(খণ্ড: ১) বি-আইয়ি আকলিন ওয়া দীনিন ইয়াকুনুত তাফজীরু ওয়াত তাদমীরু জিহাদান?! ওয়াইহাকুম ... আফিকু ইয়া শাবাব!! (পৃষ্ঠা: -)
بأي عقل ودين يكون التفجير والتدمير جهادا؟! ويحكم ... أفيقوا يا شباب!!   (عبد المحسن العباد)

القسم: كتب عامة


الكتاب: بأي عقل ودين يكون التفجير والتدمير جهادا؟! ويحكم … أفيقوا يا شباب!!

المؤلف: عبد المحسن بن حمد بن عبد المحسن بن عبد الله بن حمد العباد البدر

الناشر: مطبعة سفير، الرياض، المملكة العربية السعودية

الطبعة: الأولى، 1424هـ/2003م

عدد الصفحات: 37

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

কোন বিবেক ও ধর্মের ভিত্তিতে বিস্ফোরণ ও ধ্বংসলীলা জিহাদ হতে পারে?! তোমাদের ধ্বংস হোক... হে যুবক সমাজ, তোমরা জাগ্রত হও!!   (আব্দুল মুহসিন আল-আব্বাদ)

বিভাগ: সাধারণ কিতাবসমূহ


কিতাব: কোন বিবেক ও ধর্মের ভিত্তিতে বিস্ফোরণ ও ধ্বংসলীলা জিহাদ হতে পারে?! তোমাদের ধ্বংস হোক... হে যুবক সমাজ, তোমরা জাগ্রত হও!!

লেখক: আব্দুল মুহসিন বিন হামাদ বিন আব্দুল মুহসিন বিন আব্দুল্লাহ বিন হামাদ আল-আব্বাদ আল-বদর

প্রকাশক: সাফির প্রেস، রিয়াদ، সৌদি আরব রাজতন্ত্র

সংস্করণ: প্রথম، ১৪২৪ হিজরি/২০০৩ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৭

[কিতাবটির পৃষ্ঠা বিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) বি-আইয়ি আকলিন ওয়া দীনিন ইয়াকুনুত তাফজীরু ওয়াত তাদমীরু জিহাদান?! ওয়াইহাকুম ... আফিকু ইয়া শাবাব!! (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌بأيِّ عقل ودين يكون التفجير والتدمير جهاداً وَيحَكم أفيقوا يا شباب

‌‌إعداد: عبد المحسن بن حمد العباد البدر

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيِّئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضلَّ له، ومَن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلَاّ الله وحده لا شريك له، وأشهد أنَّ محمداً عبده ورسوله، اللهمَّ صلِّ وسلِّم وبارك عليه وعلى آله وأصحابه، ومَن سلك سبيلَه واهتدى بهديه إلى يوم الدِّين.

أمَّا بعد، فإنَّ للشيطان مدخلَين على المسلمين ينفذ منهما إلى إغوائهم وإضلالهم، أحدهما: أنَّه إذا كان المسلمُ من أهل التفريط والمعاصي، زيَّن له المعاصي والشهوات ليبقى بعيداً عن طاعة الله ورسوله صلى الله عليه وسلم، وقد قال: "حُفَّت الجنَّة بالمكاره، وحُفَّت النار بالشهوات" رواه البخاري (6487) ، ومسلم (2822) .
কোন বিবেক ও ধর্মের ভিত্তিতে বিস্ফোরণ ও ধ্বংসযজ্ঞকে জিহাদ হিসেবে গণ্য করা হয়? ধিক তোমাদের প্রতি! হে যুবসমাজ, তোমরা জাগ্রত হও

উপস্থাপনায়: আব্দুল মুহসিন বিন হামাদ আল-আব্বাদ আল-বাদর

পরম করুণাময় ও অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে বিভ্রান্ত করেন তাকে হিদায়াত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। হে আল্লাহ! আপনি তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন ও তাঁর সাহাবীগণের ওপর এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাঁর পথ অনুসরণ করবে ও তাঁর হিদায়াত অনুযায়ী চলবে, তাদের ওপর দরুদ, সালাম ও বরকত নাজিল করুন।

অতঃপর, মুসলমানদের ওপর শয়তানের প্ররোচনা ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর জন্য দুটি প্রবেশপথ রয়েছে। তার মধ্যে একটি হলো: যখন কোনো মুসলমান অবহেলাকারী ও পাপাচারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়, তখন শয়তান তার কাছে পাপ ও কুপ্রবৃত্তিকে সুশোভিত করে তোলে, যাতে সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আনুগত্য থেকে দূরে থাকে। তিনি বলেছেন: "জান্নাতকে কষ্টসাধ্য বিষয়াদি দ্বারা বেষ্টন করা হয়েছে এবং জাহান্নামকে কুপ্রবৃত্তি দ্বারা বেষ্টন করা হয়েছে।" এটি বর্ণনা করেছেন বুখারী (৬৪৮৭) এবং মুসলিম (২৮২২)।
(খণ্ড: ১) বি-আইয়ি আকলিন ওয়া দীনিন ইয়াকুনুত তাফজীরু ওয়াত তাদমীরু জিহাদান?! ওয়াইহাকুম ... আফিকু ইয়া শাবাব!! (পৃষ্ঠা: ৪)
والثاني: أنَّه إذا كان المسلم من أهل الطاعة والعبادة زيَّن له الإفراط والغلوَّ في الدِّين ليفسد عليه دينه، وقد قال الله عز وجل: {يَا أَهْلَ الْكِتَابِ لا تَغْلُوا فِي دِينِكُمْ وَلا تَقُولُوا عَلَى اللَّهِ إِلَّا الْحَقَّ} ، وقال: {قُلْ يَا أَهْلَ الْكِتَابِ لا تَغْلُوا فِي دِينِكُمْ غَيْرَ الْحَقِّ وَلا تَتَّبِعُوا أَهْوَاءَ قَوْمٍ قَدْ ضَلُّوا مِنْ قَبْلُ وَأَضَلُّوا كَثِيراً وَضَلُّوا عَنْ سَوَاءِ السَّبِيلِ} وقال صلى الله عليه وسلم: "إيَّاكم والغلوَّ في الدِّين؛ فإنَّما هلك مَن كان قبلكم بالغلوِّ في الدِّين"، وهو حديث صحيح، أخرجه النسائي وغيرُه، وهو من أحاديث حَجة الوداع، انظر تخريجه في السلسلة الصحيحة للألباني (1283) .

ومِن مكائد الشيطان لهؤلاء المُفْرطين الغالين أنَّه يُزيِّن لهم اتِّباعَ الهوى وركوبَ رؤوسهم وسوءَ الفهم في الدِّين، ويُزهِّدهم في الرجوع إلى أهل
দ্বিতীয়টি হলো: যখন কোনো মুসলিম আনুগত্য ও ইবাদতগুজারদের অন্তর্ভুক্ত হয়, তখন শয়তান তার নিকট দ্বীনের মধ্যে সীমা লঙ্ঘন ও চরমপন্থার বিষয়টিকে সুশোভিত করে তোলে যাতে তার দ্বীন নষ্ট হয়ে যায়। আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা বলেছেন: {হে কিতাবধারীগণ, তোমরা তোমাদের দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করো না এবং আল্লাহ সম্পর্কে সত্য ব্যতিরেকে কিছু বলো না}। তিনি আরও বলেছেন: {বলো, হে কিতাবধারীগণ, তোমরা তোমাদের দ্বীনের ব্যাপারে অন্যায়ভাবে বাড়াবাড়ি করো না এবং এমন সম্প্রদায়ের প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না যারা ইতিপূর্বে পথভ্রষ্ট হয়েছে এবং অনেককে পথভ্রষ্ট করেছে আর তারা সরল পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে}। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা দ্বীনের মধ্যে চরমপন্থা অবলম্বন হতে সাবধান থাকো; কেননা তোমাদের পূর্ববর্তীরা দ্বীনের মধ্যে চরমপন্থার কারণেই ধ্বংস হয়ে গিয়েছে।" এটি একটি বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিস, যা নাসাঈ ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন এবং এটি বিদায় হজের হাদিসসমূহের অন্তর্ভুক্ত। আলবানীর সিলসিলাহ আস-সহীহাহ গ্রন্থে এর তাখরিজ (تخريج) দেখুন (১২৮৩)।

আর এসকল অতিচারী ও চরমপন্থীদের জন্য শয়তানের চক্রান্তসমূহের একটি হলো এই যে, সে তাদের নিকট প্রবৃত্তির অনুসরণ, হঠকারিতা এবং দ্বীনের ব্যাপারে ভ্রান্ত বুঝকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করে তোলে এবং জ্ঞানীদের নিকট প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে তাদের নিরুৎসাহিত করে।
(খণ্ড: ১) বি-আইয়ি আকলিন ওয়া দীনিন ইয়াকুনুত তাফজীরু ওয়াত তাদমীরু জিহাদান?! ওয়াইহাকুম ... আফিকু ইয়া শাবাব!! (পৃষ্ঠা: ৫)
العلم؛ لئلَاّ يُبصِّروهم ويُرشدوهم إلى الصواب، وليبقوا في غيِّهم وضلالهم، قال الله عز وجل: {وَلا تَتَّبِعِ الْهَوَى فَيُضِلَّكَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ} ،وقال: {وَمَنْ أَضَلُّ مِمَّنِ اتَّبَعَ هَوَاهُ بِغَيْرِ هُدىً مِنَ اللَّهِ} ، وقال: {أفَمَنْ زُيِّنَ لَهُ سُوءُ عَمَلِهِ فَرَآهُ حَسَناً فَإِنَّ اللَّهَ يُضِلُّ مَنْ يَشَاءُ وَيَهْدِي مَنْ يَشَاءُ} ،وقال: {أَفَمَنْ كَانَ عَلَى بَيِّنَةٍ مِنْ رَبِّهِ كَمَنْ زُيِّنَ لَهُ سُوءُ عَمَلِهِ وَاتَّبَعُوا أَهْوَاءَهُمْ} ،وقال: {هُوَ الَّذِي أَنْزَلَ عَلَيْكَ الْكِتَابَ مِنْهُ آيَاتٌ مُحْكَمَاتٌ هُنَّ أُمُّ الْكِتَابِ وَأُخَرُ مُتَشَابِهَاتٌ فَأَمَّا الَّذِينَ فِي قُلُوبِهِمْ زَيْغٌ فَيَتَّبِعُونَ مَا تَشَابَهَ مِنْهُ ابْتِغَاءَ الْفِتْنَةِ وَابْتِغَاءَ تَأْوِيلِهِ} وفي صحيح البخاري (4547) ، ومسلم (2665) عن عائشة رضي الله عنها: أنَّ النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم تلا هذه الآية، فقال: "إذا رأيتم الذين يتَّبعون ما تشابه منه فأولئك الذين سمَّى الله فاحذروهم"، وقال: صلى الله عليه وسلم: "من يُرِد الله به خيراً
জ্ঞান; যাতে তারা (আলেমগণ) তাদেরকে সত্য অনুধাবন না করান এবং সঠিক পথের দিকে পরিচালিত না করেন, এবং তারা যেন তাদের বিভ্রান্তি ও পথভ্রষ্টতার মধ্যেই নিমজ্জিত থাকে। মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর তুমি প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না, কেননা তা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করে দেবে}। তিনি আরও বলেছেন: {ঐ ব্যক্তির চেয়ে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে হতে পারে, যে আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো হিদায়াত ছাড়াই নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে?}। তিনি আরও বলেছেন: {যাকে তার মন্দ আমল শোভনীয় করে দেখানো হয়েছে এবং সে সেটিকে উত্তম মনে করে (সে কি ঐ ব্যক্তির সমান যে হিদায়াতপ্রাপ্ত?)। নিশ্চয়ই আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা পথ প্রদর্শন করেন}। তিনি আরও বলেছেন: {তবে কি ঐ ব্যক্তি যে তার রবের পক্ষ থেকে স্পষ্ট প্রমাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত, সে ঐ ব্যক্তির ন্যায় যাকে তার মন্দ কাজ শোভনীয় করে দেখানো হয়েছে এবং তারা তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে?}। তিনি আরও বলেছেন: {তিনিই সেই সত্তা যিনি আপনার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, তার মধ্যে কিছু আয়াত সুস্পষ্ট (محكمات), সেগুলোই কিতাবের মূল ভিত্তি; আর অন্যগুলো দ্ব্যর্থবোধক (متشابهات)। সুতরাং যাদের অন্তরে বক্রতা রয়েছে, তারা ফিতনা সৃষ্টি ও অপব্যাখ্যার উদ্দেশ্যে দ্ব্যর্থবোধক (متشابهات) আয়াতগুলোর অনুসরণ করে}। আর সহিহ বুখারি (৪৫৪৭) ও মুসলিমে (২৬৬৫) আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত হয়েছে যে: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন, এরপর বললেন: "যখন তোমরা তাদেরকে দেখবে যারা দ্ব্যর্থবোধক (متشابهات) আয়াতসমূহের অনুসরণ করে, তবে এরাই তারা যাদের নাম আল্লাহ উল্লেখ করেছেন; সুতরাং তোমরা তাদের থেকে সতর্ক থাকো।" এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহ যার কল্যাণ চান..."
(খণ্ড: ১) বি-আইয়ি আকলিন ওয়া দীনিন ইয়াকুনুত তাফজীরু ওয়াত তাদমীরু জিহাদান?! ওয়াইহাকুম ... আফিকু ইয়া শাবাব!! (পৃষ্ঠা: ৬)
يفقِّهه في الدِّين" رواه البخاري (71) ومسلم (1037) ، وهو يدلُّ بمنطوقه على أنَّ من علامة إرادة الله الخير بالعبد أن يفقهه في الدِّين، ويدلُّ بمفهومه على أنَّ مَن لَم يُرد الله به خيراً لم يحصل له الفقه في الدِّين، بل يُبتلى بسوء الفهم في الدِّين.

ومن سوء الفهم في الدِّين ما حصل للخوارج الذين خرجوا على عليٍّ رضى الله عنه وقاتلوه، فإنَّهم فهموا النصوصَ الشرعية فهماً خاطئاً مخالفاً لفهم الصحابة رضي الله عنهم، ولهذا لَمَّا ناظرهم ابن عباس رضي الله عنهما بيَّن لهم الفهمَ الصحيح للنصوص، فرجع مَن رجع منهم، وبقي من لم يرجع على ضلاله، وقصَّة مناظرته لهم في مستدرك الحاكم (2/150 ـ 152) ، وهي بإسناد صحيح على شرط مسلم، وفيها قول ابن عباس:"أتيتُكم من عند صحابة النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم من المهاجرين والأنصار،
"যাকে তিনি দ্বীনের গভীর প্রজ্ঞা দান করেন।" এটি বুখারি (৭১) ও মুসলিম (১০৩৭) বর্ণনা করেছেন। এটি এর সুস্পষ্ট ভাষ্যের (منطوق) মাধ্যমে নির্দেশ করে যে, আল্লাহ কোনো বান্দার কল্যাণ চাওয়ার একটি নিদর্শন হলো তাকে দ্বীনের গভীর প্রজ্ঞা দান করা। আর এটি এর অন্তর্নিহিত অর্থের (مفهوم) মাধ্যমে নির্দেশ করে যে, আল্লাহ যার কল্যাণ চান না, তার দ্বীনি প্রজ্ঞা অর্জিত হয় না; বরং সে দ্বীনের ভুল ব্যাখ্যার ফিতনায় নিপতিত হয়।

দ্বীনের ভুল বুঝার একটি দৃষ্টান্ত হলো খারেজীদের (الخوارج) সেই কর্মকাণ্ড, যারা আলী (রা.)-এর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিল এবং তাঁর সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিল। তারা শরয়ি পাঠসমূহকে (النصوص الشرعية) সাহাবায়ে কেরাম (রা.)-এর বুঝের বিপরীতে ভুলভাবে অনুধাবন করেছিল। একারণেই যখন ইবনে আব্বাস (রা.) তাদের সাথে বিতর্ক করেছিলেন, তিনি তাদের সামনে শরয়ি ভাষ্যসমূহের (النصوص) সঠিক মর্ম ব্যাখ্যা করেছিলেন। ফলে তাদের মধ্যে যারা ফিরে আসার তারা ফিরে এসেছিল, আর যারা ফিরে আসেনি তারা তাদের ভ্রষ্টতার ওপরই অটল ছিল। তাদের সাথে তাঁর বিতর্কের এই ঘটনাটি হাকেমের মুস্তাদরাক (২/১৫০-১৫২) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে, যা ইমাম মুসলিমের শর্ত (شرط) অনুযায়ী বিশুদ্ধ (صحيح) বর্ণনা সূত্রের (إسناد) মাধ্যমে সাব্যস্ত। সেখানে ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন: "আমি তোমাদের কাছে নবী (সা.)-এর মুহাজির ও আনসার সাহাবীদের পক্ষ থেকে এসেছি,"
(খণ্ড: ১) বি-আইয়ি আকলিন ওয়া দীনিন ইয়াকুনুত তাফজীরু ওয়াত তাদমীরু জিহাদান?! ওয়াইহাকুম ... আফিকু ইয়া শাবাব!! (পৃষ্ঠা: ৭)
لأبلِّغكم ما يقولون، المخبرون بما يقولون، فعليهم نزل القرآن، وهم أعلمُ بالوحي منكم، وفيهم أنزل، وليس فيكم منهم أحد، فقال بعضُهم: لا تخاصموا قريشاً، فإنَّ الله يقول: {بَلْ هُمْ قَوْمٌ خَصِمُونَ} ، قال ابن عباس: "وأتيتُ قوماً لم أرَ قوماً قطُّ أشدَّ اجتهاداً منهم، مسهمة وجوههم من السَّهر، كأنَّ أيديهم وركبهم تثنى عليهم، فمضى من حضر"، فقال بعضُهم: "لنكلِّمنَّه ولننظرنَّ ما يقول، قلت: أخبروني ماذا نقمتم على ابن عمِّ رسول الله صلى الله عليه وسلم وصهره والمهاجرين والأنصار؟ قالوا: ثلاثاً، قلت: ما هنَّ؟ قالوا: "أمَّا إحداهنَّ فإنَّه حكم الرِّجالَ في أمر الله، وقال الله تعالى: {إِنِ الْحُكْمُ إِلَّا لِلَّهِ} ، وما للرِّجال وما للحكم، فقلت: هذه واحدة، قالوا: وأمَّا الأخرى فإنَّه قاتَلَ ولَم يسْب ولَم يغنَم، فلئن كان الذي قاتل كفَّاراً لقد حلَّ سبيُهم وغنيمتهم، ولئن

যাতে আমি তোমাদের নিকট তাদের বক্তব্য পৌঁছে দিতে পারি যারা তাদের সম্পর্কে সংবাদ প্রদানকারী (مخبر); তাদের ওপরই কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে এবং তারা ওহি সম্পর্কে তোমাদের তুলনায় অধিক পরিজ্ঞাত। তাদের প্রেক্ষাপটেই এটি অবতীর্ণ হয়েছে, অথচ তোমাদের মধ্যে তাদের কেউ নেই। তখন তাদের কেউ কেউ বলল: "তোমরা কুরাইশদের সাথে বিতর্কে লিপ্ত হয়ো না, কেননা আল্লাহ তাআলা বলেন: {বরং তারা এক ঝগড়াটে সম্প্রদায়}।" ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন: "আমি এমন এক সম্প্রদায়ের নিকট আসলাম যে, তাদের চেয়ে কঠোর সাধনা ও পরিশ্রমে লিপ্ত (اجتهاد) আর কোনো সম্প্রদায়কে আমি কখনো দেখিনি। রাত জাগরণের ফলে তাদের চেহারা বিবর্ণ হয়ে গিয়েছিল এবং তাদের হাত ও হাঁটুগুলো যেন (অধিক সিজদার কারণে) কুঁচকে গিয়েছিল। অতঃপর সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ চলে গেল।" তখন তাদের কেউ কেউ বলল: "আমরা অবশ্যই তার সাথে কথা বলব এবং দেখব সে কী বলে।" আমি বললাম: "আমাকে বলো, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চাচাতো ভাই, তাঁর জামাতা এবং মুহাজির ও আনসারদের বিরুদ্ধে তোমাদের অভিযোগ কী?" তারা বলল: "তিনটি অভিযোগ।" আমি বললাম: "সেগুলো কী?" তারা বলল: "প্রথমটি হলো—তিনি আল্লাহর বিধানের (حكم) ব্যাপারে মানুষকে ফয়সালাকারী নিযুক্ত করেছেন, অথচ আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {বিধান তো কেবল আল্লাহরই}। সুতরাং বিধানের (حكم) ক্ষেত্রে মানুষের কী সংশ্লিষ্টতা? আমি বললাম: এটি একটি হলো। তারা বলল: দ্বিতীয়টি হলো—তিনি যুদ্ধ করেছেন কিন্তু কাউকে বন্দি করেননি এবং গনিমতও গ্রহণ করেননি। তারা যদি কাফেরই হতো যাদের সাথে তিনি যুদ্ধ করেছেন, তবে তো তাদের বন্দি করা এবং তাদের সম্পদ গনিমত হিসেবে গ্রহণ করা বৈধ হতো, আর যদি..."

(খণ্ড: ১) বি-আইয়ি আকলিন ওয়া দীনিন ইয়াকুনুত তাফজীরু ওয়াত তাদমীরু জিহাদান?! ওয়াইহাকুম ... আফিকু ইয়া শাবাব!! (পৃষ্ঠা: ৮)
كانوا مؤمنين ما حلَّ قتالُهم، قلت: هذه ثنتان، فما الثالثة؟ قال: إنَّه مَحا نفسَه من أمير المؤمنين، فهو أمير الكافرين، قلت: أعندكم سوى هذا؟ قالوا: حسبنا هذا، فقلت لهم: أرأيتم إن قرأت عليكم من كتاب الله ومن سنَّة نبيِّه صلى الله عليه وسلم ما يُردُّ به قولُكم أتَرضَون؟ قالوا: نعم! فقلت: أمَّا قولكم: حكَّم الرِّجال في أمر الله، فأنا أقرأ عليكم ما قد رُدَّ حكمُه إلى الرِّجال في ثمن ربع درهم، في أرنب ونحوها من الصيد، فقال: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تَقْتُلُوا الصَّيْدَ وَأَنْتُمْ حُرُمٌ} إلى قوله: {يَحْكُمُ بِهِ ذَوَا عَدْلٍ مِنْكُمْ} ، فنشدتكم الله: أحُكم الرِّجال في أرنب ونحوها من الصيد أفضل أم حكمهم في دمائهم وصلاح ذات بينهم؟! وأن تعلموا أنَّ الله لو شاء لَحَكم ولَم يُصيِّر ذلك إلى الرِّجال، وفي المرأة وزوجها قال الله عز وجل: {وَإِنْ خِفْتُمْ شِقَاقَ
তারা মুমিন ছিলেন বিধায় তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা বৈধ ছিল না। আমি বললাম: এই দুটি বিষয় হলো, তবে তৃতীয়টি কী? তিনি বললেন: তিনি (আলী রা.) নিজেকে ‘আমিরুল মুমিনীন’ (বিশ্বাসীদের নেতা) পদবি থেকে বিচ্যুত করেছেন, ফলে তিনি এখন কাফিরদের আমির। আমি বললাম: তোমাদের কাছে কি এটি ছাড়া আর কিছু আছে? তারা বলল: আমাদের জন্য এটিই যথেষ্ট। তখন আমি তাদের বললাম: তোমাদের কী অভিমত, যদি আমি তোমাদের সামনে আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর নবীর সুন্নাহ (سنة) থেকে এমন কিছু পাঠ করি যা তোমাদের বক্তব্যকে প্রত্যাখ্যান করে, তবে কি তোমরা সন্তুষ্ট হবে? তারা বলল: হ্যাঁ! আমি বললাম: তোমাদের এই বক্তব্যের বিষয়ে যে—‘তিনি আল্লাহর বিধানে মানুষকে বিচারক নিযুক্ত করেছেন’—আমি তোমাদের সামনে এমন বিষয় পাঠ করছি যেখানে মাত্র এক-চতুর্থাংশ দিরহাম মূল্যের একটি খরগোশ বা তদ্রূপ শিকারের ফয়সালার ভার মানুষের ওপর অর্পণ করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা ইহরাম অবস্থায় শিকার কোরো না...} তাঁর এই বাণী পর্যন্ত: {তোমাদের মধ্য থেকে দুইজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) ব্যক্তি এর ফয়সালা করবে}। আমি তোমাদের আল্লাহর দোহাই দিয়ে বলছি: একটি খরগোশ বা তদ্রূপ শিকারের ক্ষেত্রে মানুষের ফয়সালা প্রদান কি অধিক শ্রেয়, নাকি মানুষের জানমাল রক্ষা এবং তাদের পারস্পরিক বিবাদ মিটিয়ে ফেলার ক্ষেত্রে মানুষের ফয়সালা প্রদান অধিক শ্রেয়?! আর তোমরা জেনে রেখো যে, আল্লাহ চাইলে নিজেই ফয়সালা দিতেন এবং তা মানুষের ওপর সোপর্দ করতেন না। আর স্ত্রী ও তার স্বামীর বিষয়ে আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালী ইরশাদ করেছেন: {আর যদি তোমরা তাদের উভয়ের মধ্যে বিবাদের...}
(খণ্ড: ১) বি-আইয়ি আকলিন ওয়া দীনিন ইয়াকুনুত তাফজীরু ওয়াত তাদমীরু জিহাদান?! ওয়াইহাকুম ... আফিকু ইয়া শাবাব!! (পৃষ্ঠা: ৯)
بَيْنِهِمَا فَابْعَثُوا حَكَماً مِنْ أَهْلِهِ وَحَكَماً مِنْ أَهْلِهَا إِنْ يُرِيدَا إِصْلاحاً يُوَفِّقِ اللَّهُ بَيْنَهُمَا} ، فجعل الله حكم الرِّجال سنة مأمونة، أخَرَجتُ من هذه؟ قالوا: نعم! قال: وأمَّا قولكم: قاتَل ولم يسْب ولم يغنم، أَتَسبُون أمَّكم عائشة، ثمَّ تستحلُّون منها ما يُستحلُّ من غيرها؟! فلئن فعلتم لقد كفرتُم، وهي أمُّكم، ولئن قلتُم: ليست أمَّنا لقد كفرتُم؛ فإنَّ الله يقول: {النَّبِيُّ أَوْلَى بِالْمُؤْمِنِينَ مِنْ أَنْفُسِهِمْ وَأَزْوَاجُهُ أُمَّهَاتُهُمْ} ، فأنتم تدورون بين ضلالَتين، أيّهما صرتُم إليها صرتُم إلى ضلالة، فنظر بعضُهم إلى بعض، قلت: أخرجتُ من هذه؟ قالوا: نعم! وأمَّا قولكم: مَحا اسمَه من أمير المؤمنين، فأنا آتيكم بمَن ترضَون وأريكم، قد سمعتُم أنَّ النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم يوم الحُديبية كاتَبَ سُهيل بن عمرو وأبا سفيان بن حرب، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم لأمير المؤمنين: اكتب يا علي: هذا
...তাদের উভয়ের মধ্যে (বিরোধ দেখা দেয়), তবে তোমরা তার (স্বামীর) পরিবার থেকে একজন সালিস এবং তার (স্ত্রীর) পরিবার থেকে একজন সালিস নিযুক্ত করো। যদি তারা উভয়েই মীমাংসা চায়, তবে আল্লাহ তাদের মধ্যে তাওফিক দান করবেন}। এভাবে আল্লাহ পুরুষদের সালিসিকে একটি নির্ভরযোগ্য সুন্নাহ (سنة مأمونة) হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। আমি কি এই বিষয়টি থেকে (আপত্তি নিরসন করে) বের হতে পেরেছি? তারা বলল: হ্যাঁ! তিনি বললেন: আর তোমাদের এই কথা যে, তিনি যুদ্ধ করেছেন অথচ বন্দি করেননি এবং গনিমত গ্রহণ করেননি; তবে কি তোমরা তোমাদের মা আয়েশাকে গালি দিচ্ছ (কিংবা অবমাননা করছ), অতঃপর তার ব্যাপারে কি এমন বিষয়কে বৈধ মনে করতে চাও যা অন্যদের ক্ষেত্রে বৈধ মনে করা হয়?! যদি তোমরা তা করো তবে অবশ্যই তোমরা কুফরি করলে, অথচ তিনি তোমাদের মা। আর যদি তোমরা বলো: তিনি আমাদের মা নন, তবেও তোমরা কুফরি করলে; কেননা আল্লাহ তাআলা বলেন: {নবী মুমিনদের নিকট তাদের নিজেদের অপেক্ষা অধিক ঘনিষ্ঠ এবং তাঁর স্ত্রীগণ তাদের মা}। সুতরাং তোমরা দুটি বিভ্রান্তির মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছ, যার যেদিকেই তোমরা যাও না কেন, তা তোমাদের ভ্রষ্টতার দিকেই নিয়ে যাবে। তখন তারা একে অপরের দিকে তাকাতে লাগল। আমি বললাম: আমি কি এ থেকেও বের হতে পেরেছি? তারা বলল: হ্যাঁ! আর তোমাদের এই দাবি যে, তিনি ‘আমীরুল মুমিনীন’ পদবি থেকে নিজের নাম মুছে ফেলেছেন, তবে আমি তোমাদের নিকট এমন উদাহরণ পেশ করছি যাকে তোমরা পছন্দ করো এবং আমি তোমাদের তা দেখাব। তোমরা নিশ্চয়ই শুনেছ যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুদায়বিয়ার দিন সুহাইল ইবনে আমর এবং আবু সুফিয়ান ইবনে হারবের সাথে সন্ধিপত্র লিখেছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমীরুল মুমিনীনকে বললেন: হে আলী, লেখ: এটি...
(খণ্ড: ১) বি-আইয়ি আকলিন ওয়া দীনিন ইয়াকুনুত তাফজীরু ওয়াত তাদমীরু জিহাদান?! ওয়াইহাকুম ... আফিকু ইয়া শাবাব!! (পৃষ্ঠা: ১০)
ما اصطلح عليه محمد رسول الله، فقال المشركون: لا والله! لو نعلم أنَّك رسول الله ما قاتلناك، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "اللَّهم إنَّك تعلمُ أنِّي رسول الله، اكتب يا علي: هذا ما اصطلح عليه محمد بن عبد الله، فوالله لرسول الله خيرٌ من علي، وما أخرجه من النبوة حين محا نفسَه، قال عبد الله بن عباس: فرجع من القوم ألفان وقُتل سائرُهم على ضلالة".

ففي هذه القصة أنَّ ألفين من الخوارج رجعوا عن باطلهم؛ للإيضاح والبيان الذي حصل من ابن عباس رضي الله عنهما، وفي ذلك دليلٌ على أنَّ الرجوعَ إلى أهل العلم فيه السلامة من الشرور والفتن، وقد قال الله عز وجل: {فاسْأَلوا أَهْلَ الذِّكْرِ إِنْ كُنْتُمْ لا تَعْلَمُونَ} ومِمَّا يدلُّ على أنَّ الرجوع إلى أهل العلم خيرٌ للمسلمين في أمور دينهم ودنياهم ما رواه مسلم في
যা মুহাম্মদ রাসূলুল্লাহ সন্ধি করেছিলেন। তখন মুশরিকরা বলল: "না, আল্লাহর কসম! আমরা যদি জানতাম যে আপনি আল্লাহর রাসূল, তবে আপনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতাম না।" তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "হে আল্লাহ! আপনি তো জানেন যে আমি আপনার রাসূল। হে আলী, লেখ: এটি সেই বিষয় যার ওপর মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ সন্ধি করেছেন।" আল্লাহর কসম, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আলীর চেয়ে উত্তম ছিলেন। তিনি যখন নিজের (রাসূল পরিচয়) মুছে দিলেন, তখন তা তাঁকে নবুওয়াত থেকে বিচ্যুত করেনি। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন: "ফলে সেই দল থেকে দুই হাজার লোক ফিরে এসেছিল এবং বাকিরা ভ্রষ্টতার (ضلالة) ওপর থাকা অবস্থায় নিহত হয়েছিল।"

এই ঘটনায় দেখা যায় যে, ইবনে আব্বাস (রা.)-এর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা ও বিবরণের কারণে দুই হাজার খারেজি (خوارج) তাদের বাতিল পথ থেকে ফিরে এসেছিল। এতে এই প্রমাণ নিহিত রয়েছে যে, আলেম বা জ্ঞানীদের (أهل العلم) শরণাপন্ন হওয়ার মধ্যেই যাবতীয় অনিষ্ট ও ফিতনা (فتن) থেকে নিরাপত্তা রয়েছে। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: {তোমরা যদি না জানো, তবে জ্ঞানীদের (أهل الذكر) জিজ্ঞাসা করো।} আলেম বা জ্ঞানীদের (أهل العلم) কাছে ফিরে আসা যে মুসলমানদের দ্বীন ও দুনিয়ার কল্যাণের জন্য অধিকতর উত্তম, তার অন্যতম প্রমাণ হলো ইমাম মুসলিম যা বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১) বি-আইয়ি আকলিন ওয়া দীনিন ইয়াকুনুত তাফজীরু ওয়াত তাদমীরু জিহাদান?! ওয়াইহাকুম ... আফিকু ইয়া শাবাব!! (পৃষ্ঠা: ১১)
صحيحه (191) عن يزيد الفقير قال:"كنتُ قد شَغَفَنِي رأيٌ من رأي الخوارج، فخرجنا في عِصابةٍ ذوي عدد نريد أن نحجَّ، ثمَّ نخرجَ على الناس، قال: فمررنا على المدينة فإذا جابر بن عبد الله يُحدِّث القومَ ـ جالسٌ إلى ساريةٍ ـ عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، قال: فإذا هو قد ذكر الجهنَّميِّين، قال: فقلتُ له: يا صاحبَ رسول الله! ما هذا الذي تُحدِّثون؟ والله يقول: {إِنَّكَ مَنْ تُدْخِلِ النَّارَ فَقَدْ أَخْزَيْتَهُ} ، و {كُلَّمَا أَرَادُوا أَنْ يَخْرُجُوا مِنْهَا مِنْ غَمٍّ أُعِيدُوا فِيهَا} ، فما هذا الذي تقولون؟ قال: فقال: أتقرأُ القرآنَ؟ قلتُ: نعم! قال: فهل سمعت بمقام محمد عليه السلام، يعني الذي يبعثه فيه؟ قلتُ: نعم! قال: فإنَّه مقام محمد صلى الله عليه وسلم المحمود الذي يُخرج اللهُ به مَن يُخرج. قال: ثمَّ نعتَ وضعَ الصِّراط ومرَّ الناس عليه، قال: وأخاف أن لا أكون أحفظ ذاك. قال: غير أنَّه قد

তাঁর সহিহ গ্রন্থে (১৯১) ইয়াজিদ আল-ফাকির থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "খারিজিদের একটি মতাদর্শ আমাকে গভীরভাবে আচ্ছন্ন করেছিল। এরপর আমরা সংখ্যায় অধিক এমন একটি দল গঠন করে বের হলাম; আমাদের ইচ্ছা ছিল হজ্জ সম্পন্ন করা এবং এরপর মানুষের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা। তিনি বলেন: আমরা যখন মদিনা অতিক্রম করছিলাম, তখন দেখলাম জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ একটি স্তম্ভের পাশে বসে লোকদের কাছে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদিস বর্ণনা করছেন। তিনি বলেন: হঠাৎ তিনি জাহান্নাম থেকে মুক্তিপ্রাপ্তদের কথা উল্লেখ করলেন। তিনি বলেন: তখন আমি তাঁকে বললাম: 'হে আল্লাহর রাসূলের সাহাবী! আপনারা এ কী বর্ণনা করছেন? অথচ আল্লাহ তাআলা বলছেন: {নিশ্চয়ই আপনি যাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করেন, তাকে তো আপনি অপদস্থ করেন} এবং {যখনই তারা যন্ত্রণার কারণে সেখান থেকে বের হতে চাইবে, তখনই তাদেরকে সেখানে ফিরিয়ে দেওয়া হবে}। তাহলে আপনারা যা বলছেন তা কী?' তিনি বলেন: তখন জাবির (রা.) বললেন: 'তুমি কি কুরআন পাঠ করো?' আমি বললাম: 'হ্যাঁ'। তিনি বললেন: 'তুমি কি মুহাম্মাদ (আলাইহিস সালাম)-এর সেই মাকাম (মর্যাদা) সম্পর্কে শুনেছ, যেখানে আল্লাহ তাঁকে পুনরুত্থিত করবেন?' আমি বললাম: 'হ্যাঁ'। তিনি বললেন: 'নিশ্চয়ই তা হলো মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সেই প্রশংসিত স্থান (মাকামে মাহমুদ), যার উসিলায় আল্লাহ জাহান্নাম থেকে যাদের বের করার তাদের বের করবেন।' তিনি বলেন: এরপর তিনি সিরাত স্থাপন এবং তার ওপর দিয়ে মানুষের পার হওয়ার বিবরণ দিলেন। বর্ণনাকারী বলেন: আমার ভয় হচ্ছে যে আমি সেই বিবরণটি যথাযথভাবে মুখস্থ রাখতে পারিনি। তবে তিনি এও বলেছিলেন যে..."

(খণ্ড: ১) বি-আইয়ি আকলিন ওয়া দীনিন ইয়াকুনুত তাফজীরু ওয়াত তাদমীরু জিহাদান?! ওয়াইহাকুম ... আফিকু ইয়া শাবাব!! (পৃষ্ঠা: ১২)
زعم أنَّ قوماً يَخرجون من النار بعد أن يكونوا فيها، قال: يعني فيخرجون كأنَّهم عيدان السماسم، قال: فيدخلون نهراً من أنهار الجنَّة فيغتسلون فيه، فيخرجون كأنَّهم القراطيس. فرجعنا، قلنا: وَيْحَكم! أَتَروْنَ الشيخَ يَكذِبُ على رسول الله صلى الله عليه وسلم فرجعنا، فلا ـ والله! ـ ما خرج منَّا غيرُ رَجل واحد، أو كما قال أبو نعيم". وأبو نعيم هو الفضل بن دكين هو أحد رجال الإسناد، وقد أورد ابن كثير في تفسيره عند قوله تعالى من سورة المائدة: {يُرِيدُونَ أَنْ يَخْرُجُوا مِنَ النَّارِ وَمَا هُمْ بِخَارِجِينَ مِنْهَا} حديث جابر هذا عند ابن أبي حاتم وابن مردويه وغيرهما، وهو يدلُّ على أنَّ هذه العصابةَ ابتُليت بالإعجاب برأي الخوارج في تكفير مرتكب الكبيرة وتخليده في النار، وأنَّهم بلقائهم جابراً رضى الله عنه وبيانه لهم صاروا إلى ما أرشدهم إليه،

তিনি বর্ণনা করলেন যে, একদল লোক জাহান্নামে অবস্থান করার পর সেখান থেকে বের হয়ে আসবে। তিনি বললেন: অর্থাৎ তারা এমনভাবে বের হবে যেন তারা তিলের শুষ্ক কাষ্ঠখণ্ড। তিনি আরও বললেন: অতঃপর তারা জান্নাতের নদীসমূহের একটি নদীতে প্রবেশ করে তাতে গোসল করবে, ফলে তারা শ্বেতশুভ্র কাগজের ন্যায় উজ্জ্বল হয়ে বের হয়ে আসবে। তখন আমরা ফিরে আসলাম এবং বললাম: "তোমাদের মরণ হোক! তোমরা কি মনে করো এই শাইখ (الشيخ) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামে মিথ্যা (كذب) বলছেন?" অতঃপর আমরা ফিরে আসলাম; আল্লাহর কসম! আমাদের মধ্য থেকে কেবল একজন ব্যক্তি ব্যতীত আর কেউ সত্য বিচ্যুত হয়নি—অথবা যেমনটি আবু নুআইম বলেছেন। আর আবু নুআইম হলেন ফাদল বিন দুকাইন, যিনি এই সনদের (الإسناد) অন্যতম বর্ণনাকারী। ইবনে কাসীর তাঁর তাফসিরে সূরা আল-মায়িদার এই আয়াতের ব্যাখ্যায়: {তারা অগ্নি হতে বের হতে চাইবে কিন্তু তারা সেখান থেকে বের হতে পারবে না}, ইবনে আবি হাতিম, ইবনে মারদুওয়াহ এবং অন্যদের সূত্রে জাবিরের এই হাদিসটি উল্লেখ করেছেন। এটি নির্দেশ করে যে, এই দলটি কবিরা গুনাহগারকে কাফির সাব্যস্ত করা (تكفير) এবং তাদের জাহান্নামে চিরস্থায়ী (تخليد) বসবাসের ব্যাপারে খারিজিদের মতবাদের প্রতি আসক্ত হওয়ার পরীক্ষায় নিপতিত হয়েছিল। অতঃপর জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর সাথে সাক্ষাৎ এবং তাদের প্রতি তাঁর সুস্পষ্ট ব্যাখ্যার কারণে তারা সেই সত্যের দিকে ফিরে আসে যার প্রতি তিনি তাদের দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন।

(খণ্ড: ১) বি-আইয়ি আকলিন ওয়া দীনিন ইয়াকুনুত তাফজীরু ওয়াত তাদমীরু জিহাদান?! ওয়াইহাকুম ... আফিকু ইয়া শাবাব!! (পৃষ্ঠা: ১৩)
وتركوا الباطلَ الذي فهموه، وأنَّهم عدلوا عن الخروج الذي همُّوا به بعد الحجِّ، وهذه من أعظم الفوائد التي يستفيدها المسلم برجوعه إلى أهل العلم.

ويدلُّ لخطورة الغلو في الدِّين والانحراف عن الحقِّ ومجانبة ما كان عليه أهل السنَّة والجماعة قوله صلى الله عليه وسلم من حديث حذيفةرضى الله عنه: "إنَّ أخوفَ ما أخاف عليكم رجل قرأ القرآن، حتى إذا رُئيت بهجته عليه وكان ردءاً للإسلام، انسلخ منه ونبذه وراء ظهره، وسعى على جاره بالسيف ورماه بالشرك، قلت: يا نبيَّ الله! أيُّهما أولى بالشرك: الرامي أو المرمي؟ قال: بل الرامي" رواه البخاري في التاريخ وأبو يعلى وابن حبان والبزار، انظر الصحيحة للألباني (3201) .

وحداثةُ السنِّ مظنَّة سوء الفهم، يدلُّ لذلك ما رواه البخاري في صحيحه (4495) بإسناده إلى
তারা তাদের অনুধাবনকৃত বাতিল (باطل) বিষয়গুলো বর্জন করল এবং হজের পর বিদ্রোহ করার যে সংকল্প তারা করেছিল তা থেকে ফিরে এল। একজন মুসলিম আলেমদের শরণাপন্ন হওয়ার মাধ্যমে যে সকল মহান উপকার লাভ করে থাকে, এটি তার অন্যতম।

দ্বীনের মধ্যে বাড়াবাড়ি এবং সত্য থেকে বিচ্যুতি ও আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের পথ পরিহার করার ভয়াবহতার প্রমাণ হলো হুজাইফা (রা.) হতে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস: "আমি তোমাদের ওপর যে বিষয়ে সবচেয়ে বেশি ভয় করছি তা হলো এমন এক ব্যক্তি, যে কুরআন পাঠ করল; এমনকি যখন তার ওপর কুরআনের দীপ্তি প্রকাশ পেল এবং সে ইসলামের একজন সাহায্যকারী হলো, তখন সে তা থেকে বের হয়ে গেল এবং সেটাকে নিজের পেছনে নিক্ষেপ করল। সে তার প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে তলোয়ার নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ল এবং তাকে শিরকের অপবাদ দিল। আমি বললাম: হে আল্লাহর নবী! তাদের দুজনের মধ্যে শিরকের অধিক নিকটবর্তী কে: যে অপবাদ দিয়েছে সে, নাকি যাকে অপবাদ দেওয়া হয়েছে? তিনি বললেন: বরং যে অপবাদ দিয়েছে সে-ই।" এটি বুখারি তাঁর তারিখ গ্রন্থে এবং আবু ইয়ালা, ইবনে হিব্বান ও বাযযার বর্ণনা করেছেন। দেখুন আলবানীর আস-সহিহাহ (৩২০১)।

অল্প বয়স হওয়া ভুল বুঝাবুঝির একটি ক্ষেত্র; এর প্রমাণ হলো বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে (৪৪৯৫) স্বীয় সনদ (إسناد) সহকারে বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১) বি-আইয়ি আকলিন ওয়া দীনিন ইয়াকুনুত তাফজীরু ওয়াত তাদমীরু জিহাদান?! ওয়াইহাকুম ... আফিকু ইয়া শাবাব!! (পৃষ্ঠা: ১৪)
هشام بن عروة، عن أبيه أنَّه قال:"قلت لعائشة زوج النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم وأنا يومئذ حديث السنِّ: أرأيتِ قول الله تبارك وتعالى: {إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوِ اعْتَمَرَ فَلا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَطَّوَّفَ بِهِمَا} ، فما أرى على أحد شيئاً أن لا يطوَّف بهما، فقالت عائشة: كلَاّ! لو كانت كما تقول كانت: فلا جناح عليه أن لا يطوَّف بهما، إنَّما أنزلت هذه الآية في الأنصار، كانوا يُهلُّون لِمناة، وكانت مناة حذو قديد، وكانوا يتحرَّجون أن يطوَّفوا بين الصفا والمروة، فلمَّا جاء الإسلام سألوا رسول الله صلى الله عليه وسلم عن ذلك، فأنزل الله {إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوِ اعْتَمَرَ فَلا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَطَّوَّفَ بِهِمَا} ".

وعروة بن الزبير من خيار التابعين، وهو أحدُ الفقهاء السبعة بالمدينة في عصر التابعين، قد مهَّد
হিশাম ইবনে উরওয়াহ তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী আয়েশা (রা.)-কে বললাম—তখন আমি অল্পবয়স্ক ছিলাম—আপনি আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার এই বাণী সম্পর্কে কী মনে করেন: {নিশ্চয় সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং যে ব্যক্তি কাবা গৃহের হজ বা উমরা করবে, তার জন্য এই দুইটির মধ্যে সায়ি বা প্রদক্ষিণ করাতে কোনো গুনাহ নেই}। আমি মনে করি না যে কারো জন্য এই দুইটির মধ্যে প্রদক্ষিণ না করাতে কোনো দোষ আছে। আয়েশা (রা.) বললেন: 'কখনোই না! যদি বিষয়টি তেমনই হতো যেমনটি তুমি বলছ, তবে আয়াতটি হতো: {তার জন্য এই দুইটির মধ্যে প্রদক্ষিণ না করাতে কোনো গুনাহ নেই}। মূলত এই আয়াতটি আনসারদের সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। তারা 'মানাত' মূর্তির নামে ইহরাম গ্রহণ করত এবং এই মানাত 'কুদাইদ' নামক স্থানের নিকটে অবস্থিত ছিল। তারা সাফা ও মারওয়ার মধ্যে প্রদক্ষিণ করাকে গুনাহ বা সংকীর্ণতার বিষয় মনে করত। যখন ইসলাম আসল, তারা এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করলেন। তখন আল্লাহ তায়ালা অবতীর্ণ করলেন: {নিশ্চয় সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং যে ব্যক্তি কাবা গৃহের হজ বা উমরা করবে, তার জন্য এই দুইটির মধ্যে সায়ি বা প্রদক্ষিণ করাতে কোনো গুনাহ নেই}'।"

আর উরওয়াহ ইবনে যুবায়ের শ্রেষ্ঠ তাবেয়ীদের (التابعين) অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং তিনি তাবেয়ীদের যুগে মদিনার সাত ফকিহ (الفقهاء السبعة) বা বিজ্ঞ আইনবিদের অন্যতম ছিলেন। তিনি ভিত্তি স্থাপন করেছেন...
(খণ্ড: ১) বি-আইয়ি আকলিন ওয়া দীনিন ইয়াকুনুত তাফজীরু ওয়াত তাদমীরু জিহাদান?! ওয়াইহাকুম ... আফিকু ইয়া শাবাব!! (পৃষ্ঠা: ১৫)
لعُذره في خطئه في الفهم بكونه في ذلك الوقت الذي سأل فيه حديثَ السنِّ، وهو واضحٌ في أنَّ حداثةَ السنِّ مظنَّةُ سوء الفهم، وأنَّ الرجوع إلى أهل العلم فيه الخير والسلامة.

بأيِّ عقل ودين يكون التفجير والتدمير جهاداً

بعد هذا التمهيد بذكر أنَّ الشيطانَ يدخل إلى أهل العبادة لإفساد دينهم من باب الإفراط والغلوِّ في الدِّين، كما حصل من الخوارج والعصابة التي شغفت برأيهم، وأنَّ طريق السلامة من الفتن الرجوع إلى أهل العلم، كما حصل رجوع ألفين من الخوارج بعد مناظرة ابن عباس رضي الله عنهما، وعدول العصابة عمَّا همَّت به من الباطل برجوعها
তার বোধগম্যতার ভুলের ওজর এই যে, যে সময় তিনি জিজ্ঞাসা করেছিলেন তখন তিনি অল্পবয়স্ক (حديث السن) ছিলেন। এটি স্পষ্ট যে, অল্প বয়স হওয়া ভুল বোঝার একটি সম্ভাব্য ক্ষেত্র, এবং আলেমদের (أهل العلم) দিকে ফিরে যাওয়ার মধ্যেই কল্যাণ ও নিরাপত্তা নিহিত।

কোন বিবেক ও দ্বীনের বিচারে বিস্ফোরণ ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড জিহাদ হতে পারে?

এই ভূমিকার পর—যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শয়তান ইবাদতগুজারদের দ্বীন নষ্ট করার জন্য দ্বীনের ব্যাপারে অতিরঞ্জন ও চরমপন্থা (غلو)-এর পথ দিয়ে প্রবেশ করে, যেমনটি ঘটেছিল খারেজি ও তাদের মতাদর্শে মোহগ্রস্ত দলের ক্ষেত্রে; এবং ফিতনা (فتن) থেকে নিরাপদ থাকার পথ হলো আলেমদের (أهل العلم) শরণাপন্ন হওয়া, যেমনটি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর সাথে মুনাজারার পর দুই হাজার খারেজির ফিরে আসার মাধ্যমে ঘটেছিল, এবং সেই দলটি তাদের প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে যে ভ্রান্ত (باطل) বিষয়ের সংকল্প করেছিল তা বর্জন করেছিল—
(খণ্ড: ১) বি-আইয়ি আকলিন ওয়া দীনিন ইয়াকুনুত তাফজীরু ওয়াত তাদমীরু জিহাদান?! ওয়াইহাকুম ... আফিকু ইয়া শাবাব!! (পৃষ্ঠা: ১৬)
إلى جابر بن عبد الله رضي الله عنهما.

بعد هذا التمهيد أقول: ما أشبه الليلة بالبارحة! فإنَّ ما حصل من التفجير والتدمير في مدينة الرياض، وما عُثر عليه من أسلحة ومتفجِّرات في مكة والمدينة في أوائل هذا العام (1424هـ) هو نتيجة لإغواء الشيطان وتزيينه الإفراط والغلو لِمَن حصل منهم ذلك، وهذا الذي حصل من أقبح ما يكون في الإجرام والإفساد في الأرض، وأقبح منه أن يزيِّن الشيطان لِمَن قام به أنَّه من الجهاد، وبأيِّ عقل ودين يكون جهاداً قتل النفس وتقتيل المسلمين والمعاهدين وترويع الآمنين وترميل النساء وتيتيم الأطفال وتدمير المباني على من فيها

وقد رأيت إيراد ما أمكن من نصوص الكتاب والسنة في مجيء الشرائع السابقة بتعظيم أمر القتل وخطره، وإيراد نصوص الكتاب والسنة في قتل
জাবির বিন আব্দুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) পর্যন্ত।

এই উপক্রমণিকার পর আমি বলছি: বর্তমানের সাথে অতীতের কতই না সাদৃশ্য! নিশ্চয়ই রিয়াদ শহরে যে বিস্ফোরণ ও ধ্বংসলীলা সংঘটিত হয়েছে এবং এই বছরের (১৪২৪ হিজরী) শুরুর দিকে মক্কা ও মদিনায় যে সকল অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে, তা মূলত শয়তানের প্ররোচনা এবং যারা এসবে লিপ্ত হয়েছে তাদের নিকট বাড়াবাড়ি (إفراط) ও চরমপন্থাকে (غلو) সুশোভিত করারই পরিণাম। আর যা ঘটেছে তা অপরাধ ও পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টির ক্ষেত্রে নিকৃষ্টতম কাজগুলোর অন্তর্ভুক্ত। এর চেয়েও জঘন্য বিষয় হলো, শয়তান এই দুষ্কর্ম সম্পাদনকারীদের নিকট একে জিহাদ (جهاد) হিসেবে সুশোভিত করেছে। অথচ কোন বিবেক ও দ্বীনের বিচারে প্রাণহানি ঘটানো, মুসলিম ও চুক্তিবদ্ধ অমুসলিমদের (معاهدين) হত্যা করা, নিরাপদ ব্যক্তিদের আতঙ্কিত করা, নারীদের বিধবা করা, শিশুদের এতিম করা এবং বাসিন্দাসহ ভবনসমূহ ধ্বংস করে দেওয়া জিহাদ (جهاد) হতে পারে?

আমি ইতিপূর্বেকার শরীয়তসমূহে হত্যার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুতর ও বিপজ্জনক হিসেবে উপস্থাপনের বিষয়ে কুরআন ও সুন্নাহর দলিলসমূহ (نصوص) যতটুকু সম্ভব উল্লেখ করা সমীচীন মনে করেছি, এবং হত্যার বিষয়ে কুরআন ও সুন্নাহর দলিলসমূহ (نصوص) উল্লেখ করছি
(খণ্ড: ১) বি-আইয়ি আকলিন ওয়া দীনিন ইয়াকুনুত তাফজীরু ওয়াত তাদমীরু জিহাদান?! ওয়াইহাকুম ... আফিকু ইয়া শাবাব!! (পৃষ্ঠা: ১৭)
المسلم نفسه وقتل غيره من المسلمين والمعاهدين عمداً وخطأ، وذلك لإقامة الحجة وبيان المحجَّة، وليهلك مَن هلك عن بيِّنة ويحيى من حيَّ عن بيِّنة.

وأسأل الله عز وجل أن يهدي من ضلَّ إلى الصواب ويخرجهم من الظلمات إلى النور، وأن يقي المسلمين شرَّ الأشرار، إنَّه سميع مجيب.

ما جاء في تعظيم أمر القتل وخطره في الشرائع السابقة

قال الله عز وجل عن أحد ابني آدم: {فَطَوَّعَتْ لَهُ نَفْسُهُ قَتْلَ أَخِيهِ فَقَتَلَهُ فَأَصْبَحَ مِنَ الْخَاسِرِينَ} ،وقال الله عز وجل: {مِنْ أَجْلِ ذَلِكَ كَتَبْنَا عَلَى بَنِي إِسْرائيلَ أَنَّهُ مَنْ قَتَلَ نَفْساً بِغَيْرِ نَفْسٍ أَوْ فَسَادٍ
একজন মুসলিমের জীবন এবং অন্য কোনো মুসলিম ও চুক্তিবদ্ধ অমুসলিমদের ইচ্ছাকৃত বা ভুলবশত হত্যা করার বিষয়টি; আর এটি করা হয়েছে প্রমাণ প্রতিষ্ঠা এবং সত্য পথ সুস্পষ্ট করার লক্ষ্যে, যাতে যে ধ্বংস হওয়ার সে যেন সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে ধ্বংস হয় এবং যে জীবিত থাকার সে যেন সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে জীবন লাভ করে।

আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন পথভ্রষ্টদের সঠিক পথের দিশা দান করেন এবং তাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন, আর মুসলিমদেরকে দুষ্কৃতকারীদের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও দুআ কবুলকারী।

পূর্ববর্তী শরীয়তসমূহে হত্যার বিষয়টির ভয়াবহতা এবং এর গুরুত্ব সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে

মহান আল্লাহ আদমের দুই পুত্রের একজনের সম্পর্কে বলেছেন: {অতঃপর তার প্রবৃত্তি তাকে তার ভাইকে হত্যা করতে প্ররোচিত করল, ফলে সে তাকে হত্যা করল এবং সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল}। মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: {এ কারণেই আমি বনী ইসরাঈলের ওপর এই বিধান লিখে দিয়েছি যে, যে ব্যক্তি প্রাণের বিনিময়ে প্রাণ অথবা জমিনে ফাসাদ সৃষ্টি করা ব্যতীত কাউকে হত্যা করল...}
(খণ্ড: ১) বি-আইয়ি আকলিন ওয়া দীনিন ইয়াকুনুত তাফজীরু ওয়াত তাদমীরু জিহাদান?! ওয়াইহাকুম ... আফিকু ইয়া শাবাব!! (পৃষ্ঠা: ১৮)
فِي الأَرْضِ فَكَأَنَّمَا قَتَلَ النَّاسَ جَمِيعاً وَمَنْ أَحْيَاهَا فَكَأَنَّمَا أَحْيَا النَّاسَ جَمِيعاً} ، وقال صلى الله عليه وسلم: "لا تُقتل نفس ظلماً إلَاّ كان على ابن آدم الأول كفلٌ من دمها؛ لأنَّه أول من سنَّ القتل" رواه البخاري (3335) ، ومسلم (1677) ، وقال الله عز وجل عن رسوله موسى صلى الله عليه وسلم أنَّه قال للخضر: {أَقَتَلْتَ نَفْساً زَكِيَّةً بِغَيْرِ نَفْسٍ لَقَدْ جِئْتَ شَيْئاً نُكْراً} ، وقال عنه: {فَاسْتَغَاثَهُ الَّذِي مِنْ شِيعَتِهِ عَلَى الَّذِي مِنْ عَدُوِّهِ فَوَكَزَهُ مُوسَى فَقَضَى عَلَيْهِ قَالَ هَذَا مِنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ إِنَّهُ عَدُوٌّ مُضِلٌّ مُبِينٌ قَالَ رَبِّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي فَاغْفِرْ لِي فَغَفَرَ لَهُ إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ} ، وفي صحيح مسلم (2905) عن سالم بن عبد الله بن عمر قال:"يا أهل العراق! ما أسْأَلَكُم عن الصغيرة وأركبَكم للكبيرة! سمعت أبي عبد الله بن عمر يقول: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم
জমিনে (অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করল), সে যেন সকল মানুষকে হত্যা করল; আর যে তার প্রাণ রক্ষা করল, সে যেন সকল মানুষের প্রাণ রক্ষা করল}। এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "অন্যায্যভাবে কোনো ব্যক্তিকে হত্যা করা হলে আদমের প্রথম সন্তানের ওপর সেই রক্তের একটি অংশ বর্তায়; কারণ সে-ই প্রথম হত্যার সূচনা করেছিল।" এটি বুখারি (৩৩৩৫) ও মুসলিম (১৬৭৭) বর্ণনা করেছেন। এবং আল্লাহ আযযা ওয়া জাল তাঁর রাসূল মুসা (আলাইহিস সালাম) সম্পর্কে বলেছেন যে, তিনি খিজিরকে বলেছিলেন: {আপনি কি একটি নিষ্পাপ প্রাণকে কোনো প্রাণের বিনিময় ছাড়াই হত্যা করলেন? আপনি তো এক অত্যন্ত গর্হিত কাজ করেছেন}। এবং তাঁর সম্পর্কে আরও বর্ণিত হয়েছে: {অতঃপর তাঁর দলের লোকটি তাঁর শত্রুর বিরুদ্ধে তাঁর নিকট সাহায্য চাইল। তখন মুসা তাকে এক ঘুষি মারলেন এবং তার মৃত্যু ঘটল। তিনি বললেন, 'এটি শয়তানের কাজ; সে তো এক প্রকাশ্য বিভ্রান্তকারী শত্রু।' তিনি বললেন, 'হে আমার প্রতিপালক! আমি নিজের প্রতি জুলুম করেছি, সুতরাং আপনি আমাকে ক্ষমা করুন।' অতঃপর তিনি তাঁকে ক্ষমা করলেন। নিশ্চয়ই তিনি পরম ক্ষমাশীল ও অতি দয়ালু}। এবং সহিহ মুসলিম (২৯০৫)-এ সালেম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "হে ইরাকবাসী! তোমরা ছোট পাপ (الصغيرة) সম্পর্কে কতই না বেশি জিজ্ঞাসা করো, অথচ বড় পাপ (الكبيرة) করার ক্ষেত্রে কতই না দুঃসাহসী! আমি আমার পিতা আব্দুল্লাহ ইবনে উমরকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি..."
(খণ্ড: ১) বি-আইয়ি আকলিন ওয়া দীনিন ইয়াকুনুত তাফজীরু ওয়াত তাদমীরু জিহাদান?! ওয়াইহাকুম ... আফিকু ইয়া শাবাব!! (পৃষ্ঠা: ১৯)
يقول: إنَّ الفتنةَ تجيء من ههنا، وأومأ بيده نحو المشرق، من حيث يطلع قرنا الشيطان، وأنتم يضرب بعضُكم رقاب بعض، وإنَّما قتل موسى الذي قتل من آل فرعون خطأ، فقال الله عز وجل له: {وَقَتَلْتَ نَفْساً فَنَجَّيْنَاكَ مِنَ الْغَمِّ وَفَتَنَّاكَ فُتُوناً} "، وقول سالم بن عبد الله:"ما أسألَكم عن الصغيرة وأركبَكم للكبيرة" يشير بذلك إلى ما جاء عن أبيه في صحيح البخاري (5994) أنَّه سأله رجل من أهل العراق عن دم البعوض، فقال: "انظروا إلى هذا، يسألني عن دم البعوض وقد قتلوا ابن النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم، وسمعت النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم يقول: "هما ريحانتاي من الدنيا"، يعني الحسن والحسين رضي الله عنهما.

وقال تعالى: {وَإِذْ أَخَذْنَا مِيثَاقَكُمْ لا تَسْفِكُونَ دِمَاءَكُمْ وَلا تُخْرِجُونَ أَنْفُسَكُمْ مِنْ دِيَارِكُمْ ثُمَّ أَقْرَرْتُمْ
তিনি বলেন: নিশ্চয়ই ফিতনা (فتنة) আসবে এখান থেকে—এই বলে তিনি তাঁর হাত দিয়ে পূর্ব দিকে ইশারা করলেন—যেখান থেকে শয়তানের শিং উদিত হয়; আর তোমরা একে অপরের গর্দান কাটবে। অথচ মূসা ফেরআউনের বংশের যাকে হত্যা করেছিলেন তা ছিল ভুলবশত, তাই মহান আল্লাহ তাঁকে বলেছিলেন: "আর তুমি এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছিলে, অতঃপর আমি তোমাকে দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দিয়েছি এবং তোমাকে বিভিন্নভাবে পরীক্ষা করেছি।" আর সালেম বিন আবদুল্লাহর উক্তি: "ছোট (صغيرة) বিষয়ে তোমরা কতই না প্রশ্নকারী এবং বড় (كبيرة) পাপে তোমরা কতই না লিপ্ত!"—এর মাধ্যমে তিনি তাঁর পিতার সেই বর্ণনার দিকে ইঙ্গিত করেছেন যা সহীহ বুখারীতে (৫৯৯৪) এসেছে যে, ইরাকের এক ব্যক্তি তাঁকে মশার রক্ত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিল। তখন তিনি বললেন: "এই লোকটির দিকে তাকাও, সে আমাকে মশার রক্ত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করছে অথচ তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নাতিকে হত্যা করেছে। অথচ আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: তারা উভয়েই দুনিয়াতে আমার দুটি সুগন্ধি ফুল।" অর্থাৎ হাসান ও হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুমা।

আর মহান আল্লাহ বলেছেন: "এবং স্মরণ করো, যখন আমি তোমাদের অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলাম যে, তোমরা তোমাদের রক্ত প্রবাহিত করবে না এবং তোমাদের নিজেদেরকে তোমাদের ঘরবাড়ি থেকে বের করে দেবে না, অতঃপর তোমরা তা স্বীকার করেছিলে..."
(খণ্ড: ১) বি-আইয়ি আকলিন ওয়া দীনিন ইয়াকুনুত তাফজীরু ওয়াত তাদমীরু জিহাদান?! ওয়াইহাকুম ... আফিকু ইয়া শাবাব!! (পৃষ্ঠা: ২০)
وَأَنْتُمْ تَشْهَدُونَ} ، وقال تعالى: {وَكَتَبْنَا عَلَيْهِمْ فِيهَا أَنَّ النَّفْسَ بِالنَّفْسِ وَالْعَيْنَ بِالْعَيْنِ وَالأَنْفَ بِالأَنْفِ وَالأُذُنَ بِالأُذُنِ وَالسِّنَّ بِالسِّنِّ وَالْجُرُوحَ قِصَاصٌ}

ما جاء في قتل المسلم نفسه عمداً وخطأ

قال الله عز وجل: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ إِلَّا أَنْ تَكُونَ تِجَارَةً عَنْ تَرَاضٍ مِنْكُمْ وَلا تَقْتُلُوا أَنْفُسَكُمْ إِنَّ اللَّهَ كَانَ بِكُمْ رَحِيماً وَمَنْ يَفْعَلْ ذَلِكَ عُدْوَاناً وَظُلْماً فَسَوْفَ نُصْلِيهِ نَاراً وَكَانَ ذَلِكَ عَلَى اللَّهِ يَسِيراً} ، وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "مَن قتل نفسَه بشيء في الدنيا عُذِّب به يوم القيامة" رواه البخاري (6047) ،
...এবং তোমরা সাক্ষী থাকো।} এবং মহান আল্লাহ বলেন: {আর আমি তাদের জন্য তাতে (তাওরাতে) বিধিবদ্ধ করেছি যে, প্রাণের বদলে প্রাণ, চোখের বদলে চোখ, নাকের বদলে নাক, কানের বদলে কান, দাঁতের বদলে দাঁত এবং জখমের বদলে সমপরিমাণ প্রতিশোধ (قصاص)}

কোনো মুসলিমের ইচ্ছাকৃত ও ভুলবশত আত্মহত্যার বর্ণনা প্রসঙ্গে

আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না; তবে তোমাদের পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে ব্যবসার মাধ্যমে হলে ভিন্ন কথা। আর তোমরা নিজেদের হত্যা করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু। আর যে ব্যক্তি সীমালঙ্ঘন ও জুলুমের বশবর্তী হয়ে এরূপ করবে, তাকে আমি অচিরেই অগ্নিতে দগ্ধ করব। আর এটা আল্লাহর পক্ষে অত্যন্ত সহজ}। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি দুনিয়াতে কোনো বস্তু দ্বারা আত্মহত্যা করবে, কিয়ামতের দিন তাকে সেই বস্তু দিয়েই শাস্তি প্রদান করা হবে।" এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন (رواه) (৬০৪৭),
(খণ্ড: ১) বি-আইয়ি আকলিন ওয়া দীনিন ইয়াকুনুত তাফজীরু ওয়াত তাদমীরু জিহাদান?! ওয়াইহাকুম ... আফিকু ইয়া শাবাব!! (পৃষ্ঠা: ২১)
ومسلم (176) عن ثابت بن الضحاك رضى الله عنه، وروى البخاري (5778) ، ومسلم (175) عن أبي هريرة: أنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "مَن تردَّى من جبل فقتل نفسَه فهو في نار جهنَّم يتردَّى فيه خالداً مخلَّداً فيها أبداً، ومَن تحسَّى سُمًّا فقتل نفسَه فسُمُّه في يده يتحسَّاه في نار جهنَّم خالداً مخلَّداً فيها أبداً، ومَن قتل نفسَه بحديدة فحديدتُه في يده يجأ بها في بطنه في نار جهنَّم خالداً مخلَّداً فيها أبداً"، وفي صحيح البخاري (1365) عن أبي هريرة قال: قال النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم: "الذي يخنق نفسَه يخنقها في النار، والذي يطعنها يطعنها في النار".

وهذا الحديث في مسند الإمام أحمد (9618) وغيره وفيه زيادة: "والذي يتقحَّم فيها يتقحَّم في النار"، وانظر: السلسلة الصحيحة للألباني (3421) .
এবং মুসলিম (১৭৬) সাবেত ইবনুল জাহহাক (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন; আর বুখারি (৫৭৭৮) ও মুসলিম (১৭৫) আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি পাহাড় থেকে নিজেকে নিচে ফেলে দিয়ে হত্যা করল, সে জাহান্নামের আগুনে চিরস্থায়ীভাবে সেখানে অবস্থানরত অবস্থায় সর্বদা পাহাড় থেকে পড়তে থাকবে। আর যে ব্যক্তি বিষ পান করে নিজেকে হত্যা করল, তার বিষ তার হাতেই থাকবে এবং সে জাহান্নামের আগুনে চিরস্থায়ীভাবে সেখানে অবস্থানরত অবস্থায় সর্বদা তা পান করতে থাকবে। আর যে ব্যক্তি কোনো লোহার অস্ত্র দিয়ে নিজেকে হত্যা করল, সেই লোহার অস্ত্রটি তার হাতে থাকবে এবং সে জাহান্নামের আগুনে চিরস্থায়ীভাবে সেখানে অবস্থানরত অবস্থায় সর্বদা তা দিয়ে নিজের পেটে আঘাত করতে থাকবে"। এবং সহিহ বুখারিতে (১৩৬৫) আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি নিজের শ্বাসরোধ করে আত্মহত্যা করে, সে জাহান্নামেও নিজেকে শ্বাসরোধ করতে থাকবে; আর যে ব্যক্তি নিজেকে আঘাত করে হত্যা করে, সে জাহান্নামেও নিজেকে সেভাবে আঘাত করতে থাকবে"।

এই হাদিসটি মুসনাদ ইমাম আহমাদ (৯৬১৮) ও অন্যান্য গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে এবং এতে অতিরিক্ত অংশ (زيادة) রয়েছে: "আর যে ব্যক্তি নিজেকে নিক্ষেপ করে (উঁচু স্থান থেকে) আত্মহত্যা করে, সে জাহান্নামেও নিজেকে সেভাবে নিক্ষেপ করতে থাকবে"। দেখুন: আলবানীর সিলসিলাতুল আহাদিস আস-সহিহাহ (৩৪২১)।
(খণ্ড: ১) বি-আইয়ি আকলিন ওয়া দীনিন ইয়াকুনুত তাফজীরু ওয়াত তাদমীরু জিহাদান?! ওয়াইহাকুম ... আফিকু ইয়া শাবাব!! (পৃষ্ঠা: ২২)
وفي صحيح البخاري (1364) ، ومسلم (180) عن الحسن قال: حدَّثنا جُندب رضى الله عنه في هذا المسجد فما نسينا وما نخاف أن ننسى، وما نخاف أن يكذب جُندب على النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم، قال: "كان برجل جراح فقتلَ نفسَه، فقال الله: بدرنِي عبدي بنفسه، حرَّمت عليه الجنَّة"، وروى ابن حبان في صحيحه (موارد الظمآن 763) عن جابر بن سمرةرضى الله عنه: "أنَّ رجلاً كانت به جراحة، فأتى قرَناً له فأخذ مشقصاً، فذبح به نفسَه، فلم يُصلِّ عليه النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم"، وقال الألباني في صحيح الترغيب (2457) :"صحيح لغيره".

وأمَّا من قتل نفسه خطأ فهو معذور غير مأزور؛ لقول الله عز وجل: {وَلَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ فِيمَا أَخْطَأْتُمْ بِهِ وَلَكِنْ مَا تَعَمَّدَتْ قُلُوبُكُمْ} ، وقوله: {رَبَّنَا لا تُؤَاخِذْنَا إِنْ نَسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا} ، قال الله: "قد فعلت" رواه مسلم (126) .
এবং সহিহ বুখারি (১৩৬৪) ও মুসলিমে (১৮০) হাসান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: জুন্দুব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এই মসজিদে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, যা আমরা ভুলে যাইনি এবং ভুলে যাওয়ার আশঙ্কাও করছি না। আর আমরা জুন্দুব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর মিথ্যা (كذب) আরোপ করবেন বলেও ভয় পাই না। তিনি বলেন: "এক ব্যক্তির জখম হয়েছিল, ফলে সে নিজেকে হত্যা করল। তখন আল্লাহ বললেন: আমার বান্দা নিজের জীবনের ব্যাপারে আমার চেয়ে অগ্রগামী হয়েছে (তাড়াহুড়ো করেছে), আমি তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিলাম।" ইবনে হিব্বান তার সহিহ গ্রন্থে (মাওয়ারিদুজ জামআন ৭৬৩) জাবির বিন সামুরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন: "এক ব্যক্তির জখম হয়েছিল, সে একটি তীরের ফলার কাছে গিয়ে তা দিয়ে নিজেকে জবাই করল। ফলে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার জানাজা পড়েননি।" আলবানী সহিহ আত-তারগিব (২৪৫৭) গ্রন্থে বলেছেন: "অন্যান্য বর্ণনার মাধ্যমে সহিহ (صحيح لغيره)"।

আর যে ব্যক্তি ভুলবশত নিজেকে হত্যা করে, সে ওজরপ্রাপ্ত (ক্ষমাযোগ্য) এবং গুনাহগার নয়; মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {ভুলবশত তোমরা যা করেছ তাতে তোমাদের কোনো গুনাহ নেই, কিন্তু তোমাদের অন্তর যা সংকল্প করেছে (তাতে গুনাহ হবে)} এবং তাঁর বাণী: {হে আমাদের প্রতিপালক! যদি আমরা ভুলে যাই কিংবা ভুল করি, তবে আমাদের পাকড়াও করবেন না}। আল্লাহ বললেন: "আমি তা কবুল করলাম।" এটি মুসলিম (১২৬) বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) বি-আইয়ি আকলিন ওয়া দীনিন ইয়াকুনুত তাফজীরু ওয়াত তাদমীরু জিহাদান?! ওয়াইহাকুম ... আফিকু ইয়া শাবাব!! (পৃষ্ঠা: ২৩)
ما جاء في قتل المسلم بغير حقٍّ عمداً وخطأ

قتل المسلم يكون بحقٍّ وبغير حق، يكون بحقٍّ قصاصاً وحَدًّا، والقتل بغير حقٍّ يكون عمداً وخطأ، وقد قال الله عز وجل في القتل عمداً: {وَمَنْ يَقْتُلْ مُؤْمِناً مُتَعَمِّداً فَجَزَاؤُهُ جَهَنَّمُ خَالِداً فِيهَا وَغَضِبَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَلَعَنَهُ وَأَعَدَّ لَهُ عَذَاباً عَظِيماً} ، وقال: {وَالَّذِينَ لا يَدْعُونَ مَعَ اللَّهِ إِلَهاً آخَرَ وَلا يَقْتُلُونَ النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلَّا بِالْحَقِّ وَلا يَزْنُونَ وَمَنْ يَفْعَلْ ذَلِكَ يَلْقَ أَثَاماً يُضَاعَفْ لَهُ الْعَذَابُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَيَخْلُدْ فِيهِ مُهَاناًلَّا مَنْ تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ عَمَلاً صَالِحاً فَأُولَئِكَ يُبَدِّلُ اللَّهُ سَيِّئَاتِهِمْ حَسَنَاتٍ وَكَانَ اللَّهُ غَفُوراً رَحِيماً} ، وقال في سورتي الأنعام والإسراء: {وَلا تَقْتُلُوا النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلَّا بِالْحَقِّ} ، وقال في سورة
মুসলিমকে অন্যায়ভাবে ইচ্ছাকৃত (عمداً) ও ভুলবশত (خطأ) হত্যা করা প্রসঙ্গে যা বর্ণিত হয়েছে।

মুসলিমকে হত্যা করা কখনো সংগত কারণে (حق) এবং কখনো অন্যায়ভাবে হয়। সংগত কারণে হওয়া বলতে কিসাস (قصاصاً) এবং হদ (حداً) হিসেবে হওয়াকে বোঝায়। আর অন্যায়ভাবে হত্যা করা কখনো ইচ্ছাকৃত (عمداً) হয় এবং কখনো ভুলবশত (خطأ) হয়। মহান আল্লাহ ইচ্ছাকৃত (عمداً) হত্যার বিষয়ে বলেছেন: {আর যে ব্যক্তি কোনো মুমিনকে ইচ্ছাকৃতভাবে (عمداً) হত্যা করবে, তার শাস্তি হলো জাহান্নাম, সেখানে সে চিরকাল থাকবে। আল্লাহ তার প্রতি ক্রুদ্ধ হয়েছেন, তাকে লানত করেছেন এবং তার জন্য মহা আজাব প্রস্তুত করে রেখেছেন}। তিনি আরও বলেছেন: {এবং যারা আল্লাহর সাথে অন্য কোনো উপাস্যকে ডাকে না এবং আল্লাহ যে প্রাণকে হারাম করেছেন তাকে সংগত কারণ (الحق) ছাড়া হত্যা করে না এবং তারা ব্যভিচার করে না। যারা এ কাজ করবে তারা শাস্তির সম্মুখীন হবে। কিয়ামতের দিন তাদের আজাব দ্বিগুণ করা হবে এবং সেখানে তারা অপমানিত অবস্থায় চিরকাল থাকবে। তবে যারা তওবা করে, ঈমান আনে এবং সৎ কাজ করে, আল্লাহ তাদের পাপসমূহকে নেকিতে পরিবর্তিত করে দেবেন। আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু}। আর তিনি সূরা আল-আনআম এবং আল-ইসরায় বলেছেন: {আর আল্লাহ যে প্রাণকে হারাম করেছেন তাকে সংগত কারণ (الحق) ছাড়া তোমরা হত্যা করো না}, এবং তিনি সূরা...
(খণ্ড: ১) বি-আইয়ি আকলিন ওয়া দীনিন ইয়াকুনুত তাফজীরু ওয়াত তাদমীরু জিহাদান?! ওয়াইহাকুম ... আফিকু ইয়া শাবাব!! (পৃষ্ঠা: ২৪)
الأنعام: {وَلا تَقْتُلُوا أَوْلادَكُمْ مِنْ إِمْلاقٍ نَحْنُ نَرْزُقُكُمْ وَإِيَّاهُمْ} ، وقال في سورة الإسراء: {وَلا تَقْتُلُوا أَوْلادَكُمْ خَشْيَةَ إِمْلاقٍ نَحْنُ نَرْزُقُهُمْ وَإِيَّاكُمْ إِنَّ قَتْلَهُمْ كَانَ خِطْئاً كَبِيراً} ، وقال تعالى: {قَدْ خَسِرَ الَّذِينَ قَتَلُوا أَوْلادَهُمْ سَفَهاً بِغَيْرِ عِلْمٍ وَحَرَّمُوا مَا رَزَقَهُمُ اللَّهُ افْتِرَاءً عَلَى اللَّهِ قَدْ ضَلُّوا وَمَا كَانُوا مُهْتَدِينَ} ، وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "أول ما يُقضى بين الناس يوم القيامة في الدِّماء" رواه البخاري (6864) ومسلم (1678) ، وقد أكَّد صلى الله عليه وسلم في خطبته في حجَّة الوداع حرمة دماء المسلمين وأموالهم وأعراضهم بتشبيهها بحرمة الزمان والمكان، فعن أبي بكرة رضي الله عنه قال: "خطبنا النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم يوم النحر، قال: أتدرون أيَّ يوم هذا؟ قلنا: الله ورسوله أعلم، فسكت حتى ظننَّا أنَّه سيُسمِّيه بغير اسمه، قال: أليس يوم النحر؟
আল-আনআম: {তোমরা অভাবের কারণে তোমাদের সন্তানদের হত্যা করো না, আমরাই তোমাদের এবং তাদের রিযিক দান করি}। এবং তিনি সূরা আল-ইসরায় বলেছেন: {তোমরা দারিদ্র্যের ভয়ে তোমাদের সন্তানদের হত্যা করো না, আমরাই তাদের এবং তোমাদের রিযিক দান করি; নিশ্চয়ই তাদের হত্যা করা ছিল এক মহাপাপ}। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {নিশ্চয়ই তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যারা মূর্খতাবশত ও অজ্ঞতাবশত নিজেদের সন্তানদের হত্যা করেছে এবং আল্লাহ তাদের যে রিযিক দান করেছেন, আল্লাহর ওপর অপবাদ দিয়ে তারা তা হারাম করে নিয়েছে। তারা পথভ্রষ্ট হয়েছে এবং তারা হিদায়াতপ্রাপ্ত ছিল না}। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "কিয়ামতের দিন মানুষের মধ্যে সর্বপ্রথম যে বিষয়ের ফয়সালা করা হবে তা হলো রক্তপাত (সংক্রান্ত বিষয়)।" এটি বর্ণিত (رواه) হয়েছে বুখারী (৬৮৬৪) ও মুসলিম (১৬৭৮) গ্রন্থে। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর বিদায় হজের ভাষণে মুসলমানদের রক্ত, সম্পদ ও সম্ভ্রমের পবিত্রতাকে ওই সময়ের ও স্থানের পবিত্রতার সাথে তুলনা করে গুরুত্বারোপ করেছেন। আবু বকরা (রাদিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত (عن), তিনি বলেন: "কোরবানির দিন নবী (সালلاًল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন। তিনি বললেন: তোমরা কি জানো এটি কোন দিন? আমরা বললাম: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই সর্বাধিক অবগত। তিনি নীরব রইলেন, এমনকি আমরা ধারণা করলাম যে তিনি হয়তো দিনটির অন্য কোনো নামকরণ করবেন। এরপর তিনি বললেন: এটি কি কোরবানির দিন নয়?"
(খণ্ড: ১) বি-আইয়ি আকলিন ওয়া দীনিন ইয়াকুনুত তাফজীরু ওয়াত তাদমীরু জিহাদান?! ওয়াইহাকুম ... আফিকু ইয়া শাবাব!! (পৃষ্ঠা: ২৫)
قلنا: بلى! قال: أي شهر هذا؟ قلنا: الله ورسوله أعلم، فسكت حتى ظننا أنَّه سيُسمِّيه بغير اسمه، فقال: أليس ذو الحجة؟ قلنا: بلى! قال: أي بلد هذا؟ قلنا: الله ورسوله أعلم، فسكت حتى ظننا أنَّه سيُسمِّيه بغير اسمه، قال: أليست بالبلدة الحرام؟ قلنا: بلى! قال: فإنَّ دماءَكم وأموالَكم وأعراضَكم عليكم حرام كحرمة يومكم هذا في شهركم هذا في بلدكم هذا إلى يوم تلقون ربَّكم، ألَا هل بلَّغت؟ قالوا: نعم! قال: اللهمَّ اشهد، فليُبلِّغ الشاهدُ الغائبَ، فرُبَّ مبلَّغ أوعى من سامع، فلا ترجعوا بعدي كفاراً يضرب بعضُكم رقابَ بعض" رواه البخاري (67) و (1741) ، ومسلم (1679) ، وقد جاء هذا التأكيد أيضاً في حديث ابن عباس في صحيح البخاري (1739) ، وحديث ابن عمر فيه أيضاً (1742) ، وحديث جابر في صحيح مسلم (1218) .

আমরা বললাম: অবশ্যই! তিনি বললেন: এটি কোন মাস? আমরা বললাম: আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। এরপর তিনি নীরব থাকলেন, এমনকি আমাদের মনে হলো তিনি হয়তো মাসটির ভিন্ন কোনো নাম দেবেন। অতঃপর তিনি বললেন: এটি কি জিলহজ মাস নয়? আমরা বললাম: অবশ্যই! তিনি বললেন: এটি কোন শহর? আমরা বললাম: আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। এরপর তিনি নীরব থাকলেন, এমনকি আমাদের মনে হলো তিনি হয়তো শহরটির ভিন্ন কোনো নাম দেবেন। তিনি বললেন: এটি কি পবিত্র শহর নয়? আমরা বললাম: অবশ্যই! তিনি বললেন: নিশ্চয়ই তোমাদের রক্ত, তোমাদের সম্পদ এবং তোমাদের সম্মান তোমাদের জন্য তেমনই নিষিদ্ধ বা পবিত্র (حرام), যেমন পবিত্র তোমাদের আজকের এই দিন, তোমাদের এই মাস এবং তোমাদের এই শহর; তোমাদের রবের সাথে সাক্ষাৎ করার দিন পর্যন্ত। শোনো! আমি কি পৌঁছে দিয়েছি? তাঁরা বললেন: হ্যাঁ! তিনি বললেন: হে আল্লাহ! আপনি সাক্ষী থাকুন। সুতরাং উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থিত ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেয়। কারণ যাকে পৌঁছে দেওয়া হবে, সে হয়তো শ্রবণকারীর চেয়ে অধিক সংরক্ষণকারী হতে পারে। সুতরাং আমার পরে তোমরা একে অপরের গর্দান কর্তন করে পুনরায় কাফিরে (كفار) পরিণত হয়ো না। এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি (67) ও (1741) এবং মুসলিম (1679)। এই তাকিদ বা নিশ্চয়তা ইবনে আব্বাসের বর্ণিত হাদিসে সহিহ বুখারিতে (1739) এসেছে, সেখানে ইবনে উমরের হাদিসেও (1742) রয়েছে এবং সহিহ মুসলিমে (1218) জাবিরের হাদিসেও এটি বর্ণিত হয়েছে।

(খণ্ড: ১) বি-আইয়ি আকলিন ওয়া দীনিন ইয়াকুনুত তাফজীরু ওয়াত তাদমীরু জিহাদান?! ওয়াইহাকুম ... আফিকু ইয়া শাবাব!! (পৃষ্ঠা: ২৬)
وعن أبي هريرة رضي الله عنه، عن النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم قال: "اجتنبوا السبع الموبقات، قالوا: يا رسول الله! وما هنَّ؟ قال: الشرك بالله، والسِّحر، وقتل النفس التي حرَّم الله إلَاّ بالحقِّ، وأكل الرِّبا، وأكل مال اليتيم، والتولِّي يوم الزَّحف، وقذف المحصنات المؤمنات الغافلات" رواه البخاري (2766) ، ومسلم (145) .

وعن ابن عمر رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "لن يزال المؤمن في فُسحة من دينه ما لم يُصب دماً حراماً"، وقال ابن عمر: "إنَّ من وَرْطات الأمور التي لا مخرج لِمَن أوقع نفسَه فيها سفك الدم الحرام بغير حلِّه" رواهما البخاري في صحيحه (6862، 6863) .

وقال عبادة بن الصامت: "كنَّا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في مجلس، فقال: "تُبايعوني على أن لا تشركوا بالله شيئاً، ولا تزنوا، ولا تسرقوا، ولا تقتلوا
আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা সাতটি ধ্বংসাত্মক পাপাচার থেকে বেঁচে থাকো।" তাঁরা আরজ করলেন: "হে আল্লাহর রাসূল! সেগুলো কী?" তিনি বললেন: "আল্লাহর সাথে শিরক করা, জাদু, আল্লাহ যে প্রাণ হত্যা করা হারাম করেছেন তাকে ন্যায়সংগত কারণ ছাড়া হত্যা করা, সুদ খাওয়া, এতিমের সম্পদ ভক্ষণ করা, যুদ্ধের ময়দান থেকে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করা এবং সচ্চরিত্রা মুমিন ও সরলমনা (পাপাচার সম্পর্কে বেখবর) নারীদের অপবাদ দেওয়া।" এটি বুখারি (২৭৬৬) ও মুসলিম (১৪৫) বর্ণনা করেছেন।

ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "একজন মুমিন তার দ্বীনের বিষয়ে প্রশস্ততার মাঝে থাকে যতক্ষণ না সে কোনো নিষিদ্ধ রক্তপাত ঘটায়।" ইবনে উমর বলেন: "নিশ্চয়ই সেই সকল সংকটপূর্ণ বিষয়—যাতে কোনো ব্যক্তি নিজেকে নিপতিত করলে তার আর নিষ্কৃতির পথ থাকে না—তার অন্যতম হলো অন্যায়ভাবে নিষিদ্ধ রক্তপাত ঘটানো।" ইমাম বুখারি তাঁর সহিহ (৬৮৬২, ৬৮৬৩) গ্রন্থে হাদিস দুটি বর্ণনা করেছেন।

উবাদাহ ইবনে সামিত (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: "আমরা একটি মজলিসে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে ছিলাম, তখন তিনি বললেন: "তোমরা আমার কাছে এই মর্মে বায়াত করো যে, আল্লাহর সাথে কোনো কিছুকে শিরক করবে না, ব্যভিচার করবে না, চুরি করবে না এবং হত্যা করবে না...
(খণ্ড: ১) বি-আইয়ি আকলিন ওয়া দীনিন ইয়াকুনুত তাফজীরু ওয়াত তাদমীরু জিহাদান?! ওয়াইহাকুম ... আফিকু ইয়া শাবাব!! (পৃষ্ঠা: ২৭)
النفسَ التي حرَّم الله إلَاّ بالحقِّ، فمَن وفَّى منكم فأجره على الله، ومَن أصاب شيئاً من ذلك فعوقب به فهو كفَّارةٌ له، ومَن أصاب شيئاً من ذلك فستره الله عليه فأمرُه إلى الله، إن شاء عفا عنه وإن شاء عذَّبه" رواه البخاري (18) ومسلم (1709) ، وهذا لفظ مسلم.

وعن ابن عمر، عن النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم قال: "مَن حَمَلَ علينا السِّلاحَ فليس منَّا" رواه البخاري (6874) ومسلم (161) .

وعن عبد الله بن مسعود قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "لا يحلُّ دمُ امرئ مسلم يشهد أن لا إله إلَاّ الله وأنِّي رسول الله إلَاّ بإحدى ثلاث: النفس بالنفس، والثيِّب الزاني، والمفارق لدينه التارك للجماعة" رواه البخاري (6878) ، ومسلم (1676) .
"...সেই প্রাণ যা আল্লাহ হারাম করেছেন সঙ্গত কারণ ব্যতিরেকে। তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি (অঙ্গীকার) পূর্ণ করবে, তার প্রতিদান আল্লাহর জিম্মায়। আর যে ব্যক্তি এগুলোর কোনোটিতে লিপ্ত হলো এবং তজ্জন্য তাকে দুনিয়াতে দণ্ড প্রদান করা হলো, তবে তা তার জন্য কাফফারা স্বরূপ। আর যে ব্যক্তি এগুলোর কোনোটিতে লিপ্ত হলো এবং আল্লাহ তার বিষয়টি গোপন রাখলেন, তবে তার বিষয়টি আল্লাহর ইচ্ছাধীন; তিনি চাইলে তাকে ক্ষমা করতে পারেন অথবা চাইলে তাকে শাস্তি দিতে পারেন।" এটি বুখারি (১৮) এবং মুসলিম (১৭০৯) বর্ণনা করেছেন, আর এটি মুসলিমের শব্দবিন্যাস (لفظ)।

ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।" এটি বুখারি (৬৮৭৪) ও মুসলিম (১৬১) বর্ণনা করেছেন।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল—এই সাক্ষ্য প্রদানকারী কোনো মুসলিম ব্যক্তির রক্ত বৈধ নয়, তিনটি কারণ ব্যতীত: প্রাণের বিনিময়ে প্রাণ, বিবাহিত ব্যভিচারী এবং স্বীয় ধর্ম ত্যাগকারী জামায়াত থেকে বিচ্ছিন্ন ব্যক্তি।" এটি বুখারি (৬৮৭৮) এবং মুসলিম (১৬৭৬) বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) বি-আইয়ি আকলিন ওয়া দীনিন ইয়াকুনুত তাফজীরু ওয়াত তাদমীরু জিহাদান?! ওয়াইহাকুম ... আফিকু ইয়া শাবাব!! (পৃষ্ঠা: ২৮)
وعنه أيضاً: أنَّ النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم قال: "سبابُ المسلم فسوق، وقتاله كفر" رواه البخاري (48) ، ومسلم (116) .

وعن ابن عباس: أنَّ النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم قال: "أبغضُ الناس إلى الله ثلاثة: مُلحدٌ في الحرَم، ومبتغ في الإسلام سنَّة الجاهلية، ومطلب دم امرئ بغير حقٍّ ليهريق دمه" رواه البخاري (6882) .

وقال الله عز وجل: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الْقِصَاصُ فِي الْقَتْلَى الْحُرُّ بِالْحُرِّ وَالْعَبْدُ بِالْعَبْدِ وَالْأُنْثَى بِالْأُنْثَى فَمَنْ عُفِيَ لَهُ مِنْ أَخِيهِ شَيْءٌ فَاتِّبَاعٌ بِالْمَعْرُوفِ وَأَدَاءٌ إِلَيْهِ بِإِحْسَانٍ ذَلِكَ تَخْفِيفٌ مِنْ رَبِّكُمْ وَرَحْمَةٌ فَمَنِ اعْتَدَى بَعْدَ ذَلِكَ فَلَهُ عَذَابٌ أَلِيم ٌوَلَكُمْ فِي الْقِصَاصِ حَيَاةٌ يَا أُولِي الْأَلْبَابِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ} ، وفي صحيح البخاري (6896) عن ابن عمر رضي الله عنهما:"أنَّ غلاماً قُتل غيلة،
তাঁর থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "মুসলিমকে গালি দেওয়া পাপাচার (فسوق) এবং তার সাথে লড়াই করা কুফরি (كفر)।" এটি বুখারি (৪৮) ও মুসলিম (১১৬) বর্ণনা করেছেন।

ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহর নিকট তিন ব্যক্তি সবচেয়ে বেশি ঘৃণিত: হারামের সীমানায় সত্যবিচ্যুত (ملحد) ব্যক্তি, ইসলামে জাহেলিয়াতের রীতিনীতির অন্বেষণকারী এবং সেই ব্যক্তি যে কোনো মানুষকে অন্যায়ভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে তার রক্তপাতের দাবি করে।" এটি বুখারি (৬৮৮২) বর্ণনা করেছেন।

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {হে মুমিনগণ, নিহতদের ব্যাপারে তোমাদের ওপর কিসাস (قصاص) বিধিবদ্ধ করা হয়েছে। স্বাধীনের বদলে স্বাধীন, দাসের বদলে দাস এবং নারীর বদলে নারী। তবে যাকে তার ভাইয়ের পক্ষ থেকে কিছুটা ক্ষমা করা হয়, সেক্ষেত্রে প্রচলিত প্রথা অনুসরণ করা এবং মহানুভবতার সাথে তা আদায় করা কর্তব্য। এটি তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে এক প্রকার শিথিলতা ও রহমত। সুতরাং এর পরেও যারা সীমালঙ্ঘন করবে, তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। হে বিবেকসম্পন্নগণ, কিসাসের মধ্যে তোমাদের জন্য জীবন নিহিত রয়েছে, যেন তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো।} এবং সহিহ বুখারি (৬৮৯৬)-তে ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত: "একটি বালককে প্রতারণামূলকভাবে (غيلة) হত্যা করা হয়েছিল,
(খণ্ড: ১) বি-আইয়ি আকলিন ওয়া দীনিন ইয়াকুনুত তাফজীরু ওয়াত তাদমীরু জিহাদান?! ওয়াইহাকুম ... আফিকু ইয়া শাবাব!! (পৃষ্ঠা: ২৯)
فقال عمر: لو اشترك فيها أهلُ صنعاء لقتلتُهم"، وقال مغيرة بن حكيم، عن أبيه: "إنَّ أربعة قتلوا صبيًّا، فقال عمر … " مثله.

وفي صحيح البخاري (7152) عن جندب بن عبد الله قال: "إنَّ أوَّل ما ينتن من الإنسان بطنُه، فمَن استطاع أن لا يأكل إلَاّ طيِّباً فليفعل، ومَن استطاع أن لا يُحال بينه وبين الجنَّة بملء كفٍّ من دم هراقه فليفعل"، قال الحافظ في الفتح (13/130) :"ووقع مرفوعاً عند الطبراني أيضاً من طريق إسماعيل بن مسلم، عن الحسن، عن جندب، ولفظه: "تعلمون أنِّي سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: لا يحولنَّ بين أحدكم وبين الجنَّة وهو يراها ملءُ كفِّ دم من مسلم أهراقه بغير حلِّه"، وهذا لو لم يرِد مصرَّحاً برفعه لكان في حكم المرفوع؛ لأنَّه لا يُقال بالرأي، وهو وعيد شديد
উমর (রা.) বলেন: "যদি সানআ’র সকল অধিবাসীও এতে (এই হত্যাকাণ্ডে) শরিক হতো, তবে আমি তাদের সকলকেই হত্যা করতাম।" মুগিরা বিন হাকিম তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন: "নিশ্চয়ই চার ব্যক্তি মিলে একটি ছেলেকে হত্যা করেছিল, তখন উমর (রা.) বলেন … " অনুরূপ।

সহীহ বুখারীতে (৭১৫২) জুনদুব বিন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "মানুষের শরীরের প্রথম যে অংশটি পচে দুর্গন্ধযুক্ত হয় তা হলো তার পেট। সুতরাং যার পক্ষে সম্ভব যে সে পবিত্র খাদ্য ব্যতীত অন্য কিছু খাবে না, সে যেন তা-ই করে। আর যার পক্ষে সম্ভব যে এক অঞ্জলি পরিমাণ রক্ত প্রবাহিত করার মাধ্যমে নিজের এবং জান্নাতের মাঝে কোনো অন্তরায় সৃষ্টি হতে দেবে না, সে যেন তা-ই করে।" হাফেজ (ইবনে হাজার) আল-ফাতহ গ্রন্থে (১৩/১৩০) বলেছেন: "এটি তাবারানীতেও মারফু (مرفوعاً) হিসেবে ইসমাইল বিন মুসলিমের সূত্রে হাসান থেকে, তিনি জুনদুব থেকে বর্ণনা করেছেন। এর শব্দগুলো হলো: 'তোমরা কি জানো যে আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি: তোমাদের কেউ যেন জান্নাত দেখার পর এক অঞ্জলি পরিমাণ মুসলিমের রক্ত অন্যায়ভাবে প্রবাহিত করার মাধ্যমে নিজের ও জান্নাতের মাঝে কোনো আড়াল সৃষ্টি না করে'।" আর এটি যদি স্পষ্টভাবে মারফু (برفعه) হিসেবে উল্লেখ না-ও থাকত, তবুও তা হুকমান মারফু (في حكم المرفوع) হিসেবে গণ্য হতো; কারণ এমন বিষয় ব্যক্তিগত রায়ের ভিত্তিতে বলা সম্ভব নয় এবং এটি একটি অত্যন্ত কঠোর হুঁশিয়ারি।
(খণ্ড: ১) বি-আইয়ি আকলিন ওয়া দীনিন ইয়াকুনুত তাফজীরু ওয়াত তাদমীরু জিহাদান?! ওয়াইহাকুম ... আফিকু ইয়া শাবাব!! (পৃষ্ঠা: ৩০)
لقتل المسلم بغير حقٍّ".

وقال صلى الله عليه وسلم: "ومَن خرج على أمَّتي يضرب برَّها وفاجرَها، ولا يتحاش من مؤمنها، ولا يفي لذي عهد عهدَه، فليس منِّي ولستُ منه" رواه مسلم (1848) .

وهذه أحاديثُ لَم ترد في الصحيحين مِمَّا أورده المنذري في الترغيب والترهيب، وأثبته الألباني في صحيح الترغيب والترهيب (1/629 ـ 634) :

عن البراء رضي الله عنه: أنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "لزوال الدنيا أهونُ على الله من قتل مؤمن بغير حق، ولو أنَّ أهلَ سماواته وأهل أرضه اشتركوا في دم مؤمن لأدخلهم الله النار".

وعن عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما: أنَّ النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم قال: "لزوال الدنيا أهون على الله من قتل رجل مسلم".
...অন্যায়ভাবে একজন মুসলিমকে হত্যার কারণে।"

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমার উম্মতের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে এবং তাদের নেককার ও পাপাচারী নির্বিশেষে সকলকে আঘাত করে, মুমিনদের (আঘাত করা থেকে) বিরত থাকে না এবং কোনো চুক্তিবদ্ধ ব্যক্তির অঙ্গীকার পূর্ণ করে না, সে আমার দলভুক্ত নয় এবং আমিও তার সাথে সম্পর্কযুক্ত নই।" এটি মুসলিম (১৮৪৮) বর্ণনা করেছেন।

এগুলো এমন কিছু হাদিস যা সহীহায়নে বর্ণিত হয়নি, তবে আল-মুনযিরি 'আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব' গ্রন্থে সেগুলো উল্লেখ করেছেন এবং আলবানী 'সহীহ আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব' (১/৬২৯-৬৩৪) গ্রন্থে সেগুলোকে সহীহ (صحيح) হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন:

বারা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহর নিকট দুনিয়া ধ্বংস হয়ে যাওয়া একজন মুমিনকে অন্যায়ভাবে হত্যা করার চেয়েও তুচ্ছ। আর যদি আসমান ও জমিনের সকল অধিবাসী একজন মুমিনের রক্তপাতে লিপ্ত হতো, তবে আল্লাহ অবশ্যই তাদের সকলকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করতেন।"

আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহর নিকট দুনিয়া বিনাশ হওয়া একজন মুসলিম ব্যক্তিকে হত্যা করার চেয়েও তুচ্ছ।"
(খণ্ড: ১) বি-আইয়ি আকলিন ওয়া দীনিন ইয়াকুনুত তাফজীরু ওয়াত তাদমীরু জিহাদান?! ওয়াইহাকুম ... আফিকু ইয়া শাবাব!! (পৃষ্ঠা: ৩১)
وعن بُريدة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "قتل المؤمن أعظم عند الله من زوال الدنيا".

وعن أبي سعيد وأبي هريرة رضي الله عنهما، عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "لو أنَّ أهل السماء وأهل الأرض اشتركوا في دم مؤمن لأكبَّهم الله في النار".

وعن أبي بكرة رضي الله عنه، عن النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم قال: "لو أنَّ أهل السموات والأرض اجتمعوا على قتل مسلم لكبَّهم الله جميعاً على وجوههم في النار".

وعن معاوية رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "كلُّ ذنب عسى الله أن يغفره، إلَاّ الرجل يموت كافراً، أو الرجل يقتل مؤمناً متعمِّداً".

وعن أبي الدرداء رضي الله عنه قال: سمعتُ رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "كلُّ ذنب عسى الله أن يغفره، إلَاّ الرجل يموت مشركاً، أو يقتل مؤمناً متعمِّداً".
বুরাইদাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "একজন মুমিনকে হত্যা করা আল্লাহর নিকট সমগ্র দুনিয়া বিলুপ্ত হওয়ার চেয়েও অধিক গুরুতর।"

আবু সাঈদ এবং আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: "যদি আসমান ও জমিনের সকল অধিবাসী একজন মুমিনের রক্তপাতে লিপ্ত হয়, তবে আল্লাহ অবশ্যই তাদের সকলকে জাহান্নামের আগুনে উপুড় করে নিক্ষেপ করবেন।"

আবু বাকরাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যদি আসমান ও জমিনের সকল অধিবাসী একজন মুসলিমকে হত্যার বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়, তবে আল্লাহ তাদের সকলকেই জাহান্নামের আগুনে মুখ থুবড়ে নিক্ষেপ করবেন।"

মুয়াবিয়া (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আশা করা যায় আল্লাহ সকল গুনাহই ক্ষমা করে দেবেন, কেবল ঐ ব্যক্তি ব্যতীত যে কাফের (كافر) অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে অথবা যে ব্যক্তি কোনো মুমিনকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করে।"

আবু দারদা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "আশা করা যায় আল্লাহ সকল গুনাহই ক্ষমা করে দেবেন, কেবল ঐ ব্যক্তি ব্যতীত যে মুশরিক (مشرك) অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে অথবা যে কোনো মুমিনকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করে।"