(খণ্ড: ১)
আহাম্মিয়্যাতু দিরাসাতাস সিরাতিন নাবাবিয়্যাতি ওয়াল ইনায়াতু বিহা ফি হায়াতিল মুসলিমিন
(পৃষ্ঠা: -)
أهمية دراسة السيرة النبوية والعناية بها في حياة المسلمين القسم: السيرة النبوية
الكتاب: أهمية دراسة السيرة النبوية والعناية بها في حياة المسلمين
(ضمن أبحاث ندوة عناية السعودية بالسنة والسيرة النبوية)
المؤلف: محمد بن محمد العواجي
الناشر: مجمع الملك فهد لطباعة المصحف الشريف بالمدينة المنورة
عدد الصفحات: 53
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
মুসলিমদের জীবনে সীরাতুন নবী অধ্যয়নের গুরুত্ব ও এর প্রতি যত্নশীলতা বিভাগ: সীরাতুন নবী
গ্রন্থ: মুসলিমদের জীবনে সীরাতুন নবী অধ্যয়নের গুরুত্ব ও এর প্রতি যত্নশীলতা
(সুন্নাহ ও সীরাতুন নবীর প্রতি সৌদি আরবের যত্ন বিষয়ক সেমিনারের গবেষণাসমূহের অন্তর্ভুক্ত)
লেখক: মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল-আওয়াজি
প্রকাশক: মদিনা মুনাওয়ারায় পবিত্র কুরআন মুদ্রণের জন্য বাদশাহ ফাহদ কমপ্লেক্স
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৩
[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আহাম্মিয়্যাতু দিরাসাতাস সিরাতিন নাবাবিয়্যাতি ওয়াল ইনায়াতু বিহা ফি হায়াতিল মুসলিমিন
(পৃষ্ঠা: ১)
ال
مقدمة:وفيها:
1- أهمية الاقتداء بالنبي صلى الله عليه وسلم وأهمية الكتابة في هذا الموضوع، وسبب اختياره.
2- خطة البحث.
ভূমিকা:এতে রয়েছে:
১- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণের গুরুত্ব, এই বিষয়ে লেখার গুরুত্ব এবং এটি নির্বাচনের কারণ।
২- গবেষণার পরিকল্পনা।
(খণ্ড: ১)
আহাম্মিয়্যাতু দিরাসাতাস সিরাতিন নাবাবিয়্যাতি ওয়াল ইনায়াতু বিহা ফি হায়াতিল মুসলিমিন
(পৃষ্ঠা: ২)
المقدمة:
الحمد لله الذي أرسل رسوله بالهدى ودين الحق؛ ليظهره على الدين كله، وكفى بالله شهيداً، والصلاة والسلام على سيدنا ونبينا محمد الذي قال الله عنه: {وَكَانَ بِالْمُؤْمِنِينَ رَحِيماً} [الأحزاب: 43] وعلى آله وصحبه، ومن اقتفى أثره، وسلَّم تسليماً كثيراً.
وبعد: فإن نعم الله على عباده كثيرة جداً، وإن من أجلّ تلك النعم وأعظمها نعمة الإسلام، فالحمد لله الذي هدانا لهذا، وما كنا لنهتدي لولا أن هدانا الله.
ومما لا ريب فيه أن الدين الإسلامي له شرائع ونظم، منها ما يتعلق بالعبادة ومنها ما يتعلق بالأخلاق والمعاملات والسياسة وغيرها، وهذه كلها مجموعة أفعال الرسول صلى الله عليه وسلم، وأقواله وتقريراته، ولا تُعْرَفُ تلك الشرائع إلا باتباع هدي النبي صلى الله عليه وسلم، قال جل شأنه: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ} [الحشر، آية 7] .
وقال سبحانه وتعالى: {لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ} [الأحزاب، آية: 21] . بل وحَذَّر الله من مخالفته، فقال عز من قائل: {فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} [النور، آية: 63] .
ভূমিকা:
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর রাসূলকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ পাঠিয়েছেন, যাতে তিনি একে সকল ধর্মের ওপর বিজয়ী করেন; আর সাক্ষী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট। এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা ও নবী মুহাম্মাদের ওপর, যাঁর সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন: "আর তিনি মুমিনদের প্রতি পরম দয়ালু" [আল-আহযাব: ৪৩]; এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সঙ্গী-সাথী এবং যারা তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করেছে তাদের ওপর; আর বর্ষিত হোক অবারিত সালাম।
অতঃপর: নিশ্চয়ই বান্দাদের ওপর আল্লাহর নেয়ামতসমূহ অগণিত। আর সেই নেয়ামতসমূহের মধ্যে সর্বাপেক্ষা মহান ও শ্রেষ্ঠ নেয়ামত হলো ইসলামের নেয়ামত। অতএব সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের এর প্রতি হিদায়াত দিয়েছেন; আল্লাহ আমাদের হিদায়াত না দিলে আমরা কক্ষনো হিদায়াত পেতাম না।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ইসলামি দ্বীনের বিধিবিধান ও নীতিমালা রয়েছে। এর মধ্যে কিছু ইবাদত সংক্রান্ত, কিছু চরিত্র, লেনদেন, রাজনীতি ও অন্যান্য বিষয় সংক্রান্ত। আর এই সব কিছুই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কর্ম, কথা ও মৌনসম্মতির সমষ্টি। আর এই বিধিবিধানসমূহ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর্শ অনুসরণ করা ছাড়া জানা সম্ভব নয়। মহান আল্লাহ বলেছেন: "রাসূল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ করো, আর যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো। আর আল্লাহকে ভয় করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ শাস্তিদানে অত্যন্ত কঠোর" [আল-হাশর, আয়াত: ৭]।
এবং মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: "অবশ্যই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ, তার জন্য যে আল্লাহ ও পরকালের আশা রাখে" [আল-আহযাব, আয়াত: ২১]। বরং আল্লাহ তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন। প্রতাপশালী আল্লাহ বলেছেন: "অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে তারা যেন সতর্ক থাকে যে, তাদের ওপর কোনো বিপর্যয় নেমে আসবে অথবা তাদের ওপর কোনো যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আপতিত হবে" [আন-নূর, আয়াত: ৬৩]।
(খণ্ড: ১)
আহাম্মিয়্যাতু দিরাসাতাস সিরাতিন নাবাবিয়্যাতি ওয়াল ইনায়াতু বিহা ফি হায়াতিল মুসলিমিন
(পৃষ্ঠা: ৩)
وقال صلى الله عليه وسلم: " من عمل عملاً ليس عليه أمرنا فهو ردّ " (1) .
وقال عليه الصلاة والسلام: " من أحدث في أمرنا هذا ما ليس منه فهو ردّ " (2) .
ومما لا شك فيه أيضاً أن سيرته عليه الصلاة والسلام قد اشتملت على أقواله وأفعاله وتقريراته، فهي إذاً التجسيد الحيّ لتعاليم الإسلام، بل هي الصورة المشرقة لسلوكيات النبي صلى الله عليه وسلم، وأصحابه.
لذلك كانت الكتابة في هذا الموضوع من الأهمية بمكان، والسبب في ذلك ما ذكرت من حاجة الناس في هذا الزمن على وجه التحديد من عمر الرسالة المحمدية، والعودة إلى كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم وسيرته العطرة، ففي سيرته امتزجت أقواله بأفعاله، وظهر هديه صلى الله عليه وسلم في دعوته ومراحلها، وسياسته في حروبه وتعامله مع الآخرين، وغير ذلك من أمور الدين والدنيا، لا تعرف إلا من خلال دراسة السيرة النبوية دراسة واعية متأنية، فهي نبراس لكل من أراد النور في الدنيا والآخرة.
من هنا حاولت أن أجمع هذا العنوان الواسع "أهمية دراسة السيرة النبوية والعناية بها في حياة المسلمين".
وأجعله في مقدمة وتمهيد وخمسة مباحث ثم الخاتمة، فالفهارس.
1- المقدمة وفيها: أهمية الاقتداء بالنبي صلى الله عليه وسلم، وأهمية الكتابة في هذا الموضوع وسبب اختياره.
2- وأما التمهيد ففيه:
--------------------------------------------
এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি এমন কোনো কাজ করল যা আমাদের এই দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যানযোগ্য।" (১)।
এবং তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক, তিনি বলেছেন: "যে আমাদের এই দ্বীনের বিষয়ে নতুন কিছু উদ্ভাবন করল যা এর অংশ নয়, তা প্রত্যাখ্যানযোগ্য।" (২)।
এ বিষয়েও কোনো সন্দেহ নেই যে, তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সীরাত বা জীবনী তাঁর বাণী, কর্ম এবং মৌন সম্মতিকে অন্তর্ভুক্ত করে। সুতরাং এটি ইসলামের শিক্ষার এক জীবন্ত প্রতিফলন, বরং এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবায়ে কেরামের আচরণের এক উজ্জ্বল চিত্র।
এ কারণেই এই বিষয়ে লেখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর কারণ হলো মুহাম্মদী দাওয়াতের বর্তমান এই যুগে মানুষের বিশেষ প্রয়োজন এবং আল্লাহর কিতাব, তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নাহ ও তাঁর সুগন্ধিময় জীবনীর দিকে ফিরে আসার আবশ্যকতা। কেননা তাঁর সীরাতে তাঁর বাণীর সাথে কর্মের সমন্বয় ঘটেছে এবং তাঁর দাওয়াত ও এর বিভিন্ন পর্যায়, যুদ্ধে তাঁর রণকৌশল, অন্যদের সাথে তাঁর আচরণ এবং দ্বীন ও দুনিয়ার অন্যান্য বিষয়ে তাঁর দিকনির্দেশনা ফুটে উঠেছে। নবীজির জীবনী সচেতন ও গভীরতার সাথে অধ্যয়ন করা ছাড়া এসব জানা সম্ভব নয়। দুনিয়া ও আখেরাতে যারা আলো চায়, তাদের জন্য এটি একটি আলোকবর্তিকা।
এখান থেকেই আমি এই বিশাল শিরোনামটি সংকলন করার চেষ্টা করেছি: "মুসলিমদের জীবনে সীরাতুন নবী অধ্যয়নের গুরুত্ব ও এর প্রতি যত্নশীল হওয়া"।
এবং আমি এটিকে একটি ভূমিকা, একটি উপক্রমণিকা, পাঁচটি পরিচ্ছেদ, অতঃপর একটি উপসংহার এবং সূচিপত্রের বিন্যাসে সাজিয়েছি।
১- ভূমিকা: এতে রয়েছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণের গুরুত্ব, এই বিষয়ে লেখার গুরুত্ব এবং এই বিষয়টি নির্বাচনের কারণ।
২- আর উপক্রমণিকার মধ্যে রয়েছে:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহাম্মিয়্যাতু দিরাসাতাস সিরাতিন নাবাবিয়্যাতি ওয়াল ইনায়াতু বিহা ফি হায়াতিল মুসলিমিন
(পৃষ্ঠা: ৪)
ـ تعريف السيرة لغة واصطلاحاً.
ـ مدلول كلمة "السيرة النبوية".
ـ خصوصية السيرة النبوية.
وأما المباحث الخمسة فهي:
المبحث الأول: أهمية دراسة السيرة النبوية، من الناحية الدينية [المنهج الدعوي] .
المبحث الثاني: أهمية دراسة السيرة النبوية من الناحية الاجتماعية.
المبحث الثالث: أهمية دراسة السيرة النبوية من الناحية السياسية.
المبحث الرابع: أهمية دراسة السيرة النبوية من الناحية الاقتصادية.
المبحث الخامس: أهمية دراسة السيرة النبوية من الناحية العسكرية.
ثم الخاتمة، وقد اشتملت على ذكر أهم ما جاء في البحث.
فالفهارس العامة.
وأخيراً أشكر الله سبحانه وتعالى أن وفقني للكتابة في هذا البحث وإتمامه، وهذا جهد المقل، ثم أشكر ولاة الأمر في هذه البلاد المباركة على ما بذلوه، ويبذلونه من جهود لإقامة شرع الله سبحانه وتعالى، نسأل الله لهم الثبات على الحق.
والشكر موصول للقائمين على هذا الصرح العظيم "مجمع الملك فهد لطباعة المصحف الشريف بالمدينة" لحسن اختيارهم هذه الموضوعات، وفي هذا الوقت، إذ تعصف بالأمة الإسلامية رياح التغيير بصفة عامة وما تتعرض له هذه البلاد بصفة خاصة.
نسأل الله أن يردّ المسلمين إلى دينهم رداً جميلاً وأن يؤلف بين قلوبهم ويصلح ذات بينهم إنه جواد كريم.
وصلى الله على نبينا محمد وعلى آله وصحبه وسلم.
— সীরাতের আভিধানিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞা।
— "সীরাতুন নবী" শব্দের তাৎপর্য।
— সীরাতুন নবীর অনন্য বৈশিষ্ট্য।
আর পাঁচটি পরিচ্ছেদ হলো:
প্রথম পরিচ্ছেদ: ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সীরাতুন নবী অধ্যয়নের গুরুত্ব [দাওয়াতি পদ্ধতি]।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে সীরাতুন নবী অধ্যয়নের গুরুত্ব।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে সীরাতুন নবী অধ্যয়নের গুরুত্ব।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে সীরাতুন নবী অধ্যয়নের গুরুত্ব।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে সীরাতুন নবী অধ্যয়নের গুরুত্ব।
এরপর উপসংহার, যা এই গবেষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করেছে।
অতঃপর সাধারণ নির্ঘণ্টসমূহ।
পরিশেষে আমি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার শুকরিয়া আদায় করছি যে, তিনি আমাকে এই গবেষণাপত্রটি লেখার এবং সম্পন্ন করার তাওফীক দিয়েছেন, আর এটি একজন নগণ্য ব্যক্তির সামান্য প্রচেষ্টা মাত্র। এরপর আমি এই বরকতময় দেশের শাসকবর্গকে ধন্যবাদ জানাই সেই প্রচেষ্টার জন্য যা তারা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার শরীয়ত প্রতিষ্ঠার জন্য ব্যয় করেছেন এবং করে যাচ্ছেন। আমরা আল্লাহর কাছে তাদের সত্যের ওপর অটল থাকার প্রার্থনা করি।
আর এই বিশাল প্রতিষ্ঠান "মদীনাস্থ বাদশাহ ফাহাদ পবিত্র কুরআন মুদ্রণ কমপ্লেক্স"-এর দায়িত্বশীলদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি এই বিষয়গুলো এবং এই সময়টিকে সঠিকভাবে নির্বাচন করার জন্য; কারণ বর্তমানে মুসলিম উম্মাহ সামগ্রিকভাবে পরিবর্তনের ঝোড়ো হাওয়ার সম্মুখীন এবং বিশেষ করে এই দেশ যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন মুসলিমদেরকে তাদের দ্বীনের পথে সুন্দরভাবে ফিরিয়ে আনেন, তাদের অন্তরগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করে দেন এবং তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক সংশোধন করে দেন; নিশ্চয়ই তিনি অত্যধিক দানশীল ও দয়ালু।
আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১)
আহাম্মিয়্যাতু দিরাসাতাস সিরাতিন নাবাবিয়্যাতি ওয়াল ইনায়াতু বিহা ফি হায়াতিল মুসলিমিন
(পৃষ্ঠা: ৫)
ال
تمهيد:وفيه:
1ـ تعريف السيرة لغة واصطلاحاً.
2ـ مدلول كلمة السيرة النبوية.
3ـ خصوصية السيرة النبوية.
উপক্রমণিকা:এতে রয়েছে:
১. শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থে সীরাতের সংজ্ঞা।
২. সীরাতে নববী শব্দের তাৎপর্য।
৩. সীরাতে নববীর বৈশিষ্ট্যসমূহ।
(খণ্ড: ১)
আহাম্মিয়্যাতু দিরাসাতাস সিরাতিন নাবাবিয়্যাতি ওয়াল ইনায়াতু বিহা ফি হায়াতিল মুসলিমিন
(পৃষ্ঠা: ৬)
التمهيد:
1- تعريف السيرة لغة واصطلاحاً
فالسيرة لغة: السُّنَّة، وقد سارت وسِرْ تُها، قال الشاعر:
فلا تَجْزَعَن من سُنَّة أنت سرْتهَا
فأول راضٍ سنّةً مَنْ يسيرُها (1)
والسيرة: الطريقة، يُقال: سار بهم سيرة حسنةً.
والسيرة: الهيئة، وفي التنزيل: {سَنُعِيدُهَا سِيرَتَهَا الْأُولَى} [طه:21] .
والسيرة: الضرب من السَّيْر (2) .
ويلاحظ أنّ من معاني السيرة لغة: السُّنَّة.
والسيرة النبوية اصطلاحاً: هي الترجمة المأثورة لحياة النبي صلى الله عليه وسلم (3) .
أو هي: ما أثر عن النبي صلى الله عليه وسلم من قول أو فعل أو تقرير أو صفة خَلْقية أو خُلُقية أو سيرة، سواء كان قبل البعثة أو بعدها (4) .
وهذا التعريف ذكره المحدِّثون للسنة، وهو تعريف للسيرة أيضاً؛ لأنّ من معاني السيرة في اللغة: السُّنّة، ولأنّ التعريف اشتمل على ذكر حياة النبي صلى الله عليه وسلم كلها قبل البعثة أي: من ولادته وبعدها حتى وفاته.
--------------------------------------------
প্রারম্ভিকা:
১- আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে সিরাতের পরিচয়
আভিধানিক অর্থে সিরাত হলো: সুন্নাহ বা তরীকা। এটি 'সারাত' এবং 'সিরতুহা' (পথ চলা) হতে উৎপন্ন। কবি বলেছেন:
তুমি যে পথ তৈরি করেছ তার জন্য আক্ষেপ করো না
কারণ যে ব্যক্তি কোনো পথ বা পদ্ধতি চালু করে সে-ই তাতে প্রথম সন্তুষ্ট হয়। (১)
সিরাত মানে: পদ্ধতি। বলা হয়ে থাকে: তিনি তাদের সাথে উত্তম পদ্ধতিতে পথ চলেছেন।
সিরাত মানে: অবস্থা বা রূপ। পবিত্র কুরআনে এসেছে: "আমি ইহাকে ইহার আদি রূপে ফিরিয়ে দেবো।" [ত্বহা: ২১]।
সিরাত হলো: এক প্রকারের পথচলা। (২)
লক্ষ্যণীয় যে, আভিধানিক অর্থে সিরাতের অন্যতম একটি অর্থ হলো: সুন্নাহ।
পারিভাষিক অর্থে সিরাতে নববী হলো: আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবনী সংক্রান্ত বর্ণিত ইতিহাস। (৩)
অথবা এটি হলো: আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী, কাজ, মৌনসম্মতি, শারীরিক বৈশিষ্ট্য, চারিত্রিক গুণাবলি বা জীবন-ইতিহাস সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে; তা নবুওয়াত লাভের পূর্বের হোক বা পরের। (৪)
মুহাদ্দিসগণ সুন্নাহ-এর এই সংজ্ঞা প্রদান করেছেন এবং এটি সিরাতেরও একটি সংজ্ঞা; কেননা আভিধানিক অর্থে সিরাতের অন্যতম অর্থ হলো সুন্নাহ। তাছাড়া এই সংজ্ঞায় আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নবুওয়াত পূর্বকালীন সমস্ত জীবনকাল অর্থাৎ তাঁর জন্ম থেকে শুরু করে মৃত্যু পর্যন্ত পুরো সময়কাল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহাম্মিয়্যাতু দিরাসাতাস সিরাতিন নাবাবিয়্যাতি ওয়াল ইনায়াতু বিহা ফি হায়াতিল মুসলিমিন
(পৃষ্ঠা: ৭)
2- مدلول كلمة: السيرة النبوية
إذا قيل السيرة النبوية، فإنما يراد بها سيرة نبي الله ورسوله محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم، والتي تشتمل على ذكر أدق التفاصيل عن حياة سيدنا ونبينا محمد صلى الله عليه وسلم في المرحلة المكية والمدنية، وعلى هذا درج المؤلفون عن حياة النبي صلى الله عليه وسلم بتسمية مؤلفاتهم بالسيرة النبوية، كالسيرة النبوية لابن إسحاق، وتهذيب ابن هشام (1) ، والسيرة النبوية لابن حزم (ت: 456?) ، والسيرة النبوية لعبد الغني المقدسي (ت: 600?) ، والسيرة النبوية لابن عساكر، المطبوعة ضمن تاريخه الشهير بتاريخ ابن عساكر (ت:571?) وغيرها (2) .
والملاحظ أنّ هذه المصنفات الموسومة بالسيرة النبوية، جميعها تتحدث عن حياة النبي صلى الله عليه وسلم في المرحلة المكية والمرحلة المدنية، إلا أن بعضها أكثر تفصيلاً عن حياته عليه الصلاة والسلام من بعض (3) .
3ـ خصوصية السيرة النبوية
تمتاز السيرة النبوية بخصائص عدة لا يمكن حصرها منها:
كونها ربانية المصدر، بمعنى أنّ صاحبها وهو نبينا محمد صلى الله عليه وسلم مرسل من ربه إلى الناس كافة: {قُلْ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ
--------------------------------------------
২- ‘সীরাতুন নববী’ শব্দের অর্থ
যখন ‘সীরাতুন নববী’ বলা হয়, তখন এর দ্বারা আল্লাহর নবী ও তাঁর রাসূল মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জীবনীই উদ্দেশ্য হয়, যা মক্কী ও মাদানী জীবনে আমাদের নেতা ও নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জীবনের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিবরণসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে। এই বিষয়ের লেখকগণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জীবন সম্পর্কিত তাঁদের কিতাবগুলোর নাম ‘সীরাতুন নববী’ রাখার ক্ষেত্রে এই নীতিই অনুসরণ করেছেন। যেমন: ইবনে ইসহাকের ‘সীরাতুন নববী’, ইবনে হিশামের ‘তাহযীব’ (১), ইবনে হাযমের (মৃত্যু: ৪৫৬ হি.) ‘সীরাতুন নববী’, আব্দুল গনী আল-মাকদিসীর (মৃত্যু: ৬০০ হি.) ‘সীরাতুন নববী’, ইবনে আসাকিরের ‘সীরাতুন নববী’ যা তাঁর বিখ্যাত ইতিহাস গ্রন্থ ‘তারীখে ইবনে আসাকির’ (মৃত্যু: ৫৭১ হি.)-এর অন্তর্ভুক্ত হিসেবে মুদ্রিত হয়েছে এবং আরও অন্যান্য (২)।
লক্ষ্যণীয় যে, ‘সীরাতুন নববী’ নামে অভিহিত এই সকল সংকলনই মক্কী ও মাদানী জীবনে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জীবনী সম্পর্কে আলোচনা করে। তবে এগুলোর মধ্যে কোনোটি তাঁর (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) জীবন সম্পর্কে অন্যদের তুলনায় অধিক বিস্তারিত (৩)।
৩- সীরাতুন নববীর বৈশিষ্ট্যসমূহ
সীরাতুন নববী এমন কতগুলো বৈশিষ্ট্যের অধিকারী যা গণনা করে শেষ করা সম্ভব নয়, তার মধ্যে রয়েছে:
এর উৎস রব্বানী বা ঐশী হওয়া; অর্থাৎ এর অধিকারী তথা আমাদের নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর রব্ব-এর পক্ষ থেকে সকল মানুষের নিকট প্রেরিত হয়েছেন: {বলুন, হে লোকসকল! আমি তোমাদের সকলের প্রতি আল্লাহর রাসূল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহাম্মিয়্যাতু দিরাসাতাস সিরাতিন নাবাবিয়্যাতি ওয়াল ইনায়াতু বিহা ফি হায়াতিল মুসলিমিন
(পৃষ্ঠা: ৮)
جَمِيعاً} ويتلقى تعاليمه من الله سبحانه وتعالى: {وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى، إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى} [النجم:3، 4] ، ولا يقول شيئاً من ذات نفسه فيما يتعلق بأوامر النبوة والرسالة أبداً {وَلَوْ تَقَوَّلَ عَلَيْنَا بَعْضَ الْأَقَاوِيلِ، لَأَخَذْنَا مِنْهُ بِالْيَمِينِ، ثُمَّ لَقَطَعْنَا مِنْهُ الْوِيَتنَ} [الحاقة:44-46] .
وهذه الخصوصية وإن كان يشاركه الأنبياء في بعضها إلا أن نبينا انفرد بكونه صلى الله عليه وسلم مرسلاً إلى الناس كافة، فأوامره ونواهيه ملزمة ومقررة للناس جميعاً.
2- ثبوتها وصحة ما جاء فيها: فقد أورد القرآن الكريم صوراً من سيرة النبي صلى الله عليه وسلم على سبيل الإجمال، حيث أشار إلى الحالة التي نشأ عليها صلى الله عليه وسلم في أول حياته: {أَلَمْ يَجِدْكَ يَتِيمًا فَآوَى، وَوَجَدَكَ ضَالًّا فَهَدَى، وَوَجَدَكَ عَائِلًا فَأَغْنَى} [الضحى:6-8] ، ثم نزول الوحي عليه: {اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ، خَلَقَ الْإِنسَانَ مِنْ عَلَقٍ، اقْرَأْ وَرَبُّكَ الْأَكْرَمُ، الَّذِي عَلَّمَ بِالْقَلَمِ، عَلَّمَ الْإِنسَانَ مَا لَمْ يَعْلَمْ} [العلق:1-5] .
وبداية دعوته: {وَأَنْذِرْ عَشِيرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ} [الشعراء:214] ، ثم بعض أخلاقه وشمائله: {وَإِنَّكَ لَعَلَى خُلُقٍ عَظِيمٍ} [القلم:4] ، {فَبِمَا رَحْمَةٍ مِنَ اللَّهِ لِنْتَ لَهُمْ وَلَوْ كُنْتَ فَظّاً غَلِيظَ الْقَلْبِ لَانْفَضُّوا مِنْ حَوْلِكَ فَاعْفُ عَنْهُمْ وَاسْتَغْفِرْ لَهُمْ وَشَاوِرْهُمْ فِي الْأَمْرِ فَإِذَا عَزَمْتَ فَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُتَوَكِّلِينَ} [آل عمران:159] ، ثم في جهاده وغزواته، ففي بدر: {كَمَا أَخْرَجَكَ رَبُّكَ مِنْ بَيْتِكَ بِالْحَقِّ وَإِنَّ فَرِيقاً مِنَ الْمُؤْمِنِينَ لَكَارِهُونَ} [الأنفال:5] .
সকলের কাছে} এবং তিনি মহান ও পবিত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর শিক্ষা লাভ করেন: {তিনি নিজের খেয়াল-খুশি থেকে কোনো কথা বলেন না; এটি তো কেবল এক ওহি, যা তাঁর প্রতি প্রত্যাদেশ করা হয়।} [আন-নাজম: ৩, ৪], এবং তিনি নবুওয়াত ও রিসালাতের নির্দেশের ব্যাপারে কখনোই নিজের পক্ষ থেকে কিছু বলেন না {আর তিনি যদি আমাদের নামে কোনো কথা বানিয়ে বলতেন, তবে অবশ্যই আমরা তাঁর ডান হাত ধরে ফেলতাম, অতঃপর অবশ্যই আমরা তাঁর জীবন-ধমনী কেটে ফেলতাম।} [আল-হাক্কাহ: ৪৪-৪৬]।
এই বৈশিষ্ট্যটি যদিও অন্যান্য নবীগণও এর কোনো কোনো ক্ষেত্রে অংশীদার ছিলেন, তবে আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমস্ত মানুষের প্রতি প্রেরিত হওয়ার মাধ্যমে স্বতন্ত্র লাভ করেছেন; তাই তাঁর আদেশ ও নিষেধসমূহ সমস্ত মানুষের জন্য বাধ্যতামূলক এবং নির্ধারিত।
২- এর নির্ভরযোগ্যতা এবং এতে বর্ণিত বিষয়ের বিশুদ্ধতা: কুরআনুল কারীম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাতের বিভিন্ন চিত্র সংক্ষেপে বর্ণনা করেছে; যেখানে তাঁর জীবনের শুরুর অবস্থার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে যে অবস্থায় তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেড়ে উঠেছিলেন: {তিনি কি আপনাকে এতিম অবস্থায় পাননি? অতঃপর তিনি আশ্রয় দিয়েছেন। তিনি আপনাকে পথহারা অবস্থায় পেয়েছেন, অতঃপর পথপ্রদর্শন করেছেন। তিনি আপনাকে নিঃস্ব অবস্থায় পেয়েছেন, অতঃপর অভাবমুক্ত করেছেন।} [আদ-দুহা: ৬-৮], অতঃপর তাঁর ওপর ওহি নাজিলের ঘটনা: {পড়ুন আপনার রবের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন জমাট রক্ত থেকে। পড়ুন, আর আপনার রব মহিমান্বিত, যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি মানুষকে তা শিক্ষা দিয়েছেন যা সে জানত না।} [আল-আলাক: ১-৫]।
এবং তাঁর দাওয়াতের সূচনা: {আর আপনি আপনার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করুন।} [আশ-শুয়ারা: ২১৪], অতঃপর তাঁর কতিপয় চরিত্র ও গুণাবলি: {আর নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের ওপর অধিষ্ঠিত।} [আল-কালাম: ৪], {আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমতের কারণেই আপনি তাদের জন্য কোমলহৃদয় হয়েছিলেন; যদি আপনি রূঢ় ও কঠোর চিত্ত হতেন, তবে তারা আপনার চারপাশ থেকে সরে যেত। সুতরাং আপনি তাদের ক্ষমা করুন এবং তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন এবং কাজের ক্ষেত্রে তাদের সাথে পরামর্শ করুন; অতঃপর যখন আপনি সংকল্প করবেন, তখন আল্লাহর ওপর ভরসা করুন। নিশ্চয়ই আল্লাহ ভরসাকারীদের ভালোবাসেন।} [আলি ইমরান: ১৫৯], অতঃপর তাঁর জিহাদ ও যুদ্ধবিগ্রহের বর্ণনায়; বদর যুদ্ধের ক্ষেত্রে: {যেভাবে আপনার রব আপনাকে আপনার ঘর থেকে ন্যায়ের সাথে বের করেছিলেন, অথচ মুমিনদের একটি দল তা অপছন্দ করছিল।} [আল-আনফাল: ৫]।
(খণ্ড: ১)
আহাম্মিয়্যাতু দিরাসাতাস সিরাতিন নাবাবিয়্যাতি ওয়াল ইনায়াতু বিহা ফি হায়াতিল মুসলিমিন
(পৃষ্ঠা: ৯)
وفي أحد: {وَإِذْ غَدَوْتَ مِنْ أَهْلِكَ تُبَوِّئُ الْمُؤْمِنِينَ مَقَاعِدَ لِلْقِتَالِ وَاللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ} [آل عمران:121] .
وفي الخندق: {إِذْ جَاءُوكُمْ مِنْ فَوْقِكُمْ وَمِنْ أَسْفَلَ مِنْكُمْ وَإِذْ زَاغَتِ الْأَبْصَارُ وَبَلَغَتِ الْقُلُوبُ الْحَنَاجِرَ وَتَظُنُّونَ بِاللَّهِ الظُّنُونَا، هُنَالِكَ ابْتُلِيَ الْمُؤْمِنُونَ وَزُلْزِلُوا زِلْزَالاً شَدِيداً} [الأحزاب:10-11] .
وفي حنين: {وَيَوْمَ حُنَيْنٍ إِذْ أَعْجَبَتْكُمْ كَثْرَتُكُمْ فَلَمْ تُغْنِ عَنْكُمْ شَيْئاً وَضَاقَتْ عَلَيْكُمُ الْأَرْضُ بِمَا رَحُبَتْ ثُمَّ وَلَّيْتُمْ مُدْبِرِينَ} [التوبة: 25] .
فالقرآن الكريم مليء بمثل هذه الإشارات المقتضبة، وعلى هذا فالقرآن الكريم يعدُّ المصدر الأول لسيرة النبي صلى الله عليه وسلم، وكفاك به صدقاً وعدلاً {لا يَأْتِيهِ الْبَاطِلُ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ وَلا مِنْ خَلْفِهِ تَنْزِيلٌ مِنْ حَكِيمٍ حَمِيدٍ} [فصلت:42] .
كما أنّ كتب السنة قد نقلت لنا معظم سيرة الرسول صلى الله عليه وسلم وبأصح ما جاء فيها، حيث أورد البخاري ومسلم في صحيحيهما جملة كبيرة من السيرة النبوية، وكذا بقية كتب السنة.
3- شمولها وكمالها: فلا تكاد تجد سيرة لنبي من أنبياء الله السابقين وصفت وصفاً دقيقاً ابتداء من ولادته حتى وفاته وبقيت بعده، فضلاً عن غيرهم من البشر، لكن سيرة نبينا صلى الله عليه وآله وسلم شملت جميع مراحل حياته، بل وقبل ولادته حتى وفاته عليه الصلاة والسلام، بل وفي بعض أحداثها ذكر اليوم والشهر والسنة، وشاملة لجميع مناحي الحياة الإنسانية، فتجد فيها الوسطية، والعدل والمساواة والحرية، والرفق بالإنسان والحيوان
আর উহুদ যুদ্ধের ক্ষেত্রে: {আর স্মরণ করুন যখন আপনি আপনার পরিবার-পরিজনের নিকট হতে প্রত্যুষে বের হয়েছিলেন মুমিনদের যুদ্ধের অবস্থানে বিন্যস্ত করার জন্য; আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।} [আলে ইমরান: ১২১]।
আর খন্দক যুদ্ধের ক্ষেত্রে: {যখন তারা তোমাদের নিকট এসেছিল তোমাদের উপরের দিক ও নিচের দিক হতে, যখন চোখগুলো ভয়ে স্থির হয়ে গিয়েছিল এবং প্রাণগুলো কণ্ঠাগত হয়েছিল আর তোমরা আল্লাহ সম্পর্কে নানাবিধ ধারণা পোষণ করছিলে। তখন মুমিনগণ পরীক্ষিত হয়েছিল এবং তারা ভীষণভাবে প্রকম্পিত হয়েছিল।} [আল-আহযাব: ১০-১১]।
আর হুনায়নের যুদ্ধের ক্ষেত্রে: {এবং হুনায়নের যুদ্ধের দিন, যখন তোমাদের সংখ্যাধিক্য তোমাদেরকে উৎফুল্ল করেছিল, কিন্তু তা তোমাদের কোনো কাজে আসেনি এবং পৃথিবী প্রশস্ত হওয়া সত্ত্বেও তোমাদের জন্য তা সংকীর্ণ হয়ে গিয়েছিল, অতঃপর তোমরা পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে পলায়ন করেছিলে।} [আত-তাওবাহ: ২৫]।
কুরআনুল কারীম এ ধরনের সংক্ষিপ্ত ইশারায় ভরপুর। সে হিসেবে কুরআনুল কারীমকেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাতের প্রথম উৎস হিসেবে গণ্য করা হয়। সত্য ও ন্যায়ের সাক্ষ্য হিসেবে এটিই আপনার জন্য যথেষ্ট: {এতে কোনো মিথ্যা আসতে পারে না এর সম্মুখ হতে এবং এর পেছন হতেও নয়। এটি প্রজ্ঞাময়, পরম প্রশংসিত আল্লাহর পক্ষ হতে অবতীর্ণ।} [ফুসসিলাত: ৪২]।
অনুরূপভাবে সুন্নাহর কিতাবসমূহ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাতের অধিকাংশ ঘটনা এবং এর মধ্য থেকে সর্বাধিক বিশুদ্ধ বর্ণনাগুলো আমাদের নিকট পৌঁছে দিয়েছে। যেখানে বুখারী ও মুসলিম তাঁদের সহীহ গ্রন্থদ্বয়ে সীরাতে নববীর একটি বড় অংশ উল্লেখ করেছেন এবং একইভাবে সুন্নাহর অন্যান্য কিতাবসমূহও।
৩- এর ব্যাপকতা ও পূর্ণতা: আপনি পূর্ববর্তী আল্লাহর নবীগণের মধ্য থেকে এমন কোনো নবীর সীরাত পাবেন না যা তাঁর জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত নিখুঁতভাবে বর্ণিত হয়েছে এবং পরবর্তীকালে অবশিষ্ট রয়েছে; সাধারণ মানুষের কথা তো বলাই বাহুল্য। কিন্তু আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লামের সীরাত তাঁর জীবনের সকল পর্যায়কে শামিল করেছে, এমনকি জন্মের পূর্ব থেকে শুরু করে মৃত্যু পর্যন্ত (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক)। সীরাতের কিছু ঘটনায় দিন, মাস ও বছরের উল্লেখও রয়েছে। এটি মানবজীবনের সকল দিককে বেষ্টন করে আছে, যার মধ্যে আপনি খুঁজে পাবেন মধ্যপন্থা, ন্যায়বিচার, সাম্য ও স্বাধীনতা এবং মানুষ ও প্রাণীর প্রতি মমতা।
(খণ্ড: ১)
আহাম্মিয়্যাতু দিরাসাতাস সিরাতিন নাবাবিয়্যাতি ওয়াল ইনায়াতু বিহা ফি হায়াতিল মুসলিমিন
(পৃষ্ঠা: ১০)
وغيرها.
4- وسطيتها ويسرها: فدين الإسلام عموماً جاء بالوسطية {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطاً لِتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ وَيَكُونَ الرَّسُولُ عَلَيْكُمْ شَهِيداً} [البقرة: 143] .
وقال عليه الصلاة والسلام: "يسروا ولا تعسروا، وبشروا ولا تنفروا" (1) .
وقال صلى الله عليه وسلم: "إنما بعثتم مُيَسِّرين ولم تبعثوا معسِّرين" (2) .
وقال لمعاذ عندما بلغه إطالة صلاته بالناس: "يا معاذ أفتّان أنت، أو أفاتن أنت؟ ثلاث مرات، فلولا صليت بسبح اسم ربك الأعلى، والشمس وضحاها، والليل إذا يغشى" (3) .
فأمّة الإسلام أمة وسطية معتدلة، قال أبو جعفر الطبري: "فلا هم أهل غُلُوٍّ فيه، غُلُوَّ النصارى الذين غَلَوا بالترهب، وقِيلِهم في عيسى ما قالوا فيه، ولا هم أهل تقصير فيه، تقصير اليهود الذين أبدلوا كتاب الله، وقتلوا أنبياءهم، وكذبوا ربهم، وكفروا به، ولكنهم أهل وسط واعتدال فيه فوصفهم الله بذلك، إذ كان أحب الأمور إلى الله أوسطها" (4) .
إلى غير ذلك من خصائص السيرة النبوية.
--------------------------------------------
এবং অন্যান্য।
৪- এর ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান এবং সহজতা: কারণ ইসলাম ধর্ম সাধারণভাবে মধ্যপন্থা বা ভারসাম্য নিয়ে এসেছে {এভাবেই আমি তোমাদেরকে এক মধ্যপন্থী জাতি হিসেবে তৈরি করেছি, যাতে তোমরা মানবজাতির উপর সাক্ষী হতে পারো এবং রাসূল তোমাদের উপর সাক্ষী হতে পারেন} [আল-বাকারা: ১৪৩]।
এবং তিনি (তাঁর ওপর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক) বলেছেন: "তোমরা সহজ করো এবং কঠিন করো না; সুসংবাদ দাও এবং মানুষকে দূরে সরিয়ে দিয়ো না" (১)।
এবং তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদেরকে সহজকারী হিসেবে পাঠানো হয়েছে, কঠিনকারী হিসেবে পাঠানো হয়নি" (২)।
এবং তিনি মুআযকে বলেছিলেন যখন তাঁর কাছে সংবাদ পৌঁছাল যে তিনি লোকদের নিয়ে দীর্ঘ সালাত আদায় করছেন: "হে মুআয! তুমি কি ফিতনা সৃষ্টিকারী? তুমি কি ফিতনা সৃষ্টিকারী? (তিনি তিনবার বললেন)। তুমি কেন 'সাব্বিহিসমা রব্বিকাল আলা', 'ওয়াশ-শামসি ওয়া দুহাহা' এবং 'ওয়াল-লায়লি ইযা ইয়াগশা' দিয়ে সালাত আদায় করলে না?" (৩)।
সুতরাং মুসলিম উম্মাহ হলো একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও মধ্যপন্থী উম্মত। আবু জাফর আত-তাবারী বলেন: "তারা এতে (দ্বীনের ক্ষেত্রে) অতিরঞ্জনকারী নয়, যেমন খ্রিস্টানরা বৈরাগ্যবাদের মাধ্যমে অতিরঞ্জন করেছে এবং ঈসা সম্পর্কে যা বলার নয় তা বলেছে। আবার তারা এতে শিথিলতা প্রদর্শনকারীও নয়, যেমন ইহুদিরা আল্লাহর কিতাব পরিবর্তন করেছিল, তাদের নবীদের হত্যা করেছিল, তাদের রবকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল এবং তাঁর সাথে কুফরি করেছিল। বরং তারা এতে মধ্যপন্থা ও ভারসাম্যের অনুসারী, তাই আল্লাহ তাদের এই গুণেই বিশেষিত করেছেন। কেননা আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় বিষয় হলো তার মধ্যম বা ভারসাম্যপূর্ণ দিকটি" (৪)।
সীরাতে নববীর এ জাতীয় আরও অনেক বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহাম্মিয়্যাতু দিরাসাতাস সিরাতিন নাবাবিয়্যাতি ওয়াল ইনায়াতু বিহা ফি হায়াতিল মুসলিমিন
(পৃষ্ঠা: ১১)
أهمية دراسة السيرة النبوية من الناحية الدينية (المنهج الدعوي)
الأمر الأول: في المراحل الدعوية…المبحث الأول: أهمية دراسة السيرة النبوية من الناحية الدينية (المنهج الدعوي)
والحديث في هذا المبحث يقتصر على ثلاثة أمور:
الأمر الأول: في المراحل الدعوية
الأمر الثاني: التركيز على الجانب العقدي.
الأمر الثالث: أن السيرة النبوية مصدر معين لمن يريد التبحر في علوم الشريعة.
ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সীরাতুন নবী অধ্যয়নের গুরুত্ব (দাওয়াতি পদ্ধতি)প্রথম বিষয়: দাওয়াতের স্তরসমূহ প্রসঙ্গে...প্রথম পরিচ্ছেদ: ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সীরাতুন নবী অধ্যয়নের গুরুত্ব (দাওয়াতি পদ্ধতি)
এই পরিচ্ছেদের আলোচনা তিনটি বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ:
প্রথম বিষয়: দাওয়াতের স্তরসমূহ প্রসঙ্গে
দ্বিতীয় বিষয়: আকিদাগত দিকের ওপর গুরুত্বারোপ।
তৃতীয় বিষয়: যারা শরীয়তের ইলমসমূহে বুৎপত্তি অর্জন করতে চান, তাদের জন্য সীরাতুন নবী একটি সহায়ক উৎস।
(খণ্ড: ১)
আহাম্মিয়্যাতু দিরাসাতাস সিরাতিন নাবাবিয়্যাতি ওয়াল ইনায়াতু বিহা ফি হায়াতিল মুসলিমিন
(পৃষ্ঠা: ১২)
الأمر الأول: في المراحل الدعوية
تعدُّ السيرة النبوية لب الإسلام وروحه، وتجسيداً حيًّا لجميع تعاليم الإسلام، فلا يستغني عن النظر فيها أي عالم أو طالب علم، فهي دوحة عظيمة فيها كل الثمار اليانعة، كلُّ يقطف منها ما يناسبه، وكيف لا تكون كذلك وهي ربانية المصدر {يَا أَيُّهَا النَّاسُ قَدْ جَاءَكُمْ بُرْهَانٌ مِنْ رَبِّكُمْ وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكُمْ نُوراً مُبِيناً} [النساء:170] .
فلو أمعن الإنسان النظر في السيرة النبوية لوجدها من الناحية الدينية كاملة المنهج، وأقصد بذلك المنهج الدعوي الذي سار عليه صلى الله عليه وسلم في مكة، فقد وضع صلى الله عليه وسلم أسساً لهذا المنهج يتمثل فيما يلي:
1-دعوة الأقارب من زوجة وأبناء، ومن وضعهم الله تحت يده بادئ ذي بدء؛ ولذلك نجد أن الرسول صلى الله عليه وسلم عندما نزل عليه الوحي وأمر بتبليغه في قوله تعالى: {يَا أَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ، قُمْ فَأَنْذِرْ} [المدثر: 1، 2] .
بدأ بأهل بيته، فأسلمت خديجة رضوان الله عليها، بل كانت أول النساء إسلاماً على الإطلاق.
ثم أسلم من الصبيان عليّ رضي الله عنه، ثم من الموالي زيد بن حارثة رضي الله عنه.
وهذا هو المنهج السليم؛ لأنّ الله سبحانه وتعالى يقول: {أَتَأْمُرُونَ النَّاسَ بِالْبِرِّ وَتَنْسَوْنَ أَنْفُسَكُمْ} [البقرة:44] ، وقوله سبحانه {كَبُرَ مَقْتاً عِنْدَ اللَّهِ أَنْ تَقُولُوا مَا لا تَفْعَلُونَ} [الصف:3] ، وقوله تعالى: {يَا أَيُّهَا
প্রথম বিষয়: দাওয়াতের পর্যায়সমূহ।
সীরাতে নববী হলো ইসলামের মজ্জা ও প্রাণ এবং ইসলামের সমস্ত শিক্ষার এক জীবন্ত রূপ। কোনো আলেম বা ইলম অন্বেষণকারীর পক্ষেই এটি পর্যালোচনা করা থেকে বিমুখ থাকা সম্ভব নয়। এটি এক বিশাল মহীরুহ যাতে রয়েছে প্রতিটি পরিপক্ক ফল; প্রত্যেকেই সেখান থেকে তার উপযোগী ফল আহরণ করে। আর কেনই বা তা হবে না, অথচ এর উৎস খোদ রাব্বানী (ঐশী)। "হে মানুষ, তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে এক অকাট্য প্রমাণ এসেছে এবং আমি তোমাদের কাছে এক সুস্পষ্ট আলো অবতীর্ণ করেছি।" [আন-নিসা: ১৭০]।
মানুষ যদি সীরাতে নববীকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে, তবে সে এটিকে দ্বীনি দিক থেকে একটি পূর্ণাঙ্গ মানহাজ (পদ্ধতি) হিসেবে পাবে। আর এর দ্বারা আমি মক্কায় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে দাওয়াতের মানহাজ অনুসরণ করেছিলেন তা বুঝাচ্ছি। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এই মানহাজের জন্য এমন কিছু মূলনীতি নির্ধারণ করেছিলেন যা নিম্নরূপ:
১-শুরুতেই স্ত্রী-সন্তান এবং আল্লাহ যাদেরকে তাঁর হাতের অধীনে রেখেছিলেন সেই নিকটাত্মীয়দের দাওয়াত দেওয়া; এই কারণেই আমরা দেখি যে, যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর ওহী নাযিল হলো এবং মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে তা প্রচারের নির্দেশ দেওয়া হলো: "হে চাদর আবৃতকারী, উঠুন এবং সতর্ক করুন।" [আল-মুদ্দাসসির: ১, ২]।
তিনি তাঁর পরিবারের লোকদের মাধ্যমে শুরু করলেন। ফলে খাদিজা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) ইসলাম গ্রহণ করলেন, বরং তিনি ছিলেন সর্বকালের নারীদের মধ্যে সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণকারী।
এরপর কিশোরদের মধ্য থেকে আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এবং মুক্তদাসদের মধ্য থেকে যায়েদ ইবনে হারিসা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ইসলাম গ্রহণ করেন।
আর এটাই হলো সঠিক মানহাজ; কারণ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন: "তোমরা কি মানুষকে সৎকাজের নির্দেশ দিচ্ছ এবং নিজেদের কথা ভুলে যাচ্ছ?" [আল-বাকারা: ৪৪], এবং সুবহানাহু ওয়া তাআলার বাণী: "আল্লাহর নিকট এটি অত্যন্ত অপছন্দনীয় যে, তোমরা যা করো না তা বলো।" [আস-সাফ: ৩], এবং মহান আল্লাহর বাণী: "হে...
(খণ্ড: ১)
আহাম্মিয়্যাতু দিরাসাতাস সিরাতিন নাবাবিয়্যাতি ওয়াল ইনায়াতু বিহা ফি হায়াতিল মুসলিমিন
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنْفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَاراً} [التحريم:6] .
وقوله عليه الصلاة والسلام: "كلكم راع وكلكم مسؤول عن رعيته" (1) .
فإذا أصلح الإنسان من نفسه وأهل بيته انتقل إلى المرحلة التالية وهي:
2- إنذار العشيرة، كما قال جل شأنه لنبيِّه صلى الله عليه وسلم: {وَأَنْذِرْ عَشِيرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ} [الشعراء: 214] .
فنهض النبي صلى الله عليه وسلم وصعد صلى الله عليه وسلم على الصفا منادياً: "يا بني فهر، يا بني عدي
…" الحديث (2) .
فهذا التدرج في مراحل الدعوة منطقي جدّاً يجب الوقوف عنده، وقد استمر صلى الله عليه وسلم في دعوته لقريش ولم يخرج منها إلى أي بلد حتى أكمل عشر سنين، مواصلاً دعوته لهذا الدين القوي دون كَلَل أو ملل. بعد ذلك انتقل إلى قبيلة أخرى تعد من أقرب القبائل العربية لقريش نسباً وصهراً (3) وجواراً، إنها
--------------------------------------------
{মুমিনগণ, তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে রক্ষা করো জাহান্নামের আগুন হতে} [আত-তাহরীম: ৬]।
এবং তাঁর (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বাণী: "তোমাদের প্রত্যেকেই একেকজন দায়িত্বশীল এবং তোমাদের প্রত্যেককেই তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হতে হবে" (১)।
সুতরাং যখন কোনো ব্যক্তি নিজের ও তার পরিবারের সংশোধন সম্পন্ন করে, তখন সে পরবর্তী পর্যায়ে উপনীত হয়, আর তা হলো:
২- নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করা, যেমন মহান আল্লাহ তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলেছেন: {আর আপনি আপনার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করুন} [আশ-শুআরা: ২১৪]।
অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দাঁড়ালেন এবং সাফা পাহাড়ের ওপর আরোহণ করে উচ্চস্বরে ডাকলেন: "হে বনু ফিহর, হে বনু আদী..." আল-হাদীস (২)।
দাওয়াতের এই পর্যায়ক্রম অত্যন্ত যৌক্তিক যা গুরুত্বের সাথে অনুধাবন করা উচিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কুরাইশদের মাঝে দাওয়াত অব্যাহত রাখেন এবং দশ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে তিনি সেখান থেকে অন্য কোনো জনপদে যাননি; ক্লান্তি বা অবসাদ ছাড়াই তিনি এই শক্তিশালী দ্বীনের দাওয়াত বিরতিহীনভাবে চালিয়ে যান। এরপর তিনি অন্য একটি গোত্রের দিকে মনোনিবেশ করেন, যারা বংশীয় ধারা, বৈবাহিক সম্পর্ক (৩) ও ভৌগোলিক নৈকট্যের দিক থেকে কুরাইশদের নিকটতম আরব গোত্রগুলোর অন্তর্ভুক্ত ছিল। সেটি হলো—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহাম্মিয়্যাতু দিরাসাতাস সিরাতিন নাবাবিয়্যাতি ওয়াল ইনায়াতু বিহা ফি হায়াতিল মুসলিমিন
(পৃষ্ঠা: ১৪)
قبيلة ثقيف في الطائف التي ضرب الرسول صلى الله عليه وسلم في دعوتهم أروع الأمثلة لبذل الجهد وتحمّل الأذى كما سيأتي.
3- بذل الجهد وتحمل الأذى والصبر عليه.
انتقل النبي صلى الله عليه وسلم إلى ثقيف بالطائف بعد أن مكث في أهل مكة عشر سنين يدعوهم إلى الله عز وجل إلا أن دعوته عليه الصلاة والسلام قوبلت برفض شديد من أهل الطائف، فأصابه صلى الله عليه وسلم من الهم والغم ما لا يعلمه إلا الله جراء رفضهم لدعوته صلى الله عليه وسلم.
4- لما استقر النبي صلى الله عليه وسلم في المدينة وبعد أن فرض الجهاد بدأ عليه الصلاة والسلام يرسل السرايا والبعوث إلى القبائل العربية لنشر الإسلام تارة، ويخرج هوبنفسه الشريفة صلى الله عليه وسلم تارة أخرى، فلم ينتقل إلى الرفيق الأعلى حتى عمَّ الإسلام الجزيرة العربية كافة، بل وكان قد جهز جيشاً لغزو أطراف الشام قبيل وفاته عليه الصلاة والسلام بقيادة أسامة بن زيد رضي الله عنه تمهيداً لفتح الشام والعراق، لكنه توفي صلى الله عليه وسلم قبل إنفاذ هذا الجيش.
5- ثم جاء أبو بكر الصديق رضي الله عنه فأكمل المسيرة، وأنفذ جيش أسامة الذي عقد لواءه النبي صلى الله عليه وسلم قبل وفاته، وذلك على الرغم من معارضة بعض الصحابة عندما أشاروا على أبي بكر بأن يمسك بعث أسامة؛ خشية أن تميل العرب بعد سماعهم بوفاة رسول الله صلى الله عليه وسلم على المدينة، فقال قولته الشهيرة: "أنا أحبس جيشاً بعثهم رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ لقد اجترأتُ على أمر عظيم، والذي نفسي بيده لأن تميل عليّ العرب أحب إليّ أن أحبس جيشاً بعثهم
তায়েফের সাকিফ গোত্র, যাদের কাছে দাওয়াত পৌঁছে দেওয়ার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রচেষ্টা ব্যয় ও কষ্ট সহ্য করার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন যা সামনে বর্ণিত হবে।
৩- প্রচেষ্টা ব্যয় করা এবং কষ্ট সহ্য করা ও তাতে ধৈর্য ধারণ করা।
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মক্কাবাসীদের মাঝে দশ বছর অবস্থান করে তাঁদেরকে মহান আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেওয়ার পর তায়েফের সাকিফ গোত্রের কাছে গমন করেন। তবে তায়েফবাসীদের পক্ষ থেকে তাঁর (সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) দাওয়াত তীব্র প্রত্যাখ্যানের সম্মুখীন হয়। তাঁদের এই দাওয়াত প্রত্যাখ্যানের ফলে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এমন দুশ্চিন্তা ও মনোকষ্টে আক্রান্ত হন যা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না।
৪- যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মদিনায় থিতু হলেন এবং জিহাদ ফরজ করা হলো, তখন তিনি (সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) কখনও ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে আরব গোত্রগুলোর নিকট ক্ষুদ্র ও প্রতিনিধি সেনাদল পাঠাতে শুরু করেন, আবার কখনও স্বয়ং নিজে অভিযানে বের হতেন। তিনি মহান বন্ধুর সান্নিধ্যে গমন করার পূর্বেই ইসলাম সমগ্র আরব উপদ্বীপে পরিব্যাপ্ত হয়েছিল। এমনকি তিনি তাঁর (সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) ইন্তেকালের কিছুকাল পূর্বে উসামা ইবনে যায়েদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নেতৃত্বে শাম ও ইরাক বিজয়ের পথ সুগম করার লক্ষ্যে শামের সীমান্ত এলাকাগুলোতে অভিযানের জন্য একটি বাহিনী প্রস্তুত করেছিলেন। তবে এই বাহিনী প্রেরণের পূর্বেই তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইন্তেকাল করেন।
৫- অতঃপর আবু বকর সিদ্দিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আগমন করেন এবং এই ধারা পূর্ণ করেন। তিনি উসামার সেই বাহিনীকে প্রেরণ করেন যার ঝান্ডা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর ইন্তেকালের পূর্বে বেঁধে দিয়েছিলেন। এটি তিনি কিছু সাহাবীর বিরোধিতার সত্ত্বেও করেছিলেন, যখন তাঁরা আবু বকরকে পরামর্শ দিয়েছিলেন উসামার বাহিনীকে আটকে রাখতে; এই ভয়ে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ইন্তেকালের খবর শুনে আরবরা হয়তো মদিনার ওপর চড়াও হতে পারে। তখন তিনি তাঁর সেই বিখ্যাত উক্তিটি করেছিলেন: "আমি কি এমন একটি বাহিনীকে আটকে রাখব যাদেরকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রেরণ করেছেন? আমি এক গুরুতর স্পর্ধা দেখালাম। সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ, আরবরা আমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ুক তা-ও আমার কাছে সেই বাহিনীকে আটকে রাখার চেয়ে বেশি প্রিয় যাদেরকে তিনি প্রেরণ করেছিলেন।"
(খণ্ড: ১)
আহাম্মিয়্যাতু দিরাসাতাস সিরাতিন নাবাবিয়্যাতি ওয়াল ইনায়াতু বিহা ফি হায়াতিল মুসলিমিন
(পৃষ্ঠা: ১৫)
رسول الله صلى الله عليه وسلم
…" (1) ثم أمضاه.
وما ذلك إلا لأن الإسلام دين عالمي ولا بد أن يَعُمَّ نفعه أرجاء المعمورة، قال جل شأنه: {يَاأَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ جَمِيعاً} [الأعراف:158] وقال النبي صلى الله عليه وسلم: "إن الله عز وجل زوى لي الأرض حتى رأيت مشارقها ومغاربها، وإنّ ملك أمتي سيبلغ ما زُوي لي منها
…" (2) .
ولأنّه صلى الله عليه وسلم خاتم النبيين، قال جل شأنه: {مَا كَانَ مُحَمَّدٌ أَبَا أَحَدٍ مِنْ رِجَالِكُمْ وَلَكِنْ رَسُولَ اللَّهِ وَخَاتَمَ النَّبِيِّينَ} [الأحزاب:40] .
ولأنّ دينه ناسخ لجميع الأديان السماوية السابقة {وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الْأِسْلامِ دِيناً فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الْآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ}
[آل عمران:85] .
وهكذا وضعت السيرة النبوية منهجاً متكاملاً للمراحل الدعوية التي مرّ بها الرسول صلى الله عليه وسلم، وانطلقت الجحافل الإسلامية تنشر الدين في ربوع المعمورة حتى بلغ أقاصي الدنيا شرقاً وغرباً، مما يؤكد عالمية هذا الدين الحنيف.
وهكذا وضع صلى الله عليه وسلم منهجاً متكاملاً لمراحل الدعوة الإسلامية، فلم يُقَدِّم مرحلة على أخرى، وليس هذا من قبيل المصادفة، بل كان عملاً مقصوداً.
فالعاملون في المجال الدعوي لا يسعهم إلا الاقتداء بالنبي صلى الله عليه وسلم في هذا المجال.
--------------------------------------------
আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
…" (১) অতঃপর তিনি তা কার্যকর করেন।
আর এটি কেবল এই কারণেই যে, ইসলাম একটি বিশ্বজনীন ধর্ম এবং এর কল্যাণ বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে ছড়িয়ে পড়া অপরিহার্য। মহান আল্লাহ বলেন: {হে মানুষ! আমি তোমাদের সবার প্রতি আল্লাহর রাসুল} [আল-আরাফ: ১৫৮]। এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ আমার জন্য পৃথিবীকে সংকুচিত করেছেন, ফলে আমি এর পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তসমূহ দেখেছি। আর আমার উম্মতের রাজত্ব সেই পর্যন্ত পৌঁছাবে, যতটুকু আমার জন্য সংকুচিত করা হয়েছে
…" (২)।
এবং যেহেতু তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সর্বশেষ নবী, মহান আল্লাহ বলেন: {মুহাম্মদ তোমাদের কোনো পুরুষের পিতা নন, বরং তিনি আল্লাহর রাসুল এবং সর্বশেষ নবী} [আল-আহজাব: ৪০]।
এবং যেহেতু তাঁর দ্বীন পূর্ববর্তী সকল আসমানী ধর্মকে রহিতকারী: {আর যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো ধর্ম তালাশ করবে, তা কক্ষনো তার পক্ষ থেকে গ্রহণ করা হবে না এবং আখিরাতে সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে}
[আল ইমরান: ৮৫]।
এভাবেই সীরাতে নববী দাওয়াতের সেই পর্যায়গুলোর জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ কর্মপন্থা নির্ধারণ করেছে, যেগুলোর মধ্য দিয়ে রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অতিবাহিত করেছেন। আর ইসলামের বিশাল বাহিনী বিশ্বের চারদিকে দ্বীন প্রচারের জন্য বেরিয়ে পড়েছিল, এমনকি তা পৃথিবীর পূর্ব ও পশ্চিমের দূরতম প্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল, যা এই সত্য দ্বীনের বিশ্বজনীনতাকে নিশ্চিত করে।
এভাবেই তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইসলামী দাওয়াতের পর্যায়গুলোর জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ কর্মপন্থা নির্ধারণ করেছেন। তিনি কোনো পর্যায়কে অন্যটির আগে নিয়ে আসেননি; আর এটি কোনো আকস্মিক ব্যাপার ছিল না, বরং এটি ছিল একটি সুপরিকল্পিত কাজ।
সুতরাং দাওয়াতের ক্ষেত্রে নিয়োজিত কর্মীদের জন্য এই বিষয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অনুসরণ করা ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহাম্মিয়্যাতু দিরাসাতাস সিরাতিন নাবাবিয়্যাতি ওয়াল ইনায়াতু বিহা ফি হায়াতিল মুসলিমিন
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الأمر الثاني: التركيز على الجانب العقديظلّ النبي صلى الله عليه وسلم في مكة ثلاث عشرة سنة يدعو إلى التوحيد الخالص. وهذا أمر معلوم، لكن ليس معنى هذا أنه لم يكن يدعو إلا إلى التوحيد فقط، بل كان يدعو إلى صدق الحديث، وأداء الأمانة، وصلة الرحم، وحسن الجوار، والكف عن المحارم والدماء، والنهي عن الفواحش، وقول الزور، وأكل مال اليتيم، وقذف المحصنة (1) ، إلاّ أن تركيزه صلى الله عليه وسلم على الجانب العقدي كان أكثر. والحق أن التركيز على الجانب العقدي في غاية الأهمية؛ لأنّ الإيمان إذا وقر في القلب انتفت جميع الشوائب المؤدية إلى زعزعة الإيمان، وقد آتت دعوة النبي صلى الله عليه وسلم المكية وتركيزه على الجانب العقدي ثمارها يلحظ من قرأ تاريخ حروب الردة التي أعقبت وفاة النبي صلى الله عليه وسلم فلم نجد أحداً ارتد من المهاجرين والأنصار أبداً، وما ذلك إلا لرسوخ الإيمان في قلوبهم رضوان الله عليهم أجمعين.
وعلى هذا فالواجب على الدعاة اليوم غرس العقيدة الصحيحة في النفوس أولاً مع الاهتمام أيضاً بالجوانب الأخرى التي مرّ ذكرها آنفاً.
وعندما يركز الداعية اهتمامه على الجانب العقدي، فلا بد أن يدرك معنى قول المصطفى صلى الله عليه وسلم: "ألا إن في الجسد مضغة إذا صلحت صلح الجسد كله وإذا فسدت فسد الجسد كله ألا وهي القلب" (2) .
والحقّ أنّ تلك المضغة إذا وقر الإيمان فيها، منعت صاحبها من الوقوع في الفواحش بأنواعها.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় বিষয়: আকিদাগত দিকটির ওপর গুরুত্বারোপনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় তেরো বছর যাবত বিশুদ্ধ তাওহীদের দিকে দাওয়াত দিয়েছেন। এটি একটি সুপরিচিত বিষয়, তবে এর অর্থ এই নয় যে, তিনি কেবল তাওহীদের দিকেই দাওয়াত দিচ্ছিলেন; বরং তিনি সত্য কথা বলা, আমানত রক্ষা করা, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা, সুন্দর প্রতিবেশীসুলভ আচরণ করা, হারাম কাজ ও রক্তপাত থেকে বিরত থাকা এবং অশ্লীলতা, মিথ্যা বলা, এতিমের সম্পদ ভক্ষণ করা এবং সতী-সাধ্বী নারীর প্রতি অপবাদ দেওয়া থেকে নিষেধ করার প্রতিও দাওয়াত দিচ্ছিলেন। তবে আকিদাগত দিকের ওপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গুরুত্বারোপ ছিল অধিক। প্রকৃতপক্ষে আকিদাগত দিকের ওপর গুরুত্বারোপ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; কারণ ঈমান যখন অন্তরে দৃঢ়ভাবে গেঁথে যায়, তখন ঈমানকে বিচলিতকারী সকল পঙ্কিলতা দূর হয়ে যায়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মক্কী জীবনের দাওয়াত এবং আকিদাগত দিকের ওপর তাঁর গুরুত্বারোপের সুফল সেই ব্যক্তি লক্ষ্য করতে পারবেন যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যুর পরবর্তী রিদ্দার (স্বধর্মত্যাগ) যুদ্ধের ইতিহাস পাঠ করেছেন। কেননা আমরা মুহাজির ও আনসারদের মধ্য থেকে কাউকেই কখনও ধর্মত্যাগী হতে দেখিনি। আর এটি ছিল কেবল তাঁদের অন্তরে ঈমানের দৃঢ়তার কারণে, আল্লাহ তাঁদের সকলের ওপর সন্তুষ্ট হন।
এই প্রেক্ষিতে বর্তমান যুগের দাঈদের কর্তব্য হলো প্রথমে মানুষের অন্তরে সঠিক আকিদা রোপণ করা এবং সেই সাথে পূর্বে উল্লিখিত অন্যান্য বিষয়গুলোর প্রতিও গুরুত্ব প্রদান করা।
যখন একজন দাঈ আকিদাগত দিকের ওপর মনোযোগ নিবদ্ধ করেন, তখন তাকে অবশ্যই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীর মর্ম উপলব্ধি করতে হবে: "জেনে রেখো, শরীরের মধ্যে একটি মাংসপিণ্ড রয়েছে; যখন তা সংশোধিত হয়, তখন পুরো শরীরই সংশোধিত হয়ে যায়, আর যখন তা নষ্ট হয়ে যায়, তখন পুরো শরীরই নষ্ট হয়ে যায়। জেনে রেখো, সেটি হলো কলব (অন্তর)।"
আর প্রকৃত সত্য হলো এই যে, সেই মাংসপিণ্ডে যখন ঈমান দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন তা তার অধিকারীকে সব ধরণের অশ্লীলতায় লিপ্ত হওয়া থেকে বিরত রাখে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহাম্মিয়্যাতু দিরাসাতাস সিরাতিন নাবাবিয়্যাতি ওয়াল ইনায়াতু বিহা ফি হায়াতিল মুসলিমিন
(পৃষ্ঠা: ১৭)
الأمر الثالث: أنّ السيرة النبوية مصدر مَعِين لمن يريد التبحر في علوم الشريعةفعن طريق السيرة تعرف قضية الناسخ والمنسوخ من الآيات والأحاديث، وهي ناحية مهمة جدّاً يترتب عليها كثير من الأحكام الشرعية (1) .
كما أن من معرفة نزول الآيات وأسبابها من الأمور المهمة التي بمعرفتها تعرف أحداث السيرة النبوية كتلك التي نزلت في غزوات النبي صلى الله عليه وسلم.
أيضاً هناك بعض الأمور التي لا يستغني عن معرفتها أي طالب علم فضلاً عن العلماء، وذلك مثل المعجزات التي أجراها الله على يدي النبي الكريم صلى الله عليه وسلم فمعرفتها تزيد - ولا شك - في الإيمان، وكذا معرفة ما كابده صلى الله عليه وسلم من مشاق في سبيل تبليغ هذا الدين وصبره على ذلك.
--------------------------------------------
তৃতীয় বিষয়: সীরাতুন নবী হলো সেই ব্যক্তির জন্য এক সমৃদ্ধ উৎস, যে শরিয়াহর ইলমে গভীর বুৎপত্তি অর্জন করতে চায়কেননা সীরাতের মাধ্যমেই আয়াত ও হাদিসের নাসিখ (রহিতকারী) ও মানসুখ (রহিত) হওয়ার বিষয়টি জানা যায়; এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক, যার ওপর বহু শরয়ী বিধান নির্ভর করে (১)।
তেমনিভাবে আয়াত নাজিলের প্রেক্ষাপট ও কারণসমূহ সম্পর্কে অবগত হওয়াও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যার মাধ্যমে সীরাতুন নবীর বিভিন্ন ঘটনা জানা যায়, যেমনটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুদ্ধবিগ্রহের প্রেক্ষাপটে নাজিল হওয়া আয়াতসমূহ।
এছাড়াও এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা কেবল আলেমদের জন্যই নয়, বরং যেকোনো জ্ঞান অন্বেষীর জন্যও জানা অপরিহার্য। যেমন আল্লাহ তাআলা সম্মানিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাতে যেসব মুজিজা প্রকাশ করেছেন; কেননা সেগুলো সম্পর্কে জানা নিঃসন্দেহে ঈমান বৃদ্ধি করে। তদ্রূপ এই দ্বীন প্রচারের পথে তিনি যেসব দুঃখ-কষ্ট সহ্য করেছেন এবং তাতে ধৈর্য ধারণ করেছেন, সেসব বিষয়ে অবগত হওয়াও আবশ্যক।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহাম্মিয়্যাতু দিরাসাতাস সিরাতিন নাবাবিয়্যাতি ওয়াল ইনায়াতু বিহা ফি হায়াতিল মুসলিমিন
(পৃষ্ঠা: ১৮)
المبحث الثاني: أهمية دراسة السيرة النبوية من الناحية الاجتماعية
المطلب الأول: في كيفية تعامله صلى الله عليه وسلم مع خصومه من الكفار وصبره على أذاهم…المبحث الثاني: أهمية دراسة السيرة النبوية من الناحية الاجتماعية
وفيه ثلاثة مطالب:
المطلب الأول: في كيفية تعامله صلى الله عليه وسلم مع خصومه من الكفار وصبره على أذاهم.
المطلب الثاني: في كيفية تعليمه صلى الله عليه وسلم لبعض الصحابة وتربيته لهم.
المطلب الثالث: في كيفية تعامله صلى الله عليه وسلم مع بعض المشكلات الاجتماعية.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে সিরাতুন নবী অধ্যয়নের গুরুত্বপ্রথম অনুচ্ছেদ: কাফের শত্রুদের সাথে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আচরণের পদ্ধতি এবং তাদের নির্যাতনের ওপর তাঁর ধৈর্যের বর্ণনায়...দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে সিরাতুন নবী অধ্যয়নের গুরুত্ব
এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: কাফের শত্রুদের সাথে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আচরণের পদ্ধতি এবং তাদের নির্যাতনের ওপর তাঁর ধৈর্যের বর্ণনায়।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: জনৈক সাহাবীদের প্রতি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শিক্ষা দান এবং তাদের তরবিয়ত প্রদানের পদ্ধতি সম্পর্কে।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: কিছু সামাজিক সমস্যার ক্ষেত্রে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আচরণের পদ্ধতি সম্পর্কে।
(খণ্ড: ১)
আহাম্মিয়্যাতু দিরাসাতাস সিরাতিন নাবাবিয়্যাতি ওয়াল ইনায়াতু বিহা ফি হায়াতিল মুসলিমিন
(পৃষ্ঠা: ১৯)
المطلب الأول: في كيفية تعامله صلى الله عليه وسلم مع خصومه من الكفار وصبره على أذاهم
لقد سلك النبي صلى الله عليه وسلم طريقة عجيبة في كيفية دعوة الناس إلى الإسلام، ستظل نبراساً لكل من أراد الاهتداء بهديه سالكاً طريقته عليه الصلاة والسلام، إنّها طريقة الصابرين {فَاصْبِرْ إِنَّ وَعْدَ اللَّهِ حَقٌّ وَلا يَسْتَخِفَّنَّكَ الَّذِينَ لا يُوقِنُونَ} [الروم:60] .
إنّ سيرة النبي عليه الصلاة والسلام مليئة بالمواقف العجيبة التي تَجَلَّى فيها حلمه عليه الصلاة والسلام وصبره على الأذى من أجل المحافظة على العلاقة الاجتماعية.
1- لما نزلت الآية الكريمة {وَأَنْذِرْ عَشِيرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ} [الشعراء:214] .
صعد النبي صلى الله عليه وسلم على الصفا، فجعل ينادي: يا بني فهر، يا بني عدي – لبطون قريش – حتى اجتمعوا، فجعل الرَّجُل إذا لم يستطع أن يخرج أرسل رسولاً لينظر ما هو، فجاء أبو لهب، وقريش، فقال: "أرأيتكم لو أخبرتكم أنّ خيلاً بالوادي تريد أن تُغير عليكم أكنتم مصدِّقيّ؟ قالوا: نعم، ما جربنا عليك إلا صدقاً، قال: فإنّي نذير لكم بين يدي عذاب شديد"، فقال أبو لهب: تبّاً لك سائر اليوم، ألهذا جمعتنا؟ فنزلت: {تَبَّتْ يَدَا أَبِي لَهَبٍ وَتَبَّ، مَا أَغْنَى عَنْهُ مَالُهُ وَمَا كَسَبَ} (1) [المسد:1-2] .
--------------------------------------------
প্রথম দাবি: কাফেরদের মধ্য থেকে তাঁর প্রতিপক্ষের সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আচরণের পদ্ধতি এবং তাদের কষ্টের ওপর তাঁর ধৈর্যের বর্ণনা
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষকে ইসলামের দিকে আহ্বান করার ক্ষেত্রে এক বিস্ময়কর পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন, যা তাঁর আদর্শে হেদায়েত প্রাপ্তি ও তাঁর পথ অনুসরণকারী প্রত্যেকের জন্য চিরকাল আলোকবর্তিকা হয়ে থাকবে। এটি ধৈর্যশীলদের পথ: {অতএব আপনি ধৈর্য ধারণ করুন। নিশ্চয়ই আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য। আর যারা দৃঢ় বিশ্বাসী নয়, তারা যেন আপনাকে বিচলিত করতে না পারে} [রূম: ৬০]।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সীরাত এমন সব বিস্ময়কর ঘটনায় ভরপুর, যেখানে সামাজিক সম্পর্ক রক্ষার খাতিরে তাঁর সহনশীলতা এবং কষ্টের ওপর তাঁর ধৈর্য চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।
১- যখন এই মহান আয়াত অবতীর্ণ হলো: {আর আপনি আপনার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করুন} [শুয়ারা: ২১৪]।
তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাফা পাহাড়ে আরোহণ করলেন এবং ডাক দিতে লাগলেন: হে বনী ফিহর! হে বনী আদী! —কুরাইশদের বিভিন্ন গোত্রকে লক্ষ্য করে— যতক্ষণ না তারা সমবেত হলো। এমনকি কোনো ব্যক্তি নিজে আসতে না পারলে কী ঘটছে তা দেখার জন্য একজন প্রতিনিধি পাঠাতেন। এরপর আবু লাহাব ও কুরাইশরা আসলে তিনি বললেন: "আমি যদি তোমাদের বলি যে, এই উপত্যকায় একটি অশ্বারোহী বাহিনী তোমাদের ওপর আক্রমণ করতে উদ্যত, তবে তোমরা কি আমাকে বিশ্বাস করবে?" তারা বলল: "হ্যাঁ, আমরা আপনার নিকট সত্যবাদিতা ভিন্ন আর কিছুই দেখিনি।" তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই আমি তোমাদের জন্য এক কঠিন শাস্তির পূর্ব সতর্ককারী।" তখন আবু লাহাব বলল: "তোমার সর্বনাশ হোক সারা দিন, এই জন্যই কি তুমি আমাদের একত্র করেছ?" তখন অবতীর্ণ হলো: {আবু লাহাবের হাত দুটি ধ্বংস হোক এবং সে নিজেও ধ্বংস হোক। তার ধন-সম্পদ ও যা সে অর্জন করেছে তা তার কোনো কাজে আসবে না} (১) [লাহাব: ১-২]।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহাম্মিয়্যাতু দিরাসাতাস সিরাতিন নাবাবিয়্যাতি ওয়াল ইনায়াতু বিহা ফি হায়াতিল মুসলিমিন
(পৃষ্ঠা: ২০)
فانظر إلى موقف أبي لهب العجيب من النبي صلى الله عليه وسلم يصدقه أولاً، ثم يكذبه ويسخر منه ومن مقولته، بل إن مجيئه ابتداء وتلبيته لنداء النبي صلى الله عليه وسلم يدل على تصديقه، لكنه ما تمالك نفسه حتى نال من النبي الكريم صلى الله عليه وسلم وهو الصادق المصدوق عليه الصلاة والسلام.
والحق أن الأعجب من ذلك هو موقف النبي صلى الله عليه وسلم من أبي لهب، فلم يرد عليه مقولته؛ لأنّه يعلم يقيناً إِنْ ردّ عليه فسينقسم الناس إلى قسمين، قسم مؤيد لأبي لهب مستنكرين رَدَّ النبي صلى الله عليه وسلم بحكم موقع أبي لهب النَّسَبي، فهو عَمُّه، وعمُّ الرجل صنو أبيه (1) ، وقد يَعُدُّ بعضهم ذلك الرد تطاولاً من النبي على عمِّه، وقسم مؤيد للنبي صلى الله عليه وسلم، وبهذا يفسد الهدف الذي من أجله كان الاجتماع، وهو دعوتهم إلى الله، وإقامة الحجة عليهم فآثر السكوت عليه الصلاة والسلام، مفوضاً أمره إلى الله سبحانه وتعالى، فلم يكن النبي صلى الله عليه وسلم فحاشاً ولا صخاباً، فتولى الباري جل وعلا الرد على أبي لهب، فأنزل في شأنه سورة تتلى إلى يوم القيامة {تَبَّتْ يَدَا أَبِي لَهَبٍ وَتَبَّ، مَا أَغْنَى عَنْهُ مَالُهُ وَمَا كَسَبَ} الآيات [المسد:1-3] .
2- قال ابن إسحاق: ((ولما هلك أبو طالب نالت قريش من رسول الله صلى الله عليه وسلم من الأذى ما لم تكن تنال منه في حياة عمه أبي طالب، فخرج رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى الطائف يلتمس النصرة من ثقيف، والمنعة بهم من قومه، ورجاء أن يقبلوا منه ما جاءهم به من الله عز وجل، فخرج إليهم وحده (2) ، فلما وصل إليهم ودعاهم إلى الإسلام ردُّوه أقبح رد، وأغلظوا له القول، بل وحرَّشُوا
--------------------------------------------
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি আবু লাহাবের অদ্ভুত আচরণের দিকে লক্ষ্য করুন; সে প্রথমে তাঁকে সত্য বলে বিশ্বাস করে, তারপর তাঁকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে এবং তাঁকে ও তাঁর কথাকে বিদ্রূপ করে। বরং শুরুতে তার আসা এবং নবীর আহ্বানে সাড়া দেওয়া তাঁর সত্যবাদিতারই প্রমাণ বহন করে, কিন্তু সে নিজেকে সংবরণ করতে পারেনি, পরিশেষে সে মহান নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবমাননা করল, অথচ তিনি ছিলেন পরম সত্যবাদী ও সত্যনিষ্ঠ (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)।
প্রকৃত সত্য এই যে, এর চেয়েও বিস্ময়কর হলো আবু লাহাবের প্রতি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবস্থান। তিনি তার কথার কোনো উত্তর দেননি; কারণ তিনি নিশ্চিতভাবে জানতেন যে, যদি তিনি উত্তর দেন তবে মানুষ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যাবে। এক দল আবু লাহাবের বংশীয় মর্যাদার কারণে তাকে সমর্থন করবে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উত্তরের প্রতিবাদ জানাবে। কেননা সে ছিল তাঁর চাচা, আর ব্যক্তির চাচা তাঁর পিতারই সমতুল্য (১)। কেউ কেউ সেই উত্তর দেওয়াকে চাচার প্রতি নবীর ধৃষ্টতা হিসেবে গণ্য করতে পারত। আর অন্য দল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সমর্থন করত। ফলে সভার যে মূল উদ্দেশ্য ছিল তা ব্যাহত হতো—আর তা হলো তাদের আল্লাহর দিকে আহ্বান করা এবং তাদের সামনে অকাট্য প্রমাণ উপস্থাপন করা। তাই তিনি (সা.) নিরব থাকাকেই শ্রেয় মনে করলেন এবং তাঁর বিষয়টি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার ওপর সোপর্দ করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অশ্লীলভাষী বা চিৎকারকারী ছিলেন না। ফলে মহান স্রষ্টা নিজেই আবু লাহাবের জবাব দেওয়ার ভার গ্রহণ করলেন এবং তার ব্যাপারে এমন এক সূরা নাযিল করলেন যা কিয়ামত পর্যন্ত তিলাওয়াত করা হবে: {আবু লাহাবের দুই হাত ধ্বংস হোক এবং সে নিজেও ধ্বংস হোক। তার ধনসম্পদ ও সে যা অর্জন করেছে তা তার কোনো কাজে আসেনি...} আয়াতসমূহ [আল-মাসাদ: ১-৩]।
২- ইবনে ইসহাক বলেন: ((যখন আবু তালিব মৃত্যুবরণ করলেন, কুরাইশরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি এমন কষ্টদায়ক আচরণ শুরু করল যা তারা তাঁর চাচা আবু তালিবের জীবদ্দশায় করতে সক্ষম হয়নি। তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাকিফ গোত্রের কাছে সাহায্য এবং তাঁর স্বজাতির বিরুদ্ধে তাদের মাধ্যমে আশ্রয়ের অন্বেষণে তায়েফে গমন করলেন। এই আশায় যে, আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা-র পক্ষ থেকে তিনি যা নিয়ে এসেছেন তা তারা গ্রহণ করবে। তিনি একাকী তাদের নিকট গমন করেন (২)। যখন তিনি সেখানে পৌঁছালেন এবং তাদের ইসলামের দাওয়াত দিলেন, তারা অত্যন্ত জঘন্যভাবে তাঁকে প্রত্যাখ্যান করল, তাঁর সাথে কঠোর ভাষায় কথা বলল, এমনকি তারা উস্কানি দিল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহাম্মিয়্যাতু দিরাসাতাস সিরাতিন নাবাবিয়্যাতি ওয়াল ইনায়াতু বিহা ফি হায়াতিল মুসলিমিন
(পৃষ্ঠা: ২১)
عليه الصبيان والسفهاء، فآذوه ورموه بالحجارة حتى سال الدم من عقبيه الشريفين عليه الصلاة والسلام، فكان موقفاً أليماً، رجل يدعو قومه إلى الله عز وجل، وهم يكذبونه ويتجهمونه، عن عروة عن عائشة رضي الله عنها زوج النبي صلى الله عليه وسلم حدثته أنها قالت للنبي صلى الله عليه وسلم: ((هل أتى عليك يوم كان أشدّ من يوم أحد؟ قال: "لقد لقيت من قومك ما لقيت، وكان أشد ما لقيت منهم يوم العقبة إذ عرضت نفسي على بن عبد ياليل بن عبد كُلال، فلم يُجبني إلى ما أردت، فانطلقتُ، وأنا مهموم على وجهي (1) ، فلم أستفق إلا وأنا بقرن الثعالب (2) ، فرفعت رأسي، فإذا أنا بسحابة قد أظلتني، فنظرت فإذا فيها جبريل"، فنادى فقال: ((إن الله قد سمع قول قومك لك، وما ردّوا عليك، وقد بعث الله إليك مَلَك الجبال لتأمره بما شئت فيهم، فناداني ملك الجبال فسلم علي ثم قال: ((يا محمد، فقال: ذلك فيما شئت، إن شئت أن أطبق عليهم الأخشبين (3) ، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: "بل أرجو أن يخرج الله مِن أصلابهم مَن يعبده وحده لا يشرك به شيئاً" (4) .
فانظر إلى صبر النبي صلى الله عليه وسلم وحلمه، الدم يسيل من عقبيه الشريفين، ويسأله ملَك الجبال إن كان يريد أن يطبق عليهم الأخشبين يفعل، ومع ذلك يتضرع إلى الله سبحانه، ويدعوه أن يخرج مِنْ أصلابهم مَنْ يعبده وحده، لا يشرك به
--------------------------------------------
শিশু এবং নির্বোধরা তাঁর পিছু নিল, তারা তাঁকে কষ্ট দিল এবং তাঁর ওপর পাথর নিক্ষেপ করল, এমনকি তাঁর (সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) পবিত্র দু’গোড়ালি বেয়ে রক্ত ঝরতে লাগল। এটি ছিল অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক এক পরিস্থিতি; একজন মানুষ তাঁর কওমকে মহান আল্লাহর দিকে আহ্বান করছেন, অথচ তারা তাঁকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করছে এবং তাঁর সাথে রূঢ় আচরণ করছে। উরওয়া থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর স্ত্রী আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) তাঁকে জানিয়েছেন যে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলেছিলেন: “আপনার ওপর কি এমন কোনো দিন এসেছিল যা উহুদ যুদ্ধের দিনের চেয়েও অধিক কঠিন ছিল?” তিনি বললেন: “তোমার কওমের পক্ষ থেকে আমি যা ভোগ করার তা করেছি। আর তাদের পক্ষ থেকে আমি সবচেয়ে কঠিন যে আচরণের সম্মুখীন হয়েছিলাম তা ছিল আকাবার দিন, যখন আমি নিজেকে আবদ ইয়ালীল ইবন আবদ কুলালের নিকট পেশ করেছিলাম, কিন্তু আমি যা চেয়েছিলাম সে তাতে সাড়া দেয়নি। ফলে আমি অত্যন্ত দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে লক্ষ্যহীনভাবে চলতে থাকলাম (১)। আমি যখন ‘কারনুত ছাআলিব’ (২) নামক স্থানে পৌঁছলাম কেবল তখনই আমার হুঁশ ফিরল। আমি মাথা তুললাম এবং দেখলাম একটি মেঘ আমাকে ছায়া দিচ্ছে। আমি লক্ষ্য করে দেখলাম তাতে জিবরীল রয়েছেন।” অতঃপর তিনি ডেকে বললেন: “নিশ্চয়ই আল্লাহ আপনার কওম আপনাকে যা বলেছে এবং আপনার প্রতি তারা যে উত্তর দিয়েছে তা শুনেছেন। আল্লাহ আপনার নিকট পাহাড়ের ফেরেশতাকে পাঠিয়েছেন যাতে আপনি তাদের ব্যাপারে যা ইচ্ছা তাকে আদেশ করেন।” তখন পাহাড়ের ফেরেশতা আমাকে ডেকে সালাম দিলেন এবং বললেন: “হে মুহাম্মদ! আপনি যা চান তাই হবে। আপনি যদি চান তবে আমি এই দুই পাহাড়কে (৩) তাদের ওপর চাপিয়ে দেব।” তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: “বরং আমি আশা করি যে, আল্লাহ তাদের বংশধরদের মধ্য থেকে এমন লোক বের করবেন যারা কেবল এক আল্লাহর ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবে না” (৪)।
সুতরাং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ধৈর্য ও সহনশীলতার দিকে লক্ষ্য করুন; তাঁর পবিত্র দু’গোড়ালি থেকে রক্ত ঝরছে, আর পাহাড়ের ফেরেশতা তাঁকে জিজ্ঞেস করছেন যে তিনি চাইলে তাদের ওপর দুই পাহাড় চাপিয়ে দেবেন, তবুও তিনি মহান আল্লাহর দরবারে বিনীত প্রার্থনা করছেন এবং দুআ করছেন যেন আল্লাহ তাদের বংশধরদের মধ্য থেকে এমন লোক বের করেন যারা কেবল এক আল্লাহর ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবে না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহাম্মিয়্যাতু দিরাসাতাস সিরাতিন নাবাবিয়্যাতি ওয়াল ইনায়াতু বিহা ফি হায়াতিল মুসলিমিন
(পৃষ্ঠা: ২২)
شيئاً! سبحان الله! ما أعظمها من دروس، أين دعاة اليوم من هذه الدروس العظيمة في الصبر والحلم والعفو والصفح؟
فلو دعا عليهم ووافق الملَك فيما أُمر به لهلكت قريش، ولكن ثم ماذا؟ فإذا هلكت قريش وهي ريحانة العرب فماذا بقي؟
لكن يظهر أيضاً أن القضية أكبر من ذلك، فهي دروس تعليمية للدعاة من أمته عليه الصلاة والسلام، فلو أن كل من أصابه بلاء انتقم لنفسه لم يبق للصبر ثمرة، كيف وقد رتب الله عليه أعظم الأجر، حيث قال جل شأنه: {وَبَشِّرِ الصَّابِرِينَ الَّذِينَ إِذَا أَصَابَتْهُمْ مُصِيبَةٌ قَالُوا إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ أُولَئِكَ عَلَيْهِمْ صَلَوَاتٌ مِنْ رَبِّهِمْ وَرَحْمَةٌ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُهْتَدُونَ} [البقرة:155-157] .
وما هي إلا سنوات قلائل، وتفتح مكة على يد النبي صلى الله عليه وسلم، في السنة الثامنة من الهجرة وتتحقق دعوته صلى الله عليه وسلم، ويُسْلم بقية أهل مكة بعد أن عفا عن كل من ناصبه العداء، ثم تأتي ثقيف فتدخل في الإسلام، ويعم الخير العظيم هاتين القبيلتين، وشاء الله أن يقبض نبيه صلى الله عليه وسلم ويتوفاه بعد فترة وجيزة تقارب السنتين، ويرتد كثير من العرب عن الإسلام، لكن العجب أن قبائل قريش وثقيف لم يرتد منهم أحد، وصدق رسول الله صلى الله عليه وسلم إذ يقول: "خياركم في الجاهلية خياركم في الإسلام إذا فقهوا" (1) . فقد كانت قريش من خيار العرب، وكيف لا يكونون كذلك والرسول الكريم صلى الله عليه وسلم منهم؟ وهكذا نرى آثار تلك الدعوات الصادقة قد آتت ثمارها، وذلك الحِلْم والعفو والصبر والصفح أثمر غراسه، فصلى الله عليه وسلم.
3- خرج النبي صلى الله عليه وسلم في السنة السابعة من الهجرة لفتح خيبر، وكانت
--------------------------------------------
সামান্য কিছুও না! সুবহানাল্লাহ! কতই না মহান এই সব শিক্ষা, ধৈর্য, সহনশীলতা, ক্ষমা ও মার্জনার এই মহান শিক্ষাগুলো থেকে আজকের যুগের দাঈরা (দাওয়াত দানকারীরা) কোথায়?
তিনি যদি তাদের বিরুদ্ধে বদদোয়া করতেন এবং ফেরেশতাকে তার আদিষ্ট কাজে সম্মতি দিতেন, তবে কুরাইশরা ধ্বংস হয়ে যেত; কিন্তু এরপর কী হতো? যদি আরবের সুগন্ধি ফুল হিসেবে পরিচিত কুরাইশরাই ধ্বংস হয়ে যায়, তবে আর কী অবশিষ্ট থাকল?
তবে এটিও প্রকাশ পায় যে বিষয়টি এর চেয়েও বড়, আর তা হলো তাঁর (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) উম্মতের দাঈদের জন্য এটি একটি শিক্ষামূলক পাঠ। যদি বিপদগ্রস্ত প্রত্যেকেই নিজের প্রতিশোধ গ্রহণ করত, তবে ধৈর্যের কোনো সুফল অবশিষ্ট থাকত না। অথচ আল্লাহ এর ওপর মহান প্রতিদান নির্ধারণ করেছেন, যেখানে তিনি মহান মর্যাদার অধিকারী হয়ে বলেছেন: {আর তুমি সুসংবাদ দাও ধৈর্যশীলদের। যারা তাদের ওপর কোনো বিপদ আপতিত হলে বলে, ‘নিশ্চয় আমরা আল্লাহর জন্য এবং নিশ্চয় আমরা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তনকারী।’ তাদের ওপরই তাদের রবের পক্ষ থেকে ক্ষমা ও রহমত বর্ষিত হয় এবং তারাই হেদায়েতপ্রাপ্ত।} [আল-বাকারাহ: ১৫৫-১৫৭]।
মাত্র কয়েক বছর পার হতে না হতেই হিজরির অষ্টম বর্ষে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাতে মক্কা বিজিত হয় এবং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রার্থনা পূর্ণতা লাভ করে। যারা তাঁর সাথে চরম শত্রুতা পোষণ করেছিল, তাদের সবাইকে ক্ষমা করার পর মক্কাবাসীদের বাকি অংশ ইসলাম গ্রহণ করে। এরপর সাকিফ গোত্র আসে এবং ইসলামে প্রবেশ করে। এই দুই গোত্রের মধ্যে মহান কল্যাণের প্রসার ঘটে। আল্লাহ চাইলেন তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রূহ কবজ করতে এবং মক্কা বিজয়ের প্রায় দুই বছর পর এক সংক্ষিপ্ত সময়ের ব্যবধানে তাঁর ওফাত ঘটে। তখন আরবের অনেক লোক ইসলাম থেকে বিমুখ (মুরতাদ) হয়ে যায়; কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় এই যে, কুরাইশ ও সাকিফ গোত্রের কেউ মুরতাদ হয়নি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সত্যই বলেছেন যখন তিনি বলেন: "তোমাদের মধ্যে যারা জাহেলি যুগে শ্রেষ্ঠ ছিল, তারা ইসলামেও শ্রেষ্ঠ যদি তারা দ্বীনি জ্ঞান অর্জন করে।" (১)। কুরাইশরা ছিল আরবদের মধ্যে সর্বোত্তম, আর তারা কেনই বা তেমন হবে না যখন সম্মানিত রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরই অন্তর্ভুক্ত ছিলেন? এভাবেই আমরা দেখতে পাই যে সেই সত্যনিষ্ঠ প্রার্থনাগুলো ফলপ্রসূ হয়েছে এবং সেই সহনশীলতা, ক্ষমা, ধৈর্য ও মার্জনা তার রোপিত বৃক্ষকে ফলবান করেছে। সুতরাং তাঁর ওপর আল্লাহর দরুদ ও শান্তি বর্ষিত হোক।
৩- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিজরির সপ্তম বর্ষে খায়বার বিজয়ের উদ্দেশ্যে বের হন, এবং এটি ছিল
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহাম্মিয়্যাতু দিরাসাতাস সিরাতিন নাবাবিয়্যাতি ওয়াল ইনায়াতু বিহা ফি হায়াতিল মুসলিমিন
(পৃষ্ঠা: ২৩)
معقل يهود بعد إجلاء بني النضير إليها، فلما وصلها صلى الله عليه وسلم حاولت يهود قتله صلى الله عليه وسلم بطريقة حقيرة ودنيئة تنم عن خبث ومكر اليهود، فعن أنس رضي الله عنه: ((أن امرأة (1) يهودية أتت رسول الله صلى الله عليه وسلم بشاة مسمومة فأكل منها، فجيء بها إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، فسألها عن ذلك فقالت: أردت لأقتلك، قال: "ما كان الله ليسلطك على ذاك"، قال: أو قال: "عليّ" قال: قالوا ألا نقتلها؟ قال: "لا" (2) .
فانظر إلى سماحة الإسلام، لم يأمر صلى الله عليه وسلم بقتلها مع أنها اعترفت بجريمتها وظفر بها، ومع ذلك عفا عنها؛ لأنّ الإسلام دين السماحة والعفو.
4- لما خرج النبي صلى الله عليه وسلم لفتح مكة في السنة الثامنة (3) من الهجرة وبالتحديد في شهر رمضان (4) كان عدد جيش المسلمين عشرة آلاف رجل، فرأت قريش أنه لا طاقة لها بقتال النبي صلى الله عليه وسلم، وظنت أنه سيبطش بها، لكن النبي صلى الله عليه وسلم عفا عن الجميع، فأسلم عدد كبير منهم، بل وعندما جاءت غنائم حنين، جعل صلى الله عليه وسلم يعطي بعضهم عطاء جزلاً، فقد أعطى صفوان بن أمية مائة من النعم، ثم مائة، ثم مائة (5) ، وعندما غضبت الأنصار من ذلك، ذكر لهم الرسول صلى الله عليه وسلم أنه إنما
--------------------------------------------
বনু নাদীরকে সেখান থেকে বহিষ্কার করার পর এটি ইহুদিদের দুর্গে পরিণত হয়। অতঃপর যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে পৌঁছালেন, তখন ইহুদিরা তাকে অত্যন্ত হীন ও নীচ উপায়ে হত্যার চেষ্টা করেছিল, যা ইহুদিদের হীনম্মন্যতা ও ষড়যন্ত্রেরই বহিঃপ্রকাশ। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত: ((একজন ইহুদি নারী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে বিষ মিশ্রিত একটি বকরির গোশত নিয়ে এল এবং তিনি সেখান থেকে কিছু খেলেন। অতঃপর তাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আনা হলো এবং তিনি তাকে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। সে বলল: আমি আপনাকে হত্যা করতে চেয়েছিলাম। তিনি বললেন: "আল্লাহ তোমাকে সেই ক্ষমতা দেননি", বর্ণনাকারী বলেন, অথবা তিনি বলেছিলেন: "আমার উপর (সেই ক্ষমতা দেননি)।" সাহাবীগণ বললেন: আমরা কি তাকে হত্যা করব না? তিনি বললেন: "না" (২)।
অতএব ইসলামের মহানুভবতার দিকে লক্ষ্য করুন; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে হত্যার নির্দেশ দেননি, যদিও সে তার অপরাধ স্বীকার করেছিল এবং তিনি তার ওপর নিয়ন্ত্রণ পেয়েছিলেন। তা সত্ত্বেও তিনি তাকে ক্ষমা করে দিয়েছিলেন; কারণ ইসলাম হলো সহনশীলতা ও ক্ষমার ধর্ম।
৪- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন অষ্টম হিজরিতে (৩) এবং নির্দিষ্টভাবে রমজান মাসে (৪) মক্কা বিজয়ের উদ্দেশ্যে বের হলেন, তখন মুসলিম বাহিনীর সংখ্যা ছিল দশ হাজার। কুরাইশরা দেখতে পেল যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে যুদ্ধ করার শক্তি তাদের নেই। তারা ধারণা করেছিল যে তিনি তাদের কঠোর শাস্তি দেবেন, কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সবাইকে ক্ষমা করে দিলেন। ফলে তাদের একটি বড় অংশ ইসলাম গ্রহণ করল। এমনকি যখন হুনাইনের গনীমতের সম্পদ আসল, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের কয়েকজনকে প্রচুর পরিমাণে দান করতে শুরু করলেন। তিনি সাফওয়ান ইবন উমাইয়্যাহকে একশত উট দিলেন, এরপর আরও একশত, তারপর আরও একশত (৫)। যখন আনসাররা এতে মনক্ষুণ্ণ হলো, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের কাছে উল্লেখ করলেন যে, তিনি কেবল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহাম্মিয়্যাতু দিরাসাতাস সিরাতিন নাবাবিয়্যাতি ওয়াল ইনায়াতু বিহা ফি হায়াতিল মুসলিমিন
(পৃষ্ঠা: ২৪)
أعطاهم من أجل أنه يتألفهم لأنهم حديثو عهد بكفر (1) .
إنّ القصد من ذكر تلك الأمثلة المتقدمة هو أنه صلى الله عليه وسلم كان يحاول جاهداً تجنب المصادمة والمواجهة مع القبائل القرشية في المرحلة المكية، وحرص على تألفهم بعد الهجرة مروراً بقصة الحديبية عندما قال لهم: ”يا ويح قريش، لقد أكلتهم الحرب، ماذا عليهم لو خلّوا بيني وبين سائر العرب، فإن هم أصابوني كان الذي أرادوا، وإن أظهرني الله عليهم دخلوا في الإسلام وافرين، وإن لم يفعلوا قاتلوا وبهم قوة
…" الحديث (2) ، وانتهاءً بقصته معهم بعد حنين.
هكذا تتجلى سماحة الإسلام في تألُّف الناس، والتودد إليهم، والصفح عن مسيئهم؛ لتقوية آصرة الروابط الاجتماعية.
--------------------------------------------
তিনি তাদের দিয়েছিলেন এই উদ্দেশ্যে যে, তিনি তাদের অন্তর জয় করতে চেয়েছিলেন; কারণ তারা কুফরের যুগ থেকে নতুন (ইসলামে) এসেছিলেন (১)।
পূর্বোক্ত উদাহরণগুলো উল্লেখ করার উদ্দেশ্য হলো, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কী যুগে কুরাইশ গোত্রগুলোর সাথে সংঘর্ষ ও মুখোমুখি অবস্থান এড়িয়ে চলার আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন। হিজরতের পরেও তিনি তাদের অন্তর জয় করতে সচেষ্ট ছিলেন, যার ধারাবাহিকতা হুদায়বিয়ার ঘটনার সময়ও দেখা যায় যখন তিনি তাদের বলেছিলেন: “হায় কুরাইশদের দুর্গতি! যুদ্ধ তাদের গ্রাস করে ফেলেছে। তাদের কী ক্ষতি হতো যদি তারা আমার এবং অন্যান্য আরবদের মধ্যবর্তী পথ ছেড়ে দিত? যদি আরবরা আমাকে পরাস্ত করত, তবে তা-ই হতো যা তারা চেয়েছিল। আর যদি আল্লাহ আমাকে তাদের ওপর বিজয়ী করেন, তবে তারা পূর্ণ সংখ্যায় ইসলামে প্রবেশ করত। আর তারা যদি তা না করে, তবে তারা পূর্ণ শক্তি থাকাবস্থায় লড়াই করতে পারত...” হাদিসের শেষ পর্যন্ত (২), এবং হুনায়নের যুদ্ধের পর তাদের সাথে সংঘটিত ঘটনা পর্যন্ত।
এভাবেই মানুষের অন্তর জয় করা, তাদের প্রতি হৃদ্যতা প্রদর্শন এবং অপরাধীকে ক্ষমা করার মাধ্যমে ইসলামের উদারতা ফুটে ওঠে; যাতে সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহাম্মিয়্যাতু দিরাসাতাস সিরাতিন নাবাবিয়্যাতি ওয়াল ইনায়াতু বিহা ফি হায়াতিল মুসলিমিন
(পৃষ্ঠা: ২৪)
المطلب الثاني: في كيفية تعليمه صلى الله عليه وسلم لبعض الصحابة وتربيته لهمإذا كان النبي الكريم صلى الله عليه وسلم حريصاً على تألف الناس للدخول في الإسلام، فإنّه كان أشد حرصاً على تعليم من أسلم منهم بالرفق واللين في حالة حدوث تصرفات من بعضهم بسبب جهلهم بتعاليم الإسلام أو لقربهم من العهد الجاهلي وعاداته السيئة، من ذلك:
1- قصة الأعرابي (1) الذي قدم من البادية ممتطياً بعيره حابساً بوله حتى
--------------------------------------------
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: কিছু সাহাবীকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শিক্ষা দান ও তাদের লালন-পালনের পদ্ধতি প্রসঙ্গেমহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি মানুষকে ইসলামে দীক্ষিত করার জন্য তাদের অন্তর জয় করতে আগ্রহী হয়ে থাকেন, তবে তিনি তাদের মধ্যে যারা ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, তাদের ইসলামের শিক্ষা সম্পর্কে অজ্ঞতা অথবা জাহেলি যুগ ও এর কুপ্রথাগুলোর সাথে নিকটবর্তী সময়ের সম্পর্কের কারণে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ প্রকাশ পেলে কোমলতা ও নম্রতার সাথে শিক্ষা দিতে আরও বেশি আগ্রহী ছিলেন। এর মধ্যে রয়েছে:
১- সেই মরুবাসীর (১) ঘটনা যে তার উটে চড়ে মরুভূমি থেকে এসেছিল এবং তার প্রস্রাব চেপে রেখেছিল যতক্ষণ না...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহাম্মিয়্যাতু দিরাসাতাস সিরাতিন নাবাবিয়্যাতি ওয়াল ইনায়াতু বিহা ফি হায়াতিল মুসলিমিন
(পৃষ্ঠা: ২৫)
قدم المدينة، بل وحتى دخل مسجد رسول الله صلى الله عليه وسلم، والنبي الكريم عليه الصلاة والسلام جالس مع أصحابه إذ بهذا الأعرابي ينيخ بعيره، ويتوجَّه إلى ناحية من نواحي مسجد رسول الله صلى الله عليه وسلم، وأمام أعين الناس يرفع ثوبه ويجلس ليتخلص من بوله في مسجد رسول الله صلى الله عليه وسلم، إنه منظر يثير الدهشة، سلك طريقاً طويلة لم يجد مكاناً يتبول فيه إلا مسجد رسول الله صلى الله عليه وسلم!!
لذلك أثار فعله هذا حفيظة أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم فقاموا ليمنعوه وينهروه، ولكن الرجل استمر في بوله غير عابئ بتلك الصرخات التي تعالت عليه من جوانب المسجد تستنكر هذا الفعل، إلا أن النبي الكريم والمربي الحكيم أنقذ الموقف بقوله صلى الله عليه وسلم للصحابة: "دعوه".
عن أنس بن مالك رضي الله عنه قال: ((بينما نحن في المسجد مع رسول الله صلى الله عليه وسلم إذ جاء أعرابي فقام يتبوَّل في المسجد، فقال أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم، مَهْ مَهْ، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "لا تزرموه (1) دعوه" (2) ، فتركوه حتى بال، ثم إن رسول الله صلى الله عليه وسلم دعاه، فقال له: "إنّ هذه المساجد لا تصلح لشيء من هذا البول، ولا القَذَر، إنّما هي لذكر الله عز وجل والصلاة وقراءة القرآن" أو كما قال رسول الله صلى الله عليه وسلم، قال: فأمر رجلاً من القوم فجاء بدلو من ماء فشنه عليه (3) (4) .
--------------------------------------------
তিনি মদিনায় আসলেন, এমনকি তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মসজিদেও প্রবেশ করলেন। এমতাবস্থায় নবী করীম আলাইহিস সালাতু ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের নিয়ে বসা ছিলেন। হঠাৎ এই বেদুইনটি তার উট বসাল এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মসজিদের এক কোণায় গিয়ে দাঁড়াল। উপস্থিত লোকজনের চোখের সামনেই সে তার কাপড় উঁচু করল এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মসজিদে প্রস্রাব করার জন্য বসে পড়ল। এটি ছিল এক বিস্ময়কর দৃশ্য; সে সুদীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে প্রস্রাব করার জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মসজিদ ছাড়া অন্য কোনো স্থান খুঁজে পেল না!!
তার এই আচরণের ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের আত্মমর্যাদাবোধে আঘাত লাগল এবং তারা তাকে বাধা দিতে ও ধমক দিতে উদ্যত হলেন। কিন্তু লোকটি মসজিদের চারপাশ থেকে আসা উচ্চস্বরের তিরস্কার ও চিৎকারের প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করেই তার প্রস্রাব চালিয়ে যেতে থাকল। তবে নবী করীম ও প্রজ্ঞাবান শিক্ষক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের এই বলে পরিস্থিতি সামলে নিলেন: "তাকে ছেড়ে দাও।"
আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "একদা আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে মসজিদে থাকাকালীন এক বেদুইন আসলো এবং সে মসজিদে প্রস্রাব করতে শুরু করল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ বললেন: 'থামো, থামো'। তিনি (আনাস) বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: 'তার প্রস্রাব মাঝপথে আটকে দিও না (১), তাকে ছেড়ে দাও' (২)। ফলে তারা তাকে ছেড়ে দিলেন যতক্ষণ না সে তার প্রস্রাব শেষ করল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ডাকলেন এবং বললেন: 'এই মসজিদসমূহ প্রস্রাব কিংবা কোনো অপবিত্রতার কাজের জন্য উপযুক্ত নয়; বরং তা আল্লাহর জিকির, সালাত এবং কুরআন তিলাওয়াতের জন্য।' অথবা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেমনটি বলেছিলেন। বর্ণনাকারী বলেন: এরপর তিনি উপস্থিত লোকদের একজনকে নির্দেশ দিলেন এবং সে এক বালতি পানি নিয়ে এসে তার ওপর ঢেলে দিল (৩) (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহাম্মিয়্যাতু দিরাসাতাস সিরাতিন নাবাবিয়্যাতি ওয়াল ইনায়াতু বিহা ফি হায়াতিল মুসলিমিন
(পৃষ্ঠা: ২৬)
فانظر إلى هذه الحادثة العجيبة، وكيف ساق الله هذا الأعرابي ليعمل ذلك العمل وكيف تعامل النبي صلى الله عليه وسلم مع تلك الحادثة، ليتعلم الصحابة ومن بعدهم إلى يوم الدين الرفق واللين منه عليه الصلاة والسلام.
2- وهناك موقف آخر حدث لبعض الصحابة تجلت فيه حكمة النبي صلى الله عليه وسلم وتربيته في معالجة الأمور، فقد دخل رجل في الصلاة مع النبي صلى الله عليه وسلم فبينما هم كذلك إذ عطس رجل ممن كان يصلي معهم، فَشَمَّت هذا الرجل ذلك العاطس بقوله: ((يرحمك الله)) ويظهر أنه كان قد تعلم أن العاطس يُشَمَّت مطلقاً، لأنّ النبي صلى الله عليه وسلم قال: "إذا عطس أحدكم فليقل: الحمد لله، وليقل له أخوه – أو صاحبه – يرحمك الله
…" الحديث (1) . ولا سيما أن الكلام في الصلاة في أول الإسلام كان جائزا ً، فقد قال زيد بن أرقم رضي الله عنه: ((كنّا نتكلم في الصلاة يكلم الرجل صاحبه وهو إلى جنبه في الصلاة حتى نزلت {وَقُومُوا لِلَّهِ قَانِتِينَ} [البقرة:238] فأُمِرنا بالسكوت، ونُهِينا عن الكلام)) (2) . ويظهر أيضاً أنه لم يبلغه النهي، إما لأنه كان يسكن خارج المدينة أو لأمر آخر، فلما قضى النبي صلى الله عليه وسلم استدعاه، وعلَّمه تعليماً نبويّاً تجلَّت فيه التربية المحمدية.
عن معاوية بن الحكم السلمي رضي الله عنه قال: بينا أنا أصلي مع رسول الله صلى الله عليه وسلم: إذ عطس رجل من القوم فقلت: يرحمك الله، فرماني القوم بأبصارهم، فقلت: وا ثُكْل (3) أمياه! ما شأنكم تنظرون إليّ فجعلوا يضربون بأيديهم على أفخاذهم، فلما رأيتهم يُصَمِّتونني لكني سكتّ، فلما صلى
--------------------------------------------
অতএব এই বিস্ময়কর ঘটনার দিকে লক্ষ্য করুন, আল্লাহ কীভাবে এই মরুবাসীকে এমন কাজ করার জন্য পরিচালিত করলেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই ঘটনার সাথে কীভাবে আচরণ করলেন, যাতে সাহাবীগণ এবং তাদের পরে কিয়ামত পর্যন্ত আগত মানুষেরা তাঁর (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) কাছ থেকে কোমলতা ও নম্রতা শিখতে পারে।
২- জনৈক সাহাবীর সাথে ঘটা আরও একটি ঘটনা রয়েছে যেখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রজ্ঞা (হিকমত) এবং বিষয়সমূহ সমাধানের ক্ষেত্রে তাঁর শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সালাতে শরিক হলেন। তাঁরা সালাতরত থাকাবস্থায় তাঁদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি হাঁচি দিলেন। তখন এই ব্যক্তি সেই হাঁচিদাতার জবাবে ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’ (আল্লাহ আপনার উপর রহম করুন) বললেন। দৃশ্যত মনে হয় তিনি ইতিপূর্বে শিখেছিলেন যে, হাঁচিদাতার জবাব দেওয়া নিঃশর্তভাবে আবশ্যক, কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন: "তোমাদের কেউ হাঁচি দিলে সে যেন বলে: আলহামদুলিল্লাহ (সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য), আর তার ভাই—বা তার সাথী—যেন তাকে বলে: ইয়ারহামুকাল্লাহ (আল্লাহ আপনার উপর রহম করুন)..." আল-হাদিস (১)। বিশেষত ইসলামের শুরুর দিকে সালাতে কথা বলা বৈধ ছিল। যায়েদ ইবনে আরকাম রাদিআল্লাহু আনহু বলেছেন: "আমরা সালাতে কথা বলতাম, একজন ব্যক্তি সালাতরত অবস্থায় তার পার্শ্ববর্তী সাথীর সাথে কথা বলত, যতক্ষণ না এই আয়াত অবতীর্ণ হয়: {এবং তোমরা আল্লাহর সামনে বিনীতভাবে দাড়াও} [সূরা আল-বাকারা: ২৩৮]। তখন আমাদের চুপ থাকার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং কথা বলতে নিষেধ করা হয়।" (২)। আরও প্রতীয়মান হয় যে, এই নিষেধের সংবাদ তার কাছে পৌঁছায়নি, হয়তো তিনি মদীনার বাইরে বসবাস করতেন অথবা অন্য কোনো কারণে। যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত শেষ করলেন, তিনি তাকে ডাকলেন এবং তাকে এমন এক নববী শিক্ষা দিলেন যাতে মুহাম্মদী আদর্শের প্রতিফলন ঘটেছে।
মুয়াবিয়া ইবনুল হাকাম আস-সুলামী রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সালাত আদায় করছিলাম, তখন উপস্থিত লোকেদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি হাঁচি দিল। আমি বললাম: ইয়ারহামুকাল্লাহ। তখন লোকেরা আমার দিকে তীব্র দৃষ্টিতে তাকাতে লাগল। আমি বললাম: হায় আফসোস! আমার মা যদি আমাকে হারিয়ে ফেলতেন! তোমাদের কী হলো যে তোমরা আমার দিকে তাকিয়ে আছো? তখন তারা তাদের উরুতে তাদের হাত দিয়ে আঘাত করতে লাগল। যখন আমি দেখলাম তারা আমাকে চুপ করাতে চাচ্ছে, তখন আমি চুপ হয়ে গেলাম। এরপর যখন তিনি সালাত শেষ করলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহাম্মিয়্যাতু দিরাসাতাস সিরাতিন নাবাবিয়্যাতি ওয়াল ইনায়াতু বিহা ফি হায়াতিল মুসলিমিন
(পৃষ্ঠা: ২৭)
رسول الله صلى الله عليه وسلم فبأبي هو وأمي ما رأيت معلّماً قبله ولا بعده أحسن تعليماً منه، فوالله ما كَهَرَني (1) ، ولا ضربني، ولا شتمني، قال: "إن هذه الصلاة لا يصلح فيها شيء من كلام الناس، إنّما هو التسبيح، والتكبير، وقراءة القرآن" أوكما قال رسول الله صلى الله عليه وسلم
…الحديث (2) .
قال الإمام النووي في شرحه للحديث: ((فيه بيان ما كان عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم من عظيم الخُلُق الذي شهد الله تعالى له به، ورفقه بالجاهل، ورأفته بأمته، وشفقته عليهم، وفيه التخلق بخلقه صلى الله عليه وسلم في الرفق بالجاهل، وحسن تعليمه واللطف به، وتقريب الصواب إلى فهمه (3) .
هذه هي تعاليم الإسلام التي جاء بها الهادي البشير صلى الله عليه وسلم، وهكذا كان يعلم النبي صلى الله عليه وسلم أصحابه، والتعليم بهذا الأسلوب النبوي العجيب هو المثمر، وهو الذي يجعل الناس يدخلون في دين الله أفواجاً، أما الغلظة والجفاء والسخرية والاستهزاء والازدراء فليست من الإسلام في شيء.
وصدق الله سبحانه إذ يقول في حق نبيه صلى الله عليه وسلم: {وَإِنَّكَ لَعَلَى خُلُقٍ عَظِيمٍ} [القلم:4] ، والقائل: {فَبِمَا رَحْمَةٍ مِنَ اللَّهِ لِنْتَ لَهُمْ وَلَوْ كُنْتَ فَظّاً غَلِيظَ الْقَلْبِ لَانْفَضُّوا مِنْ حَوْلِكَ فَاعْفُ عَنْهُمْ وَاسْتَغْفِرْ لَهُمْ وَشَاوِرْهُمْ فِي الْأَمْرِ فَإِذَا عَزَمْتَ فَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُتَوَكِّلِينَ} [آل عمران:159] فصلوات الله وسلامه عليه.
--------------------------------------------
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) - আমার পিতা ও মাতা তাঁর জন্য উৎসর্গ হোক - আমি তাঁর আগে বা পরে তাঁর চেয়ে উত্তমরূপে শিক্ষাদানকারী কোনো শিক্ষক দেখিনি। আল্লাহর কসম! তিনি আমাকে ধমক দেননি (১), আমাকে মারধর করেননি এবং আমাকে গালিও দেননি। তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই এই সালাতে মানুষের কোনো সাধারণ কথা বলা সমীচীন নয়; এতে কেবল তাসবীহ (আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা), তাকবীর (আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা) এবং কুরআন তিলাওয়াত রয়েছে" অথবা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যেমনটি বলেছেন... আল-হাদিস (২)।
ইমাম নববী এই হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেছেন: "এতে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সেই মহান চরিত্রের বর্ণনা রয়েছে যার সাক্ষ্য আল্লাহ তাআলা স্বয়ং তাঁর জন্য দিয়েছেন। এছাড়া এতে অজ্ঞদের প্রতি তাঁর কোমলতা, উম্মতের প্রতি তাঁর করুণা ও মমতার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। এতে অজ্ঞদের প্রতি নম্রতা প্রদর্শন, উত্তমরূপে শিক্ষা দান, দয়া প্রদর্শন এবং সঠিক বিষয়টি তার বোধগম্য করার ক্ষেত্রে নবীজির (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) চরিত্রে চরিত্রবান হওয়ার শিক্ষা রয়েছে (৩)।
এগুলোই হলো ইসলামের সেই শিক্ষা যা নিয়ে পথপ্রদর্শক ও সুসংবাদদানকারী নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আগমন করেছেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এভাবেই তাঁর সাহাবীদের শিক্ষা দিতেন। আর এই বিস্ময়কর নববী পদ্ধতিতে শিক্ষাদানই হলো ফলপ্রসূ, যা মানুষকে দলে দলে আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করতে উদ্বুদ্ধ করে। পক্ষান্তরে কর্কশতা, রূঢ়তা, বিদ্রূপ, উপহাস এবং অবজ্ঞা—এসবের সাথে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই।
আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সত্যই বলেছেন যখন তিনি তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শানে ইরশাদ করেন: "আর নিশ্চয়ই আপনি সুমহান চরিত্রের ওপর অধিষ্ঠিত" [আল-কলম: ৪]। এবং তাঁর বাণী: "আল্লাহর দয়ার কারণেই আপনি তাদের প্রতি কোমল হয়েছিলেন। যদি আপনি রূঢ় ও কঠোর চিত্ত হতেন, তবে তারা আপনার আশপাশ থেকে সরে যেত। সুতরাং আপনি তাদেরকে ক্ষমা করুন, তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন এবং কাজের ব্যাপারে তাদের সাথে পরামর্শ করুন। অতঃপর আপনি যখন কোনো সংকল্প করবেন, তখন আল্লাহর ওপর ভরসা করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ ভরসাকারীদের ভালোবাসেন" [আল-ইমরান: ১৫৯]। আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহাম্মিয়্যাতু দিরাসাতাস সিরাতিন নাবাবিয়্যাতি ওয়াল ইনায়াতু বিহা ফি হায়াতিল মুসলিমিন
(পৃষ্ঠা: ২৮)
المطلب الثالث: في كيفية تعامله صلى الله عليه وسلم مع بعض المشكلات الاجتماعيةإنّ التلاحم والترابط الاجتماعي في ظل العقيدة الإسلامية، والأخوة الإيمانية، يولِّد شعوراً كبيراً في نفس المسلم، تجعله يعيش في حياة سعيدة طوال حياته؛ لأنّه فَقِه قول المصطفى صلى الله عليه وسلم: "لا يؤمن أحدكم حتى يحب لأخيه ما يحب لنفسه" (1) .
ولا شكّ أن الروابط التي تجمع الناس تختلف من مجتمع لآخر، فهناك روابط مشتركة بين أمة وأخرى بسبب المصالح الدنيوية، فإذا فقدت تلك المصالح انتهت تلك الروابط، وقد تجتمع الروابط بسبب آصرة القربى النَّسبي أو العِرْقي، ولكن رابطة العقيدة تبقى بين المسلمين حتى الموت.
ولذلك حصر الله الأخوة والموالاة في المؤمنين فقط، فقال سبحانه: {إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ إخوة} [الحجرات:10] .
وقطعها بين المؤمنين والكافرين حتى لو كانوا آباءهم أو إخوانهم أو أبناءهم (2) قال جل شأنه: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تَتَّخِذُوا آبَاءَكُمْ وَإِخْوَانَكُمْ أَوْلِيَاءَ إِنِ اسْتَحَبُّوا الْكُفْرَ عَلَى الْأِيمَانِ وَمَنْ يَتَوَلَّهُمْ مِنْكُمْ فَأُولَئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ} [التوبة:23] .
وسنرى بعد قليل فهم الصحابة رضوان الله عليهم للإسلام، وذلك عندما
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: কিছু সামাজিক সমস্যার মোকাবিলায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কর্মপদ্ধতিইসলামী আকিদা এবং ঈমানী ভ্রাতৃত্বের ছায়াতলে সামাজিক সংহতি ও পারস্পরিক বন্ধন একজন মুসলিমের অন্তরে এক বিশাল অনুভূতি জাগ্রত করে, যা তাকে সারাজীবন সুখী জীবন যাপনে সাহায্য করে; কারণ সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণী অনুধাবন করেছে: "তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্য তা-ই পছন্দ করবে যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে।" (১)
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মানুষের মাঝে পারস্পরিক সম্পর্কের সেতুবন্ধনগুলো এক সমাজ থেকে অন্য সমাজে ভিন্ন হয়ে থাকে। পার্থিব স্বার্থের কারণে এক জাতির সাথে অন্য জাতির কিছু অভিন্ন বন্ধন থাকতে পারে, তবে যখন সেই স্বার্থ হারিয়ে যায় তখন সেই বন্ধনও শেষ হয়ে যায়। আবার আত্মীয়তার সম্পর্ক বা বংশীয় ও জাতিগত কারণেও বন্ধন তৈরি হতে পারে, কিন্তু আকিদা বা বিশ্বাসের বন্ধনই মুসলিমদের মাঝে মৃত্যু পর্যন্ত অটুট থাকে।
এ কারণেই আল্লাহ তাআলা ভ্রাতৃত্ব ও বন্ধুত্বকে কেবল মুমিনদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {মুমিনরা তো পরস্পর ভাই ভাই} [সূরা আল-হুজুরাত: ১০]।
আর তিনি মুমিন ও কাফিরদের মাঝে এই সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছেন, এমনকি তারা যদি তাদের পিতা, ভাই কিংবা সন্তানও হয় (২)। মহান আল্লাহ বলেন: {হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদের পিতা ও ভাইদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না, যদি তারা ঈমানের বিপরীতে কুফরকে পছন্দ করে। তোমাদের মধ্যে যারা তাদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করবে, তারাই হলো জালিম} [সূরা আত-তাওবাহ: ২৩]।
আমরা কিছুক্ষণ পরেই ইসলাম সম্পর্কে সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুমের উপলব্ধি দেখতে পাব, যখন...
--------------------------------------------