(খণ্ড: ১) আল-কাওলু বিমা লাম ইয়াসবিক বিহি কাওল (পৃষ্ঠা: -)
القول بما لم يسبق به قول   (مرضي العنزي)

القسم: أصول الفقه


الكتاب: القول بما لم يسبق به قول، دراسة فقهية تأصيلية تطبيقية

المؤلف: مرضي بن مشوح العنزي

الناشر: دار الحضارة للنشر والتوزيع - الرياض

الطبعة: الثانية، 1443 هـ - 2022 م

عدد الصفحات: 156

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 18 ربيع الآخر 1444

পূর্বসূরিদের দ্বারা উক্ত হয়নি এমন মত ব্যক্ত করা   (মারদি আল-আনযী)

বিভাগ: উসুল আল-ফিকহ


বই: পূর্বসূরিদের দ্বারা উক্ত হয়নি এমন মত ব্যক্ত করা; একটি ফিকহভিত্তিক তাত্ত্বিক ও প্রায়োগিক গবেষণা

লেখক: মারদি বিন মাশওয়াহ আল-আনযী

প্রকাশক: দার আল-হাদারাহ পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন - রিয়াদ

সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪৪৩ হিজরি - ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৫৬

[বইটির পৃষ্ঠা বিন্যাস মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৮ রবিউস সানি ১৪৪৪

(খণ্ড: ১) আল-কাওলু বিমা লাম ইয়াসবিক বিহি কাওল (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌المقدمة

الحمد لله، والصلاة والسلام على الرحمة المهداة، نبينا محمد وعلى آله وصحبه، ومن اقتفى هداه، أما بعد:

فمن قواعد الحياة أنها لا تدوم على وتيرة واحدة، بل هي في تغير دائم، وتطور مستمر، وهذه إحدى السنن الكونية، قال ابن خلدون: "إن أحوال العالم والأمم وعوائدهم ونحلهم، لا تدوم على وتيرة واحدة، ومنهاج مستقر، إنما هو اختلاف على الأيام والأزمنة، وانتقال من حال إلى حال، وكما يكون ذلك في الأشخاص والأوقات والأمصار، فكذلك يقع في الآفاق والأقطار والأزمنة والدول سنة الله التي قد خلت في عباده"(1).

وقد أدرك النبي صلى الله عليه وسلم سنة التغير في الحياة فشجع أصحابه على الاجتهاد؛ ليعرفوا حكم الوقائع المستجدة مع تجدد

--------------------------------------------

(1) مقدمة ابن خلدون، ص 37 - 38.
ভূমিকা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক উপহারস্বরূপ প্রেরিত রহমত আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীবর্গের ওপর, আর যারা তাঁর হেদায়েতের অনুসরণ করেছেন। অত:পর:

জীবনের অন্যতম একটি নিয়ম হলো এটি সর্বদা একই ধারায় অতিবাহিত হয় না, বরং তা সর্বদা পরিবর্তনশীল এবং ক্রমাগত বিবর্তনশীল। এটি মহাজাগতিক নিয়মসমূহের অন্যতম একটি। ইবনে খালদুন বলেছেন: "নিশ্চয়ই বিশ্ব এবং জাতিসমূহের অবস্থা, তাদের অভ্যাস ও আদর্শসমূহ সর্বদা এক অবস্থায় এবং একটি স্থির ধারায় বিদ্যমান থাকে না। বরং দিন ও সময়ের আবর্তনে তাতে ভিন্নতা আসে এবং এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় স্থানান্তরিত হয়। আর এটি যেমন ব্যক্তিবিশেষ, নির্দিষ্ট সময় এবং শহরসমূহের ক্ষেত্রে ঘটে থাকে, তেমনিভাবে তা দিগন্ত, ভূখণ্ড, যুগ এবং রাষ্ট্রসমূহের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য; যা আল্লাহর সেই চিরন্তন বিধান যা তাঁর বান্দাদের মাঝে অতীতে অতিবাহিত হয়েছে"(1).

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জীবনের এই পরিবর্তনের নিয়ম অনুধাবন করেছিলেন, তাই তিনি তাঁর সাহাবীদের ইজতিহাদ করতে উৎসাহিত করেছিলেন; যাতে তারা সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে নতুন উদ্ভূত পরিস্থিতির বিধান সম্পর্কে অবগত হতে পারেন...

--------------------------------------------

(1) মুকাদ্দিমাহ ইবনে খালদুন, পৃ. ৩৭ - ৩৮।
(খণ্ড: ১) আল-কাওলু বিমা লাম ইয়াসবিক বিহি কাওল (পৃষ্ঠা: ৬)
الحياة، فعن عمرو بن العاص: رضي الله عنه "أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «إِذَا حَكَمَ الحَاكِمُ فَاجْتَهَدَ ثُمَّ أَصَابَ فَلَهُ أَجْرَانِ، وَإِذَا حَكَمَ فَاجْتَهَدَ ثُمَّ أَخْطَأَ فَلَهُ أَجْرٌ» "(1)، وقد أقر النبي صلى الله عليه وسلم الصحابة الذين بعثهم إلى بني قريظة على اجتهادهم في أداء وقت صلاة العصر، مع الاختلاف بين الاجتهادين، فعن ابن عمر رضي الله عنه، قال: "قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لَنَا لَمَّا رَجَعَ مِنَ الأَحْزَابِ: «لَا يُصَلِّيَنَّ أَحَدٌ العَصْرَ إِلَّا فِي بَنِي قُرَيْظَةَ» فَأَدْرَكَ بَعْضَهُمُ العَصْرُ فِي الطَّرِيقِ، فَقَالَ بَعْضُهُمْ: لَا نُصَلِّي حَتَّى نَأْتِيَهَا، وَقَالَ بَعْضُهُمْ: بَلْ نُصَلِّي، لَمْ يُرَدْ مِنَّا ذَلِكَ، فَذُكِرَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَلَمْ يُعَنِّفْ وَاحِدًا مِنْهُمْ"(2)، وفي إقراره لهم صلى الله عليه وسلم على هذا الاختلاف تشجيع لهم على الاجتهاد.

ولقد سار الصحابة رضي الله عنهم على النهج الذي رسمه لهم رسول الله صلى الله عليه وسلم، وكانوا أولى الناس باتباع نهجه، واقتفاء سيرته، فكان لهم الكثير من الاجتهادات في شتى نواحي الحياة، يقول

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري، كتاب الاعتصام بالكتاب والسنة، باب أجر الحاكم إذا اجتهد فأصاب أو أخطأ، برقم 7352، ومسلم، كتاب الأقضية، باب بيان أجر الحاكم إذا اجتهد فأصاب أو أخطأ، برقم 1716.

(2) رواه البخاري، كتاب صلاة الخوف، باب صلاة الطالب والمطلوب راكبًا وإيماءً، برقم 946، ومسلم، كتاب الجهاد والسير، باب المبادرة بالغزو وتقديم أهم الأمرين المتعارضين، برقم 1770.
জীবনযাত্রার ক্ষেত্রে; আমর ইবনুল আস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: "তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছেন: «যখন কোনো বিচারক বিচার করেন এবং ইজতিহাদ (اجتهاد) করে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছান, তবে তাঁর জন্য রয়েছে দুটি সওয়াব। আর যখন তিনি বিচার করেন এবং ইজতিহাদ (اجتهاد) করে ভুল করেন, তবে তাঁর জন্য রয়েছে একটি সওয়াব»"(1)। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেই সাহাবীগণকে তাঁদের ইজতিহাদের (اجتهاد) জন্য অনুমোদন দিয়েছিলেন যাদেরকে তিনি বনু কুরাইজায় পাঠিয়েছিলেন আসরের সালাত আদায়ের সময়ের ব্যাপারে, যদিও তাঁদের ইজতিহাদের (اجتهاد) মধ্যে ভিন্নতা ছিল। ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আহযাব যুদ্ধ থেকে ফিরে আমাদের বললেন: «তোমাদের কেউ যেন বনু কুরাইজায় না পৌঁছে আসরের সালাত আদায় না করে»। পথিমধ্যে তাঁদের কারো কারো আসরের সময় হয়ে গেল। তখন তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ বললেন: আমরা সেখানে না পৌঁছানো পর্যন্ত সালাত পড়ব না। আবার কেউ কেউ বললেন: বরং আমরা সালাত পড়ব, কারণ আমাদের সালাত বিলম্ব করতে বলা হয়নি (বরং দ্রুত পৌঁছাতে বলা হয়েছিল)। পরবর্তীতে বিষয়টি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট উল্লেখ করা হলে তিনি তাঁদের কাউকেই তিরস্কার করেননি"(2)। তাঁদের এই মতভেদের ওপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে দেওয়া এই অনুমোদন ছিল তাঁদের ইজতিহাদের (اجتهاد) প্রতি এক প্রকার উৎসাহ প্রদান।

নিশ্চয়ই সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) সেই পথেই চলেছিলেন যা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁদের জন্য নির্ধারণ করেছিলেন। তাঁরাই ছিলেন তাঁর আদর্শ অনুসরণ এবং সীরাত অনুসরণে সবচেয়ে অগ্রগামী ব্যক্তি। জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁদের অনেক ইজতিহাদ (اجتهاد) ছিল, যেমনটি বলা হয়

--------------------------------------------

(1) বুখারি বর্ণনা করেছেন, কিতাবুল ইতিসাম বিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ, পরিচ্ছেদ: বিচারক যখন ইজতিহাদ (اجتهاد) করে সঠিক বা ভুল সিদ্ধান্তে পৌঁছান তখন তার সওয়াব, হাদিস নং ৭৩৫২; মুসলিম, কিতাবুল আকদিয়্যাহ, পরিচ্ছেদ: বিচারক যখন ইজতিহাদ (اجتهاد) করে সঠিক বা ভুল সিদ্ধান্তে পৌঁছান তখন তার সওয়াবের বর্ণনা, হাদিস নং ১৭১৬।

(2) বুখারি বর্ণনা করেছেন, কিতাবুত সালাতিল খাওফ, পরিচ্ছেদ: আরোহী ও ইশারা করে সালাত আদায়কারীর সালাত, হাদিস নং ৯৪৬; মুসলিম, কিতাবুল জিহাদি ওয়াস সিয়ার, পরিচ্ছেদ: দ্রুত অভিযানে যাওয়া এবং পরস্পরবিরোধী দুটি বিষয়ের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া, হাদিস নং ১৭৭০।
(খণ্ড: ১) আল-কাওলু বিমা লাম ইয়াসবিক বিহি কাওল (পৃষ্ঠা: ৭)
الجويني: "لم يخلُ أحد من علماء الصحابة من الاجتهاد في مسائل، وإن لم ينقل عنهم الاجتهاد في مسألة واحدة، فقد صح النقل المتواتر في مصير كل واحد منهم إلى أصل الاجتهاد في مسائل قضى فيها، أو أفتى بها"(1).

وكان منهجهم أنهم يتفاعلون مع القضايا التي تحتاج لاستخراج حكم فيها، سواء كانت هذه القضايا في السياسة، أو القضاء، أو العبادات، أو المعاملات، أو الأحوال الشخصية(2)، فما كانوا يؤجلون النظر في معالجة النازلة لاستخراج حكمها، وفق ما وضعوه من معالم للاجتهاد(3)، وفتحوا بذلك لمن بعدهم من العلماء باب الاجتهاد، يقول ابن القيم: "فالصحابة رضي الله عنهم مثلوا الوقائع بنظائرها، وشبهوها بأمثالها، وردوا بعضها إلى بعض في أحكامها، وفتحوا للعلماء باب الاجتهاد، ونهجوا لهم طريقه، وبينوا لهم سبيله"(4).

--------------------------------------------

(1) البرهان، للجويني 2/ 14.

(2) في كتاب اجتهادات الصحابة، لمحمد معاذ الخن، كثير من الأمثلة لاجتهادات الصحابة في شتى المجالات.

(3) انظر: أصول الفقه عند الصحابة معالم في المنهج، لعبدالعزيز العويد، ص 215.

(4) إعلام الموقعين، لابن القيم 1/ 166.
আল-জুওয়াইনী বলেন: "সাহাবায়ে কেরামের আলেমদের মধ্যে এমন কেউ ছিলেন না যিনি বিভিন্ন বিষয়ে ইজতিহাদ (اجتهاد) করেননি। যদিও কোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে তাঁদের ইজতিহাদ (اجتهاد) বর্ণিত না-ও হয়ে থাকে, তবুও তাঁদের প্রত্যেকের ক্ষেত্রে এই মর্মে একটি মুতাওয়াতির (متواتر) বর্ণনা বিশুদ্ধ (صحيح) প্রমাণিত হয়েছে যে, তাঁরা যেসব বিষয়ে ফয়সালা করেছেন বা ফতোয়া দিয়েছেন, সেখানে তাঁরা ইজতিহাদের (اجتهاد) মূলনীতির দিকেই প্রত্যাবর্তন করেছেন"(১)।

তাঁদের কর্মপন্থা ছিল এই যে, তাঁরা এমন সব বিষয়ের প্রতি সাড়া দিতেন যেগুলোর ক্ষেত্রে বিধান বের করার প্রয়োজন হতো, চাই সেই বিষয়গুলো রাজনীতি, বিচার বিভাগ, ইবাদত, লেনদেন বা ব্যক্তিগত বিষয়াদি সংক্রান্ত হোক না কেন(২)। তাঁরা ইজতিহাদের (اجتهاد) জন্য নির্ধারিত রূপরেখা অনুযায়ী কোনো উদ্ভূত সমস্যার সমাধান ও তার বিধান উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে বিলম্ব করতেন না(৩)। এর মাধ্যমে তাঁরা পরবর্তী আলেমদের জন্য ইজতিহাদের (اجتهاد) দ্বার উন্মোচন করে দিয়েছেন। ইবনুল কায়্যিম বলেন: "সাহাবায়ে কেরাম (রা.) সমজাতীয় ঘটনার সাথে নতুন ঘটনাগুলোর তুলনা করেছেন, সেগুলোকে সাদৃশ্যপূর্ণ বিষয়ের সাথে মিলিয়েছেন এবং বিধানের ক্ষেত্রে একটিকে অন্যটির সাথে সংযুক্ত করেছেন। তাঁরা আলেমদের জন্য ইজতিহাদের (اجتهاد) দরজা খুলে দিয়েছেন, তাঁদের জন্য এর পথ তৈরি করেছেন এবং তাঁদের জন্য এর সঠিক রাস্তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন"(৪)।

--------------------------------------------

(১) আল-বুরহান, আল-জুওয়াইনী ২/১৪।

(২) মুহাম্মাদ মুয়াজ আল-খান রচিত ইজতিহাদাতুস সাহাবা গ্রন্থে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাহাবায়ে কেরামের ইজতিহাদের অনেক উদাহরণ রয়েছে।

(৩) দেখুন: আবদুল আজিজ আল-উওয়াইদ রচিত উসুলুল ফিকহ ইনদাল সাহাবা মাআলিম ফিল মানহাজ, পৃষ্ঠা ২১৫।

(৪) ইলামুল মুওয়াক্কিঈন, ইবনুল কায়্যিম ১/১৬৬।
(খণ্ড: ১) আল-কাওলু বিমা লাম ইয়াসবিক বিহি কাওল (পৃষ্ঠা: ৮)
وظل العلماء على ذلك حتى انتهت عصور أئمة المذاهب، ودُونت آراؤهم، وشاع العمل بها، ثم رأى بعض العلماء أن في هذه المذاهب كفاية، وأن على المسلم التزام مذهب منها(1)، وأنه لا يوجد مجتهد بعد أئمة المذاهب، فقد نقل الصنعاني عنهم قولهم في الاجتهاد الْمُطلق أنه "اختتم بالأئمة الْأَرْبَعَة حَتَّى أوجبوا تَقْلِيد وَاحِد من هَؤُلَاءِ على الْأمة"(2)، وقال

--------------------------------------------

(1) اختلف العلماء في حكم إلزام المسلم بمذهب معين، وعدم الخروج منه على ثلاثة أقوال: القول الأول: أنه يجب التمذهب، ولا يجوز الخروج من المذهب، القول الثاني: أنه لا يجب التمذهب، ولا يجوز الخروج من المذهب لمن التزم مذهبًا، القول الثالث: أنه لا يجب التمذهب، ويجوز الخروج من المذهب لمن التزم مذهبا، والراجح هو القول الثالث؛ وذلك لأنه لا واجب إلا ما أوجبه الله ورسوله، ولم يوجب الله ولا رسوله على أحد من الناس أن يتمذهب بمذهب رجل من الأمة فيقلده دون غيره، ولم يرد عن الصحابة رضي الله عنهم أنهم أوجبوا على العوام تعيين المجتهدين، ووجوب الاقتصار على مفت واحد دون غيره. انظر: المستصفى، للغزالي 4/ 154، البحر المحيط، للزركشي 8/ 375، عقد الجيد في أحكام الاجتهاد والتقليد، لولي الله الدهلوي ص 31، إرشاد الفحول، للشوكاني 2/ 252، مجموع الفتاوى، لابن تيمية 20/ 222، مطالب أولى النهى، للرحيباني 1/ 390.

(2) إرشاد النقاد إلى تيسير الاجتهاد، للصنعاني، ص 27.
আলেমগণ (العلماء) এই অবস্থার ওপর অটল ছিলেন যতক্ষণ না মাজহাবসমূহের ইমামগণের (أئمة المذاهب) যুগের অবসান ঘটল, তাঁদের মতসমূহ লিপিবদ্ধ হলো এবং সে অনুযায়ী আমল করা ব্যাপকতা লাভ করল। অতঃপর কোনো কোনো আলেম (العلماء) মনে করলেন যে, এই মাজহাবসমূহ (المذاهب) যথেষ্ট এবং একজন মুসলিমের ওপর এর মধ্য থেকে কোনো একটি মাজহাব (مذهب) অনুসরণ (التزام) করা আবশ্যক(1)। তাঁরা আরও মনে করতেন যে, মাজহাবসমূহের ইমামগণের (أئمة المذاهب) পর আর কোনো মুজতাহিদ (مجتهد) নেই। আস-সানআনী তাঁদের থেকে স্বাধীন ইজতিহাদ (الاجتهاد الْمُطلق) সম্পর্কে তাঁদের এই বক্তব্য বর্ণনা করেছেন যে, এটি "চার ইমামের (الأئمة الأربعة) মাধ্যমেই সমাপ্ত হয়েছে, এমনকি তাঁরা উম্মতের ওপর তাঁদের মধ্য হতে কোনো একজনের অনুকরণ (تقليد) করা আবশ্যক করেছেন"(2), এবং তিনি বলেন

--------------------------------------------

(1) আলেমগণ (العلماء) একজন মুসলিমকে নির্দিষ্ট কোনো মাজহাব (مذهب) অনুসরণে বাধ্য করা এবং তা থেকে বের না হওয়ার বিধান সম্পর্কে তিনটি মতে বিভক্ত হয়েছেন: প্রথম মত: মাজহাব অনুসরণ করা (التمذهب) আবশ্যক (واجب), এবং মাজহাব থেকে বের হওয়া বৈধ নয়। দ্বিতীয় মত: মাজহাব অনুসরণ করা আবশ্যক নয়, তবে যে ব্যক্তি কোনো মাজহাব অনুসরণ (التزم) করেছে, তার জন্য তা থেকে বের হওয়া বৈধ নয়। তৃতীয় মত: মাজহাব অনুসরণ করা আবশ্যক নয় এবং যে ব্যক্তি কোনো মাজহাব অনুসরণ করেছে, তার জন্য তা থেকে বের হওয়া বৈধ। আর বিশুদ্ধ (الراجح) হলো তৃতীয় মতটি; কারণ আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল যা আবশ্যক করেছেন তা ছাড়া আর কিছুই আবশ্যক নয়। আর আল্লাহ বা তাঁর রাসূল মানুষের মধ্য হতে কারো ওপর উম্মতের কোনো এক ব্যক্তির মাজহাব অনুসরণ করা এবং অন্যকে বাদ দিয়ে কেবল তাঁর অনুকরণ (تقليد) করা আবশ্যক করেননি। সাহাবীগণ (الصحابة) রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও এমন কিছু বর্ণিত হয়নি যে তাঁরা সাধারণ মানুষের (العوام) ওপর মুজতাহিদগণকে (المجتهدين) নির্দিষ্ট করে দেওয়া এবং অন্য কাউকে বাদ দিয়ে কেবল একজন মুফতির (مفت) ওপর সীমাবদ্ধ থাকাকে আবশ্যক করেছিলেন। দেখুন: আল-গাজালীর আল-মুস্তাসফা ৪/১৫৪, আয-যারকাশীর আল-বাহরুল মুহিত ৮/৩৭৫, শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভীর আকদুল জীদ ফী আহকামিল ইজতিহাদ ওয়াত তাকলিদ পৃষ্ঠা ৩১, আশ-শাওকানীর ইরশাদুল ফুহুল ২/২৫২, ইবনে তাইমিয়্যার মাজমুউল ফাতাওয়া ২০/২২২, আর-রুহাইবানীর মাতালিবু উলিন নুহা ১/৩৯০।

(2) আস-সানআনী রচিত ইরশাদুন নুক্কাদ ইলা তাইসিরিল ইজতিহাদ, পৃষ্ঠা ২৭।
(খণ্ড: ১) আল-কাওলু বিমা লাম ইয়াসবিক বিহি কাওল (পৃষ্ঠা: ৯)
ابن الصلاح: "وقد ذكر بعض الأصوليين منا: أنه لم يوجد بعد عصر الشافعي مجتهد مستقل"(1).

وقد يكون السبب في حصر الاجتهاد على عصور الأئمة "ادّعاء الاجتهاد من غير أهله، والتصدي للفتوى وإبداء الآراء المخالفة لأبسط الأسس والقواعد الشرعية، ولذلك أعلن كثير من العلماء غلق باب الاجتهاد؛ لسد الطريق أمام الجهال أو أنصاف العلماء، للوقوف حصرًا على أقوال المذاهب المنتشرة والسائدة"(2).

إضافة إلى "عدم اعتداد الْعَامَّة باجتهادات الْعلمَاء المعاصرين وثقتهم بالعلماء الْمُتَقَدِّمين وخوف الْحُكَّام من اسْتِمْرَار الاجتهاد لما كَانَتْ تسببه اجتهادات بعض الْمُجْتَهدين لَهُمْ من تشويش وإحراج وقلق، يَتَّضِح جليًا بعد إمعان النّظر فِي هَذِه الْأَسْبَاب بِأَنْ مخاوف الْعلمَاء فِي اسْتِمْرَار الاجتهاد الْتَقت مَعَ رَغْبَة الْحُكَّام والساسة على إغلاق الِاجْتِهَاد وَإِنْ اخْتلفت الْمَقَاصِد والأهداف"(3).

--------------------------------------------

(1) أدب المفتي والمستفتي، لابن الصلاح، ص 93.

(2) الوجيز في أصول الفقه الإسلامي، لمحمد الزحيلي 2/ 304.

(3) إرشاد النقاد إلى تيسير الاجتهاد، للصنعاني، ص 26.
ইবনে আল-সালাহ বলেন: "আমাদের কতিপয় উসুলবিদ (الأصوليين) উল্লেখ করেছেন যে: ইমাম শাফেয়ীর যুগের পরে আর কোনো স্বতন্ত্র মুজতাহিদ (مجتهد مستقل) পাওয়া যায়নি"(১)।

ইমামগণের যুগের মধ্যে ইজতিহাদকে (الاجتهاد) সীমাবদ্ধ করার কারণ হতে পারে "অযোগ্য ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে ইজতিহাদের (الاجتهاد) দাবি করা, ফতোয়া প্রদানের দুঃসাহস দেখানো এবং শরীয়তের অতি সাধারণ মূলনীতি ও নিয়মাবলির পরিপন্থী মতামত ব্যক্ত করা। এ কারণেই অনেক আলেম ইজতিহাদের (الاجتهاد) দ্বার রুদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছিলেন; যাতে মূর্খ বা অর্ধ-শিক্ষিতদের পথ বন্ধ করা যায় এবং কেবলমাত্র প্রচলিত ও সুপ্রতিষ্ঠিত মাযহাবসমূহের মতামতের ওপরই সীমাবদ্ধ থাকা যায়"(২)।

এর সাথে আরও যুক্ত হয়েছে "সমসাময়িক আলেমদের ইজতিহাদের (اجتهادات) প্রতি সাধারণ মানুষের অনীহা এবং পূর্ববর্তী (المتقدمين) আলেমদের প্রতি তাদের অগাধ আস্থা; এছাড়া ইজতিহাদ (الاجتهاد) অব্যাহত থাকার বিষয়ে শাসকদের ভীতি, কারণ কোনো কোনো মুজতাহিদের (المجتهدين) ইজতিহাদ তাদের জন্য বিশৃঙ্খলা, বিব্রতকর পরিস্থিতি ও উদ্বেগের সৃষ্টি করত। এই কারণগুলো গভীরভাবে পর্যালোচনা করলে এটি সুস্পষ্ট হয় যে, ইজতিহাদ (الاجتهاد) চালু রাখার ক্ষেত্রে আলেমদের আশঙ্কা এবং ইজতিহাদ (الاجتهاد) বন্ধ করার ক্ষেত্রে শাসক ও রাজনীতিবিদদের আকাঙ্ক্ষা একীভূত হয়েছিল, যদিও তাদের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য ভিন্ন ছিল"(৩)।

--------------------------------------------

(১) আদাবুল মুফতি ওয়াল মুস্তাফতি, ইবনে আল-সালাহ, পৃষ্ঠা ৯৩।

(২) আল-ওয়াজিজ ফি উসুলিল ফিকহিল ইসলামি, মুহাম্মদ যুহায়লি ২/ ৩০৪।

(৩) ইরশাদুন নুক্কাদ ইলা তাইসিরিল ইজতিহাদ, আল-সানআনি, পৃষ্ঠা ২৬।
(খণ্ড: ১) আল-কাওলু বিমা লাম ইয়াসবিক বিহি কাওল (পৃষ্ঠা: ১০)
ووُضع للاجتهاد شروط شديدة لو طبقت "لَمْ يُوجَدْ مُجْتَهِدٌ إِلَّا فِي النُّدْرَةِ"(1)، يقول ابن عثيمين: "وهذه الشروط لو أردنا أن نطبقها لم نجد مجتهدًا منذ تسعمائة سنة؛ لأنها شروط قاسية"(2).

بل تجاوز الأمر إلى إخراج بعض الأئمة من درجة هذا الاجتهاد عالي الأسوار مغلَّق الأبواب؛ "فَالشَّافِعِيُّ عِنْدَهُمْ مقلِّد فِي الْحَدِيثِ لَمْ يَبْلُغْ دَرَجَةَ الِاجْتِهَادِ فِي انْتِقَادِهِ وَمَعْرِفَتِهِ، وَأَبُو حَنِيفَةَ كَذَلِكَ"(3)، وهو أيضًا ملتزم بِمذهب إِبْرَاهِيم النخعي وأقرانه ولَا يخرج عَمَّا ذهب إِلَيْهِ فُقَهَاء الْكُوفَة إِلَّا مَا شَاءَ الله وَكَانَ اجتهاده فِي التَّخْرِيج فقط ولم يكن مجتهدًا مطلقًا(4)، وأحمد بن حنبل "ليس بفقيه، لكنه مُحَدِّث"(5)، و"مقلّده قليل لبعد مذهبه عن الاجتهاد"(6)، إلى غير ذلك من دركات الكلام.

--------------------------------------------

(1) الموافقات، للشاطبي 5/ 46.

(2) شرح نظم الورقات، لابن عثيمين، ص 221.

(3) الموافقات، للشاطبي 5/ 46.

(4) انظر: حجة الله البالغة، للدهلوي 1/ 251.

(5) ذيل طبقات الحنابلة، لابن رجب 1/ 347.

(6) مقدمة ابن خلدون، ص 566.
ইজতিহাদ (اجتهاد)-এর জন্য অত্যন্ত কঠোর শর্তাবলি আরোপ করা হয়েছে, যা প্রয়োগ করলে "খুব বিরল ক্ষেত্র ব্যতীত কোনো মুজতাহিদ (مجتهد) খুঁজে পাওয়া যাবে না"(1)। ইবনে উসাইমীন বলেন: "আর এই শর্তগুলো যদি আমরা প্রয়োগ করতে চাই, তবে গত নয়শো বছর ধরে আমরা কোনো মুজতাহিদ (مجتهد) খুঁজে পাব না; কারণ এগুলো অত্যন্ত কঠোর শর্ত"(2)।

বরং বিষয়টি উচ্চ প্রাচীরবেষ্টিত ও রুদ্ধদ্বার এই ইজতিহাদ (اجتهاد)-এর স্তর থেকে কিছু ইমামকে বের করে দেওয়ার পর্যায় পর্যন্ত গড়িয়েছে; "তাদের মতে শাফেঈ হাদিসের ক্ষেত্রে একজন মুকাল্লিদ (مقلد), তিনি হাদিস সমালোচনা ও তা পরিজ্ঞাত হওয়ার ক্ষেত্রে ইজতিহাদ (اجتهاد)-এর স্তরে পৌঁছাননি, আবু হানিফাও তদ্রূপ"(3)। তিনি ইব্রাহিম নাখঈ ও তাঁর সমসাময়িকদের মাযহাবের অনুসারী ছিলেন এবং আল্লাহ যা চেয়েছেন তা ব্যতীত কুফার ফকিহ (فقهاء)-গণের মতের বাইরে যেতেন না; তাঁর ইজতিহাদ (اجتهاد) কেবল তাখরিজ (تخريج)-এর মাঝেই সীমাবদ্ধ ছিল এবং তিনি মুজতাহিদ মুতলাক (مجتهد مطلق) ছিলেন না(4)। আর আহমাদ ইবনে হাম্বল "ফকিহ (فقيه) নন, বরং তিনি একজন মুহাদ্দিস (محدث)"(5), এবং "তাঁর মুকাল্লিদ (مقلد)-এর সংখ্যা কম কারণ তাঁর মাযহাব ইজতিহাদ (اجتهاد) থেকে দূরে"(6)—এরূপ আরও বহু নিম্নমানের মন্তব্য করা হয়েছে।

--------------------------------------------

(1) আল-মুওয়াফাকাত, আশ-শাতোবি ৫/৪৬।

(2) শারহু নাজমিল ওয়ারাখাত, ইবনে উসাইমীন, পৃ. ২২১।

(3) আল-মুওয়াফাকাত, আশ-শাতোবি ৫/৪৬।

(4) দেখুন: হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ, আদ-দেহলভী ১/২৫১।

(5) যাইলো তাবাকাতিল হানাবিলাহ, ইবনে রাজাব ১/৩৪৭।

(6) মুকাদ্দিমাহ ইবনে খালদুন, পৃ. ৫৬৬।
(খণ্ড: ১) আল-কাওলু বিমা লাম ইয়াসবিক বিহি কাওল (পৃষ্ঠা: ১১)
وقد استولى على بعض أتباع المذاهب "التعصب المذهبي، والعكوف على نصوص الأئمة والفقهاء السابقين، وإثارة الخلافات المذهبية، والمناظرات والمجادلات الضيقة، والوقوف على الفروع الفقهية والجزئيات الخلافية"(1)، مِمَّا جعل الْكثير مِنْ العلماء "يحجم عَنْ الِاجْتِهَاد خوفًا من أَنْ يكيد لَهُ أعداؤه ويرموه بالابتداع فوقفوا عِنْد أَقْوَال الْمُتَقَدِّمين"(2).

وكان من أثر ذلك "أن فترت الهمّة، وجمد النشاط، وخف الاجتهاد إلى أدنى مستواه، وانصرف معظم الفقهاء إلى تدوين الكتب المذهبية والخلافية، واختصارها في متون، ثم وضع الشروح والحواشي عليها، وجمع أقوال إمام المذهب، ولمّ شتات الوجوه وأقوال الأصحاب والأتباع"(3).

ومالم يكن للمتقدمين قول فلا يجرؤ أحد من أهل العلم على قول لا سابق به، حتى لو وجد ما يدعمه من مقاصد الشريعة، وأدلتها، وقواعدها، "ولم ينج من هذه الظاهرة سوى القلة النادرة"(4).

--------------------------------------------

(1) الوجيز في أصول الفقه الإسلامي، لمحمد الزحيلي 2/ 304.

(2) إرشاد النقاد إلى تيسير الاجتهاد، للصنعاني، ص 26.

(3) الوجيز في أصول الفقه الإسلامي، لمحمد الزحيلي 2/ 304.

(4) تاريخ التشريع الإسلامي، للقطان، ص 398.
কিছু মাযহাব অনুসারীদের ওপর "মাযহাবী গোঁড়ামি, পূর্ববর্তী ইমাম ও ফকিহগণের ভাষ্যের প্রতি অত্যধিক আসক্তি, মাযহাবী মতপার্থক্য উসকে দেওয়া, সংকীর্ণ বিতর্ক ও বাদানুবাদে লিপ্ত হওয়া এবং ফিকহি উপশাখা ও খুঁটিনাটি মতভেদপূর্ণ বিষয়গুলোতে নিমগ্ন থাকা"(1) প্রভাব বিস্তার করেছিল, যা অনেক আলেমকে "গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রচেষ্টা (اجتهاد) থেকে বিরত থাকতে বাধ্য করেছিল এই ভয়ে যে, তাদের শত্রুরা পাছে তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে এবং তাদের ওপর নব-উদ্ভাবনের (ابتداع) অপবাদ আরোপ করে; ফলে তারা পূর্ববর্তী আলেমগণের (المتقدمون) বক্তব্যের ওপরই স্থির থাকেন"(2)।

এর ফলাফল ছিল এই যে, "উদ্দীপনা শিথিল হয়ে পড়ে, কর্মতৎপরতা স্থবির হয়ে যায় এবং গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রচেষ্টা (اجتهاد) সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে। অধিকাংশ ফকিহ মাযহাবী ও মতপার্থক্যমূলক গ্রন্থ প্রণয়ন, সেগুলোকে মূল পাঠে (متون) সংক্ষিপ্তকরণ, অতঃপর সেগুলোর ওপর ব্যাখ্যাগ্রন্থ (شروح) ও টীকা (حواشي) রচনা এবং মাযহাবের ইমামের বক্তব্যসমূহ ও অনুসারীদের ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বিভিন্ন অভিমতসমূহ একত্রিত করার দিকে ঝুঁকে পড়েন"(3)।

আর যে বিষয়ে পূর্ববর্তী আলেমগণের (المتقدمون) কোনো বক্তব্য ছিল না, সেখানে কোনো আলেম নতুন কোনো কথা বলার সাহস পেতেন না, যদিও শরিয়তের উদ্দেশ্যসমূহ (مقاصد الشريعة), এর প্রমাণাদি ও মূলনীতিমালার আলোকে তার সপক্ষে সমর্থন থাকত। "অল্প কয়েকজন ব্যতিক্রমী ব্যক্তি ছাড়া আর কেউই এই পরিস্থিতি থেকে রেহাই পাননি"(4)।

--------------------------------------------

(1) আল-ওয়াজিজ ফি উসুলিল ফিকহিল ইসলামি, মুহাম্মদ যুহায়লি ২/ ৩০৪।

(2) ইরশাদুন নুক্কাদ ইলা তাইসিরিল ইজতিহাদ, সানিয়ানি, পৃ. ২৬।

(3) আল-ওয়াজিজ ফি উসুলিল ফিকহিল ইসলামি, মুহাম্মদ যুহায়লি ২/ ৩০৪।

(4) তারিখুত তাশরিয়িল ইসলামি, কাত্তান, পৃ. ৩৯৮।
(খণ্ড: ১) আল-কাওলু বিমা লাম ইয়াসবিক বিহি কাওল (পৃষ্ঠা: ১২)
وقد رماهم مخالفوهم بشتى الأوصاف، وأوذوا نفسيًا وبدنيًا(1)، وكان جوابهم لهم: بأنه "يجوز أن لا يتقدم به قائل ولكن لا يلزم انعقاد الإجماع على خلافه؛ إذ لعل تلك النازلة تكون قد نزلت فأفتى فيها بعض العلماء أو كثير منهم أو أكثرهم بذلك القول ولم يستفت فيها الباقون ولم تبلغهم فحفظ فيها قول طائفة من أهل العلم، ولم يحفظ لغيرهم فيها قول، والذين حُفظ قولهم فيها ليسوا كل الأمة فيحرم مخالفتهم … فنحن في مخالفتنا لمن ليس قوله حجة أعذر منكم في مخالفتكم لمن قوله حجة فإن كنتم معذورين في مخالفة الدليل لقول من بلغتكم أقوالهم مع أنهم ليسوا كل الأمة فنحن في مخالفتهم لقيام الدليل أعذر عند الله ورسوله منكم"(2).

وظل هذا هو الغالب على الحياة العلمية، فكل قول لم يسبق به قائل يرفض، ويقاوم القول وقائله، وتكثر التآليف بين الرد والجواب، وتحشد جميع الأدلة في نصرة الآراء، ومن المحير للقارئ أنه يجد أن كل عالم من الأئمة المتبوعين

--------------------------------------------

(1) انظر: كتاب الممتحنون من علماء الإسلام، لسليمان العثيم، ففيه الكثير من القصص التي تبين ذلك.

(2) الصواعق المرسلة، لابن القيم 2/ 582.
তাদের বিরোধীরা তাদের ওপর নানা ধরনের অপবাদ আরোপ করেছিল এবং তারা মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতিত হয়েছিলেন(১)। তাদের প্রতি তাদের উত্তর ছিল এই যে: "এটি সম্ভব যে ইতিপূর্বে কোনো প্রবক্তা এই মতটি ব্যক্ত করেননি, তবে এর দ্বারা এর বিপক্ষে ঐক্যমত্য (إجماع) প্রতিষ্ঠিত হওয়া আবশ্যক হয়ে যায় না; কারণ সম্ভবত সেই উদ্ভূত সমস্যাটি (نازلة) দেখা দিয়েছিল এবং কিছু আলেম অথবা তাদের অনেকে বা অধিকাংশ সেই মতে ফতোয়া (فتوى) দিয়েছিলেন, অথচ বাকিদের নিকট থেকে ফতোয়া চাওয়া হয়নি এবং বিষয়টি তাদের নিকট পৌঁছায়নি। ফলে আলেমদের একটি দলের বক্তব্য এতে সংরক্ষিত হয়েছে, কিন্তু অন্যদের কোনো বক্তব্য সংরক্ষিত হয়নি। আর যাদের বক্তব্য এতে সংরক্ষিত হয়েছে তারা তো সমগ্র উম্মাহ নন যে তাদের বিরোধিতা করা হারাম (حرام) হবে... অতএব, যার কথা প্রমাণ (حجة) নয়, তার বিরোধিতা করার ক্ষেত্রে আমরা আপনাদের তুলনায় অধিক ওজরপ্রাপ্ত বা যুক্তিসঙ্গত অবস্থানে আছি, যেখানে আপনারা এমন সত্তার বিরোধিতা করছেন যার কথা প্রমাণ (حجة)। সুতরাং আপনারা যদি যাদের বক্তব্য আপনাদের কাছে পৌঁছেছে তাদের খাতিরে দলিলের (دليل) বিরোধিতা করার ক্ষেত্রে ওজরপ্রাপ্ত হন—অথচ তারা সমগ্র উম্মাহ নন—তবে দলিলের (دليل) প্রতিষ্ঠার কারণে তাদের বিরোধিতা করার ক্ষেত্রে আমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের কাছে আপনাদের চেয়েও অধিক ওজরপ্রাপ্ত"(২)।

ইলমি বা জ্ঞানতাত্ত্বিক জীবনে এটিই প্রধান বৈশিষ্ট্য হয়ে দাঁড়িয়েছিল; ফলে যে কোনো মত যা ইতিপূর্বে কেউ ব্যক্ত করেনি তা প্রত্যাখ্যান করা হতো, এবং সেই মত ও তার প্রবক্তার প্রতিরোধ করা হতো। খণ্ডন (رد) ও উত্তরের (جواب) লড়াইয়ে প্রচুর গ্রন্থ রচিত হতে থাকে এবং মতামতগুলোর সমর্থনে যাবতীয় দলিল (أدلة) জড়ো করা হতে থাকে। পাঠকের জন্য এটি অত্যন্ত বিস্ময়কর যে, তিনি দেখেন অনুসৃত ইমামদের প্রত্যেক আলেম...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: সুলাইমান আল-উথাইম রচিত 'আল-মুমতাহানুন মিন উলামাইল ইসলাম'; এতে এমন অনেক কাহিনী রয়েছে যা বিষয়টি স্পষ্ট করে।

(২) আস-সাওয়াইকুল মুরসালাহ, ইবনুল কাইয়্যিম ২/৫৮২।
(খণ্ড: ১) আল-কাওলু বিমা লাম ইয়াসবিক বিহি কাওল (পৃষ্ঠা: ১৩)
أتى بقول لم يسبق إليه، وأن الذين يردون القول الذي لم يسبق إليه، قد قبلوا أقوالا لم يسبق إليها، وتجد في الآراء التي يؤيدونها استدلالا بأدلة، ثم لا يقبلون بهذه الأدلة إذا استدل بها خصمهم عليهم، فيجدون من المسوغات لردها، ما يستدل به عليهم خصمهم في رد آرائهم.

ثم بعد زمن تصبح بعض هذه الأقوال المرفوضة مقبولة، وقد تكون عليها الفتوى في بعض البقاع، وما كان منتشرًا مقبولًا قد يصبح مهجورًا محاربًا، وهذا ما يدعوا الباحث للنظر في هذه القضية، ودراستها تأصيلًا وتطبيقًا، ليصل لنتيجة فيها أو يقارب، وهو ما حفزني لكتابة هذا البحث في (القول بما لم يسبق به قول، دراسة فقهية تأصيلية تطبيقية)، وقد قسمته بعد المقدمة إلى:

تمهيد، وفيه مطلبان:

المطلب الأول: تعريف بعنوان البحث

المطلب الثاني: تهيب العلماء من القول بما لم يسبق به قول.

المبحث الأول: حكم القول بما لم يسبق به قول.

المبحث الثاني: مخالفة النص أو الإجماع.
তিনি এমন এক বক্তব্য পেশ করেছেন যা ইতিপূর্বে আর কেউ বলেনি। আর যারা এমন বক্তব্যকে প্রত্যাখ্যান করেন যার কোনো পূর্ব নজির নেই, তারা নিজেরাও এমন অনেক বক্তব্য গ্রহণ করেছেন যার কোনো পূর্ব নজির নেই। আপনি তাদের সমর্থিত মতামতের মাঝে দলিলাদির মাধ্যমে প্রমাণ (استدلال) উপস্থাপনের রীতি দেখতে পাবেন, অথচ তাদের প্রতিপক্ষ যখন সেই একই দলিল তাদের বিরুদ্ধে পেশ করে, তখন তারা তা গ্রহণ করে না। তারা সেগুলো প্রত্যাখ্যান করার জন্য এমন সব যুক্তি খুঁজে বের করে, যা তাদের প্রতিপক্ষ তাদের নিজেদের মতামত খণ্ডন করতে তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবহার করে থাকে।

অতঃপর সময়ের আবর্তনে এসব প্রত্যাখ্যাত বক্তব্যের কিছু অংশ গ্রহণযোগ্য (مقبول) হয়ে ওঠে এবং কোনো কোনো ভূখণ্ডে তার ওপর ফতোয়াও প্রদান করা হয়। আবার যা একসময় বহুল প্রচলিত ও গ্রহণযোগ্য (مقبول) ছিল, তা পরবর্তীতে বর্জিত ও বিরোধপূর্ণ হয়ে পড়ে। আর এটিই একজন গবেষককে এই বিষয়টি তাত্ত্বিক (تأصيل) ও প্রায়োগিক (تطبيق) উভয় দিক থেকে পর্যবেক্ষণ ও অধ্যয়ন করতে উদ্বুদ্ধ করে, যাতে তিনি কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেন বা তার নিকটবর্তী হতে পারেন। এই বিষয়টিই আমাকে ‘অভূতপূর্ব কোনো বক্তব্য প্রদান: একটি ফিকহী তাত্ত্বিক (تأصيل) ও প্রায়োগিক (تطبيق) অধ্যয়ন’ শিরোনামে এই গবেষণাপত্রটি লিখতে অনুপ্রাণিত করেছে। আমি একে মুকাদ্দিমার পর নিম্নোক্তভাবে বিভক্ত করেছি:

প্রারম্ভিকা, এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: গবেষণার শিরোনামের পরিচিতি।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইতিপূর্বে কেউ বলেনি এমন বক্তব্য প্রদানের ক্ষেত্রে ওলামায়ে কেরামের সতর্কতা।

প্রথম অধ্যায়: ইতিপূর্বে কেউ বলেনি এমন বক্তব্য প্রদানের বিধান।

দ্বিতীয় অধ্যায়: অকাট্য প্রমাণ (النص) বা সর্বসম্মত ঐক্যের (الإجماع) বিরোধিতা করা।
(খণ্ড: ১) আল-কাওলু বিমা লাম ইয়াসবিক বিহি কাওল (পৃষ্ঠা: ১৪)
المبحث الثالث: تطبيقات فقهية لأقوال لم يسبق بها قول، وفيه عشرون مطلبا تفصيلها في البحث.

المبحث الرابع: القول بما لم يسبق به قول بين التأصيل والتطبيق (ابن عثيمين أنموذجًا)

الخاتمة؛ وفيها أبرز النتائج.

وبعد؛ فقد بذلت الجهد في إخراج هذا البحث على أتم وجه، لكنَّ العمل البشري لا يخلو من نقص، فما تم منه فمن تيسير الله وفضله، وما نقص فمن تقصيري والشيطان، عسى الله أن يتوب عليَّ ويتجاوز عني إنه هو الغفور الرحيم.

كتبه:

د. مرضي بن مشوح العنزي

جوال: 00966503380332

إيميل: murdi 100@hotmail.com
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: এমন বক্তব্যের ফিকহী প্রয়োগ (تطبيقات) যা ইতিপূর্বে কেউ প্রদান করেনি; এতে বিশটি উপ-পরিচ্ছেদ (مطالب) রয়েছে যার বিস্তারিত বিবরণ গবেষণায় বিদ্যমান।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: পূর্বসূরিহীন বক্তব্য প্রদানের তাত্ত্বিক ভিত্তি (تأصيل) ও বাস্তব প্রয়োগের মধ্যবর্তী পর্যালোচনা (একটি মডেল হিসেবে ইবনে উসাইমীন)

উপসংহার; এতে প্রধান ফলাফলসমূহ আলোচিত হয়েছে।

অতঃপর; আমি এই গবেষণাটি সর্বোত্তম উপায়ে সম্পন্ন করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছি, তবে মানুষের কাজ ত্রুটি-বিচ্যুতির ঊর্ধ্বে নয়। এর মাঝে যা কিছু সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ হয়েছে তা আল্লাহর তৌফিক ও অনুগ্রহের মাধ্যমে হয়েছে, আর যা কিছু অসম্পূর্ণতা রয়েছে তা আমার নিজের সীমাবদ্ধতা এবং শয়তানের প্ররোচনার ফল। আল্লাহর কাছে প্রত্যাশা করি তিনি যেন আমার তাওবা কবুল করেন এবং আমাকে মার্জনা করেন; নিশ্চয়ই তিনি অতি ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।

লেখক:

ড. মারদি বিন মাশউহ আল-আনাযী

মোবাইল: 00966503380332

ইমেইল: murdi 100@hotmail.com
(খণ্ড: ১) আল-কাওলু বিমা লাম ইয়াসবিক বিহি কাওল (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌المطلب الأول: تعريف بعنوان البحث (القول بما لم يسبق به قول)

عنوان البحث يتكون من مصطلحين رئيسين، وللتوصل لتعريف عنوان البحث لابد من تعريف هذين المصطلحين، وهما: القول: والسبق.

فالقول لغة: "كُلُّ لَفْظٍ قَالَ بِهِ اللِّسَانُ، تَامًّا كَانَ أَوْ نَاقِصًا"(1)، قال ابن فارس: "الْقَافُ وَالْوَاوُ وَاللَّامُ أَصْلٌ وَاحِدٌ صَحِيحٌ يَقِلُّ كَلِمُهُ، وَهُوَ الْقَوْلُ مِنَ النُّطْقِ"(2)

والقول اصطلاحًا: الاعتقادات والآراء؛ فقد تجوَّز العلماء فأطلقوا القول على الاعتقادات والآراء، فيقولون: قول أبي حنيفة ويعنون بذلك رأيه في المسألة المطروحة، وقد

--------------------------------------------

(1) لسان العرب، لابن منظور 11/ 572.

(2) معجم مقاييس اللغة، لابن فارس 5/ 42.
প্রথম পরিচ্ছেদ: গবেষণার শিরোনামের সংজ্ঞা (এমন অভিমত ব্যক্ত করা যার কোনো পূর্ববর্তী নজির নেই)

গবেষণার শিরোনামটি দুটি প্রধান পরিভাষার সমন্বয়ে গঠিত। গবেষণার শিরোনামের সংজ্ঞায় পৌঁছানোর জন্য এই পরিভাষা দুটি সংজ্ঞায়িত করা আবশ্যক, আর সেগুলো হলো: বক্তব্য (القول) এবং অগ্রবর্তিতা (السبق)।

আভিধানিকভাবে বক্তব্য (القول) হলো: "জিহ্বা দ্বারা উচ্চারিত প্রতিটি শব্দ, তা পূর্ণ হোক বা অপূর্ণ।"(১) ইবনু ফারিস বলেছেন: "কাফ, ওয়াও এবং লাম—এটি একটি সঠিক (صحيح) মূলবর্ণ যার শব্দ সংখ্যা কম, আর তা হলো উচ্চারিত কথা।"(২)

আর পারিভাষিক অর্থে বক্তব্য (القول) হলো: বিশ্বাস এবং মতামতসমূহ; আলেমগণ আলঙ্কারিকভাবে বিশ্বাস এবং মতামতের ক্ষেত্রে 'কাওল' শব্দটি প্রয়োগ করেছেন। তাঁরা বলে থাকেন: 'আবু হানিফার বক্তব্য', এবং এর দ্বারা তাঁরা আলোচ্য মাসআলায় তাঁর ব্যক্তিগত রায় (رأي) উদ্দেশ্য নিয়ে থাকেন।

--------------------------------------------

(১) লিসানুল আরব, ইবনু মানযুর ১১/ ৫৭২।

(২) মু‘জাম মাকায়িসুল লুগাহ, ইবনু ফারিস ৫/ ৪২।
(খণ্ড: ১) আল-কাওলু বিমা লাম ইয়াসবিক বিহি কাওল (পৃষ্ঠা: ১৬)
يقرنون بين القول والرأي وهما بمعنى واحد إنما لتنويع العبارة، فيقولون: أَقْوَال الْعُلَمَاءِ وَآرَاءهُمْ(1).

وإنما تجوَّز العلماء في إطلاق القول على الآراء والاعتقادات؛ لأنها سبب له، قال ابن منظور: "فأَما تَجوُّزهم فِي تَسْمِيَتِهِمْ الِاعْتِقَادَاتِ وَالْآرَاءَ قَوْلًا فلأَن الِاعْتِقَادَ يخفَى فَلَا يُعْرَفُ إِلَّا بِالْقَوْلِ، أَوْ بِمَا يَقُومُ مَقَامَ القَوْل مِنْ شَاهِدِ الْحَالِ، فَلَمَّا كَانَتْ لَا تَظْهَرُ إِلا بالقَوْل سُمِّيَتْ قَوْلًا إِذْ كَانَتْ سَبَبًا لَهُ، وَكَانَ القَوْل دَلِيلًا عَلَيْهَا، كَمَا يسمَّى الشَّيْءَ بِاسْمِ غَيْرِهِ إِذا كَانَ مُلَابِسًا لَهُ وَكَانَ الْقَوْلُ دَلِيلًا عَلَيْهِ"(2).

وأما السبق في اللغة فهو: التقدم، قال ابن فارس: "السِّينُ وَالْبَاءُ وَالْقَافُ أَصْلٌ وَاحِدٌ صَحِيحٌ يَدُلُّ عَلَى التَّقْدِيمِ"(3)، يُقَالُ "سَبَقَه يَسْبُقُه ويَسْبِقُه سَبْقاً: تقدَّمه"(4). وفي الاصطلاح لا يخرج عن المعنى اللغوي.

--------------------------------------------

(1) انظر: إعلام الموقعين، لابن القيم 2/ 162.

(2) لسان العرب، لابن منظور 11/ 572.

(3) معجم مقاييس اللغة، لابن فارس 3/ 129.

(4) لسان العرب، لابن منظور 10/ 151.
তারা বক্তব্য ও মতামতের মধ্যে সমন্বয় সাধন করেন এবং এ দুটি একই অর্থ প্রকাশ করে; মূলত অভিব্যক্তিতে বৈচিত্র্য আনয়নের লক্ষ্যেই এমনটি করা হয়। তাই তারা বলেন: ওলামায়ে কেরামের বক্তব্য ও মতামতসমূহ(১)।

ওলামায়ে কেরাম মতামত ও বিশ্বাসের ক্ষেত্রে 'বক্তব্য' শব্দটি রূপকার্থে ব্যবহার করা বৈধ গণ্য করেছেন; কারণ বিশ্বাসই বক্তব্যের মূল কারণ। ইবনে মঞ্জুর বলেন: "মতামত ও বিশ্বাসসমূহকে 'বক্তব্য' হিসেবে নামকরণ করার ক্ষেত্রে তাদের এই রূপক ব্যবহারের কারণ হলো, বিশ্বাস মূলত একটি প্রচ্ছন্ন বিষয় যা বক্তব্য ব্যতীত জানা সম্ভব নয়, অথবা অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে যা বক্তব্যের স্থলাভিষিক্ত হয় তার মাধ্যমে তা জানা যায়। যেহেতু এটি বক্তব্য ছাড়া প্রকাশিত হয় না, তাই একে 'বক্তব্য' নামে অভিহিত করা হয়েছে; কারণ এটি বক্তব্যের কারণ এবং বক্তব্য এর পরিচায়ক। ঠিক যেমন কোনো বস্তুকে তার সাথে সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো কিছুর নামে অভিহিত করা হয় যখন সেই বক্তব্যটি তার পরিচায়ক হিসেবে গণ্য হয়"(২)।

আর আভিধানিক অর্থে 'সবক' (অগ্রগামিতা) হলো: এগিয়ে যাওয়া। ইবনে ফারিস বলেন: "সিন, বা এবং ক্বাফ—এটি একটি সঠিক (صحيح) মূল ভিত্তি যা অগ্রবর্তী হওয়ার অর্থ নির্দেশ করে"(৩)। বলা হয় "সে তাকে ছাড়িয়ে গেছে, অর্থাৎ সে তার অগ্রবর্তী হয়েছে"(৪)। আর পারিভাষিক সংজ্ঞার ক্ষেত্রে এটি আভিধানিক অর্থের বহির্ভূত নয়।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইলামুল মুওয়াক্কিয়িন, ইবনুল কাইয়্যিম ২/ ১৬২।

(২) লিসানুল আরব, ইবনে মঞ্জুর ১১/ ৫৭২।

(৩) মু'জামু মাকাইয়িসিল লুগাহ, ইবনে ফারিস ৩/ ১২৯।

(৪) লিসানুল আরব, ইবনে মঞ্জুর ১০/ ১৫১।
(খণ্ড: ১) আল-কাওলু বিমা লাম ইয়াসবিক বিহি কাওল (পৃষ্ঠা: ১৭)
وبعد بيان معنى القول والسبق نستطيع الاقتراب من معنى عنوان البحث، فالمراد بـ"القول بما لم يسبق به قول": هو الرأي الذي لم يُقدم ويقال في نفس المسألة من قبل.

বক্তব্য (قول) এবং অগ্রবর্তিতা (سبق)-এর অর্থ পরিস্ফুট করার পর আমরা গবেষণার শিরোনামটির মর্মার্থ অনুধাবনের সন্নিকটে পৌঁছাতে পারি। সুতরাং "এমন বক্তব্য (قول) প্রদান করা যার কোনো পূর্বসূত্র নেই" বলতে উদ্দেশ্য হলো: এমন কোনো অভিমত (رأي) যা ইতিপূর্বে একই বিষয়ে উপস্থাপিত বা আলোচিত হয়নি।

(খণ্ড: ১) আল-কাওলু বিমা লাম ইয়াসবিক বিহি কাওল (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌المطلب الثاني: تهيُّب العلماء من القول بما لم يسبق به قول.

اشتهر عن السلف رضي الله عنهم تهيبهم من الكلام فيما يعرض عليهم من مسائل الدين، مستحضرين في ذلك قول الله تعالى: {قُلْ أَرَأَيْتُمْ مَا أَنزلَ اللَّهُ لَكُمْ مِنْ رِزْقٍ فَجَعَلْتُمْ مِنْهُ حَرَامًا وَحَلالا قُلْ آللَّهُ أَذِنَ لَكُمْ أَمْ عَلَى اللَّهِ تَفْتَرُونَ} [يونس: 59]. قال عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى: «أَدْرَكْتُ عِشْرِينَ وَمِائَةً مِنَ الْأَنْصَارِ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، يُسْأَلُ أَحَدُهُمْ عَنِ الْمَسْأَلَةِ فَيَرُدُّهَا إِلَى هَذَا، وَهَذَا إِلَى هَذَا حَتَّى تَرْجِعَ إِلَى الْأَوَّلِ»(1)، وفي رواية: «مَا مِنْهُمْ مِنْ أَحَدٍ يُحَدِّثُ إِلَّا وَدَّ أَنَّ أَخَاهُ كَفَاهُ إِيَّاهُ، وَلَا يُسْتَفْتَى عَنْ شَيْءٍ إِلَّا وَدَّ أَنَّ أَخَاهُ كَفَاهُ الْفَتْوَى»(2).

--------------------------------------------

(1) المدخل إلى السنن الكبرى، للبيهقي، ص 433.

(2) المدخل إلى السنن الكبرى، للبيهقي، ص 433.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইতিপূর্বে কেউ বলেননি এমন কথা বলার ব্যাপারে আলেমগণের সতর্কতা ও ভীতি।

সালাফ (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-দের থেকে এটি সুপ্রসিদ্ধ যে, তাঁদের নিকট দ্বীনের কোনো মাসআলা উপস্থাপিত হলে তাঁরা সে বিষয়ে কথা বলতে অত্যন্ত সতর্কতা ও ভীতি অবলম্বন করতেন। এক্ষেত্রে তাঁরা মহান আল্লাহর এই বাণীটি স্মরণে রাখতেন: {বলুন, তোমরা কি ভেবে দেখেছ আল্লাহ তোমাদের জন্য যে রিযিক নাযিল করেছেন, তোমরা তার মধ্য থেকে কোনোটিকে হারাম ও কোনোটিকে হালাল সাব্যস্ত করেছ? বলুন, আল্লাহ কি তোমাদেরকে এর অনুমতি দিয়েছেন, নাকি তোমরা আল্লাহর ওপর মিথ্যারোপ করছ?} [সূরা ইউনুস: ৫৯]। আব্দুর রহমান ইবনে আবি লায়লা বলেন: «আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আনসার সাহাবীদের মধ্যে একশত বিশ জনকে পেয়েছি। তাঁদের কাউকে কোনো মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি তা অন্যের দিকে ঠেলে দিতেন, আর অন্যজন তা আরেকজনের দিকে। এভাবে মাসআলাটি ঘুরতে ঘুরতে প্রথম জনের কাছেই ফিরে আসত»(১), এবং অন্য এক বর্ণনায় (رواية) বর্ণিত হয়েছে: «তাঁদের মধ্যে এমন কেউ ছিলেন না যিনি কোনো বর্ণনা (رواية) প্রদান করতেন অথচ এই আকাঙ্ক্ষা পোষণ করতেন না যে, তাঁর ভাই যেন তাঁর পরিবর্তে এর দায়িত্ব পালনে যথেষ্ট হতেন। আর তাঁদের নিকট কোনো বিষয়ে ফতোয়া (فتوى) চাওয়া হলে তাঁরা কামনা করতেন যেন তাঁদের অপর ভাই ফতোয়া প্রদানের দায়িত্বটি সম্পন্ন করেন»(২)।

--------------------------------------------

(১) বায়হাকি রচিত আল-মাদখাল ইলাস সুনানিল কুবরা, পৃষ্ঠা ৪৩৩।

(২) বায়হাকি রচিত আল-মাদখাল ইলাস সুনানিল কুবরা, পৃষ্ঠা ৪৩৩।
(খণ্ড: ১) আল-কাওলু বিমা লাম ইয়াসবিক বিহি কাওল (পৃষ্ঠা: ২০)
وحتى لو تكلموا في مسائل الدين التي يعرفون فإنهم لا يجزمون بالتحليل والتحريم، قال ابن القيم: "قَالَ ابْنُ وَهْبٍ: سَمِعْت مَالِكًا يَقُولُ: لَمْ يَكُنْ مِنْ أَمْرِ النَّاسِ وَلَا مَنْ مَضَى مِنْ سَلَفِنَا، وَلَا أَدْرَكْت أَحَدًا أَقْتَدِي بِهِ يَقُولُ فِي شَيْءٍ: هَذَا حَلَالٌ، وَهَذَا حَرَامٌ، وَمَا كَانُوا يَجْتَرِئُونَ عَلَى ذَلِكَ، وَإِنَّمَا كَانُوا يَقُولُونَ: نَكْرَهُ كَذَا، وَنَرَى هَذَا حَسَنًا؛ فَيَنْبَغِي هَذَا، وَلَا نَرَى هَذَا"(1).

وخوفهم هذا كان من قولٍ يعرفونه أو حُكمٍ سُبقوا إليه، أما أن يسبق أحدهم غيره لقول جديد في مسألة فهذا من أشق الأمور عليهم؛ لمعرفتهم أنهم يتكلمون عن حكم الله في هذه المسألة، وهذا ليس بالأمر الهين لمن عظم الله في نفسه، ووضع نصب عينيه قول الله تعالى: {وَلا تَقُولُوا لِمَا تَصِفُ أَلْسِنَتُكُمُ الْكَذِبَ هَذَا حَلالٌ وَهَذَا حَرَامٌ لِتَفْتَرُوا عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ إِنَّ الَّذِينَ يَفْتَرُونَ عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ لا يُفْلِحُونَ} [النحل: 116].

--------------------------------------------

(1) إعلام الموقعين، لابن القيم 1/ 32.
এমনকি তারা যদি দ্বীনের এমন বিষয়াদি নিয়ে কথা বলতেন যা তারা জানেন, তবুও তারা হালাল ও হারামের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিতেন না। ইবনুল কাইয়্যিম বলেন: "ইবনে ওয়াহাব বলেছেন: আমি মালেককে বলতে শুনেছি: মানুষের রীতি এমন ছিল না, এমনকি আমাদের পূর্বসূরি (سلف) যারা গত হয়েছেন তাদের মাঝেও এমনটি ছিল না, আর আমি এমন কাউকে পাইনি যাঁকে আমি অনুসরণ করি যিনি কোনো বিষয়ে বলতেন: এটি হালাল এবং এটি হারাম। তারা এ ব্যাপারে দুঃসাহস দেখাতেন না; বরং তারা বলতেন: 'আমরা এটি অপছন্দ করি', এবং 'আমরা এটিকে উত্তম (حسن) মনে করি'; 'এটি হওয়া উচিত', এবং 'আমরা এটি (সঠিক) মনে করি না'।"(১).

তাদের এই ভীতি ছিল এমন কোনো বক্তব্য যা তারা জানতেন অথবা এমন কোনো বিধানের ক্ষেত্রে যার পূর্বে তাদের কেউ সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন। তবে কোনো মাসআলায় নতুন কোনো মত দেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রগামী হওয়া ছিল তাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন কাজ; কারণ তারা জানতেন যে, তারা এই মাসআলায় আল্লাহর বিধান সম্পর্কে কথা বলছেন। আর এটি সেই ব্যক্তির জন্য কোনো সহজ বিষয় নয় যার অন্তরে আল্লাহর মহিমা রয়েছে এবং যে আল্লাহর এই বাণীকে নিজের চোখের সামনে রাখে: {তোমাদের জিহ্বা থেকে যে মিথ্যা কথা বের হয়, সে অনুযায়ী তোমরা বলো না যে, 'এটি হালাল এবং এটি হারাম', যাতে তোমরা আল্লাহর নামে মিথ্যা আরোপ করতে পারো। নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর নামে মিথ্যা আরোপ করে, তারা সফলকাম হবে না} [আন-নাহল: ১১৬]।

--------------------------------------------

(১) ইলামুল মুয়াক্কিয়িন, ইবনুল কাইয়্যিম ১/ ৩২।
(খণ্ড: ১) আল-কাওলু বিমা লাম ইয়াসবিক বিহি কাওল (পৃষ্ঠা: ২১)
ثم سار من بعدهم على سنتهم موصين أنفسهم وتلامذتهم بما قَالَ الْإِمَامُ أَحْمَدُ موصيًا أحد تلامذته: "إيَّاكَ أَنْ تَتَكَلَّمَ فِي مَسْأَلَةٍ لَيْسَ لَك فِيهَا إمَامٌ"(1).

واشترط العلماء للمجتهد أن يكون عالما بمواضع الإجماع كي لا يخرقه فيأتي بقول شاذ لم يسبق إليه(2).

وكان من أسباب تضعيف القول عندهم أن قائله لم يسبق إليه، فيردونه لأجل ذلك، وقد يصفونه بالشذوذ(3)، كما قال أبو الطيب القاضي عن قول لأبي جعفر الترمذي: "هَذَا شَاذٌّ لَمْ يَقُلْ بِهِ أَحَدٌ سِوَاهُ"(4).

وكان بعضهم إذا اجتهد في مسألة عقَّب عليها بأن هذا لا يعد قولا له إن لم يسبق إليه، ففي مسألة المطلقة آخر

--------------------------------------------

(1) مجموع الفتاوى، لابن تيمية 21/ 291، إعلام الموقعين، لابن القيم 4/ 170.

(2) انظر: الفصول في الأصول، للجصاص 4/ 273، شرح تنقيح الفصول، للقرافي، ص 437.

(3) انظر: التمهيد، لابن عبدالبر 9/ 70، المجموع، للنووي 4/ 65، مجموع الفتاوى، لابن تيمية 25/ 133، حاشية ابن عابدين 1/ 477.

(4) المجموع، للنووي 4/ 65.
এরপর তাঁদের পরবর্তীগণ তাঁদের সুন্নাহ (سنة) অনুযায়ী পরিচালিত হয়েছেন এবং নিজেদের ও তাঁদের ছাত্রগণকে সেই অসিয়ত বা উপদেশ দিয়েছেন যা ইমাম আহমাদ তাঁর জনৈক ছাত্রকে অসিয়ত করতে গিয়ে বলেছিলেন: "সাবধান! এমন কোনো মাসআলা সম্পর্কে কথা বলো না যাতে তোমার কোনো পূর্ববর্তী ইমাম নেই।"(1).

আলেমগণ মুজতাহিদের (مجتهد) জন্য শর্তারোপ করেছেন যে, তাঁকে ইজমার (إجماع) ক্ষেত্রসমূহ সম্পর্কে প্রাজ্ঞ হতে হবে, যাতে সে তা লঙ্ঘন না করে এবং এমন কোনো শায (شاذ) বা বিচ্ছিন্ন অভিমত ব্যক্ত না করে যা ইতিপূর্বে কেউ বলেনি(2).

তাঁদের নিকট কোনো বক্তব্যকে দুর্বল সাব্যস্ত করার (تضعيف) অন্যতম কারণ ছিল এই যে, তার প্রবক্তার পূর্বে আর কেউ তা বলেনি। এ কারণে তাঁরা সেটি প্রত্যাখ্যান করতেন এবং কখনও কখনও সেটিকে শায বা বিচ্ছিন্নতা (شذوذ) হিসেবে অভিহিত করতেন(3), যেমনটি কাজী আবু তাইয়্যিব, আবু জাফর তিরমিযীর একটি বক্তব্য সম্পর্কে বলেছেন: "এটি একটি শায (شاذ) মত, যা তিনি ব্যতীত আর কেউ বলেননি"(4).

তাঁদের কেউ কেউ যখন কোনো মাসআলায় ইজতিহাদ (اجتهاد) করতেন, তখন এর প্রেক্ষিতে বলতেন যে, এর স্বপক্ষে যদি ইতিপূর্বে কেউ না বলে থাকেন তবে এটি তাঁর বক্তব্য হিসেবে গণ্য হবে না। যেমন তালাকপ্রাপ্তা নারীর শেষ মাসআলায়...

--------------------------------------------

(1) মাজমুউল ফাতাওয়া, ইবনে তাইমিয়্যাহ ২১/২৯১; ইলামুল মুওয়াক্কিয়িন, ইবনুল কায়্যিম ৪/১৭০।

(2) দেখুন: আল-ফুসুল ফিল উসুল, জাসসাস ৪/২৭৩; শারহু তানকিহিল ফুসুল, কারাফি, পৃ. ৪৩৭।

(3) দেখুন: আত-তামহিদ, ইবনে আব্দুল বার ৯/৭০; আল-মাজমু, নববী ৪/৬৫; মাজমুউল ফাতাওয়া, ইবনে তাইমিয়্যাহ ২৫/১৩৩; হাশিয়া ইবনে আবিদিন ১/৪৭৭।

(4) আল-মাজমু, নববী ৪/৬৫।
(খণ্ড: ১) আল-কাওলু বিমা লাম ইয়াসবিক বিহি কাওল (পৃষ্ঠা: ২২)
التطليقات الثلاث قوى ابن تيمية أنها تعتد بحيضة واحدة لكنه اشترط ألَّا يكون القول مخالفًا للإجماع، فقال عن القول الأول وهو أنها تعتد بثلاث حيض: " فَإِنْ كَانَ هَذَا إجْمَاعًا: فَهُوَ الْحَقُّ وَالْأُمَّةُ لَا تَجْتَمِعُ عَلَى ضَلَالَةٍ"(1)، وذكر البعلي أن اختيار ابن تيمية أنها تعتد بحيضة ثم قال: "علَّق أبو العباس القول بذلك على أن لا يكون الإجماع على خلافه"(2).

وفي مسألة تحريم نَظِيرُ الْمُصَاهَرَةِ بِالرَّضَاعِ، قال ابن القيم: "حَرَّمَهُ الْأَئِمَّةُ الْأَرْبَعَةُ وَأَتْبَاعُهُمْ، وَتَوَقَّفَ فِيهِ شَيْخُنَا وَقَالَ: إِنْ كَانَ قَدْ قَالَ أَحَدٌ بِعَدَمِ التَّحْرِيمِ، فَهُوَ أَقْوَى"(3).

وتكلم ابن عثيمين عن حكم إدخال الحج على العمرة مع سعة الوقت، فقال: "لولا أن بعضهم حكى الإجماع في الجواز لقلنا بعدم الجواز، فإن كان أحد من العلماء يقول بأنه لا يجوز إدخال الحج على العمرة إلا عند الضرورة الشرعية أو الحسية؛ فهذا القول أقرب للصواب بلا شك"(4).

--------------------------------------------

(1) مجموع الفتاوى لابن تيمية 32/ 342.

(2) الاختيارات الفقهية لشيخ الإسلام ابن تيمية، للبعلي، ص 406.

(3) زاد المعاد، لابن القيم 5/ 495 - 496.

(4) فتح ذي الجلال والإكرام، لابن عثيمين 1/ 726.
তিন তালাকের ক্ষেত্রে ইবনে তাইমিয়্যাহ এই অভিমতকে শক্তিশালী করেছেন যে, নারী একটি ঋতু পর্যন্ত ইদ্দত পালন করবে। তবে তিনি শর্তারোপ করেছেন যেন এই অভিমতটি ঐক্যমতের (إجماع) পরিপন্থী না হয়। প্রথম অভিমতটি সম্পর্কে তিনি বলেছেন—যা হলো নারী তিন ঋতু পর্যন্ত ইদ্দত পালন করবে—: "যদি এটি ঐক্যমত (إجماع) হয়ে থাকে, তবে সেটিই সত্য এবং উম্মত কোনো ভ্রষ্টতার ওপর ঐক্যবদ্ধ হয় না"(1)। আল-বালি উল্লেখ করেছেন যে, ইবনে তাইমিয়্যাহর পছন্দনীয় মত হলো নারী এক ঋতু ইদ্দত পালন করবে, এরপর তিনি বলেন: "আবু আল-আব্বাস এই মত প্রদানের বিষয়টি এর বিপরীতে ঐক্যমত (إجماع) না থাকার শর্তের ওপর ঝুলন্ত রেখেছেন"(2)।

দুগ্ধপানের মাধ্যমে সৃষ্ট বৈবাহিক সম্পর্কের অনুরূপ (নজীরুল মুসাহারা) বিষয় হারাম হওয়ার মাসআলায় ইবনুল কায়্যিম বলেন: "চার ইমাম এবং তাঁদের অনুসারীগণ একে হারাম বলেছেন, কিন্তু আমাদের শাইখ এ ব্যাপারে দ্বিধা পোষণ করেছেন এবং বলেছেন: যদি কেউ হারাম না হওয়ার কথা বলে থাকেন, তবে সেটিই অধিক শক্তিশালী"(3)।

সময়ের প্রশস্ততা থাকা সত্ত্বেও উমরার ইহরামের সাথে হজের নিয়ত অন্তর্ভুক্ত করা বা কিরান হজ করার বিধান সম্পর্কে ইবনে উসাইমিন বলেন: "যদি তাঁদের কেউ এ ক্ষেত্রে বৈধতার ব্যাপারে ঐক্যমত (إجماع) বর্ণনা না করতেন, তবে আমরা এটি অবৈধ বলতাম। সুতরাং ওলামাদের মধ্যে যদি কেউ শরয়ি বা বাস্তব প্রয়োজন ব্যতীত উমরার ওপর হজ যোগ করা নাজায়েজ হওয়ার কথা বলে থাকেন; তবে নিঃসন্দেহে সেই মতটিই সত্যের অধিক নিকটবর্তী"(4)।

--------------------------------------------

(1) মাজমুউল ফাতাওয়া, ইবনে তাইমিয়্যাহ ৩২/ ৩৪২।

(2) আল-ইখতিয়ারাতুল ফিকহিয়্যাহ লি-শাইখিল ইসলাম ইবনি তাইমিয়্যাহ, আল-বালি, পৃ. ৪০৬।

(3) যাদুল মাআদ, ইবনুল কায়্যিম ৫/ ৪৯৫ - ৪৯৬।

(4) ফাতহু জিল জালালি ওয়াল ইকরাম, ইবনে উসাইমিন ১/ ৭২৬।
(খণ্ড: ১) আল-কাওলু বিমা লাম ইয়াসবিক বিহি কাওল (পৃষ্ঠা: ২৩)
وسئل ابن عثيمين عن المجتهد إذا وقف على حديثٍ صحَّ عنده، ثم بحث في المسألة، فلم يجد له سلفًا، هل يقول بها أو لا؟، فأجاب: "لا يقول بها، ولهذا نجد العلماء الجهابذة الكبار إذا بحثوا في آية، أو حديث، ولم يكن عندهم علم بقائل يقول: إن كان أحد قال بذلك، كما قاله شيخ الإسلام رحمه الله في المبتوتة إذا حاضت حيضة واحدة هل تنقضي عدتها أم لا؟ فقال: إن كان أحد قال بذلك فهو حق "(1).

ولا يعني هذا أنهم يتوقفون عن الاجتهاد ويظلون مكتوفي الأيدي خصوصًا عندما تدعوهم النوازل وحاجة الناس لرأي العلماء فيها، فإنه لا يكاد يوجد مجتهد إلا وله قول لم يقل به أحد قبله(2).

لكنهم يفعلون ذلك مع أشد التهيب والحذر؛ لأن الأمر جلل، فقد توقف الشاطبي-وهو أبو المقاصد- في مسألة الاشتراك باللبن؛ لأنه لم يجد نصًا في المذهب بخصوصها، مع أن من الأدلة على جواز الاشتراك فيه مقصدًا من مقاصد

--------------------------------------------

(1) التعليق على مقدمة المجموع، لابن عثيمين، ص 385 - 386.

(2) انظر: الإحكام، لابن حزم 4/ 189، 5/ 88.
ইবনে উসাইমিনকে এমন একজন মুজতাহিদ (مجتهد) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যিনি এমন একটি হাদিস পেয়েছেন যা তাঁর নিকট সহিহ (صحيح) বলে সাব্যস্ত হয়েছে, অতঃপর তিনি সেই মাসআলা (مسألة) নিয়ে গবেষণা করেছেন কিন্তু এর সপক্ষে কোনো পূর্বসূরি (سلف) খুঁজে পাননি; এমতাবস্থায় তিনি কি সেই মত ব্যক্ত করবেন নাকি করবেন না? তিনি উত্তর দিলেন: "তিনি সেই মত ব্যক্ত করবেন না। এ কারণেই আমরা বিজ্ঞ ও প্রথিতযশা আলেমদের দেখি যে, যখন তাঁরা কোনো আয়াত বা হাদিস নিয়ে গবেষণা করেন এবং সেই মতের সপক্ষে ইতিপূর্বে কোনো প্রবক্তা সম্পর্কে তাঁদের জ্ঞান না থাকে, তখন তাঁরা বলেন: 'যদি কেউ ইতিপূর্বে এই কথা বলে থাকেন (তবেই তা গ্রহণযোগ্য)'। যেমনটি শায়খুল ইসলাম (রহিমাহুল্লাহ) সেই চূড়ান্ত তালাকপ্রাপ্তা নারীর (المبتوتة) ক্ষেত্রে বলেছিলেন যার বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে গেছে—যদি সে একবার ঋতুবর্তী হয় তবে কি তার ইদ্দত (عدة) পূর্ণ হবে কি না? তিনি বলেছিলেন: 'যদি কেউ এই কথা বলে থাকেন তবে তা সত্য'।"(১).

আর এর অর্থ এই নয় যে, তাঁরা ইজতিহাদ (اجتهاد) করা থেকে বিরত থাকেন এবং হাত গুটিয়ে বসে থাকেন, বিশেষ করে যখন সমসাময়িক উদ্ভূত সমস্যাবলি (نوازل) এবং সেগুলোর বিষয়ে আলেমদের মতামতের প্রয়োজনীয়তা তাঁদেরকে আহ্বান করে। বস্তুত এমন কোনো মুজতাহিদ (مجتهد) মেলা ভার, যাঁর এমন কোনো বক্তব্য নেই যা তাঁর আগে আর কেউ বলেননি(২).

কিন্তু তাঁরা অত্যন্ত সতর্কতা ও ভীতি সহকারে এটি করেন; কারণ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। ইমাম শাতবি—যিনি মাকাসিদ (مقاصد) শাস্ত্রের জনক—দুগ্ধপানের অংশীদারিত্বের মাসআলায় (مسألة) সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগেছিলেন; কারণ তিনি এই নির্দিষ্ট বিষয়ে মাযহাবের (مذهب) মধ্যে কোনো নস (نص) খুঁজে পাননি, যদিও এর বৈধতার দলিলসমূহের (أدلة) মধ্যে একটি মাকাসিদ (مقصد)...

--------------------------------------------

(১) আত-তালিক আলা মুকাদ্দিমাতিল মাজমু, ইবনে উসাইমিন, পৃ. ৩৮৫ - ৩৮৬।

(২) দেখুন: আল-ইহকাম, ইবনু হাজম ৪/ ১৮৯, ৫/ ৮৮।
(খণ্ড: ১) আল-কাওলু বিমা লাম ইয়াসবিক বিহি কাওল (পৃষ্ঠা: ২৪)
الشريعة وهو رفع الحرج والتيسير على الناس(1)، فقال: "هذا ما ظهر لي فيها من غير نص في خصوص المسألة أستند إليه؛ ولذلك توقفت عن الجواب فيها"(2) ثم وجد مسألة في المذهب تشبهها قال الإمام مالك بجوازها لحاجة الناس ثم ختم الجواب بقوله "فهذا كله مما يدل على صحة ما ظهر لي في اللبن والله أعلم والظاهر جوازه عملًا بهذا الأصل المقرر في المذهب"(3).

فمع أن في المسألة مقصدًا وهو رفع الحرج والتيسير على الناس فإنه لم يفت به وتهيب أن يأتي بقول لم يجد نصًا في المذهب بخصوصه حتى وجد مسألة تشبهها في المذهب فأفتى به منشرح الصدر، ولما تكلم ابن تيمية بكلام طويل عن حكم طواف الحائض للضرورة، وأجاز لها ذلك دون أن يكون عليها دم، وهو قول لم يسبق إليه، ختم بحثه بكلام يهز الوجدان دلالة على عظم الإقدام على ذلك، فقد قال: "هَذَا هُوَ الَّذِي تَوَجَّهَ عِنْدِي فِي هَذِهِ الْمَسْأَلَةِ وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إلَّا بِاَللَّهِ الْعَلِيِّ الْعَظِيمِ.

--------------------------------------------

(1) فتاوي الشاطبي، ص 208 - 209.

(2) فتاوي الشاطبي، ص 209.

(3) فتاوي الشاطبي، ص 211.
শরীয়ত, আর তা হলো কাঠিন্য দূর করা এবং মানুষের জন্য সহজ করা(১)। তিনি বললেন: "এই মাসআলায় আমার কাছে এটিই প্রতীয়মান হয়েছে, তবে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো নস (نص) আমার কাছে নেই যার ওপর আমি নির্ভর করতে পারি; এ কারণেই আমি এর উত্তর প্রদান থেকে বিরত ছিলাম"(২)। অতঃপর তিনি মাযহাবে এর সদৃশ একটি মাসআলা খুঁজে পেলেন, যেখানে ইমাম মালিক মানুষের প্রয়োজনের তাগিদে তার বৈধতার (جواز) কথা বলেছেন। এরপর তিনি উত্তরের সমাপ্তি টানলেন এই বলে: "দুধের ব্যাপারে আমার নিকট যা প্রতীয়মান হয়েছে, এই সবকিছুই তার বিশুদ্ধতার (صحة) প্রমাণ বহন করে, আর আল্লাহই ভালো জানেন। আর মাযহাবের এই নির্ধারিত মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে আমল করার মাধ্যমে এর বৈধতাই (جواز) স্পষ্ট"(৩)।

সুতরাং, যদিও মাসআলাটিতে একটি মাকসাদ (উদ্দেশ্য) বিদ্যমান ছিল—আর তা হলো কাঠিন্য দূর করা ও মানুষের জন্য সহজ করা—তবুও তিনি এ ব্যাপারে ফতোয়া প্রদান করেননি। মাযহাবে কোনো সুনির্দিষ্ট নস (نص) না পাওয়া পর্যন্ত তিনি এমন কোনো কথা বলতে সংকুচিত বোধ করছিলেন, যতক্ষণ না তিনি মাযহাবে এর সদৃশ একটি মাসআলা খুঁজে পেলেন। এরপর তিনি প্রশান্তচিত্তে সে অনুযায়ী ফতোয়া প্রদান করলেন। আর যখন ইবনে তাইমিয়া প্রয়োজনের তাগিদে ঋতুবতী নারীর তাওয়াফের বিধান সম্পর্কে দীর্ঘ আলোচনা করলেন এবং কোনো দণ্ড (দম) ছাড়াই তার জন্য তা বৈধ (أجاز) বলে মত দিলেন—যা ছিল একটি অভূতপূর্ব অভিমত—তখন তিনি তাঁর গবেষণার শেষে এমন কিছু কথা বললেন যা হৃদয়কে নাড়া দেয় এবং এই ধরণের সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণের গুরুত্ব ফুটিয়ে তোলে। তিনি বলেছিলেন: "এই মাসআলায় আমার নিকট এটিই অগ্রগণ্য হয়েছে, আর সুউচ্চ ও মহান আল্লাহ ব্যতীত কোনো শক্তি বা সামর্থ্য নেই।

--------------------------------------------

(১) ফাতাওয়া আশ-শাতবি, পৃষ্ঠা ২০৮ - ২০৯।

(২) ফাতাওয়া আশ-শাতবি, পৃষ্ঠা ২০৯।

(৩) ফাতাওয়া আশ-শাতবি, পৃষ্ঠা ২১১।
(খণ্ড: ১) আল-কাওলু বিমা লাম ইয়াসবিক বিহি কাওল (পৃষ্ঠা: ২৫)
وَلَوْلَا ضَرُورَةُ النَّاسِ وَاحْتِيَاجُهُمْ إلَيْهَا عِلْمًا وَعَمَلًا لَمَا تَجَشَّمْت الْكَلَامَ حَيْثُ لَمْ أَجِدْ فِيهَا كَلَامًا لِغَيْرِي فَإِنَّ الِاجْتِهَادَ عِنْدَ الضَّرُورَةِ مِمَّا أَمَرَنَا اللَّهُ بِهِ فَإِنْ يَكُنْ مَا قُلْته صَوَابًا فَهُوَ حُكْمُ اللَّهِ وَرَسُولِهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ. وَإِنْ يَكُنْ مَا قُلْته خَطَأً فَمِنِّي وَمِنْ الشَّيْطَانِ وَاَللَّهُ وَرَسُولُهُ بَرِيئَانِ مِنْ الْخَطَأِ وَإِنْ كَانَ الْمُخْطِئُ مَعْفُوًّا عَنْهُ. وَاَللَّهُ سبحانه وتعالى أَعْلَمُ"(1).

--------------------------------------------

(1) مجموع الفتاوى، لابن تيمية 26/ 241.
আর জ্ঞান ও কর্মের ক্ষেত্রে মানুষের প্রয়োজনীয়তা ও আবশ্যকতা না থাকলে আমি এ বিষয়ে কথা বলার কষ্ট স্বীকার করতাম না, যেহেতু এ বিষয়ে আমি অন্য কারও বক্তব্য পাইনি। কেননা প্রয়োজনের সময় গবেষণা বা ইজতিহাদ (اجتهاد) করা আল্লাহ আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন। সুতরাং আমার বক্তব্য যদি সঠিক হয়, তবে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিধান এবং সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আর যদি তা ভুল হয়, তবে তা আমার ও শয়তানের পক্ষ থেকে, আর আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ভুল থেকে মুক্ত, যদিও ভুলকারী ক্ষমাযোগ্য। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সবচেয়ে ভালো জানেন।(১).

--------------------------------------------

(১) মাজমুউল ফাতাওয়া, ইবনে তাইমিয়্যাহ ২৬/ ২৪১।
(খণ্ড: ১) আল-কাওলু বিমা লাম ইয়াসবিক বিহি কাওল (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌المبحث الأول:

حكم القول بما لم يسبق به قول

القول بما لم يسبق به قول يشمل أن يأتي المجتهد بقول يكون أولًا، أو ثانيًا، أو ثالثًا، ويؤتى بالقول الأول - غالبًا - في النوازل، وعمل العلماء أنهم لا يتوقفون في النوازل دون أن يبينوا الحكم فيها، ولم يخل الزمن من مجتهد يبين للناس أمور دينهم، وذكر ابن القيم أنه إذا حدثت حادثة فإنه "يُسْتَحَبُّ أَوْ يَجِبُ عِنْدَ الْحَاجَةِ وَأَهْلِيَّةِ الْمُفْتِي"(1)، والكلام في النوازل غير مراد في البحث.

إنما المراد القول في مسألة سبق كلام العلماء فيها، فإن كان في المسألة قول واحد، فقد "اتفقوا على منع إحداث قول ثان"(2)، وقال ابن تيمية: "كُلُّ قَوْلٍ يَنْفَرِدُ بِهِ الْمُتَأَخِّرُ عَنْ الْمُتَقَدِّمِينَ

--------------------------------------------

(1) إعلام الموقعين، لابن القيم 4/ 205.

(2) رَفْعُ النِّقَابِ عَنْ تنقِيح الشّهابِ، للشوشاوي 4/ 598.
‌প্রথম পরিচ্ছেদ:

পূর্ববর্তী কোনো মতের উপস্থিতি ছাড়াই নতুন কোনো মত প্রদানের বিধান

পূর্ববর্তী কোনো মতের উপস্থিতি ছাড়াই নতুন কোনো মত প্রদানের অন্তর্ভুক্ত হলো মুজতাহিদ (مجتهد) কর্তৃক এমন কোনো বক্তব্য নিয়ে আসা যা প্রথম, দ্বিতীয় বা তৃতীয় মত হিসেবে গণ্য হয়। সাধারণত সমসাময়িক উদ্ভূত সমস্যা (نوازل) সমূহের ক্ষেত্রে প্রথম মতটি পেশ করা হয়। আলেমগণের কর্মপন্থা হলো তারা সমসাময়িক উদ্ভূত সমস্যা (نوازل) সমূহের বিধান বর্ণনা করা থেকে বিরত থাকেন না। কোনো যুগই এমন মুজতাহিদ (مجتهد) থেকে খালি ছিল না যারা মানুষের নিকট তাদের দ্বীনি বিষয়াদি স্পষ্ট করতেন। ইবনুল কাইয়্যিম উল্লেখ করেছেন যে, যখন কোনো নতুন ঘটনা ঘটে তখন "প্রয়োজন এবং মুফতি (مفتي)-র যোগ্যতা সাপেক্ষে তা (বিধান প্রদান করা) মুস্তাহাব বা ওয়াজিব হয়"(১)। তবে সমসাময়িক উদ্ভূত সমস্যা (نوازل) নিয়ে আলোচনা করা এই গবেষণার উদ্দেশ্য নয়।

বরং এখানে উদ্দেশ্য হলো এমন মাসআলা বা বিষয়ে কথা বলা যাতে আলেমগণ ইতিপূর্বেই আলোচনা করেছেন। যদি সেই বিষয়ে একটি মাত্র মত বিদ্যমান থাকে, তবে "তারা দ্বিতীয় কোনো মতের উদ্ভাবন নিষিদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছেন"(২)। ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: "পূর্ববর্তী যুগের আলেমদের (متقدمين) বাদ দিয়ে পরবর্তী যুগের আলেম (متأخر) যদি এমন কোনো একক মত পোষণ করেন যা...

--------------------------------------------

(১) ইলামুল মুয়াক্কিঈন, ইবনুল কাইয়্যিম ৪/ ২০৫।

(২) রাফউল নিকাব আন তানকিহিশ শিহাব, শুশাউয়ি ৪/ ৫৯৮।
(খণ্ড: ১) আল-কাওলু বিমা লাম ইয়াসবিক বিহি কাওল (পৃষ্ঠা: ২৮)
وَلَمْ يَسْبِقْهُ إلَيْهِ أَحَدٌ مِنْهُمْ فَإِنَّهُ يَكُونُ خَطَأً"(1)، وقال الشاطبي: "كُلُّ مَنْ خَالَفَ السَّلَفَ الْأَوَّلِينَ فَهُوَ عَلَى خَطَأٍ، وَهَذَا كافٍ"(2).

فأما إن كان في المسألة قولان(3)، فقد اختلف الأصوليون في حكم إحداث قول ثالث على ثلاثة أقوال(4):

القول الأول: أن إحداث قول ثالث لا يجوز مطلقًا، وهو قول جمهور الأصوليين(5).

--------------------------------------------

(1) مجموع الفتاوى، لابن تيمية 21/ 291.

(2) الموافقات، للشاطبي 3/ 281.

(3) يقول الشوكاني: "وَمِثْلُ الِاخْتِلَافِ عَلَى قَوْلَيْنِ: الِاخْتِلَافُ عَلَى ثَلَاثَةٍ أَوْ أَرْبَعَةٍ أَوْ أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ، فَإِنَّهُ يَأْتِي فِي الْقَوْلِ الزَّائِدِ عَلَى الْأَقْوَالِ الَّتِي اخْتَلَفُوا فِيهَا مَا يَأْتِي فِي الْقَوْلِ الثَّالِثِ مِنَ الْخِلَافِ، ثُمَّ لَا بُدَّ مِنْ تَقْيِيدِ هَذِهِ الْمَسْأَلَةِ بِأَنْ يَكُونَ الْخِلَافُ فِيهَا عَلَى قَوْلَيْنِ أَوْ أَكْثَرَ قَدِ اسْتَقَرَّ أَمَّا إِذَا لَمْ يَسْتَقِرَّ فَلَا وَجْهَ لِلْمَنْعِ من إحداث قول آخر" إرشاد الفحول 1/ 229.

(4) وهم يناقشون المسألة على أن القائل من أهل الاجتهاد، فمن لم يكن من أهله فهو مقلد وليس له الحق في أن يتكلم فيما لم يحط به خبرًا، ولا يجوز له أن يجتهد قولا جديدا لم يسبق إليه.

(5) انظر: فتح القدير، لابن الهمام 1/ 487، المحصول، لابن العربي، ص 123، شرح تنقيح الفصول، للقرافي، ص 328، الإحكام، للآمدي 1/ 268، البحر المحيط، للزركشي 6/ 516، اللمع، للشيرازي، ص 93، روضة الناظر، لابن قدامة 1/ 430، المسودة، لآل تيمية ص 326، العدة، لأبي يعلى 4/ 1113.
"এবং তাদের মধ্য হতে কেউ তাঁর পূর্বে এই কথা বলেননি, তবে তা ভুল (خطأ) হবে"(1), এবং আশ-শাতোবী বলেন: "যারা পূর্ববর্তী সালাফদের বিরোধিতা করে তারা ভুলের (خطأ) ওপর রয়েছে, আর এটিই যথেষ্ট"(2).

পক্ষান্তরে যদি কোনো মাসয়ালায় দুটি মত (قولان) থাকে, তবে তৃতীয় কোনো মত উদ্ভাবনের বিধান সম্পর্কে উসুলবিদগণ (الأصوليون) তিনটি মতের (أقوال) ওপর মতভেদ (اختلف) করেছেন(4):

প্রথম মত: তৃতীয় কোনো মত উদ্ভাবন করা নিরঙ্কুশভাবে জায়েজ নয় এবং এটিই জমহুর (جمهور) উসুলবিদদের অভিমত(5).

--------------------------------------------

(1) মাজমু আল-ফাতাওয়া, ইবনে তাইমিয়া ২১/ ২৯১।

(2) আল-মুওয়াফাকাত, আশ-শাতোবী ৩/ ২৮১।

(3) আশ-শাওকানী বলেন: "দুটি মতের বিরোধের মতো তিন, চার বা ততোধিক মতের বিরোধের বিষয়টিও একই রকম। কারণ পূর্বের ভিন্ন ভিন্ন মতের অতিরিক্ত কোনো মতের ক্ষেত্রেও সেই একই মতভেদ (الخلاف) আসবে যা তৃতীয় মতের ক্ষেত্রে আসে। অতঃপর এই মাসয়ালাটিকে অবশ্যই এই শর্তের সাথে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে যে, সেখানে বিদ্যমান দুই বা ততোধিক মত যেন স্থিতিশীল (استقر) হয়। কিন্তু যদি তা স্থিতিশীল না হয়, তবে নতুন কোনো মত উদ্ভাবনে বাধার কোনো কারণ নেই" ইরশাদুল ফুহুল ১/ ২২৯।

(4) তারা এই মাসয়ালাটি এই ভিত্তিতে আলোচনা করছেন যে, প্রবক্তা যেন ইজতিহাদ করার যোগ্য ব্যক্তিদের (أهل الاجتهاد) অন্তর্ভুক্ত হন। সুতরাং যে ব্যক্তি এর যোগ্য নয়, সে একজন মুকাল্লিদ (مقلد) এবং যে বিষয়ে তার পূর্ণ জ্ঞান নেই সে বিষয়ে কথা বলার অধিকার তার নেই। আর তার জন্য এমন কোনো নতুন ইজতিহাদ (اجتهاد) করা জায়েজ নয় যা তার পূর্বে কেউ করেনি।

(5) দেখুন: ফাতহুল কাদির, ইবনুল হুমাম ১/ ৪৮৭; আল-মাহসুল, ইবনুল আরাবি, পৃ. ১২৩; শারহু তানকিহিল ফুসুল, আল-কারাফি, পৃ. ৩২৮; আল-ইহকাম, আল-আমিদি ১/ ২৬৮; আল-বাহরুল মুহিত, আজ-যারকাশি ৬/ ৫১৬; আল-লুমা, আশ-শিরাজি, পৃ. ৯৩; রওদাতুন নাজির, ইবনে কুদামা ১/ ৪৩০; আল-মুসাওয়াদাহ, আলে তাইমিয়া পৃ. ৩২৬; আল-উদ্দাহ, আবু ইয়ালা ৪/ ১১১৩।
(খণ্ড: ১) আল-কাওলু বিমা লাম ইয়াসবিক বিহি কাওল (পৃষ্ঠা: ২৯)
القول الثاني: أن إحداث قول ثالث جائز مطلقًا، وهو قول بعض الأصوليين(1).

القول الثالث: أن إحداث قول ثالث جائز بشرط ألا يرفع ما اتفق عليه القولان السابقان، وهو قول بعض الأصوليين(2).

أدلة القول الأول:

الدليل الأول: أن إجماع العلماء على قولين دليل على بطلان ما عداهما، كما أن الإجماع على قول واحد دليل على بطلان ما عداه(3).

--------------------------------------------

(1) روي عن بعض الحنفية، والظاهرية. انظر: الإحكام، لابن حزم 1/ 560، التبصرة، للشيرازي، ص 387، الإحكام، للآمدي 1/ 268، روضة الناظر، لابن قدامة 1/ 430، إرشاد الفحول، للشوكاني 1/ 229.

(2) روي عن الإمام الشافعي، واختاره الآمدي، وابن الحاجب، والرازي، وابن اللحام، والطوفي. انظر: شرح تنقيح الفصول، للقرافي، ص 228، الإحكام، للآمدي 1/ 268، 430، المحصول، للرازي 4/ 128، بيان المختصر، للأصفهاني 1/ 590، المختصر في أصول الفقه، لابن اللحام، ص 79، شرح مختصر الروضة، للطوفي 3/ 92.

(3) انظر: العدة، لأبي يعلى 4/ 1113، المعتمد، لأبي الحسين البصري 2/ 45.
দ্বিতীয় মত: একটি তৃতীয় অভিমত উদ্ভাবন করা নিঃশর্তভাবে বৈধ, এবং এটি কতিপয় মূলনীতিবিদের (الأصوليين) অভিমত।(1).

তৃতীয় মত: একটি তৃতীয় অভিমত উদ্ভাবন করা এই শর্তে বৈধ যে, তা পূর্ববর্তী দুটি মতের ঐকমত্যপূর্ণ বিষয়কে বাতিল করবে না, এবং এটিও কতিপয় মূলনীতিবিদের (الأصوليين) অভিমত।(2).

প্রথম মতের দলীলসমূহ:

প্রথম দলীল: দুটি মতের ওপর আলেমদের ঐকমত্য (إجماع) হওয়া এদের বাইরের অন্য সবকিছুর বাতিল হওয়ার প্রমাণ, ঠিক যেমন একটি মতের ওপর ঐকমত্য (الإجماع) হওয়া তার বাইরের অন্য সকল মত বাতিল হওয়ার প্রমাণ।(3).

--------------------------------------------

(1) কতিপয় হানাফি (الحنفية) ও জাহেরি (الظاهرية) থেকে বর্ণিত হয়েছে। দেখুন: আল-ইহকাম, ইবনে হাজম ১/ ৫৬০; আত-তাবসিরাহ, শিরাজী, পৃ. ৩৮৭; আল-ইহকাম, আমিদি ১/ ২৬৮; রওদাতুন নাযির, ইবনে কুদামা ১/ ৪৩০; ইরশাদুল ফুহুল, শাওকানি ১/ ২২৯।

(2) ইমাম শাফেয়ি থেকে বর্ণিত হয়েছে এবং এটি আমিদি, ইবনুল হাজিব, রাজি, ইবনুল লাহহাম ও তুফি পছন্দ করেছেন। দেখুন: শারহু তানকিহিল ফুসুল, কারাফি, পৃ. ২২৮; আল-ইহকাম, আমিদি ১/ ২৬৮, ৪৩০; আল-মাহসুল, রাজি ৪/ ১২৮; বায়ানুল মুখতাসার, আসফাহানি ১/ ৫৯০; আল-মুখতাসার ফি উসুলিল ফিকহ, ইবনুল লাহহাম, পৃ. ৭৯; শারহু মুখতাসারির রওদাহ, তুফি ৩/ ৯২।

(3) দেখুন: আল-উদ্দাহ, আবু ইয়ালা ৪/ ১১১৩; আল-মুতামাদ, আবুল হুসাইন বসরি ২/ ৪৫।
(খণ্ড: ১) আল-কাওলু বিমা লাম ইয়াসবিক বিহি কাওল (পৃষ্ঠা: ৩০)
نوقش: بأن اختلافهم على قولين إجماع على جواز القولين، وإقرار أن هذه المسألة اجتهادية، وليست قطعية، ولا يكون القول الثالث باطلًا، إلا إذا اشترطوا عدم إحداثه(1).

الدليل الثاني: أن ذلك يوجب نسبة الأمة إلى الخطأ، وإلى تضييع الحق، والغفلة عنه؛ فإنه لو كان الحق في القول الثالث، كانت الأمة قد أخطأته، وضيعته وغفلت عنه، وخلا العصر من قائم لله بحجته، ولم يبق منهم عليه أحد وذلك محال(2).

نوقش: بأنه إنما يلزم من ذلك نسبة الأمة إلى الخطأ، وتضييع الحق، والغفلة عنه، أن لو كان الحق في المسألة معينًا، وأجمعوا فيه على قول واحد، وأما فيما اختلفوا فيه فلا؛ لأن غاية ذلك تخطئة بعضهم في أمر، وتخطئة البعض الآخر في غير ذلك الأمر(3).

--------------------------------------------

(1) انظر: الإحكام، للآمدي 1/ 269، شرح مختصر الروضة، للطوفي 3/ 89، أصول الفقه الذي لا يسع الفقيه جهله، للسلمي، ص 133.

(2) انظر: روضة الناظر، لابن قدامة 1/ 431، الإحكام، للآمدي 1/ 268.

(3) انظر: الإحكام، للآمدي 1/ 269، نهاية السول، للأسنوي ص 292.
পর্যালোচনা করা হয়েছে (نوقش): তাদের দুটি মতের ওপর ভিন্নমত পোষণ করা মূলত সেই দুটি মত বৈধ হওয়ার ওপর ঐক্যমত (إجماع), এবং এটি এই বিষয়ের স্বীকৃতি যে এই মাসআলাটি গবেষণালব্ধ (اجتهادية), অকাট্য (قطعية) নয়। আর তৃতীয় কোনো মত বাতিল হবে না, যদি না তারা এটি নতুনভাবে উদ্ভাবন না করার শর্তারোপ করেন(১).

দ্বিতীয় দলিল: এটি উম্মতকে ভুল (خطأ), সত্য হারানো এবং সত্য সম্পর্কে বিমুখ হওয়ার দিকে নিপতিত করে। কারণ যদি সত্যটি তৃতীয় মতের মধ্যে থাকত, তবে উম্মত ভুল করত, সত্য বিসর্জন দিত এবং তা থেকে গাফেল থাকত। এর ফলে তৎকালীন সময়টি আল্লাহর পক্ষ থেকে দলিল (حجة) প্রতিষ্ঠাকারী ব্যক্তি থেকে শূন্য হয়ে পড়ত এবং তাদের কেউ সেই সত্যের ওপর অটল থাকত না, আর এটি অসম্ভব (محال)(২).

পর্যালোচনা করা হয়েছে (نوقش): উম্মতকে ভুল (خطأ), সত্য বিসর্জন এবং সত্য সম্পর্কে গাফিলতির দিকে নিপতিত করার বিষয়টি তখনই আবশ্যক হতো, যদি মাসআলাটিতে সত্য সুনির্দিষ্ট থাকত এবং তারা সে বিষয়ে একটি মাত্র মতের ওপর ঐক্যমত (أجمعوا) পোষণ করতেন। কিন্তু যে বিষয়ে তারা মতভেদ করেছেন সে ক্ষেত্রে এমনটি হবে না; কারণ এর চূড়ান্ত ফলাফল হলো এক পক্ষকে একটি বিষয়ে ভুল সাব্যস্ত করা (تخطئة) এবং অন্য পক্ষকে অন্য বিষয়ে ভুল সাব্যস্ত করা(৩).

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-ইহকাম, আল-আমিদি ১/ ২৬৯, শারহু মুখতাসারির রওদা, আত-তুফি ৩/ ৮৯, উসুলুল ফিকহ আল্লাজি লা ইয়াসাউল ফকিহা জাহলুহু, আস-সুলামি, পৃ. ১৩৩।

(২) দেখুন: রওদাতুন নাজির, ইবনে কুদামা ১/ ৪৩১, আল-ইহকাম, আল-আমিদি ১/ ২৬৮।

(৩) দেখুন: আল-ইহকাম, আল-আমিদি ১/ ২৬৯, নিহায়াতুস সুল, আল-আসনাবি পৃ. ২৯২।
(খণ্ড: ১) আল-কাওলু বিমা লাম ইয়াসবিক বিহি কাওল (পৃষ্ঠা: ৩১)
أدلة القول الثاني:

الدليل الأول: أن الصحابة رضي الله عنهم اجتهدوا في هذين القولين، ولم يصرحوا بتحريم إحداث قول ثالث(1).

نوقش: بأن الصحابة رضي الله عنهم كذلك لو اجتمعوا على قول واحد لم يصرحوا بتحريم إحداث القول الثاني، مع أنه لا يجوز لمخالفته لإجماعهم(2).

يجاب: بأنه لو كان في المسألة إجماع قطعي لحرم مخالفته، أما إذا اجتهد أحد الصحابة رضي الله عنهم في مسألة ولم يجمع الصحابة على قوله فإنه يجوز لمن بعدهم الاجتهاد كما اجتهدوا.

الدليل الثاني: أن الاختلاف على قولين دليل تسويغ الاجتهاد، والقول الثالث حادث عن الاجتهاد فكان جائزًا(3).

نوقش: بأن الاختلاف على قولين دليل تسويغ الاجتهاد إذا كان الاجتهاد في طلب الحق من القولين، فأما إحداث القول

--------------------------------------------

(1) انظر: روضة الناظر، لابن قدامة 1/ 430.

(2) انظر: روضة الناظر، لابن قدامة 1/ 430، شرح مختصر الروضة، للطوفي 3/ 90.

(3) انظر: الإحكام، للآمدي 1/ 269، التبصرة، للشيرازي، ص 388.
দ্বিতীয় মতের দলীলসমূহ:

প্রথম দলীল: সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) এই দুটি মতের ক্ষেত্রে গবেষণা বা ইজতিহাদ (اجتهاد) করেছেন এবং তাঁরা তৃতীয় কোনো মত উদ্ভাবন করা হারাম হওয়ার ব্যাপারে কোনো সুস্পষ্ট ঘোষণা দেননি(1)।

পর্যালোচনা: একইভাবে সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) যদি কোনো একটি বিষয়ের ওপর একমত হতেন, তবে তাঁরা দ্বিতীয় কোনো মত বের করা হারাম হওয়ার ব্যাপারে সুস্পষ্ট ঘোষণা দিতেন না; অথচ তাদের ঐক্যমত বা ইজমা (إجماع) বিরোধী হওয়ার কারণে সেটি তখন আর জায়েজ থাকতো না(2)।

উত্তর: যদি মাসআলাটিতে অকাট্য ঐক্যমত (إجماع قطعي) থাকত, তবে তার বিরোধিতা করা হারাম হতো। কিন্তু যদি কোনো সাহাবী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কোনো মাসআলায় গবেষণা বা ইজতিহাদ (اجتهاد) করেন এবং সাহাবায়ে কেরাম তাঁর কথার ওপর ঐক্যবদ্ধ না হন, তবে তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য অনুরূপ গবেষণা বা ইজতিহাদ (اجتهاد) করা জায়েজ যেমনটি তাঁরা করেছিলেন।

দ্বিতীয় দলীল: দুটি মতের মাঝে মতভেদ থাকা গবেষণা বা ইজতিহাদ (اجتهاد) বৈধ হওয়ার দলীল। আর তৃতীয় মতটি ইজতিহাদ (اجتهاد) থেকেই উদ্ভূত হয়েছে, তাই এটি বৈধ(3)।

পর্যালোচনা: দুটি মতের মধ্যে মতভেদ হওয়া ইজতিহাদ (اجتهাদ) বৈধ হওয়ার দলীল তখনই হয়, যখন ইজতিহাদ (اجتهاد) ঐ দুই মতের মধ্য থেকে সত্য অন্বেষণ করার জন্য হয়। কিন্তু নতুন মত উদ্ভাবন করা...

--------------------------------------------

(1) দেখুন: রওজাতুন নাযির, ইবনু কুদামা ১/৪৩০।

(2) দেখুন: রওজাতুন নাযির, ইবনু কুদামা ১/৪৩০; শারহু মুখতাসারির রওজা, তুফী ৩/৯০।

(3) দেখুন: আল-ইহকাম, আল-আমেদী ১/২৬৯; আত-তাবসিরাহ, শিরাজী, পৃ. ৩৮৮।
(খণ্ড: ১) আল-কাওলু বিমা লাম ইয়াসবিক বিহি কাওল (পৃষ্ঠা: ৩২)
الثالث من غيرهما فلا؛ لأنهم قد أجمعوا على بطلانه، وهذا كما لو أجمعوا في حادثة على إبطال حكم فيها فينقطع الاجتهاد في ذلك الحكم، ولا يمنع ذلك من الاجتهاد فيها على غير ما أجمعوا على بطلانه(1).

يجاب: بأنه لا يسلم أن الخلاف على قولين إجماع منهم على إبطال إحداث قول ثالث مالم ينصوا على إبطاله، وقياس إحداث قول ثالث على إبطال حكم في حادثة قياس مع الفارق؛ لأنهم نصوا على إبطال الحكم في الحادثة خلافًا لإحداث القول الثالث الذي لم ينصوا على إبطاله.

الدليل الثالث: أن الصحابة رضي الله عنهم إذا استدلوا بدليل، وعللوا بعلة، جاز لمن بعدهم الاستدلال بدليل آخر، والتعليل بعلة أخرى، فكذلك إذا كان لهم قول جاز لمن بعدهم إحداث قول آخر(2).

نوقش: بأن الدليل يختلف عن الحكم؛ فالدليل يؤيد الحكم السابق لا يخالفه، بعكس الحكم الجديد، فإذا أجمعوا على أمر

--------------------------------------------

(1) انظر: التبصرة، للشيرازي، ص 388.

(2) انظر: روضة الناظر، لابن قدامة 1/ 431، العدة، للقاضي أبي يعلى 4/ 1114.
উভয় মতের বাইরের তৃতীয় মতটি গ্রহণযোগ্য নয়; কারণ তাঁরা সেটির অসারতার ওপর ঐক্যমত (إجماع) পোষণ করেছেন। এটি ঠিক তেমনই, যেমন তাঁরা যদি কোনো ঘটনার ক্ষেত্রে কোনো বিধান (حكم) বাতিল করার বিষয়ে ঐক্যমত (إجماع) পোষণ করেন, তবে সেই বিধানের (حكم) ক্ষেত্রে ইজতিহাদ (اجتهاد) করার পথ রুদ্ধ হয়ে যায়। তবে এটি সেই বিষয়ে তাঁরা যার অসারতার ওপর ঐক্যমত (إجماع) পোষণ করেছেন তা ব্যতীত অন্যভাবে ইজতিহাদ (اجتهاد) করার পথে অন্তরায় নয়(১).

উত্তর প্রদান করা হয়েছে যে: এটি স্বীকৃত নয় যে, দুই মতের ভিত্তিতে মতপার্থক্য হওয়া মানেই তৃতীয় কোনো মত উদ্ভাবন বাতিল করার ব্যাপারে তাঁদের পক্ষ থেকে ঐক্যমত (إجماع), যতক্ষণ না তাঁরা সেটির বাতিলের ব্যাপারে সুস্পষ্ট বক্তব্য প্রদান করেন। এছাড়া কোনো নির্দিষ্ট ঘটনায় বিধান (حكم) বাতিল করার বিষয়ের ওপর তৃতীয় কোনো মত উদ্ভাবনকে তুলনা করা হলো একটি অসামঞ্জস্যপূর্ণ তুলনা (قياس مع الفارق); কারণ তাঁরা সংশ্লিষ্ট ঘটনার ক্ষেত্রে বিধানটি (حكم) বাতিলের ব্যাপারে সুস্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছেন, যা নতুন কোনো মত উদ্ভাবনের চেয়ে ভিন্ন, যেটির বাতিলের ব্যাপারে তাঁরা স্পষ্ট করে কিছু বলেননি।

তৃতীয় দলিল: সাহাবীগণ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) যখন কোনো প্রমাণ (دليل) দ্বারা দলিল পেশ করেন এবং কোনো কারণ (علة) বর্ণনা করেন, তখন তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য অন্য কোনো প্রমাণ (دليل) দিয়ে দলিল পেশ করা এবং অন্য কোনো কারণ (علة) বর্ণনা করা বৈধ হয়। অনুরূপভাবে, যদি তাঁদের কোনো নির্দিষ্ট মত থাকে, তবে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য অন্য কোনো মত উদ্ভাবন করাও বৈধ হবে(২).

পর্যালোচনা করা হয়েছে যে: প্রমাণ (دليل) এবং বিধানের (حكم) মধ্যে পার্থক্য রয়েছে; কেননা প্রমাণ (دليل) পূর্ববর্তী বিধানকে (حكم) সমর্থন করে, তার বিরোধিতা করে না। পক্ষান্তরে নতুন বিধান (حكم) এর বিপরীত। সুতরাং যখন তাঁরা কোনো বিষয়ের ওপর ঐক্যমত (إجماع) পোষণ করেন

--------------------------------------------

(১) দেখুন: শিরাজীর আত-তাবসিরাহ, পৃ. ৩৮৮।

(২) দেখুন: ইবনে কুদামার রাওদাতুন নাযির ১/৪৩১, কাযী আবু ইয়া’লার আল-উদ্দাহ ৪/১১১৪।
(খণ্ড: ১) আল-কাওলু বিমা লাম ইয়াসবিক বিহি কাওল (পৃষ্ঠা: ৩৩)
واستدلوا بدليل من القرآن، جاز لمن بعدهم أن يستدل بدليل آخر من السنة يؤيد ما أجمعوا عليه، ولا يجوز مخالفة ما أجمعوا عليه بإحداث حكم آخر(1).

الدليل الرابع: أن إحداث قول ثالث وقع في هذه الأمة من غير نكير(2).

يناقش: بعدم التسليم فجمهور العلماء على إنكار ذلك، وكتب الأصول طافحة بنقل كلامهم في منع إحداث قول ثالث، كما سبق بيانه في عرض الأقوال.

أدلة القول الثالث:

أصحاب القول الثالث جمعوا بين أدلة القول الأول وأدلة القول الثاني، واستدلوا بأن القول الثالث إذا رفع ما اتفق عليه القولان السابقان خالف ما أجمعوا عليه، وإذا لم يرفع ما اتفق عليه القولان لم يخالفه، بل وافق كل واحد من القولين من وجه وخالفه من وجه، فهو جائز إذ ليس فيه خرق للإجماع(3).

--------------------------------------------

(1) انظر: العدة، للقاضي أبي يعلى 4/ 1114.

(2) انظر: الإحكام، للآمدي 1/ 269، روضة الناظر، لابن قدامة 1/ 431.

(3) انظر: الإحكام، للآمدي 1/ 269، إرشاد الفحول، للشوكاني 1/ 229.
এবং তারা কুরআনের একটি দলিল দ্বারা প্রমাণ পেশ করেছেন; তাদের পরবর্তীদের জন্য সুন্নাহ থেকে অন্য একটি দলিলের মাধ্যমে প্রমাণ পেশ করা জায়েজ যা তাদের ঐক্যমত্যের (إجماع) বিষয়টিকে সমর্থন করে। তবে নতুন কোনো বিধান উদ্ভাবন করার মাধ্যমে তাদের ঐক্যমত্যের (إجماع) বিরোধিতা করা জায়েজ নয়(১).

চতুর্থ দলিল: এই উম্মতের মধ্যে কোনো প্রকার আপত্তি (نكير) ছাড়াই তৃতীয় কোনো মতের উদ্ভব ঘটেছে(২).

পর্যালোচনা: এটি মেনে নেওয়া যায় না, কারণ সংখ্যাগরিষ্ঠ (جمهور) আলেমগণ তা অস্বীকার করেছেন। তৃতীয় কোনো মত প্রবর্তনের নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে তাদের বক্তব্য দ্বারা উসুল বা মূলনীতি (أصول) শাস্ত্রের গ্রন্থসমূহ ভরপুর, যেমনটি ইতিপূর্বে বিভিন্ন মতসমূহ বর্ণনার সময় ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

তৃতীয় মতের সপক্ষে দলিলসমূহ:

তৃতীয় মতের প্রবক্তারা প্রথম ও দ্বিতীয় মতের দলিলসমূহের মধ্যে সমন্বয় করেছেন এবং তারা দলিল পেশ করেছেন যে, তৃতীয় মতটি যদি পূর্ববর্তী দুটি মত যে বিষয়ে একমত হয়েছে তা বাতিল করে দেয়, তবে তা তাদের ঐক্যমত্যের (إجماع) পরিপন্থী হবে। আর যদি তা ঐকমত্যপূর্ণ বিষয়কে বাতিল না করে, তবে তা ঐক্যমত্যের (إجماع) বিরোধী হবে না; বরং এটি উভয় মতের সাথে কোনো এক দিক থেকে সাদৃশ্যপূর্ণ হবে এবং অন্য দিক থেকে ভিন্ন হবে। সুতরাং এটি বৈধ, কারণ এতে ঐক্যমত্য ভঙ্গ (خرق للإجماع) হয় না(৩).

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-উদ্দাহ, কাজি আবু ইয়ালা ৪/১১১৪।

(২) দেখুন: আল-ইহকাম, আল-আমিদি ১/২৬৯; রওদাতুন নাজির, ইবনে কুদামা ১/৪৩১।

(৩) দেখুন: আল-ইহকাম, আল-আমিদি ১/২৬৯; ইরশাদুল ফুহুল, আশ-শাওকানি ১/২২৯।
(খণ্ড: ১) আল-কাওলু বিমা লাম ইয়াসবিক বিহি কাওল (পৃষ্ঠা: ৩৪)
يناقش: بأن اختلافهم على قولين إجماع منهم على أن هذه المسألة اجتهادية، وليست من الأمور القطعية، فمجال الاجتهاد فيها سائغ، حتى وإن رفع هذا الاجتهاد ما اتفق عليه القولان السابقان، مالم يخالف هذا الاجتهاد نصًا، أو إجماعًا قطعيًا فيرد.

الترجيح: بعد عرض الأقوال، وأدلة كل قول، ومناقشة الأدلة، تبين لي أن لكل قول أدلة قوية، والأقرب -والله أعلم- أن الراجح أن إحداث قول ثالث جائز، ما لم يخالف هذا القول نصًا قطعي الدلالة والثبوت أو إجماعًا قطعيًا؛ لأن في اختلاف العلماء إقرارًا منهم بأن هذه المسألة اجتهادية، والاجتهاد سائغ فيها، فلا يرد هذا الاجتهاد لأنه قول جديد، بل يرد إذا خالف نصًا، أو إجماعًا قطعيًا، وأن عمل العلماء على ذلك فإنك لا تكاد تجد إمامًا مجتهدًا إلا وله قول لم يسبق إليه.
পর্যালোচনা: আলেমদের দুটি মতের মধ্যে মতভেদ হওয়া মূলত এ বিষয়ে তাদের ঐক্যমত্য (إجماع) যে এই বিষয়টি গবেষণামূলক (اجتهادية), এবং এটি সুনিশ্চিত (قطعية) বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত নয়। সুতরাং এতে গবেষণার (اجتهاد) ক্ষেত্র অনুমোদিত, এমনকি যদি এই গবেষণা (اجتهاد) পূর্ববর্তী দুই মতের ঐকমত্যকে রহিত করে দেয়, যতক্ষণ না এই গবেষণা (اجتهاد) কোনো শরয়ি দলিল (نص) বা অকাট্য ঐক্যমত্যের (إجماع قطعي) পরিপন্থী হয়; অন্যথায় তা প্রত্যাখ্যান করা হবে।

প্রাধান্যদান (الترجيح): মতগুলো উপস্থাপন, প্রতিটি মতের দলিলসমূহ আলোচনা এবং দলিলগুলোর পর্যালোচনার পর আমার কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে, প্রতিটি মতেরই শক্তিশালী দলিল রয়েছে। তবে অধিকতর নিকটবর্তী—আর আল্লাহই ভালো জানেন—প্রবল মত (الراجح) হলো, তৃতীয় কোনো মত উদ্ভাবন করা বৈধ (جائز), যতক্ষণ না এই মতটি কোনো সুনিশ্চিত অর্থ ও প্রামাণিকতা সম্পন্ন দলিল (نص قطعي الدلالة والثبوت) বা অকাট্য ঐক্যমত্যের (إجماع قطعي) পরিপন্থী হয়। কারণ আলেমগণের মতভেদের মধ্যেই এই স্বীকৃতি রয়েছে যে এটি একটি গবেষণামূলক (اجتهادية) বিষয় এবং এতে গবেষণার (اجتهاد) অবকাশ রয়েছে। সুতরাং এটি নতুন একটি মত হওয়ার কারণে তা প্রত্যাখ্যান করা হবে না, বরং তখনই প্রত্যাখ্যাত হবে যখন তা কোনো শরয়ি দলিল (نص) বা অকাট্য ঐক্যমত্যের (إجماع قطعي) বিরোধী হয়। আর আলেমগণের কর্মপদ্ধতিও এমনই ছিল, কেননা আপনি এমন কোনো গবেষণাকারী ইমাম (إمام مجتهد) পাবেন না যার এমন কোনো মত নেই যাতে ইতিপূর্বে কেউ অগ্রসর হয়নি।
(খণ্ড: ১) আল-কাওলু বিমা লাম ইয়াসবিক বিহি কাওল (পৃষ্ঠা: ৩৫)
‌‌المبحث الثاني: مخالفة النص أو الإجماع

قد يذكر بعض الفقهاء في الخلاف الفقهي عن بعض أقوال الأئمة أنه مخالف للنص أو للإجماع، والأئمة لا يخالفون النص أو الإجماع عمدًا، لكن من عذر، وعذرهم في مخالفة النص إن كان النص آية قرآنية يكون في الخلاف في الدلالة، أو في النسخ، أما إن كان النص حديثًا نبويًا فيُزاد أمر ثالث وهو الخلاف في الثبوت، يقول ابن تيمية: "وَلِيُعْلَمَ أَنَّهُ لَيْسَ أَحَدٌ مِنْ الْأَئِمَّةِ -الْمَقْبُولِينَ عِنْدَ الْأُمَّةِ قَبُولًا عَامًّا- يَتَعَمَّدُ مُخَالَفَةَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي شَيْءٍ مِنْ سُنَّتِهِ؛ دَقِيقٍ وَلَا جَلِيلٍ. فَإِنَّهُمْ مُتَّفِقُونَ اتِّفَاقًا يَقِينِيًّا عَلَى وُجُوبِ اتِّبَاعِ الرَّسُولِ صلى الله عليه وسلم وَعَلَى أَنَّ كُلَّ أَحَدٍ مِنْ النَّاسِ يُؤْخَذُ مِنْ قَوْلِهِ وَيُتْرَكُ، إلَّا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلَكِنْ إذَا وُجِدَ لِوَاحِدِ مِنْهُمْ قَوْلٌ قَدْ جَاءَ حَدِيثٌ صَحِيحٌ بِخِلَافِهِ، فَلَا بُدَّ لَهُ مِنْ عُذْرٍ فِي تَرْكِهِ. وَجَمِيعُ الْأَعْذَارِ ثَلَاثَةُ أَصْنَافٍ: أَحَدُهَا: عَدَمُ اعْتِقَادِهِ أَنَّ
‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মূল পাঠ (نص) বা ঐক্যমত (إجماع)-এর বিরোধিতা

ফিকহশাস্ত্রবিদগণ ফিকহি মতপার্থক্যের ক্ষেত্রে আইম্মায়ে কেরামের কিছু মত সম্পর্কে উল্লেখ করে থাকেন যে, তা মূল পাঠ (নস) (نص) বা ঐক্যমত (إجماع)-এর পরিপন্থী। অথচ ইমামগণ ইচ্ছাকৃতভাবে মূল পাঠ (نص) কিংবা ঐক্যমত (إجماع)-এর বিরোধিতা করেন না, বরং এর পেছনে কোনো না কোনো ওজর বা কারণ থাকে। মূল পাঠ (نص)-এর বিরোধিতার ক্ষেত্রে তাঁদের ওজর যদি কুরআনের আয়াত হয়, তবে তা নির্দেশকতা (دلالة) সংক্রান্ত মতভেদ অথবা রহিতকরণ (نسخ) সংক্রান্ত বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হয়। পক্ষান্তরে মূল পাঠ (نص) যদি হাদিস হয়, তবে এর সাথে তৃতীয় আরেকটি বিষয় যুক্ত হয়, আর তা হলো সাব্যস্ততা (ثبوت) সংক্রান্ত মতভেদ। ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন: “এটি জেনে রাখা উচিত যে, উম্মাহর নিকট সার্বিকভাবে গ্রহণযোগ্য ইমামগণের কেউই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর (سنة) কোনো কিছুর ক্ষেত্রেই—তা সূক্ষ্ম হোক বা বড়—ইচ্ছাকৃতভাবে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিরোধিতা করেন না। কেননা তাঁরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণের আবশ্যকতা এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যতীত অন্য যে কারো কথা গ্রহণ বা বর্জন করার ব্যাপারে নিশ্চিতভাবে একমত। তবে তাঁদের মধ্য থেকে কারো এমন কোনো বক্তব্য যদি পাওয়া যায় যার বিপরীতে একটি সহিহ (صحيح) হাদিস বিদ্যমান, তবে সেটি বর্জন করার ক্ষেত্রে অবশ্যই তাঁর কোনো না কোনো ওজর রয়েছে। আর এই সকল ওজর মূলত তিন প্রকারের হয়ে থাকে: প্রথমত, তাঁর এই বিশ্বাস না থাকা যে...