(খণ্ড: ১)
আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাযমুদ দুরার ফী ইলমিল আছার - ত আল-কাসিম
(পৃষ্ঠা: -)
ألفية السيوطي نظم الدرر في علم الأثر - ت القاسم القسم: علوم الحديث
الكتاب: نظم الدرر في علم الأثر ألفية السيوطي
المؤلف: جلال الدين عبد الرحمن بن أبي بكر السيوطي (ت 911 هـ)
المحقق: د عبد المحسن بن محمد القاسم
محققة على خمس نسخ مكتوبة في حياة الناظم، منها نسختان مقروءتان عليه، وعليهما خطه وإجازته، ونسخة مكتوبة بإذنه، ونسخ أخرى
الطبعة: الأولى، 1442 هـ - 2021 م
عدد الصفحات: 202
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 11 ربيع الآخر 1444
সুয়ূতী-এর আলফিয়্যাহ: নাযমুদ দুরার ফি ইলমিল আসার - তাহকীক: আল-কাসিম বিভাগ: হাদিস বিজ্ঞান (علوم الحديث)
গ্রন্থ: নাযমুদ দুরার ফি ইলমিল আসার: সুয়ূতী-এর আলফিয়্যাহ
লেখক: জালালুদ্দীন আবদুর রহমান বিন আবু বকর সুয়ূতী (মৃত্যু ৯১১ হিজরি)
সম্পাদক: ড. আবদুল মুহসিন বিন মুহাম্মাদ আল-কাসিম
গ্রন্থটি মূল রচয়িতার জীবদ্দশায় লিখিত পাঁচটি পাণ্ডুলিপির ভিত্তিতে সম্পাদিত হয়েছে, যার মধ্যে দুটি পাণ্ডুলিপি তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে, এবং সেগুলোতে তাঁর হস্তাক্ষর ও অনুমতিপত্র (إجازة) রয়েছে, এবং একটি পাণ্ডুলিপি তাঁর অনুমতিক্রমে লিখিত, এবং আরও অন্যান্য পাণ্ডুলিপি
সংস্করণ: প্রথম, ১৪৪২ হিজরি - ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২০২
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১১ রবিউল আখির ১৪৪৪
(খণ্ড: ১)
আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাযমুদ দুরার ফী ইলমিল আছার - ত আল-কাসিম
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
المُقدِّمة الحمد للَّه ربِّ العالمين، والصَّلاة والسَّلام على نبيِّنا محمَّد، وعلى آله وصحبه أجمعين.
أمَّا بعد:
فإنَّ الله أنزل كتابَه نوراً وهدىً للعالمين، وجاءت السُّنَّة النَّبويَّة مُفسِّرَةً ومبيِّنةً له، ودالَّةً عليه، ومُعبِّرةً عنه، فحفظ الصَّحابةُ رضي الله عنهم السُّنَّة، وبذلوا في ذلك أوقاتَهم، وتلقَّى عنهم التَّابعون وساروا بِسَيْرهم.
ثم مِنْ بعدِهم صَنَّفَ العلماءُ في مصطلَح الحديث؛ في أنواعٍ منه سَطَرُوها ضِمنَ كتبهم، وأفردوا بعضها في كتبٍ متفرِّقَة، ثم جمعوا ما تفرَّق في بطون الكتبِ ورتَّبوها وزادوا عليها؛ فكان القاضي الحسنُ بنُ عبد الرَّحمن الرَّامَهُرْمُزِيُّ رحمه الله (ت 360 هـ) أوَّلَ مَنْ أفردَ علمَ أصولِ الحديث بالتَّصنيف، في كتاب سمَّاه: «المُحَدِّث الفاصل بين الرَّاوي والواعي».
ثم تلاه الحافظُ أبو عبد اللَّه الحاكم النَّيسابوريُّ (ت 405 هـ)، فصنَّف كتاباً خفيفاً يشتملُ على أنواعِ علم الحديث بمحاسن فيه لم يُسبَق إليها، سالكاً في ذلك الاختصار، دون الإطناب والإكثار، وسماه: «معرفة علوم الحديث وكمِّيَّة أجناسِه».
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
ভূমিকা যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর সকল সাহাবীর ওপর।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর কিতাবকে বিশ্ববাসীর জন্য নূর এবং হিদায়াত হিসেবে অবতীর্ণ করেছেন, আর সুন্নাহ সেই কিতাবের ব্যাখ্যাকারী ও বিশদ বর্ণনা প্রদানকারী, তার পথপ্রদর্শক এবং তার মর্মার্থ প্রকাশকারী হিসেবে এসেছে। সাহাবী (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) সুন্নাহকে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করেছেন এবং এর জন্য তাঁদের মূল্যবান সময় ব্যয় করেছেন। এরপর তাবিঈগণ তাঁদের নিকট থেকে এটি গ্রহণ করেছেন এবং তাঁদের প্রদর্শিত পথেই চলেছেন।
অতঃপর আলেমগণ হাদিস পরিভাষা (مصطلح الحديث) শাস্ত্র সংকলন করেছেন; এর বিভিন্ন প্রকার সম্পর্কে তাঁরা তাঁদের গ্রন্থসমূহের মধ্যে বর্ণনা করেছেন এবং কোনো কোনো বিষয় নিয়ে পৃথক গ্রন্থও রচনা করেছেন। পরবর্তীতে তাঁরা কিতাবের পাতায় পাতায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বিষয়গুলো সংকলিত ও বিন্যস্ত করেছেন এবং তাতে পরিমার্জন ও পরিবর্ধন করেছেন। এক্ষেত্রে কাজী হাসান বিন আব্দুর রহমান আর-রামেহুরমুজি রহমাতুল্লাহি আলাইহি (মৃত্যু: ৩৬০ হিজরী) সর্বপ্রথম হাদিসের মূলনীতি (أصول الحديث) বিজ্ঞান নিয়ে স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেন, যার নাম তিনি দিয়েছিলেন: ‘আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল বাইনার রাবি ওয়াল ওয়াই’।
এরপর হাফেজ আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম আন-নিশাপুরী (মৃত্যু: ৪০৫ হিজরী) একটি সংক্ষিপ্ত কিতাব রচনা করেন, যা হাদিস বিজ্ঞান (علم الحديث) এর বিভিন্ন প্রকারের এমন কিছু চমৎকার বৈশিষ্ট্য ধারণ করেছে যা ইতিপূর্বে আর কখনও দেখা যায়নি। তিনি এতে অনর্থক দীর্ঘায়ন ও আধিক্য বর্জন করে সংক্ষিপ্ত পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন এবং এর নাম দিয়েছেন: ‘মা’রিফাতু উলূমিল হাদিস ওয়া কামমিয়্যাতু আজনাসিহি’।
(খণ্ড: ১)
আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাযমুদ দুরার ফী ইলমিল আছার - ত আল-কাসিম
(পৃষ্ঠা: ৬)
ثم نقَّح الحافظُ أبو عمرٍو عثمانُ الشَّهرزُورِيُّ المشهورُ بابن الصَّلاح رحمه الله (ت 643 هـ) كتابَ الحاكم، وهذَّبه واستدرَك ما فاته، واعتنى بتصانيف الخطيب البغداديِّ رحمه الله (ت 463 هـ)، فجمع شتاتَ مقاصدِها، وضَمَّ إليها من غيرِها نُخَبَ فوائدِها، في مُصَنَّف سمَّاه: «معرفة أنواع علوم الحديث»، فاجتمعَ في كتابه ما تَفَرَّقَ في غيرِه؛ فعَكَفَ النَّاسُ عليهِ وساروا بسيرِه، وحاموا في حِماه، ما بين شارحٍ له ومُختَصِر، ومُستدرِك عليه ومُقتَصِر.
ثم نَظَمَ الحافظ أبو الفضل زين الدين عبد الرَّحيم بن الحسين العراقيُّ رحمه الله (ت 806 هـ) ما حواه كتابُ الحافظِ ابن الصَّلاح مع إيضاحاتٍ له، وزياداتٍ واستدراكاتٍ، في أرجوزةٍ حوت ألفَ بيت وبيتين (1002)، سمَّاها: «التَّبصِرةَ والتَّذكِرَةَ فِي علوم الحديث»، فتسابَق أهلُ العلم إليها ما بين حافظ لها وشارح، وقد نَشَرْتُها مُحَقَّقَةً على نسخٍ خَطِّيَّةٍ نفيسة.
ثم انبرى الحافظُ السُّيوطيُّ رحمه الله (ت 911 هـ) فجمع علومَ مَنْ سبقه وزاد عليهم، في أرجوزةٍ نَظَمَها في خمسة أيام حوت (995) بيتاً، سمَّاها: «نَظْمَ الدُّرَرِ فِي عِلْمِ الأَثَرِ»، قال ناظمُها واصفاً لها: «احتوت على جميعِ علومِ ابنِ الصَّلاحِ وزوائدِ ألفيَّة العراقي، وزادَت بِضِعْفِ ذلك»
(1)، بألفاظ جَزْلَةٍ مُتَّسِقَةٍ سَهلَةٍ موجزة، قال عنها ناظمُها معدِّداً
--------------------------------------------
অতঃপর হাফিজ আবু আমর উসমান আশ-শাহরাজুরি, যিনি ইবনুস সালাহ (রহ.) (মৃত্যু: ৬৪৩ হিজরি) নামে প্রসিদ্ধ, তিনি আল-হাকিমের কিতাবটি পরিমার্জন করেন এবং একে সুবিন্যস্ত করেন। তিনি তাতে যা বাদ পড়েছিল তা অতিরিক্ত সংযোজন (استدرك) করেন এবং খতিব আল-বাগদাদী (রহ.)-এর (মৃত্যু: ৪৬৩ হিজরি) গ্রন্থাবলির প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। ফলে তিনি তাঁর রচনাবলির উদ্দেশ্যগুলোকে একত্রিত করেন এবং এর সাথে অন্যান্য উৎস থেকে বাছাইকৃত তাত্ত্বিক বিষয়গুলো যুক্ত করেন। তিনি তাঁর রচিত গ্রন্থটির নাম দেন: «মা'রিফাতু আনওয়া'ই উলূমিল হাদিস»। ফলে তাঁর কিতাবে এমন সব বিষয় একত্রিত হয়েছে যা অন্যান্য কিতাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। অতঃপর মানুষ এর প্রতি মনোনিবেশ করে এবং তাঁর প্রদর্শিত পথে অগ্রসর হয়। আলেম সমাজ এই কিতাবটি নিয়েই ব্যস্ত থাকেন; কেউ এর ব্যাখ্যাদাতা (شارح) হিসেবে, কেউ সংক্ষেপকারী (مختصر) হিসেবে, কেউ এর ওপর পরিশিষ্ট (مستدرك) রচয়িতা হিসেবে, আবার কেউ বা কেবল এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ (مقتصر) থাকেন।
এরপর হাফিজ আবুল ফদল জয়নুদ্দীন আবদুর রহীম বিন আল-হুসাইন আল-ইরাকি (রহ.) (মৃত্যু: ৮০৬ হিজরি) হাফিজ ইবনুস সালাহর কিতাবের বিষয়বস্তুগুলোকে নিজস্ব ব্যাখ্যা, অতিরিক্ত বিষয় (زيادات) এবং পরিমার্জনসহ (استدراكات) কাব্য আকারে বিন্যস্ত (نظم) করেন। এটি ছিল এক হাজার দুই (১০০২) পঙক্তির একটি ছন্দোবদ্ধ কাব্য (أرجوزة), যার নাম তিনি দিয়েছিলেন: «আত-তাবসিরাতু ওয়াত-তাযকিরাতু ফি উলূমিল হাদিস»। বিদগ্ধ সমাজ এর প্রতি প্রতিযোগিতামূলকভাবে ঝুঁকে পড়েন; কেউ এটি মুখস্থ করেন আবার কেউ এর ব্যাখ্যা (شارح) প্রদান করেন। আমি এটি কিছু মূল্যবান পাণ্ডুলিপির ভিত্তিতে সম্পাদনা করে প্রকাশ করেছি।
অতঃপর হাফিজ সুয়ূতী (রহ.) (মৃত্যু: ৯১১ হিজরি) এগিয়ে আসেন এবং তাঁর পূর্ববর্তীদের জ্ঞানসমূহ একত্রিত করে তাতে আরও সংযোজন করেন। তিনি মাত্র পাঁচ দিনে নয়শত পঁচানব্বই (৯৯৫) পঙক্তির একটি ছন্দোবদ্ধ কাব্য (أرجوزة) রচনা করেন, যার নাম দেন: «নাযমুদ দুরার ফি ইলমিল আসার»। এর রচয়িতা এর গুণগান গেয়ে বলেন: «এটি ইবনুস সালাহর সকল জ্ঞান এবং ইরাকির আলফিয়ার অতিরিক্ত বিষয়গুলোকে অন্তর্ভুক্ত করেছে, বরং এটি তার চেয়েও দ্বিগুণ বেশি বিষয়ের সমাহার»
(১)। এটি অত্যন্ত বলিষ্ঠ, সুসংগত, সহজ এবং সংক্ষিপ্ত শব্দে রচিত। এর রচয়িতা এর বিশেষত্ব বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাযমুদ দুরার ফী ইলমিল আছার - ত আল-কাসিম
(পৃষ্ঠা: ৭)
محاسنَها: «معَ ما حوتْهُ مِنْ سَلَاسَةِ النَّظْمِ، وخَلَصَت من الحَشْوِ والتَّعْقِيدِ».
وأثنَى عليهَا ناظمُها بقوله: «بَلَغَت بذلك مَحَلّاً لا تُسَام
(1) فيه ولا تُسامَى، وفاقَت مُزَوَّرات
(2) هذا الفن جَمْعاً
(3) ومنظوماتِه نظاماً»، وقال عنها صاحب الرِّسالة المستطرفة: «حاذَى بها ألفيَّةَ العراقي، وزادَ عليها نكتاً غزيرةً وفوائدَ جمَّةً»
(4).
وقد اعتنَى بها العلماءُ حفظاً وشرحاً، وصارت مِنَ المتون المعتمَدةِ في علم المصطلَح؛ ولأجلِ ذلك حَقَّقْتُهَا ضمن المتون الإضافيَّة من سلسلة (مُتُونِ طَالِبِ العِلْمِ)، على جملةٍ من نُسَخِهَا الخَطِّيَّة النَّفيسة، لتظهَر كما وضعها ناظمُها، وميَّزتُ زياداتِه على ألفيَّة العراقي بلون أحمر، فمن جَمَعَ بين نسختِنا هذه ونسختِنا من ألفية العراقي؛ فقد تميَّز لديه مسائل مقدمة ابن الصِّلاح، وزيادات العراقيِّ عليه، وزيادات السُّيوطيِّ على العراقيِّ؛ فلا يفوته - بإذن اللَّه - شيء من مسائل هذا الفنِّ.
وقد أثبتُّ في هذه النُّسخَةِ حواشيَ التَّحقيق المتضمِّنة لفروقِ النُّسَخِ، والتَّعلِيق عليها، وتخريج الأحاديث، وعزو الأقوال، وبيان ما
--------------------------------------------
এর গুণাবলি সম্পর্কে বলা হয়েছে: «এটি কাব্যের সাবলীলতা ধারণ করার পাশাপাশি অসারতা এবং জটিলতা থেকে মুক্ত হয়েছে»।
এর রচয়িতা নিজেই এর প্রশংসা করে বলেছেন: «এটি এমন এক স্তরে পৌঁছেছে যেখানে কেউ এর সমকক্ষ হতে পারে না এবং একে অতিক্রম করা যায় না। এটি এই শাস্ত্রের সংগৃহীত রচনাগুলোর সংকলনে (جمعا) এবং কাব্যের সুশৃঙ্খল বিন্যাসে শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছে»। আর 'আর-রিসালাতুল মুস্তাতরাফাহ'-এর লেখক এটি সম্পর্কে বলেছেন: «এর মাধ্যমে তিনি ইরাকির আলফিয়্যাহ-র সাথে সামঞ্জস্য রক্ষা করেছেন এবং তাতে প্রচুর সূক্ষ্ম আলোচনা (نكت) ও বহুবিধ উপকারিতা বৃদ্ধি করেছেন»।
আলেমগণ মুখস্থকরণ এবং ব্যাখ্যার মাধ্যমে এর প্রতি বিশেষ যত্ন নিয়েছেন এবং এটি হাদিস পরিভাষা (مصطلح) বিজ্ঞানে অন্যতম নির্ভরযোগ্য (معتمد) মূল পাঠ (متن) হিসেবে গণ্য হয়েছে। একারণেই আমি এটি ‘মুতুনু তালিবিল ইলম’ সিরিজের অতিরিক্ত মূল পাঠগুলোর (متون) অন্তর্ভুক্ত হিসেবে এর বেশ কিছু মূল্যবান পাণ্ডুলিপির ওপর ভিত্তি করে সম্পাদনা করেছি, যাতে এটি রচয়িতার মূল পাণ্ডুলিপি অনুযায়ী প্রকাশিত হয়। আমি ইরাকির আলফিয়্যাহ-র ওপর এর অতিরিক্ত সংযোজনগুলোকে (زيادات) লাল রঙ দিয়ে চিহ্নিত করেছি। সুতরাং কেউ যদি আমাদের এই সংস্করণ এবং ইরাকির আলফিয়্যাহ-র সংস্করণকে একত্র করে, তবে তার কাছে ইবনুস সালাহর মুকাদ্দিমার মাসআলাগুলো, তার ওপর ইরাকির সংযোজন এবং ইরাকির ওপর সুয়ূতির সংযোজনগুলো (زيادات) সুস্পষ্ট হয়ে উঠবে। ফলে ইনশাআল্লাহ এই শাস্ত্রের কোনো বিষয়ই তার অজানা থাকবে না।
আমি এই সংস্করণে সম্পাদনার টীকাগুলো অন্তর্ভুক্ত করেছি যাতে পাণ্ডুলিপির পার্থক্যসমূহ, সেগুলোর ওপর মন্তব্য, হাদিসের উৎস নির্দেশ (تخريج), উক্তিগুলোর সূত্র প্রদান এবং যা... এর বিবরণ রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাযমুদ দুরার ফী ইলমিল আছার - ত আল-কাসিম
(পৃষ্ঠা: ৮)
يجب بيانه، وأفردتُ للحفَّاظ نسخةً أخرى مجرّدةً من جميع ما ذكرتُ.
أسأل اللَّه أن ينفع بها، ويجعل عملنا فيها خالصاً لوجهه الكريم.
وصلَّى اللَّه وسلَّم على نبيِّنا محمَّدٍ، وعلى آله وصحبه أجمعين.
د. عبد المحسن بن محمد القاسم
إمام وخطيب المسجد النبوي
فرغت منه في السادس والعشرين من شهر صفر من عام ألف وأربع مئة واثنين وأربعين من الهجرة
এটি স্পষ্ট করা আবশ্যক; আর আমি হাফেজদের (حفاظ) জন্য একটি স্বতন্ত্র সংস্করণ প্রস্তুত করেছি যা পূর্বোক্ত সকল বিষয় থেকে মুক্ত।
আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন এর দ্বারা উপকার দান করেন এবং আমাদের এই আমলকে একান্তভাবে তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন।
আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর ওপর।
ড. আব্দুল মুহসিন বিন মুহাম্মদ আল-কাসিম
ইমাম ও খতিব, মসজিদে নববী
হিজরি এক হাজার চারশ বিয়াল্লিশ সালের সফর মাসের ছাব্বিশ তারিখে এটি সম্পন্ন হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাযমুদ দুরার ফী ইলমিল আছার - ত আল-কাসিম
(পৃষ্ঠা: ৯)
مَنهجِي في التَّحقيق1. رَمَزتُ للنُّسخِ بِالحُروفِ الأَبْجديَّة بِحسبِ تَاريخِها؛ الأَقْدم فالأَقْدم.
2. أثبتُّ النَّصَّ على ما اشتهر من قواعد الإملاء المعاصر، ولم أُشِر إلى اختلاف النُّسخ فِي ذَلِك؛ كطريقةِ كتابةِ الهَمَزَات، ورسمِ التَّاءِ مَفتوحة أو مَربوطة، ونحو ذَلك.
3. أثبتُّ في الحاشية الفُروقَ الواقعة بينَ النُّسَخ، وأشرتُ إِلى كلِّ ما يَنكسِر به وزن الأبيات عروضِيّاً.
4. نبَّهتُ على ما كانَ مِنْ قبيل الوهَم أو التَّصحيف الظَّاهر؛ مكتفياً بذلك عن ذكر المثبت من بقيَّة النُّسخ.
5. إذا كان في إحدى النُّسخ كلمة غير واضحةٍ وتحتمل الخطأ أو التفرد، وتحتمل الصوابَ وموافقةَ بقية النُّسخ؛ فإني أحملها على الصَّواب الموافق لبقية النسخ، ولا أُنبِّه على ذلك.
6. إذا ضُبِطت كلمة في بعض النُّسخ ضبطاً صحيحاً وأُهْملت في البقيَّة، معَ عدم وجودِ خلافٍ بين النُّسخ المَضْبوطة؛ فإنِّي أُثْبت الضَّبط الموجود دون إشارةٍ إِلى النُّسخ المهملة، وإذا اختلفت النُّسخ في الضبط أذكرُ خلافها، وأتركُ ذكر النُّسخ غيرِ المضبوطة.
আমার সম্পাদনা পদ্ধতি1. আমি পাণ্ডুলিপিগুলোকে তাদের তারিখ অনুযায়ী প্রাচীনত্বের ক্রমানুসারে বর্ণমালার অক্ষর দ্বারা চিহ্নিত করেছি।
2. আমি সমসাময়িক প্রচলিত বানানরীতি অনুযায়ী মূল পাঠ্যটি সাব্যস্ত করেছি এবং এক্ষেত্রে পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যকার বৈচিত্র্যের প্রতি ইঙ্গিত করিনি; যেমন হামযাহ্ লেখার পদ্ধতি, 'তা' বর্ণটি খোলা বা গোল করে লেখা এবং এই জাতীয় বিষয়াদি।
3. আমি টীকায় পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যকার পার্থক্যসমূহ সাব্যস্ত করেছি এবং ছন্দ প্রকরণ অনুযায়ী কবিতার মাত্রা ভঙ্গকারী প্রতিটি বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করেছি।
4. আমি স্পষ্ট ভ্রম (وهم) অথবা লিখন-বিভ্রাট (تصحيف)-এর মতো বিষয়গুলোর ব্যাপারে সতর্ক করেছি; এক্ষেত্রে অবশিষ্ট পাণ্ডুলিপিগুলোর পাঠ উল্লেখ না করে কেবল এতটুকুই যথেষ্ট মনে করেছি।
5. যদি কোনো একটি পাণ্ডুলিপিতে কোনো শব্দ অস্পষ্ট হয় এবং তাতে ভুল বা একক হওয়ার (تفرد) সম্ভাবনা থাকে, আবার সঠিক হওয়া ও অবশিষ্ট পাণ্ডুলিপিগুলোর সাথে মিল থাকারও সম্ভাবনা থাকে; তবে আমি তাকে অন্য পাণ্ডুলিপিগুলোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ সঠিক পাঠ হিসেবে গ্রহণ করেছি এবং সে বিষয়ে কোনো সতর্কবার্তা প্রদান করিনি।
6. যদি কোনো শব্দ কোনো পাণ্ডুলিপিতে সঠিকভাবে হরকত (ضبط) প্রদান করা থাকে এবং অবশিষ্টগুলোতে তা না থাকে, অথচ হরকতযুক্ত পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যে কোনো মতভেদ না থাকে; তবে আমি হরকতবিহীন পাণ্ডুলিপিগুলোর উল্লেখ ছাড়াই বিদ্যমান হরকতটি (ضبط) সাব্যস্ত করেছি। আর যদি হরকত প্রদানের ক্ষেত্রে পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যে মতভেদ থাকে, তবে আমি সেই মতভেদ উল্লেখ করেছি এবং হরকতবিহীন পাণ্ডুলিপিগুলোর কথা উল্লেখ করা বর্জন করেছি।
(খণ্ড: ১)
আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাযমুদ দুরার ফী ইলমিল আছার - ত আল-কাসিম
(পৃষ্ঠা: ১০)
7. إذا كان الاختلافُ بين النُّسَخ في إثباتِ كلمةٍ أوحذفِها وكان المعنى يَسْتَقِيمُ على الوَجْهَيْن؛ فإنِّي أَذْكُرُ في الحاشية الكلمةَ الَّتي لَمْ تَرِدْ في بعض النُّسَخِ بين قوسين مُزدوجَيْن هكذا: «» وأقول: ليست في كذا، وأما إذا كان المعنى لا يستقيم بحذفها؛ فأقول بعد ذكر الكلمة بين قوسين مُزدوجَيْن: سقطت من كذا.
8. راعيتُ في وصفِ اختلافِ ضَبطِ الكلمات: تَمييزَ علامة البناء وما يرجع إلى البِنيةِ الصَّرفية للكلمة؛ عن علامات الإعراب غالباً.
9. أثبتُّ جميع بلاغات وقيودِ القراءة والمقابلةِ الواردة في حواشي النُّسَخ.
10. استعملتُ علامات التَّرقيم لتوضيح أبيات النظم، وتيسير فهم معانيه، وجعلتُ كلَّ باب في رأس الصفحة التي ورد فيها.
11. اقتصرتُ في ضبط الكلمات التي يجوز فيها وجهان أو أكثر على الأقوى أو الأشهر.
12. رجَّحت بين فروق النُّسَخ على النَّحوِ الآتي:
أ- أنقل ما يدلُّ على الرَّاجح من شروح الألفيَّة، وأوَّلها: القدر المطبوع من شرح النَّاظم (البحر الذي زخر في شرح ألفية الأثر)، ثم القدر الموجود من (استقصاء الأثر بمنظومة علم الأثر) لمحمد حجازي القلقشندي، ثم (منهج ذوي النظر في شرح منظومة الأثر) للشيخ محمد محفوظ التَّرمَسي، واستفدتُ من مراجعة تعليق الشَّيخ أحمد شاكر، وشرح الشَّيخ محمد محيي الدِّين عبد الحميد، وشرح الشيخ محمد علي
৭. যদি পাণ্ডুলিপিগুলোর (نسخ) মধ্যে কোনো শব্দ সাব্যস্ত করা (إثبات) বা বাদ দেওয়ার (حذف) ব্যাপারে ভিন্নতা দেখা যায় এবং উভয় ক্ষেত্রেই অর্থ সঠিক থাকে; তবে আমি টীকায় (حاشية) সেই শব্দটি, যা কিছু পাণ্ডুলিপিতে বর্ণিত হয়নি, তা ডাবল ব্র্যাকেটে এভাবে «» উল্লেখ করেছি এবং বলেছি: ‘অমুক পাণ্ডুলিপিতে নেই’। আর যদি শব্দটি বাদ দিলে অর্থ সঠিক না থাকে; তবে ডাবল ব্র্যাকেটের মধ্যে শব্দটি উল্লেখ করার পর বলেছি: ‘অমুক পাণ্ডুলিপি থেকে শব্দচ্যুত (سقطت) হয়েছে’।
৮. শব্দের হরকত বা বিশুদ্ধ উচ্চারণরীতি (ضبط) বর্ণনায় পার্থক্যের ক্ষেত্রে আমি লক্ষ্য রেখেছি: শব্দের মূল কাঠামো ও রূপতাত্ত্বিক (صرفية) গঠনের সাথে সম্পর্কিত চিহ্নসমূহকে সাধারণত ব্যাকরণিক পরিবর্তনের চিহ্নসমূহ (علامات الإعراب) থেকে পৃথক করার প্রতি।
৯. আমি পাণ্ডুলিপিগুলোর টীকায় বর্ণিত পাঠ সমাপ্তির ঘোষণা (بلاغات) এবং পাঠ ও মূল কপির সাথে মিলিয়ে দেখার (مقابلة) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সকল সীমাবদ্ধতা বা শর্তসমূহ (قيود) লিপিবদ্ধ করেছি।
১০. আমি কাব্যিক পঙ্ক্তিগুলোকে স্পষ্ট করতে এবং এর অর্থ অনুধাবন সহজ করতে যতিচিহ্ন ব্যবহার করেছি, আর প্রতিটি অধ্যায়কে (باب) যে পৃষ্ঠায় তা এসেছে তার শুরুতে রেখেছি।
১১. যেসব শব্দের উচ্চারণে (ضبط) দুই বা ততোধিক রূপ বৈধ, সেক্ষেত্রে আমি অধিক শক্তিশালী (أقوى) অথবা অধিক প্রসিদ্ধ (أشهر) রূপটির ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছি।
১২. আমি পাণ্ডুলিপিগুলোর পাঠভেদের মধ্যে নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে প্রাধান্য (ترجيح) নির্ধারণ করেছি:
ক- আলফিয়্যাহ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ থেকে যা অগ্রগণ্য (راجح) তার সপক্ষে প্রমাণ উদ্ধৃত করি। সেগুলোর মধ্যে সর্বপ্রথম হলো: মূল গ্রন্থকারের (নাজিম) ব্যাখ্যার মুদ্রিত অংশ (আল-বাহরুল্লাজি জাখারা ফি শারহি আলফিয়্যাতিল আসার), এরপর মুহাম্মদ হিজাজি আল-কালকাশান্দির (ইস্তিকাউ আল-আসার বি-মানজুমাতিল ইলমিল আসার)-এর বিদ্যমান অংশ, এরপর শেখ মুহাম্মদ মাহফুজ আত-তিরমাসির (মানহাজু যাউয়িন নাজার ফি শারহি মানজুমাতিল আসার)। এছাড়া আমি শেখ আহমদ শাকেরের টীকা, শেখ মুহাম্মদ মুহিউদ্দিন আব্দুল হামিদের ব্যাখ্যা এবং শেখ মুহাম্মদ আলীর ব্যাখ্যা পর্যালোচনা করে উপকৃত হয়েছি।
(খণ্ড: ১)
আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাযমুদ দুরার ফী ইলমিল আছার - ত আল-কাসিম
(পৃষ্ঠা: ১১)
آدم الإتيوبي (إسعاف ذوي الوطر)، وطريقتي أن أنقل عبارة الشُّراح وغيرهم إذا دعت الحاجة لذلك في التَّرجيح، وإلا فأكتفي بالإحالة إلى موافقتها لفروق النسخ بعبارة مفهِمة.
ب- نقلتُ من كلام الشُّرَّاح ما يوافق بعض الفروق المرجوحة لبيان وجهها، وأنها فرق معتبَر وليس وهماً من أوهام النُّسَّاخ.
ج- إذا لم أجد فيما تقدَّم ما يرجِّح بين الفروق؛ فإنِّي أراجع مظنَّة الترجيح من مصادره؛ ككتب اللُّغة، أو النَّحو، أو مصطلح الحديث، أو التراجم، وغيرها.
د- أكتفي بما اتَّفقت عليه أغلب النُّسخ إذا كانت الفروق غير مؤثِّرة، أو لم أجد في المصادر ما يبيِّن الرَّاجح منها.
13. أثبتُّ في المتن الأبيات الزائدة في بعض النُّسخ أو في حواشيها؛ وذلك لأنَّ النَّاظم ذكر في قيد فراغه أنَّه ألحق أبياتا بالنَّظم بعد فراغه من كتابته.
14. ميَّزتُ بالحُمْرة زيادات السُّيوطيِّ في نظمه على ألفيَّة العراقيِّ، وهي كذلك مميَّزة في النُّسخ الخطِّية، ونصَّ محمد حجازي القلقشنديّ في شرحه على أنَّ التَّمييز من النَّاظم
(1).
وأمَّا عناوين الأبواب التي زادها النَّاظم فهي بالحُمْرة دون تغميق بخلاف غيرها فهي بلون أحمر غامق.
--------------------------------------------
আদম আল-ইতিউবি (ইসআফু যাউয়িল ওয়াতার), আমার পদ্ধতি হলো প্রয়োজনবোধে প্রাধান্য প্রদানের (ترجيح) ক্ষেত্রে ব্যাখ্যাকারগণ ও অন্যদের উক্তি উদ্ধৃত করা। অন্যথায়, আমি বোধগম্য শব্দচয়নের মাধ্যমে পাণ্ডুলিপির ভিন্নতার (فروق النسخ) সাথে এর সামঞ্জস্যের প্রতি ইঙ্গিত করেই ক্ষান্ত হয়েছি।
খ- আমি ব্যাখ্যাকারগণের কথা থেকে এমন কিছু উদ্ধৃত করেছি যা কিছু অপ্রাধান্যযোগ্য (مرجوحة) পাঠভেদের অনুকূলে যায়, যাতে সেগুলোর যৌক্তিকতা স্পষ্ট হয় এবং বোঝা যায় যে তা একটি গ্রহণযোগ্য (معتبر) ভিন্নতা, অনুলিপিকারীদের কোনো মতিভ্রম (وهم) নয়।
গ- যদি উপরিউক্ত পদ্ধতিসমূহের মাধ্যমে পাঠভেদের মধ্যে কোনোটিকে প্রাধান্য প্রদানের (ترجيح) ভিত্তি খুঁজে না পাই, তবে আমি এর সম্ভাব্য উৎসসমূহ অনুসন্ধান করি; যেমন—ভাষাতত্ত্ব, ব্যাকরণ, হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষা (مصطلح الحديث), বর্ণনাকারীদের জীবনী (تراجم) বা অন্যান্য গ্রন্থাবলি।
ঘ- যদি পাঠভেদসমূহ বিশেষ কোনো প্রভাব না ফেলে অথবা উৎসগ্রন্থে প্রাধান্যযোগ্য (راجح) পাঠটি চিহ্নিত করার মতো কিছু না পাই, তবে অধিকাংশ পাণ্ডুলিপিতে যা ঐকমত্য হয়েছে তার ওপরই আমি নির্ভর করেছি।
13. আমি মূল পাঠে (متن) ঐ সকল অতিরিক্ত পঙক্তি যুক্ত করেছি যা কিছু পাণ্ডুলিপিতে বা এর টীকাগুলোতে পাওয়া গেছে; কারণ কাব্যকার উল্লেখ করেছেন যে, তিনি কাব্যটি রচনার কাজ শেষ করার পর এতে আরও কিছু পঙক্তি সংযোজন করেছেন।
14. আলফিয়াতুল ইরাকির ওপর ইমাম সুয়ুতির কাব্যে যে অতিরিক্ত অংশগুলো রয়েছে, আমি সেগুলোকে লাল রঙের মাধ্যমে পৃথক করেছি। হাতে লেখা পাণ্ডুলিপিগুলোতেও একইভাবে পৃথক করা হয়েছে। মুহাম্মদ হিজাজি আল-কালকাশান্দি তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, এই পৃথকীকরণ স্বয়ং কাব্যকার কর্তৃক কৃত।
(1)আর কাব্যকার কর্তৃক সংযোজিত অধ্যায়গুলোর শিরোনাম লাল রঙের করা হয়েছে তবে তা গাঢ় নয়, পক্ষান্তরে অন্যান্য শিরোনামগুলো গাঢ় লাল রঙের করা হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাযমুদ দুরার ফী ইলমিল আছার - ত আল-কাসিম
(পৃষ্ঠা: ১২)
15. وثَّقتُ الأقوَال التِي يذكُرها النَّاظِم بعزوِها إلى أصحَابها مِنْ كُتُبهم، أو مِمَّنْ نقلها عنهم، وإذا دَعت الحاجَة إلى نَقلِ عباراتهم بنصِّها فَعَلتُ ذلك؛ لمزيد البيانِ والإيضاح.
16. تَرجمتُ للأعلامِ المذكورينَ في النَّظم إذا كانوا غيرَ مشهورين، واقتصرتُ في تراجم الرُّواة المذكورين في (التَّقريب) لابن حجر على ما ورد فيه غالباً.
17. خرَّجتُ الأحاديث التي أشار إليها النَّاظم، وبيَّنت وجه التَّمثيل بها بما يناسب المقام.
18. بيَّنتُ أسماءَ الكتب التي أشار إليها النَّاظم مع نسبتها لمصنِّفيها، وكذلك الكتب التي ذكر أسماء مصنِّفيها، مع بيان المطبوع منها قدر الإمكان.
19. بيَّنتُ المقصود مِمَّا يخفى إدراكه في بعض عبارات النَّظم، وذلك بالرُّجوع إلى شرح النَّاظم وغيره.
20. جعلتُ لِلكتابِ نُسْخَتين:
أ- النُّسْخةُ الأُولى: وهي النُّسخة المُتضمِّنة لِحَواشي التَّحقيق؛ مِنْ الفُروقِ بين النُّسخ، والتَّرجيح بينها، والتَّعليق على ما يحتاج إلى تعليق، وهي هذه النُّسخة.
ب- النُّسْخة الثَّانية: نُسخةٌ مُجردةٌ من جَميع الحَواشي المثبتة في النسخة الأولى، وهي أنسب للحفظ.
15. আমি নাযিম (মূল রচয়িতা) কর্তৃক উল্লিখিত উক্তিগুলোকে তাদের মূল গ্রন্থাবলি থেকে সংশ্লিষ্ট প্রণেতাদের প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করার মাধ্যমে অথবা যারা তাদের থেকে উদ্ধৃত করেছেন তাদের মাধ্যমে প্রামাণ্যকরণ (توثيق) করেছি। যখন তাদের মূল বক্তব্য হুবহু উদ্ধৃত করার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে, তখন আমি অধিকতর স্পষ্টকরণ ও ব্যাখ্যার জন্য তা করেছি।
16. কবিতায় উল্লিখিত ব্যক্তিবর্গ যদি অখ্যাত হন, তবে আমি তাদের জীবনী (ترجمة) উল্লেখ করেছি। আর ইবনে হাজার রচিত তাকরিব গ্রন্থে যেসব বর্ণনাকারীদের (رواة) জীবনী বর্ণিত হয়েছে, সেক্ষেত্রে আমি প্রধানত ওই গ্রন্থে যা এসেছে তাতেই সীমাবদ্ধ থেকেছি।
17. নাযিম যে সকল হাদিসের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, আমি সেগুলোর উৎস নির্ণয় (تخريج) করেছি এবং প্রাসঙ্গিকভাবে সেগুলোর মাধ্যমে উদাহরণের স্বরূপ স্পষ্ট করেছি।
18. নাযিম যে সকল কিতাবের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, সেগুলোর নাম ও রচয়িতাদের পরিচয় স্পষ্ট করেছি। একইভাবে যে সকল কিতাবের রচয়িতাদের নাম তিনি উল্লেখ করেছেন, সেগুলোর পরিচয়ও দিয়েছি এবং সাধ্যমতো সেগুলোর মধ্যে কোনটি মুদ্রিত তাও স্পষ্ট করেছি।
19. কবিতার যে সকল পঙক্তির অর্থ অনুধাবন করা দুরূহ, নাযিমের নিজস্ব ব্যাখ্যাগ্রন্থ (شرح) এবং অন্যান্য গ্রন্থের সহায়তায় আমি সেগুলোর উদ্দেশ্য স্পষ্ট করেছি।
20. কিতাবটিকে আমি দুটি সংস্করণে (نسخة) বিভক্ত করেছি:
ক- প্রথম সংস্করণ (نسخة): এটি সেই সংস্করণ যাতে তাহকিক (تحقيق) সংক্রান্ত টীকা-টিপ্পনী (حواشي) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে; যার মধ্যে রয়েছে পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যকার পাঠভেদ (فروق), সেগুলোর মধ্যে প্রাধান্য নিরুপণ (ترجيح) এবং যে বিষয়গুলোতে টীকা (تعليق) প্রদান করা প্রয়োজন ছিল সেগুলোর টীকা। বর্তমান সংস্করণটি মূলত এটিই।
খ- দ্বিতীয় সংস্করণ (نسخة): এটি প্রথম সংস্করণে উল্লিখিত সকল টীকা-টিপ্পনী (حواشي) বর্জিত একটি সংস্করণ, যা মুখস্থ করার জন্য অধিকতর উপযোগী।
(খণ্ড: ১)
আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাযমুদ দুরার ফী ইলমিল আছার - ত আল-কাসিম
(পৃষ্ঠা: ১৩)
اسمُ الكتَاباعتمدتُ الاسمَ الذي نصَّ عليه النَّاظم رحمه الله في أكثر من مصنَّف من مصنَّفاته؛ حيث سمَّى هذه الألفيَّة: «نظم الدُّرَر في علمِ الأَثَر»، وذلك في ترجمته لنفسه في «حسن المحاضرة»
(1)، حيث قال معدِّداً مؤلفاته: «الألفِيَّةُ، وتُسَمَّى نظم الدُّرَر في علمِ الأثر»، ونصَّ عليه أيضاً في شرحه المُسمَّى «البحر الذي زخر في شرح ألفيَّة الأثر»
(2)، حيث قال في أوَّله: «فإني نظمتُ في علم الحديث ألفيَّةً سمَّيتُها: نظمَ الدُّرَر في علم الأثر».
وهذا الاسمُ هو الوارد في أغلب النُسخ الخطِّيَّة المعتمدة في التَّحقيق، وهي: (ب، ج، هـ، و)، وورد في نسخة (ز) بلفظ مقارب: «ألفية الدُّرر في علم الأثر».
وبهذا الاسم ذكر حاجي خليفة هذه المنظومة في كشف الظنون
(3).
واشتُهِرت هذه المنظومة باسم: «ألفيَّة السُّيوطيِّ في علم الحديث» كما في النسخ (ب، ج، هـ)؛ وبذلك أشار إليها الكِتَّاني في الرِّسالة المُستَطرَفة
(4)، وذكرها الشارح محمد محفوظ التَّرمَسي باسم «ألفيَّة المصطلح»
(5).
--------------------------------------------
কিতাবের নামআমি সেই নামটির ওপর নির্ভর করেছি যা নাযিম (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর একাধিক গ্রন্থে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন; যেখানে তিনি এই আলফিয়্যাহটিকে "নাযমুত দুরার ফি ইলমিল আসার" নামে অভিহিত করেছেন। এটি তিনি "হুসনুল মুহাদারা"
(১) গ্রন্থে তাঁর স্বীয় জীবনীতে উল্লেখ করেছেন, যেখানে তিনি তাঁর রচনাবলির তালিকা প্রদানকালে বলেছেন: "আল-আলফিয়্যাহ, যা 'নাযমুত দুরার ফি ইলমিল আসার' নামে অভিহিত"। তিনি তাঁর "আল-বাহরুল্লাযী যাখার ফি শারহি আলফিয়্যাতিল আসার"
(২) নামক ব্যাখ্যাগ্রন্থেও এটি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন, যার শুরুতে তিনি বলেছেন: "আমি ইলমুল হাদিস বিষয়ে একটি আলফিয়্যাহ রচনা করেছি এবং এর নামকরণ করেছি: 'নাযমুত দুরার ফি ইলমিল আসার'।"
আর এই নামটিই তাহকিকের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য অধিকাংশ পাণ্ডুলিপিতে এসেছে, যথা: (ব, জ, হা, ওয়াও)। আর (যা) পাণ্ডুলিপিতে এটি কাছাকাছি একটি শব্দে এসেছে: "আলফিয়্যাতুত দুরার ফি ইলমিল আসার" ।
হাজি খলিফা "কাশফুয যুনুন"
(৩) গ্রন্থে এই মানযুমাহটিকে এই নামেই উল্লেখ করেছেন।
এই মানযুমাহটি "ইলমুল হাদিস বিষয়ে আলফিয়্যাতুস সুয়ূতী" নামেও প্রসিদ্ধি লাভ করেছে, যেমনটি (ব, জ, হা) পাণ্ডুলিপিগুলোতে পাওয়া যায়; কাত্তানি "আর-রিসালাতুল মুস্তাতরাফাহ"
(৪) গ্রন্থে এই নামেই এর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। আর ব্যাখ্যাকার মুহাম্মদ মাহফুজ আত-তিরমাসি একে "আলফিয়্যাতুল মুসতালাহ"
(৫) নামে উল্লেখ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাযমুদ দুরার ফী ইলমিল আছার - ত আল-কাসিম
(পৃষ্ঠা: ১৪)
فلأجل هذا جمعتُ في تسمية الكتاب بين الاسم الَّذي وضعه النَّاظم: «نظم الدُّرَر في علمِ الأثر»، والاسم الَّذي اشتهرت به: «ألفيَّة السُّيوطيِّ في المصطلح».
এ কারণেই আমি কিতাবটির নামকরণের ক্ষেত্রে রচয়িতা কর্তৃক নির্ধারিত নাম: «নাযমুদ দুরার ফি ইলমিল আসার» এবং যে নামে এটি প্রসিদ্ধি লাভ করেছে: «হাদিস পরিভাষা (المصطلح) শাস্ত্রে আস-সুয়ুতির আলফিয়্যাহ»—এই উভয় নামের মধ্যে সমন্বয় সাধন করেছি।
(খণ্ড: ১)
আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাযমুদ দুরার ফী ইলমিল আছার - ত আল-কাসিম
(পৃষ্ঠা: ১৫)
ترجَمة النَّاظِم (1)
اسمُه ونسبُه:هو: جلال الدِّين، أبو الفضل عبد الرَّحمن بن كمال الدِّين أبي بكر بن محمد بن أبي بكر بن عثمان المصريُّ، الأُسْيُوطيُّ، الطُّولونيُّ، الشَّافعيُّ.
وهو منسوب إلى مدينة أُسْيُوط
(2).
مولدُه، ونشأتُه العِلميَّة، ورحلاتُه:وُلِد السُّيوطيُّ رحمه الله في مُستهَلِّ رجب سنة تسع وأربعين وثمان مئة (849 هـ).
ونشأ في بيت علمٍ وفضل، أحضره والده وهو صغيرٌ مجلس الحافظ ابن حجر فشملته إجازته.
--------------------------------------------
গ্রন্থকারের জীবনী(১)
তাঁর নাম ও বংশপরিচয়:তিনি হলেন: জালালুদ্দীন, আবুল ফজল আবদুর রহমান বিন কামালুদ্দীন আবু বকর বিন মুহাম্মদ বিন আবু বকর বিন উসমান আল-মিসরি, আল-আসয়ুতি, আত-তুলুনি, আশ-শাফিয়ি।
তিনি আসয়ুত
(২) শহরের দিকে সম্বন্ধিত।
তাঁর জন্ম, ইলমি প্রতিপালন এবং সফরসমূহ:সুয়ুতি (রাহিমাহুল্লাহ) ৮৪৯ হিজরি সালের রজব মাসের শুরুতে জন্মগ্রহণ করেন।
তিনি এক ইলমি ও ফজিলতপূর্ণ পরিবারে বেড়ে ওঠেন। তিনি শৈশবে থাকাকালীন তাঁর পিতা তাঁকে হাফিজ (الحافظ) ইবনে হাজারের মজলিসে নিয়ে যান, ফলে তাঁর ইজাজত (إجازة) তাঁকে অন্তর্ভুক্ত করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাযমুদ দুরার ফী ইলমিল আছার - ত আল-কাসিম
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وتُوُفِّي والده وعمره خمس سنواتٍ وسبعةُ أشهر، وأوصى به أبوه إلى الشيخ كمال الدِّين بن الهُمام، وقد أحسن القيام به، فقد حفظ القرآن ولمَّا يبلغ الثَّامنة من عمره، ثم حفظ المتون، ثم حين بلغ الخامسة عشرة بدأ يلازم الشيوخ كعلم الدِّين البُلْقيني، وتقيِّ الدِّين الشُّمُنِّي، والشَّارمساحي وغيرهم.
وقد رحل إلى الشَّام والحجاز واليمن والهند والمغرب والتَّكرور، وحجَّ سنة (869 هـ)، وشرب من ماء زمزم بنيَّة أن يصل في الفقه إلى رتبة الشيخ سراج الدِّين البُلْقِيني، وفي الحديث إلى رتبة الحافظ ابن حجر.
وتصدَّر للإفتاء من مستهلِّ سنة (871 هـ)، وعقَد مجالِس الإملاء للحديثِ من مستهلِّ سنة (872 هـ).
أبرزُ شيوخه (1):
تتلمذ السُّيوطيُّ رحمه الله على نُخبةٍ من أبرز علماء عصره؛ ومنهم:
1. الشَّيخ شهاب الدين الشَّارمساحي (ت 865 هـ)، فرضيُّ زمانه، حيث أخذ عنه علم الفرائض.
2. الشَّيخ علم الدِّين البُلْقيني (ت 868 هـ)، أخذ عنه الفقه.
3. الشَّيخ شرف الدِّين المُناوي (ت 871 هـ)، أخذ عنه الفقه أيضاً.
--------------------------------------------
তাঁর পিতা ইন্তেকাল করেন যখন তাঁর বয়স ছিল পাঁচ বছর সাত মাস। তাঁর পিতা তাঁকে শায়খ কামালুদ্দিন ইবনুল হুমামের তত্ত্বাবধানে সোপর্দ করার অসিয়ত করেছিলেন এবং তিনি তাঁর দায়িত্ব অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে পালন করেন। তিনি আট বছর বয়সে পৌঁছানোর পূর্বেই কুরআন হিফজ সম্পন্ন করেন, এরপর মূলপাঠসমূহ (المتون) মুখস্থ করেন। অতঃপর যখন তাঁর বয়স পনের বছর পূর্ণ হলো, তখন তিনি ইলমুদ্দিন আল-বুলকিনি, তাকিউদ্দিন আশ-শুমুন্নি, আশ-শারামসাহী এবং তাঁদের ন্যায় অন্যান্য শায়খদের সান্নিধ্যে থাকতে শুরু করেন।
তিনি শাম, হিজাজ, ইয়েমেন, ভারত, মাগরিব ও তাকরুর সফর করেন এবং ৮৬৯ হিজরি সনে হজ পালন করেন। তিনি এই নিয়তে জমজমের পানি পান করেছিলেন যেন ফিকহ (الفقه) শাস্ত্রে তিনি শায়খ সিরাজউদ্দিন আল-বুলকিনির স্তরে এবং হাদিস শাস্ত্রে হাফেজ (الحافظ) ইবনে হাজারের স্তরে পৌঁছাতে পারেন।
তিনি ৮৭১ হিজরি সালের শুরু থেকে ফতোয়া প্রদানের (الإفتاء) দায়িত্বভার গ্রহণ করেন এবং ৮৭২ হিজরি সালের শুরু থেকে হাদিসের শ্রুতিলিখন মজলিস (مجالس الإملاء) পরিচালনা শুরু করেন।
তাঁর বিশিষ্ট শায়খগণ (১):
ইমাম সুয়ূতী (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর সময়ের একদল বরেণ্য আলেমের নিকট শিক্ষালাভ করেছেন; তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:
১. শায়খ শিহাবুদ্দিন আশ-শারামসাহী (মৃ. ৮৬৫ হি.), তাঁর সময়ের ফরায়েজ বিশেষজ্ঞ (فرضيّ), যাঁর নিকট থেকে তিনি ফরায়েজ শাস্ত্র (علم الفرائض) শিক্ষা করেছেন।
২. শায়খ ইলমুদ্দিন আল-বুলকিনি (মৃ. ৮৬৮ হি.), যাঁর নিকট থেকে তিনি ফিকহ (الفقه) শিক্ষা করেছেন।
৩. শায়খ শরাফউদ্দিন আল-মুনাভি (মৃ. ৮৭১ হি.), যাঁর নিকট থেকেও তিনি ফিকহ (الفقه) শিক্ষা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাযমুদ দুরার ফী ইলমিল আছার - ত আল-কাসিম
(পৃষ্ঠা: ১৭)
4. الشَّيخ تقيُّ الدِّين الشُّمُنِّي (ت 872 هـ)، أخذ عنه الحديث والعربيَّة.
5. الشَّيخ مُحيِي الدِّين الكافيجي (ت 879 هـ)، أخذ عنه التَّفسير والأصول والعربيَّة وغيرها.
وقد تتلمذ أيضاً على غيرهم، وعدَّ السيوطي في «حسن المحاضرة» شيوخه في الرواية فبلغوا نحو 150 شيخاً.
وألَّف السُّيوطيُّ رحمه الله في التَّرجمة لشيوخه خمسة كتب؛ وهي:
1. «حاطب ليل وجارف سيل».
2. «زاد المسير في الفهرست الصغير».
3. «أنشاب الكثب في أنساب الكتب».
4. «المنتقى وهو المعجم الصغير».
5. «المنجم في المعجم».
أبرزُ تلاميذه:تصدى السُّيوطيُّ رحمه الله للتَّدريس مبكِّراً، وذلك سنة (866 هـ)، فكان لذلك أكبر الأثر في كثرة تلاميذه، وقد تتلمذ عليه كوكبة من أبرز العلماء؛ منهم:
1. المؤرِّخ أبو البركات محمد بن أحمد بن إياس الجَرْكسي الحنفي (ت 930 هـ)
(1).
--------------------------------------------
৪. শায়খ তকিউদ্দীন আশ-শুমুন্নি (ওফাত ৮৭২ হি.), তাঁর নিকট থেকে তিনি হাদিস ও আরবি ভাষা শিক্ষা করেছেন।
৫. শায়খ মুহিউদ্দীন আল-কাফিয়াজি (ওফাত ৮৭৯ হি.), তাঁর নিকট থেকে তিনি তাফসির, উসুল (الأصول), আরবি ভাষা এবং অন্যান্য শাস্ত্র শিক্ষা করেছেন।
তিনি তাঁদের ছাড়াও আরও অনেকের নিকট ইলম অর্জন করেছেন। আস-সুয়ূতি 'হুসনুল মুহাদারা' গ্রন্থে বর্ণনার (الرواية) ক্ষেত্রে তাঁর শায়খদের সংখ্যা গণনা করেছেন, যা প্রায় ১৫০ জনে পৌঁছেছে।
আস-সুয়ূতি (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর শায়খদের জীবনীর (الترجمة) ওপর পাঁচটি গ্রন্থ রচনা করেছেন; সেগুলো হলো:
১. 'হাতিবু লাইলিন ওয়া জারিফু সাইলি'।
২. 'জাদুল মাসির ফিল ফিহরিসতিল আস-সগির'।
৩. 'আনশাবুল কাসাবি ফি আনসাবিল কুতুব'।
৪. 'আল-মুনতাকা ওয়া হুয়াল মু'জামুস সগির'।
৫. 'আল-মুনজিম ফিল মু'জাম'।
তাঁর উল্লেখযোগ্য ছাত্রবৃন্দ:আস-সুয়ূতি (রহিমাহুল্লাহ) খুব অল্প বয়সেই অর্থাৎ ৮৬৬ হিজরি সাল থেকে অধ্যাপনা শুরু করেন। তাঁর ছাত্রসংখ্যা অধিক হওয়ার পেছনে এটি ছিল অন্যতম প্রধান কারণ। একদল বিশিষ্ট আলেম তাঁর নিকট শিক্ষালাভ করেছেন; তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:
১. ঐতিহাসিক আবু বারাকাত মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে ইয়াস আল-জারকাশি আল-হানাফি (ওফাত ৯৩০ হি.)
(১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাযমুদ দুরার ফী ইলমিল আছার - ত আল-কাসিম
(পৃষ্ঠা: ১৮)
2. شمس الدِّين محمد بن يوسف الشامي الصَّالحي الدمشقي (ت 942 هـ)
(1).
3. شمس الدِّين أبو الحسن محمد بن علي الدَّاودي، صاحب طبقات المفسِّرِين (ت 945 هـ)
(2).
4. شمس الدِّين محمد بن علي بن طولون (ت 953 هـ)
(3).
5. شمس الدِّين محمد بن عبد الرحمن العلقمي (ت 961 هـ)
(4).
أشهرُ مؤلَّفاته:ترك السُّيوطيُّ رحمه الله تراثاً حافلاً؛ إذ كان من أبرز العلماء المشتهرين بكثرة التَّصنيف، فسارت تصانيفه في الأقطار، وبلغت أقصى البلدان والأمصار؛ ومن أشهرها:
1. «الإتقان في علوم القرآن».
2. «تدريب الرَّاوي شرح تقريب النَّواوي».
3. «الجامع الكبير»، المعروف بـ «جمع الجوامع».
4. «الجامع الصغير».
5. «الدرُّ المنثور في التفسير بالمأثور».
--------------------------------------------
2. শামসুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আল-শামি আল-সালিহি আদ-দিমাশকি (মৃত্যু ৯৪২ হিজরি)
(1).
3. শামসুদ্দিন আবুল হাসান মুহাম্মদ ইবনে আলী আদ-দাউদি, ‘তাবাকাতুল মুফাসসিরিন’-এর রচয়িতা (মৃত্যু ৯৪৫ হিজরি)
(2).
4. শামসুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে তুলুন (মৃত্যু ৯৫৩ হিজরি)
(3).
5. শামসুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান আল-আলকামি (মৃত্যু ৯৬১ হিজরি)
(4).
তাঁর প্রসিদ্ধ কিতাবসমূহ:ইমাম সুয়ূতী (রহিমাহুল্লাহ) এক সমৃদ্ধ উত্তরাধিকার রেখে গেছেন; কেননা তিনি প্রচুর গ্রন্থ রচনার জন্য সুপরিচিত শ্রেষ্ঠ আলেমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তাঁর রচনাবলি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে এবং দূর-দূরান্তের জনপদ ও শহরসমূহে পৌঁছেছে। তাঁর প্রসিদ্ধ কিতাবসমূহের মধ্যে রয়েছে:
1. «আল-ইতকান ফি উলুমিল কুরআন»।
2. «তাদরিবুর রাবি শারহু তাকরিবিন নাবাবি»।
3. «আল-জামিউল কাবির», যা «জামউল জাওয়ামি» নামে পরিচিত।
4. «আল-জামিউস সাগির»।
5. «আদ-দুররুল মানসুর ফিত তাফসিরি বিল মাসুর»।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাযমুদ দুরার ফী ইলমিল আছার - ত আল-কাসিম
(পৃষ্ঠা: ১৯)
6. «مرقاة الصُّعود إلى سنن أبي داود».
وغيرها كثير، وقد سمَّى السُّيوطيُّ في كتابه: «التَّحدُّثُ بنعمة اللَّه»: (430) مؤلَّفاً من مؤلَّفاته، وأوصلها عبد القادر الشاذلي إلى (561) مصنَّفا، وبلغ بها أحمد الخازندار ومحمد الشيباني نحو (980) مصنَّفاً
(1).
ثناءُ العلماء عليه:أثنى كثير من العلماء على السُّيوطيِّ رحمه الله، وأشادوا بعلمه ودينه.
قال تلميذه المؤرِّخ ابن إياس رحمهما الله: «كان عالماً فاضلاً، بارعاً في الحديث الشَّريف وغير ذلك من العلوم، وكان كثير الاطِّلاع، نادرةً في عصره، بقيَّة السَّلف وعمدة الخلف»
(2).
وقال تلميذه شمس الدِّين الداودي رحمهما الله: «عاينتُ الشَّيخ وقد كتب في يوم واحد ثلاثة كراريس تأليفاً وتحريراً، وكان مع ذلك يملي الحديث، ويجيب عن المُتعارِض منه بأجوبةٍ حسنة»
(3).
وقال ابن العماد الحنبلي رحمه الله: «المُسنِد المُحقِّق المُدقِّق، صاحب المؤلَّفات الفائقة النَّافعة».
--------------------------------------------
৬. «মিরকাতুস সুউদ ইলা সুনানি আবি দাউদ»।
এবং এ ছাড়াও অসংখ্য গ্রন্থ রয়েছে। সুয়ূতী তাঁর ‘আত-তাহাদ্দুস বি নি’মাতিল্লাহ’ গ্রন্থে নিজের (৪৩০)টি রচনার কথা উল্লেখ করেছেন। আব্দুল কাদির আশ-শাযালি সেই সংখ্যাকে (৫৬১)টি পর্যন্ত পৌঁছিয়েছেন। আর আহমাদ আল-খাযিনদার ও মুহাম্মদ আশ-শায়বানি এগুলোকে প্রায় (৯৮০)টি রচনায় উন্নীত করেছেন
(১)।
তাঁর প্রতি আলেমগণের প্রশংসা:বহু আলেম সুয়ূতী (রহিমাহুল্লাহ)-এর প্রশংসা করেছেন এবং তাঁর ইলম ও দ্বীনদারির উচ্চ প্রশংসা করেছেন।
তাঁর ছাত্র ঐতিহাসিক ইবনে ইয়াস (রহিমাহুমাল্লাহ) বলেন: “তিনি ছিলেন এক মর্যাদাবান আলেম (عالم), পবিত্র হাদিস ও অন্যান্য ইলমের ক্ষেত্রে অত্যন্ত পারদর্শী। তিনি ছিলেন প্রভূত জ্ঞানের অধিকারী, নিজ যুগের এক অনন্য ব্যক্তিত্ব, পূর্বসূরিদের (سلف) অবশিষ্ট নিদর্শন এবং পরবর্তী প্রজন্মের (خلف) জন্য মূল অবলম্বন”
(২)।
তাঁর ছাত্র শামসুদ্দিন আদ-দাউদী (রহিমাহুমাল্লাহ) বলেন: “আমি শায়খকে দেখেছি যে, তিনি একদিনেই রচনা (تأليف) ও সম্পাদনার (تحرير) মাধ্যমে তিন খাতা পরিমাণ লিখে ফেলতেন। তদুপরি তিনি হাদিস শ্রুতলিপি প্রদান (يملي) করতেন এবং পরস্পর বিরোধী (متعارض) হাদিসসমূহ সম্পর্কে চমৎকার সমাধান প্রদান করতেন”
(৩)।
ইবনুল ইমাদ আল-হানবালি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: “তিনি ছিলেন সনদধারী বর্ণনাকারী (مسند), গবেষক (محقق) ও সূক্ষ্ম বিশ্লেষক (مدقق), এবং বহু উৎকৃষ্ট ও কল্যাণকর গ্রন্থের রচয়িতা।”
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাযমুদ দুরার ফী ইলমিল আছার - ত আল-কাসিম
(পৃষ্ঠা: ২০)
وقال أيضاً: «وكان أعلم أهل زمانه بعلم الحديث وفنونه؛ رجالاً، وغريباً، ومتناً، وسنداً، واستنباطاً للأحكام منه»
(1).
وقال العلَّامة الشَّوكاني رحمه الله: «الإمام الكبير صاحب التَّصانيف»
(2).
وفاته:تُوُفِّي السُّيوطي رحمه الله يوم الخميس تاسع جمادى الأولى سنة (911 هـ) في منزله بروضة المقياس.
--------------------------------------------
তিনি আরও বলেছেন: «তিনি তাঁর সময়ের হাদিস শাস্ত্র ও এর বিভিন্ন শাখায় সবচেয়ে বড় আলেম ছিলেন; চাই তা বর্ণনাকারী (رجال), দুর্লভ শব্দ (غريب), হাদিসের মূল পাঠ (متن), সনদ (سند) অথবা হাদিস হতে বিধিবিধান উদ্ভাবনের (استنباط) ক্ষেত্রেই হোক না কেন»
(1).
আল্লামা শাওকানি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: «তিনি ছিলেন এক মহান ইমাম এবং বহু গ্রন্থের রচয়িতা»
(2).
তাঁর মৃত্যু:সুয়ূতী (রহিমাহুল্লাহ) ৯১১ হিজরি সনের ৯ই জুমাদাল উলা বৃহস্পতিবার রওজাতুল মিকইয়াসে তাঁর নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাযমুদ দুরার ফী ইলমিল আছার - ত আল-কাসিম
(পৃষ্ঠা: ২১)
النُّسَخُ المُعْتَمَدَةُ في التَّحْقِيقِاعْتَمَدْتُ فِي تَحْقِيقِ المَتْنِ على سبعِ نُسَخٍ خطِّية، وَهَذِهِ النُّسَخُ حَسَبَ تَارِيخِ نَسْخِهَا كما يأتي:
النُّسْخَةُ الأُولَى: ورَمَزْتُ لها بـ «أ»، وهي محفوظة بمكتبة مكة المكرَّمة، برقم (89).عَدَدُ لوحَاتِها: (25) لوحة.
تَارِيخُ النَّسْخِ: (5) من ذي القعدة سنة (881 هـ).
نَاسِخُهَا: لم يُذكر.
نَوْعُ الخَطِّ: نسخي واضح.
خصائصها:
1. نسخة تامَّة.
2. كثير من كلماتها مشكولة.
3. مُيِّزت الأبواب، وزيادات السُّيوطيِّ على العراقي بالحُمرة.
4. عليها تصحيحات، وبيان لفروق النُّسخ الأخرى.
النُّسخة الثَّانية: ورَمَزْتُ لها بـ «ب»، وهي محفوظة بمكتبة بشير آغا، ضمن مكتبة الملك عبد العزيز بالمدينة المنورة، برقم (547/ 98).
সম্পাদনার (تحقيق) ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য পাণ্ডুলিপিসমূহমূল পাঠের (متن) সম্পাদনার (تحقيق) কাজে আমি সাতটি পাণ্ডুলিপির (نسخ) ওপর নির্ভর করেছি। এই পাণ্ডুলিপিগুলোর অনুলিখনের তারিখ অনুযায়ী বিন্যাস নিম্নরূপ:
প্রথম পাণ্ডুলিপি: এটিকে আমি ‘আলিফ’ (أ) প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত করেছি; এটি মক্কা মুকাররমা লাইব্রেরিতে ৮৯ নম্বর অধীনে সংরক্ষিত আছে।এর পৃষ্ঠা সংখ্যা: (২৫) টি।
অনুলিখনের তারিখ: ৫ যিলকদ ৮৮১ হিজরি।
অনুলিপিকারক: নাম উল্লেখ করা হয়নি।
লিপি শৈলী: স্পষ্ট নাসখ (نسخي) লিপি।
বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১. এটি একটি পূর্ণাঙ্গ পাণ্ডুলিপি (نسخة تامة)।
২. এর অধিকাংশ শব্দ হরকতযুক্ত (مشكولة)।
৩. এতে অধ্যায়সমূহ এবং আল-ইরাকির ওপর সুয়ূতির অতিরিক্ত সংযোজনসমূহ (زيادات) লাল কালি দিয়ে পৃথক করা হয়েছে।
৪. এতে বিভিন্ন সংশোধনী (تصحيحات) এবং অন্যান্য পাণ্ডুলিপির পাঠান্তর (فروق النسخ) স্পষ্ট করা হয়েছে।
দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপি: এটিকে আমি ‘বা’ (ب) প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত করেছি; এটি মদিনা মুনাওয়ারার বাদশাহ আব্দুল আজিজ লাইব্রেরির অন্তর্ভুক্ত বশির আগা লাইব্রেরিতে ৫৪৭/৯৮ নম্বর অধীনে সংরক্ষিত আছে।
(খণ্ড: ১)
আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাযমুদ দুরার ফী ইলমিল আছার - ত আল-কাসিম
(পৃষ্ঠা: ২২)
عدد لوحاتها: (36) لوحة.
تاريخ النَّسخ: (12) من شعبان سنة (883 هـ).
ناسخها: لم يُذكر.
نوع الخط: نسخي معتاد.
خصائصها:
1. نُسْخَةٌ تَامَّةٌ.
2. مقروءة على المُصَنِّف وعليها خطُّه.
3. مَيَّزَ ناسخها الأبوابَ، وزيادات السُّيوطيِّ على العراقي بالحُمْرَةِ.
4. عليها تصحيحات، وبيان لفروق النُّسخ الأخرى.
النُّسخة الثَّالثة: ورَمَزْتُ لها بـ «ج»، وهي من محفوظات المكتبة الأحمدية بحلب - سوريا -، برقم (35).عدد لوحاتها: (83) لوحة.
تاريخ النَّسخ: (22) من جمادى الأولى سنة (885 هـ).
ناسخها: عبد الرَّحْمَن بن عبد الرَّحْمَن بن عَليّ، ابن الخطيب
(1).
--------------------------------------------
এর পত্র সংখ্যা: (৩৬) টি।
প্রতিলিপির তারিখ: ১২ শাবান, ৮৮৩ হিজরী।
প্রতিলিপিকারক: উল্লিখিত নেই।
লিপি শৈলী: সাধারণ নাসখ (نسخي) লিপি।
এর বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১. পূর্ণাঙ্গ পাণ্ডুলিপি।
২. এটি লেখকের নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং এতে তাঁর হস্তাক্ষর রয়েছে।
৩. এর প্রতিলিপিকারক অধ্যায়সমূহ এবং আল-ইরাকীর উপর আস-সুয়ূতী-র অতিরিক্ত অংশসমূহ লাল কালি দ্বারা পৃথক করেছেন।
৪. এতে সংশোধনী এবং অন্যান্য পাণ্ডুলিপির পাঠভেদ বর্ণিত হয়েছে।
তৃতীয় পাণ্ডুলিপি: আমি একে «জিম» (ج) প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত করেছি, এটি সিরিয়ার আলেপ্পোর আল-মাকতাবাতুল আহমাদিয়্যাহ-তে সংরক্ষিত আছে, যার নম্বর (৩৫)।এর পত্র সংখ্যা: (৮৩) টি।
প্রতিলিপির তারিখ: ২২ জুমাদাল উলা, ৮৮৫ হিজরী।
প্রতিলিপিকারক: আবদুর রহমান বিন আবদুর রহমান বিন আলী, ইবনুল খাতিব
(১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাযমুদ দুরার ফী ইলমিল আছার - ত আল-কাসিম
(পৃষ্ঠা: ২৩)
نوع الخط: نسخي معتاد.
خصائصها:
1. نسخة تامَّة.
2. ناسخها تلميذ النَّاظم.
3. مَيَّزَ ناسخها الأبوابَ، وزيادات السُّيوطيِّ على العراقي بالحُمْرَةِ.
4. عليها تصحيحات وبيان لفروق النُّسخ الأخرى.
5. عليها تعليقات كثيرة في بيان معاني الأبيات
النُّسخة الرَّابعة: ورَمَزْتُ لها بـ «د»، وهي محفوظة بمكتبة دار الكتب المصرية، برقم (28/ مصطلح تيمور).عدد لوحاتها: (70) لوحة.
تاريخ النَّسخ: (13) من شوال سنة (885 هـ).
ناسخها: نظام الدين جرامرد الحنفي الناصري.
نوع الخط: نسخي معتاد.
خصائصها:
1. نسخة جيِّدة، لكن فيها نقص من أولها؛ حيث تبدأ من قول المُصنِّف: «الصحيح»؛ فسقطت منها المقدِّمة كاملة، وبابُ: «حدِّ الحديث وأقسامه»؛ بمقدار ثلاثة عشر بيتاً.
লিপির ধরণ: সাধারণ নাসখ (نسخي) লিপি।
এর বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১. এটি একটি পূর্ণাঙ্গ (تامة) পাণ্ডুলিপি।
২. এর লিপিকার হলেন মূল কাব্য রচয়িতার ছাত্র।
৩. এর লিপিকার অধ্যায়গুলো এবং ইরাকি-এর ওপর সুয়ূতীর অতিরিক্ত অংশগুলোকে লাল কালিতে পৃথক করেছেন।
৪. এতে সংশোধনসমূহ এবং অন্যান্য পাণ্ডুলিপির পাঠভেদসমূহের বর্ণনা রয়েছে।
৫. কাব্য পঙক্তিগুলোর অর্থ বর্ণনায় এতে অনেক টীকা (تعليقات) রয়েছে।
চতুর্থ পাণ্ডুলিপি: আমি একে «দাল» (د) প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত করেছি, এটি মিশরের দারুল কুতুব লাইব্রেরিতে (২৮/ মুসত্বলাহ তাইমুর) নম্বরে সংরক্ষিত রয়েছে।এর পৃষ্ঠাসংখ্যা: (৭০) পৃষ্ঠা।
অনুলিখনের তারিখ: ৮৮৫ হিজরি সালের ১৩ই শাওয়াল।
লিপিকার: নিজামুদ্দিন জারামরাদ আল-হানাফি আন-নাসিরি।
লিপির ধরণ: সাধারণ নাসখ (نسخي) লিপি।
এর বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১. এটি একটি উন্নতমানের পাণ্ডুলিপি, তবে এর শুরুতে অপূর্ণতা রয়েছে; যেহেতু এটি গ্রন্থকারের ‘সহিহ (الصحيح)’ কথাটি থেকে শুরু হয়েছে। ফলে এর সম্পূর্ণ ভূমিকা এবং ‘হাদিসের সংজ্ঞা (حد) ও তার প্রকারভেদ (أقسامه)’ অধ্যায়টি থেকে প্রায় তেরোটি কাব্য পঙক্তি বিলুপ্ত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাযমুদ দুরার ফী ইলমিল আছার - ত আল-কাসিম
(পৃষ্ঠা: ২৪)
2. بعض أبياتها مشكولة.
3. مَيَّزَ ناسخها الأبوابَ وزيادات السُّيوطيِّ على العراقي بالحُمْرَةِ.
4. قرأها النَّاسخ على النَّاظِم، وكتب له الإجازة بخطِّه.
5. عليها بلاغات وبيان لفروق النُّسخ الأخرى.
2. এর কিছু পঙ্ক্তি হরকতযুক্ত (مشكولة)।
3. এর অনুলিপিকার (ناسخ) অধ্যায়সমূহ এবং ইরাকির ওপর সুয়ুতির অতিরিক্ত (زيادات) অংশগুলোকে লাল রঙ দ্বারা পৃথক করেছেন।
4. অনুলিপিকার (ناسخ) এটি রচয়িতার (ناظم) নিকট পাঠ করেছেন এবং তিনি নিজ হাতে তাঁকে অনুমতিপত্র (إجازة) লিখে দিয়েছেন।
5. এতে পাঠ সমাপ্তির টীকা (بلاغات) এবং অন্যান্য পাণ্ডুলিপির পাঠভেদসমূহের বর্ণনা রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাযমুদ দুরার ফী ইলমিল আছার - ত আল-কাসিম
(পৃষ্ঠা: ২৫)
النُّسخة الخامسة: ورَمَزْتُ لها بـ «هـ»، وهي محفوظة بمكتبة وزارة الأوقاف المصرية بالقاهرة، برقم (317).عدد لوحاتها: (22) لوحة.
تاريخ النَّسخ: (23) من ذي الحجة سنة (889 هـ).
ناسخها: محمد بن أحمد بن محمد، المشهور بالطويل.
نوع الخط: نسخي معتاد.
خصائصها:
1. نسخة تامَّة.
2. بعض أبياتها مشكولة.
3. مُيِّزت الأبوابُ وزيادات السُّيوطي بالحُمْرَةِ.
4. كتبها النَّاسخ بإذن النَّاظم في بيتِه.
5. عليها بلاغات، وبيان لفروق النُّسخ الأخرى.
النُّسخة السَّادسة: ورَمَزْتُ لها بـ «و»، وهي محفوظة بالمكتبة السُّليمانية بإستانبول - تركيا -، برقم (192).عدد لوحاتها: (37) لوحة.
تاريخ النَّسخ: لم يُذكَر، ولكن النَّاسخَ تلميذٌ للمؤلف
(1).
ناسخها: عبد القادر بن محمد بن أحمد الفاقوسي الأصل، المصري المولد والمنشأ
(2).
نوع الخط: نسخي معتاد.
خصائصها:
1. نسخةٌ تامَّة.
2. بعض أبياتها مشكولة.
3. مُيِّزت الأبوابُ وزيادات السُّيوطي بالحُمْرَةِ.
4. عليها بلاغات، وبعض التَّعليقات اليسيرة في أولها.
النُّسخة السَّابعة: ورَمَزْتُ لها بـ «ز»، وهي محفوظة بمكتبة لاله لي بإستانبول - تركيا -، برقم (353).عدد لوحاتها: (42) لوحة.
--------------------------------------------
পঞ্চম পাণ্ডুলিপি: আমি এটিকে «هـ» প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত করেছি এবং এটি কায়রোর মিশরীয় আওকাফ মন্ত্রণালয়ের লাইব্রেরিতে (৩১৭) নম্বর হিসেবে সংরক্ষিত আছে।এর পত্র সংখ্যা: (২২) টি।
অনুলিপির তারিখ: ২৩ যিলহজ, ৮৮৯ হিজরি।
অনুলিপিকারক: মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ, যিনি আল-তবিল নামে পরিচিত।
লিপিশৈলী: সাধারণ নাসখ।
বৈশিষ্ট্যসমূহ:
1. পূর্ণাঙ্গ (تامَّة) পাণ্ডুলিপি।
2. এর কিছু পঙ্ক্তি স্বরচিহ্নযুক্ত।
3. অধ্যায়সমূহ এবং সুয়ূতির বর্ধিত অংশগুলো লাল কালি দ্বারা পৃথক করা হয়েছে।
4. অনুলিপিকারক এটি মূল গ্রন্থকারের অনুমতিক্রমে তাঁর বাসগৃহে বসে লিখেছেন।
5. এতে পঠন বা শ্রবণ সমাপ্তির টীকা (بلاغات) এবং অন্যান্য পাণ্ডুলিপির পাঠান্তরের বর্ণনা রয়েছে।
ষষ্ঠ পাণ্ডুলিপি: আমি এটিকে «و» প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত করেছি এবং এটি তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অবস্থিত সুলাইমানিয়া লাইব্রেরিতে (১৯২) নম্বর হিসেবে সংরক্ষিত আছে।এর পত্র সংখ্যা: (৩৭) টি।
অনুলিপির তারিখ: উল্লেখ নেই, তবে অনুলিপিকারক ছিলেন লেখকের একজন ছাত্র
(1)।
অনুলিপিকারক: আবদুল কাদির বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ, যাঁর বংশীয় মূল আল-ফাকুস এবং জন্ম ও বেড়ে ওঠা মিশরে
(2)।
লিপিশৈলী: সাধারণ নাসখ।
বৈশিষ্ট্যসমূহ:
1. পূর্ণাঙ্গ (تامَّة) পাণ্ডুলিপি।
2. এর কিছু পঙ্ক্তি স্বরচিহ্নযুক্ত।
3. অধ্যায়সমূহ এবং সুয়ূতির বর্ধিত অংশগুলো লাল কালি দ্বারা পৃথক করা হয়েছে।
4. এতে পঠন বা শ্রবণ সমাপ্তির টীকা (بلاغات) এবং এর শুরুর দিকে কিছু সংক্ষিপ্ত টীকা রয়েছে।
সপ্তম পাণ্ডুলিপি: আমি এটিকে «ز» প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত করেছি এবং এটি তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অবস্থিত লালেলি লাইব্রেরিতে (৩৫৩) নম্বর হিসেবে সংরক্ষিত আছে।এর পত্র সংখ্যা: (৪২) টি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাযমুদ দুরার ফী ইলমিল আছার - ত আল-কাসিম
(পৃষ্ঠা: ২৬)
تاريخ النَّسخ: سنة (1024 هـ).
ناسخها: لم يُذكر.
نوع الخط: نسخي جميل متقَن.
خصائصها:
1. نسخة تامَّة.
2. أبياتها مشكولة إلى باب «من تقبل روايته ومن ترد»، ثم أُهمِل سائرها.
3. مُيِّزت الأبوابُ وزيادات السُّيوطي بالحُمْرَةِ.
4. تتفرَّد عن بقيَّة النُّسخ بزيادة بعض العناوين.
5. عليها تصحيحات في بعض المواضع.
6. منقولة من النُّسخة (و) التي بخطِّ تلميذ المصنف عبد القادر بن محمد بن أحمد الفاقوسي.
• • •
লিপিকালের তারিখ: বছর (১০২৪ হিজরি)।
লিপিকার: উল্লেখ করা হয়নি।
লিপি রীতি: সুন্দর ও নিখুঁত নাসখ লিপি।
এর বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১. পূর্ণাঙ্গ পাণ্ডুলিপি।
২. এর শ্লোকগুলো ‘যাঁর বর্ণনা (رواية) গ্রহণ করা হবে এবং যাঁর বর্ণনা বর্জন করা হবে’ শীর্ষক অধ্যায় পর্যন্ত হরকতযুক্ত, এরপর বাকি অংশে তা আর করা হয়নি।
৩. অধ্যায়গুলো এবং সুয়ূতীর অতিরিক্ত সংযোজনসমূহ লাল রঙের কালি দিয়ে পৃথক করা হয়েছে।
৪. কিছু শিরোনামের আধিক্যের কারণে এটি অন্যান্য পাণ্ডুলিপি থেকে স্বতন্ত্র।
৫. এর কিছু স্থানে সংশোধনী বিদ্যমান।
৬. এটি গ্রন্থকারের ছাত্র আব্দুল কাদির বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-ফাকুসি-র হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপি (و) থেকে অনুলিপি করা হয়েছে।
• • •
(খণ্ড: ১)
আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাযমুদ দুরার ফী ইলমিল আছার - ত আল-কাসিম
(পৃষ্ঠা: ২৭)
نماذج من النسخ الخطِّيَّة
পাণ্ডুলিপির কিছু নমুনা
(খণ্ড: ১)
আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাযমুদ দুরার ফী ইলমিল আছার - ত আল-কাসিম
(পৃষ্ঠা: ৫১)
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
(1)1 - لِلَّهِ حَمْدِي، وَإِلَيْهِ أَسْتَنِدْ
… وَمَا يَنُوبُ
(2) فَعَلَيْهِ أَعْتَمِدْ
2 - ثُمَّ عَلَى نَبِيِّهِ مُحَمَّدِ
… خَيْرُ
(3) صَلَاةٍ وَسَلَامٍ سَرْمَدِ
(4)3 - وَهَذِهِ «أَلْفِيَّةٌ» تَحْكِي الدُّرَرْ
… مَنْظُومَةً ضَمَّنْتُهَا عِلْمَ الْأَثَرْ
4 - فَائِقَةً
(5) «أَلْفِيَّةَ الْعِرَاقِي»
… فِي الْجَمْعِ وَالْإِيجَازِ وَاتِّسَاقِ
(6)--------------------------------------------
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(১)১ - সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং আমি তাঁরই প্রতি শরণাপন্ন হই
… আর যা কিছু আপতিত হয়, তাতে আমি তাঁরই ওপর ভরসা করি।
২ - অতঃপর তাঁর নবী মুহাম্মদের ওপর
… বর্ষিত হোক সর্বোত্তম চিরন্তন সালাত ও সালাম।
৩ - এটি সেই ‘আলফিয়্যাহ’ যা মুক্তার ন্যায় দ্যুতি ছড়ায়
… এক কাব্যগাথা যার অন্তরে আমি আছার শাস্ত্র (علم الأثر) সন্নিবেশিত করেছি।
৪ - যা ‘ইরাকির আলফিয়্যাহ’-এর চেয়েও শ্রেষ্ঠ
… সংকলন, সংক্ষিপ্তকরণ এবং সুশৃঙ্খল বিন্যাসের দিক থেকে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাযমুদ দুরার ফী ইলমিল আছার - ত আল-কাসিম
(পৃষ্ঠা: ৫২)
5 - وَاللَّهُ يُجْرِي
(1) سَابِغَ الْإِحْسَانِ
… لِي
(2) وَلَهُ وَلِذَوِي الْإِيمَانِ
• • •
--------------------------------------------
৫ - আর আল্লাহ তায়ালা প্রবাহিত করেন (يُجري)
(১) তাঁর অবারিত অনুগ্রহ
… আমার জন্য
(২), তাঁর জন্য এবং মুমিনদের জন্য।
• • •
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাযমুদ দুরার ফী ইলমিল আছার - ত আল-কাসিম
(পৃষ্ঠা: ৫৩)
حَدُّ الْحَدِيثِ وَأَقْسَامُهُ (1)6 - «عِلْمُ الْحَدِيثِ»: ذُو قَوَانِينَ تُحَدّْ
(2) … يُدْرَى بِهَا أَحْوَالُ مَتْنٍ وَسَنَدْ
7 - فَذَانِكَ الْمَوْضُوعُ؛ وَالْمَقْصُودُ
… أَنْ يُعْرَفَ الْمَقْبُولُ وَالْمَرْدُودُ
8 - وَ «السَّنَدُ»: الْإِخْبَارُ عَنْ طَرِيقِ
… مَتْنٍ؛ كَـ «الِاسْنَادِ» لَدَى فَرِيقِ
(3)9 - وَ «الْمَتْنُ»: مَا انْتَهَى إِلَيْهِ السَّنَدُ
… مِنَ الْكَلَامِ، وَ «الْحَدِيثَ»
(4) قَيَّدُوا
(5)10 - بِمَا أُضِيفَ لِلنَّبِيِّ قَوْلاً اوْ
… فِعْلاً وَتَقْرِيراً وَنَحْوَهَا حَكَوْا
(6)--------------------------------------------
হাদিসের সংজ্ঞা ও এর প্রকারভেদ (১)৬ - «ইলমুল হাদিস»: হলো এমন কিছু নিয়মের সমষ্টি যা সংজ্ঞায়িত... যার মাধ্যমে মূলপাঠ (متن) ও সনদ (سند)-এর অবস্থা জানা যায়।
৭ - আর এ দু’টিই হলো আলোচ্য বিষয়; আর উদ্দেশ্য হলো... গ্রহণযোগ্য (مقبول) ও বর্জনীয় (مردود) হাদিসকে শনাক্ত করা।
৮ - 'সনদ (سند)' হলো: মূলপাঠ (متن)-এ পৌঁছানোর পথ বা সূত্র বর্ণনা করা; একদল বিশেষজ্ঞের নিকট এটি 'ইসনাদ (اسناد)'-এর সমার্থক।
৯ - 'মূলপাঠ (متن)' হলো: সনদ (سند) যেখানে গিয়ে শেষ হয়... অর্থাৎ কালাম বা বক্তব্য; আর 'হাদিস'-কে তারা সংজ্ঞায়িত করেছেন—
১০ - এমন সব বিষয়ের মাধ্যমে যা নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে, চাই তা কথা (قول), কাজ (فعل), মৌনসম্মতি (تقرير) কিংবা অনুরূপ কিছু হোক— এভাবেই তারা বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাযমুদ দুরার ফী ইলমিল আছার - ত আল-কাসিম
(পৃষ্ঠা: ৫৪)
11 - وَقِيلَ: لَا يَخْتَصُّ بِالْمَرْفُوعِ
… بَلْ جَاءَ لِلْمَوْقُوفِ وَالْمَقْطُوعِ
(1)12 - فَهْوَ عَلَى هَذَا مُرَادِفُ «الْخَبَرْ»
… وَشَهَّرُوا شُمُولَ هَذَيْنِ «الْأَثَرْ»
(2)13 - وَالْأَكْثَرُونَ قَسَّمُوا هَذِي السُّنَنْ
… إِلَى صَحِيحٍ وَضَعِيفٍ وَحَسَنْ
• • •
--------------------------------------------
11 - আর বলা হয়েছে: এটি কেবল রাসূলুল্লাহর সাথে সম্বন্ধযুক্ত (مرفوع) বিষয়ের জন্য নির্দিষ্ট নয়
… বরং তা সাহাবীর বক্তব্য (موقوف) এবং তাবিঈর বক্তব্যের (مقطوع) ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়
(১)12 - সুতরাং এই মতানুসারে এটি সংবাদের (خبر) সমার্থক
… আর বিদ্বানগণ এই উভয় প্রকারকে আছারের (أثر) অন্তর্ভুক্ত হিসেবে প্রসিদ্ধ করেছেন
(২)13 - আর অধিকাংশ বিশেষজ্ঞ এই সুন্নাহসমূহকে বিভক্ত করেছেন
… সহিহ (صحيح), যইফ (ضعيف) এবং হাসান (حسن) ভাগে
• • •
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাযমুদ দুরার ফী ইলমিল আছার - ত আল-কাসিম
(পৃষ্ঠা: ৫৫)
الصَّحِيحُ (1)14 - حَدُّ «الصَّحِيحِ»: مُسْنَدٌ بِوَصْلِهِ
… بِنَقْلِ عَدْلٍ ضَابِطٍ عَنْ مِثْلِهِ
15 - وَلَمْ يَكُنْ شَذَّ وَلَا مُعَلَّلَا
… وَالْحُكْمُ بِالصِّحَّةِ وَالضَّعْفِ عَلَى
16 - ظَاهِرِهِ لَا الْقَطْعِ
(2)؛ إِلَّا مَا حَوَى
… كِتَابُ مُسْلِمٍ أَوِ الْجُعْفِيْ، سِوَى
17 - مَا انْتَقَدُوا؛ فَابْنُ الصَّلَاحِ رَجَّحَا
… قَطْعاً بِهِ
(3)، وَكَمْ إِمَامٍ جَنَحَا
(4)--------------------------------------------
বিশুদ্ধ (صحيح)(১)১৪ - 'বিশুদ্ধ (صحيح)' এর সংজ্ঞা: এটি এমন একটি মুসনাদ যা অবিচ্ছিন্ন (متصل) সূত্রের মাধ্যমে বর্ণিত
… এমন একজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) ও প্রখর স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (ضابط) বর্ণনাকারীর মাধ্যমে, যিনি তার অনুরূপ গুণসম্পন্ন ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেছেন।
১৫ - আর তা যেন অস্বাভাবিক (شاذ) না হয় এবং ত্রুটিযুক্ত (معلل) না হয়
… আর বিশুদ্ধতা (صحة) ও দুর্বলতা (ضعف)-এর হুকুম প্রদান করা হয়...
১৬ - তার প্রকাশ্য (ظاهر) অবস্থার উপর ভিত্তি করে, অকাট্য নিশ্চয়তার (قطع) ভিত্তিতে নয়; তবে সেইসব হাদিস ব্যতীত যা
… মুসলিম অথবা জু'ফী (বুখারি)-র কিতাব ধারণ করেছে, সেইসব ছাড়া...
১৭ - যেগুলোকে তারা সমালোচনা করেছেন; তবে ইবনে আস-সালাহ এগুলোর ক্ষেত্রে
… অকাট্য নিশ্চয়তার (قطع) মতকে প্রাধান্য দিয়েছেন, এবং কত ইমামই না এই মতের দিকে ঝুঁকেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাযমুদ দুরার ফী ইলমিল আছার - ত আল-কাসিম
(পৃষ্ঠা: ৫৬)
18 - وَالنَّوَوِيْ رَجَّحَ فِي «التَّقْرِيبِ»
… ظَنّاً بِهِ
(1)، وَالْقَطْعُ ذُو تَصْوِيبِ
(2)19 - وَلَيْسَ شَرْطاً عَدَدٌ، وَمَنْ شَرَطْ
… رِوَايَةَ اثْنَيْنِ فَصَاعِداً: غَلَطْ
(3)20 - وَالْوَقْفُ عَنْ حُكْمٍ لِمَتْنٍ أَوْ سَنَدْ
… بِأَنَّهُ أَصَحُّ مُطْلَقاً: أَسَدّْ
21 - وَآخَرُونَ حَكَمُوا
(4) فَاضْطَرَبُوا
… لِفَوْقِ عَشْرٍ ضُمِّنَتْهَا الْكُتُبُ
22 - فَمَالِكٌ عَنْ نَافِعٍ عَنْ سَيِّدِهْ
… وَزِيدَ مَا لِلشَّافِعِيْ فَأَحْمَدِهْ
(5)--------------------------------------------
১৮ - ইমাম নববী ‘আত-তাক্বরীব’ গ্রন্থে বিষয়টিকে প্রবল ধারণা (ظن) হিসেবে প্রাধান্য দিয়েছেন...
(১) আর একে অকাট্য (قطع) বলে সিদ্ধান্ত হওয়াই যথার্থ
(২)১৯ - (বর্ণনাকারীর) নির্দিষ্ট সংখ্যা কোনো শর্ত নয়; আর যারা দুই বা ততোধিক বর্ণনাকারীর বর্ণনাকে শর্তারোপ করেছে, তা ভুল (غلط)
(৩)২০ - কোনো মূল পাঠ (متن) বা সনদ (سند) সম্পর্কে এটিই নিরঙ্কুশভাবে সর্বাধিক বিশুদ্ধ (أصح مطلقا) - এমন বিধান প্রদান থেকে বিরত থাকাই অধিক সঠিক
২১ - অন্যরা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে গিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে (اضطراب)
(৪) পতিত হয়েছেন... কিতাবগুলোতে এরূপ দশটিরও অধিক বিষয় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে
২২ - যেমন: মালেক বর্ণনা করেছেন নাফে’ থেকে, তিনি তাঁর মনিব (ইবনে ওমর) থেকে; এর সাথে ইমাম শাফিঈ ও ইমাম আহমাদের বর্ণনাকেও যুক্ত করা হয়েছে
(৫)--------------------------------------------