(খণ্ড: ১)
বুগয়াতুল মুলতামিস ফী সিবাইয়্যাতি হাদীছিল ইমাম মালিক বিন আনাস
(পৃষ্ঠা: -)
بغية الملتمس في سباعيات حديث الإمام مالك بن أنس القسم: كتب السنة
الكتاب: بُغْيَةِ الْمُلْتَمِس فِي سُبَاعِيَّاتِ حَدِيثِ الإِمَامِ مَالِكِ بْنِ أَنَس
المؤلف: صلاح الدين أبو سعيد خليل بن كيكلدي بن عبد الله الدمشقي العلائي (ت 761 هـ)
حققه وعلق عليه: حمدي عبد المجيد السلفي [ت 1433 هـ]
الناشر: عالم الكتب، بيروت
الطبعة: الأولى، 1405 هـ - 1985 م
عدد الصفحات: 224
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইমাম মালিক ইবনে আনাসের হাদিসের সুবায়িয়্যাত (সাতজন রাবীবিশিষ্ট হাদিস) বিষয়ক বুগইয়াতুল মুলতামিস বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: বুগইয়াতুল মুলতামিস ফি সুবায়িয়্যাতি হাদিসিল ইমাম মালিক ইবনে আনাস
লেখক: সালাহউদ্দীন আবু সাঈদ খলীল ইবনে কায়কালদি ইবনে আব্দুল্লাহ আদ-দিমাশকি আল-আলাই (মৃত্যু ৭৬১ হিজরি)
তাহকীক ও টীকা প্রদান: হামদি আব্দুল মাজীদ আস-সালাফি [মৃত্যু ১৪৩৩ হিজরি]
প্রকাশক: আলমুল কুতুব, বৈরুত
সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৫ হিজরি - ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২২৪
[বইটির পৃষ্ঠাসংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
বুগয়াতুল মুলতামিস ফী সিবাইয়্যাতি হাদীছিল ইমাম মালিক বিন আনাস
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
بسم الله الرحمن الرحيم
الْجُزْءُ الأَوَّلُوَمَا تَوْفِيقِي إِلا بِاللَّهِ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَهُوَ حَسْبِي وَنِعْمَ الْوَكِيلُ الْحَمْدُ لِلَّهِ مَوْلَى الْحَمْدِ وَمُسْتَحِقِّهِ، وَمَوْلَى الْعَبْدِ وَمُسْتَرِقِّهِ، ذِي النِّعَمِ الْمُتَضَافِرَةِ، وَالْمِنَنِ الْمُتَظَاهِرَةِ، وَالآلاءِ الْمُتَكَاثِرَةِ، وَالْكِبْرِيَاءِ الْوَافِرَةِ، لَهُ الْحَمْدُ عَلَى مَا أَوْلَى، وَعَلَيْهِ الْمُعَوَّلُ فِي الآخِرَةِ وَالأُولَى، وَأَشْهَدُ أَنْ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَحْدَهُ لا شَرِيكَ لَهُ عُدَّةً لِلِقَائِهِ، وَعُمْدَةً لِمَا يَرِدُ مِنْ تِلْقَائِهِ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ خَاتَمُ رُسُلِهِ وَأَنْبِيَائِهِ، وَمُبَلِّغُ أَحْكَامِهِ وَأَنْبَائِهِ، وَخِيرَتُهُ مِنْ أَهْلِ أَرْضِهِ وَسَمَائِهِ، وَالْمُشَرَّفُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِالْمَقَامِ الْمَحْمُودِ، وَالْحَوْضِ الْمَوْرُودِ، وَالشَّفَاعَةِ عِنْدَ الْوُرُودِ، فَآدَمُ وَمَنْ دُونَهُ تَحْتَ لِوَائِهِ، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ، وَأَصْحَابِهِ النَّاقِلِينَ لأَحْكَامِهِ، وَالتَّابِعِينَ لَهُ فِي نَقْضِهِ وَإِبْرَامِهِ، وَسَلَّمَ تَسْلِيمًا كَثِيرًا إِلَى يَوْمِ الدِّينِ.
أَمَّا بَعْدُ فَإِنَّ اللَّهَ تبارك وتعالى، وَلَهُ الْحَمْدُ وَالْمِنَّةُ، مَنَّ عَلَى هَذِهِ الأُمَّةِ الْمُكَرَّمَةِ بِسِلْسِلَةِ الإِسْنَادِ وَاتِّصَالِهِ، وَنَقَلَ خَلَفُهَا عَنْ سَلَفِهَا سُنَّةَ نَبِيِّهَا صلى الله عليه وسلم وَبَيَانَ أَحْوَالِهِ، وَذَلِكَ مِنْ مُعْجِزَاتِهِ الَّتِي أَشَارَ صلى الله عليه وسلم إِلَيْهَا، وَوَعَدَ أُمَّتَهُ بِالْمُحَافَظَةِ عَلَيْهَا وَأَوْصَى بِالطَّالِبِينَ لِذَلِكَ وَإِلْطَافِهِمْ وَإِسْعَادِهِمْ بِمَطْلُوبِهِمْ وَإِسْعَافِهِمْ، وَذَلِكَ فِيمَا:
أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي الْهَيْجَاءِ بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ ، قَالَ:
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
প্রথম খণ্ডআমার তাওফিক কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই; আমি তাঁর ওপরই ভরসা করেছি, আর তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট এবং উত্তম কর্মবিধায়ক। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি প্রশংসার মালিক ও তার হকদার; এবং বান্দার অধিপতি ও তার প্রকৃত মালিক। তিনি অবিরাম নেয়ামত, সুস্পষ্ট অনুগ্রহ, প্রচুর দান এবং সুমহান গাম্ভীর্যের অধিকারী। তিনি যা দান করেছেন তার জন্য তাঁরই প্রশংসা; আর পরকাল ও ইহকালে তাঁর ওপরই পূর্ণ নির্ভরতা। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই—যা তাঁর সাথে সাক্ষাতের সম্বল এবং তাঁর নিকট থেকে আগত বিষয়ের মূল ভিত্তি। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসূল, তাঁর সকল রাসূল ও নবীদের পরিসমাপ্তি দানকারী, এবং তাঁর বিধান ও সংবাদসমূহ পৌঁছে দিয়েছেন। তিনি তাঁর জমিন ও আসমানের অধিবাসীদের মধ্যে মনোনীত। কিয়ামত দিবসে তিনি মাকামে মাহমুদ (প্রশংসিত স্থান), হাউজে কাওসার এবং সুপারিশের দ্বারা সম্মানিত হবেন। ফলে আদম এবং তাঁর পরবর্তী সকলেই তাঁর পতাকাতলে থাকবেন। আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক তাঁর ওপর, তাঁর পরিবারের ওপর এবং তাঁর সেই সকল সাহাবীদের ওপর যারা তাঁর বিধানসমূহ বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর আদেশ ও নিষেধ পালনে তাঁর অনুসরণ করেছেন। আর কিয়ামত পর্যন্ত তাঁদের ওপর অগণিত শান্তি বর্ষিত হোক।
অতঃপর, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা—সকল প্রশংসা ও অনুগ্রহ তাঁরই—এই সম্মানিত উম্মতকে দান করেছেন নিরবচ্ছিন্ন সনদ পরম্পরা। আর এর উত্তরসূরিরা তাদের পূর্বসূরিদের নিকট থেকে তাদের নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাহ এবং তাঁর জীবনচরিত বর্ণনা করেছেন। এটি তাঁর সেই মুজিজাসমূহের অন্তর্ভুক্ত যার প্রতি তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইঙ্গিত দিয়েছেন এবং তাঁর উম্মতকে তা সংরক্ষণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি (এর জ্ঞান) অন্বেষণকারীদের সাথে নম্র ব্যবহারের, তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করার এবং তাদের আবদার পূরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। আর এটি সেই সকল বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত যা আমাকে আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আবিল হাইজা আমার পাঠের মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১)
বুগয়াতুল মুলতামিস ফী সিবাইয়্যাতি হাদীছিল ইমাম মালিক বিন আনাস
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
أَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مُحَمَّدٍ الْبَكْرِيُّ، أَنَا عَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ عَبْدِ الْكَرِيمِ السَّمْعَانِيُّ، أنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْفَضْلِ الْفُرَاوِيُّ ، أنا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ خَلَفٍ.
ح وَأَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي بَكْرِ بْنِ مُشْرِفٍ سَمَاعًا عَلَيْهِ، عَنْ أَبِي الْحَسَنِ عَلِيِّ بْنِ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُقَيِّرِ، عَنْ أَبِي الْفَضْلِ أَحْمَدَ بْنِ طَاهِرٍ الْمِيهَنِيِّ، أنا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ خَلَفٍ ، قَالَ: أنا الْحَاكِمُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ ، قَالَ: ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيٍّ الشَّيْبَانِيُّ بِالْكُوفَةِ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ حَازِمِ بْنِ أَبِي غَرْزَةَ، ثنا ضِرَارُ بْنُ صُرَدَ، ثنا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الأَسَدِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «تَسْمَعُونَ وَيُسْمَعُ مِنْكُمْ، وَيُسْمَعُ مِمَّنْ يَسْمَعُ مِنْكُمْ» .
هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ ، مِنْ حَدِيثِ الأَعْمَشِ.
وَضِرَارُ بْنُ صُرَدٍ هَذَا ضَعِيفٌ مِنْهُمْ، قَالَ فِيهِ الْبُخَارِيُّ وَغَيْرُهُ: مَتْرُوكٌ، وَلَيْسَ هَذَا الْحَدِيثُ مِنْ أَفْرَادِهِ، فَقَدْ أَخْرَجَهُ أَبُو دَاوُدَ فِي سُنَنِهِ، عَنْ زُهَيْرِ بْنِ
আমি হাসান বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল-বাকরী, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আবদুর রহীম বিন আব্দুল করীম আস-সামআনী, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আল-ফজল আল-ফুরাবী, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আহমদ বিন আলী বিন খালাফ।
(হা) এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ বিন আবু বকর বিন মুশরিফ, তাঁর নিকট সরাসরি শ্রবণ করে, তিনি বর্ণনা করেছেন আবুল হাসান আলী বিন আবু আব্দুল্লাহ বিন আল-মুকায়্যির থেকে, তিনি আবুল ফজল আহমদ বিন তাহির আল-মিহানী থেকে, তিনি আহমদ বিন আলী বিন খালাফ থেকে, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-হাকিম আবু আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-হাফিজ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন কুফার মুহাম্মদ বিন আলী আশ-শায়বানী, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন হাযেম বিন আবু গারযাহ, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন দিরার বিন সুরাদ, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু বকর বিন আইয়াশ, তিনি আল-আমাশ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ আল-আসাদী থেকে, তিনি সাঈদ বিন জুবায়ের থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «তোমরা (আমার থেকে) শুনছ, এবং তোমাদের থেকে (অন্যরা) শুনবে, এবং তাদের থেকেও (অন্যরা) শুনবে যারা তোমাদের থেকে শুনবে।»
এটি একটি হাসান হাদীস, যা আল-আমাশ বর্ণিত হাদীসসমূহের অন্তর্ভুক্ত।
আর এই দিরার বিন সুরাদ তাদের (মুহাদ্দিসগণের) নিকট দুর্বল; ইমাম বুখারী ও অন্যান্যরা তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: তিনি পরিত্যক্ত (মাতরূক)। তবে এই হাদীসটি কেবল তাঁর একার বর্ণনা নয়, বরং ইমাম আবু দাউদ এটি তাঁর সুনান গ্রন্থে যুহাইর বিন... থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
বুগয়াতুল মুলতামিস ফী সিবাইয়্যাতি হাদীছিল ইমাম মালিক বিন আনাস
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
حَرْبٍ وَعُثْمَانَ بْنِ أَبِي شَيْبَةَ كِلاهُمَا، عَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ الْحَمِيدِ، عَنِ الأَعْمَشِ بِهِ.
وَرَوَاهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ فَارِسٍ.
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ مَنْدَهْ مُحَمَّدِ بْنِ عِصَامٍ، عَنْ أَبِيهِ عَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ، عَنِ الأَعْمَشِ بِهِ.
وَهَذَا إِسْنَادٌ حَسَنٌ لا بَأْسَ بِهِ.
قَالَ أَبُو حَاتِمِ بْنُ حِبَّان فِي الثِّقَاتِ: عِصَامُ بْنُ يَزِيدَ بْنِ عَجْلانَ مَوْلَى مُرَّةَ ابْنِ الطَّيِّبِ، مِنْ أَهْلِ الْكُوفَةِ، سَكَنَ أَصْبَهَانَ، يَرْوِي عَنِ الثَّوْرِيِّ وَمَالِكِ بْنِ مِغْوَلٍ، رَوَى عَنْهُ ابْنُهُ مُحَمَّدُ بْنُ عِصَامٍ، يَنْفَرِدُ وَيُخَالِفُ، وَكَانَ صَدُوقًا حَدِيثُهُ عِنْدَ الأَصْبَهَانِيِّينَ.
وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ هَذَا قَالَ النَّسَائِيُّ: لَيْسَ بِهِ بَأْسٌ، وَلَمْ يُضَعِّفْهُ أَحَدٌ.
فَالْحَدِيثُ حَسَنٌ جَيِّدٌ.
وَلَهُ طَرِيقٌ أُخْرَى، رَوَاهُ أَبُو عَمْرِو بْنُ السَّمَّاكِ، عَنْ أَحْمَدَ بْنِ عَلِيٍّ الْخَزَّازِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عِمْرَانَ بْنِ أَبِي عِمْرَانَ عَنْ أَبِيهِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي لَيْلَى عَنْ عِيسَى، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ ثَابِتِ بْنِ قَيْسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: فَذَكَرَهُ
হারব ও উসমান ইবনে আবি শায়বাহ উভয়ে জারির ইবনে আবদিল হামিদ থেকে, তিনি আমাশ থেকে একই সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
এবং এটি আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর ইবনে ফারিস বর্ণনা করেছেন।
আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে মানদাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইসাম থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি সুফিয়ান আস-সাওরী থেকে, তিনি আমাশ থেকে একই সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
এবং এটি একটি হাসান সনদ, এতে কোনো সমস্যা নেই।
আবু হাতিম ইবনে হিব্বান 'আস-সিকাত' গ্রন্থে বলেছেন: ইসাম ইবনে ইয়াজিদ ইবনে আজলান, মুররাহ ইবনে তাইয়্যিবের আযাদকৃত গোলাম, কুফাবাসীদের অন্তর্ভুক্ত, তিনি ইসফাহানে বসবাস করতেন, তিনি সাওরী ও মালিক ইবনে মিগওয়াল থেকে বর্ণনা করেন, তার থেকে তার পুত্র মুহাম্মদ ইবনে ইসাম বর্ণনা করেছেন, তিনি এককভাবে বর্ণনা করেন এবং বিরোধিতা করেন, তবে তিনি সত্যবাদী ছিলেন এবং ইসফাহানবাসীদের নিকট তার হাদিস গ্রহণযোগ্য।
আর এই আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ সম্পর্কে নাসায়ী বলেছেন: তার মধ্যে কোনো সমস্যা নেই, এবং কেউ তাকে দুর্বল বলেননি।
সুতরাং হাদিসটি হাসান জায়্যিদ (উত্তম)।
এবং এর আরেকটি সূত্র রয়েছে, যা আবু আমর ইবনে আস-সাম্মাক বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে আলি আল-খাযযায থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইমরান ইবনে আবি ইমরান থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে আবি লায়লা থেকে, তিনি ঈসা থেকে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে আবি লায়লা থেকে, তিনি সাবিত ইবনে কায়স থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: অতঃপর তিনি তা উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
বুগয়াতুল মুলতামিস ফী সিবাইয়্যাতি হাদীছিল ইমাম মালিক বিন আনাস
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
قَالَ أَحْمَدُ: قَالَ إِسْحَاقُ بْنُ رَاهَوَيْهِ: كُلُّ مَسْأَلَةٍ تُرْوَى عَنْ ثَلاثَةٍ فَهِيَ أَثَرٌ، كَقَوْلِهِ صلى الله عليه وسلم: تَسْمَعُونَ وَيُسْمَعُ مِنْكُمْ، وَيُسْمَعُ مِمَّنْ يُسْمَعُ مِنْكُمْ.
وَهَذَا الْقَوْلُ مِنْ إِسْحَاقَ رحمه الله يُشْعِرُ بِتَثْبِيتِهِ الْحَدِيثَ، وَاللَّهُ أَعْلَمُ.
أَخْبَرَنَا أَبُو الْفَتْحِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحِيمِ الْقُرَشِيُّ بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ ، قَالَ: أنا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ ظَافِرِ بْنِ رَوَّاجٍ الأَزْدِيُّ ، قَالَ: أنا الْحَافِظُ أَبُو طَاهِرٍ السِّلَفِيُّ، أنا الْمُبَارَكُ بْنُ عَبْدِ الْجَبَّارِ الصَّيْرَفِيُّ ، قَالَ: أنا عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ الْغَالِي، أنا أَحْمَدُ بْنُ إِسْحَاقَ النُّهَاوَنْدِيُّ، أنا الْحَسَنُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الرَّامَهُرْمُزِيُّ، ثنا أَبِي، ثنا يَحْيَى بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَعْفَرٍ، ثنا عَلِيُّ بْنُ عَاصِمٍ، ثنا أَبُو هَارُونُ الْعَبْدِيُّ ، قَالَ: كُنَّا إِذَا أَتَيْنَا أَبَا سَعِيدٍ يَعْنِي الْخُدْرِيَّ رضي الله عنه ، قَالَ: مَرْحَبًا بِوَصِيَّةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قُلْنَا: وَمَا وَصِيَّةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم؟ قَالَ: قَالَ لَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " سَيَأْتِي مِنْ بَعْدِي قَوْمٌ يَسْأَلُونَكُمُ الْحَدِيثَ عَنِّي، فَإِذَا جَاءُوكُمْ فَأَلْطِفُوهُمْ وَحَدِّثُوهُمْ.
أَخْرَجَهُ التِّرْمِذِيُّ فِي جَامِعِهِ، عَنْ سُفْيَانَ بْنِ وَكِيعٍ، عَنْ أَبِي دَاوُدَ الْحَفَرِيِّ، عَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ، عَنْ أَبِي هَارُونَ الْعَبْدِيِّ بِهِ.
وَلَفْظُهُ: أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: إِنَّ النَّاسَ لَكُمْ تَبَعٌ، وَإِنَّ رِجَالا يَأْتُونَكُمْ مِنْ أَقْطَارِ الأَرْضِ يَتَفَقَّهُونَ فِي الدِّينِ، فَإِذَا أَتَوْكُمْ فَاسْتَوْصُوا بِهِمْ خَيْرًا.
ثُمَّ رَوَاهُ عَنْ قُتَيْبَةَ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ نُوحِ بْنِ قَيْسٍ، عَنْ أَبِي هَارُونَ بِهِ.
وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ، لا نَعْرِفُهُ إِلا مِنْ حَدِيثِ أَبِي هَارُونَ
আহমাদ বলেন: ইসহাক ইবনে রাহাওয়াইহি বলেছেন: যে কোনো মাসআলা যা তিনজনের সূত্রে বর্ণিত হয় তা-ই আসার (স্মারক), যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: তোমরা (আমার থেকে) শুনবে এবং তোমাদের থেকেও শোনা হবে, আর তোমাদের থেকে যারা শুনবে তাদের থেকেও শোনা হবে।
ইসহাক রাহিমাহুল্লাহ-এর এই উক্তিটি হাদিসটিকে তাঁর পক্ষ থেকে সুপ্রতিষ্ঠিত করার ইঙ্গিত দেয়, আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
আবুল ফাতহ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুর রাহীম আল-কুরাশী তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে জাফির ইবনে রাওয়াজ আল-আযদি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাফেজ আবু তাহির আস-সিলাফি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-মুবারক ইবনে আব্দুল জাব্বার আস-সাইরাফি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলী ইবনে আহমাদ আল-গালি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ ইবনে ইসহাক আন-নুহাওয়ান্দী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাসান ইবনে আব্দুর রহমান আর-রামাহুরমুযি, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আলী ইবনে আসিম আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু হারুন আল-আবদী আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা যখন আবু সাঈদ অর্থাৎ খুদরী রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর নিকট আসতাম, তিনি বলতেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওসিয়তের (উপদেশের) প্রতি স্বাগতম। আমরা বললাম: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওসিয়ত কী? তিনি বললেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বলেছিলেন: "নিশ্চয়ই আমার পরে এমন একদল লোক আসবে যারা তোমাদের কাছে আমার হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে; সুতরাং তারা যখন তোমাদের কাছে আসবে, তখন তোমরা তাদের সাথে সদয় ব্যবহার করো এবং তাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করো।"
ইমাম তিরমিযী তাঁর জামি' গ্রন্থে এটি সুফিয়ান ইবনে ওয়াকি' থেকে, তিনি আবু দাউদ আল-হাফারি থেকে, তিনি সুফিয়ান আস-সাওরী থেকে এবং তিনি আবু হারুন আল-আবদী থেকে এই সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
আর এর শব্দগুলো হলো: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই মানুষ তোমাদের অনুসারী হবে, আর অবশ্যই পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লোকজন তোমাদের কাছে দ্বীনের জ্ঞান অর্জন করতে আসবে; সুতরাং তারা যখন তোমাদের কাছে আসবে, তখন তোমরা তাদের সাথে কল্যাণের আচরণ করো।"
অতঃপর তিনি এটি কুতাইবা ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি নূহ ইবনে কাইস থেকে এবং তিনি আবু হারুন থেকে এই সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
আর ইমাম তিরমিযী বলেছেন: এই হাদিসটি গরিব (বিরল), আবু হারুনের হাদিস ব্যতিরেকে এটি আমরা জানি না।
(খণ্ড: ১)
বুগয়াতুল মুলতামিস ফী সিবাইয়্যাতি হাদীছিল ইমাম মালিক বিন আনাস
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
الْعَبْدِيِّ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ.
قَالَ عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ: قَالَ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ: كَانَ شُعْبَةُ يُضَعِّفُ أَبَا هَارُونَ الْعَبْدِيَّ.
قَالَ يَحْيَى: وَمَا زَالَ ابْنُ عَوْنٍ يَرْوِي عَنْ أَبِي هَارُونَ الْعَبْدِيِّ حَتَّى مَاتَ.
قُلْتُ: أَبُو هَارُونَ الْعَبْدِيُّ اسْمُهُ عُمَارَةُ بْنُ جُوَيْنٍ بَصْرِيٌّ، أَكْثَرُهُمْ ضَعَّفُوهُ.
আল-আবদি, আবু সাঈদ আল-খুদরি থেকে বর্ণনা করেছেন।
আলী ইবনে আব্দুল্লাহ বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ বলেছেন: শু'বাহ আবু হারুন আল-আবদিকে দুর্বল গণ্য করতেন।
ইয়াহইয়া বলেন: ইবনে আউন মৃত্যু পর্যন্ত আবু হারুন আল-আবদি থেকে বর্ণনা করে গেছেন।
আমি বলি: আবু হারুন আল-আবদির নাম হলো উমারা ইবনে জুওয়াইন, তিনি বসরার অধিবাসী; অধিকাংশ (মুহাদ্দিস) তাকে দুর্বল বলেছেন।
(খণ্ড: ১)
বুগয়াতুল মুলতামিস ফী সিবাইয়্যাতি হাদীছিল ইমাম মালিক বিন আনাস
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
وَلَيْسَ الْحَدِيثُ مِنْ أَفْرَادِهِ، بَلْ لَهُ طَرِيقٌ أُخْرَى أَيْضًا، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رضي الله عنه
أخبرناهُ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحِيمِ الْقُرَشِيُّ بِإِسْنَادِهِ الْمُتَقَدِّمِ إِلَى الْحَسَنِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ ، قَالَ: ثنا الْحَضْرَمِيُّ يَعْنِي مُحَمَّدَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ مُطَيَّنٌ الْحَافِظُ ، ثنا ابْنُ إِشْكَابَ، ثنا سَعِيدُ بْنُ سُلَيْمَانَ، ثنا عَبَّادُ بْنُ الْعَوَّامِ، عَنِ الْجَرِيرِيِّ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ رضي الله عنه ، قَالَ: " مَرْحَبًا بِوَصِيَّةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُوصِينَا بِكُمْ.
وَرَوَاهُ أَيْضًا، عَنْ مُوسَى بْنِ زَكَرِيَّا، عَنْ بِشْرِ بْنِ مُعَاذٍ الْعَقَدِيِّ، ثنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ شَيْخٌ يَنْزِلُ وَرَاءَ مَنْزِلِهِ ، ثنا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، ثنا الْجَرِيرِيُّ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ ، أَنَّهُ كَانَ إِذَا رَأَى الشَّبَابَ ، قَالَ: مَرْحَبًا بِوَصِيَّةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، أَمَرَنَا أَنْ نُحَفِّظَكُمُ الْحَدِيثَ، وَنُوَسِّعَ لَكُمْ فِي الْمَجَالِسِ.
أَبُو عَبْدِ اللَّهِ هَذَا لَمْ أَعْرِفْهُ ، وَالسَّنَدُ الَّذِي قَبْلَهُ لا بَأْسَ بِهِ، لأَنَّ سَعِيدَ بْنَ سُلَيْمَانَ هَذَا هُوَ النُّشَيْطِيُّ فِيهِ لِينٌ يُحْتَمَلُ، حَدَّثَ عَنْهُ أَبُو زُرْعَةَ وَأَبُو حَاتِمٍ الرَّازِيَّانِ وَغَيْرُهُمَا
وَقَدْ حَثَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أُمَّتَهُ عَلَى التَّبْلِيغِ عَنْهُ، وَدَعَا بِالنُّضْرَةِ بِمَنْ أَدَّى مَا سَمِعَ مِنْهُ كَمَا:
এবং হাদিসটি কেবল তাঁর একক বর্ণনা নয়, বরং আবু সাঈদ আল-খুদরি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে এর অন্য একটি সূত্রও রয়েছে।
মুহাম্মদ ইবনে আব্দুর রহিম আল-কুরাশি হাসান ইবনে আব্দুর রহমান পর্যন্ত তাঁর পূর্বোক্ত সনদে আমাদের কাছে তা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-হাদরামি অর্থাৎ হাফেজ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুর রহমান মুতাইয়িন আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, ইবনে ইশকাব আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, সাঈদ ইবনে সুলাইমান আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, আব্বাদ ইবনুল আওয়াম আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আল-জারিরি থেকে, তিনি আবু নাদরা থেকে, তিনি আবু সাঈদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলতেন: “রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অসিয়তের (উপদেশপ্রাপ্তদের) প্রতি স্বাগতম। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের তোমাদের ব্যাপারে অসিয়ত করতেন।”
এবং এটি আরও বর্ণিত হয়েছে মুসা ইবনে জাকারিয়া থেকে, তিনি বিশর ইবনে মুয়াজ আল-আকাদি থেকে, তিনি বলেন: আবু আব্দুল্লাহ নামক একজন শায়খ—যিনি তাঁর বাড়ির পেছনে থাকতেন—আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, হাম্মাদ ইবনে যাইদ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, আল-জারিরি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু নাদরা থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরি থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি যখনই যুবকদের দেখতেন তখন বলতেন: “রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অসিয়তের প্রতি স্বাগতম। তিনি আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমরা তোমাদের হাদিস মুখস্থ করাই এবং মজলিসগুলোতে তোমাদের জন্য জায়গা প্রশস্ত করে দিই।”
এই আবু আব্দুল্লাহকে আমি চিনতে পারিনি, তবে এর আগের সনদটিতে কোনো সমস্যা নেই। কেননা এই সাঈদ ইবনে সুলাইমান হলেন আন-নুশাইতি, যার বর্ণনায় কিছুটা শিথিলতা থাকলেও তা গ্রহণযোগ্য। তাঁর থেকে আবু জুরআ ও আবু হাতিম আর-রাজিদ্বয় এবং আরও অনেকে বর্ণনা করেছেন।
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর উম্মতকে তাঁর পক্ষ থেকে দ্বীন পৌঁছে দিতে উৎসাহিত করেছেন এবং যে ব্যক্তি তাঁর থেকে যা শুনেছে তা যথাযথভাবে পৌঁছে দেয়, তার চেহারার সজীবতার জন্য দোয়া করেছেন, যেমনটি নিম্নোক্ত বর্ণনায় এসেছে:
(খণ্ড: ১)
বুগয়াতুল মুলতামিস ফী সিবাইয়্যাতি হাদীছিল ইমাম মালিক বিন আনাস
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
أَخْبَرَنَا شَيْخُنَا أَبُو الْفَضْلِ سُلَيْمَانُ بْنُ حَمْزَةَ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ عُمَرَ الْحَنْبَلِيُّ ، قَالَ: أَنَا الْحَافِظُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ الْمَقْدِسِيُّ، أَنَا أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ نَصْرٍ الصَّيْدَلانِيُّ، أَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ أَحْمَدَ الْمُقْرِي وَأَنَا حَاضِرٌ، أَنَا أَبُو نُعَيْمٍ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، أَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ فَارِسٍ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ الْفُرَاتِ الْحَافِظُ، أَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ.
ح وَأَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي الْعِزِّ بْنِ مُشْرِفٍ ، وَوَزِيرَةُ بِنْتُ عُمَرَ بْنِ الْمُنَجَّا.
وَأَحْمَدُ بْنُ أَبِي طَالِبِ بْنِ نِعْمَةَ بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ ، قَالُوا: أَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ الْمُبَارَكِ الرَّبَعِيُّ، أَنَا عَبْدُ الأَوَّلِ بْنُ عِيسَى الْهَرَوِيُّ، أَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُحَمَّدٍ الدَّاوُدِيُّ، أَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ السَّرْخَسِيُّ، أَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ الْفَرَبْرِيُّ، أنا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْبُخَارِيُّ، ثنا أَبُو عَاصِمٍ، ثنا الأَوْزَاعِيُّ.
ح وأَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ يُوسُفَ بْنِ مَكْتُومٍ.
وَعِيسَى بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مَعَالِي.
وَأَحْمَدُ بْنُ أَبِي طَالِبٍ الْمُعَمَّرُ.
وَعَبْدُ الأَحَدِ بْنُ أَبِي الْقَاسِمِ الْحَرَّانِيُّ.
وَهَدِيَّةُ بِنْتُ عَلِيِّ بْنِ عَسْكَرٍ.
وَزَيْنَبُ ابْنَةُ أَحْمَدَ بْنِ شُكْرٍ ، قَالُوا: أَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ الْبَغْدَادِيُّ، أنا أَبُو الْوَقْتِ عَبْدُ الأَوَّلِ السِّجْزِيُّ، أَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ الْمُظَفَّرِ، أنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ حَمُّوَيْهِ، أنا عِيسَى بْنُ عُمَرَ السَّمَرْقَنْدِيُّ، أنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الدَّارِمِيُّ الْحَافِظُ، ثنا أَبُو الْمُغِيرَةِ، ثنا الأَوْزَاعِيُّ، عَنْ حَسَّانِ بْنِ عَطِيَّةَ، عَنْ أَبِي كَبْشَةَ ، قَالَ: سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو رضي الله عنهما ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «بَلِّغُوا عَنِّي وَلَوْ آيَةً، وَحَدِّثُوا عَنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ وَلا حَرَجَ، وَمَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّدًا فَلْيَتَبَوَّأْ
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমাদের শায়খ আবুল ফজল সুলাইমান ইবন হামযাহ ইবন আহমাদ ইবন উমার আল-হানবালি, তিনি বলেছেন: আমাদের জানিয়েছেন হাফেজ আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাকদিসি, আমাদের জানিয়েছেন আবু জাফর মুহাম্মদ ইবন আহমাদ ইবন নাসর আস-সাইদালানি, আমাদের জানিয়েছেন আবু আলী আল-হাসান ইবন আহমাদ আল-মুকরি এবং আমি উপস্থিত ছিলাম, আমাদের জানিয়েছেন আবু নুয়াইম আহমাদ ইবন আবদুল্লাহ আল-হাফেজ, আমাদের জানিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবন জাফর ইবন ফারিস, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আহমাদ ইবনুল ফুরাত আল-হাফেজ, আমাদের জানিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবন নুমাইর, আল-আওযায়ী থেকে।
(হ) এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবন আবিল ইযয ইবন মুশরিফ, এবং উযাইরাহ বিনতে উমার ইবনুল মুনাজ্জা।
এবং আহমাদ ইবন আবি তালিব ইবন নিমাহ আমার তাঁর কাছে পাঠ করার মাধ্যমে, তাঁরা বলেছেন: আমাদের জানিয়েছেন আল-হুসাইন ইবনুল মুবারক আর-রাবায়ি, আমাদের জানিয়েছেন আব্দুল আওয়াল ইবন ঈসা আল-হারাউয়ি, আমাদের জানিয়েছেন আব্দুর রহমান ইবন মুহাম্মদ আদ-দাউদি, আমাদের জানিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবন আহমাদ আস-সারখাসি, আমাদের জানিয়েছেন মুহাম্মদ ইবন ইউসুফ আল-ফারাবরি, আমাদের জানিয়েছেন মুহাম্মদ ইবন ইসমাইল আল-বুখারি, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু আসিম, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আল-আওযায়ী।
(হ) এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসমাইল ইবন ইউসুফ ইবন মাকতুম।
এবং ঈসা ইবন আব্দুর রহমান ইবন মাআলি।
এবং দীর্ঘায়ু প্রাপ্ত আহমাদ ইবন আবি তালিব।
এবং আব্দুল আহাদ ইবন আবিল কাসিম আল-হাররানি।
এবং হাদিয়্যাহ বিনতে আলী ইবন আসকার।
এবং যাইনাব বিনতে আহমাদ ইবন শুকর, তাঁরা বলেছেন: আমাদের জানিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবন উমার আল-বাগদাদি, আমাদের জানিয়েছেন আবু আল-ওয়াকত আব্দুল আওয়াল আস-সিজযি, আমাদের জানিয়েছেন আব্দুর রহমান ইবনুল মুজাফ্ফর, আমাদের জানিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবন হাম্মুয়াইহ, আমাদের জানিয়েছেন ঈসা ইবন উমার আস-সামারকান্দি, আমাদের জানিয়েছেন হাফেজ আবদুল্লাহ ইবন আব্দুর রহমান আদ-দারিমি, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবুল মুগিরাহ, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আল-আওযায়ী, হাসসান ইবন আতিয়্যাহ থেকে, তিনি আবু কাবশাহ থেকে, তিনি বলেছেন: আমি আবদুল্লাহ ইবন আমর (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হন) থেকে শুনেছি, তিনি বলেছেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «আমার পক্ষ থেকে পৌঁছিয়ে দাও যদিও তা একটি আয়াত হয়, এবং বনী ইসরাঈল থেকে বর্ণনা করো এতে কোনো দোষ নেই, আর যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করে, সে যেন (জাহান্নামে) তার ঠিকানা গ্রহণ করে নেয়।
(খণ্ড: ১)
বুগয়াতুল মুলতামিস ফী সিবাইয়্যাতি হাদীছিল ইমাম মালিক বিন আনাস
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ» .
هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ، رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ فِي ذِكْرِ بَنِي إِسْرَائِيلَ مِنْ صَحِيحِهِ، عَنْ أَبِي عَاصِمٍ وَاسْمُهُ الضَّحَّاكُ بْنُ مَخْلَدٍ النَّبِيلُ كَمَا رَوَيْنَاهُ مِنْ طَرِيقِهِ.
وَأَخْرَجَهُ التِّرْمِذِيُّ فِي جَامِعِهِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ بَشَّارٍ بُنْدَارٍ، عَنْ أَبِي عَاصِمٍ النَّبِيلِ، فَوَقَعَ بَدَلا لَهُ عَالِيًا.
وَرَوَاهُ أَيْضًا، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى الذُّهْلِيِّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يُوسُفَ الْفِرْيَابِيِّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ ثَابِتِ بْنِ ثَوْبَانَ، عَنْ حَسَّانِ بْنِ عَطِيَّةَ بِهِ
وأَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي الْقَاسِمِ.
وَأَبُو الْمَنْصُورِ عَبْدُ الْقَادِرِ بْنُ يُوسُفَ الْكَاتِبُ.
وَأَبُو الْقَاسِمِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحِيمِ بْنِ عَبَّاسٍ بِدِمَشْقَ.
وَأَبُو زَكَرِيَّا يَحْيَى بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَعْدٍ.
وَأَبُو مُحَمَّدٍ عِيسَى بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمَقْدِسِيَّانِ بِقَاسَيُونَ.
وَزَيْنَبُ ابْنَةُ أَحْمَدَ بْنِ عُمَرَ بْنِ شُكْرٍ بِبَيْتِ الْمَقْدِسِ.
قَالَ الأَوَّلُ: أَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ رَوَاحَةَ.
وَالثَّانِي: أَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ ظَافِرِ بْنِ رَوَّاجٍ.
وَالثَّالِثُ: أنا يُوسُفُ بْنُ مَحْمُودٍ السَّاوِيُّ.
وَالْبَاقُونَ: أنا جَعْفَرُ بْنُ عَلِيٍّ الْهَمْدَانِيُّ ، قَالُوا: أنا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ السِّلَفِيُّ، أنا الْقَاسِمُ بْنُ الْفَضْلِ الثَّقَفِيُّ، أنا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ الْفَقِيهُ، أنا أَبُو
জাহান্নামে তার স্থান।
এটি একটি সহিহ হাদিস, ইমাম বুখারি তাঁর ‘সহিহ’ গ্রন্থের বনী ইসরাঈল অধ্যায়ে আবু আসিম থেকে এটি বর্ণনা করেছেন, যার নাম হলো দাহহাক বিন মাখলাদ আন-নাবিল, যেমনটি আমরা তাঁর সূত্রে বর্ণনা করেছি।
ইমাম তিরমিজি এটি তাঁর ‘জামে’ গ্রন্থে মুহাম্মদ বিন বাশশার বুন্দার থেকে এবং তিনি আবু আসিম আন-নাবিল থেকে বর্ণনা করেছেন, ফলে এটি তাঁর জন্য উচ্চস্তরের ‘বাদাল’ (বিকল্প সূত্র) হিসেবে গণ্য হয়েছে।
তিনি এটি আরও বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া আজ-জুহলি থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আল-ফিরইয়াবি থেকে, তিনি আব্দুর রহমান বিন সাবিত বিন সাওবান থেকে এবং তিনি হাসান বিন আতিয়্যাহর সূত্রে এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আবুল কাসিম।
এবং আবু মানসুর আব্দুল কাদির বিন ইউসুফ আল-কাতিব।
এবং দামেস্কে আবু কাসিম মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহিম বিন আব্বাস।
এবং আবু জাকারিয়া ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মদ বিন সাদ।
এবং কাসিউনে আবু মুহাম্মদ ঈসা বিন আব্দুর রহমান আল-মাকদিসিদ্বয়।
এবং বাইতুল মুকাদ্দাসে জয়নব বিনতে আহমদ বিন উমর বিন শুকর।
প্রথমজন বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ বিন হুসাইন বিন রাওয়াহা।
দ্বিতীয়জন বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল ওয়াহহাব বিন জাফির বিন রাওয়াজ।
তৃতীয়জন বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইউসুফ বিন মাহমুদ আস-সাবি।
এবং বাকিরা বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন জাফর বিন আলী আল-হামদানি। তাঁরা বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ বিন মুহাম্মদ আস-সিলাফি। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-কাসিম বিন ফাদল আস-সাকাফি। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলী বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-ফকিহ। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু...
(খণ্ড: ১)
বুগয়াতুল মুলতামিস ফী সিবাইয়্যাতি হাদীছিল ইমাম মালিক বিন আনাস
(পৃষ্ঠা: ٣١)
عَمْرٍو أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، ثنا أَبُو أُمَيَّةَ مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الطَّرَسُوسِيُّ، ثنا يَعْلَى بْنُ عُبَيْدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ، عَنْ أَبِيهِ رضي الله عنه ، قَالَ: قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالْخَيْفِ مِنْ مِنًى ، فَقَالَ: " نَضَّرَ اللَّهُ عَبْدًا سَمِعَ مَقَالَتِي فَوَعَاهَا، ثُمَّ أَدَّاهَا إِلَى مَنْ لَمْ يَسْمَعْهَا، فَرُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ لا فِقْهَ لَهُ، وَرُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ إِلَى مَنْ هُوَ أَفْقَهُ مِنْهُ، ثَلاثٌ لا يُغِلُّ عَلَيْهِنَّ قَلْبُ الْمُؤْمِنِ: إِخْلاصُ الْعَمَلِ لِلَّهِ عز وجل، وَالنَّصِيحَةُ لأُولِي الأَمْرِ، وَلُزُومُ الْجَمَاعَةِ، فَإِنَّ دَعْوَتَهُمْ تُحِيطُ مَنْ وَرَاءَهُمْ ".
رَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ فِي سُنَنِهِ مِنْ حَدِيثِ يَعْلَى بْنِ عُبَيْدٍ وَسَعِيدِ بْنِ يَحْيَى اللَّخْمِيِّ كِلاهُمَا عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ.
فَوَقَعَ لَنَا بَدَلا لَهُ عَالِيًا.
وَهَذَا مِمَّا دَلَّسَهُ ابْنُ إِسْحَاقَ، وَاللَّهُ أَعْلَمُ.
فَإِنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ نُمَيْرٍ رَوَاهُ عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ عَبْدِ السَّلامِ بْنِ أَبِي الْجَنُوبِ، عَنِ الزُّهْرِيِّ.
وَعَبْدُ السَّلامِ هَذَا قَالَ فِيهِ أَبُو حَاتِمٍ: مَتْرُوكٌ.
لَكِنَّ الْحَدِيثَ لَهُ طَرِيقٌ أُخْرَى مِنْ رِوَايَةِ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ أَيْضًا، رَوَاهَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ أَبِي عَمْرٍو، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مُعَاوِيَةَ بْنِ الْحُوَيْرِثِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ، عَنْ أَبِيهِ بِهِ.
আমর, আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু উমাইয়া মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম আত-তারসুসি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়ালা বিন উবায়েদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন ইসহাক থেকে, তিনি যুহরি থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন জুবায়ের বিন মুতঈম থেকে, তিনি তাঁর পিতা (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মিনার খায়েফ নামক স্থানে দাঁড়িয়ে বললেন: "আল্লাহ সেই বান্দাকে প্রফুল্ল রাখুন যে আমার কথা শুনেছে, অতঃপর তা ধারণ করেছে, তারপর তা এমন ব্যক্তির নিকট পৌঁছে দিয়েছে যে তা শোনেনি। কেননা ফিকহের (জ্ঞানের) অনেক বাহক আছে যার নিজের কোনো ফিকহ নেই, আবার ফিকহের অনেক বাহক এমন ব্যক্তির নিকট তা নিয়ে যায় যে তার চেয়েও অধিক সমঝদার। তিনটি বিষয়ে মুমিনের অন্তর কখনো খিয়ানত (বিদ্বেষ পোষণ) করে না: মহান আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠভাবে আমল করা, শাসকগোষ্ঠীর প্রতি কল্যাণকামনা করা এবং মুসলিম জামাতের সাথে থাকা। কেননা তাদের দাওয়াত তাদের পেছন থেকে তাদের বেষ্টন করে রাখে।"
ইবনে মাজাহ এটি তাঁর সুনান গ্রন্থে ইয়ালা বিন উবায়েদ ও সাঈদ বিন ইয়াহইয়া আল-লাখমি এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়েই মুহাম্মদ বিন ইসহাক থেকে বর্ণনা করেছেন।
এটি আমাদের নিকট তাঁর একটি উচ্চ পর্যায়ের 'বাদল' (উন্নত সনদ) হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে।
এটি ইবনে ইসহাকের তাদলিসকৃত (লুকানো বর্ণনা) বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত, আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
কেননা আব্দুল্লাহ বিন নুমায়ের এটি ইবনে ইসহাক থেকে, তিনি আব্দুস সালাম বিন আবিল জানুব থেকে, তিনি যুহরি থেকে বর্ণনা করেছেন।
আর এই আব্দুস সালাম সম্পর্কে আবু হাতিম বলেছেন: সে পরিত্যক্ত।
তবে হাদিসটির জুবায়ের বিন মুতঈমের সূত্রে অন্য একটি পথ (সনদ) রয়েছে, যা ইসমাইল বিন জাফর বর্ণনা করেছেন আমর বিন আবি আমর থেকে, তিনি আব্দুর রহমান বিন মুয়াবিয়া বিন আল-হুয়াইরিস থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন জুবায়ের বিন মুতঈম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
বুগয়াতুল মুলতামিস ফী সিবাইয়্যাতি হাদীছিল ইমাম মালিক বিন আনাস
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
وَهَذَا إِسْنَادٌ حَسَنٌ جَيِّدٌ
وَالْحَدِيثُ لَهُ طُرُقٌ كَثِيرَةٌ مِنْ جِهَةِ جَمَاعَةٍ مِنَ الصَّحَابَةِ رضي الله عنهم، مِنْ أَجْوَدِهَا سَنَدًا حَدِيثُ ابْنِ مَسْعُودٍ.
أَخْبَرَنَاهُ سُلَيْمَانُ بْنُ حَمْزَةَ.
وَعِيسَى بْنُ مَعَالِي.
وَإِسْمَاعِيلُ بْنُ مَكْتُومٍ.
وَعَبْدُ الأَحَدِ بْنُ أَبِي الْقَاسِمِ ، قَالُوا: أَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ اللُّتِّيِّ، أنا أَبُو الْوَقْتِ عَبْدُ الأَوَّلِ، أنا الْفُضَيْلُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْفُضَيْلِيُّ، أنا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي
আর এই সনদটি হাসান জাইয়্যিদ (উত্তম ও নির্ভরযোগ্য)।
আর একদল সাহাবী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে বর্ণিত হওয়ার কারণে এই হাদীসটির বহু সূত্র রয়েছে, যার মধ্যে সনদের দিক থেকে ইবনে মাসউদের হাদীসটি সবচেয়ে উৎকৃষ্ট।
সুলাইমান বিন হামযাহ আমাদের তা অবহিত করেছেন।
এবং ঈসা বিন মাআলী।
এবং ইসমাঈল বিন মাকতূম।
এবং আব্দুল আহাদ বিন আবিল কাসিম; তাঁরা বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ বিন আল-লুত্তি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-ওয়াক্ত আব্দুল আউয়াল, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-ফুযাইল বিন মুহাম্মাদ আল-ফুযাইলি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুর রহমান বিন আহমাদ বিন আবি...
(খণ্ড: ১)
বুগয়াতুল মুলতামিস ফী সিবাইয়্যাতি হাদীছিল ইমাম মালিক বিন আনাস
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
شُرَيْحٍ، ثنا يَحْيَى بْنُ مُحَمَّدٍ الصَّاعِدِيُّ، ثنا عَلِيُّ بْنُ حَرْبٍ، ثنا خَالِدُ بْنُ يَزِيدَ الْعَدَوِيُّ، ثنا سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ.
ح وَأَخْبَرَتْنَا أُمُّ مُحَمَّدٍ وَزِيرَةُ بِنْتُ عُمَرَ بْنِ الْمُنَجَّا ، قَالَتْ: أنا الْحَسَنُ بْنُ الْمُبَارَكِ الرَّبَعِيُّ، أنا أَبُو زُرْعَةَ طَاهِرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمَقْدِسِيُّ، أنا مَكِّيُّ بْنُ مَنْصُورِ بْنِ عَلانَ، أنا أَحْمَدُ بْنُ الْحُسَيْنِ الْحِيرِيُّ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ الأَصَمُّ، أنا الرَّبِيعُ بْنُ سُلَيْمَانَ الْمُرَادِيُّ، أنا الإِمَامُ مُحَمَّدُ بْنُ إِدْرِيسَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الشَّافِعِيُّ رحمه الله، أَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، عَنْ أَبِيهِ رضي الله عنه ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " نَضَّرَ اللَّهُ عَبْدًا سَمِعَ مَقَالَتِي فَوَعَاهَا وَحَفِظَهَا زَادَ الثَّوْرِيُّ: وَبَلَّغَهَا ، وَقَالا: فَرُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ غَيْرِ فَقِيهٍ، وَرُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ إِلَى مَنْ هُوَ أَفْقَهُ مِنْهُ ".
وَذَكَرَ بَقِيَّةَ الْحَدِيثِ كَمَا تَقَدَّمَ.
أَخْرَجَهُ التِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ مِنْ حَدِيثِ شُعْبَةَ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ بِهِ، وَقَالَ فِيهِ التِّرْمِذِيُّ: حَسَنٌ صَحِيحٌ.
قُلْتُ: رَوَاهُ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ أَيْضًا: إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي خَالِدٍ، وَإِبْرَاهِيمُ بْنُ طَهْمَانَ، وَهُرَيْمُ بْنُ سُفْيَانَ، وَجَعْفَرُ بْنُ زِيَادٍ وَغَيْرُهُمْ.
শুরাইহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে মুহাম্মদ আস-সায়েদী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী ইবনে হারব, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন খালিদ ইবনে ইয়াযীদ আল-আদাবী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান আস-সাওরী, আব্দুল মালিক ইবনে উমাইর থেকে।
(সূত্রান্তর) এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উম্মু মুহাম্মদ ওয়াজিরাহ বিনতে উমর ইবনুল মুনাজ্জা, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাসান ইবনুল মুবারক আর-রাবায়ি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু জুরআহ তাহির ইবনে মুহাম্মদ আল-মাকদিসি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মাক্কি ইবনে মানসুর ইবনে আল্লান, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ ইবনুল হুসাইন আল-হিরি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব আল-আসাম, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন রাবী ইবনে সুলাইমান আল-মুরাদি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইদরিস আবু আব্দুল্লাহ আশ-শাফিয়ি (রহিমাহুল্লাহ), আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনে উয়ায়নাহ, আব্দুল মালিক ইবনে উমাইর থেকে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহ সেই বান্দাকে সজীব ও উজ্জ্বল রাখুন যে আমার কথা শুনল, অতঃপর তা স্মরণ রাখল এবং মুখস্থ করল।" সাওরী (তাঁর বর্ণনায়) বৃদ্ধি করেছেন: "এবং তা পৌঁছে দিল।" আর তাঁরা (উভয় বর্ণনাকারী) বলেছেন: "কেননা অনেক ইলমের বাহক এমন আছে যে স্বয়ং ফকীহ নয়, আবার অনেক ইলমের বাহক এমন ব্যক্তির নিকট তা পৌঁছে দেয় যে তার চেয়ে অধিক ফকীহ।"
এবং তিনি হাদিসের অবশিষ্টাংশ উল্লেখ করেছেন যেভাবে পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।
ইমাম তিরমিজি ও ইবনে মাজাহ এটি শু'বার হাদিস থেকে সিমাক ইবনে হারব এর সূত্রে আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং এতে ইমাম তিরমিজি বলেছেন: (এটি) হাসান সহিহ।
আমি বলছি: আব্দুল মালিক ইবনে উমাইর থেকে আরও বর্ণনা করেছেন: ইসমাইল ইবনে আবি খালিদ, ইব্রাহিম ইবনে তাহমান, হুরাইম ইবনে সুফিয়ান, জাফর ইবনে জিয়াদ এবং অন্যান্যরা।
(খণ্ড: ১)
বুগয়াতুল মুলতামিস ফী সিবাইয়্যাতি হাদীছিল ইমাম মালিক বিন আনাস
(পৃষ্ঠা: ٣٤)
وَقَدِ اخْتُلِفَ فِي سَمَاعِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ مِنْ أَبِيهِ، فَالصَّحِيحُ أَنَّهُ سَمِعَ مِنْهُ دُونَ أَخِيهِ أَبِي عُبَيْدَةَ، قَالَهُ الْبُخَارِيُّ وَغَيْرُهُ، وَاللَّهُ سبحانه وتعالى أَعْلَمُ
فَامْتَثَلَتِ الأُمَّةُ مَا أَمَرَهَا بِهِ نَبِيُّهَا صلى الله عليه وسلم، وَنَدَبَهَا إِلَيْهِ، وَبَادَرَتْ إِلَى نَقْلِ سُنَنِهِ، وَحَافَظَتْ عَلَيْهِ، وَاسْتَمَرَّ الْعَمَلُ بِهِ خَلَفًا بَعْدَ سَلَفٍ غَابِرٍ، وَتَنَوَّعُوا فِي حِفْظِهَا وَضَبْطِهَا كَابِرًا عَنْ كَابِرٍ، فَهُمْ كَمَا وَصَفَهُمْ نَبِيُّهُمْ صلى الله عليه وسلم فِي الْحَدِيثِ الَّذِي:
أَخْبَرَنَاهُ سُلَيْمَانُ بْنُ حَمْزَةَ الْمَقْدِسِيُّ فِيمَا قُرِئَ عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، قَالَ: أَنَا الْحَافِظُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ، أنا أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ نَصْرٍ، أنا أَبُو الطَّيِّبِ طَلْحَةُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ أَبِي ذَرٍّ الصَّالِحَانِيُّ حُضُورًا ، قَالَ: أنا جَدِّي أَبُو ذَرٍّ مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أنا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حَيَّانَ، ثنا أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ جَرِيرٍ الطَّبَرِيُّ، ثنا عُثْمَانُ بْنُ يَحْيَى الْقُرْقُسَانِيُّ، ثنا عَمْرُو بْنُ هَاشِمٍ الْبَيْرُوتِيُّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سُلَيْمَانَ، عَنْ مُعَانِ بْنِ رِفَاعَةَ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ النَّهْدِيِّ، عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ رضي الله عنهما ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «يَحْمِلُ هَذَا الْعِلْمَ مِنْ كُلِّ خَلَفٍ عُدُولُهُ، يَنْفُونَ عَنْهُ تَحْرِيفَ الْغَالِينَ، وَانْتِحَالَ الْمُبْطِلِينَ، وَتَأْوِيلَ الْجَاهِلِينَ» .
هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ صَحِيحٌ، تَفَرَّدَ بِهِ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ مُعَانُ بْنُ رِفَاعَةَ، وَقَدْ وَثَّقَهُ عَلِيُّ بْنُ الْمَدِينِيِّ وَدُحَيْمٌ، وَقَالَ فِيهِ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ: لا بَأْسَ بِهِ.
وَتَكَلَّمَ فِيهِ يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ وَغَيْرُهُ.
وَقَدْ رَوَاهُ حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ بَقِيَّةَ بْنِ الْوَلِيدِ، عَنْ مُعَانِ بْنِ رِفَاعَةَ، عَنْ
তাঁর পিতা থেকে আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদের শোনার (হাদিস গ্রহণের) ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে। সঠিক অভিমত হলো, তিনি তাঁর পিতার থেকে শুনেছেন, তাঁর ভাই আবু উবাইদাহর বিপরীতে। ইমাম বুখারি ও অন্যরা এমনটিই বলেছেন। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা সবচেয়ে ভালো জানেন।
সুতরাং উম্মত তাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা নির্দেশ দিয়েছেন এবং যার প্রতি উৎসাহিত করেছেন তা পালন করেছে। তারা তাঁর সুন্নাহর বর্ণনার দিকে অগ্রসর হয়েছে এবং তা সংরক্ষণ করেছে। গত হওয়া সালাফদের পর পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে এর ওপর আমল অব্যাহত ছিল। তাঁরা বড়দের থেকে বড়দের মাধ্যমে এর হেফজ ও নির্ভুলতার ক্ষেত্রে নানা পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন। তাঁরা তেমনটিই, যেমনটি তাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই হাদিসে বর্ণনা করেছেন যা:
সুলাইমান ইবনে হামজা আল-মাকদিসি আমাদের জানিয়েছেন তাঁর সামনে যা পাঠ করা হয়েছিল এবং আমি তখন শুনছিলাম। তিনি বলেন: হাফেজ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ আমাদের খবর দিয়েছেন, আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে নাসর আমাদের খবর দিয়েছেন, আবু তাইয়্যেব তালহা ইবনে হুসাইন ইবনে আবু জর আস-সালিহানি উপস্থিত থেকে আমাদের খবর দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমার দাদা আবু জর মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম আমাদের খবর দিয়েছেন, আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাইয়ান আমাদের খবর দিয়েছেন, আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে জারির আত-তবারি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, উসমান ইবনে ইয়াহইয়া আল-কুরকুসানি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, আমর ইবনে হাশিম আল-বাইরুতি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনে সুলাইমান থেকে, মুআন ইবনে রিফাআ থেকে, আবু উসমান আন-নাহদি থেকে, উসামা ইবনে যায়েদ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «এই ইলমকে প্রত্যেক পরবর্তী প্রজন্মের নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিগণ বহন করবেন। তাঁরা এ থেকে সীমালঙ্ঘনকারীদের বিকৃতি, বাতিলপন্থীদের মিথ্যাচার এবং মূর্খদের অপব্যাখ্যা দূর করবেন»।
এটি একটি হাসান গারিব সহিহ হাদিস। এই সূত্রে মুআন ইবনে রিফাআ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। আলী ইবনুল মাদিনি এবং দুহাইম তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন, আর আহমদ ইবনে হাম্বল তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: তাঁর মধ্যে কোনো সমস্যা নেই।
ইয়াহইয়া ইবনে মায়িন এবং অন্যরা তাঁর সমালোচনা করেছেন।
আর হাম্মাদ ইবনে যায়েদ একে বর্ণনা করেছেন বাকিয়্যাহ ইবনুল ওয়ালিদ থেকে, তিনি মুআন ইবনে রিফাআ থেকে, তিনি...
(খণ্ড: ১)
বুগয়াতুল মুলতামিস ফী সিবাইয়্যাতি হাদীছিল ইমাম মালিক বিন আনাস
(পৃষ্ঠা: ٣٥)
إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْعُذْرِيِّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: فَذَكَرَهُ هَكَذَا مُعْضِلا ، وَبَقِيَّةُ مَعْرُوفٌ.
وَهَذَا السَّنَدُ الَّذِي سُقْنَاهُ أَمْثَلُ مِنْهُ، لأَنَّ مُحَمَّدَ بْنَ سُلَيْمَانَ هَذَا هُوَ الْحَرَّانِيُّ يُعْرَفُ بِبُومَةَ.
وَثَّقَهُ سُلَيْمَانُ بْنُ سَيْفٍ وَطَائِفَةٌ.
وَقَالَ النَّسَائِيُّ: لَيْسَ بِهِ بَأْسٌ، وَقَدْ تُكُلِّمَ فِيهِ.
وَعَمْرُو بْنُ هَاشِمٍ الْبَيْرُوتِيُّ قَالَ فِيهِ ابْنُ عَدِيٍّ: لَيْسَ بِهِ بَأْسٌ.
عُثْمَانُ بْنُ يَحْيَى الْقُرْقُسَانِيُّ ذَكَرَهُ ابْنُ حِبَّان فِي الثِّقَاتِ
قَالَ مُهَنَّا بْنُ يَحْيَى: سَأَلْتُ أَحْمَدَ بْنَ حَنْبَلٍ عَنْ حَدِيثِ مُعَانِ بْنِ رِفَاعَةَ: يَحْمِلُ هَذَا الْعِلْمَ مِنْ كُلِّ خَلَفٍ عُدُولُهُ الْحَدِيثَ، فَقُلْتُ لأَحْمَدَ: كَأَنَّهُ كَلامٌ مَوْضُوعٌ، قَالَ: لا، هُوَ صَحِيحٌ، فَقُلْتُ لَهُ: مِمَّنْ سَمِعْتَهُ أَنْتَ؟ قَالَ: مِنْ غَيْرِ وَاحِدٍ، قُلْتُ: مَنْ هُمْ؟ قَالَ: حَدَّثَنِي بِهِ مِسْكِينٌ، إِلا أَنَّهُ يَقُولُ: مُعَانٌ عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ أَحْمَدُ: وَمُعَانُ بْنُ رِفَاعَةَ لا بَأْسَ بِهِ.
أَخْبَرَنِي بِذَلِكَ أَبُو الرَّبِيعِ بْنُ قُدَامَةَ الْحَنْبَلِيُّ، أَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ، أنا أَبُو عَلِيِّ بْنُ الْحَرِيفِ، أنا الْقَاضِي أَبُو بَكْرٍ الأَنْصَارِيُّ، أنا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ الْحَافِظُ الْبَغْدَادِيُّ قَالَ: حُدِّثْتُ عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ جَعْفَرٍ، ثنا أَبُو بَكْرٍ الْخَلالُ قَالَ: قَرَأْتُ عَلَى زُهَيْرِ بْنِ صَالِحِ بْنِ أَحْمَدَ، ثنا مُهَنَّا بْنُ يَحْيَى فَذَكَرَهُ
وَبِهِ إِلَى الْحَافِظِ أَبِي بَكْرٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي الْفَتْحِ الْفَارِسِيُّ،
ইবরাহীম ইবনে আবদুর রহমান আল-উযরী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তিনি হাদীসটি এভাবেই মুদাল (সূত্রে বিচ্যুতিপূর্ণ) হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং হাদীসটির বাকি অংশ সুপরিচিত।
আর আমরা যে সনদটি পেশ করেছি তা এর চেয়ে উত্তম, কারণ এই মুহাম্মাদ ইবনে সুলাইমান হলেন আল-হাররানী, যিনি 'বুমাহ' নামে পরিচিত।
সুলাইমান ইবনে সাইফ এবং একদল আলেম তাকে নির্ভরযোগ্য বলে অভিহিত করেছেন।
আর আন-নাসায়ী বলেছেন: তার মধ্যে কোনো সমস্যা নেই, তবে তার ব্যাপারে সমালোচনা করা হয়েছে।
এবং আমর ইবনে হাশিম আল-বৈরুতী সম্পর্কে ইবনে আদী বলেছেন: তার মধ্যে কোনো সমস্যা নেই।
উসমান ইবনে ইয়াহইয়া আল-কুরকুসানীকে ইবনে হিব্বান নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের তালিকায় উল্লেখ করেছেন।
মুহান্না ইবনে ইয়াহইয়া বলেন: আমি আহমাদ ইবনে হাম্বলকে মুআন ইবনে রিফায়াহর হাদীসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম: "প্রত্যেক পরবর্তী প্রজন্মের ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তিরাই এই জ্ঞান বহন করবে..."। আমি আহমাদকে বললাম: মনে হচ্ছে এটি একটি জাল কথা। তিনি বললেন: না, এটি সহীহ। আমি তাকে বললাম: আপনি এটি কার কাছ থেকে শুনেছেন? তিনি বললেন: অনেকের কাছ থেকেই। আমি বললাম: তারা কারা? তিনি বললেন: মিসকীন আমাকে এটি বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি বলেন: মুআন বর্ণনা করেছেন আল-কাসিম ইবনে আবদুর রহমান থেকে। আহমাদ বলেন: আর মুআন ইবনে রিফায়াহর মধ্যে কোনো সমস্যা নেই।
আবুুর রাবী ইবনে কুদামা আল-হাম্বলী আমাকে এ সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল ওয়াহিদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আলী ইবনুল হারিফ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, কাজী আবু বকর আল-আনসারী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হাফেজ আবু বকর আহমাদ ইবনে আলী আল-বাগদাদী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট আব্দুল আজিজ ইবনে জাফর থেকে বর্ণনা করা হয়েছে, আবু বকর আল-খাল্লাল আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি জুহাইর ইবনে সালিহ ইবনে আহমাদ-এর নিকট পাঠ করেছি, মুহান্না ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, অতঃপর তিনি তা উল্লেখ করেন।
এবং একই সূত্রের মাধ্যমে হাফেজ আবু বকর পর্যন্ত পৌঁছানো হয়েছে, তিনি বলেন: ওবায়দুল্লাহ ইবনে আবুল ফাতহ আল-ফারিসী আমাকে সংবাদ দিয়েছেন,
(খণ্ড: ১)
বুগয়াতুল মুলতামিস ফী সিবাইয়্যাতি হাদীছিল ইমাম মালিক বিন আনাস
(পৃষ্ঠা: ٣٦)
أنا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُمَرَ الْخَلالُ قَالَ: قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ يَعْقُوبَ بْنِ شَيْبَةَ: رَأَيْتُ رَجُلا قَدَّمَ رَجُلا إِلَى إِسْمَاعِيلَ بْنِ إِسْحَاقَ الْقَاضِي، فَادَّعَى عَلَيْهِ دَعْوًى، فَسَأَلَ الْمُدَّعَى عَلَيْهِ فَأَنْكَرَ، فَقَالَ لِلْمُدَّعِي: أَلَكَ بَيِّنَةٌ؟ قَالَ: نَعَمْ، فُلانٌ وَفُلانٌ، قَالَ الْقَاضِي: أَمَّا فُلانٌ فَمِنْ شُهُودِي، وَأَمَّا فُلانٌ فَلَيْسَ مِنْ شُهُودِي، قَالَ: فَيَعْرِفُهُ الْقَاضِي؟ قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: بِمَاذَا؟ قَالَ: أَعْرِفُهُ يَكْتُبُ الْحَدِيثَ، قَالَ: فَكَيْفَ تَعْرِفُهُ فِي كَتَبَةِ الْحَدِيثِ؟ قَالَ: مَا عَلِمْتُ إِلا خَيْرًا، قَالَ: فَإِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: يَحْمِلُ هَذَا الْعِلْمَ مِنْ خَلَفٍ عُدُولُهُ فَمَنْ عَدَلَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَوْلَى مِمَّنْ عَدَلْتَهُ أَنْتَ، قَالَ: فَقُمْ فَهَاتِهِ، فَقَدْ قَبِلْتُ شَهَادَتَهُ فَالإِسْنَادُ خِصِّيصَةٌ مِنْ خَصَائِصِ هَذِهِ الأُمَّةِ، وَفَضِيلَةٌ تَمَّتْ لِلَّهِ عز وجل عَلَيْهِمْ بِهَا النِّعْمَةُ، بِهِ عُرِفَ الصَّحِيحُ مِنَ السَّقِيمِ، وَصَانَ اللَّهُ دِينَهُ عَنْ قَوْلِ كُلِّ أَفَّاكٍ أَثِيمٍ، وَلَيْسَ لِمَنْ قَبْلَ هَذِهِ الأُمَّةِ غَيْرُ صُحُفٍ اخْتَلَطَ مُنْكَرُهَا بِمَقْبُولِهَا، وَاشْتَبَهَ صَحِيحُهَا بِمَعْلُولِهَا، فَلا تَمَيُّزٌ عِنْدَ أَحَدٍ مِنْهُمْ بَيْنَ مَا جَاءَ بِهِ أَنْبِيَاؤُهُمُ الْمُرْسَلُونَ، وَبَيْنَ مَا أُدْخِلَ فِي ذَلِكَ، وَأُلْحِقَ بِهِ الْغُوَاةُ الْمُبْطِلُونَ، وَلِلَّهِ الْحَمْدُ عَلَى مَا وَفَّقَ مِنَ الْقِيَامِ بِذَلِكَ، وَأَرْشَدَ بِهِ إِلَى أَوْضَحِ الْمَسَالِكِ.
أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَمْزَةَ الْحَاكِمُ وَعِيسَى بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمَقْدِسِيَّانِ بِقِرَاءَتِي عَلَى كُلٍّ مِنْهُمَا ، قَالا: أَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ اللُّتِّيِّ، أَنَا عَبْدُ الأَوَّلِ بْنُ عِيسَى الصُّوفِيُّ، أنا أَبُو إِسْمَاعِيلَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الأَنْصَارِيُّ، أنا عَبْدُ الْجَبَّارِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْجَرَّاحِيُّ، أنا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مَحْبُوبٍ، ثنا الْحَافِظُ أَبُو عِيسَى مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى التِّرْمِذِيُّ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْحَسَنِ، ثنا عَبْدَانُ ، قَالَ: سَمِعْتُ ابْنَ الْمُبَارَكِ رحمه الله ، يَقُولُ: الإِسْنَادُ
আমি আব্দুর রহমান ইবনে উমর আল-খাল্লাল বলছি: মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে ইয়াকুব ইবনে শায়বাহ বলেছেন: আমি এক ব্যক্তিকে দেখলাম যে অন্য এক ব্যক্তিকে বিচারক ইসমাঈল ইবনে ইসহাকের কাছে উপস্থিত করল। এরপর সে তার বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করল। বিচারক অভিযুক্ত ব্যক্তিকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে সে তা অস্বীকার করল। তখন তিনি ফরিয়াদীকে বললেন: তোমার কাছে কি কোনো প্রমাণ আছে? সে বলল: হ্যাঁ, অমুক এবং অমুক। বিচারক বললেন: অমুক ব্যক্তি তো আমার তালিকাভুক্ত সাক্ষীদের অন্তর্ভুক্ত, কিন্তু অমুক আমার তালিকাভুক্ত সাক্ষীদের মধ্যে নেই। ফরিয়াদী জিজ্ঞেস করল: বিচারক কি তাকে চেনেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ। সে বলল: কীভাবে? তিনি বললেন: আমি জানি সে হাদিস লিখে থাকে। সে বলল: হাদিস লেখকদের মধ্যে আপনি তাকে কেমন জানেন? তিনি বললেন: আমি তার সম্পর্কে কল্যাণ ছাড়া আর কিছু জানি না। তিনি আরও বললেন: কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "প্রত্যেক পরবর্তী প্রজন্মের নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিরাই এই ইলম (জ্ঞান) বহন করবে।" সুতরাং রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যাকে নির্ভরযোগ্য ঘোষণা করেছেন, সে তোমার নির্ভরযোগ্য ঘোষণা করা ব্যক্তির চেয়ে সাক্ষ্য প্রদানের অধিক যোগ্য। বিচারক বললেন: ওঠো এবং তাকে নিয়ে এসো, আমি তার সাক্ষ্য গ্রহণ করলাম। কারণ ইসনাদ (সূত্রপরম্পরা) এই উম্মতের অন্যতম বিশেষ বৈশিষ্ট্য এবং এমন এক ফযিলত যার মাধ্যমে মহান আল্লাহ তাদের ওপর স্বীয় নিয়ামত পূর্ণ করেছেন। এর মাধ্যমেই সহিহ বর্ণনা থেকে ত্রুটিযুক্ত বর্ণনাকে পৃথক করা যায় এবং আল্লাহ তাঁর দ্বীনকে প্রত্যেক পাপিষ্ঠ চরম মিথ্যাবাদীর কথা থেকে রক্ষা করেছেন। এই উম্মতের পূর্ববর্তীদের কাছে কেবল এমন কিছু কিতাব ছিল যাতে বর্জনীয় ও প্রত্যাখ্যাত বিষয়গুলো গ্রহণযোগ্য বিষয়ের সাথে সংমিশ্রিত ছিল এবং সহিহ ও ত্রুটিযুক্ত বর্ণনার মাঝে সংশয় সৃষ্টি হয়েছিল। ফলে তাদের কারও কাছেই তাদের প্রেরিত নবীদের আনীত বাণী এবং পথভ্রষ্ট বাতিলপন্থীদের প্রক্ষিপ্ত ও সংযোজিত বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য করার সামর্থ্য ছিল না। আল্লাহরই সকল প্রশংসা যিনি এ কাজের তাওফিক দিয়েছেন এবং এর মাধ্যমে সুস্পষ্টতম পথের দিশা দিয়েছেন।
বিচারক সুলায়মান ইবনে হামজাহ এবং ঈসা ইবনে আব্দুর রহমান আল-মাকদিসী আমাকে সংবাদ দিয়েছেন—তাদের প্রত্যেকের কাছে আমার পাঠের মাধ্যমে—তারা উভয়ে বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবনে উমর ইবনুল লুততি, তিনি বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল আওয়াল ইবনে ঈসা আস-সুফি, তিনি বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইসমাইল আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-আনসারী, তিনি বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল জাব্বার ইবনে মুহাম্মদ আল-জাররাহী, তিনি বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মাহবুব, তিনি বলেছেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হাফেজ আবু ঈসা মুহাম্মদ ইবনে ঈসা আত-তিরমিজি, তিনি বলেছেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনুল হাসান, তিনি বলেছেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবদান, তিনি বলেছেন: আমি ইবনুল মুবারক (রাহিমাহুল্লাহ)-কে বলতে শুনেছি: ইসনাদ...
(খণ্ড: ১)
বুগয়াতুল মুলতামিস ফী সিবাইয়্যাতি হাদীছিল ইমাম মালিক বিন আনাস
(পৃষ্ঠা: ٣٧)
عِنْدِي مِنَ الدِّينِ، لَوْلا الإِسْنَادُ لَقَالَ مَنْ شَاءَ مَا شَاءَ، وَلَكِنْ إِذَا قِيلَ لَهُ: مَنْ حَدَّثَكَ؟ قَالَ: بَقى
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي الْهَيْجَاءِ.
وَمُحَمَّدُ بْنُ رُزَيْنٍ الدِّمَشْقِيُّ سَمَاعًا عَلَيْهِمَا.
قَالَ الأَوَّلُ: ثنا الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْبَكْرِيِّ، أنا الْقَاسِمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الصَّفَّارُ، أَخْبَرَتْنَا عَائِشَةُ بِنْتُ أَحْمَدَ بْنِ مَنْصُورٍ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ خَلَفٍ ح.
وَقَالَ شَيْخُنَا الثَّانِي: أَنْبَأَنَا عَلِيُّ بْنُ الْمُقَيِّرِ، عَنْ أَحْمَدَ بْنِ طَاهِرٍ الْمِيهَنِيِّ، أنا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ هَذَا قَالَ: أنا الْحَافِظُ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَاكِمُ، ثنا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ، ثنا الْعَبَّاسُ بْنُ مُحَمَّدٍ الدُّورِيُّ، ثنا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي الأَسْوَدِ، ثنا أَبُو إِسْحَاقَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ عِيسَى الطَّالْقَانِيُّ، ثنا بَقِيَّةُ، ثنا عُتْبَةُ بْنُ أَبِي حَكِيمٍ أَنَّهُ كَانَ عِنْدَ إِسْحَاقَ بْنِ أَبِي فَرْوَةَ وَعِنْدَهُ الزُّهْرِيُّ، قَالَ: فَجَعَلَ ابْنُ أَبِي فَرْوَةَ يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ لَهُ الزُّهْرِيُّ: قَاتَلَكَ اللَّهُ يَابْنَ أَبِي فَرْوَةَ مَا أَجْرَأَكَ عَلَى اللَّهِ، أَلا تَسْنِدُ حَدِيثَكَ؟ تُحَدِّثُنَا بِأَحَادِيثَ لَيْسَ لَهَا خَطْمٌ وَلا أَزِمَّةٌ وَقَالَ الإِمَامُ الشَّافِعِيُّ رحمه الله: مَثَلُ الَّذِي يَطْلُبُ الْعِلْمَ بِلا إِسْنَادٍ كَمَثَلِ
দ্বীনের বিষয়ে আমার নিকট (অভিমত এই যে), যদি ইসনাদ (সূত্রপরম্পরা) না থাকত তবে যে কেউ যা খুশি তা-ই বলত। কিন্তু যখন তাকে বলা হয়: ‘কে তোমাকে বর্ণনা করেছেন?’ তখন সে নিরুত্তর হয়ে যায়।
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন আবিল হাইজা।
এবং মুহাম্মাদ বিন রুযাইন আদ-দিমাশকি, তাঁদের নিকট শ্রবণের মাধ্যমে।
প্রথমজন বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাসান বিন মুহাম্মাদ বিন আল-বাকরি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-কাসিম বিন আব্দুল্লাহ আস-সাফফার, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আয়েশা বিনতে আহমাদ বিন মানসুর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন আলি বিন খালাফ (হা - রূপান্তর)।
এবং আমাদের দ্বিতীয় উস্তাদ বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলি বিন আল-মুকাইয়ির, তিনি আহমাদ বিন তাহির আল-মিহানি থেকে, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন এই আহমাদ বিন আলি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাফেজ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-হাকিম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল আব্বাস মুহাম্মাদ বিন ইয়াকুব, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-আব্বাস বিন মুহাম্মাদ আদ-দুরি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর বিন আবিল আসওয়াদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ইসহাক ইবরাহিম বিন ঈসা আত-তালকানি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বাকিয়্যাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উতবাহ বিন আবি হাকিম যে, তিনি ইসহাক বিন আবি ফাওয়াহ-র নিকট ছিলেন এবং সেখানে আয-যুহরিও উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন: তখন ইবনু আবি ফাওয়াহ বলতে লাগলেন: ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন’। তখন আয-যুহরি তাঁকে বললেন: ‘হে ইবনু আবি ফাওয়াহ! আল্লাহ তোমাকে ধ্বংস করুন, আল্লাহর ওপর (কথা বলতে) তুমি কতই না দুঃসাহসী! তুমি কেন তোমার হাদীসের সনদ উল্লেখ করছো না? তুমি আমাদের নিকট এমন সব হাদীস বর্ণনা করছো যার কোনো লাগাম বা নিয়ন্ত্রণ নেই।’ আর ইমাম শাফিঈ রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন: ‘যে ব্যক্তি সনদ ছাড়াই ইলম অন্বেষণ করে তার উদাহরণ হলো...’
(খণ্ড: ১)
বুগয়াতুল মুলতামিস ফী সিবাইয়্যাতি হাদীছিল ইমাম মালিক বিন আনাস
(পৃষ্ঠা: ٣٨)
حَاطِبٍ يَحْطِبُ لَيْلا يَحْمِلُ حِزْمَةَ حَطَبٍ، وَفِيهِ أَفْعى تَلْدَغُهُ وَهُوَ لا يَدْرِي.
وَقَالَ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ رحمه الله: الإِسْنَادُ سِلاحُ الْمُؤْمِنِ، فَإِذَا لَمْ يَكُنْ مَعَكَ سِلاحٌ فَبِمَ تُقَاتِلُ؟ وَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ: مَثَلُ الَّذِي يَطْلُبُ أَمْرَ دِينِهِ بِلا إِسْنَادٍ كَمَثَلِ الَّذِي يَرْتَقِي السَّطْحَ بِلا سُلَّمٍ.
وَلَمَّا كَانَ الإِسْنَادُ بِهَذِهِ الْفَضِيلَةِ الْجَلِيَّةِ، وَالدَّرَجَةِ الْجَلِيَّةِ الْعَلِيَّةِ، كَانَ مِنَ الْمُهِمَّاتِ الْمَطْلُوبَاتِ فِيهِ عِنْدَ أَهْلِهِ، الْحَائِزَةِ لِقَصَبِ السَّبْقِ وَفَضْلِهِ، مَا يَتَمَيَّزُ بِهِ الْمُحَدِّثُ عَلَى أَقْرَانِهِ، عِنْدَهُ تَحْصِيلُهُ مِنْ عُلُوِّ الإِسْنَادِ الَّذِي هُوَ قُرْبَةٌ إِلَى اللَّهِ عز وجل، وَرَسُولِهِ صلى الله عليه وسلم.
أَخْبَرَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مُفْرِحٍ.
وَيَحْيَى بْنُ أَحْمَدَ بْنِ نِعْمَةَ الْمَقْدِسِيَّانِ.
وَمُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ الْمُعَدَّلُ، وَآخَرُونَ قَالُوا: أنا مَكِّيُّ بْنُ الْمُسْلِمِ بْنِ عَلانَ، أنا الْحَافِظُ أَبُو الْقَاسِمِ عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ الدِّمَشْقِيُّ، أنا أَبُو الْمَعَالِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ الْحُلْوَانِيُّ، أنا أَبُو عَلِيٍّ الْحَدَّادُ قَالَ: وَأَجَازَهُ لِي الْحَدَّادُ أَبُو عَلِيٍّ وَأَبُو سَعْدٍ الْمُطَرِّزُ وَغَانِمٌ الْبُرْجِيُّ قَالُوا: أنا أَبُو نُعَيْمٍ الْحَافِظُ، ثنا عُمَرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ سَهْلٍ، ثنا يَعْرُبُ بْنُ خَيْرَانَ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ النَّيْسَابُورِيُّ قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ الطُّوسِيَّ يَقُولُ: سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ أَسْلَمَ الطُّوسِيَّ يَقُولُ: قُرْبُ الإِسْنَادِ قُرْبَةٌ إِلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ
রাতের আঁধারে কাঠ সংগ্রহকারী, যে কাঠের বোঝা বহন করে, যার মধ্যে রয়েছে একটি সাপ যা তাকে দংশন করে অথচ সে তা জানে না।
সুফিয়ান সাওরী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: ইসনাদ হলো মুমিনের অস্ত্র। যদি তোমার কাছে অস্ত্রই না থাকে, তবে তুমি কী দিয়ে যুদ্ধ করবে? আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারাক বলেন: যে ব্যক্তি ইসনাদ ব্যতীত তার দ্বীনের বিষয় অনুসন্ধান করে, তার দৃষ্টান্ত ঐ ব্যক্তির ন্যায় যে সিঁড়ি ছাড়াই ছাদে আরোহণ করে।
যেহেতু ইসনাদ এই সুস্পষ্ট ফযীলত এবং সুউচ্চ ও মহান মর্যাদার অধিকারী, তাই এর সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞজনদের নিকট—যারা শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদার অধিকারী—এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অন্বেষণীয় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে; যার মাধ্যমে একজন মুহাদ্দিস তার সমসাময়িকদের ওপর বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হন। আর তা হলো উচ্চ ইসনাদ (উলুউ আল-ইসনাদ) অর্জন করা, যা মহান আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নৈকট্য লাভের মাধ্যম।
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইব্রাহীম ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে মুফরিহ।
এবং ইয়াহইয়া ইবনে আহমাদ ইবনে নি’মাহ আল-মাকদিসীদ্বয়।
এবং মুহাম্মাদ ইবনে ইউসুফ আল-মু’আদ্দাল ও অন্যান্যরা বলেছেন: আমাদের জানিয়েছেন মাক্কী ইবনুল মুসলিম ইবনে আলান, আমাদের জানিয়েছেন হাফিয আবুল কাসিম আলী ইবনুল হাসান আদ-দিমাশকী, আমাদের জানিয়েছেন আবু আল-মা’আলী আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ আল-হুলওয়ানী, আমাদের জানিয়েছেন আবু আলী আল-হাদ্দাদ। তিনি বলেন: আল-হাদ্দাদ আবু আলী, আবু সা’দ আল-মুতাররিয এবং গানিম আল-বুরজী আমাকে ইজাযাহ দিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন: আমাদের জানিয়েছেন হাফিয আবু নুআঈম, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন উমার ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে সাহল, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইয়ারুব ইবনে খাইরান, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে জা’ফর আন-নাইসাবুরী, তিনি বলেন: আমি আবু আব্দুর রহমান আত-তূসীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি মুহাম্মাদ ইবনে আসলাম আত-তূসীকে বলতে শুনেছি: ইসনাদের নৈকট্য (উচ্চ ইসনাদ) মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম।
(খণ্ড: ১)
বুগয়াতুল মুলতামিস ফী সিবাইয়্যাতি হাদীছিল ইমাম মালিক বিন আনাস
(পৃষ্ঠা: ٣٩)
وَبِهِ إِلَى الْحَافِظِ أَبِي الْقَاسِمِ، أنا أَبُو السَّعَادَاتِ أَحْمَدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ الْوَاحِدِ الْهَاشِمِيُّ، أنا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ الْحَافِظُ، أنا أَبُو الْقَاسِمِ رِضْوَانُ بْنُ مُحَمَّدٍ الدِّينَوَرِيُّ، ثنا أَبُو عَلِيٍّ حَمْدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الأَصْبَهَانِيُّ قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا عَبْدِ اللَّهِ عُمَرَ بْنَ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ الْعَطَّارَ يَقُولُ: سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ يَقُولُ: سَمِعْتُ أَبِي يَقُولُ: طَلَبُ عُلُوِّ الإِسْنَادِ مِنَ الدِّينِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحِيمِ، أنا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ ظَافِرٍ، أنا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْحَافِظُ، أنا الْمُبَارَكُ بْنُ عَبْدِ الْجَبَّارِ، أنا عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ الْغَالِي، أنا أَحْمَدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ خَرْبَانَ، ثنا الْحَسَنُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ خَلادٍ الْقَاضِي قَالَ: تَخْتَلِفُ مَذَاهِبُ طُلابِ الْحَدِيثِ فِي هَذَا فَمِنْهُمْ مَنْ لا يَقْتَصِرُ عَلَى أَنْ يَسْمَعَ الْحَدِيثَ مِنَ الْمُحَدِّثِ، وَهُوَ عَلَى أَنْ يَسْمَعَهُ مِنَ الْمُحَدِّثِ قَادِرٌ، فَتَنْزِعُ نَفْسُهُ إِلَى لِقَاءِ الأَعْلَى وَالسَّمَاعِ مِنْهُ بِالْمُشَاهَدَةِ إِنْ كَانَ دَانِيَ الدَّارِ، وَبِالرِّحْلَةِ إِلَيْهِ إِنْ كَانَ بَعِيدَ الدَّارِ.
وَمِنْهُمْ مَنْ لا يَشْتَغِلُ بِالرِّحْلَةِ إِذَا حَصَلَ لَهُ الْحَدِيثُ عَمَّنْ يَرْتَضِيهِ تَنَزَّلَ فِي الْحَدِيثِ أَوْ تَعَالَى فِيهِ.
قَالَ: وَأَهْلُ النَّظَرِ أَيْضًا فِي ذَلِكَ مُخْتَلِفُونَ.
فَمِنْهُمْ مَنْ يَقُولُ: التَّنَزُّلُ فِي الإِسْنَادِ أَفْضَلُ، لأَنَّهُ يَجِبُ عَلَى الرَّاوِي أَنْ يَجْتَهِدَ فِي مَتْنِ الْحَدِيثِ وَتَأْوِيلِهِ، وَفِي النَّاقِلِ وَتَعْدِيلِهِ، وَكُلَّمَا زَادَ الاجْتِهَادُ زَادَ صَاحِبُهُ ثَوَابًا، وَهَذَا مَذْهَبُ مَنْ يَزْعُمُ أَنَّ الْخَبَرَ أَقْوَى مِنَ الْقِيَاسِ ، وَقَالَ آخَرُونَ: التَّعَالِي فِي الإِسْنَادِ مُسْقِطٌ لِبَعْضِ الاجْتِهَادِ، وَسُقُوطُ الاجْتِهَادِ فِيمَا أَمْكَنَ أَسْلَمَ وَاللَّهُ أَعْلَمُ.
এবং তাঁর মাধ্যমে হাফেজ আবুল কাসিম পর্যন্ত, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সংবাদ প্রদান করেছেন আবুস সা’আদাত আহমদ ইবনে আহমদ ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ আল-হাশেমি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সংবাদ প্রদান করেছেন হাফেজ আবু বকর আহমদ ইবনে আলী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সংবাদ প্রদান করেছেন আবুল কাসিম রিদওয়ান ইবনে মুহাম্মদ আদ-দিনাওয়ারি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু আলী হামদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আসফাহানি, তিনি বলেন: আমি আবু আব্দুল্লাহ উমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আল-আত্তারকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে হাম্বলকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি: উচ্চতর সনদ অন্বেষণ করা দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত।
আমাদেরকে সংবাদ প্রদান করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুর রহিম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সংবাদ প্রদান করেছেন আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে জাফির, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সংবাদ প্রদান করেছেন হাফেজ আহমদ ইবনে মুহাম্মদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সংবাদ প্রদান করেছেন মুবারক ইবনে আব্দুল জব্বার, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সংবাদ প্রদান করেছেন আলী ইবনে আহমদ আল-গালি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সংবাদ প্রদান করেছেন আহমদ ইবনে ইসহাক ইবনে খারবান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন বিচারক হাসান ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে খাল্লাদ, তিনি বলেন: হাদিস অন্বেষণকারীদের কর্মপন্থা এ বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন। তাদের মধ্যে এমন অনেকে আছেন যারা শুধু মুহাদ্দিসের নিকট থেকে হাদিস শুনেই ক্ষান্ত হন না, অথচ তিনি তার কাছ থেকে তা শুনতে সক্ষম। বরং তার মন উচ্চতর সনদধারীর সাথে সাক্ষাৎ করতে এবং সরাসরি দর্শনের মাধ্যমে তার থেকে হাদিস শুনতে ব্যাকুল হয়; যদি তিনি নিকটবর্তী হন তবে সরাসরি সাক্ষাতের মাধ্যমে, আর যদি দূরবর্তী হন তবে তার পানে সফরের মাধ্যমে।
আবার তাদের মধ্যে এমনও আছেন যারা সফরের কষ্টে লিপ্ত হন না যখন তিনি নির্ভরযোগ্য কোনো ব্যক্তির থেকে হাদিসটি লাভ করেন; চাই হাদিসটির সনদ নিম্নমানের হোক কিংবা উচ্চমানের হোক।
তিনি বলেন: এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ পণ্ডিতগণও মতভেদ করেছেন।
তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেন: সনদে নিম্নগামী হওয়া উত্তম; কারণ রাবির জন্য হাদিসের মূল পাঠ ও তার ব্যাখ্যা এবং বর্ণনাকারী ও তাদের নির্ভরযোগ্যতা যাচাইয়ে গবেষণা ও পরিশ্রম করা আবশ্যক। আর গবেষণা ও পরিশ্রম যত বৃদ্ধি পায়, শ্রমদানকারীর সওয়াবও তত বৃদ্ধি পায়। এটি তাদের অভিমত যারা মনে করেন যে বর্ণিত হাদিস কিয়াসের চেয়ে শক্তিশালী। আবার অন্যরা বলেন: সনদে উচ্চগামী হওয়া কিছু গবেষণার পরিশ্রমকে কমিয়ে দেয়, আর যেখানে সম্ভব সেখানে পরিশ্রম লাঘব হওয়া অধিক নিরাপদ। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১)
বুগয়াতুল মুলতামিস ফী সিবাইয়্যাতি হাদীছিল ইমাম মালিক বিন আনাস
(পৃষ্ঠা: ٤٠)
قُلْتُ: هَذَا الْمَذْهَبُ الَّذِي أَشَارَ إِلَيْهِ ابْنُ خَلادٍ ضَعِيفٌ وَاهِي الْحُجَّةِ، لأَنَّهُ لَيْسَ الْمَقْصُودُ مِنْ إِسْنَادِ الْحَدِيثِ الْبَحْثَ عَنْهُ وَالاجْتِهَادَ فِيهِ حَتَّى يُطْلَبَ كَثْرَةُ الاجْتِهَادِ لِيَتَرَتَّبَ عَلَيْهِ كَثْرَةُ الأَجْرِ.
وَإِنَّمَا الْمَقْصُودُ مِنَ الإِسْنَادِ حُصُولُ غَلَبَةِ الظَّنِّ بِالْخَبَرِ الْمَرْوِيِّ وَرُكُونُ الْقَلْبِ إِلَيْهِ، هَذَا مَا لا رَيْبَ فِيهِ، وَلا شَكَّ أَنَّ خَبَرَ الْوَاحِدِ لا يُفِيدُ الْعِلْمَ لِقُصُورِهِ عَنْ ذَلِكَ.
وَإِنَّمَا جَاءَهُ هَذَا الْقُصُورُ مِنْ جِهَةِ احْتِمَالِ الصِّدْقِ وَالْكَذِبِ فِي رُوَاتِهِ بِخِلافِ الْمُتَوَاتِرِ، فَإِنَّ خَبَرَهُمْ حَصَلَ الْقَطْعُ بِصِدْقِهِ، فَكُلُّ رَجُلٍ مِنْ رِجَالِ إِسْنَادِ خَبَرِ الْوَاحِدِ يُحْتَمَلُ أَنْ يَقَعَ الْخَلَلُ مِنْ جِهَتِهِ إِمَّا عَمْدًا وَإِمَّا سَهْوًا، فَفِي قِلَّتِهِمْ قِلَّةُ جِهَاتِ الْخَلَلِ، وَفِي كَثْرَتِهِمْ كَثْرَةُ جِهَاتِ الْخَلَلِ وَتَوَقُّعُ وُقُوعِهِ.
وَهَذَا جَلِيٌّ وَاضِحٌ، وَبِهِ يَتَبَيَّنُ أَنَّ النُّزُولَ فِي الإِسْنَادِ مَرْذُولٌ بِالنِّسْبَةِ إِلَى الْعُلُوِّ إِذَا لَمْ يَكُنْ فِي النُّزُولِ فَائِدَةٌ زَائِدَةٌ عَلَى الْعُلُوِّ، فَأَمَّا إِذَا كَانَ السَّنَدُ النَّازِلُ أَصَحَّ مِنَ الْعَالِي أَوْ مُشْتَمِلا عَلَى صِفَةٍ أَعْلَى كَالْحِفْظِ وَنَحْوِهِ فَلَيْسَ بِمَرْجُوحٍ لِمَا تَقَدَّمَ مِنْ أَنَّ مَدَارَ ذَلِكَ عَلَى تَحْصِيلِ غَلَبَةِ الظَّنِّ بِالْخَبَرِ الْمَرْوِيِّ، وَلِذَلِكَ نَقُولُ: إِنَّ كَثْرَةً مِنَ الأَحَادِيثِ الْعَالِيَةِ لا يُفْرَحُ بِهَا، لاشْتِمَالِ إِسْنَادِهَا عَلَى ضَعِيفٍ أَوْ مَتْرُوكٍ وَاهٍ، كَأَحَادِيثِ أَبِي هُدْبَةَ إِبْرَاهِيمَ بْنِ هُدْبَةَ، وَدِينَارِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ ومُوسَى بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الطَّوِيلِ وَغَيْرِهِمْ مِنَ الضُّعَفَاءِ، وَكَرَاوِيَةِ أَبِي الدُّنْيَا الأَشَجِّ وَشِبْهِهِ.
فَالْحَاصِلُ أَنَّ الْعَالِيَ مِنَ الإِسْنَادِ إِنَّمَا يَكُونُ رَاجِحًا عَلَى الإِسْنَادِ النَّازِلِ عِنْدَ تَسَاوِيهِمَا، وَأَمَّا إِذَا كَانَ الإِسْنَادُ النَّازِلُ رِجَالُهُ أَحْفَظُ وَأَتْقَنُ مِنْ رِجَالِ
আমি বলছি: ইবনে খাল্লাদ যে মতের দিকে ইঙ্গিত করেছেন তা দুর্বল এবং এর দলিল অসার; কারণ হাদিসের ইসনাদ (সূত্রপরম্পরা) সংকলনের উদ্দেশ্য এটি নিয়ে গবেষণা করা বা এতে ইজতিহাদ করা নয়, যাতে অধিক সওয়াবের আশায় অধিক ইজতিহাদ অনুসন্ধান করা হবে।
বরং ইসনাদের উদ্দেশ্য হলো বর্ণিত খবরের প্রতি প্রবল ধারণা অর্জন এবং তার ওপর হৃদয়ের প্রশান্তি লাভ করা; এতে কোনো সন্দেহ নেই। আর এতেও কোনো সংশয় নেই যে, 'খবরে ওয়াহেদ' নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করে না, কারণ তা অর্জনে এটি অক্ষম।
এই অক্ষমতা মূলত এর বর্ণনাকারীদের সত্য বা মিথ্যা বলার সম্ভাবনার দিক থেকে আসে, যা 'মুতাওয়াতির' খবরের বিপরীত। কেননা মুতাওয়াতির বর্ণনাকারীদের সংবাদের সত্যতার ব্যাপারে অকাট্য নিশ্চয়তা অর্জিত হয়। খবরে ওয়াহেদের ইসনাদের প্রত্যেক ব্যক্তির ক্ষেত্রে এ সম্ভাবনা থাকে যে, তার পক্ষ থেকে কোনো ত্রুটি প্রকাশ পাবে—তা ইচ্ছাকৃত হোক বা অনিচ্ছাকৃত। ফলে বর্ণনাকারীর সংখ্যা কম হলে ত্রুটির দিকগুলোও কম থাকে, আর তাদের সংখ্যা বেশি হলে ত্রুটির দিকগুলো এবং তা সংঘটিত হওয়ার আশঙ্কাও বৃদ্ধি পায়।
এটি অত্যন্ত সুস্পষ্ট; এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, ইসনাদে 'নুজুল' (দীর্ঘ সূত্র) 'উলু'র (সংক্ষিপ্ত সূত্র) তুলনায় নিকৃষ্ট, যদি নুজুলের মধ্যে উলু অপেক্ষা অতিরিক্ত কোনো উপকার না থাকে। পক্ষান্তরে, যদি 'নাযিল' (দীর্ঘ) সনদটি 'আলি' (সংক্ষিপ্ত) সনদের চেয়ে অধিক বিশুদ্ধ হয় অথবা মুখস্থশক্তি বা অনুরূপ কোনো উচ্চতর গুণের অধিকারী হয়, তবে তা হীনতর হবে না। কারণ ইতিপূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, এর মূল ভিত্তি হলো বর্ণিত খবরের প্রতি প্রবল ধারণা অর্জন করা। এই কারণেই আমরা বলি: বহু 'আলি' হাদিস নিয়ে আনন্দিত হওয়ার কিছু নেই, কারণ সেগুলোর ইসনাদে দুর্বল কিংবা পরিত্যক্ত অসার বর্ণনাকারী রয়েছে। যেমন: আবু হুদবাহ ইবরাহিম বিন হুদবাহ, দিনার বিন আবদুল্লাহ, মুসা বিন আবদুল্লাহ আত-তাবিল এবং অন্যান্য দুর্বল বর্ণনাকারীদের হাদিসসমূহ, কিংবা আবু দুনিয়া আল-আশাজ্জ ও তার অনুরূপ ব্যক্তিদের বর্ণনা।
সারকথা হলো, ইসনাদের ক্ষেত্রে 'আলি' কেবল তখনই 'নাযিল' ইসনাদের ওপর প্রাধান্য পাবে যখন উভয়টি সমপর্যায়ের হবে। কিন্তু যদি 'নাযিল' ইসনাদের বর্ণনাকারীবৃন্দ অধিক স্মৃতিধর এবং অধিক নিখুঁত হন...
(খণ্ড: ১)
বুগয়াতুল মুলতামিস ফী সিবাইয়্যাতি হাদীছিল ইমাম মালিক বিন আনাস
(পৃষ্ঠা: ٤١)
الأَعْلَى فَلَيْسَ مَرْجُوحًا
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ الزَّرَّادُ، أنا الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدٍ التَّيْمِيُّ، أنا عَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ الْحَافِظِ أَبِي سَعْدٍ، أنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْفُرَاوِيُّ، أنا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ الأَدِيبُ ح.
وَأَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ الْخَشَّابُ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ، أَنْبَأَنَا أَحْمَدُ بْنُ طَاهِرٍ الْمِيهَنِيُّ، أنا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ الأَدِيبُ، أنا الْحَاكِمُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ، ثنا أَبُو الطَّيِّبِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَمْدُونٍ، ثنا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمَرْوَزِيُّ، ثنا عَلِيُّ بْنُ خَشْرَمٍ قَالَ: قَالَ لَنَا وَكِيعٌ: أَيُّ الإِسْنَادَيْنِ أَحَبُّ إِلَيْكُمُ؟ الأَعْمَشُ عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، أَوْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ؟ فَقُلْنَا: الأَعْمَشُ عَنْ أَبِي وَائِلٍ، فَقَالَ: يَا سُبْحَانَ اللَّهِ الأَعْمَشُ شَيْخٌ، وَأَبُو وَائِلٍ شَيْخٌ، وَسُفْيَانُ فَقِيهٌ، وَمَنْصُورٌ فَقِيهٌ، وَعَلْقَمَةُ فَقِيهٌ، وَحَدِيثٌ تَتَدَاوَلُهُ الْفُقَهَاءُ خَيْرٌ مِنْ أَنْ تَتَدَاوَلَهُ الشُّيُوخُ.
وَبِالْجُمْلَةِ فَتَرْجِيحُ الإِسْنَادِ الْعَالِي لا رَيْبَ فِيهِ لِمَنْ أَنْصَفَ، وَهُوَ أَمْرُ الْعَمَلِ بِهِ مُسْتَمِرٌّ قَدِيمًا وَحَدِيثًا
أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَمْزَةَ، أنا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ الْحَافِظُ، عَنْ بَرَكَاتِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الْقُرَشِيِّ، أنا هِبَةُ اللَّهِ بْنُ الأَكْفَانِيِّ، أنا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ الْخَطِيبُ، حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي الْفَتْحِ قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا إِدْرِيسَ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ مُحَمَّدٍ الإِدْرِيسِيَّ يَقُولُ: سَمِعْتُ أَبَا أَحْمَدَ بْنَ عَدِيٍّ قَالَ: ثنا عَبْدُ الْمُؤْمِنِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَوْثَرَةَ قَالَ: سَمِعْتُ عَمَّارَ بْنَ رَجَاءٍ يَقُولُ: سَمِعْتُ أَحْمَدَ بْنَ حَنْبَلٍ رحمه الله يَقُولُ: طَلَبُ عُلُوِّ الإِسْنَادِ مِنَ السُّنَّةِ
সর্বোচ্চ (উচ্চ সনদ বিশিষ্ট), তাই তা গুরুত্বহীন নয়।
মুহাম্মদ বিন আহমদ আজ-যাররাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আল-হাসান বিন মুহাম্মদ আত-তাইমি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: হাফেজ আবু সাআদের পুত্র আবদুর রহিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-ফুরাওয়ি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আহমদ বিন আলি আল-আদিব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (হ)।
এবং আহমদ বিন আবি বকর আল-খাশ্শাব আলি বিন আবি আবদুল্লাহর সূত্রে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আহমদ বিন তাহের আল-মিহানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আহমদ বিন আলি আল-আদিব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আল-হাকিম আবু আবদুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আত-তাইয়িব মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন হামদুন আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ আল-মারওয়াযি আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আলি বিন খাশরাম আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ওকি আমাদের বলেছেন: তোমাদের কাছে কোন সনদটি বেশি প্রিয়? আমাশ, আবু ওয়ায়েলের সূত্রে আবদুল্লাহ (বিন মাসুদ) থেকে; নাকি সুফিয়ান আস-সাওরি, মানসুরের সূত্রে ইব্রাহিম থেকে, তিনি আলকামা থেকে, তিনি আবদুল্লাহ থেকে? আমরা বললাম: আমাশের সূত্রে আবু ওয়ায়েল থেকে বর্ণিত সনদটি। তখন তিনি বললেন: সুবহানাল্লাহ! আমাশ একজন শায়খ, আবু ওয়ায়েলও একজন শায়খ। আর সুফিয়ান একজন ফকিহ (ইসলামি আইনজ্ঞ), মানসুর একজন ফকিহ, আলকামা একজন ফকিহ। আর ফকিহদের মাধ্যমে আবর্তিত হাদিস সাধারণ শায়খদের মাধ্যমে আবর্তিত হাদিসের চেয়ে উত্তম।
পরিশেষে, যারা ইনসাফকারী তাদের নিকট উচ্চ সনদের শ্রেষ্ঠত্বের বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই এবং প্রাচীন ও আধুনিক সর্বকালেই এর ওপর আমল অব্যাহত রয়েছে।
সুলাইমান বিন হামজাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-হাফিজ বারাকাত বিন ইব্রাহিম আল-কুরাশির সূত্রে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: হিবাতুল্লাহ বিন আল-আকফানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আহমদ বিন আলি আল-খতিব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ বিন আবি আল-ফাতহ আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু ইদ্রিস আবদুর রহমান বিন মুহাম্মদ আল-ইদ্রিসিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবু আহমদ বিন আদিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আব্দুল মুমিন বিন আহমদ বিন হাওসারা আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আম্মার বিন রাজাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আহমদ বিন হাম্বল (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)-কে বলতে শুনেছি: উচ্চ সনদ অন্বেষণ করা সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১)
বুগয়াতুল মুলতামিস ফী সিবাইয়্যাতি হাদীছিল ইমাম মালিক বিন আনাস
(পৃষ্ঠা: ٤٢)
وَبِهِ إِلَى أَبِي بَكْرٍ الْحَافِظِ قَالَ: حُدِّثْتُ عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ جَعْفَرٍ الْحَنْبَلِيِّ قَالَ: أنا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ هَارُونَ الْخَلالُ، ثنا حَرْبُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْكِرْمَانِيُّ قَالَ: سُئِلَ الإِمَامُ أَحْمَدُ رحمه الله عَنِ الرَّجُلِ يَطْلُبُ الإِسْنَادَ الْعَالِي؟ قَالَ: طَلَبُ الإِسْنَادِ الْعَالِي سُنَّةٌ عَمَّنْ سَلَفَ، لأَنَّ أَصْحَابَ عَبْدِ اللَّهِ كَانُوا يَرْحَلُونَ مِنَ الْكُوفَةِ إِلَى الْمَدِينَةِ، فَيَتَعَلَّمُونَ عَنْ عُمَرَ رضي الله عنه، وَيَسْمَعُونَ مِنْهُ ، قُلْتُ: لِقَائِلٍ أَنْ يَقُولَ: لَعَلَّ الَّذِي كَانَ يَرْحَلُ أَصْحَابُ عَبْدِ اللَّهِ مِنْ أَجْلِهِ إِلَى عُمَرَ رضي الله عنه لَمْ يَكُونُوا سَمِعُوهُ قَبْلَ ذَلِكَ، فَلا يَتَعَيَّنُ أَنْ تَكُونَ رِحْلَتُهُمْ لأَجْلِ عُلُوِّ الإِسْنَادِ، بَلْ رُبَّمَا كَانَتْ لاسْتِفَادَةٍ مَا لَيْسَ عِنْدَهُمْ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ رضي الله عنه وَكَذَلِكَ احْتَجَّ الْحَاكِمُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ عَلَى تَرْجِيحِ الْعُلُوِّ بِحَدِيث ضِمَامِ بْنِ ثَعْلَبَةَ رضي الله عنه، وَهُوَ الَّذِي:
أَخْبَرَنَاهُ سُلَيْمَانُ بْنُ حَمْزَةَ الْحَاكِمُ.
وَإِسْمَاعِيلُ بْنُ يُوسُفَ الْمُقْرِي.
وَعِيسَى بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مَعَالِي.
وَأَحْمَدُ بْنُ أَبِي طَالِبٍ الصَّالِحِيُّ ، قَالُوا: أنا أَبُو الْمُنَجَّا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، أنا عَبْدُ الأَوَّلِ بْنُ عِيسَى، أنا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ الْمُظَفَّرِ، أنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَمُّوَيْهِ، أنا إِبْرَاهِيمُ بْنُ حُزَيْمٍ، ثنا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، ثنا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ، ثنا سُلَيْمَانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رضي الله عنه ، قَالَ: كُنَّا نُهِينَا أَنْ نَسْأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ شَيْءٍ، فَكَانَ يُعْجِبُنَا أَنْ يَجِيءَ الرَّجُلُ مِنْ أَهْلِ الْبَادِيَةِ الْعَاقِلُ، فَيَسْأَلُهُ وَنَحْنُ نَسْمَعُ، فَجَاءَ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْبَادِيَةِ،
এবং তাঁর মাধ্যমে আবু বকর আল-হাফিজ পর্যন্ত (সনদ পৌঁছেছে), তিনি বলেন: আমাকে আব্দুল আজিজ ইবন জাফর আল-হাম্বলি থেকে বর্ণনা করা হয়েছে, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমদ ইবন মুহাম্মদ ইবন হারুন আল-খাল্লাল, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হারব ইবন ইসমাইল আল-কিরমানি, তিনি বলেন: ইমাম আহমদ (রাহিমাহুল্লাহ)-কে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে উচ্চ সনদ সন্ধান করে? তিনি বললেন: উচ্চ সনদ সন্ধান করা পূর্বসূরিদের একটি সুন্নাত। কারণ আব্দুল্লাহ (ইবন মাসউদ)-এর ছাত্ররা কুফা থেকে মদিনায় সফর করতেন, যাতে তাঁরা উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে শিখতে পারেন এবং তাঁর থেকে (সরাসরি) শুনতে পারেন। আমি (গ্রন্থকার) বলি: কোনো বক্তা বলতে পারেন যে, সম্ভবত আব্দুল্লাহর ছাত্ররা উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর কাছে যে কারণে সফর করেছিলেন তা এই যে, তাঁরা ইতিপূর্বে সেটি শোনেননি। সুতরাং এটি নিশ্চিত নয় যে তাঁদের সেই সফর উচ্চ সনদের উদ্দেশ্যেই ছিল। বরং সম্ভবত এটি ছিল এমন কিছু অর্জনের জন্য যা তাঁদের কাছে আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সূত্রে ছিল না। একইভাবে হাকিম আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিজ উচ্চ সনদকে প্রাধান্য দেওয়ার স্বপক্ষে দিমাম ইবন সা’লাবা (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন, আর সেটি হলো:
আমাদের তা সংবাদ দিয়েছেন সুলাইমান ইবন হামজাহ আল-হাকিম।
এবং ইসমাইল ইবন ইউসুফ আল-মুকরি।
এবং ঈসা ইবন আব্দুর রহমান ইবন মাআলি।
এবং আহমদ ইবন আবি তালিব আস-সালিহি। তাঁরা বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল মুনাজ্জা আব্দুল্লাহ ইবন উমর, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল আউয়াল ইবন ঈসা, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুর রহমান ইবনুল মুজাফ্ফর, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ ইবন আহমদ ইবন হাম্মুওয়াইহ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবরাহিম ইবন খুজাইম, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আব্দ ইবন হুমাইদ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হাশিম ইবনুল কাসিম, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সুলাইমান ইবনুল মুগিরাহ, সাবিত থেকে, তিনি আনাস ইবন মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমাদের রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে কোনো বিষয়ে প্রশ্ন করতে নিষেধ করা হয়েছিল। তাই মরুচারী বেদুইনদের মধ্য থেকে কোনো বুদ্ধিমান লোক এসে তাঁকে প্রশ্ন করবে আর আমরা তা শুনব—এটি আমাদের কাছে খুব ভালো লাগত। অতঃপর মরুভূমির এক ব্যক্তি আসলেন...
(খণ্ড: ১)
বুগয়াতুল মুলতামিস ফী সিবাইয়্যাতি হাদীছিল ইমাম মালিক বিন আনাস
(পৃষ্ঠা: ٤٣)
فَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ أَتَانَا رَسُولُكَ فَزَعَمَ أَنَّكَ تَزْعُمُ أَنَّ اللَّهَ أَرْسَلَكَ، قَالَ: صَدَقَ ، قَالَ: فَمَنْ خَلَقَ السَّمَاءِ؟ قَالَ: اللَّهُ ، قَالَ: فَمَنْ خَلَقَ الأَرْضَ؟ قَالَ: اللَّهُ عز وجل ، قَالَ: فَمَنْ نَصَبَ الْجِبَالَ وَجَعَلَ فِيهَا مَا جَعَلَ؟ قَالَ: اللَّهُ عز وجل ، قَالَ: فَبِالَّذِي خَلَقَ السَّمَاءَ، وَخَلَقَ الأَرْضَ وَنَصَبَ الْجِبَالَ، وَجَعَلَ فِيهَا مَا جَعَلَ آللَّهُ أَرْسَلَكَ؟ قَالَ: نَعَمْ ، قَالَ: فَزَعَمَ رَسُولُكَ أَنَّ عَلَيْنَا خَمْسَ صَلَوَاتٍ فِي يَوْمِنَا وَلَيْلَتِنَا، قَالَ: صَدَقَ ، قَالَ: فَبِالَّذِي أَرْسَلَكَ آللَّهُ أَمَرَكَ بِهَذَا؟ قَالَ: «نَعَمْ» ، قَالَ: وَزَعَمَ أَنَّ عَلَيْنَا زَكَاةً فِي أَمْوَالِنَا، قَالَ: «صَدَقَ» ، قَالَ: فَبِالَّذِي أَرْسَلَكَ آللَّهُ أَمَرَكَ بِهَذَا؟ قَالَ: «نَعَمْ» ، قَالَ: وَزَعَمَ رَسُولُكَ أَنَّ عَلَيْنَا حَجَّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلا، قَالَ: صَدَقَ ، قَالَ: ثُمَّ وَلَّى ، فَقَالَ: وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ لا أَزِيدُ عَلَيْهِنَّ وَلا أَنْقُصُ مِنْهُنَّ شَيْئًا، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: لَئِنْ صَدَقَ لَيَدْخُلَنَّ الْجَنَّةَ.
أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ، عَنْ عَمْرٍو النَّاقِدِ، عَنْ أَبِي النَّضْرِ هَاشِمِ بْنِ الْقَاسِمِ كَمَا رَوَيْنَاهُ.
فَوَقَعَ لَنَا بَدَلا لَهُ عَالِيًا
قَالَ الْحَاكِمُ: هَذَا فِيهِ دَلِيلٌ عَلَى طَلَبِ الْمَرْءِ الْعُلُوَّ فِي الإِسْنَادِ، لأَنَّ هَذَا لَمَّا جَاءَهُ رَسُولُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، وَأَخْبَرَهُ بِمَا فَرَضَ اللَّهُ عز وجل عَلَيْهِ لَمْ يُقْنِعْهُ ذَلِكَ حَتَّى رَحَلَ بِنَفْسِهِ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَسَمِعَ مِنْهُ، وَلَوْ كَانَ طَلَبُ الْعُلُوَّ فِي الإِسْنَادِ غَيْرَ مُسْتَحَبٍّ لأَنْكَرَ عَلَيْهِ الْمُصْطَفَى صلى الله عليه وسلم سُؤَالَهُ إِيَّاهُ عَمَّا أَخْبَرَهُ رَسُولُهُ عَنْهُ وَلأَمَرَهُ بِالاقْتِصَارِ عَلَى مَا أَخْبَرَهُ الرَّسُولُ عَنْهُ.
অতঃপর তিনি বললেন: হে মুহাম্মদ, আমাদের কাছে আপনার একজন দূত এসেছিলেন এবং তিনি দাবি করেছেন যে আপনি মনে করেন যে আল্লাহ আপনাকে পাঠিয়েছেন। তিনি (রাসূল) বললেন: তিনি সত্য বলেছেন। তিনি বললেন: তবে আসমান কে সৃষ্টি করেছেন? তিনি বললেন: আল্লাহ। তিনি বললেন: তবে জমিন কে সৃষ্টি করেছেন? তিনি বললেন: আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা। তিনি বললেন: তবে কে পাহাড়গুলো স্থাপন করেছেন এবং তাতে যা নিহিত করার তা করেছেন? তিনি বললেন: আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা। তিনি বললেন: তবে সেই সত্তার কসম যিনি আসমান সৃষ্টি করেছেন, জমিন সৃষ্টি করেছেন এবং পাহাড়গুলো স্থাপন করেছেন এবং তাতে যা নিহিত করার তা করেছেন, আল্লাহ কি আপনাকে পাঠিয়েছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ। তিনি বললেন: আপনার দূত দাবি করেছেন যে আমাদের ওপর দিন ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ। তিনি বললেন: তিনি সত্য বলেছেন। তিনি বললেন: তবে সেই সত্তার কসম যিনি আপনাকে পাঠিয়েছেন, আল্লাহ কি আপনাকে এর নির্দেশ দিয়েছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ। তিনি বললেন: এবং তিনি দাবি করেছেন যে আমাদের ধন-সম্পদে জাকাত প্রদান করা ফরজ। তিনি বললেন: তিনি সত্য বলেছেন। তিনি বললেন: তবে সেই সত্তার কসম যিনি আপনাকে পাঠিয়েছেন, আল্লাহ কি আপনাকে এর নির্দেশ দিয়েছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ। তিনি বললেন: আর আপনার দূত দাবি করেছেন যে আমাদের ওপর বায়তুল্লাহর হজ করা ফরজ—যার সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে। তিনি বললেন: তিনি সত্য বলেছেন। অতঃপর তিনি ফিরে গেলেন এবং বললেন: সেই সত্তার কসম যিনি আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন, আমি এর ওপর কোনো কিছু বৃদ্ধি করব না এবং এর থেকে কোনো কিছু কমাবও না। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: যদি সে সত্য বলে থাকে, তবে সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে।
এটি ইমাম মুসলিম—আমর আন-নাকিদ থেকে, তিনি আবু আন-নাদর হাশিম ইবনুল কাসিম থেকে বর্ণনা করেছেন, যেমনটি আমরা বর্ণনা করেছি।
এভাবে এটি আমাদের জন্য একটি উচ্চতর বিকল্প বর্ণনাসূত্র (বাদাল আলিন) হিসেবে সাব্যস্ত হলো।
আল-হাকেম বলেন: এর মধ্যে কোনো ব্যক্তির জন্য বর্ণনাসূত্রে (ইসনাদে) উচ্চতর স্তর অনুসন্ধান করার প্রমাণ রয়েছে। কারণ, এই ব্যক্তির কাছে যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দূত আসলেন এবং আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাঁর ওপর যা ফরজ করেছেন তা তাকে জানালেন, তখন তিনি তাতে কেবল সন্তুষ্ট হতে পারেননি যতক্ষণ না তিনি নিজে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট সফর করে আসলেন এবং তাঁর থেকে সরাসরি শ্রবণ করলেন। আর যদি বর্ণনাসূত্রে উচ্চতর স্তর অন্বেষণ করা মুস্তাহাব না হতো, তবে আল-মুস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর দূত যে সংবাদ দিয়েছিলেন সে সম্পর্কে পুনরায় প্রশ্ন করার কারণে তাঁকে তিরস্কার করতেন এবং তাঁর দূত যা জানিয়েছিলেন তাতেই সীমাবদ্ধ থাকার নির্দেশ দিতেন।
(খণ্ড: ১)
বুগয়াতুল মুলতামিস ফী সিবাইয়্যাতি হাদীছিল ইমাম মালিক বিন আনাস
(পৃষ্ঠা: ٤٤)
قُلْتُ: فِي هَذَا نَظَرٌ لا يَخْفَى، فَإِنَّ الْعُلَمَاءَ اخْتَلَفُوا فِي ضِمَامٍ هَذَا، هَلْ كَانَ أَسْلَمَ قَبْلَ مَجِيئِهِ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَمْ لا؟ فَإِنْ قُلْنَا: إِنَّهُ لَمْ يَكُنْ أَسْلَمَ كَمَا اخْتَارَهُ أَبُو دَاوُدَ وَبَوَّبَ عَلَيْهِ فِي سُنَنِهِ «بَابَ الْمُشْرِكِ يَدْخُلُ الْمَسْجِدَ» فَلا رَيْبَ فِي أَنَّ هَذَا لَيْسَ طَلَبًا لِلْعُلُوِّ، بَلْ كَانَ شَاكًّا فِي قَوْلِ الرَّسُولِ الَّذِي جَاءَهُ، فَرَحَلَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم حَتَّى اسْتَثْبَتَ الأَمْرَ، وَشَاهَدَ مِنْ أَحْوَالِهِ صلى الله عليه وسلم مَا حَصَّلَ بِهِ الْعِلْمَ الْقَطْعِيَّ بِصِدْقِهِ، وَلِهَذَا قَالَ فِي أَوَّلِ كَلامِهِ: فَزَعَمَ لَنَا أَنَّكَ تَزْعُمُ أَنَّ اللَّهَ أَرْسَلَكَ، فَإِنَّ الزَّعْمَ عِنْدَ كَثِيرٍ مِنْ أَهْلِ اللُّغَةِ عِبَارَةٌ عَمَّا يَكُونُ مَظَنَّةً لِلْكَذِبِ كَمَا قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {زَعَمَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَنْ لَنْ يُبْعَثُوا} [التغابن: 7] .
وَإِنْ قُلْنَا إِنَّ ضِمَامًا كَانَ أَسْلَمَ وَصَدَّقَ قَبْلَ مَجِيئِهِ هَذَا، فَلَمْ يَكُنْ أَيْضًا مَجِيئُهُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لِطَلَبِ الْعُلُوِّ فِي الإِسْنَادِ، بَلْ كَيْ يَرْتَقِيَ مِنَ الظَّنِّ إِلَى الْيَقِينِ الْعِلْمِيِّ، لأَنَّ الرَّسُولَ الَّذِي أَتَاهُمْ لَمْ يَفِدْ خَبَرُهُ إِلَى الظَّنِّ، وَلِقَاءُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَفَادَ الْيَقِينَ.
আমি বলছি: এর মধ্যে এমন একটি পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে যা অস্পষ্ট নয়। কেননা ওলামায়ে কেরাম এই দিমাম সম্পর্কে মতভেদ করেছেন যে, তিনি কি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আসার আগেই ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন নাকি করেননি? যদি আমরা বলি যে, তিনি তখনো ইসলাম গ্রহণ করেননি—যেমনটি আবু দাউদ পছন্দ করেছেন এবং তাঁর সুনানে এ বিষয়ে ‘মসজিদে মুশরিকের প্রবেশ’ শিরোনামে অনুচ্ছেদ রচনা করেছেন—তাহলে এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এটি (তাঁর আগমন) উচ্চতর সনদ অন্বেষণের জন্য ছিল না; বরং তাঁর কাছে আসা দূতের কথার ব্যাপারে তিনি সন্দিহান ছিলেন। ফলে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে সফর করেন যাতে বিষয়টি সুনিশ্চিত করতে পারেন এবং তাঁর অবস্থা থেকে এমন কিছু প্রত্যক্ষ করেন যার মাধ্যমে তাঁর সত্যতা সম্পর্কে অকাট্য জ্ঞান অর্জিত হয়। আর এ কারণেই তিনি তাঁর কথার শুরুতে বলেছিলেন: "আপনার প্রেরিত দূত আমাদের কাছে দাবি করেছে যে, আপনি দাবি করেন যে আল্লাহ আপনাকে পাঠিয়েছেন।" কেননা বহু ভাষাবিদের মতে ‘যা’ম’ (দাবি করা) শব্দটি এমন বিষয়ের অভিব্যক্তি যা মিথ্যার পরিচায়ক হতে পারে; যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "কাফেররা দাবি করে যে, তারা কখনোই পুনরুত্থিত হবে না।" [আত-তাগাবুন: ৭]
আর যদি আমরা বলি যে, দিমাম তাঁর এই আগমনের পূর্বেই ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন এবং বিশ্বাস স্থাপন করেছিলেন, তবুও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট তাঁর এই আসা ইসনাদের উচ্চতা অন্বেষণের জন্য ছিল না; বরং তা ছিল ধারণা থেকে ইলমী একিনের (সুনিশ্চিত জ্ঞান) স্তরে উন্নীত হওয়ার জন্য। কেননা তাঁদের কাছে যে দূত গিয়েছিলেন তাঁর সংবাদ কেবল ধারণাই প্রদান করেছিল, আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সরাসরি সাক্ষাৎ একিন বা সুনিশ্চিত বিশ্বাস প্রদান করেছে।
(খণ্ড: ১)
বুগয়াতুল মুলতামিস ফী সিবাইয়্যাতি হাদীছিল ইমাম মালিক বিন আনাস
(পৃষ্ঠা: ٤٥)
وَكَذَلِكَ مَا يُحْتَجُّ بِهِ مِنْ رِحْلَةِ جَمَاعَةٍ مِنَ الصَّحَابَةِ رضي الله عنهم وَالتَّابِعِينَ فِي سَمَاعِ أَحَادِيثَ مُعَيَّنَةٍ إِلَى الْبِلادِ مِمَّا يَطُولُ فِي هَذَا الْمَوْضِعِ سِيَاقُهَا، فَلا دَلِيلَ فِيهِ أَيْضًا، لِمَا قَدَّمْنَاهُ مِنْ جَوَازِ أَنْ تَكُونَ تِلْكَ الأَحَادِيثُ لَمْ تَتَّصِلْ مِنْ كُلِّ رَجُلٍ نِسْبَتُهَا مِنْ جِهَةٍ صَحِيحَةٍ، فَكَانَتِ الرِّحْلَةُ لِتَحْصِيلِهَا لا لِلْعُلُوِّ فِيهَا.
نَعَمْ لا رَيْبَ فِي اتِّفَاقِ أَئِمَّةِ الْحَدِيثِ قَدِيمًا وَحَدِيثًا عَلَى الرِّحْلَةِ إِلَى مِنْ عِنْدِهِ الإِسْنَادِ الْعَالِي، وَإِنْ كَانَ قَدْ حَصَلَ لَهُمْ ذَلِكَ بِنُزُولٍ مِمَّنْ سَمِعَهُ مِنَ الشَّيْخِ الَّذِي يَرْحَلُ إِلَيْهِ، وَهَذَا أَمْرٌ مَعْلُومٌ عَلَى الْجُمْلَةِ مِنْ عَمَلِهِمْ وَبِهِ يَسْتَدِلُّ أَيْضًا لِتَرْجِيحِ الإِسْنَادِ الْعَالِي مَعَ مَا قَدَّمْنَاهُ مِنْ أَنَّ ذَلِكَ يَتَضَمَّنُ تَنْقِيصَ جِهَاتِ الْخَلَلِ فِي الإِسْنَادِ، فَإِنَّهُ كَافٍ فِي تَرْجِيحِ الْعُلُوِّ وَاللَّهُ أَعْلَمُ.
فَصْلٌذَكَرَ الْعَلامَةُ الْحَافِظُ أَبُو عَمْرٍو عُثْمَانُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الصَّلاحِ رحمه الله فِي كِتَابِهِ عُلُومِ الْحَدِيثِ، وَقَدْ قَرَأْتُهُ بِكَمَالِهِ عَلَى أَبِي عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدِ بْنِ يُوسُفَ الدِّمَشْقِيِّ بِسَمَاعِهِ مِنْ مُصَنَّفِهِ حُضُورًا فِي الْخَامِسَةِ: أَنَّ عُلُوَّ الْحَدِيثِ يَنْقَسِمُ عَلَى خَمْسَةِ أَقْسَامٍ: أَوَّلُهَا: الْقُرْبُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِإِسْنَادٍ نَظِيفٍ غَيْرِ ضَعِيفٍ، وَهُوَ أَجَلُّ أَنْوَاعِهِ، وَهُوَ الْمُرَادُ بِقَوْلِ مُحَمَّدِ بْنِ أَسْلَمَ الطُّوسِيِّ الَّذِي تَقَدَّمَ: قُرْبُ الإِسْنَادِ قُرْبَةٌ إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ.
وَثَانِيهَا: الْقُرْبُ مِنْ إِمَامٍ مِنْ أَئِمَّةِ الْحَدِيثِ كَمَالِكٍ وَشُعْبَةَ وَسُفْيَانَ وَالْحَمَّادَيْنِ وَأَمْثَالِهِمْ، وَإِنْ كَثُرَ الْعَدَدُ مَا بَيْنَ ذَلِكَ الإِمَامِ وَبَيْنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، وَهُوَ الَّذِي اعْتَبَرَهُ الْحَاكِمُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مِنَ الْعُلُوِّ، وَفِي كَلامِهِ إِشْعَارٌ بِأَنَّهُ لا يَعْتَبِرُ غَيْرَ هَذَا النَّوْعِ، وَلَكِنَّهُ مُتَأَوِّلٌ.
একইভাবে সাহাবী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) ও তাবিঈদের এক দলের নির্দিষ্ট কিছু হাদীস শ্রবণের জন্য বিভিন্ন জনপদে সফরের বিষয়ে যা দিয়ে দলিল পেশ করা হয়, যার বিবরণ এই স্থানে দীর্ঘ হবে, তাতেও কোনো দলিল নেই। কারণ যা আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি যে, সম্ভবত সেই হাদীসগুলো প্রতিটি ব্যক্তির পক্ষ থেকে সহীহ সূত্রে তাদের কাছে পৌঁছেনি। তাই সফর ছিল হাদীসগুলো অর্জনের জন্য, সনদের উচ্চতার (উলু) জন্য নয়।
হ্যাঁ, প্রাচীন ও আধুনিক হাদীস বিশারদগণ যে উচ্চতর সনদের অধিকারীর কাছে সফরের ব্যাপারে একমত, তাতে কোনো সন্দেহ নেই; যদিও তারা সেই শাইখের কাছ থেকে শ্রবণকারী অন্য কারও মাধ্যমে নিম্নতর সনদে তা লাভ করে থাকেন। এটি তাদের কর্মপদ্ধতি থেকে সাধারণভাবে জানা যায় এবং এর মাধ্যমেই উচ্চতর সনদকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ব্যাপারে দলিল পেশ করা হয়। এর সাথে যা আমরা আগে উল্লেখ করেছি যে, এটি সনদে ত্রুটির দিকগুলোকে হ্রাস করে। এটি উচ্চতাকে প্রাধান্য দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। আর আল্লাহ সবচেয়ে ভালো জানেন।
পরিচ্ছেদআল্লামা হাফিয আবু আমর উসমান ইবনে আবদুর রহমান ইবনুস সালাহ (রাহিমাহুল্লাহ) তার উলুমুল হাদীস গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন—যা আমি পূর্ণাঙ্গভাবে আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আদ-দিমাশকির কাছে পাঠ করেছি, যিনি লেখকের কাছে উপস্থিত থেকে পঞ্চম বছরে এটি শুনেছেন—হাদীসের উচ্চতা পাঁচ ভাগে বিভক্ত। প্রথমটি হলো: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নৈকট্য, যা স্বচ্ছ এবং দুর্বল নয় এমন সনদের মাধ্যমে অর্জিত হয়। এটি উচ্চতার সর্বোত্তম প্রকার। আর মুহাম্মদ ইবনে আসলাম আত-তুসির পূর্বে উল্লেখিত উক্তিটির উদ্দেশ্যও এটিই: "সনদের নৈকট্য হলো আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নৈকট্য।"
দ্বিতীয়টি হলো: হাদীসের কোনো ইমামের নৈকট্য, যেমন মালিক, শু'বা, সুফিয়ান, দুই হাম্মাদ এবং তাদের ন্যায় ব্যক্তিবর্গ; যদিও সেই ইমাম এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মাঝে বর্ণনাকারীর সংখ্যা অনেক হয়। এটিকেই হাকিম আবু আবদুল্লাহ উচ্চতা হিসেবে গণ্য করেছেন এবং তার বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে তিনি এই প্রকার ব্যতীত অন্য কিছুকে গণ্য করেন না, তবে এটি ব্যাখ্যার অবকাশ রাখে।
(খণ্ড: ১)
বুগয়াতুল মুলতামিস ফী সিবাইয়্যাতি হাদীছিল ইমাম মালিক বিন আনাস
(পৃষ্ঠা: ٤٦)
وَثَالِثُهَا: الْعُلُوُّ بِالنِّسْبَةِ إِلَى أَئِمَّةِ الْحَدِيثِ الْمُصَنِّفِينَ الْكُتُبَ كَالصَّحِيحَيْنِ وَالسُّنَنِ الأَرْبَعَةِ وَنَحْوِهِمْ كَالْمُصَافَحَةِ وَالْمُوَافَقَةِ وَالْبَدَلِ وَغَيْرِ ذَلِكَ مِنْ مُصْطَلَحَاتِهِمْ.
وَرَابِعُهَا: الْعُلُوُّ الْمُسْتَفَادُ مِنْ تَقَدُّمِ وَفَاةِ الرُّوَاةِ لِلْحَدِيثِ.
وَخَامِسُهَا: اعْتِبَارُ تَقَدُّمِ السَّمَاعِ.
وَلا شَكَّ أَنَّهُ لَمْ يُرِدْ أَنَّ اجْتِمَاعَ هَذَا الأَنْوَاعِ كُلِّهَا فِي حَدِيثٍ شَرْطٌ لِعُلُوِّهِ، بَلْ كُلُّ وَاحِدٍ مِنْهَا كَافٍ فِي تَحْصِيلِ الْعُلُوِّ، وَلا رَيْبَ فِي أَنَّهُ إِذَا اجْتَمَعَتْ كُلُّهَا فِي سَنَدٍ لِحَدِيثٍ كَانَ حَائِزًا جَمِيعَ مَرَاتِبِ الْعُلُوِّ، مِثْلَ الْحَدِيثِ الَّذِي:
أَخْبَرَنَاهُ أَبُو الْفِدَاءِ إِسْمَاعِيلُ بْنُ يُوسُفَ بْنِ مَكْتُومِ بْنِ أَحْمَدَ الْقَيْسِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ سَنَةَ عَشْرَةٍ وَسَبْعِ مِائَةٍ ، قَالَ: أنا أَبُو الْمُنَجَّا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ عَلِيِّ بْنِ زَيْدِ بْنِ اللُّتِّيِّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ، وَأَنَا أَسْمَعُ فِي ذِي الْقَعْدَةِ سَنَةَ ثَلاثٍ وَثَلاثِينَ وَسِتٍّ مِائَةٍ ، قَالَ: أنا أَبُو الْوَقْتِ عَبْدُ الأَوَّلِ بْنُ عِيسَى بْنِ شُعَيْبٍ الصُّوفِيُّ، سَمَاعًا عَلَيْهِ فِي شَعْبَانَ سَنَةَ ثَلاثٍ وَخَمْسِينَ وَخَمْسِ مِائَةٍ ، قَالَ: أنا أَبُو عَاصِمٍ الْفُضَيْلُ بْنُ يَحْيَى الْفُضَيْلِيُّ فِي ذِي الْحَجَّةِ سَنَةَ تِسْعٍ وَسِتِّينَ وَأَرْبَعِ مِائَةٍ ، قَالَ: أنا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي شُرَيْحٍ الأَنْصَارِيُّ، وَكَانَتْ وَفَاتُهُ فِي صَفَرٍ سَنَةَ اثْنَتَيْنِ وَتِسْعِينَ وَثَلاثِ مِائَةٍ ، قَالَ: أنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْبَغَوِيُّ الْمَنِيعِيُّ أَبُو الْقَاسِمِ، وَكَانَتْ وَفَاتُهُ سَنَةَ سَبْعَ عَشْرَةَ وَثَلاثِ مِائَةٍ ، قَالَ: ثنا عَلِيُّ بْنُ الْجَعْدِ الْجَوْهَرِيُّ، وَكَانَتْ وَفَاتُهُ فِي رَجَبٍ سَنَةَ ثَلاثٍ وَمِائَتَيْنِ ، قَالَ: أنا شُعْبَةُ بْنُ الْحَجَّاجِ.
قُلْتُ: وَقَدْ مَاتَ سَنَةَ سِتِّينَ وَمِائَةٍ، وَعَلِيُّ بْنُ الْجَعْدِ آخِرُ مَنْ رَوَى عَنْهُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ ، قَالَ: سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ رضي الله عنهما ، يَقُولُ: اسْتَأْذَنْتُ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ، فَقَالَ: مَنْ هَذَا؟ ، فَقُلْتُ: أَنَا، فَقَالَ: أَنَا أَنَا ، كَأَنَّهُ كَرِهَهُ.
তৃতীয় প্রকার: সহীহাইন, সুনান আরবাআ ও অনুরূপ কিতাব সংকলনকারী হাদীসশাস্ত্রের ইমামদের সাপেক্ষে উচ্চতা (উলু), যেমন: মুসাফাহাহ, মুওয়াফাক্বাহ, বাদাল এবং তাদের অন্যান্য পরিভাষাসমূহ।
চতুর্থ প্রকার: হাদীস বর্ণনাকারীদের মৃত্যুর অগ্রবর্তিতা থেকে অর্জিত উচ্চতা।
পঞ্চম প্রকার: শ্রবণ (সামা') অগ্রবর্তী হওয়ার বিবেচনা।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তিনি (গ্রন্থকার) এটি বোঝাতে চাননি যে, কোনো হাদীসে এই সবগুলি প্রকারের একত্র হওয়া তার উচ্চতার (উলু) জন্য শর্ত; বরং এর প্রতিটি প্রকারই উচ্চতা অর্জনের জন্য যথেষ্ট। আর এতে কোনো সংশয় নেই যে, যদি কোনো হাদীসের সনদে এর সবগুলি একত্র হয়, তবে তা উচ্চতার সকল স্তর লাভকারী হিসেবে গণ্য হবে। যেমন সেই হাদীসটি যা:
আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল ফিদা ইসমাইল ইবনে ইউসুফ ইবনে মাকতুম ইবনে আহমাদ আল-কাইসী, তার নিকট পাঠকালে আমি শ্রবণরত ছিলাম ৭১০ হিজরী সনে। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল মুনাজ্জা আব্দুল্লাহ ইবনে উমর ইবনে আলী ইবনে যাইদ ইবনে আল-লুত্তি, তার নিকট পাঠকালে যুল-কাদাহ মাসে ৬৩৩ হিজরী সনে আমি শ্রবণরত ছিলাম। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-ওয়াকত আব্দুল আউয়াল ইবনে ঈসা ইবনে শুয়াইব আস-সূফী, ৫৫৩ হিজরী সনের শাবান মাসে তার নিকট শ্রবণের মাধ্যমে। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আসিম আল-ফুদ্বাইল ইবনে ইয়াহইয়া আল-ফুদ্বাইলী, ৪৬৯ হিজরী সনের যুল-হাজ্জ মাসে। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুহাম্মাদ আব্দুর রহমান ইবনে আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবি শুরাইহ আল-আনসারী, এবং তার মৃত্যু হয়েছিল ৩৯২ হিজরী সনের সফর মাসে। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-কাসিম আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ আল-বাগাবী আল-মানিয়ী, এবং তার মৃত্যু হয়েছিল ৩১৭ হিজরী সনে। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী ইবনে আল-জাদ আল-জাওহারী, এবং তার মৃত্যু হয়েছিল ২০৩ হিজরী সনের রজব মাসে। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শু'বাহ ইবনে আল-হাজ্জাজ।
আমি (গ্রন্থকার) বলছি: তিনি ১৬০ হিজরী সনে মৃত্যুবরণ করেছেন এবং আলী ইবনে আল-জাদ ছিলেন তাঁর থেকে বর্ণনা করা সর্বশেষ ব্যক্তি। তিনি মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (আল্লাহ তাদের উভয়ের ওপর সন্তুষ্ট হোন)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি নবী (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর নিকট প্রবেশের অনুমতি চাইলাম। তিনি বললেন: "কে?" আমি বললাম: "আমি।" তখন তিনি বললেন: "আমি! আমি!", যেন তিনি এটি অপছন্দ করলেন।
(খণ্ড: ১)
বুগয়াতুল মুলতামিস ফী সিবাইয়্যাতি হাদীছিল ইমাম মালিক বিন আনাস
(পৃষ্ঠা: ٤٧)
فَهَذَا الْحَدِيثُ مَعَ صِحَّةِ سَنَدِهِ وَشُهْرَةِ رِجَالِهِ بِالثِّقَةِ وَالأَمَانَةِ جَامِعٌ لأَنْوَاعِ الْعُلُوِّ كُلِّهَا.
أَمَّا تَقَدُّمُ وَفَاةِ رُوَاتِهِ، وَقَدِمَ سَمَاعُ كُلِّ مِنْهُمْ مِنَ الآخَرِ فَقَدْ أَشَرْتُ إِلَيْهِ فِي السَّنَدِ كَمَا تَرَاهُ.
وَأَمَّا قِلَّةُ عَدَدِ رُوَاتِهِ فَهُوَ شَيْءٌ وَقَعَ لِي بِالنِّسْبَةِ إِلَى الْعَدَدِ بَيْنِي وَبَيْنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، لأَنَّهُ فِيهِ عَشَرَةُ رِجَالٍ ثِقَاتٌ، وَلَمْ يَقَعْ لِي أَقَلُّ مِنْ ذَلِكَ إِلا فِي نَادِرٍ مِنَ الْحَدِيث لا يَكَادُ يَصِحُّ، فَأَمَّا مَعَ الصِّحَّةِ فَبِهَذَا الْعَدَدِ.
وَأَمَّا عُلُوُّهُ بِالنِّسْبَةِ إِلَى أَئِمَّةِ الْكُتُبِ السِّتَّةِ فَقَدْ أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ عَنْ أَبِي الْوَلِيدِ عَنْ شُعْبَةَ.
فَوَقَعَ لِي بَدَلا لَهُ عَالِيًا، كَأَنِّي سَمِعْتُهُ مِنْ شَيْخِ شُيُوخِي فِي طَرِيقِ الصَّحِيحِ.
وَرَوَاهُ مُسْلِمٌ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ إِدْرِيسَ ، وَعَنْ يَحْيَى بْنِ يَحْيَى.
وَعَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ أَبِي شَيْبَةَ كِلاهُمَا عَنْ وَكِيعِ بْنِ الْجَرَّاحِ.
وَعَنْ إِسْحَاقَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ النَّضْرِ بْنِ شُمَيْلٍ وَأَبِي عَامِرٍ الْعَقَدِيِّ.
وَعَنْ مُحَمَّدِ بْنِ مُثَنَّى، عَنْ وَهْبِ بْنِ جَرِيرٍ.
وَعَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ بِشْرِ بْنِ الْحَكَمِ، عَنْ بَهْزِ بْنِ أَسَدٍ.
وَأَخْرَجَهُ أَبُو دَاوُد فِي سُنَنِهِ عَنْ مُسَدَّدِ بْنِ مُسَرْهَدٍ، عَنْ بِشْرِ بْنِ الْمُفَضَّلِ.
সুতরাং এই হাদিসটি এর সনদের বিশুদ্ধতা এবং এর বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্যতা ও আমানতদারিতার প্রসিদ্ধির পাশাপাশি সব ধরণের উচ্চমর্যাদার (উলুও) সমষ্টি।
আর এর বর্ণনাকারীদের মৃত্যুর প্রাচীনতা এবং তাদের একে অপরের থেকে শ্রবণের প্রাচীনতার বিষয়টি আমি সনদে উল্লেখ করেছি যেমনটি আপনি দেখতে পাচ্ছেন।
আর বর্ণনাকারীদের সংখ্যার স্বল্পতার বিষয়টি হলো, এটি আমার এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মধ্যবর্তী বর্ণনাকারীদের সংখ্যার দিক থেকে আমার জন্য অর্জিত হয়েছে। কারণ এতে দশজন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী রয়েছেন। এর চেয়ে কম সংখ্যক বর্ণনাকারী আমার কাছে খুব কমই এসেছে যা বিশুদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা রাখে না; তবে বিশুদ্ধতার বিচারে এই সংখ্যাটিই বিদ্যমান।
আর কুতুবে সিত্তাহর ইমামদের তুলনায় এর উচ্চমর্যাদা (উলুও) হলো, ইমাম বুখারি এটি আবুল ওয়ালিদ থেকে এবং তিনি শু'বাহ থেকে বর্ণনা করেছেন।
ফলে এটি আমার জন্য উচ্চমানের একটি স্থলাভিষিক্ত (বাদাল) সনদ হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে, যেন আমি এটি সহিহ গ্রন্থের সূত্রে আমার শায়খদের শায়খের কাছ থেকে সরাসরি শুনেছি।
আর ইমাম মুসলিম এটি মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন নুমাইর থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন ইদরিস থেকে এবং ইয়াহইয়া বিন ইয়াহইয়া থেকে বর্ণনা করেছেন।
আর আবু বকর বিন আবি শায়বা থেকে, তারা উভয়ই ওয়াকি' বিন জাররাহ থেকে বর্ণনা করেছেন।
আর ইসহাক বিন ইবরাহিম থেকে, তিনি নজর বিন শুমাইল ও আবু আমির আল-আকাদি থেকে বর্ণনা করেছেন।
আর মুহাম্মদ বিন মুসান্না থেকে, তিনি ওয়াহাব বিন জারীর থেকে বর্ণনা করেছেন।
আর আবদুর রহমান বিন বিশর বিন আল-হাকাম থেকে, তিনি বাহয বিন আসাদ থেকে বর্ণনা করেছেন।
আর ইমাম আবু দাউদ তাঁর সুনান গ্রন্থে এটি মুসাদ্দাদ বিন মুসারহাদ থেকে এবং তিনি বিশর বিন মুফাদ্দাল থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
বুগয়াতুল মুলতামিস ফী সিবাইয়্যাতি হাদীছিল ইমাম মালিক বিন আনাস
(পৃষ্ঠা: ٤٨)
وَرَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ عَنْ سُوَيْدِ بْنِ نَصْرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُبَارَكِ.
وَأَخْرَجَهُ النَّسَائِيُّ عَنْ حُمَيْدِ بْنِ مَسْعَدَةَ، عَنْ بِشْرِ بْنِ الْفَضْلِ.
وَرَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ أَبِي شَيْبَةَ، عَنْ وَكِيعِ بْنِ الْجَرَّاحِ.
ثَمَانِيَتُهُمْ عَنْ شُعْبَةَ بْنِ الْحَجَّاجِ.
فَوَقَعَ لِي عَالِيًا فِي هَذِهِ الرِّوَايَةِ عَمَّا لَوْ رَوَيْتُ الْحَدِيثَ مِنْ جِهَتِهِمْ بِثَلاثَةِ رِجَالٍ، فَكَأَنِّي سَمِعْتُهُ مِنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ الْفُرَاوِيِّ رَاوِي صَحِيحِ مُسْلِمٍ، وَكَانَتْ وَفَاتُهُ سَنَةَ ثَلاثِينَ وَخَمْسِ مِائَةٍ.
وَمِنْ أَبِي الْفَتْحِ مُفْلِحٍ الرُّومِيِّ رَاوِي سُنَنَ أَبِي دَاوُدَ، وَمَاتَ سَنَةَ سَبْعٍ وَثَلاثِينَ وَخَمْسِ مِائَةٍ
وَمِنْ أَبِي الْفَتْحِ الْكَرُوخِيِّ رَاوِي التِّرْمِذِيِّ، وَمَاتَ سَنَةَ ثَمَانٍ وَأَرْبَعِينَ وَخَمْسِ مِائَةٍ.
وَمِنْ أَبِي زُرْعَةَ الْمَقْدِسِيِّ رَاوِي سُنَنِ النَّسَائِيِّ وَسُنَنِ ابْنِ مَاجَهْ، وَقَدْ مَاتَ سَنَةَ سِتٍّ وَخَمْسِينَ وَخَمْسِ مِائَةٍ.
وَأَمَّا عُلُوُّهُ بِالنِّسْبَةِ إِلَى بَعْضِ الأَئِمَّةِ الْكِبَارِ فَلأَنَّ شُعْبَةَ بْنَ الْحَجَّاجِ مِنْ كِبَارِ الأَئِمَّةِ الَّذِينَ رَوَى الأَئِمَّةُ السِّتَّةُ عَنْ أَصْحَابِهِمْ، وَلَمْ يَقَعْ حَدِيثُهُ بِعُلُوٍّ إِلا فِي كِتَابِ الْبُخَارِيِّ وَسُنَنِ أَبِي دَاوُدَ، فَبَيْنَهُمَا وَبَيْنَهُ فِي كَثِيرٍ مِنَ الأَحَادِيثِ رَجُلٌ وَاحِدٌ.
ইমাম তিরমিযী এটি সুওয়াইদ ইবনে নাসর থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক থেকে বর্ণনা করেছেন।
ইমাম নাসাঈ এটি হুমাইদ ইবনে মাসআদাহ থেকে, তিনি বিশর ইবনুল ফাযল থেকে বর্ণনা করেছেন।
ইমাম ইবনে মাজাহ এটি আবু বকর ইবনে আবী শায়বাহ থেকে, তিনি ওয়াকী ইবনুল জাররাহ থেকে বর্ণনা করেছেন।
তাঁরা আটজনই শু’বাহ ইবনুল হাজ্জাজ থেকে বর্ণনা করেছেন।
সুতরাং এই বর্ণনায় আমার জন্য এমন উচ্চ সনদ অর্জিত হয়েছে যা তাঁদের দিক থেকে হাদিসটি বর্ণনা করার তুলনায় তিন জন বর্ণনাকারী কমিয়ে দেয়। ফলে মনে হচ্ছে যেন আমি এটি সহীহ মুসলিমের বর্ণনাকারী আবু আবদুল্লাহ আল-ফুরাভী থেকে শুনেছি, যাঁর মৃত্যু হয়েছিল ৫৩০ হিজরী সনে।
এবং যেন সুনানে আবু দাউদের বর্ণনাকারী আবু আল-ফাতহ মুফলিহ আর-রূমী থেকে শুনেছি, যিনি ৫৩৭ হিজরী সনে মৃত্যুবরণ করেন।
এবং যেন তিরমিযীর বর্ণনাকারী আবু আল-ফাতহ আল-কারূখী থেকে শুনেছি, যিনি ৫৪৮ হিজরী সনে মৃত্যুবরণ করেন।
এবং যেন সুনানে নাসাঈ ও সুনানে ইবনে মাজাহর বর্ণনাকারী আবু যুরআ আল-মাকদিসী থেকে শুনেছি, যিনি ৫৫৬ হিজরী সনে মৃত্যুবরণ করেন।
আর কতিপয় বড় ইমামের তুলনায় এর উচ্চ সনদ হওয়ার কারণ এই যে, শু’বাহ ইবনুল হাজ্জাজ হলেন সেই সকল মহান ইমামদের অন্তর্ভুক্ত যাঁদের থেকে ছয় ইমাম (কুতুবে সিত্তাহর সংকলকগণ) তাঁদের শাইখদের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন। আর তাঁর হাদিস কেবল বুখারী এবং সুনানে আবু দাউদ ছাড়া অন্য কোথাও এমন উচ্চ সনদে পাওয়া যায় না; কারণ অনেক হাদিসেই তাঁদের উভয়ের এবং তাঁর মাঝখানে মাত্র একজন বর্ণনাকারী রয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
বুগয়াতুল মুলতামিস ফী সিবাইয়্যাতি হাদীছিল ইমাম মালিক বিন আনাস
(পৃষ্ঠা: ٤٩)
وَأَمَّا بَقِيَّةُ الْجَمَاعَةِ فَأَقَلُّ مَا بَيْنَهُمْ وَبَيْنَهُ اثْنَانِ، وَهُوَ مُتَقَدِّمُ الْوَفَاةِ كَمَا سَبَقَ فَالْحَدِيثُ نِهَايَةُ فِي الْعُلُوِّ، وَلَمْ يَقَعْ لِي مِثْلُهُ مِنْ حَدِيثِ شُعْبَةَ إِلا حَدِيثَانِ آخَرَانِ بِهَذَا السَّنَدِ مُتَّصِلا، لِعِزَّةِ الْعَالِي مِنْهُ، وَلَيْسَ وَاحِدٌ مِنْهُمَا جَامِعًا لأَنْوَاعِ الْعُلُوِّ مِثْلَ هَذَا الْحَدِيثِ.
وَلَكِنْ يَسَّرَ اللَّهُ تَعَالَى، وَلَهُ الْحَمْدُ وَالْمِنَّةُ بِأَحَادِيثِ كَثِيرَةٌ الْعَدَدِ مِثْلَهُ، وَقَرِيبٌ مِنْهُ مِنْ حَدِيثِ إِمَامِ دَارِ الْهِجْرَةِ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ الأَصْبَحِيِّ رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَيْهِ وَرِضْوَانُهُ، وَهُوَ مِمَّنْ يَفْتَخِرُ أَهْلُ هَذَا الشَّأْنِ بِعَالِي حَدِيثِهِ، وَلا شَكَّ أَنَّهُ الإِمَامُ الْمُقَدَّمُ عَلَى أَقْرَانِهِ فِي الْعِلْمِ وَالرِّوَايَةِ، وَإِنْ كَانَتْ وَفَاتُهُ تَأَخَّرَتْ عَنْ شُعْبَةَ وَسُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ، فَعِنْدَهُ أَحَادِيثُ أَعْلَى مِمَّا عِنْدَهُمَا عَنْ جَمَاعَةٍ لَمْ يَلْقَيَا وَاحِدًا مِنْهُمْ كَالزُّهْرِيِّ وَنَافِعٍ وَنَحْوِهِمَا، فَالْحَدِيثُ الَّذِي يَتَّفِقُ بَيْنَنَا وَبَيْنَهُ فِيهِ سَبْعَةُ رِجَالٍ ثِقَاتٌ يَكُونُ عَالِيًا جِدًّا، مَعَ مَا يَنْضَمُّ إِلَيْهِ مِنْ بَقِيَّةِ أَنْوَاعِ الْعُلُوِّ.
فَاسْتَخَرْتُ اللَّهَ تبارك وتعالى، وَسَأَلْتُهُ التَّوْفِيقَ، وَخَرَّجْتُ فِي هَذِهِ الأَجْزَاءِ مَا قَدَّرَ اللَّهُ تَعَالَى لِي مِنْ حَدِيثِهِ الْعَالِي، إِمَّا بِالسَّمَاعِ الْمُتَّصِلِ أفي طَرِيقِهِ إِجَازَة وَاحِدَة.
بَدَأْتُ أَوَّلا بِمَا هُوَ مُتَّصِلُ السَّمَاعِ، ثُمَّ ذَكَرْتُ بَعْدَهُ مَا فِي إِسْنَادِهِ إِجَازَةً.
وَمَجْمُوعُ ذَلِكَ يَزِيدُ عَلَى خَمْسِينَ حَدِيثًا، وَهِيَ لأَمْثَالِنَا عَزِيزَةُ الْوُقُوعِ.
وَبَدَأْتُ قَبْلَ ذَلِكَ كُلِّهِ بِتَرْجَمَةٍ مُخْتَصَرَةٍ لِلإِمَامِ مَالِكٍ رحمه الله وَذِكْرِ بَعْضِ شُيُوخِهِ الرُّوَاةِ عَنْهُ، وَيَسِيرٍ مِنْ مَنَاقِبِهِ، وَكَلامِ الأَئِمَّةِ فِي فَضَائِلِهِ، وَالطُّرُقِ الَّتِي وَقَعَ لِي بِهَا مُوَطَّأُهُ، ثُمَّ أَسُوقُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى بَعْدَهَا الأَحَادِيث عَلَى مَا تَقَدَّمَ، ذَاكِرًا عَلَيْهَا مَا قَدَّرَهُ اللَّهُ عز وجل وَيَسَّرَهُ مِنَ الْكَلامِ عَلَى إِسْنَادِهَا عَلَى وَجْهِ الاخْتِصَارِ، وَإِذَا ذُكِرَتِ الأَحَادِيثُ الَّتِي فِي طَرِيقِهَا إِجَازَةٌ أَتْبَعْتُهَا بِرِوَايَتِهَا بِالسَّمَاعِ الْمُتَّصِلِ مِنْ حَدِيثِ مَالِكٍ أَيْضًا، وَإِنْ كَانَ أَنْزَلَ طَرِيقًا مِنَ الأَوَّلِ،
আর জামাতের অবশিষ্টাংশের ক্ষেত্রে, তাদের এবং তাঁর মাঝে সর্বনিম্ন দুইজন বর্ণনাকারী রয়েছে। ইতিপূর্বে যেমন অতিবাহিত হয়েছে যে তাঁর মৃত্যু আগে হয়েছে, তাই এই হাদিসটি উচ্চতার (উলুব্ব) চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এই সনদে মুত্তাসিল (নিরবচ্ছিন্ন) হিসেবে শু’বাহর হাদিস থেকে এর অনুরূপ কেবল আর দুইটি হাদিস আমার হস্তগত হয়েছে, কারণ তাঁর থেকে বর্ণিত এ ধরনের উচ্চ সনদ দুষ্প্রাপ্য। তবে সেগুলোর কোনটিই এই হাদিসটির মতো উচ্চতার সকল প্রকারকে একত্রে ধারণ করেনি।
তবে মহান আল্লাহ তাআলা সহজ করে দিয়েছেন—সকল প্রশংসা ও অনুগ্রহ তাঁরই—এর অনুরূপ এবং এর নিকটবর্তী অনেক সংখ্যক হাদিস যা দারুল হিজরাতের ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মালিক ইবনে আনাস আল-আসবাহি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওয়া রিদওয়ানুহু) থেকে বর্ণিত। তিনি এমন ব্যক্তিত্ব যাঁদের উচ্চ সনদসম্পন্ন হাদিস নিয়ে এই শাস্ত্রের পণ্ডিতগণ গর্ব করেন। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ইলম ও বর্ণনার ক্ষেত্রে তিনি তাঁর সমসাময়িকদের মধ্যে অগ্রগণ্য ইমাম। যদিও তাঁর ইন্তেকাল শু’বাহ ও সুফিয়ান সাওরির পরে হয়েছে, তবুও তাঁর কাছে এমন এক জামাতের সূত্রে তাঁদের দুজনের চেয়েও উচ্চতর সনদসম্পন্ন হাদিস রয়েছে যাঁদের কারো সাথেই ঐ দুজনের সাক্ষাৎ ঘটেনি, যেমন: জুহরি, নাফে এবং তাঁদের অনুরূপ ব্যক্তিবর্গ। সুতরাং আমাদের এবং তাঁর মাঝে যে হাদিসে সাতজন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী থাকেন, তা অত্যন্ত উচ্চপর্যায়ের (আলি) হয়ে থাকে, সাথে উচ্চতার অন্যান্য প্রকারসমূহ তো এতে যুক্ত হয়ই।
তাই আমি বরকতময় ও মহান আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করেছি এবং তাঁর কাছে তাওফিক প্রার্থনা করেছি। এরপর এই জুজসমূহে (খন্ডগুলোতে) তাঁর সেই উচ্চ সনদসম্পন্ন হাদিসগুলো সংকলন করেছি যা মহান আল্লাহ আমার জন্য নির্ধারিত করেছেন, চাই তা সরাসরি শ্রবণের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন (মুত্তাসিল) হোক অথবা তার সনদে একটি ইজাজত থাকুক।
আমি প্রথমে সরাসরি শ্রবণের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন সনদগুলো দিয়ে শুরু করেছি, তারপর যার সনদে ইজাজত রয়েছে সেগুলো উল্লেখ করেছি।
এর মোট সংখ্যা পঞ্চাশটিরও বেশি হাদিস, যা আমাদের মতো লোকেদের জন্য পাওয়া দুষ্প্রাপ্য।
এসবের আগে আমি ইমাম মালিক (রহিমাহুল্লাহ)-এর একটি সংক্ষিপ্ত জীবনী, তাঁর থেকে বর্ণনাকারী কিছু উস্তাদের কথা, তাঁর সামান্য কিছু মর্যাদা, তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে ইমামগণের বক্তব্য এবং যে সকল সূত্রে তাঁর মুওয়াত্তা গ্রন্থটি আমার নিকট পৌঁছেছে তা উল্লেখ করে শুরু করেছি। এরপর ইনশাআল্লাহ তাআলা পূর্বোল্লিখিত নিয়ম অনুযায়ী হাদিসসমূহ উপস্থাপন করব এবং সেগুলোর সনদের ব্যাপারে মহান আল্লাহ যা তাওফিক দিয়েছেন ও সহজ করেছেন তা সংক্ষেপে আলোচনা করব। আর যখন এমন কোনো হাদিস উল্লেখ করা হবে যার সূত্রে ইজাজত রয়েছে, তখন ইমাম মালিকের হাদিস থেকে সরাসরি শ্রবণের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন বর্ণনার মাধ্যমেও সেটি উল্লেখ করব, যদিও তা প্রথম সূত্রের তুলনায় নিম্নমানের সনদ হয়।
(খণ্ড: ১)
বুগয়াতুল মুলতামিস ফী সিবাইয়্যাতি হাদীছিল ইমাম মালিক বিন আনাস
(পৃষ্ঠা: ٥٠)
لِتَكْمُلَ بِهَا الْفَائِدَةُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى.
وَاللَّهُ تَعَالَى أَسْأَلَ أَنْ يَنْفَعَ بِذَلِكَ فِي الْحَالِ وَالْمآلِ، وَأَنْ يُوَفِّقَنَا لِصَالِحِ النِّيَّاتِ وَالأَعْمَالِ، وَأَنْ يُصَلِّيَ عَلَى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ وَآلِهِ وَصَحْبِهِ خَيْرِ صَحْبٍ وَآلٍ.
آخِرُ الْجُزْءِ الأَوَّلِ (مِنْ بُغْيَةِ الْمُلْتَمِسِ) فِي عَوَالِي حَدِيثِ الإِمَامِ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ، تَخْرِيجُ شَيْخِنَا صَلاحِ الدِّينِ خَلِيلِ بْنِ كيكَلْدِيِّ الْحَافِظِ الْعَلائِيِّ رحمه الله فِي شَهْرِ ذِي الْحَجَّةِ سَنَةَ ثَلاثٍ وَثَلاثِينَ وَسَبْعِ مِائَةٍ.
عَلِقَهُ بَعْدَ مَا سَمِعَهُ مِنْ مُخَرِّجِهِ الْفَقِيرُ إِلَى اللَّهِ عز وجل مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى الندرومِيُّ الْمَالِكِيِّ فِي رَمَضَانَ سَنَةَ اثْنَتَيْنِ وَخَمْسِينَ وَسَبْعِ مِائَةٍ.
যাতে এর মাধ্যমে উপকারিতা পূর্ণতা পায়, যদি মহান আল্লাহ চান।
আর আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এর দ্বারা বর্তমানে ও ভবিষ্যতে কল্যাণ দান করেন এবং আমাদের সৎ উদ্দেশ্য ও নেক আমলের তাওফিক দান করেন। আর তিনি যেন রহমত বর্ষণ করেন আমাদের নেতা মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সঙ্গীদের ওপর, যাঁরা সর্বোত্তম সঙ্গী ও পরিবার।
ইমাম মালিক ইবনে আনাসের সুউচ্চ সনদসমৃদ্ধ হাদিসসমূহ নিয়ে রচিত 'বুগইয়াতুল মুলতামিস'-এর প্রথম খণ্ডের সমাপ্তি। এটি আমাদের শাইখ হাফেজ সালাহুদ্দীন খলিল ইবনে কাইকালদি আল-আলাই (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) কর্তৃক সাতশ তেত্রিশ হিজরি সনের জিলহজ মাসে সংকলিত হয়েছে।
সংকলকের নিকট হতে এটি শ্রবণ করার পর লিপিবদ্ধ করেছেন পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত আল্লাহর মুখাপেক্ষী মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া আন-নাদরোমি আল-মালিকি, যা সাতশ বায়ান্ন হিজরি সনের রমজান মাসে সম্পন্ন হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
বুগয়াতুল মুলতামিস ফী সিবাইয়্যাতি হাদীছিল ইমাম মালিক বিন আনাস
(পৃষ্ঠা: ٥١)
الْجُزْءُ الثَّانِي (مِنْ بُغْيَةِ الْمُلْتَمِسِ) فِي سُبَاعِيَّاتِ حَدِيثِ الإِمَامِ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ
দ্বিতীয় খণ্ড (বুগইয়াতুল মুলতামিস থেকে): ইমাম মালিক বিন আনাস-এর সাত সূত্রীয় (সুবাঈয়াত) হাদিসসমূহ প্রসঙ্গে