(খণ্ড: ১) তারিখু জুরজান (পৃষ্ঠা: -)
تاريخ جرجان   (حمزة السهمي)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: تاريخ جرجان

المؤلف: أبو القاسم حمزة بن يوسف بن إبراهيم السهمي القرشي الجرجاني (ت 427هـ)

المحقق: تحت مراقبة محمد عبد المعيد خان

الناشر: عالم الكتب - بيروت

الطبعة: الرابعة 1407 هـ - 1987 م

عدد الصفحات: 563

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

তারিখ জুরজান   (হামযা আস-সাহমী)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ


গ্রন্থ: তারিখ জুরজান

লেখক: আবু আল-কাসিম হামযা বিন ইউসুফ বিন ইবরাহিম আস-সাহমী আল-কুরাশী আল-জুরজানী (মৃত্যু ৪২৭ হি.)

সম্পাদক: মুহাম্মাদ আব্দুল মুঈদ খানের তত্ত্বাবধানে

প্রকাশক: আলামুল কুতুব - বৈরুত

সংস্করণ: চতুর্থ, ১৪০৭ হি. - ১৯৮৭ খ্রি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৬৩

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) তারিখু জুরজান (পৃষ্ঠা: ٤٣)
‌‌مقدمة الكتاب

‌‌مدخل

…

بسم الله الرحمن الرحيم

رب يسر بالكمال

قرأت على الشيخ الإمام الحافظ المتقن أبي محمد عبد الغني بن عبد الواحد بن علي المقدسي قال أخبرنا الإمام مسعود بن علي بن عبيد الله بن النادر العدل قال أخبرنا أَبُو الْقَاسِمِ إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَحْمَدَ بن عمر السمرقندي قراءة عليه وأنت تسمع1 قال أخبرنا أبو القاسم إسماعيل بن مسعدة بْن إِسْمَاعِيل بْن أَحْمَدَ بن إبراهيم الإسماعيلي وأنا أسمع قيل له أخبركم الشيخ أبو القاسم حمزة بْن يُوسُف بْن إبراهيم السهمي قراءة عليه وأنت تسمع في صفر سنة تسع عشرة وأربعمائة قلت.

الحمد لله أولا وآخرا وظاهرا وباطنا والصلاة على نبيه محمد وآله وسلم تسليما.

أما بعد: فاني لما رأيت كثيرا من البلدان تعصب أهلها وأظهروا مفاخرها بدخول "الصحابة … _ 2 "رضي الله عنهم أجمعين بلادهم وكون الخلفاء والأمراء وجماعة من العلماء عندهم حتى أرخوا لذلك تواريخ

--------------------------------------------

1 كذا. والظاهر "وأنا أسمع".

2 موضعه بياض في الأصل.
কিতাবের ভূমিকা

প্রবেশিকা

…

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি

হে প্রতিপালক, পরিপূর্ণতার সাথে সহজ করে দিন

আমি শাইখ, ইমাম, হাফিজ, পারদর্শী আবু মুহাম্মদ আব্দুল গনী বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন আলী আল-মাকদিসীর নিকট পাঠ করেছি; তিনি বলেন, ইমাম মাসউদ বিন আলী বিন উবাইদুল্লাহ বিন আন-নাদির আল-আদল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; তিনি বলেন, আবুল কাসিম ইসমাইল বিন আহমাদ বিন উমর আস-সামারকান্দি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন—তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে এবং আপনি তা শুনছিলেন ১—তিনি বলেন, আবুল কাসিম ইসমাইল বিন মুসআদাহ বিন ইসমাইল বিন আহমাদ বিন ইবরাহিম আল-ইসমাঈলি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন এবং আমি শুনছিলাম; তাঁকে বলা হলো: শাইখ আবুল কাসিম হামযাহ বিন ইউসুফ বিন ইবরাহিম আস-সাহমি কি আপনাদের সংবাদ দিয়েছেন—তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে এবং আপনি শুনছিলেন—চারশ উনিশ হিজরীর সফর মাসে? আমি বললাম (হ্যাঁ)।

যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর জন্য—শুরুতে ও শেষে, প্রকাশ্যে ও গোপনে; আর তাঁর নবী মুহাম্মাদ ও তাঁর পরিবারের ওপর দরুদ ও পূর্ণ মাত্রায় সালাম বর্ষিত হোক।

অতঃপর: যখন আমি দেখলাম যে অনেক জনপদের অধিবাসীরা স্বদেশের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করছে এবং তাদের দেশে সাহাবীগণ (আল্লাহ তাঁদের সবার প্রতি সন্তুষ্ট হোন) … ২ এর আগমন এবং খলিফা, আমীর ও একদল আলেম সেখানে অবস্থান করায় তাদের গৌরব প্রকাশ করছে, এমনকি তারা এর সপক্ষে ইতিহাস গ্রন্থও রচনা করেছে...

--------------------------------------------

১ এভাবেই আছে। তবে দৃশ্যত এটি "এবং আমি শুনছিলাম" হবে।

২ মূল লিপিতে এখানে শূন্যস্থান রয়েছে।
(খণ্ড: ১) তারিখু জুরজান (পৃষ্ঠা: ٤٤)
وصنفوا فيها تصانيف على ما بلغهم ولم أر أحدا من مشايخنا رحمهم الله صنف في ذكر علماء أهل جرجان تصنيفا أو أرخ لهم تأريخا على توافر علمائها وتظاهر شيوخها وفضلائها فأحببت أن أجمع في ذلك مجموعا على قدر جهدي وطاقتي مع قلة بضاعتي وعرض لي جمعه حين تفانى العلماء الذين يوثق بعلمهم ويعتمد على معرفتهم ولم أتمكن من كتبهم فأستمد منها إذ كان أهلها قد أضاعوها لقلة رغباتهم وفتور نياتهم فاقتصرت على ما حضر وأخذت بما تيسر وقدمت العذر حتى إن قصرت فيه تقصيرا أو شذ عني شيء كنت في ذلك معذورا.

وبالله استعنت وعليه توكلت وهو نعم المولى ونعم النصير.
আর তারা তাদের নিকট যা পৌঁছেছে সে অনুযায়ী এ বিষয়ে নানাবিধ গ্রন্থ রচনা করেছেন। তবে আমাদের উস্তাদদের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহমত বর্ষণ করুন) মধ্যে জুরজানবাসীদের আলেমদের স্মরণে কোনো গ্রন্থ রচনা করতে বা তাঁদের ইতিহাস লিপিবদ্ধ করতে আমি কাউকে দেখিনি, অথচ সেখানে আলেমদের প্রাচুর্য এবং শায়খ ও গুণীজনদের প্রকাশ্য সরব উপস্থিতি ছিল। তাই আমি আমার সামান্য পুঁজি সত্ত্বেও নিজ সাধ্য ও সামর্থ্য অনুযায়ী এ বিষয়ে একটি সংকলন প্রস্তুত করতে আগ্রহী হলাম। এটি সংকলন করার বিষয়টি আমার সামনে তখন এল যখন সেই সব আলেমগণ পরলোকগমন করেছেন যাঁদের ইলমের ওপর আস্থা রাখা হতো এবং যাঁদের জ্ঞানের ওপর নির্ভর করা হতো। আর আমি তাঁদের কিতাবসমূহ থেকেও তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম হইনি, কারণ সেগুলোর উত্তরাধিকারীরা আগ্রহের অভাব এবং নিয়তের শিথিলতার কারণে সেগুলো নষ্ট করে ফেলেছে। তাই আমার নিকট যা উপস্থিত ছিল আমি তাতেই সীমাবদ্ধ থেকেছি এবং যা সহজলভ্য হয়েছে তা-ই গ্রহণ করেছি। আমি আগেই ওজর পেশ করছি, যাতে এতে আমার কোনো ত্রুটি হলে বা কোনো কিছু আমার দৃষ্টির আড়ালে থেকে গেলে আমি সে বিষয়ে ক্ষমাপ্রাপ্ত হতে পারি।

আমি আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করছি এবং তাঁর ওপরই ভরসা করছি; তিনি কতই না উত্তম অভিভাবক এবং কতই না উত্তম সাহায্যকারী।
(খণ্ড: ১) তারিখু জুরজান (পৃষ্ঠা: ٤٤)
‌‌باب ذكر فتح جُرْجَان

يقال: إنما سمي جُرْجَان جرجانا لأنه بناها جُرْجَان بْن لاوذ1 بْن سام بْن نوح عليه السلام وكان له أخوان فارس واجفاس فارس ويقال جرجيج بْن ولاد قَالَ وفتح جُرْجَان فِي أيام أمير المؤمنين عُمَر بْن الخطاب رضي الله عنه بعد فتح نهاوند لما قتل النعمان بْن مقرن ولي خلافته أخوه سويد بْن مقرن فجاء إلى الري وفتحها ثم عسكر إلى قومس وفتحها ثم فتح جُرْجَان. أخبرني أَبُو طاهر مُحَمَّد بْن عَبْد الرَّحْمَنِ بْن العباس ببغداد حَدَّثَنَا أَحْمَد بْن عَبْد اللَّهِ بْن سيف حَدَّثَنَا السري بْن يحيى حَدَّثَنَا شعيب حَدَّثَنَا سيف بْن عُمَر التميمي عَنْ مُحَمَّد وطلحة والمهلب وعمرو وسعيد قالوا فتح جُرْجَان وعسكر سويد بْن مقرن ببسطام وكاتب ملك2 جُرْجَان رزبان

--------------------------------------------

1 هكذا ضبطه صاحب القاموس وغيره، ووقع في الأصل "لاود".

2 هكذا في تاريخ ابن جرير "4/254" ونحوه في كامل ابن الأثير "3/12" ومعجم البلدان "جرجان"، ووقع في الأصل "وكانت مالك".
জোরজান বিজয়ের বিবরণ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ

বলা হয় যে, জোরজানের নামকরণ করা হয়েছে জোরজান এই কারণে যে, এটি নির্মাণ করেছিলেন জোরজান ইবনে লাওয়াজ১ ইবনে সাম ইবনে নূহ আলাইহিস সালাম। তাঁর দুই ভাই ছিল— ফারিস ও আজফাস ফারিস; আবার বলা হয় জোরজিজ ইবনে ওয়ালাদ। তিনি বলেন, জোরজান বিজিত হয়েছিল আমিরুল মুমিনীন উমর ইবনুল খাত্তাব রাযিয়াল্লাহু আনহুর যুগে নাহাওয়ান্দ বিজয়ের পর। যখন নুমান ইবনে মুকাররিন শাহাদাতবরণ করেন, তখন তাঁর ভাই সুওয়াইদ ইবনে মুকাররিন তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন। তিনি রাই অভিমুখে আগমন করেন এবং তা জয় করেন, অতঃপর কুমিসে সৈন্য সমাবেশ করেন এবং তা জয় করেন, এরপর জোরজান জয় করেন। আমাকে বাগদাদে আবু তাহির মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনুল আব্বাস সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আহমদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে সাইফ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আস-সাররি ইবনে ইয়াহইয়া বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট শুআইব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট সাইফ ইবনে উমর আত-তামিমি বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ, তালহা, মুহাল্লাব, আমর এবং সাঈদ থেকে; তাঁরা বলেছেন: জোরজান বিজয় এবং সুওয়াইদ ইবনে মুকাররিনের বিসতামে সৈন্য সমাবেশ ও জোরজানের রাজা২ রুযবানের সাথে তাঁর পত্রালাপ।

--------------------------------------------

১. কামূস প্রণেতা ও অন্যান্যরা একে এভাবেই লিপিবদ্ধ করেছেন, তবে মূল পাণ্ডুলিপিতে "লাওয়াদ" শব্দ এসেছে।

২. তারিখ ইবনে জারিরে (৪/২৫৪) এভাবেই রয়েছে এবং অনুরূপ বর্ণনা ইবনুল আসীরের আল-কামিল (৩/১২) ও মুজামুল বুলদানের "জোরজান" ভুক্তিতে পাওয়া যায়, তবে মূল পাণ্ডুলিপিতে ছিল "ওয়াকানাত মালিক"।
(খণ্ড: ১) তারিখু জুরজান (পৃষ্ঠা: ٤٥)
صول ثم سار إليها وكاتبه رزبان صول وبادره بالصلح عَلَى أن يؤدي الجزاء ويكفيه حرب جُرْجَان فإن غلب أعانه فقبل ذلك منه وتلقاه رزبان صول قبل دخول سويد بْن مقرن جُرْجَان فدخل معه وتمسك بها حتى جبى إليه خراجها وسمى فروجها فسدها بترك دهستان ورفع الجزاء عمن أقام بمنعتها وأخذ الخراج من سائر أهلها وكتب بينه وبينهم كتابا.

بسم اللَّه الرحمن الرحيم هذا كِتَاب سويد بْن مقرن لرزبان صول بْن رزبان وأهل دهستان وسائر أهل جُرْجَان إن لكم الذمة وعلينا المنعة عَلَى أن عليكم من الجزاء فِي كل سنة عَلَى قدر طاقتكم عَلَى كل حالم ومن استعين به منكم فله جزاؤه فِي معونته1 ولهم الأمان عَلَى أنفسهم وأموالهم وملكهم2 وشرائعهم ولا يغير شيء من 3/ألف ذلك هو إليهم ما أرادوا3 وأرشدوا "بْن -4 "السبيل ونصحوا وقروا المسلمين ولم يبد منهم ميل5 ولا غل ومن أقام منهم6 فله مثل ما لهم ومن خَرَجَ فهو آمن حتى يبلغ مأمنه وعلى أن من سب مسلما بلغ جهده ومن ضربه حل دمه شهد سواد بْن قطبة وهند بْن عمرو وسماك بْن مخرمة وعتيبة7 بْن النهاس وكتب فِي سنة ثمان عشرة.

--------------------------------------------

1 هكذا في تاريخ ابن جرير، ووقع في الأصل "وفي معونته" وبعده بياض.

2 في تاريخ ابن جرير ومللهم

3 في تاريخ ابن جرير"ما أدوا" وهو الظاهر

4 من تاريخ ابن جرير.

5 في تاريخ ابن جرير"سل"

6 في تاريخ ابن جرير"فيهم" وهو الأظهر.

7 هكذا في تاريخ ابن جرير وهو الصواب كما في إكمال ابن مأكولا وغيره، ووقع في الأصل "عيينة".
সুল, অতঃপর তিনি সেদিকে অগ্রসর হলেন এবং রাজবান সুল তার নিকট পত্র লিখলেন এবং এই শর্তে সন্ধির প্রস্তাব দিলেন যে, তিনি জিজিয়া প্রদান করবেন এবং জুরজানের যুদ্ধে তাকে সহযোগিতা করবেন; যদি তিনি বিজয়ী হন তবে তিনি তাকে সাহায্য করবেন। তিনি তা গ্রহণ করলেন এবং সুওয়াইদ ইবনে মুকরিন জুরজানে প্রবেশের পূর্বেই রাজবান সুল তার সাথে সাক্ষাৎ করলেন। তিনি তার সাথে সেখানে প্রবেশ করলেন এবং সেখানে অবস্থান করলেন যতক্ষণ না তার নিকট এখানকার খারাজ সংগৃহীত হলো। তিনি এর সীমান্ত এলাকাগুলোর নামকরণ করলেন এবং দেহিস্তান ত্যাগের মাধ্যমে সেগুলো সুরক্ষিত করলেন। যারা এর প্রতিরক্ষায় নিয়োজিত ছিল তাদের থেকে জিজিয়া মওকুফ করলেন এবং অবশিষ্ট অধিবাসীদের থেকে খারাজ গ্রহণ করলেন। তিনি তাদের মাঝে একটি চুক্তিপত্র লিখে দিলেন।

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। এটি রাজবান সুল ইবনে রাজবান, দেহিস্তানের অধিবাসী এবং জুরজানের অপরাপর অধিবাসীদের জন্য সুওয়াইদ ইবনে মুকরিনের পক্ষ থেকে লিখিত একটি পত্র। তোমাদের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলো এবং আমাদের ওপর তোমাদের রক্ষার দায়িত্ব রইল এই শর্তে যে, প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ওপর তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী প্রতি বছর জিজিয়া ধার্য হবে। তোমাদের মধ্য থেকে যাদের সাহায্য গ্রহণ করা হবে, সেই সাহায্যের বিনিময়ে তাদের পাওনা পরিশোধ করা হবে এবং তাদের জান, মাল, মালিকানা ও ধর্মের ওপর নিরাপত্তা থাকবে। এগুলোর কোনো কিছুই পরিবর্তন করা হবে না ৩/ক এবং তারা ততক্ষণ পর্যন্ত নিরাপদ থাকবে যতক্ষণ তারা তা পালন করবে, সঠিক পথ অনুসরণ করবে, সদুপদেশ প্রদান করবে এবং মুসলমানদের সম্মান করবে এবং তাদের পক্ষ থেকে কোনো বিচ্যুতি বা শত্রুতা প্রকাশ পাবে না। তাদের মধ্যে যারা অবস্থান করবে তারা একই অধিকার পাবে, আর যারা প্রস্থান করবে তারা নিরাপদ স্থানে পৌঁছানো পর্যন্ত নিরাপদে থাকবে। তবে শর্ত হলো, যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমকে গালি দেবে তাকে সাধ্যমতো শাস্তি প্রদান করা হবে এবং যে তাকে আঘাত করবে তার রক্ত বৈধ হবে। সাক্ষী রইলেন: সাওয়াদ ইবনে কুতবাহ, হিন্দ ইবনে আমর, সিমাক ইবনে মুখাররামা এবং উতাইবাহ ইবনে নাহহাস। এটি হিজরি আঠারো সনে লিখিত হয়েছে।

--------------------------------------------

১. ইবনে জারিরের ইতিহাসে এভাবেই রয়েছে, তবে মূল পান্ডুলিপিতে "এবং তার সাহায্যে" শব্দটির পর শূন্যস্থান রয়েছে।

২. ইবনে জারিরের ইতিহাসে রয়েছে "এবং তাদের ধর্মসমূহ"।

৩. ইবনে জারিরের ইতিহাসে রয়েছে "যতক্ষণ তারা আদায় করবে" এবং এটিই অধিক স্পষ্ট।

৪. ইবনে জারিরের ইতিহাস থেকে সংগৃহীত।

৫. ইবনে জারিরের ইতিহাসে "তলোয়ার উত্তোলন" রয়েছে।

৬. ইবনে জারিরের ইতিহাসে "তাদের মধ্যে" রয়েছে এবং এটিই অধিক স্পষ্ট।

৭. ইবনে জারিরের ইতিহাসে এভাবেই আছে এবং ইবনে মাকুলার ইকমাল ও অন্যান্য গ্রন্থে এটিই সঠিক হিসেবে বর্ণিত হয়েছে; মূল পান্ডুলিপিতে "উয়াইনা" শব্দটির উল্লেখ ছিল।
(খণ্ড: ১) তারিখু জুরজান (পৃষ্ঠা: ٤٦)
وقال سواد بْن قطبة فِي ذلك شعرا:

بلغ أسيدا أن عرضت بأننا1 … بجرجان فِي خضر الغياض2 النواضر

فلما أحسونا وخافوا صوالنا … أتانا بْن صول راغما بالجرائر

وأدى إلينا الخرج عَنْ كل كورة … أقامت بها3 أخرى الليالي الغوابر

وهل لكم فِي العيش غضا فإنني … أرى العيش قد ولى بتلك الحظائر

--------------------------------------------

1 هكذا في معجم البلدان، ووقع في الأصل "أن عرضت ومالكا بانا" وهو مخل بالوزن.

2 في معجم البلدان "الرياض".

3 في الأصل "بجرجان" وهو مخل بالوزن.
এবং সাওয়াদ বিন কুতবাহ এ বিষয়ে কবিতা আবৃত্তি করেছেন:

উসাইদকে জানিয়ে দাও যে তুমি ইঙ্গিত করেছ আমরা১ … জুরজানের সজীব ও শ্যামল বনভূমির মাঝে২

যখন তারা আমাদের উপস্থিতি টের পেল এবং আমাদের আক্রমণের ভয় করল … তখন ইবনে সওল অপরাধের বোঝা নিয়ে অবনত মস্তকে আমাদের কাছে এল

এবং সে প্রতিটি প্রদেশের পক্ষ থেকে আমাদের কাছে কর প্রদান করল … যেখানে অতীতের শেষ রাতগুলো৩ অতিবাহিত হয়েছিল

তোমাদের কি সজীব জীবন যাপনের কোনো ইচ্ছা আছে? কারণ আমি … দেখছি যে সেই সব বেষ্টনী থেকে জীবন বিদায় নিয়েছে

--------------------------------------------

১. 'মুজামুল বুলদান' গ্রন্থে এভাবেই বর্ণিত হয়েছে; তবে মূল পাণ্ডুলিপিতে ছিল "আন আরদতা ওয়া মালিকান বান্না", যা কবিতার ছন্দের পরিপন্থী।

২. 'মুজামুল বুলদান' গ্রন্থে এর পরিবর্তে "আর-রিয়াদ" (তথা উদ্যানসমূহ) শব্দ এসেছে।

৩. মূল পাঠে এখানে "বি-জুরজান" (তথা জুরজানে) ছিল, যা কবিতার ছন্দের পরিপন্থী।
(খণ্ড: ১) তারিখু জুরজান (পৃষ্ঠা: ٤٦)
‌‌باب ذكر من دخل جُرْجَان من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم

منهم أَبُو عَبْد اللَّهِ الْحُسَيْن بْن علي رضوان اللَّه عليه وعبد اللَّه بْن عُمَر رضي الله عنه وحذيفة بْن اليمان رضي الله عنه وسعيد بْن العاص رضي الله عنه وسويد بْن مقرن رضي الله عنه وعبد اللَّه بْن أَبِي أَوْفَى رضي الله عنه وأبو هريرة رضي الله عنه وعبد اللَّه بْن الزبير رضي الله عنه ويقال الْحَسَن بْن علي رضوان اللَّه عليه وسواد بْن قطبة ويقال سوادة بْن قطبة رضي الله عنه وسماك بْن مخرمة رضي الله عنه وهند بْن عمرو رضي الله عنه وعتيبة بن 3/ب نهاس1 رضي الله عنه وعن جميع الصحابة.

حَدَّثَنَا الشَّيْخُ الإِمَامُ أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بن إسماعيل رضي الله

--------------------------------------------

1 في الأصل عيينة بن النهاش" خطأ، والصواب من الإصابة وإكمال ابن مأكولا وغيرهما.
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সেই সকল সাহাবীর আলোচনার পরিচ্ছেদ যাঁরা জুরজানে প্রবেশ করেছিলেন

তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন বিন আলী (আল্লাহর সন্তুষ্টি তাঁর ওপর বর্ষিত হোক), আবদুল্লাহ বিন উমর (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন), হুজাইফা বিন আল-ইয়ামান (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন), সাঈদ বিন আল-আস (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন), সুওয়াইদ বিন মুকাররিন (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন), আবদুল্লাহ বিন আবি আওফা (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন), আবু হুরায়রা (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন), আবদুল্লাহ বিন আল-জুবাইর (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) এবং বলা হয় আল-হাসান বিন আলী (আল্লাহর সন্তুষ্টি তাঁর ওপর বর্ষিত হোক), সাওয়াদ বিন কুতবাহ—যাঁকে সাওয়াদাহ বিন কুতবাহ-ও বলা হয় (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন), সিমাক বিন মাখরামা (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন), হিন্দ বিন আমর (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) এবং উতাইবাহ বিন ৩/খ নাহহাস১ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)—এবং সকল সাহাবীর প্রতিই আল্লাহর সন্তুষ্টি বর্ষিত হোক।

আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শাইখ ইমাম আবু বকর আহমদ বিন ইবরাহিম বিন ইসমাইল, আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন...

--------------------------------------------

১ মূলে "উয়াইনা বিন আন-নাহহাশ" লিখা রয়েছে যা ভুল; আল-ইসাবাহ, ইবনে মাকুলার ইকমাল এবং অন্যান্য গ্রন্থ অনুযায়ী এটিই সঠিক।
(খণ্ড: ১) তারিখু জুরজান (পৃষ্ঠা: ٤٧)
عَنْهُ أَخْبَرَنِي إِسْحَاقُ بْنُ بَيَانٍ حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ حَمَّادٍ سَجَّادَةُ حدثنا بن فُضَيْلٍ عَنْ أَشْعَثَ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ سُلَيْمِ بْنِ عَبْدٍ قَالَ كُنَّا مَعَ سَعِيدِ بْنِ الْعَاصِ بِطَبَرِسْتَانَ وَمَعَهُ حُذَيْفَةُ بْنُ الْيَمَانِ وَأَصْحَابُ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: مَنْ سَمِعَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي صَلاةِ الْخَوْفِ؟ فَقَالَ حُذَيْفَةُ: أَنَا سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: "صُفَّ صَفًّا مِمَّا يَلِيكَ وَصَفًّا مِمَّا يَلِي الْعَدُوَّ فَصَلِّ بِمَنْ يَلِيكَ رَكْعَةً وَسَجْدَتَيْنِ وَسَلِّمْ ثُمَّ يَنْطَلِقُ هَؤُلاءِ.1 يُصَلُّونُ مَعَكَ رَكْعَةً وَسَجْدَتَيْنِ ثُمَّ سَلِّمْ".

أَخْبَرَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ مُوسَى الْجُرْجَانِيُّ حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ شَبَّةَ2 الْبَصْرِيُّ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مَنْصُورٍ الْبَصْرِيُّ أَبُو سَعِيدٍ قَالا حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنِي الأَشْعَثُ بْنُ أَبِي الشَّعْثَاءِ عَنِ الأَسْوَدِ بْنِ هَلاغٍ عَنْ ثَعْلَبَةَ بْنِ زَهْدَمٍ قَالَ كُنَّا مَعَ سَعِيدِ بْنِ الْعَاصِ بِطَبَرِسْتَانَ فَقَالَ: أَيُّكُمْ صَلَّى مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلاةَ الْخَوْفِ؟ فَقَالَ حُذَيْفَةُ: أَنَا قَالَ: فَقَامَ حُذَيْفَةُ فَصَفَّ النَّاسَ خَلْفَهُ صَفَّيْنِ صَفٌّ خلفه وصف موازي الْعَدُوِّ فَصَلَّى بِالَّذِينَ خَلْفَهُ رَكْعَةً ثُمَّ انْصَرَفَ هَؤُلاءِ إِلَى مَكَانِ هَؤُلاءِ ثُمَّ جَاءَ أُولَئِكَ فَصَلَّى بِهِمْ رَكْعَةً وَلَمْ يَقْضُوا.

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْحُسَيْنِ الْجُرْجَانِيُّ سَمَاعًا أَوْ إِجَازَةً عَلَى الشَّكِّ مِنِّي حَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ الْحَدَّادِيُّ حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ يونس الجرجاني بعكا حدثنا بن كَاسِبٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نَافِعٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ زيد 4/ألف بْنِ أَسْلَمَ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ بن عُمَرَ أَحْرَمَ بِعُمْرَةٍ مِنْ جُرْجَانَ.

قرأت فِي كِتَاب مُحَمَّد بْن مُوسَى بْن الْحَسَن الْجُرْجَانِيّ بِخَطِّهِ حَدَّثَنَا أَبُو حَاتِم مُحَمَّد بْن إِدْرِيس الرَّازِيّ حَدَّثَنَا مُحَمَّد بْن مَسْلَمَة الباهلي شيخ لنا حدثنا

--------------------------------------------

1 بياض في الأصل، والحديث من وجه آخر في مسند أحمد "5/406".

2 في الأصل "شيبة" خطأ، وترجمة عمر هذا في تاريخ بغداد "11/208" وضبط اسم أبيه أصحاب المشتبه.
তাঁর থেকে (বর্ণিত), ইসহাক ইবনে বায়ান আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, হাসান ইবনে হাম্মাদ সাজ্জাদাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে ফুদাইল আমাদের নিকট আশ'আস থেকে, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি সুলাইম ইবনে আবদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা তাবারিস্থানে সাঈদ ইবনুল আসের সাথে ছিলাম, আর তাঁর সাথে হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ ছিলেন। তখন তিনি বললেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে ভয়ের সালাত সম্পর্কে কে শুনেছে?" তখন হুযাইফা বললেন: "আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: 'তোমার নিকটবর্তী একটি কাতার করো এবং শত্রুর নিকটবর্তী একটি কাতার করো। অতঃপর তোমার নিকটবর্তীদের নিয়ে এক রাকাত ও দুই সিজদা পড়ো এবং সালাম ফেরাও। এরপর তারা চলে যাবে।১ তারা তোমার সাথে এক রাকাত ও দুই সিজদা পড়বে, অতঃপর সালাম ফেরাবে'।"

আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে মুসা আল-জুরজানী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু নুয়াইম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে শাব্বাহ২ আল-বসরী এবং আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মনসুর আল-বসরী আবু সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আশ'আস ইবনে আবিশ শা'সা আমার নিকট আসওয়াদ ইবনে হালাগ থেকে, তিনি সা'লাবা ইবনে যাহদাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা তাবারিস্থানে সাঈদ ইবনুল আসের সাথে ছিলাম। তিনি বললেন: "আপনাদের মধ্যে কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ভয়ের সালাত পড়েছেন?" তখন হুযাইফা বললেন: "আমি।" বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর হুযাইফা দাঁড়ালেন এবং লোকদেরকে তাঁর পেছনে দুই কাতারে বিন্যস্ত করলেন; এক কাতার তাঁর পেছনে এবং অন্য কাতার শত্রুর মুখোমুখি। এরপর তিনি তাঁর পেছনের লোকদের নিয়ে এক রাকাত সালাত পড়লেন, অতঃপর তারা ওই লোকদের অবস্থানে চলে গেল। এরপর ওই দলটি আসল এবং তিনি তাদের নিয়ে এক রাকাত সালাত পড়লেন, আর তারা অতিরিক্ত কিছু আদায় করেনি।

মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনুল হুসাইন আল-জুরজানী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন—আমার পক্ষ থেকে শ্রবণের মাধ্যমে নাকি ইজাজতের মাধ্যমে তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে—আলী ইবনে মুহাম্মদ আল-হাদ্দাদী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, ইউসুফ ইবনে ইউনুস আল-জুরজানী আক্কায় আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে কাসিব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে নাফি' আমাদের নিকট আব্দুর রহমান ইবনে যাইদ ৪/আলিফ ইবনে আসলাম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, ইবনে উমর জুরজান থেকে উমরার ইহরাম বেঁধেছিলেন।

আমি মুহাম্মদ ইবনে মুসা ইবনুল হাসান আল-জুরজানীর কিতাবে তাঁর নিজ হস্তাক্ষরে পড়েছি: আবু হাতিম মুহাম্মদ ইবনে ইদরিস আর-রাজি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমাদের একজন শায়খ মুহাম্মদ ইবনে মাসলামাহ আল-বাহিলি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন...

--------------------------------------------

১. মূল পাণ্ডুলিপিতে এখানে শূন্যস্থান রয়েছে, আর এই হাদিসটি অন্য সূত্রে 'মুসনাদে আহমাদ' (৫/৪০৬)-এ বর্ণিত হয়েছে।

২. মূল পাণ্ডুলিপিতে ভুলবশত "শাইবা" রয়েছে। এই ওমরের জীবনী 'তারিখে বাগদাদ' (১১/২০৮)-এ বর্ণিত হয়েছে এবং তাঁর পিতার নামের উচ্চারণ 'আসহাবুল মুশতাবিহ' গ্রন্থে নির্ভুলভাবে দেওয়া হয়েছে।
(খণ্ড: ১) তারিখু জুরজান (পৃষ্ঠা: ٤٨)
أَبُو زهير عَبْد الرَّحْمَنِ بْن مغراء عَنْ أَبِي إدام سُلَيْمَان بْن زَيْد يَعْنِي الْمُحَارِبِيّ قَالَ رَأَيْت عَبْد اللَّهِ بْن أَبِي أَوْفَى بِجُرْجَانَ خَرَجَ يوم العيد راكبا وامرأته معه عَلَى رحل له.

وذكر عباس بْن عَبْد الرَّحْمَنِ المروزي فِي كتابه التاريخ قَالَ قدم الْحَسَن بْن علي وعبد اللَّه بْن الزبير أصبهان مجتازين إلى جُرْجَان فإن ثبت هذا يدل على أنه كان فِي أيام أمير المؤمنين عَلِيّ بْن أَبِي طالب رضي الله عنه.

حَدَّثَنَا الإِمَامُ أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الإِسْمَاعِيلِيُّ أَخْبَرَنَا أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سُلَيْمَانَ الْحَضْرَمِيُّ حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَمْرٍو أَخْبَرَنَا عَبْثَرٌ1 عَنْ مُطَرِّفٍ عَنْ سَوَادَةَ2 بْنِ أَبِي الْجَعْدِ عَنْ أَبِي جَعْفَرٍ قَالَ كُنْتُ جَالِسًا عِنْدَ سُوَيْدِ بْنِ مُقَرِّنٍ فَقَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "مَنْ قُتِلَ دُونَ مَظْلَمَتِهِ فَهُوَ شَهِيدٌ".

وسويد بْن مقرن هذا هو أَبُو عائذ بْن ميجا3 بْن نصر المزني أخو النعمان بْن مقرن ونعيم مديني سكن الكوفة يكنى أبا علي روى عنه ابنه معاوية وأبو شعبة وأبو جعفر وهلال بْن يساف4 وهو أول من فتح جُرْجَان فِي أيام أمير المؤمنين عُمَر بْن الخطاب رضوان الله عليه.

--------------------------------------------

1 بلا نقط في الأصل، وهو عبثر بن القاسم ترجمته في التهذيب وغيره.

2 هكذا في التهذيب وغيره، ووقع في الأصل "سواة".

3 هكذا في الاستيعاب وطبقات ابن سعد "6/11" وهكذا ضبطه أصحاب المشتبه، ووقع في الأصل "متى" وزاد ابن سعد وغيره بعد "ابن جهير".

4 هكذا في التهذيب وغيره، ووقع في الأصل "هدال بن سياف".
আবু যুহাইর আবদুর রহমান ইবনে মাগরা, আবু ইদাম সুলায়মান ইবনে যাইদ অর্থাৎ আল-মুহারিবি থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: আমি আবদুল্লাহ ইবনে আবু আওফাকে জুরজানে দেখেছি; তিনি ঈদের দিন সওয়ার হয়ে বের হয়েছিলেন এবং তাঁর স্ত্রী তাঁর সাথে তাঁর উটের হাওদাজে ছিলেন।

আব্বাস ইবনে আবদুর রহমান আল-মারওয়াযি তাঁর ইতিহাসের কিতাবে উল্লেখ করেছেন যে, হাসান ইবনে আলী এবং আবদুল্লাহ ইবনে আজ-যুবায়ের জুরজানের পথে ইসফাহান এসেছিলেন। যদি এটি প্রমাণিত হয়, তবে তা নির্দেশ করে যে এটি ছিল আমিরুল মুমিনীন আলী ইবনে আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর যুগে।

ইমাম আবু বকর আহমদ ইবনে ইবরাহিম আল-ইসমাঈলি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে সুলায়মান আল-হাদরামি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: সাঈদ ইবনে আমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবসার১ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুতাররিফ থেকে, তিনি সাওয়াদাহ২ ইবনে আবুল জা'দ থেকে এবং তিনি আবু জাফর থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: আমি সুওয়াইদ ইবনে মুকাররিনের নিকট বসা ছিলাম, তখন তিনি বললেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: "যে ব্যক্তি তার প্রতি অন্যায় আচরণের (অধিকার রক্ষার) জন্য নিহত হয়, সে শহীদ।"

আর এই সুওয়াইদ ইবনে মুকাররিন হলেন আবু আয়িজ ইবনে মিজা৩ ইবনে নাসর আল-মুযানী, যিনি নুমান ইবনে মুকাররিন ও নুয়াইমের ভাই। তিনি মদিনাবাসী ছিলেন এবং পরবর্তীতে কুফায় বসবাস করেন। তাঁর উপনাম আবু আলী। তাঁর থেকে তাঁর পুত্র মুয়াবিয়া, আবু শুবা, আবু জাফর এবং হিলাল ইবনে ইয়াসাফ৪ বর্ণনা করেছেন। তিনি আমিরুল মুমিনীন উমর ইবনে আল-খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর আমলে সর্বপ্রথম জুরজান বিজয় করেন।

--------------------------------------------

১ মূল পাণ্ডুলিপিতে নুকতাহীন (চিহ্নহীন), আর তিনি হলেন আবসার ইবনুল কাসিম; তাঁর জীবনী 'আত-তাহযীব' এবং অন্যান্য গ্রন্থে রয়েছে।

২ 'আত-তাহযীব' এবং অন্যান্য গ্রন্থে এভাবেই আছে, তবে মূল পাণ্ডুলিপিতে 'সওয়াহ' এসেছে।

৩ 'আল-ইসতিআব' এবং ইবনে সা'দের 'আত-তবাকাত' (৬/১১) গ্রন্থে এভাবেই আছে এবং 'আল-মুশতাবিহ' প্রণেতারাও এভাবে সাব্যস্ত করেছেন; তবে মূল পাণ্ডুলিপিতে 'মাতা' এসেছে এবং ইবনে সা'দ ও অন্যান্যরা 'ইবনে জুহাইর' এর পরে অতিরিক্ত অংশ বৃদ্ধি করেছেন।

৪ 'আত-তাহযীব' এবং অন্যান্য গ্রন্থে এভাবেই আছে, তবে মূল পাণ্ডুলিপিতে 'হাদাল ইবনে সিয়াফ' এসেছে।
(খণ্ড: ১) তারিখু জুরজান (পৃষ্ঠা: ٤٩)
‌‌باب من دخل جُرْجَان من التابعين رضي الله عنهم

أبو خالد يزيد بْن المهلب بْن أَبِي صفرة ولاه سُلَيْمَان بْن عَبْد الملك بعد وفاة أَبِيهِ المهلب بْن أَبِي صفرة فافتتح جرجان ودهستان 4/ب ثانيا فِي1 سنة ثمان وتسعين فبنى سورها واختط بها مساجد نحوا من أربعين مسجدا قبيلة2 كان معه مسجدا لنفسه وتلك المساجد معروفة بِجُرْجَانَ بعضها داخل قصبتها وبعضها فِي المربض ويقال: إن كون يزيد بْن المهلب بِجُرْجَانَ بعد فتحه إياها سنة واحدة وهلك سُلَيْمَان بْن عَبْد الملك وولى عُمَر بْن عَبْد العزيز رضي الله عنه وعزل يزيد عَنْ جُرْجَان فيقال3 إن يزيد قتل يوم الجمعة لاثنتي4 عشرة ليلة خلت من صفر سنة اثنتين ومائة.

وممن كان مع يزيد بْن المهلب فِي عسكره غازيا سعيد بْن الفاكه وكرز بْن وبرة الحارثي وحمل بْن كعب النهدي وجماعة من الأزد وقريش5 والأنصار رضي الله عنهم أجمعين.

أخبرنا أَبُو إسحاق إبراهيم بْن عَبْد اللَّهِ الشطي حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَد عاصم بْن مُحَمَّد الشيباني حَدَّثَنَا أَبُو يعلي حمزة بْن داود المكتب حَدَّثَنَا أَبُو مالك الخزاعي عَنْ أَبِي الْحَسَن المدائني عَنْ كليب بْن خلف عَنْ إِدْرِيس بْن حنظلة قَالَ: أصيب عمرو بْن كعب النهدي بتستر6 مع مجزأة بْن ثور فكتموا

--------------------------------------------

1 في الأصل - "من".

2 كذا في الأصل – بياض، وبعده "قبيله"، ولعله "اختلط كل قبيلة ممن".

3 في الأصل "فقال".

4 في اللأصل "لاثنى".

5 في الأصل "فرس".

6 بلا نقط في الأصل.
তাবিঈনগণের (আল্লাহ তাঁদের ওপর সন্তুষ্ট হোন) মধ্য থেকে যাঁরা জুরজানে প্রবেশ করেছেন তাঁদের পরিচ্ছেদ

আবু খালিদ ইয়াজিদ ইবনুল মুহাল্লাব ইবনে আবি সুফরা। তাঁর পিতা মুহাল্লাব ইবনে আবি সুফরার মৃত্যুর পর সুলাইমান ইবনে আবদুল মালিক তাঁকে গভর্নর নিযুক্ত করেন। তিনি ৯৮ হিজরি সনে দ্বিতীয়বারের মতো জুরজান ও দেহিস্তান (৪/খ) জয় করেন। তিনি এর প্রাচীর নির্মাণ করেন এবং সেখানে প্রায় চল্লিশটি মসজিদের নকশা করেন; তাঁর সাথে থাকা প্রত্যেক গোত্রের জন্য একটি করে এবং নিজের জন্য একটি মসজিদ। জুরজানে সেই মসজিদগুলো সুপরিচিত; যার কিছু শহরের মূল কেন্দ্রে এবং কিছু শহরতলীতে অবস্থিত। বলা হয় যে, জুরজান বিজয়ের পর ইয়াজিদ ইবনুল মুহাল্লাব সেখানে এক বছর অবস্থান করেন। এরপর সুলাইমান ইবনে আবদুল মালিক মারা যান এবং উমর ইবনে আবদুল আজিজ (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) খিলাফতের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন এবং ইয়াজিদকে জুরজানের দায়িত্ব থেকে অপসারিত করেন। বলা হয় যে, ইয়াজিদ ১০২ হিজরি সনের সফর মাসের বারো দিন অতিবাহিত হওয়ার পর জুমাবার নিহত হন।

ইয়াজিদ ইবনুল মুহাল্লাবের সাথে তাঁর বাহিনীতে যোদ্ধা হিসেবে যাঁরা ছিলেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সাঈদ ইবনুল ফাকিহ, কুরজ ইবনে ওবারাহ আল-হারিসি, হামাল ইবনে কাব আন-নাহদি এবং আজদ, কুরাইশ ও আনসারদের (আল্লাহ তাঁদের সবার ওপর সন্তুষ্ট হোন) একটি দল।

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইসহাক ইবরাহিম ইবনে আবদুল্লাহ আশ-শাত্তি, তিনি বলেন—আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আহমাদ আসিম ইবনে মুহাম্মাদ আশ-শাইবানি, তিনি বলেন—আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইয়ালা হামজা ইবনে দাউদ আল-মুকাত্তিব, তিনি বলেন—আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মালিক আল-খুজায়ি, তিনি আবুল হাসান আল-মাদায়িনি থেকে, তিনি কুলাইব ইবনে খালাফ থেকে, তিনি ইদরিস ইবনে হানজালা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমর ইবনে কাব আন-নাহদি তুসতারে মুজাজ্জাহ ইবনে সাউরের সাথে শাহাদাতবরণ করেন (অথবা আহত হন), অতঃপর তাঁরা বিষয়টি গোপন রাখলেন...

--------------------------------------------

১. মূল পাণ্ডুলিপিতে - "হতে" (من)।

২. মূল পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই আছে—শূন্যস্থান, এরপর "কবিলাহ" (গোত্র), সম্ভবত এটি হবে "তাদের মধ্য থেকে প্রত্যেক গোত্র মসজিদ নির্মাণ করেছিল"।

৩. মূল পাণ্ডুলিপিতে "فقال" (অতঃপর তিনি বললেন)।

৪. মূল পাণ্ডুলিপিতে "لاثنى"।

৫. মূল পাণ্ডুলিপিতে "ফারস" (পারস্য)।

৬. মূল পাণ্ডুলিপিতে নুকতাহীন (বিন্দুহীন)।
(খণ্ড: ১) তারিখু জুরজান (পৃষ্ঠা: ٥٠)
أباه الخبر ثم علمه فلم يجزع وقال: الحمد لله الذي جعل من صلبي من أصيب شهيدا وقال:

وهل تعدو المقادر يالقوم … هلاك المال أَوْ فقد الرجال

وكل قد لقيت وقد لقيني … صروف الدهر حالا بعد حال

فما أبقين مِنِّي غير نضو … به أثر الرحالة1 والحبال

قال: ثم استشهد ابْن له آخر يقال له حمل مع سعيد بْن الفاكه بِجُرْجَانَ فبلغه فقال: الحمد لله الذي توفر منا شهيدا وقال:

جزى حملا جازى العباد كرامة … وعمرو بْن كعب خير ما كان جازيا

5/ألف خليلي وابني اللذين تتابعا … شهيدين كانا عصمتي ورجائيا

فمن يعطه اللَّه الشهادة يعطه … بها شرفا يوم القيامة عاليا

حدثونا عَنْ سُلَيْمَان بْن أَحْمَدَ الطبراني حَدَّثَنَا أَحْمَد بْن الْحَسَن بْن مسافر حَدَّثَنَا خالد بْن خداش حَدَّثَنَا الهيثم بْن عدي عَنْ عمرو بْن بشر الأزدي قَالَ لما توجه يزيد إلى طبرستان وقد خَرَجَ معه ابنه مخلد يشيعه وذلك بعد فتحه جُرْجَان ودهستان وقتله صول "فأمره – 2 "أن ينصرف وقد استعمله3 عَلَى ما دون النهر واستعمل "حَاتِم- 4 "بْن قبيصة عَلَى ما خلف النهر قَالَ لمخلد يا بني انظروا هذا الحي من الأزد فكن بهم كما قَالَ أَبُو داود:

إذا كنت....5 الرجال لنفعهم … فرش واصطنع عند الذين بهم ترمي

--------------------------------------------

1 في الأصل "لصوبه أسبر لهم بحاله".

2 موضعه بياض في الأصل

3 في الأصل "يستعمله".

4 من تاريخ ابن جرير "8/121"

5 بياض.
সংবাদটি তার পিতার নিকট পৌঁছাল, অতঃপর তিনি তা জানতে পারলেন এবং বিচলিত হলেন না। তিনি বললেন: "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমার ঔরসজাত সন্তানদের মধ্য থেকে এমন একজনকে রেখেছেন যিনি শহীদ হওয়ার মর্যাদা লাভ করেছেন।" এবং তিনি আরও বললেন:

হে কওম! তাকদির কি সম্পদ বিনাশ কিংবা বীরদের হারিয়ে যাওয়াকে অতিক্রম করে যেতে পারে? …

আমি সবকিছুরই মুখোমুখি হয়েছি এবং সবকিছুই আমার মুখোমুখি হয়েছে; কালের বিবর্তন এক অবস্থার পর অন্য অবস্থা নিয়ে এসেছে।

তা আমার মধ্যে জীর্ণতা ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট রাখেনি, যাতে রয়েছে জিনের গদি এবং রশির চিহ্ন।

বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর তার অন্য এক পুত্র হামাল, জুরজানে সাঈদ ইবনুল ফাকিহের সাথে শহীদ হন। এ সংবাদ তার নিকট পৌঁছালে তিনি বললেন: "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের মধ্য থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে একজন শহীদ গ্রহণ করেছেন।" এবং তিনি বললেন:

বান্দাদের প্রতিদানকারী আল্লাহ যেন হামালকে সম্মানজনক প্রতিদান দান করেন; আর আমর ইবন কা'বকে যেন সর্বোত্তম প্রতিদান দানকারীর ন্যায় প্রতিদান দেন। …

হায় আমার দুই অকৃত্রিম বন্ধু এবং আমার দুই পুত্র যারা একের পর এক শহীদ হয়েছে; তারা ছিল আমার আশ্রয় এবং আমার আশা-ভরসা। …

আল্লাহ যাকে শাহাদাত দান করেন, তিনি এর বিনিময়ে তাকে কিয়ামতের দিন উচ্চ মর্যাদা দান করেন। …

সুলায়মান ইবনে আহমাদ আত-তাবারানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আহমাদ ইবনুল হাসান ইবনে মুসাফির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন খালিদ ইবনে খিদাশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন হাইসাম ইবনে আদি আমাদের নিকট আমর ইবনে বিশর আল-আজদি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন ইয়াযিদ তাবারিস্তানের দিকে যাত্রা করলেন এবং তার পুত্র মুখাল্লাদ তাকে বিদায় জানাতে সাথে বের হলেন—আর এটি ছিল তার জুরজান ও দেহিস্তান বিজয় এবং সূলকে হত্যার পরের ঘটনা—তখন তিনি তাকে (মুখাল্লাদকে) ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিলেন। তিনি তাকে মা-দুনা-নহর (নদীর নিকটবর্তী অঞ্চল) এর গভর্নর নিযুক্ত করেন এবং হাতিম ইবনে কাবিছাকে মা-খালাফুন-নহর (নদীর ওপারের অঞ্চল) এর দায়িত্ব প্রদান করেন। তিনি মুখাল্লাদকে বললেন: হে বৎস! আযদ গোত্রের এই লোকগুলোর দিকে লক্ষ রেখো এবং তাদের সাথে সেরূপ আচরণ করো যেমনটি আবু দাউদ বলেছিলেন:

যখন তুমি... পুরুষদের উপকারের জন্য (আদিষ্ট হও)... তখন তাদের প্রতি দানশীল হও এবং তাদের প্রতি অনুগ্রহ করো যাদের মাধ্যমে তুমি লক্ষ্যভেদ করতে (শত্রু মোকাবিলা করতে) চাও।

--------------------------------------------

১. মূল পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "তার সঠিকতার জন্য আমি তাদের অবস্থার ওপর ধৈর্য ধরি।"

২. মূল পাণ্ডুলিপিতে এখানে শূন্যস্থান রয়েছে।

৩. মূল পাণ্ডুলিপিতে "তাকে নিযুক্ত করছেন" শব্দ রয়েছে।

৪. ইবনে জারীরের ইতিহাস গ্রন্থ (তারিখ ইবনে জারীর), খণ্ড ৮, পৃষ্ঠা ১২১ থেকে সংগৃহীত।

৫. শূন্যস্থান।
(খণ্ড: ১) তারিখু জুরজান (পৃষ্ঠা: ٥١)
وانظر هذا الحي من ربيعة فإنهم شيعتك وأنصارك فاقض حقوقهم ومذمتهم فإن أحببت أن تبلغ برضاهم فأهن لهم بني تميم ولا تدنهم فيطمعوا إليك ولا تقصهم ينأوا عنك وكن بين المدني والقاضي وبين السامع والمطيع وانظر رحمك فيهم فصلهم.

وانظر هذا الحي من قبس فإنهم أكفاء قومك فِي الجاهلية ومناصفوهم المنابر فِي الإسلام وإياك والدخول في الدماء فإنه لابقية بعدها وإياك والعقوبة فِي الإبشار فإنه عار باق ووتر مطلوب، وإياك وشتم الأعراض فإن الحر لا يرضيه من عرضه عوضا، واستعمل أهل الفضل والنجدة دون الهوى والمحبة ولا تعزل1 إلا الخيانة والعجز، ولا يمنعك من اصطناع رجل أن يكون قد سبقك إليه غيرك فإنما تصطنع الرجال لنفسك، وليك رسولك إلي ممن يفقه عنى وعنك، واحمل الناس عَلَى حسن أدبك يكفوك أنفسهم، وإذا كتبت 5/ب كتابا فأكثر النظر فيه فإن كِتَاب الرجل موضع عقله ورسوله موضع رأيه، وما قل من الكلام وخف من الخطبة أحب إلى أبيك، وأستودعك الله.

وذكر لي بعض شيوخنا ممن له دراية وعلم بإسناد له أن يزيد بْن المهلب ابْن أَبِي صفرة ورد خرسان مع أَبِيهِ فِي عسكر عظيم فتعذر عليه فتح جرحجات ثم خَرَجَ منها بعد فتحه جُرْجَان فِي سنة تسعين، دخل نيسابور فكان فِي عسكره ممن سكن جُرْجَان من الغزاة كرز بن وبرة الحارثي، وأبو طيبة عيسى بْن سُلَيْمَان بْن دينار الدارمي رحمة اللَّه عليه.

--------------------------------------------

1 في الأصل "تعرك"
আর রবী‘আহ গোত্রের এই বসতির প্রতি লক্ষ্য রাখো, কারণ তারা তোমার সমর্থক ও সাহায্যকারী। সুতরাং তাদের পাওনা ও অধিকারসমূহ পূরণ করো। তুমি যদি তাদের সন্তুষ্টির মাধ্যমে লক্ষ্য অর্জন করতে চাও, তবে তাদের জন্য বনু তামীমকে অবদমিত করো। তাদের এতটা নিকটে টেনে নিয়ো না যাতে তারা তোমার প্রতি লোভাতুর হয়ে পড়ে, আর তাদের এতটা দূরে সরিয়ে দিয়ো না যাতে তারা তোমার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তুমি নৈকট্যদানকারী ও বিচারকের মাঝে এবং শ্রবণকারী ও অনুগত ব্যক্তির মাঝে অবস্থান করো। তাদের মধ্যে তোমার আত্মীয়তার সম্পর্কের দিকে তাকাও এবং তা বজায় রাখো।

আর কাইস গোত্রের এই বসতির দিকে তাকাও, কেননা তারা জাহিলী যুগে তোমার গোত্রের সমকক্ষ ছিল এবং ইসলামে তারা মিম্বরসমূহে অংশীদার। রক্তপাতে লিপ্ত হওয়া থেকে বেঁচে থাকো, কারণ এরপর আর কোনো অস্তিত্ব অবশিষ্ট থাকে না। শারীরিক শাস্তি প্রদান থেকে বিরত থাকো, কারণ এটি একটি চিরস্থায়ী কলঙ্ক এবং দাবিকৃত প্রতিশোধ। মান-সম্মানে আঘাত ও গালি দেওয়া থেকে বিরত থাকো, কারণ একজন স্বাধীন ব্যক্তি তার সম্মানের বিনিময়ে কোনো কিছুতেই সন্তুষ্ট হয় না। প্রবৃত্তি ও ভালোবাসার বশবর্তী না হয়ে বরং মর্যাদা ও বীরত্ব সম্পন্ন ব্যক্তিদের নিয়োগ করো। খিয়ানত ও অক্ষমতা ছাড়া কাউকে বরখাস্ত করো না। কোনো ব্যক্তিকে তৈরি করার ক্ষেত্রে অন্য কেউ তোমার আগে অগ্রণী হয়েছে—এই বিষয়টি যেন তোমাকে বাধা না দেয়; কেননা তুমি তো নিজের জন্যই লোক তৈরি করছো। আমার কাছে তোমার প্রেরিত দূত যেন এমন ব্যক্তি হয় যে আমার ও তোমার পক্ষ থেকে কথা বুঝতে পারে। মানুষকে তোমার উত্তম শিষ্টাচার দ্বারা পরিচালিত করো, তাহলে তারাই তোমার পক্ষ থেকে যথেষ্ট হবে। তুমি যখন কোনো পত্র লিখবে, তখন তাতে বারবার দৃষ্টিপাত করবে; কারণ মানুষের পত্র তার বুদ্ধিমত্তার পরিচয়স্থল এবং তার দূত তার মতামতের বহিঃপ্রকাশ। অল্প কথা এবং সংক্ষিপ্ত ভাষণই তোমার পিতার কাছে অধিক প্রিয়। আমি তোমাকে আল্লাহর আশ্রয়ে সমর্পণ করছি।

আমাদের এমন একজন শায়খ, যার প্রজ্ঞা ও জ্ঞান রয়েছে, তিনি তার একটি সনদের মাধ্যমে আমার কাছে উল্লেখ করেছেন যে, ইয়াযিদ বিন মুহাল্লাব ইবনে আবি সুফরা তার পিতার সাথে এক বিশাল বাহিনী নিয়ে খোরাসানে এসেছিলেন। তার জন্য জুরজান বিজয় করা কঠিন হয়ে পড়েছিল, অতঃপর নব্বই হিজরি সনে জুরজান বিজয়ের পর তিনি সেখান থেকে বের হন। তিনি নিশাপুরে প্রবেশ করেন। জুরজানে বসবাসকারী যোদ্ধাদের মধ্যে যারা তার বাহিনীতে ছিলেন, তারা হলেন কুরয বিন ওয়াবরাহ আল-হারিসী এবং আবু তাইবাহ ঈসা বিন সুলাইমান বিন দীনার আদ-দারিমী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)।

--------------------------------------------

১. মূল পাণ্ডুলিপিতে "তারিক" রয়েছে।
(খণ্ড: ১) তারিখু জুরজান (পৃষ্ঠা: ٥١)
‌‌ذكر نسب يزيد بْن المهلب وأولاده

يزيد بْن المهلب بْن أَبِي صفرة واسمه ظالم بْن سراق بْن صبح بْن
ইয়াজিদ বিন আল-মুহাল্লাব এবং তাঁর সন্তানদের বংশপরিচয়ের বর্ণনা

ইয়াজিদ বিন আল-মুহাল্লাব বিন আবু সুফরা, এবং তাঁর নাম ছিল জালিম বিন সুরাক বিন সুব্হ বিন
(খণ্ড: ১) তারিখু জুরজান (পৃষ্ঠা: ٥٢)
كندي بْن عمرو بْن عدي بْن وائل بْن الحارث بْن العتيك بْن أسد بْن عمران بْن عمرو بْن عامر بْن حارثة بْن امرئ القيس بْن ثعلبة بْن مازن بْن الأزد وأولاد يزيد بْن المهلب معاوية1 وأخوه عيينة بْن المهلب وبقي أولاده وأولاد أولاده إلى يومنا هذا2 بِجُرْجَانَ وسنذكرهم فِي مواضعهم وكان لمخلد بْن يزيد بن يقال له خداش وله بن يقال له مخلد بْن خداش ولهم أثر بِجُرْجَانَ وخراسان رحمه الله تعالى.

--------------------------------------------

1 بيض في الأص، ومن أولاد يزيد خالد ومنهممخلد مات في حياة أبيه ومنهم المعارك وعبد الله والمغيرة، والمفصل ومنجاا أسروا بعد قتل أبيهم وقتلوا ومنهم عمر فر إلى بلاد الترك، هكذا يعلم من تاريخ ابن جرير وغيره.

2 في الأصل "كذا".
কিন্দি বিন আমর বিন আদি বিন ওয়াইল বিন আল-হারিস বিন আল-আতিক বিন আসাদ বিন ইমরান বিন আমর বিন আমির বিন হারিসা বিন ইমরুল কায়েস বিন সালাবা বিন মাজিন বিন আল-আযদ এবং ইয়াযিদ বিন আল-মুহাল্লাবের সন্তানগণ, মুয়াবিয়া১ এবং তার ভাই উইয়াইনা বিন আল-মুহাল্লাব। তার সন্তান ও নাতি-পুতিরা আজ অবধি২ জুরজানে অবস্থান করছে এবং আমরা তাদের কথা যথাস্থানে আলোচনা করব। মুখাল্লাদ বিন ইয়াযিদের খুদাশ নামক এক পুত্র ছিল এবং তার (খুদাশের) মুখাল্লাদ বিন খুদাশ নামক এক পুত্র ছিল। জুরজান ও খোরাসানে তাদের স্মৃতিচিহ্ন বিদ্যমান; আল্লাহ তাআলা তাদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন।

--------------------------------------------

১ মূল পাণ্ডুলিপিতে এখানে শূন্যস্থান ছিল। ইয়াযিদের সন্তানদের মধ্যে ছিল খালিদ; আর তাদের মধ্যে মুখাল্লাদ তার পিতার জীবদ্দশাতেই মারা যায়। আরও ছিল আল-মুয়ারিক, আবদুল্লাহ, আল-মুগিরা, আল-মুফাসসাল এবং মুনজা; তাদের পিতার হত্যার পর তাদের বন্দি করা হয় এবং পরে হত্যা করা হয়। তাদের মধ্যে উমর তুর্কিদের দেশে পালিয়ে যায়। ইবনে জারীরের ইতিহাস ও অন্যান্য গ্রন্থ থেকে এভাবেই জানা যায়।

২ মূল পাণ্ডুলিপিতে "এরূপই" আছে।
(খণ্ড: ১) তারিখু জুরজান (পৃষ্ঠা: ٥٢)
‌‌ذكر ما أسند يزيد بْن المهلب من الحديث

أَخْبَرَنِي أَبُو أَحْمَدَ الْحُسَيْنُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَعِيدٍ الأَدِيبُ بِعَسْكَرِ مُكْرَمٍ إِجَازَةً مُشَافَهَةً أَوْ سَمَاعًا عَلَى الشَّكِّ مِنِّي حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ إِسْمَاعِيلَ بْنِ مَاهَانَ الأَيْلِيُّ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ خَالِدِ بْنِ خِدَاشٍ حَدَّثَنِي أَبِي عَنِ الْهَيْثَمِ بْنِ عَدِيٍّ عن 6/ألف يُونُسَ بْنِ أَبِي إِسْحَاقَ قَالَ: خَطَبَنَا يَزِيدُ بْنُ الْمُهَلَّبِ بِطَبَرِسْتَانَ فَقَالَ: حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "قَلَّ مَا اسْتَلَحَقَ قَوْمٌ رَجُلا 1 إِلا وَرِثَهُمْ" قَالَ الهيثم: فحدثت به عيسى بْن مُوسَى فقال رجل فِي المجلس: لو كان هذا الحديث عَنْ غير يزيد فقال عيسى: كان يزيد أشرف من أن يكذب في الحديث

--------------------------------------------

1 في الأصل "رحالا".
যাজিদ ইবনুল মুহাল্লাব কর্তৃক বর্ণিত হাদিসসমূহের উল্লেখ

আসকার মুকরাম এলাকায় আবু আহমদ আল-হুসাইন ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে সাঈদ আল-আদিব আমাকে মৌখিক অনুমতি অথবা সরাসরি শ্রবণের মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন—এ বিষয়ে আমার মনে সংশয় রয়েছে—তিনি বলেন, আমাদের কাছে আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে ইসমাইল ইবনে মাহান আল-আইলি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে মুহাম্মদ ইবনে খালিদ ইবনে খিদাশ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা হায়সাম ইবনে আদি থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি [৬/ক] ইউনুস ইবনে আবু ইসহাক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যাজিদ ইবনুল মুহাল্লাব তাবারিস্থানে আমাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন এবং বলেন: আমাদের কাছে আনাস ইবনে মালিক বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "খুব কমই এমন ঘটে যে, কোনো সম্প্রদায় কোনো ব্যক্তিকে নিজেদের বংশের অন্তর্ভুক্ত করে নেয় অথচ সে তাদের উত্তরাধিকারী হয় না।" হায়সাম বলেন: আমি এই হাদিসটি ঈসা ইবনে মুসার কাছে বর্ণনা করলে মজলিসে উপস্থিত এক ব্যক্তি বললেন: "এই হাদিসটি যদি যাজিদ ছাড়া অন্য কারো সূত্রে বর্ণিত হতো!" তখন ঈসা বললেন: "যাজিদ হাদিসের ক্ষেত্রে মিথ্যা বলার চেয়েও অনেক বেশি মর্যাদাবান ও সম্মানিত ছিলেন।"

--------------------------------------------

১. মূল পাণ্ডুলিপিতে "রাহালান" শব্দবন্ধটি রয়েছে।
(খণ্ড: ১) তারিখু জুরজান (পৃষ্ঠা: ٥٣)
‌‌ذكر مكارم يزيد بْن المهلب رحمه الله

أخبرني أَبِي رحمه الله وعبد الرحمن بْن مُحَمَّد بْن جعفر أَبُو مُحَمَّد السعيدي قالا: حَدَّثَنَا أَبُو نعيم حَدَّثَنَا مُحَمَّد بْن عيسى الدامغاني حَدَّثَنَا أحمد هو بن أَبِي طيبة عَنْ عمه قدامة قَالَ: شهدت أَوْ قَالَ: قام عكرمة إلى يزيد بْن المهلب فقال: أصلح اللَّه الأمير أنا نازح الدار كبير السن كثير العيال قليل الشره قَالَ الْحَسَن: فقال:1 فأمر له بأربعة آلاف.

أخبرنا أَبُو بكر أَحْمَد بْن إبراهيم بْن الْحَسَن البزاز ببغداد حَدَّثَنَا عبيد اللَّه بْن عَبْد الرَّحْمَنِ حَدَّثَنَا أَبُو يعلي زكريا بْن يحيى حَدَّثَنَا الأصمعي قَالَ: قَالَ داود بْن يزيد عَنْ أَبِيهِ يزيد بْن حَاتِم قَالَ: جاء زفر بْن الهذيل2 إلى يزيد بْن المهلب وهو فِي حبس3 الحجاج فقال لابنه مخلد استأذن لي عَلَى أبيك فاستأذن له عليه فدخل عليه فقال: السلام عليك أيها الأمير قدرك أعظم من أن يستعان بك أَوْ يستعان عليك وقد حملت4 خمسين حمالة5 وقد قصدتك فقال: قد أمرت لك بها وشفعتها بمثلها فقال زفر: والله لا أقبل منها شيئا فقال يزيد: ولم؟ فقال: إني بذلت لك من وجهي أكثر مما بذلت لي من مالك فخرج ولم يقبل منها شيئا.

أَخَبْرَنَا أَبُو الْفَضْلِ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الزُّهْرِيُّ6 بِبَغْدَادَ أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ بن سمسار7 المروزي

--------------------------------------------

1 لعله "أحسن مقال"

2 في عيون الأخبار "1/124" "الهزيل بن زفر" وفي العقد اللفريد "1/95" "كريز بن زفر بن الحارث".

3 في الأصل "دبس"

4 في الأصل" "حمل".

5 في الأصل "حمالا".

6 لعبيد الله ترجمة في تاريخ بغداد "10/368"، ووقع في الأصل "الدهري".

7 لم أجده ولا يبعد أن يكون علي بن الحسن بن الحارث بن بحر بن سليمان له ترجمة في تاريخ بغداد "11/380".
ইয়াজিদ ইবনুল মুহাল্লাব (রাহিমাহুল্লাহ)-এর মহৎ গুণাবলির বর্ণনা

আমার পিতা (রাহিমাহুল্লাহ) এবং আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে জাফর আবু মুহাম্মদ আস-সাঈদী আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আবু নুআইম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে ঈসা আদ-দামগানী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমাদ—যিনি ইবনে আবু তয়্যিবাহ—তার চাচা কুদামাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি প্রত্যক্ষ করেছি, অথবা তিনি বলেছেন: ইকরিমাহ ইয়াজিদ ইবনুল মুহাল্লাবের নিকট দাঁড়িয়ে বললেন: আল্লাহ আমীরের কল্যাণ করুন, আমি পরবাসী, বার্ধক্যে উপনীত, অধিক পরিবার-পরিজন সম্পন্ন এবং স্বল্প লোভী। হাসান বলেন: অতঃপর তিনি (ইয়াজিদ) তাঁর জন্য চার হাজার (দিরহাম) প্রদানের নির্দেশ দিলেন।

বাগদাদে আবু বকর আহমদ ইবনে ইবরাহিম ইবনুল হাসান আল-বাযযায আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, উবায়দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু ইয়ালা যারিয়া ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আসমায়ি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: দাউদ ইবনে ইয়াজিদ তাঁর পিতা ইয়াজিদ ইবনে হাতিম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যুফার ইবনুল হুযাইল ইয়াজিদ ইবনুল মুহাল্লাবের নিকট আসলেন যখন তিনি হাজ্জাজের কারাগারে ছিলেন। তিনি তাঁর পুত্র মুখাল্লাদকে বললেন, তোমার পিতার সাথে সাক্ষাতের জন্য আমার পক্ষ থেকে অনুমতি প্রার্থনা করো। অতঃপর সে তাঁর জন্য অনুমতি চাইলে তিনি তাঁর নিকট প্রবেশ করলেন এবং বললেন: হে আমীর, আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক; আপনার মর্যাদা এর চেয়ে অনেক ঊর্ধ্বে যে আপনার নিকট সাহায্য চাওয়া হবে অথবা আপনার বিরুদ্ধে সাহায্য চাওয়া হবে। আমি পঞ্চাশটি আর্থিক দায়ের বোঝা বহন করছি এবং আপনার কাছেই সংকল্প করে এসেছি। তিনি (ইয়াজিদ) বললেন: আমি আপনার জন্য তা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছি এবং এর সাথে সমপরিমাণ আরও যুক্ত করে দিয়েছি। যুফার বললেন: আল্লাহর কসম, আমি এর কিছুই গ্রহণ করব না। ইয়াজিদ বললেন: কেন? তিনি বললেন: আমি আপনার নিকট আমার চেহারার যতটুকু মর্যাদা উৎসর্গ করেছি, তা আপনার আমাকে দেওয়া সম্পদের চেয়ে অনেক বেশি। এরপর তিনি বের হয়ে গেলেন এবং এর কিছুই গ্রহণ করলেন না।

বাগদাদে আবুল ফজল উবায়দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উবায়দুল্লাহ ইবনে সাদ ইবনে ইবরাহিম আয-যুহরী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবুল কাসিম ইবনে সিমসার আল-মারওয়াযী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন...

--------------------------------------------

১. সম্ভবত এটি "আহসানু মাক্বাল" (উত্তম কথা)।

২. 'উয়ুনুল আখবার' (১/১২৪) গ্রন্থে রয়েছে "আল-হুযাইল ইবনে যুফার" এবং 'আল-ইকদুল ফারিদ' (১/৯৫) গ্রন্থে রয়েছে "কুরাইয ইবনে যুফার ইবনুল হারিস"।

৩. মূল পাণ্ডুলিপিতে "দাবস" রয়েছে।

৪. মূল পাণ্ডুলিপিতে "হামাল" রয়েছে।

৫. মূল পাণ্ডুলিপিতে "হাম্মালান" রয়েছে।

৬. উবায়দুল্লাহর জীবনী 'তারিখে বাগদাদ' (১০/৩৬৮) গ্রন্থে রয়েছে, তবে মূল পাণ্ডুলিপিতে "আদ-দাহরি" শব্দটটি এসেছে।

৭. আমি তাঁর সন্ধান পাইনি, তবে সম্ভবত তিনি আলী ইবনুল হাসান ইবনুল হারিস ইবনে বাহর ইবনে সুলাইমান হতে পারেন, যাঁর জীবনী 'তারিখে বাগদাদ' (১১/৩৮০) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) তারিখু জুরজান (পৃষ্ঠা: ٥٤)
6/ب....1 بْنِ هِلالٍ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ2 حَدَّثَنِي أَبِي هِلالُ بْنُ عَلِيٍّ حَدَّثَنِي أَبُو خَالِدٍ يَزِيدُ بْنُ الْمُهَلَّبِ قَالَ أَوْحَى اللَّهُ عز وجل إِلَى نَبِيٍّ مِنْ أَنْبِيَائِهِ إِنِّي إِذَا ذَكَرْتُ عَمَلا صَالِحًا....3 حَفِظْتُ فِيهِمُ الأَبْنَاءَ سَلِ الأَبْنَاءَ هَلْ أَطَاعَنِي مِنْهُمْ أَحَدٌ فَشَقِيَ بِطَاعَتِهِ أَوْ عَصَانِي فَسَعِدَ بِمَعْصِيَتِهِ.

أخبرنا أَبُو الْحَسَن عَلِيّ بْن عمر الحافظ حدثنا القاضي الحسين بن إسماعيل حدثنا عَبْد اللَّهِ بْن أَبِي سعد حَدَّثَنِي مُحَمَّد بْن عمران بْن دماد4 الضبي حَدَّثَنِي مُحَمَّد بْن حفص حَدَّثَنَا مُحَمَّد بْن زياد قَالَ كتب يزيد بْن المهلب إلى رجل قد بعثت إليك بمائة ألف درهم لم أذكرها تمننا5 ولم أدع ذكرها تجبر6 ولم أرد بها جزاء والسلام أخبرني أَبُو عَبْد اللَّهِ الْحُسَيْن بْن جعفر الْجُرْجَانِيّ حَدَّثَنَا عُمَر بْن مُحَمَّد بْن الْحَسَن الشيباني أَبُو الْحَسَن حَدَّثَنَا عَبْد اللَّهِ بْن مُحَمَّد بْن قيس حَدَّثَنِي أَبُو جعفر المديني عَنْ شيخ من قريش قَالَ: قَالَ يزيد بْن المهلب لابنه: يا بني لا تمل معروفا واستكثر من الحمد فإن الذم قل من ينجو منه والله الموفق.

--------------------------------------------

1 بياض.

2 ربما يكون هو مهدي بْنِ هِلالٍ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ البصري ترجمته في لسان الميزان "6/106".

3 بياض، ولعله في "الآباء".

4 في تاريخ بغداد "3/362" "زياد".

5 بلا نقط في الأصل.

6 في الأصل "مخبرا".
৬/খ....১ বিন হিলাল আবু আব্দুল্লাহ ২। আমার পিতা হিলাল বিন আলী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবু খালিদ ইয়াজিদ বিন আল-মুহাল্লাব আমার নিকট বর্ণনা করেছেন: আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালী তাঁর নবীদের মধ্য থেকে কোনো এক নবীর প্রতি ওহী নাযিল করেছেন যে, "আমি যখন কোনো সৎকর্মের কথা উল্লেখ করি... ৩ তাদের সন্তানদের মাঝে আমি তা রক্ষা করি। সন্তানদের জিজ্ঞেস করো, তাদের মধ্যে কেউ কি আমার আনুগত্য করে দুর্ভাগা হয়েছে অথবা আমার অবাধ্য হয়ে সুখী হয়েছে?"

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হাসান আলী বিন উমর আল-হাফিজ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বিচারক আল-হুসাইন বিন ইসমাইল, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন আবি সাদ, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন ইমরান বিন দাম্মাদ ৪ আদ-দাব্বি, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন হাফস, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন যিয়াদ, তিনি বলেন: ইয়াজিদ বিন আল-মুহাল্লাব এক ব্যক্তির কাছে লিখে পাঠিয়েছেন যে, "আমি আপনার কাছে এক লক্ষ দিরহাম পাঠিয়েছি। আমি এটি খোঁটা দেওয়ার ৫ জন্য উল্লেখ করিনি এবং অহংকারবশত ৬ এটি উল্লেখ করা থেকে বিরত থাকিনি, আর আমি এর কোনো প্রতিদানও চাই না। ইতি।" আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন বিন জাফর আল-জুরজানি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উমর বিন মুহাম্মদ বিন আল-হাসান আল-শায়বানি আবু আল-হাসান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন কায়স, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবু জাফর আল-মাদিনি কুরাইশ বংশের এক শায়খ থেকে, তিনি বলেন: ইয়াজিদ বিন আল-মুহাল্লাব তার ছেলেকে বললেন: "হে বৎস, তুমি সৎকর্ম করতে ক্লান্তি বোধ করো না এবং বেশি বেশি প্রশংসা অর্জন করো, কারণ নিন্দা থেকে খুব কম লোকই রক্ষা পায়। আর আল্লাহই তাওফীকদাতা।"

--------------------------------------------

১ ফাঁকা জায়গা।

২ সম্ভবত তিনি হলেন মাহদি বিন হিলাল আবু আব্দুল্লাহ আল-বসরি, তার জীবনী 'লিসানুল মিজান' (৬/১০৬) গ্রন্থে রয়েছে।

৩ ফাঁকা জায়গা, সম্ভবত এটি "পিতাদের" ক্ষেত্রে।

৪ 'তারিখু বাগদাদ' (৩/৩৬২) গ্রন্থে "যিয়াদ" রয়েছে।

৫ মূল পাণ্ডুলিপিতে নুকতাহীন।

৬ মূলে "সংবাদদানকারী" (মুখবিরান) পাঠ রয়েছে।
(খণ্ড: ১) তারিখু জুরজান (পৃষ্ঠা: ٥٤)
‌‌ذكر عمال بني أمية رحمهم الله

ولي أمير المؤمنين عُمَر بْن عَبْد العزيز رضي الله عنه الجهم بْن بكر الجعفي جُرْجَان وبنى بها القنطرة المنسوبة إليه وكانت ولايته سنة ثم بعده
বনু উমাইয়ার কর্মকর্তাদের বিবরণ, আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন

আমীরুল মুমিনীন উমর ইবনে আবদুল আজীজ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) আল-জাহম ইবনে বকর আল-জু’ফীকে জুরজানের দায়িত্ব প্রদান করেন এবং তিনি সেখানে তাঁর নামে পরিচিত সেতুটি নির্মাণ করেন। তাঁর শাসনকাল ছিল এক বছর, অতঃপর তাঁর পরে...
(খণ্ড: ১) তারিখু জুরজান (পৃষ্ঠা: ٥٥)
زائدة بْن خارجة الجعفي وكانت ولايته سنة ثم بعده الحارث بْن عباد الطائي وكانت ولايته أربع سنين ثم بعده الوليد بْن عَبْد اللَّهِ الجعفي وكانت ولايته سنة وستة أشهر ثم كان بعده مُحَمَّد بْن عَبْد اللَّهِ السلمي وكانت ولايته سنة 7/ألف ثم بعده غالب بْن قيس النخعي وكانت ولايته سنة ستة 7/ألف ثم بعده سُلَيْمَان1 بْن سليم الذي بني سُلَيْمَان باذ وكانت ولايته أربع سنين وكان فِي سنة مائة وعشر ثم كان بعده إياس بْن عمرو بْن عبد الله كانت ولايته أشهر ثم كان بعده عَبْد اللَّهِ بْن أَبِي مرة التغلبي وولايته سنة ثم كان بعده نباتة بْن حنظلة ستة أشهر وذلك فِي سنة خمس وعشرين ومائة2 وقتل بباب خراسان مع ابنه فِي حانوت ومدة عمال بني أمية سبع وعشرين سنة.

أخبرونا عَنْ مُحَمَّد بْن عُمَر بْن واقد أنه قَالَ لما حضر المهلب بْن أَبِي صفرة الوفاة بمرو الروذ3 سنة اثنتين وثمانين استخلف ابنه يزيد وهو بن ثلاثين سنة وولاه سُلَيْمَان بْن عَبْد الملك خراسان فافتتح جُرْجَان ودهستان.

قال شيخنا أَبُو أَحْمَد بْن عدي إن الفضل بْن الحباب الجمحي ذكر لهم عَنْ مُحَمَّد بْن سلام عَنْ أَبِيهِ أن يزيد بْن المهلب حين فتح جُرْجَان كتب إلى أخيه مروان بْن المهلب وكان خليفته4 عَلَى "البصرة أن يحمل اليه الفرزدق –5 "ويدفع إليه إذا شخص عشرة آلاف درهم قَالَ فدعا الفرزدق فقال له وأعطاه ما أمر فأبى أن يأخذها وأنشأ يقول:

--------------------------------------------

1 في الأصل "سليمى".

2 زاد في الأصل "ستة أسقر".

3 في الأصل "نمروذ"، والتصحيح من كامل ابن الأثير "4/29".

4 في الأصل "خليفة"

5 موضعه بياض في الأصل، والتصحيح من كامل ابن الأثير "5/11" والأغاني "9/16" وديوان الفرزدق من الخمسة ص156.
যায়িদাহ ইবনে খারিজাহ আল-জু'ফী, তাঁর শাসনকাল ছিল এক বছর। অতঃপর তাঁর পরে আল-হারিস ইবনে আব্বাদ আত-তায়ি, তাঁর শাসনকাল ছিল চার বছর। তারপর আল-ওয়ালীদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-জু'ফী, তাঁর শাসনকাল ছিল এক বছর ছয় মাস। এরপর ছিলেন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আস-সুলামি, তাঁর শাসনকাল ছিল এক বছর ৭/ক। তারপর গালিব ইবনে কাইস আন-নাখায়ি, তাঁর শাসনকাল ছিল ছয় বছর ৭/ক। এরপর সুলায়মান১ ইবনে সুলাইম, যিনি সুলায়মান বায নির্মাণ করেছিলেন; তাঁর শাসনকাল ছিল চার বছর এবং তা ছিল একশত দশ হিজরি সনে। তারপর ছিলেন ইয়াস ইবনে আমর ইবনে আব্দুল্লাহ, তাঁর শাসনকাল ছিল কয়েক মাস। এরপর ছিলেন আব্দুল্লাহ ইবনে আবি মুররাহ আত-তাগলিবি এবং তাঁর শাসনকাল ছিল এক বছর। এরপর ছিলেন নাবাতাহ ইবনে হানজালাহ ছয় মাস, আর তা ছিল একশত পঁচিশ হিজরি সনে২। তিনি তাঁর পুত্রসহ খুরাসানের প্রবেশদ্বারে একটি দোকানে নিহত হন। বনু উমাইয়ার গভর্নরদের শাসনকাল ছিল মোট সাতাশ বছর।

মুহাম্মদ ইবনে উমর ইবনে ওয়াকিদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি বলেছেন: যখন বিরাশি হিজরি সনে মারউ আর-রূদ৩ নামক স্থানে আল-মুহাল্লাব ইবনে আবি সুফরাহ মৃত্যুশয্যায় উপনীত হলেন, তখন তিনি তাঁর পুত্র ইয়াযীদকে নিজের স্থলাভিষিক্ত করেন; তখন তাঁর বয়স ছিল ত্রিশ বছর। সুলায়মান ইবনে আব্দুল মালিক তাঁকে খুরাসানের গভর্নর নিযুক্ত করেন। অতঃপর তিনি জুরজান ও দেহিস্তান বিজয় করেন।

আমাদের শায়খ আবু আহমাদ ইবনে আদি বলেছেন যে, আল-ফাদল ইবনে আল-হুবাব আল-জুমাহি তাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে সালামের সূত্রে এবং তিনি তাঁর পিতার সূত্রে উল্লেখ করেছেন যে, ইয়াযীদ ইবনে আল-মুহাল্লাব যখন জুরজান বিজয় করেন, তখন তিনি বসরার দায়িত্ব পালনকারী তাঁর ভাই মারওয়ান ইবনে আল-মুহাল্লাবের৪ নিকট চিঠি লিখলেন যেন তিনি আল-ফারাজদাককে৫ তাঁর নিকট পাঠিয়ে দেন এবং সে যখন যাত্রা করবে তখন তাকে দশ হাজার দিরহাম প্রদান করেন। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তিনি আল-ফারাজদাককে ডাকলেন এবং যা দেওয়ার নির্দেশ ছিল তা তাকে দিলেন, কিন্তু তিনি তা নিতে অস্বীকার করলেন এবং এই কবিতা আবৃত্তি করতে লাগলেন:

--------------------------------------------

১ মূল পাঠে "সুলাইমা" রয়েছে।

২ মূল পাঠে "ছয় মাস" অতিরিক্ত রয়েছে।

৩ মূল পাঠে "নামরূদ" রয়েছে, আর সংশোধনটি কামিল ইবনুল আসির (৪/২৯) থেকে নেওয়া হয়েছে।

৪ মূল পাঠে "খলিফা" রয়েছে।

৫ এই স্থানটি মূল পাঠে শূন্য ছিল, সংশোধনটি কামিল ইবনুল আসির (৫/১১), আল-আগানি (৯/১৬) এবং দিওয়ান আল-ফারাজদাক (পৃষ্ঠা ১৫৬) থেকে নেওয়া হয়েছে।
(খণ্ড: ১) তারিখু জুরজান (পৃষ্ঠা: ٥٦)
دعاني إلى جُرْجَان والري1 دونه … لآتيه إني إذا لزؤور2

لآتي من آل المهلب ثائرا3 … بأعراضهم والدائرات تدور

سآبى وتأبى لي تميم وربما … أبيت فلم يقدر علي أمير

--------------------------------------------

1 في الأصل "والدبى" والتصحيح من الأغاني.

2 في الأصل "إذا....ور" والتصحيح من الأغاني

3 بلا نقط في الأصل، وفي الأغاني "زائرا"، والتصحيح من الديوان.
তিনি আমাকে জুরজান এবং রাই-এর দিকে ডাকলেন যা তাঁর সন্নিকটে … যেন আমি তাঁর কাছে আসি, নিশ্চয়ই আমি তখন অধিক সাক্ষাৎকারী হব।

আমি আল-মুহাল্লাব বংশের নিকট প্রতিশোধ গ্রহণকারী হিসেবে আসব … তাদের সম্মান নিয়ে, আর সময়ের চাকা তো আবর্তিত হতেই থাকে।

আমি অসম্মতি জানাব এবং তামীম গোত্রও আমার হয়ে অসম্মতি জানাবে; অনেক সময়ই আমি অসম্মতি জানিয়েছি ফলে কোনো আমীর আমার ওপর নিয়ন্ত্রণ পায়নি।

--------------------------------------------

১ মূল পাণ্ডুলিপিতে "ওয়াদ-দুব্বা" ছিল এবং আল-আগানী গ্রন্থ থেকে সংশোধন করা হয়েছে।

২ মূল পাণ্ডুলিপিতে "ইযা....ওর" ছিল এবং আল-আগানী গ্রন্থ থেকে সংশোধন করা হয়েছে।

৩ মূল পাণ্ডুলিপিতে নুকতাহীন ছিল, আল-আগানী গ্রন্থে "যা'ইরান" বর্ণিত হয়েছে এবং দিওয়ান থেকে এটি সংশোধন করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) তারিখু জুরজান (পৃষ্ঠা: ٥٦)
‌‌ذكر تسمية خطط المساجد التي بنيت فِي أيام بني أمية

بنيت بِجُرْجَانَ مسجد بجيلة عَلَى رأس سكة الحجاج مقابل الدباغين مربعة عَلِيّ بْن زهير ومسجد محارب فِي سكة البريد مسجد قريش 7/ب بجنب دار عَبْد اللَّهِ بْن عيسى مسجد حمراء وكان يعرف بمسجد بن أَبِي رافع فِي سكة محرز وتعرف اليوم بسكة الخلنجيين مسجد بني أسد فِي سكة محرز وهو مسجد إسحاق الوزدولي مسجد العشيرة وكان يعرف بمسجد برجوبراه1 العطار مسجد الموالي فِي سكة الموالي مسجد خثعم وكان يعرف بمسجد داود بْن عَبْد ربه مسجد همدان فِي درب همدان ويعرف اليوم بدرب حمدان مسجد بني ضبة وكان سكن فيه عفان بْن سيار2 قاضي جُرْجَان مسجد الأزد وهو مسجد عبدك3 عَبْد الكريم الفقيه بباب خان عبدك ويدعى اليوم بمسجد أَبِي الخطاب مسجد بني عجل وهو المسجد الذي بباب الجديد الذي فيه القبر وشجرة الزيتون مسجد

--------------------------------------------

1 كذا.

2 هكذا ضبطه في التقريب وغيره، ووقع في الأصل "يسار" بلا نقط.

3 في الأصل "عبد" ويأتي في التراجم " عَبْد الكريم بْن عَبْد الكريم … المعروف بعبدك هو الذي ينسب إليه خان عبدك"
বনু উমাইয়াদের যুগে নির্মিত মসজিদসমূহের সীমানা ও নামকরণের বর্ণনা

জুরজানে বাজিলাহ মসজিদ হাজ্জাজ সড়কের মাথায় চর্মকারদের বিপরীতে নির্মিত হয়েছিল। আলী ইবনে জুহাইরের চত্বর এবং ডাকঘর সড়কে মুহারিব মসজিদ। আবদুল্লাহ ইবনে ঈসার বাড়ির পাশে কুরাইশ মসজিদ ৭/খ। হামরাহ মসজিদ, যা মুহরিজ সড়কে ইবনে আবি রাফে’র মসজিদ নামে পরিচিত ছিল এবং বর্তমানে যা খালাঞ্জিইয়িন সড়ক নামে পরিচিত। মুহরিজ সড়কে বনু আসাদ মসজিদ, এটি ইসহাক আল-ওয়াযদুলির মসজিদ। আল-আশিরাহ মসজিদ, যা বুর্জুবরাহ আল-আত্তারের মসজিদ নামে পরিচিত ছিল। মাওয়ালিদের সড়কে মাওয়ালি মসজিদ। খাসআম মসজিদ, যা দাউদ ইবনে আবদ রাব্বিহি-র মসজিদ নামে পরিচিত ছিল। হামদান গলিতে হামদান মসজিদ, যা বর্তমানে হামদান গলি নামে পরিচিত। বনু দাব্বাহ মসজিদ, যেখানে জুরজানের বিচারক আফফান ইবনে সাইয়্যার বসবাস করতেন। আল-আযদ মসজিদ, যা খান আবদাক ফটকের নিকটবর্তী ফকিহ আবদাক আবদুল কারিমের মসজিদ এবং বর্তমানে একে আবু আল-খাত্তাবের মসজিদ বলা হয়। বনু আজল মসজিদ, এটি নতুন ফটকের নিকটবর্তী মসজিদ যাতে একটি কবর এবং জলপাই গাছ রয়েছে। মসজিদ

--------------------------------------------

১. অনুরূপ।

২. তাকরিব এবং অন্যান্য গ্রন্থে এভাবেই লিপিবদ্ধ করা হয়েছে, তবে মূল পাণ্ডুলিপিতে নুকতা ব্যতীত "ইয়াসার" এসেছে।

৩. মূল পাণ্ডুলিপিতে "আবদ" রয়েছে, এবং জীবনী গ্রন্থসমূহে "আবদুল কারিম ইবনে আবদুল কারিম... যিনি আবদাক নামে পরিচিত, তাঁর নামেই খান আবদাক-এর নামকরণ করা হয়েছে" হিসেবে এসেছে।
(খণ্ড: ১) তারিখু জুরজান (পৃষ্ঠা: ٥٧)
تيم بْن ثعلبة عَلَى طرف من مربعة باب الجديد مسجد بني قيس بْن ثعلبة وكان يعرف بشجاع بني المحتسب فِي هذه السكة مسجد الحضرميين فِي سكة الحضرميين وكان يعرف بخلاد بْن مُحَمَّد مسجد بني سنان وهو مسجد أَبِي طيبة يعرف اليوم بمسجد عَبْد الواسع بْن أَبِي طيبة مسجد أفناء العرب ويعرف اليوم بمسجد البصريين مسجد بني ذهل وهو مسجد البزازين1 عَلَى باب خان بْن المستنير وسط السوق مسجد مراد وهو مسجد السراجين الذي جدد فِي سنة تسع وتسعين وثلاثمائة مسجد نخلة فِي سكة أساكفة … 2 سكة سجن وتحته حوض مسجد قضاعة فِي سكة المرزبان حيث … 2 حسان مسجد بني تميم بباب اليهود يعرف ببحر السواق....2 للشيعة مسجد عَبْد القيس فِي صف القصبتين ويعرف بالقحطبيين مسجد زفر في مربعة جلاباذ.

--------------------------------------------

1 في الأصل "البزاز ابن".

2 -2 بياض.
তায়ম বিন সা'লাবা; বাব আল-জাদিদ চত্বরের এক প্রান্তে বনু কায়েস বিন সা'লাবা মসজিদ এবং এই গলিতে তা শুজা' বনু আল-মুহতাসিব নামে পরিচিত ছিল। হাজরামিদের গলিতে হাজরামিদের মসজিদ এবং তা খাল্লাদ বিন মুহাম্মাদ নামে পরিচিত ছিল। বনু সিনান মসজিদ, যা আবু তাইবার মসজিদ, বর্তমানে তা আব্দুল ওয়াসি বিন আবি তাইবা মসজিদ নামে পরিচিত। আফনাউল আরব মসজিদ, যা বর্তমানে বাসরাবাসীদের মসজিদ নামে পরিচিত। বনু জুহাল মসজিদ, যা কাপুড়িয়াদের মসজিদ১, এটি বাজারের মাঝখানে খান বিন আল-মুস্তানিরের ফটকের কাছে অবস্থিত। মুরাদ মসজিদ, যা জিন-নির্মাতাদের মসজিদ, এটি ৩৯৯ সনে সংস্কার করা হয়েছিল। আসাকিফা গলিতে নাখলা মসজিদ ... ২ কারাগার গলি এবং তার নিচে একটি পানির চৌবাচ্চা রয়েছে। মারজুবান গলিতে কুযাআ মসজিদ যেখানে ... ২ হাসান। ইহুদি ফটকের কাছে বনু তামিমি মসজিদ, যা বাহর আস-সাউওয়াক নামে পরিচিত.... ২ শিয়াদের জন্য। সাফ্ আল-কাসাবাতাইনে আব্দুল কায়েস মসজিদ, যা আল-কাহতাবিয়্যিন নামে পরিচিত। জাল্লাবাজ চত্বরে যুফার মসজিদ।

--------------------------------------------

১ মূলে রয়েছে "আল-বাজজাজ ইবন"।

২ -২ শূন্যস্থান।
(খণ্ড: ১) তারিখু জুরজান (পৃষ্ঠা: ٥٧)
‌‌ذكر من دخل جُرْجَان من الخلفاء العباسية

8/ألف ورد هارون الرشيد جُرْجَان حيث توجه إلى طوس سنة اثنتين وأربعين ومائة وقدم ابنه المأمون فِي سنة ثلاث ومائتين وكان معه عَلِيّ بْن مُوسَى الرضا ومحمد بْن جعفر بْن مُحَمَّد وبنى قصرا وهو معروف بها بقرب قبر مُحَمَّد بْن جعفر وقدم القاسم بْن الرشيد جُرْجَان فِي سنة سبع وسبعين ومائة وقدم مُوسَى بْن المهدي وهو أخو الرشيد جُرْجَان وقدم عليه ببيعته نصير مولى المهدي فولى سنة وشهر1 وتوفي ببغداد سنة سبعين ومائة.

--------------------------------------------

1 كذا، وفي تاريخ ابن الأثير "6/41"" سنة وثلاثة أشهر وقيل كانت أربعة عشر شهرا".
আব্বাসীয় খলিফাদের মধ্যে যারা জুরজানে প্রবেশ করেছেন তাদের বর্ণনা

৮/আলিফ। হারুন আল-রশিদ জুরজানে আগমন করেন যখন তিনি একশত বিয়াল্লিশ (১৪২) হিজরি সালে তুসের অভিমুখে যাচ্ছিলেন। তাঁর পুত্র আল-মামুন দুইশত তিন (২০৩) হিজরি সালে আগমন করেন; তাঁর সাথে ছিলেন আলী ইবনে মুসা আর-রিদা এবং মুহাম্মদ ইবনে জাফর ইবনে মুহাম্মদ। তিনি সেখানে একটি প্রাসাদ নির্মাণ করেন যা মুহাম্মদ ইবনে জাফরের কবরের নিকটবর্তী স্থানে সুপরিচিত। আল-কাসিম ইবনে আল-রশিদ একশত ৭৭ (১৭৭) হিজরি সালে জুরজানে আগমন করেন। মুসা ইবনে আল-মাহদি, যিনি আর-রশিদের ভাই, জুরজানে আগমন করেন। আল-মাহদির মুক্তদাস নাসির তাঁর নিকট বায়াত (আনুগত্যের শপথ) নিয়ে উপস্থিত হন। অতঃপর তিনি এক বছর এক মাস শাসন করেন এবং একশত সত্তর (১৭০) হিজরি সালে বাগদাদে মৃত্যুবরণ করেন।

--------------------------------------------

১. মূল পাঠে এমনই রয়েছে, তবে ইবনুল আসিরের ইতিহাসে (৬/৪১) বর্ণিত হয়েছে: "এক বছর তিন মাস, এবং বলা হয়েছে যে তা চৌদ্দ মাস ছিল।"
(খণ্ড: ১) তারিখু জুরজান (পৃষ্ঠা: ٥٨)
‌‌ذكر عمال ولد العباس رضي الله عنهم

طيفور بْن عَبْد اللَّهِ كان فِي أيام أَبِي العباس السفاح ثم شيخ بْن عميرة1 وكان فِي أيام أَبِي جعفر المنصور وخالد بْن يزيد من ولد المهلب بْن أَبِي صفرة وعبد اللَّه بْن طاهر وعلي بْن عَبْد اللَّهِ بْن طاهر مات بِجُرْجَانَ ثم حمل إلى خراسان.

قال الشيخ السعيد أبو القاسم حمزة بن يوسف السهمي رضي الله عنه ونور حفرته سألني بعض إخواني أخرج عَنْ كل من أذكر اسمه من العلماء والفقهاء والرواة والمفسرين والمصنفين فِي هذا الكتاب حديثا أَوْ حكاية أن أروي عنهم وعن كل من دخل جُرْجَان من العلماء وحدث بها ومات بها أَوْ من أهل جُرْجَان وانتقل منها إلى بلد آخر فأجبت إلى ذلك وبنيت عليه وقد مضى أمر الولاة وبينت أسامي العلماء عَلَى حروف المعجم ليسهل عَلَى من طلبه للمعرفة أَوْ للفائدة وكان من الحق أن أذكرهم عَلَى طبقاتهم عَلَى السنين فاختصرت عليه ليسهل طريقه وتعجل فائدته وبالله أستعين وله الحمد والمنة.

--------------------------------------------

1 تأتي ترجمة شيخ في بابه، ووقع في الأصل هنا "عمير".
আব্বাসীয় সন্তানদের (আল্লাহ তাঁদের ওপর সন্তুষ্ট হোন) কর্মকর্তাদের বিবরণ

তাইফুর ইবনে আব্দুল্লাহ; তিনি আবুল আব্বাস আস-সাফফাহর যুগে ছিলেন। অতঃপর শায়খ ইবনে উমাইরা১; তিনি আবু জাফর আল-মনসুরের যুগে ছিলেন। এবং মুহাল্লাব ইবনে আবি সুফরাহ-র বংশধর খালিদ ইবনে ইয়াযিদ, আব্দুল্লাহ ইবনে তাহির এবং আলী ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে তাহির; তিনি জুরজানে মৃত্যুবরণ করেন, অতঃপর তাঁকে খুরাসানে নিয়ে যাওয়া হয়।

মহিমান্বিত শায়খ আবুল কাসিম হামযাহ ইবনে ইউসুফ আস-সাহমি (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁর কবরকে নূরে উদ্ভাসিত করুন) বলেন: আমার জনৈক দ্বীনি ভাই আমার কাছে অনুরোধ করেছেন যে, এই গ্রন্থে আমি যেসব আলেম, ফকিহ, বর্ণনাকারী, মুফাসসির এবং গ্রন্থকারদের নাম উল্লেখ করব, তাঁদের প্রত্যেকের পক্ষ থেকে যেন একটি করে হাদিস অথবা কোনো ঘটনা বর্ণনা করি। আর যারা জুরজানে প্রবেশ করেছেন, সেখানে হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং সেখানে মৃত্যুবরণ করেছেন অথবা যারা জুরজানের অধিবাসী ছিলেন এবং সেখান থেকে অন্য শহরে স্থানান্তরিত হয়েছেন—তাঁদের সকলের পক্ষ থেকেই যেন আমি বর্ণনা করি। আমি তাঁর সেই আহবানে সাড়া দিয়েছি এবং এর ওপর ভিত্তি করেই কিতাবটি সংকলন করেছি। শাসকদের বিষয়াদি ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে এবং আমি আলেমদের নামসমূহ বর্ণমালার ক্রমানুসারে বিন্যস্ত করেছি, যাতে জ্ঞান অন্বেষণকারী বা এর দ্বারা উপকৃত হতে ইচ্ছুক ব্যক্তির জন্য তা খুঁজে পাওয়া সহজ হয়। যদিও নিয়ম ছিল তাঁদের বছরভিত্তিক স্তর (তাবাকাত) অনুযায়ী উল্লেখ করা, কিন্তু আমি একে সংক্ষিপ্ত করেছি যাতে পদ্ধতিটি সহজ হয় এবং এর উপকার দ্রুত লাভ করা যায়। আমি আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি, আর সমস্ত প্রশংসা ও অনুগ্রহ একমাত্র তাঁরই জন্য।

--------------------------------------------

১. শায়খের জীবনী তাঁর নিজস্ব অধ্যায়ে আসবে, আর মূল পাণ্ডুলিপিতে এখানে "উমাইর" শব্দ পাওয়া গিয়েছে।
(খণ্ড: ১) তারিখু জুরজান (পৃষ্ঠা: ٥٩)
‌‌الجزء الأول

‌‌باب حرف الألف

‌‌من اسمه أحمد

…

باب حرف الألف

من اسمه أَحْمَد

1- أحمد بْن أَبِي طيبة عيسى بْن سُلَيْمَان بْن دينار الدارمي كان قاضي جُرْجَان ولاه المأمون أمير المؤمنين.

ذكر لنا شيخنا أَبُو أَحْمَد عَبْد اللَّهِ بْن عدي الحافظ أن عَبْد الرَّحْمَنِ بْن عَبْد اللَّهِ بْن عَبْد الواسع بْن أَبِي طيبة أخبره أن أَحْمَد بْن أَبِي طيبة قصد المأمون بمرو وسأله أن يعفيه عَنْ قضاء جُرْجَان فأعفاه عَلَى أن يتولى له قضاء غيرها واختار لنفسه قضاء قومس فولاه قضاءها فخرج إليها وأقام بها حتى مات ودفن بقومس وحدث بأحاديث كثيرة بِجُرْجَانَ وبقومس روى عَنْ أَبِيهِ لأبي طيبة ومالك بْن أنس وعنبسة1 وعمران بْن عبيد الضبي الْجُرْجَانِيّ وعمر بْن ذر –2".

أخبرنا أَبُو بكر أَحْمَد بْن عبدان الحافظ بالأهواز حَدَّثَنَا مُحَمَّد بْن سهل المقري3 حَدَّثَنَا مُحَمَّد بْن إسماعيل البخاري قَالَ مات أَحْمَد بْن أبي طيبة.

--------------------------------------------

1 في الأصل هنا "وعينة"، ويأتي أثناء الترجمة "عنبسة" وهو عنبسة بن الأزهر تأتي ترجمته.

2 موضعه في الأصل بياض، ويأتي بتمامه في أواخر الترجمة.

3 هو محمد بن سهل بن كردي البصري المقري الفسوي روى عن البخاري تاريخه الكبير وروى عنه أحمد بن عبدان كما تراه في لوح المجلد الأول من تاريخ البخاري الكبير ولسان الميزان "5/194 "وغيرهما، ووقع في الأصل "محمد بن شهاب المقبري "وسيأتي في ترجمة سليمان بن الجهم على الصواب.
প্রথম খণ্ড

আলিফ বর্ণের অধ্যায়

যাদের নাম আহমদ

...

আলিফ বর্ণের অধ্যায়

যাদের নাম আহমদ

১- আহমদ বিন আবি তাইয়্যেবাহ ঈসা বিন সুলায়মান বিন দীনার আদ-দারিমি। তিনি জুরজানের কাজি (বিচারক) ছিলেন, আমীরুল মুমিনীন আল-মামুন তাকে নিয়োগ দিয়েছিলেন।

আমাদের শায়খ আবু আহমদ আব্দুল্লাহ বিন আদি আল-হাফিয আমাদের নিকট উল্লেখ করেছেন যে, আব্দুর রহমান বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল ওয়াসি বিন আবি তাইয়্যেবাহ তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, আহমদ বিন আবি তাইয়্যেবাহ মার্ভে আল-মামুনের নিকট গমন করেন এবং তার নিকট জুরজানের বিচারকার্য থেকে অব্যাহতি প্রার্থনা করেন। ফলে তিনি তাকে এই শর্তে অব্যাহতি দেন যে, তিনি অন্য কোনো অঞ্চলের বিচারকার্য পরিচালনা করবেন। তখন তিনি নিজের জন্য কওমিসের বিচারকার্য পছন্দ করে নেন এবং তাকে সেখানকার কাজি নিযুক্ত করা হয়। তিনি সেখানে গমন করেন এবং মৃত্যু পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান করেন এবং কওমিসেই তাকে সমাহিত করা হয়। তিনি জুরজান ও কওমিসে অনেক হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি তার পিতা আবু তাইয়্যেবাহ, মালিক বিন আনাস, আনবাসাহ (১), ইমরান বিন উবাইদ আদ-দাব্বি আল-জুরজানি এবং উমর বিন যার (২) থেকে বর্ণনা করেছেন।

আহওয়াজে আবু বকর আহমদ বিন আবদান আল-হাফিয আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, মুহাম্মদ বিন সাহল আল-মুকরি (৩) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-বুখারি বলেছেন, আহমদ বিন আবি তাইয়্যেবাহ মৃত্যুবরণ করেছেন।

--------------------------------------------

১। মূলে এখানে "উয়াইনাহ" রয়েছে, তবে জীবনীর বর্ণনায় সামনে "আনবাসাহ" আসবে; তিনি হলেন আনবাসাহ বিন আল-আযহার, যার জীবনী সামনে আসবে।

২। মূল পাণ্ডুলিপিতে এই স্থানটি শূন্য রয়েছে, জীবনীর শেষের দিকে এটি পূর্ণাঙ্গভাবে আসবে।

৩। তিনি হলেন মুহাম্মদ বিন সাহল বিন কুরদি আল-বাসরি আল-মুকরি আল-ফাসাবি। তিনি বুখারি থেকে তার ‘তারিখে কাবির’ বর্ণনা করেছেন এবং আহমদ বিন আবদান তার থেকে বর্ণনা করেছেন, যেমনটি আপনি বুখারির ‘তারিখে কাবির’-এর প্রথম খণ্ডের পৃষ্ঠায় এবং ‘লিসানুল মিজান’ (৫/১৯৪) ও অন্যান্য কিতাবে দেখতে পাবেন। মূলে "মুহাম্মদ বিন শিহাব আল-মাকবুরি" ভুলবশত এসেছে, তবে সুলায়মান বিন আল-জাহমের জীবনীতে এটি সঠিকরূপে আসবে।
(খণ্ড: ১) তারিখু জুরজান (পৃষ্ঠা: ٦٠)
عيسى بْن سُلَيْمَان سنة ثلاث ومائتين.

أكثر ما روى أَحْمَد بْن طيبة وتفرد به.

حَدَّثَنَا أَبِي أَبُو يَعْقُوبَ يُوسُفُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ وَمُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ بْنِ مُحَمَّدٍ الْجُنَيْدِيُّ الْجُرْجَانِيُّ بِالْبَصْرَةِ قَالا حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَدِيٍّ حَدَّثَنَا عمار حدثنا أحمد يعني بْنُ أَبِي طَيْبَةَ حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنِ بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَن ِالنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: "وَالْمُزَابَنَةُ اشْتِرَاءُ التَّمْرِ بِالتَّمْرِ وَالْمُحَاقَلَةُ اشْتِرَاءُ الزَّرْعِ بِالْحِنْطَةِ وَكِرَاءُ الأَرْضِ بِالْحِنْطَةِ".

أَخْبَرَنَا أَبُو أَحْمَد بْن عدي حَدَّثَنَا جعفر بْن مُحَمَّد بْن عَبْد الكريم العطار حَدَّثَنَا عمار بمثله سواء وقال لنا ابْن عدي لم يسنده إلا أَحْمَد بْن أَبِي طيبة الْجُرْجَانِيّ.

أَخْبَرَنَا أَبُو أَحْمَدَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَدِيٍّ حَدَّثَنَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ زُهَيْرٍ حَدَّثَنَا عَمَّارُ بْنُ رَجَاءٍ حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي طَيْبَةَ حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ عَنِ الزهري 9/ألف عن سالم بن أَبِيهِ أَن ّالنَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: "الشُّؤْمُ فِي الدَّارِ وَالْفَرَسِ وَالْمَرْأَةِ".

أَخَبْرَنَا أَبِي رضي الله عنه حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا عَمَّارٌ حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي طَيْبَةَ حَدَّثَنِي عَنْبَسَةُ عَنْ زَاهِرِ بْنِ زَيْدٍ الذُّهْلِيِّ عَنْ عَلْقَمَةَ قَالَ: إِذَا قَاتَلَ أَهْلُ الْحَقِّ أَهْلَ الْبَاطِلِ لَمْ تَكُنْ فِتْنَةٌ قَالَ عمار: قَالَ أَحْمَد بْن أَبِي طيبة: سألني المأمون عَنْ هذا الحديث.

أَخْبَرَنَا أَبُو أَحْمَد عَبْد اللَّهِ بْن عَدِيٍّ الْحَافِظُ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ الْمُؤْمِنِ حَدَّثَنَا عَمَّارُ بن أبي عمار وهو بْنُ رَجَاءٍ حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي طَيْبَةَ
ঈসা বিন সুলাইমান, দুইশত তিন হিজরি সন।

তিনি আহমাদ বিন তাইবাহ থেকে সবচেয়ে বেশি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি এটি বর্ণনায় একক ছিলেন।

আমাদের নিকট আমার পিতা আবু ইয়াকুব ইউসুফ বিন ইবরাহিম এবং মুহাম্মদ বিন ইউসুফ বিন মুহাম্মদ আল-জুনাইদি আল-জুরজানি বসরায় বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের নিকট আবু নুআইম আব্দুল মালিক বিন মুহাম্মদ বিন আদি বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আম্মার বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আহমাদ - অর্থাৎ বিন আবী তাইবাহ - বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মালিক বিন আনাস বর্ণনা করেছেন জুহরি থেকে, তিনি ইবনুল মুসাইয়িব থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: "মুযাবানাহ হলো খেজুরের বিনিময়ে শুকনো খেজুর ক্রয় করা, আর মুহাক্বালাহ হলো গমের বিনিময়ে শস্যক্ষেত্র ক্রয় করা এবং গমের বিনিময়ে জমি ভাড়া দেওয়া।"

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আহমাদ বিন আদি, আমাদের নিকট জাফর বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল কারিম আল-আত্তার বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আম্মার হুবহু একই রকম বর্ণনা করেছেন। ইবনে আদি আমাদের নিকট বলেছেন: আহমাদ বিন আবী তাইবাহ আল-জুরজানি ব্যতীত আর কেউ এটি মারফু হিসেবে বর্ণনা করেননি।

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আহমাদ আব্দুল্লাহ বিন আদি, আমাদের নিকট আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন যুহাইর বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আম্মার বিন রাজা বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আহমাদ বিন আবী তাইবাহ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মালিক বিন আনাস বর্ণনা করেছেন জুহরি থেকে (৯/আলিফ), তিনি সালিম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "অশুভ লক্ষণ হলো ঘর, ঘোড়া এবং নারীর মধ্যে।"

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমার পিতা (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন), আমাদের নিকট আবু নুআইম বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আম্মার বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আহমাদ বিন আবী তাইবাহ বর্ণনা করেছেন, আমার নিকট আনবাসাহ বর্ণনা করেছেন যাহির বিন যায়েদ আদ-ধুহলি থেকে, তিনি আলক্বামাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যখন সত্যপন্থীরা মিথ্যাবাদীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে, তখন তা ফিতনা হয় না। আম্মার বলেন: আহমাদ বিন আবী তাইবাহ বলেছেন: আল-মামুন আমাকে এই হাদিসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন।

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আহমাদ আব্দুল্লাহ বিন আদি আল-হাফিজ, আমাদের নিকট আব্দুর রহমান বিন আব্দুল মুমিন বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আম্মার বিন আবী আম্মার - এবং তিনি হলেন বিন রাজা - বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আহমাদ বিন আবী তাইবাহ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) তারিখু জুরজান (পৃষ্ঠা: ٦١)
عَنْ عُمَرَ بْنِ ذَرٍّ عَنْ سَعِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبْزِيٍّ1 الْخُزَاعِيِّ عَنْ أَبِيهِ أَنَّهُ صَلَّى خَلْفَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رضي الله عنه فَسَمِعَهُ يَجْهَرُ بِبِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ.

2 - أبو زرعة أَحْمَد بْن حميد الصيدلاني الْجُرْجَانِيّ كان حافظا يعرف علل الحديث مات بمكة روى عَنْ مُحَمَّد بْن عَبْد الأعلى ويحيى بْن سعيد القطان وعمرو بْن علي روى عنه مُوسَى بْن هارون الحمال والحسن بْن أَحْمَدَ الصغاني وغيرهما.

سمعت الشيخ أبا بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الإِسْمَاعِيلِيُّ يقول سمعت أبا عمران بْن هانئ يقول كان أَبُو زرعة الْجُرْجَانِيّ أحفظ من أَبِي زرعة الرَّازِيّ وكان قد صحب يحيى بْن سعيد القطان وسلم يحيى بْن سعيد ابنه إليه ليفيده الحديث.

سمعت أبا أَحْمَد بْن عدي الحافظ يقول سمعت إبراهيم بْن مُحَمَّد بْن عيسى يقول كان مُوسَى بْن هارون يأخذ علل الرجال عَنْ أَبِي زرعة الْجُرْجَانِيّ ويدخلها فِي كتابه.

كَتَبَ إِلَيَّ أَبُو الْحَسَنِ … 2 أَحْمَد السَّرَّاجُ مِنْ نَيْسَابُورَ يُخْبِرُ أَنَّ أَبَا عِمْرَانَ مُوسَى بْنَ هَارُونَ الْبَزَّازُ3 حَدَّثَنِي أَبُو زُرْعَةَ الْجُرْجَانِيُّ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ قَالَ سَمِعْتُ … 4 عَنْ سَحْمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: لا تزال التوبة 9/ب مَقْبُولَةً أَوْ قَالَ الْعَمَلُ مَقْبُولٌ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ مِنْ مَغْرِبِهَا مَوْقُوفٌ.

أخبرني أَبُو مطيع شقيق بْن عَلِيّ بْن … 5 القاضي الْجُرْجَانِيّ أخبرنا

--------------------------------------------

1 في الأصل " ابن أبي ابزي" خطأ، وترجمة سعيد وأبيه في التهذيب.

2 بياض.

3 بياض ولعله: حدثهم قال.

4 بياض، ولا أدري من سمحة.

5 كذا
উমর ইবনে যার থেকে বর্ণিত, তিনি সাঈদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আবযী আল-খুযাঈ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর পেছনে সালাত আদায় করেছেন এবং তাঁকে উচ্চস্বরে 'বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম' পাঠ করতে শুনেছেন।

২ - আবু যুরআ আহমাদ ইবনে হুমায়িদ আস-সাইদালানী আল-জুরজানী হাফিজ ছিলেন এবং হাদীসের ত্রুটিসমূহ সম্পর্কে অবগত ছিলেন। তিনি মক্কায় মৃত্যুবরণ করেন। তিনি মুহাম্মদ ইবনে আবদিল আলা, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান এবং আমর ইবনে আলী থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে মুসা ইবনে হারুন আল-হাম্মাল, হাসান ইবনে আহমাদ আস-সাগানী এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন।

আমি শায়খ আবু বকর আহমাদ ইবনে ইবরাহিম আল-ইসমাঈলীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি আবু ইমরান ইবনে হানিকে বলতে শুনেছি যে, আবু যুরআ আল-জুরজানী আবু যুরআ আর-রাযীর চেয়েও বড় হাফিজ ছিলেন। তিনি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তানের সান্নিধ্যে ছিলেন এবং ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ তাঁর ছেলেকে তাঁর কাছে সোপর্দ করেছিলেন যাতে তিনি তাকে হাদীস শিখিয়ে দেন।

আমি হাফিজ আবু আহমাদ ইবনে আদীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি ইবরাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ঈসাকে বলতে শুনেছি যে, মুসা ইবনে হারুন আবু যুরআ আল-জুরজানী থেকে রাবীদের ত্রুটিসমূহ গ্রহণ করতেন এবং তা তাঁর কিতাবে অন্তর্ভুক্ত করতেন।

আবুল হাসান ... আহমাদ আস-সাররাজ নিশাপুর থেকে আমার কাছে লিখেছেন এবং অবহিত করেছেন যে, আবু ইমরান মুসা ইবনে হারুন আল-বাযযার বলেন, আবু যুরআ আল-জুরজানী আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মুহাম্মদ ইবনে আবদিল আলা আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মুতামির আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি ... থেকে শুনেছি, তিনি সাহমাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদিত না হওয়া পর্যন্ত তাওবা কবুল হতে থাকবে (৯/খ) — অথবা তিনি বলেছেন আমল কবুল হতে থাকবে। এটি একটি মাওকুফ বর্ণনা।

আমাকে জুরজানের বিচারক আবু মুতী শাকীক ইবনে আলী ইবনে ... সংবাদ দিয়েছেন, তিনি আমাদের অবহিত করেছেন

--------------------------------------------

১ মূল পাঠে "ইবনে আবি আবযী" রয়েছে যা ভুল, সাঈদ এবং তাঁর পিতার জীবনী তাহযীব গ্রন্থে রয়েছে।

২ শূন্যস্থান।

৩ শূন্যস্থান, সম্ভবত: তিনি তাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন।

৪ শূন্যস্থান, আর সাহমাহ কে তা আমি জানি না।

৫ এভাবেই আছে।
(খণ্ড: ১) তারিখু জুরজান (পৃষ্ঠা: ٦٢)
أَبُو الْحُسَيْن مُحَمَّد بْن الْحُسَيْن بْن ماهيار حَدَّثَنَا الْحَسَن بْن أَحْمَدَ بْن المسيب الصنعاني حَدَّثَنَا أبو زرعة أَحْمَد بْن حميد الْجُرْجَانِيّ حَدَّثَنَا أَبُو حفص الفلاس قَالَ كتبت إلى صديق لي من أهل أصبهان رجلا1 من ثقيف أشاوره فِي شيء من أمر الدنيا فكتب إلي رقعة فيها سطران أحدهما بسم اللَّه الرحمن الرحيم والآخر فيه مكتوب أطلب الدنيا عَلَى قدر مكثك فيها واطلب الآخرة عَلَى قدر حاجتك إليها.

3 - أَحْمَد بْن النعمان بْن الوجيه الْجُرْجَانِيّ روى عَنْ أَبِيهِ روى عنه أَبُو الحريش الكلابي.

حَدَّثَنَا الإِمَامُ أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الإِسْمَاعِيلِيُّ حَدَّثَنَا أَبُو الْحُرَيْشِ الْكِلابِيُّ حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ النُّعْمَانِ بْنِ الْوَجِيهِ بْنِ النُّعْمَانِ الْجُرْجَانِيُّ حَدَّثَنِي أَبِي عَنْ أَبِيهِ عَنِ النُّعْمَانِ جَدِّهِ عَنِ الضَّحَّاكِ بْنِ مُزَاحِمٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ فِي قَوْلِهِ عز وجل: {فَسَلامٌ لَكَ مِنْ أَصْحَابِ الْيَمِينِ} [الواقعة:91] قَالَ: "أَمَانٌ لأُمَّتِكَ يَا مُحَمَّدُ لا أُحْرِقُهُمْ بِالنَّارِ".

4- أَحْمَد بْن عَلِيّ بْن عمران الْجُرْجَانِيّ له أخوان عُمَر وعبد الوهاب حدثوا الجميع بِجُرْجَانَ وغيرها روى عَنْ عَبْد الرزاق والمقبري وشاذ بْن فياض روى عنه عَبْد الرَّحْمَنِ بْن عَبْد المؤمن وأحمد بْن مُحَمَّد بْن عَبْد الكريم.

قال أَخْبَرَنَا عَبْد اللَّهِ بْن عدي قَالَ عَلِيّ بْن أَحْمَدَ بْن عَلِيّ بْن عمران مات أَبِي سنة ثلاث وخمسين ومائتين.

أَخْبَرَنَا أَبُو أَحْمَدَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَدِيٍّ الْحَافِظُ حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْن مُحَمَّد بْن عَبْد الكريم حَدَّثَنَا "أَحْمَدُ بْنُ- 1 "عَلِيِّ بْنِ عِمْرَانَ حَدَّثَنَا شَاذُ بْنُ فَيَّاضٍ

--------------------------------------------

1 سقط من الأصل ولا بد منه كما يعلم من السيلق.
আবু আল-হুসাইন মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন বিন মাহইয়ার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-হাসান বিন আহমাদ বিন আল-মুসাইয়িব আস-সানআনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু জুরআ আহমাদ বিন হুমাইদ আল-জুরজানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু হাফস আল-ফাল্লাস বলেছেন: আমি ইসফাহান নিবাসী সাকিফ গোত্রের আমার এক বন্ধুর নিকট পার্থিব কোনো বিষয়ে পরামর্শ চেয়ে একটি চিঠি লিখেছিলাম। উত্তরে তিনি আমাকে একটি চিরকুট লিখলেন যাতে দুটি লাইন ছিল। প্রথমটি হলো—বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম (পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে) এবং দ্বিতীয়টি হলো—দুনিয়ার অন্বেষণ করো তাতে তোমার অবস্থানের পরিমাণ অনুযায়ী, আর আখিরাতের অন্বেষণ করো তার প্রতি তোমার প্রয়োজনের পরিমাণ অনুযায়ী।

৩ - আহমাদ বিন আন-নুমান বিন আল-ওয়াজিহ আল-জুরজানি, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন আবু আল-হারিশ আল-কিলাবি।

ইমাম আবু বকর আহমাদ বিন ইবরাহিম আল-ইসমাঈলি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আল-হারিশ আল-কিলাবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমাদ বিন আন-নুমান বিন আল-ওয়াজিহ বিন আন-নুমান আল-জুরজানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা নুমান থেকে, তিনি দাহহাক বিন মুজাহিম থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর বাণী: "অতএব তোমার জন্য শান্তি, যেহেতু তুমি ডানদিকের একজন।" [আল-ওয়াকিয়াহ: ৯১] প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন: "হে মুহাম্মদ! এটি আপনার উম্মতের জন্য এক নিরাপত্তা যে, আমি তাদেরকে আগুনে পুড়িয়ে শাস্তি দেব না।"

৪- আহমাদ বিন আলি বিন ইমরান আল-জুরজানি, তাঁর উমর ও আব্দুল ওয়াহহাব নামে দুই ভাই ছিল। তাঁরা সকলে জুরজান ও অন্যত্র হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি আব্দুর রাজ্জাক, আল-মাকবুরি এবং শাজ বিন ফাইয়াদ থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে আব্দুর রহমান বিন আব্দুল মুমিন এবং আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল করিম বর্ণনা করেছেন।

তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ বিন আদি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, আলি বিন আহমাদ বিন আলি বিন ইমরান বলেছেন: আমার পিতা ২৫৩ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেছেন।

হাফিজ আবু আহমাদ আব্দুল্লাহ বিন আদি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল করিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমাদ বিন আলি বিন ইমরান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শাজ বিন ফাইয়াদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

১ মূল পাণ্ডুলিপি থেকে বিলুপ্ত হয়েছে, তবে প্রসঙ্গের আলোকে এটি থাকা অনিবার্য।
(খণ্ড: ১) তারিখু জুরজান (পৃষ্ঠা: ٦٣)
حَدَّثَنَا الْحَارِثُ بْنُ شِبْلٍ عَنْ أَبِي النُّعْمَانِ عَنْ عَائِشَةَ رِضْوَانُ اللَّهِ عَلَيْهَا قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "الْخَلْقُ كُلُّهُمْ يُصَلُّونَ عَلَى مُعَلِّمِ الخير حتى حيتان البحر".

10/ ألف أَخْبَرَنَا الإِمَامُ أَبُو بَكْرٍ الإِسْمَاعِيلِيُّ حَدَّثَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْكَرِيمِ الْوَزَّانُ حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ عِمْرَانَ حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ الرَّبِيعِ بْنِ طَارِقٍ الْمِصْرِيُّ حَدَّثَنَا عِكْرِمَةُ عَنْ إِبْرَاهِيمَ أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ عَنْ قَتَادَةَ قَالَ: حَدَّثَنِي أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "لَمَّا زَالَتِ الشَّمْسُ عَنْ كَبِدِ السَّمَاءِ نَزَلَ جِبْرِيلُ فِي صَفٍّ مِنَ الْمَلائِكَةِ" فَصَلَّى بِهِ وَأَمَرَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَصْحَابَهُ فَصَفُّوا خَلْفَهُ فَائْتَمَّ بِجِبْرِيلَ عليه السلام وَائْتَمَّ أَصْحَابُ النَّبِيِّ بِالنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَصَلَّى بِهِمْ أَرْبَعًا وَخَفَتَ فِيهِنَّ الْقِرَاءَةَ ثُمَّ تَرَكَهُمْ حَتَّى إِذَا تَصَوَّبَتِ الشَّمْسُ.........1 وَهِيَ نَزَلَ جِبْرِيلُ فَصَلَّى –2 "بِهِمْ أَرْبَعًا يُخَافِتُ فِيهِنَّ بِالْقِرَاءَةِ فَائْتَمَّ النَّبِيُّ بِجِبْرِيلَ وَائْتَمَّ أَصْحَابُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم حَتَّى إِذَا غَابَتِ الشَّمْسُ نَزَلَ جِبْرِيلُ فَصَلَّى بِهِمْ ثَلاثَ رَكَعَاتٍ يَجْهَرُ فِي رَكْعَتَيْنِ وَيُخَافِتُ فِي وَاحِدَةٍ فَائْتَمَّ النَّبِيُّ بِجِبْرِيلَ وَائْتَمَّ أَصْحَابُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ تَرَكَهُ حَتَّى غَابَ الشَّفَقُ فَصَلَّى بِهِمْ أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ يَجْهَرُ فِي رَكْعَتَيْنِ وَيُخَافِتُ فِي رَكْعَتَيْنِ فَائْتَمَّ النبي صلى الله عليه وسلم بِجِبْرِيلَ وَائْتَمَّ أَصْحَابُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَبَاتُوا حَتَّى إِذَا أَصْبَحُوا نَزَلَ جِبْرِيلُ فَصَلَّى بِهِمْ رَكْعَتَيْنِ يُطِيلُ فِيهِمَا الْقِرَاءَةَ حَدَّثَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ الْقَصْرِيُّ الْفَقِيهُ أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ الْمُؤْمِنِ أَخْبَرَنَا أَحْمَد بْن عَلِيّ بْن عمران حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ أَبِي الأَحْوَصِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: إذا طلب أحدكم

--------------------------------------------

1 بياض

2 أخشي أن يكون أهنا سقط.
হারিস ইবন শিবল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু নুমান থেকে, তিনি আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "সমগ্র সৃষ্টিজগৎ কল্যাণের শিক্ষকের জন্য দোয়া করে, এমনকি সমুদ্রের মাছও।"

১০/ আলিফ। ইমাম আবু বকর আল-ইসমাঈলী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু মুহাম্মদ আহমদ ইবন মুহাম্মদ ইবন আব্দুল কারীম আল-ওয়াজ্জান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমদ ইবন আলী ইবন ইমরান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমর ইবনুর রাবী ইবন তারিক আল-মিসরী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইকরিমাহ ইব্রাহিম থেকে বর্ণনা করেছেন, সাঈদ ইবন আবী আরুবাহ কাতাদাহ থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আনাস ইবন মালিক আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যখন সূর্য আকাশের মধ্যভাগ থেকে পশ্চিম দিকে হেলে পড়ল, তখন জিবরাঈল ফেরেশতাদের এক কাতারে অবতরণ করলেন।" এরপর তিনি তাঁকে নিয়ে সালাত আদায় করলেন এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর সাহাবীদের নির্দেশ দিলেন, ফলে তাঁরা তাঁর পেছনে কাতারবদ্ধ হলেন। অতঃপর তিনি জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম)-এর অনুসরণ করলেন এবং নবীর সাহাবীগণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অনুসরণ করলেন। তিনি তাঁদের নিয়ে চার রাকাত সালাত আদায় করলেন এবং তাতে কিরাত নিম্নস্বরে পাঠ করলেন। এরপর তিনি তাঁদের ছেড়ে দিলেন যতক্ষণ না সূর্য ঢলে পড়ল.........১ এবং এটি হলো—জিবরাঈল অবতরণ করলেন এবং তিনি সালাত আদায় করলেন –২ "তাঁদের নিয়ে চার রাকাত, যাতে তিনি কিরাত নিম্নস্বরে পাঠ করলেন। অতঃপর নবী জিবরাঈলের অনুসরণ করলেন এবং নবীর সাহাবীগণ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অনুসরণ করলেন। অবশেষে যখন সূর্য অস্তমিত হলো, তখন জিবরাঈল অবতরণ করলেন এবং তাঁদের নিয়ে তিন রাকাত সালাত আদায় করলেন, দুই রাকাতে উচ্চস্বরে এবং এক রাকাতে নিম্নস্বরে কিরাত পাঠ করলেন। অতঃপর নবী জিবরাঈলের অনুসরণ করলেন এবং নবীর সাহাবীগণ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অনুসরণ করলেন। এরপর তিনি তাঁকে ছেড়ে দিলেন যতক্ষণ না গোধূলি (শাফাক) অদৃশ্য হলো, তখন তিনি তাঁদের নিয়ে চার রাকাত সালাত আদায় করলেন, দুই রাকাতে উচ্চস্বরে এবং দুই রাকাতে নিম্নস্বরে কিরাত পাঠ করলেন। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জিবরাঈলের অনুসরণ করলেন এবং নবীর সাহাবীগণ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অনুসরণ করলেন। এরপর তাঁরা রাত অতিবাহিত করলেন এবং যখন ভোর হলো, জিবরাঈল অবতরণ করলেন এবং তাঁদের নিয়ে দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন, যাতে তিনি কিরাত দীর্ঘ করলেন। আবুল হাসান আলী ইবন মুহাম্মদ আল-কাসরী আল-ফকীহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুর রহমান ইবন আব্দুল মুমিন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমদ ইবন আলী ইবন ইমরান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু নুআইম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-আমাশ আবু ইসহাক থেকে, তিনি আবুল আহওয়াস থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যখন তোমাদের কেউ প্রার্থনা করবে...

--------------------------------------------

১ শূন্যস্থান

২ আমি আশঙ্কা করছি যে এখানে কোনো অংশ বাদ পড়েছে।
(খণ্ড: ১) তারিখু জুরজান (পৃষ্ঠা: ٦٤)
الْحَاجَةَ فَلْيَطْلُبْهَا طَلَبًا يَسِيرًا فَإِنَّمَا لَهُ مَا قُدِّرَ لَهُ وَلا يأتي أَحَدُكُمْ صَاحِبَهُ فَيَمْدَحْهُ فَيَقْطَعْ ظَهْرَهُ.

5 - أَحْمَد بْن الحارث الْجُرْجَانِيّ روى عَنْ أَحْمَد بْن أَحْمَدَ بْن أَبِي طيبة ويوسف بْن عطية روى عنه عَبْد العزيز بْن منيب أَبُو الدرداء وعمران بْن مُوسَى السختياني وأحمد بْن حفص السعدي. حدثنا الإمام 10/ب أَبُو بَكْرٍ الإِسْمَاعِيلِيُّ حَدَّثَنَا عِمْرَانُ بْنُ مُوسَى حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْحَارِثِ بْنِ عُبَيْدٍ الْجُرْجَانِيُّ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عَبْدِ الْمَجِيدِ الثَّقَفِيُّ حَدَّثَنَا أَيُّوبُ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ قَالَ أَيُّوبُ وَلا أَدْرِي سَمِعْتُهُ أَنَا مِنْهُ أَوْ حَدَّثْتُهُ عَنْهُ قَالَ أَتَيْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ بِعَرَفَةَ وَهُوَ يَأْكُلُ الرُّمَّانَ وَحَدَّثَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَفْطَرَ بِعَرَفَةَ بَعَثَتْ إِلَيْهِ أُمُّ الْفَضْلِ بِلَبَنٍ فَشَرِبَهُ.

حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ مُحَمَّدُ بن أحمد السعيدي حدثنا بْنِ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا أَبُو الدَّرْدَاءِ الْمَرْوَزِيُّ حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْحَارِثِ الْجُرْجَانِيُّ حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي طَيْبَةَ عَنْ عَنْبَسَةَ عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أُمِّ هَانِئٍ قَالَتْ: نَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ فيَّ "وبنت1 عمك أَرَادَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَتَزَوَّجَنِي فَنُهِيَ عَنْ ذَلِكَ أَنِّي لَمْ أُهَاجِرْ.

6- أَحْمَد بْن أَبِي روح البغدادي سكن جُرْجَان حدث عَنْ عَلِيّ بْن عاصم ويزيد بْن هارون روى عنه أَحْمَد بْن حفص السعدي وعبد المؤمن بْن أَحْمَدَ الْجُرْجَانِيّ.

أَخْبَرَنَا عَبْد اللَّهِ بْن عدي الْحَافِظُ حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَفْصِ بْنِ عُمَرَ حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي رَوْحٍ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ ثَابِتٍ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ عَمَّنْ نَكْتُبُ الْعِلْمَ "بَعْدَكَ –1 "قَالَ: "عَنْ عَلِيٍّ وَسَلْمَانَ" أخرجه بن عدي فِي كِتَاب الضعفاء وضعفه.

--------------------------------------------

1 من الميزان واللسان "1/173" في ترجمة أحمد بن أبي روح، وموضعه في الأصل البياض، وفي تاريخ بغداد" 5/ 159" من طريق ابن عدي بدون هذه الكلمة.
প্রয়োজনের ক্ষেত্রে তা সহজভাবে অন্বেষণ করা উচিত, কারণ তার জন্য কেবল তা-ই রয়েছে যা তার ভাগ্যে নির্ধারিত হয়েছে। তোমাদের কেউ যেন তার সাথীর কাছে গিয়ে তার প্রশংসা না করে, কেননা এর মাধ্যমে সে তার পিঠ কেটে ফেলে।

৫ - আহমাদ বিন আল-হারিস আল-জুরজানী। তিনি আহমাদ বিন আহমাদ বিন আবি তাইবা এবং ইউসুফ বিন আতিয়্যা থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে আব্দুল আজিজ বিন মুনীব আবু আদ-দারদা, ইমরান বিন মুসা আস-সাখতিয়ানি এবং আহমাদ বিন হাফস আস-সা’দি বর্ণনা করেছেন। আমাদের নিকট ইমাম ১০/খ আবু বকর আল-ইসমাঈলী বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইমরান বিন মুসা বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আহমাদ বিন আল-হারিস বিন উবাইদ আল-জুরজানী বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আব্দুল ওয়াহহাব বিন আব্দুল মাজীদ আস-সাকাফী বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আইয়ুব সাঈদ বিন জুবায়ের থেকে বর্ণনা করেছেন। আইয়ুব বলেন, আমি জানি না যে আমি এটি সরাসরি তাঁর থেকে শুনেছি নাকি অন্য কেউ তাঁর পক্ষ থেকে আমাকে এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি (সাঈদ) বলেন: আমি আরাফাতে ইবনে আব্বাসের নিকট আসলাম, এমতাবস্থায় তিনি ডালিম খাচ্ছিলেন। আর তিনি বর্ণনা করলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরাফাতে রোজা ভেঙেছিলেন; উম্মুল ফজল তাঁর নিকট দুধ পাঠিয়েছিলেন এবং তিনি তা পান করেছিলেন।

আমাদের নিকট আবু আহমাদ মুহাম্মদ বিন আহমাদ আস-সাঈদী বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইবনে আবি শাইবা বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু আদ-দারদা আল-মারওয়াযী বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আহমাদ বিন আল-হারিস আল-জুরজানী বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আহমাদ বিন আবি তাইবা আনবাসাহ থেকে, তিনি ইসমাইল বিন আবি খালিদ থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি উম্মে হানি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আমার ব্যাপারে এই আয়াতটি নাজিল হয়েছে: "এবং তোমার চাচার কন্যা ১"। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বিবাহ করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু আমাকে তা থেকে বিরত রাখা হয়েছিল কারণ আমি হিজরত করিনি।

৬- আহমাদ বিন আবি রূহ আল-বাগদাদী। তিনি জুরজানে বসবাস করতেন। তিনি আলী বিন আসিম এবং ইয়াযীদ বিন হারুন থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে আহমাদ বিন হাফস আস-সা’দি এবং আব্দুল মুমিন বিন আহমাদ আল-জুরজানী বর্ণনা করেছেন।

হাফেজ আব্দুল্লাহ বিন আদি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আমাদের নিকট আহমাদ বিন হাফস বিন উমর বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আহমাদ বিন আবি রূহ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইয়াযীদ বিন হারুন বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট হাম্মাদ বিন সালামাহ সাবিত থেকে, তিনি আনাস বিন মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: জিজ্ঞাসা করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার পরে আমরা কার থেকে জ্ঞান (ইলম) গ্রহণ করব? তিনি বললেন: "আলী এবং সালমান থেকে।" ইবনে আদি এটি তাঁর 'কিতাবুয যোআফা' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং একে দুর্বল বলেছেন।

--------------------------------------------

১. 'আল-মিযান' এবং 'আল-লিসান' (১/১৭৩) হতে গৃহীত, আহমাদ বিন আবি রূহ-এর জীবনীতে; মূল পাণ্ডুলিপিতে এই স্থানটি শূন্য ছিল। আর 'তারিখে বাগদাদ' (৫/১৫৯)-এ ইবনে আদির সূত্রে এই শব্দটি ছাড়াই বর্ণিত হয়েছে।