(খণ্ড: ১)
আল-বুলদান লিল ইয়াকূবী
(পৃষ্ঠা: -)
البلدان لليعقوبي (اليعقوبي)
القسم: البلدان والرحلات
الكتاب: البلدان
المؤلف: أحمد بن إسحاق (أبي يعقوب) بن جعفر بن وهب بن واضح اليعقوبي (ت بعد 292هـ)
الناشر: دار الكتب العلمية، بيروت
الطبعة: الأولى، 1422 هـ
عدد الصفحات: 218
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-বুলদান - আল-ইয়াকুবী (আল-ইয়াকুবী)
বিভাগ: দেশসমূহ এবং ভ্রমণকাহিনী
কিতাব: আল-বুলদান
লেখক: আহমদ বিন ইসহাক (আবু ইয়াকুব) বিন জাফর বিন ওয়াহাব বিন ওয়াদিহ আল-ইয়াকুবী (মৃত্যু ২৯২ হিজরীর পর)
প্রকাশক: দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ، বৈরুত
সংস্করণ: প্রথম، ১৪২২ হিজরী
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২১৮
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-বুলদান লিল ইয়াকূবী
(পৃষ্ঠা: -)
أحمد بن أبي يعقوب إسحاق بن جعفر بن وهب بن واضح، الكاتب الأصفهاني الأخباري الشهير باليعقوبي، وبابن الواضح، كان بحّاثة في التأريخ وأخبار البلدان في العصر العباسي الثاني. ولقد قيل فيه أنه يمكن عدّه معلماً جغرافياً للمسلمين وقيل أن الكثير من علماء الجغرافيا التالين لعصره أمثال ابن رستة وابن الفقيه والمسعودي الإصطخري وابن حوقل والمقدسي وغيرهم كانوا يعتبرونه أستاذاً لهم. كان جده واضح من موالي المنصور الدوانيقي الخليفة العباسي وصالح بن منصور ولذا اشتهرت أسرته بالعباسيكان جده وأبوه من عمّال الحكومة ولكن لا يعلم أنه كان له موقع حكومي أم لا، بيد أنه يمكن فرض ذلك من خلال رحلاته المتكررة.ولد اليعقوبي في بغداد وعاش فيها ثم هاجر إلى بلاد فارس وأطال المقام في بلاد أرمينية وكان فيها سنة 260 هـ، ودخل الهند أيضاً والأقطار العربية، فالشام فالمغرب إلى الأندلس، وحظي في مصر والمغرب باهتمام الدولة الطولونية.لا يعلم تاريخ ولادته وأما وفاته فيبدو أنها كانت في سنة 284 هـ. آثارهله تأليفات عدة منها: كتاب في فتوحات وإنجازات طاهر بن الحسن، جغرافيا الإمبراطورية البيزنطية، تاريخ فتوحات أفريقيا، أخبار الأمم السالفة، المسالك والممالك، ملوك الروم، مشاكلة الناس لزمانهم، تاريخ اليعقوبي، البلدان.
আহমদ বিন আবি ইয়াকুব ইসহাক বিন জাফর বিন ওয়াহাব বিন ওয়াজিহ, আল-কাতিব আল-ইসফাহানি আল-আখবারি, যিনি আল-ইয়াকুবী এবং ইবনে আল-ওয়াজিহ নামে সুপরিচিত, তিনি দ্বিতীয় আব্বাসীয় যুগে ইতিহাস এবং বিভিন্ন দেশের সংবাদ ও বিবরণ সংক্রান্ত একজন গবেষক ছিলেন। তার সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, তাকে মুসলমানদের একজন ভূগোলবিদ শিক্ষক হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে এবং আরও বলা হয়েছে যে, তার পরবর্তী যুগের অনেক ভূগোলবিদ যেমন ইবনে রুস্তাহ, ইবনে আল-ফকিহ, আল-মাসুদি আল-ইসতাখরি, ইবনে হাওকাল, আল-মাকদিসি এবং অন্যান্যরা তাকে তাদের উস্তাদ হিসেবে গণ্য করতেন। তার দাদা ওয়াজিহ ছিলেন আব্বাসীয় খলিফা আল-মানসুর আদ-দাওয়ানিকি এবং সালিহ বিন মানসুরের মুক্ত দাসদের অন্তর্ভুক্ত, আর এ কারণে তার পরিবার আব্বাসীয় নামে প্রসিদ্ধি লাভ করেছিল।তার দাদা ও পিতা সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন, তবে তিনি নিজে কোনো সরকারি পদে নিয়োজিত ছিলেন কি না তা নিশ্চিতভাবে জানা যায় না; যদিও তার ঘনঘন সফরসমূহ থেকে এ বিষয়ে অনুমান করা যেতে পারে।ইয়াকুবী বাগদাদে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই বসবাস করেন। এরপর তিনি পারস্যে হিজরত করেন এবং আরমেনিয়া অঞ্চলে দীর্ঘকাল অবস্থান করেন; ২৬০ হিজরি সনে তিনি সেখানে অবস্থান করছিলেন। এছাড়াও তিনি ভারত এবং আরব ভূখণ্ডসমূহ সফর করেন; এরপর সিরিয়া ও মাগরিব হয়ে আন্দালুস পর্যন্ত ভ্রমণ করেন। মিশর ও মাগরিবে তিনি তুলুনি রাষ্ট্রের বিশেষ সমাদর ও মনোযোগ লাভ করেন।তার জন্মের তারিখ জানা যায় না, তবে তার মৃত্যু সম্ভবত ২৮৪ হিজরি সনে হয়েছিল। তার রচনাবলিতার বেশ কিছু রচনা রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: তাহির বিন আল-হাসানের বিজয় ও সাফল্য বিষয়ক গ্রন্থ, বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের ভূগোল, আফ্রিকা বিজয়ের ইতিহাস, প্রাচীন জাতিসমূহের ইতিহাস, আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক (পথ ও রাজ্যসমূহ), রোমের রাজন্যবর্গ, মুশাকালানতুন নাস লি জামানিহিম (যুগের সাথে মানুষের সাদৃশ্য), তারিখুল ইয়াকুবী এবং আল-বুলদান (দেশসমূহ)।
(খণ্ড: ১)
আল-বুলদান লিল ইয়াকূবী
(পৃষ্ঠা: ৩)
المقدمةبسم الله الرّحمن الرّحيم إن من أمتع الكتب قراءة وفائدة تلك الكتب التي تحكي تاريخ البلدان، والمدن ونشأتها، وأسباب تسميتها، وعادات أهلها، وتقاليدهم، ولا سيما أن كثيرا منها ما زال حتى أيامنا هذه.إن كتاب «البلدان» للمؤرخ الرحالة أحمد بن أبي يعقوب الشهير باليعقوبي غني جدا بسعة آفاقه وإطلالته التاريخية على أسباب نشوء وتسمية البلدان، والمدن، والأمم وتاريخها.والجدير ذكره أن اليعقوبي في هذا الكتاب يذكر مشاهداته في تلك البلدان والمدن، ويذكر أيضا سؤاله أهلها عن بعض أمور فيها، ثم يورد رأيه فيما سمعه منهم هل كان منطقيا مقنعا أم هو محض خرافة تناقلها أهل ذلك المصر.وفي معرض حديثه يعلّق على ذلك مشيرا إلى بعد رواية أهل ذلك الزمان عن المنطق والعقل.وذكر من فتح البلاد من الخلفاء والأمراء ومبلغ خراجها، فلم يدع صغيرة ولا كبيرة وقف عليها إلا وأحصاها في الكتاب، فجاء مصنفه «كتاب البلدان» أقدم مصدر جغرافي، وأوثقه لما تحمّله في تأليفه من جهد وعناء وعناية وحسن بلاء.ولكن مهما يكن الأمر فقد جاء كتاب «البلدان» كتابا ممتعا، تاريخيا، وجغرافيا على يد رحالة عالم بالأسفار وبأخبار الأمم السالفة.محمد أمين الضناوي
ভূমিকাপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। পঠন ও উপকারের দিক থেকে সবচেয়ে আনন্দদায়ক বইগুলোর মধ্যে ওইসব কিতাব অন্যতম, যা দেশ ও নগরীর ইতিহাস, সেগুলোর উৎপত্তি, নামকরণের কারণ এবং সেখানকার অধিবাসীদের আচার-আচরণ ও ঐতিহ্যের বর্ণনা দেয়; বিশেষ করে সেগুলোর অনেক কিছুই আমাদের বর্তমান সময় পর্যন্ত বিদ্যমান রয়েছে।ঐতিহাসিক ও পর্যটক আহমদ বিন আবি ইয়াকুব, যিনি আল-ইয়াকুবি নামে পরিচিত, তার ‘কিতাবুল বুলদান’ গ্রন্থটি দেশ, নগরী ও জাতিসমূহের উৎপত্তি, নামকরণ এবং তাদের ইতিহাসের ওপর এর দিগন্তবিস্তারী দৃষ্টিভঙ্গি ও ঐতিহাসিক পর্যালোচনার কারণে অত্যন্ত সমৃদ্ধ।এটি উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, আল-ইয়াকুবি এই কিতাবে সেই সব দেশ ও নগরীতে তার প্রত্যক্ষ করা বিষয়গুলো উল্লেখ করেছেন। তিনি সেখানকার অধিবাসীদেরকে কিছু বিষয়ে তার জিজ্ঞাসার কথাও উল্লেখ করেছেন, অতঃপর তাদের থেকে যা শুনেছেন সে বিষয়ে নিজের মতামত প্রদান করেছেন যে, তা কি যৌক্তিক ও সন্তোষজনক ছিল নাকি তা নিছক কোনো রূপকথা ছিল যা সেই জনপদের মানুষ বংশপরম্পরায় বর্ণনা করে আসছিল।আলোচনার প্রেক্ষাপটে তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করেছেন এবং সেই যুগের মানুষের বর্ণনাসমূহ যুক্তি ও বুদ্ধি থেকে কতটা দূরে ছিল সেদিকে ইঙ্গিত করেছেন।তিনি খলিফা ও আমিরদের মধ্যে কারা দেশগুলো জয় করেছিলেন এবং সেসবের করের (খরাজ) পরিমাণ কত ছিল তাও উল্লেখ করেছেন। তিনি ছোট-বড় কোনো বিষয়ই বাদ দেননি যা তিনি অবগত হয়েছেন, বরং সবকিছুই এই কিতাবে লিপিবদ্ধ করেছেন। ফলে তার এই সংকলন ‘কিতাবুল বুলদান’ প্রাচীনতম ও সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ভৌগোলিক উৎসে পরিণত হয়েছে, কারণ এটি রচনায় তিনি প্রচুর শ্রম, কষ্ট, মনোযোগ ও নিষ্ঠা ব্যয় করেছেন।তবে যাই হোক না কেন, সফর এবং অতীত জাতিসমূহের সংবাদ সম্পর্কে অভিজ্ঞ একজন পর্যটকের হাত ধরে ‘কিতাবুল বুলদান’ একটি অত্যন্ত উপভোগ্য, ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিক গ্রন্থ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।মুহাম্মদ আমিন আদ-দান্নাভি
(খণ্ড: ১)
আল-বুলদান লিল ইয়াকূবী
(পৃষ্ঠা: ৫)
ترجمة المؤلف «1»هو أحمد بن أبي يعقوب إسحاق بن جعفر بن وهب بن واضح الكاتب الأصبهاني الإخباري الشهير باليعقوبي، وبابن الواضح، وكان يقال له: مولى بني العباس، ومولى بني هاشم، لأنّ جده كان من موالي المنصور الدوانيقي الخليفة العباسي، وكان هو بحّاثة في التأريخ، وأخبار البلدان، ولقد أعطى التنقيب حقّه في سياحته في البلاد شرقا وغربا، ودخل بلاد فارس وأطال المقام في بلاد أرمينية وكان فيها سنة 260 [هـ] ، ودخل الهند أيضا والأقطار العربية، فالشام فالمغرب إلى الأندلس، وأغرق نزعا في البحث فطفق يسائل أهل الأمصار عنها وعنهم، وعن عاداتهم، ونحلهم، وحكوماتهم، وعن المسافات بين البلاد، فإذا وثق بنقلهم أثبته في كتابه.وذكر من فتح البلاد من الخلفاء والأمراء ومبلغ خراجها، فلم يدع صغيرة ولا كبيرة وقف عليها إلا وأحصاها في الكتاب، فجاء مصنفه «كتاب البلدان» أقدم مصدر جغرافي، وأوثقه لما تحمّله في تأليفه من جهد وعناء وعناية وحسن بلاء.وكان نبوغه في القرن الثالث لأنه كان حيا سنة 292 هـ، ففي ليلة عيد الفطر منها تذكّر ما كان عليه بنو طولون في مثل هذه الليلة من بلهنية «2» العيش، والنعيم الرغيد، والوفر السابغ ورثاهم بأبيات مطلعها: [الكامل]إن كنت تسأل عن جلالة ملكهم … فارتع وعج «3» بمراتع الميدانإذا فلا يكاد يصح ما في معجم الأدباء عن أبي عمر محمد بن يوسف بن يعقوب المصري في تأريخه من أن اليعقوبي توفي سنة 284 [هـ] ، ولا ما ذكره الزركلي في
লেখকের জীবনী «১»তিনি হলেন আহমদ বিন আবি ইয়াকুব ইসহাক বিন জাফর বিন ওয়াহাব বিন ওয়াদিহ আল-কাতিব আল-আসবাহানি আল-ইখবারি, যিনি আল-ইয়াকুবি এবং ইবনুল ওয়াদিহ নামে সমধিক পরিচিত। তাঁকে বনু আব্বাস ও বনু হাশেমের মাওলা বলা হতো, কারণ তাঁর দাদা আব্বাসীয় খলিফা আল-মনসুর আদ-দাওয়ানিগির অন্যতম মাওলা ছিলেন। তিনি ইতিহাস এবং বিভিন্ন দেশের সংবাদ অনুসন্ধানে একজন একনিষ্ঠ গবেষক ছিলেন। তিনি পূর্ব ও পশ্চিমের দেশসমূহ ভ্রমণে অনুসন্ধানের যথাযথ হক আদায় করেছেন। তিনি পারস্যে প্রবেশ করেন এবং আরমেনিয়া ভূখণ্ডে দীর্ঘকাল অবস্থান করেন, সেখানে তিনি ২৬০ [হিজরি] সালে ছিলেন। তিনি ভারত ও আরব অঞ্চলসমূহও ভ্রমণ করেন, অতঃপর সিরিয়া, তারপর মরক্কো থেকে আন্দালুস পর্যন্ত। তিনি অত্যন্ত গভীরভাবে অনুসন্ধানে নিমগ্ন ছিলেন এবং বিভিন্ন জনপদের অধিবাসীদের কাছে তাদের সম্পর্কে, তাদের রীতিনীতি, ধর্মবিশ্বাস, শাসনব্যবস্থা এবং শহরগুলোর মধ্যবর্তী দূরত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন। যখন তিনি তাদের বর্ণনার ওপর বিশ্বস্ত হতে পারতেন, তখন তা তিনি তাঁর গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করতেন।তিনি দেশ বিজয়ী খলিফা ও আমিরদের কথা এবং সংগৃহীত খারাজের (ভূমি রাজস্ব) পরিমাণ উল্লেখ করেছেন। ছোট-বড় এমন কোনো বিষয়ই তিনি বাদ দেননি যা তিনি জানতে পেরেছেন অথচ তা তাঁর কিতাবে নথিভুক্ত করেননি। ফলে তাঁর সংকলিত ‘কিতাবুল বুলদান’ প্রাচীনতম ও অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ভৌগোলিক উৎসে পরিণত হয়েছে, কারণ এটি রচনায় তিনি অনেক শ্রম, কষ্ট, সতর্কতা ও নিপুণতা ব্যয় করেছেন।তাঁর প্রতিভার বিকাশ ঘটেছিল তৃতীয় শতাব্দীতে, কারণ তিনি ২৯২ হিজরি সালেও জীবিত ছিলেন। সেই বছরের ঈদুল ফিতরের রাতে তিনি বনু তুলুনদের জীবনযাত্রার সচ্ছলতা, বিলাসিতা এবং অঢেল নেয়ামতের কথা স্মরণ করেন যা তারা এই ধরনের রাতে উপভোগ করত এবং তিনি তাদের উদ্দেশ্যে শোকগাঁথা রচনা করেন যার প্রারম্ভিক পঙক্তি ছিল এমন: [আল-কামিল ছন্দ]যদি তুমি তাদের রাজত্বের মহিমা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করো … তবে বিচরণ করো এবং ময়দানের চারণভূমিতে ফিরে চলোসুতরাং ‘মু’জামুল উদাবা’ গ্রন্থে আবু ওমর মুহাম্মদ বিন ইউসুফ বিন ইয়াকুব আল-মিসরি তাঁর ইতিহাসে ইয়াকুবির মৃত্যু ২৮৪ [হিজরি] সালে হয়েছে বলে যা উল্লেখ করেছেন তা সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা নেই, এবং যিরিকলি যা উল্লেখ করেছেন তাও নয়...
(খণ্ড: ১)
আল-বুলদান লিল ইয়াকূবী
(পৃষ্ঠা: ৬)
الأعلام من أن وفاته كانت سنة 278 [هـ] ، وكأنّه تبع جرجي زيدان الذي صدّر ترجمته بهذا التأريخ، لكنه يقول في أثنائها في تأريخ آداب اللغة العربية «1» : «ولكن يؤخذ من سياق كتبه أنه توفي بعد سنة 278 [هـ] » .والمترجم له من معاصري أبي حنيفة الدينوري «2» المتوفى سنة 282 [هـ] ؛ كما وأنه صحبه سعيد الطبيب «3» ، وأن حفيده محمد بن أحمد بن خليل التميمي المقدسي ابن سعيد المذكور يروي في كتابه «جيب العروس وريحان النفوس» عن اليعقوبي بواسطة أبيه أحمد وجده خليل.آثارهذكر ياقوت الحموي «4» في معجم الأدباء من آثار المترجم له التأريخ الكبير الذي
আল-আলাম (গ্রন্থ) অনুযায়ী তাঁর মৃত্যু হয়েছিল ২৭৮ হিজরিতে, এবং মনে হয় তিনি জর্জি জাইদানকে অনুসরণ করেছেন যিনি এই তারিখ দিয়েই তাঁর জীবনী শুরু করেছেন। তবে তিনি এর মাঝে ‘তারিখু আদাবিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ’ (আরবি সাহিত্যের ইতিহাস)-এ বলেছেন: “তবে তাঁর গ্রন্থসমূহের বর্ণনাভঙ্গি থেকে বোঝা যায় যে তিনি ২৭৮ হিজরির পরে মৃত্যুবরণ করেছেন।”যাঁর জীবনী আলোচিত হচ্ছে তিনি ২৮২ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী আবু হানিফা আদ-দিনাওয়ারির সমসাময়িক ছিলেন। পাশাপাশি সাঈদ আত-তাবিবের সাথে তাঁর সাহচর্য ছিল। আর উক্ত সাঈদের নাতি মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন খলিল আত-তামিমি আল-মাকদিসি তাঁর ‘জিয়াবুল আরূস ওয়া রায়হানুন নুফূস’ নামক গ্রন্থে তাঁর পিতা আহমদ এবং দাদা খলিলের মাধ্যমে ইয়াকুবির নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন।তাঁর রচনাবলিইয়াকুত আল-হামাউই ‘মুজামুল উদাবা’ গ্রন্থে যাঁর জীবনী আলোচিত হচ্ছে তাঁর রচনাবলির মধ্য থেকে ‘আত-তারিখুল কাবীর’-এর কথা উল্লেখ করেছেন যা
(খণ্ড: ১)
আল-বুলদান লিল ইয়াকূবী
(পৃষ্ঠা: ৭)
نشره المستشرق هو تسما في ليدن سنة 1883 [م] ، في مجلدين الأول: «في التأريخ القديم على العموم من آدم فما بعده إلى ظهور الإسلام» ، وتدخل فيه أخبار الإسرائيليين، والسريان، والهنود، واليونان، والرومان، والفرس، والنوبة، والبجة، والزنج، والحميريين، والغساسنة، والمناذرة.والثاني: «في تأريخ الإسلام وينتهي في زمن المعتمد على الله الخامس عشر من خلفاء بني العباس» أي إلى سنة 259 [هـ] ، وقد رتبه حسب الخلفاء، ومن المزايا التي يمتاز بها عن سائر التواريخ العامة فضلا عن قدمه أن مؤلفه يأتي فيه بلباب التأريخ، ويتحرّى القضايا الصادقة مما لا يلتزم به إلا المؤرخ المتصف، فيملي عليك الوقايع والحوادث الصحيحة حتى كأنك شاهدتها بنفسك ورأيتها بعينك ببيان سلس وأسلوب جذّاب.ومن آثاره أيضا «كتاب البلدان» في الجغرافية وهو هذا الكتاب الذي نزفه إلى القراء الكرام، وكان قد طبع أولا في ليدن سنة 1861 [م] بعناية المستشرق «جونبول» ، وطبع أيضا في جملة المكتبة الجغرافية الذي طبع فيها ثمانية مجلدات من كتب الجغرافية العربية بعناية المستشرق «ديغويه» وقد أوقفناك على أهمية الكتاب وعناء صاحبه به ومقدار الثقة به.ومن آثاره أيضا كتاب في «أخبار الأمم السالفة» صغير، وكتاب «مشاكلة الناس لزمانهم» ، هذه الكتب الأربعة هي التي ذكرها ياقوت الحموي في المعجم، ويظهر من آخر النسخة المطبوعة من «كتاب البلدان» أن له كتابا آخر أسماه بكتاب «الممالك والمسالك» ، وكان المترجم له شاعرا ونبوغه قبل الطبري، والمسعودي، ومن بديع شعره قوله يصف سمرقند «1» : [المنسرح]
প্রাচ্যবিদ হটসমা এটি ১৮৮৩ [খ্রিষ্টাব্দ] সালে লাইডেনে দুই খণ্ডে প্রকাশ করেন। প্রথম খণ্ড: "আদম থেকে ইসলাম আবির্ভূত হওয়া পর্যন্ত সাধারণ প্রাচীন ইতিহাস প্রসঙ্গে", এতে বনী ইসরাঈল, সিরীয়, ভারতীয়, গ্রিক, রোমান, পারসিক, নুবীয়, বেজা, জাঞ্জ, হিময়ারী, গাসসানী এবং মুনাজিরাদের সংবাদ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।এবং দ্বিতীয় খণ্ড: "ইসলামের ইতিহাস প্রসঙ্গে, যা আব্বাসীয় খলিফাদের মধ্যে ১৫তম খলিফা আল-মুতামিদ আলাল্লাহর সময় অর্থাৎ ২৫৯ [হিজরি] সাল পর্যন্ত সমাপ্ত হয়েছে।" তিনি এটি খলিফাদের ক্রম অনুসারে বিন্যস্ত করেছেন। এর প্রাচীনত্ব ছাড়াও অন্যান্য সাধারণ ইতিহাসগ্রন্থের তুলনায় এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, এর লেখক এতে ইতিহাসের নির্যাস নিয়ে এসেছেন এবং সত্য ঘটনাগুলো অনুসন্ধান করেছেন, যা কেবল একজন নিরপেক্ষ ঐতিহাসিকের পক্ষেই সম্ভব। তিনি আপনার সামনে সঠিক ঘটনাবলি এমনভাবে বর্ণনা করেন যেন আপনি সাবলীল বর্ণনা ও আকর্ষণীয় শৈলীতে তা নিজের চোখে দেখছেন।তাঁর অন্যান্য রচনার মধ্যে রয়েছে ভূগোলের উপর রচিত "কিতাবুল বুলদান", যা আমরা সম্মানিত পাঠকদের সামনে পেশ করছি। এটি প্রথমবার ১৮৬১ [খ্রিষ্টাব্দ] সালে লাইডেনে প্রাচ্যবিদ "জুনবল"-এর তত্ত্বাবধানে মুদ্রিত হয়েছিল। এটি ভৌগোলিক গ্রন্থাগার সিরিজের অংশ হিসেবেও মুদ্রিত হয়েছিল, যেখানে প্রাচ্যবিদ "ডি গোয়ে"-এর তত্ত্বাবধানে আরবি ভূগোলের আট খণ্ড বই মুদ্রিত হয়। আমরা আপনাকে এই বইটির গুরুত্ব, এর লেখকের পরিশ্রম এবং এর নির্ভরযোগ্যতার পরিমাণ সম্পর্কে অবহিত করেছি।তাঁর আরও রচনার মধ্যে রয়েছে "আখবারুল উমামিস সালিফাহ" নামক একটি ছোট বই এবং "মুশাকাতুন নাসি লি জামানিহিম"। ইয়াকুত আল-হামাভী 'আল-মু'জাম'-এ এই চারটি বইয়ের কথা উল্লেখ করেছেন। "কিতাবুল বুলদান"-এর মুদ্রিত কপির শেষ অংশ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, তাঁর "কিতাবুল মামালিক ওয়াল মাসালিক" নামে আরও একটি বই ছিল। যাঁর জীবনী এখানে আলোচিত হচ্ছে, তিনি একজন কবিও ছিলেন এবং তাঁর প্রতিভা তাবারী ও মাসউদী-এর পূর্বেই বিকশিত হয়েছিল। তাঁর চমৎকার কাব্যপ্রতিভার নিদর্শন হলো সমরকন্দ বর্ণনায় তাঁর এই উক্তি «১»: [মানসারিহ ছন্দ]
(খণ্ড: ১)
আল-বুলদান লিল ইয়াকূবী
(পৃষ্ঠা: ৮)
علت سمرقند أن يقال لها … زين خراسان جنة الكورأليس أبراجها معلقة … بحيث لا تستبين للنظرودون أبراجها خنادقها … عميقة ما ترام من ثغرفكأنها وهي وسط حائطها … محفوفة بالظلال والشجرفبدر وأنهارها المجرة وال … آطام مثل الكواكب الزهر
সমরকন্দ উচ্চমর্যাদা লাভ করেছে যাতে তাকে বলা হয় … খোরাসানের অলংকার ও জনপদসমূহের জান্নাত।তার বুরুজগুলো কি সুউচ্চ নয় … যা দৃষ্টির অগোচরে থেকে যায়?তার বুরুজগুলোর নিম্নে রয়েছে পরিখা … যা অত্যন্ত গভীর এবং কোনো ছিদ্রপথ দিয়ে সেখানে পৌঁছানো যায় না।তার প্রাচীরের অভ্যন্তরে সে যেন এমন … যা ছায়া ও বৃক্ষরাজি দ্বারা বেষ্টিত।সেটি যেন পূর্ণিমা এবং তার নদীগুলো ছায়াপথ আর … দুর্গগুলো উজ্জ্বল নক্ষত্ররাজির ন্যায়।
(খণ্ড: ১)
আল-বুলদান লিল ইয়াকূবী
(পৃষ্ঠা: ৯)
بسم الله الرحمن الرحيم[خطبة الكتاب]الحمد لله الذي افتتح بالحمد كتابه، وجعل الحمد كفاء لنعمه، وآخر دعاء أهل جنته، خالق السماوات العلى والأرضين السفلى، وما بينهما وما تحت الثرى، العالم بما خلق قبل كونه، والمدبر لما أحدث على غير مثال من غيره، أحاط بكل شيء علما وأحصاه عددا، له الملك والسلطان والعزة وهو على كل شيء قدير وصلى الله على محمد النبي وعلى آله وسلم.قال أحمد بن أبي يعقوب: إني عنيت في عنفوان شبابي، وعند احتيال سني، وحدّة ذهني بعلم أخبار البلدان، ومسافة ما بين كل بلد وبلد، لأني سافرت حديث السن، واتصلت أسفاري، ودام تغربي، فكنت متى لقيت رجلا من تلك البلدان سألته عن وطنه ومصره، فإذا ذكر لي محل داره وموضع قراره، سألته عن بلده ذلك في …لدته «1» ما هي؟ وزرعه ما هو؟ وساكنيه من هم من عرب أو عجم؟ … شرب أهله حتى أسأل عن لباسهم … ودياناتهم ومقالاتهم والغالبين عليه والمنرا «2» … مسافة ذلك البلد، وما يقرب منه من البلدان.. والرواحل، ثم أثبتّ كل ما يخبرني به من أثق بصدقه، وأستظهر بمسألة قوم بعد قوم، حتى سألت خلقا كثيرا، وعالما من الناس في الموسم وغير الموسم، من أهل المشرق والمغرب، وكتبت أخبارهم، ورويت أحاديثهم، وذكرت من فتح بلدا بلدا، وجنّد مصرا مصرا «3» من الخلفاء والأمراء، ومبلغ خراجه وما يرتفع من أمواله، فلم أزل أكتب هذه الأخبار وأؤلّف هذا الكتاب دهرا طويلا، وأضيف كل خبر إلى بلده، وكل ما أسمع به من ثقات أهل الأمصار إلى ما تقدمت عندي معرفته.
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।[গ্রন্থের ভূমিকা]সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর কিতাব প্রশংসার মাধ্যমে শুরু করেছেন, এবং প্রশংসাকে তাঁর নেয়ামতের উপযুক্ত শুকরিয়া এবং তাঁর জান্নাতবাসীদের শেষ প্রার্থনা করেছেন। তিনি সুউচ্চ আসমানসমূহ ও নিম্নস্থ জমিনসমূহ এবং এই দুয়ের মাঝে যা কিছু আছে ও মাটির নিচে যা আছে, তার স্রষ্টা। তিনি সৃষ্টি হওয়ার পূর্বেই তাঁর সৃষ্টি সম্পর্কে সম্যক অবগত। তিনি অভিনব উপায়ে কোনো পূর্ব নমুনা ছাড়াই সবকিছুর পরিচালক। তাঁর জ্ঞান সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে আছে এবং তিনি সবকিছুকে সংখ্যায় গণনা করে রেখেছেন। রাজত্ব, আধিপত্য ও সম্মান কেবল তাঁরই এবং তিনি সবকিছুর ওপর সর্বশক্তিমান। আর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক নবী মুহাম্মদ ও তাঁর পরিবারের ওপর।আহমাদ বিন আবি ইয়াকুব বলেন: আমি আমার যৌবনের প্রারম্ভে, বয়সের পূর্ণতায় এবং মেধার প্রখর থাকাকালীন বিভিন্ন দেশের সংবাদ এবং এক দেশ থেকে অন্য দেশের দূরত্বের জ্ঞান অন্বেষণে মনোনিবেশ করেছি। কারণ আমি অল্প বয়সেই সফর শুরু করেছিলাম, আমার সফরসমূহ ছিল নিরবচ্ছিন্ন এবং আমার প্রবাস জীবন ছিল দীর্ঘস্থায়ী। ফলে যখনই আমি সেই সব দেশের কোনো ব্যক্তির সাক্ষাৎ পেতাম, আমি তাকে তার স্বদেশ ও শহর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতাম। যখন সে আমাকে তার বসবাসের স্থান ও অবস্থানের জায়গা জানাত, আমি তাকে তার সেই দেশ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতাম …তার পরিবেশ «১» কেমন? তার শস্য কি? তার অধিবাসী কারা—আরব না কি অনারব? … তাদের পানীয় কেমন, এমনকি তাদের পোশাক সম্পর্কেও জিজ্ঞাসা করতাম … তাদের ধর্ম ও মতবাদ, সেখানকার শাসক ও প্রভাবশালী ব্যক্তিগণ «২» … সেই দেশের দূরত্ব এবং তার নিকটবর্তী দেশসমূহ এবং যাতায়াতের বাহন সম্পর্কেও। অতঃপর যার সত্যবাদিতার ওপর আমার আস্থা ছিল, তার দেওয়া সকল তথ্য আমি লিপিবদ্ধ করতাম। এভাবে একের পর এক জনপদকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করতাম। এমনকি আমি হজ্জের মৌসুমে ও মৌসুমের বাইরে পূর্ব ও পশ্চিমের অসংখ্য মানুষের কাছে জিজ্ঞাসা করেছি, তাদের দেওয়া তথ্য লিখেছি এবং তাদের বিবরণসমূহ বর্ণনা করেছি। আমি একেকটি দেশ বিজয় এবং একেকটি শহর আবাদকারী «৩» খলিফা ও আমিরদের কথা উল্লেখ করেছি, সাথে সেই দেশের খেরাজ (ভূমি উন্নয়ন কর) ও উৎপন্ন সম্পদের পরিমাণও লিপিবদ্ধ করেছি। আমি দীর্ঘকাল ধরে এই সংবাদসমূহ লিখে আসছি এবং এই গ্রন্থটি সংকলন করছি। আমি প্রতিটি সংবাদকে তার সংশ্লিষ্ট দেশের সাথে যুক্ত করেছি এবং বিভিন্ন শহরের নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের কাছ থেকে যা কিছু শুনেছি, তা আমার পূর্বলব্ধ জ্ঞানের সাথে মিলিয়ে নিয়েছি।
(খণ্ড: ১)
আল-বুলদান লিল ইয়াকূবী
(পৃষ্ঠা: ১০)
وعلمت أنه لا يحيط المخلوق بالغاية، ولا يبلغ البشر النهاية، وليست شريعة لا بد من تمامها، ولا دين لا يكمل إلا بالإحاطة به، وقد يقول أهل العلم في علم أهل الدين الذين هو الفقه مختصر كتاب فلان الفقيه، ويقول أهل الآداب في كتب الآداب مثل اللغة، والنحو، والمغازي، والأخبار، والسير مختصر كتاب كذا، فجعلنا هذا الكتاب مختصرا لأخبار البلدان، فإن وقف أحد من أخبار بلد مما ذكرنا على ما لم نضمّنه كتابنا هذا، فلم نقصد أن يحيط بكل شيء.وقد قال الحكيم: ليس طلبي للعلم طمعا في بلوغ قاصيته، واستيلاء على نهايته، ولكن معرفة ما لا يسع جهله، ولا يحسن بالعاقل خلافه، وقد ذكرت أسماء الأمصار، والأجناد، والكور، وما في كل مصر من المدن والأقاليم، والطساسيج «1» ، ومن يسكنه، ويغلب عليه، ويترأس فيه من قبائل العرب، وأجناس العجم، ومسافة ما بين البلد والبلد، والمصر والمصر، ومن فتحه من قادة جيوش الإسلام، وتأريخ ذلك في سنته، وأوقاته، ومبلغ خراجه، وسهله، وجبله، وبرّه، وبحره، وهوائه في شدة حرّه، وبرده، ومياهه، وشربه.
আমি অবগত হয়েছি যে, কোনো সৃষ্টিই গন্তব্যের সীমানা বেষ্টন করতে পারে না এবং কোনো মানুষই চূড়ান্ত প্রান্তে পৌঁছাতে পারে না। এটি এমন কোনো শরিয়ত নয় যার সমাপ্তি অপরিহার্য, আর এটি এমন কোনো ধর্মও নয় যা পূর্ণাঙ্গ পরিবেষ্টন ছাড়া পরিপূর্ণ হয় না। ইলম অন্বেষণকারীগণ দীনি ইলম তথা ফিকহের ক্ষেত্রে বলে থাকেন, ‘অমুক ফকিহ-এর কিতাবের সংক্ষেপণ’; আর সাহিত্যিকগণ সাহিত্যের কিতাবসমূহ যেমন ভাষা, নাহু (ব্যাকরণ), মাগাজি (যুদ্ধাভিযান), আখবার (সংবাদ) এবং সিরাত (জীবনী) সম্পর্কে বলেন, ‘অমুক কিতাবের সংক্ষেপণ’। তাই আমরা এই কিতাবটিকে বিভিন্ন দেশের সংবাদ সংবলিত একটি সংক্ষেপণ হিসেবে সংকলন করেছি। সুতরাং আমরা যেসব দেশের বর্ণনা দিয়েছি, সেগুলোর মধ্য থেকে কোনো দেশের এমন কোনো সংবাদের বিষয়ে যদি কেউ অবগত হয় যা আমরা আমাদের এই কিতাবে অন্তর্ভুক্ত করিনি, তবে জেনে রাখা উচিত যে, আমরা সবকিছুকে পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে পরিবেষ্টন করার ইচ্ছা করিনি।জনৈক বিজ্ঞ ব্যক্তি বলেছেন: ‘আমার জ্ঞান অন্বেষণ করা তার সুদূর প্রান্তে পৌঁছানোর লোভ কিংবা তার শেষ সীমা আয়ত্ত করার জন্য নয়, বরং এমন বিষয় জানার জন্য যা সম্পর্কে অজ্ঞ থাকা শোভা পায় না এবং যা থেকে বিমুখ হওয়া বুদ্ধিমানের জন্য সমীচীন নয়।’ আর আমি এতে বড় বড় শহর, সামরিক অঞ্চল ও জেলাসমূহের নাম এবং প্রত্যেক বড় শহরের অন্তর্ভুক্ত অন্যান্য শহর, অঞ্চল ও উপ-বিভাগগুলোর নাম উল্লেখ করেছি। আরও উল্লেখ করেছি সেখানে কারা বসবাস করে, কাদের আধিপত্য রয়েছে এবং সেখানে আরবদের কোন কোন গোত্র ও অনারবদের কোন কোন জাতি নেতৃত্ব দেয়। এক দেশ থেকে অন্য দেশের এবং এক শহর থেকে অন্য শহরের দূরত্ব; ইসলামের সেনাপতিদের মধ্য থেকে কে তা জয় করেছেন; সেই বিজয়ের সন ও সময়; সেখানকার খেরাজের পরিমাণ; সেখানকার সমতল ভূমি, পাহাড়, স্থলভাগ, সমুদ্র এবং প্রচণ্ড গরম ও শীতকালীন আবহাওয়া এবং সেখানকার নদ-নদী ও পানীয় জলের উৎসসমূহ বর্ণনা করেছি।
(খণ্ড: ১)
আল-বুলদান লিল ইয়াকূবী
(পৃষ্ঠা: ১১)
بغدادوإنما ابتدأت بالعراق «1» لأنها وسط الدنيا، وسرة الأرض، وذكرت بغداد «2» لأنها وسط العراق، والمدينة العظمى، التي ليس لها نظير في مشارق الأرض ومغاربها سعة، وكبرا، وعمارة وكثرة مياه، وصحة، وهواء.ولأنه سكنها من أصناف الناس، وأهل الأمصار، والكور «3» ، [و] «4» انتقل إليها من جميع البلدان القاصية والدانية، وآثرها جميع أهل الآفاق على أوطانهم، فليس من أهل البلد إلا ولهم فيها محلة، ومتجر، ومتصرّف، فاجتمع بها ما ليس في مدينة في الدنيا.
বাগদাদআমি ইরাক দিয়েই শুরু করেছি «১», কারণ তা পৃথিবীর কেন্দ্রবিন্দু এবং ভূখণ্ডের নাভি। আর আমি বাগদাদ «২» উল্লেখ করেছি কারণ তা ইরাকের মধ্যস্থলে অবস্থিত এবং এটি এমন এক মহান নগরী যার বিস্তৃতি, বিশালতা, সমৃদ্ধি, পানির প্রাচুর্য, স্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং নির্মল বাতাসের দিক থেকে পৃথিবীর পূর্ব ও পশ্চিমে কোনো সমকক্ষ নেই।তদুপরি এখানে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ, বিভিন্ন শহর ও জনপদের «৩» অধিবাসী বসবাস করে। [এবং] «৪» দূর-দূরান্তের সকল দেশ থেকে মানুষ এখানে স্থানান্তরিত হয়েছে এবং বিশ্বের সকল প্রান্তের মানুষ একে তাদের নিজ নিজ জন্মভূমির ওপর অগ্রাধিকার দিয়েছে। ফলে এমন কোনো দেশের লোক নেই যাদের এখানে কোনো মহল্লা, ব্যবসা কেন্দ্র ও কর্মস্থল নেই। এভাবে এখানে এমন সব বিষয়ের সমাবেশ ঘটেছে যা পৃথিবীর অন্য কোনো শহরে নেই।
(খণ্ড: ১)
আল-বুলদান লিল ইয়াকূবী
(পৃষ্ঠা: ১২)
ثم يجري في حافيتها النهران الأعظمان دجلة «1» والفرات «2» فتأتيها التجارات والمير «3» برا وبحرا بأيسر السعي حتى تكامل بها كل متجر يحمل من المشرق والمغرب من أرض الإسلام وغير أرض الإسلام فإنه يحمل إليها من الهند «4» والسند «5» والصين»والتبت «7»
তারপর এর কিনারা দিয়ে প্রবাহিত হয় দুটি মহান নদী দজলা «১» ও ফোরাত «২»; ফলে অত্যন্ত সহজ প্রচেষ্টায় জলপথ ও স্থলপথে এখানে ব্যবসা-বাণিজ্য ও রসদসামগ্রী «৩» এসে পৌঁছে, এমনকি প্রাচ্য ও প্রতীচ্য এবং ইসলামি ও অনৈসলামি ভূখণ্ড থেকে যা কিছু বহন করে আনা হয়, তার প্রতিটি পণ্য এখানে পূর্ণতা লাভ করে। কেননা ভারত «৪», সিন্ধু «৫» ও চীন থেকে এখানে পণ্য আনা হয়এবং তিব্বত «৭» থেকেও।
(খণ্ড: ১)
আল-বুলদান লিল ইয়াকূবী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
والترك «1» والديلم «2» والخزر «3» والحبشة «4» ، وسائر البلدان، حتى يكون بها من
তুর্কি «১», দাইলামি «২», খাজার «৩», হাবশি «৪» এবং অন্যান্য সকল জনপদ, এমনকি সেখানেও যারা রয়েছে...
(খণ্ড: ১)
আল-বুলদান লিল ইয়াকূবী
(পৃষ্ঠা: ১৪)
تجارات البلدان أكثر مما في تلك البلدان التي خرجت التجارات منها، ويكون مع ذلك أوجد وأمكن، حتى كأنما سيقت إليها خيرات الأرض، وجمعت فيها ذخائر الدنيا، وتكاملت بها بركات العالم، وهي مع هذا مدينة بني هاشم «1» ودار ملكهم، ومحل سلطانهم، لم يبتد بها أحد قبلهم، ولم يسكنها ملوك سواهم.ولأن سلفي كانوا القائمين بها، واحدهم تولى أمرها، ولها الاسم المشهور والذكر الذائع، ثم هي وسط الدنيا، لأنها على ما أجمع عليه قول الحساب وتضمّنته كتب الأوائل من الحكماء في الإقليم الرابع، وهو الإقليم الأوسط الذي يعتدل فيه الهواء في جميع الأزمان والفصول.فيكون الحرّ بها شديدا في أيام القيظ، والبرد شديدا في أيام الشتاء، ويعتدل الفصلان الخريف والربيع في أوقاتهما.ويكون دخول الخريف إلى الشتاء غير متباين الهواء، ودخول الربيع إلى الصيف غير متباين الهواء، وكذلك كل فصل ينتقل من هواء إلى هواء، ومن زمان إلى زمان، فلذلك اعتدل الهواء، وطاب الثوى «2» ، وعذب الماء، وزكت الأشجار، وطابت الثمار، وأخصبت الزروع، وكثرت الخيرات، وقرب مستنبط معينها «3» .وباعتدال الهواء، وطيب الثرى، وعذوبة الماء حسنت أخلاق أهلها، ونضرت وجوههم، وانفتقت أذهانهم حتى فضلوا الناس في العلم، والفهم، والأدب، والنظر، والتمييز، والتجارات، والصناعات، والمكاسب، والحذق «4» بكل مناظرة، وإحكام كل مهنة، وإتقان كل صناعة، فليس عالم أعلم من عالمهم، ولا أروى من روايتهم، ولا أجدل من متكلّمهم، ولا أعرب «5» من نحويهم «6» ، ولا أصح من قارئهم، ولا أمهر من متطبّبهم، ولا أحذق من مغنّيهم، ولا ألطف من صانعهم، ولا أكتب من كاتبهم، ولا
বিভিন্ন দেশ থেকে আসা পণ্যসামগ্রী এখানে সেই দেশগুলোর চেয়েও অধিক পরিমাণে পাওয়া যায় যেখান থেকে এই পণ্যগুলো এসেছে। তদুপরি এখানে সেগুলো অধিক সহজলভ্য ও পর্যাপ্ত, যেন পৃথিবীর যাবতীয় কল্যাণ এখানে প্রবাহিত হয়েছে, দুনিয়ার সমস্ত ভাণ্ডার এখানে জমা হয়েছে এবং বিশ্বের সব বরকত এখানে পূর্ণতা পেয়েছে। এটি বনু হাশিমের শহর, তাদের রাজত্বের কেন্দ্র এবং তাদের কর্তৃত্বের স্থান। তাদের আগে কেউ এর সূচনা করেনি এবং তারা ব্যতীত অন্য কোনো রাজা এখানে বসবাস করেনি।যেহেতু আমার পূর্বপুরুষগণ এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন এবং তাদেরই একজন এর দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন। এর রয়েছে সুপ্রসিদ্ধ নাম ও ব্যাপক খ্যাতি। তদুপরি এটি বিশ্বের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত। কারণ গণনাবিদদের ঐক্যমত্য এবং প্রাচীন মনীষীদের কিতাবসমূহের ভাষ্য অনুযায়ী এটি চতুর্থ জলবায়ু অঞ্চলে অবস্থিত। এটি এমন এক মধ্যবর্তী অঞ্চল যেখানে সকল ঋতু ও সময়ে আবহাওয়া ভারসাম্যপূর্ণ থাকে।ফলে গ্রীষ্মকালে এখানে প্রচণ্ড গরম অনুভূত হয় এবং শীতের দিনগুলোতে প্রচণ্ড শীত অনুভূত হয়। আর শরৎ ও বসন্তকাল তাদের নিজ নিজ সময়ে ভারসাম্যপূর্ণ থাকে।শরৎ থেকে শীতের প্রবেশকালীন আবহাওয়া খুব একটা ভিন্ন হয় না এবং বসন্ত থেকে গ্রীষ্মের প্রবেশকালীন আবহাওয়াও খুব একটা ভিন্ন হয় না। একইভাবে প্রতিটি ঋতু যখন এক আবহাওয়া থেকে অন্য আবহাওয়ায় এবং এক সময় থেকে অন্য সময়ে পরিবর্তিত হয়, তখন আবহাওয়া ভারসাম্যপূর্ণ থাকে। ফলে এখানকার অবস্থান প্রীতিকর হয়েছে, পানি সুপেয় হয়েছে, বৃক্ষরাজি সজীব হয়েছে, ফলমূল সুস্বাদু হয়েছে, ফসল উর্বর হয়েছে, কল্যাণ প্রাচুর্যময় হয়েছে এবং এর পানির উৎসসমূহ নিকটবর্তী ও সহজলভ্য হয়েছে।আবহাওয়ার ভারসাম্য, মাটির উৎকর্ষতা এবং পানির সুপেয়তার কারণে এখানকার অধিবাসীদের চরিত্র সুন্দর হয়েছে, তাদের চেহারা উজ্জ্বল হয়েছে এবং তাদের মেধা বিকশিত হয়েছে। এমনকি তারা জ্ঞান, প্রজ্ঞা, আদব, দূরদর্শিতা, বিচারবুদ্ধি, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্পকলা, উপার্জন এবং প্রতিটি বিতর্কে পারদর্শিতা ও প্রতিটি পেশা ও শিল্পে নিখুঁত ও সুচারু দক্ষতা অর্জনে অন্য সব মানুষকে ছাড়িয়ে গেছে। তাই তাদের আলেমের চেয়ে বড় কোনো আলেম নেই, তাদের বর্ণনাকারীর চেয়ে অধিক তথ্যসমৃদ্ধ কোনো বর্ণনাকারী নেই, তাদের তার্কিকের চেয়ে বড় কোনো তার্কিক নেই, তাদের ব্যাকরণবিদের চেয়ে বিশুদ্ধ ভাষী কোনো ব্যাকরণবিদ নেই, তাদের ক্বারীর চেয়ে বিশুদ্ধ পাঠকারী কোনো ক্বারী নেই, তাদের চিকিৎসকের চেয়ে দক্ষ কোনো চিকিৎসক নেই, তাদের গায়কের চেয়ে সুনিপুণ কোনো গায়ক নেই, তাদের কারিগরের চেয়ে সূক্ষ্ম কোনো কারিগর নেই এবং তাদের লেখকের চেয়ে বড় কোনো লেখক নেই।
(খণ্ড: ১)
আল-বুলদান লিল ইয়াকূবী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
أبين من منطيقهم «1» ، ولا أعبد من عابدهم، ولا أورع من زاهدهم، ولا أفقه من حاكمهم، ولا أخطب من خطيبهم، ولا أشعر من شاعرهم، ولا أفتك من ماجنهم.ولم تكن بغداد مدينة «2» في الأيام المتقدّمة، أعني أيام الأكاسرة «3» والأعاجم «4» ، وإنما كانت قرية من قرى طسوج بادوريا «5» .وذلك أن مدينة الأكاسرة التي خاروها «6» من مدن العراق المدائن «7» ، وهي من
তাদের বাগ্মীদের চেয়ে অধিক স্পষ্টভাষী «১», না তাদের ইবাদতকারীদের চেয়ে অধিক ইবাদতকারী, না তাদের যাহিদদের চেয়ে অধিক পরহেযগার, না তাদের বিচারকদের চেয়ে অধিক ফকীহ, না তাদের বক্তাদের চেয়ে অধিক বাগ্মী, না তাদের কবিদের চেয়ে অধিক কবি এবং না তাদের পাপাচারীদের চেয়ে অধিক দুঃসাহসী।প্রাচীনকালে বাগদাদ কোনো শহর «২» ছিল না—অর্থাৎ কিসরাদের «৩» ও অনারবদের «৪» যুগে—বরং তা ছিল বাদুরিয়া তাসুজের «৫» (প্রশাসনিক অঞ্চল) গ্রামসমূহের মধ্য হতে একটি গ্রাম মাত্র।আর বিষয়টি এই যে, কিসরাগণ ইরাকের শহরগুলোর মধ্য হতে যে শহরটিকে পছন্দ «৬» করেছিলেন তা হলো আল-মাদায়েন «৭», আর এটি...
(খণ্ড: ১)
আল-বুলদান লিল ইয়াকূবী
(পৃষ্ঠা: ১৬)
بغداد على سبعة فراسخ وبها إيوان «1» كسرى أنوشروان «2» ، ولم يكن ببغداد إلا دير على موضع مصبّ الصراة «3» إلى دجلة الذي يقال له: قرن الصراة، وهو الدير الذي يسمى الدير العتيق، قائم بحاله إلى هذا الوقت، نزله الجاثليق «4» رئيس النصارى النسطورية «5» .ولم تكن أيضا بغداد في أيام العرب لمّا جاء الإسلام لأن العرب اختطت البصرة، والكوفة «6» ، فاختط الكوفة سعد بن أبي وقاص الزهري «7» في سنة سبع عشرة، وهو عامل عمر بن الخطاب «8» .
বাগদাদ সাত ফারসাখ দূরত্বে অবস্থিত এবং সেখানে কিসরা আনুশিরওয়ানের «২» আইওয়ান «১» বিদ্যমান ছিল। সরাত «৩» খাল যেখানে দজলা নদীতে পতিত হয়েছে—যাকে কারনুস সরাত বলা হয়—সেই মোহনায় অবস্থিত একটি গির্জা ব্যতীত বাগদাদে আর কিছুই ছিল না। এটি সেই গির্জা যাকে আদ-দাইর আল-আতিক (প্রাচীন গির্জা) বলা হয়, যা বর্তমান সময় পর্যন্ত স্বীয় অবস্থায় বিদ্যমান রয়েছে; সেখানে নেস্টোরিয়ান খ্রিস্টানদের «৫» প্রধান জাসালিক «৪» (ক্যাথলিকোস) অবস্থান করতেন।ইসলামের আগমনের সময় আরবদের যুগেও বাগদাদ শহরের কোনো অস্তিত্ব ছিল না; কারণ তখন আরবরা বসরা ও কুফা «৬» নগরীর পত্তন করেছিল। সতের হিজরি সনে উমর ইবনুল খাত্তাবের «৮» নিযুক্ত গভর্নর সা’দ বিন আবি ওয়াক্কাস আল-জুহরি «৭» কুফা নগরীর পত্তন করেন।
(খণ্ড: ১)
আল-বুলদান লিল ইয়াকূবী
(পৃষ্ঠা: ১৭)
واختط البصرة عتبة بن غزوان المازني «1» - مازن قيس- في سنة سبع عشرة وهو يومئذ عامل عمر بن الخطاب.
এবং সতের হিজরী সনে উতবাহ ইবনে গাজওয়ান আল-মাজিনী «১» —মাযিন কাইস— বসরা শহরের পত্তন করেন এবং তিনি তখন উমর ইবনুল খাত্তাবের নিযুক্ত গভর্নর ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-বুলদান লিল ইয়াকূবী
(পৃষ্ঠা: ১৮)
واختطت العرب في هاتين المدينتين خططها إلا أن القوم جميعا قد انتقل وجوههم وجلتهم ومياسير تجارهم «1» إلى بغداد.ولم ينزل بنو أمية العراق لأنهم كانوا نزولا بالشام، وكان معاوية بن أبي سفيان «2» عامل الشام لعمر بن الخطاب، ثم لعثمان بن عفان «3» عشرين سنة، وكان ينزل مدينة
আরবরা এই দুই নগরীতে তাদের বসতি স্থাপন করেছিল, তবে তাদের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, অভিজাত শ্রেণী এবং বিত্তশালী বণিকদের «১» সকলেই বাগদাদে স্থানান্তরিত হয়েছিল।আর উমাইয়াগণ ইরাকে বসবাস করেনি কারণ তারা সিরিয়ায় অবস্থান করত। মুয়াবিয়া বিন আবু সুফিয়ান «২» বিশ বছর পর্যন্ত উমর ইবনুল খাত্তাব এবং পরবর্তীতে উসমান ইবনে আফফানের «৩» পক্ষে সিরিয়ার গভর্নর ছিলেন এবং তিনি (অমুক) নগরীতে বসবাস করতেন।
(খণ্ড: ১)
আল-বুলদান লিল ইয়াকূবী
(পৃষ্ঠা: ১৯)
دمشق وأهله معه، فلمّا غلب على الأمر وصار إليه السلطان «1» جعل منزله وداره دمشق التي بها كان سلطانه، وأنصاره، وشيعته.ثم نزل بها ملوك بني أمية بعد معاوية لأنهم بها نشأوا لا يعرفون غيرها، ولا يميل إليهم إلا أهلها، فلمّا أفضت الخلافة إلى بني عم رسول الله صلى الله عليه وسلم من ولد العباس بن عبد المطلب «2» عرفوا بحسن تمييزهم، وصحة عقولهم، وكمال آرائهم فضل العراق، وجلالتها، وسعتها، ووسطها للدنيا، وأنها ليست كالشام الوبيئة الهواء، الضيقة المنازل، الحزنة الأرض، المتصلة الطواعين، الجافية الأهل.ولا كمصر المتغيرة الهواء، الكثيرة الوباء، التي إنّما هي بين بحر رطب عفن «3» كثير البخارات الرديئة التي تولد الأدواء وتفسد الغذاء، وبين الجبل اليابس «4» الصلد الذي ليبسه، وملوحته، وفساده لا ينبت فيه خضر ولا ينفجر منه عين ماء.ولا كأفريقية «5» البعيدة عن جزيرة الإسلام وعن بيت الله الحرام، الجافية الأهل، الكثيرة العدو.
দামেস্ক এবং সেখানকার অধিবাসীগণ তাঁর সাথেই ছিলেন; অতঃপর যখন তিনি সামগ্রিক বিষয়ে জয়ী হলেন এবং তাঁর কাছে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা আসলো, তখন তিনি তাঁর নিবাস ও আবাসস্থল হিসেবে দামেস্ককেই নির্ধারণ করলেন, যেখানে তাঁর ক্ষমতা, সাহায্যকারী এবং অনুসারীগণ অবস্থান করতেন।পরবর্তীকালে মুয়াবিয়ার পর বনু উমাইয়ার রাজন্যবর্গ সেখানে বসবাস শুরু করেন, কেননা তারা সেখানেই লালিত-পালিত হয়েছিলেন এবং শাম ছাড়া অন্য কিছু তাদের চেনা ছিল না। তদুপরি শামের অধিবাসী ব্যতীত অন্য কেউ তাদের প্রতি অনুরাগীও ছিল না। অতঃপর যখন খিলাফতের দায়িত্ব রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পিতৃব্য আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিবের বংশধরদের কাছে হস্তান্তরিত হলো, তখন তাঁরা তাঁদের সুনিপুণ বিচারবুদ্ধি, প্রজ্ঞার সুস্থতা এবং মতামতের পূর্ণতা দ্বারা ইরাকের শ্রেষ্ঠত্ব, গাম্ভীর্য, প্রশস্ততা এবং বিশ্ব মানচিত্রে এর কেন্দ্রীয় অবস্থানের গুরুত্ব উপলব্ধি করলেন। তাঁরা বুঝতে পারলেন যে, ইরাক শামের মতো নয়—যার আবহাওয়া দূষিত, ঘরবাড়ি সংকীর্ণ, ভূমি বন্ধুর, যা সর্বদা মহামারি কবলিত এবং যার অধিবাসীগণ রূঢ় প্রকৃতির।তদ্রূপ ইরাক মিশরের মতোও নয়, যার আবহাওয়া পরিবর্তনশীল ও যেখানে মহামারির প্রকোপ অত্যন্ত বেশি; যা মূলত এক আর্দ্র ও দুর্গন্ধময় জলাশয়ের মাঝে অবস্থিত যেখান থেকে প্রচুর পরিমাণে মন্দ বাষ্প নির্গত হয়, যা নানাবিধ রোগব্যাধি সৃষ্টি করে এবং খাদ্যদ্রব্যকে নষ্ট করে দেয়; আবার অন্যদিকে তা এমন শুষ্ক ও কঠোর পাহাড়ের বেষ্টনীতে অবস্থিত যে, এর শুষ্কতা, লবণাক্ততা ও অনুর্বরতার কারণে সেখানে কোনো সবুজ উদ্ভিদ জন্মে না এবং সেখান থেকে কোনো পানির ঝরণাও প্রবাহিত হয় না।আবার ইরাক আফ্রিকার মতোও নয়, যা ইসলামের মূল ভূখণ্ড এবং আল্লাহর পবিত্র ঘর থেকে অনেক দূরে অবস্থিত, যার অধিবাসীগণ অত্যন্ত রূঢ় এবং যেখানে শত্রুর আধিক্য রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-বুলদান লিল ইয়াকূবী
(পৃষ্ঠা: ২০)
ولا كأرمينية، النائية الباردة، الصردة «1» الحزنة التي يحيط بها الأعداء، ولا مثل كور الجبل، الحزنة، الخشنة، المثلجة، دار الأكراد «2» ، الغيلظي الأكباد.ولا كأرض خراسان، الطاعنة في مشرق الشمس، التي يحيط بها من جميع أطرافها عدوّ كلب، ومحارب حرب.ولا كالحجاز «3» ، النكدة المعاش، الضيقة المكسب، التي قوت أهلها من غيرها، وقد أنبأنا الله عز وجل في كتابه عن إبراهيم خليله عليه السلام فقال: رَبَّنا إِنِّي أَسْكَنْتُ مِنْ ذُرِّيَّتِي بِوادٍ غَيْرِ ذِي زَرْعٍ[إبراهيم: 37] .ولا كالتبت، التي بفساد هوائها، وغذائها تغيرت ألوان أهلها، وصغرت أبدانهم، وتجعّدت شعورهم، فلما علموا أنها أفضل البلدان نزلوا مختارين لها، فنزل أبو العباس أمير المؤمنين وهو عبد الله بن محمد بن علي بن عبد الله بن العباس بن عبد المطلب الكوفة أول مرة، ثم انتقل إلى الأنبار «4» ، فبنى مدينة على شاطىء الفرات، وسماها
আর না আর্মেনিয়ার মতো, যা দূরবর্তী, শীতল, প্রচণ্ড শীতপ্রবণ ও বন্ধুর ভূমি এবং যা শত্রুদের দ্বারা পরিবেষ্টিত; আর না জাবাল প্রদেশের মতো, যা বন্ধুর, রুক্ষ ও তুষারাচ্ছন্ন, যা কুর্দিদের আবাসস্থল এবং কঠোর প্রকৃতির লোকদের জায়গা।আর না খোরাসান ভূমির মতো, যা উদীয়মান সূর্যের দেশের গভীরে অবস্থিত এবং যাকে চারপাশ থেকে হিংস্র শত্রু ও যুদ্ধবাজরা ঘিরে রেখেছে।আর না হিজাজের মতো, যার জীবননির্বাহ অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ও উপার্জন সংকীর্ণ, যার অধিবাসীদের খাদ্যদ্রব্য অন্য স্থান থেকে সংগৃহীত হয়। আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তাঁর কিতাবে তাঁর খলিল ইবরাহিম আলাইহিস সালাম সম্পর্কে আমাদের সংবাদ দিয়ে বলেছেন: হে আমাদের পালনকর্তা, আমি আমার বংশধরদের একাংশকে এক শস্যহীন উপত্যকায় বসবাস করালাম।[ইবরাহিম: ৩৭]।আর না তিব্বতের মতো, যেখানকার মন্দ আবহাওয়া ও খাদ্যের কারণে সেখানকার অধিবাসীদের গায়ের রং বদলে গেছে, তাদের শরীর ছোট হয়ে গেছে এবং চুল কোঁকড়ানো হয়ে গেছে। অতঃপর যখন তারা অনুধাবন করল যে এটিই শ্রেষ্ঠ দেশ, তখন তারা স্বেচ্ছায় সেখানে বসতি স্থাপন করল। আমিরুল মুমিনিন আবুল আব্বাস—যিনি হলেন আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব—প্রথমবার কুফায় অবতরণ করলেন, এরপর তিনি আনবারে স্থানান্তরিত হলেন এবং ফুরাত নদীর তীরে একটি শহর নির্মাণ করে তার নামকরণ করলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-বুলদান লিল ইয়াকূবী
(পৃষ্ঠা: ২১)
الهاشمية «1» ، وتوفي أبو العباس رضي الله عنه قبل أن يستتم المدينة. فلما ولي أبو جعفر المنصور «2» الخلافة، وهو أيضا عبد الله بن محمد بن علي بن عبد الله بن العباس ابن عبد المطلب بنى مدينة بين الكوفة، والحيرة «3» سماها الهاشمية، وأقام بها مدة، إلى أن
হাশিমিয়া «১», এবং আবু আব্বাস (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন) শহরটি সম্পন্ন করার পূর্বেই ইন্তেকাল করেন। অতঃপর যখন আবু জাফর আল-মনসুর «২» খেলাফতের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন—যিনি নিজেও আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আলী বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব—তিনি কুফা ও হীরাহর «৩» মধ্যবর্তী স্থানে একটি শহর নির্মাণ করেন এবং তার নামকরণ করেন হাশিমিয়া। তিনি সেখানে একটি নির্দিষ্ট সময়কাল পর্যন্ত অবস্থান করেন, যে পর্যন্ত না
(খণ্ড: ১)
আল-বুলদান লিল ইয়াকূবী
(পৃষ্ঠা: ২২)
عزم على توجيه ابنه محمد المهدي «1» لغزو الصقالبة «2» في سنة أربعين ومائة، فصار إلى بغداد، فوقف بها وقال: ما اسم هذا الموضع؟ قيل له: بغداد. قال:والله المدينة التي أعلمني أبي محمد بن علي أني أبنيها وأنزلها وينزلها ولدي من بعدي.ولقد غفلت عنها الملوك في الجاهلية والإسلام حتى يتم تدبير الله، إليّ وحكمه فيّ، وتصح الروايات، وتبين الدلائل والعلامات، وإلا فجزيرة بين دجلة والفرات، دجلة شرقيها، والفرات غربيها، مشرعة للدنيا.كل ما يأتي في دجلة من واسط «3» والبصرة والأبلة «4» والأهواز، وفارس «5»
তিনি একশত চল্লিশ হিজরি সালে তাঁর পুত্র মুহাম্মদ আল-মাহদীকে «১» সাকালেবাদের «২» বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য প্রেরণের সংকল্প করেন। অতঃপর তিনি বাগদাদে পৌঁছালেন এবং সেখানে অবস্থান করে জিজ্ঞেস করলেন: এই স্থানটির নাম কী? তাঁকে বলা হলো: বাগদাদ। তিনি বললেন:আল্লাহর কসম, এটিই সেই শহর যার সম্পর্কে আমার পিতা মুহাম্মদ বিন আলী আমাকে জানিয়েছিলেন যে, আমি এটি নির্মাণ করব এবং এতে বসবাস করব এবং আমার পরে আমার সন্তানরা এখানে বসবাস করবে।জাহেলি ও ইসলামি যুগের রাজন্যবর্গ এই স্থানটি সম্পর্কে উদাসীন ছিলেন, যাতে আমার ব্যাপারে আল্লাহর পরিকল্পনা ও তাঁর ফয়সালা পূর্ণ হয়, বর্ণনাগুলো সঠিক প্রমাণিত হয় এবং নিদর্শন ও আলামতগুলো সুস্পষ্ট হয়। অন্যথায়, এটি দজলা ও ফুরাতের মধ্যবর্তী একটি দ্বীপ, যার পূর্ব দিকে দজলা এবং পশ্চিমে ফুরাত; এটি বিশ্বের জন্য এক উন্মুক্ত প্রবেশপথ।ওয়াসিত «৩», বসরা, উবুল্লা «৪», আহওয়াজ এবং পারস্য «৫» থেকে দজলা নদী পথে যা কিছু আসে...
(খণ্ড: ১)
আল-বুলদান লিল ইয়াকূবী
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وعمان «1» واليمامة «2» والبحرين «3» وما يتصل بذلك، فإليها ترقى، وبها ترسى.وكذلك ما يأتي من الموصل «4» وديار ربيعة «5» وآذربيجان وأرمينية مما يحمل في السفن في دجلة.
ওমান «১», ইয়ামামা «২», বাহরাইন «৩» এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলসমূহ; সুতরাং (জাহাজসমূহ) এগুলোর দিকেই আরোহণ করে এবং এখানেই নোঙ্গর ফেলে।অনুরূপভাবে মোসেল «৪», দিয়ারু রাবিয়া «৫», আজারবাইজান ও আর্মেনিয়া থেকে দজলা নদীতে জাহাজে করে যা কিছু বহন করে আনা হয় (তাও এখানে পৌঁছে)।
(খণ্ড: ১)
আল-বুলদান লিল ইয়াকূবী
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وما يأتي من ديار مصر، والرقة «1» والشام «2» والثغر «3» ومصر والمغرب «4» مما يحمل في السفن في الفرات.فيها يحطّ وينزل ومدرجة أهل الجبل أصبهان وكور خراسان، فالحمد لله الذي ذخرها لي، وأغفل عنها كل من تقدّمني، والله لأبنيها ثم أسكنها أيام حياتي، ويسكنها ولدي من بعد، ثم لتكونن أعمر مدينة في الأرض، ثم لأبنين بعدها أربع مدن لا تخرب واحدة منهن أبدا، فبناها، وهي الرافقة «5» ولم يسمها، وبنى ملطية المصيصة، وبنى المنصورة «6» بالسند، ثم وجه في إحضار المهندسين وأهل المعرفة بالبناء، والعلم
এবং যা কিছু মিশর ভূখণ্ড, রাক্কা «১», শাম «২», সীমান্ত এলাকা «৩» এবং মাগরিব «৪» থেকে আসে, যা ফোরাত নদীতে নৌযানে করে বহন করা হয়।সেখানেই তা খালাস করা হয় এবং নামানো হয়, আর এটি জাবাল (পাহাড়ি অঞ্চল) অধিবাসী, ইসফাহান ও খোরাসানের প্রদেশসমূহের গমনাগমনের পথ। সুতরাং সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি একে আমার জন্য গচ্ছিত রেখেছিলেন এবং আমার পূর্বসূরিদের এ থেকে উদাসীন রেখেছিলেন। আল্লাহর কসম, আমি অবশ্যই এটি নির্মাণ করব, অতঃপর আমার জীবদ্দশায় সেখানে বসবাস করব এবং আমার পরে আমার সন্তানরা সেখানে বসবাস করবে। এরপর এটি অবশ্যই পৃথিবীর সর্বাধিক সমৃদ্ধ নগরী হবে। অতঃপর আমি এর পরে এমন চারটি শহর নির্মাণ করব যার কোনটিই কখনও ধ্বংস হবে না। অতঃপর তিনি তা নির্মাণ করেন, আর তা হলো রাফিকা «৫», যদিও তিনি এর নাম উল্লেখ করেননি। আর তিনি মালাতিয়া ও মাসিসা নির্মাণ করেন এবং সিন্ধুতে মানসুরা «৬» নির্মাণ করেন। অতঃপর তিনি প্রকৌশলী, নির্মাণ বিশেষজ্ঞ এবং জ্ঞানীদের উপস্থিত করার নির্দেশ প্রদান করেন।
(খণ্ড: ১)
আল-বুলদান লিল ইয়াকূবী
(পৃষ্ঠা: ২৫)
بالذرع، والمساحة، وقسمة الأرضين حتى اختط مدينته المعروفة بمدينة أبي جعفر «1» ، وأحضر البنائين والفعلة والصناع من النجارين، والحدادين، والحفارين، فلما اجتمعوا وتكاملوا أجرى عليهم الأرزاق، وأقام لهم الأجرة، وكتب إلى كل بلد في حمل من فيه ممن يفهم شيئا من البناء فحضره مائة ألف من أصناف المهن والصناعات.خبّر بهذا جماعة من المشايخ أن أبا جعفر المنصور لم يبتد البناء حتى تكامل له من الفعلة وأهل المهن مائة ألف.ثم اختطها في شهر ربيع الأول سنة إحدى وأربعين ومائة، وجعلها مدورة، ولا تعرف في جميع أقطار الدنيا مدينة مدورة «2» غيرها.ووضع أساس المدينة في وقت اختاره نوبخت المنجم، وما شاء الله بن سارية، وقبل وضع الأساس ما ضرب اللبن العظام.وكان في اللبنة التامة المربعة ذراع في ذراع، وزنها مائتا رطل، واللبنة المنصفة طولها ذراع، وعرضها نصف ذراع، ووزنها مائة رطل، وحفرت الآبار للماء وعملت القناة التي تأخذ من نهر كرخابا «3» ، وهو النهر الآخذ من الفرات فأتقنت القناة وأجريت إلى داخل المدينة للشرب، ولضرب اللبن، وبلّ الطين، وجعل للمدينة أربعة أبواب، بابا سماه باب الكوفة، وبابا سماه باب البصرة، وبابا سماه باب خراسان، وبابا سماه باب الشام، وبين كل باب منها إلى الآخر خمسة آلاف ذراع بالذراع السوداء «4» من خارج الخندق، وعلى كل باب منها بابا حديد عظيمان جليلان، ولا يغلق الباب الواحد منها، ولا يفتحه إلا جماعة رجال.
পরিমাপ, ভূমি জরিপ এবং ভূমি বিভাজনের মাধ্যমে তিনি শেষ পর্যন্ত আবু জাফর শহর হিসেবে পরিচিত তাঁর শহরটির নকশা প্রণয়ন করেন। তিনি স্থপতি, নির্মাণ শ্রমিক এবং কাঠমিস্ত্রি, কর্মকার ও খননকারীদের মধ্য থেকে কারিগরদের উপস্থিত করেন। যখন তারা সমবেত ও সংখ্যায় পূর্ণ হলো, তিনি তাদের জন্য জীবিকা ও মজুরি নির্ধারণ করলেন। তিনি প্রতিটি জনপদে পত্র পাঠালেন যাতে নির্মাণ কাজের জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাঠানো হয়, ফলে বিভিন্ন পেশা ও শিল্পের এক লক্ষ লোক তাঁর নিকট সমবেত হলো।একদল প্রবীণ আলেম বর্ণনা করেছেন যে, আবু জাফর আল-মানসুর ততক্ষণ পর্যন্ত নির্মাণ কাজ শুরু করেননি যতক্ষণ না তাঁর নিকট শ্রমিক ও পেশাজীবীদের সংখ্যা এক লক্ষে উন্নীত হয়েছিল।অতঃপর তিনি ১৪১ হিজরি সনের রবিউল আউয়াল মাসে এর নকশা অঙ্কন করেন এবং একে গোলাকার আকৃতি প্রদান করেন। বিশ্বের কোনো প্রান্তেই এটি ছাড়া আর কোনো গোলাকার শহরের কথা জানা যায় না।জ্যোতিষী নওবখত এবং মাশাআল্লাহ ইবনে সারিয়া কর্তৃক নির্বাচিত এক শুভক্ষণে শহরের ভিত্তি স্থাপন করা হয়। ভিত্তি স্থাপনের পূর্বে বৃহৎ আকারের কাঁচা ইটগুলো তৈরি করা হয়নি।প্রতিটি পূর্ণ বর্গাকার ইটের মাপ ছিল এক হাত বাই এক হাত এবং এর ওজন ছিল দুইশ রতল। অর্ধেক আকারের ইটের দৈর্ঘ্য ছিল এক হাত এবং প্রস্থ আধা হাত, যার ওজন ছিল একশ রতল। পানির জন্য কূপ খনন করা হয়েছিল এবং কারখাবা নদী—যা ফোরাত নদী থেকে প্রবাহিত একটি শাখা—থেকে একটি খাল তৈরি করা হয়েছিল। খালটি অত্যন্ত সুচারুভাবে নির্মাণ করে পানীয় জল সরবরাহ, ইট তৈরি এবং কাদা ভেজানোর জন্য শহরের অভ্যন্তরে নিয়ে আসা হয়েছিল। তিনি শহরের চারটি প্রবেশদ্বার নির্মাণ করেন: একটির নাম দেন কুফা গেট, একটির নাম বসরা গেট, একটির নাম খোরাসান গেট এবং একটির নাম শাম গেট। পরিখার বাইরের দিক থেকে 'কালো হাত' পরিমাপে প্রতিটি গেটের মধ্যবর্তী দূরত্ব ছিল পাঁচ হাজার হাত। প্রতিটি প্রবেশদ্বারে দুটি করে বিশাল ও মজবুত লোহার দরজা ছিল। এর একটি দরজাও একদল লোক ছাড়া বন্ধ করা বা খোলা সম্ভব ছিল না।
(খণ্ড: ১)
আল-বুলদান লিল ইয়াকূবী
(পৃষ্ঠা: ২৬)
يدخل الفارس بالعلم، والرامح بالرمح الطويل من غير أن يميل العلم، ولا يثني الرمح، وجعل سورها باللبن العظام التي لم ير مثلها قط على ما وصفنا من مقدارها والطين.وجعل أساس السور تسعين ذراعا بالسوداء، ثم ينحطّ حتى يصير في أعلاه على خمس وعشرين ذراعا، وارتفاعه ستون ذراعا مع الشرفات، وحول السور فصيل «1» جليل عظيم، بين حائط السور وحائط الفصيل مائة ذراع بالسوداء.وللفصيل أبرجة عظام وعليه الشرفات المدوّرة، وخارج الفصيل، كما يدور، مسناة «2» بالآجر «3» والصاروج «4» متقنة محكمة عالية، والخندق بعد المسناة قد أجري فيه الماء من القناة التي تأخذ من نهر كرخابا، وخلف الخندق الشوارع العظماء.وجعل لأبواب المدينة أربعة دهاليز عظاما آزاجا «5» كلها، حول كل دهليز ثمانون ذراعا كلها معقودا بالآجر والجص.فإذا دخل من الدّهليز الذي على الفصيل وافى رحبة مفروشة بالصخر، ثم دهليزا على السور الأعظم عليه بابا حديد جليلان عظيمان، لا يغلق كل باب ولا يفتحه إلا جماعة رجال، والأبواب الأربعة كلها على ذلك، فإذا دخل من دهليز السور الأعظم سار في رحبة إلى طاقات معقودة بالآجر والجص، فيها كواء رومية «6» يدخل منها الشمس والضوء، ولا يدخل منها المطر وفيها منازل الغلمان، ولكل باب من الأبواب الأربعة طاقات وعلى كل باب من أبواب المدينة التي على السور الأعظم قبة معقودة عظيمة مذهبة، وحولها مجالس، ومرتفعات يجلس فيها فيشرف على كل ما يعمل به، يصعد إلى هذه القباب على عقود مبنية بعضها بالجص والآجر، وبعضا باللبن العظام.قد عملت آزاجا بعضها أعلى من بعض فداخل الآزاج للرابطة والحرس،
একজন অশ্বারোহী পতাকা নিয়ে এবং একজন বল্লমধারী দীর্ঘ বল্লম নিয়ে এর ভেতর দিয়ে প্রবেশ করতে পারে, এতে পতাকা হেলে যায় না কিংবা বল্লমও বাঁকাতে হয় না। এর প্রাচীর বিশালাকার কাঁচা ইট দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল, যার সদৃশ অন্য কোথাও কখনও দেখা যায়নি, যেমনটি আমরা এর পরিমাপ এবং কাদার বর্ণনার ক্ষেত্রে উল্লেখ করেছি।প্রাচীরের ভিত্তি 'কালো হাত' (এক প্রকার পরিমাপ) অনুযায়ী নব্বই হাত রাখা হয়েছিল, অতঃপর তা ক্রমশ সরু হয়ে উপরিভাগে পঁচিশ হাতে এসে ঠেকেছে। অলঙ্কৃত প্রাচীরশীর্ষসহ এর উচ্চতা ষাট হাত। আর মূল প্রাচীরের চারপাশে একটি বিশাল ও সুউচ্চ রক্ষা-প্রাচীর (ফাসিল) রয়েছে; মূল প্রাচীর এবং রক্ষা-প্রাচীরের মধ্যবর্তী ব্যবধান 'কালো হাত' অনুযায়ী একশত হাত।রক্ষা-প্রাচীরের বিশালাকার বুরুজ বা মিনার রয়েছে এবং এর ওপর গোলাকার অলঙ্কৃত প্রাচীরশীর্ষ বিদ্যমান। রক্ষা-প্রাচীরের বাইরের বেষ্টনী জুড়ে পোড়া ইট এবং চুন-সুরকি দিয়ে নির্মিত একটি সুনিপুণ, মজবুত ও উঁচু বাঁধ রয়েছে। বাঁধের পরেই রয়েছে পরিখা, যাতে কারখাবা নদী থেকে আসা খালের পানি প্রবাহিত করা হয়েছে। আর পরিখার পেছনে বড় বড় রাজপথ রয়েছে।শহরের ফটকগুলোর জন্য চারটি বিশাল খিলানযুক্ত অলিন্দ (দাহলিজ) নির্মাণ করা হয়েছিল। প্রতিটি অলিন্দের চারপাশ আশি হাত বিস্তৃত ছিল এবং এর পুরোটাই পোড়া ইট ও চুন দিয়ে খিলানযুক্ত করা হয়েছিল।যখন কেউ রক্ষা-প্রাচীরের ওপর অবস্থিত অলিন্দ দিয়ে প্রবেশ করে, তখন সে পাথর বিছানো একটি প্রশস্ত প্রাঙ্গণে এসে উপস্থিত হয়। এরপর সে প্রধান প্রাচীরের অলিন্দে পৌঁছায় যেখানে দুটি বিশালাকার ও মজবুত লোহার দরজা রয়েছে। একদল শক্তিশালী পুরুষ ছাড়া কেউ এই দরজাগুলো খুলতে বা বন্ধ করতে পারে না। চারটি দরজাই একই প্রকারের। যখন কেউ প্রধান প্রাচীরের অলিন্দ দিয়ে প্রবেশ করে, তখন সে একটি প্রশস্ত প্রাঙ্গণ দিয়ে পোড়া ইট ও চুন দিয়ে নির্মিত খিলানযুক্ত কক্ষগুলোর দিকে অগ্রসর হয়। সেখানে রোমান রীতির ঘুলঘুলি বা জানালা রয়েছে যার ভেতর দিয়ে রোদ ও আলো প্রবেশ করে কিন্তু বৃষ্টি ঢোকে না। সেখানে সেবকদের আবাসস্থল রয়েছে। চারটি দরজার প্রতিটির জন্যই এমন কক্ষ রয়েছে। আর প্রধান প্রাচীরের ওপর অবস্থিত শহরের প্রতিটি দরজার উপরে একটি বিশাল সোনালি গম্বুজ রয়েছে। এর চারপাশে বসার স্থান এবং উঁচু মাচা রয়েছে যেখানে বসে যাবতীয় কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করা যায়। এই গম্বুজগুলোতে ওঠার জন্য খিলানযুক্ত পথ রয়েছে, যা কোনোটি চুন ও পোড়া ইট দিয়ে এবং কোনোটি বিশালাকার কাঁচা ইট দিয়ে নির্মিত।এগুলো একের ওপর এক খিলানযুক্ত সারি হিসেবে তৈরি করা হয়েছে; এই খিলানগুলোর অভ্যন্তর ভাগ পাহারাদার ও রক্ষীবাহিনীর অবস্থানের জন্য নির্ধারিত।
(খণ্ড: ১)
আল-বুলদান লিল ইয়াকূবী
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وظهورها عليها المصعد إلى القباب التي على الأبواب على الدواب، وعلى المصعد أبواب تغلق فإذا خرج الخارج من الطاقات خرج إلى رحبة، ثم إلى دهليز عظيم أزج معقود بالآجر والجص عليه بابا حديد يخرج من الباب إلى الرحبة العظمى، وكذلك للطاقات الأربعة على مثال واحد.وفي وسط الرحبة القصر الذي سمي بابه باب الذهب، وإلى جنب القصر المسجد الجامع، وليس حول القصر بناء ولا دار، ولا مسكن لأحد إلا دار من ناحية الشام للحرس، وسقيفة كبيرة ممتدة على عمد مبنية بالآجر والجص يجلس في إحداهما صاحب الشرطة وفي الأخرى صاحب الحرس، وهي اليوم يصلي فيها الناس، وحول الرحبة.كما تدور منازل أولاد المنصور الأصاغر ومن يقرب من خدمته من عبيده وبيت المال، وخزانة السلاح، وديوان الرسائل «1» ، وديوان الخراج «2» ، وديوان الخاتم «3» ، وديوان الجند «4» ، وديوان الحوائج «5» ، وديوان الأحشام «6» ، ومطبخ العامة، وديوان
আর সেগুলোর উপরিভাগ হতে গম্বুজগুলোর দিকে ওঠার পথ রয়েছে যা চতুষ্পদ জন্তুর পিঠে চড়ে দরজার উপরে অবস্থিত গম্বুজ পর্যন্ত নিয়ে যায়। আর সেই আরোহণ পথে এমন কিছু দরজা রয়েছে যা বন্ধ করে দেওয়া হয়। যখন কেউ বাতায়ন বা জানালা দিয়ে বের হয়, তখন সে একটি প্রশস্ত প্রাঙ্গণে পৌঁছায়। এরপর একটি বিশাল খিলানযুক্ত অলিন্দ বা বারান্দায় প্রবেশ করে, যা পোড়ামাটির ইট এবং চুন-সুরকি দিয়ে মজবুতভাবে তৈরি। তাতে দুটি লোহার দরজা রয়েছে যা দিয়ে বৃহৎ চত্বরে বের হওয়া যায়। একইভাবে চারটি বাতায়নের গঠনপ্রণালীও অভিন্ন।সেই চত্বরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত সেই প্রাসাদ, যার নাম দেওয়া হয়েছে 'স্বর্ণদ্বার'। প্রাসাদের পাশেই জামে মসজিদ অবস্থিত। প্রাসাদের চারপাশে কোনো দালানকোঠা বা বাড়িঘর নেই এবং সিরিয়ার দিকের দেহরক্ষীদের একটি ঘর ছাড়া কারো থাকার জায়গা নেই। সেখানে ইট ও চুন-সুরকি দ্বারা নির্মিত স্তম্ভের উপর দণ্ডায়মান একটি বিশাল ছাদযুক্ত বারান্দা রয়েছে। এর একপাশে পুলিশ প্রধান এবং অন্যপাশে দেহরক্ষী বাহিনীর প্রধান বসেন। বর্তমানে সেখানে মানুষ সালাত আদায় করে। আর চত্বরের চারপাশে...মনসুরের ছোট সন্তানদের ঘরবাড়ি এবং তার ঘনিষ্ঠ সেবক ও দাসদের বাসস্থানগুলো চারদিকে অবস্থিত। এছাড়া সেখানে বায়তুল মাল (রাষ্ট্রীয় কোষাগার), অস্ত্রাগার, দিওয়ানুর রাসায়িল (পত্রবিনিময় বিভাগ), দিওয়ানুল খারাজ (রাজস্ব বিভাগ), দিওয়ানুল খাতাম (রাজকীয় সিলমোহর বিভাগ), দিওয়ানুল জুন্দ (সেনাবাহিনী বিভাগ), দিওয়ানুল হাওয়ায়িজ (আবেদন বিভাগ), দিওয়ানুল আহশাম (ভৃত্য ও অনুচর বিভাগ), সাধারণের পাকশালা এবং দিওয়ান...
(খণ্ড: ১)
আল-বুলদান লিল ইয়াকূবী
(পৃষ্ঠা: ২৮)
النفقات، وبين الطاقات «1» إلى الطاقات، السكك «2» ، والدروب تعرف بقواده، ومواليه، وبسكان كل سكة.فمن باب البصرة إلى باب الكوفة سكة الشرطة، وسكة الهيثم، وسكة المطبق، وفيها الحبس الأعظم الذي يسمى المطبق، وثيق البناء محكم السور، وسكة النساء، وسكة سرجس، وسكة الحسين، وسكة عطية مجاشع، وسكة العباس، وسكة غزوان، وسكة ابن حنيفة، وسكة الضيقه.ومن باب البصرة إلى باب خراسان سكة الحرس، وسكة النعيمية، وسكة سليمان، وسكة الربيع، وسكة مهلهل، وسكة شيخ بن عميرة، وسكة المرورودية، وسكة واضح، وسكة السقائين، وسكة ابن بريهة بن عيسى بن المنصور، وسكة أبي أحمد، والدرب الضيق.ومن باب الكوفة إلى باب الشام سكة العكي، وسكة أبي قرة، وسكة عبدويه، وسكة السميدع، وسكة العلاء، وسكة نافع، وسكة أسلم، وسكة منارة.ومن باب الشام إلى باب خراسان سكة المؤذنين، وسكة دارم، وسكة إسرائيل، وسكة تعرف في هذا الوقت بالقواريري- قد ذهب عني اسم صاحبها-، وسكة الحكم بن يوسف، وسكة سماعة، وسكة صاعد- مولى أبي جعفر-، وسكة تعرف اليوم بالزيادي- وقد ذهب عني اسم صاحبها-، وسكة غزوان.هذه السكك بين الطاقات، والطاقات داخل المدينة وداخل السور، وفي كل سكة من هذه السكك جلة القواد الموثوق بهم في النزول معه، وجلة مواليه ومن يحتاج إليه في الأمر المهم، وعلى كل سكة من طرفيها الأبواب الوثيقة، ولا تتصل سكة منها بسور الرحبة التي فيها دار الخلافة، لأن حوالي سور الرحبة كما تدور الطريق، وكان الذين هندسوها عبد الله بن محرز، والحجاج بن يوسف «3» ، وعمران بن الوضّاح،
ব্যয়সমূহ, এবং কক্ষগুলোর মধ্যবর্তী স্থান থেকে কক্ষসমূহ পর্যন্ত রাস্তা ও গলিগুলো এর সেনাপতিদের নামে, তাঁর মুক্তদাসদের নামে এবং প্রতিটি রাস্তার অধিবাসীদের নামে পরিচিত ছিল।সুতরাং বসরা দরজা থেকে কুফা দরজা পর্যন্ত হলো শুরতাহ (পুলিশ) গলি, হাইসাম গলি, মুতবিক গলি—যেখানে মুতবিক নামক প্রধান কারাগারটি অবস্থিত, যা মজবুত নির্মাণশৈলী ও সুদৃঢ় প্রাচীরবেষ্টিত—মহিলা গলি, সারজিস গলি, হুসাইন গলি, আতিয়্যাহ মুজাশে' গলি, আব্বাস গলি, গাযওয়ান গলি, ইবনে হানিফাহ গলি এবং সংকীর্ণ গলি।আর বসরা দরজা থেকে খোরাসান দরজা পর্যন্ত হলো প্রহরী গলি, নুয়াইমিয়াহ গলি, সুলাইমান গলি, রাবী' গলি, মুহালহিল গলি, শায়খ ইবনে উমাইরাহ গলি, মুরু-রুদিয়্যাহ গলি, ওয়াদিহ গলি, সাক্কায়ীন (পানি সরবরাহকারী) গলি, ইবনে বুরাইহাহ ইবনে ঈসা ইবনে আল-মানসুর গলি, আবু আহমদ গলি এবং সংকীর্ণ পথ।আর কুফা দরজা থেকে শাম দরজা পর্যন্ত হলো আক্কী গলি, আবু কুররাহ গলি, আবদুওয়াইহি গলি, সামাইদা' গলি, আ'লা গলি, নাফি' গলি, আসলাম গলি এবং মিনার গলি।আর শাম দরজা থেকে খোরাসান দরজা পর্যন্ত হলো মুয়াজ্জিন গলি, দারিম গলি, ইসরাঈল গলি, একটি গলি যা বর্তমানে কাওয়ারীরী নামে পরিচিত—যার মূল মালিকের নাম আমি ভুলে গেছি—হাকাম ইবনে ইউসুফ গলি, সামা'আহ গলি, সা'ইদ—আবু জাফরের মুক্তদাস—গলি, বর্তমানে যিয়াদী নামে পরিচিত একটি গলি—যার মূল মালিকের নাম আমি ভুলে গেছি—এবং গাযওয়ান গলি।এই গলিগুলো কক্ষগুলোর মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত, আর কক্ষগুলো শহরের ভেতরে এবং প্রাচীরের অভ্যন্তরে। এই প্রতিটি গলিতে তাঁর সাথে অবস্থান করার মতো বিশ্বস্ত প্রথিতযশা সেনাপতিগণ, তাঁর উচ্চমর্যাদার মুক্তদাসগণ এবং গুরুত্বপূর্ণ কাজে যাদের প্রয়োজন হয় এমন ব্যক্তিরা বাস করতেন। প্রতিটি গলির দুই প্রান্তে মজবুত দরজা ছিল। এর কোনো গলিই সেই প্রশস্ত চত্বরের প্রাচীরের সাথে যুক্ত ছিল না যেখানে খিলাফত ভবন অবস্থিত, কারণ চত্বরের প্রাচীরের চারপাশ দিয়ে রাস্তাটি চক্রাকারে ঘুরে গেছে। এর প্রকৌশলগত নকশা করেছিলেন আবদুল্লাহ ইবনে মুহরিয, হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফ এবং ইমরান ইবনে ওয়াদদাহ।
(খণ্ড: ১)
আল-বুলদান লিল ইয়াকূবী
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وشهاب بن كثير بحضرة نوبخت، وإبراهيم بن محمد الفزاري «1» ، والطبري المنجمين أصحاب الحساب.وقسم الأرباض «2» أربعة أرباع، وقلّد للقيام بكل ربع رجلا من المهندسين، وأعطى أصحاب كل ربع مبلغ ما يصير لصاحب كل قطيعة من الذرع، ومبلغ ذرع ما لعمل الأسواق في ربض ربض.فقلّد الربع من باب الكوفة إلى باب البصرة، وباب المحوّل «3»
এবং নওবাখত-এর উপস্থিতিতে শিহাব বিন কাসীর, ইব্রাহীম বিন মুহাম্মদ আল-ফাযারী (১) এবং জ্যোতির্বিদ ও হিসাববিদ আল-তাবারী।তিনি উপশহরগুলোকে (২) চার ভাগে বিভক্ত করলেন এবং প্রতিটি ভাগের তদারকির জন্য একজন করে প্রকৌশলী নিযুক্ত করলেন। তিনি প্রতিটি ভাগের দায়িত্বপ্রাপ্তদের প্রতিটি প্লটের মাপ অনুযায়ী বরাদ্দকৃত অংশ এবং প্রতিটি উপশহরের বাজারের জন্য নির্ধারিত পরিমাপ প্রদান করলেন।অতঃপর তিনি কুফা গেট হতে বসরা গেট এবং মুহাওওয়াল গেট (৩) পর্যন্ত অংশের দায়িত্ব অর্পণ করলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-বুলদান লিল ইয়াকূবী
(পৃষ্ঠা: ৩০)
والكرخ «1» وما اتصل بذلك كله المسيب بن زهير «2» ، والربيع مولاه وعمران بن الوضاح المهندس.والربع من باب الكوفة إلى باب الشام، وشارع طريق الأنبار إلى حد ربض حرب بن عبد الله «3» [و] «4» سليمان بن مجالد وواضحا مولاه، وعبد الله بن محرز المهندس.
আল-কারখ «১» এবং এর সাথে সংযুক্ত সকল এলাকা আল-মুসাইয়িব ইবনে জুহাইর «২», তাঁর মুক্তদাস আল-রাবি এবং প্রকৌশলী ইমরান ইবনে আল-ওয়াদদাহর দায়িত্বে ছিল।কুফা গেট থেকে শাম গেট পর্যন্ত চতুর্থাংশ এবং আনবার সড়কের রাজপথ থেকে হারব ইবনে আবদুল্লাহর উপশহরের সীমানা পর্যন্ত এলাকা «৩» [এবং] «৪» সুলাইমান ইবনে মুজালিদ, তাঁর মুক্তদাস ওয়াদিহ এবং প্রকৌশলী আবদুল্লাহ ইবনে মুহরিজের দায়িত্বে ছিল।
(খণ্ড: ১)
আল-বুলদান লিল ইয়াকূবী
(পৃষ্ঠা: ৩১)
والربع من باب الشام إلى ربض حرب وما اتصل بربض حرب، وشارع باب الشام، وما اتصل بذلك إلى الجسر على منتهى دجلة حرب بن عبد الله وغزوان مولاه، والحجاج بن يوسف المهندس، ومن خراسان إلى الجسر الذي على دجلة مادا في الشارع على دجلة إلى البغيين «1» ، وباب قطر بن هشام [بن] «2» عمرو التغلبي وعمارة بن حمزة «3» وشهاب بن كثير المهندس.ووقّع إلى كل أصحاب ربع ما يصير لكل رجل من الذرع، ولمن معه من أصحابه، وما قدّره للحوانيت والأسواق في كل ربض، وأمرهم أن يوسعوا في الحوانيت ليكون في كل ربض سوق جامعة تجمع التجارات، وأن يجعلوا في كل ربض من السكك، والدروب النافذة، وغير النافذة ما يعتدل بها المنازل، وأن يسموا كل درب باسم القائد النازل فيه، أو الرجل النبيه الذي ينزله، أو أهل البلد الذي يسكنونه، وحد لهم أن يجعلوا عرض الشوارع خمسين ذراعا- بالسوداء، والدروب ستة عشر ذراعا، وأن يبتنوا في جميع الأرباض، والأسواق، والدروب من المساجد والحمامات ما يكتفي بها من في كل ناحية ومحلة.وأمرهم جميعا أن يجعلوا من قطائع القواد والجند ذراعا معلوما للتجار يبنونه وينزلونه، والسوقة الناس، وأهل البلدان.وكان أول من أقطع خارج المدينة من أهل بيته عبد الوهاب بن إبراهيم بن محمد بن علي بن العباس «4» بإزاء باب الكوفة على الصرّاة «5» السفلى التي تأخذ من
সিরিয়া ফটক হতে হারবের উপশহর এবং হারবের উপশহরের সাথে যা কিছু সংযুক্ত, সিরিয়া ফটকের সড়ক, এবং এর সাথে দজলার প্রান্তবর্তী সেতু পর্যন্ত যা কিছু সংযুক্ত হয়েছে—তা হারব বিন আব্দুল্লাহ, তার মুক্তদাস গযওয়ান এবং প্রকৌশলী হাজ্জাজ বিন ইউসুফের (তত্ত্বাবধানে) ছিল। আর খুরাসান হতে দজলার ওপরস্থ সেতু পর্যন্ত দজলার তীরের প্রধান সড়ক ধরে বাগয়্যীন «১» পর্যন্ত, এবং কাতার বিন হিশাম [বিন] «২» আমর আত-তাগলিবি, উমারা বিন হামযা «৩» এবং প্রকৌশলী শিহাব বিন কাসীরের ফটক (পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল)।তিনি প্রতিটি চতুর্থাংশের দায়িত্বশীলদের নিকট প্রত্যেক ব্যক্তির প্রাপ্য পরিমাপ এবং তাদের সঙ্গে থাকা সাথীদের অংশ লিখে দিলেন। প্রতিটি উপশহরে দোকান ও বাজারের জন্য তিনি যে পরিমাণ ভূমি নির্ধারণ করেছিলেন তাও উল্লেখ করলেন। তিনি তাদের নির্দেশ দিলেন যেন তারা দোকানসমূহ প্রশস্ত করে নির্মাণ করে যাতে প্রতিটি উপশহরে একটি সমন্বিত বাজার থাকে যা সকল প্রকার ব্যবসা-বাণিজ্যকে একত্রিত করবে। আরও নির্দেশ দিলেন যেন প্রতিটি উপশহরে গলি ও চলাচলের পথ—তা প্রশস্ত রাস্তা হোক কিংবা বন্ধ গলি—এমনভাবে স্থাপন করা হয় যাতে ঘরবাড়িগুলো সুবিন্যস্ত থাকে। প্রতিটি পথের নামকরণ যেন সেখানে অবস্থানকারী সেনাপতি, অথবা কোনো বিশিষ্ট ব্যক্তি, অথবা সেখানকার বাসিন্দাদের আদি শহরের নামানুসারে করা হয়। তিনি সড়কের প্রস্থ পঞ্চাশ হাত—কালো (সাওদা) হাত অনুযায়ী—এবং গলিগুলোর প্রস্থ ষোল হাত নির্ধারণ করে দিলেন। এছাড়া প্রতিটি উপশহর, বাজার ও গলিতে পর্যাপ্ত সংখ্যক মসজিদ ও গোসলখানা নির্মাণের আদেশ দিলেন যাতে প্রতিটি এলাকা ও মহল্লার বাসিন্দাদের প্রয়োজন মেটে।তিনি তাদের সকলকে আদেশ দিলেন যেন তারা সেনাপতি ও সৈন্যদের জায়গির থেকে ব্যবসায়ীদের জন্য একটি নির্দিষ্ট অংশ নির্ধারণ করে, যা তারা নির্মাণ করবে এবং সেখানে বসবাস করবে। সাধারণ জনগণ এবং বিভিন্ন শহর থেকে আগত লোকেরাও এতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।শহরের বাইরে তার নিজ পরিবারবর্গের মধ্যে সর্বপ্রথম যাকে ভূমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল, তিনি হলেন আব্দুল ওয়াহহাব বিন ইবরাহিম বিন মুহাম্মাদ বিন আলি বিন আল-আব্বাস «৪»। কুফা ফটকের বিপরীতে নিম্ন সারা’ত «৫» খালের তীরে এই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল, যা নির্গত হয়েছে...