(খণ্ড: ১) শারহুল আক্বীদাহ আত-ত্বহাবীইয়াহ - আব্দুল আযীয আল-রাজহী (পৃষ্ঠা: -)
شرح العقيدة الطحاوية - عبد العزيز الراجحي   (عبد العزيز بن عبد الله الراجحي)

القسم: العقيدة


الكتاب: شرح العقيدة الطحاوية

المؤلف: عبد العزيز بن عبد الله بن عبد الرحمن الراجحي

[الكتاب مرقم آليا، وهو أشرطة مفرغة ضمن الدورة العلمية التي أقيمت بجامع شيخ الإسلام ابن تيمية]

عدد الصفحات: 422

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

শারহুল আকিদাহ আত-তহাবিয়্যাহ - আব্দুল আজিজ আল-রাজহি   (আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ আল-রাজহি)

বিভাগ: আকিদাহ


কিতাব: শারহুল আকিদাহ আত-তহাবিয়্যাহ

লেখক: আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আল-রাজহি

[কিতাবটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, এবং এটি শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত ইলমি কোর্সের অডিও থেকে প্রতিলিপিকৃত]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪২২

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) শারহুল আক্বীদাহ আত-ত্বহাবীইয়াহ - আব্দুল আযীয আল-রাজহী (পৃষ্ঠা: ১)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين، نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين، أما بعد:

فإن العلم الذي سندرسه معكم -إن شاء الله- هو في العقائد، وشرح متن العقيدة الطحاوية في كل ليلة -إن شاء الله- من ليالي هذه الدورة المباركة، وستكون المدة (مدة الدرس) في الغالب ساعة قد تزيد أحيانا وقد تنقص أحيانا، في الغالب ستنتهي في الساعة العاشرة -إن شاء الله-.

لكن قد تزيد المدة أحيانا؛ نظرا لكون البحث يحتاج إلى استكمال، وقد تنقص، ثم تكون بعدها الأسئلة -إن شاء الله- وقد مضى على وفاة سماحة شيخنا الشيخ عبد العزيز بن عبد الله بن باز -رحمة الله عليه- نسأل الله أن يتغمده بواسع رحمته، وأن يجمعنا به في دار كرامته، قد مضى على وفاته شهر نسأل الله أن يغفر له، وأن يتغمده برحمته، وأن يجزيه عن الإسلام والمسلمين خير الجزاء.

وأسأل الله سبحانه وتعالى وسوف يكون الشرح شرح العقيدة الطحاوية -إن شاء الله- سوف يكون شرحا متوسطا، أسأل الله أن يجعل عملنا خالصا لوجهه الكريم، وأن يجعل هذا العمل نافعا لعباد الله، وأسأله سبحانه وتعالى أن ينفع به الغائب والحاضر، وأن يجعله من العمل الذي لا ينقطع إنه جواد كريم.

هذا العلم الذي ندرسه وهو علم العقائد ودراسة العقيدة الطحاوية يتعلق بعلم الأصول هو علم الأصول، وعلم الأصول بالنسبة (علم أصول الدين) بالنسبة إلى غيره هو أشرف العلوم، فهو أشرف العلوم، علم أصول الدين أشرف العلوم؛ لأن شرف العلم بشرف المعلوم، والمعلوم هو الله سبحانه وتعالى، والعلم بالله وأسمائه وصفاته وأفعاله، فالعلم يشرف بشرف المعلوم، والمعلوم هو الله سبحانه، العلم بالله وأسمائه وصفاته وأفعاله.

فتبين بهذا أن علم أصول الدين أشرف العلوم؛ لأن شرف العلم إنما يكون بشرف المعلوم، والمعلوم هو الله سبحانه وتعالى، فعلم أصول الدين يتعلق بالعلم بالله وأسمائه وصفاته وأفعاله، وهذا هو الفقه الأكبر بالنسبة إلى فقه الفروض؛ ولهذا لما كتب الإمام أبو حنيفة النعمان رحمه الله أوراقا جمعها في أصول الدين سماها الفقه الأكبر، وأما فقه فروع الدين فهو الفقه الأصغر، فيكون العلم علمين: علم أصول الدين وهذا هو الفقه الأكبر، وعلم فروع الدين وهذا هو الفقه الأصغر.

علم أصول الدين هو علم العقائد، العلم بالله وأسمائه وصفاته وأفعاله هذا العلم الأكبر، وهذا هو الفقه الأكبر، والثاني فقه الفروض، وهو العلم بالأوامر والنواهي والحلال والحرام.

فيكون العلم علمين: علم أصول الدين وهذا هو الفقه الأكبر، وعلم فروع الدين وهذا هو الفقه الأصغر، وإن كان لشيخ الإسلام -رحمة الله عليه- ابن تيمية، شيخ الإسلام ابن تيمية -رحمة الله عليه- له كلام فيه تقسيمه إلى أصول وفروع.

وعلم أصول الدين وهو العلم بالله وأسمائه وصفاته الحاجة إليه فوق كل حاجة، حاجة العباد إليه فوق كل حاجة، وضرورتهم إليه فوق كل ضرورة، وحاجتهم إليه أشد من حاجتهم إلى الطعام والشراب، بل أشد من حاجتهم إلى النفس الذي يتردد بين جنبي الإنسان؛ لأن الإنسان إذا فقد الطعام والشراب وفقد النفس مات الجسد، والموت لا بد منه، ولا يضر موت الجسد إذا صلح القلب، أما إذا فقد العلم بالله وأسمائه وصفاته والعلم بشرعه ودينه مات قلبه وروحه.

وبهذا يتبين أن حاجة العباد إلى علم أصول الدين والعلم بالله وأسمائه وصفاته وأفعاله فوق كل حاجة، وضرورتهم إليه فوق كل ضرورة؛ وذلك لأنه لا حياة للقلوب ولا نعيم ولا طمأنينة ولا سعادة إلا بأن تعرف ربها وخالقها، وفاطرها، ومعبودها بأسمائه وصفاته وأفعاله.

ويكون مع ذلك أحب إليها من كل شيء، ويكون سعيها فيما يقربها إليه دون غيره من سائر خلقه.

هذا هو نعيم القلوب وروحها وطمأنينتها وسعادتها أن تعرف ربها وخالقها وفاطرها ومعبودها بأسمائه وصفاته وأفعاله، ويكون مع ذلك أحب إليها من كل شيء، ويكون مع ذلك سعيها وعملها فيما يقربها إليه سبحانه وتعالى.

ولما كانت العقول عقول البشر لا تستقل بمعرفة هذا الأمر وهو العلم بالله وأسمائه وصفاته وأفعاله، لا تستقل بمعرفة ذلك على التفصيل اقتضت حكمة الله ورحمته بعباده أن أرسل الرسل يعرّفون بالله، ويدعون إلى الله، ويبشرون من أجابهم، وينذرون من عصاهم وخالفهم، وجعل سبحانه وتعالى مفتاح دعوة الرسل وزبدة رسالتهم معرفة المعبود سبحانه وتعالى بأسمائه وصفاته وأفعاله، وعلى هذه المعرفة تبنى مطالب الرسالة كلها، وعلى هذه المعرفة تبنى مطالب هذه الرسالة كلها من أولها إلى آخرها، على معرفة المعبود بأسمائه وصفاته وأفعاله تبنى مطالب الرسالة كلها من أولها إلى آخرها، هذا هو الأصل العظيم أصل الدين، أصل الدين أن تعلم ربك، أن تعلم الله، أن تعرف ربك بأسمائه وصفاته وأفعاله، ثم يتبع ذلك أصلان عظيمان:
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সর্বোত্তম নবী ও রাসূলগণের প্রতি, আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর প্রতি। অতঃপর:

যে ইলম বা জ্ঞানটি আমরা আপনাদের সাথে অধ্যয়ন করব—ইনশাআল্লাহ—তা হলো আকীদা বিষয়ক, এবং এই বরকতময় কোর্সের প্রতি রাতে—ইনশাআল্লাহ—মাতনুল আকীদা আত-তাহাবিয়্যাহ-এর ব্যাখ্যা করা হবে। পাঠের সময়কাল (দরসের সময়) সাধারণত এক ঘণ্টা হবে, যা কখনও কিছুটা বাড়তে পারে আবার কখনও কমতে পারে। সাধারণত এটি রাত ১০টার দিকে শেষ হবে—ইনশাআল্লাহ।

তবে কখনও সময়সীমা বাড়তে পারে; কারণ কোনো আলোচনার পূর্ণতার জন্য বিস্তারিত পর্যালোচনার প্রয়োজন হতে পারে। আবার কখনও কম হতে পারে। এরপর প্রশ্নোত্তরের সুযোগ থাকবে—ইনশাআল্লাহ। আমাদের পরম শ্রদ্ধেয় শায়খ আব্দুল আযীয ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে বায—তাঁর প্রতি আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক—তাঁর ইনতিকালের পর এক মাস অতিবাহিত হয়েছে। আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন তাকে তাঁর প্রশস্ত রহমতে আবৃত করেন এবং তাঁর সম্মান ও মর্যাদার জান্নাতে আমাদের তাঁর সাথে একত্রিত করেন। তাঁর মৃত্যুর এক মাস পূর্ণ হয়েছে, আল্লাহর কাছে দুআ করি তিনি যেন তাকে ক্ষমা করেন, তাঁর রহমতে সিক্ত করেন এবং ইসলাম ও মুসলিমদের পক্ষ থেকে তাকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন।

আর আমি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নিকট প্রার্থনা করি যে, আকীদা আত-তাহাবিয়্যাহ-এর এই ব্যাখ্যা—ইনশাআল্লাহ—মধ্যম মানের হবে। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের আমলকে কেবল তাঁর মহান সত্তার জন্য নিবেদিত করেন এবং এই কাজকে আল্লাহর বান্দাদের জন্য উপকারী করেন। আর আমি তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন উপস্থিত ও অনুপস্থিত সকলে এর মাধ্যমে উপকৃত হতে পারে এবং তিনি যেন একে এমন আমল হিসেবে কবুল করেন যার ধারা কখনও বিচ্ছিন্ন হবে না; নিশ্চয়ই তিনি অত্যধিক দাতা ও মহানুভব।

এই ইলম যা আমরা অধ্যয়ন করছি—তা হলো আকীদার ইলম এবং আকীদা আত-তাহাবিয়্যাহ-এর পাঠ—এটি দ্বীনের মূলনীতি (উসূল) সংক্রান্ত বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত; এটিই উসূলের ইলম। অন্যান্য বিষয়ের তুলনায় দ্বীনের মূলনীতি সংক্রান্ত ইলম (ইলম উসূলুদ্দীন) হলো সর্বশ্রেষ্ঠ ইলম। এটিই সবচেয়ে মর্যাদাবান ইলম। দ্বীনের মূলনীতি সংক্রান্ত ইলম হলো সর্বশ্রেষ্ঠ ইলম; কারণ ইলমের মর্যাদা নির্ভর করে যার সম্পর্কে জানা হচ্ছে (মালূম) তার মর্যাদার ওপর। আর এখানে জানার বিষয় (মালূম) হলেন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এবং আল্লাহ, তাঁর নামসমূহ, গুণাবলী ও কার্যাবলী সম্পর্কে জ্ঞান। সুতরাং এই ইলম উচ্চমর্যাদা লাভ করে যার সম্পর্কে জানা হচ্ছে তার মহান মর্যাদার কারণে। আর জানার বিষয়বস্তু হলেন আল্লাহ সুবহানাহু, অর্থাৎ আল্লাহ এবং তাঁর নামসমূহ, গুণাবলী ও কার্যাবলী সম্পর্কে জ্ঞান।

এর দ্বারা স্পষ্ট হলো যে, দ্বীনের মূলনীতি সংক্রান্ত ইলম হলো সর্বশ্রেষ্ঠ ইলম; কারণ ইলমের শ্রেষ্ঠত্ব কেবল জানার বিষয়বস্তুর শ্রেষ্ঠত্বের মাধ্যমেই নির্ধারিত হয়। আর জানার বিষয়বস্তু হলেন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা। সুতরাং দ্বীনের মূলনীতি সংক্রান্ত ইলম আল্লাহ এবং তাঁর নামসমূহ, গুণাবলী ও কার্যাবলীর জ্ঞানের সাথে সংশ্লিষ্ট। শাখা-প্রশাখা সংক্রান্ত ফরয বিধানের ফিকহের তুলনায় এটিই হলো 'আল-ফিকহুল আকবার' (বৃহত্তর ফিকহ)। একারণেই ইমাম আবু হানিফা আন-নুমান (রহিমাহুল্লাহ) যখন দ্বীনের মূলনীতির ওপর কিছু বিষয় সংকলন করেছিলেন, তখন সেটির নাম দিয়েছিলেন 'আল-ফিকহুল আকবার'। আর দ্বীনের শাখা-প্রশাখা বিষয়ক ফিকহ হলো 'আল-ফিকহুল আসগর' (ক্ষুদ্রতর ফিকহ)। সুতরাং ইলম দুই প্রকার: দ্বীনের মূলনীতি সংক্রান্ত ইলম এবং এটিই হলো 'আল-ফিকহুল আকবার', আর দ্বীনের শাখা-প্রশাখা সংক্রান্ত ইলম এবং এটি হলো 'আল-ফিকহুল আসগর'।

দ্বীনের মূলনীতি সংক্রান্ত ইলম হলো আকীদার ইলম। আল্লাহ এবং তাঁর নামসমূহ, গুণাবলী ও কার্যাবলী সম্পর্কে জ্ঞানই হলো সর্বশ্রেষ্ঠ ইলম এবং এটিই 'আল-ফিকহুল আকবার'। আর দ্বিতীয়টি হলো ফরয বিধানসমূহের ফিকহ, যা আদেশ, নিষেধ, হালাল ও হারাম বিষয়ক জ্ঞান।

সুতরাং ইলম দুই প্রকার: দ্বীনের মূলনীতি সংক্রান্ত ইলম যা 'আল-ফিকহুল আকবার', এবং দ্বীনের শাখা-প্রশাখা সংক্রান্ত ইলম যা 'আল-ফিকহুল আসগর'। যদিও শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ)-এর এ সম্পর্কে অর্থাৎ দ্বীনকে মূলনীতি ও শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত করার ব্যাপারে কিছু আলোচনা রয়েছে।

আর দ্বীনের মূলনীতি সংক্রান্ত ইলম—যা আল্লাহ এবং তাঁর নাম ও গুণাবলী সম্পর্কে জ্ঞান—এর প্রয়োজনীয়তা অন্য যে কোনো প্রয়োজনের ঊর্ধ্বে। বান্দার কাছে এর প্রয়োজনীয়তা অন্য যে কোনো আবশ্যকতাকেও ছাড়িয়ে যায়। তাদের কাছে এর আবশ্যকতা পানাহারের প্রয়োজনের চেয়েও তীব্র, বরং মানুষের পাঁজরের মাঝখানে যে নিঃশ্বাস আসা-যাওয়া করে তার চেয়েও বেশি জরুরি। কারণ মানুষ যদি খাবার, পানি বা নিঃশ্বাস হারিয়ে ফেলে, তবে তার দেহের মৃত্যু ঘটে। আর মৃত্যু তো অনিবার্য। দেহের মৃত্যু কোনো ক্ষতি করে না যদি অন্তর সঠিক থাকে। কিন্তু যদি আল্লাহ সম্পর্কে, তাঁর নাম ও গুণাবলী সম্পর্কে এবং তাঁর শরীয়ত ও দ্বীন সম্পর্কে জ্ঞান হারিয়ে যায়, তবে তার অন্তর ও রূহ মরে যায়।

এর মাধ্যমেই স্পষ্ট হয় যে, দ্বীনের মূলনীতি সংক্রান্ত ইলম এবং আল্লাহ ও তাঁর নামসমূহ, গুণাবলী ও কার্যাবলী সম্পর্কে জানার প্রয়োজনীয়তা বান্দার কাছে সকল প্রয়োজনের ঊর্ধ্বে। এটি তাদের কাছে সবচেয়ে বড় আবশ্যকতা। এর কারণ এই যে, অন্তরের জন্য কোনো জীবন নেই, কোনো নেয়ামত নেই, কোনো প্রশান্তি বা সুখ নেই যতক্ষণ না সে তার রব, তার স্রষ্টা, তার জীবনদাতা এবং তার মা'বুদকে তাঁর নামসমূহ, গুণাবলী ও কার্যাবলীর মাধ্যমে চিনতে পারে।

আর এর পাশাপাশি তিনি যেন তার কাছে অন্য সব কিছুর চেয়ে বেশি প্রিয় হন এবং তার সকল প্রচেষ্টা যেন অন্য কোনো সৃষ্টির পরিবর্তে কেবল তাঁর সান্নিধ্য লাভের জন্যই নিবেদিত হয়।

অন্তরের নেয়ামত, রূহ, প্রশান্তি ও সুখ হলো এটাই যে, সে তার রব, স্রষ্টা, জীবনদাতা এবং মা'বুদকে তাঁর নামসমূহ, গুণাবলী ও কার্যাবলীর মাধ্যমে চিনবে। আর এর সাথে তিনি যেন তার নিকট সব কিছুর চেয়ে বেশি প্রিয় হন এবং তার সকল প্রচেষ্টা ও কর্ম কেবল আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যেই হয়।

আর যেহেতু মানুষের বিবেক বা বুদ্ধি স্বতন্ত্রভাবে এই বিষয়টি অর্থাৎ আল্লাহ এবং তাঁর নামসমূহ, গুণাবলী ও কার্যাবলী সম্পর্কে বিস্তারিত জ্ঞান লাভ করতে সক্ষম নয়, তাই আল্লাহর প্রজ্ঞা ও বান্দাদের প্রতি তাঁর রহমত এই দাবি করে যে, তিনি রাসূলদের পাঠিয়েছেন। তাঁরা আল্লাহর পরিচয় তুলে ধরেন, আল্লাহর দিকে আহ্বান করেন, যারা তাঁদের ডাকে সাড়া দেয় তাদের সুসংবাদ দেন এবং যারা অবাধ্য হয় ও বিরোধিতা করে তাদের সতর্ক করেন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা রাসূলগণের দাওয়াতের চাবিকাঠি এবং তাঁদের রিসালাতের নির্যাস বানিয়েছেন তাঁর নামসমূহ, গুণাবলী ও কার্যাবলীর মাধ্যমে মা'বুদ সুবহানাহু ওয়া তাআলার পরিচয় লাভ করাকে। আর এই পরিচিতির ওপরই রিসালাতের যাবতীয় দাবি ও বিষয়াবলি প্রতিষ্ঠিত। এই পরিচিতির ওপরই—অর্থাৎ নামসমূহ, গুণাবলী ও কার্যাবলীর মাধ্যমে মা'বুদকে চেনার ওপরই—রিসালাতের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সকল উদ্দেশ্য ও দাবি দাঁড়িয়ে আছে। এটাই হলো সেই মহান মূল ভিত্তি যা দ্বীনের আসল। দ্বীনের মূল হলো তোমার রব সম্পর্কে জানা, আল্লাহ সম্পর্কে জানা, তোমার রবকে তাঁর নামসমূহ, গুণাবলী ও কার্যাবলীর মাধ্যমে চেনা। এরপর এর অনুগামী হিসেবে আরও দুটি মহান মূলনীতি রয়েছে:
(খণ্ড: ১) শারহুল আক্বীদাহ আত-ত্বহাবীইয়াহ - আব্দুল আযীয আল-রাজহী (পৃষ্ঠা: ২)
الأصل الأول: معرفة شريعة الله المتضمنة معرفة الطريق الموصل إلى الله، معرفة الطريق الموصل إلى الله، وهي شريعته المتضمنة لأمره ونهيه تعرف الطريق الموصل، وذلك بأن تعرف الطريقة الموصلة إلى الله، ما هو الطريق الموصل إلى الله؟ هي شريعة الله المتضمنة لأمره ونهيه.

والأصل الثاني: معرفة حال السالكين والسائرين إلى الله ما لهم بعد الوصول إليه من النعيم المقيم.

هذه هي الأصول الثلاثة العظيمة، وأصلها وأساسها معرفة الله، والعلم بالله وأسمائه وصفاته وأفعاله، والثاني: معرفة الطريق الموصل إلى الله وهي شريعته المتضمنة لأمره ونهيه، والثالث: معرفة حال الناس وجزائهم في الآخرة، وهذه هي أقسام العلم النافع، هذه الثلاثة هي أقسام العلم النافع، وليس هناك قسم رابع.

أقسام العلم النافع ثلاثة:

القسم الأول: معرفة الله والعلم بالله ومعرفته بأسمائه وصفاته وأفعاله.

الثاني: معرفة دين الله وهي شريعته المتضمنة لأمره ونهيه.

الثالثة: معرفة جزاء الناس وحالهم بعد الموت، ماذا يكون جزاء المتقين المؤمنين الموحدين؟ الجنة، وجزاء الكفار والعصاة النار، ويتبع ذلك معرفة ما يكون في أمور البرزخ من سؤال منكر ونكير، ومن عذاب القبر ونعيمه.

ومعرفة العلم بأحكام البعث والنشور، والوقوف بين يدي الله عز وجل وتطاير الصحف، ووزن الأعمال والأشخاص والورود على الحوض، والمرور على الصراط، ثم الاستقرار في الجنة أو في النار.

هذه هي أقسام العلم النافع الثلاثة وليس هناك قسم رابع كما قال العلامة ابن القيم رحمه الله في الكافية الشافية:

والعلم أقسام ثلاث ما لها *** من رابع والحق ذو تبيان

علم بأوصاف الإله وفعله *** وكذلك الأسماء للرحمن

والأمر والنهي الذي هو دينه *** وجزاؤه يوم الميعاد الثاني

هذه أقسام العلم ثلاثة:

"علم بأوصاف الإله وفعله" هذا الأول.

"والأمر والنهي الذي هو دينه" هذا الثاني

"وجزاؤه يوم الميعاد الثاني" هذا الثالث.

وأعرف الناس بالله أتبعهم للطريق الموصل إليه، والطريق الموصل إلى الله كما سبق هي شريعته سبحانه وتعالى المتضمنة لأمره ونهيه.

فأعرف الناس بالله أتبعهم للطريق الموصل إليه الذي يمتثل الأوامر، ويجتنب النواهي، ويعمل بشرع الله ودينه، هذا هو أقوم الناس، وأتبعهم أتبع الناس للصراط المستقيم؛ ولهذا سمى الله سبحانه وتعالى كتابه المنزل على رسوله صلى الله عليه وسلم وهو القرآن العظيم روحا؛ لتوقف الحياة الحقيقية عليه، وسماه نورا؛ لتوقف الهداية عليه قال سبحانه: {يُلْقِي الرُّوحَ مِنْ أَمْرِهِ عَلَى مَنْ يَشَاءُ} قال سبحانه: {وَكَذَلِكَ أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ رُوحًا مِنْ أَمْرِنَا مَا كُنْتَ تَدْرِي مَا الْكِتَابُ وَلَا الْإِيمَانُ وَلَكِنْ جَعَلْنَاهُ نُورًا نَهْدِي بِهِ مَنْ نَشَاءُ مِنْ عِبَادِنَا وَإِنَّكَ لَتَهْدِي إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ (52) صِرَاطِ اللَّهِ الَّذِي لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ أَلَا إِلَى اللَّهِ تَصِيرُ الْأُمُورُ (53) } .

سماه الله شفاء قال سبحانه: {يَا أَيُّهَا النَّاسُ قَدْ جَاءَتْكُمْ مَوْعِظَةٌ مِنْ رَبِّكُمْ وَشِفَاءٌ لِمَا فِي الصُّدُورِ} والله سبحانه وتعالى أرسل رسوله بالهدى ودين الحق؛ ليظهره على الدين كله ولو كره المشركون، وقد بلغ النبي صلى الله عليه وسلم البلاغ المبين، وأوضح الحجة للمستغفرين، ومضى على طريقه صلى الله عليه وسلم الصحابة، السلف الصالح الصحابة والتابعون والأئمة من بعدهم، فاهتدوا بهديه صلى الله عليه وسلم وترسموا خطاه، وآمنوا بالله وبملائكته وكتبه ورسله وباليوم الآخر والقدر خيره وشره، وامتثلوا أوامر الله، واجتنبوا نواهيه، واستناروا بنور الله، فكانوا على الهدى المستقيم.

وهم أهل السنة والجماعة والصحابة والتابعون وتابعوهم، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين هم أهل السنة والجماعة، وهم أهل الحق، وهم الطائفة المنصورة، ثم لما بَعُدَ العهد، خلف من بعدهم خلوف، غيروا وبدلوا وتفرقوا في دينهم شيعا وأحزابا، ولكن الله سبحانه وتعالى حفظ على هذه الأمة أصول دينها، كما ثبت في الحديث الصحيح عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: (لا تزال طائفة من أمتي على الحق ظاهرين لا يضرهم من خذلهم) وفي لفظ آخر: (لا يضرهم من خذلهم، ولا من خالفهم حتى يأتي أمر الله تبارك وتعالى .

فتصدى العلماء والأئمة لإيضاح أصول الدين وفروعه، والرد على أهل البدع بدعهم وإيضاح الحق، فنصر الله بهم الحق وألفوا المؤلفات، وكتبوا الردود، ألفوا المؤلفات في عقائد … في عقيدة السلف الصالح.

ومن هؤلاء الأئمة الإمام أبو جعفر أحمد بن محمد بن سلامة الأسدي الطحاوي نسبة إلى قرية طحا من صعيد مصر المولود سنة تسع وثلاثين ومائتين، والمتوفى سنة إحدى وعشرين وثلاثمائة، ألف هذه الرسالة في العقيدة المعروفة بالعقيدة الطحاوية مؤلفها أبو جعفر أحمد بن محمد بن سلامة الأسدي الطحاوي.
প্রথম মূলনীতি: আল্লাহর শরিয়ত সম্পর্কে জানা, যা আল্লাহর নিকট পৌঁছানোর পথ জানার অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহর কাছে পৌঁছানোর পথ জানা; আর তা হলো তাঁর শরিয়ত, যা তাঁর আদেশ ও নিষেধকে অন্তর্ভুক্ত করে। এটি সেই পথকে চিনিয়ে দেয় যা (বান্দাকে) আল্লাহর কাছে নিয়ে যায়। আল্লাহর কাছে পৌঁছানোর পথটি কী? তা হলো আল্লাহর শরিয়ত যা তাঁর আদেশ ও নিষেধকে ধারণ করে।

দ্বিতীয় মূলনীতি: আল্লাহর দিকে যারা ধাবমান এবং পথচারী, তাঁর কাছে পৌঁছানোর পর তারা যে চিরস্থায়ী নিয়ামত লাভ করবে তাদের সেই অবস্থা সম্পর্কে জানা।

এগুলোই হলো তিনটি মহান মূলনীতি; আর এর মূল ও ভিত্তি হলো আল্লাহ সম্পর্কে জানা, আল্লাহ এবং তাঁর নামসমূহ, গুণাবলি ও কার্যাবলি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা। দ্বিতীয়টি হলো: আল্লাহর কাছে পৌঁছানোর পথ সম্পর্কে জানা, যা তাঁর আদেশ ও নিষেধ সম্বলিত শরিয়ত। তৃতীয়টি হলো: মানুষের অবস্থা এবং পরকালে তাদের প্রতিদান সম্পর্কে জানা। এগুলোই হলো উপকারী জ্ঞানের প্রকারভেদ। এই তিনটিই হলো উপকারী জ্ঞানের বিভাগ, এর বাইরে চতুর্থ কোনো বিভাগ নেই।

উপকারী জ্ঞানের বিভাগ তিনটি:

প্রথম বিভাগ: আল্লাহ সম্পর্কে জানা এবং আল্লাহ সম্পর্কিত জ্ঞান অর্জন করা; তাঁর নামসমূহ, গুণাবলি ও কার্যাবলি সম্পর্কে জানা।

দ্বিতীয়: আল্লাহর দ্বীন সম্পর্কে জানা, যা তাঁর আদেশ ও নিষেধ সম্বলিত শরিয়ত।

তৃতীয়: মানুষের প্রতিদান এবং মৃত্যুর পর তাদের অবস্থা সম্পর্কে জানা। মুত্তাকী, মুমিন ও একত্ববাদীদের প্রতিদান কী হবে? জান্নাত। আর কাফের ও পাপাচারীদের প্রতিদান হলো জাহান্নাম। এর সাথে সংশ্লিষ্ট হলো বারজাখের বিষয়গুলো সম্পর্কে জানা, যেমন মুনকার ও নাকিরের সওয়াল, কবরের আজাব ও তার শান্তি।

পুনরুত্থান ও হাশরের বিধানাবলি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা, মহান আল্লাহর সামনে দণ্ডায়মান হওয়া, আমলনামা উড়ে আসা, আমল ও ব্যক্তিদের ওজন করা, হাউজে উপস্থিত হওয়া, পুলসিরাত পার হওয়া এবং পরিশেষে জান্নাত বা জাহান্নামে চিরস্থায়ী হওয়া।

এগুলোই হলো উপকারী জ্ঞানের তিনটি বিভাগ এবং চতুর্থ কোনো বিভাগ নেই, যেমনটি আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর 'আল-কাফিয়াহ আশ-শাফিয়াহ' গ্রন্থে বলেছেন:

জ্ঞান তিন প্রকার, যার কোনো চতুর্থটি নেই; আর সত্য সুস্পষ্ট বর্ণনায় ভাস্বর।

মাবুদের গুণাবলি ও তাঁর কার্যাবলি সংক্রান্ত জ্ঞান; আর অনুরূপভাবে দয়াময় আল্লাহর নামসমূহ।

আদেশ ও নিষেধ যা তাঁর দ্বীন; আর পুনরুত্থান দিবসের প্রতিদান।

এই হলো জ্ঞানের তিনটি বিভাগ:

"মাবুদের গুণাবলি ও তাঁর কার্যাবলি সংক্রান্ত জ্ঞান" - এটি প্রথম।

"আদেশ ও নিষেধ যা তাঁর দ্বীন" - এটি দ্বিতীয়।

"পুনরুত্থান দিবসের প্রতিদান" - এটি তৃতীয়।

মানুষের মধ্যে আল্লাহ সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী তিনি, যিনি তাঁর নিকট পৌঁছানোর পথের সবচেয়ে বেশি অনুসারী। আর আল্লাহর কাছে পৌঁছানোর পথ হলো—যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে—মহান আল্লাহর শরিয়ত যা তাঁর আদেশ ও নিষেধকে অন্তর্ভুক্ত করে।

সুতরাং মানুষের মধ্যে আল্লাহ সম্পর্কে সর্বাধিক জ্ঞানী তিনি, যিনি তাঁর নিকট পৌঁছানোর পথের সর্বাধিক অনুসারী; যিনি আদেশগুলো পালন করেন, নিষেধগুলো বর্জন করেন এবং আল্লাহর শরিয়ত ও তাঁর দ্বীন অনুযায়ী আমল করেন। ইনিই হলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সঠিক পথে পরিচালিত এবং সরল পথের সবচেয়ে একনিষ্ঠ অনুসারী। এই কারণেই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি অবতীর্ণ কিতাব মহান কুরআনকে 'রুহ' (আত্মা) হিসেবে অভিহিত করেছেন; কারণ প্রকৃত জীবন এর ওপরই নির্ভরশীল। আর একে 'নূর' (আলো) হিসেবে অভিহিত করেছেন; কারণ হেদায়েত এর ওপরই নির্ভরশীল। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন: {তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার প্রতি ইচ্ছা তাঁর নির্দেশে রুহ প্রেরণ করেন।} তিনি আরও বলেছেন: {এভাবেই আমি তোমার প্রতি আমার নির্দেশে রুহ ওহি করেছি; তুমি জানতে না কিতাব কী এবং ঈমান কী, কিন্তু আমি একে নূর করেছি, যার দ্বারা আমি আমার বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা হেদায়েত দান করি। আর তুমি অবশ্যই সরল পথের দিকে দিশা দিচ্ছ। আল্লাহর পথ, যাঁর মালিকানায় আসমানসমূহ ও জমিনে যা কিছু আছে সব। জেনে রেখো, আল্লাহর কাছেই সব বিষয় ফিরে যায়।}

আল্লাহ একে 'শিফা' (আরোগ্য) হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন: {হে মানুষ, তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে এসেছে উপদেশ এবং যা অন্তরে আছে তার আরোগ্য।} আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাঁর রাসূলকে হেদায়েত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন, যাতে তিনি একে সকল দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেন, যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুস্পষ্টভাবে (দ্বীন) পৌঁছে দিয়েছেন এবং অন্বেষণকারীদের জন্য দলিল স্পষ্ট করেছেন। তাঁর পথে সাহাবায়ে কেরাম, সালাফে সালেহীন—সাহাবীগণ, তাবেয়ীগণ এবং তাঁদের পরবর্তী ইমামগণ চলেছেন। তাঁরা তাঁর হেদায়েতের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছেন, তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন এবং আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, কিতাবসমূহ, রাসূলগণ, শেষ দিবস এবং তাকদীরের ভালো-মন্দের ওপর ঈমান এনেছেন। তাঁরা আল্লাহর আদেশসমূহ পালন করেছেন, তাঁর নিষেধগুলো বর্জন করেছেন এবং আল্লাহর নূর দ্বারা আলোকিত হয়েছেন। ফলে তাঁরা সঠিক হেদায়েতের ওপর ছিলেন।

তাঁরাই আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত—সাহাবী, তাবেয়ী এবং তাঁদের অনুসারীগণ। আর কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে তাঁরাই আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত। তাঁরাই সত্যের অনুসারী এবং তাঁরাই সাহায্যপ্রাপ্ত দল। অতঃপর দীর্ঘকাল অতিবাহিত হওয়ার পর তাদের স্থলাভিষিক্ত হলো এমন কিছু লোক যারা পরিবর্তন ও পরিমার্জন করল এবং নিজেদের দ্বীনের মধ্যে দলাদলি ও অনৈক্যে বিভক্ত হলো। কিন্তু আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা এই উম্মতের জন্য তাদের দ্বীনের মূলনীতিসমূহকে সংরক্ষিত করেছেন, যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সহীহ হাদীসে প্রমাণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা সত্যের ওপর বিজয়ী থাকবে, যারা তাদের লাঞ্ছিত করতে চায় তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।" অন্য শব্দে এসেছে: "যারা তাদের লাঞ্ছিত করতে চায় কিংবা যারা তাদের বিরোধিতা করে তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না, যতক্ষণ না আল্লাহর নির্দেশ তাবারাকা ওয়া তায়ালা (কিয়ামত) উপস্থিত হয়।"

ফলে ওলামায়ে কেরাম এবং ইমামগণ দ্বীনের মূলনীতি ও শাখা-প্রশাখা স্পষ্ট করার জন্য এবং বিদআতিদের বিদআতের দাঁতভাঙা জবাব ও সত্য বর্ণনার জন্য আত্মনিয়োগ করেছেন। আল্লাহ তাঁদের মাধ্যমে সত্যকে সাহায্য করেছেন এবং তাঁরা গ্রন্থসমূহ রচনা করেছেন ও খণ্ডনমূলক কিতাব লিখেছেন। তাঁরা সালাফে সালেহীনের আকিদার ওপর ... আকিদা সংক্রান্ত গ্রন্থসমূহ রচনা করেছেন।

এই ইমামদের অন্যতম হলেন ইমাম আবু জাফর আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন সালামাহ আল-আযদি আত-তাহাবী। মিসরের উত্তর অংশের 'তাহা' নামক গ্রামের সাথে সম্বন্ধ করে তাঁকে 'তাহাবী' বলা হয়। তিনি ২৩৯ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৩২১ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি আকিদা বিষয়ক এই রিসালাটি রচনা করেন যা 'আকিদাতুত তাহাবিয়া' নামে পরিচিত। এর লেখক হলেন আবু জাফর আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন সালামাহ আল-আযদি আত-তাহাবী।
(খণ্ড: ১) শারহুল আক্বীদাহ আত-ত্বহাবীইয়াহ - আব্দুল আযীয আল-রাজহী (পৃষ্ঠা: ৩)
ألف هذه الرسالة في عقيدة السلف الصالح، وتلقتها الأمة بالقبول، وتلقاها العلماء بالقبول سلفا وخلفا، وفي هذه الرسالة بيان عقيدة أهل السنة والجماعة، وإن كان قد يلاحظ على هذه الرسالة ملحوظات يسيرة قد تتمشى مع معتقد المرجئة، نبه عليها العلماء، وسيأتي التنبيه عليها -إن شاء الله-، وهناك أيضا عبارات مشتبهة وفيها إيهام، لكن القاعدة في هذا أن العبارات المشتبهة تفسر بالعبارات الواضحة؛ لأن القاعدة عند أهل العلم أن النصوص المشتبهة من كتاب الله عز وجل تفسر بالنصوص الواضحة المحكمة وترد إليها.

هذه هي طريقة أهل العلم الراسخين في العلم يردون المتشابه إلى المحكم، ويفسرون النصوص المتشابهة من النصوص المحكمة فيتضح الأمر، وكذلك أيضا النصوص المتشابهة في سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم تفسر بالنصوص الواضحة المحكمة فيزول الاشتباه، وكذلك أيضا النصوص المشتبهة في كلام أهل العلم تفسر بالنصوص الواضحة من كلامهم، ولا يتعلق بالنصوص المتشابهة لا يتعلق بالنصوص المتشابهة ويترك النصوص المحكمة الواضحة إلا أهل الزيغ والظلام، كما قال الله سبحانه وتعالى في كتابه العظيم: {هُوَ الَّذِي أَنْزَلَ عَلَيْكَ الْكِتَابَ مِنْهُ آَيَاتٌ مُحْكَمَاتٌ هُنَّ أُمُّ الْكِتَابِ وَأُخَرُ مُتَشَابِهَاتٌ فَأَمَّا الَّذِينَ فِي قُلُوبِهِمْ زَيْغٌ فَيَتَّبِعُونَ مَا تَشَابَهَ مِنْهُ ابْتِغَاءَ الْفِتْنَةِ وَابْتِغَاءَ تَأْوِيلِهِ وَمَا يَعْلَمُ تَأْوِيلَهُ إِلَّا اللَّهُ وَالرَّاسِخُونَ فِي الْعِلْمِ يَقُولُونَ آَمَنَّا بِهِ كُلٌّ مِنْ عِنْدِ رَبِّنَا وَمَا يَذَّكَّرُ إِلَّا أُولُو الْأَلْبَابِ (7) } .

قد ثبت عن عائشة رضي الله عنها أنها قالت: " (إذا رأيتم الذين يتبعون ما تشابه منه فأولئك الذين سمى الله فاحذروهم) "، ثم قرأت هذه الآية، فأهل الزيغ يتعلقون بمتشابهه ويتركون المحكم، فمثلا إذا تعلق النصراني بقول الله عز وجل {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ (9) } وقال: نحن ضمير الجمع، وهذا يدل على أن الآلهة ثلاثة، يقول أهل الحق: أنت من أهل الزيغ هذه من النصوص المشتبهة، الواجب عليك أن تردها إلى النصوص الواضحة المحكمة، كقول الله عز وجل {وَإِلَهُكُمْ إِلَهٌ وَاحِدٌ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الرَّحْمَنُ الرَّحِيمُ (163) } {إِنَّنِي أَنَا اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدْنِي} .

عليك أن ترجع هذا النص المشتبه إلى النص المحكم، "نحن" يقولها في لغة العرب يقولها الواحد المعظم لنفسه، وهكذا هذا مثال.

ومثال ذلك أيضا من السنة النبوية قد يتعلق بعض دعاة السفور (سفور النساء) ببعض النصوص المشتبهة ويقولون: إن مثلا حديث الخثعمية في صحيح البخاري في حجة الوداع (جاءت إلى النبي صلى الله عليه وسلم تسأله وكان رديفه الفضل، فجعل ينظر إليها، وتنظر إليه فجعل النبي صلى الله عليه وسلم يصرف وجه الفضل إلى الطرف الآخر) .

قالوا: هذا يدل على أن المرأة سافرة كاشفة الوجه، وهذا يدل على أن المرأة يجوز لها كشف الوجه، وأن كشف الوجه ليس بواجب، ويستدلون أيضا بحديث أسماء أنها جاءت إلى النبي صلى الله عليه وسلم وعليها ثياب رقاق، فأعرض النبي صلى الله عليه وسلم عنها بوجهه، وقال: (يا أسماء إن المرأة إذا بلغت المحيض لا يصلح أن يرى منها إلا هذا وهذا، وأشار إلى وجهه وكفيه) .

قالوا: هذا يدل على أيش؟ يدل على كشف الوجه، نقول لهم: أنتم من أهل الزيغ، أنتم تعلقتم بالنصوص المتشابهة، لماذا تركتم النصوص المحكمة الواضحة تركتم قول الله عز وجل {وَإِذَا سَأَلْتُمُوهُنَّ مَتَاعًا فَاسْأَلُوهُنَّ مِنْ وَرَاءِ حِجَابٍ ذَلِكُمْ أَطْهَرُ لِقُلُوبِكُمْ وَقُلُوبِهِنَّ} والحجاب ما يحجب المرأة عن الرجل، الحجاب يكون جدارا، ويكون بابا، ويكون غطاء على الوجه {يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لِأَزْوَاجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَاءِ الْمُؤْمِنِينَ يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِنْ جَلَابِيبِهِنَّ ذَلِكَ أَدْنَى أَنْ يُعْرَفْنَ فَلَا يُؤْذَيْنَ} .

وكذلك ثبت في صحيح البخاري في قصة الإفك لما سار الجيش، وترك عائشة رضي الله عنها قالت: (جلست في مكان الجيش لعلهم يفقدونها ثم يرجعون، وكان صفوان بن المعطل السلمي قد جاء متأخرا فلما رأى سواد إنسان عرفها، وجعل يقول: إنا لله وإنا إليه راجعون -استرجع- وكانت نائمة حيث قالت: فاستيقظت باسترجاع صفوان، فخمرت وجهي بجلبابي، وكان يعرفني قبل الحجاب) وهذا في صحيح البخاري قولها: " (فخمرت وجهي بجلبابي) " صريح في تغطية الوجه وكان يعرفني قبل الحجاب" دليل على أن النساء قبل الحجاب يكشفن الوجوه، وأما بعد الحجاب فكن يسترن الوجوه.
এই রিসালাটি (পুস্তিকাটি) সালাফে সালেহীনের আকীদা বিষয়ে সংকলিত হয়েছে এবং উম্মত একে সানন্দে গ্রহণ করেছে। পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আলেমগণও একে কবুল করেছেন। এই রিসালাটিতে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকীদা বর্ণনা করা হয়েছে। যদিও এই রিসালার ওপর সামান্য কিছু পর্যবেক্ষণ থাকতে পারে যা মুরজিয়াদের বিশ্বাসের সাথে মিলে যেতে পারে, আলেমগণ সে বিষয়ে সতর্ক করেছেন এবং ইনশাআল্লাহ সামনে সে বিষয়ে সতর্কবাণী আসবে। সেখানে কিছু অস্পষ্ট শব্দ বা বাক্যও রয়েছে যা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে, তবে এ ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো এই যে, অস্পষ্ট বাক্যগুলোকে সুস্পষ্ট বাক্যগুলোর মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা হবে। কারণ আলেমদের নিকট মূলনীতি হলো, মহান আল্লাহর কিতাবের অস্পষ্ট পাঠগুলোকে সুস্পষ্ট ও অকাট্য পাঠের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা হবে এবং সেগুলোর দিকেই তা ন্যস্ত করা হবে।

এটাই হলো জ্ঞানে সুগভীর আলেমদের পথ, তারা অস্পষ্ট বিষয়গুলোকে সুস্পষ্ট বিষয়ের দিকে ফিরিয়ে নেন এবং অস্পষ্ট পাঠগুলোকে সুস্পষ্ট পাঠের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেন, ফলে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায়। একইভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহর অস্পষ্ট বিষয়গুলোকে সুস্পষ্ট ও অকাট্য পাঠের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা হয় যাতে অস্পষ্টতা দূর হয়ে যায়। তেমনি আলেমদের কথার অস্পষ্ট অংশগুলোকেও তাদের সুস্পষ্ট বক্তব্যের আলোকেই ব্যাখ্যা করা হয়। যারা বিপথগামী ও অন্ধকারাচ্ছন্ন, তারা ছাড়া আর কেউ অস্পষ্ট বিষয়গুলোকে আঁকড়ে ধরে সুস্পষ্ট ও অকাট্য বিষয়গুলোকে ত্যাগ করে না। যেমনটি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর মহান কিতাবে বলেছেন: "তিনিই আপনার প্রতি কিতাব নাযিল করেছেন, যার কিছু আয়াত মুহকাম (সুস্পষ্ট ও সুদৃঢ়), সেগুলোই কিতাবের মূল ভিত্তি; আর অন্যগুলো মুতাশাবিহ (অস্পষ্ট)। অতঃপর যাদের অন্তরে বক্রতা রয়েছে, তারা ফিতনা সৃষ্টি ও অপব্যাখ্যার উদ্দেশ্যে মুতাশাবিহ আয়াতগুলোর অনুসরণ করে। অথচ আল্লাহ ছাড়া আর কেউ এর প্রকৃত ব্যাখ্যা জানে না। আর যারা জ্ঞানে সুগভীর তারা বলে: ‘আমরা এতে ঈমান এনেছি, এ সবই আমাদের রবের পক্ষ থেকে আগত’। আর বুদ্ধিমানরা ছাড়া কেউ শিক্ষা গ্রহণ করে না।"

আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে এটি প্রমাণিত যে তিনি বলেছেন: "যখন তোমরা তাদের দেখবে যারা কুরআনের অস্পষ্ট বিষয়গুলোর অনুসরণ করছে, তবে তারাই সেই লোক যাদের নাম আল্লাহ উল্লেখ করেছেন, সুতরাং তোমরা তাদের থেকে সতর্ক থেকো।" অতঃপর তিনি এই আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন। সুতরাং বিপথগামীরা অস্পষ্ট বিষয়ের সাথে লেগে থাকে এবং সুস্পষ্ট বিষয় ত্যাগ করে। উদাহরণস্বরূপ, যখন কোনো খ্রিস্টান মহান আল্লাহর বাণী "নিশ্চয়ই আমরা যিকির নাযিল করেছি এবং নিশ্চয়ই আমরাই তার হিফাযতকারী" এর সাথে সম্পর্ক স্থাপন করে বলে যে: "আমরা" শব্দটি বহুবচন, যা নির্দেশ করে যে উপাস্য তিনজন; তখন সত্যপন্থীগণ বলেন: তুমি বিপথগামীদের অন্তর্ভুক্ত, কারণ এটি একটি অস্পষ্ট পাঠ। তোমার ওপর ওয়াজিব হলো একে সুস্পষ্ট ও অকাট্য বাণীর দিকে ফিরিয়ে নেওয়া, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "তোমাদের ইলাহ একমাত্র ইলাহ, পরম করুণাময় ও অতি দয়ালু তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই" এবং "নিশ্চয়ই আমিই আল্লাহ, আমি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, অতএব আমারই ইবাদত করো।"

আপনার উচিত এই অস্পষ্ট পাঠটিকে সুস্পষ্ট পাঠের দিকে ফিরিয়ে নেওয়া। আরবি ভাষায় "আমরা" শব্দটি একজন ব্যক্তি নিজের মহত্ত্ব প্রকাশের জন্যও ব্যবহার করে থাকে। এটি একটি উদাহরণ।

এর আরেকটি উদাহরণ সুন্নাহ থেকেও রয়েছে। বেপর্দার দাওয়াতদানকারী কেউ কেউ কিছু অস্পষ্ট পাঠের আশ্রয় নিয়ে বলে থাকে: যেমন সহীহ বুখারীতে বিদায় হজ সম্পর্কে খাসআমিয়া মহিলার হাদীসটি (সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে জিজ্ঞাসা করতে এসেছিল এবং ফজল তাঁর পেছনে বসা ছিলেন। ফজল তার দিকে তাকাচ্ছিলেন এবং সে ফজলের দিকে তাকাচ্ছিল, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফজলের মুখ অন্যদিকে ফিরিয়ে দিলেন)।

তারা বলে: এটি প্রমাণ করে যে সেই মহিলা বেপর্দা ছিল এবং তার মুখ খোলা ছিল। এটি আরও প্রমাণ করে যে নারীর জন্য মুখ খোলা রাখা জায়েজ এবং মুখ ঢাকা ওয়াজিব নয়। তারা আসমা রাদিয়াল্লাহু আনহার হাদীসটিও প্রমাণ হিসেবে পেশ করে যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে আসলেন এবং তার পরনে ছিল পাতলা কাপড়। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুখ ফিরিয়ে নিলেন এবং বললেন: "হে আসমা! নারী যখন ঋতুবর্তী হয় তখন তার দেহের এই এবং এই অংশ ছাড়া অন্য কিছু দেখা যাওয়া সঙ্গত নয়; আর তিনি তাঁর চেহারা ও কবজিদ্বয়ের দিকে ইশারা করলেন।"

তারা বলে: এটি কিসের প্রমাণ দেয়? এটি মুখমণ্ডল উন্মুক্ত রাখার প্রমাণ দেয়। আমরা তাদের বলি: তোমরা বিপথগামীদের অন্তর্ভুক্ত, তোমরা অস্পষ্ট পাঠগুলোকে আঁকড়ে ধরেছ। কেন তোমরা সুস্পষ্ট ও অকাট্য পাঠগুলোকে বর্জন করলে? তোমরা মহান আল্লাহর এই বাণী ছেড়ে দিয়েছ: "যখন তোমরা তাদের কাছে কোনো সামগ্রী চাইবে, তখন পর্দার আড়াল থেকে চাইবে। এটি তোমাদের এবং তাদের অন্তরের পবিত্রতার জন্য অধিকতর সহায়ক।" আর পর্দা হলো যা নারীকে পুরুষ থেকে আড়াল করে; পর্দা দেয়াল হতে পারে, দরজা হতে পারে কিংবা চেহারার ওপর আবরণও হতে পারে। "হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীদের, কন্যাদের এবং মুমিন নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের একাংশ নিজেদের ওপর টেনে দেয়। এতে তাদের চেনা সহজ হবে, ফলে তাদের উত্ত্যক্ত করা হবে না।"

একইভাবে সহীহ বুখারীতে ইফকের ঘটনার বর্ণনায় রয়েছে যখন সেনাবাহিনী চলে গেল এবং আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে রেখে গেল। তিনি বললেন: (আমি সেনাবাহিনীর অবস্থানের জায়গায় বসে রইলাম এই আশায় যে তারা আমাকে না পেয়ে হয়তো ফিরে আসবে। আর সাফওয়ান ইবনুল মুয়াত্তাল আস-সুলামী অনেক পেছনে আসছিলেন। যখন তিনি কোনো মানুষের অবয়ব দেখলেন তখন তিনি আমাকে চিনতে পারলেন এবং 'ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন' পড়তে লাগলেন। তখন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা ঘুমে ছিলেন। তিনি বললেন: সাফওয়ানের ইন্না লিল্লাহ পাঠে আমি জেগে উঠলাম এবং আমার চাদর দিয়ে মুখ ঢেকে নিলাম। আর তিনি আমাকে পর্দার বিধান নাযিলের আগে চিনতেন।) সহীহ বুখারীর এই বর্ণনাটি এবং তাঁর উক্তি: "আমি আমার চাদর দিয়ে মুখ ঢেকে নিলাম" চেহারা ঢাকার ব্যাপারে একটি সুস্পষ্ট দলিল। আর "তিনি আমাকে পর্দার বিধান নাযিলের আগে চিনতেন" এই কথাটি প্রমাণ করে যে পর্দার বিধান আসার আগে নারীরা মুখ খোলা রাখত, কিন্তু পর্দার বিধান আসার পর তারা তাদের চেহারা আবৃত করে রাখত।
(খণ্ড: ১) শারহুল আক্বীদাহ আত-ত্বহাবীইয়াহ - আব্দুল আযীয আল-রাজহী (পৃষ্ঠা: ৪)
وفي سنن أبي داود عن عائشة رضي الله عنها أنها قالت: (كان الركبان يمرون بنا ونحن مع رسول الله صلى الله عليه وسلم محرمات، فإذا حازونا أسدلت إحدانا جلبابها على وجهها، فإذا جاوزونا كشفناه) فنقول لهم: كيف تتعلق بحديث أسماء وحديث الخثعمية وتتركون هذه النصوص المحكمة، عليك أن تفسر حديث الخثعمية بما يتناسب مع هذه النصوص، ثم حديث أسماء هذا ضعيف، وفيه علل كثيرة؛ فهو منقطع؛ لأنه من رواية خالد بن دريك عن عائشة، وخالد بن دريك لم يسمع عن عائشة، ثم هو منكر.. المتن منكر لا يمكن أن تكون أسماء بنت أبي بكر وهي أخت عائشة وامرأة الزبير وامرأة عاقلة دينة تدخل على النبي صلى الله عليه وسلم في ثياب رقاق، هذا لا يمكن تصف البشرة فهو فيه علل متعددة كثيرة.

ومن رواية أيضا سعيد بن بشير وهو ضعيف أيضا، ولو صح جدلا لكان محمولا على ما قبل الحجاب، فالمقصود من هذا أن أهل الزيغ يتعلقون بالنصوص المتشابهة، ويتركون النصوص المحكمة، وأما الراسخون في العلم فإنهم يأخذون بالنصوص المحكمة، ويرجعون إليها النصوص المتشابهة.

ومن ذلك أيضا في القرآن الكريم؛ لأهمية هذا المثال أن نصوص العلو محكمة يأتي أهل الزيغ، ويتعلقون بنصوص المعية {وَهُوَ مَعَكُمْ أَيْنَ مَا كُنْتُمْ} {لَا تَحْزَنْ إِن اللَّهَ مَعَنَا} {إِنَّنِي مَعَكُمَا أَسْمَعُ وَأَرَى (46) } .

يأتي أهل البدع وأهل الزيغ ونفاة الصفات فيقولوا: هذا دليل على أن الله مختلط بالمخلوقات، وأن الله معهم، نقول لهم: أنتم أهل الزيغ لماذا تركتم النصوص المحكمة نصوص العلو والمعية {ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ} في سبعة مواضع {وَهُوَ الْقَاهِرُ فَوْقَ عِبَادِهِ} {إِن رَبَّكُمُ اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ} {إِلَيْهِ يَصْعَدُ الْكَلِمُ الطَّيِّبُ} {بَلْ رَفَعَهُ اللَّهُ إِلَيْهِ} {تَعْرُجُ الْمَلَائِكَةُ وَالرُّوحُ إِلَيْهِ} {يَخَافُونَ رَبَّهُمْ مِنْ فَوْقِهِمْ} .

حتى إن نصوص العلو تزيد على ثلاث آلاف أفراد، وعلى ثلاث آلاف دليل كلها صريحة في أن الله فوق السماوات، فوق عرشه، مستو على عرشه، بائن من خلقه، ثم تتعلق بنصوص المعية، المعية لا تفيد الاختلاط في لغة العرب أقول: لا تزال العرب تقول: ما زلنا نسير والقمر معنا، هذا معروف في لغة العرب، والقمر فوقك، وتقول: فلان معه كذا، وقد يكون فوق رأسه.

فالمقصود أن طريقة أهل الزيغ يتعلقون بالنصوص المتشابهة، ويتركون النصوص المحكمة، أما طريقة الراسخين في العلم فإنهم يفسرون يأخذون بالنصوص المحكمة ويرجعون إليها النصوص المتشابهة ويفسرونها بها، فيزول الإشكال، وهكذا كلام أهل العلم فإذا رأيت كلاما لعالم اشتبه عليك مشتبه ترجع إلى كلامه الواضح تفسر به كما سيأتي في بعض كلام أبي جعفر الطحاوي، وهذه العقيدة الطحاوية كما سبق تلقاها العلماء بالقبول، وشرحت بشروح متعددة، لكن هذه الشروح لا تتمشى مع معتقد أهل السنة والجماعة.

وأحسن شروح لها هو شرح العقيدة المعروفة الآن التي منتشر المطبوع الذي ألفه علي بن علي بن أبي العز الحنفي المولود سنة سبعمائة وواحد وثلاثين، والمتوفى سنة سبعمائة واثنين وتسعين، هذا أفضل الشروح وأحسنها، قد ذكر رحمه الله في مقدمتها: أن العقيدة الطحاوية شرحت شروحا متعددة إلا أنها لا تتمشى مع معتقد أهل السنة والجماعة، فأراد أن يشرحها شرحا يتمشى مع معتقد أهل السنة والجماعة.

وطريقتنا -إن شاء الله- أننا لا نقرأ الشرح، وإنما نشرح المتن شرحا يكون متوسطا، أو أقل من المتوسط يحصل به الفائدة، والمقصود -إن شاء الله- وإلا لو أراد الإنسان أن يتوسع يحتاج إلى وقت طويل، لكن سيكون -إن شاء الله- الشرح شرحاً مناسبا، يكون فيه بيان معتقد أهل السنة والجماعة، وبيان ما يخالفه من أهل البدع، ليس طويلا فيمل وليس قصيرا مخلا، وإنما يكون -إن شاء الله- متوسطا، ونقرأ جملة جملة، ثم نشرح.
এবং সুনান আবু দাউদে আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: (আরোহীরা আমাদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করত যখন আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ইহরাম অবস্থায় ছিলাম। যখন তারা আমাদের সমান্তরালে আসত, আমাদের প্রত্যেকেই তার জিলবাব মাথার উপর থেকে চেহারার ওপর ঝুলিয়ে দিত। আর যখন তারা আমাদের অতিক্রম করে চলে যেত, তখন আমরা তা সরিয়ে নিতাম)। সুতরাং আমরা তাদের বলি: আপনারা কীভাবে আসমা এবং খাশআমী নারীর হাদীস নিয়ে পড়ে থাকেন আর এই সমস্ত মুহকাম (সুস্পষ্ট) দলিলসমূহ বর্জন করেন? আপনাদের উচিত খাশআমী নারীর হাদীসকে এই সমস্ত মুহকাম দলিলের আলোকে ব্যাখ্যা করা। তদুপরি আসমার এই হাদীসটি দুর্বল এবং এতে অনেক ত্রুটি রয়েছে; এটি একটি মুনকাতি (বিচ্ছিন্ন সূত্র) হাদীস। কারণ এটি খালিদ বিন দুরাইক আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেছেন, অথচ খালিদ বিন দুরাইক আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা থেকে কোনো হাদীস শোনেননি। এছাড়া এটি একটি মুনকার (অগ্রহণযোগ্য) বর্ণনা। এর মূল পাঠটিও আপত্তিকর; এটা অসম্ভব যে আসমা বিনতে আবু বকর—যিনি আয়েশার বোন, যুবাইরের স্ত্রী এবং একজন বুদ্ধিমতী ও ধর্মপ্রাণ নারী ছিলেন—তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে পাতলা পোশাকে প্রবেশ করবেন যা চামড়ার বর্ণ ফুটিয়ে তোলে। এতে একাধিক ত্রুটি বিদ্যমান।

আবার এটি সাঈদ বিন বশীরের বর্ণনা থেকেও এসেছে, যিনি নিজেও দুর্বল। আর যদি তর্কের খাতিরে একে সহীহ ধরেও নেওয়া হয়, তবে তা হিজাবের বিধান নাযিল হওয়ার পূর্বের সময়ের ওপর প্রয়োগ করা হবে। সারকথা হলো, ভ্রষ্টরা অস্পষ্ট (মুতাশাবিহ) দলিলগুলো আঁকড়ে ধরে এবং সুস্পষ্ট (মুহকাম) দলিলগুলো বর্জন করে। আর যারা জ্ঞানে সুগভীর, তারা সুস্পষ্ট দলিলগুলো গ্রহণ করে এবং অস্পষ্ট দলিলগুলোকে সুস্পষ্ট দলিলের আলোকে ব্যাখ্যা করে।

পবিত্র কুরআনেও এর উদাহরণ রয়েছে। এই উদাহরণের গুরুত্ব হলো—আল্লাহর উচ্চতা (উলুউ) সম্পর্কিত দলিলগুলো সুস্পষ্ট (মুহকাম)। কিন্তু ভ্রষ্টরা এসে আল্লাহর সাথে থাকা (মাঈয়্যাহ) সংক্রান্ত আয়াতগুলো আঁকড়ে ধরে, যেমন: "তিনি তোমাদের সাথেই আছেন তোমরা যেখানেই থাকো", "চিন্তা করো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন", "নিশ্চয়ই আমি তোমাদের উভয়ের সাথে আছি, আমি শুনি ও দেখি"।

বিদআতী, ভ্রষ্ট এবং আল্লাহর গুণাবলী অস্বীকারকারীরা এসে বলে: এটি প্রমাণ করে যে আল্লাহ সৃষ্টিজগতের সাথে মিশে আছেন এবং আল্লাহ তাদের সাথে (সর্বত্র বিরাজমান) আছেন। আমরা তাদের বলি: ওহে ভ্রষ্টরা! তোমরা কেন সুস্পষ্ট দলিলগুলো—আল্লাহর উচ্চতা এবং আরশের ওপর ওঠার আয়াতগুলো ছেড়ে দিলে? যেমন: "অতঃপর তিনি আরশের উপর উঠেছেন" (সাতটি স্থানে বর্ণিত হয়েছে), "তিনিই তাঁর বান্দাদের ওপর পরাক্রমশালী", "নিশ্চয়ই তোমাদের রব আল্লাহ, যিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন", "তাঁর দিকেই পবিত্র বাক্যসমূহ আরোহণ করে", "বরং আল্লাহ তাঁকে তাঁর নিজের দিকে তুলে নিয়েছেন", "ফেরেশতা এবং রূহ তাঁর দিকেই আরোহণ করে", "তারা তাদের ওপর স্থিত তাদের রবকে ভয় করে"।

এমনকি আল্লাহর উচ্চতা সম্পর্কিত দলিলের সংখ্যা তিন হাজারের বেশি। এই তিন হাজার দলিলের প্রতিটিই স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে আল্লাহ আসমানসমূহের উপরে, তাঁর আরশের উপরে, তাঁর আরশের উপরে উঠেছেন, এবং তিনি তাঁর সৃষ্টিজগত থেকে পৃথক। অথচ তোমরা 'মাঈয়্যাহ' (সাথে থাকা) সংক্রান্ত দলিলগুলো আঁকড়ে ধরো। আরবি ভাষায় 'মাঈয়্যাহ' মানেই সংমিশ্রণ নয়। আরবরা সবসময়ই বলে থাকে: 'আমরা পথ চলছিলাম আর চাঁদ আমাদের সাথে ছিল'। এটা আরবি ভাষায় পরিচিত বিষয়, অথচ চাঁদ আপনার উপরে থাকে। আবার বলা হয়: অমুকের সাথে অমুক বস্তু আছে, অথচ সেটি হয়তো তার মাথার উপরে অবস্থিত।

মূল কথা হলো, ভ্রষ্টদের পদ্ধতি হলো তারা অস্পষ্ট দলিলগুলো আঁকড়ে ধরে এবং সুস্পষ্টগুলো বর্জন করে। আর জ্ঞানে সুগভীরদের পদ্ধতি হলো তারা সুস্পষ্ট দলিলগুলো গ্রহণ করে এবং অস্পষ্টগুলোকে এর আলোকে ব্যাখ্যা করে, ফলে সংশয় দূর হয়ে যায়। আলেমদের বক্তব্যের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম। যখন আপনি কোনো আলেমের বক্তব্যে অস্পষ্ট কিছু দেখবেন, তখন তা তাঁর স্পষ্ট বক্তব্যের দিকে ফিরিয়ে নিয়ে ব্যাখ্যা করবেন, যেমনটি সামনে আবু জাফর আত-তাহাবীর কিছু বক্তব্যের ক্ষেত্রে আসবে। আর এই আকিদাহ তাহাবীয়াহ ইতিপূর্বে যেমন উল্লেখ করা হয়েছে, উলামায়ে কেরাম একে কবুল করে নিয়েছেন এবং এর একাধিক ব্যাখ্যাগ্রন্থ লেখা হয়েছে। তবে এই ব্যাখ্যাগুলোর অনেকগুলোই আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের আকিদার সাথে সংগতিপূর্ণ নয়।

এর সর্বোত্তম ব্যাখ্যা হলো সেই প্রসিদ্ধ ব্যাখ্যাগ্রন্থটি যা বর্তমানে মুদ্রিত আকারে ব্যাপকভাবে প্রচলিত, যা আলী বিন আলী বিন আবিল ইজ্জ আল-হানাফী (জন্ম ৭৩১ হি., মৃত্যু ৭৯২ হি.) রচনা করেছেন। এটিই সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সর্বোত্তম ব্যাখ্যা। তিনি রহমাহুল্লাহ এর ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন যে, আকিদাহ তাহাবীয়াহর অনেক ব্যাখ্যা লেখা হয়েছে কিন্তু সেগুলো আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের আকিদার সাথে সংগতিপূর্ণ নয়। তাই তিনি এমন একটি ব্যাখ্যা লিখতে চেয়েছিলেন যা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের আকিদার সাথে সংগতিপূর্ণ হয়।

ইনশাআল্লাহ আমাদের পদ্ধতি হবে এই যে, আমরা পুরো ব্যাখ্যাগ্রন্থটি পড়ব না, বরং মূল পাঠের (মাতন) একটি মাঝারি বা মাঝারি থেকে কিছুটা সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা করব যা থেকে ফায়দা হাসিল হবে। এটাই ইনশাআল্লাহ আমাদের উদ্দেশ্য। অন্যথায় বিস্তারিত আলোচনা করতে গেলে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন। তবে ইনশাআল্লাহ এই ব্যাখ্যাটি উপযুক্ত হবে, যেখানে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের আকিদা এবং এর বিপরীতে বিদআতীদের মতাদর্শ সুস্পষ্ট করা হবে। এটি বিরক্তি আসার মতো দীর্ঘ হবে না, আবার অস্পষ্টতা থেকে যাওয়ার মতো অতি সংক্ষিপ্তও হবে না। বরং ইনশাআল্লাহ তা হবে পরিমিত। আমরা প্রতিটি বাক্য আলাদাভাবে পড়ব এবং এরপর তার ব্যাখ্যা করব।
(খণ্ড: ১) শারহুল আক্বীদাহ আত-ত্বহাবীইয়াহ - আব্দুল আযীয আল-রাজহী (পৃষ্ঠা: ৫)
الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ، وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلَى أَشْرَفِ الْأَنْبِيَاءِ وَالْمُرْسَلِينَ نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِهِ وَصَحْبِهِ أَجْمَعِينَ.

قَالَ الْعَلَّامَةُ حُجَّةُ الْإِسْلَامِ أَبُو جَعْفَرٍ الْوَرَّاقُ الطَّحَاوِيُّ -بِمِصْرَ- رحمه الله: هَذَا ذِكْرُ بَيَانِ عَقِيدَةِ أَهْلِ السُّنَّةِ وَالْجَمَاعَةِ، عَلَى مَذْهَبِ فُقَهَاءِ الْمِلَّةِ: أَبِي حَنِيفَةَ النُّعْمَانِ بْنِ ثَابِتٍ الْكُوفِيِّ، وَأَبِي يُوسُفَ يَعْقُوبَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الْأَنْصَارِيِّ، وَأَبِي عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَسَنِ الشَّيْبَانِيِّ -رِضْوَانُ اللَّهِ عَلَيْهِمْ أَجْمَعِينَ- وَمَا يَعْتَقِدُونَ مِنْ أُصُولِ الدِّينِ، وَيَدِينُونَ بِهِ رَبَّ الْعَالَمِينَ.

--------------------------------------------

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين، نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.

بين رحمه الله في هذه المقدمة أنه يريد أن يبين عقيدة السلف الصالح على ما يعتقده الإمام أبو حنيفة النعمان بن ثابت، والصاحب وصاحبه الأكبر أبو يوسف يعقوب بن إبراهيم الأنصاري، والصاحب الثاني أبو عبد الله محمد بن الحسن الشيباني، وما يعتقدونه في أصول الدين، ويدينون به رب العالمين، بين رحمه الله أن هذه العقيدة تتمشى مع معتقد أهل السنة والجماعة.

وخص هؤلاء الثلاثة؛ لأن أبا حنيفة هو إمام الأحناف، المذهب الحنفي، أو أئمة المذهب الحنفي، وهو رحمه الله الطحاوي وكذلك السالف كل منهم أحناف في المذهب في الفروع، يتمذهبون بمذهب أبي حنيفة، وهذه العقيدة في أصول الدين ليست خاصة بالأحناف، بل هي عامة، الأحناف والمالكية والشافعية، التمذهب إنما هو في الفروع، في فروع الدين، في أحكام الصلاة والزكاة والصوم والحج يتمذهب في مذهب أبي حنيفة، أما العقيدة والتوحيد فهذه العقيدة واحدة ليس فيها اختلاف.

والعقيدة هي مأخوذة من العقد وهو الربط، وسميت عقيدة؛ لأن الإنسان يجزم ويعتقد في نفسه، مأخوذة من عقد البيع ونحوه، ثم استعملت في التصميم والاعتقاد الجازم، وتطلق العقيدة على ما يدين به الإنسان ربه، ويعتقده من أمور الدين، إن كان ما يعتقده الإنسان إن كان مطابقا للواقع فهي عقيدة صحيحة، وإن كان مخالفا للواقع فهي عقيدة فاسدة.

إذن العقيدة هي ما يجزم به الإنسان، ويعتقده ويتيقنه في قرارة نفسه يسمى عقيدة، لكن إن كان هذا الاعتقاد موافقا للحق، إن كان هذا الاعتقاد مطابقا للواقع فهي عقيدة صحيحة، وإن كان مخالفا للواقع فهي عقيدة فاسدة، فمثلا الجهمية والمعتزلة والشيعة والرافضة كلهم لهم عقيدة، ويجزمون بها، لكنها عقائد فاسدة باطلة؛ لمخالفتها للحق، وأهل السنة والجماعة عقيدتهم موافقة للحق فهي عقيدة صحيحة، والعقيدة هي الأساس هي أساس بناء المجتمعات، هي الأساس الذي يبنى عليه المجتمع، فإن كان المجتمع عقيدة أفراده سليمة صار مجتمعاً قويا متماسكا، وإن كانت عقيدة أفراده منحرفة صار مجتمعا متفككا منهارا.

قد دلت التجارب أن صلاح سلوك الفرد يتناسب مع مدى صلاح عقيدة أفراده، وأن انحراف الإنسان، انحراف سلوكه يتناسب مع مدى تضاؤل عقيدته وانحرافه، والعقيدة السليمة الصحيحة تعصم الدم والمال، وتصحح جميع الأعمال، والعقيدة الفاسدة تهدر الدم والمال وتفسد جميع الأعمال، قال الله تعالى: {لَئِنْ أَشْرَكْتَ لَيَحْبَطَنَّ عَمَلُكَ وَلَتَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ (65) } وقال سبحانه: {وَلَوْ أَشْرَكُوا لَحَبِطَ عَنْهُمْ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ (88) } وقال عليه الصلاة والسلام: (من بدل دينه فاقتلوه) وقال عليه الصلاة والسلام: (لا يحل دم امرئ مسلم إلا بإحدى ثلاث: الثيب الزاني، والنفس بالنفس، والتارك لدينه المفارق للجماعة) .

ودل هذا على أن العقيدة السليمة تعصم الدم والمال، لا يحل دمه ولا ماله ما دام اعتقاده صحيحا إلا إذا ارتكب واحدة من ثلاث: الزاني بعد الإحصان، والقاتل عمدا، والثاني المرتد الذي فارق دينه (من بدل دينه فاقتلوه) .

فالعقيدة الصحيحة تعصم الدم والمال، والعقيدة الفاسدة تهدر الدم والمال، والعقيدة الصحيحة تصحح جميع الأعمال، لو صحت العقيدة صحت الأعمال كلها، إذا كانت العقيدة سليمة صحت الصلاة، وصح الصوم، وصحت الزكاة، وصح الحج، وجميع العبادات صارت صحيحة.

أما إذا فسدت العقيدة فسدت جميع الأعمال، إذا دعا الإنسان غير الله، أو ذبح لغير الله، أو نذر لغير الله، أو طاف بغير بيت الله؛ تقربا لذلك الغير، أو فعل ناقضا من نواقض الإسلام، اعتقد عدم وجوب الصلاة، أو عدم وجوب الزكاة، أو عدم وجوب الحج، أو اعتقد حل الزنا، أو حل الخمر، أو حل الربا، أو حل عقوق الوالدين فسدت العقيدة، وبطلت الأعمال كلها، لا تصح الصلاة ولا الزكاة ولا الصوم ولا الحج، فكلها تكون باطلة.
সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক নবি ও রাসূলগণের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম আমাদের নবি মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর।

আল্লামা, হুজ্জাতুল ইসলাম আবু জাফর আল-ওয়াররাক আত-তহাবী (মিশরে)—আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন—বলেন: এটি মিল্লাতের ফকিহগণ: আবু হানিফা আন-নুমান ইবনে সাবিত আল-কুফি, আবু ইউসুফ ইয়াকুব ইবনে ইবরাহিম আল-আনসারি এবং আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান আশ-শায়বানী—আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন—এর মাযহাব অনুযায়ী আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকিদার বিবরণের বর্ণনা, যা তাঁরা দ্বীনের মূলনীতিসমূহের মধ্য থেকে বিশ্বাস করেন এবং যার মাধ্যমে তাঁরা জগতসমূহের প্রতিপালকের আনুগত্য করেন।

--------------------------------------------

পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক নবি ও রাসূলগণের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম আমাদের নবি মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর।

তিনি (রহিমানুল্লাহ) এই ভূমিকায় স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি সালাফে সালেহীনের আকিদা বর্ণনা করতে চান যা ইমাম আবু হানিফা নুমান ইবনে সাবিত, তাঁর জ্যেষ্ঠ সঙ্গী আবু ইউসুফ ইয়াকুব ইবনে ইবরাহিম আল-আনসারি এবং দ্বিতীয় সঙ্গী আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান আশ-শায়বানী দ্বীনের মূলনীতিতে বিশ্বাস করতেন এবং যার মাধ্যমে জগতসমূহের প্রতিপালকের ইবাদত করতেন। তিনি (রহিমানুল্লাহ) আরও বর্ণনা করেছেন যে, এই আকিদা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের বিশ্বাসের সাথে সংগতিপূর্ণ।

তিনি এই তিনজনকে নির্দিষ্ট করেছেন কারণ আবু হানিফা হলেন হানাফী মাযহাবের ইমাম। ইমাম তহাবী এবং পূর্বসূরিগণ সকলেই ফুরু বা শাখা-প্রশাখার ক্ষেত্রে হানাফী মাযহাবের অনুসারী ছিলেন, তাঁরা আবু হানিফার মাযহাব অনুসরণ করতেন। তবে দ্বীনের মূলনীতি বা আকিদার এই বিষয়টি কেবল হানাফীদের জন্য নির্দিষ্ট নয়, বরং এটি সাধারণ—হানাফী, মালিকি, শাফেয়ী সবার জন্য। মাযহাবের অনুসরণ কেবল ফুরু বা শাখা-প্রশাখায় সীমাবদ্ধ, যেমন সালাত, জাকাত, সাওম ও হজের মাসায়েল। আকিদা ও তাওহীদের ক্ষেত্রে আকিদা একটাই, এতে কোনো মতভেদ নেই।

'আকিদা' শব্দটি 'আকদ' থেকে নির্গত যার অর্থ হলো গিট দেওয়া বা বাঁধা। একে আকিদা বলা হয় কারণ মানুষ তার অন্তরে এটি সুদৃঢ়ভাবে গেঁথে নেয়। এটি ক্রয়-বিক্রয়ের চুক্তি (আকদ) ইত্যাদি থেকে নেওয়া হয়েছে, পরবর্তীতে তা সুদৃঢ় সংকল্প ও সুনিশ্চিত বিশ্বাসের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়েছে। আকিদা বলতে সেই বিষয়গুলোকে বোঝায় যার মাধ্যমে মানুষ তার প্রতিপালকের আনুগত্য করে এবং দ্বীনি বিষয়াবলি থেকে যা সে বিশ্বাস করে। যদি মানুষের বিশ্বাস বাস্তবতার সাথে সংগতিপূর্ণ হয় তবে তা সঠিক আকিদা, আর যদি বাস্তবতার পরিপন্থী হয় তবে তা ভ্রান্ত আকিদা।

সুতরাং আকিদা হলো তাই যা মানুষ মনে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে এবং নিশ্চিতভাবে হৃদয়ে স্থান দেয়। এই বিশ্বাস যদি সত্যের সাথে মিলে যায় তবে তা সঠিক আকিদা, আর বাস্তবতার পরিপন্থী হলে তা ভ্রান্ত আকিদা। উদাহরণস্বরূপ, জাহমিয়া, মুতাজিলা, শিয়া এবং রাফেজি—সবারই আকিদা আছে এবং তারা তা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, কিন্তু তাদের আকিদাগুলো ভ্রান্ত ও বাতিল; কারণ সেগুলো সত্যের পরিপন্থী। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকিদা সত্যের সাথে সংগতিপূর্ণ, তাই এটি সঠিক আকিদা। আকিদাই হলো ভিত্তি, সমাজ গঠনের মূল ভিত্তি। যে ভিত্তির ওপর সমাজ প্রতিষ্ঠিত হয়। যদি সমাজের ব্যক্তিদের আকিদা সঠিক হয়, তবে সেটি একটি শক্তিশালী ও সুসংহত সমাজে পরিণত হয়। আর যদি ব্যক্তিদের আকিদা বিচ্যুত হয়, তবে সেটি একটি বিচ্ছিন্ন ও ভেঙে পড়া সমাজে পরিণত হয়।

অভিজ্ঞতা থেকে প্রমাণিত যে, ব্যক্তির আচরণের সঠিকতা তার আকিদার বিশুদ্ধতার ওপর নির্ভর করে। মানুষের বিচ্যুতি ও আচরণের স্খলন তার আকিদার দুর্বলতা ও বিচ্যুতির সমানুপাতিক। সঠিক ও বিশুদ্ধ আকিদা জান ও মাল রক্ষা করে এবং সমস্ত আমলকে সঠিক করে। আর ভ্রান্ত আকিদা জান ও মালকে মূল্যহীন করে এবং সমস্ত আমলকে বরবাদ করে দেয়। মহান আল্লাহ বলেন: "যদি তুমি শিরক করো তবে তোমার আমল অবশ্যই বরবাদ হয়ে যাবে এবং তুমি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।" তিনি আরও বলেন: "তারা যদি শিরক করত তবে তাদের কৃতকর্মগুলো বরবাদ হয়ে যেত।" নবি (সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বলেছেন: "যে ব্যক্তি তার দ্বীন পরিবর্তন করে তাকে হত্যা করো।" তিনি (সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) আরও বলেছেন: "তিনটি কারণের একটি ছাড়া কোনো মুসলিম ব্যক্তির রক্ত হালাল নয়: বিবাহিত ব্যভিচারী, প্রাণের বদলে প্রাণ এবং যে নিজ দ্বীন পরিত্যাগ করে জামাআত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়।"

এটি প্রমাণ করে যে, সঠিক আকিদা জান ও মাল রক্ষা করে। যতক্ষণ তার আকিদা সঠিক থাকে ততক্ষণ তার জান ও মাল হালাল নয়, যদি না সে এই তিনটির একটি করে: বিবাহিত অবস্থায় ব্যভিচার, ইচ্ছাকৃত হত্যা এবং দ্বীন পরিত্যাগকারী মুরতাদ (যে ব্যক্তি তার দ্বীন পরিবর্তন করে তাকে হত্যা করো)।

সঠিক আকিদা জান ও মাল রক্ষা করে এবং সমস্ত আমলকে শুদ্ধ করে। আকিদা সঠিক হলে সব আমল সঠিক হয়। আকিদা বিশুদ্ধ হলে সালাত সঠিক হয়, সাওম সঠিক হয়, জাকাত সঠিক হয়, হজ সঠিক হয় এবং সমস্ত ইবাদত সঠিক হয়ে যায়।

কিন্তু আকিদা নষ্ট হয়ে গেলে সব আমল নষ্ট হয়ে যায়। যদি মানুষ আল্লাহ ছাড়া অন্যের নিকট দুআ করে, অথবা আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে জবেহ করে, অথবা অন্যের নামে মানত করে, অথবা নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে আল্লাহর ঘর ছাড়া অন্য কিছুর তাওয়াফ করে, অথবা ইসলামের রুকনসমূহের কোনো একটি ভঙ্গকারী কাজ করে—যেমন সালাত, জাকাত বা হজ ফরজ হওয়াকে অস্বীকার করে, অথবা ব্যভিচার, মদ, সুদ বা পিতা-মাতার অবাধ্যতাকে হালাল মনে করে—তবে তার আকিদা নষ্ট হয়ে যাবে এবং তার সমস্ত আমল বাতিল হয়ে যাবে। তার সালাত, জাকাত, সাওম বা হজ কোনোটিই শুদ্ধ হবে না; বরং সবগুলোই বাতিল বলে গণ্য হবে।
(খণ্ড: ১) শারহুল আক্বীদাহ আত-ত্বহাবীইয়াহ - আব্দুল আযীয আল-রাজহী (পৃষ্ঠা: ৬)
كما قال سبحانه: {وَلَوْ أَشْرَكُوا لَحَبِطَ عَنْهُمْ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ (88) } {لَئِنْ أَشْرَكْتَ لَيَحْبَطَنَّ عَمَلُكَ وَلَتَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ (65) } {وَقَدِمْنَا إِلَى مَا عَمِلُوا مِنْ عَمَلٍ فَجَعَلْنَاهُ هَبَاءً مَنْثُورًا (23) } فالعقيدة الصحيحة السليمة تصحح جميع الأعمال، وتعصم الدم والمال، والعقيدة الفاسدة المنحرفة تهدر الدم والمال، وتفسد جميع الأعمال.

ومن ثم اتجهت جهود الأنبياء والمصلحين إلى إصلاح عقائد المجتمعات قبل كل شيء، كل نبي أرسله الله يدعو قومه إلى إصلاح العقيدة {يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ} كما أخبر الله عن نوح وهود وصالح وشعيب وغيرهم، ونبينا محمد صلى الله عليه وسلم مكث في مكة ثلاثة عشر عاما يدعو الناس إلى إصلاح العقيدة ويقول لقومه: (قولوا لا إله إلا الله) ولم يصنع شيئا، ولم يجد شيئا من التشريعات إلا الصلاة؛ لعظم شأنها فإنها فرضت قبل الهجرة بسنة أو بسنتين أو بثلاث، كل هذه المدة يدعو قومه إلى إصلاح العقيدة، ويقول: (قولوا لا إله إلا الله تفلحوا) .

ثم لما هاجر النبي صلى الله عليه وسلم إلى المدينة، وثبتت العقيدة نزلت بقية التشريعات، شرع الأذان، شرعت صلاة الجماعة، فرض الزكاة، فرض الصوم، فرض الحج، فرض الجهاد، شرع الله إقامة الحدود، حد الزنا، حد السرقة، حد شرب الخمر… وهكذا.

وتبين بهذا أن العقيدة هي الأساس الذي تبنى عليه الأعمال، وهي التي تعصم الدم والمال، والعقيدة الصحيحة تصحح جميع الأعمال نعم.
মহান আল্লাহ যেমন বলেছেন: {আর তারা যদি শিরক করত, তবে তাদের কৃতকর্মসমূহ অবশ্যই নিস্ফল হয়ে যেত (৮৮)} {যদি আপনি শিরক করেন, তবে আপনার আমল অবশ্যই নিস্ফল হয়ে যাবে এবং আপনি অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবেন (৬৫)} {এবং তারা যে আমল করেছে আমি তার প্রতি মনোনিবেশ করব, অতঃপর সেগুলোকে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত করব (২৩)}। সুতরাং সঠিক ও বিশুদ্ধ আকিদা সমস্ত আমলকে শুদ্ধ করে এবং জান ও মালকে নিরাপদ করে; পক্ষান্তরে ভ্রষ্ট ও বিচ্যুত আকিদা জান ও মালকে বিনষ্ট করে এবং সমস্ত আমলকে নষ্ট করে ফেলে।

এ কারণেই নবীগণ এবং সংস্কারকদের প্রচেষ্টা সবকিছুর আগে সমাজের আকিদা সংশোধনের দিকে নিবদ্ধ ছিল। আল্লাহ প্রেরিত প্রত্যেক নবীই তাঁর কওমকে আকিদা সংশোধনের আহ্বান জানিয়েছেন: {হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ব্যতীত তোমাদের অন্য কোনো ইলাহ নেই} যেমনটি আল্লাহ নূহ, হূদ, সালেহ, শুয়াইব এবং অন্যদের সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন। আর আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কায় তেরো বছর অবস্থান করে মানুষকে আকিদা সংশোধনের দাওয়াত দিয়েছিলেন এবং নিজ কওমকে বলতেন: (তোমরা বলো 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ')। তখন তিনি অন্য কিছু করেননি এবং সালাত ব্যতীত আর কোনো বিধানও পাননি; এর মাহাত্ম্যের কারণে হিজরতের এক, দুই বা তিন বছর আগে এটি ফরজ করা হয়েছিল। এই দীর্ঘ সময় তিনি নিজ কওমকে আকিদা সংশোধনের দিকে ডাকতেন এবং বলতেন: (তোমরা বলো 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ', তবেই সফলকাম হবে)।

অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মদীনায় হিজরত করলেন এবং আকিদা সুদৃঢ় হলো, তখন অন্যান্য বিধিবিধান অবতীর্ণ হলো; আজান প্রবর্তিত হলো, জামাতে সালাত প্রবর্তিত হলো, জাকাত ফরজ হলো, সিয়াম ফরজ হলো, হজ ফরজ হলো, জিহাদ ফরজ হলো, আল্লাহ দণ্ডবিধি কায়েম করা বিধিবদ্ধ করলেন—যেমন যিনার দণ্ড, চুরির দণ্ড, মদ্যপানের দণ্ড… এভাবেই চলতে থাকল।

এর দ্বারা স্পষ্ট হলো যে, আকিদাই হলো সেই ভিত্তি যার ওপর আমলসমূহ গড়ে ওঠে এবং এটিই জান ও মালকে নিরাপদ করে। আর সঠিক আকিদা সমস্ত আমলকে শুদ্ধ করে দেয়। হ্যাঁ।
(খণ্ড: ১) শারহুল আক্বীদাহ আত-ত্বহাবীইয়াহ - আব্দুল আযীয আল-রাজহী (পৃষ্ঠা: ৭)
نَقُولُ فِي تَوْحِيدِ اللَّهِ مُعْتَقِدِينَ بِتَوْفِيقِ اللَّهِ: أَنَّ اللَّهَ وَاحِدٌ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَلَا شَيْءَ مِثْلُهُ.

--------------------------------------------

نقول في توحيد الله معتقدين بتوفيق الله أن الله واحد لا شريك له، هذه أول جملة في هذه العقيدة قال: نقول في توحيد الله معتقدين بتوفيق الله: أن الله واحد لا شريك له، "نقول في توحيد الله" التوحيد مصدر وحّد يوحّد توحيدا، وهو الإفراد أي انفرد، والتوحيد هو إفراد الله بالعبادة، "نقول في توحيد الله" يعني في جعل الله واحدا لا شريك له، نقول في توحيد الله معتقدين يعني عن عقيدة وعن شيء نجزم به، ونتيقن به، ولكن بتوفيق الله ليس بحول منا ولا قوة، ولكن الله هو الذي وفقنا لهذا الاعتقاد السليم.

نقول في توحيد الله معتقدين بتوفيق الله، يعني بتوفيق الله وإعانته لا يستطيع الإنسان أن يفعل شيئا، ولا أن يعتقد شيئا، ولا أن يقول شيئا، ولا أن يفعل إلا بتوفيق الله وإعانته؛ ولهذا قال المصنف رحمه الله: نقول في توحيد الله معتقدين بتوفيق الله: أن الله واحد لا شريك له، أن الله واحد لا شريك له، واحد لا شريك له في ذاته، ولا في صفاته، ولا في أسمائه، ولا في أفعاله، ولا في ألوهيته وعبادته.

ويدخل في هذه الجملة "نقول في توحيد الله" في قوله "أن الله واحد لا شريك له " يدخل في ذلك التوحيد بأنواعه الثلاثة: التوحيد توحيد الله، واعتقاد أن الله واحد لا شريك له يشمل توحيد الله، واعتقاد أنه واحد لا شريك له في ذاته، وفي ربوبيته، وفي أسمائه وصفاته وأفعاله، وفي ألوهيته وعبادته.

والتوحيد توحيد الله ينقسم إلى ثلاثة أقسام: هي المعروفة عند أهل العلم بتوحيد الربوبية، وتوحيد الألوهية، وتوحيد الأسماء والصفات، وهذه الأنواع أو هذا التقسيم ليس مأخوذا من الرأي والعقل، ما أخذه العلماء من عند أنفسهم، وإنما أخذوه من النصوص، دليلهم الاستقراء والتتبع، استقراء النصوص وتتبع النصوص دلت على أن التوحيد ينقسم إلى هذه الأقسام الثلاثة: توحيد الله في ربوبيته، وتوحيد الله في أسمائه وصفاته، وتوحيد الله في ألوهيته وعبادته.

إذن دليل هذا التقسيم الاستقراء والتتبع للنصوص، وكل قسم عليه دليل، وإذا كان كل قسم عليه دليل ما يكون مبتدعا كما يزعم بعض الناس يقول: هذا التقسيم مبتدع، وقال بعضهم: قال إن هذا التقسيم للتوحيد مثل تقسيم مثل التثليث عند النصارى، والعياذ بالله، نسأل الله السلامة والعافية.

هذه الأقسام مأخوذة من كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم كما سيأتي، كل نوع وكل قسم عليه دليل، وهو أيضا حال الناس الموحدين لله لا تخلو من هذه الأمور الثلاثة، قد يكون الإنسان موحدا في ربوبية الله، وقد يكون موحدا في أسمائه وصفاته، وقد يكون موحدا في ألوهيته وعبادته، وقد يكون موحدا لله في ربوبيته وأسمائه وصفاته وألوهيته، وقد يكون موحدا لله في ربوبيته ولم يكن موحدا لله في ألوهيته، فأحوال الناس تختلف.

وهذا التقسيم إنما دل عليه كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم استقرأ العلماء النصوص وتتبعوها فوجدوا أن هذا التوحيد أن التوحيد ينقسم إلى هذه الأقسام الثلاثة:

القسم الأول: توحيد الربوبية، وهو إثبات حقيقة ذات الرب وأفعاله، إثبات حقيقة ذات الرب وأفعاله، بأن تعتقد أن الله واجب الوجود لذاته سبحانه وتعالى، وأنه هو القائم بنفسه المقيم لغيره، وأنه هو الرب مربي عباده، وأنه هو الخالق، وأنه هو المالك، وأنه هو المدبر، فلا بد من هذه الأمور، لا بد في توحيد الله في ربوبيته من هذه الأمور:

الأمر الأول: إثبات حقيقة ذات الرب، بأن تعتقد أن الله واجب الوجود لذاته، لم يسبقه عدم، ولا يلحقه عدم سبحانه وتعالى، فهو واجب الوجود لذاته، بخلاف المخلوق فإن وجوده ليس واجبا ولا ممتنعا؛ لأنه لو كان واجبا لما سبقه العدم، كون العدم سبق وجود المخلوق دليل على أن وجوده ليس واجباً بل جائز، وليس ممتنعا؛ لأن الله خلقه وأوجده، فالممتنع لا يوجد فدل على أن وجوده (وجود المخلوق) وجود جائز، سبقه العدم ويلحقه العدم ويلحق حياته الضعف والنقص، أما وجود الله فهو وجود واجب لذاته لم يسبقه عدم سبحانه وتعالى، ولا يلحقه عدم ولا يلحق حياته نقص ولا ضعف ولا تغير ولا فساد ولا سنة ولا نوم.

ولم يتفرع من شيء، ولا يتفرع منه شيء، كما قال سبحانه: {قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ (1) اللَّهُ الصَّمَدُ (2) لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ (3) وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَد (4) } فلا بد من إثبات حقيقة ذات الرب، واعتقاد أن الله و (3) الوجود لذاته، لم يسبقه عدم ولا يلحقه عدم سبحانه وتعالى.
আল্লাহর তাওহিদ সম্পর্কে আমরা আল্লাহর তাওফিক প্রাপ্ত হয়ে বিশ্বাস সহকারে বলি: নিশ্চয়ই আল্লাহ এক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং তাঁর সদৃশ কিছুই নেই।

--------------------------------------------

"আল্লাহর তাওহিদ সম্পর্কে আমরা আল্লাহর তাওফিক প্রাপ্ত হয়ে বিশ্বাস সহকারে বলি যে, আল্লাহ এক, তাঁর কোনো শরিক নেই" — এটি এই আকিদার প্রথম বাক্য। তিনি বলেছেন: "আমরা আল্লাহর তাওহিদ সম্পর্কে আল্লাহর তাওফিক প্রাপ্ত হয়ে বিশ্বাস সহকারে বলি: আল্লাহ এক, তাঁর কোনো শরিক নেই।" "আমরা আল্লাহর তাওহিদ সম্পর্কে বলি" — তাওহিদ শব্দটি 'ওয়াহহাদা-ইউওয়াহহিদু' ক্রিয়ামূল থেকে আগত একটি মাসদার, যার অর্থ একত্বারোপ করা; অর্থাৎ তিনি একক। তাওহিদ হলো ইবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহকে একক সাব্যস্ত করা। "আমরা আল্লাহর তাওহিদ সম্পর্কে বলি" অর্থাৎ আল্লাহকে এক এবং শরিকহীন সাব্যস্ত করার বিষয়ে বলি। "বিশ্বাস সহকারে" অর্থাৎ এমন একটি আকিদা বা বিষয় সম্পর্কে যা আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি এবং নিশ্চিতভাবে জানি। তবে তা আল্লাহর তাওফিকের মাধ্যমে, আমাদের কোনো ক্ষমতা বা শক্তির মাধ্যমে নয়; বরং আল্লাহই আমাদের এই সঠিক আকিদার তাওফিক দান করেছেন।

আল্লাহর তাওহিদ সম্পর্কে আল্লাহর তাওফিক প্রাপ্ত হয়ে বিশ্বাস সহকারে বলি; অর্থাৎ আল্লাহর তাওফিক ও সাহায্য ব্যতীত মানুষ কোনো কিছু করতে পারে না, কোনো বিশ্বাস পোষণ করতে পারে না, কোনো কথা বলতে পারে না এবং আল্লাহর তাওফিক ও সাহায্য ছাড়া কোনো কাজই সম্পাদন করতে পারে না। এজন্যই লেখক (রহমতুল্লাহি আলাইহি) বলেছেন: আল্লাহর তাওহিদ সম্পর্কে আমরা আল্লাহর তাওফিক প্রাপ্ত হয়ে বিশ্বাস সহকারে বলি: নিশ্চয়ই আল্লাহ এক, তাঁর কোনো শরিক নেই। তিনি তাঁর সত্তায়, তাঁর গুণাবলিতে, তাঁর নামসমূহে, তাঁর কার্যাবলিতে এবং তাঁর উলুহিয়াত ও ইবাদতে এক, তাঁর কোনো শরিক নেই।

"আমরা আল্লাহর তাওহিদ সম্পর্কে বলি" এবং "নিশ্চয়ই আল্লাহ এক, তাঁর কোনো শরিক নেই" — এই বাক্যের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে তাওহিদের তিনটি প্রকারই। আল্লাহর তাওহিদ এবং আল্লাহ তাঁর সত্তায়, তাঁর প্রভুত্বে (রুবুবিয়্যাহ), তাঁর নাম ও গুণাবলিতে, তাঁর কার্যাবলিতে এবং তাঁর উলুহিয়াত ও ইবাদতে এক ও শরিকহীন হওয়ার বিষয়টি এর অন্তর্ভুক্ত।

আল্লাহর তাওহিদ তিন ভাগে বিভক্ত: যা জ্ঞানীদের নিকট তাওহিদে রুবুবিয়্যাহ, তাওহিদে উলুহিয়্যাহ এবং তাওহিদে আসমা ওয়াস-সিফাত নামে পরিচিত। এই প্রকারভেদগুলো কোনো ব্যক্তিগত অভিমত বা যুক্তি থেকে নেওয়া হয়নি। আলেমগণ এগুলো নিজেদের পক্ষ থেকে উদ্ভাবন করেননি, বরং তাঁরা এগুলো ধর্মীয় উৎসসমূহ (নসুস) থেকে গ্রহণ করেছেন। তাঁদের দলিল হলো 'ইস্তিকরা' বা সামগ্রিক পর্যালোচনা ও অনুসন্ধান। দলিলসমূহের সামগ্রিক পর্যালোচনা ও অনুসন্ধান প্রমাণ করেছে যে, তাওহিদ এই তিন ভাগে বিভক্ত: আল্লাহর রুবুবিয়্যাহ বা প্রভুত্বের তাওহিদ, আল্লাহর নাম ও গুণাবলির তাওহিদ এবং আল্লাহর উলুহিয়াত ও ইবাদতের তাওহিদ।

অতএব, এই প্রকারভেদের দলিল হলো দলিলসমূহের সামগ্রিক পর্যালোচনা ও অনুসন্ধান। প্রতিটি প্রকারের সপক্ষে দলিল বিদ্যমান। যেহেতু প্রতিটি প্রকারের সপক্ষে দলিল রয়েছে, তাই এটি কোনো বিদআত হতে পারে না, যেমনটি কিছু লোক দাবি করে যে এটি একটি বিদআত। তাদের কেউ কেউ তো এও বলেছে যে, তাওহিদের এই বিভাজন খ্রিস্টানদের ত্রিত্ববাদের মতো (নাউযুবিল্লাহ)। আমরা আল্লাহর নিকট এর থেকে নিরাপত্তা ও সুস্থতা প্রার্থনা করি।

এই প্রকারগুলো আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহ থেকে গৃহীত হয়েছে, যা সামনে বিস্তারিত আসবে। প্রতিটি প্রকার ও বিভাগের সপক্ষে দলিল রয়েছে। এছাড়া যারা আল্লাহকে এক বলে স্বীকার করে, তাদের অবস্থাও এই তিনটি বিষয়ের বাইরে নয়। কোনো ব্যক্তি আল্লাহর রুবুবিয়্যাহর ক্ষেত্রে একত্ববাদী হতে পারে, আবার কেউ তাঁর নাম ও গুণাবলির ক্ষেত্রে একত্ববাদী হতে পারে, আবার কেউ তাঁর উলুহিয়াত ও ইবাদতের ক্ষেত্রে একত্ববাদী হতে পারে। কেউ হয়তো রুবুবিয়্যাহ, আসমা ওয়াস-সিফাত এবং উলুহিয়াত — সবক্ষেত্রেই আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাসী। আবার কেউ হয়তো আল্লাহর রুবুবিয়্যাহর ক্ষেত্রে একত্ববাদী কিন্তু উলুহিয়াতের ক্ষেত্রে একত্ববাদী নয়। সুতরাং মানুষের অবস্থা ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে।

আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহ এই বিভাজনের প্রমাণ দেয়। আলেমগণ দলিলসমূহ পর্যালোচনা ও অনুসন্ধান করে দেখেছেন যে, তাওহিদ এই তিন ভাগে বিভক্ত:

প্রথম প্রকার: তাওহিদে রুবুবিয়্যাহ। এটি হলো রবের সত্তার বাস্তবতা এবং তাঁর কার্যাবলিকে সাব্যস্ত করা। অর্থাৎ আপনি বিশ্বাস করবেন যে আল্লাহ তাঁর নিজ সত্তার কারণেই স্বয়ং-অস্তিত্ববান, তিনি স্বয়ং-প্রতিষ্ঠিত এবং অন্যদের প্রতিষ্ঠাকারী। তিনি রব, যিনি তাঁর বান্দাদের লালন-পালন করেন। তিনিই সৃষ্টিকর্তা, তিনিই মালিক এবং তিনিই পরিচালক। আল্লাহর রুবুবিয়্যাহর তাওহিদের ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলো অপরিহার্য:

প্রথম বিষয়: রবের সত্তার বাস্তবতা সাব্যস্ত করা। অর্থাৎ আপনি বিশ্বাস করবেন যে আল্লাহ তাঁর নিজ সত্তার কারণেই স্বয়ং-অস্তিত্ববান। কোনো অস্তিত্বহীনতা তাঁর পূর্বে ছিল না এবং কোনো অস্তিত্বহীনতা তাঁকে স্পর্শ করবে না। তিনি তাঁর নিজ সত্তার কারণেই অনিবার্যভাবে অস্তিত্ববান। সৃষ্টির বিষয়টি এর বিপরীত; কারণ সৃষ্টির অস্তিত্ব অনিবার্য নয়। যদি তা অনিবার্য হতো, তবে তার পূর্বে কোনো অস্তিত্বহীনতা থাকত না। সৃষ্টির অস্তিত্বের পূর্বে যে অস্তিত্বহীনতা ছিল, তা-ই প্রমাণ করে যে তার অস্তিত্ব অনিবার্য নয় বরং সম্ভবপর। আবার তা অসম্ভবও নয়, কারণ আল্লাহ তাকে সৃষ্টি করেছেন ও অস্তিত্ব দান করেছেন। অসম্ভব বস্তুর অস্তিত্ব থাকে না। সুতরাং এটি প্রমাণ করে যে সৃষ্টির অস্তিত্ব একটি সম্ভবপর অস্তিত্ব, যার পূর্বে অস্তিত্বহীনতা ছিল এবং যার পরে অস্তিত্বহীনতা আসবে; আর তার জীবনে রয়েছে দুর্বলতা ও অপূর্ণতা। পক্ষান্তরে আল্লাহর অস্তিত্ব তাঁর নিজ সত্তার কারণেই অনিবার্য, কোনো অস্তিত্বহীনতা তাঁর পূর্বে ছিল না, কোনো অস্তিত্বহীনতা তাঁকে স্পর্শ করবে না এবং তাঁর জীবনে কোনো অপূর্ণতা, দুর্বলতা, পরিবর্তন, বিনাশ, তন্দ্রা বা নিদ্রা নেই।

তিনি কোনো কিছু থেকে উদ্ভূত হননি এবং তাঁর থেকে কোনো কিছু উদ্ভূত হয় না, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: "বলুন, তিনিই আল্লাহ, একক। আল্লাহ কারো মুখাপেক্ষী নন। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাঁকে জন্ম দেয়নি। এবং তাঁর সমতুল্য কেউ নেই।" সুতরাং রবের সত্তার বাস্তবতা সাব্যস্ত করা এবং আল্লাহ তাঁর নিজ সত্তার কারণে স্বয়ং-অস্তিত্ববান — এই বিশ্বাস রাখা অপরিহার্য; তাঁর পূর্বে কোনো অস্তিত্বহীনতা ছিল না এবং কোনো অস্তিত্বহীনতা তাঁকে স্পর্শ করবে না।
(খণ্ড: ১) শারহুল আক্বীদাহ আত-ত্বহাবীইয়াহ - আব্দুল আযীয আল-রাজহী (পৃষ্ঠা: ৮)
ثانيا: الإيمان بربوبية الله واعتقاد أن الله هو الرب وغيره مربوب، فهو الرب هو رب العباد وغيره مربوب كما قال سبحانه: {الْحَمْدُ لِلَّهِ ربِّ الْعَالَمِينَ (2) } هو رب العالمين، وكل ما سوى الله عالم، والله تعالى رب هؤلاء العالم، وغيره مربوب.

ثالثا: إثبات أن الله هو الخالق وغيره مخلوق، كما قال سبحانه: {اللَّهُ خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ} {وَخَلَقَ كُلَّ شَيْءٍ فَقَدَّرَهُ تَقْدِيرًا (2) } .

رابعا: اعتقاد أو إثبات أن الله هو المالك وغيره مملوك، فهو مالك كل شيء وغيره مملوك.

خامسا: اعتقاد وإثبات أن الله هو المدبر وغيره مدبَّر، فهو مدبر الخلق وهو المحيي وهو المميت وهو الرازق وهو الرزاق، وهو منزل المطر، مسبب الأسباب، يحيي ويميت، ويعز ويذل، ويخفض ويرفع، ويقبض ويبسط، فهو مدبر سبحانه وغيره مدبَّر.

بهذا يكون الإنسان وحد الله في ربوبيته، أثبت وجود الله واعتقد أن الله واجب الوجود لذاته، وأثبت ربوبية الله واعتقد أنه هو الرب وغيره مربوب، وأثبت أن الله هو الخالق وغيره المخلوق، وأثبت أن الله هو المالك وغيره المملوك، وأثبت أن الله هو المدبِّر وغيره المدبر، ومع ذلك لا يكفي هذا التوحيد في الإيمان والنجاة من النار، ولا يكون الإنسان مسلما بهذا التوحيد.

هذا النوع من التوحيد أقر به الكفار، مشركو قريش. قال الله تعالى: {وَلَئِنْ سَأَلْتَهُمْ مَنْ خَلَقَهُمْ لَيَقُولُنَّ اللَّهُ} {وَلَئِنْ سَأَلْتَهُمْ مَنْ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَسَخَّرَ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ لَيَقُولُنَّ اللَّهُ} يقول سبحانه: {قُلْ لِمَنِ الْأَرْضُ وَمَنْ فِيهَا إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ (84) سَيَقُولُونَ لِلَّهِ قُلْ أَفَلَا تَذَكَّرُونَ (85) } {قُلْ مَنْ رَبُّ السَّمَاوَاتِ السَّبْعِ وَرَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ (86) سَيَقُولُونَ لِلَّهِ قُلْ أَفَلَا تَتَّقُونَ (87) } {قُلْ مَنْ بِيَدِهِ مَلَكُوتُ كُلِّ شَيْءٍ وَهُوَ يُجِيرُ وَلَا يُجَارُ عَلَيْهِ إِن كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ (88) سَيَقُولُونَ لِلَّهِ قُلْ فَأَنَّى تُسْحَرُونَ (89) } {قُلْ مَنْ يَرْزُقُكُمْ مِنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ أَمْ مَنْ يَمْلِكُ السَّمْعَ وَالْأَبْصَارَ وَمَنْ يُخْرِجُ الْحَيَّ مِنَ الْمَيِّتِ وَيُخْرِجُ الْمَيِّتَ مِنَ الْحَيِّ وَمَنْ يُدَبِّرُ الْأَمْرَ فَسَيَقُولُونَ اللَّهُ فَقُلْ أَفَلَا تَتَّقُونَ (31) } .

إذن هذا النوع من التوحيد أقر به كفار قريش، ومع ذلك لم يدخلوا في الإسلام، بل قاتلهم رسول الله صلى الله عليه وسلم واستحل دماءهم وأموالهم؛ لأنهم لم يأتوا بلازمه وهو توحيد الألوهية والعبادة.

الثاني: توحيد الأسماء والصفات، وهو الإيمان والإقرار بأسماء الله الحسنى وصفاته العلا التي ثبتت بالكتاب والسنة، والإيمان بها وإثباتها لله على ما يليق بجلاله وعظمته من غير تحريف ولا تعطيل، ومن غير تكييف ولا تمثيل.

والأسماء والصفات توقيفية ليس لأحد أن يخترع لله أسماء وصفات من عند نفسه، بل الأسماء والصفات توقيفية، ما ثبت بالكتاب والسنة أنه اسم لله أو وصف أثبتناه له، وما لم يثبت بالكتاب والسنة نتوقف لا نثبته، فلا بد من الإيمان والإقرار والعلم بما لله من الأسماء والصفات على الوجه اللائق بالله عز وجل من غير تكييف ولا تمثيل ولا تحريف ولا تعطيل.

وهذا النوع أيضا من التوحيد أقر به كفار قريش، كانوا يقرون، كان المشركون يقرون بجنس هذا النوع، ولم يوجد عندهم منهم إنكار لشيء من الأسماء والصفات إلا في اسم الرحمن خاصة، فأنزل الله {وَهُمْ يَكْفُرُونَ بِالرَّحْمَنِ} .

ولما أمر النبي صلى الله عليه وسلم أن يكتب الكتاب في صلح الحديبية وقال للكاتب: (اكتب بسم الله الرحمن الرحيم. قال سهيل الذي صالح النبي صلى الله عليه وسلم بالمشركين: اكتب باسمك اللهم، فإننا لا نعرف الرحمن ولا الرحيم) .

قال الحافظ ابن كثير رحمه الله: والظاهر أن إنكارهم لاسم الرحمن إنما هو من باب التعنت والعناد، وإلا فقد وجد في أشعار الجاهلية ما يثبت اسم الرحمن لله عز وجل كما قال الشاعر:

وما يشأ الرحمن يعقد ويطلق

فإنكارهم للرحمن من باب التعنت والعناد، ولم يعرف عنهم إنكار شيء منها من الأسماء إلا في اسم الرحمن خاصة، وهذا النوع من التوحيد وهو توحيد الأسماء والصفات لا يكفي بالإيمان والإسلام، ولا يدخل الإنسان في الإسلام حتى يقر بلازمه، وهو توحيد الألوهية والعبادة.

يعني هذا النوع من التوحيد وهو توحيد الأسماء والصفات كالنوع السابق كتوحيد الربوبية لا يكفي في كون الإنسان مسلما مؤمنا موحدا، ولكن في نجاته من النار ودخول الجنة حتى يوحد الله في ألوهيته.

النوع الثالث: توحيد الألوهية والعبادة، وهو توحيد الله بأفعال العباد.
দ্বিতীয়ত: আল্লাহর রুবুবিয়্যাহর (প্রভুত্বের) ওপর ঈমান আনা এবং এই বিশ্বাস পোষণ করা যে আল্লাহই একমাত্র রব (প্রভু) এবং তিনি ব্যতীত অন্য যা কিছু আছে তা তাঁর দ্বারা প্রতিপালিত। তিনি হলেন বান্দাদের রব এবং তিনি ছাড়া অন্য সবকিছু তাঁর সৃষ্টির অন্তর্ভুক্ত, যেমনটি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা বলেছেন: {সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি বিশ্বজগতের রব (২)}। তিনি বিশ্বজগতের রব, আর আল্লাহ ব্যতীত যা কিছু আছে সবই জগত, এবং আল্লাহ তা'আলা এই জগতের রব, এবং অন্য সব কিছু তাঁরই সৃষ্টি ও প্রতিপালিত।

তৃতীয়ত: আল্লাহই যে একমাত্র স্রষ্টা এবং তিনি ব্যতীত অন্য সবকিছু যে সৃষ্টি, তা সাব্যস্ত করা। যেমনটি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা বলেছেন: {আল্লাহই সকল বস্তুর স্রষ্টা} এবং {তিনিই সবকিছু সৃষ্টি করেছেন এবং সেটির যথাযথ পরিমাপ নির্ধারণ করেছেন (২)}।

চতুর্থত: আল্লাহই যে একমাত্র মালিক (অধিপতি) এবং তিনি ব্যতীত অন্য সবকিছু যে তাঁর মালিকানাধীন, এই বিশ্বাস রাখা বা তা সাব্যস্ত করা। তিনি সবকিছুর মালিক এবং অন্য সবকিছু তাঁর মালিকানাধীন।

পঞ্চমত: আল্লাহই যে একমাত্র পরিচালক (ব্যবস্থাপক) এবং অন্য সবকিছু তাঁর দ্বারা পরিচালিত, এই বিশ্বাস রাখা ও সাব্যস্ত করা। তিনি সৃষ্টির পরিচালক, তিনিই জীবন দানকারী, তিনিই মৃত্যু দানকারী, তিনিই রিযিকদাতা এবং তিনিই পরম রিযিকদাতা। তিনিই বৃষ্টি বর্ষণকারী, সকল কারণের স্রষ্টা, জীবন ও মৃত্যু দান করেন, তিনি কাউকে সম্মানিত করেন আবার কাউকে লাঞ্ছিত করেন, কাউকে নিচু করেন আবার কাউকে উচ্চ করেন, কাউকে সংকুচিত করেন আবার কাউকে প্রসারিত করেন। তিনি সুবহানাহু ওয়া তা'আলা পরিচালক এবং অন্য সবকিছু তাঁর দ্বারা পরিচালিত।

এর মাধ্যমে একজন মানুষ আল্লাহর রুবুবিয়্যাহতে তাঁকে এক হিসেবে মেনে নিল। সে আল্লাহর অস্তিত্ব সাব্যস্ত করল এবং এই বিশ্বাস পোষণ করল যে আল্লাহ তাঁর নিজ সত্তায় অস্তিত্ববান হওয়া অপরিহার্য, সে আল্লাহর রুবুবিয়্যাহ সাব্যস্ত করল এবং বিশ্বাস করল যে তিনিই রব এবং অন্য সব তাঁর সৃষ্টির অন্তর্ভুক্ত। সে সাব্যস্ত করল যে আল্লাহই স্রষ্টা এবং অন্য সব তাঁর সৃষ্টি। সে সাব্যস্ত করল যে আল্লাহই মালিক এবং অন্য সব তাঁর মালিকানাধীন। সে সাব্যস্ত করল যে আল্লাহই পরিচালক এবং অন্য সব তাঁর দ্বারা পরিচালিত। তবে এতদসত্ত্বেও, ঈমান এবং জাহান্নাম থেকে নাজাত পাওয়ার জন্য কেবল এই তাওহীদই যথেষ্ট নয় এবং কেবল এই তাওহীদের মাধ্যমেই একজন মানুষ মুসলিম হতে পারে না।

এই প্রকারের তাওহীদকে কুরাইশ মুশরিক ও কাফিররা স্বীকার করত। আল্লাহ তা'আলা বলেছেন: {আর আপনি যদি তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন, কে তাদের সৃষ্টি করেছে? তারা অবশ্যই বলবে, আল্লাহ।} {আর যদি আপনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন, কে আসমানসমূহ ও যমিন সৃষ্টি করেছেন এবং সূর্য ও চন্দ্রকে বশীভূত করেছেন? তারা অবশ্যই বলবে, আল্লাহ।} আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা আরও বলেন: {বলুন, এই পৃথিবী এবং এতে যারা আছে তারা কার? যদি তোমরা জানো। তারা অচিরেই বলবে, আল্লাহর। বলুন, তবে কি তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করবে না? (৮৫) বলুন, সপ্ত আকাশ ও সুমহান আরশের রব কে? (৮৬) তারা অচিরেই বলবে, আল্লাহ। বলুন, তবে কি তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করবে না? (谋৮৭) বলুন, কার হাতে সবকিছুর কর্তৃত্ব রয়েছে, যিনি আশ্রয় দান করেন এবং যাঁর ওপর আশ্রয় দেওয়ার কেউ নেই, যদি তোমরা জেনে থাকো? (৮৮) তারা অচিরেই বলবে, আল্লাহর। বলুন, তবে কোথা থেকে তোমাদের জাদু করা হচ্ছে? (৮৯)} {বলুন, আসমান ও যমিন থেকে কে তোমাদের রিযিক দান করেন? অথবা কান ও চোখের মালিক কে? আর কে জীবিতকে মৃত থেকে এবং মৃতকে জীবিত থেকে বের করে আনেন? আর কে সব বিষয় পরিচালনা করেন? তারা অচিরেই বলবে, আল্লাহ। সুতরাং বলুন, তবে কি তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করবে না? (৩১)}।

সুতরাং এই প্রকারের তাওহীদ কুরাইশ কাফিররা স্বীকার করত, কিন্তু তা সত্ত্বেও তারা ইসলামে প্রবেশ করতে পারেনি। বরং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন এবং তাদের রক্ত ও সম্পদকে বৈধ গণ্য করেছিলেন; কারণ তারা তাওহীদের অপরিহার্য দাবি তথা তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ বা ইবাদতের তাওহীদ নিয়ে আসেনি।

দ্বিতীয় প্রকার: তাওহীদুল আসমা ওয়াস সিফাত (নাম ও গুণাবলীর তাওহীদ)। আর তা হলো আল্লাহর সেই সকল সুন্দর নাম ও উচ্চতর গুণাবলীর ওপর ঈমান আনা ও স্বীকৃতি প্রদান করা যা কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত। এগুলোর ওপর ঈমান আনা এবং আল্লাহর মহানুভবতা ও মর্যাদার সাথে যেভাবে মানানসই, সেভাবেই কোনো প্রকার বিকৃতি, অস্বীকার, ধরণ নির্ধারণ বা সাদৃশ্য প্রদান ছাড়াই আল্লাহর জন্য তা সাব্যস্ত করা।

আর আল্লাহর নাম ও গুণাবলী হলো ওহীর ওপর নির্ভরশীল। নিজের পক্ষ থেকে আল্লাহর কোনো নাম বা গুণ আবিষ্কার করার অধিকার কারও নেই। বরং নাম ও গুণাবলী ওহীর ওপর স্থগিত। কুরআন ও সুন্নাহর মাধ্যমে যা আল্লাহর নাম বা গুণ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে, আমরা তা তাঁর জন্য সাব্যস্ত করি। আর যা কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত নয়, সেখানে আমরা বিরত থাকি এবং তা সাব্যস্ত করি না। সুতরাং আল্লাহর জন্য যে সকল নাম ও গুণাবলী রয়েছে, সেগুলোর ওপর কোনো ধরণ নির্ধারণ, সাদৃশ্য প্রদান, বিকৃতি বা অস্বীকার ছাড়াই যেভাবে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার শানের সাথে মানানসই, সেভাবে ঈমান আনা, স্বীকৃতি দেওয়া এবং জ্ঞান রাখা আবশ্যক।

তাওহীদের এই প্রকারটিও কুরাইশ কাফিররা স্বীকার করত। মুশরিকরা সাধারণত এই প্রকারের স্বীকৃতি দিত। তাদের মধ্যে আল্লাহর নাম ও গুণাবলীর কোনো কিছুই অস্বীকার করার প্রবণতা ছিল না, কেবল 'আর-রাহমান' নামটির ক্ষেত্র ব্যতীত। তাই আল্লাহ নাযিল করলেন: {আর তারা আর-রাহমানকে অস্বীকার করে}।

হুদায়বিয়ার সন্ধির সময় যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চুক্তিপত্র লেখার নির্দেশ দিলেন এবং লেখককে বললেন: (লেখো, আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু)। তখন মুশরিকদের পক্ষে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সন্ধি করতে আসা সুহাইল বলল: লেখো, 'হে আল্লাহ আপনার নামে', কারণ আমরা রাহমান বা রাহিম চিনি না।

হাফেজ ইবনে কাসীর রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন: স্পষ্টত এটি প্রতীয়মান হয় যে, আর-রাহমান নামটির ব্যাপারে তাদের এই অস্বীকার ছিল কেবল একগুঁয়েমি ও হঠকারিতার বশবর্তী হয়ে। নতুবা জাহিলী যুগের কাব্যসমূহে এমন নিদর্শন পাওয়া যায় যা আল্লাহর জন্য 'আর-রাহমান' নামটি সাব্যস্ত করে, যেমনটি কবি বলেছেন:

আর রাহমান যা চান তা-ই বাঁধেন এবং তা-ই খুলে দেন।

সুতরাং আর-রাহমান নামটির প্রতি তাদের এই অস্বীকার ছিল একগুঁয়েমি ও হঠকারিতার কারণে। আর বিশেষভাবে 'আর-রাহমান' নাম ছাড়া অন্য কোনো নামের অস্বীকার তাদের থেকে জানা যায়নি। আর তাওহীদের এই প্রকার তথা আসমা ওয়াস সিফাতের তাওহীদও ঈমান ও ইসলামের জন্য যথেষ্ট নয়। একজন মানুষ ততক্ষণ ইসলামে প্রবেশ করতে পারবে না যতক্ষণ না সে এর অপরিহার্য দাবি তথা তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ বা ইবাদতের তাওহীদকে স্বীকার করে নেবে।

অর্থাৎ, তাওহীদের এই প্রকারটি তথা আসমা ওয়াস সিফাতের তাওহীদ পূর্ববর্তী রুবুবিয়্যাহর তাওহীদের মতোই একজন মানুষের মুসলিম, মুমিন ও মুওয়াহহিদ হওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়। এবং তার জাহান্নাম থেকে মুক্তি ও জান্নাতে প্রবেশের জন্য ততক্ষণ যথেষ্ট নয় যতক্ষণ না সে উলুহিয়্যাহ বা উপাসনায় আল্লাহর একত্ববাদ প্রতিষ্ঠা করে।

তৃতীয় প্রকার: তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ ও ইবাদত। আর তা হলো বান্দার কার্যাবলীর মাধ্যমে আল্লাহর একত্ববাদ সাব্যস্ত করা।
(খণ্ড: ১) শারহুল আক্বীদাহ আত-ত্বহাবীইয়াহ - আব্দুল আযীয আল-রাজহী (পৃষ্ঠা: ৯)
النوع الأول: وهو توحيد الربوبية توحيد الله بأفعال الرب، الخلق والرزق والإماتة والإحياء هذه أفعال الله، فأنت توحد الله بأفعاله هو، توحيد الله بأفعاله، توحيد الربوبية توحيد الله بأفعاله.

أما توحيد الألوهية فهو توحيد الله بأفعال العباد بأفعالك أنت أيها الإنسان من صلاة وزكاة وصوم وحج وبر للوالدين وصلة للرحم، هذه أفعالك أنت وأمر بمعروف ونهي عن منكر وكف نفسك عن المحرمات تتقرب بها إلى الله، توحد الله بها بأن تتقرب إلى الله، وتخلصها لله، وتريد بها وجه الله والدار الآخرة، هذا هو توحيد العبادة.

وتوحيد العبادة هو أول دعوة الرسل وآخرها، وأول منازل الطريق، وأول مقام يقوم فيه السالك إلى الله، وهو أول دعوة الرسل وآخرها كما أخبر الله تعالى عن الأنبياء.

قال الله تعالى: {لَقَدْ أَرْسَلْنَا نُوحًا إِلَى قَوْمِهِ فَقَالَ يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ} وقال سبحانه: {وَإِلَى عَادٍ أَخَاهُمْ هُودًا قَالَ يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ} {وَإِلَى ثَمُودَ أَخَاهُمْ صَالِحًا قَالَ يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ} {وَإِلَى مَدْيَنَ أَخَاهُمْ شُعَيْبًا قَالَ يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ} وقال سبحانه: {وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولًا أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ} وقال سبحانه: {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَسُولٍ إِلَّا نُوحِي إِلَيْهِ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدُونِ (25) } .

هذا التوحيد توحيد الألوهية هو أول الدين وآخره، وظاهره وباطنه، وأول دعوة الرسل وآخرها، وأول منازل الطريق، وأول مقام يقوم فيه السالك إلى الله، وأول ما يدخل به المسلم في الإسلام، وآخر ما يخرج به من الدنيا كما قال النبي صلى الله عليه وسلم في الحديث الصحيح: (من كان آخر كلامه لا إله إلا الله دخل الجنة) .

وهذا التوحيد لأجله خلق الله الخليقة، ولأجله أرسل الله الرسل، ولأجله أنزل الله الكتب، ولأجله قام سوق الجهاد، ولأجله حقت الحاقة، ولأجله وقعت الواقعة، ولأجله انقسم الناس إلى شقي وسعيد، إلى كفار ومؤمنين، وهذا التوحيد هو الغاية المحبوبة لله والمرضية له، هو الغاية المحبوبة لله، والغاية التي ترضي الله عز وجل هذا التوحيد.

وهذا التوحيد هو الذي وقعت فيه الخصومة بين الأنبياء والرسل في قديم الدهر وحديثه، الأنبياء والرسل إنما نازعهم وخاصمهم مخاصمة منهم في هذا التوحيد، بخلاف توحيد الربوبية، وتوحيد الأسماء والصفات فهما توحيدان فطريان قد أقر بهما جميع الخلق إلا من شذ، إلا بعض الطوائف التي شذت وانتكست فطرتها، وعميت بصيرتها.

وإلا فجميع الخلائق يقرون بتوحيد الربوبية وتوحيد الأسماء والصفات، والنزاع والخصومة بين الأنبياء والرسل في هذا التوحيد، وهو توحيد الألوهية والعبادة، والتوحيد توحيد الربوبية وتوحيد الأسماء والصفات هما الوسيلة والغاية تفيد العبادة والألوهية توحيد الربوبية وتوحيد الأسماء والصفات أن تعرف ربك، وتعلم ربك بأسمائه وصفاته وأفعاله فإذا عرفت ربك عبدته، وتقربت إليه، وأخلصت العبادة له، فتوحيد الربوبية والأسماء والصفات أن تعلم ربك بأسمائه، وتعرف ربك بأسمائه وصفاته وأفعاله، تعرف معبودك ثم تعبده وتخلص له العبادة.

ومن العلماء من قسم التوحيد إلى قسمين، كشيخ الإسلام وابن القيم قالوا: التوحيد ينقسم إلى قسمين، وهذا التقسيم بالنسبة إلى الخبر والإنشاء، بالنسبة إلى الخبر والإنشاء قالوا: ينقسم إلى قسمين:

القسم الأول: توحيد في المعرفة والإثبات.

والقسم الثاني: توحيد في الطلب والقصد، توحيد في المعرفة والإثبات وهذا يشمل توحيد الربوبية وتوحيد الأسماء والصفات، يقال له توحيد في المعرفة والإثبات، ويقال له التوحيد القولي، ويقال له التوحيد الاعتقادي، ويقال له التوحيد العلمي الخبري.

والثاني: توحيد الإرادة والطلب وهو توحيد العبادة.

قال العلماء: إن التوحيد الأول وهو التوحيد في المعرفة والإثبات كما ذكر العلامة ابن القيم رحمه الله وغيره هو إثبات حقيقة ذات الرب وأسمائه وصفاته وأفعاله، وإثبات عموم قضائه وقدره وحكمته، وقد أفصح القرآن عن هذا النوع كل الإفصاح، كما في أول سورة الحديد، وسورة طه، وآخر سورة الحشر، وأول سورة الم تنزيل السجدة، وسورة الإخلاص بكمالها.

وكما في قوله سبحانه وتعالى: {قُولُوا آَمَنَّا بِاللَّهِ وَمَا أُنْزِلَ إِلَيْنَا وَمَا أُنْزِلَ إِلَى إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ وَيَعْقُوبَ وَالْأَسْبَاطِ وَمَا أُوتِيَ مُوسَى وَعِيسَى وَمَا أُوتِيَ النَّبِيُّونَ مِنْ رَبِّهِمْ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِنْهُمْ وَنَحْنُ لَهُ مُسْلِمُونَ (136) } .
প্রথম প্রকার: এটি হলো তাওহীদে রুবুবিয়্যাহ। রবের কার্যাবলীর মাধ্যমে আল্লাহর একত্ববাদ ঘোষণা করা। সৃষ্টি করা, রিযিক দেওয়া, মৃত্যু দেওয়া এবং জীবন দান করা—এগুলো আল্লাহর কাজ। সুতরাং আপনি আল্লাহর একত্ববাদ ঘোষণা করবেন তাঁর নিজের কার্যাবলীর মাধ্যমে। আল্লাহর কার্যাবলীর মাধ্যমে আল্লাহর একত্ববাদ সাব্যস্ত করাই হলো তাওহীদে রুবুবিয়্যাহ।

আর তাওহীদে উলুহিয়্যাহ হলো বান্দার কার্যাবলীর মাধ্যমে আল্লাহর একত্ববাদ ঘোষণা করা। হে মানুষ! আপনার কার্যাবলী যেমন: সালাত, যাকাত, সিয়াম, হজ, পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণ, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা ইত্যাদি। এগুলো আপনার কাজ। এছাড়া সৎ কাজের আদেশ, অসৎ কাজের নিষেধ এবং নিষিদ্ধ বিষয়গুলো থেকে নিজেকে বিরত রাখার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা। আপনি এর মাধ্যমে আল্লাহর একত্ববাদ ঘোষণা করবেন এভাবে যে, আপনি আল্লাহর নৈকট্য লাভ করবেন, তাঁর জন্য ইবাদতকে একনিষ্ঠ করবেন এবং এর মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও পরকাল কামনা করবেন। এটাই হলো ইবাদতের তাওহীদ।

আর ইবাদতের তাওহীদই হলো রাসূলগণের দাওয়াতের শুরু ও শেষ, পথ চলার প্রথম মনযিল এবং আল্লাহর পথে বিচরণকারীর প্রথম মাকাম। এটিই রাসূলগণের দাওয়াতের শুরু ও শেষ, যেমনটি মহান আল্লাহ নবীদের সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন।

মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয় আমি নূহকে তার সম্প্রদায়ের কাছে পাঠিয়েছি, অতঃপর সে বলল, হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর, তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোনো উপাস্য নেই।} আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আরও বলেন: {এবং আদ সম্প্রদায়ের কাছে তাদের ভাই হুদকে পাঠিয়েছি, সে বলল, হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর, তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোনো উপাস্য নেই।} {এবং সামূদ সম্প্রদায়ের কাছে তাদের ভাই সালিহকে পাঠিয়েছি, সে বলল, হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর, তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোনো উপাস্য নেই।} {এবং মাদইয়ান সম্প্রদায়ের কাছে তাদের ভাই শুয়াইবকে পাঠিয়েছি, সে বলল, হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর, তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোনো উপাস্য নেই।} আল্লাহ সুবহানাহু আরও বলেন: {আমি প্রত্যেক উম্মতের মধ্যেই রাসূল পাঠিয়েছি এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর এবং তাগুতকে বর্জন কর।} আল্লাহ সুবহানাহু আরও বলেন: {আপনার পূর্বে আমি এমন কোনো রাসূল পাঠাইনি যার কাছে আমি এই ওহী পাঠাইনি যে, আমি ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নেই, অতএব তোমরা আমারই ইবাদত কর।}

এই তাওহীদ তথা তাওহীদে উলুহিয়্যাহ হলো দীনের শুরু ও শেষ, এর প্রকাশ্য ও গোপন এবং রাসূলগণের দাওয়াতের শুরু ও শেষ। এটি পথ চলার প্রথম মনযিল এবং আল্লাহর দিকে বিচরণকারীর প্রথম মাকাম। এটিই প্রথম বিষয় যার মাধ্যমে একজন মুসলিম ইসলামে প্রবেশ করে এবং দুনিয়া থেকে বিদায় নেওয়ার সময় তার সর্বশেষ বিষয়। যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সহীহ হাদীসে বলেছেন: (যার শেষ কথা হবে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।)

আর এই তাওহীদের জন্যই আল্লাহ সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করেছেন, এর জন্যই আল্লাহ রাসূলদের পাঠিয়েছেন, এর জন্যই আল্লাহ কিতাবসমূহ নাযিল করেছেন, এর জন্যই জিহাদের ময়দান কায়েম হয়েছে, এর জন্যই মহাপ্রলয় অনিবার্য হয়েছে, এর জন্যই কিয়ামত সংঘটিত হবে এবং এর জন্যই মানুষ হতভাগা ও সৌভাগ্যবান—কাফির ও মুমিন এই দুই ভাগে বিভক্ত হয়েছে। এই তাওহীদই আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় ও পছন্দনীয় লক্ষ্য। আল্লাহর নিকট প্রিয় লক্ষ্য এবং আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা যে লক্ষ্যে সন্তুষ্ট হন, তা হলো এই তাওহীদ।

আর এই তাওহীদ নিয়েই প্রাচীন ও আধুনিক কালে নবী ও রাসূলগণের সাথে বিবাদ সংঘটিত হয়েছে। নবী ও রাসূলগণের সাথে তাদের সম্প্রদায় মূলত এই তাওহীদ নিয়েই বিবাদ ও শত্রুতা করেছিল। তবে তাওহীদে রুবুবিয়্যাহ এবং তাওহীদে আসমা ওয়া সিফাতের (নাম ও গুণাবলী) বিষয়টি ভিন্ন; এ দুটি তাওহীদ হলো ফিতরাত বা মানুষের স্বভাবজাত বিষয়। বিপথগামী অল্প কিছু দল ছাড়া সমস্ত সৃষ্টিজগত এ দুটি বিষয় স্বীকার করে নিয়েছে। কেবল তারাই অস্বীকার করেছে যারা সত্যচ্যুত হয়েছে, যাদের ফিতরাত বিকৃত হয়েছে এবং যাদের অন্তর্দৃষ্টি অন্ধ হয়ে গেছে।

অন্যথায় সমস্ত সৃষ্টিজগতই তাওহীদে রুবুবিয়্যাহ এবং তাওহীদে আসমা ওয়া সিফাত স্বীকার করে। মূলত নবী ও রাসূলগণের সাথে বিবাদ ও শত্রুতা ছিল এই তাওহীদকে কেন্দ্র করেই, আর তা হলো তাওহীদে উলুহিয়্যাহ ও ইবাদত। আর তাওহীদে রুবুবিয়্যাহ এবং তাওহীদে আসমা ওয়া সিফাত হলো অসীলা বা মাধ্যম এবং লক্ষ্য হলো ইবাদত ও উলুহিয়্যাহ। তাওহীদে রুবুবিয়্যাহ এবং তাওহীদে আসমা ওয়া সিফাত আপনাকে আপনার রবকে চিনতে এবং আল্লাহর নাম, গুণাবলী ও কার্যাবলীর মাধ্যমে আপনার রব সম্পর্কে জানতে সাহায্য করে। যখন আপনি আপনার রবকে চিনবেন, তখন আপনি তাঁর ইবাদত করবেন, তাঁর নৈকট্য লাভ করবেন এবং তাঁর জন্য ইবাদতকে একনিষ্ঠ করবেন। সুতরাং তাওহীদে রুবুবিয়্যাহ এবং আসমা ওয়া সিফাত হলো আপনার রবকে তাঁর নামের মাধ্যমে জানা এবং তাঁর নাম, গুণাবলী ও কার্যাবলীর মাধ্যমে আপনার রবকে চেনা। অর্থাৎ আপনার মাবুদকে চেনা, এরপর তাঁর ইবাদত করা এবং তাঁর জন্য ইবাদতকে একনিষ্ঠ করা।

আলেমদের মধ্যে কেউ কেউ তাওহীদকে দুই ভাগে ভাগ করেছেন, যেমন শাইখুল ইসলাম এবং ইবনুল কায়্যিম। তাঁরা বলেছেন: তাওহীদ দুই প্রকার। সংবাদ এবং দাবির প্রেক্ষিতে তাঁরা একে দুই ভাগে ভাগ করেছেন:

প্রথম প্রকার: পরিচিতি ও সাব্যস্তকরণমূলক তাওহীদ।

দ্বিতীয় প্রকার: চাওয়া এবং উদ্দেশ্যমূলক তাওহীদ। পরিচিতি ও সাব্যস্তকরণমূলক তাওহীদ বলতে তাওহীদে রুবুবিয়্যাহ এবং তাওহীদে আসমা ওয়া সিফাতকে বোঝায়। একে পরিচিতি ও সাব্যস্তকরণমূলক তাওহীদ বলা হয়, আবার একে মৌখিক তাওহীদ, আকীদাহগত তাওহীদ এবং ইলমী ও খবারী তাওহীদও বলা হয়।

দ্বিতীয়টি হলো: ইচ্ছা ও চাওয়ার তাওহীদ, যা হলো ইবাদতের তাওহীদ।

আলেমগণ বলেন: প্রথম তাওহীদটি হলো পরিচিতি ও সাব্যস্তকরণমূলক তাওহীদ, যেমনটি আল্লামা ইবনুল কায়্যিম রহিমাহুল্লাহ ও অন্যান্যরা উল্লেখ করেছেন। আর তা হলো রবের সত্তার হাকীকত, তাঁর নামসমূহ, তাঁর গুণাবলী এবং তাঁর কার্যাবলীর সাব্যস্তকরণ। এছাড়া তাঁর ফয়সালা, তকদীর ও হিকমতের ব্যাপকতাকে সাব্যস্ত করা। কুরআন মাজীদে এই প্রকারটি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে, যেমনটি সূরা আল-হাদীদ-এর শুরুতে, সূরা ত্বহা, সূরা আল-হাশর-এর শেষাংশ, সূরা আলিফ লাম মীম তানযীল আস-সাজদাহ-এর শুরুতে এবং সম্পূর্ণ সূরা আল-ইখলাসে বর্ণিত হয়েছে।

যেমনটি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার এই বাণীতে রয়েছে: {তোমরা বল, ‘আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহর প্রতি এবং যা আমাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে এবং যা ইবরাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকূব ও তাঁর বংশধরদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে এবং যা মূসা ও ঈসাকে দেওয়া হয়েছে এবং যা নবীগণকে তাঁদের রবের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে। আমরা তাঁদের মধ্য থেকে কারো মধ্যে তারতম্য করি না এবং আমরা তাঁরই অনুগত (মুসলিম)।’}
(খণ্ড: ১) শারহুল আক্বীদাহ আত-ত্বহাবীইয়াহ - আব্দুল আযীয আল-রাজহী (পৃষ্ঠা: ১০)
أول سورة الحديد فيها: {سَبَّحَ لِلَّهِ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ (1) لَهُ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ يُحْيِي وَيُمِيتُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ (2) هُوَ الْأَوَّلُ وَالْآَخِرُ وَالظَّاهِرُ وَالْبَاطِنُ وَهُوَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ (3) } أول سورة طه فيها: {طه (1) مَا أَنْزَلْنَا عَلَيْكَ الْقُرْآَنَ لِتَشْقَى (2) إِلَّا تَذْكِرَةً لِمَنْ يَخْشَى (3) تَنْزِيلًا مِمَّنْ خَلَقَ الْأَرْضَ وَالسَّمَاوَاتِ الْعُلَا (4) الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى (5) لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا وَمَا تَحْتَ الثَّرَى (6) وَإِنْ تَجْهَرْ بِالْقَوْلِ فَإِنَّهُ يَعْلَمُ السِّرَّ وَأَخْفَى (7) اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ لَهُ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى (8) } .

أول سورة الم تنزيل السجدة كذلك: {الم (1) تَنْزِيلُ الْكِتَابِ لَا رَيْبَ فِيهِ مِنْ رَبِّ الْعَالَمِينَ (2) أَمْ يَقُولُونَ افْتَرَاهُ بَلْ هُوَ الْحَقُّ مِنْ رَبِّكَ لِتُنْذِرَ قَوْمًا مَا أَتَاهُمْ مِنْ نَذِيرٍ مِنْ قَبْلِكَ لَعَلَّهُمْ يَهْتَدُونَ (3) اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ} وهكذا سورة الإخلاص بكمالها.

والنوع الثاني: التوحيد الإرادي الطلبي مثل ما تضمنت سورة قل يا أيها الكافرون {قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ (1) لَا أَعْبُدُ مَا تَعْبُدُونَ (2) وَلَا أَنْتُمْ عَابِدُونَ مَا أَعْبُدُ (3) وَلَا أَنَا عَابِدٌ مَا عَبَدْتُمْ (4) وَلَا أَنْتُمْ عَابِدُونَ مَا أَعْبُدُ (5) لَكُمْ دِينُكُمْ وَلِيَ دِينِ (6) } ومثل ما تضمنته الآية الكريمة آية آل عمران: {قُلْ يَا أَهْلَ الْكِتَابِ تَعَالَوْا إِلَى كَلِمَةٍ سَوَاءٍ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ أَلَّا نَعْبُدَ إِلَّا اللَّهَ وَلَا نُشْرِكَ بِهِ شَيْئًا وَلَا يَتَّخِذَ بَعْضُنَا بَعْضًا أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللَّهِ فَإِنْ تَوَلَّوْا فَقُولُوا اشْهَدُوا بِأَنَّا مُسْلِمُونَ (64) } .

وكذلك أيضا ما تضمنت سورة يونس أولها وأوسطها وآخرها {أَكَانَ لِلنَّاسِ عَجَبًا أَنْ أَوْحَيْنَا إِلَى رَجُلٍ مِنْهُمْ أَنْ أَنْذِرِ النَّاسَ وَبَشِّرِ الَّذِينَ آَمَنُوا أَنَّ لَهُمْ قَدَمَ صِدْقٍ عِنْدَ رَبِّهِمْ قَالَ الْكَافِرُونَ إِن هَذَا لَسَاحِرٌ مُبِينٌ (2) إِنَّ رَبَّكُمُ اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ يُدَبِّرُ الْأَمْرَ مَا مِنْ شَفِيعٍ إِلَّا مِنْ بَعْدِ إِذْنِهِ ذَلِكُمُ اللَّهُ رَبُّكُمْ فَاعْبُدُوهُ أَفَلَا تَذَكَّرُونَ (3) } .

في آخرها: {قُلْ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنْ كُنْتُمْ فِي شَكٍّ مِنْ دِينِي فَلَا أَعْبُدُ الَّذِينَ تَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ وَلَكِنْ أَعْبُدُ اللَّهَ الَّذِي يَتَوَفَّاكُمْ وَأُمِرْتُ أَنْ أَكُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ (104) وَأَنْ أَقِمْ وَجْهَكَ لِلدِّينِ حَنِيفًا وَلَا تَكُونَنَّ مِنَ الْمُشْرِكِينَ (105) } .

جملة سورة الأنعام أنكر الله تعالى على المشركين شركهم: {وَجَعَلُوا لِلَّهِ مِمَّا ذرأ مِنَ الْحَرْثِ وَالْأَنْعَامِ نَصِيبًا فَقَالُوا هَذَا لِلَّهِ بِزَعْمِهِمْ وَهَذَا لِشُرَكَائِنَا فَمَا كَانَ لِشُرَكَائِهِمْ فَلَا يَصِلُ إِلَى اللَّهِ} قال بعد ذلك: {ثَمَانِيَةَ أَزْوَاجٍ مِنَ الضَّأْنِ اثْنَيْنِ وَمِنَ الْمَعْزِ اثْنَيْنِ قُلْ آَلذَّكَرَيْنِ حَرَّمَ أَمِ الْأُنْثَيَيْنِ أَمَّا اشْتَمَلَتْ عَلَيْهِ أَرْحَامُ الْأُنْثَيَيْنِ نَبِّئُونِي بِعِلْمٍ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ (143) } ثم قال: {وَمِنَ الْإِبِلِ اثْنَيْنِ وَمِنَ الْبَقَرِ اثْنَيْنِ قُلْ آَلذَّكَرَيْنِ حَرَّمَ أَمِ الْأُنْثَيَيْنِ أَمَّا اشْتَمَلَتْ عَلَيْهِ أَرْحَامُ الْأُنْثَيَيْنِ أَمْ كُنْتُمْ شُهَدَاءَ إِذْ وَصَّاكُمُ اللَّهُ بِهَذَا} .

وغالب سور القرآن متضمنة لنوعي التوحيد، بل كل سورة في القرآن متضمنة، فإن القرآن إما خبر عن الله وأسمائه وصفاته وأفعاله وهذا هو التوحيد العلمي الخبري، وإما دعوة إلى توحيده، ونهي عن الشرك وعبادة غيره، وهذا هو التوحيد الإرادي الطلبي، وإما أمر ونهي وإلزام بطاعته وذلك من حقوق التوحيد ومكملاته.

وإما خبر عن أهل التوحيد وما حصل لهم في الدنيا من النصر والعز، وما يكرمهم به في الآخرة من الثواب فهذا جزاء من حقق التوحيد، وإما خبر عن أهل الشرك وما أصابهم في الدنيا من النكسة والهزيمة، وما يكون في الآخرة وما تكون عاقبتهم وما يحصل لهم في الآخرة من العذاب والنكال، وهذا جزاء من خرج عن التوحيد، فالقرآن كله في التوحيد وحقوقه وجزائه وجزاء أهله، وفي شأن الشرك وأهله وجزائهم.
সূরা আল-হাদীদ-এর শুরুতে রয়েছে: {সব কিছু যা আসমান ও জমিনে রয়েছে আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে এবং তিনিই মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় (১) আসমান ও জমিনের রাজত্ব তাঁরই, তিনিই জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান এবং তিনি সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান (২) তিনিই আদি, তিনিই অন্ত, তিনিই প্রকাশ্য ও তিনিই অপ্রকাশ্য এবং তিনি সব বিষয়ে সম্যক অবগত (৩)}। সূরা ত্ব-হা-এর শুরুতে রয়েছে: {ত্ব-হা (১) আমি আপনার প্রতি কুরআন এই জন্য অবতীর্ণ করিনি যে আপনি কষ্টে পতিত হবেন (২) বরং কেবল তাদের জন্য উপদেশ স্বরূপ যারা ভয় করে (৩) এটি তাঁর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ যিনি পৃথিবী ও সুউচ্চ আসমানসমূহ সৃষ্টি করেছেন (৪) পরম করুণাময় আরশের উপর উঠেছেন (৫) আসমানসমূহে যা কিছু আছে, আর জমিনে যা আছে এবং এই উভয়ের মাঝে যা আছে ও মাটির নিচে যা আছে সব তাঁরই (৬) আর যদি আপনি উচ্চস্বরে কথা বলেন, তবে তিনি তো গোপন ও অতি গোপন বিষয়ও জানেন (৭) আল্লাহ, তিনি ছাড়া আর কোনো সত্য ইলাহ নেই, তাঁরই রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ (৮)}।

সূরা আলিফ-লাম-মীম তানযীল আস-সাজদাহ-এর শুরুও অনুরূপ: {আলিফ-লাম-মীম (১) এই কিতাবের অবতরণ বিশ্বজগতের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে, এতে কোনো সন্দেহ নেই (২) নাকি তারা বলে, 'সে এটি নিজে রচনা করেছে'? বরং এটি আপনার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে সত্য, যাতে আপনি এমন এক সম্প্রদায়কে সতর্ক করতে পারেন যাদের কাছে আপনার আগে কোনো সতর্ককারী আসেনি, যেন তারা হেদায়াত লাভ করে (৩) আল্লাহই তিনি যিনি আসমানসমূহ, জমিন ও এই উভয়ের মধ্যবর্তী সব কিছু ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, এরপর তিনি আরশের উপর উঠেছেন}। একইভাবে পূর্ণ সূরা আল-ইখলাসও এর অন্তর্ভুক্ত।

দ্বিতীয় প্রকার হলো: ইরাদী তলবী তাওহীদ (ইচ্ছা ও অনুসন্ধান ভিত্তিক একত্ববাদ), যেমনটি সূরা 'কুল ইয়া আইয়্যুহাল কাফিরুন' অন্তর্ভুক্ত করেছে: {বলুন, হে কাফিররা! (১) আমি তার ইবাদত করি না যার ইবাদত তোমরা করো (২) এবং তোমরাও তাঁর ইবাদতকারী নও যাঁর ইবাদত আমি করি (৩) আর আমি তার ইবাদতকারী নই যার ইবাদত তোমরা করেছ (৪) এবং তোমরাও তাঁর ইবাদতকারী নও যাঁর ইবাদত আমি করি (৫) তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন এবং আমার জন্য আমার দ্বীন (৬)}। এবং যেমনটি সূরা আলে-ইমরানের এই মহান আয়াতটি অন্তর্ভুক্ত করেছে: {বলুন, হে কিতাবীরা! তোমরা এমন এক কথার দিকে এসো যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে সমান, তা হলো: আমরা যেন আল্লাহ ছাড়া আর কারও ইবাদত না করি এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক না করি, আর আমাদের কেউ যেন আল্লাহ ছাড়া একে অপরকে প্রতিপালক হিসেবে গ্রহণ না করি। অতঃপর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে বলুন, তোমরা সাক্ষী থাকো যে আমরা মুসলিম (৬৪)}।

অনুরূপভাবে সূরা ইউনুসের শুরু, মধ্যভাগ এবং শেষভাগ যা অন্তর্ভুক্ত করেছে: {মানুষের জন্য কি এটি বিস্ময়কর যে আমি তাদের মধ্য থেকেই একজনের কাছে ওহি পাঠিয়েছি এই মর্মে যে, আপনি মানুষকে সতর্ক করুন এবং মুমিনদের সুসংবাদ দিন যে তাদের প্রতিপালকের কাছে তাদের জন্য রয়েছে সত্য মর্যাদা, কাফিররা বলল, নিশ্চয়ই এ ব্যক্তি এক প্রকাশ্য জাদুকর (২) নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ, যিনি আসমানসমূহ ও জমিন ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, এরপর তিনি আরশের উপর উঠেছেন। তিনি সব বিষয় পরিচালনা করেন। তাঁর অনুমতি ছাড়া সুপারিশ করার কেউ নেই। তিনিই আল্লাহ, তোমাদের প্রতিপালক; অতএব তোমরা তাঁরই ইবাদত করো। তবে কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না? (৩)}।

এর শেষভাগে রয়েছে: {বলুন, হে মানুষ! তোমরা যদি আমার দ্বীনের ব্যাপারে সন্দেহে থাকো, তবে জেনে রেখো আল্লাহ ছাড়া তোমরা যাদের ইবাদত করো আমি তাদের ইবাদত করি না; বরং আমি ইবাদত করি আল্লাহর, যিনি তোমাদের মৃত্যু দান করেন। আর আমি আদিষ্ট হয়েছি যেন আমি মুমিনদের অন্তর্ভুক্ত হই (১০৪) এবং এই মর্মে যে, আপনি একনিষ্ঠভাবে দ্বীনের ওপর নিজেকে প্রতিষ্ঠিত রাখুন এবং কখনো মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হবেন না (১০৫)}।

সামগ্রিকভাবে সূরা আল-আনআমে আল্লাহ তাআলা মুশরিকদের শিরককে প্রত্যাখ্যান করেছেন: {আল্লাহ শস্য ও গবাদিপশু হতে যা সৃষ্টি করেছেন তারা তার একটি অংশ আল্লাহর জন্য নির্ধারণ করে এবং নিজেদের ধারণা অনুযায়ী বলে, 'এটি আল্লাহর জন্য এবং এটি আমাদের শরিকদের জন্য।' এরপর যা তাদের শরিকদের জন্য তা আল্লাহর দিকে পৌঁছায় না...}। এরপর তিনি বলেন: {আটটি জোড়া; ভেড়ার মধ্য থেকে দুটি এবং ছাগলের মধ্য থেকে দুটি। বলুন, তিনি কি নর দুটি হারাম করেছেন নাকি মাদী দুটি? নাকি যা মাদী দুটির জরায়ুতে রয়েছে? তোমরা আমাকে প্রমাণসহ জানাও যদি তোমরা সত্যবাদী হও (১৪৩)}। এরপর তিনি বলেন: {এবং উটের মধ্য থেকে দুটি এবং গরুর মধ্য থেকে দুটি। বলুন, তিনি কি নর দুটি হারাম করেছেন নাকি মাদী দুটি? নাকি যা মাদী দুটির জরায়ুতে রয়েছে? নাকি তোমরা উপস্থিত ছিলে যখন আল্লাহ তোমাদের এই নির্দেশ দিয়েছিলেন?}।

কুরআনের অধিকাংশ সূরাই তাওহীদের উভয় প্রকারকে অন্তর্ভুক্ত করে, বরং কুরআনের প্রতিটি সূরাই তা অন্তর্ভুক্ত করে। কারণ কুরআন হয় আল্লাহ, তাঁর নামসমূহ, গুণাবলি এবং কার্যাবলি সম্পর্কে সংবাদ দেয়—আর এটিই হলো ইলমি খবরী (জ্ঞান ও সংবাদ ভিত্তিক) তাওহীদ। অথবা এটি কেবল তাঁর ইবাদতের দিকে আহ্বান জানায় এবং শিরক ও অন্য কারও ইবাদত করতে নিষেধ করে—আর এটি হলো ইরাদী তলবী (ইচ্ছা ও অনুসন্ধান ভিত্তিক) তাওহীদ। অথবা এটি আদেশ ও নিষেধ প্রদান করে এবং তাঁর আনুগত্যের আবশ্যকতা বর্ণনা করে—যা তাওহীদের অধিকার ও তার পরিপূরকসমূহের অন্তর্ভুক্ত।

অথবা এটি তাওহীদপন্থীদের সম্পর্কে সংবাদ দেয় এবং দুনিয়াতে তাদের যে সাহায্য ও বিজয় অর্জিত হয়েছে এবং আখিরাতে তাদের যে পুরস্কার দিয়ে সম্মানিত করা হবে তার বর্ণনা দেয়—আর এটি হলো তাওহীদ বাস্তবায়নকারীর প্রতিদান। অথবা এটি মুশরিকদের সম্পর্কে সংবাদ দেয় এবং দুনিয়াতে তাদের ওপর যে লাঞ্ছনা ও পরাজয় এসেছে এবং আখিরাতে তাদের পরিণাম কী হবে ও সেখানে তাদের ওপর যে শাস্তি ও দৃষ্টান্তমূলক আজাব আপতিত হবে তার বর্ণনা দেয়—আর এটি হলো তাওহীদ থেকে বিচ্যুত হওয়ার প্রতিদান। সুতরাং পুরো কুরআনই তাওহীদ, এর হকসমূহ ও প্রতিদান এবং এর অনুসারীদের প্রতিদান সম্পর্কে, আর শিরক, এর অনুসারী এবং তাদের প্রতিদান সম্পর্কে।
(খণ্ড: ১) শারহুল আক্বীদাহ আত-ত্বহাবীইয়াহ - আব্দুল আযীয আল-রাজহী (পৃষ্ঠা: ১১)
والفاتحة (سورة الفاتحة) كذلك كلها توحيد: {الْحَمْدُ لله رَبِّ الْعَالَمِينَ (2) } توحيد {الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ} توحيد {مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ (4) } توحيد {إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ (5) } توحيد {اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ (6) صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ} توحيد متضمن للهداية لطريق المنعم عليهم وهم أهل التوحيد {غَيْرِ المَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ (7) } هم الذين فارقوا التوحيد، فهذا التوحيد.

فالقرآن كله من أوله إلى آخره على هذا بهذا التفصيل كله في التوحيد وحقوقه وجزاء أهله، وفي شأن الشرك وأهله وجزائه، والتوحيد توحيد الربوبية نفاة الصفات أدخلوا فيه أدخلوا في هذا التوحيد نفي الصفات، المعطلة للجميع وغيرهم وقالوا: إن معنى التوحيد نفي الصفات، وقالوا: إن إثبات الصفات يستلزم تعدد الواجب، والواجب عندهم يسمون الله الواجب، ويسمون المخلوق الممكن. قالوا: إن إثبات الصفات يستلزم تعدد الواجب.

ففرارا من ذلك قالوا: نفي الصفات حتى لا يكون واجب إلا واحد، إنما له سمع وبصر وعلم وقدرة صار الواجب متعددا، وهذا من أبطل الباطل، هذا من الفساد؛ فإن إثبات ذات مجردة عن جميع الصفات والأسماء لا توجد في الخارج، لا يوجد شيء في الخارج إلا له اسم وصفة، فإذا نفيت الأسماء والصفات عن شخص فلا يمكن أن يوجد.

فإذا قلت: هناك شيء موجود لكن ليس له طول ولا عرض ولا عمق وليس فوق ولا تحت ولا خلف ولا يمين ولا شمال لا وجود له إلا في الذهن، وهؤلاء سلبوا الأسماء والصفات عن الرب، معنى ذلك أنهم لم يثبتوا ربا ولا خالقا إنما كل شيء في الذهن والعياذ بالله، وقد أفضى هذا التوحيد ببعضهم إلى أن وصلوا إلى الحلول والاتحاد -نعوذ بالله- حتى قالوا: إن الوجود واحد، وقالوا بالحلول والاتحاد، ووقعوا في شر من مذهب النصارى؛ فإن النصارى خصوا حلول الرب بالمسيح عيسى ابن مريم، وهؤلاء الجهمية الغلاة قالوا: إن الله حال في كل مكان تعالى الله عما يقولون علوا كبيرا.

فلما وصلوا إلى القول بالحلول والاتحاد، وقالوا: إن الوجود واحد تفرع عن هذا التوحيد -اللي يسمونه توحيدا وهو من أعظم الشرك- تفرع عن ذلك القول بأن الوجود واحد، وقالوا: وتفرع عن هذا القول بأن فرعون على الصواب وأنه مصيب حينما قال: {أَنَا رَبُّكُمُ الْأَعْلَى (24) } وقالوا: إن عُبّاد الأصنام على الحق والصواب، وأنهم إنما عبدوا الله ولم يعبدوا غيره، وقالوا: لا فرق في التحريم بين الأم والأخت والأجنبية، ولا بين الزنا والخمر، ولا بين الماء والخمر، ولا بين الزنا والنكاح.

وقالوا: الكل من عين واحد، بل هو العين الواحد، ومن فروع الاتحادية قالوا: إن الأنبياء ضيقوا على الناس، وبعّدوا عليهم المقصود، والأمر وراء ذلك كله، فهذا -والعياذ بالله- سببه أن هؤلاء أعرضوا عن كتاب الله وسنة رسوله، وتركوا كتاب الله وراءهم ظهريا فتولتهم الشياطين، فقالوا هذه المقالات التي سودوا بها الأوراق، وأضلوا بها الناس، وتكلموا بالكفر الصراح -نسأل الله السلامة والعافية-.
এবং আল-ফাতিহা (সূরা আল-ফাতিহা) একইভাবে এর পুরোটাই তাওহীদ: {সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি জগতসমূহের রব (২)} এটি তাওহীদ। {পরম করুণাময়, অতি দয়ালু} এটি তাওহীদ। {বিচার দিবসের মালিক (৪)} এটি তাওহীদ। {আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি এবং কেবল আপনারই সাহায্য চাই (৫)} এটি তাওহীদ। {আমাদের সরল পথ প্রদর্শন করুন (৬), তাদের পথ যাদের আপনি অনুগ্রহ করেছেন} এটি এমন এক তাওহীদ যা অনুগ্রহপ্রাপ্তদের পথে পরিচালিত হওয়াকে অন্তর্ভুক্ত করে এবং তারা হলো তাওহীদপন্থী। {তাদের পথ নয় যারা রাগান্বিত হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট (৭)} তারা হলো তারাই যারা তাওহীদ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে। সুতরাং এটিই তাওহীদ।

পুরো কুরআন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এই বিস্তারিত আলোচনার ভিত্তিতে তাওহীদ, এর হকসমূহ এবং তাওহীদপন্থীদের প্রতিদান, এবং শিরক ও মুশরিকদের অবস্থা ও তাদের শাস্তি সম্পর্কে। আর রুবুবিয়্যাহর তাওহীদ—গুণাবলি অস্বীকারকারীরা এর মধ্যে গুণাবলি অস্বীকার করাকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। সকল গুণাবলি বিলুপ্তকারী এবং অন্যান্যরা এর অন্তর্ভুক্ত। তারা বলে যে, তাওহীদের অর্থ হলো গুণাবলি অস্বীকার করা। তারা আরও বলে যে, গুণাবলি সাব্যস্ত করলে একাধিক 'ওয়াজিব' বা আবশ্যম্ভাবী সত্তার আবশ্যকতা দেখা দেয়। তাদের পরিভাষায় তারা আল্লাহকে 'ওয়াজিব' (আবশ্যম্ভাবী) বলে আর সৃষ্টিকে 'মুমকিন' (সম্ভাব্য) বলে। তারা বলে: গুণাবলি সাব্যস্ত করা একাধিক 'ওয়াজিব' হওয়াকে আবশ্যক করে।

এর থেকে পলায়ন করার জন্য তারা বলেছে: গুণাবলি অস্বীকার করতে হবে যাতে 'ওয়াজিব' বা আবশ্যম্ভাবী সত্তা কেবল একজনই থাকে। যদি তাঁর শ্রবণ, দর্শন, জ্ঞান এবং ক্ষমতা থাকে তবে 'ওয়াজিব' সত্তা একাধিক হয়ে যাবে। এটি বাতিল বা অসার বিষয়গুলোর মধ্যে নিকৃষ্টতম এবং এটি একটি ভ্রষ্টতা। কেননা সকল নাম ও গুণাবলি বর্জিত কোনো সত্তার বাস্তব অস্তিত্ব থাকা অসম্ভব। বাস্তবে এমন কিছুর অস্তিত্ব নেই যার কোনো নাম বা গুণ নেই। সুতরাং আপনি যদি কোনো ব্যক্তি থেকে নাম ও গুণাবলি অস্বীকার করেন, তবে তার অস্তিত্ব থাকা সম্ভব নয়।

আপনি যদি বলেন: সেখানে এমন একটি জিনিসের অস্তিত্ব আছে যার দৈর্ঘ্য, প্রস্থ বা গভীরতা নেই এবং সে উপরে, নিচে, পেছনে, ডানে বা বামে নেই—তবে মনের জগৎ ছাড়া বাস্তব জগতে এর কোনো অস্তিত্ব নেই। আর এরা রবের নাম ও গুণাবলি ছিনিয়ে নিয়েছে, যার অর্থ হলো তারা কোনো রব বা সৃষ্টিকর্তাকে সাব্যস্ত করেনি, বরং সবকিছুই কেবল মনের মধ্যে সীমাবদ্ধ, আল্লাহর কাছে এ থেকে আশ্রয় চাই। আর এই তাওহীদ তাদের কাউকে কাউকে 'হুলুল' (অনুপ্রবেশ) এবং 'ইত্তিহাদ' (স্রষ্টা ও সৃষ্টির মিলন) পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছে—আমরা এ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই—এমনকি তারা বলতে শুরু করেছে যে: অস্তিত্ব বা সত্তা এক। তারা হুলুল ও ইত্তিহাদের প্রবক্তা এবং তারা খ্রিস্টানদের মতবাদের চেয়েও জঘন্য মতবাদে নিপতিত হয়েছে। কেননা খ্রিস্টানরা রবের হুলুল বা অনুপ্রবেশকে কেবল ঈসা ইবনে মারিয়ামের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট করেছে, আর এই চরমপন্থী জাহমিয়্যাহরা বলে: আল্লাহ সব জায়গায় বিরাজমান। তারা যা বলে আল্লাহ তা থেকে অনেক ঊর্ধ্বে এবং অতি মহান।

যখন তারা হুলুল ও ইত্তিহাদের পর্যায়ে পৌঁছে গেল এবং বলতে শুরু করল যে 'অস্তিত্ব এক', তখন এই তাওহীদ থেকে—যাকে তারা তাওহীদ বলে অথচ তা চরম শিরক—এই কুফরি মতবাদের জন্ম হলো যে 'অস্তিত্ব এক'। তারা আরও বলল: এই মতবাদেরই শাখা হলো যে ফেরাউন সঠিক ছিল যখন সে বলেছিল: {আমিই তোমাদের সুউচ্চ রব (২৪)}। তারা আরও বলল: মূর্তিপূজারীরা হকের ওপর ও সঠিক পথে ছিল, কারণ তারা কেবল আল্লাহরই ইবাদত করেছে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নয়। তারা আরও বলল: মা, বোন ও পরনারীর মধ্যে হারাম হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য নেই, জিনা ও মদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই, পানি ও মদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই, এবং জিনা ও বিবাহের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

তারা বলে: সবই এক উৎস থেকে, বরং সবকিছুই সেই এক সত্তা। ইত্তিহাদিয়াদের অন্যতম শাখা মতবাদ হলো তারা বলে: নবীরা মানুষের ওপর কড়াকড়ি করেছেন এবং তাদের লক্ষ্যকে দূরবর্তী করে দিয়েছেন, অথচ বিষয়টি এর সম্পূর্ণ বিপরীত। এ সবের কারণ—আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই—তারা আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহ থেকে বিমুখ হয়েছে এবং আল্লাহর কিতাবকে পেছনে ফেলে দিয়েছে। ফলে শয়তান তাদের ওপর কর্তৃত্ব লাভ করেছে এবং তারা এই সব কথা বলেছে যা দিয়ে তারা কাগজের পাতা কালো করেছে এবং মানুষকে পথভ্রষ্ট করেছে এবং তারা সুস্পষ্ট কুফরি কথা বলেছে—আমরা আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা ও সুস্থতা কামনা করি।
(খণ্ড: ১) শারহুল আক্বীদাহ আত-ত্বহাবীইয়াহ - আব্দুল আযীয আল-রাজহী (পৃষ্ঠা: ১২)
وَلَا شَيْءَ مِثْلُهُ.

--------------------------------------------

"ولا شيء مثله" يقول المؤلف رحمه الله: "نقول في توحيد الله معتقدين بتوفيق الله أن الله واحد لا شريك له، ولا شيء مثله"، أي: أن الله سبحانه وتعالى لا يماثله شيء من المخلوقات لا في ذاته ولا في صفاته ولا في أفعاله، فليس له مثيل سبحانه وتعالى، كما قال: {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ (11) } فمن اعتقد أن لله مثيلا في ذاته، أو مثيلا في صفاته، أو مثيلا في أفعاله فقد كفر؛ لأنه تنقص الرب سبحانه وتعالى، ولأنه لم يثبت واجب الوجود لذاته.

فالله تعالى لا مثيل له لا في ذاته، ولا في صفاته، ولا في أفعاله، ومن اعتقد لله مثيلا فهو في الحقيقة لم يعبد الله، وإنما يعبد مثلا صوره في خياله، ونحته له فكره، وهو من عباد الأوثان لا من عباد الرحمن، وهو مشابه للنصارى في كفرهم؛ ولهذا قال العلامة ابن القيم:

لسنا نشبه وصفه بصفاتنا *** إن المشبه عابد الأوثان

وقال:

من شبه الله العظيم بخلقه *** فهو النسيب بمشرك نصراني

فمن شبه الله بخلقه فقد شابه النصارى، لأن النصارى شبهوا المسيح بالله، وقالوا: هو ابن الله -تعالى الله عما يقولون-، ومن مثل الله بخلقه فهو في الحقيقة ما عبد الله، وإنما عبد وثنا، كما أن من نفى صفات الله وأسماءه وصفاته فهو في الحقيقة لم يثبت شيئا، وإنما عبد عدما لا وجود له.

ولهذا يقول العلماء: المشبه الممثل يعبد صنما، والمعطل يعبد عدما، والموحد يعبد إلها واحدا فردا صمدا، فالممثل مشبه يعبد عدما، اعتقد أن لله مثيلا في صفاته، أو في أفعاله هذا عبد وثنا والذي نفى الأسماء والصفات قال: ليس لله سمع ولا بصر ولا علم ولا قدرة ولا إرادة وليس فوق السماوات ولا تحتها ونفى جميع الأسماء والصفات هذا في الحقيقة ما أفاد شيئا؛ لأنه لا يوجد شيء مسلوب الأسماء والصفات، كل موجود لا بد من صفات حتى الجماد.

هذه الماصة لها طول ولها عرض ولها عمق ولها ارتفاع، فإذا قلت أنا أثبت ماصة لكن هذه الماصة ليس لها طول ولا عرض ولا عمق ولا ارتفاع، وليس لها مجس وليست فوق ولا تحت ولا داخل العالم ولا خارجه أيش تكون؟.

عدم هذا هو الذي فعله نفاة الصفات قالوا: إن الله ليس له علم ولا بصر ولا سمع ولا إرادة، وليس فوق السماوات ولا تحتها، ولا داخل العالم ولا خارجه، ولا مباين له ولا محايد له، ولا متصل به ولا منفصل عنه أيش يكون؟ عدم؟ لو قلت: صف المعدوم بأكثر من هذا ما استطعت، بل إن هذا ممتنع -والعياذ بالله- أشد من العدم؛ ولهذا فإن المعطل يعبد عدما، لا وجود له، ليس هناك شيء مسلوب الأسماء والصفات، لا وجود له في الخارج أبدا.

ولذلك هؤلاء المعطلة يعبدون عدما، والممثل الذي يمثل الله يعبد وثنا، والموحد يعبد إلها واحدا فردا صمدا، فيكون مذهب أهل السنة والجماعة مذهبا خالصا صافيا من بين فرث ودم، من بين فرث التعطيل ودم التشبيه والتمثيل، نقف على هذا وفق الله الجميع لطاعته ونسأل الله للجميع التوفيق والعلم النافع والعمل الصالح ونبقى مع الأسئلة إن كان هناك أسئلة بعض الوقت.

كمال قدرة الله وانتفاء العجز عنه
এবং কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়।

--------------------------------------------

"এবং কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়" - লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: "আমরা আল্লাহর তাওফীকের ওপর ভরসা করে তাঁর একত্ববাদের বিষয়ে বিশ্বাসী হয়ে বলি যে, আল্লাহ এক, তাঁর কোনো শরীক নেই এবং কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়।" অর্থাৎ: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার সত্তা, গুণাবলী বা কার্যাবলীর সাথে সৃষ্টির কোনো কিছুরই কোনো সাদৃশ্য নেই। তাঁর কোনো সমকক্ষ নেই—সুবহানাহু ওয়া তাআলা—যেমনটি তিনি বলেছেন: {কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়, আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা। (১১)} সুতরাং যে ব্যক্তি বিশ্বাস করল যে, আল্লাহর সত্তায়, তাঁর গুণাবলীতে কিংবা তাঁর কার্যাবলীতে তাঁর কোনো সদৃশ আছে, সে কুফরী করল; কারণ সে প্রতিপালক সুবহানাহু ওয়া তাআলার অবমাননা করল এবং সে সত্তাগতভাবে অনিবার্য অস্তিত্বকে (ওয়াজিবুল উজুদ) সাব্যস্ত করতে পারল না।

আল্লাহ তাআলার কোনো সদৃশ নেই—না তাঁর সত্তায়, না তাঁর গুণাবলীতে, আর না তাঁর কার্যাবলীতে। যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য কোনো সদৃশ সাব্যস্ত করল, সে প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর ইবাদত করল না; বরং সে তার কল্পনায় চিত্রায়িত এবং চিন্তায় খোদাই করা একটি প্রতিকৃতির ইবাদত করল। সে রহমান (দয়াময়) এর ইবাদতকারীদের অন্তর্ভুক্ত নয়, বরং সে মূর্তিপূজকদের অন্তর্ভুক্ত এবং সে তার কুফরীতে নাসারাদের (খ্রিস্টানদের) সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হলো। একারণেই আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম বলেছেন:

আমরা তাঁর গুণাবলীকে আমাদের গুণাবলীর সাথে তুলনা করি না *** নিশ্চয়ই তুলনাদানকারী (মুশাব্বিহ) হলো মূর্তিপূজক।

তিনি আরও বলেছেন:

যে মহান আল্লাহকে তাঁর সৃষ্টির সাথে তুলনা করল *** সে তো খ্রিস্টান মুশরিকের নিকটাত্মীয়।

সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহকে তাঁর সৃষ্টির সাথে তুলনা করল, সে নাসারাদের সাথে সদৃশ হলো; কারণ নাসারারা ঈসাকে আল্লাহর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ করেছিল এবং বলেছিল: তিনি আল্লাহর পুত্র—তারা যা বলে তা থেকে আল্লাহ অতি পবিত্র ও মহান। আর যে ব্যক্তি আল্লাহকে তাঁর সৃষ্টির সাথে তুলনা করল, সে প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর ইবাদত করল না, বরং সে একটি মূর্তির ইবাদত করল। অনুরূপভাবে, যে ব্যক্তি আল্লাহর নাম ও গুণাবলীকে অস্বীকার করল, সে প্রকৃতপক্ষে কিছুই সাব্যস্ত করল না, বরং সে এমন এক 'অস্তিত্বহীন' (আদম)-এর ইবাদত করল যার কোনো অস্তিত্ব নেই।

এজন্য আলেমগণ বলেন: যে তুলনা ও সদৃশকারী (মুশাব্বিহ-মুমাত্তিল) সে মূর্তিপূজা করে, যে অস্বীকারকারী (মুআত্তিল) সে অস্তিত্বহীনের পূজা করে, আর যে একত্ববাদী (মুওয়াহহিদ) সে একক, অদ্বিতীয় ও মুখাপেক্ষীহীন ইলাহের ইবাদত করে। সুতরাং মুমাত্তিল হলো তুলনাদানকারী যে মূর্তিপূজা করে; সে বিশ্বাস করে যে আল্লাহর গুণাবলীতে বা কার্যাবলীতে তাঁর সদৃশ রয়েছে—সে তো মূর্তিপূজা করল। আর যে ব্যক্তি নাম ও গুণাবলী অস্বীকার করে বলল: আল্লাহর শ্রবণ, দৃষ্টি, জ্ঞান, ক্ষমতা বা ইচ্ছা নেই, এবং তিনি আসমানসমূহের উপরেও নন, নিচেও নন—এভাবে সকল নাম ও গুণাবলী অস্বীকার করল, সে প্রকৃতপক্ষে কিছুই প্রকাশ করল না; কারণ নাম ও গুণহীন কোনো কিছুর অস্তিত্ব থাকা সম্ভব নয়, এমনকি জড় পদার্থেরও গুণ থাকে।

এই টেবিলটির দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, গভীরতা ও উচ্চতা আছে। এখন যদি আমি বলি যে, আমি একটি টেবিল সাব্যস্ত করছি কিন্তু তার দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, গভীরতা বা উচ্চতা নেই, তার কোনো স্পর্শযোগ্য দেহ নেই, তা উপরেও নেই নিচেও নেই, জগতের ভেতরেও নেই বাইরেও নেই—তাহলে সেটি কী হবে?

অস্তিত্বহীনতা—এটিই হলো গুণাবলী অস্বীকারকারীদের (নুফাতুস সিফাত) কাজ। তারা বলেছে: আল্লাহর কোনো জ্ঞান, দৃষ্টি, শ্রবণ বা ইচ্ছা নেই; তিনি আসমানসমূহের উপরেও নন নিচেও নন, জগতের ভেতরেও নন বাইরেও নন, জগতের সাথে মিশে থাকাও নন আবার পৃথকও নন, জগতের সাথে সংযুক্তও নন বিচ্ছিন্নও নন—তাহলে তিনি কী? অস্তিত্বহীন? আপনি যদি একটি অস্তিত্বহীন বস্তুর বর্ণনা এর চেয়ে বেশি দিতে চাইতেন, তবে পারতেন না। বরং এটি তো অসম্ভব বিষয়—আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই—যা অস্তিত্বহীনতার চেয়েও ভয়াবহ। এজন্যই মুআত্তিল এমন এক অস্তিত্বহীনের ইবাদত করে যার কোনো অস্তিত্ব নেই। নাম ও গুণাবলী বিহীন কোনো কিছু বাস্তবে থাকতেই পারে না।

একইভাবে, এই মুআত্তিলারা অস্তিত্বহীনের ইবাদত করে, আর মুমাত্তিল যে আল্লাহকে সৃষ্টির সদৃশ করে সে মূর্তিপূজা করে। কিন্তু মুওয়াহহিদ (একত্ববাদী) একক, অদ্বিতীয় ও মুখাপেক্ষীহীন ইলাহের ইবাদত করে। ফলে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মাযহাব হলো পচা গোবর ও রক্তের মধ্য থেকে বের হওয়া খাঁটি ও স্বচ্ছ পানীয়র মতো; অর্থাৎ এটি গুণাবলী অস্বীকারের (তা'তিল) গোবর এবং তুলনা ও সদৃশ প্রদানের (তাশবিহ ও তামসিল) রক্তের মাঝখানের এক স্বচ্ছ পথ। আমরা এখানেই থামছি, আল্লাহ সবাইকে তাঁর আনুগত্যের তাওফীক দান করুন। আমরা আল্লাহর কাছে সকলের জন্য তাওফীক, উপকারী জ্ঞান ও নেক আমল প্রার্থনা করছি। আর আমরা কিছুক্ষণ প্রশ্নের উত্তরের জন্য থাকব যদি কোনো প্রশ্ন থাকে।

আল্লাহর পূর্ণ ক্ষমতা এবং তাঁর থেকে অক্ষমতার অনুপস্থিতি।
(খণ্ড: ১) শারহুল আক্বীদাহ আত-ত্বহাবীইয়াহ - আব্দুল আযীয আল-রাজহী (পৃষ্ঠা: ১৩)
وَلَا شَيْءَ يُعْجِزُهُ.

--------------------------------------------

بسم الله الرحمن الرحيم

بعد أن ذكر الطحاوي رحمه الله أن عقيدة أهل السنة والجماعة في توحيد الله، وأنهم يعتقدون أن الله واحد لا شريك له، ولا شيء مثله، يعني لا يماثله شيء من مخلوقاته قال: "ولا شيء يعجزه" يعتقد أهل السنة والجماعة وأهل الحق أن الله لا يعجزه شيء؛ لكمال قدرته سبحانه وتعالى.

كما قال سبحانه وتعالى: {إِن اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ (20) } وقال سبحانه: {وَكَانَ اللَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ مُقْتَدِرًا (45) } وقال سبحانه: {وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُعْجِزَهُ مِنْ شَيْءٍ فِي السَّمَاوَاتِ وَلَا فِي الْأَرْضِ إِنَّهُ كَانَ عَلِيمًا قَدِيرًا (44) } .

وهذا النفي وهو "ولا شيء يعجزه" يستلزم إثبات ضده من الكمال، وهكذا كل نفي ورد في الكتاب والسنة في حق الرب عز وجل فإنما هو لإثبات ضده من الكمال، ليس نفيا صرفا ولا محضا، بل يستلزم إثبات ضده من الكمال.

ولذا قال سبحانه: {وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُعْجِزَهُ مِنْ شَيْءٍ} وقال: {إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيمًا حَكِيمًا (11) } فهذا النفي {وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُعْجِزَهُ مِنْ شَيْءٍ} ؛ لكمال علمه وقدرته، وكما قال سبحانه: {وَلَا يَظْلِمُ رَبُّكَ أَحَدًا (49) } نفي الظلم لإثبات كمال ضده {وَلَا يَظْلِمُ رَبُّكَ أَحَدًا (49) } ؛ لكمال عدله {لَا يَعْزُبُ عَنْهُ مِثْقَالُ ذَرَّةٍ فِي السَّمَاوَاتِ وَلَا فِي الْأَرْضِ} ؛ لكمال علمه {وَلَا يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا} ؛ لكمال قوته واقتداره {لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ} ؛ لكمال حياته {لَا تُدْرِكُهُ الْأَبْصَارُ} ؛ لكمال عظمته وجلاله وكبريائه.

وهكذا كل نفي يأتي في الكتاب والسنة فإنما هو لإثبات ضده من الكمال، لتضمن إثبات ضده من الكمال، لا يرد في النصوص الكتاب والسنة أن في الصرف المحض الذي لا يستلزم شيئا؛ لأن النفي المحض والصرف ليس فيه كمال؛ ولهذا يوصف المعدوم بالنفي الصرف المحض، ومن ذلك من النفي الصرف المحض قول الشاعر العربي:

قُبَيِّلَةٌ لا يغدرون بذمة *** ولا يظلمون الناس حبة خردل

نفى عنهم الغدر، ونفى عنهم الظلم، لكن ليس المراد أنهم مقتدرون، بل المراد يريد ضعفهم؛ لعجزهم وضعفهم بدليل ما قبل البيت وما بعده، وبدليل أنه صغرهم بقوله قُبَيِّلَةٌ هذا التصغير للتحقير، فهم لا يغدرون بذمة ولا يظلمون الناس؛ لضعفهم وعجزهم، وإنما يكون نفي الغدر ونفي الظلم إنما يكون كمالا إذا كان مع القدرة، أما إذا كان مع العجز فلا يكون كمالا، وكما في قول الشاعر:

لكن قومي وإن كانوا ذوي عدد *** ليسوا من الشر في شيء وإن هانا

يجزون من ظلم أهل الظلم مغفرة *** ومن إساءة أهل السوء إحسانا

فهو ينفي عن قومه الشر قال:

................. *** ليسوا من الشر في شيء وإن هانا

ومع ذلك يجزون من ظلم أهل الظلم مغفرة- إذا ظلمهم أحد غفروا له، وإذا أساء إليهم أحد أحسنوا إليه، هذا كمال لو كانوا قادرين، لكنهم يفعلون ذلك لعجزهم بسبب عجزهم وضعفهم، فلم يكن كمالا في حقهم، هذا لا يرد في أسماء الله وصفاته، لا يرد في كتاب الله والسنة هذا النفي الصرف، إنما الذي يرد كما سمعتم النفي الذي يستلزم إثبات ضده إلى الكمال {وَلَا يَظْلِمُ رَبُّكَ أَحَدًا (49) } ؛ لكمال عدله.

{لَا يَعْزُبُ عَنْهُ مِثْقَالُ ذَرَّةٍ فِي السَّمَاوَاتِ وَلَا فِي الْأَرْضِ} ؛ لكمال علمه لا يعجزه شيء؛ لكمال قوته واقتداره {لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ} ؛ لكمال حياته وقيوميته وهكذا.

والنصوص في كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم جاءت في باب الأسماء والصفات بالإثبات المفصل وبالنفي المجمل، فالنفي في النقائص والعيوب عن الله يأتي مجملا كقوله سبحانه: {هَلْ تَعْلَمُ لَهُ سَمِيًّا (65) } {وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَد (4) } {فَلَا تَضْرِبُوا لِلَّهِ الْأَمْثَالَ} {فَلَا تَجْعَلُوا لِلَّهِ أَنْدَادًا} فيأتي النفي نفي النقائص والعيوب مجملا، أما الإثبات فإنه يأتي مفصلا {وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ (120) } {هُوَ اللَّهُ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْمَلِكُ الْقُدُّوسُ السَّلَامُ الْمُؤْمِنُ الْمُهَيْمِنُ الْعَزِيزُ الْجَبَّارُ الْمُتَكَبِّرُ سُبْحَانَ اللَّهِ عَمَّا يُشْرِكُونَ (23) هُوَ اللَّهُ الْخَالِقُ الْبَارِئُ الْمُصَوِّرُ لَهُ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى} .
এবং কোনো কিছুই তাঁকে অক্ষম করতে পারে না।

--------------------------------------------

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

ইমাম ত্বহাবী (রাহিমাহুল্লাহ) আল্লাহর তাওহীদ সম্পর্কে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকিদা উল্লেখ করার পর—যেখানে তারা বিশ্বাস করে যে আল্লাহ এক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং তাঁর সদৃশ কেউ নেই অর্থাৎ তাঁর সৃষ্টির কোনো কিছুই তাঁর মতো নয়—তিনি বলেছেন: "এবং কোনো কিছুই তাঁকে অক্ষম করতে পারে না।" আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত ও সত্যপন্থীরা বিশ্বাস করেন যে, কোনো কিছুই আল্লাহকে অক্ষম করতে পারে না; কারণ তাঁর ক্ষমতা বা কুদরত অত্যন্ত পরিপূর্ণ।

যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান। (২০)}, এবং তিনি বলেছেন: {আর আল্লাহ সর্ব বিষয়ে শক্তিমান। (৪৫)}, এবং তিনি আরও বলেছেন: {আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে এমন কোনো কিছু নেই যা আল্লাহকে অক্ষম করতে পারে; নিশ্চয়ই তিনি সর্বজ্ঞ ও সর্বশক্তিমান। (৪৪)}।

আর এই নেতিবাচক বাক্য "এবং কোনো কিছুই তাঁকে অক্ষম করতে পারে না" তাঁর বিপরীত গুণ অর্থাৎ পূর্ণতা সাব্যস্ত করাকে অপরিহার্য করে। এভাবেই কুরআন ও সুন্নাহতে মহান প্রভুর শানে যে সকল নেতিবাচক বর্ণনা এসেছে, তা কেবল তাঁর বিপরীত পূর্ণ গুণাবলি সাব্যস্ত করার জন্যই। এটি কেবল নিছক অভাব বা নেতিকরণ নয়, বরং এর মাধ্যমে বিপরীত পূর্ণতা সাব্যস্ত করা উদ্দেশ্য।

এ কারণেই মহান আল্লাহ বলেছেন: {এমন কোনো কিছু নেই যা আল্লাহকে অক্ষম করতে পারে} এবং তিনি বলেছেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময় (১১)}। সুতরাং এই নেতিবাচক বাক্য {এমন কোনো কিছু নেই যা আল্লাহকে অক্ষম করতে পারে}—এটি তাঁর জ্ঞান ও ক্ষমতার পূর্ণতার কারণে। যেমনটি তিনি বলেছেন: {আপনার পালনকর্তা কারো প্রতি জুলুম করেন না (৪৯)}; এখানে জুলুমের অস্বীকৃতি জানানো হয়েছে এর বিপরীত গুণের অর্থাৎ তাঁর ইনসাফ বা ন্যায়ের পূর্ণতা সাব্যস্ত করার জন্য {আপনার পালনকর্তা কারো প্রতি জুলুম করেন না (৪৯)}; কারণ তাঁর ন্যায়পরায়ণতা পরিপূর্ণ। {আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর অণু পরিমাণ কোনো কিছুই তাঁর অগোচরে নয়}; কারণ তাঁর জ্ঞান পরিপূর্ণ। {তাদের রক্ষণাবেক্ষণ তাঁকে ক্লান্ত করে না}; কারণ তাঁর শক্তি ও সামর্থ্য পরিপূর্ণ। {তন্দ্রা ও নিদ্রা তাঁকে স্পর্শ করে না}; কারণ তাঁর জীবন চিরঞ্জীব ও পরিপূর্ণ। {দৃষ্টিসমূহ তাঁকে অবলোকন করতে পারে না}; কারণ তাঁর মহিমা, গাম্ভীর্য ও শ্রেষ্ঠত্ব অত্যন্ত পরিপূর্ণ।

এভাবেই কুরআন ও সুন্নাহতে যে নেতিবাচক বর্ণনাগুলো আসে, সেগুলো এর বিপরীত গুণাবলীর পূর্ণতা প্রমাণের জন্য। কুরআন ও সুন্নাহর দলিলে এমন কোনো নিছক নেতিবাচক বিষয় আসে না যা অন্য কিছুকে আবশ্যক করে না; কারণ নিছক নেতিকরণের মধ্যে কোনো পূর্ণতা নেই। এ কারণেই অস্তিত্বহীন বস্তুকে নিছক নেতিবাচক বিশেষণে বিশেষিত করা হয়। এর উদাহরণ হলো জনৈক আরব কবির এই পঙ্ক্তি:

একটি ক্ষুদ্র গোত্র যারা অঙ্গীকার ভঙ্গ করে না *** আর মানুষের ওপর সরিষার দানা পরিমাণও জুলুম করে না

কবি তাদের থেকে বিশ্বাসভঙ্গ ও জুলুমের নেতিবাচকতা প্রকাশ করেছেন, কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে তারা ক্ষমতাশালী; বরং এর দ্বারা তাদের দুর্বলতা ও অক্ষমতা বোঝানো হয়েছে। এর প্রমাণ হলো এই কবিতার পূর্বের ও পরের অংশ এবং কবি এখানে 'কুবাইলাহ' (ক্ষুদ্র গোত্র) শব্দটি তুচ্ছতা বোঝাতে ব্যবহার করেছেন। সুতরাং তারা অঙ্গীকার ভঙ্গ করে না বা মানুষের ওপর জুলুম করে না মূলত তাদের দুর্বলতা ও অক্ষমতার কারণে। বিশ্বাসভঙ্গ বা জুলুমের অস্বীকৃতি জানানো তখনই পূর্ণতা বলে গণ্য হয় যখন তা ক্ষমতার অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও করা হয়। কিন্তু অক্ষমতার কারণে হলে তা পূর্ণতা নয়। যেমনটি কবি বলেছেন:

কিন্তু আমার কওম, তারা সংখ্যায় অনেক হওয়া সত্ত্বেও *** মন্দ বা অন্যায়ের কোনো কিছুতেই তারা নেই, যদিও তা সামান্য হয়

তারা জালিমদের জুলুমের প্রতিদানে ক্ষমা প্রদর্শন করে *** এবং মন্দ লোকের মন্দের বিপরীতে অনুগ্রহ করে

তিনি এখানে তাঁর কওমের থেকে মন্দের নেতিবাচকতা প্রকাশ করে বলছেন:

................. *** মন্দ বা অন্যায়ের কোনো কিছুতেই তারা নেই, যদিও তা সামান্য হয়

সেই সাথে কেউ জুলুম করলে তারা তাকে ক্ষমা করে দেয় এবং মন্দ ব্যবহারের বিপরীতে ভালো ব্যবহার করে। এটি পূর্ণতা হতো যদি তারা সামর্থ্যবান হতেন। কিন্তু তারা এটি করে মূলত তাদের অক্ষমতা ও দুর্বলতার কারণে, তাই এটি তাদের ক্ষেত্রে কোনো পূর্ণতা নয়। আল্লাহর নাম ও গুণাবলির ক্ষেত্রে এই ধরনের নিছক নেতিবাচক বিষয়গুলো প্রযোজ্য নয়। আল্লাহর কিতাব ও সুন্নাহতে এমন কোনো নিছক নেতিবাচক বিষয় নেই; বরং যা কিছু এসেছে তা এর বিপরীত পূর্ণতা সাব্যস্ত করার জন্য। {আপনার পালনকর্তা কারো প্রতি জুলুম করেন না (৪৯)}; কারণ তাঁর ন্যায়পরায়ণতা পরিপূর্ণ।

{আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর অণু পরিমাণ কোনো কিছুই তাঁর অগোচরে নয়}; কারণ তাঁর জ্ঞান পরিপূর্ণ। কোনো কিছুই তাঁকে অক্ষম করতে পারে না; কারণ তাঁর শক্তি ও সামর্থ্য পরিপূর্ণ। {তন্দ্রা ও নিদ্রা তাঁকে স্পর্শ করে না}; কারণ তাঁর জীবন ও নিয়ন্ত্রণ (কাইয়্যুমিয়্যাত) পরিপূর্ণ—এইভাবেই সবকিছু।

কুরআন ও আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাহর নসসমূহ আসমা ওয়া সিফাতের (নাম ও গুণাবলি) ক্ষেত্রে বিস্তারিত ইতিবাচক বর্ণনা এবং সংক্ষিপ্ত নেতিবাচক বর্ণনার পদ্ধতিতে এসেছে। আল্লাহর শানে ত্রুটি ও দোষের নেতিবাচকতা বা অস্বীকৃতি সংক্ষিপ্তভাবে এসেছে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আপনি কি তাঁর সমজাতীয় কাউকে জানেন? (৬৫)}, {এবং তাঁর সমতুল্য কেউ নেই (৪)}, {সুতরাং আল্লাহর জন্য কোনো উদাহরণ পেশ করো না}, {সুতরাং তোমরা কাউকে আল্লাহর সমকক্ষ বানিও না}। এভাবে দোষ-ত্রুটির অস্বীকৃতি বা নেতিবাচকতা এসেছে সংক্ষিপ্ত আকারে। আর ইতিবাচক বর্ণনা বিস্তারিতভাবে এসেছে: {তিনি সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান (১২০)}, {তিনিই আল্লাহ, তিনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই; তিনিই অধিপতি, অতি পবিত্র, শান্তিদাতা, নিরাপত্তাদাতা, রক্ষণাবেক্ষণকারী, পরাক্রমশালী, মহিমান্বিত ও অহংকারের অধিকারী; তারা যা শরিক করে আল্লাহ তা থেকে পবিত্র। (২৩) তিনিই আল্লাহ, স্রষ্টা, উদ্ভাবক, রূপদানকারী; তাঁরই রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ।}।
(খণ্ড: ১) শারহুল আক্বীদাহ আত-ত্বহাবীইয়াহ - আব্দুল আযীয আল-রাজহী (পৃষ্ঠা: ১৪)
فالأسماء والصفات إثبات الأسماء والصفات تأتي مفصلة، وهذه أسماء لله وهي متضمنة للصفات {هُوَ اللَّهُ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ عَالِمُ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ هُوَ الرَّحْمَنُ الرَّحِيمُ (22) هُوَ اللَّهُ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْمَلِكُ الْقُدُّوسُ السَّلَامُ الْمُؤْمِنُ الْمُهَيْمِنُ الْعَزِيزُ الْجَبَّارُ الْمُتَكَبِّرُ سُبْحَانَ اللَّهِ عَمَّا يُشْرِكُونَ (23) هُوَ اللَّهُ الْخَالِقُ الْبَارِئُ الْمُصَوِّرُ لَهُ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى يُسَبِّحُ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ (24) } .

هذا من الإثبات المفصل، الأسماء والصفات تأتي مفصلة، أما النفي فيأتي مجملا، أما أهل الكلام وأهل البدع فعكسوا، فإنهم يأتون بإثبات مجمل ونفي مفصل، فإنهم يأتون بنفي مفصل وإثبات مجمل، فإذا أرادوا أن يصفوا الله إذا أرادوا أن ينفوا النقائص عن الله يأتوا بالتفصيل، النفي المفصل والإثبات المجمل، فيقول ليس بذي جثة، وليس بذي أعضاء، وليس بذي لون ولا رائحة ولا طعم ولا مجثة ولا كذا ولا كذا ولا لحم ولا دم ولا عرق… إلى آخره تفصيلات بنفي النقائص والعيوب.

أما الإثبات فإنهم يأتون بإثبات مجمل، عكسوا ما دل عليه الكتاب والسنة، وهذا النفي في نفي النقائص والعيوب مع كونه مخالفا للكتاب والسنة ففيه إساءة أدب مع الله عز وجل فإن الأدب والكمال أن تنفي النقائص إجمالا ولا تعددها ولله المثل الأعلى، لو أراد إنسان أن يمدح أميرا، أو ملكا، أو رئيسا فيقول له: أنت لست بزبال، ولست بحجام، ولست بكساح، ولست بكذا هذا يؤدب إذن، يؤدب ويعزر وإن كان صادقا، فهو صادق فالملك والأمير ليس بزبال ولا حجام ولا بكساح ولا جزار ولا كذا لكن هذا فيه إساءة أدب.

وإنما الكمال أن تأتي بالنفي المجمل فتقول: أنت لست مثل أحد من رعيتك، أنت أعلى منهم وأجل وأكمل، فهذا يكون مدحا، إذا كان هذا في حق المخلوق ففي حق الخالق أولى، فإذن منهج الكتاب والسنة في الإثبات والنفي أن يكون النفي مجملا، نفي النقائص والعيوب يكون مجملا، والإثبات يكون مفصلا، إثبات السمع والبصر والعلم والقدرة والحياة، وقد يأتي النفي مفصلا للرد على أهل البدع.

لقوله سبحانه وتعالى: {لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ (3) } للرد على الكفرة الذين نسبوا الولد إلى الله {لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ (3) } هذا لأجل الرد عليهم، أما أهل البدع فإنهم ينفون نفيا مفصلا ويثبتون إثباتا مجملا، فينبغي للمسلم أن يعلم ما دل عليه الكتاب والسنة، وأن يحذر طريقة أهل البدع. نعم.
নাম ও গুণাবলির ক্ষেত্রে নাম ও গুণাবলি সাব্যস্তকরণ বিস্তারিতভাবে আসে; এগুলো আল্লাহর নাম এবং এগুলো গুণাবলিকে অন্তর্ভুক্ত করে: {তিনিই আল্লাহ, যিনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি দৃশ্য ও অদৃশ্যের পরিজ্ঞাত, তিনি পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু (২২)। তিনিই আল্লাহ, যিনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি অধিপতি, অতি পবিত্র, শান্তিদানকারী, নিরাপত্তা দানকারী, রক্ষক, পরাক্রমশালী, মহাপ্রতাপশালী, অতীব মহিমান্বিত। তারা যাকে শরিক করে আল্লাহ তা থেকে পবিত্র (২৩)। তিনিই আল্লাহ, স্রষ্টা, উদ্ভাবক, রূপদানকারী, তাঁর জন্যই রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ। আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সবই তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করে এবং তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় (২৪)}।

এটি বিস্তারিত সাব্যস্তকরণের অন্তর্ভুক্ত। নাম ও গুণাবলি বিস্তারিতভাবে আসে, আর নেতিকরণ (ত্রুটি অস্বীকার) আসে সংক্ষেপে। কিন্তু ইলমে কালামের অনুসারী ও বিদআতিরা এর বিপরীত করেছে; তারা বিস্তারিত নেতিকরণ এবং সংক্ষিপ্ত সাব্যস্তকরণ নিয়ে আসে। তারা যখন আল্লাহর গুণ বর্ণনা করতে চায় কিংবা আল্লাহর থেকে কোনো ত্রুটি অস্বীকার করতে চায়, তখন তারা বিস্তারিত নেতিকরণ ও সংক্ষিপ্ত সাব্যস্তকরণের পথ অবলম্বন করে। তারা বলে: তিনি দেহধারী নন, তাঁর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নেই, তাঁর কোনো রঙ নেই, ঘ্রাণ নেই, স্বাদ নেই, অবয়ব নেই, তিনি এমন নন, তেমন নন, তাঁর কোনো গোশত, রক্ত বা ঘাম নেই… ইত্যাদি বিস্তারিতভাবে ত্রুটি ও খুঁত অস্বীকার করে।

পক্ষান্তরে সাব্যস্তকরণের ক্ষেত্রে তারা সংক্ষিপ্ত সাব্যস্তকরণ নিয়ে আসে। তারা কিতাব ও সুন্নাহর নির্দেশিত বিষয়ের বিপরীত করেছে। ত্রুটি ও অভাব অস্বীকার করার এই বিস্তারিত পদ্ধতি কিতাব ও সুন্নাহর পরিপন্থী হওয়ার পাশাপাশি এতে মহান আল্লাহর প্রতি শিষ্টাচার লঙ্ঘন রয়েছে। কারণ শিষ্টাচার ও পূর্ণতা হলো অভাব-ত্রুটিকে সংক্ষেপে অস্বীকার করা, একে একে গণনা না করা। আল্লাহর জন্যই সর্বোচ্চ উদাহরণ; যদি কোনো ব্যক্তি কোনো আমীর, রাজা বা রাষ্ট্রপ্রধানের প্রশংসা করতে গিয়ে বলে: আপনি ঝাড়ুদার নন, আপনি সিঙাওয়ালা নন, আপনি মেথর নন, আপনি এমন নন—তাহলে তাকে আদব শেখানো হবে। তাকে আদব শেখানো হবে এবং শাস্তি দেওয়া হবে যদিও সে সত্যবাদী। কারণ রাজা বা আমীর ঝাড়ুদার বা সিঙাওয়ালা বা মেথর বা কসাই নন, কিন্তু এভাবে বলাটা অভদ্রতা বা শিষ্টাচার বহির্ভূত।

বরং পূর্ণতা হলো সংক্ষিপ্তভাবে নেতিকরণ করা। আপনি বলবেন: আপনি আপনার প্রজাদের কারোর মতো নন, আপনি তাদের চেয়ে উচ্চতর, মহান এবং পূর্ণতর। এটিই হবে প্রশংসা। যদি মাখলুকের (সৃষ্টির) ক্ষেত্রে এমন হয়, তবে খালেকের (স্রষ্টার) ক্ষেত্রে তা অধিকতর প্রযোজ্য। অতএব, সাব্যস্তকরণ ও নেতিকরণের ক্ষেত্রে কিতাব ও সুন্নাহর মানহাজ হলো—নেতিকরণ বা অভাব ও ত্রুটি অস্বীকার করা হবে সংক্ষেপে, আর সাব্যস্তকরণ হবে বিস্তারিত। যেমন শ্রবণ, দর্শন, জ্ঞান, ক্ষমতা ও জীবনের গুণাবলি বিস্তারিতভাবে সাব্যস্ত করা। তবে কখনো কখনো বিদআতিদের খণ্ডন করতে বিস্তারিত নেতিকরণ আসতে পারে।

যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও জন্ম দেওয়া হয়নি (৩)}। এটি সেই কাফেরদের খণ্ডন করার জন্য যারা আল্লাহর প্রতি সন্তান আরোপ করেছিল। {তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও জন্ম দেওয়া হয়নি (৩)}—এটি তাদের জবাব দেওয়ার উদ্দেশ্যে। কিন্তু বিদআতিরা বিস্তারিতভাবে নেতিকরণ করে এবং সংক্ষেপে সাব্যস্ত করে। অতএব, একজন মুসলিমের উচিত কিতাব ও সুন্নাহ যে বিষয়ের দিকে নির্দেশ করে তা জানা এবং বিদআতিদের পথ থেকে সতর্ক থাকা। হ্যাঁ।
(খণ্ড: ১) শারহুল আক্বীদাহ আত-ত্বহাবীইয়াহ - আব্দুল আযীয আল-রাজহী (পৃষ্ঠা: ১৫)
وَلَا إِلَهَ غَيْرُهُ

--------------------------------------------

" ولا إله غيره " هذه هي كلمة التوحيد " لا إله إلا الله " التي بعث الله بها المرسلين، وأنزل الله من أجلها الكتب، وخلق الخلق الخليقة من أجلها كما سبق "لا إله غيره" هو معنى "لا إله إلا الله "، ومعناها لا معبود بحق إلا الله، وقد أخبر الله تعالى عن إبراهيم عليه الصلاة والسلام بقوله: {وَإِذْ قَالَ إِبْرَاهِيمُ لِأَبِيهِ وَقَوْمِهِ إِنَّنِي بَرَاءٌ مِمَّا تَعْبُدُونَ (26) إِلَّا الَّذِي فَطَرَنِي} .

هذا هو معنى كلمة التوحيد {إِنَّنِي بَرَاءٌ مِمَّا تَعْبُدُونَ (26) إِلَّا الَّذِي فَطَرَنِي} {إِنَّنِي بَرَاءٌ مِمَّا تَعْبُدُونَ (26) } هذا النفي {إِلَّا الَّذِي فَطَرَنِي} هذا هو الإثبات، ومعنى كلمة التوحيد " لا إله غيره " هو معنى " لا إله إلا الله "، وإثبات التوحيد إنما هو بالنفي والإثبات، إثبات توحيد هذه الكلمة إنما هو بالنفي والإثبات المقتضي للحصر " لا إله إلا الله ".

ولهذا لما قال سبحانه وتعالى: {وَإِلَهُكُمْ إِلَهٌ وَاحِدٌ} قال بعدها: {لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الرَّحْمَنُ الرَّحِيمُ (163) } ؛ لأن الإثبات وحده يتطرق إليه احتمال تقول: "الله إله؟ "، يتطرق إليه احتمال، قد يخطر بخاطر شيطاني فيقول: إذا كان إلهنا الله فهل لنا إله غيره؟.

ولهذا قال سبحانه: {وَإِلَهُكُمْ إِلَهٌ وَاحِدٌ} ثم قال بعدها: {لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الرَّحْمَنُ الرَّحِيمُ (163) } فإذن إثبات التوحيد بهذه الكلمة إنما هو من أجل النفي والإثبات المقتضي للحصر، وليس هناك توحيد إلا بنفي وإثبات "لا إله غيره" لا بد من النفي والإثبات حتى يكون التوحيد، كفر وإيمان، كفر بالطاغوت وإيمان بالله عز وجل "لا إله" هذا كفر بالطاغوت، "إلا الله "هذا إيمان بالله.

نفي وإثبات ففيها كفر وإيمان كفر بالطاغوت "لا إله"، "إلا الله" إيمان بالله عز وجل تخلية ثم تحلية "لا إله" هذا تخلية، نفيت جميع الآلهة التي تعبد من دون الله ثم أثبت الألوهية لله عز وجل و "لا إله إلا الله " "لا" نافية للجنس، و"إله" اسمها، والخبر محذوف "لا إله حق إلا الله" التقدير " لا إله حق إلا الله "، والإله معناه المعبود، الإله معناه المعبود لا معبود بحق إلا الله.

وهذه الكلمة كلمة التوحيد لا تنفع صاحبها إلا بتحقيق شروطها التي دلت عليها النصوص من كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم فلا بد من العلم المنافي للجهل، لا بد من العلم المنافي للجهل، قال سبحانه: {فَاعْلَمْ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاسْتَغْفِرْ لِذَنْبِكَ} فبدأ بالعلم قبل القول والعمل.

ولهذا قال البخاري رحمه الله في صحيحه: "بابٌ العلم قبل القول والعمل"، ثم استشهد بهذه الآية {فَاعْلَمْ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ} لا بد من العلم، وقال -سبحانه-: {إِلَّا مَنْ شَهِدَ بِالْحَقِّ وَهُمْ يَعْلَمُونَ (86) } {وَلَا يَمْلِكُ الَّذِينَ يَدْعُونَ مِنْ دُونِهِ الشَّفَاعَةَ إِلَّا مَنْ شَهِدَ بِالْحَقِّ وَهُمْ يَعْلَمُونَ (86) } .

لا بد من العلم، العلم المنافي للجهل تعلم أن هذه الكلمة مشتملة على نفي وإثبات، ولا بد أن تعرف الشيء الذي تنفيه، والشيء الذي تثبته، فهي تنفي الألوهية عن غير الله وتثبتها لله، تنفي جميع أنواع العبادة لغير الله وتثبتها لله عز وجل والعبادة هي اسم لكل ما يحبه الله ويرضاه من الأقوال والأعمال الظاهرة والباطنة كل ما أمر به الشرع ونهى عنه الشرع. كل ما أمر به أمر إيجاب أو استحباب يمتثل، وكل ما نهى عنه نهي تحريم أو تنزيه يترك، هذه هي العبادة طاعة لله وإخلاص له.

لا بد من العلم، ولا بد من اليقين يقولها عن يقين منافٍ للشك والريب إن قالها وعنده شك وتردد تَرَدَّدَ في أن الإله هو المعبود بحق لا تنفع هذه الكلمة، لا بد أن يقولها عن يقين منافٍ للشكِّ والريب، ولا بد من الصدق المانع من النفاق، فإن المنافقين يقولونها لكن لا يَصْدُقون.

يقولونها بألسنتهم وقلوبهم مكذِّبة، قال الله عز وجل {وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَقُولُ آَمَنَّا بِاللَّهِ وَبِالْيَوْمِ الْآَخِرِ وَمَا هُمْ بِمُؤْمِنِينَ (8) } {آَمَنَّا بِاللَّهِ وَبِالْيَوْمِ الْآَخِرِ} بألسنتهم {وَمَا هُمْ بِمُؤْمِنِينَ (8) } بقلوبهم، وقال سبحانه: {إِذَا جَاءَكَ الْمُنَافِقُونَ قَالُوا نَشْهَدُ إِنَّكَ لَرَسُولُ اللَّهِ وَاللَّهُ يَعْلَمُ إِنَّكَ لَرَسُولُهُ وَاللَّهُ يَشْهَدُ إِنَّ الْمُنَافِقِينَ لَكَاذِبُونَ (1) } .
এবং তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই

--------------------------------------------

"এবং তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই" - এটিই হলো তাওহিদের বাণী "আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই", যা দিয়ে আল্লাহ রাসূলগণকে পাঠিয়েছেন, যার জন্য আল্লাহ কিতাবসমূহ নাজিল করেছেন এবং যার জন্য তিনি সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করেছেন, যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। "তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই" হলো "আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই"-এরই অর্থ। এর মর্মার্থ হলো: আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো সত্য উপাস্য নেই। আল্লাহ তাআলা ইব্রাহিম আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম সম্পর্কে সংবাদ দিয়ে বলেছেন: "আর স্মরণ করো, যখন ইব্রাহিম তার পিতা ও সম্প্রদায়কে বলেছিলেন, নিশ্চয়ই তোমরা যাদের পূজা করো তাদের সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। তবে তিনি ছাড়া, যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন।"

এটিই হলো তাওহিদের বাণীর অর্থ: "নিশ্চয়ই তোমরা যাদের পূজা করো তাদের সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই, তবে তিনি ছাড়া যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন।" "নিশ্চয়ই তোমরা যাদের পূজা করো তাদের সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই" - এটি হলো অস্বীকার (নাফি), আর "তবে তিনি ছাড়া যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন" - এটি হলো সাব্যস্তকরণ (ইসবাত)। "তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই" বাণীর অর্থ "আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই"-এরই অর্থ। তাওহিদ সাব্যস্ত হয় কেবল অস্বীকার ও সাব্যস্তকরণের মাধ্যমে। এই বাণীর মাধ্যমে তাওহিদ সাব্যস্ত হওয়া কেবল অস্বীকার ও সাব্যস্তকরণের ওপর নির্ভরশীল, যা একত্বকে আবশ্যক করে: "আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই।"

এজন্যই যখন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: "তোমাদের ইলাহ একমাত্র ইলাহ," তখন এরপরই বলেছেন: "তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু।" কারণ কেবল সাব্যস্তকরণের মধ্যে একটি সম্ভাবনার অবকাশ থেকে যায়। আপনি যদি বলেন: "আল্লাহ কি ইলাহ?", তবে সেখানে একটি সম্ভাবনা দেখা দেয়। শয়তানি কুমন্ত্রণা মনে আসতে পারে যে, যদি আমাদের ইলাহ আল্লাহ হন, তবে কি আমাদের আর কোনো ইলাহ আছে?

এজন্যই আল্লাহ সুবহানাহু বলেছেন: "তোমাদের ইলাহ একমাত্র ইলাহ," এরপর বলেছেন: "তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু।" সুতরাং এই বাণীর মাধ্যমে তাওহিদ সাব্যস্ত হওয়া কেবল অস্বীকার ও সাব্যস্তকরণের মাধ্যমেই সম্ভব যা একত্বকে আবশ্যক করে। অস্বীকার ও সাব্যস্তকরণ ব্যতীত কোনো তাওহিদ নেই। "তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই" - তাওহিদ পূর্ণ হওয়ার জন্য অবশ্যই অস্বীকার ও সাব্যস্তকরণ থাকতে হবে, যা কুফর ও ঈমানের সমন্বয়। তাগুতকে অস্বীকার করা এবং মহান আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা। "কোনো ইলাহ নেই" - এটি তাগুতকে অস্বীকার করা, "আল্লাহ ছাড়া" - এটি আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা।

অস্বীকার ও সাব্যস্তকরণ; এতে রয়েছে কুফর ও ঈমান। তাগুতকে অস্বীকার করা হলো "কোনো ইলাহ নেই", আর মহান আল্লাহর প্রতি ঈমান হলো "আল্লাহ ছাড়া"। এটি প্রথমে বর্জন এবং পরে ভূষণ। "কোনো ইলাহ নেই" - এটি হলো বর্জন, আপনি আল্লাহ ছাড়া উপাসনা করা হয় এমন সকল ইলাহকে অস্বীকার করলেন, অতঃপর মহান আল্লাহর জন্য উপাস্য হওয়ার গুণ সাব্যস্ত করলেন। "আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই" বাক্যে "লা" হলো জাতীয়তবাচক না-বোধক অব্যয়, "ইলাহ" তার বিশেষ্য, আর এর বিধেয় এখানে ঊহ্য। যার অর্থ হলো: "আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই।" অর্থাৎ এখানে "সত্য" শব্দটি ঊহ্য আছে। আর ইলাহ শব্দের অর্থ হলো উপাস্য। ইলাহ অর্থ উপাস্য; অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো উপাস্য নেই।

আর তাওহিদের এই বাণী তার পাঠকারীর কোনো উপকারে আসবে না যদি না আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর দলিলসমূহ যে শর্তাবলি নির্দেশ করেছে তা পূরণ করা হয়। তাই অজ্ঞতা দূরকারী জ্ঞান থাকা অপরিহার্য। আল্লাহ সুবহানাহু বলেছেন: "অতএব জেনে রাখুন, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আপনার গুনাহর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন।" এখানে তিনি কথা ও কাজের আগে জ্ঞান অর্জনের নির্দেশ দিয়ে শুরু করেছেন।

এজন্য ইমাম বুখারি রহমাতুল্লাহি আলাইহি তাঁর সহিহ গ্রন্থে বলেছেন: "অধ্যায়: কথা ও কাজের আগে জ্ঞান অর্জন।" অতঃপর তিনি এই আয়াতটি দলিল হিসেবে পেশ করেছেন: "অতএব জেনে রাখুন, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই।" সুতরাং জ্ঞান থাকা আবশ্যক। আল্লাহ সুবহানাহু আরও বলেছেন: "তবে তারা ছাড়া যারা সত্যের সাক্ষ্য দেয় এবং তারা জানে।" "আর তিনি ছাড়া তারা যাদের ডাকে, তারা সুপারিশের মালিক হবে না; তবে তারা ছাড়া যারা সত্যের সাক্ষ্য দেয় এবং তারা জানে।"

অবশ্যই জ্ঞান থাকতে হবে; এমন জ্ঞান যা অজ্ঞতাকে দূরীভূত করে। আপনাকে জানতে হবে যে এই বাণীটি অস্বীকার ও সাব্যস্তকরণের ওপর প্রতিষ্ঠিত। আপনি যা অস্বীকার করছেন এবং যা সাব্যস্ত করছেন সে সম্পর্কে আপনাকে অবশ্যই জানতে হবে। এটি আল্লাহ ছাড়া অন্য সবার থেকে উপাস্য হওয়ার গুণকে অস্বীকার করে এবং আল্লাহর জন্য তা সাব্যস্ত করে। এটি আল্লাহ ছাড়া অন্যের জন্য সকল প্রকার ইবাদতকে অস্বীকার করে এবং মহান আল্লাহর জন্য তা সাব্যস্ত করে। আর ইবাদত হলো এমন একটি ব্যাপক নাম যা আল্লাহ ভালোবাসেন এবং পছন্দ করেন এমন সকল প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য কথা ও কাজকে অন্তর্ভুক্ত করে; শরিয়ত যা কিছু আদেশ করেছে এবং যা কিছু নিষেধ করেছে। যা কিছু নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—তা পালন করা, এবং যা কিছু নিষেধ করা হয়েছে—তা বর্জন করা। এটিই হলো আল্লাহর আনুগত্য এবং তাঁর জন্য একনিষ্ঠতা।

অবশ্যই জ্ঞান থাকতে হবে এবং অবশ্যই দৃঢ় বিশ্বাস থাকতে হবে। সংশয় ও সন্দেহমুক্ত দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে তা বলতে হবে। যদি কেউ তা সংশয় ও দ্বিধা নিয়ে বলে যে আল্লাহই কি একমাত্র সত্য উপাস্য, তবে এই বাণী কোনো উপকারে আসবে না। অবশ্যই সংশয় ও সন্দেহমুক্ত দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে তা বলতে হবে। আরও থাকতে হবে এমন সত্যবাদিতা যা কপটতাকে প্রতিরোধ করে। কেননা মুনাফিকরা এই বাণী উচ্চারণ করে কিন্তু তারা সত্যবাদী নয়।

তারা মুখে তা বলে কিন্তু তাদের অন্তর তা অস্বীকার করে। আল্লাহ মহান বলেছেন: "আর মানুষের মধ্যে এমন লোকও আছে যারা বলে, আমরা আল্লাহর প্রতি ও পরকালের প্রতি ঈমান এনেছি, অথচ তারা মুমিন নয়।" "আমরা আল্লাহর প্রতি ও পরকালের প্রতি ঈমান এনেছি" - তারা মুখে এটি বলে, "অথচ তারা মুমিন নয়" - অর্থাৎ তাদের অন্তরে বিশ্বাস নেই। আল্লাহ সুবহানাহু আরও বলেছেন: "যখন মুনাফিকরা আপনার কাছে আসে, তখন তারা বলে, আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আপনি নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল। আল্লাহ জানেন যে আপনি নিশ্চয়ই তাঁর রাসূল এবং আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে মুনাফিকরা অবশ্যই মিথ্যাবাদী।"
(খণ্ড: ১) শারহুল আক্বীদাহ আত-ত্বহাবীইয়াহ - আব্দুল আযীয আল-রাজহী (পৃষ্ঠা: ১৬)
ولا بد من الإخلاص المنافي للشرك. إذا قال هذه الكلمة لا إله إلا الله، ولم يخلص أعماله لله، فإن وقع في عمله شرك بطلت هذه الكلمة وانتقضت فالشرك ينقضها ويحبط جميع الأعمال. قال سبحانه: {لَئِنْ أَشْرَكْتَ لَيَحْبَطَنَّ عَمَلُكَ وَلَتَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ (65) } وقال سبحانه: {وَلَوْ أَشْرَكُوا لَحَبِطَ عَنْهُمْ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ (88) } وقال سبحانه: {وَقَدِمْنَا إِلَى مَا عَمِلُوا مِنْ عَمَلٍ فَجَعَلْنَاهُ هَبَاءً مَنْثُورًا (23) } .

لا بد من الإخلاص. إذا وقع الشرك في عمل العبد بطل توحيده وإيمانه وانتقض كما لو توضأ وأحسن الوضوء وتطهر وأحسن الطهارة ثم أحدث، خرج منه بول أو غائط أو ريح بطلت الطهارة، كذلك كلمة التوحيد إذا قالها عن غير إخلاص في عمله شرك فإن شركه ينقض التوحيد.

لا بد من علِمْ ٍمناف للجهل، ويقين مناف للشك والريب، وصدق مانع من النفاق وإخلاص مناف للشرك، ولا بد من المحبة لهذه الكلمة ولأهلها والسرور بذلك، ولا بد من الانقياد بحقوقها، وهى الأعمال الواجبة بفعل الواجبات، وترك المحرمات.

المنقاد يكون منقادًا ضد حقوقها، ولا بد من القبول المنافي للترك فقد يقولها بعض الناس لكن لا يقبلها ممن يدعون إليها تعصبا وتكبرا إذا وجدت هذه الشروط، فإن هذه الكلمة تكون صحيحة، ويكون قالها عن تحقيق.لا بد من إخلاص التعلق بالله عز وجل.

أما مَن قالها بلسانه ولكنه ينقضها بأفعاله، أو قالها وقلبه مكذب فإنها لا تنفع، ولا بد أيضا أن يوحد الله في ربوبيته وفى أسمائه وصفاته كما سبق في البارحة.أنواع التوحيد الثلاثة متلازمة. توحيد الربوبية، وتوحيد الله بأفعاله هو، وتوحيد الألوهية، توحيد الله بأفعالك أنت أيها العبد، وتوحيد الأسماء والصفات كذلك. هذه الأنواع الثلاثة متلازمة، كلها مطلوبة، لا بد أن توحد الله في ربوبيته، وتوحد الله في أسمائه، وصفاته، وتوحد الله في عبادته وألوهيته.

مَن لم يأت بنوع من هذه الأنواع فلا يصح التوحيد من لم يوحد الله في ربوبيته فهو كافر ولو زعم أنه يعبد الله، ولا يمكن أن يعبد الله وهو لا يوحد الله في ربوبيته، كذلك من زعم أنه يوحد الله في أسمائه وصفاته، ولكنه لم يوحد الله في عبادته لم يكن موحدًا.

هذه الأنواع الثلاثة متلازمة، توحيد الألوهية متضمن بتوحيد الربوبية بمعنى أن مَن عَبَدَ الله وأخلص التعلق بالله عز وجل فلا بد أن يكون قد وحَّد الله في ربوبيته في ظل ذلك لا بد يوحّد الله في ربوبيته إنما عبد الله لاعتقاده أن الله هو الخالق الرازق المدبر المحيي المميت الذي بيده النفع والضر.

فإِذًا توحيد الألوهية متضمن لتوحيد الربوبية، أما توحيد الربوبية فإنه مستلزم لتوحيد الألوهية، بمعنى أن مَن وحَّد الله في ربوبيته، واعتقد أن الله هو الخالق، والرازق، المدبر، المحيي، المميت، فإن هذا الاعتقاد، وهذا التوحيد يوجب له أن يوحد الله في ألوهيته ولكن ليس واحد يلتزم بما يلزمه يلزم مَن يوحِّد الله في ربوبيته أن يوحد الله في ألوهيته.

لكن ليس كل واحد يلتزم بما لزمه. والدلالات عند العلماء من أهل الأصول ثلاث دلالات:

1- دلالة التضمن.

2- دلالة المطابقة.

3- دلالة الالتزام.

قلنا: إن توحيد الألوهية متضمن لتوحيد الربوبية، وتوحيد الربوبية مستلزم لتوحيد الألوهية، فما معنى الاستلزام؟ وما معنى التضمن؟ وما معنى المطابقة؟.

دلالة التضمن: هو دلالة الشيء على جزء معناه أو على بعض معناه. ودلالة الالتزام: دلالة الشيء على خارج معناه. ودلالة المطابقة: دلالة الشيء على جميع معناه.

فمثلا مَن عَبَد الله فإنه وحد الله في ربوبيته ووحد الله في ألوهيته، فتكون دلالة توحيد العبادة دلالة مطابقة، لأنه دل على جميع ما نهى؛ لأن توحيد العبادة يشمل أمرين:

يشمل توحيد الربوبية، وتوحيد الألوهية، فدلالة العبادة على توحيد الربوبية، والألوهية دلالة مطابقة، ودلالة توحيد العبادة على توحيد الربوبية دلالة تضمن؛ لأنه يدل على جزء معناه، فتوحيد الربوبية جزء من معنى توحيد الألوهية، ودلالة العبادة والألوهية على الربوبية والألوهية دلالة مطابقة هي دلالة الشيء على جميع معناه.

أما دلالة توحيد الربوبية على توحيد الألوهية فهي دلالة التزام؛ لأنه خارج عن معناه مثل دلالة التوبة على التائب فالتوبة غير التائب دلالة الوالد على الولد، فالولد غير الوالد شيء خارج عنه، فتوحيد الربوبية غير توحيد الألوهية.

فدلالة توحيد الربوبية على دلالة توحيد الألوهية دلالة التزام هو شيء خارج عن معناه. أما دلالة الألوهية على الربوبية فهي دلالة تضمن لأنه في ظل الألوهية توحيد الربوبية، هذه الثلاث دلالات تسمى دلالة التضمن، ودلالة الالتزام، ودلالة المطابقة.
আর শিরক পরিপন্থী ইখলাস বা একনিষ্ঠতা থাকা আবশ্যক। যদি কেউ এই 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' কালিমাটি বলে কিন্তু তার আমলসমূহ আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ না করে, তবে তার আমলের মধ্যে শিরক সংঘটিত হলে এই কালিমা বাতিল ও বিফল হয়ে যাবে। কারণ শিরক একে নষ্ট করে দেয় এবং সমস্ত আমলকে নস্যাৎ করে দেয়। মহান আল্লাহ বলেন: "যদি তুমি শিরক কর তবে অবশ্যই তোমার আমল নিষ্ফল হয়ে যাবে এবং তুমি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।" (৬৫) মহান আল্লাহ আরও বলেন: "তারা যদি শিরক করত তবে তারা যা করত তা অবশ্যই নিষ্ফল হতো।" (৮৮) মহান আল্লাহ আরও বলেন: "আমি তাদের কৃতকর্মের দিকে মনোনিবেশ করব, অতঃপর সেগুলোকে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত করব।" (২৩)।

ইখলাস অপরিহার্য। যদি বান্দার আমলে শিরক প্রবেশ করে, তবে তার তাওহীদ ও ঈমান বাতিল এবং নষ্ট হয়ে যায়; যেমন কেউ যদি উত্তমরূপে অজু ও পবিত্রতা অর্জন করে, অতঃপর তার যদি বায়ু নির্গত হয় কিংবা প্রস্রাব-পায়খানা নির্গত হওয়ার মতো ঘটনা ঘটে, তবে তার পবিত্রতা নষ্ট হয়ে যায়। তদ্রূপ তাওহীদের কালিমা পাঠ করার সময় যদি আমলের মধ্যে ইখলাস না থাকে বরং শিরক থাকে, তবে সেই শিরক তাওহীদকে নষ্ট করে দেয়।

অজ্ঞতা পরিপন্থী জ্ঞান, সন্দেহ ও সংশয় পরিপন্থী দৃঢ় বিশ্বাস (ইয়াকীন), নিফাক বা কপটতা রোধকারী সত্যবাদিতা এবং শিরক পরিপন্থী ইখলাস থাকা আবশ্যক। তদ্রূপ এই কালিমা ও কালিমার অনুসারীদের প্রতি ভালোবাসা এবং এতে সন্তোষ থাকা অপরিহার্য। আরও আবশ্যক এর হক বা দাবিগুলোর আনুগত্য করা, আর তা হলো ওয়াজিব কাজগুলো পালন এবং হারাম বিষয়গুলো বর্জন করার মাধ্যমে আমল করা।

অনুগত্যকারী ব্যক্তি এর দাবির বিপরীত বিষয় থেকে বিমুখ হবে। তদ্রূপ বর্জন করার পরিবর্তে তা গ্রহণ করা আবশ্যক। কারণ অনেক মানুষ এটি মুখে বলে কিন্তু অহংকার বা গোঁড়ামির বশবর্তী হয়ে যারা এর দিকে আহ্বান জানায় তাদের কথা গ্রহণ করে না। যখন এই শর্তগুলো পাওয়া যাবে, তখনই এই কালিমা সঠিক হবে এবং তা যথাযথ উপলব্ধির সাথে বলা হয়েছে বলে গণ্য হবে। মহান আল্লাহর সাথে সম্পৃক্ততায় একনিষ্ঠ হওয়া অপরিহার্য।

কিন্তু যে ব্যক্তি কেবল মুখে এটি বলে অথচ কাজের মাধ্যমে একে ভঙ্গ করে, অথবা এটি বলে অথচ তার অন্তর একে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে, তবে তা কোনো উপকারে আসবে না। তদ্রূপ আল্লাহর রুবুবিয়্যাহ (প্রভুত্ব) এবং তাঁর নাম ও গুণাবলীতেও তাঁকে এক অদ্বিতীয় মানতে হবে যেমনটি গত কাল আলোচিত হয়েছে। তাওহীদের এই তিন প্রকার একটি অন্যটির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। রুবুবিয়্যাহর তাওহীদ হলো আল্লাহর কাজসমূহে তাঁকে এক জানা, আর উলুহিয়্যাহর তাওহীদ হলো হে বান্দা! তোমার নিজের কাজের মাধ্যমে আল্লাহকে এক জানা, এবং তদ্রূপ নাম ও গুণাবলীর তাওহীদও। এই তিন প্রকার তাওহীদ অবিচ্ছেদ্য; এর সবকটিই আবশ্যক। আপনাকে অবশ্যই আল্লাহর রুবুবিয়্যাহতে তাঁকে এক মানতে হবে, তাঁর নাম ও গুণাবলীতে তাঁকে এক মানতে হবে এবং তাঁর ইবাদত ও উলুহিয়্যাহতে তাঁকে এক মানতে হবে।

যে ব্যক্তি এই প্রকারগুলোর কোনো একটি নিয়ে আসবে না, তার তাওহীদ সঠিক হবে না। যে ব্যক্তি আল্লাহর রুবুবিয়্যাহতে তাঁকে এক মানবে না সে কাফির, যদিও সে দাবি করে যে সে আল্লাহর ইবাদত করে। কারণ আল্লাহর রুবুবিয়্যাহতে তাঁকে এক না মেনে তাঁর ইবাদত করা সম্ভব নয়। তদ্রূপ কেউ যদি দাবি করে যে সে আল্লাহর নাম ও গুণাবলীতে তাঁকে এক মানে কিন্তু তাঁর ইবাদতে (উলুহিয়্যাহ) তাঁকে এক না মানে, তবে সে মুওয়াহিদ হতে পারবে না।

এই তিন প্রকার তাওহীদ একে অপরের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। উলুহিয়্যাহর তাওহীদ রুবুবিয়্যাহর তাওহীদকে অন্তর্ভুক্ত করে; অর্থাৎ যে ব্যক্তি আল্লাহর ইবাদত করে এবং মহান আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠভাবে নিবেদিত হয়, সে অবশ্যই আল্লাহর রুবুবিয়্যাহতেও তাঁকে এক বলে বিশ্বাস করে। সে তো কেবল একারণেই আল্লাহর ইবাদত করে যে, সে বিশ্বাস করে আল্লাহই স্রষ্টা, রিযিকদাতা, সকল বিষয়ের নিয়ন্ত্রক, জীবনদাতা ও মৃত্যুদাতা, যাঁর হাতেই রয়েছে উপকার ও অপকার।

সুতরাং উলুহিয়্যাহর তাওহীদ রুবুবিয়্যাহর তাওহীদকে অন্তর্ভুক্ত করে। পক্ষান্তরে রুবুবিয়্যাহর তাওহীদ উলুহিয়্যাহর তাওহীদকে অনিবার্য করে। অর্থাৎ যে ব্যক্তি আল্লাহর রুবুবিয়্যাহর একত্বে বিশ্বাস করে এবং বিশ্বাস করে যে আল্লাহই স্রষ্টা, রিযিকদাতা, নিয়ন্ত্রক, জীবনদাতা ও মৃত্যুদাতা, তবে এই বিশ্বাস ও তাওহীদ তাকে আল্লাহর উলুহিয়্যাহতে একত্ব বজায় রাখতে বাধ্য করে। তবে সবাই যে তার জন্য যা অপরিহার্য তা মেনে চলে এমনটি নয়; রুবুবিয়্যাহর তাওহীদ পোষণকারীর ওপর উলুহিয়্যাহর তাওহীদ মানা অপরিহার্য হয়ে পড়ে।

কিন্তু প্রত্যেকেই তার ওপর অর্পিত অপরিহার্য বিষয়ের প্রতি অনুগত থাকে না। উসূলবিদ আলিমদের মতে 'দালালাত' বা নির্দেশন পদ্ধতি তিন প্রকার:

১- দালালাতুত তাদাম্মুন (অন্তর্ভুক্তি নির্দেশন)।

২- দালালাতুল মুতাবেকাহ (পূর্ণ অর্থবোধকতা নির্দেশন)।

৩- দালালাতুল ইস্তিলযাম (অনিবার্য নির্দেশন)।

আমরা বলেছি: উলুহিয়্যাহর তাওহীদ রুবুবিয়্যাহর তাওহীদকে অন্তর্ভুক্ত করে এবং রুবুবিয়্যাহর তাওহীদ উলুহিয়্যাহর তাওহীদকে অনিবার্য করে। এখন ইস্তিলযাম (অনিবার্য হওয়া), তাদাম্মুন (অন্তর্ভুক্ত হওয়া) এবং মুতাবেকাহ (পূর্ণ অর্থ প্রকাশ করা)-এর অর্থ কী?

দালালাতুত তাদাম্মুন: হলো কোনো বস্তু তার অর্থের কোনো একটি অংশের ওপর নির্দেশ করা। দালালাতুল ইস্তিলযাম: হলো কোনো বস্তু তার অর্থের বাইরের কোনো বিষয়ের ওপর নির্দেশ করা। আর দালালাতুল মুতাবেকাহ: হলো কোনো বস্তু তার পূর্ণ অর্থের ওপর নির্দেশ করা।

উদাহরণস্বরূপ, যে ব্যক্তি আল্লাহর ইবাদত করে, সে আল্লাহর রুবুবিয়্যাহ এবং উলুহিয়্যাহ উভয় ক্ষেত্রে তাঁকে এক মেনে নেয়। এক্ষেত্রে ইবাদতের তাওহীদের নির্দেশন হবে দালালাতুল মুতাবেকাহ; কারণ এটি নির্দেশিত সকল বিষয়ের ওপর অর্থ প্রদান করে। কেননা ইবাদতের তাওহীদ দুটি বিষয়কে শামিল করে:

এটি রুবুবিয়্যাহর তাওহীদ এবং উলুহিয়্যাহর তাওহীদকে অন্তর্ভুক্ত করে। সুতরাং রুবুবিয়্যাহ ও উলুহিয়্যাহর ওপর ইবাদতের নির্দেশন হলো দালালাতুল মুতাবেকাহ। আর রুবুবিয়্যাহর তাওহীদের ওপর ইবাদতের তাওহীদের নির্দেশন হলো দালালাতুত তাদাম্মুন; কারণ এটি তার অর্থের একটি অংশের ওপর নির্দেশ করছে। কেননা রুবুবিয়্যাহর তাওহীদ হলো উলুহিয়্যাহর তাওহীদের একটি অংশ। আর রুবুবিয়্যাহ ও উলুহিয়্যাহর ওপর ইবাদত ও উলুহিয়্যাহর নির্দেশন হলো দালালাতুল মুতাবেকাহ, যা কোনো বস্তুর পূর্ণ অর্থের ওপর নির্দেশ করে।

অন্যদিকে উলুহিয়্যাহর তাওহীদের ওপর রুবুবিয়্যাহর তাওহীদের নির্দেশন হলো দালালাতুল ইস্তিলযাম; কারণ এটি তার মূল অর্থের বাইরের বিষয়। যেমন তওবাকারীর ওপর তওবার নির্দেশন; তওবা আর তওবাকারী এক নয়। যেমন সন্তানের ওপর পিতার নির্দেশন; সন্তান পিতা থেকে আলাদা একটি সত্তা। ঠিক তেমনি রুবুবিয়্যাহর তাওহীদ ও উলুহিয়্যাহর তাওহীদ ভিন্ন বিষয়।

অতএব উলুহিয়্যাহর তাওহীদের নির্দেশনের ক্ষেত্রে রুবুবিয়্যাহর তাওহীদের নির্দেশন হলো দালালাতুল ইস্তিলযাম, যা তার মূল অর্থের বাইরের একটি বিষয়। আর রুবুবিয়্যাহর ওপর উলুহিয়্যাহর নির্দেশন হলো দালালাতুত তাদাম্মুন, কারণ উলুহিয়্যাহর তাওহীদের ভেতরেই রুবুবিয়্যাহর তাওহীদ নিহিত। এই তিন প্রকার নির্দেশনকে বলা হয় দালালাতুত তাদাম্মুন, দালালাতুল ইস্তিলযাম এবং দালালাতুল মুতাবেকাহ।
(খণ্ড: ১) শারহুল আক্বীদাহ আত-ত্বহাবীইয়াহ - আব্দুল আযীয আল-রাজহী (পৃষ্ঠা: ১৭)
فدلالة الالتزام دلالة الشيء على خارج معناه كدلالة توحيد الربوبية على توحيد الألوهية، ودلالة التضمن هي دلالة الشيء على جزء من معناه كدلالة توحيد الألوهية على توحيد الربوبية، ودلالة المطابقة: دلالة الشيء على جميع معناه كدلالة الألوهية على الربوبية والألوهية.

ومعنى الإله كما سبق هو المعبود، وبعض أهل الكلام كالأشاعرة وغيرهم أخطئوا في تفسير الإله، فقالوا: الإله فيه تقدير الخبر، قالوا: لا إله موجود إلا الله، وفسروا الإله بالخالق، وهذا خطأ، لو كان المعنى لا خالق إلا الله لما حصل نزاع بين النبي صلى الله عليه وسلم وكفار قريش، ولما حصل نزاع بين الرسل وأممهم، لأن الأمم يقرون بأنه لا خالق إلا الله.

وبعض أهل الكلام كالأشاعرة وغيرهم يقولون: معنى لا إله إلا الله: لا خالق إلا الله، أو لا قادر على الاختراع إلا الله، وهذا غلط كبير؛ لأنه لو كان معنى لا خالق إلا الله لما حصل نزاع وقتال وجهاد من الرسل للكفرة؛ لأن الكفرة يقرون بأنه لا خالق إلا الله، لا خالق إلا الله، هذا لا إشكال فيه عندي.

ولا يتبين عظمة هذه الكلمة "لا إله إلا الله" وأنها كلمة التوحيد التي تنفي الشرك إلا بتفسير الإله بالمعبود، وتقدير الخبر بحق لا إله بحق إلا الله. لا معبود بحق إلا الله، وبهذا يتبين عظمة هذه الكلمة لأن الآلهة موجودة، ولكنها آلهة باطلة، قال سبحانه: {فَمَا أَغْنَتْ عَنْهُمْ آَلِهَتُهُمُ الَّتِي يَدْعُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ مِنْ شَيْءٍ لَمَّا جَاءَ أَمْرُ رَبِّكَ} إذًا لهم آلهة، وقال سبحانه: {قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ (1) لَا أَعْبُدُ مَا تَعْبُدُونَ (2) وَلَا أَنْتُمْ عَابِدُونَ مَا أَعْبُدُ (3) وَلَا أَنَا عَابِدٌ مَا عَبَدْتُمْ (4) وَلَا أَنْتُمْ عَابِدُونَ مَا أَعْبُدُ (5) لَكُمْ دِينُكُمْ وَلِيَ دِينِ (6) } .

إذًا فيه معبودات؛ اليهود، الكافرون لهم معبود يعبدون الأصنام، والأوثان، لهم إله، وجميع الكفرة كل إنسان له معبود، لكن، وكل إنسان له دين، لكن المعبود بحق هو الله. ما سواه إلا باطل، قال سبحانه: {ذَلِكَ بِأَنَّ اللَّهَ هُوَ الْحَقُّ وَأَنَّ مَا يَدْعُونَ مِنْ دُونِهِ الْبَاطِلُ} .

وكل إنسان له دين. الكفار لهم دين لكن دين باطل؛ ولهذا قال سبحانه: {لَكُمْ دِينُكُمْ وَلِيَ دِينِ (6) } وقال الله عن أهل الكتاب إنهم قالوا: {وَلَا تُؤْمِنُوا إِلَّا لِمَنْ تَبِعَ دِينَكُمْ} فلهم دين لكن دين باطل، والدين الحق هو دين الإسلام {إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الْإِسْلَامُ} .

فتفسير الإله بالخالق تفسير باطل. الذين فسروا هذا الكلام كالأشاعرة وغيرهم؛ لأنه لو كان الإله هو الخالق لما حَصَلَ خلاف بين الأنبياء وبين أممهم، ولما حصل قتال.

ولا يتبين عظمة هذه الكلمة، وأن كلمة التوحيد التي تنفي الشرك إلا بتفسير الإله هو المعبود، وهذا معناها في اللغة العربية الإله هو المعبود، وإله اسم لا النافية للجنس من أخوات إن تنصب الاسم، وترفع الخبر، وإله اسمها. والخبر محذوف تقديره لا إله حق، لا معبود حق إلا الله.
সুতরাং দালালাতুল ইলতিজাম (অপরিহার্যতা নির্দেশক) হলো কোনো বিষয়ের তার মূল অর্থের বাইরের কোনো বিষয়ের দিকে নির্দেশ করা, যেমন রুবুবিয়্যাহর তাওহীদ উলুহিয়্যাহর তাওহীদের দিকে নির্দেশ করে। আর দালালাতুত তাদাম্মুন (অন্তর্ভুক্তি নির্দেশক) হলো কোনো বিষয়ের তার অর্থের একটি অংশের দিকে নির্দেশ করা, যেমন উলুহিয়্যাহর তাওহীদ রুবুবিয়্যাহর তাওহীদের দিকে নির্দেশ করে। আর দালালাতুল মুতাবাকাহ (পূর্ণ সমতা নির্দেশক) হলো কোনো বিষয়ের তার অর্থের সম্পূর্ণ অংশের দিকে নির্দেশ করা, যেমন উলুহিয়্যাহ শব্দটি রুবুবিয়্যাহ ও উলুহিয়্যাহ উভয় বিষয়ের ওপর নির্দেশ করা।

আর ইলাহ শব্দের অর্থ—যেমনটি আগে অতিক্রান্ত হয়েছে—তাহলো মা'বুদ বা উপাস্য। ইলমুল কালামের একদল পন্ডিত যেমন আশআরী এবং অন্যরা ইলাহ শব্দের ব্যাখ্যায় ভুল করেছেন। তারা বলেন: ইলাহ শব্দে একটি উহ্য খবর (প্রেডিকেট) রয়েছে; তারা বলেন: আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ 'বিদ্যমান' নেই। তারা ইলাহ-এর ব্যাখ্যা করেছেন 'স্রষ্টা' দিয়ে, যা একটি ভুল। যদি এর অর্থ 'আল্লাহ ছাড়া কোনো স্রষ্টা নেই' হতো, তবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং কুরাইশ কাফেরদের মধ্যে কোনো বিবাদ সৃষ্টি হতো না, আর রাসূলগণ ও তাদের উম্মতদের মধ্যেও কোনো বিবাদ ঘটত না; কারণ উম্মতরা তো এটি স্বীকারই করত যে আল্লাহ ছাড়া কোনো স্রষ্টা নেই।

ইলমুল কালামের কতিপয় পন্ডিত যেমন আশআরী এবং অন্যরা বলেন: 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' এর অর্থ হলো: আল্লাহ ছাড়া কোনো স্রষ্টা নেই, অথবা আল্লাহ ছাড়া নতুন কিছু সৃষ্টি করার ক্ষমতা সম্পন্ন কেউ নেই। এটি একটি বড় ভুল; কারণ যদি এর অর্থ 'আল্লাহ ছাড়া কোনো স্রষ্টা নেই' হতো, তবে রাসূলদের পক্ষ থেকে কাফেরদের বিরুদ্ধে কোনো বিবাদ, লড়াই বা জিহাদ সংঘটিত হতো না; কারণ কাফেররা তো আল্লাহ ছাড়া কোনো স্রষ্টা নেই—একথা স্বীকার করত। আল্লাহ ছাড়া কোনো স্রষ্টা নেই, এ ব্যাপারে আমার নিকট কোনো সংশয় নেই।

'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' এই কালিমার মাহাত্ম্য এবং এটি যে শিরককে অস্বীকারকারী তাওহীদের মূল বাণী, তা স্পষ্ট হয় না যতক্ষণ না ইলাহ শব্দের ব্যাখ্যা 'মা'বুদ' (উপাস্য) দিয়ে করা হয় এবং এর উহ্য খবরকে 'হক' (সত্য) হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়। অর্থাৎ: সত্য কোনো ইলাহ নেই আল্লাহ ছাড়া। আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো উপাস্য নেই। এর মাধ্যমেই এই কালিমার মহিমা প্রকাশ পায়, কারণ অন্যান্য উপাস্যরা তো বাস্তবে বিদ্যমান, কিন্তু তারা বাতিল উপাস্য। মহান আল্লাহ বলেন: "অতঃপর তাদের উপাস্যগুলো তাদের কোনো উপকারে আসেনি যাদেরকে তারা আল্লাহর পরিবর্তে ডাকত, যখন আপনার রবের নির্দেশ এসে পৌঁছাল।" সুতরাং তাদের উপাস্য ছিল। মহান আল্লাহ আরও বলেন: "বলুন, হে কাফেররা! আমি তার ইবাদত করি না যার ইবাদত তোমরা করো। আর তোমরাও তাঁর ইবাদতকারী নও যাঁর ইবাদত আমি করি। আর আমি তার ইবাদতকারী হব না যার ইবাদত তোমরা করেছ। আর তোমরাও তাঁর ইবাদতকারী নও যাঁর ইবাদত আমি করি। তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন আর আমার জন্য আমার দ্বীন।"

সুতরাং এখানে অনেক উপাস্য রয়েছে; ইয়াহুদি ও কাফেরদের উপাস্য রয়েছে, তারা প্রতিমা ও মূর্তিপূজা করে, তাদের ইলাহ রয়েছে। সমস্ত কাফের এবং প্রতিটি মানুষেরই কোনো না কোনো উপাস্য রয়েছে; আবার প্রতিটি মানুষের একটি দ্বীনও রয়েছে, কিন্তু সত্য উপাস্য কেবল আল্লাহ। তিনি ছাড়া অন্য যা কিছু আছে সব বাতিল। মহান আল্লাহ বলেন: "তা একারণে যে, আল্লাহই সত্য এবং তারা তাঁর পরিবর্তে যাকে ডাকে তা বাতিল।"

এবং প্রত্যেক মানুষেরই দ্বীন বা ধর্ম রয়েছে। কাফেরদেরও দ্বীন আছে কিন্তু তা বাতিল দ্বীন; একারণেই মহান আল্লাহ বলেছেন: "তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন এবং আমার জন্য আমার দ্বীন।" আর আল্লাহ আহলে কিতাবদের সম্পর্কে বলেছেন যে তারা বলেছিল: "তোমাদের দ্বীন যারা অনুসরণ করে তারা ছাড়া আর কাউকে বিশ্বাস করো না।" সুতরাং তাদের দ্বীন রয়েছে কিন্তু তা বাতিল দ্বীন, আর সত্য দ্বীন হলো ইসলাম। "নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট একমাত্র দ্বীন হলো ইসলাম।"

অতএব ইলাহ শব্দের ব্যাখ্যা 'স্রষ্টা' দিয়ে করা একটি বাতিল ব্যাখ্যা। যারা এই কালিমার ব্যাখ্যা এভাবে করেছেন যেমন আশআরী এবং অন্যরা; কারণ যদি ইলাহ মানেই স্রষ্টা হতো তবে নবীগণ এবং তাঁদের উম্মতদের মাঝে কোনো মতবিরোধ হতো না এবং কোনো যুদ্ধও সংঘটিত হতো না।

আর এই কালিমার মাহাত্ম্য এবং এটি যে শিরককে অস্বীকারকারী তাওহীদের বাণী, তা স্পষ্ট হয় না যতক্ষণ না ব্যাখ্যা করা হয় যে ইলাহ মানেই হলো মা'বুদ বা উপাস্য। আরবি ভাষাতেও ইলাহ শব্দের অর্থ হলো মা'বুদ। এখানে 'ইলাহ' শব্দটি হলো 'লা নাফিয়া লিল জিনস'-এর 'ইসম' (বিশেষ্য), যা 'ইন্না' এর ন্যায় আমল করে তার ইসমকে নসব এবং খবরকে রফ প্রদান করে। আর 'ইলাহ' হলো তার ইসম। এর খবরটি এখানে উহ্য রয়েছে যার অর্থ দাঁড়ায়: 'কোনো সত্য ইলাহ নেই', অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই।
(খণ্ড: ১) শারহুল আক্বীদাহ আত-ত্বহাবীইয়াহ - আব্দুল আযীয আল-রাজহী (পৃষ্ঠা: ১৮)
قَدِيمٌ بِلَا ابْتِدَاءٍ، دَائِمٌ بِلَا انْتِهَاءٍ

--------------------------------------------

قول الطحاوي رحمه الله: " قديم بلا ابتداء دائم بلا انتهاء "، يقول إن، يريد أن يوصفه بلا انتهاء.

كلمة القديم ما وردت في أسماء الله، وإنما أحدثها أهل الكلام، لكن الطحاوي رحمه الله لما رأى أن هذه الكلمة لا تدل على الاسم الذي ورد في الكتاب والسنة، إنما ورد الأول والآخر.

الأول والآخر اسمان لأزلية الله وأبديته، لما رأى الطحاوي هذا قال " قديم بلا ابتداء دائم بلا انتهاء". فقديم بلا ابتداء تساوى اسم الأول، ودائم بلا انتهاء تساوى اسم الآخر، ولكن تسمية الله بأنه قديم محدث، أحدثه أهل الكلام.

وأهل السنة والجماعة لا يسمون الله بأنه قديم؛ لأن الأسماء والصفات توقيفية، ومعنى توقيفية أي أننا نقف على ما ورد في الكتاب والسنة، ما ورد في الكتاب والسنة من الأسماء والصفات نثبته لله، وما ورد في الكتاب والسنة نفيًا وعلنًا ننفيه عن الله.

وما لم يرد في الكتاب والسنة نفيًا ولا إثباتًا نتوقف: مثل الجسم والحيز والعرض. فقول الطحاوي قديم، دائم، هذا ليس من الأسماء لكن لما رأى … -والقديم لا يفيد معنى الأول-، لكن لما رأى أنه لا يفيد بقوله قديم بلا ابتداء أي قديم لا ابتداء له، ودائم لا انتهاء لآخريته، قديم لا ابتداء لأوليته، ودائم لا انتهاء لآخريته.

لكن ما حاجتنا لها، ينبغي أن نكتفي بما ورد في الكتاب والسنة، فنقول الله الأول والآخر كما قال سبحانه: {هُوَ الْأَوَّلُ وَالْآَخِرُ وَالظَّاهِرُ وَالْبَاطِنُ وَهُوَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ (3) } وثبت في صحيح مسلم الدعاء المشهور أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (اللهم رب السموات والأرض ورب العرش العظيم ربنا ورب كل شيء فالق الحب والنوى، منزل التوراة والإنجيل والفرقان أعوذ بك من شر كل شيء أنت آخذ بناصيته، اللهم أنت الأول فليس قبلك شيء وأنت الآخر فليس بعدك شيء، وأنت الظاهر فليس فوقك شيء، وأنت الباطن فليس دونك شيء اقض عنا الدين وأغننا من الفقر) .

هذا الحديث فيه إثبات أربعة أسماء لله عز وجل الأول والآخر والظاهر والباطن، وهذه الأسماء الأربعة كل اسمين منها متقابلان فالأول والآخر متقابلان والظاهر والباطن متقابلان.

فالأول والآخر اسمان لأزليته وأبديته، فالأول اسم لأبديته سبحانه وتعالى، والمعنى أنه الأول الذي ليس لأوليته بداية، والآخر الذي ليس لآخريته نهاية، ولهذا فسَّرها النبي صلى الله عليه وسلم في هذا الحديث فقال: (اللهم أنتَ الأول فليس قبلك شيء، وأنت الآخر فليس بعدك شيء) .

اسمان لأزليته وأبديته، واسمان لعلوه وفوقيته، وعدم حجب شيء من المخلوقات، وأنه لا يحجب شيء من المخلوقات؛ ولهذا قال: وأنت الظاهر فليس فوقك شيء، وأنت الباطن فليس دونك شيء، وهو سبحانه الظاهر الذي ليس فوقه شيء؛ لأنه سبحانه وتعالى فوق السموات، وفوق العرش مستو على عرشه ظاهر بخلقه.

وهو الباطن الذي لا يحجبه شيء من المخلوقات لا يخفى عليه شيء يرى كل شيء، ويبصر كل شيء سبحانه وتعالى، ولا يخفى عليه شيء من خلقه؛ من أعمالهم وسكناتهم وحركاتهم، والأول والآخر معلوم وصْف الله بالأول والآخر معلوم مستقر في الفِطَر، فإن الموجودات لا بد أن تنتهي إلى واجد الوجود لذاته قطعًا للتسلسل؛ فإننا نشاهد حدوث الحوادث من النبات والحيوان والمعادن وحوادث التحول وغيرها.

وهذه المخلوقات ليست ممتنعة؛ لأن الممتنع لا يمكن أن يوجد؛ لأنها وجدت وليست واجبة الوجود لذاتها؛ لأنها كانت معدومة ثم وجدت فدل على أنها جائزة، وجودها جائز ليس ممتنعا؛ لأنها وجدت، والممتنع لا يوجد.

وليست واجبة الوجود لذاتها؛ لأنها كانت معدومة ثم وجدت فدل على أنها جائزة، والجائز هو الذي يوجد بعد أن كان معدوما.

وهذا المخلوق الذي يوجد بعد أن كان معدوما لا بد له من موجد يوجده، وإلا بقي معدوما كما قال سبحانه: {أَمْ خُلِقُوا مِنْ غَيْرِ شَيْءٍ أَمْ هُمُ الْخَالِقُونَ (35) } أي حدثوا من غير شيء أم هم أحدثوا أنفسهم لا بد لهم موجد، والله تعالى هو واجد الوجود لذاته سبحانه وتعالى، وهو الأول الذي ليس لأوله بداية، والآخر الذي ليس لآخريته نهاية، كما أنه الظاهر الذي ليس فوقه شيء، والباطن الذي ليس دونه شيء سبحانه وتعالى.

وأما اسم القديم مع أنه لم يرد في الكتاب والسنة إلا أنه لا يفيد التقدم على كل شيء إنما يفيد التقدم تقدما نسبيًّا ولا يفيد التقدم على كل شيء كما قال سبحانه وتعالى: {حَتَّى عَادَ كَالْعُرْجُونِ الْقَدِيمِ (39) } .

يسمى العرجون القديم إذا وجد العرجون الجديد لكن ليس متقدما على كل شيء.
তিনি অনাদি, যার কোনো শুরু নেই; তিনি অনন্ত, যার কোনো শেষ নেই

--------------------------------------------

ইমাম তহাবী রহিমাহুল্লাহ-এর উক্তি: "তিনি অনাদি যার কোনো শুরু নেই, তিনি অনন্ত যার কোনো শেষ নেই", তিনি বলতে চেয়েছেন যে, তাঁকে শেষহীন হিসেবে বর্ণনা করতে হবে।

'কাদিম' (অনাদি) শব্দটি আল্লাহর নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত হয়ে আসেনি, বরং ইলমুল কালামের পণ্ডিতগণ এটি উদ্ভাবন করেছেন। কিন্তু ইমাম তহাবী রহিমাহুল্লাহ যখন দেখলেন যে এই শব্দটি সেই নামের অর্থ প্রকাশ করে না যা কিতাব ও সুন্নাহতে এসেছে, (কেননা কিতাব ও সুন্নাহতে) কেবল 'আল-আউয়াল' (প্রথম) ও 'আল-আখির' (শেষ) এসেছে।

'আল-আউয়াল' ও 'আল-আখির' আল্লাহর অনাদিত্ব ও অনন্তত্বের দুটি নাম। ইমাম তহাবী যখন এটি দেখলেন, তখন তিনি বললেন "তিনি অনাদি যার কোনো শুরু নেই, তিনি অনন্ত যার কোনো শেষ নেই"। সুতরাং "অনাদি যার শুরু নেই" 'আল-আউয়াল' নামের সমার্থক এবং "অনন্ত যার শেষ নেই" 'আল-আখির' নামের সমার্থক। কিন্তু আল্লাহকে 'কাদিম' বা অনাদি হিসেবে নামকরণ করা একটি নব-উদ্ভাবিত বিষয়, যা ইলমুল কালামের অনুসারীরা তৈরি করেছে।

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত আল্লাহকে 'কাদিম' নামে অভিহিত করে না; কারণ আল্লাহর নাম ও গুণাবলি হলো 'তাওকিফিয়্যাহ' (দলিল-নির্ভর)। আর তাওকিফিয়্যাহর অর্থ হলো—আমরা কিতাব ও সুন্নাহতে যা এসেছে সেখানেই সীমাবদ্ধ থাকব। কিতাব ও সুন্নাহতে আল্লাহর জন্য যেসব নাম ও গুণ সাব্যস্ত হয়েছে, আমরা তা আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত করি। আর কিতাব ও সুন্নাহতে যা নেতিবাচকভাবে বা স্পষ্টভাবে অস্বীকার করা হয়েছে, আমরা তা আল্লাহ থেকে অস্বীকার করি।

আর কিতাব ও সুন্নাহতে যা নেতিবাচক বা ইতিবাচক কোনোভাবেই আসেনি, সে ব্যাপারে আমরা নীরব থাকি: যেমন শরীর, স্থান এবং গুণাগুণ। সুতরাং তহাবীর 'কাদিম' ও 'দায়িম' বলাটা নাম হিসেবে নয়, কিন্তু যখন তিনি দেখলেন … —আর 'কাদিম' শব্দটি 'আউয়াল'-এর অর্থ প্রকাশ করে না— কিন্তু যখন তিনি দেখলেন যে তাঁর "অনাদি যার শুরু নেই" বলার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো এমন অনাদি যার কোনো আরম্ভ নেই, এবং "অনন্ত যার শেষ নেই" বলার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো এমন এক শেষ যার কোনো সমাপ্তি নেই; অর্থাৎ এমন অনাদি যার প্রথমত্বের কোনো শুরু নেই এবং এমন অনন্ত যার শেষত্বের কোনো সমাপ্তি নেই।

কিন্তু আমাদের এগুলোর কী প্রয়োজন? আমাদের উচিত কিতাব ও সুন্নাহতে যা এসেছে তাতেই সন্তুষ্ট থাকা। সুতরাং আমরা বলব, আল্লাহ 'আল-আউয়াল' ও 'আল-আখির', যেমনটি তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: "তিনিই প্রথম ও সর্বশেষ, এবং প্রকাশ্য ও গোপন; আর তিনি সর্ববিষয়ে সম্যক পরিজ্ঞাত।" এবং সহীহ মুসলিমে বিখ্যাত একটি দোয়া বর্ণিত হয়েছে যেখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: (হে আল্লাহ! আসমান ও যমীনের রব, মহান আরশের রব, আমাদের রব এবং সবকিছুর রব, শস্যদানা ও আঁটি বিদীর্ণকারী, তাওরাত, ইনজীল ও ফুরকানের নাযিলকারী। আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাই ঐ সবকিছুর অনিষ্ট থেকে যার ললাট আপনি ধরে আছেন। হে আল্লাহ! আপনিই প্রথম, আপনার পূর্বে কিছু নেই; আপনিই শেষ, আপনার পরে কিছু নেই; আপনিই প্রকাশ্য, আপনার উপরে কিছু নেই; আর আপনিই গোপন, আপনার নিচে কিছু নেই। আপনি আমাদের পক্ষ থেকে ঋণ পরিশোধ করে দিন এবং অভাব থেকে আমাদের অভাবমুক্ত করুন)।

এই হাদিসে আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লার চারটি নাম সাব্যস্ত হয়েছে: আল-আউয়াল, আল-আখির, আয-যাহির এবং আল-বাতিন। এই চারটি নামের প্রতি জোড়া একে অপরের বিপরীত। আল-আউয়াল ও আল-আখির পরস্পর বিপরীত এবং আয-যাহির ও আল-বাতিন পরস্পর বিপরীত।

আল-আউয়াল ও আল-আখির তাঁর অনাদিত্ব ও অনন্তত্বের নাম। আল-আউয়াল তাঁর অনন্তত্বের নাম, সুবহানাহু ওয়া তাআলা; যার অর্থ হলো তিনি এমন প্রথম যার প্রথমত্বের কোনো শুরু নেই, আর আল-আখির এমন শেষ যার শেষত্বের কোনো সমাপ্তি নেই। একারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই হাদিসে এর ব্যাখ্যা করেছেন এবং বলেছেন: (হে আল্লাহ! আপনিই প্রথম আপনার পূর্বে কিছু নেই, আর আপনিই শেষ আপনার পরে কিছু নেই)।

(এই দুটি নাম) তাঁর অনাদিত্ব ও অনন্তত্বের নাম, আর (বাকি দুটি নাম) তাঁর উচ্চতা ও শ্রেষ্ঠত্বের নাম এবং কোনো সৃষ্টিই তাঁকে আড়াল করতে পারে না। একারণেই তিনি বলেছেন: "আপনিই প্রকাশ্য আপনার উপরে কিছু নেই, আর আপনিই গোপন আপনার নিচে কিছু নেই।" তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা হলেন 'আয-যাহির', যার উপরে আর কিছু নেই; কারণ তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা আসমানসমূহের উপরে, আরশের উপরে, তিনি তাঁর আরশের উপর উঠেছেন এবং তাঁর সৃষ্টির ওপর প্রকাশ্য।

আর তিনি হলেন 'আল-বাতিন' যাকে কোনো সৃষ্টিই আড়াল করতে পারে না, তাঁর কাছে কোনো কিছুই গোপন থাকে না। তিনি সবকিছু দেখেন, সবকিছু প্রত্যক্ষ করেন সুবহানাহু ওয়া তাআলা। তাঁর সৃষ্টির কোনো কিছুই তাঁর কাছে গোপন থাকে না; তাদের আমল, তাদের স্থিরতা এবং তাদের নড়াচড়া—সবকিছুই তিনি জানেন। আল-আউয়াল ও আল-আখির দ্বারা আল্লাহর গুণ বর্ণনা করা মানুষের স্বভাবজাতভাবেই (ফিতরাত) স্বীকৃত। কারণ বিদ্যমান বস্তুসমূহের অস্তিত্ব অবশ্যই এমন একজনের কাছে গিয়ে শেষ হতে হবে যিনি স্বীয় সত্তাগতভাবেই অস্তিত্ব দানকারী, যাতে করে পরম্পরার পরিসমাপ্তি ঘটে। কেননা আমরা উদ্ভিদ, প্রাণী, খনিজ পদার্থ এবং বিভিন্ন পরিবর্তনের ঘটনা পর্যবেক্ষণ করি।

আর এই সৃষ্টিসমূহ অসম্ভব নয়; কারণ যা অসম্ভব তা অস্তিত্ব লাভ করতে পারে না। যেহেতু এগুলোর অস্তিত্ব আছে এবং এগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে আবশ্যিক অস্তিত্ব সম্পন্ন নয়; কারণ এগুলো একসময় ছিল না তারপর অস্তিত্ব লাভ করেছে, যা প্রমাণ করে যে এগুলো সম্ভাব্য বস্তু। এগুলোর অস্তিত্ব সম্ভবপর, অসম্ভব নয়; কারণ এগুলোর অস্তিত্ব আছে, আর অসম্ভব জিনিসের অস্তিত্ব থাকে না।

এগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে আবশ্যিক অস্তিত্ব সম্পন্ন নয়; কারণ এগুলো একসময় ছিল না তারপর অস্তিত্ব লাভ করেছে, যা প্রমাণ করে যে এগুলো সম্ভাব্য বস্তু। আর সম্ভাব্য বস্তু হলো তা-ই যা একসময় ছিল না পরে অস্তিত্ব লাভ করে।

আর এই সৃষ্টি যা একসময় ছিল না পরে অস্তিত্ব লাভ করেছে, তার জন্য অবশ্যই একজন অস্তিত্ব দানকারী প্রয়োজন যিনি তাকে অস্তিত্ব দান করবেন। অন্যথায় সেটি অস্তিত্বহীনই থেকে যেত যেমনটি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: "তারা কি স্রষ্টা ছাড়াই সৃষ্টি হয়েছে, না তারা নিজেরাই স্রষ্টা?" অর্থাৎ তারা কি কোনো কিছু ছাড়াই সৃষ্টি হয়েছে নাকি তারা নিজেরাই নিজেদের সৃষ্টি করেছে? অবশ্যই তাদের একজন স্রষ্টা প্রয়োজন। আর আল্লাহ তাআলা হলেন স্বীয় সত্তাগতভাবেই অস্তিত্ব দানকারী, সুবহানাহু ওয়া তাআলা। তিনি এমন প্রথম যার শুরুর কোনো আরম্ভ নেই এবং এমন শেষ যার শেষত্বের কোনো সমাপ্তি নেই, যেমন তিনি এমন প্রকাশ্য যার উপরে কিছু নেই এবং এমন গোপন যার নিচে কিছু নেই সুবহানাহু ওয়া তাআলা।

আর 'কাদিম' নামের ব্যাপারে কথা হলো—যদিও এটি কিতাব ও সুন্নাহতে আসেনি—এটি সবকিছুর ঊর্ধ্বে অগ্রবর্তী হওয়া বোঝায় না, বরং এটি আপেক্ষিক অগ্রবর্তিতা বোঝায় এবং সবকিছুর আগে হওয়া বোঝায় না। যেমনটি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: "অবশেষে তা পুরনো খেজুর শাখার মতো হয়ে যায়।"

খেজুরের শাখাকে 'কাদিম' বা পুরনো বলা হয় যখন নতুন শাখা বিদ্যমান থাকে, কিন্তু সেটি সবকিছুর আগে থেকে বিদ্যমান নয়।
(খণ্ড: ১) শারহুল আক্বীদাহ আত-ত্বহাবীইয়াহ - আব্দুল আযীয আল-রাজহী (পৃষ্ঠা: ১৯)
وقال سبحانه وتعالى: {أَفَرَأَيْتُمْ مَا كُنْتُمْ تَعْبُدُونَ (75) أَنْتُمْ وَآَبَاؤُكُمُ الْأَقْدَمُونَ (76) } "والأقدمون" مبالغة في القديم وقال سبحانه: {فَسَيَقُولُونَ هَذَا إِفْكٌ قَدِيمٌ (11) } ومنه سُمِّيت القَدَم قدم الإنسان؛ لأنها تتقدم بدن الإنسان والفعل يأتي متعديا ولازما. أخذني ما قدم وما حدث.ويقال: قدم هذا يَقْدُمُه يعنى تقدمه، وقال سبحانه في فرعون: {يَقْدُمُ قَوْمَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ} يعنى يتقدمهم في النار.

ومنه: قول القديم والجديد في الشافعي، فالقول القديم ما أخذ به في العراق، والقول الجديد ما أخذ به في مصر فسمى القديم بالنسبة للقول الجديد، فالمقصود أن كلمة القديم ما تريد التقدم على كل شيء مع أنها لم ترد في الكتاب والسنة اسم القديم فهو لا يفيد التقدم على كل شيء، وإنما يفيد التقدم النسبي إذا نَسَبْته إلى ما بعده صار قديما، وإذا نسبته إلى ما بعده صار جديدا بخلاف الأول والآخر.

فإن الأول يفيد أن الله سبحانه وتعالى هو الأول الذي ليس لأوليته بداية كما فسرها النبي صلى الله عليه وسلم (اللهم أنت الأول فليس قبلك شيء) والآخر هو الذي ليس لآخريته نهاية، كما فسرها النبي صلى الله عليه وسلم بقوله: (وأنت الآخر فليس بعدك شيء) .

ولا يرد على هذا كون الجنة والنار باقيتان، وكون الناس إذا بُعِثوا يبقون؛ لأن وجودهم إنما بإيجاد الله لهم؛ لأن بقائهم بإبقاء الله لهم نعم.
এবং মহান আল্লাহ বলেন: {তোমরা কি ভেবে দেখেছ যা তোমরা ইবাদত করতে (৭৫), তোমরা এবং তোমাদের প্রাচীন পিতৃপুরুষগণ (৭৬)}। "প্রাচীনগণ" শব্দটি প্রাচীনত্বের অতিশয়োক্তি। এবং তিনি সুবহানাহু বলেন: {শীঘ্রই তারা বলবে এটি একটি প্রাচীন মিথ্যা (১১)}। এখান থেকেই মানুষের পা-কে 'কদম' বলা হয়; কারণ এটি মানুষের দেহের অগ্রভাগে থাকে। আর এই ক্রিয়াটি সকর্মক ও অকর্মক উভয়ভাবেই ব্যবহৃত হয়। যথা: যা আগে ঘটেছে এবং যা পরে ঘটেছে তা আমাকে গ্রাস করেছে। আর বলা হয়: এটি তার আগে অগ্রবর্তী হয়েছে, অর্থাৎ তা এগিয়ে গিয়েছে। মহান আল্লাহ ফেরাউন সম্পর্কে বলেন: {কিয়ামতের দিন সে তার কওমের অগ্রভাগে থাকবে} অর্থাৎ সে জাহান্নামে তাদের আগে আগে থাকবে।

এখান থেকেই ইমাম শাফিয়ীর 'পুরাতন মত' ও 'নতুন মত' এর পরিভাষা এসেছে। পুরাতন মত হলো যা তিনি ইরাকে থাকাকালীন গ্রহণ করেছিলেন, আর নতুন মত হলো যা তিনি মিশরে গ্রহণ করেছিলেন। সুতরাং নতুন মতের সাপেক্ষে আগেরটিকে পুরাতন নাম দেওয়া হয়েছে। মূল উদ্দেশ্য হলো, 'কাদীম' (প্রাচীন) শব্দটি সবকিছুর ওপর অগ্রগামিতা দাবি করে না, আর আল্লাহ তাআলার নাম হিসেবে 'কাদীম' শব্দটি কুরআন ও সুন্নাহতে আসেনি। এটি সবকিছুর ওপর অগ্রগামিতা বোঝায় না, বরং এটি আপেক্ষিক অগ্রগামিতা বোঝায়; যখন আপনি একে পরবর্তী কোনো কিছুর সাথে সম্বন্ধ করবেন তখন তা প্রাচীন হয়ে যায়, আর যখন একে তার পরেরটির সাথে সম্বন্ধ করবেন তখন তা নতুন হয়ে যায়। এটি 'আল-আউয়াল' (প্রথম) এবং 'আল-আখির' (শেষ) এর বিপরীত।

কারণ 'আল-আউয়াল' দ্বারা বোঝায় যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তিনিই প্রথম যাঁর প্রথমত্বের কোনো শুরু নেই, যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ব্যাখ্যা করেছেন: (হে আল্লাহ, আপনিই প্রথম, আপনার পূর্বে কিছু নেই)। আর 'আল-আখির' হলেন তিনি যাঁর শেষত্বের কোনো সমাপ্তি নেই, যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর বাণীর মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেছেন: (এবং আপনিই শেষ, আপনার পরে আর কিছু নেই)।

জান্নাত ও জাহান্নামের চিরস্থায়ী হওয়া এবং পুনরুত্থানের পর মানুষের টিকে থাকা এর পরিপন্থী নয়; কারণ তাদের অস্তিত্ব আল্লাহর পক্ষ থেকে অস্তিত্ব দান করার মাধ্যমেই হয়েছে এবং তাদের স্থায়িত্ব আল্লাহরই স্থায়িত্ব প্রদানের কারণে। হ্যাঁ।
(খণ্ড: ১) শারহুল আক্বীদাহ আত-ত্বহাবীইয়াহ - আব্দুল আযীয আল-রাজহী (পৃষ্ঠা: ২০)
لَا يَفْنَى وَلَا يَبِيدُ

--------------------------------------------

لا يفنى ولا يبيد الله سبحانه وتعالى هذا تأكيد لقوله: {هُوَ الْأَوَّلُ وَالْآَخِرُ} تأكيد لقوله: قديم بلا ابتداء، دائم بلا انتهاء.

هو لا يفنى ولا يبيد هو سبحانه وتعالى الباقي والزائل، وهو الباقي الذي لم يزل سبحانه وتعالى ولا يزال ولا يتطرق إليه الفناء ولا التغير ولا البلاء؛ لأن حياته كاملة سبحانه وتعالى هو الحيُّ القيوم.

والفناء والبَيْد متقاربان، فهذا تأكيد لكونه سبحانه وتعالى هو الأول، وهو الباقي، وهو الآخر، وهو الحيُّ القيوم الذي لا يتطرق إليه ضعف، ولا نوم، ولا سِنَة، ولا يتطرق إليه موت، ولا تغيُّر؛ لأنه كامل سبحانه وتعالى، ولا فناء، ولا بيد، بخلاف المخلوق فإنه يفنى، ويبيد، ويزول، ويضعف، ويمرض، ويتفرق، ويموت، أما الله سبحانه وتعالى فهو الأول، والآخر، وهو الحي القيوم له الحياة الكاملة.

وهو الموصوف بصفات الكمال الذي لا يتطرق إليه نقص في وجه من الوجوه.
তিনি ধ্বংস হন না এবং নিঃশেষ হন না।

--------------------------------------------

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ধ্বংস হন না এবং নিঃশেষ হন না। এটি তাঁর বাণী: {তিনিই প্রথম ও তিনিই শেষ}-এর একটি তাকিদ বা সুদৃঢ়করণ; এবং এটি তাঁর অনাদি ও অনন্ত হওয়ার বিষয়ের তাকিদ।

তিনি ধ্বংস হন না এবং নিঃশেষ হন না। তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা চিরস্থায়ী, এবং তিনি এমন চিরস্থায়ী যাঁর কোনো লয় নেই। তাঁর ক্ষেত্রে ধ্বংস, পরিবর্তন বা ক্ষয় কার্যকর হয় না; কারণ তাঁর জীবন অতি পূর্ণাঙ্গ, তিনি চিরঞ্জীব ও সর্বসত্তার ধারক।

ধ্বংস হওয়া এবং নিঃশেষ হওয়া শব্দদ্বয় অর্থগতভাবে কাছাকাছি। এটি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার প্রথম, চিরস্থায়ী ও শেষ হওয়া এবং তাঁর চিরঞ্জীব ও সর্বসত্তার ধারক হওয়ার বিষয়েরই তাকিদ, যাকে কোনো দুর্বলতা, নিদ্রা বা তন্দ্রা স্পর্শ করে না। তাঁর মৃত্যু বা কোনো পরিবর্তন ঘটে না; কারণ তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা সব দিক থেকে পূর্ণ। তাঁর কোনো ধ্বংস বা বিলুপ্তি নেই, যা সৃষ্টিজীবের সম্পূর্ণ বিপরীত। সৃষ্টিজীব ধ্বংস হয়, নিঃশেষ হয়, বিলীন হয়, দুর্বল হয়, অসুস্থ হয়, বিচ্ছিন্ন হয় এবং মৃত্যুবরণ করে। পক্ষান্তরে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা হলেন প্রথম ও শেষ, এবং তিনি চিরঞ্জীব ও সর্বসত্তার ধারক, যাঁর জীবন অতি পূর্ণাঙ্গ।

তিনি এমন সকল পূর্ণাঙ্গ গুণে গুণান্বিত যে কোনো দিক থেকেই তাঁর মধ্যে কোনো অপূর্ণতা প্রবেশ করতে পারে না।
(খণ্ড: ১) শারহুল আক্বীদাহ আত-ত্বহাবীইয়াহ - আব্দুল আযীয আল-রাজহী (পৃষ্ঠা: ২১)
وَلَا يَكُونُ إِلَّا مَا يُرِيدُ

--------------------------------------------

ولا يكون إلا ما يريد هذا فيه إثبات الإرادة، وكل ما يكون في هذا الكون فالله أراده؛ لأنه لا يقع في ملك الله إلا ما يريد، فلا يكون شيء إلا ما أراده الله كل ما في هذا الكون من المخلوقات فالله أراد وجودها؛ لأن الله هو المالك، المدبِّر، المسيّر، فلا يكون في ملكه إلا ما يريد، فلا يكون في ملك الله إلا ما يريد من الذوات والصفات والأفعال.

كل ما في هذا الكون من الموجودات، من الأعيان، والذوات والصفات، والأفعال، فالله أراد وجودها؛ لأنه لا يكون في ملكه إلا ما يريد، وأراد رحمه الله أن يرد على القَدَرية، الذين يقولون … القدرية من المعتزلة يقولون: إنه يقع في ملك الله شيء لا يريده الله فيقولون: إن الله تعالى أراد الإيمان من الناس كلهم، ولكن الكافر والعاصي أراد الكفر، والمعصية فوقع الكفر، والله لا يريد الكفر، ووقعت المعاصي، والله لا يريد المعاصي.

فألزمهم أهل السنة والجماعة بأنهم قالوا بأنه يقع في ملك الله ما لا يريد.وهذا يلزم مِنه تَنَقُّص الرب عز وجل وأنه يقع في ملكه شيء لا يريده، تنقص للرب سبحانه وتعالى، وأهل السنة والجماعة يقولون: إن الله تعالى، وإن كان أراد وقوع الكُفْر والمعاصي كونا وقدرا، لكنه لا يريدها دينا وشرعا.ولا يحبها، ولا يرضاها، ولا يأمر بها، بل ينهى عنها، ويبغضها، ويسخطها، ويكرهها، فالله تعالى وإن أرادها كونا وقدرا إلا أنه لا يريدها دينا وشرعا.

ولهذا يقسم أهل السنة والجماعة الإرادة إلى قسمين أو إلى نوعين:

إرادة كونية، قَدَرية، خَلْقية؛ هذه الأولى.

والثانية: إرادة دينية شرعية أمْرية.فالأولى إرادة كونية، قَدَرية، خَلْقية: ترادف المشيئة، وهى مشيئته الشاملة لجميع الموجودات.

هذه الإرادة الكونية القَدَرية الخلقية هي المشيئة الشاملة لجميع الحوادث. جميع ما في الكون يقع بالإرادة الكونية.والإرادة الثانية: إرادة دينية شرعية أمْرية: متضمنة للمحبة والإرادة، ولكل نوع من النوعين أدلة من الكتاب العزيز ومن السنة.

فمن أدلة الإرادة الكونية القَدَرية الخَلْقية قول الله تعالى: {فَمَنْ يُرِدِ اللَّهُ أَنْ يَهدِيَهُ يَشْرَحْ صَدْرَهُ لِلْإِسْلَامِ وَمَنْ يُرِدْ أَنْ يُضِلَّهُ يَجْعَلْ صَدْرَهُ ضَيِّقًا حَرَجًا كَأَنَّمَا يَصَّعَّدُ فِي السَّمَاءِ} .

هذه إرادة كونية قدرية من أراد الله أن يهديه للإسلام شرح صدره، ومن أراد أن يضله جعل صدره ضيقا حرجا.

ومن الأدلة قول الله تعالى عن نوح عليه الصلاة والسلام إنه قال لقومه: {وَلَا يَنْفَعُكُمْ نُصْحِي إِنْ أَرَدْتُ أَنْ أَنْصَحَ لَكُمْ إِنْ كَانَ اللَّهُ يُرِيدُ أَنْ يُغْوِيَكُمْ هُوَ رَبُّكُمْ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ (34) } هذه إرادة كونية {إِنْ كَانَ اللَّهُ يُرِيدُ أَنْ يُغْوِيَكُمْ} يعنى كونا وقدرا، {فَمَنْ يُرِدِ اللَّهُ أَنْ يَهدِيَهُ} كونا وقدرا {يَشْرَحْ صَدْرَهُ لِلْإِسْلَامِ وَمَنْ يُرِدْ أَنْ يُضِلَّهُ} كونا وقدرا {يَجْعَلْ صَدْرَهُ ضَيِّقًا حَرَجًا} .

ومن الأدلة قول الله تعالى: {وَلَكِنَّ اللَّهَ يَفْعَلُ مَا يُرِيدُ (253) } أما الإرادة الدينية والشرعية فمن أدلتها قول الله تعالى: {يُرِيدُ اللَّهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلَا يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ} {يُرِيدُ اللَّهُ بِكُمُ الْيُسْرَ} يعنى دينا وشرعا، {وَلَا يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ} وقول الله عز وجل {مَا يُرِيدُ اللَّهُ لِيَجْعَلَ عَلَيْكُمْ مِنْ حَرَجٍ وَلَكِنْ يُرِيدُ لِيُطَهِّرَكُمْ وَلِيُتِمَّ نِعْمَتَهُ عَلَيْكُمْ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ (6) } .

وقوله: {يُرِيدُ اللَّهُ لِيُبَيِّنَ لَكُمْ وَيَهْدِيَكُمْ سُنَنَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ وَيَتُوبَ عَلَيْكُمْ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ (26) وَاللَّهُ يُرِيدُ أَنْ يَتُوبَ عَلَيْكُمْ وَيُرِيدُ الَّذِينَ يَتَّبِعُونَ الشَّهَوَاتِ أَنْ تَمِيلُوا مَيْلًا عَظِيمًا (27) يُرِيدُ اللَّهُ أَنْ يُخَفِّفَ عَنْكُمْ وَخُلِقَ الْإِنْسَانُ ضَعِيفًا (28) } وقوله سبحانه: {إِنَّمَا يُرِيدُ اللَّهُ لِيُذْهِبَ عَنْكُمُ الرِّجْسَ أَهْلَ الْبَيْتِ وَيُطَهِّرَكُمْ تَطْهِيرًا (33) } .

هذه إرادة دينية شرعية. فأهل السنة والجماعة جمعوا بين النصوص فقسموا الإرادة إلى قسمين: إرادة قَدَرية، كونية، خَلْقية كما في هذه الآية. وإرادة دينية شرعية أمْرية. ولم يقسموها مِن عند أنفسهم.! لا. إنما أخذوا هذا من النصوص، استدلوا بالنصوص.

فالإرادة الكونية القَدَرية هي الإرادة الشاملة لجميع الحوادث، ولا يتخلَّف مُرادها، وهي المذكورة في قول المسلمين: "ما شاء الله كان، وما لم يشأ لم يكن".
আর তিনি যা চান তা ব্যতিরেকে কিছুই হয় না।

--------------------------------------------

"আর তিনি যা চান তা ব্যতিরেকে কিছুই হয় না" — এর মাধ্যমে 'ইরাদাহ' বা ইচ্ছা-গুণ সাব্যস্ত করা হয়েছে। এই মহাবিশ্বে যা কিছু হয়, আল্লাহ তা চেয়েছেন; কারণ আল্লাহর রাজত্বে তিনি যা চান তা ছাড়া আর কিছুই সংঘটিত হয় না। সুতরাং যা কিছু অস্তিত্ব লাভ করে তা আল্লাহর ইচ্ছা ব্যতিরেকে হয় না। এই মহাবিশ্বের সকল সৃষ্টিজগত আল্লাহর ইচ্ছাতেই বিদ্যমান; কারণ আল্লাহই একমাত্র মালিক, পরিচালক ও নিয়ন্ত্রক। তাই তাঁর রাজত্বে তাঁর ইচ্ছা ছাড়া কোনো সত্তা, গুণাবলি কিংবা কর্মের অস্তিত্ব থাকতে পারে না।

এই মহাবিশ্বের যাবতীয় বিদ্যমান বিষয়—তা সত্তা হোক, গুণাবলি হোক কিংবা কর্ম হোক—আল্লাহ সেগুলোর অস্তিত্ব চেয়েছেন; কারণ তাঁর রাজত্বে তাঁর ইচ্ছা ব্যতীত কিছুই হয় না। লেখক (রহিমাহুল্লাহ) এর মাধ্যমে কাদারিয়াদের প্রতিবাদ করতে চেয়েছেন, যারা বলে... মুতাজিলাদের অন্তর্ভুক্ত কাদারিয়ারা বলে: আল্লাহর রাজত্বে এমন কিছু ঘটে যা আল্লাহ চান না। তারা বলে: আল্লাহ তাআলা সকল মানুষের ইমান চেয়েছিলেন, কিন্তু কাফির ও পাপাচারী ব্যক্তি কুফরি ও পাপাচার চেয়েছিল, ফলে কুফরি সংঘটিত হয়েছে। অথচ আল্লাহ কুফরি চাননি, আর পাপাচার সংঘটিত হয়েছে অথচ আল্লাহ পাপাচার চাননি।

আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত তাদের এই যুক্তিতে নিরুত্তর করেছেন যে, কাদারিয়ারা আল্লাহর রাজত্বে এমন কিছু ঘটার কথা বলছে যা তিনি চান না। এর মাধ্যমে মহান রবের ত্রুটি সাব্যস্ত হয় যে, তাঁর রাজত্বে এমন কিছু ঘটছে যা তিনি চাচ্ছেন না; এটি মহান রবের জন্য অবমাননাকর। আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত বলেন: আল্লাহ তাআলা মহাজাগতিক ও তাকদিরগতভাবে (কাউনান ওয়া কাদারান) কুফরি ও পাপাচার ঘটার ইচ্ছা করলেও, দ্বীনি ও শরিয়তগতভাবে (দিনান ওয়া শারআন) তা চান না। তিনি এগুলো ভালোবাসেন না, এতে সন্তুষ্ট নন এবং এর আদেশও দেন না; বরং তিনি এগুলো থেকে নিষেধ করেন, এগুলোকে ঘৃণা করেন এবং এগুলোর ওপর অসন্তুষ্ট হন। সুতরাং আল্লাহ সৃষ্টিগতভাবে এগুলো চাইলেও দ্বীনি ও শরিয়তগতভাবে এগুলো চান না।

এ কারণেই আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত আল্লাহর ইচ্ছাকে (ইরাদাহ) দুই ভাগে বিভক্ত করেন:

এক: মহাজাগতিক, তাকদিরগত ও সৃষ্টিগত ইচ্ছা; এটি প্রথম প্রকার।

দুই: দ্বীনি, শরিয়তগত ও আদেশগত ইচ্ছা। প্রথমটি অর্থাৎ মহাজাগতিক ও সৃষ্টিগত ইচ্ছা মূলত আল্লাহর 'মাশিয়াত' বা সর্বজনীন ইচ্ছার সমার্থক, যা সকল বিদ্যমান বস্তুকে পরিবেষ্টন করে আছে।

এই মহাজাগতিক ও সৃষ্টিগত ইচ্ছা হলো সেই সর্বজনীন ইচ্ছা যা সকল ঘটনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। মহাবিশ্বের যা কিছু ঘটে তা এই মহাজাগতিক ইচ্ছার মাধ্যমেই ঘটে। আর দ্বিতীয় প্রকার ইচ্ছা হলো দ্বীনি, শরিয়তগত ও আদেশগত ইচ্ছা, যা ভালোবাসা ও পছন্দের সাথে সম্পৃক্ত। এই দুই প্রকারের প্রত্যেকটির সপক্ষে মহাগ্রন্থ কুরআন এবং সুন্নাহ থেকে প্রমাণ রয়েছে।

মহাজাগতিক ও সৃষ্টিগত ইচ্ছার প্রমাণ হিসেবে মহান আল্লাহর বাণী: "অতঃপর আল্লাহ যাকে হিদায়াত দেওয়ার ইচ্ছা করেন, তার বক্ষ ইসলামের জন্য উন্মুক্ত করে দেন; আর যাকে তিনি বিভ্রান্ত করার ইচ্ছা করেন, তার বক্ষ সংকীর্ণ ও অতিশয় সংকুচিত করে দেন, যেন সে আকাশে আরোহণ করছে।"

এটি আল্লাহর মহাজাগতিক ও তাকদিরগত ইচ্ছা। আল্লাহ যাকে ইসলামের দিকে হিদায়াত করার ইচ্ছা করেন তার বক্ষ উন্মুক্ত করে দেন, আর যাকে বিভ্রান্ত করার ইচ্ছা করেন তার বক্ষ অত্যন্ত সংকীর্ণ করে দেন।

অন্যান্য প্রমাণের মধ্যে নূহ (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) সম্পর্কে মহান আল্লাহর বাণী, যা তিনি তাঁর কওমকে বলেছিলেন: "আমি তোমাদের নসিহত করতে চাইলেও আমার নসিহত তোমাদের কোনো উপকারে আসবে না, যদি আল্লাহ তোমাদের বিভ্রান্ত করার ইচ্ছা করেন। তিনিই তোমাদের রব এবং তাঁরই কাছে তোমাদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে।" (৩৪) এটি মহাজাগতিক ইচ্ছা—"যদি আল্লাহ তোমাদের বিভ্রান্ত করার ইচ্ছা করেন"—অর্থাৎ সৃষ্টিগত ও তাকদিরগতভাবে। "অতঃপর আল্লাহ যাকে হিদায়াত দেওয়ার ইচ্ছা করেন"—তাকদিরগতভাবে—"তার বক্ষ ইসলামের জন্য উন্মুক্ত করে দেন; আর যাকে তিনি বিভ্রান্ত করার ইচ্ছা করেন"—তাকদিরগতভাবে—"তার বক্ষ সংকীর্ণ ও অতিশয় সংকুচিত করে দেন।"

আরও একটি প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: "কিন্তু আল্লাহ যা চান তা-ই করেন।" (২৫৩) পক্ষান্তরে দ্বীনি ও শরিয়তগত ইচ্ছার প্রমাণ হিসেবে মহান আল্লাহর বাণী: "আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজসাধ্যতা চান এবং তোমাদের জন্য কঠোরতা চান না।" এখানে "আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজসাধ্যতা চান" এর অর্থ হলো দ্বীনি ও শরিয়তগতভাবে। "এবং তোমাদের জন্য কঠোরতা চান না।" মহান আল্লাহর আরও বাণী: "আল্লাহ তোমাদের ওপর কোনো সংকীর্ণতা সৃষ্টি করতে চান না, বরং তিনি তোমাদের পবিত্র করতে চান এবং তোমাদের ওপর তাঁর নিয়ামত পূর্ণ করতে চান, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো।" (৬)

আল্লাহর বাণী: "আল্লাহ তোমাদের জন্য পরিষ্কার বর্ণনা দিতে চান, তোমাদের পূর্ববর্তীদের পথ প্রদর্শন করতে চান এবং তোমাদের তাওবা কবুল করতে চান; আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। (২৬) আল্লাহ তোমাদের তাওবা কবুল করতে চান, আর যারা প্রবৃত্তির অনুসরণ করে তারা চায় যে তোমরা সত্যপথ থেকে ভীষণভাবে বিচ্যুত হও। (২৭) আল্লাহ তোমাদের বোঝা হালকা করতে চান, আর মানুষকে দুর্বল হিসেবে সৃষ্টি করা হয়েছে।" (২৮) এবং মহান আল্লাহর বাণী: "হে নবির পরিবারবর্গ! আল্লাহ কেবল চান তোমাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে এবং তোমাদের সম্পূর্ণরূপে পবিত্র করতে।" (৩৩)

এগুলো হলো দ্বীনি ও শরিয়তগত ইচ্ছা। আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত সকল নصوص বা দলিলাদির মধ্যে সমন্বয় করেছেন এবং ইচ্ছাকে দুই ভাগে ভাগ করেছেন: এই আয়াতের ন্যায় তাকদিরগত বা মহাজাগতিক ইচ্ছা এবং দ্বীনি বা শরিয়তগত ইচ্ছা। তারা এটি নিজের পক্ষ থেকে ভাগ করেননি, বরং তারা দলিলাদি থেকেই এটি গ্রহণ করেছেন এবং দলিলাদির মাধ্যমেই প্রমাণ পেশ করেছেন।

সুতরাং মহাজাগতিক ও তাকদিরগত ইচ্ছা হলো সেই ইচ্ছা যা সকল ঘটনার ক্ষেত্রে পরিব্যাপ্ত এবং যার উদ্দিষ্ট বিষয় কখনোই বিচ্যুত হয় না। এটি মুসলিমদের এই কথার মধ্যে ফুটে ওঠে: "আল্লাহ যা চেয়েছেন তা হয়েছে, আর যা তিনি চাননি তা হয়নি।"
(খণ্ড: ১) শারহুল আক্বীদাহ আত-ত্বহাবীইয়াহ - আব্দুল আযীয আল-রাজহী (পৃষ্ঠা: ২২)
الإرادة الكونية مرادفة للمشيئة: ما شاء الله كان، وما لم يشأ لم يكن. وأمَّا الإرادة الدينية الشرعية فهي مذكورة في قول الناس: هذا يفعل ما لا يريده الله يعني يفعل ما لا يحبه الله؛ ولهذا لو قال الإنسان: والله لأفعلن كذا -إن شاء الله- ثم لا يفعل لا يحل، حتى ولو كان الذي لم يفعله واجبا أو مستحبا.

لو قال: والله لأصلين الضحى -إن شاء الله- ثم لم يصل لا يحل يتعلق بالمشيئة لم يشأ الله أن يصلى.

لكن لو قال والله لأصلين الضحى إن أحب الله ثم لم يصل فعليه كفارة يمين؛ لأن الله يحب أن تصلى الضحى.

ففرق بين الإرادتين الكونية والقَدَرية، والله سبحانه وتعالى هدى أهل السنة والجماعة إلى ذلك.أما المعتزلة والقَدَرية ما عندهم إلا إرادة واحدة، وهى الإرادة الدينية الشرعية وعموا عن الإرادة الكونية فضلوا سواء السبيل. ما عندهم إلا إرادة كونية، إرادة دينية شرعية. والجبرية ما عندهم إلا إرادة واحدة، وهى الإرادة الكونية.

وأنكروا الإرادة الدينية الشرعية فضلوا، وأهل السنة والجماعة أخذوا نوعي الإرادة. القدرية والمعتزلة قالوا: ما عندنا إلا إرادة دينية شرعية واستدلوا بالنصوص التي أثبتت الإرادة الإرادة الشرعية، وأغمضوا أعينهم عن النصوص التي تثبت الإرادة الكونية والجبرية من الجهمية والأشاعرة أثبتوا الإرادة الكونية واستدلوا بالنصوص، وأغمضوا أعينهم عن الأدلة التي تثبت الإرادة الدينية الشرعية.

وأهل السنة والجماعة -هداهم الله- أخذوا أدلة القدرية والمعتزلة التي يثبتوا فيها الإرادة الدينية الشرعية وقالوا: هذه حق، وأخذوا الأدلة التي أثبتها الجبرية في الإرادة الكونية وقالوا: هذه حق. وكتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم لا يتنافوا؛ يصدق بعضه بعضا، هذه حق، وهذه حق.

فالإرادة نوعان، -فهداهم الله-. فالإرادة الدينية والشرعية تتضمن المحبة والرضا، والإرادة الكونية القدرية هي المشيئة الشاملة؛ ولأن من قال: إنه ليس هناك إلا إرادة دينية وشرعية يلزموا ملازم، وقال لهم شبه، المعتزلة يقولون له قلنا: إن الله قدَّر المعاصي، وعذَّب عليها فصار غالبا ففرارا من ذلك أنكروا أن يكون الله أراد المعاصي فألزمهم أهل السنة بأنكم فررتم من شيء ووقعتم في شر مما فررتم منه، وقعتم في كونه يقع في ملك الله ما لا يريده تقع المعاصي والله لا يريدها، هذا شرط المذهب وأيضا يلزمكم على ذلك أن تكون إرادة العاصي والكافر تغلب إرادة الله، الله أراد من العاصي عند القدرية الإيمان وهو أراد الكفر، فوقعت إرادة العبد، ولم تقع إرادة الله، هذا من أباطيلهم.

أما أهل السنة فقالوا كل شيء في هذا الوجود أراده الله كونا وقَدَرا الكفر والمعاصي وغيرها، ولكن له حكمة. لله الحكمة البالغة في ذلك، لكنه لا يريد الكفر والمعاصي دينا وشرعا، ولا يحبها بل يبغضها وينهى عن ذلك، فالله تعالى له الحكمة البالغة، ومن حكمه وأسراره من إيجاد الكفر والمعاصي ظهور قدرة الله على إيجاد المتقابلات والمتضادات، فالكفر يقابل الإيمان، والمعصية تقابل الطاعة، كما أن الليل يقابل النهار.

ومنها ظهور العبوديات المتنوعة التي لولا تقدير الله للكفر والمعاصي لما حصلت المعاصي منها: انقسام الناس إلى شقي وسعيد، والى مؤمن وكافر؛ ولأن الله تعالى خلق للجنة أهلها، وخلق للنار أهلها، ووعد الجنة بأهل، ووعد النار بأهل.

وفى الحديث أن الله قال للجنة: (أنت رحمتي أرحم بك من أشاء، وأنت النار عذابي أعذب بك من أشاء، ولكليكما علَيَّ ملؤها) .

ومنها ظهور العبوديات التي يحبها الله كعبودية الجهاد في سبيل الله، وعبودية الولاء والبراء وعبودية الأمر بالمعروف، والنهي عن المنكر لو لم يكن هناك كفر ولا كفار ولا عصاة أين هذه العبودية؟ أين عبودية الجهاد في سبيل الله؟ أين عبودية الجهاد والصبر؟ أين عبودية الولاء والبراء؟ أين عبودية الحب في الله والبغض في الله؟ وهكذا.

هذه حِكَم وأسرار، الله تعالى قدرها لا لذاتها بل لما يترتب عليها من الحِكَم، وكون الكفر والمعاصي يحصلوا ضررا على الأشخاص الذين قدر عليهم هذا ضرر نسبي، ضرر نسبي لا يضاف إلى الله، والذي يضاف إلى الله إنما هو الخَلْق، والإيجاد، والتقديم.

وهذا الخلق والإيجاد مبني على الحكمة فلا يسمى شرا بالنسبة إلى الله، ولكن يسمى شرا بالنسبة إلى العبد الذي أضره وأساء إليه، أما بالنسبة إلى الله فلا يضاف إليه الذي يضاف إلى الخلق والإيجاد والتقدير، وهو مبني على الحكمة كما قال النبي صلى الله عليه وسلم في الحديث الصحيح: (والشر ليس إليك) .

فالمقصود أن قول المصنف رحمه الله: ولا يكون إلا ما يُرِيد يبين معتقدات أهل السنة والجماعة في إثبات الإرادة الكونية الشاملة والرَّد على المعتزلة الذين أنكروا الإرادة الكونية القدرية، وأنهم ضلوا كما أن الجبرية أنكروا الإرادة الشرعية، وضلوا في عدم إثباتهم للإرادة الدينية الشرعية.
জাগতিক ইচ্ছা (ইরাদা কাওনিয়্যাহ) হলো মাশীয়্যাহ বা ঐশী অভিপ্রায়ের সমার্থক: আল্লাহ যা চান তা-ই হয়, আর যা তিনি চান না তা হয় না। পক্ষান্তরে, দ্বীনি শরয়ী ইচ্ছা মানুষের এই কথায় উল্লেখ পাওয়া যায়: 'এই ব্যক্তি এমন কাজ করছে যা আল্লাহ চান না', অর্থাৎ সে এমন কাজ করছে যা আল্লাহ পছন্দ করেন না। এই কারণে, কোনো মানুষ যদি বলে: 'আল্লাহর কসম, আমি অবশ্যই এটি করব—ইনশাআল্লাহ (যদি আল্লাহ চান)'—তারপর সে তা না করে, তবে তার শপথ ভঙ্গ হবে না; এমনকি সে যা করেনি তা ওয়াজিব বা মুস্তাহাব হলেও।

যদি সে বলে: 'আল্লাহর কসম, ইনশাআল্লাহ আমি অবশ্যই চাশতের সালাত পড়ব'—এরপর সে সালাত না পড়ে, তবে সে শপথ ভঙ্গকারী হবে না; কারণ এটি আল্লাহর ইচ্ছার (মাশীয়্যাহ) সাথে সংশ্লিষ্ট, আর আল্লাহ চাননি যে সে সালাত পড়ুক।

কিন্তু সে যদি বলে: 'আল্লাহর কসম, আল্লাহ যদি পছন্দ করেন তবে আমি চাশতের সালাত পড়ব'—এরপর সে সালাত না পড়ে, তবে তার উপর শপথের কাফফারা ওয়াজিব হবে; কারণ আল্লাহ চাশতের সালাত পড়া পছন্দ করেন।

সুতরাং জাগতিক (কাওনিয়্যাহ) এবং তাকদিরি ইচ্ছার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে এবং মহান আল্লাহ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতকে এর সঠিক দিশা দিয়েছেন। মুতাজিলা ও কাদরিয়াহদের নিকট কেবল একটিই ইচ্ছা রয়েছে, আর তা হলো দ্বীনি শরয়ী ইচ্ছা। তারা জাগতিক ইচ্ছা সম্পর্কে অন্ধ ছিল, ফলে তারা সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে। তাদের নিকট দ্বীনি শরয়ী ইচ্ছা ছাড়া আর কিছু নেই। অন্যদিকে জাবরিয়াহদের নিকটেও কেবল একটিই ইচ্ছা রয়েছে, আর তা হলো জাগতিক ইচ্ছা।

তারা দ্বীনি শরয়ী ইচ্ছাকে অস্বীকার করে পথভ্রষ্ট হয়েছে। আর আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত উভয় প্রকার ইচ্ছাকেই গ্রহণ করেছেন। কাদরিয়াহ ও মুতাজিলাগণ বলেছে: আমাদের নিকট কেবল দ্বীনি শরয়ী ইচ্ছা আছে এবং তারা সেই সব দলিল দ্বারা প্রমাণ পেশ করেছে যা শরয়ী ইচ্ছাকে সাব্যস্ত করে, কিন্তু তারা জাগতিক ইচ্ছাকে সাব্যস্তকারী দলিলগুলোর প্রতি চোখ বন্ধ করে রেখেছে। আবার জাহমিয়াহ ও আশাইরাদের মধ্য থেকে যারা জাবরিয়াহ, তারা জাগতিক ইচ্ছাকে সাব্যস্ত করেছে এবং দলিল দ্বারা প্রমাণ পেশ করেছে, কিন্তু তারা দ্বীনি শরয়ী ইচ্ছাকে সাব্যস্তকারী দলিলগুলো উপেক্ষা করেছে।

আর আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত—আল্লাহ তাদের সঠিক পথ দেখিয়েছেন—তারা কাদরিয়াহ ও মুতাজিলাদের সেই সব দলিল গ্রহণ করেছেন যাতে দ্বীনি শরয়ী ইচ্ছাকে সাব্যস্ত করা হয়েছে এবং বলেছেন: এগুলো সত্য। আবার জাবরিয়াহদের সেই সব দলিলও গ্রহণ করেছেন যা জাগতিক ইচ্ছাকে সাব্যস্ত করে এবং বলেছেন: এগুলোও সত্য। আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহর মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই; এর একাংশ অন্য অংশকে সত্যায়ন করে। এটাও সত্য, ওটাও সত্য।

সুতরাং ইচ্ছা দুই প্রকার—আল্লাহ তাদের সঠিক পথে পরিচালিত করেছেন—। দ্বীনি ও শরয়ী ইচ্ছা ভালোবাসা ও সন্তুষ্টিকে অন্তর্ভুক্ত করে, আর জাগতিক তাকদিরি ইচ্ছা হলো সেই সর্বব্যাপী ইচ্ছা (মাশীয়্যাহ)। কারণ যারা বলে যে সেখানে দ্বীনি ও শরয়ী ইচ্ছা ছাড়া কিছু নেই, তাদের ক্ষেত্রে কিছু অনিবার্য ত্রুটি দেখা দেয়। মুতাজিলারা বলে যে, আমরা যদি বলি আল্লাহ পাপের তাকদির নির্ধারণ করেছেন এবং তার জন্য শাস্তিও দিচ্ছেন, তবে আল্লাহ (নাউযুবিল্লাহ) পরাভূত সাব্যস্ত হবেন। এই ধারণা থেকে বাঁচতে তারা আল্লাহ পাপের ইচ্ছা করেছেন তা অস্বীকার করে। আহলুস সুন্নাহ তাদের এই বলে লা-জবাব করেছেন যে, তোমরা এক বস্তু থেকে পালিয়ে তার চেয়েও খারাপ বস্তুতে নিপতিত হয়েছ। তোমরা এমন এক অবস্থায় নিপতিত হয়েছ যে, আল্লাহর রাজত্বে এমন কিছু ঘটছে যা তিনি চান না; পাপ ঘটছে অথচ আল্লাহ তা চান না—এটিই এই মতবাদের ভিত্তি। এছাড়াও এর ফলে এটিও তোমাদের ওপর আপতিত হয় যে, তবে কি পাপী ও কাফিরের ইচ্ছা আল্লাহর ইচ্ছার ওপর প্রবল হয়ে যায়? কাদরিয়াহদের মতে আল্লাহ পাপীর নিকট ঈমান চেয়েছিলেন কিন্তু সে কুফরি চাইল, ফলে বান্দার ইচ্ছা বাস্তবায়িত হলো আর আল্লাহর ইচ্ছা বাস্তবায়িত হলো না—এটি তাদের বাতিল আকিদার অন্তর্ভুক্ত।

পক্ষান্তরে আহলুস সুন্নাহ বলেন, এই মহাবিশ্বে যা কিছু আছে—কুফরি, নাফরমানি বা অন্য কিছু—সবকিছুই আল্লাহ জাগতিক ও তাকদিরিভাবে ইচ্ছা করেছেন, তবে এর পেছনে তাঁর প্রজ্ঞা রয়েছে। এতে আল্লাহর জন্য রয়েছে পরম প্রজ্ঞা। তবে তিনি দ্বীন ও শরিয়তের দৃষ্টিতে কুফরি ও নাফরমানি চান না এবং তিনি তা পছন্দও করেন না; বরং তিনি এগুলোকে ঘৃণা করেন এবং এসব থেকে নিষেধ করেন। সুতরাং মহান আল্লাহর রয়েছে চরম প্রজ্ঞা। কুফরি ও নাফরমানি অস্তিত্বে আনার পেছনে তাঁর হিকমত ও রহস্যসমূহের অন্যতম হলো: পরস্পরবিরোধী ও বিপরীতমুখী বস্তুর সৃষ্টির মাধ্যমে আল্লাহর কুদরত বা ক্ষমতার প্রকাশ ঘটানো। যেমন ঈমানের বিপরীতে কুফরি, আনুগত্যের বিপরীতে নাফরমানি, ঠিক যেমন দিনের বিপরীতে রাত।

এর আরও একটি হিকমত হলো বিভিন্ন প্রকারের বন্দেগি বা ইবাদত প্রকাশ করা, যা আল্লাহর পক্ষ থেকে কুফরি ও নাফরমানির তাকদির নির্ধারণ করা ছাড়া অর্জন হতো না। এর মাধ্যমে মানুষ হতভাগা ও সৌভাগ্যবান, মুমিন ও কাফির—এই দুই ভাগে বিভক্ত হয়। কারণ আল্লাহ তায়ালা জান্নাতের জন্য তার যোগ্যদের সৃষ্টি করেছেন এবং জাহান্নামের জন্য তার যোগ্যদের সৃষ্টি করেছেন। তিনি জান্নাতকে জান্নাতিদের দ্বারা এবং জাহান্নামকে জাহান্নামিদের দ্বারা পূর্ণ করার ওয়াদা করেছেন।

হাদিসে এসেছে, আল্লাহ জান্নাতকে বলবেন: (তুমি হলে আমার রহমত, তোমার মাধ্যমে আমি যাকে ইচ্ছা অনুগ্রহ করি)। আর জাহান্নামকে বলবেন: (তুমি হলে আমার আযাব, তোমার মাধ্যমে আমি যাকে ইচ্ছা শাস্তি প্রদান করি। আর তোমাদের উভয়কেই পূর্ণ করা আমার দায়িত্ব)।

এর আরও একটি রহস্য হলো সেই সব ইবাদত প্রকাশ পাওয়া যা আল্লাহ পছন্দ করেন। যেমন আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা, ওয়ালা ও বারা (আল্লাহর জন্য বন্ধুত্ব ও শত্রুতা) এবং সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের ইবাদত। যদি সেখানে কুফরি, কাফির ও পাপিষ্ঠদের অস্তিত্ব না থাকত, তবে এই ইবাদতগুলো কোথায় থাকত? আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের ইবাদত কোথায় থাকত? জিহাদ ও সবরের ইবাদত কোথায় পাওয়া যেত? ওয়ালা ও বারার ইবাদত কোথায় থাকত? আল্লাহর জন্য ভালোবাসা ও আল্লাহর জন্য ঘৃণা করার ইবাদত কোথায় থাকত? এভাবেই বিষয়গুলো বিন্যস্ত।

এগুলো হলো হিকমত ও গূঢ় রহস্য। আল্লাহ তায়ালা এগুলো স্বয়ং এগুলোর জন্য নির্ধারণ করেননি, বরং এগুলোর ফলাফল হিসেবে যে হিকমত অর্জিত হয় তার কারণে নির্ধারণ করেছেন। আর কুফরি ও নাফরমানি ঘটার ফলে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের যে ক্ষতি হয়, তা হলো আপেক্ষিক ক্ষতি। এই আপেক্ষিক ক্ষতি আল্লাহর দিকে সম্বন্ধিত করা হয় না। আল্লাহর দিকে যা সম্বন্ধিত হয় তা হলো সৃষ্টি করা, অস্তিত্বে আনা এবং পূর্বনির্ধারণ করা।

আর এই সৃষ্টি ও অস্তিত্বে আনা হিকমতের ওপর প্রতিষ্ঠিত। তাই আল্লাহর নিসবতে বা প্রেক্ষিতে একে 'মন্দ' বলা হয় না; বরং সেই বান্দার প্রেক্ষিতে মন্দ বলা হয় যার ক্ষতি হয়েছে এবং যার সাথে মন্দ আচরণ করা হয়েছে। আল্লাহর দিকে যা সম্বন্ধিত হয় তা হলো সৃষ্টি, অস্তিত্বে আনা ও নির্ধারণ করা, যা হিকমতের ওপর প্রতিষ্ঠিত; যেমন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সহিহ হাদিসে বলেছেন: (আর মন্দ আপনার দিকে সম্বন্ধিত নয়)।

মূল উদ্দেশ্য হলো, গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ)-এর উক্তি: 'তিনি যা চান তা-ই হয়'—এটি আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের সেই আকিদাকে স্পষ্ট করে যেখানে সর্বব্যাপী জাগতিক ইচ্ছাকে সাব্যস্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সেই মুতাজিলাদের রদ করা হয়েছে যারা জাগতিক তাকদিরি ইচ্ছাকে অস্বীকার করেছে এবং পথভ্রষ্ট হয়েছে। ঠিক যেমন জাবরিয়াহরা শরয়ী ইচ্ছাকে অস্বীকার করেছে এবং দ্বীনি শরয়ী ইচ্ছা সাব্যস্ত না করার কারণে পথভ্রষ্ট হয়েছে।
(খণ্ড: ১) শারহুল আক্বীদাহ আত-ত্বহাবীইয়াহ - আব্দুল আযীয আল-রাজহী (পৃষ্ঠা: ২৩)
وهدى الله أهل السنة والجماعة فأثبتوا الإرادة بنوعيها، وعملوا بالنصوص من الجانبين {وَاللَّهُ يَهْدِي مَنْ يَشَاءُ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ (213) } أسأل الله أن يجعلني وإياكم منهم نعم.
আল্লাহ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতকে হেদায়াত দান করেছেন, ফলে তারা (আল্লাহর) ইচ্ছাকে এর উভয় প্রকারে সাব্যস্ত করেছেন এবং উভয় দিকের দলীলসমূহ অনুযায়ী আমল করেছেন। {আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা করেন সরল পথের দিকে হেদায়াত দান করেন (২১৩)}। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাকে এবং আপনাদেরকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন। হ্যাঁ।
(খণ্ড: ১) শারহুল আক্বীদাহ আত-ত্বহাবীইয়াহ - আব্দুল আযীয আল-রাজহী (পৃষ্ঠা: ২৪)
لَا تَبْلُغُهُ الْأَوْهَامُ، وَلَا تُدْرِكُهُ الْأَفْهَامُ

--------------------------------------------

لا تبلغه الأوهام ولا تدركه الأفهام: الأوهام: جمع وَهْم وهو الظن، والأفهام: جمع فَهْم وهو العلم.

ولهذا يقول أهل اللغة: توهمت الشيء: ظننته، وفَهِمت الشيء (عَلِمته) والمعنى أن الله سبحانه وتعالى لا يبلغه الوَهْم ولا يحيط به علم كما قال سبحانه وتعالى: {وَلَا يُحِيطُونَ بِهِ عِلْمًا (110) } .

فالله تعالى لا يحيط به العباد ولا يعلمون كنهه وحقيقيته وإنما يعلمونه بأسمائه وصفاته؛ ولهذا قال سبحانه وتعالى: {وَلَا يُحِيطُونَ بِهِ عِلْمًا (110) } فالله سبحانه وتعالى لكماله وعظمته لا يحيط به العباد، هم يعلمونه سبحانه، لكن لا يحيطون به علما كما أنهم يرونه يوم القيامة.

المؤمنون يرون ربهم، لكنهم لا يحيطون به رؤية لا يحيطون به رؤية لكماله وعظمته هو أكبر من كل شيء، وكذلك يعلمونه ولكنهم لا يحيطون به علما فلا يعلمون كنهه وحقيقته؛ فالبشر لا يدركون كنه الله وحقيقته، وإنما يعلمونه بأسمائه وصفاته وأفعاله كما قال سبحانه وتعالى {وَلَا يُحِيطُونَ بِهِ عِلْمًا (110) } وهذا يدل على كماله وعظمته سبحانه وتعالى نعم.
কোনো কল্পনা তাঁকে নাগাল পায় না এবং কোনো বোধশক্তি তাঁকে উপলব্ধি করতে পারে না।

--------------------------------------------

কোনো কল্পনা তাঁকে নাগাল পায় না এবং কোনো বোধশক্তি তাঁকে উপলব্ধি করতে পারে না: 'আওহাম' (কল্পনাসমূহ) হলো 'ওয়াহম'-এর বহুবচন যার অর্থ ধারণা, আর 'আফহাম' (বোধশক্তিসমূহ) হলো 'ফাহম'-এর বহুবচন যার অর্থ জ্ঞান।

এই কারণেই ভাষাবিদগণ বলেন: 'আমি বিষয়টি কল্পনা করেছি' মানে হলো 'আমি তা ধারণা করেছি', আর 'আমি বিষয়টি বুঝেছি' (অর্থাৎ জেনেছি)। এর অর্থ হলো মহান আল্লাহকে কোনো কল্পনা নাগাল পায় না এবং কোনো জ্ঞান তাঁকে পরিবেষ্টন করতে পারে না, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর তারা জ্ঞান দ্বারা তাঁকে পরিবেষ্টন করতে পারে না (১১০)}।

সুতরাং মহান আল্লাহকে বান্দারা পরিবেষ্টন করতে পারে না এবং তারা তাঁর স্বরূপ ও প্রকৃত সত্তা সম্পর্কে অবগত নয়; বরং তারা তাঁকে তাঁর নামসমূহ ও গুণাবলির মাধ্যমেই চেনে। এই কারণেই মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর তারা জ্ঞান দ্বারা তাঁকে পরিবেষ্টন করতে পারে না (১১০)}। মহান আল্লাহ তাঁর পূর্ণতা ও মহত্ত্বের কারণে এমন যে, বান্দারা তাঁকে পরিবেষ্টন করতে পারে না। তারা মহান আল্লাহকে জানে, কিন্তু তারা তাঁকে জ্ঞানের মাধ্যমে পরিবেষ্টন করতে পারে না, ঠিক যেমন তারা কিয়ামতের দিন তাঁকে দেখবে।

মুমিনগণ তাদের প্রতিপালককে দেখবে, কিন্তু দর্শনের মাধ্যমে তারা তাঁকে পরিবেষ্টন করতে পারবে না। তাঁর পূর্ণতা ও মহত্ত্বের কারণে তারা দর্শনের মাধ্যমে তাঁকে পরিবেষ্টন করতে পারবে না; তিনি প্রতিটি বস্তু অপেক্ষা মহান। একইভাবে তারা তাঁকে জানে, কিন্তু জ্ঞানের মাধ্যমে তাঁকে পরিবেষ্টন করতে পারে না, ফলে তারা তাঁর স্বরূপ ও প্রকৃত সত্তা সম্পর্কে অবগত নয়। সুতরাং মানুষ আল্লাহর স্বরূপ ও প্রকৃত সত্তাকে উপলব্ধি করতে পারে না, বরং তারা তাঁকে তাঁর নামসমূহ, গুণাবলি ও কার্যাবলির মাধ্যমেই চেনে, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর তারা জ্ঞান দ্বারা তাঁকে পরিবেষ্টন করতে পারে না (১১০)}। আর এটি মহান আল্লাহর পূর্ণতা ও মহত্ত্বেরই প্রমাণ দেয়। হ্যাঁ।
(খণ্ড: ১) শারহুল আক্বীদাহ আত-ত্বহাবীইয়াহ - আব্দুল আযীয আল-রাজহী (পৃষ্ঠা: ২৫)
وَلَا يُشْبِهُ الْأَنَامَ

--------------------------------------------

ولا يشبه الأنام أي أن الله سبحانه وتعالى لا يشبه أحدا من خلقه والأنام هم الناس كما قال الله تعالى: {وَالْأَرْضَ وَضَعَهَا لِلْأَنَامِ (10) } . وقيل: المراد بهم الثقلان الجن والإنس، وقيل: المراد بهم كل ذي روح. والأقرب الأنام: الناس. والأفضل الأنام: الناس. ولا يشبه الأنام: المعنى لا يشبه أحدًا من خلقه.

وأراد المصنف الرد على المشبهة الذين يشبهون الله بخلقه ويغلون في الإثبات، فيقول أحدهم: عِلْم الله كعلم المخلوقين وقدرته كقدرتهم، وسمعه كسمعهم واستواؤه كاستوائهم.

وهذا هو مذهب المشبهة والغالب أن المشبهة من غلاة الشيعة. وأول من قال إن الله جسم: هشام بن الحكم الرافضي وبيان بن سمعان التميمي الذي تنسب إليه البيانية من غالية الشيعة.

وكان يقول: إن الله على صورة الإنسان. ومِن المشبهة هشام بن سالم الجَوَاليقي وداود الجَوَاربي، ومذهبهم الغلوُّ في الإثبات حتى أدخلوا في ذلك ما نفاه الله ورسوله.

حتى أثبتوا أنَّ الله يُرى في الدنيا بالأبصار وأنه يُصَافح ويعانَق، ويحاضر ويسامر، وينزل عشية عرفة على جَمَل، وقال بعضهم: إنه يندم ويحزن ويبكي.

تعالى الله عما يقولون علوًّا كبيرا، كما قالت اليهود، شابهوا اليهود في هذا، وهؤلاء ما قدروا الله حق قدره، قال سبحانه وتعالى: {وَمَا قَدَرُوا اللَّهَ حَقَّ قَدْرِهِ وَالْأَرْضُ جَمِيعًا قَبْضَتُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ} .

كيف يقولون: إن الله ينزل بين طبقتين ينزل عشية عرفة على جمل ويكون بين طبقات، تكون السماء فوقه والأرض تحته، فيكون مختلطا بالمخلوقات -تعالى الله عما يقولون-.

والله تعالى يقول: {وَمَا قَدَرُوا اللَّهَ حَقَّ قَدْرِهِ وَالْأَرْضُ جَمِيعًا قَبْضَتُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ} وثبت في الحديث الصحيح (أن الله يضع السماوات يوم القيامة على إصبع، والأرضين على إصبع، والماء والثرى على إصبع، والجبال على إصبع، وسائر خلقه على إصبع، ثم يهزهن بيده فيقول: أنا الملك أين ملوك الأرض؟) خمسة أصابع!.

وفى الحديث: (ما السماوات السبع والأرضين السبع في كف الرحمن إلا كخردلة في كف أحدكم) ومعلوم أن الإنسان إذا كان في يده خردلة فهو مسيطر عليها مستو، عليها، إن شاء قبضها وإن شاء جعلها تحته، فكيف يقول هؤلاء الكفرة: إن الله ينزل عشية عرفة على جَمَل، وتكون السماء فوقه والأرض تحته؟ -تعالى الله عما يقولون علوًّا كبيرا-.

والتشبيه مذهب باطل قد جاءت النصوص بنفيه وإبطاله، قال الله تعالى: {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ (11) } وقال سبحانه: {هَلْ تَعْلَمُ لَهُ سَمِيًّا (65) } وقال سبحانه: {فَلَا تَضْرِبُوا لِلَّهِ الْأَمْثَالَ} .

وقال سبحانه: {فَلَا تَجْعَلُوا لِلَّهِ أَنْدَادًا وَأَنْتُمْ تَعْلَمُونَ (22) } ومن شبَّه الله بخلقه، اعتقد أن الله يشبه المخلوقات فهو في الحقيقة لم يعبد الله على الحقيقة وإنما يعبد وثنا صوره خياله ونحته له فكره. فهم من عباد الأوثان لا من عباد الرحمن كما قال العلامة ابن القيم في كتابه (الشافية) :

لسنا نشبه وصفه بصفاتنا *** إن المشبه عابد الأوثان

ومَن شبَّه الله بخلقه فقد شابه النصارى، وكما أن الله لا يشبه أحدا من خلقه فهو لا يشبهه أحدٌ من خلقه، ومذهب المشبهة عكس مذهب النصارى؛ فالمشبهة شبهوا الله بخلقه وقالوا: إن الله مثل المخلوقات والنصارى شبهوا المخلوق بالخالق.

المشبهة شبهوا الخالق بالمخلوق فقالوا: إن صفة الله كصفة المخلوق، والنصارى شبهوا المخلوق بالخالق فقالوا: إن عيسى ابن الله فالنسبة بين المشبهة والنصارى عكسية. وكل منهم مشبهة.

ولهذا قال العلامة ابن القيم في كتابه (الشافية) :

من مثل الله العظيم بخلقه *** فهو النسيب لمشرك نصراني

وقال نعيم بن حماد شيخ البخاري رحمه الله من شبه الله بخلقه فقد كفر، ومن أنكر ما وصف الله به نفسه أو وصفه به رسوله فقد كفر، وليس في ما وصف الله به نفسه، أو وصفه به رسوله من ذلك تشبيه، قال إسحاق بن راهويه الإمام المشهور: مَن شبه الله بخلقه فقال: إن الله يشبه أحدا من خلقه في صفاته فهو كافر بالله العظيم، أو كما ورد عنه رحمه الله.

وبهذا يتبين أن المشبهة كفار، وأن غالبهم من غلاة الشيعة، نسأل الله السلامة والعافية!.

نكتفي بهذا القدر، نسأل الله للجميع العمل الصالح، وصلى الله على محمد وآله وصحبه.
এবং তিনি সৃষ্টির সদৃশ নন।

--------------------------------------------

"এবং তিনি সৃষ্টির সদৃশ নন" অর্থাৎ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর সৃষ্টির কারোর সদৃশ নন। 'আনাম' (সৃষ্টি) হলো মানুষ, যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "তিনি পৃথিবীকে বিছিয়েছেন সৃষ্টির জন্য।" বলা হয়েছে যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো জিন ও মানুষ। আবার বলা হয়েছে যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সকল প্রাণধারী সত্তা। তবে অধিক নিকটবর্তী অর্থ হলো মানুষ। এবং সর্বোত্তম অর্থ হলো মানুষ। "সৃষ্টির সদৃশ নন" এর অর্থ হলো তিনি তাঁর সৃষ্টির কারোর সদৃশ নন।

গ্রন্থকার এর মাধ্যমে মুসাব্বিহাদের (সাদৃশ্যবাদীদের) প্রতিবাদ করতে চেয়েছেন, যারা আল্লাহকে তাঁর সৃষ্টির সাথে তুলনা করে এবং গুণাবলি সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি করে। তাদের কেউ কেউ বলে: আল্লাহর জ্ঞান সৃষ্টির জ্ঞানের মতো, তাঁর ক্ষমতা তাদের ক্ষমতার মতো, তাঁর শ্রবণ তাদের শ্রবণের মতো এবং আল্লাহর আরশের উপর উঠা তাদের উঠার মতো।

আর এটিই হলো মুসাব্বিহাদের মতবাদ, আর সাধারণত মুসাব্বিহারা চরমপন্থী শিয়াদের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহকে দেহবিশিষ্ট বলার প্রথম প্রবক্তা হলো রাফেজি হিশাম ইবনুল হাকাম এবং বায়ান বিন সামআন আত-তামিমি, যার দিকে চরমপন্থী শিয়াদের 'বায়ানিয়া' দলটি সম্বন্ধযুক্ত করা হয়।

সে বলত: আল্লাহ মানুষের আকৃতিতে। মুসাব্বিহাদের মধ্যে আরও রয়েছে হিশাম বিন সালিম আল-জাওয়ালিকি এবং দাউদ আল-জাওয়ারিবি। তাদের মতবাদ হলো গুণাবলি সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে চরম বাড়াবাড়ি করা, এমনকি তারা এর অন্তর্ভুক্ত করে নিয়েছে সেসব বিষয়ও যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল অস্বীকার করেছেন।

এমনকি তারা সাব্যস্ত করেছে যে, আল্লাহকে দুনিয়াতে চর্মচোখে দেখা যায়, তিনি করমর্দন করেন এবং কোলাকুলি করেন, তিনি সামনাসামনি আলোচনা করেন এবং নৈশ আলাপ করেন, তিনি আরাফার সন্ধ্যায় উটের পিঠে চড়ে অবতরণ করেন। তাদের কেউ কেউ তো বলেছে যে, তিনি অনুতপ্ত হন, দুঃখিত হন এবং কাঁদেন।

তারা যা বলে তা থেকে আল্লাহ অতি মহান ও অতি উচ্চ। যেভাবে ইহুদিরা বলেছিল, তারা এ ক্ষেত্রে ইহুদিদের সাদৃশ্য অবলম্বন করেছে। আর এরা আল্লাহকে যথার্থ মর্যাদা দান করেনি। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: "তারা আল্লাহকে যথার্থ মর্যাদা দেয়নি। কিয়ামতের দিন সমগ্র পৃথিবী থাকবে তাঁর হাতের মুঠোয়।"

তারা কীভাবে বলে যে, আল্লাহ দুই স্তরের মাঝে অবতরণ করেন, আরাফার সন্ধ্যায় উটের পিঠে চড়ে নামেন এবং বিভিন্ন স্তরের মাঝে থাকেন, আকাশ তাঁর উপরে থাকে এবং জমিন তাঁর নিচে থাকে, ফলে তিনি সৃষ্টির সাথে মিশে যান? -তারা যা বলে তা থেকে আল্লাহ কতই না পবিত্র।-

অথচ আল্লাহ তাআলা বলছেন: "তারা আল্লাহকে যথার্থ মর্যাদা দেয়নি। কিয়ামতের দিন সমগ্র পৃথিবী থাকবে তাঁর হাতের মুঠোয়।" এবং সহিহ হাদিসে প্রমাণিত হয়েছে যে, (আল্লাহ কিয়ামতের দিন আকাশসমূহকে একটি আঙুলের ওপর রাখবেন, পৃথিবীসমূহকে একটি আঙুলের ওপর, পানি ও আর্দ্র মাটিকে একটি আঙুলের ওপর, পাহাড়সমূহকে একটি আঙুলের ওপর এবং বাকি সৃষ্টিজগতকে একটি আঙুলের ওপর রাখবেন। এরপর তিনি তাঁর হাতের মাধ্যমে সেগুলোকে নাড়া দেবেন এবং বলবেন: আমিই রাজা, পৃথিবীর রাজারা কোথায়?) পাঁচটি আঙুল!

হাদিসে এসেছে: (সাত আকাশ ও সাত পৃথিবী রহমানের হাতের তালুতে তোমাদের কারো হাতের তালুতে থাকা সরিষার দানার মতোই।) আর এটা জানা কথা যে, মানুষের হাতের তালুতে যদি একটি সরিষার দানা থাকে, তবে সে তার ওপর নিয়ন্ত্রণকারী ও তার ওপর উঠে থাকে; সে চাইলে তা মুষ্টিবদ্ধ করতে পারে, আবার চাইলে তার নিচেও রাখতে পারে। তাহলে এই কাফেররা কীভাবে বলে যে, আল্লাহ আরাফার সন্ধ্যায় উটের পিঠে চড়ে নামেন, আর আকাশ তাঁর উপরে থাকে এবং জমিন তাঁর নিচে থাকে? -তারা যা বলে তা থেকে আল্লাহ সুউচ্চ ও মহান।-

সাদৃশ্য দান করা একটি বাতিল মতবাদ। কুরআন-সুন্নাহর বাণীসমূহ এটি অস্বীকার ও বাতিল করার ব্যাপারে এসেছে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "তাঁর সদৃশ কোনো কিছুই নেই, আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।" আল্লাহ সুবহানাহু আরও বলেছেন: "তুমি কি তাঁর সমগুণসম্পন্ন কাউকে জানো?" এবং তিনি বলেছেন: "অতএব আল্লাহর জন্য কোনো উদাহরণ পেশ করো না।"

আল্লাহ সুবহানাহু আরও বলেছেন: "অতএব জেনেশুনে কাউকে আল্লাহর সমকক্ষ বানিও না।" যে ব্যক্তি আল্লাহকে তাঁর সৃষ্টির সাথে তুলনা করল, সে বিশ্বাস করল যে আল্লাহ সৃষ্টির সদৃশ। ফলে সে বাস্তবে আল্লাহর ইবাদত করল না, বরং সে এমন এক মূর্তির ইবাদত করল যা তার কল্পনা চিত্রায়িত করেছে এবং তার চিন্তা খোদাই করেছে। তারা মূর্তিপূজকদের অন্তর্ভুক্ত, রহমানের ইবাদতকারীদের অন্তর্ভুক্ত নয়। যেমনটি আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম তাঁর 'আশ-শাফিয়া' গ্রন্থে বলেছেন:

আমরা তাঁর গুণাবলিকে আমাদের গুণের সাথে তুলনা করি না *** নিশ্চয়ই সাদৃশ্য প্রদানকারী হলো মূর্তিপূজক।

যে ব্যক্তি আল্লাহকে সৃষ্টির সাথে তুলনা করল, সে খ্রিষ্টানদের সাদৃশ্য অবলম্বন করল। আল্লাহ যেমন তাঁর সৃষ্টির কারোর সদৃশ নন, তেমনি তাঁর সৃষ্টির কেউ তাঁর সদৃশ নয়। মুসাব্বিহাদের মতবাদ খ্রিষ্টানদের মতবাদের বিপরীত। কারণ মুসাব্বিহারা আল্লাহকে সৃষ্টির সাথে তুলনা করে এবং বলে যে, আল্লাহ সৃষ্টির মতো। আর খ্রিষ্টানরা সৃষ্টিকে স্রষ্টার সাথে তুলনা করেছে।

মুসাব্বিহারা স্রষ্টাকে সৃষ্টির সাথে তুলনা করে বলেছে যে, আল্লাহর গুণাবলি সৃষ্টির গুণের মতো। আর খ্রিষ্টানরা সৃষ্টিকে স্রষ্টার সাথে তুলনা করে বলেছে যে, ঈসা আল্লাহর পুত্র। সুতরাং মুসাব্বিহা ও খ্রিষ্টানদের মাঝে অনুপাতটি বিপরীতমুখী। কিন্তু তারা প্রত্যেকেই সাদৃশ্যবাদী।

এই কারণেই আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম তাঁর 'আশ-শাফিয়া' গ্রন্থে বলেছেন:

মহান আল্লাহকে যে তাঁর সৃষ্টির সাথে তুলনা করে *** সে হলো মুশরিক খ্রিষ্টানদের আত্মীয় সমগোত্রীয়।

ইমাম বুখারীর উস্তাদ নুআইম বিন হাম্মাদ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: যে ব্যক্তি আল্লাহকে তাঁর সৃষ্টির সাথে তুলনা করল সে কুফরি করল। আর আল্লাহ নিজের জন্য যে গুণাবলি বর্ণনা করেছেন অথবা তাঁর রাসূল তাঁর জন্য যে গুণাবলি বর্ণনা করেছেন তা যে অস্বীকার করল, সে কুফরি করল। আল্লাহ নিজের জন্য যা বর্ণনা করেছেন বা তাঁর রাসূল তাঁর জন্য যা বর্ণনা করেছেন তার মাঝে কোনো সাদৃশ্য প্রদান নেই। প্রখ্যাত ইমাম ইসহাক বিন রাহওয়াই বলেছেন: যে ব্যক্তি আল্লাহকে তাঁর সৃষ্টির সাথে তুলনা করে বলল যে, আল্লাহ তাঁর গুণাবলির ক্ষেত্রে তাঁর সৃষ্টির কারোর সদৃশ, তবে সে মহান আল্লাহর সাথে কুফরি করল। অথবা তার থেকে যেমনটি বর্ণিত হয়েছে (রাহিমাহুল্লাহ)।

এর দ্বারা স্পষ্ট হয় যে মুসাব্বিহারা কাফের, এবং তাদের অধিকাংশ হলো চরমপন্থী শিয়া। আমরা আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা ও সুস্থতা কামনা করি!

আমরা এই পরিমাণেই ক্ষান্ত হচ্ছি। আমরা আল্লাহর কাছে সকলের জন্য নেক আমলের তাওফিক কামনা করি। মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১) শারহুল আক্বীদাহ আত-ত্বহাবীইয়াহ - আব্দুল আযীয আল-রাজহী (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌الأسئلة:

--------------------------------------------

س: ما رأيكم في كتاب قوت القلوب لأبى طالب المكي؟

ج: ما قرأته ولا أحكم عليه بشيء.

س: ما رأيكم في كتاب شرح العقيدة الطحاوية لمؤلف يدعى عبد الغني الغنيمي الميداني الحنفي الدمشقي المتوفى سنة ثمان وتسعين ومائتين وألف، علما بأنه يباع في الرياض؟.

ج: ما قرأته. لكن علي بن أبي العز شارح الطحاوية هذه ذكر أن الطحاوية شرحت بشروح متعددة، وأن شراحها شرحوها على ما يتمشى مع معتقد أهل الكلام وأهل البدع، فأراد أن يشرحها على معتقد أهل السنة والجماعة.

فأنسب الشروح هو هذا الشرح "شرح الطحاوية" لابن أبي العز المنتشر بين أيدي طلبة العلم، هذا الذي أنصح بقراءته وما عداه فلا ينبغي؛ فلعله من الشروح التي ذكر الشارح أنها تتمشى مع معتقد أهل البدع.

وأما ما قرأت هذا الشرح الذي ذكرت. نعم.

س: باب الأفعال أوسع من باب الصفات، فهل معنى هذا أن نقف على ورود اللفظ في النص إن كان فعلا فنطلقه فعلا دون الوصفية؟ .

ج: نعم. الأفعال لها صفة الأفعال يطلق على لفظ الفعل الخَلْق مثلا يثبت لله على ما ورد الخَلْق والتصوير والقبض والبسط والخفض والرفع كل هذه صفات أفعال على ما وردت.

{وَمَكَرُوا وَمَكَرَ اللَّهُ وَاللَّهُ خَيْرُ الْمَاكِرِينَ (54) } ما يشتق منها الماكر بل يقال: يمكر الله المكر اللائق به. يخادعون الله وهو خادعهم يقال: إن الله يخدع من خدعه، وهو خادع من خدعه جاء على لفظ الفعل، وعلى لفظ اسم الفاعل بالإضافة لكن ما يشتق منه اسم الخادع.

وكذلك {إِنَّهُمْ يَكِيدُونَ كَيْدًا (15) وَأَكِيدُ كَيْدًا (16) } وإن الله يكيد من كاد، ولا يشتق منها اسم فيقال: من أسماء الله الكائد إن فعل يأتي على لفظ الفعل. نعم.

س: بعض أهل العلم يجعل شروط لا إله الله شرطين فقط هما: العلم والإخلاص ويقول: مرد الشروط السبعة إلى هذين الشرطين.

ج: نعم هذا من باب الاختصاص؛ لأن الصدق المانع من النفاق من الإخلاص؛ ولأن اليقين كذلك ولكن عند التفصيل تفصيلها أولى. نعم.

س: يقرر بعض أهل العلم أن شروط لا إله الله ثمانية، فما هو الشرط الثامن؟ .

ج: الكفران -كما قالوا-: الكفر بما يعبد من دون الله، وهو معروف، مأخوذ من الشروط الأخرى. نعم.

س: كيف الإجابة عن هذه الشبهة، وهى قول بعضهم: أنتم تقولون: الإيمان قول وعمل واعتقاد، وشيخ الإسلام محمد بن عبد الوهاب رحمه الله في الأصول الثلاثة يقول في العلم: هو معرفة الله، فاكتفى بالمعرفة وهذا مذهب باطل، وجزاكم الله خيرا؟.

ج: هذا تفسير العلم ما قال الإيمان، تفسير العلم والمعرفة. الإيمان قول وعمل واعتقاد، هذا قول أهل السنة قاطبة، وبعضهم يقول: قول وعمل، فالقول: قول القلب وهو الإقرار والتصديق، وقول اللسان، والعمل عمل القلب والجوارح، أما تفسير العلم فهذا غير تفسير العلم والمعرفة، والشيخ محمد فسر العلم بالمعرفة، فتفسير العلم ما فيه تفسير الإيمان، فالعلم غير الإيمان، نعم.

السؤال في غير محله، ما فيه وجه مقارنة. نعم.

س: أحسن الله إليكم، يقول السائل: إن من القواعد في الصفات أن باب الأخبار أوسع من باب الصفات يعنى ذلك أنه يجوز الإخبار عن الله بشيء لم يرد في الكتاب والسنة، لكن قيده بعضهم بقوله مما ورد جنسه في الكتاب والسنة، فهل هذا القيد صحيح، وإن كان صحيحا فنرجو إيضاحه، ومن ذكره من أهل العلم؟.

ج: هذا سبق قوله البارحة هذا من باب الخبر أوسع من باب الصفات يخبر عن الله بأنه شيء بأنه ذات وبأنه موجود. هذا من باب الخبر، ولا يقال من أسماء الله الذات، من أسمائه الموجود.

وشيخ الإسلام كذلك في باب الرد على البدع، يخبر شيخ الإسلام علل بأنه الصانع والذات لها أصل

وذلك في ذات الإله وإن يشأ ***..................

والصانع {صُنْعَ اللَّهِ الَّذِي أَتْقَنَ كُلَّ شَيْءٍ} لها أصل.

والوجود كذلك له أصل. نعم.
‌‌প্রশ্নাবলি:

--------------------------------------------

প্রশ্ন: আবু তালিব মাক্কী রচিত ‘কুতুল কুলুব’ কিতাবটি সম্পর্কে আপনার অভিমত কী?

উত্তর: আমি এটি পড়িনি এবং এটি সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করছি না।

প্রশ্ন: ১২৯৮ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী আব্দুল গনী আল-গুনাইমী আল-মাইদানী আল-হানাফী আদ-দিমাশকী নামক জনৈক লেখকের ‘শারহুল আকিদাহ আত-তাহাবিয়্যাহ’ কিতাবটি সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? উল্লেখ্য যে, এটি রিয়াদে বিক্রি হয়।

উত্তর: আমি এটি পড়িনি। তবে এই তাহাবিয়্যাহর ব্যাখ্যাকার আলী ইবন আবুল ইয উল্লেখ করেছেন যে, তাহাবিয়্যাহর অনেকগুলো ব্যাখ্যাগ্রন্থ লেখা হয়েছে এবং সেগুলোর ব্যাখ্যাকারগণ ইলমে কালাম ও বিদআতিদের আকিদা অনুযায়ী তা ব্যাখ্যা করেছেন। তাই তিনি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকিদা অনুযায়ী এটি ব্যাখ্যা করতে চেয়েছিলেন।

সুতরাং সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যাখ্যাগ্রন্থ হলো ইবন আবুল ইযের এই ‘শারহুত তাহাবিয়্যাহ’, যা তালিবে ইলমদের নিকট বহুল প্রচলিত। আমি এটিই পড়ার পরামর্শ দিই, আর এটি ছাড়া অন্যগুলো সমীচীন নয়; কারণ সম্ভবত সেগুলো সেই সব ব্যাখ্যার অন্তর্ভুক্ত যেগুলো সম্পর্কে ব্যাখ্যাকার উল্লেখ করেছেন যে, সেগুলো বিদআতিদের আকিদার সাথে সংগতিপূর্ণ।

আর আপনি যে ব্যাখ্যাটির কথা উল্লেখ করেছেন তা আমি পড়িনি। হ্যাঁ।

প্রশ্ন: কার্যাবলির অধ্যায় গুণাবলির অধ্যায়ের চেয়ে প্রশস্ত। এর অর্থ কি এই যে, আমরা দলিলের শব্দের ওপর সীমাবদ্ধ থাকব? যদি সেটি ক্রিয়া হিসেবে আসে তবে আমরা সেটিকে ক্রিয়া হিসেবেই প্রয়োগ করব, বিশেষণ হিসেবে নয়?

উত্তর: হ্যাঁ। কার্যাবলির ক্ষেত্রে কর্মগত গুণ রয়েছে। ক্রিয়া বা ফেলের শব্দের ওপর ভিত্তি করে এগুলো প্রয়োগ করা হয়। যেমন ‘সৃষ্টি করা’ আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত করা হয় যেভাবে তা বর্ণিত হয়েছে। সৃষ্টি করা, আকৃতি দান করা, মুষ্টিবদ্ধ করা, প্রসারিত করা, অবনত করা এবং উন্নত করা—এসবই কর্মগত গুণাবলি যেভাবে তা বর্ণিত হয়েছে।

{তারা কৌশল অবলম্বন করেছিল এবং আল্লাহও কৌশল অবলম্বন করেছিলেন। আর আল্লাহই শ্রেষ্ঠ কৌশলী।} এখান থেকে ‘কৌশলী’ নাম উদ্গত করা হবে না, বরং বলা হবে: আল্লাহ তাঁর শান অনুযায়ী কৌশল অবলম্বন করেন। {তারা আল্লাহর সাথে প্রতারণা করে এবং আল্লাহ তাদের সাথে প্রতারণা করেন}—বলা হবে: আল্লাহ তাকে ধোঁকা দেন যে তাঁর সাথে ধোঁকাবাজি করে, এবং তিনি তার সাথে প্রতারণা করেন যে তাঁর সাথে প্রতারণা করে। এটি ক্রিয়া হিসেবে এবং সম্বন্ধবাচক কর্তাবাচ্য বিশেষ্য হিসেবে এসেছে, কিন্তু এখান থেকে ‘প্রতারক’ নাম উদ্গত করা যাবে না।

অনুরূপভাবে {নিশ্চয়ই তারা ভীষণ কৌশল করে, আর আমিও এক কৌশল করি।} এবং নিশ্চয়ই আল্লাহ তার বিরুদ্ধে কৌশল করেন যে কৌশল করে। এখান থেকে কোনো নাম উদ্গত করে বলা যাবে না যে: আল্লাহর নামসমূহের একটি হলো ‘কৌশলকারী’। ক্রিয়া যেভাবে এসেছে সেভাবেই থাকবে। হ্যাঁ।

প্রশ্ন: কোনো কোনো আলেম ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’-এর শর্তাবলিকে মাত্র দুটি শর্তে সীমাবদ্ধ করেন: ইলম ও ইখলাস। তিনি বলেন: সাতটি শর্ত এই দুটি শর্তের দিকেই ফিরে আসে।

উত্তর: হ্যাঁ, এটি সারসংক্ষেপ করার অন্তর্ভুক্ত। কারণ নিফাক প্রতিরোধকারী সত্যবাদিতা তো ইখলাসেরই অন্তর্ভুক্ত। অনুরূপভাবে একীনও এর অন্তর্ভুক্ত। তবে বিস্তারিত বর্ণনার ক্ষেত্রে সেগুলো বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করাই উত্তম। হ্যাঁ।

প্রশ্ন: কোনো কোনো আলেম সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’-এর শর্ত আটটি। সেই অষ্টম শর্তটি কী?

উত্তর: কুফরান—যেমনটি তাঁরা বলেছেন: আল্লাহ ছাড়া অন্য যা কিছুর ইবাদত করা হয় তা অস্বীকার করা। এটি একটি পরিচিত বিষয় এবং অন্য শর্তগুলো থেকেই এটি নেওয়া হয়েছে। হ্যাঁ।

প্রশ্ন: এই সংশয়ের উত্তর কী হবে? কেউ কেউ বলে: আপনারা বলেন ঈমান হলো কথা, কাজ ও বিশ্বাসের নাম। অথচ শাইখুল ইসলাম মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল ওয়াহহাব (রহিমাহুল্লাহ) ‘উসুলুত থালাথা’-তে ইলমের আলোচনায় বলেছেন: ‘তা হলো আল্লাহকে চেনা’। অর্থাৎ তিনি শুধু পরিচয়ের ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছেন, যা একটি বাতিল মতবাদ। জাযাকুমুল্লাহু খাইরান।

উত্তর: এটি ইলমের ব্যাখ্যা, তিনি ঈমানের ব্যাখ্যা দেননি। এটি ইলম ও পরিচয়ের ব্যাখ্যা। ঈমান হলো কথা, কাজ ও বিশ্বাসের নাম—এটি সমস্ত আহলে সুন্নাতের বক্তব্য। কেউ কেউ বলেন: কথা ও কাজ। এখানে কথা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো অন্তরের কথা—যা হলো স্বীকৃতি ও সত্যায়ন—এবং জিহ্বার কথা। আর কাজ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো অন্তরের কাজ ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কাজ। পক্ষান্তরে ইলমের ব্যাখ্যা ঈমান ও পরিচয়ের ব্যাখ্যার চেয়ে ভিন্ন। শাইখ মুহাম্মাদ এখানে ইলমকে চেনা বা পরিচয় দ্বারা ব্যাখ্যা করেছেন। সুতরাং ইলমের ব্যাখ্যার মধ্যে ঈমানের ব্যাখ্যা অন্তর্ভুক্ত নয়। ইলম ও ঈমান ভিন্ন জিনিস। হ্যাঁ।

এই প্রশ্নটি অপ্রাসঙ্গিক, এখানে তুলনার কোনো অবকাশ নেই। হ্যাঁ।

প্রশ্ন: আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন। জনৈক প্রশ্নকারী বলছেন: গুণাবলির ক্ষেত্রে একটি মূলনীতি হলো—‘সংবাদের অধ্যায় গুণাবলির অধ্যায়ের চেয়ে প্রশস্ত’। এর অর্থ হলো আল্লাহ সম্পর্কে এমন কিছু সংবাদ দেওয়া বৈধ যা কুরআন ও সুন্নাহতে সরাসরি আসেনি। তবে কেউ কেউ একে এই শর্তের সাথে সীমাবদ্ধ করেছেন যে, যা বর্ণিত হয়েছে তার সমজাতীয় হতে হবে। এই শর্তটি কি সঠিক? সঠিক হলে এর ব্যাখ্যা প্রত্যাশা করছি এবং কোন আলেম এটি উল্লেখ করেছেন?

উত্তর: এটি গতরাতেও বলা হয়েছে। এটি সংবাদের অধ্যায় যা গুণাবলির অধ্যায়ের চেয়ে প্রশস্ত। আল্লাহ সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া হয় যে তিনি একটি সত্তা এবং তিনি বিদ্যমান। এগুলো সংবাদের অন্তর্ভুক্ত। তাই বলে আল্লাহর নামসমূহের মধ্যে ‘সত্তা’ বা ‘বিদ্যমান’ বলা যাবে না।

শাইখুল ইসলামও বিদআতিদের খণ্ডন করার অধ্যায়ে আল্লাহকে ‘কারিগর’ হিসেবে সংবাদ দিয়েছেন এবং ‘সত্তা’ শব্দের ভিত্তি রয়েছে।

যেমন কবিতায় আছে: “আর তা আল্লাহর সত্তার ক্ষেত্রে, আর যদি তিনি চান...”

এবং কারিগর শব্দটিরও ভিত্তি রয়েছে। {আল্লাহর কারুকার্য, যিনি সবকিছুকে সুনিপুণ করেছেন।} এর ভিত্তি আছে।

অনুরূপভাবে অস্তিত্বের বা বিদ্যমান হওয়ারও ভিত্তি রয়েছে। হ্যাঁ।
(খণ্ড: ১) শারহুল আক্বীদাহ আত-ত্বহাবীইয়াহ - আব্দুল আযীয আল-রাজহী (পৃষ্ঠা: ২৭)
س: -أحسن الله إليكم- يقول السائل: لو تخلف شرط من شروط لا إله إلا الله وتحقق الباقي فهل تنفع صاحبها؟ .

ج: لا بد من اجتماعها. من لم يحب، تخلف العلم صار جاهلا ما نفع، تخلف الإخلاص صار مشركا ما نفع، تخلف اليقين صار شاكا ما نفع، تخلف الصدق صار منافقا ما ينفع، تخلفت المحبة صار يكره أهل الإيمان وأهل التوحيد ما نفعه، خالف القبول ما قبل هذه الكلمة ما نفعه.

خالف الانقياد؛ ما انقاد بحقوقها قال لا إله إلا الله لكن ما قبلها، ما انقاد بحقوقها لا بد من الشروط هذه.

س: -أحسن الله إليكم-، ما جاء في دعاء الدخول إلى المسجد " وسلطانه القديم " ألا يدل على صفة القديم؟.

ج: هذا وصف السلطان، وصف السلطان. نعم.

س: يقول السائل: هل الدائم من أسماء الله عز وجل؟.

ج: ما أذكر هذا، يحتاج إلى ثبوت. نعم.

س: وهل يصح إطلاق اسم الأول بدون تقيده بالآخر، وكذا الظاهر والباطن، وهل يجوز أن يتسمى الإنسان بعبد الباطن أو عبد الظاهر؟.

ج: نعم يجوز. لكن هذه الأسماء متقابلة، اسمان متقابلان، الذي لا يطلق منه، مثل الخافض الرافع، النافع الضار، ما يطلق النافع فقط، النافع الضار، الخافض الرافع، المعطي المانع.

أما الأول نعم وحده، الأول والآخر، عبد الأول، عبد الآخر لا بأس. نعم.

س: -أحسن الله إليكم-، يقول السائل: عند دعوة إنسان إلى الدين الحنيف فما الرد عليه إذا قال: إن الله أراد لي ما أنا فيه من ضلال، كيف نرد عليه من الشرع؟.

ج: هذه مسألة القدر سيأتي البحث فيها، نقول: إن الله تعالى … أنت مكلف بالشريعة إن الله، تعالى أمرك بالإيمان والتوحيد والطاعة، وأرسل الرسل وأنزل الكتب لعباده، فأنت مخلوق لعبادة الله، أما القدر فهو سر الله في خلقه هذا من شئون الله ليس من شئونك.

أنت عبد مأمور بالإيمان، والتوحيد والطاعة والالتزام بالشريعة، وأنت عندك عقل، وعندك سمع وبصر تستطيع … لست … ولا ممنوع ولا مسلوب العقل.

أما تحتج بالقدر ليس حجة لك، لو كان القدر حجة لك لكان حجة للكفرة؛ قوم نوح، وقوم شعيب وقوم صالح، وكان حجة للكافر والسارق والزاني. ليس حجة. نعم.

س: أحسن الله إليكم، يقول السائل: كيف يجمع بين نفي تشبيه الله بخلقه مع ورود الحديث وفيه: (أن الله خلق آدم على صورته؟) .

ج: ما فيه تشبيه هذا خلق الله آدم على صورته كما ثبت في الصحيح، هذا إثبات الصورة لله، وهذا يقتضي نوعا من المشابهة، كما حقق الشيخ ابن تيمية، نوع من المشابهة، وهي مشابهة في مطلق الصورة لا في الجنس والمقدار، نوع من المشابهة.

والمشابهة في مطلق الصورة، لكنه ليس، لا يقصد مشابهة مماثلة في الجِنس ولا في المقدار، وشيخ الإسلام له كتاب عظيم في هذا بيان تلبيس الجهمية، وحفظ في رسالة كاملة "دكتوراه" وهو الآن تحت الطبع، أو انتهى من الطبع، على وشك الخروج -إن شاء الله- كتابه العظيم (بيان تلبيس الجهمية) نعم.

السؤال الأخير: يقول السائل: أنتم أشرتم بإصبعكم حفظكم الله أن الله يجعل الجبال على إصبع، وأشرتم بهذا، فهل هذا جائز؟.

ج: نعم من باب تحقيق الصفة كما ثبت أن النبي قال: إن الله كان سميعا بصيرا أشار إلى أذنه وعينه من باب تحقيق الصفة، ليس المراد التشبيه. نعم.
স: -আল্লাহ আপনাদের কল্যাণ করুন- প্রশ্নকারী বলছেন: যদি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-এর শর্তসমূহের কোনো একটি অনুপস্থিত থাকে এবং বাকিগুলো পাওয়া যায়, তবে কি তা তার অধিকারীর উপকারে আসবে? .

জ: অবশ্যই এগুলোর সমন্বয় থাকতে হবে। যে ভালোবাসল না; ইলম (জ্ঞান) অনুপস্থিত থাকলে সে জাহেল বা অজ্ঞ হয়ে গেল—তা কোনো উপকারে আসল না; ইখলাস (একনিষ্ঠতা) অনুপস্থিত থাকলে সে মুশরিক হয়ে গেল—তা উপকারে আসল না; ইয়াকীন (দৃঢ় বিশ্বাস) অনুপস্থিত থাকলে সে সংশয়বাদী হয়ে গেল—তা উপকারে আসল না; সিদক (সততা) অনুপস্থিত থাকলে সে মুনাফিক হয়ে গেল—তা উপকারে আসে না; মহব্বত (ভালোবাসা) অনুপস্থিত থাকলে সে ঈমানদার ও তাওহীদপন্থীদের অপছন্দ করতে শুরু করল—তা তার উপকারে আসল না; কবুল বা গ্রহণ করার বিপরীতে সে যদি এই কালিমাকে গ্রহণ না করে—তা তার উপকারে আসল না।

ইনকিয়াদ বা আনুগত্যের বিরোধিতা করল; এর হক বা দাবিগুলোর আনুগত্য করল না; সে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলল কিন্তু তা গ্রহণ করল না, এর হকগুলোর আনুগত্য করল না; এই শর্তগুলো থাকা অপরিহার্য।

স: -আল্লাহ আপনাদের কল্যাণ করুন- মসজিদে প্রবেশের দুয়ায় যা এসেছে "এবং তাঁর চিরন্তন কর্তৃত্ব" (ওয়া সুলতানিহিল কাদীম), এটি কি আল্লাহর 'আল-কাদীম' সিফাত বা গুণের ওপর দলিল নয়?

জ: এটি কর্তৃত্বের (সুলতান) একটি বিশেষণ, কর্তৃত্বের বিশেষণ। হ্যাঁ।

স: প্রশ্নকারী বলছেন: 'আদ-দায়িম' কি আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত?

জ: আমার এটি স্মরণে নেই, এটি সাব্যস্ত হওয়ার জন্য প্রমাণের প্রয়োজন। হ্যাঁ।

স: আর 'আল-আউয়াল' নামটি কি 'আল-আখির' এর সাথে যুক্ত করা ছাড়া এককভাবে বলা সঠিক? একইভাবে 'আয-যহির' ও 'আল-বাতিন' এর ক্ষেত্রেও? আর মানুষের নাম কি 'আব্দুল বাতিন' বা 'আব্দুজ যহির' রাখা জায়েজ?

জ: হ্যাঁ, জায়েজ। তবে এই নামগুলো পরস্পর বিপরীতমুখী, দুটি জোড়া নাম; যেগুলোর একটি ছাড়া অন্যটি বলা হয় না, যেমন: আল-খাফিদ আর-রাফি (অবনতকারী ও উন্নতকারী), আন-নাফি আদ-দার (উপকারকারী ও অপকারকারী)। শুধু আন-নাফি বলা হয় না, বরং আন-নাফি আদ-দার, আল-খাফিদ আর-রাফি, আল-মু'তি আল-মানি (দানকারী ও রুদ্ধকারী)।

তবে আল-আউয়াল হ্যাঁ, একা ব্যবহার করা যায়; আল-আউয়াল ও আল-আখির। আব্দুল আউয়াল, আব্দুল আখির—এতে কোনো সমস্যা নেই। হ্যাঁ।

স: -আল্লাহ আপনাদের কল্যাণ করুন- প্রশ্নকারী বলছেন: কোনো মানুষকে যখন সঠিক দ্বীনের দিকে দাওয়াত দেওয়া হয়, তখন সে যদি বলে: "আল্লাহ আমার জন্য এই পথভ্রষ্টতাই চেয়েছেন যাতে আমি এখন আছি", তবে আমরা শরীয়তের আলোকে তাকে কী জবাব দেব?

জ: এটি তাকদীরের মাসআলা, এর আলোচনা সামনে আসবে। আমরা বলব: নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা … আপনাকে শরীয়তের দায়িত্ব দিয়েছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা আপনাকে ঈমান, তাওহীদ ও আনুগত্যের আদেশ দিয়েছেন এবং তাঁর বান্দাদের জন্য রাসূলগণকে প্রেরণ করেছেন ও কিতাবসমূহ নাযিল করেছেন। সুতরাং আপনি আল্লাহর ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি হয়েছেন। আর তাকদীর হলো তাঁর সৃষ্টিজগতে আল্লাহর এক গোপন রহস্য, এটি আল্লাহর বিষয়াবলির অন্তর্ভুক্ত, আপনার বিষয় নয়।

আপনি একজন বান্দা যাকে ঈমান, তাওহীদ, আনুগত্য এবং শরীয়ত পালনের আদেশ দেওয়া হয়েছে। আপনার বিবেক আছে, আপনার শ্রবণ ও দর্শন শক্তি আছে যার মাধ্যমে আপনি সক্ষম … আপনি বাধ্য নন, আর আপনাকে কোনো কিছু করতে বাধাও দেওয়া হয়নি বা আপনার বিবেকও কেড়ে নেওয়া হয়নি।

আর তাকদীরকে দলিল হিসেবে পেশ করা আপনার জন্য কোনো হুজ্জত বা প্রমাণ নয়। যদি তাকদীর প্রমাণ হতো, তবে তা কাফেরদের জন্য প্রমাণ হতো; নূহের কওম, শুআইবের কওম এবং সালেহ-এর কওমের জন্য প্রমাণ হতো। এটি কাফের, চোর ও ব্যভিচারীর জন্য কোনো প্রমাণ নয়। হ্যাঁ।

স: আল্লাহ আপনাদের কল্যাণ করুন, প্রশ্নকারী বলছেন: আল্লাহকে তাঁর সৃষ্টির সাথে তুলনা (তাশবীহ) করাকে অস্বীকার করার পাশাপাশি হাদীসের সেই কথার মধ্যে কীভাবে সমন্বয় করা হবে যেখানে বলা হয়েছে: (আল্লাহ আদমকে তাঁর আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন)?

জ: এর মধ্যে কোনো তাশবীহ বা উপমা নেই। এটি হলো আল্লাহ আদমকে তাঁর আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন যেমনটি সহীহ হাদীসে প্রমাণিত হয়েছে। এটি আল্লাহর জন্য 'আকৃতি' (সুরাত) সাব্যস্ত করা। আর এটি এক ধরণের সাদৃশ্যের দাবি রাখে, যেমনটি শাইখ ইবনে তাইমিয়্যাহ তাহকীক করেছেন—এক ধরণের সাদৃশ্য; আর তা হলো নিরঙ্কুশ আকৃতির ক্ষেত্রে সাদৃশ্য, ধরণ বা পরিমাপের ক্ষেত্রে নয়; এক ধরণের সাদৃশ্য।

আর সাদৃশ্যটি নিরঙ্কুশ আকৃতির ক্ষেত্রে, কিন্তু তা ধরণ বা পরিমাপের দিক থেকে কোনো সদৃশ হওয়ার উদ্দেশ্য নয়। শাইখুল ইসলামের এ বিষয়ে একটি মহান কিতাব রয়েছে 'বায়ান তালবীসুল জাহমিয়্যাহ'। এটি একটি পূর্ণাঙ্গ গবেষণাপত্র (পিএইচডি) হিসেবে সংরক্ষিত আছে এবং বর্তমানে এটি ছাপা হচ্ছে বা ছাপা শেষ হয়েছে, শীঘ্রই বের হবে—ইনশাআল্লাহ—তাঁর সেই মহান কিতাব (বায়ান তালবীসুল জাহমিয়্যাহ)। হ্যাঁ।

শেষ প্রশ্ন: প্রশ্নকারী বলছেন: আপনি আপনার আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করেছেন—আল্লাহ আপনাকে হিফাযত করুন—যে আল্লাহ পাহাড়সমূহকে একটি আঙ্গুলের ওপর রাখবেন এবং আপনি এভাবে ইশারা করেছেন, এটি কি জায়েজ?

জ: হ্যাঁ, এটি সিফাত বা গুণের বাস্তবতা প্রমাণের (তাহকীক) অন্তর্ভুক্ত। যেমনটি সাব্যস্ত হয়েছে যে নবী বলেছিলেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা, তখন তিনি তাঁর কান ও চোখের দিকে ইশারা করেছিলেন সিফাতের বাস্তবতা প্রমাণের জন্য, এর উদ্দেশ্য তাশবীহ (সাদৃশ্য করা) নয়। হ্যাঁ।
(খণ্ড: ১) শারহুল আক্বীদাহ আত-ত্বহাবীইয়াহ - আব্দুল আযীয আল-রাজহী (পৃষ্ঠা: ২৮)
حَيٌّ لَا يَمُوتُ، قَيُّومٌ لَا يَنَامُ

--------------------------------------------

بسم الله الرحمن الرحيم.

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على رسول الله، وعلى آله وصحبه ومن اتبع هداه. أما بعد:

قوله رحمه الله: "حي لا يموت قيوم لا ينام" في إثبات هذين الاسمين للرب سبحانه وتعالى هو اسم الحي واسم القيوم، وهما متضمنان لصفةِ الحياة، وصفة القيومية، فالحي اسم من أسماء الله عز وجل والقيوم اسم آخَر.

والحي متضمن لصفة الحياة، والقيوم متضمن لصفة القيومية؛ لأن أسماء الله سبحانه وتعالى مشتقة، ليست جامدة، وكل اسم من أسماء الله يدل على الصفة؛ الرحمن تدل على صفة الرحمة، القادر يدل على صفة القدرة، العليم يدل على صفة العلم، وهكذا الحي يدل على صفة الحياة، والقيوم يدل على صفة القيومية؛ لأن أسماء الله تعالى مشتقة ليست جامدة مشتملة على المعاني. والحي والقيوم اسمان عظيمان من أسماء الرب سبحانه وتعالى قد جمع الله سبحانه وتعالى بينهما في ثلاث آيات من كتابه عز وجل الآية الأولى قول الله تعالى: {اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ} أي آية الكرسي. والثانية قوله تعالى في أول سورة آل عمران: {اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ نَزَّلَ عَلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ} والثالثة في سوة طه قوله سبحانه: {وَعَنَتِ الْوُجُوهُ لِلْحَيِّ الْقَيُّومِ وَقَدْ خَابَ مَنْ حَمَلَ ظُلْمًا (111) } . فالله تعالى جمع بينهما في هذه الآيات الثلاث، واسم الحي جاء في آيات أخرى قال تعالى: {وَتَوَكَّلْ عَلَى الْحَيِّ الَّذِي لَا يَمُوتُ} {هُوَ الْحَيُّ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ} . وهذان الاسمان عظيمان من أعظم أسماء الله الحسنى، حتى قال بعض أهل العلم: إنهما اسم الله الأعظم؛ الذي إذا دُعي به أجاب وإذا سئل به أعطى، وجاء هذا في حديث أسماء بنت يزيد أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (في هاتين الآيتين اسم الله الأعظم {وَإِلَهُكُمْ إِلَهٌ وَاحِدٌ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الرَّحْمَنُ الرَّحِيمُ (163) } {الم (1) اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ

الْحَيُّ الْقَيُّومُ (2) } ) والحديث فيه ضعف ولكنه شاهد.

لهذا قال بعض أهل العلم: إنهما اسم الله الأعظم، وما ذاك إلا لأن مدار الأسماء الحسنى كلها تعود إلى هذين الاسمين، وإليها ترجع معانيها. والمؤلِّف رحمه الله قال: حي لا يموت قيوم لا ينام" فصفة الحياة ترجع إليها جميع صفات الأفعال ولا يتخلف عنها إلا لضعف الحياة، والله تعالى له الحياة الكاملة، فجميع صفات الكمال ترجع إليها.

والقيوم الذي لا ينام قيوم يدل على كمال غناه سبحانه وتعالى وكمال دوامه وبقائه، وهو أكمل مِن القديم لأنه يدلُّ على كمال دين الرب، وكمال قوته واقتداره، ودوام ذلك واستمراره أزلا وأبدا.

ويدل على أنه واجب بنفسه، وهو واجب الوجود؛ ولهذا قال الله سبحانه وتعالى: {اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ} جمع بينهما {لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ} ، فنفي السنة والنوم يدل على كمال الحياة والقيومية؛ ولهذا كانت هذه الآية وهي آية الكرسي أعظم آية في القرآن الكريم كما ثبت ذلك في الصحيح، وأن مَن قرأها في ليلة لم يزل عليه من الله حافظ، ولا يقربه شيطان حتى يصبح. {اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ} … إلى آخِر الآية.

وما ذاك إلا لأن هذين الاسمين الحي والقيوم يتضمنان صفات الكمال أكمل تضمُّن وأصدقه. فإلى الحياة ترجع جميع صفات الأفعال، والقيوم هو كامل الغِنى والقدرة الذي لا يحتاج إلى أحد، الغني الذي لا يحتاج إلى أحد بوجه من الوجوه، القائم بنفسه المقيم لغيره سبحانه وتعالى.

فتضمن هذان الاسمان جميع الأسماء الحسنى أكمل تضمن وأفضله وكان النبي صلى الله عليه وسلم كثيرا ما يدعو، كثيرا ما يتوسل إلى الله بهذين الاسمين، يا حي يا قيوم، يا حي يا قيوم؛ فهما اسمان عظيمان ثابتان لله عز وجل متضمنان لصفة الحياة، الحي متضمن لصفة الحياة، والقيوم متضمن لصفة القيومية، ويعبّد: عبد الحي وعبد القيوم. نعم.
তিনি চিরঞ্জীব, যার মৃত্যু নেই; তিনি সর্বসত্তার ধারক, যার নিদ্রা নেই।

--------------------------------------------

পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং যারা তাঁর হেদায়েতের অনুসরণ করে তাদের ওপর। অতঃপর:

গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ)-এর উক্তি: "তিনি চিরঞ্জীব, যার মৃত্যু নেই; তিনি সর্বসত্তার ধারক, যার নিদ্রা নেই" - এখানে মহান রবের জন্য এই দুটি নাম অর্থাৎ 'চিরঞ্জীব' (আল-হাই) এবং 'সর্বসত্তার ধারক' (আল-কাইয়ুম) সাব্যস্ত করা হয়েছে। এই নাম দুটি 'হায়াত' (জীবন) এবং 'কাইয়ুমিয়াহ' (সবার ধারক হওয়া) গুণকে অন্তর্ভুক্ত করে। 'চিরঞ্জীব' মহান আল্লাহর নামসমূহের একটি এবং 'সর্বসত্তার ধারক' অপর একটি নাম।

'চিরঞ্জীব' নামটি জীবন গুণের ধারক এবং 'সর্বসত্তার ধারক' নামটি সবার ধারক হওয়ার গুণের ধারক। কেননা মহান আল্লাহর নামসমূহ অর্থবহ শব্দ থেকে উদ্ভূত, এগুলো অর্থহীন বা প্রাণহীন নয়। আল্লাহর প্রতিটি নামই একটি গুণের ওপর নির্দেশ করে; 'পরম করুণাময়' (আর-রহমান) দয়া গুণের ওপর নির্দেশ করে, 'ক্ষমতাবান' (আল-কাদির) ক্ষমতা গুণের ওপর নির্দেশ করে, 'সর্বজ্ঞ' (আল-আলিম) জ্ঞান গুণের ওপর নির্দেশ করে। তদ্রূপ 'চিরঞ্জীব' জীবন গুণের ওপর এবং 'সর্বসত্তার ধারক' সবার ধারক হওয়ার গুণের ওপর নির্দেশ করে; কারণ আল্লাহর নামসমূহ অর্থবহ এবং অর্থসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে। 'চিরঞ্জীব' ও 'সর্বসত্তার ধারক' মহান রবের নামসমূহের মধ্যে অত্যন্ত মহিমান্বিত দুটি নাম। আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবের তিনটি আয়াতে এই দুটি নামকে একত্রে উল্লেখ করেছেন। প্রথমটি হলো আল্লাহর বাণী: {আল্লাহ, তিনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক। তাকে তন্দ্রা ও নিদ্রা স্পর্শ করে না} অর্থাৎ আয়াতুল কুরসি। দ্বিতীয়টি হলো সূরা আল-ইমরানের শুরুতে মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহ, তিনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক। তিনি আপনার প্রতি সত্যসহ কিতাব অবতীর্ণ করেছেন} এবং তৃতীয়টি সূরা ত্বহা-তে মহান আল্লাহর বাণী: {চিরঞ্জীব ও সর্বসত্তার ধারকের সামনে সকল মুখমণ্ডল অবনত হবে। আর সে ব্যর্থ হবে যে জুলুম বহন করবে (১১১)}। আল্লাহ তাআলা এই তিনটি আয়াতে নাম দুটিকে একত্রে উল্লেখ করেছেন। আর 'চিরঞ্জীব' নামটি অন্যান্য আয়াতেও এসেছে। আল্লাহ বলেন: {আর আপনি সেই চিরঞ্জীবের ওপর ভরসা করুন যার মৃত্যু নেই} {তিনিই চিরঞ্জীব, তিনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই}। এই নাম দুটি আল্লাহর সুন্দরতম নামসমূহের মধ্যে অন্যতম মহান নাম। এমনকি কোনো কোনো আলেম বলেছেন: এ দুটিই হলো আল্লাহর 'ইসমে আজম' (সবচেয়ে বড় নাম); যা দিয়ে ডাকলে তিনি সাড়া দেন এবং যা দিয়ে প্রার্থনা করলে তিনি দান করেন। আসমা বিনতে ইয়াজিদ থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: (এই দুটি আয়াতের মধ্যে আল্লাহর ইসমে আজম রয়েছে: {আর তোমাদের উপাস্য এক উপাস্য, তিনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, তিনি পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু (১৬৩)} {আলিফ লাম মীম (১) আল্লাহ, তিনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই,

তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক (২)})। হাদিসটিতে কিছুটা দুর্বলতা থাকলেও এটি সমর্থক হিসেবে গণ্য।

এই কারণেই অনেক আলেম বলেছেন যে, এ দুটিই আল্লাহর ইসমে আজম। এর কারণ হলো আল্লাহর সমস্ত সুন্দর নামের কেন্দ্রবিন্দু এই দুটি নামেই গিয়ে শেষ হয় এবং এগুলোর অর্থসমূহ এই দুটি নামের দিকেই ফিরে আসে। গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "চিরঞ্জীব যার মৃত্যু নেই, সর্বসত্তার ধারক যার নিদ্রা নেই।" জীবনের গুণের দিকেই সমস্ত কর্মবাচক গুণাবলী প্রত্যাবর্তন করে, আর জীবনের দুর্বলতা ছাড়া কোনো গুণই তা থেকে বিচ্ছিন্ন হয় না। আল্লাহ তাআলার জন্য রয়েছে পূর্ণাঙ্গ জীবন, তাই সমস্ত পূর্ণতার গুণাবলী জীবনের দিকেই ফিরে আসে।

আর 'সর্বসত্তার ধারক' যিনি ঘুমান না, তা মহান আল্লাহর অভাবহীনতার পূর্ণতা এবং তাঁর চিরস্থায়িত্ব ও অমরত্বের ওপর নির্দেশ করে। এটি 'অনাদি' (আল-কাদিম) শব্দের চেয়েও বেশি পূর্ণাঙ্গ; কারণ এটি রবের সার্বভৌমত্বের পূর্ণতা, তাঁর শক্তি ও ক্ষমতার পূর্ণতা এবং অনাদি ও অনন্তকাল ধরে এর স্থায়িত্বের ওপর নির্দেশ করে।

এটি আরও নির্দেশ করে যে, তিনি স্বয়ম্ভূ এবং স্বয়ং অস্তিত্বশীল। এই কারণেই আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আল্লাহ, তিনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক}। তিনি এই দুই নামকে একত্র করেছেন এবং বলেছেন {তাকে তন্দ্রা ও নিদ্রা স্পর্শ করে না}। সুতরাং তন্দ্রা ও নিদ্রাকে অস্বীকার করা তাঁর জীবন ও কাইয়ুমিয়াহ বা সবার ধারক হওয়ার পূর্ণতার ওপর প্রমাণ বহন করে। এই কারণেই আয়াতুল কুরসি হলো পবিত্র কুরআনের শ্রেষ্ঠ আয়াত, যেমনটি সহিহ হাদিসে প্রমাণিত হয়েছে। যে ব্যক্তি রাতে এটি পাঠ করবে, আল্লাহর পক্ষ থেকে তার জন্য একজন রক্ষক নিয়োজিত থাকবে এবং সকাল হওয়া পর্যন্ত শয়তান তার কাছে ভিড়তে পারবে না। {আল্লাহ, তিনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক। তাকে তন্দ্রা ও নিদ্রা স্পর্শ করে না} … আয়াতের শেষ পর্যন্ত।

এর কারণ হলো, 'চিরঞ্জীব' এবং 'সর্বসত্তার ধারক' এই নাম দুটি পূর্ণতার গুণাবলীকে অত্যন্ত নিখুঁত ও সত্যনিষ্ঠভাবে অন্তর্ভুক্ত করে। জীবনের দিকেই সমস্ত কর্মবাচক গুণাবলী ফিরে আসে। আর 'সর্বসত্তার ধারক' হলেন তিনি, যিনি অভাবহীনতা ও ক্ষমতায় পূর্ণাঙ্গ, যাঁর কারো মুখাপেক্ষী হওয়ার প্রয়োজন নেই। তিনি এমন অভাবমুক্ত সত্তা যিনি কোনোভাবেই কারো মুখাপেক্ষী নন, যিনি স্বয়ং প্রতিষ্ঠিত এবং অন্যদের প্রতিষ্ঠাকারী।

এই নাম দুটি সমস্ত সুন্দরতম নামকে অত্যন্ত নিপুণভাবে ধারণ করে। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রায়শই এই নাম দুটির মাধ্যমে আল্লাহর নিকট দোয়া ও অসিলা করতেন: হে চিরঞ্জীব, হে সর্বসত্তার ধারক; হে চিরঞ্জীব, হে সর্বসত্তার ধারক। সুতরাং এই নাম দুটি মহান আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত দুটি সুমহান নাম যা জীবন গুণের অন্তর্ভুক্ত। 'চিরঞ্জীব' নাম জীবন গুণের ধারক এবং 'সর্বসত্তার ধারক' নাম সবার ধারক হওয়ার গুণের ধারক। মানুষের নাম রাখা যায়: আব্দুল হাই এবং আব্দুল কাইয়ুম। হ্যাঁ।
(খণ্ড: ১) শারহুল আক্বীদাহ আত-ত্বহাবীইয়াহ - আব্দুল আযীয আল-রাজহী (পৃষ্ঠা: ২৯)
خَالِقٌ بِلَا حَاجَةٍ، رَازِقٌ بِلَا مُؤْنَةٍ.

--------------------------------------------

وهذان أيضا اسمان من أسماء الرب، وهما الخالق والرازق، فمن أسمائه الخالق، ومن أسمائه الرازق، هو خالق بلا حاجة إلى أحد؛ لأنه كامل لا يحتاج إلى أحد سبحانه وتعالى.

وهو الغني عن كل ما سواه. رازق بلا مئونة أي بلا ثقل وكلفة ومشقة، والأدلة على ذلك كثيرة قال الله تعالى، {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ (56) مَا أُرِيدُ مِنْهُمْ مِنْ رِزْقٍ وَمَا أُرِيدُ أَنْ يُطْعِمُونِ (57) إِنَّ اللَّهَ هُوَ الرَّزَّاقُ ذو الْقُوَّةِ الْمَتِينُ (58) } .

وقال سبحانه: {* يَا أَيُّهَا النَّاسُ أَنْتُمُ الْفُقَرَاءُ إِلَى اللَّهِ وَاللَّهُ هُوَ الْغَنِيُّ الْحَمِيدُ (15) إِنْ يَشَأْ يُذْهِبْكُمْ وَيَأْتِ بِخَلْقٍ جَدِيدٍ (16) وَمَا ذَلِكَ عَلَى اللَّهِ بِعَزِيزٍ (17) } وقال سبحانه: {وَاللَّهُ الْغَنِيُّ وَأَنْتُمُ الْفُقَرَاءُ} وقال سبحانه: {قُلْ أَغَيْرَ اللَّهِ أَتَّخِذُ وَلِيًّا فَاطِرِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَهُوَ يُطْعِمُ وَلَا يُطْعَمُ} . وثبت في صحيح مسلم من حديث أبي ذرٍّ رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال في الحديث الطويل: (يا عبادي لو أن أولكم وآخركم وإنسكم وجنكم كانوا على أتقى قلب رجل واحد منكم ما زاد ذلك في ملكي شيئا، يا عبادي لو أن أولكم وآخركم وإنسكم وجنكم كانوا على أفجر قلب رجل واحد ما نقص ذلك من ملكي شيئا، يا عبادي لو أن أولكم وآخركم وإنسكم وجنكم قاموا في صعيد واحد فسألوني فأعطيت كل واحد مسألته ما نقص ذلك مما عندي إلا كما ينقص المخيط إذا أدخل البحر) أو كما قال عليه الصلاة والسلام.

وهو حديث قدسي من كلام الله عز وجل لفظا ومعنى. فهو سبحانه رازق عباده وهو خالقهم سبحانه وتعالى من غير حاجة لا يحتاج إلى أحد، وهو رازقهم بلا مشقة، ولا كلفة؛ لأنه كامل؛ ولأنه على كل شيء قدير سبحانه وتعالى. نعم.
তিনি কোনো প্রয়োজন ছাড়াই স্রষ্টা, কোনো প্রকার খরচ ছাড়াই রিযিকদাতা।

--------------------------------------------

এই দুটিও রবের নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত, আর সেগুলো হলো আল-খালিক (স্রষ্টা) এবং আর-রাযযাক (রিযিকদাতা)। সুতরাং তাঁর নামসমূহের মধ্যে আল-খালিক রয়েছে এবং তাঁর নামসমূহের মধ্যে আর-রাযযাক রয়েছে। তিনি কারোর প্রতি কোনো প্রকার প্রয়োজন ছাড়াই স্রষ্টা; কারণ তিনি পূর্ণাঙ্গ, তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন, তিনি পবিত্র ও মহান।

তিনি তাঁর সৃষ্টি জগতের সবকিছু থেকে অমুখাপেক্ষী। কোনো ব্যয় বা ক্লেশ ছাড়াই তিনি রিযিকদাতা, অর্থাৎ কোনো ভারী কাজ, খরচ বা কষ্ট ছাড়াই। এর সপক্ষে দলীল অনেক। আল্লাহ তায়ালা বলেন, {আর আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছি (৫৬) আমি তাদের কাছে কোনো রিযিক চাই না এবং আমি চাই না যে তারা আমাকে আহার করাবে (৫৭) নিশ্চয়ই আল্লাহই রিযিকদাতা, প্রবল শক্তিশালী ও পরাক্রমশালী (৫৮)}।

তিনি পবিত্র ও মহান আরও বলেন: {হে মানুষ, তোমরা আল্লাহর প্রতি মুখাপেক্ষী; আর আল্লাহ, তিনিই অভাবমুক্ত ও প্রশংসিত (১৫) তিনি চাইলে তোমাদের বিলুপ্ত করে দেবেন এবং নতুন সৃষ্টি নিয়ে আসবেন (১৬) আর আল্লাহর জন্য এটা মোটেই কঠিন নয় (১৭)}। তিনি আরও বলেন: {আর আল্লাহ অভাবমুক্ত এবং তোমরা অভাবী}। তিনি আরও বলেন: {বলুন, আমি কি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর স্রষ্টা আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করব? অথচ তিনিই আহার দান করেন এবং তাঁকে আহার করানো হয় না}। আর সহীহ মুসলিমে আবু যর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দীর্ঘ হাদীসে বলেছেন: (হে আমার বান্দাগণ, যদি তোমাদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী এবং তোমাদের মানুষ ও জিনেরা সবাই তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে মুত্তাকী ব্যক্তির হৃদয়ের মতো হয়ে যায়, তবে তা আমার রাজত্বে বিন্দুমাত্র বৃদ্ধি করবে না। হে আমার বান্দাগণ, যদি তোমাদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী এবং তোমাদের মানুষ ও জিনেরা সবাই তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে পাপাচারী ব্যক্তির হৃদয়ের মতো হয়ে যায়, তবে তা আমার রাজত্ব থেকে বিন্দুমাত্র কমাবে না। হে আমার বান্দাগণ, যদি তোমাদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী এবং তোমাদের মানুষ ও জিনেরা সবাই এক ময়দানে দাঁড়িয়ে আমার কাছে চায় এবং আমি প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার যা প্রার্থনা তা দান করি, তবে তা আমার নিকট যা আছে তা থেকে ততটুকুই কমাবে যতটুকু সমুদ্রের মধ্যে সূঁচ ডুবালে তা কমিয়ে থাকে) অথবা নবী (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) যেমনটি বলেছেন।

এটি একটি হাদীসে কুদসী যা শব্দ ও অর্থগতভাবে আল্লাহ তায়ালার কালাম। সুতরাং তিনি পবিত্র ও মহান তাঁর বান্দাদের রিযিকদাতা এবং তিনি তাঁদের স্রষ্টা, তিনি কোনো প্রয়োজন ছাড়াই কারো মুখাপেক্ষী নন। তিনি কোনো কষ্ট ও ক্লান্তি ছাড়াই তাঁদের রিযিকদাতা; কারণ তিনি পূর্ণাঙ্গ এবং তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান, তিনি পবিত্র ও মহান। হ্যাঁ।