(খণ্ড: ১) আল ওয়াহইউ ওয়াল ইনসান - কিরায়াতুন মা'রিফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
الوحي والإنسان - قراءة معرفية   (محمد السيد الجليند)

القسم: العقيدة


الكتاب: الوحي والإنسان - قراءة معرفية

المؤلف: محمد السيد الجليند

الناشر: دار قباء للطباعة والتشر والتوزيع (القاهرة)

عدد الصفحات: 238

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ওহী ও মানুষ - একটি জ্ঞানতাত্ত্বিক পাঠ   (মুহাম্মদ আস-সাইয়্যিদ আল-জুলিন্দ)

বিভাগ: আকিদাহ


গ্রন্থ: ওহী ও মানুষ - একটি জ্ঞানতাত্ত্বিক পাঠ

লেখক: মুহাম্মদ আস-সাইয়্যিদ আল-জুলিন্দ

প্রকাশক: দার কুবাহ মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণ (কায়রো)

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৩৮

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সংগতিপূর্ণ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল ওয়াহইউ ওয়াল ইনসান - কিরায়াতুন মা'রিফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌مقدمة

…

تقديم:

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستهديه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، وصلى الله وسلم وبارك على سيدنا محمد النبي الأمي وعلى آله وصحبه وسلم أجمعين.

هذا هو العدد السادس من سلسلة تصحيح المفاهيم أردت فيه أن أوضح طبيعة العلاقة بين الوحي والإنسان، بين الوحي والكون، بين الوحي والعلم خلال قراءة معرفية نستوضح خلالها منهج القرآن الكريم في بناء الموقف المعرفي المؤسس على عالم الشهادة بعناصره الحسية يستنبط منه ويستنبط به مبدأ الضرورة العقلية؛ لينطلق منه لتأسيس ما يسمى بقوانين المعرفة.

وفي هذا الموقف يؤكد الوحي على مسئولية الإنسان عن وحدة المعرفة وتحصيل أهدافها ومقاصدها حيث يكون الإنسان هو الذات العارفة، وهو المالك لوسائل المعرفة وهو باعتباره جزءا من عالم الشهادة موضوع لهذه المعرفة، وحين تتوحد عناصر الموقف المعرفي في الإنسان تتحدد مسئوليته عن تحقيق أهداف هذه المعرفة ومسئوليته عن حسن توظيف موضوعها وأدواتها ليحسن في النهاية تحقيق الأهداف وتحصيل المقاصد، حيث يقوده اليقين بعالم الشهادة إلى الإيمان بعالم الغيب، ويقوده اليقين المعرفي بأن من يخلق من العدم هو أقدر على أن يعيد الخلق مرة ثانية، وحين يقرأ معنى العناية
ভূমিকা

…

উপস্থাপনা:

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি, তাঁরই নিকট হিদায়াত যাচ্ঞা করি এবং তাঁরই কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আমাদের নেতা উম্মী নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর সালাত, সালাম ও বরকত বর্ষিত হোক।

এটি ‘ধারণাসমূহ সংশোধন’ সিরিজের ষষ্ঠ সংখ্যা। এতে আমি ওহী ও মানুষ, ওহী ও মহাবিশ্ব এবং ওহী ও বিজ্ঞানের মধ্যকার সম্পর্কের প্রকৃতি স্পষ্ট করতে চেয়েছি। এটি একটি জ্ঞানতাত্ত্বিক পর্যালোচনার মাধ্যমে করা হয়েছে, যার মাধ্যমে আমরা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য উপাদানসমৃদ্ধ দৃশ্যমান জগতের ওপর ভিত্তি করে কুরআনুল কারীমের জ্ঞানতাত্ত্বিক অবস্থান গঠনের পদ্ধতিটি স্পষ্ট করব। এখান থেকেই বুদ্ধিবৃত্তিক অপরিহার্যতার নীতিটি আহরিত হয়, যেন তা থেকে ‘জ্ঞানের নিয়মাবলি’ নামক বিষয়টি প্রতিষ্ঠার সূচনা করা যায়।

এই অবস্থানে ওহী জ্ঞানের একতা রক্ষা এবং এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ অর্জনে মানুষের দায়িত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করে। এখানে মানুষ হলো সেই সত্তা যে জানে (জ্ঞাতা), সে জ্ঞানের উপায়সমূহের অধিকারী এবং দৃশ্যমান জগতের অংশ হিসেবে সে নিজেও এই জ্ঞানের বিষয়বস্তু। যখন মানুষের মধ্যে জ্ঞানতাত্ত্বিক অবস্থানের উপাদানগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়, তখন এই জ্ঞানের লক্ষ্যসমূহ বাস্তবায়ন এবং এর বিষয়বস্তু ও উপকরণগুলোর সঠিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে তার দায়িত্ব নির্ধারিত হয়, যাতে পরিশেষে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ সুচারুভাবে অর্জিত হয়। কেননা দৃশ্যমান জগত সম্পর্কে নিশ্চিত জ্ঞান তাকে অদৃশ্যের জগতের প্রতি ঈমানের দিকে পরিচালিত করে। আর জ্ঞানতাত্ত্বিক এই দৃঢ় প্রত্যয় তাকে এই বোধ দান করে যে, যিনি শূন্য থেকে সৃষ্টি করেছেন তিনি পুনরায় সৃষ্টি করতে অধিকতর সক্ষম। আর যখন সে পরম যত্নের তাৎপর্য পাঠ করে...
(খণ্ড: ১) আল ওয়াহইউ ওয়াল ইনসান - কিরায়াতুন মা'রিফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
الإلهية الشائعة في كل أفراد عالم الشهادة يؤمن أن لهذا الوجود معنى وللخالق فيه حكمة وغاية، فينفي القول بالعبثية أو المصادفة.

قال تعالى: {وَمَا خَلَقْنَا السَّمَاءَ وَالْأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا لاعِبِينَ} .

وقال سبحانه: {لَوْ أَرَدْنَا أَنْ نَتَّخِذَ لَهْوًا لاتَّخَذْنَاهُ مِنْ لَدُنَّا إِنْ كُنَّا فَاعِلِينَ} .

هي قراءة معرفية لعلاقة الوحي بالإنسان وموقف الإنسان من الوحي وقضاياه، وهي قراءة لعلاقة الوحي بالعلم وهي قراءة لمطلب الوحي من الإنسان في التعرف على الكون وما فيه.

حاولت فيها أن أبتعد عن التأنق في الأسلوب واختيار الألفاظ؛ لأنها كانت قراءة لحظية آنية بنت ظروفها العارضة، لفت انتباهي إلى أهمية هذه القراءة الحوار الذي كان يدور في لقاءات الجمعية الفلسفية المصرية وما يثار فيها من مشكلات كانت تصل أحيانا إلى حد اعتبار أن الإيمان بالغيب أمر وهمي، وأن "الله" أو كما يسمونه "بالمطلق" أمر لا يقبل العقل الحديث عنه، إنما هي خرافات تعوق حرية العقل والإبداع، وقد نشر ذلك في بعض الدوريات الثقافية، مما يدل على أن هذا الموقف المعرفي يحتاج إلى تجلية بعض المسائل وتوضيح مفهوم هذه العلاقة التي قد ينكرها البعض كلية وهذا حاصل في واقعنا الثقافي، وقد لا يدرك طبيعتها البعض الآخر. وهذا أيضا حاصل في واقعنا الثقافي. وقد يختلف البعض معنا في هذه القراءة
দৃশ্যমান জগতের প্রতিটি অনুতে পরিব্যাপ্ত ঐশ্বরিকতা বিশ্বাস করে যে, এই অস্তিত্বের একটি অর্থ রয়েছে এবং এতে স্রষ্টার প্রজ্ঞা ও উদ্দেশ্য নিহিত। ফলে এটি নিরর্থকতা বা আকস্মিকতার মতবাদকে প্রত্যাখ্যান করে।

মহান আল্লাহ বলেন: "আমি আকাশ, পৃথিবী এবং তাদের মধ্যবর্তী যা কিছু আছে তা খেলার ছলে সৃষ্টি করিনি।"

তিনি আরও পবিত্রভাবে বলেন: "আমি যদি কৌতুক গ্রহণ করতে চাইতাম, তবে আমি নিজের পক্ষ থেকেই তা গ্রহণ করতাম, যদি আমি তা করতে চাইতাম।"

এটি মানুষের সাথে ওহীর সম্পর্ক এবং ওহী ও এর বিভিন্ন বিষয়ের প্রতি মানুষের অবস্থানের একটি জ্ঞানতাত্ত্বিক পর্যালোচনা। এটি বিজ্ঞানের সাথে ওহীর সম্পর্কের পাঠ এবং মহাবিশ্ব ও এর মধ্যকার বিষয়াবলি অনুধাবনে মানুষের প্রতি ওহীর যে দাবি রয়েছে, তারও একটি পর্যালোচনা।

এক্ষেত্রে আমি শৈল্পিক বর্ণনাভঙ্গি ও শব্দ চয়নের আড়ম্বর পরিহার করার চেষ্টা করেছি; কারণ এটি ছিল নির্দিষ্ট সময়ের তাৎক্ষণিক এক পর্যালোচনা যা বিশেষ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে রচিত। মিশরীয় দার্শনিক সমিতির বৈঠকগুলোতে যে বিতর্ক চলত এবং সেখানে যেসব সমস্যা উত্থাপিত হতো, তা এই পর্যালোচনার গুরুত্বের প্রতি আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। সেই আলোচনায় কখনো কখনো অদৃশ্যের প্রতি বিশ্বাসকে কাল্পনিক বিষয় হিসেবে গণ্য করা হতো এবং 'আল্লাহ' কিংবা তাদের পরিভাষায় 'পরম সত্তা' সম্পর্কে আলোচনা করাকে আধুনিক বুদ্ধিবিবেচনা বিরোধী মনে করা হতো। তাদের মতে, এগুলো নিছক কুসংস্কার যা চিন্তার স্বাধীনতা ও সৃজনশীলতাকে বাধাগ্রস্ত করে। কিছু সাংস্কৃতিক সাময়িকীতেও এসব বিষয় প্রকাশিত হয়েছে, যা প্রমাণ করে যে, এই জ্ঞানতাত্ত্বিক অবস্থানের ক্ষেত্রে কিছু বিষয় স্পষ্ট করা এবং এই সম্পর্কের ধারণাটি ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন। আমাদের সাংস্কৃতিক বাস্তবতায় কেউ কেউ এই সম্পর্ককে পুরোপুরি অস্বীকার করে, আবার কেউ কেউ এর প্রকৃত স্বরূপ অনুধাবন করতে পারে না। আমাদের এই পর্যালোচনার সাথে কেউ কেউ ভিন্নমত পোষণ করতে পারেন।
(খণ্ড: ১) আল ওয়াহইউ ওয়াল ইনসান - কিরায়াতুন মা'রিফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
وفي مضمونها وهذا أمر نتوقعه، وقد يوافقنا البعض الآخر فيما قرأناه وقصدنا إليه. وما أردت من هذا كله إلا الإصلاح، ما استطعت وما توفيقي إلا بالله عليه توكلت، وهو حسبي ونعم الوكيل.

المؤلف

الجيزة في:

28 صفر سنة 1422هـ

22 مايو سنة 2001م
এবং এর বিষয়বস্তুর ক্ষেত্রে এটি এমন একটি বিষয় যা আমরা প্রত্যাশা করি, আর আমরা যা পাঠ করেছি এবং যা উদ্দেশ্য করেছি তাতে অন্য কেউ কেউ আমাদের সাথে একমত হতে পারেন। আর আমি এই সবকিছুর দ্বারা কেবল সংশোধনই চেয়েছি আমার সামর্থ্য অনুযায়ী; আর আমার তাওফীক কেবল আল্লাহর পক্ষ হতেই আসে, তাঁরই ওপর আমি ভরসা করেছি এবং তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট ও উত্তম কর্মবিধায়ক।

গ্রন্থকার

গিজা, তারিখ:

২৮ সফর, ১৪২২ হিজরি

২২ মে, ২০০১ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) আল ওয়াহইউ ওয়াল ইনসান - কিরায়াতুন মা'রিফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌الوحي والإنسان: قراءة تاريخية:

إن قضية العقل والدين وتصور العلاقة بينهما ليست وليدة هذا العصر، ولا هي من خصوصياته، كما أنها ليست وليدة عصر معين ولا من خصوصيات أمة بعينها. إنها تضرب بجذورها في أعماق التاريخ من يوم أن دبّ الإنسان على ظهر الأرض.

نعم، إنها ليست من خصوصيات أمة دون أمة، ولا من خصوصيات حضارة دون حضارة، إنها إرث مشترك بين بني الإنسان منذ وعى الإنسان وجوده، وقد تأخذ العلاقة بين الدين والعقل شكل حوار هادئ أحيانا، وقد تأخذ شكل صراع عنيف أحيانا أخرى، وبالتالي فلا بد أن تختلف لغة التعبير عن هذه العلاقة من أمة إلى أخرى، ومن مستوى ثقافي إلى مستوى ثقافي آخر في داخل الحضارة المعينة حسب قرب هذه اللغة من منطق الفطرة السليمة أو بعدها عنها، فإن من مقاصد خطاب الوحي الديني التوجه إلى الفطرة السليمة التي تتجلى أنوارها في مظهر العقل وتجلياته المعرفية، فإن العقل في أسمى تجلياته نور من نور الفطرة ومظهر من مظاهرها، كاشفا عنها وعن سلامتها واستعدادها لتقبل ما هو صحيح من
ওহি এবং মানুষ: একটি ঐতিহাসিক পাঠ:

নিশ্চয়ই বুদ্ধি ও ধর্ম এবং এ দুয়ের মধ্যকার সম্পর্কের রূপরেখার বিষয়টি এই সমসাময়িক যুগের উদ্ভাবন নয়, আর না এটি কেবল এই যুগেরই কোনো বৈশিষ্ট্য; যেমন এটি কোনো নির্দিষ্ট যুগের ফসল নয় এবং কোনো বিশেষ জাতির একক বৈশিষ্ট্যও নয়। এটি ইতিহাসের গভীর অতল তলে প্রোথিত—সেই দিন থেকে, যেদিন মানুষ পৃথিবীর বুকে বিচরণ শুরু করেছে।

হ্যাঁ, এটি কোনো একটি জাতিকে বাদ দিয়ে অন্য কোনো জাতির বৈশিষ্ট্য নয়, আর না এটি এক সভ্যতাকে বাদ দিয়ে অন্য সভ্যতার বিশেষত্ব; বরং এটি মানুষের স্বীয় অস্তিত্ব সম্পর্কে সচেতন হওয়ার পর থেকেই মানবজাতির এক অভিন্ন উত্তরাধিকার। ধর্ম ও বুদ্ধির মধ্যকার এই সম্পর্ক কখনো কখনো শান্ত সংলাপের রূপ পরিগ্রহ করে, আবার কখনো তা তীব্র সংঘাতের রূপ নেয়। ফলস্বরূপ, এই সম্পর্কের অভিব্যক্তির ভাষা এক জাতি থেকে অন্য জাতিতে এবং একটি নির্দিষ্ট সভ্যতার অভ্যন্তরে এক সাংস্কৃতিক স্তর থেকে অন্য সাংস্কৃতিক স্তরে ভিন্ন হতে বাধ্য; আর তা নির্ভর করে এই ভাষা সুস্থ স্বভাবজাত প্রবৃত্তি বা ফিতরাতের যুক্তির কতটা নিকটবর্তী বা তা থেকে কতটা দূরবর্তী, তার ওপর। কেননা ধর্মীয় ওহি বা প্রত্যাদেশের অন্যতম লক্ষ্য হলো সেই সুস্থ স্বভাবজাত প্রবৃত্তির দিকে মনোনিবেশ করা, যার আলোকচ্ছটা বুদ্ধি এবং বুদ্ধির জ্ঞানতাত্ত্বিক বিকাশের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। নিশ্চয়ই বুদ্ধি তার সর্বোচ্চ শিখরে ফিতরাতের নূর থেকে বিচ্ছুরিত একটি আলো এবং এর অন্যতম বহিঃপ্রকাশ; যা ফিতরাতের স্বরূপ, তার সুস্থতা এবং সঠিক বিষয়সমূহ গ্রহণ করার ব্যাপারে তার প্রস্তুতির বিষয়টি উন্মোচিত করে।
(খণ্ড: ১) আল ওয়াহইউ ওয়াল ইনসান - কিরায়াতুন মা'রিফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
المعارف والعلوم ورفض كل ما هو زائف منها، كما ينبئ العقل في الكثير من أحواله عن العلل والأمراض التي تعتري هذه الفطرة فتحجبها عن تقبل الحق ومعاندته ورفضه بل محاربته، وهذا أمر معروف في تاريخ العلاقة بين الوحي والإنسان على طول التاريخ.

إن جذور هذه العلاقة تمتد في أعماق التاريخ لترتبط بأبي البشرية آدم عليه السلام حيث يسجل لنا القرآن الكريم بداية هذه العلاقة في حوار هادئ بين الوحي والإنسان، فحين أمر الله تعالى الملائكة بالسجود لآدم فسجدوا إلا إبليس امتنع، وقال: {أَنَا خَيْرٌ مِنْهُ خَلَقْتَنِي مِنْ نَارٍ وَخَلَقْتَهُ مِنْ طِينٍ} فكيف أسجد له وأنا أشرف منه؟ مدعيا شرفه على آدم؛ لأن النار عنده أشرف من الطين، وبالقياس العقلي عند إبليس لا يجوز أن يسجد الأشرف للأدنى. والقصة معروفة بتكرار ذكرها في القرآن الكريم، ثم أمر الله آدم وزوجته أن يسكنا الجنة، وحذرهما من إغواء الشيطان لهما وقال لهما: {إِنَّ الشَّيْطَانَ لَكُمَا عَدُوٌّ مُبِينٌ} .

وقال لهما: إن حال مقامكما في الجنة لا يعتريكما جوع ولا عراء ولا ظمأ {إِنَّ لَكَ أَلَّا تَجُوعَ فِيهَا وَلا تَعْرَى، وَأَنَّكَ لا تَظْمَأُ فِيهَا وَلا تَضْحَى} ثم أباح لهما الأكل من الجنة حيث شاء إلا شجرة واحدة نهاهما عن الأكل منها وقال لهما: {وَلَا تَقْرَبَا هَذِهِ الشَّجَرَةَ فَتَكُونَا مِنَ الظَّالِمِين} . وكرر القرآن الكريم تحذيره لآدم من متابعة الشيطان
বিভিন্ন জ্ঞান-বিজ্ঞান এবং সেগুলোর মধ্য থেকে যা কিছু মিথ্যা তা প্রত্যাখ্যান করা; ঠিক যেমন বুদ্ধিবৃত্তি তার অনেক অবস্থায় সেই সব ত্রুটি ও ব্যাধি সম্পর্কে সংবাদ দেয় যা এই স্বভাবজাত প্রকৃতিকে আচ্ছন্ন করে ফেলে, ফলে তা সত্য গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকে এবং সত্যের বিরোধিতা ও তা প্রত্যাখ্যান, এমনকি তার বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয়। ওহী এবং মানুষের মধ্যকার সম্পর্কের দীর্ঘ ইতিহাসে এটি একটি সুপরিচিত বিষয়।

এই সম্পর্কের শিকড় ইতিহাসের অতল গভীরে প্রোথিত যা মানবজাতির পিতা আদম আলাইহিস সালামের সাথে সম্পৃক্ত। সেখানে পবিত্র কুরআন ওহী এবং মানুষের মধ্যে একটি শান্ত সংলাপের মাধ্যমে এই সম্পর্কের সূচনা আমাদের সামনে তুলে ধরেছে। যখন মহান আল্লাহ ফেরেশতাদের আদমকে সেজদা করার নির্দেশ দিলেন, তখন ইবলিস ব্যতীত তারা সবাই সেজদা করল। সে অস্বীকার করল এবং বলল: "আমি তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ, আপনি আমাকে আগুন থেকে সৃষ্টি করেছেন আর তাকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে।" সুতরাং আমি কীভাবে তাকে সেজদা করব অথচ আমি তার চেয়ে অধিক মর্যাদাবান? সে আদমের ওপর নিজের শ্রেষ্ঠত্বের দাবি করল; কারণ তার নিকট আগুন মাটির চেয়ে অধিক মর্যাদাপূর্ণ। ইবলিসের বুদ্ধিবৃত্তিক অনুমান অনুযায়ী, উচ্চতর কারো পক্ষে নিম্নতর কাউকে সেজদা করা সমীচীন নয়। পবিত্র কুরআনে বারবার উল্লেখ থাকার কারণে এই কাহিনীটি সুপরিচিত। এরপর আল্লাহ আদম ও তার স্ত্রীকে জান্নাতে বসবাসের নির্দেশ দিলেন এবং শয়তানের প্ররোচনা সম্পর্কে তাদের সতর্ক করে বললেন: "নিশ্চয় শয়তান তোমাদের উভয়ের প্রকাশ্য শত্রু।"

তিনি তাদের আরও বললেন: জান্নাতে তোমাদের অবস্থানের অবস্থা হবে এমন যে সেখানে তোমরা ক্ষুধার্ত হবে না, বস্ত্রহীন হবে না এবং পিপাসার্তও হবে না। "নিশ্চয় তোমার জন্য এটাই রইল যে, তুমি সেখানে ক্ষুধার্ত হবে না এবং নগ্ন হবে না। আর সেখানে তুমি পিপাসার্ত হবে না এবং রোদে কষ্টও পাবে না।" অতঃপর তিনি তাদের জন্য জান্নাতের যেখানে ইচ্ছা সেখান থেকে আহার করা বৈধ করে দিলেন, কেবল একটি গাছ ছাড়া; যা থেকে আহার করতে তিনি তাদের নিষেধ করলেন এবং বললেন: "তোমরা এই গাছের নিকটবর্তী হয়ো না, অন্যথায় তোমরা জালিমদের অন্তর্ভুক্ত হবে।" পবিত্র কুরআন শয়তানের অনুসরণ করার ব্যাপারে আদমকে দেওয়া সতর্কবাণী বারবার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
(খণ্ড: ১) আল ওয়াহইউ ওয়াল ইনসান - কিরায়াতুন মা'রিফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
وأعوانه فقال تعالى: {إِنَّ هَذَا عَدُوٌّ لَكَ وَلِزَوْجِكَ فَلا يُخْرِجَنَّكُمَا مِنَ الْجَنَّةِ} [طه: 117] .

ويسجل القرآن الكريم حالة من حالات الضعف البشري أمام إغواء الشيطان لآدم وزوجه، فزين لهما الشيطان الأكل من الشجرة وقال لهما: {وَقَالَ مَا نَهَاكُمَا رَبُّكُمَا عَنْ هَذِهِ الشَّجَرَةِ إِلَّا أَنْ تَكُونَا مَلَكَيْنِ أَوْ تَكُونَا مِنَ الْخَالِدِينَ، وَقَاسَمَهُمَا إِنِّي لَكُمَا لَمِنَ النَّاصِحِينَ، فَدَلَّاهُمَا بِغُرُورٍ فَلَمَّا ذَاقَا الشَّجَرَةَ بَدَتْ لَهُمَا سَوْآتُهُمَا وَطَفِقَا يَخْصِفَانِ عَلَيْهِمَا مِنْ وَرَقِ الْجَنَّةِ} فأكل آدم من الشجرة، وعصى بذلك الأمر الإلهي كما قال تعالى: {وَعَصَى آدَمُ رَبَّهُ فَغَوَى} ثم تاب آدم من ذنبه، فتاب الله عليه: {قَالا رَبَّنَا ظَلَمْنَا أَنْفُسَنَا وَإِنْ لَمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ} [الأعراف: 23] . وكما سجل القرآن الكريم معصية آدم وذنبه سجل أيضا توبته من ذنبه وندمه على ما اقترف، وأن الله تقبل منه توبته واصطفاه، قال تعالى: {ثُمَّ اجْتَبَاهُ رَبُّهُ فَتَابَ عَلَيْهِ وَهَدَى} [طه: 122] .

والقرآن الكريم يقصّ علينا هذه القصة في أسلوب تربوي تعليمي ليبين لنا حالة النفس البشرية وما يعتريها من حالات الضعف في كثير من الأحيان أمام المغريات وأمام إغواء الشيطان ووسوسته، وأن ذلك لا يجوز أن يكون مدخلا إلى حالة من اليأس أو القنوط من رحمة الله، وأن باب التوبة مفتوح أمام المذنبين.
এবং তাঁর সহযোগীদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন: "নিশ্চয়ই সে তোমার এবং তোমার স্ত্রীর শত্রু, সুতরাং সে যেন তোমাদের উভয়কে জান্নাত থেকে বের করে না দেয়।" [ত্বহা: ১১৭]।

আল-কুরআনুল কারীম আদম ও তাঁর স্ত্রীর প্রতি শয়তানের প্রলোভনের সামনে মানুষের দুর্বলতার একটি দৃষ্টান্ত লিপিবদ্ধ করেছে। শয়তান তাদের জন্য সেই গাছ থেকে ফল খাওয়াকে শোভনীয় করে তুলেছিল এবং তাদের বলেছিল: "তোমাদের প্রতিপালক তোমাদেরকে এই গাছ থেকে কেবল এজন্যই নিষেধ করেছেন যাতে তোমরা ফেরেশতা হতে না পার অথবা চিরস্থায়ীদের অন্তর্ভুক্ত না হও। আর সে তাদের নিকট শপথ করে বলল যে, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের হিতাকাঙ্ক্ষীদের একজন। অতঃপর সে তাদের উভয়কে প্রতারণার মাধ্যমে অধঃপতিত করল। যখন তারা সেই গাছের স্বাদ গ্রহণ করল, তখন তাদের লজ্জাস্থানসমূহ তাদের কাছে প্রকাশিত হয়ে পড়ল এবং তারা জান্নাতের লতাপাতা দিয়ে নিজেদের আবৃত করতে শুরু করল।" এভাবে আদম সেই গাছ থেকে খেলেন এবং এর মাধ্যমে খোদায়ী নির্দেশ অমান্য করলেন, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: "আদম তাঁর প্রতিপালকের অবাধ্য হলেন এবং তিনি পথভ্রষ্ট হলেন।" এরপর আদম তাঁর পাপ থেকে তাওবা করলেন এবং আল্লাহ তাঁর তাওবা কবুল করলেন: "তারা উভয়ে বলল, হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা নিজেদের প্রতি জুলুম করেছি; যদি আপনি আমাদের ক্ষমা না করেন এবং দয়া না করেন, তবে অবশ্যই আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হব।" [আল-আরাফ: ২৩]। আল-কুরআনুল কারীম যেভাবে আদমের অবাধ্যতা ও পাপের কথা লিপিবদ্ধ করেছে, ঠিক তেমনিভাবে তাঁর পাপের জন্য তাঁর তাওবা ও কৃতকর্মের জন্য অনুশোচনা এবং আল্লাহ কর্তৃক তাঁর তাওবা কবুল হওয়া ও তাঁকে মনোনীত করার বিষয়টিকেও লিপিবদ্ধ করেছে। মহান আল্লাহ বলেন: "অতঃপর তাঁর প্রতিপালক তাঁকে মনোনীত করলেন, সুতরাং তিনি তাঁর তাওবা কবুল করলেন এবং তাঁকে সঠিক পথ প্রদর্শন করলেন।" [ত্বহা: ১২২]।

আল-কুরআনুল কারীম আমাদের নিকট এই কাহিনীটি একটি শিক্ষামূলক ও চারিত্রিক গঠনের পদ্ধতিতে বর্ণনা করেছে, যাতে আমাদের নিকট মানব আত্মার অবস্থা স্পষ্ট হয় এবং প্রলোভন ও শয়তানের প্ররোচনা ও কুমন্ত্রণার সামনে মানুষ প্রায়ই যে দুর্বলতার শিকার হয় তা ফুটে ওঠে। আর এটি শিক্ষা দেয় যে, এই দুর্বলতা যেন আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ বা হতাশ হওয়ার পথে কোনো প্রবেশদ্বার না হয়ে দাঁড়ায়; কারণ পাপিষ্ঠদের জন্য তাওবার দরজা সর্বদা উন্মুক্ত।
(খণ্ড: ১) আল ওয়াহইউ ওয়াল ইনসান - কিরায়াতুন মা'রিফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
كما بين لنا من جانب آخر سنة من سنن الله في كونه تتحكم هذه السنة في مسار علاقة الإنسان بوحي السماء، وتتمثل هذه السنة في أصل طبيعة النفس البشرية ومن لوازمها "الضعف" أمام المغريات، الضعف أمام المثيرات، وأن أكبر عامل نعالج به هذه الحالة هو الاستعانة عليها بالله، ومتابعة هداه، والقرآن الكريم حين سجل لنا قصة آدم قد ختمها بهذه النهاية التي تتضمن هذا القانون العام الذي يحكم علاقة الإنسان بالله، قال تعالى: {قَالَ اهْبِطَا مِنْهَا جَمِيعًا بَعْضُكُمْ لِبَعْضٍ عَدُوٌّ فَإِمَّا يَأْتِيَنَّكُمْ مِنِّي هُدًى فَمَنِ اتَّبَعَ هُدَايَ فَلا يَضِلُّ وَلا يَشْقَى، وَمَنْ أَعْرَضَ عَنْ ذِكْرِي فَإِنَّ لَهُ مَعِيشَةً ضَنْكًا وَنَحْشُرُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَعْمَى، قَالَ رَبِّ لِمَ حَشَرْتَنِي أَعْمَى وَقَدْ كُنْتُ بَصِيرًا، قَالَ كَذَلِكَ أَتَتْكَ آيَاتُنَا فَنَسِيتَهَا وَكَذَلِكَ الْيَوْمَ تُنْسَى، وَكَذَلِكَ نَجْزِي مَنْ أَسْرَفَ وَلَمْ يُؤْمِنْ بِآياتِ رَبِّهِ وَلَعَذَابُ الْآخِرَةِ أَشَدُّ وَأَبْقَى} [طه: 123-127] .

وقال تعالى في موضع آخر: {قُلْنَا اهْبِطُوا مِنْهَا جَمِيعًا فَإِمَّا يَأْتِيَنَّكُمْ مِنِّي هُدًى فَمَنْ تَبِعَ هُدَايَ فَلا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلا هُمْ يَحْزَنُونَ} [البقرة: 38] . وتكرر ذلك في القرآن في مواضع أخرى.

ولا نريد الخوض في تفاصيل هذه القضية أو التعرض لإرادة الله في ذلك، وما الحكمة من الأمر بالسجود لآدم وامتناع إبليس عن السجود، أو الأكل من الشجرة والخروج من الجنة؛ فإن ذلك له
অন্যদিক থেকে তিনি আমাদের নিকট তাঁর মহাবিশ্বে আল্লাহর সুন্নাহসমূহের মধ্য থেকে এমন একটি সুন্নাহ বর্ণনা করেছেন যা আসমানি ওহীর সাথে মানুষের সম্পর্কের গতিপথ নিয়ন্ত্রণ করে। এই সুন্নাহটি মানবীয় নফসের মূল প্রকৃতি এবং তার অবিচ্ছেদ্য বৈশিষ্ট্য "দুর্বলতা"র মাঝে প্রতিফলিত হয়—প্রলোভনের সামনে দুর্বলতা, উত্তেজনার সামনে দুর্বলতা। আর এই অবস্থা নিরাময়ের সবচেয়ে বড় উপায় হলো এর প্রতিকারে আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করা এবং তাঁর হিদায়াতের অনুসরণ করা। পবিত্র কুরআন যখন আমাদের নিকট আদমের ঘটনা লিপিবদ্ধ করেছে, তখন তা এমন এক সমাপ্তির মাধ্যমে শেষ করেছে যা আল্লাহর সাথে মানুষের সম্পর্ক পরিচালনাকারী এই সাধারণ বিধানকে অন্তর্ভুক্ত করে। মহান আল্লাহ বলেন: {তিনি বললেন, 'তোমরা উভয়েই একত্রে জান্নাত থেকে নেমে যাও, তোমাদের একে অপর হবে শত্রু। অতঃপর যদি আমার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে হিদায়াত আসে, তবে যে ব্যক্তি আমার হিদায়াতের অনুসরণ করবে, সে পথভ্রষ্ট হবে না এবং দুর্ভাগাও হবে না। আর যে আমার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তার জন্য অবশ্যই হবে সংকীর্ণ জীবন এবং কিয়ামতের দিন আমি তাকে অন্ধ অবস্থায় পুনরুত্থিত করব। সে বলবে, হে আমার রব! কেন আপনি আমাকে অন্ধ অবস্থায় পুনরুত্থিত করলেন? আমি তো চক্ষুষ্মান ছিলাম। তিনি বলবেন, এভাবেই তোমার নিকট আমার আয়াতসমূহ এসেছিল, কিন্তু তুমি তা ভুলে গিয়েছিলে; আর এভাবেই আজ তোমাকেও ভুলে যাওয়া হবে। আর এভাবেই আমি তাকে প্রতিফল দেই, যে সীমালঙ্ঘন করে এবং তার রবের আয়াতসমূহে ঈমান আনে না। আর আখিরাতের আযাব অবশ্যই অধিকতর কঠিন ও অতিশয় স্থায়ী।'} [ত্ব-হা: ১২৩-১২৭]।

মহান আল্লাহ অন্য এক স্থানে বলেছেন: {আমি বললাম, তোমরা সবাই এখান থেকে নেমে যাও। অতঃপর যদি আমার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে কোনো হিদায়াত পৌঁছায়, তবে যারা আমার হিদায়াত অনুসরণ করবে, তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না।} [আল-বাকারা: ৩৮]। কুরআনের আরও অনেক স্থানে এর পুনরাবৃত্তি হয়েছে।

আমরা এই বিষয়ের বিস্তারিত আলোচনায় লিপ্ত হতে অথবা এ ব্যাপারে আল্লাহর ইচ্ছার স্বরূপ অন্বেষণ করতে চাই না; আর আদমকে সিজদা করার নির্দেশ প্রদান এবং ইবলিসের সিজদা করতে অস্বীকৃতি জানানো, কিংবা গাছ থেকে ফল ভক্ষণ করা এবং জান্নাত থেকে বের হয়ে যাওয়ার পেছনের হিকমত কী ছিল তাও আলোচনা করতে চাই না; কারণ এর জন্য রয়েছে...
(খণ্ড: ১) আল ওয়াহইউ ওয়াল ইনসান - কিরায়াতুন মা'রিফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
مواضع أخرى، ولكن نود أن نسجل هنا بعض الملاحظات التي تعتبر دروسا لا بد أن نعيها من سرد هذه القصة وغيرها في القرآن الكريم، ومن أهمها:

1- أن الذنب أو المعصية لا ينبغي أن تكون مدعاة لليأس من رحمة الله حتى وإن تكررت المعصية؛ فإن باب التوبة مفتوح أمام المذنبين، ولا ييأس مؤمن من رحمة الله أبدًا.

2- أن من لوازم النفس البشرية وخصائصها الضعف أمام المغريات وأمام عوامل الإثارة للغضب، وأن عاصمها من ذلك هو اللجوء إلى الله والالتزام بهديه.

3- أن موقف آدم من أوامر الوحي هنا لم يكن معارضة له ولا تنكرا، وإنما كان مخالفة للأمر باتباع هوى النفس واستجابة لإغواء الشيطان له. فالمعصية هنا ليست رفضا للأمر الإلهي بدعوى أن الأمر الإلهي يعارض برهانا عقليا أو قياسا منطقيا، وإنما كانت ذنبا اعترف به آدم وتاب منه وتاب الله عليه، فاصطفاه واجتباه وعلمه هذا القانون العام: {فَمَنِ اتَّبَعَ هُدَايَ فَلا يَضِلُّ وَلا يَشْقَى، وَمَنْ أَعْرَضَ عَنْ ذِكْرِي فَإِنَّ لَهُ مَعِيشَةً ضَنْكًا وَنَحْشُرُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَعْمَى} [طه: 123، 124] .

ولا بد من التأكيد هنا على هذا المعنى الذي من أجله عصى آدم الأمر الإلهي، إنه متابعة هوى النفس وليس معارضة للوحي ولا تنكرا له ولا رفضا ولا معاندة له.
অন্যান্য ক্ষেত্রও রয়েছে, তবে আমরা এখানে এমন কিছু পর্যবেক্ষণ নথিভুক্ত করতে চাই যা কুরআনুল কারীমের এই কাহিনী ও অন্যান্য কাহিনী বর্ণনার মাধ্যমে আহরিত এমন কিছু শিক্ষা হিসেবে বিবেচিত যা আমাদের অবশ্যই অনুধাবন করতে হবে। তার মধ্যে অন্যতম হলো:

১- পাপাচার বা অবাধ্যতা যেন আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়ার কারণ না হয়, এমনকি যদি সেই অবাধ্যতার পুনরাবৃত্তিও ঘটে; কেননা গুনাহগারদের জন্য তাওবার দরজা সর্বদা উন্মুক্ত এবং কোনো মুমিন কখনো আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয় না।

২- মানুষের আত্মার অন্যতম প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য হলো প্রলোভন ও ক্রোধ উসকে দেওয়ার মতো বিষয়গুলোর সামনে দুর্বলতা প্রকাশ করা। আর তা থেকে আত্মরক্ষার একমাত্র উপায় হলো আল্লাহর নিকট আশ্রয় গ্রহণ করা এবং তাঁর হেদায়েতের ওপর অবিচল থাকা।

৩- ওহীর নির্দেশনার প্রতি এখানে আদমের অবস্থান কোনো বিরোধিতা বা অস্বীকার ছিল না, বরং তা ছিল প্রবৃত্তির অনুসরণ এবং শয়তানের প্ররোচনায় সাড়া দেওয়ার মাধ্যমে নির্দেশের লঙ্ঘন। সুতরাং এখানে পাপাচারটি ঐশ্বরিক নির্দেশকে এই যুক্তিতে প্রত্যাখ্যান করা ছিল না যে, ঐশ্বরিক নির্দেশ কোনো যৌক্তিক প্রমাণ বা যুক্তিবিদ্যার পরিপন্থী, বরং এটি ছিল একটি গুনাহ যা আদম স্বীকার করেছিলেন এবং তা থেকে তাওবা করেছিলেন। ফলে আল্লাহ তাঁর তাওবা কবুল করেন, তাঁকে মনোনীত করেন, পছন্দ করে নেন এবং তাঁকে এই সাধারণ বিধানটি শিক্ষা দেন: "অতঃপর যে আমার হেদায়েত অনুসরণ করবে, সে পথভ্রষ্ট হবে না এবং দুর্ভাগাও হবে না। আর যে আমার স্মরণ থেকে বিমুখ হবে, তার জীবনযাপন হবে সংকীর্ণ এবং কিয়ামতের দিন আমি তাকে অন্ধ অবস্থায় পুনরুত্থিত করব।" [ত্বহা: ১২৩, ১২৪]।

এখানে সেই অর্থটির ওপর গুরুত্বারোপ করা জরুরি যার কারণে আদম ঐশ্বরিক নির্দেশের অবাধ্য হয়েছিলেন; আর তা হলো প্রবৃত্তির অনুসরণ, ওহীর বিরোধিতা করা নয়, কিংবা একে অস্বীকার করা, প্রত্যাখ্যান করা বা এর প্রতি হঠকারিতা প্রদর্শন করাও নয়।
(খণ্ড: ১) আল ওয়াহইউ ওয়াল ইনসান - কিরায়াতুন মা'রিফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
ونحن نعلم أن في هذه القصة بُعدا كونيا تتعلق به إرادة الحق سبحانه، فإن الأكل من الشجرة والهبوط إلى الأرض والخروج من الجنة كلها أمور ترتبت على أمر كوني إرادة الحق سبحانه من وقوع هذه المعصية لكي يهبط آدم إلى الأرض، ويعمرها كما قال سبحانه: {قَالَ اهْبِطُوا بَعْضُكُمْ لِبَعْضٍ عَدُوٌّ وَلَكُمْ فِي الْأَرْضِ مُسْتَقَرٌّ وَمَتَاعٌ إِلَى حِينٍ، قَالَ فِيهَا تَحْيَوْنَ وَفِيهَا تَمُوتُونَ وَمِنْهَا تُخْرَجُونَ} [الأعراف: 24، 25] وهذه القضية الكونية ليست مجال حديثًنا الآن، ولكن الذي ننبه إليه أن هذه المعصية كانت تسجيلا لحالات الضعف البشري أمام إغواء الشيطان، ولم تتضمن تنكرا ولا رفضا لأوامر الوحي.

وإذا تتبعنا مسيرة الوحي خلال تتابعه على الأنبياء والمُرسلين، وحاولنا التعرف على أسباب معاندة الأمم لأنبيائهم فلا نجد لديهم حجة مقبولة في منطق العقل، وإنما نشأت معاندتهم للوحي إما لأن الوحي يطالبهم بالتخلي عما ألفوه وورثوه عن الآباء من عادات وتقاليد موروثة وعقائد مألوفة، وإما متابعة للهوى وتحصيلا لرغائب النفوس وتحصيلا لشهواتها.

ومن المعلوم أن نفوس بني آدم متباينة وأهواءها متعارضة ومتنوعة ولكل عصر أهواؤه ورغباته، ولكل بيئة اجتماعية أهواؤها ورغباتها التي تنعكس في سلوكها وعاداتها وتقاليدها وفي علاقات الأفراد والجماعات بعضهم مع بعض، وهذا ما أكده القرآن الكريم في
আমরা জানি যে, এই কাহিনীর মধ্যে একটি মহাজাগতিক মাত্রা রয়েছে যার সাথে সত্যস্বরূপ আল্লাহ সুবহানাহুর ইচ্ছা জড়িত। কেননা গাছ থেকে ফল ভক্ষণ, পৃথিবীতে অবতরণ এবং জান্নাত থেকে বহিষ্করণ—এই সবগুলোই ছিল একটি মহাজাগতিক বিষয়ের ফলশ্রুতি; আর এই অবাধ্যতা ঘটার পেছনে সত্যস্বরূপ আল্লাহর অভিপ্রায় ছিল এই যে, আদম পৃথিবীতে অবতরণ করবেন এবং তা আবাদ করবেন, যেমনটি আল্লাহ সুবহানাহু বলেছেন: "তিনি বললেন, তোমরা নেমে যাও, তোমরা একে অপরের শত্রু। আর তোমাদের জন্য পৃথিবীতে এক নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আবাসন ও জীবিকা রয়েছে। তিনি বললেন, সেখানেই তোমরা জীবন ধারণ করবে, সেখানেই তোমরা মৃত্যুবরণ করবে এবং সেখান থেকেই তোমাদের বের করা হবে।" (সূরা আল-আরাফ: ২৪, ২৫)। এই মহাজাগতিক বিষয়টি বর্তমানে আমাদের আলোচনার ক্ষেত্র নয়; বরং আমরা যে বিষয়টির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই তা হলো, এই অবাধ্যতা ছিল শয়তানের প্ররোচনার সামনে মানবীয় দুর্বলতার একটি বহিঃপ্রকাশ মাত্র, এর মধ্যে ওহীর নির্দেশনার প্রতি কোনো অবজ্ঞা বা প্রত্যাখ্যান ছিল না।

আমরা যদি নবী ও রাসূলগণের ওপর ওহী অবতীর্ণ হওয়ার ধারাবাহিকতা অনুসরণ করি এবং জাতিসমূহ কেন তাদের নবীদের বিরোধিতা করেছিল তার কারণগুলো খোঁজার চেষ্টা করি, তবে আমরা যুক্তির নিরিখে তাদের কাছে কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণ পাই না। বরং ওহীর প্রতি তাদের এই বিরোধিতার সৃষ্টি হয়েছিল হয় এই কারণে যে, ওহী তাদের সেই সব উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত অভ্যাস, প্রথা, ঐতিহ্য এবং পরিচিত বিশ্বাসগুলো ত্যাগ করার দাবি জানিয়েছিল যা তারা তাদের পিতৃপুরুষদের কাছ থেকে লাভ করেছিল, অথবা এটি ছিল প্রবৃত্তির অনুসরণ এবং কুপ্রবৃত্তির কামনা-বাসনা চরিতার্থ করার প্রয়াস মাত্র।

এটা সুপরিচিত যে, বনী আদমের মন-মানসিকতা ভিন্ন ভিন্ন এবং তাদের খেয়াল-খুশিগুলো বৈচিত্র্যপূর্ণ ও পরস্পরবিরোধী। প্রতিটি যুগেরই নিজস্ব খেয়াল-খুশি ও চাহিদা থাকে এবং প্রতিটি সামাজিক পরিবেশের নিজস্ব প্রবৃত্তি ও আকাঙ্ক্ষা থাকে যা তাদের আচরণ, রীতিনীতি, ঐতিহ্য এবং ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর পারস্পরিক সম্পর্কের মধ্যে প্রতিফলিত হয়। আর পবিত্র কুরআন এটিই নিশ্চিত করেছে—
(খণ্ড: ১) আল ওয়াহইউ ওয়াল ইনসান - কিরায়াতুন মা'রিফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
قوله تعالى: {وَلَوْ شَاءَ رَبُّكَ لَجَعَلَ النَّاسَ أُمَّةً وَاحِدَةً وَلا يَزَالُونَ مُخْتَلِفِينَ} [هود: 118] . وهذا أيضا قد أكده الواقع الاجتماعي للأمم والشعوب.

فهناك أصحاب النفوس الفرعونية الذين لا يرضون من الغير إلا الخضوع المُطلق، والاستسلام التام، فلا يرى أتباعه إلا ما يرى هو ولا يحسنون إلا ما جعله لهم حسنا ولا يقبحون إلا ما يراه هو قبيحا، رافعا شعار السياسة الفرعونية {مَا أُرِيكُمْ إِلَّا مَا أَرَى} [غافر: 29] .

وهناك أنماط من البشر يحبون المال حبا جما بحيث يكون جمع المال، واكتنازه من أي طريق كان هدفا مقصودا لهم وغاية منشودة، بحيث يصير المال هو إلههم ومعبودهم.

وهناك نمط من البشر وصفه القرآن الكريم بأنه: {أَخْلَدَ إِلَى الْأَرْضِ وَاتَّبَعَ هَوَاهُ فَمَثَلُهُ كَمَثَلِ الْكَلْبِ إِنْ تَحْمِلْ عَلَيْهِ يَلْهَثْ أَوْ تَتْرُكْهُ يَلْهَثْ} .

وهناك من يطغى أن رآه استغنى، وهناك … وهناك. وكل هذه النماذج البشرية إذا جاءها الوحي بما يعارض أهواءها رفعت شعار الرفض والمعارضة، فإذا أضفت إلى هذه النماذج ما تجده في نفوس بني آدم من حب التعصب للجنس أو اللون أو المذهب والقبيلة أدركت الصعوبات التي واجهها الأنبياء من أصحاب هذه الأهواء. فإن شأن أهل الأهواء في كل عصر معارضة أصحاب المبادئ
মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমার প্রতিপালক যদি চাইতেন, তবে তিনি সকল মানুষকে এক জাতি বানাতেন; কিন্তু তারা সর্বদা মতবিরোধ করতে থাকবে} [হুদ: ১১৮]। আর এটি বিভিন্ন জাতি ও জনজাতির সামাজিক বাস্তবতা দ্বারাও সুনিশ্চিত হয়েছে।

সেখানে রয়েছে ফেরআউনি স্বভাবের একদল লোক, যারা অন্যদের নিকট থেকে নিরঙ্কুশ আনুগত্য ও পূর্ণ আত্মসমর্পণ ব্যতীত অন্য কিছুতে সন্তুষ্ট নয়। ফলে তার অনুসারীরা সে যা দেখে তা ব্যতীত অন্য কিছু দেখে না, সে যা ভালো বলে নির্ধারণ করে তা ব্যতীত অন্য কিছুকে তারা ভালো মনে করে না এবং সে যা মন্দ মনে করে তা ব্যতীত অন্য কিছুকে তারা মন্দ গণ্য করে না। সে ফেরআউনি রাজনীতির এই স্লোগান উচ্চকিত রাখে: {আমি যা দেখি, তোমাদের কেবল তাই দেখাই} [গাফির: ২৯]।

আবার মানুষের মধ্যে এমন কিছু ধরণ রয়েছে যারা ধন-সম্পদকে অত্যধিক ভালোবাসে, ফলে যেকোনো উপায়ে সম্পদ পুঞ্জীভূত করা ও সঞ্চয় করাই তাদের অভীষ্ট লক্ষ্য ও কাম্য উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়ায়; এমনভাবে যে ধন-সম্পদই তাদের ইলাহ ও উপাস্য হয়ে যায়।

আবার মানুষের এমন এক শ্রেণী রয়েছে যাদের সম্পর্কে কুরআন মাজিদে বর্ণনা করা হয়েছে যে: {সে দুনিয়ার প্রতি ঝুঁকে পড়ল এবং নিজ খেয়াল-খুশির অনুসরণ করল; সুতরাং তার উদাহরণ হলো কুকুরের মতো, যদি তুমি তাকে তাড়া করো তবে সে জিব বের করে হাঁপায় অথবা যদি তাকে ছেড়ে দাও তবুও সে হাঁপায়}।

আবার এমন কেউ আছে যে নিজেকে অভাবমুক্ত দেখলে সীমালঙ্ঘন করে, আরও রয়েছে … এবং আরও অনেকে। এই সকল মানবীয় নমুনাগুলোর নিকট যখন তাদের খেয়াল-খুশির পরিপন্থী কোনো ওহি আসে, তখন তারা প্রত্যাখ্যান ও বিরোধিতার স্লোগান তোলে। আপনি যদি এই নমুনাগুলোর সাথে বনী আদমের অন্তরে বিদ্যমান বংশ, বর্ণ, মাজহাব বা গোত্রীয় গোঁড়ামির বিষয়গুলো যুক্ত করেন, তবে আপনি বুঝতে পারবেন যে আম্বিয়ায়ে কিরাম এই প্রবৃত্তি পূজারীদের পক্ষ থেকে কী পরিমাণ প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়েছিলেন। কেননা, সকল যুগে প্রবৃত্তি পূজারীদের স্বভাবই হলো নীতিবানদের বিরোধিতা করা।
(খণ্ড: ১) আল ওয়াহইউ ওয়াল ইনসান - কিরায়াতুন মা'রিফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
ومعاندتهم، فضلا عن معارضتهم لأوامر الوحي ونواهيه مع الأنبياء والمُرسلين، ومن المفيد أن نسجل هنا في هذه العجالة بعض المُلاحظات التي تستوقف الباحث في تاريخ العلاقة بين الوحي والإنسان:

1- المُلاحظة الأولى:

إن الأنماط البشرية التي عارضت الأنبياء والمُرسلين فيما مضى هي نفس النماذج البشرية التي عارضت مبادئ الإصلاح ورفضت الدعوات الإصلاحية في العصور التالية على يد ورثة الأنبياء من الدعاة والمصلحين. وهؤلاء المعارضون للوحي صنفان من الناس:

أ- أهل الأهواء وأصحاب العصبيات المختلفة.

ب- أصحاب الملك والسلطان في كل عصر.

أ- ولقد ساق القرآن الكريم أمثلة ونماذج من الصنف الأول الذين آثروا اتباع الهوى والتعصب له، على دعوة الحق والانصياع لما جاء به الوحي، وحين تستقرئ ما قصه القرآن عن هذه النماذج وعن الأسباب التي عارضوا الرسل من أجلها تجد بينهم شبه اتفاق على هذه الأسباب التي جسدها القرآن في متابعة الآباء وتقليدهم.

قال تعالى حاكيا عن قوم هود: {وَإِلَى عَادٍ أَخَاهُمْ هُودًا قَالَ يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ أَفَلا تَتَّقُونَ، قَالَ الْمَلَأُ الَّذِينَ
এবং তাদের জেদ, অধিকন্তু নবী ও রাসূলদের আনীত ওহীর আদেশ ও নিষেধের প্রতি তাদের বিরোধিতা। ওহী এবং মানুষের মধ্যকার সম্পর্কের ইতিহাসে একজন গবেষককে থমকে দাঁড়াতে বাধ্য করে এমন কিছু পর্যবেক্ষণ এই সংক্ষিপ্ত পরিসরে এখানে উল্লেখ করা ফলপ্রসূ হবে:

১- প্রথম পর্যবেক্ষণ:

অতীতে যে সকল মানবীয় ধরণ নবী ও রাসূলদের বিরোধিতা করেছিল, তারাই পরবর্তী যুগে নবীদের উত্তরসূরি দাঈ ও সংস্কারকদের হাতে সূচিত সংস্কারের মূলনীতিসমূহের বিরোধিতা করেছে এবং সংস্কারমূলক দাওয়াতকে প্রত্যাখ্যান করেছে। ওহীর এই বিরোধীরা দুই শ্রেণির মানুষ:

ক- প্রবৃত্তি পূজারী এবং বিভিন্ন গোঁড়ামির অনুসারী।

খ- প্রত্যেক যুগের রাজকীয় ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের অধিকারীগণ।

ক- কুরআনুল কারীম প্রথম শ্রেণির এমন কিছু উদাহরণ ও নমুনা পেশ করেছে যারা সত্যের দাওয়াত গ্রহণ করা এবং ওহীর নির্দেশের অনুগত হওয়ার পরিবর্তে কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ এবং তার প্রতি অন্ধ আনুগত্যকে প্রাধান্য দিয়েছিল। কুরআন এই নমুনাগুলো সম্পর্কে যা বর্ণনা করেছে এবং তারা যে সকল কারণে রাসূলদের বিরোধিতা করেছিল তা যখন আপনি গভীরভাবে পাঠ করবেন, তখন তাদের মাঝে এই কারণগুলোর ব্যাপারে এক ধরণের ঐকমত্য দেখতে পাবেন, যা কুরআন পিতৃপুরুষদের অন্ধ অনুসরণ ও অনুকরণের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছে।

আল্লাহ তাআলা হূদ-এর সম্প্রদায় সম্পর্কে বর্ণনা করে বলেন: {আর আদ জাতির নিকট তাদের ভাই হূদকে পাঠিয়েছিলাম। তিনি বলেছিলেন, হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোনো ইলাহ নেই। তবুও কি তোমরা ভয় করবে না? সেই নেতৃবর্গ যারা...}
(খণ্ড: ১) আল ওয়াহইউ ওয়াল ইনসান - কিরায়াতুন মা'রিফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
كَفَرُوا مِنْ قَوْمِهِ إِنَّا لَنَرَاكَ فِي سَفَاهَةٍ وَإِنَّا لَنَظُنُّكَ مِنَ الْكَاذِبِينَ، قَالَ يَا قَوْمِ لَيْسَ بِي سَفَاهَةٌ وَلَكِنِّي رَسُولٌ مِنْ رَبِّ الْعَالَمِينَ، أُبَلِّغُكُمْ رِسَالاتِ رَبِّي وَأَنَا لَكُمْ نَاصِحٌ أَمِينٌ، أَوَعَجِبْتُمْ أَنْ جَاءَكُمْ ذِكْرٌ مِنْ رَبِّكُمْ عَلَى رَجُلٍ مِنْكُمْ لِيُنْذِرَكُمْ وَاذْكُرُوا إِذْ جَعَلَكُمْ خُلَفَاءَ مِنْ بَعْدِ قَوْمِ نُوحٍ وَزَادَكُمْ فِي الْخَلْقِ بَسْطَةً فَاذْكُرُوا آلاءَ اللَّهِ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ} [الأعراف: 65-69] .

فرفعوا لواء المُعارضة في وجه هذه الدعوة الصادقة، وقالوا لنبي الله هود: {أَجِئْتَنَا لِنَعْبُدَ اللَّهَ وَحْدَهُ وَنَذَرَ مَا كَانَ يَعْبُدُ آبَاؤُنَا فَأْتِنَا بِمَا تَعِدُنَا إِنْ كُنْتَ مِنَ الصَّادِقِينَ} [الأعراف: 70] .

وكذلك كان موقف أهل مدين من نبي الله شعيب، قال تعالى: {يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ وَلا تَنْقُصُوا الْمِكْيَالَ وَالْمِيزَانَ إِنِّي أَرَاكُمْ بِخَيْرٍ وَإِنِّي أَخَافُ عَلَيْكُمْ عَذَابَ يَوْمٍ مُحِيطٍ، وَيَا قَوْمِ أَوْفُوا الْمِكْيَالَ وَالْمِيزَانَ بِالْقِسْطِ وَلا تَبْخَسُوا النَّاسَ أَشْيَاءَهُمْ وَلا تَعْثَوْا فِي الْأَرْضِ مُفْسِدِينَ، بَقِيَّتُ اللَّهِ خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ وَمَا أَنَا عَلَيْكُمْ بِحَفِيظٍ} [هود: 84-86] . فماذا كان موقفهم من هذه الدعوة الإصلاحية؟ لقد رفعوا لواء المُعاندة والمُعارضة: {قَالُوا يَا شُعَيْبُ أَصَلاتُكَ تَأْمُرُكَ أَنْ نَتْرُكَ مَا يَعْبُدُ آبَاؤُنَا أَوْ أَنْ نَفْعَلَ فِي أَمْوَالِنَا مَا نَشَاءُ إِنَّكَ لَأَنْتَ الْحَلِيمُ الرَّشِيدُ} [هود: 87] .

{قَالُوا يَا شُعَيْبُ مَا نَفْقَهُ كَثِيرًا مِمَّا تَقُولُ وَإِنَّا لَنَرَاكَ فِينَا ضَعِيفًا وَلَوْلا رَهْطُكَ لَرَجَمْنَاكَ وَمَا أَنْتَ عَلَيْنَا بِعَزِيزٍ} [هود: 91] .
তাঁর সম্প্রদায়ের কাফেররা বলল: "নিশ্চয় আমরা তোমাকে নির্বুদ্ধিতার মাঝে দেখছি এবং আমরা তোমাকে মিথ্যাবাদীদের অন্তর্ভুক্ত মনে করি।" তিনি বললেন: "হে আমার সম্প্রদায়! আমার মধ্যে কোনো নির্বুদ্ধিতা নেই, বরং আমি তো বিশ্বজগতের রবের পক্ষ থেকে একজন রাসূল। আমি তোমাদের কাছে আমার রবের বাণীসমূহ পৌঁছে দিচ্ছি এবং আমি তোমাদের জন্য একজন বিশ্বস্ত হিতাকাঙ্ক্ষী। তোমরা কি এতে বিস্মিত হচ্ছ যে, তোমাদের কাছে তোমাদেরই একজনের মাধ্যমে তোমাদের রবের পক্ষ থেকে উপদেশ এসেছে যাতে তিনি তোমাদের সতর্ক করেন? আর স্মরণ করো, যখন তিনি তোমাদের নূহের সম্প্রদায়ের পর স্থলাভিষিক্ত করেছেন এবং তোমাদের শারীরিক গঠনে বিশালতা দান করেছেন। অতএব তোমরা আল্লাহর অনুগ্রহসমূহ স্মরণ করো যাতে তোমরা সফলকাম হও।" [আল-আ'রাফ: ৬৫-৬৯] .

অতঃপর তারা এই সত্য দাওয়াতের বিরুদ্ধে বিরোধিতার ঝাণ্ডা উত্তোলন করল এবং আল্লাহর নবী হুদকে বলল: "তুমি কি আমাদের কাছে এজন্য এসেছ যে আমরা যেন এক আল্লাহর ইবাদত করি এবং আমাদের পিতৃপুরুষরা যার ইবাদত করত তা বর্জন করি? তাহলে তুমি যদি সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হও তবে আমাদের কাছে সেই আযাব নিয়ে এসো যার প্রতিশ্রুতি তুমি আমাদের দিচ্ছ।" [আল-আ'রাফ: ৭০] .

অনুরূপভাবে আল্লাহর নবী শুআইবের প্রতি মাদইয়ানবাসীদের অবস্থানও ছিল তেমনই। মহান আল্লাহ বলেন: "হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোনো ইলাহ নেই। আর তোমরা মাপে ও ওজনে কম দিও না। আমি তোমাদেরকে সচ্ছল অবস্থায় দেখছি, আর আমি তোমাদের ওপর এক পরিবেষ্টনকারী দিনের আযাবের আশঙ্কা করছি। হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা ন্যায়বিচারের সাথে পরিমাপ ও ওজন পূর্ণ করো এবং মানুষকে তাদের প্রাপ্য বস্তু কম দিও না এবং যমীনে ফাসাদ সৃষ্টি করে বেড়িও না। আল্লাহর পক্ষ থেকে যা অবশিষ্ট থাকে তা-ই তোমাদের জন্য উত্তম যদি তোমরা মুমিন হও। আর আমি তোমাদের ওপর কোনো রক্ষক নই।" [হুদ: ৮৪-৮৬]। এই সংস্কারমূলক দাওয়াতের প্রতি তাদের অবস্থান কী ছিল? তারা অবাধ্যতা ও বিরোধিতার ঝাণ্ডা তুলে ধরেছিল: "তারা বলল: হে শুআইব! তোমার সালাত কি তোমাকে এই নির্দেশ দেয় যে, আমাদের পিতৃপুরুষরা যার ইবাদত করত আমাদের তা ছেড়ে দিতে হবে অথবা আমাদের ধন-সম্পদের ব্যাপারে আমাদের ইচ্ছামতো যা করি তা বর্জন করতে হবে? তুমি তো অত্যন্ত ধৈর্যশীল ও সুপথগামী।" [হুদ: ৮৭] .

"তারা বলল: হে শুআইব! তুমি যা বল তার অনেক কিছুই আমরা বুঝি না এবং আমরা তোমাকে আমাদের মধ্যে দুর্বল হিসেবে দেখছি। আর তোমার স্বজনরা না থাকলে আমরা তোমাকে পাথর মেরে হত্যা করতাম এবং আমাদের কাছে তোমার কোনো সম্মান নেই।" [হুদ: ৯১] .
(খণ্ড: ১) আল ওয়াহইউ ওয়াল ইনসান - কিরায়াতুন মা'রিফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
وكذلك فعل أهل ثمود مع نبي الله صالح، قال تعالى: {وَإِلَى ثَمُودَ أَخَاهُمْ صَالِحًا قَالَ يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ هُوَ أَنْشَأَكُمْ مِنَ الْأَرْضِ وَاسْتَعْمَرَكُمْ فِيهَا فَاسْتَغْفِرُوهُ ثُمَّ تُوبُوا إِلَيْهِ إِنَّ رَبِّي قَرِيبٌ مُجِيبٌ، قَالُوا يَا صَالِحُ قَدْ كُنْتَ فِينَا مَرْجُوًّا قَبْلَ هَذَا أَتَنْهَانَا أَنْ نَعْبُدَ مَا يَعْبُدُ آبَاؤُنَا وَإِنَّنَا لَفِي شَكٍّ مِمَّا تَدْعُونَا إِلَيْهِ مُرِيبٍ} [هود: 61، 62] .

وكذلك فعل بنو إسرائيل مع نبي الله موسى، قال تعالى: {ثُمَّ بَعَثْنَا مِنْ بَعْدِهِمْ مُوسَى وَهَارُونَ إِلَى فِرْعَوْنَ وَمَلَأِهِ بِآياتِنَا فَاسْتَكْبَرُوا وَكَانُوا قَوْمًا مُجْرِمِينَ، فَلَمَّا جَاءَهُمُ الْحَقُّ مِنْ عِنْدِنَا قَالُوا إِنَّ هَذَا لَسِحْرٌ مُبِينٌ، قَالَ مُوسَى أَتَقُولُونَ لِلْحَقِّ لَمَّا جَاءَكُمْ أَسِحْرٌ هَذَا وَلا يُفْلِحُ السَّاحِرُونَ، قَالُوا أَجِئْتَنَا لِتَلْفِتَنَا عَمَّا وَجَدْنَا عَلَيْهِ آبَاءَنَا وَتَكُونَ لَكُمَا الْكِبْرِيَاءُ فِي الْأَرْضِ وَمَا نَحْنُ لَكُمَا بِمُؤْمِنِينَ} [يونس: 75-78] .

وهكذا تكررت هذه المواقف من نبي إلى نبي، ومن أمة إلى أمة، ونجد السبب واحدا، إنه الإلف والتعود والتعصب لما ورثوه عن جيل الآباء والأجداد، من عادات وعقائد وقعوا أسرى لها دون أن يتساءلوا حولها ليعرفوا موقعها من الصواب والخطأ، والحق والباطل.

وإنما كفاهم أنها مواريث الآباء ومُقدسات الأجداد، وكان موقفهم من دعوة الرسل هو الرفض والمُعاندة. وقالوا لرسلهم:
অনুরূপভাবে সামুদ জাতি আল্লাহর নবী সালেহের সাথে আচরণ করেছিল। মহান আল্লাহ বলেন: "আর আমি সামুদ জাতির নিকট তাদের ভাই সালেহকে পাঠিয়েছিলাম। তিনি বলেছিলেন, ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোনো ইলাহ নেই। তিনি তোমাদেরকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং সেখানে তোমাদেরকে বসবাস করিয়েছেন। অতএব তোমরা তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো, তারপর তাঁরই দিকে ফিরে আসো। নিশ্চয়ই আমার রব অতি নিকটে, কবুলকারী।’ তারা বলেছিল, ‘হে সালেহ! এর আগে তুমি আমাদের কাছে আশার পাত্র ছিলে। আমাদের পিতৃপুরুষেরা যা ইবাদত করত, তুমি কি আমাদের তা থেকে নিষেধ করছ? তুমি আমাদের যার দিকে আহ্বান করছ, সে সম্পর্কে আমরা গভীর সন্দেহে রয়েছি।’" [হূদ: ৬১, ৬২]।

অনুরূপভাবে বনী ইসরাঈল আল্লাহর নবী মূসার সাথেও অনুরূপ আচরণ করেছিল। মহান আল্লাহ বলেন: "তারপর তাদের পরে আমি মূসা ও হারুনকে আমার নিদর্শনসহ ফেরাউন ও তার পারিষদবর্গের কাছে পাঠিয়েছিলাম, কিন্তু তারা অহংকার করল; আর তারা ছিল এক অপরাধী জাতি। অতঃপর যখন আমার পক্ষ থেকে তাদের কাছে সত্য এল, তখন তারা বলতে লাগল, ‘নিশ্চয়ই এটা স্পষ্ট জাদু।’ মূসা বললেন, ‘তোমাদের কাছে যখন সত্য এল, তখন কি তোমরা সে সম্পর্কে এ কথা বলছ? এটা কি জাদু? অথচ জাদুকররা সফল হয় না।’ তারা বলল, ‘আমাদের পিতৃপুরুষদের যে পথে পেয়েছি, তা থেকে আমাদের বিচ্যুত করার জন্য এবং এ দেশে তোমাদের দুইজনের আধিপত্য কায়েম করার জন্যই কি তুমি আমাদের কাছে এসেছ? আমরা তোমাদের প্রতি ঈমান আনব না।’" [ইউনুস: ৭৫-৭৮]।

এভাবে এক নবী থেকে অন্য নবীর ক্ষেত্রে এবং এক জাতি থেকে অন্য জাতির ক্ষেত্রে এই অবস্থানগুলোর পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। আর আমরা এর কারণ একটিই পাই; তা হলো তাদের পিতৃপুরুষ ও পূর্বপুরুষদের প্রজন্মের কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া অভ্যাস ও আকিদা-বিশ্বাসের প্রতি তাদের আসক্তি, অভ্যস্ততা এবং অন্ধ পক্ষপাত। তারা এগুলোর দাসে পরিণত হয়েছিল, অথচ তারা এগুলো নিয়ে কোনো প্রশ্নও তোলেনি যাতে সঠিক ও ভুল এবং সত্য ও মিথ্যার মানদণ্ডে এর অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারে।

বরং তাদের কাছে এটাই যথেষ্ট ছিল যে, এগুলো তাদের পিতৃপুরুষদের উত্তরাধিকার এবং পূর্বপুরুষদের পবিত্র বিষয়। রাসুলদের দাওয়াতের প্রতি তাদের অবস্থান ছিল কেবল প্রত্যাখ্যান ও হঠকারিতা। তারা তাদের রাসুলদের বলেছিল:
(খণ্ড: ১) আল ওয়াহইউ ওয়াল ইনসান - কিরায়াতুন মা'রিফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
{إِنْ أَنْتُمْ إِلَّا بَشَرٌ مِثْلُنَا تُرِيدُونَ أَنْ تَصُدُّونَا عَمَّا كَانَ يَعْبُدُ آبَاؤُنَا} [إبراهيم: 10] .

وقالوا لنبي الله شعيب: {لَنُخْرِجَنَّكَ يَا شُعَيْبُ وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَكَ مِنْ قَرْيَتِنَا أَوْ لَتَعُودُنَّ فِي مِلَّتِنَا قَالَ أَوَلَوْ كُنَّا كَارِهِينَ} .

وقالوا: {لَئِنِ اتَّبَعْتُمْ شُعَيْبًا إِنَّكُمْ إِذًا لَخَاسِرُونَ} [الأعراف: 88-90] .

وقالوا لرسلهم: {لَنُخْرِجَنَّكُمْ مِنْ أَرْضِنَا أَوْ لَتَعُودُنَّ فِي مِلَّتِنَا} [إبراهيم: 13] . إنها نفس القضية تتكرر مع جميع الأنبياء؛ التشبث بالمواريث والتقاليد والتعصب لها، ومحاربة كل دعوة إصلاحية جديدة تحمل معها رياح التغيير والإقلاع عن هذه المواريث.

ب- أما النمط الثاني من المُعارضين للوحي فهم أصحاب الملك والسلطان والرياسات الموجودون في فئات كثيرة من أبناء المُجتمعات البشرية، خاصة أصحاب النزعة الفرعونية منهم، الذين يسوسون رعاياهم تحت شعار: {مَا أُرِيكُمْ إِلَّا مَا أَرَى} وهؤلاء تجدهم في كل عصر، وفي كل طبقة اجتماعية مُعينة، وتجدهم بين أصحاب الحرف كما تجدهم في طبقة المُشتغلين بالعلم، ولكن أشدهم وطأة وأكثرهم بطشا أصحاب السلطان السياسي من الحُكام المستبدين بشعوبهم، والذين لا يرضيهم من الشعوب إلا أن يكونوا قطيعا من الغنم حتى وإن أوردهم ساستهم
"তোমরা তো আমাদের মতোই মানুষ; তোমরা আমাদের সেই উপাস্য থেকে বিরত রাখতে চাও যার ইবাদত আমাদের পিতৃপুরুষরা করত।" [ইব্রাহিম: ১০] ।

তারা আল্লাহর নবী শুআইবকে বলেছিল: {হে শুআইব, আমরা তোমাকে এবং তোমার সাথে যারা ঈমান এনেছে তাদের অবশ্যই আমাদের জনপদ থেকে বের করে দেব অথবা তোমাদের অবশ্যই আমাদের ধর্মে ফিরে আসতে হবে। তিনি বললেন: আমরা অপছন্দ করলেও কি?} ।

তারা বলেছিল: {যদি তোমরা শুআইবকে অনুসরণ করো, তবে তোমরা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হবে} [আল-আরাফ: ৮৮-৯০] ।

তারা তাদের রাসুলদের বলেছিল: {আমরা তোমাদের অবশ্যই আমাদের ভূমি থেকে বের করে দেব অথবা তোমাদের অবশ্যই আমাদের ধর্মে ফিরে আসতে হবে} [ইব্রাহিম: ১৩] । এটি সেই একই বিষয় যা সকল নবীর ক্ষেত্রেই পুনরাবৃত্ত হয়েছে; অর্থাৎ উত্তরাধিকার ও প্রথাকে আঁকড়ে ধরা এবং এর প্রতি গোঁড়ামি প্রদর্শন করা, এবং প্রতিটি নতুন সংস্কারবাদী দাওয়াতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা যা পরিবর্তনের হাওয়া এবং এই উত্তরাধিকার বর্জনের বার্তা বয়ে আনে।

খ- ওহীর বিরোধিতাকারীদের দ্বিতীয় প্রকার হলো রাজত্ব, ক্ষমতা ও নেতৃত্বের অধিকারীগণ, যারা মানব সমাজের বহু স্তরে বিদ্যমান; বিশেষ করে তাদের মধ্যে ফেরাউনী মানসিকতা সম্পন্ন ব্যক্তিরা, যারা তাদের প্রজাদের এই স্লোগানের অধীনে শাসন করে: {আমি যা সঠিক মনে করি কেবল তা-ই তোমাদের দেখাই}। এদের আপনি প্রতিটি যুগে এবং প্রতিটি নির্দিষ্ট সামাজিক স্তরে খুঁজে পাবেন। আপনি তাদের যেমন কারিগরদের মধ্যে পাবেন, তেমনি জ্ঞানচর্চায় নিয়োজিত শ্রেণির মধ্যেও পাবেন। তবে তাদের মধ্যে সবচেয়ে কঠোর ও সবচেয়ে বেশি দমনকারী হলো রাজনৈতিক ক্ষমতার অধিকারী স্বৈরাচারী শাসকগোষ্ঠী, যারা তাদের জনগণের কাছ থেকে কেবল একটি ভেড়ার পালের মতো আচরণ প্রত্যাশা করে, এমনকি তাদের শাসকরা যদি তাদের ধ্বংসের মুখেও নিয়ে যায়।
(খণ্ড: ১) আল ওয়াহইউ ওয়াল ইনসান - কিরায়াতুন মা'রিফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
موارد الهلاك والدمار، فلا يرضى السلطان إلا بالخضوع المُطلق، فلا يسمع بين الناس إلا صوته ولا يقبل أن يسأل عما يفعل وهم يسألون. إنه المنطق الفرعوني الذي يتكرر على مدار التاريخ، وغالبًا ما يدور في فلك أصحاب النفوذ في كل مجتمع طبقة من الذيول والأتباع أو المريدين المحبين، يجعلون همهم الأكبر تلمس مواطن رضى رئيسهم، فيكونون حيث يريد وحيث يحب ويهوى، ويتنافسون في أن يزينوا له سوء عمله ليراه حسنًا ويراه الأتباع مقبولًا، وهؤلاء موجودون في كل فئة من فئات المجتمع، ووجودهم حول السلطان الأكبر أكثر وخطرهم على الرعية أشد قسوة من خطر السلطان نفسه؛ لأنهم ينطلقون في البلاد يعيثون فيها فسادا باسم السلطان وفي حمايته، وكم قاست الشعوب وذاقت مرارة الظلم والقهر من بطش هؤلاء الأتباع، ومع كثرة هؤلاء واشتداد قسوتهم يزداد إحساس الشعوب بالقهر والظلم، ومن المعلوم أن نفوس بني آدم متنوعة ومواقفهم متباينة، فإذا وجدت شخصًا في أمة يعارض هذا اللون من السياسة الفرعونية، فإنك تجد بجانبه الجمهور الأعظم من الناس يؤثرون الصمت، ويفضلون الفوز بإحدى الحسنيين، وهي السلامة من بطش السلطان، وربما ينضم إلى قافلة "المريدين" والمسبحين باسمه.
ধ্বংস ও বিনাশের উৎসসমূহ; সুতরাং শাসক নিরঙ্কুশ বশ্যতা ব্যতীত অন্য কিছুতে সন্তুষ্ট হন না, ফলে জনগণের মাঝে কেবল তারই কণ্ঠস্বর শ্রুত হয় এবং তিনি যা করেন সে বিষয়ে তাকে কোনো প্রশ্ন করা যায় না, অথচ তাদের (জনগণকে) জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এটিই সেই ফেরাউনি যুক্তি যা ইতিহাসের পরিক্রমায় বারবার ফিরে আসে। প্রতিটি সমাজে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বলয়ে প্রায়ই এক শ্রেণির লেজুড়বৃত্তিধারী, অনুসারী বা অনুরাগী ভক্তদের বিচরণ থাকে, যাদের প্রধানতম লক্ষ্য হলো তাদের নেতার সন্তুষ্টির ক্ষেত্রগুলো অন্বেষণ করা; ফলে তারা সেখানেই থাকে যেখানে তিনি চান এবং যা তিনি পছন্দ ও কামনা করেন। তারা নেতার মন্দ কাজগুলোকে সুশোভিত করার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয় যাতে তিনি সেগুলোকে উত্তম মনে করেন এবং অনুসারীরা সেগুলোকে গ্রহণযোগ্য হিসেবে গণ্য করে। সমাজের প্রতিটি স্তরেই এদের উপস্থিতি বিদ্যমান, তবে বড় শাসকের পরিমণ্ডলে এদের উপস্থিতি থাকে আরও বেশি এবং প্রজাসাধারণের ওপর এদের বিপদ খোদ শাসকের বিপদের চেয়েও অধিকতর কঠোর; কারণ তারা শাসকের নামে এবং তারই ছত্রছায়ায় দেশে ফাসাদ ও বিপর্যয় সৃষ্টি করে বেড়ায়। জাতিসমূহ এই অনুসারীদের নিষ্ঠুরতা থেকে কতই না কষ্ট সহ্য করেছে এবং জুলুম ও নিপীড়নের তিক্ত স্বাদ আস্বাদন করেছে। এদের আধিক্য ও নিষ্ঠুরতার তীব্রতার সাথে সাথে জনগণের মধ্যে নিপীড়ন ও অন্যায়ের বোধ আরও বেড়ে যায়। এটি সর্বজনবিদিত যে বনী আদমের প্রবৃত্তি বিচিত্র এবং তাদের অবস্থানও ভিন্ন ভিন্ন। সুতরাং আপনি যদি কোনো জাতির মাঝে এমন কাউকে খুঁজে পান যে এই প্রকার ফেরাউনি রাজনীতির বিরোধিতা করছে, তবে আপনি তার পাশে জনগণের বিশাল অংশকে নীরবতা অবলম্বন করতে দেখবেন, যারা সুলতানের আক্রমণ থেকে নিরাপত্তা লাভকেই দুটি কল্যাণের একটি মনে করে অগ্রাধিকার দেয়, এমনকি হয়তো তারা শাসকের নামে স্তুতিবাক্য পাঠকারী 'মুরিদ' বা ভক্তদের দলেই শামিল হয়ে যায়।
(খণ্ড: ১) আল ওয়াহইউ ওয়াল ইনসান - কিরায়াতুন মা'রিফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
ولقد وجدنا القرآن الكريم يقص علينا سلوك هذا النمط من الناس مجسدا في سيرة فرعون مع نبي الله موسى، وكيف زين له أتباعه سوء عمله فرآه حسنا، فادعى الألوهية، وقال لقومه: ما علمت لكم من إله غيري، وقال لهم: أنا ربكم الأعلى.

وحين يقص القرآن علينا هذه المواقف المتعددة، فإنه يختمها ببيان العواقب الوخيمة التي آلت إليها مصائر هذه الأمم الماضية؛ لنأخذ منها العبرة ونعي دروس التاريخ، فقال سبحانه في حق قوم نوح:

{فَكَذَّبُوهُ فَنَجَّيْنَاهُ وَمَنْ مَعَهُ فِي الْفُلْكِ وَجَعَلْنَاهُمْ خَلائِفَ وَأَغْرَقْنَا الَّذِينَ كَذَّبُوا بِآياتِنَا فَانْظُرْ كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُنْذَرِينَ} [يونس: 73] .

وقال في سورة الشعراء: {فَأَنْجَيْنَاهُ وَمَنْ مَعَهُ فِي الْفُلْكِ الْمَشْحُونِ، ثُمَّ أَغْرَقْنَا بَعْدُ الْبَاقِينَ، إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَةً وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُمْ مُؤْمِنِينَ} [الشعراء: 119-121] .

وقال في حق قوم عاد: {قَالَ قَدْ وَقَعَ عَلَيْكُمْ مِنْ رَبِّكُمْ رِجْسٌ وَغَضَبٌ أَتُجَادِلُونَنِي فِي أَسْمَاءٍ سَمَّيْتُمُوهَا أَنْتُمْ وَآبَاؤُكُمْ مَا نَزَّلَ اللَّهُ بِهَا مِنْ سُلْطَانٍ فَانْتَظِرُوا إِنِّي مَعَكُمْ مِنَ الْمُنْتَظِرِينَ، فَأَنْجَيْنَاهُ وَالَّذِينَ مَعَهُ بِرَحْمَةٍ مِنَّا وَقَطَعْنَا دَابِرَ الَّذِينَ كَذَّبُوا بِآياتِنَا وَمَا كَانُوا مُؤْمِنِينَ} [الأعراف: 71، 72] .
নিশ্চয়ই আমরা পবিত্র কুরআনকে আমাদের নিকট এই শ্রেণীর মানুষের আচরণের বর্ণনা দিতে দেখি যা আল্লাহর নবী মুসার সাথে ফিরআউনের জীবনীতে মূর্ত হয়েছে; কীভাবে তার অনুসারীরা তার নিকট তার মন্দ কর্মকে সুশোভিত করেছিল ফলে সে তাকে উত্তম রূপে দেখেছিল, অতঃপর সে প্রভুত্বের দাবি করেছিল এবং তার কওমকে বলেছিল: ‘আমি তোমাদের জন্য আমি ব্যতীত অন্য কোনো ইলাহ আছে বলে জানি না’, এবং সে তাদের বলেছিল: ‘আমিই তোমাদের সর্বোচ্চ রব’।

এবং যখন কুরআন আমাদের নিকট এই বহুমুখী অবস্থানসমূহ বর্ণনা করে, তখন সেগুলোকে সেই ভয়াবহ পরিণতির বর্ণনার মাধ্যমে সমাপ্ত করে যার দিকে এই অতীত জাতিসমূহের নিয়তি ধাবিত হয়েছিল; যেন আমরা তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করি এবং ইতিহাসের পাঠসমূহ অনুধাবন করি। মহান আল্লাহ নূহের কওম সম্পর্কে বলেছেন:

“অতঃপর তারা তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল, তখন আমরা তাকে ও তার সাথে যারা নৌযানে ছিল তাদেরকে উদ্ধার করলাম এবং তাদেরকে স্থলাভিষিক্ত করলাম, আর যারা আমাদের আয়াতসমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল তাদেরকে ডুবিয়ে দিলাম। সুতরাং লক্ষ্য কর, যাদেরকে সতর্ক করা হয়েছিল তাদের পরিণাম কেমন হয়েছিল।” [ইউনুস: ৭৩]।

এবং সুরা আশ-শুআরায় তিনি বলেছেন: “অতঃপর আমরা তাকে ও তার সাথে যারা বোঝাই করা নৌযানে ছিল তাদেরকে উদ্ধার করলাম। তারপর আমরা অবশিষ্টদের ডুবিয়ে দিলাম। নিশ্চয় এতে নিদর্শন রয়েছে, কিন্তু তাদের অধিকাংশ মুমিন ছিল না।” [আশ-শুআরা: ১১৯-১২১]।

এবং আদ জাতির ব্যাপারে তিনি বলেছেন: “তিনি বললেন, ‘তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের ওপর শাস্তি ও ক্রোধ আপতিত হয়েছে। তোমরা কি আমার সাথে এমন সব নাম নিয়ে বিতর্ক করছ যা তোমরা ও তোমাদের পিতৃপুরুষেরা নামকরণ করেছ, যে বিষয়ে আল্লাহ কোনো প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি? সুতরাং তোমরা অপেক্ষা কর, নিশ্চয় আমিও তোমাদের সাথে অপেক্ষমাণদের অন্তর্ভুক্ত।’ অতঃপর আমরা তাকে ও যারা তার সাথে ছিল তাদেরকে আমাদের পক্ষ থেকে বিশেষ রহমতে উদ্ধার করলাম এবং যারা আমাদের আয়াতসমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল তাদের মূলোৎপাটন করলাম, আর তারা মুমিন ছিল না’।” [আল-আরাফ: ৭১, ৭২]।
(খণ্ড: ১) আল ওয়াহইউ ওয়াল ইনসান - কিরায়াতুন মা'রিফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
وقال في سورة الحاقة: {وَأَمَّا عَادٌ فَأُهْلِكُوا بِرِيحٍ صَرْصَرٍ عَاتِيَةٍ، سَخَّرَهَا عَلَيْهِمْ سَبْعَ لَيَالٍ وَثَمَانِيَةَ أَيَّامٍ حُسُومًا فَتَرَى الْقَوْمَ فِيهَا صَرْعَى كَأَنَّهُمْ أَعْجَازُ نَخْلٍ خَاوِيَةٍ، َهَلْ تَرَى لَهُمْ مِنْ بَاقِيَةٍ} [الحاقة: 6-8] .

وقال في الشعراء: {فَكَذَّبُوهُ فَأَهْلَكْنَاهُمْ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَةً وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُمْ مُؤْمِنِينَ} [الشعراء: 139] .

وقال في حق قوم ثمود: {قَالَ الْمَلَأُ الَّذِينَ اسْتَكْبَرُوا مِنْ قَوْمِهِ لِلَّذِينَ اسْتُضْعِفُوا لِمَنْ آمَنَ مِنْهُمْ أَتَعْلَمُونَ أَنَّ صَالِحًا مُرْسَلٌ مِنْ رَبِّهِ قَالُوا إِنَّا بِمَا أُرْسِلَ بِهِ مُؤْمِنُونَ، قَالَ الَّذِينَ اسْتَكْبَرُوا إِنَّا بِالَّذِي آمَنْتُمْ بِهِ كَافِرُونَ، فَعَقَرُوا النَّاقَةَ وَعَتَوْا عَنْ أَمْرِ رَبِّهِمْ وَقَالُوا يَا صَالِحُ ائْتِنَا بِمَا تَعِدُنَا إِنْ كُنْتَ مِنَ الْمُرْسَلِينَ، فَأَخَذَتْهُمُ الرَّجْفَةُ فَأَصْبَحُوا فِي دَارِهِمْ جَاثِمِينَ} [الأعراف: 75-78] . وقال في سورة الحاقة: {فَأَمَّا ثَمُودُ فَأُهْلِكُوا بِالطَّاغِيَةِ} [الحاقة: 5] .

وقال في حق قوم لوط: {وَمَا كَانَ جَوَابَ قَوْمِهِ إِلَّا أَنْ قَالُوا أَخْرِجُوهُمْ مِنْ قَرْيَتِكُمْ إِنَّهُمْ أُنَاسٌ يَتَطَهَّرُونَ، فَأَنْجَيْنَاهُ وَأَهْلَهُ إِلَّا امْرَأَتَهُ كَانَتْ مِنَ الْغَابِرِينَ، وَأَمْطَرْنَا عَلَيْهِمْ مَطَرًا فَانْظُرْ كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُجْرِمِينَ} [الأعراف: 82-84] .

وقال في سورة العنكبوت: {وَلَمَّا أَنْ جَاءَتْ رُسُلُنَا لُوطًا سِيءَ بِهِمْ وَضَاقَ بِهِمْ ذَرْعًا وَقَالُوا لا تَخَفْ وَلا تَحْزَنْ إِنَّا مُنَجُّوكَ وَأَهْلَكَ إِلَّا امْرَأَتَكَ كَانَتْ مِنَ الْغَابِرِينَ، إِنَّا مُنْزِلُونَ عَلَى أَهْلِ هَذِهِ
আর তিনি সূরা আল-হাক্কাহ-তে বলেছেন: “আর আদ সম্প্রদায়কে ধ্বংস করা হয়েছে এক প্রচণ্ড শব্দকারী ঝঞ্ঝাবায়ু দ্বারা, যা তিনি তাদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছিলেন সাত রাত ও আট দিন অবিরামভাবে। ফলে তুমি সেখানে লোকগুলোকে লুটিয়ে পড়া অবস্থায় দেখতে পেতে, যেন তারা উপড়ে পড়া খেজুর গাছের অসার কাণ্ড। সুতরাং তুমি কি তাদের কাউকে অবশিষ্ট দেখতে পাও?” [আল-হাক্কাহ: ৬-৮] ।

আর তিনি সূরা আশ-শুআরা-তে বলেছেন: “অতঃপর তারা তাকে মিথ্যাবাদী বলল, ফলে আমি তাদের ধ্বংস করে দিলাম। নিশ্চয় এতে নিদর্শন রয়েছে, কিন্তু তাদের অধিকাংশ লোকই মুমিন ছিল না।” [আশ-শুআরা: ১৩৯] ।

আর তিনি সামুদ সম্প্রদায়ের ব্যাপারে বলেছেন: “তার সম্প্রদায়ের অহংকারী নেতারা তাদের মধ্য থেকে যারা দুর্বল ছিল—তথা যারা ঈমান এনেছিল—তাদের বলল: ‘তোমরা কি জান যে, সালিহ তার রবের পক্ষ থেকে প্রেরিত?’ তারা বলল: ‘নিশ্চয় তিনি যা নিয়ে প্রেরিত হয়েছেন, আমরা তাতে বিশ্বাসী।’ যারা অহংকার করেছিল তারা বলল: ‘নিশ্চয় তোমরা যার ওপর ঈমান এনেছ, আমরা তা অস্বীকার করি।’ অতঃপর তারা উষ্ট্রীটি যবেহ করল এবং তাদের রবের আদেশ অমান্য করে উদ্ধত হলো। আর তারা বলল: ‘হে সালিহ, তুমি যদি রাসূলদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকো তবে যার ওয়াদা আমাদের দিচ্ছ তা নিয়ে এসো।’ অতঃপর এক ভয়াবহ ভূমিকম্প তাদের গ্রাস করল, ফলে তারা তাদের ঘরে উপুড় হয়ে পড়ে রইল।” [আল-আরাফ: ৭৫-৭৮] । আর তিনি সূরা আল-হাক্কাহ-তে বলেছেন: “অতঃপর সামুদ সম্প্রদায়কে তো ধ্বংস করা হয়েছিল এক মহাপ্রলয়ংকারী বিপর্যয় দ্বারা।” [আল-হাক্কাহ: ৫] ।

আর তিনি লুত সম্প্রদায়ের ব্যাপারে বলেছেন: “তার সম্প্রদায়ের উত্তর এ ছাড়া আর কিছুই ছিল না যে, তারা বলেছিল: ‘তাদেরকে তোমাদের জনপদ থেকে বের করে দাও, এরা তো এমন লোক যারা অতি পবিত্র হতে চায়।’ অতঃপর আমি তাকে ও তার পরিবারকে উদ্ধার করলাম, কেবল তার স্ত্রী ছাড়া; সে ছিল পেছনে থেকে যাওয়াদের অন্তর্ভুক্ত। আর আমি তাদের ওপর এক বিশেষ বৃষ্টি বর্ষণ করলাম। সুতরাং দেখ, অপরাধীদের পরিণতি কেমন হয়েছিল।” [আল-আরাফ: ৮২-৮৪] ।

আর তিনি সূরা আল-আনকাবুত-তে বলেছেন: “আর যখন আমার প্রেরিত ফেরেশতারা লুতের কাছে পৌঁছাল, তখন তাদের আগমনে সে বিষণ্ণ হয়ে পড়ল এবং তাদের কারণে তার মন সঙ্কুচিত হয়ে গেল। তারা বলল: ‘ভয় পাবেন না এবং দুঃখ করবেন না। আমরা অবশ্যই আপনাকে ও আপনার পরিবারকে রক্ষা করব, কেবল আপনার স্ত্রী ছাড়া; সে পেছনে অবস্থানকারীদের অন্তর্ভুক্ত থাকবে। নিশ্চয় আমরা এই জনপদের অধিবাসীদের ওপর...” [আল-আনকাবুত: ৩৩-৩৪]।
(খণ্ড: ১) আল ওয়াহইউ ওয়াল ইনসান - কিরায়াতুন মা'রিফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
الْقَرْيَةِ رِجْزًا مِنَ السَّمَاءِ بِمَا كَانُوا يَفْسُقُونَ، وَلَقَدْ تَرَكْنَا مِنْهَا آيَةً بَيِّنَةً لِقَوْمٍ يَعْقِلُونَ} [العنكبوت: 33-35] .

وقال في سورة الشعراء: {فَنَجَّيْنَاهُ وَأَهْلَهُ أَجْمَعِينَ، إِلَّا عَجُوزًا فِي الْغَابِرِينَ، ثُمَّ دَمَّرْنَا الْآخَرِينَ، وَأَمْطَرْنَا عَلَيْهِمْ مَطَرًا فَسَاءَ مَطَرُ الْمُنْذَرِينَ، إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَةً وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُمْ مُؤْمِنِينَ} [الشعراء: 170-174] .

وقال سبحانه وتعالى عن مصير هؤلاء جميعًا: {فَكُلًّا أَخَذْنَا بِذَنْبِهِ فَمِنْهُمْ مَنْ أَرْسَلْنَا عَلَيْهِ حَاصِبًا وَمِنْهُمْ مَنْ أَخَذَتْهُ الصَّيْحَةُ وَمِنْهُمْ مَنْ خَسَفْنَا بِهِ الْأَرْضَ وَمِنْهُمْ مَنْ أَغْرَقْنَا وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيَظْلِمَهُمْ وَلَكِنْ كَانُوا أَنْفُسَهُمْ يَظْلِمُونَ} [العنكبوت: 40] . وتأمل معي هذه الخاتمة في كل موقف: {إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآَيَةً} ، أو قوله: {فَانْظُرْ كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الظَّالِمِينَ} أو {عَاقِبَةُ الْمُجْرِمِينَ} أو {عَاقِبَةُ الْمُفْسِدِينَ} وهذه كلها تنبيهات وإشارات لكي تعي الأمة الإسلامية الدروس، وتأخذ العبرة من التاريخ.

ومن الأمور اللافتة للنظر حقا أن هذين النمطين؛ أهل الأهواء، وأصحاب السلطان تكررت مواقفهم مع الأنبياء قديما وتنكرت مواقفهم مع ورثة الأنبياء في العصور التالية، وكما أشرنا سابقا فإن كل نفس فيها ما في نفس فرعون من حب العلو في الأرض وحب الرياسة والاستكبار، فإذا وجدت من يزين لها ما تهوى، وإذا وجدت
...সেই জনপদবাসীর ওপর তাদের পাপাচারের কারণে আকাশ থেকে এক শাস্তি অবতীর্ণ করলাম। আর নিশ্চয়ই আমি বোধসম্পন্ন সম্প্রদায়ের জন্য তাতে এক স্পষ্ট নিদর্শন রেখে দিয়েছি। [আল-আনকাবুত: ৩৩-৩৫] ।

এবং তিনি সূরা আশ-শুআরায় বলেছেন: {অতঃপর আমি তাকে এবং তার পরিবারের সকলকে রক্ষা করলাম, কেবল এক বৃদ্ধা ব্যতীত যে পেছনে অবস্থানকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিল। এরপর আমি অন্যদের সমূলে ধ্বংস করে দিলাম। আর আমি তাদের ওপর এক বিশেষ বৃষ্টি বর্ষণ করলাম, সেই সতর্ককৃতদের ওপর বর্ষিত বৃষ্টি কতই না নিকৃষ্ট ছিল! নিশ্চয়ই এতে রয়েছে এক নিদর্শন, অথচ তাদের অধিকাংশ ইমান আনয়নকারী ছিল না।} [আশ-শুআরা: ১৭০-১৭৪] ।

এবং মহান আল্লাহ এই সকলের পরিণাম সম্পর্কে বলেছেন: {তাদের প্রত্যেককেই আমি তার অপরাধের কারণে পাকড়াও করেছি; তাদের কারো প্রতি আমি প্রেরণ করেছি পাথরসহ প্রচণ্ড ঝটিকা, কাউকে পাকড়াও করেছে মহানাদ, কাউকে আমি ধসিয়ে দিয়েছি ভূগর্ভে আর কাউকে করেছি নিমজ্জিত। আল্লাহ তাদের প্রতি কোনো যুলুম করেননি, বরং তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি যুলুম করত।} [আল-আনকাবুত: ৪০] । আর আমার সাথে প্রতিটি ঘটনার এই পরিসমাপ্তি লক্ষ্য করুন: {নিশ্চয়ই এতে রয়েছে নিদর্শন}, অথবা তাঁর বাণী: {অতএব লক্ষ্য করো যালিমদের পরিণাম কেমন ছিল} অথবা {অপরাধীদের পরিণাম} অথবা {ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের পরিণাম}—এ সবই হলো সতর্কবার্তা ও ইঙ্গিত যাতে মুসলিম উম্মাহ এই পাঠগুলো উপলব্ধি করতে পারে এবং ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে।

আর সত্যিই লক্ষণীয় বিষয়গুলোর মধ্যে একটি হলো এই যে, এই দুই শ্রেণীর লোক—প্রবৃত্তি পূজারি এবং ক্ষমতাবান গোষ্ঠী—অতীতকালে নবীদের সাথে যেমন আচরণ করেছিল, পরবর্তী যুগগুলোতে নবীদের উত্তরসূরিদের সাথেও তাদের সেই আচরণের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। যেমনটি আমরা ইতিপূর্বে ইঙ্গিত করেছি যে, প্রত্যেক নফসের মধ্যেই ফিরআউনের নফসের মতো পৃথিবীতে শ্রেষ্ঠত্ব লাভের আকাঙ্ক্ষা, নেতৃত্বের মোহ এবং অহংকার বিদ্যমান থাকে। সুতরাং সে যখন এমন কাউকে পায় যে তার প্রবৃত্তির চাহিদাকে সুশোভিত করে দেয়, এবং যখন সে পায়...
(খণ্ড: ১) আল ওয়াহইউ ওয়াল ইনসান - কিরায়াতুন মা'রিফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
من يعينها على تحصيل ما تحب وترغب، فإنها تسارع في ذلك وتوالي وتعادي على ذلك، خاصة إذا وجدت بين بني قومها من هو مؤهل للقيام بهذا الدور -وما أكثرهم في كل فئة- وعرفت كيف تستعين بهم على تحصيل رغائبها وتحقيق أحلامها، وكلما ازداد هؤلاء الأتباع تزلفا وتزيينا لها ازداد إحساسها بالفرعونية، وصدق الله العظيم: {إِنَّ الْإِنْسَانَ لَيَطْغَى، أَنْ رَآهُ اسْتَغْنَى} وعند ذلك تتحول هذه الجوقة من الأتباع إلى بؤرة لصناعة الفراعين الذين يسوسون الرعية حسب هواهم، وهذا أمر موجود في كل العصور يحسه كل من {أَلْقَى السَّمْعَ وَهُوَ شَهِيدٌ} قد يختلف الأسلوب، قد تتغير المناهج حسب طبيعة العصر وظروف المجتمع والبيئة، وقد تغلف هذه الأساليب في مصطلحات وعبارات اجتماعية رنانة. لكن تظل الأهداف والمقاصد واحدة وهي سياسة الأتباع بمبدأ فرعون {مَا أُرِيكُمْ إِلَّا مَا أَرَى} .

2- الملاحظة الثانية:

إذا تتبعنا أحوال الأنبياء والمرسلين مع أقوامهم، سوف نجد اتفاقا بين المعارضين للوحي في كل أمة على وصف الرسل بصفات معينة.

فقد وصفوا الرسل بالسحر تارة، وبالجنون تارة أخرى، أو بالسفاهة والبحث عن الزعامة.

كما اتفقوا على وصف أتباع الأنبياء واتهامهم بأنهم سفهاء القوم، وأراذل الناس، تكرر ذلك كثيرا مع أنبياء الله وأتباعهم. قال
যে তাকে তার প্রিয় ও কাম্য বস্তু অর্জনে সাহায্য করে, সে তার দিকে দ্রুত ধাবিত হয় এবং তার ভিত্তিতেই বন্ধুত্ব ও শত্রুতা পোষণ করে। বিশেষ করে যখন সে তার স্বজাতির মধ্যে এমন কাউকে পায় যে এই ভূমিকা পালনে যোগ্য - এবং প্রতিটি দলেই তাদের সংখ্যা প্রচুর - এবং সে জেনে নেয় কীভাবে নিজের আকাঙ্ক্ষা পূরণ ও স্বপ্ন বাস্তবায়নে তাদের সাহায্য নিতে হয়। এই অনুসারীরা তার প্রতি যত বেশি তোষামোদ ও চাটুকারিতা বাড়িয়ে দেয়, তার মধ্যে ফেরাউনসুলভ মানসিকতা তত বেশি বৃদ্ধি পায়। মহান আল্লাহ সত্যই বলেছেন: "নিশ্চয়ই মানুষ সীমা লঙ্ঘন করে, যখন সে নিজেকে অভাবমুক্ত মনে করে"। আর তখনই এই অনুসারী দলটি ফেরাউন তৈরির কারখানায় পরিণত হয়, যারা তাদের খেয়ালখুশি অনুযায়ী প্রজাদের শাসন করে। এটি এমন একটি বিষয় যা প্রতিটি যুগে বিদ্যমান এবং তা অনুভব করে সেই ব্যক্তিই যে "মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করে এবং সে উপস্থিত থাকে"। পদ্ধতির ভিন্নতা থাকতে পারে, যুগের প্রকৃতি এবং সমাজ ও পরিবেশের প্রেক্ষাপটে কর্মপন্থা পরিবর্তিত হতে পারে, এবং এই পদ্ধতিগুলো সামাজিক জাঁকজমকপূর্ণ পরিভাষা ও বাক্যাংশ দ্বারা আবৃত থাকতে পারে। কিন্তু লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অভিন্ন থাকে, আর তা হলো ফেরাউনের নীতি অনুযায়ী অনুসারীদের পরিচালনা করা: "আমি তোমাদের যা দেখাই (অর্থাৎ আমার মত যা), আমি তা ছাড়া তোমাদের অন্য কিছু দেখাই না"।

২- দ্বিতীয় পর্যবেক্ষণ:

যদি আমরা নিজ নিজ কওমের সাথে নবী ও রাসূলগণের অবস্থাগুলো অনুসরণ করি, তবে আমরা দেখতে পাব যে প্রতিটি জাতির ওহী বিরোধীরা রাসূলদের নির্দিষ্ট কিছু বিশেষণে বিশেষায়িত করার ক্ষেত্রে একমত ছিল।

তারা রাসূলদের কখনো জাদুকর, কখনো পাগল, আবার কখনো নির্বোধ ও নেতৃত্ব অন্বেষণকারী হিসেবে অভিহিত করেছে।

একইভাবে তারা নবীদের অনুসারীদের বর্ণনা করার ক্ষেত্রেও একমত হয়েছিল এবং তাদেরকে কওমের নির্বোধ ও নীচ শ্রেণীর লোক হিসেবে অভিযুক্ত করেছিল; আল্লাহর নবীগণ ও তাঁদের অনুসারীদের ক্ষেত্রে এর পুনরাবৃত্তি বারবার ঘটেছে। তিনি বলেছেন
(খণ্ড: ১) আল ওয়াহইউ ওয়াল ইনসান - কিরায়াতুন মা'রিফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
تعالى حاكيا قوم نوح: {فَقَالَ الْمَلَأُ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ قَوْمِهِ مَا نَرَاكَ إِلَّا بَشَرًا مِثْلَنَا وَمَا نَرَاكَ اتَّبَعَكَ إِلَّا الَّذِينَ هُمْ أَرَاذِلُنَا بَادِيَ الرَّأْيِ وَمَا نَرَى لَكُمْ عَلَيْنَا مِنْ فَضْلٍ بَلْ نَظُنُّكُمْ كَاذِبِينَ} [هود: 27] .

وقالوا لنبي الله صالح: {إِنَّمَا أَنْتَ مِنَ الْمُسَحَّرِينَ، مَا أَنْتَ إِلَّا بَشَرٌ مِثْلُنَا فَأْتِ بِآيَةٍ إِنْ كُنْتَ مِنَ الصَّادِقِينَ، قَالَ هَذِهِ نَاقَةٌ لَهَا شِرْبٌ وَلَكُمْ شِرْبُ يَوْمٍ مَعْلُومٍ، وَلا تَمَسُّوهَا بِسُوءٍ فَيَأْخُذَكُمْ عَذَابُ يَوْمٍ عَظِيمٍ، فَعَقَرُوهَا فَأَصْبَحُوا نَادِمِينَ، فَأَخَذَهُمُ الْعَذَابُ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَةً وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُمْ مُؤْمِنِينَ} [الشعراء: 153-158] .

وقالوا لنبي الله شعيب: {إِنَّمَا أَنْتَ مِنَ الْمُسَحَّرِينَ، وَمَا أَنْتَ إِلَّا بَشَرٌ مِثْلُنَا وَإِنْ نَظُنُّكَ لَمِنَ الْكَاذِبِينَ، فَأَسْقِطْ عَلَيْنَا كِسَفًا مِنَ السَّمَاءِ إِنْ كُنْتَ مِنَ الصَّادِقِينَ، قَالَ رَبِّي أَعْلَمُ بِمَا تَعْمَلُونَ، فَكَذَّبُوهُ فَأَخَذَهُمْ عَذَابُ يَوْمِ الظُّلَّةِ إِنَّهُ كَانَ عَذَابَ يَوْمٍ عَظِيمٍ، إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَةً وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُمْ مُؤْمِنِينَ} [الشعراء: 185-190] .

وقالوا لنبي الله هود: {قَالُوا يَا هُودُ مَا جِئْتَنَا بِبَيِّنَةٍ وَمَا نَحْنُ بِتَارِكِي آلِهَتِنَا عَنْ قَوْلِكَ وَمَا نَحْنُ لَكَ بِمُؤْمِنِينَ، إِنْ نَقُولُ إِلَّا اعْتَرَاكَ بَعْضُ آلِهَتِنَا بِسُوءٍ قَالَ إِنِّي أُشْهِدُ اللَّهَ وَاشْهَدُوا أَنِّي بَرِيءٌ مِمَّا تُشْرِكُونَ} [هود: 53، 54] .

وكذلك كان موقف فرعون، وقومه من نبي الله موسى عليه السلام: {قَالَ لِلْمَلأِ حَوْلَهُ إِنَّ هَذَا لَسَاحِرٌ عَلِيمٌ، يُرِيدُ أَنْ يُخْرِجَكُمْ
মহান আল্লাহ নূহের কওমের কথা বর্ণনা করে বলেন: {অতঃপর তাঁর কওমের কাফির নেতৃবৃন্দ বলল, ‘আমরা তো তোমাকে আমাদের মতই একজন মানুষ ছাড়া আর কিছু দেখছি না। আর আমরা দেখছি যে, কেবল আমাদের মধ্যকার হীন লোকেরাই কোনো বিচার-বিবেচনা ছাড়াই তোমার অনুসরণ করেছে। আর আমাদের ওপর তোমাদের কোনো শ্রেষ্ঠত্বও আমরা দেখছি না; বরং আমরা তোমাদেরকে মিথ্যাবাদী মনে করি’} [হূদ: ২৭] ।

এবং তারা আল্লাহর নবী সালিহকে বলল: {তুমি তো কেবল জাদুগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত। তুমি তো আমাদের মতই একজন মানুষ ছাড়া আর কিছু নও। সুতরাং তুমি যদি সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হও তবে কোনো নিদর্শন নিয়ে এসো। তিনি বললেন, ‘এই যে এক উষ্ট্রী; এর জন্য আছে পানি পানের এক নির্ধারিত পালা এবং তোমাদের জন্যও আছে পানি পানের পালা, এক নির্দিষ্ট দিনে। আর তোমরা একে কোনো কষ্ট দিয়ো না, অন্যথায় এক মহাদিবসের শাস্তি তোমাদেরকে পাকড়াও করবে।’ অতঃপর তারা তার পা কেটে তাকে হত্যা করল, ফলে তারা লজ্জিত হলো। এরপর শাস্তি তাদেরকে পাকড়াও করল। নিশ্চয়ই এতে রয়েছে এক নিদর্শন; কিন্তু তাদের অধিকাংশই মুমিন ছিল না} [আশ-শুআরা: ১৫৩-১৫৮] ।

এবং তারা আল্লাহর নবী শুআইবকে বলল: {তুমি তো কেবল জাদুগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত। আর তুমি তো আমাদের মতই একজন মানুষ ছাড়া আর কিছু নও এবং আমরা তোমাকে অবশ্যই মিথ্যাবাদীদের অন্তর্ভুক্ত মনে করি। সুতরাং তুমি যদি সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হও তবে আকাশের কোনো এক টুকরো আমাদের ওপর ফেলে দাও। তিনি বললেন, ‘তোমরা যা করছ সে বিষয়ে আমার রবই অধিক অবগত।’ অতঃপর তারা তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল, ফলে মেঘাচ্ছন বা ছায়াদিবসের আযাব তাদেরকে পাকড়াও করল। নিশ্চয়ই তা ছিল এক মহাদিবসের আযাব। নিশ্চয়ই এতে রয়েছে এক নিদর্শন; কিন্তু তাদের অধিকাংশই মুমিন ছিল না} [আশ-শুআরা: ১৮৫-১৯০] ।

এবং তারা আল্লাহর নবী হূদকে বলল: {তারা বলল, ‘হে হূদ, তুমি আমাদের কাছে কোনো স্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে আসোনি, আর আমরা তোমার কথায় আমাদের উপাস্যদের বর্জনকারী নই এবং আমরা তোমার প্রতি ঈমান আনয়নকারীও নই। আমরা তো কেবল একথাই বলি যে, আমাদের উপাস্যদের মধ্য হতে কেউ তোমাকে অশুভ দ্বারা আবিষ্ট করেছে।’ তিনি বললেন, ‘নিশ্চয়ই আমি আল্লাহকে সাক্ষী রাখছি এবং তোমরাও সাক্ষী থাকো যে, তোমরা যাদের শরিক করো তাদের থেকে আমি মুক্ত’} [হূদ: ৫৩, ৫৪] ।

অনুরূপভাবে ফেরাউন ও তার কওমের অবস্থান ছিল আল্লাহর নবী মূসা আলাইহিস সালামের প্রতি: {সে তার চারপাশের নেতৃবৃন্দকে বলল, ‘নিশ্চয়ই এ এক বিজ্ঞ জাদুকর। সে চায় তোমাদেরকে বের করে দিতে...
(খণ্ড: ১) আল ওয়াহইউ ওয়াল ইনসান - কিরায়াতুন মা'রিফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
مِنْ أَرْضِكُمْ بِسِحْرِهِ فَمَاذَا تَأْمُرُونَ} [الشعراء: 34، 35] .

وقال فرعون للملأ حوله: {قَالَ إِنَّ رَسُولَكُمُ الَّذِي أُرْسِلَ إِلَيْكُمْ لَمَجْنُونٌ} وقال لموسى: {قَالَ لَئِنِ اتَّخَذْتَ إِلَهًا غَيْرِي لَأَجْعَلَنَّكَ مِنَ الْمَسْجُونِينَ} والقصة تكرر ذكرها في القرآن كثيرا؛ ليستفيد منها فراعين التاريخ في كل العصور، ويعوا الدرس والعبرة، ويقفوا على سنن الله في كونه فقد يمهل الله الظالم، وقد يملي له، ولكنه أبدا لا يهمله.

وإذا أتينا إلى موقف مشركي مكة من خاتم الأنبياء محمد صلى الله عليه وسلم نجد نفس الاتهام ونفس الصفات السابقة تتكرر على ألسنة المشركين، فهو صلى الله عليه وسلم عندهم: ساحر والقرآن سحر يؤثر، وإما شاعر، أو مجنون، أو طالب زعامة ورياسة.

فلقد اجتمعت قريش؛ كبراؤها ووجهاؤها وحاولوا أن يثنوا الرسول عن أداء وظيفته الرسالية وقالوا ما توهموه في رسول الله صلى الله عليه وسلم: إن كنت تريد ملكا ملكناك علينا، وإن كنت تريد مالا جمعنا لك من أموالنا حتى تكون أكثرنا مالا، وإن كان هذا الذي يأتيك رئيا تراه "مسا من الجنون" بحثنا لك عمن يبرئك منه، إنها نفس الاتهامات الموجهة إلى الرسل من قبل. والذي يقرأ ما نزل في مكة من آيات القرآن الكريم يعرف تماما ما واجه الرسول صلى الله عليه وسلم من هذه
...তোমাদের ভূমি থেকে তার জাদুর মাধ্যমে। অতএব তোমরা কী আদেশ দিচ্ছ?" [আশ-শুআরা: ৩৪, ৩৫]।

এবং ফেরাউন তার চারপাশের পারিষদবর্গকে বলল: "সে বলল, নিশ্চয়ই তোমাদের নিকট প্রেরিত তোমাদের এই রাসূল অবশ্যই একজন উন্মাদ।" এবং সে মূসাকে বলল: "সে বলল, তুমি যদি আমি ব্যতীত অন্য কাউকে উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করো, তবে আমি অবশ্যই তোমাকে বন্দিদের অন্তর্ভুক্ত করব।" আর এই কাহিনী কুরআনে বারবার বর্ণিত হয়েছে; যাতে ইতিহাসের সকল যুগের ফেরাউনরা এ থেকে উপকৃত হতে পারে, এবং তারা পাঠ ও শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে, এবং মহাবিশ্বে আল্লাহর সুন্নাহ সম্পর্কে অবগত হতে পারে। কেননা আল্লাহ জালিমকে অবকাশ দেন এবং তাকে ঢিল দেন, কিন্তু তিনি তাকে কখনোই উপেক্ষা করেন না।

আর আমরা যদি শেষ নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি মক্কার মুশরিকদের অবস্থানের দিকে লক্ষ্য করি, তবে আমরা মুশরিকদের মুখে একই ধরনের অভিযোগ এবং পূর্বোক্ত একই গুণাবলির পুনরাবৃত্তি দেখতে পাই। সুতরাং তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের নিকট ছিলেন: একজন জাদুকর এবং কুরআন হলো প্রভাব বিস্তারকারী জাদু, অথবা একজন কবি, কিংবা একজন উন্মাদ, অথবা নেতৃত্ব ও কর্তৃত্বের অন্বেষী।

অতঃপর কুরাইশদের উচ্চপদস্থ ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা একত্রিত হলো এবং তারা রাসূলকে তাঁর রিসালাতের দায়িত্ব পালন থেকে বিমুখ করার চেষ্টা করল। তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে তাদের কাল্পনিক ধারণাগুলো ব্যক্ত করে বলল: যদি তুমি রাজত্ব চাও তবে আমরা তোমাকে আমাদের ওপর রাজা বানিয়ে দেব, যদি তুমি সম্পদ চাও তবে আমরা আমাদের সম্পদ থেকে তোমার জন্য এমনভাবে একত্রিত করব যাতে তুমি আমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সম্পদের অধিকারী হও, আর যদি তোমার কাছে যা আসে তা জিনের আছর হয় যা তুমি দেখতে পাও, তবে আমরা তোমার জন্য এমন কাউকে খুঁজব যে তোমাকে এ থেকে আরোগ্য দান করবে। এটি ছিল সেই একই ধরনের অভিযোগ যা ইতিপূর্বেকার রাসূলগণের প্রতি করা হয়েছিল। আর যে ব্যক্তি মক্কায় অবতীর্ণ পবিত্র কুরআনের আয়াতসমূহ পাঠ করবে, সে খুব ভালোভাবেই জানতে পারবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এগুলোর মধ্য থেকে কীসের সম্মুখীন হয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১) আল ওয়াহইউ ওয়াল ইনসান - কিরায়াতুন মা'রিফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
الافتراءات والأكاذيب، ولقد لفت القرآن نظرنا إلى هذه الاتهامات، وكيف أنها تتكرر من رسول إلى رسول، ومن أمة إلى أمة، وكأنها ميراث مشترك بين معارضي الأنبياء. قال تعالى: {كَذَلِكَ مَا أَتَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ مِنْ رَسُولٍ إِلَّا قَالُوا سَاحِرٌ أَوْ مَجْنُونٌ، أَتَوَاصَوْا بِهِ بَلْ هُمْ قَوْمٌ طَاغُونَ، فَتَوَلَّ عَنْهُمْ فَمَا أَنْتَ بِمَلُومٍ، وَذَكِّرْ فَإِنَّ الذِّكْرَى تَنْفَعُ الْمُؤْمِنِينَ} [الذاريات: 52-55] .

ومن الأمور اللافتة للانتباه أن هذه الدعاوى تتكرر -هي هي- مع ورثة الأنبياء فيما بعد. فالمصلحون في كل عصر متهمون إما بالجنون، أو بحب الزعامة والبحث عنها، أو بالتطرف والخروج عن المألوف للأمة، وفي العصر الحاضر ظهرت أوصاف مثل عصرية، حداثية. فهم بين ظلامي متخلف، أو أصولي رجعي.

ومما لا يحتاج إلى تكرار هنا أن الذين يحملون إثم المعارضة للوحي في عصرنا هم نفس النماذج التاريخية فيما مضى، هم أهل الأهواء، وأصحاب السلطان في كل فئة. وعليك أن تدور بناظريك وتتأمل ما يجري حولك من حوار، وإن شئت فقل: صراع ثقافي بين فئات المجتمع في كل عصر وبين حملة الوحي؛ لتعرف أن هذه النماذج ليس معها إلا أتباع الهوى تحت أي اسم كان، وتحت أي شعار رفعوه {وَلَوِ اتَّبَعَ الْحَقُّ أَهْوَاءَهُمْ لَفَسَدَتِ السَّمَوَاتُ وَالْأَرْضُ} ، {وَلَكِنَّ اللَّهَ ذُو فَضْلٍ عَلَى الْعَالَمِينَ} .
অপবাদ ও মিথ্যাচার; কুরআন এই অভিযোগগুলোর প্রতি আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে যে, কীভাবে এগুলো একজন রসূল থেকে অন্য রসূল এবং এক জাতি থেকে অন্য জাতির মধ্যে পুনরাবৃত্তি ঘটে, যেন এগুলো নবীদের বিরোধীদের মাঝে এক সাধারণ উত্তরাধিকার। মহান আল্লাহ বলেন: "এভাবেই তাদের পূর্ববর্তীদের কাছে যখনই কোনো রসূল এসেছেন, তখনই তারা বলেছে, 'সে তো এক জাদুকর অথবা উম্মাদ'। তারা কি একে অপরের কাছে এই অসিয়ত করে গেছে? বরং তারা এক সীমালঙ্ঘনকারী সম্প্রদায়। সুতরাং আপনি তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিন, এতে আপনার কোনো তিরস্কার হবে না। আর উপদেশ দিতে থাকুন, কেননা উপদেশ মুমিনদের উপকারে আসে।" [আয-যারিয়াত: ৫২-৫৫]।

একটি লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, এই দাবিগুলো পরবর্তীতে নবীদের উত্তরাধিকারীদের ক্ষেত্রেও হুবহু পুনরাবৃত্তি ঘটে। প্রতিটি যুগের সংস্কারকগণ হয় উম্মাদনার অভিযোগে অভিযুক্ত হন, নতুবা নেতৃত্বের মোহ ও তা অন্বেষণের অভিযোগে, অথবা উগ্রবাদ এবং উম্মাহর প্রচলিত রীতির বাইরে যাওয়ার অভিযোগে। বর্তমান যুগে আধুনিকতা বা প্রগতিশীলতার মতো কিছু বিশেষণের উদ্ভব ঘটেছে। ফলে তারা হয় অন্ধকারাচ্ছন্ন পশ্চাৎপদ, অথবা মৌলবাদী প্রতিক্রিয়াশীল হিসেবে বিবেচিত হয়।

এখানে পুনরায় বলার প্রয়োজন নেই যে, আমাদের যুগে যারা ওহীর বিরোধিতার পাপাচার বহন করছে, তারা অতীতে অতিবাহিত হওয়া একই ঐতিহাসিক আদর্শ। তারা হলো প্রবৃত্তিপূজারী এবং প্রতিটি শ্রেণির ক্ষমতাধর ব্যক্তিবর্গ। আপনি যদি আপনার দৃষ্টি প্রসারিত করেন এবং আপনার চারপাশে যা ঘটছে সেই সংলাপগুলো নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করেন—আপনি চাইলে একে বলতে পারেন: প্রতিটি যুগে সমাজের বিভিন্ন গোষ্ঠী এবং ওহীর বাহকদের মধ্যে বিদ্যমান সাংস্কৃতিক দ্বন্দ্ব—তবে আপনি জানতে পারবেন যে, এই শ্রেণির লোকদের সাথে প্রবৃত্তির অনুসরণ ছাড়া আর কিছুই নেই, তারা যে নামই ধারণ করুক বা যে স্লোগানই তারা উঁচিয়ে ধরুক না কেন। "আর সত্য যদি তাদের প্রবৃত্তির অনুগামী হতো, তবে আসমানসমূহ ও জমিন এবং এগুলোর মধ্যবর্তী সবকিছু বিপর্যস্ত হয়ে যেত।" "কিন্তু আল্লাহ বিশ্বজগতের প্রতি পরম করুণাময়।"
(খণ্ড: ১) আল ওয়াহইউ ওয়াল ইনসান - কিরায়াতুন মা'রিফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
إن قصة الصراع بين الحق والباطل قديمة جديدة معا، إنها تتجدد في كل عصر؛ لأنها سنة من سنن الله في كونه، إنها سنة التدافع بين الحق والباطل، وهذه القضية ترتبط بالوجود الإنساني نفسه، ومن طلب نهاية لها فقد طلب المستحيل ما دام الإنسان حيا متحركا على ظهر الأرض. ولقد لفت القرآن نظرنا إلى هذه الحقيقة الكونية في قوله تعالى: {الَّذِينَ أُخْرِجُوا مِنْ دِيَارِهِمْ بِغَيْرِ حَقٍّ إِلَّا أَنْ يَقُولُوا رَبُّنَا اللَّهُ وَلَوْلا دَفْعُ اللَّهِ النَّاسَ بَعْضَهُمْ بِبَعْضٍ لَهُدِّمَتْ صَوَامِعُ وَبِيَعٌ وَصَلَوَاتٌ وَمَسَاجِدُ يُذْكَرُ فِيهَا اسْمُ اللَّهِ كَثِيرًا وَلَيَنْصُرَنَّ اللَّهُ مَنْ يَنْصُرُهُ إِنَّ اللَّهَ لَقَوِيٌّ عَزِيزٌ، الَّذِينَ إِنْ مَكَّنَّاهُمْ فِي الْأَرْضِ أَقَامُوا الصَّلاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ وَأَمَرُوا بِالْمَعْرُوفِ وَنَهَوْا عَنِ الْمُنْكَرِ وَلِلَّهِ عَاقِبَةُ الْأُمُورِ} [الحج: 40، 41] .

وهذا شأن كل تجمع بشري، أن يظهر فيه من الخلافات والصراعات ما يعبر بالضرورة عن اختلاف أهواء الناس وتعارض مقاصدهم وغاياتهم، وفي بوتقة هذا الصراع يبتلي الله أهل الحق بأهل الباطل؛ ليتم تمحيص الناس وابتلاؤهم بعضهم ببعض، ليميز الله بين أهل العزائم والإرادات الصادقة، وأهل الأهواء والإرادات الفاسدة. قال تعالى: {لَتُبْلَوُنَّ فِي أَمْوَالِكُمْ وَأَنْفُسِكُمْ وَلَتَسْمَعُنَّ مِنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ مِنْ قَبْلِكُمْ وَمِنَ الَّذِينَ أَشْرَكُوا أَذًى كَثِيرًا وَإِنْ تَصْبِرُوا وَتَتَّقُوا فَإِنَّ ذَلِكَ مِنْ عَزْمِ الْأُمُورِ} [آل عمران: 186] .
সত্য ও মিথ্যার মধ্যকার সংগ্রামের কাহিনী একাধারে প্রাচীন ও নতুন; এটি প্রতি যুগে পুনর্জীবিত হয়। কারণ এটি মহাবিশ্বে আল্লাহর সুন্নাত বা নিয়মসমূহের একটি। এটি সত্য ও মিথ্যার পারস্পরিক সংঘাতের সুন্নাত। এই বিষয়টি খোদ মানব অস্তিত্বের সাথে সম্পৃক্ত। আর যে ব্যক্তি এর সমাপ্তি কামনা করে, সে যেন অসম্ভবেরই প্রত্যাশা করল, যতক্ষণ পর্যন্ত মানুষ এই জমিনের পিঠে জীবিত ও সচল থাকে। কুরআন এই মহাজাগতিক সত্যের প্রতি আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে মহান আল্লাহর এই বাণীতে: {যাদেরকে তাদের ঘরবাড়ি থেকে অন্যায়ভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে শুধুমাত্র এই কারণে যে, তারা বলে: আমাদের রব আল্লাহ। আর আল্লাহ যদি মানুষের এক দলকে অন্য দলের মাধ্যমে প্রতিহত না করতেন, তবে সন্ন্যাসীদের মঠ, গির্জা, ইহুদিদের উপাসনালয় এবং মসজিদসমূহ বিধ্বস্ত হয়ে যেত, যেখানে আল্লাহর নাম অধিক পরিমাণে স্মরণ করা হয়। আর আল্লাহ অবশ্যই তাকে সাহায্য করেন যে তাঁকে সাহায্য করে; নিশ্চয়ই আল্লাহ শক্তিশালী, মহাপরাক্রমশালী। তারা এমন লোক যাদেরকে আমি জমিনে ক্ষমতা দান করলে তারা সালাত কায়েম করে, জাকাত প্রদান করে এবং সৎকাজের আদেশ দেয় ও অসৎকাজ থেকে নিষেধ করে। আর সমস্ত বিষয়ের পরিণাম আল্লাহর কাছে।} [আল-হজ: ৪০, ৪১] ।

আর এটি প্রতিটি মানব সমাবেশেরই বৈশিষ্ট্য যে, সেখানে এমন মতভেদ ও দ্বন্দ্ব প্রকাশ পায় যা অনিবার্যভাবে মানুষের খেয়ালখুশির ভিন্নতা এবং তাদের লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের বৈপরীত্যকে ফুটিয়ে তোলে। এই সংগ্রামের অগ্নিপরীক্ষায় আল্লাহ সত্যপন্থীদের মিথ্যাচারীদের মাধ্যমে পরীক্ষা করেন; যাতে মানুষের শুদ্ধিকরণ ঘটে এবং একে অপরের মাধ্যমে তাদের পরীক্ষা করা হয়, যেন আল্লাহ দৃঢ় সংকল্প ও সত্য ইচ্ছার অধিকারীদের এবং খেয়ালখুশি ও কলুষিত ইচ্ছার অধিকারীদের মধ্যে পার্থক্য করে দেন। মহান আল্লাহ বলেন: {অবশ্যই তোমাদের ধন-সম্পদ ও তোমাদের জানের ব্যাপারে তোমাদের পরীক্ষা করা হবে এবং তোমাদের পূর্বে যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছে তাদের থেকে ও মুশরিকদের থেকে তোমরা অনেক কষ্টদায়ক কথা শুনতে পাবে। আর যদি তোমরা ধৈর্য ধারণ করো এবং তাকওয়া অবলম্বন করো, তবে নিশ্চয়ই তা হবে দৃঢ় সংকল্পের কাজ।} [আল-ইমরান: ১৮৬] ।
(খণ্ড: ১) আল ওয়াহইউ ওয়াল ইনসান - কিরায়াতুন মা'রিফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
وقال سبحانه: {أَحَسِبَ النَّاسُ أَنْ يُتْرَكُوا أَنْ يَقُولُوا آمَنَّا وَهُمْ لا يُفْتَنُونَ، وَلَقَدْ فَتَنَّا الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ فَلَيَعْلَمَنَّ اللَّهُ الَّذِينَ صَدَقُوا وَلَيَعْلَمَنَّ الْكَاذِبِينَ} [العنكبوت: 2، 3] وكما قال سبحانه: {وَلَيَعْلَمَنَّ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَلَيَعْلَمَنَّ الْمُنَافِقِينَ} [العنكبوت: 11] .

ويرشدنا القرآن الكريم إلى أمر مهم له أثره في تثبيت قلب المؤمن ما دام مستمسكا بحبل الله المتين، ذلك أن الكثرة في أهل الباطل ليست دليلا ولا برهانا على أنهم طلاب حق، حتى وإن كان صوتهم عاليا أو أصحاب قوة وسلطان، وأن القلة في أصحاب الحق ليست دليلا على أنهم طلاب باطل. فالقرآن الكريم يضع أمامنا حقيقة على جانب كبير من الأهمية في بعث الاطمئنان والسكينة لدى أهل الحق وإن كانوا قلة. قال تعالى: {وَمَا أَكْثَرُ النَّاسِ وَلَوْ حَرَصْتَ بِمُؤْمِنِينَ} [يوسف: 103] وقال سبحانه: {وَلَا تَجِدُ أَكْثَرَهُمْ شَاكِرِينَ} [الأعراف: 17] . من هنا نعلم أن طلاب الحق في كل عصر قلة إذا قيسوا بأهل الأهواء؛ لأن طلب الحق فضلا من الاستمساك به يحتاج إلى مجاهدة النفس وترويضها على ذلك، فقد يكون الحق خلاف هواها، وقد يكون الحق معارضا لرغباتها ومضادا لمصالح الإنسان الدنيوية. عند ذلك تحتاج النفوس إلى ترويض ومجاهدة لا يقدر عليها إلا أصحاب العزيمة القوية، والإرادة الصادقة، ولا بد في ذلك من الاستعانة بالله كما قال تعالى: {وَالَّذِينَ
মহান আল্লাহ বলেন: {মানুষ কি মনে করে যে, তারা ‘আমরা ঈমান এনেছি’ বললেই তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে, আর তাদের পরীক্ষা করা হবে না? অথচ আমি তাদের পূর্ববর্তীদেরও পরীক্ষা করেছি; সুতরাং আল্লাহ অবশ্যই জেনে নেবেন যারা সত্যবাদী এবং তিনি অবশ্যই জেনে নেবেন মিথ্যুকদের।} [আনকাবুত: ২, ৩] এবং যেমনটি মহান আল্লাহ বলেন: {এবং আল্লাহ অবশ্যই জেনে নেবেন যারা ঈমান এনেছে এবং তিনি অবশ্যই জেনে নেবেন মুনাফিকদের।} [আনকাবুত: ১১]।

পবিত্র কুরআন আমাদের এমন এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রতি দিকনির্দেশনা প্রদান করে, মুমিন ব্যক্তি যতক্ষণ আল্লাহর মজবুত রজ্জুকে আঁকড়ে থাকে ততক্ষণ তার অন্তরকে দৃঢ় করতে যার প্রভাব অপরিসীম। বিষয়টি হলো, বাতিলপন্থীদের সংখ্যাধিক্য তারা যে সত্যের অনুসারী—তার কোনো দলিল বা প্রমাণ নয়, যদিও তাদের আওয়াজ উচ্চ হয় অথবা তারা ক্ষমতা ও প্রতিপত্তির অধিকারী হয়। অনুরূপভাবে সত্যপন্থীদের সংখ্যাস্বল্পতা তারা যে বাতিলপন্থী—তার কোনো প্রমাণ নয়। পবিত্র কুরআন আমাদের সামনে এমন এক ধ্রুব সত্য উপস্থাপন করে যা সত্যপন্থীদের মনে প্রশান্তি ও স্থিরতা আনয়ন করে, যদিও তারা সংখ্যায় কম হয়। মহান আল্লাহ বলেন: {আর আপনি যতই চান না কেন, অধিকাংশ মানুষ ঈমান আনয়নকারী নয়।} [ইউসুফ: ১০৩] এবং তিনি আরও বলেন: {এবং আপনি তাদের অধিকাংশকে কৃতজ্ঞ পাবেন না।} [আরাফ: ১৭]। এখান থেকে আমরা জানতে পারি যে, প্রত্যেক যুগে প্রবৃত্তি পূজারীদের তুলনায় সত্য অন্বেষণকারীরা সংখ্যায় নগণ্য; কারণ সত্য অন্বেষণ করা—তাকে আঁকড়ে ধরার কথা না হয় বাদই দিলাম—নিজের নফসের সাথে জিহাদ করা এবং তাকে এই পথে অভ্যস্ত করার মুখাপেক্ষী। কেননা সত্য অনেক সময় নফসের প্রবৃত্তির বিপরীত হতে পারে, আবার সত্য কখনো মানুষের কামনা-বাসনার বিরোধী এবং তার দুনিয়াবী স্বার্থের পরিপন্থী হতে পারে। এমতাবস্থায় নফসের এমন প্রশিক্ষণ ও জিহাদের প্রয়োজন যা কেবল দৃঢ় সংকল্প ও সত্যনিষ্ঠ ইচ্ছাশক্তির অধিকারীরাই করতে সক্ষম। আর এক্ষেত্রে অবশ্যই আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা অপরিহার্য, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেন: {আর যারা...}
(খণ্ড: ১) আল ওয়াহইউ ওয়াল ইনসান - কিরায়াতুন মা'রিফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
جَاهَدُوا فِينَا لَنَهْدِيَنَّهُمْ سُبُلَنَا} [العنكبوت: 69] وكما قال سبحانه وتعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ تَنْصُرُوا اللَّهَ يَنْصُرْكُمْ وَيُثَبِّتْ أَقْدَامَكُمْ} [محمد: 7] ، وكان من دعائه صلى الله عليه وسلم: "اللهم إنا نعوذ بك من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا"، وقوله: "اللهم لا تكلني إلى نفسي طرفة عين، ولا أقل من ذلك".

3- الملاحظة الثالثة:

يلاحظ المرء المتابع لسيرة الأنبياء وجدال المشركين لهم أن القضايا التي كانت مثار الشبهات والشكوك واحدة، بحيث لا نجد نبيا إلا قد ابتلي بمن عارضه في هذه القضايا، وهي:

1- قضية الألولهية، ووجود الله ووحدانيته.

2- قضية النبوة.

3- قضية البعث.

1- أما قضية الألوهية، فإننا نجد أنماطا متنوعة من البشر تنوعت مواقفهم من الإيمان بوجود الله ووحدانيته.

فمن هؤلاء من أنكر وجود الله كلية وقالوا: ليس هناك إله معبود ولا رب خالق، كالدهريين الذين قالوا: {وَقَالُوا مَا هِيَ إِلَّا حَيَاتُنَا الدُّنْيَا نَمُوتُ وَنَحْيَا وَمَا يُهْلِكُنَا إِلَّا الدَّهْرُ} وكالطبيعيين القائلين بأن الطبيعة هي الخالق أو أن الأشياء وجدت هكذا بطبعها، وهم أقرب الطوائف إلى الدهريين.
"যারা আমাদের পথে প্রচেষ্টা চালায়, অবশ্যই আমরা তাদেরকে আমাদের পথসমূহ প্রদর্শন করব" [আল-আনকাবুত: ৬৯] এবং যেমনটি সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেছেন: "হে মুমিনগণ! যদি তোমরা আল্লাহকে সাহায্য করো, তবে তিনি তোমাদেরকে সাহায্য করবেন এবং তোমাদের পা সুদৃঢ় করবেন" [মুহাম্মদ: ৭], আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দুআ সমূহের অন্তর্ভুক্ত ছিল: "হে আল্লাহ! আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের আমলের মন্দ ফল থেকে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি", এবং তাঁর উক্তি: "হে আল্লাহ! চোখের পলকের জন্যও আমাকে আমার নফসের ওপর ছেড়ে দেবেন না, এমনকি তার চেয়েও কম সময়ের জন্যও নয়।"

৩- তৃতীয় পর্যবেক্ষণ:

নবীগণের সীরাত এবং তাদের সাথে মুশরিকদের বিতর্কের প্রতি লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে, সন্দেহ ও সংশয় সৃষ্টিকারী বিষয়গুলো অভিন্ন ছিল। এমন কোনো নবী পাওয়া যাবে না যিনি এই বিষয়গুলোতে বিরোধিতার সম্মুখীন হননি, আর সেগুলো হলো:

১- উলুহিয়্যাতের বিষয়, এবং আল্লাহর অস্তিত্ব ও তাঁর একত্ববাদ।

২- নবুয়তের বিষয়।

৩- পুনরুত্থানের বিষয়।

১- উলুহিয়্যাতের বিষয়ের ক্ষেত্রে, আমরা মানুষের মধ্যে বিভিন্ন ধরন দেখতে পাই যাদের আল্লাহর অস্তিত্ব এবং তাঁর একত্ববাদের ওপর ঈমান আনার ব্যাপারে অবস্থান ভিন্ন ভিন্ন ছিল।

তাদের মধ্যে কেউ কেউ আল্লাহর অস্তিত্বকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে এবং বলেছে: কোনো উপাস্য ইলাহ নেই এবং কোনো সৃষ্টিকর্তা পালনকর্তাও নেই। যেমন দাহরিয়্যাহ (বস্তুবাদী), যারা বলেছিল: "তারা বলে, আমাদের পার্থিব জীবনই একমাত্র জীবন, আমরা মরি ও বাঁচি এবং কাল (সময়) ছাড়া আর কিছুই আমাদের ধ্বংস করে না" এবং যেমন প্রকৃতিবাদীগণ, যারা বলে যে প্রকৃতিই হলো স্রষ্টা অথবা বস্তুসমূহ এভাবেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সৃষ্টি হয়েছে, আর তারা হলো দাহরিয়্যাহদের সবচেয়ে কাছের দল।
(খণ্ড: ১) আল ওয়াহইউ ওয়াল ইনসান - কিরায়াতুন মা'রিফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
ومن هؤلاء من قال: إن العالم وجد بالصدفة المحضة، وليست له غاية مقصودة منه ولا حكمة من وجوده، وهؤلاء أصحاب المذهب العبثي الخالص الذي عبر عنه الشاعر الجاهلي قديما بقوله:

أرى المنايا خبط عشواء من تصب تمته … ومن تخطئ بعمر فيهرم

فما هي إلا أرحام تدفع، وقبور تبلع.

أو كما قال الشاعر:

حياة ثم موت ثم بعث … حديث خرافة يا أم عمر

وأصحاب هذه الآراء يتفقون على نفي الحكمة والقصد ونفي الخالق، وهي آراء قديمة تتجدد في كل عصر، وفي كل الأمم، والقائلون بها قلة في كل مجتمع من شذاذ العقول، ومنهم من ينتمي إلى أهل الأديان وضعية كانت هذه الأديان أو سماوية، وهم الصوت الشاذ في الحضارة الإنسانية على امتداد تاريخها؛ لندرتهم وقلة عددهم؛ ولذلك فإن تاريخ الحضارات في كل أمة يحتفظ بأسماء هؤلاء لقلة عددهم، فيذكر اسمه ويصفه بأنه دهري، أو طبيعي، أو ثنوي … إلخ.

أما المتألهون من المفكرين، فلا يدخلون تحت الحصر؛ لأنهم الجمهور الأعظم في كل أمة.
এদের মধ্যে কেউ কেউ বলেন যে, এই জগৎ নিছক দৈবক্রমে অস্তিত্ব লাভ করেছে এবং এর পেছনে কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য কিংবা অস্তিত্বের কোনো প্রজ্ঞা নেই। এরা হলো সেই বিশুদ্ধ নিরর্থকবাদী মতবাদের অনুসারী, যা প্রাচীনকালে জাহেলি যুগের কবি এই বলে ব্যক্ত করেছেন:

আমি মৃত্যুকে দেখি লক্ষ্যহীন উটের পদচারণার মতো; যাকে তা আঘাত করে সে মারা যায় … আর যাকে এড়িয়ে যায় সে দীর্ঘায়ু লাভ করে বার্ধক্যে উপনীত হয়।

এটি কেবল জরায়ুর নির্গমন এবং কবরের গিলে ফেলা ছাড়া আর কিছুই নয়।

অথবা যেমন কবি বলেছেন:

জীবন, অতঃপর মৃত্যু, তারপর পুনরুত্থান … হে উম্মে আমর, এটি তো অলীক রূপকথা মাত্র।

এই মতামতের অধিকারীরা প্রজ্ঞা, উদ্দেশ্য এবং স্রষ্টাকে অস্বীকার করার বিষয়ে একমত। এগুলো প্রাচীন মতবাদ যা প্রতিটি যুগে এবং প্রতিটি জাতির মাঝে নতুন করে আবির্ভূত হয়। প্রতিটি সমাজে এদের প্রবক্তারা বিরল ও বিকৃত মস্তিষ্কের এবং সংখ্যায় অত্যন্ত নগণ্য। তাদের কেউ কেউ ধর্মের অনুসারী বলে পরিচয় দেয়—তা মানব রচিত ধর্ম হোক বা আসমানি। সমগ্র ইতিহাস জুড়ে মানব সভ্যতায় তারা এক বিচ্ছিন্ন কণ্ঠস্বর; কারণ তারা বিরল এবং সংখ্যায় অতি সামান্য। এই কারণেই প্রতিটি জাতির সভ্যতার ইতিহাসে তাদের স্বল্পতার দরুন তাদের নাম সংরক্ষিত রয়েছে। ফলে কারো নাম উল্লেখ করে তাকে দাহরি (কালবাদী), প্রকৃতিবাদী অথবা দ্বৈতবাদী … ইত্যাদি অভিধায় বিশেষায়িত করা হয়।

পক্ষান্তরে আস্তিক ও ঈশ্বরবিশ্বাসী চিন্তাবিদদের সংখ্যা গণনার অতীত; কারণ প্রতিটি জাতির মধ্যে তারাই বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠ।
(খণ্ড: ১) আল ওয়াহইউ ওয়াল ইনসান - কিরায়াতুন মা'রিফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
ومن الناس من يؤمن بوجود الخالق، لكنه لا يعبده بل يخص غيره بالعبادة، وقد يعبده مع غيره من الشركاء، كالأصنام، أو الكواكب، أو بعض المخلوقات، فهؤلاء يثبتون وجود الرب الخالق لكنهم أشركوا معه غيره في عبادته، ولم تستوعب عقولهم إخلاص العبادة للخالق وحده، وقالوا لرسله متعجبين: {أَجَعَلَ الْآلِهَةَ إِلَهًا وَاحِدًا إِنَّ هَذَا لَشَيْءٌ عُجَابٌ، وَانْطَلَقَ الْمَلَأُ مِنْهُمْ أَنِ امْشُوا وَاصْبِرُوا عَلَى آلِهَتِكُمْ إِنَّ هَذَا لَشَيْءٌ يُرَادُ، مَا سَمِعْنَا بِهَذَا فِي الْمِلَّةِ الْآخِرَةِ إِنْ هَذَا إِلَّا اخْتِلاقٌ} [ص: 5-7] وكانت هذه الحجة تتكرر على ألسنة الأمم المختلفة مع رسل الله في كل عصر، وكما كانت دعوة كل الرسل: {يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ} [الأعراف: 59] كانت حجة المشركين في كل أمة: {أَجِئْتَنَا لِنَعْبُدَ اللَّهَ وَحْدَهُ وَنَذَرَ مَا كَانَ يَعْبُدُ آبَاؤُنَا} [الأعراف: 70] .

ومن اللافت للنظر أيضا أننا لم نجد في تاريخ الرسل من دعا قومه إلى الإيمان بوجود الخالق، وإنما كانت دعوة جميع الرسل هي إخلاص العبادة لله وحده، ذلك أن منكري وجود الخالق كانوا قلة كما سبق أن أشرنا إلى ذلك، ومن هنا لم يعبأ بهم التاريخ وإنما كانت قضية الرسل الأولى: رفع الشرك في العبودية بحيث لا يعبد إلا الله وحده، واكتفى القرآن الكريم في رده على منكري الخالق بعبارات موجزة لكنها جامعة، فقال لهم: {فَأَرُونِي مَاذَا خَلَقَ الَّذِينَ
মানুষের মধ্যে এমন লোকও আছে যারা স্রষ্টার অস্তিত্বে বিশ্বাস করে, কিন্তু তারা তাঁর ইবাদত করে না বরং অন্য কাউকে ইবাদতের জন্য নির্দিষ্ট করে নেয়। আবার কেউ কেউ তাঁর ইবাদতের পাশাপাশি অন্যান্য অংশীদারদেরও পূজা করে, যেমন—প্রতিমা, নক্ষত্ররাজি বা কিছু সৃষ্টি। এরা স্রষ্টা রবের অস্তিত্ব স্বীকার করে ঠিকই, কিন্তু তারা তাঁর ইবাদতে অন্যদের শরিক করে। তাদের বুদ্ধি এককভাবে কেবল স্রষ্টার জন্য ইবাদতকে একনিষ্ঠ করার বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারেনি। তারা বিস্ময় প্রকাশ করে তাঁর রাসুলদের বলেছিল: "সে কি বহু উপাস্যকে এক উপাস্যে পরিণত করেছে? নিশ্চয় এটি এক বিস্ময়কর ব্যাপার। তাদের প্রধানরা এ কথা বলে প্রস্থান করেছিল যে, তোমরা চলে যাও এবং তোমাদের উপাস্যদের পূজায় অবিচল থাকো। নিশ্চয় এটি এমন কিছু যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমরা পূর্ববর্তী অন্য কোনো ধর্মে এমন কথা শুনিনি। এটি এক মনগড়া উদ্ভাবন মাত্র।" [ছোয়াদ: ৫-৭]। এই যুক্তিটিই প্রতি যুগে আল্লাহর রাসুলদের মোকাবিলায় বিভিন্ন জাতির কণ্ঠে পুনরাবৃত্ত হয়েছে। ঠিক যেভাবে সকল রাসুলের দাওয়াত ছিল: "হে আমার জাতি! তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোনো উপাস্য নেই" [আল-আরাফ: ৫৯], তেমনি প্রতিটি জাতির মুশরিকদের যুক্তি ছিল: "তুমি কি আমাদের কাছে এ জন্য এসেছ যে, আমরা যেন কেবল এক আল্লাহর ইবাদত করি এবং আমাদের পিতৃপুরুষরা যার ইবাদত করত তা বর্জন করি?" [আল-আরাফ: ৭০] ।

এটিও বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয় যে, আমরা রাসুলদের ইতিহাসে এমন কাউকে খুঁজে পাইনি যিনি তাঁর জাতিকে স্রষ্টার অস্তিত্বে বিশ্বাস করার আহ্বান জানিয়েছেন। বরং সকল রাসুলের দাওয়াত ছিল আল্লাহর জন্য ইবাদতকে একনিষ্ঠ করা। এর কারণ হলো, স্রষ্টার অস্তিত্ব অস্বীকারকারীরা ছিল সংখ্যায় অতি নগণ্য, যেমনটি আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি। এ কারণে ইতিহাস তাদের কোনো গুরুত্ব দেয়নি; বরং রাসুলদের প্রধান লক্ষ্য ছিল ইবাদতে অংশীদারিত্ব নির্মূল করা, যাতে কেবল এককভাবে আল্লাহরই ইবাদত করা হয়। কুরআন মাজিদ স্রষ্টাকে অস্বীকারকারীদের জবাবে সংক্ষিপ্ত কিন্তু সারগর্ভ বাণীতেই ক্ষান্ত হয়েছে। তিনি তাদের বলেছেন: "তবে আমাকে দেখাও যে, তারা কী সৃষ্টি করেছে যারা...
(খণ্ড: ১) আল ওয়াহইউ ওয়াল ইনসান - কিরায়াতুন মা'রিফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৪)
مِنْ دُونِهِ} [لقمان: 11] ، وقوله: {أَمْ خُلِقُوا مِنْ غَيْرِ شَيْءٍ أَمْ هُمُ الْخَالِقُونَ، أَمْ خَلَقُوا السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ بَلْ لا يُوقِنُونَ} [الطور: 35، 36] .

2- قضية النبوة:

أما الشبهة الثانية فكانت قضية النبوة، فمن الناس من أنكرها أصلا كالبراهمة وغيرهم، وقالوا: ما أنزل الله على بشر من شيء، وأدهشهم أن ينزل الوحي على بشر من الناس، وقالوا: أبشر يهدوننا؟

ومنهم من قال بنبوة بعض الأنبياء وأنكر نبوة البعض الآخر، كأهل الكتاب من يهود ونصارى، حيث آمن أهل كل دين بنبيهم وأنكروا نبوة غيره من الرسل، ومن المشركين من فضل أن يكون النبي ملكا رسولا ولا يكون بشرا يأكل الطعام ويمشي في الأسواق، وقالوا: {لَوْلا أُنْزِلَ إِلَيْهِ مَلَكٌ فَيَكُونَ مَعَهُ نَذِيرًا} وقالوا: {وَلَوْ شَاءَ اللَّهُ لَأَنْزَلَ مَلائِكَةً} فرد عليهم القرآن الكريم بقوله: {وَلَوْ جَعَلْنَاهُ مَلَكًا لَجَعَلْنَاهُ رَجُلًا وَلَلَبَسْنَا عَلَيْهِمْ مَا يَلْبِسُونَ} [الأنعام: 9] .

وبجانب هؤلاء وأولئك كان هناك من أنكر على محمد صلى الله عليه وسلم وإخوانه من الرسل أن يختصهم الله بالرسالة دون غيرهم من وجهاء القوم وسادات الأمة، وقالوا: {أَأُنْزِلَ عَلَيْهِ الذِّكْرُ مِنْ بَيْنِنَا} ؟

{وَقَالُوا لَوْلا نُزِّلَ هَذَا الْقُرْآنُ عَلَى رَجُلٍ مِنَ الْقَرْيَتَيْنِ عَظِيمٍ} ؟
...তাঁকে ছাড়া} [লুকমান: ১১], এবং তাঁর বাণী: {তারা কি কোনো কিছু ছাড়াই সৃষ্টি হয়েছে, নাকি তারা নিজেরাই স্রষ্টা? নাকি তারা আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টি করেছে? বরং তারা দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করে না।} [আত-তুর: ৩৫, ৩৬] ।

২- নবুওয়তের বিষয়টি:

দ্বিতীয় সংশয়টি ছিল নবুওয়তের বিষয় নিয়ে। মানুষের মধ্যে কেউ কেউ এটি মূলগতভাবেই অস্বীকার করেছে, যেমন ব্রাক্ষ্মণ ও অন্যান্যরা। তারা বলেছিল: আল্লাহ কোনো মানুষের ওপর কিছু অবতীর্ণ করেননি। মানুষের ওপর ওহী নাজিল হওয়া তাদের বিস্মিত করেছিল এবং তারা বলেছিল: একজন মানুষ কি আমাদের পথ দেখাবে?

তাদের মধ্যে কেউ কেউ কিছু নবীর নবুওয়তে বিশ্বাস করত এবং অন্যদের অস্বীকার করত, যেমন আহলে কিতাব তথা ইহুদি ও খ্রিস্টানরা। প্রতিটি ধর্মের অনুসারীরা তাদের নিজ নবীর ওপর ঈমান এনেছিল এবং অন্য রাসুলদের নবুওয়ত অস্বীকার করেছিল। মুশরিকদের মধ্যে এমন একদল ছিল যারা পছন্দ করত যে নবী হবে কোনো ফিরিশতা রাসুল, তিনি এমন কোনো মানুষ হবেন না যিনি খাবার খান এবং বাজারে চলাফেরা করেন। তারা বলেছিল: {কেন তার নিকট কোনো ফিরিশতা অবতীর্ণ করা হলো না, যাতে সে তার সাথে সতর্ককারী হিসেবে থাকত?} এবং তারা বলেছিল: {আল্লাহ চাইলে অবশ্যই ফিরিশতা অবতীর্ণ করতেন।} কুরআন মাজীদ তাদের এই জবাব দিয়েছে: {যদি আমি তাকে ফিরিশতা করতাম, তবে তাকে মানুষের বেশেই পাঠাতাম এবং তারা যে সংশয়ে লিপ্ত রয়েছে, তাকে তাদের জন্য আরও অস্পষ্ট করে দিতাম।} [আল-আনআম: ৯] ।

তাদের পাশাপাশি এমন লোকও ছিল যারা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর ভ্রাতৃপ্রতিম রাসুলগণের ব্যাপারে আপত্তি জানিয়েছিল যে, জাতির গণ্যমান্য ব্যক্তি ও নেতাদের বাদ দিয়ে আল্লাহ কেন কেবল তাঁদেরকেই রিসালাতের জন্য নির্দিষ্ট করলেন? তারা বলেছিল: {আমাদের মধ্য থেকে কি কেবল তাঁর ওপরই উপদেশবাণী অবতীর্ণ করা হলো?}

{এবং তারা বলেছিল: এই কুরআন কেন দুই জনপদের কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির ওপর অবতীর্ণ করা হলো না?}
(খণ্ড: ১) আল ওয়াহইউ ওয়াল ইনসান - কিরায়াতুন মা'রিফিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৫)
{فَقَالُوا أَبَشَرًا مِنَّا وَاحِدًا نَتَّبِعُهُ} ؟

فلماذا تتخطى الرسالة وجهاء مكة، وسادتها إلى محمد؟

ولماذا لا يكون الرسول المصطفى من أثرياء القوم ومن كبرائهم، إنها إذن قضية نفسية تحركها عوامل الحقد والحسد على هذا الرسول.

ولذلك بدأت الحملات المسعورة ضد الرسل، فهم إما ساحر أو مجنون، أو طالب مال أو باحث عن زعامة … إلخ، وقالوا لرسلهم: {إِنَّا لَنَرَاكَ فِي سَفَاهَةٍ} ، {إِنَّا لَنَرَاكَ فِي ضَلَالٍ} ، وقالوا: إن هو إلا رجل منكم يريد أن يتفضل عليكم، وقالوا: {مَا نَرَاكَ إِلَّا بَشَرًا مِثْلَنَا وَمَا نَرَاكَ اتَّبَعَكَ إِلَّا الَّذِينَ هُمْ أَرَاذِلُنَا بَادِيَ الرَّأْيِ وَمَا نَرَى لَكُمْ عَلَيْنَا مِنْ فَضْلٍ بَلْ نَظُنُّكُمْ كَاذِبِينَ} .

لقد غاب عن هؤلاء أن مقياس التفاضل بين الناس في حياتهم الدنيا بين الفقر والغنى ليس دليلا على أفضلية الغني على الفقير، ولا القوي على الضعيف، ولا صاحب السلطان على من لا سلطان له، إن هذا المقياس الأعمى لا علاقة له بقضية الاصطفاء للرسالة. فالله تعالى أعلم حيث يجعل رسالته، ولقد لفت القرآن نظرنا إلى هذه القضية في قوله تعالى: {وَلَمَّا جَاءَهُمُ الْحَقُّ قَالُوا هَذَا سِحْرٌ وَإِنَّا بِهِ كَافِرُونَ، وَقَالُوا لَوْلا نُزِّلَ هَذَا الْقُرْآنُ عَلَى رَجُلٍ مِنَ الْقَرْيَتَيْنِ عَظِيمٍ، أَهُمْ يَقْسِمُونَ رَحْمَتَ رَبِّكَ نَحْنُ قَسَمْنَا بَيْنَهُمْ مَعِيشَتَهُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَرَفَعْنَا بَعْضَهُمْ فَوْقَ بَعْضٍ دَرَجَاتٍ لِيَتَّخِذَ بَعْضُهُمْ بَعْضًا سُخْرِيًّا وَرَحْمَتُ
তারা বলল, "আমাদেরই মধ্য থেকে একজন মানুষের কি আমরা অনুসরণ করব?"

তবে কেন এই রিসালাত মক্কার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও নেতাদের অতিক্রম করে মুহাম্মাদের কাছে পৌঁছালো?

কেন মনোনীত রাসূল কওমের ধনীদের এবং বড়দের মধ্য থেকে হলেন না? মূলত এটি একটি মনস্তাত্ত্বিক বিষয় যা এই রাসূলের প্রতি বিদ্বেষ ও হিংসার তাড়নায় উদ্ভূত হয়েছে।

একারণেই রাসূলগণের বিরুদ্ধে ক্ষ্যাপাটে প্রচারণা শুরু হয়েছিল; ফলে তারা হয় যাদুকর, নয়তো উন্মাদ, অথবা অর্থলোভী কিংবা নেতৃত্বের সন্ধানী … ইত্যাদি হিসেবে অভিহিত হতেন। তারা তাদের রাসূলদের বলেছিল: "নিশ্চয় আমরা তোমাকে নির্বুদ্ধিতার মধ্যে দেখছি", "নিশ্চয় আমরা তোমাকে স্পষ্ট বিভ্রান্তির মধ্যে দেখছি"। তারা বলেছিল: "সে তোমাদের মতোই একজন মানুষ বৈ নয়, যে তোমাদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে চায়।" তারা আরও বলেছিল: "আমরা তো তোমাকে আমাদের মতোই একজন মানুষ ছাড়া কিছু দেখছি না এবং আমরা দেখছি যে, আমাদের মধ্য থেকে কেবল তারাই তোমার অনুসরণ করেছে যারা বাহ্যদৃষ্টিতে নীচ প্রকৃতির; আর আমাদের ওপর তোমাদের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব আমরা দেখছি না, বরং আমরা তোমাদের মিথ্যাবাদী মনে করি।"

তাদের কাছে এই বিষয়টি অস্পষ্ট রয়ে গেছে যে, পার্থিব জীবনে মানুষের মধ্যে তারতম্যের মানদণ্ড হিসেবে দারিদ্র্য ও সচ্ছলতা কোনো প্রমাণ নয় যে ধনী ব্যক্তি দরিদ্রের চেয়ে শ্রেষ্ঠ, অথবা শক্তিশালী দুর্বলের চেয়ে শ্রেষ্ঠ, কিংবা ক্ষমতাশালী ব্যক্তি ক্ষমতাহীন ব্যক্তির চেয়ে শ্রেষ্ঠ। এই অন্ধ মানদণ্ডের সাথে রিসালাতের জন্য মনোনীত হওয়ার বিষয়ের কোনো সম্পর্ক নেই। আল্লাহ তাআলা ভালো করেই জানেন কোথায় তাঁর রিসালাত অর্পণ করতে হবে। পবিত্র কুরআন এই বিষয়ের প্রতি আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে আল্লাহ তাআলার এই বাণীতে: "যখন তাদের কাছে সত্য এলো, তারা বলল, এটি জাদু এবং আমরা এতে অবিশ্বাসী। তারা আরও বলল, এই কুরআন কেন দুই জনপদের কোনো বড় ব্যক্তির ওপর অবতীর্ণ হলো না? তারা কি তোমার রবের রহমত বণ্টন করে? আমিই তাদের মধ্যে পার্থিব জীবনে তাদের জীবিকা বণ্টন করি এবং তাদের একজনকে অন্যজনের ওপর মর্যাদায় উন্নত করি যাতে তারা একে অপরকে সেবক হিসেবে গ্রহণ করতে পারে। আর তোমার রবের রহমত..."