(খণ্ড: ১) আল-মুহাররার ফিল হাদীস - ত আল-কাসিম (পৃষ্ঠা: -)
المحرر في الحديث - ت القاسم   (ابن عبد الهادي)

القسم: كتب السنة

الكتاب: المحرر في أحاديث الأحكام

المؤلف: محمد بن أحمد بن عبد الهادي المقدسي (ت 744 هـ)

المحقق: د عبد المحسن بن محمد القاسم

محقق على نسخ نفيسة عتيقة

الطبعة: الثانية، 1442 هـ - 2021 م

عدد الأجزاء: 2

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 11 ربيع الآخر 1444

হাদীস বিষয়ক আল-মুহাররার - আল-কাসিমের সম্পাদনা   (ইবন আবদিল হাদী)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ

গ্রন্থ: আহকাম বিষয়ক হাদীসসমূহের সংকলন আল-মুহাররার

লেখক: মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন আবদিল হাদী আল-মাকদিসী (মৃত্যু ৭৪৪ হিজরী)

সম্পাদক: ড. আবদুল মুহসিন বিন মুহাম্মাদ আল-কাসিম

প্রাচীন ও মূল্যবান পাণ্ডুলিপিসমূহের ভিত্তিতে সম্পাদিত

সংস্করণ: দ্বিতীয়، ১৪৪২ হিজরী - ২০২১ খ্রিষ্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ২

[গ্রন্থের নম্বরকরণ মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১১ রবিউস সানি ১৪৪৪

(খণ্ড: ১) আল-মুহাররার ফিল হাদীস - ত আল-কাসিম (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم اللَّه الرحمن الرحيم

‌‌المقدِّمة

الحمدُ للَّه ربِّ العالَمِين، والصَّلاة والسَّلامُ على نبيِّنا محمدٍ وعلى آلهِ وأصحابهِ أجمعينَ.

أمَّا بعدُ:

فأنزل اللَّهُ القرآنَ العظيمَ تِبياناً لكلِّ شيءٍ، وجاءت السُّنَّة النَّبويَّةُ مُفسِّرةً ومبيِّنةً له، ودالَّةً عليه، ومعبِّرةً عنه، وتنوَّعت جهودُ العلماء في جمعها في الصِّحاح والسُّنن والمسانيد والمُستَخرَجات والمُصنَّفات والمُستدَرَكات وغيرِها، ثمَّ أَفردوا منها أحاديثَ في أنواعٍ من العلوم؛ كأحاديث أسماء اللَّه وصفاته، وشُعَب الإيمان، ودلائل النُّبوَّة، والفِتَن وأَشْراط السَّاعة، وغيرِ ذلك.

وممَّا أفرده العُلَماء: أحاديثُ الأحكام الفِقهيَّة، فاقتَصَر بعضُهم على أحاديث الأحكام من الصَّحيحَين، ومِنهم من زاد عليهما مِنْ دواوين السُّنَّة المُسنَدة، ومِن أَجلِّ كُتُب الأحكام وأَدقِّها تحريراً لألفاظِها، وحُكماً على أحاديثِها، وإِشارةً إلى مراتِب كثير مِنْ رُواتِها بالجرح والتَّعديل: كتابُ (المُحرَّرِ في أحاديثِ الأحكام) للحافظ أبي عبدِ اللَّه محمَّدِ بنِ أحمدَ بنِ عبد الهادي المقدسيِّ الحنبليِّ.
পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।

‌‌ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও তাঁর সকল সাহাবীর ওপর।

অতঃপর:

মহান আল্লাহ সবকিছুর স্পষ্ট বর্ণনা হিসেবে মহান কুরআন নাজিল করেছেন, আর নববী সুন্নাহ এর ব্যাখ্যা ও বিশদ বর্ণনাকারী, এর নির্দেশক এবং এর ভাবপ্রকাশকারী হিসেবে এসেছে। সুন্নাহকে সিহাহ, সুনান, মাসানিদ, মুস্তাখরাজাত, মুসান্নাফাত, মুস্তাদরাকাত এবং অন্যান্য গ্রন্থে সংকলন করার ক্ষেত্রে উলামায়ে কেরামের বহুবিধ প্রচেষ্টা ব্যয় হয়েছে। অতঃপর তাঁরা তা থেকে বিভিন্ন প্রকার জ্ঞানসংক্রান্ত হাদিসসমূহ পৃথকভাবে সংকলন করেছেন; যেমন আল্লাহর নাম ও গুণাবলির হাদিস, ঈমানের শাখাসমূহ, নবুওয়তের প্রমাণাদি, ফিতনা এবং কেয়ামতের আলামতসমূহ ও অন্যান্য বিষয়ের হাদিস।

উলামায়ে কেরাম যা কিছু পৃথকভাবে সংকলন করেছেন তার মধ্যে অন্যতম হলো ফিকহি আহকামের (বিধান সংক্রান্ত) হাদিসসমূহ। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ শুধু সহিহাইন (বুখারি ও মুসলিম) থেকে আহকামের হাদিস চয়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকেছেন, আবার কেউ কেউ অন্যান্য সনদভিত্তিক হাদিস গ্রন্থসমূহ থেকে তার ওপর আরও সংযোগ করেছেন। আর বিধান সংক্রান্ত কিতাবসমূহের মধ্যে অন্যতম মহান এবং শব্দ চয়নের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও হাদিসসমূহের মানের ব্যাপারে সুনিপুণ সিদ্ধান্ত প্রদানকারী এবং জরাহ ও তাদিলের (সমালোচনা ও গ্রহণযোগ্যতা নিরূপণ) মাধ্যমে অনেক বর্ণনাকারীর স্তরের প্রতি ইঙ্গিত প্রদানকারী গ্রন্থ হলো হাফেজ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে আহমদ ইবনে আব্দুল হাদি মাকদিসি হাম্বলি-এর ‘আল-মুহাররার ফি আহাদিসিল আহকাম’ কিতাবটি।
(খণ্ড: ১) আল-মুহাররার ফিল হাদীস - ত আল-কাসিম (পৃষ্ঠা: ৬)
وقد جَعل كتابَ «الإِلْمامِ» - لمحمَّدِ بنِ عليِّ بنِ وَهبٍ المعروفِ بابنِ دَقيقِ العِيد الشافعيِّ، المُتوفَّى عام (702 هـ) - أصلاً لكتابه «المُحرَّر»، وحَذا حَذْوَه فيه، قال الحافِظُ ابنُ حجرٍ رحمه الله: «اختَصره من (الإِلْمام) فَجَوَّده جدّاً»‌‌(1)، ولم يَقتَصِر على اختِصاره؛ بل أَوْردَ أحاديثَ ليست في «الإلمام»، أو كانت مختصَرةً فيه فساقَها بأتمَّ منها، كما أنَّه في الحُكم على الأحاديث زاد على ما فيه.

وقد تابَعه في جُملةِ ترتيب الكتاب، وخَالَفَه في بعضِه، وكِلا الكتابَيْن مُقارِبٌ في ترتيبه لترتيب كُتب الشَّافعيَّة الفقهيَّة.

ولأهمِّيَّته حققته ضمن المتون الإضافية من سلسلة (متون طالب العلم)؛ ليظهر كما وَضَعهُ مؤلِّفُه.

وقد أثبتُّ في هذه النُّسخة حواشيَ التَّحقيق المتضمِّنةَ لفروق النُّسخ، وتَخريجِ الأحاديث، وشرحِ الغريب، وغيرِ ذلك، وأفردتُ للحفَّاظ نسخةً أُخرى مُجرَّدةً من جميع ذلك.

وأنا أَرْوي كتابَ «المحرَّرِ في أحديث الأحكام» عن مُصنِّفه مِنْ طُرُقٍ متعدِّدةٍ؛ أعلاها ما أَخْبرني به الشَّيخُ محمَّدُ بنُ عبدِ الرَّحمنِ آلِ الشَّيخ، عن حَمَدِ بنِ فارسٍ ابنِ رُمَيْحٍ، عن عبدِ الرَّحمنِ بنِ حسنِ بنِ محمّدِ بنِ عبدِ الوهّاب، عن الشّيخ المجدِّد محمّدِ بنِ عبدِ الوهّابِ، عن عبدِ الله بنِ سيفٍ الشَّمَّريِّ، عن محمّدِ بنِ عبد الباقي البَعْلِيِّ، عن محمّدِ بنِ محمّدِ بنِ محمّدٍ الغَزِّيِّ، عن زكَريّا بنِ محمّدٍ الأنصاريِّ، عن

--------------------------------------------

‌‌(1) الدرر الكامنة في أعيان المئة الثامنة (5/ 62).

তিনি ইবনে দাকীক আল-ঈদ আশ-শাফিঈ (মৃ. ৭০২ হি.) নামে প্রসিদ্ধ মুহাম্মদ বিন আলী বিন ওয়াহাব রচিত ‘আল-ইলমাম’ গ্রন্থটিকে তাঁর ‘আল-মুহাররার’ গ্রন্থের মূল উৎস হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং এতে তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন। হাফেজ ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: “তিনি এটি (আল-ইলমাম) থেকে সংক্ষেপ করেছেন এবং একে অত্যন্ত চমৎকার করেছেন”‌‌(১)। তিনি কেবল এটি সংক্ষেপ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি; বরং এতে এমন সব হাদিস উল্লেখ করেছেন যা ‘আল-ইলমাম’-এ নেই, অথবা সেখানে সংক্ষিপ্ত ছিল যা তিনি এখানে পূর্ণাঙ্গভাবে বর্ণনা করেছেন। একইভাবে হাদিসের হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রেও তিনি তাতে বিদ্যমান তথ্যের চেয়ে অতিরিক্ত সংযোজন করেছেন।

গ্রন্থের সাধারণ বিন্যাসে তিনি তাঁকে অনুসরণ করেছেন এবং কোনো কোনো অংশে তাঁর ভিন্নমত পোষণ করেছেন। উভয় গ্রন্থের বিন্যাসই শাফিঈ ফিকহ শাস্ত্রের গ্রন্থাবলির বিন্যাসের কাছাকাছি।

গ্রন্থটির গুরুত্বের কারণে আমি একে ‘মুতুনু তালিবিল ইলম’ (ইলম অন্বেষীর পাঠ্যসমূহ) সিরিজের অতিরিক্ত পাঠ্যমালার অন্তর্ভুক্ত করে তাহকীক করেছি; যাতে এটি লেখকের প্রণীত রূপ অনুযায়ী প্রকাশ পায়।

আমি এই সংস্করণে তাহকীকের টীকা সংযোজন করেছি যার মধ্যে পাণ্ডুলিপিগত পার্থক্য, হাদিসের তাখরীজ (উৎস নির্দেশ), দুর্বোধ্য শব্দের ব্যাখ্যা ও অন্যান্য বিষয় রয়েছে। আর মুখস্থকারীদের জন্য আমি এ সব কিছু বর্জিত একটি স্বতন্ত্র সংস্করণ প্রস্তুত করেছি।

আমি ‘আল-মুহাররার ফিল আহাদিসিল আহকাম’ গ্রন্থটি এর লেখকের নিকট থেকে একাধিক সূত্রে বর্ণনা করি; যার মধ্যে উচ্চতর সূত্রটি হলো যা আমাকে শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আলুশ শায়খ অবহিত করেছেন, তিনি হামাদ বিন ফারিস ইবনে রুমাইহ থেকে, তিনি আব্দুর রহমান বিন হাসান বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব থেকে, তিনি শায়খুল মুজাদ্দিদ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন সাইফ আশ-শামমারি থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন আব্দুল বাকি আল-বা’লি থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল-গাজ্জি থেকে, তিনি জাকারিয়া বিন মুহাম্মদ আল-আনসারি থেকে,

--------------------------------------------

‌‌(১) আদ-দুরারুল কামিনাহ ফি আইয়ানিল মিআতিস সামিনাহ (৫/৬২)।

(খণ্ড: ১) আল-মুহাররার ফিল হাদীস - ত আল-কাসিম (পৃষ্ঠা: ৭)
الحافظ أحمدَ بن عليِّ ابنِ حجرٍ، عن عُمَرَ بنِ محمّدِ بنِ أحمدَ ابنِ عبد الهادي، عن والده محمّدِ بنِ أحمدَ ابنِ عبد الهادي مصنِّف الكتاب.

أسأل اللَّهَ أن ينفع به، وأن يجعلَه ذخراً لنا في الآخرة.

وصلَّى اللَّه وسلَّم وباركَ على نبيِّنا محمَّدٍ وعلى آله وصحبه.

د. عبد المحسن بن محمد القاسم

إمام وخطيب المسجد النبوي

فرغتُ منه في الخَامسِ والعِشْرينَ مِنْ شهرِ اللَّه المُحرَّم

من عامِ أَلفٍ وأَربعِ مِئةٍ واثْنَينِ وأَرْبَعِينَ مِنْ الهِجْرة
হাফেয আহমাদ ইবনে আলী ইবনে হাজার, উমর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে আব্দুল হাদী থেকে, তিনি তাঁর পিতা এই কিতাবের রচয়িতা মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে আব্দুল হাদী থেকে বর্ণনা করেছেন।

আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন এর মাধ্যমে উপকৃত করেন এবং এটিকে পরকালে আমাদের জন্য পাথেয় হিসেবে কবুল করেন।

আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সাহাবীদের ওপর দরুদ, সালাম ও বরকত বর্ষণ করুন।

ড. আব্দুল মুহসিন বিন মুহাম্মাদ আল-কাসিম

ইমাম ও খতীব, মসজিদে নববী

আমি এটি সম্পন্ন করেছি আল্লাহর মাস মুহাররমের পঁচিশ তারিখে

এক হাজার চারশত বিয়াল্লিশ হিজরী সনে।
(খণ্ড: ১) আল-মুহাররার ফিল হাদীস - ত আল-কাসিম (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌منهجي في التحقيق

‌‌1 - رمزتُ للنُّسخ بالحروف الأبجديَّة مرتّباً إياها بحسب تاريخها؛ الأقدم فالأقدم.

‌‌2 - اعتمدت نسخة (أ) أصلاً في التَّحقيق، فأثبتُّ ما فيها - وهو الَّذي تتَّفق عليه النُّسخ غالباً - إلَّا ما اقتضى النَّظر إثباته من نسخةٍ أخرى، وبيَّنت سببَ ذلك غالباً؛ وراعيتُ نسختي (ب، ج) كثيراً بسبب جودتهما وقدم تاريخ نسخهما.

‌‌3 - كلُّ موضعٍ خالفت فيه الأصل لأجل المصادر فإنِّي لم أذكر التَّعليل؛ لكثرة ذلك جداً، ورُبَّما أبيِّنُ سببَ ذلك عند الحاجة.

‌‌4 - جعلتُ بداية الكتب والأبواب في رأس الصَّفحة، وراعيتُ في تفقير متون الأحاديث والتَّخريج وضوح المعنى، وتقريب نصوصه للحفظ.

‌‌5 - أثبتُّ النَّصَّ على ما اشتهر من قواعد الإملاء المعاصر، ولم أُشِرْ إلى اختلاف النُّسخ في ذلك؛ كطريقة كتابة الهمزات، ورسم التَّاء مفتوحةً أو مربوطةً، ونحو ذلك، وكتبت الآيات القرآنيَّة بالرَّسم العثماني.

‌‌6 - أثبتُّ الفروق المُهمَّة بين النُّسخ، مُكتفياً بتسمية رموز النُّسخ المخالفة في الحاشية، دون النُّسخ الموافقة للمتن؛ إلا إذا كان
আমার সম্পাদনা পদ্ধতি

১ - আমি পাণ্ডুলিপিগুলোকে বর্ণানুক্রমিক অক্ষর দ্বারা চিহ্নিত করেছি এবং সেগুলোকে তাদের রচনাকাল অনুযায়ী ক্রমানুসারে বিন্যস্ত করেছি; এক্ষেত্রে প্রাচীনতম পাণ্ডুলিপিকে অগ্রাধিকার দিয়েছি।

২ - আমি (আলিফ) পাণ্ডুলিপিকে সম্পাদনার মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছি এবং এতে যা রয়েছে তা-ই বহাল রেখেছি—পাণ্ডুলিপিগুলো সাধারণত এই পাঠের ওপরই একমত হয়েছে—তবে যেখানে পর্যালোচনার প্রেক্ষিতে অন্য পাণ্ডুলিপি থেকে পাঠ গ্রহণ করা আবশ্যক হয়েছে সেখানে তা-ই করেছি এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে তার কারণ ব্যাখ্যা করেছি। আমি (বা) ও (জিম) পাণ্ডুলিপিদ্বয়ের গুণগত মান এবং প্রাচীনত্বের কারণে সেগুলোর প্রতি বিশেষ লক্ষ্য রেখেছি।

৩ - অন্যান্য উৎসের প্রেক্ষিতে আমি যেখানেই মূল পাণ্ডুলিপির পাঠের বিপরীতে অবস্থান নিয়েছি, সেখানে তার কারণ উল্লেখ করিনি; কারণ এর সংখ্যা অত্যধিক। তবে প্রয়োজনবোধে কখনো কখনো এর কারণ স্পষ্ট করেছি।

৪ - আমি প্রতিটি ‘কিতাব’ ও ‘বাব’-এর সূচনা পৃষ্ঠার শুরু থেকে করেছি। হাদীসের মূল পাঠের অনুচ্ছেদ বিন্যাস এবং তাখরীজের ক্ষেত্রে অর্থের স্পষ্টতা এবং মুখস্থ করার সুবিধার্থে পাঠগুলো সহজবোধ্য করার প্রতি লক্ষ্য রেখেছি।

৫ - আমি প্রচলিত আধুনিক বানানরীতি অনুযায়ী পাঠটি নির্ধারণ করেছি এবং এক্ষেত্রে পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যকার বানানরীতির পার্থক্যের (যেমন: হামযা লেখার পদ্ধতি, ‘তা’ বর্ণটি খোলা বা গোল করে লেখা ইত্যাদি) দিকে ইঙ্গিত করিনি। আর কুরআনের আয়াতসমূহ আমি উসমানী লিপিতে (রসমু উসমানী) লিখেছি।

৬ - আমি পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্যগুলো লিপিবদ্ধ করেছি। এক্ষেত্রে টীকায় শুধুমাত্র ভিন্নমত পোষণকারী পাণ্ডুলিপির সংকেত উল্লেখ করাই যথেষ্ট মনে করেছি, মূল পাঠের সাথে একমত হওয়া পাণ্ডুলিপিগুলোর নাম উল্লেখ করিনি; অবশ্য যদি...
(খণ্ড: ১) আল-মুহাররার ফিল হাদীস - ত আল-কাসিম (পৃষ্ঠা: ৯)
الاختلاف من قبيل الضَّبط فإنِّي أُبيِّنه بقولي في الحاشية: «والمثبت من كذا».

‌‌7 - لم أُشِرْ إلى اختلاف النُّسخ في صيغ التَّرضِّي عن الصَّحابة والصَّلاة على النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم، وما يشبهها من ألفاظ التَّمجيد للَّه سبحانه وتعالى؛ كلفظة: «تعالى»، و «عز وجل»، وغيرها؛ إلا إذا كان ذلك وارداً في نصٍّ مرفوعٍ إلى النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم، والتزمتُ إثباتَ الصَّلاة على النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم، والتَّرضِّي عن أصحابه في مواضعها المناسبة.

‌‌8 - وقع في بعض المواضع اليسيرة طمس في أوائل نسختَي (أ، ج)، وهي مواضع ظاهرة مقروءة في بقيَّة النُّسخ، فلذلك لم أنبِّه عليها في حواشي التَّحقيق.

‌‌9 - أهملتُ في الغالب ذِكرَ ما سها فيه النُّسَّاخ، ممَّا هو من قبيل الأخطاء المحضة، وبخاصَّة ما كان منها من قبيل الخطأ في الضبط؛ إلا إذا كان لهذا الخطأ وجهٌ ولو ضعيفاً؛ فإنِّي أذكره في الحاشية.

‌‌10 - تركتُ الإشارة إلى الأخطاءِ التِي انفَرَدت بها النُّسخَة (ز)، بسبب كثرتها، إضافةً إلى تأخُّر تاريخ نسخها.

‌‌11 - إذا كان في إحدى النُّسخ كلمةٌ غير واضحةٍ لكنَّها تحتمل الخطأ والصَّواب؛ فإنِّي أحملها على الصَّواب الموافق لبقيَّة النُّسخ، ولا أنبِّه على ذلك.

‌‌12 - إذا كان الاختلاف بين النُّسخ في تقديم كلمةٍ على كلمة؛ فإنِّي أذكر الخلاف فقط في الحاشية، وأقول بعده: «بتقديم وتأخير».
শব্দবিন্যাস বা হরকত সংক্রান্ত পার্থক্যের ক্ষেত্রে আমি টীকায় উল্লেখ করেছি: "অমুক পাণ্ডুলিপি থেকে সাব্যস্ত করা হয়েছে"।

‌‌৭ - আমি সাহাবায়ে কেরামের প্রতি সন্তুষ্টির বাক্য এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি দরুদ পাঠ, এবং মহান আল্লাহর মহিমা প্রকাশকারী শব্দাবলি—যেমন: 'তাআলা', 'আযযা ওয়া জাল্লা' ইত্যাদির ক্ষেত্রে পাণ্ডুলিপিগুলোর ভিন্নতা উল্লেখ করিনি; যদি না তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোনো মারফু হাদিসের পাঠে বর্ণিত হয়ে থাকে। তবে আমি যথাযথ স্থানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি দরুদ এবং তাঁর সাহাবীদের প্রতি সন্তুষ্টির বাক্য উল্লেখ করার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থেকেছি।

‌‌৮ - (আলিফ) এবং (জিম) পাণ্ডুলিপি দুটির শুরুর দিকে সামান্য কিছু জায়গায় অস্পষ্টতা ছিল, যা অন্য পাণ্ডুলিপিগুলোতে স্পষ্টভাবে পাঠযোগ্য। তাই আমি তাহকিকের টীকায় এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করিনি।

‌‌৯ - পাণ্ডুলিপি লেখকদের অসতর্কতামূলক বিশুদ্ধ ভুলগুলো, বিশেষ করে হরকত প্রদানের ভুলের কথা আমি সাধারণত উল্লেখ করিনি; যদি না সেই ভুলের সামান্যতম ভিত্তি (যদিও দুর্বল) থাকে। সে ক্ষেত্রে আমি তা টীকায় উল্লেখ করেছি।

‌‌১০ - (যা) নামক পাণ্ডুলিপিতে এককভাবে বিদ্যমান ভুলগুলোর আধিক্য এবং এটি পরবর্তী সময়ের কপি হওয়ায় আমি সেগুলো উল্লেখ করা থেকে বিরত থেকেছি।

‌‌১১ - যদি কোনো একটি পাণ্ডুলিপিতে কোনো শব্দ অস্পষ্ট থাকে কিন্তু তা ভুল বা সঠিক—উভয় হওয়ার সম্ভাবনা রাখে, তবে আমি তাকে অন্য পাণ্ডুলিপিগুলোর সাথে সংগতিপূর্ণ সঠিক রূপ হিসেবেই গ্রহণ করেছি এবং এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করিনি।

‌‌১২ - যদি পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যে শব্দের অগ্র-পশ্চাৎ নিয়ে ভিন্নতা থাকে, তবে আমি টীকায় কেবল সেই পার্থক্যের কথা উল্লেখ করেছি এবং শেষে বলেছি: "শব্দের আগে-পিছে হওয়ার কারণে"।
(খণ্ড: ১) আল-মুহাররার ফিল হাদীস - ত আল-কাসিম (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌13 - مَيَّزتُ النَّصَّ المرفوع قولاً بالأحمر، وضبطتُ متن الكتاب كاملاً بالشَّكل، معتمداً على النُّسخ الخطِّيَّة، والمصادر، وما تقتضيه اللُّغة؛ قاصداً بذلك تيسيره على القُرَّاء والحُفَّاظ.

‌‌14 - إذا اختلفت النُّسخ في ضبط كلمةٍ ما؛ فإنِّي أثبت في المتن الوجه الأصح والأشهر، وأشير في الحاشية إلى بقية الأوجه، مع بيان وجه التَّرجيح من كلام العلماء غالباً.

‌‌15 - إذا ضُبطت كلمةٌ في بعض النُّسخ وأُهملت في البقيَّة، ولم تختلف النُّسخ المضبوطة في وجه الضَّبط؛ فإني أُثبت في المتن الضَّبطَ الواردَ فيها مِنْ غير إشارة إلى النُّسخ المُهْمَلة، وأمَّا إذا اختلفت النُّسخ في الضَّبط؛ فإنِّي أشير إلى ما في النُّسخ المضبوطة، وأهمل ذكر النُّسخ غير المضبوطة، وأكتفي في وصف اختلاف النُّسخ ببيان الاختلاف المؤثر، وأمَّا ما لا أثر له فلا أذكره.

‌‌16 - راجعت المصادرَ التي نقل منها المُصنِّف، وكلامَ العلماء على الأحاديث والمسائل الواردة في الكتاب، واستفدت من ذلك في التَّرجيح بين فروق النُّسخ.

‌‌17 - إذا عزا المصنِّف لفظ الحديث إلى كتابٍ بعينه، وكان لفظ إحدى النُّسخ مطابقاً للفظه؛ فإنِّي أثبت ما في تلك النُّسخة.

مثاله: أن ينسب المُصنِّف اللَّفظ لسنن أبي داود، وبمراجعة السُّنن يتبيَّن أنَّ لفظَه يوافق ما ورد في إحدى النُّسخ دون بقيَّتها، ففي مثل هذا: أثبت ما في هذه النُّسخة استئناساً بموافقتها لعزو المُصنِّف.
১৩ - আমি বাচনিক মারফু' বর্ণনাগুলোকে লাল রঙে পৃথক করেছি এবং পাণ্ডুলিপি, মূল উৎসসমূহ ও ভাষাতাত্ত্বিক চাহিদার ওপর নির্ভর করে গ্রন্থের মূল পাঠের পূর্ণ স্বরচিহ্ন প্রদান করেছি; যাতে পাঠক ও মুখস্থকারীদের জন্য এটি সহজসাধ্য হয়।

১৪ - যদি কোনো শব্দের স্বরচিহ্ন নির্ধারণে পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়; তবে আমি মূল পাঠে অধিকতর সঠিক ও প্রসিদ্ধ রূপটি সাব্যস্ত করেছি এবং টীকাতে অন্যান্য রূপগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করেছি, সাথে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ওলামায়ে কেরামের বক্তব্যের আলোকে অগ্রাধিকারের কারণ বর্ণনা করেছি।

১৫ - কোনো শব্দ যদি কিছু পাণ্ডুলিপিতে স্বরচিহ্নযুক্ত থাকে এবং অবশিষ্টগুলোতে চিহ্নহীন থাকে, আর স্বরচিহ্নযুক্ত পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যে চিহ্নের কোনো ভিন্নতা না থাকে; তবে আমি স্বরচিহ্নহীন পাণ্ডুলিপিগুলোর উল্লেখ ছাড়াই তাতে বর্ণিত স্বরচিহ্নটি মূল পাঠে সাব্যস্ত করেছি। আর যদি স্বরচিহ্নযুক্ত পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যে ভিন্নতা থাকে; তবে আমি কেবল স্বরচিহ্নযুক্ত পাণ্ডুলিপিগুলোতে যা আছে তার প্রতি ইঙ্গিত করেছি এবং স্বরচিহ্নহীন পাণ্ডুলিপিগুলোর উল্লেখ বর্জন করেছি। এছাড়া পাণ্ডুলিপির ভিন্নতা বর্ণনার ক্ষেত্রে আমি কেবল প্রভাববিস্তারকারী পার্থক্যের বর্ণনায় সীমাবদ্ধ থেকেছি, আর যার কোনো প্রভাব নেই তা উল্লেখ করিনি।

১৬ - গ্রন্থকার যে সকল উৎস থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন আমি সেগুলো পর্যালোচনা করেছি, সেই সাথে গ্রন্থে বর্ণিত হাদিস ও মাসআলাগুলোর ওপর ওলামায়ে কেরামের আলোচনা পর্যবেক্ষণ করেছি এবং পাণ্ডুলিপিগুলোর পাঠভেদে অগ্রাধিকার নির্ধারণে এর থেকে সাহায্য গ্রহণ করেছি।

১৭ - গ্রন্থকার যদি কোনো হাদিসের শব্দকে কোনো নির্দিষ্ট গ্রন্থের প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করেন এবং পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যে কোনো একটির শব্দ যদি উক্ত গ্রন্থের শব্দের সাথে হুবহু মিলে যায়; তবে আমি সেই পাণ্ডুলিপিতে যা আছে তা-ই মূল পাঠে বহাল রেখেছি।

উদাহরণস্বরূপ: গ্রন্থকার কোনো শব্দকে সুনানে আবি দাউদের প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করলেন, কিন্তু সুনান পর্যালোচনা করে দেখা গেল যে, এর শব্দ কেবল একটি পাণ্ডুলিপিতে বর্ণিত শব্দের সাথে মিলছে কিন্তু অন্যগুলোর সাথে নয়; এমতাবস্থায় গ্রন্থকারের কৃত সম্বন্ধের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় আমি উক্ত পাণ্ডুলিপির পাঠটিই সাব্যস্ত করেছি।
(খণ্ড: ১) আল-মুহাররার ফিল হাদীস - ত আল-কাসিম (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌18 - راعيتُ في وصف اختلاف ضبط الكلمات: تمييزَ علامة البناء عن علامات الإعراب؛ فأقول في الأولى: «بالضَّمِّ أو بالفتح» - مثلاً -، وفي الثَّانية: «بالرَّفع أو بالنَّصب»، وهكذا، ورُبَّما خرجتُ عن ذلك لفائدة.

‌‌19 - انتقيتُ ممَّا ورد في حواشي النُّسَخ من تعليقات النُّسَّاخ: ما رأيتُ فيه فائدة للقارئ، وتركتُ ما كان من قبيل الشَّرح والاستطراد والنُّكَت العِلْميَّة.

‌‌20 - اعتمدت في عزو الأحاديث والألفاظ والرِّوايات على أجود الطَّبعات المعروفة، وأفدت ممَّا ذكر في حواشي بعضها من الإشارة إلى النُّسَخ والرِّوايات، وكذا ما ذكره الشُّرَّاح منها، وما ذكره المزِّي في «التُّحفة»، وما لم أقف عليه في شيء من ذلك نبَّهتُ عليه.

‌‌21 - رتَّبت مصادر التَّخريج في الحاشية على الترتيب الذي ذكره المُصنِّف.

‌‌22 - اكتفيتُ في التَّخريج بالعزو إلى مواضع الحديث في الكتب التي ذكرها المُصنِّف ولم أزد عليها شيئاً، ولم أنقل أحكام العلماء على الأحاديث إلَّا ما أشار إليه المُصنِّف مُصرِّحاً أو مبهِماً.

‌‌23 - اكتفيت في تخريج الأحاديث بذكر أرقامها فحسب، دون ذكر الجزء والصَّفحة، ولا الكتب أو الأبواب.

‌‌24 - اكتفيتُ في العزو إلى صحيحِ مسلم بذكر الرقم الأصلي للحديث دون الرَّقم الفرعي - من الأرقام التي وضعها الشَّيخ محمَّد
‌‌১৮ - শব্দ বিন্যাসের ভিন্নতা বর্ণনার ক্ষেত্রে আমি 'বিনা' বা অপরিবর্তনীয় চিহ্ন এবং 'ই’রাব' বা বিভক্তি চিহ্নের মধ্যে পার্থক্য বজায় রেখেছি। তাই প্রথমটির ক্ষেত্রে আমি বলি—উদাহরণস্বরূপ— «যম্মাহর সাথে বা ফাতহাহর সাথে», এবং দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে বলি: «রাফ‘ বা নাসবের সাথে»। এভাবেই আমি অনুসরণ করেছি, তবে বিশেষ উপকারের জন্য মাঝে মাঝে এর ব্যতিক্রমও করেছি।

‌‌১৯ - পাণ্ডুলিপিগুলোর টীকায় লিপিকারদের পক্ষ থেকে আসা মন্তব্যগুলোর মধ্য থেকে পাঠকদের জন্য যা উপকারী মনে হয়েছে, আমি কেবল তা-ই নির্বাচন করেছি। আর যা কিছু ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ, অপ্রাসঙ্গিক আলোচনা ও সূক্ষ্ম তাত্ত্বিক বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত ছিল, তা বর্জন করেছি।

‌‌২০ - হাদীস, শব্দাবলি এবং বর্ণনাসমূহের তথ্যসূত্র প্রদানের ক্ষেত্রে আমি সুপরিচিত সর্বোত্তম সংস্করণগুলোর ওপর নির্ভর করেছি। এগুলোর কোনো কোনোটির টীকায় পাণ্ডুলিপি ও বর্ণনাসমূহের প্রতি যে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে তা থেকে আমি উপকৃত হয়েছি। একইভাবে ব্যাখ্যাকারগণ যা উল্লেখ করেছেন এবং ইমাম মিযযী ‘তুহফাতুল আশরাফ’ গ্রন্থে যা উল্লেখ করেছেন, তা থেকেও সাহায্য নিয়েছি। আর যার সন্ধান আমি এগুলোর কোনোটিতেই পাইনি, সে ব্যাপারে আমি সতর্ক করে দিয়েছি।

‌‌২১ - পাদটীকায় আমি তথ্যসূত্রের উৎসগুলোকে গ্রন্থকার যেভাবে উল্লেখ করেছেন সেই ক্রমানুসারেই সাজিয়েছি।

‌‌২২ - তাখরীজের ক্ষেত্রে আমি গ্রন্থকারের উল্লিখিত গ্রন্থসমূহে হাদীসের মূল স্থানটি নির্দেশ করার মাধ্যমেই সীমাবদ্ধ থেকেছি এবং তাতে অতিরিক্ত কিছু যোগ করিনি। আর হাদীসসমূহের ওপর আলেমদের হুকুম বা মূল্যায়ন আমি উদ্ধৃত করিনি, কেবল গ্রন্থকার নিজে স্পষ্টভাবে বা অস্পষ্টভাবে যেটুকু ইঙ্গিত করেছেন তা ব্যতীত।

‌‌২৩ - হাদীসের তাখরীজের ক্ষেত্রে আমি কেবল সেগুলোর নম্বর উল্লেখ করার মাধ্যমেই সীমাবদ্ধ থেকেছি; খণ্ড ও পৃষ্ঠা কিংবা কিতাব ও অধ্যায়ের নাম উল্লেখ করিনি।

‌‌২৪ - সহীহ মুসলিমের তথ্যসূত্র প্রদানের ক্ষেত্রে আমি হাদীসের মূল নম্বরটি উল্লেখ করার মাধ্যমেই সীমাবদ্ধ থেকেছি, কোনো উপ-নম্বর উল্লেখ করিনি—যা শায়খ মুহাম্মাদ ফুয়াদ আব্দুল বাকী কর্তৃক নির্ধারিত নম্বরগুলোর অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১) আল-মুহাররার ফিল হাদীস - ত আল-কাসিম (পৃষ্ঠা: ১২)
فؤاد عبد الباقي -، إلَّا إذا ذكر المُصنِّف للحديث أكثر من رواية؛ فإنِّي أثبت الرَّقم الفرعي ثمَّ الرَّقم الأصلي مفصولاً بينهما بشرطة؛ هكذا: (1 - 201).

‌‌25 - بيَّنتُ معانيَ الكلمات الغريبة؛ سوى ما بيَّنه المُصنِّف منها؛ فإنِّي أكتفي بتوثيق شرحها من كتب العلماء.

‌‌26 - اكتفيت بعزو الأقوال والأحكام التي ذكرها العلماء على الأحاديث من مصادرها، وإذا دعت الحاجةُ إلى نقل نصوصهم؛ فإنِّي أنقلها.

‌‌27 - بيَّنت الأقوال والأسماء التي أبهمها المُصنِّف بحسب الإمكان؛ كقوله: «قال بعضهم»، و «قال غيره»، و «بعض المحقِّقين»، و «ادَّعى بعضهم»، ونحو ذلك.

‌‌28 - إذا عزا المُصنِّف الحديث إلى أحد كتب الحديث ثم نقل عن صاحب الكتاب حكماً على الحديث، وكان حكمه على الحديث في نفس الموضع؛ فإنِّي أكتفي بالعزو في الموضع الأول إلى رقم الحديث، ولا أكرر العزو عند ذكر حكمه، ويكثر هذا فيما نقله عن الترمذي والحاكم، وكذا إذا نسب التَّصحيح إلى ابن خزيمة وابن حبان.

‌‌29 - إذا عَزا المصنِّف اللَّفظ الذي أورده إلى أحد كتب الحديث، وكان عزوه مطابقاً لما في المصادر؛ فإنِّي أسكت عن ذلك، وأما إذا ظهر في اللَّفظ بعد مقابلته اختلافٌ يستدعي التَّنبيه؛ فإنِّي أنبِّه عليه.
ফুয়াদ আব্দুল বাকি -, তবে লেখক যদি একটি হাদিসের একাধিক বর্ণনা উল্লেখ করেন; তবে আমি উপ-নম্বর এবং তারপর মূল নম্বর একটি হাইফেন দ্বারা পৃথক করে লিখেছি; এভাবে: (১ - ২০১)।

‌‌২৫ - আমি অপরিচিত শব্দগুলোর অর্থ স্পষ্ট করেছি; লেখক নিজে যা ব্যাখ্যা করেছেন তা ব্যতীত; সেক্ষেত্রে আমি আলেমদের কিতাব থেকে সেগুলোর ব্যাখ্যার উদ্ধৃতি প্রদানেই সীমাবদ্ধ থেকেছি।

‌‌২৬ - হাদিসগুলোর ওপর আলেমদের বক্তব্য এবং হুকুমসমূহ তাদের মূল উৎস থেকে উল্লেখ করার ক্ষেত্রেই আমি সীমাবদ্ধ থেকেছি, আর যদি তাদের মূল পাঠ উদ্ধৃত করার প্রয়োজন হয়, তবে আমি তা উদ্ধৃত করেছি।

‌‌২৭ - লেখক যেসব বক্তব্য ও নাম অস্পষ্ট রেখেছেন, সাধ্যমতো আমি তা স্পষ্ট করেছি; যেমন লেখকের কথা: «তাদের কেউ কেউ বলেছেন», এবং «অন্যজন বলেছেন», এবং «কিছু গবেষক», এবং «কেউ কেউ দাবি করেছেন», এবং এই জাতীয় শব্দসমূহ।

‌‌২৮ - লেখক যদি কোনো হাদিসকে কোনো হাদিস গ্রন্থের দিকে সম্বন্ধ করেন এবং এরপর সেই গ্রন্থের লেখকের পক্ষ থেকে হাদিসের ওপর কোনো হুকুম উদ্ধৃত করেন, আর সেই হুকুমটি যদি একই স্থানে থাকে; তবে আমি প্রথম স্থানে হাদিস নম্বরের উদ্ধৃতি দিতেই সীমাবদ্ধ থেকেছি এবং তার হুকুম উল্লেখ করার সময় পুনরায় উদ্ধৃতি দেইনি। তিরমিজি এবং হাকেম থেকে তিনি যা উদ্ধৃত করেছেন তার ক্ষেত্রে এটি অধিক ঘটেছে, অনুরূপভাবে যদি তিনি সহিহ হওয়ার বিষয়টি ইবনে খুজায়মাহ এবং ইবনে হিব্বানের দিকে নিসবত করেন।

‌‌২৯ - লেখক যদি তার উপস্থাপিত শব্দাবলিকে কোনো একটি হাদিস গ্রন্থের দিকে সম্বন্ধ করেন এবং তার সেই সম্বন্ধকরণ যদি মূল উৎসের সাথে মিলে যায়, তবে আমি সে ব্যাপারে নীরব থেকেছি। কিন্তু যদি মূল উৎসের সাথে মিলিয়ে দেখার পর শব্দাবলিতে এমন কোনো পার্থক্য প্রকাশ পায় যা সতর্ক করা প্রয়োজন, তবে আমি সে সম্পর্কে সতর্ক করেছি।
(খণ্ড: ১) আল-মুহাররার ফিল হাদীস - ত আল-কাসিম (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌30 - إذا لم ينسب المُصنِّف لفظ الحديث الذي أورده إلى أحد كتب الحديث؛ فإنِّي أجتهد في بيان صاحب اللَّفظ، وإذا كان اللَّفظ موافقاً لأكثر من مُصنّف أو كتاب؛ فإنِّي أكتفي بالعزو إلى أوَّلِهِم ذكراً.

مثاله: أن يقول: «أخرجه أحمد، وأبو داود، والترمذي، وابن ماجه، والنَّسائي»، واللَّفظ الذي أورده موافقٌ للفظ أحمد، والنَّسائي، وابن ماجه؛ فإنِّي أكتفي بقولي بعد أحمد: واللَّفظ له؛ إذ لا يفوتُ القارئَ شيءٌ مهمٌّ بعدم ذكر ذلك، ولما في التزام ذلك من تطويل لا حاجة إليه.

‌‌31 - إذا عزا المُصنِّف الحديث إلى الصَّحيحَيْن أو أحدهما وكان اللَّفظ الذي أورده مطابقاً لما فيهما؛ فإنِّي أعزوه وأسكت عن اللَّفظ، وأما إذا كان اللَّفظ الذي ذكره المُصنِّف يخالف ما فيهما؛ فإنِّي أبين ذلك بعبارة توضح المقصود.

‌‌32 - عزوت أحاديث النَّسائيِّ إلى السُّنن الصُّغرى؛ إلا في المواضع التي نقل فيها المُصنِّف من الكبرى، فقد عزوت إليها.

‌‌33 - استفدتُ ممَّا بين يديَّ من أجزاء شرح المُحرَّر لابن الحريريّ (نسخة ح) في بعض المواضع، ونقلت عن الشَّارح ما يناسب المقام.

‌‌34 - اكتفيتُ عند العزو إلى فتح الباري للحافظ ابن حجر باختصاره إلى «فتح الباري» من غير تسمية المُصنِّف، وأما عند العزو إلى فتح الباري لابن رجب؛ فإنِّي أسمي مصنفه.
‌‌৩০ - যদি গ্রন্থকার তাঁর উদ্ধৃত হাদিসের শব্দাবলি হাদিসের কোনো কিতাবের দিকে সম্বন্ধযুক্ত না করেন, তবে আমি সেই শব্দাবলির মূল উৎসের বর্ণনায় প্রচেষ্টা ব্যয় করেছি। আর যদি সেই শব্দাবলি একাধিক গ্রন্থকার বা কিতাবের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তবে আমি কেবল তাদের মধ্যে প্রথমে উল্লিখিত কিতাবের দিকে সম্বন্ধ করাকেই যথেষ্ট মনে করেছি।

উদাহরণস্বরূপ: তিনি যদি বলেন: «এটি আহমাদ, আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ ও নাসাঈ বর্ণনা করেছেন», আর উদ্ধৃত শব্দাবলি আহমাদ, নাসাঈ ও ইবনে মাজাহ-এর শব্দাবলির সাথে মিলে যায়, তবে আমি আহমাদ-এর নাম উল্লেখ করার পর কেবল এই কথাটুকু বলেই ক্ষান্ত হয়েছি যে: “শব্দাবলি তাঁর”; কেননা এই তথ্যটি উল্লেখ না করায় পাঠকের গুরুত্বপূর্ণ কোনো কিছু বাদ পড়ছে না এবং এটি সর্বদা পালনে অহেতুক দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয় যার কোনো প্রয়োজন নেই।

‌‌৩১ - যদি গ্রন্থকার কোনো হাদিসকে সহীহাইন বা তাদের কোনো একটির দিকে সম্বন্ধ করেন এবং তাঁর উদ্ধৃত শব্দাবলি তাতে থাকা শব্দাবলির সাথে হুবহু মিলে যায়, তবে আমি কেবল তার উৎস উল্লেখ করেছি এবং শব্দাবলির ব্যাপারে নীরব থেকেছি। কিন্তু যদি গ্রন্থকারের উল্লিখিত শব্দাবলি তাতে থাকা শব্দাবলির থেকে ভিন্ন হয়, তবে আমি বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য যথাযথ বক্তব্য প্রদান করেছি।

‌‌৩২ - আমি নাসাঈ-এর হাদিসগুলোকে ‘সুনানে সুগরা’-এর দিকে সম্বন্ধ করেছি; তবে গ্রন্থকার যেখানে ‘সুনানে কুবরা’ থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন, কেবল সেখানে আমি সেটির দিকেই সম্বন্ধ করেছি।

‌‌৩৩ - আমি আমার কাছে থাকা ইবনুল হারীরীর ‘শারহুল মুহাররার’-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থের (পাণ্ডুলিপি ‘হা’) খণ্ডগুলো থেকে কিছু স্থানে উপকৃত হয়েছি এবং উক্ত ব্যাখ্যাকার থেকে স্থানোপযোগী আলোচনা উদ্ধৃত করেছি।

‌‌৩৪ - হাফেজ ইবনে হাজারের ‘ফাতহুল বারী’-এর উদ্ধৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে আমি সংক্ষেপে কেবল ‘ফাতহুল বারী’ লিখেই ক্ষান্ত হয়েছি এবং গ্রন্থকারের নাম উল্লেখ করিনি। কিন্তু ইবনে রজবের ‘ফাতহুল বারী’-এর উদ্ধৃতি দেওয়ার সময় আমি এর গ্রন্থকারের নাম উল্লেখ করেছি।
(খণ্ড: ১) আল-মুহাররার ফিল হাদীস - ত আল-কাসিম (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌35 - رقَّمتُ أحاديث الكتاب والآثار ترقيماً مسلسلاً، وميَّزت الرقم قبل الحديث بالحمرة.

‌‌36 - عزوتُ كلَّ النُّقول التي أوردتُها في حاشية التَّحقيق إلى مصادرها، وحافظتُ غالباً على ألفاظ العلماء، ورُبَّما تصرّفتُ في بعضها بما يناسب المقام، ولم ألتزم بيانَ التَّصرُّف - كما هي طريقة أهل العلم -.

‌‌37 - حوَّلتُ المقاييس والأوزان والأطوال والمسافات بين المواضع والبلدان بالحسابات المعاصرة، وَفق ما حرَّرتُه في كتابي (تحقيق المقاييس والمكاييل الشَّرعيَّة وتنزيلها على الأطوال والأوزان المعاصرة).

‌‌38 - جعلتُ لِلكتابِ نُسْخَتين:

أ - النُّسْخةَ الأُولى: وهي النُّسْخة المُتضمِّنة لِحَواشي التَّحقيق؛ مِنْ الفُروقِ بين النُّسخ، والتَّرجيح بينها، والتَّعليق على ما يحتاج إلى تعليق، وهي هذه النُّسخة.

ب - النُّسْخةَ الثَّانية: وهي مُجردةٌ من جَميع الحَواشي المثبتة في النسخة الأولى، وهي أنسب للحفظ.
৩৫ - আমি কিতাবটির হাদিস এবং আছারসমূহকে ধারাবাহিকভাবে ক্রমিক নম্বর প্রদান করেছি এবং হাদিসের পূর্বের নম্বরটিকে লাল বর্ণ দ্বারা পৃথক করেছি।

৩৬ - আমি তাহকিকের পাদটীকায় উল্লিখিত সকল উদ্ধৃতিকে সেগুলোর মূল উৎসের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছি। আমি অধিকাংশ ক্ষেত্রে ওলামায়ে কেরামের মূল শব্দাবলি বজায় রেখেছি, তবে কখনো কখনো প্রসঙ্গের প্রয়োজনে কিছু শব্দে পরিবর্তন এনেছি এবং সে পরিবর্তনের বিষয়টি (আলেমদের পদ্ধতি অনুযায়ী) উল্লেখ করা আবশ্যক মনে করিনি।

৩৭ - আমি বিভিন্ন স্থান ও জনপদের মধ্যকার পরিমাপ, ওজন, দৈর্ঘ্য এবং দূরত্বকে আধুনিক হিসাব অনুযায়ী রূপান্তর করেছি, যা আমি আমার ‘শরয়ী পরিমাপ ও ওজনসমূহের বিশ্লেষণ এবং আধুনিক দৈর্ঘ্য ও ওজনে সেগুলোর প্রয়োগ’ নামক গ্রন্থে সুনির্দিষ্ট করেছি।

৩৮ - আমি গ্রন্থটির জন্য দুটি সংস্করণ নির্ধারণ করেছি:

ক - প্রথম সংস্করণ: এই সংস্করণে তাহকিকের পাদটীকাগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে; যেমন বিভিন্ন পাণ্ডুলিপির মধ্যকার পাঠভেদ, সেগুলোর মধ্যে অগ্রাধিকার প্রদান এবং প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ। আর এটিই সেই সংস্করণ।

খ - দ্বিতীয় সংস্করণ: এটি প্রথম সংস্করণে থাকা সকল পাদটীকা থেকে মুক্ত এবং এটি মুখস্থ করার জন্য অধিক উপযোগী।
(খণ্ড: ১) আল-মুহাররার ফিল হাদীস - ত আল-কাসিম (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌ترجمة المصنِّف ‌‌(1)

‌‌اسمُه، ونسبُه:

هو: مُحَمَّد بن أحمد بن عبد الهادي بن عبد الحميد بن عبد الهَادِي بن يُوسُف بن مُحَمَّد بن قدامَة المقدسِيُّ، الجمَّاعيليُّ الأَصْلِ، الصَّالِحِيُّ، الحَنْبَلِيُّ.

 

‌‌مولدُه:

وُلِدَ الحافظ ابن عبد الهادي رحمه الله في الصَّالحيَّة بدمشق، في شهر رجب، واختُلف في سنة مولده رحمه الله؛ فقيل: سنة أربعٍ وسبع مئة (704 هـ) كما ذكر ذلك الحافظ ابن رجب الحنبلي رحمه الله‌‌(2)، وقيل: سنة خمسٍ وسبع مئة (705 هـ) كما ذكر ذلك الصفديّ والحافظ ابن كثير رحمهما الله‌‌(3)، وقيل: سنة ستٍّ وسبع مئة (706 هـ).

--------------------------------------------

‌‌(1) انظر لترجمته: المعجم المختص بالمحدثين (ص 215)، وتذكرة الحفَّاظ للذهبي (4/ 1508)، وأعيان العصر وأعوان النصر (4/ 273)، والوافي بالوافيات للصفدي (2/ 113)، والبداية والنهاية لابن كثير (18/ 467)، والوفيات لابن رافع (1/ 457)، وذيل طبقات الحنابلة لابن رجب (5/ 115)، والرد الوافر لابن ناصر الدين الدمشقي (ص 29)، والدرر الكامنة (5/ 61)، والمقصد الأرشد في ذكر أصحاب الإمام أحمد لبرهان الدين ابن مفلح (2/ 360)، وبغية الوعاة في طبقات اللغويين والنحاة (1/ 29)، وطبقات الحفَّاظ للسيوطي (ص 524)، وطبقات المفسرين للدَّاوودي (2/ 83)، ودرة الحجال في أسماء الرجال (2/ 44)، والشهادة الزكية في ثناء الأئمة على ابن تيمية لمرعي الكرمي (ص 51)، وشذرات الذهب (8/ 245)، والبدر الطالع (2/ 108)، والأعلام للزركلي (5/ 326).

‌‌(2) ذيل طبقات الحنابلة (2/ 351).

‌‌(3) أعيان العصر وأعوان النصر (4/ 275)، والبداية والنهاية (18/ 467).

লেখকের জীবনী (১)

তাঁর নাম ও বংশপরিচয়:

তিনি হলেন: মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আব্দুল হাদী বিন আব্দুল হামিদ বিন আব্দুল হাদী বিন ইউসুফ বিন মুহাম্মদ বিন কুদামা আল-মাকদিসী, জন্মগতভাবে জাম্মাঈলী, সালিহী, হাম্বলী।

 

তাঁর জন্ম:

হাফেজ ইবনে আব্দুল হাদী (রহিমাহুল্লাহ) দামেস্কের সালিহিয়াতে রজব মাসে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর জন্মসন নিয়ে মতভেদ রয়েছে; বলা হয়েছে: ৭০৪ হিজরি সাল, যেমনটি হাফেজ ইবনে রজব আল-হাম্বলী (রহিমাহুল্লাহ) উল্লেখ করেছেন(২), আবার বলা হয়েছে: ৭০৫ হিজরি সাল, যেমনটি আস-সাফাদী এবং হাফেজ ইবনে কাসীর (রহিমাহুমাল্লাহ) উল্লেখ করেছেন(৩), আবার কেউ ৭০৬ হিজরি সালের কথা বলেছেন।

--------------------------------------------

(১) তাঁর জীবনীর জন্য দেখুন: আল-মু'জামুল মুখতাস বিল মুহাদ্দিসিন (পৃ. ২১৫), যাহাবীর তাযকিরাতুল হুফফায (৪/১৫০৮), আইয়ানুল আসর ওয়া আওয়ানুন্নাসর (৪/২৭৩), আস-সাফাদীর আল-ওয়াফি বিল ওয়াফিয়াত (২/১১৩), ইবনে কাসীরের আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১৮/৪৬৭), ইবনে রাফে'র আল-ওয়াফিয়াত (১/৪৫৭), ইবনে রজবের যাইলু তাবাকাতিল হানাবিলা (৫/১১৫), ইবনে নাসিরুদ্দিন আদ-দিমাশকীর আর-রাদ্দুল ওয়াফির (পৃ. ২৯), আদ-দুরারুল কামিনা (৫/৬১), বুরহানুদ্দিন ইবনে মুফলিহ এর আল-মাকসাদুল আরশাদ ফি যিকরি আসহাবিল ইমাম আহমদ (২/৩৬০), বুগইয়াতুল উ'য়াত ফি তাবাকাতিল লুগাভিয়্যিন ওয়ান নুহাত (১/২৯), সুয়ুতির তাবাকাতুল হুফফায (পৃ. ৫২৪), আদ-দাউদীর তাবাকাতুল মুফাসসিরিন (২/৮৩), দুররাতুল হিজাল ফি আসমায়ির রিজাল (২/৪৪), মারঈ আল-কারমীর আশ-শাহাদাতুয যাকিয়া ফি সানাইল আইম্মা আলা ইবনে তাইমিয়া (পৃ. ৫১), শাযারাতুয যাহাব (৮/২৪৫), আল-বাদরুত তালি' (২/১০৮), আয-যিরিকলীর আল-আ'লাম (৫/৩২৬)।

(২) যাইলু তাবাকাতিল হানাবিলা (২/৩৫১)।

(৩) আইয়ানুল আসর ওয়া আওয়ানুন্নাসর (৪/২৭৫), এবং আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১৮/৪৬৭)।

(খণ্ড: ১) আল-মুহাররার ফিল হাদীস - ত আল-কাসিম (পৃষ্ঠা: ১৬)
وقد أشار إلى هذا الخلاف الحافظ الذهبيُّ رحمه الله فقال: «ولد سنة خمس وسبع مئة، أو قريب منها»‌‌(1).

وقال ابن حجر رحمه الله: «ولد في رجب سنة (705 هـ)، وقيل: قبلها، وقيل: بعدها»‌‌(2).

 

‌‌أشهرُ شيوخِه:

أخذ الحافظ ابن عبد الهادي رحمه الله عن كثيرٍ من العلماء؛ ومن أشهرهم:

‌‌1 - أحمد بن عبد الدائم بن نعمة المقدسي الصالحي (ت 718 هـ).

‌‌2 - شيخ الإسلام أحمد بن عبد الحليم بن تيميَّة الحرَّاني (ت 728 هـ).

‌‌3 - أحمد بن أبي طالب بن نعمة الصالحي المعروف بابن الشِّحْنة (ت 730 هـ).

‌‌4 - أبو الحجاج يوسف بن عبد الرحمن المزِّي (ت 742 هـ).

‌‌5 - أبو عبد اللَّه محمد بن أحمد بن عثمان الذَّهبي (ت 748 هـ).

أشهرُ تلاميذِه والآخذين عنه:

أخذ عن الحافظ ابن عبد الهادي رحمه الله كثير من العلماء الذين لا يمكن حصرهم؛ لأنه تولَّى مشيخة العديد من المدارس.

--------------------------------------------

‌‌(1) المعجم المختص (ص 216)، وتذكرة الحفاظ (4/ 202).

‌‌(2) الدرر الكامنة (5/ 61).

হাফেজ যাহাবি (রাহিমাহুল্লাহ) এই মতভেদের দিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন: «তিনি সাতশত পাঁচ হিজরি সনে বা এর কাছাকাছি সময়ে জন্মগ্রহণ করেছেন»‌‌(১).

ইবনে হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: «তিনি (৭০৫ হিজরি) সনের রজব মাসে জন্মগ্রহণ করেছেন, বলা হয়: এর পূর্বে, আবার বলা হয়: এর পরে»‌‌(২).

 

‌‌তাঁর প্রসিদ্ধ উস্তাদগণ:

হাফেজ ইবনে আব্দুল হাদি (রাহিমাহুল্লাহ) অনেক আলেমের নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন; তাঁদের মধ্যে প্রসিদ্ধ হলেন:

‌‌১ - আহমদ বিন আব্দুল দায়িম বিন নি’মাহ আল-মাকদিসি আস-সালিহি (মৃত্যু ৭১৮ হিজরি)।

‌‌২ - শাইখুল ইসলাম আহমদ বিন আব্দুল হালিম বিন তাইমিয়্যাহ আল-হাররানি (মৃত্যু ৭২৮ হিজরি)।

‌‌৩ - আহমদ বিন আবি তালিব বিন নি’মাহ আস-সালিহি, যিনি ইবনেশ শিহনা নামে পরিচিত (মৃত্যু ৭৩০ হিজরি)।

‌‌৪ - আবুল হাজ্জাজ ইউসুফ বিন আব্দুর রহমান আল-মিজ্জি (মৃত্যু ৭৪২ হিজরি)।

‌‌৫ - আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন উসমান আজ-যাহাবি (মৃত্যু ৭৪৮ হিজরি)।

তাঁর প্রসিদ্ধ ছাত্রবৃন্দ ও তাঁর থেকে জ্ঞান অর্জনকারীগণ:

হাফেজ ইবনে আব্দুল হাদি (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে অসংখ্য আলেম ইলম অর্জন করেছেন যাদের সীমাবদ্ধ করা সম্ভব নয়; কারণ তিনি অনেক মাদরাসার প্রধানের দায়িত্ব পালন করেছেন।

--------------------------------------------

‌‌(১) আল-মু’জামুল মুখতাস (পৃ. ২১৬), এবং তাযকিরাতুল হুফফাজ (৪/ ২০২)।

‌‌(২) আদ-দুরারুল কামিনাহ (৫/ ৬১)।

(খণ্ড: ১) আল-মুহাররার ফিল হাদীস - ত আল-কাসিম (পৃষ্ঠা: ১৭)
قال ابن رافع السلامي رحمه الله: «وَتَوَلَّى مشيخة الحَدِيث بالضِّيائيَّة بالصَّالحيَّة، وبدمشق بالصَّدريَّة»‌‌(1).

وقال الحسيني رحمه الله: «وولي مشيخة الحديث بالضِّيائيَّة، والغياثيَّة، ودرَّس بالمدرسة المنصوريَّة وغيرها»‌‌(2).

غير أنه لم يصل إلينا سوى بعض أسماء من أخذ عنه أو استفاد منه؛ فمن أشهرِهم:

‌‌1 - السّروجي، قال الحسينيُّ رحمه الله: «وروى شيخنا الذَّهبيُّ عن المِزّي، عن السروجي، عنه»‌‌(3).

‌‌2 - الحافظ الذَّهبيُّ، حيث صرَّح بالسَّماع منه في كتابه «تذكرة الحفَّاظ» فقال: «وسمعت من الإمام الأوحد الحافظ ذي الفنون شمس الدِّين محمَّد بن أحمد بن عبد الهادي»‌‌(4).

‌‌3 - صلاح الدِّين خليل بن أيبك الصفدي، وقد صرَّح بالأخذ عنه فقال: «واجتمعت به غير مرةٍ، وكنت أسأله أسئلة أدبيَّة وأسئلة عربيَّة، فأجده فيها سيلاً يتحدر، ولو عاش كان عجباً»‌‌(5).

--------------------------------------------

‌‌(1) الوفيات (1/ 459).

‌‌(2) ذيل تذكرة الحفاظ (ص 32).

‌‌(3) ذيل تذكرة الحفاظ (ص 32).

‌‌(4) تذكرة الحفاظ (4/ 201).

‌‌(5) أعيان العصر (4/ 275)، وانظر: الوافي بالوافيات (2/ 114).

ইবনে রাফে আস-সালামী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "তিনি সালিহিয়ার জিয়াউইয়া মাদরাসায় এবং দামেস্কের সাদরিয়া মাদরাসায় হাদিসের প্রধান শিক্ষকতার দায়িত্ব পালন করেন।"‌‌(১).

আল-হুসাইনী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "তিনি জিয়াউইয়া ও গায়াসিয়া মাদরাসায় হাদিসের প্রধান শিক্ষকতার দায়িত্ব পালন করেন এবং মানসুরিয়া মাদরাসা ও অন্যান্য স্থানে পাঠদান করেন।"‌‌(২).

তবে যারা তাঁর নিকট থেকে ইলম অর্জন করেছেন বা উপকৃত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে মাত্র কয়েকজনের নামই আমাদের কাছে পৌঁছেছে; তাঁদের মধ্যে প্রসিদ্ধ হলেন:

‌‌১ - আস-সারুজি। আল-হুসাইনী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "আমাদের শাইখ যাহাবী আল-মিজ্জি থেকে, তিনি সারুজি থেকে, তিনি তাঁর (ইবনে আবদিল হাদী) থেকে বর্ণনা করেছেন।"‌‌(৩).

‌‌২ - হাফিজ যাহাবী। তিনি তাঁর 'তাযকিরাতুল হুফফাজ' গ্রন্থে তাঁর থেকে শোনার (সামা') কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে বলেছেন: "আমি অনন্য ইমাম, হাফিজ এবং বহু শাস্ত্রের পণ্ডিত শামসুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে আবদিল হাদীর নিকট থেকে শুনেছি।"‌‌(৪).

‌‌৩ - সালাহুদ্দিন খলীল ইবনে আইবাক আস-সাফাদী। তিনি তাঁর নিকট থেকে ইলম অর্জনের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে বলেছেন: "আমি তাঁর সাথে একাধিকবার সাক্ষাৎ করেছি। আমি তাঁকে সাহিত্য ও আরবি ভাষা সংক্রান্ত নানা বিষয়ে প্রশ্ন করতাম এবং তাঁকে এসব বিষয়ে প্রবহমান স্রোতের মতো সাবলীল পেতাম। তিনি দীর্ঘজীবী হলে এক বিস্ময়কর ব্যক্তিতে পরিণত হতেন।"‌‌(৫).

--------------------------------------------

‌‌(১) আল-ওয়াফাইয়াত (১/ ৪৫৯)।

‌‌(২) যাইলু তাযকিরাতিল হুফফাজ (পৃ. ৩২)।

‌‌(৩) যাইলu তাযকিরাতিল হুফফাজ (পৃ. ৩২)।

‌‌(৪) তাযকিরাতুল হুফফাজ (৪/ ২০১)।

‌‌(৫) আ’ইয়ানুল আসর (৪/ ২৭৫), এবং দেখুন: আল-ওয়াফি বিল ওয়াফাইয়াত (২/ ১১৪)।

(খণ্ড: ১) আল-মুহাররার ফিল হাদীস - ত আল-কাসিম (পৃষ্ঠা: ১৮)
ثناءُ العلماء عليه:

قال المِزِّيّ رحمه الله: «ما التقيت به إلَّا واستفدت منه»‌‌(1).

وقال ابن ناصر الدِّين الدمشقي رحمه الله: «الشَّيْخ الإمام العلامة الحَافِظ النَّاقد، ذُو الفُنُون، عُمدة المُحدِّثين، مُتقن المُحرِّرين»‌‌(2).

وقال الذَّهبيُّ رحمه الله: «الإمام الأوحد الحافظ، ذي الفنون، شمس الدين محمد بن أحمد بن عبد الهادي … اعتنى بالرِّجال والعلل، وبرع وجمع، وتصدَّى للإفادة والاشتغال في القراءات، والحديث، والفقه، والأصول، والنحو، وله توسُّعٌ في العلوم وذهن سيَّال»‌‌(3).

وقال الصَّفدي رحمه الله: «الشيخ الإمام الفاضل المفنن الذّكيّ … كان ذهنه صافياً، وفِكْرُهُ بالمعضلات وافياً، جيد المباحث، أطْرَب في نقله من المثاني والمثالث، صحيح الانتقاد، مليح الأخذ والإيراد، قد أتقن العربية، وغاص في لُجَّتها على فوائدها ونكتها الأدبية، وتبحَّر في معرفة أسماء الرِّجال، وضَيَّق على المِزِّيّ فيها المجال»‌‌(4).

وقال الحافظ ابن كثير رحمه الله: «لم يبلغ الأربعين، وحصَّل من العلومِ ما لا يبلغه الشيوخ الكبار، وتفنَّن في الحديث، والنَّحو، والتَّصريف، والفقه، والتَّفسير، والأصلين، والتَّاريخ، والقراءات، وله

--------------------------------------------

‌‌(1) الدرر الكامنة (5/ 62).

‌‌(2) الرد الوافر (ص 29).

‌‌(3) تذكرة الحُفَّاظ (4/ 201).

‌‌(4) أعيان العصر وأعوان النصر (4/ 273 - 274).

তাঁর সম্পর্কে উলামায়ে কেরামের প্রশংসা:

ইমাম মিযযী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: «আমি যখনই তাঁর সাথে দেখা করেছি, তখনই তাঁর কাছ থেকে উপকৃত হয়েছি»‌‌(১)।

ইবনে নাসিরুদ্দিন আদ-দিমাশকী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: «তিনি শায়খ, ইমাম, আল্লামা, হাফেজ, সমালোচক, বহু বিদ্যায় পারদর্শী, মুহাদ্দিসগণের অবলম্বন এবং পারঙ্গম লেখক»‌‌(২)।

ইমাম যাহাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: «অনন্য ইমাম, হাফেজ, বহু বিদ্যায় পারদর্শী শামসুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে আব্দুল হাদী … তিনি বর্ণনাকারী ও হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি নিয়ে কাজ করেছেন, পারদর্শিতা অর্জন করেছেন এবং সংকলন করেছেন। তিনি কিরাআত, হাদিস, ফিকহ, উসুল ও নাহু শাস্ত্রে শিক্ষাদান ও চর্চায় নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন। বিজ্ঞানে তাঁর ছিল ব্যাপক বিস্তৃতি এবং অত্যন্ত তীক্ষ্ণ মেধা»‌‌(৩)।

সাফাদী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: «শায়খ, ইমাম, ফাজিল, বহু বিদ্যায় পারদর্শী, মেধাবী … তাঁর মেধা ছিল স্বচ্ছ, জটিল বিষয়গুলো সমাধানে তাঁর চিন্তা ছিল সুনিপুণ, গবেষণায় তিনি ছিলেন চমৎকার, তাঁর উপস্থাপনা ছিল আনন্দদায়ক, নির্ভুল সমালোচক, গ্রহণ ও বর্জনে চমৎকার ভঙ্গি। তিনি আরবি ভাষায় বুৎপত্তি অর্জন করেছিলেন এবং এর গভীর সমুদ্রে ডুব দিয়ে এর উপকারিতা ও সাহিত্যিক সূক্ষ্ম বিষয়গুলো আহরণ করেছিলেন। তিনি বর্ণনাকারীদের নামের জ্ঞানে গভীর জ্ঞান অর্জন করেছিলেন এবং এ ক্ষেত্রে তিনি মিযযীর জন্য ক্ষেত্রটিকে সংকুচিত করে তুলেছিলেন»‌‌(৪)।

হাফেজ ইবনে কাসীর (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: «তিনি চল্লিশ বছর বয়সেও পৌঁছেননি, অথচ তিনি এমন সব জ্ঞান অর্জন করেছিলেন যা বড় বড় শায়খরাও অর্জন করতে পারেননি। তিনি হাদিস, নাহু, সরফ, ফিকহ, তাফসির, দুই উসুল (উসুলে দ্বীন ও উসুলে ফিকহ), ইতিহাস ও কিরাআত শাস্ত্রে পারদর্শিতা অর্জন করেছিলেন এবং তাঁর রয়েছে...

--------------------------------------------

‌‌(১) আদ-দুরারুল কামিনাহ (৫/ ৬২)।

‌‌(২) আর-রদ্দিল ওয়াফির (পৃ. ২৯)।

‌‌(৩) তাযকিরাতুল হুফফায (৪/ ২০১)।

‌‌(৪) আ'য়ানুল আসর ওয়া আ'ওয়ানুন নাসর (৪/ ২৭৩ - ২৭৪)।

(খণ্ড: ১) আল-মুহাররার ফিল হাদীস - ত আল-কাসিম (পৃষ্ঠা: ১৯)
مجاميع وتعاليق مفيدة كثيرة، وكان حافظاً جيداً لأسماء الرِّجال وطرق الحديث، عارفاً بالجرح والتَّعديل، بصيراً بعلل الحديث، حَسَنَ الفهم له، جيِّد المذاكرة، صحيح الذِّهن، مستقيماً على طريقة السَّلف واتِّباع الكتاب والسُّنَّة، مثابراً على فعل الخيرات»‌‌(1).

 

‌‌أشهرُ مؤلَّفاته:

‌‌1 - المُحرَّر في أحاديثِ الأحكام، وهو كتابنا هذا.

‌‌2 - الصَّارم المنكي في الرَّدِّ على السّبكي.

‌‌3 - العقود الدرية في ذكر بعض مناقب شيخ الإسلام ابن تيميَّة.

‌‌4 - تنقيح التَّحقيق في أحاديث التَّعليق.

‌‌5 - اختيارات شيخ الإسلام ابن تيميَّة.

وغيرها من المُصنَّفات‌‌(2).

 

‌‌وفاتُه:

أصيب الحافظ ابن عبد الهادي رحمه الله قريباً من ثلاثة أشهر بقرحة وحُمَّى سُلٍّ، ثم تفاقم أمره، وأفرط به إسهال، وتزايد ضعفه إلى أن توفِّي يوم الأربعاء عاشر جمادى الأولى، قبل أذان العصر سنة (744 هـ)، وكان آخر كلامه أن قال: «أشهد أن لا إله إلا اللَّه، وأشهد أنَّ محمَّداً رسول اللَّه، اللَّهم اجعلني من التَّوابين، واجعلني من المُتطهِّرين».

--------------------------------------------

‌‌(1) البداية والنهاية (18/ 467).

‌‌(2) انظر: الذيل على طبقات الحنابلة (5/ 117).

অনেকগুলো উপকারী সংকলন ও টীকা রয়েছে। তিনি রাবীদের জীবনী ও হাদিসের সূত্রসমূহ সম্পর্কে একজন দক্ষ হাফেজ ছিলেন; জারহ ও তাদীল সম্পর্কে অভিজ্ঞ এবং হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটিসমূহ (ইলাল) সম্পর্কে অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন ছিলেন। হাদিস অনুধাবনে তিনি ছিলেন প্রখর মেধার অধিকারী। তিনি ছিলেন উন্নত পঠন-পাঠনকারী, সুস্থ ধীসম্পন্ন এবং সালাফদের তরীকা ও কুরআন-সুন্নাহর অনুসরণে অবিচল। তিনি নেক আমল করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত ধৈর্যশীল ছিলেন।»‌‌(১).

 

‌‌তাঁর প্রসিদ্ধ গ্রন্থাবলি:

‌‌১ - আল-মুহাররার ফী আহাদিসিল আহকাম, এটিই আমাদের এই কিতাব।

‌‌২ - আস-সারিমুল মুনকী ফির-রাদ্দি আলাস সুবকী।

‌‌৩ - আল-উকু দুদ দুররিয়্যাহ ফী জিকরি বা'দি মানাকিবি শাইখিল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ।

‌‌৪ - তানকীহুত তাহকীক ফী আহাদিসিত তালীক।

‌‌৫ - ইখতিয়ারাতু শাইখিল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ।

এবং অন্যান্য সংকলনসমূহ‌‌(২)।

 

‌‌তাঁর মৃত্যু:

হাফেজ ইবনে আব্দুল হাদী (রহিমাহুল্লাহ) প্রায় তিন মাস যাবৎ আলসার ও যক্ষ্মা জ্বরে আক্রান্ত ছিলেন। অতঃপর তাঁর অবস্থার অবনতি ঘটে এবং প্রবল ডায়রিয়া দেখা দেয়। তাঁর দুর্বলতা ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকে, অবশেষে ৭৪৪ হিজরী সনের ১০ই জুমাদাল উলা, বুধবার আছরের আযানের পূর্বে তিনি ইন্তেকাল করেন। তাঁর শেষ কথা ছিল: «আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল। হে আল্লাহ! আমাকে তওবাকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন এবং আমাকে পবিত্রতা অর্জনকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন»।

--------------------------------------------

‌‌(১) আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১৮/ ৪৬৭)।

‌‌(২) দেখুন: আয-যাইল আলা তাবাকাতিল হানাবিলাহ (৫/ ১১৭)।

(খণ্ড: ১) আল-মুহাররার ফিল হাদীস - ত আল-কাসিম (পৃষ্ঠা: ২০)
وصُلِّيَ عليه صبيحة يوم الخميس بالجامع المُظَفَّرِيِّ، وحضر جنازته قضاة البلد وأعيان النَّاس من العلماء، والأمراء، والتجار، والعامة، وكانت جنازته حافلة مليحة، عليها ضوء ونور، ودفن في دمشق بالروضة إلى جانب قبر السيف بن المجد، فرحمه اللَّه وغفر له، وجزاه عن الإسلام والمسلمين خير الجزاء‌‌(1).

* * *

--------------------------------------------

‌‌(1) انظر: البداية والنهاية (18/ 468).

বৃহস্পতিবার সকালে মুজাফফরী জামে মসজিদে তাঁর জানাজা আদায় করা হয়। তাঁর জানাজায় শহরের বিচারকগণ এবং উলামা, আমীর, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্য থেকে গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। তাঁর জানাজা ছিল জনবহুল ও সুন্দর, যার ওপর আভা ও নূর বিদ্যমান ছিল। তাঁকে দামেস্কের রওজায় সাইফ ইবনে আল-মাজদ-এর কবরের পাশে দাফন করা হয়। আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন, তাঁকে ক্ষমা করুন এবং ইসলাম ও মুসলিমদের পক্ষ থেকে তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন‌‌(১).

* * *

--------------------------------------------

‌‌(১) দেখুন: আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া (১৮/ ৪৬৮)।

(খণ্ড: ১) আল-মুহাররার ফিল হাদীস - ত আল-কাসিম (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌اسم الكتاب

اختلفت النُّسخ الخطِّيَّة في ذكر اسم الكتاب، وقد اعتمدتُ تسميته بأشهر أسمائه وهو «المُحرَّر»، مع ما يبين موضوعه وهو أحاديث الأحكام، مستأنِساً في ذلك بما ورد في بعض النُّسخ، ومُستفيداً من كلام المُصنِّف نفسه في مقدِّمته.

وبيَّنتُ هنا أَوجُهَ ورود اسم الكتاب في النُّسخ الخطِّيَّة التي اعتمدتُها، وما وقفتُ عليه في كتب التراجم، والفهارس، ونحوها من مظانِّ معرفة اسم الكتاب، مع التَّنبُّه إلى أنَّ بعض التَّسميات التي وردت في كتب التَّراجم؛ إنما قُصِد بها حكايةُ اسم الكتاب، وليس النصّ على لفظ اسم الكتاب كما وضعه مُصنِّفه.

 

‌‌أوَّلاً: اسم الكتاب كما ورد في النُّسخ الخطِّيَّة:

‌‌1 - في (د): «كتاب المُحرَّر في الأحكام».

‌‌2 - في (هـ)، (و): «كتاب المُحرَّر في الحديث».

‌‌3 - في (ز): «كتاب المُحرَّر في أحاديث الأحكام الشَّرعيَّة».

وأما النُّسخ الأهم وهي (أ، ب، ج) فقد سقط منها ذكر اسم الكتاب بسبب وقوع خرم في أول نسختي (ب، ج)، وخلوّ نسخة (أ) من صفحة العنوان.
কিতাবের নাম

পাণ্ডুলিপিগুলোতে কিতাবটির নাম উল্লেখ করার ক্ষেত্রে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়েছে। আমি এর সর্বাধিক প্রসিদ্ধ নাম 'আল-মুহাররার' গ্রহণের ওপর নির্ভর করেছি, যা এর বিষয়বস্তু অর্থাৎ আহকাম বিষয়ক হাদিসসমূহকে সুস্পষ্ট করে। এক্ষেত্রে আমি কতিপয় পাণ্ডুলিপিতে যা বর্ণিত হয়েছে তার সহায়তা নিয়েছি এবং গ্রন্থকারের নিজস্ব ভূমিকার বক্তব্য থেকে উপকৃত হয়েছি।

আমি এখানে আমার ব্যবহৃত পাণ্ডুলিপিগুলোতে কিতাবটির নাম যেভাবে এসেছে তার বিভিন্ন ধরণ বর্ণনা করেছি। এছাড়া জীবনীগ্রন্থ, নির্ঘণ্ট এবং কিতাবের নাম জানার সম্ভাব্য উৎসসমূহে আমি যা অবগত হয়েছি তাও উল্লেখ করেছি। তবে এই বিষয়ে সতর্ক থাকা আবশ্যক যে, জীবনীগ্রন্থগুলোতে বর্ণিত কিছু নাম কেবল কিতাবটির বিষয়বস্তু বুঝানোর জন্য ব্যবহার করা হয়েছে; গ্রন্থকার কিতাবটির যে নাম রেখেছেন তা হুবহু বর্ণনা করা উদ্দেশ্য ছিল না।

 

প্রথমত: পাণ্ডুলিপিগুলোতে কিতাবের নাম যেভাবে বর্ণিত হয়েছে:

১ - (দাল) পাণ্ডুলিপিতে: «কিতাবুল মুহাররার ফিল আহকাম»।

২ - (হা) ও (ওয়াও) পাণ্ডুলিপিতে: «কিতাবুল মুহাররার ফিল হাদিস»।

৩ - (যা) পাণ্ডুলিপিতে: «কিতাবুল মুহাররার ফি আহাদিসিল আহকামিশ শারইয়্যাহ»।

তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পাণ্ডুলিপিগুলো অর্থাৎ (আলিফ, বা, জিম)-তে কিতাবের নাম উল্লেখ করা হয়নি। কারণ (বা) ও (জিম) পাণ্ডুলিপি দুটির শুরুর দিকে পাতা নষ্ট হয়ে গেছে এবং (আলিফ) পাণ্ডুলিপিতে শিরোনামের কোনো পাতা নেই।
(খণ্ড: ১) আল-মুহাররার ফিল হাদীস - ত আল-কাসিম (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌ثانياً: اسم الكتاب كما ورد في بعض كتب التَّراجم:

أ - ما ورد في ترجمة المُصنِّف:

‌‌1 - المُحرَّر في الأحكام‌‌(1).

‌‌2 - المُحرَّر في الحديث‌‌(2).

‌‌3 - المُحرَّر في اختصار الإلمام‌‌(3).

‌‌4 - المُحرَّر‌‌(4).

ب - مما ورد في غير ترجمة المُصنِّف‌‌(5):

‌‌1 - المُحرَّر في الحديث‌‌(6).

‌‌2 - المُحرَّر في أحاديث الأحكام‌‌(7).

‌‌3 - المُحرَّر‌‌(8).

--------------------------------------------

‌‌(1) الرد الوافر (ص 29)، وذيل طبقات الحنابلة (5/ 118)، ومعجم المؤلفين لعمر كحالة (8/ 287).

‌‌(2) الدرر الكامنة (5/ 62)، والبدر الطالع بمحاسن من بعد القرن السابع (2/ 108)، والتاج المكلل من جواهر مآثر الطراز الآخر والأول (ص 403).

‌‌(3) طبقات الحفاظ للسيوطي (ص 525)، وبغية الوعاة في طبقات اللغويين والنحاة (1/ 30)، وطبقات المفسرين (2/ 84).

‌‌(4) الأعلام (5/ 326)، ودرة الحجال في أسماء الرجال (2/ 44).

‌‌(5) والمراد بهذا ما ورد في ترجمة بعض العلماء والنَّابِهين؛ ممن يُذكَر أنهم سمعوا «المحرر» أو حفظوه، أو نسخوه، أو شرحوه … إلخ.

‌‌(6) الدرر الكامنة (3/ 71)، وإنباء الغمر بأبناء العمر في التاريخ (3/ 357)، والتحفة اللطيفة في تاريخ المدينة الشريفة (2/ 193)، وبهجة الناظرين إلى تراجم المتأخرين من الشافعية البارعين (ص 115).

‌‌(7) بهجة الناظرين (ص 191).

‌‌(8) طبقات الشافعية لابن قاضي شهبة (4/ 13)، والتحفة اللطيفة (1/ 120)، والجواهر والدرر في ترجمة شيخ الإسلام ابن حجر (2/ 676)، والضوء اللامع (1/ 270)، (2/ 10)، (4/ 272)، (6/ 34)، (7/ 148)، (7/ 234)، (11/ 56)، (11/ 57)، والجوهر المنضد في طبقات متأخري أصحاب أحمد (1/ 177)، ونظم العقيان في أعيان الأعيان (ص 54)، ومعجم المؤلفين (1/ 188)، (3/ 68).

‌দ্বিতীয়ত: জীবনীগ্রন্থসমূহে উল্লিখিত কিতাবের নাম:

ক - লেখকের জীবনীতে যা বর্ণিত হয়েছে:

‌‌১ - আল-মুহাররার ফিল আহকাম‌‌(১).

‌‌২ - আল-মুহাররার ফিল হাদিস‌‌(২).

‌‌৩ - আল-মুহাররার ফি ইখতিসারিল ইলমাম‌‌(৩).

‌‌৪ - আল-মুহাররার‌‌(৪).

খ - লেখকের জীবনী ব্যতীত অন্যান্য স্থানে যা বর্ণিত হয়েছে‌‌(৫):

‌‌১ - আল-মুহাররার ফিল হাদিস‌‌(৬).

‌‌২ - আল-মুহাররার ফি আহাদিসিল আহকাম‌‌(৭).

‌‌৩ - আল-মুহাররার‌‌(৮).

--------------------------------------------

‌‌(১) আর-রাদ্দুল ওয়াফির (পৃষ্ঠা ২৯), যাইলু তাবাকাতিল হানাবিলাহ (৫/ ১১৮), এবং উমর কাহহালার মুজামুল মুআল্লিফিন (৮/ ২৮৭)।

‌‌(২) আদ-দুরারুল কামিনাহ (৫/ ৬২), আল-বাদরুত তালি বি-মাহাসিনি মান বাদাল কারনিস সাবি (২/ ১০৮), এবং আত-তাজুল মুকাল্লাল মিন জাওয়াহিরি মাআসীরিত তিরাযিল আখিরি ওয়াল আউয়াল (পৃষ্ঠা ৪০৩)।

‌‌(৩) সুয়ুতির তাবাকাতুল হুফফাজ (পৃষ্ঠা ৫২৫), বুগয়াতুল উয়াত ফি তাবাকাতির লুগাবিয়্যিনা ওয়ান নুহাত (১/ ৩০), এবং তাবাকাতুল মুফাসসিরিন (২/ ৮৪)।

‌‌(৪) আল-আলাম (৫/ ৩২৬), এবং দুররাতুল হিজাল ফি আসমায়ির রিজাল (২/ ৪৪)।

‌‌(৫) এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সেই সব আলেম ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জীবনীতে যা বর্ণিত হয়েছে; যাদের সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়েছে যে তাঁরা 'আল-মুহাররার' শুনেছেন, অথবা মুখস্থ করেছেন, অথবা অনুলিপি করেছেন, অথবা ব্যাখ্যা করেছেন... ইত্যাদি।

‌‌(৬) আদ-দুরারুল কামিনাহ (৩/ ৭১), ইনবাউল গুমর বি-আবনায়িল উমর ফিত তারিখ (৩/ ৩৫৭), আত-তুহফাতুল লাতিফাহ ফি তারিখিল মদিনাতিশ শরিফাহ (২/ ১৯৩), এবং বাহজাতুন নাজিরিন ইলা তারা জিমিল মুতাআখখিরিনা মিনাশ শাফিঈয়াতিল বারিঈন (পৃষ্ঠা ১১৫)।

‌‌(৭) বাহজাতুন নাজিরিন (পৃষ্ঠা ১৯১)।

‌‌(৮) ইবনে কাজি শুহবার তাবাকাতুশ শাফিঈয়াহ (৪/ ১৩), আত-তুহফাতুল লাতিফাহ (১/ ১২০), জাওয়াহির ওয়াদ দুরার ফি তারজামাতি শাইখিল ইসলাম ইবনে হাজার (২/ ৬৭৬), আদ-দাউউল লামি (১/ ২৭০), (২/ ১০), (৪/ ২৭২), (৬/ ৩৪), (৭/ ১৪৮), (৭/ ২৩৪), (১১/ ৫৬), (১১/ ৫৭), আল-জাওহারুল মুনাদদাদ ফি তাবাকাতি মুতাআখখিরি আসহাবি আহমাদ (১/ ১৭৭), নাযমুল উকিয়ান ফি আয়ানিল আয়ান (পৃষ্ঠা ৫৪), মুজামুল মুআল্লিফিন (১/ ১৮৮), (৩/ ৬৮)।

(খণ্ড: ১) আল-মুহাররার ফিল হাদীস - ত আল-কাসিম (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌ثالثاً: اسم الكتاب كما ورد في الشُّروحات:

ولم أقف سوى على أجزاء من شرح ابن الحريري المسمَّى: «تحرير المحرر في شرح حديث النبي المطهر» للحريري، وقد ذكر اسم الكتاب مختصراً، فقال: «عدَّة الأحاديث التي في هذا الكتاب - وهو: (المُحرَّر) - من أوله إلى آخره: ألف حديث، وثلاث مئة حديث، وستة وثلاثين حديثاً - تقريباً - بالآثار»‌‌(1).

 

‌‌رابعاً: اسم الكتاب كما ورد في بعض كتب الفهارس والأدلَّة:

‌‌1 - المُحرَّر في الحديث‌‌(2).

‌‌2 - المُحرَّر‌‌(3).

خلاصة ما تقدَّم:

اشتركت النُّسخ الخطِّيَّة، وكتب التَّراجم، والفهارس وغيرها، في تسمية الكتاب بـ «المُحرَّر»، وزِيد في كثير منها على ذلك، فسُمِّي:

«المُحرَّر في الأحكام»، و «المُحرَّر في أحاديث الأحكام»؛ وهو وصف لبيان اختصاص الكتاب بجمع الأحاديث في الأحكام الفقهيَّة.

--------------------------------------------

‌‌(1) نسخة ح (لوحة 12/ أ).

‌‌(2) أبجد العلوم (ص 650، 656)، ومعجم المطبوعات العربية والمعربة (1/ 167).

‌‌(3) كشف الظنون (1/ 158).

তৃতীয়ত: ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহে উল্লিখিত কিতাবের নাম:

আমি ইবনুল হারীরির ব্যাখ্যার কিছু অংশ ব্যতীত অন্য কিছুর সন্ধান পাইনি, যার নাম: হারীরি রচিত ‘তাহরীরুল মুহাররার ফী শারহি হাদীসিন নাবিয়্যিল মুতাহহার’। তিনি কিতাবটির নাম সংক্ষিপ্তভাবে উল্লেখ করে বলেছেন: “এই কিতাবটি—যা হলো: (আল-মুহাররার)—এর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মোট হাদিসের সংখ্যা: আসারসহ (সাহাবী ও তাবেয়ীদের বর্ণনা) প্রায় এক হাজার তিনশত ছত্রিশটি হাদিস।”(১)।

 

চতুর্থত: কিছু ক্যাটালগ ও নির্দেশিকা গ্রন্থে উল্লিখিত কিতাবের নাম:

১ - আল-মুহাররার ফিল হাদীস(২)।

২ - আল-মুহাররার(৩)।

পূর্বালোচনার সারসংক্ষেপ:

হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপিসমূহ, জীবনী গ্রন্থসমূহ, ক্যাটালগ এবং অন্যান্য উৎসগুলো কিতাবটির নাম ‘আল-মুহাররার’ রাখার ক্ষেত্রে একমত হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে এর সাথে অতিরিক্ত যুক্ত করে একে ‘আল-মুহাররার ফিল আহকাম’ এবং ‘আল-মুহাররার ফী আহাদিসিল আহকাম’ নামেও নামকরণ করা হয়েছে; যা মূলত ফিকহী বিধান সংক্রান্ত হাদিস সংগ্রহের ক্ষেত্রে কিতাবটির বিশেষত্ব বর্ণনার একটি বিবরণ মাত্র।

--------------------------------------------

(১) ‘হা’ পাণ্ডুলিপি (ফলক ১২/ ক)।

(২) আবজাদুল উলূম (পৃষ্ঠা ৬৫০, ৬৫৬), এবং মু’জামুল মাতবু’আত আল-আরাবিয়্যাহ ওয়াল মু’আররাবাহ (১/ ১৬৭)।

(৩) কাশফুয যুনুন (১/ ১৫৮)।

(খণ্ড: ১) আল-মুহাররার ফিল হাদীস - ত আল-কাসিম (পৃষ্ঠা: ২৪)
وسُمِّي «المُحرَّر في اختصار الإلمام»؛ وهو قيد لبيان أصل الكتاب.

ولعلَّ الأرجح تسميته: «المُحرَّر في أحاديث الأحكام»، فقد وصف المُصنِّف كتابه في مقدِّمته فقال: «فهذا مختصرٌ يشتمل على جملة من الأحاديث النَّبويَّة في الأحكام الشَّرعيَّة»، وهذا ممَّا يستأنس به في تسمية الكتاب بالاسم الذي اخترته، واللَّه الموفق.

* * *
আর এর নামকরণ করা হয়েছে ‘আল-মুহাররার ফী ইখতিসার আল-ইলমাম’; যা গ্রন্থটির মূল উৎস স্পষ্ট করার লক্ষ্যে একটি বর্ণনা।

আর সম্ভবত অধিকতর গ্রহণযোগ্য নাম হলো: ‘আল-মুহাররার ফী আহাদিসিল আহকাম’। কেননা গ্রন্থকার তার মুখবন্ধে কিতাবটির বর্ণনা দিয়ে বলেছেন: ‘এটি একটি সংক্ষিপ্ত সংকলন যা শরীয়তের বিধান সংক্রান্ত একগুচ্ছ নববী হাদিসকে অন্তর্ভুক্ত করে’। আর এটিই কিতাবটির নামকরণের ক্ষেত্রে আমার পছন্দকৃত নামের স্বপক্ষে একটি সহায়ক দলিল, আর আল্লাহই তাওফীকদাতা।

* * *
(খণ্ড: ১) আল-মুহাররার ফিল হাদীস - ত আল-কাসিম (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌منهج المصنف في الكتاب

‌‌1. افتتح المُصنِّف كتابه بمقدِّمة بيَّن فيها - باختصار - طريقته في اختصار الكتاب، وبعض موارده، وكيفيَّة ترتيبه.

‌‌2. قسم كتابه إلى (31) كتاباً، وضمَّن هذه الكتب (91) باباً، ابتدأه بـ «كتاب الطَّهارة»، وختمه بـ «كتاب الطِّب».

‌‌3. يبدأ المُصنِّف بذكر عنوان الكتاب، ثم يورد فيه أحاديث دون أن يبوِّب لها؛ هي أصل في هذا الكتاب، ثم يبوب للأحاديث بعد ذلك، فعلى سبيل المثال: بدأ بـ «كتاب الطَّهارة»، ثم أورد فيه عدة أحاديث، ثم ذكر «باب الآنية»، وما يتعلق به من أحاديث، ثم ذكر «باب السِّواك» … إلخ.

‌‌4. وخالف ذلك في «كتاب الحدود»؛ فقد أتْبعه بـ «باب حدِّ الزِّنى» مباشرةً، ولم يقدّم قبله شيئاً من الأحاديث على عادته.

‌‌5. صرح المُصنِّف بأنَّه رتَّبه على ترتيب بعض الفقهاء في عصره، حيث قال: «ورتَّبته على ترتيب بعض فقهاء زماننا؛ ليسهل الكشف منه»‌‌(1)، ويحتمل أنه قصد بذلك ابن دقيق العيد؛ نظراً للتشابه الكبير بين المحرر والإلمام.

--------------------------------------------

‌‌(1) قال الشارح أبو بكر ابن علي الحريري رحمه الله في كتابه تحرير المحرر شرح حديث النبي المطهر (ج 1/ ل 9 ب): «قوله: (ورتبته على ترتيب بعض فقهاء زماننا) أي: على ترتيب الفقهاء في المختصرات؛ لأن غالب الفقهاء صنفوا المختصرات، فيسهل الكشف منه؛ لأنه رتبه على ترتيب الفقهاء فتيسر على الطالب الكشف منه»، وقال الحافظ ابن حجر رحمه الله في الدرر الكامنة (5/ 62) في ذكر مصنفات ابن عبد الهادي: «والمحرر في الحديث: اختصره من (الإلمام) فجوّدَه جدّاً»، وانظر: طبقات الحفاظ للسيوطي (ص 525).

গ্রন্থে লেখকের পদ্ধতি

১. লেখক তাঁর গ্রন্থটি একটি ভূমিকার মাধ্যমে শুরু করেছেন যেখানে তিনি সংক্ষেপে গ্রন্থটি সংক্ষিপ্ত করার পদ্ধতি, এর কিছু উৎস এবং বিন্যাস প্রক্রিয়া বর্ণনা করেছেন।

২. তিনি তাঁর গ্রন্থটিকে (৩১)টি কিতাবে (প্রধান অধ্যায়) বিভক্ত করেছেন এবং এই কিতাবগুলোর অধীনে (৯১)টি পরিচ্ছেদ অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তিনি এটি ‘পবিত্রতা অধ্যায়’ দিয়ে শুরু করেছেন এবং ‘চিকিৎসা অধ্যায়’ দিয়ে শেষ করেছেন।

৩. লেখক প্রথমে কিতাবের শিরোনাম উল্লেখ করে শুরু করেন, তারপর সেখানে কোনো সুনির্দিষ্ট পরিচ্ছেদ বিন্যাস ছাড়াই কিছু হাদিস উল্লেখ করেন; যা এই কিতাবের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। এরপর তিনি হাদিসগুলোর জন্য পরিচ্ছেদ বিন্যাস করেন। উদাহরণস্বরূপ: তিনি ‘পবিত্রতা অধ্যায়’ দিয়ে শুরু করেছেন, এরপর সেখানে বেশ কিছু হাদিস উল্লেখ করেছেন, তারপর ‘পাত্রের পরিচ্ছেদ’ এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট হাদিসগুলো উল্লেখ করেছেন, এরপর ‘মিসওয়াকের পরিচ্ছেদ’ … ইত্যাদি উল্লেখ করেছেন।

৪. তবে ‘দণ্ডবিধি অধ্যায়’-এ এর ব্যতিক্রম করেছেন; সেখানে তিনি সরাসরি ‘যিনার দণ্ডবিধি পরিচ্ছেদ’ দিয়ে শুরু করেছেন এবং তাঁর স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী এর আগে কোনো হাদিস উপস্থাপন করেননি।

৫. লেখক স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি তাঁর সমসাময়িক কিছু ফকীহর বিন্যাস অনুযায়ী এটি সাজিয়েছেন। তিনি বলেন: “আমি এটি আমাদের সময়ের কিছু ফকীহর বিন্যাস অনুযায়ী সাজিয়েছি; যাতে এটি থেকে কোনো বিষয় খুঁজে বের করা সহজ হয়।”(১) সম্ভবত এর মাধ্যমে তিনি ইবনে দাকীকুল ঈদকে উদ্দেশ্য করেছেন; কারণ ‘আল-মুহাররার’ এবং ‘আল-ইলমাম’ গ্রন্থদ্বয়ের মধ্যে ব্যাপক সাদৃশ্য রয়েছে।

--------------------------------------------

(১) ব্যাখ্যাকার আবু বকর ইবন আলী আল-হারীরি (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর ‘তাহরীরুল মুহাররার শারহু হাদিসিন নাবিয়্যিল মুতাহহার’ গ্রন্থে (১ম খণ্ড/ ৯খ পৃষ্ঠা) বলেছেন: “তাঁর উক্তি: (আমি এটি আমাদের সময়ের কিছু ফকীহর বিন্যাস অনুযায়ী সাজিয়েছি) অর্থাৎ: সংক্ষিপ্ত গ্রন্থগুলোতে ফকীহদের বিন্যাস অনুযায়ী; কারণ অধিকাংশ ফকীহ সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ রচনা করেছেন। ফলে এটি থেকে তালাশ করা সহজ হবে; যেহেতু তিনি ফকীহদের বিন্যাস অনুযায়ী এটি সাজিয়েছেন, তাই ছাত্রের জন্য এটি থেকে খুঁজে বের করা সহজতর হয়েছে।” হাফিয ইবনে হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) ‘আদ-দুরারুল কামিনাহ’ গ্রন্থে (৫/৬২) ইবনে আবদিল হাদীর রচনাবলি উল্লেখ করতে গিয়ে বলেন: “হাদিস শাস্ত্রে ‘আল-মুহাররার’: তিনি এটি (আল-ইলমাম) থেকে সংক্ষিপ্ত করেছেন এবং একে অত্যন্ত চমৎকারভাবে সম্পন্ন করেছেন।” আরও দেখুন: সুয়ূতী রচিত ‘তাবাকাতুল হুফফায’ (পৃ. ৫২৫)।

(খণ্ড: ১) আল-মুহাররার ফিল হাদীস - ত আল-কাসিম (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌6. أما تبويبه: فإنه لم يُشِرْ فيه إلى الاختلاف في المسائل ولا الرَّاجح فيها عنده، وإنَّما بوَّب بعناوين عامَّةٍ؛ على نهج ابن دقيق العيد في «الإلمام» غالباً، ورُبَّما تفرَّد عنه ببعض الكتب والأبواب؛ مثل «كتاب القضاء».

‌‌7. يورد المُصنِّف الحديث من جهة الصَّحابيِّ، وإذا ذكر إسناد الحديث أو طرفاً منه؛ فإنما يذكره - غالباً - لفائدة إسنادية‌‌(1)، أو متنية‌‌(2)، تظهر بالتأمّل.

‌‌8. يسوق المُصنِّف ألفاظ المتن بتمامها كما هي في المصادر غالباً، ويقتصر أحياناً على موضع الشاهد منه، وربما رواه بالمعنى‌‌(3).

‌‌9. إذا أشار إلى من أخرج الحديث باللَّفظ المذكور فإنَّه يذكره كما هو في المصدر دون تصرُّف منه في لفظه، وخالف ذلك في مواضع نادرةٍ‌‌(4).

--------------------------------------------

‌‌(1) كبيان عدم سماع الراوي من شيخه (ح 91)، أو تضعيف أحد الأئمة للراوي المذكور (ح 109)، أو بيان أن الراوي المذكور هو الذي أخطأ في الحديث (ح 114)، أو بيان قوة الحديث وصحته (ح 34)، أو بيان مخالفة الراوي المذكور غيره في الإسناد (ح 238).

‌‌(2) كبيان مخالفة الراوي المذكور غيرَه في المتن (ح 58، 1013)، أو بيان المحفوظ في متن الحديث (ح 52)، أو الإشارة إلى الزيادات من بعض الرواة في متن الحديث وبيان حالها (ح 67).

‌‌(3) كقوله في (ح 19): «وهو مختصر من حديث طويل»، وانظر أيضاً: (ح 81، 178).

‌‌(4) انظر: (ح 782).

‌‌৬. তাঁর অধ্যায় বিন্যাসের ব্যাপারে বলতে গেলে: তিনি এতে মাসআলাগুলোর মতভেদ বা তাঁর নিকট অগ্রগণ্য মতের দিকে ইঙ্গিত করেননি। বরং তিনি অধিকাংশ ক্ষেত্রে ইবনে দাকীক আল-ঈদ-এর 'আল-ইলমাম' গ্রন্থের অনুসরণে সাধারণ শিরোনামে অধ্যায় বিন্যাস করেছেন। কখনও কখনও তিনি তাঁর থেকে পৃথক হয়ে কিছু কিতাব ও অধ্যায় যোগ করেছেন; যেমন 'কিতাবুল কাযা' (বিচার বিভাগীয় অধ্যায়)।

‌‌৭. লেখক সাহাবীর সূত্রে হাদীস উল্লেখ করেন। যখন তিনি হাদীসের সনদ (সূত্র) বা তার অংশবিশেষ উল্লেখ করেন, তখন তা অধিকাংশ ক্ষেত্রে কোনো সনদগত‌‌(১) বা মতনগত (মূলপাঠের)‌‌(২) উপকারের জন্যই করেন, যা গভীরভাবে চিন্তা করলে স্পষ্ট হয়।

‌‌৮. লেখক অধিকাংশ ক্ষেত্রে মূল উৎসগুলোতে যেভাবে আছে সেভাবেই হাদীসের পূর্ণ শব্দাবলি নিয়ে আসেন। কখনও কখনও তিনি কেবল সংশ্লিষ্ট প্রমাণের অংশটুকু উল্লেখ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেন। আবার কখনও কখনও তিনি মর্মার্থের ভিত্তিতেও বর্ণনা করেন‌‌(৩)।

‌‌৯. উল্লেখিত শব্দাবলিসহ হাদীসটি কে সংকলন করেছেন সেদিকে যখন তিনি ইঙ্গিত করেন, তখন তিনি মূল উৎসে যেভাবে আছে শব্দাবলিতে কোনো পরিবর্তন না করেই তা উল্লেখ করেন। খুব সামান্য কিছু স্থানে এর ব্যতিক্রম ঘটেছে‌‌(৪)।

--------------------------------------------

‌‌(১) যেমন— বর্ণনাকারী তাঁর শায়খ থেকে না শোনার বিষয়টি স্পষ্ট করা (হাদীস ৯১), অথবা কোনো ইমাম কর্তৃক উক্ত বর্ণনাকারীকে দুর্বল সাব্যস্ত করা (হাদীস ১০৯), অথবা উক্ত বর্ণনাকারী হাদীসে ভুল করেছেন—এমনটি স্পষ্ট করা (হাদীস ১১৪), অথবা হাদীসের শক্তি ও বিশুদ্ধতা বর্ণনা করা (হাদীস ৩৪), অথবা সনদের ক্ষেত্রে উক্ত বর্ণনাকারীর অন্যের বিরোধিতা করা স্পষ্ট করা (হাদীস ২৩৮)।

‌‌(২) যেমন— মতনের (মূলপাঠের) ক্ষেত্রে উক্ত বর্ণনাকারীর অন্যের বিরোধিতা করা স্পষ্ট করা (হাদীস ৫৮, ১০১৩), অথবা হাদীসের মতনে যা সংরক্ষিত (মাহফুজ) তা স্পষ্ট করা (হাদীস ৫২), অথবা হাদীসের মতনে কিছু বর্ণনাকারীর পক্ষ থেকে অতিরিক্ত অংশ (যিয়াদাত) ও তার অবস্থা সম্পর্কে ইঙ্গিত করা (হাদীস ৬৭)।

‌‌(৩) যেমন— তাঁর উক্তি (হাদীস ১৯): "এটি একটি দীর্ঘ হাদীসের সংক্ষিপ্ত রূপ"। আরও দেখুন: (হাদীস ৮১, ১৭৮)।

‌‌(৪) দেখুন: (হাদীস ৭৮২)।

(খণ্ড: ১) আল-মুহাররার ফিল হাদীস - ত আল-কাসিম (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌10. يُلفِّق أحياناً بين متنَيْ حديثين، فيسوقهما مساق حديث واحد‌‌(1)، وهذا نادر.

‌‌11. يورد الحديث ثم يورد عقبه أحياناً بعض الشَّواهد؛ بذكر لفظ الشَّاهد كاملاً، أو بذكر موضع الشَّاهد من لفظ الحديث‌‌(2)، وقد يكتفي بالإشارة إلى وجود شاهد من حديث غيره؛ دون أن يورد لفظه‌‌(3).

‌‌12. يشير أحياناً إلى الاختلاف بين ألفاظ الرِّوايات إذا كان الفرق مؤثراً‌‌(4).

‌‌13. يرجح أحياناً بين ألفاظ الحديث التي وقع فيها اختلاف بين الرُّواة‌‌(5).

‌‌14. أورد بعض الآثار الموقوفة، وسبب إيرادها - غالباً -: أنَّها أصلٌ في الباب‌‌(6)، أو لأنَّ لها حكم الرَّفع‌‌(7)، أو لبيان علَّة الحديث المرفوع‌‌(8).

--------------------------------------------

‌‌(1) انظر: (ح 244، 254، 266).

‌‌(2) انظر: (ح 120، 219، 356).

‌‌(3) انظر: (ح 2، 17، 21، 224، 238).

‌‌(4) انظر: (ح 2، 40، 195).

‌‌(5) انظر: (ح 54).

‌‌(6) انظر: (ح 210، 350، 355).

‌‌(7) انظر: (ح 257، 277).

‌‌(8) انظر: (ح 11، 45).

১০. কখনও কখনও তিনি দুটি হাদিসের মতনের মধ্যে সমন্বয় ঘটান, ফলে সেগুলোকে একটি হাদিস হিসেবে উপস্থাপন করেন(১); এবং এটি বিরল।

১১. তিনি হাদিস উল্লেখ করেন এবং এরপর কখনও কখনও কিছু শাহিদ (সমর্থনকারী বর্ণনা) উল্লেখ করেন; শাহিদের পূর্ণ শব্দাবলি উল্লেখ করার মাধ্যমে অথবা হাদিসের শব্দাবলি থেকে শাহিদের অংশটুকু উল্লেখ করার মাধ্যমে(২)। আবার কখনও তিনি বর্ণনার শব্দাবলি উল্লেখ না করে কেবল অন্য কারও হাদিস থেকে শাহিদ বিদ্যমান থাকার প্রতি ইঙ্গিত করেই ক্ষান্ত হন(৩)।

১২. বর্ণনার শব্দাবলির মধ্যে পার্থক্য যদি অর্থগতভাবে প্রভাব বিস্তারকারী হয়, তবে তিনি কখনও কখনও সেই পার্থক্যের প্রতি ইঙ্গিত করেন(৪)।

১৩. হাদিসের যে সকল শব্দাবলির ক্ষেত্রে বর্ণনাকারীদের মধ্যে মতভেদ ঘটেছে, কখনও কখনও তিনি তার মধ্যে কোনো একটিকে প্রাধান্য দেন(৫)।

১৪. তিনি কিছু মাওকুফ আসার (সাহাবীদের বাণী) উল্লেখ করেছেন এবং সেগুলো উল্লেখ করার কারণ সাধারণত এই যে: সেগুলো সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ের মূল ভিত্তি(৬), অথবা সেগুলোর হুকুম মারফু হাদিসের সমপর্যায়ভুক্ত(৭), অথবা মারফু হাদিসের ইল্লত (সুক্ষ্ম ত্রুটি) বর্ণনা করার জন্য(৮)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: (হা. ২৪৪, ২৫৪, ২৬৬)।

(২) দেখুন: (হা. ১২০, ২১৯, ৩৫৬)।

(৩) দেখুন: (হা. ২, ১৭, ২১, ২২৪, ২৩৮)।

(৪) দেখুন: (হা. ২, ৪০, ૧৯৫)।

(৫) দেখুন: (হা. ৫৪)।

(৬) দেখুন: (হা. ২১০, ৩৫০, ৩৫৫)।

(৭) দেখুন: (হা. ২৫৭, ২৭৭)।

(৮) দেখুন: (হা. ১১, ৪৫)।

(খণ্ড: ১) আল-মুহাররার ফিল হাদীস - ত আল-কাসিম (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌15. يكتفي بعزو الحديث للصَّحيحَيْن أو أحدهما غالباً - إذا كان الحديث فيهما أو في أحدهما -، وربما إذا كان هناك معنىً زائد في غيرهما أشار إليه‌‌(1)، وعبَّر بـ «أخرجوه إلا البخاري» في موضع واحد فقط‌‌(2).

‌‌16. يعزو أحياناً الحديث لأحد الصَّحيحَيْن - وهو متَّفقٌ عليه - لأجل لفظة مختلفة‌‌(3).

‌‌17. عزا كلَّ حديث إلى مَنْ أخرجه عقب لفظ الحديث، وقد يسرد عدَّة أحاديث من كتاب أو أكثر؛ ثم إذا انتهى منها عزاها جملةً بعبارة واحدة‌‌(4).

‌‌18. يكتفي المُصنِّف أحياناً بالعزو إلى واحدٍ من السُّنن الأربع، مع أنَّ الحديث مُخرّجٌ عند غيره من أصحاب السُّنن‌‌(5).

‌‌19. أمَّا ترتيب مصادر التَّخريج: فإنَّ المُصنِّف يقدم الإمام أحمد

--------------------------------------------

‌‌(1) انظر: (ح 54، 57، 173، 180، 184، 539، 680، 700، 788، 835).

‌‌(2) انظر: (ح 17).

‌‌(3) انظر: (ح 27، 32).

‌‌(4) كقوله: «متفق عليهما» عقب (ح 38 - 39، 158 - 159، 609 - 610، 662 - 663، 677 - 678)، وقوله: «متفق على هذه الأحاديث» عقب (ح 1196 - 1234)، وقوله: «متفق عليها» عقب (ح 1093 - 1095، 1295 - 1297)، وقوله: «رواهما البخاري» عقب (ح 42 - 43، 719 - 720، 816 - 817، 931 - 932)، وقوله: «رواها البخاري» عقب (ح 886 - 888، 912 - 915)، وقوله: «رواهما مسلم» عقب (ح 312 - 313، 477 - 478، 517 - 518، 679 - 680، 704 - 705، 727 - 728، 733 - 734)، وقوله: «رواها مسلم» عقب (ح 871 - 873، 909 - 911).

‌‌(5) كعزوه في (ح 590) إلى الترمذي فحسب، وقد أخرجه أبو داود، والنسائي أيضاً.

১৫. সাধারণত হাদীসটি সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম) বা তাদের কোনো একটিতে থাকলে কেবল সেই গ্রন্থদ্বয়ের দিকেই সম্বন্ধ করাকে যথেষ্ট মনে করেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অন্য কোনো গ্রন্থে যদি অতিরিক্ত অর্থ থাকে, তবে সেদিকেও তিনি ইঙ্গিত করেছেন(১)। কেবল এক স্থানে তিনি ‘বুখারী ব্যতীত সকলে এটি বর্ণনা করেছেন’ অভিব্যক্তিটি ব্যবহার করেছেন(২)।

১৬. কখনো কখনো হাদীসটি মুত্তাফাকুন আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম উভয় গ্রন্থে বিদ্যমান) হওয়া সত্ত্বেও ভিন্ন শব্দের কারণে তিনি কেবল সহীহাইনের কোনো একটির দিকেই সম্বন্ধ করেন(৩)।

১৭. তিনি প্রতিটি হাদীসের মূল পাঠ উল্লেখ করার পরেই সেটি কে বর্ণনা করেছেন তার বর্ণনা দেন। অনেক সময় তিনি এক বা একাধিক কিতাব থেকে একাধিক হাদীস পর পর উল্লেখ করেন এবং সেগুলো শেষ হলে একটি বাক্য দ্বারা সামগ্রিকভাবে সেগুলোর উৎস বর্ণনা করেন(৪)।

১৮. গ্রন্থকার কখনো কখনো সুনানে আরবাআ (চারটি সুনান গ্রন্থ)-এর কেবল একটির দিকেই সম্বন্ধ করাকে যথেষ্ট মনে করেন, যদিও হাদীসটি সুনানের অন্যান্য ইমামগণও বর্ণনা করেছেন(৫)।

১৯. তাখরীজের উৎসসমূহের বিন্যাসের ক্ষেত্রে: গ্রন্থকার ইমাম আহমাদকে অগ্রগণ্য করেন

--------------------------------------------

(১) দেখুন: (হাদীস নং ৫৪, ৫৭, ১৭৩, ১৮০, ১৮৪, ৫৩৯, ৬৮০, ৭০০, ৭৮৮, ৮৩৫)।

(২) দেখুন: (হাদীস নং ১৭)।

(৩) দেখুন: (হাদীস নং ২৭, ৩২)।

(৪) যেমন তাঁর উক্তি: হাদীস নম্বর (৩৮-৩৯, ১৫৮-১৫৯, ৬০৯-৬১০, ৬৬২-৬৬৩, ৬৭৭-৬৭৮)-এর পরে ‘উভয় কিতাবে মুত্তাফাক’ বলা; হাদীস নম্বর (১১৯৬-১২৩৪)-এর পরে ‘এই হাদীসগুলোর ওপর ঐকমত্য (মুত্তাফাক) রয়েছে’ বলা; হাদীস নম্বর (১০৯৩-১০৯৫, ১২৯৫-১২৯৭)-এর পরে ‘মুত্তাফাক আলাইহা’ (সেগুলোর ওপর ঐকমত্য) বলা; হাদীস নম্বর (৪২-৪৩, ৭১৯-৭২০, ৮১৬-৮১৭, ৯৩১-৯৩২)-এর পরে ‘বুখারী উভয়টি বর্ণনা করেছেন’ বলা; হাদীস নম্বর (৮৮৬-৮৮৮, ৯১২-৯১৫)-এর পরে ‘বুখারী সেগুলো বর্ণনা করেছেন’ বলা; হাদীস নম্বর (৩১২-৩১৩, ৪৭৭-৪৭৮, ৫১৭-৫১৮, ৬৭৯-৬৮০, ৭০৪-৭০৫, ৭২৭-৭২৮, ৭৩৩-৭৩৪)-এর পরে ‘মুসলিম উভয়টি বর্ণনা করেছেন’ বলা; এবং হাদীস নম্বর (৮৭১-৮৭৩, ৯০৯-৯১১)-এর পরে ‘মুসলিম সেগুলো বর্ণনা করেছেন’ বলা।

(৫) যেমন হাদীস নং ৫৯০-এ তিনি কেবল তিরমিযীর দিকে সম্বন্ধ করেছেন, অথচ সেটি আবু দাউদ ও নাসাঈও বর্ণনা করেছেন।

(খণ্ড: ১) আল-মুহাররার ফিল হাদীস - ত আল-কাসিম (পৃষ্ঠা: ২৯)
على غيره من أصحاب الكتب‌‌(1)، ثم يقدم أبا داود غالباً‌‌(2)، ولم يسر على طريقة معينة في ترتيب بقية المصادر؛ فقد يقدم ابن ماجه على النَّسائيّ مثلاً‌‌(3)، وقد يؤخره عنه‌‌(4).

‌‌20. ورُبَّما أخَّر التِّرمذي عن بقيَّة أصحاب السُّنن الأربع لينقل نصَّ حكمه على الحديث‌‌(5) - وهو الغالب -، ورُبَّما لم يؤخِّره عن بقيَّة أصحاب السُّنن الأربع؛ مع نقله عنه حكمه على الحديث‌‌(6).

‌‌21. عزا (61) حديثاً إلى النَّسائيِّ، وهي في السُّنن الكبرى دون الصُّغرى، وثمَّة (14) حديثاً مما عزاه إليه موجودة في الصُّغرى دون الكبرى، وبقيَّة المواضع واردة في الكتابين.

‌‌22. أمَّا الحكم على الرُّواة: فقد ينقل المُصنِّف كلام النقاد‌‌(7)، أو يشير إلى اختلافهم‌‌(8) مكتفياً بذلك، وينقل أحياناً اختلاف النّقاد في

--------------------------------------------

‌‌(1) انظر: (ح 1، 2، 3، 8، 9، 21).

‌‌(2) انظر: (ح 1، 2، 3، 5، 8، 9).

‌‌(3) انظر: (ح 1، 3، 37، 72، 109).

‌‌(4) انظر: (ح 8، 12، 41، 60، 90، 239).

‌‌(5) كقوله في (ح 74): «رواه أحمد - وهذا لفظه -، وأبو داود، وابن ماجه، وابن حبان، والنسائي، والترمذي، وقال: هذا الحديث أحسن شيء رُوي في هذا الباب»، وانظر أيضاً: (ح 97، 98، 107، 304).

‌‌(6) كقوله في (ح 153): «رواه أحمد، وأبو داود، وابن ماجه، والترمذي - وصححه -، والنسائي، وأبو حاتم ابن حبان»، وانظر أيضاً: (ح 485).

‌‌(7) انظر: (ح 79، 89، 403، 578، 1119، 1122).

‌‌(8) انظر: (ح 323، 464، 777، 893، 1002، 1010).

অন্যান্য কিতাব সংকলকদের তুলনায় তাঁর ওপর‌‌(১), এরপর তিনি অধিকাংশ ক্ষেত্রে আবু দাউদকে আগে উপস্থাপন করেন‌‌(২), আর বাকি উৎসগুলোর বিন্যাসের ক্ষেত্রে তিনি কোনো নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করেননি; ফলে তিনি কখনও নাসায়ীর আগে ইবনে মাজাহকে স্থান দেন‌‌(৩), আবার কখনও তাঁকে তাঁর পরে রাখেন‌‌(৪)।

‌‌২০. এবং কখনও কখনও তিনি তিরমিযীকে বাকি চার সুনান সংকলকদের পরে উল্লেখ করেন যাতে হাদিসের ওপর তাঁর হুকুমের (মন্তব্য) পাঠটি উদ্ধৃত করতে পারেন‌‌(৫) - আর এটিই অধিকাংশ ক্ষেত্রে ঘটে থাকে -, আবার কখনও কখনও তিনি তাঁকে বাকি চার সুনান সংকলকদের পরে আনেন না; যদিও তিনি তাঁর নিকট হতে হাদিসের ওপর তাঁর হুকুমটি উদ্ধৃত করেন‌‌(৬)।

‌‌২১. তিনি (৬১)টি হাদিস নাসায়ীর দিকে সম্বন্ধ করেছেন, যেগুলো সুনানে কুবরা-তে রয়েছে কিন্তু সুগরা-তে নেই, আর সেখানে (১৪)টি হাদিস রয়েছে যা তিনি তাঁর দিকে সম্বন্ধ করেছেন এবং সেগুলো সুগরা-তে রয়েছে কিন্তু কুবরা-তে নেই, আর বাকি স্থানগুলো উভয় কিতাবেই বর্ণিত হয়েছে।

‌‌২২. আর বর্ণনাকারীদের ওপর হুকুমের (বিচারের) বিষয়টি হলো: গ্রন্থকার কখনও সমালোচকদের মন্তব্য উদ্ধৃত করেন‌‌(৭), অথবা তাঁদের মতপার্থক্যের দিকে ইশারা করেন‌‌(৮) এবং তাতেই ক্ষান্ত হন, আবার কখনও তিনি সমালোচকদের মতপার্থক্য উদ্ধৃত করেন...

--------------------------------------------

‌‌(১) দেখুন: (হা ১, ২, ৩, ৮, ৯, ২১)।

‌‌(২) দেখুন: (হা ১, ২, ৩, ৫, ৮, ৯)।

‌‌(৩) দেখুন: (হা ১, ৩, ৩৭, ৭২, ১০৯)।

‌‌(৪) দেখুন: (হা ৮, ১২, ৪১, ৬০, ৯০, ২৩৯)।

‌‌(৫) যেমন (হা ৭৪)-এ তাঁর উক্তি: «আহমাদ এটি বর্ণনা করেছেন - এবং এটি তাঁর শব্দ -, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, ইবনে হিব্বান, নাসায়ী এবং তিরমিযী, এবং তিনি বলেছেন: এই হাদিসটি এই অধ্যায়ে বর্ণিত সবচেয়ে উত্তম বিষয়», আরও দেখুন: (হা ৯৭, ৯৮, ১০৭, ৩০৪)।

‌‌(৬) যেমন (হা ১৫৩)-এ তাঁর উক্তি: «আহমাদ, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, তিরমিযী এটি বর্ণনা করেছেন - এবং তিনি একে সহিহ বলেছেন -, নাসায়ী এবং আবু হাতিম ইবনে হিব্বান», আরও দেখুন: (হা ৪৮৫)।

‌‌(৭) দেখুন: (হা ৭৯, ৮৯, ৪০৩, ৫৭৮, ১১১৯, ১১২২)।

‌‌(৮) দেখুন: (হা ৩২৩, ৪৬৪, ৭৭৭, ৮৯৩, ১০০২, ১০১০)।

(খণ্ড: ১) আল-মুহাররার ফিল হাদীস - ত আল-কাসিম (পৃষ্ঠা: ৩০)
الرَّاوي؛ ثم يبين الرَّاجح عنده من أقوالهم‌‌(1)، وقد يحكم أحياناً على بعض الرُّواة دون التصريح بالنقل عن غيره‌‌(2)، وربما يكتفي بقوله: «رجاله رجال الصَّحيح» وما شابه ذلك‌‌(3)، ورُبَّما تعقب حكم بعض النقاد على الراوي‌‌(4).

‌‌23. يحرص - في غير أحاديث الصَّحيحين - على بيان درجة الحديث؛ بما أدَّاه إليه اجتهاده، أو بنقل كلام من سبقه من الحفَّاظ والأئمَّة - وهو أكثر من الذي قبله -، مستفيداً من حكم التِّرمذيِّ على الحديث، وتصحيحات ابن خزيمة وابن حبان والحاكم، وربما نقل عن غيرهم من الأئمة‌‌(5).

‌‌24. أمَّا ألفاظه في الحكم على الحديث: فإنّه يسكت عن أحاديث الصحيحين؛ إلا إذا كان في الحديث علّةٌ فإنه يشير إليها‌‌(6)، وفي غير أحاديث الصَّحيحين: له عبارات؛ فقد يشير إلى صحَّة الإسناد‌‌(7)، أو جودته‌‌(8)، أو ضعفه - من غير بيان سببه‌‌(9) -، ورُبَّما

--------------------------------------------

‌‌(1) انظر: (ح 65).

‌‌(2) انظر: (ح 259، 388، 503، 658، 993، 1104، 1195).

‌‌(3) انظر: (ح 58، 69، 70، 536، 547، 697، 771، 772، 856، 865، 875، 939، 1106).

‌‌(4) انظر: (ح 599).

‌‌(5) انظر: (ح 52، 66، 538، 697، 1022).

‌‌(6) انظر: (ح 455، 639).

‌‌(7) انظر: (ح 32، 111، 229، 250، 263، 353، 798، 813، 928، 1073، 1148).

‌‌(8) انظر: (437، 968، 1013، 1047، 1147).

‌‌(9) انظر: (ح 67).

বর্ণনাকারী; এরপর তিনি তাদের উক্তিগুলোর মধ্যে তাঁর নিকট যা অগ্রগণ্য তা স্পষ্ট করেন‌‌(১), কখনও তিনি অন্য কারো থেকে তা বর্ণনা করার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ না করেই কিছু বর্ণনাকারীর বিষয়ে নিজ সিদ্ধান্ত দেন‌‌(২), আবার কখনও কেবল একথাই বলেন: «এর বর্ণনাকারীগণ সহীহ গ্রন্থের বর্ণনাকারী» এবং এই জাতীয় বাক্য‌‌(৩), আর কখনও কখনও তিনি কোনো বর্ণনাকারীর বিষয়ে কিছু সমালোচকের মন্তব্যের পর্যালোচনা করেন‌‌(৪)।

‌‌২৩. তিনি—সহীহাইন-এর হাদীস ব্যতীত অন্য হাদীসগুলোর ক্ষেত্রে—হাদীসের স্তর বা মান বর্ণনার বিষয়ে সচেষ্ট থাকেন; যা তাঁর গবেষণালব্ধ ফলাফলের ভিত্তিতে হয় অথবা তাঁর পূর্ববর্তী হাফিয ও ইমামগণের বক্তব্য উদ্ধৃত করার মাধ্যমে হয়—আর এটি পূর্বোক্ত বিষয়ের চেয়ে অধিক—এক্ষেত্রে তিনি হাদীসের বিষয়ে তিরমিযীর হুকুম এবং ইবনু খুযায়মাহ, ইবনু হিব্বান ও হাকিম-এর সহীহ সাব্যস্তকরণ থেকে উপকৃত হন, আবার কখনও তিনি তাঁদের ছাড়া অন্য ইমামগণের থেকেও উদ্ধৃতি পেশ করেন‌‌(৫)।

‌‌২৪. আর হাদীসের হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে তাঁর ব্যবহৃত শব্দাবলি: তিনি সহীহাইন-এর হাদীসসমূহের ব্যাপারে নীরব থাকেন; তবে যদি হাদীসটিতে কোনো সূক্ষ্ম ত্রুটি থাকে তবে তিনি সেদিকে ইঙ্গিত করেন‌‌(৬)। আর সহীহাইন-এর হাদীস ব্যতীত অন্য হাদীসের ক্ষেত্রে তাঁর বিভিন্ন অভিব্যক্তি রয়েছে; তিনি কখনও সনদের বিশুদ্ধতার‌‌(৭) দিকে ইঙ্গিত করেন, অথবা এর মান ভালো হওয়ার‌‌(৮) দিকে, অথবা এর দুর্বলতার‌‌(৯) দিকে—এর কারণ বর্ণনা করা ছাড়াই—এবং কখনও...

--------------------------------------------

‌‌(১) দেখুন: (হা. ৬৫)।

‌‌(২) দেখুন: (হা. ২৫৯, ৩৮৮, ৫০৩, ৬৫৮, ৯৯৩, ১১০৪, ১১৯৫)।

‌‌(৩) দেখুন: (হা. ৫৮, ৬৯, ৭০, ৫৩৬, ৫৪৭, ৬৯৭, ৭৭১, ৭৭২, ৮৫৬, ৮৬৫, ৮৭৫, ৯৩৯, ১১০৬)।

‌‌(৪) দেখুন: (হা. ৫৯৯)।

‌‌(৫) দেখুন: (হা. ৫২, ৬৬, ৫৩৮, ৬৯৭, ১০২২)।

‌‌(৬) দেখুন: (হা. ৪৫৫, ৬৩৯)।

‌‌(৭) দেখুন: (হা. ৩২, ১১১, ২২৯, ২৫০, ২৬৩, ৩৫৩, ৭৯৮, ৮১৩, ৯২৮, ১০৭৩, ১১৪৮)।

‌‌(৮) দেখুন: (হা. ৪৩৭, ৯৬৮, ১০১৩, ১০৪৭, ১১৪৭)।

‌‌(৯) দেখুন: (হা. ৬৭)।

(খণ্ড: ১) আল-মুহাররার ফিল হাদীস - ত আল-কাসিম (পৃষ্ঠা: ৩১)
يبين سبب الضَّعف - كالإرسال‌‌(1) -، أو يشير إلى وقوع الاختلاف في الأسانيد‌‌(2).

‌‌25. إذا وقع في الإسناد علة فإنَّه يصرّح بجنسها غالباً - مثل إعلاله بالوقف‌‌(3)، أو الإرسال‌‌(4) -، أو ينقل ما يوضح ذلك من كلام النُّقاد‌‌(5)، ورُبَّما يكتفي بقوله: «وقد أُعِلَّ» - وما شابه ذلك -، ولا يبيِّنها‌‌(6).

‌‌26. يتعقب - أحياناً - كلام بعض الأئمة بقوله: «وفيه نظر»، وقوله: «وفي قوله نظر»، وما إلى ذلك، وقد يبين وجه نظره أو مخالفته لذلك القول‌‌(7)، وقد يكتفي بقوله: «فيه نظر»‌‌(8)، ورُبَّما تعقّب من ضعّف الحديث بعد أن يورد حكمه، فينصّ هو على أنه حديث صحيح‌‌(9).

‌‌27. أَعمَل المُصنِّف قلمَه في تحرير مواضع الإشكال؛ كتعيين مَنْ أُبهم في بعض الأسانيد‌‌(10)، وتمييز المهمل في بعضها‌‌(11)، وتسمية

--------------------------------------------

‌‌(1) انظر: (ح 80، 437).

‌‌(2) انظر: (ح 2، 275، 554، 809، 1034، 1121، 1129).

‌‌(3) انظر: (ح 647، 658).

‌‌(4) انظر: (ح 897).

‌‌(5) انظر: (ح 579، 767، 1041، 1069).

‌‌(6) انظر: (ح 126، 219، 640، 745، 916، 926، 984، 1064، 1084، 1155).

‌‌(7) انظر: (ح 64، 384، 542، 561، 855، 897).

‌‌(8) انظر: (ح 568، 619، 642، 651، 963، 1082، 1148)، وقد يتضح وجه انتقاده بمراجعة كتابه تنقيح التحقيق في أحاديث التعليق.

‌‌(9) انظر: (ح 270، 1179).

‌‌(10) انظر: (ح 9، 88).

‌‌(11) انظر: (ح 28، 522، 782).

দুর্বলতার কারণ বর্ণনা করেন—যেমন ইরসাল‌‌(১)—অথবা সনদগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য ঘটার প্রতি ইঙ্গিত করেন‌‌(২)।

‌‌২৫. যদি সনদে কোনো ত্রুটি (ইল্লাত) থাকে, তবে তিনি অধিকাংশ ক্ষেত্রে তার ধরন স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন—যেমন ওয়াকফ‌‌(৩) বা ইরসালের‌‌(৪) মাধ্যমে ত্রুটিযুক্ত হওয়া—অথবা তিনি হাদিস বিশারদদের বক্তব্য থেকে তা স্পষ্টকারী উদ্ধৃতি প্রদান করেন‌‌(৫)। আবার কখনো কখনো তিনি কেবল এইটুকু বলেই ক্ষান্ত হন: "এটিকে ত্রুটিযুক্ত বলা হয়েছে"—এবং অনুরূপ কিছু—কিন্তু তিনি তা বিস্তারিত বর্ণনা করেন না‌‌(৬)।

‌‌২৬. তিনি মাঝেমধ্যে কোনো কোনো ইমামের বক্তব্যের সমালোচনা করেন এই বলে যে: "এতে আপত্তির অবকাশ রয়েছে", অথবা "তাঁর বক্তব্যে আপত্তির জায়গা আছে" ইত্যাদি। কখনো তিনি তাঁর পর্যালোচনার দিকটি বা সেই বক্তব্যের সাথে নিজের দ্বিমতের কারণ বর্ণনা করেন‌‌(৭), আবার কখনো কেবল "এতে আপত্তি আছে" বলেই ক্ষান্ত হন‌‌(৮)। অনেক সময় তিনি কোনো হাদিসকে দুর্বল আখ্যাদানকারী ব্যক্তির সমালোচনা করেন এবং সেই হাদিসটির হুকুম বর্ণনা করার পর স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, এটি একটি সহিহ হাদিস‌‌(৯)।

‌‌২৭. গ্রন্থকার জটিল বিষয়সমূহ সমাধানের ক্ষেত্রে তাঁর কলম পরিচালনা করেছেন; যেমন কিছু সনদে অস্পষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় নির্ধারণ করা‌‌(১০), কোনো কোনো ক্ষেত্রে নামহীন রাবিদের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করা‌‌(১১) এবং নাম উল্লেখ করা...

--------------------------------------------

‌‌(১) দেখুন: (হাদিস ৮০, ৪৩৭)।

‌‌(২) দেখুন: (হাদিস ২, ২৭৫, ৫৫৪, ৮০৯, ১০৩৪, ১১২১, ১১২৯)।

‌‌(৩) দেখুন: (হাদিস ৬৪৭, ৬৫৮)।

‌‌(৪) দেখুন: (হাদিস ৮৯৭)।

‌‌(৫) দেখুন: (হাদিস ৫৭৯, ৭৬৭, ১০৪১, ১০৬৯)।

‌‌(৬) দেখুন: (হাদিস ১২৬, ২১৯, ৬৪০, ৭৪৫, ৯১৬, ৯২৬, ৯৮৪, ১০৬৪, ১০৮৪, ১১৫৫)।

‌‌(৭) দেখুন: (হাদিস ৬৪, ৩৮৪, ৫৪২, ৫৬১, ৮৫৫, ৮৯৭)।

‌‌(৮) দেখুন: (হাদিস ৫৬৮, ৬১৯, ৬৪২, ৬৫১, ৯৬৩, ১০৮২, ১১৪৮); আর তাঁর পর্যালোচনার দিকটি তাঁর 'তানকিহুত তাহকিক ফি আহাদিসিত তালিফ' নামক গ্রন্থটি দেখার মাধ্যমে স্পষ্ট হতে পারে।

‌‌(৯) দেখুন: (হাদিস ২৭০, ১১৭৯)।

‌‌(১০) দেখুন: (হাদিস ৯, ৮৮)।

‌‌(১১) দেখুন: (হাদিস ২৮, ৫২২, ৭৮২)।

(খণ্ড: ১) আল-মুহাররার ফিল হাদীস - ত আল-কাসিম (পৃষ্ঠা: ৩২)
من ذُكِر في الحديث بكنيته‌‌(1)، وتمييز بعض الرواة إذا اشتبه بغيره‌‌(2)، وضبط الكلمات‌‌(3) وأسماء الرُّواة‌‌(4).

‌‌28. شرح المُصنِّف بعض الكلمات الغريبة؛ بنقل كلام غيره من أهل العلم‌‌(5)، أو بذكر تفسير الرَّاوي الوارد في الحديث نفسه - وربما تعقبه‌‌(6) -، وقد يشرح المعنى من غير عزوه لأحد‌‌(7).

‌‌29. نبَّه في مواضع على أوهام بعض المُصنِّفين - كابن الجوزي، والمجد ابن تيمية، والنَّوويِّ، وابن دقيق العيد - في أحكامهم على الأحاديث‌‌(8)، وفي عزو بعض الأحاديث إلى مخرِّجيها‌‌(9).

‌‌30. وقع للمُصنِّف رحمه الله بعض الأوهام - فيما يبدو - في ذكر الألفاظ‌‌(10)، أو عزوها للمصنفين‌‌(11)، وهي نادرة.

‌‌31. نقل المُصنِّف عن بعض الكتب التي في حكم المفقودة،

--------------------------------------------

‌‌(1) انظر: (ح 34، 466، 594، 1102).

‌‌(2) انظر: (ح 578).

‌‌(3) انظر: (ح 378، 1135).

‌‌(4) انظر: (ح 1034).

‌‌(5) انظر: (ح 89، 378، 1135).

‌‌(6) انظر: (ح 542).

‌‌(7) انظر: (ح 25، 64، 479، 1135).

‌‌(8) انظر: (ح 74، 133).

‌‌(9) انظر: (ح 166، 205، 384).

‌‌(10) انظر: (ح 353).

‌‌(11) انظر: (ح 30).

হাদিসে যাদের উপনামের (কুনিয়াত) মাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে তাদের নাম‌‌(১), কোনো বর্ণনাকারী অন্য কারও সাথে সদৃশ বা অস্পষ্ট মনে হলে তাদের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ‌‌(২), এবং শব্দাবলি‌‌(৩) ও বর্ণনাকারীদের নামের‌‌(৪) সঠিক উচ্চারণ ও বিন্যাস নির্ধারণ।

‌‌২৮. গ্রন্থকার কিছু বিরল বা দুর্বোধ্য শব্দের ব্যাখ্যা করেছেন; অন্য আলেমদের বক্তব্য উদ্ধৃত করার মাধ্যমে‌‌(৫), অথবা হাদিসের মধ্যেই বর্ণিত বর্ণনাকারীর নিজস্ব ব্যাখ্যা উল্লেখ করে - এবং কখনও কখনও তিনি সেটির পর্যালোচনা করেছেন‌‌(৬) -, আবার কখনও কখনও তিনি কোনো নির্দিষ্ট উৎসের প্রতি সম্বন্ধ না করেই অর্থের ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন‌‌(৭)।

‌‌২৯. তিনি বিভিন্ন স্থানে কতিপয় লেখকের ভুলের বিষয়ে সতর্ক করেছেন - যেমন ইবনুল জাওযি, মাজদ ইবনে তাইমিয়্যাহ, আন-নওয়াবী এবং ইবনে দাকীকুল ঈদ - হাদিসের ওপর তাদের হুকুম বা সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে‌‌(৮), এবং কিছু হাদিসকে সেগুলোর মূল সংকলকদের দিকে সম্বন্ধ করার ক্ষেত্রে‌‌(৯)।

‌‌৩০. গ্রন্থকারের (রহিমাহুল্লাহ) ক্ষেত্রেও কিছু ভুল - যা প্রতীয়মান হয় - শব্দ চয়নের ক্ষেত্রে‌‌(১০), অথবা সেগুলোকে মূল লেখকদের দিকে সম্বন্ধ করার ক্ষেত্রে‌‌(১১) ঘটেছে, যা খুবই বিরল।

‌‌৩১. গ্রন্থকার এমন কিছু কিতাব থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন যা বর্তমানে বিলুপ্তপ্রায় বলে গণ্য করা হয়,

--------------------------------------------

‌‌(১) দেখুন: (হাদিস ৩৪, ৪৬৬, ৫৯৪, ১১০২)।

‌‌(২) দেখুন: (হাদিস ৫৭৮)।

‌‌(৩) দেখুন: (হাদিস ৩৭৮, ১১৩৫)।

‌‌(৪) দেখুন: (হাদিস ১০৩৪)।

‌‌(৫) দেখুন: (হাদিস ৮৯, ৩৭৮, ১১৩৫)।

‌‌(৬) দেখুন: (হাদিস ৫৪২)।

‌‌(৭) দেখুন: (হাদিস ২৫, ৬৪, ৪৭৯, ১১৩৫)।

‌‌(৮) দেখুন: (হাদিস ৭৪, ১৩৩)।

‌‌(৯) দেখুন: (হাদিস ১৬৬, ২০৫, ৩৮৪)।

‌‌(১০) দেখুন: (হাদিস ৩৫৩)।

‌‌(১১) দেখুন: (হাদিস ৩০)।

(খণ্ড: ১) আল-মুহাররার ফিল হাদীস - ত আল-কাসিম (পৃষ্ঠা: ৩৩)
مثل: «كتاب الفتوح» لابن أبي شيبة، وكتاب «الصلاة» المفرد لابن حبان، و «ذكر الجهر بالبسملة»، وكتاب «القنوت» للخطيب البغدادي.

‌‌32. يظهر من صنيع المُصنِّف أنه يعدُّ إيراد ابن حبان للرَّاوي في «الثقات» توثيقاً له، وإن لم يصرّح بذلك‌‌(1).

‌‌33. عدد الكلمات الغريبة التي شرحها المُصنِّف: (11) كلمة.

‌‌34. عدد الكلمات المُبهمَة التي بيَّنها: (9) كلمات.

‌‌35. عدد الأحاديث التي صرَّح بتصحيحها (18) حديثاً، والتي صرَّح بتحسينها أو تجويدها (5) أحاديث، والتي ضعَّفها أو أعلَّها (20) حديثاً، ومجموعها (43) حديثاً.

‌‌36. عدد الأحاديث التي حكم على رُوَاتها (35) حديثاً.

* * *

--------------------------------------------

‌‌(1) انظر: (ح 193، 540، 547، 594، 1285).

যেমন: ইবনে আবি শায়বার «কিতাবুল ফুতুহ», ইবনে হিব্বানের স্বতন্ত্র «কিতাবুস সালাত», «যিকরুল জাহরি বিল বাসমালাহ» এবং খতিব আল-বাগদাদীর «কিতাবুল কুনুত»।

‌‌৩২. গ্রন্থকারের কর্মপদ্ধতি থেকে প্রতীয়মান হয় যে, তিনি ইবনে হিব্বান কর্তৃক «আত-থিকাত» গ্রন্থে কোনো বর্ণনাকারীকে উল্লেখ করাকে তার জন্য নির্ভরযোগ্যতা (তাওসিক) হিসেবে গণ্য করেন, যদিও তিনি তা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেননি‌‌(১)।

‌‌৩৩. গ্রন্থকার কর্তৃক ব্যাখ্যা করা বিরল বা কঠিন শব্দাবলীর সংখ্যা: (১১)টি শব্দ।

‌‌৩৪. অস্পষ্ট শব্দ যা তিনি বিশ্লেষণ করেছেন তার সংখ্যা: (৯)টি শব্দ।

‌‌৩৫. যেসব হাদিসকে তিনি স্পষ্টভাবে সহিহ বলেছেন তার সংখ্যা (১৮)টি, আর যেগুলোকে হাসান বা জাইয়্যিদ (উত্তম) বলেছেন তার সংখ্যা (৫)টি, এবং যেগুলোকে তিনি দুর্বল বা ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্ত করেছেন তার সংখ্যা (২০)টি; সর্বমোট (৪৩)টি হাদিস।

‌‌৩৬. যেসব হাদিসের বর্ণনাকারীদের ব্যাপারে তিনি সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন তার সংখ্যা (৩৫)টি।

* * *

--------------------------------------------

‌‌(১) দেখুন: (হাদিস নং ১৯৩, ৫৪০, ৫৪৭, ৫৯৪, ১২৮৫)।