Warning: SQLite3::query(): Unable to prepare statement: 1, no such column: part in /home/u575225426/domains/shamelabangla.com/public_html/sqlite_db.php on line 274
সিয়ারু আলামিন নুবালা - ত. আর রিসালাহ - শামেলা বাংলা
(খণ্ড: ১) সিয়ারু আলামিন নুবালা - ত. আর রিসালাহ (পৃষ্ঠা: -)
سير أعلام النبلاء - ط الرسالة   (شمس الدين الذهبي)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: سير أعلام النبلاء

المؤلف: شمس الدين، محمد بن أحمد بن عثمان الذهبي (ت 748 هـ)

تحقيق: حسين أسد (جـ 1، 6)، شعيب الأرنؤوط (جـ 2، 5، 19، 20)، محمد نعيم العرقسوسي (جـ 3، 8، 10، 17، 18، 20)، مأمون الصاغرجي (جـ 4)، علي أبو زيد (جـ 7، 13)، كامل الخراط (جـ 9)، صالح السمر (جـ 11، 12)، أكرم البوشي (جـ 14، 16)، إبراهيم الزيبق (جـ 15)، بشار معروف (جـ 21، 22، 23)، محيي هلال السرحان (جـ 21، 22، 23)

بإشراف: شعيب الأرناؤوط [ت 1438 هـ]

الناشر: مؤسسة الرسالة

الطبعة: الثالثة، 1405 هـ - 1985 م

عدد الأجزاء: 25 (23 والفهارس)

ثم أُلحق بها: السيرة النبوية (جزآن، من تاريخ الإسلام) وسيرة الخلفاء الراشدين (جزء بانتقاء وترتيب من تاريخ الإسلام) بتحقيق بشار عواد معروف (طبعته الأولى 1417 هـ - 1996 م)

[تنبيه]: رؤوس التراجم في هذه النسخة (الإلكترونية) ليست من أصل المطبوع

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

সিয়ারু আলামিন নুবালা - আর-রিসালা সংস্করণ   (শামসুদ্দিন আয-যাহাবি)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরবিন্যাস


গ্রন্থ: সিয়ারু আলামিন নুবালা

লেখক: শামসুদ্দিন, মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন উসমান আয-যাহাবি (মৃত্যু ৭৪৮ হিজরি)

তাহকীক: হুসাইন আসাদ (১ম ও ৬ষ্ঠ খণ্ড), শুয়াইব আল-আরনাউত (২য়, ৫ম, ১৯তম ও ২০তম খণ্ড), মুহাম্মদ নাঈম আল-আরকাসুসি (৩য়, ৮ম, ১০ম, ১৭শ, ১৮শ ও ২০তম খণ্ড), মামুন আস-সাগারজি (৪র্থ খণ্ড), আলী আবু জায়েদ (৭ম ও ১৩শ খণ্ড), কামিল আল-খাররাত (৯ম খণ্ড), সালিহ আস-সাম্মার (১১শ ও ১২শ খণ্ড), আকরাম আল-বুশি (১৪শ ও ১৬শ খণ্ড), ইবরাহিম আয-যাইবুক (১৫শ খণ্ড), বাশার মারুফ (২১তম, ২২তম ও ২৩তম খণ্ড), মুহিউদ্দিন হিলাল আস-সারহান (২১তম, ২২তম ও ২৩তম খণ্ড)

তত্ত্বাবধানে: শুয়াইব আল-আরনাউত [মৃত্যু ১৪৩৮ হিজরি]

প্রকাশক: মুয়াসসাসাতুর রিসালা

সংস্করণ: তৃতীয়, ১৪০৫ হিজরি - ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ২৫ (২৩ খণ্ড এবং নির্ঘণ্ট)

পরবর্তীতে সংযোজিত: সীরাতুন নবী (দুই খণ্ড, তারিখুল ইসলাম থেকে) এবং খুলাফায়ে রাশেদিনের জীবনী (তারিখুল ইসলাম থেকে নির্বাচন ও বিন্যাসকৃত এক খণ্ড) বাশার আওয়াদ মারুফের সম্পাদনায় (প্রথম প্রকাশ ১৪১৭ হিজরি - ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দ)

[সতর্কবার্তা]: এই (ইলেকট্রনিক) সংস্করণের জীবনীর শিরোনামগুলো মূল মুদ্রিত গ্রন্থের অংশ নয়

[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রিত কিতাবের অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) সিয়ারু আলামিন নুবালা - ত. আর রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ١)
ـ[سير أعلام النبلاء]ـ

المؤلف: شمس الدين أبو عبد الله محمد بن أحمد بن عثمان بن قَايْماز الذهبي (المتوفى: 748هـ)

المحقق: مجموعة من المحققين بإشراف الشيخ شعيب الأرناؤوط

الناشر: مؤسسة الرسالة

الطبعة: الثالثة، 1405 هـ / 1985 م

عدد الأجزاء: 25 (23 ومجلدان فهارس)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع، وهو مشكول، ومذيل بالحواشي، ومضاف لخدمة التراجم]
[সিয়ারু আলামিন নুবালা]

লেখক: শামসউদ্দিন আবু আবদিল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন উসমান বিন কায়মাজ আদ-দাহাবি (মৃত্যু: ৭৪৮ হিজরি)

সম্পাদক: শায়খ শুয়াইব আল-আরনাউতের তত্ত্বাবধানে একদল গবেষক

প্রকাশক: মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ

সংস্করণ: তৃতীয়, ১৪০৫ হিজরি / ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ২৫ (২৩ খণ্ড এবং ২ খণ্ড সূচিপত্র)

[গ্রন্থটির নম্বরবিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ, এটি হরকতযুক্ত, পাদটীকা সম্বলিত এবং জীবনী সেবায় যুক্ত করা হয়েছে]
(খণ্ড: ১) সিয়ারু আলামিন নুবালা - ত. আর রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ٢)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১) সিয়ারু আলামিন নুবালা - ত. আর রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ٥)
تقديم الكتاب بقلم الدكتور بشار عواد معروف أستاذ ورئيس قسم التاريخ بكلية الآداب جامعة بغداد
গ্রন্থের ভূমিকা: ডক্টর বাশার আওয়াদ মারুফ, অধ্যাপক ও ইতিহাস বিভাগের প্রধান, কলা অনুষদ, বাগদাদ বিশ্ববিদ্যালয়।
(খণ্ড: ১) সিয়ারু আলামিন নুবালা - ত. আর রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ٧)
‌‌الذهبي وكتابه سير أعلام النبلاء

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على سيدنا محمد النبي العربي الأمي، وعلى آله وأصحابه الطيبين نجوم الهدى في كل حين، وبعد: فهذا مختصر نافع إن شاء الله في سيرة مؤرخ الإسلام الإمام الثقة المتقن الناقد البارع شمس الدين الذهبي، وفي كتابه النفيس " سير أعلام النبلاء " ومنزلته بين الكتب التي من بابته، جعلته في فصلين: الأول في سيرة الذهبي والثاني في كتابه " السير ".

تناول الفصل الأول البيئة الدمشقية التي نشأ بها الذهبي بكل ما كان فيها من نهضة علمية واسعة، وما اعتراها من صراعات عقائدية، وانتشار الجهل، والاعتقاد بالمغيبات بين العوام.

وحاولت أن أقدم صورة لبيئته العائلية المتدينة المعنية بالعلم التي ربته على حب العلم والعلماء منذ نعومة أظفاره مما هيأه لمستقبل علمي مرسوم، فرأيناه عند اكتمال شخصيته يعنى بطلب العلم من قراءات وحديث، ثم تتبعت رحلاته في طلب العلم، واستطعت أن أحددها بالبلاد الشامية والمصرية والحجازية، وبينت نتيجة تتبعي لنشاطه أن رحلته إلى البلاد المصرية كانت بين شهر رجب، وذي القعدة من سنة 695 هـ،

فصححت بذلك آراء بعض المؤرخين في هذه المسألة.

وأوضحت طبيعة دراساته، وذكرت أنها كانت متنوعة لم تقتصر على جانب واحد، لكنها في الوقت نفسه لم تخرج عن دائرة العلوم الدينية عموما والعلوم المساعدة لها من تاريخ ونحو ولغة وأدب.
আয-যাহাবী এবং তাঁর গ্রন্থ সিয়ারু আ'লামিন নুবালা

সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা আরব ও উম্মী নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও পবিত্র সাহাবীগণের ওপর, যাঁরা সর্বদাই হিদায়াতের নক্ষত্রতুল্য। অতঃপর: এটি ইসলামের ইতিহাসবেত্তা, নির্ভরযোগ্য, নিপুণ ও সুদক্ষ সমালোচক ইমাম শামসুদ্দীন আয-যাহাবীর জীবনী এবং তাঁর মূল্যবান গ্রন্থ "সিয়ারু আ'লামিন নুবালা" ও সমজাতীয় গ্রন্থসমূহের মাঝে এর মর্যাদা সম্পর্কে ইনশাআল্লাহ একটি উপকারী সংক্ষিপ্তসার। আমি এটিকে দুই পরিচ্ছেদে বিভক্ত করেছি: প্রথম পরিচ্ছেদ আয-যাহাবীর জীবনী নিয়ে এবং দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ তাঁর গ্রন্থ "আস-সিয়ার" নিয়ে।

প্রথম পরিচ্ছেদে দামেস্কের সেই পরিবেশ আলোচিত হয়েছে যেখানে আয-যাহাবী বেড়ে উঠেছেন; সেখানে বিদ্যমান ব্যাপক ইলমি জাগরণ এবং তার পাশাপাশি যে সমস্ত আকিদাগত দ্বন্দ্ব, অজ্ঞতার প্রসার ও সাধারণ মানুষের মাঝে অলৌকিক ও অদৃশ্য বিষয়ে বিশ্বাসের প্রাদুর্ভাব ছিল, তার সবকিছুই এতে উঠে এসেছে।

আমি তাঁর সেই ধর্মপ্রাণ ও জ্ঞানচর্চায় নিবেদিত পারিবারিক পরিবেশের একটি চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করেছি, যা তাঁকে শৈশব থেকেই জ্ঞান ও উলামায়ে কেরামের প্রতি অনুরাগী করে গড়ে তুলেছিল। আর এটিই তাঁকে একটি সুপরিকল্পিত জ্ঞানতাত্ত্বিক ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করেছিল। ফলে তাঁর ব্যক্তিত্বের পূর্ণতা লাভের সময় আমরা তাঁকে কিরাত ও হাদীসসহ বিভিন্ন জ্ঞান অন্বেষণে যত্নশীল দেখতে পাই। এরপর আমি ইলম অন্বেষণে তাঁর সফরসমূহ অনুসন্ধান করেছি এবং আমি শাম, মিসর ও হিজাজের ভূখণ্ডে তাঁর সফরগুলো চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছি। তাঁর কর্মতৎপরতা অনুসন্ধানের ফলাফল হিসেবে আমি স্পষ্ট করেছি যে, মিসর অভিমুখে তাঁর সফর ছিল ৬৯৫ হিজরীর রজব ও যিলকদ মাসের মধ্যবর্তী সময়ে,

এর মাধ্যমে আমি এই বিষয়ে কয়েকজন ইতিহাসবিদের মত সংশোধন করেছি।

এবং আমি তাঁর জ্ঞানার্জনের প্রকৃতি ব্যাখ্যা করেছি এবং উল্লেখ করেছি যে তা বৈচিত্র্যময় ছিল, কেবল একটি দিকে সীমাবদ্ধ ছিল না। তবে একই সাথে তা সাধারণভাবে ধর্মীয় জ্ঞান এবং এর সহায়ক শাখা যেমন ইতিহাস, নাহু, ভাষা ও সাহিত্যের পরিমন্ডলের বাইরে ছিল না।
(খণ্ড: ১) সিয়ারু আলামিন নুবালা - ত. আর রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ٨)
وتناول الفصل صلات الذهبي الشخصية بابن تيمية والمزي والبرزالي وأثرها في تبلور فكره السلفي المتمثل بميله إلى آراء الحنابلة ودفاعه عن مذهبهم في العقائد، وارتباطه الشديد بالحديث والمحدثين، ونظرته إلى العلوم والعلماء وفلسفتهم تجاه العلوم العقلية، مما أثر في منهجه التاريخي تأثيرا واضحا، فظهر في اهتمامه الكبير بالتراجم التي صارت تكون أسس كتبه، ومحور تفكيره التاريخي، وفي نظرته إلى الأحداث التاريخية وأسس انتقائها، ثم فيما وجه إلى كتاباته من نقد أثار نقاشا بين علماء عصره، وعند العلماء الذين جاءوا بعده.

أما نشاطه العلمي، فقد بينت أنه اتخذ وجهتين رئيستين: أولاهما كتاباته الكثيرة، وثانيتهما تدريسه الحديث في أمهات دور الحديث بدمشق بحيث استطعنا التعرف على خمس دور للحديث كان يتولى مشيختها في آن واحد قبيل وفاته.

وأبنت منزلة الذهبي العلمية استنادا إلى دراسة مسهبة لآثاره الكثيرة التي خلفها.

وقد أظهرت الدارسة أن منزلته العلمية وبراعته ظهرتا في أحسن الوجوه إشراقا وأكثرها تألقا عند دراستي له محدثا ومؤرخا وناقدا.

وعلى الرغم من أنه عاش في بيئة غلب عليها الجمود والنقل والتلخيص، فإنه قد تخلص من كثير من ذلك بفضل سعة دراساته وفطنته.

وكان مفهوم التاريخ عند الذهبي يتصل اتصالا وثيقا بالحديث النبوي الشريف وعلومه، وقد ظهر ذلك في عنايته التامة بكتب التراجم التي قامت عليها شهرته الواسعة باعتباره مؤرخا.

وقد جعلت منه معرفته الرجالية الواسعة ناقدا ماهرا، ظهر ذلك في مؤلفاته المعنية بالنقد وفي التفاتاته البارعة في أصول النقد، ورده لكثير من الروايات، وتخطئته لكبار النقاد، وقدرته الفائقة على البحث والاستدلال.
এই অধ্যায়টি ইবনে তাইমিয়াহ, আল-মিজ্জি এবং আল-বিরজালির সাথে আয-যাহাবীর ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং তাঁর সালাফি চিন্তাধারার উন্মেষের ওপর তাদের প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেছে। এই চিন্তাধারাটি হাম্বলি মতাদর্শের প্রতি তাঁর ঝোঁক এবং আকীদার ক্ষেত্রে তাদের মাযহাবের সপক্ষে তাঁর প্রতিরক্ষার মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়েছে। সেই সাথে হাদীস ও মুহাদ্দিসগণের সাথে তাঁর গভীর সম্পৃক্ততা, জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি এবং যুক্তিনির্ভর বা আকলি বিজ্ঞানের প্রতি আলেমদের দর্শনের আলোচনাও এতে স্থান পেয়েছে। এই সমস্ত বিষয় তাঁর ঐতিহাসিক পদ্ধতিতে স্পষ্ট প্রভাব ফেলেছে, যা তাঁর জীবনীগ্রন্থগুলোর প্রতি বিশেষ মনোযোগের মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। এই জীবনীগ্রন্থগুলোই তাঁর রচনাবলির ভিত্তি এবং তাঁর ঐতিহাসিক চিন্তার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। পাশাপাশি ঐতিহাসিক ঘটনাবলি ও তা নির্বাচনের মানদণ্ড এবং পরবর্তীকালে সমসাময়িক ও উত্তরসূরি আলেমদের মাঝে তাঁর লেখনী নিয়ে সৃষ্ট সমালোচনামূলক বিতর্কও এখানে আলোচিত হয়েছে।

তাঁর বৈজ্ঞানিক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে আমি দেখিয়েছি যে, এটি দুটি প্রধান ধারায় পরিচালিত ছিল: প্রথমত, তাঁর অসংখ্য রচনাবলি এবং দ্বিতীয়ত, দামেস্কের প্রধান দারুল হাদীসগুলোতে তাঁর হাদীস শিক্ষাদান। আমরা তাঁর মৃত্যুর ঠিক আগ মুহূর্তে একসাথে পাঁচটি দারুল হাদীসের শায়খ হিসেবে তাঁর দায়িত্ব পালনের প্রমাণ পেয়েছি।

আমি আয-যাহাবীর রেখে যাওয়া বিপুল সংখ্যক কর্মের বিস্তারিত পর্যালোচনার ভিত্তিতে তাঁর ইলমি মর্যাদা স্পষ্ট করেছি।

এই গবেষণায় প্রতীয়মান হয়েছে যে, একজন মুহাদ্দিস, ঐতিহাসিক এবং সমালোচক হিসেবে তাঁর ইলমি মাকাম ও পারদর্শিতা অত্যন্ত উজ্জ্বল ও সার্থকভাবে ফুটে উঠেছে।

যদিও তিনি এমন এক পরিবেশে বসবাস করতেন যেখানে স্থবিরতা, অন্ধ অনুকরণ এবং সংক্ষেপকরণের প্রাধান্য ছিল, তবুও তিনি তাঁর গভীর অধ্যয়ন ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে এসবের অনেকটা থেকেই নিজেকে মুক্ত রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন।

আয-যাহাবীর নিকট ইতিহাসের ধারণাটি পবিত্র হাদীস ও এর উলুমের সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত ছিল। জীবনীগ্রন্থ বা তারাজিম সংকলনের প্রতি তাঁর ঐকান্তিক মনোযোগের মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয়েছে, যা তাকে একজন ঐতিহাসিক হিসেবে বিশ্বজোড়া খ্যাতি এনে দিয়েছে।

বর্ণনাকারী বা রিজাল শাস্ত্র সম্পর্কিত তাঁর অগাধ জ্ঞান তাঁকে একজন দক্ষ সমালোচকে পরিণত করেছিল। এটি তাঁর সমালোচনা-মূলক গ্রন্থাবলিতে, সমালোচনার মূলনীতিতে তাঁর সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ, অসংখ্য বর্ণনার প্রত্যাখ্যান, বড় বড় সমালোচকদের ভুল সংশোধন এবং গবেষণা ও দলিল উপস্থাপনে তাঁর অনন্য সক্ষমতার মাধ্যমে ফুটে উঠেছে।
(খণ্ড: ১) সিয়ারু আলামিন নুবালা - ত. আর রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ٩)
وختمت الفصل بتذكرة مختصرة في تآليفه واختصاراته وتخريجاته مرتبة حسب موضوعاتها، وأشرت إلى ما طبع منها وما هو مخطوط مع بيان مكان النسخة الخطية على سبيل الاختصار.

وقد تمكنت أن أعد له مئتين وخمسة عشر مؤلفا ومختصرا وتخريجا.

أما الفصل الثاني الذي خصصته لمنهج " السير " وأهميته، فقد بدأته بالكلام على عنوان الكتاب وتأليفه، وتمكنت فيه أن أحدد تاريخ تأليف الكتاب بسنة 732 هـ خلافا لما هو شائع عند الناس.

ثم عرجت على نطاق الكتاب وعدد مجلداته وتوصلت إلى أن الذهبي لم يكتب المجلدين الأول والثاني منه إنما طالب النساخ باستلالهما من تاريخه الكبير " تاريخ الإسلام "، وأن المجلدين لم يفقدا كما نصت وقفية الكتاب على المدرسة المحمودية، ثم أثبت بما لا يقبل الشك أن المجلد الثالث عشر الذي وصل إلينا ليس هو آخر الكتاب، كما ادعى الدكتور الفاضل صلاح الدين المنجد، وتابعه الناس عليه، بل إن هناك مجلدا آخر يتمم الكتاب هو المجلد الرابع عشر ومنه رجحت أن يكون الذهبي قد رتب كتابه على أربعين طبقة تقريبا وليس على خمس وثلاثين كما هو شائع.

وتناولت في هذا الفصل أيضا ترتيب الكتاب على الطبقات فرأيت أن مستلزمات البحث تقتضي استعراضا لظهور هذا الترتيب في تاريخ الحركة التأليفية عند المسلمين، ومحاولة لتحديد هذا المفهوم التنظيمي عند الذهبي عن طريق دراسة مؤلفاته التراجمية المرتبة على الطبقات، ومنها كتابه " السير ".

وقد تمكنت فيما أعتقد من تفسير التناقض الظاهري الناتج عن اختلاف عدد الطبقات في مؤلفاته ضمن وحدة زمنية محددة معلومة، باختلاف نوعية المترجمين بين كتاب وآخر. وأوضحت بعد ذلك أن فائدة
আমি এই অধ্যায়টি তাঁর রচনাবলি, সারসংক্ষেপ ও তাখরিজসমূহের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রদানের মাধ্যমে সমাপ্ত করেছি, যা বিষয়ভিত্তিক বিন্যস্ত। এতে আমি কোনগুলো মুদ্রিত হয়েছে এবং কোনগুলো পাণ্ডুলিপি আকারে রয়েছে তা নির্দেশ করেছি এবং সংক্ষেপে পাণ্ডুলিপির প্রাপ্তিস্থান উল্লেখ করেছি।

আমি তাঁর রচিত মোট দুইশত পনেরোটি গ্রন্থ, সারসংক্ষেপ ও তাখরিজ গণনা করতে সক্ষম হয়েছি।

আর দ্বিতীয় অধ্যায়টি, যা আমি ‘আস-সিয়ার’-এর মানহাজ (পদ্ধতি) ও এর গুরুত্বের জন্য নির্দিষ্ট করেছি, সেটি গ্রন্থটির শিরোনাম ও রচনার প্রেক্ষাপট আলোচনার মাধ্যমে শুরু করেছি। এতে আমি গ্রন্থটির রচনাকাল ৭৩২ হিজরি হিসেবে নির্ধারণ করতে সক্ষম হয়েছি, যা প্রচলিত ধারণার পরিপন্থী।

এরপর আমি গ্রন্থটির পরিধি ও খণ্ডসংখ্যা নিয়ে আলোচনা করেছি এবং এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি যে, ইমাম যাহাবি এর প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড পৃথকভাবে রচনা করেননি; বরং তিনি অনুলিপিকারকদের নির্দেশ দিয়েছিলেন তাঁর বৃহৎ ইতিহাস গ্রন্থ ‘তারিখুল ইসলাম’ থেকে তা সংগ্রহ করতে। আরও প্রতীয়মান হয়েছে যে, এই খণ্ড দুটি হারিয়ে যায়নি, যেমনটি মাহমুদিয়া মাদরাসায় এই গ্রন্থের ওয়াকফনামায় উল্লেখ করা হয়েছিল। অতঃপর আমি অকাট্যভাবে প্রমাণ করেছি যে, আমাদের কাছে পৌঁছানো ত্রয়োদশ খণ্ডটিই গ্রন্থের সমাপ্তি নয়—যেমনটি বিজ্ঞ ডক্টর সালাহুদ্দিন আল-মুনজিদ দাবি করেছেন এবং পরবর্তী সময়ে সকলে তাঁর অনুসরণ করেছেন। বরং গ্রন্থটির পূর্ণতাদানকারী আরও একটি খণ্ড রয়েছে, যা চতুর্দশ খণ্ড। এর ভিত্তিতে আমি এই মতটিকে প্রধান্য দিয়েছি যে, ইমাম যাহাবি তাঁর গ্রন্থটিকে প্রায় চল্লিশটি ‘তবকা’ বা স্তরে বিন্যস্ত করেছেন, প্রচলিত ধারণানুযায়ী পঁয়ত্রিশটি স্তরে নয়।

এই অধ্যায়ে আমি ‘তবকা’ বা স্তরভিত্তিক বিন্যাস নিয়েও আলোচনা করেছি। আমার কাছে প্রতীয়মান হয়েছে যে, গবেষণার প্রয়োজনে মুসলিমদের জ্ঞানচর্চার ইতিহাসে এই বিন্যাস পদ্ধতির উদ্ভব পর্যলোচনা করা এবং ইমাম যাহাবির জীবনীগ্রন্থগুলোতে স্তরভিত্তিক এই সাংগঠনিক ধারণার স্বরূপ নির্ধারণের প্রচেষ্টা চালানো আবশ্যক। বিশেষ করে তাঁর ‘আস-সিয়ার’ গ্রন্থটি এ ক্ষেত্রে প্রণিধানযোগ্য।

আমার বিশ্বাস, নির্দিষ্ট একটি সময়কালের মধ্যে ইমাম যাহাবির বিভিন্ন গ্রন্থে স্তরসংখ্যার পার্থক্যের ফলে যে আপাত বৈপরীত্য দেখা দেয়, গ্রন্থভেদে জীবনীলব্ধ ব্যক্তিদের বৈশিষ্ট্যের ভিন্নতা পর্যালোচনার মাধ্যমে আমি তার ব্যাখ্যা প্রদান করতে সক্ষম হয়েছি। এরপর আমি স্পষ্ট করেছি যে...
(খণ্ড: ১) সিয়ারু আলামিন নুবালা - ত. আর রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ١٠)
الترتيب على الطبقات إنما تظهر في العصور الإسلامية الأولى، لذلك صرنا لا نشعر بوجود " الطبقة " في كتاب " السير كلما مضى الزمن بالكتاب، وضربت لكل ذلك أمثلة من الكتاب تعزز هذه الآراء وتقويها.

وكان لا بد لي، وأنا أبحث في منهج الكتاب، أن أتناول طبيعة التراجم المذكورة فيه، والأسس التي استند عليها الذهبي في ذكر ترجمة وإسقاط أخرى، فأبنت أنه ذكر " الأعلام " وأسقط المشهورين والمغمورين، وحاول أن يوجد موازنة بين الأعلام في النوعية والأزمان والأمكنة، واجتهد أن يقدم ترجمة كاملة، ومختصرة في الوقت نفسه لا تؤثر فيها كمية المعلومات التي تتوافر عنده.

ولما كان الذهبي فنانا تراجميا متميز الأسلوب في صياغة الترجمة وأساليب عرضها، فقد حاولت استشفاف منهجه الذي انتهجه في " السير " في هذا المجال.

ثم تناولت بالدراسة منهجه النقدي، فوجدته معنيا بكل أنواعه، لم يقتصر فيه على مجال واحد من مجالاته، فقد عني بنقد المترجمين وتبيان أحوالهم، وأصدر أحكاما وتقويمات تاريخية، وانتقد الموارد التي نقل منها، ونبه إلى أوهام مؤلفيها، وبرع في إصدار الأحكام على الأحاديث إسنادا ومتنا، وسحب ذلك على الروايات التاريخية.

وحاولت بعد ذلك أن أستبين مدى تعصبه، أو إنصافه في النقد، فتبين لي، بعد دراسته لجملة من كتاباته، أن الرجل قد وفق إلى حد كبير أن يكون منصفا، ونبهت إلى وجوب التفريق بين التعصب وبين الإيمان بالشيء، والدفاع عنه بكل ممكن.

أما أهمية كتاب " السير " فقد اجتهدت أن أستشرفها من دراسة علاقته بكتاب " تاريخ الإسلام " إذ كان قد شاع بين أوساط الدارسين أن " السير "
তবকাত বা স্তরভিত্তিক বিন্যাস মূলত ইসলামের প্রাথমিক যুগগুলোতে বিশেষভাবে পরিলক্ষিত হয়। এজন্য ‘সিয়ার’ গ্রন্থে সময়ের অগ্রগতির সাথে সাথে ‘তবকাত’ বা স্তরের অস্তিত্ব ক্রমেই অস্পষ্ট হয়ে পড়ে। আমি গ্রন্থটি থেকে এমন কিছু উদাহরণ উপস্থাপন করেছি যা এই অভিমতগুলোকে দৃঢ় ও শক্তিশালী করে।

গ্রন্থের পদ্ধতি নিয়ে আলোচনার সময় আমার জন্য এতে উল্লিখিত জীবনীসমূহের প্রকৃতি এবং ইমাম যাহাবী কোন ভিত্তিতে কোনো জীবনী উল্লেখ করেছেন আর কোনটি বর্জন করেছেন—সেই মানদণ্ডগুলো পর্যালোচনা করা আবশ্যক ছিল। আমি স্পষ্ট করেছি যে, তিনি কেবল ‘বিখ্যাত ব্যক্তিত্বদের’ (আ’লাম) জীবনী উল্লেখ করেছেন এবং সাধারণ খ্যাতিমান কিংবা অখ্যাতদের বর্জন করেছেন। তিনি ব্যক্তিত্বদের ধরন, কাল ও স্থানের মধ্যে একটি ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করেছেন। একইসাথে তিনি এমন এক পূর্ণাঙ্গ অথচ সংক্ষিপ্ত জীবনী উপস্থাপনের প্রচেষ্টা চালিয়েছেন, যাতে তথ্যের প্রাচুর্য তাঁর সংক্ষিপ্তকরণের শৈলীকে প্রভাবিত না করে।

ইমাম যাহাবী যেহেতু জীবনী রচনার শৈলী ও উপস্থাপনার ক্ষেত্রে একজন অনন্য দক্ষ কারিগর ছিলেন, তাই আমি এই ক্ষেত্রে ‘সিয়ার’ গ্রন্থে অনুসৃত তাঁর বিশেষ পদ্ধতিটি অনুধাবনের চেষ্টা করেছি।

এরপর আমি তাঁর সমালোচনামূলক পদ্ধতি নিয়ে অধ্যয়ন করেছি। আমি দেখেছি যে তিনি সমালোচনার সকল প্রকারের প্রতিই যত্নশীল ছিলেন এবং তা কোনো একটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ রাখেননি। তিনি জীবনীতে স্থান পাওয়া ব্যক্তিদের সমালোচনা ও তাঁদের অবস্থা বর্ণনায় মনোনিবেশ করেছেন, ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত ও মূল্যায়ন প্রদান করেছেন, যেসব উৎস থেকে তিনি উদ্ধৃতি নিয়েছেন সেগুলোর সমালোচনা করেছেন এবং লেখকদের ভুলত্রুটি সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। এছাড়া তিনি হাদীসের সনদ ও মতনের ওপর সিদ্ধান্ত প্রদানে পারদর্শিতা দেখিয়েছেন এবং একই নীতি ঐতিহাসিক বর্ণনার ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করেছেন।

অতঃপর আমি তাঁর সমালোচনার ক্ষেত্রে পক্ষপাতিত্ব কিংবা নিরপেক্ষতার মাত্রা নিরূপণের চেষ্টা করেছি। তাঁর একগুচ্ছ লেখা পর্যালোচনার পর আমার কাছে প্রতীয়মান হয়েছে যে, তিনি বহুলাংশে নিরপেক্ষ থাকতে সক্ষম হয়েছেন। আমি এই বিষয়ের ওপরও গুরুত্বারোপ করেছি যে, অন্ধ গোঁড়ামি আর কোনো বিষয়ের ওপর বিশ্বাস রেখে সম্ভাব্য সকল উপায়ে তার স্বপক্ষে লড়ার মধ্যে পার্থক্য থাকা আবশ্যক।

‘সিয়ার’ গ্রন্থের গুরুত্বের বিষয়ে আমি ‘তারিখুল ইসলাম’ গ্রন্থের সাথে এর সম্পর্কের আলোকে আলোকপাত করার চেষ্টা করেছি; কেননা গবেষক মহলে এটি ব্যাপকভাবে প্রচলিত ছিল যে ‘সিয়ার’
(খণ্ড: ১) সিয়ারু আলামিন নুবালা - ত. আর রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ١١)
مختصر من " تاريخ الإسلام "، وقد أبانت دراستي للكتابين بطلان هذه الدعوى، ثم تكلمت على أهمية الكتاب في دراسة الحركة الفكرية العربية الإسلامية، وأهميته في دراسة المجتمع الإسلامي.

وحاولت بعد ذلك توضيح العوامل التي يسرت ظهور هذا الكتاب محققا بهذه الهيئة العلمية الرائعة، والصفة البارعة النافعة التي تسر كل محب للتراث، حريص عليه.
"তারিখুল ইসলাম"-এর সংক্ষিপ্তসার; এই দুটি গ্রন্থ নিয়ে আমার গবেষণা এই দাবির অসারতা স্পষ্ট করেছে। অতঃপর আমি আরব্য-ইসলামি বৌদ্ধিক আন্দোলনের বিবর্তন এবং ইসলামি সমাজ ব্যবস্থার অধ্যয়নে এই গ্রন্থটির গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেছি।

তৎপরবর্তীতে আমি সেইসব প্রভাবকসমূহ স্পষ্ট করার প্রয়াস পেয়েছি যা এই গ্রন্থটিকে বর্তমানের এই চমৎকার তাত্ত্বিক অবয়ব এবং নিপুণ ও কল্যাণকর বৈশিষ্ট্যে উদ্ভাসিত করতে সহায়ক হয়েছে; যা ঐতিহ্যের প্রতি অনুরাগী ও যত্নশীল প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য আনন্দদায়ক।
(খণ্ড: ১) সিয়ারু আলামিন নুবালা - ত. আর রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ١٢)
‌‌الفصل الأول: حياة الذهبي ومنزلته العلمية

‌‌أولا - بيئة الذهبي ونشأته

قامت دولة المماليك البحرية على أنقاض الدولة الأيوبية بمصر والشام وتمكن المماليك أن يكونوا دولة قوية كان لها أثر في إيقاف التقدم المغولي، وتصفية الإمارات الصليبية في بلاد الشام (1) .

وكانت دمشق في نهاية القرن السابع الهجري ومطلع القرن الثامن قد أصبحت مركزا كبيرا من مراكز الحياة الفكرية، فيها من المدارس العامرة ودور الحديث والقرآن العدد الكثير، عمل على تعميرها حكامها وبعض المياسير من أهلها لا سيما منذ عهد نور الدين زنكي (2) .

وكانت العناية بالدراسات الدينية، من تفسير وحديث وفقه وعقائد، هي السمة البارزة لهذا العصر، ولم بعد هناك اهتمام كثير بدراسة العلوم الصرفة التي كانت قد أصبحت من " الصنائع المظلمة " (3) و " الهذيان " (4) .
(1) راجع عن عصر المماليك: الدكتور علي إبراهيم حسن: " دراسات في تاريخ المماليك البحرية "، ط 2 (القاهرة 1948) والدكتور سعيد عاشور: " العصر المماليكي في مصر والشام "، وغيرهما.

والكتاب الأخير أحسن ما كتب في الموضوع.

(2) يتضح ذلك من العدد الذي ذكره النعيمي في كتابه " تنبيه الدارس ".

(3) الذهبي: " تاريخ الإسلام "، الورقة 263 (أيا صوفيا 3008) .

(4) الذهبي: " معجم الشيوخ "، م 2، الورقة 4.
প্রথম পরিচ্ছেদ: আয-যাহাবীর জীবন ও তাঁর পাণ্ডিত্যপূর্ণ মর্যাদা

প্রথমত - আয-যাহাবীর পরিবেশ ও বেড়ে ওঠা

মিশর ও শামে আইয়ুবী সালতানাতের ধ্বংসাবশেষের ওপর বাহরি মামলুক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। মামলুকরা একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র গঠনে সক্ষম হয়েছিল, যা মঙ্গোলদের অগ্রযাত্রা রুখতে এবং শাম অঞ্চল থেকে ক্রুসেডার আমিরাতগুলোকে নির্মূল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল (১)।

সপ্তম হিজরি শতাব্দীর শেষভাগে এবং অষ্টম শতাব্দীর শুরুতে দামেস্ক বুদ্ধিবৃত্তিক জীবনের একটি অন্যতম প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল। সেখানে অসংখ্য সমৃদ্ধ মাদ্রাসা, দারুল হাদিস ও দারুল কুরআন বিদ্যমান ছিল। এগুলোর আবাদ ও বিনির্মাণে তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী এবং বিত্তবান ব্যক্তিবর্গ বিশেষ অবদান রেখেছিলেন, বিশেষ করে নুরুদ্দিন জানকির শাসনকাল থেকে (২)।

তাফসীর, হাদিস, ফিকহ ও আকাইদসহ ধর্মীয় শাস্ত্রের চর্চায় বিশেষ যত্ন প্রদান ছিল এই যুগের প্রধান বৈশিষ্ট্য। তবে বিশুদ্ধ বিজ্ঞানসমূহের প্রতি তখন আর তেমন আগ্রহ অবশিষ্ট ছিল না, যেগুলোকে সেই সময়ে 'অন্ধকার শিল্প' (৩) এবং 'প্রলাপ' (৪) হিসেবে গণ্য করা শুরু হয়েছিল।
(১) মামলুক যুগ সম্পর্কে দেখুন: ড. আলী ইব্রাহিম হাসান: 'দিরাসাত ফি তারিখিল মামালিকিল বাহরিয়্যাহ' (বাহরি মামলুকদের ইতিহাসের ওপর অধ্যয়ন), ২য় সংস্করণ (কায়রো ১৯৪৮) এবং ড. সাঈদ আশুর: 'আল-আসরুল মামালিকি ফি মিসরা ওয়াশ শাম' (মিশর ও শামে মামলুক যুগ), এবং অন্যান্য।

শেষোক্ত বইটি এই বিষয়ে রচিত শ্রেষ্ঠ গ্রন্থসমূহর অন্যতম।

(২) নুয়াইমি তার 'তানবিহুদ দারিস' গ্রন্থে যে সংখ্যার উল্লেখ করেছেন তা থেকে বিষয়টি স্পষ্ট হয়।

(৩) আয-যাহাবী: 'তারিখুল ইসলাম', পত্র ২৬৩ (আয়া সোফিয়া ৩০০৮)।

(৪) আয-যাহাবী: 'মুজামুশ শুয়ুখ', ২য় খণ্ড, পত্র ৪।
(খণ্ড: ১) সিয়ারু আলামিন নুবালা - ত. আর রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ١٣)
ثم لا حظنا تباينا شديدا في قيمة الإنتاج الفكري لهذه الفترة وأصالته، فوجدنا الكثير من المؤلفات الهزيلة التي لم تكن غير تكرار لما هو موجود في بطون الكتب السابقة، ووجدنا القليل من المؤلفات التي امتازت بالأصالة والإبداع والمناهج العلمية المتميزة.

وقد زاد من صعوبة الإبداع أن الواحد من العلماء كان يجد أمامة تراثا ضخما في الموضوع الذي يروم التأليف فيه، وهو في وضعه هذا يختلف عن المؤلفين الأولين الذين لم يجابهوا مثل هذا التراث.

وشهدت دمشق في هذا العصر نزاعا مذهبيا وعقائديا حادا، كان الحكام المماليك يتدخلون فيه في كثير من الأحيان، فيناصرون فئة على أخرى (1) .

وكان الأيوبيون قبل ذلك قد عنوا عناية كبيرة بنشر مذهب الإمام الشافعي، فأسسوا المدارس الخاصة به، وأوقفوا عليها الوقوف (2) .

وعنوا في الوقت نفسه بنشر عقيدة الأشعري، واعتبروها السنة التي يجب اتباعها (3) .

لذلك أصبحت للأشاعرة قوة عظيمة في مصر والشام.

وقد أثر ذلك على المذاهب الأخرى، فأصابها الوهن والضعف عدا الحنابلة الذين ظلوا على جانب كبير من القوة، وكانت لهم في دمشق مجموعة من دور الحديث والمدارس (4) .

وكان النزاع العقائدي بين الحنابلة والأشاعرة مضطرما، زاده اعتماد الحنابلة على النصوص في دراسة العقائد، واعتماد الأشاعرة على الاستدلال
(1) ابن كثير: البداية، 14 / 28، 38، 49، وابن حجر: " الدرر " 1 / 61 وغيرهما.

(2) انظر التفاصيل في كتابنا: المنذري وكتابه " التكملة "، ص 38 فما بعد.

(3) وكان صلاح الدين أشعريا متعصبا كما هو معروف من سيرته.

(4) انظر النعيمي:: " تنبيه الدارس " 2 / 126 29.
অতঃপর আমরা এই যুগের বুদ্ধিবৃত্তিক উৎপাদনের মূল্য এবং এর মৌলিকত্বের ক্ষেত্রে এক চরম বৈসাদৃশ্য লক্ষ্য করি। আমরা এমন বহু দুর্বল রচনা খুঁজে পাই যা পূর্ববর্তী গ্রন্থসমূহের অভ্যন্তরে যা রয়েছে তার পুনরাবৃত্তি ছাড়া আর কিছুই নয়; আবার আমরা এমন অল্প কিছু রচনাও খুঁজে পাই যা এর মৌলিকত্ব, সৃজনশীলতা এবং স্বতন্ত্র বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির কারণে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ছিল।

সৃজনশীলতার পথকে আরও কঠিন করে তুলেছিল এই বিষয়টি যে, একজন আলেম যখন কোনো বিষয়ে গ্রন্থ রচনার ইচ্ছা পোষণ করতেন, তখন তিনি তার সামনে সেই বিষয়ের ওপর এক বিশাল জ্ঞানতাত্ত্বিক ঐতিহ্য (তুরাস) দেখতে পেতেন। এই অবস্থায় তিনি সেই আদি লেখকদের চেয়ে ভিন্ন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতেন, যাদের এমন বিশাল ঐতিহ্যের মোকাবিলা করতে হয়নি।

এই যুগে দামেস্ক এক তীব্র মাযহাবী ও আকিদাগত দ্বন্দ্বের সাক্ষী হয়েছিল, যাতে মামলুক শাসকরা প্রায়শই হস্তক্ষেপ করতেন এবং এক দলকে অন্য দলের বিরুদ্ধে সমর্থন জোগাতেন (১)।

এর আগে আইয়ুবী শাসকরা ইমাম শাফিঈর মাযহাব প্রসারের প্রতি অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছিলেন। তারা এই মাযহাবের জন্য বিশেষ মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং সেগুলোর জন্য সম্পত্তি ওয়াকফ করেছিলেন (২)।

একই সঙ্গে তারা আশআরি আকিদা প্রসারেও মনোনিবেশ করেছিলেন এবং একে এমন এক সুন্নাহ হিসেবে গণ্য করেছিলেন যা অনুসরণ করা অত্যাবশ্যক (৩)।

এই কারণেই মিশর ও শামে আশআরিদের এক বিশাল শক্তি গড়ে উঠেছিল।

আর এটি অন্যান্য মাযহাবগুলোর ওপর এমন প্রভাব ফেলেছিল যে, হাম্বলি মাযহাব ছাড়া বাকিগুলো দুর্বলতা ও স্থবিরতার শিকার হয়েছিল। হাম্বলিরা তখনও বেশ শক্তিশালী অবস্থানে ছিল এবং দামেস্কে তাদের বেশ কিছু দারুল হাদিস ও মাদরাসা বিদ্যমান ছিল (৪)।

হাম্বলি ও আশআরিদের মধ্যে আকিদাগত দ্বন্দ্ব ছিল চরম উত্তপ্ত। আকিদা পর্যালোচনার ক্ষেত্রে হাম্বলিদের সরাসরি মূল পাঠ বা ভাষ্যের (নুসুস) ওপর নির্ভরতা এবং আশআরিদের যৌক্তিক প্রমাণের (ইস্তিদলাল) ওপর নির্ভরতা এই দ্বন্দ্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল।
(১) ইবনে কাসির: আল-বিদায়া, ১৪ / ২৮, ৩৮, ৪৯; এবং ইবনে হাজার: "আদ-দুরার", ১ / ৬১ ও অন্যান্য।

(২) বিস্তারিত দেখুন আমাদের গ্রন্থ: আল-মুনযিরি ও তার কিতাব "আত-তাকমিলা", পৃ. ৩৮ ও পরবর্তী।

(৩) সালাহউদ্দিন আইয়ুবী একজন কট্টর আশআরি ছিলেন, যা তার জীবনী থেকে সুপরিচিত।

(৪) দেখুন আন-নুয়াইমি: "তানবিহুদ দারিস" ২ / ১২৬-২৯।
(খণ্ড: ১) সিয়ারু আলামিন নুবালা - ত. আর রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ١٤)
العقلي والبرهان المنطقي في دراستها (1) .

وبقدر ما ولد هذا التعصب من تمزق في المجتمع، فإنه ولد في الوقت نفسه نشاطا علميا واضحا في هذا المضمار، تمثل في الكتب الكثيرة التي ألفت فيه.

كما ظهر تحيز واضح في كثير من كتابات العصر.

وكان الجهل والاعتقاد بالخرافات والمغيبات سائدا بين العوام في المجتمع الدمشقي.

وكان التصوف منتشرا في أرجاء البلاد انتشارا واسعا، وظهر بينهم كثير من المشعوذين الذين أثروا على العوام أيما تأثير.

بل عمل الحكام المماليك على الاهتمام بهم، وكان لهم اعتقاد فيهم، فكان للملك

الظاهر بيبرس البندقداري " ت 676 هـ " شيخ اسمه الخضر بن أبي بكر بن موسى العدوي، كان " صاحب حال، ونفس مؤثرة، وهمة إبليسية، وحال كاهني "، وكان الظاهر يعظمه، ويزوره أكثر من مرة في الأسبوع، ويطلعه على أسراره، ويستصحبه في أسفاره لاعتقاده التام به (2) .

وانتشر تقديس الأشياخ، والاعتقاد فيهم، وطلب النذور عند قبورهم، بل كانوا يسجدون لبعض تلك القبور، ويطلبون المغفرة من أصحابها (3) .

في هذه البيئة الفكرية والعقائدية المضطربة، ولد مؤرخ الإسلام شمس الدين أبو عبد الله محمد بن أحمد بن عثمان بن قايماز بن عبد الله الذهبي في شهر ربيع الآخر سنة 673 (4) .

وكان من أسرة تركمانية الأصل، تنتهي بالولاء
(1) أبو زهرة: ابن تيمية، ص 25.

(2) الذهبي: " تاريخ الإسلام " الورقة 36 (أيا صوفيا 3014) .

(3) المصدر نفسه، الورقة 75 (أيا صوفيا 3007) .

(4) انظر مثلا: الذهبي: " طبقات القراء "، ص 549، الصفدي: " الوافي "، 2 / 164، و " نكت الهميان "، ص 242، وذكر ابن حجر أن مولده في الثالث من الشهر المذكور (الدرر، 3 / 426) .
এর অধ্যয়নে বুদ্ধিবৃত্তিক এবং যৌক্তিক প্রমাণ (১)।

এই ধর্মান্ধতা সমাজে যতটুকু বিভাজন সৃষ্টি করেছিল, ঠিক তেমনিভাবে তা একই সময়ে এই ক্ষেত্রে একটি সুস্পষ্ট জ্ঞানতাত্ত্বিক তৎপরতারও জন্ম দিয়েছিল, যা এই বিষয়ে রচিত বিপুল সংখ্যক গ্রন্থরাজির মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়েছে।

এছাড়াও সমকালীন অনেক লেখায় সুস্পষ্ট পক্ষপাতদুষ্টতা পরিলক্ষিত হতো।

দামেস্কের সাধারণ জনগণের মাঝে অজ্ঞতা এবং কুসংস্কার ও অলৌকিক রহস্যের প্রতি বিশ্বাস প্রবল ছিল।

দেশের সর্বত্র সুফিবাদ ব্যাপকভাবে বিস্তৃত ছিল এবং তাদের মধ্যে অনেক ভণ্ড জাদুকর ও তান্ত্রিকের আবির্ভাব ঘটেছিল, যারা সাধারণ মানুষের ওপর ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেছিল।

এমনকি মামলুক শাসকরাও তাদের প্রতি গুরুত্বারোপ করতেন এবং তাদের ওপর অগাধ বিশ্বাস রাখতেন; সুতরাং সুলতান

আল-জাহির বাইবার্স আল-বুন্দুকদারি (মৃত্যু: ৬৭৬ হিজরি)-এর খিজর বিন আবু বকর বিন মুসা আল-আদাবি নামক একজন শায়খ ছিলেন, যিনি ছিলেন "আধ্যাত্মিক ভাবাবেশসম্পন্ন, প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের অধিকারী, শয়তানি সংকল্প এবং গণকসুলভ বৈশিষ্ট্যের অধিকারী"। আল-জাহির তাকে অত্যন্ত সম্মান করতেন, সপ্তাহে একাধিকবার তাকে দেখতে যেতেন, তাকে নিজের গোপন বিষয়গুলো জানাতেন এবং তার প্রতি পূর্ণ বিশ্বাসের কারণে সফরের সময় তাকে সাথে রাখতেন (২)।

শায়খদের প্রতি অতিভক্তি, তাদের ওপর অতীন্দ্রিয় বিশ্বাস এবং তাদের কবরে মানত করার প্রবণতা ছড়িয়ে পড়েছিল; এমনকি তারা কবরে সেজদাও করত এবং কবরের অধিবাসীদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করত (৩)।

এই অস্থির বুদ্ধিবৃত্তিক ও আকিদাগত পরিবেশে ইসলামের প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ শামসুদ্দিন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন উসমান বিন কায়মাজ বিন আব্দুল্লাহ আয-যাহাবি ৬৭৩ হিজরির রবিউস সানি মাসে জন্মগ্রহণ করেন (৪)।

তিনি ছিলেন মূলত তুর্কমেনী বংশোদ্ভূত একটি পরিবারের সন্তান, যাদের বংশধারা আনুগত্যের মাধ্যমে যুক্ত ছিল...
(১) আবু জাহরা: ইবনে তাইমিয়া, পৃষ্ঠা ২৫।

(২) আয-যাহাবি: "তারিখুল ইসলাম", পত্র ৩৬ (আইয়া সুফিয়া ৩০১৪)।

(৩) একই উৎস, পত্র ৭৫ (আইয়া সুফিয়া ৩০০৭)।

(৪) উদাহরণস্বরূপ দেখুন: আয-যাহাবি: "তাবাকাতুল কুররা", পৃষ্ঠা ৫৪৯; আস-সাফাদি: "আল-ওয়াফি", ২/১৬৪ এবং "নুকাতুল হিমইয়ান", পৃষ্ঠা ২৪২; এবং ইবনে হাজার উল্লেখ করেছেন যে তাঁর জন্ম উল্লিখিত মাসের তিন তারিখে (আদ-দুরার, ৩/৪২৬)।
(খণ্ড: ১) সিয়ারু আলামিন নুবালা - ত. আর রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ١٥)
إلى بني تميم (1) ، سكنت مدينة ميافارقين من أشهر مدن ديار بكر (2) .

ويبدو أن جد أبيه قايماز قضى حياته فيها (3) ، وتوفي سنة 661 هـ وقد جاوز المئة، قال الذهبي: " قايماز ابن الشيخ عبد الله التركماني الفارقي جد أبي.

قال لي ابن عم والدي علي بن فارس النجار: توفي جدنا عن مئة وتسع سنين.

قلت عمر، وأضر بأخرة، وتوفي سنة إحدى وستين وست مئة " (4) ، وكان قد حج (5) .

وكان جده فخر الدين أبو أحمد عثمان أميا لم يكن له حظ من علم، قد اتخذ من النجارة صنعة له، لكنه كان " حسن اليقين بالله " (6) .

ويبدو أنه هو الذي قدم إلى دمشق، واتخذها سكنا له، وتوفي بعد ذلك بها سنة 683 هـ وهو في عشر السبعين (7) .

أما والده شهاب الدين أحمد، فقد ولد سنة 641 هـ تقريبا، وعدل عن صنعة أبيه إلى صنعة الذهب المدقوق، فبرع بها، وتميز، وعرف بالذهبي، وطلب العلم، فسمع " صحيح البخاري " سنة 666 هـ، من المقداد القيسي،
(1) كتب الذهبي بخطه على طرة المجلد التاسع عشر من " تاريخ الإسلام " (نسخة أيا صوفيا 3012) " تأليف محمد بن أحمد بن عثمان بن قايماز مولى بني تميم ".

(2) ياقوت: معجم البلدان، 4 / 703، فما بعد.

(3) لم يذكر الذهبي في نسبته أنه دمشقي، بل قال: " الفارقي "، مما يدل على أنه لم ينتقل إلى دمشق.

وذكر الدكتور صلاح الدين المنجد في مقدمة الجزء الذي طبعه من " سير أعلام النبلاء " أن قايماز هو الذي قدم دمشق، وأشار إلى معجم الشيوخ، ولم نجد لذلك دليلا في مصدره 1 / 15 وانظر معجم الشيوخ (م 1 الورقة 89) .

(4) الذهبي: أهل المئة فصاعدا، ص 137، و " معجم الشيوخ "، م 1 ورقة 89.

(5) الذهبي: " معجم الشيوخ "، م 1 ورقة 89.

(6) الذهبي: " معجم الشيوخ " م 1 ورقة 89.

(7) المصدر نفسه.
বনু তামীম গোত্রের সাথে সম্বন্ধযুক্ত (১), তিনি দিয়ার বকরের অন্যতম প্রসিদ্ধ শহর মিয়াফারেকিনে বসবাস করতেন (২)।

প্রতীয়মান হয় যে, তাঁর প্রপিতামহ কায়মায তাঁর জীবন সেখানেই অতিবাহিত করেছিলেন (৩), এবং ৬৬১ হিজরি সনে একশ বছর বয়স অতিক্রম করে মৃত্যুবরণ করেন। আয-যাহাবী বলেন: "কায়মায ইবনে আশ-শাইখ আবদুল্লাহ আত-তুর্কমানী আল-ফারেকী হলেন আমার পিতার দাদা।"

আমার পিতার চাচাতো ভাই আলী ইবনে ফারিস আন-নাজ্জার আমাকে বলেছেন: "আমাদের দাদা একশ নয় বছর বয়সে মারা গেছেন।"

আমি (যাহাবী) বলছি, তিনি দীর্ঘায়ু লাভ করেছিলেন, শেষ জীবনে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছিলেন এবং ৬৬১ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন (৪), এবং তিনি হজও পালন করেছিলেন (৫)।

তাঁর দাদা ফখর উদ্দীন আবু আহমাদ উসমান ছিলেন নিরক্ষর, ইলম অর্জনে তাঁর কোনো অংশ ছিল না; তিনি কাঠমিস্ত্রির কাজকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন, তবে তিনি ছিলেন "আল্লাহর প্রতি সুন্দর দৃঢ় বিশ্বাসের অধিকারী" (৬)।

প্রতীয়মান হয় যে, তিনিই দামেস্কে এসেছিলেন এবং সেখানে বসতি স্থাপন করেছিলেন, অতঃপর ৬৮৩ হিজরি সনে সত্তরের দশকে সেখানে ইন্তেকাল করেন (৭)।

আর তাঁর পিতা শিহাব উদ্দীন আহমাদ আনুমানিক ৬৪১ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং পিতার পেশা ছেড়ে স্বর্ণ পিটিয়ে পাত তৈরির কাজে মনোনিবেশ করেন। তিনি এই কাজে বিশেষ পারদর্শী ও অনন্য হয়ে ওঠেন এবং 'যাহাবী' (স্বর্ণকার) নামে পরিচিতি লাভ করেন। তিনি জ্ঞান অন্বেষণে ব্রতী হন এবং ৬৬৬ হিজরি সনে মিকদাদ আল-কায়সীর নিকট 'সহীহ আল-বুখারী' শ্রবণ করেন,
(১) আয-যাহাবী তাঁর নিজ হাতে 'তারিখুল ইসলাম' (আয়াসোফিয়া পাণ্ডুলিপি ৩০১২) এর ১৯তম খণ্ডের প্রচ্ছদে লিখেছেন: "মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনে উসমান ইবনে কায়মায, বনু তামীমের আযাদকৃত দাস (মাওলা) এর সংকলিত।"

(২) ইয়াকুত: মু'জামুল বুলদান, ৪ / ৭০৩ এবং পরবর্তী অংশ।

(৩) আয-যাহাবী তাঁর নিসবতে (পরিচয়ে) নিজেকে 'দামেস্কী' হিসেবে উল্লেখ করেননি, বরং বলেছেন 'আল-ফারেকী', যা থেকে প্রতীয়মান হয় যে তিনি দামেস্কে স্থানান্তরিত হননি।

ডক্টর সালাহুদ্দীন আল-মুনজিদ তাঁর সম্পাদিত 'সিয়ারু আলামিন নুবালা'র ভূমিকার এক অংশে উল্লেখ করেছেন যে, কায়মাযই দামেস্কে এসেছিলেন এবং তিনি 'মু'জামুশ শুয়ুখ' এর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। কিন্তু আমরা তাঁর উল্লিখিত উৎসে (১/১৫) এর কোনো প্রমাণ পাইনি। দেখুন: মু'জামুশ শুয়ুখ (খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৮৯)।

(৪) আয-যাহাবী: আহলুল মিআ ফাসায়েদান, পৃষ্ঠা ১৩৭ এবং 'মু'জামুশ শুয়ুখ', খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৮৯।

(৫) আয-যাহাবী: 'মু'জামুশ শুয়ুখ', খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৮৯।

(৬) আয-যাহাবী: 'মু'জামুশ শুয়ুখ', খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৮৯।

(৭) একই উৎস।
(খণ্ড: ১) সিয়ারু আলামিন নুবালা - ত. আর রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ١٦)
وحج في أواخر عمره، وكان دينا يقوم من الليل (1) .

وقد يسرت له صنعته رخاء وغنى، فأعتق من ماله خمس رقاب (2) ، وتزوج من ابنة رجل موصلي الأصل هو علم الدين أبو بكر سنجر بن عبد الله عرف بغناه، وكان " خيرا عاقلا مديرا للمناشير بديوان الجيش..وخلف خمسة عشر ألفا " (3) من الدنانير، وأحله علمه وغناه ومروءته مكانا جعلت خلقا من أهل دمشق يشيعونه يوم وفاته في آخر جمادى الأولى سنة 697 هـ،، يؤمهم قاضي القضاة يومئذ عز الدين ابن جماعة الكناني (4) .

وعرف محمد بابن الذهبي، نسبة إلى صنعة أبيه، وكان هو يقيد اسمه " ابن الذهبي " (5) .

ويبدو أنه اتخذ صنعة أبيه مهنة له في أول أمره، لذلك عرف عند بعض معاصريه ب " الذهبي " مثل الصلاح الصفدي (6) ، وتاج الدين السبكي (7) ، والحسيني (8) ، وعماد الدين ابن كثير (9) ، وغيرهم.
(1) الذهبي: " تاريخ الإسلام " (وفيات 697) نسخة أيا صوفيا 3014، و " معجم الشيوخ "، م 1 ورقة 13، والصفدي: " الوافي "، م 7 ورقة 86.

(2) كان من بينهم فك أسر امرأتين من أسر الفرنجة من عكا (انظر المصادر في الهامش السابق) .

(3) الذهبي: " معجم الشيوخ "، م 1 ورقة 55 وتوفي سنة 686.

(4) الذهبي: " معجم الشيوخ "، م 1 الورقة 13.

(5) ونسبة ب " ابن الذهبي " مقيدة بخطه في معظم الكتب والطباق التي بخطه مثل طبقة سماع كتاب أهل المئة فصاعدا (ص 111 بتحقيقنا) ، وطرر المجلدات التي وصلت بخطه من " تاريخ الإسلام " (نسخة أيا صوفيا) وطبقة سماع لكتاب " الكاشف " له (نسخة التيمورية رقم 1936) وجاء في أول " معجم شيوخه ": " أما بعد، فهذا معجم العبد المسكين محمد بن أحمد..ابن الذهبي ".

(6) " الوافي "، 2 / 163 و " نكت الهميان "، ص 241.

(7) " طبقات الشافعية الكبرى " 9 / 100.

(8) " ذيل تذكرة الحفاظ "، ص 34.

(9) " البداية والنهاية "، 14 / 225.
তিনি তাঁর জীবনের শেষভাগে হজ পালন করেন। তিনি ধর্মপ্রাণ ছিলেন এবং শেষ রাতে ইবাদতে মগ্ন থাকতেন (১)।

তাঁর পেশা তাঁকে স্বাচ্ছন্দ্য ও সচ্ছলতা দান করেছিল, ফলে তিনি নিজের সম্পদ থেকে পাঁচজন দাস মুক্ত করেন (২)। তিনি মসুলে বংশোদ্ভূত এক ব্যক্তির কন্যার সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন, যাঁর নাম ছিল আলামুদ্দীন আবু বকর সানজার ইবনে আবদুল্লাহ। তিনি তাঁর ধনবত্তার জন্য পরিচিত ছিলেন এবং ছিলেন "সৎ, বুদ্ধিমান, সামরিক দপ্তরের (দিওয়ানুল জায়শ) রাজকীয় ফরমানসমূহের পরিচালক এবং তিনি পনেরো হাজার দিনার উত্তরাধিকার রেখে যান" (৩)। তাঁর জ্ঞান, সম্পদ এবং মানবতা তাঁকে এমন এক উচ্চ মর্যাদায় আসীন করেছিল যে, ৬৯৭ হিজরি সনের জুমাদাল উলা মাসের শেষ দিকে তাঁর ইন্তেকালের দিন দামেস্কের বিপুল সংখ্যক মানুষ তাঁর জানাজায় শরিক হন। তাঁদের ইমামতি করেন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি (কাজি উল-কুজাত) ইজ্জুদ্দীন ইবনে জামাআহ আল-কিনানি (৪)।

মুহাম্মদ তাঁর পিতার পেশার সাথে সম্পৃক্ততার কারণে 'ইবনুল জাহাবি' নামে পরিচিতি লাভ করেন। তিনি নিজেও তাঁর নাম 'ইবনুল জাহাবি' হিসেবেই লিপিবদ্ধ করতেন (৫)।

প্রতীয়মান হয় যে, তিনি প্রথম জীবনে তাঁর পিতার পেশাকেই নিজের উপজীবিকা হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। একারণে সমসাময়িক কিছু বিদ্বান তাঁকে কেবল 'আজ-জাহাবি' নামে অভিহিত করেছেন, যেমন আস-সালাহ আস-সাফাদি (৬), তাজউদ্দীন আস-সুবকি (৭), আল-হুসাইনি (৮), ইমাদউদ্দীন ইবনে কাসির (৯) প্রমুখ।
(১) আজ-জাহাবি: "তারিখুল ইসলাম" (৬৯৭ সনের মৃত্যুসংবাদ), আয়া সোফিয়া পাণ্ডুলিপি ৩০১৪; এবং "মু'জামুশ শুয়ুখ", খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৩; আস-সাফাদি: "আল-ওয়াফি", খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা ৮৬।

(২) তাঁদের মধ্যে আক্কা শহরের ক্রুসেডারদের হাতে বন্দি দুইজন নারীর মুক্তিপণ প্রদানও অন্তর্ভুক্ত ছিল (পূর্ববর্তী টীকায় উল্লেখিত উৎসসমূহ দেখুন)।

(৩) আজ-জাহাবি: "মু'জামুশ শুয়ুখ", খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫৫; তিনি ৬৮৬ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।

(৪) আজ-জাহাবি: "মু'জামুশ শুয়ুখ", খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৩।

(৫) 'ইবনুল জাহাবি' উপনামটি তাঁর স্বহস্তে লিখিত অধিকাংশ গ্রন্থ ও শ্রবণ-সনদ (তাবাক)-এ সংরক্ষিত আছে। যেমন: 'আহলুল মিয়াহ' ও তদুর্ধ্ব ব্যক্তিদের শ্রবণ-সনদ (আমাদের সম্পাদিত সংস্করণের পৃষ্ঠা ১১১), 'তারিখুল ইসলাম'-এর যে খণ্ডগুলো তাঁর স্বহস্তে লিখিত টীকা সহ আমাদের নিকট পৌঁছেছে (আয়া সোফিয়া পাণ্ডুলিপি), এবং তাঁর রচিত 'আল-কাশিফ' গ্রন্থের শ্রবণ-সনদ (তাইমুরিয়া পাণ্ডুলিপি নং ১৯৩৬)। তাঁর 'মু'জামু শুয়ুখ'-এর শুরুতে বর্ণিত হয়েছে: "অতঃপর, এটি হলো এক নগণ্য দাস মুহাম্মদ ইবনে আহমদ... ইবনুল জাহাবি-র সংকলিত মু'জাম।"

(৬) "আল-ওয়াফি", ২/১৬৩ এবং "নুকাতুল হিমইয়ান", পৃষ্ঠা ২৪১।

(৭) "তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ আল-কুবরা", ৯/১০০।

(৮) "জাইলু তাজকিরাতিল হুফফাজ", পৃষ্ঠা ৩৪।

(৯) "আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া", ১৪/২২৫।
(খণ্ড: ১) সিয়ারু আলামিন নুবালা - ত. আর রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ١٧)
وعاش طفولته بين أكناف عائلة علمية متدينة، فكانت مرضعته وعمته ست الأهل بنت عثمان، الحاجة أم محمد، قد حصلت على الإجازة من ابن أبي اليسر، وجمال الدين بن مالك، وزهير بن عمر الزرعي، وجماعة آخرين، وسمعت من عمر بن القواس وغيره، وروى الذهبي عنها (1) .

وكان خاله علي قد طلب العلم، وروى عنه الذهبي في " معجم شيوخه "، وقال: " علي بن سنجر بن عبد الله الموصلي، ثم الدمشقي الذهبي الحاج المبارك أبو إسماعيل خالي.

مولده في سنة ثمان وخمسين وست مئة.

وسمع بإفادة مؤدبه ابن الخباز من أبي بكر ابن الأنماطي، وبهاء الدين أيوب الحنفي، وست العرب الكندية.

وسمع معي ببعلبك من التاج عبد الخالق وجماعة.

وكان ذا مروءة وكد على عياله وخوف من الله.

توفي في الثالث والعشرين من رمضان سنة ست وثلاثين وسبع مئة " (2) .

وكان زوج خالته فاطمة، أحمد بن عبد الغني بن عبد الكافي الأنصاري الذهبي، المعرف بابن الحرستاني، قد سمع الحديث، ورواه، وكان حافظا للقرآن الكريم، كثير التلاوة له، وتوفي بمصر سنة 700 (3) هـ.

وطبيعي أن تعتني مثل هذه العائلة المتدينة التي كان لها حظ من العلم بأبنائها، لذلك وجدنا أخاه من الرضاعة علاء الدين أبا الحسن علي بن إبراهيم بن داود بن العطار الشافعي: " 724 654 هـ " (4) يسرع، ويستجيز
(1) الذهبي: " معجم الشيوخ "، م 1 ورقة 57، ولدت سنة الأهل سنة 653 هـ وتوفيت سنة 729 هـ.

(2) الذهبي: " معجم الشيوخ " م 2 ورقة 6.

(3) المصدر السابق، م 1 ورقة 12.

(4) الذهبي: " ذيل العبر "، ص 136، و " معجم الشيوخ " م 2 ورقة 1، ابن كثير: = سير 1 / 2
তিনি তাঁর শৈশব অতিবাহিত করেন এক জ্ঞানতাপস ও ধার্মিক পরিবারের ছায়াতলে। তাঁর দুধমা ও ফুফু সিত্তুল আহল বিনতে উসমান (হাজ্জা উম্মু মুহাম্মদ) ইবনে আবিল ইয়াসর, জামালুদ্দিন ইবনে মালিক, যুহায়ের ইবনে উমর আল-যারয়ি এবং আরও অনেকের নিকট থেকে ইজাজত লাভ করেছিলেন। তিনি উমর ইবনুল কাওয়াস ও অন্যদের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন এবং আয-যাহাবি তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন (১)।

তাঁর মামা আলী ইলম অন্বেষণ করেছিলেন এবং আয-যাহাবি তাঁর 'মুজামু শুয়ুখিহি' গ্রন্থে তাঁর সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: "আলী ইবনে সানজার ইবনে আব্দুল্লাহ আল-মাওসিলি, অতঃপর আদ-দিমাশকি আয-যাহাবি আল-হাজ্জ আল-মুবারক আবু ইসমাইল হলেন আমার মামা।

তাঁর জন্ম ৬৫৮ হিজরি সনে।

তিনি তাঁর শিক্ষক ইবনুল খাব্বাজের নির্দেশনায় আবু বকর ইবনুল আনমাতি, বাহাউদ্দিন আইয়ুব আল-হানাফি এবং সিত্তুল আরব আল-কিন্দিয়ার নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন।

তিনি আমার সাথে বা'লাবাকে আত-তাজ আব্দুল খালিক ও আরও এক দলের নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন।

তিনি ছিলেন ব্যক্তিত্বসম্পন্ন, পরিবারের জন্য কঠোর পরিশ্রমী এবং আল্লাহভীরু।

তিনি ৭৩৬ হিজরি সনের ২৩শে রমজান মৃত্যুবরণ করেন" (২)।

তাঁর খালা ফাতেমার স্বামী আহমদ ইবনে আব্দুল গনি ইবনে আব্দুল কাফি আল-আনসারি আয-যাহাবি (যিনি ইবনুল হারাসতানি নামে পরিচিত) হাদিস শ্রবণ করেছেন ও বর্ণনা করেছেন। তিনি পবিত্র কুরআনের হাফেজ ছিলেন এবং প্রচুর তিলাওয়াত করতেন। তিনি ৭০০ হিজরি সনে মিসরে মৃত্যুবরণ করেন (৩)।

স্বভাবতই, ইলমের অংশীদার এমন একটি ধার্মিক পরিবারের পক্ষে তাদের সন্তানদের প্রতি যত্নশীল হওয়া স্বাভাবিক। তাই আমরা দেখতে পাই যে, তাঁর দুধভাই আলাউদ্দিন আবুল হাসান আলী ইবনে ইব্রাহিম ইবনে দাউদ ইবনুল আত্তার আশ-শাফিয়ি (৬৫৪ - ৭২৪ হি.) (৪) দ্রুততর হন এবং ইজাজত প্রার্থনা করেন।
(১) আয-যাহাবি: "মুজামুশ শুয়ুখ", খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫৭; সিত্তুল আহল ৬৫৩ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৭২৯ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।

(২) আয-যাহাবি: "মুজামুশ শুয়ুখ", খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৬।

(৩) পূর্বোক্ত উৎস, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১২।

(৪) আয-যাহাবি: "যাইলুল ইবার", পৃষ্ঠা ১৩৬, এবং "মুজামুশ শুয়ুখ", খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ১, ইবনে কাসির: সিয়ার ১ / ২
(খণ্ড: ১) সিয়ারু আলামিন নুবালা - ত. আর রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ١٨)
للذهبي جملة من مشايخ عصره في سنة مولده (1) منهم من دمشق: أحمد بن عبد القادر، أبو العباس العامري " 673 609 هـ " (2) ، وابن الصابوني " 680 604 هـ " (3) ، وأمين الدين ابن عساكر " 686 614 هـ " (4) ، وجمال الدين ابن الصيرفي " 678 583 هـ " (5) .

ومن حلب: أحمد بن محمد ابن النصيبي " 692 609 هـ " (6) ، ومن مكة: الإمام محب الدين الطبري محدث الحرم ومفتيه " 694 615 هـ " (7) ، وغيره (8) .

ومن المدينة: كافور بن عبد الله الطواشي (9) .

ويبدو أن علاء الدين ابن العطار قد حج في تلك السنة (10) فحصل بعض الإجازات من مكة والمدينة.

وذكر ابن حجر أن الذين أجازوه في هذه السنة " جمع جم (11) " وقال في ترجمة ابن
= " البداية "، 14 / 117، ابن حجر: " الدرر "، 3 / 74 73، النعيمي: " تنبيه الدارس "، 1 / 70 68، 99، 112.

ورأينا لأبي الحسن ابن العطار هذا رسالة في السماع في خزانة كتب جستربتي بدبلن ضمن مجموع برقم 3296.

(1) ابن حجر: " الدرر "، 3 / 426.

(2) الذهبي: " معجم الشيوخ "، م 1 الورقة 12.

(3) المصدر السابق، م 2 الورقة 55.

(4) المصدر السابق، م 1 الورقة 80.

(5) المصدر السابق، م 2 الورقة 87.

(6) المصدر السابق، م 1 الورقة 18.

(7) الذهبي: " معجم الشيوخ "، م الورقة 8.

(8) انظر مثلا: " معجم الشيوخ "، م 1 الورقة 90، م 2 الورقة 6، 31، 60 59، 88، وابن حجر: " الدرر "، 3 / 436.

(9) الذهبي: " معجم الشيوخ "، م 2 الورقة 26.

(10) المصدر السابق، م 2 الورقة 60 59.

(11) ابن حجر: " الدرر "، 3 / 426.
যাহাবীর জন্মসালে (১) তাঁর সমসাময়িক একদল শায়খ বিদ্যমান ছিলেন, যাদের মধ্যে দামেস্কের হলেন: আহমদ ইবনে আব্দুল কাদির, আবু আল-আব্বাস আল-আমিরি "৬০৯ - ৬৭৩ হিজরি" (২), ইবনে আল-সাবুনী "৬০৪ - ৬৮০ হিজরি" (৩), আমিনুদ্দীন ইবনে আসাকির "৬১৪ - ৬৮৬ হিজরি" (৪) এবং জামালুদ্দীন ইবনে আল-সাইরাফি "৫৮৩ - ৬৭৮ হিজরি" (৫)।

এবং আলেপ্পো থেকে: আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুন নাসিবি "৬০৯ - ৬৯২ হিজরি" (৬), এবং মক্কা থেকে: ইমাম মুহিব্বুদ্দীন আল-তাবারী, যিনি হারামের মুহাদ্দিস ও মুফতি ছিলেন "৬১৫ - ৬৯৪ হিজরি" (৭) এবং অন্যান্য (৮)।

এবং মদিনা থেকে: কাফুর ইবনে আব্দুল্লাহ আল-তাওয়াশি (৯)।

প্রতীয়মান হয় যে, আলাউদ্দীন ইবনুল আত্তার সেই বছর হজ পালন করেছিলেন (১০), ফলে তিনি মক্কা ও মদিনা থেকে কিছু ইজাজত (সনদ) লাভ করেন।

ইবনে হাজার উল্লেখ করেছেন যে, যারা এই বছর তাঁকে ইজাজত দিয়েছিলেন তারা ছিলেন "বিশাল এক দল (১১)" এবং তিনি ইবনে... এর জীবনীতে বলেছেন:
= "আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ", ১৪/১১৭; ইবনে হাজার: "আল-দুরার", ৩/৭৩-৭৪; আল-নুয়াইমি: "তানবিহ আদ-দারিস", ১/৬৮-৭০, ৯৯, ১১২।

আমরা এই আবু আল-হাসান ইবনুল আত্তারের 'সামা' (শ্রবণ) বিষয়ক একটি পুস্তিকা ডাবলিনের চেস্টার বিটি লাইব্রেরিতে ৩২৯৬ নম্বর পাণ্ডুলিপির অন্তর্ভুক্ত দেখেছি।

(১) ইবনে হাজার: "আল-দুরার", ৩/৪২৬।

(২) যাহাবী: "মু'জামুশ শুয়ুখ", খণ্ড ১, পত্র ১২।

(৩) পূর্বোক্ত উৎস, খণ্ড ২, পত্র ৫৫।

(৪) পূর্বোক্ত উৎস, খণ্ড ১, পত্র ৮০।

(৫) পূর্বোক্ত উৎস, খণ্ড ২, পত্র ৮৭।

(৬) পূর্বোক্ত উৎস, খণ্ড ১, পত্র ১৮।

(৭) যাহাবী: "মু'জামুশ শুয়ুখ", খণ্ড ২, পত্র ৮।

(৮) উদাহরণস্বরূপ দেখুন: "মু'জামুশ শুয়ুখ", খণ্ড ১, পত্র ৯০; খণ্ড ২, পত্র ৬, ৩১, ৫৯-৬০, ৮৮; এবং ইবনে হাজার: "আল-দুরার", ৩/৪৩৬।

(৯) যাহাবী: "মু'জামুশ শুয়ুখ", খণ্ড ২, পত্র ২৬।

(১০) পূর্বোক্ত উৎস, খণ্ড ২, পত্র ৫৯-৬০।

(১১) ইবনে হাজার: "আল-দুরার", ৩/৪২৬।
(খণ্ড: ১) সিয়ারু আলামিন নুবালা - ত. আর রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ١٩)
العطار: " وهو الذي استجاز للذهبي سنة مولده، فانتفع الذهبي بعد ذلك بهذه الإجازة انتفاعا شديدا " (1) .

ويمضي الطفل إلى أحد المؤدبين هو علاء الدين علي بن محمد الحلبي المعروف بالبصبص، وكان من أحسن الناس خطا، وأخبرهم بتعليم الصبيان، فيقيم في مكتبه أربعة أعوام (2) ، وفي أثناء ذلك كان جده عثمان يدمنه على النطق بالراء يقوم بذلك لسانه (3) .

ولا نعرف في أية سنة ترك المكتب، ولكنه كان في سنة 682 هـ، لم يزل عنده حيث أنشده في هذه السنة شعرا لأبي محمد القاسم الحريري (4) .

وقد اتجه الذهبي بعد ذلك إلى شيخة مسعود بن عبد الله الصالحي، فلقنه جميع القرآن، ثم قرأ عليه نحوا من أربعين ختمة، وكان الشيخ مسعود إمام مسجد الشاغور، وكان خيرا متواضعا برا بصبيانه، لقن خلقا.

وتوفي سنة 720 هـ (5) .

وبدأ الصبي بالحضور إلى مجالس الشيوخ ليسمع كلام بعضهم (6) .

ولما قدم عز الدين الفاروثي، عالم العراق، إلى دمشق سنة 690 هـ، ذهب الفتى وسلم عليه، وحدثه (7) ، مما يدلل على حبه للعلم والعلماء منذ الصغر.
(1) المصدر السابق، 3 / 73.

(2) الذهبي: " معجم الشيوخ "، م 2 الورقة 11.

(3) المصدر السابق، م 1 الورقة 89.

(4) المصدر السابق، م 2 الورقة 11 ومات مؤدبه في حدود سنة 690 هـ.

(5) الذهبي: " معجم الشيوخ، م 2 الورقة 78.

(6) المصدر السابق، م 2 الورقة 58.

(7) الذهبي: " معرفة القراء "، ص 544. وتوفي الفاروثي سنة 694 هـ.
আল-আত্তার বলেন: "তিনিই সেই ব্যক্তি যিনি আয-যাহাবির জন্মের বছরেই তাঁর জন্য ইজাযাত (অনুমতি) গ্রহণ করেছিলেন, যার ফলে আয-যাহাবি পরবর্তীকালে এই ইজাযাত থেকে প্রভূত উপকৃত হয়েছিলেন" (১)।

অতঃপর শিশুটি জনৈক শিক্ষক আলাউদ্দিন আলী ইবনে মুহাম্মদ আল-হালাবি—যিনি 'আল-বাসবাস' নামে পরিচিত ছিলেন—তাঁর কাছে গমন করেন। তিনি ছিলেন মানুষের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ হস্তাক্ষরের অধিকারী এবং বালকদের শিক্ষাদানের বিষয়ে সর্বাধিক অভিজ্ঞ। শিশুটি তাঁর মক্তবে চার বছর অবস্থান করেন (২)। এই সময়ের মধ্যে তাঁর দাদা উসমান তাঁকে 'রা' বর্ণটি সঠিকভাবে উচ্চারণ করার জন্য নিয়মিত অনুশীলন করাতেন যাতে এর মাধ্যমে তাঁর জিহ্বা সংশোধিত হয় (৩)।

তিনি কোন বছরে মক্তব ত্যাগ করেছিলেন তা আমাদের জানা নেই, তবে ৬৮২ হিজরি সালেও তিনি সেখানে অবস্থান করছিলেন; কারণ সেই বছর তিনি তাঁর শিক্ষকের নিকট আবু মুহাম্মদ আল-কাসিম আল-হারিরির কবিতা পাঠ করেছিলেন (৪)।

এরপর আয-যাহাবি তাঁর শায়খ মাসউদ ইবনে আব্দুল্লাহ আস-সালিহির অভিমুখী হন। শায়খ তাঁকে সম্পূর্ণ কুরআন পাঠ করান, অতঃপর তিনি তাঁর কাছে প্রায় চল্লিশবার পূর্ণ কুরআন তিলাওয়াত করেন। শায়খ মাসউদ ছিলেন শাগুর মসজিদের ইমাম এবং তিনি ছিলেন অত্যন্ত নেককার, বিনয়ী ও ছাত্রদের প্রতি সদয়। তিনি বহু মানুষকে শিক্ষা দান করেছিলেন।

তিনি ৭২০ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন (৫)।

অল্প বয়সেই তিনি শায়খদের মজলিসে উপস্থিত হতে শুরু করেন যাতে তাঁদের জ্ঞানগর্ভ কথা শ্রবণ করতে পারেন (৬)।

যখন ইরাকের প্রখ্যাত আলিম ইযযুদ্দিন আল-ফারুসি ৬৯০ হিজরিতে দামেস্কে আগমন করেন, তখন এই কিশোর তাঁর সমীপে উপস্থিত হয়ে তাঁকে সালাম প্রদান করেন এবং তাঁর সাথে কথা বলেন (৭); যা শৈশব থেকেই ইলম ও উলামাদের প্রতি তাঁর সুগভীর অনুরাগের পরিচয় বহন করে।
(১) পূর্বোক্ত উৎস, ৩/৭৩।

(২) আয-যাহাবি: "মু'জাম আশ-শুয়ুখ", খণ্ড ২, পত্র ১১।

(৩) পূর্বোক্ত উৎস, খণ্ড ১, পত্র ৮৯।

(৪) পূর্বোক্ত উৎস, খণ্ড ২, পত্র ১১; এবং তাঁর শিক্ষক আনুমানিক ৬৯০ হিজরি সনের দিকে মৃত্যুবরণ করেন।

(৫) আয-যাহাবি: "মু'জাম আশ-শুয়ুখ", খণ্ড ২, পত্র ৭৮।

(৬) পূর্বোক্ত উৎস, খণ্ড ২, পত্র ৫৮।

(৭) আয-যাহাবি: "মা'রিফাতুল কুররা", পৃষ্ঠা ৫৪৪। আল-ফারুসি ৬৯৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১) সিয়ারু আলামিন নুবালা - ত. আর রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ٢٠)
‌‌ثانيا - بدء عنايته بطلب العلم

بدأ الذهبي يعتني بطلب العلم حينما بلغ الثامنة عشرة من عمره، وتوجهت عنايته إلى ناحيتين رئيستين هما: القراءات، والحديث الشريف.

أ - القراءات: اهتم الذهبي بقراءة القرآن الكريم، والعناية بدراسة علم القراءات، فتوجه سنة 691 هـ هو ورفقة له، إلى شيخ القراء جمال الدين أبي إسحاق إبراهيم بن داود العسقلاني، ثم الدمشقي، المعروف بالفاضلي، فشرع عليه بالجمع الكبير (1) ، وكان الفاضلي قد صحب الشيخ علم الدين السخاوي المتوفى سنة 643 هـ، وهو الذي انتهت إليه رياسة الإقراء في زمانه (2) ، وجمع عليه القراءات السبع، وتصدر للإقراء بتربة أم الصالح، ولكنه أصيب بطرف من الفالج، فكان يقرئ في بيته وينتهي الذهبي عليه إلى أواخر سورة القصص، ويزداد الفالج على الشيخ، فيمنع الطلبة من الدخول عليه، ثم يموت سنة 692 هـ، وتظل قراءة الذهبي على الفاضلي ناقصة (3) .

ولكنه كان في أثناء شروعه بالجمع الكبير على الفاضلي، قد شرع في الوقت نفسه يقرأ بالجمع الكبير على الشيخ جمال الدين أبي إسحاق إبراهيم بن غالي

المقرئ الدمشقي " ت 708 (4) هـ ". وقرأ ختمة جامعة لمذاهب القراء
(1) الذهبي: " معجم الشيوخ "، م 1 الورقة 27، " ومعرفة القراء "، ص 562 - 563 ابن الجزري: " غاية "، 2 / 71.

(2) سبط ابن الجوزي: " مرآة "، 8 / 758، القفطي: " إنباه "، 2 / 311، الحسيني: " صلة التكملة "، (وفيات 643) ، الذهبي: " العبر "، 5 / 178، ابن كثير: " البداية "، 13 / 17، ابن الجزري: " غاية " 1 / 568.

(3) الذهبي: " معجم الشيوخ "، م 1 الورقة 27، و " معرفة القراء "، ص 563 562، 576، 592.

(4) الذهبي: " معجم الشيوخ "، م 1 الورقة 30، و " معرفة القراء "، ص 576.
দ্বিতীয় - ইলম অন্বেষণে তাঁর মনোযোগের সূচনা

যাহাবী আঠারো বছর বয়সে পদার্পণ করলে ইলম অন্বেষণের প্রতি মনোযোগী হন। তাঁর মনোযোগ মূলত দুটি প্রধান বিষয়ের দিকে নিবদ্ধ ছিল: কিরাআত এবং হাদীস শরীফ।

ক - কিরাআত: যাহাবী কুরআন মাজীদের তিলাওয়াত এবং কিরাআত শাস্ত্রের অধ্যয়নে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। ৬৯১ হিজরীতে তিনি ও তাঁর কতিপয় সঙ্গী 'শাইখুল কুররা' জামালুদ্দীন আবু ইসহাক ইবরাহীম ইবনে দাউদ আল-আসকালানী আদ-দিমাশকী, যিনি 'আল-ফাদিলী' নামে পরিচিত ছিলেন, তাঁর সমীপে গমন করেন। তিনি তাঁর কাছে 'জামউল কাবীর' (বৃহৎ সংকলন) পদ্ধতিতে তিলাওয়াত শুরু করেন (১)। আল-ফাদিলী ৬৪৩ হিজরীতে মৃত্যুবরণকারী শাইখ আলামুদ্দীন আস-সাখাভীর সান্নিধ্য লাভ করেছিলেন, যাঁর কাছে তৎকালে কিরাআত শাস্ত্রের নেতৃত্ব পৌঁছেছিল (২)। তিনি তাঁর কাছে সাত কিরাআতের সংকলন সমাপ্ত করেছিলেন এবং উম্মু সালিহ-এর সমাধিস্থলে (মাদরাসায়) কিরাআত শিক্ষাদানে রত ছিলেন। তবে তিনি আংশিক পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হয়েছিলেন, যার ফলে তিনি নিজ বাড়িতেই পাঠদান করতেন। যাহাবী তাঁর কাছে সূরা আল-কাসাস-এর শেষ পর্যন্ত তিলাওয়াত করেন। এরপর শাইখের পক্ষাঘাত বৃদ্ধি পায় এবং তিনি ছাত্রদের তাঁর নিকট প্রবেশ করতে নিষেধ করে দেন। অতঃপর ৬৯২ হিজরীতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন এবং ফাদিলীর নিকট যাহাবীর কিরাআত অসম্পূর্ণ থেকে যায় (৩)।

তবে ফাদিলীর নিকট 'জামউল কাবীর' শুরু করার পাশাপাশি তিনি একই সময়ে দিমাশকের ক্বারী শাইখ জামালুদ্দীন আবু ইসহাক ইবরাহীম ইবনে গালীর (মৃত্যু ৭০৮ হি. (৪)) নিকটও 'জামউল কাবীর' পদ্ধতিতে পাঠ শুরু করেন। তিনি ক্বারীগণের মাযহাবসমূহের সমন্বয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ খতম সম্পন্ন করেন।
(১) যাহাবী: "মুজামুশ শুয়ূখ", খণ্ড ১, পত্র ২৭; "মা'রিফাতুল কুররা", পৃষ্ঠা ৫৬২ - ৫৬৩; ইবনুল জাযারী: "গায়াহ", ২ / ৭১।

(২) সিবত ইবনুল জাওযী: "মিরআত", ৮ / ৭৫৮; আল-কিফতী: "ইনবাহ", ২ / ৩১১; আল-হুসাইনী: "সিলাতুত তাকমিলা", (মৃত্যু ৬৪৩); যাহাবী: "আল-ইবার", ৫ / ১৭৮; ইবনে কাসীর: "আল-বিদায়া", ১৩ / ১৭; ইবনুল জাযারী: "গায়াহ", ১ / ৫৬৮।

(৩) যাহাবী: "মুজামুশ শুয়ূখ", খণ্ড ১, পত্র ২৭; এবং "মা'রিফাতুল কুররা", পৃষ্ঠা ৫৬২, ৫৬৩, ৫৭৬, ৫৯২।

(৪) যাহাবী: "মুজামুশ শুয়ূখ", খণ্ড ১, পত্র ৩০; এবং "মা'রিফাতুল কুররা", পৃষ্ঠা ৫৭৬।
(খণ্ড: ১) সিয়ারু আলামিন নুবালা - ত. আর রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ٢١)
السبعة بما اشتمل عليه كتاب " التيسير " للداني، وكتاب " حرز الأماني " للشاطبي على ابن جبريل المصري نزيل دمشق (1) .

وما لبث الذهبي أن أصبح على معرفة جيدة بالقراءات، وأصولها ومسائلها، وهو لما يزل فتى لم يتعد العشرين من عمره، قال في ترجمة قاضي القضاة شهاب الدين أبي عبد الله محمد بن أحمد بن خليل الخويي ثم الدمشقي الشافعي المتوفى سنة 693 هـ: " جلست بين يديه، وسألني عن غير مسألة من القراءات، فمن الله وأجبته وشهد في إجازتي من الحاضرين، وأجاز لي مروياته (2) ".

على أنه استمر في تحصيل هذا الفن، فكتب في سنة 691 هـ " المقدمة في التجويد " عن مؤلفها المقرئ المجود أبي عبد الله محمد بن جوهر التلعفري المتوفى سنة 696 (3) هـ، وتلا ختمة للسبعة على مجد الدين أبي بكر بن محمد المرسي نزيل دمشق المتوفى سنة 718 هـ (4) وجمع الختمة على شيخ القراء ببعلبك موفق الدين المتوفى سنة 695 هـ (5) ، وقرأ

بالسبع أيضا على المقرئ شمس الدين أبي عبد الله محمد بن منصور الحلبي المتوفى سنة 700 هـ، وكان الحلبي هذا من المتصدرين بالعادلية وبالجامع الأموي (6) .

وقرأ كتاب " المبهج في القراءات السبع (7) " لسبط الشيخ أبي منصور الخياط البغدادي، و " السبعة " لابن مجاهد، وغيرهما على
(1) (1) الحسيني: " ذيل تذكرة الحفاظ "، ص 36.

(2) الذهبي: " معجم الشيوخ "، م 2 الورقة 31.

(3) المصدر السابق، م 2 الورقة 39.

(4) المصدر السابق، م 2 الورقة 39.

(5) المصدر السابق، م 2 الورقة 74.

(6) المصدر السابق، م 2 الورقة 66 65.

(7) عندي منه نسخة مصورة عن نسخة معهد إحياء المخطوطات (رقم 75 قراءات وتجويد) وهو كتاب نفيس للغاية.
দামেস্কে বসবাসকারী ইবনে জিবরীল আল-মিসরীর নিকট তিনি আদ-দানীর 'আত-তাইসীর' এবং আশ-শাতিবীর 'হিরজুল আমানী' গ্রন্থে বর্ণিত সাত ক্বিরাত পাঠ করেন (১)।

অনতিবিলম্বে আয-যাহাবী ক্বিরাতশাস্ত্র, এর মূলনীতি ও আনুষঙ্গিক মাসআলাসমূহ সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভ করেন, অথচ তখনো তিনি বিশ বছর বয়সে পদার্পণ করেননি এমন এক কিশোর মাত্র। তিনি কাযিউল কুযাত শিহাবুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন খলীল আল-খুওয়ায়্যী আদ-দামেশকী আশ-শাফিঈর (মৃত্যু ৬৯৩ হিজরী) জীবনীতে বলেন: "আমি তাঁর সামনে বসলাম, এবং তিনি আমাকে ক্বিরাতশাস্ত্রের বিভিন্ন মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন; আল্লাহর অনুগ্রহে আমি সেগুলোর উত্তর দিলাম। উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ আমার ইজাযতের (সনদ) সাক্ষ্য দিলেন এবং তিনি তাঁর বর্ণিত রেওয়ায়াতসমূহের জন্য আমাকে ইজাযত প্রদান করলেন (২)।"

তা সত্ত্বেও তিনি এই শাস্ত্র অর্জনে মগ্ন থাকলেন। ৬৯১ হিজরীতে তিনি মুকরী আল-মুজাওবিদ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন জাওহার আত-তালআফারীর (মৃত্যু ৬৯৬ হিজরী) নিকট থেকে তাঁর রচিত 'আল-মুকাদ্দিমা ফিত তাজভীদ' গ্রন্থটি অনুলিপি করেন (৩)। এছাড়া তিনি দামেস্কে বসবাসকারী মাজদুদ্দীন আবু বকর বিন মুহাম্মাদ আল-মুরসীর (মৃত্যু ৭১৮ হিজরী) নিকট সাত ক্বিরাতের এক খতম সমাপ্ত করেন (৪)। বা'লাবাক্কের শায়খুল কুররা মুওয়াফফাকুদ্দীন (মৃত্যু ৬৯৫ হিজরী) এর নিকট তিনি সাত ক্বিরাতের সমন্বিত খতম (জাম'উল ক্বিরাত) সম্পন্ন করেন (৫)। তদুপরি তিনি

মুকরী শামসুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন মানসুর আল-হালাবীর (মৃত্যু ৭০০ হিজরী) নিকটও সাত ক্বিরাত পাঠ করেন। এই আল-হালাবী আল-আদিলিয়াহ এবং উমাইয়া জামে মসজিদের প্রধান ক্বারী ও শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন (৬)।

তিনি সাবত আশ-শায়খ আবু মানসুর আল-খাইয়্যাত আল-বাগদাদীর 'আল-মুবহিজ ফিল ক্বিরাআতিল সাবই' (৭) এবং ইবনে মুজাহিদের 'আস-সাবআহ' ও অন্যান্য গ্রন্থ পাঠ করেন...
(১) আল-হুসাইনী: "যাইল তাযকিরাতিল হুফফাজ", পৃ. ৩৬।

(২) আয-যাহাবী: "মু'জামুশ শুয়ূখ", খণ্ড ২, পত্র ৩১।

(৩) পূর্বোক্ত উৎস, খণ্ড ২, পত্র ৩৯।

(৪) পূর্বোক্ত উৎস, খণ্ড ২, পত্র ৩৯।

(৫) পূর্বোক্ত উৎস, খণ্ড ২, পত্র ৭৪।

(৬) পূর্বোক্ত উৎস, খণ্ড ২, পত্র ৬৫-৬৬।

(৭) আমার নিকট 'মা'হাদ ইহয়াউল মাখতুতাত' (পাণ্ডুলিপি পুনরুজ্জীবন ইন্সটিটিউট) এর পাণ্ডুলিপির একটি ছায়ালিপি রয়েছে (ক্বিরাত ও তাজভীদ নং ৭৫), যা অত্যন্ত মূল্যবান একটি গ্রন্থ।
(খণ্ড: ১) সিয়ারু আলামিন নুবালা - ত. আর রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ٢٢)
شيخه أبي حفص عمر ابن القواس المتوفى سنة 698 هـ، وسمع " الشاطبية " من غير واحد من القراء (1) .

وتميز الشاب في دراسة القراءات، وبرع فيها براعة جعلت شيخه شمس الدين أبا عبد الله محمد بن عبد العزيز الدمياطي ثم الدمشقي الشافعي، وهو من المقرئين المجودين، يتنازل له عن حلقته بالجامع الأموي في أواخر سنة 692 هـ، أو أوائل سنة 693 هـ، حينما أصابه المرض الذي توفي فيه، وكان الذهبي قد أكمل عليه القراءات قبل ذلك (2) ، فكان هذا أول منصب علمي يتولاه الذهبي فيما نعلم، وإن لم يدم فيه أكثر من سنة واحدة (3) .

ب - الحديث:

وفي الوقت نفسه كان الذهبي، وهو في الثامنة عشرة من عمره، قد مال إلى سماع الحديث، واعتنى به عناية فائقة (4) .

وانطلق في هذا العلم حتى؟ طغى على كل تفكيره، واستغرق كل حياته بعد ذلك، فسمع ما لا يحصى كثرة من الكتب والأجزاء، ولقي كثيرا من الشيوخ والشيخات، وأصيب بالشره في سماع الحديث وقراءته، ورافقه ذلك طيلة حياته، حتى كان يسمع من أناس قد لا يرضى عنهم، قال في ترجمة علاء الدين أبي الحسن علي بن مظفر
(1) انظر مثلا الذهبي: " معجم الشيوخ "، م 2 الورقة 35، 69.

(2) الذهبي: " معجم الشيوخ "، م 2 الورقة 48، توفي شيخه بعد ذلك في صفر من سنة 693 (3) قال الذهبي في ترجمة محمد بن أحمد بن علي شمس الدين أبي عبد الله الرضي الحنفي من معرفة القراء: " ولما سافرت إلى بعلبك، سنة ثلاث وتسعين، وتعوقت بالقراءة على الموفق، وثب على حلقتي، فأخذها لكوني لم أستأذن الحاكم في الغيبة، وهو الآن يقرئ بالجامع " ص 600.

(4) السبكي: " طبقات الشافعية الكبرى "، 9 / 102، والسيوطي: " طبقات الحفاظ "، الورقة 84.
তাঁর উস্তাদ আবু হাফস ওমর ইবনুল কাওয়াস, যিনি ৬৯৮ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন; এবং তিনি একাধিক কারীর নিকট থেকে "আশ-শাতিবিয়্যাহ" শ্রবণ করেন (১)।

এই যুবক কিরাত অধ্যয়নে বিশেষ পারদর্শিতা অর্জন করেন এবং এতে এমন দক্ষতা প্রদর্শন করেন যে, তাঁর উস্তাদ শামসুদ্দিন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ আদ-দামিয়াতি (পরবর্তীতে আদ-দিমাশকি আশ-শাফিয়ি)—যিনি একজন অত্যন্ত দক্ষ তাজবিদবিদ কারী ছিলেন—৬৯২ হিজরির শেষভাগে অথবা ৬৯৩ হিজরির শুরুর দিকে উমাইয়া জামে মসজিদে নিজের পাঠদান চক্রটি (হালকা) তাঁর অনুকূলে ছেড়ে দেন। এটি ছিল সেই সময় যখন তিনি তাঁর মৃত্যুশয্যায় রোগাক্রান্ত ছিলেন। আর যাহাবী এর পূর্বেই তাঁর নিকট কিরাত পাঠ সম্পন্ন করেছিলেন (২)। আমাদের জানামতে এটিই ছিল যাহাবীর অধিষ্ঠিত প্রথম ইলমি পদমর্যাদা, যদিও তিনি সেখানে এক বছরের বেশি সময় স্থায়ী হননি (৩)।

খ - হাদিস:

একই সময়ে যাহাবী আঠারো বছর বয়সে হাদিস শ্রবণের প্রতি অনুরাগী হয়ে ওঠেন এবং এর প্রতি অত্যন্ত গভীর মনোযোগ প্রদান করেন (৪)।

তিনি এই ইলমের পথে এমনভাবে ধাবিত হন যে, এটি তাঁর সমস্ত চিন্তাধারাকে আচ্ছন্ন করে ফেলে এবং পরবর্তী জীবনের সম্পূর্ণ সময় এতে মগ্ন থাকেন। তিনি অগণিত কিতাব ও জুজ (হাদিসের ক্ষুদ্র সংকলন) শ্রবণ করেন এবং অসংখ্য পুরুষ ও নারী শায়খের সাক্ষাৎ লাভ করেন। হাদিস শ্রবণ ও পাঠের ক্ষেত্রে তাঁর মধ্যে এক প্রবল তৃষ্ণা তৈরি হয়েছিল যা সারাজীবন তাঁর সঙ্গী ছিল, এমনকি তিনি এমন ব্যক্তিদের নিকট থেকেও হাদিস শুনতেন যাদের সম্পর্কে তিনি হয়তো সন্তুষ্ট ছিলেন না। আলাউদ্দিন আবু হাসান আলী বিন মুজাফফরের জীবনীতে তিনি বলেছেন—
(১) দেখুন, উদাহরণস্বরূপ, যাহাবী: "মুজামুশ শুয়ুখ", খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৩৫, ৬৯।

(২) যাহাবী: "মুজামুশ শুয়ুখ", খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৪৮; তাঁর উস্তাদ এরপর ৬৯৩ হিজরির সফর মাসে ইন্তেকাল করেন। (৩) যাহাবী 'মা'রিফাতুল কুররা' গ্রন্থে মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আলী শামসুদ্দিন আবু আব্দুল্লাহ আর-রাজি আল-হানাফির জীবনীতে বলেন: "আমি যখন ৬৯৩ হিজরিতে বালবাক সফর করলাম এবং আল-মুওয়াফফাকের নিকট কিরাত পাঠের কারণে সেখানে আটকে গেলাম, তখন তিনি আমার পাঠদান চক্রের ওপর চড়াও হলেন এবং তা দখল করে নিলেন; কারণ আমি প্রস্থান করার জন্য বিচারকের (হাকিম) অনুমতি নিইনি। তিনি বর্তমানে জামে মসজিদে পাঠদান করছেন।" পৃষ্ঠা ৬০০।

(৪) সুবকি: "তাবাকাতুশ শাফিয়িয়্যাহ আল-কুবরা", ৯/১০২; এবং সুয়ুতি: "তাবাকাতুল হুফফাজ", পৃষ্ঠা ৮৪।
(খণ্ড: ১) সিয়ারু আলামিন নুবালা - ত. আর রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ٢٣)
الإسكندراني، ثم الدمشقي، شيخ دار الحديث النفيسية، المتوفى سنة 716 هـ: " ولم يكن عليه ضوء في دينه، حملني الشره على السماع من مثله، والله يسامحه كان يخل بالصلوات، ويرمى بعظائم الأمور (1) "، وقال في ترجمة شيخه شهاب الدين غازي بن عبد الرحمن الدمشقي المتوفى سنة 709 هـ: " وكان ذا سيرة غير محمودة، فالله يعفو عنه، كتب عنه خلق من أبناء البلد " (2) ، وقال في ترجمة شيخه أبي عبد الله محمد بن أحمد المقدسي المتوفى سنة 706 هـ: " فقير مسكين..ورأيتهم يذمونه..روى لنا عن خطيب مردا جزء البطاقة (3) "، وذكر عن شيخه محمود بن يحيى التميمي الدمشقي المتوفى سنة 733 هـ أنه كان " سيء الحال، سفيها (4) "، وقال عن أحد شيوخه: " لا ينبغي الرواية عنه، حكوا لي عنه مصائب (5) "، وقال عن آخر: إنه كان " من عوام الطلبة " (6) ، وقال في ترجمة شيخه محمد بن النصير المؤذن المتوفى سنة 715 هـ: " شويخ عامي سمعنا منه، ولم يكن بذاك (7) "، بل إنه ليذهب به حبه للحديث إلى القراءة على الصم، فقد ذكر في ترجمة شيخه محمود بن محمد الخرائطي الصالحي الأصم المتوفى سنة 716 هـ: " قرأت عليه بأقوى صوتي في أذنه (8) ".
(1) الذهبي: " معجم الشيوخ "، م 2 الورقة 12.

(3) المصدر نفسه، م 2 الورقة 21.

(3) المصدر نفسه، م 2 الورقة 30.

(4) المصدر نفسه، م 2 الورقة 77.

(5) المصدر نفسه، م 1 الورقة 72.

(6) المصدر نفسه، م 2 الورقة 55.

(7) المصدر نفسه، م 2 الورقة 67.

(8) المصدر نفسه، م 2 الورقة 76.
আল-ইসকান্দারানি, অতঃপর আদ-দিমাশকি, দারুল হাদিস আন-নাফিসিয়্যাহ-র শায়খ, যিনি ৭১৬ হিজরিতে ইনতিকাল করেছেন: "তার দ্বীনদারিতে কোনো ঔজ্জ্বল্য ছিল না; তার মতো ব্যক্তির নিকট থেকে শোনার (হাদিস গ্রহণের) লোভ আমাকে প্ররোচিত করেছিল। আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন, তিনি সালাতে অবহেলা করতেন এবং তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করা হতো (১)"। এবং তিনি তার শায়খ শিহাব উদ্দিন গাজি বিন আব্দুর রহমান আদ-দিমাশকি (মৃ. ৭০৯ হি.)-এর জীবনীতে বলেছেন: "তার জীবনবৃত্তান্ত প্রশংসনীয় ছিল না, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন। শহরের বহু লোক তার নিকট থেকে (হাদিস) লিখেছে (২)"। এবং তিনি তার শায়খ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-মাকদিসি (মৃ. ৭০৬ হি.)-এর জীবনীতে বলেছেন: "নিঃস্ব, দরিদ্র... আমি তাদের তাকে নিন্দা করতে দেখেছি... তিনি আমাদের নিকট খতিবে মারদা-র সূত্রে 'জুযউল বীতাকাহ' বর্ণনা করেছেন (৩)"। তিনি তার শায়খ মাহমুদ বিন ইয়াহইয়া আত-তামিমি আদ-দিমাশকি (মৃ. ৭৩৩ হি.) সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি ছিলেন "মন্দ অবস্থা সম্পন্ন ও নির্বোধ (৪)"। তার জনৈক শায়খ সম্পর্কে তিনি বলেছেন: "তার থেকে বর্ণনা করা উচিত নয়; তারা আমার নিকট তার সম্পর্কে আপত্তিকর প্রসঙ্গের কথা জানিয়েছে (৫)"। অন্য একজন সম্পর্কে বলেছেন: তিনি ছিলেন "সাধারণ ছাত্র শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত (৬)"। এবং তার শায়খ মুহাম্মদ বিন আন-নুসাইর আল-মুআযযিন (মৃ. ৭১৫ হি.)-এর জীবনীতে বলেছেন: "একজন সাধারণ বৃদ্ধ, আমরা তার নিকট থেকে শুনেছি, তবে তিনি তেমন উল্লেখযোগ্য ছিলেন না (৭)"। বরং হাদিসের প্রতি তার প্রবল অনুরাগ তাকে বধিরদের নিকট পাঠ করতেও উদ্বুদ্ধ করেছিল। তিনি তার শায়খ মাহমুদ বিন মুহাম্মদ আল-খারাতি আস-সালিহি আল-আসাম (বধির) (মৃ. ৭১৬ হি.)-এর জীবনীতে উল্লেখ করেছেন: "আমি তার কানে আমার সর্বোচ্চ শক্তিতে উচ্চস্বরে পাঠ করেছি (৮)"।
(১) আয-যাহাবি: "মু'জামুশ শুয়ুখ", খণ্ড ২, পত্র ১২।

(৩) একই উৎস, খণ্ড ২, পত্র ২১।

(৩) একই উৎস, খণ্ড ২, পত্র ৩০।

(৪) একই উৎস, খণ্ড ২, পত্র ৭৭।

(৫) একই উৎস, খণ্ড ১, পত্র ৭২।

(৬) একই উৎস, খণ্ড ২, পত্র ৫৫।

(৭) একই উৎস, খণ্ড ২, পত্র ৬৭।

(৮) একই উৎস, খণ্ড ২, পত্র ৭৬।
(খণ্ড: ১) সিয়ারু আলামিন নুবালা - ত. আর রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ٢٤)
‌‌ثالثا - رحلاته في طلب العلم

كان الذهبي يتحسر على الرحلة إلى البلدان الأخرى، لما لذلك من أهمية بالغة في تحصيل علو الإسناد، وقدم السماع، ولقاء الحفاظ، والمذاكرة لهم، والاستفادة عنهم (1) .

إلا أن والده لم يشجعه على الرحلة، بل منعه في بعض الأحيان، قال في ترجمة أبي الفرج عبد الرحمن بن عبد

اللطيف بن محمد بن وريدة البغدادي الحنبلي شيخ المستنصرية " 599 697 (2) هـ ": " وقد هممت بالرحلة إليه، ثم تركته لمكان الوالد (3) "، وقال في ترجمته من " معرفة القراء الكبار ": " وانفرد عن أقرانه، وكنت أتحسر على الرحلة إليه، وما أتجسر خوفا من الوالد، فإنه كان يمنعني (4) "، وقال في ترجمة المكين الأسمر المقرئ الإسكندراني المتوفى سنة 692 هـ: " ولما مات شيخنا الفاضلي، فازددت تلهفا وتحسرا على لقيه، ولم يكن الوالد يمكنني من السفر (5) ".

ولم يكن الذهبي ابنا عاقا يخالف إرادة والده، لا سيما أن آداب طلب العلم تقتضي استئذان الأبوين في الرحلة (6) ، ووجوب طاعتهما وبرهما، وترك الرحلة مع كراهتهما ذلك وسخطهما (7) .

ويبدو لنا أن الذهبي
(1) راجع عن أهمية الرحلة: الخطيب البغدادي: " الجامع لأخلاق الراوي وآداب السامع "، " باب الرحلة في الحديث إلى البلاد النائية للقاء الحفاظ وتحصيل الأسانيد العالية " الورقة 168 169 (نسخة مكتبة البلدية بالإسكندرية 3711 ج 1) .

(2) الدكتور ناجي معروف: " تاريخ علماء المستنصرية "، 1 / 345 342.

(3) الذهبي: " معجم الشيوخ "، م 1 الورقة 74.

(4) الذهبي: " معرفة القراء "، ص 556 وقال في " تاريخ الإسلام ": " وكنت في سنة أربع وتسعين وسنة خمس أتلهف على لقيه، وأتحسر، وما يمكنني الرحلة إليه لمكان الوالد ثم الوالدة " الورقة 268 (أيا صوفيا 3014) .

(5) المصدر نفسه، ص 551 وانظر أمثلة أخرى في " معجم الشيوخ "، م 1 الورقة 5.

(6) الخطيب البغدادي.

" الجامع لأخلاق الراوي "، الورقة 170.

(7) الخطيب البغدادي: " الجامع "، الورقة 175 171.
তৃতীয় - ইলম অন্বেষণে তাঁর সফরসমূহ

ইমাম আয-যাহাবী অন্যান্য দেশে সফরের সুযোগ না পাওয়ায় আক্ষেপ করতেন; কারণ উচ্চতর সনদ (উলুউ আল-ইসনাদ) অর্জন, প্রাচীন শ্রবণ (ক্বিদামুস সামা'), হাফিজগণের সাথে সাক্ষাৎ, ইলমি মুজাকারা এবং তাঁদের থেকে উপকৃত হওয়ার ক্ষেত্রে সফরের অত্যন্ত গুরুত্ব রয়েছে (১)।

তবে তাঁর পিতা তাঁকে সফরের ব্যাপারে উৎসাহিত করতেন না, বরং কোনো কোনো সময় তাঁকে বাধা দিতেন। মুসতানসিরিয়ার শায়খ আবু আল-ফারাজ আবদুর রহমান বিন আবদিল লতিফ বিন মুহাম্মদ বিন ওয়ারিদা আল-বাগদাদী আল-হাম্বলী "৫৯৯-৬৯৭ (২) হি." এর জীবনীতে তিনি বলেন: "আমি তাঁর নিকট সফরের সংকল্প করেছিলাম, কিন্তু পিতার কারণে তা পরিত্যাগ করেছি (৩)"। তিনি তাঁর "মা'রিফাতুল কুররা আল-কিবার" গ্রন্থে তাঁর জীবনীতে আরও বলেন: "তিনি তাঁর সমসাময়িকদের মধ্যে অনন্য ছিলেন। আমি তাঁর নিকট সফরের জন্য আক্ষেপ করতাম, কিন্তু পিতার ভয়ে সাহস পেতাম না; কারণ তিনি আমাকে বাধা দিতেন (৪)"। ৬৯২ হিজরীতে ইন্তেকালকারী আলেকজান্দ্রিয়ার ক্বারী মাকীন আল-আসমার-এর জীবনীতে তিনি বলেন: "যখন আমাদের শায়খ আল-ফাদিলী ইন্তেকাল করলেন, তখন তাঁর সাথে সাক্ষাতের জন্য আমার ব্যাকুলতা ও আক্ষেপ আরও বৃদ্ধি পেল, কিন্তু পিতা আমাকে সফরের অনুমতি দিতেন না (৫)"।

আয-যাহাবী কোনো অবাধ্য সন্তান ছিলেন না যে পিতার ইচ্ছার বিরুদ্ধাচরণ করবেন, বিশেষ করে ইলম অন্বেষণের আদব বা শিষ্টাচার অনুযায়ী সফরের ক্ষেত্রে পিতামাতার অনুমতি গ্রহণ করা আবশ্যক (৬)। তাঁদের আনুগত্য করা ও তাঁদের প্রতি সদাচরণ করা ওয়াজিব; এবং তাঁরা অপছন্দ করলে বা অসন্তুষ্ট হলে সফর ত্যাগ করাই নিয়ম (৭)।

আমাদের কাছে প্রতীয়মান হয় যে আয-যাহাবী
(১) সফরের গুরুত্ব সম্পর্কে দেখুন: আল-খাতীব আল-বাগদাদী: "আল-জামি লি আখলাক্বির রাউয়ি ওয়া আদাবিস সামি", "উচ্চতর সনদ অর্জন ও হাফিজদের সাক্ষাতের জন্য দূরবর্তী দেশগুলোতে হাদীস অন্বেষণে সফর" অধ্যায়, পত্র ১৬৮-১৬৯ (আলেকজান্দ্রিয়া মিউনিসিপ্যাল লাইব্রেরি সংস্করণ ৩৭১১, খণ্ড ১)।

(২) ডক্টর নাজি মারুফ: "তারিখ উলামা আল-মুসতানসিরিয়া", ১/৩৪২-৩৪৫।

(৩) আয-যাহাবী: "মুজামুশ শুয়ুখ", খণ্ড ১, পত্র ৭৪।

(৪) আয-যাহাবী: "মা'রিফাতুল কুররা", পৃষ্ঠা ৫৫৬। তিনি "তারিখুল ইসলাম"-এ বলেন: "আমি চুরানব্বই ও পঁচানব্বই সনে তাঁর সাথে সাক্ষাতের জন্য ব্যাকুল থাকতাম এবং আক্ষেপ করতাম, কিন্তু পিতা ও মাতার কারণে আমার পক্ষে তাঁর নিকট সফর করা সম্ভব হয়নি," পত্র ২৬৮ (আয়া সোফিয়া ৩০১৪)।

(৫) একই উৎস, পৃষ্ঠা ৫৫১ এবং "মুজামুশ শুয়ুখ" খণ্ড ১, পত্র ৫-এ অন্যান্য উদাহরণ দেখুন।

(৬) আল-খাতীব আল-বাগদাদী: "আল-জামি লি আখলাক্বির রাউয়ি", পত্র ১৭০।

(৭) আল-খাতীব আল-বাগদাদী: "আল-জামি", পত্র ১৭১-১৭৫।
(খণ্ড: ১) সিয়ারু আলামিন নুবালা - ত. আর রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ٢٥)
كان وحيد أبيه، أو كان هو البارز بين أبنائه في الأقل (1) ، بحيث كان يخاف عليه هذا الخوف كله.

ويظهر أن والده قد سمع له بالرحلة حينما بلغ العشرين من عمره، وذلك سنة 693 هـ (2) .

على أنه سمح له برحلات قصيرة لا يقيم في كل منها أكثر من أربعة أشهر (3) في الأغلب، ويرافقه فيها بعض من يعتمد عليهم (4) .

أ - رحلاته داخل البلاد الشامية: تشير المصادر إلى رحلات الذهبي عرضا، ولكنها لا تقدم لنا عنها الكثير.

على أننا استطعنا أن نتبين أن أول رحلة له ربما كانت إلى بعلبك سنة 693 هـ (5) حيث قرأ فيها القرآن جمعا على الموفق النصيبي المتوفى سنة 695 هـ (6) ، وأكثر عن المحدث الأديب الإمام تاج الدين أبي محمد المغربي، ثم البعلبكي، المتوفى سنة 696 (7) .

وسوف نجده مرة أخرى في بعلبك سنة 707 (8) هـ، وقد سمع في هاتين الرحلتين على كثير من شيوخ
(1) لم نقف على أخ لمحمد بن أحمد الذهبي في جميع الكتب المطبوعة والمخطوطة التي اطلعنا عليها، مع أن الذهبي كثير العناية بذكر أقربائه.

(2) الذهبي: " معجم الشيوخ "، م 1 الورقة 65.

(3) قال الذهبي في ترجمة شرف الدين أبي الحسين يحيى بن أحمد الجذامي الإسكندراني وكان قد بلغ السابعة والثمانين من عمره، ووجد الذهبي بعض صعوبات وتأخير في قراءة القراءات عليه، فخاف أن يذهب وقته سدى: " وكنت قد وعدت أبي، وحلفت له أني لا أقيم في الرحلة أكثر من أربعة أشهر، فخفت أعقه " " معرفة القراء "، ص 558.

(4) كان والده يرافقه في رحلته إلى حلب سنة 693 هـ وقد سمع معه فيها، وكان رفيقه في رحلته إلى البلاد المصرية سنة 695 ابن أمه في الرضاع داود بن إبراهيم بن داود ابن العطار الفقيه الشافعي، وهو أكبر من الذهبي بثمانية أعوام " معجم الشيوخ "، م 1 الورقة 47) .

(5) الذهبي: " معجم الشيوخ "، 1 / الورقة 65

(6) ابن الجزري: " غاية "، 2 / 71، الذهبي: " معجم الشيوخ "، م 2 الورقة 74.

(7) الذهبي: " معجم الشيوخ "، م 1 الورقة 71، السبكي: " طبقات "، 9 / 102.

(8) الذهبي: " معجم الشيوخ "، م 1 الورقة 52.
তিনি তাঁর পিতার একমাত্র সন্তান ছিলেন, অথবা অন্ততপক্ষে সন্তানদের মধ্যে তিনিই ছিলেন সর্বাধিক প্রসিদ্ধ (১), যার ফলে তাঁর পিতা তাঁর ব্যাপারে এতটা শঙ্কিত থাকতেন।

প্রতীয়মান হয় যে, তিনি যখন বিশ বছর বয়সে উপনীত হন, তখন তাঁর পিতা তাঁকে জ্ঞানার্জনের সফরের অনুমতি দিয়েছিলেন, আর সেটি ছিল ৬৯৩ হিজরি সালে (২)।

তবে তিনি তাঁকে স্বল্পকালীন সফরের অনুমতি দিতেন, যেখানে সাধারণত কোনো সফরেই তিনি চার মাসের বেশি অবস্থান করতেন না (৩), এবং এই সফরগুলোতে তাঁর সঙ্গে নির্ভরযোগ্য কেউ থাকতেন (৪)।

ক - শাম (সিরিয়া) অঞ্চলের অভ্যন্তরে তাঁর সফরসমূহ: উৎসগ্রন্থসমূহ আনুষঙ্গিকভাবে আয-যাহাবীর সফরগুলোর উল্লেখ করে, তবে সেগুলো আমাদের এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করে না।

তা সত্ত্বেও আমরা এটি স্পষ্ট করতে সক্ষম হয়েছি যে, তাঁর প্রথম সফর সম্ভবত ৬৯৩ হিজরি সালে বালবাক অভিমুখে ছিল (৫), যেখানে তিনি মুওয়াফফাক আন-নাসীবী (মৃত্যু ৬৯৫ হি)-এর নিকট ‘জম’ (একত্রিত) পদ্ধতিতে কুরআন তিলাওয়াত করেন (৬)। এছাড়া তিনি মুহাদ্দিস ও সাহিত্যিক ইমাম তাজউদ্দীন আবু মুহাম্মদ আল-মাগরিবী অতঃপর আল-বালবাক্কী (মৃত্যু ৬৯৬ হি)-এর নিকট থেকে প্রচুর হাদিস গ্রহণ করেন (৭)।

আমরা ৭০৭ হিজরি সালে (৮) পুনরায় তাঁকে বালবাকে দেখতে পাই; এই উভয় সফরে তিনি অনেক শায়খের নিকট থেকে শ্রবণ (হাদিস গ্রহণ) করেছেন।
(১) আমরা আমাদের দেখা সকল মুদ্রিত ও পাণ্ডুলিপি গ্রন্থে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আয-যাহাবীর কোনো ভাইয়ের উল্লেখ পাইনি, যদিও যাহাবী তাঁর আত্মীয়স্বজনদের কথা উল্লেখ করার ব্যাপারে অত্যন্ত যত্নশীল ছিলেন।

(২) আয-যাহাবী: "মু'জামুশ শুয়ূখ", খণ্ড ১, পত্র ৬৫।

(৩) আয-যাহাবী শরফুদ্দীন আবুল হুসাইন ইয়াহইয়া ইবনে আহমদ আল-জুজামী আল-ইসকান্দারানীর জীবনীতে—যাঁর বয়স সাতাশি বছর হয়েছিল এবং যাঁর নিকট কিরাত পাঠ করতে গিয়ে যাহাবী কিছুটা অসুবিধা ও বিলম্বের সম্মুখীন হয়েছিলেন এবং তাঁর সময় নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করেছিলেন—বলেছেন: "আমি আমার পিতাকে কথা দিয়েছিলাম এবং তাঁর নিকট কসম করেছিলাম যে, আমি সফরে চার মাসের বেশি অবস্থান করব না; তাই আমি তাঁর অবাধ্য হওয়ার ভয় পাচ্ছিলাম।" "মা'রিফাতুল কুররা", পৃষ্ঠা ৫৫৮।

(৪) ৬৯৩ হিজরি সালে হালাব (আলেপ্পো) সফরের সময় তাঁর পিতা তাঁর সাথে ছিলেন এবং সেখানে তিনিও তাঁর সাথে শ্রবণ করেছেন। আর ৬৯৫ হিজরি সালে মিশর সফরের সময় তাঁর সফরসঙ্গী ছিলেন তাঁর দুধভাই দাউদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে দাউদ ইবনুল আত্তার, যিনি শাফিঈ ফকিহ ছিলেন এবং তিনি আয-যাহাবীর চেয়ে আট বছরের বড় ছিলেন। "মু'জামুশ শুয়ূখ", খণ্ড ১, পত্র ৪৭।

(৫) আয-যাহাবী: "মু'জামুশ শুয়ূখ", ১ / পত্র ৬৫।

(৬) ইবনুল জাযারী: "গায়াহ", ২ / ৭১, আয-যাহাবী: "মু'জামুশ শুয়ূখ", খণ্ড ২, পত্র ৭৪।

(৭) আয-যাহাবী: "মু'জামুশ শুয়ূখ", খণ্ড ১, পত্র ৭১, আস-সুবকী: "তাবাকাত", ৯ / ১০২।

(৮) আয-যাহাবী: "মু'জামুশ শুয়ূখ", খণ্ড ১, পত্র ৫২।
(খণ্ড: ১) সিয়ারু আলামিন নুবালা - ত. আর রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ٢٦)
البلد (1) .

ورحل بعد ذلك إلى حلب، وأكثر فيها عن علاء الدين أبي سعيد سنقر بن عبد الله الأرمني، ثم الحلبي، قال: " رحلت إليه، وأكثرت عنه، ونعم الشيخ كان دينا ومروءة وعقلا وتعففا (2) "، وسمع من جملة من شيوخها (3) .

وتشير المصادر إلى أنه قد سمع ببلدان عديدة منها: حمص (4) ، وحماة (5) ، وطرابلس (6) ، والكرك (7) ، والمعرة (8) ، وبصرى (9) ، ونابلس (10) ، والرملة (11) ، والقدس (12) ، وتبوك (13) .

ب - رحلته إلى البلاد المصرية: على أن رحلة الذهبي إلى البلاد المصرية كانت من أبرز رحلاته
(1) انظر مثلا الذهبي: " معجم الشيوخ "، م 1 الورقة 24، 83، 88، م 2 الورقة 9، 72، 74، 81.

(2) الذهبي: " معجم الشيوخ "، م 1 الورقة 55، و " ذيل العبر "، ص 36، السبكي: " طبقات " 9 / 102، الطباخ: " أعلام النبلاء "، 4 / 540.

(3) انظر مثلا: الذهبي: " معجم الشيوخ "، م 1 الورقة 27، 34، 39، السبكي: " طبقات "، 9 / 102.

(4) الذهبي: " معجم الشيوخ "، م 2 الورقة 63، والصفدي: " الوافي "، 2 / 165.

(5) الذهبي: " معجم الشيوخ "، م 1 الورقة 82، م 2 الورقة 68، 82.

(6) الذهبي: " معجم الشيوخ "، م 1 الورقة 7، 22: 29، م 2 الورقة 6، 9 وذكر أنه نزل في مدرسة القاضي شمس الدين أحمد بن أبي بكر بن منصور الإسكندراني الفقيه قاضي طرابلس

" معجم الشيوخ "، م 1 الورقة 22.

(7) الذهبي: " معجم الشيوخ "، م 1 الورقة 61، م 2 الورقة 16، 43 42 وقد سمع بها سنة 698 من قاضي القضاة عز الدين محمد بن سلمان الحلبي.

(8) الذهبي: " معجم الشيوخ "، م 1 الورقة 89.

(9) الذهبي: " معجم الشيوخ "، م 1 الورقة 83.

(10) الذهبي: " معجم الشيوخ، م 1 الورقة 76، م 2 الورقة 7.

(11) الذهبي: " معجم الشيوخ "، م 1 الورقة 47، والصفدي: " الوافي "، 2 / 165.

(12) الصفدي: " الوافي " 2 / 165.

(13) الذهبي: " معجم الشيوخ "، م 2 الورقة 65.
শহর (১)।

এরপর তিনি আলেপ্পোর (হালাব) উদ্দেশ্যে সফর করেন এবং সেখানে আলাউদ্দিন আবু সাঈদ সুনকুর বিন আব্দুল্লাহ আল-আরমানি, পরবর্তীতে আল-হালাবি থেকে অধিক সংখ্যায় (বর্ণনা) গ্রহণ করেন। তিনি (আয-যাহাবি) বলেন: "আমি তাঁর কাছে সফর করে গিয়েছি এবং তাঁর থেকে প্রচুর বর্ণনা গ্রহণ করেছি। তিনি কতই না চমৎকার শায়খ ছিলেন; তিনি ছিলেন দ্বীনদার, সচ্চরিত্রবান, বুদ্ধিমান এবং পবিত্র স্বভাবের অধিকারী (২)।" এবং তিনি সেখানকার একদল শায়খের নিকট থেকে শ্রুতি (সামা) গ্রহণ করেন (৩)।

বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায় যে, তিনি বহু শহরে জ্ঞান অর্জন করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে: হিমস (৪), হামাত (৫), ত্রিপলি (৬), আল-কারাক (৭), আল-মাআররা (৮), বুসরা (৯), নাবলুস (১০), রামলা (১১), কুদস (১২) এবং তাবুক (১৩)।

খ - মিশর অভিমুখে সফর: যদিও মিশরে আয-যাহাবির সফরটি ছিল তাঁর অন্যতম উল্লেখযোগ্য সফর।
(১) উদাহরণস্বরূপ দেখুন আয-যাহাবি: "মুজামুশ শুয়ুখ", খণ্ড ১, পত্র ২৪, ৮৩, ৮৮; খণ্ড ২, পত্র ৯, ৭২, ৭৪, ৮১।

(২) আয-যাহাবি: "মুজামুশ শুয়ুখ", খণ্ড ১, পত্র ৫৫; এবং "যাইলুল ইবার", পৃষ্ঠা ৩৬; আস-সুবকি: "তাবাকাত" ৯ / ১০২; আত-তাব্বাখ: "আলামুন নুবলা", ৪ / ৫৪০।

(৩) উদাহরণস্বরূপ দেখুন: আয-যাহাবি: "মুজামুশ শুয়ুখ", খণ্ড ১, পত্র ২৭, ৩৪, ৩৯; আস-সুবকি: "তাবাকাত", ৯ / ১০২।

(৪) আয-যাহাবি: "মুজামুশ শুয়ুখ", খণ্ড ২, পত্র ৬৩; এবং আস-সাফাদি: "আল-ওয়াফি", ২ / ১৬৫।

(৫) আয-যাহাবি: "মুজামুশ শুয়ুখ", খণ্ড ১, পত্র ৮২; খণ্ড ২, পত্র ৬৮, ৮২।

(৬) আয-যাহাবি: "মুজামুশ শুয়ুখ", খণ্ড ১, পত্র ৭, ২২: ২৯; খণ্ড ২, পত্র ৬, ৯; এবং তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি ত্রিপলির ফকিহ ও কাজি শামসুদ্দিন আহমাদ বিন আবি বকর বিন মনসুর আল-ইসকান্দারানির মাদরাসায় অবস্থান করেছিলেন।

"মুজামুশ শুয়ুখ", খণ্ড ১, পত্র ২২।

(৭) আয-যাহাবি: "মুজামুশ শুয়ুখ", খণ্ড ১, পত্র ৬১; খণ্ড ২, পত্র ১৬, ৪৩ ৪২। তিনি সেখানে ৬৯৮ হিজরিতে প্রধান বিচারপতি ইজ্জুদ্দিন মুহাম্মদ বিন সালমান আল-হালাবির নিকট থেকে শ্রবণ করেছিলেন।

(৮) আয-যাহাবি: "মুজামুশ শুয়ুখ", খণ্ড ১, পত্র ৮৯।

(৯) আয-যাহাবি: "মুজামুশ শুয়ুখ", খণ্ড ১, পত্র ৮৩।

(১০) আয-যাহাবি: "মুজামুশ শুয়ুখ", খণ্ড ১, পত্র ৭৬; খণ্ড ২, পত্র ৭।

(১১) আয-যাহাবি: "মুজামুশ শুয়ুখ", খণ্ড ১, পত্র ৪৭; এবং আস-সাফাদি: "আল-ওয়াফি", ২ / ১৬৫।

(১২) আস-সাফাদি: "আল-ওয়াফি" ২ / ১৬৫।

(১৩) আয-যাহাবি: "মুজামুশ শুয়ুখ", খণ্ড ২, পত্র ৬৫।
(খণ্ড: ১) সিয়ারু আলামিন নুবালা - ত. আর রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ٢٧)
المبكرة، ويقول الدكتور صلاح الدين المنجد: إنه لا يعرف متى سافر الذهبي إلى مصر، ثم يقول: " ولعل سفره إلى مصر كان بعيد وفاة أبيه سنة 697 هـ، وقد عاد سنة 699 هـ (1) ".

واستند في ذلك على ما نقله ابن حجر عن مشيخة بدر الدين النابلسي الذي قال: " وأول ما ولي تصدير حلقة إقراء بجامع دمشق في أول رواق زكريا عوضا عن شمس الدين العراقي الضرير المقرئ في المحرم سنة 699 هـ بعد رجوعه من رحلته من مصر بقليل (2) ".

وقد استطعنا، نتيجة تتبعنا لنشاط الذهبي أن نحدد رحلته إلى البلاد المصرية، وأنها كانت بين رجب وذي العقدة من سنة 695 هـ، فقد تبين أنه ابتدأ سفرته في رجب سنة 695 هـ متوجها إلى فلسطين، قال في ترجمة شيخته أم محمد سيدة بنت موسى بن عثمان المارانية المصرية المتوفاة سنة 695 هـ: " وقد رحلت إلى لقيها، فماتت وأنا بفلسطين، في رجب سنة خمس وتسعين وست مئة (3) " وقال في ترجمتها من " تاريخ الإسلام ": " كنت أتلهف على لقيها، ورحلت إلى مصر، وعلمي أنها باقية، فدخلت فوجدتها قد ماتت من عشرة أيام..توفيت يوم الجمعة سادس رجب وأنا بوادي فحمة (4) "، وبذلك نستنتج أنه وصل إلى البلاد المصرية في السادس عشر من رجب سنة 695 هـ.

وأول ما افتتح سماعه بمصر على شيخه جمال الدين أبي العباس أحمد ابن محمد بن عبد الله الحلبي المعروف بابن الظاهري (5) " 626 - 696 هـ "،
(1) انظر مقدمته للجزء الذي طبعه من سير أعلام النبلاء، 1 / 18.

(2) ابن حجر: " الدرر "، 3 / 427.

(3) الذهبي: " معجم الشيوخ "، م 1 الورقة 59.

(4) الورقة 246 (أيا صوفيا 3014) ولم يذكر ياقوت وادي فحمة هذا.

(5) كان والده محمد مولى الملك الظاهر صاحب حلب، فنسب إليه.
প্রাথমিক পর্যায়ের, এবং ড. সালাহউদ্দীন আল-মুনাজ্জিদ বলেন: আয-যাহাবী কখন মিশরে ভ্রমণ করেছিলেন তা জানা যায়নি। এরপর তিনি বলেন: "সম্ভবত তার মিশর সফর ছিল ৬৯৭ হিজরিতে তার পিতার মৃত্যুর পরপরই, এবং তিনি ৬৯৯ হিজরিতে ফিরে আসেন (১)।"

তিনি এ বিষয়ে ইবনে হাজার বর্ণিত বদরুদ্দীন আন-নাবলুসীর 'মাশয়াখাহ' (শিক্ষক-তালিকা)-এর ওপর নির্ভর করেছেন, যেখানে বলা হয়েছে: "আর দামেস্কের জামে মসজিদে যাকারিয়া বারান্দার শুরুতে ক্বিরাআত শিক্ষাদানের হালকায় তিনি প্রথম দায়িত্ব গ্রহণ করেন শামসুদ্দীন আল-ইরাকী আদ-দারীর আল-মুকরির স্থলাভিষিক্ত হয়ে, মুহাররম ৬৯৯ হিজরিতে, তার মিশর সফর থেকে ফেরার কিছুদিন পর (২)।"

আমরা আয-যাহাবীর কর্মকাণ্ড অনুসরণ করার ফলে তাঁর মিশর ভ্রমণের সময়কাল নির্ধারণ করতে সক্ষম হয়েছি যে, তা ছিল ৬৯৫ হিজরির রজব থেকে যিলকদ মাসের মধ্যে। এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, তিনি ৬৯৫ হিজরির রজব মাসে ফিলিস্তিনের উদ্দেশে তাঁর যাত্রা শুরু করেন। তিনি তাঁর নারী শিক্ষক উম্মু মুহাম্মদ সায়্যিদাহ বিনতে মুসা বিন উসমান আল-মারানিয়্যাহ আল-মিসরিয়্যাহ (মৃ. ৬৯৫ হি)-এর জীবনীতে বলেছেন: "আমি তাঁর সাথে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলাম, কিন্তু আমি যখন ফিলিস্তিনে ছিলাম তখনই রজব ৬৯৫ হিজরিতে তিনি ইন্তেকাল করেন (৩)।" তিনি 'তারিখুল ইসলাম'-এ তাঁর জীবনীতে আরও বলেছেন: "আমি তাঁর সাথে সাক্ষাতের জন্য ব্যাকুল ছিলাম এবং মিশরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলাম এই জ্ঞানে যে তিনি জীবিত আছেন। কিন্তু আমি যখন সেখানে প্রবেশ করলাম, দেখলাম তিনি দশ দিন আগে ইন্তেকাল করেছেন... তিনি জুমুআর দিন ৬ই রজব ইন্তেকাল করেন যখন আমি ওয়াদি ফাহমাহ-তে ছিলাম (৪)।" এর মাধ্যমে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হই যে, তিনি ১৬ই রজব ৬৯৫ হিজরিতে মিশর ভূখণ্ডে পৌঁছান।

মিশরে তিনি সর্বপ্রথম তাঁর উস্তাদ জামালুদ্দীন আবুল আব্বাস আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-হালাবী—যিনি ইবনুয যাহিরি (৫) (৬২৬ - ৬৯৬ হিজরি) নামে পরিচিত—তাঁর নিকট শ্রবণের (সামা') মাধ্যমে শিক্ষা শুরু করেন।
(১) দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা-র যে খণ্ডটি তিনি সম্পাদনা করেছেন তার ভূমিকা, ১/১৮।

(২) ইবনে হাজার: "আদ-দুরার", ৩/৪২৭।

(৩) আয-যাহাবী: "মুজামুশ শুয়ুখ", ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৫৯।

(৪) পৃষ্ঠা ২৪৬ (আয়া সোফিয়া ৩০১৪); ইয়াকুত এই ওয়াদি ফাহমাহ-র কথা উল্লেখ করেননি।

(৫) তাঁর পিতা মুহাম্মদ ছিলেন হালব-এর অধিপতি আল-মালিকুজ যাহিরের মুক্তদাস, তাই তাঁর প্রতি সম্বন্ধ করে তাঁকে এই নাম দেয়া হয়েছে।
(খণ্ড: ১) সিয়ারু আলামিন নুবালা - ত. আর রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ٢٨)
قال في " تاريخ الإسلام ": " وبه افتتحت السماع في الديار المصرية، وبه اختتمت، وعنده نزلت، وعلى أجزائه اتكلت.

وقد سمع منه علم الدين (يعني البرزالي) أكثر من مئتي جزء (1) "، وقال في ترجمته من " معجم شيوخه ": " ودعته في ذي القعدة سنة خمس وتسعين، فقال لي: قل للجماعة يجعلوني في حل.. (2) ".

وطبيعي أن يرجع الإمام الذهبي في ذي القعدة من السنة لأنه كان قد وعد أباه، وحلف له أنه لا يقيم في الرحلة أكثر من أربعة أشهر، فخاف أن يعقه إذا تأخر (3) .

وقد توفي ابن الظاهري بعد ذلك في ربيع سنة 696 (4) هـ.

وقد ذكر مترجمو الذهبي أنه سمع من الحافظ ابن الظاهري (5) فكيف يصح القول عندئذ أنه سافر بعيد 697 هـ! ؟ وسمع بمصر بعد ذلك من جماعة كبيرة، من أشهر هم: مسند الوقت أبو المعالي أحمد بن إسحاق بن محمد الأبرقوهي (6) المتوفى سنة 701 هـ (7) ، وشيخ الإسلام المجتهد قاضي القضاة تقي الدين أبو الفتح محمد بن علي المعروف بابن
(1) الورقة 257 (أيا صوفيا 3014) .

(2) م 1 الورقة 18.

(3) الذهبي: " معرفة القراء "، ص 558.

(4) الذهبي: " تاريخ الإسلام " الورقة 257 (أيا صوفيا 3014) ، و " معجم الشيوخ " م 1 الورقة 18، ابن الجزري: " تاريخ " م 2 الورقة 60 (باريس 6739) .

(5) أنظر مثلا: السبكي: " طبقات "، 9 / 102، وسبط ابن حجر: " رونق الألفاظ "، الورقة 180.

(6) نسبة إلى (أبرقوه) بلد قرب يزد، ياقوت: " معجم البلدان "، 1 / 85 وقد ولد بها حينما كان أبو قاضيا عليها، الذهبي: " معجم الشيوخ "، م 1 الورقة 5.

(7) الذهبي: " معجم الشيوخ، م 1 الورقة 5 و " ذيل العبر "، ص 18، السبكي: " طبقات "، 9 / 102، ابن حجر: " الدرر " 1 / 110، 3 / 426، سبط ابن حجر: " رونق الألفاظ " (نسخة الخالدية) ، الفاسي: " العقد الثمين "، 3 / 15، ابن تغري بردي: " النجوم "، 8 / 198 و " المنهل الصافي "، 1 / 218 وغيرها.
তিনি "তারিখুল ইসলাম"-এ বলেছেন: "তার মাধ্যমেই আমি মিশরীয় ভূখণ্ডে হাদিস শ্রবণ (সামা') শুরু করেছি এবং তার মাধ্যমেই তা সমাপ্ত করেছি; আমি তার কাছেই অবস্থান নিয়েছি এবং তার সংকলিত খণ্ডগুলোর (হাদিস) ওপরই নির্ভর করেছি।

আর আলম আদ-দীন (অর্থাৎ আল-বিরজালি) তার কাছ থেকে দুইশতেরও বেশি জুজ বা খণ্ড শ্রবণ করেছেন (১)"। তিনি তার "মু'জামু শুয়ুখিহি"-তে তার জীবনীতে বলেছেন: "আমি ৬৯৫ হিজরির যুল-কাদা মাসে তাকে বিদায় জানিয়েছিলাম। তখন তিনি আমাকে বলেছিলেন: জামায়াতকে বলো তারা যেন আমাকে ক্ষমা করে দেয়... (২)"।

ইমাম আয-যাহাবির জন্য সেই বছরের যুল-কাদা মাসেই ফিরে আসাটা ছিল স্বাভাবিক, কারণ তিনি তার পিতাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এবং তার কাছে শপথ করেছিলেন যে, তিনি সফরে চার মাসের বেশি অবস্থান করবেন না; তাই বিলম্ব করলে তার অবাধ্য হওয়ার (পিতার অধিকার ক্ষুণ্ণ হওয়ার) আশঙ্কা করছিলেন তিনি (৩)।

ইবনুল যাহিরি এরপরে ৬৯৬ হিজরির রবিউল মাসে ইন্তেকাল করেন (৪)।

আয-যাহাবির জীবনীকারগণ উল্লেখ করেছেন যে, তিনি হাফেজ ইবনুল যাহিরির কাছে হাদিস শ্রবণ করেছেন (৫), এমতাবস্থায় তিনি ৬৯৭ হিজরির পরে সফর করেছেন—এমন দাবি করা কীভাবে সঠিক হতে পারে!? এরপর তিনি মিশরে এক বিশাল জামায়াতের নিকট হাদিস শ্রবণ করেন, যাদের মধ্যে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ হলেন: মুসনিদুল ওয়াক্ত আবু আল-মাআলি আহমাদ বিন ইসহাক বিন মুহাম্মাদ আল-আবরাকুহি (৬) (মৃত্যু ৭০১ হি.) (৭) এবং শাইখুল ইসলাম মুজতাহিদ কাজিউল কুজাত তাকি আদ-দীন আবু আল-ফাতহ মুহাম্মাদ বিন আলী, যিনি ইবনে... নামে পরিচিত।
(১) পৃষ্ঠা ২৫৭ (আয়া সোফিয়া ৩০১৪)।

(২) ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৮।

(৩) আয-যাহাবি: "মা'রিফাতুল কুররা", পৃষ্ঠা ৫৫৮।

(৪) আয-যাহাবি: "তারিখুল ইসলাম", পৃষ্ঠা ২৫৭ (আয়া সোফিয়া ৩০১৪), এবং "মু'জামুশ শুয়ুখ", ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৮; ইবনুল জাযারি: "তারিখ", ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৬০ (প্যারিস ৬৭৩৯)।

(৫) দেখুন উদাহরণস্বরূপ: আস-সুবকি: "তাবাকাত", ৯/১০২; এবং সিবত ইবনে হাজার: "রওনাকুল আলফাজ", পৃষ্ঠা ১৮০।

(৬) ইয়াজদ-এর নিকটবর্তী শহর 'আবরাকুহ'-এর সাথে সম্পৃক্ত। ইয়াকুত: "মু'জামুল বুলদান", ১/৮৫; যখন তার পিতা সেখানকার কাজী ছিলেন তখন তিনি সেখানে জন্মগ্রহণ করেন। আয-যাহাবি: "মু'জামুশ শুয়ুখ", ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৫।

(৭) আয-যাহাবি: "মু'জামুশ শুয়ুখ", ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৫ এবং "যাইলুল ইবার", পৃষ্ঠা ১৮; আস-সুবকি: "তাবাকাত", ৯/১০২; ইবনে হাজার: "আদ-দুরার", ১/১১০, ৩/৪২৬; সিবত ইবনে হাজার: "রওনাকুল আলফাজ" (খালিদিয়া পাণ্ডুলিপি); আল-ফাসি: "আল-ইকদুস সামিন", ৩/১৫; ইবনে তাগরি বারদি: "আন-নুজুম", ৮/১৯৮ এবং "আল-মানহালুস সাফি", ১/২১৮ এবং অন্যান্য।
(খণ্ড: ১) সিয়ারু আলামিন নুবালা - ত. আর রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ٢٩)
دقيق العيد القشيري المتوفى سنة 702 هـ (1) والعلامة شرف الدين عبد المؤمن بن خلف الدمياطي المتوفى سنة 705 هـ (2) ، وغيرهم (3) .

وفي أثناء وجوده بالبلاد المصرية رحل إلى الإسكندرية، وكان بها في شوال من السنة، قال في ترجمة شيخه أبي الحجاج يوسف بن الحسن التميمي القابسي ثم الإسكندراني: " وكنت في شوال هذه السنة في الإسكندرية وهو حي، وسمعت منه التجريد (4) ".

ويظهر أنه سافر إليها في رمضان لأنه قرأ على صدر الدين سحنون ختمة لورش وحفص، وتوفي شيخه في الرابع من شوال سنة 695 هـ (5) .

وفي ثغر الإسكندرية مضى الذهبي إلى أسند أهلها في القراءات، الإمام شرف الدين أبي الحسين يحيى بن أحمد بن عبد العزيز ابن الصواف الجذامي الإسكندراني المقرئ المشهور " 609 705 (6) هـ " فأدخل عليه، فوجده قد أضر وأصم، وهو في سبع وثمانين سنة، فقرأ عليه جزءا، ورفع صوته، فسمع، ثم كلمه في أن يجمع عليه القراءات
(1) الذهبي: " معجم الشيوخ "، م 2 ورقة 55، و " ذيل العبر "، ص 21، و " تذكرة الحفاظ " 4 / 1484 1481، ابن سيد الناس: " أجوبة "، الورقة 65 (الأسكوريال 1160) ، الأدفوي: " الطالع السعيد "، ص 338 317، الصفدي: " الوافي "، 4 / ص 193، ابن حجر: " رفع الإصر "، الورقة 112 وغيرها.

(2) الذهبي: " معجم الشيوخ "، م 1 الورقة 87، و " تذكرة الحفاظ "، 4 / 1479 1477، ابن شاكر: " فوات "، 2 / 17، ابن كثير: " البداية "، 14 / 40، ابن قاضي شهبة: " منتقى المعجم المختص "، الورقة 162 " (أوقاف) ، الصفدي: " الوافي "، م 17 ورقة 236، و " معجم شيوخه " لخصه وترجمه إلى الفرنسية الأستاذ جورج فايدا وطبع بباريس سنة 1926 م.

وفي خزانة كتبي الجزء الثالث من إحدى نسخه الخطية.

(3) انظر مثلا: الذهبي: " معجم الشيوخ "، م 2 الورقة 21، 42، 64، 96.

(4) الذهبي: " معجم الشيوخ "، م 2 الورقة 25.

(5) الذهبي: " تاريخ الإسلام "، الورقة 247 (أيا صوفيا 3014) .

(6) الذهبي: " ذيل العبر "، ص 32، ابن حجر: " الدرر "، 5 / 186 185، الجزري: " غاية "، 2 / 366، المقريزي: " السلوك "، 2 / قسم 1 ص 21.
৭০২ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী দাক্বিকুল ঈদ আল-কুশায়রী (১) এবং ৭০৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী আল্লামা শারাফুদ্দীন আব্দুল মুমিন বিন খালাফ আদ-দামইয়াতি (২) ও অন্যান্যগণ (৩)।

মিসরীয় ভূখণ্ডে অবস্থানকালে তিনি আলেকজান্দ্রিয়া সফর করেন এবং সেই বছরের শাওয়াল মাসে সেখানে অবস্থান করছিলেন। তিনি তাঁর উস্তাদ আবুল হাজ্জাজ ইউসুফ বিন হাসান আত-তামীমি আল-ক্বাবিসি অতঃপর আল-ইসকান্দারানির জীবনীতে বলেন: "এই বছরের শাওয়াল মাসে আমি আলেকজান্দ্রিয়ায় ছিলাম যখন তিনি জীবিত ছিলেন এবং আমি তাঁর নিকট থেকে 'আত-তাজরিদ' (৪) শ্রবণ করেছি।"

প্রতীয়মান হয় যে, তিনি সেখানে রমজান মাসে ভ্রমণ করেছিলেন, কারণ তিনি সাদরুদ্দীন সাহনুনের নিকট ওয়ারশ ও হাফস (কিরাত) অনুযায়ী এক খতম তিলাওয়াত করেন। আর তাঁর উস্তাদ ৬৯৫ হিজরির ৪ঠা শাওয়াল মৃত্যুবরণ করেন (৫)।

আলেকজান্দ্রিয়া সীমান্তে থাকাকালীন আয-যাহাবি সেখানকার কিরাত শাস্ত্রের উচ্চতর সনদধারী ব্যক্তি, প্রসিদ্ধ কারী ইমাম শারাফুদ্দীন আবুল হুসাইন ইয়াহইয়া বিন আহমদ বিন আব্দুল আজিজ ইবনে সাওয়াফ আল-জুযামি আল-ইসকান্দারানি (৬০৯-৭০৫ হি.) (৬)-এর নিকট গমন করেন। তাঁর নিকট প্রবেশের পর তাঁকে দৃষ্টিহীন ও বধির অবস্থায় পান, তখন তাঁর বয়স ছিল সাতাশি বছর। আয-যাহাবি তাঁর নিকট একটি জুয (অংশ) পাঠ করেন এবং উচ্চস্বরে পাঠ করেন যেন তিনি শুনতে পান। এরপর তিনি তাঁর সাথে কিরাতসমূহ একত্রে পাঠ করার বিষয়ে আলোচনা করেন।
(১) আয-যাহাবি: "মু'জামুশ শুয়ূখ", খণ্ড ২, পত্র ৫৫; এবং "যাইলুল ইবার", পৃষ্ঠা ২১; এবং "তাযকিরাতুল হুফফাজ", ৪/১৪৮১-১৪৮৪; ইবনে সাইয়িদিন নাস: "আযউবিাহ", পত্র ৬৫ (এস্কোরিয়াল ১১৬০); আল-আদফুয়ি: "আত-তালিউস সাঈদ", পৃষ্ঠা ৩১৭-৩৩৮; আস-সাফাদি: "আল-ওয়াফি", ৪/পৃষ্ঠা ১৯৩; ইবনে হাজার: "রাফ'উল ইসর", পত্র ১১২ এবং অন্যান্য।

(২) আয-যাহাবি: "মু'জামুশ শুয়ূখ", খণ্ড ১, পত্র ৮৭; এবং "তাযকিরাতুল হুফফাজ", ৪/১৪৭৭-১৪৭৯; ইবনে শাকির: "ফাওয়াত", ২/১৭; ইবনে কাসির: "আল-বিদায়াহ", ১৪/৪০; ইবনে কাদি শুহবাহ: "মুনতাক্বাল মু'জামিল মুখতাস", পত্র ১৬২ (আওক্বাফ); আস-সাফাদি: "আল-ওয়াফি", খণ্ড ১৭, পত্র ২৩৬; এবং "মু'জামু শুয়ূখিহি", যা অধ্যাপক জর্জ ভাইদা ফরাসি ভাষায় সংক্ষেপন ও অনুবাদ করেছেন এবং ১৯২৬ সালে প্যারিসে মুদ্রিত হয়েছে।

আমার ব্যক্তিগত লাইব্রেরিতে এর একটি পাণ্ডুলিপির তৃতীয় খণ্ড সংরক্ষিত আছে।

(৩) উদাহরণস্বরূপ দেখুন: আয-যাহাবি: "মু'জামুশ শুয়ূখ", খণ্ড ২, পত্র ২১, ৪২, ৬৪, ৯৬।

(৪) আয-যাহাবি: "মু'জামুশ শুয়ূখ", খণ্ড ২, পত্র ২৫।

(৫) আয-যাহাবি: "তারিখুল ইসলাম", পত্র ২৪৭ (আয়া সোফিয়া ৩০১৪)।

(৬) আয-যাহাবি: "যাইলুল ইবার", পৃষ্ঠা ৩২; ইবনে হাজার: "আদ-দুরার", ৫/১৮৫-১৮৬; আল-জাযারি: "গায়াহ", ২/৩৬৬; আল-মাকরিজি: "আস-সুলূক", ২/অংশ ১, পৃষ্ঠা ২১।
(খণ্ড: ১) সিয়ারু আলামিন নুবালা - ত. আর রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ٣٠)
السبع، فوافق، وبدأ الذهبي بالقراءة، فقرأ عليه الفاتحة وآيات من البقرة والشيخ يرد الخلاف، ويرد رواية يعقوب وغيره، ولما ذكر له الذهبي أن قصده القراءة بالسبع حسب، تخيل الشيخ منه نقص المعرفة، وطلب منه أن يذهب إلى أحد تلامذته، قال الذهبي: " وزهدني فيه أني كنت لا أدخل عليه إلا بمشقة وأمنع، ويؤذن لي مرة، وأيضا فكنت لا أقرأ ربع حزب جمعا، حتى ينقطع صوتي لمكان صممه " فخاف الذهبي ضياع الوقت القصير، فتركه (1) ، وذهب إلى الإمام المقرئ صدر الدين أبي القاسم عبد الرحمن بن عبد الحليم بن عمران الدكالي المعروف بسحنون " 610 - 695 هـ (2) " وكان قد ضعف وأضر، فختم عليه بقراءتي ورش وحفص، في مدة أحد عشر يوما مع جماعة من رفاقه (3) .

وسمع بالإسكندرية من جملة من علمائها المتميزين (4) من أبرزهم: تاج الدين أبو الحسن علي بن أحمد بن عبد المحسن الهاشمي الحسيني الواسطي الغرافي ثم الإسكندراني " 628 - 704 هـ " شيخ دار الحديث النبيهية بالإسكندرية (5) كما رحل إلى بلبيس، وسمع بها (6) .

لقد كانت هذه الرحلة قصيرة، وكان الذهبي يجهد نفسه في قراءة أكبر كمية ممكنة على شيوخ تلك البلاد، فقد ذكر مثلا أنه قرأ جميع سيرة ابن هشام على شيخه أبي المعالي الأبرقوهي في سنة أيام فقط (7) .
(1) الذهبي: " طبقات القراء "، ص 558، و " معجم الشيوخ "، م 2 الورقة 84.

(2) الذهبي، " معجم الشيوخ "، م 1 الورقة 73.

(3) الذهبي: " تاريخ الإسلام "، الورقة 247 (أيا صوفيا 3014) و " معرفة القراء " ص 555.

(4) انظر مثلا " معجم الشيوخ "، م 1 الورقة 21، 22، 75، 86، م 2 الورقة 17، 60، 74، 83، 85.

(5) الذهبي: " معجم الشيوخ "، م 2 الورقة 3 2، و " ذيل العبر "، ص 3 28 "، الحسيني: " ذيل تذكرة الحفاظ "، ص 94، ابن حجر: " الدرر "، ج 3 ص 86 85، المقريزي: " السلوك "، 2 / ص 13. وانظر أيضا: السبكي: " طبقات "، 9 / 102.

(6) الصفدي: " الوافي "، 2 / 164.

(7) الذهبي: " تاريخ الإسلام "، الورقة 135 (أيا صوفيا 3007) .
সাত ক্বিরাত অনুযায়ী (পড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলে) তিনি সম্মত হলেন এবং যাহাবি তিলাওয়াত শুরু করলেন। তিনি তাঁর নিকট সূরা আল-ফাতিহা ও সূরা আল-বাকারার কিছু আয়াত পাঠ করেন। শাইখ বিভিন্ন মতভেদসমূহ এবং ইয়াকুব ও অন্যদের রেওয়ায়াত খণ্ডন বা আলোচনা করতে থাকেন। যখন যাহাবি তাঁকে জানালেন যে তাঁর উদ্দেশ্য কেবল সাত ক্বিরাত অনুযায়ী তিলাওয়াত করা, তখন শাইখ তাঁর জ্ঞানের স্বল্পতা ধারণা করে তাকে তাঁর একজন ছাত্রের কাছে যাওয়ার নির্দেশ দিলেন। যাহাবি বলেন: "তাঁর ব্যাপারে আমার অনাগ্রহের কারণ ছিল যে, অত্যন্ত কষ্ট ছাড়া আমি তাঁর নিকট প্রবেশ করতে পারতাম না এবং আমাকে বাধা দেওয়া হতো, কখনোবা আমাকে অনুমতি দেওয়া হতো। তদুপরি, তাঁর বধিরতার কারণে আমি চিৎকার করে পড়ার ফলে আমার কণ্ঠস্বর ভেঙে না যাওয়া পর্যন্ত আমি আধ পারার এক-চতুর্থাংশও জমা করে পড়তে পারতাম না।" ফলে যাহাবি স্বল্প সময় অপচয় হওয়ার ভয়ে তাঁকে ত্যাগ করলেন (১), এবং ইমাম আল-মুক্বরি সদরুদ্দিন আবুল কাসিম আবদুর রহমান বিন আব্দুল হালিম বিন ইমরান আদ-দুক্কালি—যিনি 'সাহনুন' নামে পরিচিত ছিলেন (৬১০ - ৬৯৫ হিজরি) (২)—তাঁর নিকট গমন করেন। তিনি বার্ধক্যজনিত কারণে দুর্বল ও দৃষ্টিশক্তিহীন হয়ে পড়েছিলেন। যাহাবি তাঁর নিকট তাঁর একদল সহপাঠীসহ (৩) ওয়ারশ ও হাফস—এই দুই রেওয়ায়াত অনুযায়ী এগারো দিনের মধ্যে খতম সম্পন্ন করেন।

আলেকজান্দ্রিয়ায় তিনি সেখানকার বিশিষ্ট একদল আলিমের (৪) নিকট থেকে ইলম শ্রবণ করেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন: তাজউদ্দীন আবুল হাসান আলী বিন আহমাদ বিন আব্দুল মুহসিন আল-হাশেমি আল-হুসাইনি আল-ওয়াসিতি আল-গুরাফি, যিনি পরবর্তীতে আল-আলেকজান্দ্রি নামে পরিচিত হন (৬২৮ - ৭০৪ হিজরি); তিনি আলেকজান্দ্রিয়ার দারুল হাদিস আন-নাবিহিইয়্যাহ-এর শাইখ ছিলেন (৫)। তদ্রূপ তিনি বিলবাইস সফর করেন এবং সেখানেও ইলম শ্রবণ করেন (৬)।

এই সফরটি ছিল সংক্ষিপ্ত, তবে যাহাবি ওই অঞ্চলের শাইখদের নিকট যতটা সম্ভব অধিক পরিমাণ কিতাব পড়ার আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন। উদাহরণস্বরূপ তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি তাঁর শাইখ আবুল মাআলি আল-আবরাকুহির নিকট মাত্র ছয় দিনে ইবনে হিশামের পুরো সীরাত পাঠ সম্পন্ন করেছিলেন (৭)।
(১) আল-যাহাবি: "ত্ববাক্বাতুল কুররা", পৃ. ৫৫৮; এবং "মু'জামুশ শুয়ুখ", খণ্ড ২, পত্র ৮৪।

(২) আল-যাহাবি, "মু'জামুশ শুয়ুখ", খণ্ড ১, পত্র ৭৩।

(৩) আল-যাহাবি: "তারিখুল ইসলাম", পত্র ২৪৭ (আইয়া সোফিয়া ৩০১৪) এবং "মা'রিফাতুল কুররা", পৃ. ৫৫৫।

(৪) উদাহরণস্বরূপ দেখুন: "মু'জামুশ শুয়ুখ", খণ্ড ১, পত্র ২১, ২২, ৭৫, ৮৬; খণ্ড ২, পত্র ১৭, ৬০, ৭৪, ৮৩, ৮৫।

(৫) আল-যাহাবি: "মু'জামুশ শুয়ুখ", খণ্ড ২, পত্র ৩২; এবং "যাইলুল ইবার", পৃ. ৩২৮; আল-হুসাইনি: "যাইলু তাযকিরাতিল হুফফাজ", পৃ. ৯৪; ইবনে হাজার: "আদ-দুরার", খণ্ড ৩, পৃ. ৮৫-৮৬; আল-মাকরিজি: "আস-সুলুক", ২ / পৃ. ১৩। আরও দেখুন: আস-সুবকি: "ত্ববাক্বাত", ৯ / ১০২।

(৬) আস-সাফাদি: "আল-ওয়াফি", ২ / ১৬৪।

(৭) আল-যাহাবি: "তারিখুল ইসলাম", পত্র ১৩৫ (আইয়া সোফিয়া ৩০০৭)।
(খণ্ড: ১) সিয়ারু আলামিন নুবালা - ত. আর রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ٣١)
ج - رحلته للحج وسماعه هناك:

وفي سنة 698 هـ، أي بعيد وفاة والده رحل الذهبي للحج، قال في حوادث السنة من " تاريخ الإسلام ": وحج بنا الأمير شمس الدين العينتابي (1) "، وكان يرافقه في حجه جماعة من أصحابه وشيوخه (2) ، منهم شيخ دار الحديث بالمدرسة المستنصرية (3) العالم المسند أبو عبد الله محمد ابن عبد المحسن المعروف بابن الخراط الحنبلي " 728 - 638 هـ "، وكان ابن الخراط قد قدم دمشق في تلك السنة، وجلس للوعظ بدمشق في شهر رمضان (4) ، قال الذهبي: " ورافقنا في الحج، فسمعت منه بالعلى ومعان كتاب " الفرج بعد الشدة " (5) .

وقد سمع بمكة (6) ، وعرفة (7) ، ومنى (8) ، والمدينة (9) من مجموعة من الشيوخ.
(1) الذهبي: " تاريخ الإسلام "، الورقة 333 (أيا صوفيا 3014) .

(2) انظر مثلا: " معجم الشيوخ "، م 1 الورقة 72، م 2 الورقة 16.

(3) الدكتور ناجي معروف: " تاريخ علماء المستنصرية "، 1 / 360 354.

(4) ذكر ذلك علم الدين البرزالي المتوفى سنة 639 هـ ابن رجب: " الذيل "، 2 / 385 والذهبي في " معجم شيوخه "، م 2 الورقة 50.

(5) الذهبي: " معجم الشيوخ "، م 2 الورقة 50 والكتاب المذكور للتنوخي كما هو معروف.

(6) السبكي: " طبقات "، 9 / 102.

(7) الذهبي: " معجم الشيوخ " م 1 الورقة 80.

(8) الذهبي: " معجم الشيوخ " م 1 الورقة 83، 84.

(9) الذهبي: " معجم الشيوخ "، م 2 الورقة 50.
গ - তাঁর হজ্জ সফর এবং সেখানে গ্রন্থ শ্রবণ:

৬৯৮ হিজরি সনে, অর্থাৎ তাঁর পিতার মৃত্যুর অব্যবহিত পরেই আয-যাহাবী হজ্জের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। তিনি "তারিখুল ইসলাম" গ্রন্থের সেই বছরের ঘটনাবলীতে বলেন: "আমীর শামসুদ্দীন আল-আইনতাবি আমাদের নিয়ে হজ্জ পালন করেন (১)", এবং এই হজ্জ সফরে তাঁর সাথে তাঁর কতিপয় সহচর ও শিক্ষক (২) সঙ্গী ছিলেন; তাঁদের মধ্যে মুসতানসিরিয়া মাদ্রাসার (৩) দারুল হাদিসের শায়খ, প্রখ্যাত মুসনিদ আলিম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল মুহসিন, যিনি ইবনুল খাররাত আল-হাম্বলি (৬৩৮ - ৭২৮ হি.) নামে পরিচিত, অন্যতম ছিলেন। ইবনুল খাররাত সেই বছর দামেস্কে এসেছিলেন এবং রমজান মাসে সেখানে ওয়ায-নসিহতের মজলিসে বসেছিলেন (৪)। আয-যাহাবী বলেন: "তিনি হজ্জে আমাদের সঙ্গী হয়েছিলেন এবং আমি আল-উলা ও মাআনে তাঁর নিকট 'আল-ফারাজ বা'দাশ শিদ্দাহ' (৫) গ্রন্থটি শ্রবণ করি।"

তিনি মক্কা (৬), আরাফা (৭), মিনা (৮) এবং মদিনায় (৯) একদল শায়খের নিকট থেকে শ্রবণ (শিক্ষা লাভ) করেছেন।
(১) আয-যাহাবী: "তারিখুল ইসলাম", পত্র ৩৩৩ (আয়া সোফিয়া ৩০১৪)।

(২) দেখুন উদাহরণস্বরূপ: "মু'জামুশ শুয়ুখ", ১ম খণ্ড, পত্র ৭২; ২য় খণ্ড, পত্র ১৬।

(৩) ডক্টর নাজি মারুফ: "তারিখু উলামাইল মুসতানসিরিয়া", ১ / ৩৫৪-৩৬০।

(৪) এটি উল্লেখ করেছেন ইলমুদ্দীন আল-বারজালি (মৃত্যু ৬৩৯ হি.); ইবনে রজব: "আয-যাইল", ২ / ৩৮৫ এবং আয-যাহাবী তাঁর "মু'জামু শুয়ুখিহি", ২য় খণ্ড, পত্র ৫০-এ।

(৫) আয-যাহাবী: "মু'জামুশ শুয়ুখ", ২য় খণ্ড, পত্র ৫০; আর উল্লেখিত গ্রন্থটি আত-তানুখীর রচনা হিসেবে সুপরিচিত।

(৬) আস-সুবকি: "তাবাকাত", ৯ / ১০২।

(৭) আয-যাহাবী: "মু'জামুশ শুয়ুখ", ১ম খণ্ড, পত্র ৮০।

(৮) আয-যাহাবী: "মু'জামুশ শুয়ুখ", ১ম খণ্ড, পত্র ৮৩, ৮৪।

(৯) আয-যাহাবী: "মু'জামুশ শুয়ুখ", ২য় খণ্ড, পত্র ৫০।
(খণ্ড: ১) সিয়ারু আলামিন নুবালা - ত. আর রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ٣٢)
‌‌رابعا - طبيعة دراساته

لم ينقطع الذهبي طيلة حياته عن الدراسة والسماع لا يشغله عنهما شاغل، تدل على ذلك معجمات شيوخه لا سيما " المعجم الكبير ".

وكانت دراسته وسماعاته متنوعة لم تقتصر على القراءات والحديث.

وقد عني بدراسة النحو، فسمع " الحاجبية " في النحو على شيخه موفق الدين أبي عبد الله محمد بن أبي العلاء النصيبي البعلبكي المتوفى سنة 695 هـ (1) .

ودرس على شيخ العربية، وإمام أهل الأدب في مصر آنذاك الشيخ بهاء الدين محمد بن إبراهيم المعروف بابن النحاس المتوفى سنة 698 هـ (2) .

إضافة إلى سماعه لعدد كبير من مجاميع الشعر واللغة والآداب (3) .

واهتم بالكتب التاريخية، فسمع عددا كبيرا منها على شيوخه، في المغازي (4) ، والسيرة (5) ، والتاريخ العام (6) ، ومعجمات الشيوخ والمشيخات (7) ، وكتب التراجم الأخرى (8) .
(1) الذهبي: " معجم الشيوخ "، م 2 الورقة 74.

(2) المصدر نفسه، م 2 الورقة 30، " وتاريخ الإسلام "، الورقة 287 (أيا صوفيا 3014) .

(3) انظر مثلا " تاريخ الإسلام "، 3 / 65 (مطبوعة) والورقة 117 (أحمد الثالث 2917 / 9) والورقة 157 (أيا صوفيا 3008) والورقة 49 (أحمد الثالث 2917 / 10) " ومعجم الشيوخ " م 2 الورقة 50.

(4) انظر مثلا " تاريخ الإسلام "، 6 / 133 (مطبوعة) .

(5) انظر مثلا " تاريخ الإسلام "، الورقة 135 (أيا صوفيا 3007) .

(6) المصدر نفسه، مثلا الورقة 198 (حلب) .

(7) انظر مثلا " معجم الشيوخ " م 1، الورقة 15، 22، 26، 28، 33، 42، 46، 55، 80 م 2 الورقة 9، 10، 50، 71، 100، " وتاريخ الإسلام "، الورقة 96 (أيا صوفيا 3008) والورقة 22 (أيا صوفيا 3009) والورقة 4 (أحمد الثالث 2917 / 10) والورقة 185 (أحمد الثالث 2917 / 11) .

(8) مثلا " تاريخ الإسلام " الورقة 68، 79 (أيا صوفيا 3002) وغيرها.
চতুর্থ - তাঁর অধ্যয়নের প্রকৃতি

আয-যাহাবী তাঁর সমগ্র জীবনে অধ্যয়ন ও শ্রবণ (সিমায়াত) থেকে বিচ্যুত হননি এবং কোনো ব্যস্ততাই তাঁকে এ কাজ থেকে বিরত রাখতে পারেনি। তাঁর উস্তাদদের জীবনী-অভিধানসমূহ, বিশেষ করে "আল-মু'জাম আল-কাবীর" এর উজ্জ্বল প্রমাণ বহন করে।

তাঁর অধ্যয়ন ও শ্রবণসমূহ ছিল বৈচিত্র্যময়, যা কেবল কিরাত ও হাদিস শাস্ত্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না।

তিনি ব্যাকরণ (নাহু) শাস্ত্র অধ্যয়নেও বিশেষ যত্নবান ছিলেন। তিনি তাঁর উস্তাদ মুওয়াফফাকুদ্দিন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে আবিল আলা আন-নাসিবি আল-বালাবাক্কি (মৃত্যু ৬৯৫ হিজরি)-এর নিকট ব্যাকরণ শাস্ত্রের "আল-হাজিবিয়্যাহ" শ্রবণ করেন (১)।

এছাড়াও তিনি তৎকালীন মিশরের আরবি ভাষার পণ্ডিত এবং সাহিত্যিকদের ইমাম শায়খ বাহাউদ্দিন মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহিম, যিনি ইবনুন নাহহাস (মৃত্যু ৬৯৮ হিজরি) নামে পরিচিত ছিলেন, তাঁর নিকট অধ্যয়ন করেন (২)।

এর পাশাপাশি তিনি কাব্য, ভাষা ও সাহিত্যের বিশাল সংখ্যক সংকলন শ্রবণ করেছিলেন (৩)।

তিনি ইতিহাসবিষয়ক গ্রন্থাবলির প্রতিও বিশেষভাবে মনোযোগী ছিলেন। তিনি তাঁর উস্তাদদের নিকট মাগাজি (যুদ্ধাভিযান) (৪), সিরাত (৫), সাধারণ ইতিহাস (৬), উস্তাদদের জীবনী-অভিধান ও মাশইয়াখাত (৭) এবং অন্যান্য জীবনীগ্রন্থের (৮) এক বিশাল অংশ শ্রবণ করেন।
(১) আয-যাহাবী: "মু'জামুশ শুয়ুখ", ২য় খণ্ড, পত্র ৭৪।

(২) একই উৎস, ২য় খণ্ড, পত্র ৩০, এবং "তারিখুল ইসলাম", পত্র ২৮৭ (আইয়া সোফিয়া ৩০১৪)।

(৩) দেখুন উদাহরণস্বরূপ: "তারিখুল ইসলাম", ৩/৬৫ (মুদ্রিত) এবং পত্র ১১৭ (আহমদ আস-সালিছ ২৯১৭/৯), পত্র ১৫৭ (আইয়া সোফিয়া ৩০০৮), পত্র ৪৯ (আহমদ আস-সালিছ ২৯১৭/১০) এবং "মু'জামুশ শুয়ুখ", ২য় খণ্ড, পত্র ৫০।

(৪) দেখুন উদাহরণস্বরূপ: "তারিখুল ইসলাম", ৬/১৩৩ (মুদ্রিত)।

(৫) দেখুন উদাহরণস্বরূপ: "তারিখুল ইসলাম", পত্র ১৩৫ (আইয়া সোফিয়া ৩০০৭)।

(৬) একই উৎস, উদাহরণস্বরূপ: পত্র ১৯৮ (আলেপ্পো)।

(৭) দেখুন উদাহরণস্বরূপ: "মু'জামুশ শুয়ুখ", ১ম খণ্ড, পত্র ১৫, ২২, ২৬, ২৮, ৩৩, ৪২, ৪৬, ৫৫, ৮০; ২য় খণ্ড, পত্র ৯, ১০, ৫০, ৭১, ১০০; এবং "তারিখুল ইসলাম", পত্র ৯৬ (আইয়া সোফিয়া ৩০০৮), পত্র ২২ (আইয়া সোফিয়া ৩০০৯), পত্র ৪ (আহমদ আস-সালিছ ২৯১৭/১০) এবং পত্র ১৮৫ (আহমদ আস-সালিছ ২৯১৭/১১)।

(৮) উদাহরণস্বরূপ: "তারিখুল ইসলাম", পত্র ৬৮, ৭৯ (আইয়া সোফিয়া ৩০০২) এবং অন্যান্য।