(খণ্ড: ১)
মুনতাকাল আলফায বিতাকরীবী উলূমিল হাদীস লিল হুফফায
(পৃষ্ঠা: -)
منتقى الألفاظ بتقريب علوم الحديث للحفاظ القسم: علوم الحديث
الكتاب: منتقى الألفاظ بتقريب علوم الحديث للحفاظ
المؤلف: الحارث بن علي الحسني
تقديم: صبحي السامرائي [ت 1434 هـ]
الناشر: مكتبة دار البيان - دمشق
الطبعة: الثالثة، 1437 هـ - 2016 م
عدد الصفحات: 490
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 26 ربيع الأول 1442
মুনতাকা আল-আলফাজ বি-তাকরিব উলূম আল-হাদিস লিল-হুফফাজ বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث)
গ্রন্থ: মুনতাকা আল-আলফাজ বি-তাকরিব উলূম আল-হাদিস লিল-হুফফাজ
লেখক: আল-হারিস ইবন আলি আল-হাসানি
ভূমিকা: সুব্হি আস-সামাররাঈ [মৃ. ১৪৩৪ হিজরি]
প্রকাশক: মাকতাবাতু দারিল বায়ান - দামেস্ক
সংস্করণ: তৃতীয়، ১৪৩৭ হিজরি - ২০১৬ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৯০
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪২
(খণ্ড: ১)
মুনতাকাল আলফায বিতাকরীবী উলূমিল হাদীস লিল হুফফায
(পৃষ্ঠা: ১)
منتقى الألفاظ بتقريب علوم الحديث للحفاظ
تقديم
المحدث العلامة صبحي السامرائي
تأليف الحارث بن علي الحسني
مكتبة دار البيان
হাফেজদের জন্য হাদিস বিজ্ঞান সহজীকরণে নির্বাচিত শব্দাবলি
উপস্থাপনা
হাদিস বিশারদ (المحدث) প্রাজ্ঞ আলেম (العلامة) সুবহি আল-সামাররাই
আল-হারিস বিন আলী আল-হাসানি এর রচনা
মাকতাবাতু দার আল-বায়ান
(খণ্ড: ১)
মুনতাকাল আলফায বিতাকরীবী উলূমিল হাদীস লিল হুফফায
(পৃষ্ঠা: ৬)
تقريظ محدث العراق الشيخ صبحي السامرائيبسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله والصلاة والسلام على سيدنا محمد رسول الله، وبعد:
فقد قرأت رسالة المنتقى للألفاظ بتقريب علوم الحديث للحفاظ لولدنا الحارث بن علي بن عبد العزيز فوجدتها بحمد لله جامعة ومستوعبة لعلوم الحديث، وكل ما يحتاجه طالب الحديث، وهو بحق لم يصنف مثلها ولم يكن في علوم الحديث رسالة جمعت ما جمع فيها.
وحق علي أن أوصي طلاب العلم باقتنائها والمثابرة على حفظها فإن فيها ما لا يوجد في غيرها من المصنفات في مصطلح الحديث، فالله أسأل أن ينفع بها مؤلفها وقارئها وحافظها، وصلى الله وبارك وسلم على نبينا محمد بن عبد الله وآله وصحبه وسلم.
ইরাকের মুহাদ্দিস শায়খ সুবহি আল-সামাররাই-এর প্রশংসাপত্রপরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং আমাদের নেতা আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ-এর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক। অতঃপর:
আমি আমাদের স্নেহাস্পদ হারিস ইবনে আলী ইবনে আব্দুল আজিজ কর্তৃক সংকলিত ‘আল-মুনতাকা লিল-আলফাজ বি তাকরিব উলুমিল হাদিস লিল-হুফফাজ’ নামক পুস্তিকাটি পাঠ করেছি। আল্লাহর প্রশংসায় আমি এটিকে হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث) এবং হাদিসের একজন শিক্ষার্থীর প্রয়োজনীয় সকল বিষয়ের একটি সুসমন্বিত ও ব্যাপক সংকলন হিসেবে পেয়েছি। প্রকৃতপক্ষে, এর মতো দ্বিতীয় কোনো গ্রন্থ ইতিপূর্বে রচিত হয়নি এবং হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث)-এর ওপর এমন কোনো পুস্তিকা নেই যা এতে যা সংকলিত হয়েছে তা একত্রিত করতে পেরেছে।
শিক্ষার্থীদের প্রতি আমার উপদেশ হলো—তারা যেন এটি সংগ্রহ করে এবং এটি মুখস্থ করার ব্যাপারে অধ্যবসায়ী হয়; কেননা হাদিস পরিভাষা (مصطلح الحديث) বিষয়ক অন্যান্য গ্রন্থে যা সচরাচর পাওয়া যায় না, তা এতে বিদ্যমান। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি এর মাধ্যমে এর লেখক, পাঠক ও মুখস্থকারী সকলকে উপকৃত করেন। আল্লাহ তাআলা আমাদের নবী মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সঙ্গীদের ওপর দরুদ, বরকত ও সালাম বর্ষণ করুন।
(খণ্ড: ১)
মুনতাকাল আলফায বিতাকরীবী উলূমিল হাদীস লিল হুফফায
(পৃষ্ঠা: ৭)
مقدمة الطبعة الثانيةالحمد لله والصلاة والسلام على نبينا محمد والنبيين ومن تبعهم وبعد:
فهذه بحمد الله الطبعة الثانية من كتاب "منتقى الألفاظ بتقريب علوم الحديث للحفاظ" بعد أنْ تمَّ انتشار الطبعة الأولى، وفي هذه الطبعة تعديل لمواضع يسيرة من الطبعة الأولى، وزيادات مهمة عليها، أسأل الله تعالى أن يجعلها أصوب من سابقتها، وأنْ يجعل العمل خالصًا لوجهه ويباركه ويتقبله بقبول حسن وينفع به عباده.
وَكَتَبَ
أبُو عَلِيّ الحَارِثُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ العَزِيْزِ الحسَنِيّ
দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং আমাদের নবী মুহাম্মদ, অন্যান্য নবীগণ এবং যাঁরা তাঁদের অনুসরণ করেছেন তাঁদের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক। অতঃপর:
আল্লাহর প্রশংসার সাথে এটি "মুনতাক্বাল আলফায বি-তাকরীব উলূমিল হাদিস লিল-হুফফায" গ্রন্থটির দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রথম সংস্করণটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর। এই সংস্করণে প্রথম সংস্করণের সামান্য কিছু স্থানের পরিমার্জন এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সংযোজন করা হয়েছে। আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন একে পূর্বের সংস্করণের চেয়ে অধিক নির্ভুল করেন এবং এই কাজকে একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিবেদিত করেন, এতে বরকত দান করেন, একে উত্তমভাবে গ্রহণ করেন এবং এর মাধ্যমে তাঁর বান্দাদের উপকৃত করেন।
লিখেছেন
আবু আলী আল-হারিস ইবনে আলী ইবনে আব্দুল আজিজ আল-হাসানী
(খণ্ড: ১)
মুনতাকাল আলফায বিতাকরীবী উলূমিল হাদীস লিল হুফফায
(পৃষ্ঠা: ৮)
مُسَلَّمَةٌإنَّ مِن أمحَل المُحَال أن يَأتِيَ أحدٌ مِنَ المُشتَغِلينَ بِالحَديثِ بِحُكمٍ عَلَى حَدِيثٍ أوْ عِلَّةِ حَدِيثٍ أوْ حُكمٍ عَلَى رَاوٍ أوْ تَأصِيلٍ فِي تَحدِيثٍ أخطَأ فِيهِ المُتقدِمُونَ وَأصَابَ فِيهِ المُتَأخِرونَ لَيسَ لِلمُتَأخِرينَ فِيه سَلَفُ مِن المُتَقَدِمِينَ.
الحَارِثُ بنُ عَلِيّ الحَسَنِيّ
مُهِمَّةٌمَن تَصَدَّى للإفتَاءِ وَالفِقهِ بِغَيرِ تَحديثٍ عَلَى مَنهَجِ المُتَقَدِمينَ فَقَد ضَلَّ وَأضَلَّ، فإنَّهُ لَا يَكُونُ الفَقيهُ فَقِيهًا حَتَّى يَكُونَ مُحَدِّثًا، وَقَد لَا يَكونُ المُحَدِّثُ فَقِيهًا.
الحَارِثُ بنُ عَلِيّ الَحسَنِيّ
স্বীকৃত মূলনীতি (مسلمة)নিশ্চয়ই এটি অসম্ভবপর বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত যে, হাদিস শাস্ত্রে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি হাদিসের কোনো হুকুম (حكم), হাদিসের কোনো ত্রুটি (علة), বর্ণনাকারীর (راو) মূল্যায়ন কিংবা হাদিস বর্ণনার (تحديث) কোনো মূলনীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে এমন কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে আসবেন যাতে পূর্বসূরিগণ (متقدمون) ভুল করেছেন এবং উত্তরসূরিগণ (متأخرون) সঠিক হয়েছেন, অথচ সে বিষয়ে উত্তরসূরিদের জন্য পূর্বসূরিদের কোনো আদর্শ বা পূর্বনিদর্শন নেই।
আল-হারিস ইবনে আলী আল-হাসানী
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় (مهمة)যে ব্যক্তি পূর্বসূরিদের (متقدمون) মানহাজ বা পদ্ধতির আলোকে হাদিস চর্চা ব্যতিরেকে ফতোয়া প্রদান ও ফিকহ চর্চায় নিয়োজিত হয়, সে নিজে পথভ্রষ্ট হয়েছে এবং অন্যকেও পথভ্রষ্ট করেছে। কেননা, একজন ফকিহ (فقيه) ততক্ষণ পর্যন্ত প্রকৃত ফকিহ হতে পারেন না, যতক্ষণ না তিনি মুহাদ্দিস (محدث) হন; তবে অনেক সময় একজন মুহাদ্দিস ফকিহ নাও হতে পারেন।
আল-হারিস ইবনে আলী আল-হাসানী
(খণ্ড: ১)
মুনতাকাল আলফায বিতাকরীবী উলূমিল হাদীস লিল হুফফায
(পৃষ্ঠা: ৯)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة المؤلفالحَمْدُ لله وَالصَّلَاةُ والسَّلَامُ عَلَى رَسُوْلِ الله وَالنَّبِيِّين وَمَنْ تَبِعَهُم، وَبَعْد:
فَهَذِه رِسَالَةٌ لِلمُبْتَدِئين، جَعَلتُهَا مَدْخَلًا لَهم إلى عُلُوم الحَدِيثِ، بِمَنزِلَةِ المَفَاتِيْح يَفْتَحُ بِهَا طَالِبُ العِلمِ المُبْتَدِئُ أبْوَابَ هَذَا العِلمِ، لِيَلِجَ ابْتِدَاءً، وَيَسْتَعِيْن بِهَا تَوَسُّطًا وَانْتِهَاءً.
صَيَّرْتُ مَبَاحِثَهَا عَلَى سِتٍّ:
الأوَّل: تَعْرِيْفَاتُ المُصْطَلَحَاتِ الحَدِيثِيَّةِ، وَجَعَلتُهَا مُسْتَوْفَاة لَا مُجَرَّد ألفَاظٍ اصْطِلَاحِيَّة، وَعُنِيْتُ بِذِكْرِ اصْطِلَاحَاتِ الُمتَقَدِّمِيْن فِي كُلِّ مَبْحَثٍ مِنْ مَبَاحِثِ المصْطَلَح، مَع ذِكْرِ بَعْضِ اصْطِلَاحَاتِ المُتَأخِّرِيْن، فَلَم أكْتَفِ بِذِكْر الاصْطِلَاحِ عَلَى طَرِيْقَةِ المُتَأخِّرِيْن، كَمَا فَعَلَ مَنْ صَنَّفَ مِنْ بَعْدِ الحاكم، وَأرْدَفْتُهَا بِأهَمِّ قَوَاعِدِ وَضَوَابِطِ عُلُوْمِ الحَدِيثِ الَّتِي تَكْثُرُ حَاجَةُ طَالِبِ الحَدِيثِ لَهَا.
الثَّانِي: ذِكْرُ رُوَاةِ الأحَادِيْثِ الثِّقَاتِ المُكْثِرِيْن الَّذِيْن دَارَت عَلَيْهِم الأسَانِيْدُ، مَنْ يَحْفَظُ أسْمَاءَهُم وَألقَابَهُم وَكُنَاهُم وَأنْسَابَهُم: يَحْفَظُ أُصُولَ الأسَانيْدِ الصَّحِيْحَة، وَعَقَّبْتُ هَذَا المبْحَث بِذِكْرِ جُمْلَةٍ مِن الأُمُورِ الُمهِمَّة الَّتي تهمُ البَاحِثَ فِي الرُوَاةِ العِلَلِ لِتكُونَ مُتَّكئًا لَهُ فِي التَّعَامُلِ مَع الأسَانِيد.
الثَّالِث: ذِكْرُ الأُصُولِ الجَوَامِع المُسْنَدةِ الصَّحِيْحَةِ الَّتي بِحِفْظِهَا تُحْفَظُ أُصُولُ الأحَادِيث الَّتي عَلَيْهَا مَدَارُ العِلمِ، وَبِحِفْظِ أسَانيدِهَا تُحْفَظُ جُملَةٌ مِن الأسَانيدِ الصَّحِيْحَةِ.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
লেখকের ভূমিকাসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূল, সকল নবীগণ এবং তাঁদের অনুসারীদের ওপর। অতঃপর:
এটি নবীনদের জন্য একটি ক্ষুদ্র পুস্তিকা, যা আমি হাদিস শাস্ত্রের প্রবেশদ্বার হিসেবে তৈরি করেছি; এটি চাবিকাঠির সমতুল্য যা দিয়ে একজন নবীন শিক্ষার্থী এই ইলমের দুয়ারসমূহ উন্মোচন করতে পারবে, যাতে সে প্রারম্ভিক পর্যায়ে এতে প্রবেশ করতে পারে এবং মধ্যম ও শেষ পর্যায়ে এর দ্বারা সাহায্য লাভ করতে পারে।
আমি এর আলোচ্য বিষয়সমূহকে ছয়টি ভাগে বিন্যস্ত করেছি:
প্রথম: হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষাগুলোর (المصطلحات) সংজ্ঞা; আমি এগুলোকে কেবল পারিভাষিক শব্দ হিসেবে নয়, বরং পূর্ণাঙ্গরূপে উপস্থাপন করেছি। পরিভাষার প্রতিটি আলোচনায় আমি পূর্বসূরিদের (المتقدمين) পরিভাষা উল্লেখ করার ব্যাপারে যত্নবান হয়েছি, সাথে উত্তরসূরিদের (المتأخرين) কিছু পরিভাষাও উল্লেখ করেছি। আমি কেবল উত্তরসূরিদের (المتأخرين) অনুসৃত পদ্ধতিতে পরিভাষা (اصطلاح) উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হইনি, যেমনটি হাকিম-পরবর্তী গ্রন্থকারগণ করেছেন। আমি এর সাথে হাদিস শাস্ত্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু মূলনীতি (قواعد) ও বিধিবিধান (ضوابط) যুক্ত করেছি, যা একজন হাদিস শিক্ষার্থীর জন্য একান্ত প্রয়োজন।
দ্বিতীয়: হাদিসের সেই নির্ভরযোগ্য (الثقات) ও অধিক হাদিস বর্ণনাকারী (المكثرين) বর্ণনাকারীদের (الرواة) আলোচনা, যাদেরকে কেন্দ্র করেই সনদসমূহ (الأسانيد) আবর্তিত হয়েছে। যারা তাদের নাম, উপাধি, উপনাম (كنى) ও বংশপরিচয় (أنساب) মুখস্থ রাখবে, সে মূলত বিশুদ্ধ (الصحيحة) সনদসমূহের (الأسانيد) মূল ভিত্তিগুলোই (أصول) মুখস্থ রাখল। বর্ণনাকারীদের ত্রুটি (العلل) অনুসন্ধানকারী একজন গবেষকের জন্য সহায়ক হয় এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করে আমি এই আলোচনার ইতি টেনেছি, যাতে সনদ (الأسانيد) যাচাইয়ের ক্ষেত্রে এগুলো তার জন্য অবলম্বন হিসেবে কাজ করে।
তৃতীয়: সেই মূল ও সনদযুক্ত (المسندة) বিশুদ্ধ (الصحيحة) জামে গ্রন্থসমূহের (الجوامع) আলোচনা, যা মুখস্থ করার মাধ্যমে হাদিসের সেই মূল বিষয়গুলো সংরক্ষিত হয় যার ওপর ইলমের ভিত্তি দাঁড়িয়ে আছে; আর এগুলোর সনদসমূহ (الأسانيد) মুখস্থ করার মাধ্যমে অসংখ্য বিশুদ্ধ (الصحيحة) সনদ (الأسانيد) সংরক্ষিত হয়।
(খণ্ড: ১)
মুনতাকাল আলফায বিতাকরীবী উলূমিল হাদীস লিল হুফফায
(পৃষ্ঠা: ১০)
الرَّابِع: ذِكْرُ الأحَادِيْثِ وَالأبْوَابِ الَّتِي لَا يَصِحُّ فِيْهَا حَدِيْث، وَبِحِفْظِ هَذِه تُضْبَطُ مِئَاتُ الأحَادِيْثِ الضَّعِيفَةِ دُونَ الحَاجَةِ إِلى النَّظَرِ فِي أسَانيدِهَا، أو الحَاجَةِ إِلى عَالِمٍ يُبيِّنُ لَنَا صِحَّتَهَا مِن ضَعْفِهَا.
الخَامِس: مُلَخَّصٌ مُحرَّرٌ فِي بَيَانِ أُصُولِ الاخْتِلَافِ بَيْن المُتَقَدِّمِيْن والُمتَأخِّرِيْن، وَفَضْل مَنْ لَهُ الفَضْلُ مِنْهُم عَلَى الآخَرِ، وَذِكْر الفَوَارِقِ المَنْهَجِيَّةِ بَيْنَهُم، وَالتَّدْلِيْل عَلَيْهَا وَاحِدًا وَاحِدًا، وَذِكْر شَيءٍ مِنْ تَعَامُلَاتِهم مَع الحَدِيثِ وَعُلُومِهِ، لِيَتَبيَّن الطَّالِبُ البَوْنَ الشَّاسِع بَيْن الفَرِيْقَيْنِ، وَلِئَلَّا يَغْتَرَّ بِصَنيْعِ الُمتَأخِّرِيْن فِي هَذَا العِلم.
السَّادِس: مُنْتَقَى بِأهَمِّ مَا يَحْتَاجُهُ طَالِبُ عِلمِ الحَدِيثِ المُبْتَدِئ مِن كُتُبِ الحَدِيثِ: مُتُوْنهَا، وَأُصُوْل مُصْطَلَحِهَا، وَجَرْحِهَا وَتَعْدِيْلِهَا، وَعِلَلِهَا، وَتَخْرِيجِهَا، وَمَنَاهِج مُصَنِّفِيْهَا.
وَخِتَامًا لا يَفُوتُنِي أنْ أشْكُرَ شَيْخَنَا العَلَّامَة المُحَدِّث صُبْحِي السَّامَرَائِي لمِا بَذَلَهُ مِنْ قِرَاءَةِ الكِتَابِ وَالتَفَضُّل بِالتَقْدِيمِ لَه، وَمَا أكْثْرَ تَفَضّله عَلَيَّ بَعْدَ الله حَفِظَهُ اللهُ وَأطَالَ عُمُرَهُ وَأحْسَنَ عَمَلَه (1).
هَذَا وَاللهَ أسْألُ أنْ يَجْعَلَ هذه الرسالة خَالصَةً لِوَجْهِهِ، وَعَلَى مُرَادِهِ، وَأنْ يَنْفَعَ بِهَا، وَيُبَارِكَهَا، وَيَتَقَبَّلَهَا، وَيَجعَلَهَا سَبَبًا لِكَفِّ وَجْهِي عَن النَّار.
وَصَلَّى اللهُ وَسَلَّمَ وَبَارَك عَلَى نَبِيِّنَا مُحَمَّد وَآلِهِ وَصَحْبِهِ وَمَن تَبِعَهُم.
وَكَتَبَ
أبو عَلِيّ
الحَارِثُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ العَزِيْزِ الحَسَنِيّ
--------------------------------------------
চতুর্থ: সেই সকল হাদিস ও অধ্যায়গুলোর আলোচনা যাতে কোনো হাদিসই সহিহ (صحيح) নয়; এগুলো মুখস্থ রাখার মাধ্যমে শত শত দুর্বল (ضعيفة) হাদিস শনাক্ত করা সম্ভব হবে, সেগুলোর সনদ (أسانيد) পর্যালোচনার প্রয়োজন ছাড়াই অথবা কোনো আলেম কর্তৃক সেগুলোর বিশুদ্ধতা (صحة) ও দুর্বলতা (ضعف) বর্ণনার মুখাপেক্ষী হওয়া ব্যতিরেকেই।
পঞ্চম: পূর্ববর্তী (المتقدمين) ও পরবর্তী (المتأخرين) পণ্ডিতগণের মধ্যকার মতভেদের মূলনীতিসমূহের একটি পরিমার্জিত সারসংক্ষেপ, তাঁদের মধ্যে একে অপরের ওপর শ্রেষ্ঠত্বের বর্ণনা, উভয়ের মধ্যকার পদ্ধতিগত পার্থক্যের উল্লেখ ও সেগুলোর সবিস্তার প্রমাণ উপস্থাপন এবং হাদিস ও এর উলুমের ক্ষেত্রে তাঁদের কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে আলোকপাত; যাতে শিক্ষার্থী এই দুই দলের মধ্যকার বিশাল ব্যবধান বুঝতে পারে এবং এই ইলমের ক্ষেত্রে পরবর্তী (المتأخرين) যুগের আলিমদের অনুসৃত পদ্ধতির দ্বারা বিভ্রান্ত না হয়।
ষষ্ঠ: হাদিস শাস্ত্রের একজন প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীর জন্য প্রয়োজনীয় হাদিসের কিতাবসমূহের একটি নির্বাচন: সেগুলোর মতন (متون), পরিভাষার মূলনীতি (مصطلح), জারহ ও তাদীল (جرح وتعديل), ইল্লাত (علل), তাখরিজ (تخريج) এবং গ্রন্থকারগণের কর্মপদ্ধতি বিষয়ক গ্রন্থাবলি।
পরিশেষে, আমি আমাদের শায়খ আল্লামা মুহাদ্দিস সুবহি আস-সামাররায়ীকে ধন্যবাদ জানাতে ভুলছি না, তিনি বইটি পাঠ করেছেন এবং এর ভূমিকা লিখে দেওয়ার অনুগ্রহ করেছেন। আল্লাহর পরে আমার প্রতি তাঁর অনেক অনুগ্রহ রয়েছে; আল্লাহ তাঁকে হিফাজত করুন, তাঁর হায়াত বৃদ্ধি করুন এবং তাঁর আমলসমূহকে উত্তম করুন (১)।
আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন এই রিসালাহ বা পুস্তিকাটিকে কেবল তাঁর সন্তুষ্টির জন্য এবং তাঁরই ইচ্ছানুযায়ী কবুল করেন, এর দ্বারা কল্যাণ দান করেন, এতে বরকত প্রদান করেন এবং একে আমার মুখমণ্ডলকে জাহান্নাম থেকে রক্ষার উসিলা বানিয়ে দেন।
আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবায়ে কিরাম এবং তাঁদের অনুসারীদের ওপর আল্লাহর শান্তি, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক।
লিখক
আবু আলী
আল-হারিস ইবন আলী ইবন আব্দুল আজিজ আল-হাসানি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুনতাকাল আলফায বিতাকরীবী উলূমিল হাদীস লিল হুফফায
(পৃষ্ঠা: ১১)
مَدْخَل أهَمُّ وَأشْهَرُ المُصَنَّفَاتِ في عُلُومِ الحَدِيث قَدِيْمًا وَحَدِيْثًالم يُصنف المتقدمون من طبقة الكبار في المصطلح مصنفات مستقلة؛ فقد كانوا يتعاملون مع هذا الفن عمليًا، ولهذا قَلَّتْ كتابتهم فيه، أو عُدِمت، فقد كانوا يعتمدون على الفهم والحفظ، وإعمال القرائن، ولم يكونوا يعتبرون القواعد حاكمة إلا بالجملة، وهي محفوظة في أذهانهم، خاضعة عندهم للقرائن غالبًا، فالقواعد عندهم عصى الأعمى، وقوالب غير متسعة، حتى جاء المتأخرون فركنوا إلى الدِعَة وجعلوا هذا العلم عبارة عن قوالب، وأخضعوه لقواعد صمَّاء ضيقة جامدة، وأهملوا القرائن.
فكانت مظانّ أصول علم الحديث عموم المصنفات الحديثية: ككتب المتون، وكتب الجرح والتعديل، وكتب العلل، وكتب السؤالات، وكتب الأجزاء.
ففي كتب المتون: كما في "سنن الدارمي" كثير من أصول علم الحديث، وكذا في "صحيح البخاري" جملٌ كثيرةٌ في مسائل علوم الحديث، وكذا في مقدمة "صحيح مسلم" وفي "جامع الترمذي" جمل كثيرة مبثوثة عقب أحاديثه، ثم ختمه بجزء نفيسٍ عُرِف بالعلل الصغير، وفي "رسالة "أبي داود إلى أهل مكة" ولم تخل "سنن النسائي" من بعض مباحث علوم الحديث وإن قَلَّت.
وفي كتب الجرح والتعديل: ككتاب "التاريخ الكبير" للبخاري، و "المعرفة والتاريخ" للفَسَوي، و "مقدمة الجرح والتعديل" لابن أبي حاتم.
وفي كتب العلل: كما في "علل ابن أبي حاتم"، و "علل الدارقطني" وفيها أصول منهج، التعليل (1)، وفي كتب السؤالات: كما في "سؤالات ابن أبي شيبة لابن المديني"، وسؤالات" "أبي داود للإمام أحمد، و "سؤالات الدارمي لابن معين".
--------------------------------------------
প্রবেশিকা: প্রাচীন ও আধুনিক যুগে হাদিস শাস্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ ও প্রসিদ্ধ কিতাবসমূহপূর্ববর্তী বড় স্তরের (المتقدمون) আলেমগণ হাদিসের পরিভাষা (المصطلح) বিষয়ে স্বতন্ত্র কোনো গ্রন্থ রচনা করেননি; কারণ তারা এই শাস্ত্রের সাথে প্রায়োগিক পদ্ধতিতে সম্পৃক্ত ছিলেন। একারণে এই বিষয়ে তাদের লেখালেখি ছিল খুবই নগণ্য অথবা একবারেই ছিল না। তারা মূলত প্রজ্ঞা, মুখস্থশক্তি এবং পারিপার্শ্বিক আলামত (قرائن) প্রয়োগের ওপর নির্ভর করতেন। তারা নির্দিষ্ট নিয়ম-কানুনকে কেবল সাধারণভাবে প্রযোজ্য বলে মনে করতেন; যা তাদের অন্তরে সংরক্ষিত ছিল এবং প্রায়শই তা পারিপার্শ্বিক আলামত (قرائن)-এর ওপর নির্ভরশীল ছিল। তাদের নিকট এই নিয়মগুলো ছিল অন্ধের হাতের লাঠির মতো এবং সংকীর্ণ ছাঁচে বাঁধা ছিল না। কিন্তু পরবর্তী প্রজন্মের (المتأخرون) আগমন ঘটলে তারা আয়েশি মনোভাব গ্রহণ করেন এবং এই শাস্ত্রকে কতগুলো ছাঁচে রূপান্তর করেন। তারা একে কিছু নিরেট, সংকীর্ণ ও স্থবির নিয়মের অধীন করে ফেলেন এবং পারিপার্শ্বিক আলামতসমূহকে (قرائن) অবহেলা করেন।
হাদিস শাস্ত্রের মূলনীতিসমূহের উৎস ছিল সাধারণ হাদিস বিষয়ক সংকলনসমূহ: যেমন হাদিসের মূলপাঠ (متون)-এর কিতাবসমূহ, বর্ণনাকারী মূল্যায়ন ও সমালোচনা (الجرح والتعديل)-এর কিতাবসমূহ, হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি (علل)-সংক্রান্ত কিতাবসমূহ, প্রশ্নাবলী (سؤالات)-সম্বলিত কিতাবসমূহ এবং ক্ষুদ্র সংকলন (الأجزاء) গ্রন্থসমূহ।
হাদিসের মূলপাঠ (متون)-সংক্রান্ত কিতাবগুলোর মধ্যে: যেমন "সুনান আদ-দারিমি"-তে হাদিস শাস্ত্রের অনেক মূলনীতি রয়েছে। তদ্রূপ "সহিহ বুখারি"-তে হাদিস শাস্ত্রের বিভিন্ন মাসআলায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা রয়েছে। একইভাবে "সহিহ মুসলিম"-এর মুকাদ্দিমায় এবং "জামে তিরমিযি"-তে হাদিস বর্ণনা করার পর পর প্রচুর আলোচনা ছড়িয়ে রয়েছে। ইমাম তিরমিযি তার কিতাবটি একটি মূল্যবান অংশ দিয়ে সমাপ্ত করেছেন যা "ইলালুস সাগির" (العلل الصغير) নামে পরিচিত। এছাড়া আবু দাউদের "রিসালাতু আবি দাউদ ইলা আহলি মাক্কাহ"-তেও অনেক মূলনীতি রয়েছে। এমনকি "সুনান আন-নাসায়ি"-ও হাদিস শাস্ত্রের কিছু আলোচনা থেকে মুক্ত নয়, যদিও তার পরিমাণ কম।
বর্ণনাকারী মূল্যায়ন ও সমালোচনা (الجرح والتعديل)-সংক্রান্ত কিতাবগুলোর মধ্যে রয়েছে: ইমাম বুখারির "আত-তারিখুল কবির", আল-ফাসায়ির "আল-মারিফাতু ওয়াত তারিখ" এবং ইবনে আবি হাতিমের "মুকাদ্দিমাতুল জারহি ওয়াত তাদিল"।
হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি (علل)-সংক্রান্ত কিতাবগুলোর মধ্যে রয়েছে: যেমন "ইলাল ইবনি আবি হাতিম" এবং "ইলালুদ দারাকুতনি"; এগুলোতে ত্রুটি নির্ণয় (التعليل) পদ্ধতির মূলনীতি রয়েছে (১)। আর প্রশ্নাবলী (سؤالات)-সংক্রান্ত কিতাবগুলোর মধ্যে রয়েছে: যেমন ইবনুল মাদিনির নিকট ইবনে আবি শায়বার "সুয়ালাত", ইমাম আহমাদের নিকট আবু দাউদের "সুয়ালাত" এবং ইবনে মায়িনের নিকট আদ-দারিমির "সুয়ালাত"।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুনতাকাল আলফায বিতাকরীবী উলূমিল হাদীস লিল হুফফায
(পৃষ্ঠা: ১২)
وفي كتب الأجزاء: كجزء عبد الله بن الزبير الحميدي. و "معرفة المتصل" للبَردِيجي، وقد هُجِرت هذه الكتب بالنسبة لأخذ أصول هذا العلم منها، ومن هنا نشأ الخطأ في فهم هذا العلم، والتباين الحاصل بين المتقدمين والمتأخرين، نعم قد يكون السبب الرئيس لهجر الأخذ من هذه الكتب أن الأقوال متناثرة فيها غير مجموعة في موضع واحد، مما شق على الكسول والمُتعجِّل والمقلِّد النظر فيها، ولو سبر أحدٌ هذه المصنفات لأتى على كل مباحث المصطلح عند المتقدمين، حتى جاء القرن الرابع الهجري فتوجهت أنظار بعض العلماء إلى جمع تلك المباحث والقواعد المتفرقة.
فكتب ابن حبان مقدمات كتبه "التقاسيم والأنواع" (1)، "المجروحين" و "الثقات"، ثم صنف الرَّامَهُرْمُزِيُّ كتابه "المحدِّث الفاصل بين الراوي والواعي" وكذا أبو سليمان، الخطَّابي فيما كتبه في مقدمة كتابه "معالم السنن" وتبعهم أبو الحسن القابسي في مقدمة كتابه "مختصر الموطأ" المعروف بالملخَّص، وصنف ابن مَنْدَه في شروط الأئمة، وكتاب الحاكم، "المدخل إلى الإكليل" ثم صنف الحاكم كتابه العظيم "معرفة علوم الحديث" (2)، ووضع عليه أبو نعيم الأصبهاني مستخرجًا، نسجه على منواله (3).
ثم صنف الخطيب البغدادي "الكفاية في علم الرواية" (4)، ثم "الجامع لأخلاق الراوي "وآداب السامع" وهو خاص بأدب الرواية، ثم صنف ابن طاهر المقدسي "شروط الأئمة الستة" وهو جزء صغير.
وصنف القاضي عياض "الإلماع" وصنف أبو موسى المديني "خصائص مسند أحمد"
--------------------------------------------
এবং 'জুজ' (অংশ) সংশ্লিষ্ট গ্রন্থসমূহের মধ্যে: যেমন আবদুল্লাহ ইবনে জুবায়ের আল-হুমাইদির 'জুজ'। এবং বারদিজি-র 'মা'রিফাতুল মুত্তাসিল', এই ইলমের উসুল (মূলনীতি) গ্রহণের ক্ষেত্রে এই বইগুলো বর্জন করা হয়েছে; আর এখান থেকেই এই ইলম বোঝার ক্ষেত্রে ভুল এবং পূর্বসূরি (المتقدمين) ও উত্তরসূরিদের (المتأخرين) মধ্যে বিদ্যমান পার্থক্যের সৃষ্টি হয়েছে। হ্যাঁ, এই বইগুলো থেকে শিক্ষা গ্রহণ বর্জনের প্রধান কারণ হতে পারে এই যে, এতে বক্তব্যগুলো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে, এক স্থানে একত্রিত নয়। ফলে অলস, তড়িঘড়ি করা ব্যক্তি এবং মুকাল্লিদ বা অন্ধ অনুসারীদের জন্য এগুলো দেখা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। যদি কেউ এই সংকলনগুলো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ (سبر) করতেন, তবে তিনি পূর্বসূরিদের (المتقدمين) নিকট মুসতালাহ বা পরিভাষা সংক্রান্ত সকল আলোচ্য বিষয় পেয়ে যেতেন। পরিশেষে চতুর্থ হিজরি শতাব্দী আগত হলে কিছু আলিমের দৃষ্টি সেই বিক্ষিপ্ত আলোচনা ও মূলনীতিগুলো একত্রিত করার দিকে নিবদ্ধ হয়।
ফলে ইবনে হিব্বান তার গ্রন্থসমূহের ভূমিকা লিখলেন, যেমন: 'আত-তাকাসিম ওয়াল আনওয়া' (১), 'আল-মাজরুহিন' (المجروحين) এবং 'আস-সিকাত' (الثقات)। এরপর আর-রামাহুরমুজি তার গ্রন্থ 'আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল বাইনার রাবি (الراوي) ওয়াল ওয়াঈ (الواعي)' রচনা করেন। একইভাবে আবু সুলায়মান আল-খাত্তাবি তার গ্রন্থ 'মাআলিমুস সুনান'-এর ভূমিকায় যা লিখেছেন। তাদের অনুসরণ করেন আবু হাসান আল-কাবিছি তার গ্রন্থ 'মুখতাসারুল মুয়াত্তা'-এর ভূমিকায়, যা 'আল-মুলাখখাস' নামে পরিচিত। ইবনে মানদাহ 'শুরুতুল আইম্মাহ' (ইমামদের শর্তাবলি) বিষয়ে এবং আল-হাকিম 'আল-মাদখাল ইলাল ইকলিল' রচনা করেন। এরপর আল-হাকিম তার মহান গ্রন্থ 'মা'রিফাতু উলুমিল হাদিস' (২) রচনা করেন, এবং আবু নুআইম আল-আসফাহানি এর ওপর একটি মুসতাখরাজ (مستخرج) লিখেন যা তিনি আল-হাকিমের পদ্ধতির অনুকরণে সাজিয়েছেন (৩)।
এরপর খতিব আল-বাগদাদি 'আল-কিফায়া ফি ইলমির রিওয়ায়াহ' (الرواية) (৪), এবং 'আল-জামি লি-আখলাকির রাবি (الراوي) ওয়া আদাবিস সামি (السامع)' রচনা করেন, যা বর্ণনার আদব সংশ্লিষ্ট। এরপর ইবনে তাহির আল-মাকদিসি 'শুরুতুল আইম্মাতুস সিত্তাহ' রচনা করেন, যা একটি ছোট 'জুজ' বা পুস্তিকা।
কাযী ইয়াজ 'আল-ইলমা' এবং আবু মুসা আল-মাদিনি 'খাসাইসু মুসনাদি আহমাদ' রচনা করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুনতাকাল আলফায বিতাকরীবী উলূমিল হাদীস লিল হুফফায
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وصنف أبو حفص المَيَانَجِيّ "إيضاح ما لا يسع المحدث جهله" (1)، وصنف الحازمي "شروط الأئمة الخمسة".
ثم جاء المتأخرون (2)، فصنف ابن الصلاح كتابه "معرفة أنواع علم الحديث" المشهور بمقدمة ابن الصلاح، حاول فيه جمع شتات ما تقدم مما كُتب في المصطلح، وعليه بنى المتأخرون مصنفاتهم في علوم الحديث، وهو عمدة المتأخرين وقبلتهم في تصانيفهم، فمنهم من اختصره ومنهم من نظمه ومنهم من نكَّتَ عليه، ومنهم من شرحه، فمن مختصراته: "إرشاد طلاب الحقائق" للنووي (3). و "الخلاصة" لحسن بن محمد الطيبي، و "المُقنع" لابن المُلَقِّن، و "اختصار علوم الحديث" لابن كثير، و "الاقتراح" لابن دقيق العيد (4)، ومن شروحه "إصلاح كتاب ابن الصلاح" لابن اللبَّان. و "إصلاح ابن الصلاح" لمُغُلْطَاي. و "الجواهر الصحاح" لابن جَمَّاعَة.
ومن النكت عليه: "النكت"، للزركَشِي، و "التقييد والإيضاح" للعراقي، و "النكت" لابن حجر.
ومن منظوماته وشروحها: "ألفية العراقي"، شرحها السخاوي في "فتح المغيث"، و "ألفية السيوطي"، شرحها هو نفسه في "البحر الذي زَخَر".
وقد مارستُ مصنفات المصطلح المشهورة عند المتأخرين فرأيت أجلَّهَا وأشهَرَها عندهم: "الكفاية" للخطيب، و "مقدمة" ابن الصلاح، و "الموقظة" للذهبي، و "النخبة" لابن حجر. و "المنظومة البيقونية" للبيقوني، و "الألفية" للعراقي، و "فتح المغيث" للسخاوي، و "تدريب الراوي" للسيوطي، و "نكت" العراقي، و "نكت" ابن حجر (5).
--------------------------------------------
আবু হাফস আল-মায়ানাজি "ইদাহ মা লা ইয়াসাউল মুহাদ্দিসা জাহলাহু" (১) রচনা করেন এবং আল-হাযিমি "শুরুতুল আইম্মাতিল খামসাহ" রচনা করেন।
অতঃপর পরবর্তীগণ (المتأخرون) (২) আসলেন এবং ইবনুল সালাহ তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ "মারিফাতু আনওয়াই ইলমিল হাদিস" রচনা করেন, যা মুকাদ্দিমাহ ইবনুল সালাহ নামে পরিচিত। এতে তিনি হাদিস পরিভাষা (مصطلح) বিষয়ক পূর্বে রচিত বিক্ষিপ্ত বিষয়গুলোকে একত্রিত করার প্রয়াস পেয়েছেন। তাঁর এই গ্রন্থের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তীগণ (المتأخرون) হাদিস বিজ্ঞানের ওপর তাঁদের গ্রন্থসমূহ রচনা করেছেন। এটি পরবর্তীদের জন্য নির্ভরযোগ্য অবলম্বন (عمدة) এবং তাঁদের রচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু (قبلة); তাঁদের মধ্যে কেউ একে সংক্ষেপ (اختصار) করেছেন, কেউ একে কাব্যরূপ (نظم) দিয়েছেন, কেউ এর ওপর টিকা (نكت) লিখেছেন, আবার কেউ এর ব্যাখ্যা (شرح) করেছেন। এর সংক্ষেপিত রূপসমূহের (مختصرات) মধ্যে রয়েছে: ইমাম নববীর "ইরশাদু তুল্লাবিল হাকাইক" (৩), হাসান বিন মুহাম্মদ আল-তীবির "আল-খুলাসাহ", ইবনুল মুলাক্কিনের "আল-মুকনি", ইবনে কাসীরের "ইখতিসারু উলুমিল হাদিস" এবং ইবনে দাকীকুল ঈদের "আল-ইকতিরাহ" (৪)। আর এর ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহের (شروح) মধ্যে রয়েছে: ইবনুল লাব্বানের "ইসলাহু কিতাবি ইবনিস সালাহ", মুগুলতাঈ-এর "ইসলাহু ইবনিস সালাহ" এবং ইবনে জামা’আর "আল-জাওয়ারিহুস সিহাহ"।
এর ওপর রচিত টিকাগ্রন্থসমূহের (نكت) মধ্যে রয়েছে: যারকাশীর "আন-নুকাত", ইরাকীর "আত-তাকয়ীদ ওয়াল ইদাহ" এবং ইবনে হাজারের "আন-নুকাত"।
এর কাব্যগ্রন্থ (منظومات) ও সেগুলোর ব্যাখ্যাসমূহের (شروح) মধ্যে রয়েছে: "আলফিয়াতুল ইরাকী", যার ব্যাখ্যা সাখাবী "ফাতহুল মুগীস" গ্রন্থে করেছেন এবং "আলফিয়াতুস সুয়ূতী", যার ব্যাখ্যা তিনি নিজেই "আল-বাহরুল্লাযী যাখার" গ্রন্থে করেছেন।
আমি পরবর্তীদের (المتأخرون) নিকট প্রসিদ্ধ হাদিস পরিভাষার (مصطلح) গ্রন্থসমূহ পর্যালোচনা করেছি এবং সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে মহিমান্বিত ও বিখ্যাত হিসেবে দেখেছি: খতীবের "আল-কিফায়াহ", ইবনুল সালাহর "মুকাদ্দিমাহ", যাহাবীর "আল-মুকিযাহ", ইবনে হাজারের "আন-নুখবাহ", আল-বাইকুনীর "আল-মানযুমাতুল বাইকুনিয়াহ", ইরাকীর "আল-আলফিয়াহ", সাখাবীর "ফাতহুল মুগীস", সুয়ূতীর "তাদরীবুর রাবী", ইরাকীর "নুকাত" এবং ইবনে হাজারের "নুকাত" (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুনতাকাল আলফায বিতাকরীবী উলূমিল হাদীস লিল হুফফায
(পৃষ্ঠা: ১৪)
هذا وغالب من كتبَ في الباب على طريقة المتأخرين، إلا ابن رجب، فإنه حَرَّرَ منهج المتقدمين، بل كل من صنف في علوم الحديث بعد ابن حجر إنما ينقل عنه من مصنفاته كـ "النخبة" و "النزهة" و "هدي الساري"، فكأنَّ المصنف ابن حجر نفسه.
حتى جاء عبد الرحمن المُعَلِّمِي فتابع ابن رجب، وحرَّر كثيرًا من مباحث المصطلح، ونقى كثيرًا من قواعده التي اندرست وهجرها المشتغلون، ثم شرع جمعٌ من المعاصرين يكتبون في تحرير مباحث هذا العلم على طريقة السلف، لتنقيته من أقوال غير أهل الحديث، وأقوال أهل الحديث الذين تأثروا بغير أهل الحديث، منهم محمد عمرو بن عبد اللطيف - رحمه الله تعالى -، والحافظ عبد الله بن عبد الرحمن السعد، وهما المقدَّمان على المعاصرين، وأبو المعاطي النوري - رحمه الله تعالى -، وإبراهيم اللاحم، وعمرو عبد المنعم سليم، وحمزة المِلِّبَارِي، وأضرابهم، فلله درهم.
وهنا أقول: لا بد لطالب العلم بعد هذا أن يأخذ هذا العلم من مصنفات من حرَّر على طريقة المتقدمين، حتى لا يقع في الإشكالات التي سنذكرها في موضعها إن شاء الله من هذه الرسالة (1).
وسيتبين لكَ جليًّا بإذن الله أنَّ المتأخرين لا يحسنون هذا الفن كما يحسنه المتقدمون، بل حرفوا منهاجه وأفسدوه علينا، مما جرَّ إلى قَلبِ الحقائق الشرعية.
* * *
--------------------------------------------
বস্তুত, এই বিষয়ে যারা লিখেছেন তাদের অধিকাংশ পরবর্তী প্রজন্মের (متأخرين) পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন, তবে ইবনে রজব ব্যতীত; কেননা তিনি পূর্ববর্তী প্রজন্মের (متقدمين) মানহাজ বা পদ্ধতিকে সুসংজ্ঞায়িত করেছেন। বরং ইবনে হাজারের পরবর্তী সময়ে হাদিস বিজ্ঞানে (علوم الحديث) যারা গ্রন্থ রচনা করেছেন, তারা সবাই তাঁরই রচিত গ্রন্থসমূহ—যেমন "নুখবাহ", "নুযহাহ" এবং "হাদিউস সারি" থেকে উদ্ধৃতি গ্রহণ করেছেন; যেন গ্রন্থকার স্বয়ং ইবনে হাজারই।
পরবর্তীতে আব্দুর রহমান আল-মুয়াল্লিমি এসে ইবনে রজবকে অনুসরণ করেন এবং পরিভাষার (مصطلح) অনেক বিষয় সুসংজ্ঞায়িত করেন। তিনি এই শাস্ত্রের অনেক নিয়মকে পরিমার্জিত করেন যা বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল এবং চর্চাকারীরা তা বর্জন করেছিল। এরপর একদল সমসাময়িক আলেম সালাফদের (سلف) পদ্ধতিতে এই শাস্ত্রের বিষয়গুলো পুনরায় সুসংজ্ঞায়িত করার জন্য লিখতে শুরু করেন, যেন এই শাস্ত্রকে অ-আহলুল হাদিসদের মতামত এবং সেই সব আহলুল হাদিসদের কথা থেকে মুক্ত করা যায় যারা অন্যদের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মুহাম্মাদ আমর ইবনে আব্দুল লতিফ (রাহিমাহুল্লাহ), হাফেজ (حافظ) আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান আস-সা’দ—যাঁরা সমসাময়িকদের মধ্যে অগ্রগণ্য—এবং আবু আল-মাতি আন-নুরি (রাহিমাহুল্লাহ), ইব্রাহিম আল-লাহিম, আমর আব্দুল মুন’ইম সালিম, হামজা আল-মালিব্বারি এবং তাঁদের সমগোত্রীয় ব্যক্তিবর্গ; আল্লাহ তাঁদের উত্তম প্রতিদান দিন।
এখানে আমি বলব: এরপর একজন ইলম অন্বেষণকারীর (طالب العلم) জন্য আবশ্যক হলো এই জ্ঞানটি তাদের রচনা থেকে গ্রহণ করা যারা তা পূর্ববর্তী প্রজন্মের (متقدمين) পদ্ধতিতে সুসংজ্ঞায়িত করেছেন, যাতে তিনি সেই জটিলতাগুলোর (إشكالات) মধ্যে না পড়েন যা আমরা ইনশাআল্লাহ এই রিসালার যথাস্থানে উল্লেখ করব (১)।
আল্লাহর ইচ্ছায় আপনার কাছে এটি স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হবে যে, পরবর্তী প্রজন্মের (متأخرين) আলেমগণ এই শিল্প বা বিদ্যায় তেমন পারদর্শী ছিলেন না যেমনটি পূর্ববর্তী প্রজন্মের (متقدمين) আলেমগণ ছিলেন। বরং তাঁরা এর মানহাজ বা পদ্ধতিকে বিকৃত করেছেন এবং আমাদের জন্য তা কলুষিত করেছেন, যা শেষ পর্যন্ত শরয়ি সত্যগুলোকে উল্টে দেওয়ার পর্যায়ে নিয়ে গেছে।
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুনতাকাল আলফায বিতাকরীবী উলূমিল হাদীস লিল হুফফায
(পৃষ্ঠা: ১৫)
المبْحَثُ الأَوَّل مُخْتَصَر التَّعْرِيفَات وَالْقَوَاعِد وَالضَّوَابِطدُونكَ - رحمكَ اللهُ - المُصطَلحات والقوَاعِد والضَوَابِط التي يَحتَاجُهَا طَالبُ الحديث المُبتَدِئ؛ أذكُرُها مُجرَّدَةً مِنْ غَيْرِ تَوسعٍ فِيمَا يَتَعَلَّق بِهَا مِنْ مَبَاحِثِ عُلومِ الحَدِيثِ، لِتَكُونَ لَهُ مَدْخَلًا أوَلِيًا إلَى كُتُبِ المُتونِ وَالعِلَلِ وَالسُؤَالَاتِ وَالجَرْحِ وَالتَعْدِيلِ، وأقتصد في الأمْثِلَة فَأقتَصِرُ عَلَى مِثَالٍ وَاحِدٍ لِئَلا يَطُولُ الكِتَابُ.
دَقِيْقَةٌ مُهِمَّةٌ لَا بُدَّ مِنْ ضَبْطِهَاليعلم طالب علم الحديث: أنه ليس يصلح أن يصنف أحدٌ رسالةً في علوم الحديث وينتقي فيها تعريف عالم ما لمصطلح يقْصُر عليه كل المعاني عند باقي العلماء.
وذلك أنَّ لكل عالم اصطلاحه الخاص به ومراده الذي يعنيه هو، والذي يجب أن يتميز عن اصطلاح غيره، حتى لا تختلط المصطلحات، وتُسْتَشكَل المفاهيم، وتتضارب الأحكام على الأحاديث.
فعلى سبيل المثال: لو أن أحدًا صنف في المصطلح وانتقى في تعريف الحديث الحسن قول من قال: إنه رواية من خَفَّ ضبطه، وترك باقي التعاريف التي جاءت عن علماء آخرين، فإن من يصنع هذا يجعل طالب العلم لا يعرف في تعريف الحسن إلا هذا المعنى، ولن يتبادر إلى ذهنه كلما قرأ لفظ الحسن لعالم ما إلا أن مراده هذا المعنى دون غيره، في حين قد يكون مراده غير هذا المعنى في معاني تعريف الحسن عند غيره من العلماء (1).
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: সংজ্ঞা, মূলনীতি এবং নিয়মাবলির সংক্ষিপ্তসারআপনার সামনে উপস্থাপিত হলো - আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন - ঐসব পরিভাষা (المصطلحات), মূলনীতি (القواعد) এবং নিয়মাবলি (الضوابط) যা একজন শিক্ষানবিশ হাদিস শিক্ষার্থীর প্রয়োজন; আমি এগুলোকে হাদিস শাস্ত্রের বিস্তৃত আলোচনা ব্যতিরেকে কেবল সংক্ষিপ্তাকারে উল্লেখ করছি, যেন তা মূল পাঠ (মতন), ত্রুটি (العلل), প্রশ্নাবলি এবং জারহ ও তাদিল (الجرح والتعديل) বিষয়ক গ্রন্থাবলির প্রাথমিক প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করে। আমি উদাহরণ দেওয়ার ক্ষেত্রে মিতব্যয়ী হয়েছি এবং একটি মাত্র উদাহরণে সীমাবদ্ধ রেখেছি যাতে গ্রন্থটি দীর্ঘ না হয়।
একটি গুরুত্বপূর্ণ সূক্ষ্ম বিষয় যা আয়ত্ত করা আবশ্যকহাদিস শাস্ত্রের শিক্ষার্থীর জানা উচিত যে: হাদিস শাস্ত্রের (علوم الحديث) ওপর এমন কোনো রিসালা বা পুস্তিকা সংকলন করা কারও জন্য সমীচীন নয় যেখানে তিনি কোনো পরিভাষার (مصطلح) ক্ষেত্রে কেবল একজন আলেমের দেওয়া সংজ্ঞাকেই বেছে নেবেন, যা অন্যান্য আলেমদের নিকট থাকা এর সকল অর্থকে সংকুচিত করে ফেলে।
এর কারণ হলো, প্রত্যেক আলেমেরই নিজস্ব পরিভাষা (اصطلاحه) এবং নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য থাকে যা কেবল তিনিই বুঝিয়ে থাকেন, এবং যেটিকে অন্য আলেমদের পরিভাষা থেকে পৃথকভাবে চেনা আবশ্যক; যাতে পরিভাষাগুলোর (المصطلحات) মধ্যে সংমিশ্রণ না ঘটে, ধারণাগত অস্পষ্টতা তৈরি না হয় এবং হাদিসের ওপর প্রদত্ত হুকুম বা সিদ্ধান্তে বৈপরীত্য দেখা না দেয়।
উদাহরণস্বরূপ: যদি কেউ পরিভাষা শাস্ত্রের (المصطلح) ওপর কিতাব রচনা করেন এবং হাসান (الحسن) হাদিসের সংজ্ঞায় কেবল সেই মতটি গ্রহণ করেন যা বলে যে: 'এটি এমন ব্যক্তির বর্ণনা যার স্মৃতিশক্তি বা সংরক্ষণ ক্ষমতা (ضبطه) কিছুটা দুর্বল', এবং অন্যান্য আলেমদের পক্ষ থেকে বর্ণিত বাকি সংজ্ঞাগুলো বর্জন করেন; তবে এমন কাজ করা ব্যক্তি ইলম অন্বেষণকারীকে হাসান (الحسن) এর সংজ্ঞায় কেবল এই একটি অর্থই শেখায়। ফলে শিক্ষার্থী যখনই কোনো আলেমের বক্তব্যে হাসান (الحسن) শব্দটি পড়বে, তখনই তার মনে এই একটি অর্থই ভেসে আসবে যে তার উদ্দেশ্য কেবল এটাই, অথচ অন্য আলেমদের নিকট হাসান (الحسن) এর সংজ্ঞার ক্ষেত্রে অন্য কোনো অর্থও উদ্দেশ্য হতে পারে (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুনতাকাল আলফায বিতাকরীবী উলূমিল হাদীস লিল হুফফায
(পৃষ্ঠা: ১৬)
شَيءٌ مِنْ فَضْلِ أَهْلِ الحَدِيثقال تعالى: {وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ} [البقرة: 129].
الحكمة: هي السنة.
وفي حديث أبي قِلابة عن أبي أسماء الرحبي، عن ثوبان قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "لا تَزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِي عَلَى الحَقِّ ظَاهِرِينَ، لا يَضُرُّهُمْ مَنْ يَخْذُلهُمْ، حَتَّى يَأتِيَ أمْرُ الله". أخرجه أحمد، ومسلم، وأبو داود، وابن ماجه، والترمذي.
فَهُم الطائفة المنصورة، ولقد ثبت عن أهل العلم أن المراد بهذه الطائفة هم أهل الحديث، منهم: عبد الله بن المبارك، وابن المديني، وأحمد، والبخاري. انظر "سنن الترمذي" (2192) و "الإلماع" للقاضي عياض (1/ 27).
وثبت عنه صلى الله عليه وسلم أنه قال: "نَضَّرَ اللهُ عَبْدًا سَمِعَ مَقَالَتِي فَوَعَاهَا وَحَفِظَهَا ثُمَّ أدَّاهَا إِلى مَنْ لَم يَسْمَعْهَا، فَرُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ غَيْرِ فَقِيهٍ، وَرُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ إلى مَنْ هُو أفْقَهُ مِنْه". أخرجه الطيالسي، وأبو داود، وابن ماجه، وابن جَرِيْر عن زيد بن ثابت. وأخرجه أحمد، والدارمي، وأبو يعلى، وابن جَرِيْر عن جبير بن مطعم. وأخرجه ابن ماجه، والترمذي عن ابن مسعود.
فَهُم: المبيَّضَةُ وجوههم في الدُّنيا والآخرة.
قال ابن عُيَيْنَة: ليس أحد من أهل الحديث إلا في وجهه نضرة لهذا الحديث. "نظم المتناثر" (1/ 4).
وقال الشافعي: إذا رأيتُ صاحب حديث فكأني رأيت رجلًا من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم. "العلو والنزول" لابن القيسراني (1/ 45).
وقال أحمد بن سُريج: أهل الحديث أعظم درجة من الفقهاء لاعتنائهم بضبط الأصول. "المستخرج على المستدرك" (1/ 14).
وقال الفضل بن زياد: سألتُ أبا عبد الله - يعني: أحمد بن حنبل - عن الكرابيسي، وما أظهر؟ فكَلَح وجهه، ثم قال: إنما جاء بلاؤهم من هذه الكتب التي وضعوها، تركوا آثار رسول الله صلى الله عليه وسلم وأصحابه، وأقبلوا على هذه الكتب. "شرف أصحاب الحديث" للخطيب البغدادي (1/ 5).
আহলুল হাদিসের শ্রেষ্ঠত্ব প্রসঙ্গে কিছু কথাআল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন: {এবং তিনি তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন} [বাকারা: ১২৯]।
হিকমত: তা হলো সুন্নাহ।
আবু কিলাবাহ থেকে বর্ণিত, তিনি আবু আসমা আর-রাহবি থেকে এবং তিনি সাওবান (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: "আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা হকের ওপর বিজয়ী থাকবে, যারা তাদের লাঞ্ছিত করতে চায় তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না, যতক্ষণ না আল্লাহর নির্দেশ সমাগত হয়।" এটি আহমদ, মুসলিম, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ ও তিরমিজি বর্ণনা করেছেন।
তারাই হলো সাহায্যপ্রাপ্ত দল (الطائفة المنصورة), আর আলেমদের নিকট এটি সুপ্রতিষ্ঠিত যে, এই দল দ্বারা আহলুল হাদিসদেরই বোঝানো হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক, ইবনুল মাদিনি, আহমদ এবং বুখারি। দেখুন "সুনান তিরমিজি" (২১৯২) এবং কাজী ইয়াজের "আল-ইলমা" (১/ ২৭)।
রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে এটিও প্রমাণিত যে তিনি বলেছেন: "আল্লাহ সেই বান্দাকে সজীব ও উজ্জ্বল রাখুন, যে আমার কথা শুনেছে, অতঃপর তা যথাযথভাবে অনুধাবন করেছে এবং মুখস্থ রেখেছে, তারপর যারা তা শোনেনি তাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। কেননা অনেক ইলম বহনকারী নিজে ফকিহ (فقيه) নন, আবার অনেক ইলম বহনকারী এমন ব্যক্তির কাছে ইলম পৌঁছে দেন যিনি তার চেয়েও বড় ফকিহ (أفقه)।" এটি তায়ালিসি, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ ও ইবনে জারির জায়েদ ইবনে সাবিত (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। আহমদ, দারেমি, আবু ইয়ালা ও ইবনে জারির জুবাইর ইবনে মুতঈম (রা.) থেকে এবং ইবনে মাজাহ ও তিরমিজি ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন।
তারাই হলো সেই সব লোক, যাদের চেহারা দুনিয়া ও আখিরাতে উজ্জ্বল হবে।
ইবনে উয়াইনাহ বলেন: আহলুল হাদিসের এমন কোনো ব্যক্তি নেই যার চেহারায় এই হাদিসের বরকতে উজ্জ্বলতা নেই। "নাজমুল মুতানাসির" (১/ ৪)।
ইমাম শাফেয়ি বলেন: আমি যখন কোনো আহলুল হাদিসকে দেখি, তখন মনে হয় যেন আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাহাবিদের মধ্য থেকেই কোনো একজনকে দেখলাম। "আল-উলুউ ওয়াল নুজুল", ইবনুল কাইসারানি (১/ ৪৫)।
আহমদ ইবনে সুরিজ বলেন: আহলুল হাদিসগণ ফকিহদের (فقهاء) তুলনায় উচ্চ মর্যাদার অধিকারী, কারণ তারা মূলনীতিসমূহ (الأصول) যথাযথভাবে সংরক্ষণের (ضبط) প্রতি অত্যন্ত যত্নশীল। "আল-মুস্তাখরাজ আলাল মুসতাদরাক" (১/ ১৪)।
ফজল ইবনে জিয়াদ বলেন: আমি আবু আবদুল্লাহকে—অর্থাৎ আহমদ ইবনে হাম্বলকে—কারাবিসি এবং তার প্রকাশিত মতবাদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। এতে তাঁর চেহারা বিবর্ণ হয়ে গেল, অতঃপর তিনি বললেন: তাদের ওপর বিপদ মূলত তাদের রচিত এই কিতাবগুলোর কারণেই এসেছে; তারা রাসূলুল্লাহ (সা.) ও তাঁর সাহাবিদের রেখে যাওয়া বর্ণনাগুলো (آثار) বর্জন করেছে এবং এই বইগুলোর প্রতি ঝুঁকে পড়েছে। "শারাফু আসহাবিল হাদিস", খতিব বাগদাদি (১/ ৫)।
(খণ্ড: ১)
মুনতাকাল আলফায বিতাকরীবী উলূমিল হাদীস লিল হুফফায
(পৃষ্ঠা: ১৭)
قال الخطيب: لولا عناية أصحاب الحديث بضبط السنن وجمعها واستنباطها من معادنها والنظر في طرقها؛ لبطلت الشريعة وتعطَّلت أحكامها، إذ كانت مستخرجة من الآثار المحفوظة، ومستفادة من السنن المنقولة. "الكفاية" (1/ 2).
تَعْرِيْفَاتٌ أَوَّلِيَّةٌعِلمُ الحَدِيث: علم بأصول ومناهج ومصطلحات يتوصل به إلى تمييز سنن النبوة، وضبطها.
فهو علم يتوصل بها إلى معرفة أحوال السند والمتن، من حيث القبول والرد، ليتميز بها صحيح الأحاديث من سقيمها.
ويطلق عليه في تصانيف أهل الحديث المتقدمين "علوم الحديث" أو "أنواع علوم الحديث". ونحوها من المسميات. كما سماه الحاكم "معرفة علوم الحديث".
والمتأخرون يطلقون عليه اسم: علم مصطلح الحديث.
وهو خطأ، فإنه أعم من الاصطلاح.
أقْسَامُ عُلُوْمِ الحَدِيث: ليس له عند المتقدمين أقسام.
وعند المتأخرين: قسمان: علم الرواية، وعلم الدراية.
عِلمُ الرِّوَايَة: هو حفظ الحديث والأثر، وروايتهما، وضبط وتحرير ألفاظهما.
كالحفظ في الصدور، ومعرفة فقه المتن، ومعاني ألفاظه، وضبط المسطور من التحريف والتغيير.
عِلمُ الدِّرَايَة: جملة العلوم المتعلقة بأحوال السند والمتن.
كالجرح والتعديل، والعلل، والتخريج، والقواعد، والمصطلحات، والمناهج الحديثية.
ومادة علوم الحديث خمسة: علم مصنفات الحديث ومناهج مؤلفيها، وعلم مصطلح الحديث، وعلم علل الحديث، وعلم الجرح والتعديل، وعلم التخريج.
আল-খতিব বলেন: যদি হাদিস বিশারদগণ সুন্নাহর যথাযথ সংরক্ষণ (ضبط), সংকলন, তার উৎস হতে উদ্ভাবন এবং তার সূত্রসমূহ (طرق) পর্যালোচনার ব্যাপারে যত্নবান না হতেন; তবে শরিয়ত বিলুপ্ত হয়ে যেত এবং এর বিধানসমূহ অকার্যকর হয়ে পড়ত। কেননা তা সংরক্ষিত বর্ণনা (الآثار المحفوظة) থেকে সংগৃহীত এবং বর্ণিত সুন্নাহ (السنن المنقولة) থেকে আহরিত। "আল-কিফায়া" (১/২)।
প্রাথমিক সংজ্ঞাসমূহহাদিস শাস্ত্র (علم الحديث): এমন কিছু মূলনীতি (أصول), পদ্ধতি (مناهج) এবং পরিভাষা (مصطلحات) সংক্রান্ত জ্ঞান যার মাধ্যমে নবুওয়াতের সুন্নাহসমূহকে পৃথক করা এবং তা যথাযথভাবে সংরক্ষণ (ضبط) করা সম্ভব হয়।
সুতরাং এটি এমন একটি শাস্ত্র যার মাধ্যমে সনদ (السند) ও মতনের (المتن) অবস্থা—গ্রহণযোগ্যতা (القبول) ও বর্জনযোগ্যতার (الرد) দিক থেকে—জানা যায়, যাতে বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিসসমূহকে ত্রুটিপূর্ণ (سقيم) হাদিস থেকে পৃথক করা যায়।
পূর্ববর্তী (المتقدمين) হাদিস বিশারদদের কিতাবসমূহে একে "উলুমুল হাদিস" বা "হাদিস শাস্ত্রের প্রকারভেদ" এবং অনুরূপ নামে অভিহিত করা হয়েছে। যেমন আল-হাকিম একে "মা'রিফাতু উলুমিল হাদিস" নামকরণ করেছেন।
এবং পরবর্তী (المتأخرون) আলিমগণ একে ‘হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষা’ (علم مصطلح الحديث) নামে অভিহিত করেন।
তবে এটি একটি ভুল নামকরণ, কারণ এই শাস্ত্রটি কেবল পরিভাষার (اصطلاح) চেয়ে আরও ব্যাপক ও বিস্তৃত।
হাদিস শাস্ত্রের প্রকারভেদ: পূর্ববর্তীদের (المتقدمين) নিকট এর কোনো পৃথক বিভাগ ছিল না।
পরবর্তীদের (المتأخرون) নিকট এটি দুই প্রকার: ইলমুর রিওয়ায়াহ (علم الرواية) এবং ইলমুদ দিরায়াহ (علم الدراية)।
ইলমুর রিওয়ায়াহ (علم الرواية): হাদিস ও আছার (الأثر) মুখস্থ রাখা, সেগুলো বর্ণনা করা (رواية) এবং এগুলোর শব্দাবলি নির্ভুলভাবে সংরক্ষণ (ضبط) ও লিপিবদ্ধ (تحرير) করা।
যেমন অন্তরে মুখস্থ রাখা, মতনের (المتن) মর্মার্থ অনুধাবন করা, এর শব্দের অর্থসমূহ জানা এবং লিখিত পাণ্ডুলিপিকে বিকৃতি ও পরিবর্তন থেকে রক্ষা করা।
ইলমুদ দিরায়াহ (علم الدراية): সনদ (السند) ও মতনের (المتن) অবস্থা সংক্রান্ত যাবতীয় জ্ঞান।
যেমন জারহ ও তা’দিল (الجرح والتعديل), সূক্ষ্ম ত্রুটি (العلل), তাখরিজ (التخريজ), নীতিমালা (القواعد), পরিভাষা (المصطلحات) এবং হাদিসতত্ত্বের পদ্ধতিসমূহ (المناهج الحديثية)।
হাদিস শাস্ত্রের পাঠ্যবিষয় পাঁচটি: হাদিস গ্রন্থসমূহ ও সংকলকদের পদ্ধতি বিষয়ক জ্ঞান, হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষা (علم مصطلح الحديث) বিষয়ক জ্ঞান, হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি (علم علل الحديث) বিষয়ক জ্ঞান, জারহ ও তা’দিল (علم الجرح والتعديل) বিষয়ক জ্ঞান এবং তাখরিজ (علم التخريج) বিষয়ক জ্ঞান।
(খণ্ড: ১)
মুনতাকাল আলফায বিতাকরীবী উলূমিল হাদীস লিল হুফফায
(পৃষ্ঠা: ১৮)
استمداد علوم الحديث: من كتب المتون والعلل والسؤالات والجرح والتعديل.
واضعوه: علماء الحديث.
واعلم أن هذا العلم دين، فانظروا عمن تأخذون دينكم (1).
فلا تؤخذ علوم الحديث ولا الحكم عليه عمن تأصل فيه على طريقة المتأخرين، ولا عن مبتدع لا يجري على اعتقاد أهل القرون المُفَضَّلَة الثلاثة الأولى، ولا عن فاسق، ولا عن متمذهب متعصب لمذهبه.
غاية علم الحديث: تمييز المقبول من المردود.
ولا يستطاع هذا العلم إلّا بالحفظ والمذاكرة وممارسة الأسانيد والمتون.
وقواعد المصطلح والحكم على الرواة اجتهادية، توفيقية.
وقد أنعمت النظر في أحوال الأئمة المتقدمين وتعاملاتهم مع هذا العلم وصنيعهم فيه فتبين لي: أنَّ الله تعالى أراده لهم، وهداهم لما قرروه فيه، ووفقهم إليه وأعانهم عليه.
ومن هنا لا يحل لأحد أن يخالفهم فيه، فإنهم مهديون موفقون معانون.
فإنهم أقرب لعصر النبوة، وأصلح اعتقادًا وألزم للسنة وأثبت في المتابعة.
وهذا أصل ينبغي التفطن له، والاعتناء به.
المصطلح: عبارة يطلقها عالم أو طائفة مخصوصة على أمر معين يريد بها معناها عنده.
كالثقة عند ابن معين، والمنكر عند أحمد، والباطل عند أبي حاتم، وفيه نظر عند البخاري، والحسن عند الترمذي.
السُّنَّة: عند المحدثين يُراد بها الحديث (2).
--------------------------------------------
হাদিস শাস্ত্রের উৎসমূহ: হাদিসের মূল পাঠ (متون), নিগূঢ় ত্রুটি (علل), প্রশ্নাবলী (سؤالات) এবং জরাহ ও তাদিল বা সমালোচনা ও গুণকীর্তন (الجرح والتعديل) সংক্রান্ত কিতাবসমূহ হতে।
এর প্রবর্তকগণ: হাদিস শাস্ত্রের পণ্ডিতগণ।
জেনে রাখুন, এই ইলম বা জ্ঞান হলো দ্বীন, সুতরাং আপনারা কার নিকট থেকে আপনাদের দ্বীন গ্রহণ করছেন সে বিষয়ে লক্ষ্য রাখুন (১)।
সুতরাং হাদিস শাস্ত্রের জ্ঞান কিংবা এর ওপর কোনো হুকুম বা সিদ্ধান্ত তাদের নিকট থেকে গ্রহণ করা যাবে না, যারা এই শাস্ত্রে পরবর্তী যুগের আলেমদের (المتأخرين) পদ্ধতিতে ভিত্তি স্থাপন করেছে। আর না কোনো বিদআতি (مبتدع) ব্যক্তির নিকট থেকে, যে প্রথম তিন শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের (أهل القرون المُفَضَّلَة) আকিদার অনুসারী নয়। এমনকি কোনো পাপাচারী (فاسق) কিংবা নিজ মাযহাবের প্রতি অন্ধ অনুরাগী (متمذهب متعصب) ব্যক্তির নিকট থেকেও তা গ্রহণ করা যাবে না।
হাদিস শাস্ত্রের উদ্দেশ্য: গ্রহণযোগ্য (مقبول) ও বর্জনীয় (مردود) হাদিসের মধ্যে পার্থক্য করা।
মুখস্থকরণ, পারস্পরিক আলোচনা এবং সনদ (أسانيد) ও মতন (متون) বা মূল পাঠের নিবিড় অনুশীলন ব্যতীত এই ইলম অর্জন করা সম্ভব নয়।
পরিভাষা (المصطلح) সংক্রান্ত নিয়মাবলি এবং বর্ণনাকারীদের (رواة) ওপর হুকুম বা বিচার প্রদান হলো গবেষণামূলক (اجتهادية) এবং ঐশ্বরিক তাওফিকনির্ভর (توفيقية)।
আমি পূর্ববর্তী ইমামদের (المتقدمين) অবস্থা, এই শাস্ত্রের সাথে তাঁদের আচরণ এবং কর্মপদ্ধতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি; ফলে আমার নিকট এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, আল্লাহ তাআলা তাঁদের মাধ্যমেই এটি সম্পন্ন করতে চেয়েছেন, তাঁদেরকে এটি সুপ্রতিষ্ঠিত করার হিদায়াত দিয়েছেন এবং এর জন্য তাঁদেরকে তাওফিক ও সাহায্য দান করেছেন।
তাই এক্ষেত্রে কারও জন্য তাঁদের বিরোধিতা করা বৈধ নয়; কারণ তাঁরা হেদায়েতপ্রাপ্ত, ঐশ্বরিক সাহায্যপ্রাপ্ত ও তাওফিকপ্রাপ্ত ছিলেন।
কেননা তাঁরা নবুয়তের যুগের অধিক নিকটবর্তী ছিলেন, তাঁদের আকিদা ছিল অধিক শুদ্ধ এবং তাঁরা সুন্নাহর অধিক অনুসারী ও অনুসরণের ক্ষেত্রে অধিক অবিচল ছিলেন।
আর এটি এমন এক মূলনীতি যা অনুধাবন করা এবং যার প্রতি যত্নবান হওয়া আবশ্যক।
পরিভাষা (المصطلح): এমন শব্দ বা বাক্য যা কোনো নির্দিষ্ট আলেম বা বিশেষ কোনো গোষ্ঠী কোনো সুনির্দিষ্ট বিষয়ের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করেন এবং এর দ্বারা তাঁরা তাঁদের নিজস্ব অর্থ উদ্দেশ্য নিয়ে থাকেন।
যেমন—ইবনে মাঈনের নিকট নির্ভরযোগ্য (الثقة), ইমাম আহমদের নিকট প্রত্যাখ্যাত (المنكر), আবু হাতিমের নিকট ভিত্তিহীন (الباطل), ইমাম বুখারীর নিকট 'সমালোচিত' (فيه نظر) এবং ইমাম তিরমিজীর নিকট হাসান (الحسن)।
সুন্নাহ: মুহাদ্দিসগণের নিকট এর দ্বারা হাদিস উদ্দেশ্য (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুনতাকাল আলফায বিতাকরীবী উলূমিল হাদীস লিল হুফফায
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الحَدِيث: هو ما ورد عن النبي صلى الله عليه وسلم من قول، أو فعل، أو تقرير، أو صفة.
وَالمتقدمون لا يفرقون في العادة بين الحديث والخبر والأثر من جهة الإطلاق، فقد يطلقون الحديث على الخبر والأثر؛ لأن الأمر سهل عندهم.
قال ابن المديني: قَالَ [يعني الحسن]: وَرَأيْتُ ابْنَ الزُّبَيْرِ يُبَايِعُ عَلِيًا فِي حُشٍ، وَخَالَفَهُ مُوسَى بْن دَاوُدَ قَالَ: رَأيْتُ طَلحَةَ يُبَايِعُ عَلِيًا فِي حُشٍ، فَسَألَهُ خَالِدُ بن القَاسِمِ عَنْ هَذَا الحَدِيثِ، قَالَ: لَيْسَ مِنْ صَحِيحِ حَدِيثِ هُشَيْمٍ، وَالحسن لم ير عَلِيًا إِلَّا أنْ يَكُونَ رَآهُ بِالمَدِينَةِ وَهُوَ غُلَام. العلل لابن المديني (59).
وقال ابن أبي حاتم: وسألتُ أبِي وَأبَا زُرْعَةَ عَنْ حديثٍ رَوَاهُ شُعْبَة، عن منصور، عن الفَيْضِ، عن ابن أبِي حَثْمة، عَنْ أبِي ذَرٍّ: أنَّهُ كَانَ إِذَا خرجَ مِنَ الخَلاء قَالَ: الحَمْدُ لله الَّذِي عَافَانِي، وَأذْهَبَ عَنِّي الأذَى؟
فَقَالَ أبُو زُرْعَةَ: وَهِمَ شُعْبَةُ فِي هَذَا الحَدِيثِ.
وَرَوَاهُ الثوريُّ، فَقَالَ: عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ أبِي عَلِيٍّ عُبَيد بْنِ عَلِيٍّ، عَنْ أبِي ذَرٍّ؛ وَهَذَا الصَّحيحُ. علل الحديث لابن أبي حاتم (45).
ومنهم من فَرَّقَ فجعل:
الحَدِيث: يختص بما أضيف للرسول صلى الله عليه وسلم.
وَالأثَر: يختص بما أضيف إلى من دون الرسول صلى الله عليه وسلم من الصحابة أو التابعين أو من بعدهم.
وقد يطلق الأثر على ما أضيف للرسول صلى الله عليه وسلم مقيدًا.
كأن يقال: "وفي الأثر عن النبي صلى الله عليه وسلم
… ".
وَالخَبر: يَعُمُّ الحديث والأثر.
وينقسم الحديث إلى: إسناد، ومتن.
السَّنَد: هو سلسلة الرواة الموصلة إلى المتن.
ويقال له: الإسناد.
হাদিস: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত তাঁর কথা, কাজ, অনুমোদন অথবা গুণাবলিকে হাদিস বলা হয়।
পূর্বসূরি (متقدمون) আলেমগণ সাধারণত ব্যবহারের ক্ষেত্রে হাদিস, সংবাদ (خبر) এবং বর্ণনা (أثر)-এর মধ্যে কোনো পার্থক্য করেন না; তারা সংবাদের (خبر) ক্ষেত্রে এবং বর্ণনার (أثر) ক্ষেত্রেও হাদিস শব্দটির প্রয়োগ করে থাকেন, কারণ বিষয়টি তাঁদের নিকট সহজ ছিল।
ইবনুল মাদিনী বলেন: তিনি [অর্থাৎ হাসান] বলেন: আমি ইবনে যুবাইরকে একটি বাগানে আলীর হাতে বায়আত নিতে দেখেছি। তবে মূসা ইবনে দাউদ তাঁর বিরোধিতা করে বলেছেন: আমি তালহাকে একটি বাগানে আলীর হাতে বায়আত নিতে দেখেছি। এরপর খালিদ ইবনুল কাসিম এই হাদিস সম্পর্কে তাঁকে (ইবনুল মাদিনীকে) জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন: এটি হুশায়িমের বর্ণনা করা বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিস নয়। আর হাসান আলীকে কখনও দেখেননি, কেবল মদিনায় থাকাকালীন বালক অবস্থায় তাঁকে দেখে থাকতে পারেন। ইবনুল মাদিনী রচিত আল-ইলাল (৫৯)।
ইবনে আবি হাতিম বলেন: আমি আমার পিতা এবং আবু জুরআহকে শুবা কর্তৃক বর্ণিত একটি হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, যা মানসুর থেকে, তিনি ফায়দ থেকে, তিনি ইবনে আবি হাছমাহ থেকে এবং তিনি আবু যার থেকে বর্ণনা করেছেন যে: তিনি যখন শৌচাগার থেকে বের হতেন তখন বলতেন: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাকে আরোগ্য দান করেছেন এবং কষ্টদায়ক বস্তু দূর করে দিয়েছেন?
আবু জুরআহ বলেন: শুবা এই হাদিসের ক্ষেত্রে ভুল (وهم) করেছেন।
সুফিয়ান সাওরি এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন: মানসুর থেকে, তিনি আবু আলী উবাইদ ইবনে আলী থেকে, তিনি আবু যার থেকে বর্ণনা করেছেন; আর এটিই বিশুদ্ধ (صحيح)। ইবনে আবি হাতিম রচিত ইলালুল হাদিস (৪৫)।
আবার তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ পার্থক্য করেছেন এবং নির্ধারণ করেছেন যে:
হাদিস: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে যা সম্বন্ধযুক্ত করা হয়, তার জন্য নির্দিষ্ট।
বর্ণনা (أثر): রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যতীত অন্যদের দিকে অর্থাৎ সাহাবী, তাবিঈ বা তাঁদের পরবর্তীগণের দিকে যা সম্বন্ধযুক্ত করা হয়, তার জন্য নির্দিষ্ট।
কখনও কখনও বর্ণনা (أثر) শব্দটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত বিষয়ের ক্ষেত্রেও শর্তযুক্তভাবে ব্যবহৃত হতে পারে।
যেমন বলা হয়: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত বর্ণনায় (أثر) এসেছে
… "।
সংবাদ (خبر): হাদিস এবং বর্ণনা (أثر)—উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে।
হাদিস প্রধানত দুই ভাগে বিভক্ত: সনদ বা সূত্র (إسناد) এবং মূল পাঠ (متن)।
সনদ (سند): মূল পাঠ (متن) পর্যন্ত পৌঁছানোর বর্ণনাকারীদের (رواة) ধারাবাহিকতাকে সনদ বলা হয়।
একে সূত্র (إسناد)-ও বলা হয়।
(খণ্ড: ১)
মুনতাকাল আলফায বিতাকরীবী উলূমিল হাদীস লিল হুফফায
(পৃষ্ঠা: ২০)
ويقال: سلسلة الرجال
… وهذا وإن كانت الأسانيد فيها النساء والصغار، لكن الوصف بالغالب لغة العرب.
وللإسناد معنى آخر: وهو: عزو الحديث إلى قائله مسندًا.
الإسناد من الدين، ولولا الإسناد لقال من شاء ما شاء (1).
المَتْن: هو ما انتهى إليه السند من كلام.
مِثَالُ السَّنَد والمَتْن:كحديث: قُتَيْبَة بن سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الوَهَّابِ، قَالَ: سَمِعْتُ يَحْيَى بن سَعِيدٍ يَقُولُ: أخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بن إِبْرَاهِيمَ أنَّهُ سَمِعَ عَلقَمَةَ بن وَقَّاصٍ اللَّيْثِيَّ يَقُولُ: سَمِعْتُ عُمَرَ بن الخَطَّابِ رضي الله عنه يَقُولُ: سَمِعْتُ رَسُولَ الله صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: "إِنَّما الأعْمَالُ بِالنِّيةِ، وَإِنَّما لِامْرِئٍ مَا نَوَى، فَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى الله وَرَسُولِهِ فَهِجْرَتُهُ إِلَى الله وَرَسُولِهِ، وَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى دُنْيَا يُصِيبُهَا أو امْرَأةٍ يَتَزَوَّجُهَا، فَهِجْرَتُهُ إِلَى مَا هَاجَرَ إِلَيْهِ". أخرجه الجماعة.
فسند الحديث: قتيبة بن سعيد، حدثنا عبد الوهاب، قال: سمعت يحيى بن سعيد، أخبرني محمد بن إبراهيم، أنه سمع علقمة بن وقاص الليثي، يقول: سمعت عمر بن الخطاب رضي الله عنه يقول: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول
…ومتن الحديث: هو من قول النبي صلى الله عليه وسلم: "إنما الأعمال بالنية
… إلى قوله صلى الله عليه وسلم: فهجرته إلى ما هاجر إليه".
التَّقْرِيْر: سكوته صلى الله عليه وسلم عن فِعْلٍ حَدَثَ في عصره.
الصِّفَة: وصف النبي صلى الله عليه وسلم الخَلقِي والخُلُقِي.
مِثَالُ الحَدِيث القَوْلِيّ:حديث: ابْن أبِي ذِئْبٍ، عَنْ المَقْبُرِيِّ، عَنْ أبِي هُرَيْرَةَ، رضي الله عنه أنَّ رَسُولَ الله صلى الله عليه وسلم قَالَ: "لَيَأتِيَنَّ عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ لا يُبَالي المرءُ أبِحَلالٍ أخَذَ المالَ أمْ بِحَرَامٍ" أخرجه أحمد، والدارمي، والبخاري، والنسائي.
--------------------------------------------
এবং বলা হয়: বর্ণনাকারীদের ধারা (سلسلة الرجال)
… যদিও সনদসমূহের (الأسانيد) মধ্যে নারী ও অপ্রাপ্তবয়স্করা থাকতে পারে, তবে এই বর্ণনাটি আরবি ভাষার অধিকাংশ ব্যবহারের রীতি অনুযায়ী করা হয়েছে।
সনদের (الإسناد) অন্য একটি অর্থ রয়েছে, আর তা হলো: হাদিসকে তার প্রবক্তার দিকে সনদযুক্তভাবে (مسندًا) সম্বন্ধ করা।
সনদ (الإسناد) দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত; যদি সনদ (الإسنাদ) না থাকত, তবে যে যা ইচ্ছা তা-ই বলত (১)।
মতন (المَتْن): তা হলো সেই বাণী যেখানে গিয়ে সনদ (السند) শেষ হয়।
সনদ (السَّنَد) ও মতনের (المَتْن) উদাহরণ:যেমন এই হাদিস: কুতাইবা ইবনে সাঈদ, তিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল ওয়াহ্হাব থেকে, তিনি বলেন: আমি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমাকে মুহাম্মাদ ইবনে ইব্রাহিম সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি আলকামা ইবনে ওয়াক্কাস আল-লায়সিকে বলতে শুনেছেন: আমি উমর ইবনুল খাত্তাব রাযিয়াল্লাহু আনহুকে বলতে শুনেছি: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল, আর প্রত্যেক ব্যক্তি তা-ই পাবে যার সে নিয়ত করবে। সুতরাং যার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্য হবে, তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্যই গণ্য হবে। আর যার হিজরত দুনিয়া অর্জনের জন্য অথবা কোনো নারীকে বিয়ের জন্য হবে, তবে তার হিজরত সে উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে যার জন্য সে হিজরত করেছে।" এটি আল-জামাআহ বর্ণনা করেছেন।
সুতরাং হাদিসের সনদ (سند) হলো: কুতাইবা ইবনে সাঈদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল ওয়াহ্হাব, তিনি বলেন: আমি শুনেছি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ ইবনে ইব্রাহিম, তিনি শুনেছেন আলকামা ইবনে ওয়াক্কাস আল-লায়সি থেকে, তিনি বলেন: আমি উমর ইবনুল খাত্তাব রাযিয়াল্লাহু আনহুকে বলতে শুনেছি: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি
…আর হাদিসের মতন (متن) হলো: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল
… নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণী পর্যন্ত: তবে তার হিজরত সে উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে যার জন্য সে হিজরত করেছে।"
মৌনসম্মতি (التَّقْرِيْر): তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যুগে সংঘটিত কোনো কর্মের ব্যাপারে তাঁর নীরবতা অবলম্বন করা।
গুণাবলি (الصِّفَة): নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শারীরিক অবয়ব ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের বর্ণনা।
মৌখিক হাদিসের (الحَدِيث القَوْلِيّ) উদাহরণ:হাদিস: ইবনে আবি যিব থেকে, তিনি মাকবুরি থেকে, তিনি আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "মানুষের ওপর অবশ্যই এমন এক সময় আসবে যখন ব্যক্তি পরোয়া করবে না যে, সে সম্পদ হালাল উপায়ে অর্জন করেছে নাকি হারাম উপায়ে।" এটি আহমদ, দারেমি, বুখারি ও নাসাঈ বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুনতাকাল আলফায বিতাকরীবী উলূমিল হাদীস লিল হুফফায
(পৃষ্ঠা: ২১)
مِثَالُ الحَدِيث الفِعْليّ:حديث: الزُّهْرِيّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها؛ أن النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَعْتَكِفُ العَشْرَ الأوَاخِرَ مِنْ رَمَضَانَ حَتَّى تَوَفَّاهُ الله، ثُمَّ اعْتَكَفَ أزْوَاجُهُ مِنْ بَعْدِهِ. أخرجه عبد الرزاق، وأحمد، وإسحاق، ومسلم، وأبو داود.
مِثَالُ الحَدِيث التَّقْرِيْرِيّ:حديث: عَطَاءِ بْنِ أبِي رَبَاحٍ، عَنْ جَابِر، قَالَ: كُنَّا نَغْزُو مَعَ رَسُولِ الله صلى الله عليه وسلم، فَنُصِيبُ مِنْ آنِيَةِ المشْرِكِينَ وَأسْقِيَتِهِمْ، فَنَسْتَمْتِعُ بِهَا، فَلا يَعِيبُ ذَلِكَ عَلَيْهِمْ. أخرجه أحمد، وأبو داود.
مِثَالُ الحَدِيث الوَصْفِيّ (صِفَة خَلقِيَّة):حديث: شُعْبَةُ، عَنْ سِمَاكٍ، قَالَ: سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ سَمُرَةَ، قَالَ: "كَانَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم": "ضَلِيعَ الفَمِ، أشْكَلَ العَيْنِ، مَنْهُوسَ العَقِبَيْنِ" أخرجه الطيالسي، وأحمد، ومسلم، والترمذي.
مِثَالُ الحَدِيث الوَصْفِيّ (صِفَة خُلُقِيَّة):
حديث: شُعْبَة، أخْبَرَنَا قَتَادَةُ، عَنْ عَبْدِ الله بْنِ أبِي عُتْبَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ أبَا سَعِيدٍ الخُدْرِيَّ يَقُولُ: "كَانَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم أشَدَّ حَيَاءً مِنَ العَذْرَاءِ فِي خِدْرِهَا، وَكَانَ إِذَا كَرِهَ شَيْئًا عَرَفْنَاهُ وَجْهِهِ" أخرجه أحمد، وعبد بن حميد، والبخاري، ومسلم، وابن ماجه، وأبو يعلى.
المُتَقَدِمُون: مَنْ كان مِنْ أهل الحديث إلى عصر الدارقطني.
كمالك وطبقته، وشعبة وطبقته، وابن مهدي وطبقته، وأحمد وطبقته، والبخاري وطبقته، والترمذي وطبقته، والنسائي وطبقته.
المُتَأخِّرُوْن: مَنْ أتى بعد الدارقطني، كالخطيب البغدادي، والنووي، وابن الصلاح، والعراقي، وابن حجر، والسيوطي، إلى عصرنا (1).
--------------------------------------------
কর্মবাচক (فعلي) হাদিসের উদাহরণ:হাদিস: জুহরি, উরওয়াহ থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন; নবী (সা.) ওফাত পর্যন্ত রমজানের শেষ দশ দিন ইতিকাফ করতেন, এরপর তাঁর স্ত্রীগণ ইতিকাফ করতেন। আবদুর রাজ্জাক, আহমদ, ইসহাক, মুসলিম, এবং আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেন।
মৌন সম্মতিজ্ঞাপক (تقريري) হাদিসের উদাহরণ:হাদিস: আতা ইবনে আবি রাবাহ, জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতাম এবং মুশরিকদের পাত্র ও মশক থেকে উপকৃত হতাম (ব্যবহার করতাম), তিনি (সা.) তাদের এই কাজের কোনো সমালোচনা বা দোষারোপ করতেন না। আহমদ এবং আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেন।
বর্ণনামূলক (وصفي) হাদিসের উদাহরণ (শারীরিক গঠন সংক্রান্ত গুণাবলি (صفة خلقية)):হাদিস: শুবা, সিমাক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি জাবির ইবনে সামুরাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: "রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রশস্ত মুখাবয়ব বিশিষ্ট, চোখের শুভ্র অংশে রক্তিম আভা যুক্ত এবং পাতলা গোড়ালি সম্পন্ন ছিলেন।" আল-তায়ালিসি, আহমদ, মুসলিম এবং তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন।
বর্ণনামূলক (وصفي) হাদিসের উদাহরণ (চরিত্র ও আচার-আচরণ সংক্রান্ত গুণাবলি (صفة خلقية)):
হাদিস: শুবা, কাতাদাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আবু উতবা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আবু সাঈদ আল-খুদরি (রা.)-কে বলতে শুনেছি: "রাসুলুল্লাহ (সা.) পর্দানশীন কুমারী মেয়ের চেয়েও অধিক লাজুক ছিলেন এবং তিনি কোনো কিছু অপছন্দ করলে আমরা তাঁর মুখমণ্ডল দেখেই তা বুঝতে পারতাম।" আহমদ, আবদ ইবনে হুমাইদ, বুখারি, মুসলিম, ইবনে মাজাহ এবং আবু ইয়ালা এটি বর্ণনা করেছেন।
পূর্বসূরিগণ (المتقدمون): যারা দারাকুতনির যুগ পর্যন্ত হাদিস বিশারদদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
যেমন মালিক ও তাঁর স্তরের (طبقة) আলেমগণ, শুবা ও তাঁর স্তরের (طبقة) আলেমগণ, ইবনে মাহদি ও তাঁর স্তরের (طبقة) আলেমগণ, আহমদ ও তাঁর স্তরের (طبقة) আলেমগণ, বুখারি ও তাঁর স্তরের (طبقة) আলেমগণ, তিরমিজি ও তাঁর স্তরের (طبقة) আলেমগণ এবং নাসায়ি ও তাঁর স্তরের (طبقة) আলেমগণ।
উত্তরসূরিগণ (المتأخرون): যারা দারাকুতনির পরে এসেছেন, যেমন খতিব আল-বাগদাদি, নববি, ইবনে আস-সালাহ, ইরাকি, ইবনে হাজার এবং সুয়ুতি থেকে শুরু করে আমাদের বর্তমান কাল পর্যন্ত (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুনতাকাল আলফায বিতাকরীবী উলূমিল হাদীস লিল হুফফায
(পৃষ্ঠা: ২২)
والحد الفاصل بينهم منهجي أكثر منه زمني، فمن كان على منهج المتقدمين فهو منهم وإن تأخر عنهم زمنًا.
وجعل الذهبي الحد الفاصل بين المتقدم والمتأخر، هو: رأس سنة ثلاثمائة هجرية.
وحدَّ ابنُ حجر المتأخرين: بمن بعد الخمسمائة، وفيه نظر.
اسْتِقْرَارُ الاصْطِلَاح: حمل المصطلحات على ما اختاره ابن حجر في مصنفاته (1).
وهذا خطأ فإن الاصطلاح استقر عند المتقدمين، فكل اصطلاح بعدهم غاير اصطلاحهم لا عبرة به.
فلا يعترض على المتقدمين في التعريفات ولا ينتقد عليهم، ولعل هذا لأن القوم كانوا لا يتكلفون في التعريفات ولا يدققون في حدودها، وإنما يتكلمون بأمر عام، أو مقارب، وأنهم إنما تعاملوا مع هذا الفن عمليًا، وليست طريقتهم كطريقة المتأخرين، في تكلف التعريفات، وعدم صونها عن الإسهاب، والتوسع في تفعيل الجانب النظري.
فلا يلتفت إلى مقالات المتأخرين في تحرير اصطلاحات المتقدمين، فإنها بنيت في الفهم على منهاج غير أهل الحديث أصلًا، أو أن مُطْلِقَها بدا له أمر لأول وهلة فظنه نهائيًا، فقال به من غير أن يستقصي أو يتثبت.
ثم جاء مَن بَعده فقلده فانتشرت وشاعت وتتابع الناس عليها ثقةً بمن نُقِلَت عنهم.
فلا بد من سبر مصنفات المتقدمين في الحديث، ثم تتبع ألفاظ الأئمة المتقدمين، وحمل المصطلح على مرادهم لا على فهم المتأخرين، ومن ثَمَّ بناء علوم الحديث والتخريج والعلل والأحكام عليها.
ولا بد من المراجعة من جديد والغربلة، وإزاحة المفاهيم المغلوطة على المتقدمين.
والحل الأمثل هو حفظ مصطلحات الأئمة واحدًا واحدًا.
--------------------------------------------
তাদের মধ্যে পার্থক্যকারী সীমারেখাটি সময়ের চেয়ে বেশি পদ্ধতিগত; অতএব যিনি পূর্বসূরিদের (المتقدمين) কর্মপদ্ধতির ওপর থাকবেন, তিনি তাঁদের অন্তর্ভুক্ত হিসেবেই গণ্য হবেন, যদিও তিনি সময়ের দিক থেকে তাঁদের পরে হন।
ইমাম যাহাবী পূর্বসূরি (المتقدم) এবং উত্তরসূরিদের (المتأخر) মধ্যে পার্থক্যকারী সীমারেখা হিসেবে ৩০০ হিজরি সালকে নির্ধারণ করেছেন।
হাফেজ ইবনে হাজার উত্তরসূরিদের (المتأخرين) সীমা ৫০০ হিজরির পরের সময়কাল হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, তবে এ নিয়ে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে।
পরিভাষার স্থিতিশীলতা (استقرار الاصطلاح): পরিভাষাগুলোকে সেই অর্থে গ্রহণ করা যা ইবনে হাজার তাঁর গ্রন্থাবলীতে পছন্দ করেছেন (১)।
আর এটি একটি ভুল পদ্ধতি; কারণ পরিভাষা তো পূর্বসূরিদের (المتقدمين) কাছেই স্থিতিশীল হয়ে গিয়েছিল। অতএব তাঁদের পরবর্তী এমন প্রতিটি পরিভাষা যা তাঁদের পরিভাষার পরিপন্থী, তা গ্রহণযোগ্য নয়।
সুতরাং সংজ্ঞায়নের ক্ষেত্রে পূর্বসূরিদের (المتقدمين) ওপর কোনো আপত্তি করা যাবে না এবং তাঁদের সমালোচনাও করা যাবে না। সম্ভবত এর কারণ হলো, তাঁরা সংজ্ঞায়নের ক্ষেত্রে আড়ষ্টতা পরিহার করতেন এবং এর সীমাবদ্ধতার বিষয়ে অতি সূক্ষ্মতা অবলম্বন করতেন না; বরং তাঁরা ব্যাপক বা নিকটতর অর্থবোধক শব্দ দিয়ে কথা বলতেন। তাঁরা মূলত এই শাস্ত্র নিয়ে ব্যবহারিক কাজ করেছেন; তাঁদের পদ্ধতি উত্তরসূরিদের (المتأخرين) পদ্ধতির মতো ছিল না, যারা সংজ্ঞায়নের ক্ষেত্রে আড়ষ্টতা প্রদর্শন করেন এবং শব্দবাহুল্য থেকে তা রক্ষা করেন না, বরং তাত্ত্বিক দিক প্রয়োগের ক্ষেত্রে অধিক প্রসার ঘটান।
অতএব পূর্বসূরিদের (المتقدمين) পরিভাষা বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে উত্তরসূরিদের (المتأخرين) বক্তব্যের প্রতি ভ্রুক্ষেপ করা যাবে না; কারণ সেগুলো মূলত আহলে হাদিস (أهل الحديث) বা হাদিস বিশারদদের কর্মপন্থা বহির্ভূত বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। অথবা যিনি সেই বক্তব্য দিয়েছেন, প্রথম দেখাতেই তাঁর কাছে বিষয়টি একরকম মনে হয়েছে এবং তিনি তা চূড়ান্ত ভেবে নিয়েছেন; ফলে তিনি বিস্তারিত অনুসন্ধান বা যাচাই-বাছাই ছাড়াই তা ব্যক্ত করেছেন।
অতঃপর তাঁর পরবর্তীগণ তাঁর অনুসরণ করেছেন, ফলে এই ধারণাগুলো ছড়িয়ে পড়েছে এবং প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। আর মানুষ যাঁদের থেকে এগুলো বর্ণিত হয়েছে তাঁদের ওপর আস্থার কারণে ধারাবাহিকভাবে তা অনুসরণ করে চলেছে।
তাই হাদিসের ক্ষেত্রে পূর্বসূরিদের (المتقدمين) গ্রন্থাবলি গভীরভাবে পর্যালোচনা করা অপরিহার্য। এরপর পূর্বসূরি ইমামদের শব্দাবলি অনুসরণ করতে হবে এবং পরিভাষাগুলোকে উত্তরসূরিদের (المتأخرين) বুঝ অনুযায়ী নয়, বরং তাঁদের (পূর্বসূরিদের) উদ্দেশ্য অনুযায়ী গ্রহণ করতে হবে। অতঃপর এর ওপর ভিত্তি করেই হাদিস বিজ্ঞান (علوم الحديث), উৎস অনুসন্ধান (التخريج), সূক্ষ্ম ত্রুটি (العلل) এবং বিধানাবলি (الأحكام) বিন্যস্ত করতে হবে।
এছাড়া নতুন করে পুনরায় পর্যালোচনা ও যাচাই-বাছাই করা এবং পূর্বসূরিদের (المتقدمين) ব্যাপারে ভুল ধারণাগুলো অপসারিত করা আবশ্যক।
আর সর্বোত্তম সমাধান হলো ইমামদের পরিভাষাগুলো একে একে আয়ত্ত করা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুনতাকাল আলফায বিতাকরীবী উলূমিল হাদীস লিল হুফফায
(পৃষ্ঠা: ২৩)
المُسْنَد: على معان:
الحديث المتصل.
ما روي بالسند.
كل كتاب فيه أحاديث كل صحابي على حدة (1).
مثل: "مسند أبي داود الطيالسي"، و "مسند الحميدي"، و "مسند أحمد".
اخْتِصَارُ الحَدِيث: هو الاقتصار على بعض ألفاظ الحديث، لتحرير معنى مراد من حديث طويل.
كما يفعله ابن أبي شيبة في "مصنفه"، والبخاري في كتابه "
الصحيح".
أو تلخيص معنى الحديث، بالتصرُّف في ألفاظه.
كما فعل شعيب بن أبي حمزة في حديث: كان آخر الأمرين من رسول الله صلى الله عليه وسلم ترك الوضوء مما مسَّت النار، فقد اختصر بهذا حديثين:
الأول: توضؤوا مما مست النار.
والثاني: أكل صلى الله عليه وسلم كتفًا وخرج إلى الصلاة ولم يتوضأ. أخرجه أبو داود، والنسائي.
الصَّحِيْحُ
المقْبُولُ مِن الرُّوَاة: يشمل العدل الذي تَمَّ ضبطه، والذي خَفَّ ضبطه.
وجعله ابن حجر، في "التقريب": المجهول إذا توبع، وهو خطأ.
الحَدِيث الَمقْبُوْل: ما استوفى شروط القبول من أعلاها إلى أدناها.
الصَّحِيْح: ما اتصل سنده بنقل الثقة من غير علة.
وَالمتقدمون يطلقون اسم الصحيح على كل ما يحتج به عندهم، فيعم الصحيح والحسن بمعناه عند المتأخرين.
--------------------------------------------
মুসনাদ (المُسْنَد): কয়েকটি অর্থে ব্যবহৃত হয়:
সংযুক্ত (متصل) হাদিস।
যা সূত্রের (سند) মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে।
এমন প্রত্যেক গ্রন্থ যাতে প্রত্যেক সাহাবীর হাদিস পৃথকভাবে সংকলিত হয়েছে (১)।
যেমন: "মুসনাদে আবু দাউদ আত-তায়ালিসি", "মুসনাদে আল-হুমাইদি" এবং "মুসনাদে আহমাদ"।
হাদিস সংক্ষেপণ (اختصار الحديث): এটি হলো দীর্ঘ কোনো হাদিস থেকে কাঙ্ক্ষিত অর্থ প্রকাশের লক্ষ্যে হাদিসের কিছু শব্দের ওপর সীমাবদ্ধ থাকা।
যেমনটি করেছেন ইবনে আবি শাইবাহ তার "মুসান্নাফ"-এ এবং বুখারি তার
"সহিহ" গ্রন্থে।
অথবা হাদিসের শব্দাবলীতে পরিবর্তনের মাধ্যমে হাদিসের অর্থের সারসংক্ষেপ করা।
যেমনটি করেছেন শুআইব ইবনে আবি হামজাহ এই হাদিসে: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শেষ আমল ছিল আগুনের স্পর্শে তৈরি খাবার গ্রহণের পর অজু না করা"; এর মাধ্যমে তিনি মূলত দুটি হাদিসকে সংক্ষেপ করেছেন:
প্রথমটি: "তোমরা আগুনের স্পর্শে তৈরি খাবার গ্রহণের ফলে অজু করো।"
দ্বিতীয়টি: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পশুর কাঁধের গোশত খেলেন এবং নামাজের জন্য বেরিয়ে গেলেন অথচ তিনি (নতুন করে) অজু করেননি।" আবু দাউদ ও নাসায়ি এটি বর্ণনা করেছেন।
সহিহ (الصَّحِيْحُ)
রাবীদের মধ্যে গ্রহণযোগ্য (مقبول): এর অন্তর্ভুক্ত সেই নির্ভরযোগ্য (عدل) ব্যক্তি যার স্মৃতিশক্তি বা নির্ভুলতা পূর্ণাঙ্গ (تم ضبطه) এবং যার স্মৃতিশক্তি বা নির্ভুলতা কিছুটা শিথিল (خف ضبطه)।
ইবনে হাজার তার "তাকরিব" গ্রন্থে একে অজ্ঞাত (مجهول) ব্যক্তির ক্ষেত্রে উল্লেখ করেছেন যখন তার সমর্থনকারী (متابع) পাওয়া যায়; তবে এটি একটি ভুল।
গ্রহণযোগ্য (مقبول) হাদিস: যা গ্রহণযোগ্যতার সর্বোচ্চ স্তর থেকে সর্বনিম্ন স্তরের শর্তাবলি পূরণ করে।
সহিহ (صحيح): যার সূত্র (سند) নিরবচ্ছিন্ন এবং যা নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারী কর্তৃক বর্ণিত ও ত্রুটি (علة) মুক্ত।
আর পূর্ববর্তী আলেমগণ (المتقدمون) তাদের নিকট দলিল হিসেবেযোগ্য এমন সবকিছুর ক্ষেত্রে 'সহিহ' নাম ব্যবহার করতেন; ফলে এটি পরবর্তী আলেমদের (المتأخرين) পরিভাষার সহিহ (صحيح) এবং হাসান (حسن) উভয়কে শামিল করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুনতাকাল আলফায বিতাকরীবী উলূমিল হাদীস লিল হুফফায
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وعند المتأخرين: ما اتصل سنده بنقل العدل الضابط عن مثله إلى منتهاه، ولا يكون شاذًا ولا معللًا (1).
تنبيه: الشذوذ من جملة العلل الخفية؛ فلم أذكره في تعريف الصحيح، كما صنع المتأخرون.
مثال الصحيح: حديث: مُسَدَّد حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ قَالَ: سَمِعْتُ أبِي قَالَ: سَمِعْتُ أنَسَ بن مالك رضي الله عنه قَالَ: كان النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: "اللهُمَّ إِنِّي أعُوذُ بِكَ مِنَ العَجْزِ وَالكَسَلِ وَالجُبنِ وَالَهرَمِ، وَأعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ المحْيَا وَالممَاتِ، وَأعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ القَبْرِ". أخرجه أحمد، والبخاري، ومسلم، وأبو داود والنسائي.
والحديث إذا ثبت فهو حجة يتعبد الله به.
المَعْرُوْف: هو الحديث المشهور الصحيح عند المتقدمين.
وعند المتأخرين: ما رواه الثقة مخالفًا لما رواه الضعيف.
فائدة: الأحاديث لها طرق مسلوكة معروفة، فإذا جاءت الأحاديث من غير هذه الطرق فهي مَظِنَّةُ وجود العلة.
الثِّقَة: هو من جمع بين العدالة في الدِّين، والضبط لمحفوظه.
العِلَّة: هي سبب غامض خفي يقدح في حديث ظاهره الصحة (2).
وعلة المتن غالبًا ما تكون مرتبطة بعلة الإسناد.
العَدَالَة: هي الاستقامة في الدِّيْن والمروءة في الخُلُق.
ومردها بالجملة إلى هذين الأمرين.
العَدْل: من سدَّد وقارب، وغلب خيره على شره.
وإن شئت فقل: من لم يكن فاسقًا ولا مبتدعًا.
--------------------------------------------
এবং পরবর্তী যুগের আলেমদের পরিভাষায়: যা এমন এক অবিচ্ছিন্ন (متصل) সনদের (سند) মাধ্যমে বর্ণিত, যেখানে প্রত্যেক ন্যায়পরায়ণ (عدل) ও নিখুঁত সংরক্ষণকারী (ضابط) বর্ণনাকারী তাঁর সমপর্যায়ের বর্ণনাকারী থেকে শেষ পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন, এবং যা বৈসাদৃশ্যপূর্ণ (شاذ) ও ত্রুটিযুক্ত (معلل) নয় (১)।
সতর্কবার্তা: বৈসাদৃশ্য (شذوذ) হলো সূক্ষ্ম ত্রুটিসমূহের (علل خفية) অন্তর্ভুক্ত; তাই আমি সহিহ (صحيح) এর সংজ্ঞায় এটি আলাদাভাবে উল্লেখ করিনি, যেমনটি পরবর্তী যুগের আলেমগণ করেছেন।
সহিহ (صحيح) এর উদাহরণ: হাদিস: মুসাদ্দাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মুতামির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আনাস ইবনে মালিক (রা.)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতেন: "হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট অক্ষমতা, অলসতা, ভীরুতা ও অতি বার্ধক্য থেকে আশ্রয় চাচ্ছি। আর আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি জীবন ও মরণের ফিতনা থেকে এবং কবরের আজাব থেকে।" এটি আহমদ, বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ ও নাসায়ি বর্ণনা করেছেন।
আর হাদিস যখন প্রমাণিত হয়, তখন তা দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য এবং এর মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদত করা হয়।
মারুফ (المعروف): এটি পূর্ববর্তী যুগের আলেমদের নিকট প্রসিদ্ধ (مشهور) ও সহিহ (صحيح) হাদিস।
এবং পরবর্তী যুগের আলেমদের নিকট: যা কোনো নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন এমন অবস্থায় যে তা কোনো দুর্বল (ضعيف) বর্ণনাকারীর বর্ণনার বিপরীত।
জ্ঞাতব্য: হাদিসসমূহের প্রচলিত ও পরিচিত কিছু পথ বা সনদ (طرق) থাকে; সুতরাং যখন কোনো হাদিস এই পথগুলো ছাড়া ভিন্নভাবে আসে, তখন সেখানে ত্রুটি (علة) থাকার প্রবল সম্ভাবনা থাকে।
নির্ভরযোগ্য (الثقة): তিনি হলেন সেই ব্যক্তি যিনি দ্বীনি ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) এবং সংরক্ষিত বিষয়ের নিখুঁত হেফজ বা ধারণক্ষমতার (ضبط) সমন্বয় ঘটিয়েছেন।
ত্রুটি (العلة): এটি এমন এক অস্পষ্ট ও সূক্ষ্ম কারণ যা কোনো বাহ্যিকভাবে সহিহ (صحة) প্রতীয়মান হওয়া হাদিসকে প্রশ্নবিদ্ধ করে (২)।
আর মতনের (متن) ত্রুটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে সনদের (إسناد) ত্রুটির সাথে সম্পৃক্ত থাকে।
ন্যায়পরায়ণতা (العدالة): এটি হলো দ্বীনের ওপর অবিচলতা এবং চরিত্রে শিষ্টাচার (مروءة) বজায় রাখা।
আর এর সারকথা মূলত এই দুটি বিষয়ের ওপরই নির্ভরশীল।
ন্যায়পরায়ণ (العدل): সেই ব্যক্তি যিনি সঠিক পথে চলেন ও সত্যের নিকটবর্তী থাকেন এবং যাঁর মন্দের তুলনায় ভালোর দিকটি প্রবল।
অথবা আপনি চাইলে বলতে পারেন: যিনি পাপাচারী (فاسق) নন এবং বিদআতি (مبتدع) নন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুনতাকাল আলফায বিতাকরীবী উলূমিল হাদীস লিল হুফফায
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وهو من يجتنب كبائر الذنوب، ويتقي في الغالب صغائرها، وليس من شرط العدالة ألّا تقع منه المعصية، غير أن عليه المسارعة في التوبة، فليس ثمة أحد معصوم بعد النبي صلى الله عليه وسلم.
الفِسْق: مِثل شرب الخمر، والزنى، والسرقة، وشهادة الزور، وأكل مال اليتيم، وقذف المحصنات، والتولي يوم الزحف، ونحوها، فراوي هذا الصنف متروك لا يُقْبَل (1).
شَرْطُ العَدَالَة: أن يكون الراوي مسلمًا، بالغًا، عاقلًا، غير فاسق، ولا مخروم المروءة، وفي المبتدع تفصيلٌ ونزاعٌ.
شُرُوْطُ قبُوْلِ الأدَاء: العقل، والبلوغ، والإسلام، والاستقامة.
البَالِغ: من نبت شعر عانته وإبطيه.
المُرُوْءَة: هي تجنب الأدناس، والترفُّع عما يشين عند الناس.
واشتراط العدالة والضبط لا يدخل فيه الصحابة؛ لأنهم كلهم عدول.
واعلم أنَّ الطعن في الرواة بسبب خوارم المروءة نظري (2).
فائدة: الصحابة رضي الله عنهم كلهم عدول، بإجماع أهل الحديث، فلا يبحث عن حالهم رضي الله عنهم في الأسانيد.
الضَّبْط: هو الإتقان والتثبت، بأن يتقن الراوي الحديث من سماعه حتى أدائه.
وهو قسمان: ضبط صدر، وضبط كتاب.
ضَبْطُ الصَّدْر: أن يحفظ الراوي ما سمعه فيستحضره متى شاء.
ولا يلزم من كونه ضابطًا أنه لا يخطئ، إذ ليس من حد الحافظ أن لا يخطئ.
قال سفيان الثوري: "لَيْسَ يَكَادُ يُفْلِتُ مِنَ الغَلَطِ أحَدٌ، إِذَا كَانَ الغَالِبُ عَلَى الرَّجُلِ الحِفْظُ فَهُوَ حَافَظٌ وَإِنْ غَلَطَ، وَإِذَا كَانَ الغَالِبُ عَلَيْهِ الغَلَطُ تُرِكَ" الكفاية للخطيب (ص: 144).
فقد أخطأ مالك، والأوزاعي، وابن عيينة، وابن المبارك، وشعبة، وغيرهم.
--------------------------------------------
তিনি হলেন এমন ব্যক্তি যিনি কবিরা গুনাহ (كبائر الذنوب) বর্জন করেন এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে সগিরা গুনাহ (صغائرها) থেকে বেঁচে থাকেন। ন্যায়পরায়ণতার (العدالة) শর্ত এটি নয় যে, তার দ্বারা কোনো পাপই সংঘটিত হবে না; তবে শর্ত হলো তাকে দ্রুত তওবা (التوبة) করার ব্যাপারে সচেষ্ট হতে হবে, কারণ নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পর আর কেউ নিষ্পাপ (معصوم) নন।
পাপাচার (الفِسْق): যেমন মদ পান করা, ব্যভিচার করা, চুরি করা, মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া, এতিমের মাল ভক্ষণ করা, সতী নারীর প্রতি অপবাদ দেওয়া, যুদ্ধের ময়দান থেকে পালিয়ে যাওয়া এবং এই জাতীয় কাজ। এই শ্রেণির বর্ণনাকারী (راوي) হলেন পরিত্যক্ত (متروك), তার বর্ণনা গ্রহণ করা হবে না (১)।
ন্যায়পরায়ণতার শর্ত (شَرْطُ العَدَالَة): বর্ণনাকারীকে হতে হবে মুসলিম, প্রাপ্তবয়স্ক (بالغًا), সুস্থমস্তিষ্ক সম্পন্ন (عاقلًا), পাপাচারী (فاسق) নয় এবং ব্যক্তিত্ব ও মর্যাদাহানি (مخروم المروءة) থেকে মুক্ত। আর বিদআতি (المبتدع) বর্ণনাকারীর ক্ষেত্রে বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও মতপার্থক্য রয়েছে।
বর্ণনা প্রদানের গ্রহণের শর্তাবলি (شُرُوْطُ قبُوْلِ الأدَاء): জ্ঞান বা বুদ্ধি (العقل), প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া (البلوغ), ইসলাম (الإسلام) এবং সততা ও একনিষ্ঠতা (الاستقامة)।
প্রাপ্তবয়স্ক (البَالِغ): যার নাভির নিচে এবং বগলে পশম গজিয়েছে।
ব্যক্তিত্ব বা সৌজন্যবোধ (المُرُوْءَة): এটি হলো পঙ্কিলতা থেকে বেঁচে থাকা এবং মানুষের কাছে যা যা দোষণীয় তা থেকে নিজেকে ঊর্ধ্বে রাখা।
ন্যায়পরায়ণতা (العدالة) এবং নির্ভুলতা বা স্মরণশক্তির (الضبط) শর্তটি সাহাবিদের (الصحابة) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়; কারণ তাঁরা সকলেই ন্যায়পরায়ণ (عدول)।
জেনে রাখুন যে, ব্যক্তিত্ব ক্ষুণ্ণকারী বিষয়ের (خوارم المروءة) কারণে বর্ণনাকারীদের (الرواة) ওপর আপত্তি বা সমালোচনা (الطعن) করা একটি তাত্ত্বিক বিষয় (২)।
জ্ঞাতব্য: হাদিস বিশারদদের (أهل الحديث) সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত (إجماع) অনুযায়ী সাহাবিগণ (الصحابة) সকলেই ন্যায়পরায়ণ (عدول); তাই হাদিসের সনদসমূহে (الأسانيد) তাঁদের অবস্থা সম্পর্কে অনুসন্ধান করা হয় না।
নির্ভুলতা বা স্মরণশক্তি (الضَّبْط): এটি হলো পারদর্শিতা (الإتقان) ও দৃঢ়তা (التثبت), যাতে বর্ণনাকারী (الراوي) হাদিসটি শোনার সময় থেকে বর্ণনা করা পর্যন্ত সঠিকভাবে আয়ত্তে রাখতে পারেন।
এটি দুই প্রকার: অন্তস্থ স্মরণশক্তি (ضبط صدر) এবং লিখিত পাণ্ডুলিপির নির্ভুলতা (ضبط كتاب)।
অন্তস্থ স্মরণশক্তি (ضَبْطُ الصَّدْر): বর্ণনাকারী (الراوي) যা শুনেছেন তা এমনভাবে মুখস্থ রাখা যেন যখনই ইচ্ছে তা উপস্থাপন করতে পারেন।
বর্ণনাকারী নির্ভুল স্মৃতিশক্তির অধিকারী (ضابطًا) হওয়ার অর্থ এই নয় যে তিনি ভুল করবেন না, কারণ হাফিজ (الحافظ) হওয়ার সংজ্ঞায় এটি অন্তর্ভুক্ত নয় যে তিনি কোনো ভুলই করবেন না।
সুফিয়ান সাওরি বলেন: "ভুল (الغلط) থেকে রক্ষা পাওয়া কারো পক্ষেই প্রায় অসম্ভব। যদি কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে মুখস্থ রাখার (الحفظ) বিষয়টিই প্রবল হয়, তবে তিনি ভুল করা সত্ত্বেও হাফিজ (حافظ) হিসেবে গণ্য হবেন। আর যদি তার ক্ষেত্রে ভুলের (الغلط) পরিমাণই বেশি হয়, তবে তিনি বর্জনীয় (ترك) বলে গণ্য হবেন।" আল-কিফায়া লিল খাতিব (পৃষ্ঠা: ১৪৪)।
ইমাম মালিক, আওজায়ি, ইবনে উয়াইনা, ইবনুল মুবারক, শু'বা এবং অন্যান্যরাও ভুল করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুনতাকাল আলফায বিতাকরীবী উলূমিল হাদীস লিল হুফফায
(পৃষ্ঠা: ২৬)
فقال مالك في راوي حديث الجارية: (عمر بن الحكم) وإنما هو (معاوية بن الحكم السلمي).
ووهم الأوزاعي في كنية عم أبي قلابة: فقال عن أبي قلابة عن عمه أبي المهاجر.
وإنما هو أبو المهلب اسمه عمرو بن معاوية بن زيد الجرمي.
ووهم سفيان فحدث عن إبراهيم بن عقبة، عن كريب، عن ابن عباس، عن أسامة أن النبي صلى الله عليه وسلم أردف.
إنما هو عن كريب سمعه من أسامة نفسه.
وقال ابن المبارك في راوي حديث: "رأيت على أنس خفين أبيضين" عن بقية عن (محمد بن زياد). أهـ.
وهم فيه ابن المبارك إنما هو (مسلم بن زياد).
ووهم شعبة في حصين بن عقبة فقال: حصين بن سمرة.
ضَبْطُ الكِتَاب: هو أن يصون كتاب مروياته عن التحريف والتبديل، منذ سمع فيه وصححه إلى أن يؤدي منه.
وبعض الرواة لا يحفظ إلا ما في كتابه، فلا يقبل إلّا ما رواه من كتابه.
كحفص بن غياث، ومحمد بن مسلم الطائفي، ويحيى بن أيوب الغافقي.
والطعن في الراوي في عدم ضبط الكتاب إنما يكون فيمن ليس له حفظ إلّا من الكتاب.
ويعرف تحديث الراوي من كتابه بأحد أمور:
أ - بتصريحه أنه حدَّث من كتابه.
ب - أن يُعرف من طريقته أنه لا يحدث إلا من كتابه.
ت - إذا قلَّ الخطأ في حديثه.
مَرَاتِبُ الضَّبْط: هي درجاته من حيث التمكن.
وليس في الضبط مقدار منضبط، وإنما المرجع إلى كثرة حديث الراوي وقلته، ونوع الخطأ.
وهي أربعة:
ইমাম মালিক ‘দাসীর হাদিস’ এর বর্ণনাকারীর (راوي) ব্যাপারে বলেছেন: (উমর বিন আল-হাকাম), অথচ তিনি মূলত (মুয়াবিয়া বিন আল-হাকাম আস-সুলামি)।
ইমাম আওযায়ী আবু কিলাবাহ-এর চাচার কুনিয়াত (উপনাম)-এর ক্ষেত্রে ভ্রান্তি (وهم) করেছেন: তিনি বলেছেন আবু কিলাবাহ থেকে, তিনি তাঁর চাচা আবু আল-মুহাজির থেকে।
অথচ তিনি হলেন আবু আল-মুহাল্লাব, যাঁর নাম আমর বিন মুয়াবিয়া বিন যায়িদ আল-জারমি।
সুফিয়ান ভ্রান্তি (وهم) করেছেন, তিনি বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম বিন উকবাহ থেকে, তিনি কুরাইব থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে, তিনি উসামাহ থেকে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (কাউকে তাঁর সওয়ারির) পেছনে বসিয়েছিলেন।
মূলত এটি হলো কুরাইব থেকে, যিনি এটি সরাসরি উসামাহ থেকে শুনেছেন।
ইবনুল মুবারক একটি হাদিসের বর্ণনাকারীর (راوي) ব্যাপারে বলেছেন: "আমি আনাস (রা.)-এর পায়ে দুটি সাদা চামড়ার মোজা দেখেছি"; বাাকিয়্যাহ থেকে, তিনি (মুহাম্মদ বিন যিয়াদ) থেকে। সমাপ্ত।
ইবনুল মুবারক এতে ভ্রান্তি (وهم) করেছেন, মূলত তিনি হলেন (মুসলিম বিন যিয়াদ)।
শু'বাহ হুসাইন বিন উকবাহ-এর ক্ষেত্রে ভ্রান্তি (وهم) করেছেন, তিনি বলেছেন: হুসাইন বিন সামুরাহ।
কিতাবের নির্ভুলতা (ضبط الكتاب): এটি হলো বর্ণনাকারীর স্বীয় লিখিত পাণ্ডুলিপিকে বিকৃতি ও পরিবর্তন থেকে রক্ষা করা, এটি শোনার ও সংশোধন করার সময় থেকে শুরু করে তা থেকে বর্ণনা করা পর্যন্ত।
কিছু বর্ণনাকারী (راوي) তাদের কিতাবে যা আছে তা ছাড়া মুখস্থ রাখেন না, ফলে তাদের কিতাব থেকে বর্ণিত হাদিস ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণ করা হয় না।
যেমন হাফস বিন গিয়াস, মুহাম্মদ বিন মুসলিম আত-তয়েফি এবং ইয়াহইয়া বিন আইয়ুব আল-গাফেকি।
কিতাবের নির্ভুলতার (ضبط الكتاب) অভাবজনিত কারণে বর্ণনাকারীর (راوي) ওপর সমালোচনা (طعن) কেবল সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রে হয়, যার কিতাব ছাড়া অন্য কোনো মুখস্থ করার ক্ষমতা নেই।
বর্ণনাকারী (راوي) তাঁর কিতাব থেকে বর্ণনা করছেন কি না তা কয়েকটি বিষয়ের মাধ্যমে জানা যায়:
ক - তাঁর স্পষ্ট স্বীকৃতির মাধ্যমে যে, তিনি তাঁর কিতাব থেকে বর্ণনা করেছেন।
খ - তাঁর কর্মপদ্ধতির মাধ্যমে এটি পরিচিত হওয়া যে, তিনি তাঁর কিতাব ছাড়া অন্য কিছু থেকে বর্ণনা করেন না।
গ - যদি তাঁর বর্ণিত হাদিসে ভুলের পরিমাণ কম হয়।
সংরক্ষণের স্তরসমূহ (مراتب الضبط): এটি হলো পারঙ্গমতার বিচারে এর বিভিন্ন পর্যায়।
সংরক্ষণের (ضبط) কোনো সুনির্দিষ্ট গাণিতিক পরিমাপ নেই, বরং এর মাপকাঠি হলো বর্ণনাকারীর (راوي) হাদিসের আধিক্য বা স্বল্পতা এবং ভুলের ধরণ।
আর তা হলো চারটি:
(খণ্ড: ১)
মুনতাকাল আলফায বিতাকরীবী উলূমিল হাদীস লিল হুফফায
(পৃষ্ঠা: ২৭)
1 - تام الضبط.
2 - خفيف الضبط (1).
وهاتان المرتبتان مقبول من اتصف بهما.
3 - كثير الغلط.
وهذه يُقْبَلُ في المتابعات من اتصف بها، وقد يُقْبَلُ لذاته.
4 - من غلب خطؤه على حفظه حتى كثر.
وهذه مردود من اتصف بها، وقد يُقْبَلُ في المتابعات.
وقال ابن مهدي: الناس ثلاثة؛ رجل حافظ متقن فهذا لا يختلف فيه، وآخر يهم والغالب على حديثه الصحة فهذا لا يترك حديثه، ولو ترك حديث مثل هذا لذهب حديث الناس، وآخر يهم والغالب على حديثه الوهم فهذا يترك حديثه. ضعفاء العقيلي (1/ 13).
ومما يعرف به الضبط سبر مرويات الراوي ومقارنتها بمرويات الثقات لينظر في موافقته ومخالفته لهم، وباختبار الراوي، وبالمذاكرة.
المُذَاكَرَة: رواية الحديث على سبيل الاستذكار لتقوية الحفظ وتثبيته.
وقد لا يُذكر من الإسناد إلا أصله، ومن المتن إلا طرفه.
وليس من شأنهم فيها الحرص على الدقة في أداء الرواية كما يحرصون عليها في مجالس التحديث.
الخَطَأُ الفَاحِش: غلبة الوهم والخطأ والمنكرات في حديث الراوي حتى يفحش.
سُوءُ الحِفْظ: هو عدم ضبط المرويات.
ومنه الشديد ومنه الخفيف، ومنه العارض ومنه الدائم.
الاخْتِلَاط: هو فساد في العقل يطرأ على الراوي لعارض، يمنع من قبول روايته بعده.
--------------------------------------------
১ - পূর্ণ স্মৃতিশক্তি সম্পন্ন (تام الضبط)।
২ - সাধারণ স্মৃতিশক্তি সম্পন্ন (خفيف الضبط) (১)।
আর এই দুই স্তরের গুণাবলি সম্পন্ন রাবীদের বর্ণনা গ্রহণযোগ্য (مقبول)।
৩ - অত্যাধিক ভুলকারী (كثير الغلط)।
এ ধরনের গুণসম্পন্ন রাবীর বর্ণনা অনুগামী বর্ণনা (متابعات) হিসেবে গৃহীত হয়, আবার কখনও কখনও তা আপন সত্তার কারণেই গ্রহণযোগ্য (مقبول) হতে পারে।
৪ - যার স্মৃতিশক্তির তুলনায় ভুলই অধিক এবং তা অনেক বেশি।
এই শ্রেণির রাবীর বর্ণনা প্রত্যাখ্যাত (مردود), তবে কখনও কখনও তা অনুগামী বর্ণনা (متابعات) হিসেবে গৃহীত হতে পারে।
ইবন মাহদী বলেন: মানুষ তিন প্রকার; এক ব্যক্তি যে মুখস্থকারী (حافظ) ও সুনিপুণ (متقن), তার ব্যাপারে কোনো মতভেদ নেই। অন্যজন যে ভুল করে কিন্তু তার হাদিসের অধিকাংশ বর্ণনাই সঠিক (الصحة), তার হাদিস ত্যাগ করা হবে না। যদি এই ধরনের মানুষের হাদিস ত্যাগ করা হতো, তবে মানুষের নিকট থেকে হাদিস হারিয়ে যেত। আর অন্যজন যে ভুল করে এবং যার হাদিসের ওপর ভুল বা ভ্রম (الوهم) প্রাধান্য পায়, তার হাদিস ত্যাগ করা হবে। দুয়াফা আল-উয়াকাইলী (১/১৩)।
আর রাবীর বর্ণনাগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার এবং সেগুলোকে নির্ভরযোগ্য (ثقات) রাবীদের বর্ণনার সাথে তুলনা করার মাধ্যমে তার সংরক্ষণ ক্ষমতা (الضبط) সম্পর্কে জানা যায়, যাতে তাদের সাথে তার মিল ও অমিলগুলো লক্ষ্য করা যায়। এছাড়াও রাবীকে পরীক্ষার মাধ্যমে এবং মুজাকারা (المذاكرة)-এর মাধ্যমে এটি জানা যায়।
মুজাকারা (المذاكرة): স্মৃতিশক্তি মজবুত ও সুসংহত করার উদ্দেশ্যে স্মৃতি থেকে হাদিস বর্ণনা করা।
এতে কখনও কখনও সনদের মূল অংশ ছাড়া এবং মতন বা মূল পাঠের অংশবিশেষ ছাড়া অন্য কিছু উল্লেখ করা হয় না।
আর এতে বর্ণনা প্রদানের ক্ষেত্রে তারা সেই সূক্ষ্মতার প্রতি তেমন যত্নবান হন না, যেমনটি তারা হাদিস বর্ণনার মজলিসগুলোতে (مجالس التحديث) হয়ে থাকেন।
জঘন্য ভুল (الخطأ الفاحش): রাবীর হাদিসে ভ্রম (الوهم), ভুল (الخطأ) এবং মুনকার (منكرات) বিষয়ের এমন আধিক্য যা অত্যন্ত প্রকট হয়ে যায়।
স্মৃতিশক্তির দুর্বলতা (سوء الحفظ): এটি হলো বর্ণনাসমূহ সঠিকভাবে স্মরণে রাখার (ضبط) অক্ষমতা।
এর মধ্যে কোনটি তীব্র আবার কোনটি হালকা; কোনটি সাময়িক আবার কোনটি স্থায়ী।
মানসিক বিকৃতি বা ইখতিলাত (الاختلاط): এটি হলো কোনো আকস্মিক কারণে রাবীর বুদ্ধিবৃত্তিক বিপর্যয় ঘটা, যা তার পরবর্তী বর্ণনাসমূহ গ্রহণে বাধা সৃষ্টি করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুনতাকাল আলফায বিতাকরীবী উলূমিল হাদীস লিল হুফফায
(পৃষ্ঠা: ২৮)
العَارِض: خرف، أو احتراق كتب، أو هدم منزل، أو فقد حبيب، أو مرض، أو حجامة، ونحو هذا من العوارض.
الرَّاوِي المُخْتَلط: من زال ضبطه بأمر طارئ، فاختلط عليه الحفظ.
التَّغَيُّر: هو أن يطرأ على الحفظ بعض السوء الخفيف لكبر سن، مع بقاء الحفظ في الجملة.
والتغير عند المتقدمين من الاختلاط. والمتأخرون يفردون له اصطلاحًا خاصًا به.
كأبي إسحق السَّبِيعِيّ فقد تغير قليلًا، قال عنه اختلط بل تغيَّر قليلًا، وهشام بن عروة، كبر وتغير فأخطأ في بعض الأحاديث.
ومثل هؤلاء يُرَدُّ من حديثهم ما علم أنهم أخطؤوا فيه.
والمختلط الثقة لا يعتدُّ بروايته إلّا من طريق ثقة عرف أنه أخذ عنه قبل اختلاطه.
كرواية خَالِد بْن الحارث، وعبد الأعلى بْن عبد الأعلى، وعبد الوهاب بْن عطاء الخَفَّاف، عن سعيد بن أبي عروبة، البصري.
ومن لم يتبين من الرواة المختلطين متى وقع السماع منه: قبل الاختلاط أو بعده، تُرِك، وقد يُعتبَرُ به.
كصالح مولى التوأمة فقد قيل أنه لم يتميز حديثه القديم من الجديد.
ومنهم من لم يضر الاختلاط حديثه، إما لقصر مدة الاختلاط وقلته وإما لعدم روايته حال اختلاطه.
كأبان بن صَمْعَة، فقد ذكر ابن عدي أنه مع ذلك لم يجد له حديثًا منكرًا.
وسفيان بن عُيينة، لقلته.
وجرير بن حازم، فقد منعه بنوه من التحديث.
ومن المختلطين من كان مُتكلَّمًا فيه قبل الاختلاط، فلم يحصل من اختلاطه إلّا زيادة في ضعفه:
كابن لهيعة، ومحمد بن جابر السُّحيمي، ونحوهما.
আকস্মিক কারণ (العارض): স্মৃতিভ্রংশ (خرف), অথবা কিতাবাদি পুড়ে যাওয়া, অথবা ঘরবাড়ি ধ্বংস হওয়া, অথবা প্রিয়জনের বিয়োগ, অথবা অসুস্থতা, অথবা রক্তমোক্ষণ (حجامة) এবং এ জাতীয় অন্যান্য আপদ।
স্মৃতিবিভ্রমকারী বর্ণনাকারী (الراوي المختلط): যার মুখস্থশক্তি (ضبط) কোনো আকস্মিক কারণে লোপ পেয়েছে, ফলে তার মুখস্থ বর্ণনাসমূহ ওলটপালট বা সংমিশ্রিত (اختلط) হয়ে গেছে।
পরিবর্তন (التغير): তা হলো বার্ধক্যের কারণে মুখস্থশক্তিতে সামান্য ত্রুটি দেখা দেওয়া, যদিও সামগ্রিকভাবে মুখস্থশক্তি (الحفظ) অবশিষ্ট থাকে।
পূর্বসূরি (المتقدمون) পণ্ডিতগণের নিকট 'পরিবর্তন' (التغير) বিষয়টি 'স্মৃতিবিভ্রম' (الاختلاط)-এরই অন্তর্ভুক্ত। তবে উত্তরসূরিগণ (المتأخرون) এর জন্য একটি স্বতন্ত্র পরিভাষা (اصطلاح خاص) নির্ধারণ করেছেন।
যেমন আবু ইসহাক আস-সাবিয়ী; তিনি সামান্য পরিবর্তিত (تغير) হয়েছিলেন। তাঁর সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, তিনি স্মৃতিবিভ্রমের শিকার হয়েছিলেন (اختلط), বরং তিনি সামান্য পরিবর্তিত (تغير) হয়েছিলেন। আর হিশাম ইবনে উরওয়াহ; তিনি বৃদ্ধ হয়েছিলেন এবং পরিবর্তিত (تغير) হয়েছিলেন, ফলে তিনি কিছু হাদিসে ভুল করেছেন।
এই ধরনের বর্ণনাকারীদের হাদিসের মধ্যে যেগুলোতে তাঁদের ভুল করা নিশ্চিতভাবে জানা গেছে, সেগুলো প্রত্যাখ্যান (يرد) করা হবে।
নির্ভরযোগ্য স্মৃতিবিভ্রমকারী (المختلط الثقة) বর্ণনাকারীর বর্ণনা তখনই নির্ভরযোগ্য বলে গণ্য হবে, যখন তা এমন কোনো নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তির সূত্রে বর্ণিত হবে যার সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, তিনি তাঁর স্মৃতিবিভ্রম ঘটার পূর্বে (قبل اختلاطه) তাঁর থেকে হাদিস গ্রহণ করেছেন।
যেমন সাঈদ ইবনে আবি আরুবাহ আল-বাসরী থেকে খালিদ ইবনে আল-হারিস, আবদুল আলা ইবনে আবদুল আলা এবং আবদুল ওয়াহাব ইবনে আতা আল-খাফফাফের বর্ণনা।
স্মৃতিবিভ্রমকারী (المختلط) বর্ণনাকারীদের মধ্যে যাদের থেকে শ্রবণের সময়টি স্পষ্ট নয় যে, তা স্মৃতিবিভ্রমের পূর্বে (قبل الاختلاط) নাকি পরে (بعد الاختلاط), তবে তা বর্জন (ترك) করা হবে; তবে কখনো তা সহায়ক হিসেবে বিবেচনা (يعتبر به) করা যেতে পারে।
যেমন সালেহ মাওলা আত-তাওয়ামাহ; তাঁর সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, তাঁর পূর্বের হাদিসগুলো পরেরগুলো থেকে পৃথক করা সম্ভব হয়নি।
তাঁদের মধ্যে এমন অনেকে আছেন যাদের স্মৃতিবিভ্রম (الاختلاط) তাঁদের হাদিসের কোনো ক্ষতি করেনি; হয় স্মৃতিবিভ্রমের সময়কাল সংক্ষিপ্ত ও নগণ্য হওয়ার কারণে, অথবা স্মৃতিবিভ্রম অবস্থায় (حال اختلاطه) তাঁদের থেকে কোনো বর্ণনা না থাকার কারণে।
যেমন আবান ইবনে সামআহ; ইবনে আদি তাঁর সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন যে, তা সত্ত্বেও তিনি তাঁর কোনো অস্বীকৃত হাদিস (حديث منكر) পাননি।
এবং সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ; তাঁর ক্ষেত্রে স্মৃতিবিভ্রমের পরিমাণ অত্যন্ত নগণ্য হওয়ার কারণে।
এবং জারির ইবনে হাযিম; তাঁর সন্তানরা তাঁকে স্মৃতিবিভ্রম অবস্থায় হাদিস বর্ণনা করা থেকে বিরত রেখেছিলেন।
স্মৃতিবিভ্রমকারীদের (المختلطون) মধ্যে কেউ কেউ এমন ছিলেন যারা স্মৃতিবিভ্রমের পূর্বেই সমালোচিত (متكلم فيه) ছিলেন, ফলে তাঁদের স্মৃতিবিভ্রম তাঁদের দুর্বলতাকে (ضعف) কেবল বৃদ্ধিই করেছে:
যেমন ইবনে লাহিয়াহ, মুহাম্মদ ইবনে জাবির আস-সুহাইমি এবং তাঁদের সদৃশ ব্যক্তিবর্গ।
(খণ্ড: ১)
মুনতাকাল আলফায বিতাকরীবী উলূমিল হাদীস লিল হুফফায
(পৃষ্ঠা: ২৯)
فائدة: من الرواة من كان حديثه في آخره أحسن من حديثه في أوله.
قال عبد الله بن أحمد: قال أبي: من سمع من همام بأخرة فهو أجود، لأنَّ همامًا كان في آخر عمره أصابته زمانة فكان يقرب عهده بالكتاب، فقل ما كان يخطئ.
قال ابن رجب: ويظهر أن همامًا كان يحدث من حفظه في الغالب فلما كبر حدّث من كتابه وراجعه فصار أضبط. انظر شرح علل الترمذي لابن رجب (2/ 204).
فائدة: قد تقبل بعض أخبار المختلطين إذا كان الراوي عنهم من كبار الحفاظ، ممن يميز صحيح حديثهم.
كرواية شعبة عن سعيد بن أبي سعيد المَقْبُرِي.
ويعرف الاختلاط الفاحش من اليسير بأمور:
الأول: بتنصيص الأئمة.
والثاني: أن يروى عنه من المنكرات ما يدل على اختلاط عقله تمامًا.
والثالث: بتعامل الحفاظ مع من وصف بالاختلاط، كإخراج مشترطي الصحة في كتبهم عنه.
زِيَادَةُ الثِّقَة: ما زاده بعض الثقات في السند أو المتن، على روايةٍ شاركه فيها ثقاتٌ آخرون.
وتكون في السند والمتن.
ففي السند:
كحديث يرويه البعض بإسناد فيزيد في إسناده أحد الثقات رواة ليسوا عند غيره.
قال ابن أبي حاتم: وسألتُ أبِي عَنْ حديثٍ رَوَاهُ غُنْدَرٌ عَنْ شُعْبة، عَنْ عَلقَمَة بْنِ مَرْثَد، عَنْ سُلَيمان بْنِ رَزِين، عن سالم بن عبد الله بْنِ عُمَرَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ المُسَيِّبِ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنْ النبيِّ صلى الله عليه وسلم؛ فِي الَّذِي تكونُ لَهُ المرأةُ، فيطلِّقها، ثُمَّ يتزوَّجها رجُلٌ، فطلَّقها قَبْلَ أنْ يَدْخُلَ بِهَا، فتَرْجِعُ إِلَى زَوْجِهَا الأوَّلِ؟ قَالَ: لا! حَتَّى تَذُوقَ العُسَيْلَةَ؟
ফায়দা: এমন কিছু বর্ণনাকারী (رواة) রয়েছেন যাদের শেষ জীবনের হাদিস তাদের শুরুর জীবনের হাদিসের চেয়ে অধিক উৎকৃষ্ট (أجود)।
আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ বলেন: আমার পিতা বলেছেন: যে ব্যক্তি হাম্মাম থেকে শেষ বয়সে শুনেছেন তা অধিক উৎকৃষ্ট (أجود), কারণ হাম্মাম তার জীবনের শেষভাগে দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতায় আক্রান্ত হয়েছিলেন, ফলে তিনি তার কিতাবের (পাণ্ডুলিপির) নিকটবর্তী থাকতেন, যার ফলে তার ভুল খুব কম হতো।
ইবনে রজব বলেন: এটি প্রতীয়মান হয় যে, হাম্মাম সাধারণত তার মুখস্থ (حفظ) থেকে বর্ণনা করতেন, তবে যখন তিনি বৃদ্ধ হলেন তখন তিনি তার কিতাব থেকে বর্ণনা করলেন এবং সেটি পর্যালোচনা করলেন, ফলে তিনি অধিক নির্ভরযোগ্য (أضبط) হলেন। দেখুন: ইবনে রজব রচিত শরহু ইলালিত তিরমিজি (২/ ২০৪)।
ফায়দা: বিভ্রান্ত বা স্মৃতিভ্রষ্টদের (مختلطين) কিছু বর্ণনা গ্রহণ করা যেতে পারে যদি তাদের থেকে বর্ণনাকারী (الراوي) বড় মাপের হাফেজদের (حفاظ) অন্তর্ভুক্ত হন, যারা তাদের সঠিক (صحيح) হাদিসগুলোকে পৃথক করতে সক্ষম।
যেমন সাইদ বিন আবু সাইদ আল-মাকবুরি থেকে শু'বার বর্ণনা।
গুরুতর বিভ্রান্তি (الاختلاط) এবং সামান্য বিভ্রান্তির মধ্যে পার্থক্য কয়েকটি বিষয়ের মাধ্যমে জানা যায়:
প্রথমত: ইমামগণের স্পষ্ট বক্তব্যের (تنصيص) মাধ্যমে।
দ্বিতীয়ত: তার থেকে এমন সব প্রত্যাখ্যাত (منكرات) বর্ণনা বর্ণিত হওয়া যা তার বিবেকের সম্পূর্ণ বিভ্রান্তির প্রমাণ দেয়।
তৃতীয়ত: যারা বিভ্রান্তির (الاختلاط) বিশেষণে বিশেষিত হয়েছেন তাদের সাথে হাফেজদের (حفاظ) আচরণের মাধ্যমে, যেমন তাদের কিতাবসমূহে কেবল বিশুদ্ধতার (الصحة) শর্তারোপকারীরা তার থেকে হাদিস গ্রহণ করা।
নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর অতিরিক্ত তথ্য (زيادة الثقة): কোনো নির্ভরযোগ্য (الثقات) বর্ণনাকারী সনদে (السند) বা মতনে (المتن) এমন কিছু অতিরিক্ত বর্ণনা করা যা অন্য নির্ভরযোগ্য (ثقات) বর্ণনাকারীদের বর্ণনায় নেই যারা তার সাথে সেই বর্ণনায় অংশীদার ছিলেন।
এটি সনদ (السند) এবং মতন (المتن) উভয় ক্ষেত্রেই হয়।
সনদের (السند) ক্ষেত্রে:
যেমন কোনো হাদিস যা কেউ কেউ একটি সনদের (إسناد) মাধ্যমে বর্ণনা করেন, কিন্তু একজন নির্ভরযোগ্য (الثقات) বর্ণনাকারী তার সনদে এমন বর্ণনাকারীদের (رواة) নাম বাড়িয়ে দেন যা অন্যদের নিকট নেই।
ইবনে আবি হাতিম বলেন: আমি আমার পিতাকে একটি হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যা গুন্দার, শু’বা থেকে, তিনি আলকামা ইবনে মারসাদ থেকে, তিনি সুলাইমান ইবনে রাজিন থেকে, তিনি সালেম ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উমর থেকে, তিনি সাইদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন; সেই মহিলা সম্পর্কে যার স্বামী তাকে তালাক দিয়েছে, অতঃপর অন্য এক ব্যক্তি তাকে বিয়ে করেছে এবং সহবাসের পূর্বেই তাকে তালাক দিয়েছে, তবে কি সে তার প্রথম স্বামীর নিকট ফিরে যেতে পারবে? তিনি বললেন: না! যতক্ষণ না সে মধু আস্বাদন (সহবাস) করবে।
(খণ্ড: ১)
মুনতাকাল আলফায বিতাকরীবী উলূমিল হাদীস লিল হুফফায
(পৃষ্ঠা: ৩০)
قَالَ أبِي: قَدْ زَادَ عِنْدِي فِي هَذَا الإِسْنَادِ رِجَالا لَمْ يَذكُرهم الثَّوْري، وليست هذه الزِّيادةُ بمحفوظة. علل الحديث لابن أبي حاتم (1288).
يعني: أن شعبة زاد في الإسناد: سالم بن عبد الله، وسعيد بن المسيب.
أو حديث يرويه البعض موقوفًا فيزيد في إسناده أحد الثقات فيجعله مرفوعًا.
كحديث يَحْيَى بْن آدَمَ، قَالَ: حدَّثَنَا قُطْبَةُ بْنُ عَبْدِ العَزِيزِ، عَنِ الأعْمَشِ، عَنْ أبِي سُفْيَانَ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم: إذَا أجْمَرْتُمَ المَيِّتَ فَأجْمِرُوهُ ثَلاثًا.
فَقَالَ يَحْيَى: لَمْ يَرْفَعْهُ إِلَّا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، قَالَ يَحْيَى: وَلَا أظُنُّ هَذَا الحَدِيثَ إِلَّا غَلَطًا. السنن الكبرى للبيهقي (3/ 568)
وفي المتن:
أن يروي البعض الحديث، فيرويه ثقة شاركه في روايته، فيزيد في متنه.
- وَسُئِلَ الدارقطني عَنْ حَدِيثِ: رِيَاحِ بْنِ الحَارِثِ النَّخَعِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ زَيْدٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: عَشَرَةٌ فِي الجَنَّةِ فَذَكَرَهُمْ.
فَقَالَ: هُوَ حَدِيثٌ رَوَاهُ صَدَقَةُ بْنُ المُثَنَّى، عَنْ جَدِّهِ رِيَاحِ بْنِ الحَارِثِ، حَدَّثَ بِهِ جَمَاعَةٌ مِنْهُمْ: يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ القَطَّانُ، وَأبُو مُعَاوِيَةَ الضَّرِيرُ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ، وَيَعْلَى بْنُ عُبَيْدٍ، وَعُمَرُ بْنُ عِمْرَانَ الطُّفَاوِيُّ، فَاتَّفَقُوا عَلَى إسناده ومتنه.
وَرَوَاهُ عَبْدُ الوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ، وَعَبْدُ الله بْنُ سَلَمَةَ الأفْطَسُ، عَنْ صَدَقَةَ بْنِ المُثنَّى بِهَذَا الإِسْنَادِ، وَزَادَا فِيهِ:
أنَّ سَعِيدَ بْن زَيْدٍ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ الله صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: إِنَّ كَذِبًا عَليَّ لَيْسَ كَكَذِبٍ عَلَى أحَدٍ، مَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّدًا فَليَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ.
هَذِهِ زِيَادَةٌ حَسَنَةٌ صَحِيحَةٌ، مِنْ رِوَايَةِ عَبْدِ الوَاحِدِ بْنِ زِيَادٍ لأنَّهُ مِنَ الثِّقَاتِ.
فَأمَّا عَبْدُ الله بْنُ سَلَمَةَ الأفْطَسُ فَلَيْسَ بِقَوِيٍّ.
আমার পিতা বলেন: এই সনদে (إسناد) আমার নিকট এমন কিছু বর্ণনাকারী (رجال) বৃদ্ধি পেয়েছে যাদের নাম সাওরি উল্লেখ করেননি, আর এই অতিরিক্ত বর্ণনাটি সংরক্ষিত (محفوظ) নয়। ইলালুল হাদিস ইবনে আবি হাতিম (১২৮৮)।
অর্থাৎ: শু’বা সনদে (إسناد) সালেম বিন আব্দুল্লাহ এবং সাঈদ বিন মুসাইয়িবকে বৃদ্ধি করেছেন।
অথবা এমন হাদিস যা কেউ মাওকুফ (موقوف) হিসেবে বর্ণনা করেন, অতঃপর নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারীদের একজন এর সনদে (إسنাদ) বৃদ্ধি করে সেটিকে মারফু (مرفوع) হিসেবে বর্ণনা করেন।
যেমন ইয়াহইয়া ইবনে আদমের হাদিস, তিনি বলেন: আমাদের নিকট কুতবাহ ইবনে আব্দুল আজিজ বর্ণনা করেছেন আমাশ থেকে, তিনি আবু সুফিয়ান থেকে, তিনি জাবির থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যখন তোমরা মৃত ব্যক্তিকে ধূপ দেবে, তখন তিনবার ধূপ দেবে।
অতঃপর ইয়াহইয়া বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে আদম ব্যতীত আর কেউ এটিকে মারফু (رفع) করেননি। ইয়াহইয়া বলেন: আমি এই হাদিসটিকে ভুল (غلط) ব্যতীত অন্য কিছু মনে করি না। আস-সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকি (৩/৫৬৮)
এবং মতনের (متن) ক্ষেত্রে:
কোনো হাদিস কেউ বর্ণনা করেন, অতঃপর তার সাথে বর্ণনায় অংশীদার এমন একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারী সেটি বর্ণনা করার সময় তার মতনে (متن) কিছু বৃদ্ধি করে দেন।
- এবং ইমাম দারাকুতনিকে রিয়াহ ইবনুল হারিস আন-নাখায়ি-এর হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, যা তিনি সাঈদ ইবনে যায়েদ থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন: দশজন জান্নাতি, অতঃপর তিনি তাদের নাম উল্লেখ করেছেন।
তিনি বলেন: এটি এমন একটি হাদিস যা সাদাকা ইবনুল মুসান্না তার দাদা রিয়াহ ইবনুল হারিস থেকে বর্ণনা করেছেন। একদল বর্ণনাকারী এটি বর্ণনা করেছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন: ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান, আবু মুয়াবিয়া আদ-দারির, মুহাম্মদ ইবনে উবাইদ, ইয়ালা ইবনে উবাইদ এবং উমর ইবনে ইমরান আত-তুফাউয়ি। তারা এর সনদ (إسناد) এবং মতন (متن) এর ব্যাপারে একমত হয়েছেন।
আর আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে যিয়াদ এবং আব্দুল্লাহ ইবনে সালামাহ আল-আফতাস এই সনদে (إسناد) সাদাকা ইবনুল মুসান্না থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তারা এতে বৃদ্ধি করেছেন:
নিশ্চয়ই সাঈদ ইবনে যায়েদ বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: নিশ্চয়ই আমার ওপর মিথ্যারোপ করা অন্য কারো ওপর মিথ্যারোপ করার মতো নয়। যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যারোপ করবে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।
এই অতিরিক্ত অংশটুকু হাসান (حسن) ও সহিহ (صحيح), যা আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে যিয়াদের বর্ণনা থেকে প্রাপ্ত, কেননা তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত।
তবে আব্দুল্লাহ ইবনে সালামাহ আল-আফতাস শক্তিশালী (قوي) নন।
(খণ্ড: ১)
মুনতাকাল আলফায বিতাকরীবী উলূমিল হাদীস লিল হুফফায
(পৃষ্ঠা: ৩১)
وَقَدْ رَوَى هَذَا الحَدِيثَ، عَنْ رِيَاحِ بْنِ الحَارِثِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ زَيْدٍ، وَلَمْ يَذْكُرْ فِيهِ مَنْ كَذَبَ. علل الدارقطني (667).
وليس لها قاعدة مطردة، وإنما الحكم فيها للمرجحات تبعًا للقرائن والحيثيات.
قال ابن حجر: وجوه الترجيح كثيرة لا تنحصر، ولا ضابط لها بالنسبة إلى جميع الأحاديث، بل كل حديث يقوم به ترجيح خاص لا يخفى على الممارس الفطن الذي أكثر من جمع الطرق. النكت على ابن الصلاح (2/ 778).
وذكر ابن حجر العسقلاني منهج الأئمة المتقدمين في قبول الزيادة فقال: المنقول عن أئمة الحديث المتقدمين: كعبد الرحمن بن مهدي، ويحيى القطان، وأحمد بن حنبل، ويحيى بن معين، وعلي بن المديني، والبخاري، وأبي زرعة الرازي، وأبي حاتم، والنسائي، والدارقطني، وغيرهم: اعتبار الترجيح فيما يتعلق بالزيادة وغيرها، ولا يعرف عن أحد منهم إطلاق قبول الزيادة. نزهة النظر (ص 49).
ومن ظن أن زيادة الثِّقة ترجح برواية الأكثر أو الأحفظ هكذا مجردًا فقد وهم.
أمثلة على زيادات الثقات:قال ابن أبي حاتم: وسألتهما عن حديث رواه أبو إسحاق عن الحارث بن مضرب في قصة ابن النواحة. الزيادة التي يزيد أبو عوانة أنه قال: "وكفلهم عشائرهم" هو الصحيح؟ .
فقالا: رواه الثوري ولم يذكر هذه الزيادة، إلا أن أبا عوانة ثقة وزيادة الثقة مقبولة. علل الحديث لابن أبي حاتم (1397).
وقال ابن أبي حاتم: سألتُ أبِي عَنْ حديثٍ رَوَاهُ منصور، عن مُجاهِد، عَنْ أبِي عَيَّاش الزُّرَقي، عَنِ النبيِّ صلى الله عليه وسلم فِي صَلاة الخَوف.
يزيدُ فِيهَا جرير: "فنزلَتْ آيةُ القَصْرِ بين الظُّهر والعَصر".
هَذِهِ الزِّيادةُ محفوظَة؟
قَالَ: نعم، هُوَ صَحيحٌ. علل الحديث لابن أبي حاتم (272)
এবং এই হাদিসটি রিয়াহ ইবনুল হারিস থেকে, তিনি সাঈদ ইবনু জায়েদ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং এতে কে মিথ্যা বলেছে তার উল্লেখ নেই। ইলাল আদ-দারাকুতনি (৬৬৭)।
আর এর জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়ম নেই, বরং এতে সিদ্ধান্ত প্রদান করা হয় বিভিন্ন পারিপার্শ্বিক অবস্থা ও আনুষঙ্গিক বিষয়ের ভিত্তিতে অগ্রগণ্যতা দানকারী বিষয়গুলোর (مرجحات) মাধ্যমে।
ইবনু হাজার বলেন: অগ্রগণ্যতা প্রদানের (ترجيح) পদ্ধতি অনেক, যা সীমাবদ্ধ নয়। সমস্ত হাদিসের ক্ষেত্রে এর কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়ম নেই, বরং প্রতিটি হাদিসের ক্ষেত্রে একটি বিশেষ প্রাধান্য প্রদানের (ترجيح) দিক থাকে যা একজন বিচক্ষণ ও অভিজ্ঞ হাদিস গবেষকের কাছে গোপন থাকে না, যিনি অধিক মাত্রায় হাদিসের সূত্রসমূহ (طرق) সংগ্রহ করেছেন। আন-নুকার আলা ইবনিস সালাহ (২/ ৭৭৮)।
ইবনু হাজার আল-আসকালানি অতিরিক্ত তথ্য (زيادة) কবুল করার ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী ইমামগণের মানহাজ উল্লেখ করে বলেছেন: হাদিসের পূর্ববর্তী ইমামগণ—যেমন আবদুর রহমান ইবনু মাহদি, ইয়াহইয়া আল-কাত্তান, আহমাদ ইবনু হাম্বল, ইয়াহইয়া ইবনু মাঈন, আলি ইবনুল মাদিনি, বুখারি, আবু জুরআহ আর-রাজি, আবু হাতিম, নাসায়ি, দারাকুতনি এবং অন্যান্যদের থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা হলো: অতিরিক্ত তথ্য (زيادة) এবং অন্যান্য বিষয়ের ক্ষেত্রে প্রাধান্য প্রদানের (الترجيح) বিষয়টিকে বিবেচনায় নেওয়া। তাঁদের কারো থেকেই ঢালাওভাবে অতিরিক্ত তথ্য (زيادة) গ্রহণের কথা জানা যায় না। নুযহাতুন নাযার (পৃষ্ঠা ৪৯)।
আর যে ব্যক্তি মনে করে যে, নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারীর অতিরিক্ত তথ্য (زيادة) অধিক সংখ্যক বা অধিক স্মৃতিশক্তি সম্পন্ন বর্ণনাকারীদের বর্ণনার বিপরীতে কেবল এই কারণেই প্রাধান্য (ترجح) পাবে, সে আসলে ভ্রান্তিতে রয়েছে।
নির্ভরযোগ্য (ثقات) বর্ণনাকারীদের অতিরিক্ত তথ্যের (زيادات) উদাহরণ:ইবনু আবি হাতিম বলেন: আমি তাঁদের দুজনকে (আবু হাতিম ও আবু জুরআহ) ইবনু নাওয়াহাহ-এর ঘটনায় হারিস ইবনু মুদাররিব থেকে আবু ইসহাক কর্তৃক বর্ণিত একটি হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। আবু আওয়ানাহ যে অতিরিক্ত তথ্যটি (الزيادة) বৃদ্ধি করেছেন যে তিনি বলেছেন: "এবং তাঁদের গোত্রগুলো তাঁদের জিম্মাদার হয়েছিল"—এটি কি সহিহ (الصحيح)?
তাঁরা দুজনেই বললেন: এটি সাওরি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি এই অতিরিক্ত তথ্যটি (الزيادة) উল্লেখ করেননি। তবে আবু আওয়ানাহ নির্ভরযোগ্য (ثقة) এবং নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর অতিরিক্ত তথ্য (زيادة الثقة) গ্রহণযোগ্য (مقبولة)। ইলালুল হাদিস লি-ইবনি আবি হাতিম (১৩৯৭)।
ইবনু আবি হাতিম বলেন: আমি আমার পিতাকে মানসুর থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি আবু আইয়াশ আজ-জুরাকি থেকে, তিনি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে 'সালাতুল খাওফ' (ভীতিপূর্ণ অবস্থার সালাত) সম্পর্কে বর্ণিত একটি হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম।
জারির এতে বৃদ্ধি করেছেন: "জোহর ও আসরের মধ্যবর্তী সময়ে কসরের আয়াত নাজিল হয়েছিল।"
এই অতিরিক্ত তথ্যটি (الزيادة) কি সংরক্ষিত (محفوظة)?
তিনি বললেন: হ্যাঁ, এটি সহিহ (صحيح)। ইলালুল হাদিস লি-ইবনি আবি হাতিম (২৭২)
(খণ্ড: ১)
মুনতাকাল আলফায বিতাকরীবী উলূমিল হাদীস লিল হুফফায
(পৃষ্ঠা: ৩২)
قَالَ أبُو دَاوُدَ: حَدَّثَنَا حَامِدُ بْنُ يَحْيَى، أخْبَرَنَا سُفْيَانُ.
ح وحَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنِ ابْنِ عَجْلَانَ، سَمِعَ عِيَاضًا، قَالَ: سَمِعْتُ أبَا سَعِيدٍ الخُدْرِيَّ، يَقُولُ: "لَا أُخْرِجُ أبَدًا إِلَّا صَاعًا، إِنَّا كُنَّا نُخْرِجُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ الله صلى الله عليه وسلم صَاعَ تَمْرٍ، أوْ شَعِيرٍ، أوْ أقِطٍ، أوْ زَبِيبٍ".
هَذَا حَدِيثُ يَحْيَى.
زَادَ سُفْيَانُ: "أوْ صَاعًا مِنْ دَقِيقٍ" قَالَ حَامِدٌ: فَأنْكَرُوا عَلَيْهِ، فَتَرَكَهُ سُفْيَانُ.
قَالَ أبُو دَاوُدَ: "فَهَذِهِ الزِّيَادَةُ وَهْمٌ مِنَ ابْنِ عُيَيْنَةَ" سنن أبي داود (1618).
القَرَائِن: حيثيات تقترن بالأسانيد والمتون يترجح بها حكم على حكم.
كتعارضٍ في رواية أربعة رواة يتفق ثلاثة على شيء فيها ويخالفهم واحد، فنقول: كثرة الثلاثة قرينة تدل على تقديم روايتهم على رواية الواحد.
"لا نكاح إلّا بولي": كحديث
فقد اختلف فيه على أبي إسحاق السبيعي:
فرواه شعبة والثوري عنه، عن أبي بردة عن النبي صلى الله عليه وسلم مرسلًا.
ورواه إسرائيل بن يونس في آخرين، عن جده أبي إسحاق، عن أبي بردة عن موسى متصلًا.
فحكم البخاري لمن وصله، لأنَّ الذي وصله عن أبي إسحاق، سبعة منهم إسرائيل حفيده، وهو أثبت الناس في حديثه لكثرة ممارسته له.
هذا وقد كان مردُّ تعامل المتقدمين في الحكم على الحديث والرواة إلى القرائن أكثرَ من مَرَدِّه إلى الضوابط والقواعد.
التَّلقِيْن: هو أن يُقْرَأ على الشيخ ما ليس من حديثه، إيهامًا له أنه من حديثه، أو أن يدفع إليه من غير حديثه فيقرأه، فيقر به.
صور التلقين:- أن يلقن حديثه هو.
আবু দাউদ বলেন: আমাদের নিকট হামিদ ইবনে ইয়াহইয়া বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন সুফিয়ান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন।
এবং (পঠনপদ্ধতি পরিবর্তন করে) মুসাদ্দাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি ইবনে আজলান থেকে, তিনি ইয়াদকে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু সাঈদ আল-খুদরি (রা.)-কে বলতে শুনেছি: "আমি (সদকাতুল ফিতর হিসেবে) সর্বদা এক সা'র বেশি বের করব না। আমরা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে এক সা' খেজুর, অথবা যব, অথবা পনির, অথবা কিশমিশ বের করতাম।"
এটি ইয়াহইয়ার বর্ণিত হাদিস।
সুফিয়ান অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন: "অথবা এক সা' আটা"। হামিদ বলেন: তারা (অন্যান্য বর্ণনাকারীরা) তাঁর এই বর্ণনাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন, ফলে সুফিয়ান এটি বর্জন করেন।
আবু দাউদ বলেন: "এই অতিরিক্ত অংশটুকু ইবনে উয়াইনার পক্ষ থেকে একটি ভ্রম (وهم)"। সুনান আবু দাউদ (১৬১৮)।
আলামতসমূহ (قرائن): এমন কিছু আনুষঙ্গিক প্রেক্ষাপট যা সনদ এবং মতনের সাথে যুক্ত থাকে, যার মাধ্যমে একটি সিদ্ধান্তের ওপর অন্যটিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়।
যেমন চারজন বর্ণনাকারীর বর্ণনার মধ্যে বৈপরীত্য দেখা দেওয়া, যেখানে তিনজন একটি বিষয়ে একমত হন এবং একজন তাঁদের বিরোধিতা করেন। এমতাবস্থায় আমরা বলি: তিনজনের আধিক্য হলো একটি আলামত (قرينة), যা নির্দেশ করে যে তাঁদের বর্ণনাকে একজনের বর্ণনার ওপর প্রাধান্য দিতে হবে।
"অভিভাবক ছাড়া কোনো বিবাহ নেই": এই হাদিসের ক্ষেত্রে যেমনটি ঘটেছে
এই হাদিসটি আবু ইসহাক আস-সাবি'ঈ থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে মতভেদ হয়েছে:
শু'বাহ এবং সাওরি তাঁর থেকে, তিনি আবু বুরদাহ থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এটি বিচ্ছিন্ন (مرسل) হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
অন্যদিকে ইসরাঈল ইবনে ইউনুসসহ আরও কয়েকজন এটি তাঁদের দাদা আবু ইসহাক থেকে, তিনি আবু বুরদাহ থেকে, তিনি আবু মুসা থেকে সংযুক্ত (متصل) হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
ইমাম বুখারি তাঁদের বর্ণনাকেই প্রাধান্য দিয়েছেন যাঁরা একে সংযুক্ত (وصل) করেছেন। কারণ, যাঁরা আবু ইসহাক থেকে একে সংযুক্ত করেছেন তাঁদের সংখ্যা সাতজন, যাঁদের মধ্যে তাঁর নাতি ইসরাঈলও রয়েছেন; আর ইসরাঈল তাঁর হাদিস বর্ণনায় সর্বাধিক সুদৃঢ় (أثبت الناس), কারণ তিনি তাঁর বর্ণনার সাথে দীর্ঘকাল নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন।
উল্লেখ্য যে, হাদিস এবং বর্ণনাকারীদের ওপর হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে প্রাচীন মুহাদ্দিসগণের মূল ভিত্তি সাধারণ নিয়ম ও মূলনীতির চেয়ে আলামতসমূহ (القرائن)-এর ওপরই বেশি নির্ভরশীল ছিল।
তালকিন (التلقين): এটি হলো কোনো শায়খকে এমন কিছু পড়ে শোনানো যা তাঁর হাদিস নয়, যাতে তাঁকে এই বিভ্রমে ফেলা যায় যে এটি তাঁরই হাদিস; অথবা তাঁকে এমন কোনো হাদিস প্রদান করা যা তাঁর নয় এবং তিনি তা পাঠ করেন ও নিজের বলে স্বীকার করে নেন।
তালকিনের পদ্ধতিসমূহ:- তাঁকে তাঁর নিজের হাদিসটিই (অন্যের মাধ্যমে) মুখে তুলে দেওয়া বা স্মরণ করিয়ে দেওয়া।
(খণ্ড: ১)
মুনতাকাল আলফায বিতাকরীবী উলূমিল হাদীস লিল হুফফায
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
- أن يلقن حديث غيره.
- الضرير إذا كتب له ثم لقن ما كتب ليحفظه.
ولا يُقْبلُ حديث من قَبِلَ التلقين.
وممن قبل التلقين: حجاج بن نُصَير القيسي، وعُبيد بن هشام الحلبي، وعثمان بن الهيثم بن جهم العبدي.
- وليس كل تلقين يضر، ولا كل من تلقن يضعف حديثه.
كعبد الرزاق الصنعاني.
وإنما يضر التلقين بالراوي إذا كثر منه، وكان ما تلقنه ليس من صحيح حديثه.
الإِصْرَارُ عَلَى الخَطَأ: وهو أن يبين للراوي أنه أخطأ، فيُصِرُّ ولا يتراجع.
كأحمد بن رشدين، وعلي بن عاصم الواسطي، وأبي الحسين بن قانع.
وجعله بعض النقاد قادحًا فيمن وقع منه.
قال الجديع: القدح في الراوي إنما هو من جهة خطئه، لا من جهة إصراره على ما يحسب نفسه مصيبًا فيه. تحرير علوم الحديث (1/ 464).
قال حمزة السهمي: سألته (يعني الدارقطني) عمن يكون كثير الخطأ؟
قال: إن نبهوه عليه ورجع عنه فلا يسقط، وإن لم يرجع سقط. سؤالات السهمي.
قيل لأبي بكر محمد بن إسحاق بن خزيمة: لِمَ رويت عن أحمد بن عبد الرحمن بن وهب، وتركت سفيان بن وكيع؟ فقال: لأن أحمد بن عبد الرحمن لما أنكروا عليه تلك الأحاديث رجع عنها عن آخرها، إلا حديث مالك عن الزهري عن أنس: (إذا حضر العشاء)، فإنه ذكر أنه وجده في درج من كتب عمه في قرطاس، وأما سفيان بن وكيع، فإن وراقه أدخل عليه أحاديث، فرواها، وكلمناه فيها فلم يرجع عنها، فاستخرت الله وتركت الرواية عنه. الخطيب في "الجامع" (1120).
অন্যের হাদিস দ্বারা প্ররোচিত (تلقين) হওয়া।
অন্ধ ব্যক্তি, যার জন্য [হাদিস] লিখে দেওয়া হয়, অতঃপর তাকে যা লিখে দেওয়া হয়েছে তা মুখস্থ করার জন্য তাকে প্ররোচিত (لقن) করা হয়।
যে ব্যক্তি প্ররোচনা (التلقين) গ্রহণ করে তার হাদিস গ্রহণ করা হয় না।
যারা প্ররোচনা (التلقين) গ্রহণ করেছেন তাদের অন্তর্ভুক্ত হলেন: হাজ্জাজ ইবন নুসায়ের আল-কাইসি, উবাইদ ইবন হিশাম আল-হালাবি এবং উসমান ইবনুল হাইসাম ইবন জাহম আল-আবদি।
তবে সব ধরনের প্ররোচনা (تلقين) ক্ষতিকর নয়, এবং যাকে প্ররোচিত (تلقن) করা হয় তার হাদিসই যে দুর্বল (يضعف) হয়ে যায় এমন নয়।
যেমন: আবদুর রাজ্জাক আস-সানআনি।
বর্ণনাকারীর (الراوي) ক্ষেত্রে প্ররোচনা (التلقين) তখনই ক্ষতিকর হয় যখন তা অধিক মাত্রায় ঘটে এবং তাকে যা প্ররোচিত (تلقنه) করা হয়েছিল তা যদি তার সহিহ (صحيح) হাদিসের অন্তর্ভুক্ত না হয়।
ভুলের ওপর অটল থাকা: এর অর্থ হলো যখন বর্ণনাকারীকে (الراوي) স্পষ্ট করে দেওয়া হয় যে তিনি ভুল (أخطأ) করেছেন, কিন্তু তিনি তাতে অটল (يُصِرُّ) থাকেন এবং তা থেকে ফিরে আসেন না।
যেমন: আহমদ ইবন রুশদিন, আলি ইবন আসিম আল-ওয়াসিতি এবং আবুল হুসাইন ইবন কানি।
কিছু সমালোচক (النقاد) একে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জন্য ত্রুটি বা জারহ (قادحًا) হিসেবে গণ্য করেছেন।
আল-জুদাঈ বলেন: বর্ণনাকারীর (الراوي) প্রতি সমালোচনা বা জারহ (القدح) মূলত তার ভুলের (خطئه) দিক থেকে হয়, কিন্তু যে বিষয়ে তিনি নিজেকে সঠিক মনে করছেন সে বিষয়ে অটল থাকার দিক থেকে নয়। তাহরির উলুমিল হাদিস (১/ ৪৬৪)।
হামজা আস-সাহমি বলেন: আমি তাকে (অর্থাৎ আদ-দারাকুতনিকে) এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম যার ভুল (الخطأ) অনেক বেশি হয়?
তিনি বললেন: যদি তাকে সে বিষয়ে সতর্ক করা হয় এবং তিনি তা থেকে ফিরে আসেন তবে তিনি নির্ভরযোগ্যতা থেকে বিচ্যুত (يسقط) হবেন না, কিন্তু যদি ফিরে না আসেন তবে তিনি বিচ্যুত (سقط) হয়ে পড়বেন। সুয়ালাত আস-সাহমি।
আবু বকর মুহাম্মদ ইবন ইসহাক ইবন খুজাইমাকে বলা হলো: কেন আপনি আহমদ ইবন আবদুর রহমান ইবন ওয়াহব থেকে বর্ণনা (رويت) করেছেন, অথচ সুফিয়ান ইবন ওয়াকি'কে বর্জন করেছেন? তিনি বললেন: কারণ আহমদ ইবন আবদুর রহমানকে যখন তারা সেই সব হাদিসের ব্যাপারে আপত্তি করেছিল, তখন তিনি তার সবগুলো থেকে ফিরে এসেছিলেন; কেবল মালেক, যুহরি থেকে, আনাস-এর সূত্রে বর্ণিত এই হাদিসটি ব্যতীত: (যখন রাতের খাবার উপস্থিত হয়), কারণ তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে তিনি এটি তার চাচার কিতাবের একটি কাগজের ভাঁজে পেয়েছিলেন। আর সুফিয়ান ইবন ওয়াকি'র ক্ষেত্রে বিষয় হলো, তার লিপিকার তার কিতাবে কিছু হাদিস ঢুকিয়ে দিয়েছিল যা তিনি বর্ণনা (رواها) করেছিলেন; আমরা তার সাথে এ বিষয়ে কথা বলেছি কিন্তু তিনি তা থেকে ফিরে আসেননি। তাই আমি আল্লাহর নিকট ইস্তিখারা করে তার থেকে বর্ণনা (الرواية) করা বর্জন করেছি। আল-খাতিব আল-জামে গ্রন্থে (১১২০)।