Warning: SQLite3::query(): Unable to prepare statement: 1, no such column: part in /home/u575225426/domains/shamelabangla.com/public_html/sqlite_db.php on line 274
মিনহাতুল কারিবিল মুজিব ফির রাদ্দি আলা ইবাদিস সলিব - শামেলা বাংলা
(খণ্ড: ১) মিনহাতুল কারিবিল মুজিব ফির রাদ্দি আলা ইবাদিস সলিব (পৃষ্ঠা: -)
منحة القريب المجيب في الرد على عباد الصليب   (عبد العزيز بن حمد آل معمر)

القسم: الفرق والردود


الكتاب: منحة القريب المجيب في الرد على عباد الصليب

المؤلف: عبد العزيز بن حمد بن ناصر بن عثمان آل معمر (ت 1244هـ)

عدد الأجزاء: 2

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ক্রুশ উপাসকদের খণ্ডনে নিকটবর্তী সাড়াদানকারীর উপহার   (আবদুল আজিজ বিন হামাদ আল মুয়াম্মার)

বিভাগ: দল-উপদল এবং খণ্ডনসমূহ


গ্রন্থ: ক্রুশ উপাসকদের খণ্ডনে নিকটবর্তী সাড়াদানকারীর উপহার

লেখক: আবদুল আজিজ বিন হামাদ বিন নাসির বিন উসমান আল মুয়াম্মার (মৃত্যু ১২৪৪ হিজরি)

খণ্ড সংখ্যা: ২

[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ١) মিনহাতুল কারিবিল মুজিব ফির রাদ্দি আলা ইবাদিস সলিব (পৃষ্ঠা: ١٣٥)
كتاب

منحة القريب المجيب

في الرد على عباد الصليب

[محققا]

تأليف

العلامة الشيخ

عبد العزيز بن حمد بن ناصر بن معمر

1203 هـ - 1244 هـ
গ্রন্থ

নিকটবর্তী ও সাড়াদানকারীর পক্ষ থেকে উপহার

ক্রুশ উপাসকদের খণ্ডন প্রসঙ্গে

[সম্পাদিত]

রচনায়

আল্লামা শাইখ

আবদুল আজিজ বিন হামাদ বিন নাসির বিন মুয়াম্মার

১২০৩ হিজরি - ১২৪৪ হিজরি
(খণ্ড: ١) মিনহাতুল কারিবিল মুজিব ফির রাদ্দি আলা ইবাদিস সলিব (পৃষ্ঠা: ١٣٧)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله الذي أرسل رسوله محمدا بالهدى ودين الحق ليظهره على الدين كله، وكفى بالله شهيدا، فصدق وعده، ونصر عبده، وهزم الأحزاب وحده، وبددهم تبديدا: {وَقُلِ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي لَمْ يَتَّخِذْ وَلَدًا وَلَمْ يَكُنْ لَهُ شَرِيكٌ فِي الْمُلْكِ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ وَلِيٌّ مِنَ الذُّلِّ وَكَبِّرْهُ تَكْبِيرًا} .

تفرد بالخلق والتصوير، ويبده الأمر والتدبير، وإليه القضاء والتقدير، فلا يملك أحد من دونه قطميرا: {وَيَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ مَا لَا يَنْفَعُهُمْ وَلَا يَضُرُّهُمْ وَكَانَ الْكَافِرُ عَلَى رَبِّهِ ظَهِيرًا} .

وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، ولا نظير له، ولا صاحبة له، ولا ولد له، تعالى الملك الجبار: {لَوْ أَرَادَ اللَّهُ أَنْ يَتَّخِذَ وَلَدًا لَاصْطَفَى مِمَّا يَخْلُقُ مَا يَشَاءُ سُبْحَانَهُ هُوَ اللَّهُ الْوَاحِدُ الْقَهَّارُ} .

تفرد بالربوبية في قدمه، وظهرت سمات العبودية على من سوى ذي الجلال والإكرام: {مَا الْمَسِيحُ ابْنُ مَرْيَمَ إِلَّا رَسُولٌ قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلِهِ الرُّسُلُ وَأُمُّهُ صِدِّيقَةٌ كَانَا يَأْكُلَانِ الطَّعَامَ} .
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর রাসূল মুহাম্মদকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ পাঠিয়েছেন যাতে তাঁকে সকল দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেন; আর সাক্ষী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট। তিনি তাঁর প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছেন, তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং একাকী সম্মিলিত বাহিনীকে পরাজিত করেছেন ও তাদের সম্পূর্ণরূপে বিধ্বস্ত করেছেন: {আর বলো, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি, সার্বভৌমত্বে তাঁর কোনো অংশীদার নেই এবং হীনতা প্রযুক্ত তাঁর কোনো অভিভাবকের প্রয়োজন নেই। আর তাঁর মাহাত্ম্য ঘোষণা করো যথাযথ মহিমায়।}

তিনি সৃষ্টি ও রূপদান কার্যে অদ্বিতীয়, তাঁর নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে আদেশ ও পরিচালনা, আর ফয়সালা ও তাকদীর তাঁরই কাছে ন্যস্ত। তিনি ব্যতীত অন্য কেউ সামান্য তুচ্ছ বস্তু বা খেজুরের আঁটির আবরণেরও মালিক নয়: {আর তারা আল্লাহ ব্যতীত এমন কিছুর উপাসনা করে যা তাদের কোনো উপকার করতে পারে না এবং তাদের অপকারও করতে পারে না। আর কাফির সর্বদা তার রবের বিরুদ্ধাচরণে সাহায্যকারী।}

আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই, তাঁর কোনো সদৃশ নেই, তাঁর কোনো সঙ্গিনী নেই এবং তাঁর কোনো সন্তান নেই। সুউচ্চ মহান সেই অধিপতি ও মহাপরাক্রমশালী: {আল্লাহ যদি সন্তান গ্রহণ করতে চাইতেন, তবে তিনি তাঁর সৃষ্টির মধ্য থেকে যা ইচ্ছা বেছে নিতেন। তিনি পবিত্র ও মহান, তিনি আল্লাহ, একক, প্রবল প্রতাপশালী।}

তিনি তাঁর অনাদিত্বে রুবুবিয়্যাতে একক, আর সেই মহিমাময় ও মহানুভব সত্তা ব্যতীত অন্য সকলের ওপর দাসত্বের লক্ষণসমূহ প্রকাশমান: {মরিয়ম-পুত্র মাসীহ তো কেবল একজন রাসূল, তাঁর পূর্বে অনেক রাসূল গত হয়েছেন। আর তাঁর মাতা ছিলেন অত্যন্ত সত্যনিষ্ঠা। তাঁরা উভয়েই খাদ্য গ্রহণ করতেন।}
(খণ্ড: ١) মিনহাতুল কারিবিল মুজিব ফির রাদ্দি আলা ইবাদিস সলিব (পৃষ্ঠা: ١٣٨)
وأشهد أن محمدا عبده ورسوله، أرسله على حين فترة من الرسل ودروس السبل، وقد مقت أهل الأرض عربهم وعجمهم إلا بقايا من أهل الكتاب، فهدى به من الضلالة، وعلم به من الجهالة، وبصر به من العمى، وأرشد به من الغي والارتياب، ففتح برسالته أعينا عميا، وآذانا صما، وقلوبا غلفا، فاستنارت لها الطرق، وانفتحت الأبواب، فبلغ الرسالة، وأدى الأمانة، ونصح الأمة، وجاهد في الله حق الجهاد، ففتح القلوب بالإيمان والقرآن.

وجاهد أعداء الله باليد والقلب واللسان، ودعا إلى الله على بصيرة جميع العباد إلى أن أشرقت برسالته الأرض بعد ظلامها أي إشراق، وتألفت به القلوب بعد شتاتها والافتراق، وسارت دعوته مسير الشمس في الأقطار، وبلغ دينه القيم ما بلغ الليل والنهار، واستجابت القلوب لدعوته الحق طوعا وإذعانا، وامتلأت بعد خوفها وكفرها أمنا وإيمانا، فجزاه الله عن أمته خير الجزاء، وصلى الله عليه صلاة تملأ أقطار الأرض والسماء، وعلى إخوانه من الرسل والأنبياء وعلى آل كل، وأصحاب كل والأولياء.

وبعد: فقد سألني بعض الإخوان -أيدهم الله تعالى بروح منه، وكتب في قلوبهم الإيمان والفهم عنه- أن أكتب جوابا عن أباطيل
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। তিনি তাঁকে পাঠিয়েছেন দীর্ঘকাল রাসূলগণের আগমন বন্ধ থাকার পর এবং যখন হিদায়াতের পথসমূহ বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল। আল্লাহ তখন পৃথিবীবাসীর প্রতি অসন্তুষ্ট ছিলেন—তাদের আরব ও অনারব সবার প্রতি—কেবল কিতাবধারীদের সামান্য কিছু অবশিষ্টাংশ ব্যতীত। অতঃপর আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে পথভ্রষ্টতা থেকে হিদায়াত দান করেছেন, অজ্ঞতা থেকে জ্ঞান দান করেছেন, অন্ধত্ব থেকে দৃষ্টি দান করেছেন এবং গোমরাহি ও সংশয় থেকে সঠিক পথ দেখিয়েছেন। তাঁর রিসালাতের মাধ্যমে তিনি অন্ধ চোখ, বধির কান এবং মোহরযুক্ত অন্তরসমূহ উন্মুক্ত করেছেন। ফলে পথসমূহ আলোকিত হয়েছে এবং দ্বারসমূহ উন্মুক্ত হয়েছে। তিনি রিসালাত পৌঁছে দিয়েছেন, আমানত আদায় করেছেন, উম্মতকে নসিহত করেছেন এবং আল্লাহর পথে যথাযথ জিহাদ করেছেন। ফলে তিনি ঈমান ও কুরআনের মাধ্যমে অন্তরসমূহ জয় করেছেন।

আর তিনি আল্লাহর শত্রুদের বিরুদ্ধে হাত, অন্তর ও জিহবা দিয়ে জিহাদ করেছেন। তিনি সুনিশ্চিত প্রমাণের ভিত্তিতে সকল বান্দাকে আল্লাহর দিকে আহ্বান করেছেন, যতক্ষণ না তাঁর রিসালাতের মাধ্যমে পৃথিবী তার অন্ধকারের পর এক মহা জ্যোতিতে উদ্ভাসিত হয়েছে। তাঁর মাধ্যমে অন্তরসমূহ বিচ্ছিন্নতা ও বিভেদের পর সুসংহত হয়েছে। তাঁর দাওয়াত পৃথিবীর দিগন্তজুড়ে সূর্যের মতো পরিভ্রমণ করেছে এবং তাঁর এই সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন সেখানে পৌঁছেছে যেখানে রাত ও দিন পৌঁছায়। তাঁর সত্য দাওয়াতের প্রতি অন্তরসমূহ সানন্দে ও আনুগত্যের সাথে সাড়া দিয়েছে এবং ভয় ও কুফরির পর নিরাপত্তা ও ঈমানে পরিপূর্ণ হয়েছে। অতএব আল্লাহ তাঁকে তাঁর উম্মতের পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন। আল্লাহ তাঁর ওপর এমন রহমত বর্ষণ করুন যা পৃথিবী ও আকাশের দিগন্তসমূহকে পূর্ণ করে দেয়। আর রহমত বর্ষিত হোক তাঁর ভাই অন্যান্য রাসূল ও নবীগণের ওপর এবং তাঁদের প্রত্যেকের পরিবার, সঙ্গী ও আওলিয়াগণের ওপর।

অতঃপর: আমার নিকট কয়েকজন দ্বীনি ভাই—আল্লাহ তাআলা তাঁর পক্ষ থেকে রূহ দ্বারা তাঁদের শক্তিশালী করুন এবং তাঁদের অন্তরে ঈমান ও তাঁর পক্ষ থেকে বুঝজ্ঞান লিখে দিন—অনুরোধ করেছেন যেন আমি কিছু বাতিল বিষয়ের জবাব লিখে দেই।
(খণ্ড: ١) মিনহাতুল কারিবিল মুজিব ফির রাদ্দি আলা ইবাদিস সলিব (পৃষ্ঠা: ١٣٩)
الكتاب الذي صنفه بعض الضالين من النصارى الجهلة المغالين، وسماه " مفتاح الخزائن ومصباح الدفائن "، وضمن بعض فصوله الرد على المسلمين والاعتراض على نبوة سيد المرسلين، وقد بث منه النصارى نسخا كثيرة، ليلبسوا الأمر على ضعفاء البصيرة، ويلقوا عليهم الشكوك والشبهات بما لفقوه من أباطيل الترهات: {يُرِيدُونَ أَنْ يُطْفِئُوا نُورَ اللَّهِ بِأَفْوَاهِهِمْ وَيَأْبَى اللَّهُ إِلَّا أَنْ يُتِمَّ نُورَهُ وَلَوْ كَرِهَ الْكَافِرُونَ هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَى وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ وَلَوْ كَرِهَ الْمُشْرِكُونَ} .

وقد وفى -سبحانه- بما وعد، وأظهر دينه على رغم من كفر وجحد، فأظهره بالحجة والبيان، ونصره بالسيف والسنان، وأيد أهله على سواهم، ونصرهم بالحجة على من ناوأهم، كما أظهرهم بالسيف على من كانوا له يحاربون، وذلك مصداق قوله تعالى: {وَإِنَّ جُنْدَنَا لَهُمُ الْغَالِبُونَ} .
সেই কিতাব যা কিছু পথভ্রষ্ট, অজ্ঞ ও চরমপন্থী খ্রিষ্টান রচনা করেছে এবং এর নামকরণ করেছে "ভাণ্ডারসমূহের চাবিকাঠি এবং গুপ্তধনের প্রদীপ", আর এর কিছু অধ্যায়ে মুসলিমদের খণ্ডন এবং রাসুলকুলের শিরোমণির নবুওয়াতের ওপর আপত্তি অন্তর্ভুক্ত করেছে। খ্রিষ্টানরা এর অনেক অনুলিপি ছড়িয়ে দিয়েছে যাতে তারা স্বল্প প্রজ্ঞাসম্পন্ন ব্যক্তিদের কাছে বিষয়টিকে অস্পষ্ট করে তুলতে পারে এবং তাদের উদ্ভাবিত অসার ও বাতিল কথার মাধ্যমে তাদের ওপর সন্দেহ ও সংশয় নিক্ষেপ করতে পারে: "তারা তাদের মুখের ফুঁ দিয়ে আল্লাহর আলো নিভিয়ে দিতে চায়, কিন্তু আল্লাহ তাঁর আলোকে পূর্ণ করা ছাড়া অন্য কিছু হতে দেন না, যদিও কাফিররা তা অপছন্দ করে। তিনিই সেই সত্তা যিনি তাঁর রাসুলকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন যাতে তিনি একে সকল দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেন, যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে।"

পবিত্র মহান আল্লাহ তাঁর কৃত ওয়াদা পূর্ণ করেছেন এবং কুফর ও অস্বীকারকারীদের অনীহা সত্ত্বেও তাঁর দ্বীনকে প্রকাশ করেছেন। অতঃপর তিনি একে দলিল ও সুস্পষ্ট বর্ণনার মাধ্যমে জয়যুক্ত করেছেন এবং তলোয়ার ও বর্শার মাধ্যমে একে সাহায্য করেছেন। তিনি দ্বীনের অনুসারীদের অন্যদের ওপর শক্তিশালী করেছেন এবং যারা তাদের বিরোধিতা করেছিল তাদের বিরুদ্ধে দলিলের মাধ্যমে তাঁদের সাহায্য করেছেন, ঠিক যেমন তাঁদের তলোয়ারের মাধ্যমে বিজয়ী করেছেন যারা তাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল। আর এটি মহান আল্লাহর বাণীর সত্যতা: "আর নিশ্চয়ই আমার বাহিনীই হবে বিজয়ী।"
(খণ্ড: ١) মিনহাতুল কারিবিল মুজিব ফির রাদ্দি আলা ইবাদিস সলিব (পৃষ্ঠা: ١٤٠)
وأيد رسوله وأتباعه بالحجج الصحيحة العلمية، والبراهين القاطعة العقلية والنقلية بما لم يبق بعده للمخالف إلا محض العناد، وحينئذ فالدواء الشافي من هذا الداء سيف الجهاد، وكفى لمن جانب جانب الاعتساف، وسلك طريق العدل والإنصاف ما تضمنه القرآن العربي المبين من البينات والحجج والبراهين، فهو الشفاء النافع لمن استشفى، والكفاية التامة لمن به استكفى، وهو الهدى والنور وشفاء وسوسة الصدور، وهو الكفيل بالانتصار على المبطلين لمن كان به خبيرا.

كما قال تعالى: {وَلَا يَأْتُونَكَ بِمَثَلٍ إِلَّا جِئْنَاكَ بِالْحَقِّ وَأَحْسَنَ تَفْسِيرًا} ، فلا يأتي صاحب باطل بحجة إلا وفي القرآن ما يبطلها ويلقيها من شاهق كما قال تعالى: {بَلْ نَقْذِفُ بِالْحَقِّ عَلَى الْبَاطِلِ فَيَدْمَغُهُ فَإِذَا هُوَ زَاهِقٌ} .

وفي الحديث الذي رواه الترمذي وغيره، عن علي بن أبي طالب رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم في
আর তিনি তাঁর রাসূল ও তাঁর অনুসারীদের সঠিক জ্ঞানতাত্ত্বিক যুক্তি এবং অকাট্য বুদ্ধিভিত্তিক ও তাত্ত্বিক প্রমাণের মাধ্যমে এমনভাবে শক্তিশালী করেছেন, যার ফলে বিরোধীদের জন্য কেবল নিছক হঠকারিতা ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। এমতাবস্থায়, এই রোগের আরোগ্যকারী ঔষধ হলো জিহাদের তরবারি। আর যে ব্যক্তি অবিচারের পথ পরিহার করে এবং ন্যায় ও ইনসাফের পথে চলে, তার জন্য সুস্পষ্ট আরবি কুরআনের অন্তর্ভুক্ত নিদর্শন, দলিল ও প্রমাণাদিই যথেষ্ট। সুতরাং যারা আরোগ্য কামনা করে এটি তাদের জন্য উপকারী নিরাময়, আর যারা এর মাধ্যমে তুষ্ট থাকতে চায় এটি তাদের জন্য পূর্ণাঙ্গ পর্যাপ্ততা। এটিই হিদায়াত ও আলো এবং অন্তরের কুমন্ত্রণার প্রতিকার; আর যারা এই বিষয়ে বিজ্ঞ, তাদের জন্য এটি বাতিলপন্থীদের বিরুদ্ধে বিজয়ের নিশ্চয়তা প্রদানকারী।

যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: “তারা আপনার কাছে এমন কোনো উদাহরণ নিয়ে আসে না, যার বিপরীতে আমি আপনাকে সত্য ও সুন্দর ব্যাখ্যা প্রদান করি না।” সুতরাং কোনো বাতিলপন্থী এমন কোনো যুক্তি পেশ করতে পারে না যার খণ্ডন কুরআনে নেই এবং যা তাকে উচ্চ শিখর থেকে আছড়ে ফেলে না, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: “বরং আমি সত্যের মাধ্যমে বাতিলের ওপর আঘাত হানি, ফলে তা বাতিলকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয় এবং তৎক্ষণাৎ তা নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়।”

এবং ইমাম তিরমিযী ও অন্যান্যদের বর্ণিত হাদীসে, আলী ইবনে আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে...
(খণ্ড: ١) মিনহাতুল কারিবিল মুজিব ফির রাদ্দি আলা ইবাদিস সলিব (পৃষ্ঠা: ١٤١)
صفة القرآن: «فيه نبأ ما قبلكم، وخبر ما بعدكم، وحكم ما بينكم، وهو الفصل ليس بالهزل، من تركه من جبار قصمه الله، ومن ابتغى الهدى من غيره أضله الله، هو حبل الله المتين، وهو الذكر الحكيم، وهو الصراط المستقيم، وهو الذي لا تزيغ به الأهواء، ولا تلتبس به الألسن، ولا تشبع منه العلماء، ولا يخلق عن كثرة الرد، ولا تنقضي عجائبه، وهو الذي لم تنته الجن إذ سمعته حتى قالوا: {إِنَّا سَمِعْنَا قُرْآنًا عَجَبًا يَهْدِي إِلَى الرُّشْدِ فَآمَنَّا بِهِ} ، من قال به صدق، ومن عمل به أجر، ومن حكم به عدل، ومن دعا إليه هدي إلى صراط مستقيم» .

ولما كان الله -تعالى- قد أمر رسوله بإقامة الحجة على الكافرين بطريق الجدال، وشرع ذلك في السور المكية والمدنية حتى بعد فرض القتال.

كما قال تعالى: {ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجَادِلْهُمْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعْلَمُ بِمَنْ ضَلَّ عَنْ سَبِيلِهِ وَهُوَ أَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِينَ} .

وقال تعالى: {وَلَا تُجَادِلُوا أَهْلَ الْكِتَابِ إِلَّا بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ إِلَّا الَّذِينَ ظَلَمُوا مِنْهُمْ وَقُولُوا آمَنَّا بِالَّذِي أُنْزِلَ إِلَيْنَا وَأُنْزِلَ إِلَيْكُمْ وَإِلَهُنَا وَإِلَهُكُمْ وَاحِدٌ وَنَحْنُ لَهُ مُسْلِمُونَ} .
কুরআনের বৈশিষ্ট্য: “এতে রয়েছে তোমাদের পূর্ববর্তীদের সংবাদ, তোমাদের পরবর্তীদের খবর এবং তোমাদের মধ্যকার বিষয়ের ফয়সালা। এটিই চূড়ান্ত মীমাংসা, এটি কোনো কৌতুক নয়। কোনো স্বৈরাচারী একে বর্জন করলে আল্লাহ তাকে ধ্বংস করে দেবেন, আর যে ব্যক্তি এটি ছাড়া অন্য কোথাও হিদায়াত খুঁজবে আল্লাহ তাকে পথভ্রষ্ট করবেন। এটি আল্লাহর মজবুত রশি, এটি প্রজ্ঞাপূর্ণ যিকর এবং এটিই সরল সঠিক পথ। এর প্রভাবে প্রবৃত্তিগুলো লক্ষ্যচ্যুত হয় না, জিহ্বাগুলো বিভ্রান্তিতে পড়ে না, আলেমগণ এটি থেকে তৃপ্ত হন না (অর্থাৎ বারংবার পাঠেও অরুচি আসে না), বারবার চর্চার ফলে এটি পুরনো হয় না এবং এর বিস্ময়কর দিকগুলো শেষ হয় না। এটি এমন এক কিতাব যা শুনে জিনেরা ক্ষান্ত থাকেনি যতক্ষণ না তারা বলেছিল: ‘নিশ্চয়ই আমরা এক বিস্ময়কর কুরআন শুনেছি, যা সঠিক পথ প্রদর্শন করে, ফলে আমরা তাতে ঈমান এনেছি।’ যে এর মাধ্যমে কথা বলবে সে সত্য বলবে, যে এর অনুযায়ী আমল করবে সে পুরস্কৃত হবে, যে এর দ্বারা ফয়সালা করবে সে ন্যায়বিচার করবে এবং যে এর দিকে আহ্বান করবে সে সরল সঠিক পথের দিকে হিদায়াতপ্রাপ্ত হবে।”

যেহেতু আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূলকে বিতর্কের মাধ্যমে কাফেরদের বিরুদ্ধে দলিল উপস্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন এবং মক্কী ও মাদানী সূরাগুলোতে যুদ্ধের বিধান অবতীর্ণ হওয়ার পরেও এটি বিধিবদ্ধ রেখেছেন।

যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: “তুমি তোমার রবের পথের দিকে হিকমত ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে দাওয়াত দাও এবং তাদের সাথে বিতর্ক করো সর্বোত্তম পন্থায়। নিশ্চয়ই তোমার রব অধিক অবগত কে তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং তিনি হিদায়াতপ্রাপ্তদের সম্পর্কেও সম্যক অবগত।”

আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: “আর তোমরা আহলে কিতাবদের সাথে সর্বোত্তম পন্থা ছাড়া বিতর্ক করো না, তবে তাদের মধ্যে যারা যুলুম করেছে তাদের কথা ভিন্ন। আর তোমরা বলো, ‘আমরা ঈমান এনেছি আমাদের প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে এবং তোমাদের প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে তার প্রতি। আমাদের ইলাহ ও তোমাদের ইলাহ তো একই, এবং আমরা তাঁরই প্রতি আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম)।’”
(খণ্ড: ١) মিনহাতুল কারিবিল মুজিব ফির রাদ্দি আলা ইবাদিস সলিব (পৃষ্ঠা: ١٤٢)
وأمره بعد إقامة الحجة على النصارى بالمجادلة، أن يدعوهم إلى الملاعنة والمباهلة، فقال تعالى: {فَمَنْ حَاجَّكَ فِيهِ مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَكَ مِنَ الْعِلْمِ فَقُلْ تَعَالَوْا نَدْعُ أَبْنَاءَنَا وَأَبْنَاءَكُمْ وَنِسَاءَنَا وَنِسَاءَكُمْ وَأَنْفُسَنَا وَأَنْفُسَكُمْ ثُمَّ نَبْتَهِلْ فَنَجْعَلْ لَعْنَةَ اللَّهِ عَلَى الْكَاذِبِينَ} .

فلم يزل صلى الله عليه وسلم في جدال الكفار على اختلاف مللهم، وتباين نحلهم، إلى حين وفاته، وكذلك أصحابه من بعده ومن تبعهم من أئمة الدين وحماته، وبهذا الأمر قام الدين واتضح منهاجه للعابدين، وإنما جعل السيف ناصرا للحجة والبرهان مسهلا طريق البلاغ إلى المكلفين بالسنة والقرآن، وأعدل السيوف سيف ينصر حجج الله وبيناته، وهو سيف رسوله وأتباعه الذين بذلوا نفوسهم لله ابتغاء مرضاته.

فعند ذلك رأيت الإجابة إلى الجواب أولى، فاستعنت بالله، فنعم المعين، ونعم المولى، رجاء الدخول في زمرة المجاهدين والانتظام في مسلك أنصار الدين.
খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে দলীল-প্রমাণের মাধ্যমে বিতর্কের পর তিনি তাঁকে পারস্পরিক অভিশাপ এবং মুবাহালার (সত্য-মিথ্যা যাচাইয়ের জন্য আল্লাহর নিকট বিনীত প্রার্থনা) জন্য আহ্বান করার নির্দেশ দিলেন। অতঃপর মহান আল্লাহ বলেন: "তোমার কাছে জ্ঞান আসার পর যে ব্যক্তি তোমার সাথে এ বিষয়ে বিতর্ক করবে, তাকে বলো, 'এসো, আমরা আমাদের সন্তানদের ও তোমাদের সন্তানদের এবং আমাদের নারীদের ও তোমাদের নারীদের এবং আমাদের নিজেদের ও তোমাদের নিজেদের ডাকি; অতঃপর আমরা বিনীত প্রার্থনা করি এবং মিথ্যাবাদীদের ওপর আল্লাহর অভিশাপ বর্ষণ করি'।"

সুতরাং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত বিভিন্ন ধর্ম ও বিচিত্র মতাদর্শের কাফিরদের সাথে বিতর্কে লিপ্ত ছিলেন। একইভাবে তাঁর পরবর্তী সাহাবীগণ এবং দীনের ইমাম ও রক্ষকদের মধ্য থেকে যারা তাঁদের অনুসারী ছিলেন, তাঁরাও এটি অব্যাহত রেখেছিলেন। এই কাজের মাধ্যমেই দীন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং ইবাদতকারীদের জন্য এর পথ সুস্পষ্ট হয়েছে। মূলত তরবারিকে দলীল ও প্রমাণের সাহায্যকারী এবং সুন্নাহ ও কুরআনের মাধ্যমে আদিষ্ট ব্যক্তিদের নিকট দ্বীনের বাণী পৌঁছানোর পথ সহজকারী হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। আর তরবারিসমূহের মধ্যে সবচেয়ে ন্যায়নিষ্ঠ তরবারি হলো সেই তরবারি যা আল্লাহর দলীল ও নিদর্শনাদিকে সাহায্য করে; আর তা হলো তাঁর রাসূল ও তাঁর অনুসারীদের তরবারি, যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় তাঁর জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।

এমতাবস্থায় আমি এই জিজ্ঞাসার জবাব দেওয়াকেই অধিকতর সঙ্গত মনে করলাম। অতঃপর আমি আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করলাম; আর তিনি কতই না উত্তম সাহায্যকারী এবং কতই না উত্তম অভিভাবক। আমি এই আশা নিয়ে এটি করলাম যেন মুজাহিদদের দলভুক্ত হতে পারি এবং দীনের সাহায্যকারীদের পথে শামিল হতে পারি।
(খণ্ড: ١) মিনহাতুল কারিবিল মুজিব ফির রাদ্দি আলা ইবাদিস সলিব (পৃষ্ঠা: ١٤٣)
واعلم أن الكتاب الذي قصدنا الرد لباطله يشتمل على مقالتين:

المقالة الأولى منها تنقسم إلى قسمين:

الأول: في صحة الشريعة المسيحية.

الثاني: في إثبات صحة كتب العهد الجديد، يعني: الأناجيل التي يعتمدها أهل النصرانية.

المقالة الثانية تنقسم -أيضا- إلى قسمين:

القسم الأول: في الرد على اليهود المكذبين.

القسم الثاني: في الرد على المسلمين، وهذا القسم -أرشدك الله لما يرضيه- هو الذي قصدنا الرد عليه فيه.

وأما ما قبله من الأقسام فهو إما في صحة رسالة المسيح، وأن دينه دين صحيح، وهذا متفق عليه بين المسلمين قبل التبديل والنسخ بشريعة خاتم النبيين.

وإما في الرد على اليهود في كفرهم بالإنجيل، وقولهم بالزور في المسيح ابن البتول. وهذا -أيضا- على الجملة صحيح مقبول.
জেনে রাখুন যে, যে কিতাবটির অসারতা খণ্ডন করা আমাদের উদ্দেশ্য, তা দুটি প্রবন্ধের সমন্বয়ে গঠিত:

এর প্রথম প্রবন্ধটি দুটি ভাগে বিভক্ত:

প্রথম: খ্রিষ্টীয় শরীয়তের সত্যতা প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয়: ‘নতুন নিয়ম’ (নিউ টেস্টামেন্ট)-এর কিতাবসমূহের প্রামাণিকতা প্রমাণের বিষয়ে, অর্থাৎ: সেই ইনজিলসমূহ যার ওপর খ্রিষ্টান সম্প্রদায় নির্ভর করে।

দ্বিতীয় প্রবন্ধটিও দুটি ভাগে বিভক্ত:

প্রথম ভাগ: অস্বীকারকারী ইহুদিদের খণ্ডন প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় ভাগ: মুসলিমদের খণ্ডন প্রসঙ্গে; আর এই ভাগটিই—আল্লাহ আপনাকে তাঁর সন্তোষজনক কাজের তাওফীক দান করুন—যার অসারতা খণ্ডন করা এখানে আমাদের উদ্দেশ্য।

আর এর পূর্ববর্তী ভাগগুলো হয় মাসীহ-এর রিসালাতের সত্যতা এবং তাঁর দ্বীন যে সত্য দ্বীন ছিল সেই প্রসঙ্গে—আর এটি শেষ নবীর শরীয়ত দ্বারা রহিত ও পরিবর্তিত হওয়ার পূর্বে সত্য হওয়ার ব্যাপারে মুসলিমদের মধ্যে সর্বসম্মত।

অথবা ইনজিলের প্রতি ইহুদিদের কুফরি এবং কুমারী তনয় মাসীহ সম্পর্কে তাদের অপবাদের খণ্ডন প্রসঙ্গে। আর এটিও সামগ্রিকভাবে সঠিক ও গ্রহণযোগ্য।
(খণ্ড: ١) মিনহাতুল কারিবিল মুজিব ফির রাদ্দি আলা ইবাদিস সলিব (পৃষ্ঠা: ١٤٤)
لكن تلك الأقسام قد ضمنها النصراني -أيضا- باطلا كثيرا، ومزج بها بهتانا وزورا، وسيمر عليك -إن شاء الله- الرد عليه في ذلك ضمن ما كتبناه.

وذلك القسم الذي نقضناه يشتمل على خمسة فصول من الكلام؛ فجعلنا الرد عليها في خمسة مقامات، لكل فصل منها مقام، وسميته "منحة القريب المجيب في الرد على عباد الصليب". ومن الله نستمد الإعانة على ما أردناه، والتوفيق لإصابة الغرض بما أوردناه، فهو الذي يهدي إلى سواء السبيل، وحسبنا الله ونعم الوكيل.
কিন্তু সেই বিভাগগুলোর মধ্যে খ্রিষ্টান ব্যক্তি অনেক বাতিল বিষয় অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং সেগুলোর সাথে অপবাদ ও মিথ্যাচার মিশ্রিত করেছে। আমরা যা রচনা করেছি, তার মধ্যেই ইনশাআল্লাহ সেই বিষয়ে তার প্রতি উত্তর আপনার দৃষ্টিগোচর হবে।

আমরা যে অংশটি খণ্ডন করেছি তা পাঁচটি অধ্যায় নিয়ে গঠিত। ফলে আমরা সেগুলোর উত্তর পাঁচটি পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত করেছি, যার প্রতিটি অধ্যায়ের জন্য একটি করে পরিচ্ছেদ রয়েছে। আমি গ্রন্থটির নামকরণ করেছি "মিনহাতুল কারিবিল মুজিব ফি আর-রাদ্দি আলা ইবাদিস সলিব"। আল্লাহর কাছেই আমরা আমাদের অভীষ্ট বিষয়ে সাহায্য প্রার্থনা করছি এবং আমরা যা পেশ করেছি তার মাধ্যমে সঠিক লক্ষ্যে পৌঁছানোর তাওফিক কামনা করছি; কেননা তিনিই সরল পথে পরিচালিত করেন। আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক।
(খণ্ড: ١) মিনহাতুল কারিবিল মুজিব ফির রাদ্দি আলা ইবাদিস সলিব (পৃষ্ঠা: ١٤٥)
المقام الأول

قال النصراني:

"فصل في ابتداء ظهور دين الإسلام: معلوم مشهور مما وجد مسطورا في كتب التواريخ، وأخبار أحوال الزمان أن التقوى الصحيحة الخالصة التي شهرت أولا في المسيحيين حين كانوا مبتلين بأشد البلايا، ومظلومين في غاية الظلم، قد أخذت أن تنقص أولا فأول بعد أن كان بواسطة قسطنطين ومن بعده من الملوك، وصار ذلك الاعتقاد ليس أمنا فقط بل ومكرا".

ثم ذكر أن سبب ذلك هو الاختلاف والفتن بين الأساقفة من أجل الرئاسة وعلو المرتبة، إذ قدموا الافتخار بالعلم على تقوى الله، وجعلوا الدين حيلة، وأن ذلك صار سبب اختلاف الأقوال والآراء.

قال: "وإذا رأى عامة الناس ذلك لم يدروا ما يختارون لأنفسهم، يلومون الكتب المقدسة كأنها سبب تلك الفتنة، وينفرون عنها كأنها سم زعاف.
প্রথম মাকাম

খ্রিস্টান ব্যক্তি বলেছেন:

"ইসলাম ধর্মের আবির্ভাবের সূচনা বিষয়ক পরিচ্ছেদ: ইতিহাসগ্রন্থসমূহে যা লিপিবদ্ধ রয়েছে এবং সমসাময়িক ঘটনাবলি থেকে এটি সুপরিচিত ও প্রসিদ্ধ যে, সেই বিশুদ্ধ ও খাঁটি তাকওয়া যা প্রথমত খ্রিস্টানদের মধ্যে প্রসিদ্ধ ছিল—যখন তারা চরম বিপদে নিপতিত এবং চূড়ান্তভাবে নির্যাতিত ছিল—তা কনস্টানটাইন এবং তার পরবর্তী রাজন্যবর্গের মাধ্যমে (সুযোগ লাভের) পর ক্রমে ক্রমে হ্রাস পেতে শুরু করে। আর সেই বিশ্বাস কেবল নিরাপত্তার মাধ্যম না থেকে বরং একটি চাতুর্যে পরিণত হয়।"

অতঃপর তিনি উল্লেখ করেন যে, এর কারণ ছিল নেতৃত্ব ও উচ্চ পদের লালসায় বিশপদের মধ্যকার পারস্পরিক মতভেদ ও ফিতনা; যেহেতু তারা আল্লাহর তাকওয়ার চেয়ে জ্ঞান নিয়ে অহংকার করাকে প্রাধান্য দিয়েছিল এবং ধর্মকে একটি ছলনায় পরিণত করেছিল। আর এটিই ছিল বিভিন্ন উক্তি ও মতামতের পার্থক্যের কারণ।

তিনি বলেন: "সাধারণ মানুষ যখন এটি দেখল, তখন তারা নিজেদের জন্য কোনটি বেছে নেবে তা বুঝতে পারল না; তারা পবিত্র কিতাবসমূহকে এমনভাবে দোষারোপ করতে লাগল যেন সেগুলোই ছিল সেই ফিতনার মূল কারণ এবং তারা সেগুলো থেকে এমনভাবে বিমুখ হলো যেন তা এক তীব্র বিষ।
(খণ্ড: ١) মিনহাতুল কারিবিল মুজিব ফির রাদ্দি আলা ইবাদিস সলিব (পৃষ্ঠা: ١٤٦)
وأما فغالب الأمر قد بدا الدين أن يجعل ليس في طهارة النفس بل في ظاهر السنن، كما صار في اليهودية وفي حفظ الأشياء التي مقصودها تهذيب الأبدان أكثر من صلاح الأنفس بها، وفي السعي في إثبات الدعاوى التي اختاروها.

والذي آل الأمر إليه أنه قد وجد في جميع البلاد عدة من المسيحيين اسما، وأقل من القليل حقا وفعلا...." إلى آخر كلامه الآتي.

ونقول - وبالله التوفيق -:

حقيقة ما ذكره هو الاعتراف بتبديل النصارى دين المسيح عليه السلام، وتغييرهم له، وتفريقهم فيه في تلك الأزمان القريبة من زمن المسيح عليه السلام، فهو من الحجج على صحة نبوة محمد صلى الله عليه وسلم، لأنها قد مضت سنة الله في خلقه ببعثة الرسل عند خفاء الحق وظهور الضلال إعذارا وإنذارا: {لِئَلَّا يَكُونَ لِلنَّاسِ عَلَى اللَّهِ حُجَّةٌ بَعْدَ الرُّسُلِ وَكَانَ اللَّهُ عَزِيزًا حَكِيمًا} .
আর অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিষয়টি এমন রূপ নিয়েছে যে, ধর্মকে আত্মার পবিত্রতার পরিবর্তে বাহ্যিক রীতিনীতির মধ্যে নিহিত করা হয়েছে, যেমনটি ইহুদিধর্মে ঘটেছে; এবং এমন সব বিষয় রক্ষার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে যেগুলোর উদ্দেশ্য আত্মার সংশোধনের চেয়ে শারীরিক পরিমার্জনাই ছিল বেশি, আর তারা তাদের স্ব-নির্বাচিত দাবিগুলো প্রমাণের প্রচেষ্টায় লিপ্ত ছিল।

যার চূড়ান্ত পরিণতি এই হয়েছে যে, সমস্ত জনপদে নামমাত্র খ্রিস্টানদের সংখ্যা অনেক পাওয়া গেলেও প্রকৃত সত্য ও কর্মের দিক থেকে তারা ছিল অতি নগণ্য..." তাঁর আসন্ন বক্তব্যের শেষ পর্যন্ত।

আমরা বলি - আর আল্লাহর সাহায্যেই সকল কাজ সুসম্পন্ন হয় -:

তিনি যা উল্লেখ করেছেন তার প্রকৃত অর্থ হলো খ্রিস্টানদের পক্ষ থেকে মসীহ আলাইহিস সালামের ধর্মকে বিকৃত করা, সেটির পরিবর্তন ঘটানো এবং মসীহ আলাইহিস সালামের সময়ের নিকটবর্তী কালেই তাতে বিভেদ সৃষ্টি করার স্বীকারোক্তি। ফলে এটি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুওয়াতের সত্যতার স্বপক্ষে এক জোরালো প্রমাণ। কেননা সৃষ্টির মাঝে আল্লাহর নীতি এটাই যে, সত্য যখন বিলুপ্ত হয় এবং গোমরাহি বা পথভ্রষ্টতা প্রকাশ পায়, তখন ওজর পেশের পথ বন্ধ করতে এবং সতর্ক করার জন্য তিনি রাসূল প্রেরণ করেন: "যাতে রাসূলদের আগমনের পর আল্লাহর বিরুদ্ধে মানুষের কোনো অজুহাত না থাকে। আর আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।"
(খণ্ড: ١) মিনহাতুল কারিবিল মুজিব ফির রাদ্দি আলা ইবাদিস সলিব (পৃষ্ঠা: ١٤٧)
فأرسل تبارك وتعالى الرسل في بني آدم جيلا بعد جيل وقرنا بعد قرن، كلما درست رسالة رسول وخفيت آثارها بعث رسولا بتجديد الرسالة وإقامة الحجة، إلى أن وصلت النبوة إلى بني إسرائيل، فبعث الله فيهم عبده ورسوله الكريم ونجيه المقرب الكليم موسى بن عمران -عليه الصلاة والتسليم-، وأنزل عليه التوراة فيها هدى ونور، يحكم بها النبيون الذين أسلموا للذين هادوا والربانيون والأحبار، فساسهم موسى عليه السلام بسياسة النبوة، وشرع لهم شرائع الدين، وحد لهم حدوده.

ثم كانت فيهم الأنبياء بعده تسوسهم بأحكام التوراة وشريعة موسى، ثم حدثت فيهم الأحداث، وتفرقوا في الدين، واتبعوا الأهواء، وتقطعوا أمرهم بينهم زبرا، وأفسدوا في الأرض، وتعدوا حدود الله، وغيروا دينه، وقتلوا أنبياءه، فسلط عليهم الأعداء مرة بعد أخرى، فجاسوا خلال ديارهم، وتبروا ما علوا تتبيرا.

وفي كل ذلك يبعث الله فيهم الأنبياء ويجدون لهم ما درس من الدين ويقيمون ما غيروا، إلى أن كان آخر أنبيائهم عبد الله ورسوله وكلمته عيسى ابن مريم عليهما السلام، فجدد لهم الدين، وبين معالمه، ودعاهم إلى عبادة الله وحده والتبري من الأحداث والآراء
অতঃপর আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা আদম সন্তানদের মাঝে এক প্রজন্মের পর এক প্রজন্ম এবং এক শতাব্দীর পর এক শতাব্দী ধরে রাসূলদের প্রেরণ করলেন। যখনই কোনো রাসূলের রিসালাত ম্লান হয়ে যেত এবং তার চিহ্নসমূহ বিলীন হয়ে যেত, তখনই আল্লাহ রিসালাতকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং প্রমাণ প্রতিষ্ঠার জন্য নতুন রাসূল প্রেরণ করতেন। পরিশেষে যখন নবুওয়াত বনী ইসরাঈল পর্যন্ত পৌঁছাল, তখন আল্লাহ তাদের মাঝে তাঁর বান্দা ও সম্মানিত রাসূল, তাঁর নৈকট্যপ্রাপ্ত ও আলাপচারী মুসা ইবনে ইমরানকে (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) প্রেরণ করলেন। তিনি তাঁর ওপর তাওরাত অবতীর্ণ করলেন, যার মধ্যে ছিল হেদায়েত ও আলো। এর মাধ্যমে সেই নবীগণ যারা আত্মসমর্পণ করেছিলেন, তারা ইয়াহুদীদের জন্য ফয়সালা দিতেন এবং রব্বানি ও আহবারগণও (আলেম ও পণ্ডিতগণ)। মুসা (আলাইহিস সালাম) নবুওয়াতের নীতির মাধ্যমে তাদের পরিচালনা করেন, তাদের জন্য দ্বীনের বিধানসমূহ প্রবর্তন করেন এবং তাদের জন্য এর সীমারেখা নির্ধারণ করে দেন।

এরপর তাঁর পরে তাদের মাঝে নবীদের ধারা অব্যাহত ছিল যারা তাওরাতের বিধান এবং মুসার শরীয়ত অনুসারে তাদের পরিচালনা করতেন। অতঃপর তাদের মধ্যে নানাবিধ নব উদ্ভাবিত বিষয়াদির উদ্ভব ঘটল, তারা দ্বীনের মধ্যে দলাদলি শুরু করল, প্রবৃত্তির অনুসরণ করল এবং নিজেদের দ্বীনকে নিজেদের মধ্যে খণ্ড-বিখণ্ড করে ফেলল। তারা জমিনে ফাসাদ সৃষ্টি করল, আল্লাহর সীমা লঙ্ঘন করল, তাঁর দ্বীন পরিবর্তন করল এবং তাঁর নবীদের হত্যা করল। ফলে বারবার তাদের ওপর শত্রুদের আধিপত্য চাপিয়ে দেওয়া হলো। অতঃপর শত্রুরা তাদের ঘরবাড়ির আনাচে-কানাচে ঢুকে পড়ল এবং তারা যা কিছু জয় করেছিল তা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দিল।

আর এই সবকিছুর মাঝে আল্লাহ তাদের নিকট নবীদের প্রেরণ করতেন এবং দ্বীনের যা কিছু বিলীন হয়ে গিয়েছিল তা তাঁরা সংস্কার করতেন এবং যা কিছু তারা পরিবর্তন করেছিল তা পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করতেন। অবশেষে তাদের সর্বশেষ নবী হিসেবে আল্লাহর বান্দা, তাঁর রাসূল এবং তাঁর কালিমা ঈসা ইবনে মারইয়াম (আলাইহিমাস সালাম) আসলেন। তিনি তাদের জন্য দ্বীনকে পুনরুজ্জীবিত করলেন, এর নিদর্শনসমূহ স্পষ্ট করলেন এবং তাদের দাওয়াত দিলেন একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করার দিকে এবং নব উদ্ভাবিত বিষয়াদি ও ব্যক্তিগত মতামত থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করার দিকে।
(খণ্ড: ١) মিনহাতুল কারিবিল মুজিব ফির রাদ্দি আলা ইবাদিস সলিব (পৃষ্ঠা: ١٤٨)
الباطلة، فعادوه، وكذبوه، ورموه بالعظائم، وراموا قتله وصلبه فطهره الله، ورفعه، فلم يصلوا إليه بسوء. كما سيأتي تفصيل القصة فيما بعد -إن شاء الله تعالى-.

فلما رفع تفرق أتباعه شيعا، فمنهم من آمن بما بعثه الله به، وأنه عبد الله ورسوله، وابن أمته، ومنهم من غلا فيه وتجاوز به حد العبودية إلى منزلة الربوبية والإلهية، وقد حكى الله عنهم في كتابه ثلاث مقالات من الكفر، فقال تعالى:

{لَقَدْ كَفَرَ الَّذِينَ قَالُوا إِنَّ اللَّهَ هُوَ الْمَسِيحُ ابْنُ مَرْيَمَ} … .

وقال تعالى:

{لَقَدْ كَفَرَ الَّذِينَ قَالُوا إِنَّ اللَّهَ ثَالِثُ ثَلَاثَةٍ} … .

وقال تعالى:

{وَقَالَتِ النَّصَارَى الْمَسِيحُ ابْنُ اللَّهِ} .... .

وقد اختلف العلماء في هذه المقالات الثلاث التي ذكرها الله عن النصارى: هل هي مقالات لثلاث طوائف منهم؟ أو أنها مقالة لجميعهم؟ أعني: كفرت النصارى على قولين. والتحقيق الثاني كما سيأتي إيضاحه -إن شاء الله تعالى-.
মিথ্যাপন্থীরা তাঁর সাথে শত্রুতা করল, তাঁকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল, তাঁর ওপর গুরুতর অপবাদ আরোপ করল এবং তাঁকে হত্যা ও ক্রুশবিদ্ধ করার ষড়যন্ত্র করল। কিন্তু আল্লাহ তাঁকে পবিত্র করলেন এবং তুলে নিলেন, ফলে তারা তাঁর কোনো ক্ষতি করতে পারল না। যেমনটি সামনে এই কাহিনীর বিস্তারিত বিবরণ আসবে—ইনশাআল্লাহ।

অতঃপর যখন তাঁকে তুলে নেওয়া হলো, তখন তাঁর অনুসারীরা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে পড়ল। তাদের মধ্যে কেউ তো আল্লাহ তাঁকে যা দিয়ে পাঠিয়েছেন তার ওপর এবং তিনি আল্লাহর বান্দা, তাঁর রসূল ও তাঁর দাসীর পুত্র—এই বিশ্বাসের ওপর ঈমান রাখল। আবার তাদের মধ্যে এমন কেউ ছিল যারা তাঁকে নিয়ে অতিরঞ্জন করল এবং দাসত্বের সীমা অতিক্রম করে তাঁকে প্রভুত্ব ও উপাস্যের মর্যাদায় নিয়ে গেল। আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে তাদের তিনটি কুফরি বক্তব্য বর্ণনা করেছেন। মহান আল্লাহ বলেছেন:

{নিশ্চয়ই তারা কুফরি করেছে যারা বলেছে, আল্লাহই হলেন মারইয়াম-পুত্র মসীহ} … .

এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন:

{নিশ্চয়ই তারা কুফরি করেছে যারা বলেছে, আল্লাহ তিনজনের একজন} … .

এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন:

{আর খ্রিস্টানরা বলে, মসীহ আল্লাহর পুত্র} .... .

খ্রিস্টানদের সম্পর্কে আল্লাহ যে তিনটি বক্তব্য উল্লেখ করেছেন, সে বিষয়ে আলেমগণ মতভেদ করেছেন: এগুলো কি তাদের মধ্যস্থিত তিনটি পৃথক দলের বক্তব্য? নাকি এগুলো তাদের সকলেরই বক্তব্য? অর্থাৎ: খ্রিস্টানদের কুফরি সম্পর্কে দুটি মত রয়েছে। সঠিক বিশ্লেষণ হলো দ্বিতীয়টি, যা সামনে স্পষ্ট করা হবে—ইনশাআল্লাহ।
(খণ্ড: ١) মিনহাতুল কারিবিল মুজিব ফির রাদ্দি আলা ইবাদিস সলিব (পৃষ্ঠা: ١٤٩)
واعلم أن النصارى من أجهل الناس بالعلم الصحيح، وأضلهم في أصول دينهم وفروعه، وهم وإن ادعوا أنهم على دين عيسى عليه السلام، وأنهم أتباعه، وعلى شريعته، فقد كذبوا وضلوا ضلالا بعيدا، بل بدلوا دين عيسى وغيروه، ولم يبق بأيديهم منه شيء، وإنما اتبعوا أهواء قوم قد ضلوا من قبل وأضلوا كثيرا وضلوا عن سواء السبيل.

وسنذكر -بعون الله- ما ذكر علماؤنا الذين هم أهل العلم الصحيح، والعقل الرجيح، والتمييز بين صحيح النقل وسقيمه ومقبوله ومردوده. ما نقل إليهم من أمر هذه الأمة الضالة في ابتداء أمرها، ووصل إليهم علمه من ثقات المخبرين من مؤرخي أهل الكتاب وغيرهم ممن له تمام المعرفة بأيامهم واجتماعهم وافتراقهم.

ونبدأ بذكر حديث في ذلك عن النبي صلى الله عليه وسلم تيمنا وتبركا، قال الإمام الحافظ عبد الرحمن بن أبي حاتم الرازي: حدثنا إسحاق ابن أبي حمزة أبو يعقوب الرازي قال: حدثنا السري بن عبد ربه، حدثنا بكير بن معروف، عن مقاتل بن حيان، عن القاسم بن عبد الرحمن، عن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه-
জেনে রাখুন যে, খ্রিষ্টানরা সঠিক জ্ঞানের ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে অজ্ঞ এবং তাদের ধর্মের মূলনীতি ও শাখা-প্রশাখায় সবচেয়ে বেশি বিভ্রান্ত। যদিও তারা দাবি করে যে তারা ঈসা আলাইহিস সালামের ধর্মের ওপর রয়েছে, তারা তাঁর অনুসারী এবং তাঁর শরিয়তের অনুসারী, তবুও তারা মিথ্যা বলেছে এবং ঘোর বিভ্রান্তিতে নিপতিত হয়েছে। বরং তারা ঈসার ধর্মকে পরিবর্তন ও বিকৃত করে ফেলেছে এবং বর্তমানে তাদের কাছে সেই ধর্মের কিছুই অবশিষ্ট নেই। তারা কেবল এমন এক সম্প্রদায়ের প্রবৃত্তির অনুসরণ করেছে যারা ইতিপূর্বে পথভ্রষ্ট হয়েছে, অনেককে পথভ্রষ্ট করেছে এবং তারা সরল পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে গেছে।

আমরা আল্লাহর সাহায্যে সেই বিষয়গুলো উল্লেখ করব যা আমাদের আলেমগণ উল্লেখ করেছেন, যারা সঠিক জ্ঞান, প্রখর বুদ্ধি এবং বর্ণনার শুদ্ধতা-অশুদ্ধতা ও গ্রহণযোগ্যতা-বর্জনযোগ্যতার মধ্যে পার্থক্য নিরূপণে পারদর্শী। এই পথভ্রষ্ট জাতির সূচনালগ্ন সম্পর্কে তাদের কাছে যা বর্ণিত হয়েছে এবং আহলে কিতাবদের ইতিহাসবিদ ও অন্যদের মধ্য থেকে নির্ভরযোগ্য সংবাদদাতাদের মাধ্যমে তাদের দিনকাল, ঐক্য ও বিভক্তি সম্পর্কে যাদের পূর্ণ জ্ঞান রয়েছে, তাদের থেকে যা প্রাপ্ত হয়েছে তা আমরা বর্ণনা করব।

শুভ সূচনা ও বরকতের জন্য আমরা এ বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি হাদিস দিয়ে শুরু করছি। ইমাম হাফেজ আবদুর রহমান বিন আবি হাতেম আর-রাজি বলেন: আমাদের কাছে ইসহাক ইবনে আবি হামজা আবু ইয়াকুব আর-রাজি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে আস-সাররি ইবনে আবদে রাব্বিহি বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে বুকাইর ইবনে মা’রুফ মুকাতিল ইবনে হাইয়ান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি কাসেম ইবনে আবদুর রহমান থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন-
(খণ্ড: ١) মিনহাতুল কারিবিল মুজিব ফির রাদ্দি আলা ইবাদিস সলিব (পৃষ্ঠা: ١٥٠)
قال: «قال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم: يا ابن مسعود. قلت: لبيك يا رسول الله، قال: علمت أن بني إسرائيل تفرقوا على اثنتين وسبعين فرقة لم ينج منها إلا ثلاث فرق، قامت بين الملوك والجبابرة بعد عيسى ابن مريم عليه السلام، فدعت إلى دين الله، ودين عيسى ابن مريم، فقاتلت الجبابرة، فقتلت وصبرت ونجت، ثم قامت طائفة أخرى لم تكن لها قوة بالقتال، فقامت بين الملوك والجبابرة تدعو إلى دين الله، ودين عيسى ابن مريم، فقتلت، وقطعت بالمناشير، وحرقت بالنيران، فصبرت ونجت. ثم قامت طائفة أخرى لم تكن لها قوة بالقتال، ولم تطق القيام بالقسط، فلحقت بالجبال، فتعبدت، وترهبت، وهم الذين ذكرهم الله عز وجل بقوله: {وَرَهْبَانِيَّةً ابْتَدَعُوهَا مَا كَتَبْنَاهَا عَلَيْهِمْ} » .

ورواه ابن جرير وأبو يعلى من طريق أخرى.

وقال ابن كثير: روي عن قتادة قال: "اجتمع بنو إسرائيل، فأخرجوا أربعة نفر، أخرج كل قوم عالمهم، فامتروا في عيسى حين رفع.
তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বললেন: হে ইবনে মাসউদ। আমি বললাম: আমি আপনার সেবায় হাজির, হে আল্লাহর রাসূল। তিনি বললেন: তুমি কি জানো যে, বনী ইসরাঈল বাহাত্তরটি দলে বিভক্ত হয়েছিল, যাদের মধ্যে মাত্র তিনটি দল ছাড়া আর কেউ মুক্তি পায়নি? ঈসা ইবনে মারিয়াম (আলাইহিস সালাম)-এর পর তারা রাজা ও স্বৈরশাসকদের সামনে দাঁড়িয়েছিল এবং আল্লাহর দ্বীন ও ঈসা ইবনে মারিয়ামের দ্বীনের দিকে আহ্বান করেছিল। তারা স্বৈরশাসকদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল, ফলে তারা নিহত হয়েছিল, ধৈর্য ধারণ করেছিল এবং মুক্তি পেয়েছিল। অতঃপর অন্য একটি দল দাঁড়িয়েছিল যাদের যুদ্ধ করার শক্তি ছিল না। তারা রাজা ও স্বৈরশাসকদের মাঝে দাঁড়িয়ে আল্লাহর দ্বীন ও ঈসা ইবনে মারিয়ামের দ্বীনের দিকে আহ্বান জানিয়েছিল। তারা নিহত হয়েছিল, করাত দিয়ে চেরা হয়েছিল এবং আগুনে পোড়ানো হয়েছিল, কিন্তু তারা ধৈর্য ধারণ করেছিল ও মুক্তি পেয়েছিল। তারপর আরেকটি দল দাঁড়িয়েছিল যাদের যুদ্ধ করার ক্ষমতা ছিল না এবং যারা ইনসাফ কায়েম করার সামর্থ্য রাখত না। ফলে তারা পাহাড়ে আশ্রয় নিয়েছিল এবং ইবাদত ও বৈরাগ্য অবলম্বন করেছিল। এরাই তারা যাদের সম্পর্কে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাঁর এই বাণীতে উল্লেখ করেছেন: {আর বৈরাগ্যবাদ—যা তারা নিজেরাই উদ্ভাবন করেছিল, আমি তাদের উপর তা লিখে দিইনি}।"

এটি ইবনে জারীর এবং আবু ইয়ালা অন্য সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

ইবনে কাসীর বলেন: কাতাদাহ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেন: "বনী ইসরাঈল একত্রিত হলো এবং চারজন ব্যক্তিকে বের করে আনল; প্রত্যেক সম্প্রদায় তাদের আলেমকে বের করল। অতঃপর তারা ঈসার ব্যাপারে বিতর্কে লিপ্ত হলো যখন তাঁকে উঠিয়ে নেয়া হয়েছিল।"
(খণ্ড: ١) মিনহাতুল কারিবিল মুজিব ফির রাদ্দি আলা ইবাদিস সলিব (পৃষ্ঠা: ١٥١)
فقال بعضهم: هو الله هبط إلى الأرض، فأحيا من أحيا، وأمات من أمات، ثم صعد إلى السماء، وهم اليعقوبية. فقال الثلاثة: كذبت، ثم قال الاثنان منهم للثالث: قل أنت، قال: هو ابن الله، وهم النسطورية. فقال الاثنان: كذبت. ثم قال أحد الاثنين للآخر: قل فيه، قال: هو ثالث ثلاثة: الله إله، وهو إله، وأمه إله، وهم الإسرائيلية ملوك النصارى. فقال الرابع: كذبت. هو عبد الله ورسوله، وروحه، وكلمته، وهم المسلمون. فكان لكل رجل منهم أتباع على ما قالوا، فاقتتلوا، فظهروا على المسلمين.

وذلك قوله تعالى: {وَيَقْتُلُونَ الَّذِينَ يَأْمُرُونَ بِالْقِسْطِ مِنَ النَّاسِ} .... .

قال قتادة: وهم الذين قال الله فيهم: {فَاخْتَلَفَ الْأَحْزَابُ مِنْ بَيْنِهِمْ} .... .
তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলল: তিনিই আল্লাহ, তিনি পৃথিবীতে অবতরণ করেছেন, অতঃপর যাকে জীবিত করার তাকে জীবিত করেছেন এবং যাকে মৃত্যু দেওয়ার তাকে মৃত্যু দিয়েছেন, এরপর তিনি আসমানে উঠেছেন, আর তারা হলো ইয়াকুবীয় সম্প্রদায়। তখন (বাকি) তিনজন বলল: তুমি মিথ্যা বলেছ। এরপর তাদের মধ্য থেকে দুইজন তৃতীয়জনকে বলল: তুমি বলো। সে বলল: তিনি আল্লাহর পুত্র, আর তারা হলো নেস্টোরীয় সম্প্রদায়। তখন (বাকি) দুইজন বলল: তুমি মিথ্যা বলেছ। এরপর সেই দুইজনের একজন অন্যজনকে বলল: তুমি তার ব্যাপারে বলো। সে বলল: তিনি তিনজনের তৃতীয়জন: আল্লাহ একজন ইলাহ, তিনি একজন ইলাহ এবং তার মা একজন ইলাহ; আর তারা হলো ইসরায়েলিরা যারা নাসারাদের রাজা। তখন চতুর্থজন বলল: তুমি মিথ্যা বলেছ। তিনি আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, তাঁর রুহ এবং তাঁর কালিমা; আর তারা হলো মুসলিম। তাদের প্রত্যেকের কথার ওপর ভিত্তি করে অনুসারী তৈরি হলো, ফলে তারা পরস্পর যুদ্ধে লিপ্ত হলো এবং তারা মুসলিমদের ওপর বিজয়ী হলো।

আর এটাই মহান আল্লাহর বাণী: {এবং তারা মানুষের মধ্যে যারা ন্যায়ের আদেশ দেয় তাদের হত্যা করে} .... ।

কাতাদাহ (রহ.) বলেন: তারাই সেই লোক যাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন: {অতঃপর তাদের মধ্যবর্তী দলগুলো মতবিরোধ করল} .... ।
(খণ্ড: ١) মিনহাতুল কারিবিল মুজিব ফির রাদ্দি আলা ইবাদিস সলিব (পৃষ্ঠা: ١٥٢)
وروي عن ابن عباس رضي الله عنهما وعن عروة بن الزبير عن بعض أهل العلم قريبا من ذلك.

قال ابن كثير بعد أن ذكر مقالاتهم الثلاث: فاستمروا كذلك قريبا من ثلاثمائة سنة.

ثم نبغ فيهم ملك من ملوك اليونان يقال له: قسطنطين، فدخل في دين النصرانية، قيل: حيلة؛ ليفسده، فإنه كان فيلسوفا، وقيل: جهلا منه. إلا أنه بدل دين المسيح، وحرفه، وزاد فيه ونقص، ووضعت له القوانين والأمانة الكبيرة، بل هي الخيانة الحقيرة، وصلوا له إلى المشرق،
এবং ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) ও উরওয়াহ ইবনুল জুবাইর থেকে কতিপয় আহলে ইলমের বরাতে এর কাছাকাছি বর্ণিত হয়েছে।

ইবনে কাসীর তাদের তিনটি মতবাদ উল্লেখ করার পর বলেন: তারা প্রায় তিনশ বছর এভাবেই অতিবাহিত করেছিল।

অতঃপর তাদের মাঝে গ্রিক সম্রাটদের মধ্য হতে কনস্টানটাইন নামক এক সম্রাটের আবির্ভাব ঘটে, যে খ্রিস্টধর্মে প্রবেশ করে। বলা হয় যে, এটি ছিল ধর্মকে কলুষিত করার একটি অপকৌশল, কেননা সে ছিল একজন দার্শনিক; আবার বলা হয় যে, এটি ছিল তার অজ্ঞতাবশত। তবে সে মসীহের ধর্মকে পরিবর্তন ও বিকৃত করেছিল এবং এতে সংযোজন ও বিয়োজন ঘটিয়েছিল। তার জন্য বিভিন্ন বিধিমালা এবং ‘মহাসনদ’ প্রণয়ন করা হয়েছিল, যা মূলত ছিল এক নিকৃষ্ট বিশ্বাসঘাতকতা; আর তারা তার নির্দেশে পূর্বমুখী হয়ে প্রার্থনা করতে শুরু করে।
(খণ্ড: ١) মিনহাতুল কারিবিল মুজিব ফির রাদ্দি আলা ইবাদিস সলিব (পৃষ্ঠা: ١٥٣)
وصور لهم الصور، وبنى لهم الكنائس والمعابد والصوامع، وزاد في صيامهم عشرة أيام من أجل ذنب ارتكبه فيما يزعمون، وصار دين المسيح دين قسطنطين، لأنه بنى لهم من الكنائس والمعابد والصوامع والديارات ما يزيد على اثني عشر ألف معبد، وبنى المدينة المنسوبة إليه، وتبعته طائفته الملكية منهم.

وأخرج النسائي في سننه وابن جرير في تفسيره عن ابن عباس رضي الله عنهما قال:
এবং তিনি তাদের জন্য বিভিন্ন প্রতিকৃতি তৈরি করলেন এবং তাদের জন্য গির্জা, উপাসনালয় ও মঠ নির্মাণ করলেন। তাদের দাবিমতে তিনি নিজের কৃত একটি পাপের কারণে তাদের রোযার সাথে আরও দশ দিন বাড়িয়ে দিলেন। ফলে মাসীহ-এর দীন কনস্টানটাইনের দীনে পরিণত হলো; কেননা তিনি তাদের জন্য গির্জা, উপাসনালয়, মঠ ও আশ্রম মিলিয়ে বারো হাজারেরও অধিক ইবাদতখানা নির্মাণ করেছিলেন। তিনি নিজের নামানুসারে শহরটি নির্মাণ করেন এবং তাদের মধ্যকার ‘মালকিয়া’ গোষ্ঠী তাঁর অনুসরণ করে।

নাসায়ী তাঁর সুনান গ্রন্থে এবং ইবনে জারীর তাঁর তাফসীরে ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
(খণ্ড: ١) মিনহাতুল কারিবিল মুজিব ফির রাদ্দি আলা ইবাদিস সলিব (পৃষ্ঠা: ١٥٤)
كانت ملوك بعد عيسى عليه السلام بدلوا التوراة والإنجيل، وكان بينهم مؤمنون يقرؤون التوراة والإنجيل، فقيل لملوكهم: ما نجد شتما أشد من شتم يشتمونا هؤلاء، إنهم يقرؤون: {وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الْكَافِرُونَ} .

مع ما يعيبونا به في أعمالنا في قراءتهم، فادعهم، فليقرؤوا كما نقرأ، وليؤمنوا كما نؤمن. فدعاهم، فعرض عليهم القتل، أو يتركوا قراءة التوراة والإنجيل إلا ما بدلوا فيها، فقالوا: ما تريدون إلى ذلك، دعونا.

فقالت طائفة منهم: ابنوا لنا أسطوانا، ثم ارفعونا إليها، ثم أعطونا شيئا نرفع به طعامنا وشرابنا، ولا نرد عليكم.

وقالت طائفة منهم: دعونا نسيح في الأرض، ونهيم ونشرب كما يشرب الوحش، فإن قدرتم علينا في أرضكم فاقتلونا.
ঈসা আলাইহিস সালামের পরবর্তী যুগে এমন কিছু রাজা ছিলেন যারা তাওরাত ও ইঞ্জিল বিকৃত করেছিলেন। তাদের মাঝে এমন কিছু মুমিন অবশিষ্ট ছিলেন যারা (মূল) তাওরাত ও ইঞ্জিল পাঠ করতেন। ফলে সেই রাজাদের বলা হলো: এই লোকেরা আমাদের যেভাবে গালমন্দ করে, তার চেয়ে কঠিন কোনো গালি আমরা দেখি না। তারা পাঠ করে: "আর আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, তদনুযায়ী যারা ফয়সালা করে না, তারাই কাফির।"

সেই সাথে তারা তাদের তিলাওয়াতের মাধ্যমে আমাদের কর্মকাণ্ডের দোষত্রুটি বর্ণনা করে। সুতরাং আপনি তাদের তলব করুন; তারা যেন সেভাবেই পাঠ করে যেভাবে আমরা করি এবং সেভাবেই বিশ্বাস স্থাপন করে যেভাবে আমরা করি। অতঃপর রাজা তাদের ডাকলেন এবং তাদের সামনে হয় মৃত্যু, নতুবা তারা যেটুকু পরিবর্তন করেছে তা বাদে তাওরাত ও ইঞ্জিল পাঠ বর্জন করার শর্ত দিলেন। তারা বলল: তোমরা কেন এমনটা চাইছ? আমাদের ছেড়ে দাও।

তখন তাদের একদল বলল: আমাদের জন্য একটি উচ্চ স্তম্ভ নির্মাণ করে দিন, তারপর আমাদের সেখানে উঠিয়ে দিন। এরপর আমাদের সামান্য কিছু সরঞ্জামের ব্যবস্থা করে দিন যা দিয়ে আমরা আমাদের খাদ্য ও পানীয় উপরে টেনে নিতে পারি; আমরা আর তোমাদের কাছে ফিরে আসব না।

অন্য একদল বলল: আমাদের জমিনে বিচরণ করতে দিন; আমরা যাযাবরের ন্যায় ঘুরে বেড়াব এবং বন্য পশুর মতো পানাহার করব। যদি তোমরা তোমাদের ভূখণ্ডে আমাদের নাগাল পাও, তবে আমাদের হত্যা করো।
(খণ্ড: ١) মিনহাতুল কারিবিল মুজিব ফির রাদ্দি আলা ইবাদিস সলিব (পৃষ্ঠা: ١٥٥)
وقالت طائفة: ابنوا لنا دورا في الفيافي، ونحتفر الآبار، ونحترث البقول، ولا نرد عليكم، ولا نمر بكم، وليس أحد من القبائل إلا وله فيهم حميم. ففعلوا ذلك، فأنزل الله: {وَرَهْبَانِيَّةً ابْتَدَعُوهَا مَا كَتَبْنَاهَا عَلَيْهِمْ إِلَّا ابْتِغَاءَ رِضْوَانِ اللَّهِ فَمَا رَعَوْهَا حَقَّ رِعَايَتِهَا} … .

وآخرون قالوا: نتعبد كما تعبد فلان ونسيح كما ساح فلان، وهم على شركهم لا علم لهم بإيمان الذين اقتدوا بهم، فلما بعث النبي صلى الله عليه وسلم ولم يبق منهم إلا القليل انحط رجل من صومعته، وجاء رجل من سياحته، وصاحب الدير من ديره، فآمنوا به وصدقوه، فقال تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَآمِنُوا بِرَسُولِهِ يُؤْتِكُمْ كِفْلَيْنِ مِنْ رَحْمَتِهِ} ، يعني: أجرين بإيمانهم بعيسى عليه السلام وبالتوراة والإنجيل، وبإيمانهم بمحمد صلى الله عليه وسلم وتصديقهم {وَيَجْعَلْ لَكُمْ نُورًا تَمْشُونَ بِهِ} القرآن واتباعهم النبي صلى الله عليه وسلم قال - {لِئَلَّا يَعْلَمَ أَهْلُ الْكِتَابِ} الذين يتشبهون بكم: {أَلَّا يَقْدِرُونَ عَلَى شَيْءٍ مِنْ فَضْلِ اللَّهِ وَأَنَّ الْفَضْلَ بِيَدِ اللَّهِ يُؤْتِيهِ مَنْ يَشَاءُ وَاللَّهُ ذُو الْفَضْلِ الْعَظِيمِ} .
একদল লোক বলল: আমাদের জন্য জনমানবহীন প্রান্তরে ঘর নির্মাণ করো, আমরা কূপ খনন করব, শাকসবজি চাষ করব, আমরা তোমাদের কাছে ফিরে আসব না এবং তোমাদের পাশ দিয়েও অতিক্রম করব না। তখন গোত্রগুলোর মাঝে এমন কেউ ছিল না যার কোনো আত্মীয় তাদের মধ্যে ছিল না। তারা তা-ই করল। তখন আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন: {আর সন্ন্যাসবাদ—তারা এটি নিজেরাই উদ্ভাবন করেছিল, আমি তাদের ওপর এটি লিখে দিইনি; তবে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে (তারা এটি করেছিল), কিন্তু তারা তা যথাযথভাবে রক্ষা করেনি} … .

এবং অন্যেরা বলল: অমুক ব্যক্তি যেভাবে ইবাদত করত আমরাও সেভাবে ইবাদত করব এবং অমুক ব্যক্তি যেভাবে পরিভ্রমণ করত আমরাও সেভাবে পরিভ্রমণ করব। অথচ তারা তাদের শিরকের ওপর অটল ছিল এবং যাদের তারা অনুসরণ করছিল তাদের ঈমান সম্পর্কে তাদের কোনো জ্ঞান ছিল না। অতঃপর যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রেরিত হলেন এবং তাদের মধ্যে কেবল সামান্য কিছু লোকই অবশিষ্ট ছিল, তখন এক ব্যক্তি তার নির্জন উপাসনালয় থেকে নেমে এল, এক ব্যক্তি তার পরিভ্রমণ থেকে ফিরে এল এবং মঠের অধিকারী তার মঠ থেকে এল; তারা তাঁর ওপর ঈমান আনল এবং তাঁকে সত্য বলে স্বীকার করল। তখন আল্লাহ তাআলা বললেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনো, তিনি তাঁর রহমত থেকে তোমাদের দ্বিগুণ অংশ দান করবেন} , অর্থাৎ: ঈসা আলাইহিস সালাম এবং তাওরাত ও ইঞ্জিলের ওপর ঈমান আনার কারণে এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর ঈমান আনয়ন ও তাঁকে সত্য বলে স্বীকার করার কারণে দুটি প্রতিদান {এবং তিনি তোমাদের জন্য দান করবেন নূর, যার সাহায্যে তোমরা পথ চলবে} কুরআন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ। তিনি বললেন - {যাতে আহলে কিতাবগণ জানতে পারে} যারা তোমাদের সদৃশ হতে চায়: {যে, আল্লাহর অনুগ্রহের ওপর তাদের কোনো ক্ষমতা নেই এবং নিশ্চয়ই অনুগ্রহ আল্লাহর হাতে, তিনি যাকে ইচ্ছা তা দান করেন। আর আল্লাহ মহা অনুগ্রহশীল}।
(খণ্ড: ١) মিনহাতুল কারিবিল মুজিব ফির রাদ্দি আলা ইবাদিস সলিব (পৃষ্ঠা: ١٥٦)
وقد ذكر الإمام العلامة أبو عبد الله محمد بن أبي بكر بن القيم طرفا من شرح هذه الجملة، وأن دين المسيح تناسخ واضمحل. قال:

ولم يبق بأيدي النصارى منه شيء، بل ركبوا دينا بين دين المسيح ودين الفلاسفة عباد الأصنام، وراموا بذلك أن يتلطفوا للأمم حتى يدخلوا في النصرانية.

فنقلوهم من عبادة الأصنام المجسدة إلى الصور التي لا أصل لها، ونقلوهم من السجود للشمس إلى السجود إلى جهة المشرق، ونقلوهم من القول باتحاد العاقل والمعقول والعقل، إلى القول باتحاد الآب والابن وروح القدس.

هذا ومعهم بقايا من دين المسيح كالختان، والاغتسال من الجنابة، وتعظيم السبت، وتحريم الخنزير، وتحريم ما حرمته التوراة إلا ما أحل لهم بنص الإنجيل، ثم تناسخت الشريعة إلى أن استحلوا الخنزير، وأحلوا السبت، وعوضوا منه يوم الأحد، وتركوا الختان والاغتسال من الجنابة.
ইমাম আল্লামা আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে আবি বকর ইবনুল কাইয়্যিম এই বাক্যটির ব্যাখ্যার কিছু অংশ উল্লেখ করেছেন এবং বর্ণনা করেছেন যে, মাসীহের ধর্ম পরিবর্তিত ও বিলুপ্ত হয়ে গেছে। তিনি বলেন:

নাসারাদের হাতে সেই ধর্মের আর কিছুই অবশিষ্ট নেই, বরং তারা মাসীহের ধর্ম এবং মূর্তিপূজক দার্শনিকদের ধর্মের সমন্বয়ে এক নতুন ধর্ম তৈরি করেছে। এর মাধ্যমে তারা বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর সাথে নমনীয় আচরণ করতে চেয়েছিল যেন তারা খ্রিস্টধর্মে প্রবেশ করে।

ফলে তারা তাদেরকে মূর্তিপূজা থেকে সরিয়ে এমন সব ছবির দিকে নিয়ে গেছে যার কোনো ভিত্তি নেই, আর সূর্যকে সিজদা করা থেকে সরিয়ে পূর্ব দিকে সিজদা করার দিকে নিয়ে গেছে। তারা তাদেরকে জ্ঞাতা, জ্ঞেয় ও জ্ঞানের একত্বের মতবাদ থেকে সরিয়ে পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার একত্বের মতবাদের দিকে নিয়ে গেছে।

এ সত্ত্বেও তাদের কাছে মাসীহের ধর্মের কিছু অবশিষ্টাংশ অবশিষ্ট ছিল, যেমন খতনা করা, জানাবাত থেকে গোসল করা, শনিবারকে সম্মান করা, শূকর হারাম রাখা এবং তাওরাতে যা হারাম করা হয়েছিল তা হারাম মানা—ইঞ্জিলের সুস্পষ্ট ভাষ্যের মাধ্যমে যা তাদের জন্য হালাল করা হয়েছিল তা ব্যতীত। এরপর তাদের শরিয়তটি এমনভাবে পরিবর্তিত হতে থাকে যে, শেষ পর্যন্ত তারা শূকরকে হালাল করে নেয়, শনিবারের বিধান শিথিল করে তার পরিবর্তে রবিবারকে গ্রহণ করে এবং খতনা ও জানাবাতের গোসল পরিত্যাগ করে।
(খণ্ড: ١) মিনহাতুল কারিবিল মুজিব ফির রাদ্দি আলা ইবাদিস সলিব (পৃষ্ঠা: ١٥٧)
وكان المسيح يصلي إلى بيت المقدس، فصلوا هم إلى المشرق، ولم يعظم المسيح صليبا قط، فعظموا هم الصليب وعبدوه، ولم يصم المسيح صومهم هذا أبدا، ولا شرعه، ولا أمر به ألبتة.
মাসীহ বায়তুল মাকদিসের দিকে ফিরে সালাত আদায় করতেন, কিন্তু তারা পূর্ব দিকে ফিরে সালাত আদায় করল। মাসীহ কখনোই ক্রুশকে মহিমান্বিত করেননি, অথচ তারা ক্রুশকে মহিমান্বিত করল এবং তার উপাসনা করল। আর মাসীহ কখনোই তাদের এই রোজা পালন করেননি, না তিনি এর বিধান দিয়েছেন এবং না তিনি আদৌ এর নির্দেশ দিয়েছেন।
(খণ্ড: ١) মিনহাতুল কারিবিল মুজিব ফির রাদ্দি আলা ইবাদিস সলিব (পৃষ্ঠা: ١٥٨)
بل هم وضعوه على العدد ونقلوه إلى زمن الربيع، فجعلوا ما زادوا فيه من العدد عوضا عن نقله من الشهور الهلالية إلى الشهور الرومية، وتعبدوا بالنجاسات.

وكان المسيح في غاية الطهارة والطيب والنظافة، وأبعد الخلق عن النجاسة، فقصدوا بذلك تغيير دين اليهود ومراغمتهم، فغيروا دين المسيح، وتقربوا إلى الفلاسفة عباد الأصنام بأن وافقوهم في بعض الأمر، ليرضوهم به، وليستنصروا بذلك على اليهود.

ولما أخذ دين المسيح في التغير والفساد اجتمعت النصارى عدة مجامع تزيد على ثمانين مجمعا. ثم تفرقوا على الاختلاف والتلاعن يلعن بعضهم بعضا، حتى قال فيهم بعض العقلاء: لو اجتمع عشرة من النصارى يتكلمون في حقيقة ما هم عليه لتفرقوا عن أحد عشر مذهبا.

حتى جمعهم قسطنطين الملك آخر ذلك من الجزائر والبلاد وسائر الأقطار.
বরং তারা এটিকে গণনার ভিত্তিতে নির্ধারণ করেছে এবং বসন্তকালে স্থানান্তরিত করেছে। তারা যে অতিরিক্ত সংখ্যা এতে যোগ করেছে, তাকে তারা চান্দ্র মাস থেকে রোমান মাসে স্থানান্তরের বিনিময় হিসেবে সাব্যস্ত করেছে; আর তারা অপবিত্র বস্তুসমূহের মাধ্যমে উপাসনা শুরু করেছে।

অথচ মসীহ ছিলেন পবিত্রতা, সুগন্ধি ও পরিচ্ছন্নতার চরম শিখরে এবং তিনি ছিলেন সৃষ্টির মাঝে অপবিত্রতা থেকে সর্বাপেক্ষা দূরবর্তী। তারা এর মাধ্যমে ইহুদিদের ধর্ম পরিবর্তন ও তাদের অপমান করার সংকল্প করেছিল; কিন্তু পরিণামে তারা মসীহের ধর্মকেই বিকৃত করে ফেলল। তারা মূর্তিপূজক দার্শনিকদের সাথে কিছু বিষয়ে একমত হওয়ার মাধ্যমে তাদের নিকটবর্তী হওয়ার চেষ্টা করল, যাতে তারা তাদের সন্তুষ্ট করতে পারে এবং এর মাধ্যমে ইহুদিদের বিরুদ্ধে সাহায্য লাভ করতে পারে।

যখন মসীহের ধর্মে পরিবর্তন ও বিকৃতি দেখা দিল, তখন খ্রিস্টানরা আশিটিরও অধিক সম্মেলনে একত্রিত হলো। অতঃপর তারা মতভেদ ও পরস্পরকে অভিশাপ দেওয়ার মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ল, তারা একে অপরকে অভিশপ্ত বলতে লাগল। এমনকি তাদের সম্পর্কে জনৈক বিজ্ঞ ব্যক্তি বলেছিলেন: যদি দশজন খ্রিস্টান একত্রিত হয়ে তাদের বাস্তব অবস্থা সম্পর্কে আলোচনা করে, তবে তারা এগারোটি মতবাদে বিভক্ত হয়ে বিচ্ছিন্ন হবে।

অবশেষে রাজা কনস্টানটাইন তাদের বিভিন্ন দ্বীপ, শহর ও অন্যান্য সকল প্রান্ত থেকে একত্রিত করলেন।
(খণ্ড: ١) মিনহাতুল কারিবিল মুজিব ফির রাদ্দি আলা ইবাদিস সলিব (পৃষ্ঠা: ١٥٩)
فجمع كل بترك وأسقف وعالم، فاختار منهم ثلاثمائة وثمانية عشر. فقال: أنتم اليوم علماء النصرانية وأكابر النصارى، فاتفقوا على أمر تجتمع عليه كلمة النصرانية، ومن خالفه لعنتموه، وحرمتموه.

فقاموا وقعدوا وفكروا وقدروا، واتفقوا على وضع الأمانة التي بأيديهم اليوم، وذلك سنة خمس عشرة من ملك قسطنطين.

وكان سبب ذلك أن بطريق الإسكندرية منع أريوس من دخول الكنيسة ولعنه. فخرج أريوس إلى قسطنطين الملك مستعديا عليه ومعه أسقفان، فشكوه إليه، وطلبوا منه مناظرته بين يدي الملك. فاستحضر الملك، وقال لأريوس: اشرح مقالتك.
তিনি প্রত্যেক বিশপ, ধর্মযাজক ও পণ্ডিতকে একত্রিত করলেন এবং তাদের মধ্য থেকে তিনশ আঠারো জনকে নির্বাচন করলেন। তিনি বললেন: আজ আপনারা খ্রিস্টধর্মের পণ্ডিত ও খ্রিস্টানদের প্রধান ব্যক্তিবর্গ; সুতরাং আপনারা এমন একটি বিষয়ে একমত হন যাতে খ্রিস্টধর্মের বাণী ঐক্যবদ্ধ হয়, আর যে এর বিরোধিতা করবে তাকে আপনারা অভিশপ্ত ও বর্জন করবেন।

অতঃপর তারা অনেক চিন্তা-ভাবনা ও বিচার-বিশ্লেষণ করলেন এবং আজ তাদের নিকট যে 'আমানাহ' (ধর্মীয় মূলনীতি) বিদ্যমান তা প্রণয়ন করতে একমত হলেন। এটি সম্রাট কনস্টানটাইনের রাজত্বের পঞ্চদশ বর্ষের ঘটনা।

এর কারণ ছিল আলেকজান্দ্রিয়ার বিশপ আরিউসকে গির্জায় প্রবেশে বাধা দেওয়া এবং তাকে অভিশপ্ত করা। ফলে আরিউস প্রতিকার চেয়ে সম্রাট কনস্টানটাইনের নিকট গমন করলেন, তার সাথে দুজন ধর্মযাজকও ছিলেন। তারা সম্রাটের নিকট তার বিরুদ্ধে অভিযোগ পেশ করলেন এবং সম্রাটের উপস্থিতিতে তার সাথে তর্কে লিপ্ত হওয়ার আবেদন জানালেন। সম্রাট তখন তাকে তলব করলেন এবং আরিউসকে বললেন: তোমার বক্তব্য ব্যাখ্যা করো।
(খণ্ড: ١) মিনহাতুল কারিবিল মুজিব ফির রাদ্দি আলা ইবাদিস সলিব (পৃষ্ঠা: ١٦٠)
فقال أريوس: أقر أن الآب كان إذ لم يكن الابن، فكان له إلا أنه محدث مخلوق، ثم فوض الأمر إلى ذلك الابن المسمى كلمة. فكان هو خالق السماوات والأرض وما بينهما، كما قال في إنجيله إذ يقول: (وهب لي سلطانا على السماء والأرض) فكان هو الخالق لهما بما أعطي من ذلك. ثم إن تلك الكلمة بعد اتحدت من مريم العذراء ومن روح القدس، فصار ذلك مسيحا واحدا. فالمسيح إذن معنيان: كلمة وجسد، إلا أنهما جميعا مخلوقان.

فقال بطريق الإسكندرية: خبرنا أيما أوجب علينا عندك: عبادة من خلقنا، أو عبادة من لم يخلقنا؟.

فقال أريوس: بل عبادة من خلقنا.

فقال: فعبادة الابن الذي خلقنا وهو مخلوق أوجب من عبادة الآب الذي هو ليس بمخلوق، بل تصير عبادة الآب الخالق كفرا، وعبادة الابن إيمانا.

فاستحسن الملك والحاضرون مقالته، وأمرهم الملك أن يلعنوا أريوس ومن يقول بمقالته.
আরিউস বললেন: আমি স্বীকার করি যে, পিতা তখন বিদ্যমান ছিলেন যখন পুত্র ছিলেন না। তাঁর অস্তিত্ব ছিল, তবে তিনি (পুত্র) হলেন নতুনভাবে উদ্ভাবিত ও সৃষ্ট। অতঃপর তিনি সেই 'কালিমা' (বাক্য) নামক পুত্রের নিকট সকল বিষয় ন্যস্ত করেন। ফলে তিনিই হলেন আসমানসমূহ, যমিন ও এই উভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর স্রষ্টা, যেমনটি তিনি তাঁর ইঞ্জিলে বলেছেন: (আকাশ ও পৃথিবীর কর্তৃত্ব আমাকে দান করা হয়েছে)। সুতরাং যা তাঁকে প্রদান করা হয়েছে তার মাধ্যমেই তিনি এই উভয়ের স্রষ্টা সাব্যস্ত হলেন। অতঃপর সেই কালিমা পরবর্তীতে কুমারী মারইয়াম ও রুহুল কুদুসের (পবিত্র আত্মা) মাধ্যমে একত্রিত হলেন, ফলে তিনি এক মসীহে পরিণত হলেন। অতএব, মসীহ বলতে দুটি বিষয়কে বোঝায়: কালিমা ও দেহ; যদিও তারা উভয়ই সৃষ্ট।

আলেকজান্দ্রিয়ার প্যাট্রিয়ার্ক বললেন: আমাদের বলুন, আপনার নিকট আমাদের ওপর কোনটি বেশি আবশ্যক: যিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন তাঁর ইবাদত করা, নাকি যিনি আমাদের সৃষ্টি করেননি তাঁর ইবাদত করা?

আরিউস বললেন: বরং যিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন তাঁর ইবাদত করা।

তিনি বললেন: তবে তো সেই পুত্রের ইবাদত করা—যিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন অথচ তিনি নিজে সৃষ্ট—সেই পিতার ইবাদতের চেয়ে বেশি আবশ্যক হয়ে দাঁড়ায় যিনি সৃষ্ট নন। বরং স্রষ্টা পিতার ইবাদত করা কুফরি আর পুত্রের ইবাদত করা ঈমান হিসেবে গণ্য হবে (আপনার মতানুসারে)।

রাজা এবং উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ তাঁর এই বক্তব্য পছন্দ করলেন এবং রাজা তাঁদের নির্দেশ দিলেন যেন তাঁরা আরিউস ও তাঁর মতাবলম্বীদের ওপর লানত বর্ষণ করেন।
(খণ্ড: ١) মিনহাতুল কারিবিল মুজিব ফির রাদ্দি আলা ইবাদিস সলিব (পৃষ্ঠা: ١٦١)
فلما انتصر البطريق، قال للملك: استحضر البطارقة والأساقفة حتى يكون لنا مجمع، ونضع قصة نشرح فيها الدين، ونوضحه للناس، فحشرهم قسطنطين من سائر الآفاق، فاجتمع عنده بعد سنة وشهرين ألفان وثمانية وأربعون أسقفا، وكانوا مختلفي الآراء متباينين في أديانهم.

فلما اجتمعوا كثر اللغط بينهم، وارتفعت الأصوات، وعظم الاختلاف، فتعجب الملك من شدة اختلافهم، فأجرى عليهم الأنزال، وأمرهم أن يتناظروا حتى يعلم الدين الصحيح مع من منهم، فطالت المناظرة بينهم، فاتفق منهم ثلاثمائة وثمانية عشر أسقفا على رأي واحد، فناظروا بقية الأساقفة، وظهروا عليهم.

فعقد الملك لهؤلاء الثلاثمائة مجلسا خاصا، وجلس في وسطه، وأخذ خاتمه وسيفه وقضيبه، ودفعه إليهم، وقال لهم: (قد سلطتكم على المملكة، فاصنعوا ما بدا لكم مما فيه قوام دينكم، وصلاح أمتكم) .

فباركوا عليه، وقلدوه سيفه، وقالوا له: أظهر دين النصرانية وذد عنه. ودفعوا إليه الأمانة التي اتفقوا على وضعها، فلا يكون عندهم نصرانيا من لم يقر بها، ولا يتم له قربان إلا بها.
যখন প্রধান ধর্মযাজক বিজয়ী হলেন, তখন তিনি রাজাকে বললেন: "প্রধান ধর্মযাজক ও বিশপদের উপস্থিত করুন যাতে আমাদের একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় এবং আমরা একটি বিবরণ প্রস্তুত করি যেখানে আমরা ধর্মকে ব্যাখ্যা করব ও মানুষের কাছে তা স্পষ্ট করব।" অতঃপর কনস্টানটাইন পৃথিবীর সকল প্রান্ত থেকে তাদের সমবেত করলেন। এক বছর দুই মাস পর তার কাছে দুই হাজার আটচল্লিশ জন বিশপ একত্রিত হলেন। তারা ভিন্ন ভিন্ন মতাদর্শের অধিকারী ছিলেন এবং তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসে বৈচিত্র্য ছিল।

যখন তারা একত্রিত হলেন, তখন তাদের মধ্যে বাদানুবাদ বেড়ে গেল, কণ্ঠস্বর উচ্চ হলো এবং মতপার্থক্য প্রকট রূপ ধারণ করল। রাজা তাদের মতভেদের তীব্রতা দেখে বিস্মিত হলেন। তিনি তাদের আতিথেয়তার ব্যবস্থা করলেন এবং তাদেরকে বিতর্ক করার নির্দেশ দিলেন যাতে জানা যায় তাদের কার কাছে সঠিক ধর্ম রয়েছে। তাদের মধ্যে দীর্ঘকাল বিতর্ক চলল। অবশেষে তাদের মধ্য থেকে তিনশ আঠারো জন বিশপ একটি মতের ওপর একমত হলেন। তারা অবশিষ্ট বিশপদের সাথে বিতর্ক করলেন এবং তাদের ওপর বিজয়ী হলেন।

অতঃপর রাজা এই তিনশ জনের জন্য একটি বিশেষ সভার আয়োজন করলেন এবং তাদের মাঝে উপবেশন করলেন। তিনি তার আংটি, তলোয়ার ও রাজদণ্ড গ্রহণ করে তাদের হাতে সমর্পণ করলেন এবং তাদের বললেন: "আমি আপনাদেরকে রাজ্যের ওপর কর্তৃত্ব প্রদান করলাম। সুতরাং আপনাদের ধর্মের স্থায়িত্ব এবং আপনাদের জাতির কল্যাণের জন্য যা সমীচীন মনে করেন, তা-ই করুন।"

অতঃপর তারা তাঁর জন্য দোয়া করলেন, তাঁকে তাঁর তলোয়ার পরিয়ে দিলেন এবং বললেন: "খ্রিস্টধর্মকে প্রকাশ করুন এবং এর প্রতিরক্ষা করুন।" তারা তাঁর কাছে সেই আমানত (বিশ্বাসনামা) হস্তান্তর করলেন যা তারা প্রণয়ন করতে একমত হয়েছিলেন। তাদের কাছে এমন কেউ খ্রিস্টান হতে পারত না যে এটি স্বীকার করত না, এবং এটি ব্যতীত কারো উৎসর্গ পূর্ণ হতো না।
(খণ্ড: ١) মিনহাতুল কারিবিল মুজিব ফির রাদ্দি আলা ইবাদিস সলিব (পৃষ্ঠা: ١٦٢)
وهي هذه: (نؤمن بالله الواحد الآب، خالق كل شيء، صانع ما يرى وما لا يرى، وبالرب الواحد يسوع المسيح ابنه الأحد بكر الخلائق كلها، الذي ولد من أبيه قبل العوالم كلها، وليس بمصنوع، إله حق من إله حق من جوهر أبيه. وهو الذي بيده أتقنت العوالم، وخلق كل شيء، الذي من أجلنا -معشر الناس- ومن أجل خلاصنا نزل من السماء، وتجسد من روح القدس، وصار إنسانا، وحمل به، ثم ولد من مريم البتول، وألم وشج، وقتل وصلب ودفن، وقام في اليوم الثالث، وصعد إلى السماء، وجلس عن يمين أبيه، وهو مستعد للمجيء تارة أخرى للقضاء بين الأموات والأحياء.

ونؤمن بروح القدس الواحد، روح الحق الصادر من الآب والابن، الذي يتكلم على ألسنة الأنبياء، وبمعمودية واحدة لمغفرة الخطايا، وبكنيسة واحدة جامعة رسولية، وبقيامة أبداننا والحياة الدائمة إلى أبد الآبدين) .

فهذا هو العقد الذي أجمع عليه الملكية، والنسطورية، واليعقوبية، وهذه الأمانة هي الأمانة التي ألفها أولئك البتاركة والأساقفة والعلماء، وجعلوها شعار النصرانية.
এটি হলো এই: (আমরা এক আল্লাহ পিতায় বিশ্বাস করি, যিনি সবকিছুর স্রষ্টা, দৃশ্য ও অদৃশ্যের নির্মাতা; এবং এক প্রভু যিশু খ্রিস্টে বিশ্বাস করি, যিনি তাঁর একক পুত্র, সমস্ত সৃষ্টির প্রথমজাত, যিনি সকল জগতের পূর্বে তাঁর পিতা থেকে জন্ম লাভ করেছেন, তিনি সৃষ্ট নন, সত্য ইলাহ থেকে প্রাপ্ত সত্য ইলাহ, তাঁর পিতার সারাংশ থেকে। যাঁর হাতের মাধ্যমে জগতসমূহ সুনিপুণ করা হয়েছে এবং সবকিছু সৃষ্টি করা হয়েছে; যিনি আমাদের জন্য—হে মানব জাতি—এবং আমাদের পরিত্রাণের জন্য আসমান থেকে অবতীর্ণ হয়েছেন, পবিত্র আত্মার মাধ্যমে দেহ ধারণ করেছেন এবং মানুষ হয়েছেন, গর্ভে ধৃত হয়েছেন, অতঃপর কুমারী মরিয়ম থেকে জন্মগ্রহণ করেছেন; তিনি যাতনা ও জখম প্রাপ্ত হয়েছেন, তাঁকে হত্যা করা হয়েছে, ক্রুশবিদ্ধ করা হয়েছে ও সমাহিত করা হয়েছে এবং তৃতীয় দিনে তিনি পুনরুত্থিত হয়েছেন; আসমানে আরোহণ করেছেন এবং তাঁর পিতার ডান পাশে বসেছেন; তিনি মৃত ও জীবিতদের মধ্যে বিচারের ফয়সালা করতে পুনরায় আগমনের জন্য প্রস্তুত।

এবং আমরা এক পবিত্র আত্মায় বিশ্বাস করি, যিনি পিতা ও পুত্র থেকে নির্গত সত্যের আত্মা, যিনি নবীদের জিহ্বায় কথা বলেন; এবং পাপমোচনের জন্য এক বাপ্তিস্মে, এক সর্বজনীন প্রেরিতীয় চার্চে, আমাদের শরীরের পুনরুত্থানে এবং অনন্তকালের চিরস্থায়ী জীবনে বিশ্বাস করি)।

এটিই সেই ধর্মীয় চুক্তি যার ওপর মেলকীয়, নেস্টোরীয় এবং ইয়াকুবীয় সম্প্রদায় ঐকমত্য পোষণ করেছে। আর এই বিশ্বাসনামাই হলো সেই আমানত যা ঐ সকল পিতৃপুরুষ, বিশপ ও পণ্ডিতগণ সংকলন করেছেন এবং একে খ্রিস্টধর্মের মূলমন্ত্র হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।
(খণ্ড: ١) মিনহাতুল কারিবিল মুজিব ফির রাদ্দি আলা ইবাদিস সলিব (পৃষ্ঠা: ١٦٣)
وكان رؤساء هذا المجمع: بترك الإسكندرية، وبترك أنطاكية، وبترك بيت المقدس، فافترقوا عليها، وعلى لعن من خالفها، والتبري منه، وتكفيره.

ثم ذهب أريوس يدعو إلى مقالته، وينفر النصارى عن أولئك الثلاثمائة، فجمع جمعا عظيما، وصار إلى بيت المقدس، وخالف بكثير من النصارى لأولئك المجمع، فلما اجتمعوا قال أريوس: إن أولئك النفر تعدوا علي، وظلموني، ولم ينصفوني في الحجاج، وحرموني ظلما وعدوانا. فوافقه كثير من الذين معه، وقالوا: صدق. فوثبوا عليه، فضربوه حتى كاد أن يقتل لولا أن ابن أخت الملك خلصه. وافترقوا على هذه الحال.

ثم كان لهم مجمع ثالث بعد ثمان وخمسين سنة من المجمع الأول اجتمع الوزراء والقواد إلى الملك، وقالوا: إن مقالة الناس قد فسدت، وغلب عليهم مقالة أريوس، فاكتب إلى جميع البتاركة والأساقفة أن يجتمعوا، ويوضحوا دين النصرانية، فكتب الملك إلى
এই পরিষদের প্রধানগণ ছিলেন: আলেকজান্দ্রিয়ার প্যাট্রিয়ার্ক, আন্তিওকিয়ার প্যাট্রিয়ার্ক এবং জেরুজালেমের প্যাট্রিয়ার্ক। তারা এই মতের ওপর এবং যারা এর বিরোধিতা করে তাদের অভিশাপ প্রদান, তাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা এবং তাদের কাফির সাব্যস্ত করার বিষয়ে একমত হয়ে বিচ্ছিন্ন হলেন।

অতঃপর আরিউস তার নিজের মতবাদের দিকে আহ্বান জানাতে শুরু করলেন এবং খ্রিস্টানদের সেই তিনশত ব্যক্তির থেকে বিমুখ করতে লাগলেন। তিনি এক বিশাল জনতাকে একত্রিত করলেন এবং জেরুজালেমে গমন করলেন। তিনি বহু সংখ্যক খ্রিস্টানকে সাথে নিয়ে সেই পরিষদের বিরোধিতা করলেন। যখন তারা সমবেত হলেন, তখন আরিউস বললেন: "নিশ্চয়ই ওই দলটি আমার ওপর সীমালঙ্ঘন করেছে, তারা আমার প্রতি জুলুম করেছে, বিতর্কের ক্ষেত্রে তারা আমার সাথে ইনসাফ করেনি এবং অন্যায় ও শত্রুতা বশত আমাকে বঞ্চিত করেছে।" তার সাথে থাকা বহু লোক তার সাথে একমত পোষণ করল এবং বলল: "সে সত্য বলেছে।" অতঃপর তারা তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল এবং তাকে এমনভাবে প্রহার করল যে, রাজার ভাগ্নে তাকে রক্ষা না করলে তিনি প্রায় প্রাণ হারাতেন। তারা এই অবস্থায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল।

অতঃপর প্রথম পরিষদের আটান্ন বছর পর তাদের তৃতীয় একটি পরিষদ অনুষ্ঠিত হয়। উজির ও সেনাপতিরা রাজার কাছে সমবেত হয়ে বললেন: "মানুষের আকিদা-বিশ্বাস নষ্ট হয়ে গেছে এবং তাদের ওপর আরিউসের মতবাদ প্রবল হয়ে পড়েছে। অতএব আপনি সকল প্যাট্রিয়ার্ক এবং বিশপদের কাছে পত্র লিখুন যেন তারা একত্রিত হয় এবং খ্রিস্টধর্মের স্বরূপ স্পষ্ট করে।" অতঃপর রাজা পত্র লিখলেন...
(খণ্ড: ١) মিনহাতুল কারিবিল মুজিব ফির রাদ্দি আলা ইবাদিস সলিব (পৃষ্ঠা: ١٦٤)
سائر بلاده، فاجتمع بقسطنطينية خمسمائة وخمسون أسقفا.

وكان مقدموهم بترك الإسكندرية وبترك أنطاكية وبترك بيت المقدس، فنظروا في مقالة أريوس، وكان من مقالته: (أن روح القدس مخلوق، مصنوع، ليس بإله، وليس روح الله) .

فقال بترك الإسكندرية: ليس لروح القدس عندنا معنى غير روح الله، وليس روح الله شيئا غير حياته، فإن قلنا: إن روح الله مخلوقة، فقد قلنا: إن حياته مخلوقة، فقد جعلناه غير حي، ومن جعله غير حي فقد كفر، ومن كفر فقد وجب عليه اللعن.

فلعنوا بأجمعهم أريوس وأشياخه، وأتباعه، والبتاركة الذين قالوا بمقالته، وبينوا أن روح القدس خالق غير مخلوق، إله حق من طبيعية الآب والابن، جوهر واحد، وطبيعة واحدة، وزادوا في الأمانة التي وضعتها الثلاثمائة وثمانية عشر:

(ونؤمن بروح القدس الرب المحيي الصادر من الآب والابن الذي يمجد ويعبد مع الابن والآب) .
তাঁর সাম্রাজ্যের সকল অঞ্চল হতে পাঁচশত পঞ্চাশ জন বিশপ কনস্টান্টিনোপলে সমবেত হলেন।

তাঁদের প্রধান ছিলেন আলেকজান্দ্ৰিয়ার প্যাট্রিয়ার্ক, অ্যান্টিওকের প্যাট্রিয়ার্ক এবং জেরুজালেমের প্যাট্রিয়ার্ক। তাঁরা আরিউসের মতবাদের ওপর পর্যালোচনা করলেন। তার মতবাদের একটি অংশ ছিল: (পবিত্র আত্মা সৃজিত ও কৃত্রিম, তিনি ঈশ্বর নন এবং আল্লাহর রূহ বা আত্মা নন)।

তখন আলেকজান্দ্ৰিয়ার প্যাট্রিয়ার্ক বললেন: আমাদের নিকট পবিত্র আত্মার অর্থ আল্লাহর রূহ ব্যতীত অন্য কিছু নয়, আর আল্লাহর রূহ তাঁর জীবন ব্যতীত ভিন্ন কিছু নয়। আমরা যদি বলি যে আল্লাহর রূহ সৃজিত, তবে আমরা বললাম যে তাঁর জীবন সৃজিত; এর মাধ্যমে আমরা তাঁকে প্রাণহীন সাব্যস্ত করলাম। আর যে তাঁকে প্রাণহীন সাব্যস্ত করল সে কুফরি করল, আর যে কুফরি করল তার ওপর লানত বা অভিশাপ অবধারিত হলো।

অতঃপর তাঁরা সকলে মিলে আরিউস, তার শিক্ষকবৃন্দ, তার অনুসারী এবং সেই সকল প্যাট্রিয়ার্কদের অভিশাপ দিলেন যারা তার মতবাদ গ্রহণ করেছিল। তাঁরা স্পষ্ট করলেন যে, পবিত্র আত্মা সৃজিত নয় বরং স্রষ্টা, তিনি পিতা ও পুত্রের প্রকৃতিজাত সত্য ঈশ্বর, এক সারবস্তু এবং এক প্রকৃতি। তাঁরা তিনশত আঠারো জন বিশপ কর্তৃক প্রণীত আকিদার সাথে আরও বৃদ্ধি করলেন:

(এবং আমরা বিশ্বাস করি পবিত্র আত্মার ওপর, যিনি জীবনদানকারী প্রভু, যিনি পিতা ও পুত্র হতে নির্গত হয়েছেন, এবং পিতা ও পুত্রের সাথেই যাঁর মহিমা কীর্তন ও ইবাদত করা হয়)।