(খণ্ড: ১)
হুদূদুল আলাম মিনাল মাশরিক ইলাল মাগরিব
(পৃষ্ঠা: -)
حدود العالم من المشرق الى المغرب (مؤلف حدود العالم من المشرق إلى المغرب)
القسم: البلدان والرحلات
الكتاب: حدود العالم من المشرق إلى المغرب
المؤلف: مجهول (توفي: بعد 372هـ)
محقق ومترجم الكتاب (عن الفارسية) : السيد يوسف الهادي
الناشر: الدار الثقافية للنشر، القاهرة
الطبعة: 1423 هـ
عدد الصفحات: 206
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
পূর্ব হতে পশ্চিম পর্যন্ত বিশ্বের সীমারেখা (পূর্ব হতে পশ্চিম পর্যন্ত বিশ্বের সীমারেখা গ্রন্থের লেখক)
বিভাগ: দেশসমূহ এবং ভ্রমণকাহিনী
বই: পূর্ব হতে পশ্চিম পর্যন্ত বিশ্বের সীমারেখা
লেখক: অজ্ঞাত (মৃত্যু: ৩৭২ হিজরীর পর)
গ্রন্থের গবেষক ও অনুবাদক (ফার্সি থেকে) : আস-সাইয়্যিদ ইউসুফ আল-হাদী
প্রকাশক: আদ-দারুস সাকাফিয়্যাহ লিন-নাশর, কায়রো
সংস্করণ: ১৪২৩ হিজরী
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২০৬
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
হুদূদুল আলাম মিনাল মাশরিক ইলাল মাগরিব
(পৃষ্ঠা: ৯)
مقدّمةكانت المصادفة وراء الكشف عن هذا الأثر المهم الذي وصفه بار تولد بقوله:" تكمن الأهمية الكبرى لهذا الأثر في احتوائه على مادة وفيرة عن بلاد الترك وعن مناطق آسيا الوسطى التى لم تخضع لسلطان المسلمين، ومادته في هذا الصدد تفوق من حيث الوفرة والتفصيل مادة جميع المصنفات الجغرافية العربية الأخرى الموجودة بين أيدينا" «1» .والذي قال عنه كراتشكوفسكي:" بالرغم من أنه مكتوب بالفارسية، إلا أنه يجدر بنا الوقوف عنده، لا لأنه وجد زعم يقول بأنه ترجم عن العربية في الأصل، بل أيضا لارتباطه الوثيق بالتراث العربي بحيث لا يكتمل الوصف العام للأدب الجغرافي دونه" «2» .فقد كلّف المستشرق الروسي النقيب أ. غ. تومانسكي (الميجر جنرال فيما بعد) صديقا له ساكنا بسمرقند بالبحث عن مخطوطة كتاب (ألوس أربعه ألوغ بيك) «3» . وبعد فترة كتب إليه هذا الصديق في 25/10/1892 أنه سعى خلال فترة إقامته ببخارى للعثور على كتاب ألوغ بيك ولم يوفق، إلا أنه عثر بدلا من ذلك على مخطوطة تشتمل على أربع رسائل هي: 1. رسالة صغيرة في الجغرافيا بعنوان جهان نامه من تأليف محمد بن نجيب بكران؛ 2.رسالة مختصرة في الموسيقى من تأليف" الأستاذ عجب الزمان بل أستاذ خراسان محمد بن محمود بن محمد النيسابوري"؛ 3. حدود العالم من المشرق إلى المغرب؛ 4. كتاب جامع العلوم لفخر الدين الرازي المتوفى سنة 606 هـ» .ولما كانت رسالة جهان نامه في الجغرافيا فلا بأس أن نعطي القارئ العربي فكرة عن مصادرها ذلك أنها بالفارسية. ذكر المؤلف في مقدمتها مصادره على النحو التالي:" مما وقع في يدي من مجاميع الزيجات القديمة والحديثة وكتب علم النجوم وقد قابلتها مع بعضها..
ভূমিকাএই গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শনটি আবিষ্কৃত হওয়ার পেছনে ছিল নিছক এক আকস্মিক ঘটনা। বার্টোল্ড একে এভাবে বর্ণনা করেছেন: "এই নিদর্শনের বিশাল গুরুত্ব নিহিত আছে তুর্কি ভূখণ্ড এবং মধ্য এশিয়ার সেই অঞ্চলগুলো সম্পর্কে এতে প্রচুর তথ্য থাকার মধ্যে, যা মুসলিম শাসনের অধীনে ছিল না। এই বিষয়ে এর তথ্যের প্রাচুর্য ও বিস্তারিত বর্ণনা আমাদের হাতে থাকা অন্য সকল আরবি ভৌগোলিক রচনার তথ্যকে ছাড়িয়ে যায়।" (১)।এর সম্পর্কে ক্রাচকভস্কি বলেছেন: "যদিও এটি ফারসিতে লিখিত, তবুও আমাদের এটি গভীরভাবে পর্যালোচনা করা উচিত; কেবল এই দাবির কারণে নয় যে এটি মূলত আরবি থেকে অনূদিত বলে ধারণা করা হয়, বরং আরবি ঐতিহ্যের সাথে এর গভীর সম্পর্কের কারণেও, যা ছাড়া ভৌগোলিক সাহিত্যের সাধারণ বর্ণনা পূর্ণতা পায় না।" (২)।রুশ প্রাচ্যবিদ ক্যাপ্টেন এ. জি. তুমানস্কি (পরবর্তীতে মেজর জেনারেল) সমরকন্দে বসবাসরত তার এক বন্ধুকে 'উলুস-ই আরবা'আ উলুগ বেগ' (৩) বইটির পাণ্ডুলিপি খোঁজার দায়িত্ব দেন। বেশ কিছুকাল পর, ১৮৯২ সালের ২৫শে অক্টোবর ঐ বন্ধু তাকে লিখে জানান যে, বুখারায় অবস্থানকালে তিনি উলুগ বেগের বইটি খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করেও সফল হননি; তবে তার পরিবর্তে তিনি একটি পাণ্ডুলিপি খুঁজে পেয়েছেন যাতে চারটি রিসালা রয়েছে: ১. মুহাম্মদ বিন নাজিব বকরান রচিত 'জাহান নামাহ' শিরোনামের ভূগোলের একটি ছোট রিসালা; ২.'উস্তাদ আজাবুজ জামান বরং উস্তাদ-ই খোরাসান মুহাম্মদ বিন মাহমুদ বিন মুহাম্মদ আন-নায়সাবুরি' রচিত সঙ্গীতের ওপর একটি সংক্ষিপ্ত রিসালা; ৩. পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত বিশ্বের সীমানা (হুদুদুল আলম মিনাল মাশরিক ইলাল মাগরিব); ৪. ৬০৬ হিজরিতে ইন্তেকালকারী ফখরুদ্দীন আল-রাজির 'জামি'উল উলুম' গ্রন্থ।যেহেতু ভূগোল বিষয়ক 'জাহান নামাহ' রিসালাটি ফারসি ভাষায় রচিত, তাই এর উৎসগুলো সম্পর্কে পাঠকদের একটি ধারণা দেওয়া সংগত হবে। লেখক এর ভূমিকায় তার উৎসগুলো নিম্নরূপ উল্লেখ করেছেন: "প্রাচীন ও আধুনিক যিজ (জ্যোতির্বিজ্ঞান সংক্রান্ত সারণী) এবং জ্যোতির্বিদ্যার কিতাবসমূহের যে সংকলনগুলো আমার হাতে এসেছে এবং যেগুলো আমি একে অপরের সাথে তুলনা করে দেখেছি..."
(খণ্ড: ১)
হুদূদুল আলাম মিনাল মাশরিক ইলাল মাগরিব
(পৃষ্ঠা: ১০)
وكذلك كتاب أشكال العالم لمحمد بن بحر الرهني، «1» وكتاب المسالك والممالك الذي ألفه عبد الله بن محمد بن خردادبه «2» ورحلة ناصر خسرو وغير ذلك وقارنتها جميعا ببعضها..ثم وجدت بعد ذلك بين مسودات الإمام شرف الدين المازي الطوسي رحمه الله الذي عاد من بلاد الروم، كراسة بخطه مثبت فيها بدقة أطوال المدن وعروضها وكذلك أطوال وعروض السواحل والبحار فرسخا ومواضع الجبال والبحار والجزر" «3» وآثار المتقدمين للبيروني (362- 440 هـ) وكامل الصناعة الطبية لعلي بن العباس المجوسي (438- 472 هـ) اللذين ذكرهما فى ص 24 و 75. وقد ورد في ختامها:" تمت الرسالة المسماة بجهان نامه على يدي أضعف عباد الله مسعود بن محمد بن مسعود الكرماني، في الثامن والعشرون (كذا) من شهر الله المبارك رمضان سنة ثلاث وستين وستمائة. قوبل مع النسخة المنتسخة منها وليست الصحيح بل السقيم" (؟!) . ومؤلف الكتاب كان حيا سنة 605 هـ وألف كتابه لآخر شاهات خوارزم السلطان محمد (596- 617 هـ) .أما كتابا جامع العلوم وحدود العالم فقد كتبهما ناسخ آخر وكما يلي: ورد في ختام جامع العلوم «4» :" وقع الفراغ من تحريره يوم الجمعة للسادس والعشرين من جمادى الأولى سنة ثماني وخمسين وستمائة على يدي أضعف عباد الله وأحقرهم أبو (كذا) المؤيد عبد القيوم بن الحسين بن علي". وورد في ختام حدود العالم الذي تمزق الجانب الأيمن من ورقته الأخيرة فبقي من السطر ما قبل الأخير:" الفقير عبد القيوم بن الحسين بن علي الفارسي"، ومن السطر الأخير:" سنة ست وخمسين وستمائة، والحمد لله رب العالمين".ويقع كتاب حدود العالم في 39 ورقة، ألّفه مؤلفه المجهول سنة 372 هـ وأهداه إلى" الأمير السيد الملك العادل أبي الحارث محمد بن أحمد مولى أمير المؤمنين أطال الله بقاءه"، كما ورد.
তেমনিভাবে মুহাম্মদ ইবনে বাহর আল-রাহনির 'আশকালুল আলম' (পৃথিবীর রূপরেখা) গ্রন্থ, আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে খোরদাদবেহ কর্তৃক রচিত 'আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক' (পথ ও রাজ্যসমূহ) গ্রন্থ, নাসির খসরুর ভ্রমণকাহিনী এবং এজাতীয় অন্যান্য গ্রন্থ; আমি এই সবগুলোকে একে অপরের সাথে তুলনা করেছি।অতঃপর আমি রুম দেশ (আনাতোলিয়া) থেকে ফিরে আসা ইমাম শরাফ উদ্দিন আল-মাজি আল-তুসি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)-এর পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যে তাঁর নিজ হাতের লেখা একটি খাতা খুঁজে পাই। সেখানে অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে শহরগুলোর দ্রাঘিমাংশ ও অক্ষাংশ, সেইসাথে উপকূল ও সমুদ্রের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ (ফরসাখ এককে), পাহাড়, সমুদ্র ও দ্বীপপুঞ্জের অবস্থান লিপিবদ্ধ ছিল। আরও ছিল আল-বিরুনির (৩৬২-৪৪০ হিজরি) 'আসারুল বাকিয়া' এবং আলি ইবনে আব্বাস আল-মাজুসির (৪৩৮-৪৭২ হিজরি) 'কামিলুস সিনাআতিত তিব্বিয়াহ' যা ২৪ ও ৭৫ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করা হয়েছে। এর সমাপ্তিতে বর্ণিত হয়েছে: "আল্লাহর দুর্বলতম বান্দা মাসউদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মাসউদ আল-কিরমানির হাতে ৬৬৩ হিজরি সালের বরকতময় রমজান মাসের আটাশ তারিখে (এভাবেই লিখিত) 'জাহান নামা' নামক রিসালাটি সম্পন্ন হয়েছে। এটি মূল অনুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখা হয়েছে, তবে এটি সঠিক নয় বরং ত্রুটিযুক্ত (?!)।" এই গ্রন্থের লেখক ৬০৫ হিজরি সালেও জীবিত ছিলেন এবং তিনি খাওয়ারিজমের সর্বশেষ শাহ সুলতান মুহাম্মদ (৫৯৬-৬১৭ হিজরি)-এর জন্য এটি রচনা করেছিলেন।আর 'জামেউল উলুম' এবং 'হুদুদুল আলম' গ্রন্থ দুটি অন্য একজন লিপিকার অনুলিপি করেছেন, যা নিম্নরূপ: জামেউল উলুমের সমাপ্তিতে এসেছে: "আল্লাহর দুর্বলতম ও তুচ্ছ বান্দা আবু আল-মুয়ায়্যিদ আবদুল কাইয়ুম ইবনে আল-হুসাইন ইবনে আলির হাতে ৬৫৮ হিজরি সনের ২৬শে জুমাদাল উলা রোজ শুক্রবার এটি লিখে শেষ করা হয়েছে।" আর হুদুদুল আলমের সমাপ্তিতে এসেছে—যার শেষ পৃষ্ঠার ডান দিকটি ছিঁড়ে গেছে এবং এর ফলে শেষ লাইনের আগের লাইনে শুধু অবশিষ্ট আছে: "অসহায় আবদুল কাইয়ুম ইবনে আল-হুসাইন ইবনে আলি আল-ফারসি", এবং শেষ লাইনে আছে: "৬৫৬ হিজরি সন, এবং সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।"'হুদুদুল আলম' বইটি ৩৯ পৃষ্ঠার। এর অজ্ঞাত লেখক ৩৭২ হিজরি সনে এটি রচনা করেন এবং এটি উৎসর্গ করেন "আমির সাইয়্যেদ ন্যায়পরায়ণ মালিক আবুল হারিস মুহাম্মদ ইবনে আহমদ, যিনি আমিরুল মুমিনীনের মুক্ত করা দাস, আল্লাহ তাঁর হায়াত দীর্ঘ করুন"-এর প্রতি, যেমনটি কিতাবে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
হুদূদুল আলাম মিনাল মাশরিক ইলাল মাগরিব
(পৃষ্ঠা: ১১)
في صدر الكتاب. وما دمنا لا نعرف شيئا عن مؤلف الكتاب فلنتحدث عن هذا الأمير الذي عاش المؤلف في كنفه.هو أبو الحارث محمد بن أحمد بن فريغون ثالث حكام أسرة آل فريغون التي حكمت بالجوزجان وبلخ. ويذكر المؤرخ الكريزي أن الأمير الساماني نوح بن منصور بن نوح (حكم من 365- 387 هـ) قد أقام مع أبي الحارث علاقات صداقة ليشد به أزره «1» ، وفي تاريخ العتبي المعروف باليميني نماذج من استعانة الأمير نوح الساماني به في المعارك التي خاضها ضد مناوئيه «2» . كما ذكر العتبي في الفصل الذي خصصه لأسرة آل فريغون «3» أنهم حكموا الجوزجان أبا عن جد وأن بلاطهم كان موئل الأدباء والشعراء من شتى البقاع، ثم ذكر واحدا من هؤلاء وهو بديع الزمان الهمداني وأورد له قطعة نثرية في مدح أبي الحارث ختمها بأبيات منها:لآل فريغون في المكرمات … يد أولا واعتذار أخيراإذا ما حللت بمغناهم … رأيت نعيما وملكا كبيراومنهم أبو الفتح البستي الشاعر الذائع الصيت وذكر له أبياتا منها:بنو فريغون قوم في وجوههم … سيما الندى وسناء السؤدد العاليكأنما خلقوا من سؤدد وعلى … وسائر الناس من طين وصلصالمن تلق منهم تقل هذا أجلّهم … قدرا وأسخاهم بالنفس والمالمصادر الكتابلم يرد في الكتاب ما يشير إلى أن مؤلفه كان رحالة سافر إلى أحد البلدان التي ذكرها في كتابه. وقد اعتمد في تأليفه كتابه هذا على مؤلفات من سبقوه في هذا المضمار حيث ذكر في ختام كتابه أنه نظر في جميع الكتب وأتى بجميع ما فيها بعد إسقاطه الحشو منها. لكنه لم يذكر أسماء تلك الكتب للأسف سوى الآثار العلوية لأرسطو. كما ورد في ختام الكتاب
গ্রন্থের শুরুতে। যেহেতু আমরা গ্রন্থকারের সম্পর্কে কিছুই জানি না, তাই আসুন আমরা সেই আমির সম্পর্কে আলোচনা করি যার আশ্রয়ে গ্রন্থকার বসবাস করতেন।তিনি হলেন আবু আল-হারিস মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন ফারিগুন, আল-ফারিগুন রাজবংশের তৃতীয় শাসক, যারা জুজজান ও বাল্খ শাসন করেছিলেন। ঐতিহাসিক আল-কুরাইজি উল্লেখ করেছেন যে, সামানি আমির নুহ বিন মানসুর বিন নুহ (শাসনকাল ৩৬৫-৩৮৭ হিজরি) আবু আল-হারিসের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন যাতে তার মাধ্যমে নিজের শক্তি বৃদ্ধি করতে পারেন «১», এবং আল-উতবি রচিত ইতিহাস গ্রন্থ, যা 'আল-ইয়ামিনি' নামে পরিচিত, সেখানে সামানি আমির নুহ কর্তৃক তার বিরোধীদের বিরুদ্ধে পরিচালিত যুদ্ধগুলোতে তার সাহায্য গ্রহণের দৃষ্টান্তসমূহ বিদ্যমান «২»। আল-উতবি আল-ফারিগুন পরিবারের জন্য নির্ধারিত অধ্যায়ে «৩» আরও উল্লেখ করেছেন যে, তারা বংশানুক্রমে জুজজান শাসন করেছেন এবং তাদের দরবার ছিল বিভিন্ন প্রান্তের সাহিত্যিক ও কবিদের আশ্রয়স্থল। অতঃপর তিনি তাদের মধ্য হতে একজনের কথা উল্লেখ করেছেন, তিনি হলেন বদিউজ্জামান আল-হামাদানি, এবং তিনি আবু আল-হারিসের প্রশংসায় তার একটি গদ্যাংশ উদ্ধৃত করেছেন, যা তিনি এই কবিতাংশগুলোর মাধ্যমে শেষ করেছেন:সম্মান ও মহানুভবতার ক্ষেত্রে আল-ফারিগুন পরিবারের রয়েছে অগ্রণী হাত … এবং সবশেষে বিনয়।যখন আপনি তাদের আবাসে অবতরণ করবেন … তখন দেখতে পাবেন নেয়ামত এবং এক বিশাল রাজত্ব।এবং তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন সুপরিচিত কবি আবুল ফাতাহ আল-বুস্তি, যার কয়েকটি পঙক্তি তিনি উল্লেখ করেছেন:ফারিগুন বংশীয়রা এমন এক জাতি যাদের চেহারায় … ফুটে ওঠে দানশীলতার চিহ্ন এবং উচ্চ মর্যাদার দ্যুতি।যেন তারা মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব দিয়ে সৃষ্টি হয়েছেন … আর বাকি মানুষ কাদা ও পোড়ামাটি দিয়ে তৈরি।তাদের মধ্যে যার সাথেই আপনি সাক্ষাৎ করবেন, তাকেই আপনি মর্যাদায় মহান … এবং জীবন ও সম্পদের বিচারে সবচেয়ে উদার হিসেবে দেখতে পাবেন।গ্রন্থের উৎসসমূহগ্রন্থে এমন কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি যা প্রমাণ করে যে গ্রন্থকার একজন পর্যটক ছিলেন এবং তার বর্ণিত কোনো দেশ ভ্রমণ করেছিলেন। তিনি এই গ্রন্থটি সংকলনে তার পূর্বসূরীদের রচনার ওপর নির্ভর করেছেন। গ্রন্থের শেষে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি সমস্ত গ্রন্থ পর্যালোচনা করেছেন এবং অপ্রয়োজনীয় অংশগুলো বাদ দিয়ে সেগুলোর সারসংক্ষেপ এতে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, এরিস্টটলের 'আল-আসার আল-উলোইয়্যাহ' ব্যতীত তিনি সেসব গ্রন্থের নাম উল্লেখ করেননি। যেমনটি গ্রন্থের শেষে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
হুদূদুল আলাম মিনাল মাশরিক ইলাল মাগরিব
(পৃষ্ঠা: ১২)
الذي أصيب بخروم ضاعت معها بعض الكلمات ما يستفاد منه بكل تأكيد أنه أفاد من بطلميوس. ولكن ماذا عن بقية المصادر؟يجزم بارتولد في مقدمته لحدود العالم أن مؤلف الكتاب كانت بيده نسخة من كتاب البلخي أو الإصطخري «1» . إلا أن مسألة الفصل بين مؤلّف البلخي ومؤلف الإصطخري أمر معقد، ففي نص فريد لياقوت نقرأ ما يلي:" قرأت في الكتاب المتنازع بين أبي زيد البلخى وأبي إسحاق الفارسي الإصطخري في صفة البلدان فقال.." «2» . وقد ألف أبو زيد أحمد بن سهل البلخي (حوالي 235- 322 هـ) " كتابه نحو 308 أو 309 هـ أو بعد ذلك بقليل، وتختلف أسماؤه باختلاف المصادر، فهو مرة صور الأقاليم وحينا أشكال البلاد وتارة تقويم البلدان.. أما أبو إسحاق إبراهيم بن محمد الفارسي فقد أنهى أول نسخة من كتابه مسالك الممالك حوالي 318- 321 هـ وأبو زيد البلخي على قيد الحياة، غير أن كتابه قد انتشر في الشرق بوجه خاص على هيئة طوامير ترتفع إلى المسودة التي عملت حوالي 340 هـ «3» ".وهناك رأي لمحقق المكتبة الجغرافية دي خويه يرى فيه" أن الإصطخري لم يكن في الحقيقة إلا ملخصا لكتاب وضعه أبو زيد البلخي" «4» ، بينما يعتقد بروكلمان أن كتاب الإصطخري نسخة موسعة من كتاب البلخي «5» . ويزداد الأمر تعقيدا حينما نعلم أن الإصطخري قد التقى ابن حوقل الذي أطلعه على كتابه وما فيه من خرائط، فانتقد ابن حوقل بعض ما في الكتاب وخاصة الخرائط. لنقرأ ابن حوقل يحدثنا عن ذلك:" ولقيت أبا إسحاق الفارسي وقد صوّر هذه الصورة لأرض السند فخلطها، وصور فارس فجوّدها. وكنت قد صورت آذربيجان التي في هذه الصفحة فاستحسنها، والجزيرة فاستجادها، وأخرج التي لمصر فاسدة وللمغرب أكثرها خطأ. وقال: قد نظرت في مولدك وأثرك، وأنا أسألك إصلاح كتابي هذا حيث ضللت. فأصلحت منه غير شكل وعزوته
যা কিছু ফাঁকফোকর বা ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছিল এবং এর ফলে কিছু শব্দ হারিয়ে গিয়েছিল। যা থেকে নিশ্চিতভাবে ফায়দা নেওয়া যায় তা হলো তিনি টলেমি থেকে উপকৃত হয়েছিলেন। কিন্তু বাকি উৎসগুলোর কী হবে?বার্তোল্ড 'হুদুদুল আলম'-এর ভূমিকায় দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেছেন যে, এই গ্রন্থের লেখকের নিকট আল-বালখি অথবা আল-ইসতাখরির একটি পাণ্ডুলিপি ছিল «১»। তবে আল-বালখি এবং আল-ইসতাখরির রচনার মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করার বিষয়টি বেশ জটিল। ইয়াকুতের একটি অনন্য পাঠে আমরা নিম্নোক্ত উদ্ধৃতিটি পাই: "আমি আবু যায়েদ আল-বালখি এবং আবু ইসহাক আল-ফারিসি আল-ইসতাখরির মধ্যকার বিতর্কিত গ্রন্থ 'সিফাতুল বুলদান'-এ পড়েছি যে, তিনি বলেছেন..." «২»। আবু যায়েদ আহমদ বিন সাহল আল-বালখি (আনুমানিক ২৩৫-৩২২ হিজরি) তার গ্রন্থটি ৩০৮ বা ৩০৯ হিজরি কিংবা তার কিছুকাল পরে রচনা করেন। বিভিন্ন উৎসে এর নাম ভিন্ন ভিন্ন পাওয়া যায়; কখনো এটি 'সুওয়ারুল আকালিম', কখনো 'আশকালুল বিলাদ', আবার কখনো 'তাকউইমুল বুলদান' নামে অভিহিত। অন্যদিকে, আবু ইসহাক ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ আল-ফারিসি তার 'মাসালিকুল মামালিক' গ্রন্থের প্রথম পাণ্ডুলিপি ৩১৮-৩২১ হিজরির দিকে সমাপ্ত করেন যখন আবু যায়েদ আল-বালখি জীবিত ছিলেন। তবে তার গ্রন্থটি বিশেষভাবে প্রাচ্যে এমন কিছু কাগজের গুচ্ছ বা স্ক্রল আকারে ছড়িয়ে পড়েছিল যা ৩৪০ হিজরির দিকে তৈরি করা খসড়ার সাথে সম্পর্কিত «৩»।'মাকতাবাতুল জুগরাফিয়া'র (ভৌগোলিক পাঠাগার) সম্পাদক ডি গুয়ে মনে করেন যে, "প্রকৃতপক্ষে আল-ইসতাখরি ছিলেন আবু যায়েদ আল-বালখি রচিত একটি গ্রন্থের সংক্ষিপ্তসার মাত্র" «৪»। অপরদিকে ব্রোকলম্যান বিশ্বাস করেন যে, আল-ইসতাখরির গ্রন্থটি আল-বালখির গ্রন্থের একটি বর্ধিত সংস্করণ «৫»। বিষয়টি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন আমরা জানতে পারি যে, আল-ইসতাখরি ইবন হাওকালের সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন, যিনি তাকে তার গ্রন্থ এবং এতে থাকা মানচিত্রগুলো দেখিয়েছিলেন। ইবন হাওকাল গ্রন্থের কিছু অংশের, বিশেষ করে মানচিত্রগুলোর সমালোচনা করেছিলেন। আসুন ইবন হাওকাল এ সম্পর্কে যা বলেছেন তা পড়ি:"আমি আবু ইসহাক আল-ফারিসির সাথে সাক্ষাৎ করলাম। তিনি সিন্ধু অঞ্চলের এই মানচিত্রটি অঙ্কন করেছিলেন কিন্তু তাতে গোলমাল করে ফেলেছিলেন, আর পারস্যের মানচিত্রটি বেশ নিখুঁতভাবে এঁকেছিলেন। আমি আজারবাইজানের মানচিত্র এঁকেছিলাম যা এই পৃষ্ঠায় রয়েছে, তিনি তা পছন্দ করলেন এবং জাজিরার মানচিত্রটিকেও চমৎকার হিসেবে গণ্য করলেন। কিন্তু তিনি মিশরের যে মানচিত্রটি বের করলেন তা ছিল ত্রুটিপূর্ণ এবং মাগরিবের মানচিত্রটির অধিকাংশই ছিল ভুল। তিনি বললেন: আমি আপনার জন্মস্থান এবং আপনার কর্মসমূহ পর্যবেক্ষণ করেছি; আমি আপনার কাছে অনুরোধ করছি যে, আমার এই গ্রন্থের যেখানে যেখানে আমি ভুল করেছি তা সংশোধন করে দিন। অতঃপর আমি এর অনেকগুলো মানচিত্র সংশোধন করে দিলাম এবং সেটিকে সম্পৃক্ত করলাম..."
(খণ্ড: ১)
হুদূদুল আলাম মিনাল মাশরিক ইলাল মাগরিব
(পৃষ্ঠা: ১৩)
إليه" «1» . وهكذا ظهر إلى الوجود كتاب صورة الأرض لأبي القاسم بن حوقل النصيبي بعد لقائه الإصطخري سنة 340 هـ. وقد رفع ابن حوقل المسودة الأولى من مصنفه إلى سيف الدولة الحمداني (توفي سنة 356 هـ) ، وترجع المسودة الثانية إلى حوالي سنة 367 هـ «2» . كان عمل الإصطخري إذن الأساس الذي بنى عليه ابن حوقل كتابه، حيث كان ينسخ كتاب مسالك الممالك ويتدخل بين الحين والآخر مضيفا كلمة أو جملة أو صفحة وربما أكثر من ذلك. وعلى هذا فقد تداخلت ثلاثة كتب في بعضها: أولها للبلخي وهو مفقود، والثاني للإصطخري الخارج من جبة البلخي، والثالث لابن حوقل المستعير عباءة الإصطخري بطلب شخصي منه، والكتابان الثاني والثالث كما هو معلوم موجودان متداولان.لقد قدم العلامة بار تولد في مقدمته القيمة لكتاب حدود العالم، نماذج من التقاء نصوص هذا الكتاب مع نصوص كتاب الإصطخري «3» . ومع ذلك يظل موضوع الجزم فيما إذا كان مؤلف حدود العالم قد نقل بشكل مباشر عن البلخي أم الإصطخري أمرا شائكا يحتاج إلى مزيد من الدراسة. لقد ركزنا في الهوامش على مواضع الالتقاء بين حدود العالم وكتاب الإصطخري مسالك الممالك لأهمية هذا الأمر.أما المصدر الآخر الذي يرجح أن يكون مؤلفنا المجهول قد أفاد منه فهو المسالك والممالك لأبي عبد الله محمد بن أحمد الجيهاني الأديب والعالم والسياسي الذي أصبح وزيرا للأمير نصر بن أحمد الساماني (حكم من 301- 331 هـ) منذ السنة الأولى لحكمه. يقول مينورسكي في مقدمة طبائع الحيوان:" وحدود العالم الذي بدأ مؤلفه المجهول بتصنيفه سنة 372 هـ بمدينة الجوزجان (شمالي أفغانستان) ، أفاد فيه مؤلفه فيما يتعلق بالأصقاع الإسلامية من روايات أبي زيد البلخي التي أدخلت عليها تحسينات بواسطة الإصطخري. إلا أن الاهتمام الخاص للمؤلف فيما يتعلق بالفصول المخصصة للصين والهند وبلاد الترك والذي تتفق معلوماته تماما مع ما هو موجود
তার কাছে «১»। এভাবেই ৩৪০ হিজরি সনে আল-ইস্তাখরির সাথে সাক্ষাতের পর আবু কাসিম ইবন হাওকাল আন-নাসিবির 'সুরাতুল আরদ' (পৃথিবীর মানচিত্র) গ্রন্থটি অস্তিত্ব লাভ করে। ইবন হাওকাল তার রচনার প্রথম খসড়াটি সাইফুদ দাওলা আল-হামদানি (মৃত্যু ৩৫৬ হিজরি)-এর কাছে পেশ করেন এবং দ্বিতীয় খসড়াটি আনুমানিক ৩৬৭ হিজরি সময়ের «২»। সুতরাং আল-ইস্তাখরির কর্মই ছিল সেই ভিত্তি যার ওপর ইবন হাওকাল তার গ্রন্থটি রচনা করেছিলেন; যেখানে তিনি 'মাসালিকুল মামালিক' গ্রন্থটি অনুলিপি করতেন এবং মাঝে মাঝে শব্দ, বাক্য, পৃষ্ঠা বা সম্ভবত তার চেয়েও বেশি কিছু যোগ করে বিষয়বস্তুর পরিবর্তন বা পরিবর্ধন করতেন। ফলে তিনটি গ্রন্থ একে অপরের মধ্যে মিশে গেছে: প্রথমটি আল-বালখির যা বর্তমানে নিখোঁজ, দ্বিতীয়টি আল-ইস্তাখরির যা আল-বালখির আধারে তৈরি, এবং তৃতীয়টি ইবন হাওকালের যিনি ইস্তাখরির ব্যক্তিগত অনুরোধে তার রচনার কাঠামোটি গ্রহণ করেছেন। দ্বিতীয় ও তৃতীয় গ্রন্থ দুটি যেমনটি সবার জানা বর্তমানে বিদ্যমান ও প্রচলিত আছে।আল্লামা বার্থল্ড 'হুদুদুল আলম' গ্রন্থের জন্য লেখা তার মূল্যবান ভূমিকায় এই গ্রন্থের পাঠের সাথে আল-ইস্তাখরির গ্রন্থের পাঠের মিল থাকার কিছু নমুনা উপস্থাপন করেছেন «৩»। তা সত্ত্বেও, হুদুদুল আলম গ্রন্থের লেখক সরাসরি আল-বালখি নাকি আল-ইস্তাখরি থেকে উদ্ধৃত করেছেন তা নিশ্চিত করার বিষয়টি অত্যন্ত জটিল এবং এর জন্য আরও গবেষণার প্রয়োজন। আমরা এই বিষয়ের গুরুত্বের কারণে হুদুদুল আলম এবং আল-ইস্তাখরির 'মাসালিকুল মামালিক' গ্রন্থের মধ্যেকার সাদৃশ্যপূর্ণ স্থানগুলোর ওপর পাদটীকায় আলোকপাত করেছি।অন্য আরেকটি উৎস যা থেকে আমাদের এই অজ্ঞাত লেখক সম্ভবত উপকৃত হয়েছেন তা হলো সাহিত্যিক, পণ্ডিত ও রাজনীতিবীদ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আহমাদ আল-জায়হানির 'আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক'। তিনি আমির নাসর বিন আহমাদ আস-সামানির (শাসনকাল ৩০১-৩৩১ হিজরি) শাসনের প্রথম বছর থেকেই তার উজির ছিলেন। মিনোরস্কি 'তাবাইউল হাইওয়ান'-এর ভূমিকায় বলেন:"এবং হুদুদুল আলম গ্রন্থটি, যার অজ্ঞাত লেখক ৩৭2 হিজরিতে জাওযজান শহরে (উত্তর আফগানিস্তান) এর সংকলন শুরু করেন, তাতে লেখক ইসলামী অঞ্চলসমূহ সম্পর্কে আবু যায়েদ আল-বালখির বর্ণনা থেকে উপকৃত হয়েছেন যা আল-ইস্তাখরি কর্তৃক পরিমার্জিত হয়েছিল। তবে চীন, ভারত এবং তুর্কী অঞ্চলগুলোর জন্য নির্ধারিত অধ্যায়গুলোতে লেখকের যে বিশেষ মনোযোগ রয়েছে এবং যার তথ্যসমূহ বিদ্যমান তথ্যের সাথে হুবহু মিলে যায়..."
(খণ্ড: ১)
হুদূদুল আলাম মিনাল মাশরিক ইলাল মাগরিব
(পৃষ্ঠা: ১৪)
لدى الكرديزي والمروزي، لابد أن يكون معتمدا على الجيهانى" «1» . ولما كان الكريزي قد اعتمد في كتابته الفصول الأخيرة من كتابه على كتاب الجيهاني المسالك والممالك «2» ويبدو أنه اعتمد كتابا آخر له في التاريخ حيث قال في مقدمة الفصل المخصص لعلوم الهنود:" هكذا يقول أبو عبد الله الجيهاني في كتاب التواريخ الذي ألفه.." «3» وكان هناك تشابه بين نصوص حدود العالم وزين الأخبار للكرديزي، احتمل أن يكون هناك مصدر مشترك أفاد منه المؤلفان، يقول بار تولد بهذا الشأن:" إن التشابه بين حدود العالم والكرديزي ومصدر هما المشترك يبدو أكثر وضوحا في فصلي الصين والتغزغز.. وبطبيعة الحال لا يوجد تطابق تام بين حدود العالم والكرديزي" «4» . ويندفع كراتشكوفسكي خطوات إلى الأمام ليقول:" ليس ثمة شك في أن المؤرخ الفارسي الكرديزي قد اعتمد في القسم الجغرافي من كتابه على حدود العالم" «5» .مع كل هذا تظل مسألة نقل معلومة ما دون ذكر مصدرها بالاسم بشكل صريح مفتوحة أمام شتى الاحتمالات ومحفوفة بمخاطر جمة. ونضرب مثلا لذلك ما ذكره العلّامة بار تولد بشأن النص الوارد في حدود العالم القائل:" إن من دخل التّبّت لم يزل ضاحكا مسرورا من غير سبب حتى يخرج منها"، حيث قال:" واضح أن هذا النص قد استعير من
গারদিযি এবং মারওয়াযির ক্ষেত্রে, এটি অবশ্যই আল-জায়হানির ওপর নির্ভরশীল হতে হবে «১»। যেহেতু গারদিযি তার গ্রন্থের শেষ অধ্যায়গুলো রচনার ক্ষেত্রে আল-জায়হানির 'আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক' গ্রন্থের ওপর নির্ভর করেছিলেন «২» এবং মনে হয় তিনি ইতিহাসের ওপর তার অন্য একটি গ্রন্থের ওপরও নির্ভর করেছিলেন, যেখানে তিনি ভারতীয়দের জ্ঞান-বিজ্ঞান সংক্রান্ত অধ্যায়ের ভূমিকায় বলেছেন: "আবু আব্দুল্লাহ আল-জায়হানি তার রচিত 'কিতাবুত তাওয়ারিখ'-এ এভাবেই বলেছেন..." «৩» এবং যেহেতু 'হুদুদুল আলম' এবং গারদিযির 'যাইনুল আখবার'-এর ভাষ্যের মধ্যে সাদৃশ্য ছিল, তাই সম্ভাবনা রয়েছে যে সেখানে এমন একটি অভিন্ন উৎস ছিল যা থেকে উভয় লেখকই উপকৃত হয়েছিলেন। এই বিষয়ে বার্টোল্ড বলেন: "'হুদুদুল আলম' ও গারদিযি এবং তাদের অভিন্ন উৎসের মধ্যে সাদৃশ্য চীন এবং তুগুযগুয সংক্রান্ত অধ্যায় দুটিতে আরও স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে... এবং স্বাভাবিকভাবেই 'হুদুদুল আলম' ও গারদিযির মধ্যে পূর্ণ সামঞ্জস্য নেই" «৪»। ক্রাচ্কভস্কি আরও এক ধাপ এগিয়ে বলেন: "এতে কোনো সন্দেহ নেই যে পারস্যের ঐতিহাসিক গারদিযি তার গ্রন্থের ভৌগোলিক অংশে 'হুদুদুল আলম'-এর ওপর নির্ভর করেছিলেন" «৫»।এতদসত্ত্বেও, কোনো তথ্যের উৎস স্পষ্টভাবে উল্লেখ না করে তা উদ্ধৃত করার বিষয়টি নানা প্রকার সম্ভাবনার অবকাশ রাখে এবং তা যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ। উদাহরণস্বরূপ আমরা 'হুদুদুল আলম'-এ বর্ণিত একটি বক্তব্য সম্পর্কে আল্লামা বার্টোল্ড যা উল্লেখ করেছেন তা তুলে ধরতে পারি, যেখানে বলা হয়েছে: "যে তিব্বতে প্রবেশ করে, সে সেখান থেকে বের হওয়া পর্যন্ত কোনো কারণ ছাড়াই সর্বদা হাস্যোজ্জ্বল ও আনন্দিত থাকে", যেখানে তিনি বলেছেন: "এটা স্পষ্ট যে এই পাঠ্যটি ধার করা হয়েছে..."
(খণ্ড: ১)
হুদূদুল আলাম মিনাল মাশরিক ইলাল মাগরিব
(পৃষ্ঠা: ১৫)
ابن خرداذبه" «1» . لكننا نعلم اعتمادا على دي خويه" أن المسودة الأولى لكتاب ابن خرداذبه ترتفع إلى سنة 232 هـ، أما الثانية فلا تتجاوز 272 هـ … وبعض العلماء لا يزال يعتقد أنه ليس هناك سوى مسودة واحدة تعود إلى التاريخ الأخير" «2» ، والمعلومة نفسها هي لدى الجاحظ (توفي سنة 255 هـ) في كتابه الحيوان وقد بدأها بقوله:" ويزعم تجار التبت ممن قد دخل الصين والزابج وقلب تلك الجزائر ونقب في البلاد أن كل من أقام بقصبة التبت.." «3» . وقد ألف الجاحظ الحيوان قبل 233 هـ- كما ذكر محققه عبد السلام هارون في مقدمته- وهذه المعلومة موجودة أيضا في كتاب آخر للجاحظ «4» هو البلدان أو الأمصار والبلدان. لقد نقل ابن خرداذبه نصا طويلا من الجاحظ لكنه لم يذكر اسم الجاحظ إلا في وسط النص، فأوهم قارئه بأنه لم ينقل إلا ما هو وارد بعد اسم الجاحظ بينما الحقيقة ليست كذلك. فالنص لديه هو كما يلي:" ومن عجائب طبائع البلدانإن من دخل التبت لم يزل ضاحكا مسرورا من غير سبب يعرفه حتى يخرج منها؛ وإن من دخل من المسلمين بلادا فى آخر الصين تدعى الشيلا، بها الذهب الكثير استوطنها لطيبها ولم يخرج عنها البتة؛ ومن أقام بالموصل حولا وجد فى قوته فضلا بينا؛ ومن أقام بقصبة الأهواز حولا فتفقد عقله وجده ناقصا، ولا يوجد بها أحد له وجنة حمراء، والحمى بها دائمة. وقد ذكر الجاحظ أن عدة من قوابل الأهواز خبرنه أنهن ربما قبلن المولود فيجدنه محموما. وقد جمعت قصبة الأهواز الأفاعى فى جبلها الطاعن فى منازلها المطل عليها، وفى بيوتها العقارب الجرارات القتالة، وإن الغالية والطيب يتغير بها بعد شهرين، وكذلك بأنطاكية؛ ومن دخل بلاد الزنج فلابد أن يجرب؛ ومن أطال الصوم بالمصيصة فى الصيف هاج به المرار الأسود وربما جن؛ ومن سكن البحرين عظم طحاله، قال الشاعر:ومن يسكن البحرين يعظم طحاله … ويحسد بما فى بطنه وهو جائع
ইবনে খুরদাদবিহ" [১]। তবে আমরা ডি খুয়ে-এর ওপর নির্ভর করে জানি যে, ইবনে খুরদাদবিহ-এর গ্রন্থের প্রথম পাণ্ডুলিপিটি ২৩২ হিজরি পর্যন্ত বিস্তৃত, আর দ্বিতীয়টি ২৭২ হিজরির বেশি নয় … আর কিছু পণ্ডিত এখনও বিশ্বাস করেন যে কেবল একটিই পাণ্ডুলিপি রয়েছে যা শেষোক্ত তারিখের [২]। একই তথ্য আল-জাহিজের (মৃত্যু ২৫৫ হিজরি) নিকট তাঁর 'আল-হায়াওয়ান' গ্রন্থে বিদ্যমান, যা তিনি এই কথা বলে শুরু করেছেন: "তিব্বতের সেইসব বণিক যারা চীনে প্রবেশ করেছে, জাবাজ ও সেই সকল দ্বীপপুঞ্জের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছে এবং দেশগুলো চষে বেড়িয়েছে, তারা দাবি করে যে, যারা তিব্বতের রাজধানীতে অবস্থান করে..." [৩]। আল-জাহিজ 'আল-হায়াওয়ান' গ্রন্থটি ২৩৩ হিজরির পূর্বে রচনা করেছেন—যেমনটি এর সম্পাদক আবদুস সালাম হারুন তাঁর ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন—এবং এই তথ্যটি আল-জাহিজের অন্য একটি গ্রন্থ [৪] অর্থাৎ 'আল-বুলদান' বা 'আল-আমসার ওয়া আল-বুলদান'-এও রয়েছে। ইবনে খুরদাদবিহ আল-জাহিজ থেকে একটি দীর্ঘ পাঠ্য নকল করেছেন, কিন্তু তিনি আল-জাহিজের নাম কেবল পাঠ্যের মাঝখানে উল্লেখ করেছেন। ফলে তিনি তাঁর পাঠককে এই ভ্রমে ফেলেছেন যে, তিনি কেবল তা-ই নকল করেছেন যা আল-জাহিজের নামের পরে এসেছে, অথচ বাস্তবতা তেমন নয়। তাঁর গ্রন্থে পাঠ্যটি নিম্নরূপ:" এবং দেশসমূহের প্রকৃতির বিস্ময়কর কিছু দিকনিশ্চয়ই যে ব্যক্তি তিব্বতে প্রবেশ করে, সে সেখান থেকে বের না হওয়া পর্যন্ত কোনো জানা কারণ ছাড়াই সর্বদা হাস্যোজ্জ্বল ও আনন্দিত থাকে; আর মুসলমানদের মধ্যে যারা চীনের শেষ প্রান্তে 'শিলা' নামক দেশে প্রবেশ করে, যেখানে প্রচুর স্বর্ণ রয়েছে, তারা এর মনোরম পরিবেশের কারণে সেখানে বসতি স্থাপন করে এবং সেখান থেকে আর কখনোই বের হয় না; আর যে ব্যক্তি এক বছর মসুলে অবস্থান করে, সে তার শক্তিতে সুস্পষ্ট বৃদ্ধি অনুভব করে; আর যে ব্যক্তি এক বছর আহওয়াজের রাজধানীতে অবস্থান করে এবং নিজের বুদ্ধি পরীক্ষা করে, সে তা হ্রাসপ্রাপ্ত পায়, আর সেখানে এমন কাউকে পাওয়া যায় না যার গাল লালবর্ণের, এবং সেখানে সর্বদা জ্বর লেগেই থাকে। আল-জাহিজ উল্লেখ করেছেন যে, আহওয়াজের বেশ কয়েকজন ধাত্রী তাঁকে জানিয়েছেন যে তারা হয়তো কোনো নবজাতককে প্রসব করান এবং তাকে জ্বরাক্রান্ত অবস্থায় পান। আহওয়াজের রাজধানী তার ঘরবাড়ির ওপর দণ্ডায়মান পাহাড়ে বিষধর সর্প এবং তার ঘরবাড়িতে মারাত্মক 'জারারাত' বিচ্ছু সংগ্রহ করেছে। সেখানে দুই মাস পর সুগন্ধি ও আতর পরিবর্তিত হয়ে যায়, ঠিক তেমনি আন্তাকিয়াতেও। আর যে ব্যক্তি জাঞ্জদের (পূর্ব আফ্রিকা) দেশে প্রবেশ করে তাকে অবশ্যই চর্মরোগের অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয়; আর যে ব্যক্তি গ্রীষ্মকালে আল-মাসিসাহ-তে দীর্ঘ সময় রোজা রাখে, তার মধ্যে কৃষ্ণপিত্তের প্রকোপ দেখা দেয় এবং সম্ভবত সে উন্মাদ হয়ে যায়; আর যে ব্যক্তি বাহরাইনে বসবাস করে, তার প্লীহা বড় হয়ে যায়। কবি বলেছেন:আর যে বাহরাইনে বাস করে তার প্লীহা বড় হয়ে যায় … আর তার পেটে যা আছে তার জন্য সে ঈর্ষান্বিত হয় অথচ সে ক্ষুধার্ত।
(খণ্ড: ১)
হুদূদুল আলাম মিনাল মাশরিক ইলাল মাগরিব
(পৃষ্ঠা: ১৬)
ولهم بسر يسمى النابجى إذا انتبذ وشرب غير عرقه البياض حتى يصفره. ومن مشى فى مدينة رسول الله (ص) وجد رائحة طيبة؛ وبشيراز من أرض فارس فغمة طيبة" «1» .فبار تولد عندما يعتقد أن النص المتعلق بالتبت نقله مؤلف حدود العالم من ابن خرداذبه، إنما قال ذلك لمراجعته كتب الجغرافيا، لكنه لو استعان بكتب الأدب لوجد النص بكامله- وهو الذي نقلناه آنفا- وقد استعاره ابن خرداذبه من الجاحظ وعلى التحديد من كتابه الحيوان، حيث كان الجاحظ يذكر أحيانا اسم الشخص الذي حدثه بالمعلومة التي يوردها مما يدل على أنه لم يأخذ تلك المعلومات من مصدر مكتوب ليكون هناك احتمال في أن يكون الجاحظ وابن خرداذبه قد أخذا من مصدر مشترك بينهما. إن ما سنضعه بين الأقواس يمثل الجزء والصفحة من كتاب الحيوان للجاحظ حيث سنذكر المعلومات التي أوردها ابن خرداذبه متسلسلة: السرور بالتبت (4/135، 7/230) ؛ زيادة قوة البدن في الموصل (4/135) ؛ العقل وما يعتريه في الأهواز (4/135) ؛ حمى الأهواز (4/143) وذكر سند هذا الخبر بقوله:" حدثني إبراهيم بن العباس بن محمد بن منصور عن مشيخة من أهل الأهواز" «2» ؛ الأفاعي والجرارات في جبلها الطاعن (4/142) ؛ تغير العطر بالأهواز وأنطاكية (3/143، 7/230) ؛ الإصابة بالجرب ببلاد الزنج (4/139) وذكر سنده فقال:" وحدثني يوسف الزنجي … "؛ هيجان المرار بالمصيصة (4/140) ؛ ورم الطحال في البحرين مع بيت الشعر الذي عزاه للعامة (4/135، 139) ؛ بسر النابجي فيها وتأثيره في الثياب البيض (7/230- 231) ؛ طيب مدينة رسول الله (ص) وشيراز (7/230) ؛ والنص موجود في عيون الأخبار لابن قتيبة الدينورى المتوفى سنة 276 هـ الذي عزاه للجاحظ «3» . وأغلب
তাদের এক প্রকার কাঁচা খেজুর আছে যাকে নাবজি বলা হয়; যখন তা ভিজিয়ে রাখা হয় এবং তার নির্যাস পান করা হয়, তখন তা সাদা কাপড়ের শুভ্রতা পরিবর্তন করে হলদে করে দেয়। এবং যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর শহরে পদচারণা করবে, সে এক সুগন্ধি অনুভব করবে; আর পারস্য ভূমির শিরাজ নগরীতেও এক চমৎকার সুঘ্রাণ বিদ্যমান।বার্থল্ড যখন মনে করেন যে তিব্বত সংক্রান্ত পাঠটি 'হুদুদুল আলম' এর লেখক ইবনে খুরদাদবিহ থেকে উদ্ধৃত করেছেন, তখন তিনি মূলত ভৌগোলিক গ্রন্থগুলো পর্যালোচনার ভিত্তিতেই তা বলেছেন। কিন্তু তিনি যদি সাহিত্যের গ্রন্থগুলোর সাহায্য নিতেন, তবে তিনি এই সম্পূর্ণ পাঠটি খুঁজে পেতেন—যা আমরা ইতিপূর্বে উদ্ধৃত করেছি—এবং ইবনে খুরদাদবিহ এটি আল-জাহিজের নিকট থেকে গ্রহণ করেছিলেন, সুনির্দিষ্টভাবে তাঁর 'কিতাবুল হাইওয়ান' থেকে। যেখানে আল-জাহিজ মাঝেমধ্যে সেই ব্যক্তির নাম উল্লেখ করতেন যিনি তাকে তথ্যটি প্রদান করেছেন, যা নির্দেশ করে যে তিনি সেই তথ্যগুলো কোনো লিখিত উৎস থেকে গ্রহণ করেননি; ফলে আল-জাহিজ এবং ইবনে খুরদাদবিহ কোনো সাধারণ উৎস থেকে তথ্যগুলো গ্রহণ করেছেন এমন সম্ভাবনাও থাকে না। আমরা বন্ধনীতে যা উল্লেখ করব তা আল-জাহিজের 'কিতাবুল হাইওয়ান'-এর খণ্ড ও পৃষ্ঠা নম্বর নির্দেশ করবে, যেখানে আমরা ইবনে খুরদাদবিহ কর্তৃক বর্ণিত তথ্যগুলো ধারাবাহিকভাবে উল্লেখ করব: তিব্বতের আনন্দ ও প্রফুল্লতা (৪/১৩৫, ৭/২৩০); মোসেলে শারীরিক শক্তির বৃদ্ধি (৪/১৩৫); আহওয়াজে বুদ্ধিবৃত্তি এবং তাতে যা ঘটে (৪/১৩৫); আহওয়াজের জ্বর (৪/১৪৩) এবং তিনি এই সংবাদের সনদ উল্লেখ করে বলেছেন: "ইব্রাহিম ইবনে আব্বাস ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মানসুর আহওয়াজের একদল প্রবীণ ব্যক্তির সূত্রে আমাকে বর্ণনা করেছেন"; এর সুউচ্চ পাহাড়ে বিষধর সর্প ও বিচ্ছুসমূহ (৪/১৪২); আহওয়াজ ও আন্তাকিয়ায় সুগন্ধির পরিবর্তন (৩/১৪৩, ৭/২৩০); জাঞ্জ দেশে খোস-পাঁচড়া বা চর্মরোগে আক্রান্ত হওয়া (৪/১৩৯) এবং তিনি তাঁর সনদ উল্লেখ করে বলেছেন: "ইউসুফ আয-জাঞ্জি আমাকে বর্ণনা করেছেন … "; মাসিসায় পিত্তরসের প্রকোপ (৪/১৪০); বাহরাইনে প্লীহা ফুলে যাওয়া এবং এর সাথে একটি কাব্য পঙ্ক্তি যা তিনি সাধারণ মানুষের প্রতি সম্পৃক্ত করেছেন (৪/১৩৫, ১৩৯); সেখানে প্রাপ্ত নাবজি কাঁচা খেজুর এবং সাদা কাপড়ের ওপর এর প্রভাব (৭/২৩০-২৩১); রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর শহর ও শিরাজের সুগন্ধি (৭/২৩০); এবং এই পাঠটি ২৭৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী ইবনে কুতায়বা আদ-দিনাওয়ারির 'উয়ুনুল আখবার' গ্রন্থেও বিদ্যমান, যা তিনি আল-জাহিজের প্রতি সম্পৃক্ত করেছেন। এবং অধিকাংশ
(খণ্ড: ১)
হুদূদুল আলাম মিনাল মাশরিক ইলাল মাগরিব
(পৃষ্ঠা: ১৭)
طبائع البلدان هذه وردت لدى ابن الفقيه «1» الذي ألف كتابه البلدان حوالي 290 هـ دون أن يعزوها لأحد، لكنها مستقاة بكل تأكيد من الحيوان الذي كانت لديه نسخة منه أفاد منها عند تأليفه كتابه (انظر: مقدمة البلدان لابن الفقيه ص 15) ؛ والسرور الذي يعتري الداخل إلى التبت موجود أيضا لدى ابن رسته «2» الذي ألف كتابه في" السنوات بين 290 و 300 هـ" «3» ، وهو مختصر، إلا أن وجود المعلومة المتعلقة ببلاد السيلا في الأعلاق النفسية، تجعلنا نحتمل أنه نقل معلوماته عن ابن خرداذبه الذي انفرد بذكر معلومة السيلا مع بقية طبائع البلدان. ونذكر بأن الخياط المعتزلي (توفي بعد 300 هـ بقليل) يشير إلى" كتب الجاحظ في أفعال الطبائع" «4» . وقد ذكر المسعودي (توفي سنة 346 هـ) السرور ببلاد التبت «5» بشكل تختلف عباراته كثيرا عما هو لدى الجاحظ، رغم علمنا بأن المسعودي كانت لديه نسخة من الحيوان للجاحظ عند تأليفه مروج الذهب «6» ، وأنه كانت لديه نسخة من كتاب الجاحظ الآخر الأمطار وعجائب البلدان «7» .إنه مثال واحد أوردناه تعليقا على رأي العلّامة الجليل بار تولد الذي أسدى معروفا لا ينسى للدراسات الجغرافة الإسلامية عندما كتب مقدمته لكتاب حدود العالم وغيرها من الدراسات القيمة، رأيه الذي قال فيه إن المعلومة المتعلقة ببلاد التبت" استعارها مؤلف حدود العالم من ابن خرداذبه". ورأينا كيف أن الأصل فيها وفي غيرها من طبائع البلدان هو الجاحظ وليس ابن خرداذبه. وعلى هذا فالدراسة المطولة- وهي مما يستغرق وقتا طويلا-
বিভিন্ন জনপদের এই বৈশিষ্ট্যগুলো ইবনে আল-ফকিহ্-এর «১» কাছে বর্ণিত হয়েছে, যিনি ২৯০ হিজরির দিকে তাঁর 'আল-বুলদান' গ্রন্থটি রচনা করেছিলেন এবং তিনি এগুলো কারো দিকে নিসবত বা আরোপ করেননি। তবে এগুলো নিশ্চিতভাবে 'আল-হায়াওয়ান' গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত, যার একটি অনুলিপি তাঁর কাছে ছিল এবং তিনি তাঁর কিতাব রচনার সময় তা থেকে উপকৃত হয়েছিলেন (দেখুন: ইবনে আল-ফকিহ্ রচিত আল-বুলদানের ভূমিকা, পৃষ্ঠা ১৫); তিব্বতে প্রবেশকারীর মনে যে আনন্দের উদ্রেক হয়, তা ইবনে রুস্তাহর «২» কাছেও বিদ্যমান, যিনি ২৯০ থেকে ৩০০ হিজরির «৩» মধ্যবর্তী বছরগুলোতে তাঁর কিতাবটি রচনা করেছিলেন। এটি একটি সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ; তবে 'আল-আ’লাক আন-নাফিসা' গ্রন্থে সিলা (কোরিয়া) দেশ সংক্রান্ত তথ্যের উপস্থিতি আমাদের এই ধারণা করতে উদ্বুদ্ধ করে যে, তিনি সম্ভবত ইবনে খুরদাদবিহ থেকে তথ্যগুলো গ্রহণ করেছেন, যিনি অন্যান্য জনপদের বৈশিষ্ট্যের সাথে সিলার তথ্য বর্ণনায় একক ছিলেন। আমরা উল্লেখ করছি যে, আল-খাইয়াত আল-মুতাজিলি (মৃত্যু ৩০০ হিজরির সামান্য পরে) আল-জাহিজের 'প্রকৃতির কার্যাবলি' «৪» সংক্রান্ত বইগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। আর আল-মাসউদী (মৃত্যু ৩৪৬ হিজরি) তিব্বত জনপদের আনন্দের কথা উল্লেখ করেছেন «৫», যার বর্ণনাভঙ্গি আল-জাহিজের বর্ণনা থেকে অনেক ভিন্ন; যদিও আমরা জানি যে আল-মাসউদী যখন 'মুরুজ আদ-দাহাব' «৬» রচনা করছিলেন, তখন তাঁর কাছে আল-জাহিজের 'আল-হায়াওয়ান' গ্রন্থের একটি অনুলিপি ছিল এবং তাঁর কাছে আল-জাহিজের অন্য কিতাব 'আল-আমতার ওয়া আজায়েব আল-বুলদান' «৭»-এর একটি কপিও ছিল।এটি একটি উদাহরণ যা আমরা মহান পণ্ডিত বারথোল্ডের মতামতের প্রেক্ষিতে উল্লেখ করেছি, যিনি 'হুদুদ আল-আলাম' গ্রন্থের ভূমিকা এবং অন্যান্য মূল্যবান গবেষণাকর্ম রচনার মাধ্যমে ইসলামী ভৌগোলিক গবেষণায় এক অবিস্মরণীয় অবদান রেখেছেন। তাঁর অভিমত ছিল যে, তিব্বত সংক্রান্ত তথ্যগুলো "হুদুদ আল-আলাম-এর লেখক ইবনে খুরদাদবিহ থেকে ধার করেছেন"। আমরা দেখেছি যে, এ বিষয়ে এবং জনপদসমূহের অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রে মূল উৎস হলেন আল-জাহিজ, ইবনে খুরদাদবিহ নন। এর ওপর ভিত্তি করে, একটি বিস্তারিত অধ্যয়ন—যা সম্পন্ন করতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন—
(খণ্ড: ১)
হুদূদুল আলাম মিনাল মাশরিক ইলাল মাগরিব
(পৃষ্ঠা: ১৮)
هي وحدها الكفيلة بإماطة اللثام بشكل دقيق عن مصادر هذا الكتاب أو ذاك خاصة كتب الجغرافيا التي تشكل مصادرها الرئيسة غابة مظلمة متشابكة الأشجار نركز منها على المصادر المفقودة. وننقل أخيرا رأي كراتشكوفسكي في إلقاء الضوء على هذا الأمر الذي يقول فيه:" لا ريب في أن مخطوطة تومانسكي (يعني حدود العالم) المجهولة المؤلف كانت ذا أثر فعال في الأدب الجغرافي التالي لها، غير أن مسألة إلقاء ضوء على هذه الحقيقة مسألة عسيرة تتطلب فحص مصادر عامة ليست معروفة في مجموعها لنا مثل المسودة المكملة لابن خرداذبه أو مصنّف الجيهاني" «1» .أما لغة الكتاب فرغم أنه بالفارسية إلا أنه" وجد زعم يقول بأنه ترجم عن العربية في الأصل" «2» ، ولقد وجدنا بحثا لأستاذ من إحدى جامعات بنارس الهندية يدل على اعتقاده بعروبة مؤلف الكتاب «3» ، عنوان البحث هو:" وصف الهند في كتاب حدود العالم لجغرافي عربي مجهول الاسم في القرن التاسع"، ومع ذلك فالمسألة لا يمكن البت فيها بسهولة.وهناك مسألة اقتباسه من كتاب الآثار العلوية لأرسطو (الفصل 2، الفقرة 4) وهو المصدر الوحيد الذي ذكر اسمه في كتابه. فالنص لديه طويل نسبيا قياسا إلى ما هو موجود لدى أرسطو الذي نجد لديه ما يلي:" ينبوع جميع المياه وابتداؤها من البحر الذي يسمى طرطاروس العميق، البعيد الغور الغزير الماء. ومنه ابتداء جميع المياه الجارية وغير الجارية وهو مستقرها، وذلك أنه ينقسم لسائر البحار وإلى وسطه تندفع المياه، لأن جميع المياه ترجع إلى مواضعها الخاصة التي هي ابتداء فصولها وأوائل حركاتها" «4» . ولا ندري إن كان المقصود بذلك هو هذا النص الذي أوردناه عن أرسطو ثم أضيفت إليه إضافات أم غيره.لقد قلنا فيما مضى من هذه المقدمة إنه يصعب البتّ في مسألة نقل حدود العالم بشكل مباشر عن كتاب البلخي أم بشكل غير مباشر عن البلخي بواسطة النقل عن كتاب الإصطخري، ونعزز كلامنا بأن نقارن مادة" آمل" في كلا المصدرين:
এটিই একমাত্র পথ যা নির্ভুলভাবে এই বা ওই গ্রন্থের উৎসসমূহ উন্মোচনে সক্ষম, বিশেষ করে ভূগোলের বইগুলোর ক্ষেত্রে, যেগুলোর প্রধান উৎসসমূহ একটি অন্ধকার এবং ঘন গাছের অরণ্যের মতো; আমরা এখান থেকে হারানো উৎসগুলোর ওপর আলোকপাত করব। পরিশেষে আমরা এই বিষয়ে আলোকপাত করতে ক্রাচকভস্কির মতটি উল্লেখ করছি, যেখানে তিনি বলেছেন: "এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, অজ্ঞাত লেখকের তুমানস্কি পাণ্ডুলিপি (অর্থাৎ হুদুদ আল-আলম) তার পরবর্তী ভৌগোলিক সাহিত্যে কার্যকর প্রভাব ফেলেছিল। তবে এই বাস্তবতার ওপর আলোকপাত করার বিষয়টি একটি কঠিন কাজ, যা এমন কিছু সাধারণ উৎস পরীক্ষার দাবি রাখে যা আমাদের কাছে সামগ্রিকভাবে পরিচিত নয়, যেমন ইবনে খুরদাদবিহর পরিপূরক খসড়া বা আল-জাইহানির সংকলন।" «১» ।গ্রন্থের ভাষার ক্ষেত্রে বলা যায়, এটি ফারসি ভাষায় রচিত হলেও, "এমন একটি দাবি পাওয়া গেছে যে এটি মূলত আরবি থেকে অনূদিত হয়েছে" «২»। আমরা ভারতের বেনারসের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপকের একটি গবেষণা প্রবন্ধ পেয়েছি যা গ্রন্থটির লেখকের আরব হওয়ার ব্যাপারে তার বিশ্বাসের ইঙ্গিত দেয় «৩»। গবেষণাপত্রটির শিরোনাম হলো: "নবম শতাব্দীতে জনৈক অজ্ঞাতনামা আরব ভূগোলবিদের হুদুদ আল-আলম গ্রন্থে ভারতের বর্ণনা"। তা সত্ত্বেও, বিষয়টি সহজে মীমাংসা করা সম্ভব নয়।অ্যারিস্টটলের 'আল-আসার আল-উলাউইয়্যাহ' (আবহাওয়াবিজ্ঞান) গ্রন্থ (অধ্যায় ২, অনুচ্ছেদ ৪) থেকে তার উদ্ধৃতি গ্রহণের একটি বিষয় রয়েছে এবং এটিই একমাত্র উৎস যার নাম তিনি তার গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। তার কাছে থাকা পাঠ্যটি অ্যারিস্টটলের কাছে থাকা পাঠ্যের তুলনায় তুলনামূলকভাবে দীর্ঘ, যেখানে আমরা নিম্নরূপ পাই: "সকল পানির উৎস এবং এর সূচনা হয় সেই সমুদ্র থেকে যাকে গভীর টারটারাস বলা হয়, যা অতল এবং প্রচুর পানিসমৃদ্ধ। সেখান থেকেই সকল প্রবাহমান ও স্থির পানির সূচনা এবং সেটিই সেগুলোর অবস্থানস্থল। এটি অন্যান্য সমুদ্রে বিভক্ত হয় এবং এর কেন্দ্রের দিকে পানি ধাবিত হয়, কারণ সকল পানি তার নিজস্ব স্থানে ফিরে আসে যা তাদের ঋতুসমূহের সূচনা এবং গতির আরম্ভস্থল।" «৪»। আমরা জানি না এর দ্বারা আমাদের উল্লিখিত অ্যারিস্টটলের এই পাঠ্যটিই উদ্দেশ্য কি না যাতে পরে কিছু সংযোজন করা হয়েছে, নাকি অন্য কিছু।এই ভূমিকার পূর্ববর্তী অংশে আমরা বলেছি যে, হুদুদ আল-আলম গ্রন্থটি সরাসরি আল-বালখির গ্রন্থ থেকে নকল করা হয়েছে কি না, অথবা আল-ইস্তাখরির গ্রন্থের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে আল-বালখি থেকে নেওয়া হয়েছে কি না, তা নির্ধারণ করা কঠিন। আমরা উভয় উৎসে "আমুল" সংক্রান্ত বিষয়বস্তুর তুলনা করার মাধ্যমে আমাদের কথাকে জোরালো করছি:
(খণ্ড: ১)
হুদূদুল আলাম মিনাল মাশরিক ইলাল মাগরিব
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الإصطخرى ص 212آمل: أكبر من قزوين، مشتبكة العمارة لا يعلم بقدرها أعمر منها فى هذه النواحى.حدود العالمآمل: مدينة عظيمة. قصبة طبرستان، ذات خندق لكن ليس لها سور. وحولها ربض. وهى مستقر ملوك طبرستان، يجتمع بها التجار، ذات تجارات كثيرة. وفيها علماء كثر فى شتى العلوم. وبها مياه جارية كثيرة جدا. ترتفع منها الثياب الكتان ومناديل الخيش والفرش الطبرية والحصر الطبرية وخشب العثق الذي لا مثيل له فى جميع أرجاء العالم. كما يرتفع منها الأترج..(تراجع بقية الكلام عن هذه المدينة وهو طويل فى هذا الكتاب (الفصل 32، الفقرة 13) .فلو كان مؤلف حدود العالم قد أفاد بشكل مباشر من الإصطخري، لا كتفى بذكر ما لدى الإصطخري وهو سطر وكلمات أخر. فمن أين جاء بهذه التفاصيل التي لا توجد عند الإصطخري ولا عند ابن حوقل الذي أضاف إلى كتاب الإصطخري؟ولنأخذ نموذجا آخر:الإصطخرى ص 38، 39جزيرة بنى مزغنا: مدينة عامرة يحف بها طوائف من البربر، وهى من الخصب والسعة على غاية ما تكون المدن.السوس الأقصى: اسم المدينة إلا أنها كورة عظيمة ذات مدن وقرى وسعة وخصب ويحتف بها طوائف بها طوائف من البربر.حدود العالمجزيرة بنى مزغنا: مدينة يحيط بها ماء البحر من ثلاثة جوانب، يحف بها طوائف من البربر.السوس الأقصى: مدينة على ساحل بحر الأوقيانوس المغربى، وهى آخر مدينة من عمارة العالم فى المغرب. مدينة عظيمة وبها ذهب وفير، وأهلها بعيدون عن طباع الناس، ولا يصل إليها إلا القليل من الغرباء.
আল-ইসতাখরি, পৃষ্ঠা ২১২আমোল: এটি কাজভিনের চেয়ে বড়, এর ভবনগুলো ঘনভাবে সন্নিবিষ্ট; এই অঞ্চলগুলোতে এর চেয়ে অধিক সমৃদ্ধ আর কোনো জনপদ সম্পর্কে জানা নেই।হুদুদ আল-আলমআমোল: একটি বিশাল নগরী। এটি তাবারিস্তানের প্রধান শহর, পরিখা পরিবেষ্টিত কিন্তু এর কোনো প্রাচীর নেই। এর চারপাশে শহরতলি রয়েছে। এটি তাবারিস্তানের রাজাদের আবাসস্থল, যেখানে বণিকরা সমবেত হয় এবং এটি ব্যাপক বাণিজ্যের কেন্দ্র। এখানে বিভিন্ন শাস্ত্রে পারদর্শী বহু আলিম রয়েছেন। এখানে প্রচুর প্রবহমান পানি রয়েছে। এখান থেকে লিনেন কাপড়, পাটের রুমাল, তাবারি কার্পেট ও মাদুর এবং এমন কাঠ পাওয়া যায় যার সমতুল্য সারা বিশ্বে নেই। এছাড়া এখান থেকে প্রচুর লেবুজাতীয় ফলও উৎপাদিত হয়...(এই শহর সম্পর্কে বাকি দীর্ঘ বর্ণনা এই বইটিতে দেখা যেতে পারে (অধ্যায় ৩২, অনুচ্ছেদ ১৩)।যদি হুদুদ আল-আলম গ্রন্থের লেখক সরাসরি আল-ইসতাখরি থেকে তথ্য গ্রহণ করতেন, তবে তিনি আল-ইসতাখরির সেই একটি লাইন ও সামান্য কিছু শব্দ উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হতেন। তাহলে তিনি এই বিস্তারিত বিবরণগুলো কোথা থেকে পেলেন যা আল-ইসতাখরির কাছে নেই, এমনকি আল-ইসতাখরির গ্রন্থে সংযোজনকারী ইবনে হাওকালের কাছেও নেই?চলুন আরও একটি উদাহরণ নেওয়া যাক:আল-ইসতাখরি, পৃষ্ঠা ৩৮, ৩৯জাজিরা বনী মাজগানা: একটি জনাকীর্ণ শহর যা বারবার গোত্রসমূহ দ্বারা পরিবেষ্টিত। এটি উর্বরতা ও প্রসারের দিক থেকে শহরগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে।আস-সুস আল-আকসা: এটি একটি শহরের নাম, তবে এটি একটি বিশাল অঞ্চল যা অনেক শহর, গ্রাম, প্রশস্ততা ও উর্বরতায় সমৃদ্ধ এবং বারবার গোত্রসমূহ দ্বারা পরিবেষ্টিত।হুদুদ আল-আলমজাজিরা বনী মাজগানা: একটি শহর যা তিন দিক থেকে সমুদ্রের পানি দ্বারা বেষ্টিত এবং বারবার গোত্রসমূহ দ্বারা পরিবেষ্টিত।আস-সুস আল-আকসা: পশ্চিমের আটলান্টিক মহাসাগর উপকূলের একটি শহর। এটি মাগরেবের জনবসতিপূর্ণ বিশ্বের শেষ শহর। এটি একটি বিশাল নগরী এবং এখানে প্রচুর সোনা রয়েছে। এর অধিবাসীদের স্বভাব সাধারণ মানুষের থেকে ভিন্ন এবং খুব কম সংখ্যক বহিরাগত সেখানে পৌঁছাতে পারে।
(খণ্ড: ১)
হুদূদুল আলাম মিনাল মাশরিক ইলাল মাগরিব
(পৃষ্ঠা: ২০)
الواضح- من خلال التشابه الموجود فعلا بين نصوص الإصطخري وحدود العالم- أنه يوجد مصدر مشترك نقل منه الاثنان بشكل تنتقى فيه الأسطر أحيانا وتهمل أسطر أخرى. ترى أيوجد من هو أكثر قربا إلى الاثنين من أبي زيد البلخي وكتابه الذي يدعى صور الأقاليم حينا، وأشكال البلاد حينا آخر، وتقويم البلدان تارة؟لقد راعينا في ترجمتنا هذه أن نستخدم الألفاظ والمصطلحات الجغرافية المتداولة في كتب الجغرافيا العربية كي نشيع في نصوصه نكهة التراث العريق. أما الهوامش فقد سعينا إلى أن لا نثقل الكتاب بها إلا ما كان غامضا مثل جزيرة الواقواق التي شغلت الباحثين عقودا وما زالت، أو جزيرة النساء.أما الأرقام التي تشاهد في بداية عناوين الفصول وبدايات بعض الفقرات فقد نقلناها عن الترجمة الإنجليزية للكتاب التي نهض بعبئها العلامة فلاديمير مينورسكي.آمل أن أكون قد وفقت في عملي هذا ولا أظنه خاليا من النقص الذي لا يخلو منه بنو الإنسان، فالكمال لله سبحانه.كنت قد كتبت في مقدمتي لكتاب البلدان لابن الفقيه الذي صدر ببيروت سنة (1996) بأنني أعيش الألف عام الأولى من العزلة بلا وطن ولا هوية خارج الجغرافيا والتاريخ، وأحس اليوم أنني أعيش الألف الثانية من العزلة مهيض الجناحين رهين الغربتين، أحاور الأموات الذين يطلون برءوسهم من أوراق مؤلفاتهم يمدون لي يد العون بعد أن يئست من الأحياء.رجب 1419 نوفمبر 1998 يوسف الهادى
আল-ইসতাখরি-এর বর্ণনা এবং ‘হুদুদুল আলম’-এর মধ্যে বিদ্যমান বাস্তব সাদৃশ্যের মাধ্যমে এটি স্পষ্ট যে, এখানে একটি অভিন্ন উৎস রয়েছে যা থেকে উভয়ই এমনভাবে উদ্ধৃত করেছে যেখানে কখনো কিছু ছত্র নির্বাচন করা হয়েছে আবার কখনো অন্য ছত্রগুলো বর্জন করা হয়েছে। আবু জায়েদ আল-বালখি এবং তাঁর কিতাব—যা কখনো ‘সুওয়ারুল আকালিম’, কখনো ‘আশকালুল বিলাদ’ আবার কখনো ‘তাকউইমুল বুলদান’ নামে পরিচিত—তা অপেক্ষা এই দুইয়ের অধিক নিকটবর্তী আর কোনো উৎস আছে কি?আমরা আমাদের এই অনুবাদে আরবি ভূগোল শাস্ত্রের গ্রন্থসমূহে প্রচলিত শব্দ ও ভৌগোলিক পরিভাষা ব্যবহার করার ব্যাপারে যত্নবান হয়েছি, যাতে এর বর্ণনায় প্রাচীন ঐতিহ্যের স্বাদ সঞ্চার করা যায়। আর পাদটীকার ক্ষেত্রে আমরা গ্রন্থটিকে ভারাক্রান্ত না করার চেষ্টা করেছি; কেবল অস্পষ্ট বিষয়গুলো ছাড়া, যেমন ওয়াকওয়াক দ্বীপ—যা কয়েক দশক ধরে গবেষকদের ব্যতিব্যস্ত করে রেখেছে এবং এখনো রাখছে—অথবা নারী দ্বীপ।অধ্যায়সমূহের শিরোনাম এবং কিছু অনুচ্ছেদের শুরুতে যে সংখ্যাগুলো দেখা যাচ্ছে, সেগুলো আমরা গ্রন্থটির ইংরেজি অনুবাদ থেকে গ্রহণ করেছি, যার গুরুভার বহন করেছিলেন প্রখ্যাত পণ্ডিত ভ্লাদিমির মিনোর্স্কি।আমি আশা করি আমার এই কাজে সফল হয়েছি, তবে আমি এটাকে ত্রুটিমুক্ত মনে করি না যা থেকে মানবজাতি মুক্ত নয়; কারণ পূর্ণতা কেবল মহান আল্লাহর জন্য।আমি ১৯৯৬ সালে বৈরুত থেকে প্রকাশিত ইবনুল ফকিহ-এর ‘কিতাবুল বুলদান’-এর ভূমিকায় লিখেছিলাম যে, আমি ভূগোল ও ইতিহাসের বাইরে কোনো স্বদেশ ও পরিচয় ছাড়াই নিঃসঙ্গতার প্রথম এক হাজার বছর অতিবাহিত করছি। আজ আমার অনুভব হচ্ছে যে, আমি নিঃসঙ্গতার দ্বিতীয় সহস্রাব্দে বসবাস করছি—ভগ্ন ডানায় দ্বৈত প্রবাসে বন্দি হয়ে; আমি সেই মৃতদের সাথে সংলাপে রত যারা তাদের রচনার পাতা থেকে উঁকি দিয়ে আমাকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন, যখন আমি জীবিতদের থেকে নিরাশ হয়ে গেছি।রজব ১৪১৯, নভেম্বর ১৯৯৮, ইউসুফ আল-হাদি।
(খণ্ড: ১)
হুদূদুল আলাম মিনাল মাশরিক ইলাল মাগরিব
(পৃষ্ঠা: ২১)
1- فاتحة الكتاب[1 ب] باليمن والسعادة. الحمد لله القادر الأزلي، خالق العالم وميسر الأمور، وهادي عباده إلى مختلف العلوم، والتحيات الكثيرة على محمد وجميع الأنبياء.ببركة وظفر وحسن طالع الأمير السيد الملك العادل أبي الحارث محمد بن أحمد مولى أمير المؤمنين أطال الله بقاه وسعادة دنياه، بدأنا هذا الكتاب في صفة الأرض في سنة ثلاثمائة واثنتين وسبعين لهجرة النبي صلوات الله عليه. فبيّنا فيه صفه الأرض وهيئتها ومساحة عامرها وغامرها. وذكرنا جميع نواحيهما وملوكها مما هو معروف مع أحوال كل قوم مقيمين في تلك النواحي المختلفة، وسنن ملوكهم، كما هو عليه الحال في زماننا [2 أ] مع ذكر كل ما يرتفع من تلك الناحية.وبيّنا جميع مدن العالم التي وجدنا خبرها في كتب المتقدمين وذكرها الحكماء مع أحوال تلك المدن من سعة وصغر، وقلة النعمة أو كثرتها وما يرتفع منها، وأحوال أهلها وعامرها وغامرها، ومعرفة هيئة كل مدينة من جبال وأنهار وبحار ومفازات مع كل ما يرتفع منها.وبيّنا مواضع جميع بحار العالم من كبير وصغير، وكذلك الخلجان، مع كل ما يستخرج منها.وبينا جميع الجزر الكبيرة من عامرها وغامرها وأحوال ناسها وكل ما ينتج فيها.وبينا جميع الجبال الرئيسة في العالم والمعادن المختلفة الموجودة فيها، والحيوانات التي تأوي إليها.وبينا جميع الأنهار الكبيرة التي في العالم، من الأماكن التي تنبع منها حتى تصب في البحر أو يستفاد منها في الزراعة والفلاحة، خاصة تلك التي يمكن للسفن العبور منها، لأن الأنهار الصغيرة لا تعدّ ولا تحصى.وبيّنا جميع الصحارى والمفازات المعروفة في العالم ومساحاتها طولا وعرضا.
১- কিতাবের ভূমিকা[১ খ] কল্যাণ ও সৌভাগ্যের সাথে। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি অনাদি সর্বশক্তিমান, জগতের স্রষ্টা এবং সকল বিষয়ের সহজকারী, আর স্বীয় বান্দাদের বিভিন্ন জ্ঞানের দিকে পথপ্রদর্শনকারী। মুহাম্মদ (সা.) এবং সকল নবীগণের ওপর অসংখ্য সালাম ও অভিবাদন।আমির, সাইয়্যিদ, ন্যায়পরায়ণ শাসক আবু আল-হারিস মুহাম্মদ বিন আহমদ—যিনি আমিরুল মুমিনিনের অনুগত—তাঁর বরকত, বিজয় ও সুভাগ্যের মাধ্যমে, আল্লাহ তাঁর জীবন দীর্ঘায়িত করুন এবং পার্থিব সৌভাগ্য বৃদ্ধি করুন; আমরা নবী (সা.)-এর হিজরির তিনশত বাহাত্তর সালে পৃথিবীর বিবরণ বিষয়ক এই কিতাবটি রচনা শুরু করলাম। এতে আমরা পৃথিবীর বর্ণনা, এর অবয়ব এবং এর জনাকীর্ণ ও জনহীন অঞ্চলের আয়তন বর্ণনা করেছি। এবং আমরা এই উভয় প্রকার অঞ্চলের সকল জনপদ ও তাদের সুপরিচিত রাজাদের কথা উল্লেখ করেছি, সাথে সেই বিভিন্ন জনপদে বসবাসকারী প্রতিটি জাতির অবস্থা, তাদের রাজাদের রীতিনীতি—যেমনটা আমাদের বর্তমান সময়ে [২ ক] বিদ্যমান—এবং সেই অঞ্চল থেকে প্রাপ্ত সকল সম্পদের বিবরণসহ।এবং আমরা বিশ্বের সেই সকল শহরের কথা বর্ণনা করেছি যেগুলোর সংবাদ আমরা পূর্ববর্তীদের কিতাবে পেয়েছি এবং যা প্রাজ্ঞ ব্যক্তিগণ উল্লেখ করেছেন; সেই সাথে সেই শহরগুলোর বিশালতা বা ক্ষুদ্রতা, সম্পদের সল্পতা বা প্রাচুর্য এবং সেখান থেকে যা কিছু উৎপাদিত হয়, সেখানকার অধিবাসীদের অবস্থা, জনপদ ও বিজন অঞ্চল, এবং পাহাড়, নদী, সাগর ও মরুভূমি সাপেক্ষে প্রতিটি শহরের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য ও সেখান থেকে প্রাপ্ত সবকিছুর বিবরণসহ।আমরা বিশ্বের ছোট-বড় সকল সমুদ্রের অবস্থান এবং সেই সাথে উপসাগরসমূহ ও সেখান থেকে আহরিত সকল বস্তুর বিবরণ দিয়েছি।আমরা সকল বড় দ্বীপের জনাকীর্ণ ও জনহীন অঞ্চল, সেখানকার মানুষের অবস্থা এবং সেখানে উৎপাদিত সকল বস্তুর বর্ণনা দিয়েছি।আমরা বিশ্বের সকল প্রধান পর্বতমালা, সেখানে বিদ্যমান বিভিন্ন খনিজ সম্পদ এবং সেখানে বসবাসকারী প্রাণীদের বর্ণনা দিয়েছি।আমরা বিশ্বের সকল বড় নদী সম্পর্কে বর্ণনা করেছি—সেগুলোর উৎপত্তিস্থল থেকে শুরু করে সমুদ্রে পতিত হওয়া বা কৃষি ও চাষাবাদে ব্যবহৃত হওয়া পর্যন্ত; বিশেষ করে যেগুলোতে জাহাজ চলাচল করতে পারে, কারণ ছোট নদীগুলো গণনা করা সম্ভব নয়।এবং আমরা বিশ্বের সকল পরিচিত মরুভূমি ও প্রান্তরসমূহ এবং সেগুলোর দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের পরিমাপ বর্ণনা করেছি।
(খণ্ড: ১)
হুদূদুল আলাম মিনাল মাশরিক ইলাল মাগরিব
(পৃষ্ঠা: ২২)
2- ذكر هيئة الأرض عامرها وغامرها1- الأرض مدورة كالكرة، والفلك محيط بها، تدور على قطبين، أحدهما يدعى القطب الشمالي، والآخر القطب الجنوبي.2- وكل كرة إذا رسمت عليها دائرتين كبيرتين تقطعان بعضهما في زاوية قائمة، قسمت تلكما الدائرتان الكرة إلى أربعة أقسام. كذلك الأرض مقسمة إلى أربعة أقسام بدائرتين: تدعى إحداهما دائرة الآفاق والأخرى خط الاستواء. أما دائرة الآفاق فإنها تبدأ من المشرق وتتجه إلى نهاية العمارة فتمر في القطب الجنوبي، فتقطع ناحية المغرب لتعود إلى المشرق مرة أخرى. وهذه الدائرة هي التي تفصل النصف الظاهر العامر من الأرض عن النصف الآخر المحجوب الذي تحتنا.وخط الاستواء هو الدائرة التي تخرج من حدود المشرق وتمر من وسط الأرض على أبعد مكان من القطبين حتى تصل إلى المغرب وتستمر حتى تعود إلى المشرق مرة أخرى.3- وتقع العمارة في الربع الشمالي من النصف المتصل بخط الاستواء. كما يوجد بعضها في الربع الجنوبي من هذا النصف متصل بخط الاستواء. ومساحة هذه العمارة الواقعة في الشمال هي بعرض 63 درجة وبطول 180 درجة.ولما كانت أكبر دائرة تحيط بالأرض هي 360 درجة، ومساحة العمارة في الناحية الجنوبية تزيد بقليل على 17 درجة في 180 درجة، ومقدار مساحة الاثنتين تساوى 9/1 مساحة الأرض، فإن جميع مدن العالم والممالك المختلفة والبحار والجبال والأنهار وكل مكان تأوي إليه الأحياء يشكل 9/1 الأرض التي ذكرناها.4- أما ناحية المشرق فآخر مدينة فيها هي قصبه الصين التي تدعى خمدان، وتقع على ساحل البحر الأخضر الذي يسميه الروم الأوقيانوس المشرقي ويسميه العرب البحر الأخضر. وكما يقول أرسطاطاليس في كتاب الآثار العلوية، فإن هذا البحر يحيط بالأرض مثل دائرة الآفاق ولا تمخر عبابه سفينة [2 ب] ولم يقطعه أحد ولا تعلم نهايته، وحيثما كانت العمارة تمكن الجميع من رؤيته، لكن لا يمكن شقه إلا بالمقدار القريب جدا من العمارة. كما أن آخر مدنه قي ناحية المغرب تدعى السوس الأقصى، وتقع على
২- পৃথিবীর আকৃতি এবং এর আবাদি ও অনাবাদী অঞ্চলের বর্ণনা১- পৃথিবী বলের মতো গোল, এবং মহাকাশ একে পরিবেষ্টন করে আছে। এটি দুটি মেরুর ওপর আবর্তিত হয়, যার একটিকে উত্তর মেরু এবং অন্যটিকে দক্ষিণ মেরু বলা হয়।২- যেকোনো গোলকের ওপর যদি দুটি বৃহৎ বৃত্ত আঁকা হয় যা পরস্পরকে সমকোণে ছেদ করে, তবে সেই বৃত্ত দুটি গোলকটিকে চারটি ভাগে বিভক্ত করে। অনুরূপভাবে পৃথিবীও দুটি বৃত্ত দ্বারা চারটি ভাগে বিভক্ত: যার একটিকে দিগন্ত বলয় এবং অন্যটিকে বিষুবরেখা বলা হয়। দিগন্ত বলয়টি পূর্ব দিক থেকে শুরু হয়ে আবাদি অঞ্চলের শেষ সীমানা অভিমুখে যায় এবং দক্ষিণ মেরুর ওপর দিয়ে অতিক্রান্ত হয়, অতঃপর পশ্চিম দিককে ছেদ করে পুনরায় পূর্ব দিকে ফিরে আসে। এই বৃত্তটিই পৃথিবীর দৃশ্যমান আবাদি অর্ধেক অংশকে আমাদের নিচের অদৃশ্য অন্য অর্ধেক অংশ থেকে পৃথক করে।আর বিষুবরেখা হলো সেই বৃত্ত যা পূর্বের সীমানা থেকে নির্গত হয় এবং মেরুদ্বয় থেকে দূরতম স্থান দিয়ে পৃথিবীর মধ্যভাগ দিয়ে অতিক্রম করে পশ্চিম পর্যন্ত পৌঁছায় এবং পুনরায় পূর্বে ফিরে আসা পর্যন্ত চলতে থাকে।৩- আবাদি অঞ্চলটি বিষুবরেখা সংলগ্ন অর্ধাংশের উত্তর চতুর্থাংশে অবস্থিত। একইভাবে এর কিছু অংশ বিষুবরেখা সংলগ্ন এই অর্ধাংশের দক্ষিণ চতুর্থাংশেও বিদ্যমান। উত্তরে অবস্থিত এই আবাদি অঞ্চলের আয়তন হলো প্রস্থে ৬৩ ডিগ্রি এবং দৈর্ঘ্যে ১৮০ ডিগ্রি।যেহেতু পৃথিবীকে পরিবেষ্টনকারী বৃহত্তম বৃত্তটি ৩৬০ ডিগ্রি, এবং দক্ষিণ দিকের আবাদি অঞ্চলের আয়তন ১৮০ ডিগ্রির মধ্যে ১৭ ডিগ্রির সামান্য বেশি, আর এই দুই অঞ্চলের মোট আয়তন পৃথিবীর মোট আয়তনের ১/৯ ভাগের সমান, তাই বিশ্বের সমস্ত শহর, বিভিন্ন রাজ্য, সমুদ্র, পাহাড়, নদী এবং প্রাণীকুলের বসবাসের প্রতিটি স্থান আমাদের উল্লিখিত পৃথিবীর এই ১/৯ অংশ গঠন করে।৪- পূর্ব দিকের সর্বশেষ শহর হলো চীনের কাসবাহ, যাকে খামদান বলা হয়। এটি সবুজ সমুদ্রের উপকূলে অবস্থিত, যাকে রোমানরা পূর্ব মহাসাগর এবং আরবরা সবুজ সমুদ্র বলে থাকে। যেমনটি এরিস্টটল তার 'আল-আসার আল-উলোইয়্যাহ' গ্রন্থে বলেছেন, এই সমুদ্রটি দিগন্ত বলয়ের মতো পৃথিবীকে পরিবেষ্টন করে আছে। কোনো জাহাজ এর ঢেউ পাড়ি দেয় না [২ খ] এবং কেউ এটি অতিক্রম করতে পারেনি, আর এর শেষ সীমানাও জানা নেই। আবাদি অঞ্চল যেখানেই হোক না কেন, সেখান থেকে এটি দেখা সম্ভব, তবে আবাদি অঞ্চলের খুব নিকটবর্তী স্থান ছাড়া এটি বিদীর্ণ করা সম্ভব নয়। একইভাবে পশ্চিম দিকের সর্বশেষ শহরকে সুস আল-আকসা বলা হয়, যা অবস্থিত...
(খণ্ড: ১)
হুদূদুল আলাম মিনাল মাশরিক ইলাল মাগরিব
(পৃষ্ঠা: ২৩)
ساحل البحر الذي يدعى الأوقيانوس المغربي؛ وماء هذا البحر يشبه ماء الأوقيانوس المشرقي في لونه وطعمه ورائحته، وكل ما كان من العمارة في المغرب من شمال هذا البحر وجنوبه، متصل به. ولا يمكن عبوره بالسفينة إلا في المناطق القريبة من العمارة.ثم إنهم تفحصوا فوجدوا أن كلا البحرين هما بحر واحد يدور حول الأرض من المشرق إلى المغرب ويمر بالقطبين. وبسبب هذا البحر لا يعلم أحد خبر ما في النصف الآخر.5- أما خط الاستواء في هذا النصف، فأغلبه يمر بالبحر الأعظم، وتقع العمارة من خط الاستواء باتجاه الشمال في 63 درجة، وأما ما يلي ذلك فلا يستطيع كائن أن يعيش فيه لشدة البرد حتى القطب الشمالي.بينما الناحية الجنوبية من خط الاستواء، ففي بعضها بحر، وفي الآخر حر شديد، وأهلها بعيدون عن طباع الناس، وهم زنوج وأحباش وأمثال ذلك. أما ما يلي تلك الناحية وحتى القطب الجنوبي فلا يمكن أن يعيش فيه أحد لشده حرة. وبالله التوفيق.
পশ্চিম মহাসাগর নামক সমুদ্রের উপকূল; এই সমুদ্রের পানির রঙ, স্বাদ ও ঘ্রাণ পূর্ব মহাসাগরের পানির সদৃশ। মাগরিবের (পশ্চিমাঞ্চলের) এই সমুদ্রের উত্তর ও দক্ষিণে অবস্থিত সকল জনপদ এর সাথে সংযুক্ত। জনবসতিপূর্ণ নিকটবর্তী অঞ্চলসমূহ ব্যতীত জাহাজযোগে এটি অতিক্রম করা সম্ভব নয়।অতঃপর তারা অনুসন্ধান করে দেখতে পেলেন যে, এই উভয় সমুদ্র মূলত একটিই সমুদ্র, যা পূর্ব থেকে পশ্চিমে পৃথিবীকে পরিবেষ্টন করে আবর্তিত হচ্ছে এবং মেরুদ্বয়কে অতিক্রম করেছে। এই সমুদ্রের প্রতিবন্ধকতার কারণে অপর অর্ধাংশের কোনো সংবাদ কারো জানা নেই।৫- আর এই অর্ধাংশে বিষুবরেখার অধিকাংশ স্থানই মহাসাগরের ওপর দিয়ে অতিক্রান্ত হয়েছে। বিষুবরেখা থেকে উত্তর দিকে ৬৩ ডিগ্রি পর্যন্ত জনবসতি বিদ্যমান; এর পরবর্তী অঞ্চল থেকে উত্তর মেরু পর্যন্ত তীব্র শীতের কারণে কোনো প্রাণীর পক্ষে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়।পক্ষান্তরে বিষুবরেখার দক্ষিণ দিকে কোথাও সমুদ্র আবার কোথাও প্রচণ্ড দাবদাহ বিদ্যমান। সেখানকার অধিবাসীরা সাধারণ মানবীয় স্বভাব-প্রকৃতি থেকে ভিন্নতর, তারা হলো কৃষ্ণাঙ্গ, হাবশি ও তাদের অনুরূপ জাতিগোষ্ঠী। আর উক্ত অঞ্চলের পরবর্তী এলাকা থেকে দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত তীব্র গরমের কারণে কেউ বসবাস করতে পারে না। আর আল্লাহর নিকট থেকেই সক্ষমতা অর্জিত হয়।
(খণ্ড: ১)
হুদূদুল আলাম মিনাল মাশরিক ইলাল মাগরিব
(পৃষ্ঠা: ২৪)
3. القول في البحار والخلجان «1»[البحيرات الكبيرة]1- البحر الأخضر:هو الذي سميناه المحيط المشرقي «2» ، وحدّه المعلوم يبتدئ من آخر العمارة في الجنوب فيمر بخط الاستواء وجزيرة الواق واق ومدن الواق واق وناحية الصين وأطراف مدن التغزغز والخرخيز، ولا يعرف أي خليج في هذا البحر.
৩. সমুদ্র ও উপসাগরসমূহ সম্পর্কে আলোচনা «১»[বৃহৎ জলাশয়সমূহ]১. সবুজ সাগর:এটিই সেই সাগর যাকে আমরা পূর্বীয় মহাসাগর হিসেবে অভিহিত করেছি «২»; এর সুনির্দিষ্ট সীমানা দক্ষিণের জনবসতির শেষ প্রান্ত হতে শুরু হয়, অতঃপর তা বিষুবরেখা, ওয়াক ওয়াক দ্বীপ, ওয়াক ওয়াক শহরসমূহ, চীন অঞ্চল এবং তাগজগুজ ও খিরখিজ শহরসমূহের প্রান্তভাগ দিয়ে অতিক্রম করে। এই সাগরে কোনো উপসাগরের কথা জানা যায় না।
(খণ্ড: ১)
হুদূদুল আলাম মিনাল মাশরিক ইলাল মাগরিব
(পৃষ্ঠা: ২৫)
2- البحر الآخر هو المحيط المغربى «1» :وحده المعلوم يبتدئ من آخر مدن السودان ومدن المغرب والسوس الأقصى، فيمر على الخليج الرومي وآخر مدن الروم والصقالبة، ثم يمر على جزيرة تولي «2» . وفي هذا البحر خليج واحد وهو الخليج الذي يربط هذا البحر بالبحر الرومي.3- والآخر بحر كبير يدعى البحر الأعظم «3» :حده المشرقي متصل ببحر المحيط المشرقي. ويمر عليه ما يعادل ثلث خط الاستواء. ويبدأ الحد الشمالي لهذا البحر من الصين فيمر على مدن الهند ومدن السند، ومن ثم يمر بحدود كرمان وفارس، وكذلك على حدود خوزستان وحدود البصرة. أما حده الجنوبي فيبدأ من الجبل الطاعن، ويمر ببلاد الزابج، ثم يصل إلى بلاد الزنوج والأحباش. والحد المغربي لهذا البحر خليج يحيط بجميع بلاد العرب.ولهذا البحر خمسة خلجان:
২- অন্য সমুদ্রটি হলো আল-মুহিত আল-মাগরিবি (মরক্কোর মহাসাগর) «১» :এর সুপরিচিত সীমানা শুরু হয় সুদানের সর্বশেষ শহরসমূহ, মাগরিবের শহরসমূহ এবং সুস আল-আকসা থেকে; এরপর তা রোমান উপসাগর এবং রোমান ও সাকালাবাদের (স্লাভ) সর্বশেষ শহরগুলোর ওপর দিয়ে অতিবাহিত হয়, অতঃপর তা তুলি দ্বীপের পাশ দিয়ে অতিক্রম করে। এই সমুদ্রে একটি উপসাগর রয়েছে, আর সেটি হলো সেই উপসাগর যা এই সমুদ্রকে রোম সাগরের সাথে সংযুক্ত করেছে।৩- এবং অন্যটি হলো একটি বৃহৎ সমুদ্র যাকে আল-বাহরুল আজম (মহাসাগর) বলা হয় «৩» :এর পূর্বাঞ্চলীয় সীমানা আল-মুহিত আল-মাশরিকির (পূর্ব মহাসাগর) সাথে সংযুক্ত। এর ওপর দিয়ে বিষুবরেখার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অতিবাহিত হয়েছে। এই সমুদ্রের উত্তর সীমা চীন থেকে শুরু হয়ে হিন্দুস্তান ও সিন্ধুর শহরগুলোর ওপর দিয়ে অতিবাহিত হয়, এরপর তা কিরমান ও পারস্যের সীমানা এবং একইভাবে খুজিস্তান ও বসরার সীমানা দিয়ে অতিক্রম করে। এর দক্ষিণ সীমা শুরু হয় জাবাল আল-ত্বাইন থেকে এবং জাবাজ অঞ্চলের ওপর দিয়ে অতিবাহিত হয়ে তা জানজ ও হাবশাদের ভূখণ্ডে গিয়ে পৌঁছেছে। আর এই সমুদ্রের পশ্চিমাঞ্চলীয় সীমানা হলো একটি উপসাগর যা সমগ্র আরব ভূখণ্ডকে পরিবেষ্টন করে আছে।এই সমুদ্রের পাঁচটি উপসাগর রয়েছে:
(খণ্ড: ১)
হুদূদুল আলাম মিনাল মাশরিক ইলাল মাগরিব
(পৃষ্ঠা: ২৬)
الأول: الخليج الذي يبدأ من حدود الحبشة ويمتد نحو المغرب حتى يصل أمام السودان ويقال له الخليج البربري «1» .الثاني: خليج يتصل بهذا الخليج متجه نحو الشمال حتى يصل حدود مصر، حيث يضيق بعد ذلك ليصبح عرضه هناك ميلا واحدا، ويدعى الخليج العربي وخليج إيلة أيضا، ويدعى خليج القلزم كذلك «2» .الثالث: يبدأ من حد فارس، ويتوسط متجها نحو المغرب والشمال حتى لا يبقى بينه وبين خليج إيلة سوى ستة عشر منزلا على الجمّازة «3» ، ويدعى هذا الخليج خليج العراق، وإن جميع بلاد العرب تقع بين هذين الخليجين: خليج إيلة وخليج العراق.الرابع: يدعى خليج فارس، ويبدأ من حد فارس «4» مع اتساع قليل، حتى يبلغ حدود السند.الخامس: [3 أ] خليج يبدأ من حدود بلاد الهند، ويصبح خليجا، ويصب في ناحية الشمال ويدعى الخليج الهندوي «5» .وكل مكان من هذا البحر الأعظم يدعى باسم المدينة أو البلاد التي تحاذيه، كبحر فارس وبحر البصرة وبحر عمان وبحر الزنج وبحر الهند، وما شابه ذلك.وفي هذا البحر توجد معادن جميع الجواهر التي تستخرج من البحر. وطوله ثمانية آلاف ميل، وعرضه يختلف حسب المكان. وفيه يحدث المدّ والجزر مرتين في اليوم والليلة من حدود القلزم حتى الصين. والمدّ هو أن يزداد الماء ويرتفع، والجزر هو أن يقلّ الماء وينخفض. وفي أي بحر آخر لا يكون المدّ والجزر إلا بزيادة أو انخفاض الماء في البحار.4- بحر الروم «6» :في بلاد المغرب. وصورة ذلك البحر كصورة الصنوبر. الحدّ المغربي منه متصل ببحر الأوقيانوس المغربي، والحد الشمالي لهذا البحر، مدن الأندلس
প্রথম: সেই উপসাগর যা হাবাশার সীমান্ত থেকে শুরু হয় এবং পশ্চিম অভিমুখে বিস্তৃত হয়ে সুদান পর্যন্ত পৌঁছায়, একে বারবারি উপসাগর বলা হয় «১» ।দ্বিতীয়: একটি উপসাগর যা এই উপসাগরের সাথে সংযুক্ত হয়ে উত্তর দিকে অগ্রসর হয় এবং মিশরের সীমান্ত পর্যন্ত পৌঁছায়, যেখানে এটি পরবর্তীতে সংকুচিত হয়ে এর প্রস্থ মাত্র এক মাইল হয়। একে আরবি উপসাগর এবং আয়লা উপসাগরও বলা হয়, তদ্রূপ একে কুলজুম উপসাগরও বলা হয় «২» ।তৃতীয়: এটি পারস্যের সীমানা থেকে শুরু হয় এবং পশ্চিম ও উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থান করে, এমনকি এর এবং আয়লা উপসাগরের মধ্যবর্তী দূরত্ব দ্রুতগামী উটের পিঠে মাত্র ষোলো মঞ্জিল অবশিষ্ট থাকে «৩» , এই উপসাগরকে ইরাকি উপসাগর বলা হয় এবং সমগ্র আরব ভূখণ্ড এই দুটি উপসাগরের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত: আয়লা উপসাগর এবং ইরাকি উপসাগর।চতুর্থ: একে পারস্য উপসাগর বলা হয় এবং এটি পারস্যের সীমানা থেকে সামান্য প্রশস্ত হয়ে শুরু হয় «৪» , এমনকি তা সিন্ধু সীমান্ত পর্যন্ত পৌঁছে যায়।পঞ্চম: [৩ ক] একটি উপসাগর যা হিন্দুস্তান ভূখণ্ডের সীমানা থেকে শুরু হয় এবং একটি উপসাগরে পরিণত হয়, এটি উত্তর দিকে প্রবাহিত হয় এবং একে হিন্দুস্তানি উপসাগর বলা হয় «৫» ।আর এই বিশাল সমুদ্রের প্রতিটি অংশই তার পার্শ্ববর্তী শহর বা ভূখণ্ডের নামে নামকরণ করা হয়, যেমন—পারস্য সাগর, বসরা সাগর, ওমান সাগর, জাঞ্জ সাগর এবং ভারত সাগর ও তদ্রূপ অন্যান্য।আর এই সমুদ্রে সকল প্রকার মণি-মুক্তার খনি রয়েছে যা সমুদ্র থেকে আহরণ করা হয়। এর দৈর্ঘ্য আট হাজার মাইল এবং এর প্রস্থ স্থানভেদে ভিন্ন ভিন্ন হয়। এতে কুলজুমের সীমানা থেকে চীন পর্যন্ত দিন ও রাতে দুইবার জোয়ার-ভাটা সংঘটিত হয়। জোয়ার হলো পানির বৃদ্ধি পাওয়া ও উপরে ওঠা, আর ভাটা হলো পানির কমে যাওয়া ও নিচে নামা। অন্য কোনো সমুদ্রে জোয়ার-ভাটা হয় না সমুদ্রের পানির বৃদ্ধি বা হ্রাস পাওয়া ব্যতীত।৪- রুম সাগর «৬» :মাগরিবের (পাশ্চাত্য) ভূখণ্ডে। এই সমুদ্রের আকৃতি পাইন ফলের আকৃতির মতো। এর পশ্চিম সীমান্ত মাগরিবী ওকিয়ানুস (আটলান্টিক) মহাসাগরের সাথে যুক্ত এবং এই সমুদ্রের উত্তর সীমান্ত হলো আন্দালুসিয়ার শহরসমূহ।
(খণ্ড: ১)
হুদূদুল আলাম মিনাল মাশরিক ইলাল মাগরিব
(পৃষ্ঠা: ২৭)
والإفرنجة والروم. والحد المشرقي لهذا البحر مدن أرمينية وبعض الروم والحد الجنوبي له، مدن الشام ومصر وإفريقية وطنجة. وفي هذا البحر خليجان: الأول متصل ببحر الأوقيانوس «1» ؛ والآخر كالنهر يقطع وسط الروم ثم يمر بمحاذاة القسطنطينية ليصب في بحر بنطس «2» .ولا يوجد أى بحر جميع أطرافه المحيطة به أكثر عمارة من هذا البحر.وطول هذا البحر أربعة آلاف ميل، أما عرضه فمختلف، وأكثر أقسامه عرضا هو خليج القسطنطينية الذي يبلغ أربعة أميال. وأشدها ضيقا موضع من الخليج المغربي حيث يبلغ عشرة فراسخ. ولا يمكن رؤية الساحل الآخر عند الوقوف على أحد ساحليه.5- بحر الخزر «3» :ناحية المشرق منه مفازة متصلة بالغوز وخوارزم. وناحية الشمال منه متصلة بالغوز وجزء من بلاد الخزر. وناحية المغرب منه متصلة بمدن الخزر وآذربايجان. وناحية الجنوب منه متصلة بمدن الجيل والديلم وطبرستان وجرجان. وليس لهذا البحر خليج.وطول هذا البحر أربعمائة فرسخ في عرض أربعمائة فرسخ، وليس فيه أي شيء سوى الأسماك.
...এবং ইফ্রাঞ্জা ও রোমীয়গণ। এই সাগরের পূর্ব সীমানা হলো আরমেনিয়ার শহরসমূহ এবং রোমের কিছু অংশ; আর এর দক্ষিণ সীমানা হলো শাম, মিসর, আফ্রিকা ও তাঞ্জিয়ার শহরসমূহ। এই সাগরে দুটি উপসাগর রয়েছে: প্রথমটি মহাসাগরের (১) সাথে যুক্ত; আর অন্যটি একটি নদীর মতো যা রোমের মধ্যভাগ চিরে প্রবাহিত হয়েছে, অতঃপর কনস্টান্টিনোপলের সমান্তরালে প্রবাহিত হয়ে পন্টাস সাগরে (২) গিয়ে পড়েছে।এই সাগরের মতো এমন কোনো সাগর নেই যার চারপাশের সকল প্রান্ত এর চেয়ে অধিক জনবসতিপূর্ণ।এই সাগরের দৈর্ঘ্য চার হাজার মাইল, আর এর প্রস্থ বিভিন্ন রকম। এর সবচেয়ে প্রশস্ত অংশ হলো কনস্টান্টিনোপল উপসাগর, যা চার মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত। আর এর সবচেয়ে সংকীর্ণ স্থান হলো পশ্চিম উপসাগরের একটি অংশ, যা দশ ফারসাখ পর্যন্ত। এর এক তীরে দাঁড়ালে অন্য তীর দেখা সম্ভব নয়।৫- খাজার সাগর (৩):এর পূর্ব দিকটি ঘুজ ও খোয়ারিজমের সাথে যুক্ত একটি মরুভূমি। এর উত্তর দিকটি ঘুজ এবং খাজার দেশের কিছু অংশের সাথে যুক্ত। এর পশ্চিম দিকটি খাজারের শহরসমূহ ও আজারবাইজানের সাথে যুক্ত। আর এর দক্ষিণ দিকটি জিল, দাইলাম, তাবারিস্তান ও জুরজানের শহরসমূহের সাথে যুক্ত। এই সাগরের কোনো উপসাগর নেই।এই সাগরের দৈর্ঘ্য চারশত ফারসাখ এবং প্রস্থ চারশত ফারসাখ। এতে মাছ ছাড়া আর কিছুই নেই।
(খণ্ড: ১)
হুদূদুল আলাম মিনাল মাশরিক ইলাল মাগরিব
(পৃষ্ঠা: ২৮)
6- بحر الجرزيان الذي يدعى بحر بنطس «1» :حدّه المشرقي حدود اللّان، وحده الشمالي مساكن البجناك والخزر والمروات وبلغار الداخل والصقالبة. وحده المغربي ناحية برجان، وحد الجنوب منه ناحية الروم.وطول هذا البحر ألف وثلاثمائة ميل في عرض ثلاثمائة وخمسين ميلا.7- بحر خوارزم «2» :يقع على بعد أربعين فرسخا بين المغرب والشمال، وتحيط به مساكن الغوز من كل جانب. ومحيط هذا البحر ثلاثمائة فرسخ.فهذه سبعة أبحر. وغير هذه يوجد كثير من البحيرات الصغيرة، بعضها عذب المياه وبعضها مرّ، لكن البحيرات الصغيرة ذات المياه المالحة إحدى عشرة بحيرة:[البحيرات الصغيرة ذات المياه المالحة]الأولى: بحيرة ماوطس «3» :في آخر حدّ الصقالبة من جهة الشمال. وطول هذه البحيرة مائة فرسخ في عرض ثلاثين، ومن بحر بنطس يتصل بها خليج. كما يتصل بهذه البحيرة خليج بالأوقيانوس المغربي. وتحيط بها مناطق غير عامرة.
৬- জুরযিয়ান সাগর যাকে পন্টাস সাগর বলা হয় «১» :এর পূর্ব সীমান্ত হলো আল-লান-এর সীমানা, এবং এর উত্তর সীমান্ত হলো পেচেনেগ, খাযার, মারুয়াত, অভ্যন্তরীণ বুলগার ও স্লাভদের আবাসস্থল। এর পশ্চিম সীমান্ত হলো বুর্জান অঞ্চল এবং এর দক্ষিণ দিক হলো রোম অঞ্চল।এই সাগরের দৈর্ঘ্য এক হাজার তিনশ মাইল এবং প্রস্থ তিনশ পঞ্চাশ মাইল।৭- খোয়ারেজম সাগর «২» :এটি পশ্চিম ও উত্তরের মধ্যবর্তী স্থানে চল্লিশ ফারসাখ দূরে অবস্থিত এবং চারদিক থেকে ওঘুজদের বসতি একে পরিবেষ্টন করে আছে। এই সাগরের পরিধি হলো তিনশ ফারসাখ।এই হলো সাতটি সাগর। এগুলি ছাড়াও আরও অনেক ছোট ছোট হ্রদ রয়েছে, যেগুলোর কোনোটির পানি সুপেয় এবং কোনোটির পানি তিক্ত, তবে লবণাক্ত পানির ছোট হ্রদ রয়েছে এগারোটি:[লবণাক্ত পানির ছোট হ্রদসমূহ]প্রথম: মাওতিস হ্রদ «৩» :এটি উত্তর দিক থেকে স্লাভদের শেষ সীমানায় অবস্থিত। এই হ্রদের দৈর্ঘ্য একশ ফারসাখ এবং প্রস্থ ত্রিশ ফারসাখ। পন্টাস সাগর থেকে একটি উপসাগর এর সাথে মিলিত হয়েছে। একইভাবে পশ্চিম মহাসাগরের সাথে একটি উপসাগর এই হ্রদকে সংযুক্ত করেছে। এর চারপাশে জনমানবহীন এলাকা রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
হুদূদুল আলাম মিনাল মাশরিক ইলাল মাগরিব
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الثانية: بحيرة كبوذان «1» :في أرمينية. وطولها [3 ب] خمسون فرسخا في عرض ثلاثين. وفي هذه البحيرة قرية يقال لها كبوذان، وتسمى هذه البحيرة باسم تلك القرية.وحولها عمارة، ولا توجد فيها أحياء لشدة ملحها إلا الديدان.الثالثة: البحيرة الميتة «2» :في الشام وليس فيها كائن حي، لمرارة مائها. طولها مسير ثلاثة أيام، في عرض يومين.الرابعة: بحيرة نويطة «3» :في بلاد الروم. طولها مسير ثلاثة أيام في عرض يومين.وما حولها عامر. وفيها سمك كثير.الخامسة: بحيرة السماطي «4» :في بلاد الروم أيضا. طولها مسير ثلاثة أيام في عرض مسير يوم. وما حولها عامر. وفيها سمك كثير. ويقال إن فيها فرس النهر.السادسة: بحيرة يون «5» :في فارس، قرب كازرون. طولها عشرة فراسخ في عرض ثمانية. وما حولها عامر. وفي هذه البحيرة خيرات كثيرة.
দ্বিতীয়: কাবুদান হ্রদ :এটি আরমেনিয়ায় অবস্থিত। এর দৈর্ঘ্য [৩ খ] পঞ্চাশ ফারসাখ এবং প্রস্থ ত্রিশ ফারসাখ। এই হ্রদে কাবুদান নামে একটি গ্রাম রয়েছে এবং এই হ্রদটির নামকরণ সেই গ্রামের নামানুসারেই করা হয়েছে।এর চারপাশে জনবসতি রয়েছে, তবে অত্যধিক লবণাক্ততার কারণে এতে কৃমি ছাড়া অন্য কোনো জীবন্ত প্রাণী নেই।তৃতীয়: মৃত সাগর :এটি শামে অবস্থিত এবং পানির তিক্ততার কারণে এতে কোনো জীবন্ত প্রাণী নেই। এর দৈর্ঘ্য তিন দিনের পথ এবং প্রস্থ দুই দিনের পথ।চতুর্থ: নুওয়াইতাহ হ্রদ :এটি রোম ভূখণ্ডে অবস্থিত। এর দৈর্ঘ্য তিন দিনের পথ এবং প্রস্থ দুই দিনের পথ।এর চারপাশ জনাকীর্ণ এবং এতে প্রচুর মাছ রয়েছে।পঞ্চম: আস-সামাতি হ্রদ :এটিও রোম ভূখণ্ডে অবস্থিত। এর দৈর্ঘ্য তিন দিনের পথ এবং প্রস্থ এক দিনের পথ। এর চারপাশ জনাকীর্ণ এবং এতে প্রচুর মাছ রয়েছে। বলা হয়ে থাকে যে, এতে জলহস্তী রয়েছে।ষষ্ঠ: ইউন হ্রদ :এটি পারস্যের কাযরূনের নিকট অবস্থিত। এর দৈর্ঘ্য দশ ফারসাখ এবং প্রস্থ আট ফারসাখ। এর চারপাশ জনাকীর্ণ এবং এই হ্রদে প্রচুর সম্পদ ও কল্যাণ রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
হুদূদুল আলাম মিনাল মাশরিক ইলাল মাগরিব
(পৃষ্ঠা: ৩০)
السابعة: بحيرة باسفهري «1» :في فارس قرب شيراز، طولها ثمانية فراسخ في عرض سبعة، وما حولها عامر، وهي قليلة الخيرات.الثامنة: بحيرة جنكان:في فارس، طولها اثنا عشر فرسخا في عرض عشرة فراسخ.وهذه البحيرة كثيرة الخيرات، وما حولها عامر.التاسعة: بحيرة بجكان:في فارس. طولها عشرون فرسخا في عرض خمسة عشر.وفيها تتجمع الأملاح. وحولها تكثر الوحوش. وتخرج من هذه البحيرة عين ماء قرب داراجرد، ويستمر جريانها حتى تصب في البحر.العاشرة: بحيرة توزكول «2» :في الخلخ. طولها عشرة فراسخ في عرض ثمانية.تتجمع فيها الأملاح. تجلب سبع قبائل من الخلخ، الملح من هناك.الحادية عشرة: بحيرة إيس كول «3» :بين الجكل والتغزغز. طولها ثلاثون فرسخا في عرض عشرين. ومدينة برسخان تقع على ساحل هذه البحيرة أما البحيرات ذات الماء العذب فعددها غير معروف. يقال لها بحيرة مرة وبطيحة مرة أخرى. إلا أن المعروف منها سبع بحيرات:[البحيرات ذات الماء العذب]الأولى: بحيرة مصر:التي تدعى بحيرة تنيس، وهي متصلة ببحر الروم، ويصب فيها نهر النيل. وهذه البحيرة عذبة المياه في الصيف. ويغدو ماؤها في الشتاء ملحا حين يقل منسوب الماء في نهر النيل. ويوجد وسط هذه البحيرة مدينتان هما دمياط وتنيس.
সপ্তম: বাসফাহরি হ্রদ «১» :পারস্যের শিরাজের নিকটবর্তী, এর দৈর্ঘ্য আট ফারসাখ এবং প্রস্থ সাত ফারসাখ। এর চারপাশ জনবহুল এবং এটি অল্প সম্পদে সমৃদ্ধ।অষ্টম: জুনকান হ্রদ:পারস্যে অবস্থিত, এর দৈর্ঘ্য বারো ফারসাখ এবং প্রস্থ দশ ফারসাখ।এই হ্রদটি সম্পদে সমৃদ্ধ এবং এর চারপাশ জনবহুল।নবম: বাজকান হ্রদ:পারস্যে অবস্থিত। এর দৈর্ঘ্য বিশ ফারসাখ এবং প্রস্থ পনেরো ফারসাখ।এখানে লবণ জমা হয়। এর চারপাশে বন্যপ্রাণীর আধিক্য রয়েছে। এই হ্রদ হতে দারাজিরদ-এর নিকট একটি পানির ঝরনা নির্গত হয়েছে এবং এর প্রবাহ অব্যাহত থাকে যতক্ষণ না এটি সমুদ্রে গিয়ে পতিত হয়।দশম: তুজকুল হ্রদ «২» :খাল্লাখে অবস্থিত। এর দৈর্ঘ্য দশ ফারসাখ এবং প্রস্থ আট ফারসাখ।এতে লবণ সঞ্চিত হয়। খাল্লাখের সাতটি গোত্র সেখান থেকে লবণ সংগ্রহ করে।একাদশ: ইসকুল হ্রদ «৩» :জিকিল এবং তুগুজগোজ-এর মধ্যবর্তী স্থানে। এর দৈর্ঘ্য ত্রিশ ফারসাখ এবং প্রস্থ বিশ ফারসাখ। বারসাখান শহরটি এই হ্রদের তীরে অবস্থিত। আর মিঠা পানির হ্রদগুলোর সংখ্যা অজ্ঞাত। সেগুলোকে কখনো হ্রদ আবার কখনো জলাভূমি বলা হয়। তবে তার মধ্যে পরিচিত হলো সাতটি হ্রদ:[মিঠা পানির হ্রদসমূহ]প্রথম: মিশরের হ্রদ:যাকে তিন্নীস হ্রদ বলা হয়, এটি রোম সাগরের সাথে সংযুক্ত এবং নীল নদ এতে এসে পতিত হয়েছে। গ্রীষ্মকালে এই হ্রদের পানি মিঠা থাকে। শীতকালে নীল নদের পানির স্তর কমে গেলে এর পানি লবণাক্ত হয়ে যায়। এই হ্রদের মাঝখানে দুটি শহর অবস্থিত, সেগুলো হলো দমিয়াত এবং তিন্নীস।
(খণ্ড: ১)
হুদূদুল আলাম মিনাল মাশরিক ইলাল মাগরিব
(পৃষ্ঠা: ৩১)
وكل الثياب الثمينة التي يؤتى بها من مصر، تجلب من هاتين المدينتين. طول هذه البحيرة خمسة عشر فرسخا في عرض أحد عشر فرسخا.الثانية: بحيرة طبرية:في الشام، طولها اثنا عشر فرسخا في عرض سبعة فراسخ.الثالثة: بحيرة تنتيه «1» :في بلاد الروم. وما حولها عامر. طولها ثمانية فراسخ في عرض خمسة.الرابعة: بحيرة ريس «2» :في بلاد الروم. وما حولها عامر. طولها خمسة فراسخ في عرض خمسة.الخامسة: بحيرة أرزن «3» :في فارس قرب شيراز، وسمك شيراز من هذه البحيرة.طولها عشرة فراسخ في عرض ثمانية.السادسة: بحيرة زره «4» :في سجستان. ما حولها عامر وقرى، إلا في الناحية التي تطل فيها على المفازة. طولها ثلاثون فرسخا في عرض سبعة. ويحدث أحيانا أن يزيد ماء هذه البحيرة إلى الحد الذي يخرج معه نهر منها يمر على كرمان ويصب في البحر الأعظم [4 أ] .السابعة: البحيرة الواقعة على حد أسروشنهالتي تتكون من التقاء أربعة أنهر تنبع من بتمان بين الجبال. ومنها يخرج نهر يسقي سمرقند وبخارى وبلاد السغد. طولها أربعة فراسخ في عرض أربعة. وهي من تلك البحيرات التي ذكرت في كتب الأخبار.
মিশর থেকে আনা সকল মূল্যবান পোশাক এই দুই শহর থেকেই সংগ্রহ করা হয়। এই হ্রদটির দৈর্ঘ্য পনেরো ফারসাখ এবং প্রস্থ এগারো ফারসাখ।দ্বিতীয়: তাবারিয়া হ্রদ:এটি শাম (সিরিয়া) দেশে অবস্থিত, এর দৈর্ঘ্য বারো ফারসাখ এবং প্রস্থ সাত ফারসাখ।তৃতীয়: তান্তিয়া হ্রদ «১» :এটি রোম ভূখণ্ডে অবস্থিত এবং এর চারপাশ জনবসতিপূর্ণ। এর দৈর্ঘ্য আট ফারসাখ এবং প্রস্থ পাঁচ ফারসাখ।চতুর্থ: রাইস হ্রদ «২» :এটি রোম ভূখণ্ডে অবস্থিত এবং এর চারপাশ আবাদি। এর দৈর্ঘ্য পাঁচ ফারসাখ এবং প্রস্থ পাঁচ ফারসাখ।পঞ্চম: আরযান হ্রদ «৩» :এটি পারস্যের শিরাজের নিকটে অবস্থিত এবং শিরাজের মাছ এই হ্রদ থেকেই সংগৃহীত হয়।এর দৈর্ঘ্য দশ ফারসাখ এবং প্রস্থ আট ফারসাখ।ষষ্ঠ: যারাহ হ্রদ «৪» :এটি সিজিস্তানে অবস্থিত। মরুভূমির দিকের অংশটি ছাড়া এর চারপাশ জনবসতি ও গ্রামে পরিপূর্ণ। এর দৈর্ঘ্য ত্রিশ ফারসাখ এবং প্রস্থ সাত ফারসাখ। কখনো কখনো এই হ্রদের পানি এতটাই বৃদ্ধি পায় যে এখান থেকে একটি নদী বের হয়ে কিরমানের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয় এবং মহাসাগরে গিয়ে পড়ে [৪ ক]।সপ্তম: উশরুশানা সীমান্তে অবস্থিত হ্রদএটি পাহাড়ের মধ্যবর্তী বাতমান থেকে উৎপন্ন চারটি নদীর মিলনস্থল থেকে সৃষ্টি হয়েছে। এখান থেকে একটি নদী নির্গত হয়েছে যা সমরকন্দ, বুখারা এবং সুগদ অঞ্চলে পানি সরবরাহ করে। এর দৈর্ঘ্য চার ফারসাখ এবং প্রস্থ চার ফারসাখ। এটি সেই সকল হ্রদসমূহের অন্তর্ভুক্ত যা ইতিহাসের গ্রন্থসমূহে উল্লেখ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
হুদূদুল আলাম মিনাল মাশরিক ইলাল মাগরিব
(পৃষ্ঠা: ৩২)
وما سوى هذه، توجد بحيرات صغيرة كثيرة:أحدها في جبال الجوزجان، في مانشان قرب بستراب. طولها فرسخ واحد في عرض نصف فرسخ.وأخرى في جبال طوس وجبال طبرستان، لكنها غير معروفة وليست قديمة. ويحدث أحيانا أن تجفّ فلا تبقى فيها مياه. ولذا لم نذكرها.أما المياه التي تدعى البطائح فكثيرة، لكن المعروف منها تسع:ثلاث منها في المناطق غير العامرة من الجنوب على الجانب الآخر من النوبة قرب جبل القمر، حيث تتفرع منها عشرة أنهار، تتكون من كل خمسة منها بطيحة واحدة، يخرج من كل بطيحة ثلاثة أنهر تتجمع في مكان واحد، فيتكون من كل ستة منها بطيحة واحدة، ومن تلك البطيحة ينبع نهر النيل، ويمر من النوبة وبلاد مصر حتى يصب في بحيرة تنيس «1» .واثنتان أخريان هما بطيحتا البصرة، تحيط بهما العمارة وكثير من القرى والمدن الصغيرة.بطيحة الكوفة، وما حولها عامر، وخيراتها كثيرة.السابعة، بطيحة بخارى وتدعى آوازه بيكند، وتقع في مفازة «2» .الثامنة في أعالي الصين على حدود مدينة خمدان.التاسعة في شمال الصين.وجميع هذه البحيرات والبطائح، ماؤها عذب وتكثر فيها الأسماك ويعمل فيها الصيادون.وتوجد بطائح سواها يجف ماؤها أحيانا، لذا لم نذكرها.
এগুলো ছাড়াও অনেক ছোট ছোট হ্রদ রয়েছে:যার একটি জাওযজান পাহাড়ে, বাস্ত্রাবের নিকটবর্তী মানশানে অবস্থিত। এর দৈর্ঘ্য এক ফারসাখ এবং প্রস্থ আধা ফারসাখ।অন্যটি তুস ও তাবারিস্তানের পাহাড়ে অবস্থিত, তবে সেগুলো তেমন পরিচিত নয় এবং প্রাচীনও নয়। কখনও কখনও সেগুলো শুকিয়ে যায় এবং তাতে কোনো পানি অবশিষ্ট থাকে না। তাই আমরা সেগুলো উল্লেখ করিনি।আর জলাভূমি নামে পরিচিত পানির আধার অনেক থাকলেও প্রসিদ্ধ হলো নয়টি:তার মধ্যে তিনটি হলো নূবিয়ার অপর প্রান্তে দক্ষিণ দিকের জনমানবহীন এলাকায় জাবালুল কামারের নিকটে; সেখান থেকে দশটি নদী নির্গত হয়, যার প্রতি পাঁচটি মিলে একটি করে জলাভূমি তৈরি করে। প্রতিটি জলাভূমি থেকে তিনটি করে নদী বের হয়ে এক জায়গায় মিলিত হয়, ফলে সেই ছয়টি নদী মিলে একটি জলাভূমি তৈরি করে। আর সেই জলাভূমি থেকেই নীল নদ উৎপন্ন হয় এবং তা নূবিয়া ও মিসর ভূখণ্ড অতিক্রম করে তেনিস হ্রদে গিয়ে পতিত হয়।অন্য দু’টি হলো বসরার জলাভূমি, যার চারপাশে জনবসতি এবং অনেক গ্রাম ও ছোট শহর রয়েছে।কুফার জলাভূমি, এর চারপাশ আবাদযোগ্য এবং এতে অনেক কল্যাণ ও প্রাচুর্য রয়েছে।সপ্তমটি হলো বুখারার জলাভূমি, যাকে আওয়াযাহ বায়কান্দ বলা হয় এবং এটি একটি মরু প্রান্তরে অবস্থিত।অষ্টমটি চীনের উচ্চাঞ্চলে খামদান শহরের সীমান্তে অবস্থিত।নবমটি উত্তর চীনে অবস্থিত।এই সকল হ্রদ ও জলাভূমির পানি সুপেয় এবং এতে প্রচুর মাছ পাওয়া যায় এবং জেলেরা সেখানে কাজ করে।এগুলি ছাড়াও আরও কিছু জলাভূমি রয়েছে যার পানি কখনও কখনও শুকিয়ে যায়, তাই আমরা সেগুলো উল্লেখ করিনি।
(খণ্ড: ১)
হুদূদুল আলাম মিনাল মাশরিক ইলাল মাগরিব
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
4- القول في الجزائركل أرض كانت وسط البحر مرتفعة عن الماء، أو كل جبل كان وسط البحر يدعى الجزيرة.أ-أما في بحر الأوقيانوس المشرقي:1- جزيرة معروفة تدعى جزيرة الفضة «1»، وفيها أشجار الساج والآبنوس بكثرة، وفيها معدن الذهب. وبها سبعة أنهار كبار تنبع من هذه الجزيرة أيضا من سبعة أماكن مختلفة لتصب في هذا البحر. ويوجد في هذه الجزيرة مدينة كبيرة ومعروفة، وهي في عداد مدن الصين وتدعى مدينة جزيرة الفضة، عامرة وفيها خلق كثير.ب- وأما الجزر التي في البحر الأعظمفهي ثلاث عشرة جزيرة معروفة.2- جبلان عامران، أحدهما يبدأ من الناحية الجنوبية وينحدر باتجاه هذا البحر.والآخر يبدأ من ناحية الشمال منحدرا إلى هذا البحر في مواجهة ذلك الجبل، وهذان الجبلان مذكوران في كتب بطلميوس. وكل واحد منهما يقع بعضه على اليابسة وبعضه في الماء.3- جزيرة الذهب «2» :وهي الجزيرة الأولى في هذا البحر الأعظم، محيطها ثلاثمائة فرسخ، وفيها معادن الذهب، وعمارة كثيرة، ويدعى أهلها زنوج الواق واق، وهم
৪- দ্বীপসমূহ প্রসঙ্গে আলোচনাসাগরের মাঝখানে পানির ওপর জেগে থাকা যে কোনো ভূখণ্ড অথবা সাগরের মাঝখানে অবস্থিত যে কোনো পাহাড়কে দ্বীপ বলা হয়।ক-পূর্ব মহাসাগর প্রসঙ্গে:১- একটি সুপরিচিত দ্বীপ যাকে 'রৌপ্য দ্বীপ' বলা হয় «১»সেখানে প্রচুর পরিমাণে সেগুন ও আবলুস গাছ রয়েছে এবং সেখানে স্বর্ণের খনি আছে। এই দ্বীপে সাতটি বড় নদী রয়েছে যা এই দ্বীপেরই সাতটি ভিন্ন স্থান থেকে উৎপন্ন হয়ে এই সাগরে পতিত হয়েছে। এই দ্বীপে একটি বড় ও প্রসিদ্ধ শহর রয়েছে যা চীনের শহরগুলোর অন্তর্ভুক্ত এবং একে 'রৌপ্য দ্বীপের শহর' বলা হয়; এটি জনবহুল এবং সেখানে বিপুল সংখ্যক মানুষ বাস করে।খ- আর মহাসাগরে অবস্থিত দ্বীপসমূহ প্রসঙ্গেসেগুলো তেরোটি সুপরিচিত দ্বীপ।২- দুটি জনবসতিপূর্ণ পাহাড়যার একটি দক্ষিণ দিক থেকে শুরু হয়ে এই সাগরের দিকে নেমে গেছে।অন্যটি উত্তর দিক থেকে শুরু হয়ে সেই পাহাড়ের বিপরীতে এই সাগরের দিকে ঢালু হয়ে নেমেছে; এই পাহাড় দুটির কথা টলেমি-এর গ্রন্থসমূহে বর্ণিত হয়েছে। এগুলোর প্রত্যেকটির কিছু অংশ স্থলভাগে এবং কিছু অংশ পানিতে অবস্থিত।৩- স্বর্ণ দ্বীপ «২» :এটি এই মহাসাগরের প্রথম দ্বীপ, এর পরিধি তিনশ ফারসাখ; সেখানে স্বর্ণের খনি ও ব্যাপক জনবসতি রয়েছে এবং এর অধিবাসীদের ওয়াক ওয়াক বংশীয় জাঞ্জি বলা হয়, আর তারা...
(খণ্ড: ১)
হুদূদুল আলাম মিনাল মাশরিক ইলাল মাগরিব
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
جميعا عراة يأكلون الناس. يذهب تجار الصين إليها كثيرا، ليشتروا منهم الحديد ويبيعوهم الطعام والحبوب، ويتعاملون معهم بالإشارة دون أن يكلم أحدهم الآخر [4 ب] .4- جزيرة طبرنا «1» :جزيرة أخرى في هذا البحر، محيطها ألف فرسخ، وتحيط بها تسع وخمسون جزيرة من الجزر الكبار العامرة والغامرة، وفيها مدن وقرى كثيرة، وجبال وأنهار كثيرة، ومعادن الياقوت من جميع الألوان؛ وتقع هذه الجزيرة أمام الحدّ الفاصل بين الصين والهند. وفيها مدينة كبيرة تدعى موس على الساحل المواجه للهند. وكل ما ينتج في هذه الجزيرة يؤتى به إلى هذه المدينة ومنها إلى أرجاء العالم.5- جزيرة الرامي «2» :وتقع قرب حدود سرنديب، إلى القسم الجنوبي منها، وفيها ناس سود متوحشون وعراة، يمارسون الغوص. وفي هذا المكان يوجد اللؤلؤ. ويوجد في هذه الجزيرة العنبر والبقم والكركدن، وهم يبيعون كل ذلك ويشترون الحديد بدلا منه.وإن البقم الذي يؤتى به من هذه الجزيرة هو ترياق من جميع السموم.6- جزيرة صريح «3» :تقع إلى الغرب من سرنديب، وفيها أشجار الكافور، وأهلها متوحشون، وبها أفاع كثيرة.
তারা সবাই নগ্ন এবং মানুষ ভক্ষণ করে। চীনের বণিকরা সেখানে প্রচুর যাতায়াত করে, তাদের কাছ থেকে লোহা ক্রয় করতে এবং তাদের কাছে খাদ্য ও শস্য বিক্রয় করতে। তারা একে অপরের সাথে কথা না বলে ইশারার মাধ্যমে লেনদেন করে [৪ খ] ।৪- তাবারনা দ্বীপ «১» :এটি এই সাগরের অন্য একটি দ্বীপ, যার পরিধি এক হাজার ফারসাখ। এটিকে ঘিরে রয়েছে উনষাটটি বড় দ্বীপ, যার মধ্যে জনবসতিপূর্ণ এবং জনশূন্য উভয় প্রকার দ্বীপই রয়েছে। সেখানে বহু শহর ও গ্রাম, অনেক পাহাড় ও নদী এবং সব রঙের ইয়াকুতের খনি রয়েছে। এই দ্বীপটি চীন ও ভারতের মধ্যবর্তী সীমানার সামনে অবস্থিত। এর ভারতের সম্মুখবর্তী উপকূলে মুস নামক একটি বড় শহর রয়েছে। এই দ্বীপে যা কিছু উৎপন্ন হয় তা এই শহরে আনা হয় এবং সেখান থেকে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠানো হয়।৫- রামি দ্বীপ «২» :এটি সারানদীবের সীমানার কাছে, এর দক্ষিণ অংশে অবস্থিত। সেখানে বন্য ও নগ্ন কৃষ্ণাঙ্গ মানুষ বাস করে, যারা ডুবুরি হিসেবে কাজ করে। এই স্থানে মুক্তা পাওয়া যায়। এই দ্বীপে আম্বর, বাকাম কাঠ এবং গণ্ডার পাওয়া যায়। তারা এসব বিক্রি করে এবং তার বিনিময়ে লোহা ক্রয় করে।আর এই দ্বীপ থেকে যে বাকাম কাঠ আনা হয়, তা সকল প্রকার বিষের মহৌষধ (তিরইয়াক)।৬- সারিহ দ্বীপ «৩» :এটি সারানদীবের পশ্চিমে অবস্থিত। সেখানে কর্পূর গাছ রয়েছে, এর অধিবাসীরা বন্য এবং সেখানে প্রচুর সাপ রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
হুদূদুল আলাম মিনাল মাশরিক ইলাল মাগরিব
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
7- جزيرة تدعى جابه وسلاهط «1» :يؤتى منها بالعنبر والكباب والصندل والسنبل والقرنفل.8- بالوس «2» :وتقع إلى المغرب من جابه، وبينهما فرسخان. وأهلها سود يأكلون الناس، ويؤتى منها بالكافور الجيد والجوز الهندي والموز وقصب السكر.9- كله «3» :وهي إلى الجنوب من بالوس. ملك جابه هندوسي. وبين بالوس وكله يومان في الطريق، وينمو فيها الخيزران الكثير، وفيها معدن الرصاص.10- بنكالوس «4» :إلى الغرب من كله، وبينهما ستة أيام في الطريق، أهلها عراة يجالسون التجار وأموالهم الحديد. طعامهم الموز والسمك والجوز الهندي. وبين هذه الجزيرة وبين مدينة ملي عشرون يوما في الطريق.11- هرنج «5» :وهي قرب سندان، يرتفع منها الكافور بكثرة.12- لافت «6» :وفيها مدينة جميلة، ومراو تدعى لافت، وفيها مزارع وحقول
৭- জাবাহ ও সালাহিত নামক দ্বীপ «১» :এখান থেকে অম্বর, কাবাবচিনি, চন্দন, সুম্বুল এবং লবঙ্গ সংগৃহীত হয়।৮- বালুস «২» :এটি জাবাহ-এর পশ্চিমে অবস্থিত এবং এই দুইয়ের মধ্যবর্তী দূরত্ব দুই ফারসাখ। এর অধিবাসীরা কৃষ্ণবর্ণের এবং তারা নরখাদক। এখান থেকে উৎকৃষ্ট মানের কর্পূর, নারকেল, কলা এবং আখ পাওয়া যায়।৯- কাল্লাহ «৩» :এটি বালুসের দক্ষিণে অবস্থিত। জাবাহ-এর রাজা হিন্দু ধর্মাবলম্বী। বালুস ও কাল্লাহ-এর মধ্যকার পথ দুই দিনের। সেখানে প্রচুর পরিমাণে বাঁশ জন্মে এবং সিসার খনি বিদ্যমান।১০- বাঙ্কালোস «৪» :এটি কাল্লাহ-এর পশ্চিমে অবস্থিত এবং এই দুইয়ের মাঝে ছয় দিনের পথ। এর অধিবাসীরা নগ্ন থাকে, তারা বণিকদের সাথে মেলামেশা করে এবং তাদের বিনিময়যোগ্য সম্পদ হলো লোহা। তাদের খাদ্য হলো কলা, মাছ এবং নারকেল। এই দ্বীপ এবং মালি শহরের মধ্যবর্তী পথ বিশ দিনের।১১- হারনাজ «৫» :এটি সান্দানের নিকটবর্তী, এখান থেকে প্রচুর পরিমাণে কর্পূর উৎপন্ন হয়।১২- লাফত «৬» :সেখানে একটি সুন্দর শহর রয়েছে এবং লাফত নামক একটি বন্দর রয়েছে, আর সেখানে প্রচুর কৃষিখামার ও শস্যভূমি বিদ্যমান।
(খণ্ড: ১)
হুদূদুল আলাম মিনাল মাশরিক ইলাল মাগরিব
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
وخيرات ومياه عذبة، يأتيها التجار من جميع أرجاء العالم، وتقع هذه الجزيرة أمام فارس.13- ناره «1» :تقع على خط الاستواء وسط عمارة العالم، طولها من المشرق حتى المغرب تسعون درجة. وضعت فيها الزيجات ومراصد الكواكب السيارة والثابتات طبق الزيجات القديمة. وتدعى هذه الجزيرة جزيرة استواء الليل والنهار.14- وال «2» :تقع أمام فارس، فيها قرى كثيرة ذات خيرات، وهي مرفأ للسفن.15- خارك «3» :تقع أسفل جنوبى البصرة. وبين البصرة وخارك خمسون فرسخا.وفيها مدينة كبيرة جميلة تدعى مراور خارك. يوجد قربها اللؤلؤ المرتفع الثمين.16- جزيرتان صغيرتان متصلتان ببعضهما تدعى إحداهما سقيطرا «4» :تقع قرب بلاد عمان، قليلة الخيرات وأهلها كثيرو العدد.وتوجد في هذا البحر جزائر كثيرة لكنها غير عامرة ولا معروفة، وهي أصغر من أن نذكرها.17- وفي هذا البحر، أمام بادية الشام، جبال تدعى فاران وجبيلان، يكون البحر [5 أ] هناك دائم الموج هائجاج- وأما جزائر الأوقيانوس المغربىفهى خمس وعشرون جزيرة معروفة، أسماؤها فى كتاب بطلميوس. ست جزائر منها مقابل بلاد السودان وتدعى الجزائر الخالية «5» ، فيها معدن الذهب، يأتى الناس إليها مرة فى العام من ناحية السودان ومدن السوس الأقصى، ليجمعوا من هناك معادن الذهب. ولا يستطيع أحد أن يقيم فيها لشدة حرّها.
...এবং প্রাচুর্য ও সুপেয় পানির আধার। বিশ্বের সকল প্রান্ত থেকে বণিকরা এখানে আগমন করে। এই দ্বীপটি পারস্যের সমুখে অবস্থিত।১৩- নারে «১» :এটি বিশ্বের জনবসতির কেন্দ্রে বিষুবরেখার উপর অবস্থিত। পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত এর দৈর্ঘ্য নব্বই ডিগ্রি। প্রাচীন জ্যোতির্বিজ্ঞান সংক্রান্ত সারণি (যিজ) অনুসারে এখানে গ্রহ ও নক্ষত্রের পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রসমূহ স্থাপন করা হয়েছে। এই দ্বীপটিকে দিন ও রাত্রির সমতার দ্বীপ বলা হয়।১৪- ওয়াল «২» :এটি পারস্যের সামনে অবস্থিত; এখানে বহু সমৃদ্ধ গ্রাম রয়েছে এবং এটি জাহাজের জন্য একটি বন্দর।১৫- খারেক «৩» :এটি বসরার দক্ষিণ প্রান্তের নিচে অবস্থিত। বসরা ও খারেকের মধ্যবর্তী দূরত্ব পঞ্চাশ ফারসাখ।সেখানে 'মারওয়ার খারেক' নামে একটি বিশাল ও সুন্দর শহর রয়েছে। এর নিকটেই অতি মূল্যবান মুক্তা পাওয়া যায়।১৬- একে অপরের সাথে যুক্ত দুটি ছোট দ্বীপ, যার একটিকে সুকিত্রা বলা হয় «৪» :এটি ওমান ভূখণ্ডের নিকটে অবস্থিত। এর সম্পদ সীমিত হলেও জনবসতি অত্যন্ত ঘন।এই সমুদ্রে আরও অনেক দ্বীপ রয়েছে কিন্তু সেগুলো জনবসতিহীন ও অপরিচিত। সেগুলো এতটাই ক্ষুদ্র যে উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই।১৭- এই সমুদ্রে শাম মরুভূমির সম্মুখে ফারান ও জুবাইলান নামক পাহাড় রয়েছে। সেখানে সমুদ্রে [৫ ক] সর্বদা উত্তাল ঢেউ বিদ্যমান থাকে।গ- পশ্চিম মহাসাগরের (আটলান্টিক) দ্বীপসমূহএগুলো পঁচিশটি পরিচিত দ্বীপ, যেগুলোর নাম টলেমির কিতাবে বর্ণিত আছে। এর মধ্যে ছয়টি দ্বীপ সুদান ভূখণ্ডের বিপরীতে অবস্থিত এবং সেগুলোকে জনশূন্য দ্বীপ বলা হয়। সেখানে স্বর্ণের খনি রয়েছে। সুদান অঞ্চল এবং সুস আল-আকসা শহর থেকে মানুষ বছরে একবার সেখানে স্বর্ণ আহরণ করতে আসে। প্রচণ্ড উত্তাপের কারণে কেউ সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে পারে না।
(খণ্ড: ১)
হুদূদুল আলাম মিনাল মাশরিক ইলাল মাগরিব
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
معدن الذهب، يأتى الناس إليها مرة فى العام من ناحية السودان ومدن السوس الأقصى، ليجمعوا من هناك معادن الذهب. ولا يستطيع أحد أن يقيم فيها لشدة حرّها.والسابعة، جزيرة غديرة الواقعة عند التقاء بحر الروم بهذا البحر، وتخرج منها عين ماء كبيرة تكون فوهة خليج بحر الروم.والثامنة والتاسعة، جزيرتان قريبتان من بعضهما، تدعى إحداهما روذس، والأخرى أرواذ، مقابل بلاد الروم. وكانت مراصد اليونانيين للكواكب فى هاتين الجزيرتين.العاشرة والحادية عشرة، جزيرتان يفصل بينهما نصف فرسخ مقابل آخر حد الروم من ناحية الشمال، وتسميان جزيرة الرجال وجزيرة النساء «1» . وجميع من فى جزيرة
স্বর্ণের খনি, সুদান এবং সুস আল-আকসার শহরসমূহের দিক থেকে মানুষ বছরে একবার এখানে আসে সেখান থেকে স্বর্ণের খনিজ সংগ্রহের জন্য। এর প্রচণ্ড উত্তাপের কারণে সেখানে কেউ বসবাস করতে পারে না।সপ্তমটি হলো গাদীরা দ্বীপ, যা রোম সাগরের সাথে এই সাগরের মিলনস্থলে অবস্থিত এবং এখান থেকে একটি বিশাল পানির ঝরনা নির্গত হয় যা রোম সাগর উপসাগরের মোহনা গঠন করে।অষ্টম ও নবম হলো একে অপরের নিকটবর্তী দুটি দ্বীপ, যাদের একটিকে রোদোস এবং অন্যটিকে আরওয়াদ বলা হয়, যা রোম ভূখণ্ডের বিপরীতে অবস্থিত। এই দুই দ্বীপে গ্রীকদের নক্ষত্র পর্যবেক্ষণের মানমন্দির ছিল।দশম ও একাদশ হলো দুটি দ্বীপ যাদের মধ্যবর্তী দূরত্ব আধা ফারসাখ, যা উত্তর দিক থেকে রোমের শেষ সীমান্তের বিপরীতে অবস্থিত এবং এদেরকে পুরুষের দ্বীপ ও নারীদের দ্বীপ «১» বলা হয়। আর দ্বীপের অধিবাসী সকলে