(খণ্ড: ১) শারহু মুখতাসারির রওদা (পৃষ্ঠা: -)
شرح مختصر الروضة   (الطوفي)

القسم: أصول الفقه

الكتاب : شرح مختصر الروضة

المؤلف : سليمان بن عبد القوي بن الكريم الطوفي الصرصري، أبو الربيع، نجم الدين (المتوفى : 716هـ)

المحقق : عبد الله بن عبد المحسن التركي

الناشر : مؤسسة الرسالة

الطبعة : الأولى ، 1407 هـ / 1987 م

عدد الأجزاء : 3

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

শারহু মুখতাসারির রওদাহ   (আত-তুফি)

বিভাগ: উসুলুল ফিকহ

গ্রন্থ : শারহু মুখতাসারির রওদাহ

লেখক : সুলাইমান বিন আব্দুল কাবি বিন আল-কারিম আত-তুফি আস-সারসারী, আবুুর রাবি, নাজমুদ্দিন (মৃত্যু : ৭১৬ হিজরি)

সম্পাদক : আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল মুহসিন আত-তুর্কি

প্রকাশক : মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ

সংস্করণ : প্রথম , ১৪০৭ হিজরি / ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা : ৩

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) শারহু মুখতাসারির রওদা (পৃষ্ঠা: -)
ـ[شرح مختصر الروضة]ـ

المؤلف: سليمان بن عبد القوي بن الكريم الطوفي الصرصري، أبو الربيع، نجم الدين (المتوفى: 716هـ)

المحقق: عبد الله بن عبد المحسن التركي

الناشر: مؤسسة الرسالة

الطبعة: الأولى، 1407 هـ / 1987 م

عدد الأجزاء: 3

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
[শারহু মুখতাসারি রওদা]

লেখক: সুলায়মান ইবনে আব্দুল কাবি ইবনে আল-কারিম আত-তুফি আস-সারসারী, আবুুর রবি, নাজমুদ্দিন (মৃত্যু: ৭১৬ হিজরি)

সম্পাদক: আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল মুহসিন আত-তুর্কি

প্রকাশক: মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ

সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৭ হিজরি / ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ৩

[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
(খণ্ড: ১) শারহু মুখতাসারির রওদা (পৃষ্ঠা: ৫৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

اللَّهُمَّ يَا وَاجِبَ الْوُجُودِ، وَيَا مُوجِدَ كُلِّ مَوْجُودٍ، وَيَا مُفِيضَ الْخَيْرِ وَالْجُودِ، عَلَى كُلِّ قَاصٍ مِنْ خَلْقِهِ وَدَانٍ.

ــ

قَالَ الشَّيْخُ الْإِمَامُ الْعَالِمُ الْعَلَّامَةُ نَجْمُ الدِّينِ سُلَيْمَانُ بْنُ عَبْدِ الْقَوِيِّ الطُّوفِيُّ تَغَمَّدَهُ اللَّهُ تَعَالَى بِرَحْمَتِهِ: قَوْلُهُ: " اللَّهُمَّ يَا وَاجِبَ الْوُجُودِ، وَيَا مُوجِدَ كُلِّ مَوْجُودٍ، وَيَا مُفِيضَ الْخَيْرِ وَالْجُودِ، عَلَى كُلِّ قَاصٍ مِنْ خَلْقِهِ وَدَانٍ ".

الْكَلَامُ عَلَيْهِ مِنْ وُجُوهٍ:

أَحَدُهَا: أَنَّ هَذِهِ الْجُمْلَةَ وَنَظَائِرَهَا مِنْ خُطْبَةِ الْكِتَابِ مُرَبَّعَةٌ نُونِيَّةٌ. أَعْنِي أَنَّهَا مُشْتَمِلَةٌ عَلَى أَرْبَعِ فِقَرٍ: ثَلَاثٌ مِنْهَا عَلَى فَاصِلَةٍ وَاحِدَةٍ، وَالرَّابِعَةُ فَاصِلَتُهَا نُونٌ، غَيْرَ أَنَّ الثَّلَاثَ الْأُوَلَ تَخْتَلِفُ حُرُوفُ فَوَاصِلِ فِقَرِهَا فِي الْخُطْبَةِ، كَالدَّالِ فِي هَذِهِ، وَالْهَاءِ وَالْمِيمِ وَالْهَمْزَةِ وَغَيْرِ ذَلِكَ فِيمَا بَعْدَهَا، كَقَوْلِهِ: " الْبَاهِرَةِ " وَ " النَّدَمِ " وَ " الْآلَاءِ " و" أَسْلَمَ " وَ " أَصْفِيَائِكَ " إِلَى آخَرِ الْخُطْبَةِ، وَالرَّابِعَةُ لَازِمَةٌ لِلنُّونِ لَا تَخْتَلِفُ، وَنَظِيرُ هَذِهِ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

হে আল্লাহ! হে অনিবার্য অস্তিত্ববান (ওয়াজিবুল উজুদ), এবং হে প্রত্যেক অস্তিত্বশীলের অস্তিত্বদানকারী, এবং হে কল্যাণ ও বদান্যতার প্রস্রবণ, তাঁর সৃষ্টির প্রতিটি দূরবর্তী ও নিকটবর্তীদের উপরে।

--

শাইখ, ইমাম, আলেম, আল্লামা নাজমুদ্দীন সুলায়মান ইবন আবদিল ক্বাওয়ী আত-তুফী (আল্লাহ তাআলা তাঁকে তাঁর রহমত দ্বারা আবৃত করুন) বলেন: তাঁর কথা: "হে আল্লাহ! হে অনিবার্য অস্তিত্ববান (ওয়াজিবুল উজুদ), এবং হে প্রত্যেক অস্তিত্বশীলের অস্তিত্বদানকারী, এবং হে কল্যাণ ও বদান্যতার প্রস্রবণ, তাঁর সৃষ্টির প্রতিটি দূরবর্তী ও নিকটবর্তীদের উপরে।"

এর ওপর আলোচনা কয়েকটি দিক থেকে হতে পারে:

প্রথমত: এই বাক্যটি এবং কিতাবের ভূমিকার অনুরূপ বাক্যগুলো চতুর্পদী নুন-বিশিষ্ট। এর দ্বারা আমি বুঝাতে চাচ্ছি যে, এটি চারটি অনুচ্ছেদের সমন্বয়ে গঠিত: যার মধ্যে তিনটি একই অন্ত্যমিলের (ফাসিলাহ) ওপর ভিত্তি করে গঠিত, আর চতুর্থটির অন্ত্যমিল হলো ‘নুন’। তবে ভূমিকার প্রথম তিনটি অনুচ্ছেদের অন্ত্যমিল বর্ণগুলো পরিবর্তিত হয়, যেমন এই বাক্যটিতে রয়েছে ‘দাল’, এবং এর পরবর্তীতে ‘হা’, ‘মিম’, ‘হামযাহ’ এবং অন্য কিছু রয়েছে। যেমন তাঁর কথা: “বিস্ময়কর” (আল-বাহিরাহ), “অনুতাপ” (আন-নাদাম), “অনুগ্রহসমূহ” (আল-আলা), “আত্মসমর্পণ করেছে” (আসলামা) এবং “আপনার মনোনীত বান্দাগণ” (আসফিয়াউকা)—এভাবে ভূমিকার শেষ পর্যন্ত। আর চতুর্থ অংশটি ‘নুন’ বর্ণের জন্য নির্দিষ্ট যা পরিবর্তিত হয় না। আর এর অনুরূপ হলো...
(খণ্ড: ১) শারহু মুখতাসারির রওদা (পৃষ্ঠা: ৫৪)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ــ

الْخُطْبَةِ فِي التَّرْبِيعِ قَوْلُهُ سُبْحَانَهُ تَعَالَى: {إِنْ تَدْعُوهُمْ لَا يَسْمَعُوا دُعَاءَكُمْ وَلَوْ سَمِعُوا مَا اسْتَجَابُوا لَكُمْ وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ يَكْفُرُونَ بِشِرْكِكُمْ وَلَا يُنَبِّئُكَ مِثْلُ خَبِيرٍ} [فَاطِرٍ: 14] . فَالْفِقَرُ الثَّلَاثُ الْأُوَلُ عَلَى الْكَافِ وَالْمِيمِ بِخِطَابِ الْجَمْعِ الْمُذَكَّرِ، وَالرَّابِعَةُ عَلَى الرَّاءِ، وَالنَّظِيرُ هَاهُنَا فِي مُطْلَقِ التَّرْبِيعِ لَا فِي عَيْنِ حُرُوفِ الْفَوَاصِلِ.

وَالْفِقَرُ بِكَسْرِ الْفَاءِ وَفَتْحِ الْقَافِ جَمْعُ فِقْرَةٍ - بِسُكُونِ الْقَافِ - وَهِيَ أَجْوَدُ بَيْتٍ فِي الْقَصِيدَةِ، شُبِّهَ بِفَقَارَةِ الظَّهْرِ، ثُمَّ سُمِّيَتِ الْقِطْعَةُ مِنَ السَّجْعِ فِقْرَةً تَشْبِيهًا بِهِ، وَالْفَاصِلَةُ فِي النَّثْرِ كَالْقَافِيَّةِ فِي الشِّعْرِ، وَقَدْ حَقَّقْتُ الْقَوْلَ فِيهَا فِي كِتَابِ " بُغْيَةِ الْوَاصِلِ إِلَى مَعْرِفَةِ الْفَوَاصِلِ ".

الْوَجْهُ الثَّانِي: لَمَّا كَانَ الْإِنْسَانُ لِمَا جُبِلَ عَلَيْهِ مِنَ الضَّعْفِ وَالْعَجْزِ عَلَى مَا أَخْبَرَ اللَّهُ سبحانه وتعالى عَنْهُ بِقَوْلِهِ: {وَخُلِقَ الْإِنْسَانُ ضَعِيفًا} [النِّسَاءِ: 28] وَ {اللَّهُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ ضَعْفٍ} [الرُّومِ: 54] لَا يَسْتَقِلُّ بِشَيْءٍ مِنْ مُرَادَاتِهِ بِدُونِ إِعَانَةٍ مِنَ اللَّهِ سبحانه وتعالى، وَتَوْفِيقٍ، وَعِصْمَةٍ، وَتَسْدِيدٍ. وَكَانَ دُعَاءُ اللَّهِ سبحانه وتعالى وَنِدَاؤُهُ فِي الْمُهِمَّاتِ وَغَيْرِهَا مَشْرُوعًا، وَافْتِتَاحُ الْأُمُورِ الَّتِي يُرَامُ الشُّرُوعُ فِيهَا بِحَمْدِ اللَّهِ وَالتَّبَرُّكِ بِذِكْرِ اسْمِهِ مَنْدُوبًا، كَمَا قَالَ سبحانه وتعالى: {ادْعُوا رَبَّكُمْ تَضَرُّعًا وَخُفْيَةً} [الْأَعْرَافِ: 55] {أَمَّنْ يُجِيبُ الْمُضْطَرَّ إِذَا دَعَاهُ} [النَّمْلِ: 62] {وَأَيُّوبَ إِذْ نَادَى رَبَّهُ} [الْأَنْبِيَاءِ: 83] فِي آيَاتٍ كَثِيرَةٍ مُشْتَمِلَةٍ عَلَى الْأَمْرِ بِالدُّعَاءِ وَعَلَى الْإِخْبَارِ بِهِ مِنْ أَعْيَانِ الْبَشَرِ مِنَ الْأَنْبِيَاءِ وَالْأَوْلِيَاءِ، وَكَمَا رَوَى أَبُو هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كُلُّ أَمْرٍ ذِي بَالٍ لَا يُبْدَأُ فِيهِ بِالْحَمْدُ لِلَّهِ فَهُوَ أَقْطَعُ. وَفِي رِوَايَةِ
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

—

খুতবা বা ভাষণে চতুষ্পদী বিন্যাসের বিষয়ে মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার বাণী: {তোমরা যদি তাদেরকে ডাকো, তারা তোমাদের ডাক শুনবে না; আর যদি শুনতও তবুও তারা তোমাদের ডাকে সাড়া দিত না। আর কিয়ামতের দিন তারা তোমাদের শিরক অস্বীকার করবে। আর সর্বজ্ঞ (আল্লাহর) ন্যায় কেউ তোমাকে সংবাদ দেবে না} [ফাতির: ১৪]। এখানে প্রথম তিনটি পংক্তি পুংলিঙ্গ বহুবচনের সম্বোধনের ক্ষেত্রে 'কাফ' এবং 'মীম' অক্ষরের ওপর ভিত্তি করে গঠিত, আর চতুর্থ পংক্তিটি 'রা' অক্ষরের ওপর। এখানে সাদৃশ্যটি সাধারণ চতুষ্পদী বিন্যাসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, অন্ত্যমিলের সুনির্দিষ্ট বর্ণের ক্ষেত্রে নয়।

'আল-ফিকার' (ফা বর্ণের নিচে কাসরা এবং ক্বাফ বর্ণের ওপর ফাতহা যোগে) শব্দটি 'ফিকরাহ' (ক্বাফ বর্ণে সুকুন যোগে) শব্দের বহুবচন—যা মূলত কবিতার শ্রেষ্ঠ পংক্তিকে বলা হয়; একে মেরুদণ্ডের হাড়ের সাথে তুলনা করা হয়েছে। পরবর্তীতে গদ্যের অন্ত্যমিলযুক্ত খণ্ডাংশকেও এর সাথে তুলনা করে 'ফিকরাহ' নামকরণ করা হয়েছে। গদ্যের অন্ত্যমিল (ফাসিলা) কবিতার অন্ত্যমিলের (কাফিয়া) ন্যায়। আমি এ বিষয়ে আমার "বুগইয়াতুল ওয়াসিল ইলা মা'রিফাতিল ফাওয়াসিল" নামক কিতাবে সবিস্তারে আলোচনা করেছি।

দ্বিতীয় দিক: মানুষকে যেহেতু তার মজ্জাগত দুর্বলতা ও অক্ষমতার ওপর সৃষ্টি করা হয়েছে—যেমনটি মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তার সম্পর্কে খবর দিয়ে বলেছেন: {মানুষকে দুর্বল করে সৃষ্টি করা হয়েছে} [নিসা: ২৮] এবং {আল্লাহ তিনিই, যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন দুর্বলতা থেকে} [রূম: ৫৪]—সেহেতু সে মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার সাহায্য, তাওফিক, সুরক্ষা ও সঠিক দিকনির্দেশনা ছাড়া তার কোনো উদ্দেশ্যেই সয়ংসম্পূর্ণ হতে পারে না। আর গুরুত্বপূর্ণ ও অন্যান্য বিষয়াদিতে মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাকে ডাকা এবং তাঁর নিকট ফরিয়াদ করা শরিয়তসম্মত করা হয়েছে। তদ্রূপ যেসব কাজ শুরু করার ইচ্ছা করা হয়, তা আল্লাহর প্রশংসা এবং তাঁর নামের বরকত গ্রহণের মাধ্যমে আরম্ভ করা পছন্দনীয় (মানদুব)। যেমনটি মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: {তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ডাকো বিনীতভাবে এবং সংগোপনে} [আরাফ: ৫৫], {নাকি তিনি, যিনি আর্তের ডাকে সাড়া দেন যখন সে তাঁকে ডাকে?} [নামল: ৬২], {এবং আইয়ুবের কথা স্মরণ করো, যখন সে তার প্রতিপালককে ডেকেছিল} [আম্বিয়া: ৮৩]। এ জাতীয় আরও অনেক আয়াত রয়েছে যা দোয়া বা প্রার্থনা করার নির্দেশ সম্বলিত এবং মানবজাতির শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিবর্গ তথা নবী ও ওলিদের পক্ষ থেকে প্রার্থনার বিবরণ সম্বলিত। যেমনটি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, "প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা আল্লাহর প্রশংসা (আলহামদুলিল্লাহ) দ্বারা শুরু করা হয় না, তা অপূর্ণ (বরকতহীন)।" আর অন্য একটি বর্ণনায় রয়েছে—
(খণ্ড: ১) শারহু মুখতাসারির রওদা (পৃষ্ঠা: ৫৫)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ــ

أَبِي دَاوُدَ: كُلُّ كَلَامٍ لَا يُبْدَأُ فِيهِ بِالْحَمْدِ، فَهُوَ أَجْذَمُ رَوَاهُ مِنْ وُجُوهٍ، وَفِي بَعْضِهَا: لَا يُبْدَأُ فِيهِ بِحَمْدِ اللَّهِ فَهُوَ أَبْتَرُ، وَفِي رِوَايَةِ الْمُعَافَى بْنِ عِمْرَانَ عَنِ الْأَوْزَاعِيِّ: كُلُّ أَمْرٍ ذِي بَالٍ لَا يُبْدَأُ فِيهِ بِذِكْرِ اللَّهِ أَوْ حَمْدِهِ فَهُوَ أَقْطَعُ.

ذَكَرَ هَذِهِ الْأَلْفَاظَ بِإِسْنَادِهِ الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمِصْرِيُّ فِي " الْإِفْصَاحِ " وَالْحَدِيثُ مَشْهُورٌ بَيْنَ أَهْلِ الْعِلْمِ

قَدَّمْتُ نِدَاءَ اللَّهِ سبحانه وتعالى وَدُعَاءَهُ بِالتَّوْفِيقِ وَالْإِعَانَةِ عَلَى التَّحْقِيقِ، وَجَعَلْتُ ذَلِكَ تَوْطِئَةً إِلَى حَمْدِهِ وَاسْتِجْلَابِ مَا عِنْدَهُ مِنْ فَوَاضِلِ رِفْدِهِ.

الْوَجْهُ الثَّالِثُ: فِي الْكَلَامِ عَلَى أَلْفَاظِ الْجُمْلَةِ الْمَذْكُورَةِ وَمَعَانِيهَا، فَأَقُولُ: اللَّهُمَّ: أَصْلُهُ يَا اللَّهُ، فَحُذِفَتْ " يَا " مِنْ أَوَّلِهِ وَعُوِّضَ عَنْهَا الْمِيمُ فِي آخِرِهِ، وَلِذَلِكَ لَا يَجْتَمِعَانِ إِلَّا فِي ضَرُورَةِ الشِّعْرِ كَقَوْلِهِ:

إِنِّي إِذَا مَا حَدَثٌ أَلَمَّا … أَقُولُ يَا اللَّهُمَّ يَا اللَّهُمَّا
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

—

আবু দাউদ: প্রতিটি কথা যা প্রশংসা (হামদ) দ্বারা শুরু করা হয় না, তা লেজকাটা (ত্রুটিপূর্ণ)। তিনি এটি বিভিন্ন সূত্রে বর্ণনা করেছেন। কোনো কোনো বর্ণনায় রয়েছে: যাতে আল্লাহর প্রশংসা দ্বারা শুরু করা হয় না, তা ছিন্নমূল। মুয়াফা ইবনে ইমরান আল-আওজায়ি থেকে যে বর্ণনাটি করেছেন তাতে আছে: গুরুত্ববহ প্রতিটি কাজ যা আল্লাহর জিকির বা তাঁর প্রশংসা দ্বারা শুরু করা হয় না, তা অসম্পূর্ণ।

হাসান ইবনে মুহাম্মদ আল-মিসরি "আল-ইফসাহ" গ্রন্থে এই শব্দগুলো তাঁর সনদসহ উল্লেখ করেছেন এবং হাদিসটি আলেমদের নিকট প্রসিদ্ধ।

আমি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার আহ্বান এবং সঠিক বিষয় উদঘাটনের জন্য তাঁর নিকট তাওফিক ও সাহায্যের দুআকে আগে রেখেছি। আমি একে তাঁর প্রশংসার ভূমিকা এবং তাঁর পক্ষ থেকে আসা অতিরিক্ত অনুগ্রহ লাভের উপায় হিসেবে নির্ধারণ করেছি।

তৃতীয় দিক: উল্লিখিত বাক্যের শব্দাবলী এবং এর অর্থসমূহ সম্পর্কে আলোচনা। আমি বলছি: 'আল্লাহুম্মা' এর মূল হলো 'ইয়া আল্লাহ'। এর শুরু থেকে 'ইয়া' বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং এর পরিবর্তে শেষে 'মীম' যুক্ত করা হয়েছে। এ কারণেই কবিতার ছন্দ রক্ষার প্রয়োজন ছাড়া এ দুটি একত্রে আসে না, যেমন কবির উক্তি:

নিশ্চয়ই যখন কোনো বিপদ আপতিত হয় … আমি বলি হে আল্লাহ, হে আল্লাহ।
(খণ্ড: ১) শারহু মুখতাসারির রওদা (পৃষ্ঠা: ৫৬)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ــ

لِئَلَّا يُجْمَعَ بَيْنَ الْعِوَضِ وَالْمُعَوَّضِ، وَكَانَ مَا فَعَلُوهُ مِنَ الْحَذْفِ وَالتَّعْوِيضِ لِوَجْهَيْنِ:

أَحَدُهُمَا: أَنْ يَكُونَ الِابْتِدَاءُ بِلَفْظِ اسْمِ اللَّهِ تَبَرُّكًا وَتَعْظِيمًا.

وَالثَّانِي: طَلَبًا لِلتَّخْفِيفِ بِتَصْيِيرِ اللَّفْظَيْنِ لَفْظًا وَاحِدًا، كَمَا قَالُوا: أَيْشٍ هَذَا، وَأَصْلُهُ أَيُّ شَيْءٍ هَذَا فِي نَظَائِرَ لَهُ كَثِيرَةٍ.

أَمَّا وَاجِبُ الْوُجُودِ: فَالْوَاجِبُ هُوَ الْمُسْتَقِرُّ الثَّابِتُ، وَسَيَأْتِي إِنْ شَاءَ اللَّهُ سبحانه وتعالى لَهُ مَزِيدُ بَيَانٍ عِنْدَ ذِكْرِ أَقْسَامِ الْأَحْكَامِ.

وَالْوُجُودُ: هُوَ الْإِثْبَاتُ الصِّرْفُ، كَمَا أَنَّ نَقِيضَهُ - وَهُوَ الْعَدَمُ - النَّفْيُ الصِّرْفُ، وَلِذَلِكَ ذَهَبَ الْمُحَقِّقُونَ إِلَى أَنَّ الْوُجُودَ فِي الْمَعْلُومَاتِ بَدِيهَةٌ، فَهُوَ غَنِيٌّ عَنِ التَّعْرِيفِ.

إِذَا عَرَفْتَ هَذَا فَقَوْلُهُمْ: وَاجِبُ الْوُجُودِ عِبَارَةٌ أَحْدَثَهَا الْفَلَاسِفَةُ وَالْمُتَكَلِّمُونَ وَهِيَ لَا تُعْرَفُ فِي كَلَامِ الشَّارِعِ وَلَا فِي كَلَامِ السَّلَفِ فِيمَا عَلِمْنَا، لَكِنَّ مَعْنَاهُ ثَابِتٌ فِي كَلَامِ الشَّارِعِ، مُجْمَعٌ عَلَيْهِ، فَإِنَّ مَعْنَى وَاجِبِ الْوُجُودِ عِنْدَ أَهْلِ هَذِهِ الْعِبَارَةِ، هُوَ الْمَوْجُودُ الَّذِي لَمْ يَسْبِقْ وُجُودَهُ عَدَمٌ، وَوُجُودُهُ مِنْ ذَاتِهِ لِذَاتِهِ، لَا مِنْ سَبَبٍ خَارِجٍ، وَلَا لِعِلَّةِ خَارِجَةٍ، وَهَذَا مَعْنَى قَوْلِهِ تَعَالَى: {هُوَ الْأَوَّلُ وَالْآخِرُ} [الْحَدِيدِ: 3] ، وَقَوْلِهِ عليه السلام: أَنْتَ الْأَوَّلُ فَلَيْسَ قَبْلَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الْآخِرُ فَلَيْسَ بَعْدَكَ شَيْءٌ فِي حَدِيثٍ صَحِيحٍ رَوَاهُ مُسْلِمٌ وَأَبُو دَاوُدَ وَالنَّسَائِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ.
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

—

যাতে বিনিময় ও যার বিনিময় করা হয়েছে—এ দুটোর একত্রীকরণ না ঘটে। আর তারা বিলুপ্তি ও বিনিময়ের যে পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন তা দুটি কারণে:

প্রথমটি: বরকত এবং সম্মান প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে আল্লাহর নামের শব্দ দিয়ে শুরু করা।

দ্বিতীয়টি: উচ্চারণের সহজসাধ্যতা অন্বেষণ করা, যাতে দুটি শব্দকে একটি শব্দে পরিণত করা যায়; যেমন তারা বলে থাকে: ‘আইশা হাযা’ (এটি কী?), যার মূল রূপ হলো ‘আইয়্যু শাইয়িন হাযা’। এই জাতীয় উদাহরণ আরও অনেক রয়েছে।

আর ‘ওয়াজিবুল উজুদ’ (অস্তিত্ব অনিবার্য) প্রসঙ্গে: ‘ওয়াজিব’ হলো যা সুপ্রতিষ্ঠিত ও স্থির। ইনশাআল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা, আহকামের প্রকারভেদ বর্ণনার সময় এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা আসবে।

আর ‘উজুদ’ (অস্তিত্ব) হলো কেবল সাব্যস্ত করা বা ইতিবাচকতা, যেমন এর বিপরীত হলো ‘আদম’ (অনস্তিত্ব) তথা কেবল অস্বীকার করা বা নেতিবাচকতা। এই কারণে গবেষকগণ এ মত পোষণ করেছেন যে, জ্ঞাত বিষয়সমূহের মধ্যে অস্তিত্ব বিষয়টি স্বত:সিদ্ধ; সুতরাং এটি সংজ্ঞায়িত করার প্রয়োজন থেকে মুক্ত।

আপনি যখন এটি জানলেন, তখন তাদের উক্তি ‘ওয়াজিবুল উজুদ’ সম্পর্কে বলা যায় যে, এটি দার্শনিক ও ইলমুল কালামবিদদের উদ্ভাবিত একটি পরিভাষা। আমাদের জানা মতে এটি শরিয়ত প্রবর্তকের ভাষ্যে কিংবা সালাফদের বাণীতে পাওয়া যায় না। তবে এর মর্মার্থ শরিয়ত প্রবর্তকের বাণীতে সুপ্রমাণিত এবং এ বিষয়ে ঐকমত্য রয়েছে। কারণ এই পরিভাষা ব্যবহারকারীদের নিকট ‘ওয়াজিবুল উজুদ’-এর অর্থ হলো এমন বিদ্যমান সত্তা, যাঁর অস্তিত্বের পূর্বে কোনো অনস্তিত্ব ছিল না এবং যাঁর অস্তিত্ব তাঁর নিজ সত্তা থেকেই তাঁর নিজ সত্তার জন্য; কোনো বাহ্যিক কারণ কিংবা বাহ্যিক হেতুর ওপর নির্ভরশীল নয়। আর এটিই মহান আল্লাহর বাণীর অর্থ: “তিনিই প্রথম ও তিনিই শেষ” [আল-হাদিদ: ৩]। এবং রাসূলুল্লাহ আলাইহিস সালামের এই বাণীরও অনুরূপ অর্থ: “আপনিই প্রথম, সুতরাং আপনার পূর্বে কিছু নেই; আর আপনিই শেষ, সুতরাং আপনার পরে কিছু নেই।” এটি একটি সহিহ হাদিস যা মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ এবং ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) শারহু মুখতাসারির রওদা (পৃষ্ঠা: ৫৭)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ــ

وَتَحْقِيقُ الْكَلَامِ فِي هَذَا الْمَقَامِ: أَنَّ الشَّيْءَ أَوِ الْمَعْلُومَ إِمَّا أَنْ يَجِبَ وُجُودُهُ لِذَاتِهِ أَوْ يَمْتَنِعَ وُجُودُهُ لِذَاتِهِ، أَوْ يَكُونَ لِذَاتِهِ جَائِزَ الْوُجُودِ وَالْعَدَمِ ابْتِدَاءً أَوْ دَوَامًا، أَعْنِي دَوَامَهُ عَلَى الْعَدَمِ الْأَصْلِيِّ، كَإِنْسَانٍ لَمْ يُوجَدْ بَعْدُ، أَوْ عَدَمَهُ بَعْدَ وُجُودِهِ، كَإِنْسَانٍ وُجِدَ ثُمَّ عُدِمَ.

فَالْأَوَّلُ: هُوَ وَاجِبُ الْوُجُودِ، وَهُوَ اللَّهُ سبحانه وتعالى وَصِفَاتُهُ الذَّاتِيَّةُ، أَيِ: الْقَائِمَةُ بِذَاتِهِ، كَالْحَيَاةِ وَالْعِلْمِ وَالْقُدْرَةِ وَالْإِرَادَةِ وَالْكَلَامِ، وَنَحْوِهَا، لَا غَيْرَ:

وَالثَّانِي: وَهُوَ الْمُحَالُ الْمُمْتَنِعُ الْوُجُودِ، كَالْجَمْعِ بَيْنَ الضِّدَّيْنِ، كَالسَّوَادِ وَالْبَيَاضِ فِي مَحِلٍّ وَاحِدٍ، أَوْ بَيْنَ النَّقِيضَيْنِ، كَكَوْنِ الشَّيْءِ مَعْدُومًا مَوْجُودًا فِي زَمَانٍ وَاحِدٍ، وَقَدْ يَجِبُ وُجُودُ الشَّيْءِ لِغَيْرِهِ، وَيَمْتَنِعُ وَجُودُهُ لِغَيْرِهِ، كَمَا سَيَأْتِي بَيَانُهُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ سبحانه وتعالى عِنْدَ ذِكْرِ تَكْلِيفِ الْمُحَالِ.

وَالثَّالِثُ: وَهُوَ مَا كَانَ لِذَاتِهِ جَائِزَ الْوُجُودِ وَالْعَدَمِ، يُسَمَّى مُمْكِنًا، كَالْعَالَمِ وَسَائِرِ أَجْزَائِهِ، وَلَا بُدَّ فِيهِ مِنْ سَبَبٍ آخَرَ يَخْتَصُّ بِالْوَاجِبِ وَالْمُمْكِنِ، وَهُوَ أَنَّ الشَّيْءَ إِنِ افْتَقَرَ فِي وُجُودِهِ إِلَى سَبَبٍ مُؤَثِّرٍ فِيهِ خَارِجٍ عَنْ ذَاتِهِ، فَهُوَ الْمُمْكِنُ الْجَائِزُ، وَإِنْ لَمْ يَفْتَقِرْ، فَهُوَ الْوَاجِبُ.

وَإِنَّمَا قُلْنَا: إِنَّ هَذَا التَّقْسِيمَ يَخْتَصُّ الْوَاجِبَ وَالْمُمْكِنَ، لِأَنَّ الْمُمْتَنِعَ لَا وُجُودَ لَهُ حَتَّى يَفْتَقِرَ إِلَى مُؤَثِّرٍ خَارِجٍ، أَوْ يَسْتَغْنِيَ عَنْهُ.

وَمَعْنَى قَوْلِنَا: وَاجِبُ الْوُجُودِ لِذَاتِهِ أَوْ لِغَيْرِهِ، وَهَذَا مَوْجُودٌ لِذَاتِهِ أَوْ لِغَيْرِهِ: أَنَّ عِلَّةَ وُجُودِهِ ذَاتُهُ أَوْ غَيْرُهُ، وَلِهَذَا كَانَ الْمَوْجُودُ لِذَاتِهِ دَائِمَ الْبَقَاءِ مَا دَامَتْ ذَاتُهُ مَوْجُودَةً، بِخِلَافِ مَا عِلَّةُ وُجُودِهِ أَمْرٌ خَارِجٌ عَنْ ذَاتِهِ، فَإِنَّهُ يَزُولُ بِزَوَالِ عِلَّتِهِ.
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

—

আর এই প্রসঙ্গের তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ হলো: কোনো বস্তু বা জ্ঞাত বিষয় হয় তার নিজ সত্তার কারণেই বিদ্যমান হওয়া আবশ্যক, অথবা তার নিজ সত্তার কারণেই বিদ্যমান হওয়া অসম্ভব, অথবা তার নিজ সত্তার বিচারে বিদ্যমান থাকা বা না থাকা উভয়ই বৈধ—তা সূচনালগ্নে হোক বা স্থায়িত্বের ক্ষেত্রে হোক; অর্থাৎ তার মূল অস্তিত্বহীনতার ওপর স্থায়িত্ব, যেমন এমন এক মানুষ যে এখনো অস্তিত্ব লাভ করেনি, অথবা অস্তিত্ব লাভের পর তার অস্তিত্বহীন হওয়া, যেমন এমন এক মানুষ যে বিদ্যমান ছিল অতঃপর অস্তিত্বহীন হয়ে গেছে।

প্রথম প্রকার: তা হলো 'ওয়াজিবুল ওজুদ' (অপরিহার্য অস্তিত্ববান), আর তিনি হলেন মহান পবিত্র আল্লাহ তাআলা এবং তাঁর সত্তাগত গুণাবলি; অর্থাৎ যা তাঁর সত্তার সাথে বিদ্যমান, যেমন—জীবন, জ্ঞান, ক্ষমতা, ইচ্ছা, কথা এবং এ জাতীয় গুণাবলি, অন্য কিছু নয়:

দ্বিতীয় প্রকার: তা হলো 'মুহাল' বা যার অস্তিত্ব অসম্ভব; যেমন একই আধারে দুটি বিপরীত বিষয়ের সমাবেশ ঘটানো, যেমন একই স্থানে কালো ও সাদা রঙ একত্রিত করা, অথবা দুটি পরস্পরবিরোধী বিষয়ের সমাবেশ ঘটানো, যেমন একই সময়ে কোনো বস্তু বিদ্যমান ও অস্তিত্বহীন হওয়া। আবার কোনো বস্তুর অস্তিত্ব অন্যের কারণে আবশ্যক হতে পারে, কিংবা অন্যের কারণে অসম্ভব হতে পারে; যেমনটি ইনশাআল্লাহ মহান পবিত্র আল্লাহ তাআলার ইচ্ছায় 'অসম্ভব বিষয়ের দায়িত্বারোপ' সংক্রান্ত আলোচনার সময় সামনে আসবে।

তৃতীয় প্রকার: তা হলো যা তার সত্তাগতভাবে বিদ্যমান থাকা ও না থাকা উভয়ই বৈধ, একে 'মুমকিন' (সম্ভবপর) বলা হয়, যেমন জগৎ এবং এর যাবতীয় অংশসমূহ। এর ক্ষেত্রে অবশ্যই এমন একটি ভিন্ন কারণ থাকতে হবে যা 'ওয়াজিব' ও 'মুমকিন'-এর মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি করে। বিষয়টি হলো—যদি কোনো বস্তু তার অস্তিত্বের জন্য তার সত্তার বহির্ভূত কোনো প্রভাবশালী কারণের মুখাপেক্ষী হয়, তবে তা 'মুমকিন' বা সম্ভবপর; আর যদি মুখাপেক্ষী না হয়, তবে তা 'ওয়াজিব' বা আবশ্যক।

আমরা একারণেই বলেছি যে, এই বিভাজনটি কেবল 'ওয়াজিব' এবং 'মুমকিন'-এর সাথে সুনির্দিষ্ট; কারণ যা অসম্ভব (মুমতানি‘) তার তো কোনো অস্তিত্বই নেই যে সে কোনো বাহ্যিক প্রভাবকের মুখাপেক্ষী হবে কিংবা তা থেকে অমুখাপেক্ষী হবে।

আর আমাদের এই কথার অর্থ—'সত্তাগতভাবে বা অন্যের কারণে অস্তিত্ব আবশ্যক' এবং 'এটি সত্তাগতভাবে বা অন্যের কারণে বিদ্যমান': তা হলো এই যে, তার অস্তিত্বের কারণ হলো তার নিজ সত্তা অথবা অন্য কোনো কিছু। একারণেই যা নিজ সত্তার কারণে বিদ্যমান, তা ততক্ষণ স্থায়ী থাকে যতক্ষণ তার সত্তা বিদ্যমান থাকে; পক্ষান্তরে যার অস্তিত্বের কারণ তার সত্তার বহির্ভূত কোনো বিষয়, সেই কারণটি বিলুপ্ত হওয়ার সাথে সাথে তার অস্তিত্বও বিলীন হয়ে যায়।
(খণ্ড: ১) শারহু মুখতাসারির রওদা (পৃষ্ঠা: ৫৮)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ــ

فَإِنْ قِيلَ: فَالْمَوْجُودُ لِذَاتِهِ لَوْ قُدِّرَ زَوَالُ عِلَّتِهِ، وَهِيَ ذَاتُهُ، لَزَالَ.

قُلْنَا: نَعَمْ، لَكِنْ مَا عِلَّةُ وُجُودِهِ ذَاتُهُ لَا يُمْكِنُ زَوَالُ عِلَّتِهِ حَتَّى يَزُولَ، لِمَا تَقَرَّرَ فِي الْعِلْمِ الْكَلَامِيِّ.

وَقَوْلُهُ: وَيَا مُوجِدَ كُلِّ مَوْجُودٍ " يَعْنِي مِنَ الْمُمْكِنَاتِ، وَهُوَ الْعَالَمُ بِأَسْرِهِ، وَاللَّهُ سبحانه وتعالى هُوَ الَّذِي أَوْجَدَهَا، وَأَفَاضَ عَلَيْهَا وُجُودَهَا بِقُدْرَتِهِ. وَقَوْلُهُ: " وَيَا مُفِيضَ الْخَيْرِ وَالْجُودِ " الْخَيْرُ: ضِدُّ الشَّرِّ، وَهُوَ مَا يُلَائِمُ الطَّبْعَ الْمُعْتَدِلَ السَّلِيمَ وَيَخْتَارُهُ الْعَاقِلُ، نَعَمْ قَدْ يَكُونُ وَجْهُ الِاخْتِيَارِ فِي الشَّيْءِ ظَاهِرًا، كَالْعَافِيَةِ الدَّائِمَةِ، وَالرِّئَاسَةِ الْعَالِيَةِ، وَالْمَآكِلِ وَالْمُشَارِبِ الْمُسْتَطَابَةِ، وَقَدْ يَكُونُ خَفِيًّا كَامِنًا فِي ضِدِّهِ، حَتَّى إِذَا ظَهَرَ، لَاحَ وَجْهُ الِاخْتِيَارِ فِيهِ، كَالْأَمْرَاضِ وَالْعَاهَاتِ وَالذُّلِّ وَالْخُمُولِ الْمُفْضِيَةِ إِلَى الصِّحَّةِ، وَالرِّفْعَةِ فِي الْعُقْبَى، وَشُرْبِ الْأَدْوِيَةِ الْكَرِيهَةِ الْمُفْضِي إِلَى زَوَالِ الْعِلَّةِ، فَهِيَ خَيْرَاتٌ بِاعْتِبَارِ مَعْنَاهَا وَمَآلِهَا، وَإِنْ كَانَتْ شُرُورًا بِاعْتِبَارِ صُورَتِهَا وَحَالِهَا، وَأَفْعَالُ اللَّهِ سبحانه وتعالى فِي الْوُجُودِ كُلُّهَا حِكْمَةٌ وَخَيْرٌ، لَكِنْ مِنْهَا مَا ظَهَرَ فِيهِ وَجْهُ الِاخْتِيَارِ، كَالنَّافِعِ مِنَ الْحَيَوَانِ وَالزُّرُوعِ وَالثِّمَارِ، وَمِنْهَا مَا خَفِيَ فِيهِ ذَلِكَ كَالْمُضِرِّ مِنَ السِّبَاعِ وَأَنْوَاعِ الْعَقَارِ، حَتَّى قَالَ بَعْضُ مَنْ أَوْجَبَ عَلَى اللَّهِ سبحانه وتعالى رِعَايَةَ مَصَالِحِ عِبَادِهِ: إِنَّ دُخُولَ النَّارِ وَالْخُلُودَ فِيهَا هُوَ الْأَصْلَحُ لِلْكُفَّارِ، وَإِنْ كَانَ قَوْلًا لَا يَثْبُتُ عِنْدَ الِاعْتِبَارِ.

وَالْخَيْرُ مِنْ حَيْثُ اللَّفْظُ مَصْدَرُ: خَارَ يَخِيرُ خَيْرًا: إِذَا صَارَ خَيِّرًا، وَخَارَ اللَّهُ لَهُ يَخِيرُ لَهُ خَيْرًا. إِذَا اخْتَارَ لَهُ مَا يُوَافِقُهُ.

وَمِنْ حَيْثُ الْمَعْنَى: هُوَ ضِدُّ الشَّرِّ، وَهُوَ مَا وَافَقَ الْغَرَضَ بِوَجْهٍ مَا، وَهُوَ مِنَ
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

—

যদি বলা হয়: স্বয়ংসত্তা যার অস্তিত্বের কারণ, যদি সেই কারণের (অর্থাৎ তাঁর সত্তার) বিলুপ্তি কল্পনা করা হয়, তবে তাঁরও বিলুপ্তি ঘটবে।

আমরা বলি: হ্যাঁ, কিন্তু যাঁর অস্তিত্বের কারণ তাঁর নিজ সত্তা, তাঁর সেই কারণের বিলুপ্তি ঘটা অসম্ভব যাতে তাঁর বিলুপ্তি ঘটে; যেমনটি ইলমে কালামে (ধর্মতত্ত্বে) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

এবং তাঁর বক্তব্য: "হে সকল বিদ্যমান বস্তুর অস্তিত্বদানকারী," এর অর্থ হলো সম্ভাব্য অস্তিত্বসমূহ (মুমকিনাত), যা সমগ্র জগত। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা-ই এদের অস্তিত্ব দান করেছেন এবং স্বীয় কুদরতের মাধ্যমে তাদের ওপর অস্তিত্বের প্রবাহ দান করেছেন। এবং তাঁর কথা: "হে কল্যাণ ও দানশীলতার বর্ষণকারী।" কল্যাণ হলো অকল্যাণের বিপরীত। এটি এমন কিছু যা পরিমিত ও সুস্থ স্বভাবের অনুকূল এবং বুদ্ধিমান ব্যক্তি যা নির্বাচন করে। হ্যাঁ, কোনো বিষয়ে নির্বাচনের দিকটি কখনও স্পষ্ট হয়, যেমন স্থায়ী সুস্থতা, উচ্চ মর্যাদা এবং সুস্বাদু খাদ্য ও পানীয়। আবার কখনও তা অস্পষ্ট থাকে এবং তার বিপরীত অবস্থার মধ্যে সুপ্ত থাকে, এমনকি যখন তা প্রকাশ পায়, তখন তাতে নির্বাচনের দিকটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। যেমন রোগব্যাধি, শারীরিক ত্রুটি, অপমান ও অখ্যাত অবস্থা—যা পরবর্তীতে সুস্থতা, পরকালীন উচ্চমর্যাদা এবং অরুচিকর ঔষধ সেবনের দিকে পরিচালিত করে যা রোগের উপশম ঘটায়। অতএব, এগুলো তাদের তাৎপর্য ও পরিণতির বিচারে কল্যাণকর, যদিও বাহ্যিক রূপ ও অবস্থার বিচারে অকল্যাণকর বলে মনে হয়। অস্তিত্বের জগতে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার সকল কাজই প্রজ্ঞা ও কল্যাণে ভরপুর। তবে তার মধ্যে কিছু এমন আছে যাতে কল্যাণ স্পষ্ট, যেমন উপকারী প্রাণী, ফসল ও ফলমূল। আবার কিছু এমন আছে যাতে তা অস্পষ্ট, যেমন ক্ষতিকারক হিংস্র প্রাণী ও বিভিন্ন বিষাক্ত লতাগুল্ম। এমনকি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার ওপর তাঁর বান্দাদের কল্যাণ নিশ্চিত করা যারা আবশ্যক মনে করেন, তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: জাহান্নামে প্রবেশ করা এবং সেখানে চিরকাল থাকা কাফিরদের জন্য অধিকতর কল্যাণকর। যদিও এই বক্তব্যটি পর্যালোচনার নিরিখে টিকবে না।

শাব্দিক দিক থেকে 'খাইর' (কল্যাণ) শব্দটি হলো 'খারা ইয়াখিরু খাইরান' ক্রিয়ামূলের উৎস: এর অর্থ হলো যখন কেউ কল্যাণবান হয়। আর 'আল্লাহ তার জন্য খাইর করেছেন' এর অর্থ: যখন তিনি তার জন্য তাই পছন্দ করেন যা তার অনুকূল।

আর অর্থের দিক থেকে: এটি অকল্যাণের বিপরীত। এটি এমন যা কোনো না কোনোভাবে লক্ষ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। এটি...
(খণ্ড: ১) শারহু মুখতাসারির রওদা (পৃষ্ঠা: ৫৯)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ــ

الْإِضَافِيَّاتِ، أَيْ قَدْ يَكُونُ الشَّيْءُ خَيْرًا مِنْ وَجْهٍ دُونَ وَجْهٍ.

وَالْجُودُ: مَصْدَرُ جَادَ الرَّجُلُ بِمَالِهِ يَجُودُ جُودًا: إِذَا بَذَلَهُ لَا لِعِوَضٍ، وَأَصْلُهُ مِنَ الْجَوْدِ بِفَتْحِ الْجِيمِ، وَهُوَ الْمَطَرُ الْغَزِيرُ، يُقَالُ: جَادَ الْمَطَرُ يَجُودُ جَوْدًا.

وَمُفِيضُ: اسْمُ فَاعِلٍ مِنْ: أَفَاضَ يُفِيضُ إِفَاضَةً، فَهُوَ مُفِيضٌ، وَحَقِيقَتُهُ فِي الْمَاءِ وَنَحْوِهِ مِنَ الْمَائِعَاتِ، يُقَالُ: فَاضَ الْقَدَحُ وَالْإِنَاءُ إِذَا صَبَبْتَ فِيهِ مِنَ الْمَائِعِ حَتَّى امْتَلَأَ، وَجَعَلَ يَتَبَدَّدُ مِنْ حَافَّاتِهِ، وَاسْتِعْمَالُهُ فِي الْمَعَانِي، نَحْوَ: أَفَاضَ الْخَيْرُ وَالْعَطَاءُ، وَأَفَاضُوا فِي الْحَدِيثِ، وَأَفَاضَ الْحَاجُّ مِنْ مِنًى إِلَى الْبَيْتِ لِلطَّوَافِ مَجَازٌ، وَهَذِهِ الْمَادَّةُ بِالضَّادِ، أَمَّا قَوْلُهُمْ: فَاظَتْ نَفْسُهُ فَفِيهِ مَعْنَى الْفَيْضِ إِلَّا أَنَّهُ بِالظَّاءِ، إِمَّا مُلَاحَظَةً لِمَعْنًى آخَرَ، أَوْ فَرْقًا بَيْنَ فَاضَ الْمَاءُ وَفَاظَتْ نَفْسُهُ، وَكَثِيرًا مَا يُفَرِّقُونَ بِاخْتِلَافِ الْحُرُوفِ بَيْنَ الْمَعَانِي وَالْمَدْلُولَاتِ، كَقَوْلِهِمْ: الْبَيْضُ كُلُّهُ بِالضَّادِ إِلَّا بَيْظَ النَّمْلِ بِالظَّاءِ.

 

وَقَوْلُهُ: «عَلَى كُلِّ قَاصٍ مِنْ خَلْقِهِ وَدَانٍ» . الْقَاصِي: الْبَعِيدُ، وَالدَّانِي: الْقَرِيبُ. وَالَّذِي خَطَرَ بِبَالِي وَقْتَ إِنْشَاءِ الْخُطْبَةِ الْقُرْبُ وَالْبُعْدُ الْمَكَانِيُّ، وَهُوَ إِنَّمَا يَصِحُّ بِالنِّسْبَةِ إِلَى أَجْزَاءِ الْعَالَمِ مِنْ شَخْصٍ وَمَكَانِ صِحَّةٍ إِضَافِيَّةٍ، مَثَلًا مَنْ فِي الشَّامِ أَقْرَبُ إِلَى مَنْ بِمِصْرَ مِمَّنْ بِبَغْدَادَ وَبِلَادِ الْمَشْرِقِ، وَبِالْعَكْسِ مَنْ بِالشَّامِ أَقْرَبُ إِلَى مَنْ بِبَغْدَادَ مِمَّنْ بِمِصْرَ وَبِلَادِ الْمَغْرِبِ، وَإِنَّمَا قُلْنَا هَذَا، لِأَنَّ اللَّهَ سبحانه وتعالى هُوَ أَقْرَبُ إِلَى كُلِّ أَحَدٍ مِنْ حَبْلِ الْوَرِيدِ، فَلَا يُقَالُ: إِنَّ بَعْضَ الْأَشْيَاءِ أَقْرَبُ إِلَيْهِ مِنْ بَعْضٍ، وَاللَّهُ سبحانه وتعالى عَلَى
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--

আপেক্ষিক বিষয়সমূহ, অর্থাৎ কোনো কোনো সময় একটি বস্তু এক দিক থেকে কল্যাণকর হতে পারে কিন্তু অন্য দিক থেকে নয়।

উদারতা (জুদ): এটি 'জাদা' ব্যক্তির সম্পদ দান করা ক্রিয়ার ক্রিয়ামূল। যখন সে কোনো বিনিময় ছাড়া তা দান করে। এর মূল উৎস হলো 'জাওদ' (জিম বর্ণের ওপর জবরসহ), যার অর্থ প্রবল বৃষ্টিপাত। বলা হয়: প্রবল বৃষ্টি বর্ষিত হয়েছে।

প্রবাহকারী (মুফীজ): এটি 'আফাদা-ইউফিদু-ইফাদাতান' থেকে আগত কর্তৃবাচক বিশেষ্য। এর প্রকৃত ব্যবহার পানি বা অনুরূপ তরল পদার্থের ক্ষেত্রে হয়। বলা হয়: পেয়ালা বা পাত্রটি উপচে পড়েছে যখন আপনি তাতে কোনো তরল ঢাললেন এবং তা পূর্ণ হয়ে কিনার দিয়ে গড়িয়ে পড়তে শুরু করল। বিমূর্ত অর্থের ক্ষেত্রে এর ব্যবহার রূপক, যেমন: কল্যাণ ও দান প্রবাহিত হয়েছে, তারা আলোচনায় মগ্ন হয়েছে এবং হাজিগণ মিনা থেকে বায়তুল্লাহর দিকে তাওয়াফের জন্য প্রস্থান করেছেন। এই মূল ধাতুটি 'দ্বদ' (ض) বর্ণ দিয়ে গঠিত। পক্ষান্তরে তাদের উক্তি: 'তার প্রাণবায়ু নির্গত হয়েছে' এর মধ্যেও প্রবাহের অর্থ রয়েছে তবে তা 'যা' (ظ) বর্ণ দিয়ে গঠিত। এটি হয় অন্য কোনো অর্থের দিকে লক্ষ্য রেখে করা হয়েছে অথবা 'পানি উপচে পড়া' এবং 'প্রাণবায়ু নির্গত হওয়া'-র মধ্যে পার্থক্য করার জন্য করা হয়েছে। আরবরা প্রায়ই বর্ণের ভিন্নতার মাধ্যমে অর্থ ও সংজ্ঞার মাঝে পার্থক্য করে থাকে, যেমন তাদের উক্তি: ডিমের সকল শব্দ 'দ্বদ' (ض) দিয়ে হয় কেবল পিঁপড়ার ডিম 'যা' (ظ) বর্ণ দিয়ে লেখা হয়।

 

তাঁর উক্তি: "তাঁর সৃষ্টির প্রতিটি দূরবর্তী ও নিকটবর্তীর ওপর"। 'কাসি' অর্থ দূরবর্তী এবং 'দানি' অর্থ নিকটবর্তী। খুতবা রচনার সময় আমার অন্তরে যে বিষয়টি এসেছিল তা হলো স্থানিক দূরত্ব ও নৈকট্য। এটি বিশ্বের বিভিন্ন অংশ, ব্যক্তি ও স্থানের সাপেক্ষে কেবল আপেক্ষিকভাবেই সঠিক হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, সিরিয়ায় অবস্থানকারী ব্যক্তি বাগদাদ ও প্রাচ্যের দেশসমূহে অবস্থানকারীর তুলনায় মিসরে অবস্থানকারীর নিকটবর্তী। আবার বিপরীতভাবে, সিরিয়ায় অবস্থানকারী ব্যক্তি মিসর ও প্রতীচ্যের দেশসমূহে অবস্থানকারীর তুলনায় বাগদাদে অবস্থানকারীর নিকটবর্তী। আমরা এ কথাটি এ কারণেই বললাম যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা প্রত্যেকের শাহরগের চেয়েও বেশি নিকটবর্তী। সুতরাং এমনটি বলা যাবে না যে, কিছু সৃষ্টি তাঁর নিকট অন্য সৃষ্টির তুলনায় বেশি নিকটবর্তী। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা...

(খণ্ড: ১) শারহু মুখতাসারির রওদা (পৃষ্ঠা: ৬০)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ــ

خِلَافِ الْمُشَاهَدَاتِ فِي الْقُرْبِ وَالْبُعْدِ وَالظُّهُورِ وَالْبُطُونِ، فَهُوَ ظَاهِرٌ فِي اخْتِفَائِهِ، بَاطِنٌ فِي ظُهُورِهِ، قَرِيبٌ فِي بُعْدِهِ، بَعِيدٌ فِي قُرْبِهِ {هُوَ الْأَوَّلُ وَالْآخِرُ وَالظَّاهِرُ وَالْبَاطِنُ وَهُوَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ} [الْحَدِيدِ: 3] .

وَأَيْضًا كَمَا لَا يُقَالُ: إِنَّ بَعْضَ الْمَخْلُوقَاتِ أَهْوَنُ عَلَيْهِ مِنْ بَعْضٍ، لَا يُقَالُ: بَعْضُهَا أَقْرَبُ إِلَيْهِ مِنْ بَعْضٍ خُصُوصًا عَلَى قَوْلِ مَنْ يَنْفِي الْجِهَةَ، أَوْ يَقُولُ: إِنَّهُ بِذَاتِهِ فِي كُلِّ مَكَانٍ، فَلَا يُتَصَوَّرُ الْأَقْرَبُ وَالْأَبْعَدُ بِالنِّسْبَةِ إِلَيْهِ سبحانه وتعالى، أَمَّا مَنْ يُثْبِتُ الْجِهَةَ، فَقَدْ يُمْكِنُ تَوْجِيهُ ذَلِكَ عَلَى قَوْلِهِ، وَيَجُوزُ تَخْرِيجُ الْكَلَامِ عَلَى الْقُرْبِ وَالْبُعْدِ بِالطَّاعَةِ وَالْمَعْصِيَةِ. فَيَكُونُ مَعْنَاهُ: مُفِيضَ الْخَيْرِ عَلَى كُلِّ قَرِيبٍ إِلَيْكَ، أَيْ: إِلَى رَحْمَتِكَ بِالطَّاعَةِ، وَكُلِّ بَعِيدٍ عَنْكَ بِالْمَعْصِيَةِ، وَمِنَ الْمَعْلُومِ أَنَّ اللَّهَ سبحانه وتعالى أَسْبَغَ إِنْعَامَهُ عَلَى الْمُطِيعِ وَالْعَاصِي، وَالْمُؤْمِنِ وَالْكَافِرِ، وَالْبَرِّ وَالْفَاجِرِ.
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

—

নৈকট্য ও দূরত্ব এবং প্রকাশ ও অপ্রকাশের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অভিজ্ঞতার বিপরীত। তিনি তাঁর অপ্রকাশিত থাকা অবস্থায় প্রকাশ্য এবং তাঁর প্রকাশ্য অবস্থায় অপ্রকাশিত; তিনি তাঁর দূরত্বে নিকটবর্তী এবং তাঁর নৈকট্যে দূরবর্তী। "তিনিই প্রথম, তিনিই শেষ, তিনিই প্রকাশ্য এবং তিনিই অপ্রকাশ্য; আর তিনি সর্ববিষয়ে সম্যক পরিজ্ঞাত।" [আল-হাদিদ: ৩]।

অনুরূপভাবে, যেমনটি বলা হয় না যে কোনো কোনো সৃষ্টি তাঁর জন্য অন্যের চেয়ে অধিকতর সহজ, তেমনি এটাও বলা হয় না যে কোনো কোনো সৃষ্টি অন্যের চেয়ে তাঁর অধিকতর নিকটবর্তী—বিশেষ করে তাদের মতানুসারে যারা দিক অস্বীকার করেন অথবা বলেন যে তিনি স্বীয় সত্তাসহ সব স্থানেই বিরাজমান। সুতরাং তাঁর (আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার) ক্ষেত্রে অধিকতর নিকটবর্তী হওয়া বা অধিকতর দূরবর্তী হওয়ার কল্পনা করা যায় না। তবে যারা দিক সাব্যস্ত করেন, তাদের মতানুসারে এর ব্যাখ্যা দেওয়া সম্ভব হতে পারে। আর এই বক্তব্যের ব্যাখ্যা আনুগত্য ও অবাধ্যতার মাধ্যমে নৈকট্য ও দূরত্বের অর্থে করাও জায়েজ। সেক্ষেত্রে এর অর্থ দাঁড়াবে: আপনার প্রতিটি নিকটবর্তী ব্যক্তির ওপর—অর্থাৎ আনুগত্যের মাধ্যমে আপনার রহমতের নিকটবর্তী ব্যক্তির ওপর—এবং আপনার থেকে দূরে থাকা প্রত্যেক ব্যক্তির ওপর—অর্থাৎ অবাধ্যতার কারণে দূরে থাকা ব্যক্তির ওপর—কল্যাণ বর্ষণকারী। আর এটি সুপরিচিত যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আনুগত্যকারী ও অবাধ্য, মুমিন ও কাফির এবং নেককার ও বদকার সকলের ওপরই তাঁর নেয়ামতসমূহ পূর্ণরূপে দান করেছেন।
(খণ্ড: ১) শারহু মুখতাসারির রওদা (পৃষ্ঠা: ৬১)
وَيَا ذَا الْقُدْرَةِ الْقَدِيمَةِ الْبَاهِرَةِ، وَالْقُوَّةِ الْعَظِيمَةِ الْقَاهِرَةِ، وَيَا سُلْطَانَ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ، وَجَامِعَ الْإِنْسِ وَالْجَانِّ.

ــ

قَوْلُهُ: «وَيَا ذَا الْقُدْرَةِ الْقَدِيمَةِ الْبَاهِرَةِ، وَالْقُوَّةِ الْعَظِيمَةِ الْقَاهِرَةِ، وَيَا سُلْطَانَ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ، وَجَامِعَ الْإِنْسِ وَالْجَانِّ» .

لَمَّا كَانَ الْمَرْغُوبُ فِيهِ إِلَى اللَّهِ سبحانه وتعالى هَاهُنَا هُوَ التَّوْفِيقَ وَالتَّسْدِيدَ لِلتَّحْقِيقِ، وَالْعِصْمَةَ مِنَ الزَّلَلِ، وَالْحِرَاسَةَ مِنَ الْخَلَلِ، نَاسَبَ أَنْ يُوصَفَ اللَّهُ سبحانه وتعالى، وَيُثْنَى عَلَيْهِ بِالْقُدْرَةِ، وَالْقُوَّةِ وَالسَّلْطَنَةِ الْعَامَّةِ، الَّتِي يَتَحَقَّقُ بِهَا الْمَرْغُوبُ الْمَذْكُورُ.

وَالْقُدْرَةُ: صِفَةٌ قَائِمَةٌ بِالذَّاتِ يَتَحَقَّقُ بِهَا اخْتِرَاعُ الْمَوْجُودَاتِ، وَالْقَدِيمَةُ: الَّتِي لَا مَبْدَأَ لَهَا فِي الزَّمَانِ، بَلْ قَارَنَ وُجُودُهَا وُجُودَ الذَّاتِ، وَالْبَاهِرَةُ: الْغَالِبَةُ، أَيْ: غَلَبَتْ قُدْرَتُهُ سبحانه وتعالى كُلَّ مَقْدُورٍ حَتَّى انْقَادَ لَهَا وَهُوَ ذَلِيلٌ مَقْهُورٌ، يُقَالُ: بَهَرَ الْقَمَرُ: إِذَا أَضَاءَ وَغَلَبَ ضَوْؤُهُ ضَوْءَ الْكَوَاكِبِ، وَبَهَرَ فُلَانٌ فُلَانًا: إِذَا غَلَبَهُ، وَبَهَرَتْ فُلَانَةٌ النِّسَاءَ: غَلَبَتْهُنَّ حُسْنًا، وَبَهَرَهُ الْحِمْلُ: غَلَبَهُ حَتَّى تَتَابَعَ نَفَسُهُ، وَهُوَ اللَّهَثُ.

وَالْقُوَّةُ: صِفَةٌ أَثْبَتَهَا اللَّهُ سبحانه وتعالى لِنَفْسِهِ بِقَوْلِهِ: {إِنَّ اللَّهَ هُوَ الرَّزَّاقُ ذُو الْقُوَّةِ الْمَتِينُ} [الذَّارِيَاتِ: 58] {وَكَانَ اللَّهُ قَوِيًّا عَزِيزًا} [الْأَحْزَابِ: 25] .

وَهِيَ فِي التَّحْقِيقِ وَالْأَمْرِ الْعَامِّ: مَعْنًى يَتَحَقَّقُ بِهِ قَهْرُ الْأَضْدَادِ، وَفِعْلُ مَا يُسْتَصْعَبُ فِي عُرْفِ الْمَخْلُوقِينَ، يُقَالُ: فُلَانٌ قَوِيٌّ عَلَى قَمْعِ عَدُوِّهِ، وَعَلَى رَفْعِ الْحِمْلِ الثَّقِيلِ، وَحَكَى اللَّهُ سبحانه وتعالى عَنْ أَصْحَابِ بِلْقِيسَ أَنَّهُمْ قَالُوا: {نَحْنُ أُولُو قُوَّةٍ وَأُولُو بَأْسٍ}
হে অনাদি ও বিস্ময়কর কুদরতের অধিকারী, প্রবল ও মহান শক্তির অধিকারী, হে দুনিয়া ও আখিরাতের অধিপতি এবং মানুষ ও জিনের একত্রকারী।

--

তাঁর উক্তি: "হে অনাদি ও বিস্ময়কর কুদরতের অধিকারী, প্রবল ও মহান শক্তির অধিকারী, হে দুনিয়া ও আখিরাতের অধিপতি এবং মানুষ ও জিনের একত্রকারী।"

যেহেতু এখানে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নিকট কাঙ্ক্ষিত বিষয়টি হলো সঠিক তাত্ত্বিক বিশ্লেষণে উপনীত হওয়ার তাওফিক ও দৃঢ়তা অর্জন, ভুল থেকে সুরক্ষা এবং বিচ্যুতি থেকে হেফাযত, সেহেতু আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার এমন প্রশংসা করা এবং তাঁকে কুদরত, শক্তি ও ব্যাপক আধিপত্যের বিশেষণে বিশেষিত করা সংগতিপূর্ণ হয়েছে, যার মাধ্যমে উল্লিখিত লক্ষ্যসমূহ বাস্তবায়িত হয়।

কুদরত (ক্ষমতা) হলো আল্লাহর সত্তার সাথে বিদ্যমান এমন এক গুণ, যার মাধ্যমে বস্তুসমূহকে অস্তিত্ব দান করা হয়। আর 'কাদীমাহ' (অনাদি) হলো সেই গুণ যার সময়ের পরিক্রমায় কোনো শুরু নেই, বরং এর অস্তিত্ব আল্লাহর সত্তার অস্তিত্বের সাথেই বিদ্যমান। আর 'বাহিরাহ' (বিস্ময়কর বা পরাক্রমশালী) হলো যা বিজয়ী হয়; অর্থাৎ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার কুদরত প্রতিটি সৃষ্টি বা বস্তুর ওপর এমনভাবে বিজয়ী হয়েছে যে, সবকিছুই হীন ও পরাভূত অবস্থায় তাঁর অনুগত হয়েছে। বলা হয়ে থাকে: "চাঁদ 'বাহারা' হয়েছে" অর্থাৎ যখন তা উদ্ভাসিত হয় এবং এর আলো নক্ষত্ররাজির আলোকে ম্লান করে দেয়। "অমুক ব্যক্তি অমুককে 'বাহারা' করেছে" অর্থাৎ তাকে পরাজিত করেছে। "অমুক নারী অন্য নারীদের 'বাহারা' করেছে" অর্থাৎ সৌন্দর্যে তাদের ছাড়িয়ে গেছে। এবং "ভারী বোঝা তাকে 'বাহারা' করেছে" অর্থাৎ তাকে এমনভাবে পরাভূত করেছে যে তার নিঃশ্বাস দ্রুত হতে শুরু করেছে, যাকে হাঁপানো বলা হয়।

'কুওয়াত' (শক্তি) হলো এমন একটি গুণ যা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা নিজের জন্য সাব্যস্ত করেছেন তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: {নিশ্চয় আল্লাহ তিনিই রিযিকদাতা, প্রবল শক্তির অধিকারী, পরাক্রমশালী} [সূরা আয-যারিয়াত: ৫৮] এবং {আর আল্লাহ শক্তিমান, মহাপরাক্রমশালী} [সূরা আল-আহযাব: ২৫]।

প্রকৃত বিচারে এবং সাধারণ অর্থে এটি এমন এক বৈশিষ্ট্য যার মাধ্যমে বিরোধীদের দমন করা হয় এবং সৃষ্টিজীবের দৃষ্টিতে যা কঠিন তা সম্পাদন করা হয়। বলা হয়: "অমুক ব্যক্তি তার শত্রুকে দমনে এবং ভারী বোঝা উত্তোলনে শক্তিশালী"। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বিলকিসের সঙ্গীদের পক্ষ থেকে বর্ণনা করেছেন যে তারা বলেছিল: {আমরা শক্তিশালী এবং কঠোর সমরাভিজ্ঞ}।
(খণ্ড: ১) শারহু মুখতাসারির রওদা (পৃষ্ঠা: ৬২)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ــ

شَدِيدٍ [النَّمْلِ: 33] ، وَاللَّهُ سبحانه وتعالى لَا يُغَالِبُهُ عَدُوٌّ أَوْ مُضَادٌّ إِلَّا قَهَرَهُ وَقَمَعَهُ، وَلَا يُرِيدُ فِعْلَ شَيْءٍ - وَإِنِ اسْتَصْعَبَهُ الْمَخْلُوقُونَ - إِلَّا هَانَ عَلَيْهِ، وَكَيْفَ لَا يَهُونُ وَهُوَ إِذَا أَرَادَ شَيْئًا قَالَ لَهُ: كُنْ فَيَكُونُ، غَيْرَ أَنَّ قُوَّةَ اللَّهِ سبحانه وتعالى وَتَأْثِيرَهَا لَيْسَتْ كَقُوَّةِ الْمَخْلُوقِينَ وَتَأْثِيرِهَا، لِأَنَّ الْمَخْلُوقَ إِنَّمَا تُؤَثِّرُ قُوَّتُهُ بِوَاسِطَةِ الْعِلَاجِ، وَاللَّهُ سبحانه وتعالى مُنَزَّهٌ عَنِ الْعِلَاجِ وَالْمِزَاجِ، كَمَا قَالَ ذُو النُّونِ الْمِصْرِيُّ: مَوْجُودٌ بِلَا مِزَاجٍ، فَعَّالٌ بِلَا عِلَاجٍ.

وَالسُّلْطَانُ: الْوَالِي، وَجَمْعُهُ: سَلَاطِينُ، وَهُوَ فُعْلَانُ مِنَ السَّلَاطَةِ، وَهِيَ الْقَهْرُ، وَقَدْ سَلَّطَهُ اللَّهُ فَتَسَلَّطَ.

 

قَوْلُهُ: «جَامِعَ الْإِنْسِ وَالْجَانِّ» مَأْخُوذٌ مِنْ قَوْلِهِ تَعَالَى: {رَبَّنَا إِنَّكَ جَامِعُ النَّاسِ لِيَوْمٍ لَا رَيْبَ فِيهِ} [آلِ عِمْرَانَ: 9] ، وَقَوْلِهِ تَعَالَى: {فَكَيْفَ إِذَا جَمَعْنَاهُمْ لِيَوْمٍ لَا رَيْبَ فِيهِ وَوُفِّيَتْ كُلُّ نَفْسٍ مَا كَسَبَتْ} [آلِ عِمْرَانَ: 25] ، وَقَوْلُهُ: كُلُّ نَفْسٍ، أَعَمُّ مِنَ الْجِنِّ وَالْإِنْسِ، ثُمَّ قَدْ صَرَّحَ بِجَمْعِ الْجِنِّ وَالْإِنْسِ فِي قَوْلِهِ تَعَالَى: {وَيَوْمَ يَحْشُرُهُمْ جَمِيعًا يَا مَعْشَرَ الْجِنِّ قَدِ اسْتَكْثَرْتُمْ مِنَ الْإِنْسِ} [الْأَنْعَامِ: 128] ، وَقَوْلِهِ تَعَالَى: {قَالَ ادْخُلُوا فِي أُمَمٍ قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلِكُمْ مِنَ الْجِنِّ وَالْإِنْسِ فِي النَّارِ} [الْأَعْرَافِ: 38] ، وَقَوْلِهِ تَعَالَى: {سَنَفْرُغُ لَكُمْ أَيُّهَا الثَّقَلَانِ} [الرَّحْمَنِ: 31] إِلَى قَوْلِهِ تَعَالَى: {يَا مَعْشَرَ الْجِنِّ وَالْإِنْسِ إِنِ اسْتَطَعْتُمْ أَنْ تَنْفُذُوا مِنْ أَقْطَارِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ} الْآيَاتِ [الرَّحْمَنِ: 33] .
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

—

প্রবল প্রতাপশালী [নমল: ৩৩]। এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা এমন সত্তা যে, কোনো শত্রু বা বিরোধী তাঁর ওপর জয়ী হতে পারে না, বরং তিনি তাকে পরাভূত ও অবদমিত করেন। তিনি যখন কোনো কাজ করার ইচ্ছা করেন—সৃষ্টিজগত তা যত কঠিনই মনে করুক না কেন—তা তাঁর জন্য সহজ হয়ে যায়। আর কেনই বা তা সহজ হবে না, যখন তিনি কোনো কিছুর ইচ্ছা করেন তখন তাকে বলেন: 'হও', আর অমনি তা হয়ে যায়। তবে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার শক্তি ও তাঁর প্রভাব সৃষ্টিজীবের শক্তি ও প্রভাবের মতো নয়। কারণ সৃষ্টিজীবের শক্তি কেবল উপায়-উপকরণের মাধ্যমেই প্রভাব বিস্তার করে, আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা উপায়-উপকরণ ও উপাদানগত সংমিশ্রণ থেকে পবিত্র। যেমনটি যুন-নুন আল-মিসরি বলেছেন: 'তিনি কোনো উপাদানগত সংমিশ্রণ ছাড়াই অস্তিত্বমান, এবং কোনো বাহ্যিক উপকরণ ছাড়াই মহাকর্তা।'

আর সুলতান অর্থ হলো: শাসনকর্তা, এর বহুবচন হলো: সালাতিন। এটি 'সালাতাহ' শব্দ থেকে 'ফুলান' ওজনের শব্দ, যার অর্থ হলো প্রতাপ বা আধিপত্য। আল্লাহ তাকে আধিপত্য দান করেছেন, ফলে সে আধিপত্য বিস্তার করেছে।

 

তাঁর উক্তি: 'মানুষ ও জিন জাতিকে একত্রকারী'—এটি মহান আল্লাহর বাণী থেকে গৃহীত: "হে আমাদের প্রতিপালক! নিশ্চয়ই আপনি মানুষকে এমন এক দিনে একত্র করবেন যাতে কোনো সন্দেহ নেই" [আলে ইমরান: ৯]। এবং মহান আল্লাহর বাণী: "অতঃপর কেমন হবে যখন আমি তাদেরকে এমন এক দিনে একত্র করব যাতে কোনো সন্দেহ নেই এবং প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার অর্জিত কাজের পূর্ণ প্রতিদান দেওয়া হবে" [আলে ইমরান: ২৫]। আর তাঁর বাণী: 'প্রত্যেক ব্যক্তি'—এটি জিন ও মানুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই সাধারণ। অতঃপর জিন ও মানুষকে একত্র করার বিষয়টি মহান আল্লাহর এই বাণীতে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে: "এবং যেদিন তিনি তাদের সকলকে একত্র করবেন, (বলবেন) হে জিনের দল! তোমরা মানুষের অনেককেই বিভ্রান্ত করেছিলে" [আনআম: ১২৮]। এবং মহান আল্লাহর বাণী: "তিনি বলবেন: তোমাদের আগে অতিক্রান্ত জিন ও মানুষের জাতিগুলোর সাথে তোমরাও জাহান্নামে প্রবেশ করো" [আরাফ: ৩৮]। এবং মহান আল্লাহর বাণী: "হে জিন ও মানব জাতি! অচিরেই আমি তোমাদের (হিসাব-নিকাশের) জন্য মনোনিবেশ করব" [আর-রাহমান: ৩১] থেকে মহান আল্লাহর বাণী: "হে জিন ও মানুষের দল! আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সীমা যদি তোমরা অতিক্রম করতে পারো (তবে করো)" [আর-রাহমান: ৩৩] আয়াতসমূহ পর্যন্ত।
(খণ্ড: ১) শারহু মুখতাসারির রওদা (পৃষ্ঠা: ৬৩)
تَنَزَّهْتَ فِي حِكْمَتِكَ عَنْ لُحُوقِ النَّدَمِ، وَتَفَرَّدْتَ فِي إِلَهِيَّتِكَ بِخَوَاصِّ الْقِدَمِ، وَتَعَالَيْتَ فِي أَزَلِيَّتِكَ عَنْ سَوَابِقِ الْعَدَمِ، وَتَقَدَّسْتَ عَنْ لَوَاحِقِ الْإِمْكَانِ.

ــ

قَوْلُهُ: «تَنَزَّهْتَ فِي حِكْمَتِكَ عَنْ لُحُوقِ النَّدَمِ، وَتَفَرَّدْتَ فِي إِلَهِيَّتِكَ بِخَوَاصِّ الْقِدَمِ، وَتَعَالَيْتَ فِي أَزَلِيَّتِكَ عَنْ سَوَابِقِ الْعَدَمِ، وَتَقَدَّسْتَ عَنْ لَوَاحِقِ الْإِمْكَانِ» .

تَنَزَّهْتَ، أَيْ: تَبَاعَدْتَ عَنْ لُحُوقِ النَّدَمِ، وَمَادَّةُ ن ز هـ تَرْجِعُ إِلَى مَعْنَى الْبُعْدِ عَلَى مَا أَشَارَ إِلَيْهِ فِي «الصِّحَاحِ» وَفُهِمَ مِنْ فُرُوعِ الْمَادَّةِ الَّتِي ذَكَرَهَا هُنَاكَ. وَالْحِكْمَةُ: مَعْنًى قَامَ بِالذَّاتِ، يَتَحَقَّقُ بِهِ وُقُوعُ الْأَفْعَالِ وَسَطًا بَيْنَ طَرَفَيِ الْإِفْرَاطِ وَالتَّفْرِيطِ، خَالِيَةً عَنِ التَّفْرِيطِ وَالتَّبْسِيطِ، آمِنَةً مِنْ لُحُوقِ الِاخْتِلَالِ فِي الْحَالِ وَالْمَآلِ، وَلَمَّا كَانَ اللَّهُ سبحانه وتعالى كَامِلَ الْحِكْمَةِ، لَمْ يَلْحَقْهُ فِيمَا يَفْعَلُهُ نَدَمٌ، لِأَنَّهُ سبحانه وتعالى مَعَ كَمَالِ حِكْمَتِهِ تَامُّ الْعِلْمِ بِمَا كَانَ وَسَيَكُونُ، فَلَا يَتَطَرَّقُ عَلَيْهِ النَّدَمُ، مَعَ كَمَالِ الْحِكْمَةِ وَالْعِلْمِ، خِلَافًا لِلْيَهُودِ - لَعَنَهُمُ اللَّهُ - فَإِنَّهُمْ يَزْعُمُونَ أَنَّ الْبَارِئَ سبحانه وتعالى غَضِبَ عَلَى الْعَالَمِ فِي زَمَنِ نُوحٍ عليه السلام، فَأَهْلَكَهُمْ بِالطُّوفَانِ، ثُمَّ نَدِمَ عَلَى إِهْلَاكِهِمْ وَبَكَى حَتَّى رَمَدَتْ عَيْنَاهُ، فَعَادَتْهُ الْمَلَائِكَةُ فِي الرَّمَدِ، وَفِي التَّوْرَاةِ: أَنَّ الشَّرَّ لَمَّا كَثُرَ فِي زَمَنِ نُوحٍ عليه السلام أَسِفَ الرَّبُّ وَحَزِنَ قَلْبُهُ عَلَى خَلْقِهِ لِآدَمَ فِي الْأَرْضِ، وَعَزَمَ عَلَى إِهْلَاكِ مَنْ فِيهَا مِنْ كُلِّ ذِي رُوحٍ إِلَّا نُوحًا عليه السلام، فَإِنَّهُ وَجَدَ رَحْمَةً بَيْنَ يَدَيِ الرَّبِّ، وَأَنَّ اللَّهَ تَعَالَى لَمَّا أَهْلَكَ الْعَالَمَ بِالطُّوفَانِ قَالَ فِي قَلْبِهِ: لَا أَعُودُ أُبِيدُ أَهْلَ الْأَرْضِ لِمَوْضِعٍ أَنَّ ضَمِيرَ قَلْبِ الْإِنْسَانِ إِلَى الشَّرِّ مُذْ حَدَاثَتِهِ
আপনি আপনার হিকমতে (প্রজ্ঞায়) অনুশোচনা স্পর্শ করা থেকে পবিত্র, আপনার ইলাহিয়্যাতে অনাদিত্বের বৈশিষ্ট্যে অনন্য, আপনার অনাদিত্বে অনস্তিত্বের পূর্বসূত্র থেকে সুউচ্চ এবং সম্ভাব্যতার অনুবর্তী হওয়া থেকে পবিত্র।

—

তাঁর বক্তব্য: "আপনি আপনার হিকমতে অনুশোচনা স্পর্শ করা থেকে পবিত্র, আপনার ইলাহিয়্যাতে অনাদিত্বের বৈশিষ্ট্যে অনন্য, আপনার অনাদিত্বে অনস্তিত্বের পূর্বসূত্র থেকে সুউচ্চ এবং সম্ভাব্যতার অনুবর্তী হওয়া থেকে পবিত্র।"

আপনি পবিত্র (তানাজ্জাহতা), অর্থাৎ: অনুশোচনা স্পর্শ করা থেকে আপনি দূরে। 'ন-জ-হ' মূল ধাতুটি দূরত্বের অর্থের দিকেই ফিরে যায়, যেমনটি 'আস-সিহাহ' গ্রন্থে ইঙ্গিত করা হয়েছে এবং সেখানে উল্লিখিত এই মূলের ব্যুৎপত্তিগুলো থেকে যা বোঝা যায়। আর হিকমত হলো: এমন একটি গুণ যা সত্তার সাথে প্রতিষ্ঠিত, যার মাধ্যমে কর্মসমূহ আতিশয্য ও শিথিলতার দুই প্রান্তের মধ্যবর্তী অবস্থায় সম্পাদিত হয়, যা ত্রুটি ও অসারতা থেকে মুক্ত এবং বর্তমান ও ভবিষ্যতে বিশৃঙ্খলা ঘটা থেকে নিরাপদ। আর যেহেতু আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা পূর্ণ হিকমতের অধিকারী, তাই তিনি যা করেন তাতে তাঁকে কোনো অনুশোচনা স্পর্শ করে না। কেননা তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর পূর্ণ হিকমতের পাশাপাশি যা হয়েছে এবং যা হবে সে সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞানের অধিকারী। সুতরাং পূর্ণ হিকমত ও জ্ঞানের উপস্থিতিতে তাঁর ক্ষেত্রে অনুশোচনার কোনো সুযোগ নেই। এটি ইয়াহুদিদের (আল্লাহ তাদের লানত করুন) বিশ্বাসের বিপরীত; কেননা তারা দাবি করে যে, স্রষ্টা সুবহানাহু ওয়া তাআলা নূহ আলাইহিস সালামের যুগে বিশ্ববাসীর ওপর রাগান্বিত হয়েছিলেন এবং তাদের প্লাবনের মাধ্যমে ধ্বংস করেছিলেন, এরপর তাদের ধ্বংস করার জন্য তিনি অনুতপ্ত হয়েছিলেন এবং কেঁদেছিলেন এমনকি তাঁর দুই চোখ অসুস্থ হয়ে পড়েছিল, তখন ফেরেশতারা সেই অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে দেখতে এসেছিলেন। আর তাওরাতে রয়েছে: যখন নূহ আলাইহিস সালামের যুগে মন্দের আধিক্য ঘটল, তখন রব অনুতপ্ত হলেন এবং পৃথিবীতে আদমকে সৃষ্টির কারণে আল্লাহর অন্তরে দুঃখ পেলেন। আর তিনি পৃথিবীতে বসবাসকারী সকল প্রাণীকে ধ্বংস করার সংকল্প করলেন নূহ আলাইহিস সালাম ব্যতীত; কেননা তিনি রবের হাতের সামনে রহমত পেয়েছিলেন। আর আল্লাহ তাআলা যখন প্লাবনের মাধ্যমে বিশ্বকে ধ্বংস করলেন, তখন তিনি তাঁর অন্তরে বললেন: আমি আর কখনো পৃথিবীর অধিবাসীদের সমূলে ধ্বংস করব না, কারণ মানুষের অন্তরের ভাবনা তার শৈশব থেকেই মন্দের দিকে ধাবিত হয়।
(খণ্ড: ১) শারহু মুখতাসারির রওদা (পৃষ্ঠা: ৬৪)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ــ

وَلَا أَعُودُ أُهْلِكُ كُلَّ حَيٍّ كَالَّذِي فَعَلْتُ وَهَذَا عَيْنُ النَّدَمِ، وَهُوَ مِنْ تَحْرِيفِ الْيَهُودِ عَلَيْهِمُ اللَّعْنَةُ.

وَتَفَرَّدْتَ، أَيْ: تَوَحَّدْتَ وَاخْتَصَصْتَ، وَالْإِلَهِيَّةُ هِيَ كَوْنُهُ إِلَهًا، كَمَا أَنَّ الْعَالِمِيَّةَ وَالْقَادِرِيَّةَ عِنْدَ مُثْبِتِي الْأَحْوَالِ كَوْنُهُ عَالِمًا قَادِرًا.

وَالْخَوَاصُّ: جَمْعُ خَاصَّةٍ، وَهُوَ مَعْنًى كُلِّيٌّ، يَلْزَمُ الشَّيْءَ وَلَا يُوجَدُ فِي غَيْرِهِ، كَالضَّحِكِ لِلْإِنْسَانِ وَنَحْوِهِ، وَلِلْمَنْطِقِيِّينَ فِي تَعْرِيفِ الْخَاصَّةِ وَغَيْرِهَا مِنَ الْكُلِّيَّاتِ الْخَمْسِ رُسُومٌ مَشْهُورَةٌ، وَمَا ذَكَرْنَاهُ فِي تَعْرِيفِ الْخَاصَّةِ أَعَمُّ مِمَّا يَذْكُرُونَهُ، لِأَنَّهُ الْمُرَادُ هَاهُنَا.

وَالْقِدَمُ: يُمْكِنُ أَنْ يُسْتَعْمَلَ فِيهِ التَّعْرِيفُ الْعَدَمِيُّ، وَهُوَ عَدَمُ الْأَوَّلِيَّةِ أَوْ عَدَمُ السَّبْقِ بِالْعَدَمِ، وَيُمْكِنُ أَنْ يُسْتَعْمَلَ فِيهِ التَّعْرِيفُ الْوُجُودِيُّ، وَهُوَ اسْتِغْرَاقُ الْأَزْمِنَةِ التَّحْقِيقِيَّةِ وَالتَّقْدِيرِيَّةِ بِالْوُجُودِ، وَإِنَّمَا قُلْنَا الْأَزْمِنَةَ التَّحْقِيقِيَّةَ وَالتَّقْدِيرِيَّةَ، لِأَنَّ الزَّمَانَ عِنْدَنَا عَلَى ضَرْبَيْنِ: تَحْقِيقِيٍّ: وَهُوَ الصَّادِرُ عَنْ حَرَكَاتِ الْأَفْلَاكِ، وَتَقْدِيرِيٍّ: وَهُوَ مَا قَبْلَ خَلْقِ الْأَفْلَاكِ، يَعْنِي أَنَّ إِيجَادَهَا قَبْلَ أَنْ يَخْلُقَهَا الْبَارِئُ سبحانه وتعالى كَانَ مُمْكِنًا، وَكَانَتْ حِينَئِذٍ الْأَزْمِنَةُ التَّحْقِيقِيَّةُ تَصْدُرُ عَنْهَا، وَهَذَا يَحْتَاجُ إِلَيْهِ، وَلَا بُدَّ فِي الْجَوَابِ عَمَّا رَوَاهُ مُسْلِمٌ وَغَيْرُهُ مِنَ الْأَئِمَّةِ مِنْ حَدِيثِ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ: خَلَقَ اللَّهُ التُّرْبَةَ يَوْمَ السَّبْتِ، وَخَلَقَ الْجِبَالَ فِيهَا يَوْمَ
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

—

আমি আর কখনও সকল জীবিত প্রাণীকে ধ্বংস করব না যেমনটি আমি করেছি; আর এটিই অনুতাপের মূল কথা। এটি ইহুদিদের বিকৃতি থেকে আগত, তাদের ওপর অভিশাপ বর্ষিত হোক।

এবং আপনি একক হয়েছেন, অর্থাৎ: আপনি একীভূত হয়েছেন এবং বিশেষ বৈশিষ্ট্যমন্ডিত হয়েছেন। আর ইলাহিয়াত (উপাস্যত্ব) হলো তাঁর ইলাহ হওয়া, যেমনটি ‘আহওয়াল’ (অবস্থা) সাব্যস্তকারীদের নিকট ‘আলিমিয়্যাত’ (জ্ঞাতৃত্ব) এবং ‘কাদিরিয়্যাত’ (সক্ষমত্ব) হলো তাঁর জ্ঞানী ও সক্ষম হওয়া।

আর ‘খাওয়াস’ হলো ‘খাসসাহ’-এর বহুবচন; এটি একটি সামষ্টিক অর্থ, যা কোনো বস্তুর জন্য অপরিহার্য এবং অন্য কোনো বস্তুতে পাওয়া যায় না, যেমন মানুষের জন্য হাসি বা এর অনুরূপ কিছু। যুক্তিবিদদের নিকট ‘খাসসাহ’ এবং অন্যান্য পাঁচটি সামষ্টিক বিষয়ের সংজ্ঞায় সুপরিচিত বিবরণ রয়েছে; আর আমরা ‘খাসসাহ’-এর সংজ্ঞায় যা উল্লেখ করেছি তা তাদের উল্লিখিত সংজ্ঞার চেয়েও ব্যাপক, কারণ এখানে এটিই উদ্দেশ্য।

আর ‘কিদাম’ (অনাদিত্ব): এতে অভাবসূচক সংজ্ঞা ব্যবহার করা সম্ভব, যা হলো শুরুর অনুপস্থিতি অথবা অনস্তিত্বের দ্বারা পূর্ববর্তিত্ব না থাকা। আবার এতে অস্তিত্বসূচক সংজ্ঞাও ব্যবহার করা সম্ভব, যা হলো অস্তিত্বের মাধ্যমে বাস্তব ও আনুমানিক সকল সময়কে পরিব্যাপ্ত করা। আমরা বাস্তব ও আনুমানিক সময় একারণে বলেছি যে, আমাদের নিকট সময় দুই প্রকার: বাস্তব, যা আসমানী গোলকসমূহের ঘূর্ণন থেকে সৃষ্টি হয়; এবং আনুমানিক, যা আসমানী গোলকসমূহের সৃষ্টির পূর্বের অবস্থা। অর্থাৎ, সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এগুলো সৃষ্টির পূর্বেও এগুলোর অস্তিত্ব দান করা সম্ভব ছিল, আর তখন এ থেকে বাস্তব সময়সমূহ নির্গত হতো। এটি একটি প্রয়োজনীয় বিষয়, এবং ইমাম মুসলিম ও অন্যান্য ইমামগণ আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সূত্রে যে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন তার উত্তর প্রদানের ক্ষেত্রে এটি অপরিহার্য। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: আল্লাহ তাআলা শনিবার দিন মাটি সৃষ্টি করেছেন এবং তাতে পাহাড় সৃষ্টি করেছেন...
(খণ্ড: ১) শারহু মুখতাসারির রওদা (পৃষ্ঠা: ৬৫)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ــ

الْأَحَدِ الْحَدِيثَ، عَلَى مَا بَيَّنْتُهُ فِي بَابِ صَلَاةِ الْجُمُعَةِ مِنْ مُخْتَصَرِ التِّرْمِذِيِّ، وَهَذَا عَلَى رَأْيِنَا، أَمَّا عَلَى رَأْيِ الْفَلَاسِفَةِ فِي قِدَمِ الزَّمَانِ التَّحْقِيقِيِّ، فَلَا يَحْتَاجُ إِلَى قَوْلِنَا: وَالتَّقْدِيرِيَّةِ، وَخَوَاصُّ الْقِدَمِ عَلَى مَا ذَكَرَهُ الْمُتَكَلِّمُونَ وَغَيْرُهُمْ: أَنَّ الْقَدِيمَ لَا يَكُونُ إِلَّا وَاحِدًا، وَلَا يَكُونُ جَوْهَرًا وَلَا عَرَضًا، وَلَا يَكُونُ لَهُ بِدَايَةٌ وَلَا نِهَايَةٌ، بَلْ هُوَ أَزَلِيٌّ سَرْمَدِيٌّ. وَاشْتَرَطَ بَعْضُهُمْ: أَنْ لَا يَكُونَ وُجُودُهُ زَائِدًا عَلَى ذَاتِهِ، وَكَذَلِكَ صِفَاتُهُ، وَفِي بَعْضِ ذَلِكَ تَحْقِيقٌ وَنَظَرٌ.

وَالْخَوَاصُّ: جَمْعُ خَاصَّةٍ، وَهِيَ مَا يُلَازِمُ الشَّيْءَ وَلَا يُفَارِقُهُ، وَلَا يُوجَدُ فِي غَيْرِهِ، كَانْتِصَابِ الْقَامَةِ لِلْإِنْسَانِ وَنَحْوِ ذَلِكَ. وَقَدْ سَبَقَ ذِكْرُ مَعْنَى الْخَاصَّةِ عَنْ قُرْبٍ.

وَتَعَالَيْتَ: تَفَاعَلْتَ مِنَ الْعُلُوِّ وَالرِّفْعَةِ، وَهُوَ تَعَالَى مَعْنَوِيٌّ لَا حَقِيقِيٌّ بِمَعْنَى الْجِهَةِ، كَمَا يُقَالُ: تَرَفَّعَ زِيدٌ عَنْ لُحُوقِ الْعَارِ وَنَحْوُهُ.

وَالْأَزَلِيَّةُ: لَفْظَةٌ مَنْسُوبَةٌ إِلَى الْأَزَلِ، وَهِيَ فِي عُرْفِ الْمُتَكَلِّمِينَ وَالْفَلَاسِفَةِ عِبَارَةٌ
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--

একক হাদীস সম্পর্কে, যেমনটি আমি 'মুখতাসারুত তিরমিযী'-র জুমার সালাত অধ্যায়ে বর্ণনা করেছি। এটি আমাদের মতানুসারে। তবে সময়ের প্রকৃত অনাদিত্ব (ক্বিদাম) বিষয়ে দার্শনিকদের মতানুসারে আমাদের 'আনুমানিক' কথাটি বলার প্রয়োজন হয় না। কালামশাস্ত্রবিদ এবং অন্যরা অনাদিত্বের যেসব বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করেছেন তা হলো: অনাদি সত্তা কেবল একজনই হবেন, তিনি কোনো মৌলিক পদার্থ (জাওহার) বা গুণ (আরাজ) হবেন না, তাঁর কোনো শুরু বা শেষ থাকবে না; বরং তিনি অনাদি ও অনন্ত। তাঁদের কেউ কেউ শর্তারোপ করেছেন যে, তাঁর অস্তিত্ব যেন তাঁর সত্তার অতিরিক্ত কিছু না হয় এবং তাঁর গুণাবলিও যেন অনুরূপ হয়। এর কিছু অংশে সূক্ষ্ম পর্যালোচনা ও গবেষণার অবকাশ রয়েছে।

'খাওয়াস' (বৈশিষ্ট্যসমূহ) হলো 'খাসসাহ'-এর বহুবচন। এটি এমন বিষয় যা কোনো বস্তুর জন্য অপরিহার্য এবং তা থেকে বিচ্ছিন্ন হয় না, আর অন্য কোনো বস্তুতে তা পাওয়া যায় না; যেমন মানুষের ঋজু হয়ে দাঁড়ানো এবং এই জাতীয় বিষয়। ইতিপূর্বেই নিকটবর্তী স্থানে 'খাসসাহ'-এর অর্থ বর্ণিত হয়েছে।

'তা'আলাইতা' (আপনি সমুচ্চ): এটি উচ্চতা ও মর্যাদা (উলু ও রিফআত) থেকে 'তাফায়ালা' ছাঁচে গঠিত। এই উচ্চতা মর্যাদাগত, দিকের দিক থেকে আক্ষরিক নয়; যেমন বলা হয়: যায়েদ নিজেকে কলঙ্কিত হওয়া থেকে ঊর্ধ্বে রেখেছে ইত্যাদি।

'আযালিয়্যাহ' (অনাদিত্ব) শব্দটি 'আযাল' শব্দের সাথে সম্বন্ধযুক্ত। এটি কালামশাস্ত্রবিদ ও দার্শনিকদের পরিভাষায় এমন এক অভিব্যক্তি যা...
(খণ্ড: ১) শারহু মুখতাসারির রওদা (পৃষ্ঠা: ৬৬)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ــ

عَمَّا يَدُلُّ عَلَيْهِ الْقِدَمُ مِنْ نَفْيِ الْأَوَّلِيَّةِ وَالْمَسْبُوقَةِ بِالْعَدَمِ، وَيُقَابِلُونَهُ بِالْأَبَدِ، وَهُوَ عَدَمُ التَّنَاهِي فِي اسْتِمْرَارِ الْوُجُودِ. يَقُولُونَ مَثَلًا: ذَاتُ اللَّهِ وَصِفَاتُهُ الذَّاتِيَّةُ مَوْجُودَةٌ أَزَلًا وَأَبَدًا، وَفِي الْأَزَلِ وَالْأَبَدِ، فَمَا لَا يَزَالُ عِبَارَةٌ عَنِ الْأَبَدِ أَيْضًا. وَهَذَا يَدُلُّ عَلَى أَنَّ الْأَزَلَ عِنْدَهُمْ عِبَارَةٌ عَنْ مَفْهُومٍ لَمْ يَزَلْ، لِأَنَّهُمْ يَقُولُونَ فِيمَا لَمْ يَزَلْ وَلَا يَزَالُ. لَا لِنَفْيِ الْمُسْتَقْبَلِ، وَقَدِ اسْتَعْمَلُوا النَّفْيَ بِهَا بِمَعْنَى الْأَبَدِ، وَ «لَمْ» لِنَفْيِ الْمَاضِي، وَهُمْ يَسْتَعْمِلُونَ النَّفْيَ بِهَا بِمَعْنَى الْأَزَلِ، فَدَلَّ عَلَى مَا قُلْنَاهُ مِنْ أَنَّ الْأَزَلَ هُوَ عِبَارَةٌ عَمَّا لَمْ يَزَلْ.

وَذَهَبَ بَعْضُ أَهْلِ اللُّغَةِ إِلَى أَنَّ لَفْظَ الْأَزَلِ لَيْسَ مِنْ لُغَةِ الْعَرَبِ، وَلَا يَعْرِفُونَهُ، وَإِنَّمَا هُوَ مِنْ تَوْلِيدِ الْفَلَاسِفَةِ وَالْمُتَكَلِّمِينَ، فَكَأَنَّهُمُ اخْتَصَرُوا مَا لَمْ يَزَلْ فِي لَفْظِ الْأَزَلِ. وَقَالَ الْجَوْهَرِيُّ: الْأَزَلُ بِالتَّحْرِيكِ: الْقِدَمُ، يُقَالُ: أَزَلِيٌّ، ذَكَرَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ: أَنَّ أَصْلَ هَذِهِ الْكَلِمَةِ قَوْلُهُمْ لِلْقَدِيمِ: لَمْ يَزَلْ، ثُمَّ نُسِبَتْ إِلَى هَذَا فَلَمْ تَسْتَقِمْ إِلَّا بِاخْتِصَارٍ فَقَالُوا: يَزَلِيٌّ ثُمَّ أُبْدِلَتِ الْيَاءُ أَلِفًا لِأَنَّهَا أَخَفُّ، كَمَا قَالُوا فِي الرُّمْحِ الْمَنْسُوبِ إِلَى ذِي يَزِنٍ: أَزَنِيٌّ.

أَمَّا الْأَبَدُ: فَهُوَ فِي لُغَةِ الْعَرَبِ: الدَّهْرُ، وَالْجَمْعُ آبَادُ، وَالْأَبَدُ أَيْضًا: الدَّائِمُ، وَكَأَنَّهُ الْأَصْلُ، وَالسَّرْمَدُ: الدَّائِمُ أَيْضًا، وَكَأَنَّهُ مِنَ السَّرْدِ، وَهُوَ الْمُتَابَعَةُ، فَكَأَنَّ
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

—

যা অনাদিত্বের (কিদাম) মাধ্যমে সূচনার অনুপস্থিতি এবং পূর্বে অনস্তিত্ব না থাকার অর্থ প্রকাশ করে। এর বিপরীতে তারা স্থায়িত্ব বা অনন্তকাল (আবাদ) শব্দটিকে ব্যবহার করেন, যার অর্থ অস্তিত্বের ধারাবাহিকতায় কোনো পরিসমাপ্তি না থাকা। তারা উদাহরণস্বরূপ বলেন: আল্লাহর সত্তা এবং তাঁর সত্তাগত গুণাবলী অনাদিকাল এবং অনন্তকাল ধরে বিদ্যমান, এবং অনাদিত্ব ও অনন্তকালেও। সুতরাং যা 'নিরন্তর' বাক্যটি অনন্তকালকেও বুঝায়। এটি নির্দেশ করে যে, তাদের নিকট অনাদিত্ব বলতে 'যা সর্বদা ছিল' এমন একটি ধারণা বুঝায়। কারণ তারা অনাদি ও অনন্ত যা ছিল ও থাকবে সে সম্পর্কে আলোচনা করেন। এখানে 'না' (লা) ভবিষ্যৎকে অস্বীকার করার জন্য নয়, বরং তারা একে স্থায়িত্ব বা অনন্তকাল অর্থে ব্যবহার করেছেন। আর 'ছিল না' (লাম) অতীতকে অস্বীকার করার জন্য ব্যবহৃত হয়, যা তারা অনাদিত্ব অর্থে ব্যবহার করেছেন। সুতরাং এটি আমাদের ওই বক্তব্যকে প্রমাণ করে যে, অনাদিত্ব বলতে 'যা সর্বদা ছিল' তাকেই বোঝায়।

কোনো কোনো ভাষাবিদ এই মত পোষণ করেছেন যে, 'আযাল' (অনাদিত্ব) শব্দটি মূল আরবি ভাষার নয় এবং তারা এটি চিনতেন না। বরং এটি দার্শনিক ও কালাম শাস্ত্রবিদদের উদ্ভাবিত শব্দ। তারা যেন 'যা সর্বদা ছিল' বাক্যটিকে সংক্ষেপে 'আযাল' শব্দে রূপান্তর করেছেন। জাওহারি বলেছেন: হরকতসহ 'আযাল' অর্থ অনাদিত্ব, একে 'আযালি' (অনাদি) বলা হয়। কোনো কোনো আলেম উল্লেখ করেছেন যে, এই শব্দের মূল হলো অনাদি সত্তা সম্পর্কে তাদের উক্তি: 'যা সর্বদা ছিল'। এরপর শব্দটিকে যখন বিশেষায়িত করা হলো, তখন সংক্ষিপ্তকরণ ব্যতীত তা গঠন করা সম্ভব হচ্ছিল না, তাই তারা বলেছিলেন: 'ইয়াযালি'। পরবর্তীতে 'ইয়া' অক্ষরটিকে 'আলিফ' দ্বারা পরিবর্তন করা হয়েছে কারণ তা উচ্চারণে সহজ, যেমনটি তারা 'যি-ইয়াযিন' গোত্রের সাথে সম্পর্কিত বর্শার ক্ষেত্রে 'আযানি' বলে থাকেন।

আর 'আবাদ' বা অনন্তকাল হলো আরবি ভাষায়: মহাকাল, যার বহুবচন হলো 'আবাদ'। এছাড়া 'আবাদ' বলতে চিরস্থায়ীও বোঝায়, যা শব্দটির মূল অর্থ বলে প্রতীয়মান হয়। 'সারমাদ' শব্দের অর্থও চিরস্থায়ী, যা সম্ভবত 'সারদ' থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ হলো ধারাবাহিকতা। সুতরাং যেন...
(খণ্ড: ১) শারহু মুখতাসারির রওদা (পৃষ্ঠা: ৬৭)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ــ

السَّرْمَدَ الدَّائِمُ الْمُتَتَابِعُ وَفِي التَّنْزِيلِ: {قُلْ أَرَأَيْتُمْ إِنْ جَعَلَ اللَّهُ عَلَيْكُمُ النَّهَارَ سَرْمَدًا إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ} [الْقَصَصِ: 72] الْآيَةَ، أَيْ دَائِمًا لَا يَتَخَلَّلُهُ لَيْلٌ.

وَسَوَابِقُ الْعَدَمِ: جَمْعُ سَابِقَةٍ، أَيْ لَمْ يَتَقَدَّمْ وُجُودَكَ عَدِمَاتٌ سَابِقَةٌ، أَوْ أَزْمِنَةٌ سَابِقَةٌ، لِأَنَّ أَزَلِيَّتَكَ أَبَتْ ذَلِكَ، وَقَدْ كَانَ الْإِتْيَانُ بِلَفْظِ الْوَاحِدِ فِي سَابِقٍ وَلَاحِقٍ، أَوْ سَابِقَةٍ وَلَاحِقَةٍ أَبْلَغَ فِي التَّبْرِئَةِ وَالتَّنْزِيهِ فَكَانَ يُقَالُ: تَنَزَّهْتَ عَنْ سَابِقِ الْعَدَمِ، وَتَقَدَّسْتَ عَنْ لَاحِقِ الْإِمْكَانِ، أَوْ عَنْ سَابِقَةِ الْعَدَمِ، وَلَاحِقَةِ الْإِمْكَانِ، لِأَنَّ نَفْيَ الْفَرْدِ يَسْتَلْزِمُ نَفْيَ الْجَمْعِ، وَنَفْيَ الْجَمْعِ لَا يَسْتَلْزِمُ نَفْيَ الْفَرْدِ عَلَى مَا عُرِفَ، لَكِنْ كَانَ لَفْظُ الْجَمْعِ أَوْلَى بِاعْتِدَالِ الْكَلَامِ وَاتِّزَانِهِ فَآثَرْنَاهُ، مَعَ أَنَّ الْخَطْبَ فِي هَذَا يَسِيرٌ.

وَتَقَدَّسْتَ: أَيْ تَطَهَّرْتَ، وَجَمِيعُ مَادَّةِ «ق د س» أَوْ غَالِبُهَا تَرْجِعُ إِلَى مَعْنَى الطَّهَارَةِ وَالتَّطْهِيرِ.

وَلَوَاحِقُ الْإِمْكَانِ: مَا يَلْحَقُ الْمُمْكِنَ لِكَوْنِهِ مُمْكِنًا، كَالْحُدُوثِ، وَالِافْتِقَارِ إِلَى الْمُؤَثِّرِ، وَالتَّرْكِيبِ إِنْ كَانَ جِسْمًا، وَشَغْلِ الْحَيِّزِ إِنْ كَانَ جَوْهَرًا، وَالِافْتِقَارِ إِلَى مَا يَقُومُ بِهِ، وَعَدَمِ الْتِقَاءِ زَمَانَيْنِ، أَوْ تَعَقُّبِ عَدِمِه وُجُودِهِ إِنْ كَانَ عَرَضًا، وَبِالْجُمْلَةِ أَضْدَادُ خَوَاصِّ الْقَدِيمِ السَّابِقَةِ هِيَ مِنْ لَوَاحِقِ الْمُمْكِنِ، وَالْإِمْكَانُ اسْتِوَاءُ نِسْبَةِ الْمَعْلُومِ إِلَى الْعَدَمِ وَالْوُجُودِ أَوْ قَابِلِيَّتُهُ لِلتَّأْثِيرِ عَنِ الْمُؤَثِّرِ.
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--

‘সারমাদ’ হলো নিরবচ্ছিন্ন ও চিরন্তন। আল-কুরআনে এসেছে: "বলুন, তোমরা ভেবে দেখেছ কি, যদি আল্লাহ দিনকে তোমাদের জন্য কিয়ামতের দিন পর্যন্ত চিরস্থায়ী করে দিতেন" [সূরা আল-কাসাস: ৭২], অর্থাৎ এমন চিরস্থায়ী যাতে কোনো রাতের অনুপ্রবেশ ঘটবে না।

‘সাওয়াবিকুল আদাম’ (অস্তিত্বহীনতার পূর্ববর্তিতা) হলো ‘সাবেকাহ’ শব্দের বহুবচন। অর্থাৎ আপনার অস্তিত্বের পূর্বে কোনো অতীত অনস্তিত্ব বা অতীত সময়ের অস্তিত্ব ছিল না; কেননা আপনার অনাদিত্ব তা অস্বীকার করে। ‘সাবেক’ ও ‘লাহিক’ অথবা ‘সাবেকাহ’ ও ‘লাহিকাহ’ শব্দগুলো একবচনে ব্যবহার করা ত্রুটিমুক্তকরণ ও পবিত্রতা বর্ণনার ক্ষেত্রে অধিকতর প্রাঞ্জল হতো। তখন বলা হতো: আপনি অস্তিত্বহীনতার পূর্ববর্তিতা থেকে পবিত্র এবং সম্ভাব্যতার পরবর্তী বিষয়াদি থেকে মুক্ত। কেননা সুপরিচিত নিয়ম অনুযায়ী, একবচনের নেতিবাচকতা বহুবচনের নেতিবাচকতাকেও আবশ্যক করে, কিন্তু বহুবচনের নেতিবাচকতা সর্বদা একবচনের নেতিবাচকতাকে আবশ্যক করে না। তবে বাক্যের ভারসাম্য ও ছন্দের জন্য বহুবচন শব্দ ব্যবহার করাই অধিকতর শ্রেয় ছিল, তাই আমরা একেই অগ্রাধিকার দিয়েছি; যদিও বিষয়টি অত্যন্ত নগণ্য।

‘আপনি পবিত্র হয়েছেন’ (তাকাদ্দাসতা): অর্থাৎ আপনি পরিচ্ছন্ন ও শুদ্ধ হয়েছেন। ‘ক-দ-স’ মূলধাতুর সমস্ত শব্দ বা এর অধিকাংশ শব্দই পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতার অর্থের দিকেই প্রত্যাবর্তন করে।

‘লাওয়াহিকুল ইমকান’ (সম্ভাবনার অনুগামী বিষয়সমূহ): যা সম্ভাব্য হওয়ার কারণে সম্ভাব্য বস্তুর সাথে যুক্ত হয়। যেমন: নতুনভাবে সৃষ্টি হওয়া, কোনো প্রভাবকের মুখাপেক্ষী হওয়া, যদি তা বস্তু হয় তবে সংমিশ্রিত হওয়া, যদি তা মৌলিক পদার্থ হয় তবে স্থান দখল করা, যার মাধ্যমে এটি প্রতিষ্ঠিত হয় তার প্রতি মুখাপেক্ষিতা, এবং দুটি সময়ের মিলন না হওয়া, অথবা যদি তা আপতিত গুণ হয় তবে এর অস্তিত্বের পরে অনস্তিত্বের অনুগমন। সংক্ষেপে, অনাদি সত্তার পূর্বে বর্ণিত বৈশিষ্ট্যসমূহের বিপরীত বিষয়গুলোই হলো সম্ভাব্যতার অনুগামী বিষয়। আর ‘সম্ভাব্যতা’ হলো অস্তিত্ব ও অনস্তিত্বের প্রতি জ্ঞাত বিষয়ের সম্পর্কের সমতা, অথবা প্রভাবক থেকে প্রভাব গ্রহণ করার যোগ্যতা।
(খণ্ড: ১) শারহু মুখতাসারির রওদা (পৃষ্ঠা: ৬৮)
أَحْمَدُكَ عَلَى مَا أَسَلْتَ مِنْ وَابِلِ الْآلَاءِ، وَأَزَلْتَ مِنْ وَبِيلِ اللَّأْوَاءِ، وَأَسْبَلْتَ مِنْ جَمِيلِ الْغِطَاءِ، وَأَزْلَلْتَ مِنْ كَفِيلِ الْإِحْسَانِ.

ــ

قَوْلُهُ: «أَحْمَدُكَ عَلَى مَا أَسَلْتَ مِنْ وَابِلِ الْآلَاءِ، وَأَزَلْتَ مِنْ وَبِيلِ اللَّأْوَاءِ، وَأَسْبَلْتَ مِنْ جَمِيلِ الْغِطَاءِ، وَأَزْلَلْتَ مِنْ كَفِيلِ الْإِحْسَانِ» .

أَحْمَدُكَ، بِفَتْحِ الْمِيمِ، قَالَ الْجَوْهَرِيُّ: الْحَمْدُ نَقِيضُ الذَّمِّ، تَقُولُ: حَمِدْتُ الرَّجُلَ أَحْمَدُهُ حَمْدًا وَمَحْمَدَةً، فَهُوَ حَمِيدٌ وَمَحْمُودٌ، وَالتَّحْمِيدُ أَبْلَغُ مِنَ الْحَمْدِ، وَالْحَمْدُ أَعَمُّ مِنَ الشُّكْرِ.

قُلْتُ: أَمَّا أَنَّ التَّحْمِيدَ أَبْلَغُ، فَلِأَنَّ بِنَاءَهُ - وَهُوَ التَّفْعِيلُ - يُفِيدُ التَّكْثِيرَ وَالتَّكْرَارَ، وَالْكَثِيرُ أَبْلَغُ مِنَ الْقَلِيلِ فِي حُصُولِ الْمَقْصُودِ، وَأَمَّا أَنَّ الْحَمْدَ أَعَمُّ مِنَ الشُّكْرِ، فَلِأَنَّ الشُّكْرَ إِنَّمَا يَكُونُ عَلَى الصَّنِيعَةِ الْمُعْتَدِيَةِ إِلَى الْغَيْرِ، وَالْحَمْدُ يَكُونُ عَلَى ذَلِكَ وَعَلَى الصِّفَاتِ اللَّازِمَةِ، كَالشَّجَاعَةِ وَالْعِلْمِ وَالْحِلْمِ وَنَحْوِهِ.

قَالَ ابْنُ هِشَامٍ فِي «شَرْحِ الْفَصِيحِ» : الشُّكْرُ لَا يَكُونُ إِلَّا مُجَازَاةً، وَالْحَمْدُ يَكُونُ ابْتِدَاءً وَمُجَازَاةً. قُلْتُ: هُوَ مَعْنَى الَّذِي قَبْلَهُ، وَقِيلَ: الْحَمْدُ وَالشُّكْرُ سِيَّانِ، وَقِيلَ: الْحَمْدُ بِالْقَوْلِ وَالشُّكْرُ بِالْفِعْلِ، وَقِيلَ غَيْرُ ذَلِكَ.

وَأَسَلْتَ: أَجْرَيْتَ إِجْرَاءً مُتَتَابِعًا بِشِدَّةٍ، وَمِنْهُ السَّيْلُ لِلْمَطَرِ إِذَا كَانَ كَذَلِكَ، وَالْوَابِلُ: الْمَطَرُ الشَّدِيدُ، يُقَالُ: وَبَلَتِ السَّمَاءُ تَبِلُ، وَأَرْضٌ مَوْبُولَةٌ. وَالْآلَاءُ: النِّعَمُ،
আমি আপনার প্রশংসা করছি ঐসব অফুরন্ত নিয়ামতের ধারার জন্য যা আপনি প্রবাহিত করেছেন, ঐসব কঠিন বিপদাপদ দূর করার জন্য যা আপনি অপসারিত করেছেন, ঐসব সুন্দর আবরণের জন্য যা আপনি ঝুলিয়ে দিয়েছেন এবং ঐসব অবারিত অনুগ্রহের জন্য যা আপনি দান করেছেন।

—

তাঁর উক্তি: «আমি আপনার প্রশংসা করছি ঐসব অফুরন্ত নিয়ামতের ধারার জন্য যা আপনি প্রবাহিত করেছেন, ঐসব কঠিন বিপদাপদ দূর করার জন্য যা আপনি অপসারিত করেছেন, ঐসব সুন্দর আবরণের জন্য যা আপনি ঝুলিয়ে দিয়েছেন এবং ঐসব অবারিত অনুগ্রহের জন্য যা আপনি দান করেছেন»।

'আহমাদুকা' শব্দটি মীম বর্ণে ফাতহা (যবর) যোগে গঠিত। আল-জাওহারী বলেছেন: 'হামদ' হলো 'যাম' (নিন্দা)-এর বিপরীত। আপনি বলেন: আমি লোকটির প্রশংসা করেছি, আমি তার হামদ ও মাহমাদাহ করছি। সুতরাং সে হলো হামীদ ও মাহমুদ (প্রশংসিত)। আর 'তাহমীদ' শব্দটি 'হামদ' অপেক্ষা অধিক অর্থবোধক। আর 'হামদ' শব্দটি 'শুকর' (কৃতজ্ঞতা) অপেক্ষা অধিক ব্যাপক।

আমি বলছি: 'তাহমীদ' অধিক অর্থবোধক হওয়ার কারণ হলো এর গঠনরূপ—যা হলো 'তাফয়ীল'—এটি আতিশয্য ও পৌনঃপুনিকতা (বারংবার করা) প্রকাশ করে; আর উদ্দেশ্য হাসিলের ক্ষেত্রে অল্পের চেয়ে আধিক্যই বেশি ফলদায়ক। আর 'হামদ' যে 'শুকর' অপেক্ষা অধিক ব্যাপক হওয়ার কারণ হলো, 'শুকর' কেবল সেই অনুগ্রহের ওপর প্রকাশ করা হয় যা অন্যের প্রতি করা হয়েছে, পক্ষান্তরে 'হামদ' সেই অনুগ্রহের ওপরও করা হয় এবং কোনো সত্তার আবশ্যিক গুণাবলির ওপরও করা হয়, যেমন বীরত্ব, জ্ঞান, সহনশীলতা ও এই জাতীয় অন্যান্য গুণ।

ইবনে হিশাম তাঁর 'শারহুল ফাসিহ' গ্রন্থে বলেছেন: 'শুকর' কেবল কোনো কাজের প্রতিদান স্বরূপ হয়, কিন্তু 'হামদ' কোনো কাজের শুরু হিসেবে (প্রাথমিকভাবে) এবং প্রতিদান উভয় ক্ষেত্রেই হতে পারে। আমি বলছি: এটি মূলত আগের বলা অর্থের অনুরূপ। আবার বলা হয়েছে: 'হামদ' এবং 'শুকর' সমার্থক। কেউ কেউ বলেছেন: 'হামদ' হলো জবানের মাধ্যমে প্রশংসা করা আর 'শুকর' হলো অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কাজের মাধ্যমে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা। এ ছাড়াও অন্যান্য মত বর্ণিত হয়েছে।

আর 'আসালতা' অর্থ: আপনি তীব্র গতিতে ও ধারাবাহিকভাবে প্রবাহিত করেছেন। যখন বৃষ্টির ক্ষেত্রে এমনটি ঘটে তখন একে 'সাইল' (প্রবাহ) বলা হয়। আর 'ওয়াবিল' অর্থ হলো প্রবল বৃষ্টিপাত। আরবরা বলে: আকাশ প্রবল বর্ষণ করল এবং প্রবল বর্ষণস্নাত ভূমি। আর 'আলা' অর্থ হলো নিয়ামতসমূহ।
(খণ্ড: ১) শারহু মুখতাসারির রওদা (পৃষ্ঠা: ৬৯)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ــ

وَاحِدُهَا أَلًا بِالْفَتْحِ، وَقَدْ تُكْسَرُ، وَتُكْتَبُ بِالْيَاءِ مِثْلَ مِعًى وَأَمْعَاءٍ. وَأَزَلْتَ: مِنَ الْإِزَالَةِ، وَهِيَ النَّقْلُ وَالتَّحْوِيلُ، وَالْوَبِيلُ: فَعِيلٌ مِنَ الْوَبَالِ بِالْفَتْحِ وَهُوَ الثِّقَلُ وَالْوَخَامَةُ، وَمَرْتَعٌ وَبِيلٌ، أَيْ: وَخِيمٌ، وَلَعَلَّ الْوَبَالَ مِنْ هَذَا. وَاللَّأْوَاءُ: الشِّدَّةُ، وَالْمُرَادُ أَنَّ اللَّأْوَاءَ لِذَاتِهَا صِفَةٌ وَخِيمَةٌ فَنَعُوذُ بِكَ مِنْهَا.

وَأَسْبَلْتَ: مِنْ سَبْلِ إِزَارِهِ: إِذَا أَرْخَاهُ، وَهُوَ الْإِسْبَالُ، وَالْجَمِيلُ: الْحَسَنُ، وَأَصْلُهُ: الشَّحْمُ الْمُذَابُ، قَالُوا: وَجْهٌ جَمِيلٌ أَيْ كَأَنَّهُ لِنَضَارَتِهِ وَبَرِيقِهِ دُهِنَ بِالْجَمِيلِ، ثُمَّ قِيلَ لِكُلِّ حَسَنٍ: جَمِيلٌ، وَالْغِطَاءُ أَصْلُهُ الِارْتِفَاعُ وَغَطَا الْمَاءُ وَكُلُّ شَيْءٍ إِذَا ارْتَفَعَ، [وَطَالَ عَلَى شَيْءٍ فَقَدْ غَطَا عَلَيْهِ] ، وَغَطَا اللَّيْلُ يَغْطُو وَيَغْطِي: إِذَا أَظْلَمَ، لِأَنَّهُ يَرْتَفِعُ عَلَى الْأَشْيَاءِ وَيَعْلُو عَلَيْهَا فَيُخْفِيهَا، وَالْغِطَاءُ كَذَلِكَ يَعْلُو مِنْ تَحْتِهِ فَيُخْفِيهِ.

وَأَزْلَلْتَ: أَصْلُهُ مِنَ الزَّلَلِ، وَهُوَ الْمَيْلُ، يُقَالُ: زَلَّ عَنِ الطَّرِيقِ وَنَحْوُهُ إِذَا مَالَ عَنْهُ، وَفِي الْكِتَابِ الْعَزِيزِ: {فَأَزَلَّهُمَا الشَّيْطَانُ عَنْهَا} [الْبَقَرَةِ: 36] أَيْ أَمَالَهُمَا، فَالْمَعْنَى: أَمَلْتَ إِلَيْنَا مِنَ الْإِحْسَانِ، يُقَالُ: أَزَلَّ فُلَانٌ إِلَيَّ نِعَمَهُ، أَيْ أَمَالَهَا، وَهَذَا مُتَحَقِّقٌ، فَإِنَّ النِّعَمَ فِي الْأَصْلِ كُلَّهَا لِلَّهِ عز وجل، لَا يَسْتَحِقُّ أَحَدٌ مِنْهَا شَيْئًا، وَنِسْبَتُهَا إِلَى كُلِّ وَاحِدٍ مِنْ
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

—

এর একবচন হলো 'আলা' (আলিফ ও লাম) ফাতহাহ (জবর) যোগে, কখনো এটি কাসরাহ (জের) যোগেও উচ্চারিত হয় এবং এটি 'ইয়া' যোগে লেখা হয় যেমন 'মিআন' ও 'আমআ' (নাড়িভুঁড়ি) এর ক্ষেত্রে হয়। 'আপনি অপসারিত করেছেন': এটি 'ইজালাহ' থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ হলো স্থানান্তর করা এবং পরিবর্তন করা। আর 'ওয়াবিল': এটি 'ওয়াবাল' (জবর যোগে) থেকে 'ফাইল' ছন্দে গঠিত, যার অর্থ হলো ভারী হওয়া এবং অস্বাস্থ্যকর হওয়া। 'ওয়াবিল চারণভূমি' অর্থ হলো যা অস্বাস্থ্যকর। সম্ভবত 'ওয়াবাল' শব্দটি এখান থেকেই নেওয়া হয়েছে। আর 'লাওয়া': এর অর্থ হলো কঠোরতা। এখানে উদ্দেশ্য হলো এই যে, লাওয়া বা কঠোরতা স্বয়ং একটি মন্দ বৈশিষ্ট্য, তাই আমরা এ থেকে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি।

'আপনি ঝুলিয়ে দিয়েছেন': এটি কোনো ব্যক্তির লুঙ্গি ঝুলিয়ে দেওয়া থেকে এসেছে যখন সে তা ঢিলে করে দেয়, আর এটিই হলো 'ইসবাল'। 'জামিল': এর অর্থ হলো সুন্দর। এর মূল অর্থ হলো গলিত চর্বি। তারা বলেন: 'সুন্দর চেহারা' অর্থাৎ সজীবতা ও উজ্জ্বলতার কারণে মনে হয় যেন তাতে 'জামিল' বা গলিত চর্বি মাখানো হয়েছে। পরবর্তীতে প্রত্যেক সুন্দর বস্তুকে 'জামিল' বলা হতে থাকে। আর 'ঘিতা' (আবরণ) এর মূল অর্থ হলো উচ্চ হওয়া। পানি এবং প্রতিটি বস্তু যখন উপরে উঠে যায় তখন বলা হয় 'গাতা'। [আর যা কোনো কিছুর উপর দীর্ঘায়িত হয়, তা তাকে আবৃত করে ফেলে]। রাত যখন অন্ধকারাচ্ছন্ন হয় তখন বলা হয় 'গাতা আল-লাইল', কারণ এটি সকল বস্তুর উপর উঠে যায় এবং সেগুলোর উপরে অবস্থান করে সেগুলোকে আড়াল করে ফেলে। তদ্রূপ 'ঘিতা' বা আবরণও তার নিচে থাকা বস্তুর উপরে অবস্থান করে তাকে আড়াল করে দেয়।

'আপনি প্রবাহিত করেছেন': এর মূল হলো 'জালাল' (বিচ্যুতি), যার অর্থ হলো সরে যাওয়া। বলা হয়ে থাকে: সে রাস্তা থেকে বিচ্যুত হয়েছে অর্থাৎ সে রাস্তা থেকে সরে গিয়েছে। আর মহিমান্বিত কিতাবে (আল-কুরআনে) এসেছে: {অতঃপর শয়তান তাদেরকে তা থেকে বিচ্যুত করল} [সূরা আল-বাকারা: ৩৬], অর্থাৎ সে তাদেরকে তা থেকে সরিয়ে দিল। সুতরাং এর অর্থ হলো: আপনি আমাদের দিকে অনুগ্রহ ধাবিত করেছেন। বলা হয়: অমুক ব্যক্তি আমার প্রতি তার নেয়ামতসমূহ ধাবিত করেছে, অর্থাৎ সেগুলোকে আমার দিকে ঝোঁকিয়েছে। আর এটি সুনিশ্চিত বাস্তব, কারণ মূলত সকল নেয়ামত মহান আল্লাহর জন্য, এর কোনো কিছুর উপর কারও কোনো হক নেই। আর প্রত্যেকের প্রতি এর সম্বন্ধ...
(খণ্ড: ১) শারহু মুখতাসারির রওদা (পৃষ্ঠা: ৭০)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ــ

آحَادِ الْخَلْقِ عَلَى السَّوَاءِ، فَإِذَا خَصَّ اللَّهُ سُبْحَانَهُ عَبْدًا بِنِعْمَةٍ مَا، فَقَدْ أَمَالَهَا إِلَيْهِ عَنْ غَيْرِهِ.

وَكَفِيلُ الْإِحْسَانِ: شَامِلُهُ وَعَامُّهُ: مِنَ الْكِفْلِ، وَهُوَ كِسَاءٌ يُدَارُ حَوْلَ سَنَامِ الْبَعِيرِ، ثُمَّ يُرْكَبُ، وَيَجُوزُ فِي مَعْنَى الضَّامِنِ، أَيْ: إِحْسَانُكَ إِلَيْنَا تَكْفَّلَ لَنَا بِالْكِفَايَةِ وَالْغَنَاءِ وَكُلِّ خَيْرٍ، وَمَضْمُونُ هَذِهِ الْجُمْلَةِ هُوَ مَطْلُوبُ كُلِّ عَاقِلٍ، وَمُتَعَلَّقُ الْحَمْدِ عِنْدَهُ، وَذَلِكَ لِأَنَّ مَطْلُوبَ الْعَاقِلِ، إِمَّا دَفْعُ ضَرَرٍ وَهُوَ اللَّأْوَاءُ، أَوْ حُصُولُ نَفْعٍ وَهُوَ إِسَالَةُ الْإِحْسَانِ وَالْآلَاءِ، وَإِسْبَالُ جَمِيلِ الْغِطَاءِ.
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

—

সৃষ্টির ব্যক্তিবর্গের ওপর সমানভাবে। সুতরাং আল্লাহ সুবহানাহু যখন কোনো বান্দাকে কোনো বিশেষ নিআমতের জন্য নির্দিষ্ট করেন, তখন তিনি অন্যদের বাদ দিয়ে তা তার দিকেই ধাবিত করেন।

আর অনুগ্রহের জামিনদার: এর অর্থ ব্যাপক ও সাধারণ; এটি 'কিফল' শব্দ থেকে আগত, যা উটের কুঁজের চারদিকে পেঁচিয়ে রাখা কাপড়কে বলা হয়, যার ওপর অতঃপর আরোহণ করা হয়। এটি 'যামিন' বা প্রতিভূ অর্থে হওয়াও বৈধ। অর্থাৎ: আমাদের প্রতি আপনার অনুগ্রহ আমাদের জন্য পর্যাপ্ততা, সচ্ছলতা এবং সকল কল্যাণের নিশ্চয়তা প্রদান করেছে। আর এই বাক্যের মূল বক্তব্য প্রতিটি বুদ্ধিমান ব্যক্তির অন্বেষিত বিষয় এবং তার নিকট এটিই প্রশংসার সংশ্লিষ্ট বিষয়। আর তা এজন্য যে, বুদ্ধিমান ব্যক্তির কাম্য বিষয় হলো হয় ক্ষতি দূর করা—যা হলো বিপদ-আপদ, অথবা কল্যাণ অর্জন করা—যা হলো অনুগ্রহ ও নিআমতের প্রবাহ এবং সুন্দর আবরণের বিস্তৃতি।
(খণ্ড: ১) শারহু মুখতাসারির রওদা (পৃষ্ঠা: ৭১)
حَمْدَ مَنْ آمَنَ بِكَ وَأَسْلَمَ، وَفَوَّضَ إِلَيْكَ أَمْرَهُ وَسَلَّمَ، وَانْقَادَ لِأَوَامِرِكَ وَاسْتَسْلَمَ، وَخَضَعَ لِعِزِّكَ الْقَاهِرِ وَدَانَ.

ــ

قَوْلُهُ: «حَمْدَ مَنْ آمَنَ بِكَ وَأَسْلَمَ، وَفَوَّضَ إِلَيْكَ أَمْرَهُ وَسَلَّمَ، وَانْقَادَ لِأَوَامِرِكَ وَاسْتَسْلَمَ، وَخَضَعَ لِعِزِّكَ الْقَاهِرِ وَدَانَ» .

قَوْلُهُ: «أَحْمَدُكَ» : أَيْ: أَحْمَدُكَ حَمْدًا مِثْلَ حَمْدِ مَنْ آمَنَ بِكَ، فَحَذَفَ الْمَصْدَرَ وَصِفَتَهُ وَأَقَامَ مَا أُضِيفَ إِلَيْهِ مَقَامَهُ اخْتِصَارًا، لِأَنَّ الْعَقْلَ يَدُلُّ عَلَى ذَلِكَ، إِذْ لَيْسَ حَمْدِي لِلَّهِ مَثَلًا هُوَ نَفْسَ حَمْدِ مَنْ آمَنَ غَيْرِي، بَلْ هُوَ مِثْلُهُ، وَمِثْلُ ذَلِكَ قَوْلُهُمْ: أَعْطَى عَطَاءَ الْأَجْوَادِ، وَبَخِلَ بُخْلَ الْأَوْغَادِ، أَيْ: مِثْلُهُ، وَقَالَ امْرُؤُ الْقَيْسِ:

إِذَا قَامَتَا تَضَوَّعَ الْمِسْكُ مِنْهُمَا … نَسِيمَ الصَّبَا جَاءَتْ بَرَيَّا الْقَرَنْفُلِ

أَيْ تَضَوَّعَ تَضَوُّعًا مِثْلَ تَضَوُّعِ نَسِيمِ الصَّبَا، وَهُوَ أَكْثَرُ حَذْفًا مِمَّا قُلْنَاهُ.

وَقَوْلُهُ: «مَنْ آمَنَ بِكَ وَأَسْلَمَ» إِشَارَةٌ إِلَى الْفَرْقِ بَيْنَ الْإِيمَانِ وَالْإِسْلَامِ. وَقَدْ نَصَّ الْكِتَابُ وَالسُّنَّةُ عَلَى الْفَرْقِ بَيْنَهُمَا، أَمَّا الْكِتَابُ، فَقَوْلُهُ تَعَالَى: {قَالَتِ الْأَعْرَابُ آمَنَّا قُلْ لَمْ تُؤْمِنُوا وَلَكِنْ قُولُوا أَسْلَمْنَا} [الْحُجُرَاتِ: 14] ، نَفَى الْإِيمَانَ وَأَثْبَتَ الْإِسْلَامَ، وَالْمَنْفِيُّ غَيْرُ الْمُثْبَتِ، فَالْإِيمَانُ غَيْرُ الْإِسْلَامِ، وَالْمُتَغَايِرَانِ مُفْتَرِقَانِ، وَذَلِكَ يُوجِبُ
সেই ব্যক্তির প্রশংসার ন্যায় (আমি প্রশংসা করছি) যে আপনার প্রতি ঈমান এনেছে ও ইসলাম কবুল করেছে, এবং তার বিষয়াদি আপনার নিকট সোপর্দ করেছে ও আত্মসমর্পণ করেছে, এবং আপনার আদেশের অনুগত হয়েছে ও নতি স্বীকার করেছে, এবং আপনার অপরাজেয় প্রতাপের নিকট বিনত হয়েছে ও আনুগত্য প্রকাশ করেছে।

--

তাঁর বাণী: «সেই ব্যক্তির প্রশংসার ন্যায় যে আপনার প্রতি ঈমান এনেছে ও ইসলাম কবুল করেছে, এবং তার বিষয়াদি আপনার নিকট সোপর্দ করেছে ও আত্মসমর্পণ করেছে, এবং আপনার আদেশের অনুগত হয়েছে ও নতি স্বীকার করেছে, এবং আপনার অপরাজেয় প্রতাপের নিকট বিনত হয়েছে ও আনুগত্য প্রকাশ করেছে»।

তাঁর বাণী: «আমি আপনার প্রশংসা করছি» : অর্থাৎ: আমি আপনার এমন প্রশংসা করছি যা আপনার প্রতি ঈমান আনয়নকারীর প্রশংসার ন্যায়। এখানে সংক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে মাসদার (ক্রিয়ামূল) ও তার গুণকে বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং যার দিকে সম্বন্ধ (ইযাফত) করা হয়েছে তাকে তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে। কেননা বুদ্ধি একথাই প্রমাণ করে যে, আল্লাহর প্রতি আমার প্রশংসা অন্য কোনো মুমিনের হুবহু সেই একই প্রশংসা নয়, বরং তার সদৃশ। এর উদাহরণ হলো আরবদের উক্তি: "সে দানশীলদের দানের ন্যায় দান করেছে", এবং "সে নীচদের কৃপণতার ন্যায় কৃপণতা করেছে", অর্থাৎ তাদের সদৃশ। ইমরুল কায়েস বলেছেন:

যখন তারা দু'জন দাঁড়ালো, তখন তাদের থেকে কস্তুরীর সুবাস ছড়িয়ে পড়ল … যেন পুবালি বাতাসের হিল্লোল যা লবঙ্গের সুঘ্রাণ নিয়ে এসেছে

অর্থাৎ পুবালি বাতাসের সুবাস ছড়িয়ে পড়ার ন্যায় সুবাস ছড়িয়ে পড়ল। এটি আমরা যা বলেছি তার চেয়েও অধিক বিলুপ্তি (হযফ) সম্পন্ন।

আর তাঁর বাণী: «যে আপনার প্রতি ঈমান এনেছে ও ইসলাম কবুল করেছে» এটি ঈমান ও ইসলামের মধ্যকার পার্থক্যের প্রতি ইঙ্গিত। কুরআন ও সুন্নাহ এই দুইয়ের মধ্যকার পার্থক্যের ব্যাপারে সুস্পষ্ট বর্ণনা প্রদান করেছে। কুরআনের ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর বাণী: {মরুবাসীরা বলে: আমরা ঈমান এনেছি। আপনি বলুন: তোমরা ঈমান আনোনি, বরং তোমরা বলো: আমরা ইসলাম কবুল করেছি (আত্মসমর্পণ করেছি)} [আল-হুজুরাত: ১৪]। এখানে ঈমানকে অস্বীকার করা হয়েছে এবং ইসলামকে সাব্যস্ত করা হয়েছে। আর যা অস্বীকার করা হয়েছে তা সাব্যস্তকৃত বিষয় থেকে ভিন্ন। সুতরাং ঈমান ইসলাম থেকে ভিন্ন, আর ভিন্ন দুটি বিষয় পরস্পর পৃথক হয়ে থাকে। আর এটি আবশ্যক করে যে-
(খণ্ড: ১) শারহু মুখতাসারির রওদা (পৃষ্ঠা: ৭২)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ــ

الْفَرْقَ بَيْنَ الْإِيمَانِ وَالْإِسْلَامِ.

وَأَمَّا السُّنَّةُ: فَحَدِيثُ جِبْرِيلَ الصَّحِيحُ حَيْثُ قَالَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: مَا الْإِيمَانُ؟ فَقَالَ: أَنْ تُؤْمِنَ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَتُؤْمِنَ بِالْقَدَرِ - أَيْ تُصَدِّقَ بِذَلِكَ - قَالَ: فَمَا الْإِسْلَامُ؟ قَالَ: شَهَادَةُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ، وَإِقَامُ الصَّلَاةِ، وَإِيتَاءُ الزَّكَاةِ، وَحَجُّ الْبَيْتِ، وَصَوْمُ رَمَضَانَ رَوَاهُ مُسْلِمٌ، وَصَحَّحَهُ التِّرْمِذِيُّ.

وَدَلَالَتُهُ عَلَى الْفَرْقِ بَيْنَهُمَا مِنْ وَجْهَيْنِ:

أَحَدُهُمَا: أَنَّ جِبْرِيلَ سَأَلَ عَنْ كُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا بِصِيغَةٍ مُفْرَدَةٍ سُؤَالًا مُسْتَقِلًّا وَذَلِكَ قَاطِعٌ فِي الْفَرْقِ، كَمَا إِذَا قِيلَ: مَا الْإِنْسَانُ وَمَا الْأَسَدُ؟ فَإِنَّهُ يُفِيدُ الْفَرْقَ بَيْنَهُمَا قَطْعًا.

الثَّانِي: أَنَّهُ صلى الله عليه وسلم أَقَرَّهُ عَلَى الْفَرْقِ فِي السُّؤَالِ عَنْهُمَا، وَأَجَابَهُ عَنْهُمَا بِحَقِيقَتَيْنِ مُخْتَلِفَتَيْنِ، فَفَسَّرَ الْإِيمَانَ بِالتَّصْدِيقِ الْقَلْبِيِّ، وَالْإِسْلَامَ بِالْعَمَلِ الْبَدَنِيِّ، وَهَذَا قَاطِعٌ فِي أَنَّ اخْتِلَافَهُمَا اخْتِلَافٌ كُلِّيٌّ، وَلَيْسَ بَيْنَهُمَا عُمُومٌ وَخُصُوصٌ، وَأَنَّ الْإِسْلَامَ أَثَرُ الْإِيمَانِ وَمُكَمِّلُهُ وَصِفَةٌ لَهُ لَا رَكْنٌ فِيهِ وَجُزْءٌ لَهُ.

وَأَمَّا الِاحْتِجَاجُ عَلَى اتِّحَادِ الْإِيمَانِ وَالْإِسْلَامِ بِقَوْلِهِ تَعَالَى: {فَأَخْرَجْنَا مَنْ كَانَ فِيهَا مِنَ الْمُؤْمِنِينَ} ، {فَمَا وَجَدْنَا فِيهَا غَيْرَ بَيْتٍ مِنَ الْمُسْلِمِينَ} [الذَّارِيَاتِ: 35 - 36] ، وَالْمُرَادُ بِهِمَا وَاحِدٌ، وَهُوَ آلُ لُوطٍ، فَضَعِيفٌ، وَجَوَابُهُ: أَنَّهُ وَصَفَهُمْ بِالْأَمْرَيْنِ تَخْصِيصًا لَهُمْ، وَمَدْحًا وَتَعْظِيمًا، أَوْ أَنَّهُ غَايَرَ بَيْنَ الْفَاصِلَتَيْنِ فِي الْآيَتَيْنِ دَفْعًا لِلتَّكْرَارِ، كَمَا بَيَّنَاهُ فِي «بُغْيَةِ الْوَاصِلِ» .
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--

ইমান ও ইসলামের মধ্যে পার্থক্য।

আর সুন্নাহর দলিল হলো: জিবরীলের সহিহ হাদিস, যেখানে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করেছিলেন: ইমান কী? তিনি বললেন: "তা হলো তুমি আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসুলগণ ও শেষ দিবসের ওপর ইমান আনা এবং তাকদিরের ওপর ইমান আনা - অর্থাৎ এই বিষয়গুলোকে সত্য বলে বিশ্বাস করা।" তিনি বললেন: ইসলাম কী? তিনি বললেন: "সাক্ষ্য দেওয়া যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও রাসুল, সালাত কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা, বাইতুল্লাহর হজ করা এবং রমজানের রোজা রাখা।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন এবং তিরমিজি একে সহিহ বলেছেন।

এই হাদিসটি দু'টি দিক থেকে তাদের মধ্যে পার্থক্যের প্রমাণ দেয়:

প্রথমটি হলো: জিবরীল তাদের প্রত্যেকটি সম্পর্কে একক শব্দে স্বতন্ত্র প্রশ্ন করেছেন, আর এটি পার্থক্যের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত প্রমাণ। যেমন যদি বলা হয়: মানুষ কী এবং সিংহ কী? তবে এটি নিশ্চিতভাবেই তাদের উভয়ের মধ্যে পার্থক্য প্রকাশ করে।

দ্বিতীয়টি হলো: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের সম্পর্কে প্রশ্নে বিদ্যমান পার্থক্যকে সমর্থন করেছেন এবং তাদের উত্তর দিয়েছেন দুটি ভিন্ন সংজ্ঞার মাধ্যমে। তিনি ইমানকে অন্তরের বিশ্বাসের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেছেন এবং ইসলামকে শারীরিক আমলের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেছেন। এটি এই বিষয়ে চূড়ান্ত প্রমাণ যে, তাদের মধ্যকার পার্থক্য হলো সামগ্রিক পার্থক্য, এবং তাদের মধ্যে সাধারণ ও বিশেষের (আম-খাস) কোনো সম্পর্ক নেই। বরং ইসলাম হলো ইমানের প্রভাব, এর পরিপূরক ও গুণাবলি, এটি ইমানের কোনো রুকন বা অংশ নয়।

আর আল্লাহ তাআলার বাণী: "অতঃপর সেখানে যারা মুমিন ছিল আমি তাদের বের করে আনলাম," এবং "সেখানে আমি একটি ঘর ব্যতীত কোনো মুসলিম (ঘর) পাইনি" [আয-যারিয়াত: ৩৫-৩৬] - এর মাধ্যমে ইমান ও ইসলামের অভিন্নতার পক্ষে যুক্তি প্রদান করা দুর্বল বিষয়; যেখানে এই দুটি আয়াত দ্বারা একই দল অর্থাৎ লুত আলাইহিস সালামের পরিবারকে বোঝানো হয়েছে। এর উত্তর হলো: তিনি (আল্লাহ) তাঁদের বিশেষিত করার জন্য এবং প্রশংসা ও সম্মানের খাতিরে উভয় বৈশিষ্ট্যে গুণান্বিত করেছেন। অথবা তিনি আয়াত দুটির শেষ শব্দে ভিন্নতা এনেছেন পুনরাবৃত্তি এড়ানোর জন্য, যেমনটি আমরা 'বুগইয়াতুল ওয়াসিল' গ্রন্থে ব্যাখ্যা করেছি।
(খণ্ড: ১) শারহু মুখতাসারির রওদা (পৃষ্ঠা: ৭৩)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ــ

قَوْلُهُ: «وَفَوَّضَ إِلَيْكَ أَمْرَهُ وَسَلَّمَ» ، التَّفْوِيضُ: رَدُّ الْأَمْرِ إِلَى الْغَيْرِ لِيَنْظُرَ فِيهِ، وَقُوَّةُ اللَّفْظِ تُعْطِي التَّوْسِيعَ، كَأَنَّ مَنْ فَوَّضَ أَمْرَهُ إِلَى غَيْرِهِ قَدْ جَعَلَهُ فِي سَعَةٍ مِنَ الِاعْتِرَاضِ عَلَيْهِ، وَيُقَالُ: أَمْوَالُهُمْ بَيْنَهُمْ فَوْضَى وَفَيْضُوضَى: إِذَا كَانُوا شُرَكَاءَ فِيهَا، وَأَمْرَهُ: أَيْ شَأْنُهُ وَكُلُّ مَا يَعْنِيهِ مِنَ اسْتِجْلَابِ خَيْرٍ، أَوِ اسْتِدْفَاعِ شَرٍّ، فَهُوَ مُفَوَّضٌ فِيهِ إِلَيْكَ لِعِلْمِهِ أَنَّهُ لَا يَصْدُرُ شَيْءٌ إِلَّا عَنْكَ نِعْمَةً وَبَلَاءً، وَمَنْعًا وَعَطَاءً، وَأَنَّكَ الْمُسْتَبِدُّ فِي الْخَلْقِ حُكْمًا وَقَضَاءً. وَالتَّسْلِيمُ فِي مَعْنَى التَّفْوِيضِ، قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا} [النِّسَاءِ: 65] .

وَقَوْلُهُ: «وَانْقَادَ لِأَوَامِرِكَ وَاسْتَسْلَمَ» الِانْقِيَادُ: هُوَ الْمُتَابَعَةُ مَعَ الْمُطَاوَعَةِ، كَالْبَعِيرِ وَغَيْرِهِ مِنَ الدَّوَابِّ إِذَا قُيِّدَ بِزِمَامِهِ، تَابَعَ مُطَاوِعًا. وَالِاسْتِسْلَامُ: تَسْلِيمُ النَّفْسِ خَوْفًا مِنَ الْعِقَابِ، وَلَيْسَ هَذَا فِيمَا بَيْنَ اللَّهِ سبحانه وتعالى نِفَاقًا، لِأَنَّ الْخَوْفَ مِنَ اللَّهِ وَاجِبٌ، بِخِلَافِ ذَلِكَ فِيمَا بَيْنَ الْمَخْلُوقِينَ، فَإِنَّهُ قَدْ يَكُونُ نِفَاقًا كَالْحَرْبِيِّ وَالْمُرْتَدِّ إِذَا أَسْلَمَ خَوْفًا مِنَ الْقَتْلِ، لِأَنَّ خَوْفَ الْمَخْلُوقِينَ غَيْرُ وَاجِبٍ، كَمَا قَالَ سبحانه وتعالى: {إِلَّا مَنْ أُكْرِهَ وَقَلْبُهُ مُطْمَئِنٌّ بِالْإِيمَانِ} [النَّحْلِ: 106] فَهَذَا اسْتِسْلَامٌ لِلْكُفْرِ تَقِيَّةً، وَلَيْسَ الْمُرَادُ هَاهُنَا الِانْقِيَادَ لِلْأَوَامِرِ، أَيْ نَعْتَقِدُ وُجُوبَ امْتِثَالِ أَوَامِرِكَ وَنَوَاهِيكَ فِعْلًا وَكَفًّا وَهَذَا شَأْنُ جَمِيعِ الْمُؤْمِنِينَ، وَالْمَعْنَى نَحْمَدُكَ حَمْدَ الْمُؤْمِنِينَ.

وَقَوْلُهُ: «وَخَضَعَ لِعِزِّكَ الْقَاهِرِ وَدَانَ» الْخُضُوعُ: التَّطَامُنُ وَالتَّوَاضُعُ، وَمِنْهُ خَضَعَ النَّجْمُ: إِذَا مَالَ لِلْمَغِيبِ، وَخَضَعَ الْإِنْسَانُ خَضْعًا: أَمَالَ رَأْسَهُ إِلَى الْأَرْضِ وَدَنَا مِنْهَا، وَاللَّهُ أَعْلَمُ.

وَلَا بُدَّ لِلْمُؤْمِنِ الْكَامِلِ مَا تَضَمَّنَتْهُ هَذِهِ الْجُمْلَةُ مِنَ الصِّفَاتِ، وَهِيَ الْإِيمَانُ

—

তাঁর বাণী: "এবং সে আপনার নিকট তার বিষয় সোপর্দ করেছে ও আত্মসমর্পণ করেছে", সোপর্দ করা (তাফভিদ) হলো: কোনো বিষয় অন্যের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া যাতে সে তাতে বিবেচনা করতে পারে। শব্দটির শক্তি ব্যাপকতা প্রদান করে, যেন যে ব্যক্তি তার বিষয় অন্যের নিকট সোপর্দ করল, সে তাকে তার ওপর আপত্তি করার ব্যাপারে প্রশস্ততা প্রদান করল। আর বলা হয়: তাদের ধন-সম্পদ তাদের মাঝে 'ফাওদা' ও 'ফাইদুদা' (অংশীদারিত্বমূলক), যখন তারা তাতে অংশীদার হয়। আর 'তার বিষয়' বলতে উদ্দেশ্য: তার অবস্থা এবং কল্যাণ অর্জন বা অকল্যাণ প্রতিহত করা সংশ্লিষ্ট যা কিছু তাকে ভাবিয়ে তোলে; সুতরাং তা আপনার নিকট সোপর্দকৃত। কারণ সে জানে যে, নেয়ামত ও পরীক্ষা এবং বঞ্চনা ও দান—সবই আপনার পক্ষ হতে ঘটে। আর আপনিই সৃষ্টিজগতের ফয়সালা ও তকদীরের ক্ষেত্রে একমাত্র স্বয়ংসম্পূর্ণ ও ক্ষমতাশীল। আর 'তাসলিম' (আত্মসমর্পণ) শব্দটি সোপর্দ করার অর্থেই ব্যবহৃত হয়। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {অতঃপর আপনি যা ফয়সালা করেন সে ব্যাপারে তারা নিজেদের মনে কোনো সংকীর্ণতা পাবে না এবং তারা পূর্ণরূপে আত্মসমর্পণ করবে} [আন-নিসা: ৬৫]।

আর তাঁর বাণী: "এবং সে আপনার আদেশের অনুগত হয়েছে ও আত্মসমর্পণ করেছে", আনুগত্য (ইনকিয়াদ) হলো: বাধ্যগত হয়ে অনুসরণ করা; যেমন উট বা অন্যান্য চতুষ্পদ জন্তু যখন লাগাম দ্বারা টেনে নেওয়া হয়, তখন সে বাধ্য হয়ে অনুসরণ করে। আর আত্মসমর্পণ (ইসতিসলাম) হলো: শাস্তির ভয়ে নিজেকে সোপর্দ করা। মহান আল্লাহর ক্ষেত্রে এটি মুনাফেকি নয়, কারণ আল্লাহকে ভয় করা ওয়াজিব। পক্ষান্তরে মাখলুকের (সৃষ্টির) ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন; সেখানে এটি মুনাফেকি হতে পারে, যেমন যুদ্ধরত কাফের বা মুরতাদ ব্যক্তি হত্যার ভয়ে ইসলাম গ্রহণ করলে। কারণ সৃষ্টির ভয় ওয়াজিব নয়, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {তবে সে ব্যক্তি নয় যাকে বাধ্য করা হয়েছে অথচ তার অন্তর ঈমানে অটল} [আন-নাহল: ১০৬]। সুতরাং এটি হলো আত্মরক্ষার্থে কুফরের প্রতি বাহ্যিক আত্মসমর্পণ। আর এখানে আদেশের প্রতি আনুগত্য বলতে উদ্দেশ্য হলো—আমরা আপনার আদেশ ও নিষেধসমূহ পালন করা এবং তা থেকে বিরত থাকাকে আবশ্যক বলে বিশ্বাস করি। এটিই সকল মুমিনের অবস্থা, আর এর মর্মার্থ হলো: আমরা মুমিনদের ন্যায় আপনার প্রশংসা করছি।

আর তাঁর বাণী: "এবং সে আপনার পরাক্রমশালী সম্মানের নিকট বিনত হয়েছে ও আনুগত্য করেছে", বিনয় (খুদু) হলো: নতি স্বীকার ও বিনম্রতা। এখান থেকেই বলা হয়: 'নক্ষত্র বিনত হয়েছে', যখন তা অস্ত যাওয়ার দিকে ঢলে পড়ে। আর মানুষ 'খুদু' করেছে মানে সে তার মাথা জমিনের দিকে ঝুঁকিয়েছে এবং তার নিকটবর্তী হয়েছে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

আর একজন পূর্ণাঙ্গ মুমিনের জন্য এই বাক্যে বর্ণিত গুণাবলি থাকা আবশ্যক, আর তা হলো ঈমান।
(খণ্ড: ১) শারহু মুখতাসারির রওদা (পৃষ্ঠা: ৭৪)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ــ

الْقَلْبِيُّ حَتَّى بِالْقَدَرِ، وَالْعَمَلِ الْبَدَنِيِّ مَعَ الِانْقِيَادِ وَالِاسْتِسْلَامِ وَالْخُضُوعِ، قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ} {الَّذِينَ هُمْ فِي صَلَاتِهِمْ خَاشِعُونَ} [الْمُؤْمِنُونَ: 1 - 2] ، فَذَكَرَ الْإِيمَانَ، وَهُوَ أَكْبَرُ وَظَائِفِ الْقَلْبِ، وَالصَّلَاةَ، وَهِيَ أَكْبَرُ وَظَائِفِ الْبَدَنِ، وَالْخُشُوعَ وَهُوَ أَكْبَرُ الْوَظَائِفِ الْمُشْتَرِكَةِ بَيْنَهُمَا، لِأَنَّ الْخُشُوعَ تَوَاضُعٌ يَكُونُ فِي الْقَلْبِ، ثُمَّ يَظْهَرُ عَلَى الْجَوَارِحِ، وَلِهَذَا قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي رَجُلٍ رَآهُ يُصَلِّي وَهُوَ يَعْبَثُ، فَقَالَ. لَوْ خَشَعَ قَلْبُ هَذَا لَخَشَعَتْ جَوَارِحُهُ
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

—

অন্তরের [বিশ্বাস], এমনকি তাকদীরের প্রতিও, এবং আনুগত্য, আত্মসমর্পণ ও বিনম্রতার সাথে শারীরিক আমল। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন: {মুমিনগণ অবশ্যই সফলকাম হয়েছে} {যারা তাদের সালাতে বিনম্র।} [আল-মুমিনুন: ১-২]। এখানে তিনি ঈমানের কথা উল্লেখ করেছেন, যা অন্তরের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব; এবং সালাতের কথা, যা শরীরের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব; আর খুশু বা বিনম্রতার কথা, যা এই উভয়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় যৌথ দায়িত্ব। কেননা খুশু হলো এমন এক বিনয় যা অন্তরে সৃষ্টি হয়, অতঃপর তা অঙ্গপ্রত্যঙ্গে প্রকাশ পায়। একারণেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক ব্যক্তি সম্পর্কে বলেছিলেন, যাকে তিনি সালাত আদায়ের সময় অনর্থক কাজ করতে দেখেছিলেন, তিনি বলেন: "যদি এই ব্যক্তির অন্তর বিনম্র হতো, তবে তার অঙ্গপ্রত্যঙ্গও বিনম্র হতো।"
(খণ্ড: ১) শারহু মুখতাসারির রওদা (পৃষ্ঠা: ৭৫)
وَأَسْأَلُكَ أَنْ تُصَلِّيَ عَلَى سَيِّدِ أَصْفِيَائِكَ، وَخَاتَمِ أَنْبِيَائِكَ، وَفَاتِحِ أَوْلِيَائِكَ، مُحَمَّدٍ سَيِّدِ مُعَدِّ بْنِ عَدْنَانَ.

ــ

قَوْلُهُ: «وَأَسْأَلُكَ أَنْ تُصَلِّيَ عَلَى سَيِّدِ أَصْفِيَائِكَ وَخَاتَمِ أَنْبِيَائِكَ وَفَاتِحِ أَوْلِيَائِكَ مُحَمَّدٍ سَيِّدِ مُعَدِّ بْنِ عَدْنَانَ» .

«وَأَسْأَلُكَ» : مَعْطُوفٌ عَلَى «أَحْمَدُكَ» ، أَيْ: أَحْمَدُكَ وَأَسْأَلُكَ، وَتَقْدِيمُ الْحَمْدِ قَبْلَ السُّؤَالِ أَجْدَرُ بِالْإِجَابَةِ كَمَا هُوَ مُشَاهَدٌ بَيْنَ النَّاسِ، وَلِهَذَا وَقَعَ فِي الْفَاتِحَةِ: {إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ} ، قُدِّمَتِ الْعِبَادَةُ لِتَكَوُنَ وَسِيلَةً إِلَى حُصُولِ الْإِعَانَةِ، وَالصَّلَاةُ مِنَ اللَّهِ سبحانه وتعالى: الرَّحْمَةُ، وَيَلْزَمُهَا مَعْنَى التَّعْظِيمِ وَالتَّشْرِيفِ وَالتَّكْرِيمِ، خُصُوصًا إِذَا كَانَتْ عَلَى الْأَنْبِيَاءِ صَلَوَاتُ اللَّهِ عَلَيْهِمْ.

وَالسَّيِّدُ: هُوَ الرَّئِيسُ الَّذِي يَسُودُ مَنْ دُونَهُ، وَهُوَ فَعِيلٌ بِكَسْرِ الْعَيْنِ مِنَ السِّيَادَةِ وَهِيَ التَّقَدُّمُ وَالرِّئَاسَةُ.

وَالْأَصْفِيَاءُ: جَمْعُ صَفِيٍّ، وَهُوَ الصَّفْوَةُ الْمُخْتَارُ إِلَيْهِ تَشْبِيهُ مَاءٍ دُونَ الصَّافِي أَوِ الْأَصْفَى مِنَ الْمَاءِ إِلَيْهِ، فَالْأَنْبِيَاءُ صَلَوَاتُ اللَّهِ عَلَيْهِمْ صَفْوَةُ اللَّهِ مِنَ الْخَلْقِ، وَنَبِيُّنَا مُحَمَّدٌ صلى الله عليه وسلم سَيِّدُ تِلْكَ الصَّفْوَةِ.

وَالْأَنْبِيَاءُ جَمْعُ نَبِيءٍ، بِالْهَمْزِ وَتَرْكِهِ، فَإِذَا هُمِزَ فَهُوَ فَعِيلٌ مِنَ النَّبَأِ، وَهُوَ الْخَبَرُ، لِأَنَّهُ يَأْتِي بِالْخَبَرِ عَنِ اللَّهِ سبحانه وتعالى، وَإِذَا لَمْ يُهْمَزْ فَهُوَ مُخَفَّفٌ مِنَ الْمَهْمُوزِ فِي
এবং আমি আপনার নিকট প্রার্থনা করছি যে আপনি আপনার মনোনীত বান্দাদের সরদার, আপনার নবীগণের সমাপ্তি দানকারী এবং আপনার ওলীগণের দ্বার উন্মোচনকারী, মা’আদ বিন আদনানের পুত্র মুহাম্মাদের ওপর দরূদ বর্ষণ করুন।

—

তাঁর কথা: «এবং আমি আপনার নিকট প্রার্থনা করছি যে আপনি আপনার মনোনীত বান্দাদের সরদার, আপনার নবীগণের সমাপ্তি দানকারী এবং আপনার ওলীগণের দ্বার উন্মোচনকারী, মা’আদ বিন আদনানের পুত্র মুহাম্মাদের ওপর দরূদ বর্ষণ করুন»।

«এবং আমি আপনার নিকট প্রার্থনা করছি»: এটি «আমি আপনার প্রশংসা করছি» বাক্যের ওপর সমম্বিত, অর্থাৎ: আমি আপনার প্রশংসা করছি এবং আপনার নিকট প্রার্থনা করছি। প্রার্থনার পূর্বে প্রশংসা পেশ করা কবুল হওয়ার জন্য অধিকতর উপযোগী, যেমনটি মানুষের মাঝেও পরিলক্ষিত হয়। এই কারণেই সূরা ফাতিহায় বর্ণিত হয়েছে: {আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি এবং কেবল আপনারই নিকট সাহায্য চাই}। এখানে ইবাদতকে আগে আনা হয়েছে যাতে তা সাহায্য লাভের মাধ্যম হতে পারে। আর মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে ‘সালাত’ বা দরূদ হলো রহমত বা করুণা, যার সাথে সম্মাননা, মর্যাদা ও শ্রদ্ধার অর্থ অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত থাকে; বিশেষ করে যখন তা নবীগণের ওপর বর্ষিত হয়—তাঁদের ওপর আল্লাহর দরূদ ও শান্তি বর্ষিত হোক।

আর ‘সাইয়িদ’ বা সরদার হলেন সেই নেতা যিনি তাঁর অধীনস্থদের ওপর নেতৃত্ব দান করেন। এটি ‘সিয়াদা’ শব্দ থেকে ‘ফায়ীল’ ওজনে গঠিত, যার অর্থ হলো শ্রেষ্ঠত্ব ও নেতৃত্ব।

‘আসফিয়া’ শব্দটি ‘সাফী’ এর বহুবচন, যার অর্থ হলো মনোনীত বা নির্বাচিত ব্যক্তি। এর তুলনা স্বচ্ছ পানির সাথে অথবা পানি থেকে আহরিত সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন অংশের সাথে করা হয়। সুতরাং নবীগণ (তাঁদের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক) হলেন সমগ্র সৃষ্টির মধ্য থেকে আল্লাহর মনোনীত ব্যক্তিবর্গ, আর আমাদের নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হলেন সেই মনোনীত ব্যক্তিবর্গের সরদার।

আর ‘আম্বিয়া’ হলো ‘নবী’ শব্দের বহুবচন, যা হামযা সহ এবং হামযা ছাড়া উভয়ভাবেই পঠিত হয়। যখন এটি হামযা সহ উচ্চারিত হয়, তখন তা ‘নাবা’ শব্দ থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ সংবাদ। কারণ তিনি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে সংবাদ নিয়ে আসেন। আর যখন এটি হামযা ছাড়া পঠিত হয়, তখন তা হামাযাযুক্ত শব্দেরই সহজতর রূপ হিসেবে গণ্য হয়।
(খণ্ড: ১) শারহু মুখতাসারির রওদা (পৃষ্ঠা: ৭৬)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ــ

أَحَدِ الْأَقْوَالِ لِأَهْلِ اللُّغَةِ، كَمَا خَفَّفُوا الذُّرِّيَّةَ وَالْبَرِيَّةَ وَأَصْلُهُمَا الْهَمْزُ.

وَالْقَوْلُ الثَّانِي: أَنَّهُ اسْتُعِيرَ لَهُ اسْمُ النَّبِيِّ، وَهُوَ الطَّرِيقُ، لِأَنَّ النَّبِيَّ يَهْدِي النَّاسَ إِلَى الْحَقِّ كَمَا تَهْدِيهِمُ الطَّرِيقُ إِلَى مَقَاصِدِهِمْ.

وَالثَّالِثُ: أَنَّهُ فَعِيلٌ مِنْ نَبَا: إِذَا ارْتَفَعَ مَكَانُهُ، لِأَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم رَفِيعُ الْمَنْزِلَةِ عِنْدَ اللَّهِ سبحانه وتعالى، وَمُحَمَّدٌ صلى الله عليه وسلم هُوَ خَاتَمُ الْأَنْبِيَاءِ صَلَوَاتُ اللَّهِ عَلَيْهِمْ بِنَصِّ الْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ وَالْإِجْمَاعِ وَدَلِيلِ الْعَقْلِ لِمَنْ يُطَالِبُ بِهِ.

وَالْأَوْلِيَاءُ: جَمْعُ وَلِيٍّ، وَهُوَ فَعِيلٌ مِنْ: وَلِيتُ الشَّيْءَ أَلِيهِ: إِذَا عُنِيتُ بِهِ وَنَظَرْتُ فِيهِ كَمَا يَنْظُرُ الْوَلِيُّ فِي مَالِ الْيَتِيمِ وَنَحْوِهِ، لِأَنَّ اللَّهَ سبحانه وتعالى يَنْظُرُ فِي أَمْرِ وَلَيِّهِ بِالرَّحْمَةِ وَالْعِنَايَةِ، وَالْوَلِيُّ يَنْظُرُ فِي أَوَامِرَ اللَّهِ سبحانه وتعالى بِالطَّاعَةِ، وَيَجُوزُ أَنْ يَكُونَ فَعِيلًا مِنْ: وَلِيتُ الشَّيْءَ، وَوَلِيَنِي الشَّيْءُ: إِذَا لَمْ يَكُنْ بَيْنِي وَبَيْنَهُ وَاسِطَةٌ، كَمَا فِي قَوْلِهِ سبحانه وتعالى: {قَاتِلُوا الَّذِينَ يَلُونَكُمْ مِنَ الْكُفَّارِ} [التَّوْبَةِ: 123] ، وَقَوْلِهِ عليه السلام: لِيَلِيَنِي مِنْكُمْ ذَوُو الْأَحْلَامِ وَالنُّهَى يَعْنِي فِي الصَّلَاةِ، وَقَوْلِهِ
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

—

ভাষাভিদগণের অন্যতম মত অনুযায়ী, যেমনটি তাঁরা 'যুররিয়্যাহ' এবং 'বারিয়্যাহ' শব্দদ্বয়কে সহজ করার জন্য হামযা বিলুপ্ত করেছেন, অথচ এগুলোর মূল রূপ ছিল হামযা যুক্ত।

দ্বিতীয় মত: নবীর জন্য এই নামটি রূপক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, যার অর্থ পথ; কারণ নবী মানুষকে সত্যের দিকে পরিচালিত করেন, যেমনিভাবে পথ মানুষকে তাদের গন্তব্যের দিকে নিয়ে যায়।

তৃতীয় মত: এটি 'নাবা' ধাতু থেকে 'ফায়ীল' ওজনে গঠিত, যার অর্থ হলো যখন কোনো কিছুর স্থান উচ্চে হয়। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর কাছে অত্যন্ত উচ্চ মর্যাদার অধিকারী। আর মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হলেন শেষ নবী; যা কিতাব (কুরআন), সুন্নাহ, ইজমা এবং যারা যুক্তির দাবি করেন তাদের জন্য বুদ্ধিভিত্তিক দলীল দ্বারা প্রমাণিত। আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি রহমত বর্ষণ করুন।

আর 'আওলিয়া' হলো 'ওয়ালী' শব্দের বহুবচন। এটি 'ওয়ালিতুশ শাইআ আলীহি' থেকে 'ফায়ীল' ওজনে গঠিত; এর অর্থ হলো: যখন আমি কোনো কিছুর প্রতি গুরুত্ব দেই এবং এর তত্ত্বাবধান করি, যেমনটি অভিভাবক এতিমের সম্পদ বা অনুরূপ বিষয়ের তত্ত্বাবধান করেন। কারণ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা রহমত ও বিশেষ অনুগ্রহের সাথে তাঁর অলীর বিষয়াদি তত্ত্বাবধান করেন, আর অলী আনুগত্যের মাধ্যমে আল্লাহর নির্দেশাবলি পালন করেন। এটি 'ওয়ালিতুশ শাইআ' এবং 'ওয়ালানিয়াশ শাইউ' থেকেও 'ফায়ীল' ওজনে গঠিত হতে পারে; যার অর্থ হলো: যখন আমার এবং সেই বস্তুর মাঝে কোনো মাধ্যম থাকে না। যেমন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার বাণী: {তোমরা কাফিরদের মধ্যে যারা তোমাদের নিকটবর্তী তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো} [আত-তাওবাহ: ১২৩]। এবং নবী আলাইহিস সালামের বাণী: তোমাদের মধ্যে যারা প্রজ্ঞাবান ও বিবেকসম্পন্ন তারা যেন আমার নিকটবর্তী হয়ে (সালাতে) দাঁড়ায়। এবং তাঁর বাণী...
(খণ্ড: ১) শারহু মুখতাসারির রওদা (পৃষ্ঠা: ৭৭)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ــ

عليه الصلاة والسلام: خَيْرُ النَّاسِ قَرْنِي ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ، كُلُّ هَذَا الْمُرَادُ بِهِ نَفْيُ الْوَاسِطَةِ، وَالْمَعْنَى الْأَوَّلُ آيِلٌ إِلَى هَذَا أَيْضًا فَهُوَ الْأَصْلُ، فَالْوَلِيُّ يَلِي رَبَّهُ سبحانه وتعالى وَيَلِيهِ رَبُّهُ، فَالْمَعْنَى أَنَّ الْوَلِيَّ يَقْطَعُ الْوَسَائِطَ بَيْنَهُ وَبَيْنَ اللَّهِ سبحانه وتعالى حِينَ يَصِيرُ فِي مَقَامِ الْمُرَاقَبَةِ وَالْمُشَاهَدَةِ، وَهُوَ مَقَامُ الْإِحْسَانِ الَّذِي فَسَّرَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِ: أَنْ تَعْبُدَ اللَّهَ كَأَنَّكَ تَرَاهُ فَإِنْ لَمْ تَكُنْ تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ. وَالرَّبُّ سُبْحَانَهُ يَجْعَلُ عَبْدَهُ يَلِيهِ، بِمَعْنَى أَنَّهُ يُفِيضُ عَلَيْهِ مِنَ الْمَعَارِفِ وَاللَّطَائِفِ بِغَيْرِ وَاسِطَةٍ، كَمَا أَعْطَى الْخَضِرَ تِلْكَ الْعُلُومَ اللَّدُنِّيَّةَ بِغَيْرِ وَاسِطَةِ كِتَابٍ مُنَزَّلٍ، وَلَا مَلَكٍ مُرْسَلٍ، وَلَيْسَ هَذَا مُوجِبًا لِتَفْضِيلِ الْوَلِيِّ عَلَى النَّبِيِّ عليه السلام كَمَا زَعَمَ بَعْضُ جَهَلَةِ الْمُتَصَوِّفَةِ مُحْتَجًّا بِقِصَّةِ مُوسَى وَالْخَضِرِ، وَذَلِكَ لِأَنَّ مَقَامَ الْوَلِيِّ مِنَ اللَّهِ سبحانه وتعالى مَقَامُ الرَّأْفَةِ وَالرَّحْمَةِ، وَمَقَامَ النَّبِيِّ عليه السلام مَقَامُ الشَّرَفِ وَالتَّعْظِيمِ وَالْقُوَّةِ وَالْعِصْمَةِ، وَلِهَذَا كَانَ النَّبِيُّ عليه السلام مَأْمُورًا بِإِظْهَارِ الْمُعْجِزِ وَإِشَاعَتِهِ عَلَى رُءُوسِ الْأَشْهَادِ، وَالْوَلِيُّ مَأْمُورًا بِكِتْمَانِ الْكَرَامَةِ وَسَتْرِهَا عَنْ إِدْرَاكِ الْعِبَادِ، وَلَا شَكَّ أَنَّ الْمَلِكَ الْعَظِيمَ قَدْ يَرَى
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

—

তাঁর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক: "মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম হলো আমার যুগের লোকসকল, অতঃপর যারা তাদের পরবর্তী, অতঃপর যারা তাদের পরবর্তী।" এই সবকিছুর উদ্দেশ্য হলো মধ্যস্থতা বা মাধ্যমকে অস্বীকার করা, এবং প্রথম অর্থটিও এরই অন্তর্ভুক্ত, আর সেটিই হলো মূল ভিত্তি। সুতরাং ওলি তার মহান প্রতিপালকের নিকটবর্তী হন এবং তাঁর প্রতিপালকও তাঁর নিকটবর্তী হন। এর অর্থ হলো, ওলি যখন মুরাকাবা (সতর্ক পর্যবেক্ষণ) এবং মুশাহাদা (দিব্যদর্শন) এর মাকামে উপনীত হন, তখন তিনি নিজের এবং মহান আল্লাহর মধ্যবর্তী মাধ্যমসমূহকে ছিন্ন করেন। আর এটিই হলো ইহসানের মাকাম, যেটিকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এভাবে ব্যাখ্যা করেছেন: "তুমি আল্লাহর ইবাদত এমনভাবে করবে যেন তুমি তাঁকে দেখছ, আর যদি তুমি তাঁকে না দেখ, তবে তিনি নিশ্চয়ই তোমাকে দেখছেন।" আর মহান প্রতিপালক তাঁর বান্দাকে নিজের নিকটবর্তী করে নেন, যার অর্থ হলো তিনি কোনো মাধ্যম ছাড়াই তার ওপর মারেফত ও সূক্ষ্মতত্ত্বসমূহ বর্ষণ করেন, যেমন তিনি খিদিরকে সেই লাদুন্নী জ্ঞান দান করেছিলেন কোনো অবতীর্ণ কিতাব বা প্রেরিত ফেরেশতার মাধ্যম ছাড়াই। আর এটি ওলিকে নবীর (আলাইহিস সালাম) ওপর শ্রেষ্ঠত্ব প্রদানের কোনো কারণ নয়, যেমনটি কতিপয় মূর্খ সুফী মূসা ও খিদিরের কাহিনী দ্বারা দলিল পেশ করে দাবি করে থাকে। এর কারণ হলো, মহান আল্লাহর নিকট ওলির মাকাম হলো মমতা ও করুণার মাকাম, আর নবীর (আলাইহিস সালাম) মাকাম হলো মর্যাদা, শ্রেষ্ঠত্ব, শক্তি ও নিষ্পাপত্বের মাকাম। এই কারণেই নবী (আলাইহিস সালাম) সকলের সামনে মুজিজা প্রকাশ ও প্রচার করতে আদিষ্ট ছিলেন, পক্ষান্তরে ওলি তাঁর কারামত গোপন রাখতে এবং মানুষের দৃষ্টি থেকে তা আবৃত রাখতে আদিষ্ট। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মহান রাজাধিরাজ হয়তো দেখেন...
(খণ্ড: ১) শারহু মুখতাসারির রওদা (পৃষ্ঠা: ৭৮)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ــ

مِسْكِينًا أَوْ يَتِيمًا، فَيَرْحَمُهُ، فَيَمْسَحُ بِرَأْسِهِ، أَوْ يُعْطِيهِ مِنْ يَدِهِ شَيْئًا، وَلَا يَصِلُ إِنْعَامُهُ إِلَى قَائِدِ جُيُوشِهِ إِلَّا بِوَسَائِطَ، مَعَ أَنَّ الْقَائِدَ عِنْدَهُ أَعْظَمُ قَدْرًا وَأَعْلَى مَحِلًّا، وَكَمْ بَيْنَ مَنْ يُعْطِيهِ الْمَلِكُ سَيْفًا، وَيَقُولُ لَهُ: خُذْهُ فِي يَدِكَ مَشْهُورًا، وَاضْرِبْ بِهِ مَنْ عَصَاكَ فِي أَمْرٍ، وَبَيْنَ مَنْ يُعْطِيهِ سِكِّينًا وَيَقُولُ لَهُ: اجْعَلْهُ تَحْتَ ثِيَابِكَ، لِئَلَّا يَرَاكَ الْوَالِي أَوْ غَيْرُهُ، هَذَا تَفَاوُتٌ كَثِيرٌ.

وَمِنَ الْمَعْلُومِ أَنَّ اللَّهَ سبحانه وتعالى كَمَا خَتَمَ بِمُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم الْأَنْبِيَاءَ كَذَلِكَ افْتَتَحَ بِهِ الْأَوْلِيَاءَ، وَالنَّبِيُّ يَصْدُقُ عَلَيْهِ اسْمُ الْوَلِيِّ وَإِنْ كَانَ أَعَمَّ أَوْصَافِهِ، وَقَدْ نَظَمَ الْمَعْنَى الشَّيْخُ يَحْيَى بْنُ يُوسُفَ الصَّرْصَرِيُّ حَيْثُ قَالَ:

هُوَ خَاتَمُ الْأَنْبِيَاءِ وَفَاتِحُ الْ … أَوْلِيَاءِ وَشُرْبُهُمْ مِنْ شُرْبِهِ

أَيْ: هُوَ مَادَّتُهُمْ وَمِنْهُ يُسْقَوْنَ.

وَمُحَمَّدٌ اسْمُهُ صلى الله عليه وسلم هُوَ مُفَعَّلٌ مِنَ الْحَمْدِ، كَمَا أَنَّ أَحْمَدَ أَفْعَلَ مِنْ ذَلِكَ أَيْضًا، وَمَعَدٌّ مَفَعْلٌ بِفَتْحِ الْمِيمِ وَالْعَيْنِ وَتَخْفِيفِهِمَا، أَبُو الْعَرَبِ، وَهَلْ مِيمُهُ زَائِدَةٌ أَوْ أَصْلِيَّةٌ؟ فِيهِ قَوْلَانِ:

الْأَوَّلُ: اخْتِيَارُ الْأَكْثَرِينَ، وَلِهَذَا ذَكَرَهُ الْجَوْهَرِيُّ فِي عَدَدٍ.
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

—

কোন মিসকিন বা এতিমকে, যার প্রতি তিনি দয়া করেন, ফলে তিনি তার মাথায় হাত বুলিয়ে দেন অথবা নিজের হাত থেকে তাকে কিছু দান করেন। অথচ তার সেনাপতির কাছে কোনো মধ্যস্থতাকারী ছাড়া তার অনুগ্রহ পৌঁছায় না, যদিও সেনাপতি তার কাছে অধিক মর্যাদাবান এবং উচ্চতর স্থানের অধিকারী। আর কতই না ব্যবধান সেই ব্যক্তির মধ্যে যাকে রাজা একটি তরবারি দান করেন এবং তাকে বলেন: "এটি তোমার হাতে উন্মুক্ত অবস্থায় গ্রহণ করো এবং এর মাধ্যমে তাকে আঘাত করো যে তোমার কোনো নির্দেশে অবাধ্য হয়", আর সেই ব্যক্তির মধ্যে যাকে তিনি একটি ছুরি প্রদান করেন এবং তাকে বলেন: "এটি তোমার পোশাকের নিচে লুকিয়ে রাখো যেন গভর্নর বা অন্য কেউ তোমাকে দেখতে না পায়"—এ হলো এক বিশাল পার্থক্য।

এটি সুবিদিত যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা যেভাবে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে নবীগণের সিলসিলা সমাপ্ত করেছেন, তেমনিভাবে তাঁর মাধ্যমেই ওলিগণের ধারার সূচনা করেছেন। আর নবীর ওপর 'ওলি' নামটিও প্রযোজ্য হয়, যদিও তা তাঁর গুণাবলির মধ্যে অধিক সাধারণ। শায়খ ইয়াহিয়া ইবনে ইউসুফ আস-সারসারী এই অর্থটি কাব্যাকারে ব্যক্ত করেছেন যেখানে তিনি বলেছেন:

তিনি নবীগণের পরিসমাপ্তিকারী এবং … ওলিগণের সূচনাকারী, আর তাঁদের পানীয় তাঁরই পানীয় হতে উৎসারিত।

অর্থাৎ: তিনি তাঁদের মূল উপাদান এবং তাঁর থেকেই তাঁরা সেচিত হন।

আর মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই নাম 'হামদ' (প্রশংসা) হতে 'মুফায়্যাল' ওজনে গঠিত, যেমনটি 'আহমাদ' নামটিও সেই একই মূল হতে 'আফয়াল' ওজনে গঠিত। আর 'মা'আদ' শব্দটি মীম ও আইন বর্ণে জবর এবং উভয়ের লঘু উচ্চারণে (তাশদীদহীন) 'মাফয়াল' ওজনে গঠিত, যিনি আরবদের আদি পিতা। এর 'মীম' বর্ণটি অতিরিক্ত নাকি মূল বর্ণ? এ বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে:

প্রথমটি: এটি অধিকাংশ ভাষাবিদের পছন্দনীয় মত, আর এই কারণেই আল-জাওহারী একে 'আ-দা-দা' মূলশব্দের অধীনে উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) শারহু মুখতাসারির রওদা (পৃষ্ঠা: ৭৯)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ــ

وَالثَّانِي: اخْتِيَارُ سِيبَوَيْهِ، لِقَوْلِهِمْ تَمَعْدَدَ.

وَعَدْنَانُ: فَعْلَانُ مِنْ عَدَنَ بِالْمَكَانِ، إِذَا لَزِمَهُ وَتَوَطَّنَهُ إِقَامَةً.

وَنَبِيُّنَا مُحَمَّدٌ صلى الله عليه وسلم: هُوَ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ بْنِ هَاشِمِ بْنِ عَبْدِ مَنَافِ بْنِ قُصَيِّ بْنِ كِلَابِ بْنِ مُرَّةَ بْنِ كَعْبِ بْنِ لُؤَيِّ بْنِ غَالِبِ بْنِ فِهْرِ بْنِ مَالِكِ بْنِ النَّضْرِ بْنِ كِنَانَةَ بْنِ خُزَيْمَةَ بْنِ مُدْرِكَةَ بْنِ إِلْيَاسَ بْنِ مُضَرَ بْنِ نِزَارِ بْنِ مَعَدِّ بْنِ عَدْنَانَ. إِلَى هَاهُنَا اتَّفَقَ النَّسَّابُونَ، وَاخْتَلَفُوا فِيمَا بَعْدَ ذَلِكَ، فَبَعْضُهُمْ يَقُولُ: عَدْنَانَ بْنِ أُدِّ بْنِ أُدَدِ بْنِ الْهَمَيْسَعِ بْنِ حَمَلِ بْنِ نَبْتِ بْنِ قَيْدَارِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، وَبَعْضُهُمْ يَقُولُ: عَدْنَانَ بْنِ أُدَدٍ وَلَا يَذْكُرُ أُدًّا، وَبَعْضُهُمْ يَقُولُ غَيْرَ ذَلِكَ، وَرَوَى ابْنُ سَعْدٍ بِإِسْنَادٍ فِيهِ ابْنُ لَهِيعَةَ عَنْ أَبِي الْأَسْوَدِ عَنْ عُرْوَةَ، قَالَ: مَا وَجَدْنَا أَحَدًا يَعْرِفُ مَا وَرَاءَ عَدْنَانَ، قَالَ عُرْوَةُ: وَسَمِعْتُ أَبَا بَكْرِ بْنَ سُلَيْمَانَ بْنِ [أَبِي] حَثْمَةَ يَقُولُ: مَا وَجَدْنَا فِي عِلْمِ عَالِمٍ، وَلَا شِعْرِ شَاعِرٍ أَحَدًا يَعْرِفُ مَا وَرَاءَ مُعَدِّ بْنِ عَدْنَانَ [يُثْبِتُ] .
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--

এবং দ্বিতীয়টি: সিবওয়াই-এর পছন্দ, তাদের 'তামা'দাদা' (মা'আদ-এর বংশে অন্তর্ভুক্ত হওয়া) বলার কারণে।

আর আদনান: এটি 'আদানা' থেকে ফালান (Fa'lan) ওজনে, যখন কোনো ব্যক্তি কোনো স্থানে অবস্থান করে এবং সেটিকে স্থায়ী আবাস হিসেবে গ্রহণ করে।

আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম: তিনি হলেন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল মুত্তালিব ইবনে হাশিম ইবনে আব্দ মানাফ ইবনে কুসাই ইবনে কিলাব ইবনে মুররাহ ইবনে কা'ব ইবনে লুওয়াই ইবনে গালিব ইবনে ফিহর ইবনে মালিক ইবনে নাদর ইবনে কিনানা ইবনে খুজাইমা ইবনে মুদরিকাহ ইবনে ইলিয়াস ইবনে মুদার ইবনে নিজার ইবনে মা'আদ্দ ইবনে আদনান। এই পর্যন্ত বংশবিশারদগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন, আর এর পরবর্তী পর্যায়ের বিষয়ে তারা মতভেদ করেছেন। তাদের কেউ কেউ বলেন: আদনান ইবনে উদ্দ ইবনে উদাদ ইবনে আল-হামাইসা' ইবনে হামাল ইবনে নাবত ইবনে কাইদার ইবনে ইসমাইল ইবনে ইবরাহিম। আবার কেউ কেউ বলেন: আদনান ইবনে উদাদ, এবং তারা 'উদ্দ' এর নাম উল্লেখ করেন না। আবার কেউ কেউ এ ছাড়া অন্য কিছুও বলেন। ইবনে সাদ এমন একটি সনদে বর্ণনা করেছেন যাতে ইবনে লাহিয়া রয়েছেন, তিনি আবুল আসওয়াদ থেকে এবং তিনি উরওয়াহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি (উরওয়াহ) বলেন: আমরা এমন কাউকে পাইনি যিনি আদনানের ঊর্ধ্বের বংশধারা সম্পর্কে অবগত। উরওয়াহ বলেন: আমি আবু বকর ইবনে সুলাইমান ইবনে [আবি] হাসমাহকে বলতে শুনেছি যে: আমরা কোনো জ্ঞানীর জ্ঞান বা কোনো কবির কাব্যে এমন কাউকে পাইনি যিনি মা'আদ্দ ইবনে আদনানের ঊর্ধ্বের বংশধারা সম্পর্কে অবগত [যিনি তা প্রমাণ করতে পারেন]।
(খণ্ড: ১) শারহু মুখতাসারির রওদা (পৃষ্ঠা: ৮০)
وَأَنْ تَرْزُقَنِي الْعِلْمَ وَتُوَفِّقَنِي لِلْعَمَلِ، وَتُبَلِّغَنِي مِنْهُمَا نِهَايَةَ السُّولِ وَغَايَةَ الْأَمَلِ، وَتَفْسَحَ لِي فِي الْمُدَّةِ وَتَنْسَأَ لِي فِي الْأَجَلِ، فِي حُسْنِ دِينٍ وَإِصْلَاحِ شَأْنٍ.

ــ

قَوْلُهُ: " وَأَنْ تَرْزُقَنِي الْعِلْمَ، وَتُوَفِّقَنِي لِلْعَمَلِ، وَتُبَلِّغَنِي مِنْهُمَا نِهَايَةَ السُّولِ وَغَايَةَ الْأَمَلِ، وَتَفْسَحَ لِي فِي الْمُدَّةِ، وَتَنْسَأَ لِي فِي الْأَجَلِ، فِي حُسْنِ دِينٍ وَإِصْلَاحِ شَأْنٍ ".

هَذَا عَطْفٌ عَلَى قَوْلِهِ: أَنْ تُصَلِّيَ، فِيمَا سَبَقَ، أَيْ: وَأَسْأَلُكَ أَنْ تُصَلِّيَ عَلَى سَيِّدِ أَصْفِيَائِكَ، وَأَسْأَلُكَ أَنْ تَرْزُقَنِي التَّوْفِيقَ، وَهُوَ التَّيْسِيرُ لِمَا يُوَافِقُ، وَذَلِكَ بِتَحْقِيقِ الدَّوَاعِي، وَإِزَالَةِ الْعَوَائِقِ، وَلَا شَكَّ أَنَّ حُصُولَ الْعِلْمِ وَالتَّوْفِيقَ لِلْعَمَلِ بِهِ هُوَ الصِّرَاطُ الْمُسْتَقِيمُ، وَالْمَنْهَجُ الْقَوِيمُ إِلَى السَّعَادَةِ الْأَبَدِيَّةِ فِي جَنَّاتِ النَّعِيمِ.

وَالْعِلْمُ يَجِبُ أَنْ يَكُونَ مُقَدَّمًا لِأَنَّهُ يَحْرُسُ الْعَمَلَ عَنِ الْفَسَادِ وَالِاخْتِلَالِ، وَالْعَمَلُ نَتِيجَةُ الْعِلْمِ وَمَقْصُودُهُ وَثَمَرَتُهُ، وَهُوَ الِاسْتِقَامَةُ الْمُفْضِيَةُ إِلَى الْخُلُودِ فِي دَارِ الْمُقَامَةِ، قَالَ سبحانه وتعالى: {إِنَّ الَّذِينَ قَالُوا رَبُّنَا اللَّهُ ثُمَّ اسْتَقَامُوا تَتَنَزَّلُ عَلَيْهِمُ الْمَلَائِكَةُ} إِلَى قَوْلِهِ تَعَالَى: {نُزُلًا مِنْ غَفُورٍ رَحِيمٍ} [فُصِّلَتْ: 30 - 32] فَحَقِيقَةُ الِاسْتِقَامَةِ: فِعْلُ الْمَأْمُورَاتِ، وَتَرْكُ الْمَنْهِيَّاتِ، وَإِنَّمَا تَتَحَقَّقُ مَعْرِفَةُ ذَلِكَ بِالْعِلْمِ، فَعِلْمٌ بِلَا عَمَلٍ عَقِيمٌ، وَعَمَلٌ بِلَا عِلْمٍ سَقِيمٌ غَيْرُ مُسْتَقِيمٍ، وَلِلْخَطِيبِ الْبَغْدَادِيِّ كِتَابٌ سَمَّاهُ: " اقْتِضَاءُ الْعِلْمِ الْعَمَلُ " ذَكَرَ فِيهِ كَثِيرًا مِنَ التَّرْغِيبِ وَالتَّرْهِيبِ الْمُتَعَلِّقِ بِالْعِلْمِ وَالْعَمَلِ ذَكَرْتُ جُمْلَةً صَالِحَةً مِنْهُ فِي كِتَابِ: " الْآدَابِ الشَّرْعِيَّةِ " فَإِذَا شِئْتَ انْظُرْ هُنَاكَ.
এবং আপনি আমাকে জ্ঞান দান করুন এবং আমল করার তাওফিক দিন, এবং এ দুটির মাধ্যমে আমাকে প্রার্থনার শেষ সীমায় ও আশার চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছে দিন, এবং আমার আয়ু প্রশস্ত করুন ও আমার মৃত্যু বিলম্বিত করুন, দ্বীনের সৌন্দর্য ও অবস্থার সংশোধনের সাথে।

--

তাঁর উক্তি: "এবং আপনি আমাকে জ্ঞান দান করুন, এবং আমল করার তাওফিক দিন, এবং এ দুটির মাধ্যমে আমাকে প্রার্থনার শেষ সীমায় ও আশার চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছে দিন, এবং আমার আয়ু প্রশস্ত করুন, ও আমার মৃত্যু বিলম্বিত করুন, দ্বীনের সৌন্দর্য ও অবস্থার সংশোধনের সাথে।"

এটি তাঁর পূর্ববর্তী উক্তি "যে আপনি দরুদ পাঠ করুন"-এর ওপর সংযুক্ত, অর্থাৎ: আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করছি যে আপনি আপনার মনোনীত বান্দাদের সরদারের ওপর দরুদ পাঠ করুন, এবং আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করছি যে আপনি আমাকে তাওফিক দান করুন—আর তা হলো যা (আপনার সন্তুষ্টির) অনুকূল তা সহজ করে দেওয়া, এবং তা প্রেরণাসমূহ বাস্তবায়নের এবং প্রতিবন্ধকতাসমূহ দূর করার মাধ্যমে হয়। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, জ্ঞান অর্জন এবং সেই অনুযায়ী আমল করার তাওফিক লাভ করাই হলো সরল পথ এবং জান্নাতুন নাঈমে চিরন্তন সুখের সঠিক পন্থা।

আর জ্ঞানকে অগ্রবর্তী রাখা আবশ্যক কারণ এটি আমলকে বিপর্যয় ও বিশৃঙ্খলা থেকে রক্ষা করে। আর আমল হলো জ্ঞানের ফলাফল, উদ্দেশ্য ও ফল। এটিই সেই অবিচলতা যা স্থায়ী আবাসে চিরকাল বসবাসের দিকে নিয়ে যায়। মহান ও পবিত্র আল্লাহ বলেছেন: {নিশ্চয়ই যারা বলে, আমাদের রব আল্লাহ, অতঃপর অবিচল থাকে, তাদের কাছে ফেরেশতারা অবতীর্ণ হয়} মহান আল্লাহর বাণী: {ক্ষমাশীল ও দয়াময় আল্লাহর পক্ষ থেকে আপ্যায়নস্বরূপ} পর্যন্ত [ফুসসিলাত: ৩০ - ৩২]। সুতরাং অবিচলতার প্রকৃত অর্থ হলো: আদেশসমূহ পালন করা এবং নিষেধসমূহ বর্জন করা। আর কেবল জ্ঞানের মাধ্যমেই এর সঠিক পরিচয় লাভ করা সম্ভব। অতএব আমলহীন জ্ঞান নিষ্ফলা, আর জ্ঞানহীন আমল ত্রুটিপূর্ণ ও সঠিক নয়। খতিব আল-বাগদাদীর একটি কিতাব রয়েছে যার নাম: "জ্ঞানের দাবি আমল"। তিনি এতে জ্ঞান ও আমল সংশ্লিষ্ট অনেক উৎসাহ ও ভীতিপ্রদর্শনমূলক বর্ণনা উল্লেখ করেছেন। আমি তার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ আমার "শারয়ী আদবসমূহ" নামক কিতাবে উল্লেখ করেছি; আপনি চাইলে সেখানে দেখতে পারেন।