(খণ্ড: ১) কিরাদ দাইফ লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: -)
قرى الضيف لابن أبي الدنيا   (ابن أبي الدنيا)

القسم: كتب السنة


الكتاب: قرى الضيف

المؤلف: أبو بكر عبد الله بن محمد بن عبيد بن سفيان بن قيس البغدادي الأموي القرشي المعروف بابن أبي الدنيا (ت 281هـ)

حققه وأخرج أحاديثه: عبد الله بن حمد المنصور

الناشر: أضواء السلف، الرياض - السعودية

الطبعة: الأولى، 1418 هـ - 1997 م

عدد الصفحات: 47

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইবনে আবিদ দুনিয়ার ক্বিরাদ দাইফ (মেহমানদারি)   (ইবনে আবিদ দুনিয়া)

বিভাগ: সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ


গ্রন্থ: ক্বিরাদ দাইফ (মেহমানদারি)

লেখক: আবু বকর আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন উবাইদ বিন সুফিয়ান বিন কায়েস আল-বাগদাদি আল-উমাবি আল-কুরাশি, যিনি ইবনে আবিদ দুনিয়া নামে পরিচিত (মৃত্যু: ২৮১ হিজরি)

সম্পাদনা ও হাদিস বিন্যাস: আবদুল্লাহ বিন হামাদ আল-মানসুর

প্রকাশক: আদওয়াউস সালাফ, রিয়াদ - সৌদি আরব

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৮ হিজরি - ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৭

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) কিরাদ দাইফ লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ১৬)
1 - وَأَخْبَرَنَا أَيْضًا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ بُلْبَانَ قَالَا: أَخْبَرَنَا الْإِمَامُ بَهَاءُ الدِّينِ عَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَحْمَدَ الْمَقْدِسِيُّ زَادَ ابْنُ بُلْبَانَ فَقاَلَ: وَأَبُو طَاهِرٍ خَلِيلُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَلِيِّ بْنِ خَلِيلٍ الْجَوْسَقِيُّ، وَقَالَ الْحَجَّارُ: أَخْبَرَنَا عَالِيًا خَلِيلٌ الْجَوْسَقِيُّ، وَأَبُو صَالِحٍ نَصْرُ بْنُ عَبْدِ الرَّزَّاقِ بْنِ عَبْدِ الْقَادِرِ الْجِيلِيُّ إِجَازَةً مِنْهُمَا بِسَمَاعِ الثَّلَاثَةِ مِنْ فَخْرِ النِّسَاءِ شُهْدَةَ بِنْتِ أَحْمَدَ بْنِ الْفَرَجِ الْآبُرِيِّ الْكَاتِبَةِ بِسَمَاعِهَا مِنْ أَبِي الْفَوَارِسِ طَرَّادِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ الزَّيْنِيِّ النَّقِيبِ فِي ذِي الْقِعْدَةِ سَنَةَ. . . أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بِشْرَانَ الْمُعَدِّلُ، أنا أَبُو الْحُسَيْنِ، وَأَبُو جَعْفَرٍ مَعًا: أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرٍ الْجَوْزِيُّ فِي ذِي الْقِعْدَةِ سَنَةَ ثَلَاثِمِائَةٍ وَأَرْبَعِينَ حَدَّثَنَا الْإِمَامُ الْحَافِظُ أَبُو بَكْرٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عُبَيْدِ بْنِ سُفْيَانَ ابْنُ أَبِي الدُّنْيَا الْقُرَشِيُّ، ⦗ص: 17⦘ حَدَّثَنَا شُجَاعُ بْنُ الْأَشْرَسِ بْنِ مَيْمُونٍ،. . . لَيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي شُرَيْحٍ الْخُزَاعِيِّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلْيُكْرِمْ ضَيْفَهُ»
১ - এবং আবু আল-হাসান আলী ইবনে বুলবানও আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: ইমাম বাহাউদ্দীন আবদুর রহীম ইবনে ইবরাহীম ইবনে আহমদ আল-মাকদিসী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। ইবনে বুলবান আরও বর্ধিত করে বলেছেন: এবং আবু তাহির খলীল ইবনে আহমদ ইবনে আলী ইবনে খলীল আল-জাওসাকী। আল-হাজ্জার বলেছেন: খলীল আল-জাওসাকী এবং আবু সালিহ নাসর ইবনে আবদুর রাজ্জাক ইবনে আব্দুল কাদির আল-জীলী উচ্চতর সনদে তাঁদের উভয়ের পক্ষ থেকে অনুমতির (ইজাযাত) মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; তাঁরা তিনজন ফখরুন নিসা শুহদাহ বিনতে আহমদ ইবনে আল-ফারাজ আল-আবরী আল-কাতিবাহ বা লেখিকার নিকট এটি শ্রবণ করেছেন। তিনি যিলকদ মাসে আবু আল-ফাওয়ারিস তাররাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী আজ-যাইনী আন-নাকীবের নিকট শ্রবণ করেছেন... সালে...। আবু আল-হুসাইন আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে বিশরান আল-মুআদ্দিল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। আবু আল-হুসাইন এবং আবু জাফর—উভয়েই হলেন আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে জাফর আল-জাওযী—তিনশ চল্লিশ হিজরির যিলকদ মাসে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। ইমাম হাফেজ আবু বকর আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উবাইদ ইবনে সুফিয়ান ইবনে আবিদ দুনিয়া আল-কুরাশী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ⦗পৃষ্ঠা: ১৭⦘ শুজা ইবনে আল-আশরাস ইবনে মাইমুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন... লাইস ইবনে সা'দ, সাঈদ ইবনে আবি সাঈদ আল-মাকবুরী থেকে, তিনি আবু শুরাইহ আল-খুযায়ী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ‌‌“যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন তার মেহমানকে সম্মান করে।”
(খণ্ড: ১) কিরাদ দাইফ লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ১৭)
2 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ جَمِيلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَجْلَانَ، عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي شُرَيْحٍ الْكَعْبِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: ‌‌«مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلْيُكْرِمْ ضَيْفَهُ، جَائِزَةُ الضَّيْفِ يَوْمٌ وَلَيْلَةٌ، وَالضِّيَافَةُ ثَلَاثَةُ أَيَّامٍ، فَمَا كَانَ بَعْدَ ذَلِكَ فَهُوَ صَدَقَةٌ، وَلَا يَحِلُّ لَهُ أَنْ يَثْوِيَ عِنْدَهُ حَتَّى يُحْرِجَهُ»
২ - আহমাদ ইবনে জামিল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে আজলান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাঈদ আল-মাকবুরি থেকে, তিনি আবু শুরাইহ আল-ক্বাবি থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন তার মেহমানকে সম্মান করে। মেহমানের বিশেষ আতিথেয়তা এক দিন ও এক রাত এবং আতিথেয়তা তিন দিন, এরপর যা কিছু হবে তা সদকা স্বরূপ। আর মেহমানের জন্য তার (গৃহকর্তার) নিকট এমনভাবে অবস্থান করা বৈধ নয় যা তাকে কষ্টে ফেলে দেয়।”
(খণ্ড: ১) কিরাদ দাইফ লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ১৭)
3 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ جَمِيلٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي شُرَيْحٍ الْكَعْبِيِّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«جَائِزَتُهُ يَوْمٌ وَلَيْلَةٌ، وَالضِّيَافَةُ ثَلَاثَةُ أَيَّامٍ، لَا يَحِلُّ لِأَحَدٍ أَنْ يُقِيمَ عِنْدَ أَخِيهِ حَتَّى يُؤْثِمَهُ» ، قِيلَ: وَكَيْفَ يُؤْثِمُهُ؟ قَالَ: «يُقِيمُ عِنْدَهُ وَلَيْسَ عِنْدَهُ شَيْءٌ يَقْرِيهِ»
৩ - আহমদ ইবন জামীল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আব্দুল হামীদ ইবন জাফর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সাঈদ আল-মাকবুরী থেকে, তিনি আবু শুরাইহ আল-কাব’ঈ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «মেহমানের বিশেষ উপঢৌকন একদিন ও একরাত, আর মেহমানদারি তিন দিন। কারো জন্য তার ভাইয়ের নিকট এমনভাবে অবস্থান করা বৈধ নয় যা তাকে গুনাহগার করে ফেলে।» জিজ্ঞেস করা হলো: কীভাবে সে তাকে গুনাহগার করবে? তিনি বললেন: «সে তার নিকট অবস্থান করতে থাকে অথচ মেহমানদারি করার মতো তার কাছে কিছুই নেই।»
(খণ্ড: ১) কিরাদ দাইফ লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ১৭)
4 - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ حَمْزَةَ، عَنْ كَثِيرِ بْنِ زَيْدٍ، عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ رَبَاحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلْيُكْرِمْ ضَيْفَهُ»
4 - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবরাহীম বিন আল-মুনজির, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান বিন হামযাহ, তিনি কাসীর বিন যায়িদ থেকে, তিনি আল-ওয়ালীদ বিন রাবাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন তার মেহমানকে সম্মান করে»
(খণ্ড: ১) কিরাদ দাইফ লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ১৮)
5 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُبَارَكِ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو، حَدَّثَنَا أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «كَانَ‌‌ أَوَّلَ مَنْ ضَيَّفَ الضَّيْفَ إِبْرَاهِيمُ عليه السلام»
৫ - মুহাম্মদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু উসামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবন আমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু সালামাহ ইবন আব্দুর রহমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু হুরায়রা (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন: «তিনি ছিলেন সর্বপ্রথম ব্যক্তি যিনি মেহমানদারি করেছিলেন, অর্থাৎ ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম)।»
(খণ্ড: ১) কিরাদ দাইফ লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ১৮)
6 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، قَالَ: كَانَ‌‌ إِبْرَاهِيمُ أَوَّلَ مَنْ أَضَافَ الضَّيْفَ
৬ - আমাদের কাছে ইসহাক ইবন ইসমাইল বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে জারির বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ইবরাহিম ছিলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি মেহমানদারি করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) কিরাদ দাইফ লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ১৮)
7 - حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْعِجْلِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عِكْرِمَةَ، قَالَ: كَانَ‌‌ إِبْرَاهِيمُ عليه السلام يُكَنَّى أَبَا الضِّيفَانِ وَكَانَ لِقَصْرِهِ أَرْبَعَةُ أَبْوَابٍ قَالَ أَبُو أُسَامَةَ: فَزَادَنِي مُعَلَّى بْنُ خَالِدٍ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عِكْرِمَةَ قَالَ: لِكَيْلَا يَفُوتَهُ، يَعْنِي أَحَدًا
৭ - আমাদের নিকট আবু আবদুল্লাহ আল-ইজলি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবু উসামা বর্ণনা করেছেন, তিনি সুফিয়ান আস-সাওরি থেকে, তিনি তাঁর পিতার নিকট থেকে, তিনি ইকরিমা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ইব্রাহিম আলাইহিস সালামকে ‘আবায যুইফান’ (অতিথিদের পিতা) উপনামে ডাকা হতো এবং তাঁর প্রাসাদের চারটি দরজা ছিল। আবু উসামা বলেন: মুআল্লা বিন খালিদ সুফিয়ান থেকে, তিনি তাঁর পিতার নিকট থেকে, তিনি ইকরিমা থেকে আমার নিকট অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: যাতে কোনো ব্যক্তিই তাঁর নিকট থেকে বাদ না পড়ে।
(খণ্ড: ১) কিরাদ দাইফ লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ১৮)
8 - حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، حَدَّثَنَا شِبْلٌ، عَنِ ابْنِ أَبِي نَجِيحٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ،: ⦗ص: 19⦘ ‌‌{ضَيْفِ إِبْرَاهِيمَ الْمُكْرَمِينَ} [الذاريات: 24] قَالَ: خِدْمَتُهُ إِيَّاهُمْ، خَدَمَهُمْ بِنَفْسِهِ
৮ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আবদুল্লাহ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু উসামাহ, তিনি বর্ণনা করেছেন শিবল থেকে, তিনি ইবনে আবি নাজিহ থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে: ⦗পৃষ্ঠা: ১৯⦘ ‌‌{ইব্রাহীমের সম্মানিত মেহমানগণ} [আয-যারিয়াত: ২৪] তিনি বলেন: তাদের প্রতি তাঁর সেবা; তিনি নিজেই তাদের সেবা করেছিলেন
(খণ্ড: ১) কিরাদ দাইফ লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ১৯)
9 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ جَمِيلٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، عَنْ طَلْحَةَ، عَنْ عَطَاءٍ، قَالَ: كَانَ إِبْرَاهِيمُ خَلِيلُ الرَّحْمَنِ عليه السلام‌‌ إِذَا أَرَادَ أَنْ يَتَغَدَّى خَرَجَ مِيلًا أَوْ مِيلَيْنِ يَلْتَمِسُ مَنْ يَتَغَدَّى مَعَهُ
৯ - আমাদের নিকট আহমাদ ইবনে জামিল বর্ণনা করেছেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ, তিনি তালহা থেকে, তিনি আতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: দয়াময় আল্লাহর বন্ধু ইবরাহিম আলাইহিস সালাম যখন দুপুরের আহার গ্রহণ করার ইচ্ছা করতেন, তখন তিনি এক বা দুই মাইল পথ বের হতেন এমন কাউকে তালাশ করার জন্য, যে তাঁর সাথে আহার করবে।
(খণ্ড: ১) কিরাদ দাইফ লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ১৯)
10 - حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ زُهَيْرٍ الضَّبِّيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ الْأَسَدِيُّ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، عَنْ عَبْدِ الْوَارِثِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ فِي قَوْلِهِ: ‌‌{وَيُؤْثِرُونَ عَلَى أَنْفُسِهِمْ وَلَوْ كَانَ بِهِمْ خَصَاصَةٌ} [الحشر: 9] قَالَ: نَزَلَتْ فِي رَجُلٍ مِنَ الْأَنْصَارِ أَرْسَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مَعَهُ ضَيْفًا مِنْ أَضْيَافِهِ، فَأَتَى بِهِ مَنْزِلَهُ، فَقَالَتْ لَهُ امْرَأَتُهُ: مَا هَذَا؟ قَالَ: هَذَا ضَيْفٌ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَتْ: وَالَّذِي بَعَثَ مُحَمَّدًا بِالْحَقِّ مَا أَمْسَى عِنْدَنَا إِلَّا قُرْصٌ، فَذَلِكَ الْقُرْصُ لِي أَوْ لَكَ أَوِ لِلضَّيْفِ، أَوْ لِلْخَادِمِ، قَالَ: أَثْرِدِي هَذَا الْقُرْصَ، وَآدِمِيهِ بِسَمْنٍ ثُمَّ قَرِّبِيهِ، وَأْمُرِي الْخَادِمَ يُطْفِئُ السِّرَاجَ، وَجَعَلَتْ تَتَلَمَّظُ هِيَ وَهُوَ حَتَّى رَأَى الضَّيْفُ ⦗ص: 20⦘ أَنَّهُمَا يَأْكُلَانِ، وَأَصْبَحَ فَصَلَّى مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَانْصَرَفَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: «أَيْنَ صَاحِبُ الضَّيْفِ؟» ثَلَاثَ مَرَّاتٍ، وَالرَّجُلُ سَاكِتٌ، قَالَ: أَنَا صَاحِبُ الضَّيْفِ، قَالَ: " حَدَّثَنِي جِبْرِيلُ أَنَّ اللَّهَ تَعَالَى عز وجل ضَحِكَ حِينَ قُلْتَ لِخَادِمِكَ: أَطْفِئِ السَّرَّاجَ، وَنَزَلَتْ {وَيُؤْثِرُونَ عَلَى أَنْفُسِهِمْ} [الحشر: 9] إِلَى قَوْلِهِ: {فَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} [الأعراف: 8] "
১০ - দাউদ ইবনে আমর ইবনে জুহাইর আদ-দাব্বি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান আল-আসাদি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাঈদ ইবনে মুসলিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আবদুল ওয়ারিস থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু) থেকে আল্লাহর এই বাণী প্রসঙ্গে বর্ণনা করেছেন: "তারা নিজেদের ওপর অন্যদের অগ্রাধিকার দেয়, যদিও তারা অভাবগ্রস্ত।" [হাশর: ৯] তিনি বলেন: এটি জনৈক আনসারী ব্যক্তির ব্যাপারে নাযিল হয়েছে যার সাথে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর অতিথিদের মধ্য থেকে একজনকে পাঠিয়েছিলেন। তিনি তাকে নিয়ে নিজ বাড়িতে আসলেন, তখন তাঁর স্ত্রী তাকে জিজ্ঞেস করলেন: এটি কে? তিনি বললেন: ইনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর একজন অতিথি। স্ত্রী বললেন: সেই সত্তার কসম যিনি মুহাম্মদকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন, আমাদের কাছে রাত কাটানোর মতো একটি রুটি ছাড়া আর কিছুই নেই। আর সেই রুটিটুকু হয় আমার জন্য, নয়তো আপনার জন্য, নয়তো অতিথির জন্য অথবা খাদেমের জন্য। তিনি বললেন: এই রুটিটুকু টুকরো করে সারিদ তৈরি করো এবং ঘি দিয়ে তা সুস্বাদু করো, তারপর তা পরিবেশন করো। আর খাদেমকে নির্দেশ দাও সে যেন বাতি নিভিয়ে দেয়। এরপর স্ত্রী এবং তিনি (স্বামী) খাওয়ার মতো মুখ নাড়াচাড়া করতে লাগলেন যাতে অতিথি দেখতে পান ⦗পৃষ্ঠা: ২০⦘ যে তারা উভয়ই খাচ্ছেন। ভোর হলে তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে সালাত আদায় করলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সালাত শেষে ফিরে তাকিয়ে তিনবার বললেন: "সেই অতিথির মেজবান কোথায়?" তখন লোকটি চুপ ছিল। এরপর সে বলল: আমিই সেই মেজবান। তিনি বললেন: "জিবরাঈল আমাকে জানিয়েছেন যে, আল্লাহ তাআলা আযযা ওয়া জাল হেসেছেন যখন তুমি তোমার খাদেমকে বলেছিলে: বাতি নিভিয়ে দাও। আর নাযিল হয়েছে: 'তারা নিজেদের ওপর অন্যদের অগ্রাধিকার দেয়' [হাশর: ৯] তাঁর এই বাণী পর্যন্ত: 'তারাই সফলকাম' [আরাফ: ৮]।"
(খণ্ড: ১) কিরাদ দাইফ লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ২১)
11 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ جَمِيلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُسْلِمٍ الْعَبْدِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو الْمُتَوَكِّلِ، أَن رَجُلًا مِنَ الْمُسْلِمِينَ عَبَرَ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ صَائِمًا لَا يَجِدُ مَا يُفْطِرُ عَلَيْهِ، وَيُصْبِحُ صَائِمًا، حَتَّى فَطِنَ لَهُ رَجُلٌ مِنَ الْأَنْصَارِ يُقَالُ لَهُ ثَابِتُ بْنُ قَيْسٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ فَقَالَ لِأَهْلِهِ: إِنِّي أَجِيءُ اللَّيْلَةَ بِضَيْفٍ، فَإِذَا وَضَعْتُمْ طَعَامَكُمْ فَلْيَقُمْ بَعْضُكُمْ إِلَى السِّرَاجِ كَأَنَّهُ يُصْلِحُهُ، فَلْيُطْفِئْهُ ثُمَّ اضْرِبُوا بِأَيْدِيكُمْ إِلَى الطَّعَامِ كَأَنَّكُمْ تَأْكُلُونَ، وَأَنْتُمْ لَا تَأْكُلُونَ حَتَّى يَشْبَعَ ضَيْفُنَا، فَفَعَلُوا وَإِنَّمَا كَانَ طَعَامُهُمْ ذَلِكَ خُبْزَةً وَهِيَ قُوتُهُمْ، فَلَمَّا أَصْبَحَ ثَابِتُ بْنُ قَيْسٍ غَدَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: «يَا ثَابِتُ،‌‌ لَقَدْ عَجِبَ اللَّهُ عز وجل الْبَارِحَةَ مِنْكُمْ وَمِنْ ضَيْفِكُمْ» وَأُنْزِلَتْ فِيهِ الْآيَةُ {وَيُؤْثِرُونَ عَلَى أَنْفُسِهِمْ وَلَوْ كَانَ بِهِمْ خَصَاصَةٌ} [الحشر: 9]
১১ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে জামিল, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসমাইল ইবনে মুসলিম আল-আবদি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল মুতাওয়াক্কিল থেকে বর্ণিত যে, জনৈক মুসলিম ব্যক্তি এমনভাবে তিন দিন রোজা রেখে অতিবাহিত করলেন যে তিনি ইফতার করার মতো কিছু পাননি এবং রোজাদার অবস্থায় সকাল করতেন। অবশেষে আনসারদের মধ্য থেকে সাবিত ইবনে কায়স (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু) নামক এক ব্যক্তি বিষয়টি লক্ষ্য করলেন এবং তাঁর পরিবারকে বললেন: "আমি আজ রাতে একজন মেহমান নিয়ে আসব। যখন তোমরা খাবার পরিবেশন করবে, তখন তোমাদের কেউ একজন প্রদীপের দিকে এমনভাবে দাঁড়াবে যেন সে সেটি ঠিক করছে, এরপর সেটিকে নিভিয়ে দেবে। এরপর তোমরা খাবারের দিকে তোমাদের হাত এমনভাবে নাড়াচাড়া করবে যেন তোমরা খাচ্ছ, অথচ তোমরা খাবে না যতক্ষণ না আমাদের মেহমান তৃপ্ত হয়।" তারা তাই করলেন, অথচ তাদের সেই খাবার ছিল মাত্র এক টুকরো রুটি যা ছিল তাদের একমাত্র খাদ্য। যখন সকাল হলো, সাবিত ইবনে কায়স রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট গেলেন। তিনি বললেন: «হে সাবিত,‌‌ নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ গত রাতে তোমাদের এবং তোমাদের মেহমানের কাজে আশ্চর্য হয়েছেন» এবং এই বিষয়ে আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে: {আর তারা নিজেদের ওপর অন্যদের অগ্রাধিকার দেয়, যদিও তারা অভাবগ্রস্ত ছিল} [আল-হাশর: ৯]
(খণ্ড: ১) কিরাদ দাইফ লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ২১)
12 - حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ الْمُغِيرَةِ، عَنْ مُجَاهِدٍ، رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ قَالَ: خَرَجْتُ إِلَى السَّرَاةِ، فَلَمَّا صَلَّيْتُ الْمَغْرِبَ جَاءُوا يَدْعُونَنِي إِلَى الْعَشَاءِ، وَجَعَلْتُ لَا أَلْتَفِتُ إِلَيْهِمْ، لَيْسَ لِي هَمٌّ إِلَّا الصَّلَاةُ، فَاحْتَمَلُونِي وَقَالُوا: لَا تَلُمْنَا فَإِنَّا‌‌ إِذَا نَزَلَ بِنَا ضَيْفٌ، لَمْ نَأْكُلْ حَتَّى يَشْبَعَ أَوْ حَتَّى يَأْكُلَ
১২ - ইউসুফ ইবনে মুসা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, জারীর আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, মুগীরাহ থেকে বর্ণিত, মুজাহিদ (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আস-সারাতের উদ্দেশ্যে বের হলাম। অতঃপর যখন আমি মাগরিবের সালাত আদায় করলাম, তারা এসে আমাকে রাতের খাবারের জন্য আহ্বান করতে লাগল। আমি তাদের দিকে কোনো ভ্রুক্ষেপ করছিলাম না, সালাত ব্যতীত আমার অন্য কোনো চিন্তা ছিল না। তখন তারা আমাকে তুলে নিয়ে গেল এবং বলল: আমাদের তিরস্কার করবেন না, কেননা আমরা যখন আমাদের নিকট কোনো মেহমান আসে, সে তৃপ্ত হওয়া পর্যন্ত অথবা সে আহার করা পর্যন্ত আমরা আহার করি না।
(খণ্ড: ১) কিরাদ দাইফ লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ২২)
13 - حَدَّثَنِي الْحَسَنُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ الْجَرَوِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو مُسْهِرٍ، حَدَّثَنِي إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُعَاوِيَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ يُونُسَ بْنَ حَلْبَسٍ، يَقُولُ: بَلَغَ مُعَاوِيَةَ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ جَعْفَرٍ دَخَلَهُ حَفَفٌ، وَالْحَفَفُ: الشِّدَّةُ وَالْجَهْدُ مِنْ بَذْلِهِ وَإِعْطَائِهِ، فَكَتَبَ إِلَيْهِ يَأْمُرُهُ بِالْقَصْدِ يُرَغِّبُهُ فِيهِ، وَيَنْهَاهُ عَنِ السَّرَفِ وَيَعِيبُهُ عَلَيْهِ، وَكَتَبَ إِلَيْهِ بَيْتَيْنِ مِنْ شِعْرٍ:

[البحر الوافر]

 

لَمَالُ الْمَرْءِ يُصْلِحُهُ فَيُغْنِي … مَفَاقِرَهُ أَعَفُّ مِنَ الْقُنُوعِ

يَسُدُّ بِهِ نَوَائِبَ تَعْتَرِيهِ … مِنَ الْأَيَّامِ كَالنَّهْلِ الشَّرُوعِ

قَالَ: فَكَتَبَ إِلَيْهِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى:

[البحر الطويل]

 

‌‌سَلِي الطَّارِقَ الْمُعْتَرَّ يَا أُمَّ خَالِدٍ … إِذَا مَا رَأَيْنِي بَيْنَ نَارِي وَمِجْزَرِي

أَأَبْذُلُ وَجْهِي إِنَّهُ أَوَّلُ الْقِرَى
… وَأَبْذُلُ مَعْرُوفِي لَهُمْ دُونَ مُنْكَرِي

وَقَدْ أَشْتَرِي عِرْضِي بِمَالِي وَمَا عَسَى … أَخُوكَ إِذَا مَا ضَيَّعَ الْعِرْضَ يَشْتَرِي

يُؤَدِّي إِلَى اللَّيْلِ فِتْيَانَ مَاجِدٍ كَرِيمٍ … وَمَالِي سَارِحٌ مَالُ مُقْتَرِي

قَالَ: فَأُعْجِبَ مُعَاوِيَةُ بِمَا كَتَبَ بِهِ إِلَيْهِ وَأَمَرَ لَهُ بِأَرْبَعِينَ أَلْفَ دِينَارٍ عَوْنًا لَهُ عَلَى دَيْنِهِ
১৩ - আল-হাসান ইবনে আবদিল আজিজ আল-জারাবী আমাকে বর্ণনা করেছেন, আবু মুশহির আমাদের বর্ণনা করেছেন, ইসমাইল ইবনে মুআবিয়া আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইউনুস ইবনে হালবাসকে বলতে শুনেছি: মুআবিয়া (রাযি.)-এর কাছে সংবাদ পৌঁছল যে, আবদুল্লাহ ইবনে জাফর দারিদ্র্যের সম্মুখীন হয়েছেন। আর 'হাফাফ' বা অভাব ও কষ্ট এসেছিল তার অতিশয় দানশীলতা ও অকাতরে ব্যয় করার কারণে। তখন তিনি (মুআবিয়া) তাকে মধ্যপন্থা অবলম্বনের আদেশ দিয়ে এবং এর প্রতি উৎসাহিত করে পত্র লিখলেন এবং তাকে অপব্যয় থেকে বারণ করলেন ও এ জন্য তাকে দোষারোপ করলেন। তিনি তাকে দুটি কাব্যপঙক্তি লিখে পাঠালেন:

[আল-বাহরুল ওয়াফির]

 

মানুষের নিকট সম্পদ থাকা তা তাকে সংশোধন করে এবং তার অভাব দূর করে... আর দারিদ্র্যে মানুষের কাছে হাত পাতার চেয়ে আত্মমর্যাদা রক্ষা করা অধিকতর শ্রেয়।

এর মাধ্যমে সে তার ওপর আপতিত জাগতিক বিপদ-আপদসমূহ প্রতিহত করে... যা দিনাতিপাতের মাঝে বারবার আসা পিপাসার্ত উটের পালের মতো ধেয়ে আসে।

বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর আবদুল্লাহ ইবনে জাফর (রাহিমাহুল্লাহু তাআলা) তাকে লিখে পাঠালেন:

[আল-বাহরুত তবিল]

 

‌‌হে উম্মে খালিদ! তুমি সেই আগন্তুক প্রার্থীকে জিজ্ঞেস করো... যখন সে আমাকে আমার মেহমানদারির আগুন ও যবাই করা পশুর মাঝে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে।

আমি কি আমার চেহারা বা সম্মানকে ছোট করব? অথচ স্মিতহাস্যে চেহারা পেশ করাই তো মেহমানদারির প্রথম ধাপ...
… আর আমি তাদের জন্য আমার কল্যাণ অকাতরে দান করি কোনো কার্পণ্য ছাড়াই।

আমি তো আমার সম্পদ দিয়ে নিজের সম্মান রক্ষা করি; যদি তোমার ভাই সম্মানই হারিয়ে ফেলে, তবে সে আর কী-ই বা কিনতে পারবে?

রাতের আগমনে মেহমানরা এক মহান ও উদার যুবকের নিকট আশ্রয় পায়... আর আমার সম্পদ নিঃস্ব মানুষের সম্পদের মতোই অবারিতভাবে বিলিয়ে দেওয়া হয়।

বর্ণনাকারী বলেন: মুআবিয়া (রাযি.) তার এই জবাবে অত্যন্ত মুগ্ধ হলেন এবং তার ঋণ পরিশোধে সহায়তার জন্য তাকে চল্লিশ হাজার দিনার প্রদানের আদেশ দিলেন।
(খণ্ড: ১) কিরাদ দাইফ লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ২২)
14 - حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قُرَيْبٍ الْبَاهِلِيُّ، حَدَّثَنِي عَمِّي، حَدَّثَنَا خَلَفٌ الْأَحْمَرُ، قَالَ: قَالَ الشَّمَّاخُ بْنُ ضِرَارٍ لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَعْفَرٍ: ⦗ص: 23⦘

[البحر الرجز]

 

‌‌إِنَّكَ يَا ابْنَ جَعْفَرٍ نِعْمَ الْفَتَى … وَنِعْمَ مَأْوَى طَارِقٍ إِذَا أَتَى

وَرَبُّ ضَيْفٍ طَرَقَ الْحَيَّ سُرًى … صَادَفَ زَادًا
وَحَدِيثًا مَا اشْتَهَى

إِنَّ الْحَدِيثَ جَانِبٌ مِنَ الْقِرَى "

قَالَ خَلَفٌ: وَمِنَ سُنَّةِ الْأَعْرَابِ إِذَا حَادَثُوا الْغَرِيبَ وَنَهِمُوا إِلَيْهِ وَفَاكَهُوهُ أَيْقَنَ بِالْقِرَى، وَإِذَا أَعْرَضُوا عَنْهُ أَيْقَنَ بِالْحِرْمَانِ، فَمِنْ ثُمَّ قِيلَ: إِنَّ الْحَدِيثَ جَانِبٌ مِنَ الْقِرَى
১৪ - আবদুর রহমান ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে কুরাইব আল-বাহিলি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার চাচা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, খালাফ আল-আহমার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আশ-শাম্মাখ ইবনে দিরার আবদুল্লাহ ইবনে জা'ফরকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন: ⦗পৃষ্ঠা: ২৩⦘

[রজজ ছন্দ]

 

‌‌হে জা'ফরের পুত্র, নিশ্চয়ই আপনি এক চমৎকার যুবক … এবং কোনো নৈশ-পথিক যখন আগমন করে, তখন তার জন্য আপনি এক উত্তম আশ্রয়স্থল।

আর কোনো মেহমান যখন রাতের বেলা লোকালয়ে আসে … তখন সে পাথেয়
এবং তার কাঙ্ক্ষিত আলাপচারিতা লাভ করে।

নিশ্চয়ই কথোপকথন মেহমানদারিরই একটি অংশ।

খালাফ বলেন: বেদুঈনদের একটি রীতি হলো, তারা যখন কোনো আগন্তুকের সাথে কথা বলে, তার প্রতি আগ্রহ দেখায় এবং তার সাথে রসিকতা করে, তখন সে মেহমানদারির বিষয়ে নিশ্চিত হয়। আর যখন তারা তার থেকে বিমুখ থাকে, তখন সে বঞ্চিত হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত হয়। এ কারণেই বলা হয়েছে: "নিশ্চয়ই কথোপকথন মেহমানদারিরই একটি অংশ।"
(খণ্ড: ১) কিরাদ দাইফ লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ২৩)
15 - وَزَعَمَ الْعَبَّاسُ الْعَنْبَرِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ، عَنْ جُوَيْرِيَةَ بْنِ أَسْمَاءَ، عَنْ بُدَيْحٍ مَوْلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَعْفَرٍ قَالَ: خَرَجْتُ مَعَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَعْفَرٍ فِي بَعْضِ أَسْفَارِهِ فَنَزَلْنَا إِلَى جَانِبِ خِبَاءٍ مِنْ شَعْرٍ قَالَ: وَإِذَا صَاحِبُ الْخِبَاءِ رَجُلٌ مِنْ بَنِي عُذْرَةَ، قَالَ: فَبَيْنَا نَحْنُ كَذَلِكَ، إِذَا نَحْنُ بِأَعْرَابِيٍّ قَدْ أَقْبَلَ يَسُوقُ نَاقَةً حَتَّى وَقَفَ عَلَيْنَا ثُمَّ قَالَ: أَيْ قَوْمُ،‌‌ ابْغُونِي شَفْرَةً، فَنَاوَلْنَاهُ الشَّفْرَةَ، فَوَجَأَ فِي لَبَّتِهَا، وَقَالَ: شَأْنَكُمْ، قَالَ: وَأَقَمْنَا الْيَوْمَ الثَّانِي، وَإِذَا نَحْنُ بِالشَّيْخِ الْعُذْرِيِّ يَسُوقُ نَاقَةً أُخْرَى فَقَالَ: أَيْ قَوْمِ أَبْغُونِي شَفْرَةً، قَالَ: فَقُلْنَا: إِنَّ عِنْدَنَا مِنَ اللَّحْمِ مَا تَرَى، قَالَ: فَقَالَ: أَبِحَضْرَتِي تَأْكُلُونَ الْغَابَ؟، نَاوِلُونِي شَفْرَةً، فَنَاوَلْنَاهُ الشَّفْرَةَ فَوَجَأَ فِي لَبَّتِهَا، ثُمَّ قَالَ: شَأْنَكُمْ بِهَا، وَبَقِينَا الْيَوْمَ الثَّالِثَ، فَإِذَا نَحْنُ بِالْعُذْرِيِّ يَسُوقُ نَاقَةً أُخْرَى حَتَّى ⦗ص: 24⦘ وَقَفَ عَلَيْنَا، فَقَالْ: أَيْ قَوْمُ، أَبْغُونِي شَفْرَةً، قَالَ: قُلْنَا: إِنَّ مَعَنَا مِنَ اللَّحْمِ مَا تَرَى، فَقَالَ: أَبِحَضْرَتِي تَأْكُلُونَ الْغَابَ؟، إِنِّي لَأَحْسَبُكُمْ قَوْمًا لِئَامًا، نَاوِلُونِي الشَّفْرَةَ، فَنَاوَلْنَاهُ الشَّفْرَةَ فَوَجَأَ فِي لَبَّتِهَا، ثُمَّ قَالَ: شَأْنَكُمْ بِهَا، قَالَ: وَأَخَذْنَا فِي الرَّحِيلِ، فَقَالَ ابْنُ جَعْفَرٍ لِخَازِنِهِ: مَا مَعَكَ؟، قَالَ: رِزْمَةُ ثِيَابٍ، وَأَرْبَعُ مِائَةِ دِينَارٍ، قَالَ: اذْهَبْ بِهَا إِلَى الشَّيْخِ الْعُذْرِيِّ، قَالَ: فَذَهَبَ بِهَا فَإِذَا جَارِيَةٌ فِي الْخِبَاءِ، فَقَالَ: يَا هَذِهِ خُذِي هَدِيَّةَ ابْنِ جَعْفَرٍ، قَالَتْ: إِنَّا قَوْمٌ لَا نَقْبَلُ عَلَى قِرًى أَجْرًا، قَالَ: فَجَاءَ إِلَى ابْنِ جَعْفَرٍ فَأَخْبَرَهُ، فَقَالَ: عُدْ إِلَيْهَا، فَإِنْ هِيَ قَبِلَتْ، وَإِلَّا فَارْمِ بِهَا عَلَى بَابِ الْخَيْمَةِ، فَعَاوَدَهَا، فَقَالَتِ: اذْهَبْ عَنَّا بَارَكَ اللَّهُ فِيكَ، فَإِنَّا قَوْمٌ لَا نَقْبَلُ عَلَى قِرَانَا أَجْرًا، فَوَاللَّهِ لَئِنْ جَاءَ شَيْخِي فَرَآكَ هَاهُنَا، لَتَلْقَيَنَّ مِنْهُ أَذًى، قَالَ: فَرَمَى بِالرِّزْمَةِ وَالصُّرَّةِ عَلَى بَابِ الْخِبَاءِ، ثُمَّ ارْتَحَلْنَا فَمَا سِرْنَا إِلَّا قَلِيلًا إِذَا نَحْنُ بِشَيْءٍ يَرْفَعُهُ السَّرَابُ مَرَّةً وَيَضَعُهُ أُخْرَى فَلَمَّا دَنَا مِنَّا إِذَا نَحْنُ بِالشَّيْخِ الْعُذْرِيِّ وَمَعَهُ الصُّرَّةُ وَالرِّزْمَةُ، فَرَمَى بِذَلِكَ إِلَيْنَا ثُمَّ وَلَّى مُدْبِرًا، فَجَعَلْنَا نَنْظُرُ فِي قَفَاهُ هَلْ يَلْتَفِتُ؟ فَهَيْهَاتَ، قَالَ: فَكَانَ ابْنُ جَعْفَرٍ يَقُولُ: مَا غَلَبَنَا بِالسَّخَاءِ إِلَّا الشَّيْخُ الْعُذْرِيُّ
১৫ - আব্বাস আল-আনবারী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ওয়াহাব ইবন জারীর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি জুওয়াইরিয়াহ ইবন আসমা থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবন জাফরের মুক্তদাস বুদাইহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আবদুল্লাহ ইবন জাফরের সাথে তাঁর কোনো এক সফরে বের হলাম। আমরা পশমের তৈরি একটি তাঁবুর পাশে অবতরণ করলাম। তিনি বলেন: হঠাৎ দেখলাম তাঁবুর মালিক বনূ উধরা গোত্রের এক ব্যক্তি। তিনি বলেন: আমরা যখন এ অবস্থায় ছিলাম, হঠাৎ এক বেদুইনকে আসতে দেখলাম যে একটি উটনী হাঁকিয়ে আনছিল। সে আমাদের কাছে এসে থামল। অতঃপর সে বলল: হে লোকসকল,‌‌ আমাকে একটি ছুরি দিন। আমরা তাকে ছুরি দিলাম, সে উটনীর গলায় আঘাত করল এবং বলল: এটি তোমাদের জন্য। তিনি বলেন: আমরা দ্বিতীয় দিনও অবস্থান করলাম, আর হঠাৎ আমরা দেখলাম সেই উধরী বৃদ্ধ আরেকটি উটনী হাঁকিয়ে আনছে। সে বলল: হে লোকসকল, আমাকে একটি ছুরি দিন। তিনি বলেন: আমরা বললাম: আমাদের কাছে যে পরিমাণ গোশত আছে তা তো আপনি দেখছেনই। তিনি বলেন: সে বলল: আমার উপস্থিতিতে কি তোমরা বাসি গোশত খাবে? আমাকে একটি ছুরি দাও। আমরা তাকে ছুরি দিলাম, সে উটনীর গলায় আঘাত করল। অতঃপর বলল: এটি তোমাদের জন্য। আমরা তৃতীয় দিনও অবস্থান করলাম। হঠাৎ দেখলাম সেই উধরী বৃদ্ধ আরেকটি উটনী হাঁকিয়ে আনছে এবং ⦗পৃষ্ঠা: ২৪⦘ আমাদের নিকট এসে থামল। সে বলল: হে লোকসকল, আমাকে একটি ছুরি দিন। তিনি বলেন: আমরা বললাম: আমাদের কাছে যে পরিমাণ গোশত আছে তা তো আপনি দেখছেনই। সে বলল: আমার উপস্থিতিতে কি তোমরা বাসি গোশত খাবে? আমি তো তোমাদেরকে কৃপণ লোক মনে করছি। আমাকে ছুরি দাও। আমরা তাকে ছুরি দিলাম, সে উটনীর গলায় আঘাত করল। অতঃপর বলল: এটি তোমাদের জন্য। তিনি বলেন: আমরা এবার রওনা হওয়ার প্রস্তুতি নিলাম। তখন ইবন জাফর তাঁর খাজাঞ্চিকে বললেন: তোমার সাথে কী আছে? সে বলল: এক পোটলা কাপড় এবং চারশ দিনার। তিনি বললেন: এগুলো নিয়ে সেই উধরী বৃদ্ধের কাছে যাও। তিনি বলেন: সে এগুলো নিয়ে গেল। সেখানে তাঁবুর ভেতরে এক যুবতীকে পাওয়া গেল। সে বলল: ওহে, ইবন জাফরের এই উপহার গ্রহণ করো। সে বলল: আমরা এমন এক জাতি যারা মেহমানদারির বদলে কোনো বিনিময় গ্রহণ করি না। তিনি বলেন: সে ইবন জাফরের কাছে ফিরে এসে তাঁকে বিষয়টি জানাল। তিনি বললেন: তার কাছে ফিরে যাও। যদি সে গ্রহণ করে (তবে ভালো), অন্যথায় তাঁবুর দরজায় এগুলো ফেলে দাও। সে পুনরায় তার কাছে গেল। সে বলল: আমাদের এখান থেকে চলে যাও, আল্লাহ তোমার মঙ্গল করুন। আমরা এমন লোক যারা মেহমানদারির জন্য কোনো বিনিময় গ্রহণ করি না। আল্লাহর কসম, যদি আমার মুরুব্বি আসেন এবং তোমাকে এখানে দেখেন, তবে তুমি তাঁর পক্ষ থেকে কষ্টের সম্মুখীন হবে। তিনি বলেন: সে কাপড়ের পোটলা ও টাকার থলিটি তাঁবুর দরজায় ফেলে দিল। তারপর আমরা রওনা হলাম। আমরা অল্প কিছুদূরই গিয়েছিলাম, হঠাৎ মরীচিকার মধ্যে কোনো কিছু একবার উঠতে আর একবার নামতে দেখলাম। যখন সেটি আমাদের নিকটবর্তী হলো, দেখলাম সেই উধরী বৃদ্ধ, তার কাছে সেই থলি ও পোটলাটি রয়েছে। সে সেগুলো আমাদের দিকে ছুড়ে মারল এবং পিঠ ফিরিয়ে চলে গেল। আমরা তার পিঠের দিকে তাকাতে থাকলাম যে সে ফিরে তাকায় কি না। কিন্তু কোথায় কী! (সে আর ফিরে তাকাল না)। তিনি বলেন: ইবন জাফর বলতেন: দানশীলতায় সেই উধরী বৃদ্ধ ছাড়া আর কেউ আমাদের পরাজিত করতে পারেনি।
(খণ্ড: ১) কিরাদ দাইফ লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ২৪)
16 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ، حَدَّثَنِي يُوسُفُ بْنُ الْحَكَمِ الرَّقِّيُّ، حَدَّثَنَا الْفَيَّاضُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْقُرَشِيُّ، عَنْ رَجُلٍ مِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ قَالَ: خَرَجَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ حَاجًّا حَتَّى إِذَا كَانَ بِبَعْضِ الطَّرِيقِ تَقَدَّمَ ثِقْلَهُ عَلَى رَاحِلَةٍ لَهُ فَانْتَهَى إِلَى أَعْرَابِيَّةٍ جَالِسَةٍ عَلَى بَابِ ⦗ص: 25⦘ الْخَيْمَةِ، فَنَزَلَ عَنْ رَاحِلَتِهِ يَنْتَظِرُ أَصْحَابَهُ، فَلَمَّا رَأَتْهُ قَدْ نَزَلَ قَامَتْ إِلَيْهِ، فَقَالَتْ:‌‌ إِلَيَّ بَوَّأَكَ اللَّهُ مَسَاكِنَ الْأَبْرَارِ، قَالَ: فَأُعْجِبَ بِمَنْطِقِهَا، فَتَحَوَّلَ إِلَى بَابِ الْخَيْمَةِ، فَأَلْقَتْ لَهُ وِسَادَةً مِنْ أَدَمٍ، فَجَلَسَ عَلَيْهَا، ثُمَّ قَامَتْ إِلَى عُنَيْزَةٍ لَهَا فِي كُسَرِ الْخَيْمَةِ، فَمَا شَعَرَ حَتَّى قَدَّمَتْ مِنْهَا عُضْوًا فَجَعَلَ يَنْهَسُ، وَأَقْبَلَ أَصْحَابُهُ، فَلَمَّا رَأَوْهُ نَزَلُوا، فَأَتَتْهُمْ بِالَّذِي بَقِيَ عِنْدَهَا مِنَ الْعَنْزِ، فَطَعِمُوا، وَأَخْرَجُوا سُفَرَهُمْ، فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ: مَا بِنَا إِلَى طَعَامِكُمْ مِنْ حَاجَةٍ سَائِرَ الْيَوْمِ، فَلَمَّا أَرَادَ أَنْ يَرْتَحِلَ دَعَا مَوْلَاهُ الَّذِي كَانَ يَلِي نَفَقَتَهُ، فَقَالَ: هَلْ مَعَكَ مِنْ نَفَقَتِنَا شَيْءٌ؟، قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: وَكَمْ هِيَ؟، قَالَ: أَلْفُ دِينَارٍ، قَالَ: أَعْطِهَا خَمْسَمِائَةِ دِينَارٍ، وَاحْتَبِسْ لِنَفْسِكَ مَا يَبْقَى، قَالَ: فَدَفَعَهُ إِلَيْهَا، فَأَبَتْ أَنْ تَقْبَلَ، فَلَمْ يَزَلْ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ يُكَلِّمُهَا وَهِيَ تَقُولُ: إِنِّي وَاللَّهِ أَكْرَهُ عَذْلَ بَعْلِي، فَطَلَبَ إِلَيْهَا عَبْدُ اللَّهِ حَتَّى قَبِلَتْ، فَوَدَّعَهَا وَارْتَحَلَ هُوَ وَأَصْحَابُهُ، فَلَمْ يَلْبَثْ أَنِ اسْتَقْبَلَهُ أَعْرَابِيُّ يَسُوقُ إِبِلًا لَهُ، فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ: مَا أُرَاهُ إِلَّا الْمَحْذُورَ، فَلَوِ انْطَلَقَ بَعْضُكُمْ فَعَلِمَ لَنَا عِلْمَهُ ثُمَّ لَحِقَنَا، فَانْطَلَقَ بَعْضُ أَصْحَابِهِ رَاجِعًا مُتَنَكِّرًا حَتَّى نَزَلَ قَرِيبًا مِنْهُ، فَلَمَّا أَبْصَرْتِ الْمَرْأَةُ الْأَعْرَابِيَّ مُقْبِلًا قَامَتْ إِلَيْهِ تَغْدَاهُ، وَتَقُولُ بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي:

[البحر الطويل]

 

تَوَسَّمْتُهُ لَمَّا رَأَيْتُ مَهَابَةً … عَلَيْهِ فَقُلْتُ الْمَرْءُ مِنْ آلِ هَاشِمِ

وَإِلَّا فَمِنْ آلِ الْمُرَارِ فَإِنَّهُمْ … مُلُوكُ مُلُوكٍ مِنْ مُلُوكٍ أَعَاظِمِ

فَقُمْتُ إِلَى عَنْزٍ بَقِيَّةِ أَعْنُزٍ … فَأَذْبَحُهَا فِعْلَ امْرِئٍ غَيْرِ نَادِمِ

فَعَوَّضَنِي عَنْهَا غِنَايَ وَلَمْ تَكُنْ … تُسَاوِي لَحْمُ الْعَنْزِ خَمْسَ دَرَاهِمِ

بِخَمْسٍ مِئِينَ مِنْ دَنَانِيرَ عُوِّضَتْ … مِنَ الْعَنْزِ مَا جَادَتْ بِهِ كَفُّ آدَمِ ⦗ص: 26⦘

فَأَظْهَرَتْ لَهُ الدَّنَانِيرَ وَقَصَّتْ عَلَيْهِ الْقِصَّةَ، فَقَالَ: بِئْسَ لَعَمْرُ اللَّهِ مَعْقِلُ الْأَضْيَافِ أَنْتِ، أَبِعْتِ مَعْرُوفَكِ بِمَا أَرَى مِنَ الْأَحْجَارِ؟، فَقَالَتْ: وَاللَّهِ إِنِّي قَدْ كَرِهْتُ ذَلِكَ وَخِفْتُ الْعَذْلَ، فَقَالَ: يَا هَذِهِ لَمْ تخافِي الْعَارَ، وَخِفْتِ عَذْلَكِ؟، كَيْفَ أَخَذَ الرَّاكِبُ؟، فَأَشَارَتْ لَهُ إِلَى الطَّرِيقِ، قَالَ: وَهَذَا بِعَيْنِ الرَّجُلِ الَّذِي أَرْسَلَهُ عَبْدُ اللَّهِ، فَقَالَ: أَسْرِجِي لِي فَرَسِي، قَالَتْ: تَصْنَعُ مَاذَا؟ قَالَ: أَلْحَقُ الْقَوْمَ فَإِنْ سَلَّمُوا إِلَيَّ مَعْرُوفِي، وَإِلَّا حَارَبْتُهُمْ، قَالَتْ: أَنْشُدُكَ اللَّهَ أَنْ تَفْعَلَ فَتَسُوءَهُمْ، فَأَقْبَلَ عَلَيْهَا ضَرْبًا وَقَالَ: رَكَنْتِ إِلَى إمْحَاقَ الْمَعْرُوفِ، قَالَ: وَرَكِبَ فَرَسَهُ وَأَخَذَ رُمْحَهُ فَجَعَلَ الرَّجُلُ صَاحِبُ عَبْدِ اللَّهِ يَسِيرُ مَعَهُ وَيَقُولُ: مَا أَرَاكَ تُدْرِكُ الْقَوْمَ، فَقَالَ: وَاللَّهِ لَآتِيَنَّهُمْ وَلَوْ بَلَغُوا كَذَا وَكَذَا، فَلَمَّا رَأَى الرَّجُلُ أَنَّهُ غَيْرُ مُنْتَهٍ، قَالَ: عَلَى رِسْلِكَ أَدْرِكِ الْقَوْمَ، وَأَخْبِرْهُمْ خَبَرَكَ، فَتَقَدَّمَ الرَّجُلُ فَأَخْبَرَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ جَعْفَرٍ وَقَصَّ عَلَيْهِ الْقِصَّةَ، فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ: كَانَتْ حَذِرَةً مِنَ الْمَشْئُومِ، قَالَ: وَرَهَقَهُمْ، فَسَلَّمَ عَلَيْهِمْ، فَرَدَّ عَلَيْهِ ابْنُ جَعْفَرٍ، وَأَخْبَرَهُ بِحُسْنِ صَنِيعِ الْمَرْأَةِ، فَقَالَ: وَاللَّهِ مَا رَأَيْتُ ذَلِكَ بِتَمَامِهِ، فَلَمْ يَزَلْ يُكَلِّمُهُ وَسَأَلَهُ فَيَأْبَى، فَأَبَى الْأَعْرَابِيُّ إِلَّا رَدَّهَا، فَلَمَّا رَأَى عَبْدُ اللَّهِ ذَلِكَ قَالَ: لِنَنْظُرْ مَا عِنْدَهُ، مَا نُحِبُّ أَنْ يَرْجِعَ إِلَيْنَا شَيْءٌ قَدْ أَمْضَيْنَاهُ، قَالَ: فَقَامَ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ، فَتَنَحَّى، فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ قَامَ فَرَكِبَ فَرَسَهُ وَأَخْرَجَ قَوْسَهُ وَنَبْلَهُ، فَقَالَ لَهُ عَبْدُ اللَّهِ: مَا هَاتَانِ الرَّكْعَتَانِ؟، فَقَالَ: اسْتَخَرْتُ فِيهِمَا رَبِّي عز وجل فِي مُحَارَبَتِكُمْ، قَالَ: فَعَلَامَ عَزَمَ لَكَ مِنْ ذَلِكَ؟، قَالَ: عَزَمَ لِي عَلَيْهِ رُشْدًا أَنْ تَرْتَجِعُوا أَحْجَارَكُمْ وَتُسْلِمُوا لَنَا مَعْرُوفَنَا قَالَ: فَقَالَ لَهُ عَبْدُ اللَّهِ: نَفْعَلُ، فَأَمَرَ بِالدَّنَانِيرِ فَقُبِضَتْ، فَوَلَّى الْأَعْرَابِيُّ مُنْصَرِفًا، فَقَالَ لَهُ عَبْدُ اللَّهِ: أَلَّا نُزَوِّدُكَ طَعَامًا؟، قَالَ: الْحَيُّ قَرِيبٌ، فَهَلْ مِنْ ⦗ص: 27⦘ حَاجَةٍ؟ قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: وَمَا هِيَ؟، قَالَ: الْمَرْأَةُ تُخْبِرُهَا بِسُوءِ فِعْلِكَ بِنَا، فَاسْتَضْحَكَ الْأَعْرَابِيُّ وَوَلَّى مُنْصَرِفًا، فَقَدِمَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ بَعْدَ ذَلِكَ عَلَى يَزِيدَ بْنِ مُعَاوِيَةَ فَحَدَّثَهُ حَدِيثَ الْأَعْرَابِيِّ، فَقَالَ يَزِيدُ: مَا سَمِعْتُ بِأَعْجَبَ مِنْ هَذَا
১৬ - মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইউসুফ ইবনুল হাকাম আর-রাক্কী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-ফাইয়াদ ইবনে মুহাম্মদ আল-কুরাশী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মদীনার জনৈক ব্যক্তি থেকে, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে জাফর হজ্জের উদ্দেশ্যে বের হলেন। পথিমধ্যে এক স্থানে তিনি তাঁর আসবাবপত্র নিয়ে তাঁর সওয়ারীতে করে অগ্রবর্তী হলেন এবং তাঁবুর দরজায় উপবিষ্ট এক বেদুইন মহিলার নিকট উপস্থিত হলেন। ⦗পৃষ্ঠা: ২৫⦘ তিনি তাঁর সওয়ারী থেকে অবতরণ করে তাঁর সঙ্গীদের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলেন। মহিলাটি যখন তাঁকে অবতরণ করতে দেখল, তখন সে তাঁর দিকে এগিয়ে এল এবং বলল: "আমার নিকট আসুন, আল্লাহ আপনাকে পুণ্যবানদের আবাসে স্থান দান করুন।" বর্ণনাকারী বলেন: তিনি তার কথা শুনে মুগ্ধ হলেন এবং তাঁবুর দরজার দিকে সরে গেলেন। সে তাঁর জন্য একটি চামড়ার বালিশ পেতে দিল, তিনি তাতে বসলেন। অতঃপর সে তাঁবুর এক কোণে থাকা তার একটি ছোট ছাগীর দিকে গেল। তিনি কিছু বুঝে ওঠার আগেই সে তার একটি অংশ (গোশত) পেশ করল এবং তিনি তা খেতে লাগলেন। ইতিমধ্যে তাঁর সঙ্গীরাও চলে এল। যখন তারা তাঁকে দেখল, তারাও অবতরণ করল। সে তার নিকট ছাগীটির যা অবশিষ্ট ছিল তা তাদের জন্য নিয়ে এল এবং তারা আহার করল। তারা তাদের দস্তরখান বের করলে আবদুল্লাহ ইবনে জাফর বললেন: "আজকের বাকি দিন আমাদের তোমাদের খাবারের কোনো প্রয়োজন নেই।" যখন তিনি যাত্রা করার ইচ্ছা করলেন, তখন তাঁর খরচাদির দায়িত্বে নিয়োজিত গোলামকে ডেকে বললেন: "আমাদের খরচের কিছু কি তোমার কাছে আছে?" সে বলল: "হ্যাঁ।" তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: "তা কত?" সে বলল: "এক হাজার দিনার।" তিনি বললেন: "তাকে পাঁচশত দিনার দিয়ে দাও এবং বাকিটা তোমার নিজের জন্য রাখো।" বর্ণনাকারী বলেন: গোলাম তা তাকে দিতে চাইল, কিন্তু সে তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করল। আবদুল্লাহ ইবনে জাফর তার সাথে কথা বলতে থাকলেন, আর সে বলছিল: "আল্লাহর কসম, আমি আমার স্বামীর তিরস্কারকে অপছন্দ করি।" আবদুল্লাহ তার নিকট অনুরোধ করতে থাকলেন যতক্ষণ না সে তা গ্রহণ করল। অতঃপর তিনি তাকে বিদায় জানিয়ে তাঁর সঙ্গীদের নিয়ে যাত্রা করলেন। কিছু সময় অতিবাহিত হওয়ার পর জনৈক বেদুইনের সাথে তাঁর দেখা হলো যে তার উটগুলো হাঁকিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। আবদুল্লাহ বললেন: "আমি তো একে সেই আশঙ্কিত ব্যক্তিই মনে করছি। তোমাদের কেউ যদি ফিরে গিয়ে আমাদের জন্য তার সংবাদ জেনে আসত এবং পরে আমাদের সাথে মিলিত হতো!" তাঁর জনৈক সঙ্গী ছদ্মবেশে ফিরে গেলেন এবং তার নিকটবর্তী এক স্থানে অবস্থান নিলেন। মহিলাটি যখন বেদুইনকে আসতে দেখল, তখন সে তার আপ্যায়নের জন্য এগিয়ে গেল এবং বলতে লাগল, "আপনার জন্য আমার পিতা-মাতা উৎসর্গিত হোক":

[দীর্ঘ ছন্দ]

 

আমি তাঁর মধ্যে গাম্ভীর্য দেখে তাঁকে চিনে নিয়েছিলাম … তাই আমি বললাম: এই ব্যক্তি হাশেম বংশের কেউ হবে।

অন্যথায় সে আল-মুরার বংশের হবে, কারণ তারা … মহান সম্রাটদেরও শ্রেষ্ঠ সম্রাট।

তাই আমি আমার অবশিষ্ট ছাগীগুলোর মধ্য থেকে একটির দিকে গেলাম … এবং কোনো অনুশোচনা ছাড়াই তা যবেহ করলাম।

বিনিময়ে তিনি আমাকে যা দিলেন তা আমাকে অভাবমুক্ত করেছে … অথচ সেই ছাগীর গোশত পাঁচ দিরহামের সমানও ছিল না।

সেই ছাগীর বিনিময়ে তিনি পাঁচশত দিনার প্রতিদান দিয়েছেন … যা কোনো আদমের হাত অকাতরে দান করেছে। ⦗পৃষ্ঠা: ২৬⦘

সে তাকে দিনারগুলো দেখাল এবং পুরো ঘটনা বর্ণনা করল। সে বলল: "আল্লাহর কসম, মেহমানদের আশ্রয়ের জন্য তুমি কতই না মন্দ! তুমি কি তোমার এই সদাচরণকে এই পাথরগুলোর বিনিময়ে বিক্রি করে দিলে যা আমি দেখছি?" সে বলল: "আল্লাহর কসম, আমি তা অপছন্দ করেছিলাম এবং তিরস্কারের ভয় পাচ্ছিলাম।" সে বলল: "হে নারী, তুমি কলঙ্ককে ভয় পেলে না, অথচ আমার তিরস্কারকে ভয় পেলে? আরোহীটি কোন পথ ধরেছে?" সে তাকে পথ দেখিয়ে দিল। বর্ণনাকারী বলেন: আবদুল্লাহ যে ব্যক্তিকে পাঠিয়েছিলেন সে নিজের চোখে তা দেখছিল। সে (স্বামী) বলল: "আমার ঘোড়ায় জিন লাগিয়ে দাও।" স্ত্রী বলল: "আপনি কী করতে চান?" সে বলল: "আমি ওই কওমের সাথে মিলিত হব; যদি তারা আমার সদাচরণ আমাকে ফিরিয়ে দেয়, তবে ভালো, অন্যথায় আমি তাদের সাথে লড়াই করব।" স্ত্রী বলল: "আমি আপনাকে আল্লাহর দোহাই দিয়ে বলছি, আপনি এমন কিছু করবেন না যা তাদের কষ্ট দেয়।" সে তাকে প্রহার করতে উদ্যত হলো এবং বলল: "তুমি পুণ্যকে ধ্বংস করার দিকে ঝুঁকে পড়েছ।" বর্ণনাকারী বলেন: সে তার ঘোড়ায় সওয়ার হলো এবং তার বল্লম নিল। আবদুল্লাহর সঙ্গী তার সাথে চলতে লাগল এবং বলতে লাগল: "আমার মনে হয় না আপনি তাদের নাগাল পাবেন।" সে বলল: "আল্লাহর কসম, আমি অবশ্যই তাদের কাছে পৌঁছাব, তারা যেখানেই যাক না কেন।" যখন লোকটি দেখল যে সে থামবে না, তখন সে বলল: "আপনি শান্ত হোন, আপনি তাদের নাগাল পাবেন, আমি তাদের নিকট আপনার খবর নিয়ে যাচ্ছি।" লোকটি দ্রুত এগিয়ে গিয়ে আবদুল্লাহ ইবনে জাফরকে সব কথা খুলে বলল। আবদুল্লাহ বললেন: "মহিলাটি এই অশুভ ব্যক্তিটি থেকে সতর্কই ছিল।" বর্ণনাকারী বলেন: সে তাদের নিকট পৌঁছে সালাম দিল। ইবনে জাফর সালামের উত্তর দিলেন এবং মহিলার উত্তম আচরণের কথা তাকে জানালেন। সে বলল: "আল্লাহর কসম, আমি একে পূর্ণতা হিসেবে দেখছি না।" তিনি তার সাথে কথা বলতে থাকলেন এবং তাকে অনুরোধ করলেন, কিন্তু সে তা অস্বীকার করল। বেদুইনটি দিনারগুলো ফিরিয়ে দেওয়া ছাড়া আর কিছুই মানতে চাইল না। আবদুল্লাহ যখন দেখলেন অবস্থা এমন, তিনি বললেন: "দেখি সে কী চায়, আমরা এমন কিছু ফেরত নিতে চাই না যা আমরা একবার কার্যকর করে দিয়েছি।" বর্ণনাকারী বলেন: সে তার সামনে থেকে উঠে গিয়ে একপাশে সরে দাঁড়াল এবং দুই রাকাত সালাত আদায় করল। অতঃপর সে উঠে তার ঘোড়ায় সওয়ার হলো এবং তার ধনুক ও তীর বের করল। আবদুল্লাহ তাকে জিজ্ঞাসা করলেন: "এই দুই রাকাত কীসের ছিল?" সে বলল: "আপনাদের সাথে যুদ্ধ করার ব্যাপারে আমি আমার মহান রবের নিকট ইস্তিখারা করেছি।" তিনি বললেন: "এ ব্যাপারে আপনার জন্য কী ফয়সালা হয়েছে?" সে বলল: "আমার জন্য সঠিক পথ হিসেবে এটিই নির্ধারিত হয়েছে যে, আপনারা আপনাদের এই পাথরগুলো ফেরত নেবেন এবং আমাদের সদাচরণ আমাদের জন্য ছেড়ে দেবেন।" আবদুল্লাহ তাকে বললেন: "আমরা তাই করছি।" তিনি দিনারগুলো ফিরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিলেন এবং সেগুলো গ্রহণ করা হলো। বেদুইন যখন ফিরে যাচ্ছিল, আবদুল্লাহ তাকে বললেন: "আমরা কি আপনাকে কিছু খাবার দেব না?" সে বলল: "বসতি কাছেই আছে।" অতঃপর সে জিজ্ঞাসা করল: "আপনাদের কোনো ⦗পৃষ্ঠা: ২৭⦘ প্রয়োজন আছে কি?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ।" সে জিজ্ঞাসা করল: "সেটি কী?" তিনি বললেন: "মহিলাটিকে আমাদের সাথে আপনার এই মন্দ ব্যবহারের কথা বলবেন।" বেদুইনটি হেসে উঠল এবং প্রস্থান করল। পরবর্তীতে আবদুল্লাহ ইবনে জাফর ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়ার নিকট উপস্থিত হয়ে সেই বেদুইনের কাহিনী বর্ণনা করলেন। ইয়াজিদ বললেন: "আমি এর চেয়ে বিস্ময়কর আর কিছু শুনিনি।"
(খণ্ড: ১) কিরাদ দাইফ লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ২৭)
17 - أَخْبَرَنِي أَبُو زَيْدٍ النُّمَيْرِيُّ، أَخْبَرَنِي أَبُو عَاصِمٍ النَّبِيلُ، أَخْبَرَنِي أَبِي قَالَ: قَالَ قَيْسُ بْنُ سَعْدٍ: تَمَنَّيْتُ أَنْ أَكُونَ فِي حَالِ رَجُلٍ رَأَيْتُهُ، أَقْبَلْنَا مِنَ الشَّامِ فَإِذَا نَحْنُ بِخِبَاءٍ، فَقُلْنَا: لَوْ نَزَلْنَا هَاهُنَا، فَإِذَا امْرَأَةٌ فِي الْخِبَاءِ، فَلَمْ يَلْبَثْ أَنْ جَاءَ رَجُلٌ بِذَوْدٍ لَهُ، فَقَالَ: مَنْ هَؤُلَاءِ؟ قَالَتْ: قَوْمٌ نَزَلُوا بِكَ،‌‌ فَجَاءَ بِنَاقَةٍ، فَضَرَبَ عُرْقُوبَيْهَا، ثُمَّ قَالَ: دُونَكُمْ، فَانْحَرُوهَا، قَالَ: فَنَحَرْنَاهَا فَأَصَبْنَا مِنْ أَطْيَابِهَا، فَلَمَّا كَانَ مِنَ الْغَدِ جَاءَ بِأُخْرَى، فَضَرَبَ عُرْقُوبَيْهَا، وَقَالَ: يَا هَؤُلَاءِ، انْحَرُوهَا، قَالَ: فَنَحَرْنَاهَا، فَقُلْنَا: اللَّحْمُ عِنْدَنَا كَمَا هُوَ، قَالَ: إِنَّا لَا نُطْعِمُ أَضْيَافَنَا الْغَابَ، قَالَ: فَقُلْتُ لِأَصْحَابِي: إِنَّ هَذَا الرَّجُلَ إِنْ أَقَمْنَا عِنْدَهُ لَمْ يَبْقَ عِنْدَهُ بَعِيرٌ، فَارْتَحِلُوا بِنَا، وَقُلْتُ لِقَيِّمِي: اجْمَعْ مَا عِنْدَكَ، قَالَ: لَيْسَ إِلَّا أَرْبَعُ مِائَةِ دِرْهَمٍ، قُلْتُ: هَاتِهَا وَهَاتِ كِسْوَتِي، فَجَمَعْنَاهَا، فَقُلْتُ: بَادِرُوهُ، فَدَفَعْنَاهُ إِلَى امْرَأَتِهِ ثُمَّ سِرْنَا، فَلَمْ نَلْبَثْ أَنْ رَأَيْنَا شَخْصًا، فَقُلْتُ: مَا هَذَا؟، قَالُوا: لَا نَدْرِي، فَدَنَا فَإِذَا رَجُلٌ عَلَى فَرَسٍ يَجُدُّ رُمْحَهُ، فَإِذَا صَاحِبُنَا، فَقُلْتُ: وَاسَوْأَتَاهُ، اسْتَقَلَّ وَاللَّهِ مَا أَعْطَيْنَاهُ، قَالَ: فَدَنَا فَقَالَ: دُونَكُمْ، مَتَاعَكُمْ فَخُذُوهُ، فَقُلْتُ: وَاللَّهِ مَا كَانَ إِلَّا مَا رَأَيْتَ، وَلَقَدْ جَمَعْنَا مَا كَانَ عِنْدَنَا، قَالَ: وَاللَّهِ إِنِّي لَمْ أَذْهَبْ حَيْثُ تَذْهَبُونَ فَخُذُوهُ، قُلْنَا: فَلَا نَأْخُذُهُ، قَالَ: وَاللَّهِ لَأَمِيلَنَّ عَلَيْكُمْ بِرُمْحِي مَا بَقِيَ مِنْكُمْ رَجُلٌ أَوْ تَأْخُذُوهُ، قَالَ: فَأَخَذْنَاهُ ⦗ص: 28⦘ فَوَلَّى وَقَالَ: إِنَّا قَوْمٌ لَا نَبِيعُ الْقِرَى
১৭ - আবু যাইদ আন-নুমাইরি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, আবু আসিম আন-নাবিল আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, আমার পিতা আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: কাইস ইবনে সাদ বলেছেন: আমি এমন একজন ব্যক্তির অবস্থায় থাকার আকাঙ্ক্ষা করেছিলাম যাকে আমি দেখেছিলাম। আমরা শাম (সিরিয়া) থেকে আসছিলাম, এমতাবস্থায় আমরা একটি তাঁবুর কাছে পৌঁছালাম। আমরা বললাম: আমরা যদি এখানে নামতাম। তখন তাঁবুতে একজন নারী ছিলেন। কিছুক্ষণ পরেই এক ব্যক্তি তার কিছু উট নিয়ে আসলেন। তিনি বললেন: এরা কারা? তিনি (নারী) বললেন: এক দল লোক আপনার এখানে মেহমান হয়ে এসেছেন। অতঃপর তিনি একটি উটনী নিয়ে আসলেন এবং তার পায়ের নলি কেটে দিলেন, তারপর বললেন: এই যে নিন, এটি যবেহ করুন। তিনি (কাইস) বলেন: অতঃপর আমরা সেটি যবেহ করলাম এবং তার উত্তম অংশগুলো থেকে আহার করলাম। যখন পরের দিন হলো, তিনি অন্য একটি উটনী নিয়ে আসলেন এবং তার পায়ের নলি কেটে দিলেন এবং বললেন: হে লোকসকল, এটি যবেহ করুন। তিনি বলেন: আমরা সেটি যবেহ করলাম। আমরা বললাম: গোশত তো আমাদের কাছে আগের মতোই পর্যাপ্ত আছে। তিনি বললেন: আমরা আমাদের মেহমানদের বাসি গোশত খাওয়াই না। তিনি (কাইস) বলেন: তখন আমি আমার সঙ্গীদের বললাম: আমরা যদি এই ব্যক্তির কাছে অবস্থান করি, তবে তার কাছে কোনো উটই অবশিষ্ট থাকবে না; সুতরাং আমাদের নিয়ে যাত্রা করুন। আমি আমার খাদেমকে বললাম: তোমার কাছে যা আছে তা একত্র করো। সে বলল: চারশ দিরহাম ছাড়া আর কিছুই নেই। আমি বললাম: সেটি নিয়ে এসো এবং আমার পোশাকটিও নিয়ে এসো। আমরা সেগুলো একত্র করলাম। আমি বললাম: তার কাছে দ্রুত যাও। অতঃপর আমরা সেগুলো তার স্ত্রীর কাছে দিয়ে যাত্রা করলাম। কিছুক্ষণ পরেই আমরা একজনকে দেখতে পেলাম। আমি বললাম: এটি কে? তারা বলল: আমরা জানি না। সে নিকটবর্তী হলো, দেখা গেল এক ব্যক্তি ঘোড়ার পিঠে চড়ে তার বল্লম উদ্যত করে আসছেন। তিনি আমাদের সেই মেজবান। আমি বললাম: কী লজ্জার বিষয়! আল্লাহর কসম, আমরা তাকে যা দিয়েছি তা তিনি সামান্য মনে করেছেন। তিনি বলেন: অতঃপর তিনি নিকটবর্তী হয়ে বললেন: এই যে নিন, আপনাদের মালপত্র নিয়ে নিন। আমি বললাম: আল্লাহর কসম, আপনার যা দেখা ছিল তার বাইরে আর কিছুই ছিল না, আমাদের কাছে যা ছিল আমরা তা একত্র করেছিলাম। তিনি বললেন: আল্লাহর কসম, আপনারা যা ভেবেছেন আমি সেই উদ্দেশ্যে আসিনি, সুতরাং এটি গ্রহণ করুন। আমরা বললাম: আমরা এটি নেব না। তিনি বললেন: আল্লাহর কসম, হয় আপনারা এটি নেবেন, না হয় আমি আপনাদের ওপর আমার বল্লম দিয়ে আক্রমণ করব যতক্ষণ না আপনাদের একজন লোকও অবশিষ্ট থাকে। তিনি (কাইস) বলেন: অতঃপর আমরা সেটি নিয়ে নিলাম। ⦗পৃষ্ঠা: ২৮⦘ তারপর তিনি পিঠ ফিরিয়ে চলে গেলেন এবং বললেন: আমরা এমন এক জাতি যারা মেহমানদারি বিক্রি করি না।
(খণ্ড: ১) কিরাদ দাইফ লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ২৮)
18 - وَأَخْبَرَنِي أَبُو زَيْدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ حَدَّثَنَا جُوَيْرِيَةُ بْنُ أَسْمَاءَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُمَا قَالَ:‌‌ كَانَ قَيْسُ بْنُ سَعْدٍ يَسْتَدِينُ وَيُطْعِمُهُمْ، فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُمَا: إِنْ تَرَكْنَا هَذَا الْفَتَى أَهْلَكَ مَالَ أَبِيهِ، فَمَشَيْنَا فِي النَّاسِ، فَصَلَّى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَوْمًا بِأَصْحَابِهِ، فَقَامَ سَعْدُ بْنُ عُبَادَةَ خَلْفَهُ فَقَالَ: مَنْ يَعْذِرُنِي مِنِ ابْنِ أَبِي قُحَافَةَ وَابْنِ الْخَطَّابِ، يُبَخِّلَانِ عَلَيَّ ابْنِي؟
১৮ - এবং আবু যাইদ আমাকে খবর দিয়েছেন, আবু আসিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জুওয়াইরিয়াহ বিন আসমা (আল্লাহ তাআলা তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: কাইস বিন সাদ ঋণ গ্রহণ করতেন এবং তাঁদের আহার করাতেন। তখন আবু বকর ও উমর (আল্লাহ তাআলা তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বললেন: "যদি আমরা এই যুবককে এভাবে ছেড়ে দিই তবে সে তার পিতার সম্পদ বিনষ্ট করে ফেলবে।" অতঃপর আমরা লোকজনের মাঝে বিচরণ করলাম। একদিন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর সাহাবীদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন। তখন সাদ বিন উবাদাহ তাঁর পেছনে দাঁড়িয়ে বললেন: "আবু কুহাফার পুত্র এবং খাত্তাবের পুত্রের ব্যাপারে কে আমাকে ওজর প্রদান করবে? তাঁরা আমার পুত্রকে আমার বিরুদ্ধে কৃপণ বানাচ্ছেন।"
(খণ্ড: ১) কিরাদ দাইফ লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ২৮)
19 - حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ صَالِحٍ الْقُرَشِيُّ، أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ الْأَسْلَمِيُّ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ سَهْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ، قَالَ: أَقْبَلَ أَبُو عُبَيْدَةَ وَمَعَهُ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ فَقَالَ لِقَيْسِ بْنُ سَعْدٍ: عَزَّمْتُ عَلَيْكَ أَلَّا تَنْحَرَ، فَلَمَّا نَحَرَ وَبَلَغَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: ‌‌«إِنَّهُ فِي بَيْتِ جُودٍ» يَعْنِي فِي غَزْوَةِ الْخَبَطِ
১৯ - মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-কুরাশি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ বিন উমর আল-আসলামি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া বিন সাহল তাঁর পিতা থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি রাফে বিন খাদিজ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আবু উবাইদাহ অগ্রসর হলেন এবং তাঁর সাথে উমর ইবনুল খাত্তাব (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) ছিলেন। তিনি কায়েস বিন সা'দকে বললেন: আমি তোমাকে দৃঢ়ভাবে বলছি যেন তুমি (উট) জবাই না করো। অতঃপর যখন তিনি জবাই করলেন এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এই সংবাদ পৌঁছাল, তখন তিনি বললেন: «নিশ্চয়ই সে এক দানশীল পরিবারের সন্তান» অর্থাৎ খবাত যুদ্ধের ঘটনায়।
(খণ্ড: ১) কিরাদ দাইফ লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ২৮)
20 - حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ جَرِيرِ بْنِ حَازِمٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، قَالَ: ⦗ص: 29⦘ كَانَ أَهْلُ الصُّفَّةِ‌‌ إِذَا أَمْسَوُا انْطَلَقَ الرَّجُلُ بِالرَّجُلِ، وَالرَّجُلُ بِالرَّجُلَيْنِ، وَالرَّجُلُ بِالْخَمْسَةِ، فَأَمَّا سَعْدُ بْنُ عُبَادَةَ فَإِنَّهُ كَانَ يَنْطَلِقُ بِثَمَانِينَ كُلَّ لَيْلَةٍ "
২০ - আব্দুর রহমান ইবনে সালিহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু উসামা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জারীর ইবনে হাযিম থেকে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনে সীরীন থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ⦗পৃষ্ঠা: ২৯⦘ আহলে সুফফার রীতি ছিল এই যে, যখন সন্ধ্যা হতো, তখন কোনো ব্যক্তি একজন লোককে সাথে নিয়ে যেতেন, কোনো ব্যক্তি দুইজন লোককে, আবার কোনো ব্যক্তি পাঁচজন লোককে নিয়ে যেতেন। আর সা'দ ইবনে উবাদার অবস্থা ছিল এই যে, তিনি প্রতি রাতে আশি জন লোককে সাথে করে নিয়ে যেতেন।"
(খণ্ড: ১) কিরাদ দাইফ লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ২৯)
21 - حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ مُحَمَّدُ بْنُ عِمْرَانَ بْنِ أَبِي لَيْلَى، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، عَنِ الْأَوْزَاعِيِّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، قَالَ: كَانَتْ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ سَعْدِ بْنِ عُبَادَةَ جَفْنَةٌ مِنْ ثَرِيدٍ فِي كُلِّ يَوْمٍ، تَدُورُ مَعَهُ أَيْنَمَا دَارَ مِنْ نِسَائِهِ، وَكَانَ إِذَا انْصَرَفَ مِنْ صَلَاةٍ مَكْتُوبَةٍ قَالَ: ‌‌«اللَّهُمَّ ارْزُقْنِي مَالًا أَسْتَعِينُ بِهِ عَلَى فِعَالِي، فَإِنَّهُ لَا يُصْلِحُ الْفِعَالَ إِلَّا الْمَالُ»
২১ - আবু আব্দুর রহমান মুহাম্মাদ বিন ইমরান বিন আবি লায়লা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ঈসা বিন ইউনুস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আওযাঈ থেকে, তিনি ইয়াহইয়া বিন আবি কাসীর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সাদ বিন উবাদাহর পক্ষ থেকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য প্রতিদিন এক পেয়ালা সারীদ (গোশত ও রুটির খাবার) আসত, তিনি তাঁর স্ত্রীদের মাঝে যেখানেই থাকতেন সেটি তাঁর সাথেই সেখানে যেত। আর তিনি যখনই কোনো ফরয সালাত শেষ করতেন তখন বলতেন: «হে আল্লাহ, আমাকে এমন সম্পদ দান করুন যা দ্বারা আমি আমার কর্মসমূহে সাহায্য পেতে পারি, কেননা সম্পদ ছাড়া কর্মসমূহ সঠিক হয় না»
(খণ্ড: ১) কিরাদ দাইফ লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ২৯)
22 - حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبَّادِ بْنِ مُوسَى، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: أَدْرَكْتُ سَعْدَ بْنَ عُبَادَةَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، وَهُوَ عَلَى أُطُمِهِ وَهُوَ يُنَادِي:‌‌ مَنْ أَحَبَّ شَحْمًا وَلَحْمًا فَلْيَأْتِ سَعْدَ بْنَ عُبَادَةَ، ثُمَّ أَدْرَكْتُ ابْنَهُ بِمِثْلِ ذَلِكَ يَدْعُو بِهِ "
২২ - মুহাম্মাদ ইবনে আব্বাদ ইবনে মূসা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু উসামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি সা'দ ইবনে উবাদাহ (আল্লাহ তা'আলা তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-কে পেয়েছি যখন তিনি তাঁর দুর্গের উপরে ছিলেন এবং তিনি উচ্চৈঃস্বরে ঘোষণা করছিলেন: "যে ব্যক্তি চর্বি ও গোশত পছন্দ করে, সে যেন সা'দ ইবনে উবাদাহর নিকট আসে।" অতঃপর আমি তাঁর পুত্রকেও অনুরূপ আহ্বান করতে দেখেছি।
(খণ্ড: ১) কিরাদ দাইফ লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ২৯)
23 - حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ صَالِحٍ الْقُرَشِيُّ، أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نَافِعٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: مَرَّ بِي ابْنُ عُمَرَ عَلَى هَذِهِ الْأُطُمِ يُخْبِرُ ابْنَ سَعْدٍ، قَالَ: يَا نَافِعُ هَذَا أُطُمُ دُلَيْمٌ ⦗ص: 30⦘ جَدُّهُ، وَكَانَ مُنَادِيهِ يُنَادِي يَوْمًا فِي كُلِّ حَوْلٍ:‌‌ مَنْ أَرَادَ الشَّحْمَ وَاللَّحْمَ فَلْيَأْتِ دَارَ دُلَيْمٍ، فَمَاتَ دُلَيْمٌ فَنَادَى مُنَادِي عُبَادَةَ مِثْلَ ذَلِكَ، ثُمَّ مَاتَ عُبَادَةُ فَنَادَى مُنَادِي سَعْدٍ مِثْلَ ذَلِكَ، ثُمَّ قَدْ رَأَيْتُ قَيْسَ بْنَ عُبَادَةَ وَكَانَ أَجْوَدَ النَّاسِ "
২৩ - মুহাম্মদ ইবন সালিহ আল-কুরাশী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবন উমর আমাকে অবহিত করেছেন, আবদুল্লাহ ইবন নাফি‘ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ইবন উমর এই দুর্গগুলোর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় ইবন সা’দকে অবহিত করে বলছিলেন, হে নাফি‘, এটি দুলাইমের দুর্গ ⦗পৃষ্ঠা: ৩০⦘ যিনি তার দাদা; তার ঘোষক প্রতি বছর একদিন ঘোষণা করত: "যে ব্যক্তি চর্বি ও গোশত চায়, সে যেন দুলাইমের বাড়িতে আসে।" এরপর দুলাইম মারা গেলে উবাদাহর ঘোষক অনুরূপ ঘোষণা দিত, অতঃপর উবাদাহ মারা গেলে সা’দের ঘোষক অনুরূপ ঘোষণা দিত। এরপর আমি কাইস ইবন উবাদাহকে দেখেছি, তিনি ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বড় দানবীর।
(খণ্ড: ১) কিরাদ দাইফ লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ৩০)
24 - حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمُظَفَّرِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ سَعِيدِ بْنِ سَعْدِ بْنِ عُبَادَةَ، أَنَّ دُلَيْمًا، كَانَ يُهْدِي إِلَى مَنَاةَ، يَعْنِي صَنَمًا، كُلَّ عَامٍ عَشْرَ بَدَنَاتٍ ثُمَّ كَانَ عُبَادَةُ يُهْدِيهَا، ثُمَّ كَانَ سَعْدُ بْنُ عُبَادَةَ، فَلَمَّا كَانَ قَيْسُ بْنُ سَعْدٍ فِي الْإِسْلَامِ قَالَ:‌‌ لَأُهْدِيَنَّهَا إِلَى الْكَعْبَةِ فَكَانَ يُهْدِيهَا "
২৪ - মুহাম্মদ ইবনু সালেহ আমাকে বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ আল-মুজাফফারি আমাকে বর্ণনা করেছেন, আবদুল মালিক ইবনু আবদুল আজিজ ইবনু সাঈদ ইবনু সা'দ ইবনু উবাদাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, দুলাইম প্রতি বছর মানাতের উদ্দেশ্যে অর্থাৎ একটি মূর্তির উদ্দেশ্যে দশটি উট উপহার হিসেবে পাঠাতেন। এরপর উবাদাহ তা পাঠাতেন, তারপর সা'দ ইবনু উবাদাহ। অতঃপর যখন ইসলামে কায়েস ইবনু সা'দ আসলেন, তিনি বললেন: "আমি অবশ্যই এগুলো কাবার উদ্দেশ্যে পাঠাব।" অতঃপর তিনি তা পাঠাতেন।
(খণ্ড: ১) কিরাদ দাইফ লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ৩০)
25 - حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ، حَدَّثَنِي الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدٍ، سَمِعْتُ أَبَا بَكْرِ بْنَ عَيَّاشٍ، قَالَ: قَالَ رَجُلٌ لِحَاتِمٍ: هَلِ فِي الْعَرَبِ أَجْوَدُ مِنْكَ؟، قَالَ:‌‌ كُلُّ الْعَرَبِ أَجْوَدُ مِنِّي، ثُمَّ أَنْشَأَ يُحَدِّثُ قَالَ: نَزَلْتُ عَلَى غُلَامٍ مِنَ الْعَرَبِ يَتِيمٍ ذَاتَ لَيْلَةٍ، وَكَانَتْ لَهُ مِائَةٌ مِنَ الْغَنَمِ، فَذَبَحَ لِي مِنْهَا شَاةً، وَأَتَانِي بِهَا فَلَمَّا قَرَّبَ إِلَيَّ دِمَاغَهَا، قُلْتُ: مَا أَطْيَبَ هَذَا الدِّمَاغَ، قَالَ: فَذَهَبَ فَلَمْ يَزَلْ يَأْتِينِي مِنْهُ، حَتَّى قُلْتُ: قَدِ اكْتَفَيْتُ، قَالَ: فَلَمَّا أَصْبَحْنَا فَإِذَا هُوَ قَدْ ذَبَحَ الْمِائَةَ شَاةٍ، وَأَبْقَى لَا شَيْءَ لَهُ، قَالَ الرَّجُلُ: فَقُلْتُ لَهُ: مَا صَنَعْتَ بِهِ؟، قَالَ: وَمَتَى أَبْلُغُ شُكْرَهُ وَلَوْ صَنَعْتُ بِهِ كُلَّ شَيْءٍ؟، قَالَ: عَلَى ذَاكَ، قَالَ: أَعْطَيْتُهُ مِائَةَ نَاقَةٍ مِنْ خِيَارِ إِبِلِي
২৫ - মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন আমাকে বর্ণনা করেছেন, হুসাইন ইবনু মুহাম্মাদ আমাকে বর্ণনা করেছেন, আমি আবু বকর ইবনু আইয়াশকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি হাতিমকে জিজ্ঞেস করল: আরবদের মধ্যে কি আপনার চেয়ে বড় কোনো দাতা আছে? তিনি বললেন:‌‌ সমস্ত আরবই আমার চেয়ে বেশি দাতা। অতঃপর তিনি বর্ণনা করতে শুরু করলেন, তিনি বললেন: এক রাতে আমি আরবদের এক এতিম বালকের অতিথি হলাম। তার একশটি বকরি ছিল। সে আমার জন্য সেখান থেকে একটি বকরি জবেহ করল এবং তা আমার কাছে নিয়ে এল। যখন সে আমার কাছে সেটির মগজ পেশ করল, আমি বললাম: এই মগজটি কতই না সুস্বাদু! তিনি বললেন: অতঃপর সে গেল এবং অনবরত আমার কাছে তা নিয়ে আসতে লাগল, যতক্ষণ না আমি বললাম: আমার জন্য যথেষ্ট হয়েছে। তিনি বললেন: যখন সকাল হলো, দেখা গেল যে সে একশটি বকরিই জবেহ করে ফেলেছে এবং নিজের জন্য কিছুই অবশিষ্ট রাখেনি। লোকটি বলল: আমি তাকে বললাম: আপনি তার সাথে কী করলেন? তিনি বললেন: আমি যা-ই করি না কেন, আমি কি কখনো তার কৃতজ্ঞতা আদায়ের স্তরে পৌঁছাতে পারব? সে বলল: তবুও (আপনি কী দিয়েছেন)? তিনি বললেন: আমি তাকে আমার উটগুলোর মধ্য থেকে বাছাইকৃত একশটি উষ্ট্রী প্রদান করলাম।
(খণ্ড: ১) কিরাদ দাইফ লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ৩০)
26 - حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَعْيَنَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمَرْوَزِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو زَيْدٍ الْأَنْصَارِيُّ، ⦗ص: 31⦘ حَدَّثَنَا عَوْفٌ، عَنِ الْحَسَنِ، أَنَّ رَجُلًا ضَلَّ فَعَوَى لِتَنْبَحَهُ الْكِلَابُ، كَانَتِ‌‌ الْعَرَبُ تُضَيِّفُ أَحْسَنَ مَا يَكُونُ مِنَ الضِّيَافَةِ، فَنَبَحَهُ كَلْبٌ، فَقَصَدَ نَحْوَهُ، حَتَّى انْتَهَى إِلَى الْكَلْبِ، فَخَرَجَ الْكَلْبُ يَسْعَى بَيْنَ يَدَيْهِ حَتَّى انْتَهَى بِهِ إِلَى الْمَوْضِعِ الَّذِي بِهِ مَوْلَاهُ، فَإِذَا شَيْخٌ بِفِنَائِهِ، يَنْتَظِرُ مَا يَجِيءُ بِهِ الْكَلْبُ، فَلَمَّا رَآهُ رَحَّبَ بِهِ، وَأَوْقَدَ نَارًا وَذَبَحَ لَهُ، فَأَكَلَ ثُمَّ حَلَبَ لَهُ فَشَرِبَ، فَلَمَّا شَبِعَ وَرَوِيَ وَدَّ فِي مَنَامٍ فَعَمَدَ إِلَى كِسَاءٍ لَهُ، فَأَلْقَاهُ عَلَيْهِ، وَقَعَدَ الشَّيْخُ يُوقِدُ، فَخَرَجَتِ ابْنَةٌ لِلشَّيْخِ كَالشَّمْسِ فَرَفَعَ الضَّيْفُ رَأْسَهُ فَرَآهَا فَقَالَ الشَّيْخُ: نَمْ، قَالَ: النَّوْمُ لَا يَأْخُذُنِي مَا دُمْتَ قَاعِدًا فَقَامَ الشَّيْخُ وَأَطْفَأَ النَّارَ، فَلَمَّا غَطَّ، قَامَ الضَّيْفُ إِلَى الْجَارِيَةِ فَأَخَذَ بِقَدَمِهَا، قَالَتْ: يَا أَبَتِ، قَالَ: لَبَّيْكِ، فَقَامَ فَرَأَى الْكَلْبَ رَابِضًا وَالْبُهْمَ عَلَى حَالِهَا، وَقَالَتِ: الْكَلْبُ، وَرَجَعَ الضَّيْفُ إِلَى مَضْجَعِهِ، فَدَخَلَ الشَّيْخُ وَقَالَ: نَامِي لَا بَأْسَ عَلَيْكِ، فَنَامَتْ وَعَاوَدَ الشَّيْخُ النَّوْمَ، فَقَالَ الضَّيْفُ: فَزِعَتْ، وَلَوْ عَلِمَتْ لَمْ تَصِحْ، فَعَادَ إِلَيْهَا فَأَخَذَ بِقَدَمِهَا، فَقَالَتْ: يَا أَبَتِ، قَالَ: لَبَّيْكِ، قَالَتِ: الْبُهْمُ، فَصَنَعَ مِثْلَ صُنْعِهِ الْأَوَّلِ، وَصَنَعَ الضَّيْفُ مِثْلَ ذَلِكَ، وَقَالَ الضَّيْفُ فِي نَفْسِهِ: فَزِعَتْ وَأَنَا وَاللَّهِ مِوَاقِعُهَا عَلَى مَا خُيِّلَتْ، فَقَامَ إِلَيْهَا فَأَخَذَ بِقَدَمِهَا فَقَالَتْ: يَا أَبَتِ، قَالَ: لَبَّيْكِ، مَا شَأْنُكِ؟ قَالَتِ: الضَّيْفُ، فَقَعَدَ الشَّيْخُ، وَرَجَعَ الضَّيْفُ إِلَى مَضْجَعِهِ، فَنَكَّسَ الشَّيْخُ طَوِيلًا، ثُمَّ قَالَ: يَا بُنَيَّةُ، أَمَا تَحْمَدِينَ رَبَّكِ إِذَا بَاتَ ضَيْفُكِ شَبْعَانَ رَيَّانَ دَفْآنَ لَا هِمَّةَ لَهُ إِلَّا لِلْبَاهِ فَبَاتَ يَحْرُسُهَا حَتَّى أَصْبَحَ فَفَارَقَهُ وَلَمْ يَكُنْ مِنْهُ إِلَيْهِ شَيْءٌ "
২৬ - ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মদ বিন আ'য়ান আবু আবদুর রহমান আল-মারওয়াজি আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, আবু যায়েদ আল-আনসারী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, ⦗পৃষ্ঠা: ৩১⦘ আউফ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন হাসান (রাহ.) থেকে যে, এক ব্যক্তি পথ হারিয়ে ফেলল, অতঃপর সে কুকুরের মতো আওয়াজ করল যেন কুকুরগুলো তাকে দেখে ঘেউ ঘেউ করে; কারণ আরবরা সর্বোত্তম আতিথেয়তা প্রদান করত। তখন একটি কুকুর তাকে দেখে ঘেউ ঘেউ করল, সে কুকুরটির দিকে অগ্রসর হল এবং কুকুরটির নিকট পৌঁছাল। অতঃপর কুকুরটি বের হয়ে তার সামনে দৌড়ে চলল এবং তাকে সেই স্থানে নিয়ে গেল যেখানে তার মালিক ছিল। সেখানে পৌঁছে সে দেখল একজন বৃদ্ধ লোক তার আঙিনায় অপেক্ষা করছেন যে কুকুরটি কাকে নিয়ে আসে। যখন তিনি তাকে দেখলেন, তখন তাকে স্বাগত জানালেন, আগুন জ্বালালেন এবং তার জন্য পশু যবেহ করলেন। সে আহার করল, তারপর তিনি তার জন্য দুধ দোহন করলেন এবং সে তা পান করল। যখন সে তৃপ্ত হলো এবং তার তৃষ্ণা মিটল ও ঘুমের ভাব এল, তখন বৃদ্ধ তার একটি চাদর নিলেন এবং তা তার ওপর বিছিয়ে দিলেন। বৃদ্ধ বসে আগুন জ্বালতে থাকলেন। তখন বৃদ্ধের এক কন্যা বের হয়ে এল যে ছিল সূর্যের মতো সুন্দরী। মেহমান মাথা তুলে তাকে দেখল। বৃদ্ধ বললেন: "ঘুমাও।" সে বলল: "আপনি যতক্ষণ বসে আছেন ততক্ষণ আমার চোখে ঘুম আসবে না।" তখন বৃদ্ধ উঠলেন এবং আগুন নিভিয়ে দিলেন। যখন বৃদ্ধের ঘুমের শব্দ পাওয়া গেল, তখন মেহমান মেয়েটির কাছে গেল এবং তার পা ধরল। মেয়েটি বলল: "হে আব্বাজান!" তিনি বললেন: "লাব্বাইক (আমি হাজির)।" তিনি উঠলেন এবং দেখলেন কুকুরটি শুয়ে আছে এবং গবাদি পশুগুলো আগের মতোই আছে। মেয়েটি বলল: "কুকুরটি (জেগেছে)।" তখন মেহমান তার বিছানায় ফিরে গেল। বৃদ্ধ ভেতরে ঢুকলেন এবং বললেন: "ঘুমাও, তোমার কোনো ভয় নেই।" মেয়েটি ঘুমিয়ে পড়ল এবং বৃদ্ধও পুনরায় ঘুমানোর চেষ্টা করলেন। মেহমান মনে মনে বলল: "সে ঘাবড়ে গিয়েছিল, যদি সে জানত তবে চিৎকার করত না।" সে পুনরায় মেয়েটির কাছে গেল এবং তার পা ধরল। সে বলল: "হে আব্বাজান!" তিনি বললেন: "লাব্বাইক।" সে বলল: "গবাদি পশুগুলো (অস্থির হয়েছে)।" তিনি আগের মতোই করলেন এবং মেহমানও তেমনি করল। মেহমান মনে মনে বলল: "সে ঘাবড়ে গিয়েছিল, আল্লাহর কসম! আমি যা কল্পনা করেছি তাতে তার সাথে লিপ্ত হবই।" সে তার কাছে গেল এবং তার পা ধরল। সে বলল: "হে আব্বাজান!" তিনি বললেন: "লাব্বাইক, তোমার কী হয়েছে?" সে বলল: "মেহমান।" তখন বৃদ্ধ বসলেন এবং মেহমান তার বিছানায় ফিরে গেল। বৃদ্ধ দীর্ঘক্ষণ মাথা নিচু করে রইলেন, তারপর বললেন: "হে বৎস! তুমি কি তোমার রবের প্রশংসা করবে না যে, তোমার মেহমান পেট ভরে খেয়ে, তৃষ্ণা মিটিয়ে এবং উষ্ণতা নিয়ে রাত কাটিয়েছে অথচ কামলালসা ছাড়া তার আর কোনো চিন্তা ছিল না?" অতঃপর তিনি ভোর হওয়া পর্যন্ত মেয়েটিকে পাহারা দিলেন। এরপর মেহমান তাকে ছেড়ে চলে গেল এবং তার পক্ষ থেকে আর কিছু ঘটেনি।
(খণ্ড: ১) কিরাদ দাইফ লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ৩২)
27 - حَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعِيدٍ الْجَوْهَرِيُّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عُمَرَ الْأَسْلَمِيِّ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي حُمَيْدٍ، قَالَ: قَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ لِمُتَمِّمِ بْنِ نُوَيْرَةَ: مَا بَلَغَ مِنْ جَزَعِكَ عَلَى أَخِيكَ؟، قَالَ:‌‌ لَقَدْ مَكَثْتُ سَنَةً مَا أَنَامُ بِلَيْلٍ حَتَّى أُصْبِحُ، وَلَا رَأَيْتُ نَارًا رُفِعَتْ بِلَيْلٍ إِلَّا ظَنَنْتُ أَنَّ نَفْسِي سَتَخْرُجُ، أْذُكُرُ بِهَا نَارَ أَخِي أَنَّهُ كَانَ يَأْمُرُ بِالنَّارِ فَتُوقَدُ حَتَّى يُصْبِحَ مُنَحَافَةَ أَنْ يَبِيتَ ضَيْفٌ قَرِيبًا مِنْهُ، فَمَتَى يَرَ النَّارَ يَأْوِ إِلَى الرَّجُلِ، وَهُوَ بِالضَّيْفِ يَأْتِي مُتَهَجِّدًا أَسَوَّ مِنَ الْقَوْمِ يَقْدَمُ عَلَيْهِمُ الْقَادِمُ لَهُمْ مِنَ السَّفَرِ الْبَعِيدِ، فَقَالَ عُمَرُ: أَكْرِمْ بِهِ "
২৭ - ইব্রাহিম ইবনে সাঈদ আল-জাওহারী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে উমর আল-আসলামী থেকে, মুহাম্মদ ইবনে আবি হুমাইদ আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু মুতাম্মিম ইবনে নুওয়াইরাহকে বললেন: "তোমার ভাইয়ের শোকে তোমার ব্যাকুলতা কতদূর পৌঁছেছে?" তিনি বললেন:‌‌ "আমি একটি বছর এমনভাবে কাটিয়েছি যে, সকাল হওয়া পর্যন্ত রাতে ঘুমাইনি। রাতে যখনই কোনো উঁচুতে প্রজ্বলিত আগুন দেখেছি, তখনই আমার মনে হয়েছে যেন আমার প্রাণবায়ু এখনই বেরিয়ে যাবে; কারণ এর মাধ্যমে আমি আমার ভাইয়ের আগুনের কথা স্মরণ করতাম। তিনি আগুন জ্বালানোর নির্দেশ দিতেন এবং তা সকাল হওয়া পর্যন্ত প্রজ্বলিত থাকত এই ভয়ে যে, কোনো মেহমান হয়তো তার আশেপাশে রাত অতিবাহিত করছে। ফলে যখনই কেউ আগুন দেখত, সে সেই লোকটির (আমার ভাইয়ের) নিকট আশ্রয় নিত। মেহমান আসার সংবাদে তিনি সম্প্রদায়ের অন্য সবার চেয়ে বেশি আনন্দিত হতেন, যেন কোনো দূর প্রবাস থেকে আসা মুসাফির তাদের নিকট ফিরে এসেছে।" তখন উমর (রা.) বললেন: "তিনি কতই না মহানুভব ছিলেন!"
(খণ্ড: ১) কিরাদ দাইফ লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ৩২)
28 - حَدَّثَنَا أَبُو زَكَرِيَّا الْخَثْعَمِيُّ، عَنْ أَيُّوبَ بْنِ عُمَرَ أَبِي سَلَمَةَ الْغِفَارِيِّ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي فَرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ مَسْرُوقٍ، قَالَ: قَالَ مُعَاوِيَةُ:‌‌ أَتْعَبُ النَّاسِ آبِي اللَّحْمِ الْغِفَارِيُّ حَيْثُ يَقُولُ:

[البحر الطويل]

 

لَقَدْ عَلِمَتْ عِرْسِي قُتَيْلَةُ أَنَّنِي … طَوِيلٌ
سَنَا نَارِي بَعِيدٌ خُمُودُهَا

أُدَاخِلُ بِبَيْتِي بِالْفَلَاةِ فَلَمْ أَجِدْ … سِوَى مُثْبِتِ الْأَوْتَادِ شَبَّ وَقُودُهَا

إِذَا لَمْ تَجِدْ إِلَّا الْكَرِيمَةَ لِلْقِرَى … فَرِدْ نَفْسَهَا إِنَّ الْمَنَايَا تُرِيدُهَا "

قَالَ ابْنُ أَبِي الدُّنْيَا: وَزَعَمَ أَبُو حَاتِمٍ، عَنِ الْأَصْمَعِيِّ قَالَ: حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ عُرْوَةَ بْنِ أُذَيْنَةَ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ: قَالَ مُعَاوِيَةُ: أَيُّ أَبْيَاتِ الْعَرَبِ أَكْرَمُ؟ ⦗ص: 33⦘ فَأَنْشَدَ، فَقَالَ: مَا صَنَعْتُمْ شَيْئًا، أَكْرَمُ أَبْيَاتِ الْعَرَبِ هَذِهِ
২৮ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু যাকারিয়া আল-খাশআ'মী, আইয়ুব ইবনে উমর আবু সালামাহ আল-গিফারী থেকে, তিনি ইবরাহীম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবু ফারওয়াহ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আব্দুল মালিক ইবনে মাসরূক থেকে, তিনি বলেন: মুয়াবিয়া বলেছেন:‌‌ "মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিশ্রান্তকারী (অন্যদের জন্য উঁচু আদর্শ স্থাপনকারী) হলেন আবী আল-লাহম আল-গিফারী, যখন তিনি বলেন:

[বাহরুত তবিল]

 

আমার স্ত্রী কুতাইলা নিশ্চয়ই জানে যে আমি … সুউচ্চ আমার আগুনের শিখা এবং তা নিভে যাওয়া অনেক সুদূরপরাহত।

মরুপ্রান্তরে আমি যখন আমার ঘরে প্রবেশ করি, তখন আমি … খুঁটি গেঁড়ে রাখা ব্যক্তি ছাড়া আর কাউকেই পাইনি যার জ্বালানি প্রজ্বলিত হচ্ছে।

অতিথি আপ্যায়নের জন্য যদি তুমি মহামূল্যবান উষ্ট্রী ব্যতীত আর কিছুই না পাও … তবে তা দিয়েই আপ্যায়ন করো; কেননা মৃত্যু তো তাকে খুঁজছেই।"

ইবনে আবিদ দুনিয়া বলেন: আবু হাতেম আল-আসমাঈ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: ইয়াহইয়া ইবনে উরওয়াহ ইবনে উযাইনা আমাকে তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুয়াবিয়া বললেন: আরবদের মধ্যে সবচেয়ে মহৎ বা উদার কবিতা কোনটি? ⦗পৃষ্ঠা: ৩৩⦘ অতঃপর তিনি আবৃত্তি করলেন এবং বললেন: তোমরা তেমন বিশেষ কিছুই করোনি, আরবদের সবচেয়ে মহৎ পঙক্তিমালা হলো এইগুলি।
(খণ্ড: ১) কিরাদ দাইফ লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ৩৩)
29 - حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قُرَيْبٍ الْبَاهِلِيُّ، حَدَّثَنِي عَمِّي، حَدَّثَنِي صَقرُ بْنُ حَبِيبٍ، قَالَ: كَانَتْ مَائِدَةُ عَبْدِ الْأَعْلَى بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَامِرِ بْنِ كُرَيْزٍ كُلَّ يَوْمٍ خَمْسَ عَشْرَةَ قَفِيزًا بِمَا يُصْلِحُهَا مِنَ اللَّحْمِ وَالْحَلْوَى وَغَيْرِ ذَلِكَ، ‌‌«وَكُلَّمَا رُفِعَتْ صَحْفَةٌ وُضِعَتْ عَلَى دُكَّانٍ فِي الدَّارِ حَتَّى فَرَغُوا فَتَحَ الْبَابَ، فَأُدْخِلَ مَنْ كَانَ مِنْ مِسْكِينٍ وَغَيْرِهِ، فَأَكَلُوا، وَلَا يُرْفَعُ مِنْهُ شَيْءٌ»
২৯ - আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে কুরাইব আল-বাহিলি আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার চাচা আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, সাকর ইবনে হাবিব আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুল আ’লা ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আমির ইবনে কুরাইযের দস্তরখান প্রতিদিন পনেরো কাফীয পরিমাণ খাদ্য এবং সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় গোশত, মিষ্টান্ন ও অন্যান্য সামগ্রী দ্বারা পূর্ণ থাকত। “যখনই কোনো বড় পাত্র (দস্তরখান থেকে) উঠানো হতো, তা বাড়ির একটি উঁচু মঞ্চের ওপর রাখা হতো যতক্ষণ না তারা অবসর হতো। এরপর দরজা খুলে দেওয়া হতো এবং অভাবগ্রস্ত ও অন্যান্য যারা উপস্থিত থাকত তাদের ভেতরে প্রবেশ করানো হতো, অতঃপর তারা আহার করত এবং সেখান থেকে কোনো কিছুই সরিয়ে নেওয়া হতো না।”