(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনে জুবায়ের - ত. দারুল হিলাল (পৃষ্ঠা: -)
رحلة ابن جبير ط دار الهلال   (ابن جبير)

القسم: البلدان والرحلات


الكتاب: رحلة ابن جبير

المؤلف: ابن جبير، محمد بن أحمد بن جبير الكناني الأندلسي، أبو الحسين (ت 614هـ)

الناشر: دار ومكتبة الهلال، بيروت

عدد الصفحات: 284

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইবনে জুবায়েরের সফরনামা দারুল হিলাল সংস্করণ   (ইবনে জুবায়ের)

বিভাগ: দেশ ও ভ্রমণকাহিনী


বই: ইবনে জুবায়েরের সফরনামা

লেখক: ইবনে জুবায়ের، মুহাম্মাদ বিন আহমদ বিন জুবায়ের আল-কিনানি আল-আন্দালুসি، আবু আল-হুসাইন (মৃত্যু ৬১৪ হিজরি)

প্রকাশক: দার ও মাকতাবাতুল হিলাল، বৈরুত

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৮৪

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণ অনুযায়ী]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনে জুবায়ের - ত. দারুল হিলাল (পৃষ্ঠা: -)
‌‌ابن جبير

 

أبو الحسن محمد بن أحمد بن جبير الكناني، الأندلسي، الشاطبي، البلنسي. رحّالة، كاتب وشاعر عربي أندلسي. ولد في بلنسة شرقي أسبانيا سنة 539 هـ. أسرته من بني كنانة وهي من القبائل العربية العريقة والكبيرة.

جده الكبير أبو عبد السلام بن جبير، ذهب إلى أسبانيا وبقي مقيماً فيها. وإن أسرته على ما يبدو كانت تعيش في بلنسة. أقام بمعية والده مدة في شاطبة فأخذ العلوم الدينية والأدبية عليه وعلى أبي عبد الله الأصيل وابن الحسن بن أبي العيش ولم يغفل خلال ذلك عن تربية قريحته الشعرية. ثم هاجر بعدها إلى غرناطة وفي ظل مواهبه دخل كأبيه في عداد كتّاب أبي سعيد عثمان بن عبد المؤمن حاكم غرناطة الذي كان من الموحدين.

يذكر كراتشكوفسكي بأن ابن جبير كان ممن لعب دوراً هاماً في تطوير الأدب العربي. ويذكر أرباب التراجم بأنه من أدباء عصره وله نظم بارع ونثر بديع. له ديوان شعر ورسائل منثورة آلت إلى شهرته إلا أن أساس شهرته قامت عن كتابه الذي عرف باسمه «رحلة ابن جبير» .
ইবনে জুবায়ের

 

আবুল হাসান মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন জুবায়ের আল-কিনানি, আল-আন্দালুসি, আশ-শাতিবি, আল-বালানসি। তিনি ছিলেন একজন আন্দালুসি আরব পর্যটক, লেখক এবং কবি। তিনি ৫৩৯ হিজরি সনে পূর্ব স্পেনের বালানসিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পরিবার বনু কিনানাহ গোত্রের অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা একটি প্রাচীন ও বৃহৎ আরব গোত্র।

তাঁর প্রপিতামহ আবু আবদুস সালাম বিন জুবায়ের স্পেনে গিয়েছিলেন এবং সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। দৃশ্যত তাঁর পরিবার বালানসিয়াতেই বসবাস করত। তিনি তাঁর পিতার সাথে কিছুকাল শাতিবায় অবস্থান করেন এবং তাঁর নিকট থেকে ধর্মীয় ও সাহিত্যিক জ্ঞান অর্জন করেন; এছাড়াও তিনি আবু আবদুল্লাহ আল-আসিল এবং ইবনুল হাসান বিন আবিল আইশ-এর নিকট শিক্ষালাভ করেন। এই সময়ে তিনি তাঁর কাব্যপ্রতিভাকে শাণিত করতে কোনো অবহেলা করেননি। পরবর্তীতে তিনি গ্রানাডায় হিজরত করেন এবং নিজের মেধার গুণে তাঁর পিতার ন্যায় গ্রানাডার মুওয়াহহিদুন শাসক আবু সাঈদ উসমান বিন আব্দুল মুমিনের লেখকগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত হন।

ক্রাতচকভস্কি উল্লেখ করেছেন যে, আরবি সাহিত্যের বিকাশে ইবনে জুবায়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। জীবনীকারগণ তাঁকে তাঁর সমসাময়িক যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক হিসেবে গণ্য করেন; তাঁর কাব্যরচনাসমূহ ছিল অত্যন্ত নিপুণ এবং গদ্যশৈলী ছিল চমৎকার। তাঁর একটি দিওয়ান (কাব্যসংকলন) এবং গদ্যাকারে লেখা পত্রাবলি রয়েছে যা তাঁকে প্রসিদ্ধি দান করেছে, তবে তাঁর খ্যাতির মূল ভিত্তি হলো তাঁর সেই গ্রন্থটি যা তাঁর নামেই «রিহলা ইবনে জুবায়ের» (ইবনে জুবায়েরের ভ্রমণকাহিনী) হিসেবে পরিচিত।
(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনে জুবায়ের - ত. দারুল হিলাল (পৃষ্ঠা: ৫)
الكتاب والمؤلف

بسم الله الرّحمن الرّحيم مؤلف هذا الكتاب هو أبو الحسن محمد بن أحمد بن جبير الكناني، الأندلسي، الشاطبي البلنسي. ولد في بلنسة سنة 539 هـ. وقد شغف أول ما شغف بعلوم الدين فسمعها من أبيه في شاطبة، وأخذ القرآن عن أبي الحسن بن أبي العيش.

وقد قامت شهرته عن كتابه الذي عرف باسمه (رحلة ابن جبير) اذ أنه جاء ثمرة لرحلات ثلاث قام بها، أهمها رحلة استغرقت أكثر من ثلاث سنوات وقد بدأها في يوم الاثنين في التاسع عشر من شهر شوال سنة 578 هـ. وختمها في يوم الخميس في الثاني والعشرين من شهر محرم سنة 581 هـ.

وقد جاء هذا الكتاب حافلا بالمشاهد والتجارب التي اكتسبها اثناء تجواله في عجائب البلدان والمدن، ورؤيته لغرائب المشاهد، واطلاعه على الشؤون والأحوال السياسية والاجتماعية والأخلاقية التي كانت سائدة في تلك الحقبات من الزمن.

وقد استرعى اهتمام المستشرقين لما له من قيمة نفيسة. فترجموا أول شيء القسم المختص منه بصقليّة الى الفرنسية وطبع في عام 1846 م، ثم طبع كله
গ্রন্থ ও লেখক

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। এই গ্রন্থের লেখক হলেন আবুল হাসান মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন জুবায়ের আল-কিনানি, আল-আন্দালুসি, আশ-শাতিবি আল-বালানসি। তিনি ৫৩৯ হিজরি সনে বালানসিয়ায় (ভ্যালেন্সিয়া) জন্মগ্রহণ করেন। তিনি প্রথম থেকেই দ্বীনি ইলমের প্রতি অত্যন্ত অনুরাগী ছিলেন এবং শাতিবায় তা তাঁর পিতার নিকট থেকে শ্রবণ করেন, আর আবুল হাসান বিন আবুল আইশের নিকট পবিত্র কুরআন পাঠ করেন।

তাঁর খ্যাতি মূলত তাঁর সেই গ্রন্থের কারণে যা তাঁর নামেই পরিচিত (রেহলা ইবনে জুবায়ের); কারণ এটি ছিল তাঁর কৃত তিনটি সফরের ফসল। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সফরটি তিন বছরেরও অধিক সময় স্থায়ী হয়েছিল, যা তিনি ৫ ৭৮ হিজরি সনের ১৯শে শাওয়াল, সোমবার শুরু করেন এবং ৫৮১ হিজরি সনের ২২শে মহরম, বৃহস্পতিবার শেষ করেন।

এই গ্রন্থটি বিভিন্ন দেশ ও নগরের বিস্ময়কর পরিভ্রমণকালে অর্জিত অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণে পরিপূর্ণ। এতে রয়েছে অদ্ভুত সব দৃশ্যপট দর্শন এবং সেই সময়কালে প্রচলিত রাজনৈতিক, সামাজিক ও নৈতিক অবস্থা ও ঘটনাবলীর বিস্তারিত বিবরণ।

এর অনন্য ও বহুমূল্যবান গুরুত্বের কারণে এটি প্রাচ্যবিদদের বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তারা সর্বপ্রথম এর সিসিলি সংক্রান্ত অংশটি ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন যা ১৮৪৬ খ্রিস্টাব্দে মুদ্রিত হয়, অতঃপর সমগ্র গ্রন্থটি মুদ্রিত হয়।
(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনে জুবায়ের - ত. দারুল হিলাল (পৃষ্ঠা: ৬)
ولأول مرة في ليدن عام 1852 م. باضافة مقدمة اليه وضعها المستشرق رايت. ثم أعيد طبعه عام 1907 م. مع ترجمة لمؤلفه.

وقد كانت وفاة ابن جبير في سنة 614 هـ. في آخر رحلة قام بها الى مصر والإسكندرية حيث أقام هنالك محدثا.

لجنة تحقيق التراث بدار ومكتبة الهلال
১৮৫২ সালে লিডেনে প্রথমবারের মতো প্রাচ্যবিদ রাইট কর্তৃক সংযোজিত একটি ভূমিকা সহ এটি প্রকাশিত হয়। অতঃপর ১৯০৭ সালে লেখকের জীবনীসহ এটি পুনরায় মুদ্রিত হয়।

ইবনে জুবায়ের ৬১৪ হিজরি সনে তাঁর মিশর ও আলেকজান্দ্রিয়ার সর্বশেষ সফরকালে ইন্তেকাল করেন, সেখানে তিনি মুহাদ্দিস হিসেবে অবস্থান করছিলেন।

দার ও মাকতাবাতুল হিলাল-এর ঐতিহ্য পাণ্ডুলিপি যাচাই ও সম্পাদনা কমিটি
(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনে জুবায়ের - ত. দারুল হিলাল (পৃষ্ঠা: ৭)
تذكرة بالأخبار عن اتفاقات الأسفار

بسم الله الرّحمن الرّحيم ابتدئ بتقييدها يوم الجمعة الموفي ثلاثين لشهر شوّال سنة ثمان وسبعين وخمس مئة على متن البحر بمقابلة جبل شلير «1» عرّفنا الله السلامة بمنّه.

وكان انفصال أحمد بن حسان ومحمد بن جبير من غرناطة، حرسها الله للنية الحجازية المباركة، قرنها الله بالتيسير والتسهيل وتعريف الصنع الجميل، أول ساعة من يوم الخميس الثامن لشوال المذكور وبموافقة اليوم الثالث لشهر فبرير الأعجمي. وكان الاجتياز على جيّان «2» لقضاء بعض الأسباب، ثم كان الخروج منها أول ساعة من يوم الاثنين التاسع عشر لشهر شوّال المذكور وبموافقة اليوم الرابع عشر لشهر فبرير المذكور أيضا.

وكانت مرحلتنا الأولى منها الى حصن القبذاق «3» ثم منه الى حصن قبرة «4»
সফরের ঘটনাবলি সংক্রান্ত স্মারক

পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে। এর লিপিবদ্ধকরণ শুরু করছি পাঁচশত আটাত্তর হিজরি সালের শাওয়াল মাসের পূর্ণকারী তিরিশ তারিখ জুমাবারে, সমুদ্রবক্ষে শেলির পাহাড়ের সম্মুখে; আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহে আমাদের নিরাপত্তা দান করুন।

বরকতময় হিজাজ ভ্রমণের নিয়তে আহমদ বিন হাসান এবং মুহাম্মদ বিন জুবায়েরের গ্রানাডা—আল্লাহ একে হেফাযত করুন—থেকে প্রস্থান ছিল উল্লিখিত শাওয়াল মাসের আট তারিখ বৃহস্পতিবারের প্রথম প্রহরে, যা আজমি ফেব্রুয়ারি মাসের তিন তারিখের সাথে সংগতিপূর্ণ। আল্লাহ এই সফরকে সহজ, সাবলীল এবং কল্যাণমণ্ডিত করুন। কিছু প্রয়োজন পূরণের নিমিত্তে পথিমধ্যে জায়েন অতিক্রম করতে হয়েছিল, অতঃপর সেখান থেকে প্রস্থান ছিল উল্লিখিত শাওয়াল মাসের উনিশ তারিখ সোমবারের প্রথম প্রহরে, যা উল্লিখিত ফেব্রুয়ারি মাসের চৌদ্দ তারিখের সাথেও সংগতিপূর্ণ।

সেখান থেকে আমাদের প্রথম মনজিল ছিল আল-কাবদাক দুর্গ পর্যন্ত, অতঃপর সেখান থেকে কাবরা দুর্গ পর্যন্ত।
(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনে জুবায়ের - ত. দারুল হিলাল (পৃষ্ঠা: ৮)
ثم منه الى مدينة استجة ثم منها الى حصن أشونة «1» ثم منه الى شلبر ثم منه الى حصن أركش ثم منه الى قرية تعرف بقرية القشمة من قرى مدينة ابن السليم ثم منها الى جزيرة طريف، وذلك يوم الاثنين السادس والعشرين من الشهر المؤرخ.

فلما كان ظهر يوم الثلاثاء من اليوم الثاني، يسر الله علينا في عبور البحر الى قصر مصمودة «2» تيسيرا عجيبا، والحمد لله. ونهضنا منه الى سبتة غدوة يوم الأربعاء الثامن والعشرين منه، وألفينا بها مركبا للروم الجنويّين مقلعا الى الإسكندرية بحول الله، عز وجل، فسهّل الله علينا في الركوب فيه.

وأقلعنا ظهر يوم الخميس التاسع والعشرين منه، وبموافقة الرابع والعشرين من فبرير المذكور، بحول الله تعالى وعونه، لا ربّ غيره. وكان طريقنا في البحر محاذيا لبر الأندلس. وفارقناه يوم الخميس السادس لذي القعدة بعده عندما حاذينا دانية. وفي صبيحة يوم الجمعة السابع من السهر المذكور آنفا قابلنا بر جزيرة يابسة «3» ثم يوم السبت بعده قابلنا بر جزيرة سيورقة ثم يوم الأحد بعده قابلنا جزيرة منورقة. ومن سبتة اليها نحو ثمانية بحار، والمجرى مئة ميل.

وفارقنا بر هذه الجزيرة المذكورة، وقام معنا بر جزيرة سردانية أول ليلة الثلاثاء الحادي عشر من الشهر المذكور، وهو الثامن من مارس، دفعة واحدة على نحو ميل أو أقل. وبين الجزيرتين سردانيه ومنورقة نحو الأربع مئة ميل، فكان قطعا مستغربا في السرعة.
এরপর সেখান থেকে এস্তিজা শহরে, তারপর সেখান থেকে আশুনা দুর্গে, তারপর সেখান থেকে শালবার, তারপর সেখান থেকে আরকাশ দুর্গে, এরপর সেখান থেকে ইবনে আস-সালিম শহরের গ্রামসমূহের অন্তর্গত আল-কাশমা নামক গ্রামে, তারপর সেখান থেকে জাযিরাতুত তারিফ-এ; আর তা ছিল উল্লিখিত মাসের ২৬ তারিখ, সোমবার।

অতপর যখন দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার দুপুর হলো, আল্লাহ আমাদের জন্য সমুদ্র পাড়ি দিয়ে কাসর মাসমুদায় পৌঁছানো অত্যন্ত আশ্চর্যজনকভাবে সহজ করে দিলেন, সকল প্রশংসা আল্লাহর। আমরা সেখান থেকে বুধবার ভোরে ২৮ তারিখে সাবতাহর উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলাম। সেখানে আমরা আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লার শক্তিতে আলেকজান্দ্রিয়ার অভিমুখে যাত্রা করার জন্য জেনোয়ার রোমানদের একটি জাহাজ পেলাম। আল্লাহ আমাদের জন্য তাতে আরোহণ সহজ করে দিলেন।

আমরা ২৯ তারিখ বৃহস্পতিবার দুপুরে যাত্রা শুরু করলাম, যা উল্লিখিত ফেব্রুয়ারি মাসের ২৪ তারিখের সাথে মিলে যায়—তাও ছিল মহান আল্লাহর শক্তি ও সাহায্যে, তিনি ছাড়া কোনো প্রতিপালক নেই। সমুদ্রপথে আমাদের যাত্রাপথ ছিল আন্দালুস উপকূলের সমান্তরালে। পরবর্তী যুল ক্বাদাহ মাসের ৬ তারিখ বৃহস্পতিবার আমরা যখন দানিয়া অতিক্রম করছিলাম, তখন সেই উপকূল ছেড়ে অগ্রসর হলাম। উল্লিখিত মাসের ৭ তারিখ শুক্রবার সকালে আমরা ইয়াবিসাহ দ্বীপের উপকূলের মুখোমুখি হলাম। তারপর শনিবার আমরা সায়ুরকাহ দ্বীপের উপকূলের মুখোমুখি হলাম। এরপর রবিবার আমরা মানুরকাহ দ্বীপের মুখোমুখি হলাম। সাবতাহ থেকে এর দূরত্ব প্রায় আটটি সমুদ্র এবং গতিপথ ছিল একশ মাইল।

আমরা উল্লিখিত এই দ্বীপের উপকূল ত্যাগ করলাম এবং উল্লিখিত মাসের ১১ তারিখ মঙ্গলবার রাতের শুরুতে, যা ছিল মার্চের ৮ তারিখ, হঠাৎ করেই আমাদের সামনে সারদানিয়া দ্বীপের উপকূল দৃশ্যমান হলো, যার দূরত্ব ছিল প্রায় এক মাইল বা তারও কম। সারদানিয়া ও মানুরকাহ এই দুই দ্বীপের মধ্যবর্তী দূরত্ব প্রায় চারশ মাইল; তাই এই পথ অতিক্রমের গতি ছিল অত্যন্ত আশ্চর্যজনক।
(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনে জুবায়ের - ত. দারুল হিলাল (পৃষ্ঠা: ৯)
أهوال البحر

وطرأ علينا من مقابلة البر في الليل هول عظيم، عصم الله منه بريح أرسلها الله تعالى في الحين من تلقاء البر، فأخرجنا عنه، والحمد لله على ذلك. وقام علينا نوء هال له البحر صبيحة يوم الثلاثاء المذكور، فبقينا مترددين بسببه حول برّ سردانية الى يوم الأربعاء بعده فأطلع الله علينا في حال الوحشة وانغلاق الجهات بالنوء فلا نميز شرقا من غرب، مركبا للروم قصدنا الى أن حاذانا، فسئل عن مقصده، فأخبر أنه يريد جزيرة «صقلية» وأنه من قرطاجنة عمل مرسية وقد كنا استقبلنا طريقه التي جاء منها من غير علم، فأخذنا عند ذلك في اتباع أثره، والله الميسّر لارب سواه. فخرج علينا طرف من بر سردانية المذكور، فأخذنا في الرجوع عودا على بدء الى أن وصلنا طرفا من البر المذكور يعرف بقوسمركة، وهو مرسى معروف عندهم. فأرسينا به ظهر يوم الأربعاء المذكور والمركب المذكور معنا. وبهذا الموضع المذكور أثر لبنيان قديم ذكر لنا أنه كان منزلا لليهود فيما سلف.

ثم إنّا أقلعنا منه ظهر يوم الأحد السادس عشر من الشهر المذكور، وفي مدة مقامنا بالمرسى المذكور جددنا فيه الماء والحطب والزاد. وهبط واحد من المسلمين ممن يحفظ اللسان الرومي مع جملة من الروم الى أقرب المواضع المعمورة منا فأعلمنا أنه رأى جملة من أسرى المسلمين نحو الثمانين بين رجال ونساء يباعون في السوق. وكان ذلك عند وصول العدو، دمره الله، بهم من سواحل البحر ببلاد المسلمين، والله يتداركهم برحمته. ووصل الى المرسى المذكور، يوم الجمعة الثالث من يوم أرسينا فيه، سلطان الجزيرة المذكورة، مع جملة من الخيل.
সমুদ্রের বিভীষিকা

রাতে স্থলের মুখোমুখি হওয়ার সময় আমাদের ওপর এক মহাতঙ্ক আপতিত হয়েছিল। আল্লাহ তাআলা সেই মুহূর্তে স্থলভাগের দিক থেকে প্রেরিত একটি বাতাসের মাধ্যমে তা থেকে রক্ষা করলেন, যা আমাদের সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে গেল। এর জন্য আল্লাহরই সকল প্রশংসা। উল্লেখিত মঙ্গলবার সকালে একটি ঝড়ো হাওয়া শুরু হলো যাতে সমুদ্র উত্তাল হয়ে উঠল। এর ফলে আমরা পরবর্তী বুধবার পর্যন্ত সার্ডিনিয়া উপকূলের আশেপাশে দোদুল্যমান অবস্থায় থাকলাম। সেই নির্জন আতঙ্কিত অবস্থায় এবং ঝড়ের কারণে দিকসমূহ রুদ্ধ হয়ে যাওয়ায় যখন আমরা পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে পার্থক্য করতে পারছিলাম না, তখন আল্লাহ আমাদের সামনে রোমানদের একটি জাহাজ প্রকাশ করলেন। সেটি আমাদের দিকে অগ্রসর হয়ে আমাদের সমান্তরাল হলো। যখন সেটির গন্তব্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো, তখন তারা জানাল যে তারা ‘সিসিলি’ দ্বীপের দিকে যাচ্ছে এবং তারা মুরসিয়া অঞ্চলের কার্টাজেনা থেকে এসেছে। আমরা না জেনেই সেই পথে অগ্রসর হচ্ছিলাম যেখান থেকে সেটি এসেছিল। অতঃপর আমরা সেটির পথ অনুসরণ করতে শুরু করলাম। আল্লাহই সহজকারী, তিনি ছাড়া কোনো প্রতিপালক নেই। তখন উল্লেখিত সার্ডিনিয়া উপকূলের এক প্রান্ত আমাদের নজরে এল। ফলে আমরা যেখান থেকে শুরু করেছিলাম সেদিকেই ফিরে যেতে শুরু করলাম, যতক্ষণ না সেই ভূখণ্ডের একটি প্রান্তে পৌঁছালাম যা ‘কুসমারকা’ নামে পরিচিত। এটি তাদের একটি সুপরিচিত পোতাশ্রয়। আমরা উক্ত বুধবার দুপুরে সেখানে নোঙর করলাম এবং সেই জাহাজটিও আমাদের সাথেই ছিল। এই স্থানে একটি প্রাচীন স্থাপত্যের ধ্বংসাবশেষ রয়েছে যার সম্পর্কে আমাদের বলা হয়েছিল যে অতীতে এটি ইহুদিদের আবাসস্থল ছিল।

অতঃপর আমরা উক্ত মাসের ১৬ তারিখ রবিবার দুপুরে সেখান থেকে যাত্রা শুরু করলাম। সেই পোতাশ্রয়ে অবস্থানকালে আমরা পানি, জ্বালানি কাঠ এবং রসদ সংগ্রহ করে নিলাম। রোমান ভাষা জানা জনৈক মুসলিম ব্যক্তি কয়েকজন রোমান নাগরিকের সাথে আমাদের নিকটবর্তী জনবসতিপূর্ণ এলাকায় অবতরণ করলেন। তিনি আমাদের জানালেন যে, তিনি সেখানে পুরুষ ও নারী মিলিয়ে প্রায় আশি জন মুসলিম বন্দীকে দেখেছেন যাদের বাজারে বিক্রি করা হচ্ছিল। শত্রু বাহিনী—আল্লাহ তাদের ধ্বংস করুন—মুসলিম ভূখণ্ডের সমুদ্র উপকূল থেকে তাদের নিয়ে আসার পর এটি ঘটেছে। আল্লাহ তাঁর রহমতে তাদের উদ্ধারের ব্যবস্থা করুন। আমাদের নোঙর করার তৃতীয় দিন শুক্রবারে উক্ত দ্বীপের সুলতান একদল অশ্বারোহী বাহিনীসহ সেই পোতাশ্রয়ে পৌঁছালেন।
(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনে জুবায়ের - ত. দারুল হিলাল (পৃষ্ঠা: ১০)
فنزل اليه أشياخ المركب من الروم واجتمعوا به، وطال مقامهم عنده، ثم انصرفوا وانصرف الى موضع سكناه. وتركنا المركب المذكور في موضع ارسائه، بسبب مغيب بعض أصحابه في البلد، عند هبوب الريح الموافقة لنا.

وفي ليلة الثلاثاء الثامن عشر لذي القعدة المذكور والخامس عشر من شهر مارس المذكور أيضا، وفي الربع الباقي منها، فارقنا بر سردانية المذكورة، وهو بر طويل جرينا بحذائه نحو المئتي ميل. ومنتهى دور الجزيرة، على ما ذكر لنا، الى أزيد من خمس مئة ميل، ويسر الله علينا في التخلص من بحرها، لأنه أصعب ما في الطريق، والخروج منه يتعذر في أكثر الأحيان، والحمد لله على ذلك.

وفي ليلة الأربعاء بعدها من أولها عصفت علينا ريح هال لها البحر وجاء معها مطر ترسله الرياح بقوة، كأنه شآبيب «1» سهام. فعظم الخطب واشتد الكرب وجاءنا الموج من كل مكان أمثال الجبال السائرة. فبقينا على تلك الحال الليل كله، واليأس قد بلغ منا مبلغه، وارتجينا مع الصباح فرجة تخفف عنا بعض ما نزل بنا، فجاء النهار، وهو يوم الأربعاء التاسع عشر من ذي القعدة، بما هو اشد هولا وأعظم كربا، وزاد البحر اهتياجا واربدت الآفاق سوادا، واستشرت الريح والمطر عصوفا، حتى لم يثبت معها شراع. فلجىء الى استعمال الشّرع الصّغار. فأخذت الريح أحدها ومزقته وكسرت الخشبة التي ترتبط الشرع فيها، وهي المعروفة عندهم بالقرّية. فحينئذ تمكن اليأس من النفوس وارتفعت أيدي المسلمين بالدعاء الى الله عز وجل. وأقمنا على تلك الحال النهار كله. فلما جن الليل فترت الحال بعض فتور، وسرنا في هذه الحال كلها بريح الصواري سيرا سريعا.

وفي ذلك اليوم حاذينا بر جزيرة صقلية. وبتنا تلك الليلة، التي هي ليلة الخميس التالية لليوم المذكور، مترددين بين الرجاء واليأس. فلما أسفر الصبح
অতঃপর রোমানদের জাহাজের প্রবীণ ব্যক্তিবর্গ তার নিকট অবতরণ করলেন এবং তার সাথে সাক্ষাৎ করলেন। তার নিকট তাদের অবস্থান দীর্ঘস্থায়ী হলো। অতঃপর তারা বিদায় নিলেন এবং তিনিও তার আবাসস্থলে ফিরে গেলেন। আমাদের অনুকূল বায়ু প্রবাহিত হওয়ার সময় তার কিছু সাথী শহরে অনুপস্থিত থাকার কারণে আমরা উল্লিখিত জাহাজটিকে তার নোঙ্গর করার স্থানে রেখে গেলাম।

উল্লিখিত যিলকদ মাসের আঠারো তারিখ এবং মার্চ মাসের পনেরো তারিখ মঙ্গলবার রাতে, রাতের শেষ চতুর্থাংশে, আমরা উল্লিখিত সার্ডিনিয়া উপকূল ত্যাগ করলাম। এটি একটি দীর্ঘ উপকূল যার সমান্তরালে আমরা প্রায় দুইশ মাইল পথ অতিক্রম করেছি। আমাদের কাছে যা বর্ণনা করা হয়েছে সেই অনুযায়ী দ্বীপটির পরিধি পাঁচশ মাইলেরও বেশি। আল্লাহ আমাদের জন্য এর সমুদ্র থেকে রক্ষা পাওয়া সহজ করে দিয়েছেন, কারণ এটি ছিল পথের সবচেয়ে কঠিন অংশ এবং অধিকাংশ সময় এখান থেকে বের হওয়া দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে। এর জন্য আল্লাহর প্রশংসা।

পরবর্তী বুধবারের শুরুর দিকেই আমাদের ওপর এমন প্রচণ্ড ঝড়ো বাতাস বয়ে গেল যার ফলে সমুদ্র উত্তাল হয়ে উঠল। সেই সাথে বাতাসের ঝাপটায় বৃষ্টির তীরের মত প্রবল বর্ষণ শুরু হলো। পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ আকার ধারণ করল এবং উদ্বেগ তীব্রতর হলো। চারদিক থেকে চলন্ত পাহাড়ের ন্যায় ঢেউ আমাদের দিকে আসতে লাগল। আমরা সারারাত এই অবস্থায় অতিবাহিত করলাম এবং আমাদের মাঝে চরম হতাশা পৌঁছে গিয়েছিল। আমরা সকালের সাথে সাথে কোনো এক প্রশান্তির আশা করেছিলাম যা আমাদের ওপর আপতিত বিপদ কিছুটা লাঘব করবে। কিন্তু দিনটি যখন আসল—যা ছিল উনিশে যিলকদ বুধবার—তা ছিল আরও বেশি ভয়াবহ এবং অধিকতর উদ্বেগজনক। সমুদ্রের উত্তালতা বৃদ্ধি পেল, দিগন্ত কালো মেঘে আচ্ছন্ন হয়ে গেল এবং বাতাস ও বৃষ্টির দাপট এতটাই বেড়ে গেল যে কোনো পাল আর টিকে থাকতে পারছিল না। ফলে ছোট পালগুলো ব্যবহারের আশ্রয় নেওয়া হলো। প্রবল বাতাস সেগুলোর একটিকে উড়িয়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলল এবং যে কাঠের সাথে পালটি বাঁধা ছিল তাও ভেঙে ফেলল, যা তাদের কাছে 'কাররিয়া' নামে পরিচিত। সেই মুহূর্তে অন্তরে হতাশা বদ্ধমূল হলো এবং মুসলমানরা মহান আল্লাহর দরবারে দোয়ার জন্য হাত তুললেন। আমরা সারাদিন এই অবস্থায় কাটিয়ে দিলাম। যখন রাত ঘনিয়ে এলো, তখন পরিস্থিতির কিছুটা উপশম হলো এবং আমরা মাস্তুলের বাতাসের ওপর নির্ভর করে দ্রুত গতিতে পথ চলতে লাগলাম।

সেই দিন আমরা সিসিলি দ্বীপের উপকূলের সমান্তরালে পথ অতিক্রম করলাম। আমরা সেই রাতে—যা ছিল উল্লিখিত দিনের পরবর্তী বৃহস্পতিবার রাত—আশা ও নিরাশার মাঝে দোদুল্যমান অবস্থায় রাত অতিবাহিত করলাম। যখন ভোর হলো—
(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনে জুবায়ের - ত. দারুল হিলাল (পৃষ্ঠা: ১১)
نشر الله رحمته، وأقشعت السحاب وطاب الهواء وأضاءت الشمس وأخذ في السكون البحر. فاستبشر الناس وعاد الأنس وذهب اليأس، والحمد لله الذي أرانا عظيم قدرته، ثم تلافى بجميل رحمته ولطيف رأفته، حمدا يكون كفاء لمنته ونعمته.

وفي هذا الصباح المذكور ظهر لنا بر صقيلة وقد أجزنا أكثره ولم يبق منه الا الأقل. وأجمع من حضر من رؤساء البحر من الروم وممن شاهد الأسفار والأهوال في البحر من المسلمين أنهم لم يعاينوا قط مثل هذا الهول فيما سلف من أعمارهم، والخبر عن هذه الحال يصغر في خبرها.

وبين البرين المذكورين بر سردانية وبر صقيلة نحو الاربع مئة ميل.

واستصحبنا من برصقلية ازيد من مئتي ميل، ثم ترددنا بحذائه بسبب سكون الريح. فلما كان عصر يوم الجمعة الحادي والعشرين من الشهر المذكور أقلعنا من الموضع الذي كنا أرسينا فيه، وفارقنا البر المذكور أول تلك الليلة. وأصبحنا يوم السبت وبيننا وبينه مسافة بعيدة، وظهر لنا اذ ذاك الجبل الذي كان فيه البركان «1» ، وهو جبل عظيم مصعد في جو السماء قد كساه الثلج. وأعلمنا أنه يظهر في البحر مع الصحو على أزيد من مسيرة مئة ميل. فأخذنا ملججين وأقرب ما نؤمله من البر الينا جزيرة أقريطش «2» ، وهي من جزائر الروم ونظرها الى صاحب القسطنطينية، وبينها وبين جزيرة صقيلة مسيرة سبع مئة ميل، والله كفيل بالتيسير والتسهيل بمنّه. وفي طول هذه الجزيرة، جزيرة أقريطش المذكورة، نحو من ثلاث مئة ميل.

وفي ليلة الثلاثاء الخامس والعشرين من الشهر المذكور، وهو الثاني والعشرون من شهر مارس، حاذينا البر المذكور تقديرا لا عيانا. وفي صبيحة اليوم المذكور فارقناه متوجهين لقصدنا. وبين هذه الجزيرة المذكورة وبين الإسكندرية ست مئة ميل أو نحوها.
আল্লাহ তাঁর রহমত বিস্তার করলেন, মেঘ অপসারিত হলো, বাতাস নির্মল হলো, সূর্য আলোকিত হলো এবং সমুদ্র শান্ত হতে শুরু করল। ফলে মানুষ আনন্দিত হলো, হৃদ্যতা ফিরে এল এবং হতাশা দূর হলো। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের তাঁর মহান ক্ষমতা দেখিয়েছেন, অতঃপর তাঁর সুন্দর রহমত ও কোমল মমতা দিয়ে উদ্ধার করেছেন—এমন প্রশংসা যা তাঁর অনুগ্রহ ও নিআমতের সমতুল্য হয়।

উল্লিখিত এই সকালে আমাদের সামনে সিসিলির ভূখণ্ড প্রকাশিত হলো, আমরা এর অধিকাংশ পথ পাড়ি দিয়েছিলাম এবং সামান্য অংশই অবশিষ্ট ছিল। সেখানে উপস্থিত রোমক নাবিকদের প্রধানগণ এবং মুসলমানদের মধ্যে যারা সমুদ্রের সফর ও ভয়াবহতা প্রত্যক্ষ করেছেন, তারা সবাই একমত হলেন যে, তারা তাদের বিগত জীবনে কখনো এমন ভয়াবহতা দেখেননি; আর এই অবস্থার সংবাদ বর্ণনার চেয়েও ভয়াবহ ছিল।

উল্লিখিত দুই ভূখণ্ড—সার্ডিনিয়া এবং সিসিলির মধ্যবর্তী দূরত্ব প্রায় চারশ মাইল।

আমরা সিসিলির উপকূল ঘেঁষে দুইশ মাইলেরও বেশি পথ পাড়ি দিলাম, অতঃপর বাতাসের নিশ্চলতার কারণে এর সমান্তরালে অবস্থান করতে থাকলাম। যখন উল্লিখিত মাসের একুশ তারিখ জুমার দিন আসর সময় হলো, আমরা যে স্থানে নোঙর করেছিলাম সেখান থেকে যাত্রা শুরু করলাম এবং সেই রাতের শুরুতেই উল্লিখিত ভূখণ্ড ত্যাগ করলাম। শনিবার ভোরে আমাদের ও সেটির মধ্যে দীর্ঘ দূরত্ব তৈরি হলো। তখন আমাদের কাছে সেই পর্বতটি দৃশ্যমান হলো যাতে আগ্নেয়গিরি রয়েছে «১», এটি একটি বিশাল পর্বত যা আকাশের উচ্চতায় উঠে গেছে এবং বরফে ঢাকা। আমাদের জানানো হলো যে, আকাশ পরিষ্কার থাকলে সমুদ্রে একশ মাইলেরও বেশি পথ দূর থেকে এটি দেখা যায়। অতঃপর আমরা গভীর সমুদ্রে প্রবেশ করলাম এবং আমাদের নিকটতম কাঙ্ক্ষিত ভূখণ্ড হলো ক্রিট দ্বীপ «২»; এটি রোমক দ্বীপপুঞ্জের অন্তর্ভুক্ত এবং কনস্টান্টিনোপলের অধিপতির শাসনাধীন। এটি এবং সিসিলি দ্বীপের মধ্যবর্তী দূরত্ব সাতশ মাইলের পথ। আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহে সহজ ও সুগম করার জিম্মাদার। এই দ্বীপটির দৈর্ঘ্য অর্থাৎ উল্লিখিত ক্রিট দ্বীপের দৈর্ঘ্য প্রায় তিনশ মাইল।

উল্লিখিত মাসের পঁচিশ তারিখ মঙ্গলবার রাতে—যা মার্চের বাইশ তারিখ—আমরা অনুমানের ভিত্তিতে উল্লিখিত ভূখণ্ডের সমান্তরালে পৌঁছালাম, সরাসরি দৃশ্যমান হওয়ার মাধ্যমে নয়। উক্ত দিনের সকালে আমরা সেটি ত্যাগ করে আমাদের গন্তব্যের দিকে অগ্রসর হলাম। এই উল্লিখিত দ্বীপ এবং আলেকজান্ট্রিয়ার মধ্যবর্তী দূরত্ব ছয়শ মাইল বা এর কাছাকাছি।
(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনে জুবায়ের - ত. দারুল হিলাল (পৃষ্ঠা: ১২)
وفي صبيحة يوم الأربعاء السادس والعشرين منه ظهر لنا البر الكبير المتصل بالإسكندرية المعروف ببر الغرب، وحاذينا منه موضعا يعرف بجزائر الحمّام «1» على ما ذكر لنا، وبينه وبين الاسكندرية نحو الأربع مئة ميل على ما ذكر لنا فأخذنا في السير والبر المذكور منا يمينا.

البشرى بالسلامة

وفي صبيحة يوم السبت التاسع والعشرين من الشهر المذكور أطلع الله علينا البشرى بالسلامة بظهور منار الاسكندرية على نحو العشرين ميلا، والحمد لله على ذلك حمدا يقتضي المزيد من فضله وكريم صنعه.

وفي آخر الساعة الخامسة منه كان ارساؤنا بمرسى البلد، ونزولنا اثر ذلك، والله المستعان فيما بقي بمنّه. فكانت اقامتنا على متن البحر ثلاثين يوما، ونزلنا في الحادي والثلاثين، لأن ركوبنا إياه كان يوم الخميس التاسع والعشرين من شهر شوّال، ونزولنا عنه في يوم السبت التاسع والعشرين من شهر ذي القعدة، وبموافقة السادس والعشرين من مارس، والحمد لله على ما منّ به من التيسير والتسهيل، وهو سبحانه المسؤول بتتميم النعمة علينا ببلوغ الغرض من المقصود، وتعجيل الإياب الى الوطن على خير وعافية، انه المنعم بذلك لا رب سواه.

وكان نزولنا بها بفندق يعرف بفندق الصّفار بمقربة من الصّبانة.

شهر ذي الحجة من السنة المذكورة

أوله يوم الأحد، ثاني يوم نزولنا بالإسكندرية.

فمن أول ما شاهدنا فيها يوم نزولنا أن طلع أمناء الى المركب من قبل السلطان بها لتقييد جميع ما جلب فيه. فاستحضر جميع من كان فيه من المسلمين
২৬শে (শাওয়াল) বুধবার সকালে আমাদের সামনে আলেকজান্দ্রিয়ার সাথে সংযুক্ত বিশাল ভূখণ্ড দৃশ্যমান হলো যা ‘বার আল-গারব’ (পশ্চিম উপকূল) নামে পরিচিত। আমাদের কাছে যেভাবে উল্লেখ করা হয়েছে সেই অনুযায়ী আমরা এমন একটি স্থানের সমান্তরাল হলাম যাকে ‘জাজাইরুল হাম্মাম’ বলা হয়। আমাদের জানানো তথ্যমতে সেখান থেকে আলেকজান্দ্রিয়ার দূরত্ব ছিল প্রায় চারশ মাইল। আমরা পথ চলা অব্যাহত রাখলাম এবং উল্লিখিত ভূখণ্ডটি আমাদের ডান দিকে ছিল।

নিরাপত্তার সুসংবাদ

উল্লিখিত মাসের ২৯ তারিখ শনিবার সকালে আল্লাহ আলেকজান্দ্রিয়ার বাতিঘরটি প্রায় বিশ মাইল দূর থেকে দৃশ্যমান করার মাধ্যমে আমাদের নিরাপত্তার সুসংবাদ দিলেন। এই নেয়ামতের জন্য সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর—এমন প্রশংসা যা তাঁর অনুগ্রহ ও মহান দান বৃদ্ধির দাবি রাখে।

সেই দিনের পঞ্চম ঘণ্টার শেষ দিকে আমরা নগরের বন্দরে নোঙ্গর করলাম এবং তার পরপরই তীরে অবতরণ করলাম। অবশিষ্টাংশের জন্য তাঁর অনুগ্রহে আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি। সমুদ্রে আমাদের অবস্থান ছিল ত্রিশ দিন, আর আমরা একত্রিশতম দিনে অবতরণ করলাম। কারণ আমাদের নৌযাত্রা শুরু হয়েছিল শাওয়াল মাসের ২৯ তারিখ বৃহস্পতিবার, আর আমরা তা থেকে নামলাম জিলকদ মাসের ২৯ তারিখ শনিবার। তারিখটি ছিল ২৬শে মার্চের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। মহান আল্লাহর প্রশংসা যিনি সহজসাধ্য ও মসৃণতা দান করে অনুগ্রহ করেছেন। পবিত্র সত্তা হিসেবে তাঁর নিকটই প্রার্থনা যেন তিনি আমাদের উদ্দেশ্য পূরণের মাধ্যমে নেয়ামত পূর্ণ করেন এবং কল্যাণ ও নিরাপত্তার সাথে দ্রুত স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের তৌফিক দেন। নিশ্চয়ই তিনিই একমাত্র নেয়ামত দানকারী, তিনি ছাড়া অন্য কোনো রব নেই।

আমরা সেখানে ‘ফুনদুকুস সাফফার’ নামে পরিচিত একটি সরাইখানায় উঠলাম যা ‘সাব্বানা’র সন্নিকটে অবস্থিত।

উল্লিখিত বছরের জিলহজ মাস

এর প্রথম দিন ছিল রবিবার, যা ছিল আলেকজান্দ্রিয়ায় আমাদের অবতরণের দ্বিতীয় দিন।

আমরা অবতরণের দিন সেখানে প্রথম যা প্রত্যক্ষ করলাম তা হলো—সুলতানের পক্ষ থেকে কিছু আমানতদার বা পরিদর্শক জাহাজে উঠে এলেন তাতে যা কিছু আনা হয়েছে তা নথিবদ্ধ করার জন্য। জাহাজে অবস্থানরত সকল মুসলিমকে সেখানে উপস্থিত করা হলো।
(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনে জুবায়ের - ত. দারুল হিলাল (পৃষ্ঠা: ১৩)
واحدا واحدا وكتبت أسماؤهم وصفاتهم وأسماء بلادهم، وسئل كل واحد عما لديه من سلع أو ناضّ «1» ليؤدي زكاة ذلك كله دون أن يبحث عما حال عليه الحول من ذلك أو ما لم يحل. وكان أكثرهم متشخصين لأداء الفريضة لم يستصحبوا سوى زاد لطريقهم، فلزّموا أداء زكاة ذلك دون أن يسأل احال عليه الحول أم لا واستنزل احمد بن حسان منا ليسأل عن أنباء المغرب وسلع المركب.

فطيف به مرقّبا على السلطان أولا ثم على القاضي ثم على أهل الديوان ثم على جماعة من حاشية السلطان. وفي كلّ يستفهم ثم يقيد قوله. فخلي سبيله، وأمر المسلمون بتنزيل أسبابهم وما فضل من أزودتهم، وعلى ساحل البحر أعوان يتوكلون بهم وبحمل جميع ما أنزلوه الى الديوان. فاستدعوا واحدا واحدا وأحضر ما لكل واحد من الأسباب، والديوان قد غص؟. فوقع التفتيش لجميع الأسباب، ما دق منها وما جل، واختلط بعضها ببعض، وادخلت الأيدي الى أوساطهم بحثا عما عسى أن يكون فيها. ثم استحلفوا بعد ذلك هل عندهم غير ما وجدوا لهم أم لا.

وفي أثناء ذلك ذهب كثير من أسباب الناس لاختلاط الأيدي وتكاثر الزحام، ثم أطلقوا بعد موقف من الذل والخزي عظيم، نسأل الله أن يعظم الأجر بذلك. وهذه لا محالة من الامور الملبّس فيها على السلطان الكبير المعروف بصلاح الدين، ولو علم بذلك على ما يؤثر عنه من العدل وايثار الرفق لأزال ذلك، وكفى الله المؤمنين تلك الخطة الشاقة واستؤدوا «2» الزكاة على أجمل الوجوه. وما لقينا ببلاد هذا الرجل ما يلم به قبيح لبعض الذكر سوى هذه الاحدوثة التي هي من نتائج عمال الدواوين.

‌‌ذكر بعض أخبار الاسكندرية وآثارها

فأول ذلك حسن وضع البلد واتساع مبانيه، حتى إنّا ما شاهدنا بلدا أوسع
এক এক করে সবার নাম, তাদের বর্ণনা এবং দেশের নাম লিখে রাখা হলো। প্রত্যেকের কাছে কী পণ্য বা নগদ অর্থ রয়েছে সে বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলো, যাতে তার যাকাত আদায় করা যায়; অথচ যাকাত ওয়াজিব হওয়ার জন্য এক বছর পূর্ণ হওয়ার যে শর্ত, সে সম্পর্কে কোনো অনুসন্ধানই করা হলো না। তাদের অধিকাংশ লোকই হজের ফরজ কাজ পালনের উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলেন এবং পথের পাথেয় ছাড়া তাদের সাথে তেমন কিছুই ছিল না। তথাপিও এক বছর অতিবাহিত হয়েছে কি হয়নি তা জিজ্ঞাসা না করেই তাদের থেকে যাকাত আদায়ে বাধ্য করা হলো। আর আমাদের মধ্য থেকে আহমদ বিন হাসানকে নামিয়ে নেওয়া হলো যেন তাকে মাগরিব (পশ্চিম অঞ্চল) এর সংবাদ এবং জাহাজের পণ্যসামগ্রী সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা যায়।

তাকে পর্যবেক্ষণের অধীনে প্রথমে সুলতানের নিকট, এরপর বিচারকের নিকট, এরপর দেওয়ানের কর্মকর্তাদের নিকট এবং সবশেষে সুলতানের একদল পারিষদের নিকট নিয়ে যাওয়া হলো। প্রতিটি স্থানেই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলো এবং তার বক্তব্য লিপিবদ্ধ করা হলো। অতঃপর তাকে ছেড়ে দেওয়া হলো। মুসলিমদেরকে তাদের আসবাবপত্র এবং অবশিষ্ট পাথেয় নামানোর নির্দেশ দেওয়া হলো। সমুদ্রতীরে কিছু কর্মচারী নিয়োজিত ছিল যারা তাদের দেখাশোনা করছিল এবং তাদের নামানো সমস্ত মালামাল দেওয়ানে বহন করে নিয়ে যাচ্ছিল। এরপর তাদের এক এক করে ডাকা হলো এবং প্রত্যেকের মালামাল উপস্থিত করা হলো, আর তখন দেওয়ান লোকে লোকারণ্য হয়ে গিয়েছিল। তখন ছোট-বড় সকল আসবাবপত্রের পুঙ্খানুপুঙ্খ তল্লাশি চালানো হলো এবং মালামাল সব একটির সাথে অন্যটি মিশে গেল। এমনকি তাদের কোমরবন্ধের ভেতর হাত ঢুকিয়ে অনুসন্ধান করা হলো যে সেখানে কিছু আছে কি না। এরপর তাদের থেকে কসম নেওয়া হলো যে, যা পাওয়া গেছে তা ব্যতীত তাদের কাছে আর কিছু আছে কি না।

এই প্রক্রিয়ার মধ্যে মানুষের অনেক আসবাবপত্র হারিয়ে গেল, কারণ সেখানে অসংখ্য মানুষের হাত পড়ছিল এবং ভিড় ছিল অত্যধিক। এরপর এক চরম লাঞ্ছনা ও অবমাননাকর পরিস্থিতির পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হলো। আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন এর বিনিময়ে সওয়াব বহুগুণ বাড়িয়ে দেন। এই বিষয়টি নিঃসন্দেহে সেই মহান সুলতানের অগোচরে ঘটেছে যিনি সালাহউদ্দীন নামে পরিচিত। তিনি যে ইনসাফ এবং কোমলতা অবলম্বনের জন্য সুপরিচিত, যদি তিনি এ সম্পর্কে জানতেন তবে অবশ্যই তা দূর করতেন। আল্লাহ মুমিনদের এই কষ্টকর পরিস্থিতি থেকে রক্ষা করতেন এবং অত্যন্ত সুন্দর পন্থায় যাকাত আদায় করা হতো। এই ব্যক্তির (সুলতানের) রাজ্যে আমরা এ ঘটনা ছাড়া আর কোনো মন্দ পরিস্থিতির সম্মুখীন হইনি, যা মূলত দেওয়ানের কর্মচারীদের কর্মকাণ্ডের ফলাফল ছিল।

‌‌আলেকজান্দ্রিয়ার কিছু সংবাদ ও নিদর্শনাবলীর বর্ণনা

এর মধ্যে প্রথম বিষয় হলো শহরের চমৎকার গঠনশৈলী এবং এর সুপ্রশস্ত অট্টালিকাগুলো, এমনকি আমরা এর চেয়ে প্রশস্ত আর কোনো শহর দেখিনি।
(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনে জুবায়ের - ত. দারুল হিলাল (পৃষ্ঠা: ১৪)
مسالك منه ولا أعلى مبنى ولا أعتق ولا أحفل منه، وأسواقه في نهاية من الاحتفال أيضا. ومن العجب في وصفه أن بناءه تحت الأرض كبنائه فوقها وأعتق وأمتن، لأن الماء من النيل يخترق جميع ديارها وأزقتها تحت الأرض فتتصل الآبار بعضها ببعض ويمد بعضها بعضا.

وعاينا فيها ايضا من سواري الرخام وألواحه كثرة وعلوا واتساعا وحسنا ما لا يتخيل بالوهم، حتى انك تلفي في بعض الممرات بها سواري يغص الجو بها صعودا لا يدرى ما معناه ولا لم كان أصل وضعها. وذكر لنا أنه كان عليها في القديم مبان للفلاسفة خاصة ولأهل الرئاسة في ذلك الزمان، والله أعلم، ويشبه أن يكون ذلك للرصد.

‌‌منار الاسكندرية

ومن أعظم ما شاهدناه من عجائبها المنار الذي قد وضعه الله عز وجل على يدي من سخّر لذلك آية للمتوسمين وهداية للمسافرين، لولاه ما اهتدوا في البحر الى بر الإسكندرية، يظهر على أزيد من سبعين ميلا. ومبناه في غاية العتاقة والوثاقة طولا وعرضا، يزاحم الجو سموا وارتفاعا، يقصر عنه الوصف وينحسر دونه الطرف، الخبر عنه يضيق والمشاهدة له تتسع.

ذرعنا أحد جوانبه الأربعة فألفينا فيه نيفا وخمسين باعا ويذكر ان في طوله أزيد من مئة وخمسين قامة. وأما داخله فمرأى هائل، اتساع معارج ومداخل وكثرة مساكن، حتى ان المتصرف فيها والوالج في مسالكها ربما ضلّ. وبالجملة لا يحصّلها القول، والله لا يخليه من دعوة الإسلام ويبقيه.

وفي أعلاه مسجد موصوف بالبركة يتبرك الناس بالصلاة فيه، طلعنا اليه يوم الخميس الخامس لذي الحجة المورخ وصلينا في المسجد المبارك المذكور.
এর চেয়ে উচ্চতর ভবন, প্রাচীনতর বা মহিমান্বিত কোনো পথ নেই; এর বাজারগুলোও জাঁকজমকের চূড়ান্ত পর্যায়ে। এর বর্ণনায় আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, এর মাটির নিচের নির্মাণশৈলী উপরিভাগের মতোই, বরং আরও প্রাচীন ও সুদৃঢ়। কেননা নীল নদের পানি মাটির নিচ দিয়ে এর প্রতিটি ঘর ও গলিপথ অতিক্রম করে, ফলে কূয়াগুলো একে অপরের সাথে সংযুক্ত এবং একে অপরকে পানি সরবরাহ করে।

আমরা সেখানে মার্বেল পাথরের স্তম্ভ ও ফলক দেখেছি, যা সংখ্যায় এত অধিক, উচ্চতায় এত বিশাল এবং সৌন্দর্যে এত অতুলনীয় যে তা কল্পনা করাও দুষ্কর। এমনকি কোনো কোনো গলিপথে আপনি এমন সব স্তম্ভ পাবেন যা আকাশচুম্বী উচ্চতায় গগনস্পর্শী, যার তাৎপর্য বা কেন এগুলো মূলত স্থাপন করা হয়েছিল তা জানা যায় না। আমাদের নিকট উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রাচীনকালে এগুলোর ওপর বিশেষভাবে দার্শনিকদের এবং তৎকালীন শাসনকর্তাদের জন্য অট্টালিকা ছিল—আল্লাহই ভালো জানেন—আর সম্ভবত সেগুলো পর্যবেক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হতো।

‌‌আলেকজান্দ্রিয়ার বাতিঘর (মানার)

এর বিস্ময়কর বস্তুসমূহের মধ্যে আমরা যা দেখেছি তার অন্যতম শ্রেষ্ঠ হলো সেই মানার (বাতিঘর), যা মহান আল্লাহ তাঁর জন্য নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গের মাধ্যমে সূক্ষ্মদর্শীদের জন্য নিদর্শন এবং মুসাফিরদের জন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে স্থাপন করেছেন। এটি না থাকলে সমুদ্রপথে তারা আলেকজান্দ্রিয়ার তীরের দিশা পেত না। এটি সত্তর মাইলেরও বেশি দূর থেকে দৃশ্যমান হয়। এর নির্মাণশৈলী দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে অত্যন্ত প্রাচীন ও সুদৃঢ়, যা উচ্চতায় গগনস্পর্শী। এর বর্ণনা দিতে শব্দ অপূর্ণ থেকে যায় এবং এর সম্মুখে দৃষ্টি স্তব্ধ হয়ে পড়ে; এর সম্পর্কে প্রাপ্ত সংবাদ সীমিত, কিন্তু তা প্রত্যক্ষ করার অভিজ্ঞতা অত্যন্ত ব্যাপক।

আমরা এর চারটি দিকের একটি পরিমাপ করে দেখলাম যে তা পঞ্চাশ 'বা'-এর কিছু বেশি এবং উল্লেখ করা হয় যে এর উচ্চতা একশ পঞ্চাশ 'কামা'-এরও বেশি। এর অভ্যন্তরীণ দৃশ্য অত্যন্ত ভয়াবহ; প্রশস্ত সিঁড়ি ও প্রবেশপথ এবং অসংখ্য কক্ষ রয়েছে, এমনকি এর ভেতরে চলাচলকারী বা প্রবেশকারী ব্যক্তি এর পথসমূহে সম্ভবত পথ হারিয়ে ফেলবে। সংক্ষেপে বলতে গেলে, বর্ণনা দিয়ে এটি আয়ত্ত করা সম্ভব নয়। আল্লাহ একে ইসলামের দাওয়াতশূন্য না রাখুন এবং একে অবশিষ্ট রাখুন।

এর উপরিভাগে বরকতময় হিসেবে বর্ণিত একটি মসজিদ রয়েছে, যেখানে মানুষ সালাত আদায়ের মাধ্যমে বরকত হাসিল করে। আমরা উল্লিখিত তারিখের জিলহজ মাসের পাঁচ তারিখ বৃহস্পতিবার সেখানে আরোহণ করি এবং উক্ত বরকতময় মসজিদে সালাত আদায় করি।
(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনে জুবায়ের - ত. দারুল হিলাল (পৃষ্ঠা: ১৫)
وشاهدنا من شأن مبناه عجبا لا يستوفيه وصف واصف.

‌‌مناقب الاسكندرية

ومن مناقب هذا البلد ومفاخره العائدة في الحقيقة الى سلطانه: المدارس والمحارس «1» الموضوعة فيه لأهل الطب والتعبد، يفدون من الاقطار النائية فيلقى كل واحد منهم مسكنا يأوي اليه ومدرّسا يعلمه الفن الذي يريد تعلمه واجراء يقوم به في جميع احواله. واتسع اعتناء السلطان بهؤلاء الغرباء الطارئين حتى أمر بتعيين حمّامات يستحمون فيها متى احتاجوا الى ذلك، ونصب لهم مارستانا لعلاج من مرض منهم، ووكل بهم اطباء يتفقدون احوالهم، وتحت أيديهم خدام يأمرونهم بالنظر في مصالحهم التي يشيرون بها من علاج وغذاء. وقد رتب ايضا فيه اقوام برسم الزيارة للمرضى الذين يتنزهون عن الوصول للمارستان المذكور من الغرباء خاصة، وينهون الى الاطباء أحوالهم ليتكفلوا بمعالجتهم.

ومن اشرف هذه المقاصد أيضا ان السلطان عين لأبناء السبيل من المغاربة خبزتين لكل انسان في كل يوم بالغا ما بلغوا، ونصب لتفريق ذلك كل يوم انسانا امينا من قبله. فقد ينتهي في اليوم الى ألفي خبزة او ازيد بحسب القلة والكثرة، وهكذا دائما، ولهذا كله اوقاف من قبله حاشا ما عيّنه من زكاة العين لذلك. وأكد على المتولين لذلك متى نقصهم من الوظائف المرسومة شيء أن يرجعوا الى صلب ماله. وأما أهل بلده ففي نهاية من الترفيه واتساع الأحوال لا يلزمهم وظيف البتة. ولا فائد للسلطان بهذا البلد سوى الأوقاف المحبسة المعينة من قبله لهذه الوجوه وجزية اليهود والنصارى وما يطرأ من زكاة العين خاصة، وليس له منها سوى ثلاثة اثمانها والخمسة الأثمان مضافة للوجوه المذكورة.
আর আমরা এর নির্মাণের ক্ষেত্রে এমন এক বিস্ময় প্রত্যক্ষ করেছি, যা কোনো বর্ণনাকারীর বর্ণনা দ্বারা পূর্ণরূপে ব্যক্ত করা সম্ভব নয়।

‌‌আলেকজান্দ্রিয়ার মাহাত্ম্যসমূহ

এই শহরের মাহাত্ম্য ও গৌরবসমূহের অন্তর্ভুক্ত—যা প্রকৃতপক্ষে এর সুলতানের দিকেই প্রত্যাবর্তন করে—হলো জ্ঞানান্বেষী ও ইবাদতগুজারদের জন্য সেখানে প্রতিষ্ঠিত মাদরাসা ও রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্রসমূহ (রিবাত)। তারা দূরদূরান্ত থেকে এখানে আগমন করে এবং তাদের প্রত্যেকেই সেখানে বসবাসের জন্য একটি আবাসস্থল, যে শাস্ত্র সে শিখতে চায় তা শেখানোর জন্য একজন শিক্ষক এবং তার সার্বিক অবস্থার জন্য পর্যাপ্ত বৃত্তির ব্যবস্থা পায়। এই বহিরাগত মুসাফিরদের প্রতি সুলতানের যত্ন ও মনোযোগ এতটাই বিস্তৃত ছিল যে, তিনি তাদের প্রয়োজনে গোসল করার জন্য নির্দিষ্ট গোসলখানা (হাম্মাম) নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে যারা অসুস্থ হয়, তাদের চিকিৎসার জন্য তিনি একটি হাসপাতাল (মারিস্তান) স্থাপন করেছেন এবং তাদের অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য চিকিৎসক নিযুক্ত করেছেন। চিকিৎসকদের অধীনে রয়েছে সেবকবৃন্দ, যাদেরকে চিকিৎসকদের নির্দেশানুসারে রোগীদের চিকিৎসা ও খাদ্যের ন্যায় কল্যাণকর বিষয়গুলো তদারকি করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সেই সকল মুসাফির রোগী, যারা উল্লেখিত হাসপাতালে যেতে দ্বিধাবোধ করেন, তাদের অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য তিনি কিছু লোক নিযুক্ত করেছেন; তারা সেই রোগীদের অবস্থা চিকিৎসকদের অবহিত করেন, যাতে চিকিৎসকরা তাদের চিকিৎসার দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেন।

এই মহৎ উদ্দেশ্যসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো—সুলতান মাগরিবের (মরক্কো অঞ্চল) মুসাফিরদের জন্য সংখ্যায় তারা যতই হোক না কেন, জনপ্রতি প্রতিদিন দুটি করে রুটি বরাদ্দ করেছেন এবং প্রতিদিন তা বিতরণের জন্য তিনি নিজের পক্ষ থেকে একজন বিশ্বস্ত ব্যক্তি নিযুক্ত করেছেন। কখনো কখনো প্রতিদিন রুটির সংখ্যা লোকসংখ্যার কমবেশি অনুযায়ী দুই হাজার বা তারও বেশি হয় এবং সর্বদা এভাবেই চলে। এসকল কাজের জন্য সুলতানের পক্ষ থেকে নির্ধারিত ওয়াকফ সম্পত্তি রয়েছে, এছাড়া তিনি এর জন্য সম্পদের যাকাত (নগদ অর্থ) থেকেও অংশ নির্দিষ্ট করেছেন। তিনি এসকল বিষয়ের দায়িত্বশীলদের এই মর্মে তাকিদ দিয়ে রেখেছেন যে, নির্ধারিত বরাদ্দ থেকে কোনো কিছুর অভাব দেখা দিলে যেন তারা তাঁর নিজস্ব মূল সম্পদ থেকে তা গ্রহণ করেন। আর সেই শহরের অধিবাসীদের কথা বলতে গেলে, তারা চরম স্বাচ্ছন্দ্য ও সচ্ছলতার মধ্যে রয়েছে; তাদের ওপর কোনো প্রকারের কর বা খাজনা ধার্য নেই। এই শহর থেকে সুলতানের কোনো ব্যক্তিগত আয় নেই; কেবল এই সকল খাতের জন্য তাঁর নির্ধারিত ওয়াকফকৃত সম্পদ, ইহুদি ও খ্রিস্টানদের জিজিয়া এবং সম্পদের যাকাত ব্যতীত। এমনকি যাকাতের অর্থের মাত্র আট ভাগের তিন ভাগ তিনি গ্রহণ করেন, আর বাকি আট ভাগের পাঁচ ভাগ উল্লেখিত জনকল্যাণমূলক কাজেই ব্যয় করা হয়।
(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনে জুবায়ের - ত. দারুল হিলাল (পৃষ্ঠা: ১৬)
وهذا السلطان الذي سن هذه السنن المحمودة ورسم هذه الرسوم الكريمة على عدمها في المدة البعيدة هو صلاح الدين أبو المظفر يوسف بن أيوب، وصل الله صلاحه وتوفيقه.

ومن أعجب ما اتفق للغرباء أن بعض من يريد التقرب بالنصائح الى السلطان ذكر ان أكثر هؤلاء يأخذون جراية الخبز ولا حاجة لهم بها رغبة في المعيشة لأنهم لا يصلون الا بزاد يقلهم. فكاد يؤثر سعي هذا المتنصح. فلما كان في احد الأيام خرج السلطان المذكور على سبيل التطلع خارج بلده، فتلقى منهم جماعة قد لفظتهم الصحراء المتصلة بطرابلس، وهم قد ذهبت رسومهم عطشا وجوعا.

فسألهم عن وجهتهم واستطلع ما لديهم. فأعلموه أنهم قاصدون بيت الله الحرام وانهم ركبوا البر وكابدوا مشقة صحرائية. فقال: لو وصل هؤلاء وهم قد اعتسفوا هذه المجاهل التي اعتسفوها وكابدوا من الشقاء ما كابدوه وبيد كل واحد منهم زنته ذهبا وفضة لوجب ان يشاركوا ولا يقطعوا عن العادة التي اجريناها لهم، فالعجب ممن يسعى على مثل هؤلاء ويروم التقرب الينا بالسعي في قطع ما أوجبناه لله عز وجل خالصا لوجهه.

ومآثر هذا السلطان ومقاصده في العدل ومقاماته في الذّب عن حوزة الدين لا تحصى كثرة.

ومن الغريب ايضا في أحوال هذا البلد تصرّف الناس فيه بالليل كتصرفهم بالنهار في جميع أحوالهم. وهو أكثر بلاد الله مساجد، حتى إن تقدير الناس لها يطفّق فمنهم المكثّر والمقلّل، ينتهي في تقديره الى اثني عشر ألف مسجد، والمقلل ما دون ذلك لا ينضبط، فمنهم من يقول ثمانية آلاف ومنهم من يقول غير ذلك. وبالجملة فهي كثيرة جدا تكون منها الأربعة والخمسة في موضوع وربما كانت مركبة «1» ، وكلها بأئمة مرتبين من قبل السلطان، فمنهم من له الخمسة دنانير مصرية في الشهر، وهي عشرة مؤمنية، ومنهم من له فوق ذلك
এবং এই সেই সুলতান যিনি এই প্রশংসনীয় সুন্নাতসমূহ প্রবর্তন করেছেন এবং এই মহান রীতিনীতিসমূহ অঙ্কন করেছেন যা দীর্ঘকাল ধরে অনুপস্থিত ছিল, তিনি হলেন সালাহুদ্দিন আবুল মুজাফফর ইউসুফ বিন আইয়ুব, আল্লাহ তাঁর নেক আমল এবং তাওফিককে অব্যাহত রাখুন।

পরদেশীদের ক্ষেত্রে ঘটা সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয়গুলোর একটি হলো এই যে, কিছু লোক যারা উপদেশের মাধ্যমে সুলতানের নৈকট্য লাভ করতে চেয়েছিল, তারা উল্লেখ করেছিল যে, এদের অধিকাংশই রুটির বরাদ্দ গ্রহণ করে অথচ জীবিকার চাহিদার কারণে তাদের এর প্রয়োজন নেই, কারণ তারা কেবল সেই পাথেয় নিয়েই পৌঁছায় যা তাদের বহন করতে পারে। এই তথাকথিত হিতৈষীর প্রচেষ্টা প্রায় প্রভাব ফেলেছিল। অতঃপর একদিন উল্লেখিত সুলতান পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে তাঁর শহরের বাইরে বের হলেন এবং এমন এক দলের দেখা পেলেন যাদের ত্রিপোলি সংলগ্ন মরুভূমি বের করে দিয়েছে, আর তৃষ্ণা ও ক্ষুধায় তাদের শারীরিক অবয়ব বিলীন হয়ে গিয়েছিল।

তিনি তাদের গন্তব্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন এবং তাদের অবস্থা জানতে চাইলেন। তারা তাকে জানালো যে তারা আল্লাহর পবিত্র ঘরের (বাইতুল্লাহ হারাম) উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছে এবং তারা স্থলপথ পাড়ি দিয়েছে ও মরুভূমির কষ্ট সহ্য করেছে। তখন তিনি বললেন: যদি এরা এই জনমানবহীন প্রান্তরগুলো পাড়ি দিয়ে এবং এই পরিমাণ কষ্ট সহ্য করে পৌঁছাত আর তাদের প্রত্যেকের হাতে তার ওজনের সমান স্বর্ণ ও রৌপ্য থাকত, তবুও তাদের অংশীদার করা এবং আমাদের প্রবর্তিত প্রথা থেকে তাদের বঞ্চিত না করা আবশ্যক হতো। সুতরাং সেই ব্যক্তির প্রতি বিস্ময় জাগে যে এই ধরণের লোকদের বিরুদ্ধে তৎপরতা চালায় এবং কেবলমাত্র মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে আমরা যা ওয়াজিব করেছি তা বন্ধ করার চেষ্টার মাধ্যমে আমাদের নৈকট্য লাভের আকাঙ্ক্ষা করে।

এই সুলতানের কীর্তিগাথা, ইনসাফ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তাঁর উদ্দেশ্যসমূহ এবং দ্বীনের সীমানা রক্ষার ক্ষেত্রে তাঁর অবদানসমূহ সংখ্যার আধিক্যে গণনা করা সম্ভব নয়।

এই শহরের অবস্থার মধ্যে আরও একটি অদ্ভুত বিষয় হলো, দিনের বেলার মতো রাতের বেলাতেও সকল অবস্থায় মানুষের আনাগোনা থাকে। এটি আল্লাহর দেশগুলোর মধ্যে মসজিদের দিক থেকে সর্বাধিক সমৃদ্ধ, এমনকি মসজিদের সংখ্যা নিয়ে মানুষের গণনায়ও তারতম্য দেখা দেয়; কেউ সংখ্যার আধিক্য বর্ণনা করেন আবার কেউ কম। কারও কারও গণনায় এর সংখ্যা বারো হাজার মসজিদে গিয়ে পৌঁছে, আর যারা কম বলেন তাদের সংখ্যা সুনির্দিষ্ট নয়; তাদের মধ্যে কেউ বলেন আট হাজার, আবার কেউ অন্য কিছু বলেন। মোটের ওপর, এগুলো সংখ্যায় অনেক বেশি, এমনকি এক জায়গাতেই চার থেকে পাঁচটি মসজিদ দেখা যায় এবং কখনো সেগুলো একটির ওপর আরেকটি নির্মিত থাকে। আর এই সব মসজিদেই সুলতান কর্তৃক নির্ধারিত ইমাম রয়েছেন; তাদের মধ্যে কারো মাসিক বেতন পাঁচ মিশরীয় দিনার যা দশ মুমিনিয়া দিরহামের সমান, আবার কেউ কেউ তার চেয়েও বেশি পেয়ে থাকেন।
(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনে জুবায়ের - ত. দারুল হিলাল (পৃষ্ঠা: ১৭)
ومنهم من له دونه. وهذه منقبة كبيرة من مناقب السلطان. إلى غير ذلك مما يطول ذكره من المآثر التي يضيق عنها الحصر.

ثم كان الانفصال عنها على بركة الله تعالى وحسن عونه صبيحة يوم الأحد الثامن لذي الحجة المذكور، وهو الثالث لأبريل، فكانت مرحلتنا منه الى موضع يعرف بدمنهور، وهو بلد مسور في بسيط من الأرض أفيح، متصل من الإسكندرية اليه الى مصر. والبسيط كله محرّث يعمه النيل بفيضه، والقرى فيه يمينا وشمالا لا تحصى كثرة.

ثم في اليوم الثاني وهو يوم الاثنين، أجزنا النيل بموضع يعرف بصا في مركب تعدية. واتصل سيرنا الى موضع يعرف ببرمة فكان مبيتنا بها، وهي قرية كبيرة فيها السوق وجميع المرافق. ثم بكرنا منها يوم الثلاثاء، وهو يوم عيد النحر من سنة ثمان وسبعين وخمس مئة المؤرخة، فشاهدنا الصلاة بموضع يعرف بطندتة «1» ، وهي من القرى الفسيحة الآهلة، فأبصرنا بها مجمعا حفيلا، وخطب الخطيب بخطبة بليغة جامعة. واتصل سيرنا الى موضع يعرف بسبئك وكان مبيتنا بها.

واجتزنا في ذلك اليوم على موضع حسن يعرف بمليج، والعمارة متصلة والقرى منتظمة في طريقنا كلها. ثم بكرنا منها يوم الأربعاء بعده. فمن أحسن بلد مررنا عليه موضع يعرف بقليوب على ستة أميال من القاهرة فيه الأسواق الجميلة ومسجد جامع كبير حفيل البنيان، ثم بعده المنية، وهو موضع أيضا حفيل، ثم منها الى القاهرة، وهي مدينة السلطان الحفيلة المتسعة، ثم منها الى مصر المحروسة. وكان دخولنا فيها إثر صلاة العصر من يوم الأربعاء، وهو الحادي عشر من ذي الحجة المذكور والسادس من أبريل، عرّفنا الله فيها الخير والخبرة وتمّم علينا صنعه الجميل بالوصول الى الغرض المأمول ولا أخلانا من التيسير والتسهيل بعزّته وقدرته، انه على ما يشاء قدير.
তাদের মধ্যে কেউ কেউ ছিলেন এর নিম্নস্তরের। এটি সুলতানের অসংখ্য গুণাবলির মধ্যে একটি বড় গুণ। এছাড়া আরও অনেক কীর্তি রয়েছে যা বর্ণনা করতে গেলে দীর্ঘ হবে এবং গণনা করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

অতঃপর মহান আল্লাহর বরকত এবং তাঁর উত্তম সাহায্যের ওপর ভরসা করে উক্ত জিলহজ মাসের অষ্টম তারিখ, রবিবার সকালে সেখান থেকে বিদায় গ্রহণ করা হলো, যা ছিল এপ্রিলের তিন তারিখ। আমাদের যাত্রাপথ ছিল 'দামানহুর' নামক একটি স্থান পর্যন্ত। এটি একটি প্রাচীরবেষ্টিত জনপদ, যা এক বিস্তীর্ণ সমতল ভূমিতে অবস্থিত। এই সমতল ভূমিটি আলেকজান্দ্রিয়া থেকে শুরু করে কায়রো (মিশর) পর্যন্ত বিস্তৃত। সমগ্র সমতল ভূমিটি আবাদযোগ্য এবং নীল নদের প্লাবন দ্বারা সিক্ত। এর ডানে ও বামে অসংখ্য গ্রাম রয়েছে যা গণনা করা যায় না।

অতঃপর দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ সোমবার, আমরা 'সা' নামক স্থানে একটি খেয়া নৌকায় করে নীল নদ পার হলাম। আমাদের যাত্রা 'বারমা' নামক স্থান পর্যন্ত অব্যাহত থাকল এবং সেখানেই আমরা রাত কাটালাম। এটি একটি বড় গ্রাম যেখানে বাজার এবং সমস্ত নাগরিক সুবিধা বিদ্যমান। এরপর মঙ্গলবার ভোরে আমরা সেখান থেকে যাত্রা শুরু করলাম। দিনটি ছিল ঐতিহাসিক পাঁচশত আটাত্তর হিজরি সালের কোরবানির ঈদের দিন। আমরা 'তানদাতা' নামক স্থানে ঈদের সালাত প্রত্যক্ষ করলাম। এটি একটি প্রশস্ত এবং জনবহুল গ্রাম। সেখানে আমরা এক বিশাল সমাবেশ দেখলাম এবং খতিব অত্যন্ত প্রাঞ্জল ও সারগর্ভ খুতবা প্রদান করলেন। এরপর আমাদের যাত্রা 'সাবেইক' নামক স্থান পর্যন্ত অব্যাহত থাকল এবং সেখানেই আমরা রাত কাটালাম।

সেই দিন আমরা 'মালিজ' নামক একটি সুন্দর স্থানের ওপর দিয়ে অতিক্রম করলাম। আমাদের পুরো পথে নিরবচ্ছিন্ন জনবসতি ও সুশৃঙ্খল গ্রামগুলো বিস্তৃত ছিল। এরপর পরবর্তী বুধবার ভোরে আমরা সেখান থেকে রওনা হলাম। আমাদের অতিক্রান্ত সুন্দর শহরগুলোর মধ্যে একটি ছিল 'কালিউব' নামক স্থান, যা কায়রো থেকে ছয় মাইল দূরে অবস্থিত। সেখানে চমৎকার বাজার এবং মজবুত স্থাপত্যের একটি বড় জামে মসজিদ রয়েছে। এরপর ছিল 'আল-মানিয়া', যা একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। অতঃপর সেখান থেকে কায়রোতে পৌঁছালাম, যা সুলতানের এক বিশাল ও প্রশস্ত শহর। এরপর সেখান থেকে সুরক্ষিত মিশরে পৌঁছালাম। আমাদের সেখানে প্রবেশ ছিল বুধবার আছরের সালাতের পর, যা ছিল উক্ত জিলহজ মাসের এগারো তারিখ এবং এপ্রিলের ছয় তারিখ। আল্লাহ আমাদের সেখানে কল্যাণ ও অভিজ্ঞতা দান করুন এবং তাঁর অনুগ্রহের মাধ্যমে আমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দিয়ে তাঁর সুন্দর দান পূর্ণ করুন। তিনি যেন তাঁর মর্যাদা ও ক্ষমতার মাধ্যমে আমাদের সহজতা ও সুযোগ থেকে বঞ্চিত না করেন। নিশ্চয়ই তিনি যা চান তা করতে সক্ষম।
(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনে জুবায়ের - ত. দারুল হিলাল (পৃষ্ঠা: ১৮)
وفي يوم الأربعاء المذكور أجزنا القسم الثاني من النيل في مركب تعدية أيضا بموضع يعرف بدجوة، وذلك وقت الغداة الصغرى، وكان نزولنا في مصر بفندق أبي الثناء في زقاق القناديل بمقربة من جامع عمرو بن العاص، رضي الله عنه، في حجرة كبيرة على باب الفندق المذكور.

‌‌ذكر مصر والقاهرة

فأول ما نبدأ بذكره منها الآثار والمشاهد المباركة التي ببركتها يمسكها الله عز وجل:

فمن ذلك المشهد العظيم الشأن الذي بمدينة القاهرة حيث رأس الحسين بن علي بن أبي طالب، رضي الله عنهما، وهو في تابوت فضة مدفون تحت الأرض قد بني عليه بنيان حفيل يقصر الوصف عنه ولا يحيط الإدراك به، مجلل بأنواع الديباج، محفوف بأمثال العمد الكبار شمعا أبيض ومنه ما هو دون ذلك، قد وضع أكثرها في أتوار «1» فضة خالصة ومنها مذهبة، وعلقت عليه قناديل فضة، وحفّ أعلاه كله بأمثال التفافيح ذهبا في مصنع شبيه الروضة يقيد الأبصار حسنا وجمالا، فيه من أنواع الرخام المجزّع الغريب الصنعة البديع الترصيع ما لا يتخيله المتخيلون ولا يلحق أدنى وصفه الواصفون.

والمدخل الى هذه الروضة على مسجد على مثالها في التأنق والغرابة، حيطانه كلها رخام على الصفة المذكورة، وعن يمين الروضة المذكورة وشمالها بيتان من كليهما المدخل اليها وهما أيضا على تلك الصفة بعينها. والأستار البديعة الصنعة من الديباج معلّقة على الجميع.

ومن اعجب ما شاهدناه في دخولنا الى هذا المسجد المبارك حجر موضوع في الجدار الذي يستقبله الداخل شديد السواد والبصيص، يصف الأشخاص كلها
উল্লিখিত বুধবার দিনে আমরা একটি পারাপারের নৌকায় নীল নদের দ্বিতীয় অংশটিও অতিক্রম করলাম দজওয়াহ নামক স্থানে, সেটি ছিল পূর্বাহ্ণের শুরুর দিকে। মিশরে আমাদের অবস্থান ছিল কানাদিল গলিতে আবু সানা-র সরাইখানায়, যা আমর ইবনুল আস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) জামে মসজিদের নিকটবর্তী; উক্ত সরাইখানার দরজার পাশে একটি বড় কক্ষে আমাদের আবাসন ছিল।

‌‌মিসর ও কায়রোর বিবরণ

এ সম্পর্কে আমরা সর্বপ্রথম যা উল্লেখ করব তা হলো প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন এবং বরকতময় পুণ্যস্থানসমূহ, যেগুলোর বরকতে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা একে রক্ষা করে থাকেন:

তার মধ্যে রয়েছে কায়রো শহরের অত্যন্ত উচ্চমর্যাদাপূর্ণ সেই মাকাম (পুণ্যস্থান), যেখানে হুসাইন ইবনে আলী ইবনে আবু তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-র মস্তক রয়েছে। এটি একটি রুপার সিন্দুকে মাটির নিচে সমাহিত। এর ওপর এক বিশাল ও জাঁকজমকপূর্ণ অট্টালিকা নির্মিত হয়েছে যার বর্ণনা দেওয়া দুঃসাধ্য এবং মানুষের উপলব্ধি এর নাগাল পায় না। এটি বিভিন্ন ধরনের রেশমি কাপড়ে আচ্ছাদিত। একে ঘিরে রয়েছে সাদা মোমবাতির বড় বড় স্তম্ভের মতো অংশ, যার মধ্যে কিছু ছোটও রয়েছে। সেগুলোর অধিকাংশই খাঁটি রুপার এবং কিছু স্বর্ণখচিত পাত্রে রাখা হয়েছে। সেখানে রুপার প্রদীপ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এর উপরিভাগ স্বর্ণের আপেলের মতো কারুকার্য দিয়ে ঘেরা, যা একটি উদ্যানের সদৃশ শৈল্পিক কাঠামোয় নির্মিত, যা তার সৌন্দর্য ও রূপ দিয়ে দৃষ্টিকে বিমোহিত করে। এতে বিভিন্ন প্রকারের বিচিত্র কারুকার্যমণ্ডিত মার্বেল পাথর ব্যবহার করা হয়েছে এবং এর শৈল্পিক বিন্যাস এতই চমৎকার যে কল্পনাপ্রবণ ব্যক্তিরা তা কল্পনাও করতে পারবে না এবং বর্ণনাকারীরা তার সামান্য বর্ণনাও দিতে সক্ষম হবে না।

এই রওজায় (মাজার) প্রবেশের পথটি একটি মসজিদের মধ্য দিয়ে, যা পারিপাট্য ও চমৎকারিত্বে এরই মতো। এর দেওয়ালগুলো উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন মার্বেল পাথর দিয়ে তৈরি। উক্ত রওজার ডানে ও বামে দুটি কক্ষ রয়েছে, যে দুটির মাধ্যমেই সেখানে প্রবেশ করা যায় এবং কক্ষ দুটিও ঠিক একই বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। সবকিছুর ওপর রেশমি সুতার তৈরি অপূর্ব কারুকার্যময় পর্দা ঝুলানো রয়েছে।

এই বরকতময় মসজিদে প্রবেশের সময় আমরা সবচেয়ে বিস্ময়কর যা দেখেছি তা হলো, প্রবেশকারীর সম্মুখের দেওয়ালে স্থাপিত একটি পাথর; যা অত্যন্ত কালো এবং চকচকে, যা সকল ব্যক্তির অবয়ব স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত করে।
(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনে জুবায়ের - ত. দারুল হিলাল (পৃষ্ঠা: ১৯)
كأنه المرآة الهندية الحديثة الصقل. وشاهدنا من استلام الناس للقبر المبارك، واحداقهم به وانكبابهم عليه وتمسحهم بالكسوة التي عليه وطوافهم حوله مزدحمين باكين متوسلين الى الله سبحانه وتعالى ببركة التربة المقدسة، ومتضرّعين ما يذيب الأكباد ويصدع الجماد. والأمر فيه أعظم، ومرأى الحال أهول، نفعنا الله ببركة ذلك المشهد الكريم. وانما وقع الإلماع بنبذة من صفته مستدلا على ما وراء ذلك اذ لا ينبغي لعاقل أن يتصدى لوصفه لأنه يقف موقف التقصير والعجز. وبالجملة فما أظن في الوجود كله مصنعا أحفل منه، ولا مرأى من البناء أعجب ولا ابدع، قدّس الله العضو الكريم الذي فيه بمنّه وكرمه.

وفي ليلة اليوم المذكور بتنا بالجبانة المعروفة بالقرافة، وهي أيضا إحدى عجائب الدنيا لما تحتوي عليه من مشاهد الأنبياء صلوات الله عليهم، وأهل البيت رضوان الله عليهم، والصحابة والتابعين والعلماء والزّهاد والأولياء ذوي الكرامات الشهيرة والأنباء الغريبة. وإنما ذكرنا منها ما أمكنتنا مشاهدته.

فمنها قبر ابن النبي صالح، وقبر روبيل بن يعقوب بن إسحاق بن إبراهيم خليل الرحمن صلوات الله عليهم أجمعين، وقبر آسية امرأة فرعون رضي الله عنها، ومشاهد اهل البيت رضي الله عنهم أجمعين، مشاهد أربعة عشر من الرجال، وخمس من النساء. وعلى كل واحد منها بناء حفل. فهي بأسرها روضات بديعة الإتقان عجيبة البنيان، قد وكل بها قومة يسكنون فيها ويحفظونها. ومنظرها منظر عجيب، والجرايات متّصلة لقوامها في كل شهر.

‌‌ذكر مشاهد أهل البيت رضي الله عنهم

مشهد علي بن الحسين بن علي رضي الله عنه، ومشهدان لإبني جعفر بن محمد الصادق، رضي الله عنهم، ومشهد القاسم بن محمد بن جعفر الصادق بن محمد بن علي زين العابدين المذكور، رضي الله عنهم، ومشهدان لابنيه الحسن والحسين رضي الله عنهما، ومشهد ابنه عند الله بن القاسم، رضي الله عنه، ومشهد ابنه يحيى بن
এটি যেন সদ্য পালিশ করা ভারতীয় দর্পণ। আমরা দেখলাম মানুষ এই বরকতময় কবরের রুকন স্পর্শ করছে, একে ঘিরে ধরছে, এর ওপর আছড়ে পড়ছে, এর গিলাফে শরীর ঘষছে এবং ক্রন্দনরত অবস্থায় ভিড় করে এর চারপাশে তাওয়াফ করছে। তারা পবিত্র মাটির বরকতের মাধ্যমে মহান আল্লাহর দরবারে উসিলা তালাশ করছে এবং এমনভাবে রোনাজারি করছে যা কলিজাকে গলিয়ে দেয় এবং জড়বস্তুকেও বিদীর্ণ করে। এই স্থানের মাহাত্ম্য আরও অধিক এবং দৃশ্যটি আরও বেশি প্রভাববিস্তারকারী; আল্লাহ যেন এই সম্মানিত মাশহাদের বরকতে আমাদের উপকৃত করেন। আমি কেবল এর গুণাবলির সামান্য অংশ উল্লেখ করেছি যাতে এর অন্তরালে থাকা মাহাত্ম্যের ইঙ্গিত পাওয়া যায়; কেননা কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তির পক্ষে এর পূর্ণ বর্ণনা দেওয়ার চেষ্টা করা সমীচীন নয়, কারণ সে ক্ষেত্রে সে কেবল অক্ষমতা ও অসম্পূর্ণতাই প্রকাশ করতে পারবে। মোদ্দাকথা হলো, সমগ্র সৃষ্টিজগতে এর চেয়ে মহিমান্বিত কোনো স্থাপনা আছে বলে আমি মনে করি না, আর এর চেয়ে বিস্ময়কর ও শৈল্পিক কোনো নির্মাণশৈলীও দেখিনি। আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহ ও দয়ায় এতে বিদ্যমান সেই সম্মানিত অঙ্গটিকে (দেহাবশেষকে) পবিত্র রাখুন।

উল্লিখিত দিনের রাতে আমরা আল-কারাফা নামে পরিচিত গোরস্থানে রাত কাটালাম। এটিও পৃথিবীর অন্যতম আশ্চর্যের বিষয়, কারণ এখানে নবীগণের (তাঁদের ওপর আল্লাহর সালাত বর্ষিত হোক), আহলে বাইত (তাঁদের ওপর আল্লাহর সন্তুষ্টি বর্ষিত হোক), সাহাবী, তাবেয়ী, আলিম, যাহিদ এবং প্রখ্যাত কারামত ও অদ্ভুত সংবাদের অধিকারী আউলিয়াদের মাশহাদ বা স্মৃতিচিহ্ন রয়েছে। আমরা কেবল সেগুলোর কথাই উল্লেখ করেছি যা দেখার সুযোগ আমাদের হয়েছে।

এগুলোর মধ্যে রয়েছে নবী সালিহ (আ.)-এর পুত্রের কবর, খলিলুর রহমান ইব্রাহিম (আ.)-এর প্রপৌত্র, ইসহাক (আ.)-এর পৌত্র ও ইয়াকুব (আ.)-এর পুত্র রুবিল-এর কবর, ফেরাউনের স্ত্রী আছিয়ার (রা.) কবর এবং আহলে বাইতের (রা.) মাশহাদসমূহ—যাঁদের মধ্যে চৌদ্দজন পুরুষ এবং পাঁচজন মহিলা রয়েছেন। প্রতিটি কবরের ওপরই জাঁকজমকপূর্ণ স্থাপনা রয়েছে। এগুলো সবই অত্যন্ত সুনিপুণ ও বিস্ময়কর নির্মাণশৈলীর মনোরম বাগানস্বরূপ। এগুলোর দেখাশোনার জন্য একদল খাদেম নিযুক্ত করা হয়েছে যারা সেখানে বসবাস করে এবং এগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করে। এর দৃশ্য অত্যন্ত চমৎকার এবং খাদেমদের জন্য প্রতি মাসে নিয়মিত ভাতার ব্যবস্থা রয়েছে।

‌‌আহলে বাইতের (রা.) মাশহাদসমূহের বর্ণনা

আলী বিন আল-হুসাইন বিন আলী (রা.)-এর মাশহাদ, জাফর বিন মুহাম্মদ আস-সাদিক (রা.)-এর দুই পুত্রের জন্য দুটি মাশহাদ, উল্লিখিত আলী জয়নুল আবেদিন বিন মুহাম্মদ বিন জাফর আস-সাদিক-এর বংশধর আল-কাসিম বিন মুহাম্মদ বিন জাফর আস-সাদিকের মাশহাদ, তাঁর দুই পুত্র হাসান ও হুসাইনের (রা.) জন্য দুটি মাশহাদ, তাঁর পুত্র আবদুল্লাহ বিন আল-কাসিম (রা.)-এর মাশহাদ এবং তাঁর পুত্র ইয়াহইয়া বিন...
(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনে জুবায়ের - ত. দারুল হিলাল (পৃষ্ঠা: ২০)
القاسم، ومشهد علي بن عبد الله بن القاسم رضي الله عنهم، ومشهد اخيه عيسى بن عبد الله، رضي الله عنهما، ومشهد يحيى بن الحسن بن زيد بن الحسن، رضي الله عنهم، ومشهد محمد بن عبد الله بن محمد الباقر بن علي زين العابدين بن الحسين بن علي، رضي الله عنهم، ومشهد جعفر بن محمد من ذرية علي بن الحسن، رضي الله عنهم، وذكر لنا أنه كان ربيب الإمام مالك، رضي الله عنه.

‌‌مشاهد الشريفات رضي الله عنهن

مشهد السيدة أم كلثوم ابنة القاسم بن محمد بن جعفر، رضي الله عنهم، ومشهد السيدة زينب ابنة يحيى بن زيد بن علي بن الحسين، رضي الله عنهم، ومشهد أم كلثوم ابنة محمد بن جعفر الصادق، رضي الله عنهم، ومشهد السيدة أم عبد الله بن القاسم بن محمد، رضي الله عنهم.

وهذا ذكر ما حصّله العيان من هذه المشاهد العلوية المكرمة وهي أكثر من ذلك. وأخبرنا أن في جملتها مشهدا مباركا لمريم ابنة علي بن أبي طالب، رضي الله عنه. وهو مشهور لكن لم نعاينه. وأسماء أصحاب هذه المشاهد المباركة انما تلقيناها من التواريخ الثابتة عليها مع تواتر الأخبار بصحة ذلك، والله أعلم بها.

وعلى كل واحد منها بناء حفيل، فهي بأسرها روضات بديعة الإتقان عجيبة البنيان، قد وكل بها قومة يسكنون فيها ويحفظونها. ومنظرها منظر عجيب.

والجرايات متصلة لقوّامها في كل شهر.

‌‌ذكر مشاهد بعض أصحاب النبي (ص)

بالقرافة المذكورة ومشاهد التابعين والأئمة والعلماء والزهاد والأولياء المشتهرين بالكرامات رضي الله عنهم أجمعين.

والمقيّد يبرأ من القطع بصحة ذلك وانما رسم من أسمائهم ما وجده مرسوما في تواريخها، وبالجملة فالصحة غالبة لا يشك فيها، ان شاء الله عز
কাসিম, এবং আলী ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনুল কাসিমের মাশহাদ (সমাধি-সৌধ), আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন, এবং তাঁর ভাই ঈসা ইবনে আব্দুল্লাহর মাশহাদ, আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হোন, এবং ইয়াহইয়া ইবনুল হাসান ইবনে যায়িদ ইবনুল হাসানের মাশহাদ, আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন, এবং মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ আল-বাকির ইবনে আলী যায়নুল আবিদীন ইবনুল হুসাইন ইবনে আলীর মাশহাদ, আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন, এবং আলী ইবনুল হাসানের বংশধর জাফর ইবনে মুহাম্মাদের মাশহাদ, আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন; আর আমাদের নিকট উল্লেখ করা হয়েছে যে তিনি ইমাম মালিকের (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) প্রতিপালিত সন্তান ছিলেন।

‌‌শরিফাদের (সম্মানিত নারীগণ) মাশহাদসমূহ, আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন

সায়্যিদা উম্মু কুলসুম বিনতে কাসিম ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে জাফরের মাশহাদ, আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন, এবং সায়্যিদা যায়নব বিনতে ইয়াহইয়া ইবনে যায়িদ ইবনে আলী ইবনুল হুসাইনের মাশহাদ, আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন, এবং মুহাম্মাদ ইবনে জাফর আস-সাদিকের কন্যা উম্মু কুলসুমের মাশহাদ, আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন, এবং সায়্যিদা উম্মু আব্দুল্লাহ ইবনুল কাসিম ইবনে মুহাম্মাদের মাশহাদ, আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন।

আর এটি হলো সেই সমস্ত সম্মানিত আলভী মাশহাদসমূহের বিবরণ যা চাক্ষুষ প্রত্যক্ষ করা হয়েছে, তবে এগুলোর সংখ্যা এর চেয়েও বেশি। আমাদের জানানো হয়েছে যে, এর অন্তর্ভুক্ত আলী ইবনে আবি তালিবের (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) কন্যা মারইয়ামের একটি বরকতময় মাশহাদ রয়েছে। সেটি প্রসিদ্ধ হলেও আমরা তা সচক্ষে দেখিনি। এই বরকতময় মাশহাদসমূহের স্বত্বাধিকারীদের নাম আমরা কেবল সেখানে বিদ্যমান সুপ্রতিষ্ঠিত ইতিহাস লিপি থেকে গ্রহণ করেছি এবং এর সত্যতা নিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বর্ণনাও রয়েছে; আর আল্লাহই এ সম্পর্কে সর্বাধিক পরিজ্ঞাত।

এগুলোর প্রতিটির ওপর সুনিপুণ অট্টালিকা রয়েছে; এগুলো সামগ্রিকভাবে অনন্য নিপুণতায় তৈরি এবং বিস্ময়কর নির্মাণশৈলীর একেকটি বাগান। এগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য খাদেম নিয়োগ করা হয়েছে যারা সেখানে বসবাস করেন এবং সেগুলো পাহারা দেন। আর এগুলোর দৃশ্য অত্যন্ত চমৎকার।

আর এর খাদেমদের জন্য মাসিক ভাতা নিরবচ্ছিন্নভাবে প্রদান করা হয়।

‌‌নবী (সা.)-এর কতিপয় সাহাবীর মাশহাদসমূহের আলোচনা

উল্লিখিত কারাফা অঞ্চলে সাহাবীগণ, তাবেয়ীগণ, ইমামগণ, উলামায়ে কিরাম, যাহিদগণ এবং কারামাতের জন্য সুপরিচিত আওলিয়া কিরামের (আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) মাশহাদসমূহ।

এই বিবরণ লিপিকার এগুলোর সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত দাবি করা থেকে দায়মুক্ত; তিনি কেবল সে নামগুলোই লিপিবদ্ধ করেছেন যা তিনি এগুলোর ইতিহাস ফলকে অঙ্কিত পেয়েছেন। মোটের ওপর, এগুলোর সত্যতা প্রবল এবং এতে কোনো সন্দেহ নেই, যদি মহান আল্লাহ চান।
(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনে জুবায়ের - ত. দারুল হিলাল (পৃষ্ঠা: ২১)
وجل: مشهد معاذ بن جبل رضي الله عنه، مشهد عقبة بن عامر الجهني حامل راية رسول الله صلى الله عليه وسلم، مشهد صاحب بردة صلى الله عليه وسلم، مشهد أبي الحسن صائغ رسول الله صلى الله عليه وسلم، مشهد سارية الجبل رضي الله عنه، مشهد محمد بن أبي بكر الصّدّيق رضي الله عنهما، مشهد أسماء ابنة أبي بكر الصّديق رضي الله عنهما، مشهد ابن الزّبير بن العوّام رضي الله عنهما، مشهد عبد الله بن حذافة السّهمي صاحب رسول الله صلى الله عليه وسلم، مشهد ابن حليمة رضيع رسول الله صلى الله عليه وسلم.

‌‌مشاهد الأئمة العلماء الزهاد

مشهد الإمام الشافعي رضي الله عنه، وهو من المشاهد العظيمة احتفالا واتساعا. وبني بإزائه مدرسة لم يعمر بهذه البلاد مثلها، لا أوسع مساحة ولا أحفل بناء، يخيل لمن يطوف عليها أنها بلد مستقل بذاته، بإزائها الحمّام، الى غير ذلك من مرافقها، والبناء فيها حتى الساعة، والنفقة عليها لا تحصى.

تولى ذلك بنفسه الشيخ الإمام الزاهد العالم المعروف بنجم الدين الخبوشاني وسلطان هذه الجهات صلاح الدين يسمح له بذلك كله، ويقول: زد احتفالا وتأنقا وعلينا القيام بمؤونة ذلك كله، فسبحان الذي جعله صلاح دينه كاسمه.

ولقينا هذا الرجل الخبوشاني المذكور تبركا بدعائه لأنه قد كان ذكر لنا امره بالأندلس. فألفيناه في مسجده بالقاهرة وفي البيت الذي يسكنه داخل المسجد المذكور، وهو بيت ضيق الفناء، فدعا لنا، وانصرفنا ولم نلق من رجال مصر سواه. مشهد المزني صاحب الإمام الشافعي رضي الله عنه، مشهد أشهب صاحب مالك رضي الله عنه، مشهد عبد الرحمن بن القاسم صاحب مالك رضي الله عنهما، مشهد أصبغ صاحب مالك رضي الله عنهما، مشهد القاضي عبد الوهاب رضي الله عنه، مشهد عبد الله بن عبد الحكم ومحمد بن عبد الله بن
এবং মহান: মুয়াজ বিন জাবাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর মাজার, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পতাকাবাহী উকবা বিন আমির আল-জুহানি (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর মাজার, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর চাদর মুবারক বহনকারীর মাজার, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর স্বর্ণকার আবুল হাসান-এর মাজার, সারিয়া আল-জাবাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর মাজার, মুহাম্মদ বিন আবু বকর সিদ্দিক (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর মাজার, আসমা বিনতে আবু বকর সিদ্দিক (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর মাজার, ইবনুল জুবাইর বিন আওয়াম (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর মাজার, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবী আবদুল্লাহ বিন হুজাফাহ আস-সাহমি-এর মাজার, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দুধভাই ইবনে হালিমা-এর মাজার।

‌‌ইমাম, আলিম ও অনাদক্ত সাধকদের মাজারসমূহ

ইমাম শাফিঈ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর মাজার; এটি জাঁকজমক ও প্রশস্ততার দিক থেকে অন্যতম মহান এক মাজার। এর পাশেই একটি মাদ্রাসা নির্মাণ করা হয়েছে যার সমতুল্য এই জনপদে আর কিছুই নির্মিত হয়নি—না আয়তনের বিশালতায়, আর না স্থাপত্যের কারুকার্যে। কেউ যদি এর চারপাশ প্রদক্ষিণ করে, তবে তার মনে হবে এটি একটি স্বতন্ত্র শহর; এর পাশেই রয়েছে হাম্মামখানা (গোসলখানা) ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা। বর্তমান সময় পর্যন্ত সেখানে নির্মাণকাজ অব্যাহত রয়েছে এবং এর পেছনে অগণিত অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে।

বিখ্যাত অনাদক্ত আলিম ও সাধক শেখ ইমাম নাজমুদ্দীন আল-খুবুশানি নিজ তত্ত্বাবধানে এই কাজ পরিচালনা করেন। এই অঞ্চলের সুলতান সালাহউদ্দীন তাকে এর পূর্ণ অনুমতি প্রদান করেছিলেন এবং বলেছিলেন: "আপনি এর জাঁকজমক ও পারিপাট্য আরও বৃদ্ধি করুন, এর যাবতীয় ব্যয়ের দায়িত্ব আমাদের ওপর।" সেই সত্তা অতি পবিত্র যিনি তাকে (সালাহউদ্দীনকে) তার নামের মতোই দ্বীনের সংস্কারক বানিয়েছেন।

আমরা উক্ত খুবুশানির দোয়ার বরকত লাভের উদ্দেশ্যে তার সাথে সাক্ষাৎ করেছি, কারণ আন্দালুসে থাকাকালীনই আমাদের কাছে তার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। আমরা তাকে কায়রোর তার মসজিদে এবং মসজিদের অভ্যন্তরে তার বসবাসের ঘরে দেখতে পাই; ঘরটির আঙিনা ছিল খুবই সংকীর্ণ। তিনি আমাদের জন্য দোয়া করলেন এবং আমরা প্রস্থান করলাম। মিসরের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে কেবল তার সাথেই আমাদের সাক্ষাৎ হয়েছিল। ইমাম শাফিঈর শাগরিদ আল-মুজানি (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর মাজার, ইমাম মালিকের শাগরিদ আশহাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর মাজার, ইমাম মালিকের শাগরিদ আব্দুর রহমান বিন কাসিম (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর মাজার, ইমাম মালিকের শাগরিদ আসবাগ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর মাজার, কাজী আব্দুল ওয়াহাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর মাজার, আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল হাকাম ও মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন...
(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনে জুবায়ের - ত. দারুল হিলাল (পৃষ্ঠা: ২২)
عبد الحكم رضي الله عنهما، مشهد الفقيه الواعظ الزاهد أبي الحسن الدينوري رضي الله عنه، مشهد بنان العابد رضي الله عنه، مشهد الرجل الصالح العابد الزاهد المعروف بصاحب الإبريق، وقصته عجيبة في الكرامة، مشهد بأبي مسلم الخولاني رضي الله عنه، مشهد المرأة الصالحة المعروفة بالعيناء رضي الله عنها، مشهد الروذباري رضي الله عنه، مشهد محمد بن مسعود بن محمد بن هارون الرشيد المعروف بالسبتي رضي الله عنه، مشهد الرجل الصالح مقبل الحبشي رضي الله عنه، مشهد ذي النون بن ابراهيم المصري رضي الله عنه، مشهد القاضي الأنباري، قبر الناطق الذي سمع عند وضعه في لحده يقول: اللهم انزلني منزلا مباركا وانت خير المنزلين، رضي الله عنه، مشهد العروس ولها أثر من الكرامة في حال جلوتها على زوجها لم يسمع أعجب منه، مشهد الصامت الذي يحكى عنه انه لم يتكلم أربعين سنة، مشهد العصافيري، مشهد عبد العزيز بن أحمد بن علي بن الحسن الخوارزمي، مشهد الفقيه الواعظ الأفضل الجوهري ومشاهد أصحابه بازائه رضي الله عنهم أجمعين، مشهد شقران شيخ ذي النون المصري، مشهد الرجل الصالح المعروف بالأقطع المغربي، مشهد المقرئ ورش، مشهد الطبري، مشهد شيبان الراعي.

والمشاهد الكريمة بها أكثر من أن تضبط بالتقييد أو تتحصل بالإحصاء وانما ذكرنا منها ما أمكنتنا مشاهدته.

وبقبلة القرافة المذكورة بسيط متسع يعرف بموضع قبور الشهداء، وهم الذين استشهدوا مع سارية رضي الله عن جميعهم. والبسيط المذكور مسنم كله للعيان على مثال أسنمة القبور دون بناء. ومن العجب أن القرافة المذكورة كلها مساجد مبنية ومشاهد معمورة يأوي اليها الغرباء والعلماء والصلحاء والفقراء، والاجراء على كل موضع منها متصل من قبل السلطان في كل شهر، والمدارس التي بمصر والقاهرة كذلك، وحقق عندنا أن الإجراء على ذلك كله نيف على الفي دينار مصرية في الشهر، وهي أربعة آلاف دينار مؤمنية.
আবদ আল-হাকাম (আল্লাহ তাদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হন), ফকিহ, ওয়ায়েজ ও জাহিদ আবু আল-হাসান আদ-দিনাওয়ারির মাশহাদ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন), ইবাদতগুজার বানান-এর মাশহাদ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন), 'সাহেব আল-ইব্রিক' (লোটাওয়ালা) নামে পরিচিত নেককার, ইবাদতগুজার ও জাহিদ ব্যক্তির মাশহাদ—তাঁর কারামাতের ঘটনাটি অত্যন্ত আশ্চর্যজনক, আবু মুসলিম আল-খাওলানির মাশহাদ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন), 'আল-আইনা' নামে পরিচিত নেককার নারীর মাশহাদ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন), আর-রুজবারির মাশহাদ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন), হারুনুর রশীদের বংশধর মুহাম্মদ ইবন মাসউদ ইবন মুহাম্মদ, যিনি 'আস-সাবতি' নামে পরিচিত তাঁর মাশহাদ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন), নেককার ব্যক্তি মুকবিল আল-হাবাশির মাশহাদ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন), যুন্নুন ইবন ইবরাহিম আল-মিসরির মাশহাদ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন), কাজি আল-আনবারির মাশহাদ, সেই 'বক্তা'র কবর যাঁকে কবরের লহদে রাখার সময় বলতে শোনা গিয়েছিল: "হে আল্লাহ, আমাকে বরকতময় স্থানে অবতরণ করান, আর আপনিই সর্বোত্তম অবতরণকারী" (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন), 'আল-আরুস' (নববধূ)-এর মাশহাদ—তাঁর স্বামীর নিকট গমনের সময়কার কারামাত সম্পর্কে এমন আশ্চর্যজনক প্রভাবের কথা বর্ণিত আছে যা আগে কখনো শোনা যায়নি, 'আস-সামিত' (নীরব)-এর মাশহাদ যাঁর সম্পর্কে বলা হয় যে তিনি দীর্ঘ চল্লিশ বছর কথা বলেননি, আল-আসফিরির মাশহাদ, আবদুল আজিজ ইবন আহমদ ইবন আলি ইবন আল-হাসান আল-খাওয়ারিজমির মাশহাদ, ফকিহ ও ওয়ায়েজ আল-আফদাল আল-জাওহারির মাশহাদ এবং তাঁর সম্মুখভাগে তাঁর সঙ্গীদের মাশহাদসমূহ (আল্লাহ তাদের সবার প্রতি সন্তুষ্ট হন), যুন্নুন আল-মিসরির শায়খ শুকরানের মাশহাদ, 'আল-আকতা আল-মাগরিবি' নামে পরিচিত নেককার ব্যক্তির মাশহাদ, মুকরি ওয়ারশের মাশহাদ, আত-তাবারির মাশহাদ এবং শায়বান আর-রায়ির মাশহাদ।

সেখানকার সম্মানিত মাশহাদ বা স্মৃতিস্থলগুলো এতই অধিক যে তা লিখে সীমাবদ্ধ করা বা গণনার মাধ্যমে আয়ত্ত করা অসম্ভব; আমরা কেবল সেসবেরই উল্লেখ করেছি যা স্বচক্ষে দেখা আমাদের পক্ষে সম্ভব হয়েছে।

উল্লিখিত কারাফার কিবলার দিকে একটি প্রশস্ত প্রান্তর রয়েছে যা 'শুহাদাদের (শহীদদের) কবরের স্থান' হিসেবে পরিচিত; তাঁরা সেই ব্যক্তি যাঁরা সারিয়ার সাথে শাহাদাত বরণ করেছিলেন (আল্লাহ তাদের সবার প্রতি সন্তুষ্ট হন)। উক্ত প্রান্তরটি দর্শকদের কাছে কোনো নির্মাণ ছাড়াই কবরের পিঠের ন্যায় উঁচু হয়ে আছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, উল্লিখিত কারাফার পুরো এলাকাটিই নির্মিত মসজিদ এবং আবাদকৃত মাশহাদে পরিপূর্ণ, যেখানে মুসাফির, আলেম, নেককার ও দরিদ্র ব্যক্তিরা আশ্রয় গ্রহণ করেন। সুলতানের পক্ষ থেকে প্রতি মাসে এই স্থানগুলোর প্রত্যেকটির জন্য নিরবচ্ছিন্নভাবে আর্থিক বরাদ্দ প্রদান করা হয়। মিসর ও কায়রোর মাদ্রাসাগুলোর ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। আমাদের নিকট এটি নিশ্চিত হয়েছে যে, এই সবকিছুর জন্য মাসিক বরাদ্দের পরিমাণ দুই হাজার মিসরীয় দিনারেরও বেশি, যা চার হাজার মুমিনিয়া দিনারের সমান।
(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনে জুবায়ের - ত. দারুল হিলাল (পৃষ্ঠা: ২৩)
وذكر لنا أن لجامع عمرو بن العاص بمصر من الفائد نحو الثلاثين دينارا مصرية في كل يوم تتفرق في مصالحه ومرتبات قومته وسدنته «1» وأئمته والقراء فيه.

ومما شاهدناه بالقاهرة أربعة جوامع حفيلة البنيان أنيقة الصنعة الى مساجد عدة.

وفي أحد الجوامع الخطبة اليوم، ويأخذ الخطيب فيها مأخذ سنّي يجمع فيها الدعاء للصحابة، رضي الله عنهم، وللتابعين ومن سواهم ولأمهات المؤمنين زوجات النبي صلى الله عليه وسلم، ولعميه الكريمين حمزة والعباس، رضي الله عنهما، ويلطف الوعظ ويرقق التذكير حتى تخشع القلوب القاسية وتتفجر العيون الجامدة. ويأتي للخطبة لابسا السواد على رسم العباسية. وصفة لباسه بردة سوداء عليها طيلسان شرب «2» أسود، وهو الذي يسمى بالمغرب الإحرام، وعمامة سوداء، متقلدا سيفا. وعند صعوده المنبر يضرب بنعل سيفه المنبر في أول ارتقائه ضربة يسمع بها الحاضرين كأنها ايذان بالإنصات، وفي توسطه أخرى، وفي انتهاء صعوده ثالثة. ثم يسلم على الحاضرين يمينا وشمالا ويقف بين رايتين سوداوين فيهما تجزيع بياض قد ركزتا في أعلى المنبر.

ودعاؤه في هذا التاريخ للإمام العباسي أبي العباس أحمد الناصر لدين الله ابن الإمام أبي محمد الحسن المستضيء بالله ابن الإمام أبي المظفّر يوسف المستنجد بالله، ثم لمحيي دولته أبي المظفر يوسف بن أيوب صلاح الدين، ثم لأخيه ولي عهده أبي بكر سيف الدين.

‌‌قلعة القاهرة

وشاهدنا أيضا بنيان القلعة وهو حصن يتصل بالقاهرة حصين المنعة، يريد السلطان أن يتخذه موضع سكناه، ويمد سوره حتى ينتظم بالمدينتين مصر والقاهرة. والمسخّرون في هذا البنيان والمتولون لجميع امتهاناته ومؤونته العظيمة
আমাদের কাছে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মিশরের আমর ইবনুল আস জামে মসজিদের প্রতিদিনের আয় প্রায় ত্রিশ মিশরীয় দিনার, যা এর জনকল্যাণমূলক কাজ এবং এর খাদেম, তত্ত্বাবধায়ক, ইমাম ও কারীদের বেতনের জন্য ব্যয় করা হয়।

আমরা কায়রোতে চমৎকার নির্মাণশৈলী ও সূক্ষ্ম কারুকার্যমণ্ডিত চারটি জামে মসজিদ এবং আরও বেশ কিছু মসজিদ দেখেছি।

আজ একটি জামে মসজিদে খুতবা অনুষ্ঠিত হলো, যেখানে খতিব সুন্নাহর পথ অনুসরণ করেন। তিনি সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম), তাবেয়ীন ও অন্যদের জন্য এবং মুমিনদের জননী ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পত্নীগণের জন্য এবং তাঁর দুই সম্মানিত চাচা হামযাহ ও আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর জন্য দোয়া করেন। তিনি অত্যন্ত মনোজ্ঞভাবে উপদেশ দেন এবং অত্যন্ত কোমলভাবে নসিহত পেশ করেন, যাতে পাষাণ হৃদয়গুলো বিগলিত হয় এবং শুষ্ক চোখ থেকে অশ্রুধারা প্রবাহিত হয়। তিনি আব্বাসীয় রীতি অনুযায়ী কালো পোশাক পরিধান করে খুতবা দিতে আসেন। তাঁর পোশাকের বিবরণ হলো—একটি কালো চাদর, যার উপরে একটি সূক্ষ্ম কালো শাল থাকে, যাকে মাগরিব অঞ্চলে ‘ইহরাম’ বলা হয়। মাথায় কালো পাগড়ি এবং কাঁধে ঝোলানো একটি তলোয়ার। মিম্বরে আরোহণের সময় তিনি শুরুতে তলোয়ারের খাপ দিয়ে মিম্বরে একটি আঘাত করেন যা উপস্থিতরা শুনতে পায় এবং এটি যেন তাদের নীরব হওয়ার সংকেত দেয়। আরোহণের মধ্যপথে তিনি দ্বিতীয়বার এবং আরোহণ শেষে তৃতীয়বার আঘাত করেন। এরপর তিনি উপস্থিতদের ডানে ও বামে সালাম প্রদান করেন এবং মিম্বরের উপরিভাগে স্থাপিত সাদা রেখা সংবলিত দুটি কালো পতাকার মাঝে দাঁড়ান।

এই সময়ে তাঁর দোয়া ছিল আব্বাসীয় ইমাম আবুল আব্বাস আহমদ আন-নাসির লি-দীনিল্লাহ ইবন ইমাম আবু মুহাম্মদ হাসান আল-মুস্তাদি বি-আমরিল্লাহ ইবন ইমাম আবুল মুজাফফর ইউসুফ আল-মুস্তানজিদ বিল্লাহর জন্য। এরপর তাঁর সাম্রাজ্যের পুনর্জাগরণকারী আবুল মুজাফফর ইউসুফ ইবনে আইয়ুব সালাহউদ্দিন এবং তাঁর ভাই ও উত্তরাধিকারী আবু বকর সাইফুদ্দীনের জন্য।

কায়রো দুর্গ

আমরা দুর্গের স্থাপনাও প্রত্যক্ষ করেছি, যা কায়রোর সাথে সংযুক্ত এক দুর্ভেদ্য কেল্লা। সুলতান এটিকে নিজের বাসস্থান হিসেবে গ্রহণ করতে চান এবং এর প্রাচীরকে এমনভাবে বিস্তৃত করতে চান যাতে তা মিশর ও কায়রো—এই উভয় শহরকে পরিবেষ্টন করে। এই নির্মাণকাজে নিয়োজিত শ্রমিক এবং এর সমস্ত শ্রমসাধ্য কাজ ও বিশাল ব্যয়ের দায়িত্বভার গ্রহণকারীরা...
(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনে জুবায়ের - ত. দারুল হিলাল (পৃষ্ঠা: ২৪)
كنشر الرخام وتحت الصخور العظام وحفر الخندق المحدق بسور الحصن المذكور وهو خندق ينقر بالمعاول نقرا في الصخر عجبا من العجائب الباقية الآثار، العلوج الاسارى من الروم، وعددهم لا يحصى كثرة، ولا سبيل أن يمتهن في ذلك البنيان احد سواهم.

وللسلطان أيضا بمواضع أخر بنيان والأعلاج يخدمونه فيه، ومن يمكن استخدامه من المسلمين في مثل هذه المنفعة العامة مرفه عن ذلك كله ولا وظيفة في شيء من ذلك على أحد.

‌‌مارستان المجانين

ومما شاهدناه أيضا من مفاخر هذا السلطان المارستان الذي بمدينة القاهرة.

وهو قصر من القصور الرائقة حسنا واتساعا أبرزه لهذه الفضيلة تأجرا واحتسابا وعيّن قيّما من أهل المعرفة وضع لديه خزائن العقاقير ومكنه من استعمال الأشربة واقامتها على اختلاف أنواعها. ووضعت في مقاصير ذلك القصر أسرة يتخذها المرضى مضاجع كاملة الكسى. وبين يدي ذلك القيم خدمة يتكفلون بتفقد احوال المرضى بكرة وعشية، فيقابلون من الاغذية والاشربة بما يليق بهم.

وبازاء هذا الموضع موضع مقتطع للنساء المرضى. ولهن أيضا من يكفلهن.

ويتصل بالموضعين المذكورين موضع آخر متسع الفناء فيه مقاصير عليها شبابيك الحديد اتخذت محابس للمجانين.

ولهم أيضا من يتفقد في كل يوم أحوالهم ويقابلها بما يصلح لها. والسلطان يتطلع هذه الاحوال كلها بالبحث والسؤال ويؤكد في الاعتناء بها والمثابرة عليها غاية التأكيد. وبمصر مارستان آخر على مثل ذلك الرسم بعينه.
যেমন মার্বেল পাথর কাটা, বিশাল শিলাখণ্ডের তলদেশ খনন করা এবং উল্লিখিত দুর্গের প্রাচীরবেষ্টিত পরিখা খনন করার মতো কাজ। এটি এমন এক পরিখা যা পাথরের বুকে গাঁইতি দিয়ে কুঁদে তৈরি করা হয়েছে, যা অবশিষ্ট প্রাচীন নিদর্শনগুলোর মধ্যে অন্যতম এক বিস্ময়। রোমীয় যুদ্ধবন্দী কাফেররা এটি তৈরি করেছে, যাদের সংখ্যা অগণিত। তারা ব্যতীত অন্য কাউকেও এই নির্মাণকাজে নিয়োজিত করার কোনো অবকাশ ছিল না।

অন্যান্য স্থানেও সুলতানের আরও অনেক স্থাপনা রয়েছে যেখানে এই কাফের বন্দীরা কাজ করে। এই ধরণের জনহিতকর কাজে যে সকল মুসলিমদের ব্যবহারের সম্ভাবনা ছিল, তাদের এই সমস্ত কাজ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং কাউকেও এ জাতীয় কোনো কাজে বাধ্য করা হয়নি।

‌‌উন্মাদাশ্রম

কায়রো শহরে অবস্থিত এই হাসপাতালটিও সুলতানের গৌরবময় কীর্তিগুলোর অন্যতম যা আমরা প্রত্যক্ষ করেছি।

এটি সৌন্দর্য ও বিশালতার দিক থেকে অত্যন্ত চমৎকার একটি প্রাসাদ, যা তিনি পরকালীন সওয়াব ও প্রতিদানের আশায় এই মহৎ কাজের জন্য উৎসর্গ করেছেন। তিনি একজন বিশেষজ্ঞ তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত করেছেন এবং তার নিকট ঔষধের ভাণ্ডার গচ্ছিত রেখেছেন। সেই সাথে তাকে বিভিন্ন ধরণের পানীয় ও শরবত প্রস্তুত ও ব্যবহারের পূর্ণ এখতিয়ার দিয়েছেন। প্রাসাদের কামরাগুলোতে রোগীদের জন্য বিছানা স্থাপন করা হয়েছে যা পূর্ণাঙ্গ শয্যা সরঞ্জাম দ্বারা সুসজ্জিত। তত্ত্বাবধায়কের অধীনে কিছু সেবক নিয়োজিত রয়েছে যারা সকাল-সন্ধ্যায় রোগীদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে এবং তাদের জন্য উপযুক্ত খাদ্য ও পানীয়ের ব্যবস্থা করে।

এই স্থানের পাশেই অসুস্থ মহিলাদের জন্য একটি পৃথক অংশ রাখা হয়েছে। তাদের দেখাশোনার জন্যও নির্দিষ্ট সেবিকা নিয়োজিত রয়েছে।

উল্লিখিত স্থান দুটির সাথে সংযুক্ত আরও একটি প্রশস্ত প্রাঙ্গণ বিশিষ্ট স্থান রয়েছে, যেখানে লোহার গরাদযুক্ত জানালা সম্বলিত কামরা রয়েছে, যা উন্মাদদের বা মানসিক রোগীদের কক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

তাদের জন্যও এমন লোক রয়েছে যারা প্রতিদিন তাদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে এবং যা তাদের জন্য উপযুক্ত তাই প্রদান করে। সুলতান স্বয়ং অনুসন্ধান ও জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এই সকল পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন এবং এসব বিষয়ে যত্নশীল হওয়ার ও নিরবচ্ছিন্ন সেবা দেওয়ার ব্যাপারে অত্যন্ত জোর দেন। মিশরের পুরাতন কায়রো অঞ্চলেও ঠিক একই আদলে তৈরি আরও একটি হাসপাতাল রয়েছে।
(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনে জুবায়ের - ত. দারুল হিলাল (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌مسجد ابن طولون

وبين مصر والقاهرة المسجد الكبير المنسوب الى ابي العباس أحمد بن طولون، وهو من الجوامع العتيقة الانيقة الصنعة الواسعة البنيان، جعله السلطان مأوى للغرباء من المغاربة يسكنونه ويحلّقون فيه، وأجرى عليهم الارزاق في كل شهر. ومن أعجب ما حدثنا به أحد المتخصّصين منهم أن السلطان جعل أحكامهم اليهم ولم يجعل يدا لأحد عليهم. فقدموا من أنفسهم حاكما يمتثلون أمره ويتحاكمون في طوارىء أمورهم عنده، واستصحبوا الدعة والعافية، وتفرغوا لعبادة ربهم، ووجدوا من فضل السلطان أفضل معين على الخير الذي هم بسبيله.

‌‌مآثر السلطان ومفاخره

وما منها جامع من الجوامع ولا مسجد من المساجد ولا روضة من الروضات المبنية على القبور ولا محرس من المحارس ولا مدرسة من المدارس الا وفضل السلطان يعم جميع من يأوي اليها ويلزم السكنى فيها، تهوّن عليه في ذلك نفقات بيوت الاموال.

ومن مآثره الكريمة المعربة عن اعتنائه بأمور المسلمين كافة أنه أمر بعمارة محاضر ألزمها معلمين لكتاب الله، عز وجل، يعلمون أبناء الفقراء والايتام خاصة وتجرى عليهم الجراية الكافية لهم.

ومن مفاخر هذا السلطان وآثاره الباقية المنفعة للمسلمين القناطر التي شرع في بنائها بغربي مصر، وعلى مقدار سبعة أميال منها، بعد رصيف ابتدئ به من حيز النيل بازاء مصر كأنه جبل ممدود على الارض، تسير فيه مقدار ستة أميال حتى يتصل بالقنطرة المذكورة، وهي نحو الاربعين قوسا من أكبر ما يكون من قسيّ القناطر. والقنطرة متصلة بالصحراء التي يفضى منها الى الإسكندرية، له في ذلك تدبير عجيب من تدابير الملوك الحزمة اعدادا لحادثة تطرأ من عدو
ইবন তুলুন মসজিদ

মিশর এবং কায়রোর মধ্যবর্তী স্থানে আবুল আব্বাস আহমদ ইবন তুলুনের নামে পরিচিত সেই সুবিশাল মসজিদটি অবস্থিত। এটি প্রাচীন ও সুনিপুণ শিল্পমণ্ডিত মসজিদগুলোর অন্যতম এবং এর নির্মাণশৈলী অত্যন্ত প্রশস্ত। সুলতান একে মাগরেবের (মরক্কোর) প্রবাসী পর্যটকদের আবাসস্থলে পরিণত করেছেন, যেখানে তারা বসবাস করেন এবং সেখানে বিভিন্ন হালকায় (শিক্ষাবৃত্তে) সমবেত হন। তিনি তাদের জন্য প্রতি মাসে বৃত্তির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন বিশেষজ্ঞ আমাদের যে আশ্চর্যজনক কথা শুনিয়েছেন তা হলো, সুলতান তাদের বিচারিক বিষয়াদি তাদের নিজেদের হাতেই ন্যস্ত করেছেন এবং তাদের ওপর অন্য কারো হাত (কর্তৃত্ব) রাখেননি। ফলে তারা নিজেদের মধ্য থেকেই একজন বিচারক নিযুক্ত করেছেন, যাঁর আদেশ তারা মেনে চলেন এবং জরুরি পরিস্থিতিতে তাঁর কাছে বিচারপ্রার্থী হন। তারা সেখানে শান্তি ও স্বস্তিতে বসবাস করেন এবং তাদের রবের ইবাদতে আত্মনিয়োগ করেছেন। যে কল্যাণের পথে তারা অগ্রসর হচ্ছেন, তাতে তারা সুলতানের অনুগ্রহকে সর্বোত্তম সাহায্যকারী হিসেবে পেয়েছেন।

সুলতানের কীর্তিগাথা ও গৌরবগাঁথা

এমন কোনো জামে মসজিদ, সাধারণ মসজিদ, কবরের ওপর নির্মিত কোনো সৌধ, সীমান্ত প্রহরা কেন্দ্র কিংবা মাদরাসা নেই যেখানে সুলতানের অনুগ্রহ সেই সকল মানুষের ওপর পরিব্যাপ্ত নয় যারা সেখানে আশ্রয় গ্রহণ করে এবং স্থায়ীভাবে বসবাস করে। এ সকল খাতে বায়তুল মাল থেকে ব্যয় করাকে তিনি অত্যন্ত সহজ মনে করেন।

মুসলিমদের সামগ্রিক বিষয়াদির প্রতি তাঁর গভীর মনোনিবেশের অন্যতম সম্মানজনক নিদর্শন হলো, তিনি মকতবসমূহ নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছেন এবং সেখানে মহান আল্লাহর কিতাব শেখানোর জন্য শিক্ষক নিয়োগ করেছেন। তারা বিশেষ করে দরিদ্র ও এতিম শিশুদের শিক্ষা প্রদান করেন এবং তাদের জন্য পর্যাপ্ত আহার ও বৃত্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এই সুলতানের গৌরবময় কাজ এবং মুসলমানদের জন্য স্থায়ীভাবে কল্যাণকর নিদর্শনের অন্যতম হলো সেই সকল সেতু (বাঁধ), যা তিনি পশ্চিম মিশরে নির্মাণের সূচনা করেছিলেন। এটি মূল শহর থেকে প্রায় সাত মাইল দূরে অবস্থিত। নীল নদের তীরবর্তী এলাকা থেকে একটি বাঁধানো রাস্তা শুরু হয়েছে, যা দেখতে ভূমির ওপর বিস্তৃত একটি পাহাড়ের মতো মনে হয়। এই রাস্তার ওপর দিয়ে প্রায় ছয় মাইল পথ অতিক্রম করলে উল্লিখিত সেতুর সাথে মিলিত হওয়া যায়। এতে প্রায় চল্লিশটি খিলান রয়েছে, যা খিলানযুক্ত সেতুর মধ্যে সর্ববৃহৎ আকৃতির। এই সেতুটি সেই মরুভূমির সাথে গিয়ে মিশেছে যা আলেকজান্দ্রিয়া পর্যন্ত চলে গিয়েছে। দূরদর্শী রাজন্যবর্গের উপযুক্ত এক বিস্ময়কর কৌশলে তিনি এটি নির্মাণ করেছেন, যাতে শত্রুর পক্ষ থেকে কোনো আকস্মিক পরিস্থিতির মোকাবিলা করা যায়।
(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনে জুবায়ের - ত. দারুল হিলাল (পৃষ্ঠা: ২৬)
يدهم جهة ثغر الإسكندرية عند فيض النيل وانغمار الارض به وامتناع سلوك العساكر بسببه. فأعد ذلك مسلكا في كل وقت ان احتيج الى ذلك. والله يدفع عن حوزة المسلمين كل متوقع ومحذور بمنه.

ولاهل مصر في شأن هذه القنطرة انذار من الانذارات الحدثانية يرون أن حدوثها ايذان باستيلاء الموحدين عليها وعلى الجهات الشرقية، والله أعلم بغيبه، لا إله سواه.

‌‌معجزة البناء

وبمقربة من هذه القنطرة المحدثة الاهرام القديمة، المعجزة البناء، الغريبة المنظر، المربعة الشكل، كأنها القباب المضروبة قد قامت في جو السماء، ولا سيما الاثنان منها، فانهما يغص الجو بهما سموا، في سعة الواحد منها من أحد أركانه الى الركن الثاني ثلاث مئة خطوة وست وستون خطوة. قد اقيمت من الصخور العظام المنحوتة. وركبت تركيبا هائلا بديع الإلصاق دون أن يتخللها ما يعين على الصاقها، محددة الأطراف في رأي العين، وربما أمكن الصعود اليها على خطر ومشقة فتلفى أطرافها المحددة كأوسع ما يكون من الرحاب، لو رام أهل الأرض نقض بنائها لأعجزهم ذلك.

للناس في أمرها اختلاف: فمنهم من يجعلها قبورا لعاد وبنيه، ومنهم من يزعم غير ذلك. وبالجملة فلا يعلم شأنها الا الله عز وجل.

ولأحد الكبيرين منها باب يصعد اليه على نحو القامة من الأرض أو أزيد ويدخل منه الى بيت كبير سعته نحو خمسين شبرا وطوله نحو ذلك. وفي جوف ذلك البيت رخامة طويلة مجوفة شبه التي تسميها العامة البيلة يقال انها قبر والله أعلم بحقيقة ذلك.

ودون الكبير هرم سعته من الركن الواحد الى الركن الثاني مئة واربعون
...নীল নদের প্লাবন এবং এর ফলে ভূমি প্লাবিত হওয়া ও সৈন্যদের চলাচলের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ার সময় এটি আলেকজান্দ্রিয়া সীমান্ত অভিমুখী যাতায়াতে সহায়তা করে। তাই যখনই প্রয়োজন হয়, একে সর্বদা পথ হিসেবে প্রস্তুত করা হয়েছে। আর আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহে মুসলিমদের সীমানা থেকে সম্ভাব্য সকল অনিষ্ট ও ভীতি দূর করে দেন।

এই সেতু সম্পর্কে মিশরের অধিবাসীদের নিকট ঐতিহাসিক এক পূর্বাভাস রয়েছে; তারা মনে করে যে, এর নির্মাণ হলো এই ভূখণ্ড এবং পূর্ববর্তী অঞ্চলসমূহের ওপর মুওয়াহ্হিদুনদের আধিপত্যের আগাম ঘোষণা। আর আল্লাহই তাঁর অদৃশ্যের জ্ঞান সম্পর্কে অধিক পরিজ্ঞাত, তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই।

‌‌নির্মাণশৈলীর বিস্ময়

এই নবনির্মিত সেতুটির নিকটেই রয়েছে প্রাচীন পিরামিডগুলো, যা নির্মাণকৌশলে বিস্ময়কর, দর্শনে অপূর্ব এবং চতুর্ভুজ আকৃতির। মনে হয় যেন সেগুলো আকাশের বুকে খাড়া করে রাখা বিশাল বিশাল গম্বুজ; বিশেষ করে সেগুলোর মধ্যে দুটি পিরামিড উচ্চতায় আকাশ ছোঁয়া। এর একটির এক কোণ থেকে অপর কোণ পর্যন্ত প্রশস্ততা তিনশ ছেষট্টি কদম। এগুলো খোদাই করা বিশাল বিশাল পাথরখণ্ড দ্বারা নির্মিত। পাথরগুলো একে অপরের সাথে বিস্ময়কর নিপুণতায় ও অত্যন্ত মজবুতভাবে সংযুক্ত করা হয়েছে, অথচ সেগুলোর মাঝে জোড়া দেওয়ার জন্য কোনো দৃশ্যমান বস্তুর সাহায্য নেওয়া হয়নি। দূর থেকে তাকালে এর উপরিভাগ চোখা বা তীক্ষ্ণ মনে হয়, তবে কেউ যদি ঝুঁকি ও কষ্ট সহ্য করে এর ওপরে উঠতে পারে, তবে দেখবে যে এর সেই তীক্ষ্ণ চূড়াটিই অনেক বড় একটি প্রশস্ত চত্বরের মতো। যদি পৃথিবীর সমস্ত মানুষ এই স্থাপনাটি ভেঙে ফেলতে চায়, তবে তা তাদের সাধ্যাতীত হবে।

এগুলোর ব্যাপারে মানুষের মাঝে বিভিন্ন মত রয়েছে: কেউ কেউ এগুলোকে ‘আদ ও তার বংশধরদের কবর বলে গণ্য করেন, আবার কেউ ভিন্ন মত পোষণ করেন। মোটকথা, এর প্রকৃত রহস্য মহান আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানেন না।

দুটি বড় পিরামিডের একটিতে একটি দরজা আছে, যেখানে পৌঁছাতে মাটি থেকে প্রায় এক মানুষের উচ্চতা বা তারও বেশি উপরে উঠতে হয়। সেখান দিয়ে একটি বড় কক্ষে প্রবেশ করা যায়, যার প্রশস্ততা প্রায় পঞ্চাশ বিঘত এবং দৈর্ঘ্যও প্রায় সমপরিমাণ। সেই কক্ষের অভ্যন্তরে একটি দীর্ঘ ও খোদাই করা মার্বেল পাথর রয়েছে, যা সাধারণ মানুষের নিকট ‘বিলা’ (জলাধার) নামে পরিচিত। বলা হয়ে থাকে যে, এটি একটি কবর; তবে এর প্রকৃত সত্য সম্পর্কে আল্লাহই সম্যক অবগত।

বড় পিরামিডের তুলনায় ছোট একটি পিরামিড রয়েছে যার এক কোণ থেকে অন্য কোণ পর্যন্ত প্রশস্ততা একশ চল্লিশ...
(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনে জুবায়ের - ত. দারুল হিলাল (পৃষ্ঠা: ২৭)
خطوة. ودون هذا الصغير خمسة صغار وثلاثة متصلة والاثنان على مقربة منها متصلان.

وعلى مقربة من هذه الأهرام بمقدار غلوة صورة غريبة من حجر قد قامت كالصومعة على صفة آدمي هائل المنظر، وجهه الى الأهرام وظهره الى القبلة مهبط النيل، تعرف بأبي الأهوال.

وبمدينة مصر المسجد الجامع المنسوب لعمر بن العاص رضي الله عنه. وله أيضا بالإسكندرية جامع آخر هو مصلى الجمعة للمالكيين. وبمدينة مصر آثار من الخراب الذي أحدثه الإحراق الحادث بها وقت الفتنة عند انتساخ دولة العبيديين «1» ، وذلك سنة أربع وستين وخمس مئة، وأكثرها الآن مستجدّ والبنيان بها متصل. وهي مدينة كبيرة والآثار القديمة حولها، وعلى مقربة منها ظاهرة تدل على عظمة اختطاطها فيما سلف.

‌‌روضة النيل

وعلى شط نيلها مما يلي غربيها، والنيل معترض بينهما، قرية كبيرة حفيلة البنيان تعرف بالجيزة. لها كل يوم احد سوق من الأسواق العظيمة يجتمع اليها.

ويعترض بينها وبين مصر جزيرة فيها مساكن حسان وعلالي مشرفة وهي مجتمع اللهو والنزهة، وبينها وبين مصر خليج من النيل يذهب بطولها نحو الميل ولها مخرج له. وبهذه الجزيرة مسجد جامع يخطب فيه. ويتصل بهذا الجامع المقياس الذي يعتبر فيه قدر زيادة النيل عند فيضه كل سنة. واستشعار ابتدائه في شهر يونيه، ومعظم انتهائه أغشت «2» ، وآخره أول شهر أكتوبر. وهذا المقياس عمود رخام أبيض مثمن في موضع ينحصر فيه الماء عند انسيابه اليه، وهو مفصل
কদম। এই ছোটটির নিচে পাঁচটি ক্ষুদ্রতর এবং তিনটি সংযুক্ত রয়েছে, আর অপর দুটি এর কাছাকাছি পরস্পর যুক্ত অবস্থায় আছে।

এই পিরামিডগুলোর কাছাকাছি এক ধনুক নিক্ষেপের দূরত্বে পাথরের একটি অদ্ভুত প্রতিকৃতি রয়েছে, যা একটি মঠের মতো দাঁড়িয়ে আছে। এটি দেখতে বিশাল এক মানুষের অবয়বে, যার মুখ পিরামিডের দিকে এবং পিঠ কিবলার দিকে অর্থাৎ নীল নদের প্রবাহের দিকে। এটি 'আবু আল-হাওল' (স্ফিন্স) নামে পরিচিত।

মিসর (কায়রো) শহরে আমর ইবনুল আস (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর নামে পরিচিত জামে মসজিদটি অবস্থিত। আলেকজান্দ্রিয়াতেও তাঁর নামে অন্য একটি জামে মসজিদ রয়েছে, যা মালিকি মাযহাব অনুসারীদের জুমার নামাজের স্থান। মিসর শহরে সেই ধ্বংসযজ্ঞের চিহ্নাবশেষ রয়েছে যা উবাইদি শাসনের পতনকালীন ফিতনার সময় অগ্নিকাণ্ডের ফলে সৃষ্টি হয়েছিল। এটি ছিল পাঁচশত চৌক্সট্টি হিজরি সনে। এর অধিকাংশ এখন নতুন করে নির্মিত এবং এর ভবনগুলো পরস্পর সংলগ্ন। এটি একটি বিশাল শহর এবং এর চারপাশে ও নিকটবর্তী স্থানে বিদ্যমান প্রাচীন নিদর্শনগুলো অতীতে এর পরিকল্পনার বিশালত্বের সাক্ষ্য দেয়।

নীলনদের রওজা

নীল নদের পশ্চিম তীরে, যেখানে নীল নদ উভয় অংশের মাঝে আড়াআড়িভাবে অবস্থিত, সেখানে সুসংহত স্থাপত্যপূর্ণ বড় একটি জনপদ রয়েছে যা 'গিজা' নামে পরিচিত। সেখানে প্রতি রবিবার একটি বিশাল বাজার বসে যেখানে মানুষের সমাগম ঘটে।

এর এবং মিসরের মাঝে একটি দ্বীপ রয়েছে যেখানে সুন্দর ঘরবাড়ি এবং সুউচ্চ প্রাসাদসমূহ অবস্থিত; এটি আমোদ-প্রমোদ ও ভ্রমণের একটি মিলনস্থল। এর এবং মিসরের মাঝে নীল নদের একটি খাল রয়েছে যা দৈর্ঘ্যে প্রায় এক মাইল এবং এর একটি বহির্গমন পথ আছে। এই দ্বীপে একটি জামে মসজিদ রয়েছে যেখানে খুতবা প্রদান করা হয়। এই মসজিদের সাথেই সেই পরিমাপক যন্ত্র (মিকইয়াস) অবস্থিত, যার মাধ্যমে প্রতি বছর নীল নদের প্লাবনের সময় পানির বৃদ্ধির পরিমাণ নির্ণয় করা হয়। এর সূচনা অনুভূত হয় জুন মাসে, এর পূর্ণতা পায় মূলত আগস্ট মাসে এবং সমাপ্তি ঘটে অক্টোবর মাসের শুরুতে। এই পরিমাপক যন্ত্রটি একটি অষ্টভুজাকৃতি সাদা মার্বেল পাথরের স্তম্ভ, যা এমন একটি স্থানে অবস্থিত যেখানে পানি প্রবাহিত হওয়ার সময় তা সেখানে আবদ্ধ হয়; আর এটি সুনির্দিষ্ট ভাগে বিভক্ত।
(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনে জুবায়ের - ত. দারুল হিলাল (পৃষ্ঠা: ২৮)
على اثنتين وعشرين ذراعا مقسمة على أربعة وعشرين قسما تعرف بالأصابع. فاذا انتهى الفيض عندهم الى أن يستوفي الماء تسع عشرة ذراعا منغمرة فيه فهي الغاية عندهم في طيب العام. وربما كان الغامر منه كثيرا بعموم الفيض. والمتوسط عندهم ما استوفى سبع عشرة ذراعا، وهو الأحسن عندهم من الزيادة المذكورة.

والذي يستحق به السلطان خراجه في بلاد مصر ست عشرة ذراعا فصاعدا، وعليها يعطي البشارة الذي يراعي الزيادة في كل يوم والزيادة في أقسام الذراع المذكورة ويعلم بها مياومة حتى تستوفي الغاية التي يقضى بها. وان قصر عن ست عشرة ذراعا فلا مجبى للسلطان في ذلك العام ولا خراج.

وذكر لنا أن بالجيزة المذكورة قبر كعب الأحبار رضي الله عنه. وفي صدر الجيزة المذكورة أحجار رخام قد صورت فيها التماسيح، فيقال: إن بسببها لا تظهر التماسيح فيما يلي البلد من النيل مقدار ثلاثة أميال علوا وسفلا، والله أعلم بحقيقة ذلك.

‌‌عدل صلاح الدين

ومن مفاخر هذا السلطان المزلفة من الله تعالى وآثاره التي أبقاها ذكرا جميلا للدين والدنيا: إزالته رسم المكس المضروب وظيفة على الحجاج مدة دولة العبيديين. فكان الحجاج يلاقون من الضغط في استيدائها عنتا مجحفا ويسامون فيها خطة خسف باهظة. وربما ورد منهم من لا فضل لديه على نفقته أو لا نفقة عنده فيلزم أداء الضريبة المعلومة، وكانت سبعة دنانير ونصف دينار من الدنانير المصرية التي هي خمسة عشر دينارا مؤمنية على كل رأس، ويعجز عن ذلك، فيتناول بأليم العذاب بعيذاب. فكانت كاسمها مفتوحة العين.

وربما اخترع له من أنواع العذاب التعليق من الأنثيين أو غير ذلك من الأمور الشنيعة، نعوذ بالله من سوء قدره. وكان بجدّة أمثال هذا التنكيل وأضعافه لمن لم يؤدّ مكسه بعيذاب ووصل اسمه غير معلم عليه علامة الأداء. فمحا هذا
বাইশ হাত পরিমিত যা চব্বিশটি ভাগে বিভক্ত, যা আঙুল নামে পরিচিত। যখন তাদের কাছে পানির প্রবাহ এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে পানি তাতে নিমজ্জিত উনিশ হাত পূর্ণ করে, তবে তাদের নিকট এটি বছরের সর্বোত্তম প্রাচুর্য হিসেবে গণ্য হয়। কখনও কখনও প্লাবনের ব্যাপকতার কারণে নিমজ্জিত অংশ অনেক বেশি হয়ে থাকে। তাদের মতে মধ্যম মান হলো সতেরো হাত পূর্ণ হওয়া, এবং এটি উল্লেখিত অতিরিক্ত পরিমাণের চেয়েও তাদের নিকট অধিক পছন্দনীয়।

আর মিশর ভূখণ্ডে সুলতান যে ভূমি রাজস্ব বা খারাজ পাওয়ার অধিকারী হন, তা হলো পানি ষোলো হাত এবং তদূর্ধ্ব হওয়া; এর ওপর ভিত্তি করেই সেই ব্যক্তিকে সুসংবাদ-পুরস্কার প্রদান করা হয় যে প্রতিদিনের পানির বৃদ্ধি এবং উল্লেখিত হাতের বিভিন্ন অংশের বৃদ্ধির প্রতি লক্ষ্য রাখে এবং এর মাধ্যমে প্রতিদিনের অবস্থা অবহিত করে যতক্ষণ না তা নির্ধারিত চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছায়। যদি পানির উচ্চতা ষোলো হাতের কম হয়, তবে সেই বছর সুলতানের পক্ষ থেকে কোনো কর সংগ্রহ করা হয় না এবং কোনো খারাজও নেওয়া হয় না।

আমাদের নিকট উল্লেখ করা হয়েছে যে, উক্ত গিজায় কাব আল-আহবার (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) এর সমাধি অবস্থিত। উক্ত গিজার সম্মুখভাগে কিছু মার্বেল পাথর রয়েছে যাতে কুমিরের ছবি খোদাই করা আছে। বলা হয়ে থাকে যে, এর কারণে শহরের নিকটবর্তী নীল নদের উজান ও ভাটির তিন মাইল পর্যন্ত এলাকায় কুমির দেখা যায় না; আল্লাহই এর প্রকৃত রহস্য সম্পর্কে সম্যক অবগত।

‌‌সালাহউদ্দীনের ন্যায়বিচার

মহান আল্লাহর নৈকট্যদানকারী এই সুলতানের অন্যতম গৌরবময় কাজ এবং তাঁর রেখে যাওয়া নিদর্শনসমূহ যা দ্বীন ও দুনিয়ার জন্য একটি সুন্দর স্মৃতি হয়ে আছে, তার একটি হলো: উবাইদি শাসনের সময় হাজীদের ওপর ধার্যকৃত ‘মাকস’ নামক অবৈধ কর প্রথা বিলুপ্ত করা। হাজীরা এই কর আদায়ের চাপে চরম দুর্গতি ও ক্ষতির সম্মুখীন হতেন এবং তাদের ওপর অত্যন্ত লাঞ্ছনাকর ও দুঃসহ নিয়ম চাপিয়ে দেওয়া হতো। অনেক সময় এমন হাজী আসতেন যার নিকট পাথেয় ছাড়া অতিরিক্ত কিছুই থাকত না অথবা যার কাছে কোনো পাথেয়ই থাকত না, তবুও তাকে নির্ধারিত কর প্রদান করতে বাধ্য করা হতো। এই করের পরিমাণ ছিল জনপ্রতি সাড়ে সাত মিশরীয় দিনার, যা পনেরো মুমিনীয় দিনারের সমতুল্য। কেউ তা দিতে অক্ষম হলে আইজাব বন্দরে তাকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দেওয়া হতো। ফলে আইজাব বন্দরটি তার নামের অর্থের মতোই যন্ত্রণার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

কখনও কখনও তার জন্য এমন সব অভিনব শাস্তি উদ্ভাবন করা হতো যেমন অণ্ডকোষ ধরে ঝুলিয়ে রাখা অথবা অন্য কোনো জঘন্য কায়দা; আমরা আল্লাহর নিকট মন্দের ভাগ্য থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি। যারা আইজাবে এই অবৈধ কর প্রদান করত না এবং যাদের নামের পাশে কর প্রদানের চিহ্ন থাকত না, তাদের জন্য জেদ্দাতেও অনুরূপ বা তার চেয়েও কয়েক গুণ বেশি শাস্তির ব্যবস্থা ছিল। অতঃপর তিনি এটি বিলুপ্ত করেন।
(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনে জুবায়ের - ত. দারুল হিলাল (পৃষ্ঠা: ২৯)
السلطان هذا الرسم اللعين ودفع عوضا منه ما يقوم مقامه من أطعمة وسواها، وعيّن مجبى موضع معيّن بأسره لذلك، وتكفل بتوصيل جميع ذلك الى الحجاز لأن الرسم المذكور كان باسم ميرة مكة والمدينة، عمّرهما الله، فعوض من ذلك أجمل عوض، وسهل السبيل للحجاج، وكانت في حيز الانقطاع وعدم الاستطلاع، وكفى الله المؤمنين على يدي هذا السلطان العادل حادثا عظيما وخطبا أليما. فترتب الشكر له على كل من يعتقد من الناس أن حج البيت الحرام احدى القواعد الخمس من الإسلام، حتى يعم جميع الآفاق ويوجب الدعاء له في كل صقع من الأصقاع وبقعة من البقاع، والله من وراء مجازاة المحسنين، وهو، جلت قدرته، لا يضيع أجر من أحسن عملا. الى مكوس كانت في البلاد المصرية وسواها ضرائب على كل ما يباع ويشترى مما دق أو جل، حتى كان يؤدّى على شرب ماء النيل المكس فضلا عما سواه. فمحا هذا السلطان هذه البدع اللعينة كلها وبسط العدل ونشر الأمن.

ومن عدل هذا السلطان وتأمينه للسبل أن الناس في بلاده لا يخلعون لباس الليل تصرفا فيما يعنيهم، ولا يستشعرون لسواده هيبة تثنيهم. على مثل ذلك شاهدنا أحوالهم بمصر والإسكندرية حسبما تقدم ذكره.

شهر محرم سنة تسع وسبعين

استهل هلاله ليلة الثلاثاء، وهو اليوم السادس والعشرون من أبريل، ونحن بمصر، يسر الله علينا مرامنا.

وفي صبيحة يوم الأحد السادس من محرم المذكور كان انفصالنا من مصر وصعودنا في النيل على الصعيد قاصدين الى قوص. عرفنا الله عادته الجميلة من التيسير وحسن المعونة بمنه، ووافق يوم اقلاعنا المذكور أول يوم من مايه «1»
সুলতান এই অভিশপ্ত প্রথাটি রহিত করেন এবং এর পরিবর্তে খাদ্যদ্রব্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় বস্তু প্রদান করেন যা এর স্থলাভিষিক্ত হয়। তিনি একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের যাবতীয় রাজস্ব সামগ্রিকভাবে এই কাজের জন্য বরাদ্দ করেন এবং সেই সব কিছু হিজাজে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব গ্রহণ করেন, কারণ উল্লিখিত প্রথাটি মক্কা ও মদীনার—আল্লাহ এই দুই শহরকে আবাদ রাখুন—খাদ্য সরবরাহের নামে ছিল। তিনি এর বিনিময়ে সর্বোত্তম বিকল্প প্রদান করেন এবং হাজীদের জন্য পথ সহজ করে দেন, যা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার এবং কোনো খবরাখবর না পাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। এই ন্যায়পরায়ণ সুলতানের মাধ্যমে আল্লাহ মুমিনদের এক মহাবিপদ ও যন্ত্রণাদায়ক সংকট থেকে রক্ষা করেছেন। তাই প্রত্যেক সেই ব্যক্তির ওপর তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা কর্তব্য যে বিশ্বাস করে যে আল্লাহর ঘরের হজ ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি; যাতে এই কৃতজ্ঞতা সকল দিগন্তে ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রতিটি জনপদ ও ভূখণ্ডে তাঁর জন্য দোয়া করা আবশ্যক হয়ে ওঠে। আল্লাহ সৎকর্মশীলদের প্রতিদান দাতা এবং তিনি, যাঁর কুদরত অতি মহান, কোনো উত্তম আমলকারীর প্রতিদান নষ্ট করেন না। এছাড়া মিশরীয় ভূখণ্ড ও অন্যত্র প্রচলিত নানাবিধ শুল্ক—যা ছোট-বড় সকল কেনাবেচার ওপর কর হিসেবে ধার্য ছিল, এমনকি নীল নদের পানি পান করার ওপরও শুল্ক দিতে হতো—এই সুলতান এই সমস্ত অভিশপ্ত বিদআত নির্মূল করেন এবং ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করেন।

এই সুলতানের ন্যায়বিচার ও পথঘাট নিরাপদ করার একটি নিদর্শন হলো এই যে, তাঁর রাজ্যের মানুষ নিজেদের প্রয়োজনে রাতের পোশাকেই চলাফেরা করে, আর রাতের আঁধারের কোনো ভয় তাদের স্বীয় উদ্দেশ্য থেকে বিরত রাখে না। আমরা কায়রো ও আলেকজান্দ্রিয়ায় তাদের অবস্থা ঠিক তেমনই প্রত্যক্ষ করেছি যা ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে।

মুহাররম মাস, পাঁচশ উনআশি হিজরি

মঙ্গলবার রাতে এর চাঁদ উদিত হয়েছে, যা ছিল ২৬শে এপ্রিল। তখন আমরা মিশরে ছিলাম। আল্লাহ আমাদের লক্ষ্য অর্জন সহজ করে দিন।

উল্লিখিত মুহাররম মাসের ছয় তারিখ রবিবার সকালে আমরা মিশর থেকে বিদায় নিলাম এবং নীল নদ দিয়ে উচ্চ মিশরের অভিমুখে যাত্রা করলাম, আমাদের গন্তব্য ছিল কুস। আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহে সহজীকরণ ও উত্তম সহায়তার মাধ্যমে তাঁর সুন্দর রীতি আমাদের দেখিয়েছেন। আমাদের এই যাত্রার দিনটি মে মাসের প্রথম দিনের সাথে মিলে গিয়েছিল।
(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনে জুবায়ের - ত. দারুল হিলাল (পৃষ্ঠা: ৩০)
بحول الله عز وجل. والقرى في طريقنا متصلة في شطي النيل والبلاد الكبار حسبما يأتي ذكره، ان شاء الله. فمنها قرية تعرف بأسكر في الضفة الشرقية من النيل مياسرة للصاعد فيه. ويذكر أن فيها كان مولد النبي موسى الكليم، صلى الله على نبينا وعليه، ومنها القته أمه في اليم، وهو النيل حسبما ذكر.

وعاينا أيضا بغربي النيل ميامنا لنا، وذلك كله يوم اقلاعنا المذكور وفي الثاني منه، المدينة القديمة المنسوبة ليوسف الصديق صلى الله عليه وسلم، وبها موضع السجن الذي كان فيه، وهو الآن ينقض وينقل أحجاره الى القلعة المبتناة الآن على القاهرة، وهو حصن حصين المنعة.

وبهذه المدينة المذكورة مخازن الطعام التي اختزنها يوسف، صلى الله عليه وسلم، وهي مجوفة على ما يذكر.

ومنها الموضع المذكور بمنية ابن الخصيب وهو بلد على شط النيل ميامنا للصاعد فيه كبير فيه الأسواق والحمامات وسائر مرافق المدن، اجتزنا عليه ليلة الأحد الثالث عشر لمحرم المذكور، وهو الثامن من يوم اقلاعنا من مصر، لأن الريح سكنت عنا فتربصنا في الطريق.

ولو ذهبنا الى رسم كل موضع يعترضنا في شطي النيل يمينا وشمالا لضاق الكتاب عنه، لكن نقصد من ذلك الى الأكبر الأشهر.

وقابلنا على مقربة من هذا الموضع مياسرا لنا المسجد المبارك المنسوب لإبراهيم خليل الرحمن، صلوات الله عليه وعلى نبينا، وهو مسجد مذكور مشهور معلوم بالبركة مقصود، ويقال: إن بفنائه أثر الدابة التي كان يركبها الخليل، صلى الله عليه وسلم.

ومنها موضع يعرف بأنصنا مياسرا لنا، وهي قرية فسيحة جميلة بها آثار قديمة، وكانت في السالف مدينة عتيقة، وكان لها سور عتيق هدمه صلاح الدين وجعل على كل مركب منحدر في النيل وظيفة من حمل صخره الى القاهرة، فنقل
পরাক্রমশালী মহান আল্লাহর শক্তিতে। নীল নদের দুই তীরে আমাদের পথের গ্রামগুলো একে অপরের সাথে অবিচ্ছিন্নভাবে অবস্থিত এবং বড় শহরগুলোর বর্ণনা ইনশাআল্লাহ সামনে আসবে। তার মধ্যে আসকার নামে পরিচিত একটি গ্রাম নীল নদের পূর্ব তীরে আরোহণকারীর বাম দিকে অবস্থিত। উল্লেখ করা হয় যে, এখানেই নবী মুসা কালিমুল্লাহর (আমাদের নবী ও তাঁর ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক) জন্ম হয়েছিল এবং এখান থেকেই তাঁর মা তাঁকে নদীতে নিক্ষেপ করেছিলেন, যা বর্ণিত তথ্য অনুযায়ী নীল নদ।

আমরা নীল নদের পশ্চিম তীরে আমাদের ডান দিকে সেই প্রাচীন শহরটিও প্রত্যক্ষ করলাম যা ইউসুফ সিদ্দিকের (আলাইহিস সালাম) সাথে সম্পর্কিত। এ সবই আমাদের উল্লিখিত যাত্রার দিন এবং তার পরবর্তী দিনে ঘটেছিল। সেখানে সেই কারাগারের স্থানটিও রয়েছে যেখানে তিনি অবস্থান করেছিলেন। বর্তমানে তা ভেঙে ফেলা হচ্ছে এবং এর পাথরগুলো কায়রোতে নবনির্মিত দুর্গে স্থানান্তরিত করা হচ্ছে, যা একটি অত্যন্ত দুর্ভেদ্য ও সুরক্ষিত দুর্গ।

উক্ত শহরে ইউসুফ (আলাইহিস সালাম) কর্তৃক সঞ্চিত খাদ্যের সেই ভাণ্ডারগুলো রয়েছে, যা বর্ণনা অনুযায়ী ভেতর থেকে ফাঁপা।

এর মধ্যে মুনিয়াতু ইবনু খাসিব নামক স্থানটি উল্লেখযোগ্য, যা নীল নদের তীরে আরোহণকারীর ডান দিকে অবস্থিত একটি বড় শহর। এতে বাজার, গোসলখানা এবং শহরের অন্যান্য যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা বিদ্যমান। আমরা উল্লিখিত মহররম মাসের তেরো তারিখ রবিবার রাতে এটি অতিক্রম করেছি, যা ছিল মিশর থেকে আমাদের যাত্রা শুরুর অষ্টম দিন; কেননা বাতাস থেমে যাওয়ায় আমাদের পথে অবস্থান করতে হয়েছিল।

আমরা যদি নীল নদের দুই তীরে ডানে ও বামে আমাদের সম্মুখে আসা প্রতিটি স্থানের বিবরণ লিপিবদ্ধ করতে যেতাম, তবে এই গ্রন্থটি তার জন্য সংকীর্ণ হয়ে পড়ত। তবে আমরা কেবল সর্ববৃহৎ ও সর্বাপেক্ষা প্রসিদ্ধ স্থানগুলো বর্ণনার সংকল্প করেছি।

এই স্থানের সন্নিকটে আমাদের বাম দিকে আমরা ইব্রাহিম খলিলুর রহমানের (আমাদের নবী ও তাঁর ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক) সাথে সম্পর্কিত বরকতময় মসজিদটির মুখোমুখি হলাম। এটি একটি সুপ্রসিদ্ধ ও সুপরিচিত মসজিদ যা বরকতের আধার হিসেবে পরিগণিত এবং দর্শনার্থীদের অন্যতম গন্তব্য। বলা হয়ে থাকে যে, এর প্রাঙ্গণে সেই পশুর পদচিহ্ন বিদ্যমান যার ওপর খলিল (আলাইহিস সালাম) আরোহণ করতেন।

এর মধ্যে আনসিনা নামে পরিচিত একটি স্থান আমাদের বাম দিকে অবস্থিত, যা একটি প্রশস্ত ও মনোরম গ্রাম এবং এখানে প্রাচীন নিদর্শনাবলি রয়েছে। অতীতে এটি একটি প্রাচীন শহর ছিল এবং এর একটি প্রাচীন প্রাচীর ছিল যা সালাহউদ্দীন ধ্বংস করেছিলেন। তিনি নীল নদ দিয়ে নিম্নগামী প্রতিটি নৌকার ওপর এর পাথরগুলো কায়রোতে বহন করে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন, ফলে তা স্থানান্তরিত করা হয়েছিল।
(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনে জুবায়ের - ত. দারুল হিলাল (পৃষ্ঠা: ৩১)
بأسره اليها.

وفي صبيحة يوم الاثنين الرابع عشر من محرم المذكور، وهو التاسع من اقلاعنا من مصر، اجتزنا بالجبل المعروف بجبل المقلة وهو بالشط الشرقي من النيل مياسرا للصاعد فيه، وهو نصف الطريق الى قوص، من مصر اليه ثلاثة عشر بريدا، ومنه الى قوص مثلها.

ومما يجب ذكره على جهة التعجب أن من حيّز مصر في شط النيل الشرقي مياسرا للصاعد فيه حائطا متصلا قديم البنيان، منه ما قد تهدم ومنه ما بقي أثره، يتمادى على الشط المذكور الى أسوان آخر صعيد مصر، وبين أسوان وبين قوص ثمانية برد. والأقوال في أمر هذا الحائط تتشعب وتختلف، وبالجملة فشأنه عجيب ولا يعلم سره الا الله عز وجل. وهو يعرف بحائط العجوز، ولها خبر مذكور، أظن هذه العجوز هي الساحرة المذكور خبرها في المسالك والممالك التي كانت لها المملكة بها مدة.

‌‌ذكر ما استدرك خبره

وذلك أنّا لما حللنا الإسكندرية في الشهر المؤرخ أولا عاينا مجتمعا من الناس عظيما بروزا لمعاينة أسرى من الروم أدخلوا البلد راكبين على الجمال ووجوههم الى اذنابها وحولهم الطبول والأبواق. فسألنا عن قصتهم، فأخبرنا بأمر تتفطر له الأكباد اشفاقا وجزعا. وذلك أن جملة من نصارى الشام اجتمعوا وأنشأوا مراكب في أقرب المواضع التي لهم من بحر القلزم «1» ثم حملوا أنقاضها على جمال العرب المجاورين لهم بكراء اتفقوا معهم عليه، فلما حصلوا بساحل البحر سمروا مراكبهم وأكملوا انشاءها وتأليفها ودفعوها في البحر وركبوها قاطعين بالحجاج، وانتهوا الى بحر النعم فأحرقوا فيه نحو ستة عشر مركبا. وانتهوا الى عيذاب فأخذوا فيها مركبا كان يأتي بالحجاج من جدة، واخذوا أيضا في البر قافلة كبيرة تأتي من قوص الى عيذاب، وقتلوا الجميع ولم يحيوا أحدا. وأخذوا مركبين
তার দিকে পুরোপুরিভাবে।

উল্লিখিত মুহাররম মাসের চৌদ্দ তারিখ সোমবার সকালে, যা মিশর হতে আমাদের যাত্রার নবম দিন ছিল, আমরা জাবালুল মুকলা নামে পরিচিত পাহাড়টি অতিক্রম করলাম। এটি নীলের পূর্ব তীরে অবস্থিত এবং আরোহণকারীর বাম দিকে পড়ে। এটি কুস যাওয়ার পথের মধ্যবর্তী স্থান; মিশর হতে এর দূরত্ব তেরো বারিদ এবং এখান হতে কুস পর্যন্ত দূরত্বও তেরো বারিদ।

বিস্ময়কর বিষয় হিসেবে যা উল্লেখ করা আবশ্যক তা হলো, নীলের পূর্ব তীরের মিশরীয় সীমানা হতে আরোহণকারীর বাম দিকে একটি নিরবচ্ছিন্ন প্রাচীন প্রাচীর রয়েছে। এর কিছু অংশ ধসে পড়েছে এবং কিছু অংশের চিহ্ন অবশিষ্ট রয়েছে। এটি উল্লিখিত তীর ধরে ঊর্ধ্ব মিশরের শেষ প্রান্ত আসওয়ান পর্যন্ত বিস্তৃত। আসওয়ান ও কুসের মধ্যবর্তী দূরত্ব আট বারিদ। এই প্রাচীরের বিষয়ে মতামতের বিভিন্নতা ও মতভেদ রয়েছে। মোদ্দাকথা হলো, এর বিষয়টি অত্যন্ত আশ্চর্যজনক এবং মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ ছাড়া কেউ এর রহস্য জানেন না। এটি 'বৃদ্ধার দেয়াল' নামে পরিচিত এবং এই বৃদ্ধার একটি কাহিনী বর্ণিত আছে। আমার মনে হয় এই বৃদ্ধা সেই জাদুকরী যার কথা 'আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক' গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে এবং যার সেখানে দীর্ঘ সময় রাজত্ব ছিল।

‌‌পরবর্তীতে প্রাপ্ত সংবাদের বিবরণ

এর কারণ হলো, যখন আমরা ইতিপূর্বে বর্ণিত মাসে আলেকজান্দ্রিয়ায় অবস্থান করছিলাম, তখন আমরা রোমান বন্দীদের দেখার জন্য জনগণের বিশাল সমাবেশ দেখতে পেলাম। বন্দীদের উটের পিঠে তাদের পিঠের দিকটি সামনের দিকে এবং মুখের দিকটি লেজের দিকে ফিরিয়ে শহরে প্রবেশ করানো হচ্ছিল এবং তাদের চারপাশে ঢোল ও শিঙ্গা বাজানো হচ্ছিল। আমরা তাদের ঘটনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে এমন একটি বিষয় জানতে পারলাম যা মমতাবোধ ও উদ্বেগে কলিজা বিদীর্ণ করে দেয়। বিষয়টি হলো, সিরিয়ার একদল খ্রিস্টান একত্রিত হয়ে লোহিত সাগরের নিকটবর্তী কোনো স্থানে নৌকা তৈরি করে। অতঃপর তারা চুক্তিবদ্ধ ভাড়ার বিনিময়ে পার্শ্ববর্তী আরবদের উটের পিঠে নৌকার সরঞ্জামাদি বহন করে নিয়ে যায়। যখন তারা সমুদ্র উপকূলে পৌঁছাল, তখন তারা নৌকার তক্তাগুলো গেঁথে নির্মাণ ও জোড়া দেওয়ার কাজ সম্পন্ন করল এবং সেগুলো সমুদ্রে ভাসিয়ে হাজীদের পথ রোধ করার জন্য তাতে আরোহণ করল। তারা বাহরুন না'আম পর্যন্ত পৌঁছে সেখানে প্রায় ষোলটি নৌকা পুড়িয়ে দেয়। এরপর তারা আইজাব পর্যন্ত পৌঁছে জেদ্দা থেকে হাজীদের বহন করে আনা একটি নৌকা দখল করে। এছাড়া তারা স্থলপথে কুস থেকে আইজাবগামী একটি বড় কাফেলা আক্রমণ করে এবং তাদের সবাইকে হত্যা করে, কাউকে জীবিত রাখেনি। তারা দুটি নৌকা দখল করে...
(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনে জুবায়ের - ত. দারুল হিলাল (পৃষ্ঠা: ৩২)
كانا مقبلين بتجار من اليمن، وأحرقوا أطعمة كثيرة على ذلك الساحل كانت معدة لميرة مكة والمدينة أعزهما الله، وأحدثوا حوادث شنيعة لم يسمع مثلها في الإسلام، ولا انتهى رومي الى ذلك الموضع قطّ.

ومن أعظمها حادثة تسد المسامع شناعة وبشاعة، وذلك انهم كانوا عازمين على دخول مدينة الرسول، صلى الله عليه وسلم، واخراجه من الضريح المقدس.

أشاعوا ذلك وأجروا ذكره على ألسنتهم. فآخذهم الله باجترائهم عليه وتعاطيهم ما تحول عناية القدر بينهم وبينه. ولم يكن بينهم وبين المدينة أكثر من مسيرة يوم. فدفع الله عاديتهم بمراكب عمرت من مصر والإسكندرية دخل فيها الحاجب المعروف بلؤلؤ مع أنجاد المغاربة البحريين. فلحقوا العدو وهو قد قارب النجاة بنفسه فأخذوا عن آخرهم. وكانت آية من آيات العنايات الجبارية، وأدركوهم عن مدة طويلة كانت بينهم من الزمان نيف على شهر ونصف أو حوله. وقتلوا واسروا، وفرق من الأسارى على البلاد ليقتلوا بها، ووجه منهم الى مكة والمدينة. وكفى الله بجميل صنعه الإسلام والمسلمين أمرا عظيما، والحمد لله رب العالمين.

‌‌رجع الذكر

ومن المواضع التي اجتزنا عليها في الصعيد بعد جبل المقلة الذي ذكرنا أنه نصف الطريق من مصر الى قوص، حسبما تقدم ذكره، موضع يعرف بمنفلوط بمقربة من الشط الغربي ميامنا للصاعد في النيل، فيه الأسواق وسائر ما يحتاج اليه من المرافق، وهي بلدة في نهاية من الطيب ليس في الصعيد مثلها، وقمحها يجلب الى مصر لطيبه ورزانة حبته، قد اشتهر عندهم بذلك. فالتجار يصعدون في المراكب لاستجلابه.

ومنها مدينة أسيوط، وهي من مدن الصعيد الشهيرة، بينها وبين الشط الغربي من النيل مقدار ثلاثة أميال. وهي جميلة المنظر، حولها بساتين النخل،
তারা ইয়েমেন থেকে আসা বণিকদের মুখোমুখি হয়েছিল এবং সেই উপকূলে প্রচুর খাদ্যদ্রব্য পুড়িয়ে ফেলেছিল যা মক্কা ও মদিনার (আল্লাহ সেই দুই শহরকে সম্মানিত করুন) রসদ হিসেবে সংরক্ষিত ছিল। তারা এমন জঘন্য ঘটনা ঘটিয়েছিল যার নজির ইসলামে ইতিপূর্বে শোনা যায়নি এবং এর আগে কোনো রোমান (ক্রুসেডার) কখনো সেই স্থানে পৌঁছাতে পারেনি।

সেই সব ঘটনার মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনাটি ছিল শ্রবণে অত্যন্ত জঘন্য ও বীভৎস, আর তা হলো তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শহরে প্রবেশ করার এবং পবিত্র রওজা মুবারক থেকে তাঁকে বের করে নেওয়ার সংকল্প করেছিল।

তারা এ কথা প্রচার করেছিল এবং তাদের জিহ্বায় তা উচ্চারণ করেছিল। ফলে আল্লাহ তাদের এই দুঃসাহস এবং এমন এক কার্যে লিপ্ত হওয়ার কারণে পাকড়াও করলেন যার ও তাদের মাঝে তকদিরের যত্ন অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তাদের ও মদিনার মাঝে মাত্র একদিনের পথ বাকি ছিল। অতঃপর আল্লাহ মিশর ও আলেকজান্দ্রিয়া থেকে প্রস্তুতকৃত নৌযানগুলোর মাধ্যমে তাদের আক্রমণ প্রতিহত করেন, যাতে লুলু নামে পরিচিত হাজিব মরক্কোর নৌ-বীরদের সাথে যোগদান করেছিলেন। তারা শত্রুর নাগাল পেল যখন শত্রু প্রায় আত্মরক্ষার কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল, অতঃপর তাদের শেষ ব্যক্তি পর্যন্ত বন্দি করা হলো। এটি ছিল পরাক্রমশালী আল্লাহর বিশেষ করুণার নিদর্শনসমূহের একটি। তারা দীর্ঘ দেড় মাস বা তার কাছাকাছি সময় অতিবাহিত হওয়ার পর তাদের পাকড়াও করেছিল। তাদের অনেককে হত্যা করা হয়েছে এবং বন্দি করা হয়েছে। বন্দিদের বিভিন্ন দেশে পাঠানো হয়েছিল সেখানে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার জন্য, এবং তাদের একটি অংশকে মক্কা ও মদিনায় পাঠানো হয়েছিল। আল্লাহ তাঁর উত্তম কৌশলে ইসলাম ও মুসলিমদের এক মহাবিপদ থেকে রক্ষা করেছেন। সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

‌‌পূর্ব আলোচনার অনুবৃত্তি

উচ্চ মিশরের (সাঈদ) যেসব স্থানের মধ্য দিয়ে আমরা অতিক্রম করেছি, মাকলা পাহাড়ের পর (যা আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি যে তা মিশর থেকে কুস পর্যন্ত পথের অর্ধেক), একটি স্থান যা মানফালুত নামে পরিচিত। এটি নীল নদের পশ্চিম তীরের নিকটবর্তী এবং উজানে গমনকারীর ডান দিকে অবস্থিত। সেখানে বাজার এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য সকল সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। এটি অত্যন্ত চমৎকার একটি শহর যার সমতুল্য উচ্চ মিশরে আর নেই। এর উন্নত মান ও দানার পুষ্টতার কারণে এর গম মিশরে নিয়ে যাওয়া হয় এবং তাদের কাছে তা সুপ্রসিদ্ধ। তাই বণিকরা তা সংগ্রহের জন্য নৌযানে করে সেখানে আরোহণ করে।

তার মধ্যে অন্যতম হলো আসিউত শহর, যা উচ্চ মিশরের একটি প্রসিদ্ধ শহর। নীল নদের পশ্চিম তীর থেকে এর দূরত্ব প্রায় তিন মাইল। এটি অত্যন্ত সুন্দর দৃশ্যমণ্ডিত এবং এর চারপাশে খেজুরের বাগান রয়েছে,