(খণ্ড: ১)
ঈজাযুত তারিফ ফী ইলমিত তাসরীফ
(পৃষ্ঠা: -)
إيجاز التعريف في علم التصريف القسم: النحو والصرف
الكتاب: إيجاز التعريف في علم التصريف
المؤلف: محمد بن عبد الله، ابن مالك الطائي الجياني، أبو عبد الله، جمال الدين (ت 672هـ)
المحقق: محمد المهدي عبد الحي عمار سالم
الناشر: عمادة البحث العلمي بالجامعة الإسلامية، المدينة المنورة، المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1422هـ/ 2002م
عدد الصفحات: 213
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইজাযুত তারিফ ফি ইলমিত তাসরিফ বিভাগ: নাহু ও সরফ
গ্রন্থ: ইজাযুত তারিফ ফি ইলমিত তাসরিফ
লেখক: মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ, ইবনে মালিক আত-তায়ী আল-জাইয়ানি, আবু আব্দুল্লাহ, জামালুদ্দিন (মৃত্যু ৬৭২ হি.)
তাহকিককারী: মুহাম্মদ আল-মাহদি আব্দুল হাই আম্মার সালিম
প্রকাশক: বৈজ্ঞানিক গবেষণা অনুষদ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, মদিনা মুনাওয়ারা, সৌদি আরব রাজতন্ত্র
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২২ হি./ ২০০২ খ্রি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২১৩
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
ঈজাযুত তারিফ ফী ইলমিত তাসরীফ
(পৃষ্ঠা: ৭)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة التحقيق
الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على صفوة خلقه الأمين سيدنا ونبينا محمد وعلى آله وصحبه الطيبين الطاهرين. أما بعد فإنني قد عقدت العزم على بذل الجهد في نشر ما أمكنني نشره من تراث ابن مالك "اللغوي والصرفي".
وقد يسر الله لي نشر مصنفين من مصنفاته هما:
1- التعريف في ضرورة التصريف: قمت بتحقيقه ونشرته دار البخاري بالمدينة المنورة.
2- مسألة في الاشتقاق: قدمت لها وحققتها وقد نُشِرت في مجلة الجامعة الإسلامية وها أنا اليوم أقدم للقراء كتاباً ثالثاً لابن مالك بعد أن قمت بدراسته وتحقيقه وهو "إيجاز التعريف في علم التصريف".
وإنني لأحمد الله وأشكره على تمكيني من إنجاز هذا العمل كما أسأله أن يجعله خالصاً لوجه الكريم وأن ينفع به الباحثين والمتعلمين.
وقد سلكت في سبيل خدمة هذا الكتاب الخطة التالية:
خطة البحث:
لقد اقتضت طبيعة الموضوع أن يشتمل على مقدمة وقسمين تعقبهما فهارس فنية.
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
সম্পাদনার ভূমিকা
সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ ও বিশ্বস্ত সত্তা আমাদের নেতা ও নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন সহচরদের ওপর। অতঃপর, আমি ইবনে মালিকের ভাষাগত ও রূপতাত্ত্বিক ঐতিহ্যের মধ্য থেকে যা কিছু সম্ভব তা প্রকাশে সচেষ্ট হওয়ার সংকল্প করেছি।
আল্লাহ তাআলা আমার জন্য তাঁর দুটি রচনা প্রকাশ করা সহজ করে দিয়েছেন, সেগুলো হলো:
১- আত-তারিফ ফি দারুরাতিত তাসরিফ: এটি আমি সম্পাদনা করেছি এবং মদিনা মুনাওয়ারার দারুল বুখারি এটি প্রকাশ করেছে।
২- মাসআলাহ ফিল ইশতিকাক: আমি এর ভূমিকা লিখেছি ও সম্পাদনা করেছি এবং এটি ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। আজ আমি পাঠকদের সামনে ইবনে মালিকের তৃতীয় একটি গ্রন্থ উপস্থাপন করছি, যার ওপর আমি অধ্যয়ন ও সম্পাদনা সম্পন্ন করেছি; আর তা হলো ‘ইজাজুত তারিফ ফি ইলমিত তাসরিফ’।
আমি আল্লাহর প্রশংসা ও শুকরিয়া আদায় করছি আমাকে এই কাজটি সম্পন্ন করার সামর্থ্য প্রদানের জন্য। আমি তাঁর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন এটিকে কেবল তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং এর মাধ্যমে গবেষক ও শিক্ষার্থীদের উপকৃত করেন।
এই গ্রন্থটির খিদমতে আমি নিম্নলিখিত কর্মপরিকল্পনা অনুসরণ করেছি:
গবেষণার কর্মপরিকল্পনা:
বিষয়ের প্রকৃতি অনুযায়ী গ্রন্থটি একটি ভূমিকা ও দুটি পরিচ্ছেদ সংবলিত হয়েছে, যার শেষে রয়েছে বিষয়ভিত্তিক নির্ঘণ্টসমূহ।
(খণ্ড: ১)
ঈজাযুত তারিফ ফী ইলমিত তাসরীফ
(পৃষ্ঠা: ১১)
المقدمة: بينت فيها الخطة التي سرت عليها في سبيل إنجاز هذا العمل. القسم الأول: الدراسة: وقد تضمن فصلين:
الفصل الأول: دراسة المؤلف (ابن مالك) وفيه أربعة مباحث.
المبحث الأول: حياته: اسمه-كنيته- لقبه- نسبه- نسبته - ميلاده ووفاته.
المبحث الثاني: صفاته ومكانته العلمية.
المبحث الثالث: شيوخه وتلاميذه.
المبحث الرابع: آثاره العلمية.
الفصل الثاني: دراسة الكتاب وفيه أربعة مباحث:
المبحث الأول: تحقيق اسمه وتوثيق نسبته وبيان سبب تصنيفه وزمن تأليفه.
المبحث الثاني: موضوعه ومنهجه.
المبحث الثالث: السمات البارزة في الكتاب.
المبحث الرابع: مصادره وشواهده وأثره في الخالفين.
القسم الثاني: التحقيق:
ويشتمل على وصف النسخ الخطية وبيان منهج التحقيق
الفهارس الفنية:
1- فهرس الآيات.
2- فهرس الأشعار.
ভূমিকা: এতে আমি সেই কর্মপরিকল্পনা স্পষ্ট করেছি যা এই কাজটি সম্পন্ন করার পথে আমি অনুসরণ করেছি। প্রথম অংশ: গবেষণা: এটি দুটি অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত করেছে:
প্রথম অধ্যায়: লেখক (ইবনে মালিক) পরিচিতি এবং এতে চারটি পরিচ্ছেদ রয়েছে।
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর জীবনচরিত: তাঁর নাম- কুনিয়াত- লকব- বংশপরিচয়- সম্বন্ধ (نسبة)- জন্ম ও মৃত্যু।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর গুণাবলি ও জ্ঞানীয় মর্যাদা।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর শিক্ষক ও ছাত্রবৃন্দ।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: তাঁর ইলমী রচনাবলি।
দ্বিতীয় অধ্যায়: গ্রন্থ পরিচিতি এবং এতে চারটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: গ্রন্থের নামের যাচাইকরণ (تحقيق), লেখকের প্রতি এর সম্বন্ধের নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিতকরণ (توثيق) এবং এটি রচনার কারণ ও সময়কাল বর্ণনা।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এর বিষয়বস্তু ও কর্মপদ্ধতি।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যসমূহ।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: এর উৎসসমূহ, দলিল-প্রমাণাদি এবং উত্তরসূরিদের ওপর এর প্রভাব।
দ্বিতীয় অংশ: সম্পাদনা (تحقيق):
এটি পাণ্ডুলিপিসমূহের বিবরণ এবং সম্পাদনা (تحقيق) পদ্ধতির বর্ণনার ওপর مشتمل।
কারিগরী নির্ঘণ্টসমূহ:
১- আয়াতের সূচি।
২- কবিতার সূচি।
(খণ্ড: ১)
ঈজাযুত তারিফ ফী ইলমিত তাসরীফ
(পৃষ্ঠা: ১২)
3- فهرس الأمثال.
فهرس الأمثلة وغريب اللغة.
5- فهرس الأعلام.
6- فهرس القبائل والجماعات.
7- فهرس الأماكن.
8- فهرس المراجع.
9- فهرس الموضوعات.
وصلى الله على محمد وآله وأتباعه
المحقق
محمد المهدي عبد الحي عمار سالم
المدينة المنورة
৩- প্রবাদ-প্রবচনের নির্ঘণ্ট।
উদাহরণ ও অপ্রচলিত শব্দাবলির (غريب اللغة) নির্ঘণ্ট।
৫- ব্যক্তিনামের নির্ঘণ্ট।
৬- গোত্র ও দলসমূহের নির্ঘণ্ট।
৭- স্থানসমূহের নির্ঘণ্ট।
৮- গ্রন্থসূচির নির্ঘণ্ট।
৯- বিষয়সূচি।
আল্লাহ তাআলা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর অনুসারীদের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।
সম্পাদক
মুহাম্মদ আল-মাহদি আব্দুল হাই আম্মার সালিম
মদিনা মুনাওয়ারা
(খণ্ড: ১)
ঈজাযুত তারিফ ফী ইলমিত তাসরীফ
(পৃষ্ঠা: ১২)
القسم الأول: الدراسة
الفصل الأول: دراسة المؤلف
المبحث الأول: التعريف بالمؤلف…المبحث الأول: حياته: اسمه ونسبته وكنيته ولقبه – وميلاده ووفاته
اسمه ونسبه:
1- اتفق المترجمون لابن مالك على أن اسمه "محمد" ولكنهم اختلفوا في سلسلة آبائه ويمكن تلخيص رواياتهم في الصور التالية:
محمد بن مالك وردت هذه الرواية في أول كتاب الألفاظ المختلفة في المعاني المؤتلفة1.
2- محمد بن عبد الله بن مالك، قد وردت هذه الصيغة أيضاً في أوائل بعض كتبه2.
--------------------------------------------
প্রথম ভাগ: পর্যালোচনা
প্রথম অধ্যায়: লেখকের জীবন ও কর্মের পর্যালোচনা
প্রথম পরিচ্ছেদ: লেখক পরিচিতি…প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর জীবন: নাম, বংশপরিচয়, উপনাম (কুনিয়াত) ও উপাধি—এবং জন্ম ও মৃত্যু
তাঁর নাম ও বংশপরিচয়:
১- ইবনে মালিকের জীবনীকারগণ এই মর্মে একমত হয়েছেন যে, তাঁর নাম "মুহাম্মদ"; কিন্তু তাঁরা তাঁর পিতৃপুরুষের বংশপরম্পরা নিয়ে মতভেদ করেছেন। তাঁদের বর্ণনা (رواية) সমূহকে নিম্নোক্ত রূপরেখায় সংক্ষেপ করা সম্ভব:
মুহাম্মদ বিন মালিক; এই বর্ণনা (رواية) টি 'আল-আলফাজ আল-মুখতালিফাহ ফি আল-মাআনি আল-মু’তালিফাহ' গ্রন্থের শুরুতে উল্লেখ করা হয়েছে।১
২- মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মালিক; এই রূপটিও তাঁর কিছু গ্রন্থের শুরুতেও উল্লেখ করা হয়েছে।২
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ঈজাযুত তারিফ ফী ইলমিত তাসরীফ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وكذلك صرح بها بعض مترجميه1.
3- محمد بن عبد الله بن عبد الله مالك.
وردت هذه الصيغة في أول بعض مؤلفاته2 وذكرها بعض من ترجمه3.
4- محمد بن عبد الله بن عبد الله بن عبد الله بن مالك ذكر هذه الصيغة ابن طولون في القلائد الجوهرية في تاريخ الصالحية القسم الثاني4.
5- محمد بن عبد الله بن محمد بن عبد الله بن مالك.
وردت هذه الصيغة في أول تعليق الفرائد على تسهيل الفوائد للدماميني5 وذكرها بعض المترجمين له6
كنيته ولقبه ونسبه ونسبته:
لقد اشتهرت تكنيته بابنه عبد الله، فهو أبو عبد الله، ولقبه المشهور
--------------------------------------------
একইভাবে তাঁর কিছু জীবনীকার (مترجم) এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।১
৩- মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ মালিক।
এই রূপটি তাঁর কিছু রচনার শুরুতে এসেছে২ এবং তাঁর জীবনীকারদের (مترجم) কেউ কেউ এটি উল্লেখ করেছেন।৩
৪- মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ বিন মালিক। ইবনে তুলুন 'আল-কালায়েদ আল-জাওহারিয়্যাহ ফি তারিখ আস-সালিহিয়্যাহ' এর দ্বিতীয় খণ্ডে৪ এই রূপটি উল্লেখ করেছেন।
৫- মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মালিক।
এই রূপটি দামামিনির 'তালিক আল-ফারায়েদ আলা তাশহিল আল-ফাওয়ায়েদ' এর শুরুতে এসেছে৫ এবং তাঁর জীবনীকারদের (مترجم) কেউ কেউ এটি উল্লেখ করেছেন।৬
তাঁর উপনাম (كنية), উপাধি (لقب), বংশপরিচয় (نسب) এবং সম্বন্ধবাচক নাম (نسبة):
তাঁর পুত্র আব্দুল্লাহর মাধ্যমে তাঁর উপনাম (كنية) গ্রহণটি প্রসিদ্ধি লাভ করেছে, তাই তিনি হলেন আবু আব্দুল্লাহ, এবং তাঁর বিখ্যাত উপাধি (لقب)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ঈজাযুত তারিফ ফী ইলমিত তাসরীফ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
هو جمال الدين1، وذكر بعضهم له لقباً آخر وهو جلا الأعلى2.
وهو ينتسب إلى قبيلة طيء القحطانية اليمنية، وكان مذهبه الفقهي في بداية حياته المذهب المالكي ثم انتقل إلى المذهب الشافعي3 وينسب أيضاً إلى جيان4 باعتبارها مسقط رأسه وبداية نشأته كما ينسب إلى دمشق التي اتخذها دار مقامه في آخر حياته وما برحها حتى مات ودفن في ثراها بسفح قاسيون بتربة القاضي عز الدين الصائغ.
تاريخ ميلاده ووفاته
تاريخ ميلاده:
أجمع المترجمون لابن مالك على أنه ولد بمدينة جَيّان الأندلسية ولكنهم اختلفوا في تحديد تاريخ ميلاده رحمه الله، فمنهم من يرى أنه ولد سنة ثمان وتسعين وخمسمائة5. ومنهم من ذكر أنه ولد سنة إحدى وستمائة6.
--------------------------------------------
তিনি হলেন জামালুদ্দীন ১, এবং কেউ কেউ তাঁর অন্য একটি উপাধি উল্লেখ করেছেন যা হলো জালাল আল-আ'লা ২।
তিনি ইয়ামানি কাহতানি গোত্র তায়ি-এর বংশোদ্ভূত। তাঁর জীবনের শুরুর দিকে ফিকহি মাযহাব ছিল মালিকি মাযহাব, পরবর্তীতে তিনি শাফিঈ মাযহাবে ৩ স্থানান্তরিত হন। তাঁকে জিয়ান ৪-এর দিকেও নিসবত করা হয় যেহেতু এটি তাঁর জন্মস্থান এবং বেড়ে ওঠার স্থান। একইভাবে তাঁকে দামেস্কের দিকেও নিসবত করা হয়, যেটিকে তিনি জীবনের শেষ ভাগে তাঁর আবাসস্থল হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন এবং আমৃত্যু সেখানে অবস্থান করেন। তাঁকে কাসিয়ুন পাহাড়ের পাদদেশে কাজী ইযযুদ্দীন আস-সায়িগ-এর সমাধিস্থলে দাফন করা হয়।
তাঁর জন্ম ও মৃত্যুর তারিখ
জন্ম তারিখ:
ইবনে মালিকের জীবনীকারগণ এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, তিনি আন্দালুসের জিয়ান শহরে জন্মগ্রহণ করেছেন, তবে তাঁরা তাঁর (রহিমাহুল্লাহ) জন্ম সাল নির্ধারণে মতভেদ করেছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ মনে করেন যে তিনি ৫৯৮ হিজরিতে ৫ জন্মগ্রহণ করেছেন। আবার কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন যে তিনি ৬০১ হিজরিতে ৬ জন্মগ্রহণ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ঈজাযুত তারিফ ফী ইলমিত তাসরীফ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وقيل: إنه ولد سنة ستمائة1، وتردد بعضهم فقالوا إنه ولد سنة ستمائة أو إحدى وستمائة2.
تاريخ وفاته:
أجمع المترجمون له على أنه توفي سنة 672 هـ ودفن بدمشق3.
--------------------------------------------
কথিত আছে (قيل) যে, তিনি ৬০০ সনে জন্মগ্রহণ করেছেন১, এবং তাঁদের কেউ কেউ এ বিষয়ে দ্বিধা পোষণ করে বলেছেন যে, তিনি ৬০০ অথবা ৬০১ সনে জন্মগ্রহণ করেছেন২।
তাঁর মৃত্যু তারিখ:
জীবনীকারগণ (المترجمون) এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ (أجمع) করেছেন যে, তিনি ৬৭২ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন এবং দামেস্কে সমাহিত হন৩।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ঈজাযুত তারিফ ফী ইলমিত তাসরীফ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
المبحث الثاني: صفاته ومكانته العلميةأولاً: صفاته:
لقد أثنى العلماء على ابن مالك الثناء الحسن ووصفوه بشتى الصفات الحميدة فقالوا: إنه كان راجح العقل حسن الأخلاق مهذباً متين الدين، رقيق القلب، صادق اللهجة، شديد الورع والعفة، كثير النوافل، يتحلى بالوقار والتؤدة، متوقد الذهن، غاية في الذكاء، حريصاً على طلب العلم،
سخي اليد كثير البذل، ذا رزانة وحياء إلى غير ذلك من الخصال التي
حباه الله بها1.
ثانياً: مكانته العلمية:
لم يكن ابن مالك من العلماء المطمورين الذين لا يعرفهم إلا المتخصصون، بل كان كالشمس في رابعة النهار، فقد سارت الركبان بأخباره واعترف بعلو منزلته ورفعة شأنه الحاضر والباد والقاصي قبل الداني، والعدو قبل الصديق، فقد أحيا من المعارف معالم طامسة وجمع من العلوم ما تفرق، وحقق ما لم يكن تبَيَّن منه ولا تحقق.
فقد كان إماماً في علوم شتى، فهو في النحو بحر لا يُجَارى، وحَبرٌ لا يُبارى، بَزَّ فيه أقرانه، وارتفع على من سبقه وفاقه، وفي الصرف بلغ القمة وحاز قصب السبق، فقد فصّل أبوابه، ووضَّح غامضة، وقيد شارده، وكان في اللغة وحيد عصره يُرجَعُ إليه في تجلية غريبها وتوضيح
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর গুণাবলি ও ইলমী মর্যাদাপ্রথমত: তাঁর গুণাবলি:
উলামায়ে কেরাম ইবনে মালিকের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন এবং তাঁকে বিভিন্ন প্রশংসনীয় গুণে গুণান্বিত করেছেন। তাঁরা বলেছেন: তিনি ছিলেন প্রখর বুদ্ধিসম্পন্ন, সচ্চরিত্রবান, মার্জিত, সুদৃঢ় দ্বীনদার, কোমল হৃদয়ের অধিকারী এবং সত্যভাষী। তিনি অত্যন্ত পরহেজগার ও পবিত্র চরিত্রের অধিকারী ছিলেন। তিনি অধিক পরিমাণে নফল ইবাদত পালন করতেন এবং গাম্ভীর্য ও ধীরস্থিরতায় ভূষিত ছিলেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত তীক্ষ্ণ মেধার অধিকারী ও অত্যন্ত বুদ্ধিমান এবং জ্ঞান অর্জনে অতি আগ্রহী।
তিনি দানশীল ও অকাতরে দানকারী ছিলেন এবং গাম্ভীর্য ও লজ্জাশীলতার অধিকারী ছিলেন। এছাড়াও আরও অনেক বৈশিষ্ট্যে আল্লাহ তাঁকে ভূষিত করেছিলেন।১
দ্বিতীয়ত: তাঁর ইলমী মর্যাদা:
ইবনে মালিক এমন অখ্যাত আলেমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না যাদেরকে কেবল বিশেষজ্ঞরা চেনেন; বরং তিনি ছিলেন মধ্যাহ্নের সূর্যের মতো দীপ্তমান। তাঁর সুখ্যাতি দেশ-দেশান্তরে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং তাঁর সুউচ্চ মর্যাদা ও সুমহান অবস্থানের কথা গ্রাম-গঞ্জ ও শহরবাসী, নিকটবর্তী ও দূরবর্তী এবং বন্ধুর পাশাপাশি শত্রুও স্বীকার করেছে। তিনি জ্ঞানের বহু বিলুপ্ত চিহ্নকে পুনরুজ্জীবিত করেছেন, বিক্ষিপ্ত ইলমসমূহকে একত্রিত করেছেন এবং যা অস্পষ্ট ছিল তা বিশ্লেষণ করে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন।
তিনি বিভিন্ন বিদ্যায় ইমাম (إمام) ছিলেন। নাহু শাস্ত্রে তিনি ছিলেন এক অতল সমুদ্র যার প্রতিদ্বন্দ্বী নেই এবং এমন এক পণ্ডিত যার সমকক্ষ কেউ নেই। এই শাস্ত্রে তিনি তাঁর সমসাময়িকদের ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন এবং তাঁর পূর্বসূরিদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিলেন। সরফ শাস্ত্রে তিনি শিখরে পৌঁছেছিলেন এবং শ্রেষ্ঠত্বের আসন অর্জন করেছিলেন। তিনি এর অধ্যায়সমূহ বিশদভাবে বর্ণনা করেছেন, এর জটিল বিষয়গুলো স্পষ্ট করেছেন এবং এর বিক্ষিপ্ত নিয়মগুলোকে সুসংবদ্ধ করেছেন। তিনি লুগাত (ভাষা) শাস্ত্রে তাঁর যুগের অদ্বিতীয় ব্যক্তি ছিলেন, যার কাছে এই শাস্ত্রের দুর্লভ বিষয়গুলোর উন্মোচন ও ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণে শরণাপন্ন হওয়া হতো।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ঈজাযুত তারিফ ফী ইলমিত তাসরীফ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وحشيها، عارفاً بنثرها ونظمها، وكان في القراءات إماماً وبرواياتها وعللها عالماً، وفي الحديث بلغ شأواً بعيداً يتجلى ذلك بوضوح في كثرة استشهاده في مؤلفاته، وتصنيفه في إعرابه1.
وكان في الأصول مشاركاً وبفنون الشعر وعروضه خبيراً، يدل على ذلك تأليفه فيهما.
وإن هذا التراث العلمي الجم الذي خلفه ابن مالك لأعظم دليل، وأقوى حجة على صحة ما ذُكر عنه من سعة العلم وشموله.
فمصنفاته الكثيرة المتنوعة الماثلة أمام العيان شاهدة بذلك2.
ولم تقتصر جهوده رحمه الله على التصنيف والتأليف بل قام بالتعليم والتدريس وتخرج على يده جمع غفير من العلماء الذين برعوا في علوم شتى وشهدوا لشيخهم بالعلم والفضل والتقى3
--------------------------------------------
[ভাষার] জটিল ও বিরল শব্দাবলি, এর গদ্য ও পদ্য সম্পর্কে তিনি সম্যক অবগত ছিলেন। তিনি কিরাআত শাস্ত্রে একজন ইমাম ছিলেন এবং কিরাআতের বর্ণনা (رواية) ও এর সূক্ষ্ম ত্রুটিসমূহ (علة) সম্পর্কে বিজ্ঞ ছিলেন। হাদিস শাস্ত্রে তিনি এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছিলেন, যা তাঁর রচিত গ্রন্থাবলিতে প্রচুর উদ্ধৃতির ব্যবহার এবং হাদিসের ব্যাকরণিক বিশ্লেষণে তাঁর রচনার মাধ্যমে স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।১
তিনি উসুল (নীতিমালা) শাস্ত্রেও পারদর্শী ছিলেন এবং কাব্যকলা ও ছন্দশাস্ত্রে বিশেষজ্ঞ ছিলেন, এই উভয় বিষয়ে তাঁর রচনাবলি সে দিকেই ইঙ্গিত করে।
ইবন মালিক যে বিশাল ইলমি ঐতিহ্য রেখে গেছেন, তা তাঁর জ্ঞানের ব্যাপকতা ও গভীরতা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তার সত্যতার স্বপক্ষে সর্বশ্রেষ্ঠ দলিল ও শক্তিশালী প্রমাণ।
বর্তমানে আমাদের সামনে বিদ্যমান তাঁর বহুবিধ ও বৈচিত্র্যময় রচনাবলিই এর বড় প্রমাণ।২
রাহিমাহুল্লাহর প্রচেষ্টা কেবল গ্রন্থ সংকলন ও রচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তিনি শিক্ষা ও পাঠদানেও নিয়োজিত ছিলেন। তাঁর নিকট থেকে এক বিশাল সংখ্যক আলিম শিক্ষা লাভ করে বের হয়েছেন, যারা বিভিন্ন বিদ্যায় পারদর্শিতা অর্জন করেছেন এবং তাঁদের শায়খের জ্ঞান, শ্রেষ্ঠত্ব ও তাকওয়ার বিষয়ে সাক্ষ্য দিয়েছেন।৩
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ঈজাযুত তারিফ ফী ইলমিত তাসরীফ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
المبحث الثالث: شيوخه وتلاميذهأولاً: شيوخه:
ولد ابن مالك في مدينة جيّان بالأندلس، وفيها بدأ طلب العلم والتحصيل، فأخذ عن بعض العلماء المشهورين فيها، فقد أخذ القراءات والنحو عن أبي المظفر ثابت بن محمد بن حيان الكلاعي، المتوفى سنة 6381
وحضر مجلس أبي علي عمر بن محمد الشلوبيني، المتوفى سنة 6452.
وعندما انتقل إلى المشرق التقى بكثير من العلماء الأجلاء، فأخذ عن بعضهم، وحضر مجالس بعض، وفيما يلي أسماؤهم:
1- أبو صادق الحسن بن صبّاح المخزومي، المتوفى سنة 6323
2- أبو الفضل مُكرّم بن محمد القرشي، المعروف بابن الصقر، المتوفى سنة 635 4
3- العلم السخاوي أبو الحسن علي بن محمد بن عبد الصمد الهمداني، المتوفى سنة 6435
4- ابن يعيش: موفق الدين يعيش بن علي بن يعيش، المتوفى سنة 643.
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর শিক্ষক ও ছাত্রবৃন্দপ্রথমত: তাঁর শিক্ষকবৃন্দ:
ইবনে মালিক আন্দালুসের জিয়ান শহরে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই তাঁর জ্ঞানার্জন ও শিক্ষালাভের সূচনা ঘটে। তিনি সেখানে কয়েকজন প্রসিদ্ধ আলেমের নিকট শিক্ষা গ্রহণ করেন। তিনি আবু আল-মুজাফফর সাবিত বিন মুহাম্মদ বিন হাইয়ান আল-কালাই (মৃত্যু ৬৩৮ হিজরি) এর নিকট কিরাআত এবং ব্যাকরণ (নাহু) শিক্ষা করেন।
এবং তিনি আবু আলী ওমর বিন মুহাম্মদ আল-শালুবিনী (মৃত্যু ৬৪৫ হিজরি) এর মজলিসে উপস্থিত হতেন।
যখন তিনি প্রাচ্যের দিকে সফর করেন, তখন তিনি অনেক বিজ্ঞ আলেমের সাথে সাক্ষাৎ করেন। তিনি তাঁদের কারো নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন এবং কারো মজলিসে উপস্থিত হন। নিচে তাঁদের নাম উল্লেখ করা হলো:
১- আবু সাদিক আল-হাসান বিন সাব্বাহ আল-মাখজুমি, মৃত্যু ৬৩২ হিজরি।
২- আবু আল-ফজল মুকাররম বিন মুহাম্মদ আল-কুরাশি, যিনি ইবনে আস-সাকর নামে পরিচিত, মৃত্যু ৬৩৫ হিজরি।
৩- আল-আল্লাম আল-সাখাবি আবু আল-হাসান আলী বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুস সামাদ আল-হামাদানি, মৃত্যু ৬৪৩ হিজরি।
৪- ইবনে ইয়াঈশ: মুওয়াফফাকুদ্দীন ইয়াঈশ বিন আলী বিন ইয়াঈশ, মৃত্যু ৬৪৩ হিজরি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ঈজাযুত তারিফ ফী ইলমিত তাসরীফ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
5- ابن الحاجب: جمال الدين أبو عمرو عثمان بن عمر الكردي، المتوفى سنة 6461
6- جمال الدين أبو عبد الله محمد بن عمرون الحلبي، المتوفى سنة 6492
7- شرف الدين أبو عبد الله محمد بن أبي الفضل المرسي، المتوفى سنة 6553
ثانياً: تلاميذه:
يُعدّ ما كتبه الدكتور/ سعد بن حمدان الغامدي في دراسته لكتاب إكمال الإعلام بتثليث الكلام، لابن مالك4، من أشمل ما كتب عن تلامذة ابن مالك حسب علمي.
لذلك اكتفيت هنا بتلخيص ما كتبه عنهم فيما يلي:
1- شرف الدين أبو زكريا يحيى بن شرف بن مِرَى النووي، المتوفى سنة 676
--------------------------------------------
৫- ইবনুল হাজিব: জামালুদ্দিন আবু আমর উসমান বিন উমর আল-কুরদি, মৃত্যু ৬৪৬ হিজরি ১
৬- জামালুদ্দিন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আমরুন আল-হালাবি, মৃত্যু ৬৪৯ হিজরি ২
৭- শরাফুদ্দিন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আবিল ফজল আল-মুরসি, মৃত্যু ৬৫৫ হিজরি ৩
দ্বিতীয়ত: তাঁর ছাত্রগণ:
ড. সাদ বিন হামদান আল-গামিদি তাঁর ইবনে মালিকের ‘ইকমালুল ইলাম বিতাসলিসিল কালাম’ ৪ গ্রন্থের গবেষণায় ইবনে মালিকের ছাত্রদের সম্পর্কে যা লিখেছেন, আমার জানামতে তা এই বিষয়ে লিখিত সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ আলোচনার অন্তর্ভুক্ত।
তাই আমি এখানে তাঁদের সম্পর্কে তাঁর লেখার সারসংক্ষেপ নিম্নে উপস্থাপন করছি:
১- শরাফুদ্দিন আবু জাকারিয়া ইয়াহইয়া বিন শরাফ বিন মিরী আন-নববী, মৃত্যু ৬৭৬ হিজরি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ঈজাযুত তারিফ ফী ইলমিত তাসরীফ
(পৃষ্ঠা: ২০)
2- شمس الدين أبو عبد الله محمد بن محمد بن عباس بن جعوان الأنصاري، المتوفى سنة 682
3- بدر الدين محمد بن محمد بن مالك، المتوفى سنة 6861
4- زين الدين أبو بكر منجّا بن عثمان بن المنجا التنوخي، المتوفى سنة 6952
5- بهاء الدين محمد بن إبراهيم بن النحاس الحلبي، المتوفى سنة 6983.
6- شرف الدين أبو الحسن علي بن محمد بن أحمد اليونيني، المتوفى سنة 7014
7- شمس الدين محمد بن أبي الفتح البعلي، المتوفى سنة 7095.
8- محمد بن إبراهيم بن حازم الأذرعي، المتوفى سنة 7126
9- أبو المعالي محمد بن محمد بن علي بن الصيرفي، المتوفى سنة 722
10- أبو الحسن علي بن إبراهيم بن دواد بن العطار، المتوفى سنة 724
--------------------------------------------
২- শামসুদ্দিন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্বাস বিন জা'ওয়ান আল-আনসারি, মৃত্যু ৬৮২ হিজরি
৩- বদরুদ্দিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন মালিক, মৃত্যু ৬৮৬১
৪- যাইনুদ্দিন আবু বকর মুনজ্জা বিন উসমান বিন আল-মুনজ্জা আত-তানুখি, মৃত্যু ৬৯৫২
৫- বাহাউদ্দিন মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম বিন আন-নাহহাস আল-হালাবি, মৃত্যু ৬৯৮৩।
৬- শরাফুদ্দিন আবুল হাসান আলি বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-ইউনিনি, মৃত্যু ৭০১৪
৭- শামসুদ্দিন মুহাম্মদ বিন আবি আল-ফাতহ আল-বা'লি, মৃত্যু ৭০৯৫।
৮- মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম বিন হাযিম আল-আজরুয়ি, মৃত্যু ৭১২৬
৯- আবুল মা'আলি মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আলি বিন আস-সাইরাফি, মৃত্যু ৭২২ হিজরি
১০- আবুল হাসান আলি বিন ইব্রাহিম বিন দাউদ বিন আল-আত্তার, মৃত্যু ৭২৪ হিজরি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ঈজাযুত তারিফ ফী ইলমিত তাসরীফ
(পৃষ্ঠা: ২১)
11- شهاب الدين أبو الثناء محمد بن سلمان الحلبي الدمشقي، المتوفى
سنة 725
12- زين الدين أبو بكر بن يوسف بن محمود بن عثمان المزي الدمشقي، المتوفى سنة 726.
13- ناصر الدين شافع بن علي بن عباس بن شافع الكناني، المتوفى سنة 730
14- بدر الدين أبو عبد الله محمد بن إبراهيم بن جماعة القاضي، المتوفى سنة 733
15- شهاب الدين أحمد بن محمد بن سلمان بن غانم الجعفري، المتوفى سنة 737
16- شرف الدين هبة الله بن عبد الرحيم بن هبة الله البارزي، المتوفي سنة 738
17- علم الدين بن القاسم بن محمد بن يوسف البرزلي، المتوفى سنة
739
18- العلم أبو الربيع سليمان بن أبي حرب الحنفي الفارقي1
--------------------------------------------
১১- শিহাবউদ্দীন আবুল সানা মুহাম্মদ বিন সালমান আল-হালাবী আদ-দিমাশকী, মৃত্যুবরণ করেছেন
৭২৫ হিজরি সনে
১২- যাইনউদ্দীন আবু বকর বিন ইউসুফ বিন মাহমুদ বিন উসমান আল-মিযযী আদ-দিমাশকী, মৃত্যুবরণ করেছেন ৭২৬ হিজরি সনে।
১৩- নাসিরুদ্দীন শাফি বিন আলী বিন আব্বাস বিন শাফি আল-কিনানী, মৃত্যুবরণ করেছেন ৭৩০ হিজরি সনে
১৪- বদরুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম বিন জামাআহ আল-কাজী, মৃত্যুবরণ করেছেন ৭৩৩ হিজরি সনে
১৫- শিহাবউদ্দীন আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন সালমান বিন গানিম আল-জাফরী, মৃত্যুবরণ করেছেন ৭৩৭ হিজরি সনে
১৬- শরফুদ্দীন হিবাতুল্লাহ বিন আব্দুর রাহিম বিন হিবাতুল্লাহ আল-বারযী, মৃত্যুবরণ করেছেন ৭৩৮ হিজরি সনে
১৭- আলমুদ্দীন বিন আল-কাসিম বিন মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আল-বিরযালী, মৃত্যুবরণ করেছেন হিজরি সনে
৭৩৯
১৮- আল-আলম আবু আল-রাবী সুলাইমান বিন আবি হারব আল-হানাফী আল-ফারিকী১
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ঈজাযুত তারিফ ফী ইলমিত তাসরীফ
(পৃষ্ঠা: ২২)
المبحث الرابع: آثاره العلميةلقد كان ابن مالك رحمه الله من العلماء الذين أثروا المكتبة الإسلامية، بما سطرته أقلامهم من العلوم النافعة في بطون الكتب التي مازالت شاهداً حيّاً على سعة علمهم، وعُلُوِّ كعبهم في فنون شتى، ويتضح من مصنفات ابن مالك أنّه كان يُولي جُلَّ اهتمامه بخدمة كتاب الله، وأحاديث رسول الله صلى الله عليه وسلم، وما يتصل بلغتهما لغة الضاد، فقد ترك لنا مؤلفات في القراءة القرآنية، وأخرى في إعراب الحديث الشريف، وله مؤلف في العروض وآخر في الأصول، كما أنه لم يترك جانباً من جوانب اللغة العربية إلا طرقه، وصنّف فيه كتاباً أو أكثر، نظماً أو نثراً، ويمكن تقسيم مصنفاته إلى الآتي:
1- مؤلفات في القراءات القرآنية.
2- مؤلفات في غريب الحديث الشريف.
3- مؤلفات نحوية.
4- مؤلفات في التصريف.
5- مؤلفات في اللغة.
6- مؤلف في العروض.
7- مؤلف في الأصول.
وفيما يلي ثبت بأسماء ما وقفت على ذكره من مصنفاته المطبوع منها والمخطوط:
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: তাঁর জ্ঞানগত অবদানসমূহইবনে মালিক (রহিমাহুল্লাহ) সেই সকল আলেমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যাঁরা তাঁদের লেখনীর মাধ্যমে ইসলামী গ্রন্থাগারকে সমৃদ্ধ করেছেন। তাঁদের কলম নিঃসৃত সেই সব উপকারী জ্ঞান কিতাবসমূহের অভ্যন্তরে আজও তাঁদের জ্ঞানের বিশালতা এবং বিভিন্ন শাস্ত্রে তাঁদের অনন্য উচ্চতার এক জীবন্ত সাক্ষী হিসেবে বিদ্যমান। ইবনে মালিকের রচনাবলি থেকে এটি স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, তিনি তাঁর মনোযোগের সিংহভাগ নিবদ্ধ করেছিলেন আল্লাহর কিতাব ও রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদিসের খিদমতে এবং এই দুইয়ের ভাষা তথা আরবি ভাষার সেবায়। তিনি আমাদের জন্য কুরআনের কিরাত এবং হাদিস শরিফের ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ বিষয়ে গ্রন্থাবলি রেখে গেছেন। এছাড়া ছন্দশাস্ত্র এবং মূলনীতি (الأصول) বিষয়েও তাঁর রচনা রয়েছে। তিনি আরবি ভাষার এমন কোনো দিকই বাদ দেননি যেখানে তিনি বিচরণ করেননি এবং সে বিষয়ে পদ্য বা গদ্য আকারে এক বা একাধিক গ্রন্থ রচনা করেননি। তাঁর রচনাবলিকে নিম্নোক্তভাবে ভাগ করা যেতে পারে:
1- কুরআনের কিরাত বিষয়ক গ্রন্থাবলি।
2- হাদিসের বিরল শব্দাবলি (غريب الحديث) বিষয়ক গ্রন্থাবলি।
3- নাহু (ব্যাকরণ) বিষয়ক গ্রন্থাবলি।
4- সরফ (রূপান্তর বিদ্যা) বিষয়ক গ্রন্থাবলি।
5- ভাষা বিষয়ক গ্রন্থাবলি।
6- ছন্দশাস্ত্র বিষয়ক গ্রন্থ।
7- মূলনীতি (الأصول) বিষয়ক গ্রন্থ।
নিম্নে তাঁর মুদ্রিত ও পাণ্ডুলিপি আকারে বিদ্যমান যে সকল রচনাবলির সন্ধান আমি পেয়েছি, সেগুলোর একটি তালিকা দেওয়া হলো:
(খণ্ড: ১)
ঈজাযুত তারিফ ফী ইলমিত তাসরীফ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
(أ) المطبوعة:
1- الاعتضاد في الفرق بين الظاء والضاد وشرحه1.
2- الاعتماد في نظائر الظاء والضاد2.
3- الإعلام بتثليث الكلام "نظم"3.
4- إكمال الإعلام بتثليث الكلام4.
5- الألفية5.
6- الألفاظ المختلفة في المعاني المؤتلفة6.
7- تحفة المودود في المقصور والممدود7
8- تسهيل الفوائد8.
9- التعريف في ضروري التصريف9
10- ثلاثيات الأفعال10
--------------------------------------------
(ক) মুদ্রিত গ্রন্থাবলি:
১- আল-ইতিদাদ ফী আল-ফারক্ব বাইনায যা-ই ওয়ায দদ ওয়া শারহুহু১।
২- আল-ইতিমাদ ফী নাযায়িরিয যা-ই ওয়ায দদ২।
৩- আল-ই’লাম বি-তাথলীথিল কালাম "কাব্য"৩।
৪- ইকমালুল ই’লাম বি-তাথলীথিল কালাম৪।
৫- আল-আলফিয়্যাহ৫।
৬- আল-আলফাযুল মুখতালিফাহ ফিল মা'আনিল মু’তালিফাহ৬।
৭- তুহফাতুল মাওদুদ ফিল মাক্বসূর ওয়াল মামদুদ৭
৮- তাসসীলুল ফাওয়াঈদ৮।
৯- আত-তা’রিফ ফী দারুরিত তাসরীফ৯
১০- থুলাথিয়্যাতুল আফআল১০
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ঈজাযুত তারিফ ফী ইলমিত তাসরীফ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
11- شرح التسهيل1
12- شرح عمدة الحافظ وعدّة اللافظ2
13- شرح النظم الأوجز في ما يهمز وما لا يهمز3
14- شواهد التوضيح والتصحيح4
15- لامية الأفعال5
16- متن الكافية الشافية6
17- مسألة في الاشتقاق7.
18- منظومة في ما ورد من الأفعال بالواو الياء8
19- وفاق المفهوم في اختلاف المقول والمرسوم9.
(ب) المخطوطة:
1- أجوبة على أسئلة جمال الدين اليمني10
2- أرجوزة في الخط11
--------------------------------------------
১১- শারহুত তাসহিল১
১২- শারহু উমদাতিল হাফিজ ওয়া উদ্দাতিল লাফিজ২
১৩- শারহুন নাজমিল আওজাজ ফি মা ইউমাজু ওয়া মা লা ইউমাজ৩
১৪- শাওয়াহিদুত তাওদিহ ওয়াত তাসহিহ৪
১৫- লামিয়াতুল আফআল৫
১৬- মাতনুল কাফিয়াতুশ শাফিয়াহ৬
১৭- মাসআলাহ ফিল ইশতিকাক৭.
১৮- মানজুমাহ ফি মা ওয়ারাদা মিনাল আফআল বিল ওয়াওয়ি ওয়াল ইয়াই৮
১৯- উইফাকুল মাফহুম ফি ইখতিলাফিল মাকুল ওয়াল মারসুম৯.
(খ) পাণ্ডুলিপি:
১- আজউয়িবাহ আলা আসইলাতি জামালুদ্দীন আল-ইয়ামানি১০
২- আরজুযাহ ফিল খাত্ত১১
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ঈজাযুত তারিফ ফী ইলমিত তাসরীফ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
3- أرجوزة في المثلثات1
4- الإرشاد في الفرق بين الظاء والضاد2.
5- الإعلام بمثلث الكلام المنثور3.
6- إكمال عمدة الحافظ4
7- إيجاز التعريف في علم التصريف5 وهو هذا الكتاب الذي نقدم له
بهذه الدراسة.
1- بغية الأريب وغنية الأديب في الأصول6.
2- بلغة ذوي الخصاصة في شرح الخلاصة7.
3- بيان ما فيه لغات ثلاث وأكثر8.
4- بيتان في ضوابط ظاءات القرآن مع الشرح9.
5- تحفة الأحظاء في الفرق بين الضاد والظاء10.
--------------------------------------------
3- মুসাল্লাত (ত্রয়ী শব্দ) বিষয়ক একটি উরজুযাহ ১
4- আল-ইরশাদ ফি আল-ফারক বাইন আজ-জা ওয়া আদ-দাদ ২।
5- আল-ইলাম বি মুসাল্লাত আল-কালাম আল-মানসুর ৩।
6- ইকমালু উমদাতিল হাফেজ ৪
7- ঈজাযুত তারিফ ফি ইলমিত তাসরিফ ৫; আর এটিই সেই কিতাব যা আমরা এই গবেষণার মাধ্যমে উপস্থাপন করছি
এই গবেষণার মাধ্যমে।
1- বুগইয়াতুল আরিব ওয়া গুনিয়াতুল আদিব ফিল উসুল ৬।
2- বুলগাতু যউইল খাসাসাহ ফি শারহিল খুলাসাহ ৭।
3- বায়ানু মা ফিহি লুগাতুন সালাস ওয়া আকসার (তিন বা ততোধিক উপভাষা সংবলিত শব্দের বর্ণনা) ৮।
4- ব্যাখ্যাসহ কুরআনের ‘যা’ (ظ) অক্ষরের নিয়মাবলি সম্পর্কিত দুটি পঙক্তি ৯।
5- তুহফাতুল আহজা ফি আল-ফারক বাইন আদ-দাদ ওয়া আজ-জা ১০।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ঈজাযুত তারিফ ফী ইলমিত তাসরীফ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
13- جمع اللغات المشكلة1
14- حوز المعاني في اختصار حرز الأماني2
15- ذكر معاني أبنية الأسماء الموجودة في المفصل3.
16- سبك المنظوم وفك المختوم4.
17- شرح إكمال عمدة الحافظ وعدة اللافظ5.
18- شرح تحفة المودود6.
19- شرح تصريفه المأخوذ من كافيته7.
20- شرح التعريف في التصريف8.
21- شرح الجزولية 9.
22- الضرب في معرفة لسان العرب10.
23- عمدة الحافظ وعدة اللافظ11.
24- فتاوى في العربية12.
--------------------------------------------
13- জটিল (مشكل) ভাষাসমূহের সংকলন১
14- হিরজুল আমানির সংক্ষেপণে হাযুল মাআনি২
15- মুফাসসালে বিদ্যমান বিশেষ্যের গঠনসমূহের অর্থের বর্ণনা৩।
16- পদ্যের বিন্যাস এবং সীলমোহরকৃতর উন্মোচন৪।
17- শারহু ইকমালি উমদাতিল হাফিজ ওয়া উদদাতিল লাফিয৫।
18- শারহু তুহফাতিল মাওদুদ৬।
19- তার কাফিয়া থেকে গৃহীত তাসরীফের ব্যাখ্যা৭।
20- শারহুত তারিফ ফিত-তাসরীফ৮।
21- শারহুল জাজুলিয়্যাহ ৯।
22- আরবের ভাষা জ্ঞান অর্জনে প্রচেষ্টা১০।
23- উমদাতুল হাফিজ ওয়া উদদাতুল লাফিয১১।
24- আরবি ভাষার ওপর ফতোয়াসমূহ১২।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ঈজাযুত তারিফ ফী ইলমিত তাসরীফ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
25- الفرق بين الظاء والضاد1.
26- فعل وأفعل2.
27- الفوائد النحوية والمقاصد المحوية3.
28- القصيدة الدالية في القراءات "المالكية"4.
29- قصيدة الأسماء المؤنثة (5) .
30- قصيدة في الضاد والظاء5.
31- القصيدة اللامية في القراءات6.
32- كتاب العروض7.
33- المثلث ذو المعنى الواحد8.
34- مختصر الشافية9.
--------------------------------------------
25- 'যা' (ظاء) এবং 'দাদ' (ضاد)-এর মধ্যে পার্থক্য১।
26- ফা'আলা (فعل) এবং আফ'আলা (أفعل)২।
27- নাহু শাস্ত্রীয় উপকারিতা এবং ব্যাকরণিক লক্ষ্যসমূহ৩।
28- 'মালিকি' কিরাত বিষয়ক দালিয়া কাসিদা (القصيدة الدالية)৪।
29- স্ত্রীলিঙ্গবাচক বিশেষ্য বিষয়ক কাসিদা (৫)।
30- 'দাদ' (ضاد) এবং 'যা' (ظاء) বিষয়ক কাসিদা৫।
31- কিরাত বিষয়ক লামিয়্যাহ কাসিদা (القصيدة اللامية)৬।
32- ইলমুল আরুজ (ছন্দশাস্ত্র) বিষয়ক গ্রন্থ৭।
33- অভিন্ন অর্থবোধক মুসাল্লাস (المثلث ذو المعنى الواحد)৮।
34- আশ-শাফিয়া-এর সংক্ষিপ্তসার (مختصر)৯।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ঈজাযুত তারিফ ফী ইলমিত তাসরীফ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
35- مختصر في الفرق بين الضاد والظاء والذال1.
36- مفتح الأفعال "منظومة"2.
37- المقدمة الأسدية3.
38- الموصل في شرح المفصل4.
39- نظم الفوائد5.
40- النكت النحوية على مقدمة ابن الحاجب6.
41- النكت على الوافية شرح الكافية الشافية7.
42- وفاق الاستعمال في الإعجام والإهمال8. هذا ما وصل إليه علمي من كتبه، ولعل حركة إحياء التراث الحديثة تكتشف لنا غير هذه الكتب. والله أعلم.
--------------------------------------------
৩৫- দাদ, যা এবং যাল বর্ণের মধ্যকার পার্থক্যের একটি সংক্ষিপ্ত (مختصر) সারসংক্ষেপ।১
৩৬- মিফতাহুল আফআল "কাব্যগ্রন্থ" (منظومة)।২
৩৭- আল-মুকাদ্দিমাতুল আসাদিয়্যাহ।৩
৩৮- আল-মুফাসসাল-এর ব্যাখ্যা (شرح)-গ্রন্থ আল-মাওসিল।৪
৩৯- নাযমুল ফাওয়াইদ।৫
৪০- ইবনুল হাজিব-এর মুকাদ্দিমার ওপর নাহু বিষয়ক সূক্ষ্ম টীকা (النكت)।৬
৪১- কাফিয়াহ শাফিয়াহ-এর ব্যাখ্যা (شرح) আল-ওয়াফিয়াহ-এর ওপর সূক্ষ্ম টীকা (النكت)।৭
৪২- ই'জাম ও ইহমাল-এর ব্যবহারের সামঞ্জস্য।৮ এটিই তাঁর গ্রন্থাবলির মধ্য থেকে আমার জ্ঞানগোচর হয়েছে। সম্ভবত আধুনিক ঐতিহ্য (تراث) পুনর্জাগরণ আন্দোলন আমাদের জন্য এগুলোর বাইরেও আরও গ্রন্থ উন্মোচিত করবে। আর আল্লাহ-ই সর্বজ্ঞাত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ঈজাযুত তারিফ ফী ইলমিত তাসরীফ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الفصل الثاني: دراسة الكتاب
المبحث الأول: تحقيق اسمه وتوثيق نسبته وسبب تصنيفه وزمن تأليفه…المبحث الأول: تحقيق اسمه وتوثيق نسبته وسبب تصنيفه وزمن تأليفه
أولاً: تحقيق اسمه وتوثيق نسبته:
لم يترك ابن مالك اسم كتابه مجهولاً ولا نسبته خفية بل صرح بذلك في مقدمته فقال: (فألفت ذلك في مجموع سميته "إيجاز التعريف في علم التصريف")
وورد اسمه ونسبته في أكثر من مرجع بعضها صرح بالاسم متمماً وبعضها جاء به مختصراً، ففي ارتشاف الضرب لأبي حيان: (وفي التسهيل لابن مالك أن ذلك لغة وفي إيجاز التعريف له أيضاً أن التحقيق شاذ) 2.
وفي شرح التسهيل لناظر الجيش: (والثاني عن أبي عمرو الشيباني هذا آخر كلامه -ابن مالك- في إيجاز التعريف)
وفي كشف الظنون لحاجي خليفة (إيجاز التعريف لضروري التصريف لجمال الدين محمد بن عبد الله بن مالك النحوي) 4.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় অধ্যায়: গ্রন্থ পর্যালোচনা
প্রথম পরিচ্ছেদ: এর নাম যাচাইকরণ, এর সম্পৃক্ততার নির্ভরযোগ্যতা প্রমাণ (توثيق), রচনার কারণ এবং রচনাকাল…প্রথম পরিচ্ছেদ: এর নাম যাচাইকরণ, এর সম্পৃক্ততার নির্ভরযোগ্যতা প্রমাণ (توثيق), রচনার কারণ এবং রচনাকাল
প্রথমত: এর নাম যাচাইকরণ এবং এর সম্পৃক্ততার নির্ভরযোগ্যতা প্রমাণ (توثيق):
ইবনে মালিক তাঁর গ্রন্থের নাম অজ্ঞাত (مجهول) হিসেবে ছেড়ে দেননি এবং এর সম্পৃক্ততাকেও অস্পষ্ট রাখেননি; বরং তিনি তাঁর ভূমিকার মধ্যে তা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করে বলেছেন: (আমি একটি সংকলনে তা রচনা করেছি যার নাম দিয়েছি "ইজাযুত তারিফ ফি ইলমিত তাসরিফ")
একাধিক তথ্যসূত্রে এর নাম ও সম্পৃক্ততা বর্ণিত হয়েছে, যার কোনোটিতে পূর্ণ নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে আবার কোনোটিতে তা সংক্ষিপ্ত আকারে এসেছে। আবু হাইয়ানের 'ইরতিশাফুদ দারব' গ্রন্থে বলা হয়েছে: (ইবনে মালিকের 'তাসহিল' গ্রন্থে রয়েছে যে এটি একটি লুগাত বা ভাষা, এবং তাঁর 'ইজাযুত তারিফ' গ্রন্থেও রয়েছে যে এর বিশ্লেষণটি হলো বিরল (شاذ)) ২।
নাযিরুল জাইশ-এর 'শারহুত তাসহিল' গ্রন্থে রয়েছে: (এবং দ্বিতীয়টি আবু আমর আশ-শায়বানি থেকে বর্ণিত, এটি ইবনে মালিকের 'ইজাযুত তারিফ'-এর শেষ বক্তব্য)
হাজি খলিফার 'কাশফুজ জুনুন' গ্রন্থে রয়েছে: (ব্যাকরণবিদ জামালুদ্দিন মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মালিক রচিত 'ইজাযুত তারিফ লিদোরুরিত তাসরিফ') ৪।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ঈজাযুত তারিফ ফী ইলমিত তাসরীফ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
وورد اسمه ونسبته أيضاً في هدية العارفين1 والاعلام للزركلي2 وتاريخ الأدب العربي لبروكلمان3 ومقدمة التسهيل لمحمد بركات4 ودائرة المعارف الإسلامية5 ومقدمة الاعتماد في نظائر الضاد والظاء6 ومقدمة شرح عمدة الحافظ وعدة اللافظ7 ومقدمة شرح التسهيل للمصنف8 ومقدمة وفاق المفهوم في اختلاف المقول والمرسوم9
ووقع خلط عند بعض الباحثين بين اسم هذا الكتاب وكتاب آخر للمصنف هو "التعريف في ضروري التصريف"10
فجعلهما بعضهم كتاباً واحداً11، وعدَّ البعض إيجاز التعريف شرحاً لضروري التصريف12.
وسبب هذا اللبس هو أن كلا الكتابين مختصران في فن التصريف لابن
--------------------------------------------
তাঁর নাম এবং বংশপরিচয় আরও বর্ণিত হয়েছে হাদিয়্যাতুল আরিফিন১, যিরিকলির আল-আ'লাম২, ব্রোকলম্যানের তারিখুল আদাবিল আরবি৩, মুহাম্মদ বারাকাতের আত-তাসহিল-এর ভূমিকা৪, দাইরাতুল মাআরিফ আল-ইসলামিয়্যাহ৫, আল-ইতিমাদ ফি নাজাইরিদ দাদ ওয়াজ জা-এর ভূমিকা৬, শারহু উমদাতিল হাফিজ ওয়া উদদাতিল লাফিজ-এর ভূমিকা৭, গ্রন্থকার (المصنف)-এর শারহুত তাসহিল-এর ভূমিকা৮ এবং বিফাকুল মাফহুম ফি ইখতিলাফিল মাকুল ওয়াল মারসুম-এর ভূমিকা৯ গ্রন্থে।
কোনো কোনো গবেষকের নিকট এই গ্রন্থের নাম এবং গ্রন্থকার (المصنف)-এর অন্য একটি গ্রন্থ "আত-তারিফ ফি দুরুরিত তাসরিফ"১০-এর নামের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে।
ফলে তাঁদের কেউ কেউ এই দুইটিকে একটি গ্রন্থ হিসেবে গণ্য করেছেন১১, আবার কেউ কেউ ইজাযুত তারিফ-কে দুরুরিত তাসরিফ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ হিসেবে গণ্য করেছেন১২।
আর এই সংশয়ের কারণ হলো এই যে, উভয় গ্রন্থই ইবন... এর শব্দরূপান্তর বিদ্যা (تصريف) বিষয়ক দুটি সংক্ষিপ্তসার (مختصر)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ঈজাযুত তারিফ ফী ইলমিত তাসরীফ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
مالك وإن كان التعريف في ضروري التصريف أشد اختصاراً من "إيجاز التعريف".
والصحيح أنهما كتابان كل منهما مستقل بذاته وليس أحدهما شرحاً للآخر.
وبعد هذه الجولة في المراجع من مخطوط ومطبوع تتأكد لنا صحة نسبة هذا الكتاب لابن مالك، وأن اسمه هو "إيجاز التعريف في علم التصريف".
ثانياً: سبب تصنيفه وزمن تأليفه:
ذكر ابن مالك في مقدمة كتابه أمرين عدهما السبب الأساسي الباعث في ثنيه عنان العناية وشحذه سنان العزم على وضع هذا الكتاب وأول هذين الأمرين أهمية موضوع الكتاب علم التصريف، وثانيهما التشرف بخدمة السلطان الملك الناصر صلاح الدين يوسف الأيوبي1 بإهدائه هذا الكتاب، وقد أهداه كتابين آخرين هما: وفاق المفهوم في اختلاف المقول والمرسوم2 والإعلام بمثلث الكلام المنظوم3.
أمَّا زمن تأليف الكتاب فلم أعثر على نص يحدده بدقة، ولكن يمكن تقريبه حيث إنه ألفه للسلطان الملك الناصر، وهذا الملك حكم ما بين سنتي 634، 659هـ.
وعلى ذلك يكون تأليف الكتاب تم في هذه الفترة لم يسبقها ولم يعقبها.
--------------------------------------------
মালিক, যদিও 'দারুরি আত-তাসরিফ'-এর সংজ্ঞা 'ঈজাযুত তারিফ'-এর চেয়ে অধিকতর সংক্ষিপ্ত।
সঠিক (الصحيح) অভিমত এই যে, এগুলো স্বতন্ত্র দুটি গ্রন্থ এবং একটি অপরটির ব্যাখ্যাগ্রন্থ নয়।
পাণ্ডুলিপি ও মুদ্রিত বিভিন্ন তথ্যসূত্র পর্যালোচনার পর আমাদের নিকট ইবনে মালিকের প্রতি এই বইটির সম্বন্ধের সঠিকতা (صحة) নিশ্চিত হয়েছে এবং এর নাম হলো "ঈজাযুত তারিফ ফি ইলমিত তাসরিফ"।
দ্বিতীয়ত: এটি রচনার কারণ ও সংকলনের সময়:
ইবনে মালিক তার বইয়ের ভূমিকায় দুটি বিষয় উল্লেখ করেছেন, যা এই গ্রন্থটি রচনায় তাঁর মনোযোগ আকর্ষণ এবং সংকল্পকে দৃঢ় করার প্রধান কারণ হিসেবে গণ্য করেছেন। এই দুই বিষয়ের প্রথমটি হলো বইটির বিষয়বস্তু 'ইলমুত তাসরিফ'-এর গুরুত্ব এবং দ্বিতীয়টি হলো সুলতান আল-মালিকুন নাসির সালাহুদ্দিন ইউসুফ আল-আইয়ুবী১-কে এই বইটি উপহার দেওয়ার মাধ্যমে তাঁর সেবা করার সৌভাগ্য অর্জন। তিনি তাঁকে আরও দুটি বই উপহার দিয়েছিলেন, সেগুলো হলো: 'উফাকুল মাফহুম ফি ইখতিলাফিল মাকুল ওয়াল মারসুম'২ এবং 'আল-ইলাম বি মুসাল্লাতিল কালামিল মানযুম'৩।
আর বইটি রচনার সময় সম্পর্কে আমি এমন কোনো সুস্পষ্ট পাঠ (نص) পাইনি যা নির্ভুলভাবে তা নির্ধারণ করে, তবে তা কাছাকাছি অনুমান করা সম্ভব। কারণ তিনি এটি সুলতান আল-মালিকুন নাসিরের জন্য রচনা করেছিলেন এবং এই রাজা ৬৩৪ থেকে ৬৫৯ হিজরির মধ্যবর্তী সময়ে রাজত্ব করেছিলেন।
সেই অনুযায়ী, বইটির রচনা এই সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে, এর আগে বা পরে নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ঈজাযুত তারিফ ফী ইলমিত তাসরীফ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
المبحث الثاني: موضوع الكتاب ومنهجهاستهل ابن مالك كتابه هذا بمقدمة جميلة استفتحها بحمد الله وتمجيده والصلاة والسلام على صفوة العالم وخيرته ثم ضمنها عدة أمور بدأها بالإشادة بموضوع الكتاب -علم التصريف- وبيان أهميته وعظم مزيته، ثم تطرق إلى الحديث عما امتن الله عليه به من التمكين في هذا الفن الذي قد بلغ فيه الغاية فألم بشوارده، وازداد من فوائده، وتحصل على قواعده، واستطاع تفصيل مقاصده، وصوغها بعبارات تستعذب وألفاظ لا تستصعب وإيداعها هذا المجموع الذي سماه "إيجاز التعريف في علم التصريف".
ثم ذكر رحمه الله أنه وضع هذا الكتاب من أجل التشرف بخدمة السلطان الملك الناصر صلاح الدين -كما سبقت الإشارة إلى ذلك- وقد خلت المقدمة من بيان المنهج الذي نُسج على منواله الكتاب والنص على الموضوعات التي اشتمل عليها.
ومن خلال دراستي للكتاب تبين لي أنه قد تضمن جل مسائل التصريف واشتمل على أهم قضايا هذا الفن.
وقد قسمه مصنفه إلى فصول بلغ عددها ستين فصلاً سكب فيها مادته العلمية بأسلوب سهل وعبارة واضحة ودقيقة، مع جودة في التقسيم ومهارة في التفصيل وتسلسل في الأفكار، فجاء كل فصل مستقلاً بمسائلة التي هي تكملة لما قبلها ممَّا يسهل فهم قضايا الكتاب واستيعابها
وقد بدأ المصنف مسائل الكتاب بما تقتضي المنهجية العلمية أن يبدأ به ألا وهو التعريف بعلم التصريف ـ موضوع الكتاب وميدان أبحاثه ـ،
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: গ্রন্থের বিষয়বস্তু ও কর্মপদ্ধতিইবনে মালিক তাঁর এই গ্রন্থটি একটি চমৎকার ভূমিকার মাধ্যমে শুরু করেছেন, যা আল্লাহর প্রশংসা ও মহিমা বর্ণনা এবং সৃষ্টির সেরা ও মনোনীত সত্তার ওপর দরুদ ও সালাম পেশ করার মাধ্যমে সূচিত হয়েছে। অতঃপর তিনি এতে বেশ কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত করেছেন; যার শুরুতে তিনি গ্রন্থের মূল বিষয়বস্তু—ইলমুত তাসরিফ (শব্দতত্ত্ব)—এর প্রশংসা করেছেন এবং এর গুরুত্ব ও সুমহান মর্যাদার বর্ণনা দিয়েছেন। অতঃপর তিনি এই শিল্পে আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত তাঁর বুৎপত্তির কথা আলোচনা করেছেন, যেখানে তিনি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছেন। ফলে তিনি এর বিরল বিষয়গুলো আয়ত্ত করেছেন, এর উপকারিতাগুলো বৃদ্ধি করেছেন, এর মূলনীতিগুলো অর্জন করেছেন এবং এর উদ্দেশ্যসমূহ বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি এই বিষয়গুলোকে অত্যন্ত সাবলীল ও সহজবোধ্য শব্দে রূপ দান করেছেন এবং এই সংকলনটিতে তা সন্নিবেশিত করেছেন, যার নামকরণ করেছেন "ইজাযুত তারিফ ফি ইলমিত তাসরিফ"।
অতঃপর তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) উল্লেখ করেছেন যে, সুলতান আল-মালিক আন-নাসির সালাহুদ্দিনের খিদমতে ধন্য হওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি এই গ্রন্থটি রচনা করেছেন—যেমনটি পূর্বে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। তবে এই গ্রন্থের ভূমিকাটি সেই কর্মপদ্ধতির বর্ণনা এবং এতে অন্তর্ভুক্ত বিষয়াবলির সুস্পষ্ট উল্লেখ থেকে মুক্ত ছিল, যার আদলে বইটি রচিত হয়েছে।
আমার এই গ্রন্থটি অধ্যয়নের মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, এতে শব্দতত্ত্বের অধিকাংশ মাসআলা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং এই শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ এতে স্থান পেয়েছে।
গ্রন্থকার একে মোট ষাটটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত করেছেন, যেখানে তিনি সহজ শৈলী এবং স্পষ্ট ও নির্ভুল শব্দচয়নের মাধ্যমে ইলমি উপাদানগুলো ঢেলে দিয়েছেন। এতে চমৎকার বিন্যাস, নিপুণ বিস্তারিত বর্ণনা এবং চিন্তার ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে। ফলে প্রতিটি পরিচ্ছেদ তার নিজস্ব মাসআলা নিয়ে স্বতন্ত্রভাবে উপস্থাপিত হয়েছে, যা তার পূর্ববর্তী পরিচ্ছেদের পরিপূরক। এটি গ্রন্থের বিষয়বস্তু অনুধাবন ও আত্মস্থ করা সহজ করে তোলে।
গ্রন্থকার এই কিতাবের মাসআলাগুলো সেই বিষয় দিয়ে শুরু করেছেন যা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসারে শুরু করা আবশ্যক; আর তা হলো ইলমুত তাসরিফের (শব্দতত্ত্ব) পরিচয় প্রদান—যা এই গ্রন্থের মূল বিষয় এবং এর গবেষণার ক্ষেত্র।
(খণ্ড: ১)
ঈজাযুত তারিফ ফী ইলমিত তাসরীফ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
ثم طفق يفصل موضوعاته واحداً تلو الآخر حتى أتى على آخرها.
فتحدث عن المجرد والمزيد من الأسماء والأفعال وأوزانها ثم حركة عين المضارع وبناء الفعل للمفعول والأمر، ثم الميزان الصرفي وحروف الزيادة ومواقعها وختم كتابه بالحديث عن الإدغام وحروفه وأحكامه.
ومسائل الكتاب موزعة في فصوله على النحو التالي:
1- التعريف بالتصريف وبيان أقسام المجرد والمزيد وأوزانهما وبيان حركة عين المضارع ثم صياغة الفعل للمفعول والأمر، ثم بيان علامات أصالة الحرف ثم الميزان الصرفي وقد استغرقت هذه المباحث عشرة فصول من الكتاب.
2- حروف الزيادة وعلاماتها ومواقعها، وقد وقعت هذه القاضايا في ثمانية فصول.
3- الإعلال بأنواعه الثلاثة من قلب ونقل وحذف وتعد مسائل هذا الموضوع هي جوهر الكتاب حيث إنها قد استغرقت جل فصوله فقد وقعت في سبعة وثلاثين فصلاً.
4- الإدغام وحروفه وأحكامه وهو آخر مباحث الكتاب وقد وقع في خمسة فصول.
وقد ظهرت لي في الكتاب بعض السمات البارزة أوضحها في المبحث التالي.
এরপর তিনি এর বিষয়বস্তুসমূহ একে একে বিস্তারিত বর্ণনা করতে শুরু করেন, যতক্ষণ না তিনি এর শেষ পর্যন্ত পৌঁছান।
সেখানে তিনি বিশেষ্য (اسم) ও ক্রিয়ার (فعل) মৌলিক (مجرد) ও অতিরিক্ত (مزيد) রূপ এবং তাদের ওজনসমূহ (أوزان), এরপর মুদারি (مضارع) ক্রিয়ার আইন বর্ণের হরকত, কর্মবাচ্যের ক্রিয়া (فعل مبني للمفعول) ও আদেশসূচক ক্রিয়া (أمر) গঠন সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। অতঃপর রূপমূলতাত্ত্বিক পরিমাপ (الميزان الصرفي), অতিরিক্ত অক্ষরসমূহ (حروف الزيادة) ও তাদের অবস্থান বর্ণনা করেছেন এবং ইদগাম (الإدغام), এর বর্ণসমূহ ও বিধানসমূহ আলোচনার মাধ্যমে কিতাবটি সমাপ্ত করেছেন।
কিতাবটির মাসআলাসমূহ (مسائل) এর পরিচ্ছেদগুলোতে নিম্নোক্তভাবে বিন্যস্ত করা হয়েছে:
1- শব্দরূপান্তর (تصريف)-এর সংজ্ঞা, মৌলিক (مجرد) ও অতিরিক্ত (مزيد) প্রকারভেদ ও তাদের ওজনসমূহের বর্ণনা, মুদারি (مضارع) ক্রিয়ার আইন বর্ণের হরকতের বর্ণনা, এরপর কর্মবাচ্য ও আদেশসূচক ক্রিয়া গঠন, অতঃপর বর্ণের মৌলিকত্বের আলামতসমূহ এবং রূপমূলতাত্ত্বিক পরিমাপ (الميزان الصرفي)-এর বর্ণনা। এই বিষয়গুলো কিতাবের দশটি পরিচ্ছেদ জুড়ে বিস্তৃত।
2- অতিরিক্ত অক্ষরসমূহ (حروف الزيادة), তাদের আলামত ও অবস্থানসমূহ; এই বিষয়গুলো আটটি পরিচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে।
3- তিন প্রকারের ই'লাল (الإعلال) - যথা: পরিবর্তন (قلب), স্থানান্তর (نقل) ও বিলোপ (حذف)। এই প্রসঙ্গের মাসআলাগুলোই কিতাবটির মূল নির্যাস, যেহেতু এগুলো কিতাবের অধিকাংশ পরিচ্ছেদ জুড়ে রয়েছে এবং সাতত্রিশটি পরিচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে।
4- ইদগাম (الإدغام), এর বর্ণসমূহ ও বিধানসমূহ, যা কিতাবের সর্বশেষ আলোচ্য বিষয় এবং এটি পাঁচটি পরিচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে।
কিতাবটিতে আমার কাছে কিছু বিশিষ্ট বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়েছে, যা আমি পরবর্তী অনুচ্ছেদে স্পষ্ট করব।
(খণ্ড: ১)
ঈজাযুত তারিফ ফী ইলমিত তাসরীফ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
المبحث الثالث: السمات البارزة في الكتابتتجلى في الكتاب سمات بارزة رفعت من قدره وأعلت من شأنه ويمكن إيجازها في النقاط التالية:
أولاً: حسن الأسلوب ووضوح العبارة وسلاسة الألفاظ مع جودة التقسيم وحسن التفصيل وتسلسل الأفكار وهذه الصفات صُبِغَ بها الكتاب من مستهله إلى مختتمه.
ثانياً: اشتماله على كثير من آراء علماء التصريف واختلافاتهم، ولم يكتف المصنف بسرد تلك الآراء وتسليمها دون تمحيص بل وقف منها موقف العالم المدقق والخبير المحقق، فقام باستعراضها ومناقشتها المناقشة العلمية مستنيراً في ذلك بما حباه الله به من سعة في العلم وتوقد في الذهن فأيد ما رآه راجحاً بالدليل الساطع، والحجة القوية، وفند ما ضعف دليله أو غابت حجته، غير مكترث بصاحب الرأي وإن علت مكانته فهو لا يقدس الأشخاص وإنّما يَنْشُد الحق أنى وجده أخذ به وناصر القائل به أياً كان1 وإليكم أمثلة على ذلك، قال رحمه الله:
"وفُعْلَل كبُرْقَع وجُرْشَع، ولم يروه سيبويه لكن رواه الأخفش من أئمة البصرة والفراء من أئمة الكوفة وزيادة الثقة مقبولة، وزعم الفراء أن الفتح في جُرشَع أكثر من الضم.
ومما يؤيد رواية هذين الإمامين قول العرب: مالي من ذاك عُنْدَدُ أي بُدُّ،
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: গ্রন্থটির উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যসমূহগ্রন্থটিতে এমন কিছু উজ্জ্বল বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয় যা এর মান ও মর্যাদা বহুলাংশে বৃদ্ধি করেছে। সেগুলোকে নিম্নোক্ত পয়েন্টগুলোতে সংক্ষেপে উপস্থাপন করা যেতে পারে:
প্রথমত: চমৎকার রচনাশৈলী, প্রাঞ্জল প্রকাশভঙ্গি এবং শব্দের সাবলীলতা; সেই সাথে উত্তম বিন্যাস, নিপুণ বিশ্লেষণ এবং ভাবধারার ধারাবাহিকতা। গ্রন্থটির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এই গুণাবলীসমূহ বিদ্যমান।
দ্বিতীয়ত: গ্রন্থটি শব্দতত্ত্ববিদ আলেমদের বহুবিধ মতামত ও তাদের মধ্যকার মতপার্থক্যকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। গ্রন্থকার কেবল সেই মতগুলো বর্ণনা করে বা কোনো প্রকার বিচার-বিশ্লেষণ ব্যতীত তা গ্রহণ করেই ক্ষান্ত হননি, বরং তিনি একজন সূক্ষ্মদর্শী আলেম এবং অভিজ্ঞ গবেষকের অবস্থান গ্রহণ করেছেন। তিনি সেই মতগুলো পর্যালোচনা করেছেন এবং সেগুলোর ওপর তাত্ত্বিক আলোচনা পেশ করেছেন। এ ক্ষেত্রে তিনি আল্লাহ প্রদত্ত প্রশস্ত জ্ঞান ও প্রখর মেধাকে কাজে লাগিয়েছেন। ফলে যে মতটি তাঁর নিকট অগ্রগণ্য মনে হয়েছে, তাকে তিনি উজ্জ্বল প্রমাণ ও শক্তিশালী যুক্তির মাধ্যমে সমর্থন করেছেন। আর যার দলিল দুর্বল (ضعيف) কিংবা যুক্তি অনুপস্থিত, তাকে তিনি খণ্ডন করেছেন। এক্ষেত্রে তিনি মতের প্রবক্তার উচ্চমর্যাদার পরোয়া করেননি; কারণ তিনি কোনো ব্যক্তিকে নিরঙ্কুশভাবে অনুসরণ করেন না, বরং সত্য যেখানেই পান সেটিই গ্রহণ করেন এবং প্রবক্তা যেই হোন না কেন তাকেই সমর্থন করেন।১ এর কিছু উদাহরণ নিচে দেওয়া হলো। তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:
"'ফু'লাল' ওজনে 'বুরকা' এবং 'জুরশা'। সিবওয়াইহি এটি বর্ণনা করেননি, তবে বসরার ইমামদের মধ্য থেকে আখফাশ এবং কুফার ইমামদের মধ্য থেকে ফাররা এটি বর্ণনা করেছেন। আর নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তির অতিরিক্ত বর্ণনা গ্রহণযোগ্য (مقبولة)। ফাররা মনে করেন যে, 'জুরশা' শব্দে পেশ-এর তুলনায় জবর-এর ব্যবহার অধিক প্রচলিত।
এই দুই ইমামের বর্ণনাকে আরবদের এই উক্তিটি সমর্থন করে: 'মালি মিন যালিকা 'উনদাদুন' অর্থাৎ 'আমার এ থেকে কোনো নিস্তার বা বিকল্প নেই'।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ঈজাযুত তারিফ ফী ইলমিত তাসরীফ
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
فجاءوا به مفكوكاً غير مُدغم، ولا يفعلون ذلك بذي مثلين متحركين لا يوازن فَعَلاً أو فِعَلاً ولا فُعلاً إلا إذا كان أحدهما مزيداً للإلحاق كقَرْدَد، أو كان ما قبلهما مزيداً للإلحاق نحو: "ألَنْدَد، بمعنى الألد، ومعلوم أن "عُنْدَداً" ليس موازناً لفَعَل وأخواته فيتعين كونه ملحقاً بفُعْلَل إما بزيادة إحدى الدالين فيكون من العُنود وإما بزيادة النون قبلها فيكون من الأعداد.. الخ1.
وقال أيضاً: (وبثبوته في جميع التصاريف كنون "كضيفن" فإنها أصل خلافاً للخليل، فإن العرب قالت: ضفن الرجل فهو ضافن وضيفن إذا تبع الأضياف تطفلاً حكى ذلك أبوزيد) 2.
وقال أيضاً: (وقد خففوا هذا النوع بإبدال أحد الأمثال ياءً نحو: تَظَنَّيت، لأنه من الظن، وكلا التخفيفين مطرد في أقيسة الكوفيين، والبصريون فيهما مع السماع، ويرون أن "كفكف" وأمثاله بناء مرتجل رباعي كل حروفه أصول وليس من مادة الثلاثي في شيء، وهذا تكلف والمختار فيه ما قاله الكوفيون) 3.
وقال أيضاً: (وهذا الذي ذكرته وإن كان خلاف المشهور عند البصريين فهو مؤيد بالدليل وهو موافق لقول أئمة اللغة فمن قولهم ما حكاه الأزهري عن ابن السكيت وعن الفراء أنهما قالا: ما كان من النعوت مثل الدُنْيا والعُلْيَا فإنه بالياء، لأنهم يستثقلون الواو مع ضمة أوله وليس فيه اختلاف إلا أنَّ أهل الحجاز قالوا: القُصْوَى، فأظهروا الواو وهو نادر، وبنو تميم يقولون: القصيا، هذا قول ابن السكيت وقول الفراء
--------------------------------------------
তারা এটিকে পৃথক (مفكوك) এবং সন্ধিহীন (غير مُدغم) হিসেবে আনয়ন করেছেন। তারা দুটি সচল সমজাতীয় বর্ণের (ذي مثلين متحركين) ক্ষেত্রে এমনটি করেন না যা 'ফা'আলা' (فَعَلاً), 'ফি'আলা' (فِعَلاً) বা 'ফু'লান' (فُعلاً) এর ওজনের হয় না; কেবল তখনই করেন যখন তাদের একটি বর্ণ সংযুক্তির জন্য অতিরিক্ত (مزيد للإلحاق) হয়, যেমন: 'কারদাদ' (قَرْدَد)। অথবা যদি তাদের পূর্ববর্তী বর্ণটি সংযুক্তির জন্য অতিরিক্ত (مزيد للإلحاق) হয়, যেমন: 'আলান্দাদ' (ألَنْدَد), যা 'আলান্দ' (الألد) এর অর্থে ব্যবহৃত হয়। এটি সুবিদিত যে 'উনদাদ' (عُنْدَداً) শব্দটি 'ফা'আলা' (فَعَل) এবং এর সমজাতীয় ওজনগুলোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, তাই এটি 'ফু'লাল' (فُعْلَل) এর সাথে সংযুক্ত (ملحق) হওয়া নির্ধারিত হয়; হয় দুটি 'দাল' (د) বর্ণের একটির বৃদ্ধির মাধ্যমে যা 'উনুদ' (العُنود) থেকে উদ্ভূত, অথবা তার পূর্বে 'নুন' (النون) বৃদ্ধির মাধ্যমে যা 'আদাদ' (الأعداد) থেকে উদ্ভূত... ইত্যাদি ১।
তিনি আরও বলেন: (সমস্ত রূপান্তরের (التصاريف) ক্ষেত্রে এর স্থায়িত্বের কারণে, যেমন 'দাইফান' (ضيفن) এর 'নুন' (نون) বর্ণটি, এটি মূলত মূল (أصل) বর্ণ, যা খলিলের মতের বিপরীত। কেননা আরবরা বলে থাকে: 'দাফানা আল-রাজুলু' (ضفن الرجل), সুতরাং সে হলো 'দাফিন' (ضافن) এবং 'দাইফান' (ضيفن), যখন সে অনাহুতভাবে অতিথিদের অনুসরণ করে; আবু যায়েদ এটি বর্ণনা করেছেন) ২।
তিনি আরও বলেন: (তারা সমজাতীয় বর্ণগুলোর একটিকে 'ইয়া' (ياء) দ্বারা পরিবর্তনের মাধ্যমে এই প্রকারকে সহজ করেছেন, যেমন: 'তাজান্নাইতু' (تَظَنَّيت), কারণ এটি 'জান্ন' (الظن) থেকে উদ্ভূত। কুফাবাসীদের কিয়াস (أقيسة) অনুযায়ী উভয় প্রকার সহজীকরণই নিয়মিত (مطرد)। আর বসরাবাসীরা এক্ষেত্রে শ্রুতির (السماع) ওপর নির্ভর করেন এবং তারা মনে করেন যে 'কাফকাফা' (كفكف) এবং এই জাতীয় শব্দগুলো একটি মৌলিক (مرتجل) চর্তুক্ষরী (رباعي) গঠন, যার প্রতিটি বর্ণই মূল (أصول) এবং ত্রৈক্ষরী (الثلاثي) মূলধাতুর সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই। তবে এটি একটি কষ্টকল্পনা (تكلف), আর কুফাবাসীরা যা বলেছেন তাই এক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য (المختار)) ৩।
তিনি আরও বলেন: (আমি যা উল্লেখ করেছি তা বসরাবাসীদের নিকট প্রসিদ্ধ (المشهور) মতের পরিপন্থী হলেও দলিলের (بالدليل) মাধ্যমে সমর্থিত এবং ভাষাবিদ ইমামদের (أئمة اللغة) বক্তব্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাদের বক্তব্যের মধ্যে রয়েছে যা আল-আযহারী ইবনুস সিক্কিত এবং আল-ফাররা থেকে বর্ণনা করেছেন যে তারা উভয়ে বলেছেন: 'দুনিয়া' (الدنيا) এবং 'উলইয়া' (العليا) এর মতো বিশেষণগুলো (النعوت) 'ইয়া' (ياء) যোগে গঠিত হয়, কারণ তারা শব্দের শুরুতে পেশ (ضمة) থাকায় 'ওয়াও' (واو) উচ্চারণকে কষ্টকর মনে করেন। এতে কোনো মতভেদ নেই, তবে হিজাজবাসীরা 'আল-কুসওয়া' (القُصْوَى) বলেন এবং তারা 'ওয়াও' (الواو) প্রকাশ করেন যা বিরল (نادر)। আর বনু তামীম গোত্র 'আল-কুসইয়া' (القصيا) বলে থাকে; এটিই ইবনুস সিক্কিত ও আল-ফাররার বক্তব্য।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ঈজাযুত তারিফ ফী ইলমিত তাসরীফ
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
والواقع على وفقه قال تعالى: {وإذ أنتم بالعُدوة الدُّنْيا} 1. وقال تعالى: {وكلمة الله هي العليا} 2.
وهاتان صفتان محضتان والنحويون يقولون هذا الإعلال مخصوص بالاسم ثم لا يمثلون إلا بصفة محضة أو بالدُّنيا والاسمية فيها عارضة، ويزعمون أن حُزوى تصحيحه شاذ كتصحيح "حَيْوة" وهذا قول لا دليل على صحته فلا مبالاة باجتنابه) 3.
وقال أيضاً: والحقوا بالأربعة المذكورة: الشَّرْوَى، والطَّغْوَى والْعَوَّى والرَّعْوَى" زاعمين أن أصلهما من الياء والأولى عندي جعل هذه الأواخر من الواو سداً لباب التكثر من الشذوذ حيث أمكن سده وذلك أن الشروى معناه المثل ولا دليل على أن واوه منقلبة عن ياء إلا إدعاء من قال إنه من شريت وذلك ممنوع إذ هي دعوى مجردة عن الدليل) 4.
ثالثاً: التعويل على أصول التصريف من إجماع وقياس وسماع وعلة5 فما أجمع عليه العرب أو العلماء يجب التمسك به، وما توفرت فيه أسباب القياس يعطي حكم نظيره، وكلام العرب الموثوق بهم يعتمد عليه ويستشهد به شعراً كان أو نثراً أو أمثالاً عربية أو أقوالاً ثابتة عنهم6 والتعليل للمسائل متفشٍ في الكتاب وفيما يلي أمثلة مقتضبة لبعض هذه
--------------------------------------------
বাস্তব পরিস্থিতি এর অনুকূলে রয়েছে; মহান আল্লাহ বলেন: {যখন তোমরা নিকটবর্তী (الدنيا) প্রান্তরে ছিলে} ১। এবং মহান আল্লাহ বলেন: {আর আল্লাহর বাণীই হলো সর্বোচ্চ (العليا)} ২।
এই দুটি হলো বিশুদ্ধ বিশেষণ (صفة محضة) এবং ব্যাকরণবিদ (النحويون) গণ বলেন যে, এই রূপান্তর (الإعلال) বিশেষ্যের (الاسم) জন্য সুনির্দিষ্ট; এরপর তারা বিশুদ্ধ বিশেষণ (صفة محضة) অথবা ‘দুনিয়া’ (الدنيا) শব্দ ব্যতিরেকে উদাহরণ দেন না, যেখানে বিশেষ্য হিসেবে এর ব্যবহার আপতিক। তারা দাবি করেন যে, ‘হুযওয়া’ (حزوى) শব্দের নিয়মানুযায়ী গঠন অনিয়মিত (شاذ), যেমন ‘হায়ওয়াহ’ (حيوة) শব্দের শুদ্ধতা। এটি এমন একটি উক্তি যার সত্যতার কোনো দলিল নেই, তাই এটি বর্জন করার ক্ষেত্রে কোনো দ্বিধা নেই) ৩।
তিনি আরও বলেন: “তারা উল্লিখিত চারটি শব্দের সাথে ‘আল-শারওয়া’ (الشروى), ‘আল-তাগওয়া’ (الطغوى), ‘আল-আউওয়া’ (العوى) এবং ‘আল-রা’ওয়া’ (الرعوى) শব্দগুলোকে যুক্ত করেছেন, এই দাবি করে যে এগুলোর মূল হলো ‘ইয়া’ (الياء)। আমার নিকট উত্তম হলো এই শেষাক্ষরগুলোকে ‘ওয়াও’ (الواو) হিসেবে গণ্য করা, যাতে অনিয়ম (الشذوذ) বৃদ্ধির পথ রুদ্ধ করা যায় যেখানে তা সম্ভব। কারণ ‘শারওয়া’ শব্দের অর্থ হলো সদৃশ (المثل), এবং এর ‘ওয়াও’ যে ‘ইয়া’ থেকে পরিবর্তিত হয়েছে তার কোনো প্রমাণ নেই, কেবল তাদের দাবি ছাড়া যারা বলেন এটি ‘শারাইতু’ (شريت) থেকে আগত। আর এটি অগ্রাহ্য, কারণ এটি দলিলবিহীন একটি দাবি মাত্র) ৪।
তৃতীয়ত: শব্দ রূপান্তরের মূলনীতি (أصول التصريف) সমূহের ওপর নির্ভর করা, যা হলো—সর্বসম্মতি (إجماع), সাদৃশ্যবিধান (قياس), শ্রুত প্রয়োগ (سماع) এবং কারণ (علة)। ৫ সুতরাং আরবগণ বা ওলামায়ে কেরাম যে বিষয়ে ঐক্যমতে (أجمع) পৌঁছেছেন তা আঁকড়ে ধরা আবশ্যক। আর যাতে সাদৃশ্যবিধানের (القياس) কারণসমূহ বিদ্যমান থাকে, তাকে তার সমজাতীয় বিষয়ের বিধান প্রদান করা হয়। নির্ভরযোগ্য (الموثوق بهم) আরবদের কথা—তা কবিতা হোক বা গদ্য কিংবা আরবি প্রবাদ অথবা তাদের থেকে বর্ণিত প্রমাণিত (ثابتة) উক্তি হোক—তার ওপর নির্ভর করা হয় এবং তা থেকে দলিল গ্রহণ করা হয়। ৬ আর মাসআলাগুলোর কারণ দর্শানো (التعليل) এই গ্রন্থে অত্যন্ত ব্যাপক এবং নিম্নে এগুলোর কিছু সংক্ষিপ্ত উদাহরণ প্রদান করা হলো—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ঈজাযুত তারিফ ফী ইলমিত তাসরীফ
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
الأمور قال المصنف رحمه:
1- (ولكن الاستدلال به لا يساوي الاستدلال بعيسة ولا يقاربه، لأن جميع العرب يقولون: عيسة وجمهورهم يقولون: معيشة لا معووشة فثبت أن إبدال الضمة كسرة في المفرد لتسلم الياء حكم مبني على ما استعمله جميع العرب، وإبدال الياء فيه واواً حكم مبني على قول شاذ والشاذ لا يعول عليه) 1.
2- (ومن لغته إبدال الهمزة من الواو المضمومة ضمة لازمة فيقول في "وُدٍّ" أُدّ قال أيضاً في "وُوعِد" أُوعِد، وكذلك ما أشبهه فيهمز، لأجل الضمة لا لأجل اجتماع الواوين فإن اجتماعهما عارض) 2.
3- (وأهملوا مكسور الأول مضموم الثاني، لأن الكسرة ثقيلة والضمة أثقل منها فكرهوا الانتقال من مستثقل إلى أثقل منه) 3.
4- (ومنع من زيادة الواو أولاً استثقالها وتعرضها للإبدال الجائز) 4.
5- (فإن انفك المثلان كمَهْدَدِ فأحدهما زائد إلا أن يوجب تقدير زيادته استعمال ما أهمل كمحبب فإنهم مَفْعَل، لأن تقدير زيادة إحدى باءية يوجب أن يكون الأصل: "م. ح.ب" وهو تركيب أهملت العرب جميع وجوهه) 5.
--------------------------------------------
বিষয়সমূহ, গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:
1- (কিন্তু এর মাধ্যমে দলিল উপস্থাপন করা 'আইসাহ' এর মাধ্যমে দলিল উপস্থাপনের সমতুল্য নয় এবং তার নিকটবর্তীও নয়। কারণ সকল আরব 'আইসাহ' বলে থাকে এবং তাদের অধিকাংশ 'মা'ইশাহ' বলে থাকে, 'মা'উউশাহ' নয়। সুতরাং এটি প্রমাণিত যে, 'ইয়া' বর্ণটিকে অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য একবচনে পেশ-কে যের দ্বারা পরিবর্তন করা এমন একটি নিয়ম যা সকল আরবের ভাষাগত ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। আর এতে 'ইয়া' বর্ণটিকে 'ওয়াও' দ্বারা পরিবর্তন করা একটি বিরল (شاذ) মতের ওপর ভিত্তি করে প্রণীত নিয়ম, আর বিরল (شاذ) মতের ওপর নির্ভর করা হয় না।) 1.
2- (আর যাঁর ভাষাগত রীতি হলো আবশ্যকীয় পেশযুক্ত 'ওয়াও' বর্ণকে 'হামজা' দ্বারা পরিবর্তন করা, তিনি 'উদ্দ' এর স্থলে 'উদ্দ' বলেন। তিনি 'উ'ইদা' এর ক্ষেত্রেও 'উ'ইদা' বলেন। তদ্রূপ এর সদৃশ শব্দগুলোতে তিনি পেশের কারণে হামজা ব্যবহার করেন, দুটি 'ওয়াও' একত্রিত হওয়ার কারণে নয়; কেননা তাদের এই একত্র হওয়াটা অস্থায়ী (عارض)।) 2.
3- (এবং তারা প্রথম বর্ণ যেরযুক্ত এবং দ্বিতীয় বর্ণ পেশযুক্ত হওয়াকে বর্জন করেছেন; কারণ যের হলো ভারী এবং পেশ তার চেয়েও অধিকতর ভারী। তাই তারা অপেক্ষাকৃত ভারী থেকে অধিকতর ভারী বর্ণের দিকে স্থানান্তর হওয়াকে অপছন্দ করেছেন।) 3.
4- (এবং শুরুতে 'ওয়াও' বর্ণ বৃদ্ধি করাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এর গুরুভার হওয়ার কারণে এবং এর বৈধ (جائز) পরিবর্তনের সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনার কারণে।) 4.
5- (যদি দুটি সমজাতীয় বর্ণ পৃথক হয়ে যায় যেমন 'মাহদাদ', তবে তাদের একটি অতিরিক্ত (زائد) বর্ণ। তবে যদি তার অতিরিক্ত হওয়ার অনুমানের ফলে এমন শব্দের ব্যবহার আবশ্যক হয়ে পড়ে যা বর্জন করা হয়েছে, যেমন 'মুহাব্বাব', তবে তা 'মাফ'আল' ওযনের হবে। কারণ তার দুটি 'বা' বর্ণের একটিকে অতিরিক্ত ধরে নিলে তার মূল (أصل) হতে হয়: "ম. হ. ব.", আর এটি এমন একটি শব্দমূল যার সকল রূপই আরবরা বর্জন করেছে।) 5.
--------------------------------------------