(খণ্ড: ১)
আহাম্মিয়্যাতু দিরাসাতাস সিরাতিন নাবাবিয়্যাতি লিল মুয়াল্লিমিন
(পৃষ্ঠা: -)
أهمية دراسة السيرة النبوية للمعلمين القسم: السيرة النبوية
الكتاب: أهمية دراسة السيرة النبوية للمعلمين
(ضمن أبحاث ندوة عناية السعودية بالسنة والسيرة النبوية)
المؤلف: د. حصة بنت عبد الكريم الزيد
الناشر: مجمع الملك فهد لطباعة المصحف الشريف بالمدينة المنورة
عدد الصفحات: 58
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
শিক্ষকদের জন্য সীরাতুন্নবী অধ্যয়নের গুরুত্ব বিভাগ: সীরাতুন্নবী
গ্রন্থ: শিক্ষকদের জন্য সীরাতুন্নবী অধ্যয়নের গুরুত্ব
(সুন্নাহ ও সীরাতুন্নবীর প্রতি সৌদি আরবের যত্নের বিষয়ে আয়োজিত সেমিনারের গবেষণাপত্রসমূহের অন্তর্ভুক্ত)
লেখক: ড. হিসসাহ বিনতে আব্দুল কারীম আয-যায়দ
প্রকাশক: মদীনা মুনাওয়ারায় পবিত্র কুরআন মুদ্রণের জন্য বাদশাহ ফাহদ কমপ্লেক্স
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৮
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আহাম্মিয়্যাতু দিরাসাতাস সিরাতিন নাবাবিয়্যাতি লিল মুয়াল্লিমিন
(পৃষ্ঠা: ১)
أهمية دراسة السيرة النبوية للمعلمين
تأليف: د. حصة بنت عبد الكريم الزيد
ال
مقدمة:الحمد لله وحده والصلاة والسلام على من لا نبي بعده: وبعد.
فإن الله سبحانه وتعالى جعل محمداً شاهداً على الناس أجمعين، وجعل سلوكه أعظم سلوك، وتصرفاته أهدى تصرف، فكانت بذلك مثلاً يحتذى، وميزاناً صادقاً للبشرية في أعمالها وتصرفاتها، وقد كان هذا الهدي واضحاً لدى الصحابة رضي الله تعالى عنهم، فكانوا يترسمونه، ويسيرون على هداه، ويتحرونه في كل أمورهم صغيرها وكبيرها.
ولما خبا ضوء السيرة النبوية في حياة الناس، وبخاصة من لهم رأي وتوجيه، وتعليم وتربية، تبع ذلك خلل في سلوك الناشئة التي تتلقى عنهم، فتلفت المربون، وبادر الموجهون إلى البحث عن مواطن الخلل في هذه السلوكيات، أهذا الخلل في المادة العلمية، أم في طريقتها؟ أهو في المعلم، أم في المتلقِّي؟
وفي ميدان البحث يتذكر الراشدون أنه لن يصلح هذه الأمة إلا ما أصلح أولها، وخير زاد، وأعظم هدي، يستضاء به ويسترشد بخطواته عملياً، هو الهدي المحمدي، في سيرة محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم، أعظم معلم، وأهدى مُرَبًّ.
وفي هذا البحث الذي اخترته بعد تفكير وتأمل حرصت فيه على إبراز أهمية دراسة السيرة النبوية للمعلمين من خلال التركيز على المسائل التالية:
المسألة الأولى: اهتمام الرسول صلى الله عليه وسلم بالتعليم.
المسألة الثانية: موضوعات التعليم في سيرة المصطفى صلى الله عليه وسلم.
المسألة الثالثة: أساليب الرسول صلى الله عليه وسلم في التعليم.
শিক্ষকদের জন্য সীরাতুন্নবী অধ্যয়নের গুরুত্ব
রচনায়: ড. হিসসা বিনতে আব্দুল কারীম আল-জাইদ
ভূমিকা:
সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সেই সত্তার ওপর যাঁর পরে আর কোনো নবী নেই। অতঃপর:
নিশ্চয়ই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সকল মানুষের ওপর সাক্ষী হিসেবে নিযুক্ত করেছেন এবং তাঁর আচরণকে করেছেন সর্বশ্রেষ্ঠ আচরণ ও তাঁর কার্যকলাপকে করেছেন সর্বোত্তম পথনির্দেশ। ফলে তা হয়েছে অনুসরণের জন্য এক আদর্শ এবং মানবজাতির কর্ম ও আচরণের জন্য এক সত্যনিষ্ঠ মানদণ্ড। সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) এই হিদায়াতের ব্যাপারে অত্যন্ত সচেতন ছিলেন। তাঁরা তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করতেন, তাঁর প্রদর্শিত পথে চলতেন এবং ছোট-বড় সকল বিষয়ে তাঁর আদর্শ অনুসন্ধান করতেন।
যখন মানুষের জীবনে সীরাতুন্নবীর আলো স্তিমিত হয়ে পড়ল, বিশেষ করে তাঁদের মাঝে যাঁদের হাতে সমাজ সংস্কার, দিকনির্দেশনা, শিক্ষা ও লালন-পালনের দায়িত্ব রয়েছে, তখন তাঁদের অনুসারী ও শিক্ষার্থীদের আচরণের মধ্যেও বিচ্যুতি দেখা দিল। ফলে শিক্ষাবিদগণ সজাগ হলেন এবং সমাজ সংস্কারকগণ এই আচরণগত ত্রুটিগুলোর কারণ অনুসন্ধানে ব্রতী হলেন—এই ত্রুটি কি পাঠ্যবিষয়ে, নাকি পাঠদান পদ্ধতিতে? এটি কি শিক্ষকের মাঝে বিদ্যমান, নাকি শিক্ষার্থীর মাঝে?
গবেষণার এই পর্যায়ে প্রাজ্ঞ ব্যক্তিরা স্মরণ করেন যে, এই উম্মতের পরবর্তী অংশ কখনোই সংশোধিত হবে না যতক্ষণ না তা দ্বারা সংশোধিত হয় যার দ্বারা এর প্রথম অংশ সংশোধিত হয়েছিল। আর সর্বোত্তম পাথেয় ও সর্বশ্রেষ্ঠ হিদায়াত—যার আলো ও প্রতিটি পদক্ষেপ থেকে বাস্তব দিকনির্দেশনা গ্রহণ করা যায়—তা হলো মুহাম্মাদী হিদায়াত। আর তা রয়েছে সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষক ও সর্বোত্তম পথপ্রদর্শক আব্দুল্লাহর পুত্র মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাতের মধ্যে।
গভীর চিন্তা ও ভাবনার পর আমি এই বিষয়টি গবেষণার জন্য নির্বাচন করেছি, যেখানে আমি নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর ওপর আলোকপাত করার মাধ্যমে শিক্ষকদের জন্য সীরাতুন্নবী অধ্যয়নের গুরুত্ব ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি:
প্রথম বিষয়: শিক্ষাদানে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গুরুত্ব প্রদান।
দ্বিতীয় বিষয়: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাতে শিক্ষাদানের বিষয়বস্তুসমূহ।
তৃতীয় বিষয়: শিক্ষাদানে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পদ্ধতিসমূহ।
(খণ্ড: ১)
আহাম্মিয়্যাতু দিরাসাতাস সিরাতিন নাবাবিয়্যাতি লিল মুয়াল্লিমিন
(পৃষ্ঠা: ২)
المسألة الرابعة: وسائل الرسول صلى الله عليه وسلم في التعليم.
الخاتمة:
نتائج دراسة سيرة الرسول صلى الله عليه وسلم المتعلقة بالتعليم، وكيف يمكن توظيف نتائج الدراسة فيما يحقق خدمة المعلمين في العصر الحاضر، ويساعد على تطوير أدائهم التعليمي استناداً إلى سيرة المصطفى صلى الله عليه وسلم؟
وأسأله جل شأنه أن يتقبله، ويجعله عملاً خالصاً لوجهه الكريم.
চতুর্থ মাসআলা: শিক্ষাদানে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পদ্ধতিসমূহ।
উপসংহার:
শিক্ষা সংক্রান্ত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত অধ্যয়নের ফলাফলসমূহ এবং বর্তমান যুগে শিক্ষকদের সেবায় কীভাবে এই গবেষণার ফলাফলগুলো প্রয়োগ করা সম্ভব, যা মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাতের আলোকে তাদের শিক্ষাদান পদ্ধতির মানোন্নয়নে সাহায্য করবে?
এবং আমি সুমহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি যেন তিনি এটি কবুল করেন এবং একে একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নিবেদিত আমল হিসেবে গণ্য করেন।
(খণ্ড: ১)
আহাম্মিয়্যাতু দিরাসাতাস সিরাতিন নাবাবিয়্যাতি লিল মুয়াল্লিমিন
(পৃষ্ঠা: ৩)
المسألة الأولى: اهتمام رسول الله صلى الله عليه وسلم بالتعليم
مدخل…المسألة الأولى: اهتمام رسول الله صلى الله عليه وسلم بالتعليم.
لم يُعرف دين رفع قَدْرَ العلم، واحترم العلماء واهتم بطلب العلم، مثل الدين الإسلامي قال تعالى: {يَرْفَعِ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ وَالَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ دَرَجَاتٍ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ} [المجادلة:11] .
ولقد رغب رسول الله صلى الله عليه وسلم في العلم وبَيَّن أنه طريق الجنة، كما دل على ذلك حديث أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "من سلك طريقاً يلتمس فيه علماً سهّل الله له به طريقاً إلى الجنة" (1) . ولم يرغَّب صلى الله عليه وسلم أحداً أن يغبط أحداً على شيء من النعم التي أنعم الله بها على عباده إلا على نعمتين إحداهما: طلب العلم والعمل به، فعن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "لا حسد إلا في اثنتين: رجل آتاه الله مالاً فسلطه على هلكته في الحق، ورجل آتاه الله حكمة فهو يقضي بها ويعلمها" (2) (3) .
ومن المؤكد أن ما ورد عن النبي صلى الله عليه وسلم في الحث على التعليم لم يرد على سبيل الإشارة العابرة هنا وهناك بدون امتداد وإثراء للفكرة ذاتها. فالقدر الكبير من أقوال الرسول صلى الله عليه وسلم التي تحض على طلب العلم والاستمرار فيه تؤكد
--------------------------------------------
প্রথম বিষয়: শিক্ষাদানে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গুরুত্বারোপভূমিকা...প্রথম বিষয়: শিক্ষাদানে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গুরুত্বারোপ।
ইসলাম ধর্মের মতো এমন কোনো দ্বীন বা জীবনব্যবস্থা জানা নেই, যা জ্ঞানের মর্যাদাকে সমুন্নত করেছে, আলেমদের সম্মান করেছে এবং জ্ঞান অন্বেষণে গুরুত্বারোপ করেছে। মহান আল্লাহ বলেন: “তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদের জ্ঞান দান করা হয়েছে, আল্লাহ তাদের মর্যাদাকে অনেক উচ্চ শিখরে উন্নীত করবেন। আর তোমরা যা করো সে বিষয়ে আল্লাহ সম্যক অবহিত।” [আল-মুজাদালাহ: ১১]।
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জ্ঞানের প্রতি উৎসাহ প্রদান করেছেন এবং বর্ণনা করেছেন যে এটি জান্নাতের পথ। যেমনটি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে নির্দেশিত হয়েছে যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি জ্ঞান অন্বেষণের কোনো পথে চলে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দেন।” (১)। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাউকে আল্লাহর কোনো নিআমতের ওপর ঈর্ষা (গিবতাহ) করার জন্য উৎসাহিত করেননি, যা আল্লাহ তাঁর বান্দাদের দান করেছেন, কেবল দুটি নিআমত ব্যতীত। তার মধ্যে একটি হলো: জ্ঞান অর্জন করা এবং সে অনুযায়ী আমল করা। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “কেবল দুই ক্ষেত্রে ঈর্ষা করা যায়: এমন এক ব্যক্তি যাকে আল্লাহ সম্পদ দান করেছেন এবং তাকে হকের পথে তা বিলিয়ে দেওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা দিয়েছেন; আর এমন এক ব্যক্তি যাকে আল্লাহ হিকমত (জ্ঞান) দান করেছেন, যার মাধ্যমে সে বিচার-ফয়সালা করে এবং তা শিক্ষা দেয়।” (২) (৩)।
এটি নিশ্চিত যে, শিক্ষা দেওয়ার ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা কেবল কোনো ভাসা-ভাসা বা বিক্ষিপ্ত ইঙ্গিত হিসেবে আসেনি যেটির কোনো বিস্তার বা মূল ভাবনার সমৃদ্ধি নেই। বরং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর বিশাল একটি অংশ, যা জ্ঞান অর্জন এবং তাতে অবিচল থাকার প্রতি উৎসাহ প্রদান করে, তা এটিই নিশ্চিত করে—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহাম্মিয়্যাতু দিরাসাতাস সিরাতিন নাবাবিয়্যাতি লিল মুয়াল্লিমিন
(পৃষ্ঠা: ৪)
أن الاهتمام بالتعليم كان فكرة أصيلة ضمن إطار فكري عام (1) .
ولهذا فالإنسان المسلم في حاجة ماسة إلى العلم الذي ينمي الإيمان، ويغرس الفضائل، ويفقهه في دينه، فيحصل على الخيرية التي قال النبي صلى الله عليه وسلم فيها: "من يرد الله به خيراً يفقهه في الدين" (2) ، فيعبد ربه على بصيرة، فإذا تعلم وتفقه في أمور دينه ودنياه، وعلَّمه غيره ورغبهم في العلم، وبيَّن لهم أن مجالسه تحفها الملائكة، وتنزل عليها السكينة، وتغشاها الرحمة، ويذكرها الله في الملأ الأعلى (3) مقتدياً في ذلك برسول الله صلى الله عليه وسلم الذي رغَّب في العلم، وحرص على تعليم المسلمين أمور دينهم سواء كانوا رجالاً أو نساءً أو أطفالاً.
وكان صلى الله عليه وسلم أرفق الناس بالمتعلمين، وأبعدهم عن التشديد والتعسير والفظاظة والغلظة، وهذا ما نوَّه به القرآن الكريم عند الإشارة إلى أخلاقه صلى الله عليه وسلم، قال تعالى: {فَبِمَا رَحْمَةٍ مِنَ اللَّهِ لِنْتَ لَهُمْ وَلَوْ كُنْتَ فَظّاً غَلِيظَ الْقَلْبِ لَانْفَضُّوا مِنْ حَوْلِكَ فَاعْفُ عَنْهُمْ وَاسْتَغْفِرْ لَهُمْ وَشَاوِرْهُمْ فِي الأَمْرِ} [آل عمران: 159] (4) .
وقد طبق رسول الله صلى الله عليه وسلم ما عَلَّمه الله تعالى قولاً وفعلاً وأمر أصحابه
--------------------------------------------
শিক্ষার প্রতি গুরুত্বারোপ একটি সাধারণ চিন্তাগত কাঠামোর মধ্যে একটি মৌলিক ধারণা ছিল (১)।
এ কারণেই মুসলিম ব্যক্তির এমন ইলম বা জ্ঞানের তীব্র প্রয়োজন যা ঈমান বৃদ্ধি করে, সদ্গুণাবলি রোপণ করে এবং তাকে তার দ্বীন সম্পর্কে সম্যক অবগত করে। ফলে সে সেই কল্যাণ লাভ করে যার ব্যাপারে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের প্রজ্ঞা দান করেন" (২)। অতঃপর সে তার রবকে চাক্ষুষ প্রমাণের ভিত্তিতে ইবাদত করে। সুতরাং যখন সে তার দ্বীন ও দুনিয়ার বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করে এবং প্রজ্ঞা লাভ করে, আর তা অন্যকে শেখায় এবং তাদের ইলমের প্রতি আগ্রহী করে তোলে, আর তাদের কাছে বর্ণনা করে যে, ইলমের মজলিসসমূহকে ফেরেশতারা ঘিরে রাখে, তাতে প্রশান্তি নাজিল হয়, রহমত তাকে আচ্ছন্ন করে নেয় এবং আল্লাহ উচ্চতর পরিষদে তাদের কথা উল্লেখ করেন (৩); এক্ষেত্রে সে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অনুসরণ করে যিনি ইলমের প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন এবং মুসলিমদের তাদের দ্বীনি বিষয়সমূহ শিক্ষা দিতে সচেষ্ট ছিলেন, তারা পুরুষ হোক বা নারী কিংবা শিশু।
তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শিক্ষার্থীদের প্রতি মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কোমল ছিলেন এবং কঠোরতা, কাঠিন্য, রূঢ়তা ও কর্কশতা থেকে সবচেয়ে দূরে ছিলেন। পবিত্র কুরআন তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চরিত্রের প্রতি ইঙ্গিত করার সময় এটিই উল্লেখ করেছে। মহান আল্লাহ বলেন: {আল্লাহর দয়ায় আপনি তাদের প্রতি কোমল হয়েছিলেন। যদি আপনি রূঢ় ও কঠোর চিত্ত হতেন, তবে তারা আপনার চারপাশ থেকে সরে যেত। সুতরাং আপনি তাদের ক্ষমা করুন, তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন এবং কাজের ব্যাপারে তাদের সাথে পরামর্শ করুন} [আল ইমরান: ১৫৯] (৪)।
আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহ তাআলা তাঁকে যা শিক্ষা দিয়েছেন তা কথায় ও কাজে বাস্তবায়ন করেছেন এবং তাঁর সাহাবীদের আদেশ দিয়েছেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহাম্মিয়্যাতু দিরাসাতাস সিরাতিন নাবাবিয়্যাতি লিল মুয়াল্লিমিন
(পৃষ্ঠা: ৫)
رضي الله عنهم بذلك، فعندما أرسل معاذ بن جبل وأبا موسى الأشعري رضي الله عنهما إلى اليمن معلمين وقضاة قال لهما: "يَسِّروا ولا تُعَسِّروا، وَبَشِّروا ولا تُنَفِّروا" (1) .
ولهذا ينبغي للمعلمين الاقتداء برسول الله صلى الله عليه وسلم في فعله وقوله بالرفق بطلابهم والصبر عليهم، وعدم تعنيفهم، كما قال الماوردي رحمه الله: "ألا يعنفوا متعلماً، ولا يحقروا ناشئاً، ولا يستصغروا مبتدئاً، فإن ذلك أدعى إليهم، وأعطف عليهم، وأحث على الرغبة فيما لديهم" (2) .
ولم يكن رسول الله صلى الله عليه وسلم يخص فئة دون أخرى بالتعليم أو يتابع مجموعة دون غيرها، بل كان حرصه على التعليم ممتداً ليشمل الصغار والكبار، والنساء والرجال، متابعاً لأمورهم، حريصاً على إرشادهم وتعليمهم بالقول والفعل والقدوة.
ولتقديم توضيح لاهتمامه صلى الله عليه وسلم بالجميع دون استثناء نتناول كيفية اهتمامه صلى الله عليه وسلم بتعليم الرجال، والنساء، وكذلك الأطفال.
--------------------------------------------
আল্লাহ তাদের ওপর সন্তুষ্ট হয়েছেন, যখন তিনি মুয়াজ ইবনে জাবাল ও আবু মুসা আল-আশআরিকে (আল্লাহ তাদের উভয়ের ওপর সন্তুষ্ট হোন) শিক্ষক ও বিচারক হিসেবে ইয়ামেনে প্রেরণ করেন, তখন তিনি তাদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন: “তোমরা সহজ করো, কঠিন করো না; সুসংবাদ দাও, বিতৃষ্ণ করো না।” (১)।
এ কারণে শিক্ষকদের উচিত তাদের কথা ও কাজে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অনুসরণ করা—শিক্ষার্থীদের প্রতি কোমলতা প্রদর্শন ও তাদের ওপর ধৈর্য ধারণ করা এবং তাদের সাথে কঠোর আচরণ না করা। যেমন আল-মাওয়ার্দি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেছেন: “তারা যেন কোনো শিক্ষার্থীর প্রতি কঠোরতা না করে, কোনো উঠতি তরুণকে তুচ্ছ না করে এবং কোনো শিক্ষানবিসকে ছোট করে না দেখে; কারণ এটি তাদের প্রতি শিক্ষার্থীদের অধিক আকৃষ্ট করবে, তাদের প্রতি সদয় করবে এবং শিক্ষকদের কাছে যা আছে সেটির প্রতি আগ্রহ সৃষ্টিতে অধিক অনুপ্রাণিত করবে।” (২)।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ গোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে নির্দিষ্ট করতেন না বা অন্যদের বাদ দিয়ে কেবল একটি নির্দিষ্ট দলকে পর্যবেক্ষণ করতেন না। বরং শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে তাঁর আগ্রহ ছিল ব্যাপক, যা ছোট-বড়, নারী-পুরুষ সকলকে শামিল করত। তিনি তাদের বিষয়াবলি পর্যবেক্ষণ করতেন এবং কথা, কাজ ও আদর্শের মাধ্যমে তাদের পথপ্রদর্শন ও শিক্ষাদানে আগ্রহী ছিলেন।
ব্যতিক্রমহীনভাবে সকলের প্রতি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এই গুরুত্ব প্রদানের বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য আমরা পুরুষ, নারী এবং শিশুদের শিক্ষাদানে তাঁর গুরুত্ব প্রদানের ধরন নিয়ে আলোচনা করব।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহাম্মিয়্যাতু দিরাসাতাস সিরাতিন নাবাবিয়্যাতি লিল মুয়াল্লিমিন
(পৃষ্ঠা: ৫)
أولاً: الاهتمام بتعليم الرجال.
كان رسول الله صلى الله عليه وسلم حريصاً على تعليم أصحابه وتوجيههم وإرشادهم حسب واقع الحال الذي يتطلبه الموقف، فمثلاً هذا رجل غريب جاء يسأل
প্রথমত: পুরুষদের শিক্ষার প্রতি গুরুত্বারোপ.
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের শিক্ষা দান এবং পরিস্থিতির চাহিদা অনুযায়ী তাঁদের দিকনির্দেশনা ও সঠিক পথপ্রদর্শনের বিষয়ে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন। উদাহরণস্বরূপ, এই যে একজন অপরিচিত ব্যক্তি এসে জিজ্ঞাসা করছেন
(খণ্ড: ১)
আহাম্মিয়্যাতু দিরাসাতাস সিরাতিন নাবাবিয়্যাতি লিল মুয়াল্লিমিন
(পৃষ্ঠা: ৬)
عن دينه فترك صلى الله عليه وسلم خطبته ليعلمه ما سأل عنه، فقد روى الإمام مسلم عن أبي رفاعة رضي الله عنه قال: "انتهيت إلى النبي صلى الله عليه وسلم وهو يخطب، قال: قلت: يا رسول الله رجل غريب جاء يسأل عن دينه، ولا يدري ما دينه؟ قال: فأقبل عليَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم وترك خطبته حتى انتهى إليّ. فأُتي بكرسي، حسبت قوائمه حديداً، قال: فقعد عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم. وجعل يعلمني مما علمه الله، ثم أتى خطبته، فأتم آخرها" (1) .
قال الإمام النووي رحمه الله: "فيه تواضع النبي صلى الله عليه وسلم ورفقه بالمسلمين، وشفقته عليهم، وخفض جناحه لهم" (2) .
وفي موضع آخر يصف صحابي جليل اهتمام رسول الله صلى الله عليه وسلم بتعليم أصحابه رضي الله عنهم مشيراً إلى رفقه وحسن تعليمه بقوله: "بأبي هو وأمي، ما رأيت معلماً قبله ولا بعده أحسن تعليماً منه"، فعن معاوية بن الحكم السلمي قال: بينا أنا أصلي مع رسول الله صلى الله عليه وسلم إذ عطس رجل من القوم، فقلت: يرحمك الله؛ فرماني القوم بأبصارهم فقلت: واثكل أمياه ما شأنكم تنظرون إليّ! فجعلوا يضربون بأيديهم على أفخاذهم، فلما رأيتهم يصمتونني لكني سكت. فلما صلى رسول الله صلى الله عليه وسلم. فبأبي هو وأمي ما رأيت معلماً قبله ولا بعده أحسن تعليماً منه، فوالله ماكهرني، ولا ضربني ولا شتمني قال: "إن هذه الصلاة لا يصلح فيها شيء من كلام الناس. إنما هو التسبيح والتكبير وقراءة القرآن"، أو كما قال رسول الله صلى الله عليه وسلم. قلت: يا رسول الله إني حديث عهد بجاهلية وقد جاء الله بالإسلام وإن منا رجالاً يأتون الكُهَّان؟
--------------------------------------------
তাঁর দ্বীন সম্পর্কে, ফলে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর খুতবা বন্ধ করলেন তাকে শেখানোর জন্য সে যা জিজ্ঞাসা করেছিল। ইমাম মুসলিম আবু রিফাআহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট পৌঁছালাম যখন তিনি খুতবা দিচ্ছিলেন। তিনি বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, এক আগন্তুক ব্যক্তি তার দ্বীন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে এসেছে, সে জানে না তার দ্বীন কী? তিনি বলেন: অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার দিকে এগিয়ে আসলেন এবং তাঁর খুতবা বন্ধ রাখলেন যতক্ষণ না তিনি আমার কাছে পৌঁছালেন। এরপর একটি চেয়ার আনা হলো, আমার মনে হলো সেটির পায়াগুলো লোহার ছিল। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ওপর বসলেন এবং আল্লাহ তাঁকে যা শিখিয়েছেন তা থেকে আমাকে শেখাতে লাগলেন। এরপর তিনি তাঁর খুতবার দিকে ফিরে আসলেন এবং তার শেষাংশ পূর্ণ করলেন" (১)।
ইমাম নববী রহিমাহুল্লাহ বলেন: "এর মধ্যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিনয়, মুসলিমদের প্রতি তাঁর কোমলতা, তাঁদের প্রতি তাঁর মমতা এবং তাঁদের প্রতি তাঁর নম্রতা প্রদর্শনের প্রমাণ রয়েছে" (২)।
অন্য এক স্থানে একজন মহান সাহাবী তাঁর সাথীদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) শিক্ষা দেওয়ার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গুরুত্বারোপের বর্ণনা দিয়েছেন এবং তাঁর কোমলতা ও উত্তম শিক্ষাদানের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেছেন: "আমার পিতা-মাতা তাঁর জন্য উৎসর্গিত হোন, আমি তাঁর আগে বা পরে তাঁর চেয়ে উত্তম শিক্ষক দেখিনি।" মুয়াবিয়া ইবনুল হাকাম আস-সুলামী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "একদা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সালাত আদায় করছিলাম, এমন সময় লোকজনের মধ্যে এক ব্যক্তি হাঁচি দিল। আমি বললাম: 'আল্লাহ আপনার ওপর রহম করুন' (ইয়ারহামুকাল্লাহ); তখন লোকজন আমার দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকাতে লাগল। আমি বললাম: 'হায় আমার জননী যদি আমাকে হারাতেন! তোমাদের কী হয়েছে যে তোমরা আমার দিকে তাকিয়ে আছো!' তারা তাদের হাত দিয়ে তাদের উরুতে আঘাত করতে লাগল। আমি যখন দেখলাম তারা আমাকে চুপ করাতে চাচ্ছে, তখন আমি চুপ হয়ে গেলাম। অতঃপর যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত শেষ করলেন—আমার পিতা-মাতা তাঁর জন্য উৎসর্গিত হোন, আমি তাঁর আগে বা পরে তাঁর চেয়ে উত্তম শিক্ষক দেখিনি—আল্লাহর কসম, তিনি আমাকে ধমক দেননি, আমাকে প্রহার করেননি এবং আমাকে গালিও দেননি। তিনি বললেন: 'নিশ্চয়ই এই সালাতে মানুষের কোনো কথাবার্তা শোভনীয় নয়। এটি কেবল তাসবিহ, তাকবির এবং কুরআন তিলাওয়াত', অথবা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেমনটি বলেছিলেন। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আমি জাহেলিয়াতের যুগের খুব নিকটবর্তী (অর্থাৎ নতুন মুসলিম হয়েছি) এবং আল্লাহ ইসলাম নিয়ে এসেছেন। আমাদের মধ্যে এমন কিছু লোক আছে যারা গণকদের কাছে যায়?"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহাম্মিয়্যাতু দিরাসাতাস সিরাতিন নাবাবিয়্যাতি লিল মুয়াল্লিমিন
(পৃষ্ঠা: ৭)
قال: "فلا تأتهم". قلت: ومنا رجال يتطيرون قال: "ذاك شيء يجدونه في صدورهم فلا يصدنهم" (1) .
قال النووي – رحمه الله: "فيه بيان ما كان عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم من عظيم الخلق الذي شهد الله تعالى له به، ورفقه بالجاهل، ورأفته بأمته، وشفقته عليهم، وفيه من التخلق بخلقه صلى الله عليه وسلم في الرفق بالجاهل، وحسن تعليمه، واللطف، وتقريب الصواب إلى فهمه" (2) .
ونلحظ أثر الرفق واللين في معاملة رسول الله صلى الله عليه وسلم لمعاوية رضي الله عنه، إذ بدأ يستفسر عن الأمور التي كانت شائعة في الجاهلية كي يتجنبها إن كانت محرمة – لئلا تظهر منه فينكر عليه (3) . فالمعلم شفيق على طلابه حريص على تعليمهم وتقريب المعاني إلى أفهامهم مقتدياً بفعل رسول الله صلى الله عليه وسلم.
وهذا رجل يدخل المسجد ويتبول فيه، من دون مراعاة لحرمة المكان ووجود الناس فيتركه رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى ينتهي، ثم يدعوه إليه ليعلمه أن للمسجد حرمة وأنه للصلاة والذكر والتسبيح. فعن أنس رضي الله عنه قال: بينما نحن في المسجد مع رسول الله صلى الله عليه وسلم، إذ جاء أعرابي، فقام يبول في المسجد، فقال أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم: "مه مه" (4) قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "لا تزرموه (5) ،دعوه (6) " فتركوه حتى بال. ثم إن رسول الله صلى الله عليه وسلم دعاه
--------------------------------------------
তিনি বললেন: "তবে তাদের কাছে যেও না।" আমি বললাম: আমাদের মধ্যে এমন লোক আছে যারা কুলক্ষণ মানে। তিনি বললেন: "এটি এমন একটি বিষয় যা তারা তাদের অন্তরে অনুভব করে, সুতরাং তা যেন তাদের বাধা না দেয়।" (১) .
আন-নববী -রাহিমাহুল্লাহ- বলেন: "এতে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সেই মহান চরিত্রের বর্ণনা রয়েছে যার সাক্ষ্য আল্লাহ তাআলা তাঁকে দিয়েছেন, এবং অজ্ঞদের প্রতি তাঁর কোমলতা, উম্মতের প্রতি তাঁর মমতা ও সহানুভূতির বর্ণনা রয়েছে। এতে অজ্ঞদের প্রতি নম্রতা প্রদর্শন, উত্তম পদ্ধতিতে শিক্ষাদান, দয়া এবং সঠিক বিষয়টি তার বোধগম্য করার ক্ষেত্রে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ গ্রহণ করার শিক্ষা রয়েছে।" (২) .
মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আচরণের ক্ষেত্রে আমরা নম্রতা ও কোমলতার প্রভাব লক্ষ্য করি, যখন তিনি জাহেলি যুগে প্রচলিত বিষয়গুলো সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে শুরু করেছিলেন যাতে সেগুলো হারাম হলে তা এড়িয়ে চলতে পারেন – যাতে তাঁর থেকে এমন কিছু প্রকাশ না পায় যার কারণে তাঁকে তিরস্কার করা হয় (৩)। একজন শিক্ষক তাঁর ছাত্রদের প্রতি দয়ালু হবেন এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ করে তাদেরকে শিক্ষা দিতে ও অর্থগুলো তাদের বোধগম্য করতে সচেষ্ট থাকবেন।
আর এই যে এক ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করল এবং স্থানের পবিত্রতা ও মানুষের উপস্থিতির তোয়াক্কা না করে সেখানে প্রস্রাব করে দিল, তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে শেষ না করা পর্যন্ত ছেড়ে দিলেন। এরপর তিনি তাকে কাছে ডাকলেন যাতে তাকে শেখানো যায় যে, মসজিদের পবিত্রতা রয়েছে এবং এটি সালাত, জিকির ও তাসবিহ পাঠের জন্য। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা যখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে মসজিদে ছিলাম, এমতাবস্থায় এক বেদুইন এল এবং মসজিদে প্রস্রাব করতে শুরু করল। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ বললেন: "থামো, থামো" (৪)। তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "তার প্রস্রাব মাঝপথে বন্ধ করো না (৫), তাকে ছেড়ে দাও (৬)"। ফলে তারা তাকে ছেড়ে দিলেন যতক্ষণ না সে প্রস্রাব শেষ করল। তারপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ডাকলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহাম্মিয়্যাতু দিরাসাতাস সিরাতিন নাবাবিয়্যাতি লিল মুয়াল্লিমিন
(পৃষ্ঠা: ৮)
فقال له: "إن هذه المساجد لا تصلح لشيء من هذا البول ولا القذر، إنما هي لذكر الله عز وجل والصلاة، وقراءة القرآن" أو كما قال رسول الله صلى الله عليه وسلم. قال: "فأمر رجلاً من القوم، فجاء بدلو من ماء فشنه (1) عليه".
قال الإمام النووي رحمه الله: "وفيه الرفق بالجاهل وتعليمه ما يلزمه من غير تعنيف ولا إيذاء إذا لم يأت بالمخالفة استخفافاً أو عناداً (2) .فالرسول صلى الله عليه وسلم لم يترك الأعرابي يبول في المسجد إلا لما خشي من ظهور منكر أعظم من منعه مِن البول" (3) .
قال الحافظ ابن حجر رحمه الله: "إنما تركوه يبول في المسجد لأنه كان شرع في المفسدة، فلو منع لزادت، إذ حصل تلويث جزء من المسجد، فلو منع لدار بين أمرين: إما أن يقطعه فيتضرر، وإما ألا يقطعه فلا يأمن من تنجيس بدنه أو ثوبه، أو مواضع أخرى من المسجد" (4)
فالمعلم التربوي يقرن تعليمه بالرفق واللين، فيكون له أعظم الأثر في قلوب طلابه. وهكذا كان لمعاملة رسول الله صلى الله عليه وسلم للأعرابي بالرفق أعظم الأثر في نفسه، ونلاحظ ذلك في قول الأعرابي بعد أن فقه "بأبي وأمي" فلم يؤنب ولم يسب.
ومن اهتمامه صلى الله عليه وسلم بتعليم الرجال دعوته المستمرة إلى الاهتمام بالفرد، واغتنام أحسن المناسبات لتوعيته وتوجيهه، ومن ذلك قصة الرجل الذي جاء
--------------------------------------------
অতঃপর তিনি তাকে বললেন: "নিশ্চয়ই এই মসজিদসমূহ প্রস্রাব বা অপবিত্রতার কোনো কিছুর জন্য উপযুক্ত নয়; বরং এগুলো মহান আল্লাহর যিকির, সালাত এবং কুরআন তিলাওয়াতের জন্য।" অথবা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেমনটি বলেছিলেন। তিনি বলেন: "অতঃপর তিনি উপস্থিত লোকদের একজনকে আদেশ করলেন, ফলে সে এক বালতি পানি নিয়ে এল এবং তার ওপর তা ঢেলে দিল।" (১)
ইমাম নববী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "এর মধ্যে অজ্ঞ ব্যক্তির সাথে কোমল আচরণ করা এবং তাকে তিরস্কার বা কষ্ট না দিয়ে তার জন্য যা জরুরি তা শিক্ষা দেওয়ার বিষয়টি রয়েছে, যদি সে অবজ্ঞা বা হঠকারিতার কারণে বিরুদ্ধাচরণ না করে থাকে। (২) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই বেদুঈনকে মসজিদে প্রস্রাব করতে বাধা না দিয়ে ছেড়ে দিয়েছিলেন কারণ তাকে বাধা দিলে তার চেয়েও বড় কোনো অনিষ্ট প্রকাশ পাওয়ার আশঙ্কা ছিল।" (৩)
হাফিজ ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "তাঁরা তাকে মসজিদে প্রস্রাব করতে ছেড়ে দিয়েছিলেন কারণ সে তো ক্ষতির সূচনা করেই ফেলেছিল; এমতাবস্থায় তাকে বাধা দিলে ক্ষতি আরও বৃদ্ধি পেত। যেহেতু মসজিদের একটি অংশ ইতোমধ্যে অপবিত্র হয়ে গিয়েছিল, তাই তাকে বাধা দিলে বিষয়টি দুটি অবস্থার মধ্যে আবর্তিত হতো: হয় সে প্রস্রাব মাঝপথে বন্ধ করে দিত যার ফলে সে শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতো, আর নয়তো সে প্রস্রাব বন্ধ করত না কিন্তু তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে তার শরীর, পোশাক অথবা মসজিদের আরও অন্যান্য স্থানে নাপাকি ছড়িয়ে পড়া থেকে নিরাপদ থাকা যেত না।" (৪)
সুতরাং আদর্শ শিক্ষক তাঁর শিক্ষার সাথে কোমলতা ও নম্রতাকে যুক্ত করেন, যা তাঁর ছাত্রদের হৃদয়ে সুগভীর প্রভাব ফেলে। একইভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বেদুঈন লোকটির প্রতি এই কোমল আচরণের প্রভাব তার মনে গভীরভাবে পড়েছিল। বিষয়টি আমরা সেই বেদুঈনের কথায় লক্ষ্য করি যখন সে সঠিক বিষয়টি বুঝতে পেরে বলেছিল, "আমার পিতা ও মাতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোক", তিনি আমাকে ভর্ৎসনাও করেননি এবং গালিও দেননি।
পুরুষদের শিক্ষার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিশেষ গুরুত্ব প্রদানের অন্যতম দিক ছিল ব্যক্তির প্রতি মনোনিবেশ করার জন্য তাঁর নিরন্তর দাওয়াত এবং তাকে সচেতন ও দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য সর্বোত্তম সুযোগগুলো কাজে লাগানো। এর অন্তর্ভুক্ত হলো সেই ব্যক্তির ঘটনা যিনি এসেছিলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহাম্মিয়্যাতু দিরাসাতাস সিরাতিন নাবাবিয়্যাতি লিল মুয়াল্লিমিন
(পৃষ্ঠা: ৯)
يسأل رسول الله صلى الله عليه وسلم عن وقت الصلاة "فعن سليمان بن بريدة عن أبيه رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم أن رجلاً سأله عن وقت الصلاة. فقال له: صَلِّ معنا هذين – يعني اليومين". فلما زالت الشمس أمر بلالاً فأذن. ثم أمره فأقام الظهر، ثم أمره فأقام العصر والشمس مرتفعة بيضاء نقية، ثم أمره فأقام المغرب حين غابت الشمس، ثم أمره فأقام العشاء حين غاب الشفق، ثم أمره، فأقام الفجر حين طلع الفجر. فلما أن كان اليوم الثاني أمره فأبرد بالظهر، فأبرد بها، فأنعم أن يبرد بها، وصلى العصر والشمس مرتفعة أخرها فوق الذي كان، وصلى المغرب قبل أن يغيب الشفق، وصلى العشاء بعدما ذهب ثلث الليل، وصلى الفجر فأسفر بها.
ثم قال: أين السائل عن وقت الصلاة؟
فقال الرجل: أنا يا رسول الله..
قال: "وقت صلاتكم بين ما رأيتم" (1) .
قال الإمام النووي رحمه الله تعالى: "فيه بيان أن للصلاة وقت فضيلة ووقت اختيار، وفيه أن وقت المغرب ممتد، وفيه البيان بالفعل، فإنه أبلغ في الإيضاح، والفعل تعم فائدته السائل وغيره" (2) .
فعلى المعلم أن يقتدي بفعل رسول الله صلى الله عليه وسلم أثناء تعليمه لطلابه، فيقرن العلم بالعمل؛ لتثبيت المعلومات في أذهانهم، وحصر الفكرة في مدلول واقعي يدركه المتعلم ويفهمه.
--------------------------------------------
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে নামাজের সময় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে: "সুলাইমান ইবনে বুরাইদাহ তাঁর পিতা (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এক ব্যক্তি নামাজের সময় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি তাকে বললেন: 'আমাদের সাথে এই দুই দিন নামাজ আদায় করো।' যখন সূর্য হেলে পড়ল, তিনি বিলালকে নির্দেশ দিলেন এবং তিনি আযান দিলেন। এরপর তিনি তাঁকে নির্দেশ দিলেন এবং তিনি যোহরের একামত দিলেন। তারপর তাঁকে নির্দেশ দিলেন এবং তিনি আসরের একামত দিলেন এমতাবস্থায় যে সূর্য উপরে শুভ্র ও স্বচ্ছ ছিল। এরপর তাঁকে নির্দেশ দিলেন এবং তিনি মাগরিবের একামত দিলেন যখন সূর্য অস্ত গেল। এরপর তাঁকে নির্দেশ দিলেন এবং তিনি এশার একামত দিলেন যখন লালিমা অদৃশ্য হয়ে গেল। এরপর তাঁকে নির্দেশ দিলেন এবং তিনি ফজরের একামত দিলেন যখন সুবহে সাদিক উদিত হলো। এরপর যখন দ্বিতীয় দিন এল, তিনি তাকে যোহর ঠান্ডা করে পড়ার নির্দেশ দিলেন এবং তিনি তা বেশ ঠান্ডা (বিলম্ব) করে পড়লেন। আর তিনি আসর পড়লেন যখন সূর্য উপরে ছিল তবে পূর্বের দিনের তুলনায় কিছুটা বিলম্বে। তিনি মাগরিব পড়লেন লালিমা অদৃশ্য হওয়ার পূর্বে। তিনি এশা পড়লেন যখন রাতের এক-তৃতীয়াংশ পার হয়ে গেল। আর তিনি ফজর পড়লেন যখন বেশ ফর্সা হয়ে গেল।
অতঃপর তিনি বললেন: নামাজের সময় সম্পর্কে প্রশ্নকারী কোথায়?
লোকটি বলল: আমি, হে আল্লাহর রাসূল!
তিনি বললেন: 'তোমাদের নামাজের সময় হলো যা তোমরা দেখলে তার মধ্যবর্তী সময়।' (১)।
ইমাম নববী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: 'এতে এই বর্ণনা রয়েছে যে, নামাজের জন্য ফজিলতপূর্ণ সময় ও ঐচ্ছিক সময় রয়েছে। এতে আরও রয়েছে যে, মাগরিবের সময় দীর্ঘ এবং এতে হাতে-কলমে প্রদর্শনের বিষয়টিও রয়েছে; কেননা এটি ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে অধিকতর কার্যকর। আর কর্মের মাধ্যমে শিক্ষার উপকারিতা প্রশ্নকারী এবং অন্যদের সবার ক্ষেত্রে ব্যাপক হয়।' (২)।
অতএব, একজন শিক্ষকের উচিত তাঁর ছাত্রদের শিক্ষাদানের সময় আল্লাহর রাসূল সাল্লালল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কর্মের অনুসরণ করা। তিনি যেন জ্ঞানের সাথে কর্মকে যুক্ত করেন; যাতে ছাত্রদের হৃদয়ে তথ্যগুলো সুদৃঢ় হয় এবং বিষয়টি এমন একটি বাস্তব রূপ লাভ করে যা শিক্ষার্থী উপলব্ধি ও অনুধাবন করতে পারে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহাম্মিয়্যাতু দিরাসাতাস সিরাতিন নাবাবিয়্যাতি লিল মুয়াল্লিমিন
(পৃষ্ঠা: ১০)
ثانياً: الاهتمام بتعليم النساء.
لم يغفل الرسول صلى الله عليه وسلم عن الاهتمام بتعليم النساء أمور دينهن، بل كان حريصاً على توصيل الأحكام الشرعية إليهن وبخاصة ما يتعلق منها بالمرأة، وله في ذلك شواهد تؤكد اهتمامه وحرصه صلى الله عليه وسلم على الاستجابة لأي سؤال أو استفسار يأتيه من النساء، حتى ولو كان في أدق خصوصياتهن. ومن ذلك ما ورد عن عائشة رضي الله عنها: أن امرأة سألت النبي صلى الله عليه وسلم عن غسلها من المحيض، فأخبرها كيف تغتسل. ثم قال: "خذي فرصة من مسك، فتطهري بها" قالت: وكيف أتطهر بها. ثم قال: "سبحان الله تطهري بها"، قالت عائشة رضي الله عنها: فجذبت المرأة وقلت: "تتبعين بها أثر الدم" (1) .
كما كان صلى الله عليه وسلم يتفقد أحوال النساء، ويطمئن على صحتهن. فها هو رسول الله صلى الله عليه وسلم يدخل على ضباعة بنت الزبير، ويسألها عن الحج، وهل تستطيع ذلك؟ فيشجعها بقوله صلى الله عليه وسلم: "حجي واشترطي". فعن عائشة رضي الله عنها – قالت: دخل رسول الله صلى الله عليه وسلم على ضباعة بنت الزبير فقال لها: " لعلك أردت الحج" قالت: والله لا أجدني إلا وجعة (2) فقال لها: "حجي واشترطي، قولي: اللهم محلِّي (3) حيث حبستني (4) " وكانت تحت المقداد بن الأسود (5) .
--------------------------------------------
দ্বিতীয়ত: নারীদের শিক্ষার প্রতি গুরুত্বারোপ.
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীদের দ্বীনি বিষয় শিক্ষার ব্যাপারে উদাসীন ছিলেন না, বরং তিনি তাদের নিকট শরীয়তের বিধিবিধান, বিশেষ করে নারীদের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পৌঁছে দিতে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন। এ ব্যাপারে এমন অনেক প্রমাণ রয়েছে যা নারীদের পক্ষ থেকে আসা যেকোনো প্রশ্ন বা জিজ্ঞাসার উত্তর প্রদানের ক্ষেত্রে তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গুরুত্বারোপ ও আগ্রহকে নিশ্চিত করে, এমনকি তা যদি তাদের অত্যন্ত ব্যক্তিগত বিষয়েও হয়। এর মধ্যে অন্যতম হলো যা আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত হয়েছে: এক নারী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ঋতুস্রাব পরবর্তী গোসল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি তাকে গোসলের পদ্ধতি বলে দিলেন। এরপর তিনি বললেন: "একখণ্ড কস্তুরিযুক্ত তুলা বা কাপড় নাও এবং তা দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করো।" সে বলল: আমি তা দিয়ে কীভাবে পবিত্রতা অর্জন করব? তিনি বললেন: "সুবহানাল্লাহ! তা দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করো।" আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন: তখন আমি সেই নারীকে নিজের দিকে টেনে নিলাম এবং বললাম: "রক্তের চিহ্ন অনুসরণ করো (অর্থাৎ যেখানে রক্ত লেগেছিল সেখানে এটি ব্যবহার করো)।" (১) ।
অনুরূপভাবে তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীদের অবস্থার খোঁজখবর নিতেন এবং তাদের স্বাস্থ্যের ব্যাপারে আশ্বস্ত হতেন। এই তো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুবাআ বিনতে যুবায়রের নিকট প্রবেশ করলেন এবং তাকে হজ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন যে, তিনি তা করতে সক্ষম কি না? তখন তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই বলে তাকে উৎসাহিত করলেন: "তুমি হজ করো এবং শর্তারোপ করো।" আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত—তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুবাআ বিনতে যুবায়রের নিকট প্রবেশ করে তাকে বললেন: "সম্ভবত তুমি হজের সংকল্প করেছ।" সে বলল: আল্লাহর কসম, আমি নিজেকে অসুস্থ ছাড়া আর কিছু পাচ্ছি না (২)। তখন তিনি তাকে বললেন: "তুমি হজ করো এবং শর্তারোপ করে বলো: হে আল্লাহ! আপনি যেখানে আমাকে আটকে দেবেন (৪), সেখানেই আমার ইহরাম খোলার স্থান (৩) হবে।" আর তিনি মিকদাদ বিন আসওয়াদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর স্ত্রী ছিলেন (৫) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহাম্মিয়্যাতু দিরাসাতাস সিরাতিন নাবাবিয়্যাতি লিল মুয়াল্লিমিন
(পৃষ্ঠা: ১১)
كما كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يعلم من أشكل عليها أمراً، وأثار لديها تساؤلاً، حيث عَلَّم رسول الله صلى الله عليه وسلم أم سلمة رضي الله عنها، حينما أشكل عليها صلاة النبي صلى الله عليه وسلم بعد العصر لتعارضها ظاهراً مع نهيه صلى الله عليه وسلم. فعن أم سلمة رضي الله عنها قالت: سمعت النبي صلى الله عليه وسلم ينهى عنها ثم رأيته يصليها حين صلى العصر، ثم دخل عليّ وعندي نسوة من بني حرام من الأنصار، فأرسلت إليه الجارية فقلت: قومي بجنبه، قولي له: "تقول لك أم سلمة: يا رسول الله سمعتك تنهى عن هاتين، وأراك تصليها". فإن أشار بيده فاستأخري عنه.
ففعلت الجارية، فأشار بيده، فاستأخرت عنه. فلما انصرف، قال: "يا ابنة أمية سألت عن الركعتين بعد العصر وإنه أتاني أناس من عبد القيس، فشغلوني عن الركعتين اللتين بعد الظهر فهما هاتان" (1) .
قال الحافظ ابن حجر رحمه الله تعالى: "وفيه الفحص عن الجمع بين المتعارضين (2) فأم سلمة رضي الله عنها استشكلت ما ظهر لها من خلاف بين قول النبي صلى الله عليه وسلم وفعله، فأثار لديها تساؤلاً، أجاب عنه رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى لا يكون هناك مجال لظن".
فالطالب إذا أشكل عليه أمر فظهر له الخلاف بين القول والفعل أو الفعل والأمر، ينبغي له المسارعة بسؤال المعلم، فإنه بالسؤال يسلم من إرسال الظن السيئ بتعارض الأفعال والأقوال (3) .
--------------------------------------------
ঠিক যেমন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে শিক্ষা দিতেন যার কাছে কোনো বিষয় অস্পষ্ট মনে হতো এবং যার মনে প্রশ্নের উদয় হতো। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উম্মে সালামাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-কে শিক্ষা দিয়েছিলেন যখন আসরের পর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সালাত আদায় করাটা তাঁর কাছে অস্পষ্ট লেগেছিল, কারণ এটি বাহ্যিকভাবে তাঁরই (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিষেধাজ্ঞার সাথে সাংঘর্ষিক মনে হচ্ছিল। উম্মে সালামাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এ থেকে (আসরের পর সালাত) নিষেধ করতে শুনেছি, তারপর আমি তাঁকে দেখলাম তিনি আসরের সালাত আদায়ের পর তা পড়ছেন। এরপর তিনি আমার ঘরে প্রবেশ করলেন, তখন আমার কাছে আনসারদের বনু হারামের কিছু মহিলা বসা ছিলেন। তখন আমি তাঁর কাছে এক দাসীকে পাঠালাম এবং বললাম: তুমি তাঁর পাশে দাঁড়াও এবং তাঁকে বলো: "উম্মে সালামাহ আপনাকে বলছেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমি আপনাকে এই দুই রাকাত পড়তে নিষেধ করতে শুনেছি, অথচ এখন আপনাকে তা পড়তে দেখছি।" যদি তিনি তাঁর হাত দিয়ে ইশারা করেন, তবে তুমি অপেক্ষা করে তাঁর থেকে পিছিয়ে থেকো।
দাসীটি তাই করল, তিনি তাঁর হাত দিয়ে ইশারা করলেন, ফলে সে তাঁর থেকে পিছিয়ে গেল। যখন তিনি সালাত শেষ করলেন, তিনি বললেন: "হে উমাইয়্যার কন্যা! তুমি আসরের পরের দুই রাকাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছ। প্রকৃতপক্ষে আমার কাছে আব্দুল কাইস গোত্রের কিছু লোক এসেছিল, তারা আমাকে যোহরের পরের দুই রাকাত (সুন্নত) থেকে ব্যস্ত করে রেখেছিল, এই দুই রাকাত হলো সেই দুই রাকাত।" (১)।
হাফেজ ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) বলেন: "এর মধ্যে দুটি পরস্পরবিরোধী বিষয়ের মধ্যে সমন্বয় সাধনের অনুসন্ধানের অবকাশ রয়েছে। (২) উম্মে সালামাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহা) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কথা ও কাজের মধ্যে যে বাহ্যিক বৈপরীত্য তাঁর কাছে প্রকাশ পেয়েছিল তা নিয়ে সংশয়ে পড়েছিলেন, যা তাঁর মনে প্রশ্নের উদ্রেক করেছিল। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর উত্তর দিয়েছিলেন যাতে সেখানে কোনো প্রকার সংশয় বা ভুল ধারণার অবকাশ না থাকে।"
অতএব, শিক্ষার্থীর কাছে যখন কোনো বিষয় অস্পষ্ট মনে হয় এবং তার কাছে কথা ও কাজের মধ্যে অথবা কাজ ও আদেশের মধ্যে বৈপরীত্য প্রকাশ পায়, তখন তার উচিত দ্রুত শিক্ষককে জিজ্ঞাসা করা। কারণ জিজ্ঞাসার মাধ্যমে সে কথা ও কাজের পরস্পরবিরোধিতা নিয়ে কুধারণা পোষণ করা থেকে রক্ষা পায় (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহাম্মিয়্যাতু দিরাসাতাস সিরাতিন নাবাবিয়্যাতি লিল মুয়াল্লিমিন
(পৃষ্ঠা: ১২)
كما كان صلى الله عليه وسلم حريصاً على تعليم من جهل منهن أمراً من أمور الدين والرفق بهن، وعدم مؤاخذتهن. ومن ذلك ما ورد عن أنس بن مالك رضي الله عنه قال: مر النبي صلى الله عليه وسلم بامرأة تبكي عند قبر فقال: "اتقي الله واصبري".
قالت: "إليك عني فإنك لم تصب بمصيبتي، ولم تعرفه". فقيل لها: إنه النبي صلى الله عليه وسلم. فأتت النبي صلى الله عليه وسلم فلم تجد عنده بوابين. فقالت: لم أعرفك.
فقال: "إنما الصبر عند الصدمة الأولى " (1) .
قال العلامة العيني رحمه الله: "فيه ما كان عليه الصلاة والسلام من التواضع والرفق بالجاهل، وترك مؤاخذة المصاب، وقبول اعتذاره" (2) . وكان لتعامل رسول الله صلى الله عليه وسلم باللطف مع المرأة الأثر الكبير في نفسها. فهذا التعامل بالرفق واللين مع المرأة ولَّد لديها محبةً لرسول الله صلى الله عليه وسلم ومهابة. ومما يؤيد ذلك ما رواه أنس بن مالك رضي الله عنه قال: فلما ذهب النبي صلى الله عليه وسلم قيل لها: "إنه رسول الله، فأخذها مثل الموت. فأتت بابه
… الحديث" (3) .
قال الحافظ ابن حجر رحمه الله في شرح قول أنس بن مالك رضي الله عنه "فأخذها مثل الموت" أي: من شدة الكرب الذي أصابها لما عرفت أنه صلى الله عليه وسلم؛ خجلاً منه ومهابة (4) .
فحسن تعامل المعلم مع طلابه والرفق بهم، والأخذ بأيديهم يُوَلِّد لديهم
--------------------------------------------
তেমনিভাবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের মধ্য থেকে যারা দ্বীনের কোনো বিষয়ে অজ্ঞ ছিল তাদের শিক্ষা দেওয়ার ব্যাপারে এবং তাদের প্রতি কোমলতা প্রদর্শন ও তাদের পাকড়াও না করার ব্যাপারে অত্যন্ত যত্নশীল ছিলেন। এর একটি উদাহরণ আনাস ইবনে মালেক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জনৈক মহিলার কাছ দিয়ে যাচ্ছিলেন যে একটি কবরের পাশে বসে কাঁদছিল। তিনি বললেন: "আল্লাহকে ভয় করো এবং ধৈর্য ধারণ করো।"
সে বলল: "আপনি আমার কাছ থেকে সরে যান, কারণ আপনি আমার মতো বিপদে পড়েননি এবং আপনি তাকে চেনেন না।" তাকে বলা হলো যে, তিনি ছিলেন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। তখন সে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে আসলো এবং সেখানে কোনো দারোয়ান পেল না। সে বলল: "আমি আপনাকে চিনতে পারিনি।"
তিনি বললেন: "প্রকৃত ধৈর্য হলো বিপদের প্রথম আঘাতেই (ধৈর্য ধারণ করা)।" (১)।
আল্লামা আইনী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "এর মধ্যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বিনয়, অজ্ঞ ব্যক্তির প্রতি কোমলতা, বিপদগ্রস্ত ব্যক্তিকে পাকড়াও না করা এবং তার ওজর কবুল করার শিক্ষা রয়েছে" (২)। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সেই মহিলার সাথে সদয় আচরণের তার ওপর এক বিশাল প্রভাব পড়েছিল। মহিলার প্রতি এই কোমল ও নরম আচরণ তার অন্তরে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধাবোধ তৈরি করেছিল। এর সমর্থনে আনাস ইবনে মালেক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদীসটি উল্লেখযোগ্য, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন চলে গেলেন, তখন তাকে বলা হলো: "তিনি ছিলেন আল্লাহর রাসূল।" তখন সে মৃত্যুসম যন্ত্রণায় (লজ্জায় ও ভয়ে) আক্রান্ত হলো। এরপর সে তাঁর দরজায় আসলো
… হাদীসের অবশিষ্টাংশ (৩)।
হাফেজ ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) আনাস ইবনে মালেক (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর উক্তি "সে মৃত্যুসম যন্ত্রণায় আক্রান্ত হলো"-এর ব্যাখ্যায় বলেন, অর্থাৎ: সে যখন জানতে পারল যে তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), তখন লজ্জায় এবং তাঁর প্রতি শ্রদ্ধাবোধের কারণে তার ওপর তীব্র মানসিক কষ্ট ছেয়ে গিয়েছিল (৪)।
সুতরাং ছাত্রদের সাথে শিক্ষকের উত্তম আচরণ, তাদের প্রতি কোমলতা এবং তাদের হাত ধরে সঠিক পথে চালিত করা তাদের মাঝে তৈরি করে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহাম্মিয়্যাতু দিরাসাতাস সিরাতিন নাবাবিয়্যাতি লিল মুয়াল্লিমিন
(পৃষ্ঠা: ১৩)
محبة المعلم ومهابته، وحسن الاستماع إلى ما يأمر به. وهذا هو المطلوب في العملية التعليمية.
শিক্ষকের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা এবং তিনি যা নির্দেশ দেন তা মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করা। আর এটিই শিক্ষাদান প্রক্রিয়ায় কাঙ্ক্ষিত বিষয়।
(খণ্ড: ১)
আহাম্মিয়্যাতু দিরাসাতাস সিরাতিন নাবাবিয়্যাতি লিল মুয়াল্লিমিন
(পৃষ্ঠা: ১৩)
ثالثاً: اهتمامه صلى الله عليه وسلم بتعليم الصغار.
كان رسول الله صلى الله عليه وسلم نعم المعلم لأصحابه متصفاً بصفات الكمال، ومن كمال منهجه التربوي اهتمامه بتربية الصغار وتعليمهم، وصبره عليهم وأخذه بأيديهم، حيث كان صلى الله عليه وسلم يحرص أن يكون معلماً ومؤدباً لهم ليتحقق صلاحهم حينما يكبرون.
من اهتمامه صلى الله عليه وسلم بالصغار ما ورد من توجيهه التدريجي في الصلاة حيث قال: "مروا أولادكم بالصلاة وهم أبناء سبع سنين، واضربوهم عليها وهم أبناء عشر، وفَرِّقوا بينهم في المضاجع" (1) . فبيَّن صلى الله عليه وسلم أن الصلاة هي الأساس، وأمر بحثِّ الأبناء على إقامتها على الوجه المطلوب وإن في ذلك سعادتهم في الدنيا والآخرة.
قال الإمام ابن قدامة رحمه الله: "قال القاضي: يجب على ولي الصبي أن يعلمه الطهارة والصلاة إذا بلغ سبع سنين، ويأمره بها، ويؤدبه عليها إذا بلغ عشر سنين" (2) .
لذا ينبغي للمربي أن يأمر الأطفال بالطاعات قبل بلوغهم سن الرشد؛ كي يستأنسوا لها ويعتادوها؛ فالطفل أسلس قياداً، وأسرع مؤاتاة، ولم تغلب عليه عادة تمنعه من اتباع ما يراد منه، ولا له عزيمة تصرفه عما يؤمر به (3) .
--------------------------------------------
তৃতীয়ত: শিশুদের শিক্ষার প্রতি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) গুরুত্বারোপ.
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের জন্য এক অনন্য শিক্ষক ছিলেন এবং তিনি সকল পূর্ণাঙ্গ গুণাবলীতে ভূষিত ছিলেন। তাঁর শিক্ষা পদ্ধতির পূর্ণতার একটি দিক ছিল শিশুদের লালন-পালন ও শিক্ষার প্রতি তাঁর বিশেষ গুরুত্বারোপ, তাদের প্রতি তাঁর ধৈর্য ধারণ এবং তাদের হাত ধরে সঠিক পথে চালিত করা। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সর্বদা তাদের জন্য একজন শিক্ষক ও শিষ্টাচার প্রদানকারী হওয়ার ব্যাপারে সচেষ্ট ছিলেন, যাতে তারা বড় হওয়ার পর তাদের সংশোধন ও চারিত্রিক উৎকর্ষ নিশ্চিত হয়।
শিশুদের প্রতি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) গুরুত্বারোপের অন্যতম প্রমাণ হলো সালাতের ব্যাপারে তাঁর পর্যায়ক্রমিক দিকনির্দেশনা, যেখানে তিনি বলেছেন: "তোমাদের সন্তানদের সাত বছর বয়সে সালাতের আদেশ দাও, দশ বছর বয়সে পৌঁছালে তার জন্য তাদের প্রহার করো এবং তাদের শোয়ার বিছানা পৃথক করে দাও" (১)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্পষ্ট করেছেন যে, সালাত হলো মূল ভিত্তি এবং সন্তানদের যথাযথভাবে তা আদায়ের জন্য উদ্বুদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন; কেননা এতেই নিহিত রয়েছে তাদের দুনিয়া ও আখিরাতের সৌভাগ্য।
ইমাম ইবনে কুদামা রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন: "আল-কাদি বলেছেন: শিশুর অভিভাবকের ওপর আবশ্যক হলো তাকে পবিত্রতা ও সালাত শিক্ষা দেওয়া যখন সে সাত বছর বয়সে উপনীত হবে, তাকে এর নির্দেশ দেওয়া এবং দশ বছর বয়সে পৌঁছালে এর জন্য তাকে শাসন করা" (২)।
অতএব, শিক্ষকের উচিত শিশুদের প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগেই ইবাদত-বন্দেগির নির্দেশ দেওয়া; যাতে তারা এর সাথে পরিচিত ও অভ্যস্ত হয়ে যায়। কেননা শিশু খুব সহজেই অনুগত হয় এবং দ্রুত সাড়া দেয়; তার ওপর এমন কোনো অভ্যাস জয়ী হয়ে যায় না যা তাকে উদ্দিষ্ট বিষয়ের অনুসরণ থেকে বিরত রাখে, আর তাকে যা নির্দেশ দেওয়া হয় তা থেকে সরিয়ে দেওয়ার মতো কোনো দৃঢ় সংকল্পও তার থাকে না (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহাম্মিয়্যাতু দিরাসাতাস সিরাতিন নাবাবিয়্যাতি লিল মুয়াল্লিমিন
(পৃষ্ঠা: ১৪)
فإذا اعتادوا هذه الطاعات سهل عليهم القيام بها إذا ما كبروا. قال الشيخ محمد السفاريني الحنبلي: "ويجب عليه أيضاً أن يعلمه ما يجب عليه علمه، أويقيم له مَنْ يعلمه ذلك" (1) .
كما كان صلى الله عليه وسلم حريصاً على تعليمهم بعض مهارات الحياة التي تفيدهم في دنياهم فعن أبي سعيد رضي الله عنه: "أن النبي صلى الله عليه وسلم مر بغلام وهو يسلخ شاة فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم: "تنح حتى أريك" فأدخل يده بين الجلد واللحم، فدحس بها حتى توارت إلى الإبط، ثم مضى، فصلى للناس، ولم يتوضأ" (2) .
والرسول صلى الله عليه وسلم عطوف ورحيم في تعليمه للصغار معالجاً لأخطائهم بدون قسوة ولا تعنيف. ومن ذلك حينما جمعت لدى الرسول صلى الله عليه وسلم الزكاة فأكل منها الحسن رضي الله عنه، فوجَّهه الرسول صلى الله عليه وسلم بلطف، بأنه لا ينبغي له الأكل من الزكاة؛ وذلك لما ورد في صحيح البخاري عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: أخذ الحسن بن علي رضي الله عنهما تمرة من تمر الصدقة، فجعلها في فيه، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: "كخ كخ" ليطرحها ثم قال: "أما شعرتَ أنَّا لا نأكل الصدقة" (3) .
قال الحافظ ابن حجر: كلمة كخٍ كخٍ كلمة زجر للصبي عما يريد فِعْله (4) .
--------------------------------------------
সুতরাং তারা যখন এই ইবাদতগুলোতে অভ্যস্ত হয়ে যাবে, তখন তারা বড় হলে তা পালন করা তাদের জন্য সহজ হবে। শেখ মুহাম্মাদ আস-সাফারিনি আল-হাম্বালি বলেন: "তার (অভিভাবকের) উপর এটিও ওয়াজিব যে, সে তাকে (সন্তানকে) তা শিক্ষা দেবে যা জানা তার জন্য আবশ্যক, অথবা তার জন্য এমন কাউকে নিযুক্ত করবে যে তাকে তা শিক্ষা দেবে।" (১)।
তেমনিভাবে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের জীবনের এমন কিছু দক্ষতা শেখানোর ব্যাপারেও আগ্রহী ছিলেন যা তাদের পার্থিব জীবনে উপকারে আসে। আবু সাঈদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একটি বালকের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যে একটি বকরির চামড়া ছাড়াচ্ছিল। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে বললেন: 'একটু সরো, আমি তোমাকে দেখিয়ে দেই।' এরপর তিনি চামড়া ও গোশতের মাঝখানে হাত ঢুকিয়ে দিলেন এবং তা এমনভাবে চালনা করলেন যে বগল পর্যন্ত পৌঁছে গেল। এরপর তিনি চলে গেলেন এবং লোকেদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন, কিন্তু নতুন করে অজু করেননি।" (২)।
আর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছোটদের শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত দয়ালু ও মেহেরবান ছিলেন এবং তাদের ভুলগুলো কঠোরতা বা তিরস্কার ছাড়াই সংশোধন করতেন। এর একটি উদাহরণ হলো—যখন আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিকট জাকাত জমা করা হলো, তখন হাসান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) সেখান থেকে কিছু খেয়ে ফেললেন। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে নম্রভাবে নির্দেশনা দিলেন যে, জাকাত খাওয়া তার জন্য সমীচীন নয়। এটি সহিহ বুখারিতে আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: হাসান ইবনে আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) সদকার খেজুর থেকে একটি খেজুর নিয়ে মুখে দিলেন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "কখ কখ" (ছি ছি বা ফেলে দাও), যাতে তিনি সেটি ফেলে দেন। এরপর তিনি বললেন: "তুমি কি জানো না যে আমরা সদকা খাই না?" (৩)।
হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: "কখ কখ" শব্দটি কোনো বালককে তার অভিপ্রেত কাজ থেকে বিরত রাখার জন্য একটি ধমকসূচক শব্দ। (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহাম্মিয়্যাতু দিরাসাতাস সিরাতিন নাবাবিয়্যাতি লিল মুয়াল্লিমিন
(পৃষ্ঠা: ১৫)
لذا يجب على الأولياء إبعاد أطفالهم عن المحرمات، ومنعهم من تعاطيها، ومعاتبتهم عليها، فرسول الله صلى الله عليه وسلم أمر الحسن بطرح التمرة ورميها مِنْ فيه مع أنه طفل لا تلزمه الفرائض، ولم تَجْرِ عليه الأقلام.
قال الإمام النووي رحمه الله: "وفي الحديث أن الصبيان يُحَذّرون مما يحذر منه الكبار، وهذا واجب على الولي" (1) .
ولا ينسى رسول الله صلى الله عليه وسلم أن يقرن توجيهه للصغار بالقول حينما يكون ذلك كافياً في التوجيه والتعلم. ومن ذلك حينما رأى الرسول صلى الله عليه وسلم عمر بن أبي سلمة وهو لا يحسن الأكل من الإناء، فوجَّهه توجيهاً لطيفاً إلى آداب الأكل. فعن عمر بن أبي سلمة رضي الله عنهما يقول: "كنت في حجر رسول الله صلى الله عليه وسلم وكانت يدي تطيش في الصحفة (2) فقال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم: "يا غلام، سَمِّ الله وكل بيمينك وكُلْ مما يليك" فما زالت طعمتي بعد (3) (4) .
فرسول الله صلى الله عليه وسلم علَّم عمر بن أبي سلمة رضي الله عنه آداب الأكل بالرغم من صغر سنه. ومما يدل على ذلك مخاطبة رسول الله صلى الله عليه وسلم له بقوله: "يا غلام"، والغلام - كما بيَّن العلماء - هو الصبي من حين يولد إلى أن يبلغ الحلم (5) .
--------------------------------------------
তাই অভিভাবকদের উচিত তাদের সন্তানদের হারাম বিষয় থেকে দূরে রাখা, সেগুলোর ব্যবহার থেকে তাদের বিরত রাখা এবং এ বিষয়ে তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা। কেননা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হাসানকে তার মুখ থেকে খেজুরটি বের করে ফেলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন, যদিও তিনি একজন শিশু ছিলেন যার ওপর শরিয়তের বিধানাবলী আবশ্যক হয়নি এবং যার আমলনামায় কলম চলেনি।
ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: "এই হাদিস থেকে প্রমাণিত হয় যে, বড়দের জন্য যা নিষিদ্ধ, শিশুদেরও তা থেকে সতর্ক করতে হবে এবং এটি অভিভাবকের ওপর ওয়াজিব" (১)।
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছোটদের নির্দেশনা দেওয়ার ক্ষেত্রে কথা ও উপদেশের সমন্বয় করতে ভুলতেন না, যখন তা সঠিক দিকনির্দেশনা ও শিক্ষা প্রদানের জন্য পর্যাপ্ত হতো। এরই উদাহরণ হলো যখন রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওমর ইবনে আবি সালামাহকে দেখলেন যে তিনি পাত্র থেকে খাওয়ার সময় সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করছেন না, তখন তিনি তাকে খাওয়ার আদব সম্পর্কে অত্যন্ত কোমলভাবে নির্দেশনা প্রদান করলেন। ওমর ইবনে আবি সালামাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমি আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তত্ত্বাবধানে ছিলাম এবং খাওয়ার সময় পাত্রের চারপাশে আমার হাত ঘোরাঘুরি করছিল (২), তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে বললেন: 'হে বৎস, আল্লাহর নাম নাও, তোমার ডান হাত দিয়ে খাও এবং তোমার নিকটবর্তী অংশ থেকে খাও।' এরপর থেকে আমার খাওয়ার পদ্ধতি এটাই ছিল" (৩) (৪)।
সুতরাং আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওমর ইবনে আবি সালামাহকে (রাদিয়াল্লাহু আনহু) অল্প বয়স হওয়া সত্ত্বেও খাওয়ার আদব শিক্ষা দিয়েছিলেন। এর প্রমাণ হলো আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে 'হে বৎস' বলে সম্বোধন করা। আর 'গুলাম' (বালক) - যেমনটি ওলামায়ে কেরাম ব্যাখ্যা করেছেন - বলা হয় জন্মলগ্ন থেকে বয়ঃসন্ধি পর্যন্ত সময়ের শিশুকে (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহাম্মিয়্যাতু দিরাসাতাস সিরাতিন নাবাবিয়্যাতি লিল মুয়াল্লিমিন
(পৃষ্ঠা: ১৬)
فعلى الأولياء والمعلمين الحرص على تعليم الأطفال ما ينفعهم في دينهم ودنياهم، على أن يكون التعليم بالرفق واللين، حتى يتقبل الطفل من وليه، ويكون له الأثر العظيم في مستقبل حياته.
كما كان في تعليم رسول الله صلى الله عليه وسلم لعمر بن أبي سلمة الأثر العظيم حيث قال رضي الله عنه: "فما زالت تلك طعمتي بعد أي: لزمت ذلك وصار عادة لي" (1) .
ومن اهتمامه صلى الله عليه وسلم بتعليم الصغار: أنه صلى الله عليه وسلم عندما سمع من البنت الأنصارية الصغيرة قولاً مخالفاً للشرع، بأن نَسَبت إليه أنه يعلم ما في الغد علَّمها ما ينبغي لها قوله، ومنعها من إعادة كلامها. فقد روت الربيع بنت معوذ بن عفراء رضي الله عنها: جاء النبي صلى الله عليه وسلم يدخل حين بُني عليّ (2) فجلس على فراشي كمجلسك (3) مني، فجعلت جويريات (4) لنا يضربن بالدف (5) ويندبن (6) من قُتل من آبائي يوم بدر، إذ قالت إحداهن: "وفينا نبيّ يعلم ما في غد".
قال: "دعي هذه، وقولي بالذي كنت تقولين" (7) .
--------------------------------------------
সুতরাং অভিভাবক ও শিক্ষকদের উচিত শিশুদেরকে এমন বিষয় শিক্ষা দেওয়ার ব্যাপারে যত্নবান হওয়া যা তাদের দ্বীন ও দুনিয়ায় উপকারে আসবে; তবে এই শিক্ষা হতে হবে কোমলতা ও নম্রতার সাথে, যাতে শিশু তার অভিভাবকের নিকট থেকে তা গ্রহণ করে নেয় এবং এর ফলে তার ভবিষ্যৎ জীবনে এক বিশাল প্রভাব পড়ে।
যেমনভাবে উমর ইবনে আবি সালামাহ-কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শিক্ষা প্রদানের ক্ষেত্রে বিশাল প্রভাব পরিলক্ষিত হয়েছিল, যেখানে তিনি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: "এরপর থেকে সর্বদা এটাই ছিল আমার আহারের পদ্ধতি; অর্থাৎ: আমি তা আঁকড়ে ধরেছিলাম এবং তা আমার অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল" (১)।
ছোটদের শিক্ষার ব্যাপারে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের গুরুত্ব প্রদানের অন্যতম দৃষ্টান্ত হলো: যখন তিনি জনৈক ছোট আনসারি বালিকার মুখে শরীয়ত বিরোধী কথা শুনলেন, যেখানে সে তাঁর প্রতি আগামীকাল কী ঘটবে তা জানার বিষয়টিকে সম্পৃক্ত করেছিল, তখন তিনি তাকে যা বলা উচিত তা শিখিয়ে দিলেন এবং তাকে সেই কথার পুনরাবৃত্তি করতে নিষেধ করলেন। রুবাই বিনতে মুয়াউওয়িয বিন আফরা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বর্ণনা করেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার বাসর রাতে আমার ঘরে আসলেন (২) এবং আমার বিছানায় বসলেন যেভাবে তুমি আমার সামনে বসেছো (৩), তখন আমাদের ছোট ছোট বালিকারা (৪) দফ (৫) বাজাতে শুরু করল এবং বদর যুদ্ধে শহীদ হওয়া আমার পিতৃপুরুষদের গুণগান গেয়ে শোকগাথা পাঠ করতে লাগল (৬), এমন সময় তাদের একজন বলে উঠল: "আমাদের মাঝে এমন এক নবী আছেন যিনি আগামীকাল কী হবে তা জানেন।"
তিনি বললেন: "এই কথাটি ছাড়ো এবং আগে যা বলছিলে তাই বলো" (৭)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহাম্মিয়্যাতু দিরাসাতাস সিরাতিন নাবাবিয়্যাতি লিল মুয়াল্লিমিন
(পৃষ্ঠা: ১৭)
قال الحافظ ابن حجر رحمه الله تعالى: "إنما أنكر عليها ما ذُكر من الإطراء حيث أُطلق علم الغيب له، وهو صفة تختص بالله تعالى كما قال: {قُلْ لا يَعْلَمُ مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ الْغَيْبَ إِلَّا اللَّهُ} [النمل:65] .
فعلى المعلمين والأولياء الحرص على تعليم الصغار الكلمات الصحيحة التي لا تتنافى مع التوحيد ولا تتعارض مع احترام الرسول صلى الله عليه وسلم، وأن يمنعوهم إذا سمعوا منهم كلمات تخالف الشرع، مِنْ حلفٍ بغير الله، أو سب أو شتم أو غيبة أو نميمة أو تنابز بالألقاب (1) .
--------------------------------------------
হাফেজ ইবনু হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "তিনি তার সেই অতিরঞ্জিত প্রশংসাটিই প্রত্যাখ্যান করেছেন যেখানে তার (রাসূলুল্লাহর) জন্য অদৃশ্যের জ্ঞানের বিষয়কে নিঃশর্তভাবে বলা হয়েছিল। অথচ এটি এমন একটি গুণ যা কেবল মহান আল্লাহর জন্যই নির্দিষ্ট, যেমনটি তিনি বলেছেন: 'বলুন, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে আল্লাহ ব্যতীত কেউই অদৃশ্যের বিষয় জানে না' [আন-নামল: ৬৫]।"
সুতরাং শিক্ষক ও অভিভাবকদের কর্তব্য হলো শিশুদের এমন সঠিক শব্দাবলি শেখানোর প্রতি যত্নবান হওয়া, যা তাওহীদের সাথে সাংঘর্ষিক নয় এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি সম্মানের পরিপন্থী নয়। আর তারা যখন তাদের থেকে শরীয়ত বিরোধী কোনো কথা শুনবে, তখন যেন তাদের বারণ করে; যেমন—আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে শপথ করা, গালি দেওয়া, মন্দ বলা, গীবত করা, চোগলখুরি করা অথবা মন্দ উপাধিতে ডাকা (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহাম্মিয়্যাতু দিরাসাতাস সিরাতিন নাবাবিয়্যাতি লিল মুয়াল্লিমিন
(পৃষ্ঠা: ১৭)
المسألة الثانية: موضوعات التعليم في سيرة المصطفى صلى الله عليه وسلم
أولا: العقيدة…المسألة الثانية: موضوعات التعليم في سيرة المصطفى صلى الله عليه وسلم
بينت في المسألة السابقة اهتمام الرسول صلى الله عليه وسلم بالتعليم. وهنا أتحدث عن الموضوعات التى كان يوليها الرسول صلى الله عليه وسلم اهتماماً بارزاً في تعليمه للناس والتي يمكن الحديث عنها في الفقرات التالية:
أولاً: العقيدة:
إن الإيمان بالله سبحانه وتعالى وطاعته وابتغاء مرضاته هو الهدف من خلق الإنسان. وفي حديث جبريل الطويل عندما أرسله الله سبحانه وتعالى ليعلم نبيه صلى الله عليه وسلم الأولويات في التعليم بدأ بالعقيدة ثم العبادات ثم المعاملات، ففي الصحيحين من حديث أبي هريرة رضي الله عنه، قال:" كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يوماً بارزاً للناس فأتاه رجل فقال: يا رسول الله ما الإيمان؟ قال: "أن تؤمن بالله وملائكته، وكتابه، ولقائه، ورسله، وتؤمن بالبعث الآخر.." قال: يا رسول الله، ما الإسلام؟ قال: "الإسلام أن تعبد الله ولا تشرك به شيئاً، وتقيم
দ্বিতীয় বিষয়: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সীরাতে শিক্ষার বিষয়বস্তুসমূহপ্রথমত: আকীদা…দ্বিতীয় বিষয়: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সীরাতে শিক্ষার বিষয়বস্তুসমূহ
পূর্ববর্তী বিষয়ে আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শিক্ষার প্রতি গুরুত্বারোপের বিষয়টি বর্ণনা করেছি। এখানে আমি সেই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করছি যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানুষকে শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষভাবে গুরুত্ব প্রদান করতেন এবং যা নিম্নোক্ত অনুচ্ছেদগুলোতে আলোচনা করা যেতে পারে:
প্রথমত: আকীদা:
নিশ্চয়ই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার প্রতি ঈমান আনা, তাঁর আনুগত্য করা এবং তাঁর সন্তুষ্টি অন্বেষণ করাই হলো মানুষ সৃষ্টির মূল লক্ষ্য। জিবরীল আলাইহিস সালাম-এর দীর্ঘ হাদীসে, যখন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁকে তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে শিক্ষার অগ্রাধিকারসমূহ শেখানোর জন্য পাঠিয়েছিলেন, তখন তিনি আকীদা দিয়ে শুরু করেছিলেন, এরপর ইবাদত এবং তারপর মুআমালাত (লেনদেন)। সহীহাইন-এ আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদীসে রয়েছে, তিনি বলেন: "একদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানুষের সামনে প্রকাশ্যভাবে উপবিষ্ট ছিলেন, তখন তাঁর নিকট এক ব্যক্তি এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসুল, ঈমান কী? তিনি বললেন: "তা হলো তুমি ঈমান আনবে আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাগণের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি, তাঁর সাথে সাক্ষাতের প্রতি, তাঁর রাসুলগণের প্রতি এবং তুমি শেষ পুনরুত্থানের প্রতি ঈমান আনবে..."। তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসুল, ইসলাম কী? তিনি বললেন: "ইসলাম হলো তুমি আল্লাহর ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কোনো কিছু শরীক করবে না, আর তুমি সালাত কায়েম করবে..."
(খণ্ড: ১)
আহাম্মিয়্যাতু দিরাসাতাস সিরাতিন নাবাবিয়্যাতি লিল মুয়াল্লিমিন
(পৃষ্ঠা: ১৮)
الصلاة المكتوبة، وتؤدِّي الزكاة المفروضة، وتصوم رمضان". قال: يا رسول الله! ما الإحسان؟ قال: "أن تعبد الله كأنك تراه، فإنك إن لا تراه، فإنه يراك". قال: يا رسول الله متى الساعة؟ قال: "ما المسؤول عنها بأعلم من السائل، لكن سأحدثك عن أشراطها: إذا ولدت الأَمَةُ ربها، فذاك من أشراطها، وإذا كانت العراة الحفاة رؤوس الناس فذاك من أشراطها، وإذا تطاول رعاء البهم في البنيان فذاك من أشراطها، في خمس لا يعلمهن إلا الله"، ثم تلا صلى الله عليه وسلم {إِنَّ اللَّهَ عِنْدَهُ عِلْمُ السَّاعَةِ وَيُنَزِّلُ الْغَيْثَ وَيَعْلَمُ مَا فِي الْأَرْحَامِ وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ مَاذَا تَكْسِبُ غَداً وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ بِأَيِّ أَرْضٍ تَمُوتُ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ} [لقمان: 34] .
قال: ثم أدبر الرجل، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "ردوا عليّ الرجل" فأخذوا ليردوه، فلم يروا شيئاً، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "هذا جبريل جاء ليعلم الناس دينهم" (1) .
فالإيمان فَسَّره النبي صلى الله عليه وسلم في هذا الحديث بالاعتقادات الباطنة، فقال أن تؤمن بالله، وملائكته، وكتبه، ورسله، والبعث بعد الموت، وتؤمن بالقدر خيره وشره" (2) .
ورسول الله صلى الله عليه وسلم سلك هذا المنهج في تعليمه للبشرية فبدأ بالعقيدة وقَدَّمها على سائر الموضوعات الأخرى، فتناول أصول الإيمان بالله تعالى وملائكته
--------------------------------------------
"নির্ধারিত সালাত আদায় করা, ফরজ জাকাত প্রদান করা এবং রমজানের সিয়াম পালন করা।" তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! ইহসান কী? তিনি বললেন: "তুমি আল্লাহর ইবাদত এমনভাবে করবে যেন তুমি তাঁকে দেখছ, আর যদি তুমি তাঁকে দেখতে না পাও, তবে নিশ্চয়ই তিনি তোমাকে দেখছেন।" তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসুল, কিয়ামত কখন হবে? তিনি বললেন: "এ বিষয়ে যাকে জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে তিনি জিজ্ঞাসাকারীর চেয়ে বেশি জানেন না, তবে আমি তোমাকে এর আলামতসমূহ সম্পর্কে বলব: যখন দাসী তার মনিবকে জন্ম দেবে, তখন তা এর আলামতসমূহের অন্তর্ভুক্ত, যখন উলঙ্গ ও নগ্নপদ ব্যক্তিরা মানুষের নেতা হবে, তখন তা এর আলামতসমূহের অন্তর্ভুক্ত, আর যখন মেষপালকরা সুউচ্চ অট্টালিকা নির্মাণে প্রতিযোগিতা করবে, তখন তা এর আলামতসমূহের অন্তর্ভুক্ত; এটি সেই পাঁচটি বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত যা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেন না।" অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তিলাওয়াত করলেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট কিয়ামতের জ্ঞান রয়েছে, তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং তিনিই জানেন জরায়ুতে যা আছে। আর কোনো প্রাণীই জানে না কাল সে কী অর্জন করবে এবং কোনো প্রাণীই জানে না কোন ভূমিতে তার মৃত্যু হবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সম্যক অবহিত।} [লুকমান: ৩৪] ।
বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর লোকটি চলে গেল। তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "লোকটিকে আমার কাছে ফিরিয়ে আনো।" তারা তাকে ফিরিয়ে আনতে গেল কিন্তু কাউকে দেখতে পেল না। তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "ইনি ছিলেন জিবরাঈল, তিনি মানুষকে তাদের দ্বীন শেখাতে এসেছিলেন।" (১) ।
সুতরাং এই হাদিসে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঈমানকে অভ্যন্তরীণ বিশ্বাসের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেছেন: "তা হলো—আল্লাহর ওপর, তাঁর ফেরেশতাদের ওপর, তাঁর কিতাবসমূহের ওপর, তাঁর রাসুলদের ওপর, মৃত্যুর পর পুনরুত্থানের ওপর বিশ্বাস করা এবং ভাগ্যের ভালো-মন্দের ওপর বিশ্বাস করা।" (২) ।
আর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মানবজাতিকে শিক্ষা প্রদানের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতিই অনুসরণ করেছেন। তিনি আকিদার মাধ্যমে শুরু করেছেন এবং অন্যান্য সমস্ত বিষয়ের ওপর একে প্রাধান্য দিয়েছেন। ফলে তিনি আল্লাহ তাআলা ও তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি ঈমানের মূলনীতিসমূহ আলোচনা করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহাম্মিয়্যাতু দিরাসাতাস সিরাতিন নাবাবিয়্যাতি লিল মুয়াল্লিমিন
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وكتبه ورسله واليوم الآخر، وما فيه من بعث وحساب وجزاء وجنة ونار، ويقيم على ذلك الحجج والبراهين، حتى يستأصل من نفوس المشركين العقائد الوثنية ويغرس فيها عقيدة الإسلام (1) .
ومن أمثلة ذلك:
ما ورد في صحيح البخاري عن ابن عباس رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لمعاذ بن جبل حين بعثه إلى اليمن: "إنك ستأتي قوماً أهل كتاب، فإذا جئتهم فادْعُهم إلى أن يشهدوا أن لا إله إلا الله وأن محمداً رسول الله" (2) .
قال الحافظ ابن حجر رحمه الله: "المراد بعبادة الله توحيده، وبتوحيده الشهادة له بذلك ولنبيه بالرسالة، ووقعت البداءة بها؛ لأنها أصل الدين الذي لا يصح شيء غيرهما إلا بهما فمن كان منهم غير موحد فالمطالبة متوجهة إليه بكل واحدة من الشهادتين على التعيين، ومن كان مُوَحِّداً فالمطالبة له بالجمع بين الإقرار بالوحدانية والإقرار بالرسالة" (3) .
كما أن من أقر بالشهادتين، واعتقد ذلك جزماً كفاه ذلك في صحة إيمانه، وكونه من أهل القبلة والجنة (4) ومن ذلك ما وَرَدَ في حديث معاوية بن الحكم السلمي، قال: وكانت لي جارية ترعى غنماً لي قبل أحد والجوانيَّة (5) ،
--------------------------------------------
এবং তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসুলগণ এবং শেষ দিবস, এবং তাতে যা কিছু রয়েছে—পুনরুত্থান, হিসাব-নিকাশ, প্রতিদান, জান্নাত ও জাহান্নাম; আর তিনি এগুলোর ওপর প্রমাণ ও দলিলসমূহ প্রতিষ্ঠিত করেন, যাতে মুশরিকদের অন্তর থেকে পৌত্তলিক আকিদাসমূহ নির্মূল করা যায় এবং সেখানে ইসলামের আকিদা রোপণ করা যায় (১)।
আর এর উদাহরণসমূহের মধ্যে রয়েছে:
সহীহ বুখারীতে ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুয়াজ বিন জাবালকে যখন ইয়ামেনে পাঠিয়েছিলেন তখন তাকে বলেছিলেন: "নিশ্চয়ই তুমি এমন এক জাতির কাছে যাচ্ছ যারা আহলে কিতাব। সুতরাং যখন তুমি তাদের কাছে পৌঁছাবে, তখন তাদেরকে এই সাক্ষ্য দেওয়ার দিকে আহ্বান করবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল" (২)।
হাফেজ ইবনে হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: "আল্লাহর ইবাদত দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তাঁর তাওহীদ। আর তাঁর তাওহীদ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তাঁর একত্বের সাক্ষ্য প্রদান এবং তাঁর নবীর রিসালাতের সাক্ষ্য প্রদান। আর এর মাধ্যমেই শুরু করা হয়েছে; কারণ এটিই দ্বীনের মূল ভিত্তি যা ছাড়া অন্য কোনো কিছুই সঠিক হবে না। সুতরাং তাদের মধ্যে যারা মুওয়াহহিদ (একত্ববাদী) ছিল না, তাদের নিকট নির্দিষ্টভাবে প্রতিটি শাহাদাতের দাবি রাখা হয়েছে। আর যারা মুওয়াহহিদ ছিল, তাদের নিকট একত্ববাদের স্বীকৃতির সাথে রিসালাতের স্বীকৃতির সমন্বয়ের দাবি রাখা হয়েছে" (৩)।
তেমনিভাবে যে ব্যক্তি শাহাদাতাইনের স্বীকৃতি দিল এবং দৃঢ়ভাবে তা বিশ্বাস করল, তার ঈমান সঠিক হওয়ার জন্য এবং আহলে কিবলা ও জান্নাতী হওয়ার জন্য সেটুকুই যথেষ্ট (৪)। আর এর অন্তর্ভুক্ত হলো মুয়াবিয়া ইবনুল হাকাম আস-সুলামী বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: আমার একজন দাসী ছিল যে উহুদ পাহাড় ও জাওয়ানিয়্যাহ এর দিকে আমার বকরি চরাত (৫),
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহাম্মিয়্যাতু দিরাসাতাস সিরাতিন নাবাবিয়্যাতি লিল মুয়াল্লিমিন
(পৃষ্ঠা: ২০)
فاطلعت ذات يوم فإذا الذئب قد ذهب بشاة من غنمها، وأنا رجل من بني آدم، آسَفُ كما يأسفون (1) ، لكني صككتها (2) صكةً، فأتيت رسول الله صلى الله عليه وسلم فعظم ذلك علي. قلت: يا رسول الله أفلا أعتقها؟ قال: "ائتني بها" فأتيته بها. فقال لها "أين الله؟ " قالت: في السماء. قال "من أنا؟ " قالت:" أنت رسول الله " قال: "أعتقها فإنها مؤمنة" (3) .
قال النووي رحمه الله تعالى قال: "كان المراد امتحانها هل هي موحدة تقر بأن الخالق المدبر الفعال هو الله وحده؟ " (4) .
فعلى المعلم الابتداء في تعليم طلابه العقيدة الإسلامية الصحيحة مقتدياً في ذلك برسول الله صلى الله عليه وسلم وغرس مفهومها الصحيح في نفوس طلابه، فيربطهم بالخالق عز وجل، حتى يتوجهوا إليه في سائر عباداتهم ودعائهم، ويعلموا يقيناً أنه تعالى هو الرازق الناصر القادر على كل شيء، كما عليه أن يحثهم على أن من حصل له مكروه فعليه التوجه إلى الله تعالى بالدعاء، فإنه سميع مجيب، وليتوكلوا عليه في سائر أمورهم (5) .
--------------------------------------------
একদা আমি লক্ষ্য করলাম যে, একটি নেকড়ে তার পালের একটি বকরি নিয়ে গেছে। আমি তো বনী আদমেরই একজন মানুষ, তারা যেমন দুঃখিত বা রাগান্বিত হয় আমিও তেমনই হই (১), তবে আমি তাকে একটি চড় মারলাম (২)। এরপর আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আসলাম, তখন তিনি আমার এই কাজটিকে অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করলেন। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আমি কি তাকে মুক্ত করে দেব না? তিনি বললেন: "তাকে আমার কাছে নিয়ে এসো।" ফলে আমি তাকে তাঁর কাছে নিয়ে এলাম। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন: "আল্লাহ কোথায়?" সে বলল: আকাশে। তিনি বললেন: "আমি কে?" সে বলল: "আপনি আল্লাহর রাসূল।" তিনি বললেন: "একে মুক্ত করে দাও, কারণ সে একজন মুমিন।" (৩)।
ইমাম নববী রহিমাহুল্লাহ বলেন: "এর উদ্দেশ্য ছিল তাকে পরীক্ষা করা যে, সে কি এমন একজন তাওহীদপন্থী কি না যে স্বীকার করে যে, একমাত্র আল্লাহই হলেন স্রষ্টা, পরিচালক ও সকল কর্মের মূল কর্তা?" (৪)।
অতএব, শিক্ষকের উচিত তার ছাত্রদের সঠিক ইসলামী আকীদা শিক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে পাঠদান শুরু করা, এক্ষেত্রে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ করা এবং ছাত্রদের অন্তরে আকীদার সঠিক ধারণা রোপণ করা। এভাবে তিনি তাদেরকে মহান স্রষ্টার সাথে সম্পৃক্ত করবেন, যাতে তারা তাদের যাবতীয় ইবাদত ও দোয়ায় তাঁর দিকেই মনোনিবেশ করে এবং নিশ্চিতভাবে জানতে পারে যে, মহান আল্লাহই হলেন রিযিকদাতা, সাহায্যকারী ও সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান। তেমনিভাবে শিক্ষকের উচিত তাদেরকে এই বিষয়ে উৎসাহিত করা যে, কেউ কোনো বিপদে পতিত হলে সে যেন দোয়ার মাধ্যমে মহান আল্লাহর দিকেই ধাবিত হয়, কারণ তিনি শ্রবণকারী ও প্রার্থনা কবুলকারী; আর তারা যেন তাদের সকল বিষয়ে তাঁর ওপরই ভরসা করে (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহাম্মিয়্যাতু দিরাসাতাস সিরাতিন নাবাবিয়্যাতি লিল মুয়াল্লিমিন
(পৃষ্ঠা: ২০)
ثانياً: الشريعة:وتعليم الرسول صلى الله عليه وسلم لم يكن مقتصراً على العقيدة بل اتجهت جهوده صلى الله عليه وسلم إلى العبادات التي تعد أمراً أساسياً في الشريعة الإسلامية حتى أوجد منهجاً
দ্বিতীয়ত: শরীয়ত:রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শিক্ষা কেবল আকিদার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তাঁর প্রচেষ্টাসমূহ সেই সকল ইবাদতের প্রতিও নিবদ্ধ ছিল যা ইসলামি শরীয়তে একটি মৌলিক বিষয় হিসেবে বিবেচিত; এমনকি তিনি একটি পূর্ণাঙ্গ পদ্ধতি গড়ে তুলেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আহাম্মিয়্যাতু দিরাসাতাস সিরাতিন নাবাবিয়্যাতি লিল মুয়াল্লিমিন
(পৃষ্ঠা: ২১)
متكاملاً في أمور العبادات العملية بجميع أشكالها من صلاة وزكاة وصوم وحج..إلخ واتخذ في ذلك منهج التدرج في التشريع ليحصل القبول لهذا الدين عند الناس. وذلك بعد أن عمر قلوبهم بالإيمان الخالص لله وحده، فبدأ بتعليمهم كيفية الصلاة المفروضة وحقوقها وأركانها وحدودها، سواء كان ذلك عن طريق سؤال الصحابة رضي الله عنهم له أو من خلال الممارسة العملية.
ومن ذلك أنه صلى الله عليه وسلم كان يُعَلمهم دعاء الاستفتاح في الصلاة. فعن أبي هريرة – رضي الله عنه – قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا كَبَّر في الصلاة سكت هُنيَّةً (1) قبل أن يقرأ، فقلت: يا رسول الله! بأبي أنت وأمي، أرأيت سكوتك بين التكبير والقراءة ما تقول؟ قال: "أقول اللهم باعد بيني وبين خطاياي كما باعدت بين المشرق والمغرب، اللهم نقني من خطاياي كما ينقى الثوب الأبيض من الدنس، اللهم اغسلني من خطاياي بالثلج والماء والبرد" (2) .
قال ابن حجر رحمه الله تعالى: "وقيل قاله على سبيل التعليم لأمته" (3) .
فالمعلم الناجح المشفق على طلابه يُعَلِّمهم أدعية الاستفتاح في الصلاة فإذا اعتادت أنفسهم دعاءً أرشدهم إلى غيره، كما يحثهم على الإلحاح بالدعاء إلى الله أن ينقيهم من الخطايا والذنوب.
--------------------------------------------
সালাত, যাকাত, সাওম এবং হজ ইত্যাদি সকল প্রকার ব্যবহারিক ইবাদতের ক্ষেত্রে তিনি একটি পূর্ণাঙ্গ রূপ দান করেছিলেন এবং মানুষের কাছে এই দ্বীনের গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে তিনি শরিয়ত প্রবর্তনে ধারাবাহিকতার পদ্ধতি অবলম্বন করেছিলেন। এটি ছিল মূলত কেবল আল্লাহর প্রতি খাঁটি ঈমানের মাধ্যমে তাদের অন্তরকে আবাদ করার পর। তাই তিনি তাদের ফরজ সালাতের পদ্ধতি, এর হকসমূহ, রুকনসমূহ এবং সীমারেখা শেখাতে শুরু করেন; সেটি সাহাবায়ে কেরাম (রাদিআল্লাহু আনহুম)-এর তাঁকে জিজ্ঞাসার মাধ্যমে হোক কিংবা ব্যবহারিক অনুশীলনের মাধ্যমে হোক।
এরই অংশ হিসেবে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁদেরকে সালাতের প্রারম্ভিক দুআ শেখাতেন। আবু হুরায়রা (রাদিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন সালাতে তাকবীর দিতেন, তখন কিরাত পাঠের আগে কিছুক্ষণ (১) নীরব থাকতেন। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গ হোক, তাকবীর ও কিরাতের মধ্যবর্তী সময়ে আপনার এই নীরবতা সম্পর্কে বলুন তো যে, আপনি তখন কী বলেন? তিনি বললেন: "আমি বলি: হে আল্লাহ! আমার ও আমার গুনাহসমূহের মধ্যে এমন দূরত্ব সৃষ্টি করে দিন, যেমন দূরত্ব আপনি পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে সৃষ্টি করেছেন। হে আল্লাহ! আমাকে আমার গুনাহসমূহ থেকে এমনভাবে পরিচ্ছন্ন করুন, যেমন সাদা কাপড় ময়লা থেকে পরিচ্ছন্ন করা হয়। হে আল্লাহ! আমার গুনাহসমূহকে বরফ, পানি ও শিলাবৃষ্টি দ্বারা ধুয়ে দিন" (২)।
ইবনে হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: "বলা হয়েছে যে, তিনি এটি তাঁর উম্মতকে শিক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে বলেছিলেন" (৩)।
সুতরাং একজন সফল এবং তাঁর ছাত্রদের প্রতি দয়াপরবশ শিক্ষক তাঁদেরকে সালাতের প্রারম্ভিক দুআসমূহ শেখাবেন; যখন তাঁদের মন একটি দুআয় অভ্যস্ত হয়ে যাবে, তখন তিনি তাঁদের অন্যটির দিকে নির্দেশনা দেবেন। পাশাপাশি তিনি তাঁদের আল্লাহর কাছে এই মর্মে বারবার দুআ করতে উৎসাহিত করবেন যাতে তিনি তাঁদের ভুলত্রুটি ও পাপ থেকে পরিচ্ছন্ন করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহাম্মিয়্যাতু দিরাসাতাস সিরাতিন নাবাবিয়্যাতি লিল মুয়াল্লিমিন
(পৃষ্ঠা: ২২)
كما كان يُعَلِّمهم قراءة الفاتحة آية آية، أي قراءتها ثم قراءة الآية التي بعدها كما ورد عن أبي هريرة – رضي الله عنه – قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "قال الله تعالى: قسمت الصلاة بيني وبين عبد ي نصفين، ولعبد ي ما سأل فإذا قال العبد: الحمد لله رب العالمين، قال الله تعالى: حمدني عبد ي، وإذا قال: الرحمن الرحيم قال الله تعالى: أثنى عليَّ عبد ي، وإذا قال: مالك يوم الدين، قال: مَجَّدني عبد ي (وقال مرة: فَوَّض إليّ عبدي) فإذا قال: إياك نعبد وإياك نستعين: قال: هذا بيني وبين عبد ي ولعبد ي ما سأل. فإذا قال: اهدنا الصراط المستقيم صراط الذين أنعمتَ عليهم غير المغضوب عليهم ولا الضالين، قال: هذا لعبد ي ولعبد ي ما سأل" (1) .
فالمعلم يحث طلابه ويرغبهم أثناء قراءة الفاتحة في السكوت على الآية والتي بعدها لاستحضار رَدٍّ من رب العالمين، مما يزيد المصلي طمأنينة وخشوعاً، كما كان صلى الله عليه وسلم يترك فرصة للصحابة رضي الله عنهم أن يتعلموا ما يُلْقَى إليهم بعد تكراره. ومن ذلك ما ورد عن أبي هريرة رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم دخل المسجد فدخل رجل فصلى ثم جاء فسلم على النبي صلى الله عليه وسلم فرد النبي عليه السلام فقال: ارجع، فصل فإنك لم تصل، فصلى، ثم جاء فسلم على النبي صلى الله عليه وسلم فقال: "ارجع فَصَلِّ فإنك لم تصل ثلاثاً" فقال: والذي بعثك بالحق فما أُحسن غيره، فعلِّمني. قال "إذا قمت إلى الصلاة فكبر، ثم اقرأ ما تيسر معك من القرآن، ثم اركع حتى تطمئن راكعاً، ثم ارفع حتى تعتدل قائماً، ثم اسجد حتى تطمئن ساجداً، ثم ارفع حتى تطمئن جالساً، ثم اسجد
--------------------------------------------
যেমন তিনি তাদের সূরা ফাতিহা আয়াত আয়াত করে পাঠ করা শেখাতেন, অর্থাৎ একটি আয়াত পাঠ করা এবং তারপর তার পরবর্তী আয়াতটি পাঠ করা; যেমনটি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি: "আল্লাহ তাআলা বলেছেন: আমি সালাতকে আমার এবং আমার বান্দার মধ্যে দুই ভাগে ভাগ করেছি, আর আমার বান্দা যা প্রার্থনা করবে তা-ই পাবে। সুতরাং যখন বান্দা বলে: 'সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের রব আল্লাহর জন্য', তখন আল্লাহ তাআলা বলেন: 'আমার বান্দা আমার প্রশংসা করল'। আর যখন সে বলে: 'পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু', তখন আল্লাহ তাআলা বলেন: 'আমার বান্দা আমার গুণগান করল'। আর যখন সে বলে: 'বিচার দিবসের মালিক', তখন তিনি বলেন: 'আমার বান্দা আমার মর্যাদা ঘোষণা করল' (এবং একবার বলেছেন: 'আমার বান্দা তার যাবতীয় বিষয় আমার ওপর সোপর্দ করল')। অতঃপর যখন সে বলে: 'আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি এবং কেবল আপনারই সাহায্য চাই', তখন আল্লাহ বলেন: 'এটি আমার এবং আমার বান্দার মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি, আর আমার বান্দা যা চাইবে তা-ই পাবে'। এরপর যখন সে বলে: 'আমাদেরকে সরল পথ প্রদর্শন করুন; তাদের পথ যাদের আপনি অনুগ্রহ করেছেন, যাদের ওপর আপনার ক্রোধ আপতিত হয়নি এবং যারা পথভ্রষ্টও নয়', তখন আল্লাহ বলেন: 'এটি আমার বান্দার জন্য নির্দিষ্ট, আর আমার বান্দা যা প্রার্থনা করেছে তা সে পাবে'।" (১)।
অতএব শিক্ষক তার ছাত্রদের সূরা ফাতিহা পাঠ করার সময় এক আয়াতের পর অন্য আয়াতে যাওয়ার আগে বিরতি নিতে উৎসাহিত করবেন এবং উদ্বুদ্ধ করবেন যাতে রাব্বুল আলামিনের পক্ষ থেকে আসা উত্তরটির উপস্থিতি মনে মনে অনুভব করা যায়, যা মুসল্লির প্রশান্তি এবং একাগ্রতা বৃদ্ধি করে। যেভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-কে বারবার পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে যা প্রদান করা হতো তা শেখার সুযোগ করে দিতেন। এর উদাহরণ হলো আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মসজিদে প্রবেশ করলেন, তখন এক ব্যক্তি প্রবেশ করে সালাত আদায় করল, এরপর এসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সালাম দিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সালামের উত্তর দিয়ে বললেন: "ফিরে যাও এবং সালাত আদায় করো, কেননা তুমি সালাত আদায় করোনি"। সে পুনরায় সালাত আদায় করে এসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সালাম দিল। তিনি বললেন: "ফিরে যাও এবং সালাত আদায় করো, কেননা তুমি সালাত আদায় করোনি"—এভাবে তিনবার হলো। তখন লোকটি বলল: "যিনি আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন তাঁর কসম! আমি এর চেয়ে উত্তমভাবে সালাত আদায় করতে জানি না, অতএব আমাকে শিখিয়ে দিন"। তিনি বললেন: "যখন তুমি সালাতে দাঁড়াবে তখন তাকবির বলবে, তারপর কুরআন থেকে যা তোমার জন্য সহজ হয় তা পাঠ করবে, তারপর রুকু করবে যতক্ষণ না স্থিরভাবে রুকু সম্পন্ন করো, তারপর মাথা তুলবে যতক্ষণ না সোজা হয়ে দাঁড়াও, তারপর সিজদাহ করবে যতক্ষণ না সিজদাহয় স্থির হও, তারপর মাথা তুলবে যতক্ষণ না স্থিরভাবে বসো, তারপর পুনরায় সিজদাহ করবে..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহাম্মিয়্যাতু দিরাসাতাস সিরাতিন নাবাবিয়্যাতি লিল মুয়াল্লিমিন
(পৃষ্ঠা: ২৩)
حتى تطمئن ساجداً، ثم افعل ذلك في صلاتك كلها" (1) .
قال ابن حجر رحمه الله تعالى: "وفيه حسن التعليم بغير تعنيف" (2) ، وقال النووي رحمه الله: "وإنما لم يعلمه أولاً ليكون أبلغ في تعريفه وتعريف غيره بصفة الصلاة المجزئة" (3) .
وكان صلى الله عليه وسلم يعلم أصحابه رضي الله عنهم بالفعل ليقع التشريع منه؛ لكونه أبلغ من القول، ومن ذلك ما ورد عن أبي هريرة رضي الله عنه – "صلَّى النبي صلى الله عليه وسلم إحدى صلاتي العشي (4) - قال محمد: وأكثر ظني أنها العصر – ركعتين، ثم سلم، ثم قام إلى خشبة في مقدم المسجد فوضع يده عليها، وفيهم أبو بكر وعمر – رضي الله عنهما – فهابا أن يكلماه، وخرج سَرَعَانُ (5) الناس فقالوا: أقصرت الصلاة؟ ورجل يدعوه رسول الله ذا اليدين فقال: أَنَسِيت أم قَصُرَت؟ فقال: "لم أنس، ولم تقصر"، قال: بلى قد نسيت، فصلى ركعتين ثم سلم، ثم كبر فسجد مثل سجوده أو أطول، ثم رفع رأسه، فكبَّر ثم وضع رأسه فكبر، فسجد مثل سجوده أو أطول، ثم رفع رأسه وكبَّر" (6) .
--------------------------------------------
"...যতক্ষণ না আপনি স্থির হয়ে সিজদা করবেন, অতঃপর আপনার সম্পূর্ণ সালাতে অনুরূপ করবেন" (১)।
ইবনে হাজার (রাহিমাহুল্লাহ তাআলা) বলেন: "এতে ধমক না দিয়ে উত্তমভাবে শিক্ষা প্রদানের বিষয়টি রয়েছে" (২), এবং ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: "তিনি তাকে প্রথমে শিক্ষা দেননি যাতে এটি তাকে এবং অন্যদের সালাত আদায়ের সঠিক পদ্ধতি সম্পর্কে অবহিত করার ক্ষেত্রে অধিক কার্যকর হয়" (৩)।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সাহাবীদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) সরাসরি কাজের মাধ্যমে শিক্ষা দিতেন যাতে তাঁর কর্মের মাধ্যমে শরীয়তের বিধান প্রতিষ্ঠিত হয়; কারণ এটি মৌখিক নির্দেশের চেয়ে অধিক প্রভাব বিস্তারকারী। এর একটি উদাহরণ যা আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে— "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দিনের শেষ ভাগের সালাতদ্বয়ের কোনো একটি (৪) আদায় করলেন—মুহাম্মাদ বলেন: আমার প্রবল ধারণা যে এটি আসরের সালাত ছিল—দুই রাকাত পড়লেন, এরপর সালাম ফেরালেন। অতঃপর তিনি মসজিদের সামনের অংশের একটি কাঠের খুঁটির কাছে দাঁড়িয়ে তার ওপর নিজের হাত রাখলেন। তাঁদের মাঝে আবু বকর ও উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) উপস্থিত ছিলেন, কিন্তু তাঁরা তাঁর সাথে কথা বলতে সংকোচ বোধ করলেন। আর দ্রুতগামী মানুষগুলো (৫) বেরিয়ে গেল এবং তারা বলতে লাগল: সালাত কি সংক্ষিপ্ত হয়ে গেছে? আর জনৈক ব্যক্তি যাকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) 'যুল ইয়াদাইন' (দুই হাতওয়ালা) বলে ডাকতেন, তিনি বললেন: আপনি কি ভুলে গেছেন নাকি সালাত সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে? তিনি বললেন: "আমি ভুলিনি এবং সংক্ষিপ্তও করা হয়নি।" তিনি বললেন: বরং আপনি ভুলে গেছেন। এরপর তিনি দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন এবং সালাম ফেরালেন। অতঃপর তাকবির বলে তাঁর স্বাভাবিক সিজদার ন্যায় বা তার চেয়ে দীর্ঘ সিজদা করলেন, এরপর মাথা উঠালেন এবং তাকবির বললেন। পুনরায় মাথা অবনত করলেন এবং তাকবির বলে তাঁর স্বাভাবিক সিজদার ন্যায় বা তার চেয়ে দীর্ঘ সিজদা করলেন। এরপর মাথা উঠালেন এবং তাকবির বললেন" (৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহাম্মিয়্যাতু দিরাসাতাস সিরাতিন নাবাবিয়্যাতি লিল মুয়াল্লিমিন
(পৃষ্ঠা: ২৪)
قال الحافظ ابن حجر رحمه الله: "وفائدة جواز السهو في مثل ذلك بيان الحكم الشرعي إذا وقع مثله لغيره" (1) . وكثير من الطلاب يجهلون من أحكام سجود السهو في الصلاة، فمنهم من يترك سجود السهو في محل وجوبه، ومنهم من يسجد في غير محله، ومنهم مَنْ يجعل سجود السهو قبل السلام وإن كان هو وضعه بعده
… ولذا كان تعليم المعلم لطلابه أحكام سجود السهو مُهِمّاً جداًّ؛ ليفهموا أحكام دينهم ويطبقوه (2) .
وكما عَلَّمهم صلى الله عليه وسلم الصلاة عَلَّمهم ما يكون لهم فيه من بركة أو تزكية للنفوس إذا أخرجوا زكاة أموالهم، ففيها تنمية للأموال وتكثير لبركتها. كما جاء في الحديث عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: "ما نقصت صدقة من مال" (3) . فهي ليست غرامةً، ولا ضريبة تنقص المال وتضر صاحبها، بل هي على العكس تزيد المال نمواً من حيث لا يشعر الناس (4) .
كما بَيَّن صلى الله عليه وسلم ما يترتب على أدائها من الأجر العظيم ألا وهو دخول الجنة وذلك ما ورد عن أبي الدرداء – رضي الله عنه – قال: قال صلى الله عليه وسلم: " خمس من جاء بهن مع إيمان دخل الجنة. من حافظ على الصلوات الخمس على وضوئهن وركوعهن وسجودهن ومواقيتهن، وصام رمضان وحج البيت، إن استطاع إليه سبيلاً، وأعطى الزكاة طيبة بها نفسه " (5) .
--------------------------------------------
হাফেজ ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "এই ধরণের ক্ষেত্রে ভুলের (সাহ্উ) বৈধতার উপকারিতা হলো শরয়ী বিধান স্পষ্টভাবে বর্ণনা করা, যখন অন্যের ক্ষেত্রে অনুরূপ ঘটনা ঘটে" (১)। আর অনেক ছাত্রই সালাতে সিজদায়ে সাহ্উ-এর বিধানসমূহ সম্পর্কে অজ্ঞ, তাদের মধ্যে কেউ এমন আছে যে সিজদায়ে সাহ্উ ওয়াজিব হওয়ার স্থানে তা বর্জন করে, আবার কেউ তা অনর্থক স্থানে আদায় করে, আবার কেউ সিজদায়ে সাহ্উ সালামের পূর্বে আদায় করে যদিও তার বিধান ছিল সালামের পরে
… এ কারণেই শিক্ষকের জন্য তার ছাত্রদেরকে সিজদায়ে সাহ্উ-এর বিধানসমূহ শিক্ষা দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; যাতে তারা তাদের দ্বীনের বিধানসমূহ বুঝতে পারে এবং তা প্রয়োগ করতে পারে (২)।
আর যেভাবে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদেরকে সালাত শিক্ষা দিয়েছেন, তেমনিভাবে তিনি তাদেরকে সেই বিষয়গুলোও শিক্ষা দিয়েছেন যাতে তাদের জন্য বরকত অথবা আত্মার পবিত্রতা নিহিত আছে যখন তারা তাদের সম্পদের যাকাত প্রদান করে; কারণ এতে সম্পদের প্রবৃদ্ধি এবং এর বরকতের আধিক্য ঘটে। যেমনটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে, তিনি বলেছেন: "সদকা সম্পদে কোনো ঘাটতি সৃষ্টি করে না" (৩)। সুতরাং এটি কোনো জরিমানা নয়, আর না এটি এমন কোনো কর যা সম্পদকে কমিয়ে দেয় এবং এর মালিকের ক্ষতি করে; বরং এটি বিপরীতভাবে সম্পদের প্রবৃদ্ধি ঘটায় এমনভাবে যা মানুষ অনুভব করতে পারে না (৪)।
তদ্রূপ তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যাকাত আদায়ের বিনিময়ে যে মহান প্রতিদান অর্জিত হয় তা বর্ণনা করেছেন, আর তা হলো জান্নাতে প্রবেশ। যেমনটি আবু দারদা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "পাঁচটি কাজ এমন যা যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সম্পাদন করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। যে ব্যক্তি পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের উযু, রুকু, সিজদা এবং ওয়াক্তসমূহের যথাযথ হিফাযত করবে, রমজানের রোজা রাখবে এবং সামর্থ্য থাকলে বাইতুল্লাহর হজ করবে, আর স্বতঃস্ফূর্ত মনে যাকাত প্রদান করবে" (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহাম্মিয়্যাতু দিরাসাতাস সিরাতিন নাবাবিয়্যাতি লিল মুয়াল্লিমিন
(পৃষ্ঠা: ২৫)
كما بَيَّنَ لهم صلى الله عليه وسلم مقدار الزكاة، وأنَّ مَنْ أدَّى زكاته كما أمر بذلك فليس بكانز لقول رسول الله صلى الله عليه وسلم: "ليس فيما دون خمس أواق (1) صدقة، وليس فيما دون خمس ذودٍ (2) صدقة وليس فيما دون خمس أوسق (3) صدقة" (4) .
قال الحافظ ابن حجر رحمه الله: "كل مال أخرجت منه الصدقة فلا وعيد على صاحبه، فلا يُسَمَّى ما يفضل بعد إخراجه الصدقة كنزاً " (5) .
لذا فالمعلم يُرغَّب في الصدقة، ويبين أنها إن نقصت المال عددياً فإنها لن تنقصه بركة وزيادة في المستقبل، بل يخلف الله بدلها ويبارك له في ماله" (6) .
ولم يكن رسول الله صلى الله عليه وسلم ينتظر حتى يسأل عن الأجر بل إذا رأى منكراً أو أمراً مخالفاً يبادر إلى إنكاره. ومن ذلك ما ورد عن عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده – رضي الله عنهم – أن امرأة أتت رسول الله صلى الله عليه وسلم ومعها ابنة لها، وفي يدِ ابنتها مسكتان غليظتان (7) من ذهب، فقال لها: " أتعطين زكاة هذا؟ " قالت: لا. قال: "أيسرك أن يُسَوِّرك الله بهما يوم القيامة سوارين من نار؟ " قال: فخلعتهما، فألقتهما إلى النبي صلى الله عليه وسلم وقالت: هما لله عز وجل ولرسوله" (8) .
--------------------------------------------
যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের নিকট জাকাতের পরিমাণ স্পষ্ট করেছেন এবং এটিও জানিয়েছেন যে, যে ব্যক্তি তার জাকাত নির্দেশিত পন্থায় আদায় করবে সে সম্পদ পুঞ্জীভূতকারী হিসেবে গণ্য হবে না। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "পাঁচ উকিয়ার কম পরিমাণে কোনো সদকা নেই, পাঁচটির কম উটের ক্ষেত্রে কোনো সদকা নেই এবং পাঁচ ওয়াসাকের কম শস্যের ক্ষেত্রেও কোনো সদকা নেই।"
হাফেজ ইবনে হাজার রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন: "যে সম্পদ থেকে সদকা বের করা হয়েছে, তার মালিকের ব্যাপারে কোনো শাস্তির হুমকি নেই। সুতরাং সদকা বের করার পর যা অবশিষ্ট থাকে তাকে আর 'কানয' (পুঞ্জীভূত সম্পদ) বলা যাবে না।"
তাই শিক্ষক সদকার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করবেন এবং ব্যাখ্যা করবেন যে, সদকা সংখ্যাগতভাবে সম্পদ কমালেও ভবিষ্যতে তা বরকত ও প্রবৃদ্ধিকে কমায় না, বরং আল্লাহ এর পরিবর্তে উত্তম বিনিময় দান করেন এবং তার সম্পদে বরকত দান করেন।
আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতেন না; বরং যখনই কোনো মন্দ বা শরিয়ত বিরোধী কাজ দেখতেন, তখনই তা নিরসনে সচেষ্ট হতেন। এরই একটি দৃষ্টান্ত হলো যা আমর ইবনে শুআইব তার পিতা থেকে এবং তিনি তার দাদা (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এক মহিলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলেন এবং তার সাথে তার এক কন্যা ছিল। তার কন্যার হাতে স্বর্ণের দুটি মোটা চুড়ি ছিল। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন: "তুমি কি এর জাকাত দাও?" সে বলল: না। তিনি বললেন: "তুমি কি এতে আনন্দিত হবে যে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তোমাকে এ দুটির পরিবর্তে আগুনের দুটি চুড়ি পরিয়ে দেবেন?" বর্ণনাকারী বলেন: তখন সে দুটি খুলে ফেলল এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে নিক্ষেপ করে বলল: এ দুটি মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্য।
--------------------------------------------