(খণ্ড: ১)
নাকদু কালামিল মুফতারিনা আলাল হানাবিলাতিস সালাফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: -)
نقض كلام المفترين على الحنابلة السلفيين (أحمد بن حجر آل بوطامي)
القسم: الفرق والردود
الكتاب: نقض كلام المفترين على الحنابلة السلفيين
المؤلف: أحمد بن حجر بن محمد بن حجر بن أحمد بن حجر بن طامي بن حجر بن سند بن سعدون آل بوطامي البنعلي (ت 1423هـ)
الناشر: مكتبة ابن تيمية - الكويت
الطبعة: 1400 هـ - 1980 م
عدد الصفحات: 147
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
সালাফি হাম্বলিদের বিরুদ্ধে অপবাদ দানকারীদের বক্তব্যের খণ্ডন (আহমদ বিন হাজার আল বুতামি)
বিভাগ: ফেরকা এবং প্রতিবাদ
বই: সালাফি হাম্বলিদের বিরুদ্ধে অপবাদ দানকারীদের বক্তব্যের খণ্ডন
লেখক: আহমদ বিন হাজার বিন মুহাম্মদ বিন হাজার বিন আহমদ বিন হাজার বিন তামি বিন হাজার বিন সানাদ বিন সাদুন আল বুতামি আল বিনালি (মৃত্যু ১৪২৩ হিজরি)
প্রকাশক: মাকতাবাতু ইবনে তাইমিয়া - কুয়েত
সংস্করণ: ১৪০০ হিজরি - ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৪৭
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
নাকদু কালামিল মুফতারিনা আলাল হানাবিলাতিস সালাফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيمالحمد للَّه وحده، والصلاة والسلام على من لا نبي بعده وعلى آله وصحبه … أما بعد:فيقول الفقير إلى اللَّه أحمد بن حجر: "أنه قد ورد إلي سؤال من أخ عماني فاضل يقول فيه: كنت بالأمس أطالع فصلًا من كتاب (ضحى الإسلام للأستاذ أحمد أمين) عن المعتزلة وفلسفتهم الكلامية ومسائلهم الاعتقادية، ومنها مسألة خلق القرآن، وفي هذه المسألة استوقفت نظري العبارة التالية -نقلها عن الحنابلة في (ج3 ص39) وهي (وفريق آخر من بعض الحنابلة زعم أن القرآن بحروفه وأصواته قديم وقد بالغوا فيه حتى قال بعضهم جهلًا: الجلد والغلاف قديمان فضلًا عن المصحف) .وأشار إلى أنه نقلها من كتاب المواقف (ج3 ص76) .كما أن الرأي نفسه نقل عنهم من كتاب (نهاية الإقدام) للشهرستاني (ص313) في عبارة مماثلة فما هو نصيب هذا النقل من الصحة؟ وما هو موقف الفحول الكبار كشيخ الإسلام ابن تيمية وتلميذه ابن القيم من هذا القول؟أرجو من فضيلتكم توضيح هذه المسألة من جميع جوانبها وإعطائها حقها من البحث والتحليل والتحقيق، والله يرشدكم إلى الصواب …
পরম করুণাময় অসীম দয়াময় আল্লাহর নামে শুরু করছি।সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সেই সত্তার প্রতি যার পরে আর কোনো নবী নেই এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের প্রতি … অতঃপর:আল্লাহর প্রতি মুখাপেক্ষী আহমদ ইবনে হাজার বলছেন: "আমার নিকট জনৈক ওমানী গুণী ভাইয়ের পক্ষ থেকে একটি প্রশ্ন এসেছে যেখানে তিনি বলেছেন: গতকাল আমি উস্তাদ আহমদ আমীন রচিত 'দুহাল ইসলাম' (ইসলামের পূর্বাহ্ণ) গ্রন্থটির একটি পরিচ্ছেদ পাঠ করছিলাম, যা মুতাজিলা সম্প্রদায়, তাদের কালামশাস্ত্রীয় দর্শন এবং আকিদাগত মাসআলাসমূহ সংক্রান্ত ছিল। তার মধ্যে একটি ছিল 'কুরআন সৃষ্টি' (খালক আল-কুরআন) সংক্রান্ত মাসআলা। এই মাসআলায় নিচের বাক্যটি আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে—যা তিনি হানবালিদের পক্ষ থেকে উদ্ধৃত করেছেন (৩য় খণ্ড, ৩৯ পৃষ্ঠা)—তা হলো: (হানবালিদের অপর একটি দল দাবি করেছে যে, কুরআনের শব্দ ও বর্ণসমূহ অনাদি। তারা এই বিষয়ে এতটাই অতিশয়োক্তি করেছে যে, তাদের কেউ কেউ অজ্ঞতাবশত বলেছে: স্বয়ং মুসহাফ তো বটেই, এমনকি এর চামড়া ও মলাটও অনাদি)।এবং তিনি উল্লেখ করেছেন যে এটি তিনি 'কিতাবুল মাওয়াকিফ' (৩য় খণ্ড, ৭৬ পৃষ্ঠা) থেকে উদ্ধৃত করেছেন।অনুরূপভাবে এই একই মত শাহরাস্তানি রচিত 'নিহায়াতুল ইকদাম' (পৃষ্ঠা ৩১৩) গ্রন্থেও তাদের পক্ষ থেকে প্রায় একই শব্দে উদ্ধৃত করা হয়েছে। এমতাবস্থায় এই বর্ণনার সত্যতা বা বিশুদ্ধতা কতটুকু? এবং শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ ও তাঁর ছাত্র ইবনুল কাইয়্যিমের মতো বড় মাপের ইমামগণের এই বক্তব্যের ব্যাপারে অবস্থান কী?আমি আপনার নিকট এই মাসআলাটি সকল দিক থেকে স্পষ্ট করার এবং এর যথাযথ গবেষণা, বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনার প্রত্যাশা করছি। আল্লাহ আপনাকে সঠিক পথের দিশা দান করুন …
(খণ্ড: ১)
নাকদু কালামিল মুফতারিনা আলাল হানাবিলাতিস সালাফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ৭)
بسم الله الرحمن الرحيمالحمد للَّه رب العالمين، والصلاة والسلام على أفضل الأنبياء والمرسلين، وعلى آله وأصحابه والتابعين لهم بإحسان إلى يوم الدين، وعلى الأئمة المهتدين أجمعين:أما بعد: فقد كنت أجبت عن هذا السؤال الذي أرسله أخونا الفاضل العماني في عام 1391هـ - والآن بدا لي أن أراجع السؤال والجواب وأعيد النظر فيهما، وبالفعل قمت بالنظر في السؤال والجواب، وزدت في بعض مواضع الجواب زيادة في الفائدة للقراء والواقفين على هذا السؤال والجواب- أسأل اللَّه أن ينفع بهذا الجواب الشافي، وأن يثيبني في يوم لا ينفع فيه مال ولا بنون إلا من أتى اللَّه بقلب سليم.فأقول وبالله التوفيق:قد وقفت على ما ذكره أحمد أمين في كتابه (ضحى الإسلام - الجزء الثالث) فإذا هو كما ذكره السائل عنه فقد نقل عن (المواقف) (ونهاية الإقدام) للشهرستاني ما نسباه إلى بعض الحنابلة مما هو مذكور في السؤال بالنص الذي ذكره أحمد أمين، ولكن بالرجوع إلى كتاب المواقف لعضد الملة والدين عبد الرحمن بن أحمد الإيجي، وجدت عبارته في المقصد السابع في أن اللَّه متكلم، قال "بعد عبارات ساقها، ثم قال الحنابلة" كلامه حرف وصوت، يقومان بذاته وأنه قديم، وقد بالغوا فيه حتى قال بعضهم جهلًا: الجلد والغلاف قديمان فضلًا عن المصحف.فإذا قارنا بين ما نقله أحمد أمين عن المواقف وبين عبارة المواقف وجدنا في العبارة فرقًا؛ لأن عبارة أحمد أمين تقول "وفريق آخر من
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক নবী ও রাসূলগণের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠের ওপর, তাঁর পরিবারবর্গ, তাঁর সঙ্গী-সাথী এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন তাঁদের ওপর, এবং সকল হিদায়াতপ্রাপ্ত ইমামগণের ওপর।অতঃপর: আমি আমাদের ওমানী গুণী ভাইয়ের পাঠানো এই প্রশ্নের উত্তর হিজরি ১৩৯১ সালে প্রদান করেছিলাম। এখন আমার কাছে সঙ্গত মনে হলো যে, প্রশ্ন ও উত্তরটি পুনরায় পর্যালোচনা করি এবং সেগুলোতে পুনরায় দৃষ্টিপাত করি। বস্তুত, আমি প্রশ্ন ও উত্তরের ওপর নজর দিয়েছি এবং পাঠকদের ও যারা এই প্রশ্নোত্তরের সম্মুখীন হবেন তাঁদের উপকারের কথা বিবেচনা করে উত্তরের কোনো কোনো স্থানে সংযোজন করেছি—আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এই সন্তোষজনক উত্তরের মাধ্যমে উপকার দান করেন এবং আমাকে সেই দিন পুরস্কৃত করেন যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো উপকারে আসবে না, কেবল সে ব্যক্তি ব্যতীত যে আল্লাহর কাছে পরিচ্ছন্ন অন্তর নিয়ে উপস্থিত হবে।আমি বলছি, আর আল্লাহর সাহায্যেই সামর্থ্য অর্জিত হয়:আহমদ আমীন তাঁর ‘দুহাল ইসলাম’ (তৃতীয় খণ্ড) গ্রন্থে যা উল্লেখ করেছেন আমি তা অবগত হয়েছি। বিষয়টি ঠিক তেমনই যেমনটি প্রশ্নকারী উল্লেখ করেছেন। তিনি শাহরাস্তানির ‘আল-মাওয়াকিফ’ এবং ‘নিহায়াতুল ইকদাম’ থেকে উদ্ধৃত করেছেন যা তাঁরা কতিপয় হাম্বলীর দিকে নিসবত করেছেন, যা প্রশ্নকারী আহমদ আমীনের ভাষ্য অনুযায়ী হুবহু উল্লেখ করেছেন। কিন্তু আদুদুল মিল্লাত ওয়াদ-দীন আবদুর রহমান বিন আহমদ আল-ইজি রচিত ‘আল-মাওয়াকিফ’ গ্রন্থের মূল পাঠের দিকে ফিরে গিয়ে আমি সপ্তম মাকসাদে—যেখানে আল্লাহ তাআলা কথা বলেন সে বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে—তাঁর বক্তব্যটি খুঁজে পেয়েছি। তিনি কিছু আলোচনার পর বলেছেন, “অতঃপর হাম্বলীরা বলেছে:” তাঁর কালাম বা কথা হলো বর্ণ ও শব্দ সম্বলিত যা তাঁর সত্তার সাথে বিদ্যমান এবং তা অনাদি। তারা এ বিষয়ে এতটাই অতিরঞ্জন করেছে যে, তাদের কেউ কেউ অজ্ঞতাবশত বলেছে: এমনকি মুসহাফ (পবিত্র কুরআনের অনুলিপি) তো বটেই, তার চামড়া ও মলাটও অনাদি।সুতরাং আমরা যখন আহমদ আমীন ‘আল-মাওয়াকিফ’ থেকে যা উদ্ধৃত করেছেন তার সাথে ‘আল-মাওয়াকিফ’ গ্রন্থের মূল ভাষ্যের তুলনা করি, তখন আমরা বাক্যের মধ্যে পার্থক্য দেখতে পাই; কারণ আহমদ আমীনের ভাষ্য বলছে “এবং অন্য একটি দল যারা...
(খণ্ড: ১)
নাকদু কালামিল মুফতারিনা আলাল হানাবিলাতিস সালাফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ৮)
بعض الحنابلة زعم، وعبارة المواقف، وقال الحنابلة" ولم تقل للعبارة، وفريق آخر من بعض الحنابلة، ولم تقل زعم بل قالت "قال الحنابلة" وقال: إن القرآن بحروفه وأصواته قديم، والحال أن عبارة المواقف كلامه حرف وصوت يقومان بذاته، وأنه قديم، ولم تقل العبارة: القرآن بحروفه وأصواته قديم، ولا شك أن بين العبارتين فرقا، وبيانه أن قوله: بحروفه إن كان الضمير راجعا للقرآن فهو معقول، لكن وأصواته، فإن كان الضمير للقرآن فهو فاسد، لأن القرآن لا صوت له، وإن كان يقصد صوت القارئ فلم تقل الحنابلة بقدمه كما سيأتي، وعبارة المواقف ليس فيها إضافة إلى الضمير حتى يرد عليها ما يرد على ما نقله أحمد أمين، وإنما قصد صاحب المواقف أن يقول: إن الحنابلة تقول: "كلام اللَّه قديم مع كونه بصوت وحرف خلافًا للأشاعرة" ولا تعطي عبارته صوت القارئ وأنه قديم، وإن بعضهم نسب إليهم هذا.فعبارة أحمد أمين توحي أن كلام المواقف حول القرآن، وليس الأمر كذلك، بل عبارة المواقف عن كلام اللَّه من حيث هو بقطع النظر عن القرآن وغيره، ومن المقارنة بين العبارتين يتبين بكل وضوح أن أحمد أمين لم يتحر الدقة في النقل، ولعله نقل بالمعنى وتصرف فيه، أما قوله: نقلا عن المواقف وقد بالغوا فيه حتى قال بعضهم جهلا: الجلد والغلاف قديمان، فهذه العبارة نقلها صحيح من المواقف (أما كلمة فضلا عن المصحف) فهذه الكلمة من الشراح وليست من متن المواقف.وها أنا أشرع في الجواب بعون الملك الوهاب، فأقول إن هذا السؤال يشتمل على مسألتين:(الأولى) : قوله (وفريق آخر من بعض الحنابلة زعم أن القرآن بحروفه وأصواته قديم) .
কিছু হাম্বলি দাবি করেছেন—আর আল-মাওয়াকিফ-এর পাঠ হলো, "হাম্বলিগণ বলেছেন।" তিনি "দাবি করেছেন" শব্দটি ব্যবহার না করে বলেছেন "হাম্বলিগণ বলেছেন।" তিনি বলেছেন: কুরআন তার অক্ষর ও শব্দসহ অনাদি, অথচ আল-মাওয়াকিফ-এর বক্তব্য হলো আল্লাহর কালাম অক্ষর ও শব্দ দ্বারা গঠিত যা তাঁর সত্তার সাথে বিদ্যমান এবং তা অনাদি। উক্ত বক্তব্যটিতে এটি বলা হয়নি যে: কুরআন তার অক্ষর ও শব্দসহ অনাদি। নিঃসন্দেহে এই দুই বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। এর ব্যাখ্যা হলো: "তার অক্ষরসমূহ" শব্দে সর্বনামটি যদি কুরআনের দিকে ফিরে যায় তবে তা যুক্তিযুক্ত, কিন্তু "তার শব্দসমূহ" শব্দে সর্বনামটি যদি কুরআনের দিকে ফিরে যায় তবে তা অশুদ্ধ; কারণ কুরআনের নিজস্ব কোনো শব্দ বা কণ্ঠস্বর নেই। আর যদি ক্বারীর কণ্ঠস্বর উদ্দেশ্য হয়, তবে হাম্বলিগণ সেটিকে অনাদি বলেননি, যা সামনে আলোচিত হবে। আল-মাওয়াকিফ-এর বক্তব্যে কোনো সর্বনামের সংযুক্তি নেই যার ফলে আহমদ আমিনের উদ্ধৃতিতে যে আপত্তি উঠেছে তা এখানেও উঠতে পারে। বরং মাওয়াকিফ-এর লেখকের উদ্দেশ্য ছিল এটি বলা যে: হাম্বলিগণ বলেন: "আল্লাহর কালাম অনাদি হওয়া সত্ত্বেও তা শব্দ ও অক্ষর বিশিষ্ট, যা আশআরিদের মতের পরিপন্থী।" তাঁর এই বক্তব্য এটি প্রকাশ করে না যে ক্বারীর কণ্ঠস্বর অনাদি, যদিও কেউ কেউ তাদের প্রতি এটি আরোপ করেছেন।আহমদ আমিনের বক্তব্যটি এমন আভাস দেয় যে মাওয়াকিফ-এর আলোচনাটি কুরআন কেন্দ্রিক, অথচ বিষয়টি তেমন নয়; বরং মাওয়াকিফ-এর বক্তব্যটি সাধারণভাবে আল্লাহর কালামের সত্তাগত দিক সম্পর্কে, কুরআন বা অন্য কিছুর দিকে লক্ষ্য না করেই। এই দুই বক্তব্যের তুলনামূলক পর্যালোচনায় এটি স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, আহমদ আমিন উদ্ধৃতি প্রদানে সূক্ষ্মতা বজায় রাখেননি; সম্ভবত তিনি ভাবার্থ বর্ণনা করেছেন এবং তাতে নিজ থেকে কিছু পরিবর্তন এনেছেন। আর মাওয়াকিফ-এর উদ্ধৃতি দিয়ে তাঁর এই কথাটি যে, "তারা এ বিষয়ে এতটাই অতিরঞ্জন করেছেন যে তাদের কেউ কেউ মূর্খতাবশত বলেছেন: জিলদ ও মলাট অনাদি"—মাওয়াকিফ থেকে তাঁর এই উদ্ধৃতিটি সঠিক। (তবে 'মুসহাফ তো বটেই' কথাটি সম্পর্কে বক্তব্য হলো) এই শব্দটি ব্যাখ্যাকারদের পক্ষ থেকে এসেছে, এটি মাওয়াকিফ-এর মূল পাঠের অংশ নয়।এখন আমি দয়াময় মালিকের সাহায্যে উত্তর প্রদান শুরু করছি এবং বলছি যে, এই প্রশ্নটি দুটি বিষয়ের ওপর সংবলিত:(প্রথমটি): তাঁর এই কথা (এবং কিছু হাম্বলিদের অপর একটি দল দাবি করেছে যে, কুরআন তার অক্ষর ও শব্দসহ অনাদি)।
(খণ্ড: ১)
নাকদু কালামিল মুফতারিনা আলাল হানাবিলাতিস সালাফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ৯)
فيقال في الجواب: قوله (بحروفه) إن كان الضمير راجعا للقرآن فهو معقول، لكن (وأصواته) فإن كان الضمير للقرآن فهو فاسد كما سبق، لأن القرآن لا صوت له، فماذا يقصد الكتاب أو الناقل، من هذه العبارة.فإن كان يقصد صوت القارئ، فما هنا مرجع إليه، والمرجع هنا هو القرآن، وإن كان يقصد صوت القارئ:فجوابه:لم يقل أحد من الحنابلة أن صوت القارئ قديم -كما سيأتي- بل إطلاق القديم على كلام اللَّه لم يرد عن السلف، ولا عن الإمام أحمد، ولا محققي الصحابة.. نعم قد يطلق بعضهم لفظ قديم على كلام اللَّه تجاوزًا ويقصد بذلك أنه غير مخلوق كما سيأتي في كلام ابن قدامة والسفاريني.وإنما يقولون: القرآن كلام اللَّه غير مخلوق، منه بدأ وإليه يعود.(ثانيًا) لا مرجع للضمير هنا إلا القرآن -كما سبق- نعم هناك قول لطائفة من أهل الكلام والحديث: أن كلام اللَّه بقطع النظر عن القرآن حروف وأصوات أزلية مجتمعة في الأزل.وهذا كما ترى ليس من قول الحنابلة، وعلى الفرض أن بعض الحنابلة قال به، فليس خاصا بالحنابلة ولا بالقرآن، على أنه غير معقول ولا مؤيد بالدليل.أما المسألة الثانية وهي: (وقد بالغوا فيه حتى قال بعضهم جهلًا: الجلد والغلاف قديمان فضلًا عن المصحف) .وأشار أحمد أمين إلى أنه نقلها من كتاب المواقف ج3، ومن نهاية الإقدام للشهرستاني.
উত্তরে বলা হয়: তাঁর বক্তব্য (তার অক্ষরাবলিসহ) - এখানে যদি সর্বনামটি কুরআনের দিকে নির্দেশ করে তবে তা যুক্তিসঙ্গত, কিন্তু (এবং তার শব্দাবলি) - এখানে যদি সর্বনামটি কুরআনের দিকে নির্দেশ করে তবে তা ভ্রান্ত যেমনটি ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে, কারণ কুরআনের নিজস্ব কোনো শব্দ নেই; সুতরাং লেখক বা উদ্ধৃতি দাতা এই বাক্যটি দ্বারা কী বোঝাতে চেয়েছেন?যদি তিনি ক্বারীর কণ্ঠস্বর উদ্দেশ্য করেন, তবে এখানে সেদিকে প্রত্যাবর্তনের কোনো সুযোগ নেই, কারণ এখানে নির্দেশিত বিষয় হলো কুরআন। আর যদি তিনি ক্বারীর কণ্ঠস্বরই উদ্দেশ্য করে থাকেন:তবে তার উত্তর হলো:হাম্বলীগণের মধ্যে কেউই বলেননি যে ক্বারীর কণ্ঠস্বর অনাদি - যেমনটি সামনে আসবে - বরং আল্লাহর কালামের ওপর 'অনাদি' (কাদীম) শব্দের প্রয়োগ সালাফদের থেকে বর্ণিত হয়নি, ইমাম আহমাদ থেকেও নয়, এবং সাহাবীগণের গবেষক ব্যক্তিবর্গ থেকেও নয়। হ্যাঁ, তাঁদের কেউ কেউ রূপক অর্থে আল্লাহর কালামের ওপর 'অনাদি' শব্দটি প্রয়োগ করে থাকেন এবং এর দ্বারা তাঁদের উদ্দেশ্য হলো এটি অ-সৃষ্ট, যেমনটি ইবনে কুদামা ও সাফফারিনীর বক্তব্যে সামনে আসবে।বরং তাঁরা বলেন: কুরআন আল্লাহর কালাম, যা অ-সৃষ্ট; তাঁর নিকট হতেই এর সূচনা এবং তাঁর নিকটই তা ফিরে যাবে।(দ্বিতীয়ত) এখানে সর্বনামটির জন্য কুরআন ব্যতীত অন্য কোনো নির্দেশক নেই - যেমনটি পূর্বে বলা হয়েছে - হ্যাঁ, ইলমুল কালাম ও হাদিস বিশারদদের একটি দলের এমন মত রয়েছে যে: কুরআনের বিষয়টি বিবেচনা না করলেও আল্লাহর কালাম হলো অনাদি অক্ষর ও শব্দ যা অনাদিকাল থেকেই একত্রে বিদ্যমান।আর এটি যেমনটি দেখছেন হাম্বলীদের বক্তব্য নয়, এবং যদি ধরে নেওয়া হয় যে কোনো কোনো হাম্বলী এটি বলেছেন, তবে তা হাম্বলীদের জন্য নির্দিষ্ট নয় এবং কেবল কুরআনের ক্ষেত্রেও নয়; উপরন্তু এটি অযৌক্তিক এবং কোনো দলিল দ্বারা সমর্থিত নয়।আর দ্বিতীয় বিষয়টি হলো: (তারা এ বিষয়ে এতটাই বাড়াবাড়ি করেছেন যে, তাঁদের কেউ কেউ অজ্ঞতাবশত বলেছেন: মুসহাফ তো বটেই, এমনকি এর চামড়া ও মলাটও অনাদি)।আহমাদ আমিন ইঙ্গিত করেছেন যে, তিনি এটি কিতাবুল মাওয়াকিফ-এর ৩য় খণ্ড এবং শাহরাস্তানির নিহায়াতুল ইকদাম থেকে উদ্ধৃত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
নাকদু কালামিল মুফতারিনা আলাল হানাবিলাতিস সালাফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ১০)
افتراء بعض المتكلمين على الحنابلةفالجواب:ليست هذه أول فرية افتراها بعض المتكلمين الذين خالفوا مذهب السلف القويم، وتأثروا بآراء الفلاسفة فزعم بعضهم أن الحنابلة يمثلون الرب بخلقه، أو يجسمونه، تعالى اللَّه عن قولهم علوا كبيرا {كَبُرَتْ كَلِمَةً تَخْرُجُ مِنْ أَفْوَاهِهِمْ إِنْ يَقُولُونَ إِلَّا كَذِبًا} ، فقد افترى عليهم سالفًا الراضي العباسي وبعض وزرائه وإلى القارئ البيان:قال ابن الأثير في حوادث سنة 323هـ.
হাম্বলিদের বিরুদ্ধে কতিপয় কালামশাস্ত্রবিদের অপবাদউত্তর হলো:এটিই প্রথম অপবাদ নয় যা ঐসব কালামশাস্ত্রবিদ রটনা করেছেন যারা সালাফদের সঠিক ও সুদৃঢ় মাযহাবের বিরোধিতা করেছেন এবং দার্শনিকদের মতাদর্শ দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন। ফলে তাদের কেউ কেউ দাবি করেছেন যে, হাম্বলিগণ সৃষ্টিজীবের সাথে রবের সাদৃশ্য প্রদান করেন অথবা তাঁর সাকার রূপ কল্পনা করেন; তাদের এসব বক্তব্য থেকে আল্লাহ তাআলা বহু ঊর্ধ্বে ও পবিত্র। "তাদের মুখ দিয়ে বের হওয়া কথাটি কতই না জঘন্য! তারা কেবল মিথ্যাই বলছে।" ইতিপূর্বে আব্বাসীয় খলিফা আর-রাদি এবং তাঁর কতিপয় উজিরও তাদের বিরুদ্ধে অপবাদ রটনা করেছিলেন। পাঠকের জন্য তার বিবরণ নিম্নে প্রদত্ত হলো:ইবনুল আসির ৩২৩ হিজরির ঘটনাবলীতে বলেন।
(খণ্ড: ১)
নাকদু কালামিল মুফতারিনা আলাল হানাবিলাতিস সালাফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ১১)
ذكر فتنة الحنابلة ببغدادوفيها عظم أمر الحنابلة وقويت شوكتهم وصاروا يكبسون من دور القواد العامة، وإن وجدوا نبيذًا أراقوه، وإن وجدوا مغنية ضربوها وكسروا آلة الغناء واعترضوا في البيع والشراء ومشي الرجال مع النساء والصبيان، فإذا رأوا ذلك سألوا عن الذي معه من هو؟ فإن أخبرهم وإلا ضربوه وحملوه إلى صاحب الشرطة، إلى أن قال: فخرج توقيع الراضي بما يقرأ على الحنابلة ينكر عليهم فعلهم ويوبخهم باعتقاد التشبيه وغيره - ا. هـ.وهنا نسب إليهم أنهم يشبهون اللَّه بخلقه، وأن هيئتهم على هيئة رب العالمين، وأنهم يطعنون على خيار الأئمة، وينسبون آل محمد إلى الكفر، وينكرون زيارة قبور الأئمة ويقولون بنزول اللَّه في كل ليلة إلى السماء الدنيا.
বাগদাদে হাম্বলিদের ফিতনার বিবরণউক্ত বছরে হাম্বলিদের প্রভাব অত্যন্ত বৃদ্ধি পায় এবং তাদের প্রতিপত্তি সুসংহত হয়। তারা সেনাপতি ও সাধারণ মানুষের ঘরবাড়িতে তল্লাশি চালাতে শুরু করে। যদি তারা কোথাও পানীয় খুঁজে পেত, তবে তা ঢেলে ফেলে দিত; আর যদি কোনো গায়িকাকে পেত, তাকে প্রহার করত এবং বাদ্যযন্ত্র ভেঙে ফেলত। তারা ক্রয়-বিক্রয় এবং নারী ও বালকদের সাথে পুরুষদের চলাচলের বিষয়েও হস্তক্ষেপ করত। এমন কিছু দেখলে তারা জিজ্ঞাসা করত যে, সাথে থাকা ব্যক্তিটি কে? যদি সে পরিচয় দিত তবে ভালো, অন্যথায় তারা তাকে প্রহার করত এবং পুলিশের প্রধানের নিকট নিয়ে যেত। বর্ণনাকারী বলেন: পরিশেষে খলিফা আর-রাযীর পক্ষ থেকে একটি ফরমান জারি করা হয় যা হাম্বলিদের সামনে পাঠ করা হয়; এতে তাদের কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানানো হয় এবং ‘তাশবিহ’ (সাদৃশ্যবাদ) তথা আল্লাহকে সৃষ্টির সদৃশ মনে করার বিশ্বাসসহ অন্যান্য বিষয়ের জন্য তাদের তিরস্কার করা হয় - সমাপ্ত।এখানে তাদের প্রতি এই অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে যে, তারা আল্লাহ তাআলাকে তাঁর সৃষ্টির সাথে তুলনা করে এবং তারা মনে করে যে রব্বুল আলামীনের অবয়ব সৃষ্টির অবয়বের মতো। তারা শ্রেষ্ঠ ইমামদের সমালোচনা করে, মুহাম্মাদ (সা.)-এর বংশধরদের প্রতি কুফরের অপবাদ দেয় এবং ইমামদের কবর যিয়ারত করাকে অস্বীকার করে। তারা আরও দাবি করে যে, আল্লাহ তাআলা প্রতি রাতে দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন।
(খণ্ড: ১)
নাকদু কালামিল মুফতারিনা আলাল হানাবিলাতিস সালাফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ১২)
ويظهر أن صاحب الشرطة أو الوزير نقل إلى الخليفة الراضي العباسي عن الحنابلة ما ليس صحيحا في نفس الأمر، ومن أجل ذلك نسب الراضي إليهم ما نسب، ومن جراء ما شحنوه بالأكاذيب والافتراءات عليهم قال في توقيعه (يعني منشوره) الذي نشره تحذيرًا لهم: وأمير المؤمنين يقسم باللَّه قسمًا جهدًا إليه يلزم الوفاء به لئن لم تنتهوا عن مذموم مذهبكم ومعوج طريقتكم ليوسعنكم ضربًا وتشريدًا أو قتلًا وتبديدًا
এবং এটি প্রতীয়মান হয় যে, নিরাপত্তা প্রধান অথবা উজির আব্বাসীয় খলিফা আর-রাদি বিল্লাহর নিকট হাম্বলিদের সম্পর্কে এমন কিছু বিষয় উপস্থাপন করেছিলেন যা প্রকৃতপক্ষে সঠিক ছিল না। আর সেই কারণেই খলিফা আর-রাদি তাঁদের প্রতি সেই সব বিষয় আরোপ করেছিলেন যা তিনি করেছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও অপবাদের এই প্রচারণার ফলেই তিনি তাঁদের সতর্ক করার জন্য তাঁর রাজকীয় ফরমানে (অর্থাৎ তাঁর ঘোষণাপত্রে) বলেছিলেন: "আর আমিরুল মুমিনীন আল্লাহর নামে সুদৃঢ় শপথ করছেন—যা পূর্ণ করা তাঁর জন্য অপরিহার্য—যদি তোমরা তোমাদের এই নিন্দনীয় মতাদর্শ এবং বক্র পথ থেকে নিবৃত্ত না হও, তবে তিনি তোমাদের কঠোর প্রহার ও নির্বাসনে দণ্ডিত করবেন অথবা হত্যা ও সমূলে নির্মূল করবেন।"
(খণ্ড: ১)
নাকদু কালামিল মুফতারিনা আলাল হানাবিলাতিস সালাফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وليستعملن السيف في رقابكم، والنار في منازلكم (من الكامل الجزء السادس) .وزعم بعضهم أن شيخ الإسلام ابن تيمية كان يعظ على منبر جامع دمشق، وقرأ حديث النزول وقال: "ينزل كنزولي هذا" -يقصد أنه مشبه- وسيأتي رد هذا الزعم.إن خصوم السلف وهم المعطلة من الجهمية والمعتزلة، يرمون السلف الذين يثبتون للَّه الصفات الواردة في الكتاب وفي صحيح السنة بالتجسيم والتمثيل، لأن هذه الصفات -بزعمهم- من صفات المخلوقين حتى زعم الشهرستاني أن مثبتة الصفات من السلف، قد آل ببعضهم الإثبات إلى التشبيه.وخصصت ذكر الحنابلة، لأنهم هم أكثر الذين يمثلون مذهب السلف ويناضلون عنه سائر الفرق الضالة؛ إذ الممثل يعبد صنما، والمعطل يعبد عدما، والموحد يعبد إله الأرض والسماء.وبرأ اللَّه أهل السنة والجماعة والسلف من أنهم يمثلون اللَّه بخلقه أو يشبهونه.
তারা অবশ্যই তোমাদের গ্রীবাসমূহে তলোয়ার এবং তোমাদের গৃহসমূহে অগ্নি সংযোগ করবে (আল-কামিল, ষষ্ঠ খণ্ড হতে) ।কেউ কেউ দাবি করেছেন যে, শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া দামেস্কের জামে মসজিদের মিম্বারে ওয়াজ করার সময় অবতরণ সংক্রান্ত হাদিস পাঠ করেন এবং বলেন: "তিনি অবতরণ করেন যেমন আমি এই অবতরণ করছি" —অর্থাৎ তিনি সাদৃশ্য প্রদান করছেন— এবং অচিরেই এই দাবির খণ্ডন আসবে।সালাফদের প্রতিপক্ষ অর্থাৎ জাহমিয়া ও মুতাজিলাদের মধ্য হতে যারা গুণাবলি অস্বীকারকারী, তারা ঐসব সালাফদের ওপর দেহবাদ ও সাদৃশ্য স্থাপনের অপবাদ আরোপ করে যারা কিতাব ও সহিহ সুন্নাহয় বর্ণিত আল্লাহর গুণাবলিকে সাব্যস্ত করেন। কারণ তাদের ধারণা মতে— এই গুণাবলি সৃষ্টির বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত, এমনকি শাহরাস্তানি দাবি করেছেন যে, সালাফদের মধ্য হতে গুণাবলি সাব্যস্তকারীদের কারো কারো ক্ষেত্রে এই স্বীকৃতি শেষ পর্যন্ত সাদৃশ্যবাদের রূপ নিয়েছে।আমি বিশেষভাবে হাম্বলিদের কথা উল্লেখ করেছি, কারণ তারা সালাফদের মাযহাবের সর্বাধিক প্রতিনিধিত্ব করেন এবং অন্যান্য সকল পথভ্রষ্ট দলের বিরুদ্ধে এই আদর্শের সপক্ষে লড়াই করেন; কেননা সাদৃশ্যবাদী ব্যক্তি মূর্তির পূজা করে, গুণাবলি অস্বীকারকারী ব্যক্তি অস্তিত্বহীন কিছুর পূজা করে, আর মুওয়াহহিদ বা একত্ববাদী ব্যক্তি আসমান ও জমিনের ইলাহ-এর ইবাদত করেন।আল্লাহ তাআলা আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামায়াত ও সালাফদেরকে আল্লাহর সাথে তাঁর সৃষ্টির তুলনা বা সাদৃশ্য প্রদানের অপবাদ থেকে মুক্ত রেখেছেন।
(খণ্ড: ১)
নাকদু কালামিল মুফতারিনা আলাল হানাবিলাতিস সালাফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ১৪)
والشهرستاني على جلالة قدره في علم الكلام لم يحقق مذهب السلف، ولو حقق لعرف أنهم أبرياء مما نسب إليهم؛ إذ المعطلة والمشبهة والمجسمة هم من أهل البدع والضلال، بل قد تؤول عقيدة بعضهم إلى الكفر.وهذه النسب الكاذبة إلى الحنابلة من دعوى التشبيه والتجسيم حصلت أيام الفتن والنزاع بين الحنابلة والشافعية وبين الحنابلة والحنفية وإليك تأييدًا لما قلت ما ذكره ابن الأثير في حوادث 475.
কালাম শাস্ত্রে ইমাম শাহরাস্তানি সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও সালাফদের মাযহাব বা মতাদর্শকে যথাযথভাবে যাচাই করেননি। তিনি যদি বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতেন, তবে অবশ্যই জানতে পারতেন যে, তাঁদের ওপর যা আরোপ করা হয়েছে তা থেকে তাঁরা সম্পূর্ণ নির্দোষ; কেননা মুয়াত্তিলা (গুণাবলি অস্বীকারকারী), মুসাব্বিহা (সাদৃশ্যদানকারী) ও মুজাসসিমা (দেহধারী সাব্যস্তকারী) সম্প্রদায় হলো মূলত বিদআত ও ভ্রষ্টতার অনুসারী, এমনকি তাদের কারও কারও আকিদা কুফর পর্যন্ত গড়াতে পারে।আর হাম্বলিদের প্রতি সাদৃশ্যদান ও দেহগত সাব্যস্তকরণের এই মিথ্যা অভিযোগগুলো হাম্বলি ও শাফেয়ি এবং হাম্বলি ও হানাফিদের মধ্যকার কলহ ও বিবাদের সময়কালে তৈরি হয়েছিল। আমার বক্তব্যের সমর্থনে ৪৭৫ হিজরির ঘটনাবলীতে ইবনুল আসির যা উল্লেখ করেছেন, তা নিচে পেশ করা হলো।
(খণ্ড: ১)
নাকদু কালামিল মুফতারিনা আলাল হানাবিলাতিস সালাফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ১৫)
ذكر الفتنة ببغداد بين الشافعية والحنابلةورد إلى بغداد هذه السنة الشريف أبو القاسم البكري المغربي الواعظ وكان أشعري المذهب، وكان قد قصد نظام الملك فأحبه ومال إليه وسيره إلى بغداد وأجرى عليه الجراية الوافرة فوعظ بالمدرسة النظامية، وكان يذكر الحنابلة ويعيبهم ويقول: {وَمَا كَفَرَ سُلَيْمَانُ وَلَكِنَّ الشَّيَاطِينَ كَفَرُوا} والله ما كفر أحمد ولكن أصحابه كفروا، ثم إنه قصد يوما دار قاضي القضاة أبي عبد اللَّه الدامغاني بنهر القلائين فجرى بين بعض أصحابه وبين قوم من الحنابلة مشاجرة أدت إلى الفتنة وكثر جمعه فكبس دور بني الفراء وأخذ كتبهم وأخذ منها كتاب الصفات لأبي يعلى فكان يقرأ بين يديه وهو جالس على الكرسي للوعظ فيشنع به عليهم، وجرى له معهم خصومات وفتن ولقب البكري من الديوان بعلم السنة ومات ببغداد ودفن عند قبر أبي الحسن الأشعري (انتهى من الكامل لابن الأثير الجزء الثاني) .
বাগদাদে শাফেয়ী ও হাম্বলিদের মধ্যকার ফিতনার বিবরণএই বছর বাগদাদে শরিফ আবুল কাসিম আল-বাকরি আল-মাগরিবি নামক জনৈক ওয়ায়েজ (উপদেশদাতা) আগমন করেন, যিনি আশআরি মাযহাবের অনুসারী ছিলেন। তিনি নিজামুল মুলকের শরণাপন্ন হয়েছিলেন; নিজামুল মুলক তাকে পছন্দ করেন ও তার প্রতি আকৃষ্ট হন এবং তাকে বাগদাদে প্রেরণ করে তার জন্য পর্যাপ্ত ভাতার ব্যবস্থা করে দেন। ফলে তিনি মাদরাসা-এ-নিজামিয়ায় ওয়াজ-নসিহত করতেন। তিনি হাম্বলিদের কথা উল্লেখ করতেন এবং তাদের সমালোচনা করে বলতেন: "সুলায়মান কুফরি করেননি, বরং শয়তানরাই কুফরি করেছিল।" আল্লাহর কসম! আহমাদ কুফরি করেননি, বরং তার অনুসারীরা কুফরি করেছে। অতঃপর একদিন তিনি নহরুল কাল্লায়িনে কাযিউল কুযাত আবু আবদুল্লাহ আদ-দামাগানির বাসভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলে তার কিছু সঙ্গী এবং একদল হাম্বলির মধ্যে বিবাদ শুরু হয়, যা দাঙ্গার রূপ নেয়। তার জনবল বৃদ্ধি পেলে তারা বনু আল-ফাররা-এর ঘরবাড়িতে চড়াও হয় এবং তাদের কিতাবপত্র ছিনিয়ে নেয়। সেখান থেকে তিনি আবু ইয়ালা রচিত ‘কিতাবুস সিফাত’ হস্তগত করেন এবং ওয়ায়েজের মিম্বারে আসীন হয়ে সেটি পাঠ করে তাদের কঠোর সমালোচনা ও নিন্দা করতেন। তাদের সাথে তার বহু বিবাদ ও ফিতনা সংঘটিত হয়েছিল। দিওয়ান (সরকারি দপ্তর) থেকে আল-বাকরিকে ‘আলামুস সুন্নাহ’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। তিনি বাগদাদেই মৃত্যুবরণ করেন এবং আবুল হাসান আল-আশআরির কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয় (ইবনুল আসির রচিত ‘আল-কামিল’, দ্বিতীয় খণ্ড থেকে সমাপ্ত)।
(খণ্ড: ১)
নাকদু কালামিল মুফতারিনা আলাল হানাবিলাতিস সালাফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ১৬)
أقول: لقد ابتلي المسلمون بمثل هؤلاء العلماء كأبي القاسم البكري السالف الذكر الذين جمدوا على التقليد ونبذوا الأخذ بالدليل، وفرقوا من جراء ذلك شمل المسلمين بتعصبهم الممقوت لمذهبهم وعقيدتهم، وإن كان في نفس الأمر فيها وفي المذهب ما يخالف الكتاب والسنة الصحيحة كاعتقادهم تأويل آيات الصفات جريا وراء مذهب المعتزلة والجهمية، والتقليد في الفروع ولو خالف نص الكتاب والسنة في بعض المسائل وإلا فلو لم يكن فيهم هذا الداء الوبيل، داء التأويل والتعطيل والتقليد ما عاب أبو القاسم الحنابلة ولا ذمهم، فأي عيب فيهم ومذهبهم في الأصول والفروع معروف، مذهبهم في العقيدة هو المذهب الصحيح من الإيمان باللَّه وبأسمائه وصفاته كما جاء في الكتاب والسنة إيمانا لا يشوبه تعطيل ولا تمثيل وحاشاهم عن التشبيه والتمثيل، وكذب أبو القاسم فيما عابه به عليهم وعفا اللَّه عنه.وقال بعضهم، ناسبا إلى الحنابلة: إن القرآن قديم: وأصوات القراء قديمة، بل والمداد الذي يكتبون به قديم، بل زعم بعضهم بقدم الجلد والغلاف، حتى تهكم بعضهم وقال: ما بالهم لا يقولون بقدم الكاتب والمجلد، إلى غير ذلك من
আমি বলছি: মুসলিম উম্মাহ ইতিপূর্বে উল্লিখিত আবুল কাসিম আল-বাকরির মতো এমন সব আলেমদের দ্বারা পরীক্ষিত হয়েছে, যারা অন্ধ অনুকরণের (তকলিদ) ওপর স্থবির হয়ে পড়েছিল এবং দলিল-প্রমাণ গ্রহণ করা বর্জন করেছিল। এর ফলে তারা তাদের মাজহাব ও আকিদার প্রতি চরম নিন্দনীয় গোঁড়ামির মাধ্যমে মুসলমানদের ঐক্যকে ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিল; যদিও প্রকৃতপক্ষে তাদের আকিদা ও মাজহাবে এমন কিছু বিষয় ছিল যা পবিত্র কুরআন ও সহিহ সুন্নাহর পরিপন্থী। যেমন— মুতাজিলা ও জাহমিয়াদের পথ অনুসরণ করে আল্লাহর গুণাবলি সম্পর্কিত আয়াতসমূহের অপব্যাখ্যা (তাবিল) করা এবং শাখা-প্রশাখার মাসয়ালাগুলোতে অন্ধ অনুকরণ করা, যদিও কিছু ক্ষেত্রে তা কুরআন ও সুন্নাহর অকাট্য নসের বিরোধী হয়। যদি তাদের মধ্যে এই প্রাণঘাতী ব্যাধি—অর্থাৎ অপব্যাখ্যা (তাবিল), গুণাবলি অস্বীকার (তাতিল) ও অন্ধ অনুকরণের (তকলিদ) ব্যাধি—না থাকত, তবে আবুল কাসিম হাম্বলিদের কোনো দোষারোপ বা নিন্দা করতেন না। তাদের মধ্যে কী দোষ রয়েছে? অথচ মূলনীতি (উসুল) ও শাখা-প্রশাখার (ফুরু) ক্ষেত্রে তাদের মাজহাব সুবিদিত। আকিদার ক্ষেত্রে তাদের মাজহাবই হলো সঠিক মাজহাব, যা আল্লাহ তায়ালা এবং তাঁর নাম ও গুণাবলির ওপর এমনভাবে ঈমান রাখার নাম—যেমনটি কুরআন ও সুন্নাহতে এসেছে—যে ঈমান গুণাবলি অস্বীকার (তাতিল) বা সদৃশ করার (তামসিল) কালিমা থেকে মুক্ত। আল্লাহর গুণাবলিকে সৃষ্টির সাথে তুলনা (তাশবিহ) বা সদৃশ করা থেকে তারা সম্পূর্ণ মুক্ত। আবুল কাসিম তাদের বিরুদ্ধে যে বিষোদগার করেছেন তাতে তিনি মিথ্যাচার করেছেন, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন।তাদের মধ্যে কেউ কেউ হাম্বলিদের প্রতি আরোপ করে বলেছেন: কুরআন অনাদি, কারীদের কণ্ঠস্বর অনাদি, এমনকি তারা যে কালি দিয়ে লেখে তাও অনাদি। এমনকি তাদের কেউ কেউ চামড়া ও মলাটকেও অনাদি বলে দাবি করেছেন। শেষ পর্যন্ত কেউ কেউ বিদ্রূপ করে বলেছেন: তারা লেখক ও বাইন্ডারকেও কেন অনাদি বলছে না? এছাড়া আরও অনেক...
(খণ্ড: ১)
নাকদু কালামিল মুফতারিনা আলাল হানাবিলাতিস সালাফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ১৭)
الافتراءات الباطلة، والاختلاقات الكاذبة التي ما أنزل اللَّه بها من سلطان.وما أدري كيف يوثق بعلم هؤلاء وبكتبهم وهم يفترون هذه الأكاذيب على جمهور من المسلمين، وصفوة أمة محمد سيد المرسلين.وكيف ينقل زيد بن عمرو، وعمرو عن خالد من غير أن يرجع إلى كتب من نقل عنهم هذا القول ونسب إليهم؟ … وكيف يكون المرء عالما محققا، إذا لم يمحص البحث ويحققه من جميع نواحيه، وينسب الأقوال إلى مصادرها الموثوقة؟.أما مجرد أن يرى عبارة في كتاب لعالم يقول فيها قال العالم الفلاني، أو في المذهب الفلاني كذا، بدون ذكر المصدر فينقلها ناسبًا إياها إلى ذلك العالم أو المذهب، جازمًا بصحتها، فلا يكون محققا، ولا ينبغي أن يوثق بكلامه أو نقله، لأنه لم يبنه على دليل صحيح من نقل صحيح أو عقل رجيح.فهؤلاء الذين نسبوا إلى الحنابلة هذه الأقوال السخيفة، التي لا تصدر إلا عن ملحد أو مبتدع ضال أرعن يعوزهم إثبات ذلك بنقل صحيح من
মিথ্যা অপবাদ এবং ভিত্তিহীন বানোয়াট কথাবার্তা, যার সপক্ষে আল্লাহ কোনো প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি।আমি জানি না কীভাবে এসব লোকের জ্ঞান ও তাদের কিতাবসমূহের ওপর আস্থা রাখা যায়, যখন তারা সাধারণ মুসলিম এবং রাসূলগণের সরদার মুহাম্মদ (সা.)-এর উম্মতের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এজাতীয় মিথ্যাচার লিপ্ত হয়।আর কীভাবে জায়েদ ইবনে আমর কিংবা আমর খালেদ থেকে বর্ণনা করেন, অথচ যাঁর উদ্ধৃতি দেওয়া হচ্ছে বা যাঁর প্রতি কোনো বক্তব্য সম্বন্ধযুক্ত করা হচ্ছে, তাঁর মূল কিতাবের শরণাপন্ন হন না? … আর একজন মানুষ কীভাবে গবেষক আলেম হতে পারেন, যদি তিনি সকল দিক থেকে বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই ও পর্যালোচনা না করেন এবং বক্তব্যগুলোকে সেগুলোর নির্ভরযোগ্য উৎসের দিকে সম্বন্ধযুক্ত না করেন?পক্ষান্তরে, কেউ যদি কোনো আলেমের কিতাবে কোনো সূত্র উল্লেখ ছাড়াই কেবল এমন কোনো বাক্য দেখে যেখানে বলা হয়েছে ‘অমুক আলেম এমনটি বলেছেন’ কিংবা ‘অমুক মাজহাবে এমনটি আছে’, আর সে তার বিশুদ্ধতা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে সেই আলেম বা মাজহাবের দিকে তা সম্বন্ধযুক্ত করে বর্ণনা করে দেয়— তবে সে গবেষক হতে পারে না। তার কথা কিংবা উদ্ধৃতির ওপর আস্থা রাখা সমীচীন নয়; কারণ সে তা কোনো বিশুদ্ধ বর্ণনা বা সুদৃঢ় যুক্তিনির্ভর দলীলের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত করেনি।সুতরাং যারা হাম্বলি মাজহাবের অনুসারীদের প্রতি এসব অসার বক্তব্য আরোপ করেছেন—যা কেবল কোনো নাস্তিক কিংবা পথভ্রষ্ট ও অবিবেচক বিদআতির পক্ষ থেকেই প্রকাশ পেতে পারে—তারা এগুলোকে বিশুদ্ধ বর্ণনার মাধ্যমে প্রমাণ করতে অক্ষম।
(খণ্ড: ১)
নাকদু কালামিল মুফতারিনা আলাল হানাবিলাতিস সালাফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ১৮)
مصدر موثوق به، وها أنا بعون اللَّه وتوفيقه أبين بطلان هذه النسب الكاذبة التي لم يخش اللَّه ناسبوها ولم يتصفوا بالحياء ولا بالعقل الرجيح، فأقول وبالله التوفيق:لا يخفى أن الحنابلة إمامهم أحمد بن حنبل، والإمام أحمد لم تخف مكانته العلمية، واتباعه للسنة المطهرة في عقائده وأقواله وأفعاله ومذهبه، وله مؤلفات عديدة، ولابنه عبد اللَّه مؤلفات، وقد بنى مذهبه في الأصول أعني العقائد - على الكتاب والسنة الصحيحة.وإليك الآن بيان مذهب أحمد وعقيدته وأتباعه في الأصول والفروع، وأن عقيدتهم تمثل مذهب السلف الصالح، كما أن مذهبهم في الفروع مؤيد بالكتاب والسنة وبالإجماع والقياس الصحيح.
এটি একটি নির্ভরযোগ্য উৎস। আর আমি আল্লাহর সাহায্য ও তৌফিকে এই মিথ্যা সম্বন্ধের অসারতা বর্ণনা করছি, যার প্রবক্তারা আল্লাহকে ভয় করেনি এবং তারা না লজ্জাশীলতার পরিচয় দিয়েছে, না সুস্থ বিবেকের। আমি আল্লাহর নিকট তাওফিক প্রার্থনা করে বলছি:এটি অস্পষ্ট নয় যে, হাম্বলিদের ইমাম হলেন আহমদ বিন হাম্বল। ইমাম আহমদের ইলমি মর্তবা এবং তাঁর আকিদা, কথা, কাজ ও মাজহাবের ক্ষেত্রে পবিত্র সুন্নাহর অনুগত্য সবার জানা। তাঁর অসংখ্য গ্রন্থ রয়েছে এবং তাঁর পুত্র আবদুল্লাহরও বহু রচনা রয়েছে। তিনি তাঁর মাজহাবের মূলনীতি অর্থাৎ আকিদাকে কিতাবুল্লাহ ও সহিহ সুন্নাহর ওপর ভিত্তি করে গড়ে তুলেছেন।এখন আপনার সামনে ইমাম আহমদের মাজহাব ও আকিদা এবং উসুল ও ফুরুতে তাঁর অনুসারীদের বিস্তারিত বর্ণনা তুলে ধরা হচ্ছে, যা প্রমাণ করে যে তাঁদের আকিদা মূলত সালাফে সালেহিনেরই আকিদা। আর ফুরু বা শাখা-প্রশাখার মাসআলায় তাঁদের মাজহাব কিতাবুল্লাহ, সুন্নাহ, ইজমা ও সঠিক কিয়াস দ্বারা সমর্থিত।
(খণ্ড: ১)
নাকদু কালামিল মুফতারিনা আলাল হানাবিলাতিস সালাফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ১৯)
(مذهب الإمام أحمد وأتباعه في الأصول والفروع)الإمام أحمد بن حنبل رحمه اللَّه تعالى هو الذي أظهر مذهب السلف وناضل عنه، -وإن كانت الأئمة كلهم رحمهم الله على ذلك- فالإمام أحمد وأتباعه تابعون للسلف الصالح من الصحابة والتابعين وتابعيهم بإحسان إلى يوم الدين، لا يؤولون في صفات اللَّه ولا يشبهون اللَّه بخلقه، ولا يكيفون بل يقولون نؤمن بما ورد، فالكلام في الصفات فرع عن الكلام في الذات، فكما أن ذاته المقدسة لا تشبه ذوات المخلوقين فكذلك صفاته لا تشبه صفات المخلوقين، فيقولون للَّه علم يليق به، وللمخلوقين علم يليق بهم، وليس علم اللَّه كعلم المخلوق، ولله سمع يليق به، وللمخلوقين سمع يليق بهم، وليس سمع اللَّه كسمع المخلوق وهكذا سائر الصفات.
(উসূল ও ফুরু'র ক্ষেত্রে ইমাম আহমাদ ও তাঁর অনুসারীদের মাজহাব)ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (রাহিমাহুল্লাহ তাআলা) হলেন সেই ব্যক্তি যিনি সালাফদের মাজহাবকে প্রকাশ করেছেন এবং এর সপক্ষে সংগ্রাম করেছেন—যদিও সকল ইমামই (রাহিমাহুমুল্লাহ) সেই আদর্শের ওপর অটল ছিলেন—মূলত ইমাম আহমাদ ও তাঁর অনুসারীরা হলেন সাহাবী, তাবিঈ এবং কিয়ামত পর্যন্ত তাঁদের নিষ্ঠাবান অনুসারী পুণ্যবান উত্তরসূরি বা সালাফে সালেহীনের অনুগামী। তাঁরা আল্লাহর গুণাবলির ক্ষেত্রে কোনো অপব্যাখ্যা (তা'ভীল) করেন না, আল্লাহকে তাঁর সৃষ্টির সাথে তুলনা (তাশবীহ) করেন না এবং গুণাবলির ধরন নির্ধারণ (তাকয়ীফ) করেন না; বরং তাঁরা বলেন: যা বর্ণিত হয়েছে আমরা তাতে বিশ্বাস স্থাপন করি। সুতরাং গুণাবলি সংক্রান্ত আলোচনা মূলত আল্লাহর সত্তা সংক্রান্ত আলোচনারই অংশ; যেভাবে তাঁর পবিত্র সত্তা সৃষ্টিজীবের সত্তার সদৃশ নয়, তদ্রূপ তাঁর গুণাবলিও সৃষ্টিজীবের গুণাবলির সদৃশ নয়। তাই তাঁরা বলেন: আল্লাহর এমন জ্ঞান রয়েছে যা তাঁর শানের উপযোগী, আর সৃষ্টির এমন জ্ঞান রয়েছে যা তাদের অবস্থার উপযোগী; আল্লাহর জ্ঞান সৃষ্টিজীবের জ্ঞানের মতো নয়। আল্লাহর এমন শ্রবণশক্তি রয়েছে যা তাঁর মর্যাদার অনুকূল, আর সৃষ্টির এমন শ্রবণশক্তি রয়েছে যা তাদের স্তরের উপযোগী; আল্লাহর শ্রবণ সৃষ্টিজীবের শ্রবণের মতো নয়—এভাবেই অন্যান্য সকল গুণাবলির ক্ষেত্রেও একই মূলনীতি প্রযোজ্য।
(খণ্ড: ১)
নাকদু কালামিল মুফতারিনা আলাল হানাবিলাতিস সালাফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ২০)
ومن صفاته الكلام، فيقولون: كلام اللَّه لا يشبه كلام المخلوق وكلام اللَّه غير مخلوق، منه بدأ وإليه يعود.ومن المستحسن أن أذكر مذهب الإمام أحمد وأتباعه في الأصول، أعني العقائد باختصار: وذلك أنهم يؤمنون باللَّه وملائكته وكتبه ورسله واليوم الآخر والقدر خيره وشره، فيشهدون أن
তাঁর অন্যতম গুণ হলো কালাম (কথা)। তাঁরা বলেন: আল্লাহর কালাম সৃষ্টির বাচনের সদৃশ নয় এবং আল্লাহর কালাম সৃষ্ট নয়; তাঁর থেকেই এর সূচনা এবং তাঁর দিকেই তা প্রত্যাবর্তন করবে।এখানে ইমাম আহমাদ ও তাঁর অনুসারীদের উসুল তথা আকিদাহ সংক্রান্ত মাযহাব সংক্ষেপে উল্লেখ করা সমীচীন হবে। আর তা হলো—তাঁরা আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাকুল, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ, পরকাল এবং ভাগ্যের ভালো ও মন্দের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করেন। অতঃপর তাঁরা সাক্ষ্য প্রদান করেন যে
(খণ্ড: ১)
নাকদু কালামিল মুফতারিনা আলাল হানাবিলাতিস সালাফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ২১)
الله هو الرب الإله المعبود، المنفرد بكل كمال فيعبدونه وحده مخلصين له الدين.فيقولون أن اللَّه هو الخالق البارئ المصور الرزاق المعطي المانع المدبر لجميع الأمور.وأنه المألوه المعبود الموحد المقصود، وأنه الأول الذي ليس قبله شيء، والآخر الذي ليس بعده شيء، الظاهر الذي ليس فوقه شيء، الباطن الذي ليس دونه شيء.وأنه العلي الأعلى بكل معنى واعتبار، علو الذات وعلو القدر، وعلو القهر.وأنه على العرش استوى استواء يليق بعظمته وجلاله، ومع علوه المطلق وفوقيته، فعلمه محيط بالظواهر والبواطن والعالم العلوي والسفلي، وهو مع العباد بعلمه، يعلم جميع أحوالهم، وهو القريب المجيب.وأنه الغني بذاته عن جميع مخلوقاته، والكل إليه مفتقرون في إيجادهم وإيجاد ما يحتاجون إليه في جميع الأوقات، ولا غنى لأحد عنه طرفة عين وهو الرؤوف الرحيم، الذي ما بالعباد من نعمة دينية ولا دنيوية ولا دفع نقمة إلا من الله، فهو الجالب للنعم الدافع للنقم.
আল্লাহ হলেন সেই প্রতিপালক ও উপাস্য ইলাহ, যিনি সমস্ত পূর্ণতায় অদ্বিতীয়; ফলে তারা তাঁরই আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে একমাত্র তাঁরই ইবাদত করে।তাঁরা বলেন যে, আল্লাহই হলেন স্রষ্টা, উদ্ভাবক, রূপদানকারী, রিযিকদাতা, দানকারী, প্রতিরোধকারী এবং সকল বিষয়ের নিয়ন্ত্রক।তিনিই একমাত্র মাবুদ, অদ্বিতীয় উপাস্য এবং সকল লক্ষ্যের কেন্দ্রবিন্দু। তিনি অনাদি, যাঁর পূর্বে কিছুই নেই; তিনি অনন্ত, যাঁর পরে কিছুই নেই; তিনি প্রকাশ্য, যাঁর উপরে কিছুই নেই; এবং তিনি অতি সূক্ষ্ম ও নিকটবর্তী, যাঁর চেয়ে নিকটতর বা অন্তরালে আর কিছুই নেই।তিনি সকল অর্থ ও দিক বিবেচনায় সর্বোচ্চ ও সুমহান—চাই তা সত্তাগত উচ্চতা হোক, মর্যাদাগত উচ্চতা হোক কিংবা আধিপত্য ও পরাক্রমের উচ্চতা।তিনি আরশের ওপর উঠেছেন এমনভাবে যা তাঁর মাহাত্ম্য ও মহিমার উপযোগী। তাঁর নিরঙ্কুশ উচ্চতা ও শ্রেষ্ঠত্ব সত্ত্বেও তাঁর জ্ঞান দৃশ্য ও অদৃশ্য এবং ঊর্ধ্ব ও নিম্ন জগতের সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে আছে। তিনি স্বীয় জ্ঞানের মাধ্যমে তাঁর বান্দাদের সাথেই রয়েছেন, তিনি তাদের সকল অবস্থা জানেন এবং তিনি অতি নিকটবর্তী ও প্রার্থনা কবুলকারী।তিনি স্বীয় সত্তায় তাঁর সমস্ত সৃষ্টি থেকে অমুখাপেক্ষী, আর সৃষ্টিজগত তাদের অস্তিত্ব লাভ ও সর্বদা তাদের প্রয়োজনীয় অভাব পূরণে তাঁরই মুখাপেক্ষী। চোখের পলকের জন্যেও কেউ তাঁর থেকে অমুখাপেক্ষী হতে পারে না। তিনি পরম দয়ালু ও অতিশয় মেহেরবান। বান্দাদের নিকট দ্বীনি বা দুনিয়াবি যত নেয়ামত আসে কিংবা যত বিপদ দূর হয়, তা কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই হয়ে থাকে; কারণ তিনিই নেয়ামত আনয়নকারী এবং বিপদ বিদূরণকারী।
(খণ্ড: ১)
নাকদু কালামিল মুফতারিনা আলাল হানাবিলাতিস সালাফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ২২)
ويصفونه بما وصف به نفسه ووصفه به -رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم من الصفات الذاتية، كالحياة الكاملة والسمع والبصر، وكمال القدرة والعظمة والكبرياء والمجد والجلال والجمال، والحمد المطلق، ومن صفات الأفعال المتعلقة بمشيئته وقدرته كالرحمة والرضا، والسخط، وأنه يتكلم بما يشاء وكيف يشاء، وكلماته لا تنفد ولا تبيد.وأن القرآن كلام اللَّه غير مخلوق، منه بدأ وإليه يعود.وأنه لم يزل ولا يزال موصوفًا بأنه يفعل ما يريد، ويتكلم بما شاء، ويحكم على عباده بأحكامه القدرية، وأحكامه الشرعية وأحكامه الجزائية، فهو الحاكم المالك، ومن سواه مملوك محكوم عليه، فلا خروج للعباد عن ملكه ولا عن حكمه.ويؤمنون بما جاء به الكتاب وتواترت به السنة، أن المؤمنين يرون ربهم تعالى عيانًا جهرة، وأن نعيم رؤيته والفوز برضوانه أكبر النعيم واللذة.
এবং তাঁরা আল্লাহকে সেই সকল গুণাবলীতে বিশেষিত করেন যার মাধ্যমে তিনি স্বয়ং নিজেকে বিশেষিত করেছেন এবং আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে বিশেষিত করেছেন—অর্থাৎ সত্তাগত গুণাবলি, যেমন: পূর্ণাঙ্গ জীবন, শ্রবণ ও দর্শন এবং ক্ষমতার পূর্ণতা, মহত্ত্ব, গরিমা, গৌরব, প্রতাপ, সৌন্দর্য ও নিরঙ্কুশ প্রশংসা। তদ্রূপ তাঁর ইচ্ছা ও কুদরতের সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মগত গুণাবলি, যেমন: রহমত, সন্তুষ্টি ও অসন্তুষ্টি। আর তিনি যা ইচ্ছা এবং যেভাবে ইচ্ছা কথা বলেন; তাঁর বাণীসমূহ কখনো ফুরিয়ে যায় না এবং নিঃশেষ হয় না।আর কুরআন আল্লাহর কালাম, তা সৃষ্ট নয়; তাঁর থেকেই এর সূচনা এবং তাঁর দিকেই তা ফিরে যাবে।তিনি অনাদিকাল থেকে এই গুণেই বিশেষিত এবং চিরকাল থাকবেন যে, তিনি যা ইচ্ছা করেন এবং যা চান তা-ই বলেন। তিনি তাঁর বান্দাদের ওপর তাঁর তাকদিরি ফয়সালা, শরিয়তি বিধান ও প্রতিফল সংক্রান্ত বিধান কার্যকর করেন। তিনিই একমাত্র শাসক ও মালিক, আর তিনি ব্যতীত অন্য সবাই তাঁর মালিকানাধীন ও শাসিত; সুতরাং তাঁর রাজত্ব ও শাসনের বাইরে যাওয়ার কোনো সাধ্য বান্দাদের নেই।আর তাঁরা কিতাব ও মুতাওয়াতির সুন্নাহর বর্ণনার ওপর ঈমান আনেন যে, মুমিনগণ তাঁদের মহান রবকে চাক্ষুষ ও স্পষ্টভাবে প্রত্যক্ষ করবেন। আর তাঁকে দেখার নেয়ামত ও তাঁর সন্তুষ্টি লাভের পরম বিজয়ই হবে সর্বশ্রেষ্ঠ সুখ ও আনন্দ।
(খণ্ড: ১)
নাকদু কালামিল মুফতারিনা আলাল হানাবিলাতিস সালাফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وأن من مات على غير الإيمان والتوحيد فهو مخلد في نار جهنم أبدا، وأن أرباب الكبائر إذا ماتوا على غير توبة ولا حصل لهم مكفر لذنوبهم ولا شفاعة، فإنهم وإن دخلوا النار لا يخلدون فيها، ولا يبقى في النار أحد في قلبه مثقال حبة خردل من إيمان إلا خرج منها.وأن الإيمان يشمل عقائد القلوب وأعمالها، وأعمال الجوارح وأقوال اللسان، فمن قام بها على الوجه الأكمل فهو المؤمن حقا، الذي استحق الثواب وسلم من العقاب، ومن انتقص منها شيئا نقص من إيمانه بقدر ذلك، ولذلك كان الإيمان يزيد بالطاعة وفعل الخير، وينقص بالمعصية والشر.ويشهدون أن محمدًا عبده ورسوله، أرسله اللَّه بالهدى ودين الحق ليظهره على الدين كله، وأنه أولى بالمؤمنين من أنفسهم، وهو خاتم النبيين، أرسل إلى الإنس والجن بشيرًا ونذيرًا وداعيًا إلى اللَّه بإذنه وسراجًا منيرًا، أرسله بصلاح الدين وصلاح الدنيا، وليقوم الخلق بعبادة اللَّه ويستعينوا برزقه على ذلك.ويعلمون أنه أعلم الخلق وأصدقهم وأنصحهم وأعظمهم بيانا، فيعظمونه، ويقدمون محبته
আর নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি ঈমান ও তাওহীদ ব্যতিরেকে মৃত্যুবরণ করবে, সে জাহান্নামের আগুনে চিরকাল অবস্থান করবে। আর কবিরা গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তিগণ যদি তওবা ব্যতীত মৃত্যুবরণ করে এবং তাদের পাপের কোনো কাফফারা বা সুপারিশ লাভ না হয়, তবে তারা জাহান্নামে প্রবেশ করলেও সেখানে চিরস্থায়ী হবে না। যার হৃদয়ে সরিষার দানা পরিমাণ ঈমান অবশিষ্ট থাকবে, সে অবশ্যই জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে।আর নিশ্চয়ই ঈমান অন্তরের বিশ্বাস ও কর্ম, অঙ্গপ্রত্যঙ্গের আমল এবং জিহ্বার উচ্চারণকে অন্তর্ভুক্ত করে। অতএব, যে ব্যক্তি তা পূর্ণাঙ্গভাবে সম্পাদন করবে, সে-ই প্রকৃত মুমিন, যে সওয়াবের অধিকারী এবং শাস্তি থেকে নিরাপদ। আর যে ব্যক্তি এর কোনো অংশে ঘাটতি করবে, সেই পরিমাণ তার ঈমান হ্রাস পাবে। একারণেই আনুগত্য ও নেক আমলের মাধ্যমে ঈমান বৃদ্ধি পায় এবং পাপাচার ও মন্দের কারণে তা হ্রাস পায়।তারা সাক্ষ্য প্রদান করে যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন যেন তিনি একে সকল ধর্মের ওপর বিজয়ী করেন। তিনি মুমিনদের নিকট তাদের নিজেদের প্রাণের চেয়েও অধিক প্রিয়। তিনি সর্বশেষ নবী; মানব ও জিন জাতির নিকট সুসংবাদদাতা, সতর্ককারী, আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহ্বানকারী এবং উজ্জ্বল প্রদীপ হিসেবে প্রেরিত হয়েছেন। আল্লাহ তাঁকে দ্বীন ও দুনিয়ার সংশোধনের জন্য এবং সৃষ্টিজগত যেন আল্লাহর ইবাদত কায়েম করে ও তজ্জন্য তাঁর প্রদত্ত রিযিকের সাহায্য গ্রহণ করে, সেজন্য প্রেরণ করেছেন।তারা বিশ্বাস করে যে, তিনি সৃষ্টির মধ্যে সর্বাধিক জ্ঞানী, সর্বাপেক্ষা সত্যবাদী, সবচেয়ে বড় হিতাকাঙ্ক্ষী এবং সবচেয়ে প্রাঞ্জল বর্ণনাকারী। অতএব, তারা তাঁর সম্মান প্রদর্শন করে এবং তাঁর ভালোবাসাকে প্রাধান্য দেয়।
(খণ্ড: ১)
নাকদু কালামিল মুফতারিনা আলাল হানাবিলাতিস সালাফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ২৪)
على محبة الخلق كلهم، ويتبعونه في أصول دينهم وفروعه.ويقدمون قوله وهديه على قول كل أحد وهديه.ويعتقدون أن اللَّه جمع له من الفضائل والخصائص والكمالات ما لم يجمعه لأحد، فهو أعلى الخلق مقاما وأعظمهم جاهًا، وأكملهم في كل فضيلة، لم يبق خير إلا دل أمته عليه، ولا شر إلا حذرهم عنه.وكذلك يؤمنون بكل كتاب أنزله الله، وكل رسول أرسله الله، لا يفرقون بين أحد من رسله ويؤمنون بالملائكة وأنهم عباد اللَّه المكرمون {لَا يَعْصُونَ اللَّهَ مَا أَمَرَهُمْ وَيَفْعَلُونَ مَا يُؤْمَرُونَ} .ويؤمنون بالقدر كله، وأن جميع أعمال العباد خيرها وشرها، قد أحاط بها علم الله، وجرى بها قلمه، ونفذت فيهما مشيئته، وتعلقت بها حكمته، حيث خلق للعباد قدرة وإرادة تقع بها أقوالهم وأفعالهم حسب مشيئتهم لم يجبرهم على شيء منها بل جعلهم مختارين لها، وخص المؤمنين بأن حبب إليهم الإيمان وزينه في قلوبهم وكره إليهم الكفر والفسوق والعصيان بعدله وحكمته.
সমস্ত সৃষ্টির ভালোবাসার ওপর এবং দ্বীনের মৌলিক ও শাখা-প্রশাখাগত সকল বিষয়ে তাঁর অনুসরণের ওপর (তাঁরা প্রতিষ্ঠিত)।তাঁরা তাঁর বাণী ও আদর্শকে অন্য যেকোনো ব্যক্তির বাণী ও আদর্শের ওপর অগ্রগণ্য মনে করেন।তাঁরা বিশ্বাস করেন যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর মাঝে এমন সব ফযিলত, অনন্য বৈশিষ্ট্য এবং পূর্ণতা একত্রিত করেছেন যা অন্য কারো জন্য করেননি। তিনি সৃষ্টির মাঝে সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী, সর্বশ্রেষ্ঠ সম্মানের অধিকারী এবং প্রতিটি সদ্গুণে সর্বাধিক পরিপূর্ণ। এমন কোনো কল্যাণ নেই যার দিকে তিনি তাঁর উম্মতকে পথপ্রদর্শন করেননি এবং এমন কোনো অকল্যাণ নেই যা থেকে তিনি তাদের সতর্ক করেননি।একইভাবে তাঁরা আল্লাহর অবতীর্ণ প্রতিটি কিতাব এবং প্রেরিত প্রত্যেক রাসূলের প্রতি ঈমান আনেন; তাঁরা তাঁর রাসূলদের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ করেন না। তাঁরা ফেরেশতাদের প্রতিও ঈমান রাখেন এবং বিশ্বাস করেন যে তাঁরা আল্লাহর সম্মানিত বান্দা, যারা "আল্লাহ তাঁদের যা আদেশ করেন তার অবাধ্য হয় না এবং তারা তা-ই করে যা তাদের আদেশ করা হয়।"তাঁরা তকদীরের ভালো-মন্দের প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস স্থাপন করেন এবং বিশ্বাস করেন যে, বান্দাদের সমস্ত কর্ম—তা ভালো হোক বা মন্দ—তা আল্লাহর জ্ঞানের পরিধিভুক্ত, তাঁর কলম দ্বারা তা লিপিবদ্ধ হয়েছে, তাঁর ইচ্ছা তাতে কার্যকর হয়েছে এবং তাঁর প্রজ্ঞা তার সাথে সংশ্লিষ্ট। যেহেতু তিনি বান্দাদের জন্য সক্ষমতা ও ইচ্ছা সৃষ্টি করেছেন যার দ্বারা তাদের কথা ও কাজ তাদের নিজ ইচ্ছানুযায়ী সংঘটিত হয়; তিনি তাদের কোনো কাজে বাধ্য করেননি বরং তাদের স্বেচ্ছাধীন করেছেন। আর তিনি মুমিনদের বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন এভাবে যে, তিনি তাঁদের নিকট ঈমানকে প্রিয় করে দিয়েছেন এবং তাঁদের অন্তরে তা সুশোভিত করেছেন, আর কুফরি, পাপাচার ও অবাধ্যতাকে তাঁদের নিকট অপ্রিয় করে দিয়েছেন—সবই তাঁর ন্যায়বিচার ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে।
(খণ্ড: ১)
নাকদু কালামিল মুফতারিনা আলাল হানাবিলাতিস সালাফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ২৫)
ويؤمنون بيوم البعث وإحياء اللَّه الموتى للحساب والجزاء، ويؤمنون بالشفاعة العظمى للرسول صلى الله عليه وسلم، وسائر الشفاعات الثابتة، وبالصراط والميزان والجنة والنار، كما جاء في القرآن وصحت الأحاديث عن النبي المختار.ويؤمنون بأن أفضل الأمم أمة محمد صلى الله عليه وسلم، وأفضلهم أصحاب رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم خصوصا الخلفاء الراشدين، والعشرة المشهود لهم بالجنة، وأهل بدر، وبيعة الرضوان، والسابقون الأولون من المهاجرين والأنصار.ويحبون الصحابة ويدينون اللَّه به وينشرون محاسنهم ويسكتون عما شجر بينهم، ويدينون اللَّه باحترام العلماء الهداة وأئمة العدل، ومن لهم المقامات العالية في الدين والفضل المتنوع على المسلمين، ويسألون اللَّه أن يعيذهم من الشك والشرك والشقاق والنفاق وسوء الأخلاق، وأن يثبتهم على دين نبيهم إلى الممات.هذه الأصول الكلية بها يؤمنون ولها يعتقدون وإليها يدعون. (من القول السديد لعلامة القصيم عبد الرحمن بن ناصر السعدي من
এবং তারা পুনরুত্থান দিবসে এবং হিসাব ও প্রতিদানের উদ্দেশ্যে আল্লাহ তাআলা কর্তৃক মৃতদের পুনর্জীবিত করার বিষয়ে বিশ্বাস পোষণ করেন। তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুমহান সুপারিশ এবং অন্যান্য সকল প্রমাণিত সুপারিশসমূহে বিশ্বাস রাখেন। এছাড়া তারা সিরাত, মিজান, জান্নাত ও জাহান্নামে বিশ্বাস করেন, যেমনটি কুরআনে বর্ণিত হয়েছে এবং মনোনীত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত বিশুদ্ধ হাদিসসমূহে সাব্যস্ত হয়েছে।তারা বিশ্বাস করেন যে, সকল উম্মতের মধ্যে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মত সর্বশ্রেষ্ঠ; আর তাদের মধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ সর্বোত্তম, বিশেষত খুলাফায়ে রাশিদীন, জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজন সাহাবী, বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীগণ, বাইয়াতে রিদওয়ানকারীগণ এবং মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা প্রথম সারির অগ্রবর্তী ছিলেন।তারা সাহাবায়ে কিরামকে ভালোবাসেন এবং একে আল্লাহর ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত মনে করেন; তাঁরা তাঁদের গুণাবলি প্রচার করেন এবং তাঁদের মধ্যে ঘটে যাওয়া বিবাদসমূহ সম্পর্কে নীরবতা অবলম্বন করেন। তারা পথপ্রদর্শক উলামায়ে কিরাম, ন্যায়নিষ্ঠ ইমামগণ এবং দ্বীনের ক্ষেত্রে উচ্চ মর্যাদার অধিকারী ও মুসলিমদের প্রতি নানাভাবে অনুগ্রহকারী ব্যক্তিবর্গের প্রতি সম্মান প্রদর্শনকে আল্লাহর আনুগত্য হিসেবে গণ্য করেন। তারা আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করেন যেন তিনি তাঁদেরকে সংশয়, শিরক, বিভেদ, কপটতা ও মন্দ স্বভাব থেকে রক্ষা করেন এবং মৃত্যু পর্যন্ত তাঁদের নবীর দ্বীনের ওপর অটল রাখেন।এই হলো সেই সামগ্রিক মূলনীতিসমূহ, যেগুলোর ওপর তারা ঈমান আনেন, যা তারা বিশ্বাস হিসেবে লালন করেন এবং যেদিকে তারা মানুষকে আহ্বান করেন। (কাসিমের প্রখ্যাত আল্লামা আবদুর রহমান বিন নাসির আস-সাদী রচিত 'আল-কাওলুস সাদীদ' থেকে সংগৃহীত)
(খণ্ড: ১)
নাকদু কালামিল মুফতারিনা আলাল হানাবিলাতিস সালাফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ২৬)
أكابر علماء نجد -رحمه اللَّه تعالى- بحذف في بعض المواضيع وزيادة في بعضها) .الأصول التي بنيت عليها فتاوى الإمام أحمدوإذ بينت عقيدة الإمام أحمد وأتباعه، فمن المستحسن جدًا أن أذكر أصول مذهبه في الفروع وفتاويه وهاك أيها القارئ تلك الأصول نقلا عن العلامة ابن القيم رحمه اللَّه تعالى: بنيت على خمس أصول وهي كما يلي:الأصل الأول:- (النصوص)النصوص، فإذا وجد النص أفتى بموجبه ولم يلتفت إلى ما خالفه ولا من خالفه كائنًا من كان، كما لم يلتفت إلى قول علي وعثمان وطلحة وأبي بن كعب من ترك الغسل من الإكسال لصحة حديث عائشة أنها فعلته هي ورسول اللَّه صلى الله عليه وسلم فاغتسلا، ولم يلتفت إلى قول ابن عباس وإحدى الروايتين عن علي أن عدة المتوفى عنها الحامل أقصى الأجلين، لصحة حديث سبيعة الأسلمية.وهذا كثير جدا، ولم يكن يقدم على الحديث عملًا ولا رأيًا ولا قياسًا ولا قول صاحب ولا عدم
নজদ অঞ্চলের মহান আলেমগণ -আল্লাহ তাআলা তাঁদের প্রতি দয়া করুন- (কিছু স্থানে বর্জন এবং কিছু স্থানে সংযোজন সহকারে)।যে সকল মূলনীতির ওপর ইমাম আহমদের ফতোয়া ভিত্তি লাভ করেছেযেহেতু আমি ইমাম আহমদ এবং তাঁর অনুসারীদের আকিদা বা বিশ্বাস স্পষ্ট করেছি, তাই ফিকহি শাখা-প্রশাখা এবং তাঁর ফতোয়ার মূলনীতিসমূহ উল্লেখ করা অত্যন্ত সমীচীন। হে পাঠক, আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ)-এর বর্ণনা থেকে গৃহীত সেই মূলনীতিগুলো এখানে তুলে ধরা হলো; তাঁর মাযহাব পাঁচটি মূলনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত, যা নিম্নরূপ:প্রথম মূলনীতি: (নাস বা অকাট্য পাঠ্য-প্রমাণ)নাসসমূহ: যখনই কোনো স্পষ্ট দলিল পাওয়া যেত, তিনি সেই অনুযায়ী ফতোয়া দিতেন। এর বিপরীতে অন্য কোনো মত বা অন্য কারো বক্তব্যের দিকে তিনি ভ্রুক্ষেপ করতেন না, তিনি যেই হোন না কেন। যেমন তিনি আলী, উসমান, তালহা এবং উবাই ইবনে কাব (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর সেই মতের প্রতি ভ্রুক্ষেপ করেননি যাতে বীর্যপাতহীন মিলনের পর গোসল না করার কথা বলা হয়েছিল; কারণ আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত হাদিসটি সহিহ যে, তিনি এবং আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এমনটি করেছেন এবং এরপর তাঁরা গোসল করেছেন। অনুরূপভাবে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) এবং আলীর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত দুই বর্ণনার একটির প্রতিও ভ্রুক্ষেপ করেননি যাতে বলা হয়েছিল যে, গর্ভবতী বিধবা মহিলার ইদ্দত হবে দুটি মেয়াদের মধ্যে যেটি দীর্ঘতর সেটি; কারণ সুবাইয়াহ আল-আসলামিয়্যাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর হাদিসটি এ ব্যাপারে সহিহ।এরকম উদাহরণ অনেক রয়েছে। তিনি হাদিসের ওপর কোনো আমল, ব্যক্তিগত অভিমত (রায়), কিয়াস (সাদৃশ্যপূর্ণ অনুমান), সাহাবীর উক্তি কিংবা কোনো বিষয়ের অনুপস্থিতিকে প্রাধান্য দিতেন না।
(খণ্ড: ১)
নাকদু কালামিল মুফতারিনা আলাল হানাবিলাতিস সালাফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ২৭)
علمه بالمخالف، الذي يسميه كثير من الناس إجماعا ويقدمونه على الحديث الصحيح، وقد كذب أحمد من ادعى هذا الإجماع.ونصوص رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم أجل عند الإمام أحمد وسائر أئمة الحديث من أن يقدموا عليها توهم إجماع مضمونه عدم العلم بالمخالف، ولو ساغ لتعطلت النصوص، وساغ لكل من لم يعلم مخالفا في حكم مسألة أن يقدم جهله بالمخالف على النصوص، فهذا هو الذي أنكره الإمام أحمد والشافعي من دعوى الإجماع لا ما يظنه بعض الناس أنه استبعاد لوجوده.الأصل الثاني: - (فتاوى الصحابة)الأصل الثاني من أصول فتاوى الإمام أحمد ما أفتى به الصحابة، فإنه إذا وجد لبعضهم فتوى لا يعرف له مخالف منهم فيها لم يعدها إلى غيرها، ولم يقل أن ذلك إجماع، بل من ورعه في العبارة، يقول "لا أعلم شيئا يدفعه" أو نحو هذا، كما قال في رواية أبي طالب لا أعلم شيئا يدفع قول ابن عباس وابن عمر وأحد عشر من التابعين منهم عطاء ومجاهد وأهل المدينة على تسري العبد، وهكذا قال أنس بن مالك لا أعلم أحدًا رد شهادة العبد، حكاه عن
বিরুদ্ধ মত পোষণকারী সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান, যাকে অনেক মানুষ ইজমা বলে অভিহিত করেন এবং সহীহ হাদীসের ওপর প্রাধান্য দেন; অথচ ইমাম আহমাদ এই ইজমার দাবিদারকে মিথ্যাবাদী বলেছেন।ইমাম আহমাদ এবং অন্যান্য হাদীস বিশারদগণের নিকট রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নসসমূহ (সুস্পষ্ট নির্দেশিকা) এর মর্যাদা এতই ঊর্ধ্বে যে, বিরুদ্ধ মত সম্পর্কে জ্ঞানের অভাবজনিত কাল্পনিক ইজমাকে তাঁরা এর ওপর প্রাধান্য দিতে পারেন না। যদি এটি বৈধ হতো, তবে নসসমূহ অকার্যকর হয়ে পড়ত এবং যে কোনো ব্যক্তি কোনো মাসআলার হুকুমে বিরুদ্ধ মত না জানলে তার সেই না জানাকে নসের ওপর প্রাধান্য দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতো। ইমাম আহমাদ ও শাফিঈ ইজমার দাবির ক্ষেত্রে মূলত এটিই অস্বীকার করেছেন; এটি নয় যে তাঁরা এর অস্তিত্বকে অসম্ভব মনে করতেন, যেমনটি কিছু লোক ধারণা করে থাকে।দ্বিতীয় মূলনীতি: - (সাহাবীগণের ফাতাওয়া)ইমাম আহমাদের ফাতাওয়া প্রদানের দ্বিতীয় মূলনীতি হলো সাহাবীগণের ফাতাওয়া। কেননা যখন তিনি তাঁদের মধ্য থেকে কারো কোনো ফাতাওয়া পেতেন এবং এর বিপরীতে অন্য কোনো সাহাবীর ভিন্ন মত পাওয়া যেত না, তখন তিনি তা বাদ দিয়ে অন্য কিছু গ্রহণ করতেন না। তিনি একে ইজমা বলতেন না, বরং শব্দ চয়নের ক্ষেত্রে তাঁর আল্লাহভীতি ও সতর্কতার কারণে তিনি বলতেন: "আমি এর পরিপন্থী কিছু জানি না" বা এই জাতীয় কিছু। যেমন তিনি আবু তালিবের বর্ণনায় বলেছেন: "ইবনে আব্বাস, ইবনে উমর এবং আতা ও মুজাহিদসহ এগারোজন তাবিঈ ও মদীনার অধিবাসীদের পক্ষ থেকে দাসের উপপত্নী গ্রহণের (তাসাররি) বৈধতার বিষয়ে যে অভিমত এসেছে, তার পরিপন্থী কিছু আমি জানি না।" অনুরূপভাবে আনাস ইবনে মালিক বলেছেন: "দাসের সাক্ষ্য প্রত্যাখ্যান করেছেন এমন কাউকে আমি জানি না।" এটি বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১)
নাকদু কালামিল মুফতারিনা আলাল হানাবিলাতিস সালাফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الإمام أحمد، وإذا وجد الإمام أحمد هذا النوع عن الصحابة، لم يقدم عليه عملًا، ولا رأيًا ولا قياسًا.الأصل الثالث:- (الاختيار من أقوال الصحابة إذا اختلفوا)الأصل الثالث من أصوله: إذا اختلف الصحابة تخير من أقوالهم ما كان أقربها إلى الكتاب والسنة، ولم يخرج عن أقوالهم، فإن لم يتبين له موافقة أحد الأقوال حكى الخلاف فيها ولم يجزم بقول.قال إسحاق بن هانئ في مسائله قيل لأبي عبد الله: يكون الرجل في قومه فيسأل عن الشيء فيه اختلاف، قال يفتي بما وافق الكتاب والسنة، وما لم يوافق الكتاب والسنة أمسك عنه، قيل له: أفيجيب عليه؟ قال: لا.الأصل الرابع: (الحديث المرسل)الأصل الرابع: الأخذ بالمرسل والحديث الضعيف، إذا لم يكن في الباب شيء يدفعه وهو الذي رجحه القياس، وليس المراد بالضعيف عنده الباطل ولا المنكر ولا ما في روايته متهم بحيث لا يسوغ الذهاب إليه، فالعمل به، بل الحديث الضعيف عنده قسيم الصحيح
ইমাম আহমাদ; আর যখন ইমাম আহমাদ সাহাবীগণ থেকে এই ধরনের বর্ণনা পেতেন, তখন তিনি এর ওপর অন্য কোনো আমল, রায় কিংবা কিয়াসকে প্রাধান্য দিতেন না।তৃতীয় মূলনীতি:- (সাহাবীগণের মধ্যে মতভেদ দেখা দিলে তাঁদের বক্তব্য থেকে চয়ন করা)তাঁর মূলনীতিসমূহের মধ্যে তৃতীয়টি হলো: যদি সাহাবীগণ কোনো বিষয়ে মতভেদ করতেন, তবে তিনি তাঁদের বক্তব্যগুলোর মধ্য থেকে সেটিকেই পছন্দ করতেন যা কুরআন ও সুন্নাহর অধিক নিকটবর্তী হতো এবং তিনি তাঁদের বক্তব্যের বাইরে যেতেন না। আর যদি কোনো একটি বক্তব্যের কুরআন-সুন্নাহর সাথে সামঞ্জস্যতা তাঁর নিকট স্পষ্ট না হতো, তবে তিনি সে বিষয়ে বিদ্যমান মতভেদগুলো উল্লেখ করতেন এবং কোনো একটি নির্দিষ্ট মতের ওপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিতেন না।ইসহাক ইবনে হানি তাঁর 'মাসায়িল'-এ উল্লেখ করেছেন, আবু আব্দুল্লাহকে (ইমাম আহমাদ) জিজ্ঞেস করা হলো: কোনো ব্যক্তি তাঁর সম্প্রদায়ের মধ্যে থাকাকালীন যদি তাঁকে এমন বিষয়ে প্রশ্ন করা হয় যে বিষয়ে মতভেদ রয়েছে, তবে তিনি কী করবেন? তিনি বললেন: কুরআন ও সুন্নাহর সাথে যা সামঞ্জস্যপূর্ণ তিনি সে অনুযায়ী ফতোয়া দেবেন, আর যা কুরআন ও সুন্নাহর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় তা থেকে বিরত থাকবেন। তাঁকে পুনরায় জিজ্ঞেস করা হলো: তিনি কি তবে সে বিষয়ে জবাব দেবেন? তিনি বললেন: না।চতুর্থ মূলনীতি: (মুরসাল হাদিস)চতুর্থ মূলনীতি হলো: মুরসাল এবং যয়ীফ হাদিস গ্রহণ করা, যখন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অন্য কোনো জোরালো প্রমাণ একে নাকচ না করে এবং যা কিয়াসের ওপর প্রাধান্য পায়। তবে তাঁর নিকট 'যয়ীফ' বলতে বাতিল, মুনকার কিংবা এমন কোনো বর্ণনা উদ্দেশ্য নয় যার বর্ণনাকারী মিথ্যাচারের দায়ে অভিযুক্ত এবং যা আমলযোগ্য নয়; বরং তাঁর নিকট যয়ীফ হাদিস হলো সহীহ হাদিসের একটি শ্রেণিবিভাগ বা প্রকারভেদ।
(খণ্ড: ১)
নাকদু কালামিল মুফতারিনা আলাল হানাবিলাতিস সালাফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وقسم من أقسام الحسن، ولم يكن يقسم الحديث إلى صحيح وحسن وضعيف، بل إلى صحيح وضعيف، وللضعيف عنده مراتب، فإذا لم يجد في الباب أثرًا يدفعه ولا قول صاحب، ولا إجماعا على خلافه، كان العمل به عنده أولى من القياس.الأصل الخامس: - (القياس للضرورة)فإذا لم يكن عند الإمام أحمد في المسألة نص ولا قول للصحابة أو واحد منهم ولا أثر مرسل أو ضعيف عدل إلى الأصل الخامس -وهو القياس- فاستعمله للضرورة، وقد قال في كتاب الخلال: سألت الشافعي عن القياس، فقال: إنما يصار إليه عند الضرورة، أو ما هذا معناه.فهذه الأصول الخمسة من أصول فتاويه، وعليه مدارها، وقد يتوقف في الفتوى لتعارض الأدلة عنده، أو اختلاف الصحابة فيها، أو لعدم اطلاعه فيها على أثر أو قول أحد من الصحابة والتابعين.وكان شديد الكراهية والمنع للإفتاء بمسألة ليس فيها عن السلف، كما قال لبعض أصحابه: إياك أن تتكلم في مسألة ليس لك فيها إمام. ا. هـ
এটি হাসানের একটি প্রকার। তিনি হাদিসকে সহিহ, হাসান ও জয়িফ—এই তিন ভাগে বিভক্ত করতেন না; বরং সহিহ ও জয়িফ—এই দুই ভাগে ভাগ করতেন। তাঁর নিকট জয়িফ বা দুর্বল হাদিসের বিভিন্ন স্তর ছিল। সুতরাং যখন তিনি কোনো বিষয়ে এমন কোনো বর্ণনা পেতেন না যা একে খণ্ডন করে, কিংবা কোনো সাহাবীর বক্তব্য অথবা এর বিপরীতে কোনো ইজমা (ঐকমত্য) পেতেন না, তখন তাঁর নিকট এর ওপর আমল করা কিয়াসের চেয়ে অগ্রগণ্য ছিল।পঞ্চম মূলনীতি: - (প্রয়োজনের খাতিরে কিয়াস)যখন ইমাম আহমাদের নিকট কোনো মাসআলায় কোনো নস (সুস্পষ্ট পাঠ), সাহাবীদের বক্তব্য বা তাঁদের মধ্য থেকে কোনো একজনের মত কিংবা কোনো মুরসাল বা জয়িফ বর্ণনা থাকত না, তখন তিনি পঞ্চম মূলনীতির দিকে ধাবিত হতেন—আর তা হলো কিয়াস বা অনুমান। তিনি এটি কেবল প্রয়োজনের খাতিরেই ব্যবহার করতেন। খল্লালের কিতাবে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন: আমি শাফেয়ীকে কিয়াস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তখন তিনি বলেছিলেন: কিয়াসের আশ্রয় কেবল প্রয়োজনের সময়ই নেওয়া হয়, অথবা এই মর্মে কোনো কথা বলেছিলেন।এই পাঁচটি মূলনীতিই তাঁর ফতোয়া প্রদানের ভিত্তি এবং এর ওপরেই তাঁর মাযহাব আবর্তিত হয়। কখনও কখনও তিনি ফতোয়া প্রদানে বিরত থাকতেন—হয়তো দালিলিক বৈপরীত্যের কারণে, অথবা এ বিষয়ে সাহাবীদের মতভেদের কারণে, কিংবা এ সংক্রান্ত কোনো আসার অথবা সাহাবী ও তাবেয়ীদের কোনো বক্তব্য তাঁর জানা না থাকার কারণে।তিনি এমন কোনো বিষয়ে ফতোয়া দেওয়া অত্যন্ত অপছন্দ করতেন এবং নিষেধ করতেন যে বিষয়ে সালাফ বা পূর্বসূরিদের কোনো উক্তি নেই। যেমন তিনি তাঁর জনৈক অনুসারীকে বলেছিলেন: "সাবধান! তুমি এমন কোনো বিষয়ে কথা বলো না যে বিষয়ে তোমার কোনো ইমাম (পূর্বসূরি অনুসরণীয় ব্যক্তি) নেই।" (সমাপ্ত)
(খণ্ড: ১)
নাকদু কালামিল মুফতারিনা আলাল হানাবিলাতিস সালাফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ৩০)
(من إعلام الموقعين - الجزء الأول باختصار من الأصل الأول) .فهل في هذه الأصول الخمسة لمن تحلى بالإنصاف قول لقائل أو نقد لناقد، ولا شك أن الحنابلة هم أتباع هذا الإمام الجليل الذي قال فيه بعض أهل العلم: تأيد الدين برجلين بأبي بكر يوم الردة، وأحمد بن حنبل يوم المحنة، يقصد
(ই’লামুল মুওয়াক্কিঈন হতে - প্রথম খণ্ডের প্রথম মূলনীতির সংক্ষিপ্তসার)।সুতরাং এই পাঁচটি মূলনীতির ব্যাপারে কি কোনো ইনসাফপ্রিয় ব্যক্তির কোনো আপত্তি কিংবা কোনো সমালোচকের কোনো সমালোচনা থাকতে পারে? আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, হাম্বলীগণ হলেন সেই মহান ইমামের অনুসারী, যাঁর সম্পর্কে কতিপয় আহলে ইলম বলেছেন: “দ্বীন দুইজন ব্যক্তির দ্বারা শক্তিশালী হয়েছে— রিদ্দার (স্বধর্মত্যাগ) যুদ্ধের দিনে আবু বকরের মাধ্যমে এবং মিহনার (কঠিন পরীক্ষা) দিনে আহমাদ ইবনে হাম্বলের মাধ্যমে।” তিনি উদ্দেশ্য করেছেন...
(খণ্ড: ১)
নাকদু কালামিল মুফতারিনা আলাল হানাবিলাতিস সালাফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ৩১)
بذلك يوم أن امتحنه بذلك المأمون والمعتصم والواثق بالسجن والضرب حتى يقول أن القرآن مخلوق فامتنع وصبر على الأذى واحتسب الأجر عند الله.فهل وقف القارئ على عقيدة الإمام أو أحد من أتباعه وخصوصا فيما يوهم التشبيه والتجسيم كما يقول المفترون، وفي كلام اللَّه ما زعمه الزاعمون من أن الجلد والمداد قديمان، كل ما قالوا أن القرآن كلام اللَّه غير مخلوق، منه بدأ وإليه يعود، وسيأتي فيما بعد رد هذه الفرية من كلام شيخ الإسلام والحافظ ابن القيم رحمهما اللَّه وغيرهما.وها أنا أتحدى هؤلاء الزاعمين المفترين -أن الحنابلة يمثلون اللَّه بخلقه أو يجسمونه أو
এটি ছিল সেই দিনের কথা, যখন আল-মামুন, আল-মুতাসিম এবং আল-ওয়াছিক তাঁকে কারাবরণ ও প্রহারের মাধ্যমে এই পরীক্ষায় ফেলেছিলেন যাতে তিনি বলেন যে 'কুরআন সৃষ্ট'; কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং আল্লাহর নিকট প্রতিদানের আশায় সকল কষ্ট অম্লান বদনে সহ্য করেন।অতঃপর পাঠক কি ইমামের কিংবা তাঁর অনুসারীদের আকিদা বা বিশ্বাসের মধ্যে এমন কিছু পেয়েছেন যা সাদৃশ্যকরণ (তাশবিহ) ও মূর্তমানকরণের (তাজসিম) সংশয় তৈরি করে, যেমনটি অপবাদদানকারীরা বলে থাকে? অথবা আল্লাহর কালাম সম্পর্কে সেই সব দাবিদারদের মতো কোনো বক্তব্য পেয়েছেন কি, যারা দাবি করে যে (কুরআনের) চামড়া ও কালি অনাদি? তারা কেবল এটুকু বলেছেন যে, কুরআন আল্লাহর কালাম এবং তা সৃষ্ট নয়; তাঁর থেকেই এর সূচনা এবং তাঁর দিকেই তা ফিরে যাবে। অচিরেই শাইখুল ইসলাম ও হাফিজ ইবনুল কায়্যিম (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের ওপর রহমত বর্ষণ করুন) এবং অন্যদের বক্তব্য থেকে এই অপবাদের খণ্ডন উপস্থাপিত হবে।আর এখন আমি সেই সকল মিথ্যা দাবিদার ও অপবাদদানকারীদের চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছি—যারা দাবি করে যে হাম্বলিগণ আল্লাহকে তাঁর সৃষ্টির সাথে তুলনা করে কিংবা তাঁকে মূর্ত রূপ দান করে অথবা...
(খণ্ড: ১)
নাকদু কালামিল মুফতারিনা আলাল হানাবিলাতিস সালাফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ৩২)
يشبهونه أو يقولون في القرآن ما زعموا- أن يأتوا بكلمة واحدة من كتب الإمام أحمد أو كتب أصحابه المحققين يثبت ذلك، وإلا فلينادوا على أنفسهم بالجهل والافتراء.ويعلم الواقفون على كلامهم أن لا نصيب لكلامهم من الصحة، وأن علومهم هباء في هباء، وقولهم كذب وافتراء، إذ لم يسندوها إلى المصادر المعتبرة من كتب أولئك العلماء فوالله لو استعانوا بالجن والإنس، وصعدوا إلى المريخ ونزلوا إلى أعماق الأرضين، لما أتوا بحرف واحد يدل على زعمهم وافترائهم.وها أنا ذا أوضح هذا المرام فيما يلي:
যারা তাঁকে সৃষ্টির সাথে সাদৃশ্য দেয় অথবা কুরআন সম্পর্কে তাদের ধারণাপ্রসূত উক্তি করে—তাদের প্রতি চ্যালেঞ্জ হলো, তারা ইমাম আহমাদ কিংবা তাঁর নির্ভরযোগ্য অনুসারীদের গ্রন্থাবলি থেকে এমন একটি শব্দও উপস্থাপন করুক যা তাদের এই দাবির সত্যতা প্রমাণ করে; অন্যথায় তারা যেন নিজেদের অজ্ঞতা ও অপবাদ রটনাকারী হিসেবেই ঘোষণা দেয়।আর যারা তাদের বক্তব্য সম্পর্কে সম্যক অবগত, তারা জানেন যে তাদের কথার বিন্দুমাত্র সত্যতা নেই; তাদের জ্ঞান ভস্মতুল্য অসার এবং তাদের উক্তি নির্জলা মিথ্যা ও অপবাদ, কারণ তারা সেইসব বরেণ্য আলিমদের নির্ভরযোগ্য উৎসগ্রন্থের বরাতে তা পেশ করতে পারেনি। আল্লাহর কসম! তারা যদি জিন ও ইনসানের সাহায্য গ্রহণ করে, মঙ্গলে আরোহণ করে কিংবা জমিনের গভীরতম তলদেশে প্রবেশ করে, তবুও তারা এমন একটি বর্ণও আনতে পারবে না যা তাদের ভিত্তিহীন দাবি ও অপবাদের সপক্ষে প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে।নিম্নে আমি এই বিষয়টিই বিশদভাবে স্পষ্ট করছি:
(খণ্ড: ১)
নাকদু কালামিল মুফতারিনা আলাল হানাবিলাতিস সালাফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
(تقسيم المتكلمين إلى ثلاثة أقسام بالنسبة للصفات ونفيها)(أولًا) المتكلمون في العقائد، وسموا بالمتكلمين، لكثرة كلامهم حول كلام الله، وحول صفات الله، قد انقسموا إلى فرق:(1) منهم من لم يثبت للَّه صفة ولا اسما كالجهمية.(2) ومنهم من أثبت له الأسماء دون الصفات وهم المعتزلة، وقالوا عليم بلا علم، سميع بلا سمع، بصير بلا بصر، ونفوا الكلام لله، وقالوا بل يخلق اللَّه الكلام منفصلًا عنه، كما سيأتي بيانه.(3) ومنهم من أثبت للَّه الأسماء وصفات المعاني فقط، وهي سبعة: الحياة والعلم والسمع والبصر والقدرة والإرادة والكلام، ومشتقاتها وهي الأسماء -أعني- كونه حيا عليمًا سميعًا بصيرًا متكلمًا … إلخ.ونفوا بعد ذلك الصفات الخبرية الواردة في الكتاب والسنة كالاستواء واليد ونحو ذلك، وهؤلاء هم أكثر الأشاعرة والماتريدية.
(সিফাত বা গুণাবলি সাব্যস্তকরণ ও তা অস্বীকারের নিরিখে মুতাকাল্লিমীনদের তিনটি শ্রেণিতে বিন্যাস)(প্রথমত) আকীদা শাস্ত্রের পণ্ডিতগণ, যাদের আল্লাহর কালাম ও আল্লাহর গুণাবলি সম্পর্কে অধিক আলোচনার কারণে 'মুতাকাল্লিমীন' নামকরণ করা হয়েছে, তারা কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়েছেন:(১) তাদের মধ্যে এমন একদল রয়েছে যারা আল্লাহর জন্য কোনো নাম বা গুণ কোনটিই সাব্যস্ত করে না, যেমন জাহমিয়া সম্প্রদায়।(২) তাদের মধ্যে এমনও রয়েছে যারা আল্লাহর জন্য নামসমূহ সাব্যস্ত করে কিন্তু গুণাবলি অস্বীকার করে; তারা হলো মুতাজিলা সম্প্রদায়। তারা বলে: তিনি জ্ঞান ব্যতীত সর্বজ্ঞ, শ্রবণেন্দ্রিয় ব্যতীত সর্বশ্রোতা এবং দৃষ্টিশক্তি ব্যতীত সর্বদ্রষ্টা। তারা আল্লাহর কথা বলার গুণকে (কালাম) অস্বীকার করে এবং বলে যে, বরং আল্লাহ তাঁর সত্তা থেকে পৃথকভাবে কথা বা কালাম সৃষ্টি করেন, যার বর্ণনা সামনে আসবে।(৩) আর তাদের মধ্যে এমন দল রয়েছে যারা আল্লাহর জন্য নামসমূহ এবং কেবল অর্থবোধক গুণাবলি (সিফাতে মা'আনি) সাব্যস্ত করে, যা সংখ্যায় সাতটি: জীবন, জ্ঞান, শ্রবণ, দর্শন, ক্ষমতা, ইচ্ছা ও কথা বলা। আর এগুলো থেকে যা উদ্ভূত হয় অর্থাৎ আল্লাহ চিরঞ্জীব, সর্বজ্ঞ, সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা, কথা বলা ইত্যাদি।অতঃপর তারা কুরআন ও সুন্নাহতে বর্ণিত সংবাদমূলক গুণাবলি (সিফাতে খাবারিয়া) যেমন—আরশে সমুন্নত হওয়া, হাত এবং এই জাতীয় গুণাবলিকে অস্বীকার করেছে। আর এরাই হলো আশআরিয়া ও মাতুরিদিয়া সম্প্রদায়ের অধিকাংশ পণ্ডিত।
(খণ্ড: ১)
নাকদু কালামিল মুফতারিনা আলাল হানাবিলাতিস সালাফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
والسلف الصالح والذي أظهر مذهبهم وناضل عنه الإمام أحمد، يثبتون للَّه ما جاء في القرآن وصح في الحديث، من غير تكييف ولا تمثيل ولا تأويل ولا تشبيه، فيقولون:الكلام في الصفات فرع عن الكلام في الذات فكما أن ذاته المقدسة لا تشبه ذوات المخلوقين، فكذلك صفاته لا تشبه صفات المخلوقين. فقالوا للَّه علم يليق به، وللمخلوق علم يليق به، وليس علم اللَّه كعلم المخلوق، واشتراك شيئين في لفظ لا يوجب اتحادهما في الحقيقة.فالعرش موجود، والبعوض موجود، فهل وجود العرش كوجود البعوض؟. وإذا كان الجواب بالسلب، فالله موجود، والمخلوق موجود فهل وجود اللَّه كوجود المخلوق؟ لا يقول هذا من يفهم ما يقول، لأنه يقول لهم إن كان وجود اللَّه كوجود المخلوق، فهذا هو التشبيه بعينه، وإن كان له وجود خاص أبدي يليق به لم يزل ولا يزال، وللمخلوق وجود يليق به، فكذلك يقال: للَّه صفات تليق به، وللمخلوق صفات تليق به.فإذا أثبتنا للَّه صفة تليق به، كصفة العلم والإرادة أو الاستواء فليس معنى هذا أن إرادة الله
এবং সালাফে সালেহীন ও ইমাম আহমাদ—যিনি তাঁদের মাযহাবকে প্রকাশ করেছেন এবং এর স্বপক্ষে লড়াই করেছেন—আল্লাহর জন্য আল-কুরআনে যা বর্ণিত হয়েছে এবং সহীহ হাদীসে যা প্রমাণিত হয়েছে তা কোনো প্রকার ধরণ নির্ধারণ (তাকয়ীফ), সদৃশকরণ (তামসীল), অপব্যাখ্যা (তা’বীল) কিংবা উপমা দান (তাশবীহ) ছাড়াই সাব্যস্ত করেন। তাঁরা বলেন:গুণাবলী (সিফাত) সংক্রান্ত আলোচনা হলো সত্তা (যাত) সংক্রান্ত আলোচনারই একটি শাখা। সুতরাং তাঁর পবিত্র সত্তা যেমন সৃষ্টিজগতের সত্তাসমূহের সদৃশ নয়, তেমনি তাঁর গুণাবলীও সৃষ্টিজগতের গুণাবলীর সদৃশ নয়। তাঁরা বলেন: আল্লাহর জন্য এমন জ্ঞান রয়েছে যা তাঁর শানের উপযোগী, আর সৃষ্টির জন্যও এমন জ্ঞান রয়েছে যা তার জন্য প্রযোজ্য। আল্লাহর জ্ঞান সৃষ্টির জ্ঞানের মতো নয়। আর দুটি বিষয় একই শব্দের অন্তর্ভুক্ত হওয়া বাস্তবে তাদের অভিন্ন হওয়াকে আবশ্যক করে না।যেমন আরশ বিদ্যমান এবং মশকও বিদ্যমান; এখন আরশের অস্তিত্ব কি মশকের অস্তিত্বের মতো? উত্তর যদি না-সূচক হয়, তবে আল্লাহও বিদ্যমান এবং সৃষ্টিও বিদ্যমান; এমতাবস্থায় আল্লাহর অস্তিত্ব কি সৃষ্টির অস্তিত্বের মতো? যে ব্যক্তি নিজের কথা বোঝেন, তিনি এমন কথা বলবেন না। কেননা তিনি তাঁদের বলবেন যে, যদি আল্লাহর অস্তিত্ব সৃষ্টির অস্তিত্বের মতো হতো, তবে সেটাই হতো প্রকৃত উপমা দান (তাশবীহ)। আর যদি তাঁর জন্য এমন এক বিশেষ ও শাশ্বত অস্তিত্ব থাকে যা তাঁর শানের উপযোগী—যা অনাদি ও অনন্ত—আর সৃষ্টির জন্য থাকে তার উপযোগী অস্তিত্ব, তবে একইভাবে বলা হবে: আল্লাহর জন্য এমন গুণাবলী রয়েছে যা তাঁর শানের উপযোগী, আর সৃষ্টির জন্য রয়েছে তার উপযোগী গুণাবলী।অতএব যখন আমরা আল্লাহর জন্য এমন কোনো গুণ সাব্যস্ত করি যা তাঁর শানের উপযোগী—যেমন জ্ঞান, ইচ্ছা কিংবা আরশে আরোহণ (ইস্তিওয়া)—তবে তার অর্থ এই নয় যে আল্লাহর ইচ্ছা