(খণ্ড: ১) আল-আওয়ালী লিশামসিদ দীন আল-জাযারী (পৃষ্ঠা: -)
العوالي لشمس الدين الجزري   (ابن الجزري)

القسم: كتب السنة


الكتاب: العوالي - مخطوط

المؤلف: شمس الدين أبو الخير ابن الجزري، محمد بن محمد بن يوسف (ت 833هـ)

أعده للشاملة: أحمد الخضري

[الكتاب مخطوط]

عدد الصفحات: 65

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

শামস উদ্দিন আল-জাজারীর আল-আওয়ালী   (ইবনুল জাজারী)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: আল-আওয়ালী - পাণ্ডুলিপি

লেখক: শামস উদ্দিন আবুল খায়ের ইবনুল জাজারী، মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন ইউসুফ (মৃত্যু ৮৩৩ হিজরি)

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: আহমাদ আল-খুদারি

[কিতাবটি পাণ্ডুলিপি]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৫

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-আওয়ালী লিশামসিদ দীন আল-জাযারী (পৃষ্ঠা: ١)
الكتاب: العوالي - مخطوط

المؤلف: شمس الدين الجزري

المتوفى: 833 هـ
গ্রন্থ: আল-আওয়ালি - পাণ্ডুলিপি

লেখক: শামস উদ্দিন আল-জাজারি

মৃত্যু: ৮৩৩ হিজরি
(খণ্ড: ১) আল-আওয়ালী লিশামসিদ দীন আল-জাযারী (পৃষ্ঠা: ١)
[1/ب]

كتاب العوالي

رواية شيخنا العلامة شيخ الإسلام أئمة المجتهدين، وارث علوم الأنبياء والمرسلين، المخصوص بعلو الإسناد في العالمين، أستاذ المقرئين والمفسرين والمحدثين

شمس الحق والملة والدين محمد بن محمد بن محمد الجزري الشافعي الدمشقي

[2/أ]

بسم الله الرحمن الرحيم

قال شيخنا، رحمه الله

الحمد لله الذي حصل علو الإسناد قرنا من الله تعالى ورسوله عليه أفضل الصلاة والسلام ومنح به من شاء من أئمة هذه الأمة الكرام وفضلهم إذ بين لهم من طيب الكتاب والسنة على سائر الآنام، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له العليم العلام، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله سيد الخلق وسيد الحق والداعي إلى دار السلام صلى الله عليه وعلى آله وصحبه ما تعاقبت الأوقات والأيام وسلم وشرف وكرم ومجد وعظم.

أما بعد فإن فضل كتاب الله تعالى القديم معلوم وكلام نبيه المعصوم من الحديث مقرر مفهوم وذلك أوضح من أن يحتاج إلى بيان يقال وقيل شعر وليس يصح في الأذهان شيء إذا احتاج النهار إلى دليل إذ هو محاز إلى إحكام إحكام الدين القويم والرغبة في طلب علو الإسناد عند الأئمة النقاد من أعلام الأمة في الحديث والقديم.

قال يحيى بن معين: الإسناد العالي قربة إلى الله عز وجل ورسوله صلى الله عليه وسلم.

وقال محمد بن أسلم الطوسي: قرب الإسناد قرب إلى الله عز وجل.
[১/খ]

কিতাবুল আউয়ালি (উচ্চ সনদসমূহের গ্রন্থ)

আমাদের শাইখ, আল্লামা, শাইখুল ইসলাম, মুজতাহিদগণের ইমাম, নবী ও রাসূলগণের ইলমের উত্তরাধিকারী, বিশ্ববাসীর মাঝে উচ্চ সনদের বৈশিষ্ট্যে ভূষিত, ক্বারী, মুফাসসির ও মুহাদ্দিসগণের উস্তাদ—

শামসুল হক ওয়াল মিল্লাত ওয়াদ্দীন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল-জাজারি আশ-শাফিয়ি আদ-দিমাশকি-এর বর্ণনা।

[২/ক]

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

আমাদের শাইখ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বলেছেন:

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি উচ্চ সনদ অর্জনকে মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের (তাঁর ওপর সর্বোত্তম দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) নৈকট্যের মাধ্যম করেছেন এবং এই উম্মতের সম্মানিত ইমামগণের মধ্য হতে যাকে ইচ্ছা এটি দান করেছেন। তিনি তাঁদেরকে অন্যান্য সৃষ্টির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন যেহেতু তিনি তাঁদের জন্য কিতাব ও সুন্নাহর মাধুর্য বর্ণনা করেছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, তিনি মহাজ্ঞানী ও সর্বজ্ঞ। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল, সৃষ্টির সরদার, সত্যের নেতা এবং শান্তিধামের দিকে আহ্বানকারী। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর দরুদ বর্ষণ করুন যতকাল সময় ও দিবসের আবর্তন থাকবে, এবং তিনি তাঁদেরকে শান্তি, সম্মান, মর্যাদা, বুজুর্গি ও মহত্ত্ব দান করুন।

অতঃপর, মহান আল্লাহর প্রাচীন কিতাবের শ্রেষ্ঠত্ব সুবিদিত এবং হাদিস হতে বর্ণিত তাঁর মাসুম নবীর বাণী সুপ্রতিষ্ঠিত ও বোধগম্য। এটি বর্ণনার প্রয়োজনের চেয়েও অধিক স্পষ্ট; যেমন কবি বলেছেন— "যদি দিনের আলোর অস্তিত্ব প্রমাণের জন্য দলিলের প্রয়োজন হয়, তবে সুস্থ বিবেকের নিকট কোনো কিছুই আর সঠিক থাকবে না।" যেহেতু এটি সুদৃঢ় দ্বীনকে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরার উপায় এবং অতীত ও বর্তমানের এই উম্মতের হাদিস বিশারদ ও সমালোচক ইমামগণের নিকট উচ্চ সনদ অনুসন্ধানের এক বিশেষ আগ্রহ বিদ্যমান।

ইয়াহইয়া বিন মাইন বলেছেন: "উচ্চ সনদ মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নৈকট্য লাভের মাধ্যম।"

মুহাম্মদ বিন আসলাম আত-তুসি বলেছেন: "সনদের নৈকট্য (সংক্ষিপ্ত হওয়া) হলো মহান আল্লাহর নৈকট্য।"
(খণ্ড: ১) আল-আওয়ালী লিশামসিদ দীন আল-জাযারী (পৃষ্ঠা: ٢)
وقال الإمام أحمد بن حنبل، رضي الله عنه،: علو الإسناد من الدين.

وعنه أيضا طلب

[2/ب]

الإسناد العالي سنة عن من سلف.

وقيل لابن معين في مرضه ما تشتهي فقال: إسناد عال وبيت خال.

وفضل علو الإسناد ولا شك فيه وفي أنواعه كلها كما صرح به أئمة الحديث مما سيأتي وهو رزق يرزقه الله تعالى لمن يشاء من عباده ويخص به من يشاء في بلاده ولما من الله تبارك وتعالى ورزقني منه أوفر نصيب وجعلني ممن لم يشاركني في علو كتابه وسنة رسوله على وجه الأرض قريب فالله الحمد والمنة وبه التوفيق والعصمة وبيني وبين النبي صلى الله عليه وسلم في كتاب الله تعالى العزيز اثنا عشر رجلا من الأئمة وفي الحديث الصحيح عشرة أنفس من ثقات الأمة،وكان بعض شيوخنا من كبار الحفاظ رحمهم الله هو الحافظ زين الدين العراقي قد جمع أربعين حديثا عشارية الإسناد ولم يكن في عصره أعلا منه في أقطار البلاد فرأيت أن أقتدي به في ذلك لأني له في كبار شيوخه موافق ومشارك فلم أذكر أحدا من المتهمين بالكذب كنسطور الرومي والأشج المغربي، وأبي هدبة البصري، وبسر بن عبد الله، ونعيم بن سالم، ودينار بن عبد الله أبي مكيس، وخراش بن عبد الله، وموسى الطويل، ويعلى بن الأشدق ممن صرح بكذبهم فأما ربيع بن محمود المارديني الذي ظهر في سنة تسع وتسعين وخمس مئة، وبابارين الهندي الذي ظهر بعد العشرين وست مئة وادعيا أنهما صحابيان مهما أسقط مرات بذكر الظهور كذبهما عند كل عامل وناقل وحاشا الصحابة أن يكذبوا بل يحتمل أن يكون لا وجود لهما ومن بعدهما يكذب عليهما سيمارتن فإنه مع كذبه لو كان فإنهم كذبوا عليه ما لا يحتمل ولم ينقل عنه معروف
ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) বলেছেন: উচ্চতর ইসনাদ অন্বেষণ করা দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত।

তাঁর থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে যে,

[২/খ]

উচ্চতর ইসনাদ অন্বেষণ করা পূর্বসূরিদের একটি সুন্নাত বা রীতি।

ইবনে মাঈনকে তাঁর অসুস্থতার সময় জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, "আপনি কী আকাঙ্ক্ষা করেন?" তিনি বললেন: "উচ্চতর ইসনাদ এবং একটি নির্জন ঘর।"

উচ্চতর ইসনাদের শ্রেষ্ঠত্ব এবং এর সকল প্রকারভেদ অনস্বীকার্য, যেমনটি হাদিসের ইমামগণ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন যা পরবর্তীতে আসবে। এটি এমন এক রিজিক যা আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা দান করেন এবং তাঁর জনপদসমূহের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা এর জন্য বিশেষিত করেন। যখন আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা আমার প্রতি অনুগ্রহ করলেন এবং আমাকে এর পর্যাপ্ত অংশ দান করলেন এবং আমাকে এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করলেন যাদের সাথে আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাতের উচ্চতর ইসনাদের ক্ষেত্রে পৃথিবীতে নিকটবর্তী কেউ অংশীদার নেই, তখন আল্লাহরই যাবতীয় প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা প্রাপ্য এবং তাঁরই নিকট তাওফিক ও সুরক্ষা কামনা করি। আমার ও নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মাঝে মহান আল্লাহর কিতাবের বর্ণনায় ইমামদের মধ্য থেকে বারোজন ব্যক্তি রয়েছেন এবং সহিহ হাদিসের ক্ষেত্রে উম্মতের নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্য থেকে দশজন ব্যক্তি রয়েছেন। আমাদের কতিপয় শাইখ, যারা বড় হাফেজদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন (আল্লাহ তাঁদের ওপর দয়া করুন), যেমন হাফেজ যাইনুদ্দিন আল-ইরাকি; তিনি দশজন বর্ণনাকারী সম্বলিত (উশারিয়াত) চল্লিশটি হাদিস সংকলন করেছিলেন এবং তাঁর যুগে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তাঁর চেয়ে উচ্চতর বর্ণনাসূত্র সম্পন্ন আর কেউ ছিলেন না। তাই আমি এই বিষয়ে তাঁর অনুসরণ করা সমীচীন মনে করলাম, কারণ আমি তাঁর বড় শাইখদের বর্ণনায় তাঁর সাথে একমত ও অংশীদার। আমি মিথ্যাচারের দায়ে অভিযুক্ত কাউকে উল্লেখ করিনি, যেমন— নাস্তুর আর-রুমি, আল-আশাজ আল-মাগরিবি, আবু হুদবা আল-বাসরি, বুসর ইবনে আব্দুল্লাহ, নুয়াইম ইবনে সালিম, দিনার ইবনে আব্দুল্লাহ আবু মুকাইস, খারাশ ইবনে আব্দুল্লাহ, মুসা আত-তাওয়িল এবং ইয়ালা ইবনুল আশদাক, যাদের মিথ্যাবাদী হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে। আর রাবি ইবনে মাহমুদ আল-মারদিনি—যিনি ৫৯৯ হিজরিতে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন এবং বাবা রতন আল-হিন্দি—যিনি ৬২০ হিজরির পর আবির্ভূত হয়েছিলেন এবং তারা দাবি করেছিলেন যে তারা সাহাবী; তাদের এই আবির্ভাবের সময়কাল উল্লেখ করাই প্রত্যেক আলেম ও বর্ণনাকারীর নিকট তাদের মিথ্যাচার প্রমাণের জন্য যথেষ্ট। আর সাহাবীগণ মিথ্যা বলবেন—এটা অসম্ভব; বরং সম্ভাবনা আছে যে তাদের কোনো অস্তিত্বই ছিল না এবং তাদের পরবর্তী সময়ে কেউ তাদের নামে মিথ্যা ছড়িয়েছে। যেমন সিমারতিন; কারণ সে মিথ্যাবাদী হওয়া সত্ত্বেও যদি তার অস্তিত্ব থাকত, তবে লোকেরা তার নামে এমন সব অসম্ভব মিথ্যা আরোপ করেছে যা অকল্পনীয় এবং কোনো পরিচিত বা নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি থেকে তার বর্ণনা পাওয়া যায়নি।
(খণ্ড: ১) আল-আওয়ালী লিশামসিদ দীন আল-জাযারী (পৃষ্ঠা: ٣)
[3/أ] عند أهل النقل بل مم أبلغ منه في الجهالة والجهل وقد صح عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: قربت موته في سنة عشر أرأيتكم ليلتكم هذه فإنه لا يبقى بعد مئة سنة ممن هو على وجه الأرض نفس يتنفس هذا ومثل الإمام أحمد ومحمد البخاري والدارمي وعبد بن حميد وأمثالهم ممن رحل الأقطار وجاب الأمصار مع حرصهم على طلب الإسناد العالي لم يقع لهم إلا أحاديث معدودة ثلاثية الإسناد ثم إنه ظهر في حدود سنة سبع مئة أو بعد ذلك شخص من الغرب وادعى أنه من الصحابة وأنه صالح النبي صلى الله عليه وسلم وكان اسمه معمر فدعا له وقال: يا معمر عمرك الله فبقي إلى بعد السبع مئة من الهجرة وحدث فكل هؤلاء كذابون دجالون لا يشتغل بهم ولا بحديثهم ولا بأمثالهم والله تعالى أعلم.

مقدمة

العلو في الإسناد نوعان:

معنوي وصوري

فالمعنوي: الرواية عن الحافظ العالم المتقن المحقق

قال وكيع بن الجراح: الأعمش أحب إليكم عن أبي وائل عن عبد الله أو سفيان عن منصور عن إبراهيم عن علقمة عن عبد الله فقالوا الأعمش عن أبي وائل أقرب فقال: الأعمش شيخ وأبو وائل شيخ وسفيان عن منصور عن إبراهيم عن علقمة فقيه عن فقيه عن فقيه عن فقيه.

وقال ابن مبارك ليس جودة الحديث قرب الإسناد بل جودة الحديث صحة الرجال.
[৩/অ] হাদিস বিশারদগণের নিকট, বরং এটি মূর্খতা ও অজ্ঞতার দিক থেকে তার চেয়েও অধিক। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সহীহভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি দশম হিজরি সনে তাঁর ইন্তেকালের নিকটবর্তী সময়ে বলেছিলেন: "তোমরা কি তোমাদের এই রাতটি দেখছো? নিশ্চয়ই আজ থেকে একশ বছর পর এই পৃথিবীতে বর্তমানে যারা বিদ্যমান আছে, তাদের একজনও বেঁচে থাকবে না।" এটি এমন একটি বিষয় যে, ইমাম আহমাদ, মুহাম্মদ আল-বুখারী, আদ-দারেমী, আবদ বিন হুমাইদ এবং তাঁদের মতো ব্যক্তিবর্গ যারা দেশ-দেশান্তর ভ্রমণ করেছেন এবং উচ্চতর সনদ সংগ্রহের তীব্র আকাঙ্ক্ষা থাকা সত্ত্বেও তাঁদের নিকট মাত্র হাতেগোনা কয়েকটি তিন স্তরের সনদ বিশিষ্ট (সুলাসিয়্যাত) হাদিস পৌঁছেছে। এরপর সাতশ হিজরি সনের কাছাকাছি সময়ে বা এর পরে পশ্চিম অঞ্চল (মাগরিব) থেকে এক ব্যক্তির আবির্ভাব ঘটে এবং সে দাবি করে যে সে একজন সাহাবী এবং সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সান্নিধ্য লাভ করেছে। তার নাম ছিল মুয়াম্মার। সে দাবি করে যে নবীজী তার জন্য দোয়া করে বলেছিলেন: "হে মুয়াম্মার, আল্লাহ তোমাকে দীর্ঘজীবী করুন।" ফলে সে সাতশ হিজরি পরবর্তী সময় পর্যন্ত বেঁচে ছিল এবং হাদিস বর্ণনা করত। এই সকল লোক চরম মিথ্যুক ও দাজ্জাল, এদের প্রতি এবং এদের বর্ণিত হাদিস বা এদের ন্যায় অন্য কারও প্রতি ভ্রুক্ষেপ করা যাবে না। আর আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞ।

ভূমিকা

সনদের উচ্চতা (উলুউ) দুই প্রকার:

অর্থগত এবং বাহ্যিক

অর্থগত উচ্চতা হলো: হাফেজ, আলেম, অত্যন্ত পারদর্শী ও গবেষক রাবীর নিকট থেকে বর্ণনা করা।

ওকী ইবনুল জাররাহ বলেছেন: "আ’মাশ, আবু ওয়ায়েল থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করা কি তোমাদের কাছে অধিক প্রিয়, নাকি সুফিয়ান, মানসুর থেকে, তিনি ইব্রাহিম থেকে, তিনি আলকামা থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করা?" তারা বললেন, "আ’মাশ থেকে আবু ওয়ায়েলের সনদটি অধিক নিকটবর্তী।" তখন তিনি বললেন, "আ’মাশ একজন শায়খ এবং আবু ওয়ায়েল একজন শায়খ; কিন্তু সুফিয়ান, মানসুর থেকে, তিনি ইব্রাহিম থেকে, তিনি আলকামা থেকে বর্ণনাটি হলো ফকিহ থেকে ফকিহ, ফকিহ থেকে ফকিহ-এর ধারাবাহিক বর্ণনা।"

ইবনুল মুবারক বলেছেন: "হাদিসের শ্রেষ্ঠত্ব সনদের নিকটবর্তিতার মধ্যে নয়, বরং হাদিসের শ্রেষ্ঠত্ব হলো বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্যতার মধ্যে।"
(খণ্ড: ১) আল-আওয়ালী লিশামসিদ দীন আল-জাযারী (পৃষ্ঠা: ٤)
وروينا عن الحافظ أبي الطاهر السلفي الأخذ عن العاماء فنزولهم أولى من العلو عن الجهالة على مذهب من النقلة والنازل ح هو العالي عند النظر والتحقيق

[3/ب] وأنشد من نظمه شعرا

ليس حسن الحديث قرب رجال = عند أرباب علمه النقاد

بل علو الحديث بين أولى = حفظ والإتقان صحة الإسناد

وإذا ما تجمعا في حديث = فاغتنمه فذاك أقصر المراد

وقال: الوزير العالم يطام الملك عندي.

إن الحديث العالي ما صح عن رسول الله صلى الله عليه وسلم وإن بلغت روايه مئة.
আমরা হাফেজ আবু তাহের আস-সালাফি থেকে বর্ণনা করেছি যে, আলেমদের নিকট থেকে ইলম গ্রহণ করা—যা বর্ণনাকারীদের একদলের মতে সনদে অবনত (নুজুল) হলেও—তা অজ্ঞদের মাধ্যমে উচ্চ সনদ (উলুউ) লাভের চেয়ে অধিকতর শ্রেয়। আর সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ ও যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সেই অবনত সনদই প্রকৃতপক্ষে উচ্চ সনদ।

[৩/খ] এবং তিনি তার স্বরচিত কাব্য থেকে আবৃত্তি করেছেন:

হাদিস বিজ্ঞানের সমালোচক পণ্ডিতদের নিকট হাদিসের সৌন্দর্য কেবল বর্ণনাকারীদের স্বল্পতা বা নৈকট্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।

বরং হাদিসের প্রকৃত উচ্চতা তো হিফজ ও পারদর্শিতার অধিকারীদের মাঝে এবং সনদের বিশুদ্ধতার ওপর নির্ভর করে।

আর যখন কোনো হাদিসে এই উভয় বৈশিষ্ট্য একত্রিত হয়, তবে তা লুফে নাও; কারণ সেটিই হলো কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের সংক্ষিপ্ততম পথ।

এবং বিদগ্ধ উজির নিজামুল মুলক বলেছেন:

নিশ্চয় উচ্চমানের হাদিস হলো তা-ই যা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত হয়েছে, যদিও তার বর্ণনাকারীর সংখ্যা একশতে পৌঁছায়।
(খণ্ড: ১) আল-আওয়ালী লিশামসিদ দীন আল-জাযারী (পৃষ্ঠা: ٥)
قال الحافظ الإمام أبو عمرو بن الصلاح رحمه الله هذا ليس من قبيل العلو المتعارف إطلاقه بين أهل الحديث فإنما علو من حيث المعنى.

قلت كذا هو ولهذا قلنا العلو نوعان فهذا العلو معنوي ولا شك أن روايتنا صحيح مسلم مثلا عن شيخنا الإمام الحافظ الكبير العلامة شيخ الإسلام عماد الدين أبي الفداء إسماعيل بن عمر بن كثير الذي لم تر عيناي مثله عن شيخه الإمام الحافظ العلامة تقي الدين أحمد بن تيمية الذي لم تر عيناي مثله عن الإمام المحدث أبي العباس أحمد بن عبد الدائم المقدسي مع نزوله درجة أحب إليّ عند التحقيق من روايتي له عن الشيخ أبي العباس أحمد بن عبد الكريم البعلبكي عن الشيخة زينب بنت عمر بن كندي مع علوه درجة ولكن في قرب الرؤية إلى رسول الله صلى عليه وسلم شيء آخر ففي ذلك فليتنافس المتنافسون وسيأتي الكلام على ذلك آخر الكتاب إن شاء الله تعالى.

فأما العلو الصوري:

وهو المراد إذا الخلق عند أئمة الحديث وهو قرب العدد في الإسناد فقد قسموه خمسة أقسام

الأول: القرب من رسول الله صلى الله عليه وسلم من حيث العدد بإسناد جيد متصل ليس فيه متهم ولا من عرف بالكذب كمن قدمنا ذكره قال شيخ شيخنا الحافظ المتقن أبو عبد الله محمد بن أحمد بن عثمان الذهبي في كتابه (الميزان) متى رأيت المحدث يفرح بعوالي

[4/أ] أبي هدبة ويعلى بن الأشدق وموسى الطويل وأبي الدنيا وهذا الضرب فاعلم أنه عامي.

الثاني من أقسام العلو القرب إلى إمام من أئمة الحديث كمالك والأوزاعي والسفيايين وأحمد والشافعي والبخاري ومسلم وأصحاب السنن الأربعة والدارمي وعبد بن حميد وغيرهم فيوصف بالعلو إذا صحيح الإسناد إلى ذلك الإمام
হাফেজ ইমাম আবু আমর বিন সালাহ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বলেছেন, এটি হাদিস শাস্ত্রবিদদের (আহলে হাদিস) মাঝে প্রচলিত উচ্চতা বা ‘উলু’ এর অন্তর্ভুক্ত নয়, বরং এটি কেবল অর্থগত দিক থেকে একটি উচ্চতা।

আমি বলছি, বিষয়টি এমনই। আর এ কারণেই আমরা বলেছি যে, উচ্চতা দুই প্রকার। সুতরাং এই উচ্চতা হলো অর্থগত। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আমাদের সহিহ মুসলিমের বর্ণনা—উদাহরণস্বরূপ আমাদের শায়খ, মহান হাফেজ, ইমাম, আল্লামা, শায়খুল ইসলাম ইমাদউদ্দীন আবুল ফিদা ইসমাইল বিন উমর বিন কাসীর (যার মতো দ্বিতীয় কাউকে আমার চোখ দেখেনি) থেকে, তিনি তাঁর শায়খ ইমাম হাফেজ আল্লামা তাকিউদ্দীন আহমদ বিন তাইমিয়্যাহ (যার মতো দ্বিতীয় কাউকে আমার চোখ দেখেনি) থেকে, তিনি ইমাম মুহাদ্দিস আবু আব্বাস আহমদ বিন আব্দুল দায়িম মাকদিসি থেকে—এই বর্ণনাটি (সনদে বর্ণনাকারীর সংখ্যা এক স্তর বেশি হওয়া সত্ত্বেও) সূক্ষ্ম বিচারে আমার কাছে অধিকতর প্রিয় সেই বর্ণনার চেয়ে যা আমি শায়খ আবু আব্বাস আহমদ বিন আব্দুল কারীম বালবাক্কি থেকে এবং তিনি শায়খা জয়নব বিনতে উমর বিন কিন্দী থেকে বর্ণনা করেছি (যা বর্ণনাকারীর সংখ্যায় এক স্তর সংক্ষিপ্ত হওয়া সত্ত্বেও)। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নৈকট্য লাভের মধ্যে অন্য এক বিষয় রয়েছে। সুতরাং প্রতিযোগীরা যেন সে বিষয়েই প্রতিযোগিতা করে। আর ইনশাআল্লাহ কিতাবের শেষে এ বিষয়ে আলোচনা আসবে।

আর রূপগত বা সংখ্যাগত উচ্চতা প্রসঙ্গে:

হাদিসের ইমামদের নিকট যখন সাধারণভাবে এটি বলা হয়, তখন এটিই উদ্দেশ্য থাকে। আর তা হলো সনদে বর্ণনাকারীর সংখ্যার স্বল্পতা। তাঁরা একে পাঁচ ভাগে বিভক্ত করেছেন:

প্রথম: উত্তম ও অবিচ্ছিন্ন সনদের মাধ্যমে বর্ণনাকারীর সংখ্যার দিক থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটবর্তী হওয়া, যাতে এমন কোনো ব্যক্তি নেই যে অভিযুক্ত অথবা মিথ্যাবাদী হিসেবে পরিচিত, যেমনটি আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি। আমাদের শায়খের শায়খ, সুনিপুণ হাফেজ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন উসমান আজ-জাহাবি তাঁর ‘আল-মিজান’ কিতাবে বলেছেন, যখনই আপনি কোনো মুহাদ্দিসকে দেখবেন যে সে উচ্চ পর্যায়ের (সনাদে কম ব্যক্তি সম্পন্ন) বর্ণনা নিয়ে আনন্দিত হচ্ছে—

[৪/আ] যেমন আবু হুদবা, ইয়ালা বিন আশদাক, মুসা আত-তিল এবং আবু দুনিয়া—এই শ্রেণীর লোকদের বর্ণনার ক্ষেত্রে, তবে জেনে রাখুন যে সে একজন সাধারণ লোক।

উচ্চতার দ্বিতীয় প্রকার হলো হাদিসের কোনো ইমামের নিকটবর্তী হওয়া, যেমন ইমাম মালিক, আওজাই, দুই সুফিয়ান, আহমদ, শাফিঈ, বুখারি, মুসলিম, সুনান চতুষ্টয়ের সংকলকগণ, দারিমি, আবদ বিন হুমাইদ এবং অন্যান্যগণ। সুতরাং যদি সেই ইমাম পর্যন্ত সনদটি সহিহ হয়, তবে তাকে উচ্চতা বা ‘উলু’ হিসেবে অভিহিত করা হবে।
(খণ্ড: ১) আল-আওয়ালী লিশামসিদ দীন আল-জাযারী (পৃষ্ঠা: ٦)
قلت: وفي هذا القسم تأتي الموافقة والبدل والمصافحة والمساواة كما اصطلح عليه أئمة الحديث إذا قالوا فوقع لنا يعنون الحديث بدلا أو بدلا عاليا وموافقة أو موافقة عاية أو مصافحة أو مساواة.

فالموافقة أن يروي الراوي حديثا في الكتب الستة بإسناد لنفسه من غير طريقها بحيث يجتمع مع أحد الستة في شيخه فإن كان مع علو هذا الطريق كان موافقة عالية.

مثاله: حديث رواه البخاري عن محمد بن عبد الله الأنصاري عن حميد عن أنس مرفوعا كتاب الله القصاص.

وإذا رويناه من جر الأنصاري تقع موافقة للبخاري في شيخه مع علو درجة.

وقد يكون ذلك بعلو درجتين، وقد يكون بأكثر إن لم يكن بعلو كان موافقة فقط ولكن لا يذكر إذ ليس فيه علو فلا فائدة في ذكره.

وأما التدليس: فهو موافقة في شيخ شيخه مع العلو أيضا

مثاله: حديث ابن مسعود الذي رواه الترمذي عن علي بن حجر عن خلف بن خليفة بسنده يوم كلم الله موسى كانت عليه جبة صوف.

الحديث إذا رويناه من جامع الترمذي يكون بيننا وبين خلف تسعة، وإذا رويناه من جزئين عرفه بالإجازة تقع بينه

[4/ب] وبينه سبعة فيكون بدلا بعلو درجتين، وقد يكون هذا البدل موافقة مقيدة في شيخ شيخ الربذي مثلا.

وأما تقييد الموافقة والبدل فيكون بصورة العلو وكذا ذكره ابن الصلاح أنه لا يطلق عليه ذلك إلا مع العلو فإنه قال ولو لم يكن ذلك عاليا فهو أيضا موافقة وبدل لكن لا يطلق عليه اسم الموافقة والبدل لعدم الإلتفات إليه، انتهى.

وفي كلام غير ابن الصلاح من مخرجي الأحاديث إطلاق اسم الموافقة والبدل مع عدم العلو فإن علا قالوا موافقة عالية أو بدلا عاليا وإلا سكتوا بل في كلام غير واحد من المخرجين فوافقناه بنزول فسموه مع الأول موافقة.
আমি বলছি: এই পরিচ্ছেদে মুওয়াফাকাহ, বাদাল, মুসাফাহাহ এবং মুসাওয়াহ-এর আলোচনা আসবে, যেমনটি হাদিস শাস্ত্রের ইমামগণ পরিভাষা হিসেবে স্থির করেছেন। যখন তাঁরা বলেন 'আমাদের জন্য তা ঘটেছে', তখন তাঁরা হাদিসটি বাদাল অথবা বাদাল আলিন (উচ্চতর বাদাল), কিংবা মুওয়াফাকাহ অথবা মুওয়াফাকাহ আলিয়াহ (উচ্চতর মুওয়াফাকাহ), কিংবা মুসাফাহাহ অথবা মুসাওয়াহ হিসেবে লাভ করাকে বুঝিয়ে থাকেন।

মুওয়াফাকাহ হলো বর্ণনাকারী কর্তৃক কুতুবে সিত্তাহর কোনো হাদিসকে এমন এক সনদে বর্ণনা করা যা সেই গ্রন্থের মূল সূত্রের বাইরে, তবে তা ওই গ্রন্থকারের উস্তাদের (শাইখ) নিকট গিয়ে মিলিত হয়। যদি এই সূত্রটি উচ্চতর (উলুউ সম্পন্ন) হয়, তবে তাকে মুওয়াফাকাহ আলিয়াহ বলা হয়।

উদাহরণস্বরূপ: ইমাম বুখারি মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আনসারি থেকে, তিনি হুমাইদ থেকে, তিনি আনাস থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন: "আল্লাহর কিতাব হলো কিসাস।"

যদি আমরা এটি আনসারির কোনো সংকলন থেকে বর্ণনা করি, তবে উচ্চতর স্তরসহ তা ইমাম বুখারির শাইখের সাথে মুওয়াফাকাহ হিসেবে গণ্য হবে।

এটি কখনও দুই স্তর উচ্চতর হতে পারে, আবার কখনও তার চেয়েও বেশি হতে পারে। যদি উলুউ (উচ্চতা) না থাকে তবে সেটি কেবল মুওয়াফাকাহ হবে, তবে সাধারণত তা উল্লেখ করা হয় না; কারণ এতে কোনো উলুউ নেই, ফলে বর্ণনার ক্ষেত্রে এর কোনো বিশেষ ফায়দা নেই।

আর তাদলিস হলো উচ্চতাসহ উস্তাদের উস্তাদের (শাইখের শাইখ) সাথে মুওয়াফাকাহ হওয়া।

উদাহরণস্বরূপ: ইবনে মাসউদের হাদিস যা ইমাম তিরমিজি আলী ইবনে হুজর থেকে, তিনি খালাফ ইবনে খলিফা থেকে স্বীয় সনদে বর্ণনা করেছেন: "যেদিন আল্লাহ মূসার সাথে কথা বলেছিলেন, সেদিন তাঁর গায়ে একটি পশমী জুব্বা ছিল।"

হাদিসটি যদি আমরা জামে তিরমিজি থেকে বর্ণনা করি, তবে আমাদের ও খালাফের মধ্যে নয়জন বর্ণনাকারী থাকেন। আর যদি আমরা ইজাজতের মাধ্যমে প্রাপ্ত তাঁর কোনো 'জুয' (অংশ) থেকে তা বর্ণনা করি, তবে তাঁর মধ্যে...

[৪/খ] এবং তাঁর মধ্যে সাতজন বর্ণনাকারী থাকবেন। ফলে এটি দুই স্তর উচ্চতর হওয়ার কারণে 'বাদাল' হবে। কখনও কখনও এই বাদালটি নির্দিষ্টভাবে উস্তাদের উস্তাদের (যেমন রাবাযী) সাথে 'মুওয়াফাকাহ মুকাইয়াদাহ' হতে পারে।

আর মুওয়াফাকাহ ও বাদালকে সীমাবদ্ধ করা হয় উলুউ বা উচ্চতার নিরিখে। ইবনুস সালাহ (রাহিমাহুল্লাহ) এভাবেই উল্লেখ করেছেন যে, উলুউ বা উচ্চতা ছাড়া এর ওপর এই নাম প্রয়োগ করা হয় না। কেননা তিনি বলেছেন: "যদি তা উচ্চতর (আলি) না-ও হয়, তবে সেটিও মুওয়াফাকাহ ও বাদাল, কিন্তু এর প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করার কারণে তাকে মুওয়াফাকাহ ও বাদাল নাম দেওয়া হয় না।" (সমাপ্ত)

ইবনুস সালাহ ছাড়া অন্য হাদিস সংকলকদের (মুখাররিজীন) পরিভাষায় উলুউ বা উচ্চতা না থাকলেও মুওয়াফাকাহ ও বাদাল শব্দ ব্যবহার করা হয়। যদি তা উচ্চতর হয় তবে তারা একে মুওয়াফাকাহ আলিয়াহ বা বাদাল আলিন বলেন, অন্যথায় তারা এ ব্যাপারে চুপ থাকেন। বরং একাধিক সংকলকের বক্তব্যে পাওয়া যায় যে, তাঁরা বলেন 'আমরা নিম্নতর সনদে তাঁর সাথে ঐকমত্য পোষণ করেছি', ফলে তাঁরা প্রথমটির সাথে একে মুওয়াফাকাহ হিসেবেই নামকরণ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-আওয়ালী লিশামসিদ দীন আল-জাযারী (পৃষ্ঠা: ٧)
وأما المساواة: فهو أن يكون بين الراوي وبين الصحابي أو من قبل الصحابي إلى شيخ أحد الستة كما بين أحد الأئمة الستة وبين ذلك الصحابي أو من قبله على ما ذكر أو يكون بينه وبين النبي صلى الله عليه وسلم كما بين أحد الأئمة الستة وبين النبي صلى الله عليه وسلم من العدد وهذا كان يوجد قديما، فأما اليوم فلا توجد المساواة إلا بأن يكون عدد ما بين الراوي الآن وبين النبي صلى الله عليه وسلم كعدد ما بين لأحد الأئمة الستة وبين النبي صلى الله عليه وسلم قد وقعت المساواة لشيوخنا مثل حديث النهي عن نكاح المتعة أخبرنا به غير واحد من شيوخنا قالوا أخبرنا علي بن أحمد بن عبد الواحد المقدسي أخبرنا أسعد بن سعيد بنه روح وعفيفة بنت أحمد الفارانية واللفظ لها قالا أخبرتنا فاطمة بنت عبد الله الجوزذانية قالت أخبرنا أبو بكر بن ربدة أخبرنا أبو القاسم سليمان بن أحمد الحافظ الطبراني، حدثنا أبو روح بن الفرج، حدثنا يحيى بن بكير حدثني الليثي ح قال الحافظ أبو القاسم

[5/أ] وحدثنا يوسف القاضي حدثنا الوليد الطيالسي حدثنا ليث بن سعد قال حدثني الربيع بن سبرة الجهني عن أبيه سبرة أنه قال: أذن لنا رسول الله صلى الله عليه وسلم بالمتعة، الحديث وفيه ثم أن رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: مَنْ كَانَ عِنْدَهُ شَيْءٌ مِنْ هَذِهِ النِّسَاءِ اللَاّتِي يَتَمَتَّعُ بِهِنَّ فَلْيُخَلِّ سَبِيلَهَا، وََّلفْظُ الِحَدِيثِ ليَحْيَى بْنِ بُكَيْرٍ هذا حديث صحيح أخرجه مسلم والنسائي عن قتيبة عن الليث فوقع لنا بدلا لهما عاليا.

وورد النهي عن نكاح المتعة من حديث جماعة من الصحابة منهم علي بن أبي طالب، رضي الله عنه، وهو متفق عليه من حديثه من طريق مالكه.
আর সমতা (আল-মুসাওয়াত) হলো: রাবী এবং সাহাবীর মধ্যে অথবা সাহাবীর পূর্ববর্তী স্তরের কোনো রাবী থেকে ছয় ইমামের কোনো একজনের উস্তাদ পর্যন্ত রাবীর সংখ্যা ততটুকুই হওয়া, যতটুকু সংখ্যা ওই ছয় ইমামের কোনো একজন এবং সেই সাহাবী বা তার পূর্ববর্তী স্তরের রাবীর মধ্যে রয়েছে—উপরে বর্ণিত বিবরণ অনুযায়ী। অথবা রাবী এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মধ্যবর্তী রাবী সংখ্যা ততটুকুই হওয়া, যতটুকু সংখ্যা ছয় ইমামের কোনো একজন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মধ্যে রয়েছে। এটি প্রাচীনকালে পাওয়া যেত। বর্তমানে সমতা কেবল তখনই পাওয়া সম্ভব যখন বর্তমান রাবী এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মধ্যকার রাবী সংখ্যা ছয় ইমামের কোনো একজন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মধ্যকার রাবী সংখ্যার সমান হয়। আমাদের উস্তাদদের জন্য সমতা অর্জিত হয়েছে, যেমন মুতআ বিবাহের নিষিদ্ধতা বিষয়ক হাদীসটি। আমাদের একাধিক উস্তাদ আমাদের এটি সংবাদ দিয়েছেন, তাঁরা বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলী বিন আহমদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাকদিসী, তাঁরা বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আসআদ বিন সাঈদ বিন রুহ এবং আফীফাহ বিনতে আহমদ আল-ফারানিয়্যাহ—এবং পাঠটি তাঁর (আফীফাহর)—তাঁরা উভয় বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ফাতিমা বিনতে আব্দুল্লাহ আল-জাওযদানিয়্যাহ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর বিন রুবদাহ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম সুলাইমান বিন আহমদ আল-হাফিয আত-তাবারানী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু রুহ বিন আল-ফারাজ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন বুকাইর, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আল-লাইস (হ)। হাফিয আবুল কাসিম বলেন—

[৫/আ] এবং আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইউসুফ আল-কাদী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-ওয়ালীদ আত-তায়ালিসী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন লাইস বিন সাদ, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আর-রবী বিন সাবরাহ আল-জুহানী তাঁর পিতা সাবরাহ থেকে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মুতআ করার অনুমতি দিয়েছিলেন—অতঃপর হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে এবং তাতে রয়েছে যে, পরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: “যাদের নিকট এই নারীদের মধ্য থেকে কেউ আছে যাদের সাথে সে মুতআ করেছে, সে যেন তাকে মুক্ত করে দেয়।” হাদীসের পাঠটি ইয়াহইয়া বিন বুকাইরের। এটি একটি সহীহ হাদীস যা মুসলিম এবং নাসাঈ কুতাইবা এর সূত্রে লাইস থেকে বর্ণনা করেছেন। ফলে এটি আমাদের জন্য সেই দুই ইমামের সনদের তুলনায় উচ্চ পর্যায়ের একটি ‘বাদাল’ (বিকল্প সনদ) হিসেবে গণ্য হয়েছে।

আর একদল সাহাবীর বর্ণনা থেকেও মুতআ বিবাহের নিষিদ্ধতা এসেছে, যাদের মধ্যে আলী বিন আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) রয়েছেন। মালিকের সূত্রে তাঁর হাদীসটি সর্বসম্মত (মুত্তাফাকুন আলাইহি)।
(খণ্ড: ১) আল-আওয়ালী লিশামসিদ দীন আল-জাযারী (পৃষ্ঠা: ٨)
وقد رواه النسائي في جمعه لحديث مالك عن زكريا بن يحيى خياط السنة عن إبراهيم بن عبد الله الهروي عن سعيد بن محبوب عن عنيز بن القاسم عن سفيان الثوري عن مالك عن ابن شهاب عن عبد الله والحسن ابني محمد بن علي عن أبيهما محمد بن علي عن علي بن أبي طالب، رضي الله عنه، فبإعتبار هذا العدد كأن شيوخنا ساووا فيه النسائي وكأني لقيت النسائي وصافحته به.

وأما المصافحة: فهو أن يعلو طريق أحد الكتب الستة عن المساواة بدرجة فيكون الراوي كأنه سمع الحديث من البخاري أو من مسلم مثلا سموه مصافحة يعنون كأن الراوي لحق أحد الأئمة الستة، وروى عنه ذلك الحديث وصافحه ذلك الحديث ومثلنا بالكتب الستة لأن الغالب على المخرجين استعمال ذلك بالنسبة إليهم فقط وقد استعمله الحافظ أبو العباس أحمد بن عبد الله الظاهري وغيره بالنسبة إلى سند الإمام أحمد بن حنبل وتبعناه في ذلك ولا مشاحة في ذلك بل لو استعمل بالنسبة

[5/ب] إلى سند الدارمي وصحيح ابن خزيمة وغير ذلك لجاز فمن ذلك قدمناه آنفا يكون مثالا للمساواة لشيوخنا وللمصافحة لنا كما قدمناه والله تعالى هو الموفق وسيأتي في هذا الكتاب ما يوضح ذلك ويبينه.

القسم الثالث: العلو بقدم السماع فسماع بعض شيوخنا لصحيح البخاري من أبي الفضل ابن عساكر عن ابن الزبيدي في سنة تسعين وست مئة أعلا من سماع بعضهم له من وزيرة بنت النجا عن ابن الزبيدي في سنة خمس عشرة وسبع مئة فكيف سماعهم من الحجار في سنة تسع وعشرين وسبع مئة أو سنة ثلاثين وسبع مئة.

القسم الرابع من العلو تقدم وفاة الراوي عن شيخ على وفاة راو آخر عن ذلك الشيخ كمن سمع سنن أبي داود أو الترمذي من المزي الذي توفي سنة اثنتين وأربعين وسبع مئة هو أعلا ممن سمعه من ابن أميلة في سنة سبع وسبعين وكل من المزي وابن أميلة سمعاهما من ابن البخاري.
নাসাঈ তাঁর মালিকের হাদিস সংকলনে এটি বর্ণনা করেছেন যাকারিয়া ইবনে ইয়াহইয়া খইয়্যাতুস সুন্নাহ থেকে, তিনি ইবরাহিম ইবনে আব্দুল্লাহ আল-হারাবী থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে মাহবুব থেকে, তিনি উনাইয ইবনে কাসিম থেকে, তিনি সুফিয়ান সাওরি থেকে, তিনি মালিক থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনে আলীর দুই পুত্র আব্দুল্লাহ ও হাসান থেকে, তাঁরা তাঁদের পিতা মুহাম্মাদ ইবনে আলী থেকে, তিনি আলী ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে। এই বর্ণনাকারী সংখ্যার বিবেচনায় আমাদের শায়খগণ যেন এতে নাসাঈর সমকক্ষ (মুসাওয়াত) হয়েছেন এবং আমি যেন নাসাঈর সাক্ষাৎ পেয়েছি এবং তাঁর সাথে মুসাফাহা (করমর্দন) করেছি।

আর মুসাফাহা হলো: কুতুবে সিত্তাহর (ছয়টি কিতাব) কোনো একটির সনদ ‘মুসাওয়াত’ অপেক্ষা এক স্তর উচ্চ হওয়া, ফলে বর্ণনাকারী যেন উদাহরণস্বরূপ সরাসরি বুখারি বা মুসলিম থেকে হাদিসটি শুনেছেন। তাঁরা একে মুসাফাহা নামকরণ করেছেন এই অর্থে যে, বর্ণনাকারী যেন ছয় ইমামের কোনো একজনের সাক্ষাৎ পেয়েছেন এবং তাঁর থেকে সেই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন ও তাঁর সাথে করমর্দন করেছেন। আমরা ছয়টি কিতাবের উদাহরণ দিয়েছি কারণ হাদিস বিশারদগণের নিকট এর প্রয়োগ সাধারণত কেবল সেগুলোর ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ। তবে হাফেজ আবুল আব্বাস আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আদ-জাহিরি ও অন্যান্যরা ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বলের সনদের ক্ষেত্রেও এটি ব্যবহার করেছেন এবং আমরাও এ বিষয়ে তাঁদের অনুসরণ করেছি। এতে কোনো বিতর্ক নেই। বরং যদি এটি ব্যবহার করা হতো

[৫/খ] দারেমির সনদ এবং সহিহ ইবনে খুজাইমা ও অন্যান্যদের ক্ষেত্রেও, তবে তা জায়েয হতো। সুতরাং যা আমরা পূর্বে উপস্থাপন করেছি তা আমাদের শায়খদের জন্য মুসাওয়াত এবং আমাদের জন্য মুসাফাহার উদাহরণ হবে, যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি। আল্লাহ তাআলাই তাওফিকদাতা এবং এই কিতাবে সামনে এমন বিষয় আসবে যা একে আরও স্পষ্ট ও ব্যাখ্যা করবে।

তৃতীয় প্রকার: শ্রবণের প্রাচীনত্বের কারণে উচ্চ সনদ (উলুউ)। যেমন আমাদের কোনো কোনো শায়খের আবু ফজল ইবনে আসাকিরের মাধ্যমে ইবনুল জুবাইদি থেকে ৬৯০ হিজরি সনে সহিহ বুখারি শ্রবণ করা, অন্য কোনো শায়খের ৭১৫ হিজরি সনে ওয়াজিরা বিনতে নাজা-এর মাধ্যমে ইবনুল জুবাইদি থেকে শোনার চেয়ে উচ্চতর। তাহলে ৭২৯ হিজরি বা ৭৩০ হিজরি সনে হাজ্জারের নিকট থেকে তাঁদের শ্রবণের মান কেমন উচ্চ হবে!

উচ্চ সনদের চতুর্থ প্রকার: একই শায়খ থেকে বর্ণনা করেছেন এমন দুই বর্ণনাকারীর মধ্যে একজনের মৃত্যু অন্যজনের আগে হওয়া। যেমন যে ব্যক্তি সুনানে আবু দাউদ বা তিরমিজি আল-মিজ্জির নিকট শ্রবণ করেছে (যিনি ৭৪২ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেছেন), তাঁর সনদ সেই ব্যক্তির চেয়ে উচ্চ যে তা ইবনে উমাইলাহর নিকট ৭৭৭ হিজরি সনে শ্রবণ করেছে। অথচ মিজ্জি এবং ইবনে উমাইলাহ উভয়েই তা ইবনুল বুখারি থেকে শ্রবণ করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) আল-আওয়ালী লিশামসিদ দীন আল-জাযারী (পৃষ্ঠা: ٩)
القسم الخامس: العلو بتقدم السماع من الشيخ نفسه فمن تقدم سماعه من شيخ كان أعلا ممن سمع في ذلك الشيخ نفسه بعده.

قال ابن الصلاح مثل أن يسمع شخصان من شيخ واحد وسماع أحد منهما من ستين سنة مثلا وسماع الآخرين من أربعين سنة ولكن أهل الحديث مجمعون على أفضلية المتقدم في حق من اختلط شيخه أو خرف لمرض أو هرم والله أعلم.

إذا علم ذلك فليعلم أن المقصود هو القصم الأول وهو القرب في العدد من رسول الله صلى الله عليه وسلم بالإسناد الجيد المتصل كما قدمنا وله وجوه عند أهل الحديث منها خمسة يدعو الحاجة إليها في هذه المقدمة والعمل في هذا الكتاب عليها

الوجه الأول:

[6/أ] أعلاها وأولاها وأرفعها وأعلاها عند الجمهور، السماع من لفظ الشيخ سواء حدث من كتابه أو من حفظه بإملاء أو غير إملاء، ويقول الراوي في ذلك حدثنا ويجوز أن يقول في ذلك:أخبرنا، وسمعت، قال الحافظ أبو بكر الخطيب: أرفع العبارات: سمعت ثم حدثنا وحدثني ثم أخبرنا وهو كثير في الإستعمال، فاستدل الخطيب على ترجيح سمعت بأنه لا يكاد أحد يقولها في أحاديث الإجازة والمكاتبة ولا في تدليس ما لم يسمعه.

قلت: حدثنا تمنع ليس الإجازة ومن أجاز استعمالها في الإجازة مستدلا بما روي عن الحسن البصري أنه قال: حدثنا أبو هريرة وتأول حدث أي أهل المدينة والحسن بها فقد أخطأ.

قال الإمام تقي الدين أبو الفتح ابن دقيق وهذا إذا لم يكن دليل قاطع على أن الحسن لم يسمع من أبي هريرة لم يجز أن يصار إليه، انتهى.

وهو كذلك فإنه إن صح أن الحسن قال حدثنا أبو هريرة فلا شك أن تكون قد سمع منه فقد قال أبو زرعة، وأبو حاتم: من قال عن الحسن حدثنا أبو هريرة فقد أخطأ، والله تعالى أعلم.
পঞ্চম বিভাগ: শাইখের নিকট হতে শ্রবণ করার অগ্রগামীতার ভিত্তিতে উচ্চ সনদ। সুতরাং যে ব্যক্তি কোনো শাইখের নিকট হতে শ্রবণে অগ্রগামী হয়েছে, সে ওই একই শাইখের নিকট পরবর্তীতে শ্রবণকারীর চেয়ে উচ্চ সনদের অধিকারী।

ইবনুল সালাহ বলেন, যেমন দুইজন ব্যক্তি একজন শাইখের নিকট হতে শ্রবণ করল; তাদের একজনের শ্রবণ ছিল উদাহরণস্বরূপ ষাট বছর আগে এবং অন্যজনের শ্রবণ ছিল চল্লিশ বছর আগে। তবে মুহাদ্দিসগণ ওই শাইখের ক্ষেত্রে অগ্রগামী শ্রবণকারীর শ্রেষ্ঠত্বের ব্যাপারে একমত যার স্মৃতিভ্রম ঘটেছে অথবা বার্ধক্য বা অসুস্থতার কারণে বুদ্ধি লোপ পেয়েছে। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

যখন এটি জানা গেল, তখন জেনে রাখা উচিত যে, উদ্দেশ্য হলো প্রথম বিভাগটি, আর তা হলো উন্নত ও নিরবচ্ছিন্ন সনদের মাধ্যমে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটবর্তী হওয়া, যেমনটি আমরা ইতিপূর্বে বর্ণনা করেছি। মুহাদ্দিসগণের নিকট এর কয়েকটি পদ্ধতি রয়েছে, যার মধ্যে পাঁচটি পদ্ধতি এই ভূমিকায় উল্লেখ করা প্রয়োজন এবং এই কিতাবের কাজ সেগুলোর ওপর ভিত্তি করেই।

প্রথম পদ্ধতি:

[৬/অ] জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠের নিকট এর মধ্যে সর্বোচ্চ, উত্তম এবং শ্রেষ্ঠ হলো শাইখের মুখনিঃসৃত শব্দ থেকে শ্রবণ করা, চাই তিনি তার কিতাব থেকে বর্ণনা করুন অথবা তার স্মৃতি থেকে, ইমলা (শ্রুতিলিপি) করিয়ে হোক বা ইমলা ছাড়া। এক্ষেত্রে বর্ণনাকারী বলেন 'হাদ্দাসানা' (তিনি আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন), এবং এক্ষেত্রে 'আখবারানা' (তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন) এবং 'সামিতু' (আমি শুনেছি) বলাও জায়েয। হাফিজ আবু বকর আল-খাতীব বলেন: পরিভাষাগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ হলো 'সামিতু', এরপর 'হাদ্দাসানা' এবং 'হাদ্দাসানি', এরপর 'আখবারানা', আর এটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যাপক। খাতীব 'সামিতু' শব্দটিকে প্রাধান্য দেওয়ার ব্যাপারে এই দলিল পেশ করেছেন যে, ইজাযাহ ও মুকাতাবাহর মাধ্যমে প্রাপ্ত হাদীসের ক্ষেত্রে এবং যা শ্রবণ করা হয়নি তার তাদলীস করার ক্ষেত্রে সাধারণত কেউ এটি বলে না।

আমি বলছি: 'হাদ্দাসানা' শব্দটি ইজাযাহর ক্ষেত্রে ব্যবহারের পরিপন্থী। আর যারা হাসান বসরী থেকে বর্ণিত এই উক্তির মাধ্যমে একে ইজাযাহর ক্ষেত্রে ব্যবহার করা বৈধ বলেছেন যে, তিনি বলেছেন: 'আবু হুরায়রা আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন', এবং এর ব্যাখ্যা করেছেন যে এর অর্থ হলো 'মদীনার অধিবাসীদের নিকট বর্ণনা করেছেন' যখন হাসান সেখানে ছিলেন, তবে তিনি ভুল করেছেন।

ইমাম তাকীউদ্দীন আবুল ফাতহ ইবনু দাকীক বলেন: এটি ততক্ষণ পর্যন্ত, যতক্ষণ হাসান বসরী আবু হুরায়রা থেকে শ্রবণ করেননি বলে কোনো অকাট্য দলিল না পাওয়া যায়, তবে এর দিকে ফিরে যাওয়া (অর্থাৎ ইজাযাহর অর্থ গ্রহণ করা) জায়েয হবে না। সমাপ্ত।

বিষয়টি এমনই। কারণ যদি এটি সহীহ হয় যে হাসান বলেছেন 'আবু হুরায়রা আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন', তবে এতে কোনো সন্দেহ নেই যে তিনি তাঁর নিকট হতে শ্রবণ করেছেন। কেননা আবু যুরআহ এবং আবু হাতিম বলেছেন: যে ব্যক্তি হাসান বসরীর সূত্রে বলে 'আবু হুরায়রা আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন', সে ভুল করেছে। আর আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) আল-আওয়ালী লিশামসিদ দীন আল-জাযারী (পৃষ্ঠা: ١٠)
الوجه الثاني: القراءة على الشيخ وتسميها أكثر المحدثين عرضا، بمعنى أن القاريء يعرض على الشيخ ذلك سواء أقرأ على الشيخ من حفظه أو من كتاب أو من سمعه بقراءة غيره من كتاب أو من حفظه أيضا وسواء أكان الشيخ حافظا لما عرضه أو عرض غيره أو غير حافظ له ولكن يمسك أصله هو أو ثقة غيره وأجود العبارات في هذا الوجه أن يقول: قرأت على فلان إن كان هو القاريء وإن كان يسمع بقراءة غيره فيقول قريء على فلان وأنا أسمع ويلي هذه العبارة أخبرنا فلان بقراءتي عليه أو قرأه عليه وأنا أسمع ولو سمع بعضهم فأجاز أن يقال أخبرنا فلان قراءة

[6/ب] عليه إذا كان هو القاريء أو القاريء غيره وهو واضح لأن القراءة على الشيخ بقرأته أو قراءة غيره بخلاف ما إذا قال، قراءة مني عليه أو قرأه عليه وأنا أسمع.

الوجه الثالث: الرواية بالإجازة وهي دون الرواية بالسماع وتأتي على تسعة أنواع: المعول عليه في هذا الكتاب خمسة:

الأول: إجازة معين لمعين مناولة: مثل أن يقول أجزت لكم أو لفلان الفلاني الكتاب الفلاني أو ما اشتملت عليه فهرستي ونحو ذلك، ويناوله، فهذا أرفع من الإجازة المجردة عن المناولة، كما سيأتي.

قال القاضي عياض: فهذه عند بعضهم التي لم يختلف في جوازها ولا خالف فيه أهل الظاهر وإنما الخلاف منهم في غير هذا الوجه.

وقال القاضي أبو الوليد الباجي لا خلاف في جواز الرواية من سلف هذه الأمة وخلفها وادعى فيه الإجماع من غير تفصيل، وذكر الخلاف في العمل بها ولا شك أن حكاية الإجماع في الإجازة مطلقا غلط.
দ্বিতীয় পদ্ধতি: শাইখের নিকট পাঠ করা, যাকে অধিকাংশ মুহাদ্দিস 'আরয' (উপস্থাপন) বলে অভিহিত করেন। এর অর্থ হলো, পাঠক শাইখের নিকট তা উপস্থাপন করে, চাই সে তার স্মৃতি থেকে পাঠ করুক অথবা কিতাব থেকে, অথবা অন্য কারো পাঠ কিতাব থেকে বা স্মৃতি থেকে শুনে থাকুক। শাইখ যা উপস্থাপন করা হচ্ছে তা মুখস্থ রাখুন বা না রাখুন তাতে কিছু যায় আসে না, তবে শর্ত হলো তিনি নিজে অথবা অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি মূল পাণ্ডুলিপি ধরে থাকবেন। এই পদ্ধতির ক্ষেত্রে সবচেয়ে উত্তম অভিব্যক্তি হলো এই বলা যে: 'আমি অমুকের নিকট পাঠ করেছি' যদি সে নিজেই পাঠক হয়। আর যদি সে অন্যের পাঠ শুনে থাকে, তবে বলবে: 'অমুকের নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং আমি শুনছিলাম'। এর পরবর্তী স্তরের অভিব্যক্তি হলো: 'অমুক ব্যক্তি আমাকে তার নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন' অথবা 'তার নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং আমি শুনছিলাম'। যদি তাদের কেউ শুনে থাকে তবে এ কথা বলা জায়েজ যে, 'অমুক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন পাঠের মাধ্যমে'

[৬/খ] তার নিকট, যখন সে নিজেই পাঠক হয় অথবা অন্য কেউ পাঠক হয়। আর এটি স্পষ্ট, কারণ শাইখের নিকট পাঠ করা তার নিজের পাঠ হোক বা অন্যের পাঠ হোক, এর বিপরীতে যদি সে বলে: 'আমার পক্ষ থেকে তার নিকট পাঠ' অথবা 'তার নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং আমি শুনছিলাম'।

তৃতীয় পদ্ধতি: ইজাযতের মাধ্যমে বর্ণনা করা, যা শ্রবণের মাধ্যমে বর্ণনার চেয়ে নিম্নমানের এবং এটি নয় প্রকারের হয়ে থাকে। এই কিতাবে নির্ভরযোগ্য প্রকার হলো পাঁচটি:

প্রথম: নির্দিষ্ট ব্যক্তির পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে হাতে তুলে দেওয়ার (মুনওয়ালাহ) মাধ্যমে ইজাযত প্রদান করা: যেমন শাইখ বলবেন: 'আমি আপনাকে বা অমুক ব্যক্তিকে অমুক কিতাব বা আমার তালিকার অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলোর অনুমতি প্রদান করলাম' এবং তিনি তা তার হাতে তুলে দেবেন। এটি কেবল হস্তান্তরের মাধ্যমবিহীন ইজাযতের চেয়ে উচ্চতর, যেমনটি সামনে আলোচিত হবে।

কাজী ইয়াজ বলেন: এটি কারো কারো মতে এমন বিষয় যার বৈধতার ব্যাপারে কোনো মতভেদ নেই এবং আহলে জহিরও এর বিরোধিতা করেননি। মতভেদ কেবল এই প্রকারটি ব্যতীত অন্যগুলোর ক্ষেত্রে হয়েছে।

কাজী আবু আল-ওয়ালিদ আল-বাজি বলেন: এই উম্মতের সালাফ এবং খালাফদের নিকট থেকে বর্ণনার বৈধতার ব্যাপারে কোনো মতভেদ নেই এবং তিনি বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই এতে ইজমা দাবি করেছেন। তিনি এর ওপর আমল করার ব্যাপারে মতভেদ উল্লেখ করেছেন। তবে এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সাধারণভাবে ইজাযতের ক্ষেত্রে ইজমার কথা বর্ণনা করা একটি ভুল।
(খণ্ড: ১) আল-আওয়ালী লিশামসিদ দীন আল-জাযারী (পৃষ্ঠা: ١١)
قال الحافظ أبو عمرو بن الصلاح: هذا باطل فقد خالف في جواز الرواية باإجازة جماعات من أهل الحديث والفقهاء والأصوليين وذلك إحدى الروايتين عن الشافعي وقطع بإبطالها القاضي الحسين والماوردي، وبه قطع في كتابه الحادي وعزاه إلى مذهب الشافعي وقالا جميعا كما قال شعبة لو جازت اإجازة لبطلت الرحلة.

وممن قال بإبطالها: إبراهيم الحربي وأبو الشيخ ابن حيان، وأبو نصر الوابلي السجزي، وبعض الشافعية والحنفية إلا أن الذي استقر عليه العمل وقال به جمهور أهل العلم من أهل الحديث وغيرهم القول بتحرير الإجازة وتجريد الرواية بها، وكما تجوز الرواية بالإجازة يجب العمل بالمروي بها، وبعض أهل الظاهر ومن تبعهم يقول: لا يجب العمل بها، بل هي كالحديث المرسل.

قال أبو عمرو ابن الصلاح: وهذا باطل لأنه ليس في الإجازة ما يقدح

[7/أ] في إتصال المنقول بها وفي الثقة به.

النوع الثاني: من أنواع الإجازة أن يعين الشخص المجاز له دون الكتاب المجاز فيقول أجزت لك جميع مسموعاتي أو جميع مروياتي ونحو ذلك، والجمهور على تجويز الرواية بها وعلى وجوب العمل بما روي بها بشرطه لكن الخلاف في هذا النوع أقوى من الخلاف في الأول.

النوع الثالث والرابع من أنواع الإجازة العامة: كأن يقول أجزت للمسلمين أو لمن أدرك حياتي أو لمن في زماني أو لكل أحد ونحو ذلك، وقد فعله الحافظ الكبير أبو عبد الله ابن منده فقال: أجزت لمن قال لا إله إلا الله.

وجوزه أيضا الحافظ أبو بكر الخطيب.

وحكى الحازمي عن من أدركه من الحفاظ كالإمام أبي العلاء الحسن بن أحمد الهمذاني أنهم كانوا يميلون إلى الجواز.

وحكى أبو بكر الخطيب أنه جوز الإجازة لجميع المسلمين من كان منهم موجودا عند الإجازة.
হাফেজ আবু আমর ইবনুল সালাহ বলেছেন: এটি বাতিল; কেননা হাদিস বিশারদ, ফকিহ এবং উসুলবিদগণের অনেক দল ইজাযতের (অনুমতি) মাধ্যমে বর্ণনা করার বৈধতার বিরোধিতা করেছেন। এটি ইমাম শাফেয়ি থেকে বর্ণিত দুটি বর্ণনার একটি। কাজী হুসাইন এবং মাওয়ার্দি একে বাতিল বলে নিশ্চিত করেছেন। মাওয়ার্দি তার আল-হাউই গ্রন্থে এটি নিশ্চিত করেছেন এবং একে শাফেয়ি মাজহাবের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তারা উভয়েই বলেছেন—যেমনটি শু'বা বলেছিলেন—যদি ইজাযত বৈধ হতো, তবে ইলম অন্বেষণে ভ্রমণের প্রয়োজনীয়তা বাতিল হয়ে যেত।

যারা একে বাতিল বলেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন: ইবরাহিম আল-হারবি, আবুশ শায়খ ইবনে হাইয়ান, আবু নাসর আল-ওয়াবিলি আস-সিজজি এবং কিছু শাফেয়ি ও হানাফি অনুসারী। তবে যার ওপর আমল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং হাদিস বিশারদসহ অধিকাংশ আলেম যে মত পোষণ করেছেন, তা হলো ইজাযতকে সাব্যস্ত করা এবং এর মাধ্যমে বর্ণনা গ্রহণ করা। আর যেভাবে ইজাযতের মাধ্যমে বর্ণনা করা বৈধ, তেমনি এর মাধ্যমে বর্ণিত বিষয়ের ওপর আমল করাও ওয়াজিব। জাহেরি মাজহাবের কেউ কেউ এবং তাদের অনুসারীরা বলেন: এর ওপর আমল করা ওয়াজিব নয়, বরং এটি মুরসাল হাদিসের মতো।

আবু আমর ইবনুল সালাহ বলেছেন: এটি বাতিল, কারণ ইজাযতের মধ্যে এমন কিছু নেই যা ত্রুটিযুক্ত করে

[৭/আ] এর মাধ্যমে বর্ণিত বিষয়ের নিরবচ্ছিন্নতা এবং এর নির্ভরযোগ্যতাকে।

দ্বিতীয় প্রকার: ইজাযতের প্রকারসমূহের মধ্যে একটি হলো—যাকে ইজাযত দেওয়া হচ্ছে তাকে নির্দিষ্ট করা, কিন্তু কিতাবটি নির্দিষ্ট না করা। যেমন কেউ বলল, 'আমি তোমাকে আমার শোনা সমস্ত হাদিস বা আমার সমস্ত বর্ণনার ইজাযত দিলাম' এবং এই জাতীয় কথা। জমহুর আলেম এর মাধ্যমে বর্ণনা করা বৈধ হওয়ার এবং শর্ত সাপেক্ষে এর মাধ্যমে বর্ণিত হাদিসের ওপর আমল করা ওয়াজিব হওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে এই প্রকারের ক্ষেত্রে মতভেদ প্রথম প্রকারের তুলনায় অনেক প্রবল।

সাধারণ ইজাযতের প্রকারসমূহের মধ্যে তৃতীয় ও চতুর্থ প্রকার: যেমন কেউ বলল, 'আমি সকল মুসলিমকে ইজাযত দিলাম' অথবা 'যে আমার জীবনকাল পেয়েছে তাকে' অথবা 'যে আমার সমসাময়িক তাকে' অথবা 'প্রত্যেককে' এবং এই জাতীয় কথা। প্রখ্যাত হাফেজ আবু আব্দুল্লাহ ইবনে মানদাহ এটি করেছেন; তিনি বলেছেন: 'যে ব্যক্তি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলেছে, তাকে আমি ইজাযত দিলাম।'

হাফেজ আবু বকর আল-খাতিবও একে বৈধ বলেছেন।

হাজিমি তার সমসাময়িক হাফেজদের থেকে—যেমন ইমাম আবুল আলা হাসান ইবনে আহমদ আল-হামদানি—বর্ণনা করেছেন যে, তারা এর বৈধতার দিকেই ঝুঁকে ছিলেন।

আবু বকর আল-খাতিব বর্ণনা করেছেন যে, তিনি ঐ সকল মুসলিমদের জন্য ইজাযত দেওয়া বৈধ মনে করতেন, যারা ইজাযত প্রদানের সময় বর্তমান ছিলেন।
(খণ্ড: ১) আল-আওয়ালী লিশামসিদ দীন আল-জাযারী (পৃষ্ঠা: ١٢)
وقول أبي عمروبن الصلاح ولم نر ولم نسمع عن أحد ممن يقتدى به أنه استعمل هذه الإجازة فروى بها ولاعن الشرذمة المتأخرة الذين يبتوووها قال والإجازة في أصلها ضعف وتزداد بهذا التوسع والإسترسال ضعفا كثيرا ألا ينبغي احتماله، انتهى.

وهذا عجيب من ابن الصلاح رحمه الله تعالى إذ لا يلزم من ترك استعمالهم للرواية بها عدم صحتها أما لإستغنائهم عنها بالسماع أو للإحتياط للخروج من خلافمن منع الرواية بها فممن أجازها أبو الفضل أحمد بن الحسن بن خيرون البغدادي، والإمام أبو الوليد بن رشد من كبار أئمة المالكية، والحافظ الكبير أبو طاهر أحمد بن محمد السلفي، وجمهور المتأخرين، وجماعات آخرون، ورجحه الإمام أبو عمرو بن الحاجب، وصححه الإمام محيي الدين النووي من زيادته في الروضة فقال: الأصح جوازها، وحدث بها الإمام شرف الدين عبد المؤمن بن خلف الدمياطي، بإجازته العامة من المؤيد الطوسي وسمع
আবু আমর ইবনুল সালাহর উক্তি: "আমরা এমন কাউকে দেখিনি এবং শুনিনি যাকে অনুসরণ করা হয় যে তিনি এই ইজাজত ব্যবহার করেছেন এবং এর মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন, এমনকি সেই পরবর্তী ক্ষুদ্র গোষ্ঠী থেকেও না যারা এটি উদ্ভাবন করেছে।" তিনি বলেন, "ইজাজত তার মূলগতভাবে দুর্বল এবং এই ব্যাপকতা ও শিথিলতার কারণে এর দুর্বলতা আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পায়, যা সহ্য করা বা গ্রহণ করা উচিত নয়।" সমাপ্ত।

ইবনুল সালাহ (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)-এর পক্ষ থেকে এটি আশ্চর্যজনক, কারণ তারা এর মাধ্যমে বর্ণনা করা ত্যাগ করার অর্থ এই নয় যে এটি সহিহ বা শুদ্ধ নয়। হয় সরাসরি শ্রবণের মাধ্যমে তারা এর অমুখাপেক্ষী ছিলেন অথবা যারা এর মাধ্যমে বর্ণনা করা নিষেধ করেছেন তাদের মতভেদ থেকে বাঁচার সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে এটি করেছেন। যারা এটি জায়েজ বলেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন আবু আল-ফজল আহমদ বিন আল-হাসান বিন খাইরুন আল-বাগদাদী, মালেকী মাযহাবের বিশিষ্ট ইমামগণের অন্যতম ইমাম আবুল ওয়ালিদ বিন রুশদ, হাফিজুল কবীর আবু তাহির আহমদ বিন মুহাম্মদ আস-সিলাফী, পরবর্তী অধিকাংশ আলিম এবং অন্যান্য জামাআত। ইমাম আবু আমর ইবনুল হাজিব এটিকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন এবং ইমাম মুহিউদ্দিন আন-নববী ‘আর-রওদাহ’ গ্রন্থে তাঁর অতিরিক্ত সংযোজনীতে এটিকে সহিহ বলেছেন। তিনি বলেছেন: "অধিকতর সঠিক মত হলো এটি জায়েজ।" এবং ইমাম শরফুদ্দিন আব্দুল মুমিন বিন খালাফ আদ-দিময়াতি আল-মুআইয়্যাদ আত-তুসী থেকে তাঁর সাধারণ ইজাজতের মাধ্যমে এর দ্বারা হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং শ্রবণ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-আওয়ালী লিশামসিদ দীন আল-জাযারী (পৃষ্ঠা: ١٣)
[7/ب] بها الإئمة الحفاظ مثل الحافظ الحجة أبي الحجاج المزي، والحافظ أبو محمد القاسم بن محمد البرزالي، والحافظ أبي عبد الله محمد بن أحمد الذهبي، علي ركن الدين الطاووسي، بإجازته العامة من أبي جعفر الصيدلاني وغيره وقرأها الحافظ صلاح الدين خليل بن كيكلدي العلائي، وعماد الدين إسماعيل بن عمرو بن كثير وغيرهما على الشيخ أبي العباس الحجار لإجازته العامة من داود بن معمر بن الفاخر وحدثني بها من لفظ الحافظ ابن كثير بإجازته العامة من المؤيد الطوسي، وروى بها شيخنا خاتمة الحفاظ أبو الفضل زين الدين عبد الرحيم بن الحسين العراقي في كتابه (الأربعين العشارية) عن الوجيه عبد الرحمن العوفي عن ابن رواج وسبط السلفي، والعجيب أنه قال في (شرح ألفيته) وفي (النفيس) في ذلك شيء، وأنا أتوقف عن الرواية بها وقد روى بها في كتاب الأربعين كما قدمنا، وقال فيه وقد جمع بعضهم من أجاز هذه الإجازة العامة في تصنيف له جمع فيه خلقا كثيرا رتبهم على حروف المعجم لكثرتهم ومنهم الحافظ أبو جعفر محمد بن الحسين بن أبي البدر الكاتب البغدادي، انتهى.

أما الذي أجاز الإجازة العامة فإنهم خلق لا يحصون وإني منذ اشتغلت بعلم الحديث وكتبت استدعات الإجازة لي ولمن معي من سنة ست وستين وسبع مئة، وهلم جرا، لا أعلم أين كتبت استدعاء من شيوخ الحديث والعلماء والحفاظ ألا وكتبت فيه استدعاء الإجازة لمن في العصر وكلهم أجاب إلي ذلك، ولاأعلم أحدا ممن أدركته رد ذلك أو أنكره مع أني ربما حدثت بها عن الشيخ أبي الفتح محمد بن محمد الميدومي وعن الشيخ أبي عبد الله محمد بن إسماعيل بن الخباز الأنصاري خال جدي أب أبي قبل أن وقفت على
[৭/খ] এর মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন ইমাম ও হাফেজগণ, যেমন হাফেজে হুজ্জাত আবুল হাজ্জাজ আল-মিজ্জি, হাফেজ আবু মুহাম্মদ আল-কাসিম বিন মুহাম্মদ আল-বারজালি এবং হাফেজ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমাদ আয-যাহাবি; রুকনুদ্দিন আত-তাউসির সূত্রে, যিনি আবু জাফর আস-সাইদালানি ও অন্যদের নিকট থেকে প্রাপ্ত সাধারণ অনুমতির (ইজাজাহ আম্মাহ) মাধ্যমে তা লাভ করেছেন। হাফেজ সালাহুদ্দিন খলিল বিন কাইকালদি আল-আলাই এবং ইমাদুদ্দিন ইসমাইল বিন আমর বিন কাসির ও অন্যান্যরা এটি পাঠ করেছেন শাইখ আবুল আব্বাস আল-হাজ্জারের নিকট, দাউদ বিন মা’মার বিন আল-ফাখিরের নিকট থেকে প্রাপ্ত তার সাধারণ অনুমতির ভিত্তিতে। আর হাফেজ ইবনে কাসির আল-মুআইয়াদ আত-তুসির নিকট থেকে প্রাপ্ত সাধারণ অনুমতির ভিত্তিতে এটি আমাকে সরাসরি মৌখিকভাবে বর্ণনা করেছেন। আমাদের শাইখ, হাফেজগণের শেষ নিদর্শন আবু ফজল জয়নুদ্দিন আব্দুর রহিম বিন আল-হুসাইন আল-ইরাকি তার ‘আল-আরবাউন আল-উশারিয়্যাহ’ গ্রন্থে ওয়াজিব আব্দুর রহমান আল-আউফি, ইবনে রাওয়াজ এবং সিবত আস-সালাফির বরাতে এটি বর্ণনা করেছেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো যে, তিনি তার ‘শরহু আলফিয়্যাহ’ এবং ‘আন-নাফিস’ গ্রন্থে এ বিষয়ে কিছু সংশয় প্রকাশ করেছেন এবং এ পদ্ধতিতে বর্ণনার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করেছেন, যদিও তিনি তার ‘আল-আরবাউন’ গ্রন্থে এ থেকে বর্ণনা করেছেন যেমনটি আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি। তিনি তাতে আরও বলেছেন যে, তাদের মধ্যে কেউ কেউ এমন ব্যক্তিদের তালিকা সংকলন করেছেন যারা এই সাধারণ অনুমতি প্রদান করেছেন; তিনি এই সংকলনে বহু সংখ্যক মানুষকে একত্র করেছেন এবং তাদের আধিক্যের কারণে বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজিয়েছেন। তাদের মধ্যে হাফেজ আবু জাফর মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন বিন আবুল বদর আল-কাতিব আল-বাগদাদি অন্যতম। সমাপ্ত।

যারা সাধারণ অনুমতি প্রদান করেছেন তাদের সংখ্যা অগণিত। আমি যখন থেকে হাদিস শাস্ত্রের চর্চায় আত্মনিয়োগ করেছি এবং নিজের জন্য ও আমার সঙ্গীদের জন্য অনুমতির আবেদন লিখতে শুরু করেছি—যা সাতশ ছেষট্টি হিজরি থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে চলছে—আমি জানি না এমন কোনো হাদিস বিশারদ শাইখ, আলেম বা হাফেজ আছেন কি না যার নিকট আমি অনুমতির আবেদন লিখেছি অথচ তিনি সমসাময়িক সকলের জন্য সাধারণ অনুমতির আবেদন মঞ্জুর করেননি। আমি এমন কাউকে জানি না যার সাক্ষাৎ আমি পেয়েছি এবং তিনি এটি প্রত্যাখ্যান করেছেন বা অস্বীকার করেছেন। যদিও আমি কখনও কখনও শাইখ আবুল ফাতহ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল-মাইদুমি এবং শাইখ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন আল-খাব্বায আল-আনসারি (যিনি আমার দাদার ভাই অর্থাৎ পিতার চাচা ছিলেন) থেকে এটি বর্ণনা করেছি, তার পূর্বে আমি এটি অনুধাবন করার আগে...
(খণ্ড: ১) আল-আওয়ালী লিশামসিদ দীন আল-জাযারী (পৃষ্ঠা: ١٤)
[8/أ] إجازته الخاصة منه وأخبرني والدي تغمده الله تعالى في رحمته أنه أخذني في زيارته فسمعت عليه كثيرا وتتبعت ذلك فلم أجده إلى اليوم والله تعالى ييسر إن شاء الله يمنه وكرمه.

الوجه الرابع من أوجه الإجازة: المناولة، وهي على نوعين الأول:

الماولة المقرونة بالإجازة وهي أعلا أنواع اصَلَّى الله عَلَيهِ وسَلَّم إجازة مطلقا كما تقدم ثم لهذه المناولة العالية صور أعلاها:

أن يناوله شيئا من سماعه أصلا أو فرعا مقابلا به ويقول هذا من سماعي أو من روايتي عن فلان ما روه عني ونحو ذلك وكذا لو لم يذكر شيخه، وكان اسم شيخه في الكتاب المناول، وفيه بيان منه أو إجازته منه ونحو ذلك ويملكه الشيخ له أو يقول خذه وانتسخه وقابل به ثم رده إلي ونحو ذلك.

ومنها: أن يناوله له ثم يرتجعه في الحال، ومنها أن يحضر الطالب أصل الشيخ أو فرعه المقابل به فيعرضه عليه ويسمى عرض المناولة كما تقدم عرض السماع فإذا عرض الطالب الكتاب على الشيخ تأمله الشيخ وهو عارف متيقظ ثم يناوله الطالب ويقول هو روايتي عن فلان أو عن من ذكر فيه أو نحو ذلك فارووه ونحو ذلك وهذه المناولة المقرونة بالإجازة حالة محل السماع عند بعضهم كما حكاه أبو عبد الله الحاكم عن ابن شهاب الزهري، ويحيى بن سعيد الأنصاري، وربيعة الرأي، ومالك في آخرين من أهل المدينة ومكة والكوفة والبصرة والشام ومصر وخراسان.

وقال الحاكم في هذا العرض أما فقهاء الإسلام الذين أفتوا في الحلال والحرام فإنهم لم يرووها سماعا، وبه قال الشافعي والأوزاعي والبويطي والمزني

[8/ب] وأبو حنيفة والثوري وابن حنبل وابن المبارك ويحيى بن يحيى وابن راهويه قال: وعليه عهدنا وعهد أئمتنا وإليه نذهب.

وقال ابن الصلاح: إنه الصحيح وإن هذا منحط عن التحديث والأخبار.
[৮/ক] তাঁর পক্ষ থেকে তাঁর বিশেষ ইজাযত। আমার পিতা (আল্লাহ তাআলা তাঁকে তাঁর রহমতে আবৃত করুন) আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি আমাকে তাঁর জিয়ারতে নিয়ে গিয়েছিলেন। ফলে আমি তাঁর নিকট অনেক কিছু শুনেছি। আমি তা তালাশ করেছি কিন্তু আজ পর্যন্ত তা খুঁজে পাইনি। আল্লাহ তাআলা তাঁর অনুগ্রহ ও দয়ায় চাইলে তা সহজ করে দেবেন।

ইজাযতের প্রকারসমূহের মধ্যে চতুর্থ প্রকার: মুনওয়ালাহ (হস্তান্তর)। এটি দুই প্রকার, প্রথমটি হলো:

ইজাযত সংবলিত মুনওয়ালাহ। সাধারণভাবে ইজাযতের প্রকারসমূহের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ প্রকার, যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। অতঃপর এই উচ্চমানের মুনওয়ালাহ-এর কয়েকটি রূপ রয়েছে, যার মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো:

শাইখ তাঁর শ্রুত পাণ্ডুলিপির মূল কপি বা তার সাথে মিলিয়ে দেখা (মুকাবেলা করা) কোনো অনুলিপি ছাত্রকে প্রদান করবেন এবং বলবেন: "এটি আমার শ্রুত বা অমুকের সূত্রে বর্ণিত আমার বর্ণনা, সুতরাং এটি আমার পক্ষ থেকে বর্ণনা করো" অথবা এই জাতীয় কিছু। অনুরূপভাবে শাইখ যদি তাঁর উস্তাদের নাম উল্লেখ না করেন, কিন্তু হস্তান্তরিত কিতাবে তাঁর উস্তাদের নাম থাকে এবং তাতে তাঁর পক্ষ থেকে কোনো বর্ণনা বা ইজাযতের বিবরণ থাকে, তাহলেও তা একই গণ্য হবে। শাইখ কিতাবটি তাকে মালিক বানিয়ে দেবেন অথবা বলবেন: "এটি গ্রহণ করো, নকল করো এবং মূলের সাথে মিলিয়ে দেখো, অতঃপর আমার নিকট ফেরত দাও" বা এই জাতীয় কিছু।

এর মধ্যে আরও রয়েছে: তাকে প্রদান করা এবং তৎক্ষণাৎ তা ফেরত নেওয়া। আরেকটি হলো: ছাত্র শাইখের মূল কপি বা তার সাথে মেলানো অনুলিপি হাযির করবে এবং তা শাইখের সামনে পেশ করবে; একে 'আরযুল মুনওয়ালাহ' বলা হয়, যেমনটি পূর্বে 'আরযুস সামা'র ক্ষেত্রে অতিক্রান্ত হয়েছে। যখন ছাত্র কিতাবটি শাইখের নিকট পেশ করবে, তখন শাইখ তা গভীরভাবে দেখবেন (এমতাবস্থায় যে তিনি বিজ্ঞ ও সতর্ক)। এরপর তিনি ছাত্রকে তা প্রদান করবেন এবং বলবেন: "এটি অমুকের সূত্রে আমার বর্ণনা" অথবা "এতে যাদের নাম উল্লেখ আছে তাদের সূত্রে আমার বর্ণনা" অথবা এই জাতীয় কিছু, "সুতরাং তোমরা এটি বর্ণনা করো"। ইজাযত সংবলিত এই মুনওয়ালাহ কারো কারো নিকট 'সামা' (সরাসরি শ্রবণ)-এর স্থলাভিষিক্ত। যেমনটি আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম বর্ণনা করেছেন ইবনে শিহাব আজ-জুহরি, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-আনসারি, রাবিআতুর রাই এবং ইমাম মালিক সহ মদিনা, মক্কা, কুফা, বসরা, শাম, মিশর ও খুরাসানের অন্যান্য আলিমদের থেকে।

হাকিম এই আরয সম্পর্কে বলেছেন: ইসলামের ফকিহগণ যারা হালাল-হারামের ফতোয়া প্রদান করেন, তারা এটিকে 'সামা' (সরাসরি শ্রবণ) হিসেবে বর্ণনা করেন না। ইমাম শাফিঈ, আওযাঈ, বুয়াইতি ও মুযানী এই মত পোষণ করেছেন।

[৮/খ] এবং আবু হানিফা, সাওরি, ইবনে হাম্বল, ইবনুল মুবারক, ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া এবং ইবনে রাহওয়াইহ। তিনি (হাকিম) বলেন: এটিই আমাদের এবং আমাদের ইমামগণের অঙ্গীকার এবং আমরা এই মতই গ্রহণ করি।

ইবনুস সালাহ বলেন: এটিই সঠিক এবং এটি 'তাহদিস' (সরাসরি বর্ণনা) ও 'আখবার' (সংবাদ প্রদান) থেকে নিম্নমানের।
(খণ্ড: ১) আল-আওয়ালী লিশামসিদ দীন আল-জাযারী (পৃষ্ঠা: ١٥)
ومن صور المناولة أيضا: أن يحضر الطالب الكتاب للشيخ فيقول هذا روايتك فتناوله وأجز لي روايته، فلا ينظر الشيخ فيه ولا يتحقق أنه روايته ولكن اعتمد على خبر الطالب، والطالب ثقة يعتمد على مثله فأجابه إلى ذلك صحت المناولة والإجازة وإن لم يكن الطالب موثوقا غيره ومعرفته فإن هذه المناولة لا تصح ولا الإجازة أيضا نعم لو تبين بعد ذلك بخبر ثقة يعتمد عليه أن ذلك من سماع الشيخ أو من مروياته فالظاهر صحة المناولة والإجازة لأنه تبين صحة سماع الشيخ لما تأوله وأجازه، والله تعالى أعلم.

فإن خلت المناولةعن الإجازة وتجردت عنها كأن يناوله الكتاب ويقول هذا من حديثي أو من سماعاتي ولا يقول أروه عني ولا أجزته لك فلا تجوز الرواية على الصحيح الذي نص عليه النووي في التقريب والتيسير.

واختلفوا في عبارة الراوي لما تحمله بطريق المناولة والإجازة فحكى عن جماعة منهم الزهري ومالك جواز اطلاق حدثنا وأخبرنا وهذا يجيء على مذهب من يرى المناولة المقرونة بالإجازة، سماعا، كما قدمنا وحكى عن قوم آخرين جواز إطلاق حدثنا وأخبرنا في الرواية بالإجازة.

قال القاضي عياض، وحكى ذلك عن ابن جريج وجماعة من المتقدمين، وحكى أنه مذهب مالك وأهل المدينة، وأطلق أبو عبد الله المرزباني وأبو نعيم الأصبهاني وأخبرنا في الإجازة من غير بيان، والصحيح الذي عليه الجمهور
মুনাওয়ালার (হস্তান্তর) আরেকটি স্বরূপ হলো: ছাত্র শায়খের নিকট কিতাব উপস্থিত করে বলবে, ‘এটি আপনার বর্ণিত কিতাব, সুতরাং এটি আমাকে প্রদান করুন এবং এটি বর্ণনার অনুমতি দিন’। শায়খ কিতাবটি দেখেননি এবং সেটি তাঁর বর্ণনা কি না তা যাচাইও করেননি, বরং ছাত্রের খবরের ওপর নির্ভর করেছেন। যদি ছাত্রটি নির্ভরযোগ্য হয় এবং তার মতো ব্যক্তির ওপর নির্ভর করা যায়, আর শায়খ তাতে সম্মতি দেন, তবে মুনাওয়ালা ও ইজাযত (অনুমতি) শুদ্ধ হবে। কিন্তু ছাত্র যদি নির্ভরযোগ্য না হয় এবং এ বিষয়ে তার পরিচিতি না থাকে, তবে এই মুনাওয়ালা ও ইজাযত শুদ্ধ হবে না। হ্যাঁ, তবে যদি পরবর্তীতে কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয় যে, তা শায়খের শ্রবণকৃত বা তাঁর বর্ণিত বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত ছিল, তবে বাহ্যত মুনাওয়ালা ও ইজাযত শুদ্ধ হবে। কারণ শায়খ যা হস্তান্তর ও অনুমতি দিয়েছেন, তা তাঁর শ্রবণকৃত হওয়া সত্য প্রমাণিত হয়েছে। আর মহান আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

যদি মুনাওয়ালা ইজাযত (অনুমতি) বিহীন হয় এবং তা থেকে বিচ্ছিন্ন থাকে, যেমন— শায়খ তাকে কিতাবটি প্রদান করে বললেন, ‘এটি আমার হাদিস’ বা ‘আমার শ্রবণকৃত বিষয়’, কিন্তু তিনি ‘এটি আমার পক্ষ থেকে বর্ণনা করো’ বা ‘তোমাকে এর অনুমতি দিলাম’—এমন কিছু বলেননি, তবে সঠিক মতানুসারে এর মাধ্যমে বর্ণনা করা বৈধ নয়; যেমনটি ইমাম নববী তাঁর ‘তাকরিব’ ও ‘তাইসির’ গ্রন্থে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।

মুনাওয়ালা ও ইজাযতের মাধ্যমে প্রাপ্ত বর্ণনার ক্ষেত্রে রাবী (বর্ণনাকারী) কী শব্দ ব্যবহার করবেন, সে বিষয়ে উলামাগণ মতভেদ করেছেন। ইমাম যুহরী ও মালিকসহ একদল আলিম থেকে ‘হাদ্দাসানা’ এবং ‘আখবারানা’ শব্দদ্বয় নিঃশর্তভাবে ব্যবহার করার বৈধতা বর্ণিত হয়েছে। এটি সেই মাযহাবের অনুসারীদের অভিমত, যারা ইজাযতযুক্ত মুনাওয়ালাকে সরাসরি শ্রবণের (সামা’) সমতুল্য মনে করেন, যেমনটি আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি। আবার অন্য একদল আলিম থেকে ইজাযতের মাধ্যমে বর্ণনার ক্ষেত্রেও ‘হাদ্দাসানা’ ও ‘আখবারানা’ শব্দ ব্যবহারের বৈধতা বর্ণিত হয়েছে।

কাজী আইয়ায এটি ইবনে জুরায়জ ও পূর্ববর্তী একদল আলিম থেকে বর্ণনা করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে এটি ইমাম মালিক ও মদিনাবাসীদের মাযহাব। আবু আব্দুল্লাহ আল-মারজুবানি এবং আবু নুয়াইম আল-আসবাহানি কোনো প্রকার ব্যাখ্যা ছাড়াই ইজাযতের ক্ষেত্রে ‘আখবারানা’ শব্দ ব্যবহার করেছেন। তবে জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠ আলিমদের নিকট সঠিক মত হলো—
(খণ্ড: ১) আল-আওয়ালী লিশামসিদ দীন আল-জাযারী (পৃষ্ঠা: ١٦)
[9/أ] وأجازه أكثر أهل التحري المنع من إطلاق حدثنا وأخبرنا ونحوها في المناولة والإجازة ويقيد ذلك بعبارة متن الواقع فيقول: أخبرنا فلان أو حدثنا إجازة أو مناولة أو إجازة ومناولة أو في ما أذن لي أو إذنا أو نحو ذلك من العبارات المبينة لكيفية التحمل ولا بأس أن يقول كما اصطلح عليه المتأخرون في الإجازة بأنواعها، أنبأنا فإنه صار في العرف عبارة عن الإجازة، وأما قوله عن فلان أو أن فلان أو مشافهة أو فيما شافهني أو كتابة أو فيما كتب إلي أو مكاتبة فلا يخلو من إيهام وحيث اصطلح عليه فلا مشاحة في الإصطلاح لكن فيه تفصيل ينبغي أن يعلم وهو أنه إن سمع من الشيخ فأجازه الرواية مطلقا، وإن لم يتحقق سماعه لذلك المروي فله أن يقول إجازة إن لم يكن سماعا وإن شافهه بالإجازة فله أن يقول فيما شافهني أو إجازة مشافهة وقد جوز بعض المتأخرين إطلاق المشافهة على الإجازة إن كان الطالب قد سمع من الشيخ وشك فيما سمعه أو لم يشك ولكن شافهه بالإجازة وأجازوا في ذلك العنعنة أيضا وأما إذا لم يشافهه الشيخ فلابد أن يقول إجازة أو إذنا أو نحو ذلك وأجازوا أن يقول كتابة أو مكتابة أو فيما كتب إلي ونحو ذلك، وأما الإجازة العامة فلابد من بيانها،وأما إذا قال المجيز مثلا وأذنت له أن يقول يعني في الرواية بالإجازة إذا شاء حدثنا وأخبرنا كما يذكره بعض المشايخ من المغاربة وغيرهم، فغير سائغ، والله أعلم.

الوجه الخامس: من أوجه الرواية الإجازة المركبة وهي الرواية بالإجازة عن الإجازة منعها الحافظ أبو البركات عبد الوهاب
[৯/আ] অধিকাংশ সত্যসন্ধানী আলেম মুনাওয়ালাহ (হস্তান্তর) ও ইজাজাহর (অনুমতি) ক্ষেত্রে 'আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন' (হাদ্দাসানা) এবং 'আমাদের সংবাদ দিয়েছেন' (আখবারানা) ও এই জাতীয় শব্দাবলি শর্তহীনভাবে ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞাকে অনুমোদন করেছেন। একে বাস্তব পরিস্থিতির বর্ণনা দ্বারা সীমাবদ্ধ করতে হবে, ফলে বর্ণনাকারী বলবেন: 'অমুক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন' অথবা 'আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইজাজাহর মাধ্যমে' বা 'মুনাওয়ালাহর মাধ্যমে' অথবা 'ইজাজাহ ও মুনাওয়ালাহর মাধ্যমে' অথবা 'তিনি আমাকে যাতে অনুমতি দিয়েছেন তাতে' অথবা 'অনুমতিক্রমে' বা এই জাতীয় শব্দাবলি যা গ্রহণের পদ্ধতি সুস্পষ্ট করে। পরবর্তী যুগের আলেমগণ ইজাজাহর বিভিন্ন প্রকারের ক্ষেত্রে যে পরিভাষাটি স্থির করেছেন তা বলতে কোনো অসুবিধা নেই, তা হলো: 'আমাদের জানিয়েছেন' (আনবাআনা), কারণ এটি প্রচলিত ব্যবহারে ইজাজাহর পরিভাষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর তার কথা 'অমুক হতে' অথবা 'নিশ্চয়ই অমুক' অথবা 'মৌখিকভাবে' অথবা 'যাতে তিনি আমাকে মৌখিকভাবে বলেছেন' অথবা 'লিখিতভাবে' অথবা 'যাতে তিনি আমার নিকট লিখেছেন' অথবা 'পত্রবিনিময়ের মাধ্যমে'—এই বিষয়গুলো অস্পষ্টতামুক্ত নয়। তবে যেহেতু এটি পরিভাষা হিসেবে গৃহীত হয়েছে, তাই পরিভাষার ক্ষেত্রে কোনো বিতর্ক নেই। কিন্তু এতে এমন বিস্তারিত বিষয় রয়েছে যা জানা প্রয়োজন, আর তা হলো—যদি তিনি শাইখের নিকট থেকে শ্রবণ করেন এবং শাইখ তাকে সাধারণভাবে বর্ণনার অনুমতি প্রদান করেন, যদিও সেই বর্ণিত বিষয়টি তার শ্রবণের বিষয়টি নিশ্চিত না হয়, তবে তিনি 'ইজাজাহ' (অনুমতি) বলতে পারেন যদি তা সরাসরি শ্রবণ না হয়ে থাকে। আর যদি শাইখ তাকে মৌখিকভাবে অনুমতি প্রদান করেন, তবে তিনি বলতে পারেন 'যাতে তিনি আমাকে মৌখিকভাবে বলেছেন' অথবা 'মৌখিক অনুমতি'। পরবর্তী যুগের কিছু আলেম ইজাজাহর ক্ষেত্রে 'মৌখিকভাবে' শব্দটির ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন যদি ছাত্র শাইখের নিকট থেকে শ্রবণ করে থাকে এবং যা শুনেছে সে ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করে, অথবা সন্দেহ না থাকলেও শাইখ তাকে মৌখিকভাবে অনুমতি প্রদান করেন। এই ক্ষেত্রে তারা 'আন-আনা' (অমুক হতে অমুক) পদ্ধতিতেও বর্ণনার অনুমতি দিয়েছেন। কিন্তু যদি শাইখ তাকে মৌখিকভাবে অনুমতি প্রদান না করেন, তবে অবশ্যই তাকে 'অনুমতি' অথবা 'অনুমতিক্রমে' বা এই জাতীয় শব্দ বলতে হবে। তারা 'লিখিতভাবে' বা 'পত্রবিনিময়ের মাধ্যমে' অথবা 'যাতে তিনি আমার নিকট লিখেছেন' এবং এই জাতীয় শব্দ বলার অনুমতি দিয়েছেন। আর সাধারণ ইজাজাহর (সাধারণ অনুমতি) ক্ষেত্রে তা অবশ্যই স্পষ্ট করে বর্ণনা করতে হবে। তবে যদি অনুমতি প্রদানকারী উদাহরণস্বরূপ বলেন: 'আমি তাকে অনুমতি দিলাম যে সে বলতে পারবে'—অর্থাৎ ইজাজাহর মাধ্যমে বর্ণনার সময় সে চাইলে 'আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন' এবং 'আমাদের সংবাদ দিয়েছেন' শব্দ ব্যবহার করতে পারবে, যেমনটি মাগরিবের (মরক্কো ও তৎসংলগ্ন অঞ্চল) এবং অন্যান্য অঞ্চলের কিছু শাইখ উল্লেখ করেছেন—তবে তা সংগত নয়। আল্লাহই ভালো জানেন।

পঞ্চম পদ্ধতি: বর্ণনার পদ্ধতিগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো যৌগিক অনুমতি (আল-ইজাজাহ আল-মুরাক্কাবাহ), আর তা হলো অনুমতির অনুমতির মাধ্যমে বর্ণনা করা। হাফেজ আবু আল-বারাকাত আব্দুল ওয়াহহাব এটি নিষেধ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-আওয়ালী লিশামসিদ দীন আল-জাযারী (পৃষ্ঠা: ١٧)
[9/ب] بن المبارك بن الأنماطي البغدادي من شيوخ أبي الفرج ابن الجوزي، وصنف في ذلك جزءا من حيث أن الإجازة ضعيفة فيقوى الضعف بغجتماع إجازتين، وحكاه الحافظ أبو علي البرداني عن بعض منتحلي الحديث من غير أن يسمسه، واتهمه الحافظ أبو عمرو بن الصلاح فقال: ورده بعض من لا يعتد به من المتأخرين فإن والصحيح والذي عليه العمل أن ذلك جائز ولا يشبه ما امتنع من توكيل الوكيل بغير إذن الموكل، وحكى ذلك أبو بكر الخطيب الحافظ عن الإمام أبي الحسن الدارقطني والحافظ أبي العباس من عقده وفعله الحاكم في تاريخه، قال ابن طاهر الحافظ ولا يعرف بين القائلين بالإجازة خلاف في العمل بالإجازة عن الإجازة، وقال الحافظ أبو نعيم الإجازة على الإجازة قوية جائزة.

قلت ولا ينبغي أن يقال كلامه عند من أجاز الرواية بالإجازة فقد سمعنا بقراءة جماعة من أئمة الحديث كتبا وأجزأ بإجازتين بل بثلاثة من غير نكير وفعله من المتقدمين مثل الإمام الفقيه الكبير نصر بن إبراهيم الفقيه، قال الحافظ الفضل أبو طاهر بن محمد بن طاهر المقدسي عنه سمعته ببيت المقدس يروي بالإجازة عن الإجازة وربما تابع بين ثلاث منها، وذكر الحافظ أبو الفضل بن ناصر أن أبا الفتح بن أبي الفوارس حدث بجزء من العلل للإمام أحمد، حدثنا حارثة بن أبي علي بن الصواف بإجازته من عبد الله بن أحمد بن حنبل، حدثنا حارثة من أبيه أحمد بن حنبل قال شيخنا الحافظ أبو الفضل العراقي، وقد رايت في كلام غير واحد من الأئمة وأهل الحديث الزيادة على ثلاث أجائز فرووا بأربع أجازوه متوالية وبخمس قال ابن سعيد الأزدي بخمس أجاز متوالية في عدة مواضع قلت:
[৯/খ] ইবনুল মুবারক বিন আল-আনমাতি আল-বাগদাদী ছিলেন আবুল ফারাজ ইবনুল জাওযীর অন্যতম উস্তাদ। তিনি এই বিষয়ে একটি পুস্তিকা রচনা করেছেন যেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ইজাযাহ (অনুমতি) দুর্বল হলে দুটি ইজাযাহর সমষ্টির মাধ্যমে সেই দুর্বলতা শক্তিশালী হয়ে যায়। হাফিজ আবু আলী আল-বারদানী হাদীস অন্বেষণকারী জনৈক ব্যক্তির সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি তার নাম উল্লেখ করেননি। হাফিজ আবু আমর ইবনুস সালাহ তাকে অভিযুক্ত করে বলেছেন এবং পরবর্তীদের মধ্য থেকে এমন কিছু লোক একে প্রত্যাখ্যান করেছেন যাদের গ্রহণযোগ্যতা নেই। তবে সহীহ এবং প্রচলিত নিয়ম হলো এটি জায়েয এবং এটি মূল নিয়োগকারীর অনুমতি ব্যতীত উকিলের (প্রতিনিধি) পক্ষ থেকে অন্যকে উকিল নিয়োগ করার মতো নিষিদ্ধ বিষয়ের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ নয়। হাফিজ আবু বকর আল-খাতীব একে ইমাম আবুল হাসান আদ-দারাকুতনী এবং হাফিজ আবুল আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন। আল-হাকিম তার ‘তারীখ’ গ্রন্থে এটি করেছেন। হাফিজ ইবনে তাহির বলেছেন: যারা ইজাযাহ প্রদান করেন তাদের মধ্যে ‘ইজাযাহর মাধ্যমে ইজাযাহ’ এর আমলের ব্যাপারে কোনো মতভেদ জানা নেই। হাফিজ আবু নুয়াইম বলেছেন: ‘ইজাযাহর ওপর ইজাযাহ’ শক্তিশালী এবং বৈধ।

আমি বলছি: যারা ইজাযাহর মাধ্যমে বর্ণনা করা জায়েয মনে করেন, তাদের নিকট এই কথা বলা সমীচীন নয়। কেননা আমরা একদল হাদীস বিশারদ ইমামের নিকট বহু কিতাব পাঠ করতে শুনেছি এবং তারা কোনো প্রকার আপত্তি ছাড়াই দুটি এমনকি তিনটি ইজাযাহর মাধ্যমে অনুমতি দিয়েছেন। পূর্ববর্তীদের মধ্যে মহান ফকীহ ইমাম নাসর বিন ইবরাহীম আল-ফকীহ এরূপ করেছেন। হাফিজ আল-ফাদল আবু তাহির বিন মুহাম্মাদ বিন তাহির আল-মাকদিসী তার সম্পর্কে বলেছেন: আমি তাকে বাইতুল মাকদিসে ইজাযাহর মাধ্যমে প্রাপ্ত ইজাযাহ থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি এবং কখনও কখনও তিনি ধারাবাহিকভাবে এরূপ তিনটি ইজাযাহ উল্লেখ করতেন। হাফিজ আবুল ফাদল বিন নাসির উল্লেখ করেছেন যে, আবুল ফাতহ বিন আবুল ফাওয়ারিস ইমাম আহমদের ‘আল-ইলাল’ গ্রন্থের একটি অংশ বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: হারিসা বিন আবু আলী ইবনাস সাওয়াফ আব্দুল্লাহ বিন আহমদ বিন হাম্বলের নিকট থেকে প্রাপ্ত ইজাযাহর মাধ্যমে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। হারিসা তার পিতা আহমদ বিন হাম্বল থেকে বর্ণনা করেছেন। আমাদের শাইখ হাফিজ আবুল ফাদল আল-ইরাকী বলেছেন: আমি একাধিক ইমাম এবং হাদীস বিশারদগণের বক্তব্যে তিনটির অধিক ইজাযাহর কথা দেখেছি। তারা ধারাবাহিকভাবে চারটি এবং এমনকি পাঁচটি ইজাযাহর মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন। ইবনে সাঈদ আল-আযদি বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিকভাবে পাঁচটি ইজাযাহর কথা উল্লেখ করেছেন। আমি বলছি:
(খণ্ড: ১) আল-আওয়ালী লিশামসিদ দীন আল-জাযারী (পৃষ্ঠা: ١٨)
[10/أ] وما المانع عند من سوغ الرواية بالإجازة أن يتوالى إجازات قلت أو كثرت وهل هو عندهم إلا كتوالي السماع عن السماع؟ نعم لابد من أن يعلم الطالب أن شيخه أجاز ل شيخه الرواية بالإجازة فربما يكون الشيخ قد اقتصر على إجازة مسموعاته فقط ولم يجز له الرواية بمحازته فليتنبه لذلك فقد وقع لبعض الكبار في هذا غلط والله أعلم وبقي الكلام في الإجازة العامة هل تروى مركبة لا أعلم من ذكر فيها شيئا فكأن شيخنا الحافظ الكبير الزاهد أبو بكر محمد بن عبد الله بن المحب يمنع من ذلك وسمعته يقول: عدم على عدم.

وسمعت شيخنا الحافظ العلامة ابن كثير يقول أخبرنا أروى صحيح مسلم بإجازتي العامة من الحافظ شرف الدمياطي بإجازته العامة من المؤيد الطوسي، انتهى، وفي النفس من ذلك شيء وما رأيت أحدا عمل بذلك ولاسمعته من غير ابن كثير والله أعلم.

هذا ما يتعلق برواية الحديث بالإجازة من الأوجه الخمسة المتعلقة بهذا الكتاب. وأما الأوجه الأربعة الباقية من التسعة التي هي من أخذ الحديث وتحمله ولم يذكر منها شيء في هذا الكتاب.

فالسادس منها: إعلام الشيخ الطالب أن هذا الحديث أو الكتاب سماعه من فلان أو روايته من غير أن يأذن له في روايته عنه فاختلف جواز روايته له بمجرد ذلك.

والسابع الوصية بالكتب كأن يوصي الراوي بكتاب يرويه عند موته أو سفره لشخص فهل له أن يروي عنه بتلك الوصية؟ فيه خلاف أيضا.

والثامن: الوجادة: وهي أن يجد بخط من يثق به حدثنا سواء أعاصره أو لم يعاصره من غير سماع فهل له أن يروي ويقول وحدث بخط فلان قال حدثنا

[10/ب] فلان والرواية بالوجادة منقطعة ولكن إذا وثق بأنه خط ذلك الإمام يكون له شوب من الإتصال واختلف في العمل بالوجادة مع الإتفاق على منع الحكاية بها.
[১০/ক] যারা ইজাযতের (অনুমতি) মাধ্যমে বর্ণনা করাকে বৈধ মনে করেন, তাদের নিকট ইজাযতের ধারাবাহিকতা—তা কম হোক বা বেশি—থাকার ক্ষেত্রে বাধা কোথায়? তাদের কাছে কি এটি শ্রবণ থেকে শ্রবণের (সামা‘) ধারাবাহিকতার মতোই নয়? হ্যাঁ, ছাত্রের জন্য অবশ্যই এটি জানা জরুরি যে, তার শাইখ তার (ছাত্রের) শাইখকে ইজাযতের মাধ্যমে বর্ণনা করার অনুমতি দিয়েছেন কি না। কারণ, কখনও কখনও শাইখ কেবল তাঁর শ্রুত বিষয়গুলোর ইজাযত দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেন এবং তাঁর প্রাপ্ত ইজাযতকৃত বিষয়গুলো বর্ণনার অনুমতি দেন না। তাই এ বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত; কারণ কোনো কোনো বড় ইমামের ক্ষেত্রেও এ বিষয়ে ভুল সংঘটিত হয়েছে। আর আল্লাহই ভালো জানেন। সাধারণ ইজাযত (আল-ইজাযাতুল আম্মাহ) সম্পর্কে আলোচনা বাকি রয়ে গেছে—তা হলো, এটি কি যৌগিক বা পরম্পরাগতভাবে বর্ণনা করা যাবে? এ বিষয়ে কেউ কিছু উল্লেখ করেছেন বলে আমার জানা নেই। তবে আমাদের শাইখ, মহান হাফেজ ও সংসারবিরাগী আবু বকর মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন আল-মুহিব্ব সম্ভবত এটি নিষেধ করতেন; আমি তাঁকে বলতে শুনেছি: “অস্তিত্বহীনতার ওপর অস্তিত্বহীনতা।”

আমি আমাদের শাইখ হাফেজ আল্লামা ইবনে কাসীরকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: “আমি সহীহ মুসলিম বর্ণনা করি হাফেজ শারাফ আদ-দুমইয়াতির নিকট থেকে আমার প্রাপ্ত সাধারণ ইজাযতের মাধ্যমে, তিনি বর্ণনা করেছেন আল-মুআইয়্যিদ আত-তূসীর নিকট থেকে তাঁর সাধারণ ইজাযতের মাধ্যমে।” (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। তবে এ বিষয়ে আমার মনে কিছুটা সংশয় রয়েছে এবং আমি কাউকে এর ওপর আমল করতে দেখিনি, আর ইবনে কাসীর ব্যতীত অন্য কারো কাছ থেকেও এটি শুনিনি। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

এই গ্রন্থে সংশ্লিষ্ট পাঁচটি পদ্ধতির মধ্য থেকে ইজাযতের মাধ্যমে হাদিস বর্ণনা সংক্রান্ত আলোচনা এখানেই শেষ। আর হাদিস গ্রহণ ও ধারণ করার (তাহাম্মুল) মোট নয়টি পদ্ধতির অবশিষ্ট চারটি পদ্ধতি সম্পর্কে এই গ্রন্থে কিছু উল্লেখ করা হয়নি।

তার মধ্যে ষষ্ঠটি হলো: ‘ইলামুশ শাইখ’ (শাইখের অবহিতকরণ); অর্থাৎ শাইখ ছাত্রকে জানানো যে, এই হাদিসটি বা এই কিতাবটি অমুকের কাছ থেকে তাঁর শোনা বা তাঁর বর্ণনা, তবে তিনি ছাত্রকে তা বর্ণনা করার অনুমতি দেননি। কেবল এই জানানোর মাধ্যমে তা বর্ণনা করা জায়েজ কি না, সে বিষয়ে মতভেদ রয়েছে।

সপ্তমটি হলো: কিতাবের অসিয়ত করা; যেমন বর্ণনাকারী তাঁর মৃত্যুকালে বা সফরের সময় তাঁর বর্ণিত কোনো কিতাব কোনো ব্যক্তির জন্য অসিয়ত করে গেলেন। তবে সেই অসিয়তের ভিত্তিতে কি ওই ব্যক্তির জন্য তা বর্ণনা করা বৈধ হবে? এ বিষয়েও মতভেদ রয়েছে।

অষ্টমটি হলো: ‘উিজাদাহ’ (লিখনী পাওয়া); অর্থাৎ কোনো নির্ভরযোগ্য ব্যক্তির হস্তাক্ষরে এমন কিছু পাওয়া যে, “আমাদের নিকট অমুক বর্ণনা করেছেন”, চাই তিনি তাঁর সমসাময়িক হোন বা না হোন, কিন্তু তিনি তা শ্রবণ করেননি। এমতাবস্থায় তিনি কি এভাবে বর্ণনা করতে পারবেন যে, “অমুকের হস্তাক্ষরে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট [১০/খ] অমুক বর্ণনা করেছেন...”? ‘উিজাদাহ’-এর মাধ্যমে বর্ণনা করা মূলত বিচ্ছিন্ন (মুনকাতি), কিন্তু যদি এটি নিশ্চিত হওয়া যায় যে তা ওই ইমামেরই হস্তাক্ষর, তবে তাতে কিছুটা সংযুক্তির (ইত্তিসাল) আমেজ থাকে। উিজাদাহ অনুযায়ী আমল করার ব্যাপারে মতভেদ থাকলেও, এর মাধ্যমে (সরাসরি শ্রবণের ন্যায়) বর্ণনা করার নিষিদ্ধতার ব্যাপারে সকলে একমত।
(খণ্ড: ১) আল-আওয়ালী লিশামসিদ দীন আল-জাযারী (পৃষ্ঠা: ١٩)
والتاسع حكاه النقل من الكتب المؤلفة وفيه تفصيل وحكمه حكم المرسل بشرطه، والله تعالى أعلم.

وأما ما يتعلق بقراءة القراآت والقرآن بالإجازة: فإني وقفت على سؤال في ذلك للإمام الحافظ الكبير إمام الحديث والقراآت أبي العلاء الهمداني فأجاب أن ذلك كبيرة من الكبائر لا يحل ولا يجوز.

قلت: وكأنه يريد ممن لم يكن أهلا لذلك فيقيسه على رواية الحديث لأن في قراءة القرأن والقراات أشياء لا تحكمها إلا المشافهة وإلا فإذا كان الشيخ أهلا قد أحكم القرأن وصححه ورواه مشافهة فالسامع من روايته وأقرانه بالإجازة على سبيل المتابعة فإني رأيت الحافظ أبا العلاء نسبه في مصنفاته في القراات بذكر إسناده بالتلاوة ثم بذكره بالإجازة تارة لعلو الإسناد وتارة للمتابعة والشاهد وأما إمام القراات في عصره أبو معشر الطبري شيخ مكة فإن الجامع المسمى بسوق العروس له مشحون في غالب رواياته بقوله كتب إلي أبو علي الأهوازي وقد أقر بمضمنه ورواه الخلق عنه، وما رأينا أحدا أنكره وأبلغ من ذلك رواية شيخ القراءات بالديار المصرية الكمال الضرر فإنه روى القراءات وكتاب المستنير لأبي طاهر بن سوار عن الحافظ السلفي بالإجازة العامة منه ورويناه من طريق لذلك وقرأنا به على شيوخنا عن قراءتهم بذلك على سند القراء

[11/أ] التقي الصائغ عن الكمال الضرير لكن الصائغ قرابة على الكمال بن فارس عن تلاوته عن الكندي عن سبط الحناط كذلك من مؤلفه كذلك فرواه متابعة عن الكمال الضرير لعلوه والله تعالى أعلم.

وقد رأيت أن أقدم قبل الشروع الحديث المسلسل بالأولية ليتسلسل لمن يريد سماع ما بعده من الكبار والصغار، إما بالتاريخ وإما مطلقا مقتديا في ذلك بمن بعد منا من أئمة الحديث عند ابتداء السماع والتحديث، فأقول والله الموفق والمستعان، وعليه الإعتماد والتكلان.
নবম প্রকারটি হলো সংকলিত কিতাবসমূহ হতে বর্ণিত বর্ণনা, এর মধ্যে বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে এবং এর বিধান হলো শর্তসাপেক্ষে মুরসাল বর্ণনার বিধানের মতো। আর আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞ।

আর ইজাজতের (অনুমতি) মাধ্যমে কিরাত ও কুরআন পাঠের বিষয়টির সাথে যা সংশ্লিষ্ট: আমি এ বিষয়ে বড় হাফেজ, হাদিস ও কিরাতের ইমাম আবুল আলা আল-হামাদানির কাছে করা একটি প্রশ্নের উত্তর দেখেছি। তিনি উত্তর দিয়েছেন যে, এটি একটি কবিরা গুনাহ, এটি হালাল নয় এবং জায়েজও নয়।

আমি বলি: সম্ভবত তিনি এটি দ্বারা তাদের বুঝিয়েছেন যারা এর উপযুক্ত নয়। তিনি একে হাদিস বর্ণনার ওপর কিয়াস (তুলনা) করেছেন, কারণ কুরআন ও কিরাত পাঠের ক্ষেত্রে এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা সরাসরি মুখনিঃসৃত শ্রবণ ব্যতীত আয়ত্ত করা যায় না। অন্যথায় শাইখ যদি উপযুক্ত হন এবং তিনি কুরআনকে সুসংহত ও সহিহভাবে সরাসরি শুনে বর্ণনা করেন, তবে তার বর্ণনা থেকে শ্রবণকারী এবং তার সমসাময়িকদের জন্য মুতাবায়াত (পারস্পরিক সমর্থন) হিসেবে ইজাজতের মাধ্যমে বর্ণনা করা জায়েজ। কেননা আমি হাফেজ আবুল আলাকে দেখেছি যে, তিনি কিরাত সংক্রান্ত তার কিতাবগুলোতে তেলাওয়াতের সনদের পাশাপাশি কখনো উচ্চতর সনদের জন্য আবার কখনো মুতাবায়াত ও সাক্ষী হিসেবে ইজাজতের মাধ্যমেও বর্ণনা উল্লেখ করেছেন। আর তার যুগের কিরাতের ইমাম মক্কার শাইখ আবু মা'শার আত-তাবারির ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, তার ‘সুকুল আরুস’ নামক সংকলনটি অধিকাংশ বর্ণনায় ‘আবু আলী আল-আহওয়াজী আমার কাছে লিখেছেন’—এই উক্তিতে ভরপুর। তিনি এর বিষয়বস্তু স্বীকার করেছেন এবং বহু মানুষ তার থেকে তা বর্ণনা করেছেন। আমরা কাউকে এটি অস্বীকার করতে দেখিনি। এর চেয়েও অধিক শক্তিশালী উদাহরণ হলো মিসরীয় ভূখণ্ডের কিরাত বিশারদদের শাইখ কামাল আদ-দারিরের বর্ণনা; তিনি হাফেজ সিলাফির কাছ থেকে সাধারণ ইজাজতের মাধ্যমে কিরাতসমূহ এবং আবু তাহের ইবনে সাওয়ারের ‘আল-মুস্তানির’ কিতাবটি বর্ণনা করেছেন। আমরা এ পথেই তা বর্ণনা করেছি এবং আমাদের শাইখদের কাছে কিরাতের সনদে তা পাঠ করেছি—

[১১/ক] তাকি আস-সায়িগ কামাল আদ-দারির থেকে বর্ণনা করেছেন। তবে আস-সায়িগ কামাল ইবনে ফারিসের কাছে পাঠ করেছেন, যিনি আল-কিন্দি থেকে এবং তিনি সিবত আল-হান্নাত থেকে তেলাওয়াতের মাধ্যমে সরাসরি গ্রহণ করেছেন। অনুরূপভাবে তিনি তার কিতাব থেকেও গ্রহণ করেছেন। অতঃপর তিনি এটি উচ্চতর সনদের কারণে কামাল আদ-দারির থেকে মুতাবায়াত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আর আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞ।

আমি মূল আলোচনা শুরু করার আগে ‘হাদিসে মুসালসাল বিল আওয়ালিয়াহ’ উপস্থাপন করা সমীচীন মনে করছি, যাতে পরবর্তী বিষয়গুলো শুনতে আগ্রহী ছোট-বড় সবার জন্য এর ধারাবাহিকতা বজায় থাকে; চাই তা ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় হোক বা সাধারণভাবে। এ ক্ষেত্রে আমি হাদিস শ্রবণ ও বর্ণনা শুরুর সময় হাদিসের ইমামগণ যে পদ্ধতি অবলম্বন করতেন তারই অনুসরণ করছি। সুতরাং আমি বলছি—আল্লাহই তাওফিকদাতা এবং সাহায্যকারী, তাঁর ওপরই ভরসা এবং নির্ভরতা।
(খণ্ড: ১) আল-আওয়ালী লিশামসিদ দীন আল-জাযারী (পৃষ্ঠা: ٢٠)
أخبرنا الشيخ الإمام الحافظ الثقة المحدث شمس الدين أبو البناء محمود بن خليفة بن عقيل المنجبي، رحمه الله يوم الأحد العاشر من صفر سنة سبع وستين وسبع مئة بمنزله من الديماس داخل دمشق المحروس وهو أول حديث سمعته منه، أخبرنا الشيخ رشيد الدين أبو عبد الله محمد بن أبي القاسم البغدادي وهو أول حديث سمعته منه، أخبرنا الشيخ الإمام شيخ شيوخ العارفين بهاء الدين أبو حفص عمر بن عبد الله البكري السهروردي وهو أول حديث سمعته منه أخبرني أبو النجيب عبد القاهر بن عبد الله السهروردي وهو أول حديث سمعته منه، والشيخة الصالحة الكاتبة فخر النساء شهدة ابنة أحمد بن الفرج الأبرية وهو أول حديث سمعته منها، قال كل منهما أخبرنا أبو القاسم زاهر بن طاهر الشحامي، وهو أول حديث سمعته منه، أخبرنا أبو صالح أحمد بن عبد الملك المؤذن، وهو أول حديث سمعته منه، ح، وأخبرنا الشيخ أبو الفتح محمد بن محمد بن إبراهيم بن أبي القاسم بن موسى بن إسماعيل بن عبد الله بن مكي البكري الميدومي، وهو أول حديث رويته عنه إجازة عامة، وأخبرني عنه جماعة كثيرون لا يحصون منهم الحافظ
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ, ইমাম, হাফিজ, বিশ্বস্ত মুহাদ্দিস শামসউদ্দিন আবুল বান্না মাহমুদ ইবন খলিফা ইবন আকিল আল-মানজাবি (আল্লাহ তাঁর ওপর দয়া করুন), সাতশত সাতষট্টি হিজরির দশই সফর রবিবার সুরক্ষিত দামেস্কের অভ্যন্তরে আদ-দাইমাস নামক স্থানে তাঁর নিজ বাসভবনে; আর এটিই তাঁর থেকে শোনা আমার প্রথম হাদিস। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ রশিদউদ্দিন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবন আবিল কাসিম আল-বাগদাদি; আর এটিই তাঁর থেকে শোনা আমার প্রথম হাদিস। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ, ইমাম, আরেফদের শাইখদের শাইখ বাহাউদ্দিন আবু হাফস উমর ইবন আব্দুল্লাহ আল-বাকরি আস-সুহরাওয়ার্দি; আর এটিই তাঁর থেকে শোনা আমার প্রথম হাদিস। আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আবু নাজিব আব্দুল কাহির ইবন আব্দুল্লাহ আস-সুহরাওয়ার্দি; আর এটিই তাঁর থেকে শোনা আমার প্রথম হাদিস। এবং সংবাদ দিয়েছেন পুণ্যবতী শাইখা ও লেখিকা ফাখরুন নিসা শুহদাহ বিনতে আহমাদ ইবনুল ফারাজ আল-আবরিয়্যাহ; আর এটিই তাঁর থেকে শোনা আমার প্রথম হাদিস। তাঁরা উভয়েই বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম জাহির ইবন তাহির আশ-শাহামি; আর এটিই তাঁর থেকে শোনা আমার প্রথম হাদিস। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সালিহ আহমাদ ইবন আব্দুল মালিক আল-মুয়াযযিন; আর এটিই তাঁর থেকে শোনা আমার প্রথম হাদিস। (হা—অর্থাৎ বর্ণনাসূত্র পরিবর্তন); এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ আবু ফাতহ মুহাম্মদ ইবন মুহাম্মদ ইবন ইব্রাহিম ইবন আবিল কাসিম ইবন মুসা ইবন ইসমাইল ইবন আব্দুল্লাহ ইবন মাক্কি আল-বাকরি আল-মাইদুমি; আর এটিই সাধারণ অনুমতির (ইজাযত) মাধ্যমে তাঁর থেকে বর্ণিত আমার প্রথম হাদিস। এবং তাঁর সূত্রে আমার নিকট অগণিত এক জামাত সংবাদ দিয়েছেন যাদের সংখ্যা নিরূপণ করা সম্ভব নয়, তাঁদের মধ্যে হাফিজও রয়েছেন।
(খণ্ড: ১) আল-আওয়ালী লিশামসিদ দীন আল-জাযারী (পৃষ্ঠা: ٢١)
[11/ب] الحافظ الكبير أبو الفضل عبد الرحيم بن الحسين بن عبد الرحمن العراقي، وهو أول حديث سمعته منه على شاطيء النيل المبارك أحد أنهار الجنة بالديار المصرية حدثني أبو الفتح المذكور، وهو أول حديث سمعته من لفظه، حدثني أبو الفرج عبد اللطيف بن عبد المنعم بن علي بن نصر الحراني، وهو أول حديث سمعته من لفظه، أخبرنا الحافظ أبو الفرج عبد الرحمن بن علي الحوزي، وهو أول حديث سمعته منه، أخبرنا أبو سعد إسماعيل بن أبي صالح أحمد بن عبد الملك النيسابوري، وهو أول حديث سمعته منه، أخبرنا والدي الإمام أبو صالح أحمد بن عبد الملك المؤذن، وهو أول حديث سمعته منه، حدثنا الأستاذ أبو طاهر محمد بن محمد بن محمش الزيادي، وهو أول حديث سمعته منه، حدثنا أبو حامد أحمد بن محمد بن يحيى بن هلال البزار، وهو أول حديث سمعته منه، حدثنا سفيان بن عيينة، وهو أول حديث سمعته منه، عن عمرو بن دينار عن أبي قابوس مولى عبد الله بن عمرو بن العاص عن عبد الله بن عمرو بن العاص، رضي الله عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (الراحمون يرحمهم الرحمان ارحموا من في الأرض يرحمكم من في السماء) وفي رواية ارحموا أهل الأرض يرحمكم من في السماء.

هذا حديث حسن صحيح، أخرجه أبو داود والترمذي من غير تسلسل فرواه أبو داود عن أبي بكر بن أبي شيبة ومسدد ورواه الترمذي عن محمد بن يحيى بن أبي عمر العدني ثلاثتهم عن سفيان بن عيينة، فوقع لنا في روايتنا عن الميدومي بدلا عاليا.

قال الترمذي هذا حديث حسن صحيح

قلت: وهذا الحديث أصح حديث رويناه من المسلسلات مطلقا وإنما يصح تسلسله إلى سفيان بن عيينة وقد وقع لنا مسلسلا إلى عبد الله بن عمرو بن العاص وإلى النبي صلى الله عليه وسلم
[১১/খ] আল-হাফিজ আল-কাবীর আবু আল-ফাদল আবদুর রহিম ইবনে আল-হুসাইন ইবনে আবদুর রহমান আল-ইরাকি; এটিই প্রথম হাদিস যা আমি মিশরের নীল নদের তীরে বসে তাঁর নিকট হতে শুনেছি, যা জান্নাতের নহরসমূহের অন্যতম। উল্লেখিত আবু আল-ফাতহ আমাকে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন এবং এটিই তাঁর মুখ থেকে শোনা আমার প্রথম হাদিস। আবু আল-ফারাজ আবদুল লতিফ ইবনে আবদুল মুনয়িম ইবনে আলি ইবনে নাসর আল-হাররানি আমাকে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন এবং এটিই তাঁর মুখ থেকে শোনা আমার প্রথম হাদিস। হাফিজ আবু আল-ফারাজ আবদুর রহমান ইবনে আলি আল-হাওযি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন এবং এটিই তাঁর নিকট হতে আমার শোনা প্রথম হাদিস। আবু সা’দ ইসমাইল ইবনে আবি সালিহ আহমদ ইবনে আবদুল মালিক আন-নিসাবুরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন এবং এটিই তাঁর নিকট হতে আমার শোনা প্রথম হাদিস। আমার পিতা ইমাম আবু সালিহ আহমদ ইবনে আবদুল মালিক আল-মুআজ্জিন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন এবং এটিই তাঁর নিকট হতে আমার শোনা প্রথম হাদিস। উস্তাদ আবু তাহির মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মাহমিশ আজ-যিয়াদি আমাদের হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং এটিই তাঁর নিকট হতে আমার শোনা প্রথম হাদিস। আবু হামিদ আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে হিলাল আল-বাযযার আমাদের হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং এটিই তাঁর নিকট হতে আমার শোনা প্রথম হাদিস। সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ আমাদের হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং এটিই তাঁর নিকট হতে আমার শোনা প্রথম হাদিস। তিনি আমর ইবনে দিনার হতে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আসের মুক্তদাস আবু কাবুস হতে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "দয়াশীলদের প্রতি পরম দয়াময় আল্লাহ দয়া করেন। তোমরা জমিনে যারা আছে তাদের প্রতি দয়া করো, তবে যিনি আসমানে আছেন তিনি তোমাদের প্রতি দয়া করবেন।" অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, "তোমরা জমিনবাসীদের প্রতি দয়া করো, তবে যিনি আসমানে আছেন তিনি তোমাদের প্রতি দয়া করবেন।"

এটি একটি হাসান সহিহ হাদিস। ইমাম আবু দাউদ ও তিরমিযি এটি ধারাবাহিকতা (তাসালসুল) ব্যতিরেকে বর্ণনা করেছেন। আবু দাউদ আবু বকর ইবনে আবি শাইবাহ ও মুসাদ্দাদ হতে এবং তিরমিযি মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আবি উমর আল-আদানি হতে—তারা তিনজনেই সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ হতে এটি বর্ণনা করেছেন। ফলে আল-মাইদুমি হতে প্রাপ্ত আমাদের বর্ণনায় আমরা উচ্চতর সনদ (বাদাল আলি) লাভ করেছি।

ইমাম তিরমিযি বলেছেন, এটি একটি হাসান সহিহ হাদিস।

আমি (গ্রন্থকার) বলছি: আমরা যতগুলো মুসালসাল হাদিস বর্ণনা করেছি, এটি সেগুলোর মধ্যে সর্বাপেক্ষা বিশুদ্ধ হাদিস। তবে এর ধারাবাহিকতা কেবল সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ পর্যন্তই বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত। যদিও আমাদের নিকট আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পর্যন্তও এটি মুসালসাল হিসেবে পৌঁছেছে।
(খণ্ড: ১) আল-আওয়ালী লিশামসিদ দীন আল-জাযারী (পৃষ্ঠা: ٢٢)
[12/أ] ولكنه غلط من بعض الرواة ووهم كما بيناه في موضعه حيث أفردناه بالتأليف ولا يمنع ذكره في هذا الموضع وتقديم ذكره ليسمع أولا قبل الشروع فيما بعده.

عقيل: بفتح العين وكسر القاف

والمنبجي: بفتح الميم وكسر الباء الموحدة وبالجيم، نسبة إلى المدينة المعروفة بقرب حلب.

والفرات والديماس بكسر الدال المهملة بعدها ياء آخر الحروف ساكنة وبالسين المهملة، محلة بدمشق.

والسهروردي: بضم السين المهملة وإسكان الهاء وبالراء المفتوحة وفتح الواو وإسكان الراء بعدها وبالدال المهملة، بليدة بالعراق.

وشهدة: بضم السين وإسكان الهاء والإبرية بكسر الهمزة وفتح الباء الموحدة وبالراء نسبة إلى الإبر تطيب أبيها.

والشحامي: بفتح الشين المعجمة وتشديد الحاء المهملة.

والجوزي: بفتح الجيم وإسكان الواو وبالزاي نسبة لجد جد أبيه جعفر بن عبد الله والي فرضة نهر البصرة.

ومحمش: بفتح الميم الأولى وكسر الثانية وحاء مهملة ساكنة بينهما وآخره شين معجمة منونة.

والزيادي: بزاي مكسورة وبالياء آخر الحروف وبعد الألف دال مهملة.

وعيينة تصغير عين.

وقابوس يرويه المحدثون بغير صرف، والصواب صرفه

وقول الشاعر:

فإن تهلك أبو قابوس تهلك = جميع الناس والبلد الحرام، ضرورة

والعاص: يجوز ثابتة وجزمها، والأشهر إن كان معرفا فالثبوت أو منكرا الحذف، والله أعلم.

وهذا حين الشروع في المقصود والله تعالى الموفق لإتمامه على الوجه الذي يرضي المعبود.
[১২/অ] কিন্তু এটি কিছু বর্ণনাকারীর ভুল এবং একটি ভ্রান্তি, যেমনটি আমরা যথাস্থানে স্পষ্ট করেছি যেখানে আমরা এটি নিয়ে আলাদা একটি গ্রন্থ রচনা করেছি। তবে পরবর্তী আলোচনা শুরু করার আগে এটি শোনা যাক—এমন উদ্দেশ্যে এই স্থানে এর উল্লেখ এবং একে অগ্রগণ্য করা কোনো বাধা দেয় না।

আকিল: আইন বর্ণে ফাতহা (যবর) এবং কাফ বর্ণে কাসরা (যের) সহকারে।

আল-মানবিজি: মিম বর্ণে ফাতহা (যবর), একক নুক্তাবিশিষ্ট বা বর্ণে কাসরা (যের) এবং জিম বর্ণ সহকারে; এটি হালব (আলেপ্পো)-এর নিকটবর্তী প্রসিদ্ধ শহরের সাথে সম্পর্কিত একটি নিসবাহ।

আল-ফুরাত এবং আদ-দাইমাস: নুক্তাহীন দাল বর্ণে কাসরা (যের), এরপর সাকিন বিশিষ্ট ইয়া এবং নুক্তাহীন সিন বর্ণ সহকারে; এটি দামেস্কের একটি মহল্লা।

আস-সুহরাওয়ার্দি: নুক্তাহীন সিন বর্ণে দাম্মা (পেশ), হা বর্ণে সুকুন, ফাতহাযুক্ত রা, ফাতহাযুক্ত ওয়াও, এরপর রা বর্ণে সুকুন এবং নুক্তাহীন দাল বর্ণ সহকারে; এটি ইরাকের একটি ছোট শহর।

শুহদাহ: সিন বর্ণে দাম্মা (পেশ) এবং হা বর্ণে সুকুন সহকারে। আল-ইবরিয়্যাহ: হামজা বর্ণে কাসরা (যের), একক নুক্তাবিশিষ্ট বা বর্ণে ফাতহা (যবর) এবং রা বর্ণ সহকারে; এটি তাঁর পিতার সুগন্ধি তৈরির উপকরণের (আল-ইবার) দিকে সম্বন্ধযুক্ত।

আশ-শাহামি: নুক্তাযুক্ত শিন বর্ণে ফাতহা (যবর) এবং নুক্তাহীন হা বর্ণে তাশদিদ সহকারে।

আল-জাওজি: জিম বর্ণে ফাতহা (যবর), ওয়াও বর্ণে সুকুন এবং যা বর্ণ সহকারে; এটি তাঁর প্রপিতামহ জাফর ইবনে আবদুল্লাহর সাথে সম্পর্কিত, যিনি বসরার নদীর বন্দরের শাসনকর্তা ছিলেন।

মুহামমিশ: প্রথম মিম বর্ণে ফাতহা (যবর), দ্বিতীয় মিম বর্ণে কাসরা (যের) এবং এই দুয়ের মাঝে নুক্তাহীন হা বর্ণে সুকুন সহকারে; এর শেষে তানউইনযুক্ত নুক্তাযুক্ত শিন বর্ণ রয়েছে।

আয-যিয়াদি: কাসরাযুক্ত যা বর্ণ, ইয়া এবং আলিফের পরে নুক্তাহীন দাল বর্ণ সহকারে।

উইয়ায়নাহ: এটি 'আইন' (চক্ষু/ঝরণা) শব্দের তাসগির (ক্ষুদ্রতাবাচক রূপ)।

কাবুস: মুহাদ্দিসগণ একে তানউইন ব্যতীত বর্ণনা করেন, তবে সঠিক হলো এর তানউইন হওয়া (মুনসারিফ)।

এবং কবির উক্তি:

যদি আবু কাবুস ধ্বংস হয় তবে ধ্বংস হয়ে যাবে = সকল মানুষ এবং এই পবিত্র শহর; এটি কাব্যিক ছন্দের প্রয়োজনে (তানউইনসহ) হয়েছে।

আল-আস: এক্ষেত্রে (শেষে ইয়া) স্থির রাখাও অনুমোদিত এবং বিলুপ্ত করাও অনুমোদিত। অধিক প্রসিদ্ধ নিয়ম হলো, যদি এটি নির্দিষ্ট (মারেফাহ) হয় তবে তা স্থির রাখা আর অনির্দিষ্ট (নাকিরাহ) হলে বিলুপ্ত করা। আল্লাহই ভালো জানেন।

এখন মূল উদ্দেশ্য শুরু করার সময়; আল্লাহ তাআলাই একে এমনভাবে পূর্ণ করার তাওফিক দানকারী যা মা’বুদ (উপাস্য)-কে সন্তুষ্ট করবে।
(খণ্ড: ১) আল-আওয়ালী লিশামসিদ দীন আল-জাযারী (পৃষ্ঠা: ٢٣)
الحديث الأول

أخبرنا القاضي الرئيس

[12/ب]

عماد الدين محمد بن موسى بن سليمان بن محمد بن أحمد بن عبد الوهاب الشيرجي الأنصاري، رحمه الله تعالى، قراءة عليه وأنا أسمع في يوم السبت ثامن عشر ربيع الآخر سنة ثمان وستين وسبع مئة بدار الحديث الأشرفية داخل دمشق المحروس، أخبرنا الشيخ الإمام أبو الحسن علي بن أحمد بن عبد الواحد بن عبد الرحمن السعدي المقدسي الشهير بابن البخاري، قراءة عليه وأنا أسمع أخبرنا العلامة زيد بن الحسن بن زيد بن الحسن الكندي، والشيخ العلامة أبو حفص عمر بن محمد بن معمر بن طبرزد الحساني البغدادي قالا أخبرنا القاضي أبو بكر محمد بن عبد الباقي الأنصاري الفرضي أخبرنا أبو إسحاق إبراهيم بن عمر البرمكي قراءة عليه، وأنا أسمع في الرابعة، أخبرنا عبد الله بن إبراهيم بن أيوب بن ماسي، أخبرنا أبو مسلم إبراهيم بن عبد الله الكجي، حَدَّثَنا مُحَمد بن عبد الله الانصاري، حَدَّثَنا سليمان التيمي عن أنس بن مالك، رضي الله عنه، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من كذب على متعمدا فليتبوأ مقعده من النار.

هذا حديث صحيح مشهور متواتر ورد من حديث مئة من الصحابة أو يزيدون منهم العشرة المبشرة وقد تتبعه شيخنا الحافظ أبو بكر بن المحب المقدسي فأوصله منه من رواياته إلى بضع وتسعين صحابيا أخبرني بذلك، رحمه الله تعالى، من لفظه.

وما حكاه النووي، رحمه الله تعالى في شرح مسلم أنه رواه مئتان اثنتان من الصحابة بعيد، والله تعالى أعلم.

الشيرجي: بكسر الشين المعجمة، وبالياء آخر الحروف ساكنة وبالراء مكسورة وبالجيم نسبة إلى الشيرج، وهو السليط دهن السمسم.

وابن البخاري: نسبة إلى بخارى، سكن شيخه

[13/أ]

في بخارى أو تفقه بها فنسب إليها.

ومعم بضم الميم الأولى وفتح العين المهملة وتشديد الميم الثانية مفتوحة.
প্রথম হাদিস

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন প্রধান বিচারক

[১২/খ]

ইমাদুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে মুসা ইবনে সুলায়মান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে আবদুল ওয়াহহাব আশ-শিরজি আল-আনসারি, আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন। দামেশক নগরীর সংরক্ষিত এলাকার ভেতরে অবস্থিত দারুল হাদিস আল-আশরাফিয়্যাহতে সাতশত আটষট্টি হিজরি সনের রবিউস সানি মাসের আঠারো তারিখ শনিবার তাঁর নিকট পঠিত হওয়ার সময় আমি তা শ্রবণ করছিলাম। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইমাম শায়খ আবুল হাসান আলি ইবনে আহমদ ইবনে আবদুল ওয়াহিদ ইবনে আবদুর রহমান আস-সাদি আল-মাকদিসি, যিনি ইবনুল বুখারি নামে পরিচিত; তাঁর নিকট পঠিত হওয়ার সময় আমি তা শ্রবণ করছিলাম। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল্লামা জাইদ ইবনুল হাসান ইবনে জাইদ ইবনুল হাসান আল-কিন্দি এবং শায়খ আল্লামা আবু হাফস উমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুয়াম্মার ইবনে তাবারজাদ আল-হাসানি আল-বাগদাদি। তাঁরা বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন বিচারক আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আবদুল বাকি আল-আনসারি আল-ফারদি। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইসহাক ইবরাহিম ইবনে উমর আল-বারমাকি; আমার চতুর্থ বর্ষে তাঁর নিকট পঠিত হওয়ার সময় আমি তা শ্রবণ করছিলাম। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবনে ইবরাহিম ইবনে আইয়ুব ইবনে মাসি। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুসলিম ইবরাহিম ইবনে আবদুল্লাহ আল-কাজ্জি। তিনি বলেন, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-আনসারি। তিনি বলেন, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন সুলায়মান আত-তাইমি, তিনি আনাস ইবনে মালিক (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বলেছেন: "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।"

এটি একটি সহিহ, প্রসিদ্ধ ও মুতাওয়াতির হাদিস, যা একশত জন বা তারও বেশি সাহাবি থেকে বর্ণিত হয়েছে, যাঁদের মধ্যে জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজন সাহাবিও রয়েছেন। আমাদের উস্তাদ হাফিজ আবু বকর ইবনুল মুহিব আল-মাকদিসি এটি অনুসন্ধান করেছেন এবং তাঁর নিজস্ব বর্ণনাসমূহের মাধ্যমে এটিকে নব্বইয়ের অধিক সাহাবি পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন, তিনি সরাসরি আমাকে এ কথা জানিয়েছেন।

ইমাম নববী (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন) মুসলিমের ব্যাখ্যাগ্রন্থে যা উল্লেখ করেছেন যে, দুইশত দুইজন সাহাবি এটি বর্ণনা করেছেন—তা সঠিক হওয়া থেকে দূরে। আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞাত।

আশ-শিরজি: শিন অক্ষরে জের, শেষ অক্ষর ইয়া সাকিন, রা অক্ষরে জের এবং জিম; এটি 'শিরজ' শব্দের সাথে সম্পর্কিত, যা হলো তিল থেকে নিষ্কাশিত তেল।

ইবনুল বুখারি: এটি বুখারা শহরের সাথে সম্পর্কিত। তাঁর উস্তাদ

[১৩/ক]

বুখারায় বসবাস করতেন অথবা সেখানে ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেছিলেন, তাই তাঁর দিকে সম্বন্ধিত করা হয়েছে।

এবং মুয়াম্মার: প্রথম মিমে পেশ, আইন অক্ষরে জবর এবং দ্বিতীয় মিমে তাশদিদ ও জবর।
(খণ্ড: ১) আল-আওয়ালী লিশামসিদ দীন আল-জাযারী (পৃষ্ঠা: ٢٤)
وطبرزد: بفتح الطاء المهملة والباء الموحدة وإسكان الراء وبفتح الزاي بعدها وبالذال المعجمة وهو السكر بالفارسي.

وماسي بكسر السين المهملة ثم باء آخر الحروف ساكنة.

والكجي: بفتح الكاف وتشديد الجيم وربما قيل بالشين المعجمة.

 

الحديث الثاني

أخبرنا الشيخ الصالح المعمر الرحلة أَخبرنا أبو حفص عمر بن الحسن بن مزيد بن أميلة بن جمعة المراغي ثم الحلبي ثم الدمشقي قراءة مني عليه، أخبرنا أبو الحسن علي بن أحمد بن عبد الواحد المقدسي، سماعا، أخبرنا عمر بن محمد بن معمر الدارقزي، أخبرنا أبو المواهب أحمد بن محمد بن عبد الملك بن ملوك الوراق والقاضي أبو بكر محمد بن عبد الباقي الأنصاري قالا: أخبرنا القاضي أبو الطيب طاهر بن عبد الله الطبري، حدثنا أبو أحمد محمد بن أحمد بن الغطريف، حدثنا أبو خليفة وهو، الفضل بن حباب، حدثنا الوليد بن هشام القحذمي، حدثنا حريز بن عثمان قال: سألت عبد الله بن بسر: أشاب رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ فأومأ إلى عنفقته.

هذا حديث صحيح رواه البخاري عن عصام بن خالد عن حريز بن عثمان أنه سمع عبد الله بن بسر صاحب النبي صلى الله عليه وسلم قال: رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم قلت أكان شيخا قال كان في عنفقته شعرات بيض.

فوقع لنا بدلا عاليا، ولله الحمد.

ومزيد بفتح الميم وكسر الزاي وسكون الباء آخر الحروف.

وأميلة: بفتح الهمزة وكسر الميم وإسكان الياء آخر الحروف وبالام اسم

[13/ب] أعجمي.

والمراغي: بالغين المعجمة نسبة إلى مراغة المدينة المعروفة كان أبوه منها ثم سكن حلب ثم دمشق.

والمزي: بكسر الميم وتشديد الزاي كذا رأيته مضبوطا بخط الحافظ الحجة أبي الحجاج المزي.

والدارقزي بفتح الراء ثم قاف ثم راء نسبة إلى دار القز من بغداد.

وملوك بضم الميم وبالكاف.
তাবারজাদ: নুক্তাবিহীন ত-এ ফাতহা ও এক নুক্তাবিশিষ্ট ব-এ ফাতহা, র-এ সুকুন, এরপর য-এ ফাতহা এবং নুক্তাবিশিষ্ট যাল-এর মাধ্যমে। এটি ফারসি ভাষায় চিনি।

মাসি: নুক্তাবিহীন স-এ কাসরা, এরপর শেষ বর্ণ হিসেবে ব সাকিন।

আল-কাজজি: ক-এ ফাতহা ও জ-এ তাশদিদ। কখনও একে নুক্তাবিশিষ্ট শ দিয়েও পড়া হয়।

 

দ্বিতীয় হাদিস

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন পুণ্যবান শাইখ, দীর্ঘজীবী পরিব্রাজক আবু হাফস উমর ইবনে আল-হাসান ইবনে মাজিদ ইবনে উমাইলা ইবনে জুমুআ আল-মারাগি, পরবর্তীতে আল-হালাবি ও আদ-দিমাশকি—তার নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে; তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হাসান আলী ইবনে আহমদ ইবনে আবদুল ওয়াহিদ আল-মাকদিসি—শ্রবণ করার মাধ্যমে; তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুয়াম্মার আদ-দারকাজি; তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-মাওয়াহিব আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল মালিক ইবনে মুলুক আল-ওয়াররাক এবং কাজী আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আবদুল বাকি আল-আনসারি। তারা উভয়ে বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন কাজী আবু আল-তাইয়িব তাহির ইবনে আবদুল্লাহ আত-তাবারী; তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু আহমদ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে আল-গাতরিফ; তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু খলিফা—যিনি আল-ফজল ইবনে হুবাব; তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আল-ওয়ালিদ ইবনে হিশাম আল-কাহজামি; তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন হারীজ ইবনে উসমান। তিনি বলেন: আমি আবদুল্লাহ ইবনে বুসরকে জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি বৃদ্ধ হয়েছিলেন? তিনি তখন তার নিচের ঠোঁটের নিচের পশমগুচ্ছের (আন্‌ফাকাহ) দিকে ইশারা করলেন।

এটি একটি সহিহ হাদিস। ইমাম বুখারি এটি ইসাম ইবনে খালিদ হতে, তিনি হারীজ ইবনে উসমান হতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবী আবদুল্লাহ ইবনে বুসরকে বলতে শুনেছেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখেছি। আমি বললাম, তিনি কি বৃদ্ধ ছিলেন? তিনি বললেন, তার আন্‌ফাকাহ-তে (নিচের ঠোঁটের নিচের পশমগুচ্ছে) কয়েকটি সাদা চুল ছিল।

আমাদের নিকট এটি একটি উচ্চ পর্যায়ের বিকল্প সূত্র (বাদাল আলী) হিসেবে পৌঁছেছে, এবং আল্লাহর জন্যই সকল প্রশংসা।

মাজিদ: ম-এ ফাতহা, য-এ কাসরা এবং শেষ বর্ণ হিসেবে ব সাকিন।

উমাইলা: হামযায় ফাতহা, ম-এ কাসরা, শেষ বর্ণের পূর্বে ইয়া সাকিন এবং শেষে লাম রয়েছে; এটি একটি অনারব নাম।

[১৩/খ]

আল-মারাগি: নুক্তাবিশিষ্ট গ-এর মাধ্যমে, এটি মারাগা নামক প্রসিদ্ধ শহরের দিকে নিসবত বা সম্পর্কযুক্ত। তার পিতা সেখানকার অধিবাসী ছিলেন, পরে তিনি আলেপ্পোতে এবং পরবর্তীতে দামেস্কে বসবাস করেন।

আল-মিযযি: ম-এ কাসরা ও য-এ তাশদিদ। হাফেজ হুজ্জাত আবু আল-হাজ্জাজ আল-মিযযি-এর হস্তাক্ষরে আমি একে এভাবেই নথিবদ্ধ পেয়েছি।

আদ-দারকাজি: র-এ ফাতহা, এরপর ক, এরপর পুনরায় র। এটি বাগদাদের দারুল কায-এর দিকে নিসবত বা সম্পর্কযুক্ত।

মুলুক: ম-এ যম্মাহ এবং শেষে কাফ।
(খণ্ড: ১) আল-আওয়ালী লিশামসিদ দীন আল-জাযারী (পৃষ্ঠা: ٢٥)
والغطريف بكسر الغين المعجمة وإسكان الطاء المهملة وكسر الراء ثم باء آخر الحروف ساكنة ثم فاء.

وحباب: بضم الحاء المهملة وبائين موحدتين بينهما ألف.

والفحذمي: بفتح الفاء وإسكان الحاء المهملة وبالذال المعجمة مفتوحة وبالميم.

وحريز بفتح الحاء المهملة وكسر الراء بعدها ياء آخر الحروف وبالزاي.

وبسر: بضم الباء الموحدة وبالسين المهملة ساكنة.

 

الحديث الثالث

أخبرنا الشيخ الصالح رحلة زمانه صلاح الدين أبو عمر محمد بن أحمد بن إبراهيم بن عبد الله بن محمد بن أحمد بن محمد بن قدامة بن مقدام بن نصر المقدسي الجماعيلي ثم الدمشقي الصالحي الإمام قراءة مني عليه وسماعا في سنة سبعين وسبع مئة، بسفح فاسيون طاهر دمشق، أخبرنا الشيخ فخر الدين علي بن أحمد المقدسي سماعا، أخبرنا أبو حفص عمر بن محمد البغدادي، أخبرنا أبو القاسم هبة الله بن محمد بن عبد الواحد بن الحصين الشيباني، أخبرنا أبو طالب محمد بن أحمد بن محمد بن إبراهيم بن غيلان الخزاز، أخبرنا أبو بكر محمد بن عبد الله بن إبراهيم الشافعي

[14/أ] أخبرنا أبو الحسن علي بن الحسن بن عبد الله، حدثنا محمد بن بكر السهمي، حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسٍ، رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم عرضت له امْرَأَةٌ في الطريق ومعه ناس من أصحابه، فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللهِ إِنَّ لِي إِلَيْكَ حَاجَةً فَقَالَ: يَا أُمَّ فُلَانٍ اجْلِسِي فِي أَيِّ نَوَاحِي السِّكَكِ شِئْتِ حَتَّى أَجْلِسَ إِلَيْكِ فَفعلت فَجَلَسَ إِلَيْهَا حَتَّى قَضَتْ حَاجَتَهَا.

هذا حديث صحيح أخرجه أبو داود عن محمد بن عيسى بن الطباع، وكثير بن عبيد كلاهما عن محمد بن قيس الأسدي عن حميد، فوقع لنا عاليا بدرجتين.

ورواه مسلم عن أبي بكر بن أبي شيبة.
আল-গাতরীফ: গাইন বর্ণে কাসরা (যের), ত্বা বর্ণে সুকুন, রা বর্ণে কাসরা, এরপর বর্ণমালার শেষ বর্ণ (ইয়া) সুকুন যুক্ত এবং এরপর ফা।

এবং হুবাব: হা বর্ণে দম্মা (পেশ) এবং দুইবার বা বর্ণ যার মাঝখানে আলিফ রয়েছে।

এবং আল-ফাহযামী: ফা বর্ণে ফাতহা (যবর), হা বর্ণে সুকুন, যাল বর্ণে ফাতহা (যবর) এবং মীম বর্ণ সহকারে।

এবং হারীয: হা বর্ণে ফাতহা (যবর), রা বর্ণে কাসরা (যের), এরপর বর্ণমালার শেষ বর্ণ (ইয়া) এবং যা বর্ণ সহকারে।

এবং বুসর: বা বর্ণে দম্মা (পেশ) এবং সীন বর্ণে সুকুন।

 

তৃতীয় হাদীস

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন পুণ্যবান শাইখ, তাঁর যুগের শ্রেষ্ঠ পর্যটক, সালাহুদ্দীন আবু উমর মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে ইবরাহীম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে কুদামা ইবনে মিকদাম ইবনে নাসর আল-মাকদিসী আল-জামাঈলী অতঃপর আদ-দিমাশকী আস-সালিহী আল-ইমাম; যা তাঁর নিকট আমার পাঠ এবং শ্রবণের মাধ্যমে সাতশ সত্তর (৭৭০) হিজরী সনে, দামেস্কের পবিত্র কাসিউন পর্বতের পাদদেশে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ ফখরুদ্দীন আলী ইবনে আহমদ আল-মাকদিসী শ্রবণের মাধ্যমে; তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু হাফস উমর ইবনে মুহাম্মদ আল-বাগদাদী; তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম হিবাতুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে আল-حصين আশ-শায়বানী; তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তালিব মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহীম ইবনে গাইলান আল-খাযযায; তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ইবরাহীম আশ-শাফিঈ।

[১৪/আ] আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আলী ইবনে আল-হাসান ইবনে আব্দুল্লাহ; তিনি বলেন, আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে বকর আস-সাহমী; তিনি বলেন, আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন হুমাইদ, তিনি আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন এবং তাঁর সাথে তাঁর কিছু সাহাবী ছিলেন, এমতাবস্থায় এক মহিলা তাঁর সামনে উপস্থিত হলেন। মহিলাটি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনার কাছে আমার একটি প্রয়োজন আছে। তিনি বললেন: হে অমুকের মা! তুমি গলির যে কোনো এক প্রান্তে বসো যেখানে তুমি চাও, যাতে আমি তোমার কাছে এসে বসতে পারি। মহিলাটি তা-ই করলেন, অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার নিকট বসলেন যতক্ষণ না তিনি তার প্রয়োজন পূরণ করলেন।

এটি একটি সহীহ হাদীস। ইমাম আবু দাউদ এটি মুহাম্মদ ইবনে ঈসা ইবনে আত-তাব্বা এবং কাসীর ইবনে উবাইদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়েই মুহাম্মদ ইবনে কাইস আল-আসাদী থেকে, তিনি হুমাইদ থেকে; ফলে হাদীসটি আমাদের নিকট দুই স্তর উচ্চ সনদে পৌঁছেছে।

এবং ইমাম মুসলিম এটি আবু বকর ইবনে আবী শায়বা থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-আওয়ালী লিশামসিদ দীন আল-জাযারী (পৃষ্ঠা: ٢٦)
ورواه أبو داود أيضا عن عثمان بن أبي شيبة كلاهما عن بريد بن هارون عن حماد بن سلمة عن ثابت عن أنس فوقع لنا عاليا بثلاث درجات.

الحصين، تصغير حضن.

وغيلان بغين معجمة مفتوحة ونا آخر الحروف ساكنة.

والحزاز بالحاء المعجمة وزايين بينهما ألف نسبة إلى الخز.

الحديث الرابع

أخبرتنا الشيخة الصالحة المعمرة أم البهاء بنت ابنة القاسم بن عبد الحميد بن أحمد العجمية الأصل ثم الديلمية، قراءة مني عليها ببستانها بالسهم ظاهر دمشق، قالت: أخبرنا أبو الحسن علي بن أحمد الحنبلي، قراءة عليه وأنا أسمع، أخبرنا الشيخان أبو اليمن زيد بن الحسن بن زيد بن الحسن الكندي، وأبو حفص عمر بن محمد البغدادي قالا: أخبرنا القاضي أبو بكر محمد بن عبد الباقي الأنصاري، أخبرنا إبراهيم بن عبيد الله البرمكي، قراءة عليه وأنا أسمع في الرابعة، أخبرنا عبد الله بن إبراهيم بن فاسي البزاز، أخبرنا أَبُو مُسْلِمٍ إبراهيم بن عبد الله الكجي، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الأَنْصَارِيُّ، حَدَّثَني التَّيْمِيُّ وهو، سُلَيْمَانُ بن طرخان، حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ، رضي الله عنه قَالَ: عَطَسَ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم رَجُلَانِ فَشَمَّتَ أَحَدَهُمَا وَلَمْ يُشَمِّتِ الآخَرَ أَوْ فَشَمَّتَه وَلَمْ يُشَمِّتِ الآخَرَ، فَقَالَ: إِنَّ هَذَا حَمِدَ اللَّهَ،إِنَّ هَذَا حَمِدَ اللَّهَ، عز وجل

[14/ب] فَشَمَّتُّهُ وَإِنَّ هَذَا لَمْ يَحْمَدِ اللَّهَ فَلَمْ أُشَمِّتْهُ.
আবু দাউদও এটি উসমান বিন আবু শাইবাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ই বুরাইদ বিন হারুন থেকে, তিনি হাম্মাদ বিন সালামাহ থেকে, তিনি সাবিত থেকে এবং তিনি আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন; ফলে এটি আমাদের নিকট তিন স্তরের উচ্চ সনদে পৌঁছেছে।

আল-হুসাইন শব্দটি 'হিযন' শব্দের ক্ষুদ্রার্থবোধক রূপ।

আর গাইলান শব্দটি ফাতহাহ যুক্ত নুকতাহওয়ালা 'গাইন' এবং শেষ বর্ণটি সুকুন যোগে গঠিত।

আর আল-হাঝঝায শব্দটি নুকতাহওয়ালা 'হা' এবং দুই 'ঝাই'-এর মধ্যস্থলে একটি আলিফ সহকারে গঠিত, যা 'খায' (রেশমি বস্ত্র) শিল্পের সাথে সম্পৃক্ত।

চতুর্থ হাদিস

আমাদের নিকট সংবাদ প্রদান করেছেন পুণ্যবতী ও দীর্ঘজীবী শাইখাহ উম্মুল বাহা বিনতে ইবনাতুল কাসিম বিন আব্দুল হামিদ বিন আহমাদ, যিনি মূলত আজামিয়্যাহ ও পরবর্তীতে দাইলামিয়্যাহ। দামেশকের উপকণ্ঠে আস-সাহম নামক স্থানে তাঁর বাগানে তাঁর সম্মুখে পাঠ করে আমি তা অর্জন করেছি। তিনি বলেন: আমাদের নিকট সংবাদ প্রদান করেছেন আবুল হাসান আলী বিন আহমাদ আল-হাম্বলি, তাঁর নিকট পাঠকালে আমি শ্রবণ করেছি। আমাদের সংবাদ প্রদান করেছেন দুই শাইখ— আবুল ইয়ামান যায়েদ বিন হাসান বিন যায়েদ বিন হাসান আল-কিন্দি এবং আবু হাফস উমর বিন মুহাম্মদ আল-বাগদাদি। তাঁরা বলেন: আমাদের সংবাদ প্রদান করেছেন কাজি আবু বকর মুহাম্মদ বিন আব্দুল বাকি আল-আনসারি। আমাদের সংবাদ প্রদান করেছেন ইব্রাহিম বিন উবায়দুল্লাহ আল-বারমাকি, তাঁর নিকট পাঠকালে চতুর্থ বয়সে আমি তা শ্রবণ করেছি। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ বিন ইব্রাহিম বিন ফাসি আল-বাজঝায। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুসলিম ইব্রাহিম বিন আব্দুল্লাহ আল-কাজজি। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-আনসারি। আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আত-তাইমি, আর তিনি হলেন সুলায়মান বিন তরখান। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আনাস বিন মালিক (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন), তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট দুই ব্যক্তি হাঁচি দিলেন; তিনি তাদের একজনের হাঁচির জবাব দিলেন কিন্তু অন্যজনের জবাব দিলেন না। অথবা (বর্ণনাকারী বলেন) তিনি একজনের জবাব দিলেন এবং অন্যজনের জবাব দিলেন না। তখন তিনি বললেন: নিশ্চয়ই এই ব্যক্তি আল্লাহর প্রশংসা করেছে, নিশ্চয়ই এই ব্যক্তি মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর প্রশংসা করেছে,

[১৪/খ] তাই আমি তার হাঁচির জবাব দিয়েছি। আর এই ব্যক্তি আল্লাহর প্রশংসা করেনি, তাই আমি তার হাঁচির জবাব দিইনি।
(খণ্ড: ১) আল-আওয়ালী লিশামসিদ দীন আল-জাযারী (পৃষ্ঠা: ٢٧)
هذا حديث صحيح، أخرجه الأئمة الستة في كتبهم، فرواه البخاري عن محمد بن كثير عن سفيان الثوري، وعن آدم عن شعبة، ورواه مسلم عن محمد بن عبد الله بن نمير عن حفص بن غياث عن أبي كرب، عن أبي خالد الأحمر، ورواه أبو داود عن محمد بن كثير عن سفيان الثوري، وعن أحمد بن يونس عن زهير.

ورواه الترمذي عن محمد بن يحيى بن أبي عمر عن سفيان بن عيينة، ورواه النسائي في (الكبرى) عن إسحاق بن إبراهيم عن معتمر بن سليمان وعن عمران بن موسى عن عبد الوارث، ورواه ابن ماجة عن أبي بكر بن أبي شيبة عن بريد بن هارون تسعتهم عن سليمان التيمي فوقع لنا عايا بدرجتين، وقال الترمذي: حديث حسن صحيح.

الدماميسية: بفتح الدال المهملة وكسر الميم الثانية بعدها ياء ساكنة آخر الحروف فسين مهملة نسبة إلى بعض بلاد العجم.

وقوله: فشمت فيه لغتان، بالسين المعجمة وهو أفصح وبالسين المهملة ومعناه الدعاء بالخير والبركة.
এটি একটি সহিহ হাদিস, ছয়জন ইমাম তাঁদের কিতাবসমূহে এটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম বুখারি এটি মুহাম্মদ ইবনে কাসির থেকে, তিনি সুফিয়ান আস-সাওরি থেকে এবং আদম থেকে, তিনি শু’বা থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম মুসলিম এটি মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে নুমাইর থেকে, তিনি হাফস ইবনে গিয়াস থেকে, তিনি আবু কুরব থেকে, তিনি আবু খালিদ আল-আহমার থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম আবু দাউদ এটি মুহাম্মদ ইবনে কাসির থেকে, তিনি সুফিয়ান আস-সাওরি থেকে এবং আহমাদ ইবনে ইউনুস থেকে, তিনি জুহাইর থেকে বর্ণনা করেছেন।

ইমাম তিরমিজি এটি মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আবু উমর থেকে, তিনি সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনা থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম নাসায়ি ‘আল-কুবরা’ গ্রন্থে এটি ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম থেকে, তিনি মুতামির ইবনে সুলাইমান থেকে এবং ইমরান ইবনে মুসা থেকে, তিনি আবদুল ওয়ারিস থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম ইবনে মাজাহ এটি আবু বকর ইবনে আবি শায়বা থেকে, তিনি বুরাইদ ইবনে হারুন থেকে বর্ণনা করেছেন; তাঁরা নয়জনই সুলাইমান আত-তাইমি থেকে বর্ণনা করেছেন। ফলে এটি আমাদের নিকট উচ্চ সনদে দুই স্তরের ব্যবধানে পৌঁছেছে। ইমাম তিরমিজি বলেছেন: হাদিসটি হাসান সহিহ।

আদ-দামামিসিয়্যাহ: নুকতাহীন দাল বর্ণে ফাতহা (জবর) এবং দ্বিতীয় মীম বর্ণে কাসরা (যের), এরপর ইয়া সাকিন এবং শেষে নুকতাহীন সিন বর্ণ যোগে গঠিত। এটি অনারব কোনো এক ভূখণ্ডের সাথে সম্পৃক্ত নাম।

এবং তাঁর উক্তি: ‘ফাশাম্মাতা’ শব্দটির দুটি রূপ রয়েছে; নুকতাহীন সিনের স্থলে ‘শিন’ বর্ণ যোগে যা অধিক বিশুদ্ধ এবং নুকতাহীন ‘সিন’ বর্ণ যোগে। এর অর্থ হলো কল্যাণ ও বরকতের দোয়া করা।
(খণ্ড: ১) আল-আওয়ালী লিশামসিদ দীন আল-জাযারী (পৃষ্ঠা: ٢٨)
الحديث الخامس

أخبرنا الشيخ أبو عبد الله محمد بن موسى بن سليمان الأنصاري سماعا، وأبو حفص عمر بن الحسن الحلبي، وأبو عمر محمد بن أحمد بن قدامة المقدسي، وأم البهاء زينب بنت القاسم، بقراءتي عليهم متفرقين، قال الأربعة: أخبرنا أبو الحسن علي بن أحمد السعدي، سماعا قال: أخبرنا الشيخان الإمام زيد بن الحسن اللغوي وعمر بن محمد البغدادي قالا: أخبرنا أبو بكر محمد بن عبد الباقي الأنصاري، أخبرنا أبو إسحاق إبراهيم بن عمر البرمكي، قراءة عليه وأنا حاضر أسمع، أخبرنا عبد الله بن إبراهيم بن أيوب قال: أخبرنا أَبُو مُسْلِمٍ إبراهيم بن عبد الله بن مسلم، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ الأَنْصَارِيُّ، حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، رضي الله عنه، أن الرُّبَيِّعِ بِنْتِ النَّضْرِ، عَمَّتِهِ لَطَمَتْ جَارِيَةً، فَكَسَرَتْ ثَنِيَّتَهَا، فَعَرَضُوا عَلَيْهِمُ الأَرْشَ فَأَبَوْا، فَطَلَبُوا الْعَفْوَ فَأَبَوْا، فَأَتَوَا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَأَمَرَهُمْ بِالْقِصَاصِ، فَجَاءَ أَخُوهَا أَنَسُ بْنُ النَّضْرِ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ، أَيُكْسَرُ سِنُّ الرُّبَيِّعِ؟ لَا وَالَّذِي

[15/أ] بَعَثَكَ بِالْحَقِّ، لَا تُكْسَرُ سِنُّهَا، فقَالَ النبي صلى الله عليه وسلم: يَا أَنَسُ، كِتَابُ اللهِ الْقِصَاصُ فَعَفَى الْقَوْمُ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: إِنَّ مِنْ عِبَادِ اللهِ مَنْ لَوْ أَقْسَمَ عَلَى اللهِ لأَبَرَّهُ.

هذا صحيح أخرجه البخاري عن محمد بن عبد الله الأنصاري فوافقناه بعلو والحمد لله.

الربيع بضم الراء وفتح الباء الموحدة وتشديد الياء مكسورة على التضغير.

والنضر بفتح النون وإسكان الضاد المعجمة.
পঞ্চম হাদীস

শাইখ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন মুসা বিন সুলাইমান আল-আনসারি শ্রবণপূর্বক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, এবং আবু হাফস উমর বিন হাসান আল-হালাবি, এবং আবু উমর মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন কুদামা আল-মাকদিসি, এবং উম্মুল বাহা যয়নব বিনতে আল-কাসিম — তাঁদের নিকট আমার পৃথক পৃথক পাঠের মাধ্যমে। এই চারজন বলেছেন: আবু হাসান আলি বিন আহমদ আল-সাদি শ্রবণপূর্বক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: দুই শাইখ ইমাম যায়েদ বিন হাসান আল-লুগাভি এবং উমর বিন মুহাম্মদ আল-বাগদাদি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাঁরা বলেন: আবু বকর মুহাম্মদ বিন আব্দুল বাকি আল-আনসারি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু ইসহাক ইবরাহিম বিন উমর আল-বারমাকি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন — তাঁর নিকট পাঠকালে আমি উপস্থিত থেকে শ্রবণ করেছি, আব্দুল্লাহ বিন ইবরাহিম বিন আইয়ুব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু মুসলিম ইবরাহিম বিন আব্দুল্লাহ বিন মুসলিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-আনসারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হুমাইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আনাস বিন মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে যে, আন-নাদরের কন্যা আর-রুবায়্যি' —যিনি তাঁর ফুফু ছিলেন— জনৈক দাসীকে চড় মারেন, ফলে তার সম্মুখের দাঁতটি ভেঙে যায়। তখন তারা (আর-রুবায়্যি'র পরিবার) তাদের নিকট ক্ষতিপূরণ পেশ করলে তারা তা প্রত্যাখ্যান করে। তারা ক্ষমা প্রার্থনা করলেও তারা তা প্রত্যাখ্যান করে। অতঃপর তারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট উপস্থিত হলে তিনি তাদের কিসাসের নির্দেশ দেন। তখন তাঁর ভাই আনাস বিন আন-নাদর উপস্থিত হয়ে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আর-রুবায়্যি'র দাঁত কি ভেঙে ফেলা হবে? না, সেই সত্তার শপথ যিনি

[১৫/আ] আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন, তাঁর দাঁত ভাঙা হবে না। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: হে আনাস! আল্লাহর কিতাবের বিধান হলো কিসাস। অতঃপর ওই পক্ষ ক্ষমা করে দিল। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে এমন কেউ কেউ আছেন, যারা যদি আল্লাহর নামে শপথ করেন, তবে আল্লাহ তা পূর্ণ করেন।

এটি সহীহ। ইমাম বুখারি এটি মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-আনসারি থেকে বর্ণনা করেছেন, ফলে আমরা উচ্চতর সনদের মাধ্যমে তাঁর সাথে সামঞ্জস্য লাভ করেছি, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর।

আর-রুবায়্যি' শব্দটি রা বর্ণে পেশ, এক নুকতাযুক্ত বা বর্ণে জবর এবং ইয়া বর্ণে তাসদীদসহ যের যোগে ক্ষুদ্রার্থবোধক শব্দ হিসেবে।

আর আন-নাদর শব্দটি নূন বর্ণে জবর এবং নুকতাযুক্ত দাদ বর্ণে সাকিন যোগে।