(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন কিতাবিস সিয়াক লিতারীখি নাইসাবুর - ত ইরান
(পৃষ্ঠা: -)
المنتخب من كتاب السياق لتاريخ نيسابور - ط إيران القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: المنتخب من كتاب «السياق لتاريخ نيسابور، لعبد الغافر الفارسي»
انتخبه: أبو إسحاق إبراهيم بن محمد بن الأزهر الصريفيني (581 - 641 هـ)
المحقق: محمد کاظم المحمودي
تنبيه: رؤوس التراجم المختصرة بين [معقوفات] ليست من المخطوط، وإنما زادها المحقق كما نبّه على ذلك بمقدمته
الناشر: جماعة المدرسين في الحوزة العلمية بقم. مؤسسة النشر الإسلامي - قم إيران
عام النشر: 1403 هـ
عدد الصفحات: 863
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 29 ربيع الأول 1444
আস-সিয়াক লি-তারিখ নিসাপুর গ্রন্থ থেকে নির্বাচিত - ইরান মুদ্রণ বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ
বই: আব্দুল গাফির আল-ফারিসির «আস-সিয়াক লি-তারিখ নিসাপুর» গ্রন্থ থেকে নির্বাচিত অংশ
নির্বাচন করেছেন: আবু ইসহাক ইব্রাহিম বিন মুহাম্মাদ বিন আল-আযহার আস-সারিফিনি (৫৮১ - ৬৪১ হিজরি)
সম্পাদক: মুহাম্মাদ কাজিম আল-মাহমুদি
সতর্কবার্তা: থার্ড ব্র্যাকেট [...]-এর মধ্যে থাকা সংক্ষিপ্ত জীবনীর শিরোনামগুলো মূল পাণ্ডুলিপির অংশ নয়, বরং সম্পাদক এগুলো সংযোজন করেছেন যেমনটি তিনি তার ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন
প্রকাশক: জামাআতুল মুদাররিসিন ফিল হাউজাতিল ইলমিয়্যাহ কুম। মুয়াসসাসাতুন নাশরিল ইসলামি - কুম, ইরান
প্রকাশকাল: ১৪০৩ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮৬৩
[বইয়ের পৃষ্ঠা বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন কিতাবিস সিয়াক লিতারীখি নাইসাবুর - ত ইরান
(পৃষ্ঠা: ١)
إهداءإلى الشهداء الأبرار الذين سجّلوا بدمائهم الزكية أروع ملاحم البطولة والفداء، وسطّروا المجد والخلود للأمّة الاسلامية، وأرغموا بالهوان أنوف أسياد الكفر وأشياع الضلال والعملاء.
إلى الأبطال المرابطين فى خنادق الجهاد في إيران وكلّ البلاد الاسلامية:
إلى رائد الأمة الإسلامية وقائد مسيرتها المظفرة وقلبها النابض الإمام الخميني.
إليكم جميعا أهدي هذا السفر القيّم الحافل بجهود قرن ونصف من المسيرة الثقافية الاسلاميّة الشامخة في إيران على أمل المضيّ قدما لتحقيق أهداف الاسلام في إنقاذ البشريّة من ظلمات الجهل وذلّ الاستعباد إلى نور الاسلام وعزّ طاعة الله.
উৎসর্গসেই সকল পুণ্যবান শহীদদের প্রতি, যাঁরা তাঁদের পবিত্র রক্ত দিয়ে বীরত্ব ও আত্মত্যাগের এক অনন্য মহাকাব্য রচনা করেছেন, এবং মুসলিম উম্মাহর জন্য গৌরব ও অমরত্ব সুনিশ্চিত করেছেন; আর কুফরের অধিপতি, গোমরাহির অনুসারী ও দালালদের নাক লাঞ্ছনার সাথে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছেন।
ইরানসহ সকল মুসলিম ভূখণ্ডের জিহাদের পরিখায় নিয়োজিত সেই সকল বীর মুজাহিদদের প্রতি:
মুসলিম উম্মাহর অগ্রপথিক, এর বিজয়ী অভিযাত্রার কাণ্ডারি এবং এর স্পন্দিত হৃদয় ইমাম খোমেনীর প্রতি।
আপনাদের সকলের প্রতি আমি উৎসর্গ করছি দেড় শতাব্দীর ইরানের সুউচ্চ ইসলামি সাংস্কৃতিক অভিযাত্রার প্রচেষ্টায় সমৃদ্ধ এই মূল্যবান গ্রন্থটি; এই আশায় যে, মানবজাতিকে অজ্ঞতার অন্ধকার ও দাসত্বের গ্লানি থেকে ইসলামের আলো এবং আল্লাহর আনুগত্যের মর্যাদার দিকে উদ্ধার করার মাধ্যমে ইসলামের সুমহান লক্ষ্যসমূহ অর্জনে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন কিতাবিস সিয়াক লিতারীখি নাইসাবুর - ত ইরান
(পৃষ্ঠা: ٣)
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمنِ الرَّحِيمِ
الحمد لله ربّ العالمين، والصلاة والسلام على البشير النذير والسراج المنير محمد بن عبد الله وعلى آله الهداة وصحبه الأبرار.
وبعد فان تاريخ أمّتنا الاسلاميّة زاخر بأعمق الحركات الفكرية والثقافية التي شهدتها البشريّة طيلة تاريخها، بحيث لا تجد بقعة من بلاد المسلمين إلّا وللثورة الثقافيّة فيها دور ونصيب، وذلك بالطبع قبل سدّ باب الاجتهاد وتحجير الطاقات الفكريّة من قبل الأنظمة الفاسدة التى كانت تخاف على عروشها من يقظة الشعوب وحريّتها الفكريّة.
وهذا الكتاب الذي هو جزء من تراثنا العظيم يعود إلى فترة عاشت الأمّة أزهى عصورها وأكثرها عطاء ونماء، ويعكس لنا الجهود الجبّارة التى بذلها أسلافنا فى سبيل فهم الاسلام ونشره.
وبما أن التاريخ يتألف من حلقات ترتبط بعضها ببعض كان لا بدّ لنا ونحن نتصفّح إنجازات هذه الفترة بالذات أن نستعرض بصورة سريعة الحلقات المتقدّمة والمتأخّرة عنها من تاريخ إيران علّنا نتمكن من تقديم نظرة عامّة لسير التحولات الثقافيّة والحضارية فى المنطقة وتقييم هذه الفترة التى يبحث عنها هذا الكتاب ودورها فى التطورات الاجتماعيّة اللاحقة.
إيران من ظلمات الجاهليّة إلى نور الإسلام:عاشت الشعوب الايرانيّة قبل الاسلام حالة من الجهل والظلم والحرمان
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী এবং উজ্জ্বল প্রদীপ সদৃশ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহর ওপর এবং তাঁর হিদায়েতপ্রাপ্ত বংশধর ও পুণ্যবান সাহাবীদের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।
অতঃপর, আমাদের মুসলিম উম্মাহর ইতিহাস মানব ইতিহাসের সবচেয়ে গভীর বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে সমৃদ্ধ, যার ফলে মুসলিম দেশগুলোর এমন কোনো অঞ্চল খুঁজে পাওয়া যাবে না যেখানে সাংস্কৃতিক বিপ্লবের কোনো ভূমিকা বা অংশ ছিল না। অবশ্যই এটি ছিল ইজতিহাদের দ্বার রুদ্ধ হওয়ার এবং সেই সব দুর্নীতিবাজ শাসনব্যবস্থা কর্তৃক বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতাকে পাথরচাপা দেওয়ার আগের ঘটনা, যারা জনগণের জাগরণ এবং তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতার কারণে নিজেদের সিংহাসন হারানোর ভয়ে ভীত ছিল।
আর এই গ্রন্থটি, যা আমাদের মহান ঐতিহ্যের একটি অংশ, এমন এক সময়ের অন্তর্গত যখন উম্মাহ তার সবচেয়ে উজ্জ্বল এবং সবচেয়ে ফলপ্রসূ ও বিকাশমান যুগে বসবাস করছিল। এটি আমাদের কাছে সেই বিশাল প্রচেষ্টাকে ফুটিয়ে তোলে যা আমাদের পূর্বসূরিরা ইসলামকে বোঝার এবং প্রচার করার ক্ষেত্রে ব্যয় করেছিলেন।
যেহেতু ইতিহাস পরস্পর সংযুক্ত কতগুলো ধারাবাহিক কড়ির সমষ্টি, তাই এই নির্দিষ্ট সময়ের অর্জনগুলো পর্যালোচনার সময় ইরানের ইতিহাসের পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী পর্যায়গুলোও দ্রুত সংক্ষেপে আলোচনা করা আমাদের জন্য অপরিহার্য ছিল। যেন আমরা এই অঞ্চলের সাংস্কৃতিক ও সভ্যতাগত পরিবর্তনের গতিপথের উপর একটি সাধারণ দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরতে পারি এবং এই গ্রন্থটি যে সময়কাল নিয়ে আলোচনা করছে, তা এবং পরবর্তী সামাজিক বিবর্তনে এর ভূমিকা মূল্যায়ন করতে পারি।
জাহেলিয়াতের অন্ধকার থেকে ইসলামের আলোর দিকে ইরান:ইসলামের পূর্বে ইরানি জাতিগোষ্ঠী মূর্খতা, অবিচার এবং বঞ্চনার মধ্যে বসবাস করত।
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন কিতাবিস সিয়াক লিতারীখি নাইসাবুর - ত ইরান
(পৃষ্ঠা: ٤)
حتّى من أبسط الحقوق والمزايا الاجتماعيّة، وكان العلم محظورا وحكرا على العائلة المالكة، فلا مدارس ولا علماء ولا مؤسسات ثقافية أو تربويّة، ولا مجال لأيّة نشاطات سياسيّة أو علميّة، بل كانت الأمية والظلم الاجتماعي والطبقي يسود عامّة الشعب.
وحينما بزغ فجر الاسلام، وتحرّر الشعب من براثن الطاغوت الحاكم، استقبل هذا النور بحفاوة بالغة، تاركا خلفه ظلمات الجاهليّة وعناءها وقيودها، وكلّما مرّت به الأيام ازداد قناعة وتمسكا بهذه الرسالة الخالدة، ولم يمض قرن واحد حتى صار هذا الشعب المقدام يحتلّ مركز الصدارة في الدولة الاسلامية الكبرى ويلعب دورا رئيسيّا فى الأمور وخاصة الفكرية والعلميّة منها رغم كل العراقيل الاجتماعية والسياسيّة التى كانت تحول دونه.
ومن الواضح أن اعتناق هذا الشعب للاسلام لم يتمّ دفعة واحدة ولا عن إكراه وإجبار، وإنّما بصورة تدريجية وفي خلال قرون عديدة وعن قناعته التامّة بهذا المنهج القويم وعلى اثر المقارنة بين ما كان يعيشه في العهد الساساني وغيره من ظلم واعتساف وبين ما لمسه من العدل الاسلامي وخاصّة فى عهد الإمام عليّ عليه السلام حيث الخليفة قاطن فيما بينهم بتواضعه العظيم لا يفرّق بين أبيض وأسود ولا بين غنيّ وفقير ولا بين شعب واخر.
واستمرّ الشعب في التفاعل مع الفكر القرآني حتّى امن بضرورة تجسيده فى جميع المجالات وفي مقدّمتها المجال السياسي والقيادي وخاصّة بعد ما رأ الزيغ والزلل والأهواء يخيّم على القيادات المتشدّقة بالاسلام تلك الحكومات الوراثيّة والعنصرية المتخلّفة فكان منه أن ساهم فى ثورات عديدة ومتتالية أودت بأنظمة وجاءت بأخرى كان من أهمّها الاطاحة بالدولة الأموية.
بيد أن هذه الحركات والثورات كانت تستهدف الأنظمة والقائمين عليها دون أن تكون لها رؤية واضحة وأهداف محدّدة حول البديل وشكل النظام والقيادة الاسلامية الجديدة فكانت النتائج هي فى الغالب تبديل أنظمة بأخرى مثلها فى الظلم والانحراف.
এমনকি সবচেয়ে সাধারণ অধিকার এবং সামাজিক সুযোগ-সুবিধা থেকেও (তারা বঞ্চিত ছিল), এবং জ্ঞান ছিল নিষিদ্ধ ও রাজপরিবারের জন্য একচেটিয়া। ফলে কোনো বিদ্যালয় ছিল না, কোনো আলেম ছিল না, কোনো সাংস্কৃতিক বা শিক্ষামূলক প্রতিষ্ঠান ছিল না এবং রাজনৈতিক বা বৈজ্ঞানিক কোনো কর্মকাণ্ডের সুযোগ ছিল না। বরং সাধারণ জনগণের মধ্যে নিরক্ষরতা এবং সামাজিক ও শ্রেণীগত বৈষম্য বিরাজ করছিল।
আর যখন ইসলামের উষালগ্ন উদিত হলো এবং জনগণ শাসক তাগুতের নখর থেকে মুক্তি পেল, তখন তারা এই নূরকে অত্যন্ত উষ্ণতার সাথে স্বাগত জানালো এবং জাহেলিয়াতের অন্ধকার, এর কষ্ট ও শিকলগুলোকে পেছনে ফেলে আসল। দিন যতই অতিবাহিত হচ্ছিল, এই শাশ্বত বার্তার প্রতি তাদের বিশ্বাস ও দৃঢ়তা ততই বৃদ্ধি পাচ্ছিল। এক শতাব্দী অতিবাহিত হওয়ার আগেই এই সাহসী জাতি বৃহত্তর ইসলামী রাষ্ট্রে অগ্রণী স্থান দখল করে নেয় এবং যাবতীয় বিষয়ে, বিশেষ করে বুদ্ধিবৃত্তিক ও বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করতে শুরু করে, যদিও তাদের সামনে সামাজিক ও রাজনৈতিক নানাবিধ প্রতিবন্ধকতা বিদ্যমান ছিল।
এটা স্পষ্ট যে, এই জাতির ইসলাম গ্রহণ একযোগে কিংবা জোর-জবরদস্তির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়নি, বরং তা হয়েছে ক্রমান্বয়ে বহু শতাব্দী ধরে এবং এই সঠিক পথের প্রতি তাদের পূর্ণ বিশ্বাসের ভিত্তিতে। এটি ছিল মূলত সাসানীয় শাসনামল ও অন্যান্য সময়ের জুলুম ও অত্যাচারের সাথে তাদের দেখা ইসলামী ন্যায়বিচারের তুলনামূলক পর্যালোচনার ফল। বিশেষ করে ইমাম আলী (আলাইহিস সালাম)-এর যুগে, যখন খলিফা তাঁর মহান বিনয় নিয়ে তাদের মাঝেই বসবাস করতেন এবং সাদা ও কালো, ধনী ও দরিদ্র কিংবা এক জাতি ও অন্য জাতির মধ্যে কোনো পার্থক্য করতেন না।
জনগণ কুরআনি চিন্তাধারার সাথে নিজেদের সম্পৃক্ততা অব্যাহত রাখে, যতক্ষণ না তারা একে রাজনীতি ও নেতৃত্বসহ সকল ক্ষেত্রে বাস্তবায়িত করার প্রয়োজনীয়তায় বিশ্বাস স্থাপন করে। বিশেষ করে যখন তারা ইসলামের বুলি আওড়ানো নেতৃবৃন্দের মাঝে বিচ্যুতি, পদস্খলন ও প্রবৃত্তির লালসা দেখতে পেল—অর্থাৎ সেই পশ্চাৎপদ বংশতান্ত্রিক ও বর্ণবাদী সরকারগুলো। ফলে তারা একের পর এক অসংখ্য বিপ্লবে অংশগ্রহণ করে যা পুরোনো শাসনের পতন ঘটায় এবং নতুন শাসনব্যবস্থা নিয়ে আসে, যার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ছিল উমাইয়া শাসনের উৎখাত।
তবে এই আন্দোলন ও বিপ্লবগুলো কেবল বিদ্যমান শাসনব্যবস্থা ও এর কর্ণধারদের লক্ষ্যবস্তু করেছিল; বিকল্প ব্যবস্থা এবং নতুন ইসলামী শাসন ও নেতৃত্বের ধরণ সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি ও নির্দিষ্ট লক্ষ্য তাদের ছিল না। ফলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে এর ফলাফল ছিল কেবল একটি শাসনব্যবস্থার পরিবর্তে অন্য একটি অন্যায্য ও বিচ্যুত শাসনব্যবস্থার স্থলাভিষিক্ত হওয়া।
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন কিতাবিস সিয়াক লিতারীখি নাইসাবুর - ত ইরান
(পৃষ্ঠা: ٥)
لكن الشعب المسلم في إيران واصل نضاله رغم تبدّد اماله وخيبته من الحكومات المتعاقبة والمتظاهرة بالاسلام، واندفع نحو المزيد من التفكير الجاد فى سبيل استكمال النواقص الفكرية المؤديّة إلى تلكم النكسات، والوصول إلى حقيقة التصور الاسلامي للحكم والحكّام والجماهير أو بالتعبير القرآني الامامة والأمّة.
وبسبب هذه المشاكل وغيرها من المازق الفكرية والاجتماعية التي وقع فيها اتّجه الشعب الايراني المسلم بعلمائه وحوزاته العلميّة شيئا فشيئا إلى اختيار المذهب الشيعي مذهب أهل البيت كمنهج ثابت للصورة الكاملة عن قضايا الامامة والأمّة، وبوصفه المجسد الحقيقي للفكر القرآني والخطّ الاسلامي الرسالي.
وجاء هذا التحوّل العظيم نتيجة لحركات وهزّات فكريّة عنيفة انطلقت من المدن المركزيّة وحوزاتها العلميّة وانتشرت لتشمل سائر المناطق والبلاد بشكل تدريجي وفي خلال خمسة قرون متوالية من الزمن وبحسب قوة ارتباطها وانشدادها بتلكم المدن والحوزات.
وإذا ما لاحظنا الخارطة فسنجد ذلك بوضوح، فالمدن الايرانية التي عاشت الحياة العلميّة وانخرطت فى سلك الحركة الثقافية أمثال نيسابور ومرو والري وطوس واصبهان وشيراز وجرجان وهمذان و
… و
… كل هذه المدن اشتركت في انبثاق هذا التحوّل الهام المنبعث في الواقع من الثورة الثقافيّة التى فجرّها الاسلام منذ البدء، ولم يشذ من هذا التحوّل إلا المناطق النائية عن المراكز الثقافيّة والعلمية.
هذا ما حدث في ايران وأما سائر بلاد الاسلام فلم تشهد تلكم الحركات والتطورات الفكرية الجبّارة ولم تساير هذا الركب في رحلته الشاقّة إلّا أشواطا يسيرة قضت عليه الأنظمة الزائفة فيما بعد بمختلف الوسائل والحيل، لذلك انفردت إيران فى مسيرتها المظفّرة واتخذت اتجاها معيّنا ومستقلا عن سائر البلاد من أواسط القرن الثاني وإلى يومنا هذا، كما لا يخفى على المتتبع
কিন্তু ইরানের মুসলিম জনগণ তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার বিলুপ্তি এবং ইসলামের দাবিদার একের পর এক সরকারের প্রতি চরম হতাশা সত্ত্বেও তাদের সংগ্রাম অব্যাহত রাখে। তারা সেসব বুদ্ধিবৃত্তিক অপূর্ণতা দূর করার লক্ষ্যে গভীর চিন্তাভাবনার দিকে ধাবিত হয় যা ইতিপূর্বে বিপর্যয়ের কারণ হয়েছিল; একইসাথে তারা শাসনব্যবস্থা, শাসক ও সাধারণ জনগণ—কিংবা কুরআনিক পরিভাষায় ‘ইমামত’ ও ‘উম্মাহ’ সম্পর্কে ইসলামের প্রকৃত দৃষ্টিভঙ্গিতে পৌঁছানোর চেষ্টা চালায়।
এসব সমস্যা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক ও সামাজিক যে সংকটে তারা নিমজ্জিত ছিল, তার ফলে ইরানের মুসলিম জনগণ তাদের উলামায়ে কেরাম ও ধর্মীয় শিক্ষা কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে ধীরে ধীরে শিয়া মাজহাব তথা আহলে বাইতের মাজহাবকে ইমামত ও উম্মাহর বিষয়াবলির পূর্ণাঙ্গ চিত্র হিসেবে এবং কুরআনিক চিন্তা ও ইসলামি দাওয়াতের প্রকৃত বাস্তব রূপ হিসেবে গ্রহণ করার দিকে ধাবিত হয়।
এই মহান রূপান্তরটি ছিল মূলত এমন সব প্রবল বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলন ও আলোড়নের ফল, যা প্রধান শহরগুলো ও সেগুলোর ধর্মীয় শিক্ষা কেন্দ্রগুলো থেকে সূচিত হয়েছিল এবং পরবর্তী পাঁচ শতাব্দী ধরে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য অঞ্চল ও ভূখণ্ডে ছড়িয়ে পড়েছিল; এই প্রসারের মাত্রা ছিল সেসব শহর ও শিক্ষা কেন্দ্রের সাথে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের যোগাযোগ ও সম্পর্কের দৃঢ়তার অনুপাতে।
আমরা যদি মানচিত্রের দিকে লক্ষ করি, তবে বিষয়টি স্পষ্টভাবে ফুটে উঠবে। ইরানের যেসব শহর জ্ঞানতাত্ত্বিক জীবন অতিবাহিত করেছে এবং সাংস্কৃতিক আন্দোলনের ধারায় শামিল হয়েছে—যেমন নিশাপুর, মার্ভ, রে, তুস, ইসফাহান, শিরাজ, জুরজান, হামাদান এবং
... ও
...—এই সবকটি শহরই এই গুরুত্বপূর্ণ রূপান্তরের অভ্যুদয়ে শরিক ছিল। প্রকৃতপক্ষে এই রূপান্তরটি উৎসারিত হয়েছিল সেই সাংস্কৃতিক বিপ্লব থেকে যা ইসলাম সূচনালগ্ন থেকেই প্রজ্জ্বলিত করেছিল। কেবল সাংস্কৃতিক ও জ্ঞানতাত্ত্বিক কেন্দ্রগুলো থেকে দূরবর্তী অঞ্চলগুলোই এই রূপান্তরের বাইরে ছিল।
ইরানে ঠিক এমনটিই ঘটেছিল। পক্ষান্তরে, বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম জনপদগুলোতে তেমন কোনো শক্তিশালী বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলন ও বিবর্তন পরিলক্ষিত হয়নি এবং এই বন্ধুর যাত্রাপথে তারা এই কাফেলার সাথে সামান্য পথচলা ব্যতীত আর কোনো সংহতি প্রকাশ করতে পারেনি; পরবর্তীকালে কৃত্রিম ও নামধারী শাসকগোষ্ঠী বিভিন্ন উপায় ও কৌশলে সেই সামান্যটুকুও স্তিমিত করে দেয়। এ কারণেই ইরান তার বিজয়ী অভিযাত্রায় স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয় এবং দ্বিতীয় হিজরি শতকের মধ্যভাগ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত অন্যান্য দেশ থেকে আলাদা একটি নির্দিষ্ট ও স্বাধীন পথ বেছে নেয়, যা ইতিহাস ও সমাজ পর্যালোচকদের কাছে অস্পষ্ট নয়।
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন কিতাবিস সিয়াক লিতারীখি নাইসাবুর - ত ইরান
(পৃষ্ঠা: ٦)
للقضايا التاريخية.
ولا تزال الحركة العملية في إيران قائمة ونشطة تمدّ الأمة في كل اللحظات الحسّاسة بما يكفل لها المزيد من العزّ والتقدّم والرقي فى طريق فهم الفكر القرآني وتطبيقه، ولم تخضع هذه الحركة طيلة تاريخها المجيد لأيّ إشراف واستغلال حكوميّ بل استمرّت بالارادة الشعبيّة المستقلّة والحرّة.
وانفردت إيران أيضا وكما سبق بانفلاتها ممّا أصيبت به سائر البلاد الاسلاميّة من غلق باب الاجتهاد وتحجير العقول وتدمير الحركة الفكريّة التى أنهت تلكم العصور الذهبية الرائعة للأمة في سائر بلاد المسلمين وجرّت بالمصائب والويلات على المسلمين، بل واصل ركب الحضارة الاسلامية في إيران سيره بشموخ واعتزاز ملبّيا كلّ المتطلبات الاجتماعيّة وفي أحلك الظروف معتمدا على رصيد شعبي واسع فارضا نفسه على الأوضاع السياسيّة والاجتماعية بصورة عامّة.
ومع أن هذه النهضة المباركة لم تحقّق كامل أهدافها في المراحل والمجالات المختلفة إلا أن ما حصل نسبيّا فى هذه المنطقة بالذات كان فريدا وقياسيّا بالنسبة لما حصل فى سائر البلاد الاسلاميّة، إذ لم يكن بوسع تلك الظروف تحمل أكثر من هذا، ذلك ان الحكم الاسلامي المثالي التام لا يمكن تحقيقه إلّا مع التثقيف الجماهيري الشامل الذي كان فيما مضى من المستحيل تحقيقه لا لفترة أو أمة معينة فحسب بل فى كل الخقب الماضيّة ولكل الأمم.
الحركة العلمية وعصر الاستعمار:وواصلت هذه النهضة الفكرية الاسلاميّة دورها الطليعي في المجتمع واستمرّت تؤتي أكلها كلّ حين وترشد الجماهير إلى مستقبلها الأفضل، حتّى جاء الاستعمار الغربي بجبروته ومكره محاولا القضاء على هذه الحركة العظمى التى تستمدّ جذورها من عمق الفكر القرآني كي يتسنى له تنفيذ أطماعه الشريرة وماربه التوسعيّة، فكان الردّ عنيفا وحاسما حيث تصدّت هذه
ঐতিহাসিক বিষয়াবলির জন্য।
ইরানে ইলমি বা জ্ঞানতাত্ত্বিক আন্দোলন এখনও বিদ্যমান ও সক্রিয় রয়েছে, যা উম্মাহকে প্রতিটি সংবেদনশীল মুহূর্তে এমন বিষয় সরবরাহ করে যা কুরআনিক চিন্তা অনুধাবন ও প্রয়োগের পথে তাদের অধিকতর মর্যাদা, অগ্রগতি ও উন্নতির নিশ্চয়তা দেয়। এই আন্দোলন তার গৌরবময় ইতিহাসের দীর্ঘ পথপরিক্রমায় কোনো সরকারি তত্ত্বাবধান বা শোষণের বশীভূত হয়নি, বরং তা স্বাধীন ও মুক্ত জন-ইচ্ছার ওপর ভিত্তি করে অব্যাহত থেকেছে।
ইরান আরও অনন্য বৈশিষ্ট্যমন্ডিত হয়েছে—যা ইতিপূর্বেও উল্লেখ করা হয়েছে—অন্যান্য মুসলিম দেশগুলোতে ইজতিহাদের দ্বার রুদ্ধ হওয়া, বুদ্ধিবৃত্তিক জড়তা এবং চিন্তা-চেতনার গতির বিনাশ যা মুসলিম উম্মাহর সেই চমৎকার স্বর্ণযুগগুলোর অবসান ঘটিয়েছিল এবং মুসলমানদের ওপর বিপদ-আপদ ও ধ্বংস বয়ে এনেছিল, তা থেকে মুক্ত থাকার মাধ্যমে। বরং ইরানে ইসলামি সভ্যতার কাফেলা তার পথচলা অত্যন্ত গর্ব ও সম্মানের সাথে অব্যাহত রেখেছে, যা সামাজিক সকল চাহিদা পূরণ করেছে এবং কঠিনতম পরিস্থিতিতেও বিশাল জনসমর্থনের ওপর নির্ভর করে রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির ওপর সাধারণভাবে নিজের প্রভাব বজায় রেখেছে।
যদিও এই বরকতময় জাগরণ বিভিন্ন পর্যায়ে ও ক্ষেত্রে তার পূর্ণ লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি, তবুও এই বিশেষ অঞ্চলে আপেক্ষিকভাবে যা অর্জিত হয়েছে তা অন্যান্য মুসলিম দেশে যা ঘটেছে তার তুলনায় অনন্য ও মানদণ্ডস্বরূপ ছিল। কারণ তৎকালীন পরিস্থিতি এর চেয়ে বেশি কিছু ধারণ করার ক্ষমতা রাখত না। কেননা আদর্শ ও পূর্ণাঙ্গ ইসলামি শাসনব্যবস্থা ব্যাপক গণশিক্ষার মাধ্যম ব্যতীত অর্জন করা সম্ভব নয়, যা অতীতে কোনো নির্দিষ্ট সময় বা জাতির জন্যই শুধু নয়, বরং বিগত সকল যুগে এবং সকল জাতির জন্যই অসম্ভব ছিল।
জ্ঞানতাত্ত্বিক আন্দোলন ও উপনিবেশবাদ যুগ:এই ইসলামি বুদ্ধিবৃত্তিক জাগরণ সমাজে তার অগ্রণী ভূমিকা পালন করে গেছে এবং প্রতিনিয়ত তার সুফল দান অব্যাহত রেখেছে ও জনগণকে তাদের সুন্দর ভবিষ্যতের দিকে পথপ্রদর্শন করেছে, যতক্ষণ না পশ্চিমা উপনিবেশবাদ তার প্রবল শক্তি ও চক্রান্ত নিয়ে হাজির হলো। তারা এই মহান আন্দোলনকে সমূলে বিনাশ করার চেষ্টা করল, যার শিকড় প্রোথিত ছিল কুরআনিক চিন্তার গভীরে, যাতে তারা তাদের অশুভ লালসা ও সাম্রাজ্যবাদী উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে পারে। ফলস্বরূপ এর প্রতিক্রিয়া ছিল অত্যন্ত তীব্র ও চূড়ান্ত, যেখানে এটি মোকাবিলা করেছিল...
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন কিতাবিস সিয়াক লিতারীখি নাইসাবুর - ত ইরান
(পৃষ্ঠা: ٧)
الحركة العريقة بحزم للمستعمرين الغزاة مجنّدة كافّة طاقاتها لطردهم ومضحيّة بخيرة أبنائها وزعمائها وشخصيّاتها شهداء فى هذا السبيل.
وكان الذين تصدّروا زعامة الحركة الفكرية فى المائة الأخيرة هم الذين وقفوا أمام هذه الهجمة الشرسة وذلك أمثال الميرزا حسن الشيرازي والسيد جمال الدين الأسدآبادي الشهير بالأفغاني والملّا محمد كاظم الخراساني قائد الثورة الدستورية والشيخ الشهيد فضل الله النوري والشهيد المقدام السيد حسن المدرس والميرزا محمد تقي الشيرازي الذي طرد الاستعمار البريطانى من العراق والسيد أبو القاسم الكاشاني المعروف بمواقفه الجرئية ضد المستعمرين وأخيرا زعيم الثورة الإسلاميّة في عصرنا وقائد مسيرتها المظفرة الإمام الخميني الذي قاد المعارك الحاسمة حتى انقشعت سحب الظلام وهرب عشرات الألوف من المستشارين الأجانب وتهاوى عرش فرعون وتوّجت الحركة المقدّسة بالنجاح والنصر المؤزر وولّى الشيطان هاربا من صرخات المظلومين وهتافات الله اكبر ملتجئا إلى سائر الفراعنة بمصر والمغرب و
… و
… ممّا جعلهم يتنبّهون بقرب نهايتهم نهاية عهد الظلم والظلام وبزوغ فجر الحرّيّة والنور والوعي الجماهيري، وها هم شياطين الشرق والغرب وأوليائهم فى المنطقة قد حشدوا كافّة طاقاتهم السياسيّة والاقتصاديّة والعسكريّة للنيل من هذه الثورة المقدّسة وهذا الفتح العظيم، وهيهات هيات أن ينتصر الظلام والباطل على النور والحق، يُرِيدُونَ لِيُطْفِؤُا نُورَ اللَّهِ بِأَفْواهِهِمْ وَاللَّهُ مُتِمُّ نُورِهِ وَلَوْ كَرِهَ الْكافِرُونَ، هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدى وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ وَلَوْ كَرِهَ الْمُشْرِكُونَ.
وهكذا نعرف أن هذه الثورة الاسلاميّة المباركة التى نعيش اليوم في رحابها ليست وليدة وقتها ونتيجة لحالة إستياء معيّنة سرعان ما تذوب وتضمحل- كما تروّج عنها أبواق الامبريالية- بل هي امتداد طبيعي لحركة اجتماعيّة وتاريخيّة كبرى انبثقت مع ظهور الدين الاسلامي الحنيف منذ البدء ونضجت عبر القرون والأعصار حتى أفرزت عطائها السامي في عصرنا متمثّلة
ঐতিহাসিকভাবে প্রাচীন এই আন্দোলন আক্রমণকারী উপনিবেশবাদীদের বিরুদ্ধে দৃঢ়তার সাথে তাদের সমস্ত শক্তি নিয়োগ করেছে তাদের বিতাড়িত করার জন্য এবং এই পথে তাদের শ্রেষ্ঠ সন্তান, নেতা ও ব্যক্তিত্বদের শহীদ হিসেবে উৎসর্গ করেছে।
গত একশ বছরে যারা বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলনের নেতৃত্বে অগ্রণী ছিলেন, তারাই মূলত এই ভয়াবহ আক্রমণের মোকাবিলা করেছিলেন। তারা হলেন মীর্জা হাসান শিরাজি, সৈয়দ জামাল উদ্দিন আসাদাবাদী (যিনি আফগানী নামে পরিচিত), সাংবিধানিক বিপ্লবের নেতা মোল্লা মুহাম্মদ কাজিম খোরাসানি, শহীদ শেখ ফজলুল্লাহ নূরী, বীর শহীদ সৈয়দ হাসান মোদাররেস, মীর্জা মুহাম্মদ তাকি শিরাজি (যিনি ইরাক থেকে ব্রিটিশ উপনিবেশবাদীদের বিতাড়িত করেছিলেন), উপনিবেশবাদীদের বিরুদ্ধে দুঃসাহসী অবস্থানের জন্য পরিচিত সৈয়দ আবুল কাসেম কাশানি এবং পরিশেষে আমাদের যুগের ইসলামি বিপ্লবের নেতা ও এর বিজয়ী অভিযাত্রার কান্ডারি ইমাম খোমেনী, যিনি চূড়ান্ত লড়াইগুলোতে নেতৃত্ব দিয়েছেন যতক্ষণ না অন্ধকারের মেঘ ঘনীভূত হওয়া বন্ধ হয়ে কেটে গেছে, হাজার হাজার বিদেশী উপদেষ্টা পালিয়ে গেছে, ফেরাউনের সিংহাসন ধসে পড়েছে এবং পবিত্র আন্দোলনটি সাফল্য ও সুনিশ্চিত বিজয়ের মুকুটে ভূষিত হয়েছে। মজলুমদের আর্তনাদ আর 'আল্লাহু আকবার' ধ্বনিতে বিতাড়িত হয়ে শয়তান পালিয়ে মিশর, মরক্কো ও
... ও
... এর অন্যান্য ফেরাউনদের কাছে আশ্রয় নিয়েছে। যা তাদের নিজেদের সমাপ্তি তথা জুলুম ও অন্ধকারের যুগের অবসান এবং স্বাধীনতা, আলো ও গণজাগরণের ভোরের আগমনের নিকটবর্তী হওয়ার বিষয়ে সচেতন করে তুলেছে। আর এখন পূর্ব ও পশ্চিমের শয়তানরা এবং এই অঞ্চলে তাদের দোসররা তাদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক সমস্ত শক্তি একত্র করেছে এই পবিত্র বিপ্লব ও মহান বিজয়কে নস্যাৎ করার জন্য। কিন্তু অন্ধকার ও বাতিল কখনোই আলো ও হকের ওপর বিজয়ী হতে পারবে না—তা অসম্ভব, অসম্ভব। তারা তাদের মুখের ফুৎকারে আল্লাহর নূরকে নিভিয়ে দিতে চায়, কিন্তু আল্লাহ তাঁর নূরকে পূর্ণতা দান করবেন, যদিও কাফিররা তা অপছন্দ করে। তিনিই তাঁর রাসূলকে হেদায়েত ও সত্য দ্বীনসহ পাঠিয়েছেন যেন একে সকল দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেন, যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে।
এভাবেই আমরা জানতে পারি যে, এই বরকতময় ইসলামি বিপ্লব—যার ছায়াতলে আমরা আজ বসবাস করছি—তা কোনো সাময়িক বিষয় নয় বা নির্দিষ্ট কোনো অসন্তোষের ফল নয় যা দ্রুতই বিলীন বা অদৃশ্য হয়ে যাবে (যেমনটি সাম্রাজ্যবাদের মুখপাত্ররা প্রচার করে থাকে)। বরং এটি একটি মহান সামাজিক ও ঐতিহাসিক আন্দোলনের স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা যা শুরু থেকেই সুমহান ইসলাম ধর্মের আবির্ভাবের সাথে সাথে সূচিত হয়েছে এবং যুগ যুগ ধরে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে পরিপক্ক হয়েছে, অবশেষে আমাদের যুগে তার সুউচ্চ অবদান পেশ করেছে যা প্রতিফলিত হয়েছে...
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন কিতাবিস সিয়াক লিতারীখি নাইসাবুর - ত ইরান
(পৃষ্ঠা: ٨)
بهذه الثورة المباركة وصدق الله حيث قال: أَلَمْ تَرَ كَيْفَ ضَرَبَ اللَّهُ مَثَلًا كَلِمَةً طَيِّبَةً كَشَجَرَةٍ طَيِّبَةٍ أَصْلُها ثابِتٌ وَفَرْعُها فِي السَّماءِ تُؤْتِي أُكُلَها كُلَّ حِينٍ بِإِذْنِ رَبِّها وَيَضْرِبُ اللَّهُ الْأَمْثالَ لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَتَذَكَّرُونَ. يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَياةِ الدُّنْيا وَفِي الْآخِرَةِ. وَيُضِلُّ اللَّهُ الظَّالِمِينَ وَيَفْعَلُ اللَّهُ ما يَشاءُ).
وستواصل باذن الله مسيرتها حتّى بلوغ كامل أهدافها المقدّسة حينما يملأ الله الأرض قسطا وعدلا (وَلَقَدْ كَتَبْنا فِي الزَّبُورِ مِنْ بَعْدِ الذِّكْرِ أَنَّ الْأَرْضَ يَرِثُها عِبادِيَ الصَّالِحُونَ وَنُرِيدُ أَنْ نَمُنَّ عَلَى الَّذِينَ اسْتُضْعِفُوا فِي الْأَرْضِ وَنَجْعَلَهُمْ أَئِمَّةً وَنَجْعَلَهُمُ الْوارِثِينَ. وَنُمَكِّنَ لَهُمْ وَنُرِيَ فِرْعَوْنَ وَهامانَ وَجُنُودَهُما مِنْهُمْ ما كانُوا يَحْذَرُونَ)
وهذا الاستعراض الوجيز والمقتضب عن سير الحركة الفكرية الاسلاميّة في إيران يكشف لنامدى أهميّة نشر هذه الوثائق التراثية، وعلى هذا الأساس أقدمت مؤسسة النشر التابعة لجامعة المدرسين
(1) فى الحوزة العلمية بمدينة قم المقدّسة بنشر هذا السفر القيّم بوصفه أحد تلكم الحلقات التاريخية المفقودة للحركة الفكريّة، والمأمول أن تتلوه سائر الكتب التراثيّة بالخروج إلى النور والله الهادي إلى سواء السبيل.
نيسابورقال عنها ياقوت الحموي المتوفى سنة 626 في معجمه:
(مدينة عظيمة، ذات فضائل جسمية، معدن الفضلاء، ومنبع العلماء، لم أر فيما طوّفت من البلاد مدينة كانت مثلها، وهي كثيرة الخيرات.
فتحها المسلمون في أيام عثمان صلحا.
وأصابها الغزّ
(2) في سنة 548 بمصيبة عظيمة، وخرّبوها وأحرقوها. ثمّ تقلّبت بها أحوال حتى عادت أعمر بلاد الله وأحسنها وأكثرها خيرا وأهلا وأموالا لأنها دهليز المشرق.
وبقيت على ذلك إلى هجوم التتر سنة 618 هـ حيث تمكّن التتر برئاسة
--------------------------------------------
এই বরকতময় বিপ্লবের মাধ্যমে এবং আল্লাহ সত্যই বলেছেন যেখানে তিনি ইরশাদ করেছেন: তুমি কি দেখনি আল্লাহ কীভাবে একটি উত্তম বাক্যের উদাহরণ দিয়েছেন? একটি উত্তম বৃক্ষের ন্যায়, যার মূল সুদৃঢ় এবং যার শাখা আকাশে বিস্তৃত। সেটি তার রবের নির্দেশে সর্বদা ফল দান করে। আর আল্লাহ মানুষের জন্য উদাহরণ পেশ করেন যেন তারা উপদেশ গ্রহণ করে। আল্লাহ মুমিনদেরকে দুনিয়ার জীবনে ও আখিরাতে সুদৃঢ় বাণীর মাধ্যমে অবিচল রাখেন। আর আল্লাহ জালেমদেরকে বিভ্রান্ত করেন এবং আল্লাহ যা চান তা-ই করেন।
এবং আল্লাহর ইচ্ছায় এটি তার যাত্রা অব্যাহত রাখবে যতক্ষণ না তার পবিত্র লক্ষ্যসমূহ পূর্ণতা লাভ করে, যখন আল্লাহ পৃথিবীকে ইনসাফ ও ন্যায়ে পরিপূর্ণ করে দেবেন (এবং আমরা যিকরের পর যবুরে লিখেছি যে, নিশ্চয়ই পৃথিবীর উত্তরাধিকারী হবে আমার নেককার বান্দারা। আর আমরা ইচ্ছা করলাম যে, যমীনে যাদেরকে দুর্বল করা হয়েছিল তাদের ওপর অনুগ্রহ করতে এবং তাদেরকে ইমাম বানাতে ও তাদেরকে উত্তরাধিকারী করতে। আর আমরা যমীনে তাদের জন্য ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত করতে চাই এবং ফেরাউন, হামান ও তাদের বাহিনীকে তাদের পক্ষ থেকে তা দেখাতে চাই যা থেকে তারা সতর্ক থাকতো)।
ইরানের ইসলামি বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলনের অগ্রগতির এই সংক্ষিপ্ত ও সারগর্ভ পর্যালোচনা আমাদের কাছে এই ঐতিহ্যবাহী দলিলপত্র প্রকাশের গুরুত্ব উন্মোচন করে। এই ভিত্তিতেই পবিত্র কোম শহরের হাওজা ইলমিয়্যাহ-র জামেয়াতুল মুদাররেসীন-এর
(১) অধীনস্থ প্রকাশনা সংস্থা এই মূল্যবান গ্রন্থটি প্রকাশের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যা বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলনের হারিয়ে যাওয়া ঐতিহাসিক সংযোগসমূহের একটি। আশা করা যায় যে অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী কিতাবসমূহও আলোর মুখ দেখবে। আর আল্লাহই সঠিক পথের দিশারী।
নিশাপুর৬২৬ হিজরিতে ইন্তেকালকারী ইয়াকুত আল-হামাভী তার অভিধানে এ সম্পর্কে বলেছেন:
(একটি সুমহান শহর, অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ, বিদগ্ধজনদের খনি এবং আলেমদের উৎসস্থল। আমি যত দেশ ভ্রমণ করেছি তার মধ্যে এর মতো কোনো শহর দেখিনি। এটি প্রভূত কল্যাণময়।
উসমানের (রা.) যুগে মুসলমানরা সন্ধির মাধ্যমে এটি জয় করেছিলেন।
৫৪8 হিজরিতে গুযয
(২) সম্প্রদায় এটিকে বড় ধরনের বিপর্যয়ে ফেলেছিল এবং তারা এটিকে ধ্বংস ও ভস্মীভূত করেছিল। পরবর্তীতে এর অবস্থার পরিবর্তন ঘটে এবং এটি আল্লাহর যমীনের সবচেয়ে সমৃদ্ধ, সুন্দর ও কল্যাণময় শহরে পরিণত হয় এবং জনসংখ্যা ও ধন-সম্পদে সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে, কারণ এটি ছিল প্রাচ্যের প্রবেশদ্বার।
এবং ৬১৮ হিজরিতে তাতারদের আক্রমণ পর্যন্ত তা এভাবেই বহাল ছিল, যেখানে তাতাররা ...-এর নেতৃত্বে সক্ষম হয়েছিল
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন কিতাবিস সিয়াক লিতারীখি নাইসাবুর - ত ইরান
(পৃষ্ঠা: ٩)
جنكيز خان من اقتحامها بعد جهد جهيد ودخلوا إليها دخول حنق يطلب النفس والمال، فقتلوا كلّ من فيها من كبير وصغير ثم خرّبوها حتّى ألحقوها بالأرض فانا لله وانا إليه راجعون من مصيبة ما دهى الاسلام قطّ مثلها.
وقد خرج منها من أئمة العلم من لا يحصى).
وقال عنها السمعاني المتوفّى سنة 562:
(أحسن مدن خراسان وأجمعها للخيرات والمشهور بها لا يحصون).
وتقع بالقرب من مدينة مشهد عاصمة خراسان الحاليّة، واشتهرت بنشاطها العلمي من أواسط القرن الثاني للهجرة واستمرت حتّى حملة التتر أي حوالي خمسة قرون من الزمن قدّمت خلالها الآلاف من العلماء والمثقفين للأمة الاسلاميّة، وبما أن الإمام علي بن موسى الرضا ثامن أئمة الشيعة دفن على مقربة منها بطوس فقد فقدت نيسابور مركزيّتها العلميّة شيئا فشيئا وانتقلت إلى مشهد الرضا وحتّى يومنا هذا بنفس النسبة التى كان يتم فيها التحوّل في داخل المجتمع الايراني من المذهب السنّي إلى مذهب أهل البيت.
وحسب ما تعرّفنا على نيسابور من زوايا هذا الكتاب وخباياه فانها لم تزل حوالي القرن الخامس والسادس محتفظة بدورها الشامخ في الحركة العلمية ومحتوية على أكثر من عشرين مدرسة علمية وغيرها من عشرات المساجد ومراكز الصوفية والمكاتب.
ولقد تعرّضت هذه المدينة من سنة 400 إلى سنة 547 أي الفترة المرتبطة بهذا الكتاب تقريبا وقبيل فتنة الغز الكبرى إلى بعض الهزّات الاجتماعية والسياسية غير أنها لم تستطع من تعكير صفوها الدراسي ولم تدم طويلا، وتمثلت هذه المشاكل بالفتن التركمانية التى حدثت فى بداية الربع الثاني من القرن الخامس واستمرت مدّة من الزمن، وكبعض الفتن الطائفية والتعصّبات المقيتة بين الشافعية والحنفيّة أو بين السنّة والشيعة، وكبعض مضايقات الحكام وتعسّفاتهم.
চেঙ্গিস খান কঠোর প্রচেষ্টার পর তা জয় করতে সক্ষম হন এবং তারা অত্যন্ত ক্রুদ্ধ অবস্থায় সেখানে প্রবেশ করে জান ও মালের সন্ধানে লিপ্ত হয়। ফলে তারা সেখানে থাকা ছোট-বড় সকলকে হত্যা করে এবং শহরটি এমনভাবে ধ্বংস করে যে তা মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়। আমরা আল্লাহরই এবং নিশ্চয়ই তাঁরই নিকট প্রত্যাবর্তনকারী; ইসলামের ওপর এর আগে কখনও এমন ভয়াবহ মুসিবত নেমে আসেনি।
এখান থেকে অসংখ্য ইলমের ইমামের আবির্ভাব হয়েছে।)
৫৬২ হিজরিতে ইন্তেকালকারী সামআনী এর সম্পর্কে বলেছেন:
(এটি খুরাসানের সর্বোত্তম শহর এবং কল্যাণের আধার, আর এর বিখ্যাত ব্যক্তিত্বদের সংখ্যা অগণিত।)
এটি বর্তমান খুরাসানের রাজধানী মাশহাদ শহরের নিকটে অবস্থিত। হিজরি দ্বিতীয় শতাব্দীর মধ্যভাগ থেকে এটি এর ইলমি তৎপরতার জন্য প্রসিদ্ধি লাভ করে এবং তাতারীদের আক্রমণ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ শতাব্দী ধরে তা অব্যাহত থাকে। এ সময়ে এটি মুসলিম উম্মাহকে হাজার হাজার আলেম ও শিক্ষিত মনীষী উপহার দিয়েছে। যেহেতু শিয়াদের অষ্টম ইমাম আলী বিন মুসা আর-রিদা তুস-এর সন্নিকটে এর কাছেই সমাহিত হয়েছেন, তাই নিশাপুর ধীরে ধীরে তার ইলমি কেন্দ্রিকতা হারায় এবং তা মাশহাদে স্থানান্তরিত হয়। এটি বর্তমান সময় পর্যন্ত সেই একই অনুপাতে ঘটেছে যেভাবে ইরানি সমাজের ভেতরে সুন্নি মাযহাব থেকে আহলে বায়তের মাযহাবে রূপান্তর পরিলক্ষিত হয়েছে।
এই বইয়ের বিভিন্ন দিক ও তথ্য থেকে আমরা নিশাপুর সম্পর্কে যা জানতে পারি, তাতে দেখা যায় যে, পঞ্চম ও ষষ্ঠ শতাব্দী পর্যন্ত এটি ইলমি আন্দোলনে তার সুউচ্চ মর্যাদা বজায় রেখেছিল। এখানে বিশটিরও বেশি ইলমি মাদ্রাসা এবং আরও দশ-দশটি মসজিদ, সুফি কেন্দ্র ও কুতুবখানা বিদ্যমান ছিল।
এই শহরটি ৪০০ থেকে ৫৪৭ হিজরি পর্যন্ত—অর্থাৎ প্রায় এই বইয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট সময়কাল এবং বৃহত্তর 'গুজ' ফিতনার পূর্ব পর্যন্ত—কিছু সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতার সম্মুখীন হয়েছিল। তবে সেগুলো এর শিক্ষা পরিবেশের প্রশান্তি বিনষ্ট করতে পারেনি এবং তা দীর্ঘস্থায়ীও হয়নি। এই সমস্যাগুলো মূলত তুর্কমেনী ফিতনা যা পঞ্চম শতাব্দীর দ্বিতীয় চতুর্থাংশের শুরুতে ঘটেছিল এবং কিছুকাল স্থায়ী হয়েছিল; সেইসাথে শাফেয়ী ও হানাফী অথবা সুন্নি ও শিয়াদের মধ্যকার কিছু সাম্প্রদায়িক ফিতনা ও ঘৃণ্য গোঁড়ামি এবং শাসকদের কিছু হয়রানি ও জুলুম-অবিচারের আকারে প্রকাশ পেয়েছিল।
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন কিতাবিস সিয়াক লিতারীখি নাইসাবুর - ত ইরান
(পৃষ্ঠা: ١٠)
وكان غالبيّة سكانها انذاك منتمين إلى المذهب الشافعي وإلى جنبها أقليّة حنفيّة وشيعيّة، كما لعبت الصوفيّة دورا بارزا فى المجال الاجتماعي والثقافي.
وهذه الفترة تعتبر من أزهى عصور الحركة الفكرية بنيسابور وأكثرها ازدهارا بالعلم والعلماء ممّا دفع الكثير من سائر البلاد الاسلاميّة للانتهال من منا هلها الرويّة العذبة والدراسة فيها.
وأمّا اندفاع أهلها إلى المراكز العلميّة فكانت منقطعة النظير درجة أن الآباء حرصا منهم على الاحتفاظ بالرسالة الاسلامية والسنة النبوية ونشرها، كانوا يبكرون بأطفالهم ويحملونهم على أكتافهم إلى مراكز التعليم والتربية والحديث وهم صغار لم يبلغوا السادسة من أعمارهم، وكانوا يطعموهم الحلوى أثناء الدرس كي لا يغلب عليهم الضجر والسأم، وكثيرا ما يتحسر المؤلّف ويعتذر قائلا: فاتني سماع الحديث من هذه الشخصية أو تلك لغيبة الوالد عنّي. وذلك أن أباه- شأنه شأن الكثير من الآباء انذاك- كان يحمله على كتفه وهو صغير لاستماع الحديث من المشايخ والعلماء كي ينقل فيما بعد هذه الأحاديث بوسائط أقل إلى الاجيال الآتية.
تاريخ الحاكم:وحفظا لهذا التيار العظيم من الضياع بادر الكثير إلى تدوينها فكان من أهم هذه المحاولات وأكثرها نجاحا وشمولا ما حقّقه الحاكم أبو عبد الله محمد بن عبد الله البيّع النيسابوري المتوفّى سنة 405 باسم تاريخ نيسابور فى عدّة مجلّدات ضخمة استعرض فيها تاريخ المنطقة من بداية العهدالاسلامي إلى عصره واستوعب بالذكر كافّة العلماء والشخصيات البارزة التي نشأت بها أو درست فيها ولو لفترة قصيرة من الزمن.
وهذا الكتاب القيّم كالكثير من كتبنا التراثيّة القيّمة لم يبق منه إلا فقرات يسيرة ومتناثرة فى ثنايا الكتب الأخرى والمؤلّفة من بعد الحاكم أمثال تاريخ بغداد والأنساب والوفيات وغيرها من الكتب. نعم بقي اليسير من ترجمته
সেই সময়ে সেখানকার অধিকাংশ অধিবাসী শাফিঈ মাযহাবের অনুসারী ছিল এবং তাদের পাশাপাশি হানাফী ও শিয়া সংখ্যালঘু বিদ্যমান ছিল। এছাড়া তাসাউফ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে এক উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছিল।
এই যুগটি নিশাপুরের বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলনের স্বর্ণযুগ এবং জ্ঞান ও ওলামায়ে কেরামের উপস্থিতিতে সবচেয়ে সমৃদ্ধ সময় হিসেবে গণ্য হয়। যা অন্যান্য মুসলিম দেশসমূহ থেকে অসংখ্য মানুষকে এই অঞ্চলের সুমিষ্ট ও তৃপ্তিদায়ক জ্ঞানের ঝরনাধারা থেকে জ্ঞান আহরণ এবং এখানে পড়াশোনার জন্য উদ্বুদ্ধ করত।
আর জ্ঞানকেন্দ্রগুলোর প্রতি স্থানীয় অধিবাসীদের আগ্রহ ছিল নজিরবিহীন। এমনকি পিতারা ইসলামী রিসালাত ও সুন্নাহে নববী সংরক্ষণ ও প্রসারের ব্যাপারে এতটাই আগ্রহী ছিলেন যে, তারা তাদের সন্তানদের শৈশবে—যখন তাদের বয়স ছয় বছরও পূর্ণ হয়নি—কাঁধে বহন করে শিক্ষা, তরবিয়ত ও হাদিসের কেন্দ্রগুলোতে নিয়ে যেতেন। পাঠ চলাকালীন তারা শিশুদের মিষ্টি খাওয়াতেন যাতে বিরক্তি বা ক্লান্তি তাদের গ্রাস না করে। লেখক প্রায়শই আফসোস ও ওজর পেশ করে বলতেন: পিতার অনুপস্থিতির কারণে অমুক ব্যক্তিত্বের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ আমার হাতছাড়া হয়ে গেছে। এর কারণ হলো, তৎকালীন অন্যান্য পিতাদের মতো তাঁর পিতাও তাঁকে শৈশবে কাঁধে করে মাশায়েখ ও ওলামাদের কাছে নিয়ে যেতেন হাদিস শ্রবণের জন্য, যাতে তিনি পরবর্তী প্রজন্মের কাছে স্বল্প মাধ্যম বা সনদে এই হাদিসগুলো পৌঁছে দিতে পারেন।
হাকেমের ইতিহাস:এই মহান জ্ঞানধারাকে হারিয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করার জন্য অনেকেই তা লিপিবদ্ধ করতে উদ্যোগী হয়েছিলেন। এসব প্রচেষ্টার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ, সফল ও ব্যাপক ছিল হাকেম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-বাইয়্যি আল-নিশাপুরী (মৃত্যু ৪০৫ হিজরি) কর্তৃক 'তারিখে নিশাপুর' নামে রচিত বিশাল কয়েক খণ্ডের গ্রন্থটি। এতে তিনি ইসলামের সূচনালগ্ন থেকে তাঁর সময় পর্যন্ত এই অঞ্চলের ইতিহাস তুলে ধরেছেন এবং এখানে বেড়ে ওঠা বা স্বল্প সময়ের জন্য হলেও এখানে পড়াশোনা করেছেন এমন সমস্ত আলেম ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের বিস্তারিত বর্ণনা অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
আমাদের অনেক মূল্যবান ঐতিহ্যবাহী গ্রন্থের মতো এই মূল্যবান গ্রন্থটিরও খুব সামান্য ও বিক্ষিপ্ত অংশই টিকে আছে যা হাকেমের পরবর্তী সময়ে রচিত অন্যান্য গ্রন্থ যেমন— তারিখে বাগদাদ, আল-আনসাব, আল-ওয়াফায়াত এবং অন্যান্য বইয়ের ভাঁজে পাওয়া যায়। হ্যাঁ, এর অনুবাদের সামান্য অংশ অবশিষ্ট আছে।
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন কিতাবিস সিয়াক লিতারীখি নাইসাবুর - ত ইরান
(পৃষ্ঠা: ١١)
الفارسية والملخّصة بواسطة خليفة النيسابوري وقد طبع سنة 1339 هـ ش بطهران في 162 صفحة بالقطع الوزيرى بتحقيق الدكتور بهمن كريمي.
السياق لتاريخ نيسابور:ولم ينحسر المدّ العلمي بذهاب الحاكم النيسابوري بل استمر في التعاظم والعطاء إلى هجوم التتر فكان من الضروري تدوين هذه المرحلة المتأخرة من الحاكم وإلحاقها بتاريخه، فهبّ لهذا الأمر رجال لم يحققوا شيئا يذكر حتى تمكن أبو الحسن الفارسي من جمع هذه المحاولات الناقصة وإكمالها في مجلّدات ضخمة باسم السياق لتاريخ نيسابور صارت بالتالي المرجع الوحيد لهذه الفترة لكل من تأخّر عنه من المؤلّفين والكتّاب.
المنتخب من السياق:والظاهر أن سعة حجم السياق وكثرة المواضيع غير اللازمة حالتا دون وصول هذا الكتاب إلينا ممّا دفع البعض من العلماء إلى تلخيصه تسهيلا للباحثين والعلماء من المراجعة والاستنساخ. ولدينا الآن تلخيصان للسياق أحدهما ما نصطلح عليه بالمختصر الأول وهو ناقص يبتدئ من حرف الحاء ممّن اسمه الحسن ولا يعرف الملخص وبما أنه مجهول الهوية فقد ظن البعض من المحققين أنه كتاب السياق نفسه خاصّة وأنه بالقياس إلى المنتخب فى كثير من التراجم أكثر تفصيلا لكن ومع المراجعة إلى طبقات السبكي فى الكثير من الفقرات المنقولة عن السياق مباشرة يتبين لنا أن السياق هو أكثر تفصيلا من هذا المختصر إضافة إلى أن في المنتخب نفسه كلمات وتراجم غير موجودة فى المختصر.
والآخر هذا الكتاب الذي بين يديك ويمتاز بأنه اختصار كامل لكتاب السياق، وان الذي قام باختصاره معروف الشخصية وانه حاو لعدد أكبر من التراجم بالاضافة إلى حسن ترتيبه.
ومع هذا فان التلخيص الأول يمتاز بأمور أخر تزيد من قيمته التراثية ولا يمكن الاستغناء عنها، فهو كتاب أدبي وروائي وتاريخي ورجالي ممّا
ফারসি ভাষায় এবং খলিফা আন-নিশাপুরী কর্তৃক সংক্ষিপ্তকৃত, যা ১৩৩৯ হিজরি শামসি সালে তেহরানে ড. বাহমান কারিমির সম্পাদনায় ১৬২ পৃষ্ঠায় উজিরি মাপে মুদ্রিত হয়েছে।
আস-সিয়াক লি-তারিখ নিশাপুর:হাকিম আন-নিশাপুরীর বিদায়ের মাধ্যমে ইলমি জোয়ার থেমে যায়নি, বরং তাতারীদের আক্রমণ পর্যন্ত তা ক্রমাগত বৃদ্ধি ও দানের ধারা অব্যাহত রেখেছিল। তাই হাকিম পরবর্তী এই পরবর্তী কালপর্বকে লিপিবদ্ধ করা এবং তাঁর ইতিহাসের সাথে সংযুক্ত করা জরুরি হয়ে পড়েছিল। এই কাজের জন্য এমন কিছু ব্যক্তি এগিয়ে আসেন যারা উল্লেখযোগ্য কিছু করতে পারেননি, অবশেষে আবুল হাসান আল-ফারিসি এই অসম্পূর্ণ প্রচেষ্টাগুলোকে একত্রিত করতে সক্ষম হন এবং 'আস-সিয়াক লি-তারিখ নিশাপুর' নামে বিশাল খণ্ডগুলোতে তা পূর্ণাঙ্গ করেন। ফলে এটি পরবর্তী সকল লেখক ও সাহিত্যিকের জন্য এই সময়ের একমাত্র সূত্রে পরিণত হয়।
আল-মুন্তাখাব মিনাস সিয়াক:প্রতীয়মান হয় যে, 'আস-সিয়াক' এর বিশাল কলেবর এবং অপ্রয়োজনীয় বিষয়ের আধিক্য কিতাবটি আমাদের পর্যন্ত পৌঁছানোর ক্ষেত্রে অন্তরায় হয়েছিল। ফলে কিছু আলেম গবেষক ও পণ্ডিতদের পর্যালোচনা ও অনুলিপি তৈরির সুবিধার্থে একে সংক্ষিপ্ত করার উদ্যোগ নেন। আমাদের কাছে বর্তমানে আস-সিয়াক এর দুটি সংক্ষেপণ রয়েছে। এর একটিকে আমরা 'প্রথম সংক্ষিপ্তসার' হিসেবে অভিহিত করি; এটি অপূর্ণাঙ্গ এবং 'হা' অক্ষর থেকে যাদের নাম 'হাসান' তাদের দ্বারা শুরু হয়েছে। এর সংক্ষেপকারী কে তা জানা যায়নি। যেহেতু সংক্ষেপকারীর পরিচয় অজ্ঞাত, তাই কোনো কোনো গবেষক ধারণা করেছিলেন যে এটিই স্বয়ং আস-সিয়াক কিতাবটি। বিশেষ করে 'আল-মুন্তাখাব' এর সাথে তুলনা করলে অনেক জীবনীতে এটি অধিক বিস্তারিত। কিন্তু সুবকির 'তাবাকাত' গ্রন্থে আস-সিয়াক থেকে সরাসরি উদ্ধৃত অনেক অনুচ্ছেদ পর্যালোচনার পর আমাদের কাছে স্পষ্ট হয় যে, আস-সিয়াক এই সংক্ষেপের চেয়েও অধিক বিস্তারিত। তদুপরি 'আল-মুন্তাখাব'-এ এমন কিছু শব্দ ও জীবনী রয়েছে যা এই সংক্ষেপটিতে বিদ্যমান নেই।
আর অন্যটি হলো আপনার হাতে থাকা এই কিতাবটি। এর বৈশিষ্ট্য হলো এটি 'আস-সিয়াক' কিতাবের একটি পূর্ণাঙ্গ সংক্ষেপণ, এর সংক্ষেপকারী একজন পরিচিত ব্যক্তিত্ব এবং উত্তম বিন্যাসের পাশাপাশি এটি অধিক সংখ্যক জীবনী ধারণ করে আছে।
তা সত্ত্বেও প্রথম সংক্ষেপণটি অন্যান্য কিছু বৈশিষ্ট্যে অনন্য যা এর ঐতিহ্যগত মানকে বৃদ্ধি করে এবং যা এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। কারণ এটি একটি সাহিত্যিক, বর্ণনামূলক, ঐতিহাসিক এবং রিজাল শাস্ত্রীয় গ্রন্থ যা...
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন কিতাবিস সিয়াক লিতারীখি নাইসাবুর - ত ইরান
(পৃষ্ঠা: ١٢)
يعطى للباحث صورة أكثر وضوحا عن الظروف الاجتماعيّة والحالات الشخصيّة للمترجم طبعا فى بعض التراجم بينما المنتخب كتاب رجاليّ بحت إلّا ما شذّ وندر من الأقوال والأشعار والروايات. وسيطبع المختصر الأول فى الحلقة القادمة إنشاء الله.
المؤلف:الحافظ أبو الحسن الفارسي
(1) ثم النيسابوري.
قال الذهبي عنه:
الحافظ المفيد اللغوي الإمام كان من أعيان المحدّثين بصيرا باللغات، فصيحا بليغا عذب العبارة.
وقال ابن خلّكان فى الوفيات:
أبو الحسن الحافظ كان إماما في الحديث والعربيّة.
وسيوافينا المؤلف نفسه بترجمته مفصّلة في نهاية هذا الكتاب.
المنتخبقال الذهبي:
الحافظ المتقن العالم تقي الدين أبو إسحاق إبراهيم الصريفيني
(2) نزيل دمشق.
مولده سنة إحدى وثمانين وخمس مائة.
وعنى بالحديث ورحل فيه إلى خراسان واصبهان والشام والجزيرة، وصحب الحافظ عبد القادر الرهاوي وتخرّج به.
وسمع من المؤيّد الطوسي، وعبد المعزّ الهروي، وعليّ بن منصور الثقفي، وحنبل بن عبد الله الرصافي، وعمر بن طبرزد، وأبي اليمن الكندي، وأبي محمد بن الأخضر وطبقتهم. روى عنه الحافظ ضياء الدين المقدسي، وابن الحلوانية، وأبو المجد ابن العديم، والشيخ تاج الدين الفزاري وأخوه،
--------------------------------------------
এটি গবেষককে জীবনীর পাত্রদের সামাজিক পারিপার্শ্বিকতা এবং ব্যক্তিগত অবস্থা সম্পর্কে একটি পরিষ্কার ধারণা প্রদান করে, যা নির্দিষ্ট কিছু জীবনীর ক্ষেত্রে স্পষ্ট। অন্যদিকে আল-মুনতাখাব গ্রন্থটি মূলত একটি বিশুদ্ধ রিজাল শাস্ত্রীয় (জীবনীমূলক) গ্রন্থ, তবে এতে খুব সামান্য পরিমাণে কিছু উক্তি, কবিতা ও বর্ণনা স্থান পেয়েছে। ইনশাআল্লাহ প্রথম সংক্ষিপ্তসারটি পরবর্তী পর্বে প্রকাশিত হবে।
লেখক:আল-হাফিজ আবু আল-হাসান আল-ফারিসি
(১) অতঃপর আন-নিশাপুরি।
আয-যাহাবি তার সম্পর্কে বলেছেন:
আল-হাফিজ, আল-মুফিদ, ভাষাতত্ত্ববিদ, ইমাম। তিনি ছিলেন বিশিষ্ট মুহাদ্দিসদের অন্তর্ভুক্ত, ভাষাতত্ত্বে দূরদর্শী, প্রাঞ্জল ও সাবলীল বক্তা এবং শ্রুতিমধুর শব্দ চয়ণে পারদর্শী।
ইবনুল খাল্লিকান 'আল-ওয়াফায়াত' গ্রন্থে বলেছেন:
আবু আল-হাসান আল-হাফিজ হাদিস এবং আরবি সাহিত্যে একজন ইমাম ছিলেন।
লেখক নিজেই এই বইয়ের শেষে তার বিস্তারিত জীবনী আমাদের সামনে তুলে ধরবেন।
আল-মুনতাখাব (সংক্ষেপক)আয-যাহাবি বলেছেন:
আল-হাফিজ, সূক্ষ্মদর্শী আলেম তাকিয়ুদ্দিন আবু ইসহাক ইব্রাহিম আল-সারিফিনি
(২), যিনি দামেস্কে বসবাস করতেন।
তার জন্ম ৫৮১ হিজরি সনে।
তিনি হাদিসের প্রতি গভীর মনোযোগী ছিলেন এবং এর জন্য খুরাসান, ইসফাহান, শাম ও আল-জাজিরা সফর করেছেন। তিনি হাফিজ আব্দুল কাদির আল-রুহাভির সাহচর্য লাভ করেন এবং তার নিকট পাঠ গ্রহণ করেন।
তিনি আল-মুয়াইয়াদ আত-তুসি, আব্দুল মুইজ আল-হারাউই, আলী ইবনে মানসুর আল-সাকাফি, হাম্বল ইবনে আব্দুল্লাহ আল-রুসাফি, উমর ইবনে তাবারজাদ, আবু আল-ইয়ামান আল-কিন্দি, আবু মুহাম্মদ ইবনুল আখদার এবং তাদের সমপর্যায়ের আলেমদের থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন। তার নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন হাফিজ জিয়াউদ্দিন আল-মাকদিসি, ইবনুল হুলওয়ানিয়া, আবু আল-মাজদ ইবনুল আদিম, শেখ তাজউদ্দিন আল-ফাজারি এবং তার ভাই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন কিতাবিস সিয়াক লিতারীখি নাইসাবুর - ত ইরান
(পৃষ্ঠা: ١٣)
والشيخ زين الدين الفارقي، وأبو علي ابن الخلال، والفخر ابن عساكر وآخرون.
قال الحافظ المنذري: كان ثقة حافظا صالحا له جموع حسنة لم يتمّها.
وقال الحافظ عزّ الدين ابن الحاجب: إمام ثبت صدوق واسع الرواية، سخيّ النفس مع القلّة، سافر الكثير وكتب وأفاد. وكان يرجع إلى فقه وورع، ولي مشيخة دار الحديث بمنبج ثمّ تركها، وسكن حلب فولّي مشيخة دار الحديث الشدادية. سألت الشيخ الضياء عنه فقال: إمام حافظ ثقة، حسن الصحبة، له معرفة بالفقه. قال ابن الحاجب: قرأ القرن على والده وعلى الشيخ عوض الصريفيني، وتفقّه على الشيخ عبد الله بن أحمد التواريخي، وقرأ الأدب على هبة الله بن عمر الدوري.
مات بدمشق في جمادى الأولى سنة إحدى وأربعين وست مائة.
وقال الحموي فى معجمه:
حافظ إمام سمع القاضي أبا القاسم عبد الصمد بن محمد الحرستاني، وبخراسان المؤيّد أبا المظفر السمعاني و
… صنّف وأفاد واستفاد.
النسخة الخطيّة:وهي الوحيدة التى اعتمدنا عليها فى التحقيق ومن حسن الحظ أنها بخطّ المنتخب نفسه فرغ منها سنة 622 كما هو مكتوب في اخر الكتاب وتقع فى 146 ورقة و 25 سطرا وهي تحت الرقم 1152 من مكتبة الوزير أبي العباس أحمد بن محمد كوبريلى بتركيا.
وأمّا صحّة الانتساب فمفروغ عنه بعد ما شاهدنا المتأخرين عن المؤلف والمنتخب ينقلون بعين ما لدينا من عبارات الكتاب إضافة إلى الشواهد الحيّة الكثيرة الموجودة في الكتاب نفسه.
المترجمون:فهم على ما سيذكره المؤلف في المقدّمة- المشايخ من علماء نيسابور وأئمتهم ورواة الحديث منهم الذين ولدوا بها ونشئوا فيما والذين قدموها و
এবং শায়খ জয়নুদ্দীন আল-ফারিকী, আবু আলী ইবনুল খাল্লাল, আল-ফখর ইবনে আসাকির এবং অন্যান্য।
হাফেজ আল-মুনজিরী বলেন: তিনি ছিলেন নির্ভরযোগ্য, হাফেজ এবং নেককার; তাঁর চমৎকার কিছু সংকলন ছিল যা তিনি সম্পন্ন করতে পারেননি।
হাফেজ ইজ্জুদ্দীন ইবনুল হাজিব বলেন: (তিনি ছিলেন) একজন সুপ্রতিষ্ঠিত ইমাম, সত্যবাদী এবং বর্ণনায় সমৃদ্ধ; অভাবের মধ্যেও তিনি দানশীল চিত্তের অধিকারী ছিলেন। তিনি প্রচুর সফর করেছেন, লিখেছেন এবং উপকৃত করেছেন। তিনি ফিকহ ও তাকওয়ার অধিকারী ছিলেন। তিনি মানবিজে দারুল হাদিসের প্রধান পদ লাভ করেন, পরে তা ত্যাগ করেন এবং হালবে বসবাস শুরু করেন; সেখানে তিনি শাদ্দাদিয়া দারুল হাদিসের প্রধান পদে নিযুক্ত হন। আমি শায়খ দিয়াকে তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন: (তিনি একজন) ইমাম, হাফেজ ও নির্ভরযোগ্য, চমৎকার সহচর এবং ফিকহ শাস্ত্রে তাঁর প্রজ্ঞা রয়েছে। ইবনুল হাজিব বলেন: তিনি তাঁর পিতা এবং শায়খ আওয়াদ আস-সারিফিনীর নিকট কুরআন পাঠ করেছেন, শায়খ আব্দুল্লাহ বিন আহমদ আত-তাওয়ারিখীর কাছে ফিকহ পড়েছেন এবং হিবাতুল্লাহ বিন উমর আদ-দাওরীর কাছে আদব (সাহিত্য) শিক্ষা করেছেন।
তিনি ৬৪১ হিজরীর জমাদিউল আউয়াল মাসে দামেস্কে ইন্তেকাল করেন।
আল-হামাভী তাঁর মু'জামে বলেন:
হাফেজ ও ইমাম; তিনি কাজী আবুল কাসেম আব্দুস সামাদ বিন মুহাম্মদ আল-হারাসতানী এবং খোরাসানে আল-মুয়াইয়্যাদ আবু মুজাফফর আস-সামআনী ও
... (এর নিকট) হাদিস শুনেছেন। তিনি গ্রন্থ রচনা করেছেন, উপকৃত করেছেন এবং উপকৃত হয়েছেন।
পাণ্ডুলিপি:এটিই একমাত্র পাণ্ডুলিপি যার ওপর আমরা সম্পাদনার কাজে নির্ভর করেছি। সৌভাগ্যবশত এটি স্বয়ং সংকলনকারীর নিজ হাতের লেখা, কিতাবের শেষে যেমনটি লিখিত আছে যে, তিনি ৬২২ হিজরীতে এর কাজ সমাপ্ত করেন। এটি ১৪৬টি পত্র এবং ২৫টি লাইনে বিন্যস্ত এবং তুরস্কের উজির আবুল আব্বাস আহমদ বিন মুহাম্মদ কুপরিলি লাইব্রেরিতে ১১৫২ নম্বর অধীনে সংরক্ষিত।
আর এই কিতাবটির সম্পৃক্ততার বিশুদ্ধতা নিয়ে কোনো সংশয় নেই, যেহেতু আমরা দেখেছি যে লেখক ও সংকলনকারীর পরবর্তীগণ আমাদের কাছে থাকা কিতাবের হুবহু ইবারত থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করছেন। এর সাথে কিতাবটির ভেতরেই অনেক জীবন্ত প্রমাণ বিদ্যমান।
যাঁদের জীবনী বর্ণিত হয়েছে:লেখক মুখবন্ধে যেমনটি উল্লেখ করবেন, তাঁরা হলেন— নিশাপুরের ওলামায়ে কেরাম, তাঁদের ইমামগণ এবং তাঁদের মধ্য হতে হাদিস বর্ণনাকারীগণ; যাঁরা সেখানে জন্মগ্রহণ করেছেন ও বেড়ে উঠেছেন এবং যাঁরা সেখানে আগমন করেছেন এবং...
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন কিতাবিস সিয়াক লিতারীখি নাইসাবুর - ত ইরান
(পৃষ্ঠা: ١٤)
اجتازوا بها من الطارئين أو سكنوها وحدّ ثوابها، مرتّبا إياهم على طبقات ثلاث جعل اسناد أبي العباس الأصم معيارا لهذا الترتيب فالطبقة الأولى هم أصحاب الأصم وتبتدأ وفياتهم من حوالي بداية القرن الخامس وتمتدّ إلى نهاية الربع الأول منه، والطبقة الثانية هم أصحاب أصحاب الأصم وتمتدّ وفياتهم إلى حوالي سنة 463 هـ وآخرهم أصحاب المخلدي والخفاف والطبقة الثالثة هم شيوخ المصنف ومعاصروه وتمتد وفياتهم إلى بعد وفاة المصنّف وحتّى فتنة الغز سنة 548 وبعدها.
المصادر:جمع المصنّف في تأليفه لهذا الكتاب بين معلوماته ومشاهداته وبين ما استفاده من مسودّات الآخرين ومذكّراتهم وكتبهم وأكثر عن الحاكم أبيالقاسم عبيد الله بن عبد الله بن أحمد الحسكاني المتوفى في نهاية القرن الخامس، وعن الحافظ أبي صالح أحمد بن عبد الملك بن علي المؤذن المتوفّي سنة 470 هـ الذي قال عنه المصنف: وكان يحثّني على معرفة الحديث، ولم أتمكن من تحرير طرف من هذا الكتاب إلا من مسودّاته ومجموعاته فهي المرجوع إليها. وعن الحافظ أبي بكر محمد بن يحيى بن إبراهيم المزكي المتوفّى سنة 474 هـ، وعن الحافظ الرّحال أبي سعيد مسعود بن ناصر السجزي الركّاب المتوفى سنة 477 هـ، وعن أبي القاسم زاهر بن طاهر الشحامي المتوفي سنة 533 وقد قال عنه المصنف: وهو الذي حملني على الشروع فى هذا المجموع وأعانني عليه بحيث كنت أطير بجناحه وأنطق عن لسانه.
أسلوب التحقيق:اختلف الاسلوب بين حين وآخر بعض الاختلاف، وضاعت نسختنا من المختصر الأول فى المراحل الأولى من التحقيق حيث أفقدنا الاستفادة الكافية واللازمة منها إلّا بعد ما خضع هذا الكتاب للاشراف المطبعي ممّا دفعنا للاستفادة من سائر الكتب الموجودة والتى تعدّ بعد المختصر الأول
যারা নবাগত হিসেবে এটি অতিক্রম করেছেন অথবা এখানে বসবাস করেছেন এবং এর সওয়াবের সীমা, লেখক তাদের তিনটি স্তরে বিন্যস্ত করেছেন এবং আবুল আব্বাস আল-আসাম-এর সনদকে এই বিন্যাসের মানদণ্ড হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। প্রথম স্তর হলো আল-আসাম-এর শাগরিদগণ, যাদের মৃত্যু পঞ্চম হিজরি শতাব্দীর শুরুর দিক থেকে শুরু হয়ে উক্ত শতাব্দীর প্রথম চতুর্থাংশের শেষ পর্যন্ত বিস্তৃত। দ্বিতীয় স্তর হলো আল-আসাম-এর শাগরিদদের শাগরিদগণ, যাদের মৃত্যুর সময়কাল ৪৬৩ হিজরি সাল পর্যন্ত এবং তাদের শেষোক্তরা হলেন আল-মুখাল্লাদি ও আল-খাফফাফ-এর শাগরিদগণ। তৃতীয় স্তর হলো গ্রন্থকারের শিক্ষকবৃন্দ ও তাঁর সমসাময়িকগণ, যাদের মৃত্যুর সময়কাল গ্রন্থকারের মৃত্যুর পর এমনকি ৫৪৮ হিজরি সালের গুয ফিতনা ও তার পরবর্তী সময় পর্যন্ত বিস্তৃত।
উৎসসমূহ:গ্রন্থকার এই কিতাবটি রচনার ক্ষেত্রে তাঁর নিজস্ব তথ্য ও পর্যবেক্ষণ এবং অন্যদের খসড়া লিপি, স্মারক ও বইপুস্তক থেকে প্রাপ্ত তথ্যের সমন্বয় ঘটিয়েছেন। তিনি পঞ্চম শতাব্দীর শেষের দিকে মৃত্যুবরণকারী হাকেম আবুল কাসেম উবায়দুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ আল-হাসকানী থেকে প্রচুর বর্ণনা করেছেন। এছাড়াও তিনি হাফেজ আবু সালেহ আহমাদ বিন আব্দুল মালিক বিন আলী আল-মুয়াযযিন (মৃত্যু ৪৭০ হি.) থেকে বর্ণনা করেছেন, যার সম্পর্কে গ্রন্থকার বলেছেন: "তিনি আমাকে হাদিস শাস্ত্রের জ্ঞানে উৎসাহিত করতেন এবং আমি তাঁর খসড়া ও সংগ্রহশালা ব্যতীত এই বইয়ের কোনো অংশই সম্পাদনা করতে সক্ষম হইনি, সুতরাং সেগুলোই ছিল মূল নির্ভরস্থল।" এছাড়া তিনি হাফেজ আবু বকর মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া বিন ইব্রাহিম আল-মুযাক্কী (মৃত্যু ৪৭৪ হি.), পরিব্রাজক হাফেজ আবু সাঈদ মাসউদ বিন নাসির আস-সিজযী আর-রাক্কাব (মৃত্যু ৪৭৭ হি.) এবং আবুল কাসেম যাহির বিন তাহির আশ-শাহামী (মৃত্যু ৫৩৩ হি.) থেকে বর্ণনা করেছেন, যাঁর সম্পর্কে গ্রন্থকার বলেছেন: "তিনিই আমাকে এই সংকলনটি শুরু করতে উদ্বুদ্ধ করেছেন এবং এতে আমাকে এমনভাবে সাহায্য করেছেন যে আমি যেন তাঁর ডানা দিয়ে উড়ছিলাম এবং তাঁর ভাষায় কথা বলছিলাম।"
সম্পাদনা পদ্ধতি:সময়ের ব্যবধানে পদ্ধতিতে কিছুটা ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়েছে এবং সম্পাদনার প্রাথমিক পর্যায়ে আমাদের কাছে থাকা প্রথম সংক্ষিপ্তসারের (আল-মুখতাসারুল আউয়াল) অনুলিপিটি হারিয়ে গিয়েছিল, যার ফলে মুদ্রণ তত্ত্বাবধানে যাওয়ার আগ পর্যন্ত আমরা তা থেকে পর্যাপ্ত ও প্রয়োজনীয় সুফল লাভে বঞ্চিত ছিলাম। এ কারণে আমরা বিদ্যমান অন্যান্য কিতাব থেকে উপকৃত হতে সচেষ্ট হয়েছি, যা প্রথম সংক্ষিপ্তসারের পরবর্তী স্তরের উৎস হিসেবে গণ্য হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন কিতাবিস সিয়াক লিতারীখি নাইসাবুর - ত ইরান
(পৃষ্ঠা: ١٥)
من حيث الأهميّة والقيمة التحقيقية مثل الأنساب للسمعاني وكذلك التحبير وطبقات السبكي والعبر وتذكرة الحفّاظ وتاريخ بغداد وتاريخ جرجان والوفيات والفوات ولسان الميزان وغاية النهاية والمنتظم وغيرها ثمّ إن بعض الكتب المدرجة فى التعليقات لم أنقل منها مباشرة بل من سائر الكتب المحققة وقد أضفت تاريخ الولادة والوفاة فيما إذا لم يذكره المصنّف وأوضحت بعض الاسماء المذكورة بالكنية أو اللقب فقط وزدت في بعض التراجم زيادات مختلفة فى الحجم لانها كانت منقولة عن السياق في كتب أخرى وخاصة طبقات السبكي إتماما للفائدة والتنويه بالصورة الأوّليّة لكتاب السياق إلّا أن جميع هذه الزيادات المذكورة وضعتها بين معقوفين وقد تركت بعض الكلمات على حالتها من غموض وتشويش أوركاكة حفظا للأصل.
هذا ونأمل من الله التوفيق والسداد إنه الموفّق والمستعان.
رجب 1403 - ارديبهشت 1362
محمد كاظم محمودي
গুরুত্ব এবং পাণ্ডুলিপি সম্পাদনার মানের দিক থেকে যেমন সামআনীর 'আল-আনসাব', তেমনিভাবে 'আত-তাহবীর', সুবকীর 'তাবাকাত', 'আল-ইবার', 'তাযকিরাতুল হুফফাজ', 'তারিখে বাগদাদ', 'তারিখে জুরজান', 'আল-ওয়াফায়াত', 'আল-ফাওয়াত', 'লিসানুল মিজান', 'গায়াতুন নিহায়াহ', 'আল-মুনতাজাম' এবং অন্যান্য কিতাবসমূহ। অতঃপর টীকাাবলীতে অন্তর্ভুক্ত কিছু কিতাব থেকে আমি সরাসরি উদ্ধৃতি গ্রহণ করিনি, বরং অন্যান্য সম্পাদিত কিতাব থেকে তা বর্ণনা করেছি। যেখানে মূল গ্রন্থকার জন্ম ও মৃত্যুর তারিখ উল্লেখ করেননি, সেখানে আমি তা যোগ করেছি। আর যেসব নাম শুধুমাত্র উপনাম বা উপাধি দ্বারা উল্লেখ করা হয়েছে, আমি সেগুলো স্পষ্ট করেছি। কিছু জীবনীতে আমি বিভিন্ন দৈর্ঘ্যের সংযোজন করেছি, কারণ সেগুলো অন্য কিতাবসমূহে—বিশেষ করে সুবকীর 'তাবাকাত'-এ—'আস-সিয়াক' থেকে উদ্ধৃত করা হয়েছিল। এটি করা হয়েছে উপযোগিতা পূর্ণ করার জন্য এবং 'আস-সিয়াক' কিতাবটির প্রাথমিক রূপের প্রতি ইঙ্গিত করার জন্য; তবে এই সমস্ত বর্ণিত সংযোজনকে আমি তৃতীয় বন্ধনী বা ব্র্যাকেটের মধ্যে রেখেছি। মূল পাঠের বিশুদ্ধতা রক্ষার স্বার্থে আমি কিছু শব্দকে তাদের অস্পষ্টতা, বিভ্রান্তি বা দুর্বলতা থাকা সত্ত্বেও অপরিবর্তিত রেখে দিয়েছি।
পরিশেষে, আমরা আল্লাহর নিকট তাওফিক ও সঠিক পথের প্রার্থনা করি। নিশ্চয়ই তিনি তাওফিকদাতা এবং সাহায্যকারী।
রজব ১৪০৩ - অরদিবেহেশত ১৩৬২
মুহাম্মদ কাজিম মাহমুদি
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন কিতাবিস সিয়াক লিতারীখি নাইসাবুর - ত ইরান
(পৃষ্ঠা: -)
المنتخب من كتاب السياق لتاريخ نيسابور - ط إيران القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: المنتخب من كتاب «السياق لتاريخ نيسابور، لعبد الغافر الفارسي»
انتخبه: أبو إسحاق إبراهيم بن محمد بن الأزهر الصريفيني (581 - 641 هـ)
المحقق: محمد کاظم المحمودي
تنبيه: رؤوس التراجم المختصرة بين [معقوفات] ليست من المخطوط، وإنما زادها المحقق كما نبّه على ذلك بمقدمته
الناشر: جماعة المدرسين في الحوزة العلمية بقم. مؤسسة النشر الإسلامي - قم إيران
عام النشر: 1403 هـ
عدد الصفحات: 863
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 29 ربيع الأول 1444
নিশাপুরের ইতিহাসের জন্য আস-সিয়াক গ্রন্থ থেকে সংকলিত - ইরান সংস্করণ বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ
গ্রন্থ: আব্দুল গাফির আল-ফারিসি রচিত «আস-সিয়াক লি-তারিখি নিশাপুর» গ্রন্থ থেকে সংকলিত
সংকলক: আবু ইসহাক ইবরাহিম বিন মুহাম্মাদ বিন আল-আজহার আস-সারিফিনি (৫৮১ - ৬৪১ হিজরি)
সম্পাদক: মুহাম্মাদ কাজিম আল-মাহমুদি
সতর্কবার্তা: [বন্ধনী]-ভুক্ত সংক্ষিপ্ত জীবনীসমূহের শিরোনামগুলো মূল পাণ্ডুলিপি থেকে নয়, বরং এগুলো সম্পাদক কর্তৃক সংযোজিত যেমনটি তিনি তার ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন
প্রকাশক: কওম-এর হাওযা ইলমিয়া’র শিক্ষক সমিতি। ইসলামী প্রকাশনা সংস্থা - কওম, ইরান
প্রকাশকাল: ১৪০৩ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮৬৩
[গ্রন্থের সংখ্যাবিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ২৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন কিতাবিস সিয়াক লিতারীখি নাইসাবুর - ত ইরান
(পৃষ্ঠা: ٥)
بسم الله الرحمن الرحيم
رب يسّر وأعن
هذا منتخب من سياق تاريخ نيسابور.
قال الإمام أبو الحسن عبد الغافر بن اسماعيل بن عبد الغافر الفارسي:
أمّا بعد فقد أشار إليّ بعض الأعزّة من الإخوان، في طائفة من الأصحاب والخلّان، ممن وجب علىّ الإصغاء إلى إشارتهم، والإذعان لما يطلبونه في محاورتهم ومشاورتهم؛ أن أقصد إلى جمع كتاب يشتمل على ذكر المشايخ من علماء نيسابور وأئمتهم ورواة الحديث منهم، الذين ولدوا بها ونشئوا فيها، والذين قدموها واجتازوا بها، من الطارئين أو سكنوها وحدّثوا بها على رسم التاريخ، إقتفاء لما ذكره الحاكم الإمام أبو عبد الله محمد بن عبد الله البيّع:
[ابو عبد الله الحاكم البيّع]وهو محمّد بن عبد الله بن محمد بن حمدويه بن نعيم بن الحكم أبو عبد الله الحافظ البيّع
(1) إمام أهل الحديث في عصره، والعارف به حق معرفته.
يقال له: الضبّى لأن جدّ جدّته عيسى بن عبد الرحمن بن سليمان الضبّى، وأم عيسى بن عبد الرحمن متويه
(2) بنت إبراهيم بن طهمان الزاهد الفقيه، فلذلك يقال له: الطهمانى. وبيته بيت الصلاح والورع والتأذين
(3).
--------------------------------------------
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
হে আমার প্রতিপালক! সহজ করে দিন এবং সাহায্য করুন।
এটি ‘সিয়াকু তারিখি নিসাবুর’ (নিসাবুরের ইতিহাসের ধারাবাহিকতা) থেকে সংকলিত একটি সারসংক্ষেপ।
ইমাম আবুল হাসান আব্দুল গাফির বিন ইসমাইল বিন আব্দুল গাফির আল-ফারিসি রহ. বলেছেন:
অতঃপর, আমার ভাই ও বন্ধুদের মধ্য থেকে এমন কিছু প্রিয়ভাজন—যাদের ইঙ্গিতের প্রতি কর্ণপাত করা এবং আলাপ-আলোচনা ও পরামর্শে তারা যা চায় তা মেনে নেওয়া আমার জন্য আবশ্যক—আমাকে এই মর্মে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, আমি যেন এমন একটি কিতাব সংকলনের সংকল্প করি, যা নিসাবুরের আলেম ও ইমামগণ এবং সেখানকার হাদিস বর্ণনাকারীদের আলোচনায় সমৃদ্ধ হবে; যারা সেখানে জন্মগ্রহণ করেছেন ও বেড়ে উঠেছেন এবং যারা সেখানে বহিরাগত হিসেবে এসেছেন, ভ্রমণ করেছেন কিংবা সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করে ইতিহাসের রীতি অনুযায়ী হাদিস বর্ণনা করেছেন। এটি ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-বাইয়্যি আল-হাকিম যা উল্লেখ করেছেন তার অনুসরণে করা হবে:
[আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম আল-বাইয়্যি]তিনি হলেন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন হামদুয়াহ বিন নুয়াইম বিন আল-হাকাম, আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিজ আল-বাইয়্যি
(১); তিনি স্বীয় যুগের আহলে হাদিসদের ইমাম এবং এই শাস্ত্রের প্রকৃত রহস্য ও জ্ঞান সম্পর্কে সম্যক অবগত।
তাকে ‘আদ-দাব্বি’ বলা হয়; কারণ তার প্রপিতামহীর পিতা ছিলেন ঈসা বিন আব্দুর রহমান বিন সুলাইমান আদ-দাব্বি। আর ঈসা বিন আব্দুর রহমানের মা ছিলেন মুতাওয়াইহ
(২), যিনি প্রখ্যাত দুনিয়াত্যাগী ও ফকিহ ইবরাহিম বিন তাহমানের কন্যা। একারণেই তাকে ‘আত-তাহমানি’ বলা হয়। তার পরিবার ছিল পুণ্য, পরহেজগারিতা এবং আজান দেওয়ার
(৩) ঐতিহ্যে ধন্য।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন কিতাবিস সিয়াক লিতারীখি নাইসাবুর - ত ইরান
(পৃষ্ঠা: ٦)
ولد في شهر ربيع الأوّل سنة إحدى وعشرين وثلاثمائة. ولقي أبا على
(1) الثقفى الإمام، وعبد الله بن محمد بن الحسن الشرقى، وأبا حامد بن بلال البزّار، ولم بسمع منهم شيئا.
وسمع من أبي طاهر المحمدآباذي وأبى بكر بن الخليل القطان ولم يظفر بمسموعه منهما.
روى عن ألف شيخ أو أكثر من أهل الحديث، وقرأ القرآن بخراسان والعراق على قرّاء وقته.
وتفقّه على الإمام أبى الوليد حسان بن محمد القرشي، والأستاد أبى سهل محمد بن سليمان الصعلوكي.
واختصّ بصحبة إمام وقته أبى بكر محمد بن إسحاق بن أيوب الصبغي، فكان في الخواص عنده والمرموقين، وكان يراجعه في السؤال عن الجرح والتعديل وعلل الحديث
…(2) ويقدمه على أقرانه.
وأدى اختصاصه به واعتماده
…(3) اليه في أمور مدرسته دار السّنة، وفوّض إليه تولية أوقافه، واستضاء برأيه في أموره اعتمادا على حسن ديانته ووفور أمانته.
وجرت له مذاكرات ومحاورات مع الحفاظ والأئمة من أهل الحديث مثل أبى بكر بن الجعابى بالعراق، وأبي على الحافظ الماسرجسي الذي كان أحفظ [أهل] زمانه.
وأخذ في التصنيف سنة سبع وثلاثين وثلاثمائة، فاتفق له من التصانيف ما لعله يبلغ قريبا من ألف جزء، من تخريج الصحيحين والعلل والتراجم والأبواب والشيوخ.
رحل إلى العراق أوّلا سنة إحدى وأربعين وثلاثمائة، وإلى بلاد خراسان سنة ثلاث وأربعين. ولقى من مشايخ التّصوّف جماعة منهم أبو عمرو بن نجيد، وأبو الحسن البوسنجى، وأبو محمد جعفر بن نصير ببغداد، وأبو عمر والزجاجى بالحجاز.
ومضى إلى رحمة الله- ولم يخلّف في وقته مثله في صفر يوم الثلثاء منه سنة خمس وأربع مائة.
وآخر من روى عنه الحديث بنيسابور أبو بكر بن خلف الشيرازي.
--------------------------------------------
তিনি ৩২১ হিজরি সনের রবিউল আউয়াল মাসে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ইমাম আবু আলী
(১) আস-সাকাফী, আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আল-হাসান আশ-শারকী এবং আবু হামিদ বিন বিলাল আল-বাযযারের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন, তবে তাঁদের নিকট থেকে কোনো কিছু শ্রবণ করেননি।
তিনি আবু তাহির আল-মুহাম্মাদাবাদী এবং আবু বকর বিন আল-খলীল আল-কাত্তানের নিকট থেকে হাদিস শুনেছেন, তবে তাঁদের নিকট থেকে যা শুনেছেন তা সংগ্রহ করতে পারেননি।
তিনি আহলে হাদিসদের মধ্য থেকে এক হাজার বা তারও বেশি শায়খের নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন এবং খোরাসান ও ইরাকে তাঁর সময়ের প্রখ্যাত কারীদের নিকট কুরআন পাঠ করেছেন।
তিনি ইমাম আবুল ওয়ালিদ হাসসান বিন মুহাম্মদ আল-কুরাশী এবং উস্তাদ আবু সাহল মুহাম্মদ বিন সুলায়মান আস-সা'লুকীর নিকট ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন।
তিনি তাঁর সময়ের ইমাম আবু বকর মুহাম্মদ বিন ইসহাক বিন আইয়ুব আস-সিবগীর বিশেষ সান্নিধ্য লাভ করেন; ফলে তিনি তাঁর কাছে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং বিশিষ্টজনদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি (ইমাম আস-সিবগী) জারহ-তাদিল এবং হাদিসের ইলল (গূঢ় ত্রুটি) বিষয়ে তাঁর সাথে পরামর্শ করতেন
…(২) এবং তাঁকে তাঁর সমসাময়িকদের ওপর প্রাধান্য দিতেন।
ইমামের সাথে তাঁর এই বিশেষ ঘনিষ্ঠতা এবং তাঁর ওপর নির্ভরতা তাঁকে তাঁর মাদ্রাসা 'দারুস সুন্নাহ'-এর কার্যাবলীতে সম্পৃক্ত করে
…(৩) এবং তিনি তাঁর ওয়াকফকৃত সম্পদ পরিচালনার দায়িত্ব তাঁর ওপর অর্পণ করেন। তিনি তাঁর উত্তম দ্বীনদারি এবং গভীর আমানতদারিতার ওপর আস্থা রেখে বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর মতামতের আলোকে পথ চলতেন।
ইরাকের আবু বকর বিন আল-জি'আবী এবং আবু আলী আল-হাফিয আল-মাসারজিসীর মতো হাফিয ও হাদিস বিশারদদের সাথে তাঁর জ্ঞানতাত্ত্বিক আলোচনা ও বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়েছে, যিনি (মাসারজিসী) তাঁর সময়ের লোকদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হাফিয ছিলেন।
তিনি ৩৩৭ হিজরি সনে গ্রন্থ রচনার কাজ শুরু করেন। তাঁর রচিত গ্রন্থের সংখ্যা সম্ভবত প্রায় এক হাজার জুয (অংশ) পর্যন্ত পৌঁছেছে, যার মধ্যে রয়েছে সহীহাইন-এর তাখরীজ, আল-ইলল, তারাজুম, আল-আবওয়াব এবং আশ-শুয়ূখ।
তিনি প্রথমবার ৩৪১ হিজরি সনে ইরাকে এবং ৩৪৩ হিজরি সনে খোরাসান অঞ্চলে সফর করেন। তিনি একদল সুফি শায়খের সাথে সাক্ষাৎ করেন, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন আবু আমর বিন নুজাইদ, আবু আল-হাসান আল-বুসানজী, বাগদাদে আবু মুহাম্মদ জাফর বিন নাসির এবং হিজাজে আবু আমর আয-যুজাজী।
তিনি ৪০৫ হিজরি সনের সফর মাসের এক মঙ্গলবারে আল্লাহর রহমতের দিকে পাড়ি জমান—সে সময় তিনি তাঁর মতো যোগ্য কাউকে উত্তরসূরি হিসেবে রেখে যাননি।
নিশাপুরে তাঁর নিকট থেকে হাদিস বর্ণনাকারী সর্বশেষ ব্যক্তি হলেন আবু বকর বিন খালাফ আশ-শিরাজী।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন কিতাবিস সিয়াক লিতারীখি নাইসাবুর - ত ইরান
(পৃষ্ঠা: ٧)
1 - [ابن فورك]محمد بن الحسن بن فورك [أبو بكر الاصبهانى] بلغ تصانيفه قريبا من المائة او اكثر دعى الى غزنة فسم في الطريق ومضى [الى رحمة الله] ونقل الى نيسابور ودفن بالحيرة.
سمع ببغداد والبصرة، ومن الديبلى بمكة، وسمع مسند أبى داود الطيالسي من عبد الله بن جعفر الاصبهاني وحدّث به [وتصدر للافادة بنيسابور].
وكانت وفاته في سنة ست واربع مائة، ولم يخلّف ابن، وبقيت له أعقاب من جهة البنات.
اخبرنا بالحديث عنه ابو القاسم القشيرى وابو بكر ابن خلف وابو صالح المؤذن.
--------------------------------------------
১ - [ইবনে ফুরাক]মুহাম্মদ ইবনুল হাসান ইবনে ফুরাক [আবু বকর আল-আসফাহানি]। তাঁর রচনার সংখ্যা প্রায় একশর কাছাকাছি বা তার চেয়েও বেশি। তাঁকে গজনায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, কিন্তু পথিমধ্যে তাঁকে বিষ প্রয়োগ করা হয় এবং তিনি [আল্লাহর রহমতের দিকে] চলে যান। তাঁকে নিশাপুরে স্থানান্তর করা হয় এবং আল-হিরায় দাফন করা হয়।
তিনি বাগদাদ ও বসরায় এবং মক্কায় আদ-দাইबুলি থেকে শ্রবণ করেছেন। তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর আল-আসফাহানি থেকে মুসনাদে আবু দাউদ আত-তায়ালিসি শ্রবণ করেছেন এবং তা বর্ণনা করেছেন [এবং নিশাপুরে জ্ঞান বিতরণের জন্য আসীন হয়েছিলেন]।
তাঁর মৃত্যু হয়েছিল চারশ ছয় হিজরি সনে। তিনি কোনো পুত্র সন্তান রেখে যাননি, তবে কন্যাদের পক্ষ থেকে তাঁর বংশধারা অবশিষ্ট ছিল।
আবুল কাসিম আল-কুশাইরি, আবু বকর ইবনে খালাফ এবং আবু সালেহ আল-মুয়াযযিন তাঁর থেকে আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন কিতাবিস সিয়াক লিতারীখি নাইসাবুর - ত ইরান
(পৃষ্ঠা: ٨)
2 - [أبو عمر البسطامى]محمد بن الحسين بن محمد بن الهيثم بن القاسم بن مالك أبو عمر ابن أبى سعيد البسطامي القاضي الإمام البارع الواعظ. إمام اهل خراسان، ومقدم الشافعية في عصره، ومناظر وقته. قلّد قضاء نيسابور سنة ثمان وثمانين وثلاثمائة.
سمع ببغداد من القطيعي، وبالأهواز والبصرة وشيراز وباصبهان من الطبراني.
حدّث عنه الحاكم وانتخب عليه.
توفّي سنة ثمان واربع مائة في شهر رمضان.
3 - [أبو طاهر الزيادى]محمد بن محمد بن محمش بن على [بن داود] بن أيوب أبو طاهر الإمام- ويعرف بالزيادي لأنّه كان يسكن ميدان زياد بن عبد الرحمن- إمام اصحاب الحديث بخراسان وفقيههم ومفتيهم بالاتفاق بلا مدافعة.
وكان له تبحر في علم الشروط والادب وصنّف كتابا في الشروط [وقد روى عنه الحاكم مع تقدمه].
ولد سنة ثلاثة عشرة وثلاثمائة ومات [فى شعبان] سنة عشر واربع مائة ودفن في مقبرة الحيرة.
--------------------------------------------
২ - [আবু উমর আল-বিস্তামি]মুহাম্মদ ইবনে আল-হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-হাইসাম ইবনে আল-কাসিম ইবনে মালিক আবু উমর ইবনে আবি সাঈদ আল-বিস্তামি, আল-কাজি, আল-ইমাম, আল-বারিউ (নিপুণ), আল-ওয়ায়িজ (উপদেশদাতা)। তিনি ছিলেন খোরাসানবাসীদের ইমাম, স্বীয় যুগের শাফেয়ী মাজহাবের প্রধান এবং সমকালীন শ্রেষ্ঠ তার্কিক। ৩৮৮ হিজরি সনে তাকে নিশাপুরের কাজি (বিচারক) পদে নিযুক্ত করা হয়।
তিনি বাগদাদে আল-কুতিয়ী থেকে এবং আহওয়াজ, বসরা, শিরাজ ও ইসফাহানে আত-তাবারানি থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন।
ইমাম আল-হাকিম তার থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং তার থেকে হাদিস নির্বাচন করেছেন।
তিনি ৪০৮ হিজরি সনের রমজান মাসে মৃত্যুবরণ করেন।
৩ - [আবু তাহির আল-যিয়াদি]মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহমিশ ইবনে আলী [ইবনে দাউদ] ইবনে আইয়ুব আবু তাহির আল-ইমাম—তিনি আল-যিয়াদি হিসেবে পরিচিত, কারণ তিনি যিয়াদ ইবনে আব্দুর রহমানের ময়দান সংলগ্ন এলাকায় বসবাস করতেন। তিনি ছিলেন খোরাসানের হাদিসবেত্তাদের ইমাম এবং কোনো বিতর্ক ছাড়াই সর্বসম্মতভাবে তাদের ফকিহ ও মুফতি।
নথিপত্র ও চুক্তি (শুরুত) লিখন শাস্ত্র এবং সাহিত্যে তার গভীর বুৎপত্তি ছিল এবং তিনি 'আল-শুরুত' বিষয়ে একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন [ইমাম আল-হাকিম তার অগ্রজ হওয়া সত্ত্বেও তার থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন]।
তিনি ৩১৩ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৪১০ হিজরি সনের [শাবান মাসে] মৃত্যুবরণ করেন। তাকে হীরা নামক গোরস্থানে দাফন করা হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন কিতাবিস সিয়াক লিতারীখি নাইসাবুর - ত ইরান
(পৃষ্ঠা: ٩)
4 - [أبو عبد الرحمن السلمى]محمد بن الحسين بن موسى، الازدى ابا، السلمي جدا، لأنّه ابن بنت أبى عمرو اسماعيل بن نجيد بن أحمد بن يوسف السلمي، أبو عبد الرحمن شيخ الطريقة في وقته، الموفق في جمع علوم الحقائق ومعرفة طريق التصوّف، وصاحب التصانيف المشهورة في علوم القوم.
وقد ورث التصوّف عن أبيه وجدّه، وجمع من الكتب ما لم يسبق الى ترتيبه في غيره حتى بلغ فهرست تصانيفه المائة أو اكثر.
حدّث اكثر من اربعين سنة إملاء وقراءة.
وكتب الحديث بنيسابور ومرو والعراق والحجاز، وانتخب عليه الحفاظ الكبار.
وولد سنة ثلاثين وثلاثمائة في شهر رمضان، وتوفّي في رجب أو شعبان سنة ثنتي عشرة وأربع مائة.
5 - [أبو بكر النسوى]محمّد بن زهير بن أخطل النسوى الإمام أبو بكر الفقيه الخطيب المقرى، مقدم أصحاب الشافعي ومفتيهم بنسا، وكان إمام الجامع ومحدث بلده، واليه كانت الرحلة في سماع الحديث، وكان أبوه خادم الفقراء وشيخ الصوفية بها فكان
--------------------------------------------
৪ - [আবু আব্দুর রহমান আস-সুলামি]মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন বিন মুসা, পিতৃকুল থেকে আজদি এবং মাতৃকুল থেকে সুলামি। কারণ তিনি ছিলেন আবু আমর ইসমাইল বিন নুজাইদ বিন আহমদ বিন ইউসুফ আস-সুলামির দৌহিত্র। আবু আব্দুর রহমান ছিলেন তার সমসাময়িক যুগের তরীকার শায়খ। তিনি হাকীকতের ইলম সংগ্রহ এবং তাসাউফের পথ সম্পর্কে জ্ঞানে অত্যন্ত দক্ষ ছিলেন এবং এই সম্প্রদায়ের ইলমসমূহে প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহের রচয়িতা ছিলেন।
তিনি তার পিতা ও পিতামহের কাছ থেকে তাসাউফের উত্তরাধিকার লাভ করেছিলেন। তিনি কিতাবসমূহের এমন বিন্যাস ও সংকলন করেছিলেন যা ইতিপূর্বে আর কেউ করতে পারেনি, এমনকি তার রচিত গ্রন্থের তালিকা একশত বা তারও বেশিতে পৌঁছেছে।
তিনি চল্লিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে শ্রুতিলিখন ও পঠনের মাধ্যমে হাদীস বর্ণনা করেছেন।
তিনি নিশাপুর, মার্ভ, ইরাক এবং হিজাজে হাদীস লিপিবদ্ধ করেছেন এবং বড় বড় হাফিজগণ তার থেকে হাদীস নির্বাচন করেছেন।
তিনি ৩৩০ হিজরীর রমজান মাসে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৪১২ হিজরীর রজব অথবা শাবান মাসে ইন্তেকাল করেন।
৫ - [আবু বকর আন-নাসায়ি]মুহাম্মদ বিন যুহাইর বিন আখতাল আন-নাসায়ি, ইমাম আবু বকর, ফকীহ, খতীব ও ক্বারী। তিনি নাসা অঞ্চলে শাফেয়ী মাযহাবের অনুসারীদের প্রধান ও তাদের মুফতী ছিলেন। তিনি জামে মসজিদের ইমাম এবং তার এলাকার মুহাদ্দিস ছিলেন। হাদীস শোনার জন্য তার কাছে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ সফর করে আসত। তার পিতা ছিলেন সেখানকার নিঃস্বদের সেবক ও সূফীগণের শায়খ। তিনি ছিলেন—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন কিতাবিস সিয়াক লিতারীখি নাইসাবুর - ত ইরান
(পৃষ্ঠা: ١٠)
هو عالما بطريقتهم.
راى أبا الحسن البوسنجي بنيسابور، ورحل في طلب الحديث وتفقه ببغداد.
سمع عن الأصم، وابى الوليد، وابى الحسن الكارزى، وأبى بكر الشافعي، وابن الصواف وطبقتهم وحدّث سنين.
ومات ليلة الفطر سنة ثمان عشرة واربع مائة ودفن في مقابر مشايخ نسا فوق دويرة الصوفية.
6 - [أبو بكر الجوهرى]محمد بن علي بن محمد بن حيد بن عبد الجبارين النضر بن مسافر الجوهري الغازي الصيرفي أبو بكر شيخ عدل ثقة، من محلة الرمجار، واليهم ينسب خطّتهم قصر حيد.
وكان مولده سنة اثنتين وثلاثين وثلاثمائة، وتوفي سنة ثماني عشرة وأربع مائة.
حدث عن الأصم وابى عمرو ابن نجيد.
7 - [أبو الفضل المحمى]محمد بن عبيد الله بن أحمد بن محمد بن عبيد الله بن النضر الرئيس أبو الفضل المحمي بن أبي منصور بن أبي الحسن، المقدّم المشهور المحتشم، واسطة عقد المحمية، صاحب لآثار الحسنة، والمجالس العليّة، الحسن السيرة في الرعية، سمع بنيسابور والعراق، وخرّج له الفوائد ابو عمرو البحيري الحافظ، ولم يكثر الرواية إذ أدركته المنيّة كهلا.
توفي في جمادى الآخرة سنة تسع وتسعين وثلاثمائة.
তিনি তাদের পদ্ধতি সম্পর্কে অভিজ্ঞ ছিলেন।
তিনি নিশাপুরে আবুল হাসান আল-বুসাঞ্জিকে দেখেছেন, হাদিস অন্বেষণে সফর করেছেন এবং বাগদাদে ফিকহ অর্জন করেছেন।
তিনি আল-আসাম, আবুল ওয়ালিদ, আবুল হাসান আল-কারযী, আবু বকর আশ-শাফেয়ী, ইবনুস সাওয়াফ এবং তাদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিদের থেকে শুনেছেন এবং বহু বছর হাদিস বর্ণনা করেছেন।
তিনি চারশত আঠারো হিজরির ঈদুল ফিতরের রাতে মৃত্যুবরণ করেন এবং তাকে নাসার মাশায়েখদের কবরস্থানে সুফিদের ছোট খানকার উপরে দাফন করা হয়।
৬ - [আবু বকর আল-জাওহারী]মুহাম্মদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন হায়দ বিন আব্দুল জাব্বার বিন আন-নাদর বিন মুসাফির আল-জাওহারী আল-গাজী আস-সাইরাফী আবু বকর। তিনি ছিলেন একজন ন্যায়নিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত শায়খ, তিনি রামজার মহল্লার অধিবাসী ছিলেন এবং তাদের দিকেই তাদের এলাকা 'কাসরে হায়দ' নিসবত করা হয়।
তাঁর জন্ম হয়েছিল তিনশত বত্রিশ হিজরিতে এবং তিনি চারশত আঠারো হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।
তিনি আল-আসাম এবং আবু আমর ইবনে নুজাইদ থেকে বর্ণনা করেছেন।
৭ - [আবু ফজল আল-মাহমী]মুহাম্মদ বিন উবাইদুল্লাহ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন উবাইদুল্লাহ বিন আন-নাদর আর-রাইস আবু ফজল আল-মাহমী বিন আবি মনসুর বিন আবিল হাসান। তিনি ছিলেন বিখ্যাত ও সম্মানিত অগ্রগণ্য ব্যক্তি, মাহমুদের বংশের মধ্যমণি, উত্তম কীর্তি ও উচ্চাঙ্গের মাজলিসসমূহের অধিকারী এবং প্রজাদের মধ্যে সুসচ্চরিত্রবান। তিনি নিশাপুর ও ইরাকে হাদিস শুনেছেন এবং হাফেজ আবু আমর আল-বুহাইরী তাঁর প্রাপ্ত বর্ণনাগুলো থেকে 'ফাওয়াইদ' চয়ন করেছেন। তিনি অধিক বর্ণনা করতে পারেননি কারণ তিনি মধ্যবয়সেই মৃত্যুবরণ করেন।
তিনি তিনশত নিরানব্বই হিজরির জমাদিউল আখিরা মাসে মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন কিতাবিস সিয়াক লিতারীখি নাইসাবুর - ত ইরান
(পৃষ্ঠা: ١١)
8 - [أبو سعد الجولكى]محمد بن منصور [بن حسن] الجولكى أبو سعد، رئيس خراسان ونواحيها، ذو الهمة والمروة والنوال، ختن أبى سعد بن الإمام أبى بكر الاسماعيلى.
دخل نيسابور رسولا من منوچهر بن قابوس الى الأمير محمود سنة ست وأربعمائة، وكان معه القاضي أبو بكر الخطيب الشالنجي الجرجاني، وحمزة بن يوسف السهمي الحافظ، وجماعة من علماء جرجان وفقهائهم. وعقد للرئيس والقاضي والحافظ مجلس الاملاء في يوم واحد فأملى ثلاثتهم في مجلس واحد.
ثم عاد الجولكي الى نيسابور ثانيا.
حدث عن أبي بكر الإسماعيلي، وصالح بن أحمد الهمذاني الحافظ، وأبي أحمد العبدى.
توفي بجرجان سنة عشر وأربع مائة.
وقد أخبرنا عنه الحاكم أبو القاسم عبيد الله بن عبد الله الحسكاني، وأبو صالح الحافظ [المؤذن]، وأبو بكر بن أبي زكريا السختوى [المزكى].
انبأنا أبو بكر محمد بن أبي زكريا السختوي، أنبأنا الرئيس أبو سعد الجولكى سنة ست وأربع مائة، انبأنا ابو بكر الإسماعيلي، حدثنا أبو محمد الحسين بن علي القطان، حدثنا عبيد بن جنّاد [ظ]، حدّثنا يوسف بن محمد بن المنكدر، عن أبيه:
عن جابر قال: سئل رسول الله (ص) عن الإيمان فقال: السماحة والصبر.
9 - [أبو بكر الشالنجى]محمد بن يوسف بن الفضل الشالنجي الجرجاني أبو بكر القاضي الخطيب المفتي بجرجان، من مشاهير علمائهم.
كان عليه مدار الفتوى والدرس والإملاء والوعظ.
--------------------------------------------
৮ - [আবু সাদ আল-জাওলাকি]মুহাম্মাদ বিন মানসুর [বিন হাসান] আল-জাওলাকি আবু সাদ; খোরাসান ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলসমূহের প্রধান, সুউচ্চ হিম্মত, বীরত্ব ও বদান্যতার অধিকারী, ইমাম আবু বকর আল-ইসমাঈলির পুত্র আবু সাদের জামাতা।
৪০৬ হিজরিতে তিনি মানুচিহর বিন কাবুসের পক্ষ থেকে আমির মাহমুদের নিকট দূত হিসেবে নিশাপুরে প্রবেশ করেন। তাঁর সাথে ছিলেন কাজী আবু বকর আল-খতিব আল-শালানজি আল-জুরজানি, হামজা বিন ইউসুফ আস-সাহমি আল-হাফিজ এবং জুরজানের একদল আলেম ও ফকিহ। একই দিনে প্রধান, কাজী ও হাফিজের জন্য হাদিস শ্রুতিলিখনের মজলিস (মজলিসুল ইমলা) আয়োজন করা হয় এবং তাঁরা তিনজনই এক মজলিসে হাদিস শ্রুতিলিখন করান।
অতঃপর আল-জাওলাকি দ্বিতীয়বার নিশাপুরে প্রত্যাবর্তন করেন।
তিনি আবু বকর আল-ইসমাঈলি, সালেহ বিন আহমাদ আল-হামাদানি আল-হাফিজ এবং আবু আহমাদ আল-আবদি থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন।
তিনি ৪১০ হিজরিতে জুরজানে ইন্তেকাল করেন।
হাকীম আবু কাসেম উবায়দুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ আল-হাসকানি, আবু সালেহ আল-হাফিজ [আল-মুয়াজ্জিন] এবং আবু বকর বিন আবি জাকারিয়া আস-সাখতাউয়ি [আল-মুজাক্কি] তাঁর সূত্রে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন।
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মাদ বিন আবি জাকারিয়া আস-সাখতাউয়ি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন প্রধান আবু সাদ আল-জাওলাকি ৪০৬ হিজরিতে, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আল-ইসমাঈলি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু মুহাম্মাদ আল-হুসাইন বিন আলি আল-কাত্তান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন উবাইদ বিন জান্নাদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন ইউসুফ বিন মুহাম্মাদ বিন আল-মুনকাদির, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন:
জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে ঈমান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন: "উদারতা ও ধৈর্য।"
৯ - [আবু বকর আল-শালানজি]মুহাম্মাদ বিন ইউসুফ বিন আল-ফজল আল-শালানজি আল-জুরজানি আবু বকর; কাজী, খতিব, জুরজানের মুফতি এবং সেখানকার প্রখ্যাত আলেমদের অন্যতম।
ফতোয়া প্রদান, পাঠদান, হাদিস শ্রুতিলিখন ও ওয়ায-নসিহতের কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন তিনি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন কিতাবিস সিয়াক লিতারীখি নাইসাবুর - ত ইরান
(পৃষ্ঠা: ١٢)
قدم نيسابور مع الرئيس الجولكي رسولا الى غزنة وأملى معه في يوم واحد وكان من المعمّرين.
سمع الكثير عن أبي الحسن بن ماجه القزويني، ونعيم بن عبد الملك بن محمد بن عدي، وابى عبد الرحمن محمد بن حمدان، وأبى بكر الاسماعيلي، وطبقتهم.
[روى عنه اسماعيل بن مسعدة الاسماعيلي وغيره].
مات بجرجان سنة ثماني عشرة واربع مائة وهو ابن إحدى وتسعين سنة.
10 - [المحب الدقاق]محمد بن أحمد بن محمد بن أحمد بن جعفر بن ابراهيم بن محمود بن المحب الدقاق النيسابورى أبو بكر ثقة كثير الحديث.
سمع من ابى الحسن الكارزى، وأبى محمد يحيى بن منصور، وأبي القاسم عبد الرحمن بن محمد بن حامد البلخى، وأبى عمرو بن عبدوس وغيرهم.
وأعقب أولادا وأحفادا حدثوا جميعا.
توفى سنة عشرة وأربعمائة. أنبانا [عنه] أبو صالح المؤذن.
11 - [النوقانى الطوسى]محمد بن بكر بن محمد الطوسي الإمام أبو بكر النوقاني، مدرس أصحاب الشافعي بنيسابور ومفتيهم، صاحب الدرس والأصحاب ومجلس النظر، حسن السيرة، بالغ في الورع والزهد.
--------------------------------------------
তিনি প্রধান জাউলাকির সাথে গজনায় দূত হিসেবে নিশাপুরে আগমন করেন এবং একদিনে তার সাথে শ্রুতলিপি প্রদান করেন। তিনি দীর্ঘায়ু ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
তিনি আবুল হাসান ইবনে মাজাহ আল-কাজউইনি, নুআইম বিন আব্দুল মালিক বিন মুহাম্মদ বিন আদি, আবু আব্দুর রহমান মুহাম্মদ বিন হামদান, আবু বকর আল-ইসমাঈলি এবং তাদের সমসাময়িক স্তরের ব্যক্তিবর্গের নিকট প্রচুর হাদিস শুনেছেন।
[তার থেকে ইসমাইল বিন মাসআদাহ আল-ইসমাঈলি এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন]।
তিনি চারশত আঠারো হিজরি সনে চুরচানে মৃত্যুবরণ করেন, তখন তার বয়স ছিল একানব্বই বছর।
১০ - [আল-মুহিব আদ-দাক্কাক]মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন জাফর বিন ইব্রাহিম বিন মাহমুদ বিন আল-মুহিব আদ-দাক্কাক আন-নিশাপুরি আবু বকর; তিনি নির্ভরযোগ্য এবং অধিক হাদিস বর্ণনাকারী ছিলেন।
তিনি আবুল হাসান আল-কারিজি, আবু মুহাম্মদ ইয়াহইয়া বিন মনসুর, আবুল কাসিম আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন হামিদ আল-বালখি, আবু আমর বিন আবদুস এবং অন্যান্যদের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন।
তিনি সন্তান ও নাতি-নাতনি রেখে গেছেন যারা সকলেই হাদিস বর্ণনা করেছেন।
তিনি চারশত দশ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। আবু সালেহ আল-মুয়াজ্জিন [তার পক্ষ থেকে] আমাদের সংবাদ দিয়েছেন।
১১ - [আন-নাওকানি আত-তুসি]মুহাম্মদ বিন বকর বিন মুহাম্মদ আত-তুসি ইমাম আবু বকর আন-নাওকানি; তিনি নিশাপুরে শাফেয়ী মাযহাবের অনুসারীদের শিক্ষক ও তাদের মুফতি ছিলেন। তিনি পাঠদান, শিষ্যবর্গ এবং বিতর্ক সভার (মজলিসুন নাজার) অধিকারী ছিলেন। তিনি সচ্চরিত্রবান এবং তাকওয়া ও দুনিয়াবিমুখতায় অত্যন্ত উচ্চ মর্যাদার অধিকারী ছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন কিতাবিস সিয়াক লিতারীখি নাইসাবুর - ত ইরান
(পৃষ্ঠা: ١٣)
تفقه ببغداد على أبى محمد الباقى، وبنيسابور على أبى الحسن الماسرجسى.
وسمع الكثير عن الدارقطني، وأبي أحمد الحافظ، وأبى عمرو ابن حمدان، وطبقتهم.
توفي بنوقان سنة عشرين وأربعمائة.
12 - [الرجائى النيسابوري]محمد بن محمد بن أحمد بن رجاء الأديب أبو بكر الرجائى النيسابوري شيخ فاضل ثقة قديم.
حدث عن الأصم، والصبغي، ومحمد بن يعقوب الحافظ، وأبي الحسن الكارزى، ويحيى بن منصور القاضي، وطبقتهم. انتخب عليه أبو سعد الحافظ وغيره.
توفي في شهر رمضان سنة خمس عشرة واربع مائة. أنبأنا عنه ابو صالح المؤذن.
13 - [أبو بكر الواعظ]محمد بن اسحاق بن محمشاذ الواعظ الاستاذ الإمام أبو بكر، الزاهد بن الزاهد بن الزاهد، زعيم أصحاب أبي عبد الله ورئيسهم، صاحب القول في وقته عند السلطان، بسيط الجاه، كان مقربا عند الأمير يمين الدولة محمود دعا الى السنّة.
وهدم المسجد الجديد الذي بناه الروافض، وظهرت به دولة الكراميّة واعتمده الأمير محمود في بناء الرباط بمرحلة قائمة على طريق سرخس.
عقد له مجلس الإملاء بشط الوادي سنة خمس وأربع مائة.
--------------------------------------------
তিনি বাগদাদে আবু মুহাম্মাদ আল-বাকি এবং নিশাপুরে আবু আল-হাসান আল-মাসারজিসির নিকট ফিকহ অর্জন করেন।
তিনি আদ-দারা কুতনি, আবু আহমাদ আল-হাফিজ, আবু আমর ইবনে হামদান এবং তাঁদের সমসাময়িকদের নিকট থেকে প্রচুর হাদিস শ্রবণ করেছেন।
তিনি চারশত বিশ হিজরি সনে নুওয়াকানে মৃত্যুবরণ করেন।
১২ - [আর-রাজায়ি আন-নিশাপুরি]মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে রাজা আল-আদিব আবু বকর আর-রাজায়ি আন-নিশাপুরি ছিলেন একজন প্রবীণ, নির্ভরযোগ্য ও বিদগ্ধ শায়খ।
তিনি আল-আসাম, আস-সিবগি, মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াকুব আল-হাফিজ, আবু আল-হাসান আল-কারিজি, ইয়াহইয়া ইবনে মানসুর আল-কাদি এবং তাঁদের সমসাময়িকদের নিকট থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। আবু সাদ আল-হাফিজ এবং অন্যরা তাঁর থেকে হাদিস চয়ন করেছেন।
তিনি চারশত পনেরো হিজরি সনের রমজান মাসে মৃত্যুবরণ করেন। আবু সালেহ আল-মুয়াজ্জিন আমাদের তাঁর সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন।
১৩ - [আবু বকর আল-ওয়ায়েজ]মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক ইবনে মাহমিশায আল-ওয়ায়েজ আল-উস্তায আল-ইমাম আবু বকর, জাহেদ ইবনে জাহেদ ইবনে জাহেদ (পরহেজগার বংশোদ্ভূত পরহেজগার), তিনি ছিলেন আবু আব্দুল্লাহর অনুসারীদের নেতা ও প্রধান। সমসাময়িক সুলতানের নিকট তাঁর প্রভাব ও প্রতিপত্তি ছিল এবং তাঁর কথা গুরুত্ব পেত। তিনি আমির ইয়ামিনুদ দাওলা মাহমুদের ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং সুন্নাহর দিকে আহ্বান জানাতেন।
তিনি রাফেজিদের নির্মিত নতুন মসজিদটি ধ্বংস করেন এবং তাঁর মাধ্যমে কাররামিয়াদের কর্তৃত্ব প্রকাশিত হয়। আমির মাহমুদ সারাখস অভিমুখে অবস্থিত একটি মনজিলে রিবাত (আশ্রয়স্থল) নির্মাণের জন্য তাঁর ওপর আস্থা স্থাপন করেন।
চারশত পাঁচ হিজরি সনে নদীর তীরে তাঁর জন্য ইমলার (হাদিস শ্রুতিলিখনের) মজলিস অনুষ্ঠিত হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন কিতাবিস সিয়াক লিতারীখি নাইসাবুর - ত ইরান
(পৃষ্ঠা: ١٤)
واستملى عليه الحسكاني وبعده أبو عمرو بن يحيى.
وكان في الارتفاع الى أن توفي في شوال سنة إحدى وعشرين وأربع مائة.
حدّث عن الحاكم أبى أحمد وغيره.
14 - [الوجيهي الفلاحى]محمد بن الحسن الوجيهى الفقيه الفلاحى أبو سعيد الحنيفي.
سمع الأصم وأقرانه، وجمع وحدّث سنين، عدل.
توفى سنة أربعمائة.
أخبرنا عنه الحاكم أبو القاسم عبيد الله بن عبد الله الحافظ [الحسكانى] إجازة.
15 - [أبو نصر الشيرازى]محمد بن علي بن محمد الشيرازي التاجر أبو نصر الفقيه، نزيل نيسابور والد أبي عبيد الله الشيرازي الفاضل الثقة الامين.
من المختصين بالائمة الصعلوكية، وكان من أصحاب أبى الوليد حسان بن محمد القرشي.
سمع عن الأصم، وأبى عبد الله الشيبانى الحافظ، وأبى بكر الشافعي، وابن الصوّاف وغيرهم.
توفي سنة تسع واربع مائة، ودفن بباب معمر. حدّثنا عنه أحمد بن عبد الملك الفقيه [أبو صالح المؤذن].
হাসকানি এবং তাঁর পরে আবু আমর ইবনে ইয়াহইয়া তাঁর নিকট থেকে শ্রুতলিপি গ্রহণ করেছেন।
তিনি চারশত একুশ হিজরীর শাওয়াল মাসে মৃত্যু পর্যন্ত উচ্চ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত ছিলেন।
তিনি হাকিম আবু আহমদ এবং অন্যান্যদের থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন।
১৪ - [আল-ওয়াজিহী আল-ফাল্লাহী]মুহাম্মদ বিন হাসান আল-ওয়াজিহী আল-ফকিহ আল-ফাল্লাহী আবু সাঈদ আল-হানিফি।
তিনি আল-আসাম্ম এবং তাঁর সমসাময়িকদের নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন, সংগ্রহ করেছেন এবং বহু বছর হাদিস বর্ণনা করেছেন; তিনি একজন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী ছিলেন।
তিনি চারশত হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন।
হাফিজ হাকিম আবু কাসিম উবায়দুল্লাহ বিন আবদুল্লাহ [হাসকানি] ইজাজতসূত্রে আমাদের নিকট তাঁর পক্ষ থেকে সংবাদ প্রদান করেছেন।
১৫ - [আবু নাসর আল-শিরাজী]মুহাম্মদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ আল-শিরাজী ব্যবসায়ী আবু নাসর আল-ফকিহ, নিশাপুরের অধিবাসী এবং বিজ্ঞ, নির্ভরযোগ্য ও আমানতদার আবু উবায়দুল্লাহ আল-শিরাজীর পিতা।
তিনি সালুকী ইমামগণের ঘনিষ্ঠদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং আবু আল-ওয়ালিদ হাসসান বিন মুহাম্মদ আল-কুরাশীর শিষ্যদের একজন ছিলেন।
তিনি আল-আসাম্ম, হাফিজ আবু আবদুল্লাহ আল-শায়বানী, আবু বকর আল-শাফিঈ, ইবনুল সাউওয়াফ এবং অন্যান্যদের থেকে শ্রবণ করেছেন।
তিনি চারশত নয় হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন এবং তাকে বাবু মামারে দাফন করা হয়। ফকিহ আহমদ বিন আব্দুল মালিক [আবু সালেহ আল-মুয়াযযিন] আমাদের কাছে তাঁর সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন কিতাবিস সিয়াক লিতারীখি নাইসাবুর - ত ইরান
(পৃষ্ঠা: ١٥)
16 - [أبو نصر السكرى]محمد بن الحسين بن محمد بن جعفر بن فضيل التاجر السكرى أبو نصر الصوفي النيسابوري صهرابي سعد بن عليك مشهور.
حدّث عن الاصم، وأبي أحمد بن عدى الحافظ، وأبى عمرو بن نجيد، وأبى بكر الاسماعيلي، والخلاني، وطبقتهم وحدث عن الحسن السراج أيضا.
قيل: كان يحدّث من حفظه عن الأصم بالأباطيل ويحفظ هذا الأسناد عن الأصم، عن الربيع، عن الشافعي، عن مالك، عن نافع، عن ابن عمر، عن النبي (ص)، ويركب عليه الأحاديث. والله أعلم عفا الله عنّا وعنه.
فمن ذلك ما أخبرناه الشيخان أبو بكر وصالح محمد بن يحيى وأحمد بن عبد الملك قالا: أنبأنا أبو نصر محمد بن الحسين الصوفي، حدثنا أبو العبّاس الأصم، أنبأنا الربيع بن سليمان، أنبأنا الشافعي، عن مالك، عن نافع:
عن ابن عمر أنّ النبي (ص) قال: «الإمام ضامن، والمؤذّن مؤتمن، ألا فاعدلوا صفوفكم، وسدوا خلل الصفوف.
قال أبو صالح [المؤذن]: ما كتبناه إلا عنه، وهو باطل بهذا الاسناد.
17 - [أبو سعيد الصيرفى]محمد بن موسى بن الفضل بن شاذان الصيرفى أبو سعيد النيسابورى، الثقة الرضا، المشهور بالصدق والاسناد العالي، الصوفي حالا. سمع الكثير عن الأصم، وأبى عبد الله الصفّار الاصبهاني، وأبى العبّاس المحاملي. وغيرهم.
وكانت عنده تذكرة مسموعاته مع والده أبي عمرو لأكثر كتبه الا ان أصوله قد ضاعت، ولم يبق من الأصول الا قليل، وكان يروى مما وقع في أيدى الناس من أصول سماعه، وهو كثير الاحتياط فيه.
--------------------------------------------
১৬ - [আবু নাসর আস-সুক্কারি]মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ বিন জাফর বিন ফুদাইল আত-তাজির আস-সুক্কারি আবু নাসর আস-সুফি আন-নিশাপুরি, তিনি আবু সাদ বিন আলাইকের জামাতা এবং অত্যন্ত প্রসিদ্ধ ছিলেন।
তিনি আল-আসাম, আবু আহমদ বিন আদি আল-হাফিজ, আবু আমর বিন নুজাইদ, আবু বকর আল-ইসমাইলি, আল-খাল্লানি এবং তাদের সমসাময়িকদের থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি হাসান আস-সাররাজ থেকেও বর্ণনা করেছেন।
বলা হয়েছে: তিনি আল-আসাম-এর সূত্রে নিজের স্মৃতি থেকে ভিত্তিহীন ও বাতিল কথা বর্ণনা করতেন। তিনি এই সনদটি মুখস্থ রাখতেন: আল-আসাম থেকে, তিনি রাবি থেকে, তিনি শাফেয়ি থেকে, তিনি মালেক থেকে, তিনি নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে; আর এই সনদে তিনি হাদিস জাল করে জুড়ে দিতেন। আল্লাহ ভালো জানেন, আল্লাহ আমাদের এবং তাকে ক্ষমা করুন।
তেমনই একটি বর্ণনা আমাদের জানিয়েছেন দুই শায়খ আবু বকর ও সালেহ মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া এবং আহমদ বিন আব্দুল মালিক। তাঁরা বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু নাসর মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন আস-সুফি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল আব্বাস আল-আসাম, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন রাবি বিন সুলাইমান, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাফেয়ি, মালেক থেকে, নাফে থেকে:
ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «ইমাম হলেন জিম্মাদার এবং মুয়াজ্জিন হলেন আমানতদার। সাবধান! তোমরা তোমাদের কাতারগুলো সোজা করো এবং কাতারের মধ্যকার ফাঁকা জায়গাগুলো বন্ধ করো।»
আবু সালেহ [মুয়াজ্জিন] বলেন: আমরা এটি কেবল তার সূত্রেই লিখেছি, অথচ এই সনদে এই হাদিসটি বাতিল বা ভিত্তিহীন।
১৭ - [আবু সাঈদ আস-সাইরাফি]মুহাম্মদ বিন মুসা বিন আল-ফাদল বিন শাযান আস-সাইরাফি আবু সাঈদ আন-নিশাপুরি; তিনি নির্ভরযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি ছিলেন এবং সত্যবাদিতা ও উচ্চ সনদের অধিকারী হিসেবে প্রসিদ্ধ ছিলেন। তিনি আত্মিক অবস্থার (হাল) দিক থেকে একজন সুফি ছিলেন। তিনি আল-আসাম, আবু আব্দুল্লাহ আস-সাফফার আল-ইসফাহানি, আবুল আব্বাস আল-মাহামিলি এবং অন্যদের থেকে প্রচুর হাদিস শুনেছেন।
তার কাছে তার পিতার সাথে শ্রবণকৃত কিতাবসমূহের একটি তালিকা ছিল, তবে তার মূল পাণ্ডুলিপিগুলো হারিয়ে গিয়েছিল এবং সামান্য কিছু ব্যতীত আর কিছুই অবশিষ্ট ছিল না। মানুষের কাছে তার শ্রবণকৃত পাণ্ডুলিপিগুলোর যা অবশিষ্ট ছিল, তিনি সেখান থেকেই বর্ণনা করতেন এবং এ বিষয়ে তিনি অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করতেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন কিতাবিস সিয়াক লিতারীখি নাইসাবুর - ত ইরান
(পৃষ্ঠা: ١٦)
توفي في ذى الحجة سنة احدى وعشرين وأربع مائة.
أخبرنا أبو عبد الرّحمن طاهر بن محمد المستملي الشحامي، أنبأنا أبو سعيد الصيرفي، حدثنا الاصم، حدثنا محمّد بن اسحاق الصغاني، حدثنا معاوية بن عمرو، عن أبي اسحاق، عن اسماعيل بن أبى خالد، عن قيس قال: قال لي خالد بن الوليد شغلني الجهاد عن كثير من القراءة.
18 - [عبد العطار الصيدلانى]محمّد بن احمد بن محمد بن أحمد بن شاذان يعرف بعبد العطار أبو صادق الصيدلاني الشافعي الاديب، ديّن ثقة مشهور.
حدّث عن الأصم محمّد بن يعقوب الحافظ، والصبغي، والكارزي، وأبي الوليد القرشي، وأبي عمرو بن مطرو الطبقة.
توفّي في شهر ربيع الأوّل سنة خمس عشرة واربع مائة.
19 - [الفراء المؤذن]محمد بن أحمد بن إسماعيل بن محمد بن إبراهيم المؤذن المكفوف أبو بكر الفراء مستور صالح، من أصحاب أبى عبد الله.
حدث عن أبي بكر ابن خلاد وطبقته. خرّج له أبو عمرو بن يحيى أجزاء قرئ عليه.
وتوفى فى ذى القعدة سنة خمس عشرة وأربعمائة.
20 - [أبو عبد الرّحمن الدهان]محمد بن عبد الرحمن بن محمد بن محبور التميمى أبو عبد الرحمن الدّهان، من بيت الحديث، وأبوه كان [من] بقية أصحاب أبى عبد الله.
তিনি ৪২১ হিজরির জিলহজ মাসে ইন্তেকাল করেন।
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুর রহমান তাহির বিন মুহাম্মদ আল-মুস্তামলি আশ-শাহহামি, তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাঈদ আস-সাইরাফি, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আল-আসাম, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ বিন ইসহাক আস-সাগানি, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুয়াবিয়া বিন আমর, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি ইসমাইল বিন আবি খালিদ থেকে, তিনি কায়াস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: খালিদ বিন ওয়ালিদ আমাকে বলেছিলেন, "জিহাদ আমাকে কুরআন তিলাওয়াত করা থেকে ব্যস্ত রেখেছিল।"
১৮ - [আব্দুল আত্তার আস-সাইদালানি]মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন শাযান, তিনি আব্দুল আত্তার আবু সাদিক আস-সাইদালানি আশ-শাফিয়ি আল-আদিব নামে পরিচিত। তিনি একজন ধর্মপ্রাণ, নির্ভরযোগ্য ও সুপ্রসিদ্ধ ব্যক্তি ছিলেন।
তিনি হাফিজ আল-আসাম মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব, আস-সিবগি, আল-কারিজি, আবু ওয়ালিদ আল-কুরাশি, আবু আমর বিন মাতার এবং তাঁদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিদের থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন।
তিনি ৪১৫ হিজরির রবিউল আউয়াল মাসে ইন্তেকাল করেন।
১৯ - [আল-ফাররা আল-মুয়াজ্জিন]মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন ইসমাইল বিন মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম আল-মুয়াজ্জিন আল-মাকফুফ আবু বকর আল-ফাররা। তিনি একজন সৎ ও নিভৃতচারী ব্যক্তি ছিলেন এবং আবু আব্দুল্লাহর অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
তিনি আবু বকর ইবনুল খাল্লাদ এবং তাঁর সমপর্যায়ের ব্যক্তিদের থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। আবু আমর বিন ইয়াহইয়া তাঁর জন্য কিছু হাদিস-সংকলন (জুজ) প্রস্তুত করেছিলেন যা তাঁর কাছে পাঠ করা হয়েছিল।
তিনি ৪১৫ হিজরির জিলকদ মাসে ইন্তেকাল করেন।
২০ - [আবু আব্দুর রহমান আদ-দাহহান]মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন মাহবুর আত-তামিমি আবু আব্দুর রহমান আদ-দাহহান। তিনি একটি হাদীস বিশারদ পরিবার থেকে আগত এবং তাঁর পিতা ছিলেন আবু আব্দুল্লাহর অবশিষ্ট অনুসারীদের একজন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন কিতাবিস সিয়াক লিতারীখি নাইসাবুর - ত ইরান
(পৃষ্ঠা: ١٧)
سمع أباه والحاكم أبا الفضل السلمي، وابا حامد بن بلال، والأصم. وطبقتهم. وقرى عليه في رجب سنة ثمان وتسعين وثلاثمائة الفوائد المخرّجة له، ثمّ الى سنة ثلاث واربع مائة. توفى.
أخبرنا أبو القاسم بن أبى محمد الواعظ، أنبأنا أبو عبد الرّحمن محمد بن عبد الرّحمن بن محبور الدّهان، حدثنا أحمد بن محمّد بن شعيب أبو حامد العدل، حدثنا سهل بن عمّار العتكي، حدثنا اليسع بن سعدان، حدثنا عثمان بن عبد الرحمن، عن الزهرى، عن عروة، عن عائشة قالت:
لما أخذ الرهط فى غسل رسول الله (ص) قذف الله عليهم نعسة مالت رقابهم بين مناكبهم، فقضوا غسله ما منهم إنسان يراه.
21 - [أبو الفضل الجاروذى الهروى]محمد بن أحمد بن محمد الحافظ الهروى أبو الفضل الجاروذى، شيخ هراة فى عصره، المشهور بالحفظ. كثير الحديث والشيوخ، رحل وأدرك مشايخ خراسان والجبل واصبهان وبغداذ والبصرة.
توفى قبل العشرين وأربعمائة.
22 - [الكيّال الجرجانى]محمد بن ابراهيم بن أحمد بن على الكيال أبو الفضل النيسابورى الجرجاني،
--------------------------------------------
তিনি তাঁর পিতা, আল-হাকিম আবুল ফজল আস-সুলামি, আবু হামিদ বিন বিলাল, আল-আসাম এবং তাঁদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিবর্গের নিকট হাদীস শ্রবণ করেছেন। ৩৯৮ হিজরি সনের রজব মাসে তাঁর সংকলিত ‘আল-ফাওয়াইদ’ তাঁর নিকট পাঠ করা হয়, যা ৪০৩ হিজরি সন পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। অতঃপর তিনি ইন্তেকাল করেন।
আবুল কাসিম বিন আবু মুহাম্মদ আল-ওয়ায়েজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আবদুর রহমান মুহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন মাহবুর আদ-দাহহান আমাদের জানিয়েছেন, আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন শুয়াইব আবু হামিদ আল-আদল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাহল বিন আম্মার আল-আতাকি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-ইয়াসা বিন সাদান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উসমান বিন আবদুর রহমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জুহরি থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে এবং তিনি আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:
যখন একদল লোক রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে গোসল দিতে শুরু করলেন, তখন আল্লাহ তাদের ওপর তন্দ্রাচ্ছন্নতা নিক্ষেপ করলেন, ফলে তাদের ঘাড়গুলো তাদের কাঁধের ওপর ঝুঁকে পড়ল। এমতাবস্থায় তারা তাঁর গোসল সম্পন্ন করলেন অথচ তাদের মধ্য থেকে কোনো মানুষই তাঁকে দেখতে পাচ্ছিল না।
২১ - [আবু ফজল আল-জারুজি আল-হারাউয়ি]মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-হাফিজ আল-হারাউয়ি আবু ফজল আল-জারুজি; তিনি ছিলেন স্বীয় যুগের হেরাতের শায়খ এবং হিফজের (স্মৃতিশক্তি) জন্য সুপ্রসিদ্ধ। তিনি প্রচুর হাদীস সংগ্রহ করেছিলেন এবং তাঁর অনেক উস্তাদ ছিলেন। তিনি জ্ঞানান্বেষণে দেশভ্রমণ করেছেন এবং খোরাসান, আল-জাবাল, ইস্পাহান, বাগদাদ ও বসরার মাশায়েখদের সান্নিধ্য লাভ করেছেন।
তিনি চারশত বিশ হিজরি সনের পূর্বে ইন্তেকাল করেন।
২২ - [আল-কাইয়াল আল-জুরজানি]মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম বিন আহমদ বিন আলী আল-কাইয়াল আবু ফজল আন-নিশাপুরি আল-জুরজানি,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন কিতাবিস সিয়াক লিতারীখি নাইসাবুর - ত ইরান
(পৃষ্ঠা: ١٨)
شيخ مشهور، من بيت معروف بنيسابور.
حدث عن الأصم وغيره قال: أبو صالح المؤذن هذا الشيخ أضرّ به الفقر واختلط في اخر عمره، وكان يحدث بالمناكير من حفظه، ويروى عن الاصم، عن الربيع، عن الشافعي، عن مالك، عن نافع، عن ابن عمر، بما لم يروه والأصم بما لم يسمعه قط.
قال: وما سمعت منه حديثا يعتمد عليه ومن جملة مناكيره ما حدثناه عن الأصم، حدثنا الربيع بن سليمان، أنبأنا الشافعي، أنبأنا مالك، عن نافع، عن ابن عمر قال: سمعت عائشة تقول:
دخل عليّ رسول الله (ص) وبيده الأيمن خاتم من عقيق أحمر مكتوب فيه محمد رسول الله فقلت: له يا رسول الله ايش هذا؟ قال: أهدى إلي جبريل وقال:
تختّم بالعقيق الأحمر في الأيمن فأنه أول حجر شهد لله بالوحدانية ولك يا محمّد بالرسالة ولعلي بن أبي طالب بالوصيّة ولشيعته بالجنّة. وهذا حديث واسناده لم يروه الأصم قط بهذا الاسناد عفا الله عنا وعنه.
23 - [أبو قابوس السجزى]محمد بن احمد بن محمد بن عبد الله بن عبد الرحمن المؤذن السجزى أبو قابوس المقيم بنيسابور، كان يسكن محلّه مولقا باذ، وأقام بنوقان. وحدّث بنيسابور أوّلا، ثمّ بنوقان عن أبي الحسن بن كيسان النحوي، وأبي عبد الله بن مندة، وأبي عمرو بن جابر البخاري [ظ]. وتوفّي قبل العشرين وأربع مائة.
24 - [البرذعى الأديب]محمد بن جعفر بن الحسين بن محمد أبو زرعة البرذعى الأديب، صالح، ثقة، استوطن نيسابور وولد بها.
حدّث عن أبي أحمد بن عدي، وأبي بكر الاسماعيلي، والغطريفي، وأبي العباس المعداني، وأبي بكر الآملي. وطبقتهم.
সুপ্রসিদ্ধ শায়খ, নিশাপুরের এক পরিচিত পরিবারের সদস্য।
তিনি আল-আসাম ও অন্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন। বলা হয়েছে: এই শায়খ আবু সালিহ আল-মুয়াজ্জিন দারিদ্র্যের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন এবং জীবনের শেষভাগে তাঁর স্মৃতিভ্রম ঘটেছিল। তিনি নিজের মুখস্থ থেকে 'মুনকার' (অগ্রহণযোগ্য) বিষয়াদি বর্ণনা করতেন। তিনি আল-আসাম, রাবি, শাফেয়ী, মালিক এবং নাফে-এর সূত্রে ইবনে উমর থেকে এমন সব বিষয় বর্ণনা করতেন যা তারা কখনো বর্ণনা করেননি এবং আল-আসাম যা কখনো শোনেননি।
তিনি বলেন: আমি তাঁর নিকট থেকে নির্ভরযোগ্য কোনো হাদিস শুনিনি। তাঁর বর্ণিত মুনকার হাদিসসমূহের মধ্যে একটি হলো যা তিনি আমাদের নিকট আল-আসাম-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন— আমাদের নিকট রাবি বিন সুলাইমান বর্ণনা করেছেন, আমাদের শাফেয়ী সংবাদ দিয়েছেন, আমাদের মালিক সংবাদ দিয়েছেন, নাফে-এর সূত্রে ইবনে উমর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আয়েশা (রা.)-কে বলতে শুনেছি:
রাসূলুল্লাহ (সা.) আমার নিকট প্রবেশ করলেন এবং তাঁর ডান হাতে একটি লাল আকীক পাথরের আংটি ছিল যাতে খোদাই করা ছিল 'মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ'। আমি তাঁকে বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, এটি কী? তিনি বললেন: জিবরাঈল আমাকে এটি উপহার দিয়েছেন এবং বলেছেন:
ডান হাতে লাল আকীকের আংটি পরিধান করুন, কারণ এটিই প্রথম পাথর যা আল্লাহর একত্ববাদের সাক্ষ্য দিয়েছে, আর হে মুহাম্মদ আপনার রিসালাতের, আলী বিন আবি তালিবের অসিয়তের (স্থলাভিষিক্ত হওয়ার) এবং তাঁর অনুসারীদের জান্নাত লাভের সাক্ষ্য দিয়েছে। এটি এমন একটি হাদিস এবং এর সনদ এমন যা আল-আসাম এই সনদে কখনোই বর্ণনা করেননি। আল্লাহ আমাদের ও তাঁকে ক্ষমা করুন।
২৩ - [আবু কাবুস আস-সিজজি]মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আল-মুয়াজ্জিন আস-সিজজি আবু কাবুস, তিনি নিশাপুরের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি মাওলাকা বায নামক এলাকায় বসবাস করতেন এবং নওকানেও অবস্থান করেছেন। তিনি প্রথমে নিশাপুরে এবং পরবর্তীতে নওকানে আবুল হাসান বিন কায়সান আন-নাহবি, আবু আব্দুল্লাহ বিন মানদাহ এবং আবু আমর বিন জাবির আল-বুখারি থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি চারশ বিশ হিজরির পূর্বেই মৃত্যুবরণ করেন।
২৪ - [আল-বারযায়ী আল-আদিব]মুহাম্মদ বিন জাফর বিন আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ আবু জুরআ আল-বারযায়ী আল-আদিব। তিনি একজন সৎ ও নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি ছিলেন; তিনি নিশাপুরে স্থায়ীভাবে বসবাস করতেন এবং সেখানেই জন্মগ্রহণ করেন।
তিনি আবু আহমদ বিন আদি, আবু বকর আল-ইসমাইলি, আল-গাতরিফি, আবু আব্বাস আল-মাদানি এবং আবু বকর আল-আমুলি ও তাঁদের সমসাময়িকদের থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন।