(খণ্ড: ১)
তাজুত তারাজিম ফী তাবাকাতিল হানাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
تاج التراجم في طبقات الحنفية القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: تاج التراجم
المؤلف: أبو الفداء زين الدين قاسم بن قُطلُوبُغا السودوني [الحنفي] (ت 879 هـ)
حققه وقدم له: محمد خير رمضان يوسف
الناشر: دار القلم - دمشق
الطبعة: الأولى، 1413 هـ -1992 م
عدد الصفحات: 367
[تنبيه]: رأس كل ترجمة بين [مقعوفين] المشتمل على رقمها وشُهرة المترجَم ليس من كلام المؤلف، وإنما هو من صُنع المحقق كما نَبّه عليه ص 43 - 44
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 3 محرم 1433
হানাফি ফকিহদের স্তর বিষয়ক গ্রন্থ: তাজুত তারাজিম বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ
গ্রন্থ: তাজুত তারাজিম
লেখক: আবু আল-ফিদা জয়নুদ্দীন কাসিম বিন কুতলুবুগা আস-সুদুনী [হানাফী] (মৃত্যু ৮৭৯ হিজরী)
সম্পাদনা ও ভূমিকা: মুহাম্মদ খায়র রমজান ইউসুফ
প্রকাশক: দারুল কলম - দামেস্ক
সংস্করণ: প্রথম، ১৪১৩ হিজরী - ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৬৭
[সতর্কতা]: প্রতিটি জীবনীর শুরুতে [বন্ধনী]-র মধ্যস্থিত অংশ, যাতে জীবনী নম্বর ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রসিদ্ধি উল্লেখ রয়েছে, তা লেখকের বক্তব্য নয়، বরং এটি সম্পাদকের কাজ যেমনটি তিনি ৪৩ - ৪৪ পৃষ্ঠায় সতর্ক করেছেন।
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৩ মহররম ১৪৩৩
(খণ্ড: ১)
তাজুত তারাজিম ফী তাবাকাতিল হানাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
تَاجُ التَّرَاجِمِ
تأليف
أَبُو الْفِدَاءِ زَيْنُ الدِّيْنِ قَاسِم بْنُ قُطْلُوْبَغَا السُّوْدُوْنِي
(802 - 879هـ)
تحقيق
محمد خير رمضان يوسف
তাজুত তারাজিম
রচনা
আবুল ফিদা যাইনুদ্দিন কাসিম বিন কুতলুবুগা আস-সুদুনি
(৮০২ - ৮৭৯ হিজরি)
তাহকিক
মুহাম্মদ খায়র রামাদান ইউসুফ
(খণ্ড: ১)
তাজুত তারাজিম ফী তাবাকাতিল হানাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
ترجمة المؤلف [
من الضوء اللامع للسخاوي]قاسم بن قطلوبغا الزين وربما لقب الشرف أبو العدل السودوني نسبة لمعتق أبيه سودون الشيخوني نائب السلطنة الجمالي الحنفي الآتي أبوه ويعرف بقاسم الحنفي. ولد فيما قاله لي في المحرم سنة اثنتين وثمانمائة بالقاهرة، ومات أبوه وهو صغير فنشأ يتيماً وحفظ القرآن وكتباً عرض بعضها على العز بن جماعة، وتكسب بالخياطة وقتاً وبرع فيها بحيث كان فيما بلغني يخيط بالأسود في البغدادي فلا يظهر، ثم أقبل على الاشتغال فسمع تجويد القرآن على الزراتيتي وبعض التفسير على العلاء البخاري وأخذ علوم الحديث عن التاج أحمد الفرغاني النعماني قاضي بغداد وشيخنا والفقه عن أولى الثلاثة والسراج قاري الهداية والمجد الرومي والنظام السيرامي والعز عبد السلام البغدادي وعبد اللطيف الكرماني وأصوله عن العلاء والسراج والشرف السبكي وأصول الدين عن العلاء والبساطي، وكذا قرأ على السعد بن الديري في سنة اثنتين وثلاثين شرحه لعقائد النسفي والفرائض والميقات عن ناصر الدين البارنباري وغيره واستمد فيها وفي الحساب كثيراً بالسيد على تلميذ ابن المجدي والعربية عن العلاء والتاج والمجد والسبكي المذكورين والصرف عن البساطي والمعاني والبيان عن العلاء والنظام والبساطي والمنطق عن السبكي وبعضهم في الأخذ عنه أكثر من بعض، واشتدت عنايته بملازمة ابن الهمام بحيث سمع عليه غالب ما كان يقرأ عنده في هذه الفنون وغيرها وذلك من سنة خمس وعشرين حتى مات وكان معظم انتفاعه به ومما قرأه عليه الربع الأول من شرحه للهداية وقطعة من توضيح صدر الشريعة وجميع المسايرة من تأليفه، وطلب الحديث بنفسه يسيراً فسمع على شيخنا وابن الجزري والشهاب الواسطي والزين الزركشي والشمس بن المصري والبدر حسين البوصيري وناصر الدين الفاقوسي والتاج الشرابيشي والتقي المقريزي وعائشة الحنبلية والطبقة، وارتحل قديماً مع شيخه التاج النعماني إلى الشام بحيث أخذ عنه جامع مسانيد أبي حنيفة للخوارزمي وعلوم الحديث لابن الصلاح وغيرهما، وأجاز له في سنة ثلاث وعشرين وكذا دخل إسكندرية وقرأ بها على الكمال بن خير وقاسم التروجي كما قاله لي، وحج غير مرة وزار بيت المقدس وقال أنه شملته الإجازة من أهل الشام وإسكندرية وغيرهما، وأحسبه يكنى بذلك عن الإجازة العامة فقد رأيته يروي عمن أجاز في سنة ست عشرة وما كان له من يعتني باستجازة أهل ذاك العصر خصوصاً الغرباء له؛ ونظر في كتب الأدب ودواوين الشعر فحفظ منها شيئاً كثيراً وعرف بقوة الحافظة والذكاء وأشير إليه بالعلم، وأذن له غير واحد بالإفتاء والتدريس، ووصفه ابن الديري بالشيخ العالم الذكي؛ وشيخنا بالإمام العلامة المحدث الفقيه الحافظ وقبل ذلك في سنة خمس وثلاثين إذ قرأ عليه تصنيفه الإيثار بمعرفة رواة الآثار بالشيخ الفاضل المحدث الكامل الأوحد وقال: قراءة علي وتحريراً فأفاد ونبه على مواضع ألحقت في هذا الأصل فزادته نوراً؛ وهو المعني بقوله في خطبة الكتاب: إن بعض الإخوان التمس مني فأجبته إلى ذلك مسارعاً ووقفت عند ما اقترح طائعاً، وترجمه الزين رضوان في بعض مجاميعه بقوله من حذاق الحنفية كتب الفوائد واستفاد وأفاد انتهى.
লেখকের জীবনী [সাখাভী রচিত আল-দউ আল-লামি' থেকে]কাসিম বিন কুতলুবুগা আল-যাইন, সম্ভবত আল-শারাফ আবু আল-আদল আল-সুদুনি উপাধিতেও পরিচিত, যা তাঁর পিতার মুক্তকারী সুদুন আল-শাইখুনী (সুলতানাতের নায়েব আল-জামালি আল-হানাফি)—যার পিতার বিবরণ পরে আসবে—এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত এবং তিনি কাসিম আল-হানাফি নামে পরিচিত। তিনি আমাকে যা বলেছেন সেই অনুযায়ী, তিনি কায়রোতে ৮০২ হিজরী সনের মহররম মাসে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবেই তাঁর পিতা মারা যান, ফলে তিনি এতিম হিসেবে বেড়ে ওঠেন। তিনি কুরআন হিফজ করেন এবং বেশ কিছু কিতাব পাঠ করেন যার কিছু অংশ ইজ্জ বিন জামাআতের নিকট পেশ করেন। একসময় তিনি দর্জিগিরি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন এবং তাতে এমন দক্ষতা অর্জন করেন যে, আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে, তিনি বাগদাদী কাপড়ের ওপর কালো সুতা দিয়ে এমনভাবে সেলাই করতেন যা দেখা যেত না। তারপর তিনি জ্ঞানার্জনে মনোনিবেশ করেন। তিনি যারাতীতির নিকট কুরআনের তাজবীদ শ্রবণ করেন এবং আলা আল-বুখারীর নিকট তাফসীরের কিছু অংশ পাঠ করেন। তিনি বাগদাদের কাজী তাজ আহমদ আল-ফারগানী আল-নুমানী এবং আমাদের শাইখের নিকট হাদিস শাস্ত্র গ্রহণ করেন। আর প্রথমোক্ত তিন ব্যক্তি এবং সিরাজ (কারী আল-হিদায়াহ), মাজদ আল-রুমি, নিযাম আল-সিরামি, ইজ্জ আবদুস সালাম আল-বাগদাদি এবং আব্দুল লতিফ আল-কিরমানীর নিকট ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। উসুল আল-ফিকহ শেখেন আলা, সিরাজ এবং শারাফ আল-সুবকীর নিকট। উসুল আদ-দীন শেখেন আলা ও বিসাতির নিকট। অনুরূপভাবে তিনি ৮৩২ হিজরী সনে সা'দ ইবনুল দাইরীর নিকট তাঁর লিখিত শারহুল আকাইদুন নাসাফিয়্যাহ পাঠ করেন। ফারায়েজ ও মিকাত শাস্ত্র শেখেন নাসিরুদ্দিন আল-বারানবারী ও অন্যদের নিকট। গণিত ও মিকাত শাস্ত্রে তিনি ইবনুল মাজদীর ছাত্র সাইয়্যেদ আলীর নিকট থেকে প্রচুর উপকৃত হন। আরবি ভাষা শেখেন উল্লিখিত আলা, তাজ, মাজদ ও সুবকীর নিকট। সারফ শেখেন বিসাতির নিকট। আল-মা'আনী ও আল-বায়ান শেখেন আলা, নিযাম ও বিসাতির নিকট। মানতিক শেখেন সুবকীর নিকট। এদের কারো কারো নিকট থেকে তিনি অন্যদের তুলনায় অধিক গ্রহণ করেছেন। তিনি ইবনুল হুমামের সান্নিধ্যে থাকার প্রতি অত্যন্ত মনোযোগী ছিলেন, এমনকি ৮২৫ হিজরী থেকে ইবনুল হুমামের মৃত্যু পর্যন্ত তাঁর নিকট পঠিত এই সকল শাস্ত্র ও অন্যান্য বিষয়ের অধিকাংশ তিনি শ্রবণ করেন। তাঁর প্রধান উপকার ইবনুল হুমামের মাধ্যমেই হয়েছিল। তাঁর নিকট তিনি ইবনুল হুমামের শারহুল হিদায়াহর প্রথম চতুর্থাংশ, সাদরুশ শারীয়াহর তাওযীহ-এর একটি অংশ এবং ইবনুল হুমামের রচিত পূর্ণাঙ্গ আল-মুসায়ারাহ পাঠ করেন। তিনি ব্যক্তিগতভাবে হাদিস অনুসন্ধানে কিছুটা প্রয়াস চালান এবং আমাদের শাইখ, ইবনুল জাযারি, শিহাব আল-ওয়াসিতি, যাইন আল-যারকাশি, শামস ইবনুল মিসরি, বদর হুসাইন আল-বুসিরি, নাসিরুদ্দিন আল-ফাকুসি, তাজ আল-শরাবিশি, তকি আল-মাকরিজি, আয়েশা আল-হাম্বলিয়া এবং সমসাময়িক ব্যক্তিবর্গের নিকট হাদিস শ্রবণ করেন। তিনি অনেক আগে তাঁর উস্তাদ তাজ আল-নুমানীর সাথে শামে সফর করেন এবং তাঁর নিকট খাওয়ারেজমী সংকলিত জামিউ মাসানিদিল ইমাম আবি হানিফাহ এবং ইবনুস সালাহ-এর উলুমুল হাদিস ও অন্যান্য কিতাব গ্রহণ করেন। তিনি তাঁকে ৮২৩ হিজরীতে ইজাজত প্রদান করেন। তিনি আমাকে যেমনটি বলেছেন, তিনি আলেকজান্দ্রিয়ায় প্রবেশ করেন এবং সেখানে কামাল ইবনুল খায়ের ও কাসিম আল-তারুজীর নিকট পাঠ গ্রহণ করেন। তিনি একাধিকবার হজ পালন করেন এবং বায়তুল মাকদিস যিয়ারত করেন। তিনি বলেন যে, তিনি শাম, আলেকজান্দ্রিয়া ও অন্যান্য অঞ্চলের আলেমদের সাধারণ ইজাজতের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। আমার ধারণা, তিনি এর দ্বারা সাধারণ ইজাজতকেই বুঝিয়েছেন, কারণ আমি তাঁকে ৮১৬ হিজরীতে ইজাজত প্রদানকারীদের সূত্রে বর্ণনা করতে দেখেছি। আর তখন তাঁর জন্য এমন কেউ ছিল না যে তাঁর পক্ষে সেই যুগের আলেমদের থেকে, বিশেষ করে যারা তাঁর জন্য অপরিচিত ছিলেন, তাদের নিকট থেকে ইজাজত গ্রহণের ব্যাপারে যত্নবান হবে। তিনি সাহিত্য ও কাব্যগ্রন্থসমূহ পর্যালোনা করতেন এবং তার অনেক কিছুই মুখস্থ করেছিলেন। তিনি প্রখর স্মৃতিশক্তি ও মেধার জন্য পরিচিত ছিলেন এবং ইলমের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন বিশিষ্ট। একাধিক আলেম তাঁকে ফতোয়া ও পাঠদানের অনুমতি প্রদান করেছেন। ইবনুল দাইরী তাঁকে 'শেখ, আলেম ও মেধাবী' বলে অভিহিত করেছেন। আমাদের শাইখ তাঁকে 'ইমাম, আল্লামা, মুহাদ্দিস, ফকিহ এবং হাফেজ' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এর আগে ৮৩৫ হিজরীতে যখন তিনি তাঁর কিতাব 'আল-ঈসার বি-মা'রিফাতি রুওয়াতিল আসার' পাঠ করেন, তখন তিনি তাঁকে 'ফাযেল শাইখ, পূর্ণাঙ্গ ও অদ্বিতীয় মুহাদ্দিস' হিসেবে অভিহিত করেন এবং বলেন: 'আমার নিকট পাঠ ও সম্পাদনার সময় তিনি অনেক উপকার করেছেন এবং এমন কিছু বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন যা এই মূল পাণ্ডুলিপিতে যুক্ত হওয়ায় এর জৌলুস বৃদ্ধি পেয়েছে'। কিতাবের ভূমিকায় তাঁর উদ্দেশ্যই ছিল এই কথাটি: 'নিশ্চয়ই জনৈক ভাই আমার কাছে অনুরোধ করেছিলেন, তাই আমি দ্রুত তাতে সাড়া দিয়েছি এবং আনন্দের সাথে তাঁর প্রস্তাব অনুযায়ী কাজ করেছি'। যাইন রিদওয়ান তাঁর কিছু সংকলনে তাঁর জীবনী উল্লেখ করে বলেছেন, তিনি হানাফী মাযহাবের অত্যন্ত দক্ষ আলেমদের অন্তর্ভুক্ত, তিনি ফায়েদাহসমূহ লিপিবদ্ধ করেছেন, নিজে উপকৃত হয়েছেন এবং অন্যকেও উপকৃত করেছেন। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১)
তাজুত তারাজিম ফী তাবাকাতিল হানাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
وتصدى للتدريس والإفتاء قديماً وأخذ عنه الفضلاء في فنون كثيرة وأسمع من لفظه جامع مسانيد أبي حنيفة المشار إليه بمجلس الناصري ابن الظاهر جقمق بروايته له عن التاج النعماني عن محيي الدين أبي الحسن حيدرة بن أبي الفضائل محمد بن يحيى العباسي مدرس المستنصرية ببغداد سماعاً عن صالح بن عبد الله بن الصباغ عن أبي المؤيد محمد بن محمود بن محمد الخوارزمي مؤلفه وكان الناصري ممن أخذ عنه واختص بصحبته بل هو فقيه أخيه الملقب بعد بالمنصور وكذا قرئ الجامع المذكور ببيت المحب بن الشحنة وسمعه عليه هو وغيره وحمله الناس عنه قديماً وحديثاً، وممن كتب عنه من نظمه ونثره البقاعي وبالغ في أذيته فإنه قال: وكان مفنناً في علوم كثيرة الفقه والحديث والأصول وغيرها ولم يخلف بعده حنفياً مثله إلا أنه كان كذاباً لا يتوقف في شيء يقوله فلا يعتمد على قوله، قال: وكان من سنين قوياً في بدنه يمشي جيداً فلما وقعت فتنة ابن الفارض في سنة أربع وسبعين أظهر التعصب لأهل الاتحاد فقال له الشمس السنباطي: أليس في مباهلة ابن حجر لابن الأمين المصري عبرة فقال: إنما كان موت ابن الأمين مصادفة فسلط الله عليه يعني على الزين قاسم عسر البول بعد مدة يسيرة واشتد به حتى خيف موته وعولج حتى صار به سلس بول فقام وقد هرم وكان لا يمشي إلا وذكره في قنينة زجاج واستمر به حتى مات وهو كالفرج انتهى.
তিনি অনেক আগে থেকেই অধ্যাপনা ও ফতোয়া প্রদানের কাজে আত্মনিয়োগ করেন এবং বরেণ্য গুণীজনগণ তাঁর নিকট থেকে বহুবিদ শাস্ত্রে শিক্ষা গ্রহণ করেন। তিনি তাঁর নিজ কণ্ঠে আবু হানিফার ‘জামিউল মাসানিদ’ গ্রন্থটি পাঠ করে শুনিয়েছেন, যা জাহির জাকমাক-এর পুত্র নাসিরির মজলিসে উল্লিখিত হয়েছে। এটি তাঁর সেই বর্ণনা যা তিনি তাজুন নুমানীর সূত্রে লাভ করেছেন; আর তিনি বাগদাদের মুস্তানসিরিয়া মাদরাসার শিক্ষক মুহিউদ্দীন আবুল হাসান হায়দারাহ ইবন আবিল ফাযায়েল মুহাম্মদ ইবন ইয়াহইয়া আল-আব্বাসীর নিকট শ্রবণ করেছেন; তিনি সালিহ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন আস-সাব্বাগের নিকট থেকে এবং তিনি এই গ্রন্থের রচয়িতা আবু মুআইয়িদ মুহাম্মদ ইবন মাহমুদ ইবন মুহাম্মদ আল-খাওয়ারিজমীর নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন। নাসিরি ছিলেন তাঁর নিকট থেকে শিক্ষাগ্রহণকারীদের অন্যতম এবং তাঁর বিশেষ সান্নিধ্যপ্রাপ্ত; বরং তিনি ছিলেন তাঁর ভাইয়ের ফকিহ, যিনি পরবর্তীতে ‘আল-মানসুর’ উপাধিতে ভূষিত হন। অনুরূপভাবে উক্ত ‘জামিউল মাসানিদ’ গ্রন্থটি মুহিব্ব ইবনুন শিহনার বাসভবনেও পাঠ করা হয়েছিল এবং তিনিসহ অন্যরাও তাঁর নিকট এটি শ্রবণ করেছেন। অতীতে এবং বর্তমানে বহু মানুষ তাঁর নিকট থেকে এই বর্ণনা গ্রহণ করেছেন। যারা তাঁর কাব্য ও গদ্য লিপিবদ্ধ করেছেন তাদের মধ্যে আল-বিকাঈ অন্যতম; তবে তিনি তাঁর সমালোচনা ও তাঁকে কষ্ট দেওয়ার ক্ষেত্রে চরম বাড়াবাড়ি করেছেন। তিনি বলেন: ‘তিনি ফিকহ, হাদিস, উসুল ও অন্যান্য বহু শাস্ত্রে সুপণ্ডিত ছিলেন এবং তাঁর পরে তাঁর মতো আর কোনো হানাফি আলেম উত্তরসূরি হিসেবে থাকেননি। তবে তিনি অত্যন্ত মিথ্যাবাদী ছিলেন, কোনো কথা বলার ক্ষেত্রে তিনি কোনো দ্বিধা করতেন না, তাই তাঁর কথার ওপর নির্ভর করা যায় না।’ তিনি আরও বলেন: ‘দীর্ঘদিন যাবৎ তিনি শারীরিকভাবে বেশ শক্তিশালী ছিলেন এবং স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতেন। কিন্তু যখন চয়াত্তর (৮৭৪) হিজরি সালে ইবনুল ফারিদকে কেন্দ্র করে ফিতনা শুরু হলো, তখন তিনি অদ্বৈতবাদীদের (আহলুল ইত্তিহাদ) প্রতি পক্ষপাতিত্ব প্রদর্শন করেন। তখন শামস আস-সুনবাতি তাঁকে বলেছিলেন: ইবনে হাজারের সাথে ইবনুল আমিন আল-মিসরীর মুবাহালার ঘটনায় কি কোনো শিক্ষা নেই? উত্তরে তিনি বলেছিলেন: ইবনুল আমিনের মৃত্যু ছিল নিছক একটি কাকতালীয় ঘটনা মাত্র। এরপর অল্প কিছুকাল পরেই আল্লাহ তাঁর ওপর—অর্থাৎ যয়নুদ্দীন কাসেমের ওপর—মূত্রকষ্টের ব্যাধি চাপিয়ে দিলেন এবং তা এতোই প্রবল হলো যে তাঁর জীবনের আশঙ্কা দেখা দিল। চিকিৎসা করার পর তা অনিয়ন্ত্রিত মূত্রপাতের রোগে রূপ নিল। এমতাবস্থায় তিনি বার্ধক্যে উপনীত হলেন এবং কাঁচের পাত্র সাথে রাখা ব্যতীত চলাফেরা করতে পারতেন না। মৃত্যু পর্যন্ত তাঁর এই অবস্থা স্থায়ী ছিল এবং শেষ সময়ে তিনি অত্যন্ত জীর্ণ ও দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন।’ সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১)
তাজুত তারাজিম ফী তাবাকাতিল হানাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
وأقبل على التأليف كما حكاه لي من سنة عشرين وهلم جرا، ومما صنفه في هذا الشأن شرح قصيدة ابن فرح في الإصلاح وقال أنه بحث فيه مع العز بن جماعة وشرح منظومة ابن الجزري وقال أنه جمع فيه من كل نوع حتى صار في مجلدين يعني وخرج عن أن يكون شرحاً لهذا النظم المختصر ولكنه لم يكمل وكان يقول أنه زردخانتي إشارة إلى أنه جمع فيه كل ما عنده، وحاشية على كل من شرح ألفية العراقي والنخبة وشرحها لشيخنا وتخريج عوارف المعارف للسروردي وأحاديث كل من الاختيار شرح المختار في مجلدين والبزدوي في أصول الفقه وتفسير أبي الليث ومنهاج الأربعين والأربعين في أصول الدين وجواهر القرآن وبداية الهداية أربعتها للغزالي والشفا وكتب منه أوراقاً وإتحاف الأحياء بما فات من تخريج أحاديث الأحياء ومنية الألمعي بما فات الزيلعي وبغية الرائد في تخريج أحاديث شرح العقائد ونزهة الرائض في أدلة الفرائض وترتيب مسند أبي حنيفة لابن المقري وتبويب مسنده للحارثي والأمالي على مسند عقبة بن عامر الصحابي نزيل مصر وعوالي كل من الليث والطحاوي وتعليق مسند الفردوس كله مقفص والذي خرجه منه قليل جداً ورجال كل من الطحاوي في مجلد والموطأ لمحمد بن الحسن والآثار له ومسند أبي حنيفة لابن المقري وترتيب كل من الإرشاد للخليلي في مجلد والتمييز للجوزقاني في مجلد وأسئلة الحاكم للدارقطني ومن روى عن أبيه عن جده في مجلد والاهتمام الكلي بأصلاح ثقات العجلي في مجلد وزوائد رجال كل من الموطأ ومسند الشافعي وسنن الدارقطني على الستة والثقات ممن لم يقع في الكتب الستة في أربع مجلدات وتقويم اللسان في الضعفاء في مجلدين وفضول اللسان وحاشية على كل من المشتبه والتقريب كلاهما لشيخنا والأجوبة عن اعتراض ابن أبي شيبة على أبي حنيفة في الحديث وتبصرة الناقد في كيد الحاسد في الدفع عن أبي حنيفة وترصيع الجوهر النقي كتب منه إلى أثناء التيمم وتلخيص صورة مغلطاي وتلخيص دولة الترك ومنتقى من درر الأسلاك في قضاة مصر وقال أنه لم يتم وتاج التراجم فيمن صنف من الحنفية وتراجم مشايخ المشايخ في مجلد وتراجم مشايخ شيوخ العصر وقال أنه لم يتم ومعجم شيوخه ومجلد من شرح المصابيح للبغوي ومنها في غيره شروح لعدة كتب من فقه مذهبه وهي القدوري تقيد فيه بكونه من رواية أبي حنيفة وأبي يوسف ومحمد بن الحسن والطحاوي والكرخي والنقاية، وكان شيخنا الشمني يذاكر أنه سلخ فيه شرحه لها ولذا أعرض التقي عن شرحه المسلوخ منه وابتكر شرحاً آخر لم يفرغ منه إلا قبيل موته ومختصر المنار ومختصر المختصر ودرر البحار في المذاهب الأربعة وهو في تصنيفين قال أن المطول منهما لم يتم وأجوبة عن اعتراضات ابن العز على الهداية وأفرد عدة مسائل وهي البسملة ورفع اليدين والأسوس في كيفية الجلوس والفوائد الجلة في اشتباه القبلة والنجدات في السهو عن السجدات ورفع الاشتباه عن مسألة المياه والقول القاسم في بيان حكم الحاكم والقول المتبع في أحكام الكنائس والبيع وتخريج الأقوال في مسألة الاستبدال وتحرير الأنظار في أجوبة ابن العطار والأصل في الفصل والوصل يعني وصل التطوع بالفريضة وشرح الفرائض كل من الكافي ومجمع البحرين وقال أنه مزج وكذا شرح مختصر الكافي في الفرائض لابن المجدي وجامعة الأصول في الفرائض وقال أن تصنيفه له كان في سنة عشرين والورقات لإمام الحرمين وقال أنه كان في أواخرها وأول التي تليها ورسالة السيد في الفرائض
তিনি বিশ সাল থেকে গ্রন্থ রচনায় মনোনিবেশ করেন, যেমনটি তিনি আমাকে জানিয়েছেন, এবং এরপর থেকে তা অব্যাহত থাকে। এই বিষয়ে তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছে ইবনে ফারাহ-এর ‘আল-ইসলাহ’ বিষয়ক কাসিদার ব্যাখ্যাগ্রন্থ। তিনি বলেন যে, তিনি এটি নিয়ে ইজ্জ ইবনে জামাআহ-এর সাথে আলোচনা করেছেন। এছাড়া ইবনুল জাজারির কবিতার ব্যাখ্যাগ্রন্থ; তিনি বলেন যে, এতে তিনি প্রতিটি প্রকারের জ্ঞান একত্রিত করেছেন এমনকি তা দুই খণ্ডে রূপ নিয়েছে। অর্থাৎ এটি এই সংক্ষিপ্ত কবিতার ব্যাখ্যা হওয়ার গণ্ডি ছাড়িয়ে গেছে, তবে তা সম্পূর্ণ হয়নি। তিনি বলতেন যে এটি তাঁর ‘জারদাখানাহ’ বা ভাণ্ডার, যা ইঙ্গিত দেয় যে তিনি তাঁর কাছে থাকা সকল জ্ঞান এতে সন্নিবেশ করেছেন। এছাড়া আমাদের শাইখের ইরাকি আলফিয়া এবং ‘নুখবাতুল ফিকার’ ও এর ব্যাখ্যাগ্রন্থের ওপর টীকা; সোহরাওয়ার্দীর ‘আওয়ারিফুল মাআরিফ’-এর হাদিসসমূহের উৎস নির্দেশ; দুই খণ্ডে ‘আল-মুখতার’-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘আল-ইখতিয়ার’-এর হাদিসসমূহ; উসুলুল ফিকহ-এর গ্রন্থ ‘বাজদাউই’; আবু লাইসের তাফসির; গাজালির চারটি গ্রন্থ—‘মিনহাজুল আরবাঈন’, ‘আল-আরবাঈন ফি উসুলিদ দিন’, ‘জাওয়াহিরুল কুরআন’ এবং ‘বিদায়াতুল হিদায়া’; ‘আশ-শিফা’-এর কিছু অংশ; ‘ইহইয়াউ উলুমিদ্দিন’-এর হাদিস তাহকিকের পরিশিষ্ট ‘ইতহাফুল আহইয়া’; যায়লায়ির পরিশিষ্ট হিসেবে ‘মুনইয়াতুল আলমায়ি’; ‘শারহুল আকাইদ’-এর হাদিস সমূহের উৎস নির্দেশের ওপর ‘বুগইয়াতুর রায়িদ’; ফারায়েজ বা উত্তরাধিকার আইনের দলিলের ওপর ‘নুজহাতুর রায়িদ’; ইবনুল মুকরির ‘মুসনাদে আবু হানিফা’-এর বিন্যাস এবং হারিসির ‘মুসনাদে আবু হানিফা’-এর অধ্যায়বিন্যাস; মিশরে বসবাসকারী সাহাবী উকবা ইবনে আমেরের মুসনাদের ওপর ‘আল-আমালি’; লাইস এবং তাহাবির ‘আওয়ালি’ হাদিসসমূহ; ‘মুসনাদুল ফিরদাউস’-এর ওপর টীকা যা সম্পূর্ণ বিন্যস্ত, তবে এর খুব অল্প অংশই তিনি বের করতে পেরেছেন; এক খণ্ডে তাহাবির রাবীদের জীবনী, মুহাম্মাদ ইবনুল হাসানের ‘মুয়াত্ত্বা’ ও ‘আল-আসার’-এর রাবীদের জীবনী এবং ইবনুল মুকরির ‘মুসনাদে আবু হানিফা’-এর রাবীদের জীবনী; এক খণ্ডে খলিলির ‘আল-ইরশাদ’-এর বিন্যাস এবং এক খণ্ডে জাওযাকানির ‘আত-তাময়িয’-এর বিন্যাস; দারা কুতনির কাছে হাকেমের প্রশ্নসমূহ; এক খণ্ডে ‘পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণনাকারীগণ’; ইজিলির ‘আস-সিকাত’ সংশোধন সম্পর্কিত ‘আল-ইহতিমামুল কুল্লি’; কুতুবে সিত্তার অতিরিক্ত ‘মুয়াত্ত্বা’, ‘মুসনাদে শাফেয়ি’ এবং ‘সুনানে দারা কুতনি’-এর রাবীদের জীবনী; কুতুবে সিত্তায় নেই এমন নির্ভরযোগ্য রাবীদের বর্ণনা (চার খণ্ডে); দুর্বল বর্ণনাকারীদের বিষয়ে ‘তাকউিমুল লিসান’ (দুই খণ্ডে); ‘ফুজুলুল লিসান’; আমাদের শাইখের ‘আল-মুশতাবিহ’ এবং ‘তাকরীবুত তাহযীব’ উভয়ের ওপর টীকা; হাদিস শাস্ত্রে ইমাম আবু হানিফার ওপর ইবনে আবি শাইবার আপত্তির জবাব; ইমাম আবু হানিফাকে রক্ষার জন্য ‘তাবসিরাতুন নাকিদ’; ‘তারসিউল জাওহারিন নাকি’ যার তায়াম্মুম অধ্যায় পর্যন্ত তিনি লিখেছেন; মুগলতাই-এর গ্রন্থের সংক্ষেপ; ‘দৌলাতুত তুর্ক’-এর সংক্ষেপ; ‘দুরারুল আসলাক ফী কুদাতি মিসর’ থেকে সংক্ষেপিত অংশ যা অসম্পূর্ণ; হানাফি গ্রন্থকারদের জীবনী বিষয়ক ‘তাজুত তারাজিম’; শাইখদের শাইখদের জীবনী (এক খণ্ডে); সমসাময়িক শাইখদের শাইখদের জীবনী যা অসম্পূর্ণ; তাঁর শাইখদের অভিধান; বাগাভির ‘শারহুল মাসাবিহ’-এর এক খণ্ড। এছাড়াও তিনি তাঁর মাযহাবের ফিকহের বেশ কিছু গ্রন্থের ব্যাখ্যা লিখেছেন, যেমন ‘কুদুরি’, যাতে তিনি আবু হানিফা, আবু ইউসুফ, মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান, তাহাবি এবং কারখির বর্ণনাগুলো অনুসরণ করেছেন; ‘আন-নুকায়া’, যার সম্পর্কে আমাদের শাইখ আশ-শুমুন্নি আলোচনা করতেন যে, লেখক এতে তাঁর নিজের ব্যাখ্যাটি হুবহু নকল করেছেন। এজন্য তাকিউদ্দীন তাঁর সেই নকল করা ব্যাখ্যাটি বর্জন করেন এবং নতুন একটি ব্যাখ্যা শুরু করেন যা তাঁর মৃত্যুর আগমুহূর্তে শেষ হয়েছিল। আরও রয়েছে ‘আল-মানার’-এর সংক্ষেপ এবং ‘আল-মুখতাসার’-এর সংক্ষেপ; চার মাযহাবের ওপর ‘দুরারুল বিহার’—এর দুইটি সংস্করণের মধ্যে বড়টি অসম্পূর্ণ; ‘আল-হিদায়া’-র ওপর ইবনুল ইজ্জ-এর আপত্তির জবাব। এছাড়া তিনি বেশ কিছু পৃথক পুস্তিকা রচনা করেছেন, যথা: বিসমিল্লাহ; হাত উঠানো; বসার পদ্ধতির ওপর ‘আল-আসাস’; কিবলার দিক নির্ণয়ের সংশয় নিরসনে ‘আল-ফাওয়াইদুল জিল্লাহ’; সেজদাহ সাহুর বিষয়ে ‘আন-নাজদাত’; পানির মাসআলার সংশয় দূরীকরণে ‘রাফউল ইশতিবাহ’; বিচারকের হুকুমের বর্ণনায় ‘আল-কাওলুল কাসিম’; গির্জা এবং ক্রয়-বিক্রয়ের বিধান সম্পর্কে ‘আল-কাওলুল মুত্তাবা’; ওয়াকফ পরিবর্তনের মাসআলায় ‘তাখরিজুল আকওয়াল’; ইবনুল আত্তারের জবাবের ওপর ‘তাহরিরুল আনজার’; ফরজের সাথে নফল নামাজকে জুড়ে দেওয়ার বিধান বিষয়ক ‘আল-আসল ফিল ফাসলি ওয়াল ওয়াসল’। ফারায়েজ বা উত্তরাধিকার বিষয়ে ‘আল-কাফি’ এবং ‘মাজমাউল বাহরাইন’-এর ব্যাখ্যা যা তিনি সংমিশ্রিত আকারে লিখেছেন; ইবনুল মাজদির ফারায়েজ বিষয়ক ‘মুখতাসারুল কাফি’-র ব্যাখ্যা; ফারায়েজ বিষয়ক ‘জামিআতুল উসুল’ যা বিশ সালে রচিত; বিশ সালের শেষে বা একুশ সালের শুরুতে রচিত ইমামুল হারামাইনের ‘আল-ওয়ারাকাত’-এর ব্যাখ্যা এবং ফারায়েজ বিষয়ে ‘রিসালাতুস সাইয়্যিদ’।
(খণ্ড: ১)
তাজুত তারাজিম ফী তাবাকাতিল হানাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
وقال أنه مطول وله أعمال في الوصايا والدوريات وإخراج المجهولات وتعليقه على القصارى في الصرف وحاشية على شرح العزى في الصرف أيضاً للتفتازاني وعلى شرح العقائد وأجوبة عن اعتراضات العز بن جماعة على أصول الحنفية وتعليقة على الأندلسية في العروض وغير ذلك مما وقفت على أسمائه بخطه لأعلى هذا الترتيب كشرح مخمسة العز عبد العزيز الديريني في العربية واختصار تلخيص المفتاح وشرح منار النظر في المنطق لابن سينا. وهو إمام علامة قوي المشاركة في فنون ذاكر لكثير من الأدب ومتعلقاته واسع الباع في استحضار مذهبه وكثير من زواياه وخباياه متقدم في هذا الفن طلق اللسان قادر على المناظرة وإفحام الخصم لكن حافظته أحسن من تحقيقه مغرم بالانتقاد ولو لمشايخه حتى بالأشياء الواضحة والإكثار من ذكر ما يكون من هذا القبيل بحضرة كل أحد ترويجاً لكلامه بذلك مع شائبة دعوى ومساجحة ولقد سمعته يقول أنه أفرد زوائد متون الدارقطني أو رجاله على الستة من غير مراجعتها كثير الطرح لأمور مشكلة يمتحن بها وقد لا يكون عنده جوابها ولهذا كان بعضهم يقول أن كلامه أوسع من علمه، وأما أنا فأزيد على ذلك بأن كلامه أحسن من قلمه مع كونه غاية في التواضع وطرح التكلف وصفاء الخاطر جداً وحسن المحاضرة لا سيما في الأشياء التي يحفظها وعدم اليبس والصلابة والرغبة في المذاكرة للعلم وإثارة الفائدة والاقتباس ممن دونه مما لعله لم يكن أتقنه؛ وقد انفرد عن علماء مذهبه الذين أدركناهم بالتقدم في هذا الفن وصار بينهم من أجلة شأنه مع توقف الكثير منهم في شأنه وعدم إنزاله منزلته، وهكذا كان حال أكثرهم معه جرياً على عادة العصريين، وقصد بالفتاوى في النوازل والمهمات فبلغوا باعتنائه بهم مقاصدهم غالباً؛ واشتهر بذلك وبالمناضلة عن ابن عربي ونحوه فيما بلغني مع حسن عقيدته، ولم يل مع انتشار ذكره وظيفة تناسبه بل كان في غالب عمره أحد صوفية الأشرفة؛ نعم استقر في تدريس الحديث بقبة البيبرسية عقب ابن حسان ثم رغب عنه بعد ذلك لسبط شيخنا وقرره جانبك الجداوي في مشيخة مدرسته التي أنشأها بباب القرافة ثم صرفه وقرر فيها غيره ولكنه كان قبيل هذه الأزمان ربما تفقده الأعيان من الملوك والأمراء ونحوهم فلا يدبر نفسه في الارتفاق بذلك بل يسارع إلى إنفاقه ثم يعود لحالته وهكذا مع كثرة عياله وتكرر تزويجه، وبالجملة فهو مقصر في شأنه، ولما استقر رفيقه السيف الحنفي في مشيخة المؤيدية عرض عليه السكنى بقاعتها لعلمه بضيق منزله أو تكلفه بالصعود إليه لكونه بالدور الأعلى من ربع الحوندار فما وافق وكذا لما استقر الشمس الأمشاطي في قضاء الحنفية رتب له من معاليمه في كل شهر ثمانمائة درهم لمزيد اختصاصه به وتقدم صحبته معه ورتب له الدوادار الكبير يشبك من مهدي قبيل موته بيسير على ديوانه في كل شهر ألفين فما أظنه عاش حتى أخذ منها شهراً بل عين لمشيخة الشيخونية عند توعك الكافياجي بسفارة المنصور حين كان بالقاهرة عند الأشرف قايتباي وكذا بسفارة الأتابك أزبك فقدرت وفاته قبله، وعظم انتفاع الشرف المناوي به وكذا البدر بن الصواف في كثير من مقاصدهما بعد أن كان من أخصاء المحب بن الشحنة حتى أنه لعله أول من أذن لولده الصغير في الإفتاء ثم مسه منهم غاية المكروه جرياً على عادتهم بحيث شافهوه بمجلس السلطان بما لا يليق وانتصر له العز قاضي الحنابلة وهجرهم بسببه مدة حتى توسط بينهم العضد الصيرامي،
তিনি বলেন যে এটি দীর্ঘায়িত এবং তাঁর ‘অসিয়ত’, ‘দাওরিয়্যাত’ ও অজ্ঞাত বিষয়াদির সমাধানে (ইখরাজুল মাজহুলাত) বিভিন্ন কর্ম রয়েছে। ইলমুত সারফের কাসারা-এর ওপর তাঁর একটি টীকা (তালিক) এবং সারফশাস্ত্রে তাফতাজানির শারহুল ইযযি-এর ওপর একটি হাশিয়া রয়েছে। এছাড়াও আকাইদের ব্যাখ্যাগ্রন্থের ওপর হাশিয়া, হানাফি উসুলের ওপর ইজ্জ বিন জামাআহ-এর আপত্তির জবাবসমূহ, আরুয শাস্ত্রের আন্দালুসিয়ার ওপর টীকা এবং তাঁর স্বহস্তে লিখিত এমন আরও অনেক বিষয়ের নামের কথা জানতে পেরেছি যা এই বিন্যাসের ঊর্ধ্বে। যেমন- আরবি ভাষায় ইজ্জ আবদুল আজিজ দাইরিনির মুখাম্মাসার ব্যাখ্যা, তালখিসুল মিফতাহ-এর সংক্ষিপ্তসার এবং ইবনে সিনার মানারুন নাজার ফিল মানতিক-এর ব্যাখ্যা। তিনি একজন ইমাম, আল্লামা এবং বিভিন্ন শাস্ত্রে প্রগাঢ় দক্ষতার অধিকারী। তিনি বিপুল পরিমাণ সাহিত্য ও এর সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ মনে রাখতেন। নিজ মাযহাব এবং এর বহু জটিল ও সূক্ষ্ম মাসয়ালা স্মরণে রাখায় তাঁর ব্যাপক দক্ষতা ছিল এবং এই বিদ্যায় তিনি অগ্রগণ্য ছিলেন। তিনি ছিলেন মিষ্টভাষী, বিতর্ক এবং প্রতিপক্ষকে লাজবাব করতে পারদর্শী। তবে তাঁর মুখস্থশক্তি তাঁর গবেষণার (তাহকিক) চেয়ে প্রখর ছিল। তিনি সমালোচনা করতে খুব পছন্দ করতেন, এমনকি নিজের উস্তাদদের স্পষ্ট বিষয়গুলোতেও। নিজের কথার গুরুত্ব বাড়াতে তিনি সবার সামনে এ ধরনের আলোচনার অবতারণা করতেন, যাতে খানিকটা দাবি ও বাগ্মিতার ছাপ থাকত। আমি তাঁকে বলতে শুনেছি যে, তিনি কুতুবে সিত্তা-এর অতিরিক্ত দারা কুতনির মতনের যিয়াদাত অথবা এর বর্ণনাকারীদের (রিজাল) বিষয়গুলো আলাদা করেছেন সেগুলোর মূল কিতাবের সাহায্য ছাড়াই। তিনি প্রায়শই এমন সব জটিল প্রশ্ন উত্থাপন করতেন যা দ্বারা পরীক্ষা নেওয়া হয়, অথচ অনেক সময় তাঁর নিজের কাছেই সেগুলোর উত্তর থাকত না। এই কারণেই কেউ কেউ বলতেন যে, ‘তাঁর কথা তাঁর জ্ঞানের চেয়েও বিস্তৃত’। আর আমি এর সঙ্গে যোগ করে বলব যে, ‘তাঁর কথা তাঁর কলমের (লেখার) চেয়েও সুন্দর’। তিনি অত্যন্ত বিনয়ী ছিলেন, কৃত্রিমতা বর্জন করতেন এবং তাঁর মন ছিল অত্যন্ত স্বচ্ছ। তিনি চমৎকার আলোচনা করতে পারতেন, বিশেষ করে সেই বিষয়গুলোতে যা তাঁর মুখস্থ ছিল। তিনি শুষ্ক বা কঠোর মেজাজের ছিলেন না এবং ইলমি আলোচনা, জ্ঞানের প্রসার এবং নিজ অনুজদের থেকেও কোনো বিষয়ে জ্ঞান অর্জনে আগ্রহী ছিলেন যা সম্ভবত তিনি অতটা নিখুঁতভাবে জানতেন না। আমরা তাঁর সমসাময়িক নিজ মাযহাবের যে সকল আলেমকে পেয়েছি, তাঁদের মধ্যে তিনি এই শাস্ত্রে শ্রেষ্ঠত্বের কারণে অনন্য ছিলেন এবং তাঁদের মধ্যে উচ্চ মর্যাদার অধিকারী হয়েছিলেন, যদিও তাঁদের অনেকে তাঁর ব্যাপারে দ্বিধাগ্রস্ত ছিলেন এবং তাঁকে তাঁর উপযুক্ত সম্মান দিতেন না। সমসাময়িকদের চিরাচরিত স্বভাব অনুযায়ী তাঁর সাথে তাঁদের অধিকাংশেরই এমনই আচরণ ছিল। সমসাময়িক আপদকালীন (নাওয়াযিল) ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলীতে ফতোয়ার জন্য তাঁর শরণাপন্ন হওয়া হতো এবং তাঁর মনোনিবেশের কারণে মানুষ সাধারণত তাদের উদ্দেশ্য লাভে সফল হতো। তিনি এই বিষয়টির জন্য এবং আমার কাছে পৌঁছানো সংবাদ অনুযায়ী ইবনে আরাবি ও তাঁর সমমনাদের পক্ষে বিতর্কের জন্য সুপরিচিত ছিলেন, অথচ তাঁর নিজের আকিদা ছিল বিশুদ্ধ। তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়লেও তিনি তাঁর যোগ্য কোনো পদে আসীন হননি, বরং জীবনের অধিকাংশ সময় তিনি আশরাফিয়া খানকাহর একজন সুফি হিসেবে অতিবাহিত করেছেন। হ্যাঁ, ইবনে হাসসানের পর তিনি বাইবারসিয়া গম্বুজে হাদিস অধ্যাপনায় নিযুক্ত হয়েছিলেন, পরে আমাদের শাইখের দৌহিত্রের জন্য তিনি তা ছেড়ে দেন। জানিবাক আল-জিদাওয়ি তাঁকে বাবুল কারাফায় তাঁর প্রতিষ্ঠিত মাদরাসার প্রধান হিসেবে নিযুক্ত করেছিলেন, কিন্তু পরে তাঁকে সরিয়ে অন্য একজনকে নিযুক্ত করেন। তবে এই সময়ের কিছুকাল আগে সম্ভবত বাদশাহ ও আমীর-উমারাগণ তাঁর খোঁজখবর নিতেন; কিন্তু তিনি সেই সুযোগ-সুবিধার দ্বারা নিজের অবস্থার উন্নতির চেষ্টা না করে বরং তা দ্রুত ব্যয় করে ফেলতেন এবং পুনরায় আগের অবস্থায় ফিরে আসতেন। পরিবার বড় হওয়া এবং একাধিকবার বিবাহ করা সত্ত্বেও তাঁর অবস্থা এমনই ছিল। সারকথা হলো, তিনি নিজের পার্থিব বিষয়ের প্রতি উদাসীন ছিলেন। যখন তাঁর বন্ধু সাইফ আল-হানাফি মুয়াইয়্যাদিয়া মাদরাসার প্রধান পদে অধিষ্ঠিত হন, তখন তিনি তাঁকে সেখানে বসবাসের প্রস্তাব দেন। কারণ তিনি জানতেন যে তাঁর ঘর খুব সংকীর্ণ এবং 'রাবউ আল-হাওয়ান্দার'-এর উপরের তলায় হওয়ার কারণে সেখানে উঠা খুব কষ্টসাধ্য ছিল; কিন্তু তিনি তাতে রাজি হননি। একইভাবে শামস আল-আমশাতি যখন হানাফিদের প্রধান বিচারপতির পদে অধিষ্ঠিত হন, তখন তিনি তাঁর জন্য মাসিক আটশ দিরহাম ভাতা নির্ধারণ করেন; কারণ তাঁর সাথে তাঁর ঘনিষ্ঠতা ও দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ছিল। বড় দাওয়াদাত ইয়াশবাক বিন মাহদি তাঁর মৃত্যুর কিছুদিন আগে তাঁর দফতর থেকে মাসিক দুই হাজার দিরহাম বরাদ্দ করেছিলেন, তবে আমার মনে হয় না যে তিনি এক মাসও তা ভোগ করতে পেরেছিলেন। বরং কাফিয়াজি যখন অসুস্থ হলেন, তখন মানসুরের মধ্যস্থতায় তাঁকে শাইখুনিয়া মাদরাসার প্রধান পদের জন্য মনোনীত করা হয়েছিল যখন তিনি আশরাফ কায়িতবে-এর দরবারে কায়রোতে ছিলেন। একইভাবে আতাবাক উজবেকের মধ্যস্থতাতেও হয়েছিল, কিন্তু তার আগেই তাঁর মৃত্যু অবধারিত হয়। শরফ আল-মুনাউয়ি এবং বদর ইবনুল সাউয়াফ তাঁদের বহু উদ্দেশ্যে তাঁর দ্বারা ব্যাপকভাবে উপকৃত হয়েছিলেন। তিনি মুহিব্ব ইবনে আশ-শিহনার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন, এমনকি সম্ভবত তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি মুহিব্ব ইবনে আশ-শিহনার ছোট ছেলেকে ফতোয়া দেওয়ার অনুমতি দিয়েছিলেন। অতঃপর সমসাময়িকদের স্বভাব অনুযায়ী তাঁদের পক্ষ থেকে তিনি চরম তিক্ততার শিকার হন, এমনকি সুলতানের মজলিসে তাঁরা তাঁর সাথে অনুপযুক্ত ভাষায় কথা বলেন। তখন হাম্বলি বিচারপতি ইজ্জ তাঁর পক্ষ অবলম্বন করেন এবং এই কারণে তাঁদের সাথে দীর্ঘকাল সম্পর্ক ছিন্ন রাখেন, শেষ পর্যন্ত আদুদ আস-সাইরামি তাঁদের মধ্যে মধ্যস্থতা করেন।
(খণ্ড: ১)
তাজুত তারাজিম ফী তাবাকাতিল হানাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
وقد صحبته قديماً وسمعت منه مع ولدي المسلسل بسماعه له على الواسطي وكتبت عنه من نظمه وفوائده أشياء بل قرأت عليه شرح ألفية العراقي لتوهم مزيد عمل فيه ووقع ذلك منه موقعاً ولامني فيه غير واحد من الفضلاء، واستعار أشياء من تعاليقي ومسوداتي وغيرها وكثر تردده لي قبل ذلك وبعده بسبب المراجعة وغيرها صريحاً وكناية لحسن اعتقاده في بحيث صرح مراراً بتفردي بهذا الشأن وربما يقول: أنا وأنت غرباء، ونحو هذا من القول وخطه عندي شاهد بأعلى من ذلك حسبما أثبته في موضع آخر مع كثير من نظمه وفوائده، وشهد على شينا بأنني أمثل جماعته وبالغ عقب وفاة الوالد رحمهما الله في التأسف عليه وصرح لكل من العز الحنبلي والأمشاطي بأنه من قدماء أصحابه وخيارهم وممن له عليه فضل قديم وأنه بقي من العالمين بذلك جارنا ابن المرخم وابن بهاء القباني ولهذا التمس مني الوقوف على غسله فلم أوافق أدباً مع الشيخ لكون الوالد لما أعلمه من إجلاله له وتعظيمه إياه بحيث كان يقول: ما أكثر محفوظه وأحسن عشرته، وربما يقول: هو سكردان لم يكن يرضيه ذلك، تعلل الشيخ مدة طويلة بمرض حاد وبحبس الأراقة والحصاة وغير ذلك وتنقل لعدة أماكن إلى أن تحول قبيل موته بيسير بقاعة بحارة الديلم فلم يلبث أن مات فيها في ليلة الخميس رابع ربيع الآخر سنة تسع وسبعين وصلى عليه من الغد تجاه جامع المارداني في مشهد حافل ودفن على باب المشهد المنسوب لعقبة عند أبويه وأولاده وتأسفوا على فقده رحمه الله وإيانا؛ ومما نظمه رداً لقول القائل:
إن كنت كاذبة التي حدثتني
… فعليك إثم أبي حنيفة أو زفر
الواثبين على القياس تمرداً
… والراغبين عن التمسك بالأثر
فقال:
كذب الذي سب المآثم للذي
… قاس المسائل بالكتاب وبالأثر
إن الكتاب وسنة المختار قد
… دلا عليه فدع مقالة من فشر
وقد ذكره المقريزي في عقوده وأرخ مولده كما قدمنا ولكنه قال تخميناً قال: وبرع في فنون من فقه وعربية وحديث وغير ذلك وكتب مصنفات عديدة من شرح دور البحار للقونوي في اختلاف المذاهب الأربعة وشرح مخمسة الديريني في العربية وجامعة الأصول في الفرائض وورقات إمام الحرمين وميزان النظر في المنطق لابن سينا وكتب تعليقة على موطأ محمد بن الحسن وأخرى على آثاره واختصر تلخيص المفتاح وله حواش على حواشي التفتازاني على تصريف العزى وعلى الأندلسية في العروض وكتب غريب أحاديث شرح أبي الحسن الأقطع على القدوري وخرج أحاديث الاختيار شرح المختار ورتب مسند أبي حنيفة للحارثي على الأبواب.
আমি দীর্ঘকাল তার সান্নিধ্যে ছিলাম এবং আমার পুত্রের সাথে তার থেকে শ্রবণ করেছি, যা তার আল-ওয়াসিতি থেকে শ্রবণের মাধ্যমে মুসালসাল (ধারাবাহিক)। আমি তার থেকে তার কাব্য ও জ্ঞানগর্ভ আলোচনার অনেক কিছু লিখেছি, এমনকি ইমাম ইরাকির আলফিয়ার ব্যাখ্যাগ্রন্থ তার কাছে পাঠ করেছি এই ধারণা থেকে যে এতে আরও কাজ করার সুযোগ ছিল। এটি তার নিকট গুরুত্ব পেয়েছিল, যদিও বিজ্ঞ ব্যক্তিদের একাধিক জন আমাকে এ ব্যাপারে তিরস্কার করেছিলেন। তিনি আমার বিভিন্ন টীকা, খসড়া এবং অন্যান্য জিনিসপত্র ধার নিতেন। আমার প্রতি তার সুধারণার কারণে পর্যালোচনা বা অন্যান্য প্রয়োজনে সরাসরি বা ইশারায় তিনি পূর্বে ও পরে বহুবার আমার নিকট আসতেন। এমনকি তিনি বহুবার স্পষ্টভাবে বলেছেন যে আমি এই বিষয়ে অনন্য। কখনো কখনো তিনি বলতেন: "আমি এবং আপনি অপরিচিত (বা অনন্য)," এবং এই জাতীয় কথা। তার হস্তলিপি আমার নিকট এর চেয়েও উচ্চতর প্রশংসার সাক্ষ্য দেয়, যা আমি অন্য স্থানে তার অনেক কবিতা ও জ্ঞানগর্ভ আলোচনার বর্ণনার সাথে লিপিবদ্ধ করেছি। তিনি আমাদের শায়খের ব্যাপারে সাক্ষ্য দিয়েছেন যে আমি তার জামাতের প্রতিনিধিত্ব করি। পিতার (আল্লাহ তাদের উভয়ের ওপর রহম করুন) মৃত্যুর পর তিনি গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং ইজ্জ আল-হাম্বলি ও আল-আমশাতি—উভয়ের নিকটই স্পষ্টভাবে বলেন যে, তিনি (পিতা) ছিলেন তার পুরাতন ও সর্বোত্তম বন্ধুদের একজন এবং এমন একজন যার প্রতি তার পুরাতন অনুগ্রহ ছিল। তিনি আরও বলেন যে, এই বিষয়ে যারা অবগত ছিলেন তাদের মধ্যে কেবল আমাদের প্রতিবেশী ইবনুল মুরখিম এবং ইবনে বাহাউল কাত্তানি বেঁচে আছেন। এই কারণেই তিনি আমাকে তার গোসলে উপস্থিত থাকার অনুরোধ করেছিলেন, কিন্তু শায়খের প্রতি শিষ্টাচার রক্ষা করতে আমি তাতে সম্মত হইনি। কারণ পিতা তাকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও সম্মান করতেন এবং বলতেন: "তার মুখস্থ জ্ঞান কত অগাধ এবং তার সাহচর্য কত সুন্দর!" কখনো বলতেন: "তিনি একটি জ্ঞানভাণ্ডার (সুকুরদান)," যা হয়তো শায়খ পছন্দ করতেন না। শায়খ দীর্ঘকাল তীব্র রোগ, মূত্ররোধ, পাথুরি রোগ এবং অন্যান্য সমস্যায় ভুগেছিলেন এবং বেশ কয়েক স্থানে যাতায়াত করেছিলেন। অবশেষে মৃত্যুর অল্পকাল পূর্বে তিনি দাইলাম পাড়ার একটি কক্ষে স্থানান্তরিত হন। সেখানেই তিনি সাতশত উনআশি হিজরির চারই রবিউস সানি বৃহস্পতিবার রাতে মৃত্যুবরণ করেন। পরদিন মারদানি মসজিদের সামনে এক বিশাল জানাজা শেষে উকবার সাথে সম্পর্কিত সমাধিস্থলের প্রবেশদ্বারে তার পিতামাতা ও সন্তানদের পাশে তাকে দাফন করা হয়। তার বিয়োগে সকলে গভীর শোক প্রকাশ করেন। আল্লাহ তার এবং আমাদের ওপর রহম করুন। কেউ একজন নিম্নোক্ত কথাটি বললে তিনি তার প্রতিবাদে এই কবিতাটি রচনা করেন:
যদি আমাকে সংবাদ দানকারিণী নারী মিথ্যাবাদী হয়ে থাকে... তবে আবু হানিফা বা যুফারের পাপ তোমার ওপর বর্তাবে।
যারা বিদ্রোহবশত কিয়াসের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে... এবং আসার (পূর্বসূরিদের বর্ণনা) আঁকড়ে ধরা থেকে বিমুখ হয়।
এর উত্তরে তিনি বলেন:
সেই ব্যক্তি মিথ্যা বলেছে যে তাকে পাপের অপবাদ দিয়েছে... যে মাসআলাগুলোকে কিতাব ও আসারের সাথে কিয়াস (তুলনা) করে।
নিশ্চয় কিতাব এবং নবী আল-মুখতারের সুন্নাহ... কিয়াসের প্রতি নির্দেশ করেছে, সুতরাং যে ব্যক্তি আজেবাজে কথা বলে তাকে বর্জন করুন।
আল-মাকরিজি তার 'উকুদ' গ্রন্থে তার কথা উল্লেখ করেছেন এবং আমরা পূর্বে যেমন বলেছি, তার জন্ম সালও উল্লেখ করেছেন, তবে তিনি তা অনুমানের ভিত্তিতে বলেছেন। তিনি বলেন: তিনি ফিকহ, আরবি ভাষা, হাদিস এবং অন্যান্য বিষয়ে পারদর্শী ছিলেন। তিনি অনেক গ্রন্থ রচনা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে চার মাযহাবের মতভেদ বিষয়ে কাওনাবি রচিত 'দুররুল বিহার'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, আরবি ভাষায় দাইরিনি রচিত 'মুখাম্মাসাহ'-এর ব্যাখ্যা, ফারায়েজ (উত্তরাধিকার আইন) বিষয়ে 'জামেউল উসুল', ইমামুল হারামাইনের 'ওয়ারাকাত' এবং ইবনে সিনার منطق (যুক্তিবিদ্যা) বিষয়ক 'মিজানুন নাজর'-এর ব্যাখ্যা। তিনি মুহাম্মদ ইবনুল হাসানের 'মুওয়াত্তা'-এর ওপর একটি টীকা এবং তার 'আসার'-এর ওপর আরেকটি টীকা লিখেছেন। তিনি 'তালখিসুল মিফতাহ' সংক্ষেপ করেছেন। আল-ইজ্জি রচিত 'তাসরিফ'-এর ওপর তাফতাজানির টীকার ওপর তার নিজস্ব হাশিয়া (পার্শ্বটীকা) রয়েছে এবং আরুজ শাস্ত্রের 'আন্দালুসিয়া'-এর ওপরও তার হাশিয়া রয়েছে। তিনি কুদুরি-র ওপর আবুল হাসান আল-আকতা'র ব্যাখ্যাগ্রন্থের 'গরিব হাদিস'সমূহ সংকলন করেছেন, 'মুখতার'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'আল-ইখতিয়ার'-এর হাদিসসমূহ তাখরিজ করেছেন এবং হারিসি সংকলিত 'মুসনাদে আবু হানিফা'কে অধ্যায় অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
তাজুত তারাজিম ফী তাবাকাতিল হানাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
وفي الضوء اللامع أيضا:" عزيزة " ابنة الزين قاسم بن قطلوبغا الحنفي زوج المحب محمد بن يونس أخي السيف الحنفي وأم أولاده وأخت المحمدين الماضيين. ماتت في يوم الثلاثاء ثالث عشر المحرم سنة تسع وثمانين بالبيت المعروف بعم زوجها من نواحي الصليبة وصلى عليها من الغد في سبيل المؤمنى في طائفة ثم دفنت عند أبيها بسيدي عقبة من القرافة. ومولدها سنة خمس وأربعين وثمانمائة وتعلمت الخط وقرأت ما تيسر وسمعت على جدة زوجها أم هانئ الهورينية وغيرها وكانت خيرة أثكلت عدة أولاد بل غرق لها ولد قبيل موتها بيسير في بركتهم فكظمت ولم تبث عوضهما الله الجنة.
من كتبه:• تاج التراجم
تحقيق: إبراهيم صالح - ط1 - 1414هـ - 1992م.
الناشر: دار المأمون للتراث - بيروت
• من روى عن أبيه عن جده
دراسة وتحقيق: د. باسم فيصل الجوابرة
الناشر: مكتبة المعلا الكويت، الطبعة الأولى (1409 هـ - 1988م).
• تخريج أحاديث تفسير أبي الليث السمرقندي. لم يعثر عليه وهو مفقود، والله أعلم.
• بغية الراشد في تخريج أحاديث شرح العقائد النسفية
• منية الألمعي فيما فات من تخريج أحاديث الهداية للزيلعي، للحافظ القاسم بن قطلوبغا.
حققه: محمد زاهد الكوثري،
طبع في القاهرة 1370هـ 64ص.
• "التعريف والإخبار بتخريج أحاديث "الاختيار" شرح "المختار" في فروع الحنفية، كلاهما لأبي الفضل مجد الدين عبد الله بن مودود الموصلي (ت683هـ) والتخريج لابن قطلوبغا،
تحقيق: محمد ألماس يعقوبي، مكة المكرمة، رسالة دكتوراه، قدمت بجامعة أم القرى، 1416هـ،
وكذا طبع بتحقيق بشير صبحي طاهر، أصله رسالة الدكتوراه، قدمت بجامعة أم درمان الإسلامية، بسودان.
• تخريج أحاديث أصول البزدوي، وقد طبع على حاشية كتاب البزدوي.
• تخريج أحاديث الشفا للقاضي عياض.
• تخريج أحاديث منهاج العابدين للغزالي.
• تحفة الأحياء بما فات من تخاريج الإحياء.
• تخريج أحاديث عوارف المعارف للسهروردي.
• تخريج أحاديث النصيحة الكافية للشيخ زروق الفاسي.
• من روى عن أبيه، عن جده.
আদ-দাও আল-লামি গ্রন্থে আরও রয়েছে:"আজিজাহ" যাইন কাসিম বিন কুতলুবুগা আল-হানাফীর কন্যা, সাইফুল হানাফীর ভাই মুহিব্ব মুহাম্মদ বিন ইউনুসের স্ত্রী, তার সন্তানদের জননী এবং পূর্বোক্ত দুই মুহাম্মদের বোন। তিনি ৮৮৯ হিজরীর ১৩ই মহররম মঙ্গলবার সালিবা অঞ্চলের নিকটস্থ তার স্বামীর চাচার বাড়ি হিসেবে পরিচিত বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেন। পরদিন সাবিলুল মুমিনীনে এক জামাতের সাথে তার জানাজা পড়া হয় এবং অতঃপর তাকে কারাফার সিদি উকবায় তার পিতার পাশে দাফন করা হয়। তার জন্ম ৮৪৫ হিজরীতে। তিনি ক্যালিগ্রাফি শিখেছিলেন, সাধ্যমতো পড়াশোনা করেছিলেন এবং তার স্বামীর দাদী উম্মে হানি আল-হুরিনিয়্যাহ ও অন্যদের নিকট হাদিস শ্রবণ করেছিলেন। তিনি একজন পুণ্যবতী নারী ছিলেন; তিনি বেশ কয়েকজন সন্তান হারিয়ে শোকাতুর হয়েছিলেন, এমনকি তার মৃত্যুর অল্প কিছুকাল আগে তাদের পুকুরে তার এক সন্তান ডুবে মারা যায়। তবুও তিনি ধৈর্য ধারণ করেছিলেন এবং কোনো অভিযোগ করেননি। আল্লাহ তাদের বিনিময়ে তাকে জান্নাত দান করুন।
তার গ্রন্থসমূহ থেকে:• তাজুত তারাজিম
সম্পাদনা: ইব্রাহিম সালেহ - ১ম সংস্করণ - ১৪১৪ হিজরী - ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দ।
প্রকাশক: দারুল মামুন লিত-তুরাস - বৈরুত
• মান রাওয়া আন আবিহি আন জাদ্দিহি
গবেষণা ও সম্পাদনা: ড. বাসিম ফয়সাল আল-জাওয়াবেরা
প্রকাশক: মাকতাবাতুল মুআল্লা কুয়েত, প্রথম সংস্করণ (১৪০৯ হিজরী - ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দ)।
• তাখরিজু আহাদিসি তাফসিরি আবিল লাইস আস-সামারকান্দি। এটি খুঁজে পাওয়া যায়নি এবং এটি নিখোঁজ, আর আল্লাহই ভালো জানেন।
• বুগইয়াতুর রাশিদ ফি তাখরিজি আহাদিসি শারহিল আকাইদিন নাসাফিয়্যাহ
• মুনইয়াতুল আলমায়ি ফিমা ফাতা মিন তাখরিজি আহাদিসিল হিদায়াহ লিজ-জাইলায়ি, হাফেজ কাসিম বিন কুতলুবুগার রচিত।
সম্পাদনা করেছেন: মুহাম্মদ জাহিদ আল-কাওসারি,
কায়রোতে ১৩৭০ হিজরীতে মুদ্রিত, পৃষ্ঠা সংখ্যা ৬৪।
• "আত-তারিফ ওয়াল ইখবার বিতাকরিজি আহাদিসিল ইখতিয়ার" যা হানাফী ফিকহের শাখা বিষয়ক গ্রন্থ "আল-মুখতার"-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ "আল-ইখতিয়ার"-এর হাদিসসমূহের তাখরিজ। মূল গ্রন্থ দুটিই আবুল ফজল মাজদুদ্দিন আব্দুল্লাহ বিন মাওদুদ আল-মাওসিলি (মৃত্যু ৬৮৩ হি.)-এর রচিত এবং তাখরিজটি ইবনে কুতলুবুগার।
সম্পাদনা: মুহাম্মদ আলমাস ইয়াকুবি, মক্কা মুকাররমা, পিএইচডি থিসিস, উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে উপস্থাপিত, ১৪১৬ হিজরী,
একইভাবে এটি বশির সুবহি তাহিরের সম্পাদনায় মুদ্রিত হয়েছে, যা মূলত সুদানের উম্মে দুরমান ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপস্থাপিত পিএইচডি থিসিস।
• তাখরিজু আহাদিসি উসুলিল বাজদাউয়ি, এটি বাজদাউয়ি গ্রন্থের টীকায় মুদ্রিত হয়েছে।
• কাজি ইয়াজের আশ-শিফা গ্রন্থের হাদিসসমূহের তাখরিজ।
• গাজ্জালির মিনহাজুল আবিদিন গ্রন্থের হাদিসসমূহের তাখরিজ।
• তুহফাতুল আহইয়া বিমা ফাতা মিন তাখারিজিল ইহইয়া।
• সোহরাওয়ার্দীর আওয়ারিফুল মাআরিফ গ্রন্থের হাদিসসমূহের তাখরিজ।
• শেখ জাররুক আল-ফাসির আন-নাসিহাতুল কাফিয়াহ গ্রন্থের হাদিসসমূহের তাখরিজ।
• মান রাওয়া আন আবিহি, আন জাদ্দিহি।
(খণ্ড: ১)
তাজুত তারাজিম ফী তাবাকাতিল হানাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮৫)
[مقدمة المؤلف]بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله وسلام على عباده الذين اصطفى، وبعد:
فيقول العبد الضعيف قاسم بن قطلوبغا الحنفي:
لما وقف على تذكرة شيخنا الإمام العالم العلامة إمام المؤرخين وبقية الحفاظ العارفين شهاب الدين أحمد بن علي بن عبد القادر بن محمد المقريزي أمتع الله تعالى بحياته وأعاد علينا من بركاته رأيت فيها ما كتبه من تراجم الأئمة الحنفية فأحببت أن ألحق بكل اسم ما تيسر لي من تراجم من يسمى به منهم على نحو ما قصد من الاقتصار على ذكر من له تصنيف حبا لاتباعه وجبرا لقصر باعي بطول باعه.
والله سبحانه وتعالى أسأل أن يختم لي وله بخواتيم السعادة ويبلغنا الحسنى وزيادة أنه خير مسؤول وأكرم مأمول.
[লেখকের ভূমিকা]পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং শান্তি বর্ষিত হোক তাঁর সেই বান্দাদের প্রতি যাদেরকে তিনি মনোনীত করেছেন। অতঃপর:
অসহায় বান্দা কাসিম ইবন কুতলুবুগা আল-হানাফী বলছেন:
যখন আমি আমাদের শাইখ, ইমাম, বিজ্ঞ আলিম, ঐতিহাসিকদের ইমাম এবং হাফিয ও আরিফদের যোগ্য উত্তরসূরি শিহাব উদ্দিন আহমাদ ইবন আলী ইবন আব্দুল কাদির ইবন মুহাম্মদ আল-মাকরিজীর (আল্লাহ তাআলা তাঁর হায়াত দ্বারা আমাদের উপকৃত করুন এবং তাঁর বরকতসমূহ আমাদের ওপর বর্ষণ করুন) সংকলিত 'তাযকিরা' (স্মারকগ্রন্থ) পর্যবেক্ষণ করলাম, তখন তাতে হানাফী ইমামদের জীবনী সম্পর্কে তাঁর লেখনীগুলো দেখলাম। এরপর আমি পছন্দ করলাম যে, প্রতিটি নামের সাথে ওই একই নামে পরিচিত অন্যান্য ইমামদের মধ্যে যাদের জীবনী সংগ্রহ করা আমার জন্য সহজসাধ্য হয়, তা যুক্ত করে দিতে। এটি আমি করেছি তাঁর অনুসরণের প্রতি ভালোবাসাবশত এবং তাঁর বিশাল পাণ্ডিত্যের অনুসরণে কেবল তাদের জীবনী উল্লেখ করার নীতি বজায় রেখে যাদের কিতাবাদি বা সংকলন রয়েছে; যাতে আমার জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা তাঁর পাণ্ডিত্যের মাধ্যমে পূর্ণ হয়।
আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমার ও তাঁর জীবনের সমাপ্তি সৌভাগ্যের সাথে করেন এবং আমাদের উভয়কে জান্নাত ও মহান রবের দিদার দান করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বোত্তম প্রার্থিত সত্তা এবং সর্বশ্রেষ্ঠ আশার স্থল।
(খণ্ড: ১)
তাজুত তারাজিম ফী তাবাকাতিল হানাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮৬)
[1 - إبراهيم بن سليمان الرضي الرومي]إبراهيم بن سليمان الحموي المِنْطِيْقِيِّ رضي الدين الرومي درس بدمشق ومات بها بعد الجمعة في سادس عشرين ربيع الأول سنة اثنتين وثلاثين وسبعمائة وقد جاوز الثمانين. وكان قد حج سبع مرات. شرح الجامع الكبير في ست مجلدات وشرح المنظومة في مجلدين وكان فقيهًا نحويا مفسرا مِنْطيقيا دينا متواضعا رحمه الله.
[2 - إبراهيم بن رستم أبو بكر المروزي]إبراهيم بن رستم أبو بكر المروزي أحد الأعلام
[১ - ইবরাহীম ইবন সুলাইমান আর-রাযী আর-রুমী]ইবরাহীম ইবন সুলাইমান আল-হামাভী আল-মানতিকী রাযীউদ্দীন আর-রুমী। তিনি দামেস্কে পাঠদান করেছেন এবং সেখানে সাতশ বত্রিশ হিজরির ছাব্বিশে রবিউল আউয়াল জুমার নামাজের পর মৃত্যুবরণ করেন। তখন তাঁর বয়স আশি অতিক্রম করেছিল। তিনি সাতবার হজ পালন করেছিলেন। তিনি ছয় খণ্ডে ‘আল-জামেউল কাবীর’-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ এবং দুই খণ্ডে ‘আল-মানযূমাহ’-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেছেন। তিনি একজন ফকীহ, নাহুবিদ, মুফাসসির, যুক্তিবিদ, ধর্মপ্রাণ ও বিনয়ী ব্যক্তি ছিলেন। আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন।
[২ - ইবরাহীম ইবন রুস্তম আবু বকর আল-মারওয়াযী]ইবরাহীম ইবন রুস্তম আবু বকর আল-মারওয়াযী প্রখ্যাত ইমামদের অন্যতম।
(খণ্ড: ১)
তাজুত তারাজিম ফী তাবাকাতিল হানাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮৭)
تفقه علي محمد بن الحسن وروى عنه النوادر وروى عن أبي عصمة نوح بن أبي مريم وأسد بن عمرو. تفقه عليه الجم الغفير. وروى الدارمي عن ابن معين توثيقه وضعفه ابن عدي. وعرض عليه المأمون القضاء فامتنع وانصرف إلى منزله فتصدق بعشرة آلاف درهم مات بنيسابور في يوم الأربعاء لعشرين من جمادى الآخرة سنة إحدى عشرة ومائتين.
[3 - إبراهيم بن أحمد الموصلي]إبراهيم بن أحمد بن بركة الموصلي، الفقيه.
له: شرح المنظومة، وله: سلالة الهداية.
ذكره عبد القادر ولم يزد على هذا. والله أعلم.
[4 - إبراهيم بن أحمد البصروي]إبراهيم بن أحمد بن عقبة بن هبة الله بن عطاء، صدر الدين بن محي الدين، البُصروي، الحنفي
তিনি মুহাম্মদ ইবনুল হাসানের নিকট ফিকহ শিক্ষা করেন এবং তাঁর থেকে ‘আন-নাওয়াদির’ বর্ণনা করেন। তিনি আবু ইসমাহ নূহ ইবনে আবি মারইয়াম এবং আসাদ ইবনে আমর থেকেও বর্ণনা করেছেন। তাঁর নিকট এক বিশাল জামাত ফিকহ শিক্ষা লাভ করেন। আদ-দারিমি ইবনে মাঈন থেকে তাঁর নির্ভরযোগ্যতার কথা বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে আদি তাঁকে দুর্বল বলেছেন। আল-মামুন তাঁকে বিচারপতির পদ গ্রহণের প্রস্তাব দিলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং নিজ গৃহে ফিরে দশ হাজার দিরহাম সদকা করেন। তিনি দুইশত এগারো হিজরি সনের ২০শে জুমাদাল আখিরাহ, বুধবার নিশাপুরে মৃত্যুবরণ করেন।
[৩ - ইবরাহিম বিন আহমদ আল-মাওসিলি]ইবরাহিম বিন আহমদ বিন বারাকাহ আল-মাওসিলি, ফকিহ।
তাঁর রয়েছে: শারহুল মানজুমা এবং সুলালাতুল হিদায়াহ।
আবদুল কাদির তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন এবং এর বেশি কিছু বর্ণনা করেননি। আল্লাহ অধিক অবগত।
[৪ - ইবরাহিম বিন আহমদ আল-বুসরোভি]ইবরাহিম বিন আহমদ বিন উকবাহ বিন হিবাতুল্লাহ বিন আতা, সদরুদ্দীন বিন মুহিউদ্দীন, আল-বুসরোভি, আল-হানাফি
(খণ্ড: ১)
তাজুত তারাজিম ফী তাবাকাতিল হানাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮৮)
ولد ببصرى سنة تسع وستمائة.
وولي قضاء حلب.
وتوفي في حادي عشر رمضان سنة سبع وتسعين وستمائة.
[5 - إبراهيم بن عبد الرزاق أبو إسحاق الرسعني]إبراهيم بن عبد الرزاق أبو إسحاق الرسعني عرف بابن المحدث تفقه على أبيه قال البرزالي: كتبت عنه وكان قد فاق أبناء جنسه معرفة وذكاء وكان نبيها فاضلًا عالمًا متنسكا ورعا حسن الأخلاق وله منظوم ومنثور وشرح القدوري ولم يتمه.
مولده في جمادى الأولى سنة اثنتين وأربعين وستمائة.
ومات في شهر رمضان سنة خمس وسبعين وستمائة بدمشق ودفن بقاسيون في سفحه.
[6 - إبراهيم بن عبد الكريم الموصلي]وإبراهيم بن عبد الكريم بن أبي السعادات أبو إسحاق الموصلي.
তিনি ৬০৯ হিজরি সনে বুসরায় জন্মগ্রহণ করেন।
তিনি হালাব-এর বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি ৬৯৭ হিজরি সনের ১১ই রমজান ইন্তেকাল করেন।
[৫ - ইবরাহিম ইবনে আব্দুর রাজ্জাক আবু ইসহাক আল-রাসআনী]ইবরাহিম ইবনে আব্দুর রাজ্জাক আবু ইসহাক আল-রাসআনী, যিনি 'ইবনুল মুহাদ্দিস' নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি তাঁর পিতার নিকট ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। আল-বারজালি বলেন: আমি তাঁর নিকট থেকে ইলম অর্জন করেছি। তিনি তাঁর সমসাময়িকদের তুলনায় জ্ঞান ও বুদ্ধিবৃত্তিতে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিলেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী, বিদগ্ধ পণ্ডিত, আলেম, ইবাদতগুজার, খোদাভীরু ও সচ্চরিত্রের অধিকারী। তাঁর পদ্য ও গদ্য রচনা রয়েছে এবং তিনি কুদুরী-এর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা শুরু করেছিলেন কিন্তু তা সম্পন্ন করতে পারেননি।
তাঁর জন্ম ৬৪২ হিজরি সনের জুমাদাল উলা মাসে।
তিনি ৬৭৫ হিজরি সনের রমজান মাসে দামেস্কে ইন্তেকাল করেন এবং কাসিউন পর্বতের পাদদেশে তাঁকে দাফন করা হয়।
[৬ - ইবরাহিম ইবনে আব্দুল কারিম আল-মাওসিলি]এবং ইবরাহিম ইবনে আব্দুল কারিম ইবনে আবিল সাআদাত আবু ইসহাক আল-মাওসিলি।
(খণ্ড: ১)
তাজুত তারাজিম ফী তাবাকাতিল হানাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮৯)
شرح قطعة كبيرة من القدوري وكتب الإنشاء لصاحب الموصل ثم استعفى من ذلك توفي سنة ثمان وعشرين وستمائة.
[7 - إبراهيم بن علي الطرسوسي]وإبراهيم بن علي بن أحمد بن عبد الواحد بن عبد المنعم بن عبد الصمد نجم الدين أبو إسحاق الدمشقي.
ولي منصب القضاء بدمشق بعد والده قاضي القضاة عماد الدين في سنة ست وأربعين وستمائة فأفتى ودرس وشيد وأسس.
তিনি আল-কুদুরীর একটি বড় অংশের ব্যাখ্যা প্রদান করেন এবং মওসুলের অধিপতির জন্য ইনশা (পত্ররচনা) বিষয়ক গ্রন্থাবলি রচনা করেন। অতঃপর তিনি তা থেকে অব্যাহতি গ্রহণ করেন। তিনি ছয়শ আটাশ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন।
[৭ - ইবরাহিম বিন আলী আত-তারসুসী]এবং ইবরাহিম বিন আলী বিন আহমদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন আব্দুল মুনয়িম বিন আব্দুল সামাদ নাজমুদ্দীন আবু ইসহাক আদ-দিমাশকী।
তিনি তাঁর পিতা কাযিউল কুযাত ইমাদুদ্দীনের পর ছয়শ ছেচল্লিশ হিজরীতে দামেস্কে বিচারকের পদে অধিষ্ঠিত হন। অতঃপর তিনি ফতোয়া প্রদান করেন, অধ্যাপনা করেন এবং (ভিত্তি) সুদৃঢ় ও প্রতিষ্ঠিত করেন।
(খণ্ড: ১)
তাজুত তারাজিম ফী তাবাকাতিল হানাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯০)
ونظم الفوائد وشرحها وصنف الفتاوى الطرسوسية وكتاب رفع الكلفة عن الإخوان فيما قدم فيه القياس على الاستحسان" وكتاب مناسك مطول، وكتاب محظورات الإحرام وكتاب الإشارات في ضبط المشكلات وكتاب الإعلام في مصطلح الشهود والحكام وكتاب الاختلافات الواقعة في المصنفات وشرح الفوائد المنظومة.
وكانت وفاته سنة ثمان وخمسين وسبعمائة.
[8 - إبراهيم بن علي، ابن عبد الحق الواسطي]إبراهيم بن علي بن أحمد بن يوسف بن إبراهيم أبو إسحاق المعروف بابن عبد الحق الواسطي وهو سبطه.
كان عالمًا فقيهًا محدثا.
سمع من أبي الحسن علي بن عبد الواحد المقدسي الحنبلي وابن البخاري وولي القضاء بالديار المصرية سنة ثمان وعشرين وسبعمائة فدرس وأفاد وناظر فأجاد.
ووضع شرح على الهداية ضمنه الآثار ومذاهب السلف واختصر السنن للبيهقي في خمس مجلدات وكتاب التحقيق لابن الجوزي في
তিনি নাজমুল ফাওয়াইদ ও এর ব্যাখ্যা রচনা করেন এবং আল-ফাতাওয়া আত-তারসুসিয়া, রাফউল কুলফাহ আনিল ইখওয়ান ফিমা ক্বাদ্দামা ফিহিল কিয়াস আলাল ইসতিহসান, একটি দীর্ঘ মানাসিক (হজ্জের নিয়মাবলি) গ্রন্থ, মাহজুরাতুল ইহরাম, আল-ইশারাত ফি দাবতিল মুশকিলাত, আল-ইলাম ফি মুসতালাহিশ শুহুদ ওয়াল হুক্কাম, আল-ইখতিলাফাত আল-ওয়াকিআ ফিল মুসান্নাফাত এবং শারহুল ফাওয়াইদ আল-মানজুমা সংকলন করেন।
তাঁর মৃত্যু হয়েছিল সাতশত আটান্ন হিজরি সনে।
[৮ - ইবরাহিম ইবনে আলী, ইবনে আবদুল হক আল-ওয়াসিতি]ইবরাহিম ইবনে আলী ইবনে আহমাদ ইবনে ইউসুফ ইবনে ইবরাহিম আবু ইসহাক, যিনি ইবনে আবদুল হক আল-ওয়াসিতি নামে পরিচিত এবং তিনি ছিলেন তাঁর দৌহিত্র।
তিনি একজন আলিম, ফকিহ ও মুহাদ্দিস ছিলেন।
তিনি আবুল হাসান আলী ইবনে আবদুল ওয়াহিদ আল-মাকদিসি আল-হাম্বলি এবং ইবনুল বুখারি থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন। তিনি সাতশত আটাশ হিজরি সনে মিশর ভূখণ্ডে বিচারকের পদ লাভ করেন; অতঃপর তিনি সেখানে পাঠদান করেন, জ্ঞান বিতরণ করেন এবং বিতর্কে পারদর্শিতা প্রদর্শন করেন।
তিনি হিদায়া গ্রন্থের একটি ব্যাখ্যা রচনা করেন যাতে তিনি আসার (বর্ণনা) এবং সালাফদের মাযহাবসমূহ সন্নিবেশিত করেন। তিনি বায়হাক্বীর সুনান গ্রন্থকে পাঁচ খণ্ডে সংক্ষিপ্ত করেন এবং ইবনুল জাওযীর কিতাবুত তাহক্বীক্ব...
(খণ্ড: ১)
তাজুত তারাজিম ফী তাবাকাতিল হানাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯১)
مجلدة وكتاب الناسخ والمنسوخ لابن شاهين في مجلدة ووضع كتابا في الفروع الفقهية سماه المنتقى في مجلدة وكتاب نوازل الوقائع في مجلدة وفوائد عديدة تتضمن مسائل مفيدة منها إجارة الإقطاع وإجارة الأوقاف زيادة على المدة ومسألة قتل المسلم بالكافر وغير ذلك.
خرج إلى دمشق وتوفي بها يوم الأربعاء تاسع عشرين ذي الحجة سنة أربع وأربعين وسبعمائة.
[9 - إبراهيم بن محمد الخداميّ]وإبراهيم بن محمد بن إبراهيم أبو إسحاق الخدامي-بمعجمة ودال مهملة- النيسابوري قال الحاكم في تاريخ نيسابور: كان من أجلة الفقهاء لأبي حنيفة وأزهدهم وحدث في العراق وخراسان والشام الكثير. قال: ورأيت له مصنفات كثيرة عند أخيه أبي بشر ورأيت له عند أخيه أيضا أصولا صحيحة.
توفي في شهر ربيع الأول سنة إحدى وعشرين وثلاثمائة.
[10 - إبراهيم بن يوسف]إبراهيم بن يوسف.
روى عن أبي يوسف، عن أبي حنيفة رحمه الله قال:
"لا يحل لأحد أن يفتي بقولنا مالم يعرف من أين قلناه"
قلت: وهذه الرواية هي التي حملتني على شرحي للقدوري، الذي ذكرت فيه من أين أخذوا علمهم. والله أعلم.
এক খণ্ডে এবং ইবনে শাহীনের ‘আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ’ কিতাবটি এক খণ্ডে। তিনি ফিকহ শাস্ত্রের শাখা-প্রশাখার ওপর একটি কিতাব সংকলন করেছেন যার নাম দিয়েছেন ‘আল-মুনতাকা’ এক খণ্ডে এবং ‘নাওয়াযিলুল ওয়াকায়ি’ কিতাবটি এক খণ্ডে এবং এতে অনেক ফায়দা রয়েছে যা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা অন্তর্ভুক্ত করে, যার মধ্যে রয়েছে ইকতা (ভূমি বরাদ্দ) ইজারা দেওয়া এবং মেয়াদের অতিরিক্ত সময়ের জন্য ওয়াকফ সম্পত্তি ইজারা দেওয়া এবং কাফেরের বদলে মুসলমানকে হত্যার মাসআলা ও অন্যান্য বিষয়।
তিনি দামেস্কের উদ্দেশ্যে বের হন এবং ৭৪৪ হিজরী সনের ২৯শে জিলহজ বুধবার সেখানে ইন্তেকাল করেন।
[৯ - ইবরাহীম বিন মুহাম্মদ আল-খুদামী]আর ইবরাহীম বিন মুহাম্মদ বিন ইবরাহীম আবু ইসহাক আল-খুদামী—খ-এর ওপর নুকতা এবং দাল নুকতাহীন—আন-নিশাপুরী। হাকেম ‘তারিখে নিশাপুর’-এ বলেন: তিনি ইমাম আবু হানিফার অনুসারী ফকীহগণের মধ্যে অত্যন্ত মর্যাদাশীল এবং সর্বাধিক পরহেযগার ছিলেন। তিনি ইরাক, খুরাসান এবং শামে প্রচুর হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি আরও বলেন: আমি তার ভাই আবু বিশরের কাছে তার বহু সংকলন দেখেছি এবং তার ভাইয়ের কাছে তার অনেক সহীহ মূল পাণ্ডুলিপিও দেখেছি।
তিনি ৩২১ হিজরী সনের রবিউল আউয়াল মাসে ইন্তেকাল করেন।
[১০ - ইবরাহীম বিন ইউসুফ]ইবরাহীম বিন ইউসুফ।
তিনি ইমাম আবু ইউসুফ থেকে, তিনি ইমাম আবু হানিফা রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
“কারো জন্য আমাদের উক্তি অনুযায়ী ফতোয়া দেওয়া বৈধ নয়, যতক্ষণ না সে জানতে পারে যে আমরা তা কোন উৎস থেকে বলেছি।”
আমি বলছি: এই বর্ণনাটিই আমাকে ‘আল-কুদ্দুরি’র ব্যাখ্যাগ্রন্থ (শরহ) লিখতে অনুপ্রাণিত করেছে, যেখানে আমি উল্লেখ করেছি যে তারা তাদের জ্ঞান কোথা থেকে গ্রহণ করেছেন। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১)
তাজুত তারাজিম ফী তাবাকাতিল হানাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯২)
[11 - إبراهيم بن محمد، ابن دُقماق]وإبراهيم بن محمد بن أَيْدَمُربن دُقماق.
طلب العلم وتفقه يسيرا.
وحبب إليه التاريخ، فكتب طبقات الحنفية وتواريخ عديدة، وتوفي سنة تسع وثمانمائة.
[12 - إبراهيم بن محمد المؤذن]إبراهيم بن محمد بن حيدر، أبو إسحاق، المؤذن، الخُوارزمي.
مولده سنة تسع وخمسين وخمسمائة في شهر (ذي) الحجة.
ذكره أبو بكر المبارك بن الشعار فقال: جليل القدر، كثير المحفوظ، متقن في علوم الإسلام والشريعة، إمام في الفقه، والفرائض، وعلم التفسير، والحديث، والأصول، والكلام، مع معرفته بالنحو واللغة والأدب. وكان له اعتناء بتصانيف الزمخشري، كثير الميل إليها.
وذكر له تصانيف.
[১১ - ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ, ইবনে দুকমাক]ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ বিন আইদামুর বিন দুকমাক।
তিনি ইলম অন্বেষণ করেছেন এবং ফিকহশাস্ত্রে সামান্য বুৎপত্তি অর্জন করেছিলেন।
ইতিহাস তার নিকট পছন্দনীয় ছিল, ফলে তিনি হানাফী আলেমদের জীবনীগ্রন্থ (তাবাকাতুল হানাফিয়্যাহ) এবং বহু ইতিহাস গ্রন্থ রচনা করেছেন। তিনি ৮০৯ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন।
[১২ - ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ আল-মুয়াযযিন]ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ বিন হায়দার, আবু ইসহাক, আল-মুয়াযযিন, আল-খাওয়ারিজমি।
তার জন্ম ৫৫৯ হিজরি সনের যিলহজ মাসে।
আবু বকর আল-মুবারক বিন আশ-শিআর তার কথা উল্লেখ করে বলেছেন: তিনি সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী, বহু বিষয়ের হাফেজ, ইসলামি উলুম ও শরীয়তে অত্যন্ত দক্ষ এবং ফিকহ, ফারায়িয (উত্তরাধিকার আইন), তাফসির শাস্ত্র, হাদিস, উসুল ও কালাম শাস্ত্রের ইমাম ছিলেন। এর পাশাপাশি নাহু (ব্যাকরণ), ভাষা ও সাহিত্যেও তার পাণ্ডিত্য ছিল। যামাখশারির রচনাবলীর প্রতি তার বিশেষ মনোযোগ ছিল এবং সেগুলোর প্রতি তিনি অত্যন্ত অনুরাগী ছিলেন।
তার বেশ কিছু রচনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
তাজুত তারাজিম ফী তাবাকাতিল হানাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯৩)
[13 - إبراهيم بن يحيى البُصْرَوي]إبراهيم بن يحيى بن أحمد بن عبد الله بن عبد الرحمن بن عبد العزيز، عماد الدين أبو إسحاق، الفزاري، البُصْرَوي، ثم الدمشقي، الحنفي.
قرأ القرآن، وسمع الحديث.
وشيوخه نحو الثمانين، منهم: ابن عبد الدائم، وابن أبي اليسر، وأيوب الحمامي، وجعفر الحنبلي، وابن النُّشْبِي، وابن عيد.
وقرأ الكافية الشافية على ابن مالك، وقرأ صحيح مسلم، والترغيب والترهيب على ابن عبد الدائم.
وتوفي في سابع عشر ربيع الآخر سنة اثنتين وثلاثين وسبعمائة.
ومولده في رجب سنة خمس وأربعين وستمائة.
[১৩ - ইবরাহীম ইবন ইয়াহইয়া আল-বসরওয়ী]ইবরাহীম ইবন ইয়াহইয়া ইবন আহমাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন আবদুর রহমান ইবন আবদুল আযীয, ইমাদুদ দীন আবু ইসহাক, আল-ফাযারী, আল-বসরওয়ী, অতঃপর আদ-দিমাশকী, আল-হানাফী।
তিনি কুরআন পাঠ করেছেন এবং হাদীস শ্রবণ করেছেন।
তাঁর উস্তাদগণের সংখ্যা ছিল প্রায় আশি জন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন: ইবন আবদুদ দায়েম, ইবন আবিল ইয়াসার, আইয়ুব আল-হাম্মামী, জাফর আল-হাম্বলী, ইবনুন নুশবী এবং ইবন ঈদ।
তিনি ইবন মালিকের নিকট ‘আল-কাফিয়া আশ-শাফিয়া’ পাঠ করেন এবং ইবন আবদুদ দায়েমের নিকট ‘সহীহ মুসলিম’ ও ‘আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব’ পাঠ করেন।
তিনি ৭৩২ হিজরীর ১৭ই রবিউস সানি ইন্তেকাল করেন।
তাঁর জন্ম ৬৪৫ হিজরীর রজব মাসে।
(খণ্ড: ১)
তাজুত তারাজিম ফী তাবাকাতিল হানাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯৪)
[14 - أحمد بن أبي بكر القزويني]أحمد بن أبي بكر بن عبد الوهاب، بديع الدين، أبوعبد الله، القزويني.
له كتاب "الجامع الحريز الحاوي لعلوم كتاب الله العزيز".
كان مقيما بسيواس في سنة عشرين وستمائة.
[15 - أحمد بن حفص، أبو حفص الكبير]أحمد بن حفص أبو حفص الكبير.
أخذ عن محمد بن الحسن.
وله أصحاب كثير ببخارى.
كان في زمن محمد بن إسماعيل البخاري صاحب الصحيح.
قال: لو أن رجلا عبد الله خمسين سنة ثم أهدى لرجل مشرك بيضة يوم النوروز يريد به تعظيم ذلك اليوم فقد كفر ويحبط عمله.
[১৪ - আহমাদ বিন আবি বকর আল-কাজভিনি]আহমাদ বিন আবি বকর বিন আব্দুল ওয়াহহাব, বদিউদ্দীন, আবু আব্দুল্লাহ, আল-কাজভিনি।
তাঁর "আল-জামি আল-হারিজ আল-হায়ি লি-উলুমি কিতাবিল্লাহিল আজিজ" নামক একটি গ্রন্থ রয়েছে।
তিনি ৬২০ হিজরি সনে সিওয়াসে অবস্থান করছিলেন।
[১৫ - আহমাদ বিন হাফস, আবু হাফস আল-কাবির]আহমাদ বিন হাফস আবু হাফস আল-কাবির।
তিনি মুহাম্মাদ বিন আল-হাসান থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন।
বুখারায় তাঁর অনেক ছাত্র ও অনুসারী ছিল।
তিনি সহীহ বুখারীর রচয়িতা মুহাম্মাদ বিন ইসমাইল আল-বুখারীর সমসাময়িক ছিলেন।
তিনি বলেন: যদি কোনো ব্যক্তি পঞ্চাশ বছর আল্লাহর ইবাদত করে, অতঃপর নওরোজের দিনে সেই দিনটিকে মহিমান্বিত করার উদ্দেশ্যে কোনো মুশরিককে একটি ডিম উপহার দেয়, তবে সে কুফরি করল এবং তার আমলসমূহ নষ্ট হয়ে গেল।
(খণ্ড: ১)
তাজুত তারাজিম ফী তাবাকাতিল হানাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯৫)
[16 - أحمد بن علي، ابن الساعاتي]أحمد بن علي بن تغلب بن أبي الضياء، مظفر الدين، ابن الساعاتي، البغدادي الأصل البعلبكي.
سكن بغداد ونشأ بها.
وبرع في الفقه.
وكتب الخط المنسوب.
وصنف كتاب "مجمع البحرين" جمع فيه بين "مختصر" القدوري و"المنظومة" مع زوائد أحسن. وأبدع في اختصاره، وشرحه في مجلدين. وله كتاب "البديع" في الأصول جمع فيه بين أصول فخر الإسلام علي البزدوي والأحكام للآمدي.
قلت: وله "الدر المنضود في الرد على فيلسوف اليهود" يعني ابن كمونة. وكان رحمه الله موجودا سنة تسعين وستمائة.
[১৬ - আহমদ বিন আলী, ইবনুল সাআতি]আহমদ বিন আলী বিন তাগলাব বিন আবিল জিয়া, মুজাফফরুদ্দিন, ইবনুল সাআতি, আদি নিবাস বাগদাদ হলেও তিনি বালবাক্কী।
তিনি বাগদাদে বসবাস করেছেন এবং সেখানেই বেড়ে উঠেছেন।
তিনি ফিকহ শাস্ত্রে পারদর্শিতা অর্জন করেন।
তিনি ‘আল-খাত আল-মানসুব’ নামক সুশোভন হস্তলিপিতে পারদর্শী ছিলেন।
তিনি ‘মাজমাউল বাহরাইন’ গ্রন্থটি রচনা করেন, যাতে তিনি কুদুরি-র ‘মুখতাসার’ এবং ‘আল-মানযুমাহ’-কে উত্তম কিছু পরিশিষ্টসহ একত্রিত করেছেন। তিনি এর সংক্ষিপ্তকরণে চমৎকার নৈপুণ্য প্রদর্শন করেছেন এবং দুই খণ্ডে এর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থও লিখেছেন। উসুল শাস্ত্রে তাঁর ‘আল-বাদিউ’ নামক একটি কিতাব রয়েছে, যেখানে তিনি ফখরুল ইসলাম আলী আল-পাযদাভী-র ‘উসুল’ এবং আল-আমিদীর ‘আল-আহকাম’-কে সমন্বিত করেছেন।
আমি বলছি: ইহুদি দার্শনিকের—অর্থাৎ ইবনে কাম্মুনা—প্রতিউত্তরে তাঁর ‘আদ-দুররুল মানদুদ ফির রাদ্দি আলা ফায়লাসუფিল ইয়াহুদ’ নামক গ্রন্থ রয়েছে। আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন, তিনি ছয়শত নব্বই হিজরি সনে জীবিত ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
তাজুত তারাজিম ফী তাবাকাতিল হানাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯৬)
[17 - أحمد بن علي، أبو بكر الرازي، الجصاص]أحمد بن علي، أبو بكر الرازي، المعروف بالجصاص.
ولد سنة خمس وثلاثمائة.
وسكن بغداد.
وانتهت إليه رئاسة الحنفية. وسئل العمل بالقضاء فامتنع.
تفقه على أبي الحسن الكرخي وتخرج به.
وكان على طريقة من الزهد والورع.
وخرج إلى نيسابور ثم عاد.
وتفقه عليه جماعة.
وروى عن عبد الباقي بن قانع.
وله كتاب "أحكام القرآن" وشرح "مختصر" الكرخي وشرح "مختصر" الطحاوي وشرح "الجامع الصغير" و" الجامع الكبير"لمحمد بن الحسن وشرح "الأسماء الحسنى" وله كتاب في "أصول الفقه" وكتاب "جوابات مسائل" وكتاب "مناسك".
توفي يوم الأحد سابع ذي الحجة سنة سبعين وثلاثمائة ببغداد.
[১৭ - আহমাদ বিন আলী, আবু বকর আর-রাজি, আল-জাসসাস]আহমাদ বিন আলী, আবু বকর আর-রাজি, যিনি আল-জাসসাস নামে পরিচিত।
তিনি তিনশত পাঁচ হিজরি সালে জন্মগ্রহণ করেন।
তিনি বাগদাদে বসবাস করতেন।
তাঁর নিকট হানাফি মাযহাবের প্রধান নেতৃত্ব সমাপ্ত হয়েছিল। তাঁকে বিচারকের দায়িত্ব পালন করতে বলা হলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।
তিনি আবুল হাসান আল-কারখির নিকট ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন এবং তাঁর মাধ্যমেই ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন।
তিনি যুহদ (দুনিয়াবিমুখতা) ও তাকওয়ার (পরহেজগারি) পথ অনুসরণ করতেন।
তিনি নিশাপুরে গিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে পুনরায় ফিরে আসেন।
তাঁর নিকট একদল আলেম ফিকহ শাস্ত্রের উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করেছেন।
তিনি আব্দুল বাকি বিন কানি' থেকে বর্ণনা করেছেন।
তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে "আহকামুল কুরআন", কারখির "মুখতাসার"-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, তাহাবীর "মুখতাসার"-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, মুহাম্মাদ বিন হাসানের "আল-জামি আস-সাগীর" ও "আল-জামি আল-কাবীর"-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ এবং "আল-আসমাউল হুসনা"-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ। এছাড়াও উসুলুল ফিকহ বিষয়ে তাঁর একটি কিতাব, "জাওয়াবাত মাসাইল" নামক কিতাব এবং "মানাসিক" বিষয়ক কিতাব রয়েছে।
তিনি ৩৭০ হিজরি সালের ৭ই জিলহজ রবিবার বাগদাদে মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১)
তাজুত তারাজিম ফী তাবাকাতিল হানাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯৭)
وقد وهم من جعل الجصاص غير أبي بكر الرازي بل هما واحد.
[18 - أحمد بن عمرو، أبو بكر الخصاف]أحمد بن عمرو -وقيل: عمر-بن مهير وقيل: مهران-، أبو بكرالخصاف، الشيباني.
حدث عن أبي عاصم النبيل وأبي داود الطيالسي ومسدد وجماعة.
وكان فاضلًا فارضا حاسبا عارفا بالفقه، مقدما عند الخليفة المهتدي بالله. فلما قتل المهتدي نُهِب فذهب بعض كتبه.
وصنف كتاب "الحيل" وكتاب "الوصايا" وكتاب "الشروط" كبير وصغير وكتاب "الرضاع" وكتاب "المحاضر والسجلات" وكتاب "أدب القاضي" وكتاب "النفقات على الأقارب" وكتاب "إقرار الورثة بعضهم لبعض" وكتاب "أحكام الوقف" وكتاب "النفقات" وكتاب "العصير وأحكامه" وكتاب "ذرع الكعبة والمسجد الحرام والقبر المقدس" وكتاب "الخراج" وكتاب "المناسك".
যারা জাসসাস এবং আবু বকর আর-রাজিকে ভিন্ন ব্যক্তি মনে করেছেন তারা ভ্রান্তিতে রয়েছেন; বরং তারা উভয়ই একই ব্যক্তি।
[১৮ - আহমাদ বিন আমর, আবু বকর আল-খাসসাফ]আহমাদ বিন আমর—মতান্তরে উমর—বিন মুহাইর—মতান্তরে মেহরান—, আবু বকর আল-খাসসাফ, আশ-শায়বানি।
তিনি আবু আসিম আন-নাবিল, আবু দাউদ আত-তায়ালিসি, মুসাদ্দাদ এবং একদল বর্ণনাকারীর নিকট থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন।
তিনি একজন বিদগ্ধ পণ্ডিত, ফারায়িয (উত্তরাধিকার আইন) বিশেষজ্ঞ, গণিতবিদ এবং ফিকহশাস্ত্রে অভিজ্ঞ ছিলেন। খলিফা আল-মুহতাদি বিল্লাহর নিকট তিনি উচ্চ মর্যাদার অধিকারী ছিলেন। যখন আল-মুহতাদি নিহত হলেন, তখন লুণ্ঠন চালানো হলো এবং তার কিছু কিতাব হারিয়ে গেল।
তিনি রচনা করেছেন ‘কিতাবুল হিয়াল’, ‘কিতাবুল ওয়াসায়া’, ‘কিতাবুশ শুরুত’ (বড় ও ছোট), ‘কিতাবুর রাদা’, ‘কিতাবুল মাহাদির ওয়াস সিজিল্লাত’, ‘কিতাবু আদাবিল কাজি’, ‘কিতাবুন নাফাকাত আলাল আকারিব’, ‘কিতাবু ইকরারিল ওয়ারাসাতি বাদুহু লি-বাদ’, ‘কিতাবু আহকামিল ওয়াকফ’, ‘কিতাবুন নাফাকাত’, ‘কিতাবুল আসির ওয়া আহকামুহু’, ‘কিতাবু যারয়িল কাবা ওয়াল মাসজিদিল হারাম ওয়াল কবরিল মুকাদ্দাস’, ‘কিতাবুল খারাজ’ এবং ‘কিতাবুল মানাসিক’।
(খণ্ড: ১)
তাজুত তারাজিম ফী তাবাকাতিল হানাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯৮)
نُهِبَ قبل أن يخرج للناس.
وذكر أنه كان يأكل من كسب يده.
مات ببغداد سنة إحدى وستين ومائتين.
[19 - أحمد بن محمد، القُدوري]أحمد بن محمد بن أحمد بن جعفر بن حمدان، أبو الحسين، بن أبي بكر القدوري، البغدادي، صاحب "المختصر".
ولد سنة اثنتين وستين وثلاثمائة.
وتفقه على أبي عبد الله محمد بن يحيى الجرجاني.
وروى الحديث وكان صدوقا.
وانتهت إليه رئاسة الحنفية بالعراق. وعظم عندهم قدره، وارتفع جاهه. وكان حسن العبارة في النظر، جريئاً بلسانه مديما لتلاوة القرآن.
صنف "المختصر" وشرح "مختصر" الكرخي.
قلت: وصنف كتاب "التجريد" في سبعة أسفار، يشتمل على الخلاف بين
লোকসমক্ষে বের হওয়ার পূর্বেই তিনি লুণ্ঠিত হন।
উল্লিখিত আছে যে, তিনি তাঁর নিজের হাতের উপার্জন থেকে আহার করতেন।
তিনি দুইশত একষট্টি হিজরি সনে বাগদাদে মৃত্যুবরণ করেন।
[১৯ - আহমদ বিন মুহাম্মদ, আল-কুদূরী]আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন জাফর বিন হামদান, আবু আল-হুসাইন বিন আবি বকর আল-কুদূরী, আল-বাগদাদী, "আল-মুখতাসার" গ্রন্থের রচয়িতা।
তিনি তিনশত বাষট্টি হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন।
তিনি আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া আল-জুরজানীর নিকট ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন।
তিনি হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং তিনি অত্যন্ত সত্যবাদী ছিলেন।
ইরাকে হানাফি মাযহাবের নেতৃত্ব তাঁর ওপর এসে সমাপ্ত হয়। তাঁদের নিকট তাঁর মর্যাদা ছিল অত্যন্ত মহান এবং তাঁর প্রতিপত্তি ছিল সুউচ্চ। তিনি তাত্ত্বিক আলোচনায় সুন্দর বাচনভঙ্গির অধিকারী ও বাকপটু ছিলেন এবং সর্বদা কুরআন তিলাওয়াত করতেন।
তিনি "আল-মুখতাসার" রচনা করেন এবং আল-কারখীর "আল-মুখতাসার"-এর ব্যাখ্যা গ্রন্থ লেখেন।
আমি বলছি: তিনি সাত খণ্ডে "আত-তাজরীদ" গ্রন্থটি রচনা করেন, যা নিম্নোক্তদের মধ্যকার মতভেদ সংবলিত-
(খণ্ড: ১)
তাজুত তারাজিম ফী তাবাকাতিল হানাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯৯)
الشافعي وأبي حنيفة وأصحابه؛ شرع في إملائه سنة خمس وأربعمائة. وكتاب "التقريب" في مسائل الخلاف بين أبي حنيفة وأصحابه مجردا عن الدلائل. ثم صنَّف "التقريب" الثاني فذكر المسائل بأدلتها.
وله "جزء حديثي" رويناه عنه.
مات ببغداد في يوم الأحد منتصف رجب سنة ثمان وعشرين وأربعمائة.
وقال الذهبي: خامس رجب.
روى عنه الخطيب وقال: كان صدوقا.
وكان يناظر الشيخ أبا حامد الإسفراييني.
ولا أدري سبب نسبته إلى القدور.
[20 - أحمد بن محمد، العقيلي، البخاري]أحمد بن محمد بن أحمد العُقَيْلِي، الأنصاري، شمس الدين البخاري.
تفقه على جده لأمه شرف الدين عمر بن محمد بن عمر العُقَيلي.
ونظم الجامع الصغير.
قلت: وشرح الجامع الصغير لمحمد بن الحسن.
مات ببخارى في خامس رمضان سنة سبع وخمسين وستمائة.
শাফেয়ী এবং আবু হানিফা ও তাঁর সাথীবর্গের; চারশত পাঁচ হিজরি সালে তিনি এটি শ্রুতলিখন করতে শুরু করেন। আর ‘আত-তাকরীব’ কিতাবটি আবু হানিফা ও তাঁর সাথীবর্গের মধ্যকার মতপার্থক্যপূর্ণ মাসআলাসমূহের বিষয়ে, যা দলিল-প্রমাণ বিহীন। এরপর তিনি দ্বিতীয় ‘তাকরীব’ সংকলন করেন এবং সেখানে মাসআলাসমূহ দলিলসহ উল্লেখ করেন।
এবং তাঁর একটি ‘হাদিস বিষয়ক পুস্তিকা’ রয়েছে যা আমরা তাঁর সূত্রে বর্ণনা করেছি।
তিনি চারশত আটাশ হিজরি সালের রজব মাসের মাঝামাঝি সময়ে রবিবার বাগদাদে ইন্তেকাল করেন।
আয-যাহাবি বলেন: পাঁচই রজব।
আল-খতিব তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: তিনি অত্যন্ত সত্যবাদী ছিলেন।
তিনি শাইখ আবু হামিদ আল-ইসফরাইনির সাথে একাডেমিক বিতর্ক করতেন।
এবং ‘কুদুর’-এর দিকে তাঁর সম্বন্ধযুক্ত হওয়ার কারণ আমি জানি না।
[২০ - আহমদ বিন মুহাম্মদ, আল-উকাইলি, আল-বুখারি]আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-উকাইলি, আল-আনসারি, শামসুদ্দিন আল-বুখারি।
তিনি তাঁর মাতামহ শরফুদ্দিন উমর বিন মুহাম্মদ বিন উমর আল-উকাইলির নিকট ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন।
তিনি ‘আল-জামি আস-সগির’ গ্রন্থটি কাব্যাকারে বিন্যস্ত করেন।
আমি বলছি: এবং মুহাম্মদ বিন আল-হাসানের ‘আল-জামি আস-সগির’-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থও লিখেছেন।
তিনি ছয়শত সাতান্ন হিজরি সালের পাঁচই রমজান বুখারায় ইন্তেকাল করেন।
(খণ্ড: ১)
তাজুত তারাজিম ফী তাবাকাতিল হানাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০০)
[21 - أحمد بن محمد بن سلامة، أبوجعفر الطحاوي]أحمد بن محمد بن سلامة بن سلمة بن عبد الملك بن سلمة بن سليم بن سليمان بن حُباب، الأزدي، الحجْري، المصري، الطحاوي، أبو جعفر. كان ثقة نبيلا فقيهًا إمامًا.
ولد سنة تسع وعشرين، وقيل: تسع وثلاثين ومائتين.
ومات سنة إحدى وعشرين وثلاثمائة.
[২১ - আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে সালামাহ, আবু জাফর আত-তাহাবি]আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে সালামাহ ইবনে সালামাহ ইবনে আব্দুল মালিক ইবনে সালামাহ ইবনে সালিম ইবনে সুলাইমান ইবনে হুবাব, আল-আযদি, আল-হাজরি, আল-মিসরি, আত-তাহাবি, আবু জাফর। তিনি নির্ভরযোগ্য, মহানুভব, ফকিহ ও ইমাম ছিলেন।
তিনি দুইশত উনত্রিশ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন, এবং বলা হয়ে থাকে: দুইশত উনচল্লিশ হিজরি সনে।
এবং তিনি তিনশত একুশ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১)
তাজুত তারাজিম ফী তাবাকাতিল হানাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০১)
صحب المزني، وتفقه به، ثم ترك مذهبه، وصار حنفي المذهب.
تفقه على أبي جعفر أحمد بن أبي عمران موسى بن عيسى.
وخرج إلى الشام سنة ثمان وستين ومائتي، ن فلقي بها أبا خازم عبد الحميد ابن جعفر، فتفقه عليه، وسمع منه.
وله كتاب "أحكام القرآن" يزيد على عشرين جزءا، وكتاب "معاني الآثار" و"بيان مشكل الآثار" و"المختصر" في الفقه وشرح "الجامع الكبير" وشرح "الجامع الصغير" وله كتاب "الشروط الكبير"و"الشروط الصغير " و"الشروط الأوسط" وله "المحاضر والسجلات" و"الوصايا" و"الفرائض " وكتاب "نقض كتاب المدلسين على الكرابيسي" وله كتاب "تاريخ" كبير و"مناقب أبي حنيفة" وله في القرآن ألف ورقة. وله "النوادر الفقهية" عشرة أجزاء و"النوادر والحكايات" تنيف على عشرين جزءا، و"حكم أراضي مكة" و"قسمة الفيء والغنائم" وكتاب "الرد على عيسى بن أبان" وكتاب "الرد على أبي عبيدة" وكتاب "اختلاف الروايات على مذهب الكوفيين" انتهى.
قلت: المحفوظ أن أبا خازم اسمه عبد الحميد بن عبد العزيز.
وللطحاوي من المصنفات أيضا كتاب "اختلاف الفقهاء" و"العقيدة" المشهورة.
قال ابن يونس: كان الطحاوي ثقة ثبتا فقيهًا عارفًا لم يخلق مثله.
وقاله ابن عساكر وابن الجوزي.
তিনি আল-মুজানির সাহচর্য লাভ করেন এবং তাঁর নিকট ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন, অতঃপর তাঁর মাযহাব ত্যাগ করে হানাফি মাযহাব গ্রহণ করেন।
তিনি আবু জাফর আহমাদ বিন আবি ইমরান মুসা বিন ঈসার নিকট ফিকহ অর্জন করেন।
তিনি দুইশত আটষট্টি হিজরি সনে শামের উদ্দেশ্যে সফর করেন এবং সেখানে আবু খাযেম আব্দুল হামিদ ইবনে জাফরের সাথে সাক্ষাৎ করেন, তাঁর নিকট ফিকহ শাস্ত্র পড়েন এবং তাঁর থেকে হাদিস শ্রবণ করেন।
তাঁর রচিত 'আহকামুল কুরআন' কিতাবটি বিশ খণ্ডেরও অধিক। এছাড়া তাঁর অন্যান্য গ্রন্থ হলো 'মাআনিল আসার', 'বায়ানু মুশকিলাল আসার', ফিকহ বিষয়ে 'আল-মুখতাসার', 'শারহুল জামিউল কাবির'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ এবং 'শারহুল জামিউস সাগির'। আরও রয়েছে 'আশ-শুরুতুল কাবির', 'আশ-শুরুতুস সাগির' এবং 'আশ-শুরুতুল আওসাত'। তাঁর আরও কিতাব হলো 'আল-মুহাদির ওয়াস সিজিললাত', 'আল-ওয়াসায়া', 'আল-ফারায়িয', 'নাকদু কিতাবিল মুদাল্লিসিন আলাল কারাবিসি', একটি বৃহৎ 'ইতিহাস' গ্রন্থ এবং 'মানাকিব আবু হানিফা'। কুরআন বিষয়ে তাঁর এক হাজার পৃষ্ঠার একটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে। এছাড়া দশ খণ্ডের 'আন-নাওয়াদিরুল ফিকহিয়্যাহ', বিশ খণ্ডেরও অধিক 'আন-নাওয়াদির ওয়াল হিকায়াত', 'হুকমু আরাদি মক্কা', 'কিসমাতুল ফায়ি ওয়াল গানায়িম', 'আর-রাদ্দু আলা ঈসা ইবনে আবান', 'আর-রাদ্দু আলা আবি উবাইদা' এবং 'ইখতিলাফুর রিওয়ায়াত আলা মাযহাবিল কুফিয়্যিন'। সমাপ্ত।
আমি বলছি: নির্ভরযোগ্য তথ্য মতে আবু খাযেমের নাম হলো আব্দুল হামিদ বিন আব্দুল আজিজ।
ইমাম তাহাবির রচনাবলির মধ্যে 'ইখতিলাফুল ফুকাহা' এবং প্রসিদ্ধ 'আকিদাহ' গ্রন্থটিও অন্তর্ভুক্ত।
ইবনে ইউনুস বলেন: তাহাবি ছিলেন অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য, সুদৃঢ়, বিজ্ঞ ফকিহ এবং প্রজ্ঞাবান; তাঁর মতো আর কেউ সৃষ্টি হয়নি।
ইবনে আসাকির এবং ইবনুল জাওযিও একই কথা ব্যক্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
তাজুত তারাজিম ফী তাবাকাতিল হানাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০২)
وقال ابن عبد البر في كتاب "العلم": كان من أعلم الناس بسير الكوفيين وأخبارهم مع مشاركته في جميع مذاهب الفقهاء.
روى عنه ابن مظفر الحافظ، والحافظ أبو القاسم الطبراني، وأبو بكر بن المقرئ، وآخرون.
قال ابن يونس: توفي مستهل ذي القعدة سنة إحدى وعشرين وثلاثمائة. وفيها أرخه مسلمة بن قاسم، وخالفهما محمد بن إسحاق النديم في "الفهرست" فقال: سنة اثنتين وعشرين وقد بلغ الثمانين.
[22 - أحمد بن محمد، أبوالعباس الناطفي]أحمد بن محمد بن عمر أبو العباس الناطفي.
أحد الفقهاء الكبار.
له كتاب "الأجناس والفروق" في مجلد، و"الواقعات" في مجلدات.
توفي بالري سنة ست وأربعين وأربعمائة.
والناطفي نسبة إلى عمل الناطف وبيعه.
ইবনুল বার তাঁর 'আল-ইলম' গ্রন্থে বলেন: তিনি কুফাবাসীদের জীবনচরিত ও ইতিহাস সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অবগত ছিলেন, পাশাপাশি ফকীহদের সকল মাযহাবেও তাঁর পাণ্ডিত্যপূর্ণ বিচরণ ছিল।
তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন হাফেজ ইবনে মুযাফফর, হাফেজ আবুল কাসিম আত-তাবারানি, আবু বকর ইবনুল মুকরি এবং আরও অনেকে।
ইবনে ইউনুস বলেন: তিনি ৩২১ হিজরীর জিলকদ মাসের শুরুতে মৃত্যুবরণ করেন। মাসলামাহ ইবনে কাসিমও তাঁর মৃত্যুর এই তারিখটিই উল্লেখ করেছেন। তবে মুহাম্মদ বিন ইসহাক আন-নাদিম তাঁর 'আল-ফিহরিস্ত' গ্রন্থে তাদের বিরোধিতা করে বলেছেন: তিনি ৩২২ হিজরীতে আশি বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।
[২২ - আহমাদ বিন মুহাম্মদ, আবুল আব্বাস আন-নাতিফি]আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন উমর আবুল আব্বাস আন-নাতিফি।
তিনি অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফকীহ ছিলেন।
তাঁর 'আল-আজনাস ওয়াল ফুরুক' নামক এক খণ্ডের একটি গ্রন্থ এবং 'আল-ওয়াকিআত' নামক কয়েক খণ্ডের একটি গ্রন্থ রয়েছে।
তিনি ৪৪৬ হিজরীতে রায় শহরে মৃত্যুবরণ করেন।
আর 'আন-নাতিফি' নিসবতটি (উপাধি) 'নাতিফ' নামক মিষ্টান্ন তৈরি ও বিক্রির পেশার সাথে সম্পর্কিত।
(খণ্ড: ১)
তাজুত তারাজিম ফী তাবাকাতিল হানাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০৩)
[23 - أحمد بن محمد، العتاَّبي]أحمد بن محمد بن عمر أبو نصر وقيل أبو القاسم زين الدين العتابي نسبه إلى العتابية محلة ببخارى له كتاب الزيادات وكتاب جوامع الفقه أربع مجلدات وشرح الجامع الكبير وشرح الجامع الصغير مات سوم الأحد من سنة ست وثمانين وخمسمائة ببخارى قلت: وله كتاب تفسير القرآن وكانت وفاته وقت الظهر ودفن بمقبرة الفقهاء السبعة قال الذهبي صنَّف الجامع الكبير والزيادات وتفسير القرآن ولازمه شمس الأئمة الكردري وأخذ عنه.
[24 - أحمد بن محمد أبونصر الأقطع]أحمد بن محمد بن محمد أبو نصر ألا قطع.
[২৩ - আহমদ ইবনে মুহাম্মদ, আল-আত্তাবি]আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উমর আবু নাসর, এবং বলা হয় আবু কাসিম যয়নুদ্দীন আল-আত্তাবি। তার নিসবাহ (বংশনাম) বুখারার আত্তাবিয়া নামক মহল্লার সাথে সম্পর্কিত। তার কিতাব আল-যিয়াদাত এবং চার খণ্ডের কিতাব জওয়ামিউল ফিকহ রয়েছে। এছাড়াও তিনি শারহু আল-জামি আল-কাবীর এবং শারহু আল-জামি আস-সাগীর রচনা করেছেন। তিনি পাঁচশত ছিয়াশি হিজরি সনের এক রবিবারে বুখারায় মৃত্যুবরণ করেন। আমি (গ্রন্থকার) বলছি: তার একটি তাফসীরুল কুরআন গ্রন্থ রয়েছে এবং তার মৃত্যু যোহরের সময় হয়েছিল এবং তাকে ‘সাত ফকীহর কবরস্থানে’ দাফন করা হয়। আয-যাহাবি বলেন: তিনি আল-জামি আল-কাবীর, আল-যিয়াদাত এবং তাফসীরুল কুরআন রচনা করেছেন এবং শামসুল আইম্মাহ আল-কারদারি তার শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছিলেন ও তার নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন।
[২৪ - আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আবু নাসর আল-আকতা]আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ আবু নাসর আল-আকতা।
(খণ্ড: ১)
তাজুত তারাজিম ফী তাবাকাতিল হানাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০৪)
درس الفقه على أبي الحسين القدوري حتى برع فيه وقرأ الحساب حتى أتقنه وشرح مختصر القدوري ومال إلى حدث فظهر على الحدث سرقة فإنهم بأنه شاركه فيها فقطعت يده اليسرى قلت: حكى الصفدي في الوفيات إن يده قطعت في حرب كانت بين المسلمين والتتار والله أعلم مات سنة أربع وسبعين وأربعمائة.
[25 - أحمد بن محمد الغزنوي]أحمد بن محمد بن محمود بن سعيد الغزنوي الكاشاني تفقه على أحمد بن يوسف الحسيني العلوي وتفقه به جماعة وصنف كتاب روضة اختلاف العلماء ومقدمة في الفقه عرفت بالغزنوية وكتاب في أصول الفقه وكتاب روضة المتكلمين في أصول الدين وكتاب المنتقى من روضة المتكلمين وكتاب البدايع في الفقه مات بحلب بعد سنة ثلاث وتسعين وخمسمائة قلت: ليس الغزنوي بالكاشاني وكتاب البدايع للكاشاني لا الغزنوي وكان الغزنوي معيد درس الكاشاني والله أعلم.
তিনি আবুল হুসাইন আল-কুদুরীর নিকট ফিকহ শাস্ত্র পাঠ করেন এবং তাতে পারদর্শিতা অর্জন করেন। তিনি পাটিগণিত পাঠ করে তাতে দক্ষতা লাভ করেন এবং মুখতাসারুল কুদুরী-র ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেন। তিনি এক যুবকের প্রতি আসক্ত হন, অতঃপর সেই যুবকের চুরির বিষয়টি প্রকাশ পায়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয় যে তিনি তাতে অংশ নিয়েছিলেন, ফলে তার বাম হাত কেটে ফেলা হয়। আমি বলি: আস-সাফাদী আল-ওয়াফিয়াত গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, তার হাত মুসলিম ও তাতারদের মধ্যে সংঘটিত এক যুদ্ধে কাটা পড়েছিল। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ। তিনি চারশত চুয়াত্তর হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।
[২৫ - আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আল-গজনবী]আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মাহমুদ ইবনে সাঈদ আল-গজনবী আল-কাশানি আহমদ ইবনে ইউসুফ আল-হুসাইনি আল-আলাওয়ীর নিকট ফিকহ শিক্ষা করেন এবং তার নিকট এক জামাত লোক ফিকহ অর্জন করেন। তিনি 'রওজাতু ইখতিলাফিল উলামা', ফিকহ শাস্ত্রের একটি ভূমিকা যা 'গজনবিয়্যাহ' নামে পরিচিত, উসুলুল ফিকহের ওপর একটি কিতাব, ধর্মতত্ত্বের ওপর 'রওজাতুল মুতাকাল্লিমীন', 'আল-মুনতাকা মিন রওজাতিল মুতাকাল্লিমীন' এবং ফিকহের ওপর 'আল-বাদায়ি' নামক কিতাবটি রচনা করেন। তিনি পাঁচশত তিরানব্বই হিজরির পর হালাবে ইন্তেকাল করেন। আমি বলি: গজনবী ও কাশানি এক ব্যক্তি নন এবং 'আল-বাদায়ি' কিতাবটি কাশানির, গজনবীর নয়। গজনবী ছিলেন কাশানির পাঠদানকারী সহকারী। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১)
তাজুত তারাজিম ফী তাবাকাতিল হানাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০৫)
[26 - أحمد بن محمود الصابوني]أحمد بن محمود بن أبي بكر الصابوني نور الدين أبو محمد له البداية في أصول الدين توفي ليلة الثلاثاء سادس عشر صفر سنة ثمانين وخمسمائة قلت: تفقه الصابوني على شمس الأئمة الكردري وكانت وفاته وقت صلاة المغرب ودفن بمقبرة القضاة السبعة وله كتاب المغنى في أصول الدين.
[27 - أحمد بن مسعود القونوي]أحمد بن مسعود بن عبد الرحمن أبو العباس القنوي تفقه على الجلال عمر الخبازي وله كتاب التقرير في شرح الجامع الكبير في أربع مجلدات أكمله أبنه أبو الحسن وله شرح عقيدة الطحاوي أحمد مات بدمشق.
[২৬ - আহমাদ ইবনে মাহমুদ আস-সাবুনী]আহমাদ ইবনে মাহমুদ ইবনে আবু বকর আস-সাবুনী নূরুদ্দীন আবু মুহাম্মাদ। উসুলুদ্দীন (দীনের মূলনীতি) বিষয়ে তার ‘আল-বিদায়া’ নামক গ্রন্থ রয়েছে। তিনি পাঁচশত আশি হিজরী সনের ষোলই সফর মঙ্গলবার রাতে ইন্তেকাল করেন। আমি বলছি: আস-সাবুনী ‘শামসুল আইম্মাহ আল-কারদারী’র নিকট ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেছেন। মাগরিবের নামাযের সময় তার মৃত্যু হয় এবং তাকে ‘সাত বিচারকের গোরস্থানে’ দাফন করা হয়। উসুলুদ্দীন বিষয়ে তার ‘আল-মুগনী’ নামক একটি কিতাবও রয়েছে।
[২৭ - আহমাদ ইবনে মাসউদ আল-কুনাবী]আহমাদ ইবনে মাসউদ ইবনে আব্দুর রহমান আবুল আব্বাস আল-কুনাবী। তিনি জালাল উমর আল-খাব্বাযীর নিকট ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেছেন। ‘আল-জামি আল-কাবীর’-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ হিসেবে চার খণ্ডে তার ‘আত-তাকরীর’ নামক কিতাব রয়েছে, যা তার পুত্র আবুল হাসান সম্পন্ন করেছেন। আকিদাতুত তাহাভী-র ওপরও তার একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে। আহমাদ দামেস্কে মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১)
তাজুত তারাজিম ফী তাবাকাতিল হানাফিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০৬)
[28 - أحمد بن ناصر الحسيني]أحمد بن ناصر بن ظاهر أبو المعالي الحسيني برهان الدين كان إمامًا علامة زاهدًا عابِدًا مفتيا يعرف التفسير والفقه والأصول صنَّف تفسيرا في سبع مجلدات وكتابا في أصول الدين مات في شوال سنة تسع وثمانين وستمائة انتهى.
قلت: وممن يسمى بهذا الاسم منهم.
[29 - أحمد بن إبراهيم العَيْنتَابي]أحمد بن إبراهيم بن أيوب العينتابي الحلبي شهاب الدين أبو العباس قاضي العسكر بدمشق أفتى ودرس ونوع وجنس وحرر النقول من المنقول وشرح مجمع البحرين في الفقه والمغنى في الأصول وسمي شرح المجمع المنبع توفي سنة سبع وستين وسبعمائة بدمشق وقد جاوز الستين.
[২৮ - আহমাদ ইবনে নাসের আল-হুসাইনি]আহমাদ ইবনে নাসের ইবনে জহির আবুল মাআলি আল-হুসাইনি বুরহান উদ্দিন ছিলেন একজন ইমাম, বিজ্ঞ আলিম, দুনিয়াত্যাগী তাপস, ইবাদতকারী এবং মুফতি। তিনি তাফসির, ফিকহ ও উসুল শাস্ত্রে পারদর্শী ছিলেন। তিনি সাত খণ্ডে একটি তাফসির এবং উসুলুদ দ্বীন (ধর্মের মূলনীতি) বিষয়ে একটি গ্রন্থ রচনা করেন। তিনি ৬৮৯ হিজরির শাওয়াল মাসে ইন্তেকাল করেন। সমাপ্ত।
আমি বলছি: এবং তাদের মধ্যে যারা এই নামে নামাঙ্কিত ছিলেন...
[২৯ - আহমাদ ইবনে ইবরাহিম আল-আইনতাবি]আহমাদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে আইয়ুব আল-আইনতাবি আল-হালাবি শিহাব উদ্দিন আবুল আব্বাস ছিলেন দামেস্কের কাজিউল আসকার (সেনা বিচারপতি)। তিনি ফতোয়া প্রদান ও পাঠদান করেছেন এবং বিভিন্ন প্রকারের জ্ঞানচর্চায় লিপ্ত ছিলেন। তিনি উদ্ধৃতিসমূহ নিখুঁতভাবে লিপিবদ্ধ ও সংকলন করেছেন। তিনি ফিকহ শাস্ত্রের 'মাজমাউল বাহরাইন' এবং উসুল শাস্ত্রের 'আল-মুগনি' গ্রন্থের ব্যাখ্যা রচনা করেছেন। মাজমা-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থটির নাম দিয়েছেন 'আল-মানবা'। তিনি ৭৬৭ হিজরিতে দামেস্কে ষাটোর্ধ্ব বয়সে ইন্তেকাল করেন।