(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল আরশিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
الرسالة العرشية القسم: العقيدة
الكتاب: الرسالة العرشية
المؤلف: تقي الدين أبو العَباس أحمد بن عبد الحليم بن عبد السلام بن عبد الله بن أبي القاسم بن محمد ابن تيمية الحراني الحنبلي الدمشقي (ت 728 هـ)
الناشر: المطبعة السلفية، القاهرة، مصر
الطبعة: الأولى، 1399 هـ
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 39
تاريخ النشر بالشاملة: 21 شعبان 1432
আর-রিসালাতুল আরশিয়া বিভাগ: আকীদা
গ্রন্থ: আর-রিসালাতুল আরশিয়া
লেখক: তাকীউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমাদ বিন আব্দুল হালীম বিন আব্দুস সালাম বিন আব্দুল্লাহ বিন আবুল কাসিম বিন মুহাম্মাদ ইবনে তাইমিয়া আল-হাররানী আল-হাম্বালী আদ-দিমাশকী (মৃত্যু ৭২৮ হিজরী)
প্রকাশক: আল-মাতবাআহ আস-সালাফিয়্যাহ, কায়রো, মিশর
সংস্করণ: প্রথম, ১৩৯৯ হিজরী
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৯
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২১ শাবান ১৪৩২
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল আরশিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
ـ[الرسالة العرشية]ـ
المؤلف: تقي الدين أبو العَباس أحمد بن عبد الحليم بن عبد السلام بن عبد الله بن أبي القاسم بن محمد ابن تيمية الحراني الحنبلي الدمشقي (المتوفى: 728هـ)
الناشر: المطبعة السلفية، القاهرة، مصر
الطبعة: الأولى، 1399هـ
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
--------------------------------------------
ـ[আর-রিসালাহ আল-আরশিয়্যাহ]ـ
লেখক: তাকিউদ্দিন আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে আব্দুল হালিম ইবনে আব্দুল সালাম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবিল কাসিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে তাইমিয়্যাহ আল-হাররানি আল-হানবালি আদ-দিমাশকি (মৃত্যু: ৭২৮ হিজরি)
প্রকাশক: আল-মাতবাআহ আস-সালাফিয়্যাহ, কায়রো, মিশর
সংস্করণ: প্রথম, ১৩৯৯ হিজরি
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ সংস্করণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল আরশিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
سُئِلَ شَيْخُ الْإِسْلَامِ أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَد بْنُ عَبْدِ الْحَلِيمِ بْنِ عَبْدِ السَّلَامِ الْعَالِمُ الرَّبَّانِيُّ وَالْعَابِدُ النُّورَانِيُّ ابْنُ تَيْمِيَّة الْحَرَّانِي أَيَّدَهُ اللَّهُ تَعَالَى:
مَا تَقُولُ فِي الْعَرْشِ هل هو كرى أَمْ لَا؟ وإذا كان كريًا وَاَللَّهُ مِنْ وَرَائِهِ مُحِيطٌ بِهِ بَائِنٌ عَنْهُ، فَمَا فَائِدَةُ أَنَّ الْعَبْدَ يَتَوَجَّهُ إلَى اللَّهِ تَعَالَى حِينَ دُعَائِهِ وَعِبَادَتِهِ، فَيَقْصِدُ الْعُلُوَّ دُونَ غَيْرِهِ، وَلَا فَرْقَ حِينَئِذٍ وَقْتَ الدُّعَاءِ بَيْنَ قَصْدِ جِهَةِ الْعُلُوِّ، وَغَيْرِهَا مِنْ الْجِهَاتِ الَّتِي تُحِيطُ بِالدَّاعِي؟ وَمَعَ هَذَا نَجِدُ فِي قُلُوبِنَا قَصْدًا يَطْلُبُ الْعُلُوَّ لَا يَلْتَفِتُ يَمْنَةً وَلَا يَسْرَةً، فَأَخْبِرْنَا عَنْ هَذِهِ الضَّرُورَةِ الَّتِي نَجِدُهَا فِي قُلُوبِنَا، وَقَدْ فُطِرْنَا عَلَيْهَا.
وَابْسُطْ لَنَا الْجَوَابَ فِي ذَلِكَ بَسْطًا شَافِيًا، يُزِيلُ الشُّبْهَةَ وَيُحَقِّقُ الْحَقَّ إنْ شَاءَ اللَّهُ أَدَامَ اللَّهُ النَّفْعَ بِكُمْ وَبِعُلُومِكُمْ آمِينَ.
فَأَجَابَ رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى:الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ، الْجَوَابُ عَنْ هَذَا السُّؤَالِ بِثَلَاثِ مَقَامَاتٍ:
শাইখুল ইসলাম আবুল আব্বাস আহমাদ বিন আব্দুল হালীম বিন আব্দুস সালাম, রব্বানী আলিম ও নূরানী ইবাদতকারী ইবনে তাইমিয়্যাহ আল-হাররানীকে (আল্লাহ তাআলা তাঁকে শক্তিশালী করুন) জিজ্ঞাসা করা হয়েছে:
আরশ সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? এটি কি গোলাকার নাকি নয়? আর যদি তা গোলাকার হয় এবং আল্লাহ তার বাইরে থেকে একে পরিবেষ্টনকারী ও এটি থেকে পৃথক হন, তবে বান্দা তার দুআ ও ইবাদতের সময় আল্লাহর অভিমুখী হওয়ার ক্ষেত্রে অন্য দিক বাদ দিয়ে কেন কেবল উচ্চতাকে লক্ষ্য করে? অথচ এমতাবস্থায় দুআর সময় উচ্চতার দিক এবং দুআকারীকে পরিবেষ্টনকারী অন্যান্য দিকের মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকার কথা নয়। তা সত্ত্বেও আমরা আমাদের অন্তরে উচ্চতা অন্বেষণের একটি তাগিদ অনুভব করি যা ডানে বা বামে ভ্রূক্ষেপ করে না। সুতরাং এই সহজাত প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আমাদের জানান যা আমরা আমাদের অন্তরে অনুভব করি এবং যার ওপর আমাদের ফিতরাত বা প্রকৃতিগত সৃষ্টি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে আমাদের নিকট একটি বিস্তারিত ও পর্যাপ্ত ব্যাখ্যা প্রদান করুন, যা সংশয় নিরসন করবে এবং সত্যকে সুপ্রতিষ্ঠিত করবে, ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ আপনাদের মাধ্যমে ও আপনাদের ইলমের মাধ্যমে উপকার লাভের ধারা অব্যাহত রাখুন, আমীন।
অতঃপর তিনি (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন) উত্তর দিলেন:সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। এই প্রশ্নের উত্তর তিনটি পর্যায়ে বিভক্ত:
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল আরশিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
أَحَدُهَا:أَنَّهُ لِقَائِلِ أَنْ يَقُولَ: لَمْ يَثْبُتْ بِدَلِيلِ يُعْتَمَدُ عَلَيْهِ أَنَّ الْعَرْشَ فَلَكٌ مِنْ الأفلاك المستديرة الكرية الشَّكْلِ، لَا بِدَلِيلِ شَرْعِيٍّ، وَلَا بِدَلِيلِ عَقْلِيٍّ.
وَإِنَّمَا ذَكَرَ هَذَا طَائِفَةٌ مِنْ الْمُتَأَخِّرِينَ، الَّذِينَ نَظَرُوا فِي عِلْمِ الْهَيْئَةِ وَغَيْرِهَا مِنْ أَجْزَاءِ الْفَلْسَفَةِ، فَرَأَوْا أَنَّ الْأَفْلَاكَ تِسْعَةٌ، وَأَنَّ التَّاسِعَ وَهُوَ الْأَطْلَسُ مُحِيطٌ بِهَا، مُسْتَدِيرٌ كَاسْتِدَارَتِهَا، وَهُوَ الَّذِي يُحَرِّكُهَا الْحَرَكَةَ الْمَشْرِقِيَّةَ، وَإِنْ كَانَ لِكُلِّ فَلَكٍ حَرَكَةً تَخُصُّهُ غَيْرُ هَذِهِ الْحَرَكَةِ الْعَامَّةِ، ثُمَّ سَمِعُوا فِي أَخْبَارِ الْأَنْبِيَاءِ صَلَوَاتُ اللَّهِ وَسَلَامُهُ عَلَيْهِمْ ذِكْرَ عَرْشِ اللَّهِ، وَذِكْرَ كُرْسِيِّهِ، وَذِكْرَ السَّمَوَاتِ السَّبْعِ، فَقَالُوا بِطَرِيقِ الظَّنِّ: إنَّ الْعَرْشَ هُوَ: الْفَلَكُ التَّاسِعُ، لِاعْتِقَادِهِمْ أَنَّهُ لَيْسَ وَرَاءَ التَّاسِعِ شَيْءٌ، إمَّا مُطْلَقًا وَإِمَّا أَنَّهُ لَيْسَ وَرَاءَهُ مَخْلُوقٌ.
ثُمَّ إنَّ مِنْهُمْ مَنْ رَأَى أَنَّ التَّاسِعَ هُوَ الَّذِي يُحَرِّكُ الْأَفْلَاكَ كُلَّهَا، فَجَعَلُوهُ مَبْدَأَ الْحَوَادِثِ، وَزَعَمُوا أَنَّ اللَّهَ يُحْدِثُ فِيهِ مَا يُقَدِّرُهُ فِي الْأَرْضِ، أَوْ يُحْدِثُهُ فِي النَّفْسِ الَّتِي زَعَمُوا أَنَّهَا مُتَعَلِّقَةٌ بِهِ، أَوْ فِي الْعَقْلِ الَّذِي زَعَمُوا أَنَّهُ الَّذِي صَدَرَ عَنْهُ هَذَا الْفَلَكُ، وَرُبَّمَا سَمَّاهُ بَعْضُهُمْ الرُّوحَ، وَرُبَّمَا جَعَلَ بَعْضُهُمْ النَّفْسَ هِيَ: الرُّوحَ، وَرُبَّمَا جَعَلَ بَعْضُهُمْ النَّفْسَ هِيَ: اللَّوْحُ الْمَحْفُوظُ، كَمَا جَعَلَ الْعَقْلَ هُوَ: الْقَلَمَ.
وَتَارَةً يَجْعَلُونَ الرُّوحَ هُوَ الْعَقْلَ الْفَعَّالَ الْعَاشِرَ الَّذِي لِفَلَكِ الْقَمَرِ، النَّفْسَ الْمُتَعَلِّقَةَ بِهِ، وَرُبَّمَا جَعَلُوا
এর একটি হলো:কোনো এক বক্তার পক্ষে এটি বলা সম্ভব যে, আরশ যে গোলাকার ও বর্তুলাকার কক্ষপথসমূহের অন্তর্ভুক্ত একটি কক্ষপথ, তা নির্ভরযোগ্য কোনো দলিলের মাধ্যমে প্রমাণিত নয়; না কোনো শরয়ি দলিলের মাধ্যমে, আর না কোনো বুদ্ধিভিত্তিক দলিলের মাধ্যমে।
মূলত পরবর্তী যুগের একদল লোক এটি উল্লেখ করেছেন যারা জ্যোতির্বিদ্যা ও দর্শনের অন্যান্য শাখা নিয়ে চর্চা করতেন। তারা মনে করতেন যে কক্ষপথ হলো নয়টি, আর নবম কক্ষপথটি—যা আতলাস—অন্য সবগুলোকে পরিবেষ্টন করে আছে এবং সেগুলো যেভাবে গোলাকার এটিও তেমনি গোলাকার। এটিই অন্য সব কক্ষপথকে পূর্বমুখী গতিতে পরিচালিত করে, যদিও সাধারণ এই গতি ছাড়াও প্রতিটি কক্ষপথের নিজস্ব বিশেষ গতি রয়েছে। অতঃপর তারা যখন নবীগণের (তাঁদের ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক) বাণীতে আল্লাহর আরশ, তাঁর কুরসি এবং সপ্ত আসমানের উল্লেখ শুনতে পেলেন, তখন তারা অনুমানের ভিত্তিতে বললেন: আরশই হলো এই নবম কক্ষপথ। তাদের এই উক্তির কারণ হলো তাদের এই বিশ্বাস যে, নবম কক্ষপথের বাইরে নিরঙ্কুশভাবে আর কিছুই নেই, অথবা সেখানে কোনো সৃষ্টি নেই।
অতঃপর তাদের মধ্য থেকে কেউ কেউ মনে করেছেন যে, এই নবম কক্ষপথটিই সকল কক্ষপথকে গতিশীল করে, ফলে তারা একে সকল ঘটনাপ্রবাহের সূচনাবিন্দু হিসেবে সাব্যস্ত করেছে। তারা ধারণা করেছে যে, আল্লাহ পৃথিবীতে যা নির্ধারণ করেন তা এই কক্ষপথের মধ্যেই সৃষ্টি করেন, অথবা সেই আত্মার (নাফস) মাঝে সৃষ্টি করেন যা তাদের দাবি অনুযায়ী এর সাথে সম্পৃক্ত, অথবা সেই বুদ্ধিবৃত্তির (আকল) মাঝে সৃষ্টি করেন যা থেকে তাদের মতে এই কক্ষপথটি উদ্ভূত হয়েছে। তাদের কেউ কেউ একে 'রুহ' বলে অভিহিত করেছেন, আবার কেউ কেউ 'নাফস'কেই 'রুহ' হিসেবে গণ্য করেছেন। আবার কেউ কেউ হয়তো 'নাফস'কে 'লাওহে মাহফুজ' হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন, যেমনটি তারা 'আকল'কে 'কলম' হিসেবে গণ্য করেছেন।
আবার কখনো তারা 'রুহ'কে চন্দ্রের কক্ষপথের জন্য নির্ধারিত দশম সক্রিয় বুদ্ধিবৃত্তি এবং এর সাথে সম্পৃক্ত আত্মা হিসেবে গণ্য করেন, এবং হয়তো তারা করেছেন...
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল আরশিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
ذَلِكَ بِالنِّسْبَةِ إلَى الْحَقِّ سُبْحَانَهُ كَالدِّمَاغِ بِالنِّسْبَةِ إلَى الْإِنْسَانِ، يُقَدِّرُ فِيهِ مَا يَفْعَلُهُ قَبْلَ أَنْ يَكُونَ، إلَى غَيْرِ ذَلِكَ مِنْ الْمَقَالَاتِ الَّتِي قَدْ شَرَحْنَاهَا، وَبَيَّنَّا فَسَادَهَا فِي غَيْرِ هَذَا الْمَوْضِعِ.
وَمِنْهُمْ مَنْ يَدَّعِي أَنَّهُ عَلِمَ ذَلِكَ بِطَرِيقِ الْكَشْفِ وَالْمُشَاهَدَةِ، وَيَكُونُ كَاذِبًا فِيمَا يَدَّعِيهِ وَإِنَّمَا أَخَذَ ذَلِكَ عَنْ هَؤُلَاءِ الْمُتَفَلْسِفَةِ تَقْلِيدًا لَهُمْ، أَوْ مُوَافَقَةً لَهُمْ عَلَى طَرِيقَتِهِمْ الْفَاسِدَةِ، كَمَا فَعَلَ أَصْحَابُ رَسَائِلِ إخْوَانِ الصَّفَا وَأَمْثَالُهُمْ.
وَقَدْ يَتَمَثَّلُ فِي نَفْسِهِ مَا تَقَلَّدَهُ عَنْ غَيْرِهِ فَيَظُنُّهُ كَشْفًا، كَمَا يَتَخَيَّلُ النَّصْرَانِيُّ التَّثْلِيثَ الَّذِي يَعْتَقِدُهُ، وَقَدْ يَرَى ذَلِكَ فِي مَنَامِهِ فَيَظُنُّهُ كَشْفًا، وَإِنَّمَا هُوَ تَخَيُّلٌ لِمَا اعْتَقَدَهُ، وَكَثِيرٌ مِنْ أَرْبَابِ الِاعْتِقَادَاتِ الْفَاسِدَةِ إذَا ارْتَاضُوا صقلت الرياضة نفسوهم، فَتَتَمَثَّلُ لَهُمْ اعْتِقَادَاتُهُمْ، فَيَظُنُّونَهَا كَشْفًا، وَقَدْ بَسَطْنَا الْكَلَامَ عَلَى هَذَا فِي غَيْرِ هَذَا الْمَوْضِعِ.
الْمَقْصُودُ هُنَا أَنَّ مَا ذَكَرُوهُ مِنْ أَنَّ الْعَرْشَ هُوَ الْفَلَكُ التَّاسِعُ قَدْ يُقَالُ: إنَّهُ لَيْسَ لَهُمْ عَلَيْهِ دَلِيلٌ لَا عَقْلِيٌّ، وَلَا شَرْعِيٌّ.
أَمَّا الْعَقْلِيُّ: فَإِنَّ أَئِمَّةَ الْفَلَاسِفَةِ مُصَرِّحُونَ بِأَنَّهُ لَمْ يَقُمْ عِنْدَهُمْ دَلِيلٌ عَلَى أَنَّهُ لَيْسَ وَرَاءَ الْفَلَكِ التَّاسِعِ شَيْءٌ آخَرُ، بَلْ وَلَا قَامَ عِنْدَهُمْ دَلِيلٌ عَلَى أَنَّ الْأَفْلَاكَ هِيَ تِسْعَةٌ فَقَطْ، بَلْ يَجُوزُ أَنْ تَكُونَ أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ، وَلَكِنْ دَلَّتْهُمْ الْحَرَكَاتُ الْمُخْتَلِفَةُ، والكسوفات وَنَحْوُ ذَلِكَ عَلَى مَا ذَكَرُوهُ، وَمَا لَمْ يَكُنْ لَهُمْ دَلِيلٌ عَلَى ثُبُوتِهِ فَهُمْ لَا يَعْلَمُونَ لَا ثُبُوتَهُ وَلَا انْتِفَاءَهُ.
مِثَالُ ذَلِكَ: أَنَّهُمْ عَلِمُوا أَنَّ هَذَا الْكَوْكَبَ تَحْتَ هَذَا، بِأَنَّ السُّفْلِيَّ يَكْسِفُ الْعُلْوِيَّ مِنْ غَيْرِ عَكْسٍ، فَاسْتَدَلُّوا بِذَلِكَ عَلَى أَنَّهُ فِي فَلَكٍ فَوْقَهُ، كَمَا اسْتَدَلُّوا بِالْحَرَكَاتِ الْمُخْتَلِفَةِ، عَلَى أَنَّ الْأَفْلَاكَ مُخْتَلِفَةٌ، حَتَّى جَعَلُوا فِي الْفَلَكِ الْوَاحِدِ عِدَّةَ
মহান আল্লাহর ক্ষেত্রে তা মানুষের মস্তিষ্কের ন্যায়, যাতে তিনি কোনো কিছু ঘটার পূর্বেই তা নির্ধারণ করেন; এ জাতীয় অন্যান্য বক্তব্য যা আমরা ইতোমধ্যেই ব্যাখ্যা করেছি এবং অন্য স্থানে এগুলোর অসারতা প্রমাণ করেছি।
তাদের মধ্যে কেউ কেউ দাবি করে যে, তারা কাশফ (রহস্য উন্মোচন) ও মুশাহাদার (প্রত্যক্ষদর্শন) মাধ্যমে তা জানতে পেরেছে, অথচ সে তার দাবিতে মিথ্যাবাদী। বস্তুত সে এই ধারণা এই দার্শনিকদের থেকে অন্ধ অনুকরণের মাধ্যমে অথবা তাদের ভ্রান্ত পথের সাথে একমত হয়ে গ্রহণ করেছে, যেমনটি ইখওয়ানুস সাফা-এর রিসালাসমূহের রচয়িতা ও তাদের সমমনা ব্যক্তিরা করেছে।
কখনো কখনো অন্য কারো কাছ থেকে অনুকরণ করা বিষয়গুলো তার মনে প্রতিভাত হয় এবং সে সেটিকে কাশফ বলে মনে করে, যেমন একজন খ্রিস্টান তার বিশ্বাস করা ত্রিত্ববাদকে কল্পনা করে। এমনকি সে তা স্বপ্নেও দেখতে পারে এবং একে কাশফ মনে করতে পারে, অথচ এটি কেবল তার বিশ্বাসের কল্পনাপ্রসূত প্রতিচ্ছবি মাত্র। ভ্রান্ত আকীদার অনেক অনুসারী যখন রিয়াযত (কৃচ্ছ্রসাধন) করে, তখন তাদের রিয়াযত তাদের নফসকে পরিশীলিত করে, ফলে তাদের বিশ্বাসগুলো তাদের সামনে মূর্ত হয়ে ওঠে এবং তারা সেগুলোকে কাশফ বলে মনে করে। এ বিষয়ে আমরা অন্য স্থানে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।
এখানে উদ্দেশ্য হলো, তারা যে আরশকে নবম আসমান বা গোলক বলে উল্লেখ করেছে, সে সম্পর্কে বলা যায় যে, তাদের কাছে এর পক্ষে কোনো যুক্তিগত বা শরয়ি প্রমাণ নেই।
যুক্তিগত প্রমাণের কথা বলতে গেলে, দার্শনিকদের ইমামগণ স্পষ্টভাবে স্বীকার করেছেন যে, নবম আসমানের ওপারে আর কিছু নেই—এমন কোনো প্রমাণ তাদের নিকট নেই। বরং আসমান বা গোলক যে কেবল নয়টিই হবে, তারও কোনো প্রমাণ তাদের কাছে নেই; বরং এর চেয়ে বেশি হওয়াও সম্ভব। তবে গ্রহ-নক্ষত্রের বিভিন্ন গতিবিধি, গ্রহণ এবং এ জাতীয় বিষয়সমূহ তাদেরকে এ ধারণার দিকে পরিচালিত করেছে যা তারা উল্লেখ করেছে। আর যার অস্তিত্বের পক্ষে তাদের কাছে কোনো প্রমাণ নেই, তারা তার অস্তিত্ব বা অনস্তিত্ব সম্পর্কে কিছুই জানে না।
এর উদাহরণ হলো: তারা জানতে পেরেছে যে অমুক গ্রহ অমুক নক্ষত্রের নিচে অবস্থিত, কারণ নিচেরটি উপরেরটিকে আড়াল করে, কিন্তু এর বিপরীতটি ঘটে না। এর মাধ্যমে তারা প্রমাণ পেশ করেছে যে, সেটি তার উপরের একটি আসমানে অবস্থিত। যেমনটি তারা বিভিন্ন গতিবিধির মাধ্যমে প্রমাণ করেছে যে আসমানসমূহ ভিন্ন ভিন্ন, এমনকি তারা একটি আসমানের মধ্যেই একাধিক...
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল আরশিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
أَفْلَاكٍ، كَفَلَكِ التَّدْوِيرِ وَغَيْرِهِ.
فَأَمَّا مَا كَانَ مَوْجُودًا فَوْقَ هَذَا وَلَمْ يَكُنْ لَهُمْ مَا يَسْتَدِلُّونَ بِهِ عَلَى ثُبُوتِهِ: فَهُمْ لَا يَعْلَمُونَ نَفْيَهُ وَلَا إثْبَاتَهُ بِطَرِيقِهِمْ.
وَكَذَلِكَ قَوْلُ الْقَائِلِ: إنَّ حَرَكَةَ التَّاسِعِ مَبْدَأُ الْحَوَادِثِ خَطَأٌ، وَضَلَالٌ عَلَى أُصُولِهِمْ، فَإِنَّهُمْ يَقُولُونَ: إنَّ الثَّامِنَ لَهُ حَرَكَةٌ تَخُصُّهُ بِمَا فِيهِ مِنْ الثَّوَابِتِ، وَلِتِلْكَ الْحَرَكَةِ قُطْبَانِ غَيْرُ قُطْبَيْ التَّاسِعِ، وَكَذَلِكَ السَّابِعُ، السَّادِسُ.
وَإِذَا كَانَ لِكُلِّ فَلَكٍ حَرَكَةٌ تَخُصُّهُ وَالْحَرَكَاتُ الْمُخْتَلِفَةُ هِيَ سَبَبُ الْأَشْكَالِ الْحَادِثَةِ الْمُخْتَلِفَةِ الْفَلَكِيَّةِ، وَتِلْكَ الْأَشْكَالُ سَبَبُ الْحَوَادِثِ السُّفْلِيَّةِ كَانَتْ حَرَكَةُ التَّاسِعِ جُزْءَ السَّبَبِ، كَحَرَكَةِ غَيْرِهِ. فَالْأَشْكَالُ الْحَادِثَةُ فِي الْفَلَكِ لِمُقَارَنَةِ الْكَوْكَبِ الْكَوْكَبَ، فِي دَرَجَةٍ وَاحِدَةٍ. وَمُقَابَلَتُهُ لَهُ إذَا كَانَ بَيْنَهُمَا نِصْفُ الْفَلَكِ، وَهُوَ مِائَةٌ وَثَمَانُونَ دَرَجَةً. وَتَثْلِيثُهُ لَهُ إذَا كَانَ بَيْنَهُمَا ثُلُثُ الْفَلَكِ وَهُوَ مِائَةٌ وَعِشْرُونَ دَرَجَةً، وَتَرْبِيعُهُ لَهُ إذَا كَانَ بَيْنَهُمَا رُبُعُهُ تِسْعُونَ دَرَجَةً، وَتَسْدِيسُهُ لَهُ إذَا كَانَ بَيْنَهُمَا سُدُسُ الْفَلَكِ سِتُّونَ دَرَجَةً، وَأَمْثَالُ ذَلِكَ مِنْ الْأَشْكَالِ إنَّمَا حَدَثَتْ بِحَرَكَاتِ مُخْتَلِفَةٍ، وَكُلُّ حَرَكَةٍ لَيْسَتْ عَيْنَ الْأُخْرَى، إذْ حَرَكَةُ الثَّامِنِ الَّتِي تَخُصُّهُ لَيْسَتْ عَيْنَ حَرَكَةِ التَّاسِعِ، وَإِنْ كَانَ تَابِعًا لَهُ فِي الْحَرَكَةِ الْكُلِّيَّةِ، كَالْإِنْسَانِ الْمُتَحَرِّكِ فِي السَّفِينَةِ إلَى خِلَافِ حَرَكَتِهَا.
وَكَذَلِكَ حَرَكَةُ السَّابِعِ الَّتِي تَخُصُّهُ، لَيْسَتْ عَنْ التَّاسِعِ وَلَا عَنْ الثَّامِنِ، وَكَذَلِكَ سَائِرُ الْأَفْلَاكِ. فَإِنَّ حَرَكَةَ كُلِّ وَاحِدٍ الَّتِي تَخُصُّهُ لَيْسَتْ عَمَّا فَوْقَهُ مِنْ الْأَفْلَاكِ، فَكَيْفَ يَجُوزُ أَنْ يُجْعَلَ مَبْدَأُ الْحَوَادِثِ كُلِّهَا مُجَرَّدَ حَرَكَةِ التَّاسِعِ!! كَمَا زَعَمَهُ مَنْ ظَنَّ أَنَّ الْعَرْشَ كَثِيفٌ وَالْفَلَكُ التَّاسِعُ عِنْدَهُمْ بَسِيطٌ مُتَشَابِهُ الْأَجْزَاءِ، لَا اخْتِلَافَ فِيهِ أَصْلًا، فَكَيْفَ يَكُونُ سَبَبًا لِأُمُورِ مُخْتَلِفَةٍ، لَا بِاعْتِبَارِ الْقَوَابِلِ وأسباب أخر؟ ولكن
কক্ষপথসমূহ, যেমন উপ-কক্ষপথ এবং অন্যান্য।
তবে এর উপরে যা কিছু বিদ্যমান রয়েছে এবং যেগুলোর অস্তিত্ব প্রমাণের জন্য তাদের কাছে কোনো দলিল নেই: তাদের পদ্ধতির মাধ্যমে তারা এর অস্বীকৃতি বা স্বীকৃতি—কোনোটিই জানতে পারে না।
একইভাবে, কোনো বক্তার এই কথা যে—নবম কক্ষপথের গতিই সমস্ত ঘটনার মূল বা সূচনা—তা ভুল এবং তাদের নিজস্ব মূলনীতির আলোকেই বিভ্রান্তি। কারণ তারা বলে যে, অষ্টম কক্ষপথের নিজস্ব একটি গতি আছে যাতে স্থির নক্ষত্রসমূহ অবস্থান করে। আর সেই গতির মেরুদ্বয় নবম কক্ষপথের দুই মেরু থেকে ভিন্ন। একইভাবে সপ্তম ও ষষ্ঠ কক্ষপথের ক্ষেত্রেও।
আর যখন প্রতিটি কক্ষপথের নিজস্ব গতি রয়েছে এবং ভিন্ন ভিন্ন গতিসমূহ বিভিন্ন মহাজাগতিক রূপ বা বিন্যাস তৈরির কারণ, এবং সেই বিন্যাসগুলো পার্থিব ঘটনাবলির কারণ, তখন নবম কক্ষপথের গতি হবে সেই কারণের একটি অংশ মাত্র, ঠিক অন্য সব কক্ষপথের গতির মতো। সুতরাং কক্ষপথে সৃষ্ট বিন্যাসসমূহ ঘটে থাকে একটি গ্রহের সাথে অন্য গ্রহের সংযোগের মাধ্যমে, যখন তারা একই ডিগ্রিতে থাকে। অথবা তাদের মধ্যবর্তী ব্যবধান যখন অর্ধেক কক্ষপথ বা একশত আশি ডিগ্রি হয় তখন তাদের বিপরীত অবস্থান বলা হয়। আর যখন তাদের মধ্যে কক্ষপথের এক-তৃতীয়াংশ বা একশত বিশ ডিগ্রি ব্যবধান থাকে তখন তা হয় ত্রিকোণ অবস্থান। যখন তাদের মধ্যে এক-চতুর্থাংশ বা নব্বই ডিগ্রি থাকে তখন তা হয় চতুষ্কোণ অবস্থান। আর যখন তাদের মধ্যে কক্ষপথের ষষ্ঠাংশ বা ষাট ডিগ্রি থাকে তখন তা হয় ষষ্ঠাংশ অবস্থান। এই ধরনের বিন্যাসসমূহ মূলত বিভিন্ন গতির মাধ্যমেই সৃষ্টি হয়। আর প্রতিটি গতি একে অপরের হুবহু এক নয়। কারণ অষ্টম কক্ষপথের নিজস্ব যে গতি রয়েছে তা নবম কক্ষপথের গতির হুবহু এক নয়, যদিও সামগ্রিক গতির ক্ষেত্রে তা নবম কক্ষপথের অনুসারী; যেমন নৌকার গতির বিপরীতে চলাচলকারী মানুষের গতি।
একইভাবে সপ্তম কক্ষপথের নিজস্ব গতি নবম বা অষ্টম কক্ষপথ থেকে উৎসারিত নয়। অন্য সব কক্ষপথের ক্ষেত্রেও একই কথা। কেননা প্রতিটি কক্ষপথের নিজস্ব গতি তার উপরের কোনো কক্ষপথ থেকে আসে না। এমতাবস্থায় কীভাবে সমস্ত ঘটনার মূল উৎস হিসেবে কেবল নবম কক্ষপথের গতিকে গণ্য করা বৈধ হতে পারে!! যেমনটি সেই ব্যক্তি দাবি করেছে যে মনে করে আরশ হচ্ছে স্থুল, আর তাদের মতে নবম কক্ষপথটি হচ্ছে সরল ও নিরবচ্ছিন্ন যার অংশসমূহের মধ্যে কোনো ভিন্নতা নেই। সুতরাং কীভাবে এটি বিভিন্ন বিষয়ের কারণ হতে পারে, যদি না গ্রহণকারী উপাদান এবং অন্যান্য কারণকে বিবেচনায় নেওয়া হয়? কিন্তু...
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল আরশিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
هم قَوْمٌ ضَالُّونَ، يَجْعَلُونَهُ مَعَ هَذَا ثَلَاثَمِائَةٍ وَسِتِّينَ دَرَجَةً، وَيَجْعَلُونَ لِكُلِّ دَرَجَةٍ مِنْ الْأَثَرِ مَا يُخَالِفُ الْأُخْرَى، لَا بِاخْتِلَافِ الْقَوَابِلِ، كَمَنْ يَجِيءُ إلَى مَاءٍ وَاحِدٍ فيجعل لبعض جزئيه مِنْ الْأَثَرِ مَا يُخَالِفُ الْآخَرَ، لَا بِحَسَبِ الْقَوَابِلِ؛ بَلْ يَجْعَلُ أَحَدَ أَجْزَائِهِ مُسَخَّنًا، وَالْآخَرَ مُبَرَّدًا، وَالْآخَرَ مُسْعَدًا، وَالْآخَرَ مشقيا، وَهَذَا مِمَّا يَعْلَمُونَ هُمْ وَكُلُّ عَاقِلٍ أَنَّهُ بَاطِلٌ وَضَلَالٌ.
وَإِذَا كَانَ هَؤُلَاءِ لَيْسَ عِنْدَهُمْ مَا يَنْفِي وُجُودَ شَيْءٍ آخَرَ فَوْقَ الْأَفْلَاكِ التِّسْعَةِ، كَانَ الْجَزْمُ بِأَنَّ مَا أَخْبَرَتْ بِهِ الرُّسُلُ هُوَ أَنَّ الْعَرْشَ هُوَ الْفَلَكُ التَّاسِعُ رَجْمًا بِالْغَيْبِ، وَقَوْلًا بِلَا عِلْمٍ.
هَذَا كُلُّهُ بِتَقْدِيرِ ثُبُوتِ الْأَفْلَاكِ التِّسْعَةِ عَلَى الْمَشْهُورِ عِنْدَ أَهْلِ الْهَيْئَةِ، إذْ فِي ذَلِكَ مِنْ النِّزَاعِ وَالِاضْطِرَابِ، وَفِي أَدِلَّةِ ذَلِكَ مَا لَيْسَ هَذَا مَوْضِعَهُ، وَإِنَّمَا نَتَكَلَّمُ عَلَى هَذَا التَّقْدِيرِ، وَأَيْضًا: فَالْأَفْلَاكُ فِي أَشْكَالِهَا، وَإِحَاطَةِ بَعْضِهَا بِبَعْضِ مِنْ جِنْسٍ وَاحِدٍ؛ فَنِسْبَةُ السَّابِعِ إلَى السَّادِسِ، كَنِسْبَةِ السَّادِسِ إلَى الْخَامِسِ، وَإِذَا كَانَ هُنَاكَ فَلَكٌ تَاسِعٌ فَنِسْبَتُهُ إلَى الثَّامِنِ كَنِسْبَةِ الثَّامِنِ إلَى السَّابِعِ.
وَأَمَّا الْعَرْشُ فَالْأَخْبَارُ تَدُلُّ عَلَى مُبَايَنَتِهِ لِغَيْرِهِ مِنْ الْمَخْلُوقَاتِ، وَأَنَّهُ لَيْسَ نِسْبَتُهُ إلَى بَعْضِهَا كَنِسْبَةِ بَعْضِهَا إلَى بَعْضٍ، قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {الَّذِينَ يَحْمِلُونَ الْعَرْشَ وَمَنْ حَوْلَهُ يُسَبِّحُونَ بِحَمْدِ رَبِّهِمْ وَيُؤْمِنُونَ بِهِ} الآية [غافر: 7]، وَقَالَ سُبْحَانَهُ: {وَيَحْمِلُ عَرْشَ رَبِّكَ فَوْقَهُمْ يَوْمَئِذٍ ثَمَانِيَةٌ} [الحاقة: 17]، فَأَخْبَرَ أَنَّ لِلْعَرْشِ حَمَلَةً الْيَوْمَ وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَأَنَّ حَمَلَتَهُ وَمَنْ حَوْلَهُ يُسَبِّحُونَ وَيَسْتَغْفِرُونَ لِلْمُؤْمِنِينَ.
وَمَعْلُومٌ أَنَّ قِيَامَ فَلَكٍ مِنْ الْأَفْلَاكِ بِقُدْرَةِ اللَّهِ تَعَالَى كَقِيَامِ سَائِرِ الْأَفْلَاكِ، لَا فَرْقَ
তারা একটি বিভ্রান্ত জাতি, তারা এর সাথে এটিকে তিনশত ষাটটি স্তরে বিভক্ত করে এবং প্রতিটি স্তরের জন্য এমন প্রভাব নির্ধারণ করে যা অন্যটির বিপরীত, যা গ্রহণকারীদের ভিন্নতার কারণে নয়। যেমন কেউ একটি পানির কাছে এসে তার এক অংশের জন্য এমন প্রভাব সাব্যস্ত করল যা অন্যটির বিপরীত, অথচ তা গ্রহণকারীদের সক্ষমতা অনুযায়ী নয়; বরং সে তার এক অংশকে উষ্ণকারী, অন্য অংশকে শীতলকারী, একটিকে সৌভাগ্যদায়ক এবং অন্যটিকে দুর্ভাগ্যদায়ক সাব্যস্ত করল। এটি এমন বিষয় যা তারা এবং প্রত্যেক বুদ্ধিমান ব্যক্তিই জানে যে এটি বাতিল ও বিভ্রান্তি।
আর যেহেতু তাদের নিকট নয়টি আকাশের উপরে অন্য কোনো কিছুর অস্তিত্বকে অস্বীকার করার মতো কোনো প্রমাণ নেই, তাই রাসূলগণ যা সংবাদ দিয়েছেন যে আরশ হলো নবম আকাশ—এমন নিশ্চয়তা প্রদান করা অদৃশ্যের বিষয়ে অনুমান করা এবং জ্ঞানহীন কথা বলার শামিল।
এই সবকিছুই জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের নিকট প্রসিদ্ধ নয়টি আকাশের অস্তিত্বের স্বীকৃতির ভিত্তিতে বলা হয়েছে; যেহেতু এ বিষয়ে এমন মতভেদ ও বিশৃঙ্খলা রয়েছে এবং এর প্রমাণাদিতে এমন অনেক কিছু আছে যা আলোচনার উপযুক্ত স্থান এটি নয়। আমরা কেবল এই অনুমানের ভিত্তিতে কথা বলছি। অধিকন্তু, আকাশসমূহ তাদের আকৃতিতে এবং একটির দ্বারা অন্যটিকে পরিবেষ্টন করার ক্ষেত্রে একই জাতীয়; সুতরাং ষষ্ঠ আকাশের সাথে সপ্তম আকাশের সম্পর্ক তেমন, যেমন পঞ্চম আকাশের সাথে ষষ্ঠ আকাশের সম্পর্ক। আর যদি সেখানে কোনো নবম আকাশ থেকে থাকে, তবে অষ্টম আকাশের সাথে তার সম্পর্ক তেমন হবে যেমন সপ্তম আকাশের সাথে অষ্টম আকাশের সম্পর্ক।
পক্ষান্তরে আরশের ক্ষেত্রে বর্ণনাগুলো অন্যান্য সৃষ্টি থেকে এর ভিন্নতার প্রমাণ দেয়। অন্যান্য সৃষ্টির একটির সাথে অন্যটির সম্পর্কের মতো আরশের সম্পর্ক নয়। আল্লাহ তাআলা বলেন: {যারা আরশ বহন করে এবং যারা তার চারপাশে আছে, তারা তাদের রবের প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করে এবং তাঁর প্রতি ঈমান রাখে} [সূরা গাফির: ৭]। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {এবং সেদিন আটজন ফেরেশতা আপনার রবের আরশকে তাদের উপরে বহন করবে} [সূরা আল-হাক্কাহ: ১৭]। সুতরাং তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, বর্তমানে এবং কিয়ামতের দিন আরশের জন্য বহনকারী রয়েছে এবং এর বহনকারীগণ ও এর আশেপাশে যারা আছে তারা তাসবিহ পাঠ করে ও মুমিনদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে।
আর এটি জানাশোনা বিষয় যে, আল্লাহর ক্ষমতায় একটি আকাশের টিকে থাকা অন্য সকল আকাশের টিকে থাকার মতোই, এতে কোনো পার্থক্য নেই।
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল আরশিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
فِي ذَلِكَ بَيْنَ كُرَةٍ وَكُرَةٍ، وَإِنْ قُدِّرَ أَنَّ لِبَعْضِهَا مَلَائِكَةً فِي نَفْسِ الْأَمْرِ تَحْمِلُهَا، فَحُكْمُهُ حُكْمُ نَظِيرِهِ، قَالَ تَعَالَى: {وَتَرَى الْمَلَائِكَةَ حَافِّينَ مِنْ حَوْلِ الْعَرْشِ} الآية [الزمر: 75].
فَذَكَرَ هُنَا أَنَّ الْمَلَائِكَةَ تَحُفُّ مِنْ حَوْلِ الْعَرْشِ، وَذَكَرَ فِي مَوْضِعٍ آخَرَ أَنَّ لَهُ حَمْلَةً، وَجَمَعَ فِي مَوْضِعٍ ثَالِثٍ بَيْنَ حَمَلَتِهِ وَمَنْ حَوْلَهُ، فَقَالَ: {الَّذِينَ يَحْمِلُونَ الْعَرْشَ وَمَنْ حَوْلَهُ يُسَبِّحُونَ بِحَمْدِ رَبِّهِمْ}
أَيْضًا، فَقَدْ أَخْبَرَ أَنَّ عَرْشَهُ كَانَ عَلَى الْمَاءِ قَبْلَ أَنْ يَخْلُقَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ، كَمَا قَالَ تَعَالَى: {وَهُوَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ وَكَانَ عَرْشُهُ عَلَى الْمَاء} [هود: 7].
وَقَدْ ثَبَتَ فِي صَحِيحِ الْبُخَارِيِّ وَغَيْرِهِ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ: " كَانَ اللَّهُ وَلَمْ يَكُنْ شَيْءٌ غَيْرُهُ، وَكَانَ عَرْشُهُ عَلَى الْمَاءِ، وَكَتَبَ فِي الذِّكْرِ كُلَّ شَيْءٍ، وَخَلَقَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ "، وَفِي رِوَايَةٍ لَهُ: " كَانَ اللَّهُ وَلَمْ يَكُنْ شَيْءٌ قَبْلَهُ، وَكَانَ عَرْشُهُ عَلَى الْمَاءِ، ثُمَّ خَلَقَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ، وَكَتَبَ فِي الذِّكْرِ كُلَّ شَيْءٍ "، وَفِي رِوَايَةٍ لِغَيْرِهِ صَحِيحَةٍ: " كَانَ اللَّهُ وَلَمْ يَكُنْ شَيْءٌ مَعَهُ، وَكَانَ عَرْشُهُ عَلَى الْمَاءِ، ثُمَّ كَتَبَ فِي الذِّكْرِ كُلَّ شَيْءٍ " وَثَبَتَ فِي صَحِيحِ مُسْلِمٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ: " إنَّ اللَّهَ قَدَّرَ مَقَادِيرَ الْخَلَائِقِ قَبْلَ أَنْ يَخْلُقَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ بِخَمْسِينَ أَلْفِ سَنَةٍ وَكَانَ عَرْشُهُ عَلَى الْمَاءِ " وَهَذَا التَّقْدِيرُ بَعْدَ وُجُودِ الْعَرْشِ وَقَبْلَ خَلْقِ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ بِخَمْسِينَ أَلْفِ سَنَةٍ.
وَهُوَ سبحانه وتعالى مُتَمَدِّحٌ بِأَنَّهُ ذُو الْعَرْشِ، كَقَوْلِهِ سُبْحَانَهُ: {قُلْ لَوْ كَانَ مَعَهُ آلِهَةٌ كَمَا يَقُولُونَ إذًا لَابْتَغَوْا إلَى ذِي الْعَرْشِ سَبِيلاً} [الإسراء: 24]، وقَوْله تَعَالَى:
এর মধ্যে এক গোলক ও অন্য গোলকের মাঝে, আর যদি ধরে নেওয়া হয় যে বাস্তবপক্ষে সেগুলোর কয়েকটিকে বহন করার জন্য ফেরেশতা রয়েছে, তবে এর বিধান তার অনুরূপ বিষয়ের বিধানের মতোই হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর তুমি ফেরেশতাদের দেখতে পাবে যে তারা আরশের চারপাশ ঘিরে আছে} আয়াত [সূরা যুমার: ৭৫]।
এখানে তিনি উল্লেখ করেছেন যে ফেরেশতারা আরশের চারপাশ ঘিরে থাকে, আর অন্য স্থানে উল্লেখ করেছেন যে আরশের বাহক রয়েছে। আবার তৃতীয় এক স্থানে তিনি আরশের বাহক এবং যারা তার চারপাশে রয়েছে—উভয়কেই একত্রে উল্লেখ করে বলেছেন: {যারা আরশ বহন করে এবং যারা তার চারপাশে রয়েছে, তারা তাদের রবের সপ্রশংস পবিত্রতা ঘোষণা করে}
আরও কথা হলো, তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে আসমান ও জমিন সৃষ্টির পূর্বে তাঁর আরশ পানির উপর ছিল, যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর তিনি সেই সত্তা যিনি আসমান ও জমিন ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর আরশ ছিল পানির উপর} [সূরা হুদ: ৭]।
সহীহ বুখারী ও অন্যান্য গ্রন্থে ইমরান ইবন হুসাইন থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহ ছিলেন এবং তিনি ছাড়া আর কিছুই ছিল না। তাঁর আরশ ছিল পানির উপর এবং তিনি সব কিছু যিকরে (মূল লিপি) লিখেছিলেন এবং তিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন।" তাঁর অন্য এক বর্ণনায় আছে: "আল্লাহ ছিলেন এবং তাঁর পূর্বে কিছুই ছিল না। তাঁর আরশ ছিল পানির উপর, অতঃপর তিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেন এবং সব কিছু যিকরে লিখে রাখেন।" অন্য এক সহীহ বর্ণনায় এসেছে: "আল্লাহ ছিলেন এবং তাঁর সাথে আর কিছুই ছিল না। তাঁর আরশ ছিল পানির উপর, অতঃপর তিনি যিকরে সব কিছু লিখেছিলেন।" সহীহ মুসলিম গ্রন্থে আবদুল্লাহ ইবন আমর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আসমান ও জমিন সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বছর আগে সৃষ্টিজগতের তাকদীর নির্ধারণ করেছেন এবং তাঁর আরশ ছিল পানির উপর।" আর এই নির্ধারণ বা তাকদীর ছিল আরশ অস্তিত্বমান হওয়ার পর এবং আসমান ও জমিন সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বছর আগে।
এবং তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা আরশের অধিকারী হিসেবে প্রশংসিত, যেমন তাঁর পবিত্র বাণী: {বলো, তারা যা বলে সে অনুযায়ী যদি তাঁর সাথে আরও ইলাহ থাকত, তবে তারা আরশের অধিকারীর কাছে পৌঁছার পথ অন্বেষণ করত} [সূরা ইসরা: ২৪], এবং মহান আল্লাহর বাণী:
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল আরশিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
{رَفِيعُ الدَّرَجَاتِ ذُو الْعَرْشِ يُلْقِي الرُّوحَ مِنْ أَمْرِهِ عَلَى مَنْ يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ لِيُنْذِرَ يَوْمَ التَّلَاقِ هُمْ بَارِزُونَ لَا يَخْفَى عَلَى اللَّهِ مِنْهُمْ شَيْءٌ لِمَنِ الْمُلْكُ الْيَوْمَ لِلَّهِ الْوَاحِدِ الْقَهَّارِ} [غافر: 15، 16]، وَقَالَ تَعَالَى: {وَهُوَ الْغَفُورُ الْوَدُودُ ذُو الْعَرْشِ الْمَجِيدُ فَعَّالٌ لِّمَا يُرِيدُ} [البروج: 14 16]، وَقَدْ قُرِئَ {الْمَجِيدُ} بِالرَّفْعِ صِفَةً لِلَّهِ، وَقُرِئَ بالخفض صفة للعرش. وَقَالَ تَعَالَى: {قُلْ مَنْ رَبُّ السَّمَاوَاتِ السَّبْعِ وَرَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ سَيَقُولُونَ لِلَّهِ قُلْ أَفَلَا تَتَّقُونَ ّ} [المؤمنون: 86، 87]، فَوَصَفَ الْعَرْشَ بِأَنَّهُ مَجِيدٌ وَأَنَّهُ عَظِيمٌ، وَقَالَ تَعَالَى: {فَتَعَالَى اللَّهُ الْمَلِكُ الْحَقُّ لَا إلَهَ إلَّا هُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْكَرِيمِ} [المؤمنون 116]، فَوَصَفَهُ بِأَنَّهُ كَرِيمٌ أَيْضًا.
وَكَذَلِكَ فِي الصَّحِيحَيْنِ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقُولُ عِنْدَ الْكَرْبِ: " لَا إلَهَ إلَّا اللَّهُ الْعَظِيمُ الْحَلِيمُ، لَا إلَهَ إلَّا اللَّهُ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ، لَا إلَهَ إلَّا اللَّهُ رَبُّ السَّمَوَاتِ وَرَبُّ الْأَرْضِ رَبُّ الْعَرْشِ الْكَرِيمِ "، فَوَصَفَهُ فِي الْحَدِيثِ بِأَنَّهُ عَظِيمٌ، وَكَرِيمٌ أَيْضًا.
فَقَوْلُ الْقَائِلِ الْمُنَازِعِ: إنَّ نِسْبَةَ الْفَلَكِ الْأَعْلَى إلَى مَا دُونَهُ كَنِسْبَةِ الْآخَرِ إلَى مَا دُونَهُ، لَوْ كَانَ الْعَرْشُ مِنْ جِنْسِ الْأَفْلَاكِ، لَكَانَتْ نِسْبَتُهُ إلَى مَا دُونَهُ كَنِسْبَةِ الْآخَرِ إلَى مَا دُونَهُ، وَهَذَا لَا يُوجِبُ خُرُوجَهُ عَنْ الْجِنْسِ وَتَخْصِيصَهُ بِالذِّكْرِ، كَمَا لَمْ يُوجِبْ ذَلِكَ تَخْصِيصَ سَمَاءٍ دُونَ سَمَاءٍ، وَإِنْ كَانَتْ الْعُلْيَا بِالنِّسْبَةِ إلَى السُّفْلَى كَالْفَلَكِ عَلَى قَوْلِ هَؤُلَاءِ، وَإِنَّمَا امْتَازَ عَمَّا دُونَهُ بِكَوْنِهِ أَكْبَرَ، كَمَا تَمْتَازُ السَّمَاءُ الْعُلْيَا عَنْ الدُّنْيَا، بَلْ نِسْبَةُ السَّمَاءِ إلَى الْهَوَاءِ، وَنِسْبَةُ الْهَوَاءِ إلَى الْمَاءِ وَالْأَرْضِ. كَنِسْبَةِ فَلَكٍ إلَى فَلَكٍ، وَمَعَ هَذَا فَلَمْ يَخُصَّ وَاحِدًا مِنْ هَذِهِ الْأَجْنَاسِ عَمَّا يَلِيهِ
{তিনি সুউচ্চ মর্যাদাবান, আরশের অধিকারী; তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা তাঁর আদেশ হতে রূহ (ওহী) প্রেরণ করেন, যাতে তিনি সাক্ষাতের দিন সম্পর্কে সতর্ক করেন। যেদিন তারা প্রকাশ হয়ে পড়বে, আল্লাহর কাছে তাদের কোনো কিছুই গোপন থাকবে না। আজ রাজত্ব কার? একমাত্র পরাক্রমশালী আল্লাহর।} [গাফির: ১৫, ১৬], এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: {তিনি পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। আরশের অধিকারী, মহিমান্বিত। তিনি যা ইচ্ছা তা-ই সম্পাদনকারী।} [আল-বুরুজ: ১৪-১৬]। এখানে 'আল-মাজিদ' (মহিমান্বিত) শব্দটি পেশ (রফ) যোগে আল্লাহর গুণ হিসেবে পাঠ করা হয়েছে, আবার জের (খফজ) যোগে আরশের গুণ হিসেবেও পাঠ করা হয়েছে। এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: {বলুন, সাত আসমান ও মহা-আরশের রব কে? তারা বলবে, আল্লাহর। বলুন, তবে কি তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করবে না?} [আল-মুমিনুন: ৮৬, ৮৭]। ফলে তিনি আরশকে মহিমান্বিত এবং মহান হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: {অতএব মহান আল্লাহ, যিনি সত্য রাজাধিপতি, তিনি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই, তিনি সম্মানিত আরশের রব।} [আল-মুমিনুন: ১১৬]। ফলে তিনি আরশকে সম্মানিত হিসেবেও বর্ণনা করেছেন।
অনুরূপভাবে সহীহাইন-এ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিপদের সময় বলতেন: "আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, যিনি মহান ও পরম সহিষ্ণু। আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, যিনি মহা-আরশের রব। আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, যিনি আসমানসমূহের রব, জমিনের রব এবং সম্মানিত আরশের রব।" ফলে এই হাদিসে তিনি আরশকে মহান এবং সম্মানিত হিসেবেও বর্ণনা করেছেন।
বিরোধীতাকারীর এই বক্তব্য যে: "নিম্নস্তরের সাপেক্ষে ঊর্ধ্বস্থিত গোলকের (ফলক) অনুপাত যেমন, অন্যের তুলনায় তার নিম্নেরটির অনুপাতও তেমন; যদি আরশ গোলকসমূহের সমজাতীয় হতো, তবে তার নিম্নেরটির তুলনায় তার অনুপাত তেমনি হতো যেমনটি অন্যের ক্ষেত্রে তার নিম্নেরটির সাথে হয়।" এটি তাকে স্বীয় স্বজাতীয় হওয়া থেকে বের করে দেয়া কিংবা বিশেষভাবে উল্লেখ করাকে আবশ্যক করে না; যেমনটি এক আসমান বাদ দিয়ে অন্য আসমানকে নির্দিষ্ট করাকে আবশ্যক করেনি, যদিও এই লোকদের কথা অনুযায়ী নিম্নস্তরের তুলনায় ঊর্ধ্বস্তরটি গোলকতুল্য। মূলত এটি নিচের স্তরের চেয়ে বড় হওয়ার কারণেই আলাদা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছে, যেভাবে ঊর্ধ্বস্থিত আসমান নিকটবর্তী আসমান থেকে ভিন্ন বৈশিষ্ট্য পায়। বরং বায়ুমণ্ডলের তুলনায় আসমানের অনুপাত এবং পানি ও মাটির তুলনায় বায়ুমণ্ডলের অনুপাত হলো এক গোলকের সাথে অন্য গোলকের অনুপাতের মতো; তা সত্ত্বেও এই সকল শ্রেণির মধ্য থেকে কোনো একটিকে তার পরবর্তীটির সাপেক্ষে বিশেষভাবে নির্দিষ্ট করা হয়নি।
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল আরশিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
بِالذِّكْرِ، وَلَا بِوَصْفِهِ بِالْكَرَمِ وَالْمَجْدِ وَالْعَظَمَةِ.
وَقَدْ عُلِمَ أَنَّهُ لَيْسَ سَبَبًا لِذَوَاتِهَا وَلَا لِحَرَكَاتِهَا، بَلْ لَهَا حَرَكَاتٌ تَخُصُّهَا، فَلَا يَجُوزُ أَنْ يُقَالَ: حَرَكَتُهُ هِيَ سَبَبُ الْحَوَادِثِ، بَلْ إنْ كَانَتْ حَرَكَةُ الْأَفْلَاكِ سَبَبًا لِلْحَوَادِثِ، فَحَرَكَاتُ غَيْرِهِ الَّتِي تَخُصُّهُ أَكْثَرَ، وَلَا يَلْزَمُ مِنْ كَوْنِهِ مُحِيطًا بِهَا أَنْ يَكُونَ أَعْظَمَ مِنْ مَجْمُوعِهَا، إلَّا إذَا كَانَ لَهُ مِنْ الْغِلَظِ مَا يُقَاوِمُ ذَلِكَ، وَإِلَّا فَمِنْ الْمَعْلُومِ أن الغليظ إذا كَانَ مُتَقَارِبًا، فَمَجْمُوعُ الدَّاخِلِ أَعْظَمُ مِنْ الْمُحِيطِ، بَلْ قَدْ يَكُونُ بِقَدْرِهِ أَضْعَافًا، بَلْ الْحَرَكَاتُ الْمُخْتَلِفَةُ الَّتِي لَيْسَتْ عَنْ حَرَكَتِهِ أَكْثَرُ، لَكِنَّ حَرَكَتَهُ تَشْمَلُهَا كُلَّهَا.
وَقَدْ ثَبَتَ فِي صَحِيحِ مُسْلِمٍ عَنْ جُوَيْرِيَّةَ بِنْتِ الْحَارِثِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم دَخَلَ عَلَيْهَا، وَكَانَتْ تُسَبِّحُ بِالْحَصَى مِنْ صَلَاةِ الصُّبْحِ إلَى وَقْتِ الضُّحَى، فَقَالَ: " لَقَدْ قُلْت بَعْدَك أَرْبَعَ كَلِمَاتٍ لَوْ وُزِنَتْ بِمَا قلتيه لَوَزَنَتْهُنَّ: سُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ خَلْقِهِ، سُبْحَانَ اللَّهِ زِنَةَ عَرْشِهِ، سُبْحَانَ اللَّهِ رِضَى نَفْسِهِ، سُبْحَانَ اللَّهِ مِدَادَ كَلِمَاتِهِ "، فَهَذَا يُبَيِّنُ أَنَّ زِنَةَ الْعَرْشِ أَثْقَلُ الْأَوْزَانِ، وَهُمْ يَقُولُونَ: إنَّ الْفَلَكَ التَّاسِعَ لَا خَفِيفَ وَلَا ثَقِيلَ، بَلْ يَدُلُّ عَلَى أَنَّهُ وَحْدَهُ أَثْقَلُ مَا يُمَثَّلُ بِهِ، كَمَا أَنَّ عَدَدَ الْمَخْلُوقَاتِ أَكْثَرُ مَا يُمَثَّلُ بِهِ.
وَفِي الصَّحِيحَيْنِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ مِنْ الْيَهُودِ إلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَدْ لُطِمَ وَجْهُهُ، فَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ، رَجُلٌ مِنْ أَصْحَابِك لَطَمَ وَجْهِي، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: " اُدْعُوهُ " فَدَعَوْهُ، فَقَالَ: " لِمَ لَطَمْت وَجْهَهُ؟ " فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إنِّي مَرَرْت بِالسُّوقِ وَهُوَ يَقُولُ: وَاَلَّذِي اصْطَفَى مُوسَى عَلَى الْبَشَرِ! فَقُلْت: يَا خَبِيثُ! وَعَلَى مُحَمَّدٍ؟ فَأَخَذَتْنِي غَضْبَةٌ فَلَطَمْته، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: " لَا تُخَيِّرُوا
স্মরণের মাধ্যমে, এবং তাকে উদারতা, মহিমা ও শ্রেষ্ঠত্বের গুণে গুণান্বিত করার মাধ্যমেও নয়।
আর এটি জানা গেছে যে, তিনি সেগুলোর সত্তা বা গতির কারণ নন, বরং সেগুলোর নিজস্ব গতি রয়েছে। সুতরাং এটি বলা বৈধ নয় যে: তাঁর গতিই হলো নতুন সৃষ্ট ঘটনাবলির কারণ। বরং যদি আসমানি মণ্ডলের গতি ঘটনাবলির কারণ হয়ে থাকে, তবে তাঁর সত্তা ব্যতীত অন্যান্য বিষয়ের গতি যা সেগুলোর সাথে সুনির্দিষ্ট, তা আরও বেশি। আর তা পরিবেষ্টনকারী হওয়ার কারণে এটি আবশ্যক হয় না যে, তা তার সমষ্টির চেয়ে বড় হবে; যদি না তার এমন স্থূলতা থাকে যা তার মোকাবিলা করে। অন্যথায় এটি তো সুবিদিত যে, স্থূল অংশগুলো যখন কাছাকাছি হয়, তখন অভ্যন্তরীণ অংশের সমষ্টি পরিবেষ্টনকারীর চেয়ে বড় হয়, বরং তার কয়েকগুণও হতে পারে। এমনকি বিভিন্ন গতি যা তাঁর গতি থেকে উৎসারিত নয় সেগুলোই সংখ্যায় অধিক, তবে তাঁর গতি সেগুলোর সবগুলোকে শামিল করে।
আর সহীহ মুসলিমে জুওয়াইরিয়াহ বিনতে হারিস থেকে সাব্যস্ত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর নিকট প্রবেশ করলেন—এমতাবস্থায় যে তিনি সকালের সালাত থেকে চাশতের সময় পর্যন্ত কাঁকর দিয়ে তাসবীহ পাঠ করছিলেন। তখন তিনি বললেন: "আমি তোমার নিকট থেকে যাওয়ার পর এমন চারটি বাক্য বলেছি, যদি সেগুলোকে তোমার বলা কথাগুলোর সাথে ওজন করা হয়, তবে সেগুলোই ভারী হবে: আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি তাঁর সৃষ্টির সংখ্যা পরিমাণ, আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি তাঁর আরশের ওজন পরিমাণ, আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি তাঁর সত্তার সন্তুষ্টির পরিমাণ এবং আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি তাঁর কালিমাসমূহ লিপিবদ্ধ করার কালি পরিমাণ।" এটি স্পষ্ট করে যে, আরশের ওজন হলো সকল ওজনের মধ্যে সবচেয়ে ভারী। অথচ তারা বলে: নবম আসমান হালকাও নয়, আবার ভারীও নয়। বরং এই হাদিসটি প্রমাণ করে যে, আরশ একাই ওজনের দিক দিয়ে সর্বাধিক ভারী হিসেবে উদাহরণ দেওয়ার যোগ্য, যেমন সৃষ্টির সংখ্যাধিক্য সর্বোচ্চ সংখ্যা হিসেবে উদাহরণ দেওয়ার যোগ্য।
সহীহদ্বয়ে আবু সাঈদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: জনৈক ইহুদি ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আসল যার মুখে চপেটাঘাত করা হয়েছিল। সে বলল: হে মুহাম্মদ! আপনার সাহাবীদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি আমার মুখে চড় মেরেছে। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "তাকে ডাকো।" তারা তাকে ডাকলে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: "কেন তুমি তার মুখে চড় মারলে?" সে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আমি বাজারের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম, এমতাবস্থায় সে বলছিল: সেই সত্তার কসম যিনি মূসাকে মানবজাতির ওপর মনোনীত করেছেন! তখন আমি বললাম: হে পাপিষ্ঠ! মুহাম্মদের ওপরেও? এতে আমার রাগ হলো এবং আমি তাকে চড় মারলাম। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "তোমরা শ্রেষ্ঠত্ব দিও না..."
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল আরশিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
بَيْنَ الْأَنْبِيَاءِ، فَإِنَّ النَّاسَ يُصْعَقُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَأَكُونُ أَوَّلَ مَنْ يُفِيقُ فَإِذَا أَنَا بِمُوسَى آخِذًا بِقَائِمَةٍ مِنْ قَوَائِمِ الْعَرْشِ، فَلَا أَدْرِي أَفَاقَ قَبْلِي أَمْ جُوزِيَ بِصَعْقَتِهِ " فَهَذَا فِيهِ بَيَانُ أَنَّ لِلْعَرْشِ قَوَائِمَ، وَجَاءَ ذِكْرُ الْقَائِمَةِ بِلَفْظِ السَّاقِ، وَالْأَقْوَالُ مُتَشَابِهَةٌ فِي هَذَا الْبَابِ.
وَقَدْ أَخْرَجَا فِي الصَّحِيحَيْنِ عَنْ جَابِرٍ قَالَ: سَمِعْت النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: " اهْتَزَّ عَرْشُ الرَّحْمَنِ لِمَوْتِ سَعْدِ بْنِ مُعَاذٍ " قَالَ: فَقَالَ رَجُلٌ لِجَابِرِ: إنَّ الْبَرَاءَ يَقُولُ: اهْتَزَّ السَّرِيرُ، قَالَ: إنَّهُ كَانَ بَيْنَ هَذَيْنِ الْحَيَّيْنِ الْأَوْسِ وَالْخَزْرَجِ ضَغَائِنُ، سَمِعْت نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: " اهْتَزَّ عَرْشُ الرَّحْمَنِ لِمَوْتِ سَعْدِ بْنِ مُعَاذٍ " وَرَوَاهُ مُسْلِمٌ فِي صَحِيحِهِ مِنْ حَدِيثِ أَنَسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ وَجِنَازَةُ سَعْدٍ مَوْضُوعَةٌ: " اهْتَزَّ لَهَا عَرْشُ الرَّحْمَنِ ".
وَعِنْدَهُمْ أَنَّ حَرَكَةَ الْفَلَكِ التَّاسِعِ دَائِمَةٌ مُتَشَابِهَةٌ، وَمَنْ تَأَوَّلَ ذَلِكَ عَلَى أَنَّ الْمُرَادَ بِهِ اسْتِبْشَارُ حَمَلَةِ العرش وفرحهم، فلابد لَهُ مِنْ دَلِيلٍ عَلَى مَا قَالَ، كَمَا ذَكَرَهُ أَبُو الْحَسَنِ الطبري وَغَيْرُهُ، مَعَ أَنَّ سِيَاقَ الْحَدِيثِ وَلَفْظَهُ يَنْفِي هَذَا الِاحْتِمَالَ.
وَفِي صَحِيحِ الْبُخَارِيِّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " مَنْ آمَنَ بِاَللَّهِ وَرَسُولِهِ وَأَقَامَ الصَّلَاةَ، وَآتَى الزَّكَاةَ وَصَامَ رَمَضَانَ، كَانَ حَقًّا عَلَى اللَّهِ أَنْ يُدْخِلَهُ الْجَنَّةَ، هَاجَرَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، أَوْ جَلَسَ فِي أَرْضِهِ الَّتِي وُلِدَ فِيهَا ". قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَفَلَا نُبَشِّرُ النَّاسَ بِذَلِكَ؟ قَالَ: " إنَّ فِي الْجَنَّةِ مِائَةَ دَرَجَةٍ أَعَدَّهَا اللَّهُ لِلْمُجَاهِدِينَ فِي سَبِيلِهِ، كُلُّ دَرَجَتَيْنِ بَيْنَهُمَا كَمَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ، فَإِذَا سَأَلْتُمْ اللَّهَ فَاسْأَلُوهُ الْفِرْدَوْسَ، فَإِنَّهُ أَوْسَطُ الْجَنَّةِ، وَأَعْلَى الْجَنَّةِ، وَفَوْقَهُ عَرْشُ الرَّحْمَنِ، وَمِنْهُ تُفَجَّرُ أَنْهَارُ الْجَنَّةِ ".
নবীগণের মাঝে, কারণ কিয়ামতের দিন মানুষ বেহুঁশ হয়ে পড়বে এবং আমিই হব প্রথম ব্যক্তি যার জ্ঞান ফিরবে। তখন আমি মূসাকে আরশের পায়াগুলোর মধ্য থেকে একটি পায়া ধরে থাকা অবস্থায় দেখতে পাব। আমি জানি না তিনি আমার আগে সচেতন হয়েছেন নাকি (তূর পাহাড়ে) বেহুঁশ হওয়ার বিনিময়ে তাকে এর থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।" এতে আরশের পায়া থাকার বর্ণনা রয়েছে। পায়ার উল্লেখ 'পা' শব্দেও এসেছে এবং এই বিষয়ে উক্তিগুলো প্রায় একই রকম।
তারা উভয়ই (বুখারি ও মুসলিম) সহীহ গ্রন্থদ্বয়ে জাবির থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি: "সা'দ ইবনে মুআযের মৃত্যুতে রহমানের আরশ কেঁপে উঠেছে।" তিনি বলেন: জনৈক ব্যক্তি জাবিরকে বলল যে, বারা বলেন: 'খাটিয়া কেঁপে উঠেছিল'। তিনি বললেন: আউস ও খাজরাজ নামক এই দুই গোত্রের মধ্যে কিছু মনোমালিন্য ছিল (তাই তিনি এমন ব্যাখ্যা করেছেন)। আমি আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি: "সা'দ ইবনে মুআযের মৃত্যুতে রহমানের আরশ কেঁপে উঠেছে।" ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সা'দ-এর জানাজা রাখা অবস্থায় বলেছেন: "এর জন্য রহমানের আরশ কেঁপে উঠেছে।"
তাদের (দার্শনিকদের) মতে নবম আকাশ বা গোলকের গতি সর্বদা একই রকম। আর যারা এর এই ব্যাখ্যা করেন যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আরশ বহনকারী ফেরেশতাদের সুসংবাদ ও আনন্দ লাভ, তবে তাকে অবশ্যই তার এই দাবির পক্ষে প্রমাণ পেশ করতে হবে; যেমনটি আবুল হাসান আত-তাবারী এবং অন্যান্যরা উল্লেখ করেছেন। অথচ হাদিসের প্রেক্ষাপট এবং এর শব্দসমূহ এই সম্ভাবনাকে নাকচ করে দেয়।
এবং সহীহ বুখারিতে আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনল, সালাত কায়েম করল, জাকাত প্রদান করল এবং রমজানের রোজা রাখল, আল্লাহর ওপর তার এই অধিকার সাব্যস্ত হলো যে তিনি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন—চাই সে আল্লাহর পথে হিজরত করুক অথবা তার ওই ভূমিতেই বসে থাকুক যেখানে সে জন্মগ্রহণ করেছে।" তারা বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি মানুষকে এই সুসংবাদ দেব না? তিনি বললেন: "জান্নাতে একশটি স্তর রয়েছে যা আল্লাহ আল্লাহর পথে জিহাদকারীদের জন্য প্রস্তুত করেছেন। প্রতি দুই স্তরের মধ্যবর্তী দূরত্ব আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যবর্তী দূরত্বের ন্যায়। সুতরাং তোমরা যখন আল্লাহর কাছে চাইবে, তখন ফিরদাউস চাইবে। কারণ তা হলো জান্নাতের মধ্যস্থল এবং জান্নাতের সর্বোচ্চ স্তর। আর তার উপরেই রয়েছে রহমানের আরশ এবং সেখান থেকেই জান্নাতের নহরসমূহ প্রবাহিত হয়।"
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল আরশিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
وَفِي صَحِيحِ مُسْلِمٍ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الخدري: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " يَا أَبَا سَعِيدٍ، مَنْ رَضِيَ بِاَللَّهِ رَبًّا، وَبِالْإِسْلَامِ دِينًا، وَبِمُحَمَّدِ نَبِيًّا، وَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ " فَعَجِبَ لَهَا أَبُو سَعِيدٍ فَقَالَ: أَعِدْهَا عَلَيَّ يَا رَسُولَ اللَّهِ، فَفَعَلَ، قَالَ: " وَأُخْرَى يَرْفَعُ اللَّهُ بِهَا الْعَبْدَ مِائَةَ دَرَجَةٍ، مَا بَيْنَ كُلِّ دَرَجَتَيْنِ كَمَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ " قَالَ: وَمَا هِيَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: " الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ".
وَفِي صَحِيحِ الْبُخَارِيِّ: إنَّ أُمَّ الرَّبِيعِ بِنْتَ الْبَرَاءِ وَهِيَ أُمُّ حَارِثَةَ بْنِ سُرَاقَةَ أَتَتْ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ: يَا نَبِيَّ اللَّهِ، أَلَا تُحَدِّثَنِي عَنْ حَارِثَةَ وَكَانَ قُتِلَ يَوْمَ بَدْرٍ أَصَابَهُ سَهْمٌ غَرْبٌ فَإِنْ كَانَ فِي الْجَنَّةِ صَبَرْت، وَإِنْ كَانَ فِي غَيْرِ ذَلِكَ اجْتَهَدْت عَلَيْهِ فِي الْبُكَاءِ. قَالَ: " يَا أُمَّ حَارِثَةَ، إنَّهَا جِنَانٌ فِي الْجَنَّةِ، وَإِنَّ ابْنَك أَصَابَ الْفِرْدَوْسَ الْأَعْلَى " [وقوله: سَهم غَرْب أي لا يعرف راميه].
فَهَذَا قَدْ بُيِّنَ فِي الْحَدِيثِ الْأَوَّلِ: أَنَّ الْعَرْشَ فَوْقَ الْفِرْدَوْسِ الَّذِي هُوَ أَوْسَطُ الْجَنَّةِ وَأَعْلَاهَا، وَأَنَّ فِي الْجَنَّةِ مِائَةَ دَرَجَةٍ، مَا بَيْنَ كُلِّ دَرَجَتَيْنِ كَمَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ، وَالْفِرْدَوْسُ أَعْلَاهَا. الْحَدِيثُ الثَّانِي: يُوَافِقُهُ فِي وَصْفِ الدَّرَجِ الْمِائَةِ. الْحَدِيثُ الثَّالِثُ: يُوَافِقُهُ فِي أَنَّ الْفِرْدَوْسَ أَعْلَاهَا.
وَإِذَا كَانَ الْعَرْشُ فَوْقَ الْفِرْدَوْسِ، فَلِقَائِلِ أَنْ يَقُولَ: إذَا كَانَ كَذَلِكَ كَانَ فِي هَذَا مِنْ الْعُلُوِّ وَالِارْتِفَاعِ مَا لَا يُعْلَمُ بِالْهَيْئَةِ، إذْ لَا يُعْلَمُ بِالْحِسَابِ أَنَّ بَيْنَ التَّاسِعِ وَالْأَوَّلِ كَمَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ مِائَةَ مَرَّةٍ، وَعِنْدَهُمْ أَنْ التَّاسِعَ مُلَاصِقٌ لِلثَّامِنِ، فَهَذَا قَدْ بَيَّنَ أَنَّ الْعَرْشَ فَوْقَ
সহীহ মুসলিমে আবু সাঈদ আল-খুদরি থেকে বর্ণিত: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "হে আবু সাঈদ, যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি প্রতিপালক হিসেবে, ইসলামের প্রতি দ্বীন হিসেবে এবং মুহাম্মদের প্রতি নবী হিসেবে সন্তুষ্ট হয়েছে, তার জন্য জান্নাত অবধারিত হয়ে গেছে।" এতে আবু সাঈদ বিস্মিত হলেন এবং বললেন: হে আল্লাহর রাসুল, আমার কাছে কথাটি পুনরায় বলুন। তিনি তা করলেন। এরপর তিনি বললেন: "এবং আরও একটি বিষয় রয়েছে যার মাধ্যমে আল্লাহ বান্দাকে একশত স্তর উপরে উঠান, যার প্রতি দুই স্তরের মধ্যবর্তী দূরত্ব আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী দূরত্বের ন্যায়।" তিনি জিজ্ঞেস করলেন: সেটি কী, হে আল্লাহর রাসুল? তিনি বললেন: "আল্লাহর পথে জিহাদ।"
সহীহ বুখারিতে বর্ণিত: উম্মুর রাবি বিনতে বারা—যিনি হারিসাহ ইবনে সুরাকাহ-এর মা—নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে এসে বললেন: হে আল্লাহর নবী, আপনি কি আমাকে হারিসাহ সম্পর্কে বলবেন না? সে বদরের যুদ্ধে নিহত হয়েছিল, একটি অজ্ঞাত তীর তাকে আঘাত করেছিল। সে যদি জান্নাতে থাকে তবে আমি ধৈর্য ধারণ করব, আর যদি অন্য কিছু হয় তবে আমি তার জন্য রোনাজারি করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। তিনি বললেন: "হে হারিসার মা, জান্নাতের ভেতর অনেকগুলো জান্নাত রয়েছে এবং তোমার পুত্র জান্নাতুল ফিরদাউসুল আলা (সর্বোচ্চ ফিরদাউস) লাভ করেছে।" [তার উক্তি: 'সহমে গারব' অর্থ এমন তীর যার নিক্ষেপকারী অজ্ঞাত]।
এটি প্রথম হাদিসে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, আরশ হলো ফিরদাউসের উপরে, যা জান্নাতের মধ্যভাগ ও সর্বোচ্চ স্তর। আর জান্নাতে একশত স্তর রয়েছে, যার প্রতি দুই স্তরের মাঝে আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী দূরত্বের সমান দূরত্ব রয়েছে এবং ফিরদাউস হলো এর সর্বোচ্চ স্তর। দ্বিতীয় হাদিসটি একশত স্তরের বর্ণনার ক্ষেত্রে এর সাথে একমত পোষণ করে। তৃতীয় হাদিসটি ফিরদাউস সর্বোচ্চ হওয়ার বিষয়ে এর সাথে একমত পোষণ করে।
আর আরশ যখন ফিরদাউসের উপরে, তখন কোনো বক্তা বলতে পারেন: যদি বিষয়টি এমন হয়, তবে এতে এমন উচ্চতা ও ঊর্ধ্বমুখিতা রয়েছে যা জ্যোতির্বিজ্ঞান (হায়আহ) দ্বারা জানা যায় না। কেননা গাণিতিক হিসাবে এটি জানা যায় না যে, নবম আসমান এবং প্রথম আসমানের মাঝে আসমান ও জমিনের দূরত্বের একশত গুণ ব্যবধান রয়েছে; অথচ তাদের (জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের) মতে নবম আসমান অষ্টম আসমানের সাথে সংলগ্ন। সুতরাং এটি স্পষ্ট করেছে যে, আরশ উপরে...
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল আরশিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الْفِرْدَوْسِ، الَّذِي هُوَ أَوْسَطُ الْجَنَّةِ وَأَعْلَاهَا.
وَفِي حَدِيثِ أَبِي ذَرٍّ الْمَشْهُورِ قَالَ: قُلْت: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَيُّمَا أُنْزِلَ عَلَيْك أَعْظَمُ؟ قَالَ: " آيَةُ الْكُرْسِيِّ " ثُمَّ قَالَ: " يَا أَبَا ذَرٍّ، مَا السَّمَوَاتُ السَّبْعُ مَعَ الْكُرْسِيِّ إلَّا كَحَلْقَةِ مُلْقَاةٍ بِأَرْضِ فَلَاةٍ، وَفَضْلُ الْعَرْشِ عَلَى الْكُرْسِيِّ كَفَضْلِ الْفَلَاةِ عَلَى الْحَلْقَةِ "، وَالْحَدِيثُ لَهُ طُرُقٌ، وَقَدْ رَوَاهُ أَبُو حَاتِمٍ بْنُ حِبَّانَ فِي صَحِيحِهِ، وَأَحْمَد فِي الْمُسْنَدِ وَغَيْرُهُمَا.
وَقَدْ اسْتَدَلَّ مَنْ اسْتَدَلَّ عَلَى أَنَّ الْعَرْشَ مُقَبَّبٌ بِالْحَدِيثِ الَّذِي فِي سُنَنِ أَبِي دَاوُد وَغَيْرِهِ عَنْ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ قَالَ: أَتَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَعْرَابِيٌّ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، جهدت الْأَنْفُسُ، وَجَاعَ الْعِيَالُ، وَهَلَكَ الْمَالُ، فَادْعُ اللَّهَ لَنَا، فَإِنَّا نَسْتَشْفِعُ بِك عَلَى اللَّهِ، وَنَسْتَشْفِعُ بِاَللَّهِ عَلَيْك، فَسَبَّحَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى عُرِفَ ذَلِكَ فِي وُجُوهِ أَصْحَابِهِ، وَقَالَ: " وَيْحَك! أَتَدْرِي مَا تَقُولُ؟ إنَّ اللَّهَ لَا يُسْتَشْفَعُ بِهِ عَلَى أَحَدٍ مِنْ خَلْقِهِ، شَأْنُ اللَّهِ أَعْظَمُ مِنْ ذَلِكَ، إنَّ اللَّهَ عَلَى عَرْشِهِ، وَإِنَّ عَرْشَهُ عَلَى سَمَوَاتِهِ وَأَرْضِهِ هَكَذَا وَقَالَ بِأَصَابِعِهِ مِثْلَ الْقُبَّةِ " وَفِي لَفْظٍ: " وَإِنَّ عَرْشَهُ فَوْقَ سَمَوَاتِهِ، وَسَمَوَاتُهُ فَوْقَ أَرْضِهِ هَكَذَا وَقَالَ بِأَصَابِعِهِ مِثْلَ الْقُبَّةِ ".
وَهَذَا الْحَدِيثُ وَإِنْ دَلَّ عَلَى التَّقْبِيبِ، وَكَذَلِكَ قَوْلُهُ عَنْ الْفِرْدَوْسِ إنَّهَا أَوْسَطُ الْجَنَّةِ وَأَعْلَاهَا، مَعَ قَوْلِهِ: إنَّ سَقْفَهَا عَرْشُ الرَّحْمَنِ، وَإِنَّ فَوْقَهَا عَرْشَ الرَّحْمَنِ، وَالْأَوْسَطُ لَا يَكُونُ الْأَعْلَى إلَّا فِي الْمُسْتَدِيرِ، فَهَذَا لَا يَدُلُّ عَلَى أَنَّهُ فَلَكٌ مِنْ الْأَفْلَاكِ، بَلْ إذَا قُدِّرَ أَنَّهُ فَوْقَ الْأَفْلَاكِ كُلِّهَا أَمْكَنَ هَذَا فِيهِ سَوَاءٌ قَالَ الْقَائِلُ: إنَّهُ مُحِيطٌ بِالْأَفْلَاكِ، أَوْ قَالَ: إنَّهُ فَوْقَهَا وَلَيْسَ مُحِيطًا بِهَا، كَمَا أَنَّ وَجْهَ
ফিরদাউস, যা জান্নাতের মধ্যবর্তী এবং সর্বোচ্চ অংশ।
আবু যর (রা.)-এর প্রসিদ্ধ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল, আপনার প্রতি অবতীর্ণ আয়াতসমূহের মধ্যে কোনটি সর্বশ্রেষ্ঠ? তিনি বললেন: "আয়াতুল কুরসি।" অতঃপর তিনি বললেন: "হে আবু যর, কুরসির তুলনায় সাত আসমান তো একটি বিশাল মরুপ্রান্তরে পড়ে থাকা একটি আংটির মতো। আর কুরসির ওপর আরশের শ্রেষ্ঠত্ব তেমন, যেমন আংটির তুলনায় সেই বিশাল মরুপ্রান্তরের শ্রেষ্ঠত্ব।" এই হাদিসটির একাধিক সূত্র রয়েছে। আবু হাতিম ইবনে হিব্বান তাঁর সহিহ গ্রন্থে এবং আহমদ তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে ও অন্যান্যরা এটি বর্ণনা করেছেন।
আর যারা আরশ গম্বুজাকৃতির হওয়ার ব্যাপারে দলীল দিয়েছেন, তারা সুনানে আবু দাউদ ও অন্যান্য কিতাবে বর্ণিত জুবায়ের ইবনে মুতইম (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস দিয়ে দলীল পেশ করেছেন। তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে একজন বেদুইন এসে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! মানুষেরা কষ্টে আছে, পরিবার-পরিজন ক্ষুধার্ত এবং সম্পদ ধ্বংস হয়ে গেছে। সুতরাং আপনি আমাদের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করুন। কেননা আমরা আল্লাহর কাছে আপনার মাধ্যমে সুপারিশ কামনা করছি এবং আপনার কাছে আল্লাহর মাধ্যমে সুপারিশ কামনা করছি। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর তাসবিহ পাঠ করতে লাগলেন, এমনকি তাঁর সাহাবীগণের চেহারায় এর প্রভাব পরিলক্ষিত হলো। তিনি বললেন: "দুর্ভোগ তোমার জন্য! তুমি কি জানো তুমি কী বলছ? নিশ্চয় আল্লাহর মাধ্যমে তাঁর সৃষ্টির কারও কাছে সুপারিশ কামনা করা যায় না। আল্লাহর মর্যাদা এর চেয়েও অনেক মহান। নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর আরশের ওপর আছেন, আর তাঁর আরশ তাঁর আসমানসমূহ ও জমিনের ওপর এমনভাবে আছে।" তিনি তাঁর আঙুলসমূহ দিয়ে গম্বুজের মতো করে দেখালেন। অন্য শব্দে এসেছে: "আর নিশ্চয়ই তাঁর আরশ তাঁর আসমানসমূহের উপরে, এবং তাঁর আসমানসমূহ তাঁর জমিনের উপরে এমনভাবে।" তিনি তাঁর আঙুলসমূহ দিয়ে গম্বুজের মতো ইশারা করলেন।
এই হাদিসটি যদিও গম্বুজাকৃতির হওয়ার প্রমাণ বহন করে, এবং একইভাবে ফিরদাউস সম্পর্কে তাঁর এই বাণী যে—তা জান্নাতের মধ্যবর্তী এবং সর্বোচ্চ অংশ; সেই সঙ্গে তাঁর এই কথা যে: তার ছাদ হলো রহমানের আরশ এবং তার উপরে হলো রহমানের আরশ—আর গোলাকার বস্তু ছাড়া অন্য কিছুতে 'মধ্যবর্তী' অংশ 'সর্বোচ্চ' হয় না—তথাপি এটি আরশ কোনো একটি কক্ষপথ হওয়ার প্রমাণ বহন করে না। বরং যখন এটি ধরে নেওয়া হয় যে তা সকল কক্ষপথের উপরে, তখন এটি সম্ভব হয়। চাই কেউ বলুক যে এটি কক্ষপথগুলোকে পরিবেষ্টন করে আছে, অথবা কেউ বলুক যে এটি সেগুলোর উপরে কিন্তু পরিবেষ্টন করে নেই, যেমন...
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল আরশিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الْأَرْضِ فَوْقَ النِّصْفِ الْأَعْلَى مِنْ الْأَرْضِ، وَإِنْ لَمْ يَكُنْ مُحِيطًا بِذَلِكَ.
وَقَدْ قَالَ إيَاسُ بْنُ مُعَاوِيَةَ: السَّمَاءُ عَلَى الْأَرْضِ مِثْلُ الْقُبَّةِ، وَمَعْلُومٌ أَنَّ الْفَلَكَ مُسْتَدِيرٌ مِثْلُ ذَلِكَ، لَكِنَّ لَفْظَ الْقُبَّةِ يَسْتَلْزِمُ اسْتِدَارَةً مِنْ الْعُلُوِّ، وَلَا يَسْتَلْزِمُ اسْتِدَارَةً مِنْ جَمِيعِ الْجَوَانِبِ إلَّا بِدَلِيلِ مُنْفَصِلٍ.
وَلَفْظُ الْفَلَكِ يَدُلُّ عَلَى الِاسْتِدَارَةِ مُطْلَقًا، كَقَوْلِهِ تَعَالَى: {وَهُوَ الَّذِي خَلَقَ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ كُلٌّ فِي فَلَكٍ يَسْبَحُونَ} [الأنبياء: 33]، وقَوْله تَعَالَى: {لَا الشَّمْسُ يَنْبَغِي لَهَا أَنْ تُدْرِكَ الْقَمَرَ وَلَا اللَّيْلُ سَابِقُ النَّهَارِ وَكُلٌّ فِي فَلَكٍ يَسْبَحُونَ} [يس: 40]، يَقْتَضِي أَنَّهَا فِي فَلَكٍ مُسْتَدِيرٍ مُطْلَقًا، كَمَا قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما: فِي فَلْكَةٍ مِثْلُ فَلْكَةِ الْمِغْزَلِ.
وَأَمَّا لَفْظُ الْقُبَّةِ، فَإِنَّهُ لَا يَتَعَرَّضُ لِهَذَا الْمَعْنَى، لَا بِنَفْيٍ وَلَا إثْبَاتٍ، لَكِنْ يَدُلُّ عَلَى الِاسْتِدَارَةِ مِنْ الْعُلُوِّ، كَالْقُبَّةِ الْمَوْضُوعَةِ عَلَى الْأَرْضِ.
وَقَدْ قَالَ بَعْضُهُمْ: إنَّ الْأَفْلَاكَ غَيْرُ السَّمَوَاتِ، لَكِنْ رَدَّ عَلَيْهِ غَيْرُهُ هَذَا الْقَوْلَ، بِأَنَّ اللَّهَ تَعَالَى قَالَ: {أَلَمْ تَرَوْا كَيْفَ خَلَقَ اللَّهُ سَبْعَ سَمَاوَاتٍ طِبَاقًا وَجَعَلَ الْقَمَرَ فِيهِنَّ نُورًا وَجَعَلَ الشَّمْسَ سِرَاجًا} [نوح: 15، 16]، فَأَخْبَرَ أَنَّهُ جَعَلَ الْقَمَرَ فِيهِنَّ، وَقَدْ أَخْبَرَ أَنَّهُ فِي الْفَلَكِ، وَلَيْسَ هَذَا مَوْضِعَ بَسْطِ الْكَلَامِ فِي هَذَا.
وَتَحْقِيقُ الْأَمْرِ فِيهِ، وَبَيَانُ أَنَّ مَا عُلِمَ بِالْحِسَابِ عِلْمًا صَحِيحًا لَا يُنَافِي مَا جَاءَ بِهِ السَّمْعُ، وَأَنَّ الْعُلُومَ السَّمْعِيَّةَ الصَّحِيحَةَ لَا تُنَافِي مَعْقُولًا صَحِيحًا، إذْ قَدْ بَسَطْنَا الْكَلَامَ عَلَى هَذَا وَأَمْثَالِهِ فِي غَيْرِ هَذَا الْمَوْضِعِ، فَإِنَّ ذَلِكَ يُحْتَاجُ إلَيْهِ فِي هَذَا وَنَظَائِرِهِ مِمَّا قَدْ أُشْكِلَ عَلَى كَثِيرٍ مِنْ النَّاسِ، حَيْثُ يَرَوْنَ مَا يُقَالُ: إنَّهُ مَعْلُومٌ بِالْعَقْلِ، مُخَالِفًا لِمَا يُقَالُ: إنَّهُ مَعْلُومٌ بِالسَّمْعِ،
পৃথিবীর উপরের অর্ধাংশের ওপর, যদিও তা একে বেষ্টন করে না।
ইয়াস ইবনে মুয়াবিয়া বলেছেন: আকাশ পৃথিবীর ওপর একটি গম্বুজের মতো। আর এটি সুবিদিত যে, কক্ষপথও অনুরূপ গোলাকার। তবে ‘গম্বুজ’ শব্দটি ঊর্ধ্বদেশ থেকে গোলাকার হওয়াকে আবশ্যক করে, কিন্তু কোনো স্বতন্ত্র প্রমাণ ছাড়া সব দিক থেকে গোলাকার হওয়াকে আবশ্যক করে না।
আর ‘কক্ষপথ’ শব্দটি নিরঙ্কুশভাবে গোলাকার হওয়াকে বোঝায়, যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: “তিনিই সৃষ্টি করেছেন রাত ও দিন এবং সূর্য ও চাঁদ; প্রত্যেকেই নিজ নিজ কক্ষপথে বিচরণ করছে।” [আল-আম্বিয়া: ৩৩], এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: “সূর্যের পক্ষে সম্ভব নয় চাঁদের নাগাল পাওয়া, আর রাতের পক্ষে সম্ভব নয় দিনকে ছাড়িয়ে যাওয়া; প্রত্যেকেই নিজ নিজ কক্ষপথে বিচরণ করছে।” [ইয়াসিন: ৪০]। এটি দাবি করে যে, তারা নিরঙ্কুশভাবে একটি গোলাকার কক্ষপথে রয়েছে, যেমনটি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন: “তাকু বা চরকার চাক্তির মতো গোলাকার কক্ষপথে।”
পক্ষান্তরে ‘গম্বুজ’ শব্দটি এই অর্থকে গ্রহণ করে না—না নেতিবাচকভাবে, না ইতিবাচকভাবে; বরং এটি কেবল উপর থেকে গোলাকার হওয়াকে বোঝায়, যেমন পৃথিবীর ওপর স্থাপিত গম্বুজ।
কেউ কেউ বলেছেন: কক্ষপথসমূহ আসমানসমূহ থেকে ভিন্ন। কিন্তু অন্যান্যেরা এই বক্তব্যকে খণ্ডন করেছেন এই বলে যে, আল্লাহ তাআলা বলেছেন: “তোমরা কি লক্ষ্য করোনি আল্লাহ কীভাবে সপ্ত আসমান স্তরে স্তরে সৃষ্টি করেছেন? এবং সেখানে চাঁদকে রেখেছেন আলো হিসেবে এবং সূর্যকে রেখেছেন প্রদীপ হিসেবে।” [নূহ: ১৫-১৬]। এখানে তিনি খবর দিয়েছেন যে, তিনি চাঁদকে আসমানসমূহের মধ্যে রেখেছেন, অথচ অন্যত্র খবর দিয়েছেন যে এটি কক্ষপথে রয়েছে। এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার স্থান এটি নয়।
এই বিষয়ের প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং এই বর্ণনা যে, হিসাব-নিকাশের মাধ্যমে যা সঠিকভাবে জানা যায় তা শ্রুতিনির্ভর দলিলের পরিপন্থী নয়; আর সঠিক শ্রুতিনির্ভর জ্ঞান সুস্থ বিবেকের পরিপন্থী নয়। কারণ আমরা এই বিষয়ে এবং এর সমজাতীয় বিষয়ে অন্য স্থানে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। এটি এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো সম্পর্কে জানা প্রয়োজন, যা অনেক মানুষের কাছে অস্পষ্ট রয়ে গেছে; কারণ তারা যাকে ‘বিবেক দ্বারা প্রমাণিত’ মনে করে, তাকে ‘শ্রুতি বা ওহী দ্বারা প্রমাণিত’ বিষয়ের বিরোধী বলে মনে করে,
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল আরশিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
فَأَوْجَبَ ذَلِكَ أَنْ كَذَّبَتْ كُلُّ طَائِفَةٍ بِمَا لَمْ تُحِطْ بِعِلْمِهِ، حَتَّى آلَ الْأَمْرُ بِقَوْمِ مِنْ أَهْلِ الْكَلَامِ إلَى أَنْ تَكَلَّمُوا فِي مُعَارَضَةِ الْفَلَاسِفَةِ فِي [الْأَفْلَاكِ] بِكَلَامِ لَيْسَ مَعَهُمْ بِهِ حُجَّةٌ، لَا مِنْ شَرْعٍ وَلَا مِنْ عَقْلٍ، وَظَنُّوا أَنَّ ذَلِكَ الْكَلَامَ مِنْ نَصْرِ الشَّرِيعَةِ، وَكَانَ مَا جَحَدُوهُ مَعْلُومًا بِالْأَدِلَّةِ الشَّرْعِيَّةِ أَيْضًا.
وَأَمَّا الْمُتَفَلْسِفَةُ وَأَتْبَاعُهُمْ، فَغَايَتُهُمْ أَنْ يَسْتَدِلُّوا بِمَا شَاهَدُوهُ مِنْ الْحِسِّيَّاتِ، وَلَا يَعْلَمُونَ مَا وَرَاءَ ذَلِكَ، مِثْلُ أَنْ يَعْلَمُوا أَنَّ الْبُخَارَ الْمُتَصَاعِدَ يَنْعَقِدُ سَحَابًا، وَأَنَّ السَّحَابَ إذَا اصْطَكَّ حَدَثَ عَنْهُ صَوْتٌ، وَنَحْوُ ذَلِكَ، لَكِنْ عِلْمُهُمْ بِهَذَا كَعِلْمِهِمْ بِأَنَّ الْمَنِيَّ يَصِيرُ فِي الرَّحِمِ، لَكِنْ مَا الْمُوجِبُ لِأَنْ يَكُونَ الْمَنِيُّ الْمُتَشَابِهُ الْأَجْزَاءِ تُخْلَقُ مِنْهُ هَذِهِ الْأَعْضَاءُ الْمُخْتَلِفَةُ، وَالْمَنَافِعُ الْمُخْتَلِفَةُ، عَلَى هَذَا التَّرْتِيبِ الْمُحْكَمِ الْمُتْقَنِ الَّذِي فِيهِ مِنْ الْحِكْمَةِ وَالرَّحْمَةِ مَا بَهَرَ الْأَلْبَابَ.
وَكَذَلِكَ مَا الْمُوجِبُ لِأَنْ يَكُونَ هَذَا الْهَوَاءُ، أَوْ الْبُخَارُ مُنْعَقِدًا سَحَابًا مُقَدَّرًا بِقَدْرِ مَخْصُوصٍ فِي وَقْتٍ مَخْصُوصٍ عَلَى مَكَانٍ مُخْتَصٍّ بِهِ؟ وَيَنْزِلُ عَلَى قَوْمٍ عِنْدَ حَاجَتِهِمْ إلَيْهِ فَيَسْقِيهِمْ بِقَدْرِ الْحَاجَةِ لَا يَزِيدُ فَيَهْلَكُوا وَلَا يَنْقُصُ فَيَعُوزُوا؟ وَمَا الْمُوجِبُ لِأَنْ يُسَاقَ إلَى الْأَرْضِ الْجُرُزِ الَّتِي لَا تُمْطِرُ، أَوْ تُمْطِرُ مَطَرًا لَا يُغْنِيهَا كَأَرْضِ مِصْرَ إذْ كَانَ الْمَطَرُ الْقَلِيلُ لَا يَكْفِيهَا، وَالْكَثِيرُ يَهْدِمُ أَبْنِيَتَهَا قَالَ تَعَالَى: {أَوَلَمْ يَرَوْا أَنَّا نَسُوقُ الْمَاءَ إلَى الْأَرْضِ الْجُرُزِ فَنُخْرِجُ بِهِ زَرْعًا تَأْكُلُ مِنْهُ أَنْعَامُهُمْ وَأَنْفُسُهُمْ أَفَلَا يُبْصِرُونَ} [السجدة: 27].
وَكَذَلِكَ السَّحَابُ الْمُتَحَرِّكُ، وَقَدْ عُلِمَ أَنَّ كُلَّ حَرَكَةٍ فَإِمَّا أَنْ تَكُونَ قَسْرِيَّةً وَهِيَ تَابِعَةٌ لِلْقَاسِرِ، أَوْ طَبِيعِيَّةً. وَإِنَّمَا تَكُونُ إذَا خَرَجَ الْمَطْبُوعُ عَنْ مَرْكَزِهِ فَيُطْلَبُ عَوْدُهُ إلَيْهِ، أَوْ إرَادِيَّةً، وَهِيَ الْأَصْلُ، فَجَمِيعُ الْحَرَكَاتِ تَابِعَةٌ لِلْحَرَكَةِ الْإِرَادِيَّةِ الَّتِي تَصْدُرُ عَنْ
এর ফলে প্রতিটি দলই এমন সব বিষয়কে অস্বীকার করতে শুরু করল যার জ্ঞান তারা আয়ত্ত করতে পারেনি। এমনকি পরিস্থিতি ইলমুল কালামের একদল লোককে এই অবস্থায় নিয়ে গেল যে, তারা আকাশমণ্ডল সংক্রান্ত বিষয়ে দার্শনিকদের বিরোধিতায় এমন সব কথা বলল যার সপক্ষে তাদের কাছে শরয়ি কিংবা যৌক্তিক কোনো প্রমাণ ছিল না। তারা ধারণা করেছিল যে, সেসব কথা শরয়তকে রক্ষা করার নামান্তর; অথচ তারা যা অস্বীকার করেছিল তা শরয়ি দলিলের মাধ্যমেই সাব্যস্ত ছিল।
আর দার্শনিক ও তাদের অনুসারীদের দৌড় হলো—তারা বাহ্যিক ইন্দ্রিয় দ্বারা যা প্রত্যক্ষ করে তা দিয়ে দলিল পেশ করে, কিন্তু এর অন্তরালে কী রয়েছে তা তারা জানে না। যেমন তারা জানে যে, উর্ধ্বমুখী বাষ্প জমাট বেঁধে মেঘে পরিণত হয়, আর যখন মেঘে মেঘে ঘর্ষণ হয় তখন তা থেকে শব্দ উৎপন্ন হয়—ইত্যাদি। কিন্তু এসব বিষয়ে তাদের জ্ঞান ঠিক তেমনই যেমন তারা জানে যে বীর্য জরায়ুতে স্থানান্তরিত হয়। কিন্তু কী কারণে প্রায় সমজাতীয় বীর্য কণা থেকে এই বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ এবং বিচিত্র সব উপকারিতা সৃষ্টি হয়—তাও আবার এমন সুনিপুণ ও মজবুত বিন্যাসে যাতে এমন হিকমত ও রহমত নিহিত রয়েছে যা মানব মস্তিস্ককে হতবাক করে দেয়?
অনুরূপভাবে, কী কারণে এই বাতাস বা বাষ্প নির্দিষ্ট সময়ে, নির্দিষ্ট স্থানে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণে মেঘে পরিণত হয়? এবং তা এক জনগোষ্ঠীর প্রয়োজনে তাদের ওপর বর্ষিত হয় এবং তাদের প্রয়োজন অনুপাতে পানি সরবরাহ করে, যা সীমা ছাড়িয়ে যায় না যাতে তারা ধ্বংস না হয়, আবার খুব কমও হয় না যাতে তারা সংকটে পড়ে? আর কী কারণে একে এমন শুষ্ক ভূমিতে চালিত করা হয় যেখানে বৃষ্টি হয় না, অথবা এমন বৃষ্টি হয় যা তার জন্য যথেষ্ট নয়, যেমন মিশরের ভূমি—যেখানে অল্প বৃষ্টি যথেষ্ট নয় আর অতিরিক্ত বৃষ্টি ঘরবাড়ি ধ্বংস করে দেয়? আল্লাহ তাআলা বলেন: "তারা কি লক্ষ্য করে না যে, আমি শুষ্ক ভূমিতে পানি প্রবাহিত করি, অতঃপর তার সাহায্যে এমন ফসল উৎপন্ন করি যা থেকে তাদের গবাদিপশু এবং তারা নিজেরা আহার করে? তারা কি তবুও দেখে না?" [আস-সাজদাহ: ২৭]।
অনুরূপভাবে সঞ্চরণশীল মেঘমালা; এটা জানা কথা যে, প্রত্যেক গতি হয় বাধ্যতামূলক—যা বলপ্রয়োগকারীর অনুগামী হয়, অথবা প্রকৃতিগত—যা তখনই ঘটে যখন কোনো বস্তু তার মূল কেন্দ্র থেকে বিচ্যুত হয় এবং পুনরায় সেখানে ফিরে যেতে চায়, অথবা ইচ্ছাধীন—যা মূলত মূল ভিত্তি। সুতরাং সকল প্রকার গতি মূলত সেই ইচ্ছাধীন গতির অনুগামী যা উৎসারিত হয়...
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল আরশিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
مَلَائِكَةِ اللَّهِ تَعَالَى، الَّتِي هِيَ {فالْمُدَبِّرَاتُ أَمْرًا} [النازعات: 5]، و {فَالْمُقَسِّمَاتِ أَمْرًا} [الذاريات: 4]، وَغَيْرُ ذَلِكَ مِمَّا أَخْبَرَ اللَّهُ بِهِ عَنْ الْمَلَائِكَةِ، وَفِي الْمَعْقُولِ مَا يُصَدِّقُ ذَلِكَ.
فَالْكَلَامُ فِي هَذَا وَأَمْثَالِهِ لَهُ مَوْضِعٌ غَيْرُ هَذَا.
وَالْمَقْصُودُ هُنَا أَنْ نُبَيِّنَ أَنَّ مَا ذَكَرَ فِي السُّؤَالِ زَائِلٌ عَلَى كُلِّ تَقْدِيرٍ، فَيَكُونُ الْكَلَامُ فِي الْجَوَابِ مَبْنِيًّا عَلَى حُجَجٍ عِلْمِيَّةٍ لَا تَقْلِيدِيَّةٍ، وَلَا مُسَلَّمَةٍ، وَإِذَا بَيَّنَّا حُصُولَ الْجَوَابِ عَلَى كُلِّ تَقْدِيرٍ كَمَا سَنُوَضِّحُهُ لَمْ يُضِرْنَا بَعْدَ ذَلِكَ أَنْ يَكُونَ بَعْضُ التَّقْدِيرَاتِ هُوَ الْوَاقِعُ وَإِنْ كُنَّا نَعْلَمُ ذَلِكَ لَكِنَّ تَحْرِيرَ الْجَوَابِ عَلَى تَقْدِيرٍ دُونَ تَقْدِيرٍ، وَإِثْبَاتُ ذَلِكَ فِيهِ طُولٌ لَا يُحْتَاجُ إلَيْهِ هُنَا؛ فَإِنَّ الْجَوَابَ إذَا كَانَ حَاصِلًا عَلَى كُلِّ تَقْدِيرٍ كَانَ أَحْسَنَ وَأَوْجَزَ.
الْمَقَامُ الثَّانِي:أَنْ يُقَالَ: الْعَرْشُ سَوَاءٌ كَانَ هُوَ الْفَلَكُ التَّاسِعُ، أَوْ جِسْمًا مُحِيطًا بِالْفَلَكِ التَّاسِعِ، أَوْ كَانَ فَوْقَهُ مِنْ جِهَةِ وَجْهِ الْأَرْضِ غَيْرِ مُحِيطٍ بِهِ، أَوْ قِيلَ فِيهِ غَيْرُ ذَلِكَ، فَيَجِبُ أَنْ يُعْلَمَ أَنَّ الْعَالَمَ الْعُلْوِيَّ وَالسُّفْلِيَّ بِالنِّسْبَةِ إلَى الْخَالِقِ تَعَالَى فِي غَايَةِ الصِّغَرِ، كَمَا قَالَ تَعَالَى: {وَمَا قَدَرُوا اللَّهَ حَقَّ قَدْرِهِ وَالْأَرْضُ جَمِيعًا قَبْضَتُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَالسَّماوَاتُ مَطْوِيَّاتٌ بِيَمِينِهِ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى عَمَّا يُشْرِكُونَ} [الزمر: 67].
وَفِي الصَّحِيحَيْنِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ: " يَقْبِضُ اللَّهُ تبارك وتعالى الْأَرْضَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَيَطْوِي السَّمَاءَ بِيَمِينِهِ، ثُمَّ يَقُولُ: أَنَا الْمَلِكُ أَيْنَ مُلُوكُ الْأَرْضِ؟ ".
মহান আল্লাহ তায়ালার ফেরেশতাগণ, যারা হলেন {যারা কর্ম পরিচালনা করে} [আন-নাযিয়াত: ৫], এবং {যারা আদেশ বণ্টন করে} [আয-যারিয়াত: ৪], এবং এছাড়া ফেরেশতাগণ সম্পর্কে আল্লাহ যা সংবাদ দিয়েছেন; আর বিচারবুদ্ধিতেও এমন কিছু রয়েছে যা এর সত্যতা প্রমাণ করে।
এ বিষয়ে এবং এই জাতীয় অন্যান্য প্রসঙ্গে আলোচনার স্থান এটি নয়।
এখানে উদ্দেশ্য হলো এটি স্পষ্ট করা যে, প্রশ্নে যা উল্লেখ করা হয়েছে তা সকল অবস্থাতেই অসার বলে প্রমাণিত হবে। সুতরাং উত্তরের আলোচনাটি হবে জ্ঞানতাত্ত্বিক প্রমাণের ভিত্তিতে, কোনো অন্ধ অনুকরণ বা কেবল মেনে নেওয়া বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে নয়। আর যখন আমরা প্রতিটি দিক থেকেই উত্তরের যথার্থতা স্পষ্ট করব—যেমনটি আমরা সামনে ব্যাখ্যা করব—তখন কোনো একটি বিশেষ দিক বাস্তবে সঠিক কি না, তা আমাদের জন্য কোনো ক্ষতি বয়ে আনবে না, যদিও আমরা সেটি জানি। তবে প্রতিটি দিক পৃথকভাবে বিশ্লেষণ করা এবং তা প্রমাণ করা অনেক দীর্ঘ হবে যা এখানে প্রয়োজন নেই; কারণ উত্তরটি যদি সকল দিক থেকেই সম্পন্ন হয়, তবে তা অধিক উত্তম ও সংক্ষিপ্ত হবে।
দ্বিতীয় পর্যায়:বলা যেতে পারে যে: আরশ চাই সেটি নবম আসমান হোক, অথবা নবম আসমানকে পরিবেষ্টনকারী কোনো শরীর (বস্তু) হোক, অথবা সেটি যমীনের দিক থেকে তার উপরে অবস্থানকারী কোনো কিছু হোক যা তাকে পরিবেষ্টন করে নেই, কিংবা এ বিষয়ে অন্য যা-ই বলা হোক না কেন—অবশ্যই এটি জেনে রাখা প্রয়োজন যে, মহান স্রষ্টার তুলনায় ঊর্ধ্বজগত ও নিম্নজগত অত্যন্ত ক্ষুদ্র। যেমন মহান আল্লাহ বলেন: {তারা আল্লাহকে যথাযথ মর্যাদা দেয়নি। কিয়ামতের দিন সমগ্র পৃথিবী থাকবে তাঁর হাতের মুঠোয় এবং আসমানসমূহ তাঁর ডান হাতে ভাঁজ করা অবস্থায় থাকবে। তিনি পবিত্র এবং তারা যা শরিক করে তা থেকে তিনি অনেক ঊর্ধ্বে} [আয-যুমার: ৬৭]।
সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ যমীনকে মুষ্টিবদ্ধ করবেন এবং আসমানকে তাঁর ডান হাত দিয়ে গুটিয়ে নেবেন, এরপর বলবেন: আমিই বাদশাহ, যমীনের রাজাধিরাজরা আজ কোথায়?"।
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল আরশিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وَفِي الصَّحِيحَيْنِ وَاللَّفْظُ لِمُسْلِمِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " يَقْبِضُ اللَّهُ تبارك وتعالى الْأَرْضَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَيَطْوِي السَّمَاءَ بِيَمِينِهِ ثُمَّ يَقُولُ: أَنَا الْمَلِكُ أَيْنَ مُلُوكُ الْأَرْضِ؟ "
وَفِي الصَّحِيحَيْنِ وَاللَّفْظُ لِمُسْلِمِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " يَطْوِي اللَّهُ السَّمَوَاتِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، ثُمَّ يَأْخُذُهُنَّ بِيَدِهِ الْيُمْنَى، ثُمَّ يَقُولُ: أَنَا الْمَلِكُ، أَيْنَ الْجَبَّارُونَ؟ أَيْنَ الْمُتَكَبِّرُونَ؟ ثُمَّ يَطْوِي الْأَرْضِينَ بِشِمَالِهِ، ثُمَّ يَقُولُ: أَنَا الْمَلِكُ، أَيْنَ الْجَبَّارُونَ، أَيْنَ الْمُتَكَبِّرُونَ؟ ".
وَفِي لَفْظٍ فِي الصَّحِيحِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مقسم: أَنَّهُ نَظَرَ إلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ كَيْفَ يَحْكِي أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " يَأْخُذُ اللَّهُ سَمَوَاتِهِ وَأَرْضَهُ بِيَدِهِ، وَيَقُولُ: أَنَا الْمَلِكُ وَيَقْبِضُ أَصَابِعَهُ وَيَبْسُطُهَا: أَنَا الْمَلِكُ "، حَتَّى نَظَرْت إلَى الْمِنْبَرِ يَتَحَرَّك مِنْ أَسْفَلِ شَيْءٍ مِنْهُ، حَتَّى إنِّي أَقُولُ: أَسَاقِطٌ هُوَ بِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم؟!.
وَفِي لَفْظٍ قَالَ: رَأَيْت رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى الْمِنْبَرِ وَهُوَ يَقُولُ: " يَأْخُذُ الْجَبَّارُ سَمَوَاتِهِ وَأَرْضَهُ، وَقَبَضَ بِيَدِهِ وَجَعَلَ يَقْبِضُهَا وَيَبْسُطُهَا وَيَقُولُ: أَنَا الرَّحْمَنُ، أَنَا الْمَلِكُ، أَنَا الْقُدُّوسُ، أَنَا السَّلَامُ، أَنَا الْمُؤْمِنُ، أَنَا الْمُهَيْمِنُ، أَنَا الْعَزِيزُ، أَنَا الْجَبَّارُ، أَنَا الْمُتَكَبِّرُ، أَنَا الَّذِي بَدَأْت الدُّنْيَا وَلَمْ تَكُنْ شَيْئًا، أَنَا الَّذِي أَعَدْتهَا، أَيْنَ الْمُتَكَبِّرُونَ؟ أَيْنَ الْجَبَّارُونَ؟ " وَفِي لَفْظٍ: " أَيْنَ الْجَبَّارُونَ؟ أَيْنَ الْمُتَكَبِّرُونَ؟ " وَيَمِيلُ رَسُولُ اللَّهِ صلّى الله عليه
সহীহাইন-এ (বুখারি ও মুসলিম) বর্ণিত হয়েছে এবং শব্দাবলি মুসলিমের, আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা কিয়ামতের দিন জমিনকে মুষ্টিবদ্ধ করবেন এবং আকাশকে তাঁর ডান হাত দিয়ে গুটিয়ে নেবেন, এরপর বলবেন: আমিই রাজা, পৃথিবীর রাজারা কোথায়?"
এবং সহীহাইন-এ বর্ণিত হয়েছে এবং শব্দাবলি মুসলিমের, আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহ কিয়ামতের দিন আকাশমন্ডলীকে গুটিয়ে নেবেন, এরপর সেগুলোকে তাঁর ডান হাত দিয়ে ধরবেন, তারপর বলবেন: আমিই রাজা, স্বৈরাচারীরা কোথায়? অহংকারীরা কোথায়? এরপর তিনি জমিনসমূহকে তাঁর বাম হাত দিয়ে গুটিয়ে নেবেন, তারপর বলবেন: আমিই রাজা, স্বৈরাচারীরা কোথায়? অহংকারীরা কোথায়?"
সহীহ-এর অন্য একটি বর্ণনায় আবদুল্লাহ ইবনে মিকসাম থেকে বর্ণিত: তিনি আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর দিকে তাকিয়ে দেখেন তিনি কীভাবে বর্ণনা করছিলেন যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহ তাঁর আকাশমন্ডলী ও জমিনকে তাঁর হাত দিয়ে ধরবেন এবং বলবেন: আমিই রাজা, এবং তিনি তাঁর আঙ্গুলগুলো মুষ্টিবদ্ধ করবেন ও প্রসারিত করবেন (এবং বলবেন): আমিই রাজা", এমনকি আমি মিম্বরের দিকে তাকালাম যা এর নিচের দিক থেকে কাঁপছিল, এমনকি আমি মনে মনে বলছিলাম: এটি কি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নিয়ে পড়ে যাবে?!
অন্য একটি বর্ণনায় এসেছে, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে মিম্বরের ওপর দাঁড়িয়ে বলতে দেখেছি: "পরাক্রমশালী (আল-জাব্বার) তাঁর আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীকে গ্রহণ করবেন, এবং তিনি তাঁর হাত মুষ্টিবদ্ধ করলেন এবং তা মুষ্টিবদ্ধ ও প্রসারিত করতে থাকলেন এবং বলতে লাগলেন: আমি পরম করুণাময়, আমিই রাজা, আমি অতি পবিত্র, আমি শান্তিদাতা, আমি নিরাপত্তা দানকারী, আমিই রক্ষক, আমিই মহা সম্মানিত, আমিই পরাক্রমশালী, আমিই অহংকারী, আমিই সেই সত্তা যিনি দুনিয়া শুরু করেছিলেন যখন তা কিছুই ছিল না, আমিই তা পুনরায় সৃষ্টি করব, অহংকারীরা কোথায়? স্বৈরাচারীরা কোথায়?" অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: "স্বৈরাচারীরা কোথায়? অহংকারীরা কোথায়?" এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হেলে পড়ছিলেন (ঝুঁকছিলেন)।
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল আরশিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وسلم عَلَى يَمِينِهِ، وَعَلَى شَمَالِهِ، حَتَّى نَظَرْت إلَى الْمِنْبَرِ يَتَحَرَّك مِنْ أَسْفَلِ شَيْءٍ مِنْهُ، حَتَّى إنِّي لَأَقُولُ: أَسَاقِطٌ هُوَ بِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم؟.
وَالْحَدِيثُ مَرْوِيٌّ فِي الصَّحِيحِ وَالْمَسَانِيدِ وَغَيْرِهَا بِأَلْفَاظِ يَصْدُقُ بَعْضُهَا بَعْضًا، وَفِي بَعْضِ أَلْفَاظِهِ قَالَ: قَرَأَ عَلَى الْمِنْبَرِ: {وَالْأَرْضُ جَمِيعًا قَبْضَتُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ} الآية [الزمر: 67]. قَالَ: " مَطْوِيَّةٌ فِي كَفِّهِ يَرْمِي بِهَا كَمَا يَرْمِي الْغُلَامُ بِالْكُرَةِ " وَفِي لَفْظٍ: " يَأْخُذُ الْجَبَّارُ سَمَوَاتِهِ وَأَرْضَهُ بِيَدِهِ فَيَجْعَلُهَا فِي كَفِّهِ، ثُمَّ يَقُولُ بِهِمَا هَكَذَا كَمَا تَقُولُ الصِّبْيَانُ بِالْكُرَةِ: أَنَا اللَّهُ الْوَاحِدُ! ".
وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: يَقْبِضُ اللَّهُ عَلَيْهِمَا فَمَا تَرَى طَرَفَاهُمَا بِيَدِهِ، وَفِي لَفْظٍ عَنْهُ: " مَا السَّمَوَاتُ السَّبْعُ وَالْأَرْضُونَ السَّبْعُ وَمَا فِيهِنَّ وَمَا بَيْنَهُنَّ فِي يَدِ الرَّحْمَنِ، إلَّا كَخَرْدَلَةِ فِي يَدِ أَحَدِكُمْ "، وَهَذِهِ الْآثَارُ مَعْرُوفَةٌ فِي كُتُبِ الْحَدِيثِ.
وَفِي الصَّحِيحَيْنِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم رَجُلٌ مِنْ الْيَهُودِ فَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ، إنَّ اللَّهَ يَجْعَلُ السَّمَوَاتِ عَلَى إصْبَعٍ، وَالْأَرْضِينَ عَلَى إصْبَعٍ، وَالْجِبَالَ عَلَى إصْبَعٍ، وَالْمَاءَ وَالثَّرَى عَلَى إصْبَعٍ، وَسَائِرَ الْخَلْقِ عَلَى إصْبَعٍ، فَيَهُزُّهُنَّ، فَيَقُولُ: أَنَا الْمَلِكُ، أَنَا الْمَلِكُ، قَالَ: فَضَحِكَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم حَتَّى بَدَتْ نَوَاجِذُهُ تَصْدِيقًا لِقَوْلِ الْحَبْرِ، ثُمَّ قَرَأَ: " {وَمَا قَدَرُوا اللَّهَ حَقَّ قَدْرِهِ وَالْأَرْضُ جَمِيعًا قَبْضَتُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَالسَّماوَاتُ مَطْوِيَّاتٌ بِيَمِينِهِ} " الآية [الزمر: 67].
فَفِي هَذِهِ الْآيَةِ وَالْأَحَادِيثِ الصَّحِيحَةِ الْمُفَسِّرَةِ لَهَا الْمُسْتَفِيضَةِ الَّتِي اتَّفَقَ أَهْلُ الْعِلْمِ عَلَى صِحَّتِهَا وَتَلَقِّيهَا بِالْقَبُولِ مَا يُبَيِّنُ أَنَّ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا بِالنِّسْبَةِ إلَى عَظَمَةِ اللَّهِ تَعَالَى، أَصْغَرُ مِنْ أَنْ تَكُونَ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ডান দিকে এবং তাঁর বাম দিকে [ঝুঁকলেন], এমনকি আমি মিম্বারের সর্বনিম্ন অংশ থেকে তা নড়াচড়া করতে দেখলাম, এমনকি আমি মনে মনে বলছিলাম: এটি কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নিয়ে পড়ে যাবে?
হাদিসটি সহীহ, মুসনাদ এবং অন্যান্য গ্রন্থে এমন সব শব্দে বর্ণিত হয়েছে যার একটি অংশ অন্যটিকে সত্যায়ন করে। এর কিছু বর্ণনায় এসেছে, তিনি মিম্বারে পাঠ করলেন: {কেয়ামতের দিন সমস্ত পৃথিবী থাকবে তাঁর হাতের মুঠোয়} আয়াত [যুমার: ৬৭]। তিনি বললেন: "এটি তাঁর হাতের তালুতে গুটিয়ে রাখা হবে যেমন কোনো বালক বল নিক্ষেপ করে।" অন্য বর্ণনায় আছে: "জব্বার (আল্লাহ) তাঁর আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীকে তাঁর হাত দিয়ে ধরবেন এবং সেগুলোকে তাঁর হাতের তালুতে রাখবেন, তারপর সেগুলোকে নিয়ে এভাবে বলবেন যেমন শিশুরা বল নিয়ে বলে: আমিই আল্লাহ, এক ও অদ্বিতীয়!"
ইবনে আব্বাস বলেন: আল্লাহ সেগুলোকে হাতের মুঠোয় নেবেন, ফলে তুমি তাঁর হাতের মধ্যে সেগুলোর কোনো কিনারা দেখতে পাবে না। তাঁর থেকে অন্য বর্ণনায় আছে: "সাত আসমান ও সাত জমিন এবং এতে যা আছে ও এগুলোর মাঝখানে যা আছে, তা রহমানের হাতের মধ্যে তোমাদের কারো হাতের একটি সরিষার দানার মতো।" এই বর্ণনাগুলো হাদিসের কিতাবসমূহে সুপরিচিত।
সহীহাইনে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ইহুদিদের এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বলল: হে মুহাম্মদ, নিশ্চয়ই আল্লাহ আসমানসমূহকে একটি আঙুলের ওপর, জমিনসমূহকে একটি আঙুলের ওপর, পাহাড়সমূহকে একটি আঙুলের ওপর, পানি ও মাটিকে একটি আঙুলের ওপর এবং বাকি সকল সৃষ্টিকে একটি আঙুলের ওপর রাখবেন। তারপর তিনি সেগুলোকে প্রকম্পিত করবেন এবং বলবেন: আমিই রাজা, আমিই রাজা। বর্ণনাকারী বলেন: তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই আলেমের কথার সত্যতা স্বীকার করে এমনভাবে হাসলেন যে তাঁর মাড়ির দাঁত দেখা গেল। তারপর তিনি পাঠ করলেন: "{তারা আল্লাহকে তাঁর যথাযোগ্য মর্যাদা দেয়নি। কেয়ামতের দিন সমস্ত পৃথিবী থাকবে তাঁর হাতের মুঠোয় এবং আসমানসমূহ ভাঁজ করা থাকবে তাঁর ডান হাতে}" আয়াত [যুমার: ৬৭]।
সুতরাং এই আয়াত এবং এর ব্যাখ্যায় বর্ণিত সুপ্রসিদ্ধ সহীহ হাদিসসমূহ—যেগুলোর বিশুদ্ধতার ওপর আলেম সমাজ একমত হয়েছেন এবং তা গ্রহণের ব্যাপারে একমত হয়েছেন—তা স্পষ্ট করে যে, আসমানসমূহ, জমিন এবং এগুলোর মাঝখানে যা কিছু আছে তা আল্লাহর মহত্ত্বের তুলনায় এতটাই ছোট যে...
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল আরশিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
مَعَ قَبْضِهِ لَهَا إلَّا كَالشَّيْءِ الصَّغِيرِ فِي يَدِ أَحَدِنَا، حَتَّى يَدْحُوَهَا كَمَا تُدْحَى الْكُرَةُ.
قَالَ عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي سَلَمَةَ الماجشون الْإِمَامُ نَظِيرُ مَالِكٍ فِي كَلَامِهِ الْمَشْهُورِ الَّذِي رَدَّ فِيهِ عَلَى الْجَهْمِيَّة وَمَنْ خَالَفَهَا وَمَنْ أَوَّلَ كَلَامَهُ قَالَ: فَأَمَّا الَّذِي جَحَدَ مَا وَصَفَ الرَّبُّ مِنْ نَفْسِهِ تَعَمُّقًا وَتَكَلُّفًا، فَقَدْ اسْتَهْوَتْهُ الشَّيَاطِينُ فِي الْأَرْضِ حَيْرَانَ، فَصَارَ يَسْتَدِلُّ بِزَعْمِهِ عَلَى جَحْدِ مَا وَصَفَ الرَّبُّ وَسَمَّى مِنْ نَفْسِهِ، بأن قال: لابد إنْ كَانَ لَهُ كَذَا مِنْ أَنْ يَكُونَ لَهُ كَذَا، فَعَمِيَ عَنْ الْبَيِّنِ بِالْخَفِيِّ، فَجَحَدَ مَا سَمَّى الرَّبُّ مِنْ نَفْسِهِ، بِصَمْتِ الرَّبِّ عَمَّا لَمَّ يُسَمَّ مِنْهَا، فَلَمْ يَزَلْ يُمْلِي لَهُ الشَّيْطَانُ حَتَّى جَحَدَ قَوْلَ اللَّهِ تَعَالَى: {وُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ نَاضِرَةٌ إلَى رَبِّهَا نَاظِرَةٌ} [القيامة: 22، 23]، فَقَالَ: لَا يَرَاهُ أَحَدٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، فَجَحَدَ وَاَللَّهِ أَفْضَلَ كَرَامَةِ اللَّهِ الَّتِي أَكْرَمَ بِهَا أَوْلِيَاءَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، مِنْ النَّظَرِ إلَى وَجْهِهِ وَنَضْرَتِهِ إيَّاهُمْ: {فِي مَقْعَدِ صِدْقٍ عِنْدَ مَلِيكٍ مُّقْتَدِرٍ} [القمر: 55]، وَقَدْ قَضَى أَنَّهُمْ لَا يَمُوتُونَ، فَهُمْ بِالنَّظَرِ إلَيْهِ يَنْضُرُونَ.
إلَى أَنْ قَالَ: وَإِنَّمَا جَحَدَ رُؤْيَةَ اللَّهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ إقَامَةً لِلْحُجَّةِ الضَّالَّةِ الْمُضِلَّةِ؛ لِأَنَّهُ قَدْ عُرِفَ أَنَّهُ إذَا تَجَلَّى لَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، رَأَوْا مِنْهُ مَا كَانُوا بِهِ قَبْلَ ذَلِكَ مُؤْمِنِينَ، وَكَانَ لَهُ جَاحِدًا. وَقَالَ الْمُسْلِمُونَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، هَلْ نَرَى رَبَّنَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " هَلْ تُضَارُّونَ فِي رُؤْيَةِ الشَّمْسِ لَيْسَ دُونَهَا سَحَابٌ؟ " قَالُوا: لَا. قَالَ: " فَهَلْ تُضَارُّونَ فِي رُؤْيَةِ الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ لَيْسَ دُونَهُ سَحَابٌ؟ " قَالُوا: لَا. قَالَ: " فَإِنَّكُمْ تَرَوْنَ رَبَّكُمْ كَذَلِكَ ".
وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " لَا تَمْتَلِئُ النَّارُ حَتَّى يَضَعَ الْجَبَّارُ فِيهَا قَدَمَهُ فَتَقُولُ: قَطُّ، قَطُّ، وَيَنْزَوِي بَعْضُهَا إلَى بَعْضٍ "، وَقَالَ لِثَابِتِ بْنِ قَيْسٍ:
আল্লাহর তা আঁকড়ে ধরার সাথে সাথে তা আমাদের কারও হাতের ক্ষুদ্র জিনিসের মতো হবে, এমনকি তিনি তা চালিত করবেন যেমনভাবে গোলক বা বল চালিত করা হয়।
ইমাম মালেকের সমকক্ষ ইমাম আবদুল আজিজ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবি সালামাহ আল-মাজিশুন তাঁর সেই বিখ্যাত বক্তব্যে বলেছেন, যাতে তিনি জাহমিয়্যাহ এবং তাদের অনুসারী ও যারা তাঁর বক্তব্যকে অপব্যাখ্যা করেছে তাদের প্রতিবাদ করেছেন। তিনি বলেন: অতঃপর যে ব্যক্তি অতি-গভীরতা ও কষ্টকল্পনার আশ্রয় নিয়ে মহান রব নিজের ব্যাপারে যা বর্ণনা করেছেন তা অস্বীকার করেছে, শয়তান তাকে জমিনে বিভ্রান্ত করে ফেলেছে। ফলে সে তার ধারণা অনুযায়ী রব নিজের ব্যাপারে যা বর্ণনা করেছেন ও নাম দিয়েছেন তা অস্বীকার করার স্বপক্ষে দলিল দিতে শুরু করেছে এই বলে যে: যদি আল্লাহর জন্য 'এমন' হওয়া আবশ্যক হয় তবে তাঁর জন্য 'তেমন' হওয়াও আবশ্যক হবে। এভাবে সে অস্পষ্ট বিষয়ের দোহাই দিয়ে সুস্পষ্ট বিষয় থেকে অন্ধ হয়ে গেল। ফলে রব নিজের যে সব গুণের নাম দিয়েছেন, তিনি যেগুলোর নাম দেননি সেগুলোর দোহাই দিয়ে সে তা অস্বীকার করে বসল। শয়তান তাকে এভাবে প্ররোচিত করতে থাকল যতক্ষণ না সে মহান আল্লাহর এই বাণী অস্বীকার করল: "সেদিন অনেক মুখমণ্ডল উজ্জ্বল হবে, তারা তাদের রবের দিকে তাকিয়ে থাকবে।" [কিয়ামাহ: ২২, ২৩]। সে বলল: কিয়ামতের দিন কেউ তাঁকে দেখতে পাবে না। এভাবে সে আল্লাহর কসম করে বলছি, আল্লাহর সেই শ্রেষ্ঠ সম্মানকে অস্বীকার করল যা দিয়ে তিনি কিয়ামতের দিন তাঁর বন্ধুদের সম্মানিত করবেন, আর তা হলো আল্লাহর চেহারার দিকে তাকানো এবং তাদের প্রতি তাঁর প্রসন্নতা: "সত্যের আসনে, সর্বশক্তিমান বাদশাহর সান্নিধ্যে।" [কামার: ৫৫]। আর তিনি ফয়সালা করেছেন যে তারা মরবে না, তাই তারা তাঁর দিকে তাকিয়ে সতেজ ও আনন্দিত হবে।
এরপর তিনি আরও বলেন: কিয়ামতের দিন আল্লাহর দর্শনকে সে অস্বীকার করেছে মূলত তার ভ্রান্ত ও বিভ্রান্তিকর যুক্তি প্রতিষ্ঠা করার জন্য; কারণ এটি জানা কথা যে, যখন তিনি কিয়ামতের দিন তাদের সামনে প্রকাশিত হবেন, তখন তারা আল্লাহর মধ্যে তাই দেখতে পাবে যার প্রতি তারা আগে বিশ্বাস স্থাপন করেছিল, অথচ সে তা অস্বীকারকারী ছিল। মুসলিমগণ জিজ্ঞাসা করলেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমরা কি কিয়ামতের দিন আমাদের রবকে দেখতে পাব? আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "মেঘমুক্ত আকাশে সূর্য দেখতে কি তোমাদের কোনো কষ্ট হয়?" তারা বললেন: না। তিনি বললেন: "পূর্ণিমার রাতে মেঘমুক্ত আকাশে চাঁদ দেখতে কি তোমাদের কোনো কষ্ট হয়?" তারা বললেন: না। তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই তোমরা তোমাদের রবকে এভাবেই দেখতে পাবে।"
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরও বলেছেন: "জাহান্নাম পূর্ণ হবে না যতক্ষণ না জাব্বার (আল্লাহ) তাতে আল্লাহর পা রাখবেন, তখন তা বলবে: যথেষ্ট, যথেষ্ট। আর এর এক অংশ অপর অংশের সাথে গুটিয়ে যাবে।" তিনি সাবিত ইবনে কায়সকে বললেন:
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল আরশিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
" قَدْ ضَحِكَ اللَّهُ مِمَّا فَعَلْت بِضَيْفِك الْبَارِحَةَ "، وَقَالَ فِيمَا بَلَغَنَا عَنْهُ: " إنَّ اللَّهَ يَضْحَكُ مِنْ أَزَلِّكُمْ وَقُنُوطِكُمْ وَسُرْعَةِ إجَابَتِكُمْ "، وَقَالَ لَهُ رَجُلٌ مِنْ الْعَرَبِ: إنَّ رَبَّنَا لَيَضْحَكُ؟ قَالَ: " نَعَمْ " قَالَ: لَنْ نَعْدَمَ مِنْ رَبٍّ يَضْحَكُ خَيْرًا. فِي أَشْبَاهٍ لِهَذَا مِمَّا لَمْ نُحْصِهِ.
وَقَالَ تَعَالَى: {وَهُوَ السَّمِيعُ البَصِيرُ} [الشورى: 11]، {وَاصْبِرْ لِحُكْمِ رَبِّكَ فَإِنَّكَ بِأَعْيُنِنَا} [الطور: 48]، وَقَالَ: {وَلِتُصْنَعَ عَلَى عَيْنِي} [طه: 39]، وَقَالَ: {مَا مَنَعَكَ أَنْ تَسْجُدَ لِمَا خَلَقْتُ بِيَدَيَّ} [ص: 75]، وَقَالَ: {وَالْأَرْضُ جَمِيعًا قَبْضَتُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَالسَّماوَاتُ مَطْوِيَّاتٌ بِيَمِينِهِ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى عَمَّا يُشْرِكُونَ} [الزمر: 67].
فَوَاَللَّهِ مَا دَلَّهُمْ عَلَى عِظَمِ مَا وَصَفَ بِهِ نَفْسَهُ، وَمَا تُحِيطُ بِهِ قَبْضَتُهُ، إلَّا صِغَرُ نَظِيرِهَا مِنْهُمْ عِنْدَهُمْ إنَّ ذَلِكَ الَّذِي أُلْقِيَ فِي رُوعِهِمْ، وَخَلَقَ عَلَى مَعْرِفَتِهِ قُلُوبَهُمْ فَمَا وَصَفَ اللَّهُ مِنْ نَفْسِهِ وَسَمَّاهُ عَلَى لِسَانِ رَسُولِهِ سَمَّيْنَاهُ كَمَا سَمَّاهُ، وَلَمْ نَتَكَلَّفْ منه علم ماسواه، لَا هَذَا، وَلَا هَذَا، لَا نَجْحَدُ مَا وَصَفَ، وَلَا نَتَكَلَّفُ مَعْرِفَةَ مَا لَمْ يَصِفْ انْتَهَى. وَإِذَا كَانَ كَذَلِكَ، فَإِذَا قُدِّرَ أَنَّ الْمَخْلُوقَاتِ كَالْكُرَةِ، وَهَذَا قَبْضُهُ لَهَا وَرَمْيُهُ بِهَا، وَإِنَّمَا بَيَّنَ لَنَا مِنْ عَظَمَتِهِ وَصْفَ الْمَخْلُوقَاتِ بِالنِّسْبَةِ إلَيْهِ مَا يُعْقَلُ نَظِيرُهُ مِنَّا.
ثُمَّ الَّذِي فِي الْقُرْآنِ وَالْحَدِيثِ يُبَيِّنُ أَنَّهُ إنْ شَاءَ قَبَضَهَا وَفَعَلَ بِهَا مَا ذَكَرَ كَمَا يَفْعَلُ ذَلِكَ فِي يَوْمِ الْقِيَامَةِ، وَإِنْ شَاءَ لَمْ يَفْعَلْ ذَلِكَ، فَهُوَ قَادِرٌ عَلَى أَنْ يَقْبِضَهَا وَيَدْحُوَهَا كَالْكُرَةِ، وَفِي ذَلِكَ مِنْ الْإِحَاطَةِ بِهَا مَا لَا يَخْفَى، وَإِنْ شَاءَ لَمْ يَفْعَلْ ذَلِكَ، وَبِكُلِّ حَالٍ فَهُوَ مُبَايِنٌ لَهَا لَيْسَ بمحايث لَهَا.
وَمِنْ الْمَعْلُومِ أَنَّ الْوَاحِدَ مِنَّا وَلِلَّهِ الْمَثَلُ الْأَعْلَى إذَا كَانَ عِنْدَهُ خَرْدَلَةٌ، إنْ شَاءَ قَبَضَهَا فَأَحَاطَتْ بِهَا قَبْضَتُهُ، وَإِنْ شَاءَ لَمْ يَقْبِضْهَا بَلْ جَعَلَهَا تَحْتَهُ، فَهُوَ فِي الْحَالَتَيْنِ مُبَايِنٌ لَهَا، وَسَوَاءٌ قُدِّرَ
"নিশ্চয়ই গত রাতে তুমি তোমার মেহমানের সাথে যা করেছ তাতে আল্লাহ হেসেছেন।" এবং আমাদের নিকট যা পৌঁছেছে তাতে তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের চরম দুরবস্থা, তোমাদের নিরাশা এবং তোমাদের প্রতি তাঁর দ্রুত সাড়া প্রদানের বিষয়টি দেখে হাসেন।" তখন এক আরব ব্যক্তি তাঁকে জিজ্ঞেস করল: আমাদের রব কি হাসেন? তিনি বললেন: "হ্যাঁ।" লোকটি বলল: আমরা এমন রবের পক্ষ থেকে কল্যাণ লাভে বঞ্চিত হব না যিনি হাসেন। এই জাতীয় আরও অনেক বর্ণনা রয়েছে যা আমরা গণনা করে শেষ করতে পারব না।
আল্লাহ তাআলা বলেন: {এবং তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা} [আশ-শুরা: ১১], {আপনি আপনার রবের ফয়সালার জন্য সবর করুন, কারণ আপনি আমাদের চোখসমূহের সামনে রয়েছেন} [আত-তূর: ৪৮], এবং তিনি বলেন: {যাতে তুমি আমার চোখের সামনে লালিত-পালিত হও} [ত্বহা: ৩৯], এবং তিনি বলেন: {আমি আমার দুই হাত দিয়ে যা সৃষ্টি করেছি তার প্রতি সিজদাহ করতে তোমাকে কিসে বাধা দিল?} [ছোয়াদ: ৭৫], এবং তিনি বলেন: {কিয়ামতের দিন সমগ্র পৃথিবী তাঁর হাতের মুঠোয় থাকবে এবং আকাশমন্ডলী তাঁর ডান হাতে ভাঁজ করা অবস্থায় থাকবে। তিনি পবিত্র এবং তারা যা শরিক করে তা থেকে তিনি অনেক উচ্চে} [আয-যুমার: ৬৭]।
আল্লাহর কসম, তিনি নিজের যে মহিমা বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর হাতের মুঠোর বেষ্টনী যা কিছু ধারণ করবে তার বিশালত্ব তাদের নিকট স্পষ্ট হয়েছে শুধুমাত্র তাদের নিকট থাকা এর সাদৃশ্যপূর্ণ জিনিসের ক্ষুদ্রত্বের মাধ্যমে। এটিই তাদের অন্তরে ঢেলে দেওয়া হয়েছে এবং তাদের অন্তরসমূহকে তাঁর পরিচয়ের ওপর সৃষ্টি করা হয়েছে। সুতরাং আল্লাহ নিজের যে গুণাবলী বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর রাসূলের মুখে যে নাম দিয়েছেন, আমরা তাকে সেই নামেই অভিহিত করি যেভাবে তিনি করেছেন। আমরা এর বাইরে অন্য কিছু জানার চেষ্টা করি না, এটাও না ওটাও না। তিনি যা বর্ণনা করেছেন আমরা তা অস্বীকার করি না এবং যা তিনি বর্ণনা করেননি তা জানার কষ্টকল্পনা করি না—সমাপ্ত। যদি বিষয়টি এরূপই হয়, তবে যদি ধারণা করা হয় যে মাখলুকাতসমূহ একটি বলের মতো, আর এটিই তাঁর সেগুলোকে মুষ্টিবদ্ধ করা এবং সেগুলো নিয়ে নিক্ষেপ করা। তিনি তাঁর মহানত্বের বিষয়টি আমাদের নিকট সেভাবে স্পষ্ট করেছেন যেভাবে আমাদের মধ্যে এর সমজাতীয় মাখলুকের বর্ণনা বোধগম্য হয়।
অতঃপর কুরআন ও হাদিসে যা বর্ণিত হয়েছে তা স্পষ্ট করে যে, তিনি চাইলে সেগুলোকে মুষ্টিবদ্ধ করবেন এবং সেগুলোর সাথে বর্ণিত কাজগুলো করবেন যেমনটি তিনি কিয়ামতের দিন করবেন; আর তিনি চাইলে তা করবেন না। সুতরাং তিনি সেগুলোকে মুষ্টিবদ্ধ করতে এবং বলের মতো সঞ্চালন করতে সক্ষম। এর মাধ্যমে যে সেগুলোকে বেষ্টন করে রাখা হয় তা অস্পষ্ট নয়। আর তিনি চাইলে তা করবেন না। সর্বাবস্থায় তিনি সৃষ্টিজগত থেকে পৃথক, সৃষ্টির সাথে একীভূত বা মিশে থাকা নন।
আর এটি জানা কথা যে—আল্লাহর জন্যই সর্বোচ্চ উদাহরণ—আমাদের মধ্যে কারো কাছে যদি একটি সরিষার দানা থাকে, সে চাইলে তা মুষ্টিবদ্ধ করতে পারে ফলে তার হাতের মুঠো সেটিকে বেষ্টন করে ফেলে, আবার চাইলে সে তা মুষ্টিবদ্ধ নাও করতে পারে বরং নিজের নিচে রাখতে পারে। উভয় অবস্থাতেই সে ঐ বস্তুটি থেকে পৃথক থাকে। আর এটি সমানভাবে ধারণা করা হোক না কেন...
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল আরশিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
أَنَّ الْعَرْشَ هُوَ مُحِيطٌ بِالْمَخْلُوقَاتِ كَإِحَاطَةِ الْكُرَةِ بِمَا فِيهَا أَوْ قِيلَ: إنَّهُ فَوْقَهَا وَلَيْسَ مُحِيطًا بِهَا، كَوَجْهِ الْأَرْضِ الَّذِي نَحْنُ عَلَيْهِ بِالنِّسْبَةِ إلَى جَوْفِهَا، وَكَالْقُبَّةِ بِالنِّسْبَةِ إلَى مَا تَحْتَهَا، أَوْ غَيْرِ ذَلِكَ.
فَعَلَى التَّقْدِيرَيْنِ، يَكُونُ الْعَرْشُ فَوْقَ الْمَخْلُوقَاتِ، وَالْخَالِقُ سبحانه وتعالى فَوْقَهُ، وَالْعَبْدُ فِي تَوَجُّهِهِ إلَى اللَّهِ يَقْصِدُ الْعُلُوَّ دُونَ التَّحْتِ، وَتَمَامُ هَذَا بِبَيَانِ:
الْمَقَامُ الثَّالِثُ:وَهُوَ أَنْ نَقُولَ: لَا يَخْلُو إمَّا أَنْ يكون العرش كريا كَالْأَفْلَاكِ، وَيَكُونُ مُحِيطًا بِهَا، وَإِمَّا أَنْ يَكُونَ فَوْقَهَا وليس هو كريا، فَإِنْ كَانَ الْأَوَّلَ، فَمِنْ الْمَعْلُومِ بِاتِّفَاقِ مَنْ يَعْلَمُ هَذَا أَنَّ الأفلاك مستديرة كرية الشَّكْلِ، وَأَنَّ الْجِهَةَ الْعُلْيَا هِيَ جِهَةُ الْمُحِيطِ، وَهِيَ الْمُحَدَّبُ، وَأَنَّ الْجِهَةَ السُّفْلَى هُوَ الْمَرْكَزُ، وَلَيْسَ لِلْأَفْلَاكِ إلَّا جِهَتَانِ: الْعُلُوُّ وَالسُّفْلُ فَقَطْ.
وَأَمَّا الْجِهَاتُ الست فهي الحيوان، فَإِنَّ لَهُ سِتَّ جَوَانِبَ، يَؤُمُّ جِهَةً فَتَكُونُ أَمَامَهُ، وَيُخْلِفُ أُخْرَى فَتَكُونُ خَلْفَهُ، وَجِهَةٌ تُحَاذِي يَمِينَهُ، وَجِهَةٌ تُحَاذِي شِمَالَهُ، وَجِهَةٌ تُحَاذِي رَأْسَهُ، وَجِهَةٌ تُحَاذِي رِجْلَيْهِ، وَلَيْسَ لِهَذِهِ الْجِهَاتِ السِّتِّ فِي نَفْسِهَا صِفَةٌ لَازِمَةٌ، بَلْ هِيَ بِحَسَبِ النِّسْبَةِ وَالْإِضَافَةِ، فَيَكُونُ يَمِينُ هَذَا مَا يَكُونُ شِمَالُ هَذَا، وَيَكُونُ أَمَامَ هَذَا مَا يَكُونُ خَلْفَ هَذَا، وَيَكُونُ فَوْقَ هَذَا مَا يَكُونُ تَحْتَ هَذَا.
لَكِنَّ جِهَةَ الْعُلُوِّ وَالسُّفْلِ لِلْأَفْلَاكِ
নিশ্চয় আরশ সৃষ্টিকুলকে পরিবেষ্টন করে আছে, যেমন একটি গোলক তার অভ্যন্তরে থাকা বস্তুকে পরিবেষ্টন করে। অথবা বলা হয়েছে: এটি সেগুলোর উপরে অবস্থিত এবং সেগুলোকে পরিবেষ্টনকারী নয়, যেমন ভূপৃষ্ঠ—যার ওপর আমরা রয়েছি—তার অভ্যন্তরভাগের তুলনায়, এবং যেমন গম্বুজ তার নিচে যা রয়েছে তার তুলনায়, অথবা অন্য কিছু।
সুতরাং উভয় সম্ভাব্যমতেই আরশ সৃষ্টিকুলের উপরে এবং স্রষ্টা পবিত্র ও মহান তিনি তার উপরে। আর বান্দা আল্লাহর দিকে মনোনিবেশ করার সময় নিম্নদেশের পরিবর্তে উচ্চদেশেরই লক্ষ্য করে। আর এর পূর্ণতা আসবে নিম্নোক্ত বর্ণনার মাধ্যমে:
তৃতীয় স্তর:আর তা হলো আমরা বলব: বিষয়টি এমন হওয়া থেকে মুক্ত নয় যে, হয় আরশ আসমানী গোলকসমূহের ন্যায় গোলাকার হবে এবং সেগুলোকে পরিবেষ্টন করে থাকবে, আর না হয় তা সেগুলোর উপরে হবে এবং গোলাকার হবে না। যদি প্রথমটি হয়, তবে যারা এটি জানেন তাদের ঐকমত্যে এটি জানা কথা যে, আসমানী গোলকসমূহ বৃত্তাকার ও গোলাকার আকৃতির এবং এর ঊর্ধ্বদিক হলো পরিবেষ্টনকারী দিক অর্থাৎ উত্তল অংশ, আর নিম্নদিক হলো এর কেন্দ্র। আসমানী গোলকসমূহের কেবল দুটি দিকই রয়েছে: কেবল উচ্চদেশ ও নিম্নদেশ।
আর ছয়টি দিক হলো প্রাণীর বৈশিষ্ট্য, কারণ তার ছয়টি দিক থাকে। সে যেদিকে অভিমুখ করে তা তার সামনে, যা পেছনে রাখে তা তার পেছনে, একটি দিক তার ডানের সমান্তরালে, একটি দিক তার বামের সমান্তরালে, একটি দিক তার মাথার সমান্তরালে এবং একটি দিক তার দুই পায়ের সমান্তরালে। এই ছয়টি দিকের নিজস্ব কোনো অনিবার্য বৈশিষ্ট্য নেই, বরং তা আপেক্ষিক ও সম্বন্ধযুক্ত। ফলে একজনের যা ডান তা অন্যজনের বাম হতে পারে, একজনের যা সামনে তা অন্যজনের পেছনে হতে পারে এবং একজনের যা উপরে তা অন্যজনের নিচে হতে পারে।
কিন্তু আসমানী গোলকসমূহের উচ্চদেশ ও নিম্নদেশের দিকটি
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল আরশিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
لَا تَتَغَيَّرُ، فَالْمُحِيطُ هُوَ الْعُلُوُّ وَالْمَرْكَزُ هُوَ السُّفْلُ، مَعَ أَنَّ وَجْهَ الْأَرْضِ الَّتِي وَضَعَهَا اللَّهُ لِلْأَنَامِ، وَأَرْسَاهَا بِالْجِبَالِ، هُوَ الَّذِي عَلَيْهِ النَّاسُ وَالْبَهَائِمُ وَالشَّجَرُ وَالنَّبَاتُ، وَالْجِبَالُ وَالْأَنْهَارُ الْجَارِيَةُ.
فَأَمَّا النَّاحِيَةُ الْأُخْرَى مِنْ الْأَرْضِ فَالْبَحْرُ مُحِيطٌ بِهَا، وَلَيْسَ هُنَاكَ شَيْءٌ مِنْ الْآدَمِيِّينَ وَمَا يَتْبَعُهُمْ، وَلَوْ قُدِّرَ أَنَّ هُنَاكَ أَحَدًا لَكَانَ عَلَى ظَهْرِ الْأَرْضِ وَلَمْ يَكُنْ مَنْ فِي هَذِهِ الْجِهَةِ تَحْتَ مَنْ فِي هَذِهِ الْجِهَةِ، وَلَا مَنْ فِي هَذِهِ تَحْتَ مَنْ فِي هَذِهِ، كَمَا أَنَّ الْأَفْلَاكَ مُحِيطَةٌ بِالْمَرْكَزِ، وَلَيْسَ أَحَدُ جَانِبَيْ الْفَلَكِ تَحْتَ الْآخَرِ، وَلَا الْقُطْبُ الشَّمَالِيُّ تَحْتَ الْجَنُوبِيِّ، وَلَا بِالْعَكْسِ.
وَإِنْ كَانَ الشَّمَالِيُّ هُوَ الظَّاهِرُ لَنَا فَوْقَ الْأَرْضِ وَارْتِفَاعُهُ بِحَسَبِ بُعْدِ النَّاسِ عَنْ خَطِّ الِاسْتِوَاءِ، فَمَا كَانَ بُعْدُهُ عَنْ خَطِّ الِاسْتِوَاءِ ثَلَاثِينَ دَرَجَةً مَثَلًا كَانَ ارْتِفَاعُ الْقُطْبِ عِنْدَهُ ثَلَاثِينَ دَرَجَةً، وَهُوَ الَّذِي يُسَمَّى عَرْضَ الْبَلَدِ، فَكَمَا أَنَّ جَوَانِبَ الْأَرْضِ الْمُحِيطَةِ بِهَا وَجَوَانِبَ الْفَلَكِ الْمُسْتَدِيرَةِ لَيْسَ بَعْضُهَا فَوْقَ بَعْضٍ وَلَا تَحْتَهُ، فَكَذَلِكَ مَنْ يَكُونُ عَلَى الْأَرْضِ مِنْ الْحَيَوَانِ وَالنَّبَاتِ وَالْأَثْقَالِ لَا يُقَالُ: إنَّهُ تَحْتَ أُولَئِكَ، وَإِنَّمَا هَذَا خَيَالٌ يَتَخَيَّلُهُ الْإِنْسَانُ، وَهُوَ تَحْتَ إضَافِيٍّ؛ كَمَا لَوْ كَانَتْ نَمْلَةٌ تَمْشِي تَحْتَ سَقْفٍ فَالسَّقْفُ فَوْقَهَا، وَإِنْ كَانَتْ رِجْلَاهَا تُحَاذِيه.
وَكَذَلِكَ مَنْ عُلِّقَ مَنْكُوسًا فَإِنَّهُ تَحْتَ السَّمَاءِ، وَإِنْ كَانَتْ رِجْلَاهُ تَلِي السَّمَاءَ، وَكَذَلِكَ يَتَوَهَّمُ الْإِنْسَانُ إذَا كَانَ فِي أَحَدِ جَانِبَيْ الْأَرْضِ، أَوْ الْفَلَكِ أَنَّ الْجَانِبَ الْآخَرَ تَحْتَهُ، وَهَذَا أَمْرٌ لَا يَتَنَازَعُ فِيهِ اثْنَانِ، مِمَّنْ يَقُولُ: إنَّ الْأَفْلَاكَ مُسْتَدِيرَةٌ.
وَاسْتِدَارَةُ الْأَفْلَاكِ كَمَا أَنَّهُ قَوْل أَهْلِ الْهَيْئَةِ وَالْحِسَابِ فَهُوَ الَّذِي عَلَيْهِ عُلَمَاءُ الْمُسْلِمِينَ، كَمَا ذَكَرَهُ أَبُو الْحَسَنِ بْنُ الْمُنَادَى، وَأَبُو مُحَمَّدٍ بْنُ حَزْمٍ، وَأَبُو الْفَرَجِ بْنُ الْجَوْزِيِّ
এটি পরিবর্তিত হয় না। পরিবেষ্টনকারী অংশটিই হলো উচ্চতা এবং কেন্দ্রটি হলো নিম্নদেশ। অথচ পৃথিবীর উপরিভাগ, যা আল্লাহ সৃষ্টিজগতের জন্য তৈরি করেছেন এবং পাহাড়ের মাধ্যমে একে সুদৃঢ় করেছেন, তার ওপরই মানুষ, চতুষ্পদ জন্তু, গাছপালা, উদ্ভিদ, পাহাড় এবং প্রবহমান নদীসমূহ অবস্থিত।
আর পৃথিবীর অপর পাশ সমুদ্র দ্বারা পরিবেষ্টিত, সেখানে কোনো মানুষ বা তাদের অনুগামী কিছুই নেই। আর যদি ধরে নেওয়া হয় যে সেখানে কেউ আছে, তবে সে পৃথিবীর পিঠের ওপরই থাকত। আর এই দিকের লোক ওই দিকের লোকের নিচে হতো না এবং ওই দিকের লোক এই দিকের লোকের নিচে হতো না। ঠিক যেমন আসমানসমূহ কেন্দ্রকে পরিবেষ্টন করে আছে, আর আসমানের এক প্রান্ত অন্যটির নিচে নয়, এবং উত্তর মেরু দক্ষিণ মেরুর নিচে নয়, আবার এর বিপরীতটিও নয়।
যদিও উত্তর মেরু পৃথিবীর ওপর আমাদের কাছে দৃশ্যমান এবং এর উচ্চতা বিষুবরেখা থেকে মানুষের দূরত্বের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়। যেমন যদি বিষুবরেখা থেকে দূরত্ব ৩০ ডিগ্রি হয়, তবে মেরুর উচ্চতাও ৩০ ডিগ্রি হবে, যাকে দেশের অক্ষাংশ বলা হয়। সুতরাং পৃথিবীর পরিবেষ্টনকারী পার্শ্বসমূহ এবং গোলাকার আসমানের পার্শ্বসমূহ যেমন একে অপরের ওপর বা নিচে নয়, তেমনি পৃথিবীতে থাকা প্রাণী, উদ্ভিদ ও ভারী বস্তুসমূহ সম্পর্কেও বলা যাবে না যে তারা অন্যদের নিচে রয়েছে। বরং এটি কেবল মানুষের একটি কল্পনা মাত্র। এটি আপেক্ষিক নিচে হওয়া; যেমন একটি পিঁপড়া যদি ছাদের নিচে হাঁটে, তবে ছাদটি তার ওপরে থাকে, যদিও তার পা ছাদের সাথে লেগে থাকে।
তেমনিভাবে যাকে উল্টো করে ঝুলিয়ে রাখা হয় সে আকাশের নিচেই থাকে, যদিও তার পা আকাশের সন্নিকটে থাকে। একইভাবে মানুষ যখন পৃথিবীর কোনো এক পাশে অথবা আসমানে থাকে, তখন সে ধারণা করে যে অন্য পাশটি তার নিচে। এটি এমন একটি বিষয় যাতে এমন দুই ব্যক্তির মাঝে কোনো মতভেদ নেই যারা আসমানসমূহ গোলাকার বলে স্বীকার করেন।
আসমানসমূহের গোলাকার হওয়া যেমন জ্যোতির্বিদ ও গণিতবিদদের অভিমত, তেমনি এটিই মুসলিম আলেমদের সিদ্ধান্ত, যেমনটি উল্লেখ করেছেন আবুল হাসান ইবনুল মুনাদী, আবু মুহাম্মাদ ইবনে হাজম এবং আবুল ফারাজ ইবনুল জাওজি।
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল আরশিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وَغَيْرُهُمْ أَنَّهُ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ بَيْنَ عُلَمَاءِ الْمُسْلِمِينَ، وَقَدْ قَالَ تَعَالَى: {وَهُوَ الَّذِي خَلَقَ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ كُلٌّ فِي فَلَكٍ يَسْبَحُونَ} [الأنبياء: 33]، قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: فَلْكَةٌ مِثْلُ فَلْكَةِ الْمِغْزَلِ.
الْفَلَكُ فِي اللُّغَةِ: هُوَ الْمُسْتَدِيرُ، وَمِنْهُ قَوْلُهُمْ: تَفَلَّكَ ثَدْيُ الْجَارِيَةِ إذَا اسْتَدَارَ، وَكُلُّ مَنْ يَعْلَمُ أَنَّ الْأَفْلَاكَ مُسْتَدِيرَةٌ يَعْلَمُ أَنَّ الْمُحِيطَ هُوَ الْعَالِي عَلَى الْمَرْكَزِ مِنْ كُلِّ جَانِبٍ، وَمَنْ تَوَهَّمَ أَنَّ مَنْ يَكُونُ فِي الْفَلَكِ مِنْ نَاحِيَةٍ يَكُونُ تَحْتَهُ مَنْ فِي الْفَلَكِ مِنْ النَّاحِيَةِ الْأُخْرَى فِي نَفْسِ الْأَمْرِ، فَهُوَ مُتَوَهِّمٌ عِنْدَهُمْ.
وَإِذَا كَانَ الْأَمْرُ كَذَلِكَ، فَإِذَا قُدِّرَ أَنَّ الْعَرْشَ مُسْتَدِيرٌ مُحِيطٌ بِالْمَخْلُوقَاتِ كَانَ هُوَ أَعْلَاهَا، وَسَقْفَهَا وَهُوَ فَوْقَهَا مُطْلَقًا، فَلَا يَتَوَجَّهُ إلَيْهِ، وَإِلَى مَا فَوْقَهُ الْإِنْسَانُ إلَّا مِنْ الْعُلُوِّ، لَا مِنْ جِهَاتِهِ الْبَاقِيَةِ أَصْلًا.
وَمَنْ تَوَجَّهَ إلَى الْفَلَكِ التَّاسِعِ أَوْ الثَّامِنِ أَوْ غَيْرِهِ مِنْ الْأَفْلَاكِ مِنْ غَيْرِ جِهَةِ الْعُلُوِّ، كَانَ جَاهِلًا بِاتِّفَاقِ الْعُقَلَاءِ، فَكَيْفَ بِالتَّوَجُّهِ إلَى الْعَرْشِ أَوْ إلَى مَا فَوْقَهُ وَغَايَةُ مَا يُقَدَّرُ أن يكون كرى الشَّكْلِ، وَاَللَّهُ تَعَالَى مُحِيطٌ بِالْمَخْلُوقَاتِ كُلِّهَا إحَاطَةً تَلِيقُ بِجَلَالِهِ، فَإِنَّ السَّمَوَاتِ السَّبْعَ وَالْأَرْضَ فِي يَدِهِ أَصْغَرُ مِنْ الْحِمَّصَةِ فِي يَدِ أَحَدِنَا.
وَأَمَّا قَوْلُ الْقَائِلِ: إذا كان كريًا وَاَللَّهُ مِنْ وَرَائِهِ مُحِيطٌ بِهِ بَائِنٌ عَنْهُ، فَمَا فَائِدَةُ أَنَّ الْعَبْدَ يَتَوَجَّهُ إلَى اللَّهِ حِينَ دُعَائِهِ وَعِبَادَتِهِ؟ فَيَقْصِدُ الْعُلُوَّ دُونَ التَّحْتِ، فَلَا فَرْقَ حِينَئِذٍ وَقْتَ الدُّعَاءِ بَيْنَ قَصْدِ جِهَةِ الْعُلُوِّ وَغَيْرِهَا مِنْ الْجِهَاتِ الَّتِي تُحِيطُ بِالدَّاعِي، وَمَعَ هَذَا نَجِدُ فِي قُلُوبِنَا قَصْدًا يَطْلُبُ الْعُلُوَّ، لَا يلتفت يمنة ولايسرة، فَأَخْبِرُونَا عَنْ هَذِهِ الضَّرُورَةِ الَّتِي نَجِدُهَا فِي قُلُوبِنَا، وَقَدْ فُطِرْنَا عَلَيْهَا.
এবং অন্যদের মতে এটি মুসলিম আলেমদের মধ্যে সর্বসম্মত বিষয়। আর মহান আল্লাহ বলেছেন: "তিনিই সেই সত্তা যিনি সৃষ্টি করেছেন রাত ও দিন এবং সূর্য ও চন্দ্র; প্রত্যেকেই নিজ নিজ কক্ষপথে বিচরণ করছে।" [আল-আম্বিয়া: ৩৩]। ইবনে আব্বাস বলেছেন: এটি সূতা কাটার টেকুর চাক্তির মতো।
ভাষায় 'ফালাক' (কক্ষপথ) বলতে গোলাকার বস্তুকে বোঝায়। এ থেকেই তাদের কথা: 'বালিকার স্তন গোলাকার হয়েছে' যখন তা গোল হয়। আর যারা জানে যে কক্ষপথগুলো গোলাকার, তারা এটাও জানে যে পরিবেষ্টনকারী বিষয়টি সব দিক থেকেই কেন্দ্রের উপরে অবস্থান করে। আর যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, কক্ষপথের এক প্রান্তে থাকা ব্যক্তি কক্ষপথের অন্য প্রান্তে থাকা ব্যক্তির নিচে অবস্থান করছে, তবে তাদের মতে সে নিছক কল্পনাপ্রসূত ভ্রান্তিতে রয়েছে।
আর বিষয়টি যখন এরূপ, তখন যদি ধরে নেওয়া হয় যে আরশ গোলাকার এবং সৃষ্টিজগতকে পরিবেষ্টন করে আছে, তবে তা হবে সবকিছুর উপরে এবং সবকিছুর ছাদ। আর তা নিরঙ্কুশভাবে সবকিছুর উপরেই থাকবে। ফলে মানুষ তার দিকে অথবা তার উপরে যা আছে তার দিকে কেবল উপরের দিক থেকেই অভিমুখ করতে পারে, অন্য কোনো দিক থেকে মোটেও নয়।
যে ব্যক্তি নবম বা অষ্টম অথবা অন্য কোনো কক্ষপথের দিকে উপরের দিক ব্যতীত অন্য কোনো দিক থেকে অভিমুখ করে, সে বুদ্ধিমানদের ঐকমত্য অনুযায়ী একজন মূর্খ। তাহলে আরশ বা তার উপরে যা আছে তার দিকে অভিমুখ করার বিষয়টি কেমন হবে? সর্বোচ্চ যা ধারণা করা যায় তা হলো এটি গোলাকার। আর মহান আল্লাহ সমস্ত সৃষ্টিজগতকে তাঁর মহিমার উপযোগী করে পরিবেষ্টন করে আছেন। কারণ সপ্ত আকাশ ও পৃথিবী আল্লাহর হাতে আমাদের কারো হাতের ছোলার দানার চেয়েও ছোট।
আর প্রশ্নকারীর এই কথা সম্পর্কে যে: "যদি এটি গোলাকার হয় এবং আল্লাহ এর বাইরে থেকে একে পরিবেষ্টন করে থাকেন ও সৃষ্টিজগত থেকে পৃথক হন, তবে বান্দার দোয়া ও ইবাদতের সময় আল্লাহর দিকে অভিমুখ হওয়ার ফায়দা কী? কেন সে নিচের দিক বাদ দিয়ে উপরের দিককেই উদ্দেশ্য করে? সেক্ষেত্রে তো দোয়ার সময় ওপরের দিক এবং দোয়াকারীকে পরিবেষ্টনকারী অন্যান্য দিকের মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকার কথা নয়। তা সত্ত্বেও আমরা আমাদের অন্তরে উপরের দিক তালাশ করার একটি সংকল্প পাই, যা ডানে বা বামে ভ্রূক্ষেপ করে না। সুতরাং আমাদের এই সহজাত প্রবণতা সম্পর্কে বলুন যা আমরা আমাদের অন্তরে অনুভব করি এবং যার ওপর আমাদের সৃষ্টি করা হয়েছে।"
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল আরশিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
فَيُقَالُ لَهُ: هَذَا السُّؤَالُ إنَّمَا وَرَدَ لِتَوَهُّمِ الْمُتَوَهِّمِ أَنَّ نِصْفَ الْفَلَكِ يَكُونُ تَحْتَ الْأَرْضِ، وَتَحْتَ مَا عَلَى وَجْهِ الْأَرْضِ مِنْ الْآدَمِيِّينَ وَالْبَهَائِمِ، وَهَذَا غَلَطٌ عَظِيمٌ، فَلَوْ كَانَ الْفَلَكُ تَحْتَ الْأَرْضِ مِنْ جِهَةٍ لَكَانَ تَحْتَهَا مِنْ كُلِّ جِهَةٍ، فَكَانَ يَلْزَمُ أَنْ يَكُونَ الْفَلَكُ تَحْتَ الْأَرْضِ مُطْلَقًا، وَهَذَا قَلْبٌ لِلْحَقَائِقِ، إذْ الْفَلَكُ هُوَ فَوْقَ الْأَرْضِ مُطْلَقًا.
أَهْلُ الْهَيْئَةِ يَقُولُونَ: لَوْ أَنَّ الْأَرْضَ مَخْرُوقَةٌ إلَى نَاحِيَةِ أَرْجُلِنَا وَأُلْقِيَ فِي الْخَرْقِ شَيْءٌ ثَقِيلٌ كَالْحَجَرِ وَنَحْوِهِ لَكَانَ يَنْتَهِي إلَى الْمَرْكَزِ، حَتَّى لَوْ أُلْقِيَ مِنْ تِلْكَ النَّاحِيَةِ حَجَرٌ آخَرُ لَالْتَقَيَا جَمِيعًا فِي الْمَرْكَزِ، وَلَوْ قُدِّرَ أَنَّ إنْسَانَيْنِ الْتَقَيَا فِي الْمَرْكَزِ بَدَلَ الْحَجَرَيْنِ لَالْتَقَتْ رِجْلَاهُمَا وَلَمْ يَكُنْ أَحَدُهُمَا تَحْتَ صَاحِبِهِ، بَلْ كِلَاهُمَا فَوْقَ الْمَرْكَزِ، وَكِلَاهُمَا تَحْتَ الْفَلَكِ، كَالْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ، فَإِنَّهُ لَوْ قُدِّرَ أَنَّ رَجُلًا بِالْمَشْرِقِ فِي السَّمَاءِ أَوْ الْأَرْضِ وَرَجُلًا بِالْمَغْرِبِ فِي السَّمَاءِ أَوْ الْأَرْضِ، لَمْ يَكُنْ أَحَدُهُمَا تَحْتَ الْآخَرِ، وَسَوَاءٌ كَانَ رَأْسُهُ أَوْ رِجْلَاهُ أَوْ بَطْنُهُ أَوْ ظَهْرُهُ أَوْ جَانِبُهُ مِمَّا يَلِي السَّمَاءَ أَوْ مِمَّا يَلِي الْأَرْضَ، وَإِذَا كَانَ مَطْلُوبَ أَحَدِهِمَا مَا فَوْقَ الْفَلَكِ لَمْ يَطْلُبْهُ إلَّا مِنْ الْجِهَةِ الْعُلْيَا، لَمْ يَطْلُبْهُ مِنْ جِهَةِ رِجْلَيْهِ أَوْ يَمِينِهِ أَوْ يَسَارِهِ لِوَجْهَيْنِ:
أَحَدُهُمَا: أَنَّ مَطْلُوبَهُ مِنْ الْجِهَةِ الْعُلْيَا أَقْرَبُ إلَيْهِ مِنْ جَمِيعِ الْجِهَاتِ، فَلَوْ قُدِّرَ رَجُلٌ أَوْ مَلَكٌ يَصْعَدُ إلَى السَّمَاءِ، أَوْ إلَى مَا فَوْقَ، كَانَ صُعُودُهُ مِمَّا يَلِي رَأْسَهُ أَقْرَبَ إذَا أَمْكَنَهُ ذَلِكَ، وَلَا يَقُولُ عَاقِلٌ: إنَّهُ يَخْرِقُ الْأَرْضَ ثُمَّ يَصْعَدُ مِنْ تِلْكَ النَّاحِيَةِ، وَلَا أَنَّهُ يَذْهَبُ يَمِينًا أَوْ شِمَالًا، أَوْ أَمَامًا أَوْ خَلْفًا، إلَى
তাকে বলা হয়: এই প্রশ্নটি কেবল ভ্রান্ত ধারণা পোষণকারীর এমন এক অমূলক ধারণার কারণে উৎপন্ন হয়েছে যে, আসমানি গোলকের অর্ধেক অংশ জমিনের নিচে থাকে এবং জমিনের উপরিভাগে বিদ্যমান মানুষ ও চতুষ্পদ জন্তুদের নিচে অবস্থান করে। এটি একটি গুরুতর ভুল। যদি আসমান কোনো এক দিক দিয়ে জমিনের নিচে হতো, তবে তা সব দিক দিয়েই তার নিচে হতো। সেক্ষেত্রে আবশ্যক হতো যে, আসমান নিঃশর্তভাবে জমিনের নিচে থাকবে। অথচ এটি বাস্তবতার পরিপন্থী, কেননা আসমান নিরঙ্কুশভাবে জমিনের উপরেই অবস্থিত।
জ্যোতির্বিদগণ বলেন: যদি আমাদের পায়ের দিক পর্যন্ত জমিন ছিদ্র করা হয় এবং সেই ছিদ্রে পাথর বা এ জাতীয় কোনো ভারী বস্তু নিক্ষেপ করা হয়, তবে তা কেন্দ্রে গিয়ে স্থির হবে। এমনকি যদি সেই অন্য প্রান্ত থেকেও অন্য একটি পাথর নিক্ষেপ করা হয়, তবে উভয় পাথরই কেন্দ্রে গিয়ে মিলিত হবে। আর যদি পাথরের পরিবর্তে দু’জন মানুষের কেন্দ্রে মিলিত হওয়ার বিষয়টি কল্পনা করা হয়, তবে তাদের পা দুটি পরস্পর মিলিত হবে এবং তাদের কেউ অপরজনের নিচে থাকবে না। বরং উভয়েই কেন্দ্রের উপরে থাকবে এবং উভয়েই আসমানের নিচে থাকবে, যেমনটি পূর্ব ও পশ্চিমের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। কেননা যদি কল্পনা করা হয় যে, একজন ব্যক্তি আসমান বা জমিনের পূর্ব প্রান্তে আছে এবং অন্য একজন ব্যক্তি আসমান বা জমিনের পশ্চিম প্রান্তে আছে, তবে তাদের কেউ অপরজনের নিচে হবে না। চাই তার মাথা হোক বা পা হোক, পেট হোক বা পিঠ হোক কিংবা তার কোনো পার্শ্ব হোক—যা আসমানের দিকে বা জমিনের দিকে রয়েছে। আর যদি তাদের কারো কাম্য বস্তু আসমানের উপরে হয়, তবে সে তা কেবল উপরের দিক থেকেই সন্ধান করবে। সে তা তার পায়ের দিক থেকে কিংবা ডানে বা বামে সন্ধান করবে না। এর কারণ দুটি:
প্রথমত: তার কাম্য বস্তু অন্য সকল দিকের তুলনায় উপরের দিক থেকে তার অধিক নিকটবর্তী। সুতরাং যদি কোনো মানুষ বা ফেরেশতার আসমানে বা তারও উপরে আরোহণ করার কল্পনা করা হয়, তবে তার মাথার দিক থেকে আরোহণ করাটাই হবে অধিক নিকটবর্তী, যদি তা তার জন্য সম্ভব হয়। কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তি এটি বলবে না যে, সে জমিন ছিদ্র করে তারপর সেই দিক থেকে আরোহণ করবে, আর এটিও বলবে না যে, সে ডানে বা বামে কিংবা সামনে বা পিছনে যাবে যাতে...
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল আরশিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
حَيْثُ أَمْكَنَ مِنْ الْأَرْضِ ثُمَّ يَصْعَدُ؛ لِأَنَّهُ أَيُّ مَكَانٍ ذَهَبٍ إلَيْهِ كَانَ بِمَنْزِلَةِ مَكَانِهِ أَوْ هُوَ دُونَهُ، وَكَانَ الْفَلَكُ فَوْقَهُ، فَيَكُونُ ذَهَابُهُ إلَى الْجِهَاتِ الْخَمْسِ تَطْوِيلًا وَتَعَبًا مِنْ غَيْرِ فَائِدَةٍ.
وَلَوْ أَنَّ رَجُلًا أَرَادَ أَنْ يُخَاطِبَ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ فَإِنَّهُ لَا يُخَاطِبُهُ إلَّا مِنْ الْجِهَةِ الْعُلْيَا، مَعَ أَنَّ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ قَدْ تُشْرِقُ وَقَدْ تَغْرُبُ، فَتَنْحَرِفُ عَنْ سَمْتِ الرَّأْسِ، فَكَيْفَ بِمَنْ هُوَ فَوْقَ كُلِّ شَيْءٍ دَائِمًا لَا يَأْفُلُ وَلَا يَغِيبُ سبحانه وتعالى؟
وَكَمَا أَنَّ الْحَرَكَةَ كَحَرَكَةِ الْحَجَرِ تَطْلُبُ مَرْكَزَهَا بِأَقْصَرِ طَرِيقٍ وَهُوَ الْخَطُّ الْمُسْتَقِيمُ فَالطَّلَبُ الْإِرَادِيُّ الَّذِي يَقُومُ بِقُلُوبِ الْعِبَادِ كَيْفَ يَعْدِلُ عَنْ الصِّرَاطِ الْمُسْتَقِيمِ الْقَرِيبِ، إلَى طَرِيقٍ مُنْحَرِفٍ طَوِيلٍ، وَاَللَّهُ تَعَالَى فَطَرَ عِبَادَهُ عَلَى الصِّحَّةِ وَالِاسْتِقَامَةِ، إلَّا مَنْ اجْتَالَتْهُ الشَّيَاطِينُ فَأَخْرَجَتْهُ عَنْ فِطْرَتِهِ الَّتِي فُطِرَ عَلَيْهَا.
الْوَجْهُ الثَّانِي: أَنَّهُ إذَا قَصَدَ السُّفْلَ بِلَا عُلُوٍّ كَانَ يَنْتَهِي قَصْدُهُ إلَى الْمَرْكَزِ وَإِنْ قَصَدَهُ أَمَامَهُ أَوْ وَرَاءَهُ أَوْ يَمِينَهُ أَوْ يَسَارَهُ، مِنْ غَيْرِ قَصْدِ الْعُلُوِّ، كَانَ مُنْتَهَى قَصْدِهِ أَجْزَاءَ الْهَوَاءِ، فَلَا بُدَّ لَهُ مِنْ قَصْدِ الْعُلُوِّ ضَرُورَةً، سَوَاءٌ قَصَدَ مَعَ ذَلِكَ هَذِهِ الْجِهَاتِ أَوْ لَمْ يَقْصِدْهَا.
وَلَوْ فُرِضَ أَنَّهُ قَالَ: أَقْصِدُهُ مِنْ الْيَمِينِ مَعَ الْعُلُوِّ، أَوْ مِنْ السُّفْلِ مَعَ الْعُلُوِّ، كَانَ هَذَا بِمَنْزِلَةِ مَنْ يَقُولُ: أُرِيدُ أَنْ أَحُجَّ مِنْ الْمَغْرِبِ، فَأَذْهَبُ إلَى خُرَاسَانَ، ثُمَّ أَذْهَبُ إلَى مَكَّةَ، بَلْ بِمَنْزِلَةِ مَنْ يَقُولُ: أَصْعَدُ إلَى الْأَفْلَاكِ، فَأَنْزِلُ فِي الْأَرْضِ،
যেখানে জমিন থেকে সম্ভব হয়, অতঃপর উপরে উঠে; কারণ সে যে কোনো স্থানেই যাক না কেন, তা তার বর্তমান স্থানের সমপর্যায়ভুক্ত অথবা তার চেয়ে নিচে হবে, এবং আকাশমণ্ডল তার উপরেই থাকবে। ফলে তার অন্য পাঁচটি দিকে গমন করা হবে কোনো উপকার ছাড়াই দীর্ঘসূত্রিতা ও ক্লান্তি মাত্র।
আর যদি কোনো ব্যক্তি সূর্য ও চন্দ্রকে সম্বোধন করতে চায়, তবে সে কেবল ঊর্ধ্ব দিক থেকেই তাকে সম্বোধন করবে, যদিও সূর্য ও চন্দ্র উদিত হয় এবং অস্ত যায়, ফলে মাথার উপরিস্থ বিন্দু থেকে বিচ্যুত হয়। তাহলে তাঁর আল্লাহর ব্যাপারে কী ধারণা, যিনি সর্বদা সবকিছুর উপরে, যাঁর কোনো অস্ত নেই এবং যিনি কখনও অদৃশ্য হন না—তিনি পবিত্র ও সুমহান?
এবং পাথরের গতির মতো গতি যেমন তার কেন্দ্রকে নিকটতম পথে তথা সরলরেখায় অনুসন্ধান করে, তেমনি বান্দাদের অন্তরে যে সংকল্পিত অনুসন্ধান জাগ্রত হয়, তা কীভাবে নিকটবর্তী সরল পথ ছেড়ে দিয়ে দীর্ঘ বক্র পথের দিকে ধাবিত হবে? অথচ আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদেরকে সঠিক প্রকৃতি ও সুস্থতার ওপর সৃষ্টি করেছেন, কেবল সেই ব্যক্তি ব্যতীত যাকে শয়তান বিভ্রান্ত করেছে এবং তাকে সেই ফিতরাত (স্বভাবজাত প্রকৃতি) থেকে বের করে দিয়েছে যার ওপর তাকে সৃষ্টি করা হয়েছিল।
দ্বিতীয় দিক: যদি কেউ ঊর্ধ্বমুখী না হয়ে নিম্মমুখী হওয়ার সংকল্প করে, তবে তার সংকল্পের পরিসমাপ্তি ঘটবে কেন্দ্রের দিকে; আর যদি সে ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার সংকল্প না করে তার সামনে, পেছনে, ডানে বা বামে সংকল্প করে, তবে তার সংকল্পের শেষ গন্তব্য হবে কেবল বায়ুস্তরের অংশবিশেষ। সুতরাং তাকে আবশ্যিকভাবেই ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার সংকল্প করতে হবে, চাই সে এর সাথে অন্য দিকগুলোর সংকল্প করুক বা না করুক।
আর যদি ধরা হয় যে সে বলল: আমি ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার সাথে সাথে ডানে তাঁর সংকল্প করছি, অথবা ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার সাথে সাথে নিচে; তবে এটি সেই ব্যক্তির মতো হবে যে বলে: আমি পশ্চিম হতে হজ করতে চাই, তাই আমি প্রথমে খুরাসান যাব, অতঃপর মক্কায় যাব। বরং এটি সেই ব্যক্তির মতো যে বলে: আমি আকাশে আরোহণ করব, তাই আমি জমিনে নামছি,
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল আরশিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
ثُمَّ أَصْعَدُ إلَى الْفَلَكِ مِنْ النَّاحِيَةِ الْأُخْرَى، فَهَذَا وَإِنْ كَانَ مُمْكِنًا فِي الْمَقْدُورِ، لَكِنَّهُ مُسْتَحِيلٌ مِنْ جِهَةِ امْتِنَاعِ إرَادَةِ الْقَاصِدِ لَهُ، وَهُوَ مُخَالِفٌ لِلْفِطْرَةِ، فَإِنَّ الْقَاصِدَ يَطْلُبُ مَقْصُودَهُ بِأَقْرَبِ طَرِيقٍ، لَا سِيَّمَا إذَا كَانَ مَقْصُودُهُ مَعْبُودَهُ الَّذِي يَعْبُدُهُ وَيَتَوَكَّلُ عَلَيْهِ، وَإِذَا تَوَجَّهَ إلَيْهِ عَلَى غَيْرِ الصِّرَاطِ الْمُسْتَقِيمِ كَانَ سَيْرُهُ مَنْكُوسًا مَعْكُوسًا.
أَيْضًا، فَإِنَّ هَذَا يَجْمَعُ فِي سَيْرِهِ وَقَصْدِهِ بَيْنَ النَّفْيِ وَالْإِثْبَاتِ، بَيْنَ أَنْ يَتَقَرَّبَ إلَى الْمَقْصُودِ وَيَتَبَاعَدَ عَنْهُ، وَيُرِيدَهُ وَيَنْفِرَ عَنْهُ، فَإِنَّهُ إذَا تَوَجَّهَ إلَيْهِ مِنْ الْوَجْهِ الَّذِي هُوَ عَنْهُ أَبْعَدُ وَأَقْصَى وَعَدَلَ عَنْ الْوَجْهِ الْأَقْرَبِ الْأَدْنَى، كَانَ جَامِعًا بَيْنَ قَصْدَيْنِ مُتَنَاقِضَيْنِ، فَلَا يَكُونُ قَصْدُهُ لَهُ تَامًّا، إذْ الْقَصْدُ التَّامُّ يَنْفِي نَقِيضَهُ وَضِدَّهُ، وَهَذَا مَعْلُومٌ بِالْفِطْرَةِ.
فَإِنَّ الشَّخْصَ إذَا كَانَ يُحِبُّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم مَحَبَّةً تَامَّةً وَيَقْصِدُهُ أَوْ يُحِبُّ غَيْرَهُ مِمَّنْ يُحِبُّ سَوَاءٌ كَانَتْ مَحَبَّتُهُ مَحْمُودَةً أَوْ مَذْمُومَةً مَتَى كَانَتْ الْمَحَبَّةُ تَامَّةً، وَطَلَبَ الْمَحْبُوبُ طَلَبَهُ مِنْ أَقْرَبِ طَرِيقٍ يَصِلُ إلَيْهِ، بِخِلَافِ مَا إذَا كَانَتْ الْمَحَبَّةُ مُتَرَدِّدَةً مِثْلُ: أَنْ يُحِبَّ مَا تَكْرَهُ مَحَبَّتَهُ فِي الدِّينِ، فَتَبْقَى شَهْوَتُهُ تَدْعُوهُ إلَى قَصْدِهِ، وَعَقْلِهِ يَنْهَاهُ عَنْ ذَلِكَ، فَتَرَاهُ يَقْصِدُهُ مِنْ طَرِيقٍ بَعِيدٍ، كَمَا تَقُولُ الْعَامَّةُ: رَجُلٌ إلَى قُدَّامَ، وَرَجُلٌ إلَى خَلْفٍ.
وَكَذَلِكَ إذَا كَانَ فِي دِينِهِ نَقْصٌ، وَعَقْلُهُ يَأْمُرُهُ بِقَصْدِ الْمَسْجِدِ أَوْ الْجِهَادِ أَوْ غَيْرِ ذَلِكَ مِنْ القصودات الَّتِي تُحَبُّ فِي الدِّينِ وَتَكْرَهُهَا النَّفْسُ، فَإِنَّهُ يَبْقَى قَاصِدًا لِذَلِكَ مِنْ طَرِيقٍ بَعِيدٍ مُتَبَاطِئًا فِي السَّيْرِ، وَهَذَا كُلُّهُ مَعْلُومٌ بِالْفِطْرَةِ.
وَكَذَلِكَ إذَا لَمْ يَكُنْ الْقَاصِدُ يُرِيدُ الذَّهَابَ بِنَفْسِهِ، بَلْ يُرِيدُ
এরপর আমি অন্য দিক থেকে মহাকাশমন্ডলে আরোহণ করি; এটি যদিও সামর্থ্যের বিচারে সম্ভব, তবে সংকল্পকারীর ইচ্ছার অসম্ভবতার কারণে এটি অসম্ভব এবং এটি ফিতরাত বা স্বভাবজাত প্রকৃতির পরিপন্থী। কেননা অন্বেষণকারী তার অভীষ্ট লক্ষ্যকে নিকটতম পথেই খুঁজে থাকে, বিশেষ করে যখন তার লক্ষ্য হয় তার সেই উপাস্য যাঁর সে ইবাদত করে এবং যাঁর ওপর সে ভরসা করে। আর যদি সে সরল পথ ব্যতীত অন্য কোনো পথে তাঁর দিকে ধাবিত হয়, তবে তার সেই পথচলা হবে উল্টো ও বিপরীতমুখী।
তাছাড়া এটি তার পথচলা ও সংকল্পের মধ্যে নেতিবাচকতা ও ইতিবাচকতার সমাবেশ ঘটায়; অর্থাৎ অভীষ্ট লক্ষ্যের নিকটবর্তী হওয়া ও তা থেকে দূরে সরে যাওয়া এবং সেটিকে চাওয়া ও তা থেকে বিমুখ হওয়ার সংমিশ্রণ ঘটায়। কেননা সে যদি তাঁর দিকে এমন দিক থেকে ধাবিত হয় যা তাঁর থেকে অধিকতর দূরবর্তী ও দূরতম এবং নিকটতম ও নিকটতর দিক থেকে বিমুখ হয়, তবে সে দুটি পরস্পরবিরোধী সংকল্পের একত্রকারী হবে। ফলে তাঁর প্রতি তার সংকল্প পূর্ণাঙ্গ হবে না, কারণ পূর্ণাঙ্গ সংকল্প তার বিপরীত ও বিরোধী বিষয়কে নাকচ করে দেয়; আর এটি স্বভাবজাতভাবেই সুপরিচিত।
কেননা কোনো ব্যক্তি যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পূর্ণাঙ্গভাবে ভালোবাসে এবং তাঁকে পাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করে, অথবা অন্য কাউকেও ভালোবাসে যাকে সে পছন্দ করে—সেই ভালোবাসা প্রশংসনীয় হোক বা নিন্দনীয় হোক, যতক্ষণ সেই ভালোবাসা পূর্ণাঙ্গ হয়—তখন সে প্রিয়তমের কাছে পৌঁছানোর জন্য নিকটতম পথেই তাকে অন্বেষণ করে। কিন্তু ভালোবাসা যখন দ্বিধাগ্রস্ত হয় তখন এর ব্যতিক্রম ঘটে; যেমন: দ্বীনের দৃষ্টিতে যা ভালোবাসা অপছন্দনীয় তাকে ভালোবাসা। এমতাবস্থায় তার কুপ্রবৃত্তি তাকে সেই উদ্দেশ্যের দিকে ডাকতে থাকে আর তার বিবেক তাকে তা থেকে নিষেধ করতে থাকে। তখন আপনি তাকে দেখবেন সে দূরবর্তী পথ দিয়ে সেই উদ্দেশ্য পূরণ করতে চাইছে, যেমনটি সাধারণ মানুষ বলে থাকে: এক পা সামনে তো এক পা পেছনে।
একইভাবে যদি কারও দ্বীনদারিতে ঘাটতি থাকে এবং তার বিবেক তাকে মসজিদের দিকে যাওয়ার অথবা জিহাদে যাওয়ার কিংবা দ্বীনের দৃষ্টিতে পছন্দনীয় কিন্তু প্রবৃত্তির কাছে অপছন্দনীয় এমন অন্যান্য উদ্দেশ্যের দিকে যাওয়ার নির্দেশ দেয়, তবে সে শ্লথগতিতে দূরবর্তী পথ দিয়ে সেই সংকল্প বাস্তবায়ন করতে থাকে। আর এ সবই স্বভাবজাত প্রকৃতিগতভাবে সুপরিচিত।
তদ্রূপ যখন অন্বেষণকারী নিজে যাওয়ার ইচ্ছা করে না, বরং সে ইচ্ছা করে
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল আরশিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
خِطَابَ الْمَقْصُودِ وَدُعَاءَهُ وَنَحْوَ ذَلِكَ، فَإِنَّهُ يُخَاطِبُهُ مِنْ أَقْرَبِ جِهَةٍ يَسْمَعُ دُعَاءَهُ مِنْهَا، وَيَنَالُ بِهِ مَقْصُودَهُ إذَا كَانَ الْقَصْدُ تَامًّا.
وَلَوْ كَانَ رَجُلٌ فِي مَكَانٍ عَالٍ، وَآخَرُ يُنَادِيهِ؛ لَتَوَجَّهَ إلَيْهِ وَنَادَاهُ، وَلَوْ حَطَّ رَأْسَهُ فِي بِئْرٍ وَنَادَاهُ بِحَيْثُ يَسْمَعُ صَوْتَهُ لَكَانَ هَذَا مُمْكِنًا، لَكِنْ لَيْسَ فِي الْفِطْرَةِ أَنْ يَفْعَلَ ذَلِكَ مَنْ يَكُونُ قَصْدُهُ إسْمَاعَهُ مِنْ غَيْرِ مَصْلَحَةٍ رَاجِحَةٍ، وَلَا يَفْعَلُ نَحْوَ ذَلِكَ إلَّا عِنْدَ ضَعْفِ الْقَصْدِ وَنَحْوِهِ.
حَدِيثُ الْإِدْلَاءِ الَّذِي رُوِيَ مِنْ حَدِيثِ أَبِي هُرَيْرَةَ وَأَبِي ذَرٍّ رضي الله عنهما قَدْ رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَغَيْرُهُ، مِنْ حَدِيثِ الْحَسَنِ الْبَصْرِيِّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَهُوَ مُنْقَطِعٌ، فَإِنَّ الْحَسَنَ لَمْ يَسْمَعْ مِنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، وَلَكِنْ يُقَوِّيه حَدِيثُ أَبِي ذَرٍّ الْمَرْفُوعُ، فَإِنْ كَانَ ثَابِتًا فَمَعْنَاهُ مُوَافِقٌ لِهَذَا، فَإِنَّ قَوْلَهُ: " لَوْ أُدْلِيَ أَحَدُكُمْ بِحَبْلِ لَهَبَطَ عَلَى اللَّهِ " إنَّمَا هُوَ تَقْدِيرٌ مَفْرُوضٌ، أَيْ لَوْ وَقَعَ الْإِدْلَاءُ لَوَقَعَ عَلَيْهِ، لَكِنَّهُ لَا يُمْكِنُ أَنْ يُدْلِيَ أَحَدٌ عَلَى اللَّهِ شَيْئًا؛ لِأَنَّهُ عَالٍ بِالذَّاتِ وَإِذَا أُهْبِطَ شَيْءٌ إلَى جِهَةِ الْأَرْضِ وَقَفَ فِي الْمَرْكَزِ وَلَمْ يَصْعَدْ إلَى الْجِهَةِ الْأُخْرَى، لَكِنْ بِتَقْدِيرِ فَرْضِ الْإِدْلَاءِ، يَكُونُ مَا ذَكَرَ مِنْ الْجَزَاءِ.
فَهَكَذَا مَا ذَكَرَهُ السَّائِلُ: إذَا قُدِّرَ أَنَّ الْعَبْدَ يَقْصِدُهُ مِنْ تِلْكَ الْجِهَةِ. كَانَ هُوَ سُبْحَانَهُ يَسْمَعُ كَلَامَهُ، وَكَانَ مُتَوَجِّهًا إلَيْهِ بِقَلْبِهِ، لَكِنَّ هَذَا مِمَّا تَمْنَعُ مِنْهُ الْفِطْرَةُ؛ لِأَنَّ قَصْدَ الشَّيْءِ الْقَصْدَ التَّامَّ يُنَافِي قَصْدَ ضِدِّهِ، فَكَمَا أَنَّ الْجِهَةَ الْعُلْيَا بِالذَّاتِ تُنَافِي الْجِهَةَ السُّفْلَى فَكَذَلِكَ قَصْدُ الْأَعْلَى بِالذَّاتِ يُنَافِي قَصْدَهُ مِنْ أَسْفَلَ، وَكَمَا أَنَّ مَا يَهْبِطُ إلَى جَوْفِ الْأَرْضِ يَمْتَنِعُ صُعُودُهُ إلَى تِلْكَ النَّاحِيَةِ لِأَنَّهَا عَالِيَةٌ فَتَرُدُّ الْهَابِطَ بِعُلُوِّهَا، كَمَا أَنَّ الْجِهَةَ الْعُلْيَا مِنْ عِنْدِنَا تَرُدُّ مَا يَصْعَدُ إلَيْهَا
কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তির সাথে সম্বোধন, তার কাছে প্রার্থনা এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো; কারণ সে তাকে এমন নিকটতম দিক থেকে সম্বোধন করে যেখান থেকে সে তার দোয়া শুনতে পায়, এবং এর মাধ্যমে সে তার উদ্দেশ্য হাসিল করে যখন সংকল্পটি পূর্ণাঙ্গ হয়।
আর যদি কোনো ব্যক্তি উচ্চ স্থানে থাকে এবং অন্য একজন তাকে ডাকে, তবে সে তার দিকেই মনোযোগ দেবে এবং তাকে ডাকবে। সে যদি কোনো কূপে মাথা নিচু করে তাকে ডাকে যাতে সে তার শব্দ শুনতে পায়, তবে তা সম্ভব হতো। কিন্তু মানুষের সহজাত প্রকৃতিতে (ফিতরাত) এমনটি নেই যে, যার উদ্দেশ্য তাকে শোনানো সে কোনো বড় ধরনের কল্যাণ ছাড়া এমনটি করবে; আর সংকল্প দুর্বল হওয়া বা এই জাতীয় ক্ষেত্র ছাড়া কেউ এমনটি করে না।
রশি ঝুলিয়ে দেওয়ার (ইদলা) যে হাদিসটি আবু হুরায়রা ও আবু যর (আল্লাহ তাদের উভয়ের ওপর সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তা তিরমিযী ও অন্যান্যরা হাসান বসরী থেকে আবু হুরায়রার সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আর এটি বিচ্ছিন্ন (মুনকাতি); কারণ হাসান বসরী আবু হুরায়রা থেকে শোনেননি। তবে আবু যর-এর মারফু হাদিসটি এটিকে শক্তিশালী করে। যদি এটি সাব্যস্ত হয়, তবে এর অর্থ হবে এর অনুকূল। কেননা তাঁর বাণী: "যদি তোমাদের কেউ একটি রশি ঝুলিয়ে দেয়, তবে তা আল্লাহর ওপর গিয়ে পড়বে"—এটি মূলত একটি অনুমিত ধারণা মাত্র; অর্থাৎ যদি রশি ঝুলানো ঘটত তবে তা তাঁর ওপরই পড়ত। কিন্তু কারও পক্ষেই আল্লাহর ওপর কোনো কিছু ঝুলিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়; কারণ তিনি সত্তাগতভাবেই সুউচ্চ। আর কোনো বস্তুকে যখন পৃথিবীর দিকে নামিয়ে দেওয়া হয়, তখন তা কেন্দ্রে গিয়ে থেমে যায় এবং অন্য দিকে আর ওঠে না। কিন্তু রশি ঝুলিয়ে দেওয়ার অনুমিত ধারণার প্রেক্ষিতেই উল্লিখিত ফলাফলটি বর্ণিত হয়েছে।
অনুরূপভাবে প্রশ্নকারী যা উল্লেখ করেছেন: যদি ধরে নেওয়া হয় যে বান্দা সেই দিক থেকে তাঁর দিকে লক্ষ্য করছে, তবে তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা তার কথা শুনতেন এবং বান্দা তার অন্তর দিয়ে তাঁর দিকেই অভিমুখী হতো। কিন্তু মানুষের সহজাত প্রকৃতি (ফিতরাত) একে বাধা দেয়; কারণ কোনো জিনিসের প্রতি পূর্ণাঙ্গ লক্ষ্য স্থির করা তার বিপরীত লক্ষ্যের পরিপন্থী। সুতরাং ঊর্ধ্বমুখী দিক যেমন সত্তাগতভাবেই নিম্নমুখী দিকের পরিপন্থী, তেমনি স্বয়ং সত্তাগতভাবে সর্বোচ্চকে উদ্দেশ্য করা তাকে নিচ থেকে উদ্দেশ্য করার পরিপন্থী। আর যেভাবে ভূগর্ভের দিকে যা কিছু পতিত হয় তার পক্ষে সেই দিকের দিকে আরোহণ করা অসম্ভব, কারণ সেটি উচ্চ স্থান, তাই তা তার উচ্চতার কারণে নিম্নগামী বস্তুকে প্রতিহত করে, যেভাবে আমাদের নিকটবর্তী ঊর্ধ্বমুখী দিকটি তার দিকে আরোহণকারী বিষয়কে প্রতিহত করে।
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল আরশিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
مِنْ الثَّقِيلِ، فَلَا يَصْعَدُ الثَّقِيلُ إلَّا بِرَافِعِ يَرْفَعُهُ يُدَافِعُ بِهِ مَا فِي قُوَّتِهِ مِنْ الْهُبُوطِ، فَكَذَلِكَ مَا يَهْبِطُ مِنْ أَعْلَى الْأَرْضِ إلَى أَسْفَلِهَا وَهُوَ الْمَرْكَزُ لَا يَصْعَدُ مِنْ هُنَاكَ إلَى ذَلِكَ الْوَجْهِ إلَّا بِرَافِعِ يَرْفَعُهُ، يُدَافِعُ بِهِ مَا فِي قُوَّتِهِ مِنْ الْهُبُوطِ إلَى الْمَرْكَزِ، فَإِنْ قُدِّرَ أَنَّ الدَّافِعَ أَقْوَى كَانَ صَاعِدًا بِهِ إلَى الْفَلَكِ مِنْ تِلْكَ النَّاحِيَةِ، وَصَعِدَ بِهِ إلَى اللَّهِ، وَإِنَّمَا يُسَمَّى هبوطًا باعتبار مافي أَذْهَانِ الْمُخَاطَبِينَ أَنَّ مَا يُحَاذِي أَرْجُلَهُمْ يَكُونُ هَابِطًا، وَيُسَمَّى هُبُوطًا مَعَ تَسْمِيَةِ إهْبَاطِهِ إدْلَاءً، وَهُوَ إنَّمَا يَكُونُ إدْلَاءً حَقِيقِيًّا إلَى الْمَرْكَزِ، وَمِنْ هُنَاكَ إنَّمَا يَكُونُ مَدًّا لِلْحَبْلِ، وَالدَّلْوِ، لَا إدْلَاءَ لَهُ، لَكِنَّ الْجَزَاءَ وَالشَّرْطَ مُقَدَّرَانِ لَا مُحَقَّقَانِ.
فَإِنَّهُ قَالَ: لَوْ أَدْلَى لَهَبَطَ؛ أَيْ لَوْ فُرِضَ أَنَّ هُنَاكَ إدْلَاءً لَفُرِضَ أَنَّ هُنَاكَ هُبُوطًا، وَهُوَ يَكُونُ إدْلَاءً وَهُبُوطًا إذَا قُدِّرَ أَنَّ السَّمَوَاتِ تَحْتَ الْأَرْضِ وَهَذَا التَّقْدِيرُ مُنْتَفٍ، وَلَكِنَّ فَائِدَتَهُ بَيَانُ الْإِحَاطَةِ وَالْعُلُوِّ مِنْ كُلِّ جَانِبٍ، وَهَذَا الْمَفْرُوضُ مُمْتَنِعٌ فِي حَقِّنَا لَا نَقْدِرُ عَلَيْهِ، فَلَا يُتَصَوَّرُ أَنْ يُدْلِيَ وَلَا يُتَصَوَّرُ أَنْ يَهْبِطَ عَلَى اللَّهِ شَيْءٌ لَكِنَّ اللَّهَ قَادِرٌ عَلَى أَنْ يَخْرُقَ مِنْ هُنَا إلَى هُنَاكَ بِحَبْلِ، وَلَكِنْ لَا يَكُونُ فِي حَقِّهِ إدْلَاءً، فَلَا يَكُونُ فِي حَقِّهِ هُبُوطًا عَلَيْهِ.
كَمَا لَوْ خَرَقَ بِحَبْلِ مِنْ الْقُطْبِ إلَى الْقُطْبِ، أَوْ مِنْ مَشْرِقِ الشَّمْسِ إلَى مَغْرِبِهَا، وَقَدَّرْنَا أَنَّ الْحَبْلَ مَرَّ فِي وَسَطِ الْأَرْضِ، فَإِنَّ اللَّهَ قَادِرٌ عَلَى ذَلِكَ كُلِّهِ، وَلَا فَرْقَ بِالنِّسْبَةِ إلَيْهِ عَلَى هَذَا التَّقْدِيرِ مِنْ أَنْ يَخْرُقَ مِنْ جَانِبِ الْيَمِينِ مِنَّا إلَى جَانِبِ الْيَسَارِ، أَوْ مِنْ جِهَةِ أَمَامِنَا إلَى جِهَةِ خَلْفِنَا، أَوْ من جهة رؤوسنا إلَى جِهَةِ أَرْجُلِنَا إذَا مَرَّ الْحَبْلُ بِالْأَرْضِ، فَعَلَى كُلِّ تَقْدِيرٍ قَدْ خَرَقَ بِالْحَبْلِ مِنْ جَانِبِ
ভারী বস্তু সম্পর্কে; কোনো ভারী বস্তু উপরে ওঠে না যতক্ষণ না কোনো উত্তোলক তাকে উপরে উঠায়, যার মাধ্যমে সে তার নিম্নগামী হওয়ার শক্তিকে প্রতিরোধ করে। একইভাবে, যা পৃথিবীর উপরিভাগ থেকে তার নিম্নভাগে অর্থাৎ কেন্দ্রে পতিত হয়, তা সেখান থেকে ঐ দিকে উঠতে পারে না যতক্ষণ না কোনো উত্তোলক তাকে উপরে উঠায়, যার মাধ্যমে সে কেন্দ্রের দিকে নিম্নগামী হওয়ার শক্তিকে প্রতিরোধ করে। যদি ধরে নেওয়া হয় যে, প্রতিরোধকারী শক্তিটি অধিক শক্তিশালী, তবে সেটি তাকে সেই দিক থেকে আসমানের দিকে উপরে নিয়ে যাবে এবং আল্লাহর দিকে আরোহণ করাবে। একে নিম্নগমন বলা হয় কেবল সম্বোধিত ব্যক্তিদের মনের ধারণার বিবেচনায় যে, যা তাদের পায়ের সমান্তরালে থাকে তা নিম্নগামী। আর একে নিম্নগমন বলা হয় এবং এর নিচে নামানোকে 'ঝোলানো' হিসেবে অভিহিত করা হয়। এটি মূলত কেন্দ্রের দিকেই প্রকৃত ঝোলানো হয়ে থাকে, আর সেখান থেকে তা দড়ি ও বালতিকে টেনে লম্বা করা হয় মাত্র, তা কোনো ঝোলানো নয়। তবে প্রতিদান এবং শর্ত এখানে অনুমিত, বাস্তাবায়িত নয়।
কেননা তিনি বলেছেন: 'যদি সে ঝোলাত তবে তা অবশ্যই নিচে পড়ত'; অর্থাৎ যদি সেখানে ঝোলানোকে ধরে নেওয়া হয়, তবে সেখানে নিম্নগমনকেও ধরে নেওয়া হবে। এটি ঝোলানো এবং নিম্নগমন তখনই হবে যদি ধরে নেওয়া হয় যে আসমানসমূহ পৃথিবীর নিচে অবস্থিত, অথচ এই ধারণাটি বাতিল। কিন্তু এর উপকারিতা হলো সব দিক থেকে পরিবেষ্টন এবং উচ্চতা বর্ণনা করা। এই অনুমিত বিষয়টি আমাদের ক্ষেত্রে অসম্ভব, আমরা এতে সক্ষম নই। সুতরাং আল্লাহর ওপর কোনো কিছু ঝোলানো বা কোনো কিছু তাঁর ওপর পতিত হওয়া কল্পনা করা যায় না। কিন্তু আল্লাহ এখান থেকে সেখানে দড়ি দিয়ে ছিদ্র করতে সক্ষম, তবে তা তাঁর ক্ষেত্রে ঝোলানো হবে না এবং তাঁর ওপর পতিত হওয়াও হবে না।
যেমন যদি মেরু থেকে মেরু পর্যন্ত, অথবা সূর্যোদয়ের স্থান থেকে সূর্যাস্তের স্থান পর্যন্ত দড়ি দিয়ে ছিদ্র করা হয় এবং আমরা ধরে নিই যে দড়িটি পৃথিবীর মাঝখান দিয়ে অতিক্রান্ত হয়েছে, তবে আল্লাহ এই সব কিছুতেই সক্ষম। এই অনুমানের ভিত্তিতে তাঁর নিকট এতে কোনো পার্থক্য নেই যে, তিনি আমাদের ডান দিক থেকে বাম দিক পর্যন্ত ছিদ্র করবেন, নাকি আমাদের সম্মুখ দিক থেকে পশ্চাৎ দিক পর্যন্ত, অথবা আমাদের মাথার দিক থেকে আমাদের পায়ের দিক পর্যন্ত—যদি দড়িটি পৃথিবীর মধ্য দিয়ে অতিক্রান্ত হয়। সুতরাং প্রতিটি অনুমানেই তিনি এক দিক থেকে দড়ি দিয়ে ছিদ্র করেছেন...
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল আরশিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الْمُحِيطِ إلَى جَانِبِهِ الْآخَرِ، مَعَ خَرْقِ الْمَرْكَزِ، وَبِتَقْدِيرِ إحَاطَةِ قَبْضَتِهِ بِالسَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ، فَالْحَبْلُ الَّذِي قُدِّرَ أَنَّهُ خَرَقَ بِهِ الْعَالَمَ وَصَلَ إلَيْهِ، وَلَا يُسَمَّى شَيْءٌ مِنْ ذَلِكَ بِالنِّسْبَةِ إلَيْهِ إدْلَاءً وَلَا هُبُوطًا.
وَأَمَّا بِالنِّسْبَةِ إلَيْنَا فَإِنَّ مَا تَحْتَ أَرْجُلِنَا تَحْتٌ لَنَا، وما فوق رؤوسنا فَوْقَ لَنَا، وَمَا نُدْلِيهِ من ناحية رؤوسنا إلَى نَاحِيَةِ أَرْجُلِنَا نَتَخَيَّلُ أَنَّهُ هَابِطٌ، فَإِذَا قُدِّرَ أَنَّ أَحَدَنَا أَدْلَى بِحَبْلِ كَانَ هَابِطًا عَلَى مَا هُنَاكَ، لَكِنَّ هَذَا تَقْدِيرٌ مُمْتَنِعٌ فِي حَقِّنَا، وَالْمَقْصُودُ بِهِ بَيَانُ إحَاطَةِ الْخَالِقِ سبحانه وتعالى، كَمَا بَيَّنَ أَنَّهُ يَقْبِضُ السَّمَوَاتِ وَيَطْوِي الْأَرْضَ وَنَحْوَ ذَلِكَ مِمَّا فِيهِ بَيَانُ إحَاطَتِهِ بِالْمَخْلُوقَاتِ.
وَلِهَذَا قَرَأَ فِي تَمَامِ هَذَا الْحَدِيثِ: {هُوَ الْأَوَّلُ وَالْآخِرُ وَالظَّاهِرُ وَالْبَاطِنُ وَهُوَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ} [الحديد: 3]. وَهَذَا كُلُّهُ عَلَى تَقْدِيرِ صِحَّتِهِ، فَإِنَّ التِّرْمِذِيَّ لَمَّا رَوَاهُ قَالَ: وَفَسَّرَهُ بَعْضُ أَهْلِ الْحَدِيثِ بِأَنَّهُ هَبَطَ عَلَى عِلْمِ اللَّهِ، وَبَعْضُ الْحُلُولِيَّةِ والاتحادية يَظُنُّ أَنَّ فِي هَذَا الْحَدِيثِ مَا يَدُلُّ عَلَى قَوْلِهِمْ الْبَاطِلِ، وَهُوَ أَنَّهُ حَالٌّ بِذَاتِهِ فِي كُلِّ مَكَانٍ، وَأَنَّ وُجُودَهُ وُجُودُ الْأَمْكِنَةِ وَنَحْوُ ذَلِكَ.
وَالتَّحْقِيقُ: أَنَّ الْحَدِيثَ لَا يَدُلُّ عَلَى شَيْءٍ مِنْ ذَلِكَ إنْ كَانَ ثَابِتًا، فَإِنَّ قَوْلَهُ: " لَوْ أَدْلَى بِحَبْلِ لَهَبَطَ " يَدُلُّ عَلَى أَنَّهُ لَيْسَ فِي الْمُدْلِي وَلَا فِي الْحَبْلِ، وَلَا فِي الدَّلْوِ وَلَا فِي غَيْرِ ذَلِكَ، وَأَنَّهَا تَقْتَضِي أَنَّهُ مِنْ تِلْكَ النَّاحِيَةِ، وَكَذَلِكَ تَأْوِيلُهُ بِالْعِلْمِ تَأْوِيلٌ ظَاهِرُ الْفَسَادِ، مَنْ جِنْسِ تَأْوِيلَاتِ الْجَهْمِيَّة، بَلْ بِتَقْدِيرِ ثُبُوتِهِ يَكُونُ دَالًّا عَلَى الْإِحَاطَةِ.
وَالْإِحَاطَةُ قَدْ عُلِمَ أَنَّ اللَّهَ قَادِرٌ عَلَيْهَا، وَعُلِمَ أَنَّهَا تَكُونُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِالْكِتَابِ وَالسُّنَّة، وَلَيْسَ فِي إثْبَاتِهَا فِي الْجُمْلَةِ مَا يُخَالِفُ الْعَقْلَ وَلَا الشَّرْعَ، لَكِنْ لَا نَتَكَلَّمُ إلَّا بما نعلم، ومالا نَعْلَمُهُ أَمْسَكْنَا عَنْهُ، وَمَا كَانَ مُقَدِّمَةُ
পরিবেষ্টনকারীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত, কেন্দ্র ভেদ করে, এবং আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীকে তাঁর মুষ্টিবদ্ধ করার মাধ্যমে পরিবেষ্টন করার অনুমানে; সুতরাং যে দড়িটি বিশ্বজগত ভেদ করেছে বলে ধরে নেওয়া হয়েছে তা তাঁর নিকট পৌঁছেছে। আর তাঁর ক্ষেত্রে এর কোনোটিকেই ঝোলানো বা নিচে নামানো বলা হয় না।
আর আমাদের ক্ষেত্রে, যা আমাদের পায়ের নিচে তা আমাদের জন্য নিচে, আর যা আমাদের মাথার উপরে তা আমাদের জন্য উপরে। আর আমরা যখন আমাদের মাথার দিক থেকে পায়ের দিকে কোনো কিছু ঝোলাই, তখন আমরা কল্পনা করি যে তা নিচে নামছে। সুতরাং যদি ধারণা করা হয় যে আমাদের কেউ একটি দড়ি ঝোলাল, তবে তা সেখানে যা আছে তার উপর গিয়ে পড়বে। কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে এই ধারণা অসম্ভব। আর এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো মহান স্রষ্টার পরিবেষ্টন বর্ণনা করা, যেমন তিনি বর্ণনা করেছেন যে তিনি আকাশমন্ডলীকে তাঁর হাতে ধারণ করবেন এবং পৃথিবীকে গুটিয়ে নেবেন—এই জাতীয় যা কিছু আছে যাতে মাখলুকাতের ওপর তাঁর পরিবেষ্টনের বর্ণনা রয়েছে।
এই কারণেই তিনি এই হাদিসের শেষে পাঠ করেছেন: "তিনিই আদি, তিনিই অন্ত, তিনিই প্রকাশ্য ও তিনিই অপ্রকাশ্য; এবং তিনি সর্ববিষয়ে সম্যক পরিজ্ঞাত।" [আল-হাদিদ: ৩]। আর এ সবই হাদিসটি বিশুদ্ধ হওয়ার ভিত্তিতে। কেননা ইমাম তিরমিজি যখন এটি বর্ণনা করেছেন, তখন তিনি বলেছেন: হাদিস বিশারদগণের কেউ কেউ এর ব্যাখ্যা করেছেন যে, তা আল্লাহর ইলমের ওপর পতিত হয়েছে। আর হুলুলিয়া ও ইত্তিহাদিয়া সম্প্রদায়ের কেউ কেউ ধারণা করে যে, এই হাদিসে এমন কিছু আছে যা তাদের বাতিল মতবাদের সপক্ষে দলিল দেয়; আর তা হলো—তিনি সত্তাগতভাবে প্রতিটি স্থানে বিরাজমান, এবং তাঁর অস্তিত্বই হলো স্থানসমূহের অস্তিত্ব এবং এই জাতীয় বিষয়সমূহ।
প্রকৃত সত্য হলো: যদি হাদিসটি প্রমাণিত হয়, তবে তা এগুলোর কোনোটির প্রতিই ইঙ্গিত করে না। কেননা তাঁর বাণী: "যদি কোনো দড়ি ঝোলানো হতো তবে তা নিচে পড়ত" এটি প্রমাণ করে যে, তিনি ঝোলায়নকারীর মধ্যে নেই, দড়ির মধ্যে নেই, বালতির মধ্যে নেই এবং অন্য কিছুর মধ্যেও নেই। বরং এটি দাবি করে যে, তিনি সেই দিক থেকে আছেন। অনুরূপভাবে এর 'ইলম' বা জ্ঞান দ্বারা ব্যাখ্যা করা একটি স্পষ্টত ভ্রান্ত ব্যাখ্যা, যা জাহমিয়াদের ব্যাখ্যার অন্তর্ভুক্ত। বরং এটি সাব্যস্ত হওয়ার ভিত্তিতে এটি আল্লাহর পরিবেষ্টনের ওপরই দলিল হয়।
আর পরিবেষ্টনের বিষয়টি—এটি জানা আছে যে আল্লাহ এর ওপর সক্ষম, এবং কিতাব ও সুন্নাহর আলোকে এটিও জানা আছে যে কিয়ামতের দিন তা ঘটবে। সাধারণভাবে এটি সাব্যস্ত করার মধ্যে এমন কিছু নেই যা বুদ্ধি বা শরীয়তের পরিপন্থী। কিন্তু আমরা যা জানি তা ব্যতীত কথা বলি না, আর যা আমরা জানি না তা থেকে বিরত থাকি। আর যা কিছু এর ভূমিকা স্বরূপ...
(খণ্ড: ১)
আর-রিসালাতুল আরশিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
دَلِيلِهِ مَشْكُوكًا فِيهَا عِنْدَ بَعْضِ النَّاسِ، كَانَ حَقُّهُ أَنْ يَشُكَّ فِيهِ، حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَهُ الْحَقُّ، وَإِلَّا فَلْيَسْكُتْ عَمَّا لَمْ يَعْلَمْ.
وَإِذَا تَبَيَّنَ هَذَا، فَكَذَلِكَ قَاصِدُهُ يَقْصِدُهُ إلَى تِلْكَ النَّاحِيَةِ، وَلَوْ فُرِضَ أَنَّا فَعَلْنَاهُ لَكُنَّا قَاصِدِينَ لَهُ عَلَى هَذَا التَّقْدِيرِ، لَكِنَّ قَصْدَنَا لَهُ بِالْقَصْدِ إلَى تِلْكَ الْجِهَةِ مُمْتَنِعٌ فِي حَقِّنَا؛ لِأَنَّ الْقَصْدَ التَّامَّ الْجَازِمَ يُوجِبُ طَلَبَ الْمَقْصُودِ بِحَسَبِ الْإِمْكَانِ.
وَلِهَذَا قَدْ بَيَّنَّا فِي غَيْرِ هَذَا الْمَوْضِعِ لَمَّا تَكَلَّمْنَا عَلَى تَنَازُعِ النَّاسِ فِي النِّيَّةِ الْمُجَرَّدَةِ عَنْ الْفِعْلِ هَلْ يُعَاقَبُ عَلَيْهَا أَمْ لَا يُعَاقَبُ؟ بَيَّنَّا أَنَّ الْإِرَادَةَ الْجَازِمَةَ تُوجِبُ أَنْ يَفْعَلَ الْمُرِيدُ مَا يَقْدِرُ عَلَيْهِ مِنْ الْمُرَادِ، وَمَتَى لَمْ يَفْعَلْ مَقْدُورَهُ لَمْ تَكُنْ إرَادَتُهُ جَازِمَةً، بَلْ يَكُونُ هَمًّا، وَمَنْ هَمَّ بِسَيِّئَةٍ فَلَمْ يَفْعَلْهَا لَمْ تُكْتَبْ عَلَيْهِ، فَإِنْ تَرَكَهَا لِلَّهِ كُتِبَتْ لَهُ حَسَنَةٌ.
وَلِهَذَا وَقَعَ الْفَرْقُ بَيْنَ هَمِّ يُوسُفَ عليه السلام وَهَمِّ امْرَأَةِ الْعَزِيزِ، كَمَا قَالَ الْإِمَامُ أَحْمَد: الْهَمُّ هَمَّانِ: هَمُّ خَطَرَاتٍ وَهَمُّ إصْرَارٍ. فَيُوسُفُ عليه السلام هَمَّ هَمًّا تَرَكَهُ لِلَّهِ فَأُثِيبَ عَلَيْهِ، وَتِلْكَ هَمَّتْ هَمَّ إصْرَارٍ فَفَعَلَتْ مَا قَدَرَتْ عَلَيْهِ مِنْ تَحْصِيلِ مُرَادِهَا، وَإِنْ لَمْ يَحْصُلْ لَهَا الْمَطْلُوبُ.
وَاَلَّذِينَ قَالُوا: يُعَاقَبُ بِالْإِرَادَةِ، احْتَجُّوا بِقَوْلِهِ صلى الله عليه وسلم: " إذَا الْتَقَى الْمُسْلِمَانِ بِسَيْفَيْهِمَا فَالْقَاتِلُ وَالْمَقْتُولُ فِي النَّارِ " قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، هَذَا الْقَاتِلُ فَمَا بَالُ الْمَقْتُولِ؟ قَالَ: " إنَّهُ أَرَادَ قَتْلَ صَاحِبِهِ "، وَفِي رِوَايَةٍ: " إنَّهُ كَانَ حَرِيصًا عَلَى قَتْلِ صَاحِبِهِ ". فَهَذَا أَرَادَ إرَادَةً جَازِمَةً، وَفَعَلَ مَا يَقْدِرُ عَلَيْهِ، وَإِنْ لَمْ يُدْرِكْ مَطْلُوبَهُ، فَهُوَ بِمَنْزِلَةِ امْرَأَةِ الْعَزِيزِ، فَمَتَى كَانَ الْقَصْدُ جَازِمًا، لَزِمَ أَنْ يَفْعَلَ الْقَاصِدُ مَا يَقْدِرُ عَلَيْهِ مِنْ حُصُولِ الْمَقْصُودِ، فَإِذَا كَانَ قَادِرًا عَلَى حُصُولِ مَقْصُودِهِ بِطَرِيقِ مُسْتَقِيمٍ امْتَنَعَ مَعَ الْقَصْدِ
কারো কারো কাছে এর দলীল যদি সংশয়পূর্ণ হয়, তবে সত্য স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত তার উচিত এ বিষয়ে সংশয় পোষণ করা; অন্যথায় যা সে জানে না সে বিষয়ে তার নীরব থাকা উচিত।
আর যখন এটি স্পষ্ট হলো, তখন একইভাবে এর সংকল্পকারীও সেই দিকের উদ্দেশ্যেই সংকল্প করে। আর যদি ধরে নেওয়া হয় যে আমরা তা করেছি, তবে সেই হিসেবে আমরাও তার সংকল্পকারী হতাম। কিন্তু সেই দিকের উদ্দেশ্যে আমাদের সংকল্প করা আমাদের ক্ষেত্রে অসম্ভব; কারণ পূর্ণ ও দৃঢ় সংকল্প সামর্থ্য অনুযায়ী সংকল্পিত বস্তুকে অন্বেষণ করা আবশ্যক করে তোলে।
এই কারণেই আমরা অন্য স্থানে বর্ণনা করেছি—যখন আমরা কর্ম ব্যতিরেকে কেবল সংকল্পের কারণে মানুষকে শাস্তি দেওয়া হবে কি না তা নিয়ে মানুষের মতপার্থক্য নিয়ে আলোচনা করেছি—তখন আমরা স্পষ্ট করেছি যে, দৃঢ় ইচ্ছা ইচ্ছাকারীর জন্য তার সামর্থ্য অনুযায়ী কাঙ্ক্ষিত কাজটি করাকে আবশ্যক করে তোলে। আর যখন সে তার সামর্থ্য অনুযায়ী কাজটি করল না, তখন তার ইচ্ছাটি আর দৃঢ় থাকল না, বরং তা নিছক একটি ক্ষণিক চিন্তায় (হাম্ম) পরিণত হলো। আর যে ব্যক্তি কোনো মন্দ কাজের চিন্তা করল কিন্তু তা করল না, তার আমলনামায় তা লেখা হয় না। তবে যদি সে আল্লাহর ভয়ে তা বর্জন করে, তবে তার জন্য একটি নেকি লেখা হয়।
এ কারণেই ইউসুফ আলাইহিস সালামের চিন্তা এবং আযীযের স্ত্রীর চিন্তার মধ্যে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। যেমনটি ইমাম আহমাদ বলেছেন: চিন্তা (হাম্ম) দুই প্রকার—ক্ষণিক চিন্তা এবং সংকল্পবদ্ধ চিন্তা। ইউসুফ আলাইহিস সালাম এমন চিন্তা করেছিলেন যা তিনি আল্লাহর জন্য বর্জন করেছিলেন, ফলে তিনি এর জন্য পুরস্কৃত হয়েছেন। আর সেই নারী সংকল্পবদ্ধ চিন্তা করেছিল এবং তার উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সব কিছু করেছিল, যদিও সে তার কাঙ্ক্ষিত ফল পায়নি।
আর যারা বলেছেন যে সংকল্পের কারণে শাস্তি দেওয়া হবে, তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীর মাধ্যমে দলিল পেশ করেন: "যখন দুজন মুসলিম তাদের তলোয়ার নিয়ে একে অপরের মুখোমুখি হয়, তখন হত্যাকারী এবং নিহত ব্যক্তি উভয়েই জাহান্নামে যাবে।" তারা জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! হত্যাকারীর বিষয়টি তো বোঝা গেল, কিন্তু নিহত ব্যক্তির কী অপরাধ? তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই সে তার সাথীকে হত্যা করার ইচ্ছা করেছিল।" অন্য একটি বর্ণনায় রয়েছে: "সে তার সাথীকে হত্যা করার ব্যাপারে অত্যন্ত আগ্রহী ছিল।" সুতরাং এই ব্যক্তি দৃঢ় ইচ্ছা করেছিল এবং তার সামর্থ্য অনুযায়ী কাজও করেছিল, যদিও সে তার উদ্দেশ্য সফল করতে পারেনি। তাই সে আযীযের স্ত্রীর পর্যায়ের। সুতরাং যখনই সংকল্প দৃঢ় হবে, তখন সংকল্পকারী ব্যক্তির জন্য তার সামর্থ্য অনুযায়ী উদ্দেশ্য অর্জনের কাজ করা আবশ্যক হয়ে পড়বে। অতঃপর যখন সে সঠিক পথে তার উদ্দেশ্য অর্জনে সক্ষম হবে, তখন সংকল্প থাকা সত্ত্বেও তা অসম্ভব হবে...