(খণ্ড: ১)
আহদা সাবীল ইলা ইলমাইল খালীল
(পৃষ্ঠা: -)
أهدى سبيل إلى علمي الخليل (محمود مصطفى)
القسم: العروض والقوافي
الكتاب: أهدى سبيل إلى علمَي الخليل
المؤلف: الدكتور محمود مصطفى (ت 1360 هـ)
الناشر: مكتبة المعارف للنشر والتوزيع
الطبعة: الأولى، 1423 هـ - 2002 م
عدد الصفحات: 136
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
খলিলের দুই শাস্ত্রের সর্বোত্তম পথ (মাহমুদ মুস্তফা)
বিভাগ: ছন্দ ও অন্ত্যমিল শাস্ত্র
বই: খলিলের দুই শাস্ত্রের (ছন্দ ও অন্ত্যমিল) সর্বোত্তম পথ
লেখক: ডক্টর মাহমুদ মুস্তফা (মৃত্যু ১৩৬০ হিজরি)
প্রকাশক: মাকতাবাতুল মা’আরিফ প্রকাশনী ও পরিবেশনী
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৩ হিজরি - ২০০২ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৩৬
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আহদা সাবীল ইলা ইলমাইল খালীল
(পৃষ্ঠা: ৩)
مقدماتتقديم…بسم الله الرحمن الرحيم1- تقديم"أهدى سبيل" من تأليف العلامة محمود مصطفىنشأ المرحوم الفقيد في بيئة حافلة بكثير من الشخصيات البارزة في العلم والأدب، وفي الورع والتقوى والزهد، فكان لتوجيه أسرته أثر كبير في تكوين ثقافته وشخصيته وهو في نضرة الشباب وبعد أن جاوز عهد الشباب. كان ميلاده في آواخر القرن الميلادي الماضي، وما إن جاوز عهد الطفولة حتى حفظ القرآن الكريم، والتحق بالأزهر ليتزود من الثقافة الدينية بقسط موفور، ثم تركه إلى دار العلوم ليكمل فيها دراسته، وتخرج فيها عام 1912م، وهو في طليعة الخريجين، فعين مدرسًا للغة العربية بمدرسة باب الشعرية التابعة لوزارة المعارف، ثم أخذ يتقلب في وظائف التدريس إلى أن عين ناظرًا لمدرسة المعلمين بمنوف، ثم نقل إلى ميت غمر ناظرًا لمدرسة المعلمين فيها.وكان قد ذاعت حينئذ شهرته الأدبية، وازداد إنتاجه العلمي، وعرفت فيه البيئات العلمية المختلفة أستاذًا متعمقًا في شتى فروع الدراسات الأدبية، ضليعًا في ما ينشره من بحوث ويخرجه من مؤلفات، ملمًّا بمختلف مصادر الأدب العربي القديمة والحديثة.وفي عام 1931م أنشئت كليات الأزهر الثلاث، وكانت كلية اللغة العربية إحدى هذه الكليات، واختير للتدريس فيها كثير من أقطاب العلم والأدب واللغة، فكان في طليعة هؤلاء الأساتذة المختارين الأستاذ: محمود مصطفى.
উপক্রমনিকাসমূহভূমিকা…পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।১- ভূমিকা"আহদা সাবিল" আল্লামা মাহমুদ মুস্তফার একটি রচনা।মরহুম লেখক এমন এক পরিবেশে বেড়ে উঠেছেন যা জ্ঞান ও সাহিত্য এবং পরহেজগারি, তাকওয়া ও দুনিয়াবিমুখতার ক্ষেত্রে অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বে ভরপুর ছিল। তাঁর পরিবারের দিকনির্দেশনা তাঁর সংস্কৃতি ও ব্যক্তিত্ব গঠনে বিশাল প্রভাব ফেলেছিল যখন তিনি তাঁর সতেজ যৌবনে ছিলেন এবং যৌবনকাল অতিবাহিত করার পরেও। তাঁর জন্ম হয়েছিল গত খ্রিষ্টীয় শতাব্দীর শেষভাগে। শৈশব পার হতে না হতেই তিনি পবিত্র কুরআন মুখস্থ করেন এবং ধর্মীয় জ্ঞানের এক বিশাল অংশ অর্জনের জন্য আল-আযহারে যোগদান করেন। অতঃপর তিনি সেখান থেকে দারুল উলূমে চলে যান তাঁর পড়ালেখা সম্পন্ন করতে এবং ১৯১২ সালে সেখান থেকে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেন। তিনি উত্তীর্ণদের মধ্যে প্রথম সারিতে ছিলেন। অতঃপর তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বাব আল-শারিয়া স্কুলে আরবি ভাষার শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হন। এরপর তিনি শিক্ষকতার বিভিন্ন পদে আসীন হতে থাকেন, অবশেষে তিনি মানুফ-এর শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রধান নিযুক্ত হন এবং পরবর্তীতে মিত গামর-এ সেখানকার শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রধান হিসেবে স্থানান্তরিত হন।ততদিনে তাঁর সাহিত্যিক খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছিল এবং তাঁর জ্ঞানতাত্ত্বিক কাজ বৃদ্ধি পেয়েছিল। বিভিন্ন জ্ঞানতাত্ত্বিক পরিমণ্ডল তাঁকে সাহিত্যিক গবেষণার বিভিন্ন শাখায় একজন গভীর পণ্ডিত শিক্ষক হিসেবে চিনত, যিনি তাঁর প্রকাশিত গবেষণা ও গ্রন্থাবলির ক্ষেত্রে অত্যন্ত পারদর্শী এবং প্রাচীন ও আধুনিক আরবি সাহিত্যের বিভিন্ন উৎসে সুগভীর জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন।১৯৩১ খ্রিষ্টাব্দে আল-আযহারের তিনটি অনুষদ প্রতিষ্ঠিত হয়, যার মধ্যে আরবি ভাষা অনুষদ ছিল অন্যতম। সেখানে শিক্ষকতার জন্য জ্ঞান, সাহিত্য ও ভাষার অনেক দিকপালকে নির্বাচন করা হয়েছিল। আর এই নির্বাচিত শিক্ষকদের অগ্রভাগে ছিলেন উস্তাদ মাহমুদ মুস্তফা।
(খণ্ড: ১)
আহদা সাবীল ইলা ইলমাইল খালীল
(পৃষ্ঠা: ৪)
درَّس الفقيد للفرق الأولى في الكلية مناهج الأدب العربي الجديد أوفَى دراسة، وألّف ثلاثة كتب علمية ضمّنَها شتى البحوث وأعمق الدراسات، في تحليل العصور الأدبية، ومكانة الأدب فيها، وأثرها على الثقافة والتراث العقلي، وترجم لكثير من أقطاب الأدب والخطابة والشعر، ولكثير من علماء اللغة والدين أوفى التراجم وأعمقها.فالكتاب الأوَّل في الأدب الإسلامي والأموي، ويقع في حوالي "أربعمائة" 400 صفحة، والثاني الأدب العباسي في حوالي "ستمائة" 600 صفحة، والثالث في الأدب الأندلسي والأدب المصري في عصر المماليك والأتراك وعصر النهضة الحديثة، ويقع في أكثر من "أربعمائة" 400 صفحة.ووُكِّل إليه فوق ذلك دراسة علم أوزان الشعر وقوافيه، فنهض بأعباء دراسته والتأليف فيه، وأخرج فيه بعد حين كتابه: أهدى سبيل.ثم خرج مع المتخرجين الأوائل من الكلية إلى الدراسة والبحث في تخصص الأستاذية بالكلية، فكان لمحاضراته التي كان يلقيها على طلابه أثر عميق في تكوين عقلياتهم وشخصياتهم العلمية والأدبية، وألقى على طلابه كثيرًا من المحاضرات في الأدب والنقد وفي العروض والقوافي، ومن هذه المحاضرات مجموعة كبيرة في الأدب الجاهلي ودراسته، ومجموعة أخرى في العروض، ودرس أمهات وأصول كتب النقد والأدب الأولى؛ كالأغاني، ومعجم الأدباء، ومعجم البلدان، وكالموازنة، والوساطة، وسواها، وكتب عنها محاضرات وافية، وعُنِيَ بأساس البلاغة للزمخشري واستخرج منه مجموعة كبيرة من الأساليب المجازية في اللغة العربية، كما عنِيَ بالكشاف للزمخشري، واستخرج الشواهد البيانية البليغة منه من آيات الذكر الحكيم، وتفسيره، وفي هذه الفترة أخرج "هبة الأيام فيما يتعلق بأبي تمام" للبديعي المتوفى سنة 1093هـ، وأخرج "المجازات النبوية" للشريف الرضي المتوفى سنة 406هـ، وطبع كتب الأدب الثلاثة التي ألفها طبعة جديدة منقحة.ثم عنِيَ في آخر حياته بالأدب المصري من الفتح العربي إلى بدء عصر
মরহুম মহোদয় অনুষদের প্রথম ব্যাচগুলোকে আধুনিক আরবি সাহিত্যের পাঠ্যক্রম অত্যন্ত পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পড়িয়েছেন। তিনি তিনটি বৈজ্ঞানিক গ্রন্থ রচনা করেছেন যেখানে তিনি বিভিন্ন গবেষণা ও গভীরতর অধ্যয়ন অন্তর্ভুক্ত করেছেন। সেখানে সাহিত্যিক যুগসমূহের বিশ্লেষণ, সেই যুগে সাহিত্যের অবস্থান এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ওপর সাহিত্যের প্রভাব আলোচিত হয়েছে। এছাড়া তিনি সাহিত্য, বাগ্মিতা ও কবিতার অনেক দিকপাল এবং ভাষা ও ধর্মের বহু আলেমের অত্যন্ত তথ্যসমৃদ্ধ ও গভীর জীবনী রচনা করেছেন।প্রথম বইটি ইসলামী ও উমাইয়া সাহিত্য বিষয়ক, যা প্রায় ৪০০ পৃষ্ঠার। দ্বিতীয়টি আব্বাসীয় সাহিত্য বিষয়ক, যা প্রায় ৬০০ পৃষ্ঠার। তৃতীয়টি আন্দালুসি সাহিত্য এবং মামলুক ও তুর্কি আমলসহ আধুনিক রেনেসাঁ যুগের মিশরীয় সাহিত্য বিষয়ক, যা ৪০০ পৃষ্ঠারও বেশি।এর বাইরেও তাকে কবিতার ছন্দ ও অন্ত্যমিল বিজ্ঞানের ওপর পাঠদানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে এর পাঠদান ও রচনার গুরুদায়িত্ব পালন করেন এবং কিছুদিন পর এই বিষয়ে তার 'আহদা সাবিল' নামক গ্রন্থটি প্রকাশ করেন।এরপর তিনি অনুষদের প্রথম স্নাতকদের সাথে অধ্যাপনার বিশেষায়িত ক্ষেত্রে শিক্ষা ও গবেষণার কাজে আত্মনিয়োগ করেন। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে দেওয়া তার লেকচারগুলো তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ এবং বৈজ্ঞানিক ও সাহিত্যিক ব্যক্তিত্ব গঠনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। তিনি তার ছাত্রদের সাহিত্য, সমালোচনা, ছন্দ ও অন্ত্যমিলের ওপর প্রচুর লেকচার প্রদান করেন। এসব লেকচারের মধ্যে জাহেলি সাহিত্য ও তার পঠনশৈলী নিয়ে একটি বড় সংগ্রহ রয়েছে এবং ছন্দশাস্ত্রের ওপর আরেকটি সংগ্রহ রয়েছে। তিনি সাহিত্য ও সমালোচনার মূল ও আকর গ্রন্থসমূহ পড়িয়েছেন; যেমন: আল-আগানি, মু'জামুল উদাবা, মু'জামুল বুলদান, আল-মুওয়াজানাহ, আল-ওয়াসাতাহ এবং অন্যান্য। তিনি এগুলোর ওপর বিস্তারিত লেকচার তৈরি করেছেন। তিনি যামাখশারির 'আসাসুল বালাগাহ'র প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন এবং সেখান থেকে আরবি ভাষার রূপক অলংকারগুলোর এক বিশাল সংগ্রহ সংকলন করেন। তেমনি তিনি যামাখশারির 'আল-কাশশাফ' নিয়েও কাজ করেছেন এবং সেখান থেকে পবিত্র কুরআনের আয়াত ও এর তাফসির থেকে অত্যন্ত সাবলীল ও অলংকৃত উদাহরণসমূহ চয়ন করেছেন। এই সময়ে তিনি হিজরি ১০৯৩ সনে ইন্তেকালকারী বারিঈর রচিত 'হিবাতুল আইয়াম ফিমা ইয়াতাআল্লাকু বি-আবি তাম্মাম' এবং হিজরি ৪০৬ সনে ইন্তেকালকারী শরীফ আর-রাজীর 'আল-মাজাজাতুন নববিয়্যাহ' সম্পাদনা করে প্রকাশ করেন। এছাড়া তিনি ইতিপূর্বে তার রচিত তিনটি সাহিত্যগ্রন্থের নতুন ও পরিমার্জিত সংস্করণ মুদ্রণ করেন।জীবনের শেষভাগে তিনি আরব বিজয় থেকে শুরু করে আধুনিক যুগের সূচনা পর্যন্ত মিশরীয় সাহিত্যের প্রতি মনোনিবেশ করেন।
(খণ্ড: ১)
আহদা সাবীল ইলা ইলমাইল খালীল
(পৃষ্ঠা: ৫)
النهضة الحديثة، ودَأَبَ في إخراج مؤلف ضخم في دراسته وتحليل عصوره الأدبية العامة، وبفضل نشاطه المستمر، وجهاده المضني تمكن من تأليف أوسع مؤلف حديث في الأدب المصري إلى بدء النهضة الحديثة، وبوبه، ورتبه، وكتبه بيده، وقسمه جزأين:الأول: في الأدب المصري إلى عصر المماليك، وحجمه حوالي "ثلاثمائة" 300 صفحة، والثاني: في الأدب المصري في عصر المماليك، وحجمه في حجم الأول، وقد انتهى المرحوم الفقيد منهما قبل وفاته بليلة واحدة، وفي مطلع الليلة التي توفي فيها كان يكتب في خاتمة الكتاب، وقد قُدِّمَ هذا الكتاب الحافل في مسابقة علمية في الأدب المصري إلى وزارة المعارف بعد وفاة مؤلفه، فكافأت أهل الفقيد عليه، وستشرع في نشره لتسد به النقص الكبير الذي كان يجده كل طامح في الإلمام بالأدب المصري وعصوره الأدبية المختلفة.وفي يوم الأحد 20 أبريل سنة 1941م ألقى الفقيد محاضراته في الكلية؛ ثم استراح في مكتبتها، وخرج منها بعد الساعة الواحدة ظهرًا، وفي مساء هذا اليوم عكف على الكتابة، ليختم كتابه "الأدب المصري"، وقبل منتصف الليل بقليل شعر بتعب شديد، فترك القلم ليستريح، ولكن الألم ازداد واستدعي لإسعافه بعض الأطباء، ولكنه خَرَّ بين أيديهم صريعًا شهيدًا مضحيًا بنفسه وروحه في سبيل الرسالة التي حملها وجاهد في سبيلها، وهي رسالة العلم والثقافة والأدب.وفي أصيل يوم الاثنين 21 أبريل ائتلف عقد المشيعين له في سرادق بجوار داره، وسرنا في جنازته، تخنقنا العبرات، وتطيف بنا الذكريات، ويا لها من ذكريات، وعَبَرَ المشيعون حيّ الروضة، موطن الفقيد وحي سكناه، ومغدى طفولته، ومسرح شبابه ورجولته، إلى مسجد بعد الحي صُلِّي فيه على الفقيد الراحل، ثم حملت جثمانه الطاهر سيارة أقلته إلى مقابر العففي، فتركناه وودعناه، بعد أن شيعناه إلى مقرّه الأخير في مغرب يوم الاثنين 21 أبريل
আধুনিক নবজাগরণ, এবং তিনি তাঁর গবেষণায় একটি বিশাল গ্রন্থ প্রকাশে নিরলসভাবে কাজ করেছেন এবং এর সাধারণ সাহিত্যিক যুগসমূহ বিশ্লেষণ করেছেন। তাঁর অবিরাম প্রচেষ্টা এবং কঠোর সাধনার ফলে তিনি আধুনিক নবজাগরণের সূচনা পর্যন্ত মিশরীয় সাহিত্যের ওপর আধুনিককালের সবচেয়ে বিস্তৃত গ্রন্থটি রচনা করতে সক্ষম হন। তিনি এটি অধ্যায়ভিত্তিক বিন্যস্ত করেন, সুশৃঙ্খল করেন, নিজ হাতে লেখেন এবং দুই খণ্ডে বিভক্ত করেন:প্রথম খণ্ড: মামলুক যুগ পর্যন্ত মিশরীয় সাহিত্য বিষয়ক, যার কলেবর প্রায় 'তিনশত' ৩০০ পৃষ্ঠা। দ্বিতীয় খণ্ড: মামলুক যুগে মিশরীয় সাহিত্য বিষয়ক, যা প্রথম খণ্ডের সমপরিমাণ। মরহুম বিদেহী ব্যক্তিত্ব তাঁর মৃত্যুর মাত্র এক রাত আগে এই দুই খণ্ডের কাজ সমাপ্ত করেছিলেন। যে রাতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন, তাঁর শুরুর দিকে তিনি বইটির উপসংহার লিখছিলেন। লেখকের মৃত্যুর পর মিশরীয় সাহিত্য বিষয়ক একটি বৈজ্ঞানিক প্রতিযোগিতায় এই তথ্যসমৃদ্ধ বইটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পেশ করা হয়। মন্ত্রণালয় বিদেহীর পরিবারকে এর জন্য পুরস্কৃত করে এবং তারা এটি প্রকাশের উদ্যোগ গ্রহণ করবে, যাতে মিশরীয় সাহিত্য এবং এর বিভিন্ন সাহিত্যিক যুগ সম্পর্কে জ্ঞান লাভে আগ্রহী প্রত্যেক ব্যক্তি যে বিশাল অপূর্ণতা অনুভব করত, তা পূরণ করা যায়।১৯৪১ সালের ২০শে এপ্রিল রবিবার বিদেহী ব্যক্তিত্ব কলেজে তাঁর লেকচার প্রদান করেন; এরপর তিনি এর লাইব্রেরিতে বিশ্রাম নেন এবং দুপুর একটার পর সেখান থেকে বের হন। ঐ দিন সন্ধ্যায় তিনি তাঁর "মিশরীয় সাহিত্য" বইটি সমাপ্ত করার জন্য লেখায় নিমগ্ন হন। মধ্যরাতের কিছু আগে তিনি প্রচণ্ড ক্লান্তি অনুভব করেন, তাই বিশ্রামের জন্য কলমটি রেখে দেন। কিন্তু ব্যথা আরও বেড়ে যায় এবং তাঁকে জরুরি চিকিৎসা প্রদানের জন্য কয়েকজন চিকিৎসককে ডাকা হয়। তবে তিনি তাঁদের সামনেই ঢলে পড়েন এবং সেই মহৎ উদ্দেশ্যের পথে নিজের জীবন ও আত্মা উৎসর্গকারী একজন শহীদ হিসেবে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন, যার ঝাণ্ডা তিনি বহন করেছিলেন এবং যার জন্য তিনি সংগ্রাম করেছিলেন; আর তা হলো জ্ঞান, সংস্কৃতি ও সাহিত্যের পয়গাম।২১শে এপ্রিল সোমবার অপরাহ্ণে তাঁর বাড়ির পাশের একটি শামিয়ানায় জানাজায় অংশগ্রহণকারীদের সমাবেশ ঘটে। আমরা তাঁর জানাজায় চললাম, কান্নায় আমাদের কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে আসছিল এবং স্মৃতিরা আমাদের ঘিরে ধরছিল; আর আহ্, কী সেই স্মৃতিগুলো! শোকাতুর জনতা রওদা এলাকা অতিক্রম করল, যা ছিল বিদেহীর জন্মভূমি ও আবাসস্থল, তাঁর শৈশবের বিচরণক্ষেত্র এবং তাঁর যৌবন ও প্রৌঢ়ত্বের কর্মস্থল। তারা এলাকার পরবর্তী একটি মসজিদে পৌঁছাল যেখানে মরহুমের জানাজার নামাজ আদায় করা হলো। এরপর একটি গাড়ি তাঁর পবিত্র দেহ বহন করে আল-আফিফি কবরস্থানে নিয়ে গেল। ২১শে এপ্রিল সোমবার সূর্যাস্তের সময় আমরা তাঁকে তাঁর শেষ ঠিকানায় পৌঁছে দিয়ে বিদায় জানিয়ে ফিরে এলাম।
(খণ্ড: ১)
আহদা সাবীল ইলা ইলমাইল খালীল
(পৃষ্ঠা: ৬)
سنة 1941م، وهكذا طويت حياة رجل كافح في سبيل الثقافة الأدبية أنبل كفاح، وحمل عبء البحث والدراسة والتأليف في شتى فروع الدراسات الأدبية، وظفر بتقدير العلماء، واحتلت شخصيته مكانها بين الخالدين، ممن خدموا الثقافة الأدبية في مختلف العصور.2- مؤلفاتهثم لا يفوتنا أن ننوه بمؤلفات الفقيد الراحل التي ألفها قبل أن يعين أستاذًا للأدب بكلية اللغة العربية، ومن هذه المؤلفات:1- النماذج الحديثة في تطبيق قواعد اللغة العربية. جزءان.2- المجمل في تاريخ الأدب العربي. بالاشتراك مع أحد الأساتذة.3- يوميات الفيلسوف القانع ترجمة من الفرنسية إلى العربية: صديق للفقيد، ثم صاغه هو بلسانه وبيانه العربي الساحر.4- الكلمات: وهي خمسون مقالة في شتى المسائل الدينية والاجتماعية.5- تهذيب الأدب: إنشاء، وأدب، ولغة.6- النصوص الأدبية لطلبة البكالوريا عام 1936م.7- البحتري الشاعر المطبوع.8- وأخرج فوق ذلك وهو أستاذ في الكليةكتابه: "إعجام الأعلام".كما لا يفوتنا أن ننوه كذلك بجهوده وتضحياته الجليلة في ميدان النشاط العلمي والثقافي في كلية اللغة العربية، التي خدمها أجلَّ الخدمات.وننوّه فوق ذلك بمقالاته وبحوثه التي كان ينشرها في أمهات المجلات الأدبية في مصر: كالرسالة، ومجلة القضاء الشرعي، ومجلة دار العلوم، وفي كثير من الصحف اليومية: كالبلاغ، وسواه.والفقيد وإن لم يَعَانِ مشقة تعلم لغة من اللغات الأوربية، فقد عانى مشقة قراءة كل مؤلَّف حديث أو قديم، والاطلاع على ما تُرجِمَ إلى اللغة العربية من المؤلفات القيمة في الأدب وسواه، وذلك سر ثقافته الواسعة العميقة، وإنتاجه القوي الدقيق.
১৯৪১ খ্রিষ্টাব্দ, আর এভাবেই সমাপ্তি ঘটল এমন এক ব্যক্তির জীবনের, যিনি সাহিত্য-সংস্কৃতির পথে মহত্তম সংগ্রাম করেছেন, সাহিত্য অধ্যয়নের বিভিন্ন শাখায় গবেষণা, অধ্যয়ন ও গ্রন্থ রচনার ভার বহন করেছেন, আলেমদের নিকট সম্মান অর্জন করেছেন এবং তাঁর ব্যক্তিত্ব সর্বকালের সেই অমর ব্যক্তিদের মাঝে স্থান করে নিয়েছে, যারা বিভিন্ন যুগে সাহিত্য-সংস্কৃতির সেবা করেছেন।২- তাঁর রচনাবলিঅতঃপর আমাদের জন্য এটি উল্লেখ করা আবশ্যক যে, মরহুম সেইসব গ্রন্থ রচনা করেছিলেন যা তিনি আরবি ভাষা অনুষদে সাহিত্যের অধ্যাপক নিযুক্ত হওয়ার পূর্বে প্রণয়ন করেন। সেই গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে:১- আরবি ব্যাকরণ প্রয়োগে আধুনিক নমুনা। দুই খণ্ড।২- আরবি সাহিত্যের ইতিহাসে সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ। অন্য এক অধ্যাপকের সাথে যৌথভাবে।৩- পরিতৃপ্ত দার্শনিকের দিনলিপি। ফরাসি থেকে আরবিতে অনুবাদ করেছেন মরহুমের এক বন্ধু, অতঃপর তিনি স্বয়ং নিজের জাদুকরী আরবি ভাষা ও শৈলী দ্বারা তা পুনর্বিন্যস্ত করেছেন।৪- আল-কালিমাত (বাণীসমূহ): এটি বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক বিষয়ের ওপর পঞ্চাশটি প্রবন্ধের সংকলন।৫- তাহজিবুল আদব (সাহিত্যের সংস্কার): রচনাশৈলী, সাহিত্য ও ভাষা।৬- ১৯৩৬ খ্রিষ্টাব্দের উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের জন্য সাহিত্য পাঠ্যসমূহ।৭- আল-বুহুতুরি: সহজাত কবি।৮- এর পাশাপাশি কলেজে অধ্যাপক থাকাকালীন তিনি তাঁর ‘ই'জামুল আলাম’ নামক গ্রন্থটি প্রকাশ করেন।একইভাবে আরবি ভাষা অনুষদের বৈজ্ঞানিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ময়দানে তাঁর মহান প্রচেষ্টা ও ত্যাগের কথাও উল্লেখ করা প্রয়োজন, যে অনুষদে তিনি সর্বোচ্চ সেবা প্রদান করেছেন।তদুপরি মিশরের প্রধান প্রধান সাহিত্য সাময়িকীগুলোতে প্রকাশিত তাঁর প্রবন্ধ ও গবেষণাপত্রগুলোর কথাও আমরা উল্লেখ করছি; যেমন: আল-রিসালাহ, মাজাল্লাতুল কাজা আশ-শারয়ি, মাজাল্লাতু দারিল উলুম এবং আল-বালাগ-সহ আরও অনেক দৈনিক সংবাদপত্রে প্রকাশিত তাঁর লেখাগুলি।মরহুম যদিও ইউরোপীয় কোনো ভাষা শেখার কষ্ট সহ্য করেননি, তথাপি তিনি প্রতিটি প্রাচীন ও আধুনিক গ্রন্থ পাঠ করার এবং সাহিত্য ও অন্যান্য বিষয়ের মূল্যবান যে সমস্ত কাজ আরবিতে অনূদিত হয়েছে তা গভীরভাবে অধ্যয়নের শ্রম স্বীকার করেছেন। আর এটাই ছিল তাঁর গভীর ও ব্যাপক পাণ্ডিত্য এবং শক্তিশালী ও নির্ভুল সৃষ্টিশীলতার রহস্য।
(খণ্ড: ১)
আহদা সাবীল ইলা ইলমাইল খালীল
(পৃষ্ঠা: ৭)
و"أهدى سبيل" كتاب حافل، وهو أحد مؤلفات الفقيد، ألفه عام 1936م، وسلك فيه منهجًا تطبيقيًّا سهلًا في دراسته بحور الشعر وأوزانه وقوافيه، يبدؤك بالمقدمة لينتهي بك إلى النتيجة، ويوضح لك الحكم واضعًا يدك على علله وأسبابه، ثم هو لا يفجؤك بذكر لقب علمي لم يهدكَ إليه، أو بذكر حكم لم يضع يدك على بواعثه وأسراره.وخرج الكتاب في أسلوبه الواضح، وترتيبه المتسق، وتطبيقاته الفنية الكثيرة، ودراسته التي تساير الذوق والعقل والفطرة، فكان هديةً علميةً ثمينةً قدمها الفقيد إلى الأدباء والشباب.وها هو ذا نقدمه في طبعته المنقحة المصححة إلى قراء العربية والمتزودين بثقافتها، والمتعطشين إلى دراسة عِلْمَي الخليل في أهدى سبيل.رحمة الله على مؤلفه، وسلامه على جدثه الطاهر، وروحه الكريم.محمد عبد المنعم خفاجي
"আহদা সাবিল" একটি সমৃদ্ধ গ্রন্থ; এটি মরহুম লেখকের অন্যতম রচনা, যা তিনি ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দে প্রণয়ন করেন। কবিতার ছন্দ, মাত্রা এবং অন্ত্যমিল পর্যালোচনায় তিনি এতে একটি সহজ প্রয়োগমূলক পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন। এটি আপনাকে ভূমিকার মাধ্যমে শুরু করে পরিণতির দিকে নিয়ে যায় এবং বিধানসমূহের কারণ ও উৎসগুলো চিহ্নিত করে আপনার কাছে তা স্পষ্ট করে তোলে। অধিকন্তু, এটি আপনাকে এমন কোনো পারিভাষিক সংজ্ঞা দিয়ে আকস্মিক বিভ্রান্তিতে ফেলে না যে বিষয়ে আপনাকে আগে পথনির্দেশ করা হয়নি, অথবা এমন কোনো বিধানের উল্লেখ করে না যার নিহিত কারণ ও রহস্যের প্রতি আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়নি।বইটি তার সুস্পষ্ট শৈলী, সুশৃঙ্খল বিন্যাস, প্রচুর শৈল্পিক প্রয়োগ এবং রুচি, বিবেক ও স্বভাবজাত প্রবৃত্তির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এটি ছিল মরহুমের পক্ষ থেকে সাহিত্যিক ও তরুণ সমাজের প্রতি নিবেদিত এক মূল্যবান জ্ঞানতাত্ত্বিক উপহার।আমরা এখন এই পরিমার্জিত ও সংশোধিত সংস্করণটি আরবি ভাষার পাঠক, এর সংস্কৃতিতে পুষ্ট হতে আগ্রহী এবং 'আহদা সাবিল'-এর মাধ্যমে খলীলের দ্বৈত শাস্ত্র (ছন্দ ও অন্ত্যমিল) অধ্যয়নে তৃষ্ণার্তদের সামনে উপস্থাপন করছি।আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক এর লেখকের ওপর, এবং শান্তি বর্ষিত হোক তাঁর পবিত্র সমাধি ও মহান আত্মার ওপর।মুহাম্মদ আব্দুল মুনইম খাফাজি
(খণ্ড: ১)
আহদা সাবীল ইলা ইলমাইল খালীল
(পৃষ্ঠা: ৯)
مقدمة الكتاب…بسم الله الرحمن الرحيممقدمة المؤلفالحمد لله الذي هدانا لهذا وما كنا لنهتدي لولا أن هدانا الله، والصلاة والسلام على سيدنا محمد الذي انتفعنا بالصلاة عليه في مواطن كثيرة، فاهتدينا بها بعد حيرة، وأمنا بعد خوف، وَمُكِّنَّا بعد اضطراب.وبعد …فإن من علوم العربية الجليلة علمي العروض والقافية اللذين يتناولان الشعر العربي ضبطًا لوزنه، وتحقيقًا لقافيته، بإثبات ما أثبته لهما العرب ونفي ما نفوه عنهما.ولهذين العلمين خطرهما وعظيم شأنهما؛ لدقة مسائلهما، وكثرة الشبه فيهما، حتى لقد وقعت مخالفتهما في عهد قريب من أيام العروبة الصحيحة، فهما يشبهان النحو في دقة اعتباراته، وسهولة طروء الفساد على الملكة فيه؛ ولذلك رأينا هذين العلمين يقعان في الوضع تاليين للنحو.فإن الخليل بن أحمد الفراهيدي البصري المتوفى سنة 160هـ على ما ذكره الأنباري في كتابه: نزهة الألبا في طبقات الأُدَبا، أو سنة 170هـ أو سنة 175هـ على ما ذكره القاضي ابن خلكان في كتابه: وفيات الأعيان؛ لما رأى ما اجترأ عليه الشعراء المحدثون من الجري على أوزان لم تسمع عن العرب، أو ما خانهم فيه الطبع من الخروج على الأوزان العربية بزيادة أو نقص، لما رأى الخليل ذلك هاله، فجمع العزيمة -وما أصدق عزيمته- وشحذ الخاطر -وما أرهف خاطره- واعتزل الناس في حجرة له، فجعل يقضي فيها الساعات، بل الأيام يوقع بأصابعه ويحركها وكان على علم بالنغم، حتى إنه ألف فيه كِتَابَي: النغم، والإيقاع، كما ذكره ابن النديم في فهرسته، وما زال الصبر والذكاء يواتيان الخليل حتى حصر أوزان الشعر العربي وضبط
গ্রন্থের ভূমিকা…পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামেলেখকের ভূমিকাসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের এই পথের দিশা দিয়েছেন। আল্লাহ আমাদের পথ না দেখালে আমরা কখনো পথ পেতাম না। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর, যাঁর ওপর দরূদ পাঠের মাধ্যমে আমরা বহু ক্ষেত্রে উপকৃত হয়েছি; যার ফলে বিভ্রান্তির পর আমরা হেদায়েত পেয়েছি, ভয়ের পর নিরাপদ হয়েছি এবং অস্থিরতার পর স্থিতি লাভ করেছি।অতপর …আরবি সাহিত্যের মহান জ্ঞানসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো ছন্দশাস্ত (আরূদ) ও অন্ত্যমিল শাস্ত্র (কাফিয়া), যা আরবি কবিতার ছন্দ নিয়ন্ত্রণ এবং অন্ত্যমিল যাচাই করার বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা করে; আরবরা এই দুই শাস্ত্রের জন্য যা সাব্যস্ত করেছেন তা গ্রহণ করার এবং যা তারা বর্জন করেছেন তা নাকচ করার মাধ্যমে।এই দুটি শাস্ত্রের গুরুত্ব ও মর্যাদা অত্যন্ত বেশি; কারণ এর মাসআলাসমূহ অত্যন্ত সূক্ষ্ম এবং এতে সংশয়ের অবকাশ অনেক। এমনকি বিশুদ্ধ আরবি ভাষার যুগের নিকটবর্তী সময়েও এর পরিপন্থী কাজ সংঘটিত হয়েছিল। সূক্ষ্ম বিচার-বিবেচনা এবং স্বভাবজাত যোগ্যতায় (মালকা) দ্রুত ত্রুটি প্রবেশের দিক থেকে এ দুটি শাস্ত্র নাহু বা ব্যাকরণ শাস্ত্রের সদৃশ। একারণেই আমরা দেখি যে, শাস্ত্র রচনার ক্ষেত্রে নাহু শাস্ত্রের পরেই এই দুটি শাস্ত্রের স্থান।কেননা খলীল ইবন আহমাদ আল-ফারাহিদী আল-বাসরী (মৃত্যু ১৬০ হিজরী, আল-আনবারী তাঁর 'নুযহাতুল আলিব্বা ফী তবাকাতিল উদাবা' গ্রন্থে যা উল্লেখ করেছেন, অথবা ১৭০ হিজরী কিংবা ১৭৫ হিজরী, কাযী ইবন খাল্লিকান তাঁর 'ওয়াফায়াতুল আইয়ান' গ্রন্থে যা উল্লেখ করেছেন); যখন তিনি আধুনিক কবিদের এমন সব ছন্দ ব্যবহারের ধৃষ্টতা দেখলেন যা আরবদের থেকে শ্রুত নয়, অথবা তাদের স্বভাবজাত প্রতিভা আরবি ছন্দ থেকে বিচ্যুত হয়ে ছন্দ বৃদ্ধি বা হ্রাসের মাধ্যমে আরবি ছন্দের যে বিরুদ্ধাচরণ করছিল—যখন খলীল তা দেখলেন, তখন তিনি বিচলিত হলেন। ফলে তিনি দৃঢ় সংকল্প করলেন—আর তাঁর সংকল্প কতই না সত্যনিষ্ঠ ছিল—এবং চিন্তাশক্তিকে শাণিত করলেন—আর তাঁর মেধা কতই না প্রখর ছিল। তিনি নিজের একটি কক্ষে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেন এবং সেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা, এমনকি দিনের পর দিন অতিবাহিত করতে লাগলেন; তিনি তাঁর আঙুল দিয়ে তালের শব্দ করতেন এবং তা নাড়াতেন। সুর ও লয় সম্পর্কেও তাঁর জ্ঞান ছিল, এমনকি এ বিষয়ে তিনি দুটি গ্রন্থ রচনা করেছেন: 'আন-নাগম' (সুর) এবং 'আল-ইকা' (তাল), যেমনটি ইবনুন নাদীম তাঁর 'ফিহরিস্ত' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। ধৈর্য ও মেধা নিরবচ্ছিন্নভাবে খলীলের সহায়ক ছিল যতক্ষণ না তিনি আরবি কবিতার ছন্দসমূহকে সীমাবদ্ধ ও সুশৃঙ্খল করতে সক্ষম হলেন।
(খণ্ড: ১)
আহদা সাবীল ইলা ইলমাইল খালীল
(পৃষ্ঠা: ১০)
أحوال قافيته، وأخرج للناس هذين العلمين الجليلين.والعجب من أمره -وليس في التوفيق والذكاء عجب- أنه أبرز العلمين كاملين مضبوطين مجهزين بالمصطلحات، التي لم يجد المتأخرون عنها مَعْدِلًا، وكل ما استدركه المتأخرون على الخليل1 فهو مسائل فرعية، وأمور اعتبارية لا تقدم ولا تؤخر في كون الرجل هو الأول والآخر في هذين العلمين، ولم نسمع بمثل ذلك في الأولين ولا في الآخرين، فسبحان الله واهب القوى!.ولقد عانيت العلمين طالبًا ومعلِّمًا، فوجدت فيهما استعصاء على التحصيل صرف الناس عنهما على جلالة قدرهما، والرغبة في معرفتهما، ووجدت عالم العربية الجهبذ، الواعي لدقائقها في النحو والتصريف، والبلاغة وما إليها، والأديب الراوي لقديم الشعر وحديثه، الخبير بمواضع نقده وأخبار شعرائه، والشاعر المطيل لقصائده، المعدد لأنواع قوافيه، رأيتهم إذا عرض أمر مما يتعلق بموضوع هذين العلمين كالتردد في وزن بيت أو ضبط قافية، طووا حديث ذلك يأسًا من الوصول إلى حل للمشكل الذي عرض.ولقد طال ما روَّيت في أمر هذا الاستعصاء والانصراف، فهداني الله يحسن توفيقه إلى هذه الأسباب:1- تكثر في كتب العروض الإحالة على مجهول؛ وذلك عيب في أصول التربية؛ فإن المرء إذا كان أمام مسألة يحصلها وجب أن نمهد له مقدماتها، ونسهل سبلها، حتى يصل إلى النتيجة بيسر، ويحصل على علمها باليقين الذي لا شك معه، فأمّا إذا شغلته حين تفهيمه بالمسألة بمسائل أخرى لم يسبق له معرفتها، فقد وزعتَ فكره بين الأمرين، ونفَّرت طبعه بهذا المجهول الذي تحمله على الإقرار به.ولا بد لنا من الاستدلال على هذا العيب بضرب المثل، وإن كان سنقع فيما وقع فيه المتقدمون من الإحالة على المجهول، فإن شئتَ ألا تقع في هذه الإحالة فأخِّر قراءة هذه المقدمة حتى تنتهي من الاطلاع على كتابنا.
তাঁর অন্ত্যমিলের (কাফিয়া) অবস্থাসমূহ, এবং তিনি মানুষের জন্য এই দুটি মহান শাস্ত্র প্রকাশ করেছেন।আর তাঁর বিষয়টি আশ্চর্যের—যদিও আল্লাহর তৌফিক ও প্রখর বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে বিস্ময়ের কিছু নেই—যে তিনি এই দুটি শাস্ত্রকে পূর্ণাঙ্গ, সুসংহত এবং এমন পরিভাষা দ্বারা সুসজ্জিত করে উপস্থাপন করেছেন, যা থেকে পরবর্তীকালের পণ্ডিতগণ বিচ্যুত হওয়ার কোনো পথ খুঁজে পাননি। আর আল-খলিলের ওপর পরবর্তীরা যা কিছু সংযোজন বা আপত্তি করেছেন, তা কেবল কিছু শাখা-প্রশাখাগত ও আনুষঙ্গিক বিষয় মাত্র, যা এই দুই শাস্ত্রে সেই ব্যক্তির আদি ও অন্ত হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন ঘটায় না। পূর্ববর্তী বা পরবর্তী কারো মাঝে আমরা এর কোনো নজির শুনিনি। সুতরাং পবিত্রতা সেই আল্লাহর, যিনি প্রজ্ঞার শক্তিসমূহ দানকারী!আমি ছাত্র ও শিক্ষক হিসেবে এই দুটি শাস্ত্রের চর্চা করেছি। তখন আমি এগুলোতে এমন এক ধরণের জটিলতা লক্ষ্য করেছি, যা এই শাস্ত্রদ্বয়ের গুরুত্ব ও তা শেখার আকাঙ্ক্ষা থাকা সত্ত্বেও মানুষকে বিমুখ করে দিয়েছে। আমি দেখেছি প্রাজ্ঞ আরবি পণ্ডিত—যিনি নাহু (ব্যাকরণ), সরফ (রূপতত্ত্ব), বালাগাত (অলঙ্কারশাস্ত্র) ও সমজাতীয় শাস্ত্রসমূহের সূক্ষ্ম বিষয়গুলোতে সচেতন; এবং প্রাজ্ঞ সাহিত্যিক—যিনি প্রাচীন ও আধুনিক কবিতার বর্ণনাকারী, কবিতার সমালোচনা ও কবিদের জীবনবৃত্তান্তে পারদর্শী; এমনকি সেই কবিকেও—যিনি দীর্ঘ কাসিদা রচনা করেন এবং নানাবিধ অন্ত্যমিল (কাফিয়া) ব্যবহার করেন; তাদের সামনে যখন এই দুই শাস্ত্র সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয় উপস্থিত হয়—যেমন কোনো চরণের ছন্দ নিয়ে দ্বিধা বা অন্ত্যমিলের বিন্যাস নির্ধারণ—তখন তারা উদ্ভূত সমস্যার সমাধানের ব্যাপারে নিরাশ হয়ে সেই আলোচনা এড়িয়ে চলেন।দীর্ঘকাল আমি এই জটিলতা ও বিমুখতার কারণ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করেছি। অতঃপর আল্লাহ তাঁর সর্বোত্তম তৌফিকের মাধ্যমে আমাকে এই কারণগুলোর দিকে পথপ্রদর্শন করেছেন:১- ইলমে আরুজের (ছন্দশাস্ত্র) কিতাবসমূহে অজ্ঞাত বা অজানা বিষয়ের ওপর নির্ভরতা অত্যন্ত বেশি; আর এটি শিক্ষা পদ্ধতির মূলনীতির পরিপন্থী একটি ত্রুটি। কেননা মানুষ যখন কোনো বিষয় শিখতে চায়, তখন আমাদের কর্তব্য হলো তার জন্য এর ভূমিকা বা প্রারম্ভিক বিষয়গুলো প্রস্তুত করা এবং তার পথ সহজ করে দেওয়া, যাতে সে সহজে ফলাফলে পৌঁছাতে পারে এবং এমন নিশ্চিত জ্ঞান অর্জন করতে পারে যাতে কোনো সন্দেহ থাকবে না। কিন্তু আপনি যদি তাকে কোনো বিষয় বোঝানোর সময় এমন সব অন্য বিষয়ে লিপ্ত করেন যা সম্পর্কে তার পূর্বজ্ঞান নেই, তবে আপনি তার চিন্তাকে দুই ভাগে বিভক্ত করে ফেললেন এবং এই অজ্ঞাত বিষয়ের মাধ্যমে—যা আপনি তাকে মেনে নিতে বাধ্য করছেন—তার প্রকৃতিকে জ্ঞানার্জনে বীতশ্রদ্ধ করে তুললেন।এই ত্রুটির প্রমাণের জন্য আমাদের একটি উদাহরণ দেওয়া আবশ্যক, যদিও এর ফলে আমরাও পূর্ববর্তীদের মতো অজ্ঞাত বিষয়ের ওপর নির্ভর করার দোষে লিপ্ত হতে পারি। আপনি যদি এই ধরনের অস্পষ্টতায় পড়তে না চান, তবে আমাদের কিতাবটি পাঠ শেষ না করা পর্যন্ত এই ভূমিকাটি পড়া স্থগিত রাখুন।
(খণ্ড: ১)
আহদা সাবীল ইলা ইলমাইল খালীল
(পৃষ্ঠা: ১১)
فمن تلك الإحالة أنك تجد في أوائل علم العروض عند ذكر أنواع الزحاف والعلة قولهم: الخبن هو: حذف الثاني الساكن كحذف ألف فاعلن وفاعلاتن وسين مستفعلن وفاء مفعولات وهو يدخل عشرة أبحر: البسيط والرجز والرمل والخفيف المنسرح والسريع والمديد والمقتضب والمجتث والمتدارك. وهكذا يمضي المؤلفون في جميع أنواع الزحاف والعلة.وتراه أيضًا قبل البدء في ذكر البحور، يقدمون بابًا عنوانه: ألقاب الأبيات، فيذكرون فيه التام والمجزوء والمشطور والمنهوك، ويعرفون التام بأنه: ما استوفى جميع أجزائه، والمجزوء: ما حذف منه عروضه وضربه، فأنت تراهم يحيلون على المجهول بذكر العروض والضرب، قبل أن يعرف المبتدئ ما هو العروض أو الضرب!!.وتراهم أيضًا يذكرون في هذا الباب المصرَّع ويعرفونه: بأنه ما غيّرت عروضه عما تستحقه لتلحق بالضرب في الوزن والروي، ولا عهد بعد للمتعلم بما تستحقه العروض.2- وفي التأليف القديم والحديث لهذين العلمين، نجد المؤلفين قد وقفوا عند الأبيات التي استشهد بها الخليل وأصحابه لا يتعدونها، وكثير منها غير جلي، فيكون الجهل بمعناها حيلولة ما دون الأنس بها واستظهارها. ثم إن اتحادها في كل كتاب يجعل ترديد النظر في الكتب المختلفة قليل الجدوى. والقاعدة إذا اختلفت شواهدها، وتعددت صورها؛ كان ذلك أدعى إلى استقرارها في النفس.3- تقدمت العلوم وطبقت عليها قواعد التربية الحديثة، فأعقب كل باب من أبواب النحو -مثلًا- بتطبيق على مسائله يختبر فيه العقل ويستدل على مقدار التحصيل وتثبت به الفروق بين المسائل وتجلى به غوامضها، ولقد كان عِلْمَا العروض والقافية أولى العلوم بذلك؛ ولكننا لم نجد فيهما إلا سردًا للمسائل وتوحيدًا للشواهد وإقلالًا منها، فهما لم يتَّبعا سنة الترقي التي تجلت في غيرهما من العلوم.
সেই জটিলতার একটি উদাহরণ হলো এই যে, আপনি ছন্দবিজ্ঞানের (ইলমে আরুজ) শুরুর দিকে যিহাফ (Zihâf) এবং ইল্লাত (Illat)-এর প্রকারভেদ বর্ণনার সময় তাদের এই উক্তিটি পাবেন: 'খাব্ন' হলো দ্বিতীয় সাকিন অক্ষরটি বিলোপ করা, যেমন 'ফা-ইলুন' ও 'ফা-ইলাতুন'-এর আলিফ, 'মুস্তাফ-ইলুন'-এর সিন এবং 'মাফ-উলাতু'-এর ফা বিলোপ করা। এটি দশটি বাহরে (ছন্দ) প্রবেশ করে: বাসীত, রাজায, রামাল, খাফীফ, মুনসারিহ, সারী’, মাদীদ, মুকতাদাব, মুজতাস এবং মুতাদারিক। এভাবেই লেখকগণ যিহাফ ও ইল্লাতের সকল প্রকারের ক্ষেত্রে আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যান।আপনি আরও দেখতে পাবেন যে, বাহরসমূহ (ছন্দসমূহ) বর্ণনা শুরু করার আগে তারা "আলকাবুল আবইয়াত" (কবিতার পংক্তি সমূহের উপাধি) শিরোনামে একটি অধ্যায় উপস্থাপন করেন। সেখানে তারা তাম্ম, মাজজু, মাশতুর এবং মানহুক সম্পর্কে আলোচনা করেন। তারা 'তাম্ম'-এর সংজ্ঞায় বলেন: যার সকল অংশ পূর্ণ রয়েছে; আর 'মাজজু' হলো: যার আরুজ এবং দারব বিলোপ করা হয়েছে। ফলে আপনি দেখবেন যে, একজন শিক্ষানবিশ 'আরুজ' বা 'দারব' কী তা জানার আগেই তারা আরুজ ও দারব উল্লেখ করার মাধ্যমে তাকে এক অজানা বিষয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন!!আপনি তাদের আরও দেখবেন যে, তারা এই অধ্যায়ে "মুসাররা’" উল্লেখ করেন এবং এর সংজ্ঞায় বলেন: যার আরুজকে তার প্রাপ্য রূপ থেকে পরিবর্তন করা হয়েছে যেন তা ওজন (ছন্দ) এবং রাবি (অন্ত্যমিল)-এর ক্ষেত্রে দারব-এর অনুগামী হয়। অথচ শিক্ষার্থীর তখনও জানাই নেই যে আরুজের প্রাপ্য রূপটি আসলে কী।২- এই দুই শাস্ত্রের (আরুজ ও কাফিয়া) প্রাচীন ও আধুনিক সংকলনসমূহে আমরা দেখতে পাই যে, লেখকগণ খলীল এবং তাঁর সঙ্গীদের পেশ করা উদাহরণগুলোর (কবিতার পংক্তি) মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছেন, সেগুলো অতিক্রম করেননি। এগুলোর মধ্যে অনেকগুলোই অস্পষ্ট, ফলে সেগুলোর অর্থ সম্পর্কে অজ্ঞতা সেগুলোর সাথে পরিচিত হওয়া এবং তা মুখস্থ রাখার পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। অধিকন্তু, প্রতিটি বইয়ে একই উদাহরণের পুনরাবৃত্তি বিভিন্ন বই পর্যালোচনা করার উপযোগিতাকে কমিয়ে দেয়। অথচ নিয়ম হলো, যদি কোনো সূত্রের উদাহরণ ভিন্ন ভিন্ন হয় এবং এর রূপ বৈচিত্র্যময় হয়, তবে তা মনের মধ্যে গেঁথে যাওয়ার জন্য অধিক সহায়ক হয়।৩- জ্ঞান-বিজ্ঞানের অগ্রগতি হয়েছে এবং এগুলোর ওপর আধুনিক শিক্ষাপদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্রের প্রতিটি অধ্যায়ের পরেই এর মাসআলাগুলোর ওপর অনুশীলনী যুক্ত করা হয়েছে, যার মাধ্যমে মেধা যাচাই করা যায়, অর্জিত জ্ঞানের পরিমাণ নির্ধারণ করা যায়, মাসআলাগুলোর মধ্যকার পার্থক্য সুদৃঢ় হয় এবং এর জটিল বিষয়গুলো স্পষ্ট হয়। ছন্দবিজ্ঞান ও অন্ত্যমিল বিদ্যা (কাফিয়া) এই পদ্ধতির জন্য সবচেয়ে বেশি উপযুক্ত ছিল। কিন্তু আমরা এই দুই শাস্ত্রে কেবল মাসআলাসমূহের একঘেয়ে বর্ণনা, উদাহরণের অভিন্নতা এবং সেগুলোর স্বল্পতা ছাড়া আর কিছুই পাইনি। ফলে এই শাস্ত্র দুটি উন্নতির সেই ধারা অনুসরণ করেনি যা অন্যান্য জ্ঞান-বিজ্ঞানে স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আহদা সাবীল ইলা ইলমাইল খালীল
(পৃষ্ঠা: ১২)
من أجل ذلك وضعت مؤلفي هذا متجنبًا تلك العيوب؛ فلم أتعرض في بيان أنواع الزحاف والعلل إلى ذكر البحور التي تدخلها، ولم أقدم باب: ألقاب الأبيات وأجزائها، بل ختمت به بحوث علم العروض فجاء كالحصر لكل ما قدمته موزعًا على الأبواب؛ ولهذا صار الناظر في كتابنا لا يصطدم أبدًا بمجهول يحار فيه أو يُبْهَت بمجابهته، وأكثرتُ عقب كل بحر من التطبيق عليه، وبعد كل بحرين أنشأت تطبيقًا يعمهما، وبعد كل مجموعة منها جئت بتطبيق أو أكثر يتناولها، وعقب الانتهاء من البحور كلها أحدثت تطبيقات عامة لجميع البحور على نوع من التدريج يأنس إليه الطالب، وكذلك فعلت في علم القافية، فأحدثت لها تطبيقات تثبت مصطلحاتها الكثيرة المتشابهة المتنوعة.والعجيب أن هذين العلمين يتأخران عن بقية العلوم في سُنَّةِ الرقي مع حاجتهما إليها، ولكن لعل الناس لما رأوا الخليل بن أحمد رحمه الله قد أتى فيهما بما لا مزيد عليه في حصر قواعدهما بهرهم ذلك منه فأصابتهم الصرفة عن الإبداع فيهما.لذلك أرى نعمة الله عليّ عظيمة بهذا التوفيق إلى تذليل هذين العلمين وتسهيل سبلهما، خصوصًا بعد أن عرفت دور العلم قدر الحاجة إليهما والفائدة المرجوة منهما، فصارا مقرَّرَي التدريس في كل معهد تدرس فيه فروع العربية في مصر: كالجامعة الأزهرية، والجامعة المصرية، ودار العلوم، ومعهد التربية. ولاشك أنَّ لهما مثل هذه العناية في الأقطار العربية الأخرى.والله الموفق للصواب، وهو حسبي ونعم الوكيل.محمود مصطفى
সেই কারণে আমি আমার এই গ্রন্থটি সেই ত্রুটিসমূহ পরিহার করে রচনা করেছি; ফলে আমি ‘জিহাফ’ ও ‘ইলাল’-এর প্রকারভেদ বর্ণনার সময় সেগুলোর অন্তর্ভুক্ত ছন্দসমূহের উল্লেখ করিনি। আমি শ্লোকের উপাধি ও তার অংশসমূহের পরিচ্ছেদটিকে শুরুতে নিয়ে আসিনি, বরং ছন্দশাস্ত্রের আলোচনার শেষে তা যুক্ত করেছি; ফলে তা পূর্ববর্তী অধ্যায়গুলোতে আলোচিত বিষয়াবলির একটি সারসংক্ষেপ হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। এর ফলে আমাদের এই কিতাবের পাঠক কখনো এমন কোনো অজানা বিষয়ের সম্মুখীন হবেন না যা তাকে বিভ্রান্ত করবে কিংবা যা তাকে হতবাক করে দেবে। আমি প্রতিটি ছন্দের শেষে প্রচুর অনুশীলনী দিয়েছি। প্রতি দুটি ছন্দের পর একটি সমন্বিত অনুশীলনী তৈরি করেছি এবং প্রতিটি ছন্দ-সমষ্টির পর এক বা একাধিক অনুশীলনী যুক্ত করেছি। সকল ছন্দের আলোচনা সমাপ্ত করার পর সকল ছন্দের ওপর একটি সাধারণ অনুশীলনী তৈরি করেছি, যা পর্যায়ক্রমিকভাবে ছাত্ররা সহজেই আয়ত্ত করতে পারবে। ‘ইলমে কাফিয়া’ বা অন্ত্যমিল শাস্ত্রের ক্ষেত্রেও আমি একই পদ্ধতি অবলম্বন করেছি এবং এর অসংখ্য সদৃশ ও বৈচিত্র্যময় পরিভাষাগুলো আত্মস্থ করার জন্য অনুশীলনী যুক্ত করেছি।আশ্চর্যের বিষয় হলো, প্রয়োজনীয়তা থাকা সত্ত্বেও উন্নতির ধারায় এই দুটি শাস্ত্র অন্যান্য শাস্ত্রের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে। সম্ভবত মানুষ যখন দেখল যে, খলীল ইবন আহমদ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) এই দুই শাস্ত্রের নিয়মাবলি বিন্যাসের ক্ষেত্রে এমন এক উচ্চতায় পৌঁছেছেন যার ওপর আর কিছু যোগ করার অবকাশ নেই, তখন তারা তাঁর এই কাজে অভিভূত হয়ে পড়েছিল এবং এর ফলে তারা এই শাস্ত্রে নতুন কিছু উদ্ভাবন থেকে বিমুখ হয়ে গিয়েছিল।তাই আমি আমার ওপর আল্লাহর নেয়ামতকে অত্যন্ত মহান মনে করি যে, তিনি আমাকে এই দুটি শাস্ত্রকে সহজ ও সুগম করার তৌফিক দান করেছেন। বিশেষ করে যখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এই দুই শাস্ত্রের প্রয়োজনীয়তা ও এদের থেকে প্রত্যাশিত উপকারিতা সম্পর্কে অনুধাবন করতে পেরেছে। ফলে মিশরের প্রতিটি ইনস্টিটিউট যেখানে আরবির বিভিন্ন শাখা পড়ানো হয়, সেখানে এই দুটি শাস্ত্র পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যেমন: আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়, মিশরীয় বিশ্ববিদ্যালয়, দারুল উলূম এবং শিক্ষা ইনস্টিটিউট। নিসন্দেহে অন্যান্য আরব দেশগুলোতেও এই শাস্ত্রদ্বয় অনুরূপ গুরুত্ব পেয়ে থাকে।আল্লাহই সঠিক পথের দিশারি, তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।মাহমুদ মুস্তফা
(খণ্ড: ১)
আহদা সাবীল ইলা ইলমাইল খালীল
(পৃষ্ঠা: ১৩)
مدخلحروف التقطيع…علم العروض: مقدمتان1- حروف التقطيع:اتفق القدماء أن يوزن الشعر بموازين مؤلفة من ألفاظ، قوامها:الفاء والعين، واللام، والنون، والميم، والسين، والتاء، وحروف العلة، وجمعها بعضهم في قوله: لمعت سيوفنا.وقد كوّنوا منها عشرة ألفاظ تسمّى التفاعيل وهي: فعولن، مفاعيلن، مفاعلتن، فاعلن، فاعلاتن، متفاعلن، مستفعلن، مفعولات، فاع لاتن، مستفع لن.وهذه الألفاظ تقابل بحروفها في الوزن حروف الكلمات الموزونة في بيت الشعر؛ فما كان متحركًا قوبل بمتحرك وما كان ساكنًا قوبل بساكن.والمعتبر في الحروف الموزونة ما ينطق به، فلو أن حرفًا ينطق به ولا يرسم في الخط وجب أن يقابَل بنظيره في الميزان؛ ككلمة: هذا، فإننا ننطق فيها بعد الهاء بألف نحذفها في الرسم، ولكننا في الوزن نقابلها بحرف ساكن وكذلك الحرف الذي يرسم في الموزون ولا ينطق به؛ لالتقاء الساكنين مثلًا، فإننا لا نقابله بحرف في الميزان، مثال ذلك: إذا وردت عبارة: هذا الذي، فإنها تقابل في الميزان بلفظ: مستفعلن، فالسين الساكنة في مقابلة الألف المحذوفة بعد الهاء، والألف الأخيرة في: هذا، وألف: الذي، لا تصوَّران في الميزان؛ لأننا لا نثبتهما في النطق، ولام الذي وإن رسمت لامًا واحدة تقابل بحرفين أولهما ساكن والثاني متحرك؛ لأننا ننطق بها على صورة الإدغام.والتنوين في الكلمة الموزونة يصور في الميزان حرفًا ساكنًا؛ لأننا ننطق به وإن كنا لا نرسمه في بعض الحالات، فكلمة: راكب، توزن بلفظ: فاعلن.ومن أجل ذلك كان للشعر عند إرادة تقطيعه "مقابلته بالألفاظ الموضوعة للميزان رسم خاص، يلاحظ فيه ما ينطق به، مع ضم كل مجموعة من
ভূমিকাছন্দোবিশ্লেষণের বর্ণমালা...ছন্দশাস্ত্র: দুটি ভূমিকা১- ছন্দোবিশ্লেষণের বর্ণমালা:প্রাচীন বিশেষজ্ঞগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, কবিতাকে কিছু শব্দ দ্বারা গঠিত মানদণ্ডের মাধ্যমে পরিমাপ করা হবে, যার মূল ভিত্তি হলো:ফা, আইন, লাম, নূন, মীম, সীন, তা এবং স্বরবর্ণসমূহ (হুরুফুল ইল্লাহ); কেউ কেউ এগুলোকে এই বাক্যে একত্রিত করেছেন: "লামাআত সুয়ূফুনা" (আমাদের তলোয়ারগুলো চমকে উঠল)।তারা এগুলো থেকে দশটি শব্দ গঠন করেছেন যেগুলোকে 'তাফায়িল' (ছন্দোমাত্রা) বলা হয়, সেগুলো হলো: ফাউলুন, মাফাই-লুন, মুফায়ালাতুন, ফাইলুন, ফাইলাতুন, মুতাফায়িলুন, মুসতাফইলুন, মাফউলাতু, ফাই লাতুন, মুসতাফই লুন।এই শব্দগুলো তাদের বর্ণগুলোর মাধ্যমে ছন্দের ওজনে কবিতার চরণের পরিমাপকৃত শব্দগুলোর বর্ণের সমান্তরালে বসে; সুতরাং যা স্বরযুক্ত (মুতাহাররিক) তা স্বরযুক্ত বর্ণের বিপরীতে এবং যা স্থির (সাকিন) তা স্থির বর্ণের বিপরীতে বসে।পরিমাপকৃত বর্ণমালার ক্ষেত্রে যা উচ্চারিত হয় সেটিই বিবেচ্য; সুতরাং কোনো বর্ণ যদি উচ্চারিত হয় কিন্তু লেখায় না থাকে, তবে ছন্দের মানদণ্ডে (মিজানে) তার সমরূপ বর্ণ থাকা আবশ্যক; যেমন: 'হাযা' শব্দটি, এখানে আমরা 'হা'-এর পরে একটি আলিফ উচ্চারণ করি যা লেখায় বাদ দেওয়া হয়, কিন্তু ওজনে আমরা তার বিপরীতে একটি সাকিন (স্থির) বর্ণ ধরি। একইভাবে যে বর্ণটি পরিমাপকৃত শব্দে লেখা হয় কিন্তু উচ্চারিত হয় না (যেমন দুটি সাকিন পাশাপাশি আসার কারণে), সেটির বিপরীতে আমরা ছন্দের মানদণ্ডে কোনো বর্ণ ধরি না। উদাহরণস্বরূপ: যদি 'হাযাল্লাযী' শব্দগুচ্ছটি আসে, তবে ছন্দের মানদণ্ডে সেটি 'মুসতাফইলুন' শব্দের সমরূপ হবে। এখানে সাকিন 'সীন' বর্ণটি 'হা'-এর পরে বাদ পড়া আলিফের বিপরীতে বসেছে। আর 'হাযা'-এর শেষের আলিফ এবং 'আল্লাযী'-এর আলিফ ছন্দের মানদণ্ডে রূপায়িত হবে না; কারণ আমরা উচ্চারণে সেগুলো বহাল রাখি না। আর 'আল্লাযী'-এর 'লাম' যদিও একটি বর্ণ হিসেবে লেখা হয়, তবে তা দুটি বর্ণের বিপরীতে বসে যার প্রথমটি সাকিন এবং দ্বিতীয়টি মুতাহাররিক (স্বরযুক্ত); কারণ আমরা তা ইদগাম (দ্বিত্ব উচ্চারণ) হিসেবে উচ্চারণ করি।পরিমাপকৃত শব্দের তানভীনকে ছন্দের মানদণ্ডে একটি সাকিন বর্ণ হিসেবে গণ্য করা হয়; কারণ আমরা তা উচ্চারণ করি যদিও কিছু ক্ষেত্রে তা লিখি না। যেমন: 'রাকিবুন' শব্দটি 'ফাইলুন' শব্দ দ্বারা পরিমাপ করা হয়।এই কারণেই কবিতা যখন তাক্তি বা ছন্দোবিশ্লেষণ করার ইচ্ছা করা হয়, তখন মানদণ্ডের জন্য নির্ধারিত শব্দগুলোর সাথে তার সমান্তরাল করার ক্ষেত্রে একটি বিশেষ লিখনপদ্ধতি অবলম্বন করা হয়, যেখানে যা উচ্চারিত হয় তা লক্ষ্য রাখা হয়, এর পাশাপাশি প্রতিটি গুচ্ছকে একত্রে যুক্ত করে...
(খণ্ড: ১)
আহদা সাবীল ইলা ইলমাইল খালীল
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الحروف تقابل لفظًا من الميزان في صورة كلمة واحدة، مثال ذلك إذا أردنا تقطيع قول امرئ القيس:قفا نبك من ذكرى حبيب ومنزل … بِسقط اللِّوى بين الدخول فحوملنصوره هكذا:قفانب…كمنذكرى…حبيبن…ومنزلي…...بسقطل…لوى بيند…دخول…فحومليفعولن…مفعيلن…فعولن…مفاعلن…...فعولن…مفاعيلن…فعول…مفاعلنوبملاحظة تقطيع البيت نرى أننا صورنا التنوين نونًا ساكنة، وصورنا الإشباع للكسرة ياء، وكوَّنَّا البيت أجزاء قابلناها بأجزاء الميزان غير مراعين صور الكلمات الأصلية في الشعر.
অক্ষরসমূহ ছন্দের ওজনের (মিজান) একটি শব্দের বিপরীতে একক শব্দের অবয়বে উপস্থাপিত হয়। এর উদাহরণ হলো, আমরা যদি ইমরুল কায়েসের এই পঙক্তির ছন্দ বিশ্লেষণ (তাকতি‘) করতে চাই:থামো, আমরা প্রিয়া ও তার স্মৃতিবিজড়িত আবাসের স্মরণে ক্রন্দন করি … যা সিকতিল লিওয়া নামক বালিয়াড়িতে দাখুল ও হাওমালের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিতআমরা একে এভাবে চিত্রিত করি:কিফনাব…মিনযিকরা…হাবিবিন…ওয়ামানযিলি…...বিসিকতিল…লিওয়াল বাইনাদ…দাখুলি…ফাহাওমালিফাউলুন…মাফাইলুন…ফাউলুন…মাফাইলুন…...ফাউলুন…মাফাইলুন…ফাউলু…মাফাইলুনকবিতার চরণের ছন্দ বিশ্লেষণ (তাকতি‘) লক্ষ্য করলে আমরা দেখতে পাই যে, আমরা তানভীনকে সাকিন যুক্ত 'ন' হিসেবে এবং কাসরার (জের) ইশবা‘ বা প্রলম্বিত রূপকে 'ইয়া' হিসেবে চিত্রিত করেছি। আমরা কবিতার মূল শব্দের গঠন বিবেচনা না করে চরণের অংশগুলোকে ছন্দের ওজনের (মিজান) অংশসমূহের বিপরীতে বিন্যস্ত করেছি।
(খণ্ড: ১)
আহদা সাবীল ইলা ইলমাইল খালীল
(পৃষ্ঠা: ১৪)
2- الأسباب والأوتاد:إذا نظرت في أجزاء الميزان الشعري وجدتها تتألف من مقاطع، وقد يتكون المقطع من حرفين: متحرك فساكن، أو من متحركين، وقد يتكون من ثلاثة حروف متحركين فساكن، أو متحركين بينهما ساكن: فالجزء مستفعلن مكون من ثلاثة مقاطع: مس، تف، علن. والجزء متفاعلن مقاطعه: مت، فا، علن. والجزء فاعلاتن مقاطعه: فا، علا، تن. والجزء فعولن مقطعاه: فعو، لن، والجزء مستفع لن مقاطعه: مس، تفع، لن. والجزء فاع لاتن مقاطعه: فاع، لا، تن.ومن هنا عرفت أن تركيب: مستفعلن، غير تركيب: مستفع لن، وكذلك فاعلاتن غير فاع لاتن، فبان لك أن الحكمة في فصل مقاطع الجزأين مستفع لن، فاع لاتن؛ هي الدلالة على كيفية تكون مقاطعهما.والمقطع المكون من حرفين يمسى: سببًا، وهو خفيف إن كان الثاني من الحرفين ساكنًا مثل: فاع، من فاعلن، وفا أو تن من فاعلاتن، وإن كان الثاني من الحرفين متحركًا سُمّي السبب ثقيلًا مثل: مت، في متفاعلن.وإن تكوَّن المقطع من ثلاث أحرف سمى وتدًا، فإن كان الساكن بعد
২- সবব ও ওয়াতাদসমূহ:যদি আপনি কাব্যিক মিজানের (ছন্দ-পরিমাপক) অংশগুলোর দিকে লক্ষ্য করেন, তবে দেখবেন যে সেগুলো কতগুলো খণ্ড দ্বারা গঠিত। প্রতিটি খণ্ড দুটি বর্ণ দিয়ে গঠিত হতে পারে: একটি সচল ও একটি স্থির, অথবা দুটিই সচল। আবার তা তিনটি বর্ণ দিয়েও গঠিত হতে পারে: দুটি সচল ও একটি স্থির, অথবা দুটির মাঝখানে একটি স্থির। যেমন: 'মুস্তাফইলুন' অংশটি তিনটি খণ্ড দ্বারা গঠিত: 'মুস', 'তাফ', 'ইলুন'। 'মুতাফাইিলুন' এর খণ্ডগুলো হলো: 'মুতা', 'ফা', 'ইলুন'। 'ফা-ইলাতুন' এর খণ্ডগুলো হলো: 'ফা', 'ইলা', 'তুন'। 'ফাউলুন' এর খণ্ড দুটি হলো: 'ফাউ', 'লুন'। আর 'মুস্তাফি লুন' এর খণ্ডগুলো হলো: 'মুস', 'তাফি', 'লুন'। এবং 'ফা-ই লাতুন' এর খণ্ডগুলো হলো: 'ফা-ই', 'লা', 'তুন'।এখান থেকে আপনি জানতে পারলেন যে, 'মুস্তাফইলুন'-এর গঠন আর 'মুস্তাফি লুন'-এর গঠন এক নয়। অনুরূপভাবে, 'ফা-ইলাতুন' আর 'ফা-ই লাতুন' এক নয়। আপনার কাছে এটি স্পষ্ট হলো যে, 'মুস্তাফি লুন' এবং 'ফা-ই লাতুন'—এই দুটি অংশের খণ্ডগুলোকে পৃথক করে রাখার রহস্য হলো তাদের খণ্ডগুলো কীভাবে গঠিত হয়েছে তা নির্দেশ করা।দুই বর্ণ বিশিষ্ট খণ্ডকে 'সবব' বলা হয়। যদি দুই বর্ণের মধ্যে দ্বিতীয়টি স্থির হয়, তবে তাকে 'সববে খফিফ' (লঘু সবব) বলা হয়; যেমন: 'ফা-ইলুন' থেকে 'ফা', অথবা 'ফা-ইলাতুন' থেকে 'ফা' অথবা 'তুন'। আর যদি দুই বর্ণের মধ্যে দ্বিতীয়টি সচল হয়, তবে তাকে 'সববে সাকিল' (গুরু সবব) বলা হয়; যেমন: 'মুতাফাইিলুন'-এর 'মুতা'।আর যদি খণ্ডটি তিনটি বর্ণ দ্বারা গঠিত হয়, তবে তাকে 'ওয়াতাদ' বলা হয়। অতঃপর যদি স্থির বর্ণটি এর পরে...
(খণ্ড: ১)
আহদা সাবীল ইলা ইলমাইল খালীল
(পৃষ্ঠা: ১৫)
المتحركين فهو الوتد المجموع مثل: علن، في فاعلن، وفعو في فعولن، وعلا في فاعلاتن، وإن كان الساكن بين المتحركين سُمّي وتدًا مفروقًا مثل: فاع، من فاع لا تن، و: لات، من مفعولات.وبعضهم يسمي اجتماع السببين الثقيل فالخفيف: فاصلة صغرى، مثل: متفا، في متفاعلن، واجتماع السب الثقيل فالوتد المجموع: فاصلة كبرى مثل أن تصير مستفعلن بعد حذف سينها وفائها إلى: متعلن، وقد جمع بعضهم أمثلة هذه الأنواع الستة: السبب الخفيف، السبب الثقيل، الوتد المجموع، الوتد المفروق، الفاصلة الصغرى، الفاصلة الكبرى في قوله: لم أرَ على ظهر جبل سمكةً.
সচল বর্ণদ্বয়ের [পর হলে] তা হলো ওয়াতাদে মাজমু; যেমন: ফায়িলুন-এর মধ্যে 'ইলুন', ফাউলুন-এর মধ্যে 'ফাউ' এবং ফায়িলাতুন-এর মধ্যে 'আলা'। আর যদি স্থির বর্ণটি দুটি সচল বর্ণের মাঝখানে থাকে, তবে তাকে ওয়াতাদে মাফরুক বলা হয়; যেমন: ফা-ই লা তুন-এর 'ফা-ই', এবং মাফউলাতু-এর 'লাতু'।আর তাঁদের কেউ কেউ একটি ভারী কারণ ও একটি হালকা কারণের সমষ্টিকে ফাসিলায়ে সুগরা বলেন; যেমন: মুতাফায়িলুন-এর মধ্যে 'মুতাফা'। আর একটি ভারী কারণ এবং একটি ওয়াতাদে মাজমুর সমষ্টিকে ফাসিলায়ে কুবরা বলা হয়; যেমন মুসতাফইলুন-এর 'সীন' এবং 'ফা' বিলুপ্ত হওয়ার পর তা 'মুতায়ালুন'-এ পরিণত হওয়া। কেউ কেউ এই ছয়টি প্রকারের (হালকা কারণ, ভারী কারণ, ওয়াতাদে মাজমু, ওয়াতাদে মাফরুক, ফাসিলায়ে সুগরা এবং ফাসিলায়ে কুবরা) উদাহরণ এই উক্তিতে একত্রিত করেছেন: "লাম আরা আলা যাহরি জাবালিন সামাকাতান" (অর্থাৎ: আমি পাহাড়ের পিঠে কোনো মাছ দেখিনি)।
(খণ্ড: ১)
আহদা সাবীল ইলা ইলমাইল খালীল
(পৃষ্ঠা: ১৫)
تمارينتمرين-1…تمرين -1زن الكلمات الآتية بالميزان الشعري بعد كتابتها برسم التقطيع:ساجد، كريم، مستطلع، متعاظم، والدات، معاهدة، كتاب، هذا أبي.أقبل على فعل الخير، أحسن إلى هذا الرجل، لنا كتب نطالعها، هذه الموءودات ما ذنبها؟ مناصحة وإرشاد، صلاح، ما لذة العيش إلا لمن يقنع.
অনুশীলনসমূহঅনুশীলন-১…অনুশীলন -১নিম্নোক্ত শব্দগুলোকে ছন্দ-বিশ্লেষণ বা তাকতি‘র নিয়মে লেখার পর কাব্যিক ওজনে পরিমাপ করুন:সাজিদ, কারিম, মুসতাতলি‘, মুতাআযিম, ওয়ালিদাত, মুআহাদাহ, কিতাব, এটি আমার পিতা।সৎকাজে অগ্রসর হও, এই লোকটির প্রতি ইহসান করো, আমাদের নিকট এমন কিতাব রয়েছে যা আমরা পাঠ করি, এই জীবন্ত প্রোথিত কন্যারা—তাদের অপরাধ কী ছিল? নসিহত ও পথনির্দেশনা, সংশোধন, অল্পে তুষ্ট ব্যক্তি ব্যতীত জীবনের কোনো স্বাদ নেই।
(খণ্ড: ১)
আহদা সাবীল ইলা ইলমাইল খালীল
(পৃষ্ঠা: ১৫)
تمرين -2أَنْشِئ كلمات أو تعابير توازن هذه التفاعيل:فعولن، مستفعلن، مفاعيلن، فاعلاتن، مفاعلتن.
অনুশীলনী - ২এমন শব্দ বা শব্দসমষ্টি গঠন করুন যা এই ছন্দ-অংশগুলোর (তাফাঈল) ওজনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়:ফাউলুন, মুস্তাফইলুন, মাফাইলুন, ফা-ইলাতুন, মুফাআলাতুন।
(খণ্ড: ১)
আহদা সাবীল ইলা ইলমাইল খালীল
(পৃষ্ঠা: ১৫)
تمرين -3زن الأبيات الآتية على ما عرفت من الطريقة السابقة:ألا يا صبا نجد متى هِجت من نجد … لقد زادني مَسراك وجدًا على وجديا لبكر أنشروا لي كليبًا … يا لبكر أين أين الفرارُ؟وإذا صحوت فما أُقصِّر عن ندى … وكما عَلِمْتَ شمائلي وتكرُّمييعز على الأحبة بالشَّآم … حبيب بات ممنوع القيام
অনুশীলনী - ৩পূর্ববর্তী পদ্ধতি অনুযায়ী নিম্নোক্ত কবিতাংশগুলোর ছন্দ (ওজন) নির্ণয় করো:ওহে নজদ-এর মৃদুমন্দ বায়ু, তুমি নজদ থেকে কখন প্রবহমান হলে? … তোমার রাত্রিকালীন পরিভ্রমণ আমার ব্যাকুলতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।হে বকর গোত্র, তোমরা আমার জন্য কুলাইবকে পুনরুজ্জীবিত করো … হে বকর, পলায়নের পথ কোথায়, কোথায়?আর যখন আমি মোহমুক্ত হই, তখন আমি বদান্যতায় কোনো ত্রুটি করি না … আর যেমনটি তুমি আমার চরিত্র ও মহানুভবতা সম্পর্কে অবগত আছো।সিরিয়াবাসী প্রিয়জনদের জন্য এটি অত্যন্ত পীড়াদায়ক … এমন এক প্রিয় ব্যক্তি যে দণ্ডায়মান হওয়া থেকে বঞ্চিত অবস্থায় রাত যাপন করেছে।
(খণ্ড: ১)
আহদা সাবীল ইলা ইলমাইল খালীল
(পৃষ্ঠা: ১৫)
تمرين -4بيِّن ما في التفاعيل الآتية من الأسباب والأوتاد والفواصل:مستفعلن، فاعلاتن، فعولن.
অনুশীলন - ৪নিচের ছন্দ-রূপগুলোর (তাফায়িল) মধ্যে আসবাব (কারণসমূহ), আওতাদ (খুঁটিসমূহ) এবং ফাওয়াসিলসমূহ (বিরামসমূহ) স্পষ্ট করো:মুস্তাফ’ইলুন, ফা’ইলাতুন, ফাউ’লুন।
(খণ্ড: ১)
আহদা সাবীল ইলা ইলমাইল খালীল
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الزحاف والعلةمبحث…الزحاف والعلةتجري على تفاعيل الميزان الشعري تغييرات: كتسكين متحرك، أو حذفه أو حذف ساكن، أو زيادته، أو حذف أكثر من حرف، أو زيادته، فهذا في مجموعه هو ما شمله اسم الزحاف والعلة وقد فرقوا بينهما:فالزحاف: كل تغيير يتناول ثواني الأسباب، ويكون بتسكين المتحرك أو حذفه، أو حذف الساكن، ففي مثل متفاعلن؛ يكون بتسكين التاء فتصير متْفاعلن وتحول إلى مستفعلن1، أو بحذفها فتصير مفاعلن، أو بتسكين التاء مع حذف الألف، فتصير متْفعلن وتحول إلى مفْتعلن، وفي فاعلن يكون بحذف الألف فتصير فعلن، وحكم الزحاف؛ أنه إذا عرض في جزء من الأجزاء لا يلزم في مقابله من أبيات القصيدة؛ فـ: فاعلن تكون في القصيدة الواحدة مرة تامة، وأخرى محذوفة الألف، وكذلك: السين، والفاء، من مستفعلن تحذفان، أو إحداهما في بيت من القصيدة، ولا يلزم ذلك في نظائرهما التي تقابلها في الوضع من بقية القصيدة.والزحاف قد يكون في التفعيلة مفردًا، وقد يكون مكَرَّرًا ويسمى حينئذ مزدوجًا فالمزدوج كحذف السين والفاء من مستفعلن.أما العلة: فتدخل على الأسباب والأوتاد، ومثالها في الأسباب حذف السبب في فعولن فتصير فعو وتحول إلى فعل، ومثالها أيضًا في مفاعلتن حذف السبب الأخير منها مع تسكين اللام في السبب الذي قبله فتصير مفاعل وتحول إلى فعولن.ومثالها في الأوتاد زيادة ساكن على الوتد في فاعلن فتصير فاعلتن وتحول إلى فاعلان، أو إسكان آخر الوتد المفروق في مفعولات فتصير
--------------------------------------------
1 القاعدة عند العروضيين: أنه إذا نال التفعيلة تغيير نُظر في الباقي منها فإن كان قريبًا إلى صورة تفعيلة أخرى بقي على حاله، أو إلى صورة تفعيلة أصلية، أو إلى صورة قريبة منها وسيمر بك من ذلك ما تدرك به قصدهم.
জিহাফ ও ইল্লাতপরিচ্ছেদ...জিহাফ ও ইল্লাতছন্দের মানদণ্ডের তাফায়িল বা মাত্রাগুলোর ওপর বিভিন্ন পরিবর্তন সাধিত হয়: যেমন কোনো সচল বর্ণকে স্থির করা, অথবা তা বিলুপ্ত করা, কিংবা কোনো স্থির বর্ণকে বিলুপ্ত করা, অথবা তা বৃদ্ধি করা, কিংবা একের অধিক বর্ণ বিলুপ্ত বা বৃদ্ধি করা। এই সবকিছুর সমষ্টিই হলো তা, যা জিহাফ ও ইল্লাত নামের অন্তর্ভুক্ত। ছন্দবিশারদগণ এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য করেছেন:জিহাফ: প্রতিটি সেই পরিবর্তন যা আসবাবের (ছন্দগত উপাদান) দ্বিতীয় বর্ণকে প্রভাবিত করে। এটি সচল বর্ণকে স্থির করার মাধ্যমে, অথবা তা বিলুপ্ত করার মাধ্যমে, কিংবা স্থির বর্ণকে বিলুপ্ত করার মাধ্যমে ঘটে। যেমন: মুতাফায়িলুন-এর ক্ষেত্রে; এটি 'তা' বর্ণটিকে স্থির করার মাধ্যমে হয়, ফলে তা মুত্ফায়িলুন-এ পরিণত হয় এবং মুস্তাফয়িলুন-এ রূপান্তরিত হয়, অথবা তা বিলুপ্ত করার মাধ্যমে হয় ফলে তা মাফায়িলুন-এ পরিণত হয়, অথবা আলিফ বিলুপ্ত করার সাথে সাথে 'তা' বর্ণটিকে স্থির করার মাধ্যমে হয়, ফলে তা মুত্ফায়লুন-এ পরিণত হয় এবং মুফ্তায়িলুন-এ রূপান্তরিত হয়। আর ফায়িলুন-এর ক্ষেত্রে এটি আলিফ বিলুপ্ত করার মাধ্যমে হয় ফলে তা ফায়িলুন-এ পরিণত হয়। জিহাফের বিধান হলো: যখন এটি কোনো একটি অংশে আপতিত হয়, তখন কবিতার অবশিষ্ট পংক্তিগুলোর অনুরূপ স্থানে তা মেনে চলা আবশ্যক নয়। সুতরাং, একই কবিতায় ফায়িলুন কখনো পূর্ণাঙ্গ থাকতে পারে, আবার কখনো আলিফ বিলুপ্ত অবস্থায় থাকতে পারে। একইভাবে, মুস্তাফয়িলুন-এর 'সীন' ও 'ফা' বর্ণ দুটি বিলুপ্ত হতে পারে, অথবা কবিতার কোনো একটি চরণে তাদের যেকোনো একটি বিলুপ্ত হতে পারে, অথচ কবিতার অবশিষ্ট অংশের সমজাতীয় স্থানে তা থাকা আবশ্যক নয়।জিহাফ কোনো তাফায়িলা বা ছন্দমাত্রায় একক হতে পারে, আবার কখনো তা পুনরাবৃত্ত হতে পারে, যাকে তখন মুজদাওয়াজ বা দ্বৈত বলা হয়। দ্বৈত জিহাফের উদাহরণ হলো মুস্তাফয়িলুন থেকে সীন ও ফা উভয়টি বিলুপ্ত হওয়া।আর ইল্লাত: এটি আসবাব ও আওতাদ (ছন্দগত মূল ভিত্তি)-এর ওপর আপতিত হয়। আসবাব-এর ক্ষেত্রে এর উদাহরণ হলো ফায়ূলুন থেকে একটি সবব বা অংশ বিলুপ্ত হওয়া, ফলে তা ফায়ূ-তে পরিণত হয় এবং ফায়াল-এ রূপান্তরিত হয়। এর আরেকটি উদাহরণ মাফায়ালাতুন-এর ক্ষেত্রে, এর শেষ সববটি বিলুপ্ত করার সাথে সাথে তার পূর্ববর্তী সববের 'লাম' বর্ণটিকে স্থির করা, ফলে তা মাফায়িল-এ পরিণত হয় এবং ফায়ূলুন-এ রূপান্তরিত হয়।আওতাদ-এর ক্ষেত্রে এর উদাহরণ হলো ফায়িলুন-এর ওয়াতাদ-এর ওপর একটি সাকিন বা স্থির বর্ণ বৃদ্ধি করা, ফলে তা ফায়িলাতুন হয়ে যায় এবং ফায়িলান-এ রূপান্তরিত হয়। অথবা মাফঊলাতু-এর ওয়াতাদ মাফরূক-এর শেষ বর্ণকে সাকিন বা স্থির করা, ফলে তা...
--------------------------------------------
১. ছন্দবিশারদদের নিকট নিয়ম হলো: যখন কোনো তাফায়িলা বা ছন্দমাত্রায় পরিবর্তন সাধিত হয়, তখন তার অবশিষ্ট অংশের দিকে লক্ষ করা হয়; যদি তা অন্য কোনো তাফায়িলার রূপের কাছাকাছি হয়, তবে তা সেই অবস্থায় রাখা হয়, অথবা কোনো মৌলিক তাফায়িলার রূপের দিকে, অথবা তার নিকটবর্তী কোনো রূপের দিকে ফিরিয়ে নেয়া হয়। শীঘ্রই আপনার সামনে এমন উদাহরণ আসবে যার মাধ্যমে আপনি তাদের উদ্দেশ্য অনুধাবন করতে পারবেন।
(খণ্ড: ১)
আহদা সাবীল ইলা ইলমাইল খালীল
(পৃষ্ঠা: ১৭)
مفعولات وتحول إلى مفعولات، أو إسقاط هذا الحرف السابع فتصير مفعولا وتحول إلى مفعولن.وحكم العلل: أنها لا تقع أصالة إلا في العروض: آخر الشطر الأول، والضرب آخر الشطر الثاني، وأنها إذا عرضت لزمت؛ فلا يباح للشاعر أن يتخلَّى عنها في بقية القصيدة.
মাফউলাতু এবং এটি মাফউলাতু-তে রূপান্তরিত হয়, অথবা এই সপ্তম বর্ণটি বিলুপ্ত করা, ফলে তা মাফউলা হয়ে যায় এবং মাফউলুন-এ রূপান্তরিত হয়।আর ইল্লাতসমূহের (ছান্দিক পরিবর্তন) বিধান হলো: এগুলো মূলত আরুয (প্রথম চরণের শেষ অংশ) এবং যারব (দ্বিতীয় চরণের শেষ অংশ) ব্যতীত অন্য কোথাও ঘটে না; আর যখন এগুলো একবার ঘটে, তখন তা অপরিহার্য হয়ে যায়; ফলে কবিতার অবশিষ্ট অংশে কবির পক্ষে তা পরিহার করা বৈধ নয়।
(খণ্ড: ১)
আহদা সাবীল ইলা ইলমাইল খালীল
(পৃষ্ঠা: ১৭)
الزحافمدخل…الزحافلكونه مختصًّا بثواني الأسباب لا تراه يتناول من التفعيلة إلا الحرف الثاني، أو الرابع، أو الخامس، أو السابع؛ فهو لا يدخل الحرف الأول بداهةً، ولا الثالث؛ لأنه لا يكون إلا أول سبب أو وتد أو ثالث وتد، ولا السادس؛ لأنه إما أول سبب أو ثاني وتد؛ وذلك لأنه لا تتوالى ثلاثة أسباب في تفعيلة واحدة، فإن جاء فيها سبب فوتد: فمجموعهما خمسة أحرف، فيكون السادس أول سبب، وإن توالى فيها سببان: كان السادس ثاني وتد.وقد علمت فيما مضى، أن الزحاف يكون مفردًا ومزدوجًا.
জিহাফভূমিকা…জিহাফআসবাব-এর (সবব-এর বহুবচন) দ্বিতীয় বর্ণসমূহের সাথে সুনির্দিষ্ট হওয়ার কারণে আপনি তাফইলাহ-র মধ্যে দ্বিতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম অথবা সপ্তম বর্ণ ব্যতীত এটি অন্য কোনো বর্ণকে প্রভাবিত করতে দেখবেন না। সুতরাং এটি স্বভাবতই প্রথম বর্ণে প্রবেশ করে না এবং তৃতীয় বর্ণেও নয়; কারণ তা হয় কোনো সবব-এর প্রথম বর্ণ অথবা ওয়াতাদ-এর প্রথম বর্ণ কিংবা ওয়াতাদ-এর তৃতীয় বর্ণ। ষষ্ঠ বর্ণেও এটি প্রবেশ করে না; কারণ সেটি হয় কোনো সবব-এর প্রথম বর্ণ অথবা ওয়াতাদ-এর দ্বিতীয় বর্ণ। এর কারণ হলো, একটি তাফইলাহ-র মধ্যে তিনটি সবব কখনো পর্যায়ক্রমে আসে না। যদি তাতে একটি সবব-এর পর একটি ওয়াতাদ আসে, তবে তাদের সমষ্টি হবে পাঁচটি বর্ণ, ফলে ষষ্ঠ বর্ণটি হবে কোনো সবব-এর প্রথম বর্ণ। আর যদি তাতে দুটি সবব পর্যায়ক্রমে আসে, তবে ষষ্ঠ বর্ণটি হবে ওয়াতাদ-এর দ্বিতীয় বর্ণ।আপনি ইতিপূর্বে জেনেছেন যে, জিহাফ একক এবং দ্বৈত উভয় প্রকারেরই হয়ে থাকে।
(খণ্ড: ১)
আহদা সাবীল ইলা ইলমাইল খালীল
(পৃষ্ঠা: ১৭)
أ- الزحاف المفرد:سنتكلم عليه بحسب تعلقه بالحرف: ثانيًا، ورابعًا، وخامسًا، وسابعًا، فنقول:
ক- একক যিহাফ:আমরা অক্ষরের সাথে সংশ্লিষ্টতার ভিত্তিতে এটি নিয়ে আলোচনা করব: দ্বিতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম এবং সপ্তম; সুতরাং আমরা বলছি:
(খণ্ড: ১)
আহদা সাবীল ইলা ইলমাইল খালীল
(পৃষ্ঠা: ১৭)
في الحرف الثاني:إن كان متحركًا فسُكِّنَ: سُمي زحافه إضمارًا مثل: متفاعلن تصير متْفاعلن وتحول إلى مستفعلن.وإن كان متحركًا فحذف سُمي زحافه وقْصًا مثل: متفاعلن تصير مفاعلن.وإن كان ساكنًا فحذف سُمي زحافه خبنًا مثل: فاعلن، مستفعلن، مفعولات، تحذف الألف والسين والفاء فتصير: فعلن، ومتفعلن، فعولات، وتحول الأخيرتان إلى: مفاعلن، ومفاعيل.
দ্বিতীয় অক্ষরের ক্ষেত্রে:যদি অক্ষরটি হরকতযুক্ত হয় এবং পরে সাকিন করা হয়, তবে তার ‘জিহাফ’-কে ‘ইদমার’ বলা হয়। যেমন: ‘মুতাফা-ইলুন’ হয়ে যায় ‘মুত-ফা-ইলুন’ এবং তা ‘মুসতাফ-ইলুন’-এ রূপান্তরিত হয়।আর যদি অক্ষরটি হরকতযুক্ত হয় এবং পরে বিলুপ্ত করা হয়, তবে তার ‘জিহাফ’-কে ‘ওয়াক্বস’ বলা হয়। যেমন: ‘মুতাফা-ইলুন’ হয়ে যায় ‘মুফা-ইলুন’।আর যদি অক্ষরটি সাকিন হয় এবং পরে বিলুপ্ত করা হয়, তবে তার ‘জিহাফ’-কে ‘খাবন’ বলা হয়। যেমন: ‘ফা-ইলুন’, ‘মুসতাফ-ইলুন’, ‘মাফ-উ-লা-তু’। এক্ষেত্রে আলিফ, সিন এবং ফা বিলুপ্ত হয়ে যায়, ফলে সেগুলো যথাক্রমে ‘ফা-ইলুন’, ‘মুতাফ-ইলুন’ ও ‘ফাউ-লা-তু’-তে পরিণত হয় এবং শেষোক্ত দু’টি ‘মুফা-ইলুন’ ও ‘মাফা-ইলু’-তে রূপান্তরিত হয়।
(খণ্ড: ১)
আহদা সাবীল ইলা ইলমাইল খালীল
(পৃষ্ঠা: ১৮)
في الحرف الرابع:لا يكون الرابع إلا ساكنًا، ولا يحدث له إلا حذفه، ويسمى زحافه طَيًّا مثل: مستفعلن تحذف الفاء فتصير: مستعلن وتحول إلى مفتعلن، ومثل: مفعولات تحذف الواو فتصير مفعلات، ومثل: متفاعلن تحذف ألفه، واشترطوا مع حذفهما إضمار الثاني؛ لئلا تتوالى خمسة متحركات؛ وهو ممتنع في الشعر العربي فتصير متفعلن وتحول إلى مفتعلن.
চতুর্থ বর্ণের ক্ষেত্রে:চতুর্থ বর্ণটি কেবল সাকিন (স্থির) হয়ে থাকে এবং এর ক্ষেত্রে কেবল বিলোপনই ঘটে। এর ছন্দোবদলকে (যিহাফ) 'ত্বয়' বলা হয়। যেমন: 'মুস্তাফইলুন' থেকে 'ফা' বিলুপ্ত হয়ে যায়, ফলে তা 'মুস্তাইলুন'-এ পরিণত হয় এবং একে 'মুফতাইদুন'-এ রূপান্তরিত করা হয়। এবং যেমন: 'মাফঊলাতু' থেকে 'ওয়াও' বিলুপ্ত হয়ে যায়, ফলে তা 'মাফআলাতু'-তে পরিণত হয়। এবং যেমন: 'মুতাফাইলুন' এর 'আলিফ' বিলুপ্ত হয়; আর তারা এই বিলোপনের সাথে দ্বিতীয় বর্ণের 'ইযমার' (সাকিন করা)-এর শর্তারোপ করেছেন, যাতে পরপর পাঁচটি হরকতবিশিষ্ট (স্বরযুক্ত) বর্ণ না আসে, যা আরবি কবিতায় নিষিদ্ধ। ফলে তা 'মুতাফইলুন' হয়ে যায় এবং 'মুফতাইদুন'-এ রূপান্তরিত হয়।
(খণ্ড: ১)
আহদা সাবীল ইলা ইলমাইল খালীল
(পৃষ্ঠা: ১৮)
في الحرف الخامس:يدخله الزحاف بثلاثة اعتبارات: بحذفه ساكنًا ويسمّى قبضًا مثل: فعولن تصير فعول، ومفاعيل، تصير: مفاعلن.وبحذفه متحركًا ويسمى عقلًا مثل: مفاعلتن تحذف لامها فتصير مفاعتن وتحول إلى مفاعلن.وبتسكينه متحركًا، ويسمّى عصبًا مثل مفاعلتن تصير مفاعلْتن وتحول إلى مفاعيلن.
পঞ্চম বর্ণের ক্ষেত্রে:এতে তিনভাবে জিহাফ (ছান্দিক পরিবর্তন) প্রবেশ করে: একে সাকিন অবস্থায় বিলুপ্ত করার মাধ্যমে, যাকে ‘কাবদ’ বলা হয়; যেমন: ‘ফাউলুন’ পরিবর্তিত হয়ে ‘ফাউলু’ হয় এবং ‘মাফাইলুন’ পরিবর্তিত হয়ে ‘মাফাইলুন’ হয়।একে হরকতযুক্ত অবস্থায় বিলুপ্ত করার মাধ্যমে, যাকে ‘আকল’ বলা হয়; যেমন: ‘মাফাআলাতুন’-এর ‘লাম’ বর্ণটি বিলুপ্ত হয়ে যায়, ফলে তা ‘মাফাআতুন’ হয় এবং তা ‘মাফাইলুন’-এ রূপান্তরিত হয়।একে হরকতযুক্ত অবস্থায় সাকিন করার মাধ্যমে, যাকে ‘আসব’ বলা হয়; যেমন: ‘মাফাআলাতুন’ পরিবর্তিত হয়ে ‘মাফাআলতুন’ হয় এবং তা ‘মাফাইলুন’-এ রূপান্তরিত হয়।
(খণ্ড: ১)
আহদা সাবীল ইলা ইলমাইল খালীল
(পৃষ্ঠা: ১৮)
في الحرف السابع:لا يدخله الزحاف إلا إذا كان ساكنًا فيحذف ويسمّى كَفًّا مثل: نون مفاعيلن فتصير مفاعيل، ومثل: نون فاعلاتن فتصير فاعلاتُ، ونون مستفعلن فتصير مستفع ل، ونون فاع لاتن فتصير فاع لاتُ.
সপ্তম বর্ণের ক্ষেত্রে:এতে যিহাফ (ছন্দবিচ্যুতি) প্রবেশ করে না যদি না সেটি সাকিন (ব্যঞ্জনবর্ণ) হয়; এমতাবস্থায় তা বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং একে 'কাফফ' বলা হয়। যেমন: 'মাফাই-লুন'-এর নূন বর্ণ, যা 'মাফাই-লু'-তে পরিণত হয়; এবং যেমন: 'ফায়িলাতুন'-এর নূন বর্ণ, যা 'ফায়িলাতু'-তে পরিণত হয়; এবং 'মুসতাফইলুন'-এর নূন বর্ণ, যা 'মুসতাফইলু'-তে পরিণত হয়; এবং 'ফায়ি লাতুন'-এর নূন বর্ণ, যা 'ফায়ি লাতু'-তে পরিণত হয়।
(খণ্ড: ১)
আহদা সাবীল ইলা ইলমাইল খালীল
(পৃষ্ঠা: ১৮)
تمارين1تمرين-5…تمرين -51- اخبن التفاعيل الآتية:فاعلن. مستفعلن. مفعولات. فاعلاتن.ب- اقبض: فعولن. مفاعيلن. وكُف: مفاعيلن. فاعلاتن.ج- أدخل على التفاعيل الآتية ما يجوز إدخاله عليها من الزحاف:مستفعلن. مفعولات. مستفع لن. مفاعلتن.
অনুশীলনী ১অনুশীলন ৫...অনুশীলন ৫১- নিচের রুকনগুলোতে খাবন (Khabn) প্রক্রিয়া প্রয়োগ করো:ফা’ইলুন। মুস্তাফ’ইলুন। মাফ’উলাতু। ফা’ইলাতুন।খ- কাবদ (Qabd) প্রয়োগ করো: ফাউলুন। মাফাই’লুন। এবং কাফফ (Kaff) প্রয়োগ করো: মাফাই’লুন। ফা’ইলাতুন।গ- নিচের রুকনগুলোতে যে সকল জিহাফ (Zihaf) প্রবেশ করানো বৈধ তা প্রয়োগ করো:মুস্তাফ’ইলুন। মাফ’উলাতু। মুস্তাফ’ই লুন। মুফায়ালাতুন।
(খণ্ড: ১)
আহদা সাবীল ইলা ইলমাইল খালীল
(পৃষ্ঠা: ১৮)
تمارين-6…تمرين -6زن الأبيات الآتية وبين ما سلم من تفاعيلها وما جرى عليه نوع من
অনুশীলনী-৬…অনুশীলনী-৬নিম্নোক্ত পংক্তিগুলোর ওজন নির্ণয় করো এবং এগুলোর তফায়িলসমূহের (ছন্দোমাত্রা) মধ্যে কোনটি নিরাপদ বা ত্রুটিমুক্ত রয়েছে এবং কোনটির ওপর কোনো প্রকারের (বিকার বা পরিবর্তন) আপতিত হয়েছে তা বর্ণনা করো।
(খণ্ড: ১)
আহদা সাবীল ইলা ইলমাইল খালীল
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الزحاف مع تسمية ذلك النوع1:جعلتك في القلب لي عدَّة … لأنك في اليد لا تجعلأرى كلَّنا يبغي الحياة لنفسه … حريصًا عليها مستهامًا بها صَبًّاأما تَرَى الليل قَدْ ولَّت عساكره … وأقبل الصبح في جيش له لَجَبِ
--------------------------------------------
1 قد يتعثر الطالب فيجمع في البيت الواحد تفاعيل لا تجتمع فيه، ولكن لا بأس بذلك، فالقصد هو مجرد التمرين، ومع ذلك يحسن بالمعلم إرشاده إلى التوفيق بين التفاعيل حتى لا يجمع منها ما لا يجتمع.
জ্যিহাফ এবং সেই প্রকারের নামকরণ ১:আমি তোমাকে হৃদয়ে আমার সম্বল হিসেবে রেখেছি … কারণ তোমাকে হাতে রাখা যায় নাআমি দেখছি আমাদের সবাই নিজের জন্য জীবন চায় … এর প্রতি অতি লোলুপ, এতে মোহাবিষ্ট ও অনুরাগী হয়েতুমি কি দেখছ না যে রাতের বাহিনী প্রস্থান করেছে … আর সকাল উপস্থিত হয়েছে তার এক কোলাহলপূর্ণ সৈন্যদল নিয়ে
--------------------------------------------
১ ছাত্র হয়তো হোঁচট খেয়ে এক চরণে এমন কিছু ছন্দ-অংশ (তাফাঈল) একত্রিত করে ফেলতে পারে যা তাতে একত্রিত হয় না, তবে এতে কোনো সমস্যা নেই, কারণ উদ্দেশ্য হলো স্রেফ অনুশীলন। তা সত্ত্বেও শিক্ষকের উচিত তাকে ছন্দ-অংশগুলোর মধ্যে সামঞ্জস্য বিধানের দিকনির্দেশনা দেওয়া, যাতে সে এমন কিছু একত্রিত না করে যা একত্রিত হয় না।
(খণ্ড: ১)
আহদা সাবীল ইলা ইলমাইল খালীল
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الزحاف المزدوج:سُمِّي مزدوجًا لاجتماع نوعين من الزحاف المفرد في تفعيلة واحدة. وهو أربعة أنواع:1- الْخَبْل: وهو اجتماع الخبن مع الطي، مثل: مستفعلن تحذف سينها وفاؤها فتصير مُتَعِلُن، وتحول إلى فَعَلَتُنْ، ومثل: مفعولات تحذف فاؤها وواوها فتصير مَعِلاتُ وتحول إلا فَعِلات. ولا يدخل غير هاتين التفعيلتين.2- الْخَزْل: وهو اجتماع الإضمار مع الطي مثل: متفاعلن تسكن تاؤه وتحذف ألفه فتصير مُتفعلن وتحول إلى مفتعلن ولا يدخل غيرها.3- الشَّكْل: وهو اجتماع الخبن والكف مثل: فاعلاتن تحذف ألفها الأولى ونونها فتصير فَعِلات. ومستفع لن تحذف سينها ونونها فتصير متفع لن ولا يدخل غيرهما.4- النَّقْص: وهو اجتماع العَصْب مع الكف مثل: مفاعلتن تسكن لامها وتحذف نونها فتصير مفاعلْت وتحول إلى مفاعيل، وهو لا يدخل غيرها.
দ্বৈত যিহাফ:একটি তাফঈলায় (ছন্দের রুকন) দুই প্রকারের একক যিহাফ একত্রিত হওয়ার কারণে একে 'দ্বৈত' (মুতদাওয়াজ) নামকরণ করা হয়েছে। এটি চার প্রকারের:১- আল-খাবল: এটি হলো খাবন ও তই-এর সমষ্টি। যেমন: 'মুসতাফইলুন'-এর 'সিন' এবং 'ফা' বিলুপ্ত হওয়া, ফলে এটি 'মুতাইলুন'-এ পরিণত হয় এবং 'ফায়ালাতুন'-এ রূপান্তরিত হয়। অনুরূপভাবে 'মাফঊলাতু' থেকে 'ফা' এবং 'ওয়াও' বিলুপ্ত হওয়া, ফলে এটি 'মায়িলাতু'-এ পরিণত হয় এবং 'ফায়িলাত'-এ রূপান্তরিত হয়। এই দুটি তাফঈলা ব্যতীত এটি অন্য কোথাও ঘটে না।২- আল-খাযল: এটি হলো ইদমার ও তই-এর সমষ্টি। যেমন: 'মুতাফাইিলুন'-এর 'তা' অক্ষরকে সাকিন (স্বরহীন) করা এবং এর 'আলিফ' বিলুপ্ত করা, ফলে এটি 'মুত্-ফাইলুন'-এ পরিণত হয় এবং 'মুফতাইিলুন'-এ রূপান্তরিত হয়। এটি কেবল এই তাফঈলাতেই ঘটে।৩- আশ-শাকল: এটি হলো খাবন ও কাফফ-এর সমষ্টি। যেমন: 'ফাইলাতুন'-এর প্রথম 'আলিফ' এবং 'নুন' বিলুপ্ত হওয়া, ফলে এটি 'ফায়িলাতু'-এ পরিণত হয়। এবং 'মুসতাফউ-লুন'-এর 'সিন' ও 'নুন' বিলুপ্ত হওয়া, ফলে এটি 'মুতাফউ-লু'-এ পরিণত হয়। এই দুটি ব্যতীত অন্য কোথাও এটি ঘটে না।৪- আন-নাকস: এটি হলো আসব ও কাফফ-এর সমষ্টি। যেমন: 'মুফায়ালাতুন'-এর 'লাম' অক্ষরকে সাকিন করা এবং এর 'নুন' বিলুপ্ত করা, ফলে এটি 'মুফায়ালত'-এ পরিণত হয় এবং 'মুফায়ীল'-এ রূপান্তরিত হয়। এটি কেবল এই তাফঈলাতেই ঘটে।