(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াফায়াত - লিল ইরাকী
(পৃষ্ঠা: -)
الوفيات - للعراقي القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: الوفيات
المؤلف: زين الدين عبد الرحيم بن الحسين العراقي (ت 806 هـ)
قرأه وعلق عليه: أحمد عبد الستار
تنبيه: بآخر الكتاب 42 ترجمة، استخلصها المحقق من «منتقى الوفيات» لابن خطيب الناصرية، استكمالا لجزء من السقط الواقع بنسخة الأصل
الناشر: دار الذخائر - مصر
الطبعة: الأولى، 1439 هـ - 2018.
عدد الصفحات: 450
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 3 ربيع الآخر 1444
আল-ওয়াফায়াত - আল-ইরাকি বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ
গ্রন্থ: আল-ওয়াফায়াত
লেখক: যাইনুদ্দিন আব্দুর রহিম বিন আল-হুসাইন আল-ইরাকি (মৃত্যু ৮০৬ হিজরি)
পাঠ ও টীকা প্রদান: আহমদ আব্দুল সাত্তার
বিশেষ দ্রষ্টব্য: গ্রন্থের শেষে ৪২টি জীবনী রয়েছে, যা সম্পাদক ইবনে খাতিব আল-নাসিরিয়্যাহ-এর «মুনতাকা আল-ওয়াফায়াত» থেকে চয়ন করেছেন, যা মূল পাণ্ডুলিপির বিচ্যুতি বা বাদ পড়া অংশের পরিপূরক হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে।
প্রকাশক: দার আল-যাখাইর - মিশর
সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৯ হিজরি - ২০১৮।
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৫০
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৩ রবিউস সানি ১৪৪৪
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াফায়াত - লিল ইরাকী
(পৃষ্ঠা: ٥)
مقدمة التحقيقالحمد لله حقَّ حمده، حمدًا طيبًا مباركًا فيه، مباركًا عليه، كما يحب ربُنا ويرضى.
والصلاة والسلام على النبي الهادي المبعوث رحمة للعالمين، أنزل الله عليه القرآن الكريم ليكون دستورًا للناس، وجعل سنته صلى الله عليه وسلم مصدرًا ثانيًا للتشريع، فقد أخرج الإمام أحمد بسنده إلى النبي صلى الله عليه وسلم، قال: "ألا إني أوتيت القرآن ومثله معه
… " وكرَّرها مرتين"
(1).
وانبرى رواة الحديث وحفطه في تدوين الحديث النبوي الشريف، وتمييز صحيحه من ضعيفه، ونفي الموضوع عنه، فمع منتصف القرن الثانى الهجري، أو قبله بقليل -كما أرَّخه الحافظ الذهبي
(2) - شرع العلماء الكبار في تدوين السنن، وتأليف الفروع، وتصنيف العربية، ثم كثُر ذلك في أيام الخليفة هارون الرشيد (170 - 193 هـ).
وقبل انتهاء الربع الأول من القرن الثالث الهجري، يُخرج لنا إمام السنة، الإمام محمد بن إسماعيل البخاري (ت 256 هـ) (تاريخه الكبير)، أوَّل مصنَّفاته، والذي يعُد اللبنة الأولى لعلم التراجم؛ وخاصة تراجم رواة الحديث.
وفي بداية القرن الرابع الهجري، اكتمل نسق التأليف في علم التاريخ على النظام الحولي، ظهر ذلك ممثَّلًا في كتاب (تاريخ الرسل والملوك)، المعررف بـ (تاريخ الطبري) لأبي جعفر محمد بن جرير الطبري (ت 310 هـ)، والذي انتهى منه مؤلِّفه بأحداث سنة 302 هـ.
ثم صار التأليف في كلا العلمين -مع ما بينهما من أواصر وتلاحم- منفصلًا أحيانًا، ومتصلًا أحيانًا أخرى، إذ غلب على مصنَّفات التاريخ العامة احتواؤها على وفيات مَن درجوا ضمن سنوات تأريخها.
ويُعدُّ علم التراجم أوسع العلوم تأليفًا في التراث العربي الإسلامي، إذ تعددت الأشكال
--------------------------------------------
সম্পাদকের ভূমিকাসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যেমনটি তাঁর প্রশংসার হক; এমন প্রশংসা যা পবিত্র, বরকতময় এবং যাতে বরকত নিহিত, ঠিক যেমনটি আমাদের রব পছন্দ করেন এবং যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন।
এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক হিদায়েতকারী নবীর ওপর, যিনি বিশ্বজগতের জন্য রহমত হিসেবে প্রেরিত হয়েছেন। আল্লাহ তাঁর ওপর পবিত্র কুরআন নাযিল করেছেন মানুষের জন্য জীবনবিধান হিসেবে এবং তাঁর সুন্নাতকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শরিয়তের দ্বিতীয় উৎস বানিয়েছেন। ইমাম আহমাদ তাঁর সনদে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "জেনে রেখো, আমাকে কুরআন এবং এর সাথে অনুরূপ আরেকটি জিনিস দেওয়া হয়েছে …" তিনি এটি দুইবার পুনরাবৃত্তি করেছেন
(১)।
হাদিসের রাবী এবং হাফেযগণ পবিত্র হাদিসে নববী সংকলন, সহিহ থেকে যয়িফ পৃথকীকরণ এবং জাল হাদিস নিরসনে আত্মনিয়োগ করেন। অতঃপর হিজরি দ্বিতীয় শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে, বা তার কিছুটা আগে—যেমনটি হাফেয যাহাবি
(২) ইতিহাস হিসেবে উল্লেখ করেছেন—বড় বড় আলেমগণ সুন্নাহ সংকলন, ফিকহী শাখা-প্রশাখা রচনা এবং আরবি ব্যাকরণ বিন্যাসের কাজ শুরু করেন। অতঃপর খলিফা হারুনুর রশীদের যুগে (১৭০ - ১৯৩ হিজরি) এর প্রসার ঘটে।
হিজরি তৃতীয় শতাব্দীর প্রথম চতুর্থাংশ শেষ হওয়ার আগেই সুন্নাহর ইমাম, ইমাম মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-বুখারি (মৃত্যু ২৫৬ হি.) তাঁর প্রথম গ্রন্থ (তারিখে কাবির) প্রকাশ করেন, যা জীবনী শাস্ত্রের, বিশেষ করে হাদিসের রাবীদের জীবনী শাস্ত্রের প্রথম ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত।
চতুর্থ হিজরি শতাব্দীর শুরুতে ইতিহাস শাস্ত্রের রচনারীতি বর্ষপঞ্জি পদ্ধতিতে পূর্ণতা পায়; যা আবু জাফর মুহাম্মদ বিন জারির আত-তাবারির (মৃত্যু ৩১০ হি.) বিখ্যাত গ্রন্থ (তারিখুর রুসুল ওয়াল মুলুক) যা (তারিখে তাবারি) নামে পরিচিত, তাতে প্রতিফলিত হয়েছে। গ্রন্থকার যার সমাপ্তি টেনেছেন ৩০২ হিজরির ঘটনাবলির মাধ্যমে।
অতঃপর উভয় শাস্ত্রের রচনা—তাদের মধ্যকার নিবিড় সম্পর্ক ও বন্ধন থাকা সত্ত্বেও—কখনো পৃথকভাবে আবার কখনো সম্মিলিতভাবে চলতে থাকে; কেননা সাধারণ ইতিহাসের গ্রন্থগুলোতে সাধারণত সংশ্লিষ্ট বছরের মৃত ব্যক্তিদের জীবনীও অন্তর্ভুক্ত থাকত।
আর আরবি-ইসলামি ঐতিহ্যে জীবনী শাস্ত্র রচনার দিক থেকে সবচেয়ে বিস্তৃত শাস্ত্র হিসেবে বিবেচিত, কেননা এর রূপ বৈচিত্র্যময়
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াফায়াত - লিল ইরাকী
(পৃষ্ঠা: ٦)
التي أُلِّف بها، عدَّ الدكتور بشار عواد لتنظيمها خمسة أشكال
(1): التنظيم على الطبقات، وعلى الأنساب، وعلى البلدان، وعلى حروف المعجم، وأخيرًا على الوفيات.
وتعددت الكتب المؤلِّفة على كل شكلٍ من الأشكال المذكورة على امتداد الفترتين: الزمانية، والمكانية التي شملتها الحضارة الإسلامية.
وسوف أخص هنا شكلين من التنظيم، وهما المتصلان بموضوع الكتاب، إذ من المرجَّح كون كتابنا حلقة من سلسلتي هذين الشكلين.
أولًا - التنظيم على الطبقاتوالمقصود به هو جمع وفيات عصرٍ أو زمنٍ معين، دون تحديد -أو استثناء- فئة معينة ضمن التراجم المذكورة في هذا المؤلَّف، إلا ما استنثاه المؤلِّف لغرضٍ في نفسه.
وفي الربع الأخير من القرن السابع الهجري، يُخرج لنا شمس الدين أحمد بن محمد بن إبراهيم بن خلِّكان (ت 681 هـ) كتابه الخالد: (وفيات الأعيان)، والذي عُني فيه بتراجم من سبقوه من ذوي الشهرة بين الناس - عدا مَنْ نصَّ على استبعادهم لكثرة المؤلفات الأخرى التي اهتمت بهم.
ورغم تأخُّر وفاته حتى بداية العُشر التاسع من قرنه، إلا أنه توقَّف في كتابه حتى سنة نيفٍ وخمسين وست مئة، كما ذكر فضل الله الصقاعي في كتابه (تالي كتاب وفيات الأعيان)
(2).
وعلى (وفيات) ابن خلكان قامت عدة مؤلفات أخرى، منها ما عُني إما بالاستدراك والتذييل عليه معًا، أو بالتذيل عليه فقط.
ومثال الأول (الوافي بالوفيات) للصفدي، والذي يُستدل من اسمه على أنه استدرك على
--------------------------------------------
যে পদ্ধতিতে এগুলো রচিত হয়েছে, ডক্টর বাশার আওয়াদ সেগুলোর বিন্যাসের জন্য পাঁচটি রূপ গণনা করেছেন
(১): স্তরভিত্তিক বিন্যাস, বংশানুক্রমিক বিন্যাস, অঞ্চলভিত্তিক বিন্যাস, বর্ণানুক্রমিক বিন্যাস এবং সবশেষে মৃত্যুসন ভিত্তিক বিন্যাস।
ইসলামি সভ্যতা যে সময় ও স্থানকে পরিবেষ্টন করে আছে, তার পুরোটা জুড়ে উল্লিখিত প্রতিটি পদ্ধতিতে বহু গ্রন্থ রচিত হয়েছে।
আমি এখানে বিন্যাসের দুটি বিশেষ রূপ নিয়ে আলোচনা করব, যা এই গ্রন্থের বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট; কেননা আমাদের এই বইটি এই দুই প্রকারের ধারার একটি অংশ হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
প্রথমত - স্তরভিত্তিক বিন্যাসএর উদ্দেশ্য হলো একটি নির্দিষ্ট যুগ বা সময়ের মৃত্যুসংবাদগুলো একত্রিত করা, যেখানে উক্ত গ্রন্থে বর্ণিত জীবনীসমূহের মধ্যে নির্দিষ্ট কোনো শ্রেণিকে সীমাবদ্ধ করা বা বাদ দেওয়া হয় না, তবে লেখক নিজের কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যে যা বাদ দেন তা ভিন্ন কথা।
সপ্তম হিজরি শতাব্দীর শেষ চতুর্থাংশে শামসুদ্দিন আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে খাল্লিকান (মৃত্যু ৬৮১ হিজরি) তাঁর অমর গ্রন্থ 'ওয়াফায়াতুল আইয়ান' আমাদের সামনে পেশ করেন। এতে তিনি তাঁর পূর্বসূরিদের মধ্য থেকে জনসাধারণের মাঝে সুপরিচিত ব্যক্তিদের জীবনী নিয়ে আলোচনা করেছেন—তবে তাঁদের ব্যতীত যাঁদেরকে বাদ দেওয়ার কথা তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন এই কারণে যে, অন্যান্য অনেক গ্রন্থে তাঁদের নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে।
যদিও তাঁর মৃত্যু তাঁর শতাব্দীর নবম দশকের শুরুর দিকে হয়েছিল, তবুও তিনি তাঁর গ্রন্থে ছয়শত পঞ্চাশোর্ধ্ব কোনো এক বছর পর্যন্ত এসে থেমে গিয়েছেন, যেমনটি ফজলুল্লাহ আস-সাকাঈ তাঁর 'তালি কিতাব ওয়াফায়াতুল আইয়ান' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন
(২)।
ইবনে খাল্লিকানের 'ওয়াফায়াত'-এর ওপর ভিত্তি করে আরও বেশ কিছু গ্রন্থ রচিত হয়েছে, যার কোনোটি পরিমার্জন ও পরিশিষ্ট উভয় বিষয়ের প্রতি খেয়াল রেখেছে, আবার কোনোটি শুধু পরিশিষ্টের প্রতি।
প্রথমটির উদাহরণ হলো সাফাদির 'আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত', যার নাম থেকেই প্রমাণ পাওয়া যায় যে তিনি পরিমার্জন করেছেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াফায়াত - লিল ইরাকী
(পৃষ্ঠা: ٧)
سابقه ابن خلِّكان ما استبعدهم هو في مؤلِّفه، كما شاركه في كثير من التراجم، وقد ذكر في مقدمة كتابه المذكور أنواع من عُني بترجمتهم في كتابه، والمصادر التي اعتمد عليها في جمع مادة كتابه، ومنهجه في ترتيبه
(1).
وكذلك ذيل بدر الدين محمد بن بهادر بن عبد الله الزركشي (ت 794 هـ)، المسمى: (عقود -ويقال له أيضًا: عقد- الجمان وتذييل وفيات الأعيان)، غير أن محتواه يخالف عنوانه، فهو ليس تذييلًا فقط لوفيات ابن خلِّكان، وإنما من تراجمه ما هو مذكور في الأصل
(2)، غير أنه قد يزيد عليها ما جمعه هو من معلومات عنها.
* ومثال الثاني، وهو التذييل عليه فقط، ذيل فضل الله الصقاعي (ت 726 هـ)، المسمى: (تالي كتاب وفيات الأعيان)، والذي ضمَّ بين دفتيه -حسبما ذكر مؤلفه- تراجم وفيات ما بين سنتي: الستين والست مئة، وآخر سنة خمس وعشرين وسبع مئة، وهو الوحيد الذي وصل إلينا فيما أعلم
(3).
ثانيًا - التنظيم على الوفياتذكر الإمام الذهبي في مقدمة كتابه (تاريخ الإسلام)
(4) "أن القدماء لم يعتنوا بضبط الوفيات كما ينبغي، بل اتكلوا على حفظهم، فذهبت وفيات خلق من الأعيان من
--------------------------------------------
ইবন খাল্লিকান তার পূর্বসূরিদের নিজ গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং অনেক জীবনীতে তাদের অংশীদার করেছেন। তিনি তার উল্লিখিত গ্রন্থের ভূমিকায় সেইসব ব্যক্তিদের প্রকারভেদ আলোচনা করেছেন যাদের জীবনী তিনি সংকলন করেছেন, গ্রন্থটির উপাদান সংগ্রহে যেসব উৎসের ওপর তিনি নির্ভর করেছেন এবং এটি সাজানোর ক্ষেত্রে তার অনুসৃত পদ্ধতি বর্ণনা করেছেন।
(১)অনুরূপভাবে বদর উদ্দিন মুহাম্মদ বিন বাহাদুর বিন আব্দুল্লাহ আজ-যারকাশি (মৃ. ৭৯৪ হি.) রচিত পরিশিষ্ট, যার নাম: (উকুদুল জুমান—এটিকে আকদুল জুমানও বলা হয়—ওয়া তাযয়িলু ওয়াফায়াতিল আয়ান)। তবে এর বিষয়বস্তু শিরোনামের সাথে কিছুটা ভিন্নতা রাখে; কারণ এটি কেবল ইবন খাল্লিকানের ‘ওয়াফায়াতুল আয়ান’-এর পরিশিষ্ট নয়, বরং এর কিছু জীবনী মূল গ্রন্থেও বিদ্যমান রয়েছে
(২), যদিও তিনি সেগুলোতে নিজের সংগৃহীত তথ্য যোগ করেছেন।
* দ্বিতীয় প্রকারের উদাহরণ হলো, যা কেবল একটি পরিশিষ্ট হিসেবে রচিত, সেটি হলো ফাদলুল্লাহ আস-সুকায়ি (মৃ. ৭২৬ হি.) এর ‘তালি কিতাবি ওয়াফায়াতিল আয়ান’। লেখকের বর্ণনা অনুযায়ী এটি ৬৬০ হিজরি থেকে ৭২৫ হিজরি পর্যন্ত মৃত ব্যক্তিদের জীবনী অন্তর্ভুক্ত করেছে। আমার জানা মতে, এটিই একমাত্র পরিশিষ্ট যা আমাদের পর্যন্ত পৌঁছেছে
(৩)।
দ্বিতীয়ত - মৃত্যুসন অনুযায়ী বিন্যাসইমাম আয-যাহাবি তার ‘তারিখুল ইসলাম’ গ্রন্থের ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন যে
(৪) “পূর্বসূরিরা মৃত্যুসন সংরক্ষণের ক্ষেত্রে যথাযথ গুরুত্ব দেননি, বরং তারা তাদের স্মৃতির ওপর নির্ভর করতেন। ফলে অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তির মৃত্যুর তারিখ হারিয়ে গেছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াফায়াত - লিল ইরাকী
(পৃষ্ঠা: ٨)
لصحابة ....... ثم اعتنى المتأخرون بضبط وفيات العلماء وغيرهم، حتى ضبطوا جماعة فيهم جهالة بالنسبة إلى معرفتنا لهم. فلهذا حُفظت وفيات خلق من المجهولين، وجُهِلَت وفيات أئمة من المعروفين. وأيضًا فإن عدة بلدان لم يقع إلينا تواريخها؛ إما لكونها لم يؤرخ علماءها أحدٌ من الحفاظ، أو جُمِعَ لهم تاريخ ولم يقع إلينا".
وعليه، فإن التأليف في التراجم على الوفيات قد تأخَّر إلى منتصف القرن الرابع الهجري، فأول من عُرف بالتأليف على هذا النمط أبو الحسين عبد الباقي بن قانع بن مرزوق البغدادي (ت 351 هـ)، حيث ألَّف كتابًا في الوفيات ابتدأه من الهجرة، وامتد به إلى سنة 346 هـ، ولم يصل إلينا
(1).
وأول ما وصل إلينا من كُتب التراجم على الوفيات:
* (تاريخ مولد العلماء ووفياتهم)، لأبي سليمان محمد بن عبد الله بن زبر الربعي (ت 379 هـ)، ابتدأه من السنة الأولى للهجرة، ووصل فيه إلى سنة 338 هـ.
* وعليه ذيلٌ لأبي محمد عبد العزيز بن أحمد الكتاني (ت 466 هـ)، سماه: (ذيل تاريخ مولد العلماء ووفياتهم)، ابتدأه من سنة 338 هـ، وهي السنة التى توقف فيها سابقه، وانتهى به إلى سنة 462 هـ.
* وعله ذيلٌ للحافظ أبي محمد هبة الله بن أحمد بن الأكفاني (ت 524 هـ)، ابتدأه من سنة 463 هـ، وانتهى به إلى سنة 485 هـ.
وكان قد زاد على تراجم شيخه الكتاني خلال نفس الفترة (338 - 462 هـ) عدد ثلاث وستين ترجمة
(2).
* وعليه ذيلٌ لشرف الدين علي بن المفضَّل المقدسي الإسكندراني (ت 611 هـ)،
--------------------------------------------
সাহাবীগণ ....... অতঃপর পরবর্তীগণ (মুতাআখখিরুন) আলেম ও অন্যদের মৃত্যু তারিখ সংরক্ষণের প্রতি যত্নবান হন, এমনকি তারা এমন এক জামাতের মৃত্যু তারিখও নির্ধারণ করেছেন যারা আমাদের কাছে অপরিচিত। এই কারণে অনেক অপরিচিত লোকের মৃত্যু তারিখ সংরক্ষিত হয়েছে, অথচ অনেক প্রসিদ্ধ ইমামের মৃত্যু তারিখ অজ্ঞাত রয়ে গেছে। এছাড়া অনেক শহরের ইতিহাস আমাদের কাছে পৌঁছায়নি; হয় তাদের আলেমদের ইতিহাস কোনো হাফেজ লিপিবদ্ধ করেননি, অথবা তাদের জন্য ইতিহাস সংকলিত হয়েছে কিন্তু তা আমাদের কাছে পৌঁছায়নি।
এর পরিপ্রেক্ষিতে, মৃত্যু তারিখের ওপর ভিত্তি করে জীবনী গ্রন্থ রচনা হিজরি চতুর্থ শতাব্দীর মধ্যভাগ পর্যন্ত বিলম্বিত হয়েছিল। এই ধারায় প্রথম যিনি গ্রন্থ রচনার জন্য পরিচিত তিনি হলেন আবু আল-হুসাইন আব্দুল বাকি বিন কানে' বিন মারজুক আল-বাগদাদি (মৃত্যু ৩৫১ হি.)। তিনি মৃত্যু তারিখ সংক্রান্ত একটি গ্রন্থ রচনা করেছিলেন যা হিজরত থেকে শুরু হয়ে ৩৪৬ হিজরি পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল, তবে তা আমাদের কাছে পৌঁছায়নি
(১).
মৃত্যু তারিখের ভিত্তিতে রচিত জীবনী গ্রন্থসমূহের মধ্যে যা প্রথম আমাদের কাছে পৌঁছেছে:
* (তারিখু মাওলিদিল উলামা ওয়া ওয়াফায়াতিহিম), আবু সুলাইমান মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন জিবর আর-রুবায়ি (মৃত্যু ৩৭৯ হি.) এর রচিত। তিনি এটি হিজরতের প্রথম বর্ষ থেকে শুরু করেছেন এবং ৩৩৮ হিজরি পর্যন্ত পৌঁছেছেন।
* এর ওপর আবু মুহাম্মদ আব্দুল আজিজ বিন আহমদ আল-কাত্তানি (মৃত্যু ৪৬৬ হি.) একটি সংযোজনী (যাইল) লিখেছেন, যার নাম দিয়েছেন: (যাইল তারিখ মাওলিদিল উলামা ওয়া ওয়াফায়াতিহিম)। তিনি এটি ৩৩৮ হিজরি থেকে শুরু করেছেন, যে বছর তার পূর্বসূরি থেমেছিলেন, এবং ৪৬২ হিজরি পর্যন্ত শেষ করেছেন।
* এর ওপর হাফেজ আবু মুহাম্মদ হিবাতুল্লাহ বিন আহমদ বিন আল-আকফানি (মৃত্যু ৫২৪ হি.) এর একটি সংযোজনী রয়েছে। তিনি এটি ৪৬৩ হিজরি থেকে শুরু করেছেন এবং ৪৮৫ হিজরিতে শেষ করেছেন।
তিনি একই সময়ে (৩৩৮ - ৪৬২ হি.) তার শিক্ষক আল-কাত্তানি বর্ণিত জীবনীগুলোর ওপর আরও তেষট্টিটি জীবনী যোগ করেছিলেন
(২).
* এর ওপর শরফুদ্দীন আলী বিন আল-মুফাযযাল আল-মাকদিসি আল-ইস্কান্দারানি (মৃত্যু ৬১১ হি.) এর একটি সংযোজনী রয়েছে,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াফায়াত - লিল ইরাকী
(পৃষ্ঠা: ٩)
وسماه: (وفيات النقلة)، ابتدأه من سنة 485 هـ، وانتهى فيه إلى سنة 581 هـ. ولم يصل إلينا.
* وعليه ذيلٌ للحافظ زكي الدين عبد العظيم بن عبد القوي بن عبد الله المنذري (ت 656 هـ)، وسمَّاه: (التكملة لوفيات النقلة)، ابتدأه من سنة 581 هـ، وهي سنة مولده، وحتى سنة 642 هـ
(1).
* وعليه ذيلٌ للحافظ عز الدين أحمد بن محمد بن عبد الرحمن الحسيني (ت 695 هـ)، وسمَّاه: (صلة التكملة لوفيات النقلة)، ابتدأه من سنة 641 هـ -مشتركًا مع شيخه في هذه السنة وتاليتها- وانتهى به إلى سنة 675 هـ
(2).
* وعليه ذيلٌ لشهاب الدين أحمد بن أبيك الدمياطي (ت 749 هـ)، سماه: (تتمة الصلة لوفيات النقلة)، خلال الفترة نفسها علَّقها بخطه على حواشي الكتاب، بلغت مئة وثلاثًا وعشرين ترجمة، غير أن الشمس السخاوي يذكر في كتابه: (الإعلان بالتوبيخ لمن ذم أهل التاريخ)
(3)، أنه أكمله إلى سنة وفاته، أي سنة 749 هـ، ومما يؤيد مقولته هذه، تلك الشذرات القليلة التي بقيت منثورة لدى عدد من المؤلفين الذين نقلوا عنه في مؤلفاتهم، كتقي الدين محمد بن أحمد الفاسي (ت 832 هـ)، فيما ينقل عنه في كتابه: (إيضاح بغية أهل البصارة في ذيل الإشارة)، وخاصة ما يختص بطاعون سنة 749 هـ
(4)، وهي السنة التي مات فيها، وآخر ما سجله من أحداث ووفيات، فيصرَّح أنه اطلع على ذلك الذيل، بقوله: "وكتب وفيات مفيدة، ذيَّل بها على وفيات الشريف الحسيني، رأيت منها كثيرًا بخطه، وانتهى فيما كتبه إلى الثامن والعشرين من شعبان هذه السنة"
(5).
--------------------------------------------
এবং তিনি এর নাম দিয়েছেন: (ওয়াফায়াতুন নুকলা), এটি তিনি শুরু করেছেন ৪৮৫ হিজরি থেকে এবং শেষ করেছেন ৫৮১ হিজরিতে। এটি আমাদের নিকট পৌঁছেনি।
* এবং এর ওপর হাফেজ জাকিউদ্দিন আব্দুল আজিম ইবনে আব্দুল কাবি ইবনে আব্দুল্লাহ আল-মুনজিরি (মৃ. ৬৫৬ হি.)-র একটি পরিশিষ্ট (জাইল) রয়েছে, যার নাম তিনি দিয়েছেন: (আত-তাকমিলা লি ওয়াফায়াতিন নুকলা)। এটি তিনি শুরু করেছেন ৫৮১ হিজরি থেকে—যা তাঁর জন্মের বছর—এবং ৬৪২ হিজরি পর্যন্ত তা বিস্তৃত
(১)।
* এবং এর ওপর হাফেজ ইজ্জুদ্দিন আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুর রহমান আল-হুসাইনি (মৃ. ৬৯৫ হি.)-র একটি পরিশিষ্ট রয়েছে, যার নাম তিনি দিয়েছেন: (সিলাতুত তাকমিলা লি ওয়াফায়াতিন নুকলা)। এটি তিনি ৬৪১ হিজরি থেকে শুরু করেছেন—এই বছর এবং পরবর্তী বছর তিনি তাঁর শায়খের সাথে যুক্ত ছিলেন—এবং এটি ৬৭৫ হিজরি পর্যন্ত গিয়ে সমাপ্ত হয়েছে
(২)।
* এবং এর ওপর শিহাবুদ্দিন আহমاد ইবনে আবিক আদ-দামিয়াতি (মৃ. ৭৪৯ হি.)-র একটি পরিশিষ্ট রয়েছে, যার নাম তিনি দিয়েছেন: (তাতিম্মাতুস সিলা লি ওয়াফায়াতিন নুকলা)। একই সময়ে তিনি এটি নিজ হাতে কিতাবের পার্শ্বটীকায় লিপিবদ্ধ করেছিলেন, যার সংখ্যা ছিল একশ তেইশটি জীবনী। তবে শামস আস-সাখাভি তাঁর কিতাব: (আল-ই'লান বিত-তাওবিখ লিমান জাম্মা আহলাল তারিখ)
(৩)-এ উল্লেখ করেছেন যে, তিনি এটি তাঁর মৃত্যুর বছর অর্থাৎ ৭৪৯ হিজরি পর্যন্ত পূর্ণ করেছিলেন। তাঁর এই বক্তব্যকে সেই অল্প কিছু উদ্ধৃতি সমর্থন করে যা সেই সব লেখকদের রচনায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে যারা তাদের কিতাবে তাঁর থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন, যেমন তাকিউদ্দিন মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ আল-ফাসি (মৃ. ৮৩২ হি.), তাঁর কিতাব: (ইদাহু বুগয়াতি আহলিল বাসারাহ ফি জাইলিল ইশারাহ)-এ যা বর্ণনা করেছেন। বিশেষ করে যা ৭৪৯ হিজরির প্লেগ মহামারি সংক্রান্ত বিষয়াবলী
(৪), আর এটিই সেই বছর যাতে তিনি ইন্তেকাল করেন। এটিই তাঁর লিপিবদ্ধ করা সর্বশেষ ঘটনাবলি ও মৃত্যু সংবাদ। তিনি (আল-ফাসি) স্পষ্ট করে বলেছেন যে তিনি সেই পরিশিষ্টটি দেখেছেন, তাঁর বক্তব্য হলো: "এবং তিনি বহু উপকারী মৃত্যু সংবাদ (ওয়াফায়াত) লিখেছেন, যা দিয়ে তিনি শরিফ আল-হুসাইনির ওয়াফায়াত গ্রন্থের ওপর পরিশিষ্ট যুক্ত করেছেন। আমি এর অনেকগুলো তাঁর নিজস্ব হস্তলিপিতে দেখেছি এবং তাঁর লিখিত অংশ এই বছরের ২৮শে শাবান পর্যন্ত গিয়ে শেষ হয়েছে"
(৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াফায়াত - লিল ইরাকী
(পৃষ্ঠা: ١٠)
أي أن وفياته المذكورة وما ضمنها من أحداث كانت موجودة مبذولة بين الناس ينقل منها غير واحد.
* "وعليه ذيلٌ لزين الدين العراقي وصل فيه إلى سنة اثنتين وستين، فذيَّل عليه ولده الولي أبو زُرعة، وهي سنة مولده، إلى أن مات، ولكن الذي وقفتُ عليه بخطه إلى سنة سبع وثمانين، ووريقات مفرقة بعد ذلك" كذا قال السخاوي في (الإعلان بالتوبيخ)!
(1)، ولنا عليه تعقيب.
من خلال العرض السابق يتضح أن هناك ذيلين لأبي الحسين أحمد بن أيبك الدمياطي: أولهما على (وفيات الأعيان) لابن خلِّكان، وثانيهما على (صلة التكملة لوفيات النقلة)، وأن للزين العراقي ذيلًا على كليهما.
موضوع الكتابوحتى أستطيع مناقشة الآراء السابقة لا بد أولًا من النظر للمخطوط الذي بين يدي، وعرض مادته ومحتواه ومنهج المؤلف في ترتيبه، وبذلك يشاركني القارئ الرأي، ويصوبني -إن جانبني الصواب- فيما ذهبتُ إليه.
فالكتاب المراد تحقيقه نصٌ في التراجم، سقط منه أوله بمقدارٍ لا أستطيع التثبُّت منه يقينًا، ولا من محتواه كاملًا، كما أذهب السقط بالعنوان ومقدمة المؤلِّف، وإن كنتُ قد استطعتُ أن أخمِّن محتوى السقط وفقًا لما وصلني من منتقاه، والذي انتهج في ترتيبه منهج أصله، فبدأ بتراجم المحمدين، تلك التي سقطت ضمن ما سقط، مع تأكُّدنا من أمانة المنتقي فيما ينتقيه اعتمادًا على توافق التراجم الموجودة لدى كلٍّ منهما في محتواها
(2).
فبداية المنتقى بتراجم المحمدين وضياعها من الأصل، حفظ لنا بعض هذا الجزء المهم من
--------------------------------------------
অর্থাৎ, তাঁর উল্লিখিত মৃত্যুসংবাদসমূহ এবং এর অন্তর্ভুক্ত ঘটনাবলি মানুষের মাঝে সহজলভ্য ছিল, যা থেকে একাধিক ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন।
* "এর উপর যাইনউদ্দীন আল-ইরাকির একটি পরিশিষ্ট রয়েছে যাতে তিনি সাতশত বাষট্টি হিজরি পর্যন্ত পৌঁছেছেন, অতঃপর তাঁর পুত্র আল-ওয়ালি আবু যুরআ এর উপর পরিশিষ্ট লিখেছেন—যা ছিল তাঁর জন্মবছর—তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত; তবে আমি তাঁর স্বহস্তে লেখা যা পেয়েছি তা সাতশত সাতাশি হিজরি পর্যন্ত, এবং এর পরে কিছু বিক্ষিপ্ত পাতা রয়েছে।" আল-সাখাবি (আল-ইলান বিত-তাওবিখ) গ্রন্থে এভাবেই বলেছেন!
(১), আর এর ওপর আমাদের একটি পর্যালোচনা রয়েছে।
পূর্ববর্তী উপস্থাপনা থেকে স্পষ্ট হয় যে, আবুল হুসাইন আহমদ বিন আইবাক আদ-দিময়াতির দুটি পরিশিষ্ট রয়েছে: প্রথমটি ইবনে খাল্লিকানের (ওয়াফায়াতুল আইয়ান)-এর উপর, এবং দ্বিতীয়টি (সিলাতুত তাকমিলা লি ওয়াফায়াতিন নাক্বালা)-এর উপর; এবং যাইন আল-ইরাকির এই দুটির উপরই পরিশিষ্ট রয়েছে।
গ্রন্থের বিষয়বস্তুপূর্ববর্তী মতামতের বিষয়ে আলোচনার সুবিধার্থে সর্বপ্রথম আমার হাতে থাকা পাণ্ডুলিপিটির প্রতি দৃষ্টিপাত করা, এর উপাদান, বিষয়বস্তু এবং এর বিন্যাসে লেখকের অনুসৃত পদ্ধতি উপস্থাপন করা আবশ্যক। এর ফলে পাঠক আমার মতামতের সাথে শরিক হতে পারবেন এবং আমি যদি সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হই তবে আমাকে সংশোধন করে দিতে পারবেন।
যে গ্রন্থটি সম্পাদনা করার সংকল্প করা হয়েছে তা মূলত জীবনী বিষয়ক একটি পাণ্ডুলিপি। এর শুরুর দিকের কিছু অংশ হারিয়ে গেছে, যার পরিমাণ বা এর পূর্ণ বিষয়বস্তু সম্পর্কে আমি নিশ্চিত হতে পারছি না। এই হারিয়ে যাওয়া অংশের সাথে সাথে শিরোনাম এবং লেখকের ভূমিকাও বিলুপ্ত হয়েছে। তবে আমি হারিয়ে যাওয়া অংশের বিষয়বস্তু অনুমান করতে সক্ষম হয়েছি এর সংক্ষেপিত সংস্করণ (মুনতাকা) থেকে যা আমার নিকট পৌঁছেছে। এই সংক্ষেপিত সংস্করণের বিন্যাসে মূল গ্রন্থের পদ্ধতিই অনুসরণ করা হয়েছে, ফলে এটি 'মুহাম্মদ' নামধারী ব্যক্তিদের জীবনী দিয়ে শুরু হয়েছে, যা মূল গ্রন্থের হারিয়ে যাওয়া অংশের অন্তর্ভুক্ত ছিল। সংক্ষেপক যা চয়ন করেছেন তার আমানতদারিতার ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত, কারণ উভয়ের কাছে বিদ্যমান জীবনীগুলোর বিষয়বস্তুর মাঝে মিল পাওয়া যায়
(২)।
সুতরাং সংক্ষেপিত সংস্করণে মুহাম্মদগণের জীবনীর মাধ্যমে সূচনা এবং মূল পাণ্ডুলিপি থেকে তা হারিয়ে যাওয়া, আমাদের জন্য এই গুরুত্বপূর্ণ অংশের কিছু অংশ সংরক্ষণ করেছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াফায়াত - লিল ইরাকী
(পৃষ্ঠা: ١١)
الكتاب إذ وصلنا من المنتقى سبعٌ وعشرون ترجمة، إضافة إلى عدد من التراجم الأخرى التي سقطت ضمن أوراق أخرى فُقدت من الأصل، وعددها خمس عشرة ترجمة.
فالأصل إذن كان يبدأ بتراجم المحمدين -وهو نمط اتبعه بعض المصنِّفين- ثم بتراجم حرف الألف، ثم حرف الباء، وسقط من الأصل وحفظ لنا المنتقى منه ترجمة واحدة، ثم يخلو الأصل والمنتقي من حروف التاء والثاء والجيم، ثم حرف الحاء، ثم حرف الخاء وسقط من الأصل، وحفظ لنا المنتقى منه ترجمة، ثم باقي الحروف حتى وصل إلى الضاد المعجمة، فأبان بالأصل خلوه من التراجم، ثم باقي الحروف على الترتيب.
هذا عن الترتيب، أما عن المحتوى، فهو تراجم كوكبة من علماء ذلك العصر -وخاصة تراجم المحدِّثين منهم- عددهم أكثر من ثمان مئة وخمسين ترجمة -بإضافة الأصل والمستصفى من المنتقى معًا- منهم شيوخه، فمن ذلك:
* ترجمة الشهاب أحمد بن أبي الفرج بن البابا، برقم (67)، قال: "قرأت عليه أكثر (الإلمام) لابن دقيق العيد".
* وترجمة زين الدين عبد الرحمن بن محمد بن قدامة المقدسي، برقم (336)، قال: "سمعت عليه قطعة من (صحيح مسلم)، وقطعة من (الترغيب) للأصفهاني، و (الأربعين) للنووي".
* وترجمة جمال الدين عبد الرحيم بن عبد الله بن يوسف الأنصاري، ابن شاهد الجيش، برقم 357، قال: "سمعت عليه (صحيح البخاري) ".
ومنهم شيوخ شيوخه، وكثيرًا ما يُعبِّر عنهم بقوله: حدثونا عنه، أو حدثنا عنه ...... ، ومن هؤلاء:
* صفي الدين أحمد بن محمد بن إبراهيم بن أبي بكر الطبري، ترجمة رقم (72).
* جمال الدين أحمد بن محمد بن عبد الله الظاهري، ترجمة رقم (100).
* أحمد بن محمد بن أبي القاسم الأنمي الدشتي، ترجمة رقم (117).
বইটির যে অংশটি আমরা সারাংশ (মুনতাকা) থেকে পেয়েছি তাতে সাতাশটি জীবনী রয়েছে, এর পাশাপাশি আরও বেশ কিছু জীবনী রয়েছে যা মূল পাণ্ডুলিপির হারিয়ে যাওয়া অন্যান্য পৃষ্ঠার অন্তর্ভুক্ত ছিল, যার সংখ্যা পনেরোটি।
সুতরাং মূল পাণ্ডুলিপিটি 'মুহাম্মাদ' নামীয় ব্যক্তিদের জীবনী দিয়ে শুরু হয়েছিল—এটি এমন এক পদ্ধতি যা কিছু লেখক অনুসরণ করেছেন—এরপর আলিফ অক্ষর দিয়ে শুরু হওয়া জীবনীসমূহ, তারপর বা অক্ষর। মূল পাণ্ডুলিপি থেকে এটি হারিয়ে গেলেও সারাংশ গ্রন্থটি আমাদের জন্য এর একটি জীবনী সংরক্ষণ করেছে। এরপর মূল এবং সারাংশ উভয়টিই তা, ছা এবং জিম অক্ষরগুলোর জীবনী থেকে শূন্য। এরপর হা অক্ষর, তারপর খা অক্ষর; যা মূল পাণ্ডুলিপি থেকে হারিয়ে গেলেও সারাংশ আমাদের জন্য এর একটি জীবনী সংরক্ষণ করেছে। এরপর দদ বর্ণ পর্যন্ত বাকি অক্ষরগুলো ক্রমানুসারে রয়েছে এবং মূল পাণ্ডুলিপিতে সেখানে জীবনীর অভাব প্রকাশ পেয়েছে। এরপর বাকি বর্ণগুলো ক্রমানুসারে এসেছে।
এটি বিন্যাস সম্পর্কে। আর বিষয়বস্তুর ক্ষেত্রে, এটি সেই যুগের একদল ওলামার জীবনী—বিশেষ করে মুহাদ্দিসগণের জীবনী। মূল পাণ্ডুলিপি এবং সারাংশ থেকে সংগৃহীত অংশ মিলিয়ে তাদের সংখ্যা সাড়ে আটশোরও বেশি। তাদের মধ্যে তাঁর উস্তাদগণও রয়েছেন, যেমন:
* আশ-শিহাব আহমাদ বিন আবি আল-ফারাজ বিন আল-বাবা এর জীবনী, নম্বর (৬৭)। তিনি বলেন: "আমি তাঁর নিকট ইবনে দাকীক আল-ঈদ রচিত (আল-ইলমাম) এর অধিকাংশ পাঠ করেছি।"
* এবং যাইনুদ্দীন আবদুর রহমান বিন মুহাম্মাদ বিন কুদামা আল-মাকদিসী এর জীবনী, নম্বর (৩৩৬)। তিনি বলেন: "আমি তাঁর নিকট (সহীহ মুসলিম) এর কিছু অংশ, আল-আসফাহানী রচিত (আত-তারগীব) এর কিছু অংশ এবং আন-নববী রচিত (আল-আরবাউন) শুনেছি।"
* এবং জামালুদ্দীন আবদুর রহীম বিন আবদুল্লাহ বিন ইউসুফ আল-আনসারী, ইবনু শাহিদ আল-জাইশ এর জীবনী, নম্বর ৩৫৭। তিনি বলেন: "আমি তাঁর নিকট (সহীহ বুখারী) শুনেছি।"
তাঁদের মধ্যে তাঁর উস্তাদদের উস্তাদগণও রয়েছেন। প্রায়ই তিনি তাঁদের সম্পর্কে বলেন: "তাঁরা আমাদের কাছে তাঁর পক্ষ থেকে বর্ণনা করেছেন" অথবা "তিনি আমাদের কাছে তাঁর পক্ষ থেকে বর্ণনা করেছেন"... তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:
* সফিউদ্দীন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম বিন আবি বকর আত-তাবারী, জীবনী নম্বর (৭২)।
* জামালুদ্দীন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আবদুল্লাহ আজ-জহিরী, জীবনী নম্বর (১০০)।
* আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আবি আল-কাসিম আল-আন্মী আদ-দাশতী, জীবনী নম্বর (১১৭)।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াফায়াত - লিল ইরাকী
(পৃষ্ঠা: ١٢)
وتنحصر وفيات هؤلاء العلماء خلال الفترة ما بين سنتي 691 هـ، 764 هـ
(1).
أما عن منهجه، فهو يبدأ بذكر اسم المترجم له كاملًا، يتبعه بتاريخ مولده -إن وجد- ثم بشيوخه وما سمعه عليهم، ثم بتلامذته وما سمعوه منه، ثم بتاريخ وفاته.
وقد يورد في بعض الأحيان ما تقلَّده المُترجَم له من وظائف إدارية أو علميَّة.
ولا يخفى على المطِّلِع على هذا المنهج أنه قريب من منهج المحدِّثين -ولعل هذا جاء تأثُرًا منه بالعلم الذي نبغ فيه- كما أنه قريب من المنهج الذي خطَّه المنذري في كتابه: (التكملة)، وسار على منهجه مَن تبعه ممَّن ذيَّل عليه، وعليه وجب السؤال عن مخطوطنا، لأيُّ الذيلين يتَّبع؟، أو بالأحرى: أي ذيلٍ ثبت لابن أيبك، فذيَّل عليه الزين العراقي؟.
يُعْتبر الصلاح الصفدي أقدم مَنْ ترجم للشهاب ابن أيبك في كتابه: (أعيان العصر)
(2)، ولمَّا كان الصلاح قريب العهد به، إلى جانب كونه مؤرخًا مطَّلعًا على أكثر مصنفات عصره في هذا الفن وغيره، فتُعدُّ شهادته القول الفصل، وعليه، فإنه لم يُثْبِت لابن أيبك ذيلًا على (وفيات الأعيان)، وإنما أثبت له ذيله على (صلة التكملة لوفيات النقلة)، فقال: "وأرَّخ الوفيات ذيلًا على الشريف عز الدين".
وتبع الصفدي فيما ذهب إليه التقيُ الفاسي في (إيضاحه) كما سبق وأشرت، ونقل ابن قاضي شهبة في (تاريخه)
(3) عن شمس الدين الحسيني مما لا يوجد في (ذيله على العبر) قوله: "وذيَّل على الوفيات للشريف الحسيني، كتب فيه إلى حين وفاته".
بل إن الزين العراقي نفسه لمَّا عدَّد كُتب الوفيات في شرحه لألفيته (شرح التبصرة والتذكرة)
(4) ووصل إلى ابن أيبك، قال: "وذيَّلتُ على ابن أيبك". وبذلك فقد أثبت بنفسه
--------------------------------------------
এই আলেমদের মৃত্যু ৬৯১ হিজরি থেকে ৭৬৪ হিজরি সময়কালের মধ্যে সীমাবদ্ধ
(১)।
তাঁর পদ্ধতির ক্ষেত্রে বলা যায়, তিনি যার জীবনী বর্ণনা করছেন তাঁর পূর্ণ নাম উল্লেখ করার মাধ্যমে শুরু করেন, এরপর তাঁর জন্ম তারিখ—যদি পাওয়া যায়—উল্লেখ করেন; এরপর তাঁর উস্তাদগণ এবং তাঁদের কাছে তিনি যা শুনেছেন তা, এরপর তাঁর ছাত্রগণ এবং তাঁরা তাঁর থেকে যা শুনেছেন তা, এবং সবশেষে তাঁর মৃত্যুর তারিখ উল্লেখ করেন।
এবং কখনও কখনও তিনি জীবনীভুক্ত ব্যক্তির প্রশাসনিক বা বৈজ্ঞানিক পদের দায়িত্ব পালনের বিবরণও উল্লেখ করেন।
এই পদ্ধতির সাথে পরিচিত ব্যক্তির নিকট এটি অস্পষ্ট নয় যে, এটি মুহাদ্দিসগণের পদ্ধতির কাছাকাছি—সম্ভবত এটি তিনি যে বিদ্যায় পারদর্শিতা অর্জন করেছিলেন তার প্রভাবেই হয়েছে। পাশাপাশি এটি মুনজিরি তাঁর 'আত-তাকমিলা' গ্রন্থে যে পদ্ধতির রূপরেখা দিয়েছেন তারও সদৃশ। আর তাঁর পরবর্তী যারাই পরিশিষ্ট (জাইল) লিখেছেন, তাঁরা তাঁরই পথ অনুসরণ করেছেন। এমতাবস্থায় আমাদের আলোচ্য পাণ্ডুলিপিটি সম্পর্কে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক যে, এটি কোন্ 'জাইল'-এর অনুগামী? অথবা আরও সুনির্দিষ্টভাবে বললে: ইবন আইবাকের কোন্ 'জাইল' বা পরিশিষ্টটি প্রমাণিত, যার ওপর জাইনুল ইরাকি পরিশিষ্ট লিখেছেন?
সালাহ আল-সাফাদি তাঁর 'আ'য়ানুল আসর' গ্রন্থে শিহাব ইবন আইবাকের জীবনী বর্ণনাকারীদের মধ্যে প্রাচীনতম হিসেবে গণ্য হন
(২)। যেহেতু সাফাদি তাঁর সমসাময়িক ছিলেন, পাশাপাশি তিনি একজন ইতিহাসবিদ এবং তাঁর যুগের এই শাস্ত্র ও অন্যান্য শাস্ত্রের অধিকাংশ রচনার ব্যাপারে অভিজ্ঞ ছিলেন, তাই তাঁর বক্তব্যই চূড়ান্ত ফয়সালা হিসেবে গণ্য হয়। সেই অনুযায়ী, তিনি 'ওয়াফায়াতুল আ'য়ান'-এর ওপর ইবন আইবাকের কোনো পরিশিষ্টের কথা সাব্যস্ত করেননি; বরং তিনি তাঁর 'সিলাতুত তাকমিলা লি-ওয়াফায়াতিন নাকলা'-এর ওপর পরিশিষ্ট বা জাইল থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন: "তিনি শরীফ ইজ্জুদ্দীনের ওপর পরিশিষ্ট হিসেবে মৃত্যু ইতিহাস বর্ণনা করেছেন।"
সাফাদি যে মত ব্যক্ত করেছেন, তাকি আল-ফাসি তাঁর 'ইদাহ' গ্রন্থে তাই অনুসরণ করেছেন যেমনটি আমি আগেই উল্লেখ করেছি। ইবন কাজি শুহবা তাঁর 'তারিখ' গ্রন্থে
(৩) শামসুদ্দিন আল-হুসাইনি থেকে এমন কিছু বর্ণনা করেছেন যা তাঁর 'জাইল আলাল ইবার' গ্রন্থে পাওয়া যায় না; তিনি বলেছেন: "তিনি শরীফ আল-হুসাইনির 'ওয়াফায়াত'-এর ওপর পরিশিষ্ট লিখেছেন এবং তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত তাতে কাজ করে গেছেন।"
এমনকি খোদ জাইনুল ইরাকি যখন তাঁর আলফিয়ার ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'শারহুত তাবসিরা ওয়াত তাজকিরা'-তে
(৪) মৃত্যুবিষয়ক গ্রন্থগুলোর তালিকা দিচ্ছিলেন এবং ইবন আইবাকের প্রসঙ্গে পৌঁছালেন, তখন তিনি বলেন: "আমি ইবন আইবাকের ওপর পরিশিষ্ট লিখেছি।" এর মাধ্যমে তিনি নিজেই সাব্যস্ত করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াফায়াত - লিল ইরাকী
(পৃষ্ঠা: ١٣)
أنه ألَّف في وفيات نقلة العلم وذوي الشأن ذيلًا على كتاب سلفه ابن أيبك الدمياطي، وأقرَّه على ذلك تلميذاه: ابن قاضي شهبة في (تاريخه)، فقال: "وعمل وفيات ذيلًا على ذيل أبي الحسين بن أيبك"، وابن حجر، حيث عدَّد في مقدمة كتابه: (الدرر الكامنة) مصادره التي اعتمد عليها، فقال
(1): "و (الوفيات) للحافظ شمس الدين أبي الحسين ابن أيبك الدمياطي، و (الذيل) عليه لشيخنا، أبي الفضل بن الحسين العراقي".
أما السخاوي الذي تأخَّرت وفاته عن شيخيه، ولم يتصل بالزين العراقي اتصالهما به، فقد خلط بين (ذيله على وفيات) الشريف الحسيني وبين (ذيله على العبر)، فذكر ما سبق أن أثبتناه سابقًا
(2) وهو في ظني وهمٌ منه، ويُجلَّى بأمور:
* أولها أن (ذيل) الزين العراقي على العبر ابتدأه من سنة 741 هـ، وانتهى به سنة 763 هـ، وفق ما صرح به مقدمته قائلا: "فأنا أذكر في هذه الأوراق (ذيلًا) على (العبر) للحافظ أبي عبد الله محمد بن أحمد بن عثمان الذهبي، يلي (ذيله) الذي ذيله عليه، فإنه انتهى في (العبر) إلى سنة سبع مئة، وقد كنت قبل هذا بزمن طويل ذيَّلت من هنا، ثم رأيته ذيَّل عليها إلى سنة أربعين وسبع مئة، وقع لي بخطِّه، وفي عقبه (ذيلٌ) لصاحبنا الحافظ أبي المحاسن محمد بن علي بن محمد بن حمزة الحسيني، وكان في ملكي، ثم فقدته من سنين، فلم أظفر به إلى الآن، وهو بخط مُذيله، وما أظنه نقل منه شيء، فإني ابتعته من تركته، فرأيت أن اقتصر على ما ذيله الذهبي من سنة إحدى وأربعين وسبع مئة إلى زماننا مستمدًّا من الله حُسن المعونة
… "
(3)، وما صرَّح به ولده في بداية (ذيله)
(4) على (ذيل) أبيه، كما أنه لم يُثْبِت أحدٌ لابن أيبك (ذيلًا على العبر) ليذيِّل عليه العراقي.
--------------------------------------------
তিনি জ্ঞান বহনকারী এবং মর্যাদাবান ব্যক্তিদের মৃত্যুসংক্রান্ত তথ্যের বিষয়ে তাঁর পূর্বসূরি ইবনে আইবাক আদ-দুমইয়াতির কিতাবের ওপর একটি পরিশিষ্ট রচনা করেছেন এবং তাঁর দুই ছাত্র এটি সমর্থন করেছেন: ইবনে কাজী শাহবাহ তাঁর 'তারিখ'-এ বলেছেন: "তিনি আবুল হুসাইন ইবনে আইবাকের পরিশিষ্টের ওপর মৃত্যুসংবাদ বিষয়ক একটি পরিশিষ্ট রচনা করেছেন", এবং ইবনে হাজার তাঁর 'আদ-দুরার আল-কামিনাহ' কিতাবের ভূমিকায় তাঁর নির্ভরযোগ্য উৎসগুলো গণনা করতে গিয়ে বলেছেন
(১): "হাফেজ শামসুদ্দিন আবুল হুসাইন ইবনে আইবাক আদ-দুমইয়াতির 'আল-ওয়াফিয়াত', এবং আমাদের শায়খ আবুল ফজল বিন আল-হুসাইন আল-ইরাকির রচিত এর ওপর 'পরিশিষ্ট'।"
তবে আস-সাখাবি, যাঁর মৃত্যু তাঁর দুই শায়খের পরে হয়েছিল এবং তিনি যয়ন আল-ইরাকির সাথে তাঁদের মতো অতটা ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন না, তিনি শারিফ আল-হুসাইনির 'ওয়াফিয়াত'-এর ওপর তাঁর পরিশিষ্ট এবং 'আল-ইবার'-এর ওপর তাঁর পরিশিষ্টের মধ্যে গুলিয়ে ফেলেছেন। ফলে তিনি তা উল্লেখ করেছেন যা আমরা ইতিপূর্বে প্রমাণ করেছি
(২) এবং আমার ধারণায় এটি তাঁর পক্ষ থেকে একটি ভ্রম, যা কয়েকটি বিষয় দ্বারা স্পষ্ট হয়:
* প্রথমত, 'আল-ইবার'-এর ওপর যয়ন আল-ইরাকির 'পরিশিষ্ট' তিনি শুরু করেছিলেন ৭৪১ হিজরি থেকে এবং শেষ করেছিলেন ৭৬৩ হিজরিতে, যেমনটি তিনি তাঁর ভূমিকায় স্পষ্টভাবে বলেছেন: "আমি এই পাতাগুলোতে হাফেজ আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন উসমান আদ-দাহাবির 'আল-ইবার'-এর ওপর একটি 'পরিশিষ্ট' উল্লেখ করছি, যা তাঁর সেই পরিশিষ্টের অনুগামী হবে যা তিনি এর ওপর যুক্ত করেছিলেন। কেননা তিনি 'আল-ইবার'-এ সাতশো সাল পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন। এর অনেক আগে থেকেই আমি এখান থেকে পরিশিষ্ট লেখা শুরু করেছিলাম, তারপর দেখলাম তিনি সাতশো চল্লিশ সাল পর্যন্ত এর ওপর পরিশিষ্ট লিখেছেন, যা তাঁর স্বহস্তে লেখা আমার হস্তগত হয়েছে। এর পরপরই আমাদের সাথী হাফেজ আবুল মাহাসিন মুহাম্মদ বিন আলি বিন মুহাম্মদ বিন হামজাহ আল-হুসাইনির একটি 'পরিশিষ্ট' ছিল এবং সেটি আমার মালিকানায় ছিল। এরপর কয়েক বছর আগে আমি সেটি হারিয়ে ফেলি এবং এখন পর্যন্ত তা খুঁজে পাইনি। সেটি পরিশিষ্ট লেখকের নিজের হাতের লেখা ছিল এবং আমার মনে হয় না সেখান থেকে কোনো কিছু নকল করা হয়েছে, কারণ আমি সেটি তাঁর ত্যাজ্য সম্পদ থেকে কিনেছিলাম। তাই আমি দাহাবির লেখা সাতশো একচল্লিশ সাল থেকে আমাদের সময় পর্যন্ত পরিশিষ্টের ওপর সীমাবদ্ধ থাকা সমীচীন মনে করলাম, আল্লাহর কাছে উত্তম সাহায্যের প্রত্যাশা করে
… "
(৩), এবং যা তাঁর পুত্র তাঁর পিতার 'পরিশিষ্ট'-এর ওপর রচিত তাঁর নিজস্ব 'পরিশিষ্ট'-এর শুরুতে স্পষ্টভাবে বলেছেন
(৪)। তাছাড়া ইবনে আইবাকের জন্য কেউ 'আল-ইবার'-এর কোনো পরিশিষ্ট সাব্যস্ত করেননি যে ইরাকি সেটির ওপর পরিশিষ্ট লিখবেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াফায়াত - লিল ইরাকী
(পৃষ্ঠা: ١٤)
* ثانيها تفرقة المتقدِّمين في نقولهم بين الكتابين، ومثال ذلك أن ابن خطيب الناصرية (ت 843 هـ)، فرَّق في منتقياته ضمن مجموعه
(1) بين الكتابين، فعنون منتقاه من (ذيل العبر): "هذا منتقى من (ذيل) الحافظ العراقي على (ذيل العبر) للذهبي"، وعنون منتقاه من (الوفيات): (منتقى من تاريخ العراقي)، وقال في الخاتمة: "آخر المنتقى من تاريخ العلامة الحافظ زين الدين العراقي". وكأنه سمَّى الوفيات، بالتاريخ، وهي التسمية الشائعة عند القدماء.
ومثالٌ آخر أن تقي الدين أبا بكر بن أحمد ابن قاضي شهبة (ت 851 هـ)، والذي أكثر من النقل في كتابه الموسوم بـ: (تاريخ ابن قاضي شهبة)، قد فرَّق فيما نقل من الكتابين المذكورين بين بعضهما البعض، فلمَّا كان كتابه حوليًا على السنوات، وكان قد امتد من بداية (ذيل) العراقي على (ذيل العبر)، أي سنة 741 هـ، وتعداه إلى ما بعد ذلك، فقد كان (ذيل) العراقي على (ذيل العبر) هو المَعين الذي ينهل منه
(2)، إذ نراه يعتمد عليه في إيراد وفيات كل سنة تقريبًا، بقوله: "ذكره أبو الفضل العراقي"، أو "زين الدين العراقي"، أمَّا إذا تعدَّاه إلى كتابه الآخر (الوفيات)، فإنه يصرح بنقله منه قائلًا: "ذكره أبو الفضل العراقي في وفياته"، أو "ذكره الشيخ زين الدين العراقي في وفياته"
(3)، تفرقة بين المصدرين.
ثالثها أن صاحب (كشف الظنون)
(4) قد حدد عدد تراجم (ذيل العراقي) على (ذيل ابن أيبك) على (وفيات الأعيان) بثلاثين ترجمة فقط، أما الذيل الذي بين أيدينا فتراجمه تزيد على ثمان مئة، إضافة إلى اثنتين وأربعين ترجمة استخلصناها من منتقى ابن خطيب الناصرية غير موجودة بالأصل، خلا ما سقط من الأصل، ولم يرد في المنتقى.
--------------------------------------------
দ্বিতীয়ত, পূর্বসূরিগণের উদ্ধৃতিতে দুটি বইয়ের মাঝে পার্থক্য করা। এর উদাহরণ হলো ইবনে খতিব আন-নাসিরিয়্যাহ (মৃত্যু ৮৪৩ হিজরি), তিনি তাঁর সংকলনের অন্তর্গত নির্বাচিত অংশসমূহে দুটি বইয়ের মধ্যে পার্থক্য করেছেন। তিনি (যাইলুল ইবার) থেকে তাঁর নির্বাচিত অংশের শিরোনাম দিয়েছেন: "এটি ইমাম যাহাবীর (যাইলুল ইবার)-এর ওপর হাফেজ ইরাকির (যাইল)-এর নির্বাচিত অংশ"। আর (আল-ওয়াফায়াত) থেকে তাঁর নির্বাচিত অংশের শিরোনাম দিয়েছেন: (ইরাকির ইতিহাস থেকে নির্বাচিত অংশ)। পরিশেষে তিনি বলেছেন: "আল্লামা হাফেজ জাইন উদ্দিন ইরাকির ইতিহাস থেকে নির্বাচিত অংশের সমাপ্তি"। মনে হয় যেন তিনি আল-ওয়াফায়াতকে 'তারিখ' বা 'ইতিহাস' নামে অভিহিত করেছেন, যা প্রাচীনদের নিকট একটি প্রচলিত নামকরণ ছিল।
অন্য একটি উদাহরণ হলো তাকি উদ্দিন আবু বকর ইবনে আহমদ ইবনে কাজি শুহবাহ (মৃত্যু ৮৫১ হিজরি), যিনি তাঁর (তারিখ ইবনে কাজি শুহবাহ) নামক গ্রন্থে প্রচুর উদ্ধৃতি দিয়েছেন। তিনি উল্লেখিত দুটি বই থেকে যা উদ্ধৃত করেছেন তার মধ্যে পার্থক্য করেছেন। যেহেতু তাঁর বইটি সন অনুযায়ী লিখিত ছিল এবং তা ইরাকির (যাইলুল ইবার)-এর পরিশিষ্টের শুরু থেকে অর্থাৎ ৭৪১ হিজরি থেকে শুরু করে পরবর্তী সময় পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল, তাই ইরাকির (যাইলুল ইবার) ছিল তাঁর অন্যতম প্রধান উৎস, যেখান থেকে তিনি জ্ঞান আহরণ করতেন
(২)। আমরা তাকে প্রায় প্রতি বছরের মৃত্যু সংবাদ বর্ণনায় এর ওপর নির্ভর করতে দেখি, যেখানে তিনি বলেন: "আবু আল-ফজল ইরাকি এটি উল্লেখ করেছেন" অথবা "জাইন উদ্দিন ইরাকি"। কিন্তু যখন তিনি তাঁর অন্য গ্রন্থ (আল-ওয়াফায়াত) থেকে উদ্ধৃতি দেন, তখন তিনি স্পষ্ট করে বলেন: "আবু আল-ফজল ইরাকি তাঁর 'ওয়াফায়াত' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন" অথবা "শেখ জাইন উদ্দিন ইরাকি তাঁর 'ওয়াফায়াত' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন"
(৩)। এটি মূলত দুটি উৎসের মধ্যে পার্থক্য করার জন্য।
তৃতীয়ত, (কাশফুয যুনুন)
(৪)-এর লেখক ইবনে আইবকের (ওয়াফায়াতুল আইয়ান)-এর পরিশিষ্টের ওপর ইরাকির পরিশিষ্টের জীবনীর সংখ্যা মাত্র ত্রিশটি নির্ধারণ করেছেন। অথচ আমাদের হাতে থাকা এই পরিশিষ্টটির জীবনী সংখ্যা আটশ-এরও বেশি। এছাড়া ইবনে খতিব আন-নাসিরিয়্যাহর নির্বাচিত অংশ থেকে আমরা আরও বিয়াল্লিশটি জীবনী উদ্ধার করেছি যা মূল পাণ্ডুলিপিতে নেই, মূল পাণ্ডুলিপি থেকে যা হারিয়ে গেছে এবং নির্বাচিত অংশেও আসেনি তা বাদে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াফায়াত - লিল ইরাকী
(পৃষ্ঠা: ١٥)
وظني أن منشأ هذا الخلط لدى السخاوي تحديدًا، هي منهجية التأليف في الكتب المسماة بالوفيات، فهى غالبًا ترتب على السنوات، أي تُعَنوَن السنة، ثم تسرد ما فيها من وفيات، متبعةً تنظيمًا داخليًا بترتيبها على الشهور والأيام.
ولمَّا كان (ذيل ذيل العبر) للعراقي قد اتخذ هذا المنهج سبيلًا، فقد تبادر إلى السخاوي أنه (ذيلٌ) على (وفيات) ابن أيبك التي هي على (وفيات) الشريف الحُسيني، والتي اتخذت نفس المنهج الحوالي.
وقد يعترض معترض على ما ظننت، مستندًا لاختلاف منهجية التأليف بين الأصل - (ذيل) ابن أيبك على (ذيل) الشريف الحسيني- وبين مخطوطنا، نعم أنا أقرُّ بهذا الاختلاف، إذ اعتمدت كتب الوفيات على الترتيب الحولي، فهي تبدأ بالسنة، ثم بالشهر، ثم باليوم. أما مخطوطنا فاعتمد الترتيب على الحروف، ودفع هذا الاعتراض أن ما بأيدينا إنما هي مسودة المؤلف، جمع فيها أكثر مادة، وكان يضيف إليها أحيانًا، أما حين يبضها في شكلها النهائي، فقد يغير ترتيبها التي عليه إلى الترتيب الحولي متبعًا من سبقوه.
شبهة أخرى لا بد من ردها، وهي ما ذهب إليه ابن فهد فى (لحظ الألحاظ)
(1) لما عدَّد مؤلفات الزين العراقي، أن منها: " (معجم) يشتمل على تراجم من أهل القرن الثامن، غالبهم شيوخ شيوخه، وفيهم من شيوخه".
أظن أن ابن فهد كان قد اطلع على مخطوطنا هذا، فلمَّا رأى أن الزين العراقي في كثير من تراجمه للوفيات المذكورة يذكر درجة تلمذتَه لصاحب الترجمة، فإن كان من شيوخه المباشرين، قال: "حدثنا، أو سمعت منه". وإن كان من طبقة أعلى منه، كطبقة شيوخ شيوخه، قال: "حدثنا عنه .... ، أو حدثونا عنه"، لمَّا رأى ابن فهد ذلك تبادر إلى ذهنه أن هذا المؤلَّف خاص بشيوخه فمن فوقهم، خاصة أنه رتبهم هجائيًا على عادة أكثر معاجم الشيوخ.
--------------------------------------------
আমার ধারণা হলো, বিশেষ করে সাখাভীর মাঝে এই বিভ্রান্তির কারণ হলো 'ওফিয়াত' (মৃত্যুসংবাদ) নামক গ্রন্থগুলোর রচনার পদ্ধতি। কারণ এগুলো সাধারণত বছরের ভিত্তিতে বিন্যস্ত করা হয়; অর্থাৎ বছরের শিরোনাম দেওয়া হয়, তারপর সেই বছরে মৃত ব্যক্তিদের বিবরণ উল্লেখ করা হয় এবং অভ্যন্তরীণভাবে মাস ও দিনের ক্রমানুযায়ী সাজানো হয়।
আর যেহেতু ইরাকীর (জাইলু জাইলিল ইবার) এই পদ্ধতি অনুসরণ করেছে, তাই সাখাভীর মনে এটি উদয় হয়েছে যে, এটি ইবনে আইবকের (ওফিয়াত)-এর ওপর একটি (জাইল) বা পরিশিষ্ট, যা আবার শরীফ আল-হুসাইনীর (ওফিয়াত)-এর ওপর ভিত্তি করে রচিত, আর উভয়টিই একই বার্ষিক পদ্ধতি অনুসরণ করেছে।
কেউ আমার এই ধারণার বিরোধিতা করতে পারেন এই যুক্তিতে যে, মূল গ্রন্থ—শরীফ আল-হুসাইনীর (জাইল)-এর ওপর ইবনে আইবকের (জাইল)—এবং আমাদের এই পাণ্ডুলিপির রচনাশৈলীর মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। হ্যাঁ, আমি এই পার্থক্য স্বীকার করছি; কারণ ওফিয়াত গ্রন্থগুলো বার্ষিক বিন্যাসের ওপর নির্ভরশীল, যা বছর দিয়ে শুরু হয়, এরপর মাস, তারপর দিন। অন্যদিকে আমাদের এই পাণ্ডুলিপিটি বর্ণানুক্রমিক বিন্যাস অনুসরণ করেছে। তবে এই আপত্তির উত্তর হলো, আমাদের হাতে যা আছে তা মূলত লেখকের একটি খসড়া কপি, যেখানে তিনি অধিকাংশ উপাদান সংগ্রহ করেছিলেন এবং মাঝে মাঝে সংযোজন করতেন। তবে তিনি যখন এটিকে চূড়ান্ত রূপ দিতেন, তখন হয়তো পূর্বসূরিদের অনুসরণ করে এর বর্তমান বিন্যাস পরিবর্তন করে বার্ষিক বিন্যাসে রূপান্তর করতেন।
আরেকটি সংশয় নিরসন করা প্রয়োজন, যা ইবনে ফাহাদ (লাহজুল আলহাজ)
(১)-এ উল্লেখ করেছেন যখন তিনি জাইনুল ইরাকীর রচনাবলি গণনা করছিলেন। তিনি বলেছিলেন: "একটি (মু'জাম) যা অষ্টম শতাব্দীর ব্যক্তিদের জীবনী সংবলিত, যাদের অধিকাংশই তাঁর শিক্ষকদের শিক্ষক, এবং তাঁদের মধ্যে তাঁর নিজের শিক্ষকরাও রয়েছেন।"
আমার মনে হয় ইবনে ফাহাদ আমাদের এই পাণ্ডুলিপিটি দেখেছিলেন। যখন তিনি দেখলেন যে, জাইনুল ইরাকী উল্লিখিত মৃত্যুসংবাদের অনেক জীবনীতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিকট নিজের ছাত্রত্বের মর্যাদা উল্লেখ করছেন—যদি তিনি তাঁর সরাসরি শিক্ষক হন, তবে তিনি বলেন: "আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, অথবা আমি তাঁর থেকে শুনেছি।" আর যদি তিনি তাঁর চেয়ে উচ্চ স্তরের হন, যেমন তাঁর শিক্ষকদের শিক্ষক, তবে তিনি বলেন: "আমাদের নিকট তাঁর থেকে বর্ণনা করা হয়েছে... অথবা তাঁরা আমাদের নিকট তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন।" ইবনে ফাহাদ যখন এটি দেখলেন, তখন তাঁর মনে এই ধারণা জন্মেছিল যে, এই গ্রন্থটি তাঁর শিক্ষক এবং তাঁদের ঊর্ধ্বতনদের জন্য বিশেষায়িত, বিশেষ করে যেহেতু তিনি এটি বর্ণানুক্রমে সাজিয়েছেন যা অধিকাংশ শিক্ষকদের অভিধানের প্রচলিত রীতি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াফায়াত - লিল ইরাকী
(পৃষ্ঠা: ١٦)
ولعل مما يؤكد ذلك أن ابن فهد لم يذكر ضمن مؤلفات الزين العراقي أحد الذيلين المتنازع فيهما، وهما:
* (الذيل) على (ذيل) ابن أيبك الذي ذيَّل به على (صلة التكملة) للشريف الحسيني.
* (الذيل) على (ذيل) ابن أيبك على (وفيات الأعيان).
ومما يلاحظ في مخطوطنا أيضًا -لكونه مسودة أيضًا- عدم اكتمال بعض عناصر الترجمة، أو بالأحرى بعض المعلومات الخاصة بالمترجَم له لدى المؤلف حال كتابته هذه المسوَّدة، فأحيانًا لا يذكر تاريخ مولد المترجمَ له أو تاريخ وفاته، وأحيانًا لا يلتزم بعناصر الترجمة المتبعة في أغلب التراجم -كذكر الاسم، ثم تاريخ الميلاد، ثم تاريخ الوفاة أحيانًا، ثم شيوخه وما سمعه منهم، ثم تلامذته، ثم تاريخ الوفاة كالمعتاد- فيقدِّم بعض عناصر الترجمة على الأخرى، ففي الترجمة رقم (79)، قدَّم شيوخ المترجَم له وتلامذته على تاريخ مولده ووفاته.
وأحيانًا يكون غير متحقق من المعلومات التي بين يديه، نحو ترجمة رقم (33)، فقد شك فيما أورده من معلومات كان قد نقلها عن طبقة سماع بخط الواني.
وأحيانًا تعرض له معلومات أخرى قد تختلف أو تتعارض مع ما أورده، فيعبر عن قلقه هذا في كلا الأمرين بقوله: "فيحرر"، كما في الترجمة رقم (68)، (192)، (448).
وأحيانًا يذكر الاسم فقط، ويترك تحته بياض بمقدار سطر أو سطرين، عسى أن يطرأ له ما يضيفه مستقبلًا، ولكن يبدو أنه لم يُتح له ما يمكن إضافته، نحو ترجمة رقم (59)، (80)، (280)، (710).
وقد أدى نقصان بعض المعلومات من المؤلِّف إلى تدخُّل ابنه محاولًا سدِّ هذا النقص، ومعقبًا بقوله: "كتبه أحمد". ومن الأمثلة على ذلك:
* استدراك تاريخ مولد صاحب الترجمة رقم (7).
* إضافة تلاميذ المترجم له، كالترجمة رقم (581).
সম্ভবত এটি সেই বিষয়টিকেই নিশ্চিত করে যে, ইবনে ফাহদ যাইনুল ইরাকির রচনাবলির মধ্যে বিবাদপূর্ণ দুটি 'যাইল' (পরিশিষ্ট)-এর কোনোটিকেই উল্লেখ করেননি, আর সেগুলো হলো:
* ইবনে আইবাকের 'যাইল'-এর ওপর রচিত 'যাইল', যার মাধ্যমে তিনি শরীফ আল-হুসাইনির 'সিলাতুত তাকমিলা'-এর পরিশিষ্ট লিখেছিলেন।
* 'ওয়াফায়াতুল আইয়ান'-এর ওপর ইবনে আইবাকের 'যাইল'-এর ওপর রচিত 'যাইল'।
আমাদের এই পাণ্ডুলিপিতে আরও যা লক্ষ্য করা যায় - যেহেতু এটি একটি খসড়া কপিও বটে - তা হলো জীবনীমূলক বর্ণনার কিছু উপাদানের অপূর্ণতা, অথবা আরও সঠিকভাবে বলতে গেলে, এই খসড়াটি লেখার সময় লেখকের নিকট সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্পর্কে কিছু তথ্যের অভাব ছিল। ফলে কখনও কখনও তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জন্ম তারিখ বা মৃত্যু তারিখ উল্লেখ করেননি। আবার কখনও কখনও তিনি অধিকাংশ জীবনীর ক্ষেত্রে অনুসৃত জীবনীমূলক উপাদানগুলো মেনে চলেননি - যেমন নাম উল্লেখ করা, তারপর জন্ম তারিখ, তারপর কখনও মৃত্যু তারিখ, তারপর তাঁর শিক্ষকগণ এবং তাঁদের থেকে যা শ্রবণ করেছেন, তারপর তাঁর ছাত্রগণ, এরপর সাধারণত মৃত্যু তারিখ উল্লেখ করা - বরং তিনি জীবনীর কিছু উপাদানকে অন্য উপাদানের আগে নিয়ে এসেছেন। যেমন ৭৯ নম্বর জীবনীতে তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির শিক্ষকদের এবং ছাত্রদের বিবরণকে তাঁর জন্ম ও মৃত্যু তারিখের আগে উল্লেখ করেছেন।
আবার কখনও কখনও তাঁর নিকট থাকা তথ্যের ব্যাপারে তিনি নিশ্চিত ছিলেন না, যেমন ৩৩ নম্বর জীবনী; এখানে আল-ওয়ানি-র হস্তাক্ষরে লিখিত একটি 'তাবাকাতুস সামা' (শ্রবণ স্তর) থেকে তিনি যে তথ্যগুলো নকল করেছিলেন, সেগুলোর ব্যাপারে তিনি সন্দেহ পোষণ করেছেন।
কখনও আবার তাঁর সামনে এমন কিছু তথ্য আসত যা তাঁর উল্লেখ করা তথ্যের চেয়ে ভিন্ন বা তার সাথে সাংঘর্ষিক হতো, ফলে তিনি উভয় ক্ষেত্রে নিজের এই দ্বিধা প্রকাশ করতে "এটি যাচাইযোগ্য" শব্দটির ব্যবহার করেছেন, যেমনটি দেখা যায় ৬৮, ১৯২ এবং ৪৪৮ নম্বর জীবনীতে।
কখনও কখনও তিনি কেবল নামটি উল্লেখ করতেন এবং তার নিচে এক বা দুই লাইন পরিমাণ খালি জায়গা রেখে দিতেন, এই আশায় যে ভবিষ্যতে হয়তো সেখানে যোগ করার মতো কিছু পাবেন। কিন্তু মনে হয়, যোগ করার মতো কিছু তাঁর হাতে আসেনি, যেমন ৫৯, ৮০, ২৮০ এবং ৭১০ নম্বর জীবনী।
লেখকের কিছু তথ্যের এই ঘাটতি পূরণের জন্য তাঁর ছেলের হস্তক্ষেপ অনিবার্য হয়ে পড়েছিল, যিনি এই অপূর্ণতা পূরণের চেষ্টা করতেন এবং শেষে লিখতেন: "এটি আহমদ লিখেছেন"। এর কিছু উদাহরণ হলো:
* ৭ নম্বর জীবনীর ব্যক্তির জন্ম তারিখের সংযোজন।
* সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ছাত্রদের নাম সংযোজন, যেমন ৫৮১ নম্বর জীবনী।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াফায়াত - লিল ইরাকী
(পৃষ্ঠা: ١٧)
ويبدو أن المؤلف اطلع على مصادر أخرى بعد انتهائه من الجمع الأول لمعلوماته، فأظن أنه اطلع على كتاب (تهذيب الذهبي لوفيات البرزالي)، وكان يقارن بينه وما ذكره أولًا، فإن وجد خلافًا ذكره وعقَّب بقوله: " (في تهذيب الذهبي لوفيات البرزالي) ..... ، أو كذا فى: (وفيات البرزالي بتهذيب الذهبي) "، ومثال ذلك ترجمة رقم (497)، حيث ذكره أولًا: على بن القاسم. وعلَّق عليه بعد ذلك بقوله: "صوابه علي بن أبي القاسم بن محمد. كذا في (وفيات البرزالي بتهذيب الذهبي) ". وهو وإن كان قليلًا إلا أنه دليل على مراجعته للكتاب كلما عنَّ له جديد.
مصادر المؤلِّفاعتمد المؤلِّف في تحريره لكثير من التراجم -وخاصة تراجم المعاصرين له- على المعرفة الشخصية بهم، إذ سمع من بعضهم مباشرة، أو سمع عن البعض الآخر بواسطة شيوخه، كما أنه رجع لبعض المصادر السابقة عليه مصرِّحًا في بعض الأحيان، وبغير تصريح في أحيانٍ أخرى.
فممَّا اطلع عليه، وصرَّح بالنقل عنه:
* (تاريخ مصر) لقطب الدين عبد الكريم بن عبد النور الحلبي (ت 735 هـ)، صرَّح بالنقل عنه في أكثر من ترجمة بقوله: "وقال في تاريخ مصر"، نحو ترجمة رقم (35)، ومن الملحق أرقام: (10، 13، 17، 21، 22، 23، 24)، وقد ترجم للقطب الحلبي في كتابه ترجمة رقم (403).
* خط أبي الفتح اليعمري، كما في الترجمة رقم (38)، وأظنه ينقل عنه من (أجوبته على ابن أيبك).
* خط ابن مكتوم، كما في الترجمة رقم (86)، ولعله ينقل عنه من (تذكرته).
* خط ابن أيبك أكثر من مرة، ولعله ينقل عنه من (وفياته) المذكورة سابقًا، حيث ينقل
মনে হয় যে লেখক তাঁর তথ্যের প্রথম সংগ্রহ শেষ করার পর আরও কিছু উৎস পর্যালোচনা করেছেন। আমার ধারণা তিনি (তাহজিবুয যাহাবি লি ওয়াফায়াতিল বিরযালি) বইটি দেখেছিলেন এবং তিনি যা আগে উল্লেখ করেছিলেন তার সাথে এটি মিলিয়ে দেখতেন। যদি কোনো অমিল পেতেন তবে তা উল্লেখ করতেন এবং এই বলে মন্তব্য করতেন: "(তাহজিবুয যাহাবি লি ওয়াফায়াতিল বিরযালি)-তে রয়েছে... অথবা: (ওয়াফায়াতুল বিরযালি বি-তাহজিবুয যাহাবি)-তে এরূপ রয়েছে।" এর একটি উদাহরণ হলো ৪৯৭ নম্বর জীবনী, যেখানে তিনি প্রথমে উল্লেখ করেছেন: আলী বিন আল-কাসিম। এরপর তিনি মন্তব্য করেছেন: "সঠিক হলো আলী বিন আবি আল-কাসিম বিন মুহাম্মদ। (ওয়াফায়াতুল বিরযালি বি-তাহজিবুয যাহাবি)-তে এমনই রয়েছে।" যদিও এর পরিমাণ কম, তবে এটি একটি প্রমাণ যে যখনই তাঁর সামনে নতুন কিছু এসেছে তখনই তিনি বইটি সংশোধন করেছেন।
লেখকের উৎসসমূহলেখক তাঁর অনেক জীবনী রচনার ক্ষেত্রে—বিশেষ করে তাঁর সমসাময়িকদের জীবনীর ক্ষেত্রে—তাদের সম্পর্কে ব্যক্তিগত জ্ঞানের ওপর নির্ভর করেছেন। কারণ তিনি তাঁদের কারো কারো কাছ থেকে সরাসরি শুনেছেন অথবা তাঁর উস্তাদদের মাধ্যমে অন্যদের সম্পর্কে শুনেছেন। এছাড়াও তিনি তাঁর পূর্ববর্তী কিছু উৎসের সাহায্য নিয়েছেন, যা কখনো স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন আবার কখনো উল্লেখ করেননি।
তিনি যা দেখেছেন এবং যা থেকে উদ্ধৃতি দেওয়ার কথা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন তার মধ্যে রয়েছে:
* কুতুবুদ্দিন আব্দুল কারিম বিন আব্দুল নূর আল-হালাবি (মৃত্যু ৭৩৫ হি.) রচিত (তারিখ মিশর)। তিনি একাধিক জীবনীতে তাঁর থেকে উদ্ধৃতি দেওয়ার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন এই বলে: "তিনি তারিখ মিশরে বলেছেন", যেমন জীবনী নম্বর (৩৫), এবং পরিশিষ্টের নম্বরগুলো: (১০, ১৩, ১৭, ২১, ২২, ২৩, ২৪)। তিনি তাঁর বইয়ের ৪০৩ নম্বর ক্রমিকে কুতুব আল-হালাবির জীবনী সংকলন করেছেন।
* আবু আল-ফাতহ আল-ইয়া’মুরি-এর হাতের লেখা, যেমনটি ৩৮ নম্বর জীবনীতে রয়েছে। আমার ধারণা তিনি তাঁর (আজউবিবাতুহু আলা ইবনে আইবাক) থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন।
* ইবনে মাকতুম-এর হাতের লেখা, যেমনটি ৮৬ নম্বর জীবনীতে রয়েছে। সম্ভবত তিনি তাঁর (তাযকিরাহ) থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন।
* একাধিকবার ইবনে আইবাক-এর হাতের লেখা ব্যবহার করেছেন। সম্ভবত তিনি তাঁর পূর্বে উল্লিখিত (ওয়াফায়াত) থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন, যেখানে তিনি উদ্ধৃত করেছেন...
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াফায়াত - লিল ইরাকী
(পৃষ্ঠা: ١٨)
عنه من تراجم قبل سنة 749 هـ، وهى السنة التي توفي فيها، من ذلك: ترجمة رقم (146) (توفي سنة 722 هـ)، وترجمة رقم (382) (توفي سنة 720 هـ)، وترجمة رقم (418) (توفي سنة 724 هـ)، وصرح في هذا الموضع بالنقل من (الوفيات).
إلى جانب ذلك اطلاعه على كثير من معاجم الشيوخ الخاصة بشيوخه أو معاصريه، أو كثير من طباق السماع المدونة على عدد من الكتب التي كانت بين يديه فى المكتبات الوقفية آنذاك، فعادة ما كان يذكر من تلامذة صاحب الترجمة أحد المعروفين بكثرة السماع أو مَن له معجم شيوخ خاص به، فهو ينقل عنه كمعجم شيوخ: (البرزالي)، و (المزي)، و (الذهبي)، و (تقي الدين السبكي)، و (خليل بن كيكلدي العلائي)، أو أن يكون هو الذي خرَّج هذا المعجم أو فهرست مروياته، كمجموعة المشيخات التي خرجها لشيوخه، فيثبت سماع هؤلاء لهذا الشيخ
(1).
أثر الوفيات في المؤلفات اللاحقة عليهلما كان هذا المؤلَّف لبنة تستكمل بناء مَن سبق، ويبني عليها مَن لحِق، فقد اعتمد عليه من بعده عددٌ من المؤرخين الكبار، من هولاء:
* ولي الدين أحمد بن عبد الرحيم بن الحسين، وَلَدُ المصنِّف (ت 826 هـ)، حيث نقل عن والده في (ذيله) على ذيل والده، خاصة بعد سنة 763 هـ، وهي السنة التي توقف فيها والده في (ذيله) هو الآخر على (ذيل العبر)، مما يؤكد أنه كان ينقل عن (وفياته)، فمن ذلك:
- ترجمة علاء الدين علي بن أحمد بن محمد العُرضي نزيل الإسكندرية (ت 764 هـ)، حيث نقل عن والده وعن غيره تاريخ وفاته، ثم عقَّب قائلًا: "وما ذكرته هو الصواب، وهو الذي نقلته من خط والدي"
(2).
--------------------------------------------
৭৪৯ হিজরির পূর্বে মৃত্যু হয়েছে এমন কিছু জীবনীগ্রন্থ থেকে তিনি এটি নিয়েছেন, এটি সেই বছর যে বছর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এর মধ্যে রয়েছে: জীবনী নং (১৪৬) (মৃত্যু ৭২২ হি.), জীবনী নং (৩৮২) (মৃত্যু ৭২০ হি.), এবং জীবনী নং (৪১৮) (মৃত্যু ৭২৪ হি.)। এই স্থানে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে এটি (আল-ওয়াফিয়াত) থেকে উদ্ধৃত করা হয়েছে।
এর পাশাপাশি তিনি তাঁর উস্তাদদের বা সমসাময়িকদের বহু ‘মুজামুশ শুয়ুখ’ (শিক্ষক-অভিধান) এবং সে সময়ের ওয়াকফ লাইব্রেরিগুলোতে তাঁর হাতে থাকা বেশ কিছু কিতাবে লিপিবদ্ধ বহু ‘তাবাকাতুস সামা’ (শ্রবণ-লিপি) পর্যবেক্ষণ করেছেন। সাধারণত তিনি কোনো ব্যক্তির জীবনী উল্লেখ করার সময় তাঁর ছাত্রদের মধ্য থেকে এমন কাউকে উল্লেখ করতেন যিনি অধিক শ্রবণকারী হিসেবে পরিচিত অথবা যার নিজস্ব কোনো ‘মুজামুশ শুয়ুখ’ রয়েছে। তিনি তাঁদের ‘মুজামুশ শুয়ুখ’ থেকে উদ্ধৃত করেন, যেমন: (আল-বিরজালী), (আল-মিযযী), (আয-যাহাবী), (তাকীউদ্দীন আস-সুবকী) এবং (খালীল বিন কাইকালদী আল-আলাই)। অথবা তিনি নিজেই সেই মুজাম বা বর্ণিত বিষয়ের তালিকা সংকলন করতেন, যেমনটি তিনি তাঁর উস্তাদদের জন্য সংকলিত একগুচ্ছ ‘মাশইয়াকাহ’ (উস্তাদ-তালিকা) এর ক্ষেত্রে করেছেন, যার মাধ্যমে তিনি ওই শাইখের নিকট তাঁদের শ্রবণ করাকে সাব্যস্ত করেন
(১)।
পরবর্তী রচনাবলির ওপর ‘আল-ওয়াফিয়াত’-এর প্রভাবযেহেতু এই গ্রন্থটি পূর্বসূরিদের গড়ে তোলা ইমারতকে পূর্ণতা দানকারী একটি ইট এবং উত্তরসূরিদের জন্য ভিত্তি স্বরূপ ছিল, তাই পরবর্তীকালে বহু বড় বড় ঐতিহাসিক এর ওপর নির্ভর করেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:
* ওয়ালীউদ্দীন আহমদ বিন আব্দুর রহীম বিন আল-হুসাইন, যিনি গ্রন্থকারের পুত্র (মৃত্যু ৮২৬ হি.)। তিনি তাঁর পিতার ‘যায়ল’ (পরিশিষ্ট)-এর ওপর লিখিত নিজের ‘যায়ল’-এ তাঁর পিতা থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন, বিশেষ করে ৭৬৩ হিজরির পরবর্তী ঘটনাবলির ক্ষেত্রে। কারণ এই বছরে তাঁর পিতাও ‘যায়লুল ইবার’-এর ওপর নিজের ‘যায়ল’ (পরিশিষ্ট) লেখা বন্ধ করেছিলেন। এটি নিশ্চিত করে যে তিনি তাঁর পিতার ‘ওয়াফিয়াত’ থেকে উদ্ধৃতি দিচ্ছিলেন। যেমন:
- আলাউদ্দীন আলী বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-উর্দী এর জীবনী, যিনি ইস্কান্দারিয়ার বাসিন্দা ছিলেন (মৃত্যু ৭৬৪ হি.)। সেখানে তিনি তাঁর পিতা ও অন্যান্যদের থেকে তাঁর মৃত্যুর তারিখ উদ্ধৃত করেছেন এবং এরপর মন্তব্য করেছেন: "আমি যা উল্লেখ করেছি তা-ই সঠিক, আর এটি আমি আমার পিতার নিজ হাতের লেখা থেকে নকল করেছি"
(২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াফায়াত - লিল ইরাকী
(পৃষ্ঠা: ١٩)
- ترجمة صلاح الدين عبد الله بن عبد الله بن إبراهيم، المعروف بابن البرلسي (ت 765 هـ)، حيث نقل عنه وظائفه التي تقلَّدها، ثم عقَّب قائلًا: "نقلت ذلك من خط والدي"
(1).
* علاء الدين علي بن محمد بن سعد، المعروف بابن خطيب الناصرية (ت 843 هـ)، اطلع على مخطوطنا هذا، وانتقى منه بعض تراجم خاصة بالحلبيين بلغت مئة وثلاث ترجمات، ضمنها جميعًا في كتابه: (الدر المنتخب في تكملة تاريخ حلب).
* تقي الدين أبي بكر بن أحمد ابن قاضي شهبة (ت 851 هـ)، نقل عنه في (تاريخه) مصرحًا في أكثر من موضع.
* شهاب الدين أحمد بن علي بن محمد، المعروف بابن حجر العسقلاني (ت 852 هـ)، سبق أن نقلنا تصريحه في مقدمة (الدرر الكامنة) باعتماده (وفيات العراقي) كأحد مصادره، خاصة وأنه يفرق في نقله بين (الوفيات)، و (ذيله على ذيل العبر) بقوله: "ذكره شيخنا العراقي في (ذيله) "، أو "ذكره شيخنا العراقي في (وفياته) "، وحتى إذا افترضنا أنه يخلط بين المصدرين فيما ينقل، فمن المؤكد أن ما يصرِّح بالنقل فيه بعد سنة 763 هـ، إنما هو من (الوفيات)، ومثال ذلك:
- ترجمة عبد الرحمن بن نصر الله بن أبي القاسم الكناني الدمنهوري (ت 765 هـ)، قال شيخنا في (وفياته): "عُني بالحديث وقرأ بنفسه، وكتب الطاق، سمعنا منه، ومات في أواخر المحرَّم سنة 765 هـ بدمنهور"
(2).
أهمية الكتابتكمُن أهمية الكتاب في احتوائه عددًا من التراجم بعضها لم يرد إلا لديه، فلم أتوصَّل إلى مصدرٍ آخر لترجمته، وبعضها ررد بمعلومات قليلة، أو شبه منعدمة؛ كورود اسمه فقط فيما
--------------------------------------------
- সালাহুদ্দীন আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে ইব্রাহীম, যিনি ইবনুল বুরুলুসি (মৃত্যু ৭৬৫ হি.) নামে পরিচিত, তার জীবনী; যেখানে তিনি তার স্থলাভিষিক্ত হওয়া দায়িত্বসমূহ বর্ণনা করেছেন এবং এরপর মন্তব্য করেছেন: "আমি এটি আমার পিতার হস্তলিপি থেকে নকল করেছি"
(১).
* আলাউদ্দীন আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সাদ, যিনি ইবনে খাতিবুন নাসিরিয়্যাহ (মৃত্যু ৮৪৩ হি.) নামে পরিচিত, তিনি আমাদের এই পাণ্ডুলিপিটি পাঠ করেছেন এবং এখান থেকে হালাববাসীদের (আলেপ্পোবাসী) নির্দিষ্ট কিছু জীবনী নির্বাচন করেছেন যার সংখ্যা একশত তিন। তিনি এগুলোর সবকটিই তার গ্রন্থ: (আদ-দুররুল মুনতাখাব ফী তাকমিলাতি তারিখি হালাব)-এ অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
* তাকিউদ্দীন আবু বকর ইবনে আহমাদ ইবনে কাজি শুহবাহ (মৃত্যু ৮৫১ হি.), তিনি তার (তারিখ) গ্রন্থে একাধিক স্থানে স্পষ্টভাবে এটি থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন।
* শিহাবুদ্দীন আহমাদ ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মদ, যিনি ইবনে হাজার আল-আসকালানি (মৃত্যু ৮৫২ হি.) নামে পরিচিত, আমরা ইতিপূর্বে (আদ-দুরারুল কামিনাহ) গ্রন্থের ভূমিকায় তার সেই সুস্পষ্ট বক্তব্যটি উল্লেখ করেছি যেখানে তিনি (ওয়াফায়াতুল ইরাকি) গ্রন্থকে তার অন্যতম উৎস হিসেবে গ্রহণ করেছেন। বিশেষ করে তিনি তার উদ্ধৃতি প্রদানের ক্ষেত্রে (আল-ওয়াফায়াত) এবং (জায়লু আলা জায়লিল ইবার)-এর মধ্যে পার্থক্য করতে গিয়ে বলেন: "আমাদের শাইখ আল-ইরাকি তার (জায়ল) গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন", অথবা "আমাদের শাইখ আল-ইরাকি তার (ওয়াফায়াত) গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন"। এমনকি যদি আমরা ধরেও নেই যে তিনি উদ্ধৃতি প্রদানের সময় উভয় উৎসের মধ্যে সংমিশ্রণ করে ফেলেছেন, তবুও এটি নিশ্চিত যে, ৭৬৩ হিজরি সালের পরের যেসব জীবনী তিনি উদ্ধৃতিসহ উল্লেখ করেছেন, সেগুলো মূলত (আল-ওয়াফায়াত) থেকেই নেওয়া। এর উদাহরণ হলো:
- আবদুর রহমান ইবনে নাসরুল্লাহ ইবনে আবিল কাসিম আল-কিনানি আদ-দামানহুরি (মৃত্যু ৭৬৫ হি.)-এর জীবনী। আমাদের শাইখ তার (ওয়াফায়াত) গ্রন্থে বলেছেন: "তিনি হাদিসের প্রতি বিশেষ যত্নবান ছিলেন এবং নিজে অধ্যয়ন করেছেন, তিনি বহু পাণ্ডুলিপি লিখেছেন, আমরা তার থেকে শ্রবণ করেছি। তিনি ৭৬৫ হিজরি সালের মহররম মাসের শেষ দিকে দামানহুরে মৃত্যুবরণ করেন"
(২).
গ্রন্থের গুরুত্বএই গ্রন্থের গুরুত্ব নিহিত রয়েছে এতে এমন কিছু জীবনী অন্তর্ভুক্ত থাকার মধ্যে যার কিছু কেবল এখানেই বর্ণিত হয়েছে। আমি সেগুলোর জন্য অন্য কোনো জীবনীর উৎসের সন্ধান পাইনি। আবার কিছু জীবনী খুব সামান্য তথ্যের সাথে অথবা প্রায় তথ্যহীন অবস্থায় বর্ণিত হয়েছে; যেমন কোনো কোনো ক্ষেত্রে কেবল তার নাম উল্লেখ করা হয়েছে যা নিম্নোক্ত স্থানে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াফায়াত - লিল ইরাকী
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
بين يدي من مصادر، ووروده لديه بمعلومات مفصلة، ومثال ذلك:
* ترجمة رقم (24)، وردت كاملة لدى الزين العراقي، ولم ترد فيما يين يدي من المصادر الأخرى إلا في (الدرر الكامنة)، ولم يذكر سوى اسمه وبيَّض باقي عناصر ترجمته.
* ترجمة رقم (49)، ممَّا تفرد الزين العراقي به، فلم أجد له ترجمة فيما بين يدي من مصادر، ونقل هذه الترجمة بتمامها علاء الدين ابن خطيب الناصرية ضمن ما ضمَّنه من تراجم في كتابه (الدر المنتخب)، حيث ذكر الاسم فقط، ثم نقل باقي الترجمة منه عازيًا إياها لشيخه.
* ترجمة رقم (53)، (73) نموذجان مما تفرد به الزين العراقي، وليس لهما ذكر فيما بين يدي من مصادر.
وإنه لما يؤسف له حقًا عدم اعتناء الزين العراقي بهذه المسوَّدة وتبيضها وإتمام ما بها من نقص، على الرغم من شروعه في تأليفها في فترة مبكرة من حياته، ففي ترجمته لبرهان الدين إبراهيم بن عبد الرحمن بن جماعة الحموي (ت 764 هـ)
(1)، يقول: "
… وهو حي إلى الآن، وفي سمعه ثقل". أي أنه شرع في جمعه (للوفيات) قبل هذا التاريخ، ويؤكد ذلك ما ذكره أستاذنا د. معبد
(2) من أنه ذكر هذا (الذيل) في (شرحه المتوسط) (للألفية)، والذي فرغ منه في رمضان سنة 771 هـ، أي بعد التاريخ السابق بسبع سنين.
ومن المؤسف كذلك عدم تصدي ابنه لهذه المهمة، خاصة وأنه أتم بعض مؤلفات أبيه كما ذكرت المصادر.
--------------------------------------------
আমার নিকট বিদ্যমান উৎসসমূহ এবং তাঁর নিকট থাকা বিস্তারিত তথ্যের আলোকে এর উদাহরণ নিম্নরূপ:
* জীবনী নং (২৪), এটি জাইনুল ইরাকির নিকট পূর্ণাঙ্গভাবে এসেছে। আমার নিকট বিদ্যমান অন্যান্য উৎসসমূহের মধ্যে কেবলমাত্র 'আদ-দুরারুল কামিনাহ'-তে এটি পাওয়া যায়, তবে সেখানে শুধু তাঁর নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং জীবনীর বাকি অংশগুলো শূন্য রাখা হয়েছে।
* জীবনী নং (৪৯), এটি সেই সকল বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত যা জাইনুল ইরাকি এককভাবে বর্ণনা করেছেন। আমার নিকট বিদ্যমান উৎসসমূহের মধ্যে আমি এর কোনো জীবনী খুঁজে পাইনি। আলাউদ্দিন ইবনে খাতিব আন-নাসিরিয়া তাঁর 'আদ-দুররুল মুনতাখাব' গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত জীবনীসমূহের মধ্যে এই জীবনীটি পূর্ণাঙ্গভাবে উদ্ধৃত করেছেন। সেখানে তিনি কেবল নাম উল্লেখ করেছিলেন, অতঃপর জীবনীর বাকি অংশটি তাঁর থেকে উদ্ধৃত করে তাঁর শায়খের প্রতি নিসবত করে বর্ণনা করেছেন।
* জীবনী নং (৫৩) ও (৭৩) হলো জাইনুল ইরাকির একক বর্ণনার দুটি উদাহরণ, এবং আমার নিকট থাকা উৎসসমূহে এগুলোর কোনো উল্লেখ নেই।
আর এটি অত্যন্ত দুঃখজনক যে, জাইনুল ইরাকি এই খসড়াটির প্রতি মনোযোগ দেননি, এটিকে পরিমার্জিত করেননি এবং এর ত্রুটিগুলো পূর্ণ করেননি। অথচ তিনি তাঁর জীবনের প্রাথমিক পর্যায়েই এটি রচনা শুরু করেছিলেন। বুরহান উদ্দিন ইব্রাহিম বিন আবদুর রহমান বিন জামা'আ আল-হামাভি (ওফাত ৭৬৪ হিজরি)
(১)-এর জীবনীতে তিনি বলেন: "
… তিনি এখন পর্যন্ত জীবিত আছেন এবং তাঁর কানে কিছুটা শ্রবণ সমস্যা রয়েছে।" অর্থাৎ তিনি এই তারিখের আগেই 'ওয়াফিয়াত' সংকলন শুরু করেছিলেন। আমাদের উস্তাদ ডক্টর মা'বাদ যা উল্লেখ করেছেন তা এ বিষয়টিকে নিশ্চিত করে
(২) যে, তিনি (ইরাকি) তাঁর 'শারহুল মুতাওয়াসসিত' (আলফিয়্যাহ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ)-এ এই 'যাইল' (পরিশিষ্ট)-এর কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি সেটি ৭৭১ হিজরি সালের রমজান মাসে সম্পন্ন করেছিলেন, যা পূর্বোক্ত তারিখের সাত বছর পরের কথা।
এটিও দুঃখজনক যে, তাঁর পুত্র এই দায়িত্বটি পালনে এগিয়ে আসেননি, বিশেষ করে যখন উৎসসমূহ উল্লেখ করেছে যে তিনি তাঁর পিতার কিছু কিছু রচনা সম্পন্ন করেছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াফায়াত - লিল ইরাকী
(পৃষ্ঠা: ٢١)
مؤلف الكتاببداية أعترف أني لن أقدم جديدًا بعدما سبقني من هو خير مني في هذا المضمار، فشخصية الحافظ العراقي كانت محط أنظار القدماء قبل المحدثين، خاصة وأن تلامذته هم أساطين هذا الفن؛ أعني: التألف في كُتب التراجم، ثم حديثًا قام على دراسته أستاذنا أ. د. معبد فجاءت أطروحته تقارب حد الكمال. لذا سأحاول أن أضع نقاطًا رئيسة أرى أنها على صلة وثيقة بموضوع الكتاب.
اسمه ونسبههو عبد الرحيم
(1) بن الحسين بن عبد الرحمن بن أبي بكر بن إبراهيم بن العراقي الشافعي، الإمام العلامة الحافظ زين الدين، أبو الفضل، العراقي الأصل، المصري المولد والنشأة.
اتفقت مصادر ترجمته على تأريخ مولده في الحادي والعشرين من جمادى الأولى سنة خمس وعشرين وسبع مئة، بمنشأة المهراني
(2) بين مصر والقاهرة.
تعليمه وشيوخه (3)وتلقى تعليمه الأول -كشأن معظم أقرانه- فحفظ القرآن الكريم وهو ابن ثماني سنين
(4).
--------------------------------------------
গ্রন্থের লেখকশুরুতে আমি স্বীকার করছি যে, এই ক্ষেত্রে আমার চেয়ে শ্রেষ্ঠ যারা ইতিপূর্বে গত হয়েছেন তাদের পরে আমি নতুন কিছু উপস্থাপন করব না। কারণ হাফেজ ইরাকির ব্যক্তিত্ব আধুনিকদের পূর্বে প্রাচীনদেরও দৃষ্টির কেন্দ্রবিন্দু ছিল; বিশেষ করে তাঁর ছাত্ররা হলেন এই শিল্পের দিকপাল—অর্থাৎ জীবনীগ্রন্থ রচনার ক্ষেত্রে। এরপর আধুনিককালে আমাদের উস্তাদ প্রফেসর ড. মাবাদ তাঁর ওপর গবেষণা করেছেন, ফলে তাঁর গবেষণাপত্রটি পূর্ণতার কাছাকাছি পৌঁছেছে। তাই আমি কেবল কিছু মূল পয়েন্ট তুলে ধরার চেষ্টা করব যা আমি মনে করি এই গ্রন্থের বিষয়ের সাথে নিবিড়ভাবে সংশ্লিষ্ট।
তাঁর নাম ও বংশপরিচয়তিনি হলেন আব্দুর রহিম
(১) ইবনুল হুসাইন ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আবু বকর ইবনে ইব্রাহিম ইবনুল ইরাকি আশ-শাফিঈ; ইমাম, আল্লামা, হাফেজ যাইনুদ্দীন, আবুল ফজল। তিনি মূলে ইরাকি, কিন্তু জন্ম ও বেড়ে ওঠায় মিসরীয়।
তাঁর জীবনীর উৎসসমূহ ৭২৫ হিজরি সালের ২১শে জুমাদাল উলা তারিখে মিসর ও কায়রোর মধ্যবর্তী মানশাতুল মাহরানি নামক স্থানে তাঁর জন্ম তারিখের ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছে।
(২)
তাঁর শিক্ষা ও শিক্ষকবৃন্দ (৩)তিনি তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন—তাঁর সমসাময়িক অধিকাংশের মতো—এবং আট বছর বয়সে পবিত্র কুরআন মুখস্থ করেন।
(৪)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াফায়াত - লিল ইরাকী
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
ثم أسمعه والده وهو صغير، فأول سماعه وهو ابن اثنتي عشرة سنة، سنة 737 هـ، على شيخيه علم الدين سَنْجَر الجاولي، وتقي الدين محمد بن أبي بكر بن عيسى الإخنائي
(1)، ثم أُسمع أيضًا على: جمال الدين عبد الرحيم بن عبد الله بن يوسف، المعروف بابن شاهد الجيش، سمع عليه (صحيح البخاري) كما في ترجمته من الوفيات رقم (357)، وعلاء الدين علي بن عثمان بن إبراهيم بن التركماني، سمع عليه (صحيح البخاري) أيضًا، وتقي الدين علي بن عبد الكافي بن علي السبكي، وشمس الدين محمد بن عبد الله بن محمد المقدسي.
ثم طلب بنفسه، ورحل في طلب العلم أكثر من مرة
(2)، فزار خلالها عدة مُدن عدَّدتها مصادر ترجمته، وذكرت ما لقي بها من شيوخ.
فمن المدن التي سمع بها: القاهرة، ومصر، ومكة، والمدينة، ودمشق، وصالحيتها، وحلب، وحماة، وحمص، وطرابُلُس، وصفد، وبَعْلَبَك، ونابُلُس، وبيت المقدس، والخليل، وغزة، والإسكندرية، يجمعهم تخريجه المسمى (الأربعين متباينة البلاد)، وهي غير مكتملة، رآها الحافظ ابن حجر بخط مخرجها، وقد زادت على الثلاثين
(3).
ولتعدد رحلاته تلك، كان من الطبيعي أن يكثُر شيوخه، حتى أنهم زادوا على المئتين، أقدمهم وفاة -وفق ما توصلت إليه- محمد بن إبراهيم بن معضاد الجَعْبري (ت 737 هـ)، وترجمه في وفياته
(4)، وآخرهم وفاة عبد الرحمن بن أحمد بن المبارك، المعروف بابن الشيخة (ت 799 هـ)، حدَّثه عن أحمد بن كُشْتَغْدي، كما في ترجمة ابن كُشْتَغْدي رقم (70).
--------------------------------------------
এরপর তাঁর পিতা তাঁকে শৈশবে (হাদিস) শ্রবণ করান। তাঁর প্রথম হাদিস শ্রবণ ছিল ৭৩৭ হিজরি সনে যখন তাঁর বয়স বারো বছর, তাঁর দুই শাইখ আলামুদ্দীন সাঞ্জার আল-জাওয়ালি এবং তাকিউদ্দীন মুহাম্মদ বিন আবি বকর বিন ঈসা আল-ইখনাঈ-এর নিকট
(১)। এরপর তিনি আরও যাদের নিকট শ্রবণ করেছেন তাঁরা হলেন: জামালুদ্দীন আব্দুর রহিম বিন আব্দুল্লাহ বিন ইউসুফ, যিনি ইবনে শাহিদ আল-জাইশ নামে পরিচিত; তাঁর নিকট তিনি (সহীহ আল-বুখারী) শ্রবণ করেন যেমনটি তাঁর জীবনীতে 'আল-ওয়াফায়াত' এর ৩৫৭ নম্বরে বর্ণিত হয়েছে। এছাড়া আলাউদ্দীন আলী বিন উসমান বিন ইব্রাহিম বিন আল-তুর্কমানি; তাঁর নিকটও তিনি (সহীহ আল-বুখারী) শ্রবণ করেন। আরও শ্রবণ করেন তাকিউদ্দীন আলী বিন আব্দুল কাফি বিন আলী আস-সুবকি এবং শামসুদ্দীন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-মাকদিসি-এর নিকট।
এরপর তিনি নিজেই ইলম অন্বেষণে আত্মনিয়োগ করেন এবং জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে একাধিকবার সফর করেন
(২)। এ সময় তিনি বেশ কিছু শহর ভ্রমণ করেন যা তাঁর জীবনীগ্রন্থগুলোতে গণনা করা হয়েছে এবং সেখানে তিনি যেসব শাইখদের সাক্ষাত লাভ করেছেন তাঁদের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
যেসব শহরে তিনি হাদিস শ্রবণ করেছেন সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: কায়রো, মিসর, মক্কা, মদিনা, দামেস্ক, সালিহিয়্যাহ, আলেপ্পো, হামাহ, হিমস, ত্রিপোলি, সাফাদ, বালবাক, নাবলুস, বাইতুল মাকদিস, আল-খলিল, গাজা এবং আলেকজান্দ্রিয়া। তাঁর 'আল-আরবাউন আল-মুতাবায়িনাতুল বিলাদ' নামক সংকলনটি এই শহরগুলোকেই একত্রিত করেছে। তবে এটি অসম্পূর্ণ ছিল; হাফেজ ইবনে হাজার এটি সংকলকের নিজ হস্তাক্ষরে দেখেছিলেন এবং এর সংখ্যা ত্রিশের অধিক ছিল
(৩)।
তাঁর এই বহুবিধ সফরের কারণে স্বাভাবিকভাবেই তাঁর শাইখদের সংখ্যাও অনেক ছিল, এমনকি তাঁরা সংখ্যায় দুই শতাধিক ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন। আমার গবেষণালব্ধ তথ্য অনুযায়ী তাঁদের মধ্যে সর্বপ্রথম মৃত্যুবরণকারী হলেন মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম বিন মিদাদ আল-জাবারি (মৃত্যু ৭৩৭ হি.), তিনি তাঁর 'ওয়াফায়াত' গ্রন্থে তাঁর জীবনী বর্ণনা করেছেন
(৪)। আর তাঁদের মধ্যে সর্বশেষ মৃত্যুবরণকারী হলেন আব্দুর রহমান বিন আহমদ বিন আল-মুবারক, যিনি ইবনে আল-শাইখাহ নামে পরিচিত (মৃত্যু ৭৯৯ হি.); তিনি তাঁর নিকট আহমদ বিন কুশতাগদি থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন, যেমনটি ইবনে কুশতাগদি-এর ৭০ নম্বর জীবনীতে রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াফায়াত - লিল ইরাকী
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
ونظرًا لحرصه الشديد على التحصيل والسَّماع، فإنه لم يكتف بالسماع من شيوخه فقط؛ بل إنه سمع من أقرانه أيضًا، إذ سمع (مشيخة الرازي) من رفيقه سراج الدين عمر بن رسلان بن نصير، المعروف بالبلقيني (ت 805 هـ)، بسماعه من إبراهيم بن علي بن يوسف الزرزاري القطبي، كما في ترجمة القطبي رقم (135)، كما حدَّثه البلقيني أيضًا عن إبراهيم بن محمد بن عبد الصمد التزمنتي، كما في الترجمة رقم (149).
ويُعد المُسند المُكثر المعمِّر تقي الدين عبد الله بن محمد بن إبراهيم، المعروف بابن قيم الضيائية (ت 761 هـ)، والشيخة الصالحة ست العرب بنت محمد بن علي بن أحمد، حفيدة ابن البخاري (توفيت سنة 767 هـ)، من أكثر شيوخه سماعًا عليهما.
فقد أكثر على الأول، على حد قول ابن حجر
(1)، حتى أن ابن حجر سمع عليه اثنين وعشرين كتابًا، بسماعه منه
(2)، فمن ذلك: (مسند محمد بن يحيى بن أبي عمر العدني)، وكتاب (الشمائل) لأبي عيسى محمد بن عيسى بن سورة الترمذي، و (حديث ابن شاهين)، و (فوائد ابن أخي ميمي)، و (فوائد أبي بكر محمد بن الحسين بن عبدان)، و (حديث أبي بكر محمد بن عبيد الله بن الشخير)، و (جزء الغطريفي)، و (جزء فيه معرفة مَن اسمه عطاء)، لأبي القاسم الطبراني
(3).
وحدَّث عن الثانية مرات كثيرة، على حد قول ولده أبي زُرعة
(4)، فمما سمعه عليها: (كتاب رفع اليدين في الصلاة) للبخاري، والأول والثاني من (حديث أبي بكر محمد ين الشخير)، والجزء الرابع من (مسند محمد بن يوسف الفريابي)، و (كتاب المحبين مع المحبوبين) لأبي نعيم، و (جزء الغطريفي)
(5).
--------------------------------------------
ইলম অর্জন ও শ্রবণের (সামা’) প্রতি তাঁর তীব্র আগ্রহের কারণে তিনি কেবল তাঁর শিক্ষকদের নিকট থেকেই শ্রবণে তুষ্ট হননি; বরং তিনি তাঁর সমসাময়িকদের থেকেও শ্রবণ করেছেন। যেমন, তিনি তাঁর সাথী সিরাজুদ্দিন উমর ইবনে রুসলান ইবনে নুসায়ের, যিনি আল-বুলকিনী (মৃত ৮০৫ হি.) নামে পরিচিত, তাঁর নিকট থেকে (মাশইয়াখাতুর রাযী) শ্রবণ করেছেন, আল-বুলকিনী এটি ইব্রাহিম ইবনে আলী ইবনে ইউসুফ আয-যারযারী আল-কুতুবী থেকে শ্রবণ করেছিলেন, যা আল-কুতুবীর জীবনী নং (১৩৫)-এ বর্ণিত হয়েছে। অনুরূপভাবে আল-বুলকিনী তাঁকে ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুস সামাদ আত-তাযমানতী থেকেও বর্ণনা করেছেন, যেমনটি জীবনী নং (১৪৯)-এ বর্ণিত হয়েছে।
অধিক বর্ণনাকারী এবং দীর্ঘজীবী মুসনিদ তাকিউদ্দীন আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম, যিনি ইবনে কায়্যিম আদ-দিয়াইয়াহ (মৃত ৭৬১ হি.) নামে পরিচিত, এবং নেককার শাইখা সিত্তুল আরব বিনতে মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে আহমদ, যিনি ইবনুল বুখারীর নাতনি (মৃত্যু ৭৬৭ হি.), তাঁরা উভয়েই তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে এমন ছিলেন যাদের নিকট তিনি সর্বাধিক শ্রবণ করেছেন।
ইবনে হাজারের বক্তব্য অনুযায়ী প্রথমজনের নিকট থেকে তিনি অনেক বেশি শ্রবণ করেছেন
(১), এমনকি ইবনে হাজার তাঁর নিকট থেকে বাইশটি গ্রন্থ শ্রবণ করেছেন
(২)। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: (মুসনাদে মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আবি উমর আল-আদানি), আবু ঈসা মুহাম্মদ ইবনে ঈসা ইবনে সাওরা আত-তিরমিযীর (আশ-শামায়েল), (হাদিসে ইবনে শাহীন), (ফাওয়াইদু ইবনি আখি মীমি), (ফাওয়াইদু আবি বকর মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন ইবনে আবদান), (হাদিসে আবি বকর মুহাম্মদ ইবনে উবাইদুল্লাহ ইবনুশ শিখখীর), (জুযউল গতরীফী) এবং আবুল কাসিম আত-তাবারানির (জুযউন ফীহি মা'রিফাতু মান ইসমুহু আতা)
(৩)।
তাঁর পুত্র আবু যুরআর বক্তব্য অনুযায়ী তিনি দ্বিতীয়জনের নিকট থেকে বহুবার বর্ণনা করেছেন
(৪)। তাঁর নিকট তিনি যা শ্রবণ করেছেন তাঁর মধ্যে রয়েছে: বুখারীর (কিতাবু রাফইল ইয়াদাঈন ফিস সালাহ), (হাদিসে আবি বকর মুহাম্মদ ইবনুশ শিখখীর)-এর প্রথম ও দ্বিতীয় অংশ, (মুসনাদে মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আল-ফিরইয়াবী)-এর চতুর্থ খণ্ড, আবু নুয়াইমের (কিতাবুল মুহিব্বীন মা'আল মাহবূবীন) এবং (জুযউল গতরীফী)
(৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াফায়াত - লিল ইরাকী
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
تلاميذهكان للشيخ أثرٌ كبير في إعداد جيلٍ كامل من العلماء الذين ازدان بهم ذلك القرن، فقد صحبه وتلمذ له وتخرَّج به مجموعة كبيرة من الحفَّاظ وغيرهم، نذكر منهم تبعًا لتاريخ وفياتهم:
* الحافظ نور الدين علي
(1) بن أبي بكر بن سليمان الهيثمي (ت 807 هـ)، صهر الشيخ، تعرَّف بالشيخ وهو ابن عشر سنين، فخدمه وصحبه حضرًا وسفرًا؛ لذا شاركه في أكثر شيوخه من بعد الخمسين وهلم جرَّا، وتخرَّج به في فنون الحديث.
* الحافظ جمال الدين محمد بن عبد الله بن ظهيرة (ت 817 هـ)، قال شمس الدين السخاوي
(2): "وتفقَّه ببلده على
… والزين العراقي،
… والعراقي في الحديث، ورأيت بخطه على نسخة من شرحه للألفية أنه أخذه عنه ما بين قراءة وسماع".
* الحافظ ولي الدين أحمد، ولد المصنِّف (ت 826 هـ)، صحب أبيه في بعض رحلاته فأسمعه معه بقراءته أو بقراءة غيره على جُلة شيوخ العصر، ثم سمع عليه بقراءته هو، أو بقراءة غيره، كما ذكره في مواضع عدة من (ذيله) على (ذيل) أبيه على (ذيل العبر).
* المؤرِّخ تقي الدين محمد بن أحمد بن علي الحسني الفاسي المكي (ت 832 هـ)
(3)، سمع منه بالقاهرة سنة 797 هـ، ثم قرأ عليه (شرحه لألفيته في الحديث)، المسماة: بـ (التبصرة)، وأكمل قراءتها عليه بحثًا وفهمًا في سابع عشر جمادى الآخرة سنة 800 هـ، وأذن له شيخه أن يدرِّس ويفيد في علم الحديث
(4).
--------------------------------------------
তাঁর ছাত্রবৃন্দশাইখের এক বিশাল প্রভাব ছিল এক পূর্ণ প্রজন্মের আলেম তৈরির ক্ষেত্রে, যাঁদের দ্বারা সেই শতাব্দী সুশোভিত হয়েছিল। হাফেজ ও অন্যান্যদের এক বিশাল জামাত তাঁর সাহচর্য লাভ করেন, তাঁর কাছে ছাত্রত্ব গ্রহণ করেন এবং তাঁর মাধ্যমেই শিক্ষা সম্পন্ন করেন। তাঁদের মৃত্যু তারিখ অনুযায়ী আমরা তাঁদের কয়েকজনের কথা উল্লেখ করছি:
* হাফেজ নূরুদ্দিন আলী
(১) বিন আবি বকর বিন সুলাইমান আল-হাইসামি (মৃত্যু ৮০৭ হিজরি), শাইখের জামাতা। দশ বছর বয়সে শাইখের সাথে তাঁর পরিচয় হয়, অতঃপর তিনি শাইখের খিদমত করেন এবং আবাসে ও সফরে তাঁর সাহচর্যে থাকেন। এই কারণে তিনি শাইখের পঞ্চাশোর্ধ্ব বয়সের পরবর্তী অধিকাংশ শিক্ষকের কাছে শাইখের সাথে শরীক ছিলেন এবং হাদিস শাস্ত্রে তাঁর মাধ্যমেই ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন।
* হাফেজ জামালুদ্দিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন জুহাইরা (মৃত্যু ৮১৭ হিজরি), শামসুদ্দিন আস-সাখাভী
(২) বলেন: "তিনি নিজ শহরে ... এবং যাইনুল ইরাকীর নিকট ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন, ... এবং হাদিস শাস্ত্রে ইরাকীর নিকট (অধ্যয়ন করেন)। আমি তাঁর আলফিয়্যাহর শারহ-এর একটি কপিতে তাঁর স্বহস্তে লেখা দেখেছি যে, তিনি এটি তাঁর থেকে পড়া এবং শোনার মাধ্যমে গ্রহণ করেছেন।"
* হাফেজ ওয়ালিউদ্দিন আহমদ, গ্রন্থকারের পুত্র (মৃত্যু ৮২৬ হিজরি), তিনি তাঁর পিতার কোনো কোনো সফরে সঙ্গী ছিলেন। ফলে তাঁর পিতা তাঁর নিজের পাঠ বা অন্যের পাঠের মাধ্যমে যুগের শ্রেষ্ঠ শাইখদের নিকট তাঁকে হাদিস শ্রবণ করান। এরপর তিনি তাঁর পিতার নিকট থেকে তাঁর নিজের পাঠ অথবা অন্যের পাঠের মাধ্যমে শ্রবণ করেন, যেমনটি তিনি তাঁর পিতার 'যাইল আল-ইবার'-এর 'যাইল'-এর ওপর কৃত নিজস্ব 'যাইল'-এর বিভিন্ন স্থানে উল্লেখ করেছেন।
* ঐতিহাসিক তাকিউদ্দিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আলী আল-হাসানি আল-ফাসি আল-মাক্কি (মৃত্যু ৮৩২ হিজরি)
(৩), তিনি ৭৯৭ হিজরিতে কায়রোতে তাঁর নিকট থেকে শ্রবণ করেন। অতঃপর তিনি তাঁর নিকট তাঁর হাদিস বিষয়ক আলফিয়্যাহর শারহ পাঠ করেন, যার নাম: 'আত-তাবসিরাহ'; এবং ৮০০ হিজরির ১৭ই জুমাদাল আখিরাতে গবেষণা ও উপলব্ধিপূর্বক তাঁর নিকট এর পাঠ সমাপ্ত করেন। তাঁর শাইখ তাঁকে হাদিস শাস্ত্রে দরস প্রদান ও পাঠদানের অনুমতি দেন
(৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াফায়াত - লিল ইরাকী
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
وذكر في (ذيل التقييد)
(1): "أنه سمع على الحافظ زين الدين (مسند العدني)، و (فوائد تمام) بفوت فيها، وكثير من الأجزاء".
* برهان الدين إبراهيم بن خليل الطرابُلُسي الأصل، المعروف بسبط ابن العجمي (ت 841 هـ)
(2)، قال شمس الدنى السخاوي
(3): "وفنون الحديث عن
… الزين العراقي وبه انتفع، فإنه قرأ عليه (ألفيته)، و (شرحها)، و (نكته على ابن الصلاح)، مع البحث في جميعها وغيرها من تصانيفه وتصانيف غيره، وتخرَّج به،
… وأذن له في الإقراء والكتابة على الحديث".
* والحافظ شهاب الدين أحمد بن علي بن محمد بن حجر العسقلاني (ت 852 هـ)، والزين العراقي هو الشيخ رقم (138)، في مشيخته بتخريجه لنفسه، وقد ترجمه ترجمة رائقة ذكر فيها جملة من شيوخه ومسموعاته، وما سمعه هو عليه
(4).
وظائفهذكر مترجموه أنه تولَّى التدريس بعدة مدارس بمصر، منها:
* دار الحديث الكاملية سنة 769 هـ، بعد وفاة مدرسها الشيخ جمال الدين عبد الله التركماني
(5)، وشرط واقفها لمن يتولى التدريس بها أن يكون أعلم أهل القاهرة بالحديث، وتوليه تدريس هذه المدرسة مع شرط واقفها، إنما يدل على سعة علمه ولمَّا يبلغ الأربعين بعد، وقد استمر بها إلى سنة 788 هـ
(6).
--------------------------------------------
(যাইলুত তায়কিদ)-এ উল্লেখ করা হয়েছে
(১): "তিনি হাফেজ জয়নুদ্দিনের নিকট (মুসনাদ আল-আদানি) এবং (ফাওয়াইদু তাম্মাম) কিছু অংশ বাদ পড়া অবস্থায় এবং আরও অনেকগুলো সংকলন শ্রবণ করেছেন।"
* বুরহানুদ্দিন ইব্রাহিম ইবন খলিল, জন্মসূত্রে তারাবুলুসি, যিনি সিবত ইবনুল আজামি নামে পরিচিত (মৃত্যু ৮৪১ হিজরি)
(২), শামসুদ্দিন আস-সাখাভি
(৩) বলেছেন: "তিনি জয়নুল ইরাকির নিকট হাদিসের বিভিন্ন শাস্ত্র অধ্যয়ন করেছেন এবং তাঁর মাধ্যমে উপকৃত হয়েছেন। কেননা তিনি তাঁর নিকট তাঁর (আলফিয়্যাহ), এর (ব্যাখ্যাগ্রন্থ), এবং (ইবনুস সালাহর কিতাবের ওপর তাঁর টীকা) পাঠ করেছেন; সাথে সাথে এ সকল কিতাব এবং তাঁর ও অন্যদের অন্যান্য কিতাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও গবেষণা করেছেন। তিনি তাঁর নিকট থেকেই শিক্ষা সম্পন্ন করেছেন... এবং তিনি তাঁকে হাদিস পাঠদান ও হাদিস বিষয়ে গ্রন্থ রচনার অনুমতি প্রদান করেছেন।"
* এবং হাফেজ শিহাবুদ্দিন আহমদ ইবন আলি ইবন মুহাম্মদ ইবন হাজার আল-আসকালানি (মৃত্যু ৮৫২ হিজরি)। জয়নুল ইরাকি হলেন তাঁর স্ব-সংকলিত মাশয়াখাহ-তে ১৩৮ নম্বর শায়খ। তিনি তাঁর একটি চমৎকার জীবনী বর্ণনা করেছেন, যেখানে তিনি তাঁর একদল উস্তাদ ও শ্রুত বিষয়াবলি এবং তিনি নিজে তাঁর নিকট যা শ্রবণ করেছেন তা উল্লেখ করেছেন
(৪)।
তাঁর দায়িত্বসমূহতাঁর জীবনীকারগণ উল্লেখ করেছেন যে, তিনি মিশরের বেশ কয়েকটি মাদরাসায় শিক্ষকতার দায়িত্ব পালন করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে:
* দারুল হাদিস আল-কামিলিয়্যাহ, ৭৬৯ হিজরিতে এর শিক্ষক শায়খ জামালুদ্দিন আব্দুল্লাহ আত-তুর্কিমানির মৃত্যুর পর
(৫)। এর প্রতিষ্ঠাতা শর্ত দিয়েছিলেন যে, কায়রোর হাদিস শাস্ত্রে সবচেয়ে বিজ্ঞ ব্যক্তিই এর শিক্ষক হবেন। প্রতিষ্ঠাতার এহেন শর্ত থাকা সত্ত্বেও তাঁর এই মাদরাসায় শিক্ষকতার দায়িত্ব লাভ এটাই প্রমাণ করে যে, চল্লিশ বছর বয়স হওয়ার আগেই তাঁর জ্ঞানের পরিধি কত ব্যাপক ছিল। তিনি ৭৮৮ হিজরি পর্যন্ত সেখানে শিক্ষকতা চালিয়ে যান
(৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াফায়াত - লিল ইরাকী
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
* والمدرّسة القراسُنْقُورية، ولم تحدد لنا المصادر تاريخ توليه هذه الوظيفة، غير أن أستاذنا د. معبد عثر على جزءٍ من أماليه الخاصة بكتاب (المستخرج على كتاب الأمالي)؛ (أي أمالي الرافعي)، أملاها بالمدرسة المذكورة سنة 797 هـ
(1)، فلعله أملاها إبان توليه التدريس بها.
* والمدرسة الفاضلية
(2)، وأملى بها بعض (المستخرج على المستدرك للحاكم)، وهو من ضمن أماليه الكبيرة، في مجالس متفرقة سنة أربع وثمان مئة
(3).
* والمدرسة الظاهرية القديمة، وجامع ابن طولون، ولم أهتد إلى تحديد تاريخ توليه هذين الوظيفتين
(4).
وإلى جانب التدريس فقد تولَّى قضاء المدينة المنورة على ساكنها أفضل الصلاة والتسليم، في جمادى الأولى سنة 788 هـ
(5)، واستمر على قضائها ثلاث سنين، ثم عُزل شوال سنة إحدى وتسعين وسبع مئة
(6).
ثناء العلماء عليهأجمع من ترجموه بوصفه بـ: الحافظ، المتقن، المصنِّف، وتفرَّد كلِّ منهم بوصفٍ خاص.
فوصفه جمال الدين عبد الرحيم بن الحسن الإسنوي (ت 772 هـ) في (طبقات الشافعية) "بحافظ الوقت"، ضمن ترجمة الحافظ ابن سيد الناس
(7).
--------------------------------------------
* এবং কারাসুনকুরিয়্যাহ মাদ্রাসা; উৎসসমূহ আমাদের নিকট এই পদে তাঁর যোগদানের তারিখ নির্ধারণ করেনি, তবে আমাদের উস্তাদ ড. মাবাদ তাঁর (আল-মুস্তাকরাজ আলা কিতাবিল আমালি) কিতাব সংবলিত 'আমালি'র (অর্থাৎ রাফেয়ীর আমালি) একটি অংশ খুঁজে পেয়েছেন; তিনি ৭৯৭ হিজরি সনে উল্লিখিত মাদ্রাসায় এটি বর্ণনা করেছেন
(১), সম্ভবত তিনি সেখানে অধ্যাপনার দায়িত্বে থাকাকালীন এটি বর্ণনা করেছিলেন।
* এবং ফাযিলিয়্যাহ মাদ্রাসা
(২); সেখানে তিনি (আল-মুস্তাকরাজ আলাল মুস্তাদরাক লিল হাকিম)-এর কিছু অংশ বর্ণনা করেছেন, যা তাঁর বৃহৎ 'আমালি'র অন্তর্ভুক্ত, ৮০৪ হিজরি সনের বিভিন্ন মজলিসে
(৩)।
* এবং পুরনো যাহিরিয়্যাহ মাদ্রাসা ও ইবনে তুলুন জামে মসজিদ; এই দুটি পদে তাঁর যোগদানের তারিখ নির্ধারণে আমি সমর্থ হইনি
(৪)।
অধ্যাপনার পাশাপাশি তিনি মদিনা মুনাওয়ারার বিচারক (কাজী) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন—তার বাসিন্দার ওপর সর্বোত্তম দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক—৭৮৮ হিজরি সনের জুমাদাল উলা মাসে
(৫), এবং তিনি তিন বছর বিচারকের পদে বহাল ছিলেন। অতঃপর ৭৯১ হিজরি সনের শাওয়াল মাসে তাঁকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়
(৬)।
তাঁর প্রতি আলেমদের প্রশংসাযাঁরা তাঁর জীবনী রচনা করেছেন তাঁরা সকলে তাঁকে 'হাফিয', 'মুতকিন' (নিখুঁত গবেষক) এবং 'মুসান্নিফ' (গ্রন্থকার) হিসেবে বর্ণনা করার ব্যাপারে একমত হয়েছেন এবং তাঁদের প্রত্যেকেই তাঁকে স্বতন্ত্র বিশেষণে ভূষিত করেছেন।
জামালুদ্দিন আবদুর রহিম বিন আল-হাসান আল-ইসনবী (মৃত্যু ৭৭২ হি.) 'তবকাতে শাফিয়্যাহ' গ্রন্থে হাফিয ইবনে সাইয়্যিদুন নাসের জীবনী আলোচনার অধীনে তাঁকে 'সমকালীন হাফিয' হিসেবে বর্ণনা করেছেন
(৭)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াফায়াত - লিল ইরাকী
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
ووصفه ابن حجي في (تاريخه)
(1): "بالشيخ الإمام الحافظ شيخ المحدثين".
وقال ابن قاضي شهبة في (تاريخه)
(2): "ووصفه بالمهارة في الفنِّ الشيخ صلاح الدين العلائي، ومن قبله تقي الدين السبكي".
وأما عن تديّنه، فذكر ابن حجر
(3): "وقد لازمته مُدة فلم أرهُ ترك قيام الليل، بل صار كالمألوف، وكان غالبًا إذا صلَّى الصبح استمرَّ في مجلسه مستقبل القبلة، تاليًا ذاكرًا إلى أن تطلع الشمس، ويتطوَّع بصيام ثلاثة من كل شهر، وستة شوال، وكان كثير التلاوة إذا ركب".
وزاد في (ذيل الدرر الكامنة)
(4): "ولم أرَ في جميع مشايخي أحسن صلاة منه".
ومن بركاته، "أنه حدث قحطٌ وقلةٌ للمطر في صفر سنة ست وثمان مئة، وتوقَّف النيل، وشرق أكثر بلاد مصر، ووقع الغلاء المفرط، فأملى المجلس الأخير من مجالسه فيما يتعلَّق بالاستسقاء، وصلَّى بالناس صلاة الاستسقاء قبل موته بقليل، وخطب خطة بليغة، فرأوا البركة بعد ذلك من كثرة الشيء ووجوده مع غلائه، ومع تمشية أحوال الباعة بعد أن كان الأمر اشتد جدًّا، وجاء النيل في تلك السنة عاليًا بحمد الله تعالى"
(5).
مصنفاتهتناول كل من ترجم لشيخنا الزين العراقي مؤلفاته، فعرضوا لأكثرها، إجمالًا وتفصيلًا. ولمَّا كان نتاجه متفرِّعًا في علومٍ مختلفة، وكان كتابنا يختص بعلم التاريخ، لذا سنحاول تقديم قائمة بكل ما أمكننا التوصل من مؤلفاته في هذا العلم، أو ما كان متصل بينه وبين علم
--------------------------------------------
এবং ইবনে হাজ্জি তার (তারিখ)
(১)-এ তাকে বর্ণনা করেছেন: "শায়খ, ইমাম, হাফিজ এবং মুহাদ্দিসগণের শায়খ" হিসেবে।
আর ইবনে কাদি শুহবাহ তার (তারিখ)
(২)-এ বলেছেন: "শায়খ সালাহুদ্দিন আল-আলাঈ এবং তার পূর্বে তাকিউদ্দিন আস-সুবকি তাকে এই বিদ্যায় পারদর্শী হিসেবে বর্ণনা করেছেন।"
আর তার ধার্মিকতার কথা ইবনে হাজার
(৩) উল্লেখ করেছেন: "আমি দীর্ঘকাল তার সান্নিধ্যে ছিলাম এবং তাকে কখনো তাহাজ্জুদ (কিয়ামুল লাইল) বর্জন করতে দেখিনি, বরং এটি তার অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল। অধিকাংশ সময় যখন তিনি ফজরের সালাত আদায় করতেন, তখন সূর্য উদয় হওয়া পর্যন্ত কিবলামুখী হয়ে নিজের বসার স্থানেই অবস্থান করতেন এবং তিলাওয়াত ও জিকিরে মগ্ন থাকতেন। তিনি প্রতি মাসে তিন দিন এবং শাওয়ালের ছয়টি নফল রোজা রাখতেন। আর যখন তিনি সওয়ারিতে আরোহণ করতেন, তখন প্রচুর তিলাওয়াত করতেন।"
তিনি (যাইলুদ দুরারিল কামিনাহ)
(৪)-এ আরও যোগ করেছেন: "আমি আমার সকল শায়খদের মধ্যে তার চেয়ে সুন্দর সালাত আদায়কারী আর কাউকে দেখিনি।"
তার বরকতসমূহের মধ্যে এটিও একটি যে, "৮০৬ হিজরির সফর মাসে অনাবৃষ্টি ও দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছিল এবং নীল নদের পানি প্রবাহ থেমে গিয়েছিল। মিশরের অধিকাংশ অঞ্চল শুকিয়ে গিয়েছিল এবং প্রচণ্ড দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পেয়েছিল। তখন তিনি তার মজলিসগুলোর সর্বশেষ মজলিসে ইস্তিসকা (বৃষ্টির প্রার্থনা) সংক্রান্ত বিষয়াবলি আলোচনা করেন এবং তার মৃত্যুর অল্প কিছুদিন আগে লোকজনকে নিয়ে ইস্তিসকার সালাত আদায় করেন। তিনি একটি অত্যন্ত বাগ্মিতাপূর্ণ খুতবা প্রদান করেন। এরপর লোকজন এর বরকত প্রত্যক্ষ করে—জিনিসপত্রের প্রাচুর্য দেখা দেয় এবং দ্রব্যমূল্য চড়া থাকা সত্ত্বেও তা সহজলভ্য হয়। পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন হয়ে যাওয়ার পর বিক্রেতাদের অবস্থার উন্নতি ঘটে এবং আল্লাহর প্রশংসায় সেই বছর নীল নদে পানির উচ্চতা অনেক বৃদ্ধি পায়"
(৫)।
তার রচনাবলিযারা আমাদের শায়খ যাইন আল-ইরাকির জীবনী লিখেছেন, তারা প্রত্যেকেই তার রচনাবলি নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং সংক্ষেপে ও বিস্তারিতভাবে তার অধিকাংশ কাজ উপস্থাপন করেছেন। যেহেতু তার জ্ঞানগর্ভ অবদান বিভিন্ন শাস্ত্রে বিস্তৃত, এবং আমাদের এই বইটি ইতিহাস শাস্ত্রের সাথে সংশ্লিষ্ট, তাই আমরা এই শাস্ত্রে তার রচিত যেসব গ্রন্থের সন্ধান পেয়েছি অথবা এই শাস্ত্রের সাথে সংশ্লিষ্ট রয়েছে—এমন গ্রন্থসমূহের একটি তালিকা প্রদানের চেষ্টা করব...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াফায়াত - লিল ইরাকী
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
آخر، وأعني بذلك مؤلَّفاته الخاصة بعلم المشيخات والمعاجم؛ إذ تتصل بعلم التاريخ بطرف، وبعلم الحديث بطرف آخر، ذلك العلم الذي تنبه إليه صغيرًا من قبل شيخه العز بن جماعة لما رأي من نجابة عقله وحُسن حفظه، ولا أدعي جدِّيَّة ما أقدِّمه بقدر شموليتها وترتيبها وتنسيقها في مكان واحد.
ويمكننا تقسيم ما أنتجته قريحة شيخنا إلى قسمين:
* ما وصل إلينا.
*ما فُقد أو ضاع وانتهبته عوادي الزمن.
بل يمكننا أن نتفرع داخل كل قسمٍ من القسمين المذكورين إلى فروع حسب الفنون التي ألَّف فيها شيخنا.
أولًا - ما وصل إلينا:1 - نظم السيرة النبوية في ألف بيت، وسمَّاها: (الدرر السنية في نظم السير الزكية)، وتسمى أيضًا: (نظم الدرر السنية في السير الزكية)، نسبها إليه ابن حجر
(1).
2 - المورد الهني في المولد السني، وهو مؤلِّف في المولد النبوي خاصة دون سيرته، كما ذكره السخاوي
(2).
3 - كتاب الوفيات، وهو كتابنا هذا، وقد أفضنا في الحديث عنه في مبحث أهمية الكتاب.
4 - ترجمة الإمام العلامة جمال الدين عبد الرحيم بن الحسن الإسنوي الشافعي (ت 772 هـ)
(3)، نسبه إليه ولده أبو زرعة، وقال: "ورثاه جماعة، منهم والدي ..... وأفرد له
--------------------------------------------
অন্যান্য; আর আমি এর দ্বারা মাশয়াখাত এবং মু'জাম (জীবনকোষ) শাস্ত্র বিষয়ক তাঁর রচনাবলিকে বোঝাচ্ছি; যেহেতু এর এক প্রান্ত ইতিহাসের সাথে এবং অপর প্রান্ত হাদিস শাস্ত্রের সাথে সম্পৃক্ত। এটি এমন এক শাস্ত্র যার প্রতি তাঁর শায়খ ইজ্জ ইবনুল জামাআহ তাঁর শৈশবেই দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন, যখন তিনি তাঁর প্রখর মেধা ও চমৎকার মুখস্থশক্তি প্রত্যক্ষ করেছিলেন। আমি যা উপস্থাপন করছি তার গভীরতা বা শ্রেষ্ঠত্বের দাবির চেয়ে বরং এর ব্যাপকতা, একস্থানে বিন্যাস এবং সুসংবদ্ধ বিন্যাসকেই প্রাধান্য দিচ্ছি।
আমাদের শায়খের মেধা থেকে যা উৎপাদিত হয়েছে তাকে আমরা দুই ভাগে ভাগ করতে পারি:
* যা আমাদের নিকট পৌঁছেছে।
* যা হারিয়ে গেছে বা বিলুপ্ত হয়েছে এবং মহাকালের বিবর্তনে যা ধ্বংস হয়ে গেছে।
বরং আমরা উল্লিখিত প্রতিটি বিভাগের ভেতরে আমাদের শায়খের রচিত বিভিন্ন শাস্ত্র বা শিল্প অনুযায়ী আরও শাখা-প্রশাখা করতে পারি।
প্রথমত - যা আমাদের নিকট পৌঁছেছে:১ - এক হাজার চরণে বিন্যস্ত নবীজির জীবনী (সীরাত), যার নাম তিনি রেখেছিলেন: (আদ-দুরারুস সানিয়্যাহ ফী নাযমিস সিয়ারিয যাকিয়্যাহ), একে আরও বলা হয়: (নাযমুদ দুরারিস সানিয়্যাহ ফিস সিয়ারিয যাকিয়্যাহ)। ইবনে হাজার এটি তাঁর প্রতি নিসবত করেছেন
(১)।
২ - আল-মাওরিদুল হানী ফিল মাওলিদিস সানী; এটি বিশেষভাবে নবীজির জন্মবৃত্তান্ত নিয়ে একটি রচনা, তাঁর পূর্ণাঙ্গ জীবনী নয়, যেমনটি সাখাবী উল্লেখ করেছেন
(২)।
৩ - কিতাবুল ওয়াফায়াত; এটি আমাদের বর্তমান এই গ্রন্থটি। আমরা গ্রন্থের গুরুত্ব বিষয়ক পরিচ্ছেদে এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।
৪ - ইমাম আল্লামা জামালুদ্দীন আবদুর রহীম বিন হাসান আল-ইসনাবী আশ-শাফিঈর (মৃত্যু ৭৭২ হি.) জীবনী
(৩)। তাঁর পুত্র আবু যুরআ এটি তাঁর পিতার প্রতি নিসবত করেছেন এবং বলেছেন: "একটি দল তাঁর শোকগাথা রচনা করেছেন, যাঁদের মধ্যে আমার পিতাও ছিলেন... এবং তিনি তাঁর জন্য স্বতন্ত্রভাবে..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াফায়াত - লিল ইরাকী
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
ترجمة سمعناها عليه"
(1)، وابن فهد
(2).
5 - ذيل على الميزان (أي: ميزان الاعتدال)، نسبه إليه ابن فهد
(3)، ذكر في مقدمته دواعي تأليفه، فقال
(4): " ..... ومع ذلك فقد أغفل تراجم كثيرة أعدادها يلزمها بمقتضى التزامه إيرادها، فرأيت أن أذيِّل عليه بما ظفرت به من الأسماء مرتَّبًا ذلك على حروف المعجم حتى في الآباء، وأذكر تراجم من بعد الثلاث مئة لكمال الفائدة".
6 - ذيلٌ على ذيل العبر للذهبي، وهو الذي عدَّه السخاوي أحد حلقات كُتب الوفيات، وقد أوضحت أنه حلقة من حلقات (العبر)، و (ذيوله)، وهو يبدأ من سنة 741 هـ، بعد انتهاء (ذيل) الذهبي على عبره سنة 740 هـ، وينتهي بسنة 763 هـ، ثم ذيَّل عليه ولده ولي الدين أبو زُرعة بكتابه المسمِّي: (الذيل على العبر).
وقد أثبته له، ووصفه ولده بقوله في بداية كتابه: "فهذا تاريخ متوسط ابتداؤه سنة مولدي، وهو ذيل على تاريخ والدي
… الذي ذيِّل به على (ذيل العبر) للحافظ أبي عبد الله الذهبي رحمه الله".
وقد مّنَّ الله عليَّ بمساعدة أخي الفاضل الأستاذ صالح عبد الفتاح المفهرس بدار الكتب المصرية، وتفضُّل الأستاذ محمد بن عبد الله السريع المحاضر في كلية الشريعة والدراسات الإسلامية بجمعة القصيم عليَّ بالحصول على نسخة فريدة من هذا الكتاب، ضمن مجموع في مكتبة محمد بن محمد بن إسماعيل المطهر باليمن، ومنه صورة ضوئية ضمن مصورات مؤسسة الإمام زيد بن علي، المتداولة باسم المنظومة اليمنية.
7 - فهرست المرويَّات المعيَّنة بالسَّماع والإجازة، لشيخه عز الدين بن جماعة سابق
--------------------------------------------
একটি জীবনী যা আমরা তাঁর কাছে শুনেছি
(১), এবং ইবনে ফাহদ
(২)।
৫ - যায়ল আলাল মীযান (অর্থাৎ: মীযানুল ইতিদাল-এর পরিশিষ্ট), ইবনে ফাহদ একে তাঁর সাথে সম্পর্কিত করেছেন
(৩)। তিনি এর মুকাদ্দিমায় এটি রচনার কারণ উল্লেখ করে বলেছেন
(৪): "..... তা সত্ত্বেও তিনি এমন অনেক জীবনী বাদ দিয়েছেন যা তাঁর অঙ্গীকার অনুযায়ী উল্লেখ করা আবশ্যক ছিল। তাই আমি যা সংগ্রহ করতে পেরেছি সেসব নামের সমন্বয়ে এর একটি পরিশিষ্ট তৈরি করা সংগত মনে করেছি, যা এমনকি পিতাদের নামের ক্ষেত্রেও বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজানো হয়েছে। আর পূর্ণাঙ্গ উপকারের জন্য আমি হিজরি তিনশ পরবর্তী জীবনীগুলো উল্লেখ করছি।"
৬ - যাহাবীর 'যায়লুল ইবার'-এর ওপর একটি পরিশিষ্ট। সাখাভী একে ওফাত (মৃত্যুবিষয়ক) গ্রন্থসমূহের অন্যতম ধারাবাহিক অংশ হিসেবে গণ্য করেছেন। আমি স্পষ্ট করেছি যে এটি 'আল-ইবার' ও তার 'পরিশিষ্টগুলোর' একটি অংশ। এটি ৭৪১ হিজরি থেকে শুরু হয়েছে, যখন ৭৪০ হিজরিতে 'ইবার'-এর ওপর যাহাবীর 'পরিশিষ্ট' সমাপ্ত হয়েছিল এবং এটি ৭৬৩ হিজরিতে শেষ হয়েছে। এরপর তাঁর পুত্র ওয়ালিউদ্দীন আবু জুরআ তাঁর 'আয-যায়লু আলাল ইবার' নামক কিতাব দ্বারা এর ওপর পরিশিষ্ট লিখেছেন।
আর তিনি এটি তাঁর কিতাব হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন এবং তাঁর পুত্র তাঁর কিতাবের শুরুতে এর বর্ণনা দিয়ে বলেছেন: "এটি একটি মাঝারি মানের ইতিহাসগ্রন্থ যার সূচনা আমার জন্মসাল থেকে। এটি আমার পিতার ইতিহাসের পরিশিষ্ট... যা হাফেজ আবু আব্দুল্লাহ যাহাবী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর 'যায়লুল ইবার'-এর ওপর পরিশিষ্ট হিসেবে লেখা হয়েছিল।"
আল্লাহ আমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন মিসরের 'দারুল কুতুব'-এর ক্যাটালগার শ্রদ্ধেয় ভাই উস্তাদ সালেহ আব্দুল ফাত্তাহ-এর সাহায্যের মাধ্যমে এবং কাসিম বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীআহ ও ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের প্রভাষক উস্তাদ মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আস-সারী-এর দাক্ষিণ্যে, যার ফলে আমি ইয়েমেনের মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-মুতাহহার লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত একটি সংকলনের মধ্যে এই কিতাবটির একটি অনন্য পাণ্ডুলিপি লাভ করেছি। এর একটি ফটোকপি 'ইমাম যায়েদ বিন আলী ফাউন্ডেশন'-এর অনুলিপিগুলোর মধ্যে রয়েছে, যা 'আল-মানযুমাতুল ইয়ামানিয়্যাহ' নামে পরিচিত।
৭ - তাঁর উস্তাদ ইজ্জুদ্দীন ইবনে জামাআহ সাবেক-এর নিকট থেকে শ্রবণ ও ইজাযতের মাধ্যমে প্রাপ্ত নির্দিষ্ট বর্ণনাগুলোর তালিকা (ফিহরিসত)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াফায়াত - লিল ইরাকী
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
الذكر، ونسبه إليه غير واحد من المؤرخين، أقدمهم الحافظ تقي الدين الفاسي (ت 832 هـ)، إذ ذكره في غير موضع من كتابه (ذيل التقييد) تلميحًا وتصريحًا، فمن ذلك ما ذكره في ترجمة محمد بن حسن بن يوسف الأرموى (ت 700 هـ)
(1)، أنه "سمع على الحافظ تقي الدين بن الصلاح كتابه في علوم الحديث، على ما ذكر شيخنا الحافظ زين الدين العراقي فيما خرَّجه من الأسانيد للقاضي عز الدين بن جماعة".
وصرَّح باسمه ابن حجر العسقلاني (ت 852 هـ) في مواضع من معجم شيوخه (المجمع المؤسس للمعجم المفهرس)، إذ قال في ترجمة عبد الله ين محمد الهيثمي (ت 841 هـ)
(2): "وأجاز له عز الدين بن جماعة سنة خمس وستون فهرست مروياته المعينة بالسماع والإجازة".
ثانيًا- ما فُقد أو ضاع وانتهبته عوادي الزمن، ولم أقف علي من ذكر له نسخة:1 - ذيل تجريد أسماء الصحابة، و (تجريد أسماء الصحابة) مختصر للذهبي لكتاب (أسد الغابة)، قال في (شرح التبصرة والتذكرة)
(3)، في معرض حديثه على كتاب (أسد الغابة): "
… واختصره جماعة منهم: الحافظ أبو عبد الله الذهبي، في مختصر لطيف، وقد ذيَّلت عليه بعض أسماء لم تقع له"، وذكْرُه في (شرح التبصرة والتذكرة) يدل على أنه أنجزه قبل سنة 771 هـ، وهي السنة التي انتهى منها من شرحه للألفية.
2 - جزء فى رواية الأكابر عن الأصاغر، فنراه يذكر بعد تعقيبه على قولٍ لابن الصلاح في هذه القضية
(4): "وقد جمعتهم في جزء، فبلغتُ بهم فوق الخمسين"، أي أنه أتمه قبل
--------------------------------------------
উল্লেখটি, এবং একাধিক ঐতিহাসিক এটি তাঁর দিকে নিসবত করেছেন, যাদের মধ্যে প্রাচীনতম হলেন হাফিজ তাকিউদ্দিন আল-ফাসি (মৃ. ৮৩২ হি.), কারণ তিনি তাঁর গ্রন্থ (যাইলুত তাকয়িদ)-এর একাধিক স্থানে ইশারায় ও স্পষ্টভাবে এটি উল্লেখ করেছেন, এর মধ্যে একটি হলো যা তিনি মুহাম্মদ ইবনে হাসান ইবনে ইউসুফ আল-আরমাউয়ি (মৃ. ৭০০ হি.)-এর জীবনীতে উল্লেখ করেছেন
(১), যে তিনি "হাফিজ তাকিউদ্দিন ইবনুস সালাহ-এর নিকট তাঁর উলুমুল হাদিস গ্রন্থটি শ্রবণ করেছেন, যেমনটি আমাদের শায়খ হাফিজ জাইনুদ্দিন আল-ইরাকি কাজি ইযযুদ্দিন ইবনে জামাআহর জন্য সংকলিত সনদসমূহে উল্লেখ করেছেন"।
এবং ইবনে হাজার আল-আসকালানি (মৃ. ৮৫২ হি.) তাঁর মাশায়িখদের অভিধান (আল-মুজামুল মুয়াসসিস লিল মুজামিল মুফাহরাস)-এর বিভিন্ন স্থানে এর নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, কেননা তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-হাইসামি (মৃ. ৮৪১ হি.)-এর জীবনীতে বলেছেন
(২): "এবং ইযযুদ্দিন ইবনে জামাআহ পঁয়ষট্টি সালে শ্রবণ ও ইজাযতের মাধ্যমে নির্ধারিত তাঁর বর্ণিত বিষয়াবলির ফিরিস্তিতে (তালিকায়) তাঁকে ইজাযত প্রদান করেছেন"।
দ্বিতীয়ত- যা হারিয়ে গেছে বা বিনষ্ট হয়েছে এবং কালের বিবর্তনে বিলুপ্ত হয়ে গেছে, আর আমি এমন কারো সন্ধান পাইনি যিনি এর কোনো পাণ্ডুলিপির কথা উল্লেখ করেছেন:১ - যাইলু তাজরিদি আসমাইস সাহাবাহ; আর (তাজরিদু আসমাইস সাহাবাহ) হলো (আসাদুল গাবাহ) গ্রন্থের ইমাম যাহাবির একটি সংক্ষিপ্ত রূপ। তিনি (শারহুত তাবসিরাহ ওয়াত তাযকিরাহ) গ্রন্থে
(৩) (আসাদুল গাবাহ) নিয়ে আলোচনার প্রসঙ্গে বলেছেন: " ...এবং একদল এটি সংক্ষেপ করেছেন যাদের মধ্যে রয়েছেন: হাফিজ আবু আব্দুল্লাহ আয-যাহাবি, একটি সংক্ষিপ্ত ও চমৎকার কিতাবে, আর আমি এতে এমন কিছু নাম সংযোজন করেছি যা তাঁর নিকট আসেনি", আর (শারহুত তাবসিরাহ ওয়াত তাযকিরাহ) গ্রন্থে এর উল্লেখ নির্দেশ করে যে তিনি এটি ৭৭১ হিজরির পূর্বেই সম্পন্ন করেছিলেন, আর এটি সেই বছর যে বছর তিনি তাঁর আলফিয়ার ব্যাখ্যাগ্রন্থ সমাপ্ত করেছিলেন।
২ - জুযউন ফি রিওয়ায়াতিল আকাবির আনিল আসাগির (বড়দের ছোটদের থেকে বর্ণনার একটি পুস্তিকা), আমরা তাঁকে এই বিষয়ে ইবনুস সালাহ-এর একটি বক্তব্যের পর্যালোচনার পর উল্লেখ করতে দেখি
(৪): "আর আমি তাঁদের একটি পুস্তিকায় একত্র করেছি, ফলে তাঁদের সংখ্যা পঞ্চাশের অধিক হয়েছে", অর্থাৎ তিনি এটি সম্পন্ন করেছেন এর আগে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াফায়াত - লিল ইরাকী
(পৃষ্ঠা: ٣١)
إتمامه لشرح الألفية سابق الذكر.
3 - كتاب فى المراسيل، وهو من أواخر مؤلفاته، قرأه عليه ابن حجر
(1)، وسماه ابن فهد
(2): (الإنصاف). وقد استفاد منة ولده أبو زرعة بعض آراء أودعها في كتابه: (تحفة التحصيل فى ذكر رواة المراسيل).
4 - مصنفٌ ذكره أستاذنا د. معبد في دراسته
(3) بعنوان: تذييل العراقي على ما جمعه شيخه العلائي من أسماء الرواة المدلسين، وذكر فيما نقله عن مقدمة (تعريف أهل التقديس) لابن حجر، أنه عبارة عن تقييدات كانت بهامش نسخة الحافظ العراقي من كتاب (جامع التحصيل في أحكام المراسيل)، ولم يتأت له تجريدهم في مؤلف خاص.
5 - ترجمة الإمام العلامة علاء الدين مغلطاي بن قليج البكجري (ت 762 هـ)، نقل منها ولده أبو زرعة في ترجمته للمذكور
(4)، ونقل ابن حجر
(5) عن زين الدين بن رجب أن غالب ما قاله نقله الشهاب في ترجمته لمغلطاي في (معجم شيوخه)
(6)، إنما هو من ترجمة مغلطاي التي أفردها شيخنا، ثم سمَّى جماعة من المشايخ الذين ادعى السماع منهم.
قلت: وهو بداية ما نقله أبو زُرعة في ترجمته لمغلطاي عن والده أيضًا.
6 - جزء في الرواه الذين خرَّج لهم البخاري ومسلم في صحيحيهما من غير الصحابة، ولم يرو عن كل منهم إلا راوٍ واحد. كذا سماه أستاذنا د. معبد في دراسته
(7)، اعتمادًا على إشارة أوردها الحافظ نفسه في كتابه (التقييد والإيضاح شرح
--------------------------------------------
আলফিয়্যাহ-র পূর্বোল্লিখিত শারহ্-এর (ব্যাখ্যাগ্রন্থ) সমাপ্তিকরণ।
৩ - মুরাসিল বিষয়ক একটি কিতাব, এটি তার শেষদিকের রচনাবলির অন্তর্ভুক্ত। ইবনে হাজার এটি তার নিকট পাঠ করেছেন এবং ইবনে ফাহাদ এর নামকরণ করেছেন: (আল-ইনসাফ)। এবং তার পুত্র আবু জুরআহ এটি থেকে কিছু অভিমত দ্বারা উপকৃত হয়েছেন, যা তিনি তার কিতাব: (তুহফাতুত তাহসিল ফি জিকরি রুওয়াতিল মুরাসিল)-এ সন্নিবেশিত করেছেন।
৪ - একটি রচনা যা আমাদের উস্তাদ ড. মাবাদ তার গবেষণায় উল্লেখ করেছেন এই শিরোনামে: মুদাল্লিস রাবিদের নাম প্রসঙ্গে তার শাইখ আল-আলাই যা সংগ্রহ করেছেন তার ওপর ইরাকির পরিশিষ্ট। এবং তিনি ইবনে হাজারের (তারিফ আহলিত তাকদিস)-এর ভূমিকা থেকে যা উদ্ধৃত করেছেন তাতে উল্লেখ করেছেন যে, এটি ছিল (জামেউত তাহসিল ফি আহকামিল মুরাসিল) কিতাবটির হাফেজ ইরাকির নিজস্ব পাণ্ডুলিপির পার্শ্বটীকায় থাকা কিছু নোট, যা পৃথক কোনো গ্রন্থে বিন্যস্ত করার সুযোগ তার হয়নি।
৫ - ইমাম আল্লামা আলাউদ্দিন মুগলতাই বিন কুলিজ আল-বাকজারি (মৃত্যু ৭৬২ হি.)-এর জীবনী। তার পুত্র আবু জুরআহ উক্ত ব্যক্তির জীবনী আলোচনায় এখান থেকে উদ্ধৃত করেছেন। এবং ইবনে হাজার যাইনুদ্দিন ইবনে রজব থেকে উদ্ধৃত করেছেন যে, আশ-শিহাব তার (মুজামু শুয়ুখিহি)-তে মুগলতাইয়ের জীবনীতে যা বলেছেন তার অধিকাংশ মূলত আমাদের শাইখ কর্তৃক মুগলতাইয়ের ওপর রচিত স্বতন্ত্র জীবনী থেকে নেওয়া। এরপর তিনি এমন একদল মাশায়েখের নাম উল্লেখ করেছেন যাদের থেকে তিনি শ্রবণের দাবি করেছেন।
আমি বলছি: আবু জুরআহও মুগলতাইয়ের জীবনীতে তার পিতা থেকে যা উদ্ধৃত করেছেন এটি তার শুরু।
৬ - সাহাবী ব্যতীত এমন রাবিদের ওপর একটি পুস্তিকা, যাদের থেকে বুখারি ও মুসলিম তাদের সহিহ গ্রন্থে হাদিস গ্রহণ করেছেন এবং তাদের প্রত্যেকের থেকে মাত্র একজন রাবি বর্ণনা করেছেন। আমাদের উস্তাদ ড. মাবাদ তার গবেষণায় এর এরূপ নামকরণ করেছেন, যা খোদ হাফেজ (ইরাকি) তার কিতাব (আত-তাকয়িদ ওয়াল ইহজাহ শারহ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াফায়াত - লিল ইরাকী
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
مقدمة ابن الصلاح)
(1)، ولم يقف أستاذنا على نسخة منه.
7 - جزء في رجال سنن الدارقطني، سوى ترجمة ما في التهذيب (أي: تهذيب الكمال)، بلغ فيه ...... كذا ذكره ابن فهد
(2)، وبيض موضعه من الأصل، وهو مسودة.
8 - جزء في رجال صحيح ابن حبان سوى ما فى التهذيب، بلغ فيه إلى أول النوع الستين من القسم الثالث، كذا ذكره ابن فهد، وهو مسودة
(3).
ورغم فُقدانه هو الآخر، إلا أن هناك بعض نقول منه لدى الحافظ ابن حجر، فقد استفاد منه في كتابه (لسان الميزن)، من ذلك قوله
(4): "وقرأت بخط شيخي في ترجمة الحارث هذا من رجال ابن حبان له:
… " كذا قال.
9 - مشيخة القاضي ناصر الدين محمد بن محمد بن أبي القاسم، المعروف بابن التونسي (ت 763 هـ)، وذيلُها، نسبها إليه ولده أبو زرعة
(5)، وقال: "خرَّج له والدى مشيخة، ثم ذيَّل عليها".
10 - ذيل مشيخة القاضي فتح الدين أبي الحرم محمد بن محمد بن محمد القلانسي (ت 765 هـ)، نسبها إليه ولده أبو زُرعة، وقال
(6): "خرَّج له شيخنا الحافظ أبو المعالي بن رافع مشيخة، وكتب والدي عليها ذيلًا، وحدَّث بكلٍّ منهما".
11 - فهرست مرويات المسند المعمر شمس الدين محمد بن إبراهيم بن محمد الأنصاري
--------------------------------------------
মুকাদ্দিমা ইবনুস সালাহ)
(১), এবং আমাদের উস্তাদ এর কোনো পাণ্ডুলিপি পাননি।
৭ - সুনানে দারাকুতনীর বর্ণনাকারীদের ওপর একটি জুয (পুস্তিকা), তাহজীব (অর্থাৎ: তাহজীবুল কামাল)-এ যা আছে তার জীবনী ব্যতীত, এতে তিনি পৌঁছেছেন ... ইবনু ফাহাদ এভাবেই উল্লেখ করেছেন
(২), এবং মূল কপিতে এর স্থানটি খালি রাখা হয়েছে, আর এটি একটি খসড়া।
৮ - সহীহ ইবনু হিব্বানের বর্ণনাকারীদের ওপর একটি জুয, তাহজীবে যা আছে তা ব্যতীত, এতে তিনি তৃতীয় খণ্ডের ষাটতম প্রকারের শুরু পর্যন্ত পৌঁছেছেন, ইবনু ফাহাদ এভাবেই উল্লেখ করেছেন, এবং এটি একটি খসড়া
(৩)।
এটিও হারিয়ে যাওয়া সত্ত্বেও হাফেজ ইবনু হাজার-এর নিকট এর কিছু উদ্ধৃতি রয়েছে, তিনি তাঁর কিতাব (লিসানুল মিজান)-এ এটি থেকে উপকৃত হয়েছেন, যার মধ্যে তাঁর এই কথাটি রয়েছে
(৪): "আমি আমার শাইখের হস্তাক্ষরে ইবনু হিব্বানের বর্ণনাকারীদের মধ্যে এই হারিসের জীবনীতে পড়েছি যে: ..." তিনি এমনই বলেছেন।
৯ - ইবনু তিউনিসি নামে পরিচিত কাজী নাসিরুদ্দীন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আবিল কাসিম (ওফাত ৭৬৩ হিজরি)-এর মাশইয়াখাহ এবং এর যাইল (পরিশিষ্ট), তাঁর পুত্র আবু যুরআ এটিকে তাঁর দিকে সম্বন্ধিত করেছেন
(৫) এবং বলেছেন: "আমার পিতা তাঁর জন্য একটি মাশইয়াখাহ সংকলন করেছেন, অতঃপর তার ওপর একটি পরিশিষ্ট লিখেছেন।"
১০ - কাজী ফাতহুদ্দীন আবুল হারাম মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ কালানিসী (ওফাত ৭৬৫ হিজরি)-এর মাশইয়াখাহ-এর পরিশিষ্ট, তাঁর পুত্র আবু যুরআ এটিকে তাঁর দিকে সম্বন্ধিত করেছেন এবং বলেছেন
(৬): "আমাদের শাইখ হাফেজ আবুল মাআলি বিন রাফি তাঁর জন্য একটি মাশইয়াখাহ সংকলন করেছিলেন, আর আমার পিতা তার ওপর একটি পরিশিষ্ট লিখেছেন, এবং তিনি এর প্রত্যেকটি বর্ণনা করেছেন।"
১১ - দীর্ঘজীবী মুসনিদ শামসুদ্দীন মুহাম্মদ বিন ইবরাহীম বিন মুহাম্মদ আল-আনসারীর বর্ণিত হাদিসসমূহের সূচিপত্র।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়াফায়াত - লিল ইরাকী
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
الخزرجي البياني المقدسي (ت 766 هـ)، نسبه إليه ولده أبو زرعة
(1)، وقال: "وعمل له والدي فهرستًا حافلًا مفيدًا، توفي قبل إكماله". قلت: وفي ذلك بيان لتاريخ تأليفها.
12 - معجم شيوخ قاضي القضاة عز الدين عبد العزيز بن محمد بن إبراهيم بن جماعة الكناني الحموي (ت 767 هـ)، نسب له ابنه أبو زُرعة معجمين لشيخه العز بن جماعة:
* أولهما من تخريجه، فقال
(2): "وخرَّج له والدي معجمًا عن شيوخه بالسماع والإجازة لم يكمُل، كتب منه نحو تسعة أجزاء حديثية كلها في المحمدين، حدَّث بثلاثة أجزاء منها".
ويمكن استخراج جملة من هؤلاء الشيوخ من الوفيات، إذ نراه يصرح في تراجم كثيرة أن أصحابها ممن أجازوا ابن جماعة أو ممن سمع منهم
(3).
* وثانيهما من تهذيبه، إذ خرَّج له فخر الدين محمد بن عبد اللطيف بن أحمد الربعي الإسكندري، المعروف بابن الكويك (ت 769 هـ) معجمًا هو الآخر، ويبدو أنه اطلع عليه فلم يرُق له، فعمل على تهذيبه، وذكر ولده أبو زُرعة أصل ابن الكويك وتهذيب والده، فقال
(4): "وجمع أسماء شيوخ قاضي القضاة عزالدين بن جماعة، مرتِّبًا لهم على حروف المعجم، وهذَّبه والدي وأصلحه".
13 - مشيخة المُسند زين الدين عبد الرحمن بن علي بن محمد بن هارون الثعلبي، المعروف بابن القاري (ت 776 هـ)، نسبها إليه ولده أبو زرعة
(5)، وقال: "وخرَّج له والدي مشيخة، حدَّث بها غير مرة وسمعتها عليه".
--------------------------------------------
আল-খাজরাজি আল-বায়ানি আল-মাকদিসি (মৃত্যু ৭৬৬ হিজরি), তাঁর পুত্র আবু জুরআ এটি তাঁর সাথে সম্পর্কিত করেছেন
(১) এবং তিনি বলেছেন: "আমার পিতা তাঁর জন্য একটি সমৃদ্ধ ও উপকারী নির্ঘণ্ট (ফেহরিস্ট) প্রস্তুত করেছিলেন, যা সম্পূর্ণ করার আগেই তিনি ইন্তেকাল করেন।" আমি বলি: এর মাধ্যমে এটি রচনার ইতিহাস সুস্পষ্ট হয়।
১২ - কাযিল কুযাত ইযযুদ্দীন আব্দুল আযীয বিন মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম বিন জামা'আহ আল-কিনানি আল-হামাভি-এর (মৃত্যু ৭৬৭ হিজরি) মা'জামুশ শুয়ূখ (শিক্ষক-অভিধান); তাঁর পুত্র আবু জুরআ তাঁর উস্তাদ আল-ইয বিন জামা'আহ-এর জন্য দু'টি মা'জাম তাঁর সাথে সম্পর্কিত করেছেন:
* প্রথমটি তাঁর নিজস্ব সংকলন, তিনি বলেন
(২): "আমার পিতা তাঁর জন্য তাঁর উস্তাদদের সম্পর্কে শ্রবণ ও ইজাযতের ভিত্তিতে একটি মা'জাম সংকলন করেছিলেন যা পূর্ণ হয়নি। তিনি এর প্রায় নয়টি হাদিস-খণ্ড লিখেছিলেন যার সবগুলিই 'মুহাম্মাদ' নামধারী ব্যক্তিদের নিয়ে ছিল; তিনি এর তিনটি খণ্ড বর্ণনা করেছেন।"
এবং জীবনীগ্রন্থসমূহ থেকে এই উস্তাদদের একটি বড় অংশ বের করা সম্ভব, যেহেতু আমরা তাঁকে অনেক জীবনীতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে দেখি যে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ইবনে জামা'আহ-কে ইজাযত দানকারী ছিলেন অথবা তাঁদের থেকে তিনি শ্রবণ করেছেন
(৩)।
* আর দ্বিতীয়টি তাঁর পরিমার্জিত সংস্করণ, কেননা ফাখরুদ্দীন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল লতিফ বিন আহমাদ আল-রিব'য়ী আল-ইস্কান্দারি, যিনি ইবনুল কুওয়ায়েক (মৃত্যু ৭৬৯ হিজরি) নামে পরিচিত, তিনিও একটি মা'জাম সংকলন করেছিলেন। প্রতীয়মান হয় যে, তিনি (আবু জুরআর পিতা) সেটি দেখেছিলেন কিন্তু তা তাঁর মনঃপূত হয়নি, ফলে তিনি সেটি পরিমার্জনের কাজ করেন। তাঁর পুত্র আবু জুরআ ইবনুল কুওয়ায়েকের মূল সংকলন এবং তাঁর পিতার পরিমার্জনের কথা উল্লেখ করে বলেন
(৪): "তিনি কাযিল কুযাত ইযযুদ্দীন বিন জামা'আহ-এর উস্তাদদের নাম বর্ণানুক্রমে সংগ্রহ করেছিলেন, আর আমার পিতা তা পরিমার্জন ও সংশোধন করেছেন।"
১৩ - আল-মুসনিদ যাইনুদ্দীন আব্দুর রহমান বিন আলী বিন মুহাম্মাদ বিন হারুন আস-সা'লাবি, যিনি ইবনুল ক্বারি (মৃত্যু ৭৭৬ হিজরি) নামে পরিচিত, তাঁর মাশইয়াখাহ (উস্তাদদের তালিকা); তাঁর পুত্র আবু জুরআ এটি তাঁর সাথে সম্পর্কিত করেছেন
(৫) এবং বলেছেন: "আমার পিতা তাঁর জন্য একটি মাশইয়াখাহ সংকলন করেছিলেন, যা তিনি একাধিকবার বর্ণনা করেছেন এবং আমি তা তাঁর নিকট শ্রবণ করেছি।"
--------------------------------------------