(খণ্ড: ১)
আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল ইস্তখরী আও মাসালিকুল মামালিক - লায়ডেন
(পৃষ্ঠা: -)
المسالك والممالك للاصطخري أو مسالك الممالك - ليدن القسم: البلدان والرحلات
الكتاب: المسالك والممالك
المؤلف: أبو اسحاق إبراهيم بن محمد الفارسي الاصطخري، المعروف بالكرخي (ت 346هـ)
الناشر: دار صادر، بيروت
عام النشر: 2004 م
عدد الصفحات: 347
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-ইস্তাখরির আল-মাসালিক ওয়াল-মামালিক অথবা মাসালিকুল মামালিক - লাইডেন বিভাগ: দেশসমূহ এবং সফরনামা
বই: আল-মাসালিক ওয়াল-মামালিক
লেখক: আবু ইসহাক ইবরাহিম বিন মুহাম্মাদ আল-ফারিসি আল-ইস্তাখরি, আল-কারখি হিসেবে পরিচিত (মৃত ৩৪৬ হিজরি)
প্রকাশক: দার সাদির, বৈরুত
প্রকাশকাল: ২০০৪ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৪৭
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর ছাপানো কপির অনুরূপ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল ইস্তখরী আও মাসালিকুল মামালিক - লায়ডেন
(পৃষ্ঠা: -)
أبو إسحاق إبراهيم بن محمد الفارسي الإصطخري المعروف بالكرخي
جغرافي شهير في القرن الرابع الهجري. ولد في إصطخر من توابع فارس ولكن لا يعلم تاريخ ولادته وأما وفاته فقد اختلفوا فيها والأقرب أنه توفي بعد سنة 340 هـ. يعتبر الإصطخري بعد أبي زيد أحمد بن سهيل البلخي (ت 322 هـ) من مؤسسي علم الجغرافيا في العالم الإسلامي.
آثاره
خلف الإصطخري كتابين هما «صور الأقاليم» و «المسالك والممالك» . والظاهر أنه ألف الأول ثم شرحه وفصّله وسمّاه بالمسالك والممالك. يظهر من كتب المسالك والممالك أن هذه السلسلة من الكتب الجغرافية بدأت بكتاب أبي زيد البلخي واستمرت بتأليف الإصطخري وتمت بكتاب ابن حوقل. وكل واحدة من هذه الحلقات الثلاث ترتبط بخارطة معينة، وحري بهذه السلسلة من الخارطات التي ارتكزت هذه الكتب عليها أن تسمى بالأطلس الإسلامي، الأطلس الذي يعرض لنا ذورة عملية رسم الخرائط في الإسلام.
كلا كتابي الإصطخري تتشابه من حيث فهرس المحتويات إلا أن كتاب المسالك والممالك أكثر شرحاً وتفصيلاً من كتاب صور الأقاليم.
আবু ইসহাক ইবরাহিম ইবনে মুহাম্মদ আল-ফারিসি আল-ইসতাখরি, যিনি আল-কারখি নামে পরিচিত
তিনি হিজরি চতুর্থ শতাব্দীর একজন বিখ্যাত ভূগোলবিদ। তিনি পারস্যের অন্তর্ভুক্ত ইসতাখরে জন্মগ্রহণ করেন, তবে তাঁর জন্ম তারিখ জানা যায় না। তাঁর মৃত্যুর বিষয়ে মতভেদ রয়েছে, তবে সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য মত হলো তিনি ৩৪০ হিজরির পরে মৃত্যুবরণ করেন। আবু জায়েদ আহমদ ইবনে সুহাইল আল-বালখি (মৃত্যু ৩২২ হিজরি)-এর পর আল-ইসতাখরিকে ইসলামি বিশ্বের ভূগোল বিজ্ঞানের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে গণ্য করা হয়।
তাঁর রচনাবলি
আল-ইসতাখরি দু’টি গ্রন্থ রেখে গেছেন, সেগুলো হলো «সুওয়ারুল আকালিম» এবং «আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক»। দৃশ্যত তিনি প্রথমটি রচনা করেন এবং পরে সেটির ব্যাখ্যা ও বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে সেটির নাম দেন «আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক»। «আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক» বিষয়ক গ্রন্থাবলি থেকে এটি স্পষ্ট হয় যে, ভৌগোলিক গ্রন্থের এই ধারাটি আবু জায়েদ আল-বালখির গ্রন্থের মাধ্যমে শুরু হয়েছিল, আল-ইসতাখরির রচনার মাধ্যমে অব্যাহত থাকে এবং ইবনে হাওকাল-এর গ্রন্থের মাধ্যমে পূর্ণতা লাভ করে। এই তিনটি পর্যায়ের প্রতিটিই একটি নির্দিষ্ট মানচিত্রের সাথে সম্পর্কিত। মানচিত্রের এই ধারাটি, যার ওপর ভিত্তি করে এই গ্রন্থগুলো রচিত হয়েছে, তাকে ‘ইসলামি মানচিত্রাবলি’ বলা যুক্তিযুক্ত; এমন এক মানচিত্রাবলি যা আমাদের সামনে ইসলামি মানচিত্রাঙ্কন শিল্পের চরম উৎকর্ষ তুলে ধরে।
আল-ইসতাখরির উভয় গ্রন্থই বিষয়বস্তুর সূচির দিক থেকে সদৃশ, তবে «আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক» গ্রন্থটি «সুওয়ারুল আকালিম» গ্রন্থের তুলনায় অধিক ব্যাখ্যাসমৃদ্ধ ও বিস্তারিত।
(খণ্ড: ১)
আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল ইস্তখরী আও মাসালিকুল মামালিক - লায়ডেন
(পৃষ্ঠা: ২)
[المقدمة]الحمد لله ربّ العالمين وصلّى الله على سيّدنا محمّد النبيّ وعلى آل محمّد وسلّم ونسال الله التوفيق وخاتمة السعادة الحمد لله مبدئ النعم ووليّ الحمد وصلّى الله على محمّد وعلى آل محمّد، امّا بعد فانّى ذكرت فى كتابى هذا اقاليم الارض على الممالك وقصدت منها بلاد الاسلام بتفصيل مدنها وتقسيم ما يعود بالاعمال المجموعة
[ভূমিকা]সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা নবী মুহাম্মাদ এবং মুহাম্মাদের বংশধরের উপর। আমরা আল্লাহর কাছে তাওফিক এবং সৌভাগ্যময় সমাপ্তি প্রার্থনা করছি। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি নি'য়ামতের সূচনাকারী এবং প্রশংসার মালিক। আল্লাহর সালাত বর্ষিত হোক মুহাম্মাদ এবং মুহাম্মাদের বংশধরের উপর। অতঃপর, আমি আমার এই বইটিতে পৃথিবীর অঞ্চলসমূহকে বিভিন্ন রাজ্যের অধীনে উল্লেখ করেছি এবং আমি এর মাধ্যমে ইসলামের দেশসমূহকে সেগুলোর শহরের বিস্তারিত বিবরণ এবং সংগৃহীত প্রশাসনিক কার্যাবলীর বিন্যাসের সাথে তুলে ধরার ইচ্ছা পোষণ করেছি।
(খণ্ড: ১)
আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল ইস্তখরী আও মাসালিকুল মামালিক - লায়ডেন
(পৃষ্ঠা: ৩)
اليها ولم اقصد الاقاليم السبعة الّتى عليها قسمة الارض بل جعلت كلّ قطعة افردتها مفردة مصوّرة يحكى موضع ذلك الاقليم ثمّ ذكرت ما يحيط به من الاماكن وما فى اضعافه من المدن والبقاع المشهورة والبحار والانهار وما يحتاج الى معرفته من جوامع ما يشتمل عليه ذلك الاقليم من غير ان استقصيت ذلك كراهة الاطالة الّتى تؤدّى الى ملال من قرأه ولانّ الغرض فى كتابى هذا تصوير هذه الاقاليم الّتى لم يذكرها احد علمته وامّا ذكر مدنها وجبالها وانهارها وبحارها والمسافات وسائر ما انا ذاكره فقد يوجد فى الاخبار ولا يتعدّر على من أراد تقصّى شيء من ذلك من اهل كلّ بلد فلذلك تجوّزنا فى ذكر المسافات والمدن وسائر ما نذكره، فاتّخذت لجميع الارض الّتى يشتمل عليها البحر المحيط الّذى لا يسلك صورة اذا نظر اليها ناظر علم مكان كلّ اقليم ممّا ذكرناه واتّصال بعضه ببعض ومقدار كلّ اقليم من الارض حتّى اذا رأى كلّ اقليم من ذلك مفصّلا علم موقعه من هذه الصورة ولم تتّسع هذه الصورة الّتى جمعت سائر الاقاليم لما يستحقّه كلّ اقليم فى صورته من مقدار الطول والعرض والاستدارة والتربيع والتثليث وسائر ما يكون عليه اشكال تلك الصورة فاكتفيت ببيان موقع كلّ اقليم ليعرف مكانه ثمّ افردت لكلّ اقليم من بلاد الاسلام صورة على حدة بيّنت فيها شكل ذلك الاقليم وما يقع فيه من المدن وسائر ما يحتاج الى علمه ممّا آتى على ذكره فى موضعه ان شآء الله تعالى ففصّلت بلاد الاسلام عشرين اقليما وابتدات بديار العرب فجعلتها اقليما لانّ فيها الكعبة ومكّة امّ القرى وهى واسطة هذه الاقاليم ثمّ اتبعت ديار العرب ببحر فارس لانّه يكتنف اكثر ديار العرب ثمّ ذكرت المغرب حتّى انتهيت الى مصر فذكرتها ثمّ ذكرت الشام ثمّ بحر الروم ثمّ الجزيرة ثمّ العراق ثمّ خوزستان ثمّ فارس ثمّ كرمان ثمّ المنصورة وما يتّصل بها من بلاد السند والهند والاسلام ثمّ اذربيجان وما يتّصل بها ثمّ كور الجبال ثمّ الديلم
আমি সেই সাতটি জলবায়ু অঞ্চলের (ইকলিম) উদ্দেশ্য নিইনি যার ওপর ভিত্তি করে পৃথিবীকে বিভক্ত করা হয়েছে, বরং আমি প্রতিটি অংশকে পৃথক করে সচিত্র রূপ দান করেছি যা উক্ত অঞ্চলের অবস্থানকে চিত্রায়িত করে। অতঃপর আমি তার চারপাশের স্থানসমূহ, তার অভ্যন্তরে অবস্থিত শহরসমূহ, প্রসিদ্ধ ভূখণ্ডসমূহ, সমুদ্রসমূহ এবং নদীসমূহ বর্ণনা করেছি। এছাড়া সেই অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত প্রয়োজনীয় বিষয়াবলির সারসংক্ষেপ উল্লেখ করেছি, তবে দীর্ঘসূত্রিতার আশঙ্কায় আমি বিস্তারিত অনুসন্ধানে যাইনি, যা পাঠকের বিরক্তির কারণ হতে পারে। আর আমার এই কিতাবের উদ্দেশ্য হলো সেই অঞ্চলগুলোকে চিত্রায়িত করা যা আমার জানামতে ইতিপূর্বে কেউ এভাবে বর্ণনা করেনি। আর সেসবের শহর, পাহাড়, নদী, সমুদ্র, দূরত্ব এবং অন্যান্য যা কিছু আমি উল্লেখ করতে যাচ্ছি, তা সাধারণত বিভিন্ন বর্ণনায় পাওয়া যায় এবং প্রতিটি দেশের অধিবাসীদের মধ্য থেকে যারা এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চায় তাদের জন্য তা কঠিন নয়; তাই আমি দূরত্ব, শহর এবং অন্যান্য বিবরণের ক্ষেত্রে সংক্ষেপ করার পথ অবলম্বন করেছি। সুতরাং আমি সেই সমস্ত ভূখণ্ডের জন্য একটি মানচিত্র তৈরি করেছি যা অলঙ্ঘনীয় মহাসাগর পরিবেষ্টন করে আছে, যাতে কোনো দর্শক তা দেখলে আমাদের বর্ণিত প্রতিটি অঞ্চলের অবস্থান, একে অপরের সাথে তাদের সংযোগ এবং ভূখণ্ডে প্রতিটি অঞ্চলের আয়তন সম্পর্কে জানতে পারে। ফলে সে যখন প্রতিটি অঞ্চলকে পৃথকভাবে দেখবে, তখন এই সাধারণ মানচিত্র থেকে তার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারবে। আর সমস্ত অঞ্চলকে একত্রিতকারী এই মানচিত্রটি প্রতিটি অঞ্চলের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, গোলাকার, চতুর্ভুজাকার বা ত্রিভুজাকৃতির যথাযথ পরিমাপ এবং সেই ছবির অন্যান্য রূপ ধারণ করার মতো যথেষ্ট প্রশস্ত ছিল না। তাই আমি প্রতিটি অঞ্চলের অবস্থান স্পষ্ট করার মাধ্যমেই সন্তুষ্ট থেকেছি যাতে তার স্থান চেনা যায়। অতঃপর আমি ইসলামি ভূখণ্ডের প্রতিটি অঞ্চলের জন্য স্বতন্ত্র মানচিত্র তৈরি করেছি, যেখানে সেই অঞ্চলের রূপরেখা, সেখানকার শহরসমূহ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়াদি বর্ণনা করেছি যা ইনশাআল্লাহ যথাস্থানে বিস্তারিত আলোচনা করব। আমি ইসলামি ভূখণ্ডসমূহকে বিশটি অঞ্চলে বিভক্ত করেছি। আমি আরব ভূখণ্ড দিয়ে শুরু করেছি এবং একে একটি অঞ্চল হিসেবে গণ্য করেছি, কারণ এতে কাবা এবং উম্মুল কুরা মক্কা অবস্থিত, যা এই অঞ্চলসমূহের কেন্দ্রবিন্দু। এরপর আরব ভূখণ্ডের সাথে পারস্য উপসাগরকে যুক্ত করেছি, কারণ তা অধিকাংশ আরব ভূখণ্ডকে বেষ্টন করে আছে। এরপর আমি মাগরিব বর্ণনা করেছি এবং মিসর পর্যন্ত পৌঁছে তা উল্লেখ করেছি। এরপর শাম (সিরিয়া), তারপর বাহরুর রুম (ভূমধ্যসাগর), তারপর আল-জাজিরা, তারপর ইরাক, তারপর খুজিস্তান, তারপর ফারস (পারস্য), তারপর কিরমান, তারপর আল-মানসুরা এবং এর সাথে সংযুক্ত সিন্দ, হিন্দ ও ইসলামের শহরসমূহ, এরপর আজারবাইজান ও এর সাথে সংযুক্ত অঞ্চলসমূহ, তারপর জাবাল প্রদেশ এবং সবশেষে দাইলাম বর্ণনা করেছি।
(খণ্ড: ১)
আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল ইস্তখরী আও মাসালিকুল মামালিক - লায়ডেন
(পৃষ্ঠা: ৪)
ثمّ بحر الخزر ثمّ المفازة الّتى بين فارس وخراسان ثمّ سجستان وما يتّصل بها ثمّ خراسان ثمّ ما وراء النهر فهذه صورة الارض عامرها والخراب منها وهى مقسومة على الممالك وعماد ممالك الارض اربعة فاعمرها واكثرها خيرا واحسنها استقامة فى السياسة وتقويم العمارات فيها مملكة ايرانشهر وقصبتها اقليم بابل وهى مملكة فارس وكان حدّ هذه المملكة فى ايّام العجم معلوما فلمّا جآء الاسلام اخذت من كلّ مملكة بنصيب فأخذ من مملكة الروم الشام ومصر والمغرب والاندلس وأخذ من مملكة الهند ما اتّصل بارض المنصورة والملتان الى كابل وطرف اعلى طخارستان وأخذ من مملكة الصين ما وراء النهر وانضاف اليها هذه الممالك العظيمة، فمملكة الروم تدخل فيها حدود الصّقالبة ومن جاورهم من الرّوس والسّرير واللّان والأرمن ومن دان بالنصرانيّة ومملكة الصين تدخل فيها سائر بلدان الاتراك وبعض التّبّت ومن دان بدين اهل الاوثان منهم ومملكة الهند تدخل فيها السند وقشمير وطرف من التّبّت ومن دان بدينهم، ولم نذكر بلد السودان فى المغرب والبجة والزنج ومن فى اعراضهم من الامم لانّ انتظام الممالك بالديانات والآداب والحكم وتقويم العمارات بالسياسة المستقيمة وهؤلاء مهملون لهذه الخصال ولا حظّ لهم فى شيء من ذلك
এরপর খাজার সাগর, এরপর পারস্য ও খোরাসানের মধ্যবর্তী মরুভূমি, এরপর সিজিস্তান ও তৎসংলগ্ন এলাকা, এরপর খোরাসান এবং এরপর মা-ওয়ারাউন নাহার (নদীর ওপারের দেশ)। এটিই হলো পৃথিবীর চিত্র—এর আবাদি ও অনাবাদ অঞ্চলসমূহ। এটি বিভিন্ন রাজ্যে বিভক্ত এবং পৃথিবীর প্রধান রাজ্য হলো চারটি। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সমৃদ্ধ, সর্বাধিক কল্যাণময় এবং রাজনীতি ও স্থাপত্যের সুশৃঙ্খল বিন্যাসে সর্বোত্তম হলো ইরানশহর সাম্রাজ্য, যার কেন্দ্রবিন্দু হলো বাবেল অঞ্চল। এটি মূলত পারস্য সাম্রাজ্য এবং অনারবদের যুগে এই সাম্রাজ্যের সীমানা সুপরিচিত ছিল। অতঃপর যখন ইসলামের আবির্ভাব ঘটল, তখন এটি প্রতিটি সাম্রাজ্য থেকে এক একটি অংশ গ্রহণ করল। রোমান সাম্রাজ্য থেকে সিরিয়া, মিশর, মাগরেব ও আন্দালুস বিজিত হলো। হিন্দুস্তান সাম্রাজ্য থেকে মানসুরা ও মুলতান সংলগ্ন এলাকা হতে শুরু করে কাবুল এবং উচ্চ তুখারিস্তানের প্রান্ত পর্যন্ত বিজিত হলো। চীন সাম্রাজ্য থেকে মা-ওয়ারাউন নাহার বিজিত হলো এবং এই বিশাল রাজ্যসমূহ ইসলামের সাথে যুক্ত হলো। রোমান সাম্রাজ্যের সীমানায় সাকালিবা এবং তাদের প্রতিবেশী রুশ, সারির, লান, আরমানি এবং খ্রিস্টধর্মের অনুসারী জাতিসমূহ অন্তর্ভুক্ত। চীন সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হলো তুর্কিদের সমস্ত দেশ, তিব্বতের একাংশ এবং তাদের মধ্যে যারা মূর্তিপূজারী। হিন্দুস্তান সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হলো সিন্ধু, কাশ্মীর, তিব্বতের একটি অংশ এবং যারা তাদের ধর্মাবলম্বী। আর আমরা মাগরেবের সুদানবাসীদের দেশ, বেজা, জাঞ্জ এবং তাদের সমপর্যায়ের জাতিগোষ্ঠীর কথা উল্লেখ করিনি; কারণ সাম্রাজ্যের শৃঙ্খলা নির্ধারিত হয় ধর্ম, শিষ্টাচার ও শাসন ব্যবস্থার মাধ্যমে এবং স্থাপত্যের সমৃদ্ধি ঘটে সুসংহত রাজনীতির দ্বারা। আর এই জাতিগুলো এসব গুণাবলী থেকে বঞ্চিত এবং এগুলোর কোনো কিছুতেই তাদের কোনো অংশ নেই।
(খণ্ড: ১)
আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল ইস্তখরী আও মাসালিকুল মামালিক - লায়ডেন
(পৃষ্ঠা: ৫)
فيستحقّوا به افراد ممالكهم بما ذكرنا به سائر الممالك غير انّ بعض السودان المقاربين لهذه الممالك المعروفة يرجعون الى ديانة ورياضة وحكم ويقاربون اهل هذه الممالك مثل النوبة والحبشة فانّهم نصارى يرتسمون بمذاهب الروم وقد كانوا قبل الاسلام يتّصلون بمملكة الروم على المجاورة لانّ ارض النوبة متاخمة لارض مصر والحبشة على بحر القلزم وبينها وبين أرض مصر مفازة فيها معدن الذهب ويتّصلون بمصر والشام من طريق بحر القلزم، فهذه الممالك المعروفة وقد زادت مملكة الاسلام بما اجتمع اليها من اطراف هذه الممالك وقسمة الارض على الجنوب والشمال فاذا اخذت من المشرق من الخليج الّذى ياخذ من البحر المحيط بارض الصين الى الخليج الّذى ياخذ من هذا البحر المحيط من ارض المغرب بارض الاندلس فقد قسمت الارض قسمين وخطّ هذه القسمة ياخذ من بحر الصين حتّى يقطع بلد الهند ووسط مملكة الاسلام حتّى يمتدّ الى ارض مصر الى المغرب فما كان فى حدّ الشمال من هذين القسمين فاهله بيض وكلّما تباعدوا فى الشمال ازدادوا بياضا وهى اقاليم باردة وما كان ممّا يلى الجنوب من هذين القسمين فانّ اهله سود وكلّما تباعدوا فى الجنوب ازدادوا سوادا واعدل هذه الاماكن ما كان فى الخطّ المستقيم وما قاربه وسنذكر كلّ اقليم من ذلك بما يعرف قربه ومكانه من الاقليم الّذى يصاقبه فامّا مملكة الاسلام فانّ شرقيّها ارض الهند وبحر فارس وغربيّها مملكة الروم وما يتّصل بها من الارمن واللان والران والسرير والخزر والروس وبلغار والصقالبة وطائفة من الترك وشماليّها مملكة الصين وما اتّصل بها من بلاد الاتراك وجنوبيّها بحر فارس، وامّا مملكة الروم فانّ شرقيّها بلاد الاسلام وغربيّها وجنوبيّها البحر المحيط وشماليّها حدود عمل الصين لانّا ضممنا ما بين الاتراك وبلد الروم من الصقالبة وسائر الامم الى بلد الروم، وامّا مملكة الصين فانّ شرقيّها وشماليّها البحر المحيط وامّا جنوبيّها فمملكة الاسلام والهند وامّا غربيّها فهو البحر المحيط ان جعلنا
তাই তারা তাদের রাজ্যের স্বাতন্ত্র্য লাভের যোগ্য, যেমনটি আমরা অন্যান্য রাজ্যের ক্ষেত্রে উল্লেখ করেছি। তবে এই পরিচিত রাজ্যগুলোর নিকটবর্তী কিছু কৃষ্ণাঙ্গ জাতি ধর্ম, শৃঙ্খলা ও শাসনের অনুসারী এবং তারা এই রাজ্যগুলোর অধিবাসীদের কাছাকাছি বৈশিষ্ট্যের অধিকারী, যেমন নূবা ও হাবশা (ইথিওপিয়া); কেননা তারা খ্রিষ্টান এবং রোমীয়দের মাযহাব অনুসরণ করে। ইসলামের আবির্ভাবের পূর্বে প্রতিবেশী হওয়ার কারণে রোমীয় সাম্রাজ্যের সাথে তাদের যোগাযোগ ছিল। কারণ নূবা ভূখণ্ড মিশরের সংলগ্ন এবং হাবশা কুলযুম সাগরের তীরে অবস্থিত। হাবশা ও মিশরের মধ্যবর্তী স্থানে একটি মরুপ্রান্তর রয়েছে যেখানে স্বর্ণখনি আছে। তারা কুলযুম সাগরের পথে মিশর ও শামের সাথে সংযুক্ত। এগুলোই হলো পরিচিত রাজ্যসমূহ। এই রাজ্যগুলোর প্রান্তিক অঞ্চলসমূহ অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ফলে এবং উত্তর ও দক্ষিণে পৃথিবীর বিভক্তির কারণে ইসলামি সাম্রাজ্যের পরিধি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। যদি আপনি পূর্ব দিকে চীনের ভূখণ্ড সংলগ্ন পরিবেষ্টনকারী মহাসাগর থেকে উৎপন্ন উপসাগর থেকে শুরু করে পশ্চিমের আন্দালুস ভূখণ্ড সংলগ্ন এই পরিবেষ্টনকারী মহাসাগর থেকে উৎপন্ন উপসাগর পর্যন্ত ধরেন, তবে পৃথিবী দুই ভাগে বিভক্ত হবে। এই বিভাজন রেখাটি চীন সাগর থেকে শুরু হয়ে হিন্দুস্তান ভূখণ্ড এবং ইসলামি সাম্রাজ্যের মধ্যভাগকে ছেদ করে মিশরের ভূমি হয়ে মাগরিব পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। এই দুই ভাগের মধ্যে যা উত্তরের সীমানায় অবস্থিত, সেখানকার অধিবাসীরা শ্বেতাঙ্গ। তারা উত্তরের দিকে যত দূরে যাবে, তাদের গায়ের রঙ তত বেশি ফর্সা হবে এবং এগুলো শীতল অঞ্চল। আর এই দুই ভাগের মধ্যে যা দক্ষিণের দিকে অবস্থিত, সেখানকার অধিবাসীরা কৃষ্ণাঙ্গ। তারা দক্ষিণ দিকে যত দূরে যাবে, তাদের গায়ের রঙ তত বেশি কালো হবে। এই স্থানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে নাতিশীতোষ্ণ হলো যা সরলরেখায় এবং তার নিকটবর্তী স্থানে অবস্থিত। আমরা এর প্রতিটি অঞ্চল সম্পর্কে তার অবস্থান এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের সাপেক্ষে তার নৈকট্য অনুযায়ী বর্ণনা করব। ইসলামি সাম্রাজ্যের কথা বলতে গেলে, এর পূর্বে হিন্দুস্তান ভূখণ্ড ও পারস্য সাগর, পশ্চিমে রোমীয় সাম্রাজ্য এবং তার সাথে সংযুক্ত আরমান, আল-লান, আর-রান, আস-সারীর, খাযার, রুশ, বুলগার, সাকালিবা ও তুর্কিদের একটি দল, এর উত্তরে চীন সাম্রাজ্য এবং তার সাথে সংযুক্ত তুর্কিদের দেশসমূহ এবং দক্ষিণে পারস্য সাগর। আর রোমীয় সাম্রাজ্যের কথা বলতে গেলে, এর পূর্বে ইসলামি ভূখণ্ড, পশ্চিমে ও দক্ষিণে পরিবেষ্টনকারী মহাসাগর এবং উত্তরে চীন প্রশাসনের সীমানা; কেননা আমরা তুর্কি ও রোম ভূখণ্ডের মধ্যবর্তী সাকালিবা ও অন্যান্য জাতিসমূহকে রোম ভূখণ্ডের অন্তর্ভুক্ত করেছি। আর চীন সাম্রাজ্যের কথা বলতে গেলে, এর পূর্বে ও উত্তরে পরিবেষ্টনকারী মহাসাগর, দক্ষিণে ইসলামি সাম্রাজ্য ও হিন্দুস্তান এবং পশ্চিমে পরিবেষ্টনকারী মহাসাগর, যদি আমরা বিবেচনা করি...
(খণ্ড: ১)
আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল ইস্তখরী আও মাসালিকুল মামালিক - লায়ডেন
(পৃষ্ঠা: ৬)
ياجوج وماجوج وما وراءهم الى البحر من هذه المملكة، وامّا ارض الهند فانّ شرقيّها بحر فارس وغربيّها وجنوبيّها بلاد الاسلام وشماليّها مملكة الصين فهذه حدود هذه الممالك الّتى ذكرناها وامّا البحار فانّ اعظمها بحر فارس وبحر الروم وهما خليجان متقابلان ياخذان من البحر المحيط واعظمهما طولا وعرضا بحر فارس والّذى ينتهى اليه بحر فارس من الارض من حدّ الصين الى القلزم فاذا قطعت من القلزم الى الصين على خطّ مستقيم كان مقداره مائتى مرحلة وذلك انّك اذا قطعت من القلزم الى ارض العراق فى البرّيّة كان نحوا من شهر ومن العراق الى نهر بلخ نحوا من شهرين ومن نهر بلخ الى آخر الاسلام فى حدّ فرغانة نيف وعشرين مرحلة ومن هناك الى ان تقطع أرض الخزلجيّة كلّها فتدخل فى عمل التّغزغز نيف وثلاثين مرحلة ومن هذا المكان الى البحر من آخر عمل الصين نحوا من شهرين، فامّا من اراد قطع هذه المسافة من القلزم الى الصين فى البحر طالت المسافة عليه لكثرة المعاطف والتواء الطرق فى هذا البحر وامّا بحر الروم فانّه ياخذ من البحر المحيط فى الخليج الّذى بين المغرب وارض الاندلس حتّى ينتهى الى الثغور الشاميّة ومقداره فى المسافة نحو من سبعة اشهر وهو احسن استقامة واستواء من بحر فارس وذلك انّك اذا اخذت من فم هذا الخليج ادّاك ريح واحدة الى آخر
ইয়াজুজ ও মাজুজ এবং এই রাজ্যের সমুদ্র পর্যন্ত তাদের পেছনে যা রয়েছে। আর হিন্দ ভূখণ্ড, এর পূর্ব দিকে পারস্য সাগর, এর পশ্চিম ও দক্ষিণ দিকে ইসলামি ভূখণ্ডসমূহ এবং এর উত্তর দিকে চীন সাম্রাজ্য। এগুলো হলো সেই সব রাজ্যের সীমানা যা আমরা উল্লেখ করেছি। আর সমুদ্রসমূহের মধ্যে সবথেকে বিশাল হলো পারস্য সাগর এবং রোম সাগর; এগুলো দুটি পরস্পরমুখী উপসাগর যা মহাসাগর থেকে উৎপন্ন হয়েছে। আর দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে এই দুটির মধ্যে পারস্য সাগরই বৃহত্তম; আর স্থলভাগের দিক থেকে পারস্য সাগর চীনের সীমানা থেকে কুলজুম পর্যন্ত বিস্তৃত। যদি আপনি কুলজুম থেকে চীন পর্যন্ত একটি সরল রেখায় পথ অতিক্রম করেন, তবে তার পরিমাণ হবে দুইশত মারহালা। আর তা এই কারণে যে, আপনি যদি কুলজুম থেকে স্থলপথে ইরাক পর্যন্ত পথ অতিক্রম করেন তবে তা হবে প্রায় এক মাসের পথ, এবং ইরাক থেকে বালখ নদী পর্যন্ত প্রায় দুই মাসের পথ, আর বালখ নদী থেকে ফারগানার সীমানায় অবস্থিত ইসলামি ভূখণ্ডের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত বিশের কিছু বেশি মারহালা, এবং সেখান থেকে খাযলাজিয়া ভূখণ্ড সম্পূর্ণ অতিক্রম করে তুগুযগুয অঞ্চলে প্রবেশ করা পর্যন্ত ত্রিশের কিছু বেশি মারহালা, আর এই স্থান থেকে চীনের শেষ প্রান্তের সমুদ্র পর্যন্ত প্রায় দুই মাসের পথ। তবে যে ব্যক্তি কুলজুম থেকে চীন পর্যন্ত সমুদ্রপথে এই দূরত্ব অতিক্রম করতে চায়, এই সমুদ্রে প্রচুর বাঁক এবং রাস্তার মারপ্যাঁচ থাকার কারণে তার জন্য দূরত্ব দীর্ঘ হয়ে যায়। আর রোম সাগর মহাসাগর থেকে মাগরিব ও আন্দালুস ভূখণ্ডের মধ্যবর্তী উপসাগর হয়ে উৎপন্ন হয়ে শামের সীমান্ত পর্যন্ত গিয়ে ঠেকেছে। দূরত্বের দিক থেকে এর পরিমাণ প্রায় সাত মাস এবং এটি পারস্য সাগরের তুলনায় অধিকতর সোজা ও সুসম। আর এর কারণ হলো, আপনি যদি এই উপসাগরের মুখ থেকে যাত্রা শুরু করেন, তবে একটি বাতাসই আপনাকে এর শেষ প্রান্ত পর্যন্ত পৌঁছে দেবে।
(খণ্ড: ১)
আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল ইস্তখরী আও মাসালিকুল মামালিক - লায়ডেন
(পৃষ্ঠা: ৭)
هذا البحر وبين بحر القلزم الّذى هو لسان بحر فارس وبين بحر الروم على سمت الفرما أربع مراحل غير انّ بحر الروم يجاوز الفرما الى الثغور بنيف وعشرين مرحلة وقد فصّلنا فى مسافات المغرب ما يغنى عن اعادته فمن مصر الى اقصى المغرب نحو من مائة وثمانين مرحلة فكان ما بين اقصى الارض من المغرب الى اقصاها من المشرق نحوا من اربع مائة مرحلة، وامّا عرضها من اقصاها فى حدّ الشمال الى اقصاها فى حدّ الجنوب فانّك تاخذ من ساحل البحر المحيط حتّى تنتهى الى ارض ياجوج وماجوج ثمّ تمرّ على ظهر الصقالبة وتقطع ارض بلغار الداخلة والصقالبة وتمضى فى بلد الروم الى الشام حتّى تخرج فى الشام وارض مصر والنوبة ثمّ تمتدّ فى برّيّة بين بلاد السودان وبلاد الزنج حتّى تنتهى الى البحر المحيط وهذا خطّ ما بين جنوبىّ الارض وشماليّها، فامّا الّذى أعلمه من مسافة هذا الخطّ فانّ من ناحية ياجوج الى ناحية بلغار وارض الصقالبة نجوا من اربعين مرحلة ومن ارض الصقالبة فى بلد الروم الى الشام نحوا من ستّين مرحلة ومن ارض الشام الى ارض مصر نحوا من ثلاثين مرحلة ومنها الى اقصى النوبة نحوا من ثمانين مرحلة حتّى تنتهى الى هذه البرّيّة فذلك مائتان وعشر مراحل كلّها عامرة، وامّا ما بين ياجوج وماجوج والبحر المحيط فى الشمال وما بين براريّ السودان والبحر المحيط فى الجنوب فقفر خراب ما بلغنا انّ فيه عمارة ولا ادرى مسافة هاتين البرّيّتين الى
এই সাগর এবং কুলজুম সাগরের মধ্যবর্তী এলাকা—যা পারস্য সাগরের একটি শাখা—এবং আল-ফারামার অভিমুখে রোম সাগরের মধ্যবর্তী দূরত্ব চার মানজিল। তবে রোম সাগর আল-ফারামা অতিক্রম করে সীমান্ত এলাকা পর্যন্ত বিশের অধিক মানজিল পর্যন্ত বিস্তৃত। মাগরিবের (পশ্চিমাঞ্চল) দূরত্বের বিষয়ে আমরা বিস্তারিত বর্ণনা করেছি যা এখানে পুনরাবৃত্তি করার প্রয়োজন নেই; মিশর থেকে দূরতম মাগরিব পর্যন্ত দূরত্ব প্রায় একশ আশি মানজিল। সুতরাং পৃথিবীর পশ্চিম প্রান্ত থেকে এর পূর্ব প্রান্ত পর্যন্ত দূরত্ব হলো প্রায় চারশ মানজিল। আর পৃথিবীর প্রস্থের কথা বললে, যা উত্তর প্রান্তের শেষ সীমা থেকে দক্ষিণ প্রান্তের শেষ সীমা পর্যন্ত বিস্তৃত, আপনি মহাসাগরের উপকূল থেকে শুরু করবেন যতক্ষণ না ইয়াজুজ ও মাজুজের ভূমিতে পৌঁছান। তারপর আপনি সাকালিবা (স্লাভ) অঞ্চলের ওপর দিয়ে অগ্রসর হবেন এবং অভ্যন্তরীণ বুলগার ও সাকালিবা ভূমি অতিক্রম করবেন, এরপর রোমকদের দেশের মধ্য দিয়ে শামের দিকে যাবেন, যতক্ষণ না শাম, মিশর এবং নূবা অঞ্চলের ভূখণ্ডে প্রবেশ করেন। এরপর এটি সুদান এবং জাঞ্জ অঞ্চলের মধ্যবর্তী মরুভূমির মধ্য দিয়ে বিস্তৃত হয়ে মহাসাগর পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছেছে। এটিই হলো পৃথিবীর দক্ষিণ ও উত্তর প্রান্তের মধ্যবর্তী রেখা। এই রেখার দূরত্ব সম্পর্কে আমি যা জানি তা হলো, ইয়াজুজ অঞ্চল থেকে বুলগার ও সাকালিবা অঞ্চল পর্যন্ত প্রায় চল্লিশ মানজিল। সাকালিবা ভূমি থেকে রোমকদের দেশের মধ্য দিয়ে শাম পর্যন্ত প্রায় ষাট মানজিল এবং শাম থেকে মিশর পর্যন্ত প্রায় ত্রিশ মানজিল। মিশর থেকে দূরতম নূবা পর্যন্ত প্রায় আশি মানজিল, যতক্ষণ না এই মরুভূমি পর্যন্ত পৌঁছানো যায়; ফলে এর মোট দূরত্ব হয় দুইশ দশ মানজিল, যার পুরোটাই আবাদ বা জনবসতিপূর্ণ। আর উত্তরে ইয়াজুজ-মাজুজ ও মহাসাগরের মধ্যবর্তী অঞ্চল এবং দক্ষিণে সুদানের মরুভূমি ও মহাসাগরের মধ্যবর্তী অঞ্চল হলো বিরান ও জনশূন্য প্রান্তর; আমাদের কাছে এমন কোনো খবর পৌঁছেনি যে সেখানে কোনো জনবসতি আছে, আর এই দুই মরুভূমির দূরত্বের পরিমাণও আমার জানা নেই...
(খণ্ড: ১)
আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল ইস্তখরী আও মাসালিকুল মামালিক - লায়ডেন
(পৃষ্ঠা: ৮)
شطّ البحر المحيط كم هى وذلك انّ سلوكهما غير ممكن لفرط البرد الّذى يمنع من العمارة والحياة فى الشمال وفرط الحرّ المانع من الحياة والعمارة فى الجنوب، وامّا ما بين الصين والمغرب فمعمور كلّه، والارض كلّها مستديرة والبحر المحيط محتفّ بها كالطوق وياخذ بحر الروم وبحر فارس من هذا البحر فامّا بحر الخزر فليس ياخذ من هذا الخليج وانّما هو بحر لو اخذ السائر على ساحله من الخزر على ارض الدّيلم وطبرستان وجرجان والمفازة على سياه كوه لرجع الى مكانه الذي سار منه من غير ان يمنعه مانع الّا نهر يقع فيه، وامّا بحيرة خوارزم فكذلك وفى اعراض بلاد الزنج ومن وراء ارض الروم خلجان وبحار لم نذكرها لقصورها عن هذه البحار وكثرتها، وياخذ من البحر المحيط خليج حتّى ينتهى فى ظهر بلد الصقالبة ويقطع ارض الروم على القسطنطينيّة حتّى يقع فى بحر الروم وارض الروم حدّها من البحر المحيط على بلاد الجلالقة وأفرنجة ورومية وأثيناس الى القسطنطينيّة ثمّ الى ارض الصقالبة ويشبه ان يكون نحوا من مائتين وسبعين مرحلة وذاك انّ من حدّ الثغور فى الشمال الى ارض الصقالبة نحوا من شهرين وقد بيّنّا أنّ من الثغور الى اقصى المغرب مائتين وعشر مراحل، والروم المحض من حدّ رومية الى حدّ
পরিবেষ্টনকারী সমুদ্রের তটরেখা কতটুকু তা হলো— উত্তর দিকে প্রচণ্ড শীতের কারণে সেখানে যাতায়াত করা অসম্ভব, যা জনবসতি ও প্রাণের অন্তরায়; আর দক্ষিণ দিকে প্রচণ্ড উত্তাপের কারণে তা জীবন ও জনবসতির জন্য প্রতিবন্ধক। পক্ষান্তরে চীন এবং পশ্চিমের (মাগরিব) মধ্যবর্তী পুরো অঞ্চলই জনবসতিপূর্ণ। পৃথিবী সম্পূর্ণ গোলাকার এবং পরিবেষ্টনকারী সমুদ্র একে একটি বেষ্টনীর মতো ঘিরে রেখেছে। এই সমুদ্র থেকেই রোম সাগর এবং পারস্য সাগর উৎপন্ন হয়েছে। তবে খাজার সাগর এই সাগর থেকে নির্গত হয়নি; বরং এটি এমন একটি সমুদ্র যে, কোনো পরিব্রাজক যদি এর উপকূল ধরে খাজার থেকে দাইলাম, তাবারিস্তান, জুরজান এবং সিয়াহ কুহ-এর মরুভূমি হয়ে পথ চলে, তবে সে কোনো বাধা ছাড়াই—তাতে পতিত কোনো নদী ব্যতীত—পুনরায় সেই স্থানেই ফিরে আসবে যেখান থেকে সে যাত্রা শুরু করেছিল। খাওয়ারেজম হ্রদও ঠিক একই রকম। জানজদের অঞ্চলে এবং রোম দেশের ওপারে আরও কিছু উপসাগর ও সমুদ্র রয়েছে যা আমরা উল্লেখ করিনি, কারণ সেগুলো এই সমুদ্রগুলোর তুলনায় ছোট এবং সংখ্যায় অধিক। পরিবেষ্টনকারী সমুদ্র থেকে একটি উপসাগর নির্গত হয়ে সাকালিবা ভূখণ্ডের পশ্চাৎদেশ পর্যন্ত পৌঁছেছে এবং রোম ভূখণ্ডের মধ্য দিয়ে কনস্টান্টিনোপল হয়ে রোম সাগরে গিয়ে পতিত হয়েছে। রোম ভূখণ্ডের সীমানা পরিবেষ্টনকারী সমুদ্র থেকে জালালিকা, আফ্রাঞ্জা, রুমিয়া এবং আথিনাস হয়ে কনস্টান্টিনোপল পর্যন্ত এবং এরপর সাকালিবা ভূখণ্ড পর্যন্ত বিস্তৃত। এটি সম্ভবত প্রায় দুইশত সত্তর মঞ্জিল হবে। এর কারণ হলো, উত্তরের সীমান্ত এলাকা থেকে সাকালিবা ভূখণ্ড পর্যন্ত দূরত্ব প্রায় দুই মাসের পথ। আর আমরা ইতিপূর্বে বর্ণনা করেছি যে, সীমান্ত থেকে সুদূর পশ্চিম পর্যন্ত দূরত্ব দুইশত দশ মঞ্জিল। আর খাঁটি রোম সাম্রাজ্য রুমিয়ার সীমানা থেকে শুরু করে...
(খণ্ড: ১)
আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল ইস্তখরী আও মাসালিকুল মামালিক - লায়ডেন
(পৃষ্ঠা: ৯)
الصقالبة فامّا ما ضممنا الى بلد الروم من الافرنجة والجلالقة وغيرهم فانّ لسانهم مختلف غير انّ الدين والمملكة واحد كما انّ فى مملكة الاسلام السنة مختلفة والملك واحد وامّا مملكة الصين فانّها نحو من اربعة اشهر فى ثلاثة اشهر فاذا اخذت من فم الخليج حتّى تنتهى الى دار الاسلام ممّا وراء النهر فهو نحو من ثلاثة اشهر واذا اخذت من حدّ المشرق حتّى تقطع الى حدّ المغرب فى ارض التّبّت وتمتدّ فى ارض التغزغز وخرخيز وعلى ظهر كيماك الى البحر فهو نحو من أربعة اشهر، ولمملكة الصين السنة مختلفة فامّا الاتراك كلّها من التغزغز وخرخيز وكيماك والغزّيّة والخزلجيّة فالسنتهم واحدة يفهم بعضهم عن بعض فامّا ارض الصين والتّبّت فلهم لسان مخالف لهذه الالسنة، والمملكة كلّها منسوبة الى صاحب الصين المقيم بخمدان كما انّ مملكة الروم منسوبة الى الملك المقيم بالقسطنطينيّة ومملكة الاسلام منسوبة الى أمير المؤمنين ببغداد ومملكة الهند منسوبة الى الملك المقيم بقنّوج وديار الاتراك متميّزة فامّا الغزّيّة فانّ حدود ديارهم ما بين الخزر وكيماك وأرض الخزلجيّة وبلغار وحدود دار الاسلام ما بين جرجان الى فاراب وأسبيجاب، وامّا ديار الكيماكيّة فانّهم من وراء الخزلجيّة من ناحية الشمال وهم فيما بين الغزّيّة وخرخيز وظهر الصقالبة، وياجوج هم فى ناحية الشمال اذا قطعت ما بين الصقالبة والكيماكيّة والله اعلم بمكانهم وسائر بلادهم، وامّا خرخيز فانّهم ما بين التغزغز وكيماك والبحر المحيط وارض
স্লাভগণ (সাক্বালিবা); আর আমরা রোমানদের ভূখণ্ডের সাথে ফ্রাঙ্ক, গ্যালিসিয়ান এবং অন্যদের যে অঞ্চলগুলো অন্তর্ভুক্ত করেছি, তাদের ভাষা ভিন্ন ভিন্ন, তবে তাদের ধর্ম এবং সাম্রাজ্য এক; যেমনটি ইসলামি সাম্রাজ্যে ভাষা ভিন্ন ভিন্ন হলেও শাসনব্যবস্থা এক। আর চীন সাম্রাজ্যের কথা বলতে গেলে, এর দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ প্রায় চার মাসের পথ ও তিন মাসের পথ। আপনি যদি উপসাগরের মোহনা থেকে যাত্রা শুরু করে মা ওয়ারাউন নাহর (নদীমাতৃক অঞ্চল) এর ইসলামি ভূখণ্ডের শেষ সীমা পর্যন্ত পৌঁছান, তবে তা প্রায় তিন মাসের পথ। আর আপনি যদি পূর্ব সীমান্ত থেকে যাত্রা শুরু করে তিব্বত ভূখণ্ডের পশ্চিম সীমান্ত পর্যন্ত অতিক্রম করেন এবং তা তাগুজগুজ, কিরঘিজ এবং কিমাকদের অঞ্চলের পেছন দিক হয়ে সমুদ্র পর্যন্ত বিস্তৃত হয়, তবে তা প্রায় চার মাসের পথ। চীন সাম্রাজ্যের ভাষাগুলো ভিন্ন ভিন্ন। তবে তুর্কিদের কথা বললে—যেমন তাগুজগুজ, কিরঘিজ, কিমাক, ওঘুজ এবং কারলুক—তাদের সকলের ভাষা এক, তারা একে অপরের ভাষা বুঝতে পারে। তবে চীন এবং তিব্বতের ভাষা এই তুর্কি ভাষাগুলো থেকে ভিন্ন। আর সমগ্র সাম্রাজ্য খুমদানে বসবাসকারী চীনের অধিপতির প্রতি সম্পৃক্ত, যেমন রোমান সাম্রাজ্য কনস্টান্টিনোপলে বসবাসকারী সম্রাটের প্রতি, ইসলামি সাম্রাজ্য বাগদাদে বসবাসকারী আমিরুল মুমিনীনের প্রতি এবং হিন্দুস্তান সাম্রাজ্য কনৌজ-এ বসবাসকারী রাজার প্রতি সম্পৃক্ত। আর তুর্কিদের ভূখণ্ডগুলো স্বতন্ত্র। ওঘুজদের (আল-গুজ্জিয়া) সীমানা হলো খাজার, কিমাক, কারলুকদের ভূখণ্ড, বুলগেরিয়া এবং ইসলামি ভূখণ্ডের সীমানার মধ্যবর্তী অঞ্চল, যা জুরজান থেকে ফারাব ও আসবিজাব পর্যন্ত বিস্তৃত। আর কিমাকদের ভূখণ্ডের কথা বললে, তারা উত্তর দিক থেকে কারলুকদের পেছনে অবস্থিত এবং তারা ওঘুজ, কিরঘিজ ও স্লাভদের পেছনের মধ্যবর্তী অঞ্চলে রয়েছে। আর ইয়াজুজরা উত্তর দিকে অবস্থিত; যদি আপনি স্লাভ ও কিমাকদের মধ্যবর্তী অঞ্চল অতিক্রম করেন (তবে তাদের অবস্থান)। আল্লাহই তাদের অবস্থান এবং তাদের অন্যান্য দেশ সম্পর্কে সর্বাধিক অবগত। আর কিরঘিজরা হলো তাগুজগুজ, কিমাক এবং পরিবেষ্টিত মহাসাগর ও সংশ্লিষ্ট ভূখণ্ডের মধ্যবর্তী স্থানে।
(খণ্ড: ১)
আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল ইস্তখরী আও মাসালিকুল মামালিক - লায়ডেন
(পৃষ্ঠা: ১০)
الخزلجيّة، وامّا التغزغز فانّهم ما بين التّبّت وارض الخزلجيّة وخرخيز ومملكة الصين، وامّا الصين فانّهم ما بين البحر والتغزغز والتّبّت والصين نفسه هو هذا الاقليم وانّما نسبنا سائر بلاد الاتراك اليها فى المملكة كما نسبنا سائر مملكة الروم الى أرض رومية والقسطنطينيّة وكما نسبنا سائر ممالك الاسلام الى ايرانشهر وهو ارض بابل وأرض الصقالبة عريضة طويلة نحو من شهرين فى مثلها، وبلغار الخارجة هى مدينة صغيرة ليس فيها اعمال كثيرة واشتهارها لانّها فرضة لهذه الممالك، والرّوس قوم بناحية بلغار فيما بينها وبين الصقالبة، وقد انقطع طائفة من الاتراك عن بلادهم فصاروا فيما بين الخزر والروم يقال لهم البجناكيّة وليس موضعهم بدار لهم على قديم الايّام وانّما انتابوها فغلبوا عليها، وأمّا الخزر فانّه اسم لهذا الجنس من الناس وامّا البلد فانّه مصر يسمّى أتل وانّما سمّى باسم النهر الّذى يجرى عليه الى بحر الخزر وليس لهذا المصر كثير رسانيق ولا سعة ملك وهو بلد بين بحر الخزر والسّرير والرّوس والغزّيّة، وأمّا التّبّت فانّها بين أرض الصين والهند وأرض الخزلجيّة والتغزغز وبحر فارس وبعضها فى مملكة الهند وبعضها فى مملكة الصين ولهم ملك قائم بنفسه يقال أنّ أصله من التبابعة والله اعلم وامّا جنوبىّ الارض من بلاد السودان فانّ بلد السودان الّذى فى اقصى المغرب على البحر المحيط بلد مكنّف ليس بينه وبين شيء من الممالك اتّصال غير انّ حدّا
খাজলাজিয়া; আর তুগজগুজ সম্পর্কে বলতে গেলে, তারা তিব্বত, খাজলাজিয়া ভূমি, কিরঘিজ এবং চীন সাম্রাজ্যের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। আর চীন হলো সমুদ্র, তুগজগুজ এবং তিব্বতের মধ্যবর্তী অঞ্চল এবং চীন নিজেই হলো এই প্রদেশ। আমরা তুর্কিদের অন্যান্য সমস্ত দেশকেও এই সাম্রাজ্যের সাথে সম্পৃক্ত করেছি, ঠিক যেমন আমরা রোম সাম্রাজ্যের অবশিষ্টাংশকে রুমিয়া ও কনস্টান্টিনোপল ভূমির সাথে এবং ইসলামের অন্যান্য সমস্ত সাম্রাজ্যকে ইরানশাহরের সাথে সম্পৃক্ত করেছি, যা মূলত বাবিল ভূমি। সাকালিবা (স্লাভ) ভূমি দৈর্ঘ্যে ও প্রস্থে অত্যন্ত বিশাল, যা প্রায় দুই মাসের পথ সমপরিমাণ। বাহ্যিক বুলগার একটি ছোট শহর, যেখানে খুব বেশি প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড নেই; এর খ্যাতি মূলত এই সাম্রাজ্যগুলোর জন্য এটি একটি বন্দর হওয়ার কারণে। রুশরা হলো বুলগার অঞ্চলের একটি জাতি, যারা বুলগার এবং সাকালিবাদের মধ্যবর্তী স্থানে বসবাস করে। তুর্কিদের একটি দল তাদের নিজ দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে খাজার ও রোমদের মধ্যবর্তী স্থানে চলে আসে, যাদেরকে পাজানাক (বিজনাকিয়া) বলা হয়। প্রাচীনকাল থেকে এই স্থানটি তাদের আদি নিবাস ছিল না, বরং তারা সেখানে বারবার আক্রমণ চালিয়ে আধিপত্য বিস্তার করে নিয়েছে। আর খাজার হলো এই জনজাতির নাম; আর তাদের দেশটি হলো একটি বৃহৎ শহর যাকে 'আতিল' বলা হয়। এর নামকরণ করা হয়েছে সেই নদীর নামানুসারে যা এর ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে খাজার সাগরের দিকে ধাবিত হয়। এই শহরের খুব বেশি প্রশাসনিক জেলা বা বিশাল রাজত্ব নেই; এটি খাজার সাগর, সারির, রুশ এবং গুজ্জিয়াদের মধ্যবর্তী একটি দেশ। আর তিব্বত হলো চীন, হিন্দুস্তান, খাজলাজিয়া ভূমি, তুগজগুজ এবং পারস্য সাগরের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। এর কিছু অংশ হিন্দুস্তান সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত এবং কিছু অংশ চীন সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত। তাদের নিজস্ব এক স্বাধীন রাজা রয়েছে, যার মূল বংশপরিচয় সম্পর্কে বলা হয় যে তিনি তুব্বা (ইয়ামেনি রাজবংশ) বংশোদ্ভূত; আল্লাহই সর্বজ্ঞ। আর পৃথিবীর দক্ষিণ দিকে সুদানের দেশসমূহের মধ্যে দূরবর্তী মাগরিবের (পশ্চিম) প্রান্তের মহাসমুদ্রের তীরে অবস্থিত সুদান দেশটি একটি অবরুদ্ধ অঞ্চল, যার সাথে অন্য কোনো সাম্রাজ্যের কোনো সংযোগ নেই, তবে একটি সীমানা ব্যতিরেকে...
(খণ্ড: ১)
আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল ইস্তখরী আও মাসালিকুল মামালিক - লায়ডেন
(পৃষ্ঠা: ১১)
له ينتهى الى البحر المحيط وحدّا له الى برّيّة بينه وبين أرض المغرب وحدّا له الى برّيّة بينه وبين ارض مصر على ظهر الواحات وحدّا له ينتهى الى البرّيّة الّتى قلنا انّه لا يثبت فيها عمارة لشدّة الحرّ وبلغنى انّ طول ارضهم نحو من سبع مائة فرسخ فى نحوها غير انّها من البحر الى ظهر الواحات اطول من عرضها، وامّا ارض النوبة فانّ حدّا لها ينتهى الى أرض مصر وحدّا لها الى هذه البرّيّة الّتى بين أرض السودان ومصر وحدّا لها الى أرض البجة وبرارىّ بينها وبين القلزم وحدّا لها الى هذه البرّيّة الّتى لا تسلك، وأمّا أرض البجة فانّ ديارهم صغيرة وهى ما بين الحبشة والنوبة وهذه البرّيّة الّتى لا تسلك، وامّا الحبشة فانّها على بحر القلزم وهو بحر فارس فينتهى حدّ لها الى بلاد الزنج وحدّ لها الى البرّيّة الّتى بين النوبة وبحر القلزم وحدّ لها الى البجة والبرّيّة الّتى لا تسلك، وامّا أرض الزنج فانّها اطول من ارض السودان ولا تتّصل بمملكة غير الحبشة وهى بحذاء اليمن وفارس وكرمان الى أن تحاذى أرض الهند، وامّا أرض الهند فانّ طولها من عمل مكران فى أرض المنصورة والبدهة وسائر بلد السند الى ان تنتهى الى قنّوج ثمّ تجوزه الى أرض التّبّت نحو من أربعة أشهر وعرضها من بحر فارس على أرض قنّوج نحو من ثلاثة اشهر وامّا مملكة الاسلام فانّ طولها من حدّ فرغانة حتّى تقطع خراسان والجبال والعراق وديار العرب الى سواحل اليمن نحو من خمسة أشهر وعرضها من بلد الروم حتّى تقطع الشام والجزيرة والعراق وفارس وكرمان الى أرض المنصورة على شطّ بحر فارس نحو من أربعة أشهر، وانّما تركنا ان نذكر فى طول الاسلام حدّ
এর একটি সীমানা গিয়ে শেষ হয়েছে মুহিত সাগরে (মহাসাগর), অন্য সীমানাটি এর এবং মাগরিব (মরক্কো) অঞ্চলের মধ্যবর্তী মরুপ্রান্তর পর্যন্ত বিস্তৃত। আরেকটি সীমানা মরূদ্যানসমূহের উপরিভাগ দিয়ে এর এবং মিশর ভূখণ্ডের মধ্যবর্তী মরুপ্রান্তর পর্যন্ত বিস্তৃত। আর একটি সীমানা সেই মরুপ্রান্তর পর্যন্ত গিয়ে শেষ হয়েছে যেখানে আমরা ইতিপূর্বে বলেছি যে, প্রচণ্ড গরমের কারণে কোনো জনবসতি টিকে থাকে না। আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, তাদের ভূখণ্ডের দৈর্ঘ্য প্রায় সাতশত ফারসাখ এবং প্রস্থও প্রায় অনুরূপ; তবে সমুদ্র থেকে মরূদ্যানসমূহের উপরিভাগ পর্যন্ত এর দৈর্ঘ্য এর প্রস্থের চেয়ে বেশি। আর নূবা (নুবিয়া) ভূখণ্ড; এর একটি সীমানা মিশর ভূখণ্ডে গিয়ে শেষ হয়েছে এবং অন্য একটি সীমানা সুদান ও মিশরের মধ্যবর্তী এই মরুপ্রান্তর পর্যন্ত বিস্তৃত। এর আরেকটি সীমানা বেজা ভূখণ্ড এবং এর ও কুলযুম সাগরের মধ্যবর্তী মরুভূমিগুলো পর্যন্ত বিস্তৃত। আর একটি সীমানা সেই অগম্য মরুপ্রান্তর পর্যন্ত বিস্তৃত। আর বেজা ভূখণ্ড; তাদের আবাসভূমি অত্যন্ত ছোট এবং তা হাবশা (আবিসিনিয়া), নূবা এবং এই অগম্য মরুপ্রান্তরের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। আর হাবশা; এটি কুলযুম সাগরের তীরে অবস্থিত, যা মূলত পারস্য সাগর। এর একটি সীমানা জানজ দেশ পর্যন্ত গিয়ে শেষ হয়েছে। আরেকটি সীমানা নূবা ও কুলযুম সাগরের মধ্যবর্তী মরুপ্রান্তর পর্যন্ত এবং অন্য একটি সীমানা বেজা ও সেই অগম্য মরুপ্রান্তর পর্যন্ত বিস্তৃত। আর জানজ ভূখণ্ড; এটি সুদান ভূখণ্ডের চেয়েও দীর্ঘ এবং হাবশা ব্যতীত অন্য কোনো রাজ্যের সাথে এর সংযোগ নেই। এটি ইয়ামেন, পারস্য এবং কেরমানের সমান্তরালে অবস্থিত, এমনকি তা ভারত ভূখণ্ডের সমান্তরাল পর্যন্ত পৌঁছেছে। আর ভারত ভূখণ্ড; এর দৈর্ঘ্য মানসূরা রাজ্যের মাকরান অঞ্চল, বুদহা এবং সিন্ধুর অন্যান্য শহর থেকে শুরু করে কন্নৌজ পর্যন্ত গিয়ে শেষ হয়েছে। অতঃপর তা তিব্বত ভূখণ্ড অতিক্রম করে প্রায় চার মাসের পথ পর্যন্ত বিস্তৃত। আর পারস্য সাগর থেকে কন্নৌজ ভূখণ্ড পর্যন্ত এর প্রস্থ প্রায় তিন মাসের পথ। আর ইসলামের রাজ্য; এর দৈর্ঘ্য ফারগানা সীমান্ত থেকে শুরু করে খোরাসান, জিবাল, ইরাক ও আরব ভূখণ্ড অতিক্রম করে ইয়ামেনের উপকূল পর্যন্ত প্রায় পাঁচ মাসের পথ। আর এর প্রস্থ রোম সাম্রাজ্যের দেশ থেকে শুরু করে সিরিয়া (শাম), আল-জাজিরা, ইরাক, পারস্য ও কেরমান অতিক্রম করে পারস্য সাগরের তীরের মানসূরা ভূখণ্ড পর্যন্ত প্রায় চার মাসের পথ। আর ইসলামের দৈর্ঘ্যের বর্ণনায় আমরা যে সীমানাটি উল্লেখ করা ছেড়ে দিয়েছি তা হলো...
(খণ্ড: ১)
আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল ইস্তখরী আও মাসালিকুল মামালিক - লায়ডেন
(পৃষ্ঠা: ১২)
المغرب الى الاندلس لانّها مثل الكمّ فى الثوب وليس فى شرقىّ المغرب ولا فى غربيّها اسلام لانّك اذا جاوزت مصر فى أرض المغرب كان جنوبىّ المغرب بلاد السودان وشمالىّ المغرب بحر الروم ثمّ أرض الروم ولو صلح أن يجعل طول الاسلام من فرغانة الى أرض الاندلس لكان مسيرة ثلاث مائة وعشر مراحل لانّ من اقصى فرغانة الى وادى بلخ نيفا وعشرين مرحلة ومن وادى بلخ الى العراق نحوا من ستّين مرحلة ومن العراق الى مصر نحوا من خمسين مرحلة، وقد بيّنّا فى مسافات المغرب انّ من مصر الى اقصاه مائة وثمانين مرحلة وقصدت فى كتابى هذا تفصيل بلاد الاسلام اقليما اقليما حتّى يعرف موقع كلّ اقليم من مكانه وما يجاوره من سائر الاقاليم ولم تتّسع هذه الصورة الّتى جمعت سائر الاقاليم لما يستحقّه كلّ اقليم فى صورته من مقدار الطول والعرض والاستدارة والتربيع والتثليث وما يكون عليه اشكالها غير انّا بيّنّا لكلّ اقليم مكانا يعرف به موضعه وما يجاوره من سائر الاقاليم ثمّ أفردنا لكلّ اقليم منها صورة على حدة فبيّنّا فيها شكل ذلك الاقليم وما يقع فيه من المدن وسائر ما يحتاج الى علمه ممّا ناتى على ذكره فى موضعه ان شآء الله
ديار العربوابتدات بديار العرب لانّ القبلة بها ومكّة فيها وهى امّ القرى وبلد العرب وأوطانهم الّتى لم يشركهم فى سكناها غيرهم والّذى يحيط بها بحر فارس من عبّادان وهو مصبّ ماء دجلة فى البحر فيمتدّ على البحرين حتّى ينتهى الى عمان ثمّ يعطف على سواحل مهرة وحضرموت وعدن حتّى ينتهى على سواحل اليمن الى جدّة ثمّ يمتدّ على الجار ومدين حتّى
মাগরিব থেকে আন্দালুস পর্যন্ত, কারণ এটি পোশাকের আস্তিনের মতো। মাগরিবের পূর্বে বা পশ্চিমে কোনো ইসলাম (ইসলামি ভূখণ্ড) নেই; কারণ আপনি যখন মাগরিবের ভূমিতে মিশর অতিক্রম করবেন, তখন মাগরিবের দক্ষিণে সুদানের দেশসমূহ এবং মাগরিবের উত্তরে রোম সাগর, অতঃপর রোমক ভূমি অবস্থিত। যদি ফরগানা থেকে আন্দালুস পর্যন্ত ইসলামের দৈর্ঘ্য নির্ধারণ করা সঠিক হতো, তবে তা তিনশত দশ মনজিলের পথ হতো; কারণ ফরগানার দূরবর্তী প্রান্ত থেকে বলখ উপত্যকা পর্যন্ত বিশের অধিক মনজিল, বলখ উপত্যকা থেকে ইরাক পর্যন্ত প্রায় ষাট মনজিল এবং ইরাক থেকে মিশর পর্যন্ত প্রায় পঞ্চাশ মনজিল। মাগরিবের দূরত্বের বর্ণনায় আমরা স্পষ্ট করেছি যে, মিশর থেকে এর শেষ সীমানা পর্যন্ত একশত আশি মনজিল। আমি আমার এই গ্রন্থে ইসলামি দেশসমূহকে প্রতিটি অঞ্চল ধরে বিস্তারিত বর্ণনা করার সংকল্প করেছি, যাতে প্রতিটি অঞ্চলের অবস্থান এবং এর পার্শ্ববর্তী অন্যান্য অঞ্চল সম্পর্কে জানা যায়। এই চিত্রটি, যা সমস্ত অঞ্চলকে একত্রিত করেছে, তাতে প্রতিটি অঞ্চলের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, বৃত্তাকার, চতুর্ভুজ বা ত্রিভুজাকৃতি এবং তাদের বিভিন্ন অবয়ব অনুযায়ী যা প্রাপ্য ছিল তার সংকুলান হয়নি; তবে আমরা প্রতিটি অঞ্চলের জন্য এমন একটি স্থান নির্দিষ্ট করেছি যার মাধ্যমে তার অবস্থান এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলো চেনা যায়। অতঃপর আমরা প্রতিটি অঞ্চলের জন্য পৃথক পৃথক চিত্র অঙ্কন করেছি এবং তাতে সেই অঞ্চলের আকৃতি, সেখানকার শহরসমূহ এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য তথ্যাদি বর্ণনা করেছি যা যথাস্থানে উল্লেখ করা হবে, ইনশাআল্লাহ।
আরব ভূখণ্ডআমি আরব ভূখণ্ড দিয়ে শুরু করেছি কারণ কিবলা সেখানে এবং মক্কা সেখানেই অবস্থিত; যা হলো উম্মুল কুরা, আরবদের দেশ এবং তাদের আবাসভূমি, যেখানে অন্য কেউ তাদের সাথে বসবাসের অংশীদার হয়নি। একে আবাদান থেকে পারস্য সাগর পরিবেষ্টন করে আছে—যা সমুদ্রে দজলা নদীর মোহনা—অতঃপর তা বাহরাইন হয়ে ওমান পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। এরপর তা মাহরাহ, হাদরামাউত এবং এডেনের উপকূল ধরে বাঁক নিয়ে ইয়ামেনের উপকূল হয়ে জেদ্দা পর্যন্ত পৌঁছেছে, অতঃপর তা আল-জার ও মাদইয়ান পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে যেন...
(খণ্ড: ১)
আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল ইস্তখরী আও মাসালিকুল মামালিক - লায়ডেন
(পৃষ্ঠা: ১৩)
ينتهى الى أيلة ثمّ قد انتهى حينئذ حدّ ديار العرب من هذا البحر وهذا المكان من البحر لسان يعرف ببحر القلزم فينتهى الى تاران وجبيلات الى القلزم فينقطع فهذا هو شرقىّ ديار العرب وجنوبيّها وشىء من غربيّها ثمّ يمتدّ عليها من أيلة الى مدينة قوم لوط والبحيرة المنتنة الّتى تعرف ببحيرة زغر الى الشّراة والبلقاء وهى من عمل فلسطين وأذرعات وحوران والبثنيّة والغوطة ونواحى بعلبكّ وذلك من عمل دمشق وتدمر وسلمية وهما من عمل حمص ثمّ الخناصرة وبالس وهما من عمل قنّسرين وقد انتهينا الى الفرات ثمّ يمتدّ الفرات على ديار العرب حتّى ينتهى الى الرّقّة وقرقيسيا والرّحبة والدّالية وعانة والحديثة وهيت والأنبار الى الكوفة ومستفرغ مياه الفرات الى البطائح ثمّ تمتدّ ديار العرب على نواحى الكوفة والحيرة على الخورنق وعلى سواد الكوفة الى حدّ واسط فتصاقب ما قارب دجلة عند واسط مقدار مرحلة ثمّ تمتدّ على سواد البصرة وبطائحها حتّى تنتهى الى عبّادان فهذا الّذى يحيط بديار العرب، فما كان من عبّادان الى أيلة فانّه بحر فارس ويشتمل على نحو ثلاثة ارباع ديار العرب وهو الحدّ الشرقىّ والجنوبىّ وبعض الغربىّ وما بقى من حدّ الغربىّ من أيلة الى بالس فمن الشام وما كان من بالس الى عبّادان فهو الحدّ الشمالىّ فمن بالس الى ان تجاوز الانبار من حدّ الجزيرة ومن الانبار الى عبّادان من
এটি আয়লা পর্যন্ত পৌঁছেছে, অতঃপর তখনই এই সাগর থেকে আরব ভূখণ্ডের সীমানা সমাপ্ত হয়েছে। সাগরের এই স্থানটি একটি সংকীর্ণ অংশ যা কুলযুম সাগর নামে পরিচিত; এটি তারান ও জুবাইলাত হয়ে কুলযুম পর্যন্ত পৌঁছে সমাপ্ত হয়েছে। এটিই হলো আরব ভূখণ্ডের পূর্ব, দক্ষিণ এবং পশ্চিমের কিছু অংশ। অতঃপর তা আয়লা থেকে কওমে লুতের শহর এবং দুর্গন্ধময় হ্রদ—যা যুগর হ্রদ নামে পরিচিত—হয়ে আশ-শরাহ ও আল-বালকা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে; আর এগুলো ফিলিস্তিন প্রদেশের অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া আদরিআত, হাওরান, আল-বাথানিয়্যাহ, আল-গুতা এবং বালবাকের পার্শ্ববর্তী এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত, যা দামেস্ক প্রদেশের অন্তর্ভুক্ত। আর তাদমুর ও সালামিয়্যাহ হিমস প্রদেশের অন্তর্ভুক্ত। অতঃপর আল-খানাসিরাহ ও বালিস পর্যন্ত বিস্তৃত, যা কিন্নাসরিন প্রদেশের অন্তর্ভুক্ত; আর এর মাধ্যমেই আমরা ফোরাত নদী পর্যন্ত পৌঁছেছি। অতঃপর ফোরাত নদী আরব ভূখণ্ড বরাবর বিস্তৃত হয়ে রাক্কা, কারকিসিয়া, আর-রাহবাহ, আদ-দালিয়াহ, আনাহ, আল-হাদিসাহ, হিত এবং আনবার হয়ে কুফা পর্যন্ত পৌঁছেছে। ফোরাত নদীর পানির নির্গমনস্থল হলো জলাভূমি (বাতাইহ); এরপর আরব ভূখণ্ড কুফা ও আল-হিরাহর পার্শ্ববর্তী অঞ্চল, আল-খাওয়ারনাক এবং কুফার গ্রামাঞ্চল হয়ে ওয়াসিত সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। ফলে তা ওয়াসিতের নিকটবর্তী দজলা নদীর তীরের সাথে প্রায় এক মঞ্জিল পরিমাণ দূরত্বে সমান্তরালভাবে চলে; অতঃপর এটি বসরার গ্রামাঞ্চল ও এর জলাভূমি হয়ে আব্বাদান পর্যন্ত পৌঁছেছে। এটিই হলো সেই সীমা যা আরব ভূখণ্ডকে পরিবেষ্টন করে আছে। সুতরাং আব্বাদান থেকে আয়লা পর্যন্ত যা কিছু রয়েছে তা হলো পারস্য সাগর, যা আরব ভূখণ্ডের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ জুড়ে রয়েছে এবং এটিই হলো এর পূর্ব ও দক্ষিণ সীমান্ত এবং পশ্চিমের কিছু অংশ। আয়লা থেকে বালিস পর্যন্ত পশ্চিম সীমান্তের অবশিষ্ট অংশ সিরিয়ার অন্তর্ভুক্ত; আর বালিস থেকে আব্বাদান পর্যন্ত যা রয়েছে তা হলো উত্তর সীমান্ত। ফলে বালিস থেকে আনবার অতিক্রম করা পর্যন্ত জাজিরাহ প্রদেশের সীমান্ত এবং আনবার থেকে আব্বাদান পর্যন্ত...
(খণ্ড: ১)
আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল ইস্তখরী আও মাসালিকুল মামালিক - লায়ডেন
(পৃষ্ঠা: ১৪)
حدّ العراق ويتّصل بارض العرب بناحية أيلة برّيّة تعرف بتيه بنى اسرائيل وهى برّيّة وان كانت متّصلة بديار العرب فليست من ديارهم وانّما هى برّيّة بين أرض العمالقة واليونانيّة وأرض القبط وليس للعرب بها ماء ولا مرعى فلذلك لم ندخلها فى ديارهم وقد سكن طوائف من العرب من ربيعة ومضر الجزيرة حتّى صارت لهم ديارا ومراعى فلم نذكر الجزيرة فى ديار العرب لانّ نزولهم بها وهى ديار فارس والروم فى اضعاف قرى معمورة ومدن لها اعمال عريضة فنزلوا على خفارة فارس والروم حتّى أنّ بعضهم تنصّر ودان بدين الروم مثل تغلب من ربيعة بارض الجزيرة وغسّان وبهرآء وتنوخ من اليمن بارض الشام وديار العرب هى الحجاز الّذى يشتمل على مكّة والمدينة واليمامة ومخاليفها ونجد الحجاز المتّصل بارض البحرين وبادية العراق وبادية الجزيرة وبادية الشام واليمن المشتملة على تهامة ونجد اليمن وعمان ومهرة وحضر موت وبلاد صنعآء وعدن وسائر مخاليف اليمن، فما كان من حدّ السّرّين حتّى ينتهى الى ناحية يلملم ثمّ على ظهر الطائف ممتدّا على نجد اليمن الى بحر فارس مشرّقا فمن اليمن ويكون ذلك نحو الثّلثين من ديار العرب، وما كان من حدّ السّرين على بحر فارس الى قرب مدين راجعا فى حدّ المشرق على الحجر الى جبلى طيّئ ممتدّا على ظهر اليمامة الى بحر فارس فمن الحجاز، وما كان من حدّ اليمامة الى قرب المدينة راجعا على بادية البصرة حتّى تمتدّ على البحرين الى البحر فمن نجد، وما كان من حدّ عبّادان الى الانبار مواجها لنجد والحجاز على أسد وطيّئ وتميم وسائر قبائل مضر فمن بادية العراق، وما كان من حدّ الانبار الى بالس مواجها لبادية الشام على ارض تيمآء وبرّيّة خساف الى قرب وادى
ইরাকের সীমানা এবং যা আয়লা অভিমুখে আরব ভূখণ্ডের সাথে সংযুক্ত, সেখানে বনী ইসরাঈলের তিহ্ (ভ্রান্তিবিলাস) নামক একটি মরুভূমি রয়েছে। এটি এমন একটি মরুভূমি যা আরব ভূখণ্ডের সাথে সংযুক্ত হওয়া সত্ত্বেও তাদের ভূখণ্ডের অন্তর্ভুক্ত নয়; বরং এটি আমালিকা, ইউনানিয়া (গ্রিক) এবং কিবতিদের (মিসরীয়) মধ্যবর্তী একটি মরুভূমি। সেখানে আরবদের জন্য কোনো পানি বা চারণভূমি নেই, তাই আমরা একে তাদের ভূখণ্ডের অন্তর্ভুক্ত করিনি। রবিআ ও মুদার গোত্রের একদল আরব জাজিরায় (মেসোপটেমিয়া) বসবাস করেছে, এমনকি তা তাদের আবাসস্থল ও চারণভূমিতে পরিণত হয়েছে। তবুও আমরা জাজিরাকে আরব ভূখণ্ডের অন্তর্ভুক্ত করিনি, কারণ সেখানে তাদের বসতি স্থাপন হয়েছে এমন সময় যখন তা পারস্য ও রোমের অধিকারে ছিল। এটি ছিল জনবহুল গ্রাম এবং বিস্তৃত প্রশাসনিক শহরসমূহের অভ্যন্তরে; তারা পারস্য ও রোমের আশ্রয়ে সেখানে বসতি স্থাপন করেছিল, এমনকি তাদের কেউ কেউ খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেছিল এবং রোমানদের ধর্ম অনুসরণ করেছিল, যেমন জাজিরা ভূখণ্ডের রবিআ গোত্রের তাগলিব এবং শামের ভূখণ্ডের ইয়েমেনের গাসসান, বাহরা ও তানুখ গোত্র। আর আরব ভূখণ্ড বলতে বুঝায় হিজাজ—যা মক্কা, মদিনা, ইয়ামামা ও তার উপবিভাগসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে, এবং হিজাজের নজদ—যা বাহরাইন ভূখণ্ডের সাথে সংযুক্ত, আর ইরাকের মরুভূমি, জাজিরার মরুভূমি এবং শামের মরুভূমি; এছাড়া ইয়েমেন—যা তিহামাহ, ইয়েমেনের নজদ, ওমান, মাহরাহ, হাদরামাউত, সানা ও আদন শহরসমূহ এবং ইয়েমেনের অন্যান্য উপবিভাগকে অন্তর্ভুক্ত করে। সুতরাং আস-সাররাইনের সীমানা থেকে শুরু করে ইয়ালামলামের দিক পর্যন্ত, অতঃপর তায়েফের উপরিভাগ দিয়ে ইয়েমেনের নজদ হয়ে পূর্ব দিকে পারস্য উপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত অংশটি ইয়েমেনের অন্তর্ভুক্ত; আর এটি আরব ভূখণ্ডের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ। আর আস-সাররাইনের সীমানা থেকে পারস্য উপসাগর হয়ে মাদইয়ানের নিকটবর্তী স্থান পর্যন্ত, যা পূর্ব সীমানায় আল-হিজর হয়ে তাইয়ি গোত্রের দুই পাহাড়ের ওপর দিয়ে ইয়ামামার উপরিভাগ হয়ে পারস্য উপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত, তা হিজাজের অন্তর্ভুক্ত। আর ইয়ামামার সীমানা থেকে মদিনার নিকটবর্তী স্থান পর্যন্ত, যা বসরার মরুভূমি হয়ে বাহরাইন ও সমুদ্র পর্যন্ত বিস্তৃত, তা নজদ-এর অন্তর্ভুক্ত। আর আববাদান-এর সীমানা থেকে আল-আনবার পর্যন্ত, যা নজদ ও হিজাজের মুখোমুখি এবং আসাদ, তাইয়ি, তামিঁম ও মুদার গোত্রের অন্যান্য সকল কবিলার এলাকা দিয়ে অতিক্রান্ত, তা ইরাকের মরুভূমির অন্তর্ভুক্ত। আর আল-আনবারের সীমানা থেকে বালিস পর্যন্ত, যা শামের মরুভূমির মুখোমুখি হয়ে তায়মা ভূখণ্ড ও খুসাফ মরুভূমি দিয়ে ওয়াদির নিকটবর্তী স্থান পর্যন্ত বিস্তৃত...
(খণ্ড: ১)
আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল ইস্তখরী আও মাসালিকুল মামালিক - লায়ডেন
(পৃষ্ঠা: ১৫)
القرى والحجر فمن بادية الجزيرة، وما كان من بالس الى أيلة مواجها للحجاز على بحر فارس الى ناحية مدين معارضا لارض تبوك حتّى يتّصل بديار طيّئ فمن بادية الشام على أنّ من العلماء بتقسيم هذه الديار من زعم انّ المدينة من نجد لقربها منها وانّ مكّة من تهامة اليمن لقربها منها وأنا بمشئة الله وعونه ساذكر ما انتهى اليه علمى من مدنها وما تشتمل عليه المدن ممّا يحتاج الى علمه والمشاهير من ديار العرب بها وجبالها ورمالها وجوامع من المسافات المسلوكة بها، ولا نعلم بارض العرب نهرا ولا بحرا يحمل سفينة لانّ البحيرة المنتنة الّتى تعرف بزغر وان كانت مصاقبة للبادية فليست منها ومجمع الماء الّذى بارض اليمن فى ديار سبأ انّما كان موضع مسيل ماء بنى فى وجهه سدّ فكان يجتمع فيه مياه كثيرة يستعملونها فى القرى والمزارع حتّى كفروا بعد ان كان الله جعل لهم عمارات قرى متّصلة الى الشام فسلّط الله عز وجل على ذلك الماء آفة فكان لا يمسك ماء وهو قوله تعالى وَجَعَلْنا بَيْنَهُمْ وَبَيْنَ الْقُرَى الَّتِي بارَكْنا فِيها
الى قوله وَمَزَّقْناهُمْ كُلَّ مُمَزَّقٍ
فبطل ذلك الماء الى يومنا هذا، وامّا الجداول والعيون والسوانى والآبار فانّها كثيرة ونبتدئ من مدن ديار العرب بمكّة شرّفها الله وهى مدينة فيما بين شعاب الجبال وطول مكّة من المعلاة الى المسفلة نحو ميلين وهو من حدّ الجنوب الى الشمال ومن اسفل جياد الى ظهر قعيقعان نحو الثّلثين من هذا وأبنيتها حجارة والمسجد فى نحو الوسط منها والكعبة فى وسط المسجد وباب الكعبة مرتفع عن الارض نحو قامة وهو مصراع واحد وأرض البيت مرتفعة عن الارض مع الباب والباب بحذاء
আল-কুরা এবং আল-হিজর জাজিরাতুল আরবের মরুভূমির অন্তর্ভুক্ত। আর বালিস থেকে আয়লা পর্যন্ত যা হিজাজের অভিমুখে পারস্য সাগরের তীরে মাদইয়ানের দিকে অবস্থিত এবং তাবুক ভূমির বিপরীতে যা তাই গোত্রের আবাসভূমি পর্যন্ত বিস্তৃত, তা শামের মরুভূমির অন্তর্ভুক্ত। যদিও এই অঞ্চলের বিভাজনকারী আলেমদের মধ্যে এমন কেউ রয়েছেন যিনি দাবি করেন যে, মদীনা নজদ অঞ্চলের নিকটবর্তী হওয়ার কারণে নজদের অন্তর্ভুক্ত এবং মক্কা ইয়েমেনের তিহামার নিকটবর্তী হওয়ার কারণে তিহামার অন্তর্ভুক্ত। আমি আল্লাহর ইচ্ছা ও তাঁর সাহায্যে এর শহরগুলো সম্পর্কে আমার লব্ধ জ্ঞান এবং শহরগুলোতে যা কিছু রয়েছে যা জানা প্রয়োজন, আরব ভূখণ্ডের প্রসিদ্ধ স্থানসমূহ, এর পাহাড়সমূহ, বালুকাময় মরুভূমি এবং যাতায়াতের পথগুলোর দূরত্বের সারসংক্ষেপ বর্ণনা করব। আমরা আরব ভূমিতে এমন কোনো নদী বা সমুদ্র জানি না যা জাহাজ বহন করতে পারে; কারণ জুগার নামে পরিচিত দুর্গন্ধযুক্ত হ্রদটি মরুভূমির নিকটবর্তী হলেও তা এর অন্তর্ভুক্ত নয়। আর ইয়েমেনের সাবা গোত্রের ভূমিতে যে জলাধার ছিল, তা মূলত একটি পানির প্রবাহের পথ ছিল যার মুখে বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল। সেখানে প্রচুর পানি জমা হতো যা তারা গ্রাম ও কৃষি জমিতে ব্যবহার করত। পরিশেষে তারা কুফরি করল, অথচ আল্লাহ তাদের জন্য শাম পর্যন্ত অবিচ্ছিন্ন জনপদ ও স্থাপনা তৈরি করে দিয়েছিলেন। অতঃপর আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালী সেই পানির ওপর এক দুর্যোগ চাপিয়ে দিলেন যার ফলে তা আর পানি ধরে রাখতে পারত না। আর এটাই মহান আল্লাহর বাণী: "আমরা তাদের এবং সেই জনপদগুলোর মাঝে যেগুলোর ওপর আমরা বরকত দান করেছি, দৃশ্যমান বহু জনপদ স্থাপন করেছিলাম..."
তাঁর এই বাণী পর্যন্ত: "অতঃপর আমরা তাদেরকে কাহিনীতে পরিণত করলাম এবং তাদেরকে সম্পূর্ণরূপে ছিন্নভিন্ন করে দিলাম।"
ফলে সেই পানির ব্যবস্থা আমাদের বর্তমান সময় পর্যন্ত অকেজো হয়ে রয়েছে। আর নালা, ঝরনা, সেচযন্ত্র ও কূপগুলো অনেক। আমরা আরব ভূখণ্ডের শহরগুলোর বর্ণনা মক্কা থেকে শুরু করব—আল্লাহ একে সম্মানিত করুন। এটি পাহাড়ের উপত্যকাগুলোর মাঝে অবস্থিত একটি শহর। মক্কার দৈর্ঘ্য মুয়াল্লা থেকে মিসফালাহ পর্যন্ত প্রায় দুই মাইল, যা দক্ষিণ থেকে উত্তর সীমানা পর্যন্ত বিস্তৃত। আর জিয়াদের নিম্নভাগ থেকে কুআইকিআনের উপরিভাগ পর্যন্ত এর দৈর্ঘ্য প্রায় এর দুই-তৃতীয়াংশ। এর ভবনগুলো পাথরের তৈরি। এর প্রায় মধ্যভাগে মসজিদ অবস্থিত এবং মসজিদের মাঝখানে কাবা অবস্থিত। কাবার দরজা ভূমি থেকে প্রায় এক মানুষের উচ্চতা পরিমাণ উঁচুতে অবস্থিত এবং এটি এক পাল্লাবিশিষ্ট। ঘরের মেঝে দরজার সাথে ভূমি থেকে উঁচুতে অবস্থিত এবং দরজাটি...
(খণ্ড: ১)
আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল ইস্তখরী আও মাসালিকুল মামালিক - লায়ডেন
(পৃষ্ঠা: ১৬)
قبّة زمزم والمقام بقرب زمزم على خطّ محاذ للباب، وبين يدى الكعبة ممّا يلى المغرب حائط مبنىّ مدوّر وهو من البيت الّا انّه لم يدخل فيه وهو الحجر والطواف يحيط به وبالبيت وينتهى الى هذا الحجر من البيت ركنان احدهما يعرف بالركن العراقىّ والآخر بالركن الشامى والركنان الآخران احدهما عند الباب والحجر الاسود فيه على أقلّ من قامة والركن الآخر يعرف باليمانى، وسقاية الحاجّ الّتى تعرف بسقاية العبّاس على ظهر زمزم وزمزم فيما بينها وبين البيت، ودار الندوة من المسجد الحرام فى غربيّه وهى خلف دار الامارة مشرعة الى المسجد وهو مسجد قد جمع الى المسجد الحرام وكان فى الجاهليّة مجتمعا لقريش، والصّفا مكان مرتفع من جبل أبى قبيس وبينها وبين المسجد الحرام عرض الوادى الّذى هو طريق وسوق ومن وقف على الصفا كان بحذاء الحجر الاسود، والمسعى ما بين الصفا والمروة، والمروة حجر من جبل قعيقعان ومن وقف عليها كان بحذاء الركن العراقىّ الّا انّ الابنية قد سترت ذلك الركن عن الرّؤية، وأبو قبيس هو الجبل المشرف على الكعبة من شرقيّها، وقعيقعان هو الجبل الّذى عن غربىّ الكعبة وأبو قبيس اعلى وأكبر منه ويقال انّ حجارة البيت من قعيقعان، ومنى على طريق عرفة من مكّة وبينها وبين مكّة ثلاثة اميال ومنّى شعب طوله نحو ميلين وعرضه يسير وبها ابنية كثيرة لاهل كلّ بلد من بلدان الاسلام، ومسجد الخيف فى أقلّ من الوسط ممّا يلى مكّة، وجمرة العقبة فى آخر منى ممّا يلى مكّة وليست العقبة الّتى تنسب اليها الجمرة من منّى والجمرة الاولى والوسطى هما جميعا فوق مسجد الخيف الى ما
জমজম কূপের গম্বুজ এবং মাকাম জমজমের নিকটবর্তী যা দরজার সমান্তরাল রেখায় অবস্থিত। কাবার সামনে পশ্চিম দিকে একটি গোলাকার দেয়াল রয়েছে যা বাইতুল্লাহর অন্তর্ভুক্ত, যদিও তা ঘরের মূল কাঠামোর ভেতরে প্রবেশ করানো হয়নি; একেই 'হিজর' বলা হয়। তাওয়াফ একে এবং কাবা ঘর উভয়কেই পরিবেষ্টন করে সম্পন্ন করতে হয়। বাইতুল্লাহর দুটি কোণ এই হিজরের দিকে শেষ হয়েছে, যার একটি 'রুকনে ইরাকি' এবং অপরটি 'রুকনে শামি' নামে পরিচিত। বাকি দুটি কোণের একটি দরজার কাছে অবস্থিত যাতে মানুষের উচ্চতার চেয়ে কিছুটা কম উচ্চতায় হাজরে আসওয়াদ স্থাপিত রয়েছে, এবং অপর কোণটি 'রুকনে ইয়ামানি' নামে পরিচিত। হাজীদের পানীয় সরবরাহের স্থান যা 'সিকায়াতে আব্বাস' নামে পরিচিত, তা জমজমের পেছনে অবস্থিত এবং জমজম এই পানশালা ও কাবা ঘরের মধ্যবর্তী স্থানে। দারুন নদওয়া মাসজিদুল হারামের পশ্চিম দিকে অবস্থিত, যা দারে ইমারাহ (শাসনকেন্দ্র)-এর পেছনে মসজিদের দিকে উন্মুক্ত। এটি এমন একটি মসজিদ যা মাসজিদুল হারামের সাথে যুক্ত করা হয়েছে এবং জাহেলিয়াত যুগে এটি কুরাইশদের সভাস্থল ছিল। সাফা হলো আবু কুবাইস পাহাড়ের একটি উঁচু স্থান। এর এবং মাসজিদুল হারামের মধ্যবর্তী স্থানে উপত্যকার প্রশস্ত অংশ অবস্থিত যা রাস্তা ও বাজার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যে ব্যক্তি সাফার ওপর দাঁড়াবে, সে হাজরে আসওয়াদের সোজাসুজি অবস্থান করবে। মাসআ হলো সাফা ও মারওয়ার মধ্যবর্তী স্থান। মারওয়া হলো কুআইকিআন পাহাড়ের একটি পাথর। এর ওপর যে দাঁড়াবে সে রুকনে ইরাকি বরাবর অবস্থান করবে, তবে বর্তমানের দালানকোঠা সেই কোণটিকে দৃষ্টি থেকে আড়াল করে রেখেছে। আবু কুবাইস হলো কাবার পূর্ব দিকে অবস্থিত পাহাড় যা এর ওপর ছায়া বিস্তার করে আছে। কুআইকিআন হলো কাবার পশ্চিম দিকের পাহাড়। আবু কুবাইস এর তুলনায় উঁচু ও বড়। বর্ণিত আছে যে, কাবা ঘরের পাথরসমূহ কুআইকিআন থেকেই সংগৃহীত। মিনা মক্কা থেকে আরাফাতের পথে অবস্থিত। মক্কা ও মিনার মধ্যবর্তী দূরত্ব তিন মাইল। মিনা একটি উপত্যকা যার দৈর্ঘ্য প্রায় দুই মাইল এবং প্রস্থ সামান্য। এখানে মুসলিম বিশ্বের প্রতিটি দেশের মানুষের জন্য অসংখ্য দালানকোঠা রয়েছে। মাসজিদুল খাইফ মক্কার দিকের মধ্যভাগের কিছু আগে অবস্থিত। জামরাতুল আকাবাহ মক্কার দিকের মিনার শেষ প্রান্তে অবস্থিত। তবে যে আকাবাহর সাথে এই জামরাটির সম্বন্ধ করা হয়, তা মিনার অংশ নয়। প্রথম ও মধ্যম জামরা উভয়ই মাসজিদুল খাইফের উপরে অবস্থিত...
(খণ্ড: ১)
আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল ইস্তখরী আও মাসালিকুল মামালিক - লায়ডেন
(পৃষ্ঠা: ১৭)
يلى مكّة، والمزدلفة مبيت للحاجّ ومجمع للصلاة اذا صدروا من عرفات وهو مكان بين بطن محسّر والمازمين، وامّا بطن محسّر فهو واد بين منّى والمزدلفة وليس من منّى ولا من المزدلفة، وامّا المازمان فهو شعب بين جبلين يغضى آخره الى بطن عرنة وهو واد بين المازمين وبين عرفة وليس من عرفة، وعرفة ما بين وادى عرنة الى حائط بنى عامر الى ما اقبل على الصّخرات الّتى يكون بها موقف الامام والى طريق حصن، وحائط بنى عامر نخيل عند عرفة وبقربه المسجد الّذى يجمع فيه الامام بين الصلاتين الظهر والعصر وهو حائط نخيل وبه عين وينسب الى عبد الله بن عامر بن كريز، وليس عرفات من الحرم وانّما حدّ الحرم الى المازمين فاذا جزتهما الى العلمين المضروبين فما وراء العلمين من الحلّ وكذلك التّنعيم الّذى يعرف بمسجد عائشة ليس من الحرم والحرم دونه وحدّ الحرم نحو عشرة أميال فى مسيرة يوم وعلى الحرم كلّه منار مضروب يتميّز به من غيره، وليس بمكّة ماء جار الّا شىء بلغنى بعد خروجى عنها أنّه أجرى اليها من عين كان عمل فيها بعض الولاة فاستتمّ فى ايّام المقتدر أمير المؤمنين ومياههم من السماء وليست لهم آبار تشرب وأطيبها بئر زمزم ولا يمكن الادمان على شربه وليس بجميع مكّة فيما علمته شجر مثمر الّا شجر البادية فاذا جزت الحرم فهناك عيون وآبار وحوائط كثيرة واودية ذات خضور ومزارع ونخيل وامّا الحرم فلم ار ولم اسمع انّ بها شجرا مثمرا الّا نخيلات رأيتها بفخّ ونخيلات يسيرة متفرّقة، وأمّا ثبير فهو جبل مشرف يرى من منّى والمردلفة وكانت الجاهليّة لا تدفع من المزدلفة الّا بعد طلوع الشمس اذا اشرقت
মক্কার নিকটবর্তী; আর মুজদালিফাহ হলো হাজীদের রাত্রিযাপনের স্থান এবং সালাতের মিলনস্থল যখন তারা আরাফাত থেকে প্রত্যাবর্তন করে। এটি বাতনে মুহাসসির এবং আল-মাযামাইন-এর মধ্যবর্তী একটি স্থান। আর বাতনে মুহাসসির হলো মিনা ও মুজদালিফার মধ্যবর্তী একটি উপত্যকা, এবং এটি মিনা বা মুজদালিফা—কোনোটিরই অন্তর্ভুক্ত নয়। আর আল-মাযামাইন হলো দুটি পাহাড়ের মধ্যবর্তী একটি গিরিপথ, যার শেষ প্রান্ত বাতনে উরানাহ পর্যন্ত পৌঁছেছে; আর এটি মাযামাইন এবং আরাফাতের মধ্যবর্তী একটি উপত্যকা, যা আরাফাতের অন্তর্ভুক্ত নয়। আরাফাহ হলো উরানাহ উপত্যকা থেকে শুরু করে বনী আমিরের প্রাচীর পর্যন্ত, যা সেই পাথরসমূহের অভিমুখী যেখানে ইমামের অবস্থানের স্থান রয়েছে এবং যা হিসন অভিমুখে পথের দিকে বিস্তৃত। বনী আমিরের প্রাচীর হলো আরাফার নিকটবর্তী একটি খেজুর বাগান, যার পাশেই সেই মসজিদ অবস্থিত যেখানে ইমাম জোহর ও আসরের দুই সালাত একত্রে আদায় করেন। এটি একটি খেজুর বাগান যাতে একটি ঝরনা রয়েছে এবং এটি আবদুল্লাহ ইবনে আমির ইবনে কুরাইয-এর সাথে সম্পর্কিত। আরাফাত হারামের অন্তর্ভুক্ত নয়; বরং হারামের সীমানা হলো মাযামাইন পর্যন্ত। সুতরাং যখন আপনি সেই দুইটিকে অতিক্রম করে স্থাপিত দুইটি স্তম্ভের দিকে যাবেন, তখন সেই স্তম্ভদ্বয়ের পরবর্তী অংশ হিল-এর অন্তর্ভুক্ত। একইভাবে তানঈম, যা আয়েশা (রা.)-এর মসজিদ নামে পরিচিত, হারামের অন্তর্ভুক্ত নয় এবং হারাম তার নিকটেই শেষ হয়। হারামের সীমানা এক দিনের পথ হিসেবে প্রায় দশ মাইল। পুরো হারামের চতুর্দিকে সীমানা চিহ্ন স্থাপিত আছে, যার মাধ্যমে এটিকে অন্যান্য স্থান থেকে আলাদা করা যায়। মক্কায় কোনো প্রবহমান পানি নেই, তবে আমি সেখান থেকে বের হওয়ার পর আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, আমীরুল মুমিনীন আল-মুকতাদিরের আমলে একটি ঝরনা থেকে সেখানে পানি প্রবাহিত করার কাজ সম্পন্ন হয়েছে, যা জনৈক প্রশাসক শুরু করেছিলেন। তাদের পানির উৎস হলো আকাশ, এবং তাদের পানযোগ্য কোনো কূপ নেই। সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উত্তম হলো যমযম কূপ, তবে তা ক্রমাগত পান করা সম্ভব নয়। আমার জানামতে সমগ্র মক্কায় বন্য গাছপালা ছাড়া আর কোনো ফলবান গাছ নেই। আপনি যখন হারাম অতিক্রম করবেন, তখন সেখানে অনেক ঝরনা, কূপ, বাগান, শস্যশ্যামল উপত্যকা, খামার এবং খেজুর বাগান দেখতে পাবেন। কিন্তু হারামের অভ্যন্তরে আমি দেখিনি এবং শুনিনি যে সেখানে কোনো ফলবান গাছ আছে, কেবল ফাখ নামক স্থানে কিছু ছোট খেজুর গাছ এবং বিক্ষিপ্ত কিছু খেজুর গাছ ছাড়া। আর সাবীর হলো একটি সুউচ্চ পাহাড় যা মিনা ও মুজদালিফা থেকে দেখা যায়। জাহেলি যুগের লোকেরা সূর্য উদিত হওয়ার পর যখন তা দীপ্তি ছড়াত, কেবল তখনই মুজদালিফা থেকে প্রস্থান করত।
(খণ্ড: ১)
আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল ইস্তখরী আও মাসালিকুল মামালিক - লায়ডেন
(পৃষ্ঠা: ১৮)
على ثبير وبالمزدلفة المشعر الحرام وهو مصلّى الامام يصلّى به المغرب والعشاء والصبح، والحديبية بعضها فى الحلّ وبعضها فى الحرم وهو مكان صدّ فيه المشركون رسول الله صلى الله عليه وسلم عن المسجد الحرام وهو أبعد الحلّ الى البيت وليس هو فى طول الحرم ولا فى عرضه الّا أنّه فى مثل الزاوية للحرم فلذلك صار بينها وبين المسجد أكثر من يوم وامّا المدينة فهى اقلّ من نصف مكّة وهى فى حرّة سبخة الارض ولها نخيل كثيرة ومياه نخيلهم وزروعهم من الآبار يستقون منها العبيد وعليها سور والمسجد فى نحو من وسطها وقبر النّبيّ صلى الله عليه وسلم من المسجد فى شرقيّه قريبا من القبلة وهو الجدار الشرقىّ من المسجد وهو بيت مرتفع ليس بينه وبين سقف المسجد الّا فرجة وهو مسدود لا باب له وفيه قبر رسول الله صلى الله عليه وسلم وقبر ابى بكر وعمر رضي الله عنهما والمنبر الّذى كان يخطب عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم غشّى بمنبر آخر والروضة امام المنبر بينه وبين القبر، ومصلّى رسول الله الّذى كان يصلّى فيه الاعياد فى غربىّ المدينة داخل الباب، وبقيع الغرقد خارج باب البقيع فى شرقىّ المدينة، وقبآء خارج المدينة على نحو من ميلين الى ما يلى القبلة وهو مجمع بيوت للانصار يشبه القرية، وأحد جبل فى شمالىّ المدينة وهو اقرب الجبال اليها على مقدار فرسخين وبقربها مزارع فيها ضياع لاهل المدينة توازى العقيق فيما بينها وبين الفرع، والفرع من المدينة على أربعة أيّام فى جنوبيّها وبها مسجد جامع غير أنّ أكثر هذه الضياع خراب وكذلك حوالى المدينة ضياع كثيرة وأكثرها خراب، والعقيق واد من المدينة فى قبليّها على أربعة أميال فى طريق مكّة وأعذب مياه تلك الناحية آبار العقيق وأمّا اليمامة فانّ مدينتها دون مدينة الرسول وهى اكثر تمرا ونخلا من المدينة ومن
সাবির পাহাড়ের ওপর এবং মুযদালিফায় মাশআরে হারাম অবস্থিত, যা ইমামের সালাত আদায়ের স্থান; সেখানে তিনি মাগরিব, ইশা এবং ফজর সালাত আদায় করেন। হুদায়বিয়ার কিছু অংশ হিল্ল (হারামের বাইরের এলাকা) এবং কিছু অংশ হারামের অন্তর্ভুক্ত। এটি সেই স্থান যেখানে মুশরিকরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মসজিদে হারাম থেকে বাধা প্রদান করেছিল। এটি বাইতুল্লাহ থেকে হিল্লের সবচেয়ে দূরবর্তী স্থান। এটি হারামের দৈর্ঘ্য বা প্রস্থের মধ্যে নয়, বরং হারামের একটি কোণের মতো স্থানে অবস্থিত; একারণেই এর এবং মসজিদের মধ্যবর্তী দূরত্ব একদিনের পথের চেয়ে বেশি। আর মদিনা মক্কার অর্ধেকেরও কম আয়তনের। এটি একটি লোনা পাথুরে জমিতে অবস্থিত এবং এখানে প্রচুর খেজুর বাগান রয়েছে। তাদের খেজুর বাগান ও ফসলি জমির পানি আসে কূয়া থেকে, যেখান থেকে দাসরা পানি উত্তোলন করে। এর চারপাশে একটি প্রাচীর রয়েছে এবং মসজিদটি এর প্রায় মধ্যস্থলে অবস্থিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কবর মসজিদের পূর্ব দিকে কিবলার কাছাকাছি অবস্থিত। এটি মসজিদের পূর্ব দিকের দেয়াল। এটি একটি উঁচু ঘর, যার এবং মসজিদের ছাদের মাঝখানে সামান্য ফাঁকা অংশ ছাড়া আর কিছু নেই। এটি অবরুদ্ধ, এর কোনো দরজা নেই। এর ভেতরে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবু বকর এবং উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা-এর কবর রয়েছে। যে মিম্বরের ওপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবা দিতেন, তা অন্য একটি মিম্বর দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। রওজা মিম্বরের সামনে, মিম্বর এবং কবরের মাঝখানে অবস্থিত। আল্লাহর রাসূলের ঈদগাহ—যেখানে তিনি দুই ঈদের সালাত আদায় করতেন—মদিনার পশ্চিম দিকে দরজার ভেতরে অবস্থিত। আর বাকী আল-গারকাদ মদিনার পূর্ব দিকে বাকী দরজার বাইরে অবস্থিত। আর কুবা মদিনার বাইরে কিবলার দিকে প্রায় দুই মাইল দূরে অবস্থিত; এটি আনসারদের ঘরবাড়ির একটি সমষ্টি যা একটি গ্রামের মতো। ওহুদ মদিনার উত্তর দিকে অবস্থিত একটি পাহাড়। এটি মদিনার নিকটতম পাহাড়গুলোর একটি, যা প্রায় দুই ফারসাখ দূরত্বে অবস্থিত। এর কাছে কিছু কৃষিক্ষেত ও মদিনাবাসীদের ভূসম্পত্তি রয়েছে, যা আকিকের সমান্তরালে এবং এর ও ফুরার মাঝখানে অবস্থিত। ফুরা মদিনা থেকে চার দিনের দূরত্বে দক্ষিণ দিকে অবস্থিত। সেখানে একটি জামে মসজিদ রয়েছে, তবে এই ভূসম্পত্তিগুলোর অধিকাংশই বর্তমানে পরিত্যক্ত। একইভাবে মদিনার আশেপাশে অনেক ভূসম্পত্তি রয়েছে যেগুলোর বেশিরভাগই পরিত্যক্ত। আকিক হলো মদিনার দক্ষিণ দিকে মক্কাগামী পথে চার মাইল দূরে অবস্থিত একটি উপত্যকা। সেই অঞ্চলের সবচেয়ে সুপেয় পানি হলো আকিকের কূয়াগুলোর পানি। আর ইয়ামামা শহরটি রাসূলের শহরের (মদিনার) চেয়ে ছোট, তবে সেখানে মদিনার চেয়েও বেশি খেজুর ও খেজুর গাছ রয়েছে এবং...
(খণ্ড: ১)
আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল ইস্তখরী আও মাসালিকুল মামালিক - লায়ডেন
(পৃষ্ঠা: ১৯)
سائر الحجاز وأمّا البحرين فانّها فى ناحية نجد ومدينتها هجر وهى اكثر تموّرا الّا انّها ليست من الحجاز وهى على شطّ بحر فارس وهى ديار القرامطة ولها قرى كثيرة وقبائل من مضر ذوو عدد قد احتفّوها وليس بالحجاز مدينة بعد مكّة والمدينة اكبر من اليمامة ويليها فى الكبر وادى القرى وهى ذات نخيل كثيرة وعيون والجار فرضة المدينة وهى على ثلاث مراحل من المدينة على شطّ البحر وهى اصغر من جدّة وجدّة فرضة اهل مكّة على مرحلتين منها على شطّ البحر وهى عامرة كثيرة التجارات والاموال ليس بالحجاز بعد مكّة اكثر مالا وتجارة منها وقوام تجاراتها بالفرس والطائف مدينة صغيرة نحو وادى القرى الّا انّ اكثر ثمارها الزبيب وهى طيّبة الهواء واكثر فواكه مكّة منها وهى على ظهر جبل غزوان، وبغزوان ديار بنى سعد وسائر قبائل هذيل وليس بالحجاز فيما علمته مكان هو أبرد من رأس هذا الجبل ولذلك اعتدل هواء الطائف وبلغنى انّه ربّما جمد الماء فى ذروة هذا الجبل وليس بالحجاز مكان يجمد فيه الماء سوى هذا الموضع فيما علمته والحجر قرية صغيرة قليلة السّكّان وهى من وادى القرى على يوم بين جبال وبها كانت ديار ثمود الّذين قال الله فيهم وثمود الّذين جابوا الصّخر بالواد ورايت تلك الجبال ونحتهم الّذين قال الله وتنحتون من الجبال بيوتا فارهين ورايتها بيوتا مثل بيوتنا فى اضعاف جبال وتسمّى تلك الجبال الأثالب وهى جبال فى العيان متّصلة حتّى اذا توسّطتها رايت كلّ قطعة منها قائمة بنفسها يطوف بكلّ قطعة منها الطائف
হিজাজের অবশিষ্ট অংশ। আর বাহরাইন নজদ অভিমুখে অবস্থিত এবং এর প্রধান শহর হলো হাজার। এটি অত্যন্ত প্রাচুর্যপূর্ণ, তবে এটি হিজাজের অন্তর্ভুক্ত নয়। এটি পারস্য উপসাগরের তীরে অবস্থিত এবং এটি কারামিতা সম্প্রদায়ের আবাসভূমি। এর অনেক গ্রাম রয়েছে এবং মুদার গোত্রের বিশাল এক জনবল একে পরিবেষ্টন করে আছে। হিজাজে মক্কা ও মদিনার পর ইয়ামামার চেয়ে বড় কোনো শহর নেই। আয়তনের দিক থেকে এর পরেই ওয়াদিউল কুরার অবস্থান। এতে প্রচুর খেজুর বাগান ও ঝরনা রয়েছে। আর আল-জার হলো মদিনার বন্দর। এটি সমুদ্রতীরে মদিনা থেকে তিন মনজিল দূরত্বে অবস্থিত এবং এটি জেদ্দার চেয়ে ছোট। জেদ্দা হলো মক্কাবাসীদের বন্দর, যা মক্কা থেকে সমুদ্রতীরে দুই মনজিল দূরত্বে অবস্থিত। এটি আবাদি এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ও সম্পদে সমৃদ্ধ। হিজাজে মক্কার পরে এর চেয়ে অধিক সম্পদ ও ব্যবসা সমৃদ্ধ আর কোনো শহর নেই। এর ব্যবসার মূল ভিত্তি হলো পারস্যের বণিকরা। তায়েফ একটি ছোট শহর, আয়তনে ওয়াদিউল কুরার মতো। তবে এর অধিকাংশ ফল হলো কিশমিশ। এর আবহাওয়া অত্যন্ত মনোরম এবং মক্কার অধিকাংশ ফলমূল এখান থেকেই আসে। এটি গাজওয়ান পাহাড়ের পৃষ্ঠদেশে অবস্থিত। আর গাজওয়ানে বনী সা'দ এবং হুযাইল গোত্রের অন্যান্য শাখাগুলোর বসবাস। আমার জানামতে, হিজাজে এই পাহাড়ের চূড়ার চেয়ে শীতলতর কোনো স্থান নেই। এই কারণেই তায়েফের আবহাওয়া নাতিশীতোষ্ণ। আমি সংবাদ পেয়েছি যে, কখনো কখনো এই পাহাড়ের চূড়ায় পানি জমে বরফ হয়ে যায়। আমার জানামতে, হিজাজে এই স্থানটি ছাড়া আর কোথাও পানি জমে বরফ হয় না। আল-হিজর একটি ছোট গ্রাম, যেখানে জনবসতি খুবই কম। এটি ওয়াদিউল কুরা থেকে পাহাড়ের মাঝখানে একদিনের পথ দূরত্বে অবস্থিত। এখানেই সামুদ জাতির আবাসভূমি ছিল, যাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন: "এবং সামুদ সম্প্রদায়, যারা উপত্যকায় পাথর কেটে নির্মাণকাজ চালিয়েছিল।" আমি সেই পাহাড়গুলো এবং তাদের খোদাইকৃত কাজ দেখেছি, যার সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন: "এবং তোমরা পাহাড় কেটে অত্যন্ত নিপুণতার সাথে ঘর তৈরি করতে।" আমি সেই ঘরগুলোকে আমাদের ঘরের মতোই দেখেছি যা পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে অবস্থিত। এই পাহাড়গুলোকে 'আল-আসারিব' বলা হয়। এগুলো দৃশ্যত পরস্পর সংলগ্ন মনে হলেও যখন আপনি এর ভেতরে প্রবেশ করবেন, তখন দেখবেন প্রতিটি অংশ স্বতন্ত্রভাবে দাঁড়িয়ে আছে এবং প্রতিটি অংশের চারপাশ দিয়ে ঘুরে আসা যায়।
(খণ্ড: ১)
আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল ইস্তখরী আও মাসালিকুল মামালিক - লায়ডেন
(পৃষ্ঠা: ২০)
وحواليها رمل لا يكاد يرتقى الى ذروة كلّ قطعة منها احد الّا بمشقّة شديدة وبها بئر ثمود الّتى قال الله فى الناقة لها شرب ولكم شرب يوم معلوم وتبوك بين الحجر وبين اوّل الشام على اربع مراحل نحو نصف طريق الشام وهو حصن به عين ونخيل وحائط ينسب الى رسول الله صلى الله عليه وسلم ويقال أنّ اصحاب الأيكة الّذين بعث اليهم شعيب كانوا بها ولم يكن شعيب منهم وانّما كان من مدين ومدين على بحر القلزم محاذية لتبوك على نحو من ستّ مراحل وهى اكبر من تبوك وبها البئر الّتى استقى منها موسى عم لسائمة شعيب ورأيت هذه البئر مغطّاة قد بنى عليها بيت وماء اهلها من عين تجرى لهم، ومدين اسم القبيلة الّتى كان منها شعيب وانّما سمّيت القرية بهم الا ترى انّ الله يقول والى مدين أخاهم شغيبا وامّا الجحفة فانّها منزل عامر وبينها وبين البحر نحو من ميلين وهى فى الكبر ودوام العمارة نحو من فيد، وليس بين المدينة ومكّة منزل يستقلّ بالعمارة والاهل جميع السنة الّا الجحفة ولا بين المدينة والعراق مكان يستقلّ بالعمارة والاهل جميع السنة مثل فيد وفيد فى ديار طيّئ وجبلا طيّئ منها على مسيرة يومين وفيها نخيل وزرع قليل لطيّئ وبها ماء قليل يسكنها بادية من طيّئ ينتقلون عنها فى بعض السنة للمراعى وجبلة حصن فى آخر وادى ستّارة ووادى ستارة بين بطن مرّ وعسفان عن يسار الذاهب الى مكّة وطول هذا الوادى نحو من يومين لا يكون الانسان منه فى مكان من بطن هذا الوادى لا يرى فيه نخلا، وعلى ظهر هذا الوادى واد مثل هذا يعرف
এবং এর চারপাশে রয়েছে বালুরাশি, যার প্রতিটি অংশের চূড়ায় অত্যন্ত কষ্ট ছাড়া কারো পক্ষে আরোহণ করা প্রায় অসম্ভব। সেখানে সামুদ জাতির সেই কূপটি রয়েছে, যেটির উট সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন: "তার জন্য রয়েছে পানি পানের একটি নির্দিষ্ট দিন এবং তোমাদের জন্য রয়েছে পানি পানের একটি নির্দিষ্ট দিন।" আর তাবুক হলো হিজর এবং শামের সূচনালগ্নের মধ্যবর্তী স্থানে, যা চার মঞ্জিল দূরত্বে অবস্থিত, যা শামের রাস্তার প্রায় অর্ধেক। এটি একটি দুর্গ যেখানে একটি ঝরনা, খেজুর বাগান এবং একটি দেয়াল রয়েছে যা আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে সম্পর্কিত। এবং বলা হয় যে, আইকাবাসী যাদের নিকট শুআইব (আলাইহিস সালাম)-কে পাঠানো হয়েছিল, তারা এখানেই ছিল। তবে শুআইব (আলাইহিস সালাম) তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না; বরং তিনি ছিলেন মাদইয়ান বংশীয়। আর মাদইয়ান হলো কুলজুম সাগরের তীরে, যা তাবুকের সমান্তরালে প্রায় ছয় মঞ্জিল দূরত্বে অবস্থিত এবং এটি তাবুকের চেয়ে বড়। সেখানে সেই কূপটি রয়েছে যেখান থেকে মুসা (আলাইহিস সালাম) শুআইব (আলাইহিস সালাম)-এর পশুপালের জন্য পানি তুলেছিলেন। আমি এই কূপটিকে ঢাকা অবস্থায় দেখেছি, যার ওপর একটি ঘর তৈরি করা হয়েছে এবং এখানকার অধিবাসীদের পানির উৎস হলো একটি প্রবহমান ঝরনা। মাদইয়ান হলো সেই গোত্রের নাম যার অন্তর্ভুক্ত ছিলেন শুআইব (আলাইহিস সালাম), আর তাদের নামানুসারেই এই জনপদটির নামকরণ করা হয়েছে। আপনি কি দেখেন না যে আল্লাহ বলছেন: "এবং আমি মাদইয়ানবাসীদের নিকট তাদের ভাই শুআইবকে (পাঠিয়েছি)"? আর জুহফা হলো একটি জনাকীর্ণ আবাসস্থল, যার এবং সমুদ্রের মধ্যবর্তী দূরত্ব প্রায় দুই মাইল। বিশালতা এবং জনবসতির স্থায়িত্বের দিক থেকে এটি ফাইদ-এর সমতুল্য। মদিনা এবং মক্কার মধ্যে জুহফা ছাড়া এমন কোনো আবাসস্থল নেই যা সারা বছর জনবসতিপূর্ণ এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ থাকে। আবার মদিনা এবং ইরাকের মধ্যে ফাইদ-এর মতো এমন কোনো স্থান নেই যা সারা বছর জনবসতিপূর্ণ এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ থাকে। আর ফাইদ হলো তাই গোত্রের এলাকায় অবস্থিত এবং তাই-এর পাহাড়দ্বয় এখান থেকে দুই দিনের পথ দূরত্বে। সেখানে তাই গোত্রের কিছু খেজুর গাছ এবং সামান্য চাষাবাদ রয়েছে এবং সেখানে সামান্য পানি পাওয়া যায়। সেখানে তাই গোত্রের বেদুইনরা বসবাস করে, যারা বছরের কিছু সময় চারণভূমির সন্ধানে সেখান থেকে স্থানান্তরিত হয়। জাবালা হলো সিত্তারা উপত্যকার শেষ প্রান্তে অবস্থিত একটি দুর্গ। আর সিত্তারা উপত্যকাটি বাতন-এ মার্র এবং উসফানের মধ্যবর্তী স্থানে, যা মক্কাগামী যাত্রীর বাম দিকে অবস্থিত। এই উপত্যকাটির দৈর্ঘ্য প্রায় দুই দিনের পথ। এই উপত্যকার গর্ভে এমন কোনো স্থান নেই যেখানে কোনো মানুষ অবস্থান করলে খেজুর গাছ দেখতে পাবে না। এবং এই উপত্যকার পৃষ্ঠদেশে অনুরূপ আরেকটি উপত্যকা রয়েছে যা পরিচিত...
(খণ্ড: ১)
আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল ইস্তখরী আও মাসালিকুল মামালিক - লায়ডেন
(পৃষ্ঠা: ২১)
بساية وآخر يعرف بالسائرة، وبجبلة كانت وقعة لبنى تميم فى بكر بن وائل، وفى جرف منها قيل هلك لقيط بن زرارة اخو حاجب خيبر حصن ذات نخيل كثيرة وزروع وينبع حصن بها نخيل وماء وزروع وبها وقوف لعلىّ ابن ابى طالب عم يتولّاها اولاده والعيص حصن صغير بين ينبع والمروة والعشيرة حصن صغير بين ينبع والمروة تفضّل تمورها على سائر تمور الحجاز الّا الصّيحانىّ بخيبر والبردىّ والعجوة بالمدينة وبقرب ينبع جبل رضوى وهو جبل منيف ذو شعاب واودية ورايته من ينبع اخضر واخبرنى من طاف فى شعابه انّ به مياها كثيرة واشجارا، وهو الجبل الّذى زعم طائفة يعرفون بالكيسانيّة انّ محمّد بن الحنفيّة ابن علىّ ابن ابى طالب حىّ مقيم به، ومن رضوى يحمل حجر المسنّ الى سائر الآفاق، وبقربه فيما بينه وبين ديار جهينة وبلىّ وساحل البحر ديار للحسنيّين حزرت بيوت الشعر الّتى يسكنونها نحوا من سبع مائة بيت وهم بادية مثل الاعراب ينتقلون فى المراعى والمياه انتقال الاعراب لا تميّز بينهم فى خلق ولا خلق وتتّصل ديارهم ممّا يلى المشرق بودّان وودّان هذه
বিসাইয়াহ এবং অপরটি সাইরাহ নামে পরিচিত। জাবালাহ নামক স্থানে বকর ইবনে ওয়াইলের বিরুদ্ধে বনী তামিমে একটি যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। এর একটি জুরুফ (খাড়া পাড়) অঞ্চলে বলা হয় যে হাজিবের ভ্রাতা লাকিত ইবনে যুরারাহ মৃত্যুবরণ করেছিলেন। খায়বার প্রচুর খেজুর বাগান এবং কৃষিজমি বিশিষ্ট একটি দুর্গ। ইয়ানবু একটি দুর্গ যেখানে খেজুর গাছ, পানি ও কৃষিজমি রয়েছে এবং সেখানে আলী ইবনে আবু তালিবের ওয়াকফকৃত সম্পত্তি রয়েছে যা তাঁর সন্তানরা পরিচালনা করেন। আল-আইস ইয়ানবু ও আল-মারওয়ার মধ্যবর্তী একটি ক্ষুদ্র দুর্গ। আল-উশাইরাহ ইয়ানবু ও আল-মারওয়ার মধ্যবর্তী একটি ক্ষুদ্র দুর্গ, যার খেজুর খায়বারের সাইহানি এবং মদিনার বারদি ও আজওয়া ব্যতীত হিজাজের অন্য সকল খেজুরের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। ইয়ানবুর সন্নিকটে রাজওয়া পাহাড় অবস্থিত; এটি একটি সুউচ্চ পর্বত যা অনেক গিরিপথ ও উপত্যকা বিশিষ্ট। ইয়ানবু থেকে আমি একে সবুজ দেখেছি। যারা এর গিরিপথগুলোতে বিচরণ করেছেন তারা আমাকে জানিয়েছেন যে সেখানে প্রচুর পানি ও বৃক্ষরাজি রয়েছে। এটি সেই পাহাড় যে সম্পর্কে কায়সানিয়াহ নামক একটি দল দাবি করে যে আলী ইবনে আবু তালিবের পুত্র মুহাম্মদ ইবনুল হানাফিয়াহ সেখানে জীবিত অবস্থায় অবস্থান করছেন। রাজওয়া থেকে শানপাথর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে নিয়ে যাওয়া হয়। এর নিকটবর্তী স্থানে—এটি এবং জুহায়না ও বালি গোত্রের এলাকা এবং সমুদ্র উপকূলের মধ্যবর্তী অঞ্চলে—হাসানিদের বসতি বিদ্যমান। তারা পশমের তৈরি যেসব তাঁবুতে বসবাস করে আমি তার সংখ্যা প্রায় সাতশ বলে অনুমান করেছি। তারা মরুবাসীদের মতো যাযাবর, যারা চারণভূমি ও পানির খোঁজে আরব বেদুইনদের ন্যায় স্থান পরিবর্তন করে। শারীরিক গঠন বা স্বভাব-চরিত্রে তাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য করা যায় না। পূর্ব দিক থেকে তাদের বসতি ওয়াদ্দানের সাথে সংযুক্ত হয়েছে, আর এই ওয়াদ্দান...
(খণ্ড: ১)
আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল ইস্তখরী আও মাসালিকুল মামালিক - লায়ডেন
(পৃষ্ঠা: ২২)
من الجحفة على مرحلة وبينها وبين الأبواء الّتى هى على طريق الحاجّ فى غربيّها ستّة اميال وبها كان فى أيّام مقامى بها رئيس الجعفريّين اعنى اولاد جعفر بن ابى طالب ولهم بالفرع والسائرة ضياع كثيرة وعشيرة واتباع وبينهم وبين الحسنيّين حروب ودمآء حتّى استولت طائفة من اليمن يعرفون ببنى حرب على ضياعهم فصاروا حزبا لهم فضعفوا وتيمآء حصن اعمر من تبوك وهى فى شمالىّ تبوك وبها نخيل وهى ممتار البادية وبينها وبين اوّل الشام ثلاثة ايّام ولا اعلم فيما بين العراق واليمن والشام مكانا الّا وهو فى ديار طائفة من العرب ينتجعونه فى مراعيهم ومياههم الّا ان يكون بين اليمامة والبحرين وبين عمان من وراء عبد القيس برّيّة خالية عن الآبار والسكّان والمراعى قفرة لا تسلك ولا تسكن، فامّا ما بين القادسيّة الى الشّقوق فى الطول وفى العرض من قرب السّماوة الى حدّ بادية البصرة فسكّانها قبائل من بنى أسد، فاذا جزت الشقوق فانت فى ديار طيّئ الى ان تجاوز معدن النّقرة فى الطول وفى العرض من وراء جبلى طيّئ محاذيا لوادى القرى الى ان تتّصل بحدود نجد من اليمامة والبحرين، ثمّ اذا جزت المعدن عن يسار المدينة فانت فى سليم، واذا جزته عن يمين المدينة فانت فى جهينة وفيما بين مكّة والمدينة بكر بن وائل فى قبائل من مضر من الحسنيّين والجعفريّين وقبائل من مضّر، وامّا نواحى مكّة فانّ الغالب على نواحيها ممّا يلى المشرق بنو هلال وبنو سعد فى قبائل من هذيل وفى غربيّها مدلج وغيرها من قبائل مضر، وامّا بادية البصرة فانّها اكثر هذه البوادى احياء وقبائل واكثرها تميم حتّى يتّصلوا بالبحرين واليمامة ثمّ من
জুহফা থেকে এক মনজিল দূরত্বে এবং এর ও আল-আবওয়ার মধ্যে, যা হাজীদের পথে এর পশ্চিমে অবস্থিত, ছয় মাইল দূরত্ব। সেখানে আমার অবস্থানের দিনগুলোতে জাফরিদের প্রধান অবস্থান করতেন, অর্থাৎ জাফর ইবনে আবি তালিবের বংশধরগণ। আল-ফার এবং আস-সাইরাহ অঞ্চলে তাদের অনেক ভূসম্পত্তি, গোত্র এবং অনুসারী রয়েছে। তাদের এবং হাসানীদের মধ্যে যুদ্ধ ও রক্তপাত চলত, যতক্ষণ না ইয়ামেনের একটি দল, যারা বনু হারব নামে পরিচিত, তাদের ভূসম্পত্তি দখল করে নেয়; ফলে তারা তাদের পক্ষে একটি দলে পরিণত হয় এবং দুর্বল হয়ে পড়ে। তায়মা হলো তাবুকের চেয়েও বেশি জনাকীর্ণ একটি দুর্গ এবং এটি তাবুকের উত্তরে অবস্থিত। সেখানে খেজুর বাগান রয়েছে এবং এটি মরুভূমির রসদ সরবরাহের কেন্দ্র। এর এবং শামের শুরুর সীমানার মধ্যে তিন দিনের পথ। ইরাক, ইয়ামেন এবং শামের মধ্যবর্তী অঞ্চলে এমন কোনো স্থান আমার জানা নেই যা কোনো আরব গোত্রের আবাসভূমির অন্তর্ভুক্ত নয়, যেখানে তারা তাদের চারণভূমি ও পানির খোঁজে যাতায়াত করে; কেবল ইয়ামামা ও বাহরাইনের মধ্যবর্তী এবং ওমানের মধ্যবর্তী স্থান ব্যতীত যা আবদ আল-কায়সের পশ্চাৎভাগে অবস্থিত—এটি একটি জনশূন্য মরুভূমি যেখানে কোনো কূপ, অধিবাসী বা চারণভূমি নেই এবং এটি অতিক্রম করা যায় না বা সেখানে বসবাসও করা যায় না। আর দৈর্ঘ্যে কাদিসিয়া থেকে আশ-শুকুওয়াহ পর্যন্ত এবং প্রস্থে সামাওয়াহর নিকটবর্তী এলাকা থেকে বসরার মরুভূমির সীমানা পর্যন্ত এলাকার অধিবাসী হলো বনু আসাদ গোত্রসমূহ। আপনি যখন শুকুওয়াহ অতিক্রম করবেন, তখন আপনি তাইয়্য গোত্রের আবাসভূমিতে প্রবেশ করবেন, যতক্ষণ না দৈর্ঘ্যে মা’দিন আন-নুাকরাহ অতিক্রম করেন এবং প্রস্থে তাইয়্য-এর দুই পাহাড়ের পেছন থেকে ওয়াদি আল-কুরার সমান্তরালে ইয়ামামা ও বাহরাইনের নজদ সীমানা পর্যন্ত পৌঁছান। তারপর আপনি যখন মদিনার বাম দিক দিয়ে খনি অঞ্চল অতিক্রম করবেন, তখন আপনি সুলাইম গোত্রের এলাকায় থাকবেন। আর যদি মদিনার ডান দিক দিয়ে তা অতিক্রম করেন, তবে আপনি জুহাইনা গোত্রের এলাকায় থাকবেন। মক্কা ও মদিনার মধ্যবর্তী অঞ্চলে বকর ইবনে ওয়ায়িল এবং মুদার গোত্রের কিছু শাখা, যেমন হাসানী ও জাফরি এবং মুদারের অন্যান্য গোত্রসমূহ বসবাস করে। মক্কার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের ক্ষেত্রে, এর পূর্ব দিকে বনু হিলাল এবং হুযায়িল গোত্রভুক্ত বনু সা’দ-এর প্রাধান্য রয়েছে। এর পশ্চিম দিকে মুদলিজ এবং মুদার গোত্রের অন্যান্য শাখাগুলো রয়েছে। আর বসরার মরুভূমি হলো এই সকল মরুভূমির মধ্যে সবচেয়ে জনবহুল এবং গোত্রসমৃদ্ধ এলাকা, যাদের অধিকাংশ হলো তামীম গোত্রের, যা বাহরাইন এবং ইয়ামামা পর্যন্ত বিস্তৃত। এরপর...
(খণ্ড: ১)
আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল ইস্তখরী আও মাসালিকুল মামালিক - লায়ডেন
(পৃষ্ঠা: ২৩)
ورائهم عبد القيس، وامّا بادية الجزيرة فانّ بها احياء من ربيعة واليمن واكثرهم كلب اليمن وفى قبيلة منهم يعرفون ببنى العليص خرج صاحب الشأم الّذى فلّ جيوش مصر واوقع باهل الشام حتّى قصده المكتفى بنفسه الى الرّقّة فاخذه، وبادية السماوة من دومة الجندل الى عين التّمر وبرّيّة خساف من بادية الجزيرة، وبرّيّة خساف فيما بين الرّقّة وبالس عن يسار الذاهب الى الشام، وصفّين أرض من هذه البادية بقرب الفرات ما بين الرّقّة وبالس وهو الموضع الّذى كانت به حرب معاوية وعلىّ صلوات الله عليه والحرب ينسب اليه ورايت هذا الموضع من بعد واخبرنى من راى به قبر عمّار بن ياسر رضه وبيت المال الّذى كان يجمع فيه الفىء لعلّى بن أبى طالب صلوات الله عليه، وامّا بادية الشام فانّها ديار لفزارة ولخم وجذام وبلى وقبائل مختلطة من اليمن وربيعة ومضر وأكثرها يمن والرمل المذكور بالحجاز هو الرمل الّذى عرضه من الشقوق الى الأجفر وطوله من وراء جبلى طيّئ الى ان يتّصل مشرّقا بالبحر وهو رمل اصفر ليّن المسّ يكاد بعضه يحكى الغبار وامّا تهامة فانّها قطعة من اليمن وهى جبال مشتبكة اوّلها مشرف على بحر القلزم ممّا يلى غربيّها وشرقيّها بناحية صعدة وجرش ونجران وشماليّها حدود مكّة وجنوبيّها من صنعآء على نحو من عشر مراحل وقد صوّرت جبال تهامة فى صورة ديار العرب وبلاد خيوان
তাদের পেছনে রয়েছে আবদ আল-কায়স। আর আল-জাজিরার মরুভূমির কথা বলতে গেলে, সেখানে রাবিআহ এবং ইয়ামেনের গোত্রগুলোর বসবাস রয়েছে এবং তাদের অধিকাংশ ইয়ামেনের কাল্ব গোত্রের। তাদের মধ্যকার একটি গোত্র যারা বনু আল-উলাইস নামে পরিচিত, সেখান থেকে শামের সেই অধিপতি বের হয়েছিলেন যিনি মিশরের বাহিনীকে পরাজিত করেছিলেন এবং শামের অধিবাসীদের ওপর আক্রমণ চালিয়েছিলেন, পরিশেষে আল-মুক্তাফি স্বয়ং রাক্কার অভিমুখে যাত্রা করে তাকে বন্দি করেন। আর সামাওয়াহ মরুভূমি দূমাতুল জান্দাল থেকে আইনুত তামর পর্যন্ত বিস্তৃত। খাসাফের প্রান্তর আল-জাজিরা মরুভূমির অন্তর্ভুক্ত। খাসাফের প্রান্তরটি রাক্কা ও বালিসের মধ্যবর্তী স্থানে শামের দিকে গমনকারীর বাম পাশে অবস্থিত। সিফফিন হলো এই মরুভূমির একটি ভূমি যা ফুরাত নদীর সন্নিকটে রাক্কা এবং বালিসের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। এটি সেই স্থান যেখানে মুয়াবিয়া ও আলীর (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক) মধ্যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল এবং এই যুদ্ধটি এই স্থানের নামেই প্রসিদ্ধ। আমি দূর থেকে এই স্থানটি দেখেছি এবং আমাকে এমন একজন ব্যক্তি সংবাদ দিয়েছেন যিনি সেখানে আম্মার বিন ইয়াসিরের (রা.) কবর এবং সেই বায়তুল মাল দেখেছিলেন যেখানে আলী বিন আবি তালিবের (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক) জন্য ‘ফায়’ সম্পদ জমা করা হতো। আর শামের মরুভূমি হলো ফাজারা, লাখম, জুযাম, বালি এবং ইয়ামেন, রাবিআহ ও মুদারের মিশ্রিত গোত্রগুলোর আবাসস্থল, যাদের অধিকাংশ ইয়ামেনী। আর হিজাজে উল্লিখিত বালুময় অঞ্চলটি হলো সেই বালিয়াড়ি যার প্রস্থ আল-শুকুওয় থেকে আল-আজফার পর্যন্ত এবং দৈর্ঘ্য তাইয়ি পর্বতমালার পেছন থেকে শুরু করে পূর্ব দিকে সমুদ্রের সাথে মিলিত হওয়া পর্যন্ত বিস্তৃত। এটি নরম স্পর্শের হলুদ রঙের বালি, যা দেখতে অনেকটা ধূলিকণার সদৃশ। আর তিহামা হলো ইয়ামেনের একটি অংশ, যা পরস্পর সংযুক্ত পাহাড় নিয়ে গঠিত; এর পশ্চিমাংশ লোহিত সাগরের (বাহরুল কুলজুম) ওপর দণ্ডায়মান, আর এর পূর্ব দিক হলো সাদাহ, জুরাশ ও নাজরান অঞ্চল। এর উত্তর দিকে মক্কার সীমানা এবং দক্ষিণ দিক সানআ থেকে প্রায় দশ মঞ্জিল দূরত্বে অবস্থিত। আমি আরব উপদ্বীপ এবং খাইওয়ানের মানচিত্রে তিহামার পাহাড়গুলোকে চিত্রিত করেছি।
(খণ্ড: ১)
আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল ইস্তখরী আও মাসালিকুল মামালিক - লায়ডেন
(পৃষ্ঠা: ২৪)
تشتمل على قرى ومزارع ومياه معمورة باهلها وهى مفترشة وبها اصناف من قبائل اليمن ونجران وجرش مدينتان متقاربتان فى الكبر بهما نخيل ويشتملان على احياء من اليمن كثيرة، وصعدة اكبر واعمر منهما وبها يتّخذ ما كان يتّخذ بصنعاء من الادم ويتّخذ بنجران وجرش والطائف ادم كثير غير انّ اكثر ذلك يرتفع من صعدة وبها مجتمع التجّار والاموال والحسنىّ المعروف بالزيدىّ بها مقيم وليس بجميع اليمن مدينة أكبر ولا اكثر اهلا ومرافق من صنعآء وبلغنى انّها من اعتدال الهواء بحيث لا يتحوّل الانسان عن مكان واحد شتآء وصيفا عمره وتتقارب بها ساعات الشتاء والصيف وبها كانت ديار ملوك اليمن فيما تقدّم وبها بناء عظيم قد خرب فهو تل عظيم يعرف بغمدان كان قصرا لملوك اليمن وليس باليمن بناء ارفع منه والمذيخرة جبل للجعفرىّ بلغنى انّ اعلاه نحو عشرين فرسخا فيها مزارع ومياه ونباتها الورس وهو منيع لا يسلك الّا من طريق واحد حتّى تغلّب عليه القرمطىّ الّذى كان خرج باليمن يعرف بمحمّد بن الفضل وشبام جبل
এটি গ্রাম, কৃষিজমি এবং জনবসতিপূর্ণ জলাধার দ্বারা পরিবেষ্টিত। এটি একটি বিস্তৃত এলাকা এবং এখানে ইয়েমেনের বিভিন্ন গোত্রের বসবাস রয়েছে। নাজরান ও জুরাশ আয়তনে কাছাকাছি দুটি শহর। এগুলোতে প্রচুর খেজুর গাছ রয়েছে এবং শহর দুটি ইয়েমেনের অনেক জনপদকে অন্তর্ভুক্ত করে। সাদাহ এই শহর দুটির তুলনায় বড় এবং অধিক জনাকীর্ণ। সানআতে যেভাবে চামড়া প্রক্রিয়াজাত করা হয়, এখানেও তা করা হয়। নাজরান, জুরাশ ও তায়েফেও প্রচুর পরিমাণে চামড়া তৈরি হয়; তবে এর অধিকাংশ উন্নত মানের চামড়া সাদাহ থেকে সংগৃহীত হয়। এখানে ব্যবসায়ী ও বিপুল সম্পদের সমাবেশ ঘটে এবং জায়দি নামে পরিচিত হাসানি ব্যক্তি এখানে অবস্থান করেন। সমগ্র ইয়েমেনে সানআর চেয়ে বড়, অধিক জনবসতিপূর্ণ এবং নাগরিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন কোনো শহর নেই। আমি জানতে পেরেছি যে, সেখানকার আবহাওয়া এতটাই নাতিশীতোষ্ণ যে, একজন মানুষ সারা জীবন শীত বা গ্রীষ্মে তার স্থান পরিবর্তন না করেই এক স্থানে কাটিয়ে দিতে পারে। সেখানে শীত ও গ্রীষ্মের সময়ের ব্যবধানও খুব সামান্য। প্রাচীনকালে এখানেই ইয়েমেনের রাজাদের আবাসস্থল ছিল। সেখানে একটি বিশাল ইমারত ছিল যা বর্তমানে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়ে একটি উঁচু ঢিবির আকার ধারণ করেছে; এটি গুমদান নামে পরিচিত, যা ইয়েমেনের রাজাদের প্রাসাদ ছিল। সমগ্র ইয়েমেনে এর চেয়ে উঁচু কোনো স্থাপনা নেই। আল-মুদাইখিরা হলো জাফারির মালিকানাধীন একটি পাহাড়; আমি জানতে পেরেছি যে এর উপরিভাগ প্রায় বিশ ফারসাখ বিস্তৃত। এখানে কৃষিজমি ও জলাশয় রয়েছে এবং এখানকার বিশেষ উদ্ভিদ হলো ওয়ারস। এটি অত্যন্ত দুর্ভেদ্য এবং কেবল একটি পথ দিয়েই এখানে আরোহণ করা সম্ভব। শেষ পর্যন্ত মুহাম্মদ ইবনুল ফাদল নামক ইয়েমেনের সেই কারমাতি বিদ্রোহী নেতা এটি জয় করে নেয়। আর শিবাম হলো একটি পাহাড়।
(খণ্ড: ১)
আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল ইস্তখরী আও মাসালিকুল মামালিক - লায়ডেন
(পৃষ্ঠা: ২৫)
منيع جدّا فيه قرى ومزارع وسكّان كثيرة وهو مشهور من جبال اليمن ويرتفع من اليمن العقيق والجزع وهما حجران اذا حكّا خرج منهما الجزع والعقيق لانّ وجه الحجر كالغشآء وبلغنى انّهما يكونان فى صحارى فيها حصى فيلتقط من بين الحجارة، وعدن مدينة صغيرة وانّما شهرتها لانّها فرضة على البحر ينزلها السائرون فى البحر وبها معادن اللؤلؤ، وباليمن مدن كثيرة هى اكبر منها ليست بمشهورة وبلاد الاباضيّة بقرب خيوان وهى اعمر بلاد تلك النواحى مخاليف ومزارع واغزرها مياها وحضر موت فى شرقىّ عدن بقرب البحر وبها رمال كثيرة تعرف بالأحقاف وحضرموت فى نفسها مدينة صغيرة ولها اعمال عريضة وبها قبر هود النّبيّ عم وبقربها بلهوت بئر عميقة لا يكاد يستطيع احد ان ينزل الى قعرها وامّا بلاد مهرة فانّ قصبتها تسمّى الشحر وهى بلاد قفرة السنتهم مستعجمة جدّا لا يكاد يوقف عليها وليس ببلادهم نخيل ولا زرع وانّما اموالهم الابل وبها نجب من الابل تفضّل فى السير على سائر النجب واللّبان الّذى يحمل الى الآفاق من هناك وديارهم مفترشة وبلادهم بواد نائية ويقال انّها من عمان وعمان مستقلّة باهلها وهى كثيرة النخيل والفواكه الجروميّة من الموز والرمّان والنبق ونحو ذلك وقصبتها صحار وهى على البحر وبها متاجر البحر وقصد المراكب وهى اعمر مدينة بعمان واكثرها مالا ولا تكاد تعرف على شاطئ بحر فارس بجميع بلاد الاسلام مدينة اكثر عمارة ومالا من صحار، وبها مدن كثيرة وبلغنى انّ حدود اعمالها نحو من ثلاث مائة فرسخ وكان الغالب عليها
এটি অত্যন্ত দুর্ভেদ্য, এতে অনেক গ্রাম, খামার ও বিপুল জনবসতি রয়েছে এবং এটি ইয়েমেনের পাহাড়গুলোর মধ্যে অত্যন্ত প্রসিদ্ধ। ইয়েমেন হতে আকিক ও জায' (এক প্রকার মূল্যবান পাথর) সংগৃহীত হয়; এগুলো এমন দুটি পাথর যে, যখন এগুলোর উপরিভাগ ঘর্ষণ করা হয় তখন তা থেকে জায' ও আকিক বের হয়ে আসে, কারণ পাথরের উপরিভাগ একটি আবরণের ন্যায়। আমি সংবাদ পেয়েছি যে, এগুলো এমন মরুভূমিতে পাওয়া যায় যেখানে নুড়িপাথর থাকে, ফলে অন্যান্য পাথরের মাঝখান থেকে এগুলো কুড়িয়ে নেওয়া হয়। আদন একটি ছোট শহর, এর প্রসিদ্ধির মূল কারণ হলো এটি সমুদ্রতীরবর্তী একটি বন্দর যেখানে সমুদ্রগামী নাবিক ও পর্যটকরা অবতরণ করে এবং সেখানে মুক্তার খনি রয়েছে। ইয়েমেনে এমন অনেক শহর রয়েছে যা আদনের চেয়ে বড় হলেও ততোটা প্রসিদ্ধ নয়। ইবাদি সম্প্রদায়ের জনপদসমূহ খায়ওয়ানের নিকটে অবস্থিত এবং তা ঐ অঞ্চলের সর্বাধিক আবাদকৃত এলাকা, যা বিভিন্ন জেলা ও খামারে সমৃদ্ধ এবং সেখানে পানির প্রাচুর্য সবচেয়ে বেশি। আর হাদরামাউত আদনের পূর্ব দিকে সমুদ্রের নিকটবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত এবং সেখানে প্রচুর বালুকা রাশি রয়েছে যা 'আল-আহকাফ' নামে পরিচিত। হাদরামাউত মূলত একটি ছোট শহর হলেও এর প্রশাসনিক পরিধি অত্যন্ত বিস্তৃত এবং সেখানে নবী হুদ (আলাইহিস সালাম)-এর কবর অবস্থিত। এর নিকটেই 'বারহুত' নামক একটি গভীর কূপ রয়েছে যার তলদেশে পৌঁছানো কারো পক্ষেই প্রায় সম্ভব নয়। আর মাহরা অঞ্চলের প্রধান শহরকে 'আশ-শিহর' বলা হয়। এটি একটি জনশূন্য ঊষর এলাকা; তাদের ভাষা অত্যন্ত দুর্বোধ্য যা প্রায় বোঝাই যায় না। তাদের ভূখন্ডে কোনো খেজুর বাগান বা শস্যক্ষেত নেই, তাদের প্রধান সম্পদ হলো উট। সেখানে এমন উন্নত জাতের উট পাওয়া যায় যা গতির দিক থেকে অন্যান্য সকল উটের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। লুবান (ধূপ), যা পৃথিবীর দিগন্তজুড়ে বহন করে নেওয়া হয়, তা সেখান থেকেই সংগৃহীত হয়। তাদের বসতিগুলো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে এবং তাদের অঞ্চলগুলো মূলত দুর্গম উপত্যকাসমূহ। বলা হয়ে থাকে যে, এটি ওমানের অন্তর্ভুক্ত। ওমান তার অধিবাসীদের নিয়ে স্বতন্ত্র একটি অঞ্চল এবং সেখানে প্রচুর খেজুর গাছ ও গ্রীষ্মমন্ডলীয় ফলমূল যেমন—কলা, ডালিম, কুল এবং অনুরূপ ফল উৎপাদিত হয়। এর প্রধান শহর হলো 'সুহার' যা সমুদ্র উপকূলে অবস্থিত। সেখানে সামুদ্রিক বাণিজ্য কেন্দ্র ও জাহাজসমূহের নোঙর করার স্থান রয়েছে। এটি ওমানের সবচেয়ে সমৃদ্ধ ও সম্পদশালী শহর। সমগ্র ইসলামি ভূখন্ডে পারস্য সাগরের তীরে সুহারের চেয়ে অধিক জনাকীর্ণ ও সম্পদশালী কোনো শহর আছে বলে জানা যায় না। সেখানে অনেক শহর রয়েছে এবং আমি সংবাদ পেয়েছি যে এর প্রশাসনিক সীমানা প্রায় তিনশ ফারসাখ পর্যন্ত বিস্তৃত এবং এর উপর প্রভাব ছিল...
(খণ্ড: ১)
আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল ইস্তখরী আও মাসালিকুল মামালিক - লায়ডেন
(পৃষ্ঠা: ২৬)
الشراة الى ان وقع بينهم وبين طائفة من بنى سامة بن لؤىّ وهم من كبرآء تلك النواحى حروب فخرج منهم رجل يعرف بمحمّد بن القاسم السامىّ الى المعتضد فاستنجده فبعث معه بابن ثور ففتح عمان للمعتضد واقام بها الخطبة له وانحاز الشراة الى ناحية لهم تعرف بنزوة والى يومنا هذا بها امامهم وبقيّة مالهم وجماعتهم، وعمان بلاد حارّة جدّا وبلغنى ان بمكان منها بعيد عن البحر ربّما وقع ثلج دقيق ولم ار احدا شاهد ذلك الّا بالابلاغ وبارض سبأ من اليمن طوائف من حمير وكذلك بارض حضرموت، وامّا ديار همدان وأشعر وكندة وخولان فانّها مفترشة فى أعراض اليمن وفى اضعافها مخاليف وزروع وبها بواد وقرى تشتمل على بعض تهامة وبعض نجد اليمن من شرقىّ تهامة وهى قليلة الجبال مستوية البقاع، ونجد اليمن غير نجد الحجاز غير انّ جنوبىّ نجد الحجاز يتّصل بشمالىّ نجد اليمن وبين البحرين وبين عمان برّيّة ممتنعة وباليمن قرود كثيرة بلغنى أنّها تكثر حتّى لا تطاق الّا بجمع عظيم واذا اجتمعوا كان لهم كبير يتبعونه مثل اليعسوب للنحل، وبها دابّة تسمّى العدار بلغنى انّها تطلب الانسان فتقع عليه فان اصاب منه ذلك تدوّد جوف الانسان فانشقّ، ويحكى عن الغيلان بها من الاعجوبة ما لا استجيز حكايته واما المسافات بديار العرب فانّ الّذى يحيط بها من عبّادان الى البحرين
শুরাতদের মধ্যে এবং বনু সামা বিন লুয়াই-এর একটি দলের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়া পর্যন্ত এই অবস্থা চলতে থাকে, যারা ছিল সেই অঞ্চলের অন্যতম নেতৃস্থানীয় গোষ্ঠী। তাদের মধ্য থেকে মুহাম্মদ বিন কাসেম আস-সামি নামক এক ব্যক্তি আল-মুতাদিদের কাছে গিয়ে সাহায্য প্রার্থনা করলে তিনি তার সাথে ইবনে সওরকে পাঠালেন। ইবনে সওর আল-মুতাদিদের পক্ষে ওমান বিজয় করেন এবং সেখানে তার নামে খুতবা প্রদানের ব্যবস্থা করেন। এরপর শুরাতরা তাদের একটি অঞ্চলের দিকে সরে যায় যা 'নাজওয়া' নামে পরিচিত; বর্তমান সময় পর্যন্ত তাদের ইমাম, অবশিষ্ট সম্পদ এবং তাদের দলটি সেখানেই অবস্থান করছে। ওমান অত্যন্ত উষ্ণ একটি দেশ। আমি জানতে পেরেছি যে, সমুদ্র থেকে দূরবর্তী ওমানের কোনো কোনো স্থানে কখনও কখনও হালকা তুষারপাত হয়; তবে আমি কাউকে এটি সরাসরি প্রত্যক্ষ করতে দেখিনি, কেবল লোকমুখে বর্ণনা শুনেছি। ইয়ামেনের সাবা ভূমিতে হিমইয়ার গোত্রের বিভিন্ন শাখা রয়েছে এবং হাজরামাউত ভূমিতেও অনুরূপ রয়েছে। আর হামদান, আশআর, কিনদাহ এবং খাওলান গোত্রসমূহের আবাসস্থল ইয়ামেনের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বিস্তৃত। এর অভ্যন্তরে বিভিন্ন প্রশাসনিক এলাকা ও শস্যক্ষেত রয়েছে এবং সেখানে এমন কিছু মরুভূমি ও গ্রাম রয়েছে যা তিহামার কিছু অংশ এবং পূর্ব তিহামার ইয়ামেনী নজদকে অন্তর্ভুক্ত করে। এই অঞ্চলটি স্বল্প পাহাড় বিশিষ্ট এবং সমতল ভূমি সমৃদ্ধ। ইয়ামেনের নজদ হিজাজের নজদ থেকে পৃথক, তবে হিজাজের নজদের দক্ষিণ অংশ ইয়ামেনের নজদের উত্তর অংশের সাথে সংযুক্ত। বাহরাইন এবং ওমানের মধ্যবর্তী স্থানে এক দুর্গম মরুভূমি রয়েছে। ইয়ামেনে প্রচুর বানর রয়েছে; আমি শুনেছি যে তাদের সংখ্যা এত বেশি যে বিশাল জনবল ছাড়া তাদের মোকাবিলা করা সম্ভব হয় না। তারা যখন সমবেত হয়, তখন তাদের একজন নেতা থাকে যাকে তারা অনুসরণ করে, যেমন মৌমাছিরা তাদের সর্দারকে অনুসরণ করে। সেখানে 'আদশার' নামক এক প্রকার প্রাণী রয়েছে; আমি জানতে পেরেছি যে এটি মানুষের সন্ধান করে এবং তার ওপর আক্রমণ করে। যদি এটি মানুষকে আক্রান্ত করে, তবে তার পেটের ভেতরে কীড়া বা কৃমি জন্মে এবং তা ফেটে যায়। সেখানে 'গীলান' সম্পর্কে এমন সব বিস্ময়কর কাহিনী প্রচলিত আছে যা বর্ণনা করার অনুমতি আমি নিজেকে দিচ্ছি না। আরব ভূখণ্ডের দূরত্বসমূহের বর্ণনায়, আবাদান থেকে বাহরাইন পর্যন্ত যা একে পরিবেষ্টন করে আছে—
(খণ্ড: ১)
আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল ইস্তখরী আও মাসালিকুল মামালিক - লায়ডেন
(পৃষ্ঠা: ২৭)
نحو من 15 مرحلة ومن البحرين الى عمان نحو من شهر ومن عمان الى ارض مهرة نحو من شهر والى حضرموت من مهرة نحو شهر ومن اقصى حضرموت الى عدن نحو شهر ومن عدن الى جدّة نحو شهر ومن جدّة الى ساحل الجحفة نحو 5 مراحل ومن ساحل الجحفة الى الجار نحو من 3 مراحل ومن الجار الى ايلة نحو من 20 مرحلة ومن ايلة الى بالس نحو من 20 مرحلة ومن بالس الى الكوفة نحو من 20 مرحلة ومن الكوفة الى البصرة نحو من 14 مرحلة ومن البصرة الى عبّادان نحو مرحلتين فهذا هو الدور الّذى يحيط بها وامّا طرقها فانّ من الكوفة الى المدينة نحو من 20 مرحلة ومن المدينة الى مكّة نحو من 10 مراحل وطريق الجادّة من الكوفة الى مكّة اقصر من هذا الطريق بنحو من 3 مراحل اذا انتهى الى معدن النقرة عدل عن المدينة حتّى يخرج على معدن بنى سليم الى ذات عرق حتّى ينتهى الى مكّة، وامّا طريق البصرة فهو الى المدينة نحو من 18 مرحلة ويلتقى مع طريق الكوفة بقرب معدن النقرة، وامّا طريق البحرين الى المدينة فنحو من 15 مرحلة، وامّا طريق الرّقّة الى المدينة فنحو من 20 مرحلة وكذلك من دمشق الى المدينة نحو من 20 مرحلة ومن فلسطين الى المدينة نحو من 20 مرحلة ومن مصر الى المدينة على الساحل نحو من 20 مرحلة، ولم نفرد لمصر والمغرب طريقا لانّه يلتقى بايلة مع طريق اهل فلسطين فيصير الطريقان سوى وهو اوّل حدّ البادية وانّما يتفرّق قبل دخول البادية، ولاهل مصر وفلسطين اذا جاوزوا مدين طريقان احدهما الى المدينة على بدا وشغب قرية بالبادية كانوا بنو مروان اقطعوها الزّهرىّ المحدّث وبها قبره حتّى ينتهى الى المدينة على المروة، وطريق يمضى على ساحل البحر حتّى يخرج بالجحفة فيجتمع بها طريق
প্রায় ১৫টি মঞ্জিল; এবং বাহরাইন থেকে ওমান পর্যন্ত প্রায় এক মাস, ওমান থেকে মাহরা ভূমি পর্যন্ত প্রায় এক মাস, মাহরা থেকে হাদরামাউত পর্যন্ত প্রায় এক মাস, হাদরামাউতের দূরবর্তী প্রান্ত থেকে এডেন পর্যন্ত প্রায় এক মাস, এডেন থেকে জেদ্দা পর্যন্ত প্রায় এক মাস, জেদ্দা থেকে জুহফার উপকূল পর্যন্ত প্রায় ৫টি মঞ্জিল, জুহফার উপকূল থেকে আল-জার পর্যন্ত প্রায় ৩টি মঞ্জিল, আল-জার থেকে আয়লা পর্যন্ত প্রায় ২০টি মঞ্জিল, আয়লা থেকে বালিস পর্যন্ত প্রায় ২০টি মঞ্জিল, বালিস থেকে কুফা পর্যন্ত প্রায় ২০টি মঞ্জিল, কুফা থেকে বসরা পর্যন্ত প্রায় ১৪টি মঞ্জিল এবং বসরা থেকে আববাদান পর্যন্ত প্রায় দুই মঞ্জিল। এটিই হলো সেই পরিধি যা একে বেষ্টন করে আছে। আর এর পথসমূহের ক্ষেত্রে, কুফা থেকে মদিনা পর্যন্ত প্রায় ২০টি মঞ্জিল এবং মদিনা থেকে মক্কা পর্যন্ত প্রায় ১০টি মঞ্জিল। কুফা থেকে মক্কা যাওয়ার মূল রাজপথটি এই পথের তুলনায় প্রায় ৩টি মঞ্জিল সংক্ষিপ্ত; যখন এটি মা'দিন আন-নাকরাহ পর্যন্ত পৌঁছায়, তখন মদিনার পথ পরিহার করে বনু সুলাইমের খনি হয়ে জাতু ইরক পর্যন্ত অগ্রসর হয় এবং পরিশেষে মক্কায় গিয়ে শেষ হয়। বসরার পথের ক্ষেত্রে, তা মদিনা পর্যন্ত প্রায় ১৮টি মঞ্জিল এবং এটি মা'দিন আন-নাকরাহ এর নিকটে কুফার পথের সাথে মিলিত হয়। বাহরাইন থেকে মদিনার পথ প্রায় ১৫টি মঞ্জিল। রাক্কা থেকে মদিনার পথ প্রায় ২০টি মঞ্জিল। একইভাবে দামেস্ক থেকে মদিনা পর্যন্ত প্রায় ২০টি মঞ্জিল, ফিলিস্তিন থেকে মদিনা পর্যন্ত প্রায় ২০টি মঞ্জিল এবং মিশর থেকে উপকূলীয় পথে মদিনা পর্যন্ত প্রায় ২০টি মঞ্জিল। মিশর ও মাগরিবের জন্য আমরা আলাদা কোনো পথ নির্দিষ্ট করিনি, কারণ তা আয়লা নামক স্থানে ফিলিস্তিনিদের পথের সাথে মিলিত হয় এবং এরপর উভয় পথ এক হয়ে যায়। আর এটিই হলো মরু প্রান্তরের (বাদিয়া) প্রথম সীমানা; মূলত মরুভূমিতে প্রবেশের পূর্বেই পথগুলো পৃথক হয়ে থাকে। মিশর ও ফিলিস্তিনবাসীদের জন্য মাদইয়ান অতিক্রম করার পর দুটি পথ রয়েছে; এর মধ্যে একটি পথ 'বাদা' ও 'শাগাব' (মরুপ্রান্তরের একটি গ্রাম যা বনু মারওয়ানগণ মুহাদ্দিস যুহরীকে জায়গির হিসেবে প্রদান করেছিলেন এবং যেখানে তাঁর কবর অবস্থিত) হয়ে মদিনা পর্যন্ত যায় এবং মারওয়া হয়ে মদিনায় পৌঁছায়। অন্য পথটি সমুদ্র উপকূল দিয়ে অগ্রসর হয়ে জুহফায় গিয়ে উপনীত হয় এবং সেখানে অন্যান্য পথের সাথে মিলিত হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল ইস্তখরী আও মাসালিকুল মামালিক - লায়ডেন
(পৃষ্ঠা: ২৮)
اهل العراق ودمشق وفلسطين ومصر وامّا طريق البصرة والرّقّة فهما لا يسلكان وقد تعطّلا وسائر الطرق مسلوكة ومن عدن الى مكّة نحو شهر ولها طريقان احداهما على ساحل البحر وهو ابعد والآخر ياخذ على صنعآء وصعدة وجرش ونجران والطائف حتّى ينتهى الى مكّة، ولهم طريق على البوادى وتهامة هو اقرب من هذين الطريقين الّا انّه على احياء اليمن ومخاليفها تسلكه الحوسّ منهم، وامّا اهل حضرموت ومهرة فانّهم يقطعون عرض بلادهم حتّى يتّصلوا بالجادّة الّتى بين عدن وبين مكّة والمسافة منهم الى الاتّصال بهذه الجادّة ما بين 20 مرحلة الى 50 مرحلة، وامّا طريق عمان فهو طريق يصعب سلوكه فى البرّيّة لكثرة القفار بها وقلّة السّكّان وانّما طريقهم فى البحر الى جدّة فان سلكوا على السواحل من مهرة وحضرموت الى عدن او الى طريق عدن بعد عليهم وقلّ ما يسلكونه، وكذلك ما بين عمان والبحرين فطريق شاق يصعب سلوكه لتمانع العرب فيما بينهم بها، وامّا ما بين البحرين وعبّادان فغير مسلوك وهو قفر والطريق فيها على البحر، ومن البصرة الى البحرين نحو من 18 مرحلة فى قبائل العرب ومياههم. مسلوك عامر غير انّه مخوف، فهذه جوامع المسافات الّتى يحتاج الى علمها فامّا ما بين ديار العرب لقبائلها من المسافات فقلّ ما تقع الحاجة لغير اهل البادية الى معرفتها.
بحر فارسوسنذكر بعد ديار العرب بحر فارس فانّه يشتمل على اكثر حدودها ويتّصل بديار العرب منه وبسائر بلدان الاسلام ونصوّره ثمّ نذكر جوامع ممّا يشتمل عليه هذا البحر ونبتدئ بالقلزم على ساحله ممّا يلى المشرق فانّه ينتهى
ইরাক, দামেস্ক, ফিলিস্তিন ও মিসরবাসীদের পথ। আর বসরা ও রাক্কার পথ দু’টি বর্তমানে সচল নয় এবং তা পরিত্যক্ত হয়ে আছে, তবে অবশিষ্ট সকল পথই সচল। আদেন থেকে মক্কা পর্যন্ত প্রায় এক মাসের পথ। এর দু’টি পথ রয়েছে; একটি সমুদ্র উপকূল দিয়ে, যা দীর্ঘতর। অন্যটি সানা, স’দাহ, জুরাশ, নাজরান ও তায়েফ হয়ে মক্কায় গিয়ে শেষ হয়। তাদের মরুপ্রান্তর ও তিহামাহ হয়েও একটি পথ রয়েছে যা এই দু’টি পথের চেয়ে নিকটতর; তবে এটি ইয়ামেনের জনপদ ও প্রশাসনিক অঞ্চলগুলোর মধ্য দিয়ে গিয়েছে, যা কেবল তাদের সাহসী লোকেরাই ব্যবহার করে। আর হাদরামাউত ও মাহরাবাসীদের ক্ষেত্রে তারা তাদের ভূখণ্ডের প্রশস্ততা অতিক্রম করে আদেন ও মক্কার মধ্যবর্তী প্রধান সড়কের সাথে মিলিত হয়। তাদের অবস্থান থেকে এই প্রধান সড়কে পৌঁছাতে ২০ থেকে ৫০ মনজিল পর্যন্ত দূরত্ব অতিক্রম করতে হয়। আর ওমানের পথ হলো স্থলপথে অতিক্রম করা অত্যন্ত কঠিন, কারণ সেখানে মরুভূমির আধিক্য এবং জনবসতি কম। তাদের মূল পথ হলো সমুদ্রপথে জেদ্দা পর্যন্ত। যদি তারা মাহরা ও হাদরামাউত হয়ে উপকূল দিয়ে আদেন পর্যন্ত কিংবা আদেনের পথ ধরে চলে, তবে তা তাদের জন্য অনেক দূর হয়ে যায় এবং তারা খুব কমই এই পথে যাতায়াত করে। অনুরূপভাবে ওমান ও বাহরাইনের মধ্যবর্তী পথটিও অত্যন্ত কষ্টসাধ্য, কারণ সেখানে আরবদের মধ্যকার পারস্পরিক বিবাদ যাতায়াতে বাধা সৃষ্টি করে। আর বাহরাইন ও আব্বাদানের মধ্যবর্তী অঞ্চলটি ব্যবহৃত হয় না, এটি একটি জনশূন্য প্রান্তর; সেখানকার পথ হলো সমুদ্রপথ। বসরা থেকে বাহরাইন পর্যন্ত আরব গোত্রসমূহ ও তাদের জলাশয়গুলোর মধ্য দিয়ে প্রায় ১৮ মনজিলের পথ। এটি একটি জনাকীর্ণ পথ হলেও অত্যন্ত বিপজ্জনক। এগুলি হলো প্রধান দূরত্বসমূহের সারসংক্ষেপ যা জানা প্রয়োজন। পক্ষান্তরে আরব ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে বিভিন্ন গোত্রসমূহের মধ্যবর্তী দূরত্বের বিষয়ে মরুচারী বেদুইন ব্যতীত অন্যদের জানার প্রয়োজন খুব কমই পড়ে।
পারস্য সাগরআরব ভূখণ্ডের বর্ণনার পর আমরা পারস্য সাগর সম্পর্কে আলোচনা করব; কারণ এটি আরবের অধিকাংশ সীমানাকে পরিবেষ্টন করে আছে এবং আরব ভূখণ্ডের পাশাপাশি অন্যান্য ইসলামী দেশগুলোর সাথেও যুক্ত। আমরা এর মানচিত্র অঙ্কন করব, অতঃপর এই সাগর যা কিছু অন্তর্ভুক্ত করে তার সারসংক্ষেপ বর্ণনা করব। আমরা এর পূর্ব উপকূলের কুলজুম থেকে শুরু করব, যা শেষ হয়েছে...
(খণ্ড: ১)
আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল ইস্তখরী আও মাসালিকুল মামালিক - লায়ডেন
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الى أيلة ثمّ يطوف بحدود ديار العرب الّتى ذكرناها وبيّنّاها قبل هذا الى عبّادان ثمّ يقطع عرض دجلة وينتهى على الساحل الى مهروبان ثمّ الى جنّابا ثمّ يمرّ على سيف فارس الى سيراف ثمّ يمتدّ الى سواحل هرمز وراء كرمان الى الدّيبل وساحل الملتان وهو ساحل السند وقد انتهى حدّ بلدان الاسلام ثمّ ينتهى الى سواحل الهند حتّى ينتهى الى سواحل التّبّت فيقطعها الى أرض الصين، واذا اخذت من القلزم غربيّها على ساحل البحر سرت فى مفاوز من حدود مصر حتّى تنتهى الى مفاوز هى للبجّة وبها معادن الذهب الى مدينة على شطّ البحر يقال لها عيداب ثمّ تمتدّ على بلد الحبشة وهى محاذية لمكّة والمدينة حتّى تحاذى قرب عدن ثمّ ينقطع الحبشة ويتّصل بظهر بلد النوبة حتّى ينتهى الى بلدان الزنج وهى من اوسع تلك الممالك فتمتدّ على محاذاة جميع بلدان الاسلام، وقد انتهى مسافة هذا البحر ثمّ يعرض فيه جزائر واقاليم مختلفة الى ان يحاذى أرض الصين وقد صوّرت هذا البحر وذكرت حدوده مطلقا وساصف ما يحيط به وما فى اضعافه جملا يقف عليه من قرأه ان شآء الله، امّا ما كان من هذا البحر من القلزم الى ما يحاذى بطن اليمن فانّه يسمّى بحر القلزم ومقداره نحو ثلاثين مرحلة طولا وعرضه اوسع ما يكون غير مسير ثلاث ليال ثمّ
আয়লা পর্যন্ত, এরপর এটি আরবের ভূখণ্ডের সীমানা প্রদক্ষিণ করে যা আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি এবং বর্ণনা করেছি আবাদান পর্যন্ত। অতঃপর এটি দজলার প্রস্থ অতিক্রম করে এবং উপকূলে মাহরুবান পর্যন্ত পৌঁছে, এরপর জান্নাবা পর্যন্ত। তারপর এটি পারস্যের উপকূল হয়ে সিরাফ পর্যন্ত যায়, অতঃপর কিরমানের ওপাশে হরমজ উপকূল হয়ে দাইবাল এবং মুলতানের উপকূল পর্যন্ত বিস্তৃত হয়, যা সিন্ধুর উপকূল; এখানে ইসলামী দেশসমূহের সীমানা সমাপ্ত হয়েছে। এরপর এটি ভারতের উপকূল পর্যন্ত পৌঁছায় এমনকি তিব্বত উপকূল পর্যন্ত পৌঁছে তা অতিক্রম করে চীন ভূমি পর্যন্ত চলে যায়। আর যদি তুমি কুলজুমের পশ্চিম দিক থেকে সমুদ্র উপকূল ধরে অগ্রসর হও, তবে তুমি মিসরের সীমানার মরুপ্রান্তরসমূহ অতিক্রম করবে যতক্ষণ না তুমি বুজা সম্প্রদায়ের মরুপ্রান্তরগুলোতে পৌঁছাও, যেখানে স্বর্ণের খনি রয়েছে এবং সমুদ্রতীরবর্তী একটি শহর পর্যন্ত যাকে আইদাব বলা হয়; এরপর এটি হাবাশা দেশ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে যা মক্কা ও মদীনার সমান্তরালে অবস্থিত, এমনকি আদনের নিকটবর্তী সমান্তরাল পর্যন্ত। এরপর হাবাশা শেষ হয় এবং নুবা দেশের পশ্চাদভাগের সাথে মিলিত হয় যতক্ষণ না জাঞ্জ দেশসমূহ পর্যন্ত পৌঁছায়, যা ঐ সকল সাম্রাজ্যের মধ্যে অন্যতম প্রশস্ত অঞ্চল এবং এটি সমস্ত ইসলামী দেশের সমান্তরালে বিস্তৃত। এই সমুদ্রের দূরত্ব এখানেই শেষ হয়েছে, অতঃপর এতে বিভিন্ন দ্বীপ ও অঞ্চল দেখা যায় যতক্ষণ না এটি চীনের ভূমির সমান্তরাল হয়। আমি এই সমুদ্রের মানচিত্র অঙ্কন করেছি এবং এর সীমানা সাধারণভাবে উল্লেখ করেছি। আল্লাহ চাহেন তো আমি এর পরিবেষ্টিত বিষয়সমূহ এবং এর অভ্যন্তরের বস্তুসমূহ সংক্ষেপে বর্ণনা করব যা পাঠক অবগত হতে পারবেন। এই সমুদ্রের যে অংশটি কুলজুম থেকে ইয়েমেনের অভ্যন্তরভাগের সমান্তরাল পর্যন্ত বিস্তৃত, তাকে কুলজুম সাগর বলা হয়। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ত্রিশ মনজিল এবং এর প্রস্থ সবচেয়ে বেশি হলে তিন রাতের পথের অধিক নয়। অতঃপর...