(খণ্ড: ১)
আল-ইশারাত ইলা মা'রিফাতিয যিয়ারাত
(পৃষ্ঠা: -)
الاشارات الى معرفة الزيارات القسم: البلدان والرحلات
الكتاب: الإشارات إلى معرفة الزيارات
المؤلف: علي بن أبي بكر بن علي الهروي، أبو الحسن (ت 611هـ)
الناشر: مكتبة الثقافة الدينية، القاهرة
الطبعة: الأولى، 1423 هـ
عدد الصفحات: 141
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-ইশারাত ইলা মা'রিফাতিয যিয়ারাত বিভাগ: দেশ ও সফরনামা
কিতাব: আল-ইশারাত ইলা মা'রিফাতিয যিয়ারাত
লেখক: আলি বিন আবি বকর বিন আলি আল-হারাওয়ী، আবু আল-হাসান (ওফাত ৬১১ হিজরি)
প্রকাশক: মাকতাবাতুস সাকাফাহ আদ-দিনিইয়াহ، কায়রো
সংস্করণ: প্রথম، ১৪২৩ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৪১
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল-হিজ্জাহ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-ইশারাত ইলা মা'রিফাতিয যিয়ারাত
(পৃষ্ঠা: -)
أبو الحسن علي بن أبي بكر بن علي الهروي
رحّالة، مؤرّخ، أصله من هراة، ومولده بالموصل، طاف البلاد وتوفي بحلب سنة 611 هـ.
وقد عرف بالسائح الهروي، لأنه قضى حياته مرتحلاً في أنحاء المشرق والمغرب الإسلامي، وفي الهند ومصر وغيرهما، وفي ذلك يقول ابن خلكان: «إنه لم يترك برّاً ولا بحراً ولا سهلاً ولا جبلاً من الأماكن التي يمكن قصدها ورؤيتها إلا رآه، ولم يصل إلى موضع إلا كتب خطه في حائطه» .
آثاره
من كتبه: الخطب الهروية، والتذكرة الهروية في الحيل الحربية، وكتاب رحلته، والإشارات إلى معرفة الزيارات.
আবুল হাসান আলি ইবনে আবি বকর ইবনে আলি আল-হারাউয়ি
তিনি একজন পরিব্রাজক ও ঐতিহাসিক। তাঁর আদি নিবাস হেরাতে এবং জন্ম মসুলে। তিনি দেশ-দেশান্তর ভ্রমণ করেছেন এবং ৬১১ হিজরিতে হালাবে মৃত্যুবরণ করেন।
তিনি 'আস-সাইয়িহ আল-হারাউয়ি' (হারাউয়ি পর্যটক) নামে পরিচিত ছিলেন, কারণ তিনি তাঁর জীবন ইসলামি বিশ্বের প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের বিভিন্ন প্রান্তে এবং ভারত, মিশর ও অন্যান্য অঞ্চলে পর্যটন করে অতিবাহিত করেছেন। এ বিষয়ে ইবনে খালিকান বলেন: "নিশ্চয়ই তিনি ভ্রমণ করা বা দেখা সম্ভব এমন কোনো স্থলভাগ, সমুদ্র, সমতল ভূমি কিংবা পাহাড় বাকি রাখেননি যা তিনি দেখেননি; আর তিনি এমন কোনো স্থানে পৌঁছাননি যেখানে তিনি সেই স্থানের দেওয়ালে নিজের হাতে কিছু লিখে আসেননি।"
তাঁর রচনাবলি
তাঁর লিখিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছে: আল-খুতাব আল-হারাউয়িয়্যাহ, আত-তাযকিরাহ আল-হারাউয়িয়্যাহ ফি আল-হিয়াল আল-হারবিয়্যাহ, তাঁর ভ্রমণবৃত্তান্ত বিষয়ক গ্রন্থ এবং আল-ইশারাত ইলা মা'রিফাতিয যিয়ারাত।
(খণ্ড: ১)
আল-ইশারাত ইলা মা'রিফাতিয যিয়ারাত
(পৃষ্ঠা: ৫)
مقدمةبسم الله الرحمن الرحيم
المؤلف وكتابه:هو: أبو الحسن على بن أبى بكر بن على الهروى، رحالة، مؤرخ، أصله من هراة، ومولده بالموصل، طاف البلاد وتوفى بحلب سنة 611 هـ، وكان له فيها رباط.
قال المنذرى: «كان يكتب على الحيطان، وقلما يخلو موضع مشهور من مدينة أو غيرها إلا وفيه خطه، حتى ذكر بعض رؤساء الغزاة البحرية أنهم دخلوا فى البحر المالح إلى موضع وجدوا فى بره حائطا وعليه خطه» «1» .
وقد عرف بالسائح الهروى، لأنه قضى حياته مرتحلا فى أنحاء المشرق والمغرب الإسلامى، وفى الهند ومصر وغيرهما، وفى ذلك يقول ابن خلكان: «إنه لم يترك برّا ولا بحرا ولا سهلا ولا جبلا من الأماكن التى يمكن قصدها ورؤيتها إلا رآه، ولم يصل إلى موضع إلا كتب خطه فى حائطه، ولقد شاهدت ذلك فى البلاد التى رأيتها مع كثرتها» «2» .
من كتبه: «الخطب الهروية» و «التذكرة الهروية فى الحيل الحربية» وكتاب «رحلته» و «الإشارات إلى معرفة الزيارات» وهو الذي نقدم له اليوم.
وقد سجل الهروى فى كتابه «الإشارات» بعضا من الشئون المتصلة به، فتراه فى فلسطين سنة 569 هـ، يزور القدس والخليل وغيرهما، ويصل إلى ثغر عسقلان فى العام التالى.
وفى العام نفسه كان فى الإسكندرية يسمع الحديث عن السلفى، ويتجول فى الديار المصرية حتى أسوان، ويحل عام 572 هـ وهو لا يزال فى مصر.
ভূমিকাপরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।
লেখক ও তাঁর গ্রন্থ:তিনি হলেন: আবুল হাসান আলী বিন আবি বকর বিন আলী আল-হারাবী; একজন পর্যটক ও ঐতিহাসিক। তাঁর আদি নিবাস হেরাতে এবং জন্ম মোসেলে। তিনি দেশ-দেশান্তর ভ্রমণ করেন এবং ৬১১ হিজরিতে হালাবে মৃত্যুবরণ করেন; সেখানে তাঁর একটি রিবাত (খানকাহ) ছিল।
মুনজিরি বলেন: «তিনি দেয়ালের ওপর লিখতেন। শহর বা অন্য কোনো স্থানের প্রসিদ্ধ জায়গা তাঁর লেখা থেকে খুব কমই খালি থাকত। এমনকি নৌ-অভিযানকারীদের জনৈক প্রধান উল্লেখ করেছেন যে, তাঁরা লোনা সমুদ্রের এমন এক স্থানে প্রবেশ করেছিলেন যেখানে তীরের একটি দেয়ালে তাঁর হাতের লেখা দেখতে পান» «১»।
তিনি 'আস-সাইয়িহ আল-হারাবী' নামে পরিচিত ছিলেন, কারণ তিনি তাঁর পুরো জীবন ইসলামি বিশ্বের প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য, হিন্দুস্তান, মিসর এবং অন্যান্য অঞ্চলে ভ্রমণে ব্যয় করেছেন। এই প্রসঙ্গে ইবনে খাল্লিকান বলেন: «এমন কোনো স্থলপথ, সমুদ্রপথ, সমতল ভূমি বা পাহাড় যা দেখা সম্ভব, তা তিনি দেখা ছাড়া ছাড়েননি। আর এমন কোনো স্থানে তিনি পৌঁছাননি যার দেয়ালে তিনি নিজের নাম লিখে যাননি। আমি নিজে বহু দেশে তাঁর এই হাতের লেখা প্রত্যক্ষ করেছি» «২»।
তাঁর গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে: «আল-খুতাব আল-হারাবিয়্যাহ», «আত-তাযকিরাহ আল-হারাবিয়্যাহ ফিল হিয়ালিল হারবিয়্যাহ», তাঁর «সফরনামা» এবং «আল-ইশারাত ইলা মা'রিফাতিয যিয়ারাত»; যা আজ আমরা উপস্থাপন করছি।
হারাবী তাঁর «আল-ইশারাত» গ্রন্থে নিজের সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু বিষয় লিপিবদ্ধ করেছেন। দেখা যায় যে, ৫৬৯ হিজরিতে তিনি ফিলিস্তিনে বায়তুল মুকাদ্দাস, আল-খলিল ও অন্যান্য স্থান যিয়ারত করছেন এবং পরবর্তী বছর আসকালান সীমান্তে পৌঁছাচ্ছেন।
একই বছর তিনি আলেকজান্দ্রিয়ায় হাফেজ আস-সিলাফির নিকট হাদীস শ্রবণ করেন এবং মিসরের আসওয়ান পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকা পরিভ্রমণ করেন। ৫৭২ হিজরি সাল আসার সময়ও তিনি মিসরেই অবস্থান করছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইশারাত ইলা মা'রিফাতিয যিয়ারাত
(পৃষ্ঠা: ৬)
وكان من الطبيعى لدى الهروى- وهو الذي ارتحل من أجل رؤية الآثار والمزارات- أن يتجه اهتمامه إلى رؤية آثار مصر ومزاراتها، فهذه مصر ماثلة أمامه بآثارها القديمة، تحكى أمجاد هذا البلد العريق، وتكشف عن دوره الخالد فى خدمة الحضارة الإنسانية، وإذا كان الرحالة المسلمون على عهد الهروى ومن بعده، قد باعد الزمان بينهم وبين هذه العصور السحيقة، فكانوا لا يعرفون حق المعرفة ما تمثله هذه الآثار وما عليها من كتابات ونقوش، ومن ثمّ كان عمل الهروى شاقّا وعسيرا فى كتاباته عن هذه المرحلة الهامة من تاريخ مصر: «وذلك بسبب افتقار الباحثين فى التاريخ القديم من حيث الخبرة بالكشوف واللغة الهير وغليفية، وهى أمور لم يصل العلم إلى كشف أسرارها إلا فى مطلع العصر الحديث، ولذا لم يكن عجبا أن يلتمس هذا الرحالة سبيله إلى هذه الحقبة الخالدة من تاريخ مصر عن طريق القصص التى رددتها شفاه المعاصرين له، والتى امتلأت بها مجالسهم الخاصة والعامة، ولا ينقص من قيمة هذه المحاولة أن القصص التى سردها الهروى حفلت بالخيال الواسع، أو لأنها ابتعدت عن منهج البحث الذي نعرفه فى وقتنا الحاضر، إذ يكفى هذا الرحالة فخرا أنه نجح فى إشارة غريزة حب الاستطلاع عند المصريين فى تاريخ وطنهم القديم، وتلمس الروابط القيمة بين حاضرهم إذ ذاك وماضيهم التليد» «1» .
ولم تكن الآثار وعجائب المبانى بمصر هى التى شدت انتباه الهروى فحسب، بل إن نيلها وجوها ونباتها وزهورها كان له فى نفس الهروى الشيء الكثير، وفى ذلك يقول: «فإن ديار مصر ونيلها من عجائب الدنيا، ورأيت بها فى آن واحد مجتمع وردا ثلاثة ألوان، وياسمينا، ونيلوفرا لونين، وآسا، ونسرينا وريحانا ونبقا وأترنجا وليمونا مركبا وموزا وجميزا وحصرما وعنبا وتينا أخضر ولوزا وفقوسا وبطيخا وباذنجان وباقلا أخضر وخسا والبقول والرمان وهيلونا وقصب السكر» .
كما يعجب بمبانى مصر ومقابرها الأثرية بالصعيد.
هذا وقد اعتمد ياقوت فى كتاباته إلى حد كبير على المواد التى تناولها الهروى فى كتاباته، ونقل الكثير منها نقلا حرفيّا.
আল-হারাবীর ক্ষেত্রে এটিই স্বাভাবিক ছিল—যিনি মূলত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও দর্শনীয় স্থানসমূহ দেখার উদ্দেশ্যে দেশভ্রমণে বের হয়েছিলেন—যে তাঁর আগ্রহ মিশরের প্রাচীন নিদর্শন ও মাজারগুলোর প্রতি নিবদ্ধ হবে। এই মিশর তার প্রাচীন নিদর্শনাদি নিয়ে তাঁর সামনে দৃশ্যমান ছিল, যা এই সুপ্রাচীন জনপদের শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করছিল এবং মানব সভ্যতার সেবায় এর চিরন্তন ভূমিকা উন্মোচন করছিল। আল-হারাবীর সময়কালের এবং তাঁর পরবর্তী মুসলিম পর্যটকদের সাথে এই অতি প্রাচীন যুগগুলোর সময়ের বিস্তর ব্যবধান তৈরি হয়েছিল, ফলে এই নিদর্শনগুলো আসলে কিসের প্রতিনিধিত্ব করে এবং সেগুলোর ওপর অঙ্কিত লিপি ও খোদাইকর্ম সম্পর্কে তাঁদের সঠিক জ্ঞান ছিল না। এ কারণে মিশরের ইতিহাসের এই গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় সম্পর্কে লিখতে গিয়ে আল-হারাবীর কাজ অত্যন্ত কঠিন ও দুরূহ হয়ে পড়েছিল: "এর কারণ ছিল প্রাচীন ইতিহাস বিষয়ক গবেষকদের মাঝে প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কার এবং হায়ারোগ্লিফিক ভাষা সংক্রান্ত অভিজ্ঞতার অভাব; এগুলো এমন বিষয় যার রহস্য বিজ্ঞান কেবল আধুনিক যুগের সূচনালগ্নেই উন্মোচন করতে সক্ষম হয়েছে। অতএব, এই পর্যটক মিশরের ইতিহাসের এই শাশ্বত কালখণ্ডকে জানার জন্য তাঁর সমসাময়িকদের মুখে প্রচলিত কিচ্ছা-কাহিনীর পথ অন্বেষণ করেছিলেন—যা তাঁদের ব্যক্তিগত ও সাধারণ মজলিসগুলোতে মুখরিত থাকত—তাতে আশ্চর্যের কিছু ছিল না। আল-হারাবীর বর্ণিত কাহিনীগুলো অতিমাত্রায় কল্পনাপ্রসূত হওয়া কিংবা বর্তমানে আমাদের পরিচিত গবেষণা পদ্ধতি থেকে দূরে থাকার কারণে এই প্রচেষ্টার গুরুত্ব মোটেও হ্রাস পায় না; বরং এই পর্যটকের জন্য এটিই গৌরবের বিষয় যে, তিনি মিশরীয়দের মনে তাঁদের প্রাচীন স্বদেশের ইতিহাস সম্পর্কে কৌতূহল জাগিয়ে তুলতে এবং তৎকালীন বর্তমানের সাথে তাঁদের সুদূর অতীতের মূল্যবান যোগসূত্রগুলো খুঁজে বের করতে সফল হয়েছিলেন" (১)।
মিশরের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন এবং বিস্ময়কর স্থাপত্যগুলোই কেবল আল-হারাবীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেনি, বরং নীল নদ, আবহাওয়া এবং সেখানকার উদ্ভিদ ও পুষ্পরাজি তাঁর মনে গভীর রেখাপাত করেছিল। এ সম্পর্কে তিনি বলেন: "মিশর ভূখণ্ড ও এর নীল নদ জগতের বিস্ময়সমূহের অন্যতম। আমি সেখানে একই সাথে তিন রঙের গোলাপ, জুঁই, দুই রঙের শাপলা, সুগন্ধি গুল্ম (আস্), বুনো গোলাপ, সুগন্ধি তুলসী, বড়ই, বাতাবি লেবু, কলম করা লেবু, কলা, জুম্মায়িয ডুমুর, টক আঙুর, আঙুর, সবুজ ডুমুর, বাদাম, শসা, তরমুজ, বেগুন, সবুজ শিম, লেটুস পাতা, শাকসবজি, ডালিম, অ্যাসপারাগাস এবং আখ একত্রিত দেখেছি।"
একইভাবে তিনি উচ্চ মিশরের (সাঈদ) স্থাপত্য ও প্রত্নতাত্ত্বিক সমাধিগুলোর প্রশংসা করেন।
এছাড়া ইয়াকুত আল-হামাভী তাঁর লেখনিতে আল-হারাবীর সংগৃহীত তথ্যাবলির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করেছেন এবং এর অনেক অংশ হুবহু উদ্ধৃত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইশারাত ইলা মা'রিফাতিয যিয়ারাত
(পৃষ্ঠা: ৭)
وقد استندت فى تحقيق نص الهروى إلى:
طبعة المعهد الفرنسى بدمشق سنة 1953 م، وجعلتها أصلا باعتبارها نشرت نشرا علميّا، على أساس المخطوطات المتنوعة التى وقعت لمصححتها.
كما اهتديت فى عملى أيضا بنسخة أخرى بدار الكتب الظاهرية بدمشق وتقع فى 43 ورقة، وتاريخ نسخها سنة 1086 هـ، وقد رمزت لهذه النسخة بالحرف (ظ) .
القاهرة فى جمادى الآخرة سنة 1422 هـ
سبتمبر سنة 2001 م
د/ على عمر
আল-হারাবীর মূল পাঠ (text) সম্পাদনা ও গবেষণার ক্ষেত্রে আমি নিম্নলিখিত উৎসসমূহের ওপর নির্ভর করেছি:
১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দের দামেস্কের ফরাসি ইনস্টিটিউটের (Institut Français) সংস্করণ; আমি ইহাকে মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছি, কারণ এটি বিভিন্ন পাণ্ডুলিপির ওপর ভিত্তি করে একটি পাণ্ডিত্যপূর্ণ ও বৈজ্ঞানিক প্রকাশনা হিসেবে প্রকাশিত হয়েছিল যা এর সম্পাদিকার হস্তগত ছিল।
এ ছাড়াও আমি আমার কাজে দামেস্কের জাহিরিয়া লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত অপর একটি অনুলিপির সাহায্য গ্রহণ করেছি, যা ৪৩টি পত্র সম্বলিত এবং এর অনুলিপিকরণের তারিখ ১০৮৬ হিজরি; আমি এই সংস্করণটিকে (য) বর্ণ দ্বারা চিহ্নিত করেছি।
কায়রো, জুমাদাল আখিরাহ, ১৪২২ হিজরি
সেপ্টেম্বর, ২০০১ খ্রিস্টাব্দ
ড. আলী উমর
(খণ্ড: ১)
আল-ইশারাত ইলা মা'রিফাতিয যিয়ারাত
(পৃষ্ঠা: ৯)
صفحة العنوان من نسخة دار الكتب الظاهرية
দারুল কুতুব আল-জাহিরিয়া পাণ্ডুলিপির শিরোনামের পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১)
আল-ইশারাত ইলা মা'রিফাতিয যিয়ারাত
(পৃষ্ঠা: ১০)
الصفحة الأولى من نسخة دار الكتب الظاهرية
দারুল কুতুব আজ-জাহিরিয়্যাহ-এর অনুলিপির প্রথম পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১)
আল-ইশারাত ইলা মা'রিফাতিয যিয়ারাত
(পৃষ্ঠা: ১১)
الصفحة الأخيرة من نسخة دار الكتب الظاهرية
দারুল কুতুব আজ-জাহিরিয়্যাহ-এর পাণ্ডুলিপির সর্বশেষ পৃষ্ঠা
(খণ্ড: ১)
আল-ইশারাত ইলা মা'রিফাতিয যিয়ারাত
(পৃষ্ঠা: ১৩)
مقدمة المؤلف
بسم الله الرحمن الرحيم قال العبد الفقير إلى رحمة ربه، المستغفر من خطيئته وذنبه على بن أبى بكر الهروىّ- غفر الله له ولوالديه ولجميع المسلمين:
الحمد لله حق حمده، وصلاته على خير خلقه محمد النبي الأمى وآله وصحبه وشرّف وكرّم، أما بعد، فإنه سألنى بعض الإخوان الصالحين والخلان الناصحين أن أذكر له ما زرته من الزيارات، وما شهدته من العجائب والأبنية والعمارات، وما رأيته من الأصنام، والآثار والطلسمات فى الربع المسكون والقطر المعمور، ووقع الامتناع إلى أن حصل لى الاجتماع برسول وفد من الديوان العزيز- شرّفه الله وعظّمه- وتبرّكنا بزيارته واستسعدنا برؤيته إذ كان قدومه من دار السلام، وقبة الإسلام، ومقر الإمام عليه السلام وذكر الشيخ الرسول زيارات زارها بالشام وأرض بعلبك، وذكر بعض الحاضرين قبور بعض الأنبياء عليهم السلام وقد اختلف فى صحة ذلك.
فوقع ابتداء ذكر الزيارات من مدينة حلب، وكان الواجب أن نبتدئ بذكر مدينة السلام- حرسها الله تعالى- إذ بها إمام المسلمين، وخليفة الموحدين، وأمير المؤمنين، وابن عم سيد المرسلين، الإمام أبو العباس أحمد الناصر لدين الله أمير المؤمنين بن الإمام المستضىء بأمر الله بن الإمام المستنجد بالله بن الإمام المقتفى لأمر الله بن الإمام المستظهر بالله بن الإمام المقتدى بالله بن الإمام محمد الذخيرة بن الإمام القائم بالله بن الإمام القادر بالله بن الإمام المقتدر بالله بن الإمام المعتضد بالله بن الإمام الموفق بالله بن الإمام المتوكل على الله بن الإمام المعتصم بالله بن الإمام الرشيد بالله بن الإمام المهدى بن الإمام المنصور بن الإمام محمد بن على بن عبد الله بن العباس بن عبد المطلب بن هاشم- صلوات الله عليهم- الذي رفع المظالم، وأمر بالمعروف، ونهى عن المنكر، وأقام حدود الله، وأحيا سنة رسول الله، وعمر الشريعة وأظهر الصنيعة- وفقه الله لطاعته وبلغه نهاية آماله من دنياه وآخرته، بمحمد وآله وعترته- إلا أننا أخرنا ذكر زيارات مدينة السلام
লেখকের ভূমিকা
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। তাঁর রবের রহমতের মুখাপেক্ষী দরিদ্র বান্দা, নিজের ভুল-ত্রুটি ও পাপের ক্ষমাপ্রার্থী আলী বিন আবি বকর আল-হারাভি—আল্লাহ তাকে, তার পিতা-মাতাকে এবং সকল মুসলিমকে ক্ষমা করুন—বলেন:
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যেমন প্রশংসা তাঁর প্রাপ্য। তাঁর দরুদ বর্ষিত হোক তাঁর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মুহাম্মদ উম্মি নবী এবং তাঁর পরিবার ও সহচরদের ওপর, এবং তাদের তিনি সম্মানিত ও উচ্চ মর্যাদাসীন করুন। অতঃপর, আমার কিছু সৎ ভাই ও হিতাকাঙ্ক্ষী বন্ধু আমাকে অনুরোধ করেছিলেন যে, আমি যেন তাদের নিকট সেই সব জিয়ারতগাহের কথা উল্লেখ করি যা আমি জিয়ারত করেছি, এবং সেই সব বিস্ময়কর বস্তু, অট্টালিকা ও ইমারত যা আমি প্রত্যক্ষ করেছি, আর সেই সব প্রতিমা, নিদর্শন ও তিলস্মাত (জাদুকরী বস্তু) যা আমি পৃথিবীর বসতিপূর্ণ ও আবাদকৃত ভূখণ্ডে দেখেছি। আমি এই অনুরোধ গ্রহণে বিরত ছিলাম যতক্ষণ না আমার সাক্ষাৎ হয় সম্মানিত দিওয়ান (রাজদরবার) থেকে আসা এক প্রতিনিধি দলের বার্তার বাহকের সাথে—আল্লাহ তাকে সম্মানিত ও মহান করুন। আমরা তার জিয়ারতে বরকত লাভ করেছি এবং তার দর্শনে সৌভাগ্যবান হয়েছি, যেহেতু তার আগমন ঘটেছিল দারুস সালাম (শান্তিধাম), ইসলামের গম্বুজ এবং ইমামের (আলাইহিস সালাম) সদর দপ্তর থেকে। সেই শায়খ (বার্তাবাহক) সিরিয়া ও বালবেক অঞ্চলে তার করা বিভিন্ন জিয়ারতগাহের কথা উল্লেখ করেন এবং উপস্থিতদের কেউ কেউ কিছু নবীগণের (আলাইহিমুস সালাম) কবরের কথা আলোচনা করেন, যদিও সেগুলোর বিশুদ্ধতা নিয়ে মতভেদ রয়েছে।
ফলে জিয়ারতগাহগুলোর বর্ণনা আলেপ্পো শহর থেকে শুরু হলো। যদিও কর্তব্য ছিল মদিনাতুস সালাম—আল্লাহ তাআলা একে রক্ষা করুন—থেকে বর্ণনা শুরু করা। কারণ সেখানে অবস্থান করছেন মুসলিমদের ইমাম, একত্ববাদীদের খলিফা, মুমিনদের আমির, এবং রাসূলদের সরদারের চাচাতো ভাই: ইমাম আবুল আব্বাস আহমদ আন-নাসির লি-দিনিল্লাহ আমিরুল মুমিনীন বিন ইমাম আল-মুস্তাদী বি-আমরিল্লাহ বিন ইমাম আল-মুসতানজিদ বিল্লাহ বিন ইমাম আল-মুকতাফি লি-আমরিল্লাহ বিন ইমাম আল-মুস্তাজহির বিল্লাহ বিন ইমাম আল-মুকতাদি বিল্লাহ বিন ইমাম মুহাম্মদ আজ-জাখিরা বিন ইমাম আল-কায়েম বিল্লাহ বিন ইমাম আল-কাদির বিল্লাহ বিন ইমাম আল-মুক্তাদির বিল্লাহ বিন ইমাম আল-মুতাদিদ বিল্লাহ বিন ইমাম আল-মুওয়াফফাক বিল্লাহ বিন ইমাম আল-মুতাওয়াক্কিল আলাল্লাহ বিন ইমাম আল-মুতাসিম বিল্লাহ বিন ইমাম আর-রাশিদ বিল্লাহ বিন ইমাম আল-মাহদি বিন ইমাম আল-মানসুর বিন ইমাম মুহাম্মদ বিন আলী বিন আবদুল্লাহ বিন আব্বাস বিন আবদুল মুত্তালিব বিন হাশিম—তাদের সকলের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক। তিনি জুলুম দূর করেছেন, সৎকাজের আদেশ দিয়েছেন, অসৎকাজ থেকে নিষেধ করেছেন, আল্লাহর বিধান কায়েম করেছেন, রাসূলুল্লাহর সুন্নাতকে পুনরুজ্জীবিত করেছেন, শরিয়তকে আবাদ করেছেন এবং কল্যাণ প্রকাশ করেছেন—আল্লাহ তাকে তাঁর আনুগত্যের তাওফিক দিন এবং মুহাম্মদ ও তাঁর পরিবার ও বংশধরদের উসিলায় তাকে দুনিয়া ও আখিরাতের চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছে দিন। তবে আমরা মদিনাতুস সালামের জিয়ারতগাহের বর্ণনা বিলম্বিত করেছি...
(খণ্ড: ১)
আল-ইশারাত ইলা মা'রিফাতিয যিয়ারাত
(পৃষ্ঠা: ১৪)
لنجعلها مفتاحا إلى ذكر زيارات الحرمين الشريفين المعظمين مكة والمدينة- حرسهما الله تعالى.
وقد اختصرت ما حضرنى على سبيل الإيجاز، وأنا أستعيذ بالله من شر حاسد، ونكد معاند، يقف على ذكر بعض الصحابة والتابعين وآل الرسول- صلوات الله عليهم أجمعين- وعلى ذكر بعض الآثار فيقول: «قرأنا فى التاريخ الفلانى ضد ذلك» و «ذكر فلان غير ذلك» وأنا مما أشك فى قوله، ولا أطعن فى حديثه، إلا أننى ذكرت ما شاع خبره وذاع ذكره بطريق الاستفاضة، والله أعلم بصحته.
وقد ذكر بعض أصحاب التواريخ جماعة من آل الرسول عليه السلام ومن الصحابة والتابعين رضى الله عنهم، قتلوا أو ماتوا ببلاد الشام والعراق وخراسان والمغرب واليمن وجزائر البحر، ولم أر فى أكثر هذه الأماكن ما ذكروه، ولا شك أن قبورهم اندرست، وآثارهم طمست، وذهبت آثارها، وبقيت أخبارها، والزائر له صدق نيته وصحة عقيدته.
وقد ذكروا أيضا بلادا أخر، وأماكن وطرقات لا تعرف الآن لتقادم العهد وتغير الزمان، وإن جرى فيما أذكره شىء بطريق السهو والغلط، لا بطريق القصد، فأسأل الناظر فيه والواقف عليه الصفح عن ذاك، وإصلاح الخطأ، وإيضاح الحق، فإن كتبى أخذها الانكتار ملك الفرنج، ورغب فى وصولى إليه فلم يمكن ذلك، ومنها ما غرق فى البحر.
وقد زرت أماكن ودخلت بلادا من سنين كثيرة، وقد نسيت أكثر ما رأيته، وشذ عنى أكثر ما عاينته، وهذا مقام لا يدركه أحد من السائحين والزهاد ولا يصل إليه أكثر المسافرين والعباد إلا رجل جال الأرض بقدمه وأثبت ما ذكرته بقلبه وقلمه.
وها أنا أبتدئ بذكر الزيارات من مدينة حلب وأعمالها والبلاد التى تليها، ثم أذكر الشام بأسرها، والساحل بأسره، وبلاد الفرنج وفلسطين والأرض المقدسة وجميع زيارات البيت المقدس ومدينة الخليل عليه السلام وديار مصر بأسرها والصعيدين، والبلاد البحرية، والمغرب، وجزائر البحر، وبلاد الروم، وجزيرة ابن عمر، وديار بكر، والعراق بأسرها، وأطراف الهند، والحرمين الشريفين مكة والمدينة- حرسهما الله تعالى- واليمن وبلاد العجم، مع أنه لم يدخل بلاد العجم والمغرب نبى، بل بهما من الصالحين والأبدال
আমরা একে মক্কা ও মদিনা—আল্লাহ তাআলা সে দুটিকে হেফাযত করুন—এই দুই মহান সম্মানিত হারাম শরীফে যিয়ারতের বর্ণনার একটি চাবিকাঠি হিসেবে গ্রহণ করছি।
যা আমার স্মরণে এসেছে তা আমি সংক্ষেপের পদ্ধতি অনুসারে সংক্ষিপ্ত করেছি। আমি হিংসুকদের অনিষ্ট এবং জেদ করা বিদ্বেষীদের কষ্ট থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি, যারা কোনো কোনো সাহাবী, তাবিঈ এবং রাসূলের বংশধর—তাদের সকলের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক—এর আলোচনা এবং কোনো কোনো নিদর্শনের বর্ণনার মুখোমুখি হয়ে বলবে: «আমরা অমুক ইতিহাসে এর উল্টোটা পড়েছি» এবং «অমুক ব্যক্তি অন্য কিছু উল্লেখ করেছেন»। আমি তাদের কথায় সন্দেহ পোষণ করছি না এবং তাদের বর্ণনাকে প্রত্যাখ্যানও করছি না, তবে আমি তা-ই উল্লেখ করেছি যার সংবাদ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে এবং প্রসিদ্ধ পদ্ধতিতে যার বর্ণনা সুবিদিত হয়েছে। আর এর বিশুদ্ধতা সম্পর্কে আল্লাহই ভালো জানেন।
কোনো কোনো ইতিহাসবিদ রাসূল আলাইহিস সালামের বংশধর, সাহাবী এবং তাবিঈদের (আল্লাহ তাদের সকলের ওপর সন্তুষ্ট হোন) এক দলের কথা উল্লেখ করেছেন, যারা শাম, ইরাক, খোরাসান, মাগরিব, ইয়ামেন এবং সমুদ্রের দ্বীপসমূহে শহীদ হয়েছেন অথবা মৃত্যুবরণ করেছেন। আমি এসব স্থানের অধিকাংশেই তাদের বর্ণিত সেই সব নিদর্শন দেখিনি। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তাদের কবরসমূহ বিলীন হয়ে গেছে, তাদের চিহ্নসমূহ মুছে গেছে এবং তাদের বাহ্যিক নিদর্শনগুলো চলে গেছে, কেবল তাদের সংবাদসমূহ অবশিষ্ট রয়েছে। আর যিয়ারতকারীর জন্য তার নিয়তের সততা এবং আকিদার বিশুদ্ধতাই মুখ্য।
তারা আরও এমন কিছু দেশ, স্থান এবং পথের কথা উল্লেখ করেছেন যা দীর্ঘকাল অতিবাহিত হওয়া এবং যুগের পরিবর্তনের কারণে এখন আর চেনা যায় না। আমি যা উল্লেখ করছি তাতে যদি ইচ্ছাকৃত নয় বরং অনিচ্ছাকৃতভাবে কোনো ভুল বা ভ্রান্তি হয়ে থাকে, তবে আমি এর পাঠকের কাছে এবং এটি যে অবগত হবে তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি, যেন তারা সেই ভুল সংশোধন করে দেন এবং সত্য স্পষ্ট করে দেন। কারণ আমার কিতাবসমূহ রিচার্ড, যে ইউরোপীয়দের রাজা ছিল, সে নিয়ে নিয়েছে এবং সে আমার তার কাছে পৌঁছানোর আকাঙ্ক্ষা করেছিল কিন্তু তা সম্ভব হয়নি; আর বইগুলোর কিছু অংশ সমুদ্রে ডুবে গেছে।
আমি বহু বছর আগে অনেক স্থান যিয়ারত করেছি এবং অনেক শহরে প্রবেশ করেছি। আমি যা দেখেছি তার অধিকাংশ ভুলে গেছি এবং যা স্বচক্ষে পর্যবেক্ষণ করেছি তার বেশিরভাগই আমার স্মৃতি থেকে হারিয়ে গেছে। এটি এমন এক পর্যায় যা পর্যটক ও যাহিদদের মধ্যে কেউ সহজে অর্জন করতে পারে না এবং অধিকাংশ মুসাফির ও ইবাদতগুজার ব্যক্তিও সেখানে পৌঁছাতে পারে না, কেবল সেই ব্যক্তি ছাড়া যে নিজের পা দিয়ে জমিন ভ্রমণ করেছে এবং আমি যা উল্লেখ করেছি তা তার অন্তর ও কলম দিয়ে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে।
এখন আমি হালাব শহর, এর সংলগ্ন অঞ্চলসমূহ এবং এর পরবর্তী শহরগুলো থেকে যিয়ারতের বর্ণনা শুরু করছি। এরপর আমি সমগ্র শাম, সমগ্র উপকূলীয় অঞ্চল, ইউরোপীয়দের দেশসমূহ, ফিলিস্তিন ও পবিত্র ভূমি, বায়তুল মুকাদ্দাসের সকল যিয়ারতগাহ, খলীল আলাইহিস সালামের শহর, সমগ্র মিশর ও উভয় সাঈদ অঞ্চল, সমুদ্র উপকূলীয় শহরসমূহ, মাগরিব, সমুদ্রের দ্বীপসমূহ, রুমের দেশসমূহ, জাযিরাতু ইবনে উমর, দিয়ার বকর, সমগ্র ইরাক, হিন্দের সীমান্তবর্তী এলাকা, দুই পবিত্র হারাম মক্কা ও মদিনা—আল্লাহ তাআলা সে দুটিকে হেফাযত করুন—ইয়ামেন এবং আজম দেশসমূহের কথা উল্লেখ করব। যদিও আজম এবং মাগরিবের ভূখণ্ডে কোনো নবী প্রবেশ করেননি, বরং সেখানে নেককার লোক এবং আবদালগণ বিদ্যমান।
(খণ্ড: ১)
আল-ইশারাত ইলা মা'রিফাতিয যিয়ারাত
(পৃষ্ঠা: ১৫)
والأولياء والعلماء ما لو جمع لكان كثيرا، وهذا الكتاب مقتصر على ذكر الزيارات وأما ذكر الأبنية والآثار والعجائب والأصنام فلها كتاب مفرد غير هذا ولا بد أن نذكر ها هنا طرفا ممّا يليق بهذا الكتاب إن شاء الله تعالى.
এবং আউলিয়া ও উলামাদের সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তা যদি একত্রিত করা হতো, তবে তা অনেক হতো। এই গ্রন্থটি কেবল যিয়ারতসমূহ বর্ণনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। আর স্থাপত্য, প্রাচীন নিদর্শনসমূহ, আশ্চর্যজনক বিষয়সমূহ ও মূর্তিসমূহের আলোচনার জন্য এটি ছাড়া ভিন্ন একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ রয়েছে। তবে আমরা এখানে ইনশাআল্লাহ তায়ালা এই গ্রন্থের উপযোগী কিছু বিষয় অবশ্যই আলোচনা করব।
(খণ্ড: ১)
আল-ইশারাত ইলা মা'রিফাতিয যিয়ারাত
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الزيارات بمدينة حلب وأعمالهابقلعتها مقام إبراهيم الخليل عليه السلام وبه صندوق فيه قطعة من رأس يحيى بن زكرياء عليه السلام ظهرت سنة خمس وثلاثين وأربعمائة «1» ، وبها عند باب الجنان مشهد على بن أبى طالب رضى الله عنه رئى فى المنام، وبها داخل باب العراق مسجد غوث، به حجر عليه كتابة، ذكروا أنها خط على بن أبى طالب رضى الله عنه، وله حكاية والله أعلم، وبها غربى البلد مشهد الدكة به قبر المحسّن بن الحسين رضى الله عنه، وبالجبانة مقام إبراهيم الخليل عليه السلام، وقبلى البلد على الجدة الآخذة إلى طريق دمشق بئر نسبت إلى إبراهيم الخليل عليه السلام ظهرت فى تربة مؤلف هذا الكتاب وبانت فضيلتها، وبها قبور جماعة من الصالحين رضى الله عنهم، وبها قبر بلال بن حمامة إلا أنه لا يعرف، وبها قبر عبد الله الأنصارى كما ذكروا، وبها حجر ظاهر باب اليهود على طريق ينذر له النذور ويصب عليه ماء الورد والطيب، وللمسلمين فيه اعتقاد ولليهود والنصارى، ويقال تحته قبر بعض الأنبياء عليهم السلام أو الأولياء، والله أعلم.
قلعة قورص:بها قبر أوريا بن حنّان.
روحين:قرية من أعمال حلب عندها قبر قس بن ساعدة الإيادى وصاحبيه اللذين ندبهما فى شعره حيث يقول:
خليلى هبّا طالما قد رقدتما
… أجدكما لا تقضيان كراكما «2»
ألم تعلما أنى بسمعان مفرد
… وما لى يوما من صديق سواكما
أصب على قبريكما من مدامة
… فإن لم تنالاها تروى ثراكما
أقيم على قبريكما لست نازحا
… طوال الليالى أو يجيب صداكما
وأبكيكما حتى الممات وما الذي
… يرد على ذى لوعة إن بكاكما
كأنكما والموت أقرب غصّة
… بروحى إلى قبريكما قد أتاكما
فلو جعلت نفس لنفس وقاية
… لجدت بنفسى أن تكون فداكما
আলেপ্পো (হালাব) শহর ও এর সংশ্লিষ্ট অঞ্চলসমূহের যিয়ারতগাহসমূহএর দুর্গে ইব্রাহিম খলিল আলাইহিস সালামের মাকাম রয়েছে এবং সেখানে একটি সিন্দুক রয়েছে যাতে ইয়াহইয়া বিন যাকারিয়া আলাইহিস সালামের মস্তকের একটি অংশ রয়েছে, যা চারশত পঁয়ত্রিশ হিজরি সনে প্রকাশ পেয়েছে। সেখানে বাবুল জিনানের নিকট আলী বিন আবি তালিব রাযিয়াল্লাহু আনহুর একটি মাশহাদ (স্মৃতিস্তম্ভ) রয়েছে যা স্বপ্নে দেখা হয়েছিল। সেখানে বাবুল ইরাকের ভেতরে মাসজিদে গাউস অবস্থিত, যাতে একটি পাথর আছে যার উপর লিপি রয়েছে; তারা উল্লেখ করেছেন যে এটি আলী বিন আবি তালিব রাযিয়াল্লাহু আনহুর হস্তলিপি, আর এর একটি কাহিনী রয়েছে এবং আল্লাহই সর্বজ্ঞ। শহরের পশ্চিমে মাশহাদুদ দাক্কা রয়েছে যেখানে মুহাসসিন বিন হুসাইন রাযিয়াল্লাহু আনহুর কবর অবস্থিত। কবরস্থানে ইব্রাহিম খলিল আলাইহিস সালামের মাকাম রয়েছে। শহরের দক্ষিণে দামেস্কের দিকে যাওয়ার প্রধান সড়কে একটি কূপ রয়েছে যা ইব্রাহিম খলিল আলাইহিস সালামের দিকে নিসবত করা হয়; এটি এই কিতাবের লেখকের জমিতে প্রকাশ পেয়েছে এবং এর ফজিলত স্পষ্ট হয়েছে। সেখানে একদল নেককার লোকের (সালেহীন) কবর রয়েছে, আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন। সেখানে বিলাল বিন হামামার কবর রয়েছে, তবে তা সুপরিচিত নয়। সেখানে আব্দুল্লাহ আনসারীর কবর রয়েছে যেমনটি তারা উল্লেখ করেছেন। ইয়াহুদিদের গেটের (বাবুল ইয়াহুদ) বাইরের রাস্তায় একটি পাথর রয়েছে যার জন্য মানত করা হয় এবং তার উপর গোলাপ জল ও সুগন্ধি ঢালা হয়; এতে মুসলিমদের যেমন বিশ্বাস রয়েছে, তেমনি ইয়াহুদি ও নাসারাদেরও রয়েছে। বলা হয় যে এর নিচে কোনো নবীর অথবা কোনো অলীর কবর রয়েছে; আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
কূরুস দুর্গ:সেখানে উরিয়াহ বিন হান্নানের কবর রয়েছে।
রুহিন:এটি আলেপ্পোর অধীনস্থ একটি গ্রাম, যার কাছে কুস বিন সায়িদা আল-ঈয়াদি এবং তাঁর সেই দুই সঙ্গীর কবর রয়েছে যাঁদের বিয়োগে তিনি তাঁর কবিতায় শোক প্রকাশ করেছিলেন, যেখানে তিনি বলেন:
হে আমার দুই বন্ধু, জেগে ওঠো, তোমরা দীর্ঘকাল ঘুমিয়ে আছো
… আমি কি দেখছি যে তোমাদের তন্দ্রা ফুরোচ্ছে না?
তোমরা কি জানো না যে আমি সামআনে একাকী পড়ে আছি
… আর তোমরা দুজন ছাড়া আজ আমার কোনো বন্ধু নেই?
আমি তোমাদের কবরের ওপর সুরা (বৃষ্টির ন্যায়) ঢেলে দিই
… যদি তোমরা তা নাও পাও, তবে তা যেন তোমাদের মাটি সিক্ত করে।
আমি তোমাদের কবরের পাশে অবস্থান করছি, আমি সরে যাব না
… সারা রাত ধরে অথবা যতক্ষণ না তোমাদের প্রতিধ্বনি উত্তর দেয়।
এবং আমি মৃত্যু পর্যন্ত তোমাদের জন্য কাঁদব
… আর শোকাতুর ব্যক্তির ক্রন্দন কী-ই বা ফিরিয়ে দেবে যদি সে তোমাদের জন্য কাঁদে?
যেন মৃত্যু—যা প্রাণের সবচেয়ে নিকটবর্তী বিষাদ
… তোমাদের কবরের নিকট তোমাদের নিয়ে এসেছে।
যদি এক প্রাণ অন্য প্রাণের রক্ষাকবচ হতে পারত
… তবে আমি সানন্দে নিজের প্রাণ উৎসর্গ করতাম তোমাদের জন্য মুক্তিপণ হিসেবে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইশারাত ইলা মা'রিফাতিয যিয়ারাত
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وقيل هما شمعون الصفا وسمعان، والصحيح أن شمعون الصفا فى مدينة رومية الكبرى فى كنيستها العظمى فى تابوت من الفضة معلق بسلاسل فى سقف الهيكل «1» والله أعلم.
جبل برصايا:به مقام برصيصا العابد، وقبر الشيخ برصيصا، ومقام داود عليه السلام.
مشحلا:قرية من بلد عزاز بها قبر أخى داود النبي عليه السلام.
براق:قرية من أعمالها بها معبد يقصده الزمنى والمرضى من الأماكن ويبيتون به، فإما أن يبصر المريض من يقول له: «دواؤك فى الشيء الفلانى» أو يبصر من يمسح يده عليه فيقوم وقد برئ بإذن الله تعالى كما ذكره أهل الموضع، والله أعلم.
كفر نجد:قرية من أعمالها فيها بئر يقصدها من دخل فى حلقه علقة ويصعب إخراجها، فإنه كلما شرب من ماء البئر شربة وطاف بالبئر مرة فإذا كمل سبع مرات «2» خرجت بغير أذى وذكروا أنهم جربوه.
مدينة أنطاكية:بها قبر حبيب النجار الذي أنزل الله فيه: وَجاءَ مِنْ أَقْصَا الْمَدِينَةِ رَجُلٌ يَسْعى
(سورة يس: 20) وجبلها كان معبدا يزار من الآفاق وهى المدن التى يتسلى بها الغريب عن وطنه.
مدينة أنطرسوس:بها قبر الإمام المأمون بن الإمام الرشيد رضى الله عنهما، وقبر الرشيد بطوس من بلاد خراسان، والإمام على بن موسى الرضا رضى الله عنه بقرية يقال لها: سناباذ، على نحو فرسخ من البلد، والله أعلم.
مدينة قنسرين:بجبلها مشهد يقال: إنه مقام صالح النبي عليه السلام، ويقال: إن الناقة منه خرجت لصالح، وبه آثار أقدام البعير، والصحيح أن صالحا كان بأرض اليمن وقبره فى شبوة باليمن، وسيأتى ذكره فى رحلة اليمن، إن شاء الله تعالى، وقيل: إنه كان بالحجر ما بين وادى القرى والشام وقبره بمكة، والله أعلم.
المعرة:مدينة من أعمال حماة، كان اسمها ذات القصور قديما فنسبت إلى النعمان بن
বলা হয়ে থাকে তাঁরা হলেন শামউন আস-সাফা ও সামআন। সঠিক কথা হলো, শামউন আস-সাফা রোমের বড় শহরের বিশাল গির্জার ভেতরে রুপার একটি কফিনে মন্দিরের ছাদে শিকল দিয়ে ঝোলানো অবস্থায় আছেন, আল্লাহ ভালো জানেন।
বারসাইয়া পাহাড়:সেখানে ইবাদতগুজার বারসিসার মাকাম (অবস্থানস্থল), শেখ বারসিসার কবর এবং দাউদ আলাইহিস সালামের মাকাম রয়েছে।
মাশহালা:এটি আযায অঞ্চলের একটি গ্রাম, সেখানে নবী দাউদ আলাইহিস সালামের ভাইয়ের কবর রয়েছে।
বুরাক:এটি উক্ত অঞ্চলের একটি গ্রাম। সেখানে একটি উপাসনালয় রয়েছে যেখানে বিভিন্ন স্থান থেকে দীর্ঘস্থায়ী ব্যাধিতে আক্রান্ত ও রোগীরা আসে এবং সেখানে রাত যাপন করে। ফলে হয় রোগী স্বপ্নে এমন কাউকে দেখে যে তাকে বলছে: "তোমার ওষুধ অমুক জিনিসের মধ্যে রয়েছে", অথবা সে এমন কাউকে দেখতে পায় যে তার ওপর হাত বুলিয়ে দিচ্ছে এবং সে আল্লাহর ইচ্ছায় সুস্থ হয়ে ওঠে, যেমনটি ঐ স্থানের অধিবাসীরা উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ ভালো জানেন।
কাফর নাজদ:এটি উক্ত অঞ্চলের একটি গ্রাম। সেখানে একটি কূপ রয়েছে, যার গলায় জোঁক ঢুকে যায় এবং তা বের করা কঠিন হয় সে ঐ কূপটির কাছে আসে। সে যখনই ঐ কূপের পানি এক ঢোক পান করে এবং একবার কূপটি প্রদক্ষিণ করে, এভাবে যখন সাতবার পূর্ণ করে তখন তা কোনো কষ্ট ছাড়াই বের হয়ে আসে। তারা উল্লেখ করেছেন যে তারা এটি পরীক্ষা করে দেখেছেন।
আনতাকিয়া শহর:সেখানে হাবিবুন নাজ্জারের কবর রয়েছে যার সম্পর্কে আল্লাহ নাযিল করেছেন: "আর শহরের প্রান্তদেশ থেকে এক ব্যক্তি দৌড়ে এল" (সূরা ইয়াসিন: ২০)। এর পাহাড়টি একটি ইবাদতখানা ছিল যেখানে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসত। এটি এমন শহর যার মাধ্যমে পরদেশী ব্যক্তি তার স্বদেশ বিচ্ছেদের বেদনা ভুলে প্রশান্তি পায়।
আনতারসুস শহর:সেখানে ইমাম রশীদ (রা.)-এর পুত্র ইমাম মামুনের কবর রয়েছে। আর রশীদের কবর খোরাসান অঞ্চলের তুস নগরীতে অবস্থিত। আর ইমাম আলী বিন মুসা আর-রিদা (রা.) সানাবাদ নামক একটি গ্রামে শায়িত আছেন, যা শহর থেকে প্রায় এক ফারসাখ দূরে। আল্লাহ ভালো জানেন।
কিননাসরিন শহর:এর পাহাড়ে একটি মাশহাদ (স্মৃতিস্তম্ভ) রয়েছে। বলা হয় যে এটি নবী সালিহ আলাইহিস সালামের মাকাম। এও বলা হয় যে, সালিহ (আ.)-এর উষ্ট্রীটি এখান থেকেই বের হয়েছিল এবং সেখানে উটের পায়ের ছাপ রয়েছে। তবে সঠিক হলো সালিহ (আ.) ইয়ামেন ভূখণ্ডে ছিলেন এবং তাঁর কবর ইয়ামেনের শাবওয়াহ নামক স্থানে। ইনশাআল্লাহ ইয়ামেন সফরের বর্ণনায় এর উল্লেখ আসবে। আবার বলা হয় যে, তিনি ওয়াদিউল কুরা ও শামের মধ্যবর্তী হিজর নামক স্থানে ছিলেন এবং তাঁর কবর মক্কায়। আল্লাহ ভালো জানেন।
আল-মা'আরাহ:এটি হামাহ অঞ্চলের একটি শহর। প্রাচীনকালে এর নাম ছিল জাতুল কুসুর। পরবর্তীতে একে নুমান ইবনে...
(খণ্ড: ১)
আল-ইশারাত ইলা মা'রিফাতিয যিয়ারাত
(পৃষ্ঠা: ১৮)
بشير من الصحابة رضى الله عنهم، لأن ابنه مات بها، قبلى البلد فى جانب سورها قبر يوشع بن نون فتى موسى عليه السلام، والصحيح أن يوشع بأرض نابلس، وسيأتى ذكره فى رحلة القدس إن شاء الله تعالى، وبالمعرة قبر محمد بن عبد الله بن عمار بن ياسر صاحب رسول الله صلى الله عليه وسلم.
دير نقيرة:من بلد المعرة، به قبر عمر بن عبد العزيز رضى الله عنه، وعنده قبر الشيخ أبى زكرياء المغربى، من كبار الصالحين، وقيل: قبره بدير سمعان، والمشهور هذا.
شحشبو:قرية من أعمال فامية، وقيل: ثانية، لأنها ثانى مدينة وضعت على الأرض والله أعلم، بها قبر الإسكندر، ويقال: إن أمعاءه هناك، وجثته بمنارة الإسكندرية، وقيل:
إنه مات ببابل، والله أعلم.
حماة:مدينة قديمة مذكورة فى التوراة.
كفرنغد:قرية من أعمال حمص، بها قبر أبى أمامة الباهلى رضى الله عنه، والصحيح أن قبره بالبقيع، وهو أول من دفن به، وقيل عثمان بن مظعون أول من دفن به، والله أعلم.
دنوة:قرية من أعمال حمص، بها رجل من الصحابة رضى الله عنهم أظن أنه عوف بن مالك الأشجعى، والله أعلم.
سلميّة:مدينة من أعمال حماة، قريبة من المؤتفكة، وذلك أن أهل المؤتفكة لما نزل بهم العذاب رحم الله منهم مائة نفس فنجاهم فعمروا هذه المدينة فنسبت إليهم، وبها المحاريب السبعة، يقال: تحتها قبور من التابعين، والله أعلم، وفى طريقها إلى حمص قبر النعمان بن بشير رضى الله عنه.
الرّستن:مدينة قديمة بها آثار، وهى مدينة أهل الرسّ، وقد ذكرهم الله عز وجل فى الكتاب العزيز.
مدينة حمص
بها مشهد أمير المؤمنين على بن أبى طالب رضى الله عنه، وبه عامود وموضع إصبعه فيه، وذلك لمنام رآه بعض الصالحين، وله حكاية، وبها دار خالد بن الوليد رضى الله عنه، وهى مشهد، وظاهر حمص قبر خالد بن الوليد رضى الله عنه، وعنده عياض بن غنم، وقبر زوجة خالد
সাহাবীদের মধ্য থেকে বশির (নামক একজন), কারণ তাঁর পুত্র সেখানে মারা গিয়েছিলেন। শহরের দক্ষিণ দিকে তার দেয়ালের পাশে মুসা আলাইহিস সালামের খাদেম ইউশা ইবনে নূন-এর কবর রয়েছে। তবে সঠিক মত হলো ইউশা নাবলুস ভূমিতে রয়েছেন, এবং ইনশাআল্লাহ তাআলা জেরুজালেম সফরের বর্ণনায় তাঁর উল্লেখ আসবে। আর মাআররাহ-তে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবী আম্মার ইবনে ইয়াসিরের পৌত্র মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আম্মার ইবনে ইয়াসিরের কবর রয়েছে।
দায়রে নুকাইরাহ:এটি মাআররাহ শহরের অন্তর্ভুক্ত, এখানে উমর ইবনে আব্দুল আজিজ রাদিয়াল্লাহু আনহুর কবর রয়েছে। তাঁর পাশে মহান নেককার ব্যক্তিদের অন্যতম শায়খ আবু জাকারিয়া আল-মাগরিবির কবর রয়েছে। কেউ কেউ বলেন: তাঁর কবর দায়রে সিমআনে, তবে এটাই অধিক প্রসিদ্ধ।
শাহশাবো:এটি আফামিয়া অঞ্চলের একটি গ্রাম। বলা হয়: এর নাম থানিয়া (দ্বিতীয়), কারণ এটি পৃথিবীতে স্থাপিত দ্বিতীয় শহর, আল্লাহই ভালো জানেন। এখানে ইসকান্দারের কবর রয়েছে। বলা হয়: তাঁর নাড়িভুঁড়ি সেখানে, আর তাঁর দেহ আলেকজান্দ্রিয়ার বাতিঘরে রয়েছে। আবার বলা হয়:
তিনি ব্যাবিলনে মারা গিয়েছেন, আল্লাহই ভালো জানেন।
হামাহ:এটি একটি প্রাচীন শহর যা তৌরাতে উল্লিখিত হয়েছে।
কাফর নাগদ:এটি হিমস অঞ্চলের একটি গ্রাম। এখানে আবু উমামাহ আল-বাহিলি রাদিয়াল্লাহু আনহুর কবর রয়েছে। তবে সঠিক মত হলো তাঁর কবর জান্নাতুল বাকি-তে, এবং তিনিই সেখানে দাফনকৃত প্রথম ব্যক্তি। আবার বলা হয় উসমান ইবনে মাজউন সেখানে দাফনকৃত প্রথম ব্যক্তি, আল্লাহই ভালো জানেন।
দানওয়াহ:এটি হিমস অঞ্চলের একটি গ্রাম। সেখানে সাহাবীদের রাদিয়াল্লাহু আনহুম একজন রয়েছেন, আমি মনে করি তিনি আউফ ইবনে মালিক আল-আশজাঈ, আল্লাহই ভালো জানেন।
সালামিয়্যাহ:হামাহ অঞ্চলের একটি শহর, যা মুতাফিকা-র নিকটবর্তী। ঘটনা এই যে, মুতাফিকাবাসীদের ওপর যখন আজাব নাজিল হয়েছিল, তখন আল্লাহ তাদের মধ্য থেকে একশ জনের ওপর দয়া করেছিলেন এবং তাদের রক্ষা করেছিলেন। তারা এই শহরটি আবাদ করেন এবং তাঁদের রক্ষা পাওয়ার কারণেই এর নামকরণ করা হয়েছে। এখানে সাতটি মেহরাব রয়েছে; বলা হয়: এগুলোর নিচে তাবেয়ীদের কবর রয়েছে, আল্লাহই ভালো জানেন। হিমসের পথে এখানে নুমান ইবনে বশির রাদিয়াল্লাহু আনহুর কবর রয়েছে।
আর-রাস্তান:এটি ধ্বংসাবশেষ সমৃদ্ধ একটি প্রাচীন শহর। এটি আসহাবুর রাস-এর শহর, যাদের কথা আল্লাহ মহা পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত পবিত্র কিতাবে উল্লেখ করেছেন।
হিমস শহর
এখানে আমিরুল মুমিনিন আলী ইবনে আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহুর স্মৃতিস্থান রয়েছে। সেখানে একটি স্তম্ভ আছে এবং তাতে তাঁর আঙুলের ছাপের চিহ্ন রয়েছে। এটি কোনো এক নেককার ব্যক্তির দেখা স্বপ্নের ভিত্তিতে করা হয়েছে এবং এর একটি প্রেক্ষাপট রয়েছে। সেখানে খালিদ ইবনে ওয়ালিদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর বাড়ি রয়েছে যা একটি দর্শনীয় স্থান। হিমস শহরের উপকণ্ঠে খালিদ ইবনে ওয়ালিদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর কবর রয়েছে, তাঁর পাশেই ইয়াদ ইবনে গানম এবং খালিদ-পত্নীর কবর রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইশারাত ইলা মা'রিফাতিয যিয়ারাত
(পৃষ্ঠা: ১৯)
ابن الوليد وقبر ابنه عبد الرحمن، وقبر عبيد الله بن عمر بن الخطاب رضى الله عنه، وقيل: إن عبيد الله قتل بصفين، والله أعلم، وعبد الله بن عمر، قتله الحجّاج بالمدينة، وقيل: مات بمكة ودفن فى الحرم، وقيل: فى مقبرة المهاجرين، والله أعلم، وقيل: إن خالدا مات بالمدينة وليس بصحيح، وقيل: إن خالدا مات بقرية على نحو ميل من حمص، وقيل:
هذا الذي بحمص هو خالد بن يزيد الذي بنى القصر الذي بحمص وآثار القصر باقية غربى الطريق، والله أعلم.
وبحمص سفينة مولى رسول الله صلى الله عليه وسلم، واسم سفينة: مهران، وبها قبر قنبر خادم أمير المؤمنين على بن أبى طالب، وقيل: قنبر قتله الحجّاج وابنه وميثما التّمّار بالكوفة، والله أعلم.
وبها قبور أولاد جعفر الطيار أخى على بن أبى طالب رضى الله عنهما، والله أعلم.
وبها مقام كعب الأحبار، ومشهد أبى الدرداء، وأبى ذر، وبها قبر ثوبان، والحارث بن غطيف الكندى، وخالد الأزرق الغاضرى، والحجّاج بن عامر، وكعب، وبها طلسم العقرب إذا أخذ من ترابها ووضع على لدغة العقرب برئ، وهو مجرب يحمل منه إلى البلاد.
بعلبك والبقاعبعلبك:
على باب البلد من الشمال قبر مالك الأشتر النخعى رضى الله عنه، والصحيح أنه بالمدينة، وبها قبر حفصة زوجة النبي صلى الله عليه وسلم، والصحيح أنها أم حفص أخت معاذ بن جبل، فإن حفصة ماتت بالمدينة، وبها دير إلياس النبي عليه السلام، وبهذا الدير كان محبوسا، وبقلعتها مشهد إبراهيم الخليل عليه السلام، وبها الوادى والصخر الهائل، وقيل: فيه أنزل: وَثَمُودَ الَّذِينَ جابُوا الصَّخْرَ بِالْوادِ
(سورة الفجر: 9) والصحيح أن الوادى هو وادى القرى وقوم ثمود به كانوا، وبها قبة أسباط.
الكرك:ومن أعمالها قرية يقال لها: الكرك، بها قبر نوح عليه السلام، وذكر أصحاب السّير: أن قبر آدم ونوح وسام وإبراهيم وإسحاق ويعقوب عليهم السلام فى أرض القدس بالمغارة والله أعلم، وقيل: قبر آدم بالهند بوادى سرنديب، وقيل: بجبل أبى قبيس، والله أعلم، وبالكرك أيضا قبر جبلة ابنة نوح بقرية يقال لها: عرجموش، وقبر شيث بن نوح،
ইবনে আল-ওয়ালিদ এবং তার পুত্র আবদুর রহমানের কবর, এবং উবায়দুল্লাহ ইবনে উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর কবর। বলা হয় যে, উবায়দুল্লাহ সিফফিনের যুদ্ধে নিহত হয়েছেন, আর আল্লাহই ভালো জানেন। এবং আবদুল্লাহ ইবনে উমর, তাকে হাজ্জাজ মদিনায় হত্যা করেন; আবার বলা হয় যে, তিনি মক্কায় ইন্তেকাল করেছেন এবং হারামে সমাহিত হয়েছেন; আবার বলা হয় যে, মুহাজিরদের কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়েছে, আর আল্লাহই ভালো জানেন। আরও বলা হয় যে, খালিদ মদিনায় ইন্তেকাল করেছেন, তবে এটি সঠিক নয়। বলা হয় যে, খালিদ হিমস থেকে প্রায় এক মাইল দূরে একটি গ্রামে ইন্তেকাল করেছেন; আবার বলা হয়:
হিমসে যে কবরটি রয়েছে সেটি মূলত খালিদ বিন ইয়াজিদের, যিনি হিমসের সেই প্রাসাদটি নির্মাণ করেছিলেন যার ধ্বংসাবশেষ রাস্তার পশ্চিমে এখনও বিদ্যমান, আর আল্লাহই ভালো জানেন।
এবং হিমসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুক্তদাস সাফিনার কবর রয়েছে, তাঁর নাম ছিল মেহরান। সেখানে আমীরুল মুমিনীন আলী ইবনে আবি তালিবের খাদেম কানবারের কবরও রয়েছে। বলা হয় যে, হাজ্জাজ কানবারকে, তাঁর পুত্রকে এবং মিছাম আত-তাম্মারকে কুফায় হত্যা করেছে, আর আল্লাহই ভালো জানেন।
সেখানে আলী ইবনে আবি তালিব (রা.)-এর ভাই জাফর আত-তাইয়্যার (রা.)-এর সন্তানদের কবর রয়েছে, আর আল্লাহই ভালো জানেন।
সেখানে কাব আল-আহবারের মাকাম এবং আবু দারদা ও আবু জারের স্মৃতিস্থান রয়েছে। সেখানে সাওবান, হারিস ইবনে গুতাঈফ আল-কিন্দি, খালিদ আল-আযরাক আল-গাদিরি, হাজ্জাজ ইবনে আমির এবং কাবের কবর রয়েছে। সেখানে বৃশ্চিকের একটি তিলস্ম (অলৌকিক প্রতিকার) রয়েছে; যদি সেখান থেকে মাটি নিয়ে বিচ্ছুর কামড়ের স্থানে রাখা হয় তবে তা নিরাময় হয়। এটি পরীক্ষিত এবং এখান থেকে বিভিন্ন দেশে মাটি নিয়ে যাওয়া হয়।
বালবাক ও আল-বিকা বালবাক:
শহরের উত্তর ফটকে মালিক আল-আশতার আন-নাখয়ী (রা.)-এর কবর রয়েছে, তবে সঠিক তথ্য হলো তিনি মদিনায় আছেন। সেখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী হাফসার কবর বলে যা পরিচিত, আসলে তা মুয়াজ ইবনে জাবালের বোন উম্মে হাফসার কবর; কারণ হাফসা (রা.) মদিনায় ইন্তেকাল করেছেন। সেখানে নবী ইলিয়াস আলাইহিস সালামের মঠ রয়েছে, এই মঠেই তিনি বন্দি ছিলেন। এর দুর্গে ইব্রাহিম খলিল আলাইহিস সালামের স্মৃতিস্থান রয়েছে। সেখানে একটি উপত্যকা ও বিশাল পাথর রয়েছে; বলা হয় যে, এই পাথর সম্পর্কেই অবতীর্ণ হয়েছে: "এবং সামুদ সম্প্রদায়, যারা উপত্যকায় পাথর কেটে ঘর তৈরি করেছিল"
(সূরা আল-ফজর: ৯)। তবে সঠিক হলো যে, এই উপত্যকাটি হলো ওয়াদিউল কুরা এবং সামুদ জাতি সেখানেই ছিল। সেখানে আসবাতদের একটি গম্বুজও রয়েছে।
আল-কারাক: এর প্রশাসনিক এলাকার অন্তর্ভুক্ত একটি গ্রাম রয়েছে যাকে আল-কারাক বলা হয়; সেখানে নূহ আলাইহিস সালামের কবর রয়েছে। ইতিহাসবিদগণ উল্লেখ করেছেন যে, আদম, নূহ, সাম, ইব্রাহিম, ইসহাক এবং ইয়াকুব আলাইহিমুস সালামের কবর কুদস (জেরুজালেম) ভূখণ্ডের গুহায় অবস্থিত, আর আল্লাহই ভালো জানেন। আবার বলা হয় যে, আদমের কবর ভারতে সারান্দিব উপত্যকায়; আরও বলা হয় যে, জাবালে আবু কুবাইসে, আর আল্লাহই ভালো জানেন। কারাকে আরজমুশ নামক একটি গ্রামে নূহ আলাইহিস সালামের কন্যা জাবালার কবর এবং নূহ আলাইহিস সালামের পুত্র শীসের কবরও রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইশারাত ইলা মা'রিফাতিয যিয়ারাত
(পৃষ্ঠা: ২০)
وقيل: قبر شيث بجبل أبى قبيس، والصحيح أن الذي بجبل أبى قبيس هو شيث بن آدم، والله أعلم.
وبالبقاع قبر الراعى، وله حكاية، وقلعة بعلبك من عجائب الدنيا وليس فى بلاد الشام والإسلام ما يشاكلها إلا بنية خراب بناحية إصطخر من بلاد فارس، ويزعم أهل فارس أن الضحاك هو سليمان بن داود وهذه البنية عمرتها الجن له، والله أعلم.
مدينة دمشق وجبالها وقراهاقيل: دمشق هى إِرَمَ ذاتِ الْعِمادِ (7) الَّتِي لَمْ يُخْلَقْ مِثْلُها فِي الْبِلادِ
(سورة الفجر: 7، 8) وقيل: بناها دماشق بن قانى بن مالك بن سام بن نوح، وقيل: الضحاك، وقيل هى كانت دار نوح، وقيل: التنّور فار من جبل لبنان، والله أعلم.
جبل بردة:عليه قبر هابيل وقابيل أولاد آدم عليه السلام، وقيل: قائين، وهو الأصح، والله أعلم.
الربوة:موضع مبارك نزه مليح المنظر فى لحف جبل، وليست الربوة المذكورة فى القرآن العزيز التى سكنها عيسى وأمه، قال الله تعالى: وَآوَيْناهُما إِلى رَبْوَةٍ ذاتِ قَرارٍ وَمَعِينٍ
(سورة المؤمنون: 50) فإن عيسى عليه السلام ما دخل دمشق ولا وطئ الشام، والربوة التى ذكرها الله عز وجل فى حقه قيل: هى الرملة، والصحيح أنها بمصر بمدينة يقال لها:
البهنسة، وسيأتى ذكرها فى رحلة الصعيد، إن شاء الله تعالى.
النّيرب:قرية بجامعها قبر أم مريم، وليست مريم ابنة عمران، وهذه لها حكاية، والله أعلم.
جبل قاسيون:به مغارة الدم، قيل: بها قتل قابيل هابيل، وبه مغارة آدم عليه السلام، سكن بها، وتعرف الآن بالكهف، وبه مغارة الجوع، قيل: مات بها أربعون نبيا، ولها حكاية، والله أعلم.
المزّة:قرية بها قبر دحية الكلبى، وسيأتى ذكره.
برزة:قرية من أعمالها بها مولد إبراهيم الخليل، عليه السلام، والصحيح أن مولده
এবং বলা হয়েছে: শীস (আ.)-এর কবর আবু কুবাইস পাহাড়ে, আর সঠিক মত হলো আবু কুবাইস পাহাড়ে যিনি আছেন তিনি হলেন আদমের পুত্র শীস, আর আল্লাহই ভালো জানেন।
আর বিক্বায় ‘রাঈ’ (রাখাল)-এর কবর রয়েছে, তার একটি কাহিনী আছে। বালবাক দুর্গ পৃথিবীর বিস্ময়সমূহের একটি, শামে বা ইসলামি ভূখণ্ডে পারস্যের ইস্তাখর অঞ্চলের ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি ইমারত ছাড়া এর অনুরূপ কিছু নেই। পারস্যবাসীরা দাবি করে যে যাহহাকই হলো সুলাইমান ইবনে দাউদ, আর এই ইমারতটি জিনেরা তাঁর জন্য নির্মাণ করেছিল। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
দামেস্ক শহর, এর পাহাড়সমূহ ও গ্রামগুলোবলা হয়ে থাকে: দামেস্কই হলো ইরাম যাতিল ইমাদ (সুউচ্চ স্তম্ভবিশিষ্ট ইরাম), যার মতো (শহর) পৃথিবীতে আর সৃষ্টি করা হয়নি (সূরা আল-ফজর: ৭, ৮)।
আরও বলা হয়েছে: এটি নির্মাণ করেছেন দামাশিক বিন কানি বিন মালিক বিন সাম বিন নূহ। আবার কেউ বলেন: যাহহাক। আরও বলা হয়: এটি নূহ (আ.)-এর আবাসস্থল ছিল। আর কেউ বলেন: ‘তান্নুর’ (চুলা) লেবানন পাহাড় থেকে উথলে উঠেছিল। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
বুরদাহ পাহাড়:এর ওপর আদম আলাইহিস সালামের দুই সন্তান হাবিল ও কাবিলের কবর রয়েছে। আর বলা হয়েছে: কাইন (কাবিল), এটিই অধিকতর সঠিক। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
আর-রাবওয়াহ:এটি একটি বরকতময়, পবিত্র ও মনোরম দৃশ্যসংবলিত স্থান যা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত। এটি পবিত্র কুরআনে বর্ণিত সেই ‘রাবওয়াহ’ নয় যেখানে ঈসা (আ.) ও তাঁর মা বসবাস করেছিলেন। মহান আল্লাহ বলেন: “আমি তাদের উভয়কে এক নিরাপদ ও ঝরনাধারা বিশিষ্ট উচ্চভূমিতে (রাবওয়াহ) আশ্রয় দিয়েছিলাম” (সূরা আল-মুমিনুন: ৫০)। কেননা ঈসা আলাইহিস সালাম দামেস্কে প্রবেশ করেননি এবং শামে পা রাখেননি। আল্লাহ তাআলা তাঁর ক্ষেত্রে যে ‘রাবওয়াহ’র কথা উল্লেখ করেছেন, বলা হয় তা হলো রামলা। তবে সঠিক মত হলো সেটি মিশরের ‘আল-বাহনাসা’ নামক শহরে অবস্থিত। ইনশাআল্লাহ ‘সাঈদ’ বা উচ্চ মিশরের ভ্রমণ বৃত্তান্তে এর বর্ণনা সামনে আসবে।
আন-নায়রাব:এটি একটি গ্রাম, যার জামে মসজিদে মারিয়ামের মায়ের কবর রয়েছে। তবে তিনি ইমরানের কন্যা মারিয়াম (আ.)-এর মা নন। এর একটি কাহিনী রয়েছে, আর আল্লাহই ভালো জানেন।
কাসিউন পাহাড়:এখানে ‘মাগারাতুদ দাম’ বা রক্তের গুহা রয়েছে, বলা হয় এখানেই কাবিল হাবিলকে হত্যা করেছিল। এখানে আদম আলাইহিস সালামের গুহাও রয়েছে যেখানে তিনি বসবাস করতেন, যা বর্তমানে ‘আল-কাহাফ’ নামে পরিচিত। আরও আছে ‘মাগারাতুল জু’ বা ক্ষুধার গুহা, বলা হয় এখানে চল্লিশজন নবী মৃত্যুবরণ করেছিলেন। এরও একটি কাহিনী রয়েছে, আর আল্লাহই ভালো জানেন।
আল-মিযযাহ:এটি একটি গ্রাম যাতে দিহ্ইয়াহ আল-কালবি (রা.)-এর কবর রয়েছে, তাঁর কথা সামনে আসবে।
বারযাহ:এটি এর (দামেস্কের) অধীনস্থ একটি গ্রাম যেখানে ইব্রাহিম খলিল আলাইহিস সালামের জন্মস্থান অবস্থিত। আর সঠিক মত হলো তাঁর জন্ম...
(খণ্ড: ১)
আল-ইশারাত ইলা মা'রিফাতিয যিয়ারাত
(পৃষ্ঠা: ২১)
بالعراق بكوثى ربّا، وسيأتى ذكره فى رحلة العراق إن شاء الله تعالى، وقيل: مولده بقرية يقال لها: فدّان من أعمال حرّان، وليس بصحيح، والله أعلم.
عذراء:قرية من أعمالها بها حجر بن عدى والجماعة الذين قتلهم معاوية معه رضى الله عنهم.
مرج راهط:به زميل بن ربيعة، وبه ربيعة بن عمرو الجرشى، والله أعلم.
مرج الصّفّر:به خالد بن سعيد، ولا تعرف قبور من بالمرج.
بيت لهيا:والصحيح بيت الآلهة، وهى قرية من أعمالها، ذكروا أن آزر كان ينحت الأصنام بها ويدفعها لإبراهيم عليه السلام ليبيعها، فيأتى بها إلى حجر بالبلد فيكسرها عليه، والحجر إلى الآن بدمشق فى مسجد فى درب يقال له: درب الحجر، وقرأت فى التوراة فى السفر الأول والجزء الثانى أن آزر مات بحران لما سكن بها عند خروجه من العراق، وآزر لم يدخل الشام.
المنيحة:قرية من أعمالها بها قبر سعد بن عبادة الأنصارى، والصحيح أن سعدا مات بالمدينة.
رواية:قرية من أعمالها بها قبر أم كلثوم، وقبر مدرك، من الصحابة، من غربيها، وقبر كنّاز، من الصحابة، قريب من قرية تعرف بحلفبلتا وبيت رانس وهو بينهما، وهذا كنّاز، هو أبو مرثد بن الحصين، وقيل: مات بالمدينة، والله أعلم.
داريا:قرية بها قبر الشيخ أبى سليمان الدارانى، من كبار الأولياء، وشمالى داريا، قبر أبى مسلم الخولانى، وخولان قرية هناك باقية آثارها.
مشهد الأقدام:قبلى دمشق، به آثار أقدام فى الصخر يقال: إنها أقدام الأنبياء عليهم السلام، ويقال: إن القبر الذي به، قبر موسى بن عمران، وليس بصحيح، والصحيح أن قبره لا يعرف، والله أعلم.
ميدان الحصى:قبلى دمشق، به قبر ذكروا أنه قبر أم عاتكة أخت عمر بن الخطاب رضى الله عنه، وعنده قبر ذكروا أنه قبر صهيب الرومى وقبر أخيه، والصحيح أن صهيبا بالمدينة وعاتكة أيضا.
ইরাকের কুসা রাব্বাতে, আর ইনশাআল্লাহ ইরাক ভ্রমণের বর্ণনায় তার আলোচনা সামনে আসবে। বলা হয়েছে যে, তার জন্ম হাররানের অধীনস্থ ফাদ্দান নামক গ্রামে, তবে তা সঠিক নয়। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
আজরা:এটি এর অধীনস্থ একটি গ্রাম। এখানে হুজর ইবনে আদি এবং সেই দলটি রয়েছেন যাদেরকে মুয়াবিয়া তাঁর সাথে হত্যা করেছিলেন, আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হন।
মারজে রাহিত:এখানে যুমাইল ইবনে রাবিআ এবং রাবিআ ইবনে আমর আল-জুরাশি রয়েছেন। আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
মারজে সাফফার:এখানে খালিদ ইবনে সাইদ রয়েছেন। তবে এই মারজে আর যাদের কবর আছে তাদের পরিচয় জানা নেই।
বাইত লাহিয়া:এর সঠিক নাম হলো বাইতুল আলিহা (উপাস্যদের ঘর)। এটি এর অধীনস্থ একটি গ্রাম। তারা উল্লেখ করেছেন যে, আজর এখানে মূর্তি খোদাই করত এবং সেগুলো ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের কাছে বিক্রির জন্য দিত। তিনি সেগুলো শহরের একটি পাথরের কাছে নিয়ে আসতেন এবং তার ওপর রেখে সেগুলো ভেঙে ফেলতেন। সেই পাথরটি এখনও দামেস্কের একটি গলির মসজিদে রয়েছে, যাকে দারবুল হাজার (পাথরের গলি) বলা হয়। আমি তাওরাতের প্রথম খণ্ড ও দ্বিতীয় অংশে পড়েছি যে, আজর যখন ইরাক থেকে বের হয়ে হাররানে বসবাস শুরু করেন, সেখানেই তিনি মারা যান। আর আজর কখনও শাম দেশে প্রবেশ করেননি।
আল-মানিহা:এটি এর অধীনস্থ একটি গ্রাম। এখানে সাদ ইবনে উবাদা আল-আনসারির কবর রয়েছে। তবে সঠিক তথ্য হলো সাদ মদিনায় ইন্তেকাল করেছেন।
রাওয়াইয়া:এটি এর অধীনস্থ একটি গ্রাম। এর পশ্চিম দিকে উম্মে কুলসুমের কবর এবং সাহাবি মুদ্রিকের কবর রয়েছে। আর সাহাবি কাননাযের কবর হাফবিলতা ও বাইত রানাস নামক গ্রামের কাছাকাছি, এই দুইয়ের মাঝে অবস্থিত। এই কাননায হলেন আবু মারসাদ ইবনুল হুসাইন। বলা হয়ে থাকে যে, তিনি মদিনায় ইন্তেকাল করেছেন। আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
দারায়া:একটি গ্রাম যেখানে বড় মাপের ওলিদের অন্যতম শেখ আবু সুলাইমান আদ-দারানির কবর রয়েছে। দারায়ার উত্তর দিকে আবু মুসলিম আল-খাওলানির কবর অবস্থিত। আর খাওলান সেখানকার একটি গ্রাম যার ধ্বংসাবশেষ এখনও অবশিষ্ট আছে।
মাশহাদুল আকদাম:দামেস্কের দক্ষিণ দিকে অবস্থিত। এখানে পাথরের ওপর পদচিহ্ন রয়েছে, বলা হয় যে এগুলো নবিগণের (আলাইহিমুস সালাম) পায়ের চিহ্ন। আরও বলা হয় যে, সেখানে যে কবরটি রয়েছে তা মুসা ইবনে ইমরান আলাইহিস সালামের কবর। তবে এটি সঠিক নয়। সঠিক কথা হলো তাঁর কবরের স্থান জানা নেই। আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
মাইদানুল হাসা:দামেস্কের দক্ষিণ দিকে অবস্থিত। এখানে একটি কবর রয়েছে যার সম্পর্কে তারা উল্লেখ করেছেন যে এটি ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর বোন উম্মে আতিকার কবর। তাঁর পাশেই একটি কবর রয়েছে যা সম্পর্কে বলা হয় যে এটি সুহাইব আর-রুমি ও তাঁর ভাইয়ের কবর। তবে সঠিক তথ্য হলো সুহাইব মদিনায় সমাহিত এবং আতিকাও মদিনায়।
(খণ্ড: ১)
আল-ইশারাত ইলা মা'রিফাতিয যিয়ারাত
(পৃষ্ঠা: ২২)
وبها
مشهد النارنج:وبه حجر مشقوق، وله حكاية مع على بن أبى طالب رضى الله عنه، وقبلى الباب الصغير قبر بلال بن حمامة، وقبر كعب الأحبار وثلاث من أزواج النبي صلى الله عليه وسلم، وقبر فضّة جارية فاطمة رضى الله عنهما، وقبر أم الدرداء، وقبر أبى الدرداء، وقبر فضالة بن عبيد، وقبر سهل بن الحنظلية، وقبر واثلة بن الأسقع، وقبر أوس بن أوس الثقفى، وقبر أم الحسن ابنة حمزة بن جعفر الصادق، وقبر على بن عبد الله بن العباس، وقبر سليمان بن على بن عبد الله بن العباس، وقبر زوجته أم الحسن ابنة جعفر بن الحسن بن الحسن بن فاطمة الزهراء رضى الله عنهم، وقبر خديجة ابنة زين العابدين، هؤلاء فى تربة واحدة، وقبر سكينة ابنة الحسين رضى الله عنها، وقبر محمد بن عمر بن على بن أبى طالب رضى الله عنهم.
وبالجبانة قبر أويس القرنى، وقد زرناه بالرقة، وبثغر الإسكندرية وديار بكر، والله أعلم، والذي صح أنه بالرقة، وسيأتى ذكره.
ومن شرقى البلد قبر عبد الله بن مسعود، وأبى بن كعب، والصحيح أن عبد الله بن مسعود وأبى بن كعب وكعب الأحبار وأزواج النبي صلى الله عليه وسلم مثل: عائشة وحفصة وأم سلمة وأم حبيبة وزينب ابنة جحش وصفية وأم أيمن، وقيل: كانت أم أيمن حبشية واسمها بركة، وفاطمة أخت عمر بن الخطاب رضى الله عنهم كلهم بالمدينة، وسيأتى ذكرهم برحلة الحجاز إن شاء الله تعالى.
وبالجبانة التى بدمشق خلق كثير من المشايخ والصالحين اختصرناهم خوف التطويل، ويقال: بها سبعون رجلا من الصحابة رضى الله عنهم، والله أعلم بالصحيح، وقيل: إن جبانة دمشق حرثت وزرعت مقدار مائة سنة فلذلك لا تعرف القبور، والله أعلم.
باب الفراديس:به مشهد الحسين رضى الله عنه، وظاهر البلد عند مشهد الخضر قبر محمد بن عبد الله بن الحسين بن أحمد بن إسماعيل بن جعفر الصادق، ورأيت على الضريح مكتوبا ما هذه صورته: رواه القاضى الخطيب أبو الحسين بن عبد الرحمن بن عبد الله بن الحسين ابن أحمد بن أبى الحديد والفقيه أبو الحسن على بن أحمد بن الحسين قالا: أخبرنا أبو الحسن بن ماسا- والشيخ أبو القاسم الحسين بن على بن حسن وغيرهما أخبروا عن الشيخ أبى الحسن بن ماسا العدل- أنه رأى النبي صلى الله عليه وسلم شأمى القبة الخربة التى بها
এবং সেখানে
মাশহাদুন্ নারানজ:সেখানে একটি বিদীর্ণ পাথর রয়েছে এবং সেটির সাথে আলী ইবনে আবী তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর একটি কাহিনী রয়েছে। বাবুস সাগির-এর কিবলা অভিমুখে রয়েছে বিলাল ইবনে হামামার কবর, কাব আল-আহবার এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর তিনজন স্ত্রীর কবর। এছাড়া ফাতেমা (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর দাসী ফিজ্জার কবর, উম্মুদ দারদার কবর, আবুদ্ দারদার কবর, ফাদালা ইবনে উবাইদের কবর, সাহল ইবনুল হানজালিয়ার কবর, ওয়াসিলা ইবনুল আসকার কবর, আওস ইবনে আওস আস-সাকাফীর কবর, জাফর আস-সাদিকের পৌত্রী ও হামজার কন্যা উম্মুল হাসানের কবর, আলী ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাসের কবর, সুলাইমান ইবনে আলী ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাসের কবর এবং তাঁর স্ত্রী ফাতেমা আজ-জাহরা (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর বংশধর জাফর ইবনুল হাসান ইবনুল হাসানের কন্যা উম্মুল হাসানের কবর, জাইনুল আবিদীনের কন্যা খাদিজার কবর—এঁরা সবাই একই আঙিনায় শায়িত। আরও রয়েছে হুসাইনের কন্যা সাকিনার (রাদিয়াল্লাহু আনহা) কবর এবং আলী ইবনে আবী তালিবের পৌত্র মুহাম্মদ ইবনে উমরের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) কবর।
আর এই গোরস্তানে উওয়াইস আল-ক্বরনীর কবর রয়েছে; যদিও আমরা তাঁর কবর যিয়ারত করেছি রাক্কাহ-তে, আবার আলেকজান্দ্রিয়ার সীমান্তে ও দিয়ার বকর-এও; আর আল্লাহই ভালো জানেন। তবে কোনটি সঠিক তা হলো সেটি রাক্কাহ-তে অবস্থিত এবং শীঘ্রই তাঁর উল্লেখ আসবে।
শহরের পূর্ব দিকে রয়েছে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ ও উবাই ইবনে কাবের কবর। তবে সঠিক তথ্য হলো আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ, উবাই ইবনে কাব, কাব আল-আহবার এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পত্নীগণ, যেমন: আয়েশা, হাফসা, উম্মে সালামা, উম্মে হাবীবা, যায়নাব বিনতে জাহশ, সাফিয়া ও উম্মে আয়মান—বলা হয়ে থাকে যে উম্মে আয়মান ছিলেন হাবশী এবং তাঁর নাম ছিল বারাকাহ—এবং উমর ইবনুল খাত্তাবের বোন ফাতেমা (রাদিয়াল্লাহু আনহুম); তাঁরা সবাই মদীনায় শায়িত। ইনশাআল্লাহ তাআলা হিজাজ ভ্রমণ বৃত্তান্তে তাঁদের উল্লেখ আসবে।
দামেস্কের গোরস্তানে অসংখ্য শায়খ ও নেককার মানুষ শায়িত আছেন, দীর্ঘ হয়ে যাওয়ার ভয়ে আমি তাঁদের বিবরণ সংক্ষেপ করেছি। বলা হয় যে সেখানে সত্তরজন সাহাবী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) শায়িত আছেন, আর আল্লাহই সঠিকটি ভালো জানেন। আরও বলা হয় যে, দামেস্কের গোরস্তান প্রায় একশ বছর চাষাবাদ ও বপনের কাজে ব্যবহৃত হয়েছে, ফলে কবরগুলো আর চেনা যায় না; আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
বাবুিল ফারাদিস:সেখানে হুসাইন (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর স্মৃতিস্থল রয়েছে। শহরের বাইরে খিজিরের স্মৃতিস্থলের নিকট জাফর আস-সাদিকের বংশধর মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে হুসাইন ইবনে আহমাদ ইবনে ইসমাইলের কবর রয়েছে। আমি কবরের ফলকে যা লিখিত দেখেছি তার রূপ ছিল নিম্নরূপ: এটি বর্ণনা করেছেন কাযী খতীব আবুল হুসাইন ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে হুসাইন ইবনে আহমাদ ইবনে আবিল হাদীদ এবং ফকীহ আবুল হাসান আলী ইবনে আহমাদ ইবনে হুসাইন। তাঁরা দুজনেই বলেছেন: আমাদের জানিয়েছেন আবুল হাসান ইবনে মাসা; এবং শেখ আবুল কাসিম হুসাইন ইবনে আলী ইবনে হাসান ও অন্যান্যরা শেখ আবুল হাসান ইবনে মাসা আল-আদল থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে ঐ ধ্বংসপ্রাপ্ত গম্বুজটির উত্তর পাশে দেখেছিলেন যেখানে...
(খণ্ড: ১)
আল-ইশারাত ইলা মা'রিফাতিয যিয়ারাত
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الشريف العابد وهو يقول: من أراد زيارتى ولم يستطع فليزر الضريح من ولدى محمد بن عبد الله المذكور.
وفى مدرسة مجاهد الدين قدم النبي صلى الله عليه وسلم فى صخرة سوداء، أتوا بها من حوران، والله أعلم.
وبدمشق عامود العسر فى العلبيّين مجرّب كما ذكروا، وعامود آخر عند الباب الصغير فى مسجد يزار وينذر له.
وبالجامع من شرقيه: مسجد عمر بن الخطاب رضى الله عنه، ومشهد على بن أبى طالب رضى الله عنه، ومشهد الحسين وزين العابدين رضى الله عنهما.
وبالجامع مقصورة الصحابة رضى الله عنهم، وزاوية الخضر عليه السلام، وبالجامع رأس يحيى بن زكريا عليه السلام، ومصحف عثمان بن عفان رضى الله عنه، كما ذكروا أنه خطه بيده، وقيل:
إن قبر هود عليه السلام فى الحائط القبلى، والصحيح أن قبر هود فى حضر موت شرقى عدن، وسيأتى ذكره وذكر الأحقاف وبئر بلهوت وقصر غمدان فى رحلة اليمن، وهى «البئر المعطلة» و «القصر المشيد» إن شاء الله تعالى.
وجامع دمشق ليس للإسلام هيكل للعبادة مثله، بعد المسجد الأقصى بالبيت المقدس، أعنى فى حسن عمارتهما، وأما فى الاشتغال بالعلم والحديث فإلى جامع مدينة هراة وبلخ وسجستان المنتهى، وأما قبة النسر التى بالفص المذهب فقد شاهدناه فى هياكل بلاد الروم ما يأتى ذكره إن شاء الله.
وبالجامع العمد الصغار التى تحت قبة النسر مجزّعة بحمرة قيل: إنهما كانا بعرش بلقيس، كما ذكروا، والله أعلم.
وبالجامع المنارة الغربية التى أقام بها الغزالى وابن تومرت الذي ملك بلاد المغرب، يقال: إنها كانت هيكلا لعباد النار وكانت إذا طلعت ذؤابة النار سجد لها أهل حوران، ولا تخلو من ولى لله تعالى يقيم بها، والمنارة الشرقية قيل: إنها المنارة البيضاء التى ينزل عندها عيسى بن مريم عليه السلام، وفيها حجر يقال: إنه قطعة من الحجر الذي ضربه موسى عليه السلام فَانْبَجَسَتْ مِنْهُ اثْنَتا عَشْرَةَ عَيْناً
. (سورة الأعراف: 160) والله أعلم،
শরীফ আবিদ বলছিলেন: যে ব্যক্তি আমাকে যিয়ারত করতে চায় অথচ সক্ষম নয়, সে যেন আমার বংশধর উল্লেখিত মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহর মাযার যিয়ারত করে।
আর মুজাহিদউদ্দীন মাদরাসায় একটি কালো পাথরের মধ্যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পদচিহ্ন রয়েছে, যা তারা হাওরান থেকে নিয়ে এসেছিল, আর আল্লাহই ভালো জানেন।
দামেস্কে আলবীয়ীন মহল্লায় 'আমূদুল উসর' (সংকট নিরসনের স্তম্ভ) রয়েছে যা পরীক্ষিত বলে তারা উল্লেখ করেছেন। আর 'বাবুস সাগীর'-এর কাছে একটি মসজিদে আরেকটি স্তম্ভ রয়েছে যা যিয়ারত করা হয় এবং সেখানে মানত করা হয়।
জামে মসজিদের পূর্ব দিকে রয়েছে: উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর মসজিদ, আলী বিন আবু তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহুর মাশহাদ (স্মৃতিস্থান), এবং হোসাইন ও যয়নুল আবেদীন রাদিয়াল্লাহু আনহুমের মাশহাদ।
জামে মসজিদে সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুমের মাকসুরা (সংরক্ষিত কক্ষ), খিজির আলাইহিস সালামের যাওইয়াহ (কোণ) রয়েছে। জামে মসজিদে ইয়াহইয়া বিন যাকারিয়া আলাইহিস সালামের মাথা এবং উসমান বিন আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহুর মুসহাফ (কুরআনের অনুলিপি) রয়েছে; যেমনটি তারা উল্লেখ করেছেন যে, এটি তিনি নিজ হাতে লিখেছিলেন। আরও বলা হয়:
নিশ্চয়ই হুদ আলাইহিস সালামের কবর কিবলার দিকের দেয়ালে অবস্থিত। তবে সঠিক মত হলো, হুদ আলাইহিস সালামের কবর আদনের পূর্ব দিকে হাদরামাউতে। ইয়েমেন সফরের বর্ণনায় তাঁর কথা, আহকাফ, বারহুত কূপ এবং গুমদান প্রাসাদের কথা আসবে; যা হলো "পরিত্যক্ত কূপ" এবং "সুউচ্চ প্রাসাদ", ইনশাআল্লাহ তাআলা।
বায়তুল মাকদিসের মাসজিদুল আকসার পর স্থাপত্যশৈলীর সৌন্দর্যের দিক থেকে ইসলামের ইবাদতের জন্য দামেস্ক জামে মসজিদের মতো কোনো স্থাপনা নেই। আর ইলম ও হাদীস চর্চার ক্ষেত্রে হেরাত, বলখ ও সিজিস্তান শহরের জামে মসজিদগুলোর গুরুত্ব সর্বাধিক। আর সোনালী কারুকার্যখচিত 'কুব্বাতুন নাসর' (ঈগল গম্বুজ) এর কথা বললে, আমরা রোমীয় ভূখণ্ডের স্থাপনাগুলোতে এমন কিছু দেখেছি যার উল্লেখ ইনশাআল্লাহ সামনে আসবে।
জামে মসজিদে কুব্বাতুন নাসরের নিচে লাল রঙের কারুকার্যখচিত ছোট ছোট স্তম্ভ রয়েছে; বলা হয় যে, এগুলো বিলকিসের সিংহাসনের অংশ ছিল, যেমনটি তারা উল্লেখ করেছেন, আর আল্লাহই ভালো জানেন।
জামে মসজিদে পশ্চিম মিনার রয়েছে যেখানে ইমাম গাজালী এবং মাগরিব (উত্তর আফ্রিকা) বিজয়ী ইবনে তূমারত অবস্থান করেছিলেন। বলা হয় যে, এটি অগ্নিপূজকদের উপাসনালয় ছিল এবং যখন আগুনের শিখা দেখা যেত তখন হাওরানবাসীরা সেটিকে সিজদা করত। এই মিনারটি আল্লাহর কোনো না কোনো অলীর অবস্থান থেকে কখনোই শূন্য থাকে না। আর পূর্ব মিনার সম্পর্কে বলা হয় যে, এটিই সেই সাদা মিনার যার কাছে ঈসা ইবনে মারইয়াম আলাইহিস সালাম অবতরণ করবেন। এতে একটি পাথর আছে যার সম্পর্কে বলা হয় যে, এটি সেই পাথরের টুকরো যাতে মূসা আলাইহিস সালাম আঘাত করেছিলেন এবং তা থেকে বারোটি প্রস্রবণ প্রবাহিত হয়েছিল। (সূরা আল-আরাফ: ১৬০) আর আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইশারাত ইলা মা'রিফাতিয যিয়ারাত
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وقيل: إن المنارة التى ينزل عندها المسيح هى المنارة التى عند كنيسة مريم بدمشق، والله أعلم.
وبالجامع قبة بيت المال وهى القبة الغربية، ذكروا أن تحتها قبر عائشة رضى الله عنها، والصحيح أن قبرها بالبقيع، والله أعلم بذلك، وعلى باب الجامع الذي يقال له: باب الزيادة فيه قطعة رمح معلقة ذكروا أنها من رمح خالد بن الوليد، والله أعلم.
وبدمشق قبر نور الدين محمود بن زنكى من الأولياء بمدرسته المعروفة به، وبالجامع فى الكلاسة قبر العبد الصالح صلاح الدين يوسف بن أيوب، فاتح البيت المقدس والثغور والعواصم.
ذكر زيارات بلد حوران
قرن الحارة:قرية بها مولد إدريس عليه السلام.
دير أيوب:قرية بها كان أيوب عليه السلام، وبها ابتلاه الله تعالى، وبها قبره وبها العين التى ركضها برجله والصخرة التى كان عليها.
نوى:قرية بها قبر سام بن نوح عليه السلام.
المحجّة:قرية بها شهداء من الصحابة رضى الله عنهم، وبها حجر ذكروا أن النبي صلى الله عليه وسلم جلس عليه، والصحيح أنه صلى الله عليه وسلم ما تعدّى
بصرى وذكروا أن بجامعها سبعين نبيّا، والله أعلم «1» .
بسر:قرية بها قبر اليسع عليه السلام «2» ، وقد زرناه فيما تقدم.
نجران:قرية بها أصحاب الأخدود.
بصرى:
بلدة بها مسجد النبي صلى الله عليه وسلم صلى بذلك الموضع، وشرقيها قرية تعرف بديبين بها قدم رسول الله صلى الله عليه وسلم فى صخرة سوداء، كما ذكروا لى، والله أعلم.
وقبلى بصرى دير يقال له: دير الباعقى كان به بحيرا الراهب، وبه اجتمع برسول الله صلى الله عليه وسلم «3» .
বলা হয়ে থাকে যে, মসীহ যে মিনারের নিকট অবতরণ করবেন, তা হলো দামেস্কের মারইয়াম গির্জার নিকটবর্তী মিনারটি। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
জামে মসজিদে বাইতুল মালের গম্বুজটি রয়েছে, যা পশ্চিম পাশের গম্বুজ। তারা উল্লেখ করেছেন যে, এর নিচে আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর কবর অবস্থিত। তবে সঠিক কথা এই যে, তাঁর কবর বাক্বী‘তে। আর আল্লাহ এ বিষয়ে অধিক পরিজ্ঞাত। জামে মসজিদের যে দরজাকে ‘বাবুজ যিয়াদাহ’ বলা হয়, সেখানে বর্শার একটি টুকরো ঝুলানো রয়েছে; তারা উল্লেখ করেছেন যে এটি খালিদ বিন ওয়ালীদ-এর বর্শার অংশ। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
দামেস্কে আউলিয়াদের অন্তর্ভুক্ত নূরুদ্দীন মাহমুদ বিন জাঙ্গীর কবর তাঁরই নামে পরিচিত মাদরাসায় অবস্থিত। আর জামে মসজিদের কাল্লাসাতে নেককার বান্দা সালাহুদ্দীন ইউসুফ বিন আইয়ুবের কবর রয়েছে, যিনি বায়তুল মুকাদ্দাস, সীমান্ত এলাকা এবং প্রধান শহরসমূহ বিজয়ী ছিলেন।
হাওরান অঞ্চলের যিয়ারতগাহসমূহের বর্ণনা
করনুল হাররাহ:এটি এমন একটি গ্রাম যেখানে ইদরীস (আলাইহিস সালাম)-এর জন্মস্থান অবস্থিত।
দাইরু আইয়ুব:এটি এমন একটি গ্রাম যেখানে আইয়ুব (আলাইহিস সালাম) অবস্থান করতেন এবং মহান আল্লাহ এখানেই তাঁকে পরীক্ষায় ফেলেছিলেন। সেখানে তাঁর কবর রয়েছে এবং সেই ঝরনাটি রয়েছে যা তিনি তাঁর পা দিয়ে আঘাত করেছিলেন, এবং সেই পাথরটিও আছে যার ওপর তিনি ছিলেন।
নাওয়া:এটি এমন একটি গ্রাম যেখানে নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর পুত্র সাম-এর কবর রয়েছে।
আল-মাহাজ্জাহ:এটি এমন একটি গ্রাম যেখানে সাহাবায়ে কিরাম (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-এর মধ্য থেকে কতিপয় শহীদ সমাহিত আছেন। সেখানে একটি পাথর রয়েছে যার সম্পর্কে তারা উল্লেখ করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার ওপর বসেছিলেন। তবে সঠিক কথা হলো যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বুসরা অতিক্রম করেননি। তারা আরও উল্লেখ করেছেন যে, এর জামে মসজিদে সত্তরজন নবী সমাহিত আছেন; আর আল্লাহই ভালো জানেন।
বুসর:এটি একটি গ্রাম যেখানে আল-ইয়াসা‘ (আলাইহিস সালাম)-এর কবর রয়েছে; আর আমরা ইতিপূর্বে তা যিয়ারত করেছি।
নাজরান:এটি এমন একটি গ্রাম যেখানে আসহাবুল উখদুদ (গর্তওয়ালাগণ) ছিলেন।
বুসরা:
এটি একটি শহর যেখানে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মসজিদ রয়েছে এবং তিনি সেই স্থানে সালাত আদায় করেছিলেন। এর পূর্ব দিকে ‘দীবীন’ নামে পরিচিত একটি গ্রাম রয়েছে, যেখানে একটি কালো পাথরের ওপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পায়ের ছাপ রয়েছে, যেমনটি তারা আমার কাছে উল্লেখ করেছেন; আর আল্লাহই ভালো জানেন।
বুসরার দক্ষিণ দিকে একটি মঠ রয়েছে যাকে ‘দাইরুল বা‘ইক্বী’ বলা হয়। সেখানে বাহীরা পাদ্রী অবস্থান করতেন এবং সেখানেই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হয়েছিল।
(খণ্ড: ১)
আল-ইশারাত ইলা মা'রিফাতিয যিয়ারাত
(পৃষ্ঠা: ২৫)
صلخد:بلدة بها مشهد ذكروا أن موسى وهارون عليهما السلام كانا به لما خرجا من التيه، وبه قدم هارون عليه السلام، والله أعلم.
وتر:قرية بها مسجد ذكروا أن الزّبير بن العوام بناه.
إمتان:قرية بها مسجد، ذكروا أن موسى بن عمران عليه السلام سكن فى ذلك الموضع، وبه موضع عصاه فى الصخرة «1» ، والله أعلم.
جبل بنى هلال:تحته قرى مذكورة فى التوراة يقال لها: البثنيّة، منها قرية تعرف بالمالكية بها قدح خشب ذكروا أنه كان لرسول الله صلى الله عليه وسلم «2» ، والله أعلم.
الحميمة:قرية بها قبر محمد بن على بن عبد الله بن العباس، أبى الإمام المنصور رضى الله عنهم.
غورنابلس:به قرية يقال لها: عمتا بها قبر أبى عبيدة بن الجراح رضى الله عنه «3» وقد زرناه بطبرية.
ريحا:قرية بها قبر ذكروا أنه لموسى بن عمران عليه السلام، وورد أن ريحا مدينة الجبارين «4» المذكورة فى القرآن.
السّواد:بلد بها قرية يقال لها: المهيد، ذكروا أن إبراهيم عليه السلام ولد بها، وقد ذكرنا مولده فيما تقدم.
البلقاء
بلد به الكهف والرقيم، وعنده مدينة يقال لها: عمّان بها آثار قديمة «5» ، ذكروا أنها مدينة دقيانوس، وقيل: هى مدينة الجبارين أيضا، والله أعلم، وقد زرنا الكهف والرقيم فى بلاد الروم عند مدينة يقال لها: أبسس، خرابة بها آثار عجيبة قريبة من أبلستين، وقيل: هى
সালখাদ:এটি একটি শহর যেখানে একটি মাশহাদ (দর্শনীয় স্থান) রয়েছে। তারা উল্লেখ করেছেন যে, মুসা ও হারুন আলাইহিমাস সালাম যখন তীহ (বিস্মৃতি ও দিশেহারা অবস্থার মরুভূমি) থেকে বের হয়েছিলেন তখন সেখানে ছিলেন। সেখানে হারুন আলাইহিস সালামের পদচিহ্ন রয়েছে। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
ওয়াতার:এটি একটি গ্রাম যেখানে একটি মসজিদ রয়েছে। তারা উল্লেখ করেছেন যে, যুবাইর ইবনুল আওয়াম রাদিয়াল্লাহু আনহু এটি নির্মাণ করেছেন।
ইমতান:একটি গ্রাম যেখানে একটি মসজিদ রয়েছে। তারা উল্লেখ করেছেন যে, মুসা ইবনে ইমরান আলাইহিস সালাম সেই স্থানে বসবাস করতেন। সেখানে পাথরের মধ্যে তাঁর লাঠির চিহ্ন রয়েছে «১», আর আল্লাহই ভালো জানেন।
জাবালে বনী হিলাল:এর পাদদেশে তাওরাতে বর্ণিত কিছু গ্রাম রয়েছে যেগুলোকে বাদানিয়্যাহ বলা হয়। তার মধ্যে আল-মালিকিয়্যাহ নামে পরিচিত একটি গ্রাম রয়েছে, যেখানে একটি কাঠের পেয়ালা আছে। তারা উল্লেখ করেছেন যে, এটি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ছিল «২»। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
আল-হুমাইমাহ:একটি গ্রাম যেখানে মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাসের কবর রয়েছে, যিনি ইমাম আল-মানসুরের পিতা, আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হন।
গাওরে নাবলুস:এখানে আমতা নামক একটি গ্রাম রয়েছে যেখানে আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুর কবর রয়েছে «৩» এবং আমরা সেটি তাবারিয়্যাহ-তে যিয়ারত করেছি।
রিহা:একটি গ্রাম যেখানে একটি কবর রয়েছে, যার সম্পর্কে তারা উল্লেখ করেছেন যে এটি মুসা ইবনে ইমরান আলাইহিস সালামের। আরও বর্ণিত আছে যে, রিহা হলো কুরআনে বর্ণিত জাব্বারিনদের (অত্যাচারী শক্তিশালী জাতি) শহর «৪»।
আস-সাওয়াদ:এটি একটি জনপদ যেখানে আল-মুহাইদ নামক একটি গ্রাম রয়েছে। তারা উল্লেখ করেছেন যে, ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম সেখানে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। আমরা তাঁর জন্ম সম্পর্কে ইতিপূর্বে আলোচনা করেছি।
আল-বালকা
এটি এমন একটি অঞ্চল যেখানে আল-কাহাফ ও আর-রাকীম অবস্থিত। এর নিকটবর্তী একটি শহর রয়েছে যাকে আম্মান বলা হয়, সেখানে প্রাচীন নিদর্শন রয়েছে «৫»। তারা উল্লেখ করেছেন যে, এটি দাকিয়ানুসের শহর। আবার বলা হয়, এটি জাব্বারিনদেরও শহর, আল্লাহই ভালো জানেন। আমরা রুম দেশে (বাইজেন্টাইন অঞ্চল) আফসাস নামক শহরের নিকট আল-কাহাফ ও আর-রাকীম যিয়ারত করেছি, যা আবলুস্তাইনের নিকটবর্তী বিস্ময়কর নিদর্শন সম্বলিত একটি ধ্বংসাবশেষ। আরও বলা হয় যে, এটি...
(খণ্ড: ১)
আল-ইশারাত ইলা মা'রিফাতিয যিয়ারাত
(পৃষ্ঠা: ২৬)
مدينة دقيانوس «1» ، وبالمغرب موضع يقال له: جنان الورد فى بر الأندلس، به الكهف والرقيم وبه قوم موتى لا يبلون، كما ذكر أهل الموضع، وذكروا أن طليطلة هى مدينة دقيانوس، والصحيح الذي بالروم، وسيأتى ذكره إن شاء الله تعالى.
بلد مآببه قرية يقال لها: شيحان، بها قبر ينزل عليه النور ويراه الناس وهو على جبل، ويزعمون أنه قبر موسى بن عمران، عليه السلام، والله أعلم.
صرفة:قرية بها قبر يزعمون أنه قبر يوشع بن نون عليه السلام، وقد زرناه فيما تقدم، وهذا هو الصحيح.
الطور ومؤتة:قرى بها قبر جعفر الطيار بن أبى طالب «2» رضى الله عنه وقبر زيد بن حارثة رضى الله عنه، وعبد الله بن رواحة، والحارث بن نعمان، وحنيف بن رياب، وزيد بن الخطاب، وعبد الله بن سهل، وسعد بن عامر بن النعمان القيسى، وأبى دجانة سماك، وجماعة من الصحابة رضى الله عنهم قتلوا هناك، منهم من لا يعرف قبره، والله أعلم.
مدينة طبرية وأعمالها
من شرقى بحيرتها قبر سليمان بن داود عليه السلام، والصحيح أن سليمان دفن إلى جانب أبيه داود فى بيت لحم وهما فى المغارة التى بها مولد عيسى «3» عليه السلام، ومن شرقى بحيرة طبرية قبر لقمان الحكيم وابنه، وقبره أيضا باليمن بجبل يقال له: لاعة عدن، وسيأتى ذكره، وبطبرية قبر أبى عبيدة بن الجراح وزوجته، وقد زرناه فيما تقدم، والله أعلم بالصحيح، وقيل: قبره بالأردن، وقيل: قبره فى بيسان ومات فى طاعون عمواس، والله أعلم.
وفى لحف جبل طبرية قبر أبى هريرة رضى الله عنه وقيل: دفن بالبقيع، وقيل: بالعقيق، والله أعلم.
وفى طبرية عين من الماء تنسب إلى عيسى بن مريم عليه السلام، وكنيسة الشجرة،
দাকিয়ানুসের শহর [১], আর মাগরিবে (পশ্চিমে) একটি স্থান রয়েছে যাকে বলা হয়: আন্দালুস ভূমির জিনানুল ওয়ারদ, সেখানে গুহা (কাহাফ) ও রাকীম অবস্থিত এবং সেখানে একদল মৃত লোক রয়েছে যারা পচে যায় না, যেমনটি সেই স্থানের অধিবাসীরা উল্লেখ করেছেন। তারা আরও উল্লেখ করেছেন যে, তুলয়তুলা (টোলেডো) হলো দাকিয়ানুসের শহর, তবে সঠিক মত হলো যা রোমে অবস্থিত, আর ইনশাআল্লাহ তা সামনে বর্ণিত হবে।
মাআব শহরসেখানে শিহান নামক একটি গ্রাম রয়েছে, সেখানে একটি কবর আছে যার উপর নূর (আলো) নাজিল হয় এবং মানুষ তা দেখতে পায়। এটি একটি পাহাড়ের উপর অবস্থিত। তারা ধারণা করে যে, এটি মূসা ইবনে ইমরান আলাইহিস সালামের কবর, আর আল্লাহই ভালো জানেন।
সারফাহ:একটি গ্রাম যেখানে একটি কবর আছে, তারা ধারণা করে যে এটি ইউশা বিন নুন আলাইহিস সালামের কবর। আমরা পূর্বে এটি জিয়ারত করেছি এবং এটিই সঠিক।
তূর ও মুতাহ:এমন কিছু গ্রাম যেখানে জা'ফর আত-তাইয়্যার ইবনে আবি তালিব [২] রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর কবর এবং যায়েদ ইবনে হারিসাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু, আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা, হারিস ইবনে নুমান, হানিফ ইবনে রিয়াব, যায়েদ ইবনে খাত্তাব, আবদুল্লাহ ইবনে সাহল, সাদ ইবনে আমির ইবনে নুমান আল-কায়সী, আবু দুজানা সিমাক এবং একদল সাহাবী রাদিয়াল্লাহু আনহুমের কবর রয়েছে যারা সেখানে শহীদ হয়েছেন। তাদের মধ্যে এমন ব্যক্তিও আছেন যার কবর চেনা যায় না, আর আল্লাহই ভালো জানেন।
তাবারিয়া শহর ও এর এলাকাগুলি
এর হ্রদের পূর্ব দিকে সুলাইমান ইবনে দাউদ আলাইহিস সালামের কবর রয়েছে। তবে সঠিক কথা হলো সুলাইমানকে বাইতুল লাহমে (বেথলেহেম) তাঁর পিতা দাউদের পাশে সমাহিত করা হয়েছে এবং তাঁরা উভয়েই সেই গুহায় রয়েছেন যেখানে ঈসা [৩] আলাইহিস সালামের জন্মস্থান। তাবারিয়া হ্রদের পূর্ব দিকে লোকমান হাকীম ও তাঁর পুত্রের কবর রয়েছে। তাঁর কবর ইয়েমেনের লাআত আদন নামক পাহাড়েও আছে বলে বলা হয়, যা সামনে বর্ণিত হবে। তাবারিয়ায় আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ ও তাঁর স্ত্রীর কবর রয়েছে, আমরা পূর্বে এটি যিয়ারত করেছি। সঠিকটি আল্লাহই ভালো জানেন। বলা হয়: তাঁর কবর জর্ডানে, আবার বলা হয়: তাঁর কবর বাইসানে এবং তিনি আমওয়াসের মহামারীতে ইন্তেকাল করেন, আর আল্লাহই ভালো জানেন।
তাবারিয়া পাহাড়ের পাদদেশে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর কবর রয়েছে। বলা হয়: তাঁকে বাকিতে সমাহিত করা হয়েছে, আবার বলা হয়: আকীকে, আর আল্লাহই ভালো জানেন।
তাবারিয়ায় একটি পানির ঝর্ণা রয়েছে যা ঈসা ইবনে মারইয়াম আলাইহিস সালামের সাথে সম্পৃক্ত এবং সেখানে বৃক্ষ গির্জা (কানিজাতুশ শাজারাহ) রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইশারাত ইলা মা'রিফাতিয যিয়ারাত
(পৃষ্ঠা: ২৭)
ولهذا الموضع حكاية عجيبة جرت لعيسى بن مريم عليه السلام مع الصباغ ذكرت فى الإنجيل، وهى أول معجزة ظهرت منه، وبظاهر طبرية مشهد به قبر سكينة ابنة الحسين «1» عليه السلام، وقد زرناها فيما تقدم، وبه قبر يقال: إنه قبر عبد الله بن العباس بن على بن أبى طالب رضى الله عنهم.
دير فاخور:موضع تعمّد [فيه] المسيح من يوحنا المعمدانى على الأردن، كما ذكروا، وبه قبر كعب بن مرة البهزى، ومعاذ بن جبل، وسيأتى ذكره «2» فى رحلة اليمن وديار بكر أيضا.
[أربد]ومن أعمال طبرية قرية يقال لها: أربد، بها قبر أم موسى بن عمران عليه السلام عن يمين الطريق، وبها أربعة من أولاد يعقوب وهم: دان وإيساخار وزبولون وكاد عليهم السلام «3» .
وفى الطريق إلى بانياس قصر يعقوب وبيت الأحزان وجب يوسف، عليه السلام، فأما جب يوسف عليه السلام فالصحيح أنه فى طريق القدس عند بلد يقال له: سنجيل «4» وسيأتى ذكره، إن شاء الله تعالى.
حطين:ويقال: حطيم قرية بها قبر شعيب «5» وقبر زوجته على الجبل، وقيل: قبر شعيب بمكة، والله أعلم، وبهذه القرية كانت وقعة حطين المشهورة سنة ثلاث وثمانين وخمسمائة وأسرت ملوك الفرنج وفتح القدس والساحل والعواصم.
الشجرة:قرية بها قبر صديق بن صالح عليه السلام، وقبر دحية الكلبى فى مغارة، وقد تقدم ذكره، ويقال: إن هذه المغارة فيها ثمانون شهيدا «6» ، والله أعلم.
এবং এই স্থানের জন্য মরিয়ম-পুত্র ঈসা আলাইহিস সালাম ও এক রঞ্জকের মাঝে একটি আশ্চর্যজনক ঘটনা ঘটেছিল যা ইনজিলে বর্ণিত হয়েছে, এবং এটিই ছিল তাঁর থেকে প্রকাশিত প্রথম অলৌকিক নিদর্শন। তাবারিয়াহ-এর বহির্ভাগে একটি স্মৃতিস্তম্ভ রয়েছে যেখানে হুসাইন আলাইহিস সালামের কন্যা সাকিনার কবর অবস্থিত। ইতিপূর্বে আমরা সেখানে যিয়ারত করেছি। সেখানে একটি কবর রয়েছে যে সম্পর্কে বলা হয় যে, এটি আলী ইবনে আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহুমের পুত্র আব্বাসের পুত্র আবদুল্লাহর কবর।
দাইর ফাখুর:এটি এমন একটি স্থান যেখানে মাসিহ জর্ডান নদীতে ইউহান্না আল-মামদানির নিকট বাপ্তিস্ম গ্রহণ করেছিলেন, যেমনটি তারা উল্লেখ করেছেন। সেখানে কাব ইবনে মুররাহ আল-বাহজি এবং মুয়াজ ইবনে জাবালের কবর রয়েছে। ইয়ামেন ও দিয়ার বকর ভ্রমণের বর্ণনায় পুনরায় এর উল্লেখ আসবে।
[ইরবিদ]তাবারিয়াহ-এর অধীনস্থ এলাকাগুলোর মাঝে ইরবিদ নামক একটি গ্রাম রয়েছে। রাস্তার ডান দিকে সেখানে ইমরান-পুত্র মুসা আলাইহিস সালামের মাতার কবর রয়েছে। সেখানে ইয়াকুব আলাইহিস সালামের চারজন সন্তান—দান, ইসাখার, জাবুলুন এবং গাদ আলাইহিমুস সালামের কবর রয়েছে।
বানিয়াস যাওয়ার পথে ইয়াকুবের প্রাসাদ, বাইতুল আহজান এবং ইউসুফ আলাইহিস সালামের কূপ রয়েছে। ইউসুফ আলাইহিস সালামের কূপ সম্পর্কে বিশুদ্ধ মত হলো এটি কুদসের পথে সানজিল নামক শহরের নিকটে অবস্থিত। ইনশাআল্লাহ তাআলা সামনে এর উল্লেখ আসবে।
হিত্তিন:একে হিত্তিমও বলা হয়। এটি একটি গ্রাম যেখানে শুআইব আলাইহিস সালামের কবর এবং পাহাড়ের ওপর তাঁর স্ত্রীর কবর রয়েছে। বলা হয় যে, শুআইবের কবর মক্কায় অবস্থিত, আল্লাহই ভালো জানেন। এই গ্রামেই ৫৮৩ হিজরি সালে হিত্তিনের সেই বিখ্যাত যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল, যেখানে ইউরোপীয় রাজারা বন্দি হয়েছিল এবং কুদস, উপকূলীয় অঞ্চল ও প্রধান শহরসমূহ বিজিত হয়েছিল।
আশ-শাজারাহ:এটি একটি গ্রাম যেখানে সালেহ আলাইহিস সালামের পুত্র সিদ্দিকের কবর এবং একটি গুহায় দিহয়াহ আল-কালবির কবর রয়েছে, যার কথা ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয় যে, এই গুহায় আশিজন শহীদ রয়েছেন, আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইশারাত ইলা মা'রিফাতিয যিয়ারাত
(পৃষ্ঠা: ২৮)
كفر كنة «1» :
قرية بها مقام يونس وقبر ابنه والله أعلم.
رومة:قرية من أعمال طبرية بها قبر يهوذا بن يعقوب عليه السلام، وسيأتى ذكره فى رحلة مصر، والله أعلم.
حمام «2» طبرية:
التى يقال: إنها من عجائب الدنيا، وإنما التى من عجائب الدنيا ليست هذه التى على باب طبرية على جانب بحيرتها، فإن مثل هذه كثير رأينا فى الدنيا، فهو موضع من أعمال طبرية شرقى قرية يقال لها: الحسينية فى واد، وهو عمارة قديمة قيل:
عمّرها سليمان بن داود عليه السلام، وهو هيكل يخرج الماء من صدره، وقد كان يخرج من اثنى عشر موضعا، وكل عين مخصوصة بمرض من الأمراض، إذا اغتسل منها صاحب ذلك المرض يبرأ بإذن الله تعالى، والماء أشد حرارة يكون وأصفى ما يكون وأعذب وأطيب رائحة، وهذا الموضع يقصده أصحاب الأمراض والعاهات والزمنى والرياح فيغتسلون فيه وعيونه تصب فى موضع كبير حسن يسبح الناس فيه، ومنفعته ظاهرة وما رأينا ما يشاكله إلا الثيرما «3» الذي فى حد تخوم القسطنطانية «4» ، وسيأتى ذكره فى رحلة الروم إن شاء الله تعالى.
مدينة بيسان:قيل: بها جامع ينسب إلى عمر بن الخطاب، وبها عين الفلوس، قيل:
هى من جملة العيون الأربعة.
عدنا إلى ذكر زيارات نواحى طبرية
[كفر مندة] :وأيضا من طريق طبرية إلى مدينة عكّة قرية يقال لها: كفر مندة قيل:
إنها مدين، والله أعلم، وقد زرنا مدين شرقى طور سينا، وسيأتى ذكرها إن شاء الله تعالى.
وبكفر مندة قبر صفوراء زوجة موسى، وبها الجب الذي قلع الصخرة من عليه وسقى
কাফর কান্না «১» :
এটি একটি গ্রাম যেখানে ইউনুস (আ.)-এর মাকাম এবং তাঁর পুত্রের কবর রয়েছে এবং আল্লাহই ভালো জানেন।
রূমাহ:এটি তাবারিয়া অঞ্চলের অন্তর্গত একটি গ্রাম, সেখানে ইয়াকুব আলাইহিস সালামের পুত্র ইয়াহুদার কবর রয়েছে, এবং মিশর ভ্রমণের বর্ণনায় তাঁর উল্লেখ আসবে, আর আল্লাহই ভালো জানেন।
তাবারিয়ার হাম্মাম (গোসলখানা) «২» :
যার সম্পর্কে বলা হয় যে, এটি বিশ্বের বিস্ময়গুলোর একটি। তবে যেটি বিশ্বের বিস্ময়গুলোর অন্তর্ভুক্ত তা তাবারিয়ার ফটকে হ্রদের তীরে অবস্থিত এই হাম্মামটি নয়, কারণ এই ধরণের অনেক হাম্মাম আমরা পৃথিবীতে দেখেছি। বরং সেটি তাবারিয়া অঞ্চলের অন্তর্গত আল-হুসাইনিয়া নামক গ্রামের পূর্ব দিকের একটি উপত্যকায় অবস্থিত একটি স্থান। এটি একটি প্রাচীন স্থাপত্য, বলা হয়:
সুলাইমান ইবনে দাউদ আলাইহিস সালাম এটি নির্মাণ করেছেন। এটি একটি স্থাপনা যার সম্মুখভাগ থেকে পানি নির্গত হয়। পূর্বে এটি বারোটি স্থান থেকে নির্গত হতো এবং প্রতিটি ঝরনা নির্দিষ্ট কোনো রোগের জন্য বিশেষায়িত ছিল। যখন সেই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি তাতে গোসল করত, সে মহান আল্লাহর নির্দেশে আরোগ্য লাভ করত। এর পানি অত্যন্ত উষ্ণ, অত্যন্ত স্বচ্ছ, সুপেয় এবং চমৎকার সুগন্ধযুক্ত। এই স্থানের উদ্দেশ্যে রোগাক্রান্ত, শারীরিক ত্রুটিযুক্ত, পঙ্গু এবং বাত রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা গমন করে এবং সেখানে গোসল করে। এর ঝরনাগুলো একটি বড় ও সুন্দর জলাধারে গিয়ে পড়ে যেখানে মানুষ সাঁতার কাটে। এর উপকারিতা সুস্পষ্ট এবং কনস্টান্টিনোপল সীমান্তের 'থারমা' «৩» ছাড়া আমরা এর সদৃশ আর কিছু দেখিনি «৪», আর ইনশাআল্লাহ রুম (আনাতোলিয়া) ভ্রমণের বর্ণনায় এর উল্লেখ আসবে।
বায়সান শহর:বলা হয়: সেখানে উমর ইবনুল খাত্তাবের নামে একটি জামে মসজিদ রয়েছে, এবং সেখানে 'আইনুল ফুলুস' (মুদ্রার ঝরনা) রয়েছে। বলা হয়:
এটি চারটি প্রধান ঝরনার অন্তর্ভুক্ত।
আমরা পুনরায় তাবারিয়া অঞ্চলের যিয়ারতসমূহের বর্ণনায় ফিরে আসলাম
[কাফর মান্দাহ] :আবার তাবারিয়া থেকে আক্কা শহরের পথে একটি গ্রাম রয়েছে যাকে কাফর মান্দাহ বলা হয়। বলা হয়:
এটিই মাদইয়ান শহর, আল্লাহই ভালো জানেন। আমরা সিনাই পর্বতের পূর্ব দিকে অবস্থিত মাদইয়ান যিয়ারত করেছি এবং ইনশাআল্লাহ তার বর্ণনা সামনে আসবে।
আর কাফর মান্দাহতে মুসা (আ.)-এর স্ত্রী সাফুরার কবর রয়েছে এবং সেখানে সেই কূপটি রয়েছে যার উপর থেকে তিনি বিশাল পাথর সরিয়েছিলেন এবং পানি পান করিয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইশারাত ইলা মা'রিফাতিয যিয়ারাত
(পৃষ্ঠা: ২৯)
لهما، والصخرة باقية هناك إلى الآن، وبها اثنان من أولاد يعقوب، وقيل: هما أشهر «1» ونفتالى «2» ، والله أعلم.
وعند هذه الأماكن جبل يقال له: الطور، قيل: إن موسى عليه السلام من هذا الجبل رأى النار وعليه كان الخطاب، ومن هذا الموضع أرسله الله تعالى إلى فرعون، والله أعلم.
كابول:قرية بها اثنان من أولاد يعقوب وهما: روبين وشمعون، وسيأتى ذكر شمعون ويهوذا فى موضع آخر، إن شاء الله تعالى، وجميع هذه القرى قريبة بعضها من بعض.
الناصرة:مدينة بها دار مريم ابنة عمران، ومنها كانت، ولهذا يقال: نصارى «3» ، وجبل ساعير قريب منها، والإشارة فى التوراة فى حق موسى وعيسى ومحمد عليهم السلام قوله تعالى: «جاء الله من سيناء» يريد مناجاته لموسى على طور سيناء، وقوله: «وأشرق من ساعير» إشارة إلى ظهور عيسى عليه السلام من الناصرة، وقوله: «واستعلن من جبل فاران» إشارة إلى نبوة محمد عليه السلام إذ عندهم فى التوراة جبال فاران، وهى جبال الحجاز والنبي صلى الله عليه وسلم ظهر منها، هذا لفظ التوراة فى الجزء العاشر فى السفر الخامس «4» .
لدّ:بلد به كان المسيح عليه السلام، وبه بيت مريم، وللفرنج فيه اعتقاد عظيم.
مدينة عكّة:كان حقها أن تذكر مع زيارات الساحل وإنما ذكرناها لقربها من هذا الموضع.
بها عين البقر، ذكروا أن البقر خرجت عنها لآدم فحرث عليها، وعلى هذه العين مشهد ينسب إلى على بن أبى طالب رضى الله عنه «5» وذلك أن الفرنج عملته كنيسة وقعد بها قيّم برسم عمارتها وخدمتها فلما أصبح قال: رأيت شخصا يقول لى: «أنا على بن أبى طالب، قل لهم يعيدوا هذا الموضع مسجدا وإلا من أقام به يهلك» فلم يقبلوا كلامه وأقاموا غيره، فلما أصبح وجدوه ميتا فتركتها الفرنج مسجدا إلى الآن، والله أعلم.
তাদের জন্য, এবং পাথরটি এখনো সেখানে অবশিষ্ট আছে, এবং সেখানে ইয়াকুবের সন্তানদের মধ্য হতে দুইজন রয়েছেন। বলা হয়: তারা হলেন আশহার এবং নাফতালি। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
এবং এই স্থানগুলোর নিকটে একটি পাহাড় রয়েছে যাকে তূর বলা হয়। বলা হয় যে, মূসা আলাইহিস সালাম এই পাহাড় থেকেই আগুন দেখেছিলেন এবং এখানেই তাঁর সাথে কথোপকথন হয়েছিল। আর এই স্থান থেকেই আল্লাহ তাআলা তাঁকে ফেরাউনের নিকট পাঠিয়েছিলেন। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
কাবুল:এটি একটি গ্রাম যেখানে ইয়াকুবের সন্তানদের মধ্য হতে দুইজন রয়েছেন এবং তারা হলেন: রুবিন ও শামউন। ইনশাআল্লাহ তাআলা, শামউন ও ইয়াহুদার আলোচনা অন্য স্থানে আসবে। আর এই সকল গ্রাম একে অপরের নিকটবর্তী।
নাসিরা:এটি একটি শহর যেখানে ইমরানের কন্যা মরিয়মের ঘর রয়েছে এবং তিনি এখান থেকেই ছিলেন। এই কারণেই (খ্রিস্টানদের) নাসারা বলা হয়। সাঈর পাহাড় এর নিকটেই অবস্থিত। তাওরাতে মূসা, ঈসা ও মুহাম্মদ আলাইহিমুস সালামের ব্যাপারে আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে ইঙ্গিত করা হয়েছে: "আল্লাহ সিনাই হতে এসেছেন" - এর দ্বারা তূর সিনাই পাহাড়ে মূসার সাথে তাঁর কথোপকথন উদ্দেশ্য। এবং তাঁর বাণী: "এবং সাঈর হতে উদ্ভাসিত হয়েছেন" - এটি নাসিরা হতে ঈসা আলাইহিস সালামের আবির্ভাবের দিকে ইঙ্গিত। আর তাঁর বাণী: "এবং ফারান পাহাড় হতে প্রকাশিত হয়েছেন" - এটি মুহাম্মদ আলাইহিস সালামের নবুওয়াতের দিকে ইঙ্গিত, কারণ তাদের নিকট তাওরাতে ফারান পাহাড় বলতে হিজাজের পাহাড়সমূহকে বোঝানো হয়েছে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেখান থেকেই আবির্ভূত হয়েছেন। এটি তাওরাতের দশম খণ্ডের পঞ্চম সফরের শব্দাবলি।
লুদ:এটি এমন একটি শহর যেখানে মাসীহ আলাইহিস সালাম ছিলেন এবং সেখানে মরিয়মের ঘর রয়েছে। আর এর প্রতি ইউরোপীয়দের প্রবল বিশ্বাস রয়েছে।
আক্কা শহর:উচিত ছিল এটি উপকূলবর্তী যিয়ারতগাহগুলোর সাথে উল্লেখ করা, কিন্তু এই স্থানের নৈকট্যের কারণে আমরা এখানে এটি উল্লেখ করেছি।
সেখানে আইনুল বাকার (গাভীর ঝরনা) রয়েছে। তারা উল্লেখ করেছেন যে, এই ঝরনা হতে আদমের জন্য গাভী বের হয়েছিল এবং তিনি তা দিয়ে হালচাষ করেছিলেন। এই ঝরনার পাশে একটি মাশহাদ (স্মৃতিস্তম্ভ) রয়েছে যা আলী বিন আবু তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে সম্পৃক্ত। এর কারণ হলো, ইউরোপীয়রা এটিকে গির্জায় রূপান্তরিত করেছিল এবং এর সংস্কার ও সেবার জন্য একজন তত্ত্বাবধায়ক সেখানে অবস্থান করত। একদা সকালে সে বলল: "আমি এক ব্যক্তিকে আমাকে বলতে দেখেছি যে—আমি আলী বিন আবু তালিব, তাদের বলো যেন তারা এই স্থানটিকে পুনরায় মসজিদে রূপান্তরিত করে, নতুবা যে এখানে অবস্থান করবে সে ধ্বংস হবে।" কিন্তু তারা তার কথা গ্রহণ করেনি এবং অন্য একজনকে সেখানে নিযুক্ত করল। পরদিন সকালে তারা তাকে মৃত অবস্থায় পেল। এরপর থেকে ইউরোপীয়রা এটিকে মসজিদ হিসেবেই ছেড়ে দিল যা বর্তমান সময় পর্যন্ত বহাল আছে। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইশারাত ইলা মা'রিফাতিয যিয়ারাত
(পৃষ্ঠা: ৩০)
ويقال: إن قبر صالح عليه السلام فى قبلة الجامع، والصحيح أن قبر صالح ما ذكرناه أولا، والله أعلم، وقيل: قبر صالح بمكة، ويقولون: بها قبر عك الذي نسبت إليه، ويزعمون أن عك نبى.
وبمرج عكة خلق كثير استشهدوا فى الوقائع والحروب المشهورة عليها من سنة خمس وثمانين إلى سنة سبع وثمانين لم تبطل الحروب والرباط ليلا ونهارا فى هذه المدة.
بيروت:بها قبر الأوزاعى، رحمه الله.
مدينة جبلة:بها قبر إبراهيم بن أدهم على البحر.
عدنا إلى طريق نابلسبه قرية يقال لها: اللجون، بها مقام إبراهيم الخليل، عليه السلام «1» .
لاوى:قرية بها قبر لاوى بن يعقوب عليه السلام «2» .
ظهر الحمار:قرية بها [قبر] بنيامين أخو يوسف الصديق، عليه السلام «3» .
سبسطين:وهى فلسطين، بها بدن يحيى بن زكرياء عليه السلام وقبر أمه، وقبر اليسع، وقد زرنا قبر اليسع فى موضع آخر، والله أعلم، وبها قبر شداد بن أوس، وبها آثار قديمة.
مدينة نابلس:ظاهرها مسجد ذكروا أن آدم عليه السلام سجد فى ذلك الموضع «4» .
وبها الجبل الذي يعتقد اليهود أن الذبيح «5» كان عليه، وعندهم أن الذبيح إسحاق، وهذا الجبل لليهود فيه اعتقاد عظيم واسمه كريزم «6» وهو مذكور فى التوراة، والسامرة تصلى إليه، وبها عين تحت كهف يعتقدون فيها ويزورونها، والسامرة بهذه المدينة كثيرة «7» .
بلاطة «8» :
قرية من أعمال نابلس يزعمون أن النمرود رمى إبراهيم عليه السلام فى النار بهذه القرية، وبها عين الخضر، وبها حقل يوسف الصديق وقبر يوسف بهذا الموضع عند
বলা হয়ে থাকে যে, সালেহ আলাইহিস সালামের কবর জামে মসজিদের কিবলার দিকে অবস্থিত। তবে সঠিক অভিমত হলো সালেহ আলাইহিস সালামের কবর আমরা প্রথমে যা উল্লেখ করেছি সেটিই, আর আল্লাহই ভালো জানেন। কেউ কেউ বলেন: সালেহ আলাইহিস সালামের কবর মক্কায়। তারা আরও বলে থাকে যে, সেখানে 'আক্ক'-এর কবর রয়েছে যার নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়েছে এবং তারা দাবি করে যে 'আক্ক' একজন নবী ছিলেন।
আর আক্কার চারণভূমিতে (মারজে আক্কা) অগণিত মানুষ প্রসিদ্ধ সংঘাত ও যুদ্ধসমূহে শাহাদাত বরণ করেছেন, যা হিজরি পাঁচশত পঁচাশি সাল থেকে পাঁচশত সাতাশি সাল পর্যন্ত সংঘটিত হয়েছে। এই সময়কালে দিন-রাত যুদ্ধ এবং সীমান্ত পাহারা বিরতিহীনভাবে চলেছে।
বৈরুত:সেখানে ইমাম আওযাঈ রহমাতুল্লাহি আলাইহির কবর অবস্থিত।
জাবলা শহর:সেখানে সমুদ্রতীরে ইব্রাহিম ইবনে আদহামের কবর রয়েছে।
আমরা নাবলুসের রাস্তায় ফিরে এলামসেখানে একটি গ্রাম আছে যাকে আল-লাজ্জুন বলা হয়, এতে ইব্রাহিম খলিল আলাইহিস সালামের মাকাম অবস্থিত «১»।
লাবি:এটি এমন একটি গ্রাম যেখানে ইয়াকুব আলাইহিস সালামের পুত্র লাবি এর কবর রয়েছে «২»।
জহরুল হিমার:এই গ্রামে ইউসুফ সিদ্দীক আলাইহিস সালামের ভাই বিনইয়ামিনের [কবর] রয়েছে «৩»।
সাবাসতিন:এটি ফিলিস্তিন এলাকায় অবস্থিত, এখানে ইয়াহইয়া ইবনে যাকারিয়া আলাইহিস সালামের দেহ মুবারক এবং তাঁর মাতার কবর ও আল-ইয়াসা আলাইহিস সালামের কবর রয়েছে। তবে আমরা আল-ইয়াসা আলাইহিস সালামের কবর অন্য এক স্থানেও যিয়ারত করেছি, আর আল্লাহই ভালো জানেন। সেখানে শাদ্দাদ ইবনে আউস-এর কবর এবং প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন রয়েছে।
নাবলুস শহর:এর বহির্ভাগে একটি মসজিদ রয়েছে, তারা উল্লেখ করেন যে আদম আলাইহিস সালাম সেই স্থানে সিজদা করেছিলেন «৪»।
সেখানে এমন একটি পাহাড় আছে যা সম্পর্কে ইহুদিরা বিশ্বাস করে যে কুরবানি (যবীহ) «৫» সেখানেই হয়েছিল, এবং তাদের মতে কুরবানি করা হয়েছিল ইসহাককে। ইহুদিদের নিকট এই পাহাড়ের অনেক বড় মর্যাদা রয়েছে এবং এর নাম গেরিজিম «৬», যা তাওরাতে বর্ণিত আছে। সামেরিরা এই পাহাড়ের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করে। সেখানে একটি গুহার নিচে ঝরণা আছে যার ব্যাপারে তারা বিশেষ বিশ্বাস রাখে এবং তা যিয়ারত করে। এই শহরে সামেরিদের সংখ্যা অনেক বেশি «৭»।
বালাতাহ্ «৮» :
এটি নাবলুসের অন্তর্ভুক্ত একটি গ্রাম। তারা দাবি করে যে নমরুদ ইব্রাহিম আলাইহিস সালামকে এই গ্রামেই আগুনে নিক্ষেপ করেছিল। এখানে খিজির আলাইহিস সালামের ঝরণা এবং ইউসুফ সিদ্দীক আলাইহিস সালামের শস্যভূমি ও এই স্থানেই ইউসুফ আলাইহিস সালামের কবর রয়েছে...
(খণ্ড: ১)
আল-ইশারাত ইলা মা'রিফাতিয যিয়ারাত
(পৃষ্ঠা: ৩১)
الشجرة، وهو الأصح، وأما النمرود فالصحيح أنه كان بالعراق، والموضع الذي رمى فيه إبراهيم هناك، وسيأتى ذكره إن شاء الله تعالى «1» .
عورتا:قرية فى طريق القدس من نابلس بها مغارة فيها قبر يوشع بن نون، ومفضل بن عمّ هارون، ويقال بها سبعون نبيا والله أعلم «2» .
سيلون:قرية بها مسجد السكينة، وبها حجر المائدة أيضا، والصحيح أن المائدة نزلت بكنيسة صهيون، وسيأتى ذكرها، وبلغنى أن يعقوب عليه السلام كان ساكنا فى سيلون، وأن يوسف منها خرج مع إخوته، والجبّ الذي رمى فيه بين سنجيل ونابلس والجبّ عن يمين الطريق، وهذا أصح ما روى والله أعلم، وسنجيل: بلد عنده جب يوسف عليه السلام «3» .
زيارات القدس الشريف وما حوله
به قبة الصخرة:وهو موضع عرج بالنبى صلى الله عليه وسلم وبه الصخرة التى عرج به من عليها وقدمه فيها «4» ، وهذه الصخرة رأيتها فى زمان الفرنج شمالى هذه القبة ودائرها درابزين من الحديد كالبيت وهى الآن من الجانب القبلى وتحتها دكة وهى عليها مبنية، والصخرة شبر واف وعلوّها مقدار ذراعين ودائرها يزيد على أربعة أذرع، وتحت قبة الصخرة مغارة الأرواح، ذكروا أن أرواح المؤمنين يجمعها الله بها، وينزل إلى هذه المغارة فى أربع عشرة درجة، ويقال: إن قبر زكرياء عليه السلام بهذه المغارة، والله أعلم، وقرأت كتابة فى سقف هذه القبة ما هذا صورتها: بسم الله الرحمن الرحيم اللَّهُ لا إِلهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ لا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلا نَوْمٌ لَهُ ما فِي السَّماواتِ وَما فِي الْأَرْضِ
…الآية (سورة البقرة: 255) والكتابة بالفصّ المذهب.
وهذه القبة لها أربعة أبواب ودخلتها فى زمان الفرنج سنة تسع وستين وخمسمائة، وكان قبالة الباب الذي إلى مغارة الأرواح صورة سليمان بن داود عليه السلام عند التأزير الحديد وغربيّه باب من الرصاص عليه صورة المسيح ذهبا وهو مرصع بالجوهر، الباب الشرقى إلى جانب قبة السلسلة وعليه عقد عليه مكتوب اسم القائم بأمر الله أمير المؤمنين وسورة الإخلاص وتحميد وتمجيد، وعلى سائر الأبواب كذلك لم تغيره الفرنج، وإلى
গাছ, এবং এটিই সবচেয়ে সঠিক মত। আর নমরুদের ব্যাপারে সঠিক কথা হলো সে ইরাকে ছিল, এবং যেখানে ইব্রাহিমকে নিক্ষেপ করার স্থানটি সেখানে অবস্থিত, আর শীঘ্রই আল্লাহর ইচ্ছায় এর আলোচনা আসবে। «১» .
আওয়ারতা:নাবলুস থেকে কুদসের পথে একটি গ্রাম, সেখানে একটি গুহা আছে যাতে ইউশা ইবনে নুন এবং হারুনের চাচার পুত্র মুফাদদালের কবর রয়েছে। বলা হয়ে থাকে সেখানে সত্তরজন নবী রয়েছেন, আর আল্লাহই ভালো জানেন। «২» .
সাইলুন:একটি গ্রাম যাতে মাসজিদুস সাকিনাহ রয়েছে, এবং সেখানে দস্তরখানের পাথরও আছে। তবে সঠিক হলো যে, দস্তরখান সিয়োন গির্জায় অবতীর্ণ হয়েছিল, যা সামনে আলোচনা করা হবে। আমি জানতে পেরেছি যে ইয়াকুব আলাইহিস সালাম সাইলুনে বসবাস করতেন এবং ইউসুফ এখান থেকেই তাঁর ভাইদের সাথে বের হয়েছিলেন। আর তাঁকে যে কূপে নিক্ষেপ করা হয়েছিল তা সিনজিল ও নাবলুসের মধ্যে অবস্থিত, এবং কূপটি রাস্তার ডান পাশে। এটিই সবচেয়ে সঠিক বর্ণনা যা বর্ণিত হয়েছে, আর আল্লাহই ভালো জানেন। সিনজিল: এমন একটি জনপদ যার কাছে ইউসুফ আলাইহিস সালামের কূপটি অবস্থিত। «৩» .
পবিত্র কুদস এবং তার চারপাশের যিয়ারতসমূহ
তাতে কুব্বাতুস সাখরা রয়েছে:এটি সেই স্থান যেখান থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ঊর্ধ্বারোহণে (মিরাজে) নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং তাতে সেই পাথরটি আছে যেখান থেকে তাঁকে ঊর্ধ্বারোহণে নিয়ে যাওয়া হয় এবং তাতে তাঁর পা রয়েছে «৪» , আমি ক্রুসেডারদের আমলে এই পাথরটি এই গম্বুজের উত্তরে দেখেছিলাম, যার চারপাশে লোহার রেলিং ছিল যা দেখতে একটি ঘরের মতো। বর্তমানে এটি দক্ষিণ দিকে অবস্থিত এবং এর নিচে একটি প্ল্যাটফর্ম রয়েছে যার ওপর এটি নির্মিত। পাথরটি এক বিঘত পরিমাণ প্রশস্ত এবং এর উচ্চতা দুই হাত পরিমাণ, আর এর পরিধি চার হাতের বেশি। কুব্বাতুস সাখরার নিচে রূহদের গুহা অবস্থিত। তাঁরা উল্লেখ করেছেন যে, মুমিনদের রূহসমূহকে আল্লাহ সেখানে একত্রিত করেন। এই গুহায় চৌদ্দটি ধাপ বেয়ে নামতে হয়। বলা হয় যে, জাকারিয়া আলাইহিস সালামের কবর এই গুহায় অবস্থিত, আর আল্লাহই ভালো জানেন। আমি এই গম্বুজের ছাদে একটি লেখা পড়েছি যার অনুলিপি নিম্নরূপ: পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক। তাঁকে তন্দ্রা ও নিদ্রা স্পর্শ করে না। আসমানসমূহে যা কিছু আছে এবং যমীনে যা কিছু আছে সব তাঁরই...
…আয়াত (সূরা আল-বাকারা: ২৫৫) এবং লেখাটি সোনালী মোজাইক দ্বারা খচিত।
এই গম্বুজের চারটি দরজা রয়েছে এবং আমি ক্রুসেডারদের আমলে পাঁচশত উনসত্তর হিজরিতে এতে প্রবেশ করেছি। রূহদের গুহার দিকের দরজার বিপরীতে লোহার রেলিংয়ের কাছে সুলাইমান ইবনে দাউদ আলাইহিস সালামের প্রতিকৃতি ছিল। এর পশ্চিমে সীসার একটি দরজা ছিল যার ওপর স্বর্ণের তৈরি মসীহের প্রতিকৃতি ছিল এবং এটি রত্নখচিত ছিল। পূর্ব দিকের দরজাটি কুব্বাতুস সিলসিলার পাশে এবং তার ওপর একটি খিলান ছিল যাতে আমিরুল মুমিনীন আল-কায়িম বি-আমরিল্লাহর নাম এবং সূরা আল-ইখলাস ও আল্লাহর প্রশংসা ও মহিমা খোদাই করা ছিল। অন্যান্য দরজার ওপরেও অনুরূপ ছিল যা ক্রুসেডাররা পরিবর্তন করেনি, আর...
(খণ্ড: ১)
আল-ইশারাত ইলা মা'রিফাতিয যিয়ারাত
(পৃষ্ঠা: ৩২)
جانب هذه القبة من الشرق قبة السلسلة التى كان يحكم بها سليمان بن داود، عليه السلام، وشمالى هذه القبة دار القسوس بها من العمد وعجائب الصنعة ما أذكره عند ذكر الأبنية والآثار إن شاء الله تعالى.
المسجد الأقصى:به محراب عمر بن الخطاب رضى الله عنه ولم تغيره الفرنج، وقرأت فى سقف قبة الأقصى ما هذه صورته: بسم الله الرحمن الرحيم سُبْحانَ الَّذِي أَسْرى بِعَبْدِهِ لَيْلًا مِنَ الْمَسْجِدِ الْحَرامِ إِلَى الْمَسْجِدِ الْأَقْصَى الَّذِي بارَكْنا حَوْلَهُ
(سورة الإسراء: 1) نصر من الله لعبد الله ووليه أبى الحسن على الإمام الظاهر لإعزاز دين الله أمير المؤمنين صلوات الله عليه وعلى آبائه الطاهرين وأبنائه الأكرمين، أمر بعمل هذه القبة وإذهابها سيدنا الوزير الأجل صفى أمير المؤمنين وخالصته أبو القاسم على بن أحمد أيده الله ونصره وكمل جميع ذلك إلى سلخ ذى القعدة سنة ست وعشرين وأربعمائة، صنعة عبد الله بن الحسن المصرى المزوق» وجميع الكتابة والأوراق بالفص المذهب، وجميع ما على الأبواب من آيات القرآن العزيز وأسامى الخلفاء لم تغيره الفرنج، وقرأت على صخرة مكتوبا ما هذه صورته:
«طول المسجد الأقصى سبعمائة ذراع بذراع الملك، وعرضه أربعمائة وخمس وخمسون ذراعا بذراع الملك» وهذه الصخرة باقية مبنية فى حائط شمالى الأقصى.
ورواق قبة الصخرةمبنى على ست عشرة أسطوانة من الرخام وعلى ثمانية أركان، والقبة التى داخله مبنية على أربعة أركان واثنى عشر عامودا ودائرها ستة عشر شباكا، والقبة دائرها مائة وستون ذراعا، ودائر البنية العظمى التى تحوى الجميع ثلاثمائة وأربعة وثمانون ذراعا، ودائر الجميع مع قبة السلسلة مع ما يلائمه من العمارة أربعمائة واثنتان وثمانون ذراعا، وعلو الدرابزين الحديد الذي يحوى هذه الصخرة قامتان، وأبواب قبة الصخرة أربعة من الحديد، باب منها إلى باب الرحمة، وباب منها إلى باب جبرئيل، وباب إلى القبلة، وباب إلى قبة السلسلة، ودائر قبة السلسلة ستون خطوة، ومغارة الأرواح ارتفاعها قامة وبسطة، وسعتها إحدى عشرة خطوة من الشرق إلى الغرب، ومن الشمال إلى القبلة ثلاث عشرة خطوة، ودرجها أربع عشرة درجة، وفى سقفها روزنة من ناحية الشرق سعتها ذراع ونصف، ودائر المغارة خمسون ذراعا، سعة الرواق خمس عشرة خطوة، طوله من القبلى إلى الشمالى أربع وتسعون خطوة، علو قبة الأقصى ستون ذراعا، دائرها ستة
এই গম্বুজের পূর্ব দিকে কুব্বাতুস সিলসিলা (শিকল গম্বুজ) অবস্থিত, যেখানে দাউদ পুত্র সুলাইমান আলাইহিস সালাম বিচারকার্য পরিচালনা করতেন। এই গম্বুজের উত্তর দিকে যাজকদের আবাসস্থল অবস্থিত; সেখানে মার্বেল স্তম্ভ এবং কারুকার্যের যেসব বিস্ময় রয়েছে, তা আমি স্থাপত্য ও নিদর্শনসমূহের বর্ণনা দেওয়ার সময় ইনশাআল্লাহ উল্লেখ করব।
মসজিদুল আকসা:এখানে উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর মিহরাব রয়েছে যা ইউরোপীয় ক্রুসেডাররা পরিবর্তন করেনি। আমি আকসার গম্বুজের ছাদে যা লেখা ছিল তা পাঠ করেছি, যার অনুলিপি হলো: পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। পরম পবিত্র সেই সত্তা, যিনি তাঁর বান্দাকে রাতে ভ্রমণ করিয়েছিলেন মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসা পর্যন্ত, যার চারপাশকে আমি বরকতময় করেছি
(সূরা আল-ইসরা: ১) আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্য প্রাপ্ত আল্লাহর বান্দা এবং তাঁর প্রিয়পাত্র আবুল হাসান আলী ইমাম আল-জাহির লি-ইজাজি দ্বীনিল্লাহ আমীরুল মুমিনীন—তাঁর ওপর এবং তাঁর পবিত্র পূর্বপুরুষ ও সম্মানিত উত্তরসূরিদের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক—এই গম্বুজটি নির্মাণ এবং তাতে স্বর্ণলেপন করার আদেশ দিয়েছেন আমাদের মহান উজির, আমীরুল মুমিনীনের বিশিষ্ট ও খাঁটি বন্ধু আবুল কাসিম আলী ইবনে আহমাদ, আল্লাহ তাকে সাহায্য ও জয়যুক্ত করুন। এই সমস্ত কাজ চারশত ছাব্বিশ হিজরীর জিলকদ মাসের শেষে সম্পন্ন হয়েছে। এটি নির্মাণ করেছেন চিত্রশিল্পী আবদুল্লাহ ইবনে হাসান আল-মিসরি। এখানে বিদ্যমান সমস্ত লিপি ও পত্রপল্লবের কারুকার্য স্বর্ণখচিত মোজাইক দ্বারা নির্মিত। দরজাসমূহের উপর পবিত্র কুরআনের যে আয়াতসমূহ এবং খলিফাদের নাম রয়েছে, ইউরোপীয় ক্রুসেডাররা তা পরিবর্তন করেনি। আমি একটি পাথরে খোদাই করা লিপি পাঠ করেছি যার পাঠ নিম্নরূপ:
«মসজিদুল আকসার দৈর্ঘ্য রাজকীয় হাতের মাপে সাতশত হাত এবং এর প্রস্থ রাজকীয় হাতের মাপে চারশত পঞ্চান্ন হাত»। এই শিলালিপিটি আজও মসজিদুল আকসার উত্তর দেয়ালে গাঁথা অবস্থায় বিদ্যমান রয়েছে।
এবং কুব্বাতুস সাখরার বারান্দাএটি মার্বেল পাথরের ষোলটি স্তম্ভ এবং আটটি কোণের (পিলার) ওপর নির্মিত। এর ভেতরের গম্বুজটি চারটি পিলার এবং বারোটি স্তম্ভের ওপর নির্মিত এবং এর চারপাশে ষোলটি জানালা রয়েছে। গম্বুজটির পরিধি একশত ষাট হাত। আর প্রধান বিশাল ভবনটি যা সবগুলোকে বেষ্টন করে আছে, তার পরিধি তিনশত চুরাশি হাত। কুব্বাতুস সিলসিলা এবং এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ অন্যান্য স্থাপনা সহ সবকিছুর সম্মিলিত পরিধি চারশত বিরাশি হাত। এই পাথরটিকে (সাখরা) ঘিরে থাকা লোহার বেষ্টনীর উচ্চতা দুই জন মানুষের সমান। কুব্বাতুস সাখরার চারটি দরজা লোহার তৈরি; একটি দরজা বাবু রহমতের দিকে, একটি জিবরাঈলের দরজার দিকে, একটি কিবলার দিকে এবং একটি কুব্বাতুস সিলসিলার দিকে। কুব্বাতুস সিলসিলার পরিধি ষাট কদম। মাগারাতুল আরওয়াহ (আত্মাদের গুহা)-এর উচ্চতা এক মানুষের উচ্চতা ও এক প্রসারণের সমান। এর প্রশস্ততা পূর্ব থেকে পশ্চিমে এগারো কদম এবং উত্তর থেকে কিবলার দিকে তেরো কদম। এর সিঁড়ি সংখ্যা চৌদ্দটি। এর ছাদে পূর্ব দিকে একটি গবাক্ষ রয়েছে যার প্রশস্ততা দেড় হাত। গুহাটির পরিধি পঞ্চাশ হাত। বারান্দার প্রশস্ততা পনেরো কদম এবং এর দৈর্ঘ্য দক্ষিণ থেকে উত্তর পর্যন্ত চুরানব্বই কদম। আকসা গম্বুজের উচ্চতা ষাট হাত এবং এর পরিধি ছয়...
(খণ্ড: ১)
আল-ইশারাত ইলা মা'রিফাতিয যিয়ারাত
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
وتسعون ذراعا، دائر أسفلها مربعا مائة وستون ذراعا، طول الأقصى من القبلة إلى الشمال مائة وثمانية وأربعون ذراعا.
وتحت الأقصى إصطبل كان لدواب سليمان بن داود، كما ذكروا، به حجارة هائلة ومعالف الدواب إلى الآن، وهناك مغارة يقال: بها مهد عيسى بن مريم عليه السلام، وشمالى الأقصى بركة بنى إسرائيل يقال: إن بختنصر ملأها من رءوسهم.
وبالقدس كنيسة اليعاقبة:بها بئر يقال: إن المسيح اغتسل منها وآمنت السامرية على يده عندها ويزورونها ويعتقدون بها، وبالقدس برج داود عليه السلام، ومحرابه المذكور فى القرآن العزيز.
وبظاهر القدس من الزيارات عين سلوان:ماؤها مثل ماء زمزم، وهى تخرج من تحت قبة الصخرة وتظهر بالوادى قبلى البلد،
وكنيسة السليقيقال: إن المسيح عليه السلام منها رفع إلى السماء،
وكنيسة صهيونيقال: إن المائدة نزلت على عيسى بن مريم والحواريين بها.
وادى جهنّم:به قبر مريم أم عيسى عليه السلام، ينزل إليه فى ست وثلاثين درجة، وبه من العمد المانع والرخام تحت القبة ستة عشر عامودا من الرخام، ثمانية حمر وثمانية خضر، وله أربعة أبواب، على كل باب ستة عمد من الرخام المانع، وبها كنيسة، وهى الآن مشهد لإبراهيم الخليل عليه السلام، وبها من الآثار والعمد شىء كثير وصنعة عجيبة.
وبالجبل مقام رابعة العدوية وقبرها، والصحيح أن قبر رابعة العدوية فى البصرة، وسيأتى ذكرها فى رحلة العراق، وإنما هذه رابعة التى بالجبل هى زوجة أحمد بن أبى الحوارى، وبه مواضع مباركة وقبور بعض الصالحين والتابعين رضى الله عنهم إلا أنها لا تعرف لاستيلاء الفرنج على البلاد، وخلف السور من الشرق قبر شداد بن أوس الخزرجى وذى الأصابع التميمى، وقيل: قبر شداد بفلسطين، والله أعلم.
وأما زيارات الملة المسيحية فأعظمها
كنيسة قمامةوعمارتها من العجائب المذكورة ولا بد عند ذكر الآثار صفة هيكلها وجميع ما فيها، ولهم فيها المقبرة التى يسمونها القيامة وذلك أنهم يعتقدون أن المسيح قامت قيامته فى ذلك الموضع، والصحيح أن
এবং নব্বই হাত, এর নিচের বর্গাকার অংশের পরিধি একশত ষাট হাত, কিবলা থেকে উত্তর পর্যন্ত আল-আকসার দৈর্ঘ্য একশত আটচল্লিশ হাত।
আর আল-আকসার নিচে একটি আস্তাবল ছিল যা সুলাইমান ইবনে দাউদের পশুদের জন্য ছিল, যেমনটি তারা উল্লেখ করেছেন, সেখানে বিশাল বিশাল পাথর এবং পশুদের খাবার পাত্র এখনও বিদ্যমান। সেখানে একটি গুহা রয়েছে, বলা হয়: সেখানে ঈসা ইবনে মারইয়াম আলাইহিস সালামের দোলনা ছিল। আর আল-আকসার উত্তরে বনী ইসরাঈলের পুকুর রয়েছে, বলা হয়: বুখতানাসসার এটি তাদের মাথা দিয়ে পূর্ণ করেছিলেন।
এবং কুদসে ইয়াকুবীয়দের গির্জা:সেখানে একটি কূপ রয়েছে, বলা হয়: মাসীহ এখান থেকে গোসল করেছিলেন এবং তাঁর হাতে সামেরীয় মহিলা ঈমান এনেছিলেন। তারা এটি যিয়ারত করে এবং এর প্রতি বিশ্বাস রাখে। কুদসে দাউদ আলাইহিস সালামের মিনার এবং তাঁর মিহরাব রয়েছে যা মহাগ্রন্থ কুরআনে বর্ণিত হয়েছে।
এবং কুদসের বহির্ভাগে যিয়ারতের স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে সিলওয়ান ঝরনা:এর পানি যমযমের পানির মতো, এটি কুব্বাতুস সাখরার নিচ থেকে নির্গত হয় এবং শহরের দক্ষিণ দিকে উপত্যকায় দৃশ্যমান হয়।
এবং সালিক (আসানশন) গির্জাবলা হয়: এখান থেকেই মাসীহ আলাইহিস সালাম আসমানে উত্তোলিত হয়েছিলেন।
এবং সিয়োন গির্জাবলা হয়: এখানেই ঈসা ইবনে মারইয়াম এবং হাওয়ারীদের ওপর খাদ্যভর্তি খাঞ্চা (মায়েদাহ) অবতীর্ণ হয়েছিল।
জাহান্নাম উপত্যকা:এখানে ঈসা আলাইহিস সালামের মাতা মারইয়ামের কবর রয়েছে, যেখানে ছত্রিশটি সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতে হয়। গম্বুজের নিচে মজবুত ও মার্বেল পাথরের ষোলোটি স্তম্ভ রয়েছে—আটটি লাল এবং আটটি সবুজ। এর চারটি দরজা রয়েছে, প্রতিটি দরজায় ছয়টি করে মজবুত মার্বেল পাথরের স্তম্ভ রয়েছে। সেখানে একটি গির্জা আছে এবং এটি বর্তমানে ইব্রাহিম খলিল আলাইহিস সালামের স্মৃতিস্থল। সেখানে অনেক নিদর্শন, স্তম্ভ এবং বিস্ময়কর নির্মাণশৈলী বিদ্যমান।
পাহাড়ে রাবেয়া আল-আদাবীয়ার মাকাম ও তাঁর কবর রয়েছে। তবে সঠিক মত হলো রাবেয়া আল-আদাবীয়ার কবর বসরায় অবস্থিত, ইরাক ভ্রমণের বর্ণনায় তাঁর উল্লেখ আসবে। পাহাড়ে অবস্থিত এই রাবেয়া মূলত আহমদ ইবনে আবিল হাওয়ারীর স্ত্রী। সেখানে বরকতময় স্থান এবং কিছু নেককার লোক ও তাবেয়ীগণের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) কবর রয়েছে, তবে ফ্রাঙ্কদের দেশ দখলের কারণে সেগুলো এখন আর চেনা যায় না। প্রাচীরের পেছনে পূর্ব দিকে শাদ্দাদ ইবনে আউস আল-খাযরাজী এবং যু আল-আসা-বে তামিমি-র কবর রয়েছে। বলা হয়ে থাকে: শাদ্দাদের কবর ফিলিস্তিনে অবস্থিত। আল্লাহই ভালো জানেন।
আর খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের যিয়ারতগাহগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় হলো—
কিয়ামাহ (পুনরুত্থান) গির্জাএর স্থাপত্যশৈলী উল্লেখযোগ্য বিস্ময়সমূহের অন্তর্ভুক্ত। প্রাচীন নিদর্শন বর্ণনার সময় এর কাঠামো এবং এর ভেতরের সবকিছুর বর্ণনা দেওয়া আবশ্যক। সেখানে তাদের একটি কবরস্থান রয়েছে যাকে তারা 'কিয়ামাহ' বলে অভিহিত করে। এর কারণ হলো তারা বিশ্বাস করে যে, মাসীহ সেই স্থানেই পুনরুত্থিত হয়েছিলেন। তবে সঠিক কথা হলো যে—
(খণ্ড: ১)
আল-ইশারাত ইলা মা'রিফাতিয যিয়ারাত
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
الموضع كان اسمه قمامة لأنه كان مزبلة للبلد وكان ظاهر البلد تقطع به أيدى المفسدين وتصلب به اللصوص، هذا ذكر فى الإنجيل، والله أعلم.
ولهم فيها الصخرة التى يزعمون أنها انشقت وقام آدم من تحتها لأنها كانت تحت الصلبوت بزعمهم، ولهم فيها بستان يوسف الصديق عليه السلام يزورونه، وأما نزول النور فإننى أقمت بالقدس زمانا على عهد الفرنج إلى أن عرفت كيفية عمله.
الطريق من القدس إلى مدينة الخليل عليه السلام
قبر راحيلأم يوسف الصديق عليه السلام عن يمين الطريق.
بيت لحم:بلدة بها مولد عيسى عليه السلام ويقال: إن داود وسليمان عليهما السلام قبورهما فيه، وبهذه الكنيسة آثار وعمارة عجيبة من الرخام والفص المذهب والعمد، وتأريخ عمارتها يزيد على ألف ومائتى سنة، منقور فى الخشب لم يتغير إلى زماننا هذا، وبه موضع النخلة المذكورة فى القرآن العزيز وَهُزِّي إِلَيْكِ بِجِذْعِ النَّخْلَةِ
…(سورة مريم:
25) ، وبه محراب عمر بن الخطاب رضى الله عنه لم تغيره الفرنج إلى الآن «1» .
حلحول:قرية بها قبر يونس عليه السلام «2» ، وقد زرناه فى موضع آخر، وسيأتى ذكره.
رامة:قرية بها مقام إبراهيم الخليل عليه السلام «3» .
كفر بريك:قرية بها قبر لوط، عليه السلام، وقبر إبراهيم بن أدهم، والصحيح أن إبراهيم بجبلة على ساحل البحر.
ياقين:قرية بها مقام لوط عليه السلام، وبها كان يسكن بعد رحيله من زغر، وسميت ياقين لأنه لما سار بأهله ورأى العذاب قد نزل بقومه سجد فى هذا الموضع وقال: «أيقنت أن وعد الله حق» «4» ، والموضع الذي خسف هو اليوم البحيرة المنتنة، وقيل: إن الحجر الذي ضربه موسى عليه السلام فَانْفَجَرَتْ مِنْهُ اثْنَتا عَشْرَةَ عَيْناً
(سورة البقرة: 60) بزغر والله أعلم.
স্থানটির নাম ছিল কুমামাহ (আবর্জনা), কারণ এটি ছিল শহরের ময়লার ভাগাড়। এটি শহরের বাইরে অবস্থিত ছিল যেখানে ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের হাত কাটা হতো এবং চোরদের শূলে চড়ানো হতো। এটি ইঞ্জিলে উল্লেখ করা হয়েছে, আর আল্লাহই ভালো জানেন।
সেখানে তাদের একটি পাথর রয়েছে যার সম্পর্কে তারা দাবি করে যে এটি বিদীর্ণ হয়েছিল এবং আদম তার নিচ থেকে উঠে দাঁড়িয়েছিলেন, কারণ তাদের ধারণা মতে এটি ছিল ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার স্থানের নিচে। সেখানে তাদের ইউসুফ সিদ্দিক আলাইহিস সালামের বাগানও রয়েছে যা তারা জিয়ারত করে। আর 'আলোর অবতরণ' প্রসঙ্গে কথা হলো, আমি ফ্রাঙ্কদের শাসনামলে দীর্ঘকাল কুদস-এ অবস্থান করেছি এবং শেষ পর্যন্ত জানতে পেরেছি এটি কীভাবে করা হয়।
কুদস থেকে খলিল আলাইহিস সালামের শহর পর্যন্ত পথ
রাহিলের কবররাস্তার ডান পাশে ইউসুফ সিদ্দিক আলাইহিস সালামের মাতা (রাহিলের কবর)।
বাইত লাহম (বেথলেহেম):এটি এমন একটি শহর যেখানে ঈসা আলাইহিস সালামের জন্ম হয়েছিল। বলা হয় যে দাউদ ও সুলাইমান আলাইহিমাস সালামের কবরও সেখানে রয়েছে। এই গির্জায় মার্বেল পাথর, সোনালী কারুকাজ এবং স্তম্ভের বিস্ময়কর নিদর্শন ও নির্মাণশৈলী বিদ্যমান। এর নির্মাণের ইতিহাস বারোশত বছরেরও বেশি পুরনো, যা কাঠের উপর খোদাই করা রয়েছে এবং আমাদের সময় পর্যন্ত অপরিবর্তিত আছে। এখানে সেই খেজুর গাছের স্থানটি রয়েছে যা পবিত্র কুরআনে বর্ণিত হয়েছে: "আর তুমি খেজুর গাছের কাণ্ড ধরে নিজের দিকে নাড়া দাও..."
…(সূরা মারইয়াম:
২৫), সেখানে উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর মিহরাব রয়েছে যা ফ্রাঙ্করা এখন পর্যন্ত পরিবর্তন করেনি [১]।
হালহুল:এটি একটি গ্রাম যেখানে ইউনুস আলাইহিস সালামের কবর রয়েছে [২]। আমরা এটি অন্য এক স্থানেও জিয়ারত করেছি, যার আলোচনা সামনে আসবে।
রামাহ:এটি একটি গ্রাম যেখানে ইবরাহিম খলিল আলাইহিস সালামের মাকাম রয়েছে [৩]।
কাফর বারিক:এটি একটি গ্রাম যেখানে লুত আলাইহিস সালামের কবর এবং ইবরাহিম ইবনে আদহামের কবর রয়েছে। তবে সঠিক মত হলো ইবরাহিম সমুদ্র উপকূলে জাবালাহ-তে রয়েছেন।
ইয়াকিন:এটি একটি গ্রাম যেখানে লুত আলাইহিস সালামের মাকাম রয়েছে। জুগার থেকে চলে আসার পর তিনি এখানে বসবাস করতেন। এর নাম ইয়াকিন রাখা হয়েছে কারণ যখন তিনি তার পরিবার নিয়ে পথ চলছিলেন এবং দেখলেন যে তার জাতির ওপর আজাব নেমে এসেছে, তখন তিনি এই স্থানে সিজদাহ করলেন এবং বললেন: "আমি নিশ্চিত হলাম যে আল্লাহর ওয়াদা সত্য" [৪]। যে স্থানটি ধসে গিয়েছিল সেটি বর্তমানে মৃত সাগর। আর বলা হয় যে, মুসা আলাইহিস সালাম যে পাথরে আঘাত করেছিলেন যার ফলে "তা থেকে বারোটি প্রস্রবণ প্রবাহিত হয়েছিল"
(সূরা বাকারাহ: ৬০) সেটি জুগার-এ অবস্থিত, আর আল্লাহই ভালো জানেন।