(খণ্ড: ১) আল-আওয়ামিলুল মুয়াসসিরাতু ফী নাউতিল হুকমি বিল মাযিন্নাতি আউ বিল হিকমাহ (পৃষ্ঠা: -)
العوامل المؤثرة في نوط الحكم بالمظنة أو بالحكمة   (أيمن صالح)

القسم: أصول الفقه


الكتاب: العوامل المؤثرة في نوط الحكم بالمظنة أو بالحكمة - دراسة أصولية

المؤلف: د أيمن صالح

بحث منشور في: مجلة كلية العلوم الإسلامية - بغداد، العدد 70، ذو الحجة 1443 هـ

عدد الصفحات: 58

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 18 ربيع الآخر 1444

সম্ভাব্য কারণ (المظنة) অথবা প্রজ্ঞার (الحكمة) সাথে বিধান (الحكم) সম্পৃক্তকরণের (نوط) ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারকারী উপাদানসমূহ   (আয়মান সালেহ)

বিভাগ: উসুল আল-ফিকহ (أصول الفقه)


গ্রন্থ: সম্ভাব্য কারণ (المظنة) অথবা প্রজ্ঞার (الحكمة) সাথে বিধান (الحكم) সম্পৃক্তকরণের (نوط) ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারকারী উপাদানসমূহ - একটি উসুলি (أصولية) গবেষণা

লেখক: ড. আয়মান সালেহ

প্রকাশিত গবেষণা: মাজাল্লাহ কুল্লিয়াত আল-উলুম আল-ইসলামিয়্যাহ - বাগদাদ، সংখ্যা ৭০، জিলহজ ১৪৪৩ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৮

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামিলা সফটওয়্যারে প্রকাশের তারিখ: ১৮ রবিউস সানি ১৪৪৪

(খণ্ড: ৭০) আল-আওয়ামিলুল মুয়াসসিরাতু ফী নাউতিল হুকমি বিল মাযিন্নাতি আউ বিল হিকমাহ (পৃষ্ঠা: ৯৯)
العوامل المؤثِّرة في نوط الحكم بالمظنّة أو بالحكمة: دراسة أصوليّة

أيمن صالح

أستاذ الفقه وأصوله

جامعة قطر
বিধানকে (حكم) মাযান্নাহ (مظنة) অথবা হিকমতের (حكمة) সাথে সংশ্লিষ্ট করার ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারকারী উপাদানসমূহ: একটি উসূলি (أصولية) গবেষণা

আইমান সালেহ

ফিকহ ও উসূলে ফিকহ-এর অধ্যাপক

কাতার বিশ্ববিদ্যালয়
(খণ্ড: ৭০) আল-আওয়ামিলুল মুয়াসসিরাতু ফী নাউতিল হুকমি বিল মাযিন্নাতি আউ বিল হিকমাহ (পৃষ্ঠা: ১০০)
‌‌الملخّص

ثَمَّ جدلٌ نظريٌ في كتب الأصول، قديمًا وحديثًا، حولَ القول بجواز أن يُعلَّل الحكم بحكمته، أم يجب أن يُعلَّل بالمظنّة الظاهرة المنضبطة (العلّة). وبالنظر إلى الفروع العملية للفقهاء، فإنّا وجدناهم ينيطون الأحكام بالحكمة نفسها تارةً، وبالمظنة/ العلة تارةً أخرى، فاحتاج الأمر إلى معرفة العوامل التي تؤثّر في اختياراتهم هذه. وبالاستقراء توصّل الباحث إلى تسعة عوامل تؤثِّر في نوط الحكم بالمظنّة أو بالحكمة في الوقائع.

 

الكلمات المفتاحية: التعليل بالحكمة، التعليل بالمظنة، العلة، الحكمة.
‌সারাংশ

উসুল বা মূলনীতির (اصول) গ্রন্থসমূহে প্রাচীনকাল থেকে বর্তমান অবধি একটি তাত্ত্বিক বিতর্ক বিদ্যমান যে, কোনো বিধানের (حكم) ভিত্তি কি তার প্রজ্ঞা (حكمة) হতে পারে, নাকি তা অবশ্যই স্পষ্ট ও সুশৃঙ্খল সম্ভাব্যতার ক্ষেত্র (مظنة) বা কার্যকর কারণের (علة) ওপর ভিত্তি করে হতে হবে। ফকিহদের (فقهاء) ব্যবহারিক শাখাগুলোর (فروع) পর্যালোচনায় আমরা দেখতে পাই যে, তাঁরা কখনো বিধানগুলোকে সরাসরি প্রজ্ঞার (حكمة) সাথে যুক্ত করেছেন, আবার কখনো সম্ভাব্যতার ক্ষেত্র (مظنة) বা কার্যকর কারণের (علة) সাথে। তাই তাঁদের এই পছন্দের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারকারী বিষয়গুলো জানার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। আরোহ পদ্ধতির (استقراء) মাধ্যমে গবেষক নয়টি প্রভাব বিস্তারকারী বিষয় চিহ্নিত করেছেন, যা বাস্তব ঘটনাবলীতে কোনো বিধানকে (حكم) সম্ভাব্যতার ক্ষেত্র (مظنة) নাকি সরাসরি প্রজ্ঞার (حكمة) সাথে সম্পৃক্ত করা হবে, তা নির্ধারণে ভূমিকা রাখে।

 

মূল শব্দসমূহ: প্রজ্ঞার মাধ্যমে কারণ দর্শানো (التعليل بالحكمة), সম্ভাব্যতার মাধ্যমে কারণ দর্শানো (التعليل بالمظنة), কার্যকর কারণ (علة), প্রজ্ঞা (حكمة)।
(খণ্ড: ৭০) আল-আওয়ামিলুল মুয়াসসিরাতু ফী নাউতিল হুকমি বিল মাযিন্নাতি আউ বিল হিকমাহ (পৃষ্ঠা: ১০১)
‌‌المقدّمة

الحمد لله، والصلاة والسلام على رسول الله، وآله ومن والاه، وبعد:

فإنّ علم مقاصد الشريعة بلغ مبلغًا عظيمًا هذه الأزمان، من حيث انتشارُ تناولِه، وكثرةُ المؤلّفات فيه، وهو علمٌ حقيق بالعناية والرعاية، عظيم الفائدة، كبير العائدة، ولاسيّما في تسديد النظر في القضايا الاجتهادية المعاصرة، لكنّه في الوقت نفسه مَزِلّة قدم إذا أُخذ بمعزلٍ عن أصله ومعدنِه، علمِ أصول الفقه، الذي اشتمل على آليّات تحديد المقاصد، وشروطها، وضوابط إعمالها. فالحقيقةُ التاريخية التي لا ينبغي إغفالها هي أنّ علم مقاصد الشريعة فرعٌ عن علم أصول الفقه، عنه انبثق ومنه اشتُق، ولا ينبغي للفرع أن يعود على أصله بالإبطال، وإلا أبطل نفسه.

وكثيرٌ من الخائضين في البحث المقاصدي، سيّما من غير المتخصّصين في الأصول، يندفعون بحماسٍ زائد مع المقاصد، أو ما يخالونها المقاصد، من غير تقيُّد بمقرّرات الأصوليين العتيدة في ضوابط تحديدها وإعمالها: إمّا جهلًا بهذه المقرّرات لوعورة مباحثها، ودقّتها، وكثرة الخلاف والخلط فيها في مباحث القياس من كتب الأصول، وإمّا إعراضًا عنها بقصد الالتفاف على الأحكام الشرعيّة التي تفيدها النصوص، وتعطيلِها بذريعة إعمال المقاصد، كما يظهر ذلك جليًّا في كتابات الحداثيين والعَلمانيين أصحاب القراءات الجديدة للنصوص الدينيّة.

وفي المقابل هناك طائفةٌ من أهل الشريعة «متحفِّظة» على علم المقاصد برمّته؛ لما تراه من تعسُّف في توظيفه والتذرّع به إلى الافتئات على الشريعة، وتعطيل ظواهرها ونصوصها ومقرّراتها، من قِبَل كثيرين، هم في الغالب دخلاء على العلوم الشرعيّة.
ভূমিকা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূল, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর অনুসারীদের ওপর। অতঃপর:

বর্তমান সময়ে মাকাসিদুশ শারিয়াহ (শরিয়তের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য) বিষয়ক ইলম এর ব্যাপক চর্চা এবং এ বিষয়ে প্রচুর গ্রন্থ রচিত হওয়ার কারণে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। এটি এমন এক ইলম যা অত্যন্ত যত্ন ও মনোযোগের দাবিদার; এর উপকারিতা অনেক এবং ফলাফল সুদূরপ্রসারী, বিশেষ করে সমকালীন ইজতিহাদী (اجتهادية) বিষয়গুলোতে সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রদানের ক্ষেত্রে। তবে একই সাথে, এটি পদস্খলনের কারণ হতে পারে যদি একে তার মূল ভিত্তি 'উসুলুল ফিকহ' থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেখা হয়। উসুলুল ফিকহ এমন এক শাস্ত্র যা মাকাসিদ নির্ধারণের পদ্ধতি, এর শর্তাবলি এবং তা প্রয়োগের নিয়ম-নীতি ধারণ করে। ঐতিহাসিক যে সত্যটি উপেক্ষা করা উচিত নয় তা হলো, মাকাসিদুশ শারিয়াহ শাস্ত্রটি মূলত উসুলুল ফিকহেরই একটি শাখা; এখান থেকেই এর উদ্ভব ও উৎপত্তি হয়েছে। আর কোনো শাখার পক্ষে তার মূল উৎসকে বাতিল করে দেওয়া সম্ভব নয়, কারণ তা করলে সে নিজেকেই বাতিল করে দেবে।

মাকাসিদ নিয়ে গবেষণায় মগ্ন ব্যক্তিদের অনেকেই, বিশেষ করে যারা উসুল শাস্ত্রে বিশেষজ্ঞ নন, তারা মাকাসিদ বা তারা যাকে মাকাসিদ বলে মনে করেন, তা নিয়ে অত্যধিক আবেগে তাড়িত হন। এক্ষেত্রে তারা উসুলবিদদের সুপ্রতিষ্ঠিত নিয়ম-নীতি ও তা নির্ধারণের মানদণ্ড অনুসরণ করেন না। এর কারণ হতে পারে হয় তো এই নিয়ম-নীতিগুলোর জটিলতা, সূক্ষ্মতা এবং উসুলের কিতাবসমূহে কিয়াস (القياس) সংক্রান্ত অধ্যায়গুলোতে বিদ্যমান প্রচুর মতভেদ ও অস্পষ্টতা সম্পর্কে অজ্ঞতা। অথবা এর কারণ হতে পারে মাকাসিদ প্রয়োগের অজুহাতে নস (শরয়ি পাঠ) থেকে প্রাপ্ত বিধানগুলোকে পাশ কাটিয়ে সেগুলোকে অকার্যকর করার হীন উদ্দেশ্য। ধর্মীয় নসসমূহের নব্য পাঠের দাবিদার আধুনিকতাবাদী ও ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদের লেখায় এ বিষয়টি স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

এর বিপরীতে শরিয়ত বিশেষজ্ঞদের একটি দল পুরো মাকাসিদ শাস্ত্রের ব্যাপারেই 'সংরক্ষণশীল' অবস্থান গ্রহণ করেছেন। এর কারণ হলো, তারা দেখছেন যে মাকাসিদের যথেচ্ছ ব্যবহার হচ্ছে এবং একে শরিয়তের ওপর খবরদারি করার এবং শরিয়তের প্রকাশ্য (ظاهر) অর্থ, নস ও প্রতিষ্ঠিত বিধানগুলোকে অকার্যকর করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। আর এটি করা হচ্ছে এমন অনেকের পক্ষ থেকে, যারা মূলত শরয়ি শাস্ত্রসমূহের ক্ষেত্রে বহিরাগত।
(খণ্ড: ৭০) আল-আওয়ামিলুল মুয়াসসিরাতু ফী নাউতিল হুকমি বিল মাযিন্নাতি আউ বিল হিকমাহ (পৃষ্ঠা: ১০২)
فبعيدًا عن هذين المسلكين: مسلك المتهاونين، ومسلك المتحفِّظين، يأتي هذا البحث ليربط علم المقاصد بعلم أصول الفقه، بتجلية عوامل عِدّة ذكرها الأصوليون: صراحةً، أو إشارة، تؤثِّر في تعليق الأحكام: إما بالمقاصد والحِكَم، وإما بالمظانّ والأسباب.

وهذا البحث هو الثالث في هذا السّياق إذ سُبق ببحثين تمهيديين مهمّين:

أحدهما: بعنوان: "العلة والحكمة والتعليل بالحكمة: دراسة مصطلحيّة"، وقد هدف إلى تجلية الاصطلاحات المتعلّقة بموضوع التعليل بالحكمة، كالعلة والحكمة والسبب والمظنة وضابط السبب، ولا سيّما أن بعض هذه الاصطلاحات بلغ الغاية في الغموض والاضطراب، ممّا أورث نزاعاتٍ كثيرةً في تعريفها، وفيما ترتب على ذلك من شروطها، والمسائل المرتبطة بها في الدراسات الأصولية: قديمها وحديثها. وممّا هدف إليه البحث المذكور أيضًا تحريرُ محلّ نزاع الأصوليين في مشروعية نوط الحُكم: وجودًا، أو عدمًا، أو كليهما، بالحكمة دون المظنة/ العلة، وهو ما يُسمّى عندهم بالتعليل بالحكمة.

والبحث الثاني: بعنوان "التعليل بالمظنة لا بالحكمة: دراسة أصوليّة"، وقد هدف إلى تأصيل القول بنوط الأحكام بالأوصاف الظّاهرة المنضبطة (العِلَل أو المظانّ لا الحِكَم والمقاصد) ببيان معناه، وشواهده من أقوال العلماء، وأدلّته الشّرعيّة، وغايته التي تمثِّل الفلسفة الأصوليّة التي يقوم عليها. وقد أُشير في البحث المذكور إلى أنّ التعليل بالمظنة، وإن كان هو الغالب في أحكام الشرع، فيُمكن العدول عنه إلى اعتبار الحكمة كليًّا أو جزئيًّا، وجودًا أو عدمًا، في أحوالٍ خاصّة. وهو ما سنبيّنه في هذا البحث إن شاء الله تعالى.

وبعد الفراغ من هذا البحث، تظلّ الحاجة قائمة في قابل الأيام إلى إنجاز بحوث تطبيقية تفصيلية، تتناول قضايا فقهية معاصرة محدَّدة، نبيِّن فيها الكيفية التطبيقية لإعمال القواعد والعوامل التي خلصنا إليها في هذه السلسلة الثلاثية من البحوث النظرية، كما فعلناه في كتابنا الأخير حول البصمة الوراثية، وهو ما نسأل الله تعالى أن ييسّره لنا بعونه وتوفيقه.
শিথিলতাপন্থী ও রক্ষণশীল—এই দুই পন্থার ঊর্ধ্বে অবস্থান করে এই গবেষণাটি মাকাসিদ (مقاصد) শাস্ত্রকে উসুলুল ফিকহ (أصول الفقه) শাস্ত্রের সাথে সংশ্লিষ্ট করার প্রয়াস পেয়েছে। এতে উসুলবিদগণ (الأصوليون) কর্তৃক স্পষ্টভাবে বা ইঙ্গিতে উল্লিখিত এমন কিছু নিয়ামক (عوامل) উন্মোচন করা হয়েছে, যা বিধান প্রদানের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করে: চাই তা মাকাসিদ (مقاصد) ও হিকমতের (حكم) ভিত্তিতে হোক, অথবা মাযান্নাহ (مظان) ও আসবাবের (أسباب) ভিত্তিতে হোক।

এই প্রেক্ষাপটে এটি তৃতীয় গবেষণা, যার আগে দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রারম্ভিক গবেষণা সম্পন্ন হয়েছে:

একটি হলো: "ইল্লত (علة), হিকমত (حكمة) এবং হিকমতের মাধ্যমে কারণ দর্শানো (التعليل بالحكمة): একটি পরিভাষাভিত্তিক গবেষণা"। এর লক্ষ্য ছিল হিকমতের মাধ্যমে কারণ দর্শানোর (التعليل بالحكمة) বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট পরিভাষাগুলো স্পষ্ট করা—যেমন ইল্লত (علة), হিকমত (حكمة), আসবাব (سبب), মাযান্নাহ (مظنة) এবং আসবাবের মানদণ্ড (ضابط السبب)। বিশেষ করে এই পরিভাষাগুলোর কিছু চরম অস্পষ্টতা ও অস্থিরতার পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা এগুলোর সংজ্ঞা নির্ধারণে এবং এর ফলে উদ্ভূত শর্তাবলি ও প্রাচীন ও আধুনিক উসুলি গবেষণার সংশ্লিষ্ট মাসআলাগুলোতে অনেক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। উক্ত গবেষণার আরেকটি লক্ষ্য ছিল উসুলবিদদের মতভেদের মূল কেন্দ্রবিন্দুটি (تحرير محل نزاع) নিরূপণ করা; যা হলো—মাযান্নাহ (مظنة) বা ইল্লত (علة) ব্যতীত কেবল হিকমতের (حكمة) সাথে বিধানের সম্পৃক্তকরণ (نوط الحكم): অস্তিত্বগতভাবে বা অনস্তিত্বগতভাবে (বা উভয়ই) বৈধ হওয়ার বিষয়টি। একেই তাঁদের নিকট হিকমতের মাধ্যমে কারণ দর্শানো (التعليل بالحكمة) বলা হয়।

দ্বিতীয় গবেষণাটি হলো: "হিকমতের পরিবর্তে মাযান্নাহর মাধ্যমে কারণ দর্শানো (التعليل بالمظنة لا بالحكمة): একটি উসুলি গবেষণা"। এর উদ্দেশ্য ছিল বিধানসমূহকে সুস্পষ্ট ও সুশৃঙ্খল গুণাবলির—অর্থাৎ ইল্লত (علل) বা মাযান্নাহ (مظان), হিকমত (حكم) বা মাকাসিদ (مقاصد) নয়—সাথে সংশ্লিষ্ট করার মতবাদটিকে তাত্ত্বিক ভিত্তি দান করা। এটি করা হয়েছে এর অর্থ বিশ্লেষণ, ওলামায়ে কেরামের উক্তি থেকে এর প্রমাণাদি, শরয়ি দলিলসমূহ এবং এর চূড়ান্ত লক্ষ্যের বর্ণনার মাধ্যমে, যা এর ভিত্তি হিসেবে কাজ করা উসুলি দর্শনকে প্রতিফলিত করে। উক্ত গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়েছিল যে, যদিও শরয়ি বিধানসমূহে মাযান্নাহর মাধ্যমে কারণ দর্শানোই (التعليل بالمظنة) প্রধান রীতি, তবুও বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে অস্তিত্ব বা অনস্তিত্বের বিচারে পূর্ণাঙ্গ বা আংশিকভাবে হিকমতকে (حكمة) ধর্তব্য ধরে এই রীতি থেকে সরে আসা সম্ভব। ইনশাআল্লাহ এই গবেষণায় আমরা সেটিই বর্ণনা করব।

এই গবেষণা সমাপ্ত হওয়ার পর, অনাগত দিনগুলোতে এমন কিছু বিস্তারিত প্রায়োগিক গবেষণার প্রয়োজন থেকেই যায়, যা সমসাময়িক সুনির্দিষ্ট ফিকহি বিষয়গুলোকে নিয়ে কাজ করবে। সেখানে আমরা তাত্ত্বিক গবেষণার এই ধারাবাহিক তিনটি পর্ব থেকে প্রাপ্ত কায়দা (قواعد) ও নিয়ামকগুলো (عوامل) প্রয়োগের পদ্ধতি ব্যাখ্যা করব, যেভাবে আমরা ডিএনএ প্রোফাইলিং (بصمة وراثية) সংক্রান্ত আমাদের সর্বশেষ বইটিতে করেছি। এটি এমন কাজ যার জন্য আমরা আল্লাহ তাআলার নিকট তাঁর সাহায্য ও তাওফিকের প্রার্থনা করি।
(খণ্ড: ৭০) আল-আওয়ামিলুল মুয়াসসিরাতু ফী নাউতিল হুকমি বিল মাযিন্নাতি আউ বিল হিকমাহ (পৃষ্ঠা: ১০৩)
‌‌إشكاليّة البحث:

ثَمَّ جدلٌ نظريٌ في كتب الأصول، قديمًا وحديثًا، حولَ القول بجواز أن يُعلَّل الحكم بحكمته، أم يجب أن يُعلَّل بالمظنّة الظاهرة المنضبطة (العلّة). وبالنظر إلى الفروع العملية للفقهاء، فإنّا وجدناهم ينيطون الأحكام بالحكمة نفسها تارةً، وبالمظنة/ العلة تارةً أخرى، فاحتاج الأمر إلى استقراء العوامل التي تؤثِّر في اختياراتهم هذه.

وعليه، تتركّز إشكاليّة البحث في السؤال الآتي:

ما العوامل المؤثِّرة في نوط الحكم بمظنته أو بحكمته، كما تدلّ عليه مباحث الأصوليين ومذاهب الفقهاء؟

ويسبق هذا السؤال الرئيس سؤالان تمهيديّان:

أحدهما: ما خلاصة القول في تحرير الاصطلاحات الدائرة في باب التعليل بالحكمة والتعليل بالمظنة؟

والسؤال الثاني: ما أشكال تصرّفات الفقهاء عند تردّد الحكم بين أن يُناط بالمظنة أو بالحكمة؟

 

‌‌أهداف البحث:

1. ذِكر خلاصة القول في تحرير الاصطلاحات المستعملة في مبحث التعليل بالمظنة أو الحكمة.

2. استقراء أشكال تصرفات الفقهاء عند تردُّد الحكم بين أن يُناط بالمظنة أو بالحكمة.

3. استقراء العوامل المؤثِّرة في نوط الحكم بالمظنة أو بالحكمة عند الأصوليين والفقهاء، وبيانُها.

 

‌‌منهج البحث:

اعتمد البحث على المنهجين: التحليلي، والاستقرائي، على حدٍّ سواء.
গবেষণার সমস্যা:

প্রাচীন ও আধুনিক উসুল শাস্ত্রের গ্রন্থগুলোতে বিধানকে (حكم) তার প্রজ্ঞার (حكمة) মাধ্যমে কারণযুক্ত (تعليل) করা বৈধ, নাকি একে কোনো প্রকাশ্য ও সুশৃঙ্খল ধারণার (مظنة) বা কারণের (علة) ওপর ভিত্তি করে কারণযুক্ত করা আবশ্যক—এ নিয়ে একটি তাত্ত্বিক বিতর্ক বিদ্যমান। ফকিহদের ব্যবহারিক মাসআলাগুলোর (فروع) দিকে লক্ষ্য করলে আমরা দেখি যে, তাঁরা কখনো বিধানগুলোকে সরাসরি প্রজ্ঞার (حكمة) সাথে সংশ্লিষ্ট করেন, আবার কখনো সেগুলোকে ধারণা (مظنة) বা কারণের (علة) সাথে যুক্ত করেন। ফলে তাঁদের এই নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারকারী বিষয়গুলো অনুসন্ধান (استقراء) করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।

এরই প্রেক্ষাপটে, গবেষণার মূল সমস্যাটি নিম্নোক্ত প্রশ্নের ওপর কেন্দ্রীভূত:

উসুলবিদদের আলোচনা এবং ফকিহদের মাযহাবসমূহ যা নির্দেশ করে, সে অনুযায়ী বিধানকে (حكم) তার ধারণা (مظنة) নাকি তার প্রজ্ঞার (حكمة) সাথে সংশ্লিষ্ট করার ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারকারী নিয়ামকসমূহ কী কী?

এই প্রধান প্রশ্নের আগে দুটি প্রারম্ভিক প্রশ্ন রয়েছে:

এক: প্রজ্ঞা (حكمة) ও ধারণার (مظنة) মাধ্যমে কারণ (تعليل) দর্শানোর পরিভাষাগুলো বিশ্লেষণের সারসংক্ষেপ কী?

দুই: যখন কোনো বিধান (حكم) ধারণা (مظنة) নাকি প্রজ্ঞার (حكمة) সাথে সংশ্লিষ্ট হবে—এ বিষয়ে দোদুল্যমানতা তৈরি হয়, তখন ফকিহদের কর্মপদ্ধতির ধরনগুলো কী কী?

 

‌গবেষণার উদ্দেশ্যসমূহ:

১. ধারণা (مظنة) বা প্রজ্ঞার (حكمة) মাধ্যমে কারণ (تعليل) দর্শানোর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত পরিভাষাগুলো বিশ্লেষণের সারসংক্ষেপ উল্লেখ করা।

২. কোনো বিধান (حكم) ধারণা (مظنة) নাকি প্রজ্ঞার (حكمة) ওপর ভিত্তি করে হবে—তা নিয়ে সংশয় দেখা দিলে ফকিহদের কর্মপদ্ধতিগুলো অনুসন্ধান (استقراء) করা।

৩. উসুলবিদ ও ফকিহদের নিকট বিধানকে (حكم) ধারণা (مظنة) বা প্রজ্ঞার (حكمة) সাথে সংশ্লিষ্ট করার ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারকারী নিয়ামকগুলো অনুসন্ধান (استقراء) ও ব্যাখ্যা করা।

 

‌গবেষণা পদ্ধতি:

এই গবেষণা সমান্তরালভাবে বিশ্লেষণাত্মক (تحليلي) এবং আরোহী (استقرائي) উভয় পদ্ধতির ওপর নির্ভর করেছে।
(খণ্ড: ৭০) আল-আওয়ামিলুল মুয়াসসিরাতু ফী নাউতিল হুকমি বিল মাযিন্নাতি আউ বিল হিকমাহ (পৃষ্ঠা: ১০৪)
‌‌الدراسات السابقة:

مع كثرة ما كتبه المعاصرون في باب التعليل عمومًا، وفي مسألة التعليل بالحكمة خصوصًا، فإنّ الغالب المعظم من هذه البحوث تناول القضايا الكبرى في الموضوعات المذكورة، وقليلٌ منها ولج إلى التفاصيل الدقيقة، وأعني بذلك تفاصيل التفاصيل، كما أنّ أكثرها خلا من تقعيدٍ يضبط آلية التعليل بالحكمة عند تعارضه مع التعليل بالمظنّة، وبيان كيفية توظيفه في القضايا الفقهية قديمةً ومعاصرة. وهذا ما لاحظه بعض الباحثين في التجديد الأصولي، قال حسين آيت سعيد:

«تعليل الأحكام بحِكَمها لابدّ فيه من تجديدٍ وتقعيد؛ إذ ما يزال بابُه فقيرًا من حيث التأصيل لضوابطه وشروطه حتى يُعتمد كما تُعتمد العلة المستنبطة»(1). وقال: «القول بتعليل الأحكام بالمصالح والمفاسد، لم يكن بدعًا من القول، لكنّه من ناحية العمل، ناله حيفٌ، وأُصيب بضمور وهزال، وينبغي الاهتمام بهذا الجانب، وتأصيله أكثر، وإضافة ضوابط وشروطًا أُخر له، حتى يُحدّد بدقة، وينضبط كلِّيًّا، لأنّ الضوابط الموضوعة له غير كافية في عصرنا هذا، وهي غير قادرة على إنتاج اجتهاد سديد وموفّق لا تتضارب فيه الجزئيّات مع كلّيّاتها، ولا كلّيّاتٍ وجزئيّاتٍ أُخر، فالمجال ما يزال رحبًا لمن يُجدِّد فيه ممّن آنس من نفسه القدرة على السِّباحة في لجّيّ هذا البحر، وأمّا من قنع بأن يحوم في شُطآنه فما هو موجودٌ يكفيه»(2).

وممّا وقفنا عليه من الدراسات وله تعلُّقٌ قريب، نوعًا ما، بموضوعنا دراستان:

الأولى: بحث بعنوان: "الاجتهاد المقاصدي الأصولي: نوط الأحكام بمقاصدها نموذجًا"، للدكتور جاسر عودة، نشره في ضمن عدّة بحوث أخرى في المقاصد في كتاب بعنوان: الاجتهاد المقاصدي من التصوّر الأصولي إلى التنزيل العملي، الشبكة العربية للأبحاث والنشر، بيروت، ط 1، 2013 م. الصفحات 45 - 89.

--------------------------------------------

(1) سعيد، "التجديد في التعليل الفقهي"، في الاجتهاد الفقهي أي دور وأي جديد، 121.

(2) المرجع السابق، 122.
পূর্ববর্তী গবেষণাসমূহ:

সাধারণভাবে কারণ অনুসন্ধান (تعليل) এবং বিশেষভাবে প্রজ্ঞার মাধ্যমে কারণ অনুসন্ধান (التعليل بالحكمة) বিষয়ে সমকালীন গবেষকদের প্রচুর লেখালেখি থাকা সত্ত্বেও, এসব গবেষণার সিংহভাগই উল্লিখিত বিষয়ের প্রধান দিকগুলো নিয়ে আলোচনা করেছে। এর খুব সামান্য অংশই সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিষয়ের গভীরে প্রবেশ করেছে। তদুপরি, এগুলোর অধিকাংশ এমন কোনো মূলনীতি নির্ধারণ (تقعيد) থেকে শূন্য যা ধারণাস্থলের মাধ্যমে কারণ অনুসন্ধানের (التعليل بالمظنة) সাথে প্রজ্ঞার মাধ্যমে কারণ অনুসন্ধানের (التعليل بالحكمة) বিরোধের সময় এর সমন্বয় পদ্ধতিকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং প্রাচীন ও সমকালীন ফিকহী মাসআলাসমূহে এর প্রয়োগ পদ্ধতি স্পষ্ট করে। উসুলের সংস্কার বিষয়ক কিছু গবেষক এটি লক্ষ্য করেছেন। হুসাইন আইত সাঈদ বলেন:

«বিধানসমূহের হিকমত বা প্রজ্ঞার মাধ্যমে কারণ অনুসন্ধান (تعليل) প্রক্রিয়ায় নতুনত্ব এবং মূলনীতি নির্ধারণ (تقعيد) অপরিহার্য; কেননা এর শর্তাবলি ও নিয়মনীতির তাত্ত্বিক ভিত্তির (تأصيل) ক্ষেত্রটি এখনও ততটা সমৃদ্ধ নয় যাতে একে উদ্ভাবিত কার্যকর কারণের (العلة المستنبطة) মতো নির্ভরযোগ্য হিসেবে গ্রহণ করা যায়»(১)। তিনি বলেন: «বিধানসমূহকে কল্যাণ (مصالح) ও অকল্যাণের (مفاسد) মাধ্যমে কারণ অনুসন্ধান (تعليل) করার বিষয়টি কোনো অভিনব কথা নয়, তবে প্রায়োগিক দিক থেকে এটি অবহেলার শিকার হয়েছে এবং এতে এক ধরণের দুর্বলতা ও শীর্ণতা দেখা দিয়েছে। তাই এই দিকটির প্রতি গুরুত্বারোপ করা, একে আরও তাত্ত্বিকভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত (تأصيل) করা এবং এতে আরও কিছু নিয়মনীতি ও শর্তাবলী যোগ করা প্রয়োজন, যাতে এটি নিখুঁতভাবে সংজ্ঞায়িত ও সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রিত হয়। কারণ বর্তমানে এর জন্য নির্ধারিত নীতিমালাগুলো পর্যাপ্ত নয় এবং সেগুলো এমন সঠিক ও সফল ইজতিহাদ (اجتهاد) উৎপাদনে সক্ষম নয় যেখানে খুঁটিনাটি বিষয়গুলো তার মৌলিক নীতির সাথে সাংঘর্ষিক হবে না। সুতরাং এই গভীর সমুদ্রে অবগাহন করার সামর্থ্য যাদের আছে, তাদের জন্য এই ক্ষেত্রে সংস্কার করার সুযোগ এখনও ব্যাপক; আর যারা কেবল এর তীরে বিচরণ করেই সন্তুষ্ট থাকতে চায়, তাদের জন্য যা বিদ্যমান আছে তা-ই যথেষ্ট»(২)।

আমাদের দৃষ্টিগোচর হওয়া গবেষণাগুলোর মধ্যে যা আমাদের বিষয়ের সাথে কিছুটা নিবিড়ভাবে সংশ্লিষ্ট, তা হলো দুটি গবেষণা:

প্রথমটি: একটি প্রবন্ধ যার শিরোনাম: "উসুলি মাকাসিদভিত্তিক ইজতিহাদ (اجتهاد): বিধানসমূহকে তাদের লক্ষ্যের সাথে সংশ্লিষ্টকরণ একটি নমুনা", এটি ড. জাসের আউদা কর্তৃক রচিত। এটি মাকাসিদ বিষয়ক আরও কয়েকটি প্রবন্ধের সাথে 'আল-ইজতিহাদ আল-মাকাসিদি মিনাত তাসাওউরিল উসুলি ইলাত তানজিলিল আমালি' নামক বইয়ে প্রকাশিত হয়েছে, আশ-শাবাকাতুল আরাবিয়্যাহ লিল আবহাসি ওয়ান নাশরি, বৈরুত, ১ম সংস্করণ, ২০১৩ খ্রিষ্টাব্দ। পৃষ্ঠা ৪৫ - ৮৯।

--------------------------------------------

(১) সাঈদ, "আত-তাজদিদ ফিত তালিইল আল-ফিকহি", আল-ইজতিহাদ আল-ফিকহি আইয়্যু দাওরিন ওয়া আইয়্যু জাদিদ, ১২১।

(২) পূর্বোক্ত উৎস, ১২২।
(খণ্ড: ৭০) আল-আওয়ামিলুল মুয়াসসিরাতু ফী নাউতিল হুকমি বিল মাযিন্নাতি আউ বিল হিকমাহ (পৃষ্ঠা: ১০৫)
والبحث مستلّ مع تعديلات يسيرة من رسالة الماجستير للباحث التي نُوقشت في العام 1425 هـ/ 2004 م، وصدرت بعد ذلك في كتاب بعنوان: فقه المقاصد: إناطة الأحكام بمقاصدها، المعهد العالمي للفكر الإسلامي، فرجينيا، ط 1، 1427 هـ/ 2006 م.

هدف البحث إلى الإجابة عن السؤال: «هل يصلح المقصد كوصف يتعلّق به الحكم، كما هو الحال في العلة التي يَتّفق على حجّيتها أغلب الفقهاء»(1).

وجاء البحث - كما قال المؤلِّف - في سياق التجديد في البحث المقاصدي محاولًا: «الإسهام في هذا التجديد المعاصر عن طريق إعمال المقاصد في حال تعارض النصوص وتفسيرها، ويقترح القاعدة التالية: "تدور الأحكام الشرعية العملية مع مقاصدها: وجودًا وعدمًا، كما تدور مع عللها: وجودًا وعدمًا"»(2).

واعتمد المؤلّف على ضابط وحيد لجواز التعليل بالمقصد، وذلك بالتفريق بينه وبين الحكمة فقال: «على الرغم من أنَّ الحكمة من الحُكم لا تختلف عن المقصد من الحُكم عند كثيرٍ من الأصوليّين، إلا إنّه يبدو لي أنّ هناك فارقًا معتبرًا بين ما يُقصد بالحكمة وما يُقصد بالمقصد، وهذا الفارق له أثره في مسألة التعليل. فالحكمة مصلحة تترتب على الحكم، أمّا المقصد فهو مصلحة، أو مجموعة مصالح، ينصّ الشارع أو يغلب على ظن المجتهد أنّها المقصودة من الحكم، أي لولاها لما شُرع الحكم أصلًا. وأرى بناء على ذلك أنّ الحكمة قد تختلف عن المقصد، وقد تكون جزءًا من المقصد، وقد تساوي المقصد، وأنّ النقد الموجّه إلى التعليل بالحكمة، وإناطة الحُكم بها، لا يلزم أن ينطبق على التعليل بالمقصد»(3).

وحاصل ذلك أن المؤلّف يرى أنّ الحكمة أعمّ من المقصد، والمقصدَ أخصُّ منها، والحُكم يدور مع المقصد لا مع مطلق ما يُسمّى حكمة. والمقصد عنده هو ما لولاه لم يُشرع الحكم أصلًا، بينما الحكمة قد تكون كذلك فيُناط بها الحكم، كالمقصد تمامًا، وقد تكون مجرّد مصلحة تترتّب على الحكم من دون أن تكون هي الباعث الكلّي عليه، وهذه لا يُناط بها الحكم.

--------------------------------------------

(1) عودة، فقه المقاصد: إناطة الأحكام بمقاصدها، 55.

(2) المرجع السابق، 54.

(3) عودة، الاجتهاد المقاصدي من التصور الأصولي إلى التنزيل العملي، 79.
এই গবেষণাটি গবেষকের একটি মাস্টার্স থিসিস থেকে সামান্য পরিমার্জন সহ গৃহীত, যা ১৪২৫ হিজরি / ২০০৪ খ্রিস্টাব্দে উপস্থাপিত হয়েছিল এবং পরবর্তীতে "ফিকহ আল-মাকাসিদ: ইনাতাত আল-আহকাম বি মাকাসিদিহা" শিরোনামে ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ইসলামিক থট, ভার্জিনিয়া থেকে প্রথম সংস্করণ হিসেবে ১৪২৭ হিজরি / ২০০৬ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়েছে।

এই গবেষণার লক্ষ্য হলো এই প্রশ্নের উত্তর প্রদান করা: «উদ্দেশ্য (المقصد) কি এমন একটি বৈশিষ্ট্য হতে পারে যার সাথে বিধান (الحكم) সংশ্লিষ্ট হয়, যেমনটি সেই কার্যকর কারণের (العلة) ক্ষেত্রে ঘটে যার প্রামাণিকতার (حجية) বিষয়ে অধিকাংশ ফকিহ একমত»(১)।

লেখকের ভাষ্যমতে, এই গবেষণাটি মাকাসিদ বিষয়ক গবেষণায় সংস্কারের প্রেক্ষাপটে এসেছে, যেখানে তিনি চেষ্টা করেছেন: «পাঠ্যসমূহের (النصوص) ব্যাখ্যা প্রদান এবং সেগুলোর মাঝে বৈপরীত্য দেখা দিলে উদ্দেশ্যসমূহকে (المقاصد) প্রয়োগ করার মাধ্যমে এই সমকালীন সংস্কারে অবদান রাখতে। তিনি নিম্নোক্ত মূলনীতিটি প্রস্তাব করেন: "ব্যবহারিক শরয়ি বিধানসমূহ (الأحكام الشرعية) তাদের উদ্দেশ্যসমূহের (مقاصد) সাথে আবর্তিত হয়: অস্তিত্ব ও অনস্তিত্বের ক্ষেত্রে, যেমন তা আবর্তিত হয় তাদের কার্যকর কারণের (علل) সাথে: অস্তিত্ব ও অনস্তিত্বের ক্ষেত্রে"»(২)।

মাকাসিদের মাধ্যমে কারণ দর্শানোর (التعليل) বৈধতার জন্য লেখক একটি একক মানদণ্ডের ওপর নির্ভর করেছেন, আর তা হলো মাকাসিদ ও হিকমতের মধ্যে পার্থক্য করা। তিনি বলেন: «যদ্যপি অনেক উসুলবিদদের (الأصوليون) নিকট বিধানের হিকমত ও বিধানের উদ্দেশ্য (المقصد) অভিন্ন, তবুও আমার কাছে মনে হয় যে হিকমত ও উদ্দেশ্যের (المقصد) মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। আর এই পার্থক্যের প্রভাব কারণ দর্শানোর (التعليل) মাসআলায় পরিলক্ষিত হয়। হিকমত হলো এমন একটি কল্যাণ যা বিধানের ওপর ভিত্তি করে অর্জিত হয়, পক্ষান্তরে উদ্দেশ্য (المقصد) হলো এমন একটি কল্যাণ বা কল্যাণের সমষ্টি যা সম্পর্কে শারিয়াত প্রণেতা স্পষ্ট বর্ণনা দিয়েছেন অথবা মুজতাহিদের প্রবল ধারণা জন্মে যে এটিই বিধানের মূল লক্ষ্য; অর্থাৎ, যদি এটি না থাকতো তবে বিধানটি মূলত প্রবর্তিত হতো না। এর ওপর ভিত্তি করে আমি মনে করি যে, হিকমত উদ্দেশ্য (المقصد) থেকে ভিন্ন হতে পারে, উদ্দেশ্যের (المقصد) অংশ হতে পারে অথবা উদ্দেশ্যের (المقصد) সমান হতে পারে। আর হিকমতের মাধ্যমে কারণ দর্শানো (التعليل) এবং বিধানকে তার সাথে সংশ্লিষ্ট করার (إناطة) বিষয়ে যে সমালোচনা করা হয়, তা উদ্দেশ্যের (المقصد) মাধ্যমে কারণ দর্শানোর (التعليل) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হওয়া আবশ্যক নয়»(৩)।

এর সারকথা হলো, লেখক মনে করেন যে হিকমত হলো উদ্দেশ্যের (المقصد) তুলনায় ব্যাপকতর এবং উদ্দেশ্য (المقصد) হলো হিকমতের চেয়ে সুনির্দিষ্ট। বিধান আবর্তিত হয় উদ্দেশ্যের (المقصد) সাথে, কেবল হিকমত নামে অভিহিত সাধারণ প্রজ্ঞার সাথে নয়। তাঁর মতে, উদ্দেশ্য (المقصد) হলো তা যার অভাবে বিধানটি আদৌ প্রবর্তিত হতো না। অন্যদিকে হিকমতও কখনও এমন হতে পারে এবং তখন তার সাথে বিধান সংশ্লিষ্ট (إناطة) হয়, ঠিক উদ্দেশ্যের (المقصد) মতোই। আবার হিকমত কখনও বিধানের ফলে অর্জিত নিছক একটি কল্যাণ হতে পারে যা সেই বিধানের মূল চালিকাশক্তি নয়; এমতাবস্থায় এর সাথে বিধান সংশ্লিষ্ট হয় না।

--------------------------------------------

(১) আওদাহ, ফিকহ আল-মাকাসিদ: ইনাতাত আল-আহকাম বি মাকাসিদিহা, ৫৫।

(২) প্রাগুক্ত, ৫৪।

(৩) আওদাহ, আল-ইজতিহাদ আল-মাকাসিদি মিনাত তাসাউর আল-উসুলি ইলা আত-তানজিল আল-আমালি, ৭৯।
(খণ্ড: ৭০) আল-আওয়ামিলুল মুয়াসসিরাতু ফী নাউতিল হুকমি বিল মাযিন্নাতি আউ বিল হিকমাহ (পৃষ্ঠা: ১০৬)
والبحث في نظري لا يقدِّم جديدًا في هذا السياق، وأكثرُ من ذلك أنّه يقوم على فهمٍ شائع مغلوطٍ لقول من قال من الأصوليين بجواز التعليل بالحكمة، حيث يبدو من صنيع الباحث بإيراده عددًا من الفروع الفقهية التي اعتُرض بها على نوط الحُكم بالحكمة: كنوط عدّة المرأة ببراءة الرحم لا بعدد القروء، ونوطِ الفطر في السفر بذات المشقّة لا بالسفر، ونوطِ التحريم الناشئ عن الرَّضاع بالجزئيّة لا بنفس الارتضاع، وتكلّفِه في الجواب عن هذه الفروع - يبدو من ذلك أنّه فهم من قول من قال من الأصوليين بجواز التعليل بالحكمة أنهم يوجبون ذلك عند كلّ حكمة، مع أنّ لفظ "الجواز" يشير إلى عدم لزوم ذلك، بل تخضع كلّ مسألة عندهم لنظر المجتهد، وما يمكن مراعاته من شروط أخرى تتوفّر في الحكمة محلّ النظر، كانفرادها بالحُكم، وتأثيرها، وعدم انتقاضها، وعدم معارضتها بغيرها، ونحو ذلك مما يُذكر في شروط العلة المناسبة التي تُناط بها الأحكام. فالقائل بجواز التعليل بالحكمة أنّما يتخلّى عن شرط واحد فقط من شروط العلة هو الظهور والانضباط، ولا يتخلّى عن باقي الشروط. وهذا مفهوم بالبداهة من حديث الأصوليين عن التعليل بالحكمة.

وهذا الفهم لمذهب القائلين بجواز التعليل بالحكمة - غير السديد في نظرنا - هو الذي اضطّر الباحث إلى الخروج عن الاصطلاح الشائع عند الأصوليّين في الحكمة والمقصد؛ ففرّق بينهما في حين لم يكن الأصوليّون والفقهاء يفرِّقون بينهما في مجاري كلامهم. والخروج عن الاصطلاح الشائع - من غير حاجة ماسّة - إنّما هو خطأ آخر ينضاف إلى الخطأ الذي أدّى إليه.

وعلى أية حال فهذا البحث لا يلتقي مع دراستنا هذه في الهدف ولا في المضمون، لأنّ دراستنا معنيّة باستقراء العوامل المؤثّرة في التعليل بالمظنة أو التعليل بالحكمة في آحاد الوقائع، أمّا دراسة الباحث فعُنيت ببيان جواز - أو بالأحرى لزوم - التعليل بالحكمة (المقصد) إلى جانب التعليل بالمظنة، أي التعليل بالحكمة لتوسيع الحُكم، لا على حساب التعليل بالمظنة، ولا في معارضته. حيث قال المؤلّف: «التعليل بالمقاصد هنا ليس مطروحًا
আমার দৃষ্টিতে এই গবেষণাটি এই প্রসঙ্গে নতুন কিছু উপস্থাপন করে না। তদুপরি, এটি উসুল শাস্ত্রবিদদের (الأصوليين) মধ্য থেকে যারা হিকমত বা প্রজ্ঞা (الحكمة) দ্বারা বিধানের কারণ নির্ণয় (التعليل) বৈধ (جواز) হওয়ার কথা বলেছেন, তাঁদের উক্তির একটি প্রচলিত ভুল উপলব্ধির ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে। গবেষক এমন বেশ কিছু ফিকহী শাখা-মাসায়েল (الفروع الفقهية) অবতারণা করেছেন যার মাধ্যমে বিধানকে হিকমত বা প্রজ্ঞার সাথে সম্পৃক্ত করার প্রতি আপত্তি জানানো হয়েছে; যেমন: নারীর ইদ্দতকে জরায়ু খালিত্বের (براءة الرحم) সাথে সম্পৃক্ত করা, ঋতুস্রাবের (القروء) সংখ্যার সাথে নয়; সফরে রোজা ভঙ্গের বিষয়টিকে কষ্টের (المشقة) সাথে সম্পৃক্ত করা, খোদ সফরের সাথে নয়; এবং দুগ্ধপানজনিত হারাম হওয়ার বিষয়টি 'শরীরের অংশ হওয়ার' (الجزئية) সাথে সম্পৃক্ত করা, কেবল দুগ্ধপানের (الارتضاع) সাথে নয়। গবেষকের এই কাজ এবং এই শাখা-মাসায়েলগুলোর উত্তরের ক্ষেত্রে তাঁর কষ্টকল্পিত প্রচেষ্টা থেকে এটি প্রতীয়মান হয় যে, উসুল শাস্ত্রবিদদের (الأصوليين) মধ্য থেকে যারা হিকমত বা প্রজ্ঞা (الحكمة) দ্বারা বিধানের কারণ নির্ণয় (التعليل) বৈধ (جواز) হওয়ার কথা বলেছেন, গবেষক তাঁদের কথা থেকে এটি বুঝেছেন যে, তাঁরা প্রতিটি হিকমতের ক্ষেত্রে তা আবশ্যক (وجوب) মনে করেন। অথচ ‘জাওয়াজ’ বা বৈধতা (الجواز) শব্দটি এর অনবশ্যকতাকে নির্দেশ করে; বরং তাঁদের নিকট প্রতিটি মাসআলা মুজতাহিদের (المجتهد) ইজতিহাদী দৃষ্টিভঙ্গি এবং বিবেচনাধীন হিকমতের মধ্যে বিদ্যমান অন্যান্য শর্তাবলি পূরণ হওয়ার ওপর নির্ভরশীল। যেমন—সেই হিকমতটি বিধানের জন্য একক হওয়া, প্রভাবশালী হওয়া (تأثير), লঙ্ঘিত না হওয়া (عدم انتقاض) এবং অন্য কিছুর সাথে সাংঘর্ষিক না হওয়া (عدم المعارضة)। এ জাতীয় বিষয়গুলো উপযুক্ত ইল্লত বা কারণের (العلة المناسبة) শর্তাবলির অন্তর্ভুক্ত, যার সাথে বিধানসমূহকে সম্পৃক্ত করা হয়। সুতরাং হিকমত বা প্রজ্ঞা (الحكمة) দ্বারা কারণ নির্ণয় (التعليل) বৈধ (جواز) মনেকারী ব্যক্তি ইল্লত বা কারণের (العلة) শর্তাবলির মধ্য থেকে কেবল একটি শর্ত ত্যাগ করেন, আর তা হলো—সুস্পষ্ট হওয়া (الظهور) এবং সুশৃঙ্খল বা সুনির্দিষ্ট হওয়া (الانضباط)। তিনি অন্যান্য শর্তাবলি ত্যাগ করেন না। আর উসুল শাস্ত্রবিদদের (الأصوليين) হিকমত দ্বারা বিধানের কারণ নির্ণয় (التعليل بالحكمة) সংক্রান্ত আলোচনা থেকে এটি স্বতঃসিদ্ধভাবেই বোঝা যায়।

আর হিকমত (الحكمة) দ্বারা বিধানের কারণ নির্ণয় (التعليل) বৈধ (جواز) মনেকারীদের মাযহাব বা মতবাদ সম্পর্কে এই ধারণাটি—যা আমাদের দৃষ্টিতে সঠিক নয়—গবেষককে হিকমত (الحكمة) এবং মাকসাদ বা উদ্দেশ্যের (المقصد) ক্ষেত্রে উসুল শাস্ত্রবিদদের (الأصوليين) নিকট প্রচলিত পরিভাষা থেকে বিচ্যুত হতে বাধ্য করেছে। ফলে তিনি এই দুটির মধ্যে পার্থক্য করেছেন, অথচ উসুল শাস্ত্রবিদ (الأصوليين) ও ফকীহগণ (الفقهاء) তাঁদের আলোচনায় এ দুটির মধ্যে কোনো পার্থক্য করতেন না। আর বিশেষ কোনো প্রয়োজন ছাড়া প্রচলিত পরিভাষা থেকে বিচ্যুত হওয়া একটি নতুন ভুল, যা পূর্ববর্তী ভুলের সাথে যুক্ত হয়েছে।

যা-ই হোক, এই গবেষণাটি লক্ষ্য বা বিষয়বস্তুর দিক থেকে আমাদের এই পর্যালোচনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কারণ আমাদের এই পর্যালোচনাটি ব্যক্তিগত ঘটনাবলির ক্ষেত্রে মাজান্নাহ বা সম্ভাব্য স্থল (المظنة) দ্বারা কারণ নির্ণয় (التعليل) অথবা হিকমত বা প্রজ্ঞা (الحكمة) দ্বারা কারণ নির্ণয় (التعليل) করার ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারকারী নিয়ামকসমূহ অনুসন্ধানের সাথে সংশ্লিষ্ট। পক্ষান্তরে গবেষকের কাজটি মাজান্নাহ বা সম্ভাব্য স্থলের (المظنة) পাশাপাশি হিকমত বা মাকসাদ (المقصد) দ্বারা কারণ নির্ণয় (التعليل) বৈধ হওয়ার (جواز)—বরং আরও স্পষ্টভাবে বলতে গেলে আবশ্যক হওয়ার (لزوم)—বিষয়টি বর্ণনার ক্ষেত্রে নিবেদিত ছিল। অর্থাৎ বিধানকে সম্প্রসারিত করার জন্য হিকমত (الحكمة) দ্বারা কারণ নির্ণয় (التعليل) করা, যা মাজান্নাহ বা সম্ভাব্য স্থলের (المظنة) বিনিময়ে নয় এবং এর সাথে বিরোধপূর্ণও নয়। যেখানে লেখক বলেছেন: «এখানে মাকাসিদ বা উদ্দেশ্যসমূহ (المقاصد) দ্বারা কারণ নির্ণয় (التعليل) বিষয়টি উপস্থাপিত হয়নি...
(খণ্ড: ৭০) আল-আওয়ামিলুল মুয়াসসিরাতু ফী নাউতিল হুকমি বিল মাযিন্নাতি আউ বিল হিকমাহ (পৃষ্ঠা: ১০৭)
كبديل عن التعليل بالعلل المنضبطة الظاهرة، وإنما التعليل بالمقاصد إضافةٌ إلى التعليل بالعلل وتوسيعٌ لمفهومها»(1). فدراستنا عند التعارض بين التعليل بالمظنة والتعليل بالحكمة في آحاد الوقائع، ودراسته بفرض التوافق بينهما، مع أنّ فرض مثل هذا التوافق نظريٌّ قليلُ الوقوع، إذ الغالب الساحق أن التعليل بالحكمة في مسألة ما يؤثِّر في التعليل بالمظنة في المسألة نفسها، لأنّه يؤثِّر في الأفراد والجزئيات المنضوية تحتها طردًا وعكسًا، ضيقًا وسَعَةً، إلا ما نَدر.

والدراسة الثانية: بحث بعنوان "أثر الاختلاف في إناطة الحكم بعلّته أو حكمته في اختلاف الفقهاء" لزميلنا الدكتور إياد نمر، المجلة الأردنية في الدراسات الإسلامية، مج (12)، ع (1)، 1437 هـ/ 2016 م، الصفحات 191 - 212.

هدف البحث إلى بيان مسوّغات إناطة الحكم بكلٍّ من العلة أو الحكمة عند الأصوليين، مسلِّطًا الضوء على أثر انعكاس التردُّد في إناطة الحكم بعلّته أو حكمته على اجتهادات الفقهاء في القياس الأصولي، أو في التعليل المجرّد عن القياس. وتوصّل الباحث إلى إمكانية الالتقاء بين العلة والحكمة في إناطة الأحكام بكلٍّ منهما، إذا ما رُوعيت ضوابط العلة، وشُروط الحكمة المعتبرة التي تحمي الفقيه من الانجرار وراء القياس المجرّد عن حكمته، أو الحكمة المخالفة لظواهر النصوص التي انبنى عليها القياس.

وقد ذهب الباحث - تبعًا لبعض الباحثين في التعليل بالحكمة(2) - إلى اشتراط أن تكون الحكمة المعلَّل بها ظاهرة منضبطة(3). وهذا الاشتراط - في نظري - يُفرِغ موضوع القول بجواز التعليل بالحكمة من مضمونه الذي هو التعليل بالوصف الخفي أو غير المنضبط، لأنّ الحكمة إذا كانت ظاهرة منضبطة فإنّها تكون حكمة وعلّة في الوقت نفسه، وحينئذٍ فلا خلاف يتحقّق في جواز التعليل بها بين الأصوليّين والفقهاء.

وعلى أية حال فهذا البحث كذلك لا يلتقي مع دراستنا هذه في الهدف ولا في المضمون، إذ بحثنا يهدف إلى استقراء العوامل المؤثّرة في نوط الحُكم بالمظنة أو الحكمة عند الأصوليين والفقهاء، وبيانِها، وهو ما لم يتطرّق إليه البحث المذكور، وإنما تطرّق إلى بيان

--------------------------------------------

(1) المرجع السابق، 82.

(2) أبو مؤنس، منهج التعليل بالحكمة، 168.

(3) نمر، "أثر الاختلاف في إناطة الحكم بعلّته أو حكمته في اختلاف الفقهاء"، المجلة الأردنية في الدراسات الإسلامية، م 12، عدد 1، 202.
সুশৃঙ্খল ও স্পষ্ট কারণসমূহ (العلل المنضبطة الظاهرة) দ্বারা কারণ দর্শানোর বিকল্প হিসেবে নয়, বরং উদ্দেশ্যসমূহ (المقاصد) দ্বারা কারণ দর্শানো হলো কারণসমূহ (العلل) দ্বারা কারণ দর্শানোর একটি সংযোজন এবং এর ধারণার একটি সম্প্রসারণ মাত্র।(1) একক (آحاد) ঘটনাবলির ক্ষেত্রে ধারণাপ্রসূত উৎস (المظنة) দ্বারা কারণ দর্শানো এবং প্রজ্ঞা (الحكمة) দ্বারা কারণ দর্শানোর মধ্যকার বিরোধের সময় আমাদের এই গবেষণা, এবং এই দুটির মধ্যে সামঞ্জস্য বিদ্যমান থাকার অনুমিত বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে এর অধ্যয়ন; যদিও বাস্তব ক্ষেত্রে এ ধরনের সামঞ্জস্যের ধারণা তাত্ত্বিকভাবে খুব কমই ঘটে থাকে। কেননা অধিকাংশ ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট মাসআলায় প্রজ্ঞা (الحكمة) দ্বারা কারণ দর্শানো ওই একই মাসআলায় ধারণাপ্রসূত উৎস (المظنة) দ্বারা কারণ দর্শানোর ওপর প্রভাব ফেলে। কারণ এটি এর অধীনে থাকা ব্যক্তি ও শাখাগুলোর ওপর নেতিবাচক বা ইতিবাচক, সংকীর্ণ বা বিস্তৃতভাবে প্রভাব বিস্তার করে, তবে এর ব্যতিক্রম খুব কমই দেখা যায়।

দ্বিতীয় গবেষণাটি হলো: আমাদের সহকর্মী ড. ইয়াদ নিমরের "হুকুমকে তার কারণ বা প্রজ্ঞার সাথে সম্পৃক্ত করার পার্থক্যের প্রভাব ফকিহগণের মতভেদের ক্ষেত্রে" শীর্ষক একটি প্রবন্ধ, যা জর্ডানিয়ান জার্নাল ইন ইসলামিক স্টাডিজ, খণ্ড (১২), সংখ্যা (১), ১৪৩৭ হিজরি/ ২০১৬ খ্রিস্টাব্দ, পৃষ্ঠা ১৯১ - ২১২-তে প্রকাশিত।

এই গবেষণার লক্ষ্য ছিল উসুলবিদদের নিকট হুকুমকে কারণ (العلة) অথবা প্রজ্ঞা (الحكمة) - এর যে কোনোটির সাথে সম্পৃক্ত করার যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করা। এটি উসুলি কিয়াস (القياس الأصولي) অথবা কিয়াস ব্যতীত কেবল কারণ দর্শানোর ক্ষেত্রে ফকিহগণের ইজতিহাদের ওপর হুকুমকে তার কারণ বা প্রজ্ঞার সাথে সম্পৃক্ত করার দ্বিধাদ্বন্দ্বের প্রতিফলনের প্রভাবের ওপর আলোকপাত করেছে। গবেষক এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, হুকুমকে কারণ ও প্রজ্ঞা উভয়ের সাথেই সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে উভয়ের মধ্যে সমন্বয় ঘটানো সম্ভব, যদি কারণের (العلة) নীতিমালা এবং প্রজ্ঞার (الحكمة) গ্রহণযোগ্য শর্তাবলি বিবেচনা করা হয়। যা একজন ফকিহকে কেবল প্রজ্ঞাবিহীন কিয়াস (القيাস) অথবা দলিলের স্পষ্ট পাঠের (নস) বিরোধী প্রজ্ঞার অনুসারী হওয়া থেকে রক্ষা করে, যার ওপর ভিত্তি করে কিয়াস (القيাস) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

গবেষক—প্রজ্ঞা (الحكمة) দ্বারা কারণ দর্শানোর বিষয়ের কয়েকজন গবেষকের অনুকরণে—এই শর্তারোপ করেছেন যে, যে প্রজ্ঞা দ্বারা কারণ দর্শানো হবে তাকে স্পষ্ট ও সুশৃঙ্খল (ظاهرة منضبطة) হতে হবে।(2)(3) আমার দৃষ্টিতে এই শর্তারোপটি প্রজ্ঞা দ্বারা কারণ দর্শানোর বৈধতার প্রবক্তাদের মূল বক্তব্যকেই অসার করে দেয়, যার মূল ভিত্তি হলো গোপন বৈশিষ্ট্য (الوصف الخفي) বা অ-সুশৃঙ্খল (غير المنضبط) বৈশিষ্ট্য দ্বারা কারণ দর্শানো। কারণ প্রজ্ঞা যদি স্পষ্ট ও সুশৃঙ্খল (ظاهرة منضبطة) হয়, তবে সেটি একই সাথে প্রজ্ঞা ও কারণ (العلة) হিসেবে গণ্য হবে; আর সেক্ষেত্রে উসুলবিদ ও ফকিহগণের মধ্যে এর দ্বারা কারণ দর্শানোর বৈধতার বিষয়ে কোনো মতভেদ অবশিষ্ট থাকে না।

যাই হোক, এই গবেষণাটিও আমাদের বর্তমান গবেষণার লক্ষ্য বা বিষয়বস্তুর সাথে পুরোপুরি মেলে না। কেননা আমাদের গবেষণার লক্ষ্য হলো উসুলবিদ ও ফকিহগণের নিকট হুকুমকে ধারণাপ্রসূত উৎস (المظنة) বা প্রজ্ঞার (الحكمة) সাথে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারকারী প্রভাবকগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ (استقراء) করা এবং সেগুলো ব্যাখ্যা করা; যা উল্লিখিত গবেষণায় আলোচিত হয়নি। বরং তাতে আলোচিত হয়েছে...

--------------------------------------------

(1) পূর্বোক্ত সূত্র, ৮২।

(2) আবু মুনিস, মানহাজুত তায়লীল বিল হিকমাহ, ১৬৮।

(3) নিমর, "হুকুমকে তার কারণ বা প্রজ্ঞার সাথে সম্পৃক্ত করার পার্থক্যের প্রভাব ফকিহগণের মতভেদের ক্ষেত্রে", জর্ডানিয়ান জার্নাল ইন ইসলামিক স্টাডিজ, খণ্ড ১২, সংখ্যা ১, ২০২।
(খণ্ড: ৭০) আল-আওয়ামিলুল মুয়াসসিরাতু ফী নাউতিল হুকমি বিল মাযিন্নাতি আউ বিল হিকমাহ (পৃষ্ঠা: ১০৮)
الدوافع والمسوِّغات العامّة التي يمكن الاعتماد عليها للقول بجواز التعليل بالحكمة جنبًا إلى جنب مع القول بالتعليل بالمظنة.

 

‌‌الإضافة العلمية في البحث:

أهمّ الإضافات العلمية في هذا البحث:

أولًا: استقراء أشكال تصرّفات الفقهاء في الوقائع عند تردّد الحكم بين أن يُناط بالمظنة، أو بالحكمة، وقد حصرها الباحث في أربعة أشكال عامّة.

ثانيًا: استقراء العوامل المؤثِّرة في نوط الحكم إما بالحكمة، وإما بالمظنة، في آحاد الوقائع، من كتابات الأصوليين وتصرّفات الفقهاء، وقد توصّل الباحث إلى تسعة عوامل.

ثالثًا: نظرات ونَقَدات في قضايا جزئيّة متناثرة في البحث أصولية وفروعيّة.

 

‌‌هيكل البحث:

بعد هذه المقدّمة، اشتمل البحث على مطالب ثلاثة وخاتمة:

المطلب الأول: خلاصة القول في تحرير الاصطلاحات الدائرة في باب التعليل بالحكمة، والتعليل بالمظنة.

المطلب الثاني: أشكال تصرفّات الفقهاء عند تردُّد الحكم بين المظنّة والحكمة.

المطلب الثالث: العوامل المؤثِّرة في نوط الحكم بالمظنة أو بالحكمة.

وخاتمة في نتائج البحث.
সাধারণ প্রেষণা ও যৌক্তিক কারণসমূহ যা প্রজ্ঞার (حكمة) মাধ্যমে কারণ দর্শানোর (تعليل) পাশাপাশি অনুমানের (مظنة) মাধ্যমে কারণ দর্শানোর বৈধতার মতামতের সমর্থনে নির্ভর করা যেতে পারে।

 

‌‌গবেষণায় ইলমি সংযোজন:

এই গবেষণার প্রধান ইলমি সংযোজনসমূহ:

প্রথমত: যখন কোনো হুকুম (حكم) অনুমান (مظنة) নাকি প্রজ্ঞার (حكمة) সাথে সংশ্লিষ্ট করা হবে সে বিষয়ে দ্বিধা তৈরি হয়, তখন উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ফকিহগণের (فقهاء) কর্মপন্থা বা আচরণের ধরনসমূহের বিশ্লেষণ; গবেষক সেগুলোকে চারটি সাধারণ ভাগে সীমাবদ্ধ করেছেন।

দ্বিতীয়ত: একক ঘটনাসমূহে কোনো হুকুমকে (حكم) প্রজ্ঞা (حكمة) অথবা অনুমানের (مظنة) সাথে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারকারী বিষয়সমূহের বিশ্লেষণ, যা উসুলবিদগণের (أصوليون) লেখনী এবং ফকিহগণের (فقهاء) কর্মপন্থা থেকে সংগৃহীত। গবেষক এখানে নয়টি প্রভাবক নির্ণয় করেছেন।

তৃতীয়ত: গবেষণায় ছড়িয়ে থাকা বিভিন্ন আংশিক (جزئية) বিষয়ে উসুলি (أصولية) এবং ফুরুয়ি (فروعية) দৃষ্টিভঙ্গি ও সমালোচনা।

 

‌‌গবেষণার কাঠামো:

এই ভূমিকার পর গবেষণাটি তিনটি পরিচ্ছেদ (مطالب) এবং একটি উপসংহার (خاتمة) নিয়ে গঠিত:

প্রথম পরিচ্ছেদ (المطلب الأول): প্রজ্ঞা (حكمة) ও অনুমানের (مظنة) মাধ্যমে কারণ দর্শানোর (تعليل) অধ্যায়ে প্রচলিত পরিভাষাগুলোর সংজ্ঞায়নের সংক্ষিপ্তসার।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ (المطلب الثاني): হুকুম (حكم) যখন অনুমান (مظنة) ও প্রজ্ঞার (حكمة) মাঝে দোদুল্যমান হয়, তখন ফকিহগণের (فقهاء) কর্মপন্থার ধরণসমূহ।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ (المطلب الثالث): হুকুমকে (حكم) অনুমান (مظنة) বা প্রজ্ঞার (حكمة) সাথে সংশ্লিষ্ট করার ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারকারী বিষয়সমূহ।

এবং গবেষণার ফলাফল নিয়ে একটি উপসংহার (خاتمة)।
(খণ্ড: ৭০) আল-আওয়ামিলুল মুয়াসসিরাতু ফী নাউতিল হুকমি বিল মাযিন্নাতি আউ বিল হিকমাহ (পৃষ্ঠা: ১০৯)
‌‌المطلب الأول: خلاصة القول في تحرير الاصطلاحات الدائرة في باب التعليل بالحكمة، والتعليل بالمظنّة

تعليل الحُكم بالمظنّة/ العلة مصطلحٌ مقابلٌ لتعليله بالحكمة. وما يقتضيه أحدهما في تحديد المساحة الفروعية التي يغطّيها الحُكم المنصوص يختلف عمّا يقتضيه الآخر، سَعةً وضيقًا، طردًا وعكسًا.

فنهي المرأة عن السفر إلا بزوجٍ أو مَحْرَم - مثلًا - إذا عُلِّل بالمظنة المذكورة في الحديث، وهي السفر، يختلف فيما يقتضيه ويشمله من وقائع عمّا إذا عُلِّل بالحكمة المعقولة من النهي - كما رآها الشافعي وجماعة - وهي عدم الأمن على المرأة والخشية من أن يُعتدى عليها إذا لم يصحبها زوجٌ أو محرم(1):

فنوطُ الحكم بالمظنة (السفر) يقتضي تحريم سفر المرأة إلا مع الزوج والمحرم، حتّى لو وُجد الطريق الآمن، في حين أنّ نوطه بالحكمة (عدم الأمن) يقتضي جواز سفرها من دون محرم أو زوج إذا أمنت خطر الطريق، كأن تكون الطريق آمنة في نفسها بأمان البلد، أو تكون المرأة بصحبة غير الزوج والمحرم، كنساءٍ ثقات.

ومن جهةٍ أخرى يقتضي النوطُ بالحكمة تحريمَ تنقُّل المرأة بمفردها فيما دون مطلق السفر أو لم يبلغ المسافة التي عيّنها الفقهاء لأقلّ السفر، إذا كان هذا التنقل ينعدم فيه الأمن وكانت المرأة فيه عرضة للاعتداء والتحرّش، كما في بعض البلاد، في حين لا تقتضي المظنّة ذلك؛ لأنّ هذا التردّد وإن انعدم فيه الأمن فإنّه لا يدخل في مفهوم السفر.

وفيما يأتي رسمٌ يوضّح مواضع التباين ومواضع التقاطع بين دائرتي ما تقتضيه المظنّة وما تقتضيه الحكمة في مثال نهي المرأة عن السفر إلا بمحرم أو زوج.

--------------------------------------------

(1) الشافعي، الأم، 2/ 127.
প্রথম পরিচ্ছেদ: হিকমত (حكمة) এবং মাজান্নাহ (مظنة)-এর মাধ্যমে কারণ নির্ধারণ (تعليل) সংক্রান্ত পরিভাষাগুলোর বিশ্লেষণের সারসংক্ষেপ

সম্ভাব্য স্থান বা মাজান্নাহ (مظنة) অথবা কার্যকর কারণ বা ইল্লত (علة)-এর মাধ্যমে কোনো বিধানের কারণ নির্ধারণ (تعليل) করা হলো প্রজ্ঞা বা হিকমত (حكمة)-এর মাধ্যমে কারণ নির্ধারণের একটি বিপরীত পরিভাষা। নصوص (শরয়ি পাঠ) দ্বারা নির্ধারিত কোনো বিধানের শাখাগত প্রয়োগক্ষেত্র নির্ধারণের ক্ষেত্রে এই দুটির কোনটি গ্রহণ করা হবে, তার ওপর ভিত্তি করে প্রয়োগক্ষেত্রের ব্যাপ্তি ও সংকীর্ণতা এবং এর অন্বয় ও ব্যতিরেক (طرد وعكس) ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে।

উদাহরণস্বরূপ, স্বামী বা মাহরাম ব্যতীত নারীর সফর করার ওপর যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, সেটির কারণ যদি হাদিসে বর্ণিত মাজান্নাহ (مظنة) অর্থাৎ খোদ 'সফর'-কে ধরা হয়, তবে এর প্রয়োগক্ষেত্র যা হবে; হিকমত (حكمة) বা নিষেধাজ্ঞার অন্তর্নিহিত যৌক্তিক কারণ—যা ইমাম শাফিয়ি ও একদল ফকিহ মনে করেন, অর্থাৎ নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত না থাকা এবং স্বামী বা মাহরাম সাথে না থাকলে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা—তার মাধ্যমে কারণ নির্ধারণ (تعليل) করলে প্রয়োগক্ষেত্রটি ভিন্ন হবে(১):

বিধানটিকে যদি মাজান্নাহ (مظنة) বা সফরের সাথে সংশ্লিষ্ট করা হয়, তবে রাস্তা নিরাপদ হলেও স্বামী বা মাহরাম ছাড়া নারীর সফর হারাম হবে। পক্ষান্তরে, একে যদি হিকমত (حكمة) অর্থাৎ নিরাপত্তার অভাবের সাথে সংশ্লিষ্ট করা হয়, তবে রাস্তা নিরাপদ থাকলে মাহরাম বা স্বামী ছাড়াও তার সফর জায়েজ হবে; যেমন পথ নিজেই নিরাপদ হওয়া, অথবা নারীর সাথে স্বামী বা মাহরাম ব্যতীত অন্য কোনো নিরাপদ সঙ্গী থাকা, যেমন নির্ভরযোগ্য (ثقات) নারী দল।

অন্যদিকে, হিকমত (حكمة)-এর সাথে বিধানের সংশ্লিষ্টতা দাবি করে যে, সাধারণ সফর বা ফকিহদের নির্ধারিত সফরের দূরত্বের কম পথ হলেও যদি সেখানে নিরাপত্তা না থাকে এবং নারী হামলা বা হয়রানির শিকার হওয়ার আশঙ্কা থাকে—যেমনটি কোনো কোনো দেশে দেখা যায়—তবে তার একাকী যাতায়াত করা নিষিদ্ধ হবে। অথচ মাজান্নাহ (مظنة) অনুসারে এটি নিষিদ্ধ হবে না; কারণ এই যাতায়াতে নিরাপত্তা না থাকলেও তা 'সফর'-এর সংজ্ঞায় পড়ে না।

নিম্নে একটি চিত্রের মাধ্যমে মাহরাম বা স্বামী ছাড়া নারীর সফর নিষেধাজ্ঞার উদাহরণে হিকমত (حكمة) এবং মাজান্নাহ (مظنة)-এর দাবির মধ্যকার বৈসাদৃশ্য ও সংযোগস্থলগুলো স্পষ্ট করা হলো।

--------------------------------------------

(১) শাফিয়ি, আল-উম্ম, ২/ ১২৭।
(খণ্ড: ৭০) আল-আওয়ামিলুল মুয়াসসিরাতু ফী নাউতিল হুকমি বিল মাযিন্নাতি আউ বিল হিকমাহ (পৃষ্ঠা: ১১০)
رسم توضيحي 1: تباين المساحة الفروعية التي تغطيها المظنة والحكمة في مثال النهي عن سفر المرأة وتقاطعها

|

ولفهم المقصود بمصطلحي التعليل بالمظنة/ العلة، والتعليل بالحكمة تمام الفهم لا بدّ من فهم الاصطلاحات الجزئيّة المكوِّنة لهما: التّعليل، والحكمة، والمظنّة/ العلة. وقد كنت نشرت بحثًا مفصَّلا أسهبت فيه في التّعريف بهذه الاصطلاحات وتحقيقها والتفريق الدقيق بينها(1). ثم أردفت ذلك ببحث ثان لبيان أنّ "التعليل بالمظنة" هو الغالب في التعليل الذي يُراد به ربط الأحكام بالعلل السببية الموجبة لها والمنصوبة للمكلّف علامةً على تطبيقها، واستدللت لذلك بأدلّة مُسهبة مع تفصيلٍ في بيان الفلسفة الأصوليّة المقاصدية التي يقوم عليها التعليل بالمظنة(2). وقد كان هذا ضروريًّا في ظلّ النقد القاسي الذي وجّهه بعض فضلاء المعاصرين(3) للأصوليين لعنايتهم وتقديمهم التعليل بالمظنة/ العلة على التعليل بالحكمة، وقد نجم ذلك النقد عن خَلطٍ عند هؤلاء الفضلاء في تحرير المقصود بـ «التعليل بالحكمة» الذي اختلف الأصوليّون في جوازه.

--------------------------------------------

(1) صالح، "العلّة والحكمة والتّعليل بالحكمة"، مجلة جامعة الأمير عبد القادر للعلوم الإسلامية، م 31، عدد 2، 65.

(2) صالح، "التعليل بالمظنة لا بالحكمة: دراسة أُصولية"، مجلة الصراط، م 21، عدد 38، 48.

(3) شلبي، تعليل الأحكام، 184؛ إمام، "بحث في التّعليل بالحكمة"، مجلة كلية الشريعة والقانون بأسيوط، م 3، عدد 18، 665؛ الجبوري، "التعليل بالحكمة عند الأصوليين"، مجلة كلية الآداب - جامعة بغداد، عدد 15، 191؛ الحكمي، "حقيقة الخلاف في التعليل بالحكمة"، مجلة جامعة أم القرى، عدد 9، 12.
চিত্র ১: নারীর সফরের নিষেধাজ্ঞার উদাহরণের ক্ষেত্রে ধারণা বা সম্ভাব্য ক্ষেত্র (المظنة) এবং প্রজ্ঞা বা অন্তর্নিহিত রহস্য (الحكمة)-র আওতাভুক্ত শাখা ক্ষেত্রসমূহের বৈচিত্র্য এবং তাদের পারস্পরিক ছেদবিন্দু।

(১)। এরপর আমি দ্বিতীয় একটি গবেষণা প্রবন্ধের মাধ্যমে এটি স্পষ্ট করেছি যে, কোনো বিধানকে (হুকুম) তার আবশ্যকীয় কার্যকারণমুখী কারণের (العلل السببية) সাথে সংশ্লিষ্ট করার ক্ষেত্রে—যা মুকাল্লাফ বা বিধান পালনে দায়বদ্ধ ব্যক্তির জন্য বিধানটি প্রয়োগের চিহ্ন হিসেবে নির্ধারিত—ধারণাপ্রসূত কারণ নির্দেশ (التعليل بالمظنة)-ই হলো কারণ নির্দেশের (التعليل) প্রধান পদ্ধতি। ধারণাপ্রসূত কারণ নির্দেশের (التعليل بالمظنة) মূলে বিদ্যমান যে উসুলশাস্ত্রীয় ও মাকাসিদভিত্তিক দর্শন রয়েছে, তার বিস্তারিত বর্ণনাসহ এর স্বপক্ষে আমি সুদীর্ঘ দালিলিক প্রমাণাদি উপস্থাপন করেছি(২)। বর্তমান সময়ের কয়েকজন বিদগ্ধ গবেষকের(৩) পক্ষ থেকে উসুলবিদগণের (الأصوليين) প্রতি কঠোর সমালোচনার প্রেক্ষিতে এটি করা জরুরি ছিল। উসুলবিদগণ প্রজ্ঞাভিত্তিক কারণ নির্দেশের (التعليل بالحكمة) তুলনায় ধারণা বা সম্ভাব্য ক্ষেত্র (المظنة) / কার্যকর কারণ (العلة) ভিত্তিক কারণ নির্দেশকে গুরুত্ব প্রদান ও অগ্রাধিকার দিয়েছেন বলেই তারা এই সমালোচনা করেছেন। মূলত ‘প্রজ্ঞাভিত্তিক কারণ নির্দেশ’ (التعليل بالحكمة)-এর বৈধতার বিষয়ে উসুলবিদগণের (الأصوليين) মতপার্থক্য কোথায়, সেই উদ্দেশ্যটি নিরূপণে ঐ সকল সুধীজনের মাঝে বিভ্রান্তি তৈরির ফলে এই সমালোচনার উদ্ভব হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) সালিহ, "কার্যকর কারণ (العلة), প্রজ্ঞা (الحكمة) এবং প্রজ্ঞাভিত্তিক কারণ নির্দেশ (التعليل بالحكمة)", জার্নাল অফ আমির আবদেল কাদের ইউনিভার্সিটি ফর ইসলামিক সায়েন্সেস, খণ্ড ৩১, সংখ্যা ২, পৃষ্ঠা ৬৫।

(২) সালিহ, "ধারণাপ্রসূত কারণ নির্দেশ (التعليل بالمظنة), প্রজ্ঞাভিত্তিক (الحكمة) নয়: একটি উসুলশাস্ত্রীয় গবেষণা", আস-সিরাত জার্নাল, খণ্ড ২১, সংখ্যা ৩৮, পৃষ্ঠা ৪৮।

(৩) শালবি, "বিধানসমূহের কারণ নির্দেশ (تعليل الأحكام)", পৃষ্ঠা ১৮৪; ইমাম, "প্রজ্ঞাভিত্তিক কারণ নির্দেশ (التعليل بالحكمة) সংক্রান্ত গবেষণা", আসিউত ফ্যাকাল্টি অফ শরীয়াহ অ্যান্ড ল জার্নাল, খণ্ড ৩, সংখ্যা ১৮, পৃষ্ঠা ৬৬৫; জুবুরি, "উসুলবিদগণের নিকট প্রজ্ঞাভিত্তিক কারণ নির্দেশ (التعليل بالحكمة)", বাগদাদ বিশ্ববিদ্যালয় কলা অনুষদ পত্রিকা, সংখ্যা ১৫, পৃষ্ঠা ১৯১; হাকামি, "প্রজ্ঞাভিত্তিক কারণ নির্দেশের (التعليل بالحكمة) ক্ষেত্রে মতপার্থক্যের স্বরূপ", উম্মুল কুরা ইউনিভার্সিটি জার্নাল, সংখ্যা ৯, পৃষ্ঠা ১২।
(খণ্ড: ৭০) আল-আওয়ামিলুল মুয়াসসিরাতু ফী নাউতিল হুকমি বিল মাযিন্নাতি আউ বিল হিকমাহ (পৃষ্ঠা: ১১১)
وأجتزئ هنا في هذا المطلب التمهيدي بنقل ما يفي بالغرض من ذانك البحثين، متخفِّفًا من كثير من العزو والتّطويل، محيلًا من أراد مزيدًا من التفصيل والتمثيل والتوثيق على البحثين المذكورين. فأقول:

العلّة لفظٌ مشترك متعدِّد المعاني في كلام الأصوليين، وهو يأتي عندهم في معنيين رئيسين: السبب والحكمة.

أمّا السبب فهو الوصف الظاهر المنضبط الذي يلزم من حصوله حصولُ الحكم في حقّ المكلّف، لتحقيق حكمة، كالسفر الذي يلزم عنه إباحة الفطر في رمضان، والدلوك الذي يلزم عنه وجوب صلاة الظهر. ويكثر أن يُعبَّر عن السبب عند الأصوليين والفقهاء بألفاظ أخرى مثل: العلّة، والموجب، والمعرّف، والمناط، والمقتضي، والعلة السببية، وأمارة المصلحة، والمظنّة.

وأمّا الحكمة، فهي مقصود الحكم، أو ما لأجله شُرع الحكم. ويمكن تعريفها بأنّها: المعنى المَصلحي (المناسب) المقصود جلبه أو دفعه من تشريع الحُكم إن كان تكليفيًّا، أو المتضمَّن فيه إن كان وضعيًّا، أو قُلْ: هي باعث الشّرع على التّكليف بالحُكم، أو على وضعه. قال الغزالي: «لسنا نعني بالحكمة إلا العلّة المخيلة والمعنى المناسب»(1). وقال الطّوفي: «المراد بحكمة الحُكم: هو المعنى المناسب الذي نشأ عنه الحُكم»(2). ويُعبَّر عنها في كلام الفقهاء والأصوليين بـ المصلحة، وعين المصلحة، ووجه المصلحة، والمعنى، والمعنى المُخيل، والمعنى المناسب، والعلّة، والمَئِنَّة، وحقيقة العلّة، ورُوح العلّة، وعلّة السّبب، وعلّة العلّة، والباعث، والحامل، والدّاعي، والمحرِّك، والغرض، والمغزى، والمرمى، والمراد، والمقصد، والمقصود، والقصد، والغاية، والفائدة، والعلّة الغائيّة.

وهي ضربان: حِكمة الحُكم، وحِكمة السّبب.

فحكمة الحُكم: هي المعنى المصلحي المقصود جلبه أو دفعه من تشريع الحُكم التّكليفي:

--------------------------------------------

(1) الغزالي، شفاء الغليل، 613.

(2) الطوفي، شرح مختصر الروضة، 1/ 423.
আমি এখানে এই প্রারম্ভিক পরিচ্ছেদে উক্ত দুই গবেষণা থেকে উদ্দেশ্য সাধনের জন্য যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু উদ্ধৃত করেই সন্তুষ্ট থাকছি, অনেক উদ্ধৃতি ও দীর্ঘসূত্রতা পরিহার করে। আর যারা বিস্তারিত বিবরণ, উদাহরণ এবং প্রামাণিক দলিল চান, তাদের আমি উল্লিখিত দুই গবেষণার দিকে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি। আমি বলছি:

উসুলবিদদের (الأصوليون) পরিভাষায় ‘ইল্লাত’ (العلة) শব্দটি বহুমাত্রিক অর্থবাহী একটি সাধারণ শব্দ। তাঁদের নিকট এটি প্রধানত দুটি অর্থে ব্যবহৃত হয়: কারণ (السبب) এবং প্রজ্ঞা (الحكمة)।

আর ‘কারণ’ (السبب) হলো এমন এক প্রকাশ্য ও সুনির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য, যার উপস্থিতিতে কোনো প্রজ্ঞা (الحكمة) অর্জনের লক্ষ্যে শরয়ি বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তির (المكلف) ওপর বিধানের (الحكم) আবশ্যকতা তৈরি হয়। যেমন সফর, যার ফলে রমজানে রোজা ভঙ্গ করা বৈধ হয়; এবং সূর্য ঢলে পড়া, যার ফলে জোহরের সালাত ওয়াজিব হয়। উসুলবিদ (الأصوليون) ও ফকিহদের (الفقهاء) নিকট ‘কারণ’ (السبب) বোঝাতে প্রায়ই অন্যান্য শব্দও ব্যবহৃত হয়, যেমন: ইল্লাত (العلة), আবশ্যকতা দানকারী (الموجب), পরিচয়দানকারী (المعرف), বিধানের ভিত্তি (المناط), দাবিদার (المقتضي), কারণিক ইল্লাত (العلة السببية), জনকল্যাণের চিহ্ন (أمارة المصلحة) এবং ধারণার স্থল (المظنة)।

আর ‘প্রজ্ঞা’ (الحكمة) হলো বিধানের উদ্দেশ্য (مقصود الحكم), অথবা যার জন্য বিধানটি প্রবর্তন করা হয়েছে। একে এভাবে সংজ্ঞায়িত করা যায়: এটি হলো জনকল্যাণমূলক (উপযুক্ত (المناسب)) অর্থ, যা কোনো তাকলিফি বিধান (الحكم التكليفي) প্রবর্তনের মাধ্যমে অর্জন করা বা কোনো ক্ষতি দূর করা উদ্দেশ্য থাকে; অথবা তার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকে—যদি বিধানটি ওয়াদয়ি (الحكم الوضعي) হয়। অথবা বলা যায়: এটি হলো কোনো বিধান পালনের নির্দেশ দানে বা তা নির্ধারণে শরিয়তের প্রেরণা। ইমাম গাজালি বলেন: “আমরা প্রজ্ঞা (الحكمة) বলতে কেবল কল্পিত ইল্লাত (العلة المخيلة) এবং উপযুক্ত অর্থকেই (المعنى المناسب) বুঝি”(1)। তুফি বলেন: “বিধানের প্রজ্ঞা (حكمة الحكم) বলতে উদ্দেশ্য হলো সেই উপযুক্ত অর্থ (المعنى المناسب), যা থেকে বিধানটি উদ্ভূত হয়েছে”(2)। ফকিহ ও উসুলবিদদের বক্তব্যে একে জনকল্যাণ (المصلحة), জনকল্যাণের মূল (عين المصلحة), জনকল্যাণের দিক (وجه المصلحة), গূঢ় অর্থ (المعنى), কল্পিত অর্থ (المعنى المخيل), উপযুক্ত অর্থ (المعنى المناسب), ইল্লাত (العلة), আলামত (المئنة), ইল্লাতের হাকিকত (حقيقة العلة), ইল্লাতের প্রাণ (روح العلة), কারণের ইল্লাত (علة السبب), ইল্লাতের ইল্লাত (علة العلة), প্রেরণা (الباعث), ধারক (الحامل), আহ্বানকারী (الداعي), চালিকাশক্তি (المحرك), উদ্দেশ্য (الغرض), তাৎপর্য (المغزى), লক্ষ্য (المرمى), অভিপ্রায় (المراد), মাকসাদ (المقصد), উদ্দেশ্য (المقصود), লক্ষ্য (القصد), চূড়ান্ত লক্ষ্য (الغاية), ফায়দা (الفائدة) এবং চূড়ান্ত ইল্লাত (العلة الغائية) হিসেবে ব্যক্ত করা হয়।

এটি দুই প্রকার: বিধানের প্রজ্ঞা (حكمة الحكم) এবং কারণের প্রজ্ঞা (حكمة السبب)।

সুতরাং বিধানের প্রজ্ঞা (حكمة الحكم) হলো: জনকল্যাণমূলক অর্থ, যা কোনো তাকলিফি বিধান (الحكم التكليفي) প্রবর্তনের মাধ্যমে অর্জন করা বা দূর করা উদ্দেশ্য থাকে:

--------------------------------------------

(1) গাজালি, শিফাউল গালিল, ৬১৩।

(2) তুফি, শারহু মুখতাসারির রওদাহ, ১/ ৪২৩।
(খণ্ড: ৭০) আল-আওয়ামিলুল মুয়াসসিরাতু ফী নাউতিল হুকমি বিল মাযিন্নাতি আউ বিল হিকমাহ (পৃষ্ঠা: ১১২)
• كحفظ العقل المقصود من تحريم شرب الخمر. وتحصيل الزّجر، ومن ثمّ تقليل القتل، المقصود من إيجاب القصاص.

• وكحفظ الأسرة والنّسل المقصود من تحريم الزّنى.

• وكدفع المشقّة (=التّيسير أو التّخفيف) المقصود من إباحة الفطر للمسافر.

وهذا النّوع من الحكمة أولى بأن يُخصّ باسم المقصد أو الغرض أو الباعث.

وحكمة السّبب: هي المعنى المصلحي الذي لأجل اشتمال سبب الحُكم عليه، علَّق الشّارع الحُكمَ بهذا السّبب، وذلك لتحقيق حكمة الحُكم التكليفي المترتِّب على هذا السّبب في نهاية الأمر:

• كالمشَقّة المتضمَّنة في السّفر التي من أجلها جُعل السّفر سببًا لإباحة الفطر؛ تحقيقًا لحكمة التّيسير.

• وكتضييع المال المتضمَّن في السّرقة، الذي من أجله جُعلت السّرقة سببًا لوجوب القطع؛ تحقيقًا لحكمة الزّجر عن تضييع المال.

• وكتشوُّش الذِّهن المتضمَّن في غضب القاضي، الذي من أجله جُعل الغضب سببًا لكراهة القضاء أو تحريمه؛ تحقيقًا لحكمة العدل.

• وكالإسكار المتضمّن في شرب الخمر، الذي من أجله جُعل شرب الخمر سببًا لوجوب الحدّ؛ تحقيقًا لحكمة الزّجر عن تضييع العقل، ودفع ما يلزم عن تضييعه من مفاسد.

وألصق الأسماء بهذه الحكمة: المعنى، والمئنّة، وعلّة السّبب، وعلّة العلّة، وحقيقة العلّة.

وأمّا المَظِنّة، بفتح الميم وكسر الظّاء، فهي المحلّ/ الوصف الظاهر المنضبط الذي يُظنّ فيه وجود الحكمة.

وهذا المحلّ - الذي هو مظنّة الحكمة - يختلف بحسب نوع الحُكم:

• فإن كان الحُكم تكليفيًّا، كالوجوب والحرمة ونحوها: كان المحلّ هو فعل المكلَّف الذي تعلَّق به الحُكم، فمثلًا المحلّ في حُكم تحريم شرب الخمر، هو الفعل "شرب الخمر"، وهذا الفعل
• যেমন মদ্যপান নিষিদ্ধ (تحريم) করার মাধ্যমে আকল বা বুদ্ধি সংরক্ষণ করা উদ্দেশ্য। এবং অপরাধ দমন নিশ্চিত করা ও ফলশ্রুতিতে হত্যা কমানো হলো কিসাস (القصاص) আবশ্যক (إيجاب) করার উদ্দেশ্য।

• এবং ব্যভিচার নিষিদ্ধ (تحريم) করার মাধ্যমে পরিবার ও বংশধারা সংরক্ষণ করা উদ্দেশ্য।

• এবং মুসাফিরের জন্য রোজা না রাখার বৈধতা (إباحة) দেওয়ার মাধ্যমে কষ্ট দূর করা (=সহজীকরণ বা লাঘব করা) উদ্দেশ্য।

হিকমতের (الحكمة) এই ধরণটি মাকসাদ (المقصد), উদ্দেশ্য (الغرض) বা চালিকাশক্তি (الباعث) হিসেবে নির্দিষ্ট হওয়াই অধিক যুক্তিযুক্ত।

আর হেতুর হিকমত (حكمة السّبب) হলো: এমন এক কল্যাণকর অর্থ যার কারণে বিধানের হেতু (سبب الحُكم) এর অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। বিধানদাতা (الشّارع) বিধানটিকে এই হেতুর (سبب) সাথে সংশ্লিষ্ট করেছেন, যাতে শেষ পর্যন্ত এই হেতুর ওপর ভিত্তি করে বিধিবদ্ধ বিধানের (الحُكم التكليفي) হিকমত বাস্তবায়িত হয়:

• যেমন সফরের মাঝে অন্তর্নিহিত কষ্ট, যার কারণে সফরকে রোজা না রাখার বৈধতার (إباحة) হেতু (سبب) করা হয়েছে; যাতে সহজকরণের হিকমত (حكمة التّيسير) বাস্তবায়িত হয়।

• যেমন চুরির মাঝে সম্পদ বিনষ্ট হওয়া নিহিত আছে, যার কারণে চুরিকে হাত কাটার আবশ্যকতার (وجوب) হেতু (سبب) করা হয়েছে; যাতে সম্পদ বিনষ্ট করা থেকে বিরত রাখার হিকমত বাস্তবায়িত হয়।

• যেমন বিচারকের ক্রোধের মাঝে মানসিক অস্থিরতা নিহিত আছে, যার কারণে ক্রোধকে বিচারকার্য সম্পাদন অপছন্দনীয় (كراهة) বা নিষিদ্ধ (تحريم) হওয়ার হেতু (سبب) করা হয়েছে; যাতে ন্যায়বিচারের (العدل) হিকমত বাস্তবায়িত হয়।

• যেমন মদ্যপানের মাঝে মাদকতা নিহিত আছে, যার কারণে মদ্যপানকে হদ (الحدّ) কার্যকর করার আবশ্যকতার (وجوب) হেতু (سبب) করা হয়েছে; যাতে বুদ্ধি বিলুপ্ত করা থেকে বিরত রাখার হিকমত বাস্তবায়িত হয় এবং বুদ্ধি বিলোপের ফলে যে সকল অনিষ্ট (مفاسد) তৈরি হয় তা প্রতিহত করা যায়।

এই হিকমতের সাথে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ নামগুলো হলো: অর্থ (المعنى), নিদর্শন (المئنّة), হেতুর কার্যকারণ (علّة السّبب), কার্যকারণের কার্যকারণ (علّة العلّة), এবং কার্যকারণের প্রকৃত স্বরূপ (حقيقة العلّة)।

আর মাজিননাহ (المَظِنّة), মীম-এ ফাতহাহ এবং জো-তে কাসরাহ সহ, হলো এমন এক ক্ষেত্র বা সুস্পষ্ট ও সুশৃঙ্খল বৈশিষ্ট্য (الوصف الظاهر المنضبط) যেখানে হিকমত বিদ্যমান থাকার সম্ভাবনা থাকে।

আর এই ক্ষেত্রটি —যা হিকমতের মাজিননাহ (مظنّة الحكمة)— বিধানের প্রকারভেদে ভিন্ন ভিন্ন হয়:

• যদি বিধানটি বিধিবদ্ধ বিধান (الحُكم التكليفي) হয়, যেমন আবশ্যকতা (الوجوب) ও নিষিদ্ধতা (الحرمة) এবং অনুরূপ কিছু: তবে ক্ষেত্রটি হবে মুকাল্লাফ বা দায়িত্বশীল ব্যক্তির সেই কাজ যার সাথে বিধানটি সংশ্লিষ্ট। উদাহরণস্বরূপ, মদ্যপান নিষিদ্ধ (تحريم) করার বিধানের ক্ষেত্রে ক্ষেত্রটি হলো "মদ্যপান করা" নামক কাজটি, এবং এই কাজটি
(খণ্ড: ৭০) আল-আওয়ামিলুল মুয়াসসিরাতু ফী নাউতিল হুকমি বিল মাযিন্নাতি আউ বিল হিকমাহ (পৃষ্ঠা: ১১৩)
مظنّة إحداث السُّكر. ومحلُّ الحُكم في حرمة السّرقة، هو فعل السّرقة، وهو مظنّة تضييع المال. ومحلُّ الحُكم في إباحة البيع هو فعل البيع (التّعاقد)، وهو مظنّة تراضي المتبايعين بتبادل الملك، وهذا التراضي مظنّة رغبتهما، أو حاجتهما، إلى هذا التّبادل، وهكذا …

• وإن كان الحُكم وضعيًّا، كالسّبب والشّرط والمانع، كان المحلّ هو الفعل أو الصّفة أو الحَدث الذي وضعه أو جعله الشّارع سببًا أو شرطًا أو مانعًا. وهو السَّبب نفسه، أو الشّرط، أو المانع، نفساهما: كفعل السّفر الذي هو سبب إباحة الفطر، ومظنّة المشقّة. وصفة البلوغ التي هي شرط وجوب الصّلاة، ومظنّة تكامل العقل. وفعل القتل الذي هو مانعٌ من استحقاق الميراث، ومظنّة استعجال الشيء قبل أوانه بفعلٍ محرّم.

وعليه، فالمظنّة، وإن اشتهر إطلاقها على العلّة بمعنى السّبب، فهي أعمّ منه، لأنّها تشمل الشّرط والمانع ومحلّ الحُكم التّكليفي؛ إذ كلّ أولئك مظانّ لحكمة الحُكم المتعلِّق بها، تكليفيًّا كان أو وضعيًّا.

ويتحَدَّد المعنى المقصود من العلة إذا جاءت في كلام الأصوليين بحسب قرائن السياق، فإذا ذُكرت العلة والسبب في سياق واحد، كما يذكرهما الشاطبي وغيره، فالمقصود بالعلة حينئذٍ الحكمة (أي العلة الغائية)، وإذا ذُكرت العلة والحكمة في سياق واحد، كقول كثير من الأصوليين: يدور الحكم مع العلة لا مع الحكمة، فالمقصود بالعلة في هذا السياق السبب أو المظنة (العلة السببيّة).

وأمّا التّعليل فهو يُطلق أصوليًّا على: بيان علّة الحُكم، سواء أكان ذلك بفعل الشّارع، أم المجتهد، وسواء أكان ذلك لمجرّد إبداء الحكمة التشريعيّة للحكم من غير ربط الحكم بهذه الحكمة وجودًا وعدمًا، أم لغرض نوط الحكم بها وجودًا -كما في قياس الطرد - أو عدمًا - كما في قياس العكس - أو كليهما.

كما يُطلق التّعليل على القول بأنّ الأحكام معلَّلة بالمصالح. فالقائلون بالتّعليل هم الجمهور، ويقابلهم الظّاهرية المنكرون للتّعليل.
মাতাল হওয়ার সম্ভাবনা (مظنّة)। আর চুরির নিষিদ্ধতা বা হারাম (حرمة) হওয়ার ক্ষেত্রে বিধানের প্রয়োগস্থল (محلُّ الحُكم) হলো চুরির কাজ, যা সম্পদ বিনষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা (مظنّة)। এবং ক্রয়-বিক্রয়ের বৈধতার (إباحة) ক্ষেত্রে বিধানের প্রয়োগস্থল (محلُّ الحُكم) হলো ক্রয়-বিক্রয়ের কাজ (চুক্তি সম্পাদন - التّعاقد), যা উভয় পক্ষের মালিকানা বিনিময়ে পারস্পরিক সম্মতির (تراضي) সম্ভাবনা (مظنّة)। আর এই পারস্পরিক সম্মতি তাদের ইচ্ছা বা এই বিনিময়ের প্রতি তাদের প্রয়োজনীয়তার সম্ভাবনা (مظنّة)। আর এভাবেই …

• আর যদি বিধানটি পরিস্থিতিগত বা প্রবর্তিত (وضعيًّا) হয়, যেমন: কারণ (السّبب), শর্ত (الشّرط) এবং বাধা (المانع), তবে তার প্রয়োগস্থল হবে সেই কাজ, গুণ বা ঘটনা যাকে বিধানদাতা (الشّارع) কারণ (سببًا), শর্ত (شرطًا) অথবা বাধা (مانعًا) হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। এটি স্বয়ং সেই কারণ (السَّبب), শর্ত (الشّرط) বা বাধা (المانع) নিজেই। যেমন: সফরের কাজ যা রোজা ভঙ্গের বৈধতার (إباحة) কারণ (سبب) এবং কষ্টের (المشقّة) সম্ভাবনা (مظنّة)। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার (البلوغ) গুণ যা সালাত আবশ্যক বা ওয়াজিব (وجوب) হওয়ার শর্ত (شرط) এবং বুদ্ধিবৃত্তিক পূর্ণতার সম্ভাবনা (مظنّة)। হত্যার কাজ যা মিরাসের অধিকার প্রাপ্তিতে বাধা (مانع) এবং কোনো কিছুকে তার সময়ের আগে হারাম কাজের মাধ্যমে পাওয়ার দ্রুত চেষ্টার সম্ভাবনা (مظنّة)।

এর ওপর ভিত্তি করে বলা যায়, ‘মাজান্নাহ’ (مظنّة) যদিও ‘সাবাব’ (السّبب) অর্থে কার্যকর কারণ বা ‘ইল্লাহ’ (العلّة) হিসেবে প্রসিদ্ধি পেয়েছে, তবে তা এর চেয়েও ব্যাপক। কারণ এটি শর্ত (الشّرط), বাধা (المانع) এবং অর্পিত বিধানের প্রয়োগস্থলকে (محلّ الحُكم التّكليفي) অন্তর্ভুক্ত করে; যেহেতু এগুলোর প্রতিটিই সংশ্লিষ্ট বিধানের হিকমতের আধার (مظانّ), বিধানটি অর্পিত (تكليفيًّا) হোক বা পরিস্থিতিগত (وضعيًّا) হোক।

উসূলবিদদের (الأصوليين) বক্তব্যে ‘ইল্লাহ’ (العلة) শব্দের কাঙ্ক্ষিত অর্থ প্রসঙ্গের পারিপার্শ্বিকতা অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। যখন ‘ইল্লাহ’ (العلة) ও ‘সাবাব’ (السبب) একই সাথে উল্লিখিত হয়, যেমনটি শাতীবী এবং অন্যরা উল্লেখ করেছেন, তখন ‘ইল্লাহ’ (العلة) বলতে হিকমত (حكمة) বা চূড়ান্ত উদ্দেশ্যমূলক কারণ (العلة الغائية) বোঝানো হয়। আর যখন ‘ইল্লাহ’ (العلة) ও ‘হিকমত’ (الحكمة) একই সাথে উল্লিখিত হয়, যেমন অনেক উসূলবিদের উক্তি: "বিধান আবর্তিত হয় ইল্লাহর সাথে, হিকমতের সাথে নয়", তখন এই প্রসঙ্গে ‘ইল্লাহ’ (العلة) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ‘সাবাব’ (السبب) বা ‘মাজান্নাহ’ (مظنة) অর্থাৎ কার্যকারণগত ইল্লাহ (العلة السببيّة)।

আর ‘তালীলে’র (التّعليل) উসূলী প্রয়োগ হলো: বিধানের কার্যকর কারণ বা ইল্লাহ (علّة) বর্ণনা করা, তা বিধানদাতার (الشّارع) পক্ষ থেকে হোক কিংবা মুজতাহিদের (المجتهد) পক্ষ থেকে। এটি কেবল বিধানের আইনগত হিকমত (الحكمة التشريعيّة) প্রকাশের জন্য হতে পারে—বিধানকে এই হিকমতের অস্তিত্ব বা অনস্তিত্বের সাথে সম্পৃক্ত না করে, অথবা বিধানকে তার সাথে অস্তিত্বগতভাবে সম্পৃক্ত করার উদ্দেশ্যে হতে পারে—যেমন কিয়াসুত তারদ (قياس الطرد)-এর ক্ষেত্রে, অথবা অনস্তিত্বগতভাবে সম্পৃক্ত করার জন্য—যেমন কিয়াসুল আকস (قياس العكس)-এর ক্ষেত্রে, অথবা উভয় উদ্দেশ্যেই হতে পারে।

অনুরূপভাবে ‘তালীলে’র (التّعليل) প্রয়োগ ঐ মতবাদের ওপরও হয় যা বলে যে, বিধানসমূহ জনকল্যাণ বা মাসলাহাতের (المصالح) ভিত্তিতে কারণযুক্ত। যারা তালীলের (التّعليل) প্রবক্তা তারা হলেন জমহুর (الجمهور) বা সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেম, আর তাদের বিপরীতে রয়েছেন যাহেরী (الظّاهرية) সম্প্রদায় যারা তালীলের (التّعليل) অস্বীকারকারী।
(খণ্ড: ৭০) আল-আওয়ামিলুল মুয়াসসিরাতু ফী নাউতিল হুকমি বিল মাযিন্নাতি আউ বিল হিকমাহ (পৃষ্ঠা: ১১৪)
وأمّا فيما يخصّ مصطلحي: التّعليل بالمظنّة والتّعليل بالحكمة، فالمقصود بهما نوط الحكم بالعلّة، سواء أكانت علة سببية (مظنّة)، أم علّة غائية (حكمة). فقول الأصوليين: يجوز - أو لا يجوز - التعليل بالحكمة، معناه: يجوز - أو لا يجوز - نوطُ الحُكم بالحكمة، وجودًا أو عدمًا، وليس المقصود به: أنّ الأحكام من حيث المبدأ معلّلة بالمصالح والحِكَم، ولا المقصود به مجرّد بيان الحكمة التشريعية للحكم من غير نوطٍ له بها.

وإذا تقرّر ما سبق، فـ «التّعليل بالمظنّة» هو نوط الحُكم، وجودًا، أو عدمًا، أو كليهما، بالمظنّة، وهو يُطلق في مقابل «التّعليل بالحكمة» الذي هو نوط الحكم، وجودًا، أو عدمًا، أو كليهما، بالحكمة.

ومعنى النّوط وجودًا: إثبات الحُكم في كلّ محلٍّ تُوجد فيه المظنّة أو الحكمة. وهذا قد يقتضي قياس الطَّرد، كما في قياس الجوع والألم المفرطين على الغضب؛ لأنّهما يشوّشان الذّهن (وجود الحكمة). وكما في قياس الأرزّ على البرّ بعلّة الكيل التي هي ضابط محلّ الحُكم بتحريم ربا الفضل عند الحنفيّة (وجود المظنّة).

ومعنى النّوط عدمًا: نفي الحُكم عن كلّ محلٍّ تنتفي عنه المظنّة أو الحكمة. وهذا قد يقتضي قياس العكس، كنفي حُكم الكراهة عن قضاء القاضي مع الغضب اليسير؛ لأنَّه لا يشوّش (انتفاء الحكمة). وكما في نفي الحنفيّة حُكم التّحريم عن بيع قليل البرّ بقليل البرّ، كالحَفْنة بالحَفنتين؛ لأنّه لا يُكال (انتفاء المظنّة).

ولحصول المظنّة والحكمة في آحاد الوقائع المحكوم فيها ثلاثُ حالات:

الأولى: أن يحصلا معًا في الواقعة محلّ الحكم.

والثّانية: أن ينعدما معًا.

والثّالثة: أن تُوجد إحداهما في الواقعة دون الأخرى.

وفي هذه الحالة الأخيرة فقط يحدث الإشكال الفقهي، ويُحتاج إلى الاجتهاد بالمفاضلة والموازنة بين التعليل بالمظنّة والتّعليل بالحكمة.
আর 'অনুমানের ভিত্তিতে কারণ নির্ধারণ (التعليل بالمظنة)' এবং 'প্রজ্ঞার ভিত্তিতে কারণ নির্ধারণ (التعليل بالحكمة)'—এই দুটি পারিভাষিক শব্দের ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য হলো কোনো বিধানকে তার কারণের (العلة) সাথে সংশ্লিষ্ট করা (نوط الحكم), সেটি কার্যकारणমূলক হেতু (علة سببية) (অর্থাৎ অনুমানযোগ্য বিষয়) হোক বা লক্ষ্যভিত্তিক হেতু (علة غائية) (অর্থাৎ প্রজ্ঞা) হোক। উসুলবিদদের (الأصوليون) বক্তব্য: 'প্রজ্ঞার ভিত্তিতে কারণ নির্ধারণ (التعليل بالحكمة) জায়েজ অথবা না-জায়েজ'—এর অর্থ হলো: অস্তিত্ব (وجودا) বা অনস্তিত্বের (عدما) নিরিখে বিধানকে প্রজ্ঞার সাথে সংশ্লিষ্ট করা জায়েজ অথবা না-জায়েজ। এর দ্বারা উদ্দেশ্য এটি নয় যে, বিধানসমূহ মূলগতভাবে জনকল্যাণ (المصالح) ও প্রজ্ঞা বা রহস্যসমূহের (الحكم) ওপর ভিত্তি করে প্রবর্তিত হয়েছে; আর বিধানকে সংশ্লিষ্ট না করে কেবল তার বিধানগত প্রজ্ঞা বর্ণনা করাও এর উদ্দেশ্য নয়।

উপরিউক্ত বিষয়টি সাব্যস্ত হওয়ার পর বলা যায়, 'অনুমানের ভিত্তিতে কারণ নির্ধারণ (التعليل بالمظنة)' হলো অস্তিত্ব (وجودا) বা অনস্তিত্ব (عدما) অথবা উভয় নিরিখে বিধানকে অনুমানযোগ্য বিষয়ের (المظنة) সাথে সংশ্লিষ্ট করা। এটি 'প্রজ্ঞার ভিত্তিতে কারণ নির্ধারণ (التعليل بالحكمة)'-এর বিপরীতে ব্যবহৃত হয়, যা হলো অস্তিত্ব (وجودا) বা অনস্তিত্ব (عدما) অথবা উভয় নিরিখে বিধানকে প্রজ্ঞার (الحكمة) সাথে সংশ্লিষ্ট করা।

অস্তিত্বের নিরিখে সংশ্লিষ্ট করার (النوط وجودا) অর্থ হলো: প্রতিটি ক্ষেত্রে যেখানে অনুমানযোগ্য বিষয় বা প্রজ্ঞা পাওয়া যাবে, সেখানে বিধান সাব্যস্ত করা। এটি কখনও সদর্থক সাদৃশ্যমূলক অনুমান (قياس الطرد)-এর দাবি রাখে, যেমন তীব্র ক্ষুধা ও যন্ত্রণাকে ক্রোধের (الغضب) সাথে তুলনা করা; কারণ উভয়টিই চিন্তাশক্তিকে বিভ্রান্ত করে (প্রজ্ঞার উপস্থিতি)। আবার যেমন হানাফি মাজহাবের মতে, চালকে গমের সাথে 'পরিমাপযোগ্যতা'র কারণের ভিত্তিতে তুলনা করা, যা অতিরিক্ত পরিমাণজনিত সুদের (ربا الفضل) হারাম হওয়ার বিধানের প্রয়োগস্থলের মানদণ্ড (ضابط) (অনুমানযোগ্য বিষয়ের উপস্থিতি)।

অনস্তিত্বের নিরিখে সংশ্লিষ্ট করার (النوط عدما) অর্থ হলো: প্রতিটি ক্ষেত্রে যেখানে অনুমানযোগ্য বিষয় বা প্রজ্ঞা অনুপস্থিত থাকবে, সেখান থেকে বিধান নাকচ করা। এটি কখনও বিপরীতধর্মী সাদৃশ্যমূলক অনুমান (قياس العكس)-এর দাবি রাখে, যেমন সামান্য ক্রোধের অবস্থায় বিচারকের বিচারকার্য (قضاء القاضي) পরিচালনার ক্ষেত্রে অপছন্দনীয় হওয়ার (الكراهة) বিধান নাকচ করা; কারণ এটি চিন্তাকে বিভ্রান্ত করে না (প্রজ্ঞার অনুপস্থিতি)। আবার যেমন হানাফিদের মতে সামান্য পরিমাণ গমের বিনিময়ে সামান্য পরিমাণ গম (যেমন এক অঞ্জলির বদলে দুই অঞ্জলি) বিক্রির ক্ষেত্রে হারাম হওয়ার বিধান নাকচ করা; কারণ এটি পরিমাপ করা হয় না (অনুমানযোগ্য বিষয়ের অনুপস্থিতি)।

যেসব ঘটনার ওপর বিধান জারি করা হয়, সেগুলোতে অনুমানযোগ্য বিষয় ও প্রজ্ঞার উপস্থিতির ক্ষেত্রে তিনটি অবস্থা রয়েছে:

প্রথম: বিধানের প্রয়োগস্থলে উভয়টির একত্রে উপস্থিত থাকা।

দ্বিতীয়: উভয়টির একত্রে অনুপস্থিত থাকা।

তৃতীয়: কোনো ঘটনায় একটির উপস্থিতি থাকলেও অন্যটির অনুপস্থিত থাকা।

কেবলমাত্র এই শেষোক্ত অবস্থায় ফিকহশাস্ত্রে জটিলতা তৈরি হয় এবং সেক্ষেত্রে অনুমানের ভিত্তিতে কারণ নির্ধারণ (التعليل بالمظنة) ও প্রজ্ঞার ভিত্তিতে কারণ নির্ধারণ (التعليل بالحكمة)-এর মধ্যে অগ্রাধিকার প্রদান ও সামঞ্জস্য বিধানের জন্য ইজতিহাদ (الاجتهاد)-এর প্রয়োজন পড়ে।
(খণ্ড: ৭০) আল-আওয়ামিলুল মুয়াসসিরাতু ফী নাউতিল হুকমি বিল মাযিন্নাতি আউ বিল হিকমাহ (পৃষ্ঠা: ১১৫)
والقاعدة العامّة التي تحكم عمليّة الموازنة بين نوط الحكم بالمظنّة ونوطه بالحكمة عند الفقهاء والأصوليّين، بإطباقٍ منهم، هي أنّ الأصل والغالب أن يُناط الحُكم بالمظنّة (التي تكون منصوصة عادة) لا بالحكمة (التي تكون مستنبطة عادة). ويُخرَج عن هذا الأصل في حالات خاصّة هي ما سنوضّحه في هذا البحث إن شاء الله تعالى.

والغاية من نوط الحكم بالمظنّة لا بالحكمة هي تشوُّف الشّارع إلى الضّبط والحَسْم والوضوح في وضع الأحكام وسنّ القوانين. ومقصدُ الضّبط هذا ينطوي على مقاصد أو مصالح أخرى. فالضَّبط، على التّحقيق، ليس غايةً في نفسه، بل الغاية الحقيقيّة هي ما يترتَّب عليه من مصالح للمكلّفين أفرادًا وجماعاتٍ. وتتمثّل هذه المصالح - المترتّبة على الضّبط - في ثلاثة معانٍ يمكن عدُّها الغايات المصلحيّة لنوط الأحكام بالمظانّ دون الحِكَم، وهي: التّسهيل، والاحتياط، وقطع النّزاع. وقد تجتمع هذه الغايات، كلّها أو بعضها، في المثال الواحد والمسألة الواحدة، وقد يتجلَّى انفراد أحدها أو غلبته على غيره في أمثلة أو مسائل أخرى.

 

‌‌المطلب الثاني: أشكال تصرّفات الفقهاء عند تردُّد الحكم بين المظنّة والحكمة

بالاستقراء والتأمّل فيما يُوجد عند الفقهاء من مسائل فقهية، يتردَّد الحكم فيها بين أن يُناط بالمظنة، أو يُناط بالحكمة، وجدتُّ أنّ تصرُّفاتِهم، تتّخذ أشكالًا أربعة:

الأوّل: أن يقطعوا الحكم عن المظنّة المنصوصة، ويديروه مع الحكمة وجودًا وعدمًا، وهذا إذا كانت الحكمة منفردة بالحكم، ومفهومة بوضوح من النصَّ على المظنّة.

ومثاله: «لا يقضي الحاكم بين اثنين وهو غضبان»(1)، أداروا حكم كراهة القضاء مع تشوُّش الذهن (الحكمة) وجودًا وعدمًا، وقطعوه عن الدوران مع ذات الغضب (المظنّة المنصوصة)، فكلُّ ما يشوِّش - كالألم والاحتقان والجوع والعطش المفرطين - مكروهٌ معه القضاء. والغضبُ اليسير غير المشوِّش يرتفع عنه حكم الكراهة. فالغضب نفسه لم يعد مَناطًا للحكم، بل تشوّش الذهن، وجودًا وعدمًا(2).

--------------------------------------------

(1) أحمد، المسند، 34/ 14 واللفظ له. قال الأرناؤوط: إسناده صحيح؛ البخاري، الصحيح، 9/ 65؛ مسلم، الصحيح، 3/ 1342.

(2) ينظر: ابن المنذر، الإشراف على مذاهب العلماء، 4/ 185؛ ابن حجر، فتح الباري، 13/ 137.
ফকিহ এবং উসুলবিদগণের ঐকমত্য অনুযায়ী, বিধানকে ‘মাজান্নাহ’ (সম্ভাব্য ভিত্তি) এবং ‘হিকমাহ’ (প্রজ্ঞানিহিত উদ্দেশ্য)-র সাথে সম্পৃক্ত করার ভারসাম্য রক্ষার সাধারণ নীতি হলো—মূলত এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিধানকে মাজান্নাহ-র (যা সাধারণত সরাসরি নাস বা পাঠ্য দ্বারা বর্ণিত) সাথে সম্পৃক্ত করা হবে, হিকমাহ-র (যা সাধারণত গবেষণালব্ধ) সাথে নয়। এই মূলনীতির ব্যতিক্রম কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে পরিলক্ষিত হয়, যা ইনশাআল্লাহ এই গবেষণায় আমরা স্পষ্ট করব।

হিকমাহ-র পরিবর্তে মাজান্নাহ-র সাথে বিধানকে সম্পৃক্ত করার উদ্দেশ্য হলো বিধান প্রণয়ন ও আইন জারির ক্ষেত্রে শারিয়াহ প্রণেতার সুশৃঙ্খলতা, চূড়ান্ততা ও স্পষ্টতার আকাঙ্ক্ষা। আর এই সুশৃঙ্খলতার উদ্দেশ্যের মধ্যে অন্যান্য উদ্দেশ্য বা জনকল্যাণ নিহিত রয়েছে। প্রকৃত গবেষণায় দেখা যায়, সুশৃঙ্খলতা বা ضبط নিজেই কোনো চূড়ান্ত লক্ষ্য নয়; বরং এর আসল উদ্দেশ্য হলো এর মাধ্যমে ব্যক্তি ও সমষ্টিগতভাবে মুকাল্লাফ বা শরয়ি দায়বদ্ধ ব্যক্তিদের জন্য যে কল্যাণ সাধিত হয়। সুশৃঙ্খলতার ওপর ভিত্তি করে অর্জিত এই কল্যাণগুলো তিনটি অর্থে প্রকাশ পায়, যা হিকমাহ-র পরিবর্তে মাজান্নাহ-র সাথে বিধান সম্পৃক্ত করার কল্যাণমূলক লক্ষ্য হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে; সেগুলো হলো: সহজীকরণ, সতর্কতা এবং বিবাদ নিরসন। কখনও একই উদাহরণ বা মাসআলায় এই সব কটি বা কিছু উদ্দেশ্য একত্রিত হতে পারে, আবার কখনও অন্য কোনো উদাহরণ বা মাসআলায় একটির একক উপস্থিতি বা আধিক্য প্রকাশ পেতে পারে।

 

‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: বিধান যখন মাজান্নাহ ও হিকমাহ-র মধ্যে দোদুল্যমান হয়, তখন ফকিহগণের কর্মপন্থা

ফকিহগণের নিকট বিদ্যমান সেই সকল ফিকহি মাসআলাগুলোতে অনুসন্ধান ও চিন্তা-ভাবনার মাধ্যমে যেখানে বিধানটি মাজান্নাহ নাকি হিকমাহ-র সাথে সম্পৃক্ত হবে তা নিয়ে দোলাচল রয়েছে, আমি দেখেছি যে তাদের কর্মপন্থা চারটি রূপ গ্রহণ করে:

প্রথমত: তারা বিধানটিকে সরাসরি বর্ণিত মাজান্নাহ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেন এবং একে হিকমাহ-র উপস্থিতি বা অনুপস্থিতির ওপর আবর্তিত করেন; এটি তখন ঘটে যখন হিকমাহ একাই বিধানটির কারণ হয় এবং মাজান্নাহ সংক্রান্ত নাস বা পাঠ্য থেকে তা স্পষ্টভাবে বোঝা যায়।

উদাহরণস্বরূপ: «কোনো বিচারক যেন রাগান্বিত অবস্থায় দুজনের মধ্যে বিচার না করেন»(1), এখানে ফকিহগণ বিচার করার অপছন্দনীয়তার বিধানটিকে মনের অস্থিরতা বা হিকমাহ-র উপস্থিতি ও অনুপস্থিতির সাথে আবর্তিত করেছেন এবং একে খোদ রাগ বা সরাসরি বর্ণিত মাজান্নাহ-র সাথে আবর্তিত হওয়া থেকে বিচ্ছিন্ন করেছেন। ফলে যা কিছু মনকে অস্থির করে—যেমন ব্যথা, শারীরিক চাপ, অতিরিক্ত ক্ষুধা ও তৃষ্ণা—সে অবস্থায় বিচার করা অপছন্দনীয়। পক্ষান্তরে সামান্য রাগ যা মনকে অস্থির করে না, সেক্ষেত্রে অপছন্দনীয়তার বিধানটি উঠে যায়। সুতরাং রাগ নিজেই এখানে বিধানের ভিত্তি নয়, বরং মনের অস্থিরতাই হলো বিধানের মূল ভিত্তি, তা উপস্থিত থাকুক বা না থাকুক(2)।

--------------------------------------------

(1) আহমদ, মুসনাদ, ৩৪/১৪ এবং শব্দাবলি তার। আরনাউত বলেছেন: এর সনদ সহিহ (صحيح); বুখারি, সহিহ, ৯/৬৫; মুসলিম, সহিহ, ৩/১৩৪২।

(2) দ্রষ্টব্য: ইবনুল মুনজির, আল-ইশরাফ আলা মাজাহিবিল উলামা, ৪/১৮৫; ইবনু হাজার, ফাতহুল বারি, ১৩/১৩৭।
(খণ্ড: ৭০) আল-আওয়ামিলুল মুয়াসসিরাতু ফী নাউতিল হুকমি বিল মাযিন্নাতি আউ বিল হিকমাহ (পৃষ্ঠা: ১১৬)
ومثاله أيضًا: اجتهاد الجمهور في حديث: «إذا استيقظ أحدُكم من نومه فليغسل يده قبل أن يُدخلها في وَضوئه، فإنّ أحدكم لا يدري أين باتت يده»(1)، أداروا حكم ندب غسل اليد على الشكّ في نجاستها (الحكمة)، سواء أكان ذلك بسبب الاستيقاظ من النوم (المظنة المنصوصة)، أم غير ذلك من الحالات، ورفعوا حكم ندب الغسل عن المستيقظ من نومه المتيقِّنِ عدمَ نجاسة يده، كمن نام ويداه مقيّدتان خلف ظهره، أو كمن نام ويداه في قفّازين. فالاستيقاظ من النّوم ليس مناطًا للحُكم، بل الشكّ في نجاسة اليد، وجودًا وعدمًا(2).

والشكل الثاني: عكس الأول وهو: أن يديروا الحكم مع المظنّة المنصوصة، ويقطعوه عن الحكمة بالكلّية، وهذا في الأحكام التعبّدية والتقديرية والمخصوصة بأصحابها.

ومثاله: تحريم لحم الخنزير، فالحكمة هي كونه رجسًا وقذرًا، ومع هذا لا يُقاس عليه غيره من الحيوان، حتى لو فُرض كونه أقذر منه، ولا يرتفع حكم التحريم عن الخنزير، حتى لو جعلناه يعيش في بيئة نظيفة، ولم نطعمه إلا طعامًا نظيفًا. فحكم التحريم هنا يدور مع المظنّة (محل الحكم)، وهي تناول لحم الخنزير، وجودًا وعدمًا، وهو مقطوع عن حكمة التحريم، وهي كون الخنزير رجسًا وقذرًا أو مصدرًا لكثير من الأمراض، وغير ذلك ممّا يُقال في حكمة تحريم أكل الخنزير.

ومثاله أيضًا: وجوب افتتاح الصلاة عند الجمهور بلفظ التكبير "الله أكبر" لحِكمة إجلال الله تعالى وتعظيمه، ولا يُقاس على لفظ التكبير غيره، وإن أدَّى معنى الإجلال والتعظيم، كـ "الله أعظم"، و"الله أجلّ"، كما أنّ الصلاة تصحّ مع لفظ التكبير، حتى لو كان المصلّي وقتئذٍ غافلًا عن معنى التعظيم والإجلال (فقدان الحكمة)(3).

ومثاله أيضًا: الأحكام المخصوصة بالنصّ، كشهادة خزيمة التي جُعلت بشهادة رجلين(4)، وإجزاء العَناق عن أبي بردة(5)، وإباحة الزواج بأكثر من أربع للنبي، صلى الله عليه وسلم، وغير ذلك من الأحكام المخصوصة بأصحابها بالنصّ، التي قد تُفهم حكمةُ تخصيصها بأصحابها، ولكن، مع ذلك، لا يُقاس عليها.

--------------------------------------------

(1) البخاري، الصحيح، 1/ 44؛ مسلم، الصحيح، 1/ 233.

(2) ينظر: النووي، شرح صحيح مسلم، 3/ 180؛ ابن حجر، فتح الباري، 1/ 264.

(3) ينظر: ابن دقيق العيد، إحكام الأحكام شرح عمدة الأحكام، 1/ 260.

(4) قال الألباني: «صحيح. أخرجه أبو داود (3607)، والنسائي (2/ 229)، والحاكم (2/ 17 ـ 18)، وأحمد (5/ 215)». الألباني، إرواء الغليل، 5/ 127.

(5) البخاري، الصحيح، 2/ 23؛ مسلم، الصحيح، 3/ 1552.
ومথালো এর আরেকটি উদাহরণ হলো এই হাদিসটির ক্ষেত্রে জমহুর (সংখ্যাগরিষ্ঠ) উলামাগণের ইজতিহাদ: «তোমাদের কেউ যখন ঘুম থেকে জাগে, তখন সে যেন তার হাত পাত্রের পানিতে প্রবেশ করানোর আগে তা ধুয়ে নেয়; কেননা তোমাদের কেউ জানে না রাতে তার হাত কোথায় ছিল»(১)। তারা হাত ধোয়ার মুস্তাহাব হওয়ার বিধানটিকে হাতের অপবিত্রতার (নাজাসাত) সন্দেহের ওপর আবর্তিত করেছেন (যৌক্তিক রহস্য), তা ঘুম থেকে জাগার কারণে হোক (নস দ্বারা নির্ধারিত ক্ষেত্র), অথবা অন্য কোনো অবস্থায়। আর তারা ঘুম থেকে জাগ্রত ব্যক্তির হাত ধোয়ার মুস্তাহাব হওয়ার বিধান তুলে নিয়েছেন যখন তার হাতের পবিত্রতা সুনিশ্চিত হয়, যেমন কেউ হাত পিঠের পেছনে বাঁধা অবস্থায় ঘুমাল বা কেউ দুই হাতে দস্তানা পরিহিত অবস্থায় ঘুমাল। সুতরাং ঘুম থেকে জাগরণ এখানে বিধানের মূল ভিত্তি (মানাত) নয়, বরং হাতের অপবিত্রতার সন্দেহ বিদ্যমান থাকা বা না থাকাই হলো মূল বিষয়(২)।

দ্বিতীয় ধরণটি প্রথমটির বিপরীত, আর তা হলো: তারা বিধানটিকে নস দ্বারা নির্ধারিত ক্ষেত্রের ওপর আবর্তিত করেন এবং একে হিকমত (যৌক্তিক রহস্য) থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে দেন। এটি মূলত ইবাদতগত বিধান, সুনির্দিষ্ট পরিমাপগত বিধান এবং নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য বিশেষায়িত বিধানের ক্ষেত্রে দেখা যায়।

এর উদাহরণ হলো: শূকরের গোশত হারাম হওয়া। এর হিকমত (যৌক্তিক রহস্য) হলো এটি নাপাক ও নোংরা হওয়া। তা সত্ত্বেও এর ওপর অন্য কোনো পশুকে কিয়াস করা যাবে না, এমনকি যদি তাকে এর চেয়েও বেশি নোংরা মনে করা হয়। আবার শূকরের ওপর থেকে হারামের বিধান উঠে যাবে না, এমনকি যদি আমরা একে পরিচ্ছন্ন পরিবেশে লালন-পালন করি এবং একে কেবল পরিচ্ছন্ন খাবারই খাওয়াই। এখানে হারামের বিধানটি তার নির্ধারিত ক্ষেত্রের (বিধানের স্থল) সাথে আবর্তিত হয়, আর তা হলো শূকরের গোশত ভক্ষণ করা—তা বিদ্যমান থাকা বা না থাকার ওপর। এটি হারামের হিকমত থেকে বিচ্ছিন্ন, যা হলো শূকর নাপাক ও নোংরা হওয়া বা বহু রোগের উৎস হওয়া অথবা শূকরের গোশত হারামের হিকমত সম্পর্কে যা কিছু বলা হয়ে থাকে।

এর আরেকটি উদাহরণ হলো: জমহুর উলামাগণের মতে "আল্লাহু আকবার" শব্দ দ্বারা সালাত শুরু করা ওয়াজিব হওয়া, যার হিকমত (যৌক্তিক রহস্য) হলো মহান আল্লাহকে সম্মান ও মহিমান্বিত করা। এই তাকবীরের শব্দের ওপর অন্য কোনো শব্দকে কিয়াস করা যাবে না, যদিও তা সম্মান ও মহিমান্বিত করার অর্থ প্রকাশ করে, যেমন "আল্লাহু আ'জাম" (আল্লাহ মহানতম) বা "আল্লাহু আজাল্লু" (আল্লাহ প্রতাপশালী)। তেমনিভাবে তাকবীরের শব্দ উচ্চারণের মাধ্যমে সালাত বৈধ হবে, এমনকি যদি সেই মুহূর্তে মুসল্লি সম্মান ও মহিমার অর্থ থেকে গাফেলও থাকে (যৌক্তিক রহস্যের অনুপস্থিতি)(৩)।

এর আরেকটি উদাহরণ হলো: নস দ্বারা বিশেষায়িত বিধানসমূহ, যেমন খুজাইমাহর সাক্ষ্য যাকে দুই ব্যক্তির সাক্ষ্যের সমান গণ্য করা হয়েছে(৪), আবু বুরদাহর পক্ষ থেকে ছাগলের বাচ্চার (আনাদ) কোরবানি যথেষ্ট হওয়া(৫) এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্য চারের অধিক বিবাহ বৈধ হওয়া। এ জাতীয় অন্যান্য বিধান যা নসের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য বিশেষায়িত, যার বিশেষত্বের হিকমত হয়তো বোঝা সম্ভব, কিন্তু তা সত্ত্বেও এর ওপর কিয়াস করা যাবে না।

--------------------------------------------

(১) বুখারি, সহিহ, ১/ ৪৪; মুসলিম, সহিহ, ১/ ২৩৩।

(২) দেখুন: নববী, শারহু সহিহ মুসলিম, ৩/ ১৮০; ইবনে হাজার, ফাতহুল বারি, ১/ ২৬৪।

(৩) দেখুন: ইবনে দাকীক আল-ঈদ, ইহকামুল আহকাম শারহু উমদাতিল আহকাম, ১/ ২৬০।

(৪) আলবানী বলেছেন: «এটি সহিহ (صحيح)। এটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ (৩৬০৭), নাসায়ি (২/ ২২৯), হাকেম (২/ ১৭-১৮) এবং আহমাদ (৫/ ২১৫)»। আলবানী, ইরওয়াউল গালীল, ৫/ ১২৭।

(৫) বুখারি, সহিহ, ২/ ২৩; মুসলিম, সহিহ, ৩/ ১৫৫২।
(খণ্ড: ৭০) আল-আওয়ামিলুল মুয়াসসিরাতু ফী নাউতিল হুকমি বিল মাযিন্নাতি আউ বিল হিকমাহ (পৃষ্ঠা: ১১৭)
والشكل الثالث: أن يُبقوا الحكم دائرًا مع المظنّة المنصوصة لا مع الحكمة، ولكن يشترطون في المظنّة شرطًا إضافيًّا التفاتًا إلى الحكمة.

ومثاله حكم إباحة الفِطر في رمضان مع السّفر، أداروا الحكم مع السّفر لا مع المشقَّة، فلم يجيزوا للحمَّالين وأصحاب المهن الشاقَّة الفطر كالمسافر(1)، ومع هذا فإنّهم، في جمهورهم، قيَّدوا السّفر المبيح للفطر بكونه طويلًا، وضبطوا طوله: إمّا بمسافة معيّنة، كأربعة بُرُد، وإمّا بمسافة تُقطع في مدّة معيّنة، كمسيرة ثلاثة أيام، أو يوم وليلة، وذلك التفاتًا إلى معنى المشقّة(2). وكذلك المرض المبيح للفطر ضبطوه بكونه يشقّ، أو يضرّ، معه الصوم، حالًا أو مآلًا(3).

ومثاله أيضًا: حكم نقض الوضوء بلمس المرأة عند الجمهور، فالسّبب المنصوص هو مطلق لمس النِّساء، ومع هذا فقد اشترط الفقهاء في هذا اللمس شروطًا لكي يكون مظنّةً للحِكمة، أي للمعنى المناسب لحصول الانتقاض بلمس لمرأة، وهو الشهوة، فاشترط المالكية(4) والحنابلة(5) وجودَ الشهوة (اللذة) أو قصدَها، واشترط الحنفية(6) وجودَ المسّ الفاحش، أي مباشرة الجسد الجسد، إذ المعتبر عندهم شهوة قويّة تكون مظنة لخروج المذي لا أي شهوة، واشترط الشافعيّة(7) أن تكون المرأة من اللاتي يُقصدن باللمس للالتذاذ والشهوة عادةً، فلم يعتبروا لمس الصغيرات، ولا لمس المحارم، لأنّهنّ لسن مظنّة للشهوة. وكلُّ هذه الاشتراطات - على تفاوتها - تلتفت في نهاية المطاف إلى حكمة الحُكم بنقض الوضوء من لمس المرأة، وهو أنّه مظنّة للشهوة والالتذاذ.

والشكل الرابع: وهو عكس السابق: أن يديروا الحُكم مع الحكمة لا مع المظنّة المنصوصة، ولكن يشترطون مع تحقُّق الحكمة شرطًا إضافيًّا التفاتًا إلى المظنّة المنصوصة.

ومثال ذلك اجتهاد الشافعيّة(8) والحنابلة(9) في حديث الاستنجاء أنه، صلى الله عليه وسلم، «أمر بثلاثة أحجار»(10)، فقد أداروا الحكم على إنقاء المحلّ من النجاسة (الحكمة)، ولم يديروه على استعمال الثلاثة أحجار (المظنة)، فمن جهة الوجود: قاسوا على الحجارة كلّ

--------------------------------------------

(1) ينظر: ابن عابدين، حاشية ابن عابدين، 2/ 420؛ البكري الدمياطي، إعانة الطالبين، 2/ 267؛ البهوتي، دقائق أولي النهى، 1/ 478؛ الموسوعة الفقهية الكويتية، 17/ 176.

(2) ينظر: ابن قدامة، المغني، 3/ 106؛ ابن الهمام، فتح القدير، 2/ 30.

(3) ابن المنذر، الإشراف على مذاهب العلماء، 3/ 138؛ الموسوعة الفقهية الكويتية، 28/ 45.

(4) الحطاب، مواهب الجليل في شرح مختصر خليل، 1/ 296.

(5) البهوتي، كشاف القناع، 1/ 301.

(6) الزيلعي، تبيين الحقائق شرح كنز الدقائق، 1/ 12.

(7) الشربيني، مغني المحتاج، 1/ 145.

(8) المرجع السابق، 1/ 163.

(9) البهوتي، كشاف القناع، 1/ 139.

(10) أبو داود، سنن أبي داود، 1/ 208. قواه الارناؤوط وحسنه الالباني.
তৃতীয় রূপ: তারা বিধানকে (হুকুম) প্রজ্ঞা বা গূঢ় রহস্যের (হিকমাহ) পরিবর্তে বর্ণিত সম্ভাব্যতার (মাজিননাহ) ওপর ভিত্তি করে কার্যকর রাখেন, তবে হিকমাহর দিকে লক্ষ্য রেখে সেই সম্ভাব্যতার ক্ষেত্রে একটি অতিরিক্ত শর্ত যুক্ত করেন।

এর উদাহরণ হলো সফরের সময় রমজানে রোজা ভঙ্গের বৈধতার বিধান। তারা বিধানটিকে কষ্টের (মাশাক্কাহ) পরিবর্তে সফরের সাথে সংশ্লিষ্ট রেখেছেন। ফলে তারা ভারবাহী শ্রমিক এবং কঠোর পেশাজীবীদের জন্য মুসাফিরের মতো রোজা ভঙ্গের অনুমতি দেননি(১)। এর পাশাপাশি অধিকাংশ ফকিহ রোজা ভঙ্গের বৈধতা দানকারী সফরকে দীর্ঘ হওয়ার শর্ত দিয়েছেন এবং এর দৈর্ঘ্যের সীমা নির্ধারণ করেছেন: হয় নির্দিষ্ট দূরত্ব দ্বারা, যেমন চার বারিদ; অথবা নির্দিষ্ট সময়ে অতিক্রমযোগ্য দূরত্ব দ্বারা, যেমন তিন দিনের পথ অথবা একদিন এক রাত। এটি মূলত কষ্টের অর্থের প্রতি লক্ষ্য রেখেই করা হয়েছে(২)। অনুরূপভাবে, রোজা ভঙ্গের অনুমতি দানকারী অসুস্থতাকেও তারা এমনভাবে সীমাবদ্ধ করেছেন যে, রোজা রাখা তখন কষ্টকর হবে অথবা তাৎক্ষণিক বা পরিণামে তা ক্ষতির কারণ হবে(৩)।

আরেকটি উদাহরণ হলো: জমহুর (সংখ্যাগরিষ্ঠ) আলেমদের নিকট নারীকে স্পর্শ করলে অজু ভঙ্গ হওয়ার বিধান। এখানে বর্ণিত কারণটি হলো সাধারণভাবে নারীদের স্পর্শ করা। তা সত্ত্বেও ফকিহগণ এই স্পর্শের ক্ষেত্রে এমন কিছু শর্তারোপ করেছেন যাতে তা হিকমাহর সম্ভাব্য স্থলে পরিণত হয়; অর্থাৎ নারীকে স্পর্শ করলে অজু ভঙ্গের উপযুক্ত কারণ তথা উত্তেজনার (শাহওয়াহ) ক্ষেত্র হয়। মালেকি(৪) ও হাম্বলিগণ(৫) উত্তেজনা (তৃপ্তি) থাকা বা তার নিয়ত করার শর্তারোপ করেছেন। হানাফিগণ(৬) স্পর্শের ক্ষেত্রে আতিশয্য (মাস ফাহিশ) থাকার শর্ত দিয়েছেন, অর্থাৎ সরাসরি শরীরের সাথে শরীরের মিলন হতে হবে। কারণ তাদের নিকট ধর্তব্য হলো প্রবল উত্তেজনা যা মজি নির্গত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি করে, নিছক সামান্য উত্তেজনা নয়। শাফেয়িগণ(৭) শর্ত দিয়েছেন যে, নারীটি এমন হতে হবে যাকে সাধারণত তৃপ্তি ও উত্তেজনার জন্য স্পর্শ করা হয়। তাই তারা অল্পবয়স্কা মেয়েদের স্পর্শ করা বা মাহরাম নারীদের স্পর্শ করাকে ধর্তব্য মনে করেননি, কারণ তারা কামোত্তোজনার স্থান নন। এই সকল শর্তারোপ—এগুলোর মাঝে পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও—পরিশেষে নারীকে স্পর্শ করলে অজু ভঙ্গের বিধানের পেছনে যে হিকমাহ রয়েছে তার দিকেই ইঙ্গিত করে, আর তা হলো এটি কামোত্তেজনা ও তৃপ্তির সম্ভাব্য স্থল।

চতুর্থ রূপ: এটি আগেরটির বিপরীত; অর্থাৎ তারা বিধানটিকে বর্ণিত সম্ভাব্যতার পরিবর্তে হিকমাহর সাথে সংশ্লিষ্ট রাখেন, কিন্তু হিকমাহ অর্জিত হওয়ার সাথে সাথে বর্ণিত সম্ভাব্যতার দিকে লক্ষ্য রেখে একটি অতিরিক্ত শর্ত যুক্ত করেন।

এর উদাহরণ হলো ইস্তিঞ্জা সংক্রান্ত হাদিসের ক্ষেত্রে শাফেয়ি(৮) ও হাম্বলিদের(৯) ইজতিহাদ, যেখানে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) «তিনটি পাথরের নির্দেশ দিয়েছেন»(১০)। তারা এই বিধানটিকে নাপাকি থেকে স্থানটি পরিষ্কার করার (হিকমাহ) ওপর ভিত্তি করে পরিচালনা করেছেন, তিনটি পাথর ব্যবহারের (মাজিননাহ) ওপর নয়। ফলে অস্তিত্বের দিক থেকে তারা পাথরের সাথে অন্য সবকিছুর কিয়াস করেছেন

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইবনে আবিদিন, হাশিয়াত ইবনে আবিদিন, ২/ ৪২০; আল-বাকরি আদ-দামিয়াতি, ইয়ানাতুত তালিবিন, ২/ ২৬৭; আল-বাহুতি, দাকাইকু উলিন নুহা, ১/ ৪৭৮; আল-মাওসুয়াতুল ফিকহিয়্যাহ আল-কুওয়াইতিয়্যাহ, ১৭/ ১৭৬।

(২) দেখুন: ইবনে কুদামা, আল-মুগনি, ৩/ ১০৬; ইবনুল হুমাম, ফাতহুল কাদির, ২/ ৩০।

(৩) ইবনুল মুনজির, আল-ইশরাফ আলা মাজাহিবিল উলামা, ৩/ ১৩৮; আল-মাওসুয়াতুল ফিকহিয়্যাহ আল-কুওয়াইতিয়্যাহ, ২৮/ ৪৫।

(৪) আল-হাততাব, মাওয়াহিবুল জলিল ফি শারহি মুখতাসারি খলিল, ১/ ২৯৬।

(৫) আল-বাহুতি, কাশশাফুল কিনা, ১/ ৩০১।

(৬) আয-যাইলায়ি, তাবিইয়িনুল হাকাইক শারহু কানযিদ দাকাইক, ১/ ১২।

(৭) আশ-শারবিনি, মুগনিল মুহতাজ, ১/ ১৪৫।

(৮) পূর্বোক্ত উৎস, ১/ ১৬৩।

(৯) আল-বাহুতি, কাশশাফুল কিনা, ১/ ১৩৯।

(১০) আবু দাউদ, সুনান আবু দাউদ, ১/ ২০৮। আরনাউত একে শক্তিশালী (قوى) বলেছেন এবং আলবানি একে হাসান (حسن) বলেছেন।
(খণ্ড: ৭০) আল-আওয়ামিলুল মুয়াসসিরাতু ফী নাউতিল হুকমি বিল মাযিন্নাতি আউ বিল হিকমাহ (পৃষ্ঠা: ১১৮)
مزيل من الطاهرات، كالورق وغيره، ومن جهة العدم: قالوا بعدم إجزاء الحجارة الثلاثة إذا لم تنقِ المحلّ. ولكنّهم، مع ذلك، اشترطوا في المزيل أن يُستعمل في ثلاث مَسَحاتٍ على الأقلّ، وهذا الاشتراط التفاتٌ منهم إلى لفظ التثليث الوارد في المظنّة المنصوصة.

أمَّا الحنفيّة(1) والمالكيّة(2)، فأداروا الحكم مع حكمة الإنقاء وقطعوه عن المظنة تمامًا، فأجازوا الاستنجاء بكلّ طاهر مزيل، وقالوا بعدم إجزاء الحجارة الثلاثة إذا لم تنقِ المحلّ، ولم يشترطوا في المزيل أن يُستعمل في ثلاث مَسحات، بل تكفي المسحة الواحدة إذا كانت مُنقية، فالعبرة عندهم بحكمة الإنقاء لا بعين المزيل ولا عدده. فهم أداروا الحكم مع الحكمة بالكُلِّية، وجودًا وعدمًا، لوضوحها وانفرادها، فاجتهادهم في هذه المسألة من الشكل الأول. والشافعيّة والحنابلة أداروه مع الحكمة، ولكنّهم اشترطوا معها شرطًا استمدّوه من المظنة المنصوصة، إمّا احترامًا لظاهر النصَّ، وإمّا لأنَّهم قدَّروا وجود نوعٍ من التعبُّد في الحكم المنصوص. وإمّا لأمر معنوي وهو أنَّ إنقاء الدّبُر يعسر أن يكون بمسحة واحدة، كما يعسر غالبًا التحقّق من حصول الإنقاء في الواقع لغياب موضعه عن نظر المستجمر، فكان الاحتياط ألّا يُجتزأ بأقلَّ من ثلاث مسحات. وهو ملحظٌ وجيه.

 

‌‌المطلب الثالث: العوامل المؤثِّرة في نوط الحكم بالمظنة أو بالحكمة في الوقائع:

نظريًّا، التعليلُ بعين الحكمة يَفْضُل التعليل بالمظنة من حيث إنه تعليل بالمقصود من الحكم نفسه، لا بما هو وسيلة إليه، وهذا أدنى إلى تحقيق قصد الشارع من الحكم من غير تفويت له في أيّ جزئية من جزئيّات الحكم.

وفي المقابل التعليل بالمظنة يَفْضُل التعليل بالحكمة من حيث ما يحقِّق من مصالح ثانويةٍ تتمثّل في الضبط مع ما يستبطنه هذا الضبط من التسهيل والاحتياط وقطع النزاع، بالإضافة إلى تحقيق الحكمة والمقصود من الحُكم في معظم الجزئيّات. والتضحيةُ بفوات تحقيق المقصود من الحُكم في بعض الجزئيات؛ نتيجةً للنوط بالمظنة، تُعوِّضُه المصالح الأخرى المترتِّبة على الضبط واطّراد الأحكام.

--------------------------------------------

(1) ابن الهمام، فتح القدير، 1/ 213.

(2) الحطاب، مواهب الجليل في شرح مختصر خليل، 1/ 289.
পবিত্র অপসারণকারী বস্তু, যেমন কাগজ এবং অন্যান্য। আর অকার্যকর হওয়ার দিক থেকে: তারা বলেছেন যে, তিনটি পাথর দ্বারা স্থান পরিষ্কার না হলে তা যথেষ্ট হবে না। তবে তা সত্ত্বেও, তারা অপসারণকারী বস্তুর ক্ষেত্রে অন্তত তিনবার মোছার শর্তারোপ করেছেন; এই শর্তারোপটি নাস (نص) দ্বারা বর্ণিত সম্ভাব্য নিদর্শনে (مظنة) উল্লেখিত 'তিনবার' শব্দের প্রতি তাদের বিশেষ দৃষ্টিপাতের বহিঃপ্রকাশ।

পক্ষান্তরে হানাফি(১) ও মালিকিগণ(২) বিধানটিকে পরিষ্কার হওয়ার হিকমতের (حكمة) সাথে আবর্তিত করেছেন এবং একে সম্ভাব্য নিদর্শন (مظنة) থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করেছেন। ফলে তারা প্রতিটি পবিত্র ও অপসারণকারী বস্তু দ্বারা ইস্তিনজা করা বৈধ করেছেন এবং বলেছেন যে, তিনটি পাথর দ্বারা স্থান পরিষ্কার না হলে তা যথেষ্ট হবে না। তারা অপসারণকারী বস্তুর ক্ষেত্রে তিনবার মোছার শর্তারোপ করেননি, বরং একবার মোছাই যথেষ্ট যদি তা পরিষ্কারকারী হয়। তাদের নিকট বিবেচ্য বিষয় হলো পরিষ্কার হওয়ার হিকমত (حكمة), অপসারণকারী বস্তু বা তার সংখ্যা নয়। সুতরাং তারা বিধানটিকে অস্তিত্ব ও অনস্তিত্ব—উভয় দিক থেকে সম্পূর্ণরূপে হিকমতের (حكمة) সাথে আবর্তিত করেছেন, এর স্পষ্টতা ও এককত্বের কারণে। ফলে এই মাসআলায় তাদের ইজতিহাদ প্রথম প্রকারের অন্তর্ভুক্ত। আর শাফেয়ি ও হাম্বলিগণ বিধানটিকে হিকমতের (حكمة) সাথে আবর্তিত করেছেন, তবে এর সাথে তারা একটি শর্তারোপ করেছেন যা তারা নাস (نص) দ্বারা বর্ণিত সম্ভাব্য নিদর্শন (مظنة) থেকে গ্রহণ করেছেন—হয়তো নাসের প্রকাশ্য অর্থের প্রতি সম্মান প্রদর্শনার্থে, অথবা তারা বর্ণিত বিধানে এক প্রকার ইবাদতগত আনুগত্যের (تعبد) উপস্থিতি বিবেচনা করেছেন। অথবা কোনো অর্থগত কারণে, আর তা হলো মলদ্বার একবার মোছার মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া দুষ্কর, যেমনটি সাধারণত ইস্তিনজাকারীর দৃষ্টির আড়ালে থাকার কারণে বাস্তবে পরিষ্কার হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া কঠিন। তাই সতর্কতা হলো তিনবারের কম মোছায় যথেষ্ট না হওয়া। আর এটি একটি গ্রহণযোগ্য দৃষ্টিভঙ্গি।

 

‌‌তৃতীয় পরিচ্ছেদ: বাস্তব ক্ষেত্রে বিধানকে সম্ভাব্য নিদর্শন (مظنة) নাকি হিকমতের (حكمة) সাথে সংশ্লিষ্ট করার প্রভাব বিস্তারকারী উপাদানসমূহ:

তাত্ত্বিকভাবে, হিকমতকে (حكمة) কারণ হিসেবে নির্ধারণ করা সম্ভাব্য নিদর্শনকে (مظنة) কারণ নির্ধারণ করার চেয়ে উত্তম; কেননা এটি বিধানের মূল উদ্দেশ্যের সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়া, যা অর্জনের মাধ্যম মাত্র তার সাথে নয়। বিধানের কোনো অংশে বিচ্যুতি না ঘটিয়ে শারিয়াহ প্রণেতার উদ্দেশ্য হাসিলের ক্ষেত্রে এটি অধিকতর নিকটবর্তী।

অপরদিকে, সুনির্দিষ্টতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে যে আনুষঙ্গিক কল্যাণ অর্জিত হয়, সেদিক থেকে সম্ভাব্য নিদর্শনকে (مظنة) কারণ হিসেবে নির্ধারণ করা হিকমতের (حكمة) চেয়ে উত্তম। এই সুনির্দিষ্টতার মাঝে সহজীকরণ, সতর্কতা এবং বিবাদ নিরসনের পাশাপাশি অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিধানের হিকমত (حكمة) ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন নিহিত থাকে। সম্ভাব্য নিদর্শনের (مظنة) সাথে বিধান সংশ্লিষ্ট করার ফলে কিছু ক্ষেত্রে বিধানের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হওয়ার যে ক্ষতি হয়, সুনির্দিষ্টতা ও বিধানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ফলে অর্জিত অন্যান্য কল্যাণ তা পুষিয়ে দেয়।

--------------------------------------------

(১) ইবনুল হুমাম, ফাতহুল কাদির, ১/ ২১৩।

(২) আল-হাত্তাব, মাওয়াহিবুল জলীল ফি শারহি মুখতাসারি খলীল, ১/ ২৮৯।
(খণ্ড: ৭০) আল-আওয়ামিলুল মুয়াসসিরাতু ফী নাউতিল হুকমি বিল মাযিন্নাতি আউ বিল হিকমাহ (পৃষ্ঠা: ১১৯)
ولأجل هذا التكافؤ النظري بين نوعي التعليل هذين، كلٌّ من جهة، يتردَّد الفقهاء بينهما في آحاد الوقائع، فمنهم من يعلِّل الحُكم بالحكمة في واقعة، ويخالفه فقيهٌ آخرُ فيعلِّل الحُكمَ بالمظنة في الواقعة نفسها، وأحيانًا يكون للمجتهد الواحد قولان في الواقعة نفسها: أحدُهما دائرٌ مع المظنة، وآخرُ دائرٌ مع الحكمة.

هذا، وإن كان الغالب أن الشارع يعلِّل بالمظانّ المنضبطة، كما ذكر غيرُ أصولي(1)، فتعليله بالحِكَم، وبالأوصاف المطلقة غير المنضبطة بنفسها كلّ الضبط، كثيرٌ أيضًا.

والأمثلة على تردُّد حكم الواقعة بين أن يُجرى مع مقتضى المظنّة، أو مع مقتضى الحكمة - كما مرّ بنا، وسيمرّ أيضًا فيما بقي من هذا البحث - كثيرةٌ جدًّا. وميلُ الفقيه إلى تقرير الحُكم بحسب ما تقتضيه المظنّة (التعليل بالمظنة)، أو ما تقتضيه الحكمة (التعليل بالحكمة)، تؤثِّر فيه عواملُ متعدّدة. ومن الأهميّة بمكان تسليط الضوء على هذه العوامل، ولكن قبل ذلك لابدّ من تحرير محلّ النزاع في التعليل بالحكمة الذي يتعارض مع التعليل بالمظنة؛ إذ تحرير ذلك مقدّمة لا غنى عنها لإدراك مدى تأثير هذه العوامل في نوط الحكم بالمظنة أو بالحكمة.

ولذلك جاء هذا المطلب في فرعين:

أحدهما: تحرير محلّ النزاع في التعليل بالحكمة الذي يتعارض مع التعليل بالمظنة.

والفرع الثاني: بيان العوامل المؤثِّرة في نوط الحكم بالمظنة أو بالحكمة في الوقائع.

 

‌‌الفرع الأول: تحرير محلّ النزاع في التعليل بالحكمة الذي يتعارض مع التعليل بالمظنّة:

اتّفق الأصوليون - من حيث المبدأ - على جواز التعليل بالمظنة: منصوصةً أو اجتهاديّة. وهم متّفقون - فيما يظهر لنا - على جواز التعليل بالحكمة في ثلاثة مواطن(2):

أحدها: إذا كان يُقصد بالتعليل مجرّد إبداء المناسبة والمصلحة من غير نوطٍ للحُكم بالحكمة.

--------------------------------------------

(1) ينظر: صالح، "التعليل بالمظنة لا بالحكمة: دراسة أُصولية"، مجلة الصراط، م 21، عدد 38، 53.

(2) ينظر: صالح، "العلّة والحكمة والتّعليل بالحكمة"، مجلة جامعة الأمير عبد القادر للعلوم الإسلامية، م 31، عدد 2، 97.
এবং এই দুই ধরণের কারণ সাব্যস্তকরণের (تعليل) মধ্যে বিদ্যমান তাত্ত্বিক সমতার কারণেই ফকিহগণ নির্দিষ্ট ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রে এই দুইয়ের মাঝে দ্বিধাবোধ করেন। ফলে তাদের মধ্যে কেউ কোনো ঘটনায় বিধানের কারণ হিসেবে হিকমতকে (حكمة) সাব্যস্ত করেন, আবার অন্য কোনো ফকিহ তার বিরোধিতা করে একই ঘটনায় হুকুমের কারণ হিসেবে মযিনাহ বা অনুমিতিযোগ্য আলামতকে (مظنة) সাব্যস্ত করেন। কখনও কখনও একই মুজতাহিদের একই ঘটনায় দুটি মত থাকে: যার একটি মযিনাহর (مظنة) ওপর আবর্তিত এবং অন্যটি হিকমতের (حكمة) ওপর আবর্তিত।

বাস্তবতা হলো, যদিও অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিধানদাতা (শারেই) সুশৃঙ্খল মযিনাহর (مظنة) মাধ্যমেই বিধানের কারণ সাব্যস্ত করেন—যেমনটি একাধিক উসুলবিদ (أصولي)(১) উল্লেখ করেছেন—তবুও হিকমত (حكمة) এবং এমন সব নিরঙ্কুশ বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে কারণ সাব্যস্তকরণও অনেক বেশি লক্ষ্য করা যায় যা নিজস্বভাবে পুরোপুরি সুশৃঙ্খল নয়।

কোনো সুনির্দিষ্ট ঘটনার হুকুম কি মযিনাহর (مظنة) চাহিদানুযায়ী পরিচালিত হবে নাকি হিকমতের (حكمة) চাহিদানুযায়ী—এ নিয়ে সংশয়ের দৃষ্টান্ত অনেক, যা আমাদের নিকট ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে এবং এই গবেষণার অবশিষ্ট অংশেও আসবে। ফকিহগণের হুকুম নির্ধারণের ক্ষেত্রে মযিনাহর চাহিদাকে প্রাধান্য দেওয়া (التعليل بالمظنة) অথবা হিকমতের চাহিদাকে প্রাধান্য দেওয়ার (التعليل بالحكمة) পেছনে বিভিন্ন প্রভাবক কাজ করে। এই প্রভাবকগুলোর ওপর আলোকপাত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তবে তার পূর্বে মযিনাহর মাধ্যমে কারণ সাব্যস্তকরণের সাথে বিরোধপূর্ণ হিকমতের মাধ্যমে কারণ সাব্যস্তকরণের ক্ষেত্রে বিতর্কের মূলবিন্দুটি (تحرير محل النزاع) স্পষ্ট করা আবশ্যক; কেননা এই প্রভাবকগুলো হুকুমকে মযিনাহ বা হিকমতের সাথে সংশ্লিষ্ট করার ক্ষেত্রে কতটা প্রভাবশালী তা অনুধাবনের জন্য উক্ত বিষয়টি স্পষ্ট করা একটি অপরিহার্য ভূমিকা।

একারণে এই পরিচ্ছেদটি দুটি শাখায় বিন্যস্ত করা হয়েছে:

প্রথমটি: মযিনাহর মাধ্যমে কারণ সাব্যস্তকরণের (التعليل بالمظنة) সাথে বিরোধপূর্ণ হিকমতের মাধ্যমে কারণ সাব্যস্তকরণের (التعليل بالحكمة) ক্ষেত্রে বিতর্কের মূলবিন্দু নির্ধারণ।

এবং দ্বিতীয় শাখা: বাস্তব ঘটনাবলিতে হুকুমকে মযিনাহ বা হিকমতের সাথে সংশ্লিষ্ট করার ক্ষেত্রে প্রভাবক বিষয়গুলোর বর্ণনা।

 

‌‌প্রথম শাখা: মযিনাহর মাধ্যমে কারণ সাব্যস্তকরণের (التعليل بالمظنة) সাথে বিরোধপূর্ণ হিকমতের মাধ্যমে কারণ সাব্যস্তকরণের (التعليل بالحكمة) ক্ষেত্রে বিতর্কের মূলবিন্দু নির্ধারণ:

উসুলবিদগণ (أصوليون) নীতিগতভাবে মযিনাহর (مظنة) মাধ্যমে কারণ সাব্যস্ত করা জায়েজ হওয়ার ব্যাপারে একমত, চাই তা সরাসরি বর্ণিত (منصوصة) হোক বা ইজতিহাদলব্ধ (اجتهادية) হোক। আমাদের নিকট যা প্রতিভাত হয় তা হলো, তারা তিনটি ক্ষেত্রে হিকমতের (حكمة) মাধ্যমে কারণ সাব্যস্ত করা জায়েজ হওয়ার ব্যাপারেও একমত(২):

প্রথমটি: যখন কারণ সাব্যস্ত করার (تعليل) উদ্দেশ্য হয় হুকুমকে সরাসরি হিকমতের সাথে সংশ্লিষ্ট না করে কেবল তার যৌক্তিক প্রাসঙ্গিকতা ও কল্যাণ প্রকাশ করা।

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: সালেহ, "আত-তালীলু বিল মযিনাহ লা বিল হিকমাহ: দিরাসাতুন উসুলিয়্যাহ", মাজাল্লাতুস সিরাত, খণ্ড ২১, সংখ্যা ৩৮, পৃষ্ঠা ৫৩।

(২) দ্রষ্টব্য: সালেহ, "আল-ইল্লাতু ওয়াল হিকমাতু ওয়াত-তালীলু বিল হিকমাহ", মাজাল্লাতু জামিয়াতি আমির আবদিল কাদির লিল উলুমিল ইসলামিয়া, খণ্ড ৩১, সংখ্যা ২, পৃষ্ঠা ৯৭।
(খণ্ড: ৭০) আল-আওয়ামিলুল মুয়াসসিরাতু ফী নাউতিল হুকমি বিল মাযিন্নাতি আউ বিল হিকমাহ (পৃষ্ঠা: ১২০)
والموطن الثاني: إذا كانت الحكمة ظاهرة منضبطة، فينطبق عليها ما ينطبق على العلة/ المظنة.

والموطن الثالث: إذا كانت الحكمةُ حكمةً للحُكم المستفاد من خطاب التكليف الابتدائي (أي: غير القائم على سبب)، حتّى لو لم تكن ظاهرة أو منضبطة، ونيط الحكم بها وجودًا، كحكم تحريم السرقة حفظًا للمال؛ فيُقاس عليها في التحريم - لا في وجوب الحد - كلُّ ما يؤدّي إلى تضييع المال، كالنبش، والنشل، والاختلاس … الخ.

واختلفوا في جواز التعليل بالحكمة في موطنين:

أحدهما: في حكمة الحكم الوضعي (حكمة السبب والمانع والشرط) - أو الخطاب التكليفي المترتِّب عليه - هل يجوز تعدية الحكم بها أو لا، وهي ما تُعرف بمسألة القياس في الأسباب، ككقياس النبش والنشل والاختلاس على السرقة في وجوب الحدّ لحكمة الزجر عن تضييع المال، وقياس العمل الشاقّ على السفر في إباحة الفطر في رمضان لحكمة دفع المشقّة، حيث نقل النّاقلون - كما قال الغزالي - عن أبي زيد الدّبوسي (ت 430 هـ): «أنَّ الأحكام تتبع الأسباب دون الحِكَم، وأنَّ الأسباب لا تُعلَّل، وأنّ وضع الأسباب بالرأي والقياس لا وجه له، وأنَّ الحكمة ثمرةُ الحُكم ومقصودُه لا علّته»(1). وقال: «ليس إلينا نصبُ الأحكام الشرعية ولا رفعها بالرأي، ولا نصبُ أسبابها، وفي نصب الأسباب نصبٌ للأحكام، ولا شروطِها، ففي نصب الشروط المانعة رفعٌ للأحكام. وإذا لم يكن إلينا ذلك بالرأي بطل تعليلُ مدّعيها لأنّه يُعلِّل للنَّصْب»(2). وما قاله الدّبوسي يندرج فيما قررَّه شيخ شيوخه الكرخي حين قال: (ت 340 هـ): «الأصل أنّه يُفرَّق بين علّة الحُكم وحكمته، فإنَّ علَّته موجِبة وحكمتَه غير موجبة»(3).

وممّا يخرّجه الأصوليّون على الخلاف في هذه القضية الخلاف بين الجمهور والحنفية في: قياس النبّاش على السارق، في وجوب القطع، واللائط على الزاني، في وجوب الحدّ، والقاتل بالمثقَّل على القاتل بالمحدَّد، في وجوب القصاص.

--------------------------------------------

(1) الغزالي، شفاء الغليل، 604.

(2) الدبوسي، تقويم الأدلة في أصول الفقه، 295.

(3) الكرخي، "أصول الكرخي"، في رسالة في الأصول التي عليها مدار فروع الحنفية، 127.
দ্বিতীয় ক্ষেত্র: যখন হিকমাহ বা প্রজ্ঞা (حكمة) সুস্পষ্ট ও সুসংবদ্ধ (ظاهرة منضبطة) হয়, তখন তার ওপর ইল্লাত বা কার্যকারণ (علة) অথবা মাজিন্নাহ বা ধারণার স্থানের (مظنة) ক্ষেত্রে যা প্রযোজ্য হয়, তা-ই প্রযোজ্য হবে।

তৃতীয় ক্ষেত্র: যখন হিকমাহ বা প্রজ্ঞা (حكمة) প্রাথমিক তকলীফি বিধান (خطاب التكليف الابتدائي) —অর্থাৎ যা কোনো কারণ বা সাবাব (سبب)-এর ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত নয়— থেকে প্রাপ্ত বিধানের হিকমাহ হয়, এমনকি সেটি যদি সুস্পষ্ট বা সুসংবদ্ধ নাও হয় এবং বিধানের অস্তিত্ব হিকমাহর ওপর নির্ভরশীল হয়; যেমন সম্পদ রক্ষার্থে চুরির অপরাধ নিষিদ্ধ হওয়ার বিধান। এমতাবস্থায়—হদ বা নির্ধারিত দণ্ড (حد) ওয়াজিব হওয়ার ক্ষেত্রে নয় বরং হারামি বা নিষিদ্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে—সম্পদ বিনষ্টকারী প্রত্যেক বিষয়ের ওপর একে কিয়াস বা অনুমিতি (قياس) করা হবে, যেমন কবর খনন করে চুরি (نبش), পকেটমারি (نشل) এবং আত্মসাৎ (اختلاس) ইত্যাদি।

হিকমাহর মাধ্যমে কারণ দর্শানো বা তালীলের (التعليل) বৈধতা নিয়ে তাঁরা দুটি ক্ষেত্রে মতভেদ করেছেন:

একটি হলো: ওয়াদয়ি বিধানের হিকমাহ (حكمة الحكم الوضعي) —অর্থাৎ সাবাব বা কারণ (سبب), মানি বা প্রতিবন্ধক (مانع) এবং শর্ত (شرط)-এর হিকমাহ— অথবা এর ওপর নির্ভরশীল তকলীফি বিধানের ক্ষেত্রে; হিকমাহর মাধ্যমে বিধানকে কি অন্য ক্ষেত্রে সম্প্রসারিত করা (تعدية الحكم) জায়েজ হবে কি না? এটি মূলত 'কারণের ক্ষেত্রে কিয়াস' (القياس في الأسباب) মাসআলা হিসেবে পরিচিত। যেমন সম্পদ বিনষ্ট করা থেকে বিরত রাখার হিকমাহর কারণে হদ বা নির্ধারিত দণ্ড (حد) ওয়াজিব হওয়ার ক্ষেত্রে কবর খনন করে চুরি, পকেটমারি ও আত্মসাৎকে চুরির ওপর কিয়াস বা অনুমিতি (قياس) করা। অথবা কষ্ট লাঘবের হিকমাহর কারণে রমজানে রোজা ভঙ্গের বৈধতার ক্ষেত্রে কষ্টসাধ্য কাজকে সফরের ওপর কিয়াস বা অনুমিতি (قياس) করা। ইমাম গাজালি যেমনটি উল্লেখ করেছেন যে, বর্ণনাকারীরা আবু যায়েদ আদ-দাব্বুসি (মৃত্যু ৪৩০ হি.) থেকে বর্ণনা করেছেন: «নিশ্চয়ই বিধানসমূহ সাবাব বা কারণের (الأسباب) অনুসরণ করে, হিকমাহর (الحكم) নয়; আর সাবাব বা কারণের কোনো তালীল বা কারণ দর্শানো (لا تعلل) যায় না। মতামত বা কিয়াসের (القياس) ভিত্তিতে সাবাব বা কারণ নির্ধারণ করার কোনো ভিত্তি নেই। হিকমাহ হলো বিধানের ফল ও উদ্দেশ্য, তার ইল্লাত বা কার্যকারণ (علة) নয়»(1)। তিনি আরও বলেন: «রায়ের বা মতামতের (الرأي) ভিত্তিতে শরয়ী বিধান প্রবর্তন বা রহিত করা আমাদের কাজ নয়, তেমনি বিধানের সাবাব বা কারণ (أسباب) নির্ধারণ করাও আমাদের কাজ নয়। কারণ নির্ধারণ করার অর্থ হলো বিধান নির্ধারণ করা। তেমনি প্রতিবন্ধক শর্তাবলি (شروط) নির্ধারণ করাও আমাদের কাজ নয়, কারণ শর্ত নির্ধারণ করা মানে বিধান রহিত করা। যখন রায়ের ভিত্তিতে এসব করা আমাদের এখতিয়ারে নেই, তখন তা দাবি করা ব্যক্তির তালীল বা কারণ দর্শানো (تعليل) বাতিল হয়ে যায়, কারণ সে বিধান প্রবর্তনের কারণ দর্শাচ্ছে»(2)। আদ-দাব্বুসি যা বলেছেন তা তাঁর উস্তাদের উস্তাদ আল-কারখির (মৃত্যু ৩৪০ হি.) নির্ধারিত মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত, যখন তিনি বলেছিলেন: «মূলনীতি হলো বিধানের ইল্লাত বা কার্যকারণ (علة) এবং হিকমাহর (حكمة) মধ্যে পার্থক্য করা হবে। কেননা ইল্লাত বা কার্যকারণ (علة) বিধানকে অবধারিত করে, কিন্তু হিকমাহ (حكمة) বিধানকে অবধারিত করে না»(3)।

উসুলবিদগণ এই মাসআলায় যে সকল মতভেদ নিরসন করেন তার মধ্যে অন্যতম হলো জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠ (جمهور) এবং হানাফিদের মধ্যকার মতভেদ: হস্তচ্ছেদের দণ্ড ওয়াজিব হওয়ার ক্ষেত্রে কবর খননকারীকে চোরের ওপর কিয়াস করা, হদ বা নির্ধারিত দণ্ড (حد) ওয়াজিব হওয়ার ক্ষেত্রে সমকামীকে ব্যভিচারীর ওপর কিয়াস করা এবং কিসাস বা প্রতিশোধ (قصاص) ওয়াজিব হওয়ার ক্ষেত্রে ভারী বস্তু দিয়ে হত্যাকারীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যাকারীর ওপর কিয়াস করা।

--------------------------------------------

(1) গাজালি, শিফা আল-গালীল, ৬০৪।

(2) দাব্বুসি, তাকউইম আল-আদিল্লাহ ফি উসুল আল-ফিকহ, ২৯৫।

(3) কারখি, "উসুল আল-কারখি", হানাফি ফروع বা শাখা বিধানের মূলনীতি বিষয়ক রিসালাহ, ১২৭।
(খণ্ড: ৭০) আল-আওয়ামিলুল মুয়াসসিরাতু ফী নাউতিল হুকমি বিল মাযিন্নাতি আউ বিল হিকমাহ (পৃষ্ঠা: ১২১)
وهذا التخريج ليس بسديد من وجهة نظرنا؛ إذ يمكن ردُّه لخلافهم في القياس في أسباب الحدود خاصّة، لا في عموم الأسباب، والحدود لها مزية أنها تُدرأ بالشبهة لذلك لم يقبل بعض الحنفية في إثباتها خبر الواحد فضلا عن القياس(1).

وقد لقي القول بمنع القياس في الأسباب نقدًا شديدًا من الأصوليّين غير الحنفية، فوصفه الغزالي بأنّه «فاسد، والبرهان قاطعٌ على أنّ نصب السبب حُكمٌ شرعي، فيُمكن أن تُعقل علته، ويمكن أن يتعدّى إلى سبب آخر»(2)، وقال ابن تيمية: هو «خلاف ما عليه الفقهاء، وهو قولٌ باطلٌ قطعًا»(3). قلت: ومما يؤكد فساده وبطلانه إطباقُ القائسين، حتى الحنفيّة، على قياس ما يشوِّش الذهن على الغضب في «لا يقضي القاضي وهو غضبان»، فهو «قياس مظنّة على مظنّة» كما قال ابن دقيق العيد(4). والفروعُ المنقولة عن أبي حنيفة، رحمه الله، وحاصلها قياس الأسباب على الأسباب، كثيرة، ولكنّ الحنفيّة يعتذرون عنها بأنّها ليست قياسًا وإنّما دلالة نص (مفهوم موافقة)، أو تنقيح مناط(5)، وإذا كان الأمر كذلك تؤول المسألة إلى خلافٍ في اللفظ والتسمية، ولا ثمرة لها، وهو ما انتهى إليه عددٌ ممن أفرد المسألة بالبحث(6).

والموطن الثاني: اختلفوا في العلة الغائية (حكمة الحُكم أو حكمة السبب) إذا عادت - بعكسها - على مظنتّها المنصوصة بالتخصيص أو التقييد، سواء أكانت هذه المظنة محلّاً للحكم التكليفي، أم الوضعي، كما حصل في استثناء الشافعي "السفر الآمن" من عموم المظنة (السفر) في حديث النهي عن سفر المرأة إلا بمحرم.

وقد أفردنا مسألة عود العلة على أصلها بالتخصيص هذه بالبحث والتأصيل والتمثيل في كتاب "أثر تعليل النص على دلالته"، وزدناها توضيحًا في بحث "فوائد تعليل الاحكام"، وحاصل القول فيها: إنّه يجوز من حيث المبدأ التخصيص والتقييد بالعلّة، ومع ذلك تظل كلُّ مسألة فقهية خاضعةً لنظر خاصٍّ من المجتهد على حيالها، يعتمد على الموازنة بين قوّة العلة/ الحكمة من جهة، وقوّة شمول العموم/ الإطلاق للمحلّ أو الفرد الذي يُراد إخراجه منه

--------------------------------------------

(1) أبو الحسين البصري، المعتمد، 2/ 96.

(2) المستصفى، 329 بتصرف.

(3) ابن تيمية، الصارم المسلول، 487.

(4) إحكام الأحكام شرح عمدة الأحكام، 2/ 272.

(5) السرخسي، أصول السرخسي، 1/ 242.

(6) ينظر: الربيعة، "القياس في الأسباب"، أضواء الشريعة، عدد 12، 93؛ النملة، المهذب في علم أصول الفقه المقارن، 4/ 1946.
এই উদ্ভাবন বা আহরণ (تخريج) আমাদের দৃষ্টিতে সঠিক নয়; কারণ একে বিশেষ করে হদ বা দণ্ডবিধির কারণসমূহের ক্ষেত্রে কিয়াস (القياس)-এর ব্যাপারে তাদের মতভেদের দিকে ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব, যা সকল প্রকার কারণের (عموم الأسباب) ক্ষেত্রে নয়। আর হদ-এর একটি বৈশিষ্ট্য হলো যে, এটি সন্দেহের কারণে রহিত হয়ে যায়, তাই কিছু হানাফি আলেম হদ সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে কিয়াস (القياس) তো দূরের কথা, একক বর্ণনা (خبر الواحد) গ্রহণ করেননি(১)।

কারণসমূহের ক্ষেত্রে কিয়াস (القياس) নিষিদ্ধ হওয়ার এই বক্তব্যটি হানাফি ব্যতীত অন্যান্য উসুলবিদদের নিকট কঠোর সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছে। ইমাম গাজালি একে 'অশুদ্ধ' (فاسد) বলে অভিহিত করেছেন এবং বলেছেন, "প্রমাণ অকাট্য যে, কোনো বিষয়কে কারণ হিসেবে নির্ধারণ করা একটি শরয়ী বিধান, সুতরাং এর কার্যকারণ (علة) অনুধাবন করা সম্ভব এবং তা অন্য কারণের দিকে প্রসারিত হওয়াও সম্ভব"(২)। ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: এটি "ফকিহগণের অবস্থানের পরিপন্থী এবং এটি নিশ্চিতভাবেই একটি অসার (باطل) বক্তব্য"(৩)। আমি বলি: এর অসারতা ও বাতিলের বিষয়টি কিয়াসকারীদের ঐকমত্য দ্বারা সমর্থিত হয়, এমনকি হানাফিদের ক্ষেত্রেও, যারা "রাগান্বিত অবস্থায় বিচারক ফয়সালা করবেন না" হাদিসটির প্রেক্ষিতে ক্রোধের ওপর মনবিক্ষিপ্তকারী অন্যান্য বিষয়কে কিয়াস (القياس) করেছেন। যেমনটি ইবনে দাকীকুল ঈদ বলেছেন, এটি হলো "একটি ধারণাপ্রসূত বিষয়ের ওপর অন্য একটি ধারণাপ্রসূত বিষয়ের কিয়াস (قياس مظنة على مظنة)"(৪)। ইমাম আবু হানিফা (রহ.) থেকে বর্ণিত অসংখ্য শাখা মাসআলা রয়েছে যার সারকথা হলো কারণের ওপর কারণের কিয়াস (القياس), কিন্তু হানাফিগণ এর সপক্ষে অজুহাত পেশ করেন যে, এগুলো কিয়াস (القياس) নয়, বরং পাঠের নির্দেশার্থ (دلالة نص) (সংগতিপূর্ণ অর্থ (مفهوم موافقة)), অথবা কারণের বিশুদ্ধকরণ (تنقيح مناط)(৫)। বিষয়টি যদি এমন হয়, তবে মাসআলাটি শাব্দিক ও নামকরণগত মতভেদে পর্যবসিত হয় এবং এর কোনো বাস্তব ফল নেই। যারা এই বিষয়টি নিয়ে এককভাবে গবেষণা করেছেন তাদের অনেকেই এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন(৬)।

দ্বিতীয় ক্ষেত্র: তারা চূড়ান্ত কার্যকারণ (العلة الغائية) (হুকুমের হিকমত বা কারণের হিকমত) নিয়ে মতভেদ করেছেন যখন তা এর বিপরীতে কোনো বর্ণিত সুনির্দিষ্ট ধারণার (মাজান্নাহ) ওপর সুনির্দিষ্টকরণ (تخصيص) বা শর্তযুক্তকরণ (تقييد) হিসেবে আপতিত হয়; চাই সেই ধারণাটি হুকুমে তাকলিফি (الحكم التكليفي) কিংবা হুকুমে ওয়াদয়ি (الوضعي)-এর স্থল হোক। যেমনটি ঘটেছে ইমাম শাফিয়ি কর্তৃক 'নিরাপদ সফর'কে সফরের সাধারণ ব্যাপকতা (عموم) থেকে বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে, যা মাহরাম ব্যতীত নারীর সফর নিষেধ সংক্রান্ত হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।

আমরা "আসারু তালি্লিল নাস আলা দলালাতিহি" গ্রন্থে সুনির্দিষ্টকরণের (تخصيص) মাধ্যমে কার্যকারণের (علة) তার মূলে ফিরে আসার এই মাসআলাটি নিয়ে গবেষণা, মূলনীতি নির্ধারণ ও উদাহরণ পেশ করেছি এবং "ফাওয়ায়েদু তালি্লিল আহকাম" গবেষণাপত্রে বিষয়টিকে আরও স্পষ্ট করেছি। এর সারকথা হলো: নীতিগতভাবে কার্যকারণের (علة) মাধ্যমে সুনির্দিষ্টকরণ (تخصيص) ও শর্তযুক্তকরণ (تقييد) বৈধ। তা সত্ত্বেও প্রতিটি ফিকহি মাসআলা মুজতাহিদের স্বতন্ত্র গবেষণার অধীনে থাকে, যা একদিকে কার্যকারণ (علة) বা হিকমতের শক্তি এবং অন্যদিকে ব্যাপকতা (عموم) বা নিঃশর্ততার (إطلاق) শক্তির মধ্যে ভারসাম্যের ওপর নির্ভর করে সেই ক্ষেত্র বা ব্যক্তিকে নির্ধারণ করে যাকে এর থেকে বের করে নিতে চাওয়া হচ্ছে।

--------------------------------------------

(১) আবু আল-হুসাইন আল-বাসরি, আল-মুতামাদ, ২/৯৬।

(২) আল-মুস্তাসফা, ৩২৯ (পরিমার্জিত)।

(৩) ইবনে তাইমিয়্যাহ, আস-সারিম আল-মাসলুল, ৪৮৭।

(৪) ইহকাম আল-আহকাম শারহু উমদাতিল আহকাম, ২/২৭২।

(৫) আস-সারখাসি, উসুল আস-সারখাসি, ১/২৪২।

(৬) দ্রষ্টব্য: আল-রাবিআহ, "আল-কিয়াস ফিল আসবাব", আদওয়াউশ শারিয়াহ, সংখ্যা ১২, ৯৩; আন-নামলাহ, আল-মুহাযযাব ফি ইলমিল উসুলিল ফিকহিল মুকারান, ৪/১৯৪৬।
(খণ্ড: ৭০) আল-আওয়ামিলুল মুয়াসসিরাতু ফী নাউতিল হুকমি বিল মাযিন্নাতি আউ বিল হিকমাহ (পৃষ্ঠা: ১২২)
بالحكمة من جهة أخرى، فكما الحكمة على درجات من حيث القوّة، فكذلك العموم تتفاوت قوّة دلالته على الأفراد/ المحالّ المشمولةِ به بحسب الفرد/ المحل المراد تخصيصه هل هو كثير أو قليل، نادر أو غالب، يخطر بالبال عند ذكر العموم أو لا يخطر.

فإذا تقرّر ما سبق وتحرّر محل النزاع في التعليل بالحكمة الذي يعارض التعليل بالمظنة فقد آن الأوان لبيان العوامل المؤثِّرة في التعليل بأحد الأمرين عند التقابل: المظنة أو الحكمة.

 

‌‌الفرع الثاني: بيان العوامل المؤثِّرة في نوط الحكم بالمظنّة أو بالحكمة في الوقائع:

هي باستقرائنا العوامل التسعة الآتية:

1. كون المظنّة أو الحكمة منصوصة أو اجتهادية.

2. وجود نصٍّ صريح يلغي التعليل بالمظنّة أو الحكمة في عين الواقعة.

3. مدى احتياج التعليل بالمظنّة، أو بالحكمة، إلى تأويل ظاهر النصّ أو تخصيصه.

4. مذاهب الصحابة في الواقعة محلّ النظر، وهل جرت مع المظنّة أو مع الحكمة.

5. مدى الخفاء أو الاضطراب في الحكمة، والذي قد يتغيّر بتغيّر الزمان.

6. مدى إفضاء المظنّة إلى الحكمة، والذي قد يتغيّر بتغيّر الزمان.

7. مدى قوّة مناسبة الحكمة لحُكم الواقعة.

8. مدى انفراد الحكمة بحكم الواقعة.

9. كون الواقعة المعلّلة في مجالٍ يكثر فيه التعبُّد، أو في مجالٍ يكثر فيه التعليل.

 

‌‌أوّلًا: كون المظنّة أو الحكمة منصوصة أو اجتهادية:

لا شك في أنّ النص الشرعي له الصدارة في نظر المجتهد عند تقرير الحكم الشرعي في مواطن الخلاف، فهو يعلو ولا يُعلى عليه، ويقضي ولا يُقضى عليه. ولذلك لا تتمتّع المظانّ التي لا تستند إلى نصٍّ صريح - بأن قال بها العلماء اجتهادًا - وكذلك الحِكَم
অন্যদিকে হিকমতের (الحكمة) বিচারে, হিকমত (الحكمة) যেমন শক্তির দিক থেকে বিভিন্ন স্তরের হয়ে থাকে, তেমনি সাধারণ (العموم) শব্দের অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তি বা বিষয়সমূহের ওপর তার নির্দেশনার শক্তিও ভিন্ন ভিন্ন হয়। এটি নির্ভর করে যে ব্যক্তি বা বিষয়টিকে সুনির্দিষ্ট (تخصيص) করা হচ্ছে, তা সংখ্যায় বেশি না কম, বিরল না প্রচলিত, এবং সাধারণ (العموم) শব্দ বলার সময় তা মনে আসে কি আসে না তার ওপর।

পূর্বোক্ত বিষয়গুলো যখন সাব্যস্ত হলো এবং হিকমতের (الحكمة) মাধ্যমে কারণ দর্শানো (التعليل) — যা আলামতের (المظنة) মাধ্যমে কারণ দর্শানোর (التعليل) পরিপন্থী — তার বিরোধপূর্ণ ক্ষেত্রটি স্পষ্ট হলো, তখন এই দুটির কোনো একটির মাধ্যমে কারণ দর্শানোর (التعليل) ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারকারী বিষয়গুলো বর্ণনার সময় এসেছে: আলামত (المظنة) অথবা হিকমত (الحكمة)।

 

‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: বাস্তব ঘটনার ক্ষেত্রে হুকুমকে (الحكم) আলামত (المظنة) বা হিকমতের (الحكمة) সাথে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারকারী বিষয়সমূহের বর্ণনা:

আমাদের অনুসন্ধানে সেই প্রভাব বিস্তারকারী বিষয়গুলো হলো নিম্নোক্ত নয়টি:

১. আলামত (المظنة) বা হিকমত (الحكمة) কি সরাসরি পাঠ্যপ্রমাণ দ্বারা সাব্যস্ত (منصوصة) নাকি গবেষণালব্ধ (اجتهادية)।

২. সংশ্লিষ্ট ঘটনার ক্ষেত্রে আলামত (المظنة) বা হিকমতের (الحكمة) মাধ্যমে কারণ দর্শানোকে (التعليل) নাকচ করে দেয় এমন কোনো স্পষ্ট পাঠ্যপ্রমাণের (نص صريح) উপস্থিতি।

৩. আলামত (المظنة) বা হিকমতের (الحكمة) মাধ্যমে কারণ দর্শানোর (التعليل) ক্ষেত্রে পাঠ্যপ্রমাণের বাহ্যিক অর্থের (ظاهر النص) ব্যাখ্যা (تأويل) বা তাকে সুনির্দিষ্ট (تخصيص) করার প্রয়োজনীয়তার মাত্রা।

৪. পর্যালোচিত ঘটনার ক্ষেত্রে সাহাবীগণের অভিমত এবং তাঁরা কি আলামত (المظنة) নাকি হিকমতের (الحكمة) অনুসারী ছিলেন।

৫. হিকমতের (الحكمة) অস্পষ্টতা বা অস্থিরতার (اضطراب) মাত্রা, যা সময়ের পরিবর্তনের সাথে পরিবর্তিত হতে পারে।

৬. আলামতের (المظنة) মাধ্যমে হিকমত (الحكمة) অর্জিত হওয়ার সম্ভাবনা বা মাত্রার ব্যাপ্তি, যা সময়ের পরিবর্তনের সাথে পরিবর্তিত হতে পারে।

৭. ঘটনার হুকুমের (الحكم) সাথে হিকমতের (الحكمة) সামঞ্জস্যতার শক্তির মাত্রা।

৮. ঘটনার হুকুমের (الحكم) ক্ষেত্রে হিকমতের (الحكمة) একক বৈশিষ্ট্যের মাত্রা।

৯. কারণ দর্শানো (التعليل) হয়েছে এমন ঘটনাটি কি নিছক ইবাদতকেন্দ্রিক (التعبد) বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত, নাকি এমন বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত যেখানে যুক্তিনির্ভর কারণ দর্শানোর (التعليل) সুযোগ বেশি।

 

‌‌প্রথমত: আলামত (المظنة) বা হিকমত (الحكمة) সরাসরি পাঠ্যপ্রমাণ দ্বারা সাব্যস্ত (منصوصة) হওয়া অথবা গবেষণালব্ধ (اجتهادية) হওয়া:

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মতভেদের স্থলে শরয়ি হুকুম (الحكم) নির্ধারণের ক্ষেত্রে মুজতাহিদের (المجتهد) নিকট শরয়ি পাঠ্যপ্রমাণের (النص الشرعي) গুরুত্ব সবার উপরে; এটি প্রাধান্য পায়, এর ওপর অন্য কিছুকে প্রাধান্য দেওয়া যায় না, এবং এটিই চূড়ান্ত ফয়সালা দেয়। এজন্য যেসব আলামত (المظنة) কোনো স্পষ্ট পাঠ্যপ্রমাণের (نص صريح) ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত নয় — বরং আলিমগণ গবেষণার (اجتهاد) মাধ্যমে সেগুলো বলেছেন — সেগুলো এবং হিকমতসমূহ (الحكمة) অনুরূপভাবে...
(খণ্ড: ৭০) আল-আওয়ামিলুল মুয়াসসিরাতু ফী নাউতিল হুকমি বিল মাযিন্নাতি আউ বিল হিকমাহ (পৃষ্ঠা: ১২৩)
المستنبطة، لا تتمتّعان بنفس الوزن والاعتبار الذي تناله المظانّ والحِكَم المنصوصة أو المجمع عليها.

وللمظنة والحكمة في آحاد الوقائع أربعُ حالات من حيث الاستناد إلى النص، أو الاجتهاد، كالآتي:

الأولى: أن تكون المظنة منصوصة والحكمة اجتهاديّة.

الثانية: العكس: بأن تكون الحكمة منصوصة والمظنة اجتهاديّة.

والثالثة: أن تكون المظنة والحكمة كلاهما منصوصًا.

والرابعة: العكس: بأن تكون المظنة والحكمة كلاهما اجتهاديًّا.

وفيما يلي إلقاء للضوء على هذه الحالات الأربع:

 

‌‌الحال الأولى: أن تكون المظنة منصوصة والحكمة اجتهادية:

ومثال ذلك النهي عن سفر المرأة إلا مع محرم أو زوج، فالسفر، وهو المظنة، منصوصٌ عليه، وأمّا الحكمة، وهي أمن الطريق، فمستنبط، لذلك دار الجمهور مع المظنة ونازعوا في أنّ الأمن وحده هو المقصود من النهي، لأنّ المرأة، بالإضافة إلى الأمن، تحتاج إلى من يقوم على حاجاتها في السفر أيضًا(1).

ومثاله أيضا قطع الزكاة عن المؤلّفة قلوبهم، كما في اجتهاد أبي حنيفة، رحمه الله، لأنّ إعطاء النبي، صلى الله عليه وسلم، إيّاهم كان معلولًا بحكمة ضعف المسلمين، فكأنّ إعطاءَهم كان لحاجة الدولة إليهم دفعًا لخطرهم المحتمل إذا ما انقلبوا، أو دفعًا لخطر مَنْ وراءَهم من الكفار، أو تكثيرًا لسواد المسلمين، ومع عزّة الإسلام، وانتشاره، وكثرة أتباعه، تنتفي هذه الحكمة. والجمهور داروا مع المظنة وهي وجود وصف التأليف نفسه، لا مع الحكمة المذكورة، ورأوا أنّ التأليف والتحبيب في الإسلام مقصودٌ أيضًا بغضّ النظر عن حاجة الدولة للمؤلّفة وعدمها، ومن ثَمّ لا يتأثّر بقوّة الدولة وضعفها(2).

--------------------------------------------

(1) ينظر: ابن الهمام، فتح القدير، 2/ 421.

(2) ينظر: أبو عبيد، الأموال، 720؛ ابن هبيرة، اختلاف الأئمة العلماء، 1/ 215.
উদ্ভূত বা উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ সেই একই গুরুত্ব ও বিবেচনার দাবি রাখে না, যা পাঠ্য-নির্দেশিত (منصوصة) বা সর্বসম্মত (المجمع عليها) ধারণা (المظانّ) ও প্রজ্ঞাসমূহ (الحِكَم) পেয়ে থাকে।

একক ঘটনাবলির (آحاد الوقائع) ক্ষেত্রে দলিল (النص) বা ইজতিহাদের (الاجتهاد) ওপর নির্ভরতার ভিত্তিতে ধারণা (المظنة) ও প্রজ্ঞার (الحكمة) চারটি অবস্থা রয়েছে, যা নিম্নরূপ:

প্রথমত: ধারণাটি (المظنة) পাঠ্য-নির্দেশিত (منصوصة) হবে এবং প্রজ্ঞাটি (الحكمة) ইজতিহাদী (اجتهاديّة) হবে।

দ্বিতীয়ত: এর বিপরীত: অর্থাৎ প্রজ্ঞাটি (الحكمة) পাঠ্য-নির্দেশিত (منصوصة) হবে এবং ধারণাটি (المظنة) ইজতিহাদী (اجتهاديّة) হবে।

তৃতীয়ত: ধারণা (المظنة) ও প্রজ্ঞা (الحكمة) উভয়ই পাঠ্য-নির্দেশিত (منصوصًا) হবে।

চতুর্থত: এর বিপরীত: অর্থাৎ ধারণা (المظنة) ও প্রজ্ঞা (الحكمة) উভয়ই ইজতিহাদী (اجتهاديًّا) হবে।

নিম্নে এই চারটি অবস্থার ওপর আলোকপাত করা হলো:

 

‌‌প্রথম অবস্থা: ধারণাটি (المظنة) পাঠ্য-নির্দেশিত (منصوصة) হওয়া এবং প্রজ্ঞাটি (الحكمة) ইজতিহাদী (اجتهادية) হওয়া:

এর উদাহরণ হলো— মাহরাম (محرم) বা স্বামী ছাড়া নারীর ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা। এখানে ভ্রমণই হলো ধারণা (المظنة), যা পাঠ্য-নির্দেশিত (منصوصٌ عليه)। আর প্রজ্ঞা (الحكمة) হলো পথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যা উদ্ভাবিত (مستنبط)। এই কারণেই জমহুর (الجمهور) ফকিহগণ ধারণার (المظنة) সাথেই বিধানকে আবর্তিত করেছেন এবং তারা এই বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেছেন যে, কেবল নিরাপত্তাই কি এই নিষেধাজ্ঞার একমাত্র উদ্দেশ্য? কারণ নারীর জন্য নিরাপত্তার পাশাপাশি সফরে তার প্রয়োজনসমূহ পূরণ করার জন্য একজন সাহায্যকারীরও প্রয়োজন হয়।(1)

এর আরেকটি উদাহরণ হলো ‘মুআল্লাফাতুল কুলুব’ (المؤلّفة قلوبهم) বা যাদের অন্তর ইসলামের প্রতি অনুরাগী করা প্রয়োজন, তাদের জাকাত প্রদান বন্ধ করা; যেমনটি ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর ইজতিহাদে (اجتهاد) দেখা যায়। কারণ নবী (সা.)-এর তাদের জাকাত প্রদানের বিষয়টি মুসলিমদের দুর্বলতার প্রজ্ঞার (الحكمة) দ্বারা কারণযুক্ত (معلولًا) ছিল। যেন তাদের জাকাত দেওয়া হতো রাষ্ট্রের প্রয়োজনে—যাতে তারা ইসলাম থেকে ফিরে গেলে যে ঝুঁকির সম্ভাবনা ছিল তা দূর করা যায়, অথবা তাদের পেছনের কাফিরদের পক্ষ থেকে আসা ঝুঁকি মোকাবিলা করা যায়, কিংবা মুসলিমদের সংখ্যা বৃদ্ধি করা যায়। কিন্তু ইসলামের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা, এর ব্যাপক প্রসার এবং অনুসারীদের সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে এই প্রজ্ঞাটি (الحكمة) তিরোহিত হয়ে যায়। জমহুর (الجمهور) ওলামাগণ এখানে কেবল ধারণাকেই (المظنة) ভিত্তি হিসেবে ধরেছেন, যা হলো ‘চিত্ত আকর্ষণ’ (تأليف) গুণের উপস্থিতি, উল্লিখিত প্রজ্ঞাকে (الحكمة) নয়। তারা মনে করেন যে, ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করা এবং প্রীতি সৃষ্টি করাও একটি উদ্দেশ্য, যা রাষ্ট্রের প্রয়োজনের ওপর নির্ভরশীল নয়। ফলে রাষ্ট্রের শক্তি বা দুর্বলতা দ্বারা এটি প্রভাবিত হয় না।(2)

--------------------------------------------

(1) দ্রষ্টব্য: ইবনুল হুমাম, ফাতহুল কাদির, ২/ ৪২১।

(2) দ্রষ্টব্য: আবু উবাইদ, আল-আমওয়াল, ৭২০; ইবনে হুবায়রা, ইখতিলাফুল আইম্মাতিল উলামা, ১/ ২১৫।
(খণ্ড: ৭০) আল-আওয়ামিলুল মুয়াসসিরাতু ফী নাউতিল হুকমি বিল মাযিন্নাতি আউ বিল হিকমাহ (পৃষ্ঠা: ১২৪)
‌‌الحال الثانية: أن تكون الحكمة منصوصة والمظنّة اجتهادية:

الغالب في الشرع النصّ على المظنة لا على الحكمة، ولكن ثمّة حالات ينصّ الشارع على وصف لا يبلغ الغاية في الانضباط والظهور، أو ربّما صارت تلزم عنه مفسدة بتغيّر الزمن، فيجتهد الفقهاء بوضع ضابط لهذا الوصف يكون مظنة له، وينيطون الحكم بهذه المظنة الاجتهادية، ويقطعونه عن الوصف الشرعي المنصوص (المظنة المنصوصة)، أي أنّهم يقيمون المظنة الاجتهادية مقام المظنة المنصوصة. وحينئذٍ تُصبح المظنة المنصوصة حِكمةً بالنّسبة إلى المظنّة الاجتهادية؛ لأنّ هذه الأخيرة (المظنة الاجتهادية) تُفضي إليها (أي إلى المظنة المنصوصة) وتضبطها. وكنا قد أشرنا إلى أنّ اعتبار وصف ما "مظنة" أو "حكمة" هو أمر نسبي في عديد الأحيان تحكمُه ظاهرة تسلسل العلل والأوصاف، فيكون الوصف مظنةً بالنسبة لما يقع بعده في التسلسل من الأوصاف، ويكون حكمةً، في الوقت نفسه، بالنسبة لما يقع قبله(1).

ومثال هذه الحالة نوط جمهور الفقهاء وجوب المهر كاملًا على الزوج بمجرّد خلوته بالمرأة، مع أنّ النصّ علَّق الحكم ظاهرًا بالدخول ولم يذكر الخلوة، ولكن لما رأى كثيرٌ من الفقهاء أنّ الدخول يتّصف بالخفاء عن الشهود، فيعسر إثباته في مجاري القضاء، إذا ادّعته المرأة ونفاه الزوج، ناطوا الحكم بمظنّته، وهي الخلوة، وأداروا الحكم معها بغضّ النظر عن حصول الدخول وعدمه(2).

ومثال ذلك أيضًا نوطُ الفقهاء البلوغَ بسنٍّ معيّنة، سواء ظهرت علامات البلوغ على المكلّف أم لم تظهر، مع أنّ الشرع نصّ على الاحتلام والحيض ولم ينصّ على السنّ، لكنّهم اعتبروا أنّ هذه السنّ مظنّة للبلوغ الحقيقي، واختلفوا في تقديرها اختلافًا كثيرًا. وكذلك اختلفوا في السنّ التي يثبت معها النَّسب من الزوج، فبعضهم جعلها سنّ البلوغ نفسها؛ لأنها مظنّة القدرة على الإنجاب؛ وبعضهم نزل فيها دون ذلك؛ لأنّ البلوغ الحقيقي كثيرًا ما يكون بأقلّ منها في الواقع، والنَّسب مبناه على الاحتياط(3).

--------------------------------------------

(1) صالح، "العلّة والحكمة والتّعليل بالحكمة"، مجلة جامعة الأمير عبد القادر للعلوم الإسلامية، م 31، عدد 2، 86.

(2) ينظر: الطحاوي، مختصر اختلاف العلماء، 2/ 348.

(3) ينظر: السبكي، إبراز الحكم من حديث رفع القلم، 70.
দ্বিতীয় অবস্থা: প্রজ্ঞা (الحكمة) টেক্সট দ্বারা প্রমাণিত (منصوصة) হওয়া এবং অনুমিত স্থানটি (المظنة) ইজতিহাদলব্ধ (اجتهادية) হওয়া:

শরিয়তের (الشرع) সাধারণ নিয়ম হলো অনুমিত স্থানের (المظنة) ওপর টেক্সট বা নস প্রদান করা, প্রজ্ঞার (الحكمة) ওপর নয়। কিন্তু এমন কিছু ক্ষেত্র রয়েছে যেখানে শরিয়ত প্রণেতা (الشارع) এমন একটি বৈশিষ্ট্যের (وصف) ওপর নস প্রদান করেন যা সুশৃঙ্খলতা ও স্পষ্টতার দিক থেকে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে না, অথবা সময়ের পরিবর্তনের কারণে তা থেকে কোনো অনিষ্টের (مفسدة) সম্ভাবনা তৈরি হয়। ফলে ফকিহগণ এই বৈশিষ্ট্যের (وصف) জন্য একটি মানদণ্ড নির্ধারণে ইজতিহাদ করেন যা তার অনুমিত স্থান (المظنة) হিসেবে গণ্য হয়। তাঁরা বিধানটিকে (الحكم) এই ইজতিহাদলব্ধ অনুমিত স্থানের (المظنة الاجتهادية) সাথে সংশ্লিষ্ট করেন এবং একে টেক্সট দ্বারা প্রমাণিত বৈশিষ্ট্য বা নসকৃত অনুমিত স্থান (المظنة المنصوصة) থেকে পৃথক করে দেন। অর্থাৎ তাঁরা ইজতিহাদলব্ধ অনুমিত স্থানকে (المظنة الاجتهادية) নসকৃত অনুমিত স্থানের (المظنة المنصوصة) স্থলাভিষিক্ত করেন। এমতাবস্থায়, নসকৃত অনুমিত স্থানটি (المظنة المنصوصة) ইজতিহাদলব্ধ অনুমিত স্থানের (المظنة الاجتهادية) সাপেক্ষে প্রজ্ঞা (الحكمة) হিসেবে গণ্য হয়; কারণ পরবর্তীটি অর্থাৎ ইজতিহাদলব্ধ অনুমিত স্থান (المظنة الاجتهادية) পূর্ববর্তীটির অর্থাৎ নসকৃত অনুমিত স্থানের (المظنة المنصوصة) দিকে ধাবিত করে এবং একে সুশৃঙ্খল করে। আমরা ইতিপূর্বেও ইঙ্গিত দিয়েছিলাম যে, কোনো বৈশিষ্ট্যকে (وصف) "অনুমিত স্থান" (المظنة) বা "প্রজ্ঞা" (الحكمة) হিসেবে বিবেচনা করা অনেক ক্ষেত্রে একটি আপেক্ষিক বিষয়, যা কার্যকর কারণ (العلة) ও বৈশিষ্ট্যসমূহের (الأوصاف) ধারাবাহিকতার ওপর নির্ভর করে। ফলে একটি বৈশিষ্ট্য (وصف) তার পরবর্তী পর্যায়ের বৈশিষ্ট্যের সাপেক্ষে অনুমিত স্থান (المظنة) হিসেবে গণ্য হয়, আবার একই সময়ে সেটি তার পূর্ববর্তী পর্যায়ের বৈশিষ্ট্যের সাপেক্ষে প্রজ্ঞা (الحكمة) হিসেবে বিবেচিত হয়(1)।

এই অবস্থার একটি উদাহরণ হলো, জমহুর ফকিহগণের নিকট স্ত্রীর সাথে কেবল নির্জনবাসের (الخلوة) মাধ্যমেই স্বামীর ওপর পূর্ণ মহর প্রদান ওয়াজিব হওয়া। অথচ টেক্সট বা নস বাহ্যত বিধানটিকে (الحكم) সহবাসের (الدخول) সাথে সংশ্লিষ্ট করেছে এবং সেখানে নির্জনবাসের (الخلوة) কথা উল্লেখ করা হয়নি। কিন্তু যখন অনেক ফকিহ দেখলেন যে, সহবাস (الدخول) বিষয়টি সাক্ষীদের নিকট গোপন থাকে, ফলে বিচারিক প্রক্রিয়ায় এটি প্রমাণ করা কঠিন হয়ে পড়ে—যদি স্ত্রী এটি দাবি করেন এবং স্বামী অস্বীকার করেন—তখন তাঁরা বিধানটিকে (الحكم) এর অনুমিত স্থানের (المظنة) সাথে সংশ্লিষ্ট করেছেন, আর তা হলো নির্জনবাস (الخلوة)। তাঁরা সহবাস (الدخول) হওয়া বা না হওয়ার বিষয়টিকে বিবেচনায় না নিয়ে নির্জনবাসের (الخلوة) সাথেই বিধানটিকে (الحكم) আবর্তিত করেছেন(2)।

এর আরেকটি উদাহরণ হলো, ফকিহগণ কর্তৃক বয়ঃসন্ধিকে (البلوغ) একটি নির্দিষ্ট বয়সের সাথে সংশ্লিষ্ট করা, চাই মুকাল্লাফ বা ব্যক্তির ওপর বয়ঃসন্ধির (البلوغ) আলামতসমূহ প্রকাশ পাক বা না পাক। যদিও শরিয়ত (الشرع) স্বপ্নদোষ (الاحتلام) ও ঋতুস্রাবের (الحيض) ওপর নস প্রদান করেছে এবং কোনো নির্দিষ্ট বয়সের কথা উল্লেখ করেনি। কিন্তু তাঁরা এই বয়সকে প্রকৃত বয়ঃসন্ধির (البلوغ) অনুমিত স্থান (المظنة) হিসেবে গণ্য করেছেন এবং এর সময়সীমা নির্ধারণে অনেক মতভেদ করেছেন। একইভাবে তাঁরা সেই বয়সের ব্যাপারেও মতভেদ করেছেন যার মাধ্যমে স্বামীর পক্ষ থেকে বংশপরিচয় (النسب) সাব্যস্ত হয়। কেউ কেউ একে বয়ঃসন্ধির (البلوغ) বয়স হিসেবেই নির্ধারণ করেছেন; কারণ এটি সন্তান জন্মদানের সক্ষমতার অনুমিত স্থান (المظنة)। আবার কেউ কেউ এর চেয়ে কম বয়স নির্ধারণ করেছেন; কারণ বাস্তবে অনেক সময় এর চেয়ে কম বয়সেই প্রকৃত বয়ঃসন্ধি (البلوغ) অর্জিত হয়, আর বংশপরিচয়ের (النسب) ভিত্তি হলো সতর্কতা অবলম্বন করা(3)।

--------------------------------------------

(1) সালিহ, "আল-ইল্লাহ ওয়াল হিকমাহ ওয়াত তা'লিল বিল হিকমাহ", মাজাল্লাতু জামিআতিল আমির আবদিল কাদির লিল উলুমিল ইসলামিয়্যাহ, খণ্ড ৩১, সংখ্যা ২, পৃ. ৮৬।

(2) দ্রষ্টব্য: তাহাবি, মুখতাসার ইখতিলাফিল উলামা, ২/ ৩৪৮।

(3) দ্রষ্টব্য: সুবকি, ইবরাযুল হুকমি মিন হাদিসি রাফইল কালাম, ৭০।
(খণ্ড: ৭০) আল-আওয়ামিলুল মুয়াসসিরাতু ফী নাউতিল হুকমি বিল মাযিন্নাতি আউ বিল হিকমাহ (পৃষ্ঠা: ১২৫)
وقريبٌ من ذلك أيضًا اجتهاد أبي حنيفة، رحمه الله، في حدِّ سنّ الرشد (الذي يَدفع الوليُّ بموجبه المالَ إلى اليتيم) بما لا يتجاوز خمسًا وعشرين سنة(1)، مع أن الآية الموجِبة للدفع أطلقت إيناس الرشد من اليتيم من غير حدّه بسنّ معينة، لكن رأى أبو حنيفة، رحمه الله، أنّ سنّ خمس وعشرين مظنّة غالبة للرشد فناط الحكم بها، سواء أُنِس الرشد من اليتيم فِعلًا أم لا، وذلك دفعًا لتعسّف الأولياء في ادّعاء عدم رشد اليتيم على ما يبدو.

 

‌‌الحال الثالثة: أن تكون المظنّة والحكمة كلاهما منصوصًا:

وهو كثيرٌ في الشرع، كما ورد النص في رخصة الفطر في رمضان في السفر والمرض لحكمة التيسير. والأمر بالوضوء عند القيام للصلاة لحكمة التطهير، والأمر بالزواج عند الباءة لأنه أغض للبصر وأحصن للفرج، وندب الاقتصار على زوجة واحدة لأنه أبعد عن الظلم أو عن الفقر على اختلاف المفسرين في قوله تعالى: {ذَلِكَ أَدْنَى أَلَّا تَعُولُوا} [النساء: 3](2)، وتحريم الخمر والميسر للعداوة والبغضاء والصد عن الذكر، وورد تحريم الخمر في السنة معلَّلا بالإسكار، وهو نوع ضبط للحكمة المذكورة في القرآن، لأنّ حصول السكر هو مظنة حصول العداوة والبغضاء والصد عن الصلاة والذكر. والنهي عن السفر بالقرآن مخافة أن يناله العدو، والنهي عن مناجاة اثنين دون الثالث؛ لأنّ ذلك يحزنه، وغير ذلك كثير.

 

‌‌الحال الرابعة: أن تكون المظنّة والحكمة كلاهما اجتهاديًّا:

وهذا إنما يكون في الأحكام غير المنصوص على مظنتها ولا على حكمتها، وهي الأحكام القائمة على الاستصلاح المرسل، كالذي يكون في التنظيمات الإدارية والأحكام الوضعية، كإلزام المفتي والقاضي بالقضاء بمذهب معين أو بالمعتمد منه أو بالقانون، وذلك لحكمة ضبط القضاء ومنع التلاعب به، وإلزام الناس بقواعد المرور والعقاب على تركها، وكذا إلزامهم باستصدار بطاقات الهوية وجوازات السفر ورخص العمل والإقامة وغير ذلك من

--------------------------------------------

(1) السرخسي، المبسوط، 24/ 162.

(2) ينظر: الطبري، جامع البيان، 7/ 458.
অনুরূপভাবে ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর ইজতিহাদও এর কাছাকাছি, যা সাবালকত্বের বয়সের সীমার ক্ষেত্রে (যার ভিত্তিতে অভিভাবক এতিমকে তার সম্পদ বুঝিয়ে দেন) পঁচিশ বছরের বেশি নয়(১)। যদিও সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ সম্বলিত আয়াতে এতিমের সাবালকত্ব অনুধাবনের বিষয়টি কোনো নির্দিষ্ট বয়সের সীমা ছাড়াই শর্তহীনভাবে বলা হয়েছে। কিন্তু ইমাম আবু হানিফা (রহ.) মনে করেছেন যে, পঁচিশ বছর বয়স হলো সাধারণত সাবালকত্ব অর্জনের একটি সম্ভাব্য কারণ (মাজান্নাহ), তাই তিনি বিধানটিকে এর সাথে সংশ্লিষ্ট করেছেন; চাই এতিমের মাঝে বাস্তবে সাবালকত্ব পরিলক্ষিত হোক বা না হোক। দৃশ্যত এটি করা হয়েছে এতিমের সাবালকত্ব না হওয়ার দাবি করে অভিভাবকদের ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করার জন্য।

 

‌‌তৃতীয় অবস্থা: সম্ভাব্য কারণ (মাজান্নাহ) এবং হিকমত উভয়ই নস (শরয়ি দলিল) দ্বারা প্রমাণিত হওয়া:

এটি শরিয়তে অনেক বেশি পাওয়া যায়। যেমন সফরের কারণে এবং অসুস্থতার কারণে রমজানে রোজা ভঙ্গের অনুমতির ক্ষেত্রে সহজীকরণের হিকমতের বিষয়টি নস দ্বারা বর্ণিত হয়েছে। সালাতের জন্য দাঁড়ানোর সময় পবিত্রতা অর্জনের হিকমতে ওজুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিয়ের সামর্থ্য থাকলে বিয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কারণ এটি দৃষ্টিকে অধিক অবনত রাখে এবং লজ্জাস্থানকে অধিক হিফাজত করে। এবং কেবলমাত্র একজন স্ত্রীতে সীমাবদ্ধ থাকাকে মুস্তাহাব বলা হয়েছে কারণ এটি জুলুম বা দারিদ্র্য থেকে বাঁচার জন্য অধিকতর সহায়ক—মহান আল্লাহর বাণী: {ذَلِكَ أَدْنَى أَلَّا تَعُولُوا} [আন-নিসা: ৩](২) এর তাফসিরকারকদের মতভিন্নতা অনুযায়ী। এবং মদ ও জুয়াকে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি এবং আল্লাহর জিকির থেকে বাধা প্রদানের কারণে হারাম করা হয়েছে। সুন্নাহতে মদ হারাম হওয়ার কারণ হিসেবে নেশাগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে, যা কুরআনে উল্লিখিত হিকমতকে সুসংজ্ঞায়িত করার একটি মাধ্যম; কারণ নেশাগ্রস্ত হওয়া হলো শত্রুতা, বিদ্বেষ এবং সালাত ও জিকির থেকে বিমুখ হওয়ার একটি সম্ভাব্য কারণ (মাজان্নাহ)। অনুরূপভাবে শত্রুর হাতে পড়ার ভয়ে কুরআন নিয়ে সফর করতে নিষেধ করা হয়েছে। এবং তৃতীয় ব্যক্তিকে বাদ দিয়ে দুইজনের চুপিচুপি কথা বলতে নিষেধ করা হয়েছে, কারণ তা তাকে দুঃখিত করে। এছাড়া আরও অনেক উদাহরণ রয়েছে।

 

‌‌চতুর্থ অবস্থা: সম্ভাব্য কারণ (মাজান্নাহ) এবং হিকমত উভয়ই ইজতিহাদলব্ধ হওয়া:

এটি কেবল সেই সকল বিধানের ক্ষেত্রে হয় যেগুলোর সম্ভাব্য কারণ (মাজান্নাহ) বা হিকমত কোনোটিই নস দ্বারা নির্ধারিত নয়। আর এগুলো হলো জনকল্যাণমূলক (ইসতিসলাহে মুরসাল (مرسل))-এর ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত বিধান, যেমনটি প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা এবং অর্পিত বিধিবিধানের ক্ষেত্রে দেখা যায়। উদাহরণস্বরূপ, মুফতি এবং বিচারপতিকে কোনো নির্দিষ্ট মাজহাব বা তার নির্ভরযোগ্য মত অথবা আইন অনুযায়ী বিচার করতে বাধ্য করা, যা বিচারব্যবস্থাকে সুশৃঙ্খল করা এবং এতে কারচুপি রোধ করার হিকমতে করা হয়। এবং মানুষকে ট্রাফিক আইন মেনে চলতে বাধ্য করা এবং তা অমান্য করলে শাস্তির ব্যবস্থা করা। তেমনিভাবে তাদের পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, কাজের অনুমতি এবং বসবাসের অনুমতি গ্রহণ নিশ্চিত করা এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়...

--------------------------------------------

(১) সারাখসি, আল-মাবসুত, ২৪/ ১৬২।

(২) দেখুন: তবারি, জামিউল বায়ান, ৭/ ৪৫৮।
(খণ্ড: ৭০) আল-আওয়ামিলুল মুয়াসসিরাতু ফী নাউতিল হুকমি বিল মাযিন্নাতি আউ বিল হিকমাহ (পৃষ্ঠা: ১২৬)
التنظيمات الإدارية التي تهدف إلى حفظ المصالح على الناس ودفع المفاسد عنهم بوسائل منضبطة بأسبابها وشروطها وموانعها من جهة الاجتهاد لا النص.

وعدمُ وجود النص الشرعي على هذه الوسائل/ المظانّ بعينها، ولا على نظيرٍ قريب منها يمكن قياسها عليه، لا يعني عدم مشروعيّتها واعتبارها، وذلك لأنَّ المصالح الناجمة عنها تندرج بأجناسها العُليا في المصالح الشرعية، فكونها أحكامًا مرسلة يعني أنها مرسلة عن النص والقياس اللذين يشيران إلى المعنى المصلحي المترتب عليها بعينها أو بنوعها القريب، وليست مرسلة عن جنس المصالح الشرعيّة، كعموم حفظ الدين والنفس والعقل والمال والنسل والعرض، بل هي مندرجة فيها، ولذلك كانت هذه المظانّ المحقِّقة لهذه المصالح المندرجة في عموم مقاصد الشريعة مظانَّ معتبرةً شرعًا.

والحاصل بعد استعراض هذه الحالات الأربع وأمثلتِها، أنّ النص على المظنة أو الحكمة أو الإجماع عليهما يجعل لهما مزيّةً واعتبارًا أقوى ممّا لو لم يكونا منصوصين، وذلك لما يحمله النصّ - وكذا الإجماع - من دلالة على اعتبار الشارع لهما.

ومما تجدر الإشارة إليه هاهنا أنّ النصّ على كلٍّ من المظنة أو الحكمة قد يكون بنصٍّ واحد أو بمجموعة نصوص، وقد يكون بنصٍّ أو نصوصٍ صريحة أو غير صريحة (إشارية). وكلُّ هذا يؤثّر في مدى قوّة الاعتماد على كلٍّ من المظنّة أو الحكمة. ومثال ذلك مسألة النهي عن سفر المرأة إلا بمحرم، حكمتها وهي أمن الطريق مستنبطة، لكن قوّاها الشافعية بالمعنى الإشاري الذي جاء في الحديث: «لترينّ الظعينة ترتحل من الحيرة، حتى تطوف بالكعبة، لا تخاف أحدًا إلا الله»(1).

ومثال ذلك أيضًا النهيُّ عن إسبال الثوب، جاء مطلقًا في نصوصٍ ومقيَّدًا في أخرى بحكمة الخيلاء(2)، وجاء في نصٍّ شبه صريح نوطُ حكم الإسبال، من جهة العدم، بالخيلاء، حيث قال صلى الله عليه وسلم لأبي بكر: «إنّك لست تصنع ذلك خيلاء»(3). وقد كان لذلك

--------------------------------------------

(1) البخاري، الصحيح، 4/ 197.

(2) ينظر: المرجع السابق، 7/ 141؛ مسلم، الصحيح، 1/ 102.

(3) البخاري، الصحيح، 5/ 6.
প্রশাসনিক বিন্যাস যা ইজতিহাদ (اجتهاد)-এর প্রেক্ষিতে সরাসরি নস (نص) দ্বারা নয়, বরং এর কারণ, শর্ত ও প্রতিবন্ধকতার সাথে সুশৃঙ্খল উপায়ে মানুষের কল্যাণ (مصالح) সংরক্ষণ এবং তাদের থেকে অপকার (مفاسد) দূর করার লক্ষ্য রাখে।

এই সুনির্দিষ্ট মাধ্যম বা সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলোর (مظانّ) ওপর কোনো শারয়ী নস (نص شرعي) না থাকা, কিংবা এগুলোর কাছাকাছি কোনো দৃষ্টান্ত না থাকা যার ওপর ভিত্তি করে কিয়াস (قياس) করা সম্ভব—এর অর্থ এই নয় যে এগুলোর বৈধতা বা গ্রহণযোগ্যতা নেই। কারণ, এ থেকে উদ্ভূত কল্যাণসমূহ (مصالح) তাদের উচ্চতর শ্রেণিভুক্ত হওয়ার কারণে শারয়ী কল্যাণের (المصالح الشرعية) অন্তর্ভুক্ত। এগুলি উন্মুক্ত বিধান (أحكام مرسلة) হওয়ার অর্থ হলো এগুলি এমন নস (نص) ও কিয়াস (قياس) থেকে মুক্ত যা সরাসরি বা কাছাকাছি সাদৃশ্যের মাধ্যমে এ থেকে প্রাপ্ত কল্যাণকর অর্থের প্রতি ইঙ্গিত করে; কিন্তু এগুলি শারয়ী কল্যাণের (المصالح الشرعية) মূল প্রকার থেকে বিচ্ছিন্ন নয়, যেমন দ্বীন, জীবন, বুদ্ধি, সম্পদ, বংশ ও সম্মানের সাধারণ সংরক্ষণ; বরং এগুলি এর মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত। তাই শরীয়তের লক্ষ্যসমূহের (مقاصد الشريعة) অন্তর্ভুক্ত এই কল্যাণসমূহ অর্জনকারী মাধ্যমগুলো শরীয়তের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত।

এই চারটি অবস্থা ও সেগুলোর উদাহরণ পর্যালোচনার সারসংক্ষেপ হলো—সম্ভাব্য ক্ষেত্র (مظنة) বা হিকমত (حكمة) সম্পর্কে নস (نص) থাকা কিংবা এ দুটির ওপর ইজমা (إجماع) হওয়া সেগুলোকে এমন বিশেষ মর্যাদা ও শক্তিশালী গ্রহণযোগ্যতা প্রদান করে যা নস (نص) না থাকলে হতো না। কেননা নস (نص) এবং ইজমা (إجماع) এই দুটির মাধ্যমেই প্রমাণিত হয় যে শরীয়ত প্রণেতা সেগুলোকে গুরুত্ব দিয়েছেন।

এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, সম্ভাব্য ক্ষেত্র (مظنة) বা হিকমত (حكمة)-এর ওপর নস (نص) কখনো একটি হতে পারে আবার কখনো একাধিক নসের সমষ্টি হতে পারে। আবার তা স্পষ্ট নস (نص صريح) হতে পারে কিংবা অস্পষ্ট বা ইঙ্গিতমূলক (إشاري) হতে পারে। এসব বিষয় সম্ভাব্য ক্ষেত্র (مظنة) বা হিকমত (حكمة)-এর ওপর নির্ভরতার শক্তির মাত্রার ওপর প্রভাব ফেলে। এর উদাহরণ হলো মাহরাম ব্যতীত নারীর সফর নিষেধের মাসআলাটি; এর হিকমত (حكمة) হলো রাস্তার নিরাপত্তা, যা গবেষণালব্ধ (استنباط); তবে শাফেয়ীগণ এটিকে হাদিসের ইঙ্গিতমূলক অর্থের (معنى إشاري) মাধ্যমে শক্তিশালী করেছেন, যেখানে বলা হয়েছে: «অচিরেই তুমি দেখবে একজন উষ্ট্রারোহী নারী হিরাহ থেকে রওনা হয়ে কাবা তাওয়াফ করছে, সে আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে ভয় পাচ্ছে না»(1)।

এর অন্য একটি উদাহরণ হলো টাখনুর নিচে কাপড় ঝুলিয়ে পরার (إسبال) নিষেধাজ্ঞা। এটি কিছু নস (نص)-এ নিঃশর্ত (مطلق) হিসেবে এসেছে এবং অন্যগুলোতে অহংকারের (خيلاء) হিকমতের (حكمة) সাথে শর্তযুক্ত (مقيد) হিসেবে এসেছে(2)। একটি প্রায় স্পষ্ট নস (نص شبه صريح)-এ অহংকারের অনুপস্থিতির সাথে কাপড় ঝুলিয়ে পড়ার বিধানের সম্পর্ক বা না থাকা নির্ণয় করা হয়েছে, যেখানে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু বকর (রা.)-কে বলেছিলেন: «নিশ্চয়ই তুমি তা অহংকারবশত (خيلاء) করো না»(3)।

--------------------------------------------

(1) বুখারি, সহিহ, ৪/১৯৭।

(2) দ্রষ্টব্য: পূর্বোক্ত উৎস, ৭/১৪১; মুসলিম, সহিহ, ১/১০২।

(3) বুখারি, সহিহ, ৫/৬।
(খণ্ড: ৭০) আল-আওয়ামিলুল মুয়াসসিরাতু ফী নাউতিল হুকমি বিল মাযিন্নাতি আউ বিল হিকমাহ (পৃষ্ঠা: ১২৭)
أثرٌ كبير في تبنّي جمهور الفقهاء القول بعدم نوط حكم التحريم بمجرّد الإسبال (المظنة)، بل بما يتضمّنه الإسبال عرفًا من معنى الخيلاء (الحكمة).

 

‌‌ثانيًا: وجود نصٍّ صريح يلغي التعليل بالمظنّة أو الحكمة في عين الواقعة:

هذا العامل يؤثّر بطريقة معاكسة للعامل السابق؛ إذ عِوضًا عن تأييد اعتبار المظنة أو الحكمة بالنص، قد يعمد الشارع إلى إلغاء اعتبار التعليل بأحدهما بالنصّ على هذا الإلغاء.

ومن الأمثلة على ذلك عدم اعتبار «الشّبَه» في إلحاق نسب المولود بالزوج أو السيّد؛ إذ ممّا لا شكّ فيه أنّ انقطاع الشبه بين المولود والزوج -كولدٍ أبيضَ لزوجين أسودين أو العكس - وإن لم يكن قاطعًا في انتفاء النسب، فهو مظنّة قويّة للارتياب فيه. ومع هذا فقد ألغاه النبي، صلى الله عليه وسلم، على حياله، حُجّة لإثبات النسب أو نفيه، كما دلّ عليه الحديثان: حديث «لعلّه نزعه عرق»(1)، وحديث ولد زَمْعة: «الولد للفراش»(2).

ومن الأمثلة أيضًا إعلانُ الكافر لإسلامه مع قيام قرائن عدم صدقه في ذلك، كأن يعلن كلمة الإيمان تحت السيف، فغالب الظنّ أنه أسلم تعوّذًا لإحراز دمه لا إيمانًا. ومع ذلك جاء النص بلزوم العمل بالمظنة (إعلان كلمة الإسلام)، وترك التعويل على الحكمة (حقيقة الإيمان)، كما دلّ عليه حديث أسامة بن زيد، رضي الله عنه، حين قَتل من نطق بكلمة التوحيد خوفًا من السيف، فقال له النبي، صلى الله عليه وسلم: «يا أسامة، أقتلته بعد ما قال لا إله إلا الله»(3).

ومنها: تركُ التعويل على ظنّ الإحداث في الصلاة بمجرّد الحسّ الداخلي، من دون سماع صوت ظاهر أو شمّ ريح(4)، وفي هذا دليل على لزوم ترك العلامة الخفية (مظنة الإحداث)، والتعويل على العلامة الظاهرة القطعية التي يُتيقّن معها من حصول الحكمة (حقيقة الإحداث)، فهو نقل للاعتبار من المظنة إلى المئنة/ الحكمة. وكذلك في الحكم بنجاسة الثوب أو المكان دلّت أدلة شرعية عدّة على اعتبار المئنة/ الحكمة وعدم التعويل على المظانّ.

--------------------------------------------

(1) المرجع السابق، 7/ 53؛ مسلم، الصحيح، 2/ 1137.

(2) البخاري، الصحيح، 3/ 81؛ مسلم، الصحيح، 2/ 1080.

(3) البخاري، الصحيح، 5/ 144؛ مسلم، الصحيح، 1/ 96.

(4) ينظر: البخاري، الصحيح، 1/ 39؛ مسلم، الصحيح، 1/ 276.
সংখ্যাগরিষ্ঠ ফকিহদের এ মত গ্রহণের ক্ষেত্রে একটি বড় প্রভাব রয়েছে যে, হারামের বিধান কেবল কাপড় ঝুলিয়ে পরার (ইসবাল) সাথে সংশ্লিষ্ট নয় যা একটি সম্ভাব্য কারণ (المظنة), বরং ইসবালের মাধ্যমে প্রথাগতভাবে অহংকারের যে অর্থ প্রকাশ পায় (হিকমাহ - الحكمة) তার সাথে সংশ্লিষ্ট।

 

‌‌দ্বিতীয়: এমন সুস্পষ্ট পাঠ (نص) থাকা যা নির্দিষ্ট ঘটনার ক্ষেত্রে সম্ভাব্য কারণ (المظنة) বা হিকমাহ (الحكمة) দ্বারা কারণ দর্শানোকে বাতিল করে দেয়:

এই উপাদানটি পূর্ববর্তী উপাদানের বিপরীতভাবে কাজ করে; কেননা পাঠ (نص) দ্বারা সম্ভাব্য কারণ (المظنة) বা হিকমাহ (الحكمة)-এর গ্রহণযোগ্যতাকে সমর্থন করার পরিবর্তে, শারী’ (বিধানদাতা) এই বাতিলের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করার মাধ্যমে কোনোটির দ্বারাই কারণ দর্শানোর (তা’লিল) বিষয়টিকে বাতিল করে দিতে পারেন।

এর একটি উদাহরণ হলো, নবজাতকের বংশপরিচয় স্বামী বা মালিকের সাথে যুক্ত করার ক্ষেত্রে ‘শারীরিক সাদৃশ্য’ (الشبه)-কে গণ্য না করা। কেননা এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, নবজাতক এবং স্বামীর মধ্যে সাদৃশ্যের অভাব—যেমন দুই কৃষ্ণাঙ্গ দম্পতির ঘরে শ্বেতাঙ্গ সন্তান হওয়া বা এর বিপরীত হওয়া—যদিও তা বংশপরিচয় নাকচ করার ক্ষেত্রে চূড়ান্ত কোনো প্রমাণ নয়, তবে এটি সন্দেহের একটি শক্তিশালী সম্ভাব্য কারণ (المظنة)। তা সত্ত্বেও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বংশপরিচয় প্রমাণ বা নাকচ করার দলিল (حجة) হিসেবে একে স্বতন্ত্রভাবে বাতিল করে দিয়েছেন, যেমনটি দুটি হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হয়: হাদিস «হয়তো কোনো রগ তাকে টেনে নিয়েছে»(1) এবং জাম’আ-র সন্তানের হাদিস: «সন্তান বিছানার (অধিকারীর) প্রাপ্য»(2)।

আরেকটি উদাহরণ হলো, কোনো কাফিরের সত্যবাদিতার অভাবের আলামত থাকা সত্ত্বেও তার ইসলাম গ্রহণ করার ঘোষণা দেওয়া; যেমন তরবারির নিচে থাকা অবস্থায় ঈমানের কালিমা পাঠ করা। এমতাবস্থায় প্রবল ধারণা (غالب الظن) হয় যে, সে ঈমান আনার জন্য নয় বরং নিজের রক্ত রক্ষা করতে আশ্রয় হিসেবে ইসলাম গ্রহণ করেছে। তা সত্ত্বেও সুস্পষ্ট পাঠ (نص) দ্বারা সম্ভাব্য কারণ (المظنة) (ইসলামের কালিমা ঘোষণা)-এর ওপর আমল করা এবং হিকমাহ (الحكمة) (ঈমানের হাকিকত)-এর ওপর নির্ভর করা বর্জন করা আবশ্যক করা হয়েছে। যেমনটি উসামা ইবনে যায়েদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হয়, যখন তিনি তরবারির ভয়ে তাওহিদের কালিমা পাঠকারী ব্যক্তিকে হত্যা করেছিলেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেছিলেন: «হে উসামা, তুমি কি তাকে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলার পরও হত্যা করলে?»(3)।

এর মধ্যে আরও রয়েছে: সুস্পষ্ট কোনো শব্দ না শুনে বা কোনো গন্ধ না পেয়ে কেবল অভ্যন্তরীণ অনুভূতির মাধ্যমে সালাতে অযু ভঙ্গের ধারণার ওপর নির্ভর করা বর্জন করা(4)। এতে প্রচ্ছন্ন আলামত বা সম্ভাব্য কারণ (المظنة) (অযু ভঙ্গের সম্ভাবনা) ত্যাগ করে এমন সুস্পষ্ট ও অকাট্য আলামতের ওপর নির্ভর করা আবশ্যক হওয়ার দলিল রয়েছে, যার মাধ্যমে হিকমাহ (الحكمة) (প্রকৃতপক্ষে অযু ভঙ্গ হওয়া) নিশ্চিত হওয়া যায়। ফলে এটি বিবেচ্য বিষয়কে সম্ভাব্য কারণ (المظنة) থেকে সরিয়ে সুনিশ্চিত কারণ (المئنة)/হিকমাহ (الحكمة)-এর দিকে স্থানান্তর করে। একইভাবে কাপড় বা স্থানের অপবিত্রতার বিধানের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন শরিয়তি দলিল সুনিশ্চিত কারণ (المئنة)/হিকমাহ (الحكمة)-কে বিবেচনা করার এবং সম্ভাব্য কারণগুলোর (المظانّ) ওপর নির্ভর না করার প্রমাণ দেয়।

--------------------------------------------

(1) পূর্বোক্ত উৎস, ৭/ ৫৩; মুসলিম, সহীহ, ২/ ১১৩৭।

(2) বুখারী, সহীহ, ৩/ ৮১; মুসলিম, সহীহ, ২/ ১০৮০।

(3) বুখারী, সহীহ, ৫/ ১৪৪; মুসলিম, সহীহ, 1/ ৯৬।

(4) দ্রষ্টব্য: বুখারী, সহীহ, ১/ ৩৯; মুসলিম, সহীহ, ১/ ২৭৬।