(খণ্ড: ১) ফাদাইলু রামাদান লি ইবনি আবী দুনইয়া (পৃষ্ঠা: -)
فضائل رمضان لابن أبي الدنيا   (ابن أبي الدنيا)

القسم: كتب السنة


الكتاب: فضائل رمضان

المؤلف: أبو بكر عبد الله بن محمد بن عبيد بن سفيان بن قيس البغدادي الأموي القرشي المعروف بابن أبي الدنيا (ت 281هـ)

حققه وخرج أحاديثه: عبد الله بن حمد المنصور

الناشر: دار السلف، الرياض - السعودية

الطبعة: الأولى، 1415 هـ - 1995 م

عدد الصفحات: 94

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইবনে আবিদ দুনিয়া রচিত রমজানের ফজিলত   (ইবনে আবিদ দুনিয়া)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: রমজানের ফজিলত

লেখক: আবু বকর আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন উবাইদ বিন সুফিয়ান বিন কায়স আল-বাগদাদি আল-উমাবি আল-কুরাশি, যিনি ইবনে আবিদ দুনিয়া নামে পরিচিত (মৃত্যু ২৮১ হিজরি)

তাহকিক ও হাদিস তাখরিজ করেছেন: আবদুল্লাহ বিন হামাদ আল-মানসুর

প্রকাশক: দারুস সালাফ, রিয়াদ - সৌদি আরব

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৫ হিজরি - ১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৪

[কিতাবের নম্বরবিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) ফাদাইলু রামাদান লি ইবনি আবী দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ২৩)
1 - أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الْأَمِينُ الثِّقَةُ الْأَصِيلُ عِزُّ الدِّينِ أَبُو عَبْدِ الرَّحِيمِ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ الْمُنْعِمِ بْنِ الْحَصْرِ بْنِ شِبْلٍ الْحَارِثِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ فِي يَوْمِ عَاشُورَاءَ عَامَ أَرْبَعٍ وَثَلَاثِينَ وَسِتِّمِائَةٍ ببُسْتَانِ السَّمْعِ بَأَرْضِ السَّهْمِ مِنْ بَيْتِ لِهْيَا مِنْ كَوْرَةِ غُوطَةِ دِمَشْقَ، قِيلَ لَهُ: أَخْبَرَكُمُ الْقَاضِي الْإِمَامُ مُفْتِي الْفِرَقِ أَبُو سَعْدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ هِبَةِ اللَّهِ بْنِ أَبِي عَصْرُونَ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنْتَ تَسْمَعُ فِي الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ مِنْ شَهْرِ رَمَضَانَ سَنَةَ ثَلَاثٍ وَسَبْعِينَ وَخَمْسِمِائَةٍ، فَأَقَرَّ بِهِ، قَالَ: أنا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيٍّ الْفَرْضِيُّ الْمُقْرِئُ عُرِفَ بِالْمَزَرَفِيِّ ح وَأَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الصَّالِحُ الزَّاهِدُ الْمُعَمَّرُ أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي الْحَسَنِ الْمُقَيَّرُ بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ فِي أَوَائِلِ سَنَةِ أَرْبَعٍ وَثَلَاثِينَ وَسِتِّمِائَةٍ بِجَامِعِ دِمَشْقَ قُلْتُ لُهُ: أَخْبَرَكُمُ الشَّيْخُ أَبُو الْكَرَمِ الْمُبَارَكُ بْنُ الشَّهْرَزُورِيُّ إِجَازَةُ قَالَا: أَنَا الْقَاضِي الشَّرِيفُ أَبُو الْحُسَيْنِ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُهْتَدِي قَالَ الْمَزْرِفِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَاَ أَسْمَعُ، وَقَالَ الشَّهْرَزُورِيُّ إِجَازَةً قَالَ: أَنَا أَبُو إِسْحَاقَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدٍ الطَّبَرِيُّ: قثنا عُمَرُ بْنُ الْحَسَنِ قَالَ: نا أَبُو بَكْرٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عُبَيْدٍ الْقُرَشِيُّ ⦗ص: 24⦘ قثنا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ الْجُشَمِيُّ، قثنا زَائِدَةُ بْنُ أَبِي الرُّقَادِ، قَالَ: حَدَّثَنِي زِيَادٌ النُّمَيْرِيُّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا دَخَلَ رَجَبُ قَالَ: «اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي رَجَبَ وَشَعْبَانَ، وَبَلِّغْنَا رَمَضَانَ»
১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমানতদার, বিশ্বস্ত ও সম্ভ্রান্ত বংশীয় শাইখ ইযযুদ্দিন আবু আবদুর রহিম আবদুর রহমান বিন আবদিল মুনইম বিন আল-হাসর বিন শিবল আল-হারিসী, তাঁর সামনে পাঠ করা হয়েছে এবং আমি তা শুনছিলাম ৬৩৪ হিজরি সনের আশুরার দিনে দামেস্কের গুতা অঞ্চলের বাইত লিহ্ইয়া এর আস-সাহম ভূমিতে অবস্থিত বুস্তানুস সাম-এ। তাঁকে বলা হলো: আপনাকে সংবাদ দিয়েছেন আল-কাদি আল-ইমাম মুফতিউল ফিরাক আবু সাদ আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন হিবাতুল্লাহ বিন আবি আসরুন, তাঁর সামনে পাঠ করা হয়েছে এবং আপনি তা শুনছিলেন ৫৭৩ হিজরি সনের রমজান মাসের শেষ দশকে। তিনি তা স্বীকার করলেন। তিনি বললেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ বিন আলী আল-ফারজি আল-মুকরি, যিনি আল-মাযরাফি নামে পরিচিত (হ)। এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন নেককার ও দুনিয়াবিমুখ দীর্ঘজীবী শাইখ আবু আল-হাসান আলী বিন আবি আবদিল্লাহ বিন আবিল হাসান আল-মুকাইয়ার, তাঁর সামনে আমার পাঠের মাধ্যমে ৬৩৪ হিজরি সনের শুরুতে দামেস্কের জামে মসজিদে। আমি তাঁকে বললাম: আপনাকে সংবাদ দিয়েছেন শাইখ আবুল কারাম আল-মুবারক বিন আশ-শাহরাযুরি ইজাজতসূত্রে? তাঁরা বললেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-কাদি আশ-শরীফ আবু আল-হুসাইন মুহাম্মদ বিন আলী বিন আল-মুহতাদী। মাযরাফি বলেন: তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং আমি শুনছিলাম, আর শাহরাযুরি ইজাজতসূত্রে বলেন। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইসহাক ইবরাহিম বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-তাবারী। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উমর বিন আল-হাসান। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন উবাইদ আল-কুরাশি ⦗পৃষ্ঠা: ২৪⦘ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উবায়দুল্লাহ বিন উমর আল-জুশামি। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যায়িদা বিন আবি আল-রুকাদ। তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যিয়াদ আন-নুমাইরি, আনাস বিন মালিক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন রজব মাস প্রবেশ করত, তখন বলতেন: «হে আল্লাহ! রজব ও শাবান মাসে আমাদের জন্য বরকত দান করুন এবং আমাদের রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দিন।»
(খণ্ড: ১) ফাদাইলু রামাদান লি ইবনি আবী দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ২৫)
2 - حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ خِدَاشٍ، قثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، قَالَ: أنا عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عَبْدِ الْمَلِكِ، حَدَّثَهُ عَنْ مُصْعَبِ بْنِ أَبِي ذِئْبٍ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ أَبِيهِ أَوْ عَنْ عَمِّهِ، عَنْ جَدِّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى يَنْزِلُ لَيْلَةَ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانِ إِلَى سَمَاءِ الدُّنْيَا، فَيَغْفِرُ لِكُلِّ بَشَرٍ مَا خَلَا مُشْرِكًا، أَوْ إِنْسَانًا فِي قَلْبِهِ شَحْنَاءُ»
২ - খালিদ বিন খিদাশ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ বিন ওয়াহাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমর ইবনুল হারিস আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল মালিক বিন আব্দুল মালিক থেকে, তিনি মুসআব বিন আবি যিব থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি কাসিম বিন মুহাম্মাদ বিন আবি বকর থেকে, তিনি তাঁর পিতা অথবা তাঁর চাচা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা শাবান মাসের মধ্যবর্তী রাতে দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন, অতঃপর তিনি মুশরিক অথবা যার অন্তরে বিদ্বেষ রয়েছে এমন ব্যক্তি ব্যতীত সকল মানুষকে ক্ষমা করে দেন।»
(খণ্ড: ১) ফাদাইলু রামাদান লি ইবনি আবী দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ২৭)
3 - حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عُمَرَ الْقُرَشِيُّ، قَالَ: نا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ لَهِيعَةَ، قَالَ: حَدَّثَنِي إِسْحَاقُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ مَكْحُولٍ، عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ، عَنْ كَثِيرِ بْنِ مُرَّةَ، قَالَ: أَدْرَكْتُ أَصْحَابَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُحَدِّثُونَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَدِيثًا لَمْ أَنْسَهْ: «أَنَّ اللَّهَ عز وجل يَغْفِرُ فِي لَيْلَةِ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ لِكُلِّ عَبْدٍ، إِلَّا لِمُشْرِكٍ أَوْ مُشَاحِنٍ»
৩ - হারুন ইবন উমর আল-কুরাশী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-ওয়ালিদ ইবন মুসলিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবন লাহিয়া থেকে, তিনি বলেন: ইসহাক ইবন আবদুল্লাহ আমাকে বর্ণনা করেছেন মাকহুল থেকে, তিনি খালিদ ইবন মা'দান থেকে, তিনি কাসীর ইবন মুররা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এমন একটি হাদীস বর্ণনা করতে দেখেছি যা আমি ভুলে যাইনি: «নিশ্চয়ই আল্লাহ মহান ও মহীয়ান শাবান মাসের মধ্যরজনীতে প্রত্যেক বান্দাকে ক্ষমা করে দেন, কেবল মুশরিক অথবা বিদ্বেষ পোষণকারী ব্যতীত।»
(খণ্ড: ১) ফাদাইলু রামাদান লি ইবনি আবী দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ২৮)
4 - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ: ثنا ابْنُ الْمُبَارَكِ، قَالَ: أنا الْحَجَّاجُ بْنُ أَرْطَاةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: ذَكَرَ النِّصْفَ مِنْ شَعْبَانَ فَقَالَ: «يَغْفِرُ اللَّهُ فِيهِ الذُّنُوبَ أَكْثَرَ مِنْ عَدَدِ شَعْرِ غَنَمِ كَلْبٍ»
৪ - ইবরাহীম ইবনে আবদুর রহমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনুল মুবারক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাজ্জাজ ইবনে আরতাত আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসীর থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি (নবী) শাবান মাসের মধ্যরজনীর কথা উল্লেখ করে বলেছেন: «আল্লাহ তাতে কালব গোত্রের ভেড়ার পশমের সংখ্যার চেয়েও অধিক পরিমাণ গুনাহ ক্ষমা করে দেন।»
(খণ্ড: ১) ফাদাইলু রামাদান লি ইবনি আবী দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ২৯)
5 - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ، قَالَ: نا ابْنُ الْمُبَارَكِ، قَالَ: أنا الْحَجَّاجُ، عَنْ مَكْحُولٍ، عَنْ كَثِيرِ بْنِ مُرَّةَ، قَالَ: «يَغْفِرُ اللَّهُ مِنَ الذُّنُوبِ، إِلَّا لِمُشْرِكٍ أَوْ مُشَاحِنٍ» قَالَ عَبْدُ اللَّهِ: سَمِعْتُ الْأَوْزَاعِيَّ يُفَسِّرُ الْمُشَاحِنَ فَقَالَ: كُلُّ صَاحِبِ بِدْعَةٍ فَارَقَ عَلَيْهَا أُمَّتَهُ
৫ - ইবরাহীম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনুল মুবারক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: হাজ্জাজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মাকহুল থেকে, তিনি কাসীর ইবনে মুররাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আল্লাহ মুশরিক অথবা মুশাহিন (বিদ্বেষ পোষণকারী) ব্যতীত সকলের গুনাহ ক্ষমা করে দেন।" আবদুল্লাহ বলেন: আমি আওযায়ীকে 'মুশাহিন'-এর ব্যাখ্যা করতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: "প্রত্যেক বিদআতপন্থী ব্যক্তি, যে তার বিদআতের কারণে উম্মত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।"
(খণ্ড: ১) ফাদাইলু রামাদান লি ইবনি আবী দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ৩০)
6 - حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ سَوَّارٍ، قَالَ: ثنا لَيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ عَقِيلٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي الْمُغِيرَةِ بْنِ الْأَخْنَسِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «تُقْطَعُ الْآجَالُ مِنْ شَعْبَانَ إِلَى شَعْبَانَ، حَتَّى إِنَّ الرَّجُلَ لَيَنْكِحُ، وَيُولَدُ لَهُ وَقَدْ خَرَجَ اسْمُهُ فِي الْمَوْتَى»
৬ - মুহাম্মাদ ইবনে আল-হুসাইন ইবনে সাওয়ার আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: লায়স ইবনে সাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আকীল থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি উসমান ইবনে আবিল মুগীরাহ ইবনুল আখনাশ থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «এক শাবান থেকে পরবর্তী শাবান পর্যন্ত মানুষের আয়ুষ্কাল (মৃত্যুর সময়) নির্ধারণ করা হয়, এমনকি কোনো ব্যক্তি হয়তো বিবাহ করে এবং তার সন্তানও জন্ম লাভ করে, অথচ মৃতদের তালিকায় ইতিপূর্বেই তার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছে।»
(খণ্ড: ১) ফাদাইলু রামাদান লি ইবনি আবী দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ৩১)
7 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْجَعْدِ، قَالَ: أنا أَبُو مُغِيرَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سُوقَةَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، فِي قَوْلِهِ تَعَالَى: {فِيهَا يُفْرَقُ كُلُّ أَمْرٍ حَكِيمٍ} [الدخان: 4] . قَالَ: «لَيْلَةَ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ، يُدَبَّرُ أَمْرُ السَّنَةِ، وَتُنْسَخُ الْأَمْوَاتُ مِنَ الْأَحْيَاءِ، وَيُكْتَبُ الْحَاجُّ، فَلَا يَنْقُصُ مِنْهُمْ وَلَا يَزِيدُ فِيهِمْ أَحَدٌ»
৭ - আলী ইবনুল জাদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু মুগীরাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ ইবনে সুকাহ থেকে, তিনি ইকরিমাহ থেকে বর্ণনা করেন, মহান আল্লাহর এই বাণী প্রসঙ্গে: {তাতে প্রত্যেকটি প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় স্থির করা হয়} [আদ-দুখান: ৪]। তিনি (ইকরিমাহ) বলেন: «শাবান মাসের মধ্যবর্তী রজনীতে বছরের যাবতীয় কার্যাবলি নির্ধারণ করা হয়, জীবিতদের তালিকা থেকে মৃতদের নাম পৃথক করা হয় এবং হাজীদের নাম লিখে নেওয়া হয়; ফলে তাদের সংখ্যা থেকে কেউ কমেও না এবং তাদের সাথে কেউ বৃদ্ধিও পায় না»
(খণ্ড: ১) ফাদাইলু রামাদান লি ইবনি আবী দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ৩২)
8 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ خَيْرَانَ، قَالَ: ثنا الْمَسْعُودِيُّ، عَنْ مُهَاجِرٍ أَبِي الْحَسَنِ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، قَالَ: «لَمْ يَكُنْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي شَهْرٍ أَكْثَرَ صِيَامًا مِنْهُ فِي شَعْبَانَ، وَذَلِكَ لِأَنَّهُ تُنْسَخُ فِيهِ آجَالُ مَنْ يَمُوتُ إِلَى الْعَامِ الْمُقْبِلِ»
৮ - আমাদের নিকট আবদুল্লাহ ইবনে খায়রান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আল-মাসউদী বর্ণনা করেছেন মুহাজির আবু আল-হাসান থেকে, তিনি আতা ইবনে ইয়াসার থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শাবান মাসের তুলনায় অন্য কোনো মাসে অধিক রোজা পালন করতেন না; আর এটি এ কারণে যে, এই মাসেই আগামী বছর পর্যন্ত যারা মৃত্যুবরণ করবে তাদের আয়ুর তালিকা অনুলিপি করা হয়।»
(খণ্ড: ১) ফাদাইলু রামাদান লি ইবনি আবী দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ৩৩)
9 - أَخْبَرَنَا ابْنُ إِدْرِيسَ، عَنْ أَبِي الْحَسَنِ الْحُسَيْنِيِّ، عَنْ مُحَمَّدٍ الْعَرْزَمِيِّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ، رَفَعَهُ قَالَ: «مَنْ صَلَّى لَيْلَةَ النِّصْفِ مِنْ رَمَضَانَ، وَلَيْلَةَ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ مِائَةَ رَكْعَةٍ يَقْرَأُ فِيهَا بِقُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ أَلْفَ مَرَّةٍ، لَمْ يَمُتْ حَتَّى يُبَشَّرَ بِالْجَنَّةِ»
৯ - ইবনে ইদ্রিস আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবুল হাসান আল-হুসাইনি থেকে, তিনি মুহাম্মাদ আল-আরজামি থেকে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনে আলী থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি এটি মারফু হিসেবে (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করে) বলেছেন: «যে ব্যক্তি রমজানের মধ্যবর্তী রাতে এবং শাবানের মধ্যবর্তী রাতে একশত রাকাত সালাত আদায় করবে, যাতে সে (মোট) এক হাজার বার 'কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ' পাঠ করবে, সে জান্নাতের সুসংবাদ না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করবে না।»
(খণ্ড: ১) ফাদাইলু রামাদান লি ইবনি আবী দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ৩৪)
‌‌ذِكْرُ شَهْرِ رَمَضَانَ وَفَضْلِهِ
রমজান মাস এবং এর ফজিলতের আলোচনা
(খণ্ড: ১) ফাদাইলু রামাদান লি ইবনি আবী দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ৩৪)
10 - حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ لُوَيْنٌ الْأَسَدِيُّ قَالَ: ثنا أَبُو إِسْمَاعِيلَ الْقَنَّادُ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غَفَرَ اللَّهُ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ، وَمَنْ قَامَ لَيْلَةَ الْقَدْرِ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غَفَرَ اللَّهُ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ»
১০ - আমার নিকট মুহাম্মদ ইবন সুলাইমান লুওয়াইন আল-আসাদী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু ইসমাইল আল-কান্নাদ বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবন আবি কাসীর থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াবের আশায় রমজানে কিয়াম করবে, আল্লাহ তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেবেন; এবং যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াবের আশায় লাইলাতুল কদরে কিয়াম করবে, আল্লাহ তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেবেন।»
(খণ্ড: ১) ফাদাইলু রামাদান লি ইবনি আবী দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ৩৫)
11 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قثنا ابْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَيُّوبَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قاُرطٍ، قَالَ لُوَيْنٌ: النَّاسُ يَقُولُونَ قُرَيْطٌ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَنْ صَامَ رَمَضَانَ وَعَرَفَ حُدُودَهُ، وَحَفِظَ مَا يَنْبَغِي لَهُ أَنْ يَحْفَظَ، كَفَّرَ مَا قَبْلَهُ»
১১ - মুহাম্মাদ ইবনে সুলাইমান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইবনুল মুবারক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে আইয়ুব থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে কারুত থেকে, লুয়াইন বলেন: লোকেরা তাকে ‘কুরাইত’ বলে থাকে, তিনি আতা ইবনে ইয়াসার থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরী থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: “যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখল এবং এর সীমারেখাগুলো চিনল, আর যা রক্ষা করা তার জন্য আবশ্যক তা রক্ষা করল, তবে তা তার পূর্ববর্তী গুনাহের কাফফারা হয়ে যাবে।”
(খণ্ড: ১) ফাদাইলু রামাদান লি ইবনি আবী দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ৩৬)
12 - حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، قَالَ: ثنا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: مَنْ صَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ، وَمَنْ قَامَ لَيْلَةَ الْقَدْرِ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ "
১২ - আবু খাইসামা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান বিন উয়াইনা আমাদের নিকট যুহরি থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াব লাভের আশায় রমজানের রোজা পালন করবে, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে; এবং যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াব লাভের আশায় লাইলাতুল কদরে (ইবাদতে) দাঁড়াবে, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।"
(খণ্ড: ১) ফাদাইলু রামাদান লি ইবনি আবী দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ৩৭)
13 - حَدَّثَنَا خَلَفُ بْنُ هِشَامٍ، قَالَ: ثنا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ أَبِي قِلَابَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يُبَشِّرُ أَصْحَابَهُ: «قَدْ جَاءَكُمْ شَهْرٌ مُبَارَكٌ رَمَضَانُ، افْتَرَضَ اللَّهُ عز وجل عَلَيْكُمْ صِيَامَهُ، تُفْتَحُ فِيهِ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ، وَتُغْلَقُ فِيهِ أَبْوَابُ الْجَحِيمِ، وَيُغَلُّ فِيهِ الشَّيَاطِينُ، فِيهِ لَيْلَةٌ خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ شَهْرٍ، مَنْ حُرِمَ خَيْرَهَا فَقَدْ حُرِمَ»
১৩ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন খালাফ ইবনে হিশাম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ ইবনে যাইদ, আইয়ুব থেকে, তিনি আবু কিলাবাহ থেকে, তিনি আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর সাহাবীদের সুসংবাদ প্রদানকালে বলতেন: «তোমাদের নিকট এক বরকতময় মাস রমজান উপস্থিত হয়েছে, মহান আল্লাহ তোমাদের ওপর যার রোজা পালন করা ফরজ করেছেন। এতে জান্নাতের দ্বারসমূহ উন্মুক্ত করা হয়, জাহান্নামের দ্বারসমূহ রুদ্ধ করা হয় এবং শয়তানদের শৃঙ্খলিত করা হয়। এতে এমন একটি রজনী রয়েছে যা সহস্র মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। যে ব্যক্তি এর কল্যাণ হতে বঞ্চিত হলো, সে প্রকৃতপক্ষেই বঞ্চিত হলো।»
(খণ্ড: ১) ফাদাইলু রামাদান লি ইবনি আবী দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ৩৯)
14 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ، ثنا سُفْيَانُ، قثنا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، قثنا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ صَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ»
১৪ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইয়াজিদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ফুযাইল, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ, আবু সালামাহ থেকে বর্ণিত, আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: “যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে এবং সওয়াবের আশায় রমজানের রোজা পালন করবে, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।”
(খণ্ড: ১) ফাদাইলু রামাদান লি ইবনি আবী দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ৪০)
15 - ثنا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ صَالِحٍ، قثنا مُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ التَّيْمِيُّ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ أَبِي قِلَابَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ وَهُوَ يُبَشِّرُ أَصْحَابَهُ: «قَدْ جَاءَكُمْ رَمَضَانُ، شَهْرٌ مُبَارَكٌ، افْتَرَضَ اللَّهُ عز وجل عَلَيْكُمْ صِيَامَهُ، تُفْتَحُ فِيهِ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ، وَتُغْلَقُ فِيهِ أَبْوَابُ الْجَحِيمِ، وَتُغَلُّ فِيهِ الشَّيَاطِينُ، فِيهِ لَيْلَةٌ خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ شَهْرٍ، مَنْ حُرِمَ خَيْرَهَا فَقَدْ حُرِمَ»
১৫ - আমাদের নিকট আব্দুর রহমান বিন সালিহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুতামির বিন সুলাইমান আত-তায়মী আইয়ুব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু কিলাবাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রাহ থেকে, তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি তাঁর সাহাবীদের সুসংবাদ প্রদানকালে বলতেন: «তোমাদের নিকট রমজান মাস এসেছে, যা একটি বরকতময় মাস। মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ তোমাদের ওপর এর রোজা ফরজ করেছেন। এতে জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয়, আর শয়তানদেরকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়। এতে এমন এক রাত রয়েছে যা হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। যে ব্যক্তি এর কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হলো, সে প্রকৃতপক্ষেই বঞ্চিত হলো।»
(খণ্ড: ১) ফাদাইলু রামাদান লি ইবনি আবী দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ৪১)
16 - حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي سُمَيْنَةَ الْبَصْرِيُّ، قَالَ: ثنا مَكِّيُّ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: ثنا كَثِيرُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ تَمِيمٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «وَالَّذِي يُحْلَفُ بِهِ، لَقَدْ أَظَلَّكُمْ شَهْرٌ مَا أَظَلَّ الْمُسْلِمِينَ شَهْرٌ قَطُّ خَيْرٌ لَهُمْ مِنْهُ، وَلَا أَتَى عَلَى الْمُنَافِقِينَ شَهْرٌ قَطُّ أَضَرُّ عَلَيْهِمْ مِنْهُ، إِنَّ اللَّهَ عز وجل لَيَكْتُبُ نَوَافِلَهُ، وَأَجْرَهُ قَبْلَ أَنْ يُدْخِلَهُ، إِنَّ الْمُؤْمِنَ لَيُعِدُّ فِيهِ الْقُوَّةَ لِلْعِبَادَةِ، وَإِنَّ الْمُنَافِقَ لَيُعِدُّ فِيهِ الْغَفَلَاتِ، فَهُوَ غُنْمٌ لِلْمُؤْمِنِ، وَوِزْرٌ عَلَى الْمُنَافِقِ» ، أَوْ كَلِمَةٌ نَحْوُهَا
১৬ - মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল ইবনে আবি সুমাইনা আল-বাসরি আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: মাক্কি ইবনে ইব্রাহিম আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: কাসির ইবনে যায়েদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আমর ইবনে তামিফ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যাঁর নামে শপথ করা হয় তাঁর কসম! এমন এক মাস তোমাদের ওপর ছায়া ফেলেছে, যার চেয়ে উত্তম কোনো মাস মুসলমানদের ওপর কখনো ছায়া ফেলেনি। আর মুনাফিকদের জন্য এর চেয়ে অধিক ক্ষতিকর কোনো মাস কখনো আসেনি। নিশ্চয়ই আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্ল এই মাস শুরু হওয়ার পূর্বেই এর নফল আমলসমূহ এবং এর প্রতিদান লিখে রাখেন। কেননা মুমিন ব্যক্তি এতে ইবাদতের জন্য শক্তি সঞ্চয় করে, আর মুনাফিক এতে গাফলতি ও উদাসীনতা প্রস্তুত করে। অতএব, এটি মুমিনের জন্য গনিমত (লাভ) এবং মুনাফিকের জন্য গুনাহের বোঝা।" অথবা তিনি অনুরূপ কোনো শব্দ বলেছেন।
(খণ্ড: ১) ফাদাইলু রামাদান লি ইবনি আবী দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ৪২)
17 - حَدَّثَنَا أَبُو نَصْرٍ التَّمَّارُ، قَالَ: ثنا الْقَاسِمُ بْنُ الْفَضْلِ الْحُدَّانِيُّ، عَنِ النَّضْرِ يَعْنِي ابْنَ شَيْبَانَ، قَالَ: قُلْتُ لِأَبِي سَلَمَةَ يَعْنِي ابْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، حَدِّثْنِي بِشَيْءٍ سَمِعْتَهُ مِنْ أَبِيكَ، يُحَدِّثُهُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «إِنَّ اللَّهَ فَرَضَ عَلَيْكُمْ صِيَامَ شَهْرِ رَمَضَانَ، وَسَنَّ لَكُمْ قِيَامَهُ، فَمَنْ صَامَهُ وَقَامَهُ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا خَرَجَ مِنَ الذُّنُوبِ كَيَوْمِ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ»
১৭ - আমাদের নিকট আবু নাসর আত-তাম্মার বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-কাসিম ইবনুল ফজল আল-হুদ্দানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আন-নাদর অর্থাৎ ইবনে শায়বান থেকে, তিনি বলেন: আমি আবু সালামা অর্থাৎ ইবনে আব্দুর রহমানকে বললাম, আপনি আপনার পিতার নিকট যা শুনেছেন এবং তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা বর্ণনা করেছেন এমন কিছু আমাকে বর্ণনা করুন। তিনি বললেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর রমজান মাসের রোজা ফরজ করেছেন এবং তোমাদের জন্য এর কিয়ামকে (রাতের সালাত) সুন্নত করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াবের আশায় রোজা রাখবে এবং কিয়াম পালন করবে, সে গুনাহ থেকে এমনভাবে বের হয়ে আসবে যেন আজই তার মা তাকে প্রসব করেছেন।»
(খণ্ড: ১) ফাদাইলু রামাদান লি ইবনি আবী দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ৪৪)
18 - حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ الْحَسَنِ، قثنا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، قَالَ: أنا هِشَامُ بْنُ أَبِي هِشَامٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْأَسْوَدِ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " أُعْطِيَتْ أُمَّتِي فِي شَهْرِ رَمَضَانَ خَمْسَ خِصَالٍ، لَمْ تُعْطَهَا أُمَّةٌ قَبْلَهَا، خُلُوفُ فَمِ الصَّائِمِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللَّهِ مِنْ رِيحِ الْمِسْكِ، وَتَسْتَغْفِرُ لَهُمُ الْمَلَائِكَةُ حَتَّى يُفْطِرُوا، وَتُصَفَّدُ فِيهِ مَرَدَةُ الشَّيَاطِينِ، وَلَا يَخْلُصُونُ فِيهِ إِلَى مَا كَانُوا يَخْلُصُونَ فِي غَيْرِهِ، وَيُزَيِّنُ اللَّهُ كُلَّ يَوْمٍ جَنَّتَهُ وَيَقُولُ: يُوشِكُ عِبَادِيَ الصَّائِمُونَ أَنْ يُلْقُوا عَنْهُمُ الْمَؤُونَةَ وَالْأَذَى وَيَصِيرُونَ إِلَيْكِ، وَيَغْفِرُ لَهُمْ فِي آخِرِ لَيْلَةٍ "، قِيلَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ: هِيَ لَيْلَةُ الْقَدْرِ؟، قَالَ: «لَا، وَلَكِنَّ الْعَامِلَ يُوَفَّى أَجْرَهُ إِذَا قَضَى عَمَلَهُ»
১৮ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হুসাইন ইবনুল হাসান, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াজিদ ইবনে হারুন, তিনি বলেন আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন হিশাম ইবনে আবি হিশাম, মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল আসওয়াদ থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমার উম্মতকে রমজান মাসে এমন পাঁচটি বৈশিষ্ট্য দান করা হয়েছে, যা তাদের পূর্ববর্তী কোনো উম্মতকে দেওয়া হয়নি: রোজা পালনকারীর মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট কস্তুরীর সুগন্ধির চেয়েও অধিক প্রিয়, ফেরেশতারা তাদের জন্য ইফতার করা পর্যন্ত ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকে, এ মাসে অবাধ্য শয়তানদের শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয় এবং তারা অন্য সময়ে যেভাবে (বিপথগামী করার) সুযোগ পেত তা এ মাসে পায় না, আল্লাহ প্রতিদিন তাঁর জান্নাতকে সুশোভিত করেন এবং বলেন: আমার রোজা পালনকারী বান্দারা শীঘ্রই তাদের দুঃখ-কষ্ট ও বোঝা ঝেড়ে ফেলে তোমার দিকে ধাবিত হবে, এবং শেষ রাতে তাদের ক্ষমা করে দেওয়া হয়।" জিজ্ঞেস করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল, এটি কি লাইলাতুল কদর? তিনি বললেন: "না, বরং শ্রমিক যখন তার কাজ সম্পন্ন করে তখন তাকে তার পূর্ণ মজুরি প্রদান করা হয়।"
(খণ্ড: ১) ফাদাইলু রামাদান লি ইবনি আবী দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ৪৫)
19 - حَدَّثَنَا النَّضْرُ بْنُ طَاهِرٍ الْبَصْرِيُّ، قَالَ: ثنا سَلَامُ بْنُ سُلَيْمٍ، وَلَيْسَ بِأَبِي الْأَحْوَصِ، عَنْ فِطْرِ بْنِ خَلِيفَةَ، عَنْ عَامِرِ بْنِ وَاثِلَةَ، قَالَ أَبُو بَكْرٍ الصِّدِّيقُ، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ اللَّهَ تبارك وتعالى بَنَى جِنَانًا كُلَّهَا مِنْ يَاقُوتٍ أَحْمَرَ، أَسَاسُهَا وَأَعَالِيهَا شُبِّكَتْ بِالذَّهَبِ، عَلَيْهَا سُتُورُ السُّنْدُسِ، وَالْإِسْتَبْرَقِ، وَكُلُّ جَنَّةٍ طُولُهَا مِائَةُ عَامٍ، وَعَرْضُهَا مِائَةُ عَامٍ، فِي كُلِّ جَنَّةٍ مِائَةُ أَلْفِ قَصْرٍ، فِي كُلِّ قَصْرٍ قُبَّةٌ بَيْضَاءُ، سَمَاؤُهَا زَبَرْجَدٌ أَخْضَرُ، الْأَنْهَارُ تَطَّرِدُ فِي حِيطَانِهَا، وَالْأَشْجَارُ دَانِيَةٌ عَلَيْهَا» ، يَقُولُ: هَذِهِ الْجَنَّةُ صَاحِبُهَا يَنْعَمُ فَلَا يَبْأَسُ، وَيَخْلُدُ لَا يَمُوتُ، لَا تَبْلَى ثِيَابُهُ، وَلَا يَفْنَى شَبَابُهُ، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «تِلْكَ جِنَانٌ بُنِيَتْ لِمَنْ صَامَ شَهْرَ رَمَضَانَ، يَهَبُهَا اللَّهُ لِأَهْلِهَا يَوْمَ الْفِطْرِ»
১৯ - নাদর ইবনে তাহির আল-বাসরি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: সালাম ইবনে সুলাইম—যিনি আবু আল-আহওয়াস নন—আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ফিতর ইবনে খলিফা থেকে, তিনি আমির ইবনে ওয়াসিলা থেকে বর্ণনা করেছেন। আবু বকর আস-সিদ্দিক (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা এমন সব জান্নাত নির্মাণ করেছেন যার পুরোটাই লাল ইয়াকুত পাথরের তৈরি, এর ভিত্তি এবং উপরিভাগ স্বর্ণ দ্বারা খচিত, তাতে চিকন রেশম ও পুরু রেশমের পর্দা রয়েছে। প্রতিটি জান্নাতের দৈর্ঘ্য একশ বছর এবং প্রস্থ একশ বছরের পথ। প্রতিটি জান্নাতে এক লক্ষ প্রাসাদ রয়েছে এবং প্রতিটি প্রাসাদে একটি করে সাদা গম্বুজ রয়েছে, যার ছাদ হলো সবুজ যবরজদ পাথর। এর দেয়ালগুলোর তলদেশ দিয়ে নহরসমূহ প্রবাহিত হয় এবং বৃক্ষরাজি এর ওপর নুয়ে থাকে।» তিনি বলেন: «এই জান্নাতের অধিবাসী ব্যক্তি সেখানে সুখে-স্বাচ্ছন্দ্যে থাকবে, কখনও দুঃখ-কষ্টে পতিত হবে না; সেখানে চিরকাল থাকবে, কখনও মৃত্যুবরণ করবে না; তার পোশাক কখনও জীর্ণ হবে না এবং তার যৌবন কখনও ফুরিয়ে যাবে না।» আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরও বলেছেন: «ঐসব জান্নাত তাদের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে যারা রমজান মাসে রোজা রেখেছে; ঈদুল ফিতরের দিন আল্লাহ তাআলা তা জান্নাতবাসীদেরকে দান করবেন।»
(খণ্ড: ১) ফাদাইলু রামাদান লি ইবনি আবী দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ৪৬)
20 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ وَاقِدٍ، قثنا ضَمْرَةُ بْنُ رَبِيعَةَ، ثنا بِشْرُ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنْ جَابِرِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ أَبِي جَعْفَرٍ، قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا اسْتَهَلَّ هِلَالُ شَهْرِ رَمَضَانَ أَقْبَلَ عَلَى النَّاسِ بِوَجْهِهِ، ثُمَّ قَالَ: «اللَّهُمَّ أَهِلَّهُ عَلَيْنَا بِالْأَمْنِ، وَالْإِيمَانِ، وَالسَّلَامَةِ، وَالْإِسْلَامِ، وَالْعَافِيَةِ الْمُجَلِّلَةِ، وَرَفْعِ الْأَسْقَامِ، وَالْعَوْنِ عَلَى الصِّيَامِ وَالصَّلَاةِ وَتِلَاوَةِ الْقُرْآنِ، اللَّهُمَّ سَلِّمْنَا لِرَمَضَانَ، وَسَلِّمْهُ لَنَا، وَتَسَلَّمْهُ مِنَّا حَتَّى يَخْرُجَ رَمَضَانُ وَقَدْ غَفَرْتَ لَنَا، وَرَحِمْتَنَا، وَعَفَوْتَ عَنَّا» ، ثُمَّ يُقْبِلُ عَلَى النَّاسِ بِوَجْهِهِ فَيَقُولُ: " أَيُّهَا النَّاسُ، إِنَّ هَذَا شَهْرُ رَمَضَانَ، غُلَّتْ فِيهِ الشَّيَاطِينُ، وَغُلِّقَتْ فِيهِ أَبْوَابُ جَهَنَّمَ، وَفُتِحَتْ فِيهِ أَبْوَابُ الْجِنَّانِ، وَنَادَى مُنَادٍ كُلَّ لَيْلَةٍ: هَلْ مِنْ سَائِلٍ فَيُعْطَى، هَلْ مِنْ مُسْتَغْفِرٍ فَأَغْفِرَ لَهُ، اللَّهُمَّ أَعْطِ كُلَّ مُنْفِقٍ خَلَفًا، وَعَجِّلْ لِكُلِّ مُمْسِكٍ تَلَفًا، حَتَّى إِذَا كَانَ يَوْمُ الْفِطْرِ نَادَى مُنَادٍ مِنَ السَّمَاءِ، الْيَوْمُ يَوْمُ الْجَائِزَةِ، فَاغْدُوا فَبَادِرُوا خُذُوا جَوَائِزَكُمْ " قَالَ أَبُو جَعْفَرٍ: جَوَائِزُ لَا تُشْبِهُ جَوَائِزَ الْأُمَرَاءِ
২০ - আমাদের নিকট আবদুর রহমান ইবনে ওয়াকিদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট দামরা ইবনে রাবিয়াহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট বিশর ইবনে ইসহাক বর্ণনা করেছেন, তিনি জাবির ইবনে ইয়াজিদ থেকে, তিনি আবু জাফর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন রমজান মাসের নতুন চাঁদ দেখতেন, তখন তিনি মানুষের দিকে তাঁর চেহারা মোবারক ফিরিয়ে দাঁড়াতেন, অতঃপর বলতেন: «হে আল্লাহ, এই চাঁদকে আমাদের ওপর নিরাপত্তা, ঈমান, শান্তি, ইসলাম, পরিপূর্ণ সুস্থতা ও রোগব্যাধি দূর করার সাথে এবং রোজা, নামাজ ও কুরআন তিলাওয়াতের তৌফিকের সাথে উদিত করুন। হে আল্লাহ, আপনি আমাদের রমজানের জন্য নিরাপদ রাখুন, রমজানকে আমাদের জন্য নিরাপদ রাখুন এবং আমাদের পক্ষ থেকে তা গ্রহণ করে নিন, যতক্ষণ না রমজান অতিবাহিত হয় এমতাবস্থায় যে আপনি আমাদের ক্ষমা করেছেন, আমাদের প্রতি দয়া করেছেন এবং আমাদের মার্জনা করেছেন», অতঃপর তিনি মানুষের দিকে মুখ ফিরিয়ে বলতেন: "হে লোকসকল, নিশ্চয়ই এটি রমজান মাস, এতে শয়তানদের শৃঙ্খলিত করা হয়, এতে জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়। প্রতি রাতে একজন আহ্বানকারী আহ্বান করেন: কোনো যাচনাকারী কি আছে যাকে প্রদান করা হবে? কোনো ক্ষমা প্রার্থনাকারী কি আছে যাকে আমি ক্ষমা করে দেব? হে আল্লাহ, প্রত্যেক দানকারীকে প্রতিদান দান করুন এবং প্রত্যেক কৃপণকে দ্রুত ধ্বংসের সম্মুখীন করুন। অবশেষে যখন ঈদুল ফিতরের দিন আসে, তখন আকাশ থেকে একজন আহ্বানকারী আহ্বান করেন: আজকের দিনটি হলো পুরস্কারের দিন, অতএব তোমরা সকাল সকাল বের হও এবং দ্রুত তোমাদের পুরস্কার গ্রহণ করো।" আবু জাফর বলেন: এই পুরস্কারসমূহ শাসকদের পুরস্কারের মতো নয়।
(খণ্ড: ১) ফাদাইলু রামাদান লি ইবনি আবী দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ৪৮)
21 - حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ وَاقِدٍ، قَالَ: ثنا ضَمْرَةُ بْنُ رَبِيعَةَ، عَنْ نَصْرِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ جَابِرٍ، عَنْ أَبِي جَعْفَرٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ أَتَى عَلَيْهِ شَهْرُ رَمَضَانَ صَحِيحًا مُسْلِمًا، صَامَ نَهَارَهُ، وَصَلَّى وِرْدًا مِنْ لَيْلِهِ، وَغَضَّ بَصَرَهُ، وَحَفِظَ فَرْجَهُ وَلِسَانَهُ وَيَدَهُ، وَحَافَظَ عَلَى صَلَاتِهِ مَجْمُوعَةً، وَبَكَّرَ إِلَى جُمَعِهِ، فَقَدْ صَامَ الشَّهْرَ، وَاسْتَكْمَلَ الْأَجْرَ، وَأَدْرَكَ لَيْلَةَ الْقَدْرِ، وَفَازَ بِجَائِزَةِ الرَّبِّ» قَالَ أَبُو جَعْفَرٍ جَائزَةٌ لَا تُشْبِهُ جَوَائِزَ الْأُمَرَاءِ
২১ - আব্দুর রহমান ইবনে ওয়াকিদ আমাকে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট দামরাহ ইবনে রাবীআহ হাদীস বর্ণনা করেছেন নসর ইবনে ইসহাকের সূত্রে, তিনি জাবিরের সূত্রে, তিনি আবু জাফরের সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তির নিকট রমজান মাস এমন অবস্থায় উপনীত হয়েছে যে সে সুস্থ এবং মুসলিম, অতঃপর সে দিনের বেলায় রোজা পালন করেছে, রাতের নির্দিষ্ট সময়ে সালাত আদায় করেছে, তার দৃষ্টি অবনত রেখেছে, তার লজ্জাস্থান, জিহ্বা ও হাত হিফাযত করেছে, জামাআতের সাথে নিয়মিত সালাত আদায় করেছে এবং জুমার সালাতের জন্য আগেভাগে গমন করেছে; তবে সে অবশ্যই পুরো মাসের রোজা পূর্ণ করেছে, তার প্রতিদান পূর্ণ মাত্রায় লাভ করেছে, লাইলাতুল কদর প্রাপ্ত হয়েছে এবং রবের পুরস্কারে ভূষিত হয়েছে» আবু জাফর বলেন: এটি এমন এক পুরস্কার যা শাসকদের পুরস্কারের সদৃশ নয়।
(খণ্ড: ১) ফাদাইলু রামাদান লি ইবনি আবী দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ৪৯)
22 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي سُمَيْنَةَ، قَالَ: ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَجَاءٍ، قَالَ: ثنا جَرِيرُ بْنُ أَيُّوبَ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ نَافِعِ بْنِ بُرْدَةَ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ: أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ وَقَدْ أَهَلَّ شَهْرُ رَمَضَانَ: «لَوْ يَعْلَمُ الْعِبَادُ مَا فِي رَمَضَانَ لَتَمَنَّتْ أُمَّتِي أَنْ يَكُونَ رَمَضَانُ السَّنَةَ كُلَّهَا» ، فَقَالَ رَجُلٌ مِنْ خُزَاعَةَ: ثنا فَقَالَ: " إِنَّ الْجَنَّةَ تُزَيَّنُ لِرَمَضَانَ مِنْ رَأْسِ الْحَوْلِ إِلَى رَأْسِ الْحَوْلِ، فَإِذَا كَانَ أَوَّلُ يَوْمٍ مِنْ شَهْرِ رَمَضَانَ هَبَّتْ رِيحٌ مِنْ تَحْتِ الْعَرْشِ، فَصَفَّقَتْ وَرَقَ الْجَنَّةِ، فَيَنْظُرْنَ الْحُورُ الْعِينُ إِلَى ذَلِكَ، فَيَقُلْنَ: رَبِّ اجْعَلْ لَنَا مِنْ عِبَادِكَ فِي هَذَا الشَّهْرِ أَزْوَاجًا تُقِرُّ أَعْيُنَنَا بِهِمْ، وَتُقِرُّ أَعْيُنَهُمْ بِنَا، قَالَ: فَمَا مِنْ عَبْدٍ يَصُومُ رَمَضَانَ إِلَّا زُوِّجَ زَوْجَةً مِنَ الْحُورِ الْعِينِ، فِي خَيْمَةٍ مِنْ دُرَّةٍ مُجَوَّفَةٍ، كَمَا نَعَتَ اللَّهُ عز وجل: {حُورٌ مَقْصُورَاتٌ فِي الْخِيَامِ} [الرحمن: 72] عَلَى كُلِّ امْرَأَةٍ مِنْهُنَّ سَبْعُونَ حُلَّةً، لَيْسَ مِنْهَا حُلَّةٌ عَلَى لَوْنِ الْأُخْرَى، وَتُعْطَى سَبْعُونَ لَوْنًا مِنَ الطِّيبِ، لَيْسَ مِنْهَا لَوْنٌ عَلَى رِيحِ الْآخَرِ، لِكُلِّ وَاحِدَةٍ مِنْهُنَّ سَرِيرٌ مِنْ يَاقُوتَةٍ حَمْرَاءَ، مُوَشَّحٍ بِالدُّرِّ، عَلَى كُلِّ سَرِيرٍ سَبْعُونَ فِرَاشًا بَطَائِنُهَا مِنْ إِسْتَبْرَقٍ، وَفَوْقَ السَّبْعِينَ فِرَاشًا سَبْعُونَ أَرِيكَةً، لِكُلِّ امْرَأَةٍ مِنْهُنَّ سَبْعُونَ أَلْفَ وَصِيفَةٍ لِحَاجَتِهَا، وَسَبْعُونَ أَلْفَ وَصِيفٍ، مَعَ كُلِّ وَصِيفٍ صَفْحَةٌ مِنْ ذَهَبٍ، فِيهَا لَوْنٌ مِنْ طَعَامٍ تَجِدُ لِآخِرِ لُقْمَةٍ فِيهِ لَذَّةً لَا تَجِدُ لِأَوَّلِهِ، وَيُعْطَى زَوْجُهَا مِثْلَ ذَلِكَ، عَلَى سَرِيرٍ مِنْ يَاقُوتٍ أَحْمَرَ، عَلَيْهِ سِوَارَانِ مِنْ ذَهَبٍ مُوَشَّحٍ بِيَاقُوتٍ أَحْمَرَ، هَذَا لِكُلِّ يَوْمٍ صَامَهُ مِنْ رَمَضَانَ، سِوَى مَا عَمِلَ مِنَ الْحَسَنَاتِ "
২২ - মুহাম্মদ ইবনে আবি সুমাইনাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে রাজা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জারীর ইবনে আইয়ুব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শাবি থেকে, তিনি নাফে ইবনে বুরদাহ থেকে, তিনি ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন: তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে রমজান মাস শুরু হওয়ার সময় বলতে শুনেছেন: «বান্দারা যদি জানত রমজানে কী (মর্যাদা ও সওয়াব) আছে, তবে আমার উম্মত অবশ্যই কামনা করত যে, যেন সারা বছরই রমজান হতো», অতঃপর খুযাআ গোত্রের এক ব্যক্তি বললেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করুন। তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই জান্নাতকে বছরের শুরু থেকে পরবর্তী বছরের শুরু পর্যন্ত রমজানের জন্য সজ্জিত করা হয়। অতঃপর যখন রমজান মাসের প্রথম দিন আসে, তখন আরশের নিচ থেকে একটি বাতাস প্রবাহিত হয়, যা জান্নাতের গাছের পাতাসমূহকে আন্দোলিত করে। তখন ডাগরচক্ষু হুরগণ সেদিকে তাকায় এবং বলে: হে আমাদের প্রতিপালক! এই মাসে আপনার বান্দাদের মধ্য থেকে আমাদের জন্য এমন স্বামী নির্ধারণ করুন, যাদের দেখে আমাদের চক্ষু শীতল হবে এবং আমাদের দেখে তাদের চক্ষু শীতল হবে। তিনি বলেন: যে কোনো বান্দা রমজানের রোজা রাখে, তাকে অবশ্যই ডাগরচক্ষু হুরদের মধ্য থেকে একজন স্ত্রীর সাথে বিয়ে দেওয়া হয়, একটি ফাঁপা মুক্তার তাবুতে, যেমন আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা বর্ণনা করেছেন: {তাঁবুতে অবস্থানকারিণী হুরগণ} [আর-রাহমান: ৭২]। তাদের প্রত্যেকের গায়ে সত্তরটি করে পোশাক থাকবে, যার একটির রঙ অন্যটির মতো হবে না। তাকে সত্তর প্রকারের সুগন্ধি দেওয়া হবে, যার একটির ঘ্রাণ অন্যটির মতো হবে না। তাদের প্রত্যেকের জন্য লাল ইয়াকুতের একটি করে পালঙ্ক থাকবে যা মুক্তাখচিত। প্রতিটি পালঙ্কের ওপর সত্তরটি করে বিছানা থাকবে যেগুলোর স্তর হবে রেশমের। সেই সত্তরটি বিছানার ওপর সত্তরটি গদি থাকবে। তাদের প্রত্যেকের প্রয়োজনে সেবার জন্য সত্তর হাজার সেবিকা এবং সত্তর হাজার সেবক থাকবে। প্রত্যেক সেবকের কাছে থাকবে স্বর্ণের একটি করে থালা, যাতে থাকবে হরেক রকমের খাবার, যার শেষ লোকমার স্বাদ হবে এমন এক তৃপ্তিময় যা প্রথম লোকমায় পাওয়া যায় না। তার স্বামীকেও অনুরূপ দেওয়া হবে, লাল ইয়াকুতের পালঙ্কে; তার হাতে থাকবে স্বর্ণের দুটি চুড়ি যা লাল ইয়াকুতখচিত। এটি রমজানের প্রতিটি দিন রোজা রাখার বিনিময়ে দেওয়া হবে, এছাড়া সে যে অন্যান্য নেক আমল করেছে তার প্রতিদান তো রয়েছেই।"
(খণ্ড: ১) ফাদাইলু রামাদান লি ইবনি আবী দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ৫১)
23 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ جَعْفَرٍ الْأَحْمَرُ، قثنا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ صَالِحٍ، عَنْ أَبِي بِشْرٍ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بِشْرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ: «تَسْبِيحَةٌ فِي رَمَضَانَ أَفْضَلُ مِنْ أَلْفِ تَسْبِيحَةٍ فِي غَيْرِهِ»
২৩ - আলী ইবনে জাফর আল-আহমার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইসহাক ইবনে মানসুর বর্ণনা করেছেন, আল-হাসান ইবনে সালিহ থেকে, তিনি আবু বিশর আবদুল্লাহ ইবনে বিশর থেকে, তিনি যুহরি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «রমজান মাসে একবার তাসবিহ পাঠ করা অন্য সময়ের এক হাজার তাসবিহ পাঠের চেয়েও উত্তম।»
(খণ্ড: ১) ফাদাইলু রামাদান লি ইবনি আবী দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ৫২)
24 - حَدَّثَنِي أَبُو جَعْفَرٍ الْأُدْمِيُّ، قَالَ: ثنا أَبُو الْيَمَانِ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ أَبِي مَرْيَمَ، عَنْ ضَمْرَةَ بْنِ حَبِيبٍ، وَرَاشِدِ بْنِ سَعْدٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «انْبَسِطُوا فِي النَّفَقَةِ فِي شَهْرِ رَمَضَانَ، فَإِنَّ النَّفَقَةَ فِيهِ كَالنَّفَقَةِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ»
২৪ - আবু জাফর আল-উদমি আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবুল ইয়ামান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু বকর বিন আবি মারইয়াম থেকে, তিনি দামরা বিন হাবিব এবং রাশিদ বিন সাদ থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তোমরা রমজান মাসে অকৃপণভাবে ব্যয় করো, কারণ এই মাসে ব্যয় করা আল্লাহর পথে ব্যয় করার সমতুল্য।»
(খণ্ড: ১) ফাদাইলু রামাদান লি ইবনি আবী দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ৫৩)
25 - حَدَّثَنِي الْحَسَنُ بْنُ الصَّبَّاحِ، قثنا إِسْحَاقُ بْنُ حَكِيمٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُبَارَكِ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ أَبِي مَرْيَمَ، قَالَ: سَمِعْتُ مَشْيَخَتَنَا، يَقُولُونَ: " إِذَا حَضَرَ شَهْرُ رَمَضَانَ، قَدْ حَضَرَ مُطَهِّرٌ، وَيَقُولُونَ: انْبَسِطُوا بِالنَّفَقَةِ فِيهِ، فَإِنَّهَا تُضَاعَفُ كَالنَّفَقَةِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ عز وجل، وَيَقُولُونَ: التَّسْبِيحَةُ فِيهِ أَفْضَلُ مِنْ أَلْفِ تَسْبِيحَةٍ فِي غَيْرِهِ "
২৫ - হাসান ইবনুল সাব্বাহ আমাকে বর্ণনা করেছেন, ইসহাক ইবনু হাকিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক থেকে বর্ণিত, আবু বকর ইবনু আবি মারইয়াম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আমাদের শায়খদের বলতে শুনেছি, তারা বলতেন: "যখন রমজান মাস উপস্থিত হয়, তখন এক পবিত্রকারী উপস্থিত হয়। তারা আরও বলতেন: তোমরা এই মাসে অকাতরে ব্যয় করো, কেননা এতে ব্যয় করার সওয়াব মহান আল্লাহর পথে ব্যয় করার ন্যায় বহুগুণ বৃদ্ধি করা হয়। তারা আরও বলতেন: এই মাসে একবার তাসবিহ পাঠ করা অন্য সময়ের এক হাজার তাসবিহ পাঠের চেয়েও শ্রেষ্ঠ।"
(খণ্ড: ১) ফাদাইলু রামাদান লি ইবনি আবী দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ৫৪)
26 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، قثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَجَاءٍ الْمَكِّيُّ، قَالَ: ثنا جَرِيرُ بْنُ أَيُّوبَ، قَالَ: ثنا الشَّعْبِيُّ، عَنْ قَيْسِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِيِّ، قَالَ: «إِنَّ كُلَّ يَوْمٍ يَصُومُهُ الْعَبْدُ فِي رَمَضَانَ يَجِيءُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فِي غَمَامَةٍ مِنْ نُورٍ، فِي تِلْكَ الْغَمَامَةِ قَصْرٌ مِنْ دُرٍّ لَهُ سَبْعُونَ أَلْفَ بَابٍ مِنْ يَاقُوتَةٍ حَمْرَاءَ»
২৬ - আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে আবু শায়বাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবদুল্লাহ ইবনে রাজা আল-মাক্কী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট জারীর ইবনে আইয়ুব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আশ-শা'বী বর্ণনা করেছেন, কাইস ইবনে খালিদ আল-জুহানী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «নিশ্চয়ই রমজানে বান্দা যে প্রতিটি দিন রোজা রাখে, তা কিয়ামতের দিন নূরের একটি মেঘমালার মধ্যে উপস্থিত হবে। সেই মেঘমালার মধ্যে মুক্তার একটি প্রাসাদ থাকবে, যার লাল ইয়াকুত পাথরের তৈরি সত্তর হাজার দরজা থাকবে।»
(খণ্ড: ১) ফাদাইলু রামাদান লি ইবনি আবী দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ৫৫)
27 - حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ الصَّبَّاحِ، قَالَ: ثنا شَاذَانُ، عَنْ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ، قَالَ: «كَانَ ثَابِتٌ الْبُنَانِيَّ، وَحُمَيْدٌ الطَّوِيلُ رَحِمَهُمَا اللَّهُ يَتَطَيَّبَانِ وَيَغْتَسِلَانِ لِأَرْبَعٍ وَعِشْرِينَ وَثَلَاثٍ وَعِشْرِينَ مِنْ شَهْرِ رَمَضَانَ، وَيُحِبَّانِ أَنْ يُطَيَّبَ الْمَسْجِدُ بِنَضُوحٍ»
২৭ - হাসান ইবন আল-সাব্বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শাযান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ ইবন সালামাহ থেকে, তিনি বলেন: "সাবিত আল-বুনানি এবং হুমাইদ আত-তবিল (আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন) রমজান মাসের চব্বিশ এবং তেইশতম রাতে সুগন্ধি মাখতেন ও গোসল করতেন এবং তাঁরা পছন্দ করতেন যে মসজিদকে যেন 'নাদুহ' (এক প্রকার সুগন্ধি) দ্বারা সুগন্ধিময় করা হয়।"
(খণ্ড: ১) ফাদাইলু রামাদান লি ইবনি আবী দুনইয়া (পৃষ্ঠা: ৫৬)
28 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ صَالِحٍ، قثنا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، قَالَ: ثنا الْعَلَاءُ بْنُ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِيهِ، وَخَيْثَمَةَ، قَالَا: " كَانَ يُقَالُ: مَنْ صَامَ رَمَضَانَ ثُمَّ مَاتَ مِنْ عَامِهِ ذَلِكَ دَخَلَ الْجَنَّةَ
২৮ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান ইবনে সালিহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ফুদাইল, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-আলা ইবনে আল-মুসাইয়্যাব, তাঁর পিতা এবং খাইসামাহ থেকে, তাঁরা উভয়ই বলেন: "বলা হতো: যে ব্যক্তি রমজান মাসের রোজা রাখল, অতঃপর সেই বছরই মৃত্যুবরণ করল, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।"