(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুল মুরতাদ ফির রাদ্দি আলাল মুতাফালসিফাতি ওয়াল কারামিতাহ ওয়াল বাতিনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
بغية المرتاد في الرد على المتفلسفة والقرامطة والباطنية   (ابن تيمية)

القسم: العقيدة


الكتاب: بغية المرتاد في الرد على المتفلسفة والقرامطة والباطنية

المؤلف: تقي الدين أبو العباس أحمد بن عبد الحليم بن عبد السلام بن عبد الله بن أبي القاسم بن محمد ابن تيمية الحراني الحنبلي الدمشقي (ت 728هـ)

المحقق: موسى الدويش

الناشر: مكتية العلوم والحكم، المدينة المنورة، المملكة العربية السعودية

الطبعة: الثالثة، 1415هـ/1995م

عدد الصفحات: 531

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

বুগইয়াতুল মুরতাদ ফি আর-রাদ্দি আলাল মুতাফালসিফা ওয়াল কারামিতাহ ওয়াল বাতিনিয়্যাহ   (ইবনে তাইমিয়্যাহ)

বিভাগ: আকিদাহ


গ্রন্থ: বুগইয়াতুল মুরতাদ ফি আর-রাদ্দি আলাল মুতাফালসিফা ওয়াল কারামিতাহ ওয়াল বাতিনিয়্যাহ

লেখক: তাকিউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমাদ বিন আব্দুল হালীম বিন আব্দুস সালাম বিন আব্দুল্লাহ বিন আবিল কাসিম বিন মুহাম্মাদ ইবনে তাইমিয়্যাহ আল-হাররানি আল-হাম্বলি আদ-দিমাশকি (মৃত্যু ৭২৮ হিজরি)

গবেষক/সম্পাদক: মুসা আদ-দুওয়াইশ

প্রকাশক: মাকতাবাতুল উলুম ওয়াল হিকাম, মদিনা মুনাওয়ারা, সৌদি আরব সাম্রাজ্য

সংস্করণ: তৃতীয়, ১৪১৫ হিজরি/১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৩১

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুল মুরতাদ ফির রাদ্দি আলাল মুতাফালসিফাতি ওয়াল কারামিতাহ ওয়াল বাতিনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৬৯)
‌‌بغية المرتاد في الرد على المتفلسفة والقرامطة والباطنية

‌‌لشيخ الإسلام ابن تيمية

بسم الله الرحمن الرحيم

وصلى الله عليه وسلم على سيدنا محمد صدر الكتاب سئل شيخ الإسلام علم العلماء الأعلام تقي الدين أبو العباس أحمد بن عبد الحليم بن عبد السلام ابن تيمية الحراني رحمهم الله تعالى:

ما تقول السادة العلماء أئمة الدين في الحديث المروي الذي لفظه: "أول ما خلق الله العقل فقال له أقبل فأقبل ثم قال له أدبر فأدبر فقال وعزتي ما خلقت خلقا أكرم علي منك فبك آخذ وبك أعطي وبك الثواب والعقاب".

والحديث الآخر الذي لفظه: "كنت كنزا لا أعرف فأحببت أن أعرف فخلقت الخلق ليعرفوني فبي عرفوني".
দার্শনিক, কারামিতা ও বাতিনিয়াদের খণ্ডনে বুগইয়াতুল মুরতাদ

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর রচনা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

এবং আমাদের নেতা মুহাম্মদের প্রতি আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক। গ্রন্থের প্রারম্ভে: প্রখ্যাত আলিমগণের শিরোমণি শাইখুল ইসলাম তাকীউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে আব্দুল হালীম ইবনে আব্দুস সালাম ইবনে তাইমিয়্যাহ আল-হাররানীকে (আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন) জিজ্ঞাসা করা হয়েছে:

দীনের ইমাম ও বিজ্ঞ আলিমগণ সেই বর্ণিত হাদিস সম্পর্কে কী বলেন যার ভাষ্য হলো: "আল্লাহ সর্বপ্রথম যা সৃষ্টি করেছেন তা হলো বুদ্ধি। অতঃপর তিনি তাকে বললেন: 'সামনে আসো', তখন সে সামনে এলো। এরপর তিনি তাকে বললেন: 'পিছনে যাও', তখন সে পিছনে গেল। এরপর তিনি বললেন: 'আমার সম্মানের কসম! আমি তোমার চেয়ে অধিক সম্মানিত কোনো সৃষ্টি আর করিনি। তোমার মাধ্যমেই আমি পাকড়াও করব এবং তোমার মাধ্যমেই আমি দান করব, আর তোমার কারণেই পুরস্কার ও শাস্তি প্রদান করা হবে'।"

এবং অপর হাদিসটি সম্পর্কে যার ভাষ্য হলো: "আমি ছিলাম এক গোপন ভাণ্ডার যা পরিচিত ছিল না, ফলে আমি পরিচিত হতে পছন্দ করলাম। তাই আমি সৃষ্টিজগতকে সৃষ্টি করলাম যেন তারা আমাকে চিনতে পারে; অতঃপর আমার মাধ্যমেই তারা আমাকে চিনতে পারল।"
(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুল মুরতাদ ফির রাদ্দি আলাল মুতাফালসিফাতি ওয়াল কারামিতাহ ওয়াল বাতিনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৭০)
والحديث الثالث الذي لفظه: "كان الله ولا شيء معه وهو الآن على ما عليه كان".

هل هذه الأحاديث صحيحة أم سقيمة أو بعضها صحيح وبعضها سقيم؟ وما الصحيح منها؟ وهل فيها زيادة الراوي العدل أم لا؟ وما معناها على الإطلاق؟

وكان بخط الكاتب في الحاشية ما نصه: رواية الشيخ.

والمقصود بيان ما بنى على هذه الأحاديث من مقالات القائلين بوحدة الوجود وما يتصل بذلك من أقاويل الفلاسفة والقرامطة الباطنية ونحو ذلك وبيان الحق من الباطل وبالله تعالى التوفيق.
এবং তৃতীয় হাদিস যার শব্দাবলি হলো: "আল্লাহ ছিলেন এবং তাঁর সাথে কিছুই ছিল না, আর তিনি এখন তেমনই আছেন যেমন তিনি ছিলেন।"

এই হাদিসগুলো কি সহিহ নাকি দুর্বল, অথবা এগুলোর কিছু সহিহ এবং কিছু দুর্বল? এগুলোর মধ্যে কোনটি সহিহ? এগুলোর মধ্যে কি নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর অতিরিক্ত বর্ণনা আছে নাকি নেই? আর সামগ্রিকভাবে এগুলোর অর্থ কী?

আর টীকাতে লেখকের হস্তাক্ষরে যা ছিল তার পাঠ হলো: শায়খের বর্ণনা।

আর উদ্দেশ্য হলো এই হাদিসগুলোর ওপর ভিত্তি করে ওয়াহদাতুল উজুদ (সৃষ্টি ও স্রষ্টার একত্ববাদ) পন্থীদের যে সকল মতবাদ গড়ে উঠেছে এবং এর সাথে দার্শনিক ও বাতেনি কারামতিদের যে সকল বক্তব্য সংশ্লিষ্ট ও তদ্রূপ বিষয়গুলো স্পষ্ট করা এবং সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য বর্ণনা করা; আর আল্লাহর তাওফিকের সাহায্যেই তা সম্ভব।
(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুল মুরতাদ ফির রাদ্দি আলাল মুতাফালসিফাতি ওয়াল কারামিতাহ ওয়াল বাতিনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৭১)
أجاب رضي الله عنه وأرضاه:

الحمد لله رب العالمين أما الحديث الأول فهو باللفظ المذكور قد رواه من صنف في فضل العقل كداود بن المحبر ونحوه واتفق أهل المعرفة بالحديث على أنه ضعيف بل هو موضوع على رسول الله صلى الله عليه وسلم.

وقد ذكر الحافظ أبو حاتم البستي وأبو الحسن الدارقطني
তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁকে সন্তুষ্ট করুন) উত্তর দিয়েছেন:

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। প্রথম হাদিসটি উল্লিখিত শব্দাবলীতে তারা বর্ণনা করেছেন যারা আকলের (বুদ্ধিবৃত্তি) ফজিলত সম্পর্কে গ্রন্থ রচনা করেছেন, যেমন দাউদ ইবনে আল-মুহাব্বির এবং তাঁর সমপর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ। আর হাদিস বিশারদগণ এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে এটি একটি দুর্বল বর্ণনা, বরং এটি আল্লাহর রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর ওপর আরোপিত একটি জাল বর্ণনা।

হাফিজ আবু হাতিম আল-বুস্তি এবং আবু আল-হাসান আদ-দারাকুতনি উল্লেখ করেছেন
(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুল মুরতাদ ফির রাদ্দি আলাল মুতাফালসিফাতি ওয়াল কারামিতাহ ওয়াল বাতিনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৭২)
والشيخ أبو الفرج ابن الجوزي وغيرهم أن الأحاديث المروية عن النبي في العقل لا أصل لشيء منها وليس في رواتها ثقة يعتمد.

فقد ذكر أبو الفرج بن الجوزي في كتابه المعروف عن هذه الأحاديث الموضوعات عامة ما روي في العقل عن النبي وروى القزاز عن الحافظ أبي بكر الخطيب:

حدثني محمد بن علي الصوري سمعت عبد الغني بن سعيد
এবং শায়খ আবু আল-ফারাজ ইবনুল জাওজি ও অন্যান্যরা উল্লেখ করেছেন যে, আকল বা বুদ্ধি সম্পর্কে নবী থেকে বর্ণিত হাদিসগুলোর কোনোটিরই কোনো ভিত্তি নেই এবং এগুলোর বর্ণনাকারীদের মধ্যে নির্ভরযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য কেউ নেই।

আবু আল-ফারাজ ইবনুল জাওজি তার জাল হাদিস বিষয়ক প্রসিদ্ধ গ্রন্থে আকল বা বুদ্ধি সম্পর্কে নবী থেকে বর্ণিত অধিকাংশ বর্ণনা উল্লেখ করেছেন এবং আল-কাযযায হাফেজ আবু বকর আল-খতিব থেকে বর্ণনা করেছেন:

মুহাম্মাদ ইবনে আলী আস-সূরী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আমি আব্দুল গনি ইবনে সাঈদকে বলতে শুনেছি।
(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুল মুরতাদ ফির রাদ্দি আলাল মুতাফালসিফাতি ওয়াল কারামিতাহ ওয়াল বাতিনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৭৩)
الحافظ يقول أنا أبو الحسن علي بن عمر يعني الدارقطني كتاب العقل وضعه أربعة أولهم ميسرة بن عبد ربه ثم سرقه منه داود بن المحبر فركبه بأسانيد غير أسانيد ميسره وسرقه عبد العزيز بن أبي رجاء فركبه بأسانيد أخر.

ثم سرقه سليمان بن عيسى السجزي فأتى بأسانيد أخر.

قال: وهو على ما قال الدارقطني.

وقد رويت في العقل أحاديث كثيرة ليس فيها شيء يثبت
হাফিজ বলেন, আমি আবুল হাসান আলী বিন উমর অর্থাৎ আদ-দারা কুতনী; আকল (বিবেক) বিষয়ক কিতাবটি চারজন ব্যক্তি জাল করেছে, তাদের প্রথম জন হলেন মায়সারা বিন আবদে রাব্বিহি। এরপর দাউদ বিন আল-মুহাব্বির এটি তার থেকে চুরি করেন এবং মায়সারার সনদগুলো ব্যতীত ভিন্ন সনদ দিয়ে তা সাজান। এরপর আব্দুল আজিজ বিন আবি রাজা এটি চুরি করেন এবং ভিন্ন সনদ দিয়ে তা সাজান।

এরপর সুলাইমান বিন ঈসা আস-সিজযি এটি চুরি করেন এবং ভিন্ন সনদসমূহ নিয়ে আসেন।

তিনি বলেন: বিষয়টি আদ-দারা কুতনী যা বলেছেন তেমনই।

আকল বা বিবেক সম্পর্কে অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে, যার কোনোটিই প্রমাণিত নয়।
(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুল মুরতাদ ফির রাদ্দি আলাল মুতাফালসিফাতি ওয়াল কারামিতাহ ওয়াল বাতিনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৭৪)
منها ما يرويه مروان بن سالم وإسحاق بن أبي فروة وأحمد بن بشير ونصر بن طريف وابن سمعان وسليمان بن عيسى
এগুলোর মধ্যে রয়েছে তা যা মারওয়ান ইবনে সালিম, ইসহাক ইবনে আবি ফারওয়া, আহমাদ ইবনে বাশির, নাসর ইবনে তারিফ, ইবনে সামআন এবং সুলায়মান ইবনে ঈসা বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুল মুরতাদ ফির রাদ্দি আলাল মুতাফালসিফাতি ওয়াল কারামিতাহ ওয়াল বাতিনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৭৫)
وكلهم متروكون وقد كان بعضهم يضع الحديث ويسرقه الآخر ويغير إسناده فلم نر التطويل بذكرها قلت ومع هذا فقد روى أبو الفرج هذا الحديث من طريق سيف بن محمد عن سفيان الثوري عن الفضل بن عثمان عن أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: "لما خلق الله العقل قال له قم فقام ثم قال له أدبر فأدبر ثم قال له أقبل فأقبل ثم قال له أقعد فقعد فقال ما خلقت خلقا هو خير منك ولا أكرم علي منك ولا أحسن منك بك آخذ وبك أعطي وبك أعرف وبك الثواب وعليك العقاب".
তারা সকলেই পরিত্যক্ত এবং তাদের কেউ কেউ হাদিস জাল করতেন, অন্যরা তা চুরি করতেন এবং সনদ পরিবর্তন করে দিতেন; তাই এগুলো উল্লেখ করে দীর্ঘ করার প্রয়োজন মনে করিনি। আমি বলছি, তা সত্ত্বেও আবু আল-ফারাজ এই হাদিসটি সাইফ ইবনে মুহাম্মাদ-এর সূত্রে সুফিয়ান আস-সাওরি থেকে, তিনি আল-ফজল ইবনে উসমান থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "যখন আল্লাহ বুদ্ধি সৃষ্টি করলেন, তখন তাকে বললেন: দাঁড়াও, তখন সে দাঁড়াল। তারপর তাকে বললেন: পেছনে যাও, তখন সে পেছনে গেল। তারপর তাকে বললেন: সামনে এসো, তখন সে সামনে এল। তারপর তাকে বললেন: বসো, তখন সে বসল। এরপর তিনি বললেন: আমি তোমার চেয়ে উত্তম, আমার নিকট তোমার চেয়ে অধিক সম্মানিত এবং তোমার চেয়ে সুন্দর কোনো কিছু সৃষ্টি করিনি। তোমার মাধ্যমেই আমি গ্রহণ করি, তোমার মাধ্যমেই আমি দান করি এবং তোমার মাধ্যমেই আমি পরিচিত হই। তোমার মাধ্যমেই পুরস্কার এবং তোমার ওপরই শাস্তি নির্ধারিত হয়।"
(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুল মুরতাদ ফির রাদ্দি আলাল মুতাফালসিফাতি ওয়াল কারামিতাহ ওয়াল বাতিনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৭৬)
قال أبو الفرج: "هذا حديث لا يصح عن رسول الله صلى الله عليه وسلم".

وقال يحيى بن معين: "الفضل رجل سوء".

وقال ابن حبان: "وحفص بن عمر يروي الموضوعات لا يحل لأحد الاحتجاج به وأما سيف فكذاب بإجماعهم".
আবুল ফারাজ বলেছেন: "এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত কোনো সহীহ হাদীস নয়।"

এবং ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন বলেছেন: "ফাদল একজন মন্দ লোক।"

এবং ইবনে হিব্বান বলেছেন: "হাফস ইবনে উমর জাল বর্ণনাগুলো বর্ণনা করেন; কারো জন্য তার দ্বারা দলিল পেশ করা বৈধ নয়। আর সাইফ সম্পর্কে কথা হলো, সে তাদের সকলের ঐক্যমতে একজন চরম মিথ্যাবাদী।"
(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুল মুরতাদ ফির রাদ্দি আলাল মুতাফালসিফাতি ওয়াল কারামিতাহ ওয়াল বাতিনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৭৭)
ورواه أيضا من كتاب أبي جعفر العقيلي من حديث سعيد بن الفضل القرشي.

حدثنا عمر بن أبي صالح العتكي عن أبي غالب عن أبي أمامة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "لما خلق الله العقل قال له: أقبل فأقبل
এবং এটি আবু জাফর আল-উকাইলীর কিতাব হতে সাঈদ ইবনুল ফাদল আল-কুরাশীর হাদীস থেকেও বর্ণিত হয়েছে।

উমর ইবনে আবি সালেহ আল-আতাকি আমাদের নিকট আবু গালিব থেকে, তিনি আবু উমামা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যখন আল্লাহ আকল (বুদ্ধি) সৃষ্টি করলেন, তখন তাকে বললেন: সামনে এসো, ফলে সে সামনে আসলো।"
(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুল মুরতাদ ফির রাদ্দি আলাল মুতাফালসিফাতি ওয়াল কারামিতাহ ওয়াল বাতিনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৭৮)
ثم قال له: أدبر فأدبر فقال: وعزتي ما خلقت خلقا هو أعجب إلي منك فبك آخذ وبك أعطي وبك الثواب وعليك العقاب".

قال أبو الفرج: "هذا حديث لا يصح عن رسول الله صلى الله عليه وسلم وذكر أن سعيدا وعمرا مجهولان".

قال: "وقد روى من طريق علي وأبي هريرة وليس فيها شيء يثبت".

قال أحمد بن حنبل: "هذا الحديث موضوع ليس له أصل".

قال العقيلي: "لا يثبت في هذا الباب شيء" فهذا اتفاق أهل المعرفة على بطلان هذا الحديث مع أن أكثر ألفاظه "لما خلق العقل قال له" وهذا بمنزلة قوله:
অতঃপর তিনি তাকে বললেন: "পিছনে যাও", তখন সে পিছনে গেল। অতঃপর তিনি বললেন: "আমার মর্যাদার শপথ! আমি তোমার চেয়ে অধিক বিস্ময়কর কোনো সৃষ্টি আমার নিকট সৃষ্টি করিনি। তোমার মাধ্যমেই আমি গ্রহণ করি, তোমার মাধ্যমেই আমি দান করি, তোমার মাধ্যমেই সওয়াব প্রদান করা হয় এবং তোমার উপরেই শাস্তি আপতিত হয়।"

আবু আল-ফারাজ বলেন: "এই হাদিসটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে প্রমাণিত নয় এবং তিনি উল্লেখ করেছেন যে, সাঈদ ও আমর উভয়েই অপরিচিত।"

তিনি বলেন: "এটি আলী এবং আবু হুরায়রাহ-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, তবে এর কোনো কিছুই প্রমাণিত নয়।"

আহমাদ ইবনে হাম্বল বলেন: "এই হাদিসটি বানোয়াট, এর কোনো ভিত্তি নেই।"

উকায়লী বলেন: "এই বিষয়ে কোনো কিছুই প্রমাণিত নয়।" সুতরাং এই হাদিসটি বাতিল হওয়ার ব্যাপারে এটি জ্ঞানীদের ঐকমত্য, যদিও এর অধিকাংশ শব্দ হলো "যখন তিনি বিবেক সৃষ্টি করলেন তখন তাকে বললেন" এবং এটি তাঁর এই কথার সমপর্যায়ভুক্ত:
(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুল মুরতাদ ফির রাদ্দি আলাল মুতাফালসিফাতি ওয়াল কারামিতাহ ওয়াল বাতিনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৭৯)
"أول ما خلق الله العقل" بالنصب لكن هذا اللفظ يمكن هؤلاء الملحدون أن يغيروا إعرابه بخلاف ذلك اللفظ فإنه لا حيلة لهم في إعرابه.

ثم إنه من العجب أن هذا الحديث قد جعله عمدتهم في أصول الدين والمعرفة والتحقيق من يروم الجمع بين الشريعة الإلهية والفلسفة اليونانية المشائية وكل هؤلاء غيروه وإن كان موضوعا فرووه: "أول ما خلق الله العقل فقال له: أقبل" وجعلوا هذا حجة وموافقا لما يقوله
"আল্লাহ প্রথম যা সৃষ্টি করেছেন তা হলো বুদ্ধি" - নসব সহকারে; কিন্তু এই শব্দটির ক্ষেত্রে এই নাস্তিকরা এর ব্যাকরণিক রূপ পরিবর্তন করতে সক্ষম হতে পারে, অন্য শব্দটির বিপরীতে যেখানে তাদের ব্যাকরণিক পরিবর্তনের কোনো উপায় নেই।

অতঃপর এটি অত্যন্ত আশ্চর্যের বিষয় যে, যারা ঐশী শরিয়ত এবং গ্রিক পেরিপ্যাথেটিক দর্শনের মধ্যে সমন্বয় সাধনের চেষ্টা করে, তারা এই হাদিসটিকে দ্বীনের মূলনীতি, জ্ঞান ও গবেষণার ক্ষেত্রে তাদের প্রধান ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছে। তারা সবাই এটি বিকৃত করেছে, যদিও এটি একটি জাল বর্ণনা, তবুও তারা এটি এভাবে বর্ণনা করেছে: "আল্লাহ প্রথম যা সৃষ্টি করেছেন তা হলো বুদ্ধি, এরপর তিনি তাকে বললেন: সামনে এসো।" এবং তারা এটিকে তাদের মতবাদের সপক্ষে দলিল ও অনুকূল বিষয় হিসেবে সাব্যস্ত করেছে।
(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুল মুরতাদ ফির রাদ্দি আলাল মুতাফালসিফাতি ওয়াল কারামিতাহ ওয়াল বাতিনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৮০)
الفلاسفة المشاؤون أتباع أرسطو من قولهم أول الصادرات عن واجب الوجود هو العقل الأول.

وقد شاع هذا في كلام كثير من المتأخرين بعد أن رأوه في كتب رسائل إخوان الصفا فإن هذه الرسائل هي عمدة لهؤلاء.
এরিস্টটলের অনুসারী পেরিপ্যাটেটিক (মশশাউ) দার্শনিকদের বক্তব্য হলো, ওয়াজিবুল উজুদ (অস্তিত্ব যার অনিবার্য) থেকে নির্গত প্রথম বিষয়টি হলো প্রথম আকল (প্রথম বুদ্ধি)।

পরবর্তীকালের অনেক আলেমের বক্তব্যে এটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, যখন তারা এটি 'রাসায়েল ইখওয়ানুস সাফা'-এর কিতাবসমূহে দেখতে পেয়েছেন। কারণ এই রিসালাগুলোই হলো তাদের জন্য প্রধান অবলম্বন।
(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুল মুরতাদ ফির রাদ্দি আলাল মুতাফালসিফাতি ওয়াল কারামিতাহ ওয়াল বাতিনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৮১)
ووجدوا نحو هذا في كلام أبي حامد في مواضع وإن قيل إنه رجع عن ذلك.

ثم وقع بعده في كلام من سلك هذه السبيل من الجهمية والمتفلسفة من القائلين بوحدة الوجود وغيرهم وهذا باطل من وجوه كثيرة:

أحدها: أن هذا الحديث بهذا اللفظ والإعراب لم يروه أحد من رواة الحديث لا بإسناد صحيح ولا سقيم بل الحديث المروي وإن كان بإسناد سقيم لفظه "أولَ ما خلق الله العقل" بنصب (أول) و (العقل) وذلك لا حجة فيه على أن العقل أول مخلوق خلق إذ لفظه "أول ما خلق الله العقل قال له أقبل فأقبل" فهو نصب على الظرف إذ ما هي المصدرية وهي والفعل بتأويل المصدر الذي يجعله ظرفا كما يقال: أول ما لقيت فلانا سلمت عليه أي في أول أوقات لقيه سلمت عليه.

وإذا كان معناه أنه قال له في أول أوقات خلقه هذا القول لم يدل على أنه أول مخلوق بل هو دليل على أنه خلق قبله غيره.
তারা আবু হামিদের বক্তব্যের বিভিন্ন স্থানে এর অনুরূপ বিষয় পেয়েছে, যদিও বলা হয় যে তিনি তা থেকে প্রত্যাবর্তন করেছেন।

অতঃপর এটি তাঁর পরে জহমিয়া, দার্শনিক এবং ওয়াহদাতুল ওজুদ (অস্তিত্বের অদ্বৈতবাদ) পন্থী ও অন্যদের মধ্য থেকে যারা এই পথ অবলম্বন করেছে তাদের কথায় প্রকাশ পেয়েছে। এটি বহু কারণে বাতিল বা অসার:

প্রথমত: এই হাদিসটি এই শব্দসমষ্টি ও ব্যাকরণিক বিন্যাসে কোনো হাদিস বর্ণনাকারীই বর্ণনা করেননি, না কোনো বিশুদ্ধ সনদে, না কোনো দুর্বল সনদে। বরং যে হাদিসটি বর্ণিত হয়েছে—যদিও তা দুর্বল সনদে—সেটির শব্দ বিন্যাস হলো "আল্লাহ যখন প্রথম বুদ্ধি সৃষ্টি করলেন", যেখানে 'প্রথম' ও 'বুদ্ধি' শব্দ দুটিকে জবর দিয়ে পড়া হয়। আর তাতে বুদ্ধিই সর্বপ্রথম সৃষ্ট বস্তু হওয়ার ব্যাপারে কোনো প্রমাণ নেই। কারণ এর পাঠ হলো: "আল্লাহ যখন প্রথম বুদ্ধি সৃষ্টি করলেন, তখন তাকে বললেন: অগ্রসর হও, তখন সে অগ্রসর হলো।" এখানে 'প্রথম' শব্দটি সময় নির্দেশক ক্রিয়া-বিশেষণ হিসেবে জবরযুক্ত হয়েছে; কেননা এখানে 'মা' হলো ক্রিয়ামূলীয় অব্যয়, যা পরবর্তী ক্রিয়ার সাথে মিলে এমন একটি অর্থ প্রকাশ করে যা সময় নির্দেশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যেমন বলা হয়: "আমি যখনই প্রথম অমুকের সাথে দেখা করেছি, তাকে সালাম দিয়েছি", অর্থাৎ তার সাথে সাক্ষাতের প্রথম মুহূর্তে আমি তাকে সালাম দিয়েছি।

আর এর অর্থ যদি এই হয় যে, বুদ্ধি সৃষ্টির প্রথম মুহূর্তে তিনি তাকে এই কথাটি বলেছিলেন, তবে তা বুদ্ধিই প্রথম সৃষ্টি হওয়ার ওপর প্রমাণ বহন করে না; বরং এটি প্রমাণ করে যে তার পূর্বে অন্য কিছু সৃষ্টি করা হয়েছিল।
(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুল মুরতাদ ফির রাদ্দি আলাল মুতাফালসিফাতি ওয়াল কারামিতাহ ওয়াল বাতিনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৮২)
إذ قد قال له في أول أوقات خلقه ما خلقت خلقا أكرم علي منك وإن كان قد تحذلق من تحذلق من الجهميين القائلين بوحدة الوجود وغيرهم ففسروا الإقبال والإدبار بما لا يدل عليه اللفظ واختلفوا في ذلك حتى أن صاحب البيد يفسر الإقبال والإدبار بما يرجع محصوله إلى أصله الفاسد من أن وجوده وجود الحق.

فمعلوم أن هذا ليس هو قول هؤلاء الفلاسفة ولكن أرسطو حكى عن بعض قدماء الفلاسفة أنه كان يقول الوجود واحد ورد ذلك عليه
কেননা তিনি তাকে তার সৃষ্টির সূচনালগ্নে বলেছিলেন, "আমি তোমার চেয়ে অধিক সম্মানিত কোনো সৃষ্টি আমার নিকট সৃষ্টি করিনি।" যদিও ওয়াহদাতুল ওজুদ (অস্তিত্বের একত্ববাদ) মতবাদে বিশ্বাসী জাহমিয়া ও অন্যদের মধ্য থেকে যারা পাণ্ডিত্য প্রদর্শন করতে চেয়েছে, তারা এগিয়ে আসা এবং পিছিয়ে যাওয়া শব্দদ্বয়কে এমন সব অর্থ দিয়ে ব্যাখ্যা করেছে যা শব্দগুলো নির্দেশ করে না। তারা এ নিয়ে মতবিরোধও করেছে, এমনকি আল-বিদের লেখক এগিয়ে আসা ও পিছিয়ে যাওয়ার এমন ব্যাখ্যা দিয়েছেন যার সারকথা তাঁর সেই ভ্রান্ত মূলনীতিতেই ফিরে যায় যে, এর অস্তিত্বই হলো আল্লাহর অস্তিত্ব।

এটা সুবিদিত যে, এটি এই দার্শনিকদের বক্তব্য নয়, বরং এরিস্টটল প্রাচীনকালের কিছু দার্শনিকের পক্ষ থেকে বর্ণনা করেছেন যে তারা বলতেন "অস্তিত্ব এক" এবং তিনি তা খণ্ডন করেছেন।

(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুল মুরতাদ ফির রাদ্দি আলাল মুতাফালসিফাতি ওয়াল কারামিতাহ ওয়াল বাতিনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৮৩)
فقول هؤلاء يواطئ هذا القول الذي لم يرضه هؤلاء الفلاسفة وقد كان صاحب (البد) يقول عن صاحب (الفصوص) و (الفتوحات المكية) : "إن كلامه فلسفة مخموجة" أي عفنة فيكون كلامه هو فلسفة منتنة وسواء كان قولهم أو لم يكن فمعلوم أن اللفظ المذكور لا يدل على ما فسره به بوجه من وجوه دلالات اللفظ ولكن هؤلاء سلكوا مسلك القرامطة الباطنية وهم من المتفلسفة المنتسبين إلى الإسلام وكان ابن سينا يقول: "كان أبي من أهل دعوتهم ولذلك قرأت كتب الفلاسفة" ومعلوم أن مقالات هؤلاء من ابعد المقالات عن الشرع والعقل فإنهم يسفسطون

সুতরাং এদের বক্তব্য সেই বক্তব্যের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ যা এই দার্শনিকরা পছন্দ করেননি। আর ‘আল-বুদ্দ’ গ্রন্থের রচয়িতা ‘আল-ফুসুস’ ও ‘আল-ফুতুহাত আল-মাক্কিয়্যাহ’ গ্রন্থের রচয়িতা সম্পর্কে বলতেন: "নিশ্চয়ই তার কথা হলো বিকৃত দর্শন," অর্থাৎ তা পচা। ফলে তার বক্তব্য একটি দুর্গন্ধযুক্ত দর্শনে পরিণত হয়। তাদের বক্তব্য যাই হোক না কেন, এটি সুনিশ্চিত যে উল্লিখিত শব্দটি শব্দের কোনো প্রকার অর্থজ্ঞাপকতার মাধ্যমেই তার কৃত ব্যাখ্যার ওপর প্রমাণ করে না। বরং তারা কারামিতা বাতেনিয়াদের পথ অবলম্বন করেছে, যারা ইসলামের সাথে সম্বন্ধযুক্ত দার্শনিকদের অন্তর্ভুক্ত। ইবনে সিনা বলতেন: "আমার পিতা তাদের দাওয়াতের অনুসারী ছিলেন এবং সে কারণেই আমি দার্শনিকদের কিতাবসমূহ পাঠ করেছি।" এটি সুবিদিত যে, তাদের এই বক্তব্যসমূহ শরিয়ত ও যুক্তিবোধ থেকে বহু দূরে অবস্থিত, কেননা তারা কুতর্ক বা সফসতানি করে থাকে।

(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুল মুরতাদ ফির রাদ্দি আলাল মুতাফালসিফাতি ওয়াল কারামিতাহ ওয়াল বাতিনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৮৪)
في العقليات ويقرمطون في السمعيات فيحرفون الكلم عن مواضعه أعظم من التحريف الذي عيب به اليهود والنصارى إلا من تقرمط من الأميين من متفلسفيهم فإنه شبيه بهم.

وقد علم بالاضطرار أن ما يفسرون به كلام الله تعالى ورسوله صلى الله عليه وسلم بل وكلام غيرهما ليس داخلا في مرادهم فضلا عن أن يكون هو المراد بل غالب تفاسيرهم منافية لما أراده الله تعالى إما من ذلك اللفظ وإما من غيره وإن كان طوائف من المشهورين بالفقه والتصوف يطلقون هذه العبارات الإسلامية بالتفاسير الفلسفية القرمطية فقد صرحوا بأن ذلك مأخوذ عن هؤلاء كما ذكر أبو حامد في كتابه معيار العلم لما تكلم على الحدود قال:
...যুক্তিভিত্তিক বিষয়ের ক্ষেত্রে, এবং তারা শ্রুতিনির্ভর বিষয়ের ক্ষেত্রে বাতিনী ব্যাখ্যা আরোপ করে। ফলে তারা শব্দসমূহকে তাদের সঠিক স্থান থেকে এমনভাবে বিচ্যুত করে যা ইহুদি ও নাসারাদের সেই বিকৃতির চেয়েও গুরুতর যার জন্য তাদের নিন্দা করা হয়েছে। তবে তাদের দার্শনিকদের মধ্যকার যারা অশিক্ষিত হয়েও এই বাতিনী মত অবলম্বন করেছে, তারা তাদেরই অনুরূপ।

অনিবার্যভাবেই এটি জানা আছে যে, মহান আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী, এমনকি অন্যদের বাণীর ক্ষেত্রেও তারা যে ব্যাখ্যা প্রদান করে, তা মূল বক্তার অভিপ্রায়ের অন্তর্ভুক্ত নয়; বরং তা উদ্দেশ্য হওয়া তো অনেক দূরের কথা। বরং তাদের অধিকাংশ ব্যাখ্যাই মহান আল্লাহ যা ইচ্ছা করেছেন তার বিপরীত—তা সংশ্লিষ্ট শব্দের মাধ্যমেই হোক বা অন্য কোনোভাবে। যদিও ফিকহ ও তাসাউউফ শাস্ত্রে প্রসিদ্ধ কিছু দল এই ইসলামী পরিভাষাগুলোকে দার্শনিক ও বাতিনী ব্যাখ্যার আলোকে প্রয়োগ করে থাকে, তবে তারা স্পষ্টভাবে স্বীকার করেছে যে তা এদের থেকেই গ্রহণ করা হয়েছে। যেমন আবু হামিদ তাঁর 'মি'য়ারুল ইলম' গ্রন্থে 'হুদুদ' (সংজ্ঞা) নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বলেছেন:
(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুল মুরতাদ ফির রাদ্দি আলাল মুতাফালসিফাতি ওয়াল কারামিতাহ ওয়াল বাতিনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৮৫)
"ولكنا أوردنا حدودا مفصلة لتحصل الدربة بكيفية تحرير الحد وتأليفه فإن الامتحان والممارسة للشيء تفيده قوة عليه لا محالة. والثاني: لأن يقع الإطلاع على معاني أسماء أطلقها الفلاسفة وقد أوردناها في كتاب تهافت الفلاسفة إذ لم يمكن مناظرتهم إلا بلغتهم وعلى حكم اصطلاحهم وإذا لم نفهم ما أوردناه في اصطلاحهم لا يمكن مناظرتهم.

فقد أوردنا حدود ألفاظ أطلقوها في الإلهيات والطبيعيات وشيئا قليلا من الرياضيات فلتؤخذ هذه الحدود على أنها شرح الاسم، فإن قام البرهان على أن ما شرحوه هو كما شرحوه اعتقد حدا وإلا اعتقد شرحا للاسم وإنما قدمنا هذه المقدمة لتعلم أن ما نورده من الحدود شرح لما أراده الفلاسفة بإطلاق لا حكم بأن ما ذكروه على ما ذكروه فإن ذلك إنما يتوقف على النظر في موجب البرهان عليه".
তবে আমরা সংজ্ঞাসমূহের বিস্তারিত বিবরণ প্রদান করেছি যাতে সংজ্ঞা নিরূপণ ও তা সংকলন করার পদ্ধতিতে দক্ষতা অর্জিত হয়; কেননা কোনো বিষয়ের পরীক্ষা ও অনুশীলন অনিবার্যভাবে তার ওপর সামর্থ্য বৃদ্ধি করে। দ্বিতীয়ত: দার্শনিকরা যেসব পারিভাষিক নাম ব্যবহার করেছেন সেগুলোর অর্থ সম্পর্কে অবগত হওয়া; যা আমরা 'তাহাফুতুল ফালাসিফাহ' গ্রন্থে উল্লেখ করেছি। কারণ তাদের ভাষায় এবং তাদের পারিভাষিক নিয়ম অনুযায়ী ছাড়া তাদের সাথে বিতর্ক করা সম্ভব ছিল না। আর তাদের পরিভাষায় আমরা যা উল্লেখ করেছি তা যদি আমরা না বুঝি, তবে তাদের সাথে মুনাজারা বা বিতর্ক করা সম্ভব নয়।

আমরা ইলাহিয়াত, তাবিয়্যাত এবং সামান্য কিছু গাণিতিক বিষয়ে তাদের ব্যবহৃত শব্দমালার সংজ্ঞা উল্লেখ করেছি। সুতরাং এই সংজ্ঞাসমূহকে যেন শব্দের ব্যাখ্যা হিসেবে গ্রহণ করা হয়। অতঃপর যদি এই মর্মে প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয় যে, তারা যা ব্যাখ্যা করেছে তা ঠিক তেমনিই, তবে তাকে প্রকৃত সংজ্ঞা হিসেবে বিশ্বাস করা হবে; নতুবা তাকে নিছক শব্দের ব্যাখ্যা হিসেবে গণ্য করা হবে। আর আমরা এই ভূমিকাটি কেবল এজন্যই পেশ করেছি যাতে আপনি জানতে পারেন যে, আমরা যেসব সংজ্ঞা উল্লেখ করছি তা মূলত দার্শনিকরা যা বুঝাতে চেয়েছেন তারই সাধারণ ব্যাখ্যা; এটি এমন কোনো ফয়সালা নয় যে তারা যা উল্লেখ করেছেন তা হুবহু তেমনই। কারণ বিষয়টি তার স্বপক্ষে প্রমাণের দাবি পর্যালোচনার ওপর নির্ভরশীল।
(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুল মুরতাদ ফির রাদ্দি আলাল মুতাফালসিফাতি ওয়াল কারামিতাহ ওয়াল বাতিনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৮৬)
قال: "والمستعمل في الإلهيات أربع عشرة لفظة وهو:

- الباري تعالى وهو المسمى بلسانهم المبدأ الأول.

- والعقل.

- والنفس.

- والعقل الكلي.

- وعقل الكل.

- والنفس الكلي.

- ونفس الكل.

- والملك.

- والعلة.

- والمعلول.

- والإبداع.

- والخلق.

- والإحداث.

- والقديم.

إلى أن قال: "العقل الكلي وعقل الكل والنفس الكلي ونفس الكل وبيانه أن الموجودات عندهم يعني الفلاسفة ثلاثة أقسام:

- أجسام: وهي أخسها.

-وعقول فعالة وهي أشرفها لبرائتها عن المادة وعلاقة المادة حتى أنها لا تحرك المواد أيضا إلا بالشوق.
তিনি বলেছেন: "ইলাহিয়্যাত বা ঈশ্বরতত্ত্বে ব্যবহৃত শব্দ চৌদ্দটি, আর সেগুলো হলো:

- বারী তাআলা, যা তাদের পরিভাষায় প্রথম মূলনীতি হিসেবে অভিহিত।

- বুদ্ধিবৃত্তি।

- আত্মা।

- সমষ্টিগত বুদ্ধিবৃত্তি।

- সকলের বুদ্ধিবৃত্তি।

- সমষ্টিগত আত্মা।

- সকলের আত্মা।

- ফিরিশতা।

- কারণ।

- কার্য।

- উদ্ভাবন।

- সৃষ্টি।

- নব-সৃষ্টি।

- অনাদি।

তিনি আরও বলেন: "সমষ্টিগত বুদ্ধিবৃত্তি, সকলের বুদ্ধিবৃত্তি, সমষ্টিগত আত্মা এবং সকলের আত্মা; আর এর ব্যাখ্যা হলো এই যে, তাদের অর্থাৎ দার্শনিকদের নিকট বিদ্যমান সত্তাসমূহ তিন প্রকার:

- দেহসমূহ: এগুলো হলো এগুলোর মধ্যে নিকৃষ্টতম।

- এবং সক্রিয় বুদ্ধিবৃত্তিসমূহ: যা এগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠতম, কারণ এগুলো জড়পদার্থ এবং জড়ীয় সম্পর্ক থেকে মুক্ত, এমনকি এগুলো জড়পদার্থসমূহকে কেবল অনুরাগের মাধ্যমেই পরিচালিত করে।
(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুল মুরতাদ ফির রাদ্দি আলাল মুতাফালসিফাতি ওয়াল কারামিতাহ ওয়াল বাতিনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৮৭)
- وأوسطها النفوس وهي التي تنفعل عن العقل وتفعل في الأجسام فهي واسطة.

ويعنون بالملائكة السماوية: نفوس الأفلاك فإنها حية عندهم.

وبالملائكة المقربين: العقول الفعالة.

فالعقل الكلي: يعنون به المعنى المعقول المقول على كثيرين مختلفين بالعدد من العقول التي لأشخاص الناس ولا وجود لها في القوام بل في التصور فإنك إذا قلت: (الإنسان الكلي) أشرت به إلى المعنى المعقول من الإنسان (الموجود) في سائر الأشخاص الذي هو في العقل صورة واحدة تطابق سائر أشخاص الناس ولا وجود لإنسانية واحدة هي إنسانية زيد وهي بعينها إنسانية عمرو ولكن في العقل نحصل صورة الإنسان من شخص واحد مثلا وتطابق سائر أشخاص الناس كلهم فيسمى ذلك الإنسانية الكلية فهذا ما يعني بالعقل الكلي.

وأما عقل الكل فيطلق على معنيين لأن الكل يطلق على معنيين:

أحدهما: وهو الأوفق للفظ أن يراد بالكل جملة العالم فعقل الكل على هذا المعنى بمعنى شرح اسمه أنه جملة الذوات المجردة عن المادة من جميع الجهات التي لا تتحرك لا بالذات ولا بالعرض ولا تتحرك إلا بالشوق وآخر رتبة هذه الجملة هو العقل الفعال
আর এর মধ্যবর্তী হলো আত্মা বা নফসসমূহ, যা বুদ্ধি দ্বারা প্রভাবিত হয় এবং দেহের ওপর ক্রিয়াশীল হয়; ফলে এগুলো হলো মধ্যস্থতাকারী।

আর আসমানি ফেরেশতা বলতে তারা উদ্দেশ্য নেয়: মহাকাশীয় গোলকসমূহের আত্মাগুলোকে, কেননা তাদের মতে সেগুলো জীবিত।

আর নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতা বলতে (তারা বোঝায়): সক্রিয় বুদ্ধিসমূহকে।

সুতরাং সামষ্টিক বুদ্ধি: এর দ্বারা তারা এমন একটি বুদ্ধিবৃত্তিক অর্থ উদ্দেশ্য নেয় যা মানুষের ব্যক্তিদের অসংখ্য বুদ্ধির ওপর সংখ্যাগত ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও প্রযোজ্য হয় এবং বাস্তব অস্তিত্বে এর কোনো স্থায়িত্ব নেই, বরং এটি কেবল উপলব্ধিতে বিদ্যমান; কেননা আপনি যখন বলেন: (সামষ্টিক মানুষ) তখন আপনি এর দ্বারা মানুষের সেই বুদ্ধিবৃত্তিক অর্থের দিকে ইঙ্গিত করেন যা সকল ব্যক্তির মাঝে বিদ্যমান, যা বুদ্ধিতে এমন একটি একক রূপ যা মানুষের সকল ব্যক্তির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এমন কোনো একক মানবসত্তার অস্তিত্ব নেই যা যায়িদের মানবতা আবার অবিকলভাবে আমরেরও মানবতা; বরং বুদ্ধিতে আমরা উদাহরণস্বরূপ কোনো একজন ব্যক্তি থেকে মানুষের একটি রূপ লাভ করি এবং তা সকল মানুষের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তখন তাকে সামষ্টিক মানবতা বলা হয়। সামষ্টিক বুদ্ধি বলতে এটাই বোঝানো হয়।

আর সমগ্রের বুদ্ধি শব্দটি দুটি অর্থে ব্যবহৃত হয়, কারণ 'সমগ্র' শব্দটি দুটি অর্থে ব্যবহৃত হয়:

প্রথমটি: যা এই শব্দের ব্যবহারের ক্ষেত্রে অধিকতর উপযুক্ত, তা হলো 'সমগ্র' বলতে মহাবিশ্বের সমষ্টি উদ্দেশ্য নেওয়া। এই অর্থ অনুযায়ী 'সমগ্রের বুদ্ধি' বলতে এর সংজ্ঞায় বোঝায় যে, এটি এমন সমস্ত সত্তার সমষ্টি যা সকল দিক থেকে জড় পদার্থ থেকে মুক্ত, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বা বাহ্যিক প্রভাবে নড়াচড়া করে না এবং কেবল অনুরাগ বা আকর্ষণের কারণে চালিত হয়। এই সমষ্টির সর্বশেষ স্তর হলো সক্রিয় বুদ্ধি।
(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুল মুরতাদ ফির রাদ্দি আলাল মুতাফালসিফাতি ওয়াল কারামিতাহ ওয়াল বাতিনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৮৮)
المخرج للأنفس الإنسانية في العلوم القلية من القوة إلى الفعل وهذه الجملة هي مبادئ الكل بعد المبدأ الأول.

والمبدأ الأول: هو مبدع الكل.

وأما الكل بالمعنى الثاني: فهو الجرم الأقصى أعني الفلك التاسع الذي يدور في اليوم والليلة فيتحرك بحركته كل ما هو حشوه من السموات كلها فيقال لجرمه جرم الكل ولحركته حركة الكل وهو أعظم المخلوقات وهو المراد بالعرش عندهم فعقل الكل بهذا المعنى جوهر مجرد عن المادة من كل الجهات وهو المحرك لحركة الكل على سبيل التشويق لنفسه ووجوده أول وجود مستفاد عن الأول ويزعمون أنه المراد بقوله عليه الصلاة والسلام: "أول ما خلق الله العقل فقال له أقبل فأقبل" الحديث إلى آخره".

قال: "وأما النفس الكلي فالمراد به المعنى المقول على
মানুষের আত্মাসমূহকে বুদ্ধিবৃত্তিক জ্ঞানসমূহের ক্ষেত্রে সুপ্তাবস্থা থেকে কার্যাবস্থায় আনয়নকারী; আর এই সমষ্টি হলো প্রথম উৎসের পরে সবকিছুর মূলনীতি।

এবং প্রথম উৎস: তিনি হলেন সবকিছুর উদ্ভাবক।

আর দ্বিতীয় অর্থে 'সমষ্টি' বলতে যা বোঝায়: তা হলো দূরতম পিণ্ড, অর্থাৎ নবম আকাশ, যা দিন ও রাতে আবর্তিত হয়। ফলে এর গতির মাধ্যমে এর অভ্যন্তরে থাকা সমস্ত আসমানসমূহ গতিশীল হয়। তাই এর পিণ্ডকে 'সমষ্টির পিণ্ড' এবং এর গতিকে 'সমষ্টির গতি' বলা হয়। এটি সৃষ্টির মধ্যে সর্বাপেক্ষা বিশাল এবং তাদের মতে এটিই 'আরশ' দ্বারা উদ্দেশ্য। সুতরাং এই অর্থে 'সমষ্টিগত বুদ্ধি' হলো এমন এক সারসত্তা যা সকল দিক থেকে জড় পদার্থ হতে বিমুক্ত। এটিই নিজ সত্তার প্রতি অনুরাগের মাধ্যমে সমষ্টির গতির সঞ্চালক এবং এর অস্তিত্ব হলো প্রথম উৎস হতে প্রাপ্ত প্রথম অস্তিত্ব। তারা দাবি করে যে, এটিই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীর মর্মার্থ: "আল্লাহ সর্বপ্রথম যা সৃষ্টি করেছেন তা হলো বুদ্ধি, অতঃপর তিনি তাকে বললেন: সামনে এসো, ফলে সে সামনে আসলো" হাদীসের শেষ পর্যন্ত।

তিনি বললেন: "আর সমষ্টিগত আত্মা বলতে যা বোঝানো হয়েছে, তা হলো সেই অর্থ যা—
(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুল মুরতাদ ফির রাদ্দি আলাল মুতাফালসিফাতি ওয়াল কারামিতাহ ওয়াল বাতিনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৮৯)
كثيرين مختلفين بالعدد في جواب ما هو أي التي كل واحد منها نفس خاصة لشخص كما ذكرنا في العقل الكلي ونفس الكل على قياس عقل الكل جملة الجواهر الغير جسمانية التي هي كمالات مدبرة للأجسام السماوية المحركة لها على سبيل التشويق والاختيار العقلي.

ونسبة نفس الكل إلى عقل الكل كنسبة أنفسنا إلى العقل الفعال.

ونفس الكل: هو مبدأ قريب لوجود الأجسام الطبيعية ومرتبته في نيل الوجود بعد مرتبة عقل الكل ووجوده فائض عن وجوده.

وقد قال أبو حامد قبل هذا: "وأما العقول الفعالة فهي نمط آخر".

والمراد بالعقل الفعال: كل ماهية مجردة عن المادة أصلا. فحد العقل الفعال: أما من جهة ما هو عقل أنه جوهر صوري ذاته ماهية مجردة عن ذاتها لا بتجريد غيرها عن المادة وعن علائق المادة بل هي ماهية كل موجود.

فأما من جهة أنه فعال فإنه: جوهر بالصفة المذكورة ومن شأنه أن يخرج العقل الهيولاني من القوة إلى الفعل بإشراقه عليه.
সংখ্যায় বহু এবং যা 'এটি কী' বা মাহিয়াতের উত্তর স্বরূপ; অর্থাৎ যার প্রতিটিই কোনো ব্যক্তির জন্য নির্দিষ্ট একটি আত্মা, যেমনটি আমরা সমষ্টিগত বুদ্ধি (আল-আকল আল-কুল্লি) প্রসঙ্গে উল্লেখ করেছি। আর সমষ্টিগত আত্মা (নাফসুল কুল)-কে সমষ্টিগত বুদ্ধির সাথে তুলনা করা হয়। এটি হলো ঐ সকল অশরীরী সারসত্তার সমষ্টি, যা আসমানী দেহসমূহের পরিচালক পূর্ণতা স্বরূপ এবং যা সেগুলোকে বুদ্ধিবৃত্তিক আকাঙ্ক্ষা ও নির্বাচনের মাধ্যমে গতিশীল রাখে।

আর সমষ্টিগত আত্মার সাথে সমষ্টিগত বুদ্ধির সম্পর্ক হলো ঠিক তেমনই, যেমনটি আমাদের আত্মাগুলোর সাথে সক্রিয় বুদ্ধির (আল-আকল আল-ফায়্যাল) সম্পর্ক।

আর সমষ্টিগত আত্মা হলো প্রাকৃতিক দেহসমূহের অস্তিত্বের নিকটবর্তী উৎস। অস্তিত্ব লাভের ক্ষেত্রে এর স্তর হলো সমষ্টিগত বুদ্ধির স্তরের পরে এবং এর অস্তিত্ব মূলত সমষ্টিগত বুদ্ধির অস্তিত্ব থেকেই বিচ্ছুরিত।

এর পূর্বে আবু হামিদ বলেছিলেন: "আর সক্রিয় বুদ্ধিসমূহ হলো ভিন্ন এক প্রকারের।"

আর সক্রিয় বুদ্ধি বলতে উদ্দেশ্য হলো এমন প্রতিটি মাহিয়াত বা সত্তা, যা মূলত উপাদান বা বস্তু থেকে সম্পূর্ণ বিমূর্ত। সুতরাং সক্রিয় বুদ্ধির সংজ্ঞা হলো: 'বুদ্ধি' হওয়ার দিক থেকে এটি এমন এক রূপক সারসত্তা (জওহর সুরি) যার নিজস্ব সত্তাই হলো বিমূর্ত মাহিয়াত; অন্য কেউ একে উপাদান বা উপাদানের সংস্পর্শ থেকে বিমূর্ত করেনি, বরং এটি প্রতিটি বিদ্যমান বস্তুর মাহিয়াত বা সারসত্তা।

আর এটি 'সক্রিয়' হওয়ার দিক থেকে হলো এমন গুণসম্পন্ন এক সারসত্তা, যার কাজ হলো তার বিচ্ছুরণের মাধ্যমে জড় বুদ্ধিকে (আল-আকল আল-হায়ুলানি) সুপ্ত অবস্থা থেকে কার্যকর অবস্থায় নিয়ে আসা।
(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুল মুরতাদ ফির রাদ্দি আলাল মুতাফালসিফাতি ওয়াল কারামিতাহ ওয়াল বাতিনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৯০)
وليس المراد بالجوهر المتحيز كما يريده المتكلمون بل هو قائم بنفسه لا في موضوع.

والصوري احتراز عن الجسم وما في المواد.

وقولهم: لا بتجريد غيره احتراز عن المعقولات المرتسمة في النفس من أشخاص الماديات فإنها تتجرد بتجريد العقل إياها لا بتجريدها بذاتها إذ العقل الفعال المخرج لنفوس الآدميين بالعلوم من القوة إلى الفعل فنسبته إلى المعقولات والقوة العاقلة كنسبة الشمس إلى الإبصار والمبصرات والقوة الباصرة إذ يخرج الإبصار من القوة إلى الفعل، وقد يسمون هذه العقول الملائكة.

وفي وجود جوهر على هذا الوجه يخالفهم المتكلمون إذ لا وجود لعالم بنفسه غير متحيز إلا الله وحده.

والملائكة عندهم أجسام لطيفة متحيزة عند أكثرهم.

وتصحيح ذلك بطريق البرهان وما ذكرناه شرح الاسم ثم قال: "حد النفس هو عندهم اسم مشترك يقع على معنى يشترك فيه الإنسان والحيوان والنبات وعلى معنى آخر يشترك فيه الإنسان والملائكة السماوية عندهم.

فحد النفس بالمعنى الأول عندهم أنه
এখানে জাওহার (সত্তা) বলতে স্থান দখলকারী উদ্দেশ্য নয় যেমনটি কালামশাস্ত্রবিদগণ মনে করেন, বরং এটি নিজ সত্তায় প্রতিষ্ঠিত, কোনো আধারে নয়।

আর ‘সুরি’ (আকৃতিগত) কথাটি দ্বারা শরীর এবং জড় পদার্থে বিদ্যমান বিষয়সমূহ থেকে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে।

এবং তাদের বক্তব্য: ‘অন্যের বিমূর্তকরণ ছাড়া’—এটি ঐসব বুদ্ধিবৃত্তিক ধারণা (মা’কুলাত) থেকে সতর্কতা অবলম্বন করার জন্য যা জড় বস্তুসমূহ থেকে নফসের মধ্যে অঙ্কিত হয়। কারণ সেগুলো আকল (বুদ্ধি) কর্তৃক বিমূর্ত করার মাধ্যমেই বিমূর্ত হয়, নিজের মাধ্যমে নয়। যেহেতু ‘আকল-ই ফাওয়াল’ (সক্রিয় বুদ্ধি) মানুষের নফসকে জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে সুপ্তাবস্থা থেকে বাস্তবে রূপান্তর করে, তাই বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয় ও বুদ্ধিগত শক্তির সাথে তার সম্পর্ক হলো দৃষ্টিশক্তি, দৃশ্যমান বস্তু ও দর্শনশক্তির সাথে সূর্যের সম্পর্কের মতো; কারণ সূর্যই দৃষ্টিশক্তিকে সুপ্তাবস্থা থেকে বাস্তবে রূপান্তর করে। আর তারা কখনো কখনো এই আকলসমূহকে ফেরেশতা বলে নামকরণ করেন।

এই বৈশিষ্ট্যের কোনো জাওহার বা সত্তার অস্তিত্বের বিষয়ে কালামশাস্ত্রবিদগণ তাদের বিরোধিতা করেন। কারণ একমাত্র আল্লাহ ছাড়া এমন কোনো সত্তার অস্তিত্ব নেই যা নিজে নিজে প্রতিষ্ঠিত কিন্তু স্থান দখল করে না।

আর তাদের অধিকাংশের মতে ফেরেশতাগণ হলো সূক্ষ্ম শরীর যা স্থান দখল করে।

এটি প্রমাণের মাধ্যমে সাব্যস্ত করা এবং আমরা যা উল্লেখ করেছি তা কেবল নামের ব্যাখ্যা। অতঃপর তিনি বলেন: "তাদের নিকট নফসের সংজ্ঞা হলো একটি সমার্থক শব্দ (ইসম মুশতারাক), যা এমন একটি অর্থের ওপর প্রযোজ্য যাতে মানুষ, প্রাণী ও উদ্ভিদ অংশীদার; এবং অন্য একটি অর্থের ওপর যা তাদের নিকট মানুষ ও আসমানি ফেরেশতাদের মাঝে সাধারণ।"

সুতরাং প্রথম অর্থ অনুযায়ী তাদের নিকট নফসের সংজ্ঞা হলো এই যে,
(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুল মুরতাদ ফির রাদ্দি আলাল মুতাফালসিফাতি ওয়াল কারামিতাহ ওয়াল বাতিনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৯১)
كمال جسم طبيعي آلي ذي حياة بالقوة.

وحد النفس بالمعنى الآخر أنه جوهر غير جسم وهو كمال للجسم متحرك محرك له بالاختيار عن مبدأ قطعي أي عقلي بالفعل أو بالقوة.

فالذي بالقوة: هو فصل للنفس الإنسانية.

والذي بالفعل: هو فصل للنفس الملكية".

قلت: قوله عنهم "إن نفس الكل هو مبدأ قريب للأجسام الطبيعية" فيه كلام بينهم من جهة أن أكثرهم يقولون أن العقل نفسه هو المبدأ للأجسام.

وكذلك قوله: "العقول الفعالة" فيه كلام من جهة أن المسمى بالعقل الفعال عندهم هو الآخر العاشر كما قد بينه أنه هو الذي يخرج نفوس الآدميين من القوة إلى الفعل.
একটি প্রাকৃতিক যান্ত্রিক দেহের পূর্ণতা যা সুপ্তভাবে জীবন সম্পন্ন।

অন্য অর্থে আত্মার সংজ্ঞা এই যে, এটি একটি অ-শারীরিক সারসত্তা (জাওহার) এবং দেহের এমন এক পূর্ণতা যা স্বেচ্ছায় গতিশীল এবং একটি সুনির্দিষ্ট মূলনীতি থেকে—অর্থাৎ প্রকৃতপক্ষে বা সুপ্তভাবে বুদ্ধিবৃত্তিক উৎস থেকে—দেহকে গতি প্রদান করে।

সুতরাং যা সুপ্তাবস্থায় (শক্তিগতভাবে), তা মানবীয় আত্মার একটি বিভেদক বা বৈশিষ্ট্য।

এবং যা কার্যত (প্রকৃতপক্ষে), তা ফেরেশতাকুলীয় আত্মার বৈশিষ্ট্য।

আমি বলি: তাদের সম্পর্কে তার এই বক্তব্য যে, "মহাবিশ্বের আত্মা হলো প্রাকৃতিক দেহসমূহের নিকটতম মূল উৎস"—এ বিষয়ে তাদের মধ্যে বিতর্ক রয়েছে। কারণ তাদের অধিকাংশের মতে বুদ্ধি (আকল) নিজেই হলো দেহসমূহের মূল উৎস।

একইভাবে তার বক্তব্য "সক্রিয় বুদ্ধিবৃত্তিগুলো" সম্পর্কেও আলোচনা রয়েছে। কেননা তাদের নিকট যা সক্রিয় বুদ্ধি হিসেবে পরিচিত, তা হলো দশম বা সর্বশেষ বুদ্ধি; যেমনটি তিনি ব্যাখ্যা করেছেন যে, এটিই মানুষের আত্মাকে সুপ্তাবস্থা থেকে কার্যকারিতার দিকে নিয়ে আসে।
(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুল মুরতাদ ফির রাদ্দি আলাল মুতাফালসিফাতি ওয়াল কারামিতাহ ওয়াল বাতিনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৯২)
وما ذكره عنهم من الفرق بين العقول والنفوس وبين الأجسام بأن تلك مجردة عن المادة والأجسام في المادة منبئ على أن للجسم مادة هي جوهر قائم بنفسه وهو من أعظم الباطل.

وما ذكروه من التجريد واحترازهم عن المعقولات بقوله: "لا بتجريد غيره يقتضي الاشتراك في مسمى العقل".

وهذا العقل عرض من الأعراض وذاك جوهر قائم بنفسه.

ولا ريب أن كلامهم في إثبات ذلك وإن كان مهيبا عند من لم يمعن النظر فيه فهو عند التحقيق في غاية الفساد والتناقض والاضطراب كما قد أوضحناه في غير هذا الموضع.

وكذلك ما ذكره عن المتكلمين في المتحيز فإن لهم في ذلك نزاعا وفيه تفصيل ليس هذا موضعه.
বুদ্ধিবৃত্তি ও আত্মা এবং শরীরসমূহের মধ্যে পার্থক্যের বিষয়ে তিনি তাদের পক্ষ থেকে যা উল্লেখ করেছেন—যে প্রথমোক্তগুলো জড়পদার্থ থেকে মুক্ত এবং শরীরসমূহ জড়পদার্থ সংশ্লিষ্ট—তা এই বিষয়েরই বহিঃপ্রকাশ যে, শরীরের জন্য এমন এক জড় উপাদান রয়েছে যা স্বয়ংসম্পূর্ণ সত্তা, আর এটি চরম পর্যায়ের অসারতা ও ভ্রান্তি।

আর বিমূর্তকরণ সম্পর্কে তারা যা উল্লেখ করেছেন এবং "অন্যের বিমূর্তকরণের মাধ্যমে নয়" এই উক্তির দ্বারা বুদ্ধিগ্রাহ্য বিষয়সমূহ থেকে তাদের সতর্কতা অবলম্বন—তা 'বুদ্ধিবৃত্তি' নামক শব্দের সাধারণ সংজ্ঞায় অংশীদারিত্বের দাবি রাখে।

অথচ এই বুদ্ধিবৃত্তি হলো গুণাবলীর অন্তর্ভুক্ত একটি গুণ, আর ওটি হলো স্বয়ংসম্পূর্ণ একটি সত্তা।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এটি প্রমাণ করার ক্ষেত্রে তাদের বক্তব্য—যদিও তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ না করা ব্যক্তির নিকট গাম্ভীর্যপূর্ণ মনে হতে পারে—প্রকৃত বিচারে তা চরম ভ্রান্তি, স্ববিরোধিতা ও বিশৃঙ্খলায় পরিপূর্ণ; যেমনটি আমরা অন্য স্থানে স্পষ্ট করেছি।

অনুরূপভাবে স্থান দখলকারী সত্তা সম্পর্কে তিনি কালামশাস্ত্রবিদদের পক্ষ থেকে যা উল্লেখ করেছেন, সে বিষয়ে তাদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে এবং তাতে এমন বিস্তারিত ব্যাখ্যা রয়েছে যা এখানে আলোচনার উপযুক্ত স্থান নয়।
(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুল মুরতাদ ফির রাদ্দি আলাল মুতাফালসিফাতি ওয়াল কারামিতাহ ওয়াল বাতিনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৯৩)
لكن ليس المقصود هنا إلا أن أبا حامد وأمثاله يقرون بأن جعل هذه المعاني الفلسفية مسميات بهذه الأسماء النبوية هو من كلام هؤلاء المتفلسفة.

فإذا وجد مثل ذلك في كلام واحد من هؤلاء علم أنه احتذى حذوهم لئلا يغتر بذلك من قد ينازع في ذلك أو يرتاب فيه أو لا يخطر بقلبه لحسن ظنه بمن يتكلم بالعبارات الإسلامية النبوية أنه لا يريد بها ما يعنيه هؤلاء المتفلسفة وما أحسن ما قال شيخ الإسلام الهروي فيمن هو أحسن حالا من هؤلاء من أهل الكلام قال: "أخذوا مخ الفلسفة فلبسوه لحاء السنة".

وبسبب هذا ضل طوائف ممن لم ينكشف لهم حقيقة مقاصد الناس فلا يفهمون ما يقصده الأنبياء والرسل ولا ما يقصده هؤلاء حتى يقابلوا بين هذه المعاني وتلك فيعلمون هل هي متفقة متشابهة أم مختلفة بل متضادة بل قد يحرفون كلام أئمتهم إذا ظهر المسلمون فيصرفونه إلى ما يقبله المسلمون وكذلك ذكر الكاشفون لأسرار القرامطة والهاتكون لاستارهم كالقاضي أبي بكر الطيب والقاضي أبي يعلى
কিন্তু এখানে উদ্দেশ্য কেবল এটাই যে, আবু হামিদ এবং তাঁর মতো ব্যক্তিরা স্বীকার করেন যে, এই দার্শনিক অর্থগুলোকে এই নবুওয়াতী নামসমূহের নামান্তর করা এই তথাকথিত দার্শনিকদেরই বক্তব্য।

সুতরাং যখন এদের কারো বক্তব্যে এমন কিছু পাওয়া যায়, তখন এটি নিশ্চিতভাবে জানা যায় যে তিনি তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন; যাতে এমন ব্যক্তি প্রতারিত না হয় যে হয়তো এ নিয়ে বিতর্ক করবে অথবা সন্দেহ পোষণ করবে অথবা যার অন্তরে—ইসলামী নবুওয়াতী পরিভাষা ব্যবহারকারী ব্যক্তির প্রতি সুধারণার কারণে—এমন ধারণাই আসবে না যে, তিনি এর দ্বারা সেই উদ্দেশ্য পোষণ করছেন না যা এই দার্শনিকরা করে থাকে। আর শাইখুল ইসলাম আল-হারাবী এই কালাম শাস্ত্রবিদদের মধ্যে যাদের অবস্থা এদের তুলনায় উত্তম, তাদের সম্পর্কে কতই না চমৎকার বলেছেন: "তারা দর্শনের মজ্জা গ্রহণ করেছে এবং তাকে সুন্নাহর আবরণে আচ্ছাদিত করেছে।"

আর এই কারণেই সেই সব গোষ্ঠী পথভ্রষ্ট হয়েছে যাদের নিকট মানুষের উদ্দেশ্যের প্রকৃত স্বরূপ উন্মোচিত হয়নি; ফলে তারা নবী ও রাসূলগণের উদ্দেশ্যও বোঝে না এবং এদের উদ্দেশ্যও বোঝে না, যতক্ষণ না তারা এই সব অর্থের সাথে ওই সব অর্থের তুলনা করে এবং জানতে পারে যে সেগুলো কি এক ও সদৃশ নাকি ভিন্ন, বরং সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী। এমনকি তারা যখন মুসলিমদের প্রভাব লক্ষ্য করে তখন তাদের ইমামদের বক্তব্যকে বিকৃত করে দেয় এবং তাকে এমন দিকে ঘুরিয়ে দেয় যা মুসলিমরা গ্রহণ করে। আর একইভাবে কারামিতা সম্প্রদায়ের গোপন রহস্য উন্মোচনকারী এবং তাদের পর্দা ফাঁসকারীগণও তা উল্লেখ করেছেন, যেমন কাজী আবু বকর আত-তাইয়িব এবং কাজী আবু ইয়ালা।
(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুল মুরতাদ ফির রাদ্দি আলাল মুতাফালসিফাতি ওয়াল কারামিতাহ ওয়াল বাতিনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৯৪)
وطوائف كثيرة ما وجدنا مصداقه في كتب القرامطة من أنهم وضعوا لأنفسهم اصطلاحات روجوها على المسلمين ومقصودهم بها مقصود الفلاسفة الصابئين والمجوس الثنوية كقولهم السابق والتالي يعنون به العقل والنفس.

ويقولون: هو اللوح والقلم.

وأصل دينهم مأخوذ من دين المجوس والصابئين.

وكذلك السهروردي الحلبي المقتول كلامه في الباطن يأخذه من
এবং অনেক দল রয়েছে যাদের বক্তব্যের বাস্তবতা আমরা কারামিতাদের কিতাবসমূহে খুঁজে পেয়েছি যে, তারা নিজেদের জন্য কিছু পরিভাষা তৈরি করেছে যা তারা মুসলমানদের মাঝে প্রচার করেছে। এগুলোর মাধ্যমে তাদের উদ্দেশ্য হলো সাবিয়ী দার্শনিক এবং দ্বৈতবাদী অগ্নিউপাসকদের (মাজুসী) উদ্দেশ্যসমূহ; যেমন তাদের ‘সাবিক’ (পূর্ববর্তী) ও ‘তালি’ (পরবর্তী) বলা, যার মাধ্যমে তারা আকল (বুদ্ধি) ও নফস (আত্মা)-কে বুঝিয়ে থাকে।

এবং তারা বলে: তা হলো লাওহ ও কলম।

আর তাদের ধর্মের মূল ভিত্তি অগ্নিউপাসক (মাজুসী) ও সাবিয়ীদের ধর্ম থেকে গৃহীত।

একইভাবে নিহত সোহরাওয়ার্দী হালাবীর বাতেনি বিষয়ক কথাগুলো তিনি গ্রহণ করেছেন...
(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুল মুরতাদ ফির রাদ্দি আলাল মুতাফালসিফাতি ওয়াল কারামিতাহ ওয়াল বাতিনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৯৫)
مادة الفلاسفة الصابئين والمجوس وبهذه المعاني يتميز عن غيره من الفلاسفة المشائية ولهذا يعظم الأنوار وهؤلاء الذين سلكوا مسلك فارس والروم هم من الداخلين في قوله صلى الله عليه وسلم في الحديث الصحيح: "لتأخذن مآخذ الأمم قبلكم شبرا بشبر وذراعا بذراع قالوا يا رسول الله فارس والروم قال ومن الناس إلا هؤلاء".

وقد بسطنا ما يتعلجق بهذا في غير هذا الموضع.

ثم إنهم مع إقرارهم بأن جعل هذه المعاني الصابئية الفلسفية هي مسميات هذه الأسماء النبوية أو التي يقال إنها نبوية هو من كلام هؤلاء المتفلسفة يقطعون بذلك في مواضع أخر بل فيما يجعلونه من أشرف العلوم والمعارف حتى إنهم يجعلونه من العلوم التي يضن بها على غير
সাবী ও মাজুস দার্শনিকদের উপাদানসমূহ এবং এই অর্থগুলোর মাধ্যমেই সে অন্যান্য মাশায়ী দার্শনিকদের থেকে স্বতন্ত্র হয়। একারণেই সে নূরসমূহকে অতি গুরুত্ব প্রদান করে। আর যারা পারস্য ও রোমের পথ অনুসরণ করেছে, তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সহীহ হাদীসের সেই বাণীর অন্তর্ভুক্ত: "তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তী জাতিদের পথ বিঘত বিঘত এবং হাত হাত করে অনুসরণ করবে। তারা জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল! তারা কি পারস্য ও রোমের লোক? তিনি বললেন, তারা ছাড়া আর কারা?"

আমরা এ বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি অন্য স্থানে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।

অতঃপর তারা এই স্বীকৃতির সাথে যে—এই সাবী দার্শনিক অর্থগুলোকে এই নবুওয়াতী নামসমূহ বা যেগুলোকে নবুওয়াতী বলা হয় সেগুলোর নামীয় বস্তু হিসেবে সাব্যস্ত করা মূলত এই তথাকথিত দার্শনিকদেরই কথা—অন্যান্য স্থানে এ বিষয়ে সুনিশ্চিত মত ব্যক্ত করে। বরং তারা একে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ জ্ঞান ও মারিফতের অন্তর্ভুক্ত মনে করে, এমনকি তারা একে এমন জ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত করে যা অন্যদের নিকট প্রকাশে তারা কার্পণ্য করে।
(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুল মুরতাদ ফির রাদ্দি আলাল মুতাফালসিফাতি ওয়াল কারামিতাহ ওয়াল বাতিনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৯৬)
أهلها ومن العلم المكنون الذي ينكره أهل الغزة بالله ولا يعرفه إلا أهل العلم بالله وهذا موجود في مواضع كثيرة كما في كتاب التفرقة بين الإيمان والزندقة لما ذكر "أن الكفر هو تكذيب الرسول في شيء مما جاء به وقيل مع ذلك أن التصديق أنه ينظر أن الخبر وحقيقته الاعتراف بوجود ما أخبر الرسول بوجوده إلا أن للوجود خمس مراتب ذاتي وحسي وخيالي وعقلي وشبهي".

والكلام على هاتين المقدمتين وما في الأولى من التفريط والتقصير عن الحق وما في الثانية من العدوان والزيادة على الحق له مواضع غير هذا لكن المقصود أنه قال: "وأما الوجود العقلي فأمثله كثيرة" إلى أن قال: "المثال الثاني قوله عليه الصلاة والسلام: "إن الله تعالى خمر طينة آدم بيده أربعين صباحا".

فقد أثبت لله تعالى يدا ومن قام عند البرهان على استحالة يد الله تعالى هي جارحة محسوسة أو متخيلة يثبت لله تعالى يدا روحانية
এর উপযুক্ত লোক এবং সেই গূঢ় জ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত যা আল্লাহর ব্যাপারে ধোঁকায় নিপতিত ব্যক্তিরা অস্বীকার করে এবং আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞানীরা ছাড়া কেউ তা জানে না। এটি অনেক স্থানে বিদ্যমান যেমন 'আল-তাফরিকা বাইনাল ইমান ওয়ায যান্দাকা' কিতাবে যখন উল্লেখ করা হয়েছে যে, "কুফর হলো রাসূল যা নিয়ে এসেছেন তার কোনো কিছুতে তাঁকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা। এর সাথে এও বলা হয়েছে যে, সত্যায়ন হলো খবরের দিকে লক্ষ্য করা এবং এর হাকিকত হলো রাসূল যা কিছুর অস্তিত্ব সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন তার অস্তিত্বকে স্বীকার করা। তবে অস্তিত্বের পাঁচটি স্তর রয়েছে: সত্তাগত, ইন্দ্রিয়জাত, কাল্পনিক, বুদ্ধিগত এবং সাদৃশ্যমূলক।"

এই দুটি ভূমিকা নিয়ে আলোচনা এবং প্রথমটিতে হকের ব্যাপারে যে শিথিলতা ও অবহেলা রয়েছে এবং দ্বিতীয়টিতে হকের ওপর যে সীমালঙ্ঘন ও আধিক্য রয়েছে, তা আলোচনার জন্য এটি ভিন্ন স্থান। কিন্তু উদ্দেশ্য হলো তিনি বলেছেন: "আর বুদ্ধিগত অস্তিত্বের উদাহরণ অনেক" যে পর্যন্ত না তিনি বলেছেন: "দ্বিতীয় উদাহরণ হলো তাঁর (রাসূলের) বাণী: 'নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা আদমের মাটিকে তাঁর হাত দিয়ে চল্লিশ দিন পর্যন্ত গেঁথেছেন'।"

এতে তিনি আল্লাহ তাআলার জন্য হাত সাব্যস্ত করেছেন। আর যাঁর কাছে দলীল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে আল্লাহ তাআলার হাত ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য কোনো অঙ্গ বা কাল্পনিক হওয়া অসম্ভব, তিনি আল্লাহ তাআলার জন্য রূহানি হাত সাব্যস্ত করেন।
(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুল মুরতাদ ফির রাদ্দি আলাল মুতাফালসিফাতি ওয়াল কারামিতাহ ওয়াল বাতিনিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৯৭)
عقلية أعني أنه يثبت معنى اليد وحقيقتها وروحها دون تصورها إذ روح اليد ومعناها ما يبطش به ويفعل ويعطي ويمنع والله تعالى يعطي ويمنع بواسطة الملائكة كما قال عليه السلام: "أول ما خلق الله العقل فقال: بك أعطي وبك أمنع".

ولا يمكن أن يكون المراد بذلك العقل عرضا كما يعتقده المتكلمون إذ لا يمكن أن يكون العرض أو مخلوق بل يكون عبارة عن ذات ملك من الملائكة سمي عقلا من حيث يعقل الأشياء بجوهره وذاته من غير حاجة إلى تعلم.

وربما يسميها قلما باعتبار أنه ينقش به حقائق العلوم في ألواح قلوب الأنبياء والأولياء وسائر الملائكة وحيا وإلهاما فإنه روى من حديث "أن أول ما خلق الله القلم" فإن لم يرجع ذلك إلى العقل تناقض الحديثان ويجوز أن يكون لشيء واحد أسماء كثيرة باعتبارات مختلفة فسمي عقلا باعتبار ذاته وملكا باعتبار نسبته إلى الله تعالى في كونه واسطة بينه وبين الخلق وقلما باعتبار إضافته إلى ما يصدر منه من نقش العلوم بالإلهام والوحي كما سمي جبريل روحا باعتبار ذاته وأمينا باعتبار ما أودع من الأسرار وذا قوة باعتبار قدرته وشديد القوى باعتبار كمال قوته
বুদ্ধিবৃত্তিক, অর্থাৎ আমার উদ্দেশ্য হলো তিনি আল্লাহর হাতের অর্থ, এর হাকিকত এবং এর সারমর্মকে কোনো রূপ কল্পনা ব্যতিরেকেই সাব্যস্ত করেন। কারণ হাতের সারমর্ম এবং এর অর্থ হলো তা যা দিয়ে পাকড়াও করা হয়, কাজ করা হয়, প্রদান করা হয় এবং বারণ করা হয়। আর আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদের মাধ্যমে প্রদান করেন ও বারণ করেন, যেমনটি নবী (আলাইহিস সালাম) বলেছেন: "আল্লাহ সর্বপ্রথম যা সৃষ্টি করেছেন তা হলো আকল, অতঃপর তিনি বললেন: তোমার মাধ্যমেই আমি দান করব এবং তোমার মাধ্যমেই আমি বারণ করব।"

উক্ত আকল দ্বারা কোনো আকস্মিক গুণ বা আরজ উদ্দেশ্য হওয়া সম্ভব নয়, যেমনটি মুতাকাল্লিমগণ বিশ্বাস করেন। কারণ কোনো আরজ প্রথম সৃষ্টি হওয়া অসম্ভব; বরং এটি ফেরেশতাদের মধ্য থেকে এমন এক সত্তার পরিভাষা যাকে আকল নামকরণ করা হয়েছে এই দিক থেকে যে, তিনি কোনো শিক্ষা গ্রহণের প্রয়োজন ছাড়াই নিজের জওহর ও সত্তার মাধ্যমে বিষয়সমূহ অনুধাবন করেন।

হয়তো তিনি একে কলম নামে অভিহিত করেন এই বিবেচনায় যে, এর মাধ্যমে তিনি নবী, ওলী এবং অন্যান্য ফেরেশতাদের অন্তরের ফলকে ওহী ও ইলহামের মাধ্যমে জ্ঞানের নিগূঢ় সত্যসমূহ অঙ্কন করেন। কেননা হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, "নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বপ্রথম যা সৃষ্টি করেছেন তা হলো কলম।" সুতরাং যদি এই বিষয়টি আকলের দিকে না ফিরে আসে, তবে হাদিস দুটির মধ্যে বৈপরীত্য দেখা দেবে। অথচ ভিন্ন ভিন্ন দিক বিবেচনায় একই বিষয়ের একাধিক নাম থাকা বৈধ। অতএব, নিজস্ব সত্তার বিবেচনায় একে আকল বলা হয়, এবং আল্লাহর সাথে সম্পর্কের প্রেক্ষিতে ও সৃষ্টি এবং স্রষ্টার মাঝে মাধ্যম হওয়ার কারণে একে ফেরেশতা বলা হয়, আর এর থেকে ইলহাম ও ওহীর মাধ্যমে জ্ঞানের যে অঙ্কন প্রকাশিত হয় সেই সম্বন্ধের কারণে একে কলম বলা হয়। যেমন জিবরাঈলকে তার সত্তার বিবেচনায় রূহ, আমানত হিসেবে গচ্ছিত রহস্যের বিবেচনায় আমীন, তার সামর্থ্যের বিবেচনায় শক্তিশালী এবং শক্তির পূর্ণতার বিবেচনায় প্রবল শক্তিধর বলা হয়।