(খণ্ড: ১) আল-ফাসলু লিল ওয়াসলিল মুদরাজ ফিন নাকল (পৃষ্ঠা: -)
الفصل للوصل المدرج في النقل   (الخطيب البغدادي)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: الفصل للوصل المدرج في النقل

المؤلف: أبو بكر أحمد بن علي بن ثابت البغدادي (ت 463 هـ)

المحقق: محمد بن مطر [بن عثمان] الزهراني

أصل التحقيق: رسالة دكتوراة، الجامعة الإسلامية بالمدينة النبوية، بإشراف د أكرم ضياء العمري 1407 هـ

الناشر: دار الهجرة

الطبعة: الأولى، 1418 هـ - 1997 م

عدد الأجزاء: 2 (متسلسلة الترقيم)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

বর্ণনায় প্রক্ষিপ্ত বিষয় পৃথকীকরণ ও সংযুক্তকরণ   (আল-খাতিব আল-বাগদাদি)

বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র


গ্রন্থ: বর্ণনায় প্রক্ষিপ্ত বিষয় পৃথকীকরণ ও সংযুক্তকরণ

লেখক: আবু বকর আহমদ বিন আলী বিন সাবিত আল-বাগদাদি (মৃত্যু ৪৬৩ হিজরি)

সম্পাদক: মুহাম্মদ বিন মাতার [বিন উসমান] আল-জহরানি

সম্পাদনার উৎস: পিএইচডি থিসিস, মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, ড. আকরাম জিয়া আল-উমরির তত্ত্বাবধানে ১৪০৭ হিজরি

প্রকাশক: দার আল-হিজরাহ

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৮ হিজরি - ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ২ (ধারাবাহিক নম্বরযুক্ত)

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির সাথে সংগতিপূর্ণ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১ হিজরি

(খণ্ড: ১) আল-ফাসলু লিল ওয়াসলিল মুদরাজ ফিন নাকল (পৃষ্ঠা: ৭)
بسم الله الرحمن الرحيم

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له.

وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله صلى الله عليه وسلم، أما بعد:

فإن من أعظم نعم الله عليّ - وهي كثيرة - بعد نعمة الإسلام أن يسر لي طلب العلم، ومن جميل فضله سبحانه وتعالى أن وفقني للتخصص في قسم السنة بالدراسات العليا بالجامعة الإسلامية بالمدينة النبوية - حرسها الله -.

وقد كان عملي في رسالة الماجستير هو تحقيق ودراسة كتاب السابق واللاحق للحافظ أبي بكر أحمد بن علي الخطيب البغدادي، وكنت أثناء تحقيق هذا الكتاب ازداد كل يوم إعجابًا بالمؤلف رحمه الله وبشخصيته الناقدة الفذة، وكنت كل لحظة ازداد يقينًا بقول الحافظ ابن نقطة ومن بعده الحافظ ابن حجر - في مقدمة النزهة -: " كل من أنصف علم أن المحدثين بعد الخطيب عيال على كتبه في الحديث وعلومه ".

ولهذا كنت حريصًا كل الحرص على أن أستمر مع الخطيب البغدادي في مرحلة الدكتوراه فما إن انتهيت من الماجستير حتى بادرت بالبحث والتفتيش بين مؤلفات الخطيب لعلي أن أظفر بما يتناسب ومرحلة
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল, তাঁর উপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। অতঃপর:

ইসলামের নিআমতের পর আমার উপর আল্লাহর অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিআমত—যা অসংখ্য—হল যে তিনি আমার জন্য ইলম অর্জন সহজ করে দিয়েছেন। আর মহান আল্লাহর সুন্দর অনুগ্রহের একটি হলো যে, তিনি আমাকে মদীনা নববীস্থ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের—আল্লাহ একে রক্ষা করুন—উচ্চতর শিক্ষা স্তরে সুন্নাহ বিভাগে বিশেষায়িত গবেষণার তাওফিক দান করেছেন।

আমার মাস্টার্স থিসিসের কাজ ছিল হাফেজ আবু বকর আহমদ বিন আলী আল-খতিব আল-বাগদাদীর 'আস-সাবিক ওয়াল লাহেক' কিতাবটির তাহকিক ও গবেষণা। এই কিতাবটি সম্পাদনা করার সময় প্রতিদিন লেখকের (রহিমাহুল্লাহ) প্রতি এবং তাঁর অনন্য ও নিপুণ সমালোচনামূলক ব্যক্তিত্বের প্রতি আমার মুগ্ধতা বৃদ্ধি পাচ্ছিল। আমি প্রতিটি মুহূর্তে হাফেজ ইবনে নুকতাহ এবং তাঁর পরবর্তী হাফেজ ইবনে হাজার—নুজহাতুন নাযারের ভূমিকায়—যে উক্তিটি করেছেন সেটির প্রতি উত্তরোত্তর নিশ্চিত হচ্ছিলাম: "যে ব্যক্তিই ইনসাফ করবে সে জানতে পারবে যে, খতিবের পরবর্তী সকল মুহাদ্দিস হাদিস এবং হাদিস বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে তাঁর কিতাবসমূহের মুখাপেক্ষী।"

এই কারণেই আমি ডক্টরেট পর্যায়েও খতিব আল-বাগদাদীর সাথেই কাজ চালিয়ে যেতে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলাম। তাই মাস্টার্স শেষ করার সাথে সাথেই আমি খতিবের রচনাবলির মধ্যে অনুসন্ধান ও তালাশ শুরু করি যাতে এই স্তরের উপযোগী কোনো বিষয় আমি অর্জন করতে পারি।
(খণ্ড: ১) আল-ফাসলু লিল ওয়াসলিল মুদরাজ ফিন নাকল (পৃষ্ঠা: ৮)
الدكتوراه من حيث الحجم، ولم يطل بي البحث كثيرًا، فقد قدم فضيلة شيخي المشرف الدكتور/ أكرم العمري - جزاه الله خيرًا – خدمة جليلة لطلبة العلم، وذلك بما كتبه عن الخطيب ومصنفاته في مقدمة كتابه موارد الخطيب البغدادي في تاريخ بغداد.

وقد وقع اختياري على كتاب " الفصل للوصل المدرج في النقل " وذلك للأسباب التالية:

1 - مكانة المؤلف رحمه الله العلمية.

2 - الأهمية العلمية لهذا السفر العظيم لما يتضمنه من المعلومات الغزيرة في فنه.

3 - ولأنه الكتاب الوحيد في فنه فيما أعلم باستثناء كتاب الحافظ ابن حجر ((تقريب المنهج)) وهو مفقود، وكتاب السيوطي وهو مختصر جدا.

لهذا الأسباب كلها وقع اختياري على هذا الكتاب لهذا العالم الجهبذ، وقد بذلت جهدي في خدمة هذا الكتاب تحقيقًا ودراسة، وإنني لأرجو أن أكون قد وفيت أو قاربت بالصورة التي يجب أن يكون إخراجه عليها.

هذا وقد قدمت لهذا الكتاب بمقدمة اشتملت على قسمين:

الأول: عن المدرج وأنواعه وحكمه ومهدت لذلك بدعوة إلى إحياء المنهج النقدي عند المحدثين.

الثاني: تضمن ترجمة موجزة جدا عن المؤلف، ودراسة عن الكتاب وموضوعه، ثم أعقبت ذلك ببيان منهجي في
ডক্টরেট গবেষণার আয়তনের দিক থেকে, আর আমার অনুসন্ধান খুব বেশি দীর্ঘ হয়নি, কেননা আমার শ্রদ্ধেয় তত্ত্বাবধায়ক শাইখ ডক্টর আকরাম আল-উমারি -আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন- ইলম অন্বেষণকারীদের এক মহান সেবা প্রদান করেছেন; আর তা হলো, তিনি তাঁর ‘মাওয়ারিদ আল-খতিব আল-বাগদাদি ফি তারিখ বাগদাদ’ গ্রন্থের ভূমিকায় আল-খতিব এবং তাঁর রচনাবলি সম্পর্কে যা লিখেছেন তার মাধ্যমে।

আর আমি ‘আল-ফাসল লিল-ওয়াসল আল-মুদরাজ ফি আন-নাকল’ গ্রন্থটি বেছে নিয়েছি নিম্নোক্ত কারণসমূহের জন্য:

১ - লেখকের (রহিমাহুল্লাহ) ইলমি মর্যাদা।

২ - এই মহান গ্রন্থের ইলমি গুরুত্ব, যেহেতু এটি তার বিষয়ের প্রচুর তথ্যাদি ধারণ করে আছে।

৩ - কারণ আমার জানামতে এটিই এই বিষয়ের একমাত্র গ্রন্থ, হাফেজ ইবনে হাজারের ‘তাকরিব আল-মানহাজ’ ব্যতীত যা হারিয়ে গিয়েছে এবং সুয়ূতির গ্রন্থ যা অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত।

এই সকল কারণেই এই বিদগ্ধ পণ্ডিতের এই গ্রন্থটি আমি নির্বাচন করেছি। আমি এই গ্রন্থের তাহকিক ও পর্যালোচনার ক্ষেত্রে আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা ব্যয় করেছি এবং আমি আশা করি যে, এটি যেভাবে প্রকাশ করা উচিত ছিল সেভাবে অথবা তার কাছাকাছি রূপে আমি তা সম্পন্ন করতে পেরেছি।

আমি এই গ্রন্থের শুরুতে একটি ভূমিকা পেশ করেছি যা দুটি অংশে বিভক্ত:

প্রথম: ‘মুদরাজ’, এর প্রকারভেদ ও এর বিধান সম্পর্কে। এর ভূমিকা স্বরূপ আমি মুহাদ্দিসগণের সমালোচনামূলক পদ্ধতি পুনরুজ্জীবিত করার আহ্বান জানিয়েছি।

দ্বিতীয়: লেখকের একটি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত জীবনী এবং গ্রন্থ ও এর বিষয়বস্তু সম্পর্কে আলোচনা। এরপর আমি আমার অনুসৃত পদ্ধতির বর্ণনার মাধ্যমে বিষয়টি অনুসরণ করেছি...
(খণ্ড: ১) আল-ফাসলু লিল ওয়াসলিল মুদরাজ ফিন নাকল (পৃষ্ঠা: ৯)
وفي الختام أتقدم بخالص الشكر والتقدير لشيخي وأستاذي الجليل الدكتور/ أكرم ضياء العُمَري – حفظه الله ووفقه – فقد كان مربيًا وموجهًا منذ عرفته في السنة المنهجية في الماجستير، ثم إشرافه عليّ في الماجستير والدكتوراه، فجزاه الله عني خير الجزاء.

كما أتقدم بالشكر والدعاء لكل من ساعدني أو قدم لي خدمة في أثناء عملي في هذا الكتاب وعلى رأس هؤلاء فضيلة شيخنا الجليل أبي عبد الباري حماد بن محمد الأنصاري – حفظه الله -.

والحمد لله الذي بنعمه تتم الصالحات، وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.
পরিশেষে আমি আমার শ্রদ্ধেয় শাইখ ও শিক্ষক ডক্টর আকরাম যিয়া আল-উমারী —আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন ও তাওফীক দান করুন— এর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। মাস্টার্সের পদ্ধতিগত বছর থেকে যখন থেকে তাঁকে চিনি, তখন থেকেই তিনি একজন অভিভাবক ও পথপ্রদর্শক হিসেবে ছিলেন; এরপর মাস্টার্স ও পিএইচডিতেও তিনি আমার গবেষণার তত্ত্বাবধান করেছেন। আল্লাহ তাঁকে আমার পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।

সেই সাথে আমি তাঁদের প্রত্যেকের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও দোয়া পেশ করছি, যাঁরা এই কিতাবের কাজ চলাকালীন আমাকে সাহায্য করেছেন কিংবা কোনো সহযোগিতা প্রদান করেছেন। তাঁদের মধ্যে সর্বাগ্রে রয়েছেন আমাদের শ্রদ্ধেয় শাইখ আবু আব্দিল বারী হাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ আল-আনসারী —আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন।

আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যাঁর অনুগ্রহে নেক কাজসমূহ পূর্ণতা লাভ করে। আমাদের শেষ কথা হলো, সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
(খণ্ড: ১) আল-ফাসলু লিল ওয়াসলিল মুদরাজ ফিন নাকল (পৃষ্ঠা: ১০)
دعوة إلى إحياء المنهج النقدي عند المحدثين

قد ختم الله رسله وأنبياءه بمحمد رسول الله صلى الله عليه وسلم كما ختم برسالته جميع الرسالات السماوية، وأنزل عليه القرآن الكريم الذي لا يأتيه الباطل من بين يديه ولا من خلفه، وجعله منهج حياة ومشعل هدى للناس منذ أُنزِل إلى أن يرث الله الأرض ومن عليها. كما أتاه مع القرآن مثله من السنة المطهرة التي هي المبينة للقرآن والمفصلة لما أجمل فيه.

وقد تكفل الله تعالى بحفظ كتابه فقال عز وجل: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} [الحجر: 9].

كما وفق بمنه وفضله أئمة الهدى وقدوة الأنام من الصحابة الكرام وتابعيهم بإحسان ممن جاء بعدهم من أهل السنة والجماعة لخدمة السنة النبوية الشريفة وذب الكذب عنها، فبذلوا جهدهم وكل ما في وسعهم لذب الكذب عن رسول الله صلى الله عليه وسلم وبيان الصحيح من السقيم مما ينسب إليه من الأحاديث.

وقعدوا لذلك قواعد لنقد الأسانيد والمتون وفق منهج علمي دقيق لا مثيل له عند الأمم الأخرى.

إن هذا المنهج المتفرد الذي لم يكن لأمة من الأمم قبل أمة محمد صلى الله عليه وسلم
মুহাদ্দিসগণের সমালোচনামূলক পদ্ধতির পুনর্জীবনের আহ্বান

আল্লাহ তাআলা তাঁর সকল রাসূল ও নবীকে আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মাধ্যমে সমাপ্ত করেছেন, যেমন তিনি তাঁর রিসালাতের মাধ্যমে পূর্ববর্তী সকল আসমানী রিসালাতসমূহকে সমাপ্ত করেছেন। তিনি তাঁর উপর আল-কুরআনুল কারীম অবতীর্ণ করেছেন যার সামনে বা পেছন থেকে কোনো প্রকার বাতিল আসতে পারে না। তিনি এটিকে একটি জীবন বিধান এবং মানুষের হিদায়াতের আলোকবর্তিকা বানিয়েছেন যেদিন থেকে এটি অবতীর্ণ হয়েছে সেদিন থেকে নিয়ে আল্লাহ যতদিন যমীন এবং তার উপর যা কিছু আছে তার উত্তরাধিকারী থাকবেন। তেমনিভাবে তিনি তাঁকে কুরআনের সাথে এর অনুরূপ পবিত্র সুন্নাহও দান করেছেন, যা কুরআনের ব্যাখ্যাকারী এবং এতে যা সংক্ষেপে বর্ণনা করা হয়েছে তার বিস্তারিত বিবরণ দানকারী।

আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাব সংরক্ষণের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। মহান আল্লাহ বলেছেন: "নিশ্চয়ই আমি যিকর অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষক।" [হিজর: ৯]।

তেমনিভাবে তিনি আপন অনুগ্রহ ও দয়ায় হিদায়াতের ইমাম এবং মানুষের অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব অর্থাৎ সম্মানিত সাহাবায়ে কিরাম এবং ইহসানের সাথে তাঁদের অনুসারী আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের উত্তরসূরীদের তাওফীক দান করেছেন মহান সুন্নাহর খিদমত করতে এবং এর থেকে মিথ্যা দূর করতে। তাই তারা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি আরোপিত মিথ্যাসমূহ দূর করতে এবং তাঁর দিকে সম্বন্ধযুক্ত হাদীসসমূহের মধ্য থেকে সহীহ ও দুর্বলগুলোকে স্পষ্ট করতে তাদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা ও সামর্থ্য ব্যয় করেছেন।

তারা এর জন্য সনদ ও মতনের সমালোচনার এমন সব মূলনীতি নির্ধারণ করেছেন যা এক নিখুঁত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুযায়ী পরিচালিত, অন্য কোনো জাতির কাছে যার কোনো নজির নেই।

নিশ্চয়ই এই অনন্য পদ্ধতিটি যা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উম্মতের পূর্বে অন্য কোনো জাতির কাছে ছিল না
(খণ্ড: ১) আল-ফাসলু লিল ওয়াসলিল মুদরাজ ফিন নাকল (পৃষ্ঠা: ১১)
صار ميزة لها بين الأمم كما مُيّزت من قبل بعقيدة وشريعة لم تكن في كمالها وصفائها وسماحتها لأمة من الأمم.

هذا المنهج العلمي الدقيق قد شرق به أعداء هذه الأمة من اليهود والنصارى والمجوس كما شرقوا من قبل بعقيدتها وشريعتها.

فذهبوا يطعنون على هذه الأمة في دينها وفي عقيدتها وأخيرا في منهج خير القرون في تلقي السنة النبوية المطهرة قاصدين بذلك النيل من هذا الدين. فقالوا: "إن المحدثين صبوا جُلَّ اهتمامهم في النقد الخارجي للحديث – يعني الأسانيد – وهذا أمر شكلي "، وقالوا: " إن المحدثين لم يكن لهم منهج محدد دقيق في نقد متون الحديث إذ نجدهم يروون أحاديث في كتبهم ويتناقلونها فيما بينهم وهي إما تتعارض مع الواقع وتتعارض مع العقل أو تتعارض مع نصوص أخرى … إلى غير ذلك من الاعتراضات التي سودوا بها كتبهم …

وهذه المقالة التي رددها في هذا العصر المستشرقون من اليهود والنصارى وعلى رأسهم شيخهم وإمامهم جولد تسهير المستشرق المجري اليهودي.

وقلدهم في ذلك أذنابهم من أبناء جلدتنا الذين تربوا في أحضان أولئك المستشرقين ثم جاءوا إلينا ليدسوا السم في العسل، فيطعنوا في عقيدتنا ويطعنوا في منهج خير القرون.

وعلى رأس هؤلاء: طه حسين، وأحمد أمين، ومحمود أبو رية(1)

--------------------------------------------

(1). انظر ما سطره طه حسين في كتابه الشعر الجاهلي، وأحمد أمين في فجر الإسلام، وضحى الإسلام، وأبو رية في كتابه أضواء على السنة المحمدية.

এটি জাতিসমূহের মধ্যে উম্মাহর জন্য একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়েছে, ঠিক যেমন এর আগে এটি এমন এক আকিদা ও শরীয়তের মাধ্যমে স্বতন্ত্র হয়েছিল যা এর পূর্ণতা, স্বচ্ছতা ও উদারতায় অন্য কোনো জাতির জন্য ছিল না।

এই সূক্ষ্ম বৈজ্ঞানিক কর্মপদ্ধতির কারণে এই উম্মাহর শত্রু ইহুদি, নাসারা ও মাজুসিরা মর্মপীড়ায় ভুগেছে, ঠিক যেমন তারা আগে এর আকিদা ও শরীয়তের কারণে মর্মপীড়ায় ভুগেছিল।

ফলে তারা এই উম্মাহর দ্বীন ও আকিদার ওপর এবং পরিশেষে পবিত্র সুন্নাহ গ্রহণের ক্ষেত্রে সর্বোত্তম প্রজন্মের কর্মপদ্ধতির ওপর আক্রমণ করতে শুরু করল, যার মাধ্যমে তাদের উদ্দেশ্য ছিল এই দ্বীনের ক্ষতিসাধন করা। তারা বলল: "মুহাদ্দিসগণ হাদিসের বাহ্যিক পর্যালোচনার ওপরই—অর্থাৎ সনদসমূহের ওপর—তাদের প্রায় সকল মনোযোগ নিবদ্ধ করেছেন এবং এটি একটি বাহ্যিক বিষয় মাত্র।" তারা আরও বলল: "হাদিসের মতন (মূল পাঠ) পর্যালোচনার ক্ষেত্রে মুহাদ্দিসদের কোনো নির্দিষ্ট ও সূক্ষ্ম কর্মপদ্ধতি ছিল না, কারণ আমরা দেখি তারা তাদের কিতাবসমূহে এমন সব হাদিস বর্ণনা করেন এবং নিজেদের মধ্যে আদান-প্রদান করেন যা হয় বাস্তবতার সাথে সাংঘর্ষিক, অথবা যুক্তির সাথে সাংঘর্ষিক কিংবা অন্য দলিলের সাথে সাংঘর্ষিক … এছাড়াও আরও অন্যান্য আপত্তি যার মাধ্যমে তারা তাদের কিতাবসমূহ কলুষিত করেছে …

আর এটিই সেই বক্তব্য যা বর্তমান যুগে ইহুদি ও নাসারা প্রাচ্যবিদরা বারবার আউড়িয়েছে, যাদের শীর্ষে রয়েছে তাদের শায়খ ও ইমাম হাঙ্গেরীয় ইহুদি প্রাচ্যবিদ গোল্ডজিহার।

আর এক্ষেত্রে তাদের অনুকরণ করেছে আমাদেরই একদল লোক যারা ঐসব প্রাচ্যবিদদের কোলে বেড়ে উঠেছে, অতঃপর তারা আমাদের কাছে এসেছে মধুতে বিষ মিশিয়ে দিতে, যাতে তারা আমাদের আকিদা এবং সর্বোত্তম প্রজন্মের কর্মপদ্ধতির ওপর আক্রমণ করতে পারে।

তাদের শীর্ষে রয়েছে: ত্বহা হুসাইন, আহমদ আমিন এবং মাহমুদ আবু রাইয়্যাহ(১)

--------------------------------------------

(১). ত্বহা হুসাইন তার ‘আশ-শিরুল জাহিলি’ কিতাবে, আহমদ আমিন তার ‘ফজরুল ইসলাম’ ও ‘দুহাল ইসলাম’ কিতাবে এবং আবু রাইয়্যাহ তার ‘আদওয়াউন আলাস সুন্নাতিল মুহাম্মাদিয়া’ কিতাবে যা লিখেছে তা দেখুন।

(খণ্ড: ১) আল-ফাসলু লিল ওয়াসলিল মুদরাজ ফিন নাকল (পৃষ্ঠা: ১২)
وغيرهم من أضرابهم.

وهذه المقولة ليست وليدة فكر جولد تسهير وأمثاله من المستشرقين بل هي دسيسة يهودية قديمة قدم الصراع بين هذه الرسالة الخاتمة وأعدائها من اليهود والنصارى والمجوس، فاليهود حملوا راية العداء لهذا الدين منذ فجره الأول فشككوا في رسالة محمد صلى الله عليه وسلم وأثاروا الشبه الباطلة حول رسالته.

ولما انتشر الإسلام وتوسعت الفتوحات الإسلامية في عهد الخلفاء الراشدين شرق اليهود والمجوس بهذه الانتصارات العظيمة التي حققها هذا الدين الحنيف فأخذوا يحيكون الدسائس والفتن للإسلام وأهله وعلى أيديهم نشأت الرافضة والخوارج والجهمية والمعتزلة وغيرهم من الفرق الكلامية.

فالروافض والخوارج من نتاج فتنة ابن سبأ اليهودي إذ هو مؤسس مذهب الرفض وكانت فتنته سبب في ظهور الخوارج المعارضين له ولأتباعه، والجهمية والمعتزلة وغيرهم من الفرق الكلامية وليدة سلسلة التعطيل الجهم بن صفوان عن الجعد بن درهم عن طالوت اليهودي عن خاله لبيد بن الأعصم اليهودي السامري.

فهذه الفرق يجمعها قاسم مشترك ألا وهو تحكيم عقولهم في دين الله وعبادتها من دون الله عز وجل.

حكموا عقولهم في تلقي السنة المطهرة، فردوا نصوصا صحيحة كثيرة بدعوى تعارضها مع عقولهم والحقيقة تعارضها مع أهوائهم.
এবং তাদের মতো অন্যান্যরা।

এই বক্তব্যটি গোল্ডজিহার এবং তার মতো অন্যান্য প্রাচ্যবিদদের চিন্তাপ্রসূত নয়, বরং এটি একটি প্রাচীন ইহুদি ষড়যন্ত্র যা এই চূড়ান্ত রিসালাত এবং তার শত্রু ইহুদি, খ্রিস্টান ও অগ্নিপূজকদের মধ্যকার সংঘাতের মতোই পুরনো। ইহুদিরা এই দ্বীনের সূচনালগ্ন থেকেই এর বিরুদ্ধে শত্রুতার পতাকা বহন করে আসছে; তারা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর রিসালাতের ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করেছে এবং তাঁর রিসালাত সম্পর্কে ভিত্তিহীন সংশয় ছড়িয়েছে।

যখন ইসলামের প্রসার ঘটল এবং খুলাফায়ে রাশিদীনের যুগে ইসলামি বিজয়সমূহ বিস্তৃত হলো, তখন ইহুদি ও অগ্নিপূজকরা এই সত্য দ্বীনের অর্জিত মহান বিজয়সমূহে ক্ষুব্ধ ও ইর্ষান্বিত হয়ে উঠল। ফলে তারা ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও ফিতনার জাল বুনতে শুরু করল। আর তাদের মাধ্যমেই রাফেজি, খারিজি, জাহমিয়া, মুতাজিলা এবং অন্যান্য কালামি দলগুলোর উদ্ভব ঘটে।

রাফেজি ও খারিজিরা হলো ইহুদি ইবনে সাবার ফিতনার ফসল, কেননা সেই হলো রাফয মতবাদের প্রতিষ্ঠাতা। তার ফিতনাই ছিল তার এবং তার অনুসারীদের বিরোধিতাকারী খারিজিদের আবির্ভাবের কারণ। আর জাহমিয়া, মুতাজিলা এবং অন্যান্য কালামি দলগুলো হলো আল্লাহর গুণাবলি অস্বীকারের (তাতীল) সেই ধারার ফসল যা জহম বিন সাফওয়ান গ্রহণ করেছিল জাদ বিন দিরহাম থেকে, সে তালুত ইহুদি থেকে এবং সে তার মামা সামেরী ইহুদি লাবীদ বিন আসম থেকে।

এই দলগুলোর মধ্যে একটি সাধারণ যোগসূত্র রয়েছে, আর তা হলো আল্লাহর দ্বীনের ক্ষেত্রে তাদের নিজেদের বুদ্ধিকে বিচারক নির্ধারণ করা এবং মহান আল্লাহর পরিবর্তে সেই বুদ্ধিরই উপাসনা করা।

তারা পবিত্র সুন্নাহ গ্রহণের ক্ষেত্রে নিজেদের বুদ্ধিকে প্রাধান্য দিয়েছে। ফলে তারা বুদ্ধির সাথে সাংঘর্ষিক হওয়ার অজুহাতে অনেক সহিহ দলিল প্রত্যাখ্যান করেছে, অথচ প্রকৃতপক্ষে সেগুলো ছিল তাদের খেয়াল-খুশির পরিপন্থী।
(খণ্ড: ১) আল-ফাসলু লিল ওয়াসলিল মুদরাজ ফিন নাকল (পৃষ্ঠা: ১৩)
هؤلاء حكموا عقولهم في دين الله فضلوا وأضلوا، وعين ما فعله أولئك فعله المستشرقون وأذنابهم من فلول المعتزلة المعاصرين.

ومنهج خير القرون في النقد – سندا ومتنا – مرتبط ارتباطا وثيقا بمنهجهم في العقيدة.

ومن أصول منهجهم في العقيدة الإيمان بأن القرآن كلام الله – عز وجل – نزل به الروح الأمين على رسول الله محمد صلى الله عليه وسلم.

ومن أصولهم الاعتقاد بأن رسول الله صلى الله عليه وسلم معصوم في أقواله وأفعاله، لأنه لا ينطق عن الهوى، وتجب طاعته فيما أمر وتصديقه فيما أخبر.

ويعتقدون أن الله قد أجرى على يدي نبيه صلى الله عليه وسلم بعض المعجزات وخوارق العادات، بل ومن أصول اعتقاد خير القرون أن العقل ليس له الوصاية على شرع الله بل هو تبع للشرع خاضع له.

ولا يمكن أن يعارض الشرع الصحيح الثابت عن الله ورسوله العقل السليم(1) من الهوى والزيغ.

أما المستشرقون من اليهود والنصارى فهم ابتداءًا ينكرون نبوة محمد صلى الله عليه وسلم وبالتالي ينكرون كل ما يترتب على ذلك من وحي ومعجزات.

ومن هنا جاء نقد المستشرقين لمناهج أئمة الحديث، وقولهم لقد توسع علماء الحديث في نقد أسانيد الأحاديث وأهملوا متونها.

ومن ثم جاء اعتقاد المستشرقين بأن كل حديث يخالف عقولهم غير

--------------------------------------------

(1). انظر ما كتبه ابن تيمية – رحمه الله – في كتابه درء تعارض العقل والنقل.

এরা আল্লাহর দ্বীনের ব্যাপারে নিজেদের বিবেককে বিচারক বানিয়েছে, ফলে তারা পথভ্রষ্ট হয়েছে এবং অন্যদেরও পথভ্রষ্ট করেছে। প্রাচ্যবিদরা এবং তাদের অনুসারী আধুনিক মুতাযিলাদের অবশিষ্টাংশ ঠিক সেই কাজই করেছে যা তারা করেছিল।

সনদ ও মতন—উভয় ক্ষেত্রেই সমালোচনার ব্যাপারে সর্বোত্তম প্রজন্মের (খায়রুল কুরুনের) মানহাজ বা পদ্ধতি তাদের আকিদাগত পদ্ধতির সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত।

আকিদার ক্ষেত্রে তাদের মানহাজের অন্যতম মূলনীতি হলো এই বিশ্বাস রাখা যে, কুরআন মহান আল্লাহর কালাম; যা রুহুল আমীন (জিবরাঈল আ.) রাসূলুল্লাহ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট নিয়ে অবতরণ করেছেন।

তাদের অন্যতম মূলনীতি হলো এই বিশ্বাস পোষণ করা যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কথা ও কাজে নিষ্পাপ; কারণ তিনি প্রবৃত্তির বশবর্তী হয়ে কথা বলেন না। তাঁর নির্দেশিত বিষয়ে তাঁর আনুগত্য করা এবং তাঁর সংবাদ দেওয়া বিষয়ে তাঁকে সত্য বলে বিশ্বাস করা অপরিহার্য।

তারা বিশ্বাস করেন যে, আল্লাহ তাঁর নবীর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাতে কিছু মুজিযা এবং অলৌকিক ঘটনা প্রকাশ করেছেন। বরং সর্বোত্তম প্রজন্মের আকিদাগত মূলনীতিসমূহের মধ্যে এটিও অন্তর্ভুক্ত যে, আল্লাহর শরীয়তের ওপর বিবেকের কোনো অভিভাবকত্ব নেই, বরং বিবেক শরীয়তের অনুগামী ও তার অনুগত।

আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে প্রমাণিত সঠিক শরীয়ত কখনোই প্রবৃত্তি ও বিচ্যুতি থেকে মুক্ত সুস্থ বিবেকের সাথে বিরোধপূর্ণ হতে পারে না।(১)

পক্ষান্তরে ইহুদি ও খ্রিস্টান প্রাচ্যবিদরা শুরু থেকেই মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়তকে অস্বীকার করে, ফলে এর ফলে অপরিহার্য ওহী এবং মুজিযাসমূহকেও তারা অস্বীকার করে।

এখান থেকেই হাদিসের ইমামগণের পদ্ধতির প্রতি প্রাচ্যবিদদের সমালোচনা উৎসারিত হয়েছে। তারা বলে থাকে যে, হাদিস বিশারদগণ হাদিসের সনদের সমালোচনায় অনেক বেশি শ্রম দিয়েছেন কিন্তু এর মতনের (মূল পাঠের) বিষয়টিকে অবহেলা করেছেন।

এরপর প্রাচ্যবিদদের মাঝে এই বিশ্বাসের জন্ম হয়েছে যে, যে হাদিসই তাদের বিবেকের পরিপন্থী হবে তা...

--------------------------------------------

(১). ইবনে তাইমিয়্যাহ—আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন—তাঁর 'দারউ তাআরুদিল আকলি ওয়ান নাকল' গ্রন্থে যা লিখেছেন তা দেখুন।

(খণ্ড: ১) আল-ফাসলু লিল ওয়াসলিল মুদরাজ ফিন নাকল (পৃষ্ঠা: ১৪)
صحيح، مع أن عقولهم ليست عقلا واحدا فيحتكم إليه بل إنها متناقضة ولا يضبطها ضابط والغريب أن هؤلاء المستشرقين – يهود ونصارى – يؤمنون بخرافات وأوهام لا يقبلها دين ولا عقل.

وليس هذا مجال الحديث عن تناقضات المستشرقين، فقد كفانا في ذلك وفصله جيداً الدكتور مصطفى السباعي في كتابه السنة ومكانتها في التشريع الإسلامي وكتاب الاستشراق والمستشرقون، وكذلك الدكتور مصطفى الأعظمي في كتابه، دراسات في الحديث النبوي، وكتاب منهج النقد عند المحدثين، وغير ذلك من الكتب التي كتبت في هذا المجال.

ومن هذا أيضا انطلق فلول المعتزلة وتلامذة المستشرقين يرددون قولهم، يجب تقديم العقل على النقل – أي الحديث النبوي الذي ثبتت صحته – عند التعارض وبشكل أكثر وضوحا، يجب تقديم أهوائهم وبدعهم على ما صح من حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم.

والقضية من أساسها ليست قضية توسع في نقد أسانيد الأحاديث وإهمال لنقد متونها.

وإنما هي قضية العقيدة الإسلامية التي شرق بها أعداؤها من يهود ونصارى ومجوس ومن أستن بسنتهم من أبناء جلدتنا.

القضية تكمن في تقديس المستشرقين وفلول المعتزلة المعاصرين للعقل وعبادتهم له من دون الله، وتقديمه على وحي الله إلى رسوله.

أما خير القرون من أهل السنة والجماعة فلم يجعلوا لعقولهم الوصاية على وحي الله بل عرفوا للعقل حقه ومهمته التي خلقه الله لها. فاعملوه
সঠিক, যদিও তাদের বুদ্ধি কোনো একটি ঐক্যবদ্ধ বুদ্ধি নয় যে সেটির নিকট বিচারপ্রার্থনা করা হবে; বরং তা স্ববিরোধী এবং এর কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রণকারী নেই। আর আশ্চর্যের বিষয় হলো যে, এই প্রাচ্যবিদরা—ইহুদি ও খ্রিস্টানরা—এমন সব কুসংস্কার ও অলীক ধারণায় বিশ্বাস করে যা কোনো ধর্ম বা বিবেক গ্রহণ করে না।

প্রাচ্যবিদদের স্ববিরোধিতা নিয়ে আলোচনা করার এটি উপযুক্ত স্থান নয়; এ বিষয়ে ডক্টর মুস্তফা আস-সিবাঈ তাঁর ‘আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা ফিত-তাশরিয়িল ইসলামি’ এবং ‘আল-ইস্তিশরাক ওয়াল মুস্তাশরিকুন’ গ্রন্থে আমাদের জন্য যথেষ্ট বর্ণনা করেছেন এবং বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। একইভাবে ডক্টর মুস্তফা আল-আজমি তাঁর ‘দিরাসাত ফিল হাদিসিন নাবাবি’ এবং ‘মানহাজুন নাকদ ইনদাল মুহাদ্দিসিন’ গ্রন্থে এবং এই ক্ষেত্রে লিখিত অন্যান্য গ্রন্থেও তা বর্ণনা করেছেন।

আর এখান থেকেই মুতাজিলাদের অবশিষ্টাংশ এবং প্রাচ্যবিদদের অনুসারীরা তাদের এই কথা পুনরাবৃত্তি করতে শুরু করেছে যে, বিরোধ দেখা দিলে আকলকে (বুদ্ধি) নকলের (বর্ণনা)—অর্থাৎ যে হাদিসের বিশুদ্ধতা প্রমাণিত—তার ওপর প্রাধান্য দিতে হবে। আরও স্পষ্টভাবে বললে, আল্লাহর রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সহিহ হাদিসের ওপর তাদের খেয়ালখুশি ও বিদআতকে প্রাধান্য দিতে হবে।

আর মূল বিষয়টি মূলত হাদিসের সনদের সমালোচনায় প্রসার ঘটানো এবং এর মতনের সমালোচনাকে অবহেলা করার কোনো বিষয় নয়।

বরং এটি হলো ইসলামি আকিদার বিষয়, যা এর শত্রুরা—ইহুদি, খ্রিস্টান, অগ্নিপূজক এবং আমাদের মধ্য থেকে যারা তাদের পথ অনুসরণ করেছে—সহ্য করতে পারেনি।

মূল সমস্যাটি নিহিত রয়েছে প্রাচ্যবিদদের এবং আধুনিক মুতাজিলাদের অবশিষ্টাংশের পক্ষ থেকে আকলকে পবিত্র জ্ঞান করা এবং আল্লাহকে বাদ দিয়ে সেটির ইবাদত করা এবং আল্লাহর রাসুলের প্রতি অবতীর্ণ ওহির ওপর সেটিকে প্রাধান্য দেওয়ার মধ্যে।

পক্ষান্তরে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের শ্রেষ্ঠ যুগের মনীষীগণ তাদের আকলকে আল্লাহর ওহির ওপর অভিভাবক হিসেবে নির্ধারণ করেননি, বরং তারা আকলের সেই মর্যাদা ও দায়িত্বকে চিনেছিলেন যেটির জন্য আল্লাহ একে সৃষ্টি করেছেন। সুতরাং তারা একে কাজে লাগিয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১) আল-ফাসলু লিল ওয়াসলিল মুদরাজ ফিন নাকল (পৃষ্ঠা: ১৫)
في مهمته تلك ولم يهملوه وبلغوه كما فعلت الصوفية، ولم يقدسوه كما فعل أهل الكلام من جهمية ومعتزلة وغيرهم.

منهج النقد عند المحدثين:

لقد توسع علماء الحديث في نقد الأسانيد حقاً، وهذه مفخرة من مفاخر ديننا، وميزة امتاز بها المسلمون عن غيرهم من الأمم حتى شهد بذلك الأعداء قبل الأصدقاء، ولكن دعوى تقصيرهم في نقد المتون أو عدم التوسع فيها، هذه دعوى يعوزها الدليل، ولعلي آتي بعد قليل على ذكر إشارات ونمازج لجهود المحدثين وغيرهم في هذا المجال على قدر ما يسمح به المجال في هذه العجالة، وإلا فالموضوع أوسع من ذلك(1).

وقد كتب في منهج نقد المتون عند المحدثين كل من:

1. الدكتور نور الدين عتر في كتابه ((منهج النقد في علوم الحديث)).

2. الدكتور مصطفى الأعظمي في كتابه ((منهج النقد عند المحدثين)).

3. الدكتور مسفر غرام الله الدميني في كتابه ((مقاييس نقد متون السنة)).

4. الدكتور محمود الطحان في رسالة صغيرة بعنوان ((عناية المحدثين بمتن الحديث كعنايتهم بإسناده)).

--------------------------------------------

(1). انظر ما كتبه الدكتور أكرم العمري في مقدمة كتابه المجتمع المدني – الجهاد ضد المشركين – ص 9 - 12 – ففيه أمثلة لعناية المحدثين بنقد المتون.

সেই দায়িত্ব পালনে তাঁরা তাঁকে অবহেলা করেননি এবং পৌঁছে দিয়েছেন যেমনটি সুফীরা করেছেন, আর তাঁরা তাঁকে এমনভাবে অতি-মর্যাদা দান করেননি যেমনটি জাহমিয়া, মুতাযিলা ও অন্যান্য কালাম শাস্ত্রবিদগণ করেছেন।

মুহাদ্দিসগণের নিকট সমালোচনা পদ্ধতি:

হাদিস বিশারদগণ বাস্তবিকই সনদের সমালোচনার ক্ষেত্রে ব্যাপক বিস্তৃতি ঘটিয়েছেন, আর এটি আমাদের দ্বীনের গৌরবময় দিকগুলোর অন্যতম এবং এমন একটি বৈশিষ্ট্য যার মাধ্যমে মুসলিমরা অন্যান্য জাতি থেকে অনন্য হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, এমনকি বন্ধুদের আগে শত্রুরাও এর সাক্ষ্য দিয়েছে। কিন্তু মতন (মূল পাঠ) সমালোচনার ক্ষেত্রে তাঁদের শিথিলতা বা এতে ব্যাপকতা না থাকার যে দাবি করা হয়, তা প্রমাণের মুখাপেক্ষী। এই সংক্ষিপ্ত পরিসরে যতটুকু সম্ভব, অচিরেই আমি এই ক্ষেত্রে মুহাদ্দিসগণ ও অন্যদের প্রচেষ্টার কিছু ইঙ্গিত ও উদাহরণ উল্লেখ করব, অন্যথায় বিষয়টি এর চেয়েও অনেক বেশি বিস্তৃত(১)।

মুহাদ্দিসগণের মতন সমালোচনা পদ্ধতির বিষয়ে নিম্নোক্ত ব্যক্তিবর্গ লিখেছেন:

১. ড. নুরুদ্দিন ইতর তাঁর ‘মানহাজুন নাকদ ফি উলূমিল হাদিস’ গ্রন্থে।

২. ড. মুস্তফা আল-আযামি তাঁর ‘মানহাজুন নাকদ ইনদাল মুহাদ্দিসিন’ গ্রন্থে।

৩. ড. মিসফার গিরামাল্লাহ আদ-দুমাইনি তাঁর ‘মাকায়িসু নাকদি মুতুনিল সুন্নাহ’ গ্রন্থে।

৪. ড. মাহমুদ আত-তাহহান তাঁর ‘ইনায়াতুল মুহাদ্দিসিনা বি-মাতনিল হাদিসি কা-ইনায়াতিহিম বি-ইসনাদিহি’ শীর্ষক ছোট একটি পুস্তিকায়।

--------------------------------------------

(১). ড. আকরাম আল-উমারি তাঁর ‘আল-মুজতামাউল মাদানি – আল-জিহাদু দিদ্দাল মুশরিকিন’ গ্রন্থের ভূমিকায় (পৃষ্ঠা ৯-১২) যা লিখেছেন তা দেখুন; সেখানে মতনের সমালোচনার প্রতি মুহাদ্দিসগণের যত্নের উদাহরণ রয়েছে।

(খণ্ড: ১) আল-ফাসলু লিল ওয়াসলিল মুদরাজ ফিন নাকল (পৃষ্ঠা: ১৬)
وغيرهم كتب في هذا الموضوع، ولم يتيسر لي الإطلاع عليه.

وليس هذا مجال عرض ما كتب في هذه الكتب لبيان إيجابيات أو سلبيات كل كتاب منها لكنني لاحظت أمورا مشتركة عند هؤلاء المؤلفين، قد تكون عند بعضهم أوضح منها عند البعض الآخر ومن هذه الأمور.

أولا: عدم ربط هذا النقد الموجه إلى منهج المحدثين بدافعه الحقيقي عند هؤلاء المنتقدين، وهو الطعن على عقيدة خير القرون – أهل السنة والجماعة – والمراد من ذلك الطعن في هذا الدين الذي اختاره الله أن يكون دين البشرية إلى يوم الدين.

فالقضية ليست في قصور المنهج العلمي عند المحدثين أو عدم وضوحه ومعرفة هذا الدافع لا يكلف اكتشافه أكثر من الإطلاع على ما كتبوه في هذا المجال أو غيره، وخصوصا كتابتهم في السيرة والتاريخ الإسلامي وعلى وجه أخص تاريخ الفرق والطوائف.

ثانيا: عدم ربط هذا النقد بجذوره التاريخية، فهذه الشبه التي يثيرها المستشرقون وغيرهم ليست جديدة، وليسوا هم أول من اتخذها مطية للطعن في عقيدة المسلمين ومن أراد الإطلاع على هذه الجذور التاريخية فعليه بالإطلاع على كتاب ((الروض الباسم في الذب عن سنة أبي القاسم)) لأبي عبد الله محمد بن إبراهيم الوزير اليماني المتوفى سنة 840 هـ، بل عليه بالإطلاع على أصله الكبير ((العواصم والقواصم)) وكذلك كتابه ((إيثار الحق على الخلق)).

فما أثاره المستشرقون وأتباعهم من فلول المعتزلة المعاصرين حول روايات
এবং অন্যান্যরাও এই বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন, যা পর্যালোচনা করা আমার পক্ষে সম্ভব হয়নি।

প্রতিটি গ্রন্থের ইতিবাচক বা নেতিবাচক দিকগুলো বর্ণনা করার জন্য সেগুলোতে যা লেখা হয়েছে তা উপস্থাপন করার ক্ষেত্র এটি নয়; তবে আমি এই লেখকদের মাঝে কিছু অভিন্ন বিষয় লক্ষ্য করেছি, যা কারো কারো নিকট অন্যদের তুলনায় অধিক স্পষ্ট। সেই বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে:

প্রথমত: মুহাদ্দিসগণের মানহাজ বা পদ্ধতির প্রতি নির্দেশিত এই সমালোচনাকে সমালোচকদের প্রকৃত উদ্দেশ্যের সাথে সম্পৃক্ত না করা। আর তাদের সেই প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো সর্বোত্তম যুগের—অর্থাৎ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের—আকিদার ওপর অপবাদ আরোপ করা। এর মাধ্যমে মূলত সেই দ্বীনের ওপরই আঘাত করা উদ্দেশ্য, যা আল্লাহ কিয়ামত পর্যন্ত মানবজাতির ধর্ম হিসেবে মনোনীত করেছেন।

সুতরাং বিষয়টি মুহাদ্দিসগণের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির কোনো ত্রুটি বা অস্পষ্টতা নয়। আর এই উদ্দেশ্যটি উদ্ঘাটন করার জন্য এই বিষয়ে বা অন্যান্য বিষয়ে—বিশেষ করে সীরাত ও ইসলামি ইতিহাস এবং সুনির্দিষ্টভাবে বিভিন্ন ফিরকা ও গোষ্ঠীর ইতিহাসের ওপর তাদের রচিত গ্রন্থাবলি পর্যালোচনার চেয়ে বেশি কিছুর প্রয়োজন নেই।

দ্বিতীয়ত: এই সমালোচনাকে তার ঐতিহাসিক শিকড়ের সাথে সম্পৃক্ত না করা। প্রাচ্যবিদ ও অন্যান্যরা যে সকল সংশয় উত্থাপন করছেন তা নতুন কিছু নয় এবং মুসলিমদের আকিদার ওপর আঘাত করার জন্য তারাই প্রথম এগুলোকে বাহন হিসেবে গ্রহণ করেনি। যারা এই ঐতিহাসিক শিকড় সম্পর্কে জানতে চান, তাদের উচিত আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম আল-ওয়াজির আল-ইয়ামানি (মৃত্যু ৮৪০ হিজরি) রচিত 'আর-রাওদুল বাসিম ফিয যাব্বি আন সুন্নাতি আবিল কাসিম' গ্রন্থটি দেখা; বরং তাঁর মূল বৃহৎ গ্রন্থ 'আল-আওয়াসিম ওয়াল ফাওয়াসিম' এবং 'ঈসারুল হাক্ব আলাল খালক্ব' গ্রন্থটিও দেখা উচিত।

প্রাচ্যবিদ এবং সমসাময়িক মুতাজিলাদের অবশিষ্টাংশ থেকে তাদের অনুসারীরা বর্ণনাসমূহের বিষয়ে যা কিছু উত্থাপন করেছে...
(খণ্ড: ১) আল-ফাসলু লিল ওয়াসলিল মুদরাজ ফিন নাকল (পৃষ্ঠা: ১৭)
الزهري وأبي هريرة وعائشة وسائر الصحابة وما قيل في ذلك، كل ذلك قد أثاره من قبل، الروافض والمعتزلة والجهمية والزنادقة وغيرهم، وقد رد عليهم علماء أهل السنة والجماعة في ذلك الوقت ومن هؤلاء العلماء ((ابن الوزير)).

وكذلك ما قاله هؤلاء المنتقدون حديثا من انتقاد المحدثين في إهمال العقل في نقل الروايات، وغفلتهم وجمودهم على الظاهر، وانشغالهم بالأسانيد عن إمعان النظر في المتون، كل هذه الطعون وغيرها قد وجدت قديما، وقد ردّ عليها في حينها، ومن أعظم هذه الردود ما ذكره ((ابن الوزير)) في كتبه الآنفة الذكر.

بل قد سبقه علماء في ذلك منهم ابن قتيبة في تأويل مختلف الحديث، وشيخ الإسلام ابن تيمية في مواضع من كتابه وفتاواه، منها درء تعارض العقل والنقل، ومنهاج السنة وغيرها، إذًا القضية جديدة قديمة لها جذورها التاريخية والعقدية.

وما اعتناء المستشرقين ومقلديهم من فلول المعتزلة بطبع كتب الفرق والطوائف المنحرفة كالمعتزلة، والصوفية وسائر الفرق الباطنية المنحرفة عن عقيدة أهل السنة والجماعة إلا دليل على هذه الجذور التاريخية التي تربطها جميعا.

ثالثا: إن جميع ما كتبه هؤلاء الأساتذة الكرام وغيرهم في هذا الموضوع بل وفي كثير من المواضيع المماثلة له، اتخذوها فيه موقف الدفاع، وهذا موقف ضعيف وخصوصا أمام عدو كاسر له جذوره التاريخية في العداء لهذا الدين.
যুহরী, আবু হুরায়রা, আয়েশা এবং অন্যান্য সাহাবীগণ এবং তাদের সম্পর্কে যা কিছু বলা হয়েছে—এসবই ইতিপূর্বে রাফেযী, মুতাজিলা, জাহমিয়া, যিনদীক এবং অন্যরা উত্থাপন করেছে। সে সময়ে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের ওলামায়ে কেরাম তাদের দাঁতভাঙ্গা জবাব দিয়েছিলেন এবং এই আলেমদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন ((ইবনুল ওয়াযীর))।

একইভাবে, বর্তমান সময়ের এই সমালোচকরা বর্ণনা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে আকল বা বুদ্ধিবৃত্তিকে অবজ্ঞা করা, অসতর্কতা ও কেবল বাহ্যিক অর্থের ওপর স্থবিরতা এবং মতন বা মূল পাঠের ওপর গভীর দৃষ্টির পরিবর্তে সনদ বা সূত্র নিয়ে ব্যস্ত থাকার যে অভিযোগ মুহাদ্দিসদের বিরুদ্ধে তুলেছেন—এই সব অপবাদ ও অন্যান্য অভিযোগ অতীতেও বিদ্যমান ছিল। তৎকালীন সময়েই এর প্রত্যুত্তর দেওয়া হয়েছিল এবং এই জবাবগুলোর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হচ্ছে যা ((ইবনুল ওয়াযীর)) তার পূর্বোক্ত কিতাবসমূহে উল্লেখ করেছেন।

বরং তার পূর্বেও অনেক আলেম এই কাজ করেছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন ইবনে কুতায়বা তার ‘তাউয়ীলু মুখতালিফ আল-হাদীস’ গ্রন্থে, এবং শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ তার বিভিন্ন কিতাব ও ফাতওয়ায়; যার মধ্যে রয়েছে ‘দারউ তাআরুদিল আকলি ওয়ান নাকলি’, ‘মিনহাজুস সুন্নাহ’ ইত্যাদি। সুতরাং বিষয়টি নতুন হলেও এর স্বরূপ পুরনো, যার ঐতিহাসিক এবং আকিদাগত শিকড় রয়েছে।

প্রাচ্যবিদ এবং তাদের অনুসারী মুতাজিলাদের অবশিষ্টাংশের পক্ষ থেকে মুতাজিলা, সুফিবাদী এবং আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের আকিদা থেকে বিচ্যুত অন্যান্য বাতেনী ফেরকা ও ভ্রান্ত দলগুলোর কিতাবসমূহ ছাপানোর ব্যাপারে যে বিশেষ যত্ন, তা কেবল এই ঐতিহাসিক শিকড়সমূহেরই প্রমাণ যা এই সবগুলোকে একত্রে সংযুক্ত করে।

তৃতীয়ত: এই সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ এবং অন্যরা এই বিষয়ে বরং এই জাতীয় আরও অনেক বিষয়ে যা কিছু লিখেছেন, সেখানে তারা মূলত আত্মরক্ষামূলক অবস্থান গ্রহণ করেছেন। আর এটি একটি দুর্বল অবস্থান, বিশেষ করে এমন এক বিধ্বংসী শত্রুর সামনে যার এই দ্বীনের প্রতি শত্রুতার দীর্ঘ ঐতিহাসিক শিকড় রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ফাসলু লিল ওয়াসলিল মুদরাজ ফিন নাকল (পৃষ্ঠা: ১৮)
إن هؤلاء المنتقدين لمنهج المحدثين ليس هدفهم الحقيقي البحث العلمي بل وليس غايتهم نقد المنهج المحدثين في نقد المتون كما هو ظاهر كلامهم، إنما ذلك وسيلة إلى الغاية الحقيقية وهي الطعن على الدين الإسلامي الحنيف، وبالتالي أشغالنا بالردود، والأخذ والرد معهم، لننشغل بالمعارك الجانبية عن مهمتنا الأساسية وهي حمل رسالة الإسلام إلى البشرية جمعاء والتي أصبحت تتخبط اليوم تبحث عن منقذ ولا منقذ لها سوى الإسلام، فإذا انشغلنا بالمعارك الجانبية – وهذا ما يريده أعداؤنا – فمن يبلغ رسالة الإسلام إلى الناس ويجاهد في سبيل تبليغها؟

ما مدى صحة دعوى تقصير المحدثين في نقد المتون؟

هذا السؤال لا يكفي في الإجابة عليه ما سأشير إليه هنا من الأمثلة والأدلة على بطلان هذه الدعوى، وبيان ضخامة جهود علماء المسلمين في هذا الميدان.

إن ما كتبه علماء الحديث في كتب المصطلح وبينوا فيه الأنواع المتعلقة بالإسناد والاتصال والانقطاع وضبط الراوي وعدالته ونحو ذلك، والأنواع المتعلقة بالمتن كالناسخ والمنسوخ ومشكل الحديث ومحكمه والمعلل وغير ذلك، وكذلك الأنواع المشتركة بين السند والمتن كالإدراج والاضطراب والشذوذ والنكارة وغيرها، وكذلك ما كتبه هؤلاء في كتب العلل ومعرفة الرجال، وكتب الموضوعات، وشروح الحديث وغيرها، كل ذلك دليل على تكامل مناهج المحدثين في نقدهم للروايات سندا ومتنا.

كذلك لا ينسى في هذا المجال ما سطره علماء الفقه وأصول الفقه، فكتب الفقه قد ركزت على المتون تفسيرا وإعرابا وتوضيحا واستنباطا، وفق
মুহাদ্দিসগণের মানহাজ বা পদ্ধতির এই সমালোচকদের প্রকৃত উদ্দেশ্য বৈজ্ঞানিক গবেষণা নয়, এমনকি তাদের লক্ষ্য মুহাদ্দিসগণের মতন (মূল পাঠ) পর্যালোচনার পদ্ধতির সমালোচনা করাও নয়—যেমনটি তাদের কথায় প্রতীয়মান হয়। বরং এটি কেবল একটি মাধ্যম মাত্র, যার আসল উদ্দেশ্য হলো হানীফ বা বিশুদ্ধ ইসলাম ধর্মের প্রতি কটাক্ষ করা এবং ফলশ্রুতিতে আমাদের জবাব আদান-প্রদান ও বিতর্কে লিপ্ত রাখা, যাতে আমরা পার্শ্ববর্তী লড়াইয়ে ব্যস্ত হয়ে আমাদের মূল দায়িত্ব থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ি। আর সেই মূল দায়িত্ব হলো সমগ্র মানবজাতির কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দেওয়া, যারা আজ দিশেহারা হয়ে একজন ত্রাণকর্তার সন্ধান করছে, অথচ ইসলাম ছাড়া তাদের আর কোনো ত্রাণকর্তা নেই। সুতরাং আমরা যদি এই পার্শ্ববর্তী লড়াইয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ি—যা আমাদের শত্রুরা চায়—তবে মানুষের কাছে ইসলামের বাণী কে পৌঁছে দেবে এবং তা প্রচারের পথে কে সংগ্রাম করবে?

মতন পর্যালোচনার ক্ষেত্রে মুহাদ্দিসগণের শিথিলতা বা ত্রুটির দাবির সত্যতা কতটুকু?

এই প্রশ্নের উত্তরে আমি এখানে যেসকল উদাহরণ ও দলীল উল্লেখ করব, তা এই দাবির অসারতা প্রমাণে এবং এই ময়দানে মুসলিম আলিমদের বিশাল প্রচেষ্টার বর্ণনা দিতে যথেষ্ট নয়।

হাদীস বিশারদগণ উসূলে হাদীসের কিতাবসমূহে যা কিছু লিখেছেন এবং তাতে ইসনাদ (সূত্র), ইত্তিসাল (সংযুক্ততা), ইনকিতা (বিচ্ছিন্নতা), রাবীর স্মৃতিশক্তি ও তার ন্যায়পরায়ণতা এবং এই জাতীয় অন্যান্য প্রকারভেদ বর্ণনা করেছেন; এবং মতন সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি যেমন নাসিখ ও মানসুখ (রহিতকারী ও রহিত), মুশকিলুল হাদীস ও মুহকাম, মুআল্লাল (ত্রুটিযুক্ত) ইত্যাদি; তদ্রূপ সনদ ও মতন উভয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি যেমন ইদরাজ, ইযতিরাব, শুযূয, নাকারাহ ইত্যাদি; এছাড়া 'ইল্লাল' বা সূক্ষ্ম ত্রুটি বিষয়ক গ্রন্থ, রিজাল শাস্ত্র (বর্ণনাকারীদের পরিচয়), জাল হাদীস বিষয়ক গ্রন্থ এবং হাদীসের ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহে তারা যা লিখেছেন—এই সবকিছুই সনদ ও মতন উভয় ক্ষেত্রে বর্ণনাগুলো পর্যালোচনায় মুহাদ্দিসগণের পদ্ধতির পূর্ণাঙ্গতার অকাট্য প্রমাণ।

অনুরূপভাবে এই ক্ষেত্রে ফিকহ ও উসূলে ফিকহের আলিমগণ যা লিপিবদ্ধ করেছেন তাও বিস্মৃত হওয়া যাবে না। ফিকহের কিতাবসমূহ মতনের ব্যাখ্যা, ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ, বিশদ বর্ণনা এবং মাসআলা উদ্ভাবনের ওপর নিবিড় গুরুত্বারোপ করেছে...
(খণ্ড: ১) আল-ফাসলু লিল ওয়াসলিল মুদরাজ ফিন নাকল (পৃষ্ঠা: ১৯)
قواعد علمية.

" وتتضح في كتب أصول الفقه المحاكمات الدقيقة للمتون التي تكشف عن عقلية نقدية فذة "(1)

وجهود علماء المسلمين يكمل بعضها بعضا ما قصر فيه هذا يكمله ذاك، ومن هنا رأينا تكامل أعمال المحدثين والفقهاء في عنايتهم بالسنة النبوية.

هذه إشارات قصيرة لتلك الجهود الضخمة التي بذلها علماء الإسلام – محدثين وفقهاء – في العناية بالسنة المطهرة سندا ومتنا.

وبعد:

فليس معنى رفضي للانشغال بالرد على مثيري الشكوك والشبهات حول منهج المحدثين، أنني أرفض الكتابة في مجال بيان مناهج المحدثين.

بل أرفض فقط أن يكون دافعنا في الكتابة في هذه الموضوعات هو ((رد الفعل)) إذ يجب أن يكون دافعنا في ذلك هو إحياء المنهج العلمي الإسلامي عند المسلمين – محدثين وفقهاء ومفسرين ومؤرخين وغيرهم – كما يجب أن ننتبه إلى أن المنهج العلمي عند المسلمين يحكمه عقيدة تقوم على الإيمان بالله واليوم الآخر، والإيمان بالغيب، والإيمان برسول الله صلى الله عليه وسلم، وبما جاء به من كتاب الله والسنة المطهرة بما في ذلك المعجزات التي جاءت بها السنة الصحيحة، وأن هذه العقيدة تقوم على التوازن في حياة الإنسان بين روحه وعقله وعواطفه وتفكيره وما فطره الله عليه.

--------------------------------------------

(1). الدكتور أكرم العمري: المجتمع المدني – الجهاد ضد المشركين ص 11.

বৈজ্ঞানিক নীতিমালা।

"উসূলে ফিকহের কিতাবসমূহে মূল পাঠের (মতন) এমন সূক্ষ্ম বিচার-বিশ্লেষণ সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে, যা এক অনন্য সমালোচনামূলক মননশীলতার পরিচয় দেয়"(১)

মুসলিম পন্ডিতদের প্রচেষ্টা একে অপরের পরিপূরক; একজনের অপূর্ণতা অন্যজন পূর্ণ করেন। এখান থেকেই আমরা নবীজির সুন্নাহর প্রতি যত্নশীল হওয়ার ক্ষেত্রে মুহাদ্দিস ও ফকীহদের কর্মধারার সমন্বয় দেখতে পাই।

এগুলো হলো ইসলামের আলিমগণের—মুহাদ্দিস ও ফকীহদের—সেই বিশাল প্রচেষ্টার সংক্ষিপ্ত ইঙ্গিত, যা তাঁরা সনদ ও মতনের দিক থেকে পবিত্র সুন্নাহর রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় করেছেন।

অতঃপর:

মুহাদ্দিসদের কর্মপদ্ধতি নিয়ে যারা সন্দেহ ও সংশয় সৃষ্টি করে, তাদের জবাব দিতে ব্যতিব্যস্ত হওয়াকে আমি প্রত্যাখ্যান করি—এর অর্থ এই নয় যে, আমি মুহাদ্দিসগণের কর্মপদ্ধতি বর্ণনার ক্ষেত্রে লেখালেখি করাকে প্রত্যাখ্যান করছি।

বরং আমি শুধু এটাই প্রত্যাখ্যান করি যে, এসব বিষয়ে আমাদের লেখালেখির মূল চালিকাশক্তি যেন 'প্রতিক্রিয়া' হয়। কারণ, এক্ষেত্রে আমাদের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত মুসলিমদের মাঝে—মুহাদ্দিস, ফকীহ, মুফাসসির, ঐতিহাসিক ও অন্যান্যদের মধ্যে—ইসলামী বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির পুনর্জাগরণ ঘটানো। এছাড়া আমাদের এ বিষয়েও লক্ষ্য রাখতে হবে যে, মুসলিমদের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি এমন এক আকিদাহ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত যা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস, অদৃশ্যের প্রতি বিশ্বাস এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তিনি আল্লাহর কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহ থেকে যা কিছু নিয়ে এসেছেন—সহীহ সুন্নাহয় বর্ণিত মুজিজাসমূহসহ—সেসবের ওপর ঈমান আনার ওপর প্রতিষ্ঠিত। আর এই আকিদাহ মানুষের জীবনে তার রুহ, বুদ্ধি, আবেগ, চিন্তা এবং আল্লাহ তাকে যে স্বভাবজাত প্রকৃতির ওপর সৃষ্টি করেছেন, তার মধ্যে ভারসাম্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত।

--------------------------------------------

(১). ডক্টর আকরাম আল-উমারী: আল-মুজতামা আল-মাদানী – আল-জিহাদ দিদ্দাল মুশরিকীন, পৃষ্ঠা ১১।

(খণ্ড: ১) আল-ফাসলু লিল ওয়াসলিল মুদরাজ ফিন নাকল (পৃষ্ঠা: ২০)
هذا ويجب أن تتسم كتابتنا في هذا الموضوع بالإبداع والتجديد وخصوصا في مناهج التفكير التي اتسمت في العصور المتأخرة بالجمود والتقليد والتعصب إلا من النزر اليسير من العلماء الأفذاذ المبدعين الذين كانوا في أوقات متفاوتة من هذه العصور كشيخ الإسلام ابن تيمية وتلاميذه ابن القيم والمزي والذهبي وابن كثير ثم تلاهم الحافظ ابن حجر ثم خلت الساحة حتى جاء شيخ الإسلام محمد بن عبد الوهاب رحمه الله ورحم هؤلاء الأئمة جميعًا.

وعلوم الحديث من العلوم التي قد نضجت كثيرا والإضافات تكون فيها قليلة جدا إلا ممن يسلك مسلك التجديد والإبداع والدقة في الاستنباط ولا أنسى هنا أن أنوه بما كتبه الحافظان الجليلان الإمام ابن القيم، والحافظ ابن رجب في كتابيهما ((المنار المنيف وشرح علل الترمذي)). إذ أضافا في هذين الكتابين إضافة قيمة وجددا نوعا ما في طريقة تنازل علوم الحديث ولم يكونا ناقلين مقلدين لمن سبقهما بل كانا ناقدين مبدعين كما يبرز أيضا من المعاصرين الشيخ عبد الرحمن المعلمي اليماني – رحمه الله – في كتابه ((التنكيل)) وخاصة ما سطره في طليعته.

هذا وقد كنت أريد أن يكون جزءًا من مقدمة بحثي هذا عن مناهج المحدثين في نقد المتون ولكن لم يتيسر لي جمع المادة الكافية في الموضوع، وأهم من ذلك أن هذا الموضوع أوسع من أن يكتب فيه فصلاً من مقدمة، ولعل الله أن يعينني على تحقيق طموحي في المستقبل القريب إن شاء الله.

وسأقتصر في هذه المقدمة على دراسة المدرج وأنواعه لأنه موضوع الكتاب الذي أقدم له، ثم دراسة عن الكتاب نفسه.

এর সাথে সাথে এই বিষয়ে আমাদের লেখনী সৃজনশীলতা ও নতুনত্বে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হওয়া আবশ্যক, বিশেষ করে চিন্তাপদ্ধতির ক্ষেত্রে; যা পরবর্তী যুগগুলোতে স্থবিরতা, অন্ধ অনুকরণ ও গোঁড়ামিতে পর্যবসিত হয়েছিল। তবে এই যুগগুলোতে বিভিন্ন সময়ে অতি নগণ্য সংখ্যক এমন কিছু অনন্য ও সৃজনশীল আলেমের আবির্ভাব ঘটেছিল, যেমন শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ এবং তাঁর ছাত্র ইবনুল কাইয়্যিম, আল-মিজ্জি, আয-যাহাবি ও ইবনে কাসির। অতঃপর তাঁদের অনুগামী হন হাফেজ ইবনে হাজার। এরপর এই ময়দান প্রায় শূন্যই ছিল, যতক্ষণ না শাইখুল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) আগমন করেন। আল্লাহ এই সকল ইমামগণের প্রতি রহমত বর্ষণ করুন।

হাদিস শাস্ত্র এমন একটি শাস্ত্র যা অনেক আগেই পূর্ণতা লাভ করেছে এবং এতে নতুন কিছু সংযোজনের সুযোগ খুবই কম, কেবল তাঁদের পক্ষেই সম্ভব যাঁরা মাসআলা উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে নতুনত্ব, সৃজনশীলতা ও সূক্ষ্মদর্শিতার পথ অনুসরণ করেন। আমি এখানে দুই মহান হাফেজ ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম ও হাফেজ ইবনে রজব কর্তৃক তাঁদের দুই কিতাব "আল-মানারুল মুনিফ" ও "শারহু ইলালিত তিরমিজি"-তে যা লিখেছেন তা উল্লেখ করতে ভুলছি না। কেননা তাঁরা এই কিতাব দুটিতে মূল্যবান তথ্য সংযোজন করেছেন এবং হাদিস শাস্ত্রের উপস্থাপনা পদ্ধতিতে কিছুটা নতুনত্ব এনেছেন। তাঁরা তাঁদের পূর্ববর্তীদের নিছক অনুকরণকারী সংকলক ছিলেন না, বরং তাঁরা ছিলেন সৃজনশীল সমালোচক। তেমনিভাবে সমসাময়িকদের মধ্যে শাইখ আবদুর রহমান আল-মুয়াল্লিমি আল-ইয়ামানি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) তাঁর "আত-তানকিল" কিতাবে এবং বিশেষ করে এর ভূমিকায় যা লিপিবদ্ধ করেছেন তাতেও এই অনন্যতা ফুটে ওঠে।

মূলত আমি চেয়েছিলাম আমার এই গবেষণার ভূমিকার একটি অংশ "মতুন (মূল পাঠ) পর্যালোচনায় মুহাদ্দিসগণের কর্মপন্থা" বিষয়ক হোক, কিন্তু এ বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা আমার পক্ষে সম্ভব হয়ে ওঠেনি। এর চেয়েও বড় কথা হলো, এই বিষয়টি এতটাই বিস্তৃত যে একে ভূমিকার একটি পরিচ্ছেদে সীমাবদ্ধ করা কঠিন। সম্ভবত আল্লাহ অদূর ভবিষ্যতে আমার এই উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরণে সাহায্য করবেন, ইনশাআল্লাহ।

আমি এই ভূমিকায় কেবল "মুদরাজ" এবং এর প্রকারভেদ সংক্রান্ত আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকব, কারণ এটিই আমার উপস্থাপিত কিতাবের মূল বিষয়বস্তু। এরপর কিতাবটি সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা পেশ করব।

(খণ্ড: ১) আল-ফাসলু লিল ওয়াসলিল মুদরাজ ফিন নাকল (পৃষ্ঠা: ২২)
المدرج وأنواعه

تعريفه:

لغة: بضم الميم وفتح الراء اسم مفعول فعله أدرج، تقول: أدرجتُ الكتاب إذا طويتَه، وتقول: أدرجتُ الميتَ في القبر إذا أدخلتَه فيه، وأدرجتُ الشيء في الشيء إذا أدخلتَه فيه وضمنته إياه.(1)

واصطلاحا: الحديث المدرج ما كان فيه زيادة ليست منه في الإسناد أو المتون.

أنواع المدرج: المدرج نوعان:

1. مدرج في المتن.(2). مدرج في الإسناد(2).

ولكل نوع منهما أقسام.

أولا مدرج المتن:

وهو أن يدرج الراوي في حديث النبي صلى الله عليه وسلم شيئا من كلام غيره مع

--------------------------------------------

(1). انظر تاج العروس 2/ 39 - 41 مادة درج - بمهملتين وجيم. وتوضيح الأفكار للصنعاني 2/ 50.

(2). النكت لابن حجر 2/ 811.

মুদরাজ এবং এর প্রকারভেদ

এর সংজ্ঞা:

আভিধানিকভাবে: মীম বর্ণে পেশ এবং রা বর্ণে জবরযুক্ত এটি 'আদরাজা' ক্রিয়া থেকে নির্গত ইসমে মাফউল (কর্মবাচক বিশেষ্য)। আপনি বলেন: 'আমি কিতাবটি মুদরাজ করেছি', যখন আপনি সেটি ভাঁজ করেন। আবার আপনি বলেন: 'আমি মৃত ব্যক্তিকে কবরে মুদরাজ করেছি', যখন আপনি তাকে সেখানে প্রবেশ করান। আর আপনি বলেন: 'আমি এক বস্তুকে অন্য বস্তুর মধ্যে মুদরাজ করেছি', যখন আপনি একে তার ভেতরে প্রবেশ করান এবং তার অন্তর্ভুক্ত করে দেন।(১)

পারিভাষিকভাবে: মুদরাজ হাদীস হলো এমন হাদীস, যার সনদ (বর্ণনাধারা) বা মতনের (মূল পাঠ) মধ্যে এমন কিছু অতিরিক্ত বিষয় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে যা তার অংশ নয়।

মুদরাজের প্রকারভেদ: মুদরাজ দুই প্রকার:

১. মতনের মুদরাজ।(২) ২. সনদের মুদরাজ(২)।

আর এই উভয় প্রকারের প্রত্যেকটির কয়েকটি বিভাগ রয়েছে।

প্রথমত: মতনের মুদরাজ:

তা হলো বর্ণনাকারী কর্তৃক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাদীসের মধ্যে অন্য কারো কথা এমনভাবে অন্তর্ভুক্ত করা যার সাথে...

--------------------------------------------

(১). দেখুন: তাজুল আরূস ২/ ৩৯ - ৪১, শব্দমূল: দাল-রা-জীম। এবং সান’আনীর তাওযীহুল আফকার ২/ ৫০।

(২). ইবনে হাজারের আন-নুকাত ২/ ৮১১।

(খণ্ড: ১) আল-ফাসলু লিল ওয়াসলিল মুদরাজ ফিন নাকল (পৃষ্ঠা: ২৩)
مع إيهام كونه من كلامه صلى الله عليه وسلم وهو ثلاث مراتب:(1)

مراتب الإدراج في المتن:

الأول: أن يكون ذلك في أول المتن وهو نادر جدا:

ومثاله حديث أبي هريرة: " أسبغوا الوضوء ويل للأعقاب من النار "(2)

فقد رواه شبابة بن سوار وأبو قطن عمرو بن الهيثم عن شعبة عن محمد بن زياد عن أبي هريرة مرفوعا كامل المتن، وإنما المرفوع منه قوله: " ويل للأعقاب من النار " حسب، وأما قوله: " أسبغوا الوضوء " فهو من قول أبي هريرة(3) كما فصله جمهور الرواة عن شعبة. (2)

قال الحافظ ابن حجر: " وهذا النوع نادر جدا، لم أجد له مثالا غير حديث أبي هريرة هذا ".(4)

الثاني: أن يكون في الوسط – وسط المتن – وهو قليل:

مثاله حديث بسرة بنت صفوان: " من مس ذكره أو أنثييه أو رفغيه فليتوضأ " رواه عبد الحميد بن جعفر عن هشام ابن عروة عن أبيه عن بسرة مرفوعا، وكذلك رواه أبو كامل الجحدري عن يزيد بن زريع عن أيوب عن هشام … به …

--------------------------------------------

(1). المصدر نفسه.

(2). انظر تخريج طرقه في الحديث الثامن من الفصل للوصل المدرج في النقل للخطيب.

(3). هذه الجملة من الحديث وإن كانت هنا من قول أبي هريرة إلا أنها قد جاءت مرفوعة صحيحة من حديث عبد الله بن عمرو بن العاص عند مسلم وغيره.

(4). النكت (2/ 844).

এটি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথা হওয়ার ধারণা দেওয়ার সাথে সাথে, আর এটি তিন স্তরের:(১)

মতনের (মূল পাঠের) মধ্যে ইদরাজ (অনুপ্রবেশ)-এর স্তরসমূহ:

প্রথম: এটি মতনের শুরুতে হওয়া, আর এটি অত্যন্ত বিরল:

এর উদাহরণ হলো আবু হুরায়রা বর্ণিত হাদিস: "তোমরা পূর্ণাঙ্গভাবে ওজু করো, গোড়ালিগুলোর জন্য জাহান্নামের আগুনের দুর্ভোগ রয়েছে।"(২)

শাবাবাহ ইবনে সাওয়ার এবং আবু কুতান আমর ইবনুল হাইসাম এটি শু’বাহ থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে যিয়াদ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে মারফু হিসেবে পূর্ণ মতনে বর্ণনা করেছেন। অথচ এর মধ্যে মারফু অংশ হলো কেবল তাঁর এই কথাটুকু: "গোড়ালিগুলোর জন্য জাহান্নামের আগুনের দুর্ভোগ রয়েছে" মাত্র, আর তাঁর কথা: "তোমরা পূর্ণাঙ্গভাবে ওজু করো" - এটি আবু হুরায়রার কথা(৩) যেমনটি শু’বাহ থেকে অধিকাংশ বর্ণনাকারী পৃথক করে দেখিয়েছেন। (২)

হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: "এই প্রকারটি অত্যন্ত বিরল, আমি আবু হুরায়রার এই হাদিসটি ছাড়া এর কোনো উদাহরণ খুঁজে পাইনি।"(৪)

দ্বিতীয়: মতনের মাঝখানে হওয়া – অর্থাৎ মতনের মধ্যে – আর এটি অল্প সংখ্যক হয়ে থাকে:

এর উদাহরণ হলো বুসরাহ বিনতে সাফওয়ানের হাদিস: "যে ব্যক্তি তার পুরুষাঙ্গ অথবা অণ্ডকোষদ্বয় অথবা কুঁচকি স্পর্শ করে, সে যেন ওজু করে।" এটি আব্দুল হামিদ ইবনে জাফর, হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি বুসরাহ থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অনুরূপভাবে আবু কামিল আল-জাহদারী, ইয়াযিদ ইবনে যুরাই' থেকে, তিনি আইয়ুব থেকে, তিনি হিশাম থেকে... এর মাধ্যমে...

--------------------------------------------

(১). একই উৎস।

(২). খতিব বাগদাদীর 'আল-ফাসলু লিল-ওয়াসলিল মুদরাজ ফিন নাকল' গ্রন্থের অষ্টম হাদিসে এর সূত্রগুলোর তাখরীজ দেখুন।

(৩). হাদিসের এই বাক্যটি যদিও এখানে আবু হুরায়রার উক্তি, তবে এটি মুসলিম ও অন্যদের কিতাবে আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস-এর হাদিসে সহীহ মারফু সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।

(৪). আন-নুকাত (২/ ৮৪৪)।

(খণ্ড: ১) আল-ফাসলু লিল ওয়াসলিল মুদরাজ ফিন নাকল (পৃষ্ঠা: ২৪)
والمرفوع قوله: " من مس ذكره فليتوضأ " وذكر الأنثيين والرفغ إنما هو من قول عروة بن الزبير بيّن ذلك جمهور الرواة عن هشام(1).

الثالث: أن يكون الإدراج في آخر المتن وهو الأكثر:

مثاله حديث ابن مسعود في التشهد: " أخذ رسول الله صلى الله عليه وسلم بيدي وعلمني التشهد، التحيات لله .. وأشهد أن محمدا عبده ورسوله، فإذا قلت ذلك فقد قضيت صلاتك إن شئت أن تقوم فقم، وإن شئت أن تقعد فاقعد "(2) فقد رواه زهير بن معاوية عن الحسن بن الحر عن القاسم بن مخيمرة عن علقمة عن ابن مسعود مرفوعا كله.

وقوله: " فإذا قلت ذلك فقد قضيت صلاتك .. إلخ " ليس من كلام النبي صلى الله عليه وسلم بل هو قول ابن مسعود أدرجه بعض الرواة، وقد رواه الجمهور على الفصل والتمييز بين المرفوع منه والموقوف، ورواه أكثر من راوٍ على الاقتصار على المرفوع(3).

وهذا النوع من الإدراج – مرج المتن – قسمه الخطيب ثلاثة أقسام:

الأول: ما كان من قول الصحابي ووصل بحديث رسول الله صلى الله عليه وسلم(4).

الثاني: ما كان من قول التابعي ووصل بحديث رسول الله صلى الله عليه سلم(5).

--------------------------------------------

(1). انظر تخريج طرقه كلها في كتاب الفصل للوصول للخطيب حديث رقم (32).

(2). انظر طرقه وتخريجها في الحديث الأول من كتاب الخطيب الذي تقدم له بهذه المقدمة.

(3). راجع روايات هؤلاء في كتاب الخطيب الحديث الأول.

وسنن الدار قطني 1/ 350 - 353.

(4). انظر أمثلة في الباب الأول من كتاب الخطيب ق 2/أ وما بعدها.

(5). راجع أمثلة في (ق 24/أ) وما بعدها.

আর মারফু (রাসূলের বাণী) হলো: "যে ব্যক্তি তার লিঙ্গ স্পর্শ করবে, সে যেন ওযু করে"। অণ্ডকোষদ্বয় ও কুঁচকির উল্লেখ মূলত উরওয়াহ ইবনে যুবাইরের বক্তব্য; হিশাম থেকে বর্ণনাকারীদের জমহুর (সংখ্যাগরিষ্ঠ) অংশ এটি স্পষ্ট করেছেন(১).

তৃতীয়: মতনের শেষে ইদরাজ (অনুপ্রবেশ) হওয়া, আর এটাই অধিক হয়ে থাকে:

এর উদাহরণ হলো তাশাহহুদ বিষয়ে ইবনে মাসউদের হাদীস: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার হাত ধরলেন এবং আমাকে তাশাহহুদ শিক্ষা দিলেন: আত্তাহিইয়াতু লিল্লাহি... এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল; সুতরাং যখন তুমি এটি বললে, তখন তোমার সালাত পূর্ণ হলো, এখন তুমি চাইলে দাঁড়াতে পারো অথবা চাইলে বসে থাকতে পারো"(২)। জুহাইর ইবনে মুয়াবিয়া আল-হাসান ইবনুল হুরর থেকে, তিনি আল-কাসিম ইবনে মুখাইমিরাহ থেকে, তিনি আলকামা থেকে, তিনি ইবনে মাসউদ থেকে এটি সম্পূর্ণ মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

আর তাঁর কথা: "যখন তুমি এটি বললে, তখন তোমার সালাত পূর্ণ হলো... ইত্যাদি" নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা নয়, বরং এটি ইবনে মাসউদের বক্তব্য যা জনৈক বর্ণনাকারী অন্তর্ভুক্ত করে দিয়েছেন। জমহুর (সংখ্যাগরিষ্ঠ) রাবীগণ এর মারফু ও মাওকুফ অংশের মধ্যে পার্থক্য ও পৃথকীকরণ করে বর্ণনা করেছেন এবং একাধিক রাবী কেবল মারফু অংশের ওপর সীমাবদ্ধ রেখে এটি বর্ণনা করেছেন(৩)।

আর ইদরাজ বা অনুপ্রবেশের এই প্রকারটি—অর্থাৎ মুদ্রাজুল মতন—খাতীব তিনটি ভাগে বিভক্ত করেছেন:

প্রথম: যা সাহাবীর বক্তব্য ছিল এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসের সাথে যুক্ত হয়ে গেছে(৪)।

দ্বিতীয়: যা তাবিঈর বক্তব্য ছিল এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসের সাথে যুক্ত হয়ে গেছে(৫)।

--------------------------------------------

(১). এর সকল সূত্রের তাখরীজ দেখুন খাতীবের 'আল-ফাসলু লিল-উসুল' কিতাবের ৩২ নম্বর হাদীসে।

(২). এর সূত্রসমূহ ও সেগুলোর তাখরীজ দেখুন খাতীবের কিতাবের প্রথম হাদীসে, যার জন্য এই ভূমিকা পেশ করা হয়েছে।

(৩). এদের বর্ণনাগুলোর জন্য খাতীবের কিতাবের প্রথম হাদীস এবং সুনানে দারা কুতনী ১/ ৩৫০ - ৩৫৩ দেখুন।

(৪). খাতীবের কিতাবের প্রথম অধ্যায়ের ২/ক পৃষ্ঠা ও পরবর্তী অংশগুলোতে উদাহরণসমূহ দেখুন।

(৫). (২৪/ক পৃষ্ঠা) ও পরবর্তী অংশগুলোতে উদাহরণসমূহ দেখুন।

(খণ্ড: ১) আল-ফাসলু লিল ওয়াসলিল মুদরাজ ফিন নাকল (পৃষ্ঠা: ২৫)
والثالث: ما كان من قول من بعد التابعين ووصل بحديث رسول الله صلى الله عليه وسلم وقد ساق لكل قسم عدة أمثلة.

وحديث أبي هريرة وابن مسعود المذكوران آنفًا من أمثلة القسم الأول.

وحديث بسرة بنت صفوان من أمثلة القسم الثاني وراجع أمثلة القسم الثالث في كتاب الخطيب (ق 89/ب) وما بعدها.

ثانيا مدرج الإسناد:

اختلف المؤلفون في علوم الحديث في عدد أقسام هذا النوع، فالخطيب البغدادي – رحمه الله – أول من حرر مسائل المدرج – بل أبواب المصطلح كلها – جعل هذا النوع أربعة أقسام(1) ووافقه ابن الصلاح(2) ثم الحافظ ابن حجر على ثلاثة أقسام، وتفرد الخطيب بالقسم الرابع كما أضاف الحافظ ابن حجر على الخطيب وابن صلاح قسمين(3):

وفيما يلي سرد تلك الأقوال:

القسم الأول:(4)

ما كان متن الحديث عند راويه بإسناد غير لفظة أو ألفاظ فإنها عنده بإسناد آخر فلم يبين ذلك بل أدرج الحديث وجعل جميعه بإسناد واحد.

--------------------------------------------

(1). انظر مقدمة الفصل للوصل المدرج في النقل (ق/2 أ).

(2). علوم الحديث لابن الصلاح 87 – 88.

(3). انظر النكت على ابن الصلاح (2/ 823 – 837، نزهة النظر/ 46).

(4). جعلت الأساس هنا هو تقسيم الخطيب كما أني اكتفيت بمقارنته مع ابن الصلاح، والحافظ ابن حجر، لأنني لم أجد عند غيرهما إضافات فيما وقفت عليه من كتب المصطلح، بل إن ابن الصلاح حقيقة لم يكن له إضافة على الخطيب.

এবং তৃতীয়টি: যা তাবেঈদের পরবর্তী কারো উক্তি এবং যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীসের সাথে যুক্ত করা হয়েছে। তিনি প্রতিটি প্রকারের জন্য একাধিক উদাহরণ উল্লেখ করেছেন।

আর ইতিপূর্বে উল্লিখিত আবু হুরায়রা ও ইবনে মাসউদের হাদীস দুটি প্রথম প্রকারের উদাহরণ।

আর বুসরা বিনতে সাফওয়ানের হাদীসটি দ্বিতীয় প্রকারের উদাহরণ এবং খতীবের কিতাবের (পত্র ৮৯/খ) ও এর পরবর্তী অংশে তৃতীয় প্রকারের উদাহরণগুলো দেখে নিন।

দ্বিতীয়ত: মুদ্রাজুল ইসনাদ (সনদগত অনুপ্রবেশ):

উলূমুল হাদীসের লেখকগণ এই প্রকারের প্রকারভেদের সংখ্যা নিয়ে মতভেদ করেছেন। খতীব আল-বাগদাদী – রাহিমাহুল্লাহ – যিনি সর্বপ্রথম মুদ্রাজের মাসআলাগুলো – বরং পরিভাষার সকল অধ্যায়ই – সুবিন্যস্ত করেছেন, তিনি এই প্রকারকে চার ভাগে বিভক্ত করেছেন(১)। ইবনুস সালাহ তার সাথে একমত হয়েছেন(২)। পরবর্তীতে হাফিজ ইবনে হাজার একে তিন ভাগে বিভক্ত করেছেন। খতীব চতুর্থ প্রকারটি এককভাবে উল্লেখ করেছেন এবং হাফিজ ইবনে হাজার খতীব ও ইবনুস সালাহের ওপর আরও দুটি প্রকার যোগ করেছেন(৩):

নিম্নে সেই মতামতের বিবরণ দেওয়া হলো:

প্রথম প্রকার:(৪)

রাবীর নিকট হাদীসের মতনটি একটি নির্দিষ্ট সনদে থাকে, তবে এর একটি শব্দ বা কয়েকটি শব্দ তার নিকট অন্য একটি সনদে থাকে; তিনি তা স্পষ্ট না করে হাদীসটিকে অন্যটির অন্তর্ভুক্ত করে দেন এবং পুরোটিকে একটি সনদে বর্ণনা করেন।

--------------------------------------------

(১). দেখুন: আল-ফাসলু লিল-ওয়াসলিল মুদ্রাজি ফিন নাক্বল-এর ভূমিকা (পত্র/২ ক)।

(২). ইবনুস সালাহ প্রণীত উলূমুল হাদীস, ৮৭ – ৮৮।

(৩). দেখুন: আন-নুকাউ আলা ইবনিস সালাহ (২/ ৮২৩ – ৮৩৭), নুযহাতুন নাযার/ ৪৬।

(৪). আমি এখানে খতীবের বিভাজনকেই ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছি। পাশাপাশি আমি ইবনুস সালাহ ও হাফিজ ইবনে হাজারের সাথে তার তুলনামূলক আলোচনার ওপরই সীমাবদ্ধ থেকেছি; কারণ আমি যে সকল পরিভাষার কিতাব দেখেছি তাতে তাদের বাইরে আর কারো নিকট কোনো সংযোজন খুঁজে পাইনি। বস্তুত ইবনুস সালাহ খতীবের ওপর প্রকৃতপক্ষে কোনো সংযোজন করেননি।

(খণ্ড: ১) আল-ফাসলু লিল ওয়াসলিল মুদরাজ ফিন নাকল (পৃষ্ঠা: ২৬)
و هذا هو القسم الأول عند ابن الصلاح و الثاني عند الحافظ ابن حجر.

القسم القاني:

ما ألحق بمتنه لفظة أو ألفاظ ليست منه و إنما هي من متن آخر.

زاد الحافظ ابن حجر: " و لا تكون تلك الألفاظ من رواية ذلك الراوي، و من هذه الحيثية فارق القسم الذي قبله " أ. هـ.

و هذا هو القسم الثاني أيضا عند ابن الصلاح و الثالث عند ابن حجر.

القسم الثالث:

ما كان يرويه المحدث عن جماعة اشتركوا في روايته، فاتفقوا غير واحد منهم خالفهم في إسناده فأدرج الإسناد و حمل على الاتفاق.

و هذا هو القسم الثالث عند ابن الصلاح، و الأول عند ابن حجر في النكت.

القسم الرابع:

ما كان بعض الصحابة يروي متنه عن صحابي آخر عن رسول الله صلى الله عليه و سلم فوصل بمتن يرويه الصحابي الأول عن رسول الله صلى الله عليه و سلم.

و هذا القسم لم يذكره أحد غير الخطيب، و انظر أمثلته عنده في الفصل للوصل (ق 122/أ) و ما بعدها.

القسم الخامس:

أن لا يذكر المحدث متن الحديث بل يسوق إسناده فقط، ثم يقطعه قاطع، فيذكر كلاما، فيظن بعض من سمعه أن ذلك الكلام هو متن ذلك
এটি ইবনে আল-সালাহ-এর মতে প্রথম প্রকার এবং হাফেজ ইবনে হাজার-এর মতে দ্বিতীয় প্রকার।

দ্বিতীয় প্রকার:

যার মূল পাঠে (মাতান) এমন একটি শব্দ বা একাধিক শব্দ সংযুক্ত করা হয়েছে যা তার অংশ নয়, বরং তা অন্য কোনো মূল পাঠের অংশ।

হাফেজ ইবনে হাজার আরও যুক্ত করেছেন: "এবং সেই শব্দগুলো ওই বর্ণনাকারীর বর্ণনা থেকে হবে না, আর এই দিক থেকেই এটি তার পূর্ববর্তী প্রকার থেকে পৃথক।" সমাপ্ত।

এটি ইবনে আল-সালাহ-এর মতেও দ্বিতীয় প্রকার এবং ইবনে হাজার-এর মতে তৃতীয় প্রকার।

তৃতীয় প্রকার:

মুহাদ্দিস এমন এক দল থেকে হাদিস বর্ণনা করেন যারা এটি বর্ণনায় অংশীদার ছিলেন এবং তারা এতে একমত হয়েছেন, কিন্তু তাদের মধ্য থেকে একজন বর্ণনাকারী সনদের ক্ষেত্রে তাদের বিরোধিতা করেন, ফলে তিনি সনদটিকে অন্যদের সনদের সাথে যুক্ত করে দেন এবং ঐকমত্যের ওপর ভিত্তি করে বর্ণনা করেন।

এটি ইবনে আল-সালাহ-এর মতে তৃতীয় প্রকার এবং ইবনে হাজার-এর 'আন-নুকাত' গ্রন্থে এটি প্রথম প্রকার।

চতুর্থ প্রকার:

কোনো সাহাবী যখন একটি হাদিসের মূল পাঠ অন্য একজন সাহাবীর মাধ্যমে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন, অতঃপর তা প্রথম সাহাবী কর্তৃক সরাসরি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত অন্য কোনো মূল পাঠের সাথে যুক্ত হয়ে যায়।

এই প্রকারটি আল-খতিব ব্যতীত অন্য কেউ উল্লেখ করেননি, এর উদাহরণগুলো তাঁর 'আল-ফাসলু লিল-ওয়াসল' (পত্র ১২২/ক) ও পরবর্তী অংশগুলোতে দেখুন।

পঞ্চম প্রকার:

মুহাদ্দিস হাদিসের মূল পাঠ উল্লেখ না করে কেবল এর সনদটি বর্ণনা করেন, অতঃপর কোনো একটি প্রতিবন্ধক এসে তাতে ছেদ ঘটায় এবং তিনি কোনো কথা বলেন; তখন কোনো শ্রোতা মনে করেন যে সেই কথাটিই হলো ওই সনদের মূল পাঠ।
(খণ্ড: ১) আল-ফাসলু লিল ওয়াসলিল মুদরাজ ফিন নাকল (পৃষ্ঠা: ২৭)
الإسناد(1).

مثاله حديث: رواه ثابت بن موسى الزاهد عن شريك عن الأعمش عن أبي سفيان عن جابر عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: " من كثرت صلاته بالليل حسن وجهه بالنهار ".

وهذا قول شريك قاله في عقب حديث الأعمش عن أبي سفيان عن جابر: " يعقد الشيطان على قافية رأس أحدكم ثلاث عقد " فأدرجه ثابت في الخبر وجعل قول شريك من كلام النبي صلى الله عليه وسلم ثم شرق هذا جماعة من الضعفاء من ثابت وحدثوا به عن شريك(2).

القسم السادس:

أن يكون المتن عند الراوي إلا طرفا منه، فإنه لم يسمعه من شيخه فيه، وإنما سمعه من واسطة بينه وبين شيخه، فيدرجه بعض الرواة عنه بلا تفصيل(3).

ومثاله حديث إسماعيل بن جعفر عن حميد عن أنس في قصة العرنيين وأن الرسول صلى الله عليه وسلم قال: " لو خرجتم إلى إبلنا فشربتم من ألبانها

--------------------------------------------

(1). هذا القسم من زيادات الحافظ ابن حجر على من قبله، وهذا سماه الحافظ ابن الصلاح شبه الوضع وذكره في الموضوع ومثل له بالحديث المذكور هنا. انظر (علوم الحديث له / 90).

(2). نقلت الحديث بهذا الإسناد والسياق من كتاب المجروحين لابن حبان (1/ 207) ترجمة ثابت، والحديث رواه ابن ماجة (1/ 422 ح 1333) كتاب إقامة الصلاة باب ما جاء في قيام الليل.

(3). هذا مما زاده ابن حجر على ابن صلاح، ذكره في النكت وقال بعده: " وهذا مما يشترك فيه الإدراج والتدليس.

সনদ বা সূত্র(১)।

এর উদাহরণ হলো সেই হাদীস যা সাবিত ইবনে মুসা আল-যাহিদ, শারিক থেকে, তিনি আমাশ থেকে, তিনি আবু সুফিয়ান থেকে, তিনি জাবির থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তির রাতে সালাত (নামাজ) অধিক হয়, দিনে তার চেহারা সুন্দর হয়।"

অথচ এটি হলো শারিকের উক্তি, যা তিনি আমাশের সূত্রে আবু সুফিয়ান ও জাবির থেকে বর্ণিত হাদীসের শেষে বলেছিলেন: "তোমাদের কেউ যখন ঘুমায় তখন শয়তান তার ঘাড়ের পশ্চাৎভাগে তিনটি গিট দেয়"। সাবিত এটিকে বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত করে দিয়েছেন এবং শারিকের উক্তিটিকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী বানিয়ে ফেলেছেন। পরবর্তীতে একদল দুর্বল বর্ণনাকারী এটি সাবিতের কাছ থেকে গ্রহণ করে ছড়িয়ে দিয়েছেন এবং তারা শারিকের পক্ষ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন(২)।

ষষ্ঠ প্রকার:

বর্ণনাকারীর কাছে একটি হাদীসের মূল পাঠ (মতন) পুরোটা সংরক্ষিত থাকা, তবে তার একটি অংশ ব্যতীত। কারণ সেই অংশটি তিনি তার উস্তাদের নিকট থেকে সরাসরি শুনেননি, বরং তার এবং তার উস্তাদের মধ্যবর্তী কোনো মাধ্যম থেকে শুনেছেন। অতঃপর তার থেকে বর্ণনাকারী কোনো কোনো রাবী তা বিস্তারিত ব্যাখ্যা ছাড়াই মূল হাদীসের অন্তর্ভুক্ত করে বর্ণনা করেন(৩)।

এর উদাহরণ হলো ইসমাইল ইবনে জাফর কর্তৃক বর্ণিত হাদীস, তিনি হুমাইদ থেকে এবং তিনি আনাস থেকে উরায়না গোত্রের লোকদের ঘটনায় বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছিলেন: "তোমরা যদি আমাদের উটগুলোর কাছে যেতে এবং তাদের দুধ পান করতে—"

--------------------------------------------

(১). এই প্রকারটি হাফিজ ইবনে হাজার তার পূর্ববর্তী আলিমদের তুলনায় অতিরিক্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। হাফিজ ইবনে সালাহ একে জাল সদৃশ হিসেবে নামকরণ করেছেন এবং এটি তিনি জাল হাদীস অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন এবং এখানে উল্লিখিত হাদীসটিকে এর উদাহরণ হিসেবে পেশ করেছেন। দেখুন (তার প্রণীত উলূমুল হাদীস / ৯০)।

(২). আমি হাদীসটি এই সনদ ও প্রেক্ষাপটসহ ইবনে হিব্বানের 'আল-মাজরুহীন' (১/ ২০৭) গ্রন্থ থেকে সাবিতের জীবনী অংশ হতে উদ্ধৃত করেছি। হাদীসটি ইবনে মাজাহ (১/ ৪২২, হাদীস নং ১৩৩৩), সালাত কায়েম অধ্যায়, রাতের নামায সংক্রান্ত পরিচ্ছেদে বর্ণনা করেছেন।

(৩). এটি হাফিজ ইবনে হাজার কর্তৃক ইবনে সালাহর ওপর অতিরিক্ত সংযোজন, যা তিনি 'আন-নুকাত' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং এরপর বলেছেন: "এটি এমন বিষয় যাতে ইদরাজ (অনুপ্রবেশ) এবং তাদলীস (দোষ গোপন করা) উভয়ই বিদ্যমান।"

(খণ্ড: ১) আল-ফাসলু লিল ওয়াসলিল মুদরাজ ফিন নাকল (পৃষ্ঠা: ২৮)
وأبوالها " ولفظه: " أبوالها ". قال قتادة: " عن أنس بينة يزيد بن هارون وابن أبي عدي وغيرهم فقالوا فيه " فشربتم من ألبانها "، قال حميد قال قتادة عن أنس .. به(1).

أسباب الإدراج:(2)

أسباب ودواعيه الحاملة عليه كثيرة منها:

1 - أن يقصد الراوي أن يبين حكما أو نحو ذلك ثم يستدل عليه بقوله النبي صلى الله عليه وسلم وغالبا يكون هذا في الإدراج في أول المتن.

2 - ومنها أن يريد الراوي بيان حكم يستنبط من كلام النبي صلى الله عليه وسلم، وهذا قد يكون في الإدراج في وسط المتن وقد يكون في آخر المتن وهو الأكثر.

3 - ومنها أن يريد الراوي تفسير بعض الألفاظ الغريبة في الحديث النبوي.

بم يعرف الإدراج في الحديث؟

يعرف الإدراج في الحديث بأحد ثلاثة أمور(3) هي:

الأول: أن يكون في الحديث كلام يستحيل إضافته إلى النبي صلى الله عليه وسلم.

مثاله: حديث أبي هريرة: " للعبد المملوك الصالح أجران، والذي نفسي

--------------------------------------------

(1). انظر تخريج طرق هذا الحديث في كتاب الخطيب (ق 88/أ) حديث رقم 67، وهذا الحديث ساقه الخطيب في أحاديث القسم الأول من مدرج الإسناد أي في الباب الثاني من الكتاب.

(2). ذكره هذه الأسباب الأستاذ محيي الدين عبد الحميد في تعليقه على توضيح الأفكار للصنعاني 2/ 50 - 51 حاشية رقم 1، ولم أجدها عند غيره.

(3). انظر (النكت لابن حجر 2/ 812، فتح المغيث للسخاوي 1/ 242).

এবং সেগুলোর মূত্র।" এর শব্দ হলো: "সেগুলোর মূত্র।" কাতাদাহ বলেন: "আনাস (রা.) থেকে ইয়াজিদ ইবনে হারুন, ইবনে আবি আদি এবং অন্যদের বর্ণনায় বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে, তারা এতে বলেছেন: 'অতঃপর তোমরা সেগুলোর দুধ পান করো'। হুমাইদ বলেন, কাতাদাহ আনাস (রা.) থেকে এটি বর্ণনা করেছেন..."(১).

ইদরাজ (অনুপ্রবেশ)-এর কারণসমূহ:(২)

ইদরাজ হওয়ার কারণ ও এর পেছনে চালিকাশক্তি অনেক, তন্মধ্যে রয়েছে:

১ - বর্ণনাকারী (রাবী) কোনো বিধান বা অনুরূপ কিছু বর্ণনা করার ইচ্ছা করেন, অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর মাধ্যমে সেটির সপক্ষে দলিল পেশ করেন। সাধারণত এটি মতনের (মূল পাঠের) শুরুতে ঘটা ইদরাজ-এর ক্ষেত্রে হয়ে থাকে।

২ - তন্মধ্যে আরেকটি হলো, বর্ণনাকারী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী থেকে আহরিত (ইস্তিম্বাতকৃত) কোনো বিধান ব্যাখ্যা করার ইচ্ছা পোষণ করেন। এটি মতনের মাঝখানে হতে পারে অথবা মতনের শেষেও হতে পারে, আর এটিই অধিকাংশ ক্ষেত্রে ঘটে থাকে।

৩ - তন্মধ্যে আরেকটি হলো, বর্ণনাকারী হাদীসে নববীর কিছু দুর্বোধ্য (গরীব) শব্দের ব্যাখ্যা প্রদানের ইচ্ছা করেন।

হাদীসে ইদরাজ কীভাবে চেনা যায়?

হাদীসে ইদরাজ তিনটি বিষয়ের যেকোনো একটির মাধ্যমে চেনা যায়(৩), সেগুলো হলো:

প্রথম: হাদীসে এমন কোনো কথা থাকা যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি সম্বন্ধ করা অসম্ভব।

উদাহরণস্বরূপ: আবু হুরাইরা (রা.) বর্ণিত হাদীস: "সৎ ক্রীতদাসের জন্য দুটি সওয়াব রয়েছে। সেই সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ..."

--------------------------------------------

(১). আল-খতিব (বাগদাদী)-এর কিতাবে (পত্র ৮৮/ক) এই হাদীসের বিভিন্ন সূত্রের তাখরীজ দেখুন, হাদীস নম্বর ৬৭। খতিব এই হাদীসটি 'মুদ্রাজুল ইসনাদ'-এর প্রথম অংশের হাদীসসমূহের অধীনে অর্থাৎ কিতাবের দ্বিতীয় অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন।

(২). উস্তাদ মুহিউদ্দীন আব্দুল হামিদ আস-সান’আনী রচিত 'তাওদিহুল আফকার'-এর ওপর তাঁর টীকাভাষ্যে (২/৫০-৫১, টীকা নং ১) এই কারণগুলো উল্লেখ করেছেন। তিনি ছাড়া আর কারো নিকট আমি এগুলো পাইনি।

(৩). দেখুন (ইবনে হাজার রচিত 'আন-নুকাত' ২/৮১২, সাখাভী রচিত 'ফাতহুল মুগীস' ১/২৪২)।

(খণ্ড: ১) আল-ফাসলু লিল ওয়াসলিল মুদরাজ ফিন নাকল (পৃষ্ঠা: ২৯)
بيده لو لا الجهاد في سبيل الله والحج وبر أمي لأحببت أموت وأنا مملوك "(1)

فهذا الكلام الأخير - والذي نفسي بيده - يستحيل أضافته إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم لأمرين:

1 - أنه يمتنع أن يتمنى رسول الله صلى الله عليه وسلم أن يصير مملوكا.

2 - أن أمه صلى لله عليه وسلم توفيت وهو صغير، فلم يكن له أم يبرها، فتعين أن يكون هذا من كلام أبي هريرة، وقد جاء ذلك موضحًا في الطريق الآخر للحديث(1).

الثاني: أن يصرح الصحابي بأنه لم يسمع تلك الجملة من النبي صلى الله عليه وسلم.

مثاله: حديث ابن مسعود عن رسول الله صلى الله عليه وسلم: " قال من مات وهو لا يشرك بالله شيئا دخل الجنة، ومن مات يشرك بالله شيئا دخل النار ".

هكذا رواه أحمد بن عبد الجبار العطاردي عن أبي بكر بن عياش بإسناده ووهم فيه، فقد رواه الأسود بن عامر وغيره عن أبي بكر بن عياش بلفظ: " قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من جعل لله عز وجل ندا دخل النار، وأخرى أقولها ولم أسمعها منه صلى الله عليه وسلم من مات لا يجعل لله ندًا أدخله الجنة "(2).

قال الحافظ ابن حجر: " فهذا كالذي قبله في الجزم بكونه مدرجا "(3).

الثالث: أن يصرح بعض الرواة بفصل الجملة المدرجة فيه عن المتن المرفوع بأن يضيف الكلام إلى قائله.

--------------------------------------------

(1). انظر تخريجه في كتاب الفصل للوصل المدرج في النقل (ق 10/أ) حديث رقم 9.

(2). انظر تفصيل رواياته في الفصل للوصل حديث رقم: 16 ق 18/ب وما بعدها.

(3). النكت على ابن الصلاح (2/ 814).

...তাঁর হাতের কসম! যদি আল্লাহর পথে জিহাদ, হজ এবং আমার মায়ের প্রতি সদাচরণ (থাকার বিষয়টি) না থাকত, তবে আমি দাস হিসেবে মৃত্যুবরণ করা পছন্দ করতাম।"(১)

এই শেষোক্ত কথাটি - এবং সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ রয়েছে - রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দিকে সম্বন্ধ করা দুটি কারণে অসম্ভব:

১ - রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দাস হওয়ার আকাঙ্ক্ষা করবেন, এটি অসম্ভব।

২ - তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাতা ইন্তেকাল করেছিলেন যখন তিনি ছোট ছিলেন, তাই তাঁর এমন কোনো মা ছিলেন না যার প্রতি তিনি সদাচরণ করবেন। সুতরাং এটি নিশ্চিত যে, এটি আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহুর কথা। হাদিসের অন্য একটি সূত্রে বিষয়টি স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে(১)।

দ্বিতীয়ত: সাহাবী কর্তৃক স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করা যে, তিনি ওই বাক্যটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে শুনেননি।

উদাহরণস্বরূপ: ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিস: "তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোনো কিছু শরিক না করে মারা গেল, সে জান্নাতে প্রবেশ করল; আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোনো কিছু শরিক করে মারা গেল, সে জাহান্নামে প্রবেশ করল।"

এভাবেই আহমদ ইবনে আব্দুল জব্বার আল-উতারিদী এটি আবু বকর ইবনে আইয়াশ থেকে তাঁর সনদে বর্ণনা করেছেন এবং এতে তিনি ভ্রম করেছেন। কেননা আল-আসওয়াদ ইবনে আমির এবং অন্যরা আবু বকর ইবনে আইয়াশ থেকে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য কোনো সমকক্ষ স্থির করবে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। আর অন্য একটি কথা আমি বলছি যা আমি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে শুনিনি: যে ব্যক্তি আল্লাহর কোনো সমকক্ষ স্থির না করে মারা যাবে, তিনি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।"(২)

হাফেজ ইবনে হাজার রহ. বলেন: "এটিও পূর্ববর্তীটির মতোই নিশ্চিতভাবে মুদরাজ (অনুপ্রবিষ্ট) হওয়ার অন্তর্ভুক্ত।"(৩)

তৃতীয়ত: কোনো কোনো রাবীর মাধ্যমে মারফূ মতনের ভেতর থেকে মুদরাজ বাক্যটিকে পৃথক করে দেওয়া এবং উক্ত কথাটিকে তার প্রকৃত বক্তার দিকে সম্বন্ধ করা।

--------------------------------------------

(১). আল-ফাসলু লি-ওয়াসলিল মুদরাজ ফিন নাকল গ্রন্থে এর তাখরিজ দেখুন (পৃষ্ঠা ১০/ক), হাদিস নম্বর ৯।

(২). আল-ফাসলু লি-ওয়াসলু গ্রন্থে এর বর্ণনাগুলোর বিস্তারিত দেখুন, হাদিস নম্বর: ১৬, পৃষ্ঠা ১৮/খ এবং পরবর্তী।

(৩). আন-নুকাত আলা ইবনুস সালাহ (২/ ৮১৪)।

(খণ্ড: ১) আল-ফাসলু লিল ওয়াসলিল মুদরাজ ফিন নাকল (পৃষ্ঠা: ৩০)
قال السخاوي: " أو باقتصار بعض الرواة على الأصل المرفوع(1) فقط ".

مثاله: حديث ابن مسعود في التشهد الذي مر الكلام عليه في مثال مدرج المتن مثالا للمدرج في آخر المتن.

قال الحافظ ابن حجر: " والحكم على هذا القسم بالإدراج يكون بحسب غلبة ظن المحدث الحافظ الناقد ولا يوجب القطع بذلك بخلاف القسمين الأولين.

وأكثر هذا الثالث يقع تفسيرا لبعض الألفاظ الغريبة الواردة في الحديث(2).

حكم الإدراج:

قال الحافظ زين الدين العراقي(3): " واعلم أنه لا يجوز تعمد شيء من الإدراج ".

أما الحافظ ابن حجر فإنه يرى التفصيل في ذلك(4).

فقال: إذا كان الإدراج فيه إثبات حكم شرعي وإيهام أنه مرفوع فذلك هو الذي يحرم.

أما إذا كان الإدراج وقع تفسيرا لبعض الألفاظ الواقعة في الحديث مثل تفسير لفظة التحنث بالتعبد، وكذلك تفسير الشغار والمحاقلة والمزابنة

--------------------------------------------

(1). فتح المغيث للسخاوي (1/ 342).

(2). النكت (2/ 816).

(3). انظر: ((التبصرة والتذكرة 1/ 260، وعلوم الحديث لابن الصلاح /89)).

(4). انظر: النكت 2/ 817 – 819، نزهة النظر 46، فتح المغيث 243، 247.

আস-সাখাবী বলেন: "অথবা কোনো কোনো বর্ণনাকারীর কেবল মূল মারফূ'(১) বর্ণনার ওপর সীমাবদ্ধ থাকার কারণে।"

এর উদাহরণ: তাশাহহুদ সম্পর্কে ইবনে মাসউদের বর্ণিত হাদীসটি, যা 'মাদরাজুল মাতন' (মূল পাঠে প্রক্ষিপ্ত অংশ)-এর আলোচনায় হাদীসের শেষে প্রক্ষিপ্ত হওয়ার উদাহরণ হিসেবে গত হয়েছে।

হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: "এই প্রকারের ওপর ইদরাজ (প্রক্ষিপ্ত হওয়ার) হুকুম লাগানো হবে পারদর্শী মুহাদ্দিস ও হাফেজ সমালোচকের প্রবল ধারণার ওপর ভিত্তি করে, এবং এটি নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয় না; যা প্রথম দুই প্রকারের বিপরীত।

এই তৃতীয় প্রকারের অধিকাংশ ক্ষেত্রে হাদীসে আসা কিছু অপরিচিত শব্দের ব্যাখ্যা হিসেবে ঘটে থাকে(২)।

ইদরাজের হুকুম:

হাফেজ যাইনুদ্দীন আল-ইরাকী(৩) বলেন: "জেনে রেখো যে, ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো কিছু প্রক্ষিপ্ত (ইদরাজ) করা জায়েয নয়।"

তবে হাফেজ ইবনে হাজার এ বিষয়ে বিস্তারিত মত পোষণ করেন(৪)।

তিনি বলেন: যদি ইদরাজের মাধ্যমে কোনো শরয়ী বিধান সাব্যস্ত করা হয় এবং এমন বিভ্রম সৃষ্টি করা হয় যে এটি মারফূ' (রাসূলের বাণী), তবে তা হারাম।

কিন্তু যদি ইদরাজ হাদীসে বর্ণিত কোনো শব্দের ব্যাখ্যা হিসেবে ঘটে থাকে, যেমন 'তাহান্নুছ' শব্দের ব্যাখ্যা 'ইবাদত' দ্বারা করা, এবং একইভাবে 'শিগার', 'মুহাক্বালা' ও 'মুযাবানা' শব্দের ব্যাখ্যা করা...

--------------------------------------------

(১). আস-সাখাবীর ফাতহুল মুগীছ (১/৩৪২)।

(২). আন-নুকাআত (২/৮১৬)।

(৩). দেখুন: ((আত-তাবসিরাহ ওয়াত-তাযকিরাহ ১/২৬০, এবং ইবনুস সালাহ-এর উলূমুল হাদীস /৮৯))।

(৪). দেখুন: আন-নুকাআত ২/৮১৭ – ৮১৯, নুযহাতুন নাযার ৪৬, ফাতহুল মুগীছ ২৪৩, ২৪৭।

(খণ্ড: ১) আল-ফাসলু লিল ওয়াসলিল মুদরাজ ফিন নাকল (পৃষ্ঠা: ৩১)
والزعيم ونحو ذلك، من فالأمر في ذلك سهل ولا يحرم؛ لأنه إن أثبت الراوي رفعه فذاك وإلا فإن الراوي أعرف بتفسير ما روى، ثم قال: " وفي الجملة إذا قال الدليل على إدراج جملة معينة بحيث يغلب على الظن ذلك فسواء كان في الأول أو الوسط أو الأخير، فإن سبب ذلك الاختصار من بعض الرواة بحذف أداة التفسير أو التفصيل فيجيء مَن بعده فيرويه مدمجًا من غير تفصيل ثم ذكر عن الإمام أحمد أنه قال: " كان وكيع يقول في الحديث: " يعني كذا وكذا، وربما حذف ((يعني)) وذكر التفسير في الحديث ".

وكذلك كان الزهري يفسر الأحاديث كثيرا وربما أسقط أداة التفسير فكان بعض أقرانه ربما يقول له: أفضل كلامك من كلام النبي صلى الله عليه وسلم(1).

المؤلفات في المدرج:

أول من ألف في هذا الموضوع الحافظ أحمد بن علي الخطيب البغدادي حيث ألف كتابه: ((الفصل للوصل المدرج في النقل))، وهو الذي أقدم له بهذه المقدمة. قال الحافظ ابن الصلاح: " وهذا النوع قد صنف فيه الخطيب البغدادي في كتابه الموسوم بالفصل للوصل المدرج في النقل " فشفى وكفى(2).

وقد احتوى كتاب الخطيب على مائة وأحد عشر حديثا، وسيأتي مزيد تفصيل عنه في قسم الدراسة عن كتابه إن شاء الله.

--------------------------------------------

(1). النكت (2/ 829).

(2). علوم الحديث/ 89.

এবং নেতা বা তদ্রূপ শব্দাবলি ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিষয়টি সহজ এবং এটি হারাম নয়। কারণ বর্ণনাকারী যদি একে মারফু হিসেবে সাব্যস্ত করেন তবে সেটিই গণ্য হবে, অন্যথায় বর্ণনাকারী নিজে যা বর্ণনা করেছেন তার ব্যাখ্যা সম্পর্কে অধিক অবগত। অতঃপর তিনি বলেন: "সারসংক্ষেপ হলো, যখন কোনো নির্দিষ্ট বাক্য অনুপ্রবিষ্ট (ইদরাজ) হওয়ার স্বপক্ষে এমন প্রমাণ পাওয়া যায় যা প্রবল ধারণার সৃষ্টি করে, তবে তা শুরুতে হোক, মাঝে হোক কিংবা শেষে হোক—এর কারণ হলো কিছু বর্ণনাকারীর ব্যাখ্যামূলক শব্দ বা বিবরণ বাদ দিয়ে সংক্ষেপ করা, ফলে পরবর্তী বর্ণনাকারী এসে কোনো পৃথকীকরণ ছাড়াই তা মূল পাঠের সাথে মিলিয়ে বর্ণনা করেন।" এরপর ইমাম আহমাদ থেকে উল্লেখ করা হয়েছে যে তিনি বলেন: "ওয়াকি হাদিস বর্ণনার সময় বলতেন: 'এর অর্থ এই ও এই', আবার কখনো কখনো তিনি 'অর্থাৎ' শব্দটি বাদ দিয়ে সরাসরি হাদিসের ভেতর ব্যাখ্যাটি উল্লেখ করতেন।"

একইভাবে যুহরীও প্রচুর হাদিসের ব্যাখ্যা করতেন এবং অনেক সময় ব্যাখ্যামূলক শব্দ বাদ দিতেন, যার ফলে তাঁর সমসাময়িক কেউ কেউ তাঁকে বলতেন: আপনার কথাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথা থেকে পৃথক করুন(১)।

মুদরাজ বিষয়ক গ্রন্থাবলি:

এই বিষয়ে প্রথম যিনি গ্রন্থ রচনা করেছেন তিনি হলেন হাফিজ আহমাদ ইবনে আলী আল-খতিব আল-বাগদাদী। তিনি তাঁর 'আল-ফাসলু লিল ওয়াসলিল মুদরাজি ফিন নাকল' নামক গ্রন্থটি রচনা করেছেন, যার জন্য আমি এই ভূমিকাটি পেশ করছি। হাফিজ ইবনুস সালাহ বলেন: "এই প্রকারভেদ নিয়ে খতিব আল-বাগদাদী তাঁর 'আল-ফাসলু লিল ওয়াসলিল মুদরাজি ফিন নাকল' নামক গ্রন্থে আলোচনা করেছেন," যা অত্যন্ত নিখুঁত এবং পর্যাপ্ত হয়েছে(২)।

খতিবের গ্রন্থটিতে একশ এগারোটি হাদিস অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ তাঁর কিতাব সংক্রান্ত গবেষণা অংশে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা আসবে।

--------------------------------------------

(১). আন-নুকাত (২/ ৮২৯)।

(২). উলুমুল হাদিস/ ৮৯।

(খণ্ড: ১) আল-ফাসলু লিল ওয়াসলিল মুদরাজ ফিন নাকল (পৃষ্ঠা: ৩২)
ثم عمد(1) الحافظ ابن حجر إلى كتاب الخطيب هذا – كما فعل مع غيره من كتب الخطيب – فرتبه على الأبواب ثم اختصر أسانيده ثم استدرك عليه ما فاته من الأحاديث المدرجة وبلغت قدره مرتين أو أكثر.(2)

قال ابن حجر: " … وقد لخصته ورتبته على الأبواب والمسانيد، وزدت على ما ذكره الخطيب أكثر من القدر الذي ذكره(3)، ثم قال: واسمه تقريب المنهج بترتيب المدرج أعان الله على تكميله وتبيضه إنه على كل شيء قدير "(4).

وقال السخاوي عن كتاب ابن حجر: " وسماه ((تقريب المنهج بترتيب المدرج))، وقال فيه: إنه وقعت له جملة أحاديث على شرط الخطيب، وإنه عزم على جمعها وتحريرها، وإلحاقها بهذا المختصر أو في آخره مفردة كالذيل، وكأنه لم يبيضها فما رأيتها بعد "(5).

وكتاب الحافظ ابن حجر لم أقف عليه ولا أعلم أنه موجود.

ثم جاء الحافظ السيوطي فلخص كتاب الحافظ ابن حجر مقتصرا على

--------------------------------------------

(1). ذكر خير الدين الزركلي في الإعلام (1/ 217) في ترجمة أحمد بن محمد بن عمر بن واجب (ت/614 هـ) الأندلسي أنه اختصر كتابي ((الفصل للوصل المدرج في النقل والمكمل في بيان المهمل)) للخطيب البغدادي. أ. هـ ولم أقف عليه ولا من ذكره غير الزركلي، والله أعلم.

(2). نص على ذلك السخاوي في الفتح (1/ 247)، والسيوطي في التدريب (1/ 274).

(3). النكت على ابن الصلاح (2/ 811).

(4). المصدر السابق (2/ 829).

(5). فتح المغيث للسخاوي (1/ 247).

এরপর হাফিজ ইবনু হাজার খতিবের এই বইটির প্রতি মনোনিবেশ করলেন(১)—যেমনটি তিনি খতিবের অন্যান্য কিতাবগুলোর সাথে করেছেন—অতঃপর তিনি এটিকে অধ্যায় অনুসারে বিন্যস্ত করলেন, তারপর এর সনদগুলোকে সংক্ষিপ্ত করলেন এবং এরপর এতে যা 'মুদরাজ' (সংযুক্ত) হাদিসগুলো তাঁর দৃষ্টির আড়ালে ছিল তা তিনি যুক্ত করলেন, আর এর পরিমাণ মূল কিতাবের দ্বিগুণ বা তার চেয়েও বেশি হয়ে দাঁড়িয়েছে।(২)

ইবনু হাজার বলেন: " ... এবং আমি এটি সংক্ষেপ করেছি এবং অধ্যায় ও মুসনাদ অনুসারে বিন্যস্ত করেছি, আর খতিব যা উল্লেখ করেছেন তার ওপর তাঁর উল্লেখ করা পরিমাণের চেয়েও বেশি বৃদ্ধি করেছি(৩)। অতঃপর তিনি বলেন: আর এর নাম হলো 'তাক্বরিবুল মানহাজ বিতরতিবিল মুদরাজ'। আল্লাহ এটি সম্পন্ন করতে এবং চূড়ান্ত পাণ্ডুলিপি প্রস্তুত করতে সাহায্য করুন, নিশ্চয়ই তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান।"(৪)

সাখাভী ইবনু হাজারের কিতাব সম্পর্কে বলেন: "তিনি এর নাম রেখেছেন 'তাক্বরিবুল মানহাজ বিতরতিবিল মুদরাজ'। এতে তিনি বলেছেন: তাঁর কাছে খতিবের শর্তানুসারে একগুচ্ছ হাদিস এসেছে এবং তিনি সেগুলো সংকলন ও সম্পাদনা করার সংকল্প করেছেন এবং সেগুলোকে এই সংক্ষেপিত গ্রন্থের সাথে অথবা এর শেষে পরিশিষ্ট হিসেবে যুক্ত করার ইচ্ছা করেছেন। তবে মনে হয় তিনি এর চূড়ান্ত পাণ্ডুলিপি প্রস্তুত করতে পারেননি, তাই আমি পরে এটি আর দেখিনি।"(৫)

হাফিজ ইবনু হাজারের এই কিতাবটি আমি খুঁজে পাইনি এবং এটি বর্তমানে বিদ্যমান আছে বলেও আমার জানা নেই।

এরপর হাফিজ সুয়ূতী আসলেন এবং হাফিজ ইবনু হাজারের কিতাবটি সংক্ষেপ করলেন এবং শুধু সীমাবদ্ধ থাকলেন...

--------------------------------------------

(১). খাইরুদ্দিন যারাকলি 'আল-আ'লাম' (১/ ২১৭) গ্রন্থে আহমাদ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু উমর ইবনু ওয়াজিব (মৃত্যু: ৬১৪ হি.) আল-আন্দালুসির জীবনীতে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি খতিব বাগদাদীর 'আল-ফাসলুলিল ওয়াসলিল মুদরাজ ফিন নাক্বল' এবং 'আল-মুকাম্মিল ফি বয়ানিল মুহমাল' কিতাব দুটি সংক্ষেপ করেছেন। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। আমি এটি খুঁজে পাইনি এবং যারাকলি ছাড়া অন্য কাউকে এটি উল্লেখ করতেও দেখিনি, আর আল্লাহই ভালো জানেন।

(২). সাখাভী 'আল-ফাতহ' (১/ ২৪৭) গ্রন্থে এবং সুয়ূতী 'আত-তাদরিব' (১/ ২৭৪) গ্রন্থে বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।

(৩). আন-নুকাতি আলা ইবনুস সালাহ (২/ ৮১১)।

(৪). পূর্বোক্ত উৎস (২/ ৮২৯)।

(৫). সাখাভীর ফাতহুল মুগিস (১/ ২৪৭)।

(খণ্ড: ১) আল-ফাসলু লিল ওয়াসলিল মুদরাজ ফিন নাকল (পৃষ্ঠা: ৩৩)
مدرج المتن، وحذف الأسانيد قال في مقدمة كتابه: " هذا جزء لطيف سميته المدرج بفتح الميم – إلى المدرج – بضم الميم – لخصته من تقريب المنهج بترتيب المدرج لشيخ الإسلام الحافظ ابن حجر إلا أنني اقتصرت فيه على مدرج المتن دون مدرج الإسناد زوائد مهمة من مدرجات المتون خلا عنها كتابه وهي مسطورة في كتب النقاد، والله الموفق "(1).

وقد طبع كتاب المدرج إلى المدرج للسيوطي بتحقيق السيد صبحي السامرائي في حوالي ثلاثين صفحة طباعة الدار السلفية بالكويت وقد تضمن كتاب السيوطي سبعين حديثا كلها في مدرج المتن، وقد جاءت هذه الطبعة كثيرة الخطأ والتصحيف وفيما يلي بعض هذه الأغلاط والتصحيفات:

1 - في الحديث السادس عشر: حديث ابن عمر في النهي عن بيع الثمرة حتى يبدو صلاحها " … بين ذلك غندر أخرجه مسلم عن إبراهيم "(2) المدرج إلى المدرج ص (26) – والصواب " بين ذلك غندر ومسلم بن إبراهيم " وهو الفراهيدي من رجال التهذيب.

2 - وفي الحديث السابع والعشرون ص (31) من المدرج إلى المدرج السطر العاشر لكن رواية أحمد من طريق عبد الملك بن أبي عتبة – بالعين المهملة والمثناة الفوقية والباء الموحدة – عن .. ، والصواب " عبد الملك بن حميد بن حميد ابن أبي غنية – بالغين المعجمة المفتوحة والنون المكسورة ثم التحتانية

--------------------------------------------

(1). انظر: مقدمة المدرج إلى المدرج ص 17.

(2). انظر الفصل للوصول المدرج في النقل حديث رقم 2.

মতনের মুদরাজ (সংযোজন) এবং সনদসমূহ বর্জন। তিনি তাঁর কিতাবের ভূমিকায় বলেছেন: "এটি একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা, আমি এর নাম রেখেছি 'আল-মুদরাজ' (মীমে ফাতহাহ বা যবরসহ) থেকে 'আল-মুদরাজ' (মীমে যম্মাহ বা পেশসহ)। আমি এটি শায়খুল ইসলাম হাফিজ ইবনে হাজারের 'তাকরীবুল মানহাজ বি তারতীবিল মুদরাজ' থেকে সংক্ষেপ করেছি; তবে আমি এতে সনদের মুদরাজ বাদ দিয়ে কেবল মতনের মুদরাজের ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছি। এতে মতনের মুদরাজসমূহের এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন রয়েছে যা তাঁর (ইবনে হাজারের) কিতাবে ছিল না, অথচ সেগুলো সমালোচক ইমামদের কিতাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে। আর আল্লাহই তাওফীকদাতা।"(১).

সুয়ূতী রহ.-এর 'আল-মুদরাজ ইলাল মুদরাজ' কিতাবটি সায়্যিদ সুবহী আস-সামাররাঈ-এর তাহকীকে কুয়েতের আদ-দারুস সালাফিয়্যাহ থেকে প্রায় ত্রিশ পৃষ্ঠায় মুদ্রিত হয়েছে। সুয়ূতীর এই কিতাবটিতে সত্তরটি হাদীস অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যার সবগুলোই মতনের মুদরাজ সংক্রান্ত। এই সংস্করণটিতে প্রচুর ভুল এবং বর্ণবিভ্রাট (তাসহাফ) পরিলক্ষিত হয়েছে। নিচে এই ভুল ও বর্ণবিভ্রাটগুলোর কয়েকটি উল্লেখ করা হলো:

১ - ষোড়শ হাদীসে: ফল পরিপক্ক হওয়ার আগে তা বিক্রি করতে নিষেধ করা সংক্রান্ত ইবনে উমরের হাদীস: "…এটি গুন্দার স্পষ্ট করেছেন, মুসলিম ইবরাহীম থেকে এটি বর্ণনা করেছেন"(২) [আল-মুদরাজ ইলাল মুদরাজ, পৃষ্ঠা ২৬] – অথচ সঠিক হলো "এটি গুন্দার এবং মুসলিম বিন ইবরাহীম স্পষ্ট করেছেন।" তিনি হলেন আল-ফারাহিদী, যিনি তাহযীবের বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত।

২ - সাতাইশতম হাদীসে, আল-মুদরাজ ইলাল মুদরাজ-এর ৩১ নম্বর পৃষ্ঠার দশম লাইনে আছে: "কিন্তু আহমাদ রহ.-এর বর্ণনা আবদুল মালিক বিন আবী উতবাহ —আইন (বিন্দুহীন), তা (উপরে দুই বিন্দু বিশিষ্ট) এবং বা (এক বিন্দু বিশিষ্ট) যোগে— এর সূত্রে..."। অথচ সঠিক হলো "আবদুল মালিক বিন হুমাইদ বিন হুমাইদ বিন আবী গানিয়্যাহ" —গায়িন (বিন্দুযুক্ত ও ফাতহাযুক্ত), নূন (কাসরাযুক্ত) এবং এরপর ইয়া যোগে।

--------------------------------------------

(১). দেখুন: আল-মুদরাজ ইলাল মুদরাজ-এর ভূমিকা, পৃষ্ঠা ১৭।

(২). দেখুন: আল-ফাসলু লিল-উসুলিল মুদরাজ ফিন-নাকল, হাদীস নং ২।

(খণ্ড: ১) আল-ফাসলু লিল ওয়াসলিল মুদরাজ ফিন নাকল (পৃষ্ঠা: ৩৪)
المشددة .. "(1) انظر التقريب (218).

3 - وفي الحديث الثامن والثلاثين: حديث أبي جحيفة " رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم .. وأتي بثوب من القصاب أو يذهب به إلى القصاب … " المدرج إلى المدرج ص (35)(2).

والصواب: " القصار بالراء وليس بالباء الموحدة "، وغير ذلك كثير مما قد يدخل تحت الأخطاء المطبعية وغيها.

كتاب تسهيل المدرج إلى المدرج:

قصد السيد عبد العزيز الغماري إلى كتاب المدرج إلى المدرج فرتبه على المسانيد ورتب المسانيد على حروف المعجم، واعتمد على النسخة المطبوعة فجاء كتابه مليئًا بالأخطاء إذ ضم إلى كثير من أخطاء المطبوعة أخطاء أخرى وإليك بعض النماذج:

في مسند سهل بن سعد حديث رقم 25 - حديث اللعان عزاء السيوطي إلى الدار قطني … ، قال صاحب التسهيل ص (26): " في سنن الدار قطني (3/ 274)، وقد سبق إلى هذا العزو السيد صبحي السامرائي في المطبوعة ولكن هذا خطأ فالحديث الموجود في هذا الموضع من السنن ليس بهذا الإسناد ولا بهذا السياق وهو بهذا الإسناد والسياق في مسند سهل بن سعد في العلل(3).

--------------------------------------------

(1). المصدر السابق حديث رقم (4).

(2). المصدر السابق حديث رقم (12).

(3). انظر الفصل للوصول المدرج في النقل حديث رقم 25.

আল-মুশাদ্দাদাহ .. "(১) আত-তাকরীব (২১৮) দেখুন।

৩ - ৩৮তম হাদিসে: আবু জুহাইফাহ-র হাদিস, "আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে দেখেছি .. এবং কাসসাব (কসাই)-এর নিকট থেকে একটি কাপড় আনা হলো অথবা সেটি কাসসাবের নিকট নিয়ে যাওয়া হলো … " আল-মুদরাজ ইলাল মুদরাজ, পৃষ্ঠা (৩৫)(২)।

সঠিক হলো: "কাসসার 'রা' বর্ণ দিয়ে, একক বিন্দুযুক্ত 'বা' বর্ণ দিয়ে নয়", এ ছাড়া আরও অনেক ভুল রয়েছে যা মুদ্রণজনিত ত্রুটি বা অন্য কিছুর অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

তাসহীলুল মুদরাজ ইলাল মুদরাজ গ্রন্থ:

সাইয়্যেদ আব্দুল আজিজ আল-গুমারী 'আল-মুদরাজ ইলাল মুদরাজ' গ্রন্থটির প্রতি মনোনিবেশ করেন এবং একে মাসানিদ (হাদিস গ্রন্থসমূহ)-এর ভিত্তিতে বিন্যস্ত করেন এবং মাসানিদসমূহকে বর্ণানুক্রমিক সাজান। তিনি মুদ্রিত কপির ওপর নির্ভর করেছিলেন, ফলে তাঁর বইটি ভুলে পূর্ণ হয়ে যায়। কেননা তিনি মুদ্রিত কপির অনেক ভুলের সাথে আরও কিছু ভুল যোগ করেছিলেন। নিচে কিছু নমুনা দেওয়া হলো:

সাহল বিন সা'দ-এর মুসনাদে হাদিস নং ২৫ - লিআনের হাদিস, যা আস-সুয়ূতী আদ-দারাকুতনী-র দিকে সম্বন্ধ করেছেন … , 'তাসহীল' গ্রন্থের লেখক (পৃষ্ঠা ২৬) বলেন: "সুনানে আদ-দারাকুতনীতে (৩/২৭৪) রয়েছে। ইতিপূর্বে মুদ্রিত কপিতে সাইয়্যেদ সুবহি আস-সামাররাঈ-ও এই সম্বন্ধ করেছেন, কিন্তু এটি ভুল। কেননা সুনানের এই স্থানে বিদ্যমান হাদিসটি এই সনদে এবং এই প্রেক্ষাপটে বর্ণিত হয়নি। বরং এই সনদ ও প্রেক্ষাপটে হাদিসটি 'আল-ইলাল' গ্রন্থে সাহল বিন সা'দ-এর মুসনাদে বর্ণিত হয়েছে(৩)।

--------------------------------------------

(১). পূর্বোক্ত উৎস, হাদিস নং (৪)।

(২). পূর্বোক্ত উৎস, হাদিস নং (১২)।

(৩). আল-ফাসলু লি-উসুলিল মুদরাজ ফিন নাকল, হাদিস নং ২৫ দেখুন।

(খণ্ড: ১) আল-ফাসলু লিল ওয়াসলিল মুদরাজ ফিন নাকল (পৃষ্ঠা: ৩৫)
وفي مسند ابن عمر حديث رقم (16) ص (30) قال: " بيّن ذلك غندر .. ومسلمة بن إبراهيم.

والصواب مسلم بن إبراهيم وهو الفراهيدي نص عليه الخطيب في المدرج(1).

وفي مسند ابن عمر أيضا حديث (27) في النهي عن القرآن قال في ص (34) " عن الثوري عن جدلة – بالجيم والدال - والصواب جيلة – وهو ابن سحيم – بالجيم والباء الموحدة(2).

وفي مسند أبي سعيد الخدري حديث رقم (20) في النهي عن بيع الذهب بالذهب … قال: " ولا يشق بعضها على بعض " – هكذا بالقاف – وهو في نفس المطبوعة أيضا بالقاف وهو خطأ بين إذ صوابه " لا يشف بالفاء أي لا يزيد بعضها على بعض "(3) هذه نماذج للأخطاء وإلا فهناك أخطاء كثيرة، والله المستعان.

--------------------------------------------

(1). المصدر السابق حديث رقم (2).

(2). المصدر السابق حديث رقم (4).

(3). المصدر السابق حديث رقم (13).

এবং মুসনাদে ইবনে উমর-এর ১৬ নম্বর হাদিস, পৃষ্ঠা ৩০-এ বলা হয়েছে: "এটি বর্ণনা করেছেন গুন্দার... এবং মাসলামাহ বিন ইব্রাহিম।"

অথচ সঠিক হলো মুসলিম বিন ইব্রাহিম, আর তিনি হলেন আল-ফারাহিদি; খতিব 'আল-মুদরাজ' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন(১)।

এবং মুসনাদে ইবনে উমর-এর ২৭ নম্বর হাদিসে কুরআন পাঠের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে ৩৪ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে: "সাওরি থেকে, তিনি জাদলাহ থেকে—জীম এবং দাল দিয়ে—অথচ সঠিক হলো জাইলাহ—আর তিনি হলেন ইবনে সুহাইম—জীম এবং এক নুক্তাযুক্ত 'বা' দিয়ে"(২)।

এবং মুসনাদে আবু সাঈদ আল-খুদরি-তে ২০ নম্বর হাদিসে স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ বিক্রয় নিষিদ্ধকরণ প্রসঙ্গে... বলা হয়েছে: "এক অংশ যেন অন্য অংশের ওপর বৃদ্ধি না পায় (ইয়াশাক্কু)"—এভাবে 'ক্বাফ' বর্ণ দিয়ে লেখা হয়েছে—এবং এই মুদ্রিত কিতাবেও এটি 'ক্বাফ' দিয়েই আছে যা একটি স্পষ্ট ভুল; কারণ সঠিক পাঠ হলো "লা ইউশিফ" 'ফা' বর্ণ দিয়ে, অর্থাৎ এক অংশ যেন অন্য অংশের চেয়ে বেড়ে না যায়(৩)। এগুলো ভুলের কিছু নমুনা মাত্র, নতুবা সেখানে আরও অনেক ভুল রয়েছে; আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাওয়া হয়।

--------------------------------------------

(১). পূর্বোক্ত উৎস, হাদিস নম্বর (২)।

(২). পূর্বোক্ত উৎস, হাদিস নম্বর (৪)।

(৩). পূর্বোক্ত উৎস, হাদিস নম্বর (১৩)।

(খণ্ড: ১) আল-ফাসলু লিল ওয়াসলিল মুদরাজ ফিন নাকল (পৃষ্ঠা: ৩৮)
‌‌1 - التعريف بمؤلف الكتاب (1):

هو أبو بكر أحمد بن علي بن ثابت بن أحمد البغدادي - من أصل عربي - ولد سنة (392) هـ ونشأ في بيت من بيوت العلم والصلاح، إذ كان والده رجلا صالحا محبا للعلم والعلماء؛ ولذا حرص على تنشئة ابنه تنشئة علمية مبنية على تقوى الله عز وجل وطلب العلم لوجه الله تعالى، فأخذه من الصغر إلى مؤدب يؤدبه ويقرئه القرآن ثم وجهه بعد ذلك إلى حلقات العلم ومجالس العلماء(2).

 

‌‌طلب للعلم ورحلته:

بدأ الخطيب رحمه الله بالجلوس إلى حلقات العلم في وقت مبكر وأخذ يتنقل من حلقة إلى حلقة يسمع من هذا الشيخ ويقرأ على ذاك، فسمع الحديث وأخذ الفقه والنحو وغير ذلك على كبار علماء بغداد في وقته حتى إذا صلب عوده أخذ يتطلع إلى طلب العلم على العلماء المقيمين خارج بغداد وخاصة المحدثين منهم فرحل في سبيل ذلك إلى الحجاز والشام ومصر والمشرق، وبعض هذه البلدان كرر الرحلة إليها رغبة في سماع العلم من علمائها، واهتم الخطيب كثيرا بالرحلة ولذلك أكثر من الرحلة في طلب العلم بل وألّف في ذلك كتابا سماه ((الرحلة في طلب الحديث))(3).

--------------------------------------------

(1). قد درس الخطيب دراسة وافية من الأستاذ يوسف العش، والأستاذ الدكتور أكرم العمري، وكذلك الدكتور محمود الطحان، فذلك اكتفيت بهذه الترجمة الموجزة جدا تلافيا للتكرار بدون فائدة.

(2). انظر موارد الخطيب البغدادي /29.

(3). طبع أكثر من مرة بتحقيق الأستاذ العش، بتحقيق صبحي السامرائي.

১ - গ্রন্থকারের পরিচিতি (১):

তিনি হলেন আবু বকর আহমদ ইবনে আলী ইবনে সাবিত ইবনে আহমদ আল-বাগদাদি - আরব বংশোদ্ভূত - তিনি ৩৯২ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং জ্ঞান ও নেককারিতার একটি পরিবারে বেড়ে ওঠেন। যেহেতু তাঁর পিতা ছিলেন একজন নেককার ব্যক্তি এবং জ্ঞান ও আলেমদের প্রতি অত্যন্ত অনুরাগী; তাই তিনি তাঁর সন্তানকে আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লার তাকওয়া এবং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ইলম অর্জনের ওপর ভিত্তি করে একটি ইলমি পরিবেশে গড়ে তুলতে সচেষ্ট ছিলেন। শৈশবকালেই তিনি তাঁকে একজন শিক্ষকের নিকট নিয়ে যান যিনি তাঁকে শিষ্টাচার শিক্ষা দেন এবং কুরআন পাঠ করান, এরপর তিনি তাঁকে ইলমি হালকা ও আলেমদের মজলিসের দিকে ধাবিত করেন(২).

 

‌ইলম অর্জন ও তাঁর সফর:

খতিব রহমাতুল্লাহি আলাইহি খুব অল্প বয়সেই ইলমি হালকাগুলোতে বসা শুরু করেন এবং এক হালকা থেকে অন্য হালকায় যাতায়াত করতে থাকেন; কখনও এই শাইখের নিকট শুনতেন, আবার কখনও অন্যজনের কাছে পাঠ গ্রহণ করতেন। এভাবে তিনি সে সময়ের বাগদাদের বড় বড় আলেমদের নিকট হাদিস শ্রবণ করেন এবং ফিকহ, নাহু ও অন্যান্য বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করেন। অবশেষে যখন তিনি ইলমের ক্ষেত্রে পরিপক্কতা লাভ করেন, তখন তিনি বাগদাদের বাইরে অবস্থানরত আলেমদের নিকট, বিশেষ করে মুহাদ্দিসদের নিকট ইলম অন্বেষণের আকাঙ্ক্ষা পোষণ করেন। এ উদ্দেশ্যে তিনি হিজাজ, সিরিয়া, মিশর এবং প্রাচ্যের দেশগুলোতে সফর করেন। জ্ঞানপিপাসা মেটানোর জন্য তিনি এগুলোর মধ্যে কিছু দেশে একাধিকবার সফর করেন। খতিব ইলমি সফরের প্রতি অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করতেন, ফলে তিনি ইলম অর্জনে প্রচুর সফর করেছেন, এমনকি এ বিষয়ে তিনি 'আর-রিহলা ফি তলাবিল হাদিস' (হাদিস অন্বেষণে সফর) নামে একটি গ্রন্থও রচনা করেছেন(৩).

--------------------------------------------

(১). উস্তাদ ইউসুফ আল-ইশ, প্রফেসর ড. আকরাম আল-উমরি এবং ড. মাহমুদ তাহহান খতিব সম্পর্কে বিস্তারিত গবেষণা করেছেন, তাই অনর্থক পুনরাবৃত্তি এড়ানোর লক্ষ্যে আমি কেবল এই অতি সংক্ষিপ্ত জীবনীতেই সীমাবদ্ধ থেকেছি।

(২). দেখুন: মাওয়ারিদুল খতিব আল-বাগদাদি /২৯।

(৩). এটি উস্তাদ আল-ইশ এবং সুবহি আল-সামাররাই-এর সম্পাদনায় একাধিকবার মুদ্রিত হয়েছে।