(খণ্ড: ১)
আল-আনোয়ার ফী শামাইলিন নাবিয়্যিল মুখতার
(পৃষ্ঠা: -)
الأنوار في شمائل النبي المختار القسم: السيرة النبوية
الكتاب: الأنوار في شمائل النبي المختار
المؤلف: محيي السنة الحسين بن مسعود البغوي (432 - 516 هـ)
حققه وخرج أحاديثه: إبراهيم اليعقوبي
الناشر: دار المكتبي، دمشق - سوريا
الطبعة: الأولى، 1416 هـ - 1995 م
عدد المجلدات: 2 (متسلسلة الترقيم)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-আনোয়ার ফি শামাইলিন নাবিয়্যিল মুখতার বিভাগ: সীরাতুন্নবী
কিতাব: আল-আনোয়ার ফি শামাইলিন নাবিয়্যিল মুখতার
লেখক: মুহিউস সুন্নাহ হুসাইন ইবনে মাসউদ আল-বাগাউয়ী (৪৩২ - ৫১৬ হিজরী)
তাহকীক ও হাদিস তাখরীজ করেছেন: ইব্রাহীম আল-ইয়াকুবী
প্রকাশক: দারুল মাকতাবী، দামেস্ক - সিরিয়া
সংস্করণ: প্রথম، ১৪১৬ হিজরী - ১৯৯৫ খ্রিষ্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ২ (ধারাবাহিক পৃষ্ঠা নম্বরযুক্ত)
[বইয়ের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির সাথে সংগতিপূর্ণ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-আনোয়ার ফী শামাইলিন নাবিয়্যিল মুখতার
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ والصَّلاةُ عَلَى رَسُولِهِ مُحَمَّدٍ وَآلِهِ أَجْمَعِينَ قَالَ الشَّيْخُ الإمَامُ الْأَجَلُّ السَّيِّدُ الزَّاهِدُ شَيْخُ الإِسْلامِ مُحْيِي السُّنَّةِ نَاصِرُ الْحَدِيثِ رُكْنُ الإسْلامِ قُدْوَةُ الْأُمَّةِ أَبُو مُحَمَّدٍ الْحُسَيْنُ بْنُ مَسْعُودٍ الْبَغَوِيُّ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ وَعَنْ وَالِدَيْهِ وَأَثَابَهُ وَإِيَّاهُمُ الْجَنَّةَ.
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং তাঁর রাসূল মুহাম্মদ ও তাঁর সকল পরিবার-পরিজনের ওপর দরুদ বর্ষিত হোক। সুউচ্চ মর্যাদাশীল ইমাম, সায়্যিদ, দুনিয়াবিমুখ, শায়খুল ইসলাম, সুন্নাহর পুনর্জীবনদানকারী, হাদিসের সাহায্যকারী, ইসলামের স্তম্ভ, উম্মাহর অনুকরণীয় আদর্শ আবু মুহাম্মদ আল-হুসাইন ইবনে মাসউদ আল-বাগাওয়ী (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি এবং তাঁর পিতা-মাতার প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁকে ও তাঁদের জান্নাত প্রতিদান হিসেবে দান করুন) বলেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আনোয়ার ফী শামাইলিন নাবিয়্যিল মুখতার
(পৃষ্ঠা: ৪)
1- بَابُ اخْتِيَارِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي السَّابِقَةِ 1 - قَالَ أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ يُوسُفَ الْجُوَيْنِيُّ أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ شَرِيكٍ الشَّافِعِيُّ أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مُسْلِمٍ أَبُو بَكْرٍ الْجَوْرَبَذِيُّ حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى الصَّدَفِيُّ أَخْبَرَنَا بِشْرُ بْنُ بَكْرٍ عَنِ الأَوْزَاعِيِّ حَدَّثَنِي شَدَّادٌ أَبُو عَمَّارٍ عَنْ وَاثِلَةَ بْنِ الأَسْقَعِ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ اللَّهَ اصْطَفَى كِنَانَةَ مِنْ بَنِي إِسْمَاعِيلَ وَاصْطَفَى مِنْ بَنِي كِنَانَةَ قُرَيْشًا وَاصْطَفَى مِنْ قُرَيْشٍ بَنِي هَاشِمٍ وَاصْطَفَانِي مِنْ بني هاشم. صحيح0
১- পূর্ব-নির্ধারিত শ্রেষ্ঠত্বের বর্ণনায় নবী সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লামের মনোনীত হওয়া সংক্রান্ত অধ্যায় ১ - তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আলী ইবনে ইউসুফ আল-জুওয়াইনী, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মাদ মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে শারীক আশ-শাফিঈ, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মুসলিম আবু বকর আল-জাওরাবাযী, তিনি বলেন, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইউনুস ইবনে আবদিল আলা আস-সাদাফী, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন বিশর ইবনে বকর, তিনি আওযায়ী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমার কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন শাদ্দাদ আবু আম্মার, তিনি ওয়াসিলা ইবনুল আসকা রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ ইসমাঈলের বংশধর থেকে কিনানাকে মনোনীত করেছেন, এবং বনী কিনানা থেকে কুরাইশকে মনোনীত করেছেন, এবং কুরাইশ থেকে বনী হাশেমকে মনোনীত করেছেন এবং আমাকে বনী হাশেম থেকে মনোনীত করেছেন। সহীহ ০
(খণ্ড: ১)
আল-আনোয়ার ফী শামাইলিন নাবিয়্যিল মুখতার
(পৃষ্ঠা: ৫)
2 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ الْفَضْلِ بْنِ جَعْفَرٍ الْخَرَقِيُّ أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الطَّيْسَفُونِيُّ أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ الْجَوْهَرِيُّ حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ الْكُشْمِيهَنِيُّ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ أَبِي عَمْرٍو مَوْلَى الْمُطَّلِبِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ بُعِثْتُ مِنْ خَيْرِ قُرُونِ بَنِي آدَمَ قَرْنًا فَقَرْنًا حَتَّى بُعِثْتُ مِنَ الْقَرْنِ الَّذِي كنت منه. صحيح
3 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ يُوسُفَ الْجُوَيْنِيُّ أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ شَرِيكٍ الشَّافِعِيُّ أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مُسْلِمٍ حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ أَخْبَرَنِي يُونُسُ بْنُ يَزِيدَ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ قَالَ كَانَ أَبُو هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ يَقولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَثَلِي وَمَثَلُ الأَنْبِيَاءِ كَمَثَلِ قَصْرٍ أُحْسِنَ بُنْيَانُهُ تُرِكَ مِنْهُ مَوْضِعُ لَبِنَةٍ،
২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনুল ফজল ইবনে জাফর আল-খারাফি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আলী ইবনে আব্দুল্লাহ আত-তাইসাফুনি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুর রহমান আব্দুল্লাহ ইবনে উমর আল-জাওহারি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে আলী আল-কুশমিহানি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী ইবনে হুজর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাঈল ইবনে জাফর আমরো ইবনে আবি আমরো থেকে—যিনি মুত্তালিব ইবনে আব্দুল্লাহর মুক্তদাস—তিনি সাঈদ ইবনে আবি সাঈদ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমি বনী আদমের সর্বোত্তম যুগসমূহের মধ্য থেকে ধারাবাহিকভাবে এক যুগের পর এক যুগে প্রেরিত হয়েছি, শেষ পর্যন্ত আমি সেই যুগে প্রেরিত হয়েছি যাতে আমি রয়েছি।" সহিহ।
৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আলী ইবনে ইউসুফ আল-জুওয়াইনি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মাদ মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে শারিক আশ-শাফিয়ি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মুসলিম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইউনুস ইবনে আব্দুল আলা, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনে ওয়াহাব, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন ইউনুস ইবনে ইয়াজিদ ইবনে শিহাব থেকে, তিনি আবু সালামা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) বলতেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমার এবং নবীদের উদাহরণ হলো এমন একটি প্রাসাদের ন্যায় যার নির্মাণশৈলী অত্যন্ত চমৎকার করা হয়েছে, কিন্তু তাতে একটি ইটের জায়গা খালি রাখা হয়েছে,
(খণ্ড: ১)
আল-আনোয়ার ফী শামাইলিন নাবিয়্যিল মুখতার
(পৃষ্ঠা: ৬)
فَطَافَ بِهِ النُّظَّارُ يَتَعَجَّبونَ مِنْ حُسْنِ بُنْيَانِهِ إِلا مَوْضِعَ تِلْكَ اللَّبِنَةِ لا يَعِيبونَ سِوَاهَا فَكُنْتُ أَنَا سَدَدْتُ مَوْضِعَ تِلْكَ اللَّبِنَةِ خُتِمَ بِيَ الْبُنْيَانُ وَخُتِمَ بي الرسل. صحيح
4 - حَدَّثَنَا السَّيِّدُ أَبُو الْقَاسِمِ عَلِيُّ بْنُ مُوسَى الْمُوسَويُّ حَدَّثَنِي أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْعَبَّاسِ الْبَلْخِيُّ أَخْبَرَنَا أَبُو سُلَيْمَانَ حَمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْراهِيمَ الْخَطَّابِيُّ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ المكي أخبرنا إسحق بْنُ إِبْراهِيمَ حَدَّثَنَا ابْنُ أَخِي ابْنِ وَهْبٍ حَدَّثَنَا عَمِّي حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ صالِحٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ سُوَيْدٍ عَنْ عَبْدِ الأَعْلَى بْنِ هِلالٍ السُّلَمِيِّ عَنْ عِرْبَاضِ بْنِ سَارِيَةَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ عَنْ رَسُول اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنِّي عِنْدَ اللَّهِ مَكْتُوبٌ خَاتَمُ النَّبِيِّينَ وَإِنَّ آدَمَ لَمُنْجَدِلٌ فِي طِينَتِهِ وَسَأُحَدِّثُكُمْ بِأَوَّلِ أَمْرِي دَعْوَةِ إِبْرَاهِيمَ وَبِشَارَةِ عِيسَى وَرُؤْيَا أُمِّي الَّتِي رَأَتْ حِينَ وَضَعَتْنِي وَقَدْ خَرَجَ لَها نُورٌ أَضَاءَتْ لَها مِنْهُ قُصُورُ الشَّامِ.
5 - أَخْبَرَنَا أَبُو مَنْصُورٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ الْمُظَفَّرِيُّ السَّرَخْسِيُّ أَخْبَرَنَا أَبُو سَعِيدٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْفَضْلِ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الصَّفَّارُ حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ أَبِي يَعْقُوبَ حَدَّثَنَا
দর্শকগণ তার চারপাশে ঘুরে বেড়ালেন এবং এর নির্মাণের সৌন্দর্যে বিস্ময় প্রকাশ করলেন, তবে কেবল সেই একটি ইটের স্থান ছাড়া। তারা সেই স্থানটি ছাড়া অন্য কোনো ত্রুটি খুঁজে পেলেন না। অতঃপর আমি সেই একটি ইটের শূন্যস্থানটি পূর্ণ করলাম। আমার মাধ্যমেই সেই নির্মাণ সমাপ্ত হলো এবং আমার মাধ্যমেই রাসুলগণের সমাপ্তি ঘটল। সহীহ।
4 - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আস-সাইয়্যিদ আবু আল-কাসিম আলী ইবন মুসা আল-মুসাওয়ী, তিনি বলেন, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর আহমাদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন আল-আব্বাস আল-বালখী, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সুলাইমান হামাদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন ইব্রাহিম আল-খাত্তাবী, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ ইবন আল-মাক্কী, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসহাক ইবন ইব্রাহিম, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবন ওয়াহাবের ভ্রাতুষ্পুত্র, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমার চাচা, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুয়াবিয়া ইবন সালিহ, সাঈদ ইবন সুওয়াইদ থেকে, তিনি আব্দুল আ’লা ইবন হিলাল আস-সুলামী থেকে, তিনি ইরবাদ ইবন সারিয়াহ (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে, তিনি আল্লাহর রাসুল (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: নিশ্চয়ই আমি আল্লাহর নিকট নবীগণের সমাপ্তিকারী হিসেবে লিখিত ছিলাম যখন আদম তাঁর কাদার মধ্যে লীন ছিলেন। আমি তোমাদেরকে আমার সূচনালগ্ন সম্পর্কে সংবাদ দিচ্ছি: (আমি হলাম) ইব্রাহিমের দোয়া, ঈসার সুসংবাদ এবং আমার মাতার স্বপ্ন যা তিনি আমাকে প্রসব করার সময় দেখেছিলেন— তাঁর থেকে একটি নূর নির্গত হয়েছিল যার মাধ্যমে সিরিয়ার প্রাসাদসমূহ তাঁর জন্য আলোকিত হয়ে গিয়েছিল।
5 - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মানসুর মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল মালিক আল-মুজাফ্ফরী আস-সারাখসী, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাঈদ আহমাদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন আল-ফাদল, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল্লাহ আস-সাফফার, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াকুব ইবন আবু ইয়াকুব, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১)
আল-আনোয়ার ফী শামাইলিন নাবিয়্যিল মুখতার
(পৃষ্ঠা: ৭)
زَاهِرُ بْنُ نُوحٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمُنْكَدِرُ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ اللَّهَ بَعَثَنِي بِتَمَامِ مَحَاسِنِ الأَخْلاقِ وَكَمَالِ مَحَاسِنِ الْأَفْعَالِ.
2 - بَابُ مَا خُصَّ بِهِ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنَ الآيَاتِ وَالْكَرَامَاتِ 6 - أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ يَعْقُوبُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ الصَّيْرَفيُّ حَدَّثَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ الْمَخْلَدِيُّ أَخْبَرَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ محمد بن إسحق بْنُ إِبْرَاهِيمَ الثَّقَفِيُّ حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَا مِنْ نَبِيٍّ مِنَ الأَنْبِيَاءِ إِلا وَقَدْ أُعْطِيَ مِنَ الآيَاتِ مَا آمَنَ عَلَى مِثْلِهِ الْبَشَرُ وَإِنَّمَا كَانَ الَّذِي أُوتِيتُهُ وَحْيًا أَوْحَاهُ اللَّهُ إِلَيَّ وَأَرْجُو أَنْ أَكُونَ أَكْثَرَهُمْ تَابِعًا يوم القيامة. صحيح
জাহির বিন নুহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ বিন ইবরাহিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইউসুফ বিন মুহাম্মাদ আল-মুনকাদির তাঁর পিতা থেকে, তিনি জাবির (রাযিয়াল্লাহু তাআলা আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাকে উত্তম চরিত্রের পূর্ণতা এবং সুন্দর কর্মসমূহের পরিপূর্ণতা দিয়ে পাঠিয়েছেন।"
২ - পরিচ্ছেদ: নবী (সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে যেসব নিদর্শন ও অলৌকিকতা দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করা হয়েছে ৬ - আবু বকর ইয়াকুব বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আলী আস-সাইরাফি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু মুহাম্মাদ আল-হাসান বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ আল-মাখলাদি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবুল আব্বাস মুহাম্মাদ বিন ইসহাক বিন ইবরাহিম আস-সাকাফি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, কুতাইবা বিন সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-লাইস বিন সাদ আমাদের নিকট সাঈদ বিন আবু সাঈদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু তাআলা আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নবীদের মধ্যে এমন কোনো নবী নেই যাকে এমন নিদর্শন প্রদান করা হয়নি যার ওপর ভিত্তি করে মানুষ ঈমান এনেছে। আর আমাকে যা প্রদান করা হয়েছে তা হলো ওহী, যা আল্লাহ আমার প্রতি অবতীর্ণ করেছেন। তাই আমি আশা করি কিয়ামতের দিন অনুসারীদের দিক থেকে আমিই তাঁদের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ হব।" সহীহ।
(খণ্ড: ১)
আল-আনোয়ার ফী শামাইলিন নাবিয়্যিল মুখতার
(পৃষ্ঠা: ৮)
7 - أَخْبَرَنَا أَبُو عُمَرَ عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ أَحْمَدَ الْمَلِيحِيُّ الْهَرَوِيُّ أَخْبَرَنَا أَبُو حَامِدٍ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُعَيْمٍ السَّرَخْسِيُّ أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ بْنِ مَطَرٍ الْفَرَبْرِيُّ حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْبُخَارِيُّ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَنَامٍ حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ حَدَّثَنَا سَيَّارٌ حَدَّثَنَا يَزِيدُ الْفَقِيرُ أَخْبَرَنَا جَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ رَضِيَ الله تعالى عنه أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أُعْطِيتُ خَمْسًا لَمْ يُعْطَهُنَّ أَحَدٌ قَبْلِي نُصِرْتُ بِالرُّعْبِ مَسِيرَةَ شَهْرٍ وَجُعِلَتْ لِيَ الأَرْضُ مَسْجِدًا وَطَهُورًا فَأَيُّمَا رَجُلٍ مِنْ أُمَتِي أَدْرَكَتْهُ الصَّلاةُ فَلْيُصَلِّ وَأُحِلَّتْ لِيَ الْغَنَائِمُ وَلَمْ تُحَلَّ لأَحَدٍ قَبْلِي وَأُعْطِيتُ الشَّفَاعَةَ وَكَانَ النَّبِيُّ يُبْعَثُ إِلَى قَوْمِهِ خَاصَّةً وَبُعِثْتُ إِلَى الناس عامة. صحيح
৭ - আবু উমর আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে আহমদ আল-মালিহি আল-হারাবি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আবু হামিদ আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে নুআইম আস-সারাখসি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ ইবনে মাতার আল-ফারাবরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন মুহাম্মদ ইবনে সিনাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন হুশাইম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন সাইয়্যার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন ইয়াযিদ আল-ফাকির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: আমাকে এমন পাঁচটি বিষয় দান করা হয়েছে যা আমার পূর্বে কাউকে প্রদান করা হয়নি; আমাকে এক মাসের পথ দূরত্ব পর্যন্ত (শত্রুর মনে) ভীতি সঞ্চারের মাধ্যমে সাহায্য করা হয়েছে, আমার জন্য সমগ্র জমিনকে সিজদাহর স্থান ও পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম করা হয়েছে, সুতরাং আমার উম্মতের যে কোনো ব্যক্তির যখনই সালাতের সময় উপস্থিত হবে সে যেন সালাত আদায় করে নেয়, আমার জন্য গনিমতের মাল হালাল করা হয়েছে যা ইতিপূর্বে আর কারো জন্য হালাল করা হয়নি, আমাকে শাফাআত (সুপারিশ করার অধিকার) দান করা হয়েছে এবং পূর্ববর্তী নবীগণকে কেবল তাঁদের নিজ নিজ সম্প্রদায়ের নিকট পাঠানো হতো আর আমাকে সমস্ত মানুষের নিকট ব্যাপকভাবে পাঠানো হয়েছে। সহিহ।
(খণ্ড: ১)
আল-আনোয়ার ফী শামাইলিন নাবিয়্যিল মুখতার
(পৃষ্ঠা: ৯)
8 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ الْفَضْلِ الْخَرَقِيُّ أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الطَّيْسَفُونِيُّ أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ الْجَوْهَرِيُّ. حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ الْكُشْمِيهَنِيُّ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا الْعَلاءُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ فُضِّلْتُ عَلَى الْأَنْبِيَاءِ بِسِتٍّ أُوتِيتُ جَوَامِعَ الْكَلِمِ وَنُصِرْتُ بِالرُّعْبِ وَأُحِلَّتْ لِيَ الْغَنَائِمُ وَجُعِلَتْ لِيَ الأَرْضُ مَسْجِدًا وَطَهُورًا وَأُرْسِلْتُ إِلَى كَافَّةِ الْخَلْقِ وَخُتِمَ بي النبيون. صحيح
9 - أَخْبَرَنَا أَبُو حَامِدٍ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الصَّالِحِيُّ. أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ الْحِيرِيُّ أَخْبَرَنَا حَاجِبُ بْنُ أحمد الطوسي نبا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى حَدَّثَنَا يزيد بن هرون حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
৮ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আল-ফজল আল-খারাতি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হাসান আলী বিন আব্দুল্লাহ আত-তায়সাফূনী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ বিন উমর আল-জাওহারী। আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আহমাদ বিন আলী আল-কুশমিহানী, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আলী বিন হুজর, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইসমাঈল বিন জাফর, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আল-আলা বিন আব্দুর রহমান, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আমাকে নবীগণের ওপর ছয়টি বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব দান করা হয়েছে: আমাকে সংক্ষিপ্ত অথচ ব্যাপক অর্থবোধক বাক্য (জাওয়ামিউল কালিম) দান করা হয়েছে, আমাকে (শত্রুর হৃদয়ে) ভীতি সঞ্চারের মাধ্যমে সাহায্য করা হয়েছে, আমার জন্য গনীমতের মাল (যুদ্ধের লব্ধ সম্পদ) হালাল করা হয়েছে, আমার জন্য জমিনকে সিজদাহর স্থান ও পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম (তায়াম্মুমের জন্য) করা হয়েছে, আমাকে সমগ্র সৃষ্টির নিকট প্রেরণ করা হয়েছে এবং আমার মাধ্যমেই নবীগণের সিলমোহর করা হয়েছে (নবুওয়াত শেষ করা হয়েছে)।" সহীহ।
৯ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু হামিদ আহমাদ বিন আব্দুল্লাহ আস-সালিহী। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমাদ বিন আল-হাসান আল-হীরী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাজিব বিন আহমাদ আত-তূসী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইয়াযীদ বিন হারুন, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আমর, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
(খণ্ড: ১)
আল-আনোয়ার ফী শামাইলিন নাবিয়্যিল মুখতার
(পৃষ্ঠা: ১০)
نُصِرْتُ بِالرُّعْبِ وَأُوتِيتُ جَوَامِعَ الْكَلِمِ وَجُعِلَتْ لِيَ الأَرْضُ مَسْجِدًا وَطَهُورًا وَبَيْنَا أَنَا نَائِمٌ أُوتِيتُ بِمَفَاتِحَ خَزَائِنِ الأَرْضِ فُتِلَتْ في يدي. صحيح
10 - أَخْبَرَنَا أَبُو سَعْدٍ إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَبْدِ الْقَاهِرِ الْجُرْجَانِيُّ أَنْبَأَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ عَبْدُ الْغَافِرِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْفَارِسِيُّ أَنْبَأَنَا أَبُو أَحْمَدَ مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى الْجُلُودِيُّ أنبا أبو إسحق إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سُفْيَانَ حَدَّثَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ مُسْلِمُ بْنُ الْحَجَّاجِ أَنْبَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ ثَنَا حَمَّادٌ هُوَ ابْنُ زَيْدٍ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ أَبِي قلابة عن أبي أَسْمَاءَ عَنْ ثَوْبَانَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ اللَّهَ زَوَى لِيَ الأَرْضَ فَرَأَيْتُ مَشَارِقَهَا وَمَغَارِبَهَا وَإِنَّ أُمَّتِي سَيَبْلُغُ مُلْكُهَا إِلَى مَا زُوِيَ لي منها وأعطيتك الْكَنْزَيْنِ الأَحْمَرَ وَالأَبْيَضَ وَإِنِّي سَأَلْتُ رَبِّي لأُمَّتِي أَنْ لا يُهْلِكَهَا بِسَنَةٍ عَامَّةٍ وَأَنْ لا يُسَلِّطَ عَلَيْهِمْ عَدُوًّا مِنْ سِوَى أَنْفُسِهِمْ فَيَسْتَبِيحَ بَيْضَتَهُمْ وَإِنَّ رَبِّي قَالَ يَا مُحَمَّدُ إِنِّي إِذَا قَضَيْتُ
আমাকে প্রভাবের দ্বারা সাহায্য করা হয়েছে, আমাকে সংক্ষিপ্ত অথচ ব্যাপক অর্থপূর্ণ কথা (জাওয়ামিউল কালিম) প্রদান করা হয়েছে এবং আমার জন্য জমিনকে করা হয়েছে সিজদাহর স্থান ও পবিত্রতার মাধ্যম। আমি যখন ঘুমন্ত ছিলাম, তখন আমার কাছে পৃথিবীর ধনভাণ্ডারের চাবিকাঠিগুলো আনা হলো এবং সেগুলো আমার হাতের মধ্যে অর্পণ করা হলো। সহিহ।
১০ - আবু সা'দ ইসমাঈল ইবন আবদুল কাহির আল-জুরজানী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবুল হুসাইন আবদুল গাফির ইবন মুহাম্মদ আল-ফারিসী আমাদের অবহিত করেছেন, আবু আহমাদ মুহাম্মদ ইবন ঈসা আল-জুলুদী আমাদের অবহিত করেছেন, আবু ইসহাক ইবরাহীম ইবন মুহাম্মদ ইবন সুফিয়ান আমাদের অবহিত করেছেন, আবুল হুসাইন মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, কুতায়বা ইবন সাঈদ আমাদের অবহিত করেছেন, হাম্মাদ—তিনি ইবন যাইদ—আইয়ুব থেকে, তিনি আবু কিলাবাহ থেকে, তিনি আবু আসমা থেকে, তিনি সাওবান (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার জন্য জমিনকে সংকুচিত করেছেন, ফলে আমি তার পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তসমূহ দেখেছি। আর অচিরেই আমার উম্মতের রাজত্ব সেই সীমা পর্যন্ত পৌঁছাবে যতটুকু আমার জন্য সংকুচিত করা হয়েছে। আমাকে লাল ও সাদা দুটি ধনভাণ্ডার দান করা হয়েছে। আমি আমার রবের কাছে আমার উম্মতের জন্য আবেদন করেছি যে, তিনি যেন তাদের সর্বগ্রাসী দুর্ভিক্ষের মাধ্যমে ধ্বংস না করেন এবং তাদের নিজেদের ব্যতীত অন্য কোনো শত্রুকে তাদের ওপর চাপিয়ে না দেন যারা তাদের ঐক্যবদ্ধ শক্তিকে সমূলে বিনাশ করবে। আর নিশ্চয়ই আমার রব বলেছেন: হে মুহাম্মদ! আমি যখন কোনো ফয়সালা করি...”
(খণ্ড: ১)
আল-আনোয়ার ফী শামাইলিন নাবিয়্যিল মুখতার
(পৃষ্ঠা: ১১)
قَضَاءً فَإِنَّهُ لا يرد وإني أعطيت لأُمَّتِكَ أَنْ لا أُهْلِكَهُمْ بِسَنَةٍ عَامَّةٍ وَأَنْ لا أُسَلِّطَ عَلَيْهِمْ عَدُوًّا مِنْ سِوَى أَنْفُسِهِمْ فَيَسْتَبِيحَ بَيْضَتَهُمْ وَلَوِ اجْتَمَعَ عَلَيْهِمْ مَنْ بِأَقْطَارِهَا أَوْ قَالَ مَنْ بَيْنَ أَقْطَارِهَا حَتَّى يَكُونَ بَعْضُهُمْ يُهْلِكُ بَعْضًا وَيَسْبِي بعضهم بعضا. صحيح
11 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ الْمَلِيحِيُّ أَنْبَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ النُّعَيْمِيُّ أَنْبَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ أَنْبَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ ثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ ثَنَا لَيْثٌ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ عَنْ أَبِي الْخَيْرِ عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَرَجَ يَوْمًا فَصَلَّى عَلَى أَهْلِ أُحُدٍ صَلاتَهُ عَلَى الْمَيِّتِ ثُمَّ انْصَرَفَ إِلَى الْمِنْبَرِ فَقَالَ إِنِّي فَرَطٌ لَكُمْ وَأَنَا شَهِيدٌ عَلَيْكُمْ وَإِنِّي وَاللَّهِ لأَنْظُرُ إِلَى حَوْضِيَ الآنَ وَإِنِّي قَدْ أُعْطِيتُ مَفَاتِيحَ خَزَائِنِ الأَرْضِ أَوْ مَفاتِيحَ الأَرْضِ وَإِنِّي وَاللَّهِ مَا أَخَافُ عَلَيْكُمْ أَنْ تُشْرِكُوا بَعْدِي وَلَكِنِّي أَخَافُ عَلَيْكُمْ أَنْ تَنَافَسُوا فِيهَا.
12 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ أَحْمَدَ الْمَلِيحِيُّ أَنْبَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ النُّعَيْمِيُّ أَنْبَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ أَنْبَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ أَنْبَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ ثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ
...ফয়সালা, যা পরিবর্তন করা হয় না। আর নিশ্চয়ই আমি তোমার উম্মতকে এই দান করেছি যে, আমি তাদের কোনো সর্বব্যাপী দুর্ভিক্ষ দ্বারা ধ্বংস করব না এবং তাদের নিজেদের ব্যতীত অন্য কোনো শত্রুকে তাদের ওপর এমনভাবে চাপিয়ে দেব না যারা তাদের ঐক্য ও শক্তিকে সমূলে বিনাশ করবে, যদিও পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের সকল লোক তাদের বিরুদ্ধে একত্রিত হয় (অথবা তিনি বলেছেন: পৃথিবীর প্রান্তসমূহের মাঝে যারা আছে), যতক্ষণ না তারা একে অপরকে ধ্বংস করবে এবং একে অপরকে বন্দী করবে। [সহীহ]
১১ - আব্দুল ওয়াহিদ আল-মালিহী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমদ বিন আব্দুল্লাহ আন-নুয়াইমী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, কুতাইবা বিন সাঈদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, লাইস আমাদের কাছে ইয়াজিদ বিন আবি হাবিব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি আবুল খায়ের থেকে, তিনি উকবা বিন আমের (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একদিন বের হলেন এবং উহুদবাসীদের ওপর জানাজার নামাজের মতো নামাজ আদায় করলেন। তারপর তিনি মিম্বরের দিকে ফিরে গিয়ে বললেন: "আমি তোমাদের অগ্রগামী এবং আমি তোমাদের ওপর সাক্ষী। আল্লাহর কসম! আমি অবশ্যই এই মুহূর্তে আমার হাউজ (কাউসার) দেখতে পাচ্ছি। আর আমাকে পৃথিবীর ধনভাণ্ডারের চাবিকাঠি বা পৃথিবীর চাবিকাঠি দান করা হয়েছে। আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের ব্যাপারে এই আশঙ্কা করি না যে তোমরা আমার পর শিরকে লিপ্ত হবে, কিন্তু আমি তোমাদের ব্যাপারে এই আশঙ্কা করি যে তোমরা দুনিয়া লাভের জন্য একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হবে।"
১২ - আব্দুল ওয়াহিদ বিন আহমদ আল-মালিহী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমদ বিন আব্দুল্লাহ আন-নুয়াইমী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইব্রাহিম বিন সাদ আমাদের কাছে ইবনে শিহাব থেকে বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১)
আল-আনোয়ার ফী শামাইলিন নাবিয়্যিল মুখতার
(পৃষ্ঠা: ১২)
عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ بُعِثْتُ بِجَوَامِعِ الْكَلِمِ وَنُصِرْتُ بِالرُّعْبِ وَبَيْنَا أَنَا نَائِمٌ رَأَيْتُنِي أُتِيتُ بِمَفَاتِيحِ خَزَائِنِ الأَرْضِ فَوُضِعَتْ فِي يَدِي قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ فَقَدْ ذَهَبَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وسلم وأنتم تلفثونها أَوْ تَرْغَثُونَهَا أَوْ كلمة تشبهها. صحيح
13 - حَدَّثَنَا أَبُو طَاهِرٍ الْفَارِسِيُّ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الصَّالْحَانِيُّ أَنْبَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرٍ الْمَعْرُوفُ بِأَبِي الشَّيْخِ أَنْبَا قَاسِمٌ الْمُطَرِّزُ أَنْبَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مَاهَانَ حَدَّثَنِي أَبِي أَنْبَا سُلَيْمَانُ بْنُ خَالِدٍ أَنْبَا الأَعْمَشُ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُوتِيتُ بِمَفَاتِيحِ خَزَائِنِ الأَرْضِ فَوُضِعَتْ فِي كَفِّي فَقِيلَ لِي هَذَا لك مع مالك عِنْدَ اللَّهِ لا يَنْقُصُكَ اللَّهُ مِنْهُ شَيْئًا فَذَهَبَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَ ذَهَبَ وَتَرَكَهُمْ فِي هَذِهِ الدُّنْيَا يَأْكُلُونَ مِنْ خَبِيصِهَا مِنْ أَصْفَرِهِ وَأَخْضَرِهِ وَأَحْمَرِهِ وَإِنَّمَا هُوَ شَيْءٌ وَاحِدٌ وَلَكِنْ غَيَّرْتُمْ أَلْوَانَهَا الْتِمَاسَ الشَّهَوَاتِ.
সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে বর্ণিত, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমাকে সংক্ষিপ্ত অথচ ব্যাপক অর্থবোধক কথা (জাওয়ামিউল কালিম) দিয়ে পাঠানো হয়েছে এবং ভীতি সঞ্চারের মাধ্যমে আমাকে সাহায্য করা হয়েছে। এমতাবস্থায় যে আমি ঘুমন্ত ছিলাম, আমি নিজেকে দেখলাম যে আমার কাছে পৃথিবীর ধনভাণ্ডারের চাবিকাঠিগুলো আনা হয়েছে এবং তা আমার হাতে রাখা হয়েছে।" আবু হুরায়রা বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তো চলে গেছেন, আর তোমরা সেগুলো ভোগ করছ অথবা এর নির্যাস গ্রহণ করছ কিংবা অনুরূপ কোনো শব্দ। (সহিহ)
১৩ - আবু তাহির আল-ফারিসি আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম আস-সালহানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে জাফর—যিনি আবুশ শায়খ নামে পরিচিত—আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, কাসিম আল-মুতাররিজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মাহান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, সুলাইমান ইবনে খালিদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আল-আমাশ আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমাকে পৃথিবীর ধনভাণ্ডারের চাবিকাঠিগুলো প্রদান করা হয়েছে এবং তা আমার হাতের তালুতে রাখা হয়েছে। অতঃপর আমাকে বলা হলো, এটি আপনার জন্য এবং এর সাথে আল্লাহর নিকট যা আপনার জন্য সংরক্ষিত আছে তা-ও আপনার জন্য। আল্লাহ আপনার তা থেকে কিছুই হ্রাস করবেন না।" অতঃপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন চলে যাওয়ার তখন চলে গেলেন এবং তাদেরকে এই দুনিয়ায় রেখে গেলেন। তারা দুনিয়ার উপাদেয় খাবার (খাবিস) গ্রহণ করছে—তার হলুদ, সবুজ ও লাল বর্ণ থেকে। প্রকৃতপক্ষে এটি মূলত একই বস্তু, কিন্তু তোমরা প্রবৃত্তির তাড়নায় এর রঙসমূহ পরিবর্তন করেছ।
(খণ্ড: ১)
আল-আনোয়ার ফী শামাইলিন নাবিয়্যিল মুখতার
(পৃষ্ঠা: ১৩)
14 - حَدَّثَنَا أَبُو طَاهِرٍ أَنْبَا مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ أَنْبَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرٍ أَنْبَا ابْنُ أَبِي عَاصِمٍ أَنْبَا مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ شَقِيقٍ أَنْبَا أَبِي عَنْ حُسَيْنِ بْنِ وَاقِدٍ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُوتِيتُ بِمَفَاتِيحِ خَزَائِنِ الدُّنْيَا عَلَى فَرَسٍ أَبْلَقَ جَاءَنِي بِهِ جِبْرِيلُ عليه السلام.
15 - وَحَدَّثَنَا أَبُو طَاهِرٍ أَنْبَا مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ أَنْبَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرٍ أَنْبَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَسَنِ أَنْبَا سَلَمَةُ بْنُ الْخَلِيلِ الْكَلاعِيُّ أَنْبَا بَقِيَّةُ عَنِ الزُّبَيْدِيِّ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ قَالَ كَانَ ابْنُ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُمَا يُحَدِّثُ أَنَّ اللَّهَ أَرْسَلَ إِلَى نَبِيِّهِ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَلَكًا مِنَ الْمَلائِكَةِ مَعَهُ جِبْرِيلُ فَقَالَ الْمَلَكُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ عز وجل يُخَيِّرُكَ بَيْنَ أَنْ تَكُونَ عَبْدًا نَبِيًّا وَبَيْنَ أَنْ تَكُونَ مَلِكًا نَبِيًّا فَالْتَفَتَ رَسُول اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى جِبْرِيلَ كَالْمُسْتَشِيرِ لَهُ فَأَشَارَ جِبْرِيلُ بِيَدِهِ أَنْ تَوَاضَعْ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لا بَلْ عَبْدًا نَبِيًّا فَمَا أَكَلَ بَعْدَ تِلْكَ الْكَلِمَةِ طَعَامًا مُتَّكِئًا حَتَّى لَحِقَ بِاللَّهِ عز وجل.
১৪ - আমাদের নিকট আবু তাহির বর্ণনা করেছেন, তিনি মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহিম থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে জাফর থেকে, তিনি ইবনে আবি আসিম থেকে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনে আলি ইবনে শাকিক থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি হুসাইন ইবনে ওয়াকিদ থেকে, তিনি আবুয যুবায়র থেকে, তিনি জাবির (রাযিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আমাকে একটি সাদা-কালো ঘোড়ার পিঠে পৃথিবীর ধনভাণ্ডারের চাবিকাঠিসমূহ প্রদান করা হয়েছে, যা জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) আমার নিকট নিয়ে এসেছিলেন।"
১৫ - এবং আমাদের নিকট আবু তাহির বর্ণনা করেছেন, তিনি মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহিম থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে জাফর থেকে, তিনি ইবরাহিম ইবনে মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান থেকে, তিনি সালামাহ ইবনে খলিল আল-কালাঈ থেকে, তিনি বাকিয়্যাহ থেকে, তিনি যুবায়দী থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনে আলি ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা) বর্ণনা করতেন যে, আল্লাহ তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট ফেরেশতাদের মধ্য থেকে একজন ফেরেশতা পাঠালেন যাঁর সাথে জিবরাঈলও ছিলেন। সেই ফেরেশতা বললেন, "হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা আপনাকে একজন বান্দা-নবী হওয়া এবং একজন বাদশাহ-নবী হওয়ার মধ্যে যে কোনো একটি বেছে নেওয়ার ইখতিয়ার দিচ্ছেন।" তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জিবরাঈলের দিকে পরামর্শপ্রার্থীর ন্যায় তাকালেন। তখন জিবরাঈল তাঁর হাত দিয়ে ইশারা করলেন যে, আপনি বিনয় অবলম্বন করুন। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, "না, বরং একজন বান্দা-নবী হবো।" সেই কথা বলার পর থেকে তিনি আর কখনোই হেলান দিয়ে খাদ্য গ্রহণ করেননি, যতক্ষণ না তিনি আল্লাহর (আযযা ওয়া জাল্লা) সাথে মিলিত হলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আনোয়ার ফী শামাইলিন নাবিয়্যিল মুখতার
(পৃষ্ঠা: ১৪)
16 - أَخْبَرَنَا أَبُو سَعِيدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ الطَّاهِرِيُّ أَنْبَا جَدِّي أَبُو سَهْلٍ عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْبَزَّازُ أَنْبَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ زَكَرِيَّا العذافري أنبا إسحق بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدَّبَرِيُّ أَنْبَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ أَنْبَا مَعْمَرٌ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ مُطَرِّفِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الشِّخِّيرِ عَنْ عِيَاضِ بْنِ حِمَارٍ الْمُجَاشِعِيِّ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ اللَّهَ عز وجل أَمَرَنِي أَنْ أُعَلِّمَكُمْ مِمَّا جَهِلْتُمْ مِمَّا عَلَّمَنِي يَوْمِي هَذَا وَإِنَّهُ قَالَ إِنَّ كُلَّ مَالٍ نَحَلْتُهُ عِبَادِي فَهُوَ لَهُمْ حَلالٌ وَإِنِّي خَلَقْتُ عِبَادِي حُنَفَاءَ كُلَّهُمْ فَأَتَتْهُمُ الشَّيَاطِينُ فَاجْتَالَتْهُمْ عَنْ دِينِهِمْ وَحَرَّمَتْ عَلَيْهِمْ مَا أَحْلَلْتُ لَهُمْ وَأَمَرَتْهُمْ أَنْ يُشْرِكُوا بِي مَا لَمْ أُنَزِّلْ بِهِ سُلْطَانًا وَأَنَّ اللَّهَ عز وجل نَظَرَ إِلَى أَهْلِ الأَرْضِ فَمَقَتَهُمْ عَرَبَهُمْ وَعَجَمَهُمْ إِلا بَقَايَا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ وَأَنَّ اللَّهَ أَمَرَنِي أَنْ أَحْرِقَ قُرَيْشًا فَقُلْتُ يَا رَبِّ إِنَّهُمْ إِذًا يَثْلَغُوا رَأْسِي حَتَّى يَدَعُوهُ خُبْزَةً فَقَالَ إِنَّمَا بَعَثْتُكَ لأَبْتَلِيَكَ وَأَبْتَلِيَ بِكَ وَقَدْ أَنْزَلْتُ عَلَيْكَ كِتَابًا لا يَغْسِلُهُ الْمَاءُ تَقْرَؤهُ فِي الْمَنَامِ وَالْيَقَظَةِ فَاغْزُهُمْ نُغْزِكَ وَأَنْفِقْ نُنْفِقْ عَلَيْكَ وَابْعَثْ جَيْشًا نُمِدَّكَ بِخَمْسَةِ أَمْثَالِهِمْ وَقَاتِلْ
১৬ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাঈদ আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ আত-ত্বাহিরি, তিনি বলেন আমাদের জানিয়েছেন আমার দাদা আবু সাহল আব্দুস সামাদ ইবনে আব্দুর রহমান আল-বাযযার, তিনি বলেন আমাদের জানিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে যাকারিয়া আল-আযাফিরি, তিনি বলেন আমাদের জানিয়েছেন ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম আদ-দাবারি, তিনি বলেন আমাদের জানিয়েছেন আব্দুর রাজ্জাক, তিনি বলেন আমাদের জানিয়েছেন মা'মার, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি মুতাররিফ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আশ-শিখখীর থেকে, তিনি ইয়াদ ইবনে হিমার আল-মুজাশেয়ি (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা আমাকে আদেশ করেছেন যেন আমি তোমাদের এমন কিছু শিক্ষা দেই যা তোমরা জানো না এবং যা তিনি আমাকে আজ শিক্ষা দিয়েছেন। আর তিনি (আল্লাহ) বলেছেন: "আমি আমার বান্দাদের যে সম্পদই দান করেছি, তা তাদের জন্য হালাল। আর আমি আমার সকল বান্দাকে একনিষ্ঠ হিসেবে সৃষ্টি করেছি। অতঃপর শয়তানরা তাদের নিকট এসে তাদের দ্বীন থেকে বিচ্যুত করে দিয়েছে এবং আমি যা তাদের জন্য হালাল করেছিলাম তা তাদের ওপর হারাম করে দিয়েছে। আর তাদের আদেশ দিয়েছে যেন তারা আমার সাথে এমন কিছুকে শরিক করে যার স্বপক্ষে আমি কোনো প্রমাণ অবতীর্ণ করিনি।" আর আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা পৃথিবীবাসীর প্রতি দৃষ্টিপাত করলেন এবং আহলে কিতাবদের অবশিষ্ট কিছু লোক ছাড়া আরব ও অনারব সকলের প্রতি অত্যন্ত অসন্তুষ্ট হলেন। আর আল্লাহ আমাকে আদেশ দিলেন যেন আমি কুরাইশদের জ্বালিয়ে দিই। তখন আমি বললাম: "হে আমার প্রতিপালক! তাহলে তো তারা আমার মাথা চূর্ণবিচূর্ণ করে দেবে এবং একে রুটির মতো বানিয়ে ফেলবে।" তখন তিনি বললেন: "আমি তোমাকে কেবল এজন্যই পাঠিয়েছি যেন তোমাকে পরীক্ষা করি এবং তোমার মাধ্যমে অন্যদের পরীক্ষা করি। আর আমি তোমার ওপর এমন এক কিতাব অবতীর্ণ করেছি যা পানি ধুয়ে ফেলতে পারে না, যা তুমি নিদ্রা ও জাগরণ—উভয় অবস্থায় পাঠ করো। সুতরাং তুমি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা করো, আমি তোমাকে সাহায্য করব। আর তুমি ব্যয় করো, আমি তোমার ওপর ব্যয় করব। আর তুমি একটি সৈন্যবাহিনী প্রেরণ করো, আমি তোমাকে তার পাঁচগুণ সৈন্য দিয়ে সাহায্য করব। আর তুমি যুদ্ধ করো..."
(খণ্ড: ১)
আল-আনোয়ার ফী শামাইলিন নাবিয়্যিল মুখতার
(পৃষ্ঠা: ১৫)
بِمَنْ أَطَاعَكَ مَنْ عَصَاكَ ثُمَّ قَالَ أَهْلُ الْجَنَّةِ ثَلاثَةٌ إِمَامٌ مُقْسِطٌ وَرَجُلٌ رَحِيمٌ رَقِيقُ الْقَلْبِ بِكُلِّ ذِي قُرْبَي وَمُسْلِمٍ وَرَجُلٌ غَنِيٌّ عَفِيفٌ مُتَصَدِّقٌ وَأَهْلُ النَّارِ خَمْسَةٌ الضَّعِيفُ الَّذِي لا زَبْرَ لَهُ الَّذِينَ هُمْ فِيكُمْ تَبَعٌ لا يَبْتَغُونَ بِذَلِكَ أَهْلا وَلا مَالا وَرَجُلٌ إِنْ أَصْبَحَ أَصْبَحَ يُخَادِعُكَ عَنْ أَهْلِكَ وَمَالِكَ وَرَجُلٌ لا يَخْفَى لَهُ طَمَعٌ وَإِنْ دَقَّ إِلا ذَهَبَ بِهِ والشِّنْظِيرُ الْفَاحِشُ وَذَكَرَ البخل والكذب. صحيح
3- بَابُ بَدْءِ وَحْيِهِ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَصِفَتِهِ فِي تِلْكَ الْحَالَةِ 17 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ أَحْمَدَ الْمَلِيحِيُّ أَنْبَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ النُّعَيْمِيُّ أَنْبَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ أَنْبَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ أَنْبَا يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ أَنْبَا اللَّيْثُ عَنْ عَقِيلٍ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهَا أَنَّهَا قَالَتْ أول ما بدي بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنَ الْوَحْيِ الرُّؤْيَا الصَّالِحَةُ فِي النَّوْمِ وَكَانَ لا يَرَى رُؤْيَا إِلا جَاءَتْ مِثْلَ فَلَقِ الصُّبْحِ ثُمَّ حُبِّبَ إِلَيْهِ الْخَلاءُ فَكَانَ يَخْلُو بِغَارِ حِرَاءٍ فَيَتَحَنَّثُ فِيهِ وَهُوَ التَّعَبُّدُ اللَّيَالِيَ ذَوَاتِ الْعَدَدِ قَبْلَ أَنْ يَنْزِعَ إِلَى أَهْلِهِ وَيَتَزَوَّدُ لِذَلِكَ ثُمَّ يَرْجِعُ إِلَى
...যে তোমার আনুগত্য করে তার মাধ্যমে তাকে যে তোমার অবাধ্য হয়। অতঃপর তিনি বললেন: জান্নাতবাসী হলো তিন প্রকার—ন্যায়পরায়ণ শাসক; দয়ালু ব্যক্তি যার অন্তর প্রতিটি নিকটাত্মীয় এবং মুসলিমের প্রতি কোমল; এবং সেই ধনী ব্যক্তি যে পবিত্র (হারাম থেকে বেঁচে থাকে) ও দানশীল। আর জাহান্নামী হলো পাঁচ প্রকার—সেই দুর্বল ব্যক্তি যার কোনো বুদ্ধি-বিবেচনা নেই, যারা তোমাদের অনুসারী হয়ে থাকে কিন্তু এর দ্বারা তারা পরিবার বা সম্পদের আকাঙ্ক্ষা করে না; এবং সেই ব্যক্তি যে সকাল হলে তোমার পরিবার ও সম্পদের ব্যাপারে তোমার সাথে প্রতারণা করার ফন্দি আঁটে; এবং সেই ব্যক্তি যার লোভ কোনো কিছুতেই গোপন থাকে না, তা সামান্য হলেও সে তা হস্তগত করে; এবং চরিত্রহীন গালমন্দকারী ব্যক্তি। আর তিনি কৃপণতা ও মিথ্যার কথা উল্লেখ করলেন। (সহিহ)
৩- অনুচ্ছেদ: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওহি শুরুর সূচনা এবং সেই অবস্থায় তাঁর অবস্থার বিবরণ ১৭ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল ওয়াহিদ বিন আহমদ আল-মালিহি, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ বিন আব্দুল্লাহ আন-নুয়াইমি, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন ইউসুফ, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন ইসমাইল, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াহইয়া বিন বুকাইর, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-লাইস, তিনি উকাইল থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি উরওয়াহ বিন আয-যুবাইর থেকে, তিনি মুমিনদের জননী আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে ওহির সূচনা হয়েছিল ঘুমের মধ্যে সত্য স্বপ্নের মাধ্যমে। তিনি এমন কোনো স্বপ্ন দেখতেন না যা ভোরের আলোর মতো স্পষ্ট হয়ে প্রকাশিত হতো না। এরপর তাঁর কাছে নির্জনতা প্রিয় হয়ে উঠল। তিনি হেরা গুহায় নির্জনে অবস্থান করতেন এবং সেখানে 'তাহান্নুস' অর্থাৎ ইবাদত করতেন টানা কয়েক রাত, নিজের পরিবারের কাছে ফিরে আসার আগে। আর এর জন্য তিনি পাথেয় সাথে নিয়ে যেতেন। অতঃপর তিনি পুনরায় ফিরে আসতেন...
(খণ্ড: ১)
আল-আনোয়ার ফী শামাইলিন নাবিয়্যিল মুখতার
(পৃষ্ঠা: ১৬)
خَدِيجَةَ فَيَتَزَوَّدُ لِمِثْلِهَا حَتَّى جَاءَهُ الْحَقُّ وَهُوَ فِي غَارِ حِرَاءَ فَجَاءَهُ الْمَلَكُ فَقَالَ اقْرَأْ قُلْتُ مَا أَنَا بِقَارِئٍ فَأَخَذَنِي فَغَطَّنِي حَتَّى بَلَغَ مِنِّيَ الْجَهْدَ ثُمَّ أَرْسَلَنِي فَقَالَ اقْرَأْ فَقُلْتُ مَا أَنَا بِقَارِئٍ فَأَخَذَنِي فَغَطَّنِي الثَّانِيَةَ حَتَّى بَلَغَ مِنِّيَ الْجَهْدَ فَقَالَ اقْرَأْ فَقُلْتُ مَا أَنَا بِقَارِئٍ فَأَخَذَنِي فَغَطَّنِي الثَّالِثَةَ ثُمَّ أَرْسَلَنِي فَقَالَ اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ خَلَقَ الإِنْسَانَ مِنْ عَلَقٍ اقْرَأْ وَرَبُّكَ الأَكْرَمُ فَرَجَعَ بِهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَرْجُفُ فُؤادُهُ فَدَخَلَ عَلَى خَدِيجَةَ بِنْتِ خُوَيْلِدٍ فَقَالَ زَمِّلُونِي زَمِّلُونِي فَزَمَّلُوهُ حَتَّى ذَهَبَ عَنْهُ الرَّوْعُ فَقَالَ لِخَدِيجَةَ وَأَخْبَرَهَا الْخَبَرَ لَقَدْ خَشِيتُ عَلَى نَفْسِي فَقَالَتْ خَدِيجَةُ كَلا وَاللَّهِ مَا يُخْزِيكَ اللَّهُ أَبَدًا إِنَّكَ لَتَصِلُ الرَّحِمَ وَتَحْمِلُ الْكَلَّ وَتُكْسِبُ الْمَعْدُومَ وَتَقْرِي الضَّيْفَ وَتُعِينُ عَلَى نَوَائِبِ الْحَقِّ فَانْطَلَقَتْ بِهِ خَدِيجَةُ حَتَّى أَتَتْ وَرَقَةَ بْنَ نَوْفَلِ بْنِ أَسَدِ بْنِ عَبْدِ الْعُزَّى ابْنَ عَمِّ خَدِيجَةَ وَكَانَ امْرَءًا تَنَصَّرَ فِي الْجَاهِلِيَّةِ وَكَانَ يَكْتُبُ الْكِتَابَ الْعَرَبِيَّ فَيَكْتُبُ مِنَ الإِنْجِيلِ بِالْعَرَبِيَّةِ
খাদীজার নিকট ফিরে আসতেন এবং অনুরূপ সময়ের জন্য পাথেয় গ্রহণ করতেন। এভাবে হেরা গুহায় থাকা অবস্থায় তাঁর নিকট মহাসত্যের আগমন ঘটল। তাঁর নিকট ফেরেশতা আসলেন এবং বললেন, "পাঠ করুন।" আমি বললাম, "আমি তো পাঠ করতে জানি না।" তখন তিনি আমাকে ধরে এমনভাবে চাপ দিলেন যে, আমার অতিশয় কষ্ট হলো। এরপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন, "পাঠ করুন।" আমি বললাম, "আমি তো পাঠ করতে জানি না।" তিনি দ্বিতীয়বার আমাকে ধরে এমনভাবে চাপ দিলেন যে, আমার অতিশয় কষ্ট হলো। এরপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন, "পাঠ করুন।" আমি বললাম, "আমি তো পাঠ করতে জানি না।" তিনি তৃতীয়বার আমাকে ধরে চাপ দিলেন, অতঃপর ছেড়ে দিয়ে বললেন, "পাঠ করুন আপনার রবের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন, সৃষ্টি করেছেন মানুষকে রক্তপিণ্ড থেকে। পাঠ করুন এবং আপনার রব মহিমান্বিত।" অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হৃদকম্পিত অবস্থায় তা নিয়ে ফিরে আসলেন। তিনি খাদীজা বিনতে খুওয়াইলিদের নিকট প্রবেশ করে বললেন, "আমাকে বস্ত্রাবৃত করো, আমাকে বস্ত্রাবৃত করো।" তারা তাঁকে বস্ত্রাবৃত করলেন যতক্ষণ না তাঁর ভয় দূর হলো। তিনি খাদীজাকে পুরো ঘটনা অবগত করে বললেন, "আমি আমার প্রাণের ব্যাপারে আশঙ্কা বোধ করছি।" খাদীজা বললেন, "কখনো নয়, আল্লাহর শপথ! আল্লাহ আপনাকে কখনোই লাঞ্ছিত করবেন না। কেননা আপনি আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখেন, অক্ষমদের ভার বহন করেন, নিঃস্বদের উপার্জনের ব্যবস্থা করে দেন, মেহমানের সেবা করেন এবং হকের পথে বিপদগ্রস্তদের সহায়তা করেন।" অতঃপর খাদীজা তাঁকে নিয়ে তাঁর চাচাতো ভাই ওয়ারাকাহ ইবনে নওফল ইবনে আসাদ ইবনে আব্দুল উযযার নিকট গেলেন, যিনি জাহেলিয়াত যুগে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। তিনি আরবি লিখতে জানতেন এবং আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী আরবি ভাষায় ইঞ্জিল লিপিবদ্ধ করতেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আনোয়ার ফী শামাইলিন নাবিয়্যিল মুখতার
(পৃষ্ঠা: ১৭)
مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَكْتُبَ وَكَانَ شَيْخًا كَبِيرًا قد عمي فقالت له خديجة يا ابن عَمِّ اسْمَعْ مِنَ ابْنِ أَخِيكَ فَقَالَ له ورقة يا ابن أَخِي مَاذَا تَرَى فَأَخْبَرَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَبَرَ مَا رَأَى فَقَالَ لَهُ وَرَقَةُ هَذَا النَّامُوسُ الَّذِي نَزَّلَ اللَّهُ عَلَى مُوسَى يَا لَيْتَنِي فِيهَا جَذَعًا لَيْتَنِي أَكُونُ حَيًّا إِذْ يُخْرِجُكَ قَوْمُكَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عليه وسلم أومخرجي هُمْ قَالَ نَعَمْ لَمْ يَأْتِ رَجُلٌ قَطُّ بِمِثْلِ مَا جِئْتَ بِهِ إِلا عُودِيَ وَإِنْ
يُدْرِكْنِي يَوْمُكَ أَنْصُرْكَ نَصْرًا مُؤَزَّرًا ثُمَّ لَمْ يَنْشَبْ وَرَقَةُ أَنْ تُوُفِّيَ وَفَتَرَ الْوَحْيُ.
18 - قَالَ وأَخْبَرَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ الْمَلِيحِيُّ أَنْبَا أَحْمَدُ النُّعَيْمِيُّ أَنْبَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ أَنْبَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ قَالَ وحَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ أَنْبَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ أَنْبَا مَعْمَرٌ قَالَ الزُّهْرِيُّ فَذَكَرَ الْحَدِيثَ بِهَذَا الإِسْنَادِ وَزَادَ ثُمَّ لَمْ يَنْشَبْ وَرَقَةُ أَنْ تُوُفِّيَ وَفَتَرَ الْوَحْيُ فَتْرَةً حَتَّى حَزِنَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِيمَا بَلَغَنَا حُزْنًا غَدَا مِنْهُ مِرَارًا كَيْ يَتَرَدَّى مِنْ
আল্লাহ যতটুকু লিখতে চেয়েছিলেন তিনি তা লিখতেন। তিনি ছিলেন একজন অতি বৃদ্ধ ব্যক্তি এবং তিনি দৃষ্টিহীন হয়ে পড়েছিলেন। তখন খাদিজা তাঁকে বললেন, ‘হে আমার চাচাতো ভাই! আপনার ভাতিজার কথা শুনুন।’ ওরাকা তাঁকে বললেন, ‘হে আমার ভাতিজা! তুমি কী দেখছ?’ তখন আল্লাহর রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) যা দেখেছিলেন তা তাঁকে জানালেন। তখন ওরাকা তাঁকে বললেন, ‘ইনি সেই নামুস (গোপন বার্তার বাহক), যাঁকে আল্লাহ মূসার ওপর অবতীর্ণ করেছিলেন। হায়! আমি যদি সেই সময় যুবক থাকতাম! হায়! আমি যদি সেই সময় জীবিত থাকতাম যখন তোমার কওম তোমাকে বের করে দিবে!’ তখন আল্লাহর রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) বললেন, ‘তারা কি আমাকে বের করে দিবে?’ তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ। তুমি যা নিয়ে এসেছ, তার মতো কিছু নিয়ে ইতিপূর্বে যে ব্যক্তিই এসেছে, তার সাথেই শত্রুতা করা হয়েছে। আর
যদি তোমার সেই দিন আমাকে পায়, তবে আমি তোমাকে জোরালোভাবে সাহায্য করব।’ এরপর বেশিদিন পার হয়নি যে ওরাকা ইন্তেকাল করলেন এবং ওহী স্থগিত হয়ে গেল।
১৮ - তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মালিহী, তিনি আহমদ আন-নুআইমী থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল থেকে। তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি আব্দুর রাজ্জাক থেকে, তিনি মা’মার থেকে বর্ণনা করেন। যুহরী বলেন, অতঃপর তিনি এই সনদে হাদিসটি উল্লেখ করেছেন এবং তাতে বর্ধিত করেছেন যে, এরপর বেশিদিন পার হয়নি যে ওরাকা ইন্তেকাল করলেন এবং ওহী কিছু সময়ের জন্য স্থগিত হয়ে গেল, এমনকি আমাদের কাছে যা পৌঁছেছে সে অনুযায়ী নবী (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) এতই ব্যথিত হলেন যে, এই শোকের কারণে তিনি বারবার সকালে বের হতেন যাতে তিনি পাহাড়ের চূড়া থেকে
(খণ্ড: ১)
আল-আনোয়ার ফী শামাইলিন নাবিয়্যিল মুখতার
(পৃষ্ঠা: ১৮)
رُءُوسِ شَوَاهِقِ الْجِبَالِ فَكُلِّمَا أَوْفَى بِذِرْوَةِ جَبَلٍ لِكَيْ يُلْقِيَ نَفْسَهُ مِنْهُ تَبَدَّى لَهُ جِبْرِيلُ فَقَالَ يَا مُحَمَّدُ إِنَّكَ رَسُولُ اللَّهِ حَقًّا فَيَسْكُنُ لِذَلِكَ جَأْشُهُ وَتَقَرُّ نَفْسُهُ فَيَرْجِعُ فَإِذَا طَالَتْ عَلَيْهِ فَتْرَةُ الْوَحْيِ غَدَا بِمِثْلِ ذَلِكَ فَإِذَا أَوْفَى بِذِرْوَةِ جَبَلٍ تَبَدَّى لَهُ جِبْرِيلُ مِثْلَ ذَلِكَ.
19 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ الْمَلِيحِيُّ أَنْبَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ النُّعَيْمِيُّ أَنْبَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ أَنْبَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ نبا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ نبا اللَّيْثُ عَنْ عَقِيلٍ قَالَ ابْنُ شِهَابٍ سَمِعْتُ أَبَا سَلَمَةَ قَالَ أَخْبَرَنِي جَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُحَدِّثُ عَنْ فَتْرَةِ الْوَحْيِ فَبَيْنَا أَنَا أَمْشِي سَمِعْتُ صَوْتًا مِنَ السَّمَاءِ فَرَفَعْتُ بَصَرِي قِبَلَ السَّمَاءِ فَإِذَا الْمَلَكُ الَّذِي جَاءَنِي بِحِرَاءٍ قَاعِدٌ عَلَى كُرْسِيٍّ بَيْنَ السَّمَاءِ وَالأَرْضِ فَجُئِثْتُ مِنْهُ حَتَّى هَوَيْتُ إِلَى الأَرْضِ فَجِئْتُ أَهْلِي فَقُلْتُ زَمِّلُونِي فَزَمَّلُونِي فأنزل الله يا أيها الْمُدَّثِّرُ قُمْ فَأَنْذِرْ إِلَى قَوْلِهِ فَاهْجُرْ ثُمَّ حَمِيَ الوحي وتتابع. صحيح
20 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الشِّيرَزِيُّ أَنْبَا زَاهِرُ بْنُ أَحْمَدَ السَّرَخْسِيُّ أنبا أبو إسحق إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ الصَّمَدِ الْهَاشِمِيُّ أَنْبَا أَبُو مُصْعَبٍ عَنْ مَالِكٍ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ
সুউচ্চ পাহাড়ের চূড়াগুলোতে। যখনই তিনি পাহাড়ের কোনো চূড়ায় উঠতেন সেখান থেকে নিজেকে নিক্ষেপ করার জন্য, তখনই জিবরাঈল তার কাছে প্রকাশ পেতেন এবং বলতেন, "হে মুহাম্মদ, নিশ্চয়ই আপনি আল্লাহর সত্য রাসূল।" এর ফলে তার অন্তর শান্ত হতো এবং তার মন স্থির হতো, অতঃপর তিনি ফিরে আসতেন। যখন তার ওপর ওহি বন্ধ থাকার সময়কাল দীর্ঘ হতো, তখন তিনি পুনরায় অনুরূপ কাজ করতেন। যখন তিনি কোনো পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছাতেন, তখন জিবরাঈল তার সামনে অনুরূপভাবে প্রকাশ পেতেন।
১৯ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মালিহী, তিনি সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ বিন আব্দুল্লাহ আন-নুয়াইমী থেকে, তিনি সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন ইউসুফ থেকে, তিনি সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন ইসমাইল থেকে, তিনি সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ বিন ইউসুফ থেকে, তিনি সংবাদ দিয়েছেন আল-লাইস থেকে, তিনি উকাইল থেকে, ইবনে শিহাব বলেছেন, আমি আবু সালামাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, জাবির বিন আব্দুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু) আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ওহি স্থগিত থাকার সময়কাল সম্পর্কে আলোচনা করতে শুনেছেন: "এমতাবস্থায় যে আমি হাঁটছিলাম, হঠাৎ আকাশ থেকে একটি শব্দ শুনতে পেলাম। আমি আকাশের দিকে আমার দৃষ্টি তুললাম, দেখলাম সেই ফেরেশতা যিনি হেরা গুহায় আমার কাছে এসেছিলেন, আকাশ ও জমিনের মাঝে একটি কুরসির ওপর বসে আছেন। তাকে দেখে আমি আতঙ্কিত হয়ে পড়লাম, এমনকি আমি জমিনে লুটিয়ে পড়লাম। অতঃপর আমি আমার পরিবারের কাছে এসে বললাম, 'আমাকে বস্ত্রাবৃত করো, আমাকে বস্ত্রাবৃত করো।' তখন তারা আমাকে বস্ত্রাবৃত করল। এরপর আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন: 'হে বস্ত্রাবৃত! উঠুন এবং সতর্ক করুন' থেকে তাঁর বাণী 'এবং অপবিত্রতা বর্জন করুন' পর্যন্ত। এরপর ওহি প্রবল বেগে এবং নিয়মিতভাবে অবতীর্ণ হতে লাগল।" সহীহ।
২০ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হাসান মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আশ-শিরাজী, তিনি সংবাদ দিয়েছেন জাহির বিন আহমাদ আস-সারাকসী থেকে, তিনি সংবাদ দিয়েছেন আবু ইসহাক ইব্রাহিম বিন আব্দুল সামাদ আল-হাশিমী থেকে, তিনি সংবাদ দিয়েছেন আবু মুসআব থেকে, তিনি মালিক থেকে, তিনি হিশাম বিন উরওয়াহ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে...
(খণ্ড: ১)
আল-আনোয়ার ফী শামাইলিন নাবিয়্যিল মুখতার
(পৃষ্ঠা: ১৯)
عَنْ عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهَا أَنَّ الْحَارِثَ بْنَ هِشَامٍ سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ يَأْتِيكَ الْوَحْيُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَحْيَانًا يَأْتِينِي فِي مِثْلِ صَلْصَلَةِ الْجَرَسِ وَهُوَ أَشَدُّهُ عَلَيَّ فَيَنْفَصِمُ عَنِي وَقَدْ وَعَيْتُ مَا قَالَ وَأَحْيَانًا يَتَمَثَّلُ لِيَ الْمَلَكُ رَجُلا فَيُكَلِّمُنِي فَأَعِي مَا يَقُولُ قَالَتْ عَائِشَةُ وَلَقَدْ رَأَيْتُهُ يَنْزِلُ عَلَيْهِ فِي الْيَوْمِ الشَّاتِي الشَّدِيدِ الْبَرْدِ فَيَفْصِمُ عَنْهُ وَإِنَّ جَبِينَهُ ليتفصد عرقا. صحيح
21 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ الْمَلِيحِيُّ أَنْبَا النُّعَيْمِيُّ أَنْبَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ الْفَرَبْرِيُّ نبا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ نبا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ نبا أَبُو عَوَانَةَ عَنْ مُوسَى بْنِ أَبِي عَائِشَةَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُمَا قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وسلم يعالج عن التَّنْزِيلِ شِدَّةً كَانَ يُحَرِّكُ شَفَتَيْهِ فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى لا تُحَرِّكْ بِهِ لِسَانَكَ لِتَعْجَلَ بِهِ إِنَّ
নবী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী আয়িশা রাদিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহা থেকে বর্ণিত যে, হারিস ইবনে হিশাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করলেন: “হে আল্লাহর রাসূল! আপনার নিকট ওয়াহি কীভাবে আসে?” রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “কখনো তা আমার নিকট ঘণ্টার ধ্বনির মতো আসে, আর তা-ই আমার জন্য সবচেয়ে কঠিন হয়। এরপর যখন তা থেকে আমার বিরতি ঘটে, তখন তিনি যা বলেছেন তা আমি আয়ত্ত করে ফেলি। আবার কখনো ফিরিশতা মানুষের রূপ ধারণ করে আমার নিকট আসেন এবং আমার সাথে কথা বলেন, তখন তিনি যা বলেন আমি তা মুখস্থ করে নিই।” আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন: “আমি প্রচণ্ড শীতের দিনেও তাঁর ওপর ওয়াহি অবতীর্ণ হতে দেখেছি; যখন তা শেষ হতো, তখন তাঁর কপাল থেকে ঘাম ঝরছিল।” সহীহ।
২১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মালিহি, তিনি নুআইমি থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আল-ফারাবরি থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল থেকে, তিনি কুতাইবা ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি আবু আওয়ানাহ থেকে, তিনি মুসা ইবনে আবি আয়িশা থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবাইর থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুমা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়াহি নাযিলের সময় প্রচণ্ড কষ্ট অনুভব করতেন এবং তাঁর ঠোঁট নাড়তেন। তখন আল্লাহ তা‘আলা নাযিল করলেন: “তাড়াহুড়ো করার জন্য ওয়াহি পাঠকালে আপনি আপনার জিহ্বা নাড়বেন না। নিশ্চয়ই...”
(খণ্ড: ১)
আল-আনোয়ার ফী শামাইলিন নাবিয়্যিল মুখতার
(পৃষ্ঠা: ২০)
عَلَيْنَا جَمْعَهُ وَقُرْءَانَهُ قَالَ جَمْعَهُ فِي صَدْرِكَ ثُمَّ تَقْرَؤُهُ فَإِذَا قرأناه فاتبع قرآنه قَالَ فَاسْتَمِعْ لَهُ وَأَنْصِتْ ثُمَّ إِنَّ عَلَيْنَا أَنْ تَقْرَأَهُ قَالَ فَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إذا أتاه جبرئيل اسْتَمَعَ فإذا انطلق جبرئيل قَرَأَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كما أقرأه. صحيح
22 - أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَبْدِ الْقَاهِرِ أَنْبَا عَبْدُ الْغَافِرِ بْنُ مُحَمَّدٍ أَنْبَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى الْجُلُودِيُّ نبا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سُفْيَانَ نَبَا مُسْلِمُ بْنُ الْحَجَّاجِ نَبَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ نَبَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ حَدَّثَنِي أَبِي عَنْ قَتَادَةَ عَنِ الْحَسَنِ عَنْ حِطَّانَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الرَّقَاشِيِّ عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا أُنْزِلَ عَلَيْهِ الْوَحْيُ نَكَّسَ عَلَيْهِ رَأْسَهُ ونكس أصحابه رؤسهم فلما أثلي عَنْهُ رفع رأسه. صحيح
23 - أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَبْدِ الْقَاهِرِ أَنْبَا عَبْدُ الْغَافِرِ بْنُ مُحَمَّدٍ أَنْبَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى نبا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سُفْيَانَ نَبَا مُسْلِمُ بْنُ الْحَجَّاجِ أَنْبَا محمد بن موسى أَنْبَا عَبْدُ الأَعْلَى نَبَا سَعِيدٌ عَنْ قَتَادَةَ عَنِ الْحَسَنِ عَنْ حِطَّانَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا أُنْزِلَ عَلَيْهِ كُرِبَ لِذَلِكَ
এর সংরক্ষণ এবং পাঠ করানো আমাদেরই দায়িত্ব। তিনি (আল্লাহ) বললেন, এর সংরক্ষণ আপনার অন্তরে এবং এরপর আপনি তা পাঠ করবেন। সুতরাং যখন আমি তা পাঠ করি, তখন আপনি সেই পাঠের অনুসরণ করুন। তিনি বললেন, তখন আপনি মনোযোগ দিয়ে তা শুনুন এবং চুপ থাকুন। এরপর তা পাঠ করানো আমাদেরই দায়িত্ব। তিনি বলেন, এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট যখন জিবরাঈল আসতেন, তখন তিনি মনোযোগ দিয়ে শুনতেন। যখন জিবরাঈল চলে যেতেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেভাবেই পাঠ করতেন যেভাবে তিনি (জিবরাঈল) তাঁকে পাঠ করিয়েছিলেন। সহীহ
22 - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসমাইল ইবনে আব্দুল কাহির, তিনি সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল গাফির ইবনে মুহাম্মদ থেকে, তিনি সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে ঈসা আল-জুলুদি থেকে, তিনি সংবাদ দিয়েছেন ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সুফিয়ান থেকে, তিনি সংবাদ দিয়েছেন মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ থেকে, তিনি সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে বাশশার থেকে, তিনি সংবাদ দিয়েছেন মুআজ ইবনে হিশাম থেকে, তিনি বলেন, আমার পিতা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন কাতাদাহ থেকে, তিনি হাসান থেকে, তিনি হিত্তান ইবনে আব্দুল্লাহ আর-রাকাশি থেকে, তিনি উবাদাহ ইবনে সামিত রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর যখন ওহী অবতীর্ণ হতো, তখন তিনি মাথা নিচু করতেন এবং তাঁর সাহাবীগণও তাঁদের মাথা নিচু করতেন। যখন ওহীর অবস্থা তাঁর থেকে দূর হতো, তখন তিনি তাঁর মাথা উঠাতেন। সহীহ
23 - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসমাইল ইবনে আব্দুল কাহির, তিনি সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল গাফির ইবনে মুহাম্মদ থেকে, তিনি সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে ঈসা থেকে, তিনি সংবাদ দিয়েছেন ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সুফিয়ান থেকে, তিনি সংবাদ দিয়েছেন মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ থেকে, তিনি সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে মুসা থেকে, তিনি সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল আ'লা থেকে, তিনি সংবাদ দিয়েছেন সাঈদ থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি হাসান থেকে, তিনি হিত্তান ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি উবাদাহ ইবনে সামিত রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর যখন ওহী অবতীর্ণ হতো, তখন তিনি তদ্বারা ক্লিষ্ট বা ব্যথিত হতেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আনোয়ার ফী শামাইলিন নাবিয়্যিল মুখতার
(পৃষ্ঠা: ২১)
وَتَرَبَّدَ وَجْهُهُ قَالَ فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَلَيْهِ ذَاتَ يَوْمٍ فَلُقِيَ كَذَلِكَ فَلَمَّا سُرِّيَ عَنْهُ قَالَ خُذُوا عَنِّي قَدْ جَعَلَ اللَّهُ لَهُنَّ سَبِيلا الثَّيِّبُ بِالثَّيِّبِ وَالْبِكْرُ بِالْبِكْرِ الثَّيِّبُ جَلْدُ مِائَةٍ ثُمَّ رَجْمًا بِالْحِجَارِ وَالْبِكْرُ جَلْدُ مِائَةٍ ثُمَّ نفي سنة. صحيح
24 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ الْمَلِيحِيُّ أَنْبَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ النُّعَيْمِيُّ أَنْبَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ نَبَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ حَدَّثَنِي يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ نَبَا إِسْمَاعِيلُ نَبَا ابْنُ جُرَيْجٍ أَخْبَرَنِي عَطَاءٌ أَنَّ صَفْوَانَ بْنَ يَعْلَى بْنِ أُمَيَّةَ أَخْبَرَهُ أَنَّ يَعْلَى بْنَ أُمَيَّةَ كَانَ يَقُولُ لَيْتَنِي أَرَى رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَ يُنْزَلُ عَلَيْهِ قَالَ فَبَيْنَا النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالْجِعْرَانَةِ وَعَلَيْهِ ثَوْبٌ قَدْ أُظِلَّ بِهِ مَعَهُ فِيهِ نَاسٌ مِنْ أَصْحَابِهِ إِذْ جَاءَهُ أَعْرَابِيٌّ عَلَيْهِ جُبَّةٌ متضمخ بطيب فقال يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ تَرَى فِي رَجُلٍ أَحْرَمَ بِعُمْرَةٍ في جبة بعدما تَضَمَّخَ بِطِيبٍ فَأَشَارَ عُمَرُ إِلَى يَعْلَى بِيَدِهِ أَنْ تَعَالَ فَجَاءَ يَعْلَى فَأَدْخَلَ رَأْسَهُ فَإِذَا النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُحْمَرُّ الْوَجْهِ يَغِطُّ كَذَلِكَ سَاعَةً ثُمَّ سُرِّيَ عَنْهُ فَقَالَ أَيْنَ الَّذِي سَأَلَنِي عَنِ الْعُمْرَةِ
এবং তাঁর চেহারার রং বিবর্ণ হয়ে গেল। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর একদিন আল্লাহ তাঁর ওপর ওহী নাযিল করলেন এবং তিনি পূর্বের ন্যায় অবস্থার সম্মুখীন হলেন। যখন তাঁর থেকে সেই অবস্থা অপসারিত হলো, তিনি বললেন, "তোমরা আমার নিকট থেকে (বিধান) গ্রহণ করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের জন্য পথ নির্ধারণ করে দিয়েছেন। বিবাহিত পুরুষ ও বিবাহিতা মহিলার ক্ষেত্রে শাস্তি হলো একশ বেত্রাঘাত এবং পাথর নিক্ষেপে মৃত্যু (রজম)। আর অবিবাহিত পুরুষ ও অবিবাহিতা নারীর ক্ষেত্রে একশ বেত্রাঘাত এবং এক বছরের নির্বাসন।" (সহীহ)
২৪ - আব্দুল ওয়াহিদ আল-মালিহী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমাদ বিন আব্দুল্লাহ আন-নুয়াইমী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ বিন ইসমাঈল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইয়াকূব বিন ইব্রাহীম আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, ইসমাঈল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইবনে জুরাইজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আতা আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, সাফওয়ান বিন ইয়া’লা বিন উমাইয়া তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, ইয়া’লা বিন উমাইয়া বলতেন: হায়! আমি যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর ওপর ওহী নাযিল হওয়ার অবস্থায় দেখতে পেতাম। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জি'রানা নামক স্থানে অবস্থান করছিলেন এবং তাঁর ওপর একটি কাপড় দিয়ে ছায়া করা হয়েছিল, তাঁর সাথে তাঁর কয়েকজন সাহাবীও ছিলেন। এমন সময় এক বেদুইন ব্যক্তি তাঁর নিকট আসলো, যার পরনে ছিল একটি জুব্বা এবং সে সুগন্ধিতে লিপ্ত ছিল। সে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি সেই ব্যক্তি সম্পর্কে কী বলেন যে সুগন্ধি মাখার পর জুব্বা পরিহিত অবস্থায় উমরার ইহরাম বেঁধেছে? তখন উমর ইয়া’লাকে তাঁর হাত দিয়ে ইশারা করলেন কাছে আসার জন্য। ইয়া’লা আসলেন এবং (কাপড়ের নিচে) নিজের মাথা প্রবেশ করালেন। হঠাৎ তিনি দেখলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেহারা মোবারক লাল হয়ে আছে এবং তিনি কিছুক্ষণ নাক ডাকার ন্যায় শব্দ করছেন। এরপর তাঁর সেই অবস্থা দূর হলো। তখন তিনি বললেন: উমরা সম্পর্কে প্রশ্নকারী সেই ব্যক্তি কোথায়?
(খণ্ড: ১)
আল-আনোয়ার ফী শামাইলিন নাবিয়্যিল মুখতার
(পৃষ্ঠা: ২২)
آنِفًا فَالْتُمِسَ الرَّجُلُ فَأُتِيَ بِهِ فَقَالَ أَمَّا الطِّيبُ الَّذِي بِكَ فَاغْسِلْهُ ثَلاثَ مَرَّاتٍ وَأَمَّا الْجُبَّةُ فَانْزِعْهَا ثُمَّ اصْنَعْ فِي عُمْرَتِكَ كَمَا يُصْنَعُ في حجك. صحيح
25 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ الْمَلِيحِيُّ أَنْبَا أَحْمَدُ النُّعَيْمِيُّ أَنْبَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ أَنْبَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ أَنْبَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ أَنْبَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ الزُّهْرِيُّ حَدَّثَنِي صَالِحُ بْنُ كَيْسَانَ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ السَّاعِدِيِّ أَنَّهُ قَالَ رَأَيْتُ مَرْوَانَ بْنَ الْحَكَمِ جَالِسًا فِي الْمَسْجِدِ فَأَخْبَرَنَا أَنَّ زَيْدَ بْنَ ثَابِتٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ أَخْبَرَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمْلَى عَلَيْهِ لا يَسْتَوِي الْقَاعِدُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ قَالَ فجاءه ابن أمم مَكْتُومٍ وَهُوَ يُمِلُّهَا عَلَيَّ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ لَوْ أَسْتَطِيعُ الْجِهَادَ لَجَاهَدْتُ وَكَانَ رَجُلا أَعْمَى فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ وَفَخِذُهُ عَلَى فَخِذِي فَثَقُلَتْ عَلَيَّ حَتَّى خِفْتُ أَنْ تُرَضَّ فَخِذِي ثُمَّ سُرِّيَ عَنْهُ فَأَنْزَلَ اللَّهُ غَيْرُ أولي الضرر. صحيح
অল্পক্ষণ আগে; অতঃপর লোকটিকে খোঁজা হলো এবং তাকে নিয়ে আসা হলো। তিনি বললেন: তোমার গায়ে যে সুগন্ধি লেগে আছে তা তিনবার ধুয়ে ফেলো, আর জুব্বাটি খুলে ফেলো। এরপর তোমার ওমরায় তা-ই করো যা হজে করো। সহীহ
২৫ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মালিহী, তিনি সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ আন-নুয়াইমী থেকে, তিনি সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ বিন ইউসুফ থেকে, তিনি সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ বিন ইসমাইল থেকে, তিনি সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি সংবাদ দিয়েছেন ইব্রাহিম বিন সাদ আল-জুহরী থেকে, তিনি বলেছেন আমার নিকট বর্ণনা করেছেন সালিহ বিন কাইসান, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি সাহল বিন সাদ আস-সাঈদী থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, আমি মারওয়ান বিন আল-হাকামকে মসজিদে বসা অবস্থায় দেখেছি। তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, যায়েদ বিন সাবিত রাযিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু তাঁকে সংবাদ দিয়েছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে এই আয়াতটি লেখাতে শুরু করলেন: ‘মুমিনদের মধ্যে যারা ঘরে বসে থাকে এবং যারা আল্লাহর পথে জিহাদ করে, তারা সমান নয়।’ তিনি (যায়েদ) বললেন, তিনি (রাসূলুল্লাহ ﷺ) যখন আমাকে এটি লেখাচ্ছিলেন, তখন ইবনে উম্মে মাকতুম তাঁর কাছে আসলেন। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! যদি আমার জিহাদ করার সামর্থ্য থাকত, তবে অবশ্যই আমি জিহাদ করতাম। আর তিনি ছিলেন একজন অন্ধ ব্যক্তি। অতঃপর আল্লাহ তাঁর রাসূলের ওপর ওহী নাযিল করলেন, এমতাবস্থায় যে তাঁর উরু আমার উরুর ওপর ছিল। তখন আমার নিকট ওহীর ভার এতোটা প্রবল মনে হলো যে আমি আশঙ্কা করলাম আমার উরু হয়তো পিষ্ট হয়ে যাবে। এরপর তাঁর থেকে ওহীর সেই অবস্থা অপসারিত হলো, তখন আল্লাহ তা'আলা নাযিল করলেন: ‘অক্ষম ব্যক্তিরা ছাড়া’। সহীহ।
(খণ্ড: ১)
আল-আনোয়ার ফী শামাইলিন নাবিয়্যিল মুখতার
(পৃষ্ঠা: ২৩)
4- بَابُ صِفَةِ دُعَائِهِ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمُشْرِكِينَ وَصَبْرِهِ عَلَى أَذَاهُمْ 26 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ أَحْمَدَ الْمَلِيحِيُّ أَنْبَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ النُّعَيْمِيُّ أَنْبَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ نَبَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ نَبَا يُوسُفُ بْنُ مُوسَى نَبَا أَبُو أُسَامَةَ نَبَا الأَعْمَشُ نَبَا عَمْرُو بْنُ مُرَّةَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُمَا لَمَّا نَزَلَتْ وَأَنْذِرْ عَشِيرَتَكَ الأَقْرَبِينَ وَرَهْطَكَ مِنْهُمُ الْمُخْلصِينَ خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى صَعِدَ الصَّفَا وَهَتَفَ يَا صَبَاحَاهُ فَقَالُوا مَنْ هَذَا فَاجْتَمَعُوا إِلَيْهِ فَقَالَ أَرَأَيْتُمْ إِنْ أَخْبَرْتُكُمْ أَنَّ خَيْلا تخرج من صفح هَذَا الْجَبَلِ أَكُنْتُمْ مُصَدِّقِيَّ قَالُوا مَا جَرَّبْنَا عَلَيْكَ كَذِبًا قَالَ فَإِنِّي نَذِيرٌ لَكُمْ بَيْنَ يَدَيَّ عَذَابٌ شَدِيدٌ قَالَ أَبُو لَهَبٍ تَبًّا لَكَ مَا جَمَعْتَنَا إِلا لِهَذَا ثُمَّ قَامَ فَنَزَلَتْ تَبَّتْ يَدَا أَبِي لَهَبٍ وَقَدْ تَبَّ هَكَذَا قَرَأَهَا الأعمش يومئذ. صحيح
৪- অধ্যায়: মুশরিকদের প্রতি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দাওয়াতের পদ্ধতি এবং তাদের নির্যাতনের ওপর তাঁর ধৈর্যের বর্ণনা ২৬ - আবদুল ওয়াহিদ ইবনে আহমাদ আল-মালিহী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমাদ ইবনে আবদুল্লাহ আন-নুয়াইমী আমাদের জানিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আমাদের জানিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল আমাদের জানিয়েছেন, ইউসুফ ইবনে মুসা আমাদের জানিয়েছেন, আবু উসামাহ আমাদের জানিয়েছেন, আল-আমাশ আমাদের জানিয়েছেন, আমর ইবনে মুররাহ আমাদের জানিয়েছেন, সাঈদ ইবনে জুবাইর থেকে বর্ণিত, ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, যখন এই আয়াত অবতীর্ণ হলো: ‘আর আপনি আপনার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করুন এবং তাদের মধ্য থেকে আপনার একনিষ্ঠ অনুসারীদের’, তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বের হয়ে সাফা পাহাড়ে আরোহণ করলেন এবং উচ্চস্বরে ডাক দিলেন, "ওহে সকাল বেলার বিপদ!" তখন লোকেরা বলল, ‘এ কে?’ অতঃপর তারা তাঁর কাছে সমবেত হলো। তিনি বললেন, "তোমাদের কী অভিমত, আমি যদি তোমাদের সংবাদ দেই যে, একটি অশ্বারোহী বাহিনী এই পাহাড়ের পাদদেশ থেকে বের হয়ে আসছে, তবে কি তোমরা আমাকে সত্যবাদী বলে বিশ্বাস করবে?" তারা বলল, "আমরা আপনার ওপর কখনো মিথ্যার অভিজ্ঞতা লাভ করিনি।" তিনি বললেন, "নিশ্চয়ই আমি তোমাদের সামনে উপস্থিত এক কঠিন আযাবের সতর্ককারী।" তখন আবু লাহাব বলল, "তোমার ধ্বংস হোক! তুমি কি আমাদের কেবল এই জন্যই সমবেত করেছ?" অতঃপর সে উঠে দাঁড়াল এবং অবতীর্ণ হলো: ‘আবু লাহাবের উভয় হাত ধ্বংস হোক এবং সে নিজেও ধ্বংস হয়েছে।’ সেদিন আল-আমাশ এভাবেই এটি পাঠ করেছিলেন। সহীহ।
(খণ্ড: ১)
আল-আনোয়ার ফী শামাইলিন নাবিয়্যিল মুখতার
(পৃষ্ঠা: ২৪)
27 - أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَبْدِ الْقَاهِرِ أَنْبَا عَبْدُ الْغَافِرِ بْنُ مُحَمَّدٍ أَنْبَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى ثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سُفْيَانَ نَبَا مُسْلِمُ بْنُ الْحَجَّاجِ نَبَا أَبُو كَامِلٍ الْجَحْدَرِيُّ ثَنَا يَزِيدُ يَعْنِي ابْنَ زُرَيْعٍ نَبَا سُلَيْمَانُ التَّيْمِيُّ عَنْ أَبِي عُثْمَانَ عَنْ قَبِيصَةَ بْنِ الْمُخَارِقِ وَزُهَيْرِ بْنِ عَمْرٍو قَالا لَمَّا نَزَلَتْ وَأَنْذِرْ عَشِيرَتَكَ الأَقْرَبِينَ انْطَلَقَ نَبِيُّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى رَضَمَةٍ مِنْ جَبَلٍ فَعَلا أَعْلاهَا حَجَرًا ثُمَّ نَادَى يَا بَنِي عَبْدِ مَنَافٍ إِنَّمَا مَثَلِي وَمَثَلُكُمْ كَمَثَلِ رَجُلٍ رَأَى الْعَدُوَّ فَانْطَلَقَ يَرْبَأُ أَهْلَهُ فَخَشِيَ أَنْ يَسْبِقُوهُ فَجَعَلَ يَهْتِفُ يا صباحاه. صحيح
28 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ الْمَلِيحِيُّ أَنْبَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ النُّعَيْمِيُّ أَنْبَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ نَبَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ أَنْبَا أَبُو الْيَمَانِ أَنْبَا شُعَيْبٌ عَنِ الزُّهْرِيِّ أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيِّبِ وَأَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ قَالا إِنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ قَالَ قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَ أَنْزَلَ اللَّهُ وَأَنْذِرْ عَشِيرَتَكَ الأَقْرَبِينَ قَالَ يَا مَعْشَرَ قُرَيْشٍ أَوْ كَلِمَةً نَحْوَهَا اشْتَرُوا أَنْفُسَكُمْ لا أُغْنِي عَنْكُمْ مِنَ اللَّهِ شَيْئًا يَا بَنِي عَبْدِ مَنَافٍ لا أُغْنِي
২৭ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসমাঈল বিন আব্দুল কাহির, তিনি আব্দুল গাফির বিন মুহাম্মদ থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন ঈসা থেকে, তিনি ইবরাহীম বিন মুহাম্মদ বিন সুফিয়ান থেকে, তিনি মুসলিম বিন হাজ্জাজ থেকে, তিনি আবু কামিল আল-জাহদারি থেকে, তিনি ইয়াযিদ অর্থাৎ ইবনে যুরাই থেকে, তিনি সুলায়মান আত-তায়মি থেকে, তিনি আবু উসমান থেকে, তিনি ক্বাবিসাহ বিন আল-মুখারিক এবং যুহাইর বিন আমর থেকে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে বলেন: যখন ‘আর আপনি আপনার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করুন’ আয়াতটি নাযিল হলো, তখন আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম পাহাড়ের একটি পাথুরে স্তূপের দিকে গেলেন এবং তার সর্বোচ্চ পাথরের ওপর আরোহণ করলেন। এরপর তিনি উচ্চস্বরে আহ্বান করলেন: "হে বনী আব্দ মানাফ! আমার এবং তোমাদের উদাহরণ হলো সেই ব্যক্তির মতো যে শত্রুকে দেখতে পেল এবং নিজ পরিবারকে সতর্ক করার জন্য দ্রুত অগ্রসর হলো, এমতাবস্থায় সে আশঙ্কা করল যে তারা (শত্রুরা) হয়তো তাদের আগেই পৌঁছে যাবে, তাই সে উচ্চস্বরে চিৎকার করে বলতে লাগল— ইয়া সাবাহাহ (হে সকালের বিপদ)!" সহীহ।
২৮ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মালিহি, তিনি আহমদ বিন আব্দুল্লাহ আন-নুয়াইমি থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন ইউসুফ থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন ইসমাঈল থেকে, তিনি আবু আল-য়ামান থেকে, তিনি শুআইব থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি সাঈদ বিন আল-মুসাইয়্যিব এবং আবু সালামাহ বিন আব্দুর রহমান থেকে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু বলেছেন: যখন আল্লাহ তা'আলা ‘আর আপনি আপনার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করুন’ নাযিল করলেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে বললেন: "হে কুরাইশ সম্প্রদায়! (অথবা অনুরূপ কোনো শব্দ)। তোমরা নিজেদের আত্মাকে (আল্লাহর নিকট থেকে) ক্রয় করে নাও; আল্লাহর পাকড়াও থেকে আমি তোমাদের কোনো উপকারে আসব না। হে বনী আব্দ মানাফ! আমি তোমাদের কোনো উপকারে আসব না..."
(খণ্ড: ১)
আল-আনোয়ার ফী শামাইলিন নাবিয়্যিল মুখতার
(পৃষ্ঠা: ২৫)
عَنْكُمْ مِنَ اللَّهِ شَيْئًا يَا عَبَّاسُ بْنَ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ لا أُغْنِي عَنْكَ مِنَ اللَّهِ شَيْئًا وَيَا صَفِيَّةُ عَمَّةَ رَسُولِ اللَّهِ لا أُغْنِي عَنْكِ مِنَ اللَّهِ شَيْئًا وَيَا فَاطِمَةُ بِنْتَ مُحَمَّدٍ سَلِينِي مَا شِئْتِ مِنْ مَالِي لا أُغْنِي عَنْكِ مِنَ الله شيئا. صحيح
29 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ الْمَلِيحِيُّ أَنْبَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ النُّعَيْمِيُّ أَنْبَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ أَنْبَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ أَنْبَا أحمد بن إسحق نَبَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى نَبَا إِسْرَائِيلُ عن أبي إسحق عَنْ عَمْرِو بْنِ مَيْمُونٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ قَالَ بَيْنَمَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَائِمٌ يُصَلِّي عِنْدَ الْكَعْبَةِ وَجَمِيعُ قُرَيْشٍ فِي مَجَالِسِهِمْ إِذْ قَالَ قَائِلٌ مِنْهُمْ أَلا يَنْظُرُونَ إلى هذا المرأ أَيُّكُمْ يَقُومُ إِلَى جَزُورِ آلِ فُلانٍ فَيَعْمِدُ إِلَى فَرْثِهَا وَدَمِهَا وَسَلاهَا فَيَجِيءُ بِهِ ثُمَّ يُمْهِلُهُ حَتَّى إِذَا سَجَدَ وَضَعَهُ بَيْنَ كَتِفَيْهِ فَانْبَعَثَ أَشْقَاهُمْ فَلَمَّا سَجَدَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَضَعَهُ بَيْنَ كَتِفَيْهِ وَثَبَتَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَاجِدًا فَضَحِكُوا حَتَّى مَالَ بَعْضُهُمْ عَلَى بَعْضٍ مِنَ الضَّحِكِ فَانْطَلَقَ مُنْطَلِقٌ إِلَى فَاطِمَةَ وَهِيَ جُوَيْرِيَةُ فَأَقْبَلَتْ تَسْعَى وَثَبَتَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَاجِدًا حَتَّى أَلْقَتْهُ عَنْهُ وَأَقْبَلَتْ عَلَيْهِمْ تَسُبُّهُمْ فَلَمَّا قَضَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الصَّلاةَ قَالَ اللَّهُمَّ عَلَيْكَ بِقُرَيْشٍ اللَّهُمَّ عَلَيْكَ بِقُرَيْشٍ اللَّهُمَّ عَلَيْكَ بِقُرَيْشٍ
...আল্লাহর বিপরীতে আমি তোমাদের কোনো উপকারে আসব না। হে আব্বাস ইবন আব্দুল মুত্তালিব! আমি আল্লাহর বিপরীতে আপনার কোনো উপকারে আসব না। হে সাফিয়্যাহ, আল্লাহর রাসূলের ফুফু! আমি আল্লাহর বিপরীতে আপনার কোনো উপকারে আসব না। আর হে ফাতিমা বিন্ত মুহাম্মাদ! আমার সম্পদ থেকে যা ইচ্ছা তুমি চেয়ে নাও, তবে আল্লাহর বিপরীতে আমি তোমার কোনো উপকারে আসব না। (সহীহ)
২৯ - আব্দুল ওয়াহিদ আল-মালিহী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আহমদ ইবন আব্দুল্লাহ আন-নুয়াইমী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন মুহাম্মাদ ইবন ইউসুফ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন মুহাম্মাদ ইবন ইসমাঈল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আহমদ ইবন ইসহাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, উবায়দুল্লাহ ইবন মূসা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইসরাঈল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইসহাক থেকে, তিনি আমর ইবন মাইমুন থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কাবার নিকটে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিলেন এবং কুরাইশদের সকলে তাদের মজলিসগুলোতে উপবিষ্ট ছিল, তখন তাদের মধ্যে একজন বলল: "তোমরা কি এই লোকটির প্রতি লক্ষ্য করছ না? তোমাদের মধ্যে কে অমুক পরিবারের উট জবেহ করার স্থানে যাবে এবং এর নাড়িভুঁড়ি, রক্ত ও গর্ভফুল নিয়ে আসবে? তারপর সে অপেক্ষা করবে, যখন সে সিজদাহ করবে তখন তা তার দুই কাঁধের মাঝখানে রেখে দেবে।" তখন তাদের মধ্যে সবচেয়ে হতভাগ্য ব্যক্তিটি উঠে দাঁড়াল। যখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সিজদাহ করলেন, তখন সে তা তাঁর দুই কাঁধের মাঝে রেখে দিল। নবী (সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সিজদাবনত অবস্থায় স্থির থাকলেন। তারা হাসাহাসি করতে লাগল, এমনকি হাসির চোটে তারা একে অপরের ওপর হেলে পড়ল। অতঃপর একজন সংবাদবাহক ফাতিমার কাছে গেল, তখন তিনি অল্পবয়স্কা বালিকা ছিলেন। তিনি দৌড়ে আসলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সিজদাবনত অবস্থায় স্থির থাকলেন, যতক্ষণ না তিনি তা তাঁর উপর থেকে সরিয়ে দিলেন। এরপর তিনি তাদের দিকে এগিয়ে গিয়ে তাদের তিরস্কার করতে লাগলেন। যখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সালাত শেষ করলেন, তখন তিনি বললেন: "হে আল্লাহ! আপনি কুরাইশদের পাকড়াও করুন। হে আল্লাহ! আপনি কুরাইশদের পাকড়াও করুন। হে আল্লাহ! আপনি কুরাইশদের পাকড়াও করুন।"
(খণ্ড: ১)
আল-আনোয়ার ফী শামাইলিন নাবিয়্যিল মুখতার
(পৃষ্ঠা: ২৬)
ثُمَّ سَمَّى اللَّهُمَّ عَلَيْكَ بِعَمْرِو بْنِ هِشَامٍ وَعُتْبَةَ بْنِ رَبِيعَةَ وَشَيْبَةَ بْنِ رَبِيعَةَ وَالْوَلِيدِ بْنِ عُتْبَةَ وَأُمَيَّةَ بْنِ خَلَفٍ وَعُقْبَةَ بْنِ أَبِي مُعَيْطٍ وَعِمَارَةَ بْنِ الْوَلِيدِ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ فَوَاللَّهِ لَقَدْ رَأَيْتُهُمْ صَرْعَى يَوْمَ بَدْرٍ ثُمَّ سُحِبُوا إِلَى الْقَلِيبِ قَلِيبِ بَدْرٍ ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأُتْبِعَ أَصْحَابُ القليب لعنة. صحيح
30 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ الْمَلِيحِيُّ أَنْبَا أَحْمَدُ النُّعَيْمِيُّ أَنْبَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ نَبَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ نَبَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ نَبَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ حَدَّثَنِي الأَوْزَاعِيُّ حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيُّ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ قَالَ قُلْتُ لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُما أَخْبِرْنِي بِأَشَدِّ مَا صَنَعَهُ الْمُشْرِكُونَ بِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ بَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي بِفِنَاءِ الْكَعْبَةِ إِذْ أَقْبَلَ عُقْبَةُ بْنُ أَبِي مُعَيْطٍ فَأَخَذَ بِمَنْكِبِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلَوَى ثَوْبَهُ فِي عُنُقِهِ فَخَنَقَهُ بِهِ خَنْقًا شَدِيدًا فَأَقْبَلَ أَبُو بَكْرٍ فَأَخَذَ بِمَنْكِبِهِ وَدَفَعَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَالَ أَتَقْتُلُونَ رَجُلا أَنْ يَقُولَ رَبِّيَ اللَّهُ وَقَدْ جَاءَكُمْ بِالْبَيِّنَاتِ من ربكم. صحيح0
অতঃপর তিনি নাম উল্লেখ করলেন: হে আল্লাহ! আপনি আমর ইবনে হিশাম, উতবা ইবনে রবিয়া, শায়বা ইবনে রবিয়া, ওয়ালিদ ইবনে উতবা, উমাইয়া ইবনে খালাফ, উকবা ইবনে আবি মুআইত এবং ইমারা ইবনুল ওয়ালিদকে পাকড়াও করুন। আবদুল্লাহ বলেন, আল্লাহর কসম! আমি বদরের দিন তাদের নিহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেছি। অতঃপর তাদের টেনে একটি কূপে নিক্ষেপ করা হয়, যা ছিল বদরের কূপ। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, কূপবাসীদের পেছনে অভিশাপ লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। সহিহ।
৩০ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল ওয়াহিদ আল-মালিহি, তিনি বলেন আমাদের খবর দিয়েছেন আহমদ আন-নুআইমি, তিনি বলেন আমাদের খবর দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ, তিনি বলেন আমাদের বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল, তিনি বলেন আমাদের বর্ণনা করেছেন আলী ইবনে আবদুল্লাহ, তিনি বলেন আমাদের বর্ণনা করেছেন ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম, তিনি বলেন আমার কাছে বর্ণনা করেছেন আওযায়ি, তিনি বলেন আমার কাছে বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসীর, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম আত-তাইমি, তিনি উরওয়া ইবনে যুবাইর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহুমাকে বললাম, মুশরিকরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে সবচেয়ে কঠিন যে আচরণটি করেছিল তা আমাকে বলুন। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন কাবার প্রাঙ্গণে সালাত আদায় করছিলেন, তখন উকবা ইবনে আবি মুআইত এগিয়ে এল এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাঁধ ধরল। এরপর সে তার কাপড় তাঁর ঘাড়ে পেঁচিয়ে ধরল এবং তাঁকে প্রচণ্ডভাবে শ্বাসরোধ করল। তখন আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু এগিয়ে এলেন এবং তার কাঁধ ধরলেন ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছ থেকে তাকে সরিয়ে দিলেন এবং বললেন, তোমরা কি এমন একজন মানুষকে হত্যা করতে চাও যিনি বলেন যে, আমার প্রতিপালক আল্লাহ, অথচ তিনি তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণাদি নিয়ে এসেছেন? সহিহ ০
(খণ্ড: ১)
আল-আনোয়ার ফী শামাইলিন নাবিয়্যিল মুখতার
(পৃষ্ঠা: ২৭)
31 - أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَبْدِ الْقَاهِرِ أَنْبَا عَبْدُ الْغَافِرِ بْنُ مُحَمَّدٍ أَنْبَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى نَبَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سُفْيَانَ نَبَا مُسْلِمُ بْنُ الْحَجَّاجِ نَبَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى الْقَيْسِيُّ قَالا نَبَا الْمُعْتَمِرُ عَنْ أَبِيهِ حَدَّثَنِي نُعَيْمُ بْنُ أَبِي هِنْدٍ عَنْ أَبِي حَازِمٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ قَالَ أَبُو جَهْلٍ هَلْ يُعَفِّرُ مُحَمَّدٌ وَجْهَهُ بَيْنَ أَظْهُرِكُمْ فَقِيلَ نَعَمْ فَقَالَ وَاللاتِ وَالْعُزَّى لَئِنْ رَأَيْتُهُ يَفْعَلُ ذَلِكَ لأَطَأَنَّ عَلَى رَقَبَتِهِ وَلأُعَفِّرَنَّ وَجْهَهُ فِي التُّرَابِ قَالَ فَأَتَى رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ يُصَلِّي زَعَمَ لِيَطَأَ عَلَى رَقَبَتِهِ قَالَ فَمَا فَجِئَهُمْ مِنْهُ إِلا وَهُوَ يَنْكُصُ عَلَى عَقِبَيْهِ وَيَتَّقِي بِيَدَيْهِ قَالَ فقيل له مالك فَقَالَ إِنَّ بَيْنِي وَبَيْنَهُ لَخَنْدَقًا مِنْ نَارٍ وَهَوْلٍ وَأَجْنِحَةٍ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لو دنا مني لاخْتَطَفَتْهُ الْمَلائِكَةُ عضوا عضوا. صحيح
32 - أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَبْدِ الْقَاهِرِ أَنْبَا عَبْدُ الْغَافِرِ بْنُ مُحَمَّدٍ أَنْبَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى نَبَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سُفْيَانَ نَبَا مُسْلِمُ بْنُ الْحَجَّاجِ ثني أَبُو طَاهِرٍ عَمْرُو بْنُ سَرْحٍ وَحَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى وَعَمْرُو بْنُ سَوَّادٍ الْعَامِرِيُّ وَأَلْفَاظُهُمْ مُتَقَارِبَةٌ قَالُوا نَبَا ابْنُ وَهْبٍ أَخْبَرَنِي يُونُسُ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ أَنَّ عَائِشَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهَا حَدَّثَتْهُ أَنَّهَا قَالَتْ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَلْ أَتَى عَلَيْكَ يَوْمٌ كَانَ أَشَدَّ مِنْ يَوْمِ أُحُدٍ فَقَالَ:
৩১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসমাঈল ইবন আবদুল ক্বাহির, তিনি সংবাদ দিয়েছেন আবদুল গাফির ইবন মুহাম্মদ থেকে, তিনি সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবন ঈসা থেকে, তিনি সংবাদ দিয়েছেন ইবরাহীম ইবন মুহাম্মদ ইবন সুফিয়ান থেকে, তিনি সংবাদ দিয়েছেন মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ থেকে, তিনি সংবাদ দিয়েছেন উবায়দুল্লাহ ইবন মুয়াজ এবং মুহাম্মদ ইবন আবদুল আ’লা আল-কাইসী থেকে, তাঁরা উভয়ে বলেছেন যে মুতামির তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন আমার কাছে নুয়াইম ইবন আবী হিন্দ হাদীস বর্ণনা করেছেন আবূ হাযিম থেকে, তিনি আবূ হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবূ জাহেল বলেছিল, "মুহাম্মদ কি তোমাদের সামনে তার মুখমণ্ডল মাটিতে মিশিয়ে দেয় (সিজদা করে)?" তখন বলা হলো, "হ্যাঁ।" সে বলল, "লাত ও উযযার কসম! যদি আমি তাকে তা করতে দেখি, তবে অবশ্যই আমি তার ঘাড়ের উপর পা রাখব এবং তার মুখমণ্ডল মাটিতে মিশিয়ে দেব।" বর্ণনাকারী বলেন, এরপর সে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে আসল এমতাবস্থায় যে তিনি নামায পড়ছিলেন। সে তাঁর ঘাড়ের উপর পা রাখার সংকল্প করেছিল। বর্ণনাকারী বলেন, হঠাৎ তারা তাকে দেখল যে সে তার দুই গোড়ালির ওপর ভর দিয়ে পিছু হটছে এবং তার দুই হাত দিয়ে নিজেকে রক্ষা করছে। বর্ণনাকারী বলেন, তাকে বলা হলো, "তোমার কী হয়েছে?" সে বলল, "নিশ্চয় আমার এবং তাঁর মাঝে আগুনের পরিখা, বিভীষিকা এবং ডানা রয়েছে।" আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, "সে যদি আমার নিকটবর্তী হতো, তবে ফেরেশতারা তার প্রতিটি অঙ্গ বিচ্ছিন্ন করে তাকে ছিনিয়ে নিত।" সহীহ।
৩২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসমাঈল ইবন আবদুল ক্বাহির, তিনি সংবাদ দিয়েছেন আবদুল গাফির ইবন মুহাম্মদ থেকে, তিনি সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবন ঈসা থেকে, তিনি সংবাদ দিয়েছেন ইবরাহীম ইবন মুহাম্মদ ইবন সুফিয়ান থেকে, তিনি সংবাদ দিয়েছেন মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ থেকে, আমার কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন আবূ তাহির আমর ইবন সারহ, হারমালা ইবন ইয়াহইয়া এবং আমর ইবন সাউওয়াদ আল-আমিরী—তাঁদের বর্ণিত শব্দগুলো কাছাকাছি—তাঁরা বলেছেন যে ইবন ওয়াহাব হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন ইউনুস ইবন শিহাব থেকে আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি উরওয়াহ ইবনুল যুবাইর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্ত্রী আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহা) তাঁর কাছে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, "হে আল্লাহর রাসূল! আপনার ওপর কি এমন কোনো দিন এসেছে যা উহুদ যুদ্ধের দিনের চেয়েও বেশি কঠিন ছিল?" তিনি বললেন:
(খণ্ড: ১)
আল-আনোয়ার ফী শামাইলিন নাবিয়্যিল মুখতার
(পৃষ্ঠা: ২৮)
لَقَدْ لَقِيتُ مِنْ قَوْمِكِ وَكَانَ أَشَدُّ مَا لَقِيتُ مِنْهُمْ يَوْمَ الْعَقَبَةِ إِذْ عَرَضْتُ نَفْسِي عَلَى ابن عبد ياليل بن عَبْدِ كَلالٍ فَلَمْ يُجِبْنِي إِلَى مَا أَرَدْتُ فَانْطَلَقْتُ وَأَنَا مَهْمُومٌ عَلَى وَجْهِي فَلَمْ أَسْتَفِقْ إِلا بِقَرْنِ الثَّعَالِبِ فَرَفَعْتُ رَأْسِي فَإِذَا أَنَا بِسَحَابَةٍ قَدْ أَظَلَّتْنِي فَنَظَرْتُ فإذا فيها جبرئيل فَنَادَانِي فَقَالَ إِنَّ اللَّهَ قَدْ سَمِعَ قَوْلَ قَوْمِكَ لَكَ وَمَا رَدُّوا عَلَيْكَ وَقَدْ بَعَثَ إِلَيْكَ مَلَكَ الْجِبَالِ لِتَأْمُرَهُ بِمَا شِئْتَ فِيهِمْ قَالَ فَنَادَانِي مَلَكُ الْجِبَالِ وَسَلَّمَ ثُمَّ قَالَ يَا مُحَمَّدُ إِنَّ اللَّهَ قَدْ سَمِعَ قَوْلَ قَوْمِكَ وَأَنَا مَلَكُ الْجِبَالِ وَقَدْ بَعَثَنِي رَبُّكَ إِلَيْكَ لِتَأْمُرَنِي بِأَمْرِكَ فَمَا شِئْتَ إِنْ شِئْتَ أَنْ أُطْبِقَ عَلَيْهِمُ الأَخْشَبَيْنِ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَلْ أَرْجُو أَنْ يُخْرِجَ اللَّهُ مِنْ أَصْلابِهْم مَنْ يَعْبُدُ اللَّهَ وَحْدَهُ لا يُشْرِكُ به شيئا. صحيح
5- بَابُ عَلامَاتِ نُبُوَّتِهِ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ 33 - أَخْبَرَنَا أَبُو حَامِدٍ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الصَّالِحِيُّ أَنْبَا أَبُو عَمْرٍو بَكْرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمُزَنِيُّ ثَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ حَفِيدُ الْعَبَّاسِ بْنِ حَمْزَةَ نَبَا أَبُو عَلِيٍّ الْحُسَيْنُ بْنُ الْفَضْلِ الْبَجَلِيُّ ثَنَا عَفَّانُ ثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ ثَنَا ثَابِتٌ عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ
আমি তোমার কওমের পক্ষ থেকে অনেক কষ্টের সম্মুখীন হয়েছি। তাদের পক্ষ থেকে আমার ওপর সবচেয়ে কঠিন সময় ছিল আকাবার দিন, যখন আমি ইবনে আবদে ইয়ালীল ইবনে আবদে কিলাল-এর কাছে নিজেকে পেশ করেছিলাম (ইসলামের দাওয়াত নিয়ে), কিন্তু আমি যা চেয়েছিলাম সে তাতে সাড়া দেয়নি। তখন আমি অত্যন্ত বিমর্ষ হয়ে পথ চলছিলাম এবং কারনুস সা'আলিব নামক স্থানে না পৌঁছানো পর্যন্ত আমার হুঁশ ফিরেনি। তখন আমি মাথা তুললাম এবং হঠাৎ দেখলাম যে একটি মেঘখণ্ড আমাকে ছায়া দিচ্ছে। আমি লক্ষ্য করে দেখলাম যে তাতে জিবরাঈল রয়েছেন। তিনি আমাকে ডেকে বললেন, 'নিশ্চয়ই আল্লাহ আপনার কওম আপনাকে যা বলেছে এবং তারা আপনাকে যে জবাব দিয়েছে তা শুনেছেন। তিনি আপনার কাছে পাহাড়ের ফেরেশতাকে পাঠিয়েছেন যেন আপনি তাদের ব্যাপারে তাকে যা ইচ্ছা নির্দেশ দেন।' এরপর পাহাড়ের ফেরেশতা আমাকে ডেকে সালাম দিলেন এবং বললেন, 'হে মুহাম্মাদ! আল্লাহ আপনার কওমের কথা শুনেছেন। আমি পাহাড়ের ফেরেশতা, আপনার প্রতিপালক আমাকে আপনার কাছে পাঠিয়েছেন যেন আপনি আমাকে আপনার আদেশ প্রদান করেন। আপনি যা চান (তা-ই হবে)। আপনি যদি চান তবে আমি এই দুই পাহাড়কে তাদের ওপর চাপিয়ে দেব।' তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন, 'বরং আমি আশা করি আল্লাহ তাদের বংশধরদের মধ্য থেকে এমন লোক বের করবেন যারা একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবে না।' সহীহ।
৫- পরিচ্ছেদ: তাঁর (সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নবুওয়াতের নিদর্শনসমূহ ৩৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু হামিদ আহমদ ইবনে আবদুল্লাহ আস-সালিহী, তিনি বলেন আমাদের জানিয়েছেন আবু আমর বকর ইবনে মুহাম্মদ আল-মুযানী, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ হাফিদ আল-আব্বাস ইবনে হামজাহ, তিনি বলেন আমাদের জানিয়েছেন আবু আলী আল-হুসাইন ইবনুল ফজল আল-বাজালী, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আফফান, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন হাম্মাদ ইবনে সালামাহ, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন সাবিত, তিনি আনাস (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আনোয়ার ফী শামাইলিন নাবিয়্যিল মুখতার
(পৃষ্ঠা: ২৯)
أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وسلم أتاه جبريل وَهُوَ يَلْعَبُ مَعَ الْغِلْمَانِ فَأَخَذَهُ فَصَرَعَهُ فَشَقَّ عَنْ قَلْبِهِ فَاسْتَخْرَجَ مِنْهُ عَلَقَةً فَقَالَ هَذَا حَظُّ الشَّيْطَانِ مِنْكَ ثُمَّ غَسَلَهُ فِي طَشْتٍ مِنْ ذَهَبٍ بِمَاءِ زَمْزَمَ ثُمَّ لامَّهُ وَأَعَادَهُ فِي مَكَانِهِ وَجَاءَ الْغِلْمَانُ يَسْعَوْنَ إِلَى أُمِّهِ يَعْنِي ظِئْرَهُ فَقَالُوا إِنَّ مُحَمَّدًا قَدْ قُتِلَ فَاسْتَقْبَلُوهُ وَهُوَ مُنْتَقِعُ اللَّوْنِ قَالَ أَنَسٌ فَكُنْتُ أَرَى أَثَرَ الْمِخْيَطِ في صدره. صحيح
34 - أَخْبَرَنَا الإِمَامُ أَبُو عَلِيٍّ الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْقَاضِي نَبَا السَّيِّدُ أَبُو الْحَسَنِ مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ الْعَلَوِيُّ أَنْبَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْوَهَّابِ النَّيْسَابُورِيُّ نَبَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الصَّايِغُ نَبَا يَحْيَى بْنُ أَبِي بُكَيْرٍ نَبَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ طَهْمَانَ عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ:
নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বালকদের সাথে খেলছিলেন, তখন জিবরাঈল আলাইহিস সালাম তাঁর নিকট আসলেন। তিনি তাঁকে ধরে মাটিতে শুইয়ে দিলেন এবং তাঁর বক্ষ বিদীর্ণ করলেন। এরপর তিনি তাঁর হৃদপিণ্ডটি বের করলেন এবং তা থেকে একটি রক্তপিণ্ড বের করে বললেন, “এটি তোমার মধ্যে শয়তানের অংশ।” তারপর তিনি তা স্বর্ণের একটি পাত্রে যমযমের পানি দিয়ে ধৌত করলেন। এরপর তা জোড়া লাগিয়ে পুনরায় যথাস্থানে স্থাপন করলেন। এদিকে বালকরা দৌড়ে তাঁর মায়ের (অর্থাৎ তাঁর দাত্রী মায়ের) কাছে গিয়ে বলল যে, মুহাম্মাদকে হত্যা করা হয়েছে। তারা তাঁর দিকে এগিয়ে আসলেন এবং দেখলেন যে তাঁর গায়ের রঙ বিবর্ণ হয়ে আছে। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি তাঁর বক্ষে সেলাইয়ের চিহ্ন দেখতে পেতাম। সহীহ।
৩৪ - ইমাম আবু আলী আল-হুসাইন ইবনে মুহাম্মাদ আল-কাজী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, সাইয়্যেদ আবুল হাসান মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান আল-আলাওয়ী আমাদের জানিয়েছেন, আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব আল-নিসাবুরি আমাদের জানিয়েছেন, মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইল আস-সায়েগ আমাদের জানিয়েছেন, ইয়াহইয়া ইবনে আবু বুকাইর আমাদের জানিয়েছেন, ইব্রাহিম ইবনে তাহমান আমাদের জানিয়েছেন সিমাক ইবনে হারব থেকে, তিনি জাবির ইবনে সামুরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
(খণ্ড: ১)
আল-আনোয়ার ফী শামাইলিন নাবিয়্যিল মুখতার
(পৃষ্ঠা: ৩০)
إِنِّي لأَعْرِفُ حَجَرًا بِمَكَّةَ كَانَ يُسَلِّمُ عَلَيَّ قَبْلَ أَنْ أُبْعَثَ وَإِنِّي لأعرفه الآن. صحيح
35 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الصَّالِحِيُّ أَنْبَا أَبُو سَعِيدٍ يَحْيَى بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَلِيٍّ الصَّائِغُ أَنْبَا أَبُو الْحَسَنِ علي بن إسحق بن خوشنام الرقاق الرازي بنا مُحَمَّدُ بْنُ أَيُّوبَ بن ضريس النجلي الرَّازِيُّ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ ثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ أَبِي ثَوْرٍ عَنْ السُّدِّيِّ عَنْ عَبَّادٍ أَبِي يَزِيدَ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ قَالَ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِمَكَّةَ فَرُحْنَا فِي نَوَاحِيهَا خَارِجًا مِنْ مَكَّةَ بَيْنَ الْجِبَالِ وَالشَّجَرِ فَلَمْ يَمُرَّ بِشَجَرٍ وَلا جَبَلٍ إِلا قَالَ السَّلامُ عَلَيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ.
36 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ الْمَلِيحِيُّ أَنْبَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ النُّعَيْمِيُّ أَنْبَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ نَبَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ ثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ حَمْزَةَ نَبَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ صَالِحِ بْنِ كَيْسَانَ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُمَا أَنَّهُ أَخْبَرَهُ
নিশ্চয়ই আমি মক্কার এমন একটি পাথরকে চিনি যা আমার নবুয়ত প্রাপ্তির পূর্বে আমাকে সালাম দিত এবং আমি নিশ্চয়ই তাকে এখনো চিনি। সহীহ।
৩৫ - আহমদ বিন আব্দুল্লাহ আস-সালিহি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, আবু সাঈদ ইয়াহইয়া বিন আহমদ বিন আলী আস-সাইগ আমাদের জানিয়েছেন, আবুল হাসান আলী বিন ইসহাক বিন খুশনাম আর-রিক্বাক্ব আর-রাজি আমাদের জানিয়েছেন, মুহাম্মদ বিন আইয়ুব বিন দুরয়স আন-নাজলি আর-রাজি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ বিন আস-সাব্বাহ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, ওয়ালিদ বিন আবি সাওর সুদ্দি থেকে, তিনি আব্বাদ আবু ইয়াজিদ থেকে, তিনি আলী (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা মক্কায় আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাথে ছিলাম। অতঃপর আমরা মক্কার পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে পাহাড় ও বৃক্ষরাজির মধ্য দিয়ে বের হলাম, তখন তিনি যে গাছ বা পাহাড়েরই পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, সেটিই বলছিল: "আস-সালামু আলাইকা ইয়া রাসূলাল্লাহ (আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক, হে আল্লাহর রাসূল)"।
৩৬ - আব্দুল ওয়াহিদ আল-মালিহি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, আহমদ বিন আব্দুল্লাহ আন-নুয়াইমি আমাদের জানিয়েছেন, মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আমাদের জানিয়েছেন, মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইবরাহিম বিন হামজাহ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, ইবরাহিম বিন সাদ সালেহ বিন কায়সান থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি উবাইদুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ বিন উতবাহ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি তাকে সংবাদ দিয়েছেন:
(খণ্ড: ১)
আল-আনোয়ার ফী শামাইলিন নাবিয়্যিল মুখতার
(পৃষ্ঠা: ৩১)
أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَتَبَ إِلَى قَيْصَرَ يَدْعُوهُ إِلَى الإِسْلامِ وَبَعَثَ بِكِتَابِهِ إِلَيْهِ دِحْيَةَ الْكَلْبِيَّ وَأَمَرَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يَدْفَعَهُ إِلَى عَظِيمِ بُصْرَى لِيَدْفَعَهُ إِلَى قَيْصَرَ وَكَانَ قَيْصَرُ لَمَّا كَشَفَ اللَّهُ عَنْهُ جُنُودَ فَارِسٍ مَشَى مِنْ حِمْصَ إِلَى إِيلِيَاءَ شُكْرًا لِمَا أَبْلاهُ اللَّهُ فَلَمَّا جَاءَ قَيْصَرَ كِتَابُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ حِينَ قَرَأَهُ الْتَمِسُوا لِي هَهُنَا أَحَدًا من قومه لأسئلهم عَنْ رَسُول اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ فأَخْبَرَنِي أَبُو سُفْيَانَ أَنَّهُ كَانَ بِالشَّامِ فِي رِجَالٍ مِنْ قُرَيْشٍ قَدِمُوا تُجَّارًا فِي الْمُدَّةِ الَّتِي كَانَتْ بَيْنَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَبَيْنَ كُفَّارِ قُرَيْشٍ قَالَ أَبُو سُفْيَانَ فَوَجَدَنَا رَسُولُ قَيْصَرَ بِبَعْضِ الشَّامِ فَانْطَلَقَ بِي وَبِأَصْحَابِي حَتَّى قَدِمْنَا إِيلِيَاءَ
নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম কায়সারের নিকট তাঁকে ইসলামের দাওয়াত দিয়ে পত্র লিখলেন এবং তাঁর সেই পত্রসহ দিহইয়া কালবী (রা.)-কে তাঁর নিকট প্রেরণ করলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে নির্দেশ দিলেন যেন তিনি তা বুসরার প্রধানের নিকট হস্তান্তর করেন, যাতে তিনি তা কায়সারের নিকট পৌঁছে দেন। আর কায়সার, যখন আল্লাহ তাঁর থেকে পারস্য বাহিনীকে হটিয়ে দিলেন, তখন আল্লাহ তাঁকে যে নেয়ামত দান করেছিলেন তার শুকরিয়া স্বরূপ হিমস থেকে ঈলিয়া পর্যন্ত পায়ে হেঁটে চললেন। অতঃপর যখন কায়সারের নিকট আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পত্র আসলো, তখন তিনি সেটি পাঠ করার সময় বললেন, "এখানে তাঁর সম্প্রদায়ের কাউকে আমার জন্য খুঁজে বের করো, যেন আমি তাদের নিকট আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে পারি।" ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, আবু সুফিয়ান আমাকে সংবাদ দিলেন যে, তিনি কুরাইশদের একদল লোকের সাথে শাম দেশে ছিলেন, যাঁরা সেই সময়কালে ব্যবসায়ী হিসেবে এসেছিলেন যখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং কুরাইশ কাফেরদের মধ্যে (হুদাইবিয়ার) সন্ধি বিদ্যমান ছিল। আবু সুফিয়ান বললেন, অতঃপর কায়সারের দূত শামের কোনো এক অঞ্চলে আমাদের দেখা পেলেন এবং আমাকে ও আমার সঙ্গীদের নিয়ে চললেন, অবশেষে আমরা ঈলিয়া পৌঁছালাম।