(খণ্ড: ১)
আল কায়িদাতুয যাহাবিয়্যাতু লা দারারা ওয়া লা দিরার
(পৃষ্ঠা: -)
القاعدة الذهبية لا ضرر ولا ضرار القسم: علوم الفقه والقواعد الفقهية
الكتاب: القاعدة الذهبية في المعاملات الإسلامية لا ضرر ولا ضرار
المؤلف: زين الدين عبد الرحمن بن أحمد بن رجب بن الحسن، السَلامي، البغدادي، ثم الدمشقي، الحنبلي (ت 795هـ)
المحقق: إيهاب حمدي غيث
الناشر: دار الكتاب العربي
الطبعة: الأولى، 1410 هـ - 1990 م
عدد الصفحات: 95
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
স্বর্ণালি নীতি: ক্ষতি করা যাবে না এবং ক্ষতি সওয়া যাবে না বিভাগ: ফিকহ শাস্ত্র ও ফিকহি মূলনীতি
বই: ইসলামি লেনদেনে স্বর্ণালি নীতি: ক্ষতি করা যাবে না এবং ক্ষতি সওয়া যাবে না
লেখক: জয়নুদ্দিন আবদুর রহমান বিন আহমদ বিন রজব বিন আল-হাসান, আল-সালামি, আল-বাগদাদি, অতঃপর আদ-দিমাশকি, আল-হাম্বলি (মৃত্যু: ৭৯৫ হিজরি)
গবেষক ও সম্পাদক: ইহাব হামদি গাইস
প্রকাশক: দার আল-কিতাব আল-আরাবি
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১০ হিজরি - ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৫
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল কায়িদাতুয যাহাবিয়্যাতু লা দারারা ওয়া লা দিরার
(পৃষ্ঠা: ১৩)
بسم الله الرحمن الرحيمعن أبى سعيد الخدرى - رضى الله عنه - أن النبى صلى الله عليه وسلم قال: (لَا ضَررَ ولا ضِرار) حديث حسن.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামেআবু সাঈদ আল-খুদরি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "ক্ষতি করা যাবে না এবং ক্ষতির বিনিময়ে ক্ষতি করা যাবে না।" এটি একটি হাসান (حسن) হাদিস।
(খণ্ড: ১)
আল কায়িদাতুয যাহাবিয়্যাতু লা দারারা ওয়া লা দিরার
(পৃষ্ঠা: ১৪)
رواه ابن ماجه والدارقطنى، وغيرهما مسندا.
ورواه مالك في (الموطأ) عن عمرو بن يحيى عن أبيه عن النبى صلى الله عليه وسلم مرسلا، فأسقط أبا سعيد.
وله طرق يقوى بعضها ببعض.
ইবনে মাজাহ, আদ-দারাকুতনি এবং অন্যান্যরা এটি অবিচ্ছিন্ন (مسندًا) হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
ইমাম মালিক এটি (আল-মুয়াত্তা)-তে আমর ইবনে ইয়াহইয়া থেকে, তিনি তার পিতা থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বিচ্ছিন্ন (مرسلاً) হিসেবে বর্ণনা করেছেন, ফলে তিনি আবু সাঈদকে বাদ দিয়েছেন।
এর এমন কিছু সূত্র রয়েছে যা একে অপরকে শক্তিশালী করে।
(খণ্ড: ১)
আল কায়িদাতুয যাহাবিয়্যাতু লা দারারা ওয়া লা দিরার
(পৃষ্ঠা: ১৫)
حديث أبى سعيد الخدريحديث أبى سعيد لم يخرجه ابن ماجه.
إنما خرجه الدارقطنى والحاكم والبيهقى من رواية عثمان بن محمد بن عثمان بن ربيعة حدثنا الدراوردى عن عمرو بن يحيى المازنى عن أبيه عن أبى سعيد الخدرى عن النبى صلى الله عليه وسلم قال: (لا ضَررَ ولا ضِرار، مَن ضَارَّ، ضَرَّه اللهُ، وَمَن شَاقَّ، شقَّ اللهُ عليه) .
আবু সাঈদ আল-খুদরির হাদিসআবু সাঈদের হাদিসটি ইবনে মাজাহ সংকলন (أخرجه) করেননি।
এটি কেবল দারা কুতনি, হাকিম এবং বায়হাকি উসমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উসমান ইবনে রাবিআহ-এর বর্ণনা (رواية) থেকে সংকলন করেছেন; তিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) দারাওয়ারদি থেকে, তিনি আমর ইবনে ইয়াহইয়া আল-মাজিনি থেকে (عن), তিনি তাঁর পিতার নিকট থেকে (عن), তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরি থেকে (عن), তিনি নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: (ক্ষতি করা যাবে না এবং ক্ষতির বিনিময়ে ক্ষতি করা যাবে না; যে ব্যক্তি অন্যের ক্ষতি করবে, আল্লাহ তার ক্ষতি করবেন, আর যে ব্যক্তি অন্যকে কষ্টে ফেলবে, আল্লাহ তাকে কষ্টে ফেলবেন।)
(খণ্ড: ১)
আল কায়িদাতুয যাহাবিয়্যাতু লা দারারা ওয়া লা দিরার
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وقال الحاكم: (صحيح الإسناد على شرط مسلم) .
وقال البيهقى. (تفرد به عثمان عن الدراوردي) .
وخرجه مالك في (الموطأ) عن عمرو بن يحيى عن أبيه مرسلا.
ইমাম আল-হাকিম বলেছেন: (এটি ইমাম মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহিহ সনদ (صحيح الإسناد))।
ইমাম আল-বায়হাকি বলেছেন: (উসমান এটি আদ-দারাওয়ার্দি থেকে এককভাবে বর্ণনা করেছেন (تفرد))।
আর ইমাম মালিক এটি ‘আল-মুয়াত্তা’ গ্রন্থে আমর ইবনে ইয়াহইয়া থেকে, তিনি তার পিতার সূত্রে বিচ্ছিন্ন (مرسل) হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল কায়িদাতুয যাহাবিয়্যাতু লা দারারা ওয়া লা দিরার
(পৃষ্ঠা: ১৭)
قال ابن عبد البر: (لم يختلف عن مالك في إرسال هذا الحديث) .
قال: (ولا يسند من وجه صحيح) .
ثم خرجه من رواية عبد الملك بن معاذ النصيبى عن الدراوردى موصولا.
والدراوردى كان الإمام أحمد يضعف ما حدث به من حفظه ولا يعبأ به، ولا شك في تقديم قول مالك على قوله.
وقال خالد بن سعد الأندلسى الحافظ: (لم يصح حديث) لا ضرر ولا ضرار (مسند) .
ইবনে আব্দুল বার বলেছেন: (ইমাম মালিক থেকে এই হাদিসটি বিচ্ছিন্ন (إرسال) হিসেবে বর্ণনা করার ক্ষেত্রে কোনো মতভেদ নেই)।
তিনি বলেছেন: (এবং এটি কোনো বিশুদ্ধ (صحيح) সূত্রের মাধ্যমে সংযুক্ত (مسند) হিসেবে বর্ণিত হয়নি)।
অতঃপর তিনি এটি আব্দুল মালিক ইবনে মুয়াজ আন-নাসিবির সূত্রে আদ-দারাওয়ার্দি থেকে নিরবচ্ছিন্ন (موصول) হিসেবে উদ্ধৃত করেছেন।
আর ইমাম আহমাদ আদ-দারাওয়ার্দি তাঁর মুখস্থ থেকে বর্ণিত হাদিসগুলোকে দুর্বল (ضعيف) বলতেন এবং সেগুলোর প্রতি ভ্রুক্ষেপ করতেন না; আর আদ-দারাওয়ার্দির বক্তব্যের বিপরীতে ইমাম মালিকের বক্তব্যকে প্রাধান্য দেওয়ার বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
হাফেজ খালিদ ইবনে সাদ আল-আন্দালুসি বলেছেন: "ক্ষতি করা যাবে না এবং ক্ষতির বিনিময়ে ক্ষতি করা যাবে না" শীর্ষক হাদিসটি সংযুক্ত (مسند) হিসেবে বিশুদ্ধ (صحيح) নয়।
(খণ্ড: ১)
আল কায়িদাতুয যাহাবিয়্যাতু লা দারারা ওয়া লা দিরার
(পৃষ্ঠা: ১৮)
حديث عبادة بن الصامتوأما ابن ماجه فخرجه من رواية فضيل بن سليمان. حدثنا موسى بن عقبة حدثنا إسحاق بن يحيى بن الوليد، عن عبادة بن الصامت، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قضى أن: (لا ضَررَ ولا ضِرَار) .
উবাদাহ ইবনে আস-সামিত-এর হাদিসআর ইবনে মাজাহ এটি ফুদাইল ইবনে সুলাইমানের বর্ণনা (رواية) থেকে উদ্ধৃত করেছেন। মুসা ইবনে উকবা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন আমাদের নিকট ইসহাক ইবনে ইয়াহইয়া ইবনুল ওয়ালিদ বর্ণনা করেছেন (حدثنا); তিনি উবাদাহ ইবনে আস-সামিত থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ফয়সালা প্রদান করেছেন যে: (কারো ক্ষতি করা যাবে না এবং ক্ষতির বিনিময়েও ক্ষতি করা যাবে না)।
(খণ্ড: ১)
আল কায়িদাতুয যাহাবিয়্যাতু লা দারারা ওয়া লা দিরার
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وهذا من جملة صحيفة تروى بهذا الإسناد، وهى منقطعة مأخوذة من كتاب، قاله ابن المدينى، وأبو زرعة، وغيرهما.
وإسحاق بن يحيى قيل: هو أبن طلحة، وهو ضعيف، لم يسمع من
এটি এই সনদ (إسناد) যোগে বর্ণিত একটি পাণ্ডুলিপির অন্তর্ভুক্ত, যা একটি কিতাব থেকে গৃহীত এবং এটি বিচ্ছিন্ন (منقطعة); ইবনে আল-মাদিনী, আবু জুরআহ এবং অন্যান্যরা এ কথা বলেছেন।
আর ইসহাক বিন ইয়াহইয়া সম্পর্কে বলা হয়েছে: তিনি ইবনে তালহা, এবং তিনি দুর্বল (ضعيف); তিনি সরাসরি শ্রবণ করেননি...
(খণ্ড: ১)
আল কায়িদাতুয যাহাবিয়্যাতু লা দারারা ওয়া লা দিরার
(পৃষ্ঠা: ২০)
عبادة، قاله أبو زرعة، وابن أبى حاتم، والدارقطني في موضع.
وقيل: إنه إسحاق بن يحيى بن الوليد بن عبادة، ولم يسمع أيضا. من عبادة قاله الدارقطنى - أيضا.
وذكره ابن عدى في كتابه (الضعفاء) وقال: عامة أحاديثه غير محفوظة.
وقيل: إن موسى بن عقبة لم يسمع منه، وإنما روى هذه الأحاديث عن أبى عياش الأسدى عنه، وأبو عياش لا يعرف.
উবাদাহ; এটি আবু যুরআ, ইবনে আবি হাতিম এবং এক স্থানে দারা কুতনী বলেছেন।
এবং বলা হয়েছে: তিনি হলেন ইসহাক বিন ইয়াহইয়া বিন আল-ওয়ালিদ বিন উবাদাহ, তিনিও উবাদাহ থেকে শ্রবণ করেননি (لم يسمع); এ কথা দারা কুতনীও বলেছেন।
ইবনে আদি তাকে তার আদ-দুয়াফা গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: তার অধিকাংশ হাদিসই সংরক্ষিত নয় (غير محفوظة)।
আরও বলা হয়েছে যে, মুসা বিন উকবা তার থেকে শ্রবণ করেননি (لم يسمع), বরং তিনি এই হাদিসগুলো তার সূত্রে আবু আইয়াশ আল-আসাদি থেকে বর্ণনা করেছেন; আর আবু আইয়াশ অপরিচিত (لا يعرف)।
(খণ্ড: ১)
আল কায়িদাতুয যাহাবিয়্যাতু লা দারারা ওয়া লা দিরার
(পৃষ্ঠা: ২২)
حديث ابن عباسوخرجه ابن ماجه - أيضا - من وجه آخر من رواية جابر الجعفى عن عكرمة عن ابن عباس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (لا ضررَ ولا ضِرارَ) .
وجابر الجعفى ضعفه الأكثرون.
وخرجه الدارقطنى من رواية إبراهيم بن إسماعيل عن داود بن الحصين
ইবনে আব্বাসের হাদিসইবনে মাজাহ এটি অন্য একটি সূত্রে জাবির আল-জু'ফীর বর্ণনা থেকে সংকলন করেছেন, যিনি ইকরিমা থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "কারো ক্ষতি করা যাবে না এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পাল্টা ক্ষতিও করা যাবে না।"
আর জাবির আল-জু'ফীকে অধিকাংশ মুহাদ্দিস দুর্বল (ضعيف) হিসেবে গণ্য করেছেন।
আদ-দারাকুতনি এটি ইব্রাহিম ইবনে ইসমাইলের বর্ণনায় দাউদ ইবনুল হুসাইন থেকে সংকলন করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল কায়িদাতুয যাহাবিয়্যাতু লা দারারা ওয়া লা দিরার
(পৃষ্ঠা: ২৩)
عن عكرمة به وإبراهيم ضعفه. جماعة.
وروايات داود عن عكرمة مناكير.
ইকরিমা হতে এটি বর্ণিত এবং ইব্রাহিম তাকে দুর্বল (ضعيف) বলেছেন। একদল (মুহাদ্দিসও অনুরূপ মত দিয়েছেন)।
আর ইকরিমা হতে দাউদের বর্ণনাগুলো অস্বীকৃত (منكر)।
(খণ্ড: ১)
আল কায়িদাতুয যাহাবিয়্যাতু লা দারারা ওয়া লা দিরার
(পৃষ্ঠা: ২৪)
حديث عائشة أم المؤمنينوخرج الدارقطني من حديث الواقدى حدثنا خارجة بن عبد الله بن سليمان بن زيد بن ثابت عن أبى الرجال عن عمرة عن عائشة رضى الله عنها عن النبى صلى الله عليه وسلم قال: (لا ضررَ ولا ضِرَار) .
والواقدي متروك، وشيخه مختلف في تضعيفه.
وخرجه الطبراني من وجهين ضعيفين - أيضا - عن القاسم عن عائشة رضي الله عنها.
উম্মুল মুমিনীন আয়েশা থেকে বর্ণিত হাদিসআল-দারাকুতনি আল-ওয়াকিদি-এর হাদিস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আমাদের নিকট খারিজাহ বিন আবদুল্লাহ বিন সুলাইমান বিন যায়িদ বিন সাবিত বর্ণনা করেছেন আবু আল-রিজাল থেকে, তিনি আমরাহ থেকে, তিনি আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে, আর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "ক্ষতি করা যাবে না এবং ক্ষতির বিনিময়ে ক্ষতি করা যাবে না।"
আর ওয়াকিদি হলেন পরিত্যক্ত (متروك), এবং তার শায়েখের দুর্বলতা (تضعيف) নিয়ে মতভেদ রয়েছে।
আল-তাবারানিও এটি আল-কাসিম থেকে, তিনি আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে - এমন দুটি দুর্বল (ضعيف) সূত্রের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল কায়িদাতুয যাহাবিয়্যাতু লা দারারা ওয়া লা দিরার
(পৃষ্ঠা: ২৬)
حديث جابر بن عبد اللهوخرج الطبرانى - أيضا - من رواية محمد بن سلمة عن ابن إسحاق عن محمد بن يحيى بن حبان عن عمه واسع بن حبان عن جابر عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (لا ضَررَ وَلا ضِرار في
জাবির ইবনে আব্দুল্লাহর হাদিসএবং তাবারানিও—তদ্রূপ—মুহাম্মদ ইবনে সালামাহর বর্ণনা (رواية) থেকে সংকলন (خرج) করেছেন, যা ইবনে ইসহাক থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে হাব্বান থেকে, তিনি তাঁর চাচা ওয়াসি’ ইবনে হাব্বান থেকে, তিনি জাবির থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: (ক্ষতি করা যাবে না এবং ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া যাবে না... এ বিষয়ে)
(খণ্ড: ১)
আল কায়িদাতুয যাহাবিয়্যাতু লা দারারা ওয়া লা দিরার
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الإِسلام) .
وهذا إسناد مقارب، وهو غريب.
لكن خرجه أبو داود في (المراسيل) من رواية عبد الرحمن بن مغراء عن ابن إسحاق عن محمد بن يحيى بن حبان عن عمه واسع مرسلا، وهو أصح.
ইসলাম)।
এবং এই সনদটি (إسناد) গ্রহণযোগ্য পর্যায়ের কাছাকাছি (مقارب) এবং এটি বিরল (غريب)।
তবে আবু দাউদ একে 'আল-মারাসিল' গ্রন্থে আবদুর রহমান ইবনে মাগরা-এর সূত্রে ইবনে ইসহাক থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে হাব্বান থেকে, তিনি তাঁর চাচা ওয়াসি' থেকে বিচ্ছিন্ন (مرسلا) হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং এটিই অধিকতর বিশুদ্ধ (أصح)।
(খণ্ড: ১)
আল কায়িদাতুয যাহাবিয়্যাতু লা দারারা ওয়া লা দিরার
(পৃষ্ঠা: ২৮)
حديث أبي هريرةوخرج الدارقطني من رواية أبي بكر بن عياش قال: أراه عن ابن عطاء عن أبيه عن أبي هريرة أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (لا ضَرَر ولا ضَروُرةَ، ولا يَمنَعَنَّ أَحَدُكم جَارَه أَن يَضَعَ خَشَبَهُ عَلَى حَائِطِه) .
وهذا الإسناد فيه شك.
وابن عطاء، هو يعقوب، وهو ضعيف.
আবু হুরায়রা (রাযি.) বর্ণিত হাদিসএবং ইমাম দারা কুতনী আবু বকর বিন আয়্যাশ-এর সূত্র থেকে উদ্ধৃত করেছেন, তিনি (আবু বকর) বলেন: আমার মনে হয় তিনি এটি ইবনে আতা থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (কারো কোনো ক্ষতি করা যাবে না এবং নিজেও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া যাবে না; আর তোমাদের কেউ যেন তার প্রতিবেশীকে তার দেয়ালে কাঠ স্থাপন করতে বাধা না দেয়)।
এবং এই সনদ (إسناد)-এর মধ্যে সন্দেহ রয়েছে।
আর ইবনে আতা হলেন ইয়াকুব, এবং তিনি দুর্বল (ضعيف)।
(খণ্ড: ১)
আল কায়িদাতুয যাহাবিয়্যাতু লা দারারা ওয়া লা দিরার
(পৃষ্ঠা: ২৯)
حديث عمرو بن عوف المزنىوروى كثير بن عبد الله بن عمرو بن عوف المزني عن أبيه عن جده عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (لا ضَررَ ولا ضِرَارَ) .
قال ابن عبد البر: (إسناده غير صحيح) .
قلت كثير هذا، يصحح حديثه الترمذي ويقول
আমর ইবনে আউফ আল-মুজানীর হাদিসকাসীর ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আউফ আল-মুজানী তার পিতা হতে এবং তিনি তার দাদা হতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: (ক্ষতি করা যাবে না এবং ক্ষতির বিনিময়ে ক্ষতি করা যাবে না)।
ইবনে আবদিল বার্র বলেন: (এর সনদ (إسناد) সহিহ (صحيح) নয়)।
আমি বলছি, এই কাসীর—তিরমিযী তার হাদিসকে সহিহ (صحيح) বলে গণ্য করেছেন এবং বলেন
(খণ্ড: ১)
আল কায়িদাতুয যাহাবিয়্যাতু লা দারারা ওয়া লা দিরার
(পৃষ্ঠা: ৩০)
البخاري في بعض حديثه: (هو أصح حديث في الباب) .
وحسن حديثه إبراهيم بن المنذر الحزامى، وقال: (هو خير من مراسيل ابن المسيب) .
وكذلك حسنه ابن أبي عاصم.
আল-বুখারি তার কোনো এক হাদিস সম্পর্কে বলেছেন: (এটি এই অধ্যায়ের সবচেয়ে বিশুদ্ধতম (أصح) হাদিস) ।
এবং ইব্রাহিম ইবনে আল-মুনজির আল-হিজামি তার হাদিসকে হাসান (حسن) বলেছেন এবং বলেছেন: (এটি ইবনে আল-মুসাইয়িবের মুরসাল (مراسيل) বর্ণনার চেয়েও উত্তম) ।
এবং একইভাবে ইবনে আবি আসিমও একে হাসান (حسن) বলেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল কায়িদাতুয যাহাবিয়্যাতু লা দারারা ওয়া লা দিরার
(পৃষ্ঠা: ৩১)
وترك حديثه آخرون، منهم الإمام أحمد، وغيره.
فهذا ما حضرنا من ذكر طرق أحاديث هذا الباب.
وقد ذكر الشيخ رحمه الله أن بعض طرقه يقوى ببعض، وهو كما قال.
এবং অন্যান্যরা তাঁর হাদিস বর্জন (ترك) করেছেন, যাদের মধ্যে ইমাম আহমাদ ও অন্যান্যরা রয়েছেন।
এই অধ্যায়ের হাদিসসমূহের সূত্র (طرق) বর্ণনার ক্ষেত্রে যা আমাদের নিকট উপস্থিত হয়েছে তা হলো এই।
আর শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) উল্লেখ করেছেন যে, এর কিছু সূত্র (طرق) অন্য সূত্রের মাধ্যমে শক্তিশালী (يقوى) হয়; আর বিষয়টি তেমনই যেমন তিনি বলেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল কায়িদাতুয যাহাবিয়্যাতু লা দারারা ওয়া লা দিরার
(পৃষ্ঠা: ৩২)
وقد قال البيهقي في بعض أحاديث كثير بن عبد الله المزنى: (إذا انضمت إلى غيرها من الأسانيد التي فيها ضعف قويت) .
وقال الشافعي في المرسل: (إنه إذا أسند من وجه آخر أو أرسله من يأخذ العلم عن غير من يأخذ عنه المرسل الأول فإنه يقبل) .
ইমাম বায়হাকি কাসীর ইবন আবদুল্লাহ আল-মুযানীর কিছু হাদিস প্রসঙ্গে বলেছেন: (যখন এগুলো অন্যান্য এমন সব সনদসমূহের (الأسانيد) সাথে যুক্ত হয় যেগুলোতে দুর্বলতা (ضعف) রয়েছে, তখন তা শক্তিশালী (قويت) হয়)।
আর ইমাম শাফিঈ মুরসাল (المرسل) প্রসঙ্গে বলেছেন: (নিশ্চয়ই যখন এটি অন্য কোনো সূত্রে নিরবচ্ছিন্নভাবে বর্ণিত (أسند) হয় অথবা এমন কেউ একে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা (أرسله) করেন যিনি প্রথম মুরসাল বর্ণনাকারীর উস্তাদ ব্যতীত অন্য কারো থেকে ইলম হাসিল করেন, তবে তা গ্রহণযোগ্য (يقبل) হবে)।
(খণ্ড: ১)
আল কায়িদাতুয যাহাবিয়্যাতু লা দারারা ওয়া লা দিরার
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
وقال الجوزجانى: (إذا كان الحديث المسند من رجل غير مقنع) .
يعني لا يقنع برواياته، وشد أركانه المراسيل بالطرق المقبولة عند ذوي الاختيار، استعمل، واكتفى به.
هذا إذا لم يعارض بالمسند الذي هو أقوى منه.
وقد استدل الإمام أحمد بهذا الحديث وقال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: (لَا ضَررَ ولَا ضِرَارَ) .
এবং আল-জাওযাজানি বলেছেন: (যখন কোনো সনদযুক্ত (مسند) হাদিস এমন কোনো ব্যক্তি থেকে বর্ণিত হয় যে সন্তোষজনক (غير مقنع) নয়)।
অর্থাৎ যার বর্ণনা দ্বারা সন্তুষ্ট হওয়া যায় না, কিন্তু বিজ্ঞ হাদিস বিশারদগণের নিকট গ্রহণযোগ্য পন্থায় বিভিন্ন মুরসাল (مرسل) বর্ণনার মাধ্যমে এর ভিত্তি সুসংহত হয়, তবে তা আমল করা হবে এবং সেটিকে পর্যাপ্ত মনে করা হবে।
এটি তখন প্রযোজ্য, যখন এটি এর চেয়ে অধিক শক্তিশালী কোনো সনদযুক্ত (مسند) হাদিসের বিরোধী না হয়।
আর ইমাম আহমাদ এই হাদিসের মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন এবং বলেছেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (ক্ষতি করা যাবে না এবং ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া যাবে না)।
(খণ্ড: ১)
আল কায়িদাতুয যাহাবিয়্যাতু লা দারারা ওয়া লা দিরার
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
وقال أبو عمرو بن الصلاح: (هذا الحديث أسنده الدارقطني من وجوه، ومجموعها يقوى، الحديث، ويحسنه، وقد تقبله جماهير أهل العلم واحتجوا به) .
وقول أبي داود: (إنه من الأحاديث التي يدور الفقه عليها، يشعر بكونه غير ضعيف. والله أعلم.
আবু আমর ইবনে আস-সালাহ বলেছেন: (দারাকুতনি এই হাদিসটি বিভিন্ন সূত্রে সনদযুক্তভাবে বর্ণনা করেছেন (أسنده), এবং এগুলোর সমষ্টি হাদিসটিকে শক্তিশালী করে ও একে হাসান (يحسنه) পর্যায়ে উন্নীত করে; আর জমহুর উলামায়ে কেরাম একে গ্রহণ করেছেন এবং এর দ্বারা দলিল (احتجوا) পেশ করেছেন)।
আবু দাউদের উক্তি: (নিশ্চয়ই এটি সেই সব হাদিসের অন্তর্ভুক্ত যার ওপর ফিকহ আবর্তিত হয়), এটি নির্দেশ করে যে হাদিসটি দুর্বল (ضعيف) নয়। আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১)
আল কায়িদাতুয যাহাবিয়্যাতু লা দারারা ওয়া লা দিরার
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
شواهد الحديثوفي المعنى - أيضا - حديث أبي صرمة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (مَن ضارَّ، ضَارَّ الله به، وَمَن شَاقَّ، شَاقَّ الله عليه) .
خرجه أبو داود والترمذي وابن ماجه.
وقال الترمذى: (حسن غريب) .
হাদিসের সাক্ষীসমূহ (شواهد الحديث)একই অর্থে—আরও একটি—আবু সিরমাহ (রা.) হতে বর্ণিত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদিস রয়েছে, তিনি বলেছেন: (যে ব্যক্তি অন্যের ক্ষতি সাধন করবে, আল্লাহ তার ক্ষতি করবেন; আর যে ব্যক্তি অন্যকে কষ্টে ফেলবে, আল্লাহ তাকে কষ্টে ফেলবেন)।
হাদিসটি আবু দাউদ, তিরমিজি এবং ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন।
ইমাম তিরমিজি বলেছেন: (এটি একটি হাসান (حسن) গরিব (غريب) হাদিস)।
(খণ্ড: ১)
আল কায়িদাতুয যাহাবিয়্যাতু লা দারারা ওয়া লা দিরার
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
وخرج الترمذي بإسناد فيه ضعف عن أبي بكر الصديق رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (مَلعُونٌ مَن ضَارَّ مُؤمِناً أَو مَكَر بِه) .
ইমাম তিরমিজি একটি সনদের (إسناد) মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন যাতে দুর্বলতা (ضعف) রয়েছে, আবু বকর সিদ্দিক (রা.) হতে বর্ণিত যে, নবী (সা.) বলেছেন: (অভিশপ্ত সেই ব্যক্তি, যে কোনো মুমিনের ক্ষতি করে অথবা তার সাথে প্রতারণা করে)।
(খণ্ড: ১)
আল কায়িদাতুয যাহাবিয়্যাতু লা দারারা ওয়া লা দিরার
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
الفرق بين الضرر والضرار في اللغةوقوله صلى الله عليه وآله وسلم: (لا ضَرَرَ ولا ضِرار) هذه الرواية الصحيحة: (ضرار) بغير همزة وروى: (إضرار) بالهمزة، ووقع ذلك في بعض روايات ابن ماجه، والدارقطنى، بل وفي بعض نسخ (الموطأ) .
وقد أثبت بعضهم هذه الرواية وقال: يقال: (ضر وأضر بمعنى، وأنكرها آخرون، وقالوا: (لا صحة لها) .
শব্দতত্ত্বের আলোকে 'দরর' ও 'দিরর'-এর মধ্যে পার্থক্যএবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "ক্ষতি করা যাবে না এবং ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া যাবে না।" এই বিশুদ্ধ (صحيحة) বর্ণনাটি (رواية) হলো: হামযা ব্যতীত 'দিরর' (ضرار)। আবার হামযা সহযোগে 'ইদরর' (إضرار) হিসেবেও বর্ণিত হয়েছে; যা ইবনে মাজাহ ও দারা কুতনী-র কিছু বর্ণনায় (روايات), এমনকি মুয়াত্তার কিছু পাণ্ডুলিপিতেও পরিলক্ষিত হয়।
কেউ কেউ এই বর্ণনাটিকে (رواية) সাব্যস্ত করেছেন এবং বলেছেন যে, 'দররা' ও 'আদররা' একই অর্থবোধক। অন্যদিকে অন্যরা এটিকে অস্বীকার করেছেন এবং বলেছেন: "এর কোনো বিশুদ্ধতা (صحة) নেই"।
(খণ্ড: ১)
আল কায়িদাতুয যাহাবিয়্যাতু লা দারারা ওয়া লা দিরার
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
واختلفوا هل بين اللفظين - أعني الضرر والضرار - فرق أم لا؟ 1 - فمنهم من قال: (هما بمعنى واحد، على وجه التأكيد) .
والمشهور أن بينهما فرقا.
2 - ثم قيل: (إن الضرر: هو الاسم، والضرار: الفعل) ، فالمعنى: (أن الضرر نفسه، منتف في الشرع، وإدخال الضرر بغير حق، كذلك) .
3 - وقيل: (الضرر: أن يدخل على غيره ضررا، بما ينتفع هو به، والضرار: أن يدخل على غيره ضررا، (بما لا ينتفع هو به) ، كمن منع مالا يضره، ويتضرر به الممنوع) .
ورجح هذا القول، طائفة منهم، ابن عبد البر، وابن الصلاح.
4 - وقيل: (الضرر: أن يضر بمن لا يضره، والضرار. أن يضر بمن قد أضر به، على وجه غير جائز) .
আর তারা মতভেদ করেছেন যে, শব্দ দুটির মধ্যে—অর্থাৎ ক্ষতি (الضرر) ও অনিষ্ট (الضرار)—কোনো পার্থক্য আছে কি না? ১ - তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: (তাকীদ বা গুরুত্ব প্রদানের উদ্দেশ্যে উভয়টি একই অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে)।
তবে প্রসিদ্ধ (المشهور) মত এই যে, উভয়ের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
২ - এরপর বলা হয়েছে: (নিশ্চয়ই ক্ষতি (الضرر) হলো বিশেষ্য এবং অনিষ্ট (الضرار) হলো ক্রিয়া), সুতরাং অর্থ হলো: (ক্ষতি (الضرر) বিষয়টি স্বয়ং শরিয়ত কর্তৃক নাকচকৃত (منتف), এবং একইভাবে অন্যায়ভাবে ক্ষতি সাধন করাও নাকচকৃত)।
৩ - আরও বলা হয়েছে: (ক্ষতি (الضرر) হলো অন্যের এমন ক্ষতি করা যাতে নিজের কোনো উপকার হয়, আর অনিষ্ট (الضرار) হলো অন্যের এমন ক্ষতি করা যাতে নিজের কোনো উপকার নেই; যেমন কেউ এমন কিছু প্রদান থেকে বিরত থাকা যা তার নিজের জন্য ক্ষতিকর নয় কিন্তু যাকে প্রদান করা হচ্ছে না সে এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়)।
ইবনে আবদিল বার এবং ইবনুস সালাহ-সহ একদল আলেম এই মতটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন।
৪ - এবং বলা হয়েছে: (ক্ষতি (الضرر) হলো তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করা যে তার কোনো ক্ষতি করেনি, আর অনিষ্ট (الضرار) হলো যে তার ক্ষতি করেছে তাকে এমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা যা জায়েজ নয়)।
(খণ্ড: ১)
আল কায়িদাতুয যাহাবিয়্যাতু লা দারারা ওয়া লা দিরার
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
احتراز واجبوبكل حال، فالنبى صلى الله عليه وسلم إنما نفى الضرر والضرار، بغير حق.
فأما إدخال الضرر على أحد بحق: أ - إما لكونه تعدى حدود الله، فيعاقب بقدر جريمته.
ب - أو كونه ظلم غيره، فيطلب المظلوم، مقابلته بالعدل، فهذا غير مراد قطعا.
وإنما المراد، إلحاق الضرر بغير حق، وهذا على نوعين: أحدهما: أن لا يكون في ذلك غرض سوى الضرر بذلك الغير، فهذا لا ريب في قبحه وتحريمه.
وقد ورد في القرآن النهى عن المضارة في مواضع:
একটি আবশ্যকীয় সতর্কতাযেকোনো অবস্থাতেই, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মূলত অন্যায়ভাবে ক্ষতি সাধন (ضرر) এবং পাল্টা ক্ষতি করার (ضرار) বিষয়টিই নাকচ (نفي) করেছেন।
পক্ষান্তরে, ন্যায্য কারণে কারো ক্ষতি সাধন করার বিষয়টি: ক - হয় সে আল্লাহর নির্ধারিত সীমা (حدود) লঙ্ঘন করেছে, ফলে তাকে তার অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী শাস্তি প্রদান করা হবে।
খ - অথবা সে অন্য কারো প্রতি জুলুম করেছে, যার ফলে মজলুম ব্যক্তি ন্যায়বিচারের (عدل) দাবি জানিয়েছে; সুতরাং এটি (নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হওয়া) নিশ্চিতভাবেই উদ্দেশ্য নয়।
বরং যা উদ্দেশ্য তা হলো, অন্যায়ভাবে ক্ষতি সাধন করা। এটি দুই প্রকার: প্রথমত: যেখানে অন্যকে ক্ষতি করা ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকে না; এর জঘন্যতা এবং এটি নিষিদ্ধ (تحريم) হওয়ার বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
কুরআনের বিভিন্ন স্থানে একে অপরের ক্ষতি (مضارة) করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা বর্ণিত হয়েছে:
(খণ্ড: ১)
আল কায়িদাতুয যাহাবিয়্যাতু লা দারারা ওয়া লা দিরার
(পৃষ্ঠা: ৪০)
الضرار في الوصية من الكبائرمنها في الوصية قال تعالى: (مِن بَعدِ وَصَيَّةٍ يُوصَى بِهَا أَو دَينٍ غَيرَ مُضَارّ) .
وفى حديث أبى هريرة - رضى الله عنه - المرفوع: (إِنَّ العَبدَ لَيَعمَلُ بِطَاعَةِ الله عز وجل سِتّينَ سنَة ثمَّ يَحضُرُهُ المَوتُ فيضارّ في
অসিয়তের ক্ষেত্রে ক্ষতিসাধন করা কবিরা গুনাহসমূহের অন্তর্ভুক্ততন্মধ্যে একটি হলো অসিয়ত সংক্রান্ত। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: "(এই বণ্টন হবে) এমন অসিয়ত পালনের পর যা করা হয়েছে অথবা ঋণ পরিশোধের পর; তবে (উত্তরাধিকারীদের) কোনো ক্ষতি না করে।"
আর আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত রাসূল (সা.) পর্যন্ত উন্নীত (مرفوع) হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: "নিশ্চয়ই কোনো বান্দা ষাট বছর যাবত মহান আল্লাহর আনুগত্যে আমল করতে থাকে, অতঃপর যখন তার মৃত্যু উপস্থিত হয় তখন সে (অসিয়তের মাধ্যমে) ক্ষতি সাধন করে..."
(খণ্ড: ১)
আল কায়িদাতুয যাহাবিয়্যাতু লা দারারা ওয়া লা দিরার
(পৃষ্ঠা: ৪১)
الوَصِيَّةِ، فَيَدخُل النَّارَ، ثُمَّ تلا: (تِلكَ حُدُودُ الله - إلى قوله - وَمَن يَعصِ الله وَرَسُولَهُ وَيتَعَدَّ حُدُودَهُ يُدخِلهُ ناراً خالِداً فِيهَا)) .
وخرجه الترمذى وغيره بمعناه.
অসিয়তের (ক্ষেত্রে অন্যায় করা), ফলে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। অতঃপর তিনি তিলাওয়াত করলেন: (এগুলো আল্লাহর নির্ধারিত সীমা—তাঁর এই বাণী পর্যন্ত—এবং যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হয় এবং তাঁর সীমা লঙ্ঘন করে, তিনি তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন, যেখানে সে স্থায়ী হবে)।
ইমাম তিরমিযী এবং অন্যান্যরা হাদীসটি এর মর্মার্থ অনুযায়ী (بمعناه) বর্ণনা (خرجه) করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল কায়িদাতুয যাহাবিয়্যাতু লা দারারা ওয়া লা দিরার
(পৃষ্ঠা: ৪২)
وقال ابن عباس: (الإضرار في الوصية من الكبائر، ثم تلا هذه الآية) .
والإضرار في الوصية:
ইবনে আব্বাস বলেন: (অসিয়তের ক্ষেত্রে ক্ষতিসাধন করা কবিরা গুনাহ (الكبائر) সমূহের অন্তর্ভুক্ত, অতঃপর তিনি এই আয়াতটি পাঠ করলেন)।
আর অসিয়তের ক্ষেত্রে ক্ষতিসাধন হলো:
(খণ্ড: ১)
আল কায়িদাতুয যাহাবিয়্যাতু লা দারারা ওয়া লা দিরার
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
أ - تارة يكون بأن يخص بعض الورثة بزيادة على فرضه الذى فرضه الله له، فيتضرر بقية الورثة بتخصيصه.
ولهذا قال النبى صلى الله عليه وسلم: (إِنَّ الله قَد أَعطى كُلَّ ذِى حَقًّ، حقّه، فَلا وَصَّيةَ لِوارثٍ) .
ب - وتارة بأن يوصى لأجنبى بزيادة على الثلث، فتنقص حقوق الورثة، ولهذا قال النبى صلى الله عليه وسلم: (الثُلُثُ، والثلثُ كَثِير) .
ক - কখনো কখনো এটি উত্তরাধিকারীদের মধ্য থেকে কাউকে তার জন্য আল্লাহর নির্ধারিত অংশের (فرض) অতিরিক্ত প্রদানের মাধ্যমে নির্দিষ্ট করার দ্বারা হয়, ফলে তাকে এই বিশেষ বরাদ্দ দেওয়ার কারণে অবশিষ্ট উত্তরাধিকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এজন্যই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রত্যেক হকদারকে তার প্রাপ্য অধিকার দান করেছেন, সুতরাং কোনো উত্তরাধিকারীর (وارث) সপক্ষে অসিয়ত (وصية) বৈধ নয়।”
খ - আবার কখনো কখনো কোনো অ-উত্তরাধিকারী বা বহিরাগত ব্যক্তিকে এক-তৃতীয়াংশের (ثلث) অধিক অসিয়ত (وصية) করার মাধ্যমে হয়, যা উত্তরাধিকারীদের প্রাপ্য অধিকারে ঘাটতি সৃষ্টি করে। একারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “(অসিয়ত হবে) এক-তৃতীয়াংশ (ثلث), আর এক-তৃতীয়াংশও (ثلث) অনেক বেশি।”