(খণ্ড: ১) বুহুসুন ওয়া ফাতাওয়া ফিল মাসহি আলাল খুফফাইন (পৃষ্ঠা: -)
بحوث وفتاوى في المسح على الخفين   (ابن عثيمين)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: بحوث وفتاوى في المسح على الخفين

المؤلف: محمد بن صالح بن محمد العثيمين (ت 1421هـ)

الناشر: دار الوطن للنشر

الطبعة: *

عدد الصفحات: 53

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মোজা মাসেহ করার বিষয়ে গবেষণা ও ফতোয়া   (ইবনে উসাইমিন)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ


বই: মোজা মাসেহ করার বিষয়ে গবেষণা ও ফতোয়া

লেখক: মুহাম্মদ বিন সালিহ বিন মুহাম্মদ আল-উসাইমিন (মৃত্যু ১৪২১ হিজরি)

প্রকাশক: দারুল ওয়াতান লিন-নাশর

সংস্করণ: *

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৩

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) বুহুসুন ওয়া ফাতাওয়া ফিল মাসহি আলাল খুফফাইন (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌المجلد الأول

‌‌أولاً: بحوث في المسح على الخفين

‌‌البحث الأول: في المسح على المخرق وما ترى منه البشرة لصفائه أورقته

…

بسم الله الرحمن الرحيم

أولاً: بحوث في المسح على الخفين:

هذه بحوث في المسح على الخفين:

البحث الأول: في المسح على المخرق وما ترى منه البشرة لصفائه أورقته..

وفي هذا خلاف بين العلماء.

فالمشهور من مذهب الإمام أحمد أن المسح عليه لا يصح. قال في المنتهى في معرض ذكر شروط المسح: وأن لا يصف البشرة لصفائه أوخفته. وذكر قبله أنه يشترط ستر محل الفرض.

وفي المجموع فقيه الشافعية للنووي (1 / 480) ذكر قولين في الخف المخرق أصحهما لا يمسح. وفي ص (481) من أن ابن المنذر حكى عن الثوري وإسحاق ويزيد بن هارون وأبي ثور جواز المسح على جميع الخفاف. قال ابن المنذري: وبه أقول لظاهر
প্রথম খণ্ড

‌প্রথমত: মোজার ওপর মাসেহ সংক্রান্ত গবেষণাসমূহ

‌প্রথম গবেষণা: ছিদ্রযুক্ত এবং স্বচ্ছতা বা পাতলা হওয়ার কারণে যার চামড়া দৃশ্যমান হয় এমন মোজার ওপর মাসেহ করা প্রসঙ্গে

…

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

প্রথমত: মোজার ওপর মাসেহ সংক্রান্ত গবেষণাসমূহ:

এগুলো মোজার ওপর মাসেহ সংক্রান্ত কিছু গবেষণা:

প্রথম গবেষণা: ছিদ্রযুক্ত এবং স্বচ্ছতা বা পাতলা হওয়ার কারণে যার নিচ দিয়ে চামড়া দৃশ্যমান হয় এমন মোজার ওপর মাসেহ করা প্রসঙ্গে..

এ বিষয়ে উলামায়ে কেরামের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।

ইমাম আহমদের মাজহাবের প্রসিদ্ধ মত হলো, এর ওপর মাসেহ করা শুদ্ধ (صحيح) নয়। আল-মুনতাহা গ্রন্থে মাসেহ করার শর্তাবলি বর্ণনার প্রসঙ্গে বলা হয়েছে: এবং স্বচ্ছতা বা পাতলা হওয়ার কারণে যেন চামড়া ফুটে না ওঠে। এর পূর্বে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ফরয স্থান আবৃত থাকা শর্ত।

শাফেঈ ফকিহ ইমাম নববীর আল-মাজমু (১/৪৮০) গ্রন্থে ছিদ্রযুক্ত মোজা সম্পর্কে দুটি অভিমত উল্লেখ করা হয়েছে, যার মধ্যে অধিকতর বিশুদ্ধ (أصح) মতটি হলো মাসেহ না করা। এবং ৪৮১ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে যে, ইবনুল মুনযির সাওরি, ইসহাক, ইয়াজিদ ইবনে হারুন এবং আবু সাওর থেকে সকল প্রকার মোজার ওপর মাসেহ করার বৈধতা (جواز) বর্ণনা করেছেন। ইবনুল মুনযির বলেন: বাহ্যিক (ظاهر) দলীলের কারণে আমিও এই মত পোষণ করি।
(খণ্ড: ১) বুহুসুন ওয়া ফাতাওয়া ফিল মাসহি আলাল খুফফাইন (পৃষ্ঠা: ৪)
إباحة رسول الله صلى الله عليه وسلم المسح على الخفين قولاً عاماً يدخل فيه جميع أنواع الخفاف.

وفي الاختيارات لشيخ الإسلام ابن تيمية ص (13) أن الخف المخرق يجوز المسح عليه مادام اسم الخف باقياً والمشي فيه ممكناً، وهوقديم قولي الشافعي واختيار أبي البركات وغيره من العلماء.

وفي المحلى (2/100) جواز المسح على المخرق ولوظهر أكثر القدمين مادام يتعلق بالرجلين منهما شيء، ونقل عن سفيان الثوري أنه قال: امسح مادام يسمى خفاً.

وفي المجموع (2/482) إذا تخرقت الظهارة فإن كانت البطانة صفيقة جاز المسح وإلا فلا، لأنه كالمكشوف قال: وحكى الروياني والرافعي وجهاً غريباً ضعيفاً أنه يجوز وإن كانت البطانة رقيقة.

وفي ص (484) حكى ابن المنذر إباحة المسح
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কর্তৃক মোজার ওপর মাসেহ করার অনুমতি প্রদান একটি সাধারণ বক্তব্য, যাতে সকল প্রকার মোজা অন্তর্ভুক্ত।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার 'আল-ইখতিয়ারাত' (পৃষ্ঠা ১৩)-এ বর্ণিত হয়েছে যে, ছেঁড়া মোজার ওপর মাসেহ করা জায়েজ যতক্ষণ পর্যন্ত তা মোজা হিসেবে গণ্য হয় এবং তাতে চলাফেরা করা সম্ভব হয়। এটি ইমাম শাফিঈর পুরাতন অভিমত এবং আবু আল-বারাকাতসহ অন্যান্য আলেমদের পছন্দনীয় মত।

'আল-মুহাল্লা' (২/১০০)-এ বর্ণিত হয়েছে যে, ছেঁড়া মোজার ওপর মাসেহ করা বৈধ, এমনকি যদি পায়ের অধিকাংশ অংশ প্রকাশ পেয়ে যায় তবুও, যতক্ষণ পর্যন্ত তা পায়ের সাথে লেগে থাকে। সুফিয়ান সাওরি থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "যতক্ষণ একে মোজা বলা হবে, ততক্ষণ এর ওপর মাসেহ করো।"

'আল-মাজমু' (২/৪৮২)-এ উল্লেখ আছে যে, যদি মোজার ওপরের স্তর ছিঁড়ে যায় এবং ভেতরের স্তরটি মোটা হয়, তবে মাসেহ করা জায়েজ, অন্যথায় নয়; কারণ তখন এটি উন্মুক্ত অঙ্গের মতো হয়ে যায়। তিনি বলেন: আল-রুয়ানি এবং আল-রাফেয়ি একটি বিরল (غريب) ও দুর্বল (ضعيف) মত বর্ণনা করেছেন যে, ভেতরের স্তরটি পাতলা হলেও মাসেহ করা জায়েজ।

এবং ৪৮৪ পৃষ্ঠায় ইবনুল মুনযির মাসেহ করার বৈধতা বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) বুহুসুন ওয়া ফাতাওয়া ফিল মাসহি আলাল খুফফাইন (পৃষ্ঠা: ৫)
على الجورب عن تسعة من الصحابة رضي الله عنهم إلى أن قال: وحكى أصحابنا عن عمر وعلي رضي الله عنهما جواز المسح على الجورب وإن كان رقيقاً، وحكوه عن أبي يوسف ومحمد وإسحاق وداود.أ. هـ.

وفي ص (486) إذا لبس خف زجاج يمكن متابعة المشي عليه جاز المسح عليه وإن كان ترى تحته البشرة.

وفي ص 24 جـ 1 من جواهر الإكليل شرح مختصر خليل أن الجورب ملبوس رجل على هيئة الخف منسوج من قطن أوكتان أوصوف يسمى في عرف أهل مصر شراباً.
নয়জন সাহাবী (صحابة) (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে মোজার ওপর মাসেহ করার বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে, এমনকি তিনি বলেছেন: আমাদের ফকিহগণ উমর এবং আলী (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, মোজা পাতলা হলেও তার ওপর মাসেহ করা বৈধ এবং তাঁরা এটি আবু ইউসুফ, মুহাম্মদ, ইসহাক ও দাউদ থেকেও বর্ণনা করেছেন। (সমাপ্ত)।

এবং ৪৮৬ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে যে, যদি কেউ কাঁচের তৈরি এমন মোজা পরিধান করে যার ওপর নিরবচ্ছিন্নভাবে হাঁটা সম্ভব, তবে তার ওপর মাসেহ করা বৈধ হবে, যদিও তার নিচ থেকে শরীরের চামড়া দেখা যায়।

জাওয়াহিরুল ইকলিল শরহে মুখতাসার খলিল-এর ১ম খণ্ডের ২৪ পৃষ্ঠায় উল্লিখিত হয়েছে যে, মোজা হলো পায়ে পরিধানের এমন একটি বস্তু যা চামড়ার মোজার আকৃতিতে তুলা, তিসি বা পশম দিয়ে বোনা হয় এবং মিসরীয়দের পরিভাষায় একে 'শরাব' বলা হয়।
(খণ্ড: ১) বুহুসুন ওয়া ফাতাওয়া ফিল মাসহি আলাল খুফফাইন (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌البحث الثاني: إذا لبس خفاً على خف فلا يخلومن حالين:

الأولى: أن يكون بعد الحدث فالحكم للأسفل، ولا يمسح الأعلى.
‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: যদি মোজার ওপর মোজা পরিধান করা হয়, তবে তা দুই অবস্থার বহির্ভূত নয়:

প্রথম অবস্থা: যদি তা অপবিত্রতা অর্জনের পর হয়, তবে বিধান নিচের মোজার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে এবং উপরেরটির ওপর মাসেহ করা যাবে না।
(খণ্ড: ১) বুহুসুন ওয়া ফাতাওয়া ফিল মাসহি আলাল খুফফাইন (পৃষ্ঠা: ৬)
الثاني: أن يكون قبل الحدث فهوبالخيار، فإن مسح الأسفل تعلق الحكم به ولا يضره نزع الأعلى، وإن مسح الأعلى تعلق الحكم به. فإن نزعه لزم نزع الأسفل، ومتى مسح أحدهما لم ينتقل إلى الثاني. ولا يصح المسح عليهما إن كانا مخرقين، ولا على الأسفل إن كان هوالمخرق.

وفي الفروع (1/160) : ولا يمسح خفين لبسا على ممسوحين … ويتوجه الجواز (و) لمالك. وفي ص (172) : وإن نزع خفاً فوقانياً مسحه فعنه يلزم نزع التحتاني … فيتوضأ أويغسل قدميه على الخلاف، وعنه لا يلزمه (وهـ م) فيتوضأ أويمسح التحتاني مفرداً على الخلاف. أ. هـ.

قلت: وعلى القول بأن النزع لا ينقض الطهارة لا شيء عليه.

وفي المجموع للنووي (1/490) إذا جوزنا المسح
দ্বিতীয়ত: যদি তা অপবিত্রতা (حدث) ঘটার পূর্বে হয় তবে সে ইচ্ছাধীন থাকবে। যদি সে নিচেরটির ওপর মাসেহ (مسح) করে তবে বিধান (حكم) সেটির সাথেই সংশ্লিষ্ট হবে এবং উপরেরটি খুলে ফেলা তার জন্য ক্ষতিকর হবে না। আর যদি সে উপরেরটির ওপর মাসেহ (مسح) করে তবে বিধান (حكم) সেটির সাথেই সংশ্লিষ্ট হবে। অতঃপর সে যদি তা খুলে ফেলে, তবে নিচেরটিও খোলা আবশ্যক হয়ে পড়বে। আর যখনই সে কোনো একটির ওপর মাসেহ (مسح) করবে, তখন তা দ্বিতীয়টিতে স্থানান্তরিত হবে না। যদি উভয়টি ছেঁড়া হয় তবে সেগুলোর ওপর মাসেহ (مسح) করা সঠিক হবে না, আর নিচেরটি ছেঁড়া হলে তার ওপরও মাসেহ (مسح) সঠিক হবে না।

এবং আল-ফুরু (১/১৬০) গ্রন্থে রয়েছে: এমন দুটি চামড়ার মোজার (খুফ) ওপর মাসেহ (مسح) করা যাবে না যা এমন দুটির ওপর পরিধান করা হয়েছে যেগুলোর ওপর ইতিপূর্বেই মাসেহ (مسح) করা হয়েছে … এবং ইমাম মালিকের নিকট এর বৈধতার (جواز) দিকটি অভিমত হিসেবে গ্রহণযোগ্য। এবং ১৭২ পৃষ্ঠায় রয়েছে: যদি কেউ এমন একটি উপরের মোজা খুলে ফেলে যার ওপর সে মাসেহ (مسح) করেছিল, তবে তাঁর (ইমাম আহমদ) থেকে বর্ণিত আছে যে, নিচেরটিও খোলা আবশ্যক হবে … এমতাবস্থায় মতভেদ (خلاف) অনুযায়ী সে ওযু করবে অথবা তার পা ধৌত করবে। আর তাঁর থেকে বর্ণিত অন্য মতানুসারে এটি আবশ্যক নয় (এবং এটি আবু হানীফা ও মালিকের মত), ফলে মতভেদ (خلاف) অনুযায়ী সে ওযু করবে অথবা স্বতন্ত্রভাবে নিচেরটির ওপর মাসেহ (مسح) করবে। সমাপ্ত।

আমি বলছি: এই মতানুসারে যে, খুলে ফেলা পবিত্রতা (طهارة) ভঙ্গ করে না, তার ওপর কোনো দায়বদ্ধতা নেই।

এবং নববীর আল-মাজমু গ্রন্থে (১/৪৯০) রয়েছে: যদি আমরা মাসেহ (مسح) করার অনুমতি দেই...
(খণ্ড: ১) বুহুসুন ওয়া ফাতাওয়া ফিল মাসহি আলাল খুফফাইন (পৃষ্ঠা: ৭)
على الجرموق "ملبوس رجل يلبس فوق الخف لا سيما في البلاد الباردة " فقد ذكر أبوالعباس بن سريج فيه ثلاث معان، أصحها أن بدل عن الخف، والخف بدل عن الرجل. الثاني: أن الأسفل كلفافة والأعلى هوالخف. والثالث: أنهما كخف واحد، فالأعلى ظهارة والأسفل بطانة، وفرع الأصحاب على هذه المعاني مسائل كثيرة، وذكر منها لونزعه بعد مسحه وبقي الأسفل بحاله، فإن قلنا بالأول لم يجب نزع الأسفل فيمسحه لكن هل يكفيه مسحه أولا بد من إعادة الوضوء فيه القولان في نازع الخفين. وإن قلنا بالثالث فلا شيء عليه. وإن قلنا بالثاني وجب نزع الأسفل وغسل القدمين. وفي وجوب استئناف الوضوء القولان.

فحصل من الخلاف في المسألة خمسة أقوال:

احدها: لا يجب شيء، وأصحها مسح الأسفل فقط.
জুরমুক—"পায়ের এমন এক পরিধেয় যা চামড়ার মোজার (خف) ওপর পরিধান করা হয়, বিশেষত শীতপ্রধান দেশগুলোতে"—এর ওপর মাসাহ্ করার বিষয়ে আবুল আব্বাস ইবন সুরায়জ তিনটি মর্মার্থ উল্লেখ করেছেন। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বিশুদ্ধ (أصح) হলো—এটি চামড়ার মোজার (خف) স্থলাভিষিক্ত এবং চামড়ার মোজা পায়ের স্থলাভিষিক্ত। দ্বিতীয়ত: নিচের অংশটি পটির মতো এবং উপরেরটিই হলো প্রকৃত চামড়ার মোজা (خف)। তৃতীয়ত: উভয়টি মিলে একটি চামড়ার মোজার (خف) ন্যায়, যার উপরের অংশটি বহিরাবরণ এবং নিচের অংশটি আস্তরণ। আসহাবগণ (أصحاب) এই মর্মার্থগুলোর ওপর ভিত্তি করে অনেক মাসআলা উদ্ভাবন করেছেন। এর মধ্যে একটি হলো—যদি কেউ এটি মাসাহ্ করার পর খুলে ফেলে এবং নিচের অংশটি স্বস্থানে বহাল থাকে; তবে আমরা যদি প্রথম মতানুসারে বলি, তবে নিচের অংশটি খোলা ওয়াজিব নয় এবং সেটির ওপর মাসাহ্ করবে। তবে কি তার কেবল মাসাহ্ করাই যথেষ্ট হবে, নাকি নতুন করে ওজু করা আবশ্যক? এ ক্ষেত্রে দুটি মত (قولان) রয়েছে, যেমনটি চামড়ার মোজা (خفين) উন্মোচনকারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। যদি আমরা তৃতীয় মতানুসারে বলি, তবে তার ওপর কিছুই ওয়াজিব হবে না। আর যদি আমরা দ্বিতীয় মতানুসারে বলি, তবে নিচের অংশটি খুলে ফেলা এবং উভয় পা ধৌত করা ওয়াজিব হবে। আর নতুন করে ওজু শুরু করা ওয়াজিব হওয়ার বিষয়েও দুটি মত (قولان) রয়েছে।

সুতরাং মাসআলাটির মতভেদের প্রেক্ষিতে পাঁচটি মত (أقوال) পাওয়া যায়:

তার একটি হলো: কিছুই ওয়াজিব হবে না; তবে এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বিশুদ্ধ (أصح) হলো কেবল নিচের অংশের ওপর মাসাহ্ করা।
(খণ্ড: ১) বুহুসুন ওয়া ফাতাওয়া ফিল মাসহি আলাল খুফফাইন (পৃষ্ঠা: ৮)
الثالث: يجب مسحه مع استئناف الوضوء.

الرابع: يجب نزع الخفين وغسل الرجلين.

الخامس: يجب النزع واستئناف الوضوء.

وفي ص (490) أيضاً: إذا لبس الخف على طهارة ثم أحدث ومسح عليه، ثم لبس الجرموق على طهارة المسح، ففي جواز المسح عليه وجهان مشهوران، ثم قال عن الجواز: إنه الأظهر المختار، لأنه لبس على طهارة. وقولهم إنها طهارة ناقصة غير مقبول. قال الرافعي: قال الشيخ أبوعلي: إذا جوزنا المسح هنا فابتداء المدة من حين أحدث بعد لبس الخف لا من لبس الجرموق. أ. هـ. وقوله من حين حين أحدث بناءً على ابتداء المدة من الحدث، وسيأتي الخلاف في ذلك.
তৃতীয়: অজু (وضوء) পুনরায় আরম্ভ করার সাথে তা মাসাহ (مسح) করা ওয়াজিব (واجب)।

চতুর্থ: চামড়ার মোজা (خفين) খুলে ফেলা এবং উভয় পা ধৌত করা ওয়াজিব (واجب)।

পঞ্চম: মোজা খুলে ফেলা এবং অজু (وضوء) পুনরায় আরম্ভ করা ওয়াজিব (واجب)।

এবং ৪৯০ পৃষ্ঠায় আরও রয়েছে: যদি কেউ পবিত্র (طهارة) অবস্থায় চামড়ার মোজা (خف) পরিধান করে, অতঃপর অপবিত্র (أحدث) হয় এবং তার ওপর মাসাহ (مسح) করে, এরপর উক্ত মাসাহর পবিত্রতা (طهارة) থাকা অবস্থায় মোজার ওপর পরিধানযোগ্য অতিরিক্ত মোজা (جرموق) পরিধান করে, তবে তার ওপর মাসাহ করার বৈধতা (جواز) সম্পর্কে দুটি প্রসিদ্ধ (مشهوران) অভিমত (وجهان) রয়েছে। এরপর তিনি বৈধতা (جواز) প্রসঙ্গে বলেছেন: এটিই অধিকতর স্পষ্ট (أظهر) ও মনোনীত (مختار); কেননা তা পবিত্র (طهارة) অবস্থায় পরিধান করা হয়েছে। আর তাদের এই দাবি যে, এটি একটি অপূর্ণাঙ্গ (ناقصة) পবিত্রতা (طهارة) - তা গ্রহণযোগ্য নয়। ইমাম রাফেয়ি বলেন: শায়খ আবু আলী বলেছেন: আমরা যদি এখানে মাসাহ (مسح) করার অনুমতি দেই, তবে সময়সীমার গণনা শুরু হবে চামড়ার মোজা (خف) পরিধানের পর অপবিত্র (أحدث) হওয়ার সময় থেকে, অতিরিক্ত মোজা (جرموق) পরিধানের সময় থেকে নয়। সমাপ্ত। আর তার বক্তব্য 'অপবিত্র হওয়ার সময় থেকে' - এটি সময়সীমা অপবিত্র (حدث) হওয়ার মুহূর্ত থেকে শুরু হওয়ার মতের ওপর ভিত্তি করে বলা হয়েছে; এ বিষয়ে মতভেদ (خلاف) সামনে আলোচিত হবে।
(খণ্ড: ১) বুহুসুন ওয়া ফাতাওয়া ফিল মাসহি আলাল খুফফাইন (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌البحث الثالث: في توقيت مدة المسح

وفي هذه المسألة خلاف بين أهل العلم، فجمهور
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মাসাহ করার মেয়াদের সময়সীমা নির্ধারণ প্রসঙ্গে

এবং এই বিষয়ে আলেমগণের মধ্যে মতভেদ রয়েছে, সুতরাং জমহুর (جمهور) বা অধিকাংশ আলেম
(খণ্ড: ১) বুহুসুন ওয়া ফাতাওয়া ফিল মাসহি আলাল খুফফাইন (পৃষ্ঠা: ৯)
أهل العلم من الصحابة والتابعين ومن بعدهم على أن المسح مؤقت بيوم وليلة للمقيم وثلاثة أيام بلياليها للمسافر. وقال بعض أهل العلم: لا توقيت فيه. وفي المجموع (1/467) : حكاه أصحابنا عن أبي سلمة ابن عبد الرحمن والشعبي وربيعة والليث وأكثر أصحاب مالك، وهوالمشهور عنه. وعنه أنه موقت، وعنه موقت للحاضر دون المسافر. قال ابن المنذر: وقال سعيد بن جبير يمسح من غدوة إلى الليل. أ.هـ.

وقال شيخ الإسلام في الاختيارات ص (15) : ولا تتوقت مدة المسح في المسافر الذي يشق اشتغاله بالخلع واللبس كالبريد المجهز في مصلحة المسلمين.

وإذا قلنا بالتوقيت فمن أين يبتدئ؟ الجمهور من أهل العلم على أن ابتداء المدة من أول حدث بعد اللبس. وفي المجموع (1/470) : وقال الأوزاعي
সাহাবি, তাবেয়ি এবং তাঁদের পরবর্তী আলেমগণ এই বিষয়ে একমত যে, মোজার ওপর মাসেহ করার সময়সীমা হচ্ছে স্থায়ী বাসিন্দার (مقيم) জন্য একদিন ও একরাত এবং মুসাফিরের (مسافر) জন্য তিন দিন ও তিন রাত। কোনো কোনো আলেম বলেছেন, এতে কোনো সময়সীমা (توقيت) নেই। আল-মাজমু গ্রন্থে (১/৪৬৭) বর্ণিত হয়েছে: আমাদের সাথীগণ (শাফেয়িগণ) এটি আবু সালামাহ ইবনে আবদুর রহমান, শাবি, রাবিআহ, লাইস এবং মালেকের অধিকাংশ অনুসারীদের থেকে বর্ণনা করেছেন এবং এটিই তাঁর নিকট হতে প্রাপ্ত প্রসিদ্ধ (مشهور) মত। তাঁর থেকে অন্য একটি বর্ণনা অনুসারে এটি সময় দ্বারা নির্দিষ্ট (مؤقت), আবার অন্য বর্ণনামতে এটি মুসাফির ব্যতীত শুধুমাত্র উপস্থিত বা স্থায়ী ব্যক্তির (حاضر) জন্য সময় দ্বারা নির্দিষ্ট (مؤقت)। ইবনুল মুনজির বলেন: সাঈদ ইবনে জুবায়ের বলেছেন, ভোর থেকে রাত পর্যন্ত মাসেহ করা যাবে। (সমাপ্ত)।

শায়খুল ইসলাম আল-ইখতিয়ারাতে (পৃষ্ঠা ১৫) বলেছেন: সেই মুসাফিরের (مسافر) জন্য মাসেহের মেয়াদ নির্ধারিত (تتوقت) নয়, যার জন্য মোজা খোলা এবং পরা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য, যেমন মুসলমানদের জনস্বার্থে নিয়োজিত দ্রুতগামী ডাকবাহক।

যদি আমরা সময় নির্দিষ্ট করার (توقيت) কথা বলি, তবে সেই সময় কখন থেকে শুরু হবে? অধিকাংশ (الجمهور) আলেমগণের মতে, সময়সীমার গণনা শুরু হবে মোজা পরার পর প্রথম অপবিত্রতা (حدث) অর্জনের সময় থেকে। আল-মাজমু গ্রন্থে (১/৪৭০) রয়েছে: ইমাম আওজায়ি বলেছেন...
(খণ্ড: ১) বুহুসুন ওয়া ফাতাওয়া ফিল মাসহি আলাল খুফফাইন (পৃষ্ঠা: ১০)
وأبوثوار: ابتداء المدة من حين يمسح بعد الحدث، وهورواية عن أحمد وداود وهوالمختار الراجح دليلاً، واختاره ابن المنذر وحكى نحوه عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه، وحكى الماوردي والشاشي عن الحسن البصري أن ابتداءها من اللبس. أ. هـ.
আবু সাওয়ার বলেছেন: সময়সীমার শুরু হবে অপবিত্র হওয়ার পর প্রথমবার মাসেহ করার সময় থেকে। এটি ইমাম আহমাদ ও দাউদ হতে বর্ণিত একটি বর্ণনা (رواية) এবং দলীলের দিক থেকে এটিই মনোনীত ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত (راجح) মত। ইবনুল মুনযির একেই গ্রহণ করেছেন এবং উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। আল-মাওয়ার্দি এবং আশ-শাশী হাসান বসরী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এর সূচনা হবে পরিধান করার সময় থেকে। সমাপ্ত (أ. هـ.)।
(খণ্ড: ১) বুহুসুন ওয়া ফাতাওয়া ফিল মাসহি আলাল খুফফাইন (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌البحث الرابع: إذا تغيرت حال اللابس من إقامة إلى سفر أوبالعكس فبأيهما يعتبر؟

وهذا له ثلاث حالات:

الحال الأولى: أن يكون التغير قبل الحدث مثل أن يلبس الخفين مقيماً ثم يسافر قبل أن يحدث، أويلبسهما مسافراً ثم يقدم بلده قبل أن يحدث. ففي المسألة الأولى يمسح مسح مسافر، قال في المجموع (2/472) بالإجماع، وفي المسألة الثانية يمسح مسح مقيم، ولا إشكال في ذلك.

الحال الثانية: أن يكون التغير بعد الحدث وقبل
চতুর্থ আলোচনা: যদি পরিধানকারীর অবস্থা মুকীম (অবস্থানকারী) থেকে মুসাফির (ভ্রমণকারী) অথবা এর বিপরীতে পরিবর্তিত হয়, তবে কোনটি ধর্তব্য হবে?

এর তিনটি অবস্থা রয়েছে:

প্রথম অবস্থা: অপবিত্রতা (حدث) অর্জনের পূর্বে অবস্থার পরিবর্তন হওয়া। যেমন—মুকীম অবস্থায় মোজা পরিধান করা এবং অপবিত্র (حدث) হওয়ার পূর্বেই সফরে বের হওয়া, অথবা মুসাফির অবস্থায় তা পরিধান করা এবং অপবিত্র (حدث) হওয়ার পূর্বেই নিজ এলাকায় পৌঁছানো। এমতাবস্থায় প্রথম মাসআলার ক্ষেত্রে মুসাফিরের মাসাহ হিসেবে গণ্য হবে; 'আল-মাজমু' (২/৪৭২) গ্রন্থে একে সর্বসম্মত (إجماع) বলা হয়েছে। আর দ্বিতীয় মাসআলার ক্ষেত্রে মুকীমের মাসাহ হিসেবে গণ্য হবে এবং এতে কোনো সংশয় নেই।

দ্বিতীয় অবস্থা: অপবিত্রতা (حدث) অর্জনের পর এবং... এর পূর্বে
(খণ্ড: ১) বুহুসুন ওয়া ফাতাওয়া ফিল মাসহি আলাল খুফফাইন (পৃষ্ঠা: ১১)
المسح، مثل أن يلبس الخفين مقيماً ثم يحدث ثم يسافر قبل أن يمسح، أويلبسهما مسافرأ ثم يحدث ثم يقدم بلده قبل أن يمسح. ففي المسألة الأولى يمسح مسح مسافر. قال في الإنصاف (1/179) : هذا المذهب وعليه الأصحاب ورمز لذلك الفروع (1/168) بالواوإشارة لموافقة الأئمة الثلاثة. قال: وعنه مسح مقيم..إلخ. أ.هـ.

وفي المغني (1/290) لا نعلم خلافاً أنه يتم مسح مسافر. وفي المسألة الثاني يمسح مسح مقيم، ولم أر في ذلك خلافاً.

الحال الثالثة: أن يكون التغير بعد الحدث والمسح مثل أن يلبس الخفين ويمسح عليهما مقيماً ثم يسافر، أويلبس الخفين ويمسح عليهما مسافراً ثم يقدم بلده بعد ذلك، ففي هذه الحال خلاف بين أهل العلم.

أما المسألة الأولى: فلا يخلوإما أن تكون مدة مسح
মাসাহ (المسح), যেমন কোনো ব্যক্তি মুকিম অবস্থায় মোজা পরিধান করল, অতঃপর অপবিত্রতা (الحدث) অর্জন করল এবং মাসেহ করার পূর্বেই সফরে বের হলো। অথবা মুসাফির অবস্থায় মোজা পরিধান করল, অতঃপর অপবিত্রতা (الحدث) অর্জন করল এবং মাসেহ করার পূর্বেই নিজ শহরে পৌঁছে গেল। প্রথম মাসআলাটির ক্ষেত্রে সে মুসাফিরের ন্যায় মাসেহ করবে। 'আল-ইনসাফ' গ্রন্থে (১/১৭৯) বলা হয়েছে: "এটিই মাযহাব (المذهب) এবং এর ওপরই মাযহাবের অনুসারীগণ (الأصحاب) রয়েছেন।" 'আল-ফুরু' গ্রন্থে (১/১৬৮) একে 'ওয়াও' বর্ণ দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছে, যা অপর তিন ইমামের ঐকমত্যের প্রতি ইঙ্গিত প্রদান করে। তিনি বলেছেন: "তাঁর থেকে একটি বর্ণনা (رواية) রয়েছে যে সে মুকিমের মাসেহ করবে... ইত্যাদি।" (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।

'আল-মুগনি' গ্রন্থে (১/২৯০) বর্ণিত হয়েছে যে, "আমরা এ বিষয়ে কোনো মতভেদ (خلاف) জানি না যে সে মুসাফিরের মাসেহ পূর্ণ করবে।" আর দ্বিতীয় মাসআলার ক্ষেত্রে সে মুকিমের ন্যায় মাসেহ করবে, এবং এ বিষয়ে আমি কোনো মতভেদ (خلاف) দেখিনি।

তৃতীয় অবস্থা: অপবিত্রতা (الحدث) অর্জন এবং মাসেহ করার পর অবস্থার পরিবর্তন হওয়া; যেমন মুকিম অবস্থায় মোজা পরিধান করে তার ওপর মাসেহ করল, অতঃপর সফরে বের হলো। অথবা মুসাফির অবস্থায় মোজা পরিধান করে তার ওপর মাসেহ করল এবং এরপর নিজ শহরে ফিরে এল। এই পরিস্থিতির ক্ষেত্রে আলেমদের মধ্যে মতভেদ (خلاف) রয়েছে।

প্রথম মাসআলার ক্ষেত্রে: মাসেহের সময়কাল হয়তো...
(খণ্ড: ১) বুহুসুন ওয়া ফাতাওয়া ফিল মাসহি আলাল খুফফাইন (পৃষ্ঠা: ১২)
المقيم قد انتهت اولا.

فإن كانت قد انتهت فلا مسح ولم أر في ذلك خلافاً إلا ما ذكره في المحلى (2/109) أن يتم مسح مسافر، وإن كانت مدة مسح المقيم باقية ففي ذلك خلاف. فمذهب مالك والشافعي وأحمد في رواية عنه وإسحاق وداود في رواية عنه يتم مسح مسافر، وهورواية عن أحمد وداود. انظر المجموع (1/472) .

قال في المغني (1/292) : قال الخلال: رجع أحمد عن قوله الأول إلى هذا. وفي الإنصاف (1/178) عن صاحب الفائق: هوالنص المتأخر وهوالمختار. أ. هـ.

وأما المسألة الثانية: فلا يخلوإما أن تكون مدة مسح المسافر قد انتهت أولا.

فإن كانت قد انتهت فلا مسح، وإن كانت باقية أتم
মুকীমের (المقيم) সময়সীমা কি আগে শেষ হয়েছে?

যদি তা শেষ হয়ে গিয়ে থাকে, তবে আর মাসেহ (مسح) করা যাবে না। এই বিষয়ে আমি কোনো মতভেদ দেখিনি, কেবল আল-মুহাল্লা (২/১০৯) গ্রন্থে যা বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি মুসাফিরের (المسافر) মতো মাসেহ (مسح) সম্পন্ন করবেন। যদি মুকীমের (المقيم) মাসেহের (مسح) সময়সীমা অবশিষ্ট থাকে, তবে সেক্ষেত্রে মতভেদ রয়েছে। ইমাম মালেক, শাফেঈ, ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনা (رواية) এবং ইসহাক ও দাউদ থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনা (رواية) অনুযায়ী—তিনি মুসাফিরের (المসافر) মতো মাসেহ (مسح) পূর্ণ করবেন; আর এটি আহমাদ ও দাউদ থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনা (رواية)। দেখুন: আল-মাজমু (১/৪৭২)।

আল-মুগনি (১/২৯২) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: আল-খাল্লাল বলেছেন: ইমাম আহমাদ তাঁর পূর্বের বক্তব্য থেকে ফিরে এসে এই মতটি গ্রহণ করেছেন। আর আল-ইনসাফ (১/১৭৮) গ্রন্থে আল-ফায়িক গ্রন্থকারের সূত্রে বর্ণিত হয়েছে: এটিই পরবর্তী বক্তব্য (النص) এবং এটিই পছন্দনীয় মত (المختار)। সমাপ্ত।

আর দ্বিতীয় মাসআলা (مسألة) হলো: মুসাফিরের (المسافر) মাসেহের (مسح) সময়সীমা কি আগে শেষ হয়েছে, না হয়নি?

যদি তা শেষ হয়ে গিয়ে থাকে তবে মাসেহ (مسح) করা যাবে না, আর যদি তা অবশিষ্ট থাকে তবে তিনি তা সম্পন্ন করবেন।
(খণ্ড: ১) বুহুসুন ওয়া ফাতাওয়া ফিল মাসহি আলাল খুফফাইন (পৃষ্ঠা: ১৩)
مسح مقيم إن بقي من مدته شيء. قال في المغني (1/293) : وهذا قول الشافعي وأصحاب الرأي ولا أعلم فيه مخالفاً أ. هـ. ورمز لذلك في الفروع (1/168) بالواوإشارة لموافقة الأئمة الثلاثة. قال: وفي المبهج مسح مسافر إن كان مسح مسافراً فوق يوم وليلة أ. هـ. وفي المحلى (2/109) يبتدئ مسح مقيم إن كان قد مسح في السفر يومين وليلتين فأقل وإلا أتم مسح مسافر إن بقي من مدته شيء.

মুকিমের (مقيم) মাসেহ (مسح), যদি তার মেয়াদের কিছু অবশিষ্ট থাকে। আল-মুগনী (১/২৯৩) গ্রন্থে বলা হয়েছে: "এটি শাফিঈ এবং আসহাবুর রায়ের (أصحاب الرأي) অভিমত এবং এ বিষয়ে আমার জানা মতে কোনো ভিন্নমত পোষণকারী (مخالف) নেই।" সমাপ্ত। আল-ফুরু (১/১৬৮) গ্রন্থে একে 'ওয়াও' বর্ণ দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছে যা তিন ইমামের ঐকমত্যের (موافقة) প্রতি ইঙ্গিতবাহী। তিনি বলেছেন: আল-মুবহিজ গ্রন্থে রয়েছে, মুসাফিরের (مسافر) মাসেহ (مسح) প্রযোজ্য হবে যদি তিনি মুসাফির (مسافر) হিসেবে একদিন ও একরাতের বেশি সময় ধরে মাসেহ (مسح) করে থাকেন। সমাপ্ত। আল-মুহাল্লা (২/১০৯) গ্রন্থে রয়েছে, তিনি মুকিমের (مقيم) মাসেহ (مسح) শুরু করবেন যদি তিনি সফরে থাকাকালীন দুই দিন ও দুই রাত বা তার কম সময় মাসেহ (مسح) করে থাকেন, অন্যথায় তিনি মুসাফিরের (مسافر) মাসেহ (مسح) পূর্ণ করবেন যদি তার মেয়াদের কিছু অংশ অবশিষ্ট থাকে।

(খণ্ড: ১) বুহুসুন ওয়া ফাতাওয়া ফিল মাসহি আলাল খুফফাইন (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌البحث الخامس: إذا انتهت مدة المسح أونزع الممسوح فهل تبقى الطهارة أوتنتقض؟

في هذا خلاف بين العلماء. ذكره في المجموع (1/511) .

القول الأول: تبقى طهارته ولا يلزمه شيء، فيصلي بطهارته ما لم يحدث. وقد حكاه ابن المنذر عن الحسن البصري وقتادة وسليمان بن حرب واختاره.
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: যদি মাসেহ (مسح)-এর সময়সীমা শেষ হয়ে যায় অথবা মাসেহকৃত বস্তু খুলে ফেলা হয়, তবে কি পবিত্রতা (طهارة) অবশিষ্ট থাকবে নাকি তা ভঙ্গ (انتقاض) হয়ে যাবে?

এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ (خلاف) রয়েছে। আল-মাজমু (১/৫১১) গ্রন্থে এটি উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রথম মত: সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পবিত্রতা (طهارة) অবশিষ্ট থাকবে এবং তার ওপর নতুন কিছু আবশ্যক হবে না; সুতরাং সে তার পবিত্রতা (طهارة) থাকা অবস্থায় সালাত আদায় করতে পারবে যতক্ষণ না অপবিত্রতা (حدث) ঘটে। ইবনুল মুনযির এটি হাসান বসরী, কাতাদাহ ও সুলাইমান ইবনে হারব থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি এই মতটিকেই পছন্দ করেছেন।
(খণ্ড: ১) বুহুসুন ওয়া ফাতাওয়া ফিল মাসহি আলাল খুফফাইন (পৃষ্ঠা: ১৪)
قال النووي: وهوالمختار الأقوى.

قلت: واختاره ابن حزم (2/94) ونقله في المسألة الأولى (انتهاء المدة) عن إبراهيم النخعي والحسن البصري وابن أبي ليلى وداود وقال: هذا هوالقول الذي لا يجوز غيره.

قال ص (95) : ولومسح قبل انقضاء أحد الأمدين بدقيقة كان له أن يصلي به ما لم يحدث.

وقال عن المسألة الثانية (2/105) إنه قول طائفة من السلف. وهوأيضاً اختيار شيخ الإسلام ابن تيمية في المسألتين.

القول الثاني: يلزمه غسل القدمين فقط، وبه قال عطاء وعلقمة والأسود، وحكي عن النخعي، وهومذهب أبي حنيفة وأصحابه والثوري وأبي ثور والمزني ورواية عن أحمد.

القول الثالث: يلزمه الوضوء، وبه قال مكحول
ইমাম নববী বলেছেন: এটিই মনোনীত (المختار) ও শক্তিশালী (الأقوى) অভিমত।

আমি বলছি: ইবনে হাজম এটিই গ্রহণ করেছেন (২/৯৪) এবং প্রথম মাসআলার (সময়সীমা সমাপ্তি) ক্ষেত্রে তিনি এটি ইব্রাহিম নাখয়ি, হাসান বসরি, ইবনে আবি লায়লা ও দাউদ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: এটিই সেই অভিমত যা ছাড়া অন্য কিছু বৈধ নয়।

তিনি (৯৫ পৃষ্ঠায়) বলেছেন: যদি কেউ নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার এক মিনিট আগেও মাসেহ (المسح) করেন, তবে যতক্ষণ পর্যন্ত তার পবিত্রতা ভঙ্গ (الحدث) না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত তিনি তা দিয়ে সালাত আদায় করতে পারবেন।

এবং তিনি দ্বিতীয় মাসআলার ব্যাপারে (২/১০৫) বলেছেন যে, এটি সালফদের (السلف) একটি দলের অভিমত। আর এটি উভয় মাসআলার ক্ষেত্রে শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ারও মনোনীত (اختيار) মত।

দ্বিতীয় অভিমত: তার জন্য কেবল দুই পা ধৌত করা আবশ্যক, আর আতা, আলকামা ও আসওয়াদ এই মতই পোষণ করেছেন। এটি নাখয়ি থেকেও বর্ণিত হয়েছে। এটি ইমাম আবু হানিফা ও তাঁর অনুসারীগণ, সাওরি, আবু সাওর ও মুজানির মাযহাব (المذهب) এবং আহমাদ থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনা (رواية)।

তৃতীয় অভিমত: তার ওপর অজু (الوضوء) করা আবশ্যক, আর মাকহুল এই কথা বলেছেন।
(খণ্ড: ১) বুহুসুন ওয়া ফাতাওয়া ফিল মাসহি আলাল খুফফাইন (পৃষ্ঠা: ১৫)
والنخعي والزهري وابن أبي ليلى والأوزاعي والحسن ابن صالح وإسحاق، وهوأصح الروايتين عن أحمد.

القول الرابع: يلزمه الوضوء إن طال الفصل بين النزع وغسل الرجلين وإلا كفاه غسل الرجلين، وبه قال مالك والليث.

وإلى هنا تم ما أردنا كتابته، فنسأل الله تعالى أن ينفع بها إنه جواد كريم.

ثم ذلك في يوم الأربعاء الموافق 16 ربيع الثاني عام 1407 هـ.

بقلم كاتبه

محمد الصالح العثيمين
...এবং নাখয়ি, যুহরি, ইবনে আবি লায়লা, আওজায়ি, হাসান ইবনে সালিহ এবং ইসহাক; আর এটিই ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত দুটি বর্ণনার মধ্যে অধিক বিশুদ্ধ (أصح الروايتين)।

চতুর্থ মত: যদি (মোজা) খোলা এবং দুই পা ধোয়ার মাঝে সময়ের ব্যবধান দীর্ঘ হয়, তবে তার ওপর ওজু (الوضوء) করা আবশ্যক হবে; অন্যথায় কেবল দুই পা ধোয়াই তার জন্য যথেষ্ট হবে। ইমাম মালিক এবং লাইস এই মতই পোষণ করেছেন।

আমরা যা লিখতে চেয়েছিলাম তা এখানেই সমাপ্ত হলো। আমরা মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এর মাধ্যমে উপকার দান করেন; নিশ্চয়ই তিনি মহান দাতা ও দয়ালু।

এটি সম্পন্ন হয়েছে বুধবার, ১৬ই রবিউস সানি, ১৪০৭ হিজরি মোতাবেক।

লেখকের লেখনীতে

মুহাম্মদ আস-সালিহ আল-উসাইমিন
(খণ্ড: ১) বুহুসুন ওয়া ফাতাওয়া ফিল মাসহি আলাল খুফফাইন (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌ثانياً: مسائل في المسح على الخفين.

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على نبينا محمد وعلى آله وأصحابه أجمعين،أما بعد:

فهذه مسائل في المسح على الخفين اقتصرت فيها على ما رأيته صواباً بمقتضى الأدلة الشرعية، أسأل الله تعالى أن تكون خالصة لله صواباً على شريعة الله.

1 – اختلف العلماء رحمهم الله تعالى في جواز المسح على الخف المخرق. والصحيح جوازه مادام اسم الخف باقياً، وهوقول ابن المنذر، وحكاه عن الثوري، وإسحاق، ويزيد بن هارون، وأبي ثور، وبه قال شيخ الإسلام ابن تيمية مادام اسم الخف باقياً والمشي به ممكناً.

2 – ويجوز المسح على الخف الرقيق على القول الصحيح. قال النووي: حكى أصحابنا عن عمر وعلي رضي الله عنهما جواز المسح على الجورب وإن كان رقيقاً، وحكوه عن أبي يوسف ومحمد وإسحاق
দ্বিতীয়ত: চামড়ার মোজার ওপর মাসেহ সংক্রান্ত মাসআলাসমূহ.

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার ও সকল সঙ্গীদের ওপর। অতঃপর:

চামড়ার মোজার ওপর মাসেহ সংক্রান্ত এই মাসআলাগুলোতে আমি কেবল সেই বিষয়গুলো উল্লেখ করেছি যা শরয়ি দলীলের ভিত্তিতে আমার কাছে সঠিক মনে হয়েছে। আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, এটি যেন কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে হয় এবং আল্লাহর শরীয়ত অনুযায়ী সঠিক হয়।

১ – আলেমগণ (রাহিমাহুমুল্লাহ) ছিদ্রযুক্ত চামড়ার মোজার ওপর মাসেহ করার বৈধতা প্রসঙ্গে মতভেদ করেছেন। বিশুদ্ধ (الصحيح) মত হলো, যতক্ষণ পর্যন্ত একে চামড়ার মোজা হিসেবে গণ্য করা যায়, ততক্ষণ পর্যন্ত এর ওপর মাসেহ করা বৈধ। এটি ইবনুল মুনযিরের অভিমত এবং তিনি এটি সাওরি, ইসহাক, ইয়াযিদ বিন হারুন ও আবু সাওর থেকে বর্ণনা করেছেন। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহও একই মত পোষণ করেছেন যে, যতক্ষণ একে চামড়ার মোজা বলা যায় এবং তা পরিধান করে হাঁটা সম্ভব হয় (ততক্ষণ মাসেহ বৈধ)।

২ – বিশুদ্ধ (الصحيح) অভিমত অনুযায়ী পাতলা মোজার ওপর মাসেহ করা জায়েজ। ইমাম নববী বলেছেন: আমাদের অনুসারীগণ উমর ও আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে মোজা পাতলা হলেও তার ওপর মাসেহ করার বৈধতার কথা বর্ণনা করেছেন এবং তাঁরা এটি আবু ইউসুফ, মুহাম্মদ ও ইসহাক থেকেও বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) বুহুসুন ওয়া ফাতাওয়া ফিল মাসহি আলাল খুফফাইন (পৃষ্ঠা: ১৭)
وداود. وقال الصحيح بل الصواب ما ذكره القاضي أبوالطيب والقفال وجماعات من المحققين أنه إن أمكن متابعة المشي عليه جاز كيف كان وإلا فلا.

3 – مدة المسح على يوم وليلة للمقيم، وثلاثة أيام بلياليها للمسافر. وابتداء المدة من أول مرة مسح بعد الحدث على القول الصحيح وهوإحدى الروايتين عن احمد، وبه قال الأوزاعي وأبوثور، واختاره ابن المنذر وحكى نحوه عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه.

قال النووي: وهوالمختار الراجح دليلاً.

4 – إذا لبس في الحضر ثم سافر قبل أن يحدث فمسحه مسح مسافر.

5 – إذا لبس في السفر ثم أقام قبل أن يحدث فمسحه مسح مقيم.

6 – إذا لبس في الحضر فأحدث ثم سافر قبل ان يمسح فمسحه مسح مسافر.
...এবং দাউদ। আর বিশুদ্ধ (الصحيح) মত, বরং সঠিক (الصواب) বিষয়টি হলো যা কাজী আবু আল-তৈয়্যিব, আল-কাফফাল এবং একদল গবেষকগণ (المحققين) উল্লেখ করেছেন যে, যদি তার ওপর নিরবচ্ছিন্নভাবে চলা সম্ভব হয়, তবে তা যেভাবেই হোক বৈধ, নতুবা নয়।

৩ – মাসেহ (المسح) করার সময়সীমা হলো মুকিম (المقيم) বা অবস্থানকারীর জন্য একদিন ও এক রাত এবং মুসাফির (المسافر) বা সফরকারীর জন্য তিন দিন ও তিন রাত। বিশুদ্ধ (الصحيح) মত অনুযায়ী সময়সীমা শুরু হবে অপবিত্রতা (الحدث) অর্জনের পর প্রথমবার মাসেহ করার সময় থেকে। এটি ইমাম আহমদ থেকে বর্ণিত দুটি বর্ণনার (الروايتين) একটি। ইমাম আওযাঈ এবং আবু সওর এ কথা বলেছেন, ইবনুল মুনযির এটিই পছন্দ করেছেন এবং উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

ইমাম নববী বলেন: দলীল বা প্রমাণের দিক থেকে এটিই মনোনীত (المختار) ও অগ্রগণ্য (الراجح) মত।

৪ – যদি কেউ অবস্থানকালে (الحضر) মোজা পরিধান করে, অতঃপর অপবিত্র হওয়ার পূর্বেই সফরে (سافر) বের হয়, তবে তার মাসেহ হবে মুসাফিরের (مسافر) মাসেহের মতো।

৫ – যদি কেউ সফর (السفر) অবস্থায় মোজা পরিধান করে, অতঃপর অপবিত্র হওয়ার পূর্বেই গন্তব্যে অবস্থান (أقام) গ্রহণ করে, তবে তার মাসেহ হবে মুকিমের (مقيم) মাসেহের মতো।

৬ – যদি কেউ অবস্থানকালে (الحضر) মোজা পরিধান করে এবং অপবিত্র (أحدث) হয়, অতঃপর মাসেহ (يمسح) করার পূর্বেই সফরে (سافر) বের হয়, তবে তার মাসেহ হবে মুসাফিরের (مسافر) মাসেহের মতো।
(খণ্ড: ১) বুহুসুন ওয়া ফাতাওয়া ফিল মাসহি আলাল খুফফাইন (পৃষ্ঠা: ১৮)
7 – إذا لبس في السفر فأحدث ثم أقام قبل أن يمسح فمسحه مسح مقيم.

8 – إذا لبس في الحضر فأحدث ومسح ثم سافر قبل أن تنتهي مدة المسح أتم مسح مسافر على القول الصحيح، وهومذهب أبي حنيفة، والرواية التي رجع إليها أحمد عن قوله يتم مسح مقيم. قال في الفائق: وهوالنص المتأخر – يعني عن أحمد – وهوالمختار. أ. هـ.

وإن انتهت مدة املسح قبل أن يسافر وجب عليه عند الوضوء خلعهما وغسل الرجلين.

9 – إذا لبس في السفر فأحدث ومسح ثم أقام أتم مسح مقيم إن بقي من المدة شيء وإلا خلع. قال في المغني: لا أعلم فيه مخالفاً.

10 – إذا لبس جورباً أوخفاً ثم لبس عليه آخر قبل أن يحدث فله مسح أيهما شاء.
৭ – যদি সফরে থাকা অবস্থায় পরিধান করে এবং অপবিত্রতা অর্জন করে, অতঃপর মাসাহ করার পূর্বেই মুকিম হয়ে যায়, তবে তার মাসাহ হবে মুকিমের মাসাহর মতো।

৮ – যদি মুকিম অবস্থায় পরিধান করে এবং অপবিত্রতা অর্জনের পর মাসাহ করে, অতঃপর মাসাহর মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বেই সফরে বের হয়, তবে বিশুদ্ধ (صحيح) মত অনুযায়ী সে মুসাফিরের মাসাহ পূর্ণ করবে। এটিই আবু হানিফার মাযহাব এবং এটিই সেই বর্ণনা (رواية) যার দিকে ইমাম আহমাদ তাঁর ‘মুকিমের মাসাহ পূর্ণ করবে’ শীর্ষক মতটি থেকে ফিরে এসেছেন। আল-ফায়িক গ্রন্থে বলা হয়েছে: এটি ইমাম আহমাদের পরবর্তী বক্তব্য এবং এটিই মনোনীত। সমাপ্ত।

আর যদি সফরে বের হওয়ার আগেই মাসাহর মেয়াদ শেষ হয়ে যায়, তবে ওজু করার সময় মোজা খুলে উভয় পা ধৌত করা তার ওপর আবশ্যক হবে।

৯ – যদি সফরে থাকা অবস্থায় পরিধান করে এবং অপবিত্রতা অর্জনের পর মাসাহ করে, অতঃপর মুকিম হয়ে যায়, তবে মেয়াদের কিছু সময় অবশিষ্ট থাকলে সে মুকিমের মাসাহ পূর্ণ করবে, অন্যথায় তা খুলে ফেলবে। আল-মুগনি গ্রন্থে বলা হয়েছে: এই বিষয়ে আমার জানা মতে কোনো দ্বিমত নেই।

১০ – যদি কেউ মোজা বা খফ পরিধান করে এবং অপবিত্রতা অর্জনের পূর্বেই তার ওপর অন্য একটি পরিধান করে, তবে সে চাইলে দুটির যেকোনোটির ওপর মাসাহ করতে পারে।
(খণ্ড: ১) বুহুসুন ওয়া ফাতাওয়া ফিল মাসহি আলাল খুফফাইন (পৃষ্ঠা: ১৯)
11 – إذا لبس جورباً أوخفاً ثم أحدث ثم لبس عليه آخر قبل أن يتوضأ فالحكم للأول.

12 – إذا لبس جورباً أوخفاً ثم أحدث ومسحه، ثم لبس عليه آخر فله مسح الثاني على القول الصحيح.

قال في الفروع: ويتوجه الجواز وفاقاً.أ. هـ.

وقال النووي: إن هذا هوالأظهر المختار، لأنه لبس على طهارة وقولهم إنها طهارة ناقصة غير مقبول.أ. هـ. وإذا قلنا بذلك كان ابتداء المدة من مسح الأول.

13– إذا لبس خفاً على خف أوجورب ومسح الأعلى ثم خلعه، فهل يمسح بقية المدة على الأسفل

لم أر من صرح به لكن ذكر النووي عن أبي العباس بن سريج فيما إذا لبس الجرموق على الخف ثلاثة معان: منها أنهما يكونان كخف واحد، الأعلى ظهارة والأسفل بطانة.
১১ – যদি কেউ মোজা বা চামড়ার মোজা পরিধান করার পর অজু ভঙ্গ করে, অতঃপর অজু করার পূর্বেই তার ওপর অন্য একটি মোজা পরিধান করে, তবে বিধান প্রথমটির জন্যই কার্যকর হবে।

১২ – যদি কেউ মোজা বা চামড়ার মোজা পরিধান করার পর অজু ভঙ্গ করে এবং তা মাসেহ করে, অতঃপর তার ওপর অন্য আরেকটি মোজা পরিধান করে, তবে সঠিক (صحيح) মতানুযায়ী সে দ্বিতীয়টির ওপরও মাসেহ করতে পারবে।

'আল-ফুরু' গ্রন্থে বলা হয়েছে: সর্বসম্মতিক্রমে এর বৈধতা যুক্তিযুক্ত। (সমাপ্ত)।

ইমাম নববী বলেন: "এটিই অধিকতর স্পষ্ট (الأظهر) এবং মনোনীত (المختار) মত; কারণ সে পবিত্রতা (طهارة) অর্জিত অবস্থায় তা পরিধান করেছে। আর এটি যে অপূর্ণ পবিত্রতা (طهارة), তাদের এই উক্তি গ্রহণযোগ্য নয়।" (সমাপ্ত)। যদি আমরা এই মত গ্রহণ করি, তবে সময়সীমার গণনা প্রথমটি মাসেহ করার সময় থেকে শুরু হবে।

১৩– যদি কেউ চামড়ার মোজার ওপর চামড়ার মোজা অথবা কাপড়ের মোজা পরিধান করে এবং উপরেরটির ওপর মাসেহ করে, অতঃপর তা খুলে ফেলে, তবে কি সে মেয়াদের অবশিষ্ট সময় নিচেরটির ওপর মাসেহ করতে পারবে?

আমি কাউকে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট বক্তব্য প্রদান করতে দেখিনি, তবে ইমাম নববী আবু আব্বাস বিন সুরাইজ থেকে চামড়ার মোজার ওপর 'জারমুক' (এক প্রকার উপরি-জুতা) পরিধানের ক্ষেত্রে তিনটি ব্যাখ্যার কথা উল্লেখ করেছেন: তার মধ্যে একটি হলো, উভয়টি মিলে একটি মোজা হিসেবে গণ্য হবে, যার ওপরের অংশটি বহিঃস্তর এবং নিচের অংশটি হবে অভ্যন্তরীণ স্তর।
(খণ্ড: ১) বুহুসুন ওয়া ফাতাওয়া ফিল মাসহি আলাল খুফফাইন (পৃষ্ঠা: ২০)
قلت: وبناء عليه يجوز أن يمسح على الأسفل حتى تنتهي المدة من مسحه على الأعلى كما لوكشطت ظهارة الخف فإنه يمسح على بطانته.

14 – إذا خلع الخف أوالجورب بعد مسحه لم تنتقض طهارته بذلك، فيصلي ما شاء حتى يحدث على القول الصحيح، حكاه ابن المنذر عن جماعة من التابعين، واختاره وحكاه ابن حزم عن طائفة من السلف. قال النووي: وهوالمختار الأقوى واختاره أيضاً شيخ الإسلام ابن تيمية.

15 – إذا تمت مدة المسح لم تنتقض طهارته بذلك فيصلي ما شاء حتى يحدث على القول الصحيح، واختاره من اختار عدم النقض في المسألة التي قبلها قال ابن حزم: وهوالقول الذي لا يجوز غيره. وقال أيضاً: لومسح قبل انقضاء أحد الأمدين – يعني أمدي المسافر والمقيم – بدقيقة فإن له أن يصلي به ما لم
আমি বলি: এর ভিত্তিতে, উপরের মোজার ওপর মাসেহ করার সময় থেকে মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিচের অংশের ওপর মাসেহ করা বৈধ হবে, ঠিক যেমন মোজার উপরিভাগের চামড়া যদি উঠে যায় তবে তার ভিতরের স্তরের ওপর মাসেহ করা হয়।

১৪ – মাসেহ করার পর চামড়ার মোজা বা সাধারণ মোজা খুলে ফেললে তার দ্বারা পবিত্রতা (طهارة) নষ্ট হয় না। সুতরাং বিশুদ্ধ মত (قول صحيح) অনুযায়ী অজু ভঙ্গ (حدث) হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সে ইচ্ছামতো সালাত আদায় করতে পারবে। ইবনুল মুনজির একদল তাবেয়ি (تابعين) থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে হাজম একদল সালাফ (سلف) থেকে এটি বর্ণনা ও পছন্দ করেছেন। ইমাম নববী বলেন: এটিই অধিক শক্তিশালী ও পছন্দনীয় মত এবং শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহও এটি পছন্দ করেছেন।

১৫ – মাসেহর মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে তার দ্বারা পবিত্রতা (طهارة) নষ্ট হয় না। সুতরাং বিশুদ্ধ মত (قول صحيح) অনুযায়ী অজু ভঙ্গ (حدث) হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সে ইচ্ছামতো সালাত আদায় করতে পারবে। যারা পূর্ববর্তী মাসআলায় পবিত্রতা ভঙ্গ না হওয়ার মতটি পছন্দ করেছেন, তাঁরাই এখানে এটি পছন্দ করেছেন। ইবনে হাজম বলেন: এটিই সেই মত যা ব্যতীত অন্য কিছু বৈধ নয়। তিনি আরও বলেন: যদি কেউ দুই মেয়াদের—অর্থাৎ মুসাফির ও মুকিমের মেয়াদের—যেকোনো একটি শেষ হওয়ার এক মিনিট আগেও মাসেহ করে, তবে সে তা দিয়ে সালাত আদায় করতে পারবে যতক্ষণ না...
(খণ্ড: ১) বুহুসুন ওয়া ফাতাওয়া ফিল মাসহি আলাল খুফফাইন (পৃষ্ঠা: ২১)
يحدث أ. هـ.

والله أعلم، وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وأصحابه وأتباعه إلى يوم الدين.

حرر في 7 من ربيع الثاني عام أحد عشر وأربعمائة وألف 7/4/1411 هـ على يد محرره محمد الصالح العثيمين، والحمد لله رب العالمين.

* * *
বর্ণনা করেন (يحدث)। সমাপ্ত (أ. هـ.)

আর আল্লাহ-ই সমধিক অবগত। আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ, তাঁর সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত তাঁদের অনুসারীদের ওপর আল্লাহর পক্ষ থেকে সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক।

৭ই রবিউস সানি ১৪১১ হিজরি মোতাবেক ৭/৪/১৪১১ হিজরি তারিখে এর লেখক মুহাম্মাদ আস-সালেহ আল-উসাইমিনের হাতে এটি সম্পাদিত হয়েছে। আর সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

* * *
(খণ্ড: ১) বুহুসুন ওয়া ফাতাওয়া ফিল মাসহি আলাল খুফফাইন (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌ثالثا: فتاوي في المسح على الخفين

‌‌مدخل

…

ثالثا: فتاوي في المسح على الخفين

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رب العالمين، واصلي وأسلم على نبينا محمد، وعلى آله وأصحابه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين، وبعد.

فقد سمعت جواب هذه الأسئلة التي وجهت إلي في باب مسح الخفين والعمائم والجبيرة، وكانت مطابقة للجواب الذي صدر مني على المسجل، وأدخلت عليها شيئاً يسيراً من التعديلات، وقد أذنت بطبعها لمن أراد أن يطبعها بشرط العناية بالتصحيح وأن لا يحتفظ بحقوق الطبع لنفسه ولا لغيره.

وأسال الله للجميع التوفيق والقبول.

قال ذلك كاتبه

محمد الصالح العثيمين

في 19/5/1410 هـ
তৃতীয়: চামড়ার মোজার (خفين) ওপর মাসেহ সংক্রান্ত ফতোয়াসমূহ

ভূমিকা

…

তৃতীয়: চামড়ার মোজার (خفين) ওপর মাসেহ সংক্রান্ত ফতোয়াসমূহ

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁদের ওপর। অতঃপর:

চামড়ার মোজা (خفين), পাগড়ি (عمائم) এবং ব্যান্ডেজের (جبيرة) ওপর মাসেহ করার অধ্যায়ে আমার নিকট যেসব প্রশ্ন করা হয়েছিল, আমি তার উত্তরগুলো শুনেছি। এগুলো রেকর্ডারে সংরক্ষিত আমার প্রদত্ত উত্তরগুলোর অনুরূপ ছিল এবং আমি এতে সামান্য কিছু পরিমার্জন করেছি। যারা এটি মুদ্রণ করতে চান, আমি তাঁদের অনুমতি প্রদান করেছি; শর্ত হলো—সংশোধনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত যত্নশীল হতে হবে এবং নিজের বা অন্য কারো জন্য এর মুদ্রণস্বত্ব সংরক্ষণ করা যাবে না।

আমি সকলের জন্য আল্লাহর নিকট তাওফিক এবং কবুলিয়াত প্রার্থনা করছি।

ইতি, লেখক—

মুহাম্মদ সালেহ আল-উসাইমীন

১৯/০৫/১৪১০ হিজরী
(খণ্ড: ১) বুহুসুন ওয়া ফাতাওয়া ফিল মাসহি আলাল খুফফাইন (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌المسح على الخفين

س1/ ما المقصود بالخفاف والجوارب؟

جـ1/ الحمد لله رب العالمين، واصلي وأسلم على نبينا محمد، وعلى آله وأصحابه أجمعين.

المقصود بالخفاف ما يلبس على الرجل من جلد ونحوه.

والمقصود بالجوارب ما يلبس عليها من قطن ونحوه، وهوما يعرف بالشراب.

* * *

س2/ ما حكم المسح على الخفاف والجوارب وما دليل مشروعية ذلك من الكتاب والسنة؟

جـ2 / المسح عليهما هوالسنة التي جاءت عن
চামড়ার মোজার (خفين) ওপর মাসাহ করা

প্রশ্ন ১/ মোজা (خفاف) এবং সাধারণ মোজা (جوارب) বলতে কী বোঝায়?

উত্তর ১/ সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আমি আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীদের ওপর সালাত ও সালাম পেশ করছি।

মোজা (خفاف) বলতে যা চামড়া বা অনুরূপ বস্তু দ্বারা তৈরি এবং যা পায়ে পরিধান করা হয় তাকে বোঝায়।

আর সাধারণ মোজা (جوارب) বলতে যা তুলা বা অনুরূপ বস্তু দ্বারা তৈরি এবং যা পায়ের ওপর পরিধান করা হয় তাকে বোঝায়; যা সাধারণত 'শারাব' (মোজা) নামে পরিচিত।

* * *

প্রশ্ন ২/ মোজা (خفاف) এবং সাধারণ মোজার (جوارب) ওপর মাসাহ করার বিধান কী এবং কুরআন ও সুন্নাহ থেকে এর বৈধতার দলিল কী?

উত্তর ২/ এ দুটির ওপর মাসাহ করা হলো সুন্নাহ (سنة), যা বর্ণিত হয়েছে...
(খণ্ড: ১) বুহুসুন ওয়া ফাতাওয়া ফিল মাসহি আলাল খুফফাইন (পৃষ্ঠা: ২৪)
رسول الله صلى الله عليه وسلم فالمسح عليهما أفضل من خلعهما لغسل الرجل.

ودليل ذلك: حديث المغيرة بن شعبة رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم توضأ، قال المغيرة: فاهويت لأنزع خفيه فقال: "دعهما فإني أدخلتهما طاهرتين" فمسح عليهما (1) .

ومشروعية المسح على الخفين ثابتة في كتاب الله وسنة رسول الله صلى الله عليه سلم.

أما كتاب الله ففي قوله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلاةِ فَاغْسِلُوا وجُوهَكُمْ وأَيْدِيَكُمْ إِلَى الْمَرَافِقِ وامْسَحُوا بِرُؤُوسِكُمْ وأَرْجُلَكُمْ إِلَى الْكَعْبَيْنِ} "المائدة: من الآية6" فإن قوله تعالى: {وأَرْجُلَكُمْ} فيها قراءتان سبعيتان عن رسول الله صلى الله عليه وسلم:

إحداهما: {وأَرْجُلَكُمْ} .بالنصب عطفاً على قوله: {وجُوهَكُمْ} . فتكون الرجلان مغسولتين.

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري، كتاب الوضوء (206) ومسلم، كتاب الطهارة (274) .
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ক্ষেত্রে চামড়ার মোজার ওপর মাসেহ করা তা খুলে পা ধোয়ার চেয়ে উত্তম।

এর দলিল হলো: মুগিরা বিন শু'বা (রাদিআল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অজু করলেন। মুগিরা বলেন: আমি তাঁর চামড়ার মোজা জোড়া খুলে ফেলার জন্য নিচু হলাম, তখন তিনি বললেন: "এগুলো থাকতে দাও, কারণ আমি পবিত্র অবস্থায় এ দু’টি পরিধান করেছি।" এরপর তিনি সেগুলোর ওপর মাসেহ করলেন (১)।

আর চামড়ার মোজার ওপর মাসেহ করার বিধান আল্লাহর কিতাব এবং আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত (ثابتة)।

আল্লাহর কিতাবে এর প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {হে মুমিনগণ, যখন তোমরা সালাতের জন্য প্রস্তুত হবে, তখন তোমরা তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাতগুলো কনুই পর্যন্ত ধৌত করো এবং তোমাদের মাথা মাসেহ করো এবং তোমাদের পাগুলো টাখনু পর্যন্ত (ধৌত করো)} "আল-মায়িদাহ: আয়াত ৬-এর অংশ"। মহান আল্লাহর বাণী: {وأَرْجُلَكُمْ} অংশে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত দু’টি সাব'আ কিরাত (قراءتان سبعيتان) রয়েছে:

তার মধ্যে একটি হলো: {وأَرْجُلَكُمْ}। নসব (نصب) যোগে, যা {وجُوهَكُمْ} শব্দের ওপর সমম্বিত হয়েছে। ফলে এমতাবস্থায় উভয় পা ধৌত করা সাব্যস্ত হয়।

--------------------------------------------

(১) এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি, অজু অধ্যায় (২০৬) এবং মুসলিম, পবিত্রতা অধ্যায় (২৭৪)।
(খণ্ড: ১) বুহুসুন ওয়া ফাতাওয়া ফিল মাসহি আলাল খুফফাইন (পৃষ্ঠা: ২৫)
والثانية: {وأَرْجُلَكُمْ} . بالجر عطفاً على: {بِرُؤُوسِكُمْ} . فتكون الرجلان ممسوحتين. والذي بين أن الرجل ممسوحة أومغسولة هي السنة، فكان الرسول صلى الله عليه وسلم إذا كانت رجلاه مكشوفتين يغسلهما، وإذا كانتا مستورتين بالخفاف يمسح عليهما.

وأما دلالة السنة على ذلك فالسنة متواترة في هذا عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، قال الإمام أحمد رحمه الله: ليس في قلبي من المسح شيء. فيه أربعون حديثاً عن رسول الله صلى الله عليه وسلم وأصحابه، ومما يذكر من النظم قول الناظم:

مما تواتر حديث من كذب

…

ومن بنى الله بيتاً واحتسب

ورؤية شفاعة والحوض

…

ومسح خفين وهذي بعض

فهذا دليل مسحهما من كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم.
দ্বিতীয়ত: {তোমাদের পা-সমূহ}। শব্দটি {তোমাদের মাথা-সমূহ} এর সাথে অন্বয় হওয়ার কারণে যের-বিশিষ্ট হয়েছে। ফলে পা দুটি মাসেহযোগ্য হিসেবে পরিগণিত হয়। আর পা মাসেহ করা হবে নাকি ধৌত করা হবে তা সুন্নাহ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন পা অনাবৃত রাখতেন তখন তা ধৌত করতেন, আর যখন পা মোজা দ্বারা আবৃত থাকত তখন তার ওপর মাসেহ করতেন।

এ বিষয়ে সুন্নাহর প্রামাণিকতার কথা বলতে গেলে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এ সংক্রান্ত সুন্নাহ নিরবচ্ছিন্ন (متواترة)। ইমাম আহমাদ (রহ.) বলেন: "মাসেহ করার ব্যাপারে আমার অন্তরে কোনো সংশয় নেই। এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীদের থেকে চল্লিশটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে।" এ প্রসঙ্গে কাব্যগাথা থেকে কবির উক্তিটি উল্লেখযোগ্য:

নিরবচ্ছিন্ন (متواتر) হাদিসসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো—'যে ব্যক্তি (আমার ওপর) মিথ্যা আরোপ করবে' হাদিসটি

…

এবং 'যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় ঘর (মসজিদ) নির্মাণ করবে'

আর (পরকালে আল্লাহর) দর্শন, সুপারিশ ও হাওয সংক্রান্ত হাদিসসমূহ

…

এবং চামড়ার মোজার ওপর মাসেহ করা; আর এগুলো হলো তার কিয়দাংশ মাত্র।

সুতরাং এটি হলো আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ থেকে মাসেহ করার প্রমাণ।
(খণ্ড: ১) বুহুসুন ওয়া ফাতাওয়া ফিল মাসহি আলাল খুফফাইন (পৃষ্ঠা: ২৬)
س3/ ما هي الشروط الثابتة الصحيحة للمسح على الخفين مع الأدلة على ذلك؟

جـ3/ يشترط للمسح على الخفين أربعة شروط:

الشرط الأول: أن يكون لابساً لهما على طهارة، ودليل ذلك قول النبي صلى الله عليه وسلم للمغيرة بن شعبة: "دعهما فإني أدخلتهما طاهرتين".

الشرط الثاني: أن يكون الخفان أوالجوارب طاهرة، فإن كانت نجسة فإنه لا يجوز المسح عليها، ودليل ذلك أن رسول الله صلى الله عليه وسلم صلى ذات يوم باصحابه وعليه نعلان فخلعهما في أثناء صلاته، وأخبر ان جبريل أخبره بأن فيهما أذى أوقذراً"1"، وهذا يدل على أنه لا تجوز الصلاة فيما فيه نجاسة ولأن النجس إذا مسح عليه بالماء تلوث الماسح بالنجاسة، فلا يصح أن يكون مطهرا. ً.

--------------------------------------------

رواه أبوداود، كتاب الصلاة "650".
প্রশ্ন ৩/ মোজার ওপর মাসেহ করার প্রমাণিত (ثابتة) ও বিশুদ্ধ (صحيحة) শর্তগুলো কী কী এবং সেগুলোর সপক্ষে দলিল কী?

উত্তর ৩/ মোজার ওপর মাসেহ করার জন্য চারটি শর্ত রয়েছে:

প্রথম শর্ত: পবিত্রতা অর্জন করার পর মোজা পরিধান করা। এর দলিল হলো মুগীরা ইবনে শু'বা (রাযি.)-এর প্রতি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: "সেগুলো থাকতে দাও, কারণ আমি পবিত্র অবস্থায় পা দুটি মোজার ভেতরে প্রবেশ করিয়েছি।"

দ্বিতীয় শর্ত: মোজা বা মোজা সদৃশ আবরণসমূহ পবিত্র হওয়া। যদি সেগুলো অপবিত্র হয়, তবে তার ওপর মাসেহ করা জায়েয হবে না। এর দলিল হলো, একদিন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর সাহাবীদের নিয়ে সালাত আদায় করছিলেন এবং তখন তাঁর পায়ে এক জোড়া জুতো ছিল। সালাত চলাকালীন তিনি সেগুলো খুলে ফেললেন এবং জানালেন যে, জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) তাঁকে সংবাদ দিয়েছেন যে ওই জুতোদ্বয়ে ময়লা বা অপবিত্রতা রয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে, অপবিত্রতাযুক্ত কোনো কিছু পরিধান করে সালাত আদায় করা জায়েয নয়। তাছাড়া অপবিত্র জিনিসের ওপর পানি দিয়ে মাসেহ করা হলে মাসেহকারী হাত অপবিত্রতার সংস্পর্শে দূষিত হয়ে পড়বে, ফলে তা আর পবিত্রকারী হিসেবে গণ্য হতে পারে না।

--------------------------------------------

সুনান আবু দাউদ, কিতাবুস সালাত "৬৫০"।
(খণ্ড: ১) বুহুসুন ওয়া ফাতাওয়া ফিল মাসহি আলাল খুফফাইন (পৃষ্ঠা: ২৭)
والشرط الثالث: أن يكون مسحهما في الحدث الأصغر لا في الجنابة أوما يوجب الغسل، ودليل ذلك حديث صفوان بن عسال رضي الله عنه قال: أمرنا رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا كنا سفراً ألا ننزع خفافنا ثلاثة أيام ولياليهن إلا من جنابة ولكن من غائط وبول ونوم "1".

فيشترط أن يكون المسح في الحدث الأكبر لهذا الحديث الذي ذكرناه.

الشرط الرابع: أن يكون المسح في الوقت المحدد شرعاً،وهويوم وليلة للمقيم، وثلاثة أيام بلياليهن للمسافر، لما روى علي بن أبي طالب رضي الله عنه قال: جعل النبي صلى الله عليه وسلم للمقيم يوماً وليلة، وللمسافر ثلاثة أيام ولياليهن، يعني في المسح على الخفين." أخرجه مسلم "2".

--------------------------------------------

1 رواه الترمذي، كتاب الطهارة "96"، والنسائي، كتاب الطهارة "127" وابن ماجه، كتاب الطهارة "478".

2 كتاب الطهارة "276".
আর তৃতীয় শর্ত হলো: মোজা দুটির ওপর মাসাহ করা হতে হবে ছোট অপবিত্রতার (الحدث الأصغر) ক্ষেত্রে, জানাবাত (الجنابة) বা এমন কোনো কারণে নয় যা গোসল (الغسل) ওয়াজিব করে। এর দলিল হলো সাফওয়ান বিন আসসাল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের নির্দেশ দিতেন যখন আমরা সফরে থাকতাম, তখন আমরা যেন তিন দিন ও তিন রাত আমাদের চামড়ার মোজা (خفافنا) না খুলি; তবে জানাবাত (الجنابة) অবস্থা ব্যতীত। কিন্তু পায়খানা, প্রস্রাব ও ঘুমের কারণে (খোলার প্রয়োজন নেই)।" "১"৷

সুতরাং আমরা যে হাদিসটি উল্লেখ করেছি তার ভিত্তিতে শর্ত হলো মাসাহ যেন বড় অপবিত্রতার (الحدث الأكبر) ক্ষেত্রে না হয়।

চতুর্থ শর্ত: মাসাহ হতে হবে শরয়িভাবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে। আর তা হলো মুকিমের (অবস্থানকারী) জন্য এক দিন ও এক রাত এবং মুসাফিরের (ভ্রমণকারী) জন্য তিন দিন ও তিন রাত। এর দলিল হলো আলী ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুকিমের জন্য এক দিন ও এক রাত এবং মুসাফিরের জন্য তিন দিন ও তিন রাত নির্ধারণ করেছেন; অর্থাৎ চামড়ার মোজার (الخفين) ওপর মাসাহ করার ক্ষেত্রে।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন "২"৷

--------------------------------------------

১. তিরমিজি বর্ণনা করেছেন, পবিত্রতা অধ্যায় "৯৬", নাসায়ি, পবিত্রতা অধ্যায় "১২৭" এবং ইবনে মাজাহ, পবিত্রতা অধ্যায় "৪৭৮"৷

২. পবিত্রতা অধ্যায় "২৭৬"৷