم رحمه الله بقوله: "هو أن لا يكون بين الصورتين فرقٌ مؤثر في الشرع"(1).

وذُكِر في المعجم أن: "نفي الفارق: أن يبين المجتهد أن الفرع لم يفارق الأصل إلا فيما لا يؤثِّر بما يلزم اشتراكهما في المؤثر".

"مثاله: أن يبين المجتهد أن الإسكار في الخمر لا يختلف عن الإسكار في المخدرات، وبالتالي فإن الإسكار ينبغي عده علة تحريم الخمر"(2).

من خلال التعريفات السابقة يتبين لنا أن نفي الفارق عمل يقوم به المجتهد، يتوصل به إلى إلحاق فرع لم يُنص على حكمه بأصل المنصوص أو مجمع على حُكْمه، والطريق لمثل هذا القياس نفي الفارق المؤثر بين الفرع والأصل، إذ يوجب هذا النفي اشتراكهما في الحكم الشرعي؛ لأن الشارع الحكيم لا يفرق بين المتماثلين، كما أنه لا يسوي بين المختلفين، ولا ينظر في هذا الإلحاق إلى الفارق غير المؤثر في الشرع؛ لأن وجوده كعدمه، ولهذا جاء في شرح مختصر الروضة في تعريف القياس في معنى الأصل: " هُوَ مَا لَا فَارِقَ فِيهِ بَيْنَ الْأَصْلِ وَالْفَرْعِ، أَوْ كَانَ بَيْنَهُمَا فَارِقٌ لَا أَثَرَ لَهُ "(3).

--------------------------------------------

(1) إعلام الموقعين، (1/ 290).

(2) معجم مصطلحات أصول الفقه، د. سانو ص (461 - 462).

(3) (3/ 439).
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: নাফিয়ে ফারিদ (পার্থক্য নাকচকরণ)-এর অর্থ ও এর প্রামাণিকতা,

এতে দুটি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে:

 

প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: নাফিয়ে ফারিদ-এর অর্থ।

উসূলে ফিকহের কিতাবসমূহে "নাফিয়ে ফারিদ" পরিভাষাটি অনুসন্ধান করলে দেখা যায় যে, তাদের অধিকাংশ একে কোনো সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞায় সংজ্ঞায়িত করেননি; হয় তাদের নিকট বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্ট হওয়ার কারণে, অথবা কিয়াসের কোনো কোনো আলোচনায় এটি অন্তর্ভুক্ত থাকার কারণে।

যারা এর পারিভাষিক অর্থ বর্ণনা করেছেন, তাদের মধ্যে ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) অন্যতম। তিনি বলেন: "এটি হলো এমন বিষয় যেখানে (তুলনাযোগ্য) দুটি সুরত বা বিষয়ের মধ্যে শরয়ি দৃষ্টিতে প্রভাব বিস্তারকারী কোনো পার্থক্য না থাকা"(১)।

অভিধানে উল্লেখ করা হয়েছে যে: "নাফিয়ে ফারিদ হলো: মুজতাহিদ কর্তৃক এটি স্পষ্ট করা যে, শাখা (ফারউ) মূল (আসল) থেকে কেবল এমন বিষয়েই ভিন্ন নয় যা কোনো প্রভাব ফেলে না, যার ফলে প্রভাব বিস্তারকারী বিষয়ে উভয়ের অংশীদার হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে।"

"এর উদাহরণ: মুজতাহিদ কর্তৃক এটি স্পষ্ট করা যে, মদের নেশা ও মাদকদ্রব্যের নেশার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই; ফলশ্রুতিতে নেশাকে মদের হারাম হওয়ার কারণ (ইল্লাত) হিসেবে গণ্য করা উচিত"(২)।

পূর্বোক্ত সংজ্ঞাসমূহ থেকে আমাদের নিকট স্পষ্ট হয় যে, নাফিয়ে ফারিদ হলো মুজতাহিদের একটি কর্ম, যার মাধ্যমে তিনি এমন একটি শাখাকে যার হুকুমের ব্যাপারে কোনো বর্ণনা আসেনি, তাকে এমন এক মূলের সাথে সংযুক্ত করেন যার হুকুম বর্ণিত বা ইজমাভুক্ত। আর এই প্রকার কিয়াসের পথ হলো শাখা ও মূলের মধ্যে প্রভাব বিস্তারকারী পার্থক্যের অপনোদন বা নাকচ করা; কেননা এই পার্থক্য নাকচকরণ তাদের উভয়ের ক্ষেত্রে একই শরয়ি হুকুম সাব্যস্ত করা আবশ্যক করে তোলে। কারণ প্রজ্ঞাবান শরীয়ত প্রণেতা দুটি সদৃশ বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য করেন না, যেমন তিনি দুটি ভিন্ন বিষয়ের মধ্যে সমতা বিধান করেন না। আর এই সংযুক্তকরণের ক্ষেত্রে শরয়িভাবে প্রভাবহীন পার্থক্যের দিকে লক্ষ্য করা হয় না; কারণ তার অস্তিত্ব ও অনস্তিত্ব সমান। এই কারণেই 'শারহু মুখতাসারির রওজা' গ্রন্থে আসলের সংজ্ঞায় কিয়াসের বর্ণনায় এসেছে: "তা হলো এমন বিষয় যেখানে আসল ও শাখার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই, অথবা যদি তাদের মধ্যে পার্থক্য থাকেও তবে তার কোনো প্রভাব নেই"(৩)।

--------------------------------------------

(১) ইলামুল মুয়াক্কিঈন, (১/ ২৯০)।

(২) মুজামু মুসতালাহাত উসূলিল ফিকহ, ড. সানু, পৃ. (৪৬১ - ৪৬২)।

(৩) (৩/ ৪৩৯)।
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল্লাতী কীলা ফীহা লা ফারকা ইনদাল হানাবিলাতি ফিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌المطلب الثاني: حجية نفي الفارق.

قبل بيان حجية نفي الفارق، يحسن التنبيه إلى أن العلماء لم يتفقوا على تسميته قياسًا، بل اختلفوا في ذلك، فمنهم من يسميه قياسًا، ومنهم من يسميه استدلالًا.

والسبب في ذلك: أن بعض العلماء لا يرى دخول نفي الفارق في القياس لمنافاته حقيقته(1).

ولكن جمهور الأصوليين(2) يدخلون نفي الفارق في القياس، ويعدونه قسما من أقسامه، فليس القياس عندهم مقتصرًا على قياس العلة، بل تدخل فيه أقسام أخرى.

وإن كان الجامع في نفي الفارق بين الفرع والأصل مجرد نفي الفارق، إلا أنه لا يخلو من وجود معنى يشتركان فيه.

وإن الفرق بين القياس بنفي الفارق و قياس العلة: أن نفي الفارق لم يصرح فيه بالعلة، وقياس العلة مصرح بها فيه(3).

وعدم التصريح بالعلة لا يُعد سببًا لإخراج نفي الفارق عن مسمى القياس، والله أعلم.

ومما يدل على حجية نفي الفارق بما يلي:

1 - أن القياس المعتبر شرعًا - وهو حجة عند أهل العلم - يشمل نفي الفارق، لأنه عبارة عن إلحاق فرع بأصل في الحكم لعدم وجود فارقٍ بينهما(4).

2 - اعتبر كثير من الأصوليين القياس بنفي الفارق أحد أقسام القياس، فلو لم يكن حجة لما

--------------------------------------------

(1) انظر: البحر المحيط، للزركشي (7/ 65 - 66)، شرح مختصر الروضة (3/ 353).

(2) انظر: المستصفى، للغزالي (1/ 307)، الإحكام للآمدي (4/ 4)، البحر المحيط، للزركشي (7/ 65)، التقرير والتحبير، لابن أمير حاج (1/ 287)، التحبير، للمرداوي (8/ 3742).

(3) الإحكام في أصول الأحكام (4/ 4).

(4) انظر: الرسالة (1/ 479، 512).
‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: পার্থক্যের অনুপস্থিতি বা অভিন্নতার (নাফিউল ফারিকে) প্রামাণিকতা।

পার্থক্য নাকচ বা অভিন্নতার প্রামাণিকতা বর্ণনার পূর্বে এই বিষয়ে সতর্ক করা সমীচীন যে, আলেমগণ একে 'কিয়াস' (সাদৃশ্যমূলক অনুমান) নামকরণের বিষয়ে একমত হননি, বরং এ নিয়ে তাঁরা মতভেদ করেছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ একে 'কিয়াস' নামে অভিহিত করেন, আবার কেউ একে 'ইস্তিদলাল' (দলিল দ্বারা প্রমাণ উপস্থাপন) বলেন।

এর কারণ হলো: কোনো কোনো আলেম 'নাফিউল ফারিকে'র বিষয়টিকে কিয়াসের অন্তর্ভুক্ত মনে করেন না, কারণ এটি কিয়াসের প্রকৃত রূপের পরিপন্থী।(১)

কিন্তু অধিকাংশ উসুলবিদ (নীতিশাস্ত্রবিদ)(২) পার্থক্যের অনুপস্থিতিকে কিয়াসের অন্তর্ভুক্ত করেন এবং একে কিয়াসের একটি প্রকার হিসেবে গণ্য করেন। তাঁদের নিকট কিয়াস কেবল 'কিয়াসুল ইল্লা'র (কারণভিত্তিক কিয়াস) মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর মধ্যে অন্যান্য প্রকারও অন্তর্ভুক্ত।

যদিও 'নাফিউল ফারিকে'র ক্ষেত্রে 'আসল' (মূল) ও 'ফারা'র (শাখা) মধ্যে সাধারণ যোগসূত্রটি কেবল পার্থক্যের অনুপস্থিতিই হয়, তবুও এটি এমন একটি অর্থের উপস্থিতি থেকে মুক্ত নয় যাতে উভয়ই অংশীদার।

আর পার্থক্য নাকচ ভিত্তিক কিয়াস এবং কারণভিত্তিক কিয়াসের (কিয়াসুল ইল্লা) মধ্যে পার্থক্য হলো: 'নাফিউল ফারিকে'র ক্ষেত্রে ইল্লা বা কারণটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় না, কিন্তু 'কিয়াসুল ইল্লা'য় তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে।(৩)

আর ইল্লা বা কারণটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ না থাকা 'নাফিউল ফারিক'কে কিয়াসের সংজ্ঞা থেকে বের করে দেওয়ার কারণ হিসেবে গণ্য হয় না। আর আল্লাহ্ই ভালো জানেন।

পার্থক্য নাকচ বা অভিন্নতার প্রামাণিকতার স্বপক্ষে দলিলসমূহ নিম্নরূপ:

১ - শরীয়তগতভাবে স্বীকৃত কিয়াস—যা জ্ঞানীদের নিকট একটি প্রমাণ—তা 'নাফিউল ফারিকে'র বিষয়টিকে অন্তর্ভুক্ত করে। কেননা এর অর্থ হলো বিধানের ক্ষেত্রে একটি শাখাকে মূলের সাথে সংযুক্ত করা, কারণ তাদের উভয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য বিদ্যমান নেই।(৪)

২ - অনেক উসুলবিদ পার্থক্য নাকচ ভিত্তিক কিয়াসকে কিয়াসের অন্যতম প্রকার হিসেবে গণ্য করেছেন, সুতরাং যদি এটি দলিল না হতো তবে তা...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-বাহরুল মুহিত, যারকাশী (৭/ ৬৫ - ৬৬), শারহু মুখতাসারি রওদাহ (৩/ ৩৫৩)।

(২) দেখুন: আল-মুসতাসফা, গাযালী (১/ ৩০৭), আল-ইহকাম, আমিদী (৪/ ৪), আল-বাহরুল মুহিত, যারকাশী (৭/ ৬৫), আত-তাকরীর ওয়াত-তাহবীর, ইবনু আমীর হাজ (১/ ২৮৭), আত-তাহবীর, মারদাওয়ী (৮/ ৩৭৪২)।

(৩) আল-ইহকাম ফি উসুলিল আহকাম (৪/ ৪)।

(৪) দেখুন: আর-রিসালাহ (১/ ৪৭৯, ৫১২)।
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল্লাতী কীলা ফীহা লা ফারকা ইনদাল হানাবিলাতি ফিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: ২২)
اعتبروه كذلك، وقد قِيسَ الحج على العمرة في الإحصار "وهو من الإلحاق بنفي الفارق وهو من أقوى الأقيسة"(1).

3 - اعتبر المحققون من أهل العلم كشيخ الإسلام ابن تيمية وتلميذه ابن القيم أن القياس بنفي الفارق من القياس الصحيح، ولاشك أن الصحيح هو الذي يُحتج به بخلاف الفاسد.

فقال شيخ الإسلام ابن تيمية: "والقياس الصحيح نوعان:

أحدهما: أن يعلم أنه لا فارق بين الفرع والأصل إلا فرقًا غير مؤثر في الشرع، … ثم قال: والنوع الثاني من القياس: أن ينصب على حكم لمعنى من المعاني، ويكون ذلك المعنى موجودًا في غيره، … فهذان النوعان كان الصحابة والتابعون لهم بإحسان يستعملونها، وهما من باب فهم مراد الشارع"(2).

وقال ابن القيم مبينًا دخول نفي الفارق في القياس الصحيح: "فالقياس الصحيح مثل أن تكون العلة التي عُلِّق بها الحكم في الأصل موجودة في الفرع من غير معارض في الفرع يمنع حكمها، ومثل هذا القياس لا تأتي الشريعة بخلافه قط، وكذلك القياس بإلغاء الفارق"(3).

من خلال ما سبق تتبين لنا حجية نفي الفارق ولزوم العمل به، " وليس المراد كل قياس، بل المراد القياسات التي يسوغ العمل بها والرجوع إليها، كالقياس الذي علته منصوصة، والقياس الذي قطع فيه بنفي الفارق"(4).

--------------------------------------------

(1) فتح الباري (4/ 8).

(2) مجموع الفتاوى (19/ 285 - 286).

(3) إعلام الموقعين (1/ 290).

(4) إرشاد الفحول (2/ 100).
তারা একে এভাবেই গণ্য করেছেন। আর ইহসার (প্রতিবন্ধকতা)-এর ক্ষেত্রে হজকে উমরার ওপর কিয়াস (অনুমান) করা হয়েছে "এবং এটি পার্থক্যের অনুপস্থিতি (নাফিয়ে ফারিগ)-এর মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিকরণের অন্তর্ভুক্ত, যা অন্যতম শক্তিশালী কিয়াস।"(১).

৩ - শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ এবং তাঁর ছাত্র ইবনুল কাইয়্যিমের মতো বিজ্ঞ গবেষক আলেমগণ পার্থক্যের অনুপস্থিতি (নাফিয়ে ফারিগ) ভিত্তিক কিয়াসকে সঠিক কিয়াস হিসেবে গণ্য করেছেন। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সঠিক কিয়াসই দলিল হিসেবে গ্রহণ করা হয়, ফাসিদ (ত্রুটিপূর্ণ) কিয়াসের বিপরীতে।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন: "সঠিক কিয়াস দুই প্রকার:

প্রথমটি: এটা নিশ্চিতভাবে জানা যে, মূল (আসল) এবং শাখা (ফারা)-এর মধ্যে এমন কোনো পার্থক্য নেই যা শরিয়তে প্রভাব বিস্তারকারী হতে পারে, … তারপর তিনি বলেন: এবং কিয়াসের দ্বিতীয় প্রকারটি হলো: কোনো একটি অর্থের ভিত্তিতে কোনো বিধান সাব্যস্ত হওয়া এবং সেই অর্থটি অন্যটির মধ্যেও বিদ্যমান থাকা, … এই দুই প্রকার কিয়াস সাহাবায়ে কিরাম এবং নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারী তাবিঈগণ ব্যবহার করতেন এবং এ দুটি বিধানদাতার (শারী’) উদ্দেশ্য বোঝার অন্তর্ভুক্ত।"(২).

ইবনুল কাইয়্যিম সঠিক কিয়াসের মধ্যে পার্থক্যের অনুপস্থিতি অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়টি বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন: "সঠিক কিয়াস হলো—যেমন মূলের যে কারণের (ইল্লত) ওপর বিধানটি নির্ভরশীল ছিল, তা শাখার মধ্যেও এমনভাবে বিদ্যমান থাকা যাতে শাখায় সেই বিধান প্রয়োগে বাধাদানকারী কোনো কিছু না থাকে। আর শরিয়ত কখনই এ জাতীয় কিয়াসের বিপরীত কিছু নিয়ে আসে না। অনুরূপভাবে পার্থক্যের বিলোপ ঘটানোর মাধ্যমে কিয়াসও এর অন্তর্ভুক্ত।"(৩).

উপরোক্ত আলোচনা থেকে আমাদের কাছে পার্থক্যের অনুপস্থিতির প্রামাণিকতা এবং এর ওপর আমল করার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়, "তবে এর দ্বারা সব ধরণের কিয়াস উদ্দেশ্য নয়, বরং সেই সকল কিয়াস উদ্দেশ্য যা অনুযায়ী আমল করা এবং যার দিকে প্রত্যাবর্তন করা বৈধ; যেমন যে কিয়াসের কারণ (ইল্লত) স্পষ্টভাবে বর্ণিত এবং যে কিয়াসে পার্থক্যের অনুপস্থিতি নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত।"(৪).

--------------------------------------------

(১) ফাতহুল বারী (৪/ ৮)।

(২) মাজমুউল ফাতাওয়া (১৯/ ২৮৫ - ২৮৬)।

(৩) ইলামুল মুওয়াক্কিঈন (১/ ২৯০)।

(৪) ইরশাদুল ফুহুল (২/ ১০০)।
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল্লাতী কীলা ফীহা লা ফারকা ইনদাল হানাবিলাতি ফিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌المبحث الثالث: أهمية الفروق الفقهية.

علم الفروق الفقهية من العلوم جليلة القدر، عظيمة الشأن، فإن لها فؤائد عدة، منها:

أولًا: الفروق الفقهية هي عمدة الفقه، فلا يكون الفقيه فقيهًا إلا إذا كان على علم بما اجتمع، وما افترق(1).

ثانيًا: الفروق الفقهية تمكن من الاطلاع على حقائق الفقه، ودقائقه، ومآخذه(2).

ثالثًا: علم الفروق الفقهية يوقف صاحبه على كيفية الجمع بين المتفق، والتفريق بين المختلف(3).

رابعًا: علم الفروق الفقهية يمكن الفقهاء من إزالة الشبهات التي أثيرت حول علم الفقه، ممن يريد أن يشوش على الناس دينهم، فيتهم الفقه الإسلامي بالتناقض بين أحكامه، فيأتي علم الفروق الفقهية ليوضح لهم أن الشريعة الإسلامية لا تجمع بين متفرق، ولا تفرق بين مجتمع، وكل ذلك لن يتأتى إلا بعلم الفروق الفقهية، الذي يوقفنا على الفروق المؤثرة وغير المؤثرة في الحكم.

خامسًا: علم الفروق الفقهية يمكن المجتهد من التبصُّر في دين الله -جل وعلا-، وكيفية استنباط الأحكام، وبه يأمن اللبس فيها(4).

سادسًا: الفروق الفقهية تساعد الفقيه على صحة القياس وإلحاق الفروع بالأصول، وذلك من خلال الكشف عن أوجه التشابه والاختلاف بين الصور(5).

سابعًا: الفروق الفقهية تشحذ الذهن، وتنشطه، وتنمي الذكاء(6).

--------------------------------------------

(1) انظر: علم الجدل في علم الجدل، نجم الدين الطوفي (71).

(2) انظر: الفروق، الجويني (1/ 25).

(3) مواهب الجليل، الحطاب (6/ 97).

(4) انظر: الفروق الفقهية والأصولية (30).

(5) انظر: الفروق الفقهية والأصولية (31).

(6) انظر: مطالع الدقائق في تحرير الجوامع والفوارق، الإسنوي (7).
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ফিকহী পার্থক্যের গুরুত্ব।

ফিকহী পার্থক্য সংক্রান্ত জ্ঞান অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ একটি শাস্ত্র, কারণ এর একাধিক উপকারিতা রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:

প্রথমত: ফিকহী পার্থক্যসমূহ হলো ফিকহ শাস্ত্রের মূল ভিত্তি। একজন ফকীহ ততক্ষণ পর্যন্ত প্রকৃত ফকীহ হতে পারেন না, যতক্ষণ না তিনি যা কিছু সদৃশ এবং যা কিছু ভিন্ন সে সম্পর্কে জ্ঞান রাখেন(১)।

দ্বিতীয়ত: ফিকহী পার্থক্যসমূহ ফিকহ শাস্ত্রের নিগূঢ় বাস্তবতা, সূক্ষ্ম বিষয়াবলি এবং এর উৎসসমূহ সম্পর্কে অবগত হওয়ার সুযোগ করে দেয়(২)।

তৃতীয়ত: ফিকহী পার্থক্য সংক্রান্ত জ্ঞান এর অধিকারীকে অভিন্ন বিষয়াবলির মধ্যে সমন্বয় সাধন এবং ভিন্ন বিষয়াবলির মধ্যে পার্থক্য নিরূপণের পদ্ধতি সম্পর্কে জ্ঞান দান করে(৩)।

চতুর্থত: ফিকহী পার্থক্য সংক্রান্ত জ্ঞান ফকীহগণকে ফিকহ শাস্ত্র সম্পর্কে উত্থাপিত সংশয়সমূহ নিরসনে সক্ষম করে তোলে, যা ওই সব লোক দ্বারা ছড়ানো হয় যারা মানুষের মধ্যে তাদের দ্বীন সম্পর্কে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে চায়। তারা ইসলামী ফিকহকে এর বিধিবিধানের মধ্যে স্ববিরোধিতার দায়ে অভিযুক্ত করে। তখন ফিকহী পার্থক্য সংক্রান্ত জ্ঞান তাদের কাছে এটি স্পষ্ট করে দেয় যে, ইসলামী শরীয়ত কোনো ভিন্ন বিষয়কে একত্র করে না এবং কোনো অভিন্ন বিষয়কে পৃথক করে না। আর এই সব কিছুই কেবল ফিকহী পার্থক্য সংক্রান্ত জ্ঞানের মাধ্যমেই অর্জন করা সম্ভব, যা আমাদেরকে বিধানের ক্ষেত্রে প্রভাবশালী এবং অপ্রভাবশালী পার্থক্যসমূহ সম্পর্কে অবগত করে।

পঞ্চমত: ফিকহী পার্থক্য সংক্রান্ত জ্ঞান মুজতাহিদকে মহান আল্লাহর দ্বীন —যিনি মহিমান্বিত ও উচ্চ— সম্পর্কে সূক্ষ্ম দৃষ্টি লাভে এবং বিধানসমূহ উদ্ভাবনের পদ্ধতি সম্পর্কে সক্ষম করে তোলে। এর মাধ্যমে তিনি বিধানের ক্ষেত্রে অস্পষ্টতা থেকে নিরাপদ থাকেন(৪)।

ষষ্ঠত: ফিকহী পার্থক্যসমূহ ফকীহকে সঠিক কিয়াস করতে এবং শাখা মাসআলাগুলোকে মূল নীতির সাথে সংযুক্ত করতে সাহায্য করে। এটি বিভিন্ন পরিস্থিতির মধ্যে সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্যের দিকগুলো উন্মোচনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়(৫)।

সপ্তমত: ফিকহী পার্থক্যসমূহ মেধাকে শাণিত করে, একে সচল রাখে এবং বুদ্ধিমত্তাকে বৃদ্ধি করে(৬)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আলমুল জাদাল ফী ইলমিল জাদাল, নাজমুদ্দীন আত-তুফী (৭১)।

(২) দেখুন: আল-ফুরুক, আল-জুওয়াইনী (১/ ২৫)।

(৩) মাওয়াহিবুল জলীল, আল-হাত্তাব (৬/ ৯৭)।

(৪) দেখুন: আল-ফুরুক আল-ফিকহিয়্যাহ ওয়াল উসুলিয়্যাহ (৩০)।

(৫) দেখুন: আল-ফুরুক আল-ফিকহিয়্যাহ ওয়াল উসুলিয়্যাহ (৩১)।

(৬) দেখুন: মাতালিউদ দাকাইক ফী তাহরীরিল জাওয়ামি ওয়াল ফাওয়ারিক, আল-ইসনাবী (৭)।
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল্লাতী কীলা ফীহা লা ফারকা ইনদাল হানাবিলাতি ফিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌الفصل الأوّل: المسائل التي قيل فيها لا فرق عند الحنابلة في الطهارة

وفيه ثلاثة مباحث:

المبحث الأوّل: المسائل التي قيل فيها لا فرق عند الحنابلة في المياه والآنية والاستنجاء.

المبحث الثاني: المسائل التي قيل فيها لا فرق عند الحنابلة في سنن الفطرة والوضوء والمسح على الخفين.

المبحث الثالث: المسائل التي قيل فيها لا فرق عند الحنابلة في الغسل، والتيمم، وإزالة النجاسة، والحيض.
প্রথম পরিচ্ছেদ: পবিত্রতা প্রসঙ্গে হাম্বলী মাযহাবে যে সকল মাসআলায় কোনো পার্থক্য নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে

এর মধ্যে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: পানি, পাত্র এবং ইসতিনজা প্রসঙ্গে হাম্বলী মাযহাবে যে সকল মাসআলায় কোনো পার্থক্য নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: সুন্নতে ফিতরাত, ওজু এবং মোজার উপর মাসেহ করা প্রসঙ্গে হাম্বলী মাযহাবে যে সকল মাসআলায় কোনো পার্থক্য নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: গোসল, তায়াম্মুম, নাপাকি দূরীকরণ এবং হায়েয প্রসঙ্গে হাম্বলী মাযহাবে যে সকল মাসআলায় কোনো পার্থক্য নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল্লাতী কীলা ফীহা লা ফারকা ইনদাল হানাবিলাতি ফিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌المبحث الأوّل: المسائل التي قيل فيها لا فرق عند الحنابلة

في المياه والآنية والاستنجاء،

وفيه ستة مطالب:

المطلب الأوّل: لا فرق في طهورية الماء الذي خالطه التراب بين وقوعه عن قصد أو غير قصد.

المطلب الثاني: لا فرق في التنجس بين يسير النجاسة وكثيرها.

المطلب الثالث: لا فرق بين البول القليل والكثير إذا وقع في البئر.

المطلب الرابع: لا فرق بين النجاسة من ولوغ الكلب، وبين نجاسة يده أو غير ذلك من أجزائه.

المطلب الخامس: لا فرق في طهارة شعر الحيوان بين حياته وموته.

المطلب السادس: لا فرق بين الحجر الكبير الذي له ثلاث شعب وبين ثلاثة أحجار في التطهير.
প্রথম পরিচ্ছেদ: সে সকল মাসআলা যেগুলোতে হাম্বলী মাযহাবে কোনো পার্থক্য নেই বলা হয়েছে

পানি, পাত্র এবং ইসতিনজা প্রসঙ্গে,

এবং এতে ছয়টি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: যে পানিতে মাটি মিশেছে, তার পবিত্রতা অর্জনকারী হওয়ার ক্ষেত্রে তা ইচ্ছাকৃতভাবে বা অনিচ্ছাকৃতভাবে পড়ার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: অপবিত্র হওয়ার ক্ষেত্রে সামান্য অপবিত্রতা এবং অধিক অপবিত্রতার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: কূপে সামান্য প্রস্রাব বা অধিক প্রস্রাব পড়ার ক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য নেই।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: কুকুরের মুখ দেওয়া জনিত অপবিত্রতা এবং তার পা বা শরীরের অন্যান্য অঙ্গের অপবিত্রতার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

পঞ্চম অনুচ্ছেদ: প্রাণীর পশম পবিত্র হওয়ার ক্ষেত্রে তার জীবিত অবস্থা ও মৃত অবস্থার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ: পবিত্রতা অর্জনের ক্ষেত্রে তিনটি কোণ বিশিষ্ট বড় পাথর এবং তিনটি ভিন্ন পাথরের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল্লাতী কীলা ফীহা লা ফারকা ইনদাল হানাবিলাতি ফিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌المطلب الأوّل: لا فرق في طهورية الماء الذي خالطه التراب بين وقوعه عن قصد أو غير قصد

‌‌صورة المسألة:

إذا قصد شخص مخالطة التراب بالماء هل يؤثر ذلك على طهورية الماء أم أن القصد وعدمه سواء في الحكم؟

جاء في المغني: "ما يوافق الماء في صفتيه الطهارة، والطهورية، كالتراب إذا غير الماء لا يمنع الطهورية؛ لأنه طاهر مطهر كالماء، فإن ثخن بحيث لا يجري على الأعضاء لم تجز الطهارة به؛ لأنه طين وليس بماء، ولا فرق في التراب بين وقوعه في الماء عن قصد أو غير قصد"(1).

سبب الإلحاق وعدم التفريق في المسألة:

اشتراك الماء والتراب في صفتي الطهارة والطهورية(2).

 

‌‌حكم المسألة:

1 - اتفق الفقهاء- رحمهم الله تعالى - على أن مخالطة التراب للماء بغير قصد لا تسلبه الطهورية(3).

2 - واختلفوا في تأثير قصد إلقاء التراب في الماء على طهوريته على قولين:

القول الأوّل:

قصد إلقاء التراب في الماء لا يسلبه الطهورية، وهو مذهب الحنفية(4)، والمالكية(5)،

--------------------------------------------

(1) (1/ 12).

(2) المغني، (1/ 12).

(3) انظر: البحر الرائق، لابن نجيم (1/ 71)، اللباب، للميداني (1/ 19)، عقد الجواهر، لابن شاس (1/ 10)، جامع الأمهات، لابن الحاجب (1/ 30)، روضة الطالبين (1/ 11)، الوسيط، للغزالي (1/ 134)، المغني (1/ 12)، الشرح الكبير، لأبي الفرج (1/ 40).

(4) انظر: بدائع الصنائع، للكاساني (1/ 15)، البحر الرائق (1/ 71)، اللباب، للميداني (1/ 19).

(5) انظر: عقد الجواهر (1/ 10)، جامع الأمهات (1/ 30)، التوضيح في شرح مختصر ابن الحاجب، للجندي (1/ 4).
প্রথম পরিচ্ছেদ: মাটি মিশ্রিত পানির পবিত্রতা বজায় থাকার ক্ষেত্রে তা ইচ্ছাকৃতভাবে হোক বা অনিচ্ছাকৃতভাবে হোক, তাতে কোনো পার্থক্য নেই

‌‌মাসআলার স্বরূপ:

যদি কোনো ব্যক্তি পানির সাথে মাটি মিশ্রিত করার ইচ্ছা পোষণ করে, তবে কি তা পানির পবিত্র করার ক্ষমতার (طهورية) ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে, নাকি বিধানের ক্ষেত্রে ইচ্ছা থাকা বা না থাকা উভয়ই সমান?

আল-মুগনীতে এসেছে: "যা দুটি গুণের ক্ষেত্রে পানির সাথে সাদৃশ্য রাখে—পবিত্র হওয়া এবং পবিত্র করার ক্ষমতা রাখা—যেমন মাটি; তা যদি পানিকে পরিবর্তিত করে ফেলে, তবে তা পবিত্র করার ক্ষমতাকে বাধাগ্রস্ত করে না। কারণ মাটি পানির মতোই পবিত্র এবং পবিত্র করার ক্ষমতাসম্পন্ন। তবে যদি মাটি মিশে পানি এত ঘন হয়ে যায় যে তা শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয় না, তবে তা দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করা বৈধ হবে না; কারণ তখন তা কাদায় পরিণত হয় এবং পানি থাকে না। আর মাটিতে মাটি পড়ার ক্ষেত্রে তা ইচ্ছাকৃতভাবে হোক বা অনিচ্ছাকৃতভাবে হোক, কোনো পার্থক্য নেই"(১)।

মাসআলাটির অন্তর্ভুক্তিকরণ এবং পার্থক্য না করার কারণ:

পানি ও মাটি উভয়েরই পবিত্র হওয়া এবং পবিত্র করার ক্ষমতার গুণে অংশীদার হওয়া(২)।

 

‌‌মাসআলার বিধান:

১ - ফকিহগণ—আল্লাহ তাআলা তাঁদের ওপর রহম করুন—এই বিষয়ে একমত যে, অনিচ্ছাকৃতভাবে পানির সাথে মাটি মিশে গেলে তা পানির পবিত্র করার ক্ষমতাকে নষ্ট করে না(৩)।

২ - আর পানিতে ইচ্ছাকৃতভাবে মাটি নিক্ষেপ করার ফলে তার পবিত্র করার ক্ষমতার ওপর কোনো প্রভাব পড়বে কি না, সে বিষয়ে তাঁরা দুটি মতে বিভক্ত হয়েছেন:

প্রথম মত:

পানিতে ইচ্ছাকৃতভাবে মাটি নিক্ষেপ করা তার পবিত্র করার ক্ষমতাকে ছিনিয়ে নেয় না। এটি হানাফি(৪) এবং মালিকি(৫) মাযহাবের অভিমত।

--------------------------------------------

(১) (১/ ১২)।

(২) আল-মুগনী, (১/ ১২)।

(৩) দেখুন: আল-বাহরুর রায়িক, ইবনে নুজাইম (১/ ৭১), আল-লুবাব, আল-মায়দানী (১/ ১৯), উকুদুল জাওয়াহির, ইবনে শাস (১/ ১০), জামিউল উম্মাহাত, ইবনুল হাজিব (১/ ৩০), রওদাতুত তালিবীন (১/ ১১), আল-ওয়াসীত, আল-গাযালী (১/ ১৩৪), আল-মুগনী (১/ ১২), আশ-শারহুল কাবীর, আবুল ফারাজ (১/ ৪০)।

(৪) দেখুন: বাদায়িউস সানায়ি, আল-কাসানী (১/ ১৫), আল-বাহরুর রায়িক (১/ ৭১), আল-লুবাব, আল-মায়দানী (১/ ১৯)।

(৫) দেখুন: উকুদুল জাওয়াহির (১/ ১০), জামিউল উম্মাহাত (১/ ৩০), আত-তাওদীহ ফী শারহি মুখতাসার ইবনিল হাজিব, আল-জুন্দী (১/ ৪)।
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল্লাতী কীলা ফীহা লা ফারকা ইনদাল হানাবিলাতি ফিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: ২৭)
والشافعية(1)، والحنابلة(2).

القول الثاني:

قصد إلقاء التراب في الماء يسلبه الطهورية، وهو قول عند المالكية(3)، ووجه عند الشافعية(4).

استدلَّ أصحاب القول الأوّل القائل – قصد إلقاء التراب في الماء لا يسلبه الطهورية- بما يلي:

الدليل الأوّل: التراب أحد الطهورين، فاختلاطه بالماء بقصد أو بغير قصد لا يؤثر في حكم الطهورية، فاختلاط التراب بالماء كاختلاط الماء بالماء(5).

نوقش:

التراب لا يوافق الماء في صفة الطهورية، وإنما عُلقت به إباحة للضرورة عند عدم الماء(6).

أجيب:

الصحيح تسمية التراب طهورًا(7)، قال الله تعالى: {وَلَكِنْ يُرِيدُ لِيُطَهِّرَكُمْ}(8).

الدليل الثاني: الماء المختلط بالتراب لم يزل عنه اسم الماء، كما أن معناه باقٍ، فهو ماء مطلق، والقصد أو عدمه لا أثر له في الحكم لأنه لم يغير في حقيقة الماء شيء، فلا اعتبار له(9).

--------------------------------------------

(1) انظر: الوسيط (1/ 134)، المجموع، للنووي (1/ 102)، روضة الطالبين (1/ 11).

(2) انظر: المغني (1/ 12)، الشرح الكبير، لأبي الفرج (1/ 40)، الإنصاف، للمرداوي (1/ 40).

(3) عقد الجواهر الثمينة (1/ 10)، جامع الأمهات (30).

(4) الوسيط (1/ 134)، روضة الطالبين (1/ 11).

(5) انظر: مطالب أولي النهى، للرحيباني (1/ 34).

(6) انظر: نهاية المطلب، للجويني (1/ 15).

(7) المجموع (1/ 102).

(8) سورة المائدة، من الآية (6).

(9) انظر: بدائع الصنائع، للكاساني (1/ 15).
এবং শাফেয়ীগণ(১) ও হাম্বলীগণ(২)।

দ্বিতীয় মত:

পানিতে মাটি নিক্ষেপের উদ্দেশ্য পানিকে পবিত্রকারী গুণ (তহুরিয়্যাত) থেকে বিচ্যুত করে; এটি মালিকী মাযহাবের একটি বর্ণনা(৩) এবং শাফেয়ী মাযহাবের একটি অভিমত(৪)।

প্রথম মতের অনুসারীগণ—যাঁরা বলেন পানিতে মাটি নিক্ষেপের উদ্দেশ্য পানিকে পবিত্রকারী গুণ থেকে বিচ্যুত করে না—তাঁরা নিম্নোক্ত বিষয়গুলো দ্বারা দলিল পেশ করেছেন:

প্রথম দলিল: মাটি হলো দুই পবিত্রকারী বস্তুর অন্যতম একটি। সুতরাং ইচ্ছাকৃতভাবে বা অনিচ্ছাকৃতভাবে পানির সাথে এর মিশ্রণ পবিত্রকারী গুণের বিধানে কোনো প্রভাব ফেলে না। অতএব, পানির সাথে মাটির মিশ্রণ পানির সাথে পানি মিশ্রিত হওয়ার মতোই(৫)।

পর্যালোচনা:

মাটি পবিত্রকারী গুণের ক্ষেত্রে পানির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়; বরং পানির অনুপস্থিতিতে নিরুপায় অবস্থার কারণে এর দ্বারা পবিত্রতা অর্জনের বৈধতা সম্পৃক্ত করা হয়েছে মাত্র(৬)।

উত্তর:

সঠিক মত হলো মাটিকে 'তহুর' (পবিত্রকারী) নামকরণ করা(৭)। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {কিন্তু তিনি তোমাদের পবিত্র করতে চান}(৮)।

দ্বিতীয় দলিল: মাটি মিশ্রিত পানি থেকে 'পানি' নাম বিলুপ্ত হয়ে যায়নি, যেমনটি এর অর্থও বিদ্যমান রয়েছে। অতএব এটি সাধারণ পানি (মা-এ মুতলাক)। আর মাটি নিক্ষেপের উদ্দেশ্য থাকা বা না থাকার কোনো প্রভাব এই বিধানের ওপর নেই, কারণ এটি পানির প্রকৃত সত্তায় কোনো পরিবর্তন আনেনি। সুতরাং এর কোনো ধর্তব্য নেই(৯)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-ওয়াসীত (১/ ১৩৪), আল-মাজমু, নববী কৃত (১/ ১০২), রওজাতুত তালিবীন (১/ ১১)।

(২) দেখুন: আল-মুগনী (১/ ১২), আশ-শারহুল কাবীর, আবুল ফরাজ কৃত (১/ ৪০), আল-ইনসাফ, মারদাওয়ী কৃত (১/ ৪০)।

(৩) আকদুল জাওয়াহিরিস সামীনাহ (১/ ১০), জামিউল উম্মাহাত (৩০)।

(৪) আল-ওয়াসীত (১/ ১৩৪), রওজাতুত তালিবীন (১/ ১১)।

(৫) দেখুন: মাতালিবু উলিন নুহা, রুহাইবানী কৃত (১/ ৩৪)।

(৬) দেখুন: নিহায়াতুল মাতলাব, জুওয়াইনী কৃত (১/ ১৫)।

(৭) আল-মাজমু (১/ ১০২)।

(৮) সূরা আল-মায়েদাহ, আয়াতের অংশ (৬)।

(৯) দেখুন: বাদায়েউস সানায়ে, কাসানী কৃত (১/ ১৫)।
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল্লাতী কীলা ফীহা লা ফারকা ইনদাল হানাবিলাতি ফিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: ২৮)
الدليل الثالث: تغير الماء بالتراب فيه من الضرورة الظاهرة التي يتعذر معها صون الماء عن ذلك، فلا يؤثر على طهوريته، سواء كان بقصد أو بغير قصد(1).

الدليل الرابع: كان السلف الصالح إذا رأوا ماء متغيرا بالتراب، لم يبحثوا عن سبب التغير لأن المتقرر عندهم الحكم بطهوريته(2).

واستدلَّ أصحاب القول الثاني القائل – قصد إلقاء التراب في الماء يسلبه الطهورية- بما يلي:

الدليل الأوّل: ما اختلط بغير قصد حكم بطهوريته للضرورة وهي الحرج ومشقة الصون، وهذا بخلاف ما قصد فيه المخالطة(3).

يمكن أن يناقش الاستدلال:

لا أثر للقصد وعدمه في الحكم، وإنما المعتبر هو بقاء حقيقة الماء.

الدليل الثاني: القياس على المطعومات، فكما لو ألقي الطعام في الماء أثر في طهوريته فكذلك إذا ألقي التراب في الماء(4).

نوقش:

التراب ليس من جنس الطعام، فلا يأخذ حكمه(5).

الدليل الثالث: الماء الذي خالطه تراب عن قصد ليس بطهور، لإمكان صونه عنه، وقد خرج عن تسميته ماء بهذه المخالطة وإن لم يستجد له اسمًا منفردًا، وإنما حكم بطهورية الماء الذي خالطه

--------------------------------------------

(1) انظر: المرجع السابق (1/ 15).

(2) الوسيط (1/ 134).

(3) انظر: الذخيرة، للقرافي (1/ 170).

(4) انظر: التوضيح لابن الحاجب، للجندي (1/ 6)، مواهب الجليل (1/ 57).

(5) انظر: شرح مختصر خليل، للخرشي (1/ 65).
তৃতীয় দলিল: মাটির দ্বারা পানির পরিবর্তন এমন একটি প্রকাশ্য অপরিহার্যতা, যার ফলে পানিকে তা থেকে রক্ষা করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। সুতরাং এটি পানির পবিত্রতার ওপর প্রভাব ফেলে না, তা ইচ্ছাকৃত হোক বা অনিচ্ছাকৃত হোক(১)।

চতুর্থ দলিল: সালাফে সালেহীন যখন মাটির দ্বারা পরিবর্তিত কোনো পানি দেখতেন, তখন তারা পরিবর্তনের কারণ অনুসন্ধান করতেন না। কারণ তাঁদের নিকট এর পবিত্রতার বিধানটি সুপ্রতিষ্ঠিত ছিল(২)।

দ্বিতীয় মতের প্রবক্তাগণ—যাঁরা বলেন যে, পানিতে মাটি নিক্ষেপ করার ইচ্ছা পানির পবিত্রতা ছিনিয়ে নেয়—তাঁরা নিম্নোক্ত বিষয়গুলো দ্বারা দলিল পেশ করেছেন:

প্রথম দলিল: যা অনিচ্ছাকৃতভাবে মিশে যায়, তাকে প্রয়োজনের খাতিরে পবিত্র বলে গণ্য করা হয়, আর তা হলো সংকীর্ণতা এবং রক্ষা করার কষ্টসাধ্যতা। এটি সেই বিষয়ের বিপরীত যেখানে ইচ্ছাকৃতভাবে মিশ্রণ ঘটানো হয়েছে(৩)।

এই দলিলের ব্যাপারে আলোচনা হতে পারে যে:

বিধানের ক্ষেত্রে ইচ্ছা থাকা বা না থাকার কোনো প্রভাব নেই, বরং পানির প্রকৃত সত্তা অবশিষ্ট থাকাটাই এখানে মূল ধর্তব্য বিষয়।

দ্বিতীয় দলিল: খাদ্যদ্রব্যের ওপর কিয়াস বা তুলনা করা। যেমন পানিতে খাবার নিক্ষেপ করলে তা এর পবিত্রতার ওপর প্রভাব ফেলে, তেমনি পানিতে মাটি নিক্ষেপ করলেও তা প্রভাব ফেলবে(৪)।

জবাব বা আলোচনা:

মাটি খাদ্যদ্রব্যের জাতীয় কোনো বস্তু নয়, তাই এটি তার বিধান গ্রহণ করবে না(৫)।

তৃতীয় দলিল: যে পানির সাথে ইচ্ছাকৃতভাবে মাটি মেশানো হয়েছে তা পবিত্রকারী নয়; কারণ তা থেকে পানিকে রক্ষা করা সম্ভব ছিল। এই মিশ্রণের ফলে এটি 'পানি' নাম থেকে বের হয়ে গেছে, যদিও এর জন্য নতুন কোনো স্বতন্ত্র নাম তৈরি হয়নি। আর যে পানির সাথে মিশ্রণ ঘটেছে তার পবিত্রতার বিধান কেবল তখনই দেওয়া হয়...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: পূর্বোক্ত উৎস (১/ ১৫)।

(২) আল-ওয়াসিত (১/ ১৩৪)।

(৩) দেখুন: আয-যাখিরাহ, আল-কারাফি কৃত (১/ ১৭০)।

(৪) দেখুন: আত-তাওদিহ লি ইবনিল হাজিব, আল-জুনদি কৃত (১/ ৬), মাওয়াহিবুল জালিল (১/ ৫৭)।

(৫) দেখুন: শারহু মুখতাসারি খলিল, আল-খারশি কৃত (১/ ৬৫)।
(খণ্ড: ১) আল-মাসায়িলুল্লাতী কীলা ফীহা লা ফারকা ইনদাল হানাবিলাতি ফিল ইবাদাত (পৃষ্ঠা: ২৯)
التراب بغير قصد للضرورة والحرج ومشقة الصون(1).

نوقش:

ليس بصحيح، لأن الماء الذي خالطه التراب عن قصد يصدق عليه اسم الماء وهو باق على حقيقته(2) كالماء الذي خالطه التراب عن غير قصد، فلا أثر للقصد وعدمه في الحكم، وإنما المعتبر هو بقاء حقيقة الماء.

 

‌‌الترجيح:

بعد عرض الأقوال وأدلتها يظهر أن الراجح في المسألة -والله أعلم- هو القول الأوّل القائل: قصد إلقاء التراب في الماء لا يسلبه الطهورية، وذلك لقوة ما علل به أصحاب هذا القول وسلامتها من المناقشة، وضعف تعليلات المخالفين لما ورد عليها من مناقشات، ولأن الاحتراز عن التراب فيه مشقة، والقاعدة أن "المشقة تجلب التيسير"(3).

--------------------------------------------

(1) انظر: الذخيرة (1/ 170)، الفروع (1/ 82)، الإنصاف (1/ 98).

(2) انظر: الوسيط (1/ 134).

(3) الأشباه والنظائر، للسبكي (1/ 453)، التحبير شرح التحرير، للمرداوي (8/ 3847).
জরুরত, সংকীর্ণতা এবং তা থেকে রক্ষা পাওয়ার কষ্টের কারণে অনিচ্ছাকৃতভাবে মাটির মিশ্রণ ঘটে যাওয়া(১)।

পর্যালোচনা করা হয়েছে:

এটি সঠিক নয়; কারণ উদ্দেশ্যমূলকভাবে মাটির মিশ্রণ ঘটেছে এমন পানির ক্ষেত্রেও 'পানি' শব্দটি সত্য বলে গণ্য হয় এবং তা তার প্রকৃত সত্তার ওপরই অবশিষ্ট থাকে(২), যেমনটি অনিচ্ছাকৃতভাবে মাটি মিশ্রিত পানির ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। সুতরাং বিধানের ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য থাকা বা না থাকার কোনো প্রভাব নেই, বরং পানির প্রকৃত সত্তা অবশিষ্ট থাকাই এখানে মূল বিবেচ্য বিষয়।

 

‌‌অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মত (তারজীহ):

বিভিন্ন অভিমত ও সেগুলোর দলীলসমূহ উপস্থাপনের পর এটি স্পষ্ট হয় যে, এই মাসআলায় রাজেহ বা অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মত হলো—আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত—প্রথম অভিমতটি, যা বলছে: পানিতে উদ্দেশ্যমূলকভাবে মাটি নিক্ষেপ করা তার পবিত্রতা গুণকে ছিনিয়ে নেয় না। কারণ এই অভিমতের প্রবক্তাগণ যে যুক্তি প্রদান করেছেন তা অত্যন্ত শক্তিশালী এবং তা পর্যালোচনায় ত্রুটিমুক্ত, আর বিপক্ষীয়দের যুক্তিগুলো তাদের ওপর উত্থাপিত আপত্তির কারণে দুর্বল। অধিকন্তু মাটি থেকে বেঁচে থাকা কষ্টসাধ্য, আর একটি প্রতিষ্ঠিত মূলনীতি হলো "কষ্ট ও সংকীর্ণতা সহজসাধ্যতাকে টেনে আনে"(৩)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আদ-দাখিরাহ (১/ ১৭০), আল-ফুরু (১/ ৮২), আল-ইনসাফ (১/ ৯৮)।

(২) দেখুন: আল-ওয়াসীত (১/ ১৩৪)।

(৩) আল-আশবাহ ওয়ান নাযায়ির, আস-সুবকী (১/ ৪৫৩), আত-তাহবীর শারহুত তাহরীর, আল-মারদাবী (৮/ ৩৮৪৭)।