(খণ্ড: ১)
আল-খুতাবাতুল ইসলামিয়া
(পৃষ্ঠা: -)
الخطابة الإسلامية القسم: كتب عامة
الكتاب: الخطابة الإسلامية
المؤلف: عبد العاطي محمد شلبي، عبد المعطي عبد المقصود
الناشر: المكتب الجامعي الحديث
الطبعة: 2006
عدد الصفحات: 113
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইসলামী বাগ্মিতা বিভাগ: সাধারণ গ্রন্থাবলি
গ্রন্থ: ইসলামী বাগ্মিতা
লেখক: আব্দুল আতি মুহাম্মদ শালাবি، আব্দুল মু'তি আব্দুল মাকসুদ
প্রকাশক: আল-মাকতাব আল-জামি'য়ি আল-হাদিস
সংস্করণ: ২০০৬
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১১৩
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল হিজ্জাহ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-খুতাবাতুল ইসলামিয়া
(পৃষ্ঠা: ৫)
المقدمة:الحمد لله الذي أتم علينا نعمته، ورضي لنا الإسلام دينا، والصلاة والسلام على سيدنا محمد صلى الله عليه وسلم المبعوث رحمة للعالمين
… وبعد
ما أشد احتياجنا في هذا الزمن الذي أصبح فيه العالم قرية صغيرة إلى كوادر دعوية تصطفي اصطفاء يقوم على الصحة الجسمية والنفسية والخلقية، والاجتماعية، والعلمية، ولمن يريد أن يكون داعية يجب أن يسكن رسولنا الكريم ضميره، ويتبعه في عمله وتفكيره، والخطباء في حقيقة أمرهم دعاة وعليهم أن يعرفوا أن علو الكعب في الخلق، والطهر القلبي والنفسي، ورقة الذوق في الكلمة والنظرة، وخفض الصوت وإشراق الوجه بالابتسامة لغة عالمية تفتح بها الصدور المغلقة، والنفوس الحرجة؛ ذلك لأن الخلق الزكي لغة إنسانية عالمية تعجب وتقنع.
وهذا الكتاب عن الخطابة الإسلامية تكلمنا فيه عن الخطابة وتعريفها، وعناصرها، وطريقة الإقناع الخطابي، والصفات التى يجب أن يتصف بها الخطيب، كما تكلمنا عن تشعب خطب الوعظ الديني، ثم انتقلنا بعد ذلك إلى نماذج مختلفة من الخطب في العصور المختلفة.
وهذا الكتاب لا يصنع خطيبا ولكنه مرشد لمن عنده استعداد للخطابة، ينهل من الخطب التى ذكرناها فصاحة اللفظ وبلاغة العبارة وعلى الله قصد السبيل.
ভূমিকা:সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য যিনি আমাদের প্রতি তাঁর নেয়ামত পূর্ণ করেছেন এবং আমাদের জন্য ইসলামকে দ্বীন হিসেবে মনোনীত করে সন্তুষ্ট হয়েছেন। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সা.)-এর উপর, যাঁকে বিশ্বজগতের জন্য রহমত স্বরূপ পাঠানো হয়েছে
… অতঃপর
বর্তমান এই যুগে, যখন বিশ্ব একটি ছোট গ্রামে পরিণত হয়েছে, তখন আমাদের এমন একদল দাওয়াতি জনশক্তির প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত বেশি, যাদের নির্বাচন হতে হবে শারীরিক, মানসিক, চারিত্রিক, সামাজিক ও জ্ঞানতাত্ত্বিক সুস্থতার ভিত্তিতে। যারা দায়ী (দ্বীন প্রচারক) হতে চান, তাদের বিবেক ও চেতনায় আমাদের প্রিয় রাসূলের আদর্শকে আসীন করতে হবে এবং তাদের কর্ম ও চিন্তায় তাঁকে অনুসরণ করতে হবে। বক্তারা মূলত দ্বীন প্রচারক এবং তাদের জানা উচিত যে চরিত্রের শ্রেষ্ঠত্ব, হৃদয়ের পবিত্রতা, মার্জিত রুচি, নম্র কণ্ঠস্বর এবং হাস্যোজ্জ্বল চেহারা হলো এমন এক বিশ্বজনীন ভাষা যার মাধ্যমে রুদ্ধ হৃদয় ও সংকুচিত মনগুলো উন্মুক্ত করা সম্ভব। কেননা পবিত্র চরিত্র হলো এমন এক মানবিক ভাষা যা মানুষকে বিমোহিত ও আশ্বস্ত করে।
ইসলামী ভাষণ শিল্প বিষয়ক এই গ্রন্থে আমরা বাগ্মিতা ও এর সংজ্ঞা, এর উপাদানসমূহ, ভাষণের মাধ্যমে প্রভাবিত করার পদ্ধতি এবং একজন বক্তার যে সকল গুণাবলি থাকা প্রয়োজন তা নিয়ে আলোচনা করেছি। সেই সাথে আমরা ধর্মীয় উপদেশের বিভিন্ন শাখা নিয়ে আলোচনার পর বিভিন্ন যুগের ভাষণের বিভিন্ন নমুনা উপস্থাপন করেছি।
এই গ্রন্থটি নিজে থেকেই একজন বক্তা তৈরি করে না, বরং এটি তাদের জন্য পথপ্রদর্শক যাদের ভাষণ প্রদানের স্বাভাবিক প্রস্তুতি ও যোগ্যতা রয়েছে, যাতে তারা আমাদের আলোচিত ভাষণগুলো থেকে শব্দের প্রাঞ্জলতা ও বাক্যের অলঙ্কার গ্রহণ করতে পারে। আর আল্লাহই সঠিক পথ প্রদর্শনকারী।
(খণ্ড: ১)
আল-খুতাবাতুল ইসলামিয়া
(পৃষ্ঠা: ৭)
الكوادر الدعوية:الكوادر الدعوية ينبغى أن تُصطفى اصطفاء يقوم على الصحة الجسمية والنفسية، والعقلية، والخلقية، والاجتماعية، والعلمية، وفقْد واحدة من هذه الست يؤدي إلى تعويق في أداء الدعوة. فكلها يكمل بعضها بعضا، وتمثل شخصية الداعية السوي، وهؤلاء الدعاة يسيرون على خطا الأنبياء في هدايتهم لأقوامهم، والرسل والأنبياء اختيروا اختيارًا للقيام بواجب الرسالة.
يقول الله تعالى: {إِنَّ اللَّهَ اصْطَفَى آدَمَ وَنُوحًا وَآلَ إِبْرَاهِيمَ وَآلَ عِمْرَانَ عَلَى الْعَالَمِينَ، ذُرِّيَّةً بَعْضُهَا مِنْ بَعْضٍ وَاللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ} 1، والذين أورثوا الكتاب اصطفاهم الله من عباده؛ قال تعالى: {ثُمَّ أَوْرَثْنَا الْكِتَابَ الَّذِينَ اصْطَفَيْنَا مِنْ عِبَادِنَا فَمِنْهُمْ ظَالِمٌ لِنَفْسِهِ وَمِنْهُمْ مُقْتَصِدٌ وَمِنْهُمْ سَابِقٌ بِالْخَيْرَاتِ بِإِذْنِ اللَّهِ ذَلِكَ هُوَ الْفَضْلُ الْكَبِيرُ} 2، وعلى مدار التاريخ لم يبزر في مجال الدعوة إلا أصحاب المواهب العالية والإقبال الكبير على الله، وأصحاب الغيرة والنخوة. هؤلاء الذين تتجمع في تربيتهم وتكوينهم عوامل الأسرة بموروثها الديني، وحسها التربوي العالى، والجو الثقافي المحيط، والأساتذة بما يزرعونه من غيرة في الحفاظ على الدين.
التربية الخلقية:
ويأتى على رأس تربية الكوادر الدعوية: التربية الخلقية؛ لأن الدين نور يستضيء به رجل، فيشرق في قلبه، ويرى الناس هذا النور في قوله وعمله، فينجذبون إليه. قال تعالى: {يَا أَهْلَ الْكِتَابِ قَدْ جَاءَكُمْ رَسُولُنَا يُبَيِّنُ لَكُمْ كَثِيرًا
--------------------------------------------
দাওয়াতি কর্মী বাহিনী:দাওয়াতি কর্মী বাহিনীকে এমনভাবে নির্বাচিত করা উচিত যা শারীরিক, মানসিক, বৌদ্ধিক, চারিত্রিক, সামাজিক এবং জ্ঞানতাত্ত্বিক সুস্থতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। এই ছয়টি গুণের যেকোনো একটির অভাব দাওয়াতি কার্যক্রম সম্পাদনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। এগুলোর প্রতিটিই একে অপরের পরিপূরক এবং এগুলো একজন আদর্শ দায়ীর ব্যক্তিত্বের প্রতিনিধিত্ব করে। এই দায়ীরা তাদের জাতির হেদায়েতের ক্ষেত্রে নবীদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেন। আর রাসুল ও নবীদের রিসালাতের দায়িত্ব পালনের জন্য বিশেষভাবে মনোনীত করা হয়েছে।
আল্লাহ তাআলা বলেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ আদম, নূহ, ইবরাহীমের বংশধর এবং ইমরানের বংশধরকে বিশ্বজগতের ওপর মনোনীত করেছেন। তারা একে অপরের বংশধর। আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ} ১। আর যাদের কিতাবের উত্তরাধিকারী করা হয়েছে, আল্লাহ তাদের তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে মনোনীত করেছেন; আল্লাহ তাআলা বলেন: {অতঃপর আমি কিতাবের উত্তরাধিকারী করেছি আমার বান্দাদের মধ্যে তাদের যাদেরকে আমি মনোনীত করেছি। তবে তাদের কেউ কেউ নিজের প্রতি অবিচারকারী, কেউ মধ্যমপন্থী এবং কেউ আল্লাহর অনুমতিতে সৎকাজে অগ্রগামী। এটাই তো মহা অনুগ্রহ} ২। ইতিহাসের পরিক্রমায় দাওয়াতের ময়দানে কেবল তারাই শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছেন যারা উচ্চ মেধা সম্পন্ন এবং আল্লাহর প্রতি অত্যন্ত নিবেদিত ছিলেন, আর যারা ছিলেন আত্মমর্যাদা ও মহত্বের অধিকারী। এরা হলেন তারা, যাদের লালন-পালন ও গঠনে ধর্মীয় ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ পরিবার, উচ্চতর চারিত্রিক ও শিক্ষামূলক বোধ, পারিপার্শ্বিক সাংস্কৃতিক পরিবেশ এবং শিক্ষকদের সেই আদর্শ কাজ করেছে যা তারা দ্বীন রক্ষার চেতনা হিসেবে তাদের অন্তরে বপন করেছিলেন।
চারিত্রিক শিক্ষা:
দাওয়াতি কর্মীদের প্রশিক্ষণের শীর্ষে রয়েছে: চারিত্রিক শিক্ষা; কারণ দ্বীন হলো এমন এক জ্যোতি যা দ্বারা একজন মানুষ আলোকিত হয়, ফলে তা তার হৃদয়ে উদ্ভাসিত হয় এবং মানুষ তার কথা ও কাজে এই জ্যোতির প্রতিফলন দেখতে পায়, ফলে তারা তার প্রতি আকৃষ্ট হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন: {হে আহলে কিতাব! তোমাদের নিকট আমার রাসুল এসেছেন, যিনি তোমাদের নিকট অনেক বিষয় স্পষ্ট করছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-খুতাবাতুল ইসলামিয়া
(পৃষ্ঠা: ৮)
مِمَّا كُنْتُمْ تُخْفُونَ مِنَ الْكِتَابِ وَيَعْفُو عَنْ كَثِيرٍ قَدْ جَاءَكُمْ مِنَ اللَّهِ نُورٌ وَكِتَابٌ مُبِينٌ، يَهْدِي بِهِ اللَّهُ مَنِ اتَّبَعَ رِضْوَانَهُ سُبُلَ السَّلامِ وَيُخْرِجُهُمْ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ بِإِذْنِهِ وَيَهْدِيهِمْ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ} 1.
وقد وصف الله لنا سيد الدعاة محمدًا صلى الله عليه وسلم بقوله: {وَإِنَّكَ لَعَلى خُلُقٍ عَظِيمٍ} 2، ووصفته السيدة عائشة رضي الله عنها حين سئلت عن خلقه صلى الله عليه وسلم فقالت: "كان خلقه القرآن".
يقول ابن كثير: "ومعنى هذا: أنه عليه الصلاة والسلام صار امتثال القرآن أمرا ونهيا سجية له، وخلقا تطبعه، وترك طبعه الجبليّ، فمهما أمَرَه القرآن فعله، ومهما نهاه عنه تركه هذا مع ما جبله الله عليه من الخلق العظيم: من الحياء والكرم والشجاعة والصفح والحلم، وكل خلق جميل، كما ثبت في الصحيحين عن أنس قال: خدمت رسول الله صلى الله عليه وسلم عشر سنين، فما قال لى: أفّ قط، ولا قال لشيء فعلته: لم فعلته، ولا لشيء لم أفعله ألا فعلته، وكان صلى الله عليه وسلم أحسن الناس خلقا، ولا مسست خزا ولا حريرا ولا شيئا كان ألين من كف رسول الله صلى الله عليه وسلم، ولا شممت مسكا ولا عطرا كان أطيب من عرق رسول الله صلى الله عليه وسلم3.
هذا هو المثل الأعلى لمن يريد أن يكون داعية، إنه يجب أن يسكن رسولنا الكريم ضمائرنا ونتبعه في عملنا وتفكيرنا، وإلا عدَّ من لم يكن هكذا مدعيا لا داعية، إن علو الكعب في الخلق، والطهر القلبى والنفسي، ورقة الذوق في الكلمة والنظرة وخفض الصوت وإشراق الوجه بالابتسامة لغة
--------------------------------------------
...কিতাবের যা কিছু তোমরা গোপন করতে তা তিনি তোমাদের নিকট প্রকাশ করছেন এবং অনেক কিছুই তিনি উপেক্ষা করেন। অবশ্যই আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে এক নূর ও সুস্পষ্ট কিতাব এসেছে। এর মাধ্যমে আল্লাহ তাদেরকে শান্তির পথে পরিচালিত করেন যারা তাঁর সন্তুষ্টির অনুসরণ করে এবং তাঁর অনুমতিক্রমে তাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন এবং তাদেরকে সরল পথের দিকে পরিচালিত করেন। ১।
আল্লাহ তাআলা আমাদের নিকট দাঈদের সরদার মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গুণ বর্ণনা করেছেন তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: "নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের ওপর অধিষ্ঠিত" ২। আর সায়্যিদা আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা-কে যখন তাঁর চরিত্র সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন তিনি বলেছিলেন: "তাঁর চরিত্র ছিল কুরআন।"
ইবনে কাসীর বলেন: "এর অর্থ হলো: তাঁর (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) নিকট কুরআনের আদেশ ও নিষেধগুলো পালন করা মজ্জাগত স্বভাবে পরিণত হয়েছিল এবং এটি তাঁর চরিত্রে গেঁথে গিয়েছিল। তিনি তাঁর স্বভাবজাত প্রবৃত্তি বর্জন করেছিলেন; ফলে কুরআন তাঁকে যা আদেশ করত তিনি তা পালন করতেন এবং যা থেকে নিষেধ করত তা বর্জন করতেন। এর পাশাপাশি আল্লাহ তাঁকে মহান চরিত্রের ওপর সৃষ্টি করেছেন: লজ্জা, উদারতা, সাহসিকতা, ক্ষমা ও সহনশীলতা এবং প্রতিটি সুন্দর গুণ। যেমনটি দুটি সহিহ (صحيح) গ্রন্থে আনাস থেকে প্রমাণিত (ثابت) হয়েছে, তিনি বলেন: আমি দশ বছর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সেবা করেছি, তিনি আমাকে কখনো 'উফ' বলেননি। আমি কোনো কাজ করলে তিনি বলেননি যে 'কেন করলে', আর কোনো কাজ না করলে তিনি বলেননি যে 'কেন করলে না'। আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী। আমি কখনো এমন কোনো রেশম বা সিল্ক অথবা অন্য কিছু স্পর্শ করিনি যা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাতের তালুর চেয়ে অধিক নরম ছিল। আর আমি এমন কোনো কস্তুরী বা সুগন্ধি ঘ্রাণ নেইনি যা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঘামের ঘ্রাণ অপেক্ষা অধিক সুগন্ধিযুক্ত ছিল ৩।
যিনি একজন দাঈ হতে চান তাঁর জন্য এটিই হলো সর্বোত্তম আদর্শ। আমাদের প্রিয় রাসূলকে অবশ্যই আমাদের হৃদয়ে স্থান দিতে হবে এবং আমাদের কর্ম ও চিন্তায় তাঁকে অনুসরণ করতে হবে। অন্যথায়, যে ব্যক্তি এরূপ হবে না তাকে দাঈ নয় বরং দাবিদার হিসেবে গণ্য করা হবে। চরিত্রের শ্রেষ্ঠত্ব, অন্তরের পবিত্রতা, কথা ও দৃষ্টিতে রুচিবোধের কোমলতা, কণ্ঠস্বর নিচু রাখা এবং হাসির মাধ্যমে চেহারার উজ্জ্বলতা হলো এক প্রকার ভাষা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-খুতাবাতুল ইসলামিয়া
(পৃষ্ঠা: ৯)
عالمية تفتح بها الصدور المغلقة، والنفوس الحرجة، ويستل بها من القلوب سخائمها؛ ذلك "لأن الخلق الزاكى لغة إنسانية عالمية تعجب وتقنع، وبهذه اللغة تفاهم الصحابة والتابعون مع الشعوب التى عرفوها، فدخل الناس في دين الله أفواجا، أي إن القدوة ليست دورا تمثيليا يؤدي إلى الخداع، واجتذاب المشاهدين، كلا. كلا. فحبل الكذب قصير. والقدوة الحسنة -فردية أو جماعية- تفرض احترام العقيدة والحفاوة بها. وهذه القدوة هي الحلاوة في الثمرة الناضجة، أو الرائحة الزكية في الزهرة العطرة، وهي نضج الكمال الذاتى الحق، وقد شاء الله أن يؤتى السلف الصالح أنصبة جزلة من هذا الحسن الذاتى: ففتحت لهم المدن العظام أبوابها، وألقت إليهم الجماهير بقيادها، وعالمية الإسلام تفرض على أتباعه أن يقدموا من سلوكهم الخاص والعام نماذج جديرة بالإكبار، أو على الأقل هي جديرة بدفع الناس للسؤال عن حقيقة الإسلام لمن لم يعرفوا هذه الحقيقة، وما أكثرهم في أرض الله1.
التثقيف إجمالا:
يجب على كل سالكي طريق الدعوة أن يتثقفوا عن طريق قراءة المتون المحيطة بمواد الشريعة الإسلامية، كما عليهم أن يتزودوا بالكتب النافعة حول الدعوة وأصولها والتفسير والحديث. وفي العلوم اللغوية يزودون ببعض كتب النحو والصرف والبلاغة والأدب وإعجاز القرآن.
--------------------------------------------
একটি বিশ্বজনীনতা যার মাধ্যমে রুদ্ধ বক্ষ ও সংকীর্ণ মনসমূহ উন্মোচিত হয় এবং অন্তর থেকে বিদ্বেষ দূর করা হয়; এটি এজন্য যে "পবিত্র চরিত্র হলো একটি বিশ্বজনীন মানবিক ভাষা যা বিমুগ্ধ ও আশ্বস্ত করে। এই ভাষার মাধ্যমেই সাহাবী ও তাবিঈগণ সেই সকল জাতিগোষ্ঠীর সাথে ভাববিনিময় করেছিলেন যাদের সান্নিধ্য তারা পেয়েছিলেন, ফলে দলে দলে মানুষ আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করেছিল। অর্থাৎ আদর্শ হওয়া কোনো অভিনয় নয় যা প্রতারণা বা দর্শকদের আকর্ষণের দিকে নিয়ে যায়। কক্ষনো না, কক্ষনো না। মিথ্যার বেসাতি অতি সংক্ষিপ্ত। উত্তম আদর্শ—ব্যক্তিগত বা সামষ্টিক—আকিদার প্রতি শ্রদ্ধা ও সমাদর বজায় রাখতে বাধ্য করে। এই আদর্শ হলো পরিপক্ক ফলের মিষ্টতা অথবা সুগন্ধি ফুলের পবিত্র ঘ্রাণের মতো; এটি হলো প্রকৃত আত্মিক পূর্ণতার পরিপক্কতা। আল্লাহ তাআলা ইচ্ছা করেছিলেন যে সালাফ আস-সালেহীনদের এই আত্মিক সৌন্দর্যের এক বিশাল অংশ দান করবেন; ফলে বড় বড় নগরীগুলো তাদের জন্য দ্বার উন্মুক্ত করে দিয়েছিল এবং জনতা তাদের হাতে নেতৃত্বের লাগাম সঁপে দিয়েছিল। ইসলামের বিশ্বজনীনতা এর অনুসারীদের ওপর এই দায়িত্ব অর্পণ করে যে, তারা যেন তাদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক আচরণের মাধ্যমে এমন এক নমুনা পেশ করে যা শ্রদ্ধার যোগ্য, অথবা অন্ততপক্ষে যা মানুষকে ইসলামের প্রকৃত সত্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে উদ্বুদ্ধ করে তাদের জন্য যারা এই সত্য জানে না—আর আল্লাহর জমিনে তাদের সংখ্যা অনেক।"1.
সামগ্রিক শিক্ষা ও সংস্কৃতি:
দাওয়াতের পথে বিচরণকারী প্রত্যেকের জন্য আবশ্যক হলো ইসলামি শরিয়তের বিষয়বস্তু সংশ্লিষ্ট মূল পাঠ্যসমূহ (متون) পাঠের মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন করা। একইভাবে তাদের উচিত দাওয়াহ ও এর মূলনীতি (أصول), তাফসির এবং হাদিস বিষয়ক উপকারী গ্রন্থসমূহ হতে পাথেয় সংগ্রহ করা। ভাষাতাত্ত্বিক বিদ্যায় তাদের নাহু (نحو), সরফ (صرف), অলঙ্কারশাস্ত্র (بلاغة), সাহিত্য এবং কুরআনের অলৌকিকত্ব বিষয়ক কিছু গ্রন্থ অধ্যয়ন করা উচিত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-খুতাবাতুল ইসলামিয়া
(পৃষ্ঠা: ১০)
علم الخطابة:الخطابة علم له أصول وقوانين، من سار في طريقها عد خطيبا، وهو يعنى بدراسة طرق التأثير، ووسائل الإقناع، وصفات الخطيب، وما ينبغى أن يتجه إليه من المعاني في الموضوعات المختلفة، وما يجب أن تكون عليه ألفاظ الخطبة، وأسالبيها، وترتيبها. هذا العلم ينير الطريق، ولا يحمل على السلوك؛ فهو يرشد الدارس إلى دراسة مناهج، ومسالك، ولا يحمل على السير فيها.
علاقة الخطابة بالمنطق:
إذا كان علم المنطق يبحث عن القوانين التى تعصم الذهن عن الخطأ، فإنه يبحث أيضا عن أهواء النفس، وخواطرها وأسباب الغلط، وتسلسل الخواطر، وكل هذه الأمور تساعد الخطيب على أداء مهمته في التأثير والإقناع.
علاقة الخطابة بعلم النفس:
لا يصل الخطيب إلى إقناع السامعين إلا إذا استطاع أن يثير حماستهم، ويخاطب إحساسهم، ولا يمكن إلا إذا كان عليما بما يثير شوقهم، ويسترعي انتباههم، وذلك لا يكون إلا بعلم النفس، ومن هنا كان علم الخطابة له صلة بعلم النفس.
علاقة الخطابة بعلم الاجتماع:
يجب على الخطيب أن يكون ملما بسياسة الناس، وما يجب لكل طبقة من المعاملة، وما يلزم لكل نوع من الناس من خطاب، وعليه أن يكون عليما بروح الجماعة دارسا لأخلاقها فاهما لما يسيطر عليها، ولذا كان علم الخطابة صلته قوية بعلم الاجتماع.
বাগ্মিতা শিল্প (علم الخطابة):বাগ্মিতা এমন একটি জ্ঞান যার রয়েছে নির্দিষ্ট মূলনীতি (أصول) ও নিয়মাবলি; যে ব্যক্তি এর পথে পরিচালিত হয় তাকে বাগ্মী হিসেবে গণ্য করা হয়। এটি প্রভাব বিস্তারের পদ্ধতি, প্ররোচিত করার মাধ্যম, বাগ্মীর গুণাবলি, বিভিন্ন বিষয়ের প্রেক্ষিতে যে সকল অর্থ বা ভাবের দিকে লক্ষ্য রাখা উচিত এবং বক্তব্যের শব্দাবলি, শৈলী ও বিন্যাস কেমন হওয়া প্রয়োজন তা নিয়ে আলোচনা করে। এই জ্ঞান পথকে আলোকিত করে, তবে তা আচরণে বাধ্য করে না; বরং এটি শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন কর্মপন্থা ও পথ অধ্যয়নের দিকনির্দেশনা দেয়, কিন্তু তাতে চলতে বাধ্য করে না।
যুক্তিবিদ্যার সাথে বাগ্মিতার সম্পর্ক:
যদি যুক্তিবিদ্যা (علم المنطق) এমন নিয়মাবলি নিয়ে আলোচনা করে যা মানুষের চিন্তাশক্তিকে ভুল থেকে রক্ষা করে, তবে তা মনের প্রবৃত্তি, খেয়াল-খুশি, ভুলের কারণ এবং চিন্তার ধারাবাহিকতা নিয়েও গবেষণা করে। এই সমস্ত বিষয় একজন বাগ্মীকে প্রভাব বিস্তার ও শ্রোতাদের আশ্বস্ত করার ক্ষেত্রে তার লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করে।
মনোবিজ্ঞানের সাথে বাগ্মিতার সম্পর্ক:
একজন বাগ্মী ততক্ষণ পর্যন্ত শ্রোতাদের কোনো বিষয়ে সম্মত করতে পারেন না, যতক্ষণ না তিনি তাদের মাঝে উদ্দীপনা সৃষ্টি করতে এবং তাদের অনুভূতিকে স্পর্শ করতে সক্ষম হন। আর এটি তখনই সম্ভব যখন তিনি তাদের আগ্রহের জায়গাগুলো এবং মনোযোগ আকর্ষণের উপায়গুলো সম্পর্কে অবগত থাকেন; যা কেবল মনোবিজ্ঞানের মাধ্যমেই সম্ভব। এখান থেকেই বাগ্মিতা শিল্পের সাথে মনোবিজ্ঞানের নিবিড় সম্পর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
সমাজবিজ্ঞানের সাথে বাগ্মিতার সম্পর্ক:
একজন বাগ্মীর জন্য আবশ্যক হলো মানুষের পরিচালনা পদ্ধতি সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখা এবং সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের সাথে কেমন আচরণ করতে হয় ও কার সামনে কোন ধরনের বক্তব্য প্রদান করতে হয় সে সম্পর্কে জ্ঞান রাখা। তাকে অবশ্যই জনসমষ্টির মানসিকতা সম্পর্কে সচেতন হতে হবে, তাদের নৈতিকতা অধ্যয়ন করতে হবে এবং তাদের ওপর নিয়ন্ত্রণকারী বিষয়গুলো বুঝতে হবে। তাই সমাজবিজ্ঞানের সাথে বাগ্মিতা শিল্পের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর।
(খণ্ড: ১)
আল-খুতাবাতুল ইসলামিয়া
(পৃষ্ঠা: ১১)
الخطابة:تعريفها:
من فنون النثر الأدبي فنٌّ لساني يلقى على جمهور السامعين، وهذا الفن النثري هو الخطابة، وللخطابة مجالاتها التي لا يمكن لأي فن أدبي آخر أن يغني عنها بحكم طبيعتها التي تلازمها على مدى العصور.
أنواعها:
تتعدد أنواع الخطابة بحسب مجالاتها المختلفة ولكن ما يهمنا الخطابة الدينية وهي التي تلقى في المساجد في صلاة الجمعة والعيدين، وفي المناسبات الدينية المختلفة للوعظ والإرشاد والحث على الاستمساك بالفضائل الإسلامية.
طرق تحصيلها:
لا شك أن الخطابة منصب خطير، لا يصل إليها طالبها بيسر، بل يحتاج طالبها إلى زاد عظيم، وصبر ومعاناة، واحتمال للمشاق؛ ليصل إلى تلك العناية السامية وطرق تحصيلها ما يأتي:-
1- فطرة تلائم الخطابة:
يستحب أن يكون الخطيب فصيحا طلق اللسان، ثابت الجنان، ذكي القلب، وأن تكون مخارج الحروف عنده صحيحة.
2- دراسة أصول الخطابة:
لا شك أن هذه الأصول لا تكفي وحدها، بل لا بد أن يكون معها استعداد كامن، ومران شديد على الخطابة.
বক্তৃতা:এর সংজ্ঞা:
সাহিত্যিক গদ্য শিল্পের অন্যতম একটি শাখা হলো বাচনিক শিল্প যা শ্রোতৃমণ্ডলীর সামনে পেশ করা হয়; আর এই গদ্য শিল্পই হলো বক্তৃতা। বক্তৃতার এমন কিছু ক্ষেত্র রয়েছে যা অন্য কোনো সাহিত্যিক শিল্প তার সহজাত বৈশিষ্ট্যের কারণে পূরণ করতে পারে না, যা যুগ যুগ ধরে এর সাথে অবিচ্ছেদ্য হয়ে আছে।
এর প্রকারভেদ:
বিভিন্ন ক্ষেত্রের প্রেক্ষাপটে বক্তৃতার অনেক প্রকারভেদ রয়েছে, তবে আমাদের আলোচ্য বিষয় হলো ধর্মীয় বক্তৃতা। এটি সেই বক্তৃতা যা জুমুআ ও দুই ঈদের নামাজে মসজিদে প্রদান করা হয় এবং বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ওয়াজ, নসিহত ও ইসলামি গুণাবলি ধারণ করার আহ্বানে পেশ করা হয়।
এটি অর্জনের উপায়সমূহ:
নিঃসন্দেহে বক্তৃতা একটি গুরুত্বপূর্ণ পদমর্যাদা; এর অন্বেষণকারী এটি সহজেই লাভ করতে পারে না। বরং এটি অর্জনের জন্য শিক্ষার্থীর প্রয়োজন প্রচুর পাথেয়, ধৈর্য, সাধনা এবং প্রতিকূলতা সহ্য করার ক্ষমতা; যাতে সে সেই উচ্চ স্তরে পৌঁছাতে পারে। এটি অর্জনের উপায়গুলো নিম্নরূপ:-
1- বক্তৃতার উপযোগী সহজাত প্রবৃত্তি:
বক্তার জন্য পছন্দনীয় হলো প্রাঞ্জলভাষী, সাবলীল, দৃঢ় চিত্ত ও বুদ্ধিমান হওয়া এবং তার প্রতিটি বর্ণের উচ্চারণস্থল সঠিক (صحيحة) হওয়া।
2- বক্তৃতার মূলনীতি (أصول) অধ্যয়ন করা:
নিঃসন্দেহে কেবল এই মূলনীতি (أصول) গুলোই যথেষ্ট নয়, বরং এর পাশাপাশি সুপ্ত প্রতিভা এবং বক্তৃতার ওপর কঠোর অনুশীলনের সমন্বয় থাকা আবশ্যক।
(খণ্ড: ১)
আল-খুতাবাতুল ইসলামিয়া
(পৃষ্ঠা: ১২)
3-قراءة كلام البلغاء:
ودراسته دراسة متعرف لمناص التأثير، وأسرار البلاغة، ومتذوق لما فيها من جمال الأسلوب وحسن التعبير، وجودة التفكير.
4- الإطلاع على كثير من العلوم التى تتصل بالجماعات:
كالاقتصاد والشرع، والأخلاق، والاجتماع، وعلم النفس، والمعتقدات.
5- الثروة الكثيرة من الألفاظ والأساليب:
الخطابة تحتاج إلى أن يعبر عن المعنى الواحد بعدة عبارات، وأساليب متغايرة.
6- ضبط النفس واحتمال المكاره:
يستحب للخطيب أن يتذرع بالصبر، وضبط النفس، والسيطرة على أعصابه ومشاعره، كما عليه أن يقضي على كل مظاهر الاضطراب والانفعال والوجل؛ لأن ظاهرة الاضطراب والوجل تورث في الخطيب الحيرة، والحيرة تسبب له التلعثم والارتباك.
7- الارتياض والممارسة:
رياضة النفس على الخطابة تكون بالارتياض على الفكرة والارتياض على الأسلوب والارتياض على الإلقاء، أما الارتباط على الفكرة فهو تعويد النفس على ضبط الأفكار، ووزن الآراء وتضنيف العناصر، وعقد الصلة بينهما وبين ما يجري في المجتمع من قضايا ومشكلات، وتعويد النفس على الاتصال بفئات البشر، والاندماج معها، والتعرف على أحوالها، أما الارتياض على الأسلوب فهو المران على التحدث ببليغ المقال، وفصيح
৩-বাকপটুদের (بلغاء) বক্তব্য পাঠ করা:
এবং তা অধ্যয়ন করা এমন একজনের ন্যায় যে প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রসমূহ ও অলঙ্কারশাস্ত্রের (بلاغة) রহস্য সম্পর্কে পরিজ্ঞাত এবং এর শৈল্পিক সৌন্দর্য, উত্তম প্রকাশভঙ্গি ও চিন্তার উৎকর্ষের স্বাদ আস্বাদনকারী।
৪- সমাজ সংশ্লিষ্ট বহুবিধ শাস্ত্র সম্পর্কে অবগত হওয়া:
যেমন—অর্থনীতি, শরয়ি বিধান (شرع), নীতিবিদ্যা (أخلاق), সমাজবিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান ও বিশ্বাসমালা (معتقدات)।
৫- শব্দভাণ্ডার ও বর্ণনাশৈলীর প্রাচুর্য:
বাগ্মিতার জন্য প্রয়োজন একটি নির্দিষ্ট অর্থকে বিভিন্ন শব্দগুচ্ছ ও বৈচিত্র্যময় শৈলীর মাধ্যমে প্রকাশ করা।
৬- আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিকূলতা সহ্য করা:
বক্তার জন্য ধৈর্য ধারণ করা, নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা এবং নিজের স্নায়ু ও আবেগের ওপর কর্তৃত্ব রাখা বাঞ্ছনীয়। তদ্রূপ তাকে অস্থিরতা, উত্তেজনা ও ভীতির সকল লক্ষণ দূর করতে হবে; কারণ অস্থিরতা ও ভীতির প্রবণতা বক্তার মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্বের সৃষ্টি করে, আর এই দ্বিধাদ্বন্দ্ব তাকে তোতলামি ও কিংকর্তব্যবিমূঢ়তার দিকে ঠেলে দেয়।
৭- অনুশীলন ও চর্চা:
বাগ্মিতার ক্ষেত্রে আত্মিক অনুশীলন হলো—চিন্তার অনুশীলন, বর্ণনাশৈলীর অনুশীলন এবং উপস্থাপনার অনুশীলন। আর চিন্তার অনুশীলন হলো নিজের ধারণাসমূহকে সুসংহত করা, মতামতের গুরুত্ব অনুধাবন করা ও উপাদানসমূহকে শ্রেণীবদ্ধ করা এবং এসবের সাথে সমাজে চলমান বিভিন্ন সমস্যা ও বিষয়ের সম্পর্ক স্থাপন করার অভ্যাস গড়ে তোলা। সেই সাথে মানুষের বিভিন্ন স্তরের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা, তাদের সাথে মেলামেশা করা এবং তাদের অবস্থা সম্পর্কে অবগত হওয়া। আর বর্ণনাশৈলীর অনুশীলন হলো প্রাঞ্জল ও সাবলীল ভাষায় কথা বলার চর্চা করা।
(খণ্ড: ১)
আল-খুতাবাতুল ইসলামিয়া
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الكلام. وهذا لا يتأتى إلا بحفظ آيات من القرآن والأحاديث النبوية، وعبارات البلغاء قديما وحديثا، كما يجب على الخطيب مطالعة الكتب الفكرية والأدبية فهي عامل آخر لارتقاء أسلوبه، وجودة تعبيره، أما الارتياض على الإلقاء فيبدأ بتعويد اللسان عند النطق على إخراج الحروف من مخارجها، ثم قراءة كل ما يستحسنه بصوت مرتفع، ولهجة متزنة، مصورا بصوته معاني ما يقرأ بتغيير النبرات، وبرفع الصوت وخفضه، ثم بإلقاء الموضوع بينه وبين نفسه متصورا أنه أمام جمهور، ثم بإلقاء الموضوع أمام من يثق بهم من إخوانه، ثم بإلقاء الموضوع في محيط لا يعرفه فيه أحد غير هياب ولا وجل.
বক্তব্য। আর এটি কুরআনুল কারিমের আয়াত ও নববী হাদিস এবং প্রাচীন ও আধুনিক কালের অলঙ্কারবিদদের বাচনভঙ্গি মুখস্থ করা ব্যতীত অর্জিত হয় না। ঠিক তেমনি একজন খতিবের জন্য বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাহিত্যিক গ্রন্থসমূহ নিয়মিত পাঠ করা আবশ্যক, কারণ তা তার শৈলীর উন্নয়ন এবং অভিব্যক্তির উৎকর্ষ সাধনে অন্যতম সহায়ক। আর বক্তব্য উপস্থাপনার অনুশীলনের ক্ষেত্রে এর সূচনা হয় উচ্চারণের সময় জিহ্বাকে মাখরাজ থেকে বর্ণসমূহ শুদ্ধভাবে বের করার অভ্যস্তকরণের মাধ্যমে। এরপর যা কিছু পছন্দসই মনে হয় তা উচ্চস্বরে এবং ভারসাম্যপূর্ণ তানে পাঠ করা, যেখানে কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন এবং আওয়াজ উঁচু-নিচু করার মাধ্যমে পঠিত বিষয়ের মর্মার্থ কণ্ঠে ফুটিয়ে তোলা হবে। অতঃপর জনসম্মুখে উপস্থিত আছেন কল্পনা করে নিজের মনে মনে বিষয়টি উপস্থাপন করা, তারপর নিজের ভাইদের মধ্যে যারা নির্ভরযোগ্য (ثقة) তাদের সামনে তা উপস্থাপন করা এবং সবশেষে এমন এক পরিবেশে কোনো প্রকার দ্বিধা বা জড়তা ছাড়াই বিষয়টি পেশ করা যেখানে তাকে কেউ চেনে না।
(খণ্ড: ১)
আল-খুতাবাতুল ইসলামিয়া
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الآداب الخطابية:يجب على الخطيب أن يتحلى بآداب عند إلقاء الخطبة، ومن هذه الآداب ما يتعلق بحاله هو عند إلقاء الخطبة، ومنها ما يتعلق بالسامعين.
الآداب الخاصة بالخطيب:
1- سداد الرأي: ويكون بدراسته دراسة تامة للموضوع الذي يخطب فيه.
2- صدق اللهجة: وهو أن يظهر الخطيب مخلصا فيما يدعو إليه، وحريصا على الحقيقة، فإنه إن ظهر كذلك وثق الناس به، وصدقوه فيما يدعو إليه، وأحسوا بأنه شريف تجب إجابته؛ لشرفه وشرف ما يدعو إليه، ومن أجل أن يكون الإخلاص باديا، يجب أن يكون من حاله ما يطابق مقاله، فلا يتجافي عمله عن قوله، بل يكون أكثر الناس أخذا بقوله.
3- التودد من السامعين: ويكون بالتواضع لهم، وأن يكون ممن يألفون، ويؤلفون؛ فلا يكون جافيًا خشنًا قاسيًا.
آداب الخطيب مع السامعين:
ينبغى على الخطيب الاتصال بنفوس من يخاطبهم، والقرب من قلوبهم، والناس مختلفون، عادات وأخلاقا ومهنة ومرتبة، ولكل طائفة من الناس أحوال، تقتضي نوعا من الخطاب، لا تقتضيه أحوال الجماعة الأخرى؛ وعلى الخطيب أن يلبس لكل حال لبوسها، ويعالج كل طائفة بأنجع دواء له؛ ليستقيم له الطريق، ويصل إلى غرضه.
صفات الخطيب:
1- الاستعانة بالله: الخطيب الناجح هو الذي يحرص على الاستعانة بالله في كل الظروف والأحوال فهو يستعين بالله في الإعداد، وحسن الأداء، وجمال الإلقاء.
বক্তৃতার আদবসমূহ:একজন খতিব বা বক্তার জন্য খুতবা বা বক্তৃতা প্রদানের সময় কিছু আদব বা শিষ্টাচার অবলম্বন করা আবশ্যক। এই আদবগুলোর কিছু তাঁর নিজের অবস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট এবং কিছু শ্রোতাদের সাথে সংশ্লিষ্ট।
খতিবের সাথে সংশ্লিষ্ট বিশেষ আদবসমূহ:
১- মতামতের সঠিকতা ও দৃঢ়তা: এটি অর্জিত হয় যে বিষয়ে তিনি বক্তৃতা প্রদান করবেন সেই বিষয়টি পূর্ণাঙ্গভাবে অধ্যয়ন করার মাধ্যমে।
২- বাচনভঙ্গির সত্যনিষ্ঠতা: এর অর্থ হলো খতিব যা আহ্বান করছেন তাতে একনিষ্ঠ হওয়া এবং সত্যের প্রতি সচেষ্ট থাকা। যদি তিনি এমনভাবে নিজেকে প্রকাশ করেন, তবে মানুষ তাঁকে বিশ্বাস করবে এবং তাঁর দাওয়াতকে সত্য বলে গ্রহণ করবে। তারা অনুভব করবে যে তিনি একজন মর্যাদাবান ব্যক্তি যার ডাকে সাড়া দেওয়া আবশ্যক; তাঁর নিজের এবং তাঁর দাওয়াতের মর্যাদার কারণে। আর এই একনিষ্ঠতা ফুটিয়ে তোলার জন্য তাঁর কর্মের সাথে তাঁর কথার মিল থাকা আবশ্যক। তাঁর কাজ যেন তাঁর কথা থেকে ভিন্ন না হয়, বরং তিনি নিজেই যেন তাঁর কথার ওপর আমলকারী হিসেবে মানুষের মধ্যে অগ্রগণ্য হন।
৩- শ্রোতাদের প্রতি হৃদ্যতা: এটি অর্জিত হয় তাঁদের প্রতি বিনয়ী হওয়ার মাধ্যমে এবং এমন আচরণের মাধ্যমে যেন তাঁরা তাঁর প্রতি আকৃষ্ট হন ও তিনি তাঁদের সাথে মিলেমিশে থাকতে পারেন; তিনি যেন রুক্ষ, কঠোর বা কর্কশ না হন।
শ্রোতাদের সাথে খতিবের আদবসমূহ:
খতিবের উচিত তাঁর সম্বোধিত ব্যক্তিদের মনস্তত্ত্ব অনুধাবন করা এবং তাঁদের হৃদয়ের কাছাকাছি হওয়া। মানুষ অভ্যাস, চরিত্র, পেশা এবং সামাজিক মর্যাদার দিক থেকে ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। মানুষের প্রতিটি শ্রেণির ভিন্ন ভিন্ন অবস্থা থাকে যা একটি নির্দিষ্ট ধরণের আলোচনার দাবি রাখে, যা অন্য কোনো শ্রেণির অবস্থার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নাও হতে পারে। খতিবের উচিত প্রতিটি পরিস্থিতির সাথে সঙ্গতি রেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং প্রতিটি শ্রেণিকে তাদের জন্য সবচেয়ে কার্যকর পন্থায় সম্বোধন করা; যাতে তাঁর পথ সুগম হয় এবং তিনি তাঁর উদ্দেশ্য সফল করতে পারেন।
খতিবের গুণাবলি:
১- আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করা: একজন সফল খতিব তিনি, যিনি সকল পরিস্থিতিতে আল্লাহর সাহায্য কামনায় সচেষ্ট থাকেন। তিনি প্রস্তুতি গ্রহণ, সুন্দরভাবে উপস্থাপনা এবং সুনিপুণভাবে বক্তৃতা প্রদানের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করেন।
(খণ্ড: ১)
আল-খুতাবাতুল ইসলামিয়া
(পৃষ্ঠা: ১৫)
3- الإخلاص: الإخلاص هو روح الأعمال وسر قبولها وبه يجمع الله سبحانه وتعالى القلوب، فالإخلاص عامل هام في النجاح والتأثير وينبغى على الخطيب أن يحذر من أمراض القلوب، وأن يبتعد عن الغرور والرياء وحب الظهور.
3- القدوة الحسنة: ينبغي على الخطيب أن يكون قدوة حسنة، وأن يكون سلوكه قويما، وأن يعمل بما يقول، وأن يكون إماما فيما يدعو إليه.
4- الشجاعة: لا بد أن يكون الخطيب شجاعا لا يخاف إلا الله وهو صاحب رسالة، ولذلك فالشجاعة ضرورية كذلك لتبليغ الحق المبين، وتجلية حقائق الإسلام، وعلاجه للمشكلات بكل وضوح وصراحة، ومحاربة الظلم، وفضح الباطل، وإقرار العدل.
5- الموهبة: إن نجاح الخطيب في مهمته فيه جانب يكتسبه عن طريق كتب فنون الخطابة وآدابها، والاستماع إلى الخطباء، والاستفادة منهم.
وجانب الموهبة التى يمنحها الله للإنسان وذلك بحب الخطابة، والميل إليها والانسجام معها.
6- قوة الملاحظة: يجب أن تكون نظرات الخطيب إلى سامعيه نظرات فاحصة كاشفة؛ يقرأ من الوجوه خطرات القلوب، ومن اللمحات ما تكنه نفوسهم نحو قوله؛ ليجدد من نشاطهم، ويذهب بفتورهم ولتتصل روحه بأرواحهم، ونفسه بنفوسهم.
7- حضور البديهة: لتسعفه بالعلاج المطلوب إن وجد من القوم إعراضا، والدواء الشافى إن وجد منهم اعتراضا، وقد يلقي الخطيب خطبته فيعقب بعض السامعين معترضا، أو طالبا الإجابة عن مسألة، فإذا لم تكن البديهة حاضرة يجيب الخطيب إجابة سهلة موثقة وإلا ضاعت الخطبة، وآثارها.
৩- ইখলাস (নিষ্ঠা): ইখলাস হলো আমলের প্রাণ এবং তা কবুল হওয়ার গোপন রহস্য। এর মাধ্যমেই মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা অন্তরসমূহকে ঐক্যবদ্ধ করেন। সফলতা ও প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে ইখলাস একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। একজন খতিবের উচিত অন্তরের ব্যাধিগুলো সম্পর্কে সতর্ক থাকা এবং অহংকার, রিয়া (লোকদেখানো ইবাদত) ও সুখ্যাতির মোহ থেকে দূরে থাকা।
৩- উত্তম আদর্শ: খতিবের উচিত নিজে একজন উত্তম আদর্শ হওয়া, তার আচরণ সঠিক ও সুদৃঢ় হওয়া, তিনি যা বলেন সে অনুযায়ী আমল করা এবং তিনি যার দিকে দাওয়াত দেন তাতে অগ্রগামী হওয়া।
৪- সাহসিকতা: খতিবকে অবশ্যই সাহসী হতে হবে, তিনি আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে ভয় পাবেন না; কেননা তিনি একটি মহান বার্তার বাহক। তাই সুস্পষ্ট সত্য প্রচার, ইসলামের হাকিকতসমূহ ফুটিয়ে তোলা, অত্যন্ত স্পষ্টতা ও অকপটতার সাথে সমস্যার সমাধান করা, জুলুমের বিরুদ্ধে লড়াই করা, বাতিলকে উন্মোচিত করা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য সাহসিকতা অপরিহার্য।
৫- প্রতিভা: খতিবের নিজ দায়িত্বে সফল হওয়ার একটি দিক হলো যা তিনি বাগ্মিতা শিল্পের বই ও এর শিষ্টাচার অধ্যয়ন, খতিবদের বক্তব্য শ্রবণ এবং তাদের থেকে উপকৃত হওয়ার মাধ্যমে অর্জন করেন।
আর অন্য দিকটি হলো সেই প্রতিভা যা আল্লাহ মানুষকে দান করেন; অর্থাৎ বাগ্মিতার প্রতি ভালোবাসা, এর প্রতি সহজাত ঝোঁক এবং এর সাথে একাত্মতা।
৬- পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা: শ্রোতাদের প্রতি খতিবের দৃষ্টি হতে হবে নিবিড় ও পর্যবেক্ষণমূলক; তিনি যেন তাদের চেহারা দেখে অন্তরের চিন্তাগুলো পড়তে পারেন এবং তাদের দৃষ্টির ভঙ্গি দেখে বুঝতে পারেন তার বক্তব্যের প্রতি তাদের মনের অনুভূতি কী; যাতে তিনি তাদের মাঝে কর্মস্পৃহা সজীব করতে পারেন, তাদের জড়তা দূর করতে পারেন এবং যেন তার রুহ তাদের রুহের সাথে এবং তার নফস তাদের নফসের সাথে মিশে যেতে পারে।
৭- উপস্থিত বুদ্ধি: যাতে শ্রোতাদের মাঝে বিমুখতা দেখা দিলে তিনি প্রয়োজনীয় প্রতিকার করতে পারেন এবং তাদের পক্ষ থেকে কোনো আপত্তি আসলে তার আরোগ্যকারী সমাধান দিতে পারেন। কখনো খতিব খুতবা প্রদান করেন, এমতাবস্থায় কোনো শ্রোতা আপত্তি করতে পারেন অথবা কোনো বিষয়ে উত্তর চাইতে পারেন। যদি তখন উপস্থিত বুদ্ধি না থাকে তবে খতিব সহজ ও নির্ভরযোগ্য (موثقة) উত্তর দিতে পারবেন না, অন্যথায় খুতবা ও তার প্রভাব ম্লান হয়ে যাবে।
(খণ্ড: ১)
আল-খুতাবাতুল ইসলামিয়া
(পৃষ্ঠা: ১৬)
8-طلاقة اللسان: تعد طلاقة اللسان من ألزم صفات الخطيب، وأشدها أثرا في انتصاره في ميادين القول.
9- رباطة الجاش: يجب أن يقف الخطيب مطمئن النفس، هادئ البال، قوى الجنان، غير هياب ولا وجل، وغير مضطرب ولا منفعل.
10- القدرة على مراعاة مقتضى الحال: يجب على الخطيب أن يكون قادرا على إدراك وضع الجماعة، وما تتطلبه من تذكير وإصلاح، وما يصلح لها من أساليب ملائمة، ومن توجيهات مناسبة يراعي فيها المصلحة واقتضاء الحال.
11- قوة العاطفة: يجب على الخطيب أن يمتلىء حماسة فيما يدعو إليه، واعتقادا بصدقه؛ لأن ما يخرج من القلب يدخل القلب فلا بد أن تكون حماسة الخطيب أقوى من حماسة سامعيه؛ ليفيض عليهم، ويروي غلتهم، وإلا أحسوا بفتور نفسه، فضاع أثر قوله.
12- النفوذ وقوة الشخصية: الخطيب الناجح هو الذي يتمتع بقوة الشخصية، وإشراقة الروح، وسداد الرأي، وسعة العلم، وتأثير نصائحه ومواعظه.
13- حسن الهيئة: يجب على الخطيب أن يراعي الهيئة الحسنة في زيه، ويهتم بكل ما يجعل هيئته حسنة، وأن تتزن حركاته، وعليه أن يبتعد عن الحركات سواء باليد أو الرأس أو غير ذلك، التي تجعل منه ممثلا رخيصا ومثارا للضحك والتندر.
8-বাকপটুতা: বাকপটুতা একজন খতিবের জন্য অন্যতম অপরিহার্য গুণ এবং বক্তৃতার ময়দানে সফলতার ক্ষেত্রে এটি সবচেয়ে প্রভাবশালী।
9- মনোবল ও চিত্তের স্থিরতা: খতিবকে অবশ্যই আত্মবিশ্বাসী, প্রশান্ত চিত্ত এবং দৃঢ় হৃদয়ের অধিকারী হয়ে দাঁড়াতে হবে; তাকে ভীরুতা, আতঙ্ক, অস্থিরতা বা অতি-আবেগপ্রবণতা থেকে মুক্ত থাকতে হবে।
10- পরিস্থিতির দাবি বিবেচনার ক্ষমতা: খতিবের জন্য জনসমষ্টির অবস্থা অনুধাবন করা এবং তাদের জন্য কী ধরণের উপদেশ ও সংশোধন প্রয়োজন, তা বোঝার সক্ষমতা থাকা আবশ্যক। জনহিতকর ও পরিস্থিতির চাহিদাকে বিবেচনায় রেখে উপযুক্ত পদ্ধতি ও সঠিক নির্দেশনার মাধ্যমে তা উপস্থাপন করতে হবে।
11- আবেগের শক্তি: খতিব যা কিছুর দিকে আহ্বান জানাবেন, সে বিষয়ে তাকে অবশ্যই পূর্ণ উদ্যমী হতে হবে এবং তার সত্যতার ওপর দৃঢ় বিশ্বাস রাখতে হবে। কারণ, যা অন্তর থেকে নিঃসৃত হয়, তা অন্তরেই প্রবেশ করে। তাই খতিবের উদ্দীপনা শ্রোতাদের উদ্দীপনার চেয়ে অধিক হওয়া প্রয়োজন, যাতে তিনি তাদের প্রভাবিত করতে পারেন এবং তাদের তৃষ্ণা মেটাতে পারেন; অন্যথায় তারা খতিবের মানসিক শিথিলতা অনুভব করবে এবং তার বক্তব্যের প্রভাব নষ্ট হয়ে যাবে।
12- প্রভাব ও ব্যক্তিত্বের দৃঢ়তা: সফল খতিব তিনিই, যিনি দৃঢ় ব্যক্তিত্ব, আত্মিক উজ্জ্বলতা, সঠিক বিচারবোধ, গভীর পাণ্ডিত্য এবং নসিহত ও উপদেশের কার্যকারিতার অধিকারী।
13- বাহ্যিক সৌন্দর্য ও পরিপাটিতা: খতিবকে তার পোশাক-পরিচ্ছদে সুন্দর অবয়ব বজায় রাখতে হবে এবং যা কিছু তাকে মার্জিত করে তোলে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। তার অঙ্গভঙ্গি হতে হবে ভারসাম্যপূর্ণ। তাকে হাত বা মাথা নাড়ানোর ক্ষেত্রে এমন সব আচরণ থেকে দূরে থাকতে হবে, যা তাকে একজন সস্তা অভিনেতা হিসেবে ফুটিয়ে তোলে এবং উপহাস ও কৌতুকের পাত্রে পরিণত করে।
(খণ্ড: ১)
আল-খুতাবাতুল ইসলামিয়া
(পৃষ্ঠা: ১৭)
زاد الخطيب:إن الخطيب الناجح لا بد أن يتزود بزاد يتناسب مع مهنته، وأهم ما يتزود به الخطيب ما يلي:-
1- القرآن الكريم: ينبغى على الخطيب أن يكون وثيق الصلة بالقرآن، كثير التلاوة له، متقنًا تجويده، مجتهدًا في حفظه.
2- الحديث الشريف: على الخطيب أن يكون جليس كتب الحديث الشريف وأن يطلع على أكبر قدر من أبواب الحديث، كما عليه أن يحفظ قدرا كبيرا من الحديث يمكنه من الاستشهاد بسنة سيد الخلق في شتى المناسبات، ومختلف المجالات.
3- السيرة والتاريخ: ينبغى على الخطيب أن يهتم بقصص الأنبياء، ويدرس سيرة الرسول صلى الله عليه وسلم دراسة خاصة من زوايا متعددة، ومراجع متنوعة.
4- الأحكام الفقهية: ينبغى على الخطيب أن يكون ملما بكثير من الأحكام الفقهية؛ ليقدم للناس الحلول العملية من الأحكام الإسلامية.
5- الحكم والأمثال: من أعظم الأساليب المؤثرة الحكم والأمثال، فهي كلمات مختصرة، تجمع خلاصة معانٍ، وحصاد تجارب لها أبعادها في النفس. والخطيب الموفق هو الذي يحرص على حفظ أكبر قدر من الحكم والأمثال ليستشهد بها في مواضعها.
6- السياسة والتيارات الفكرية: يجب على الخطيب أن يطلع على أحداث الناس وقضايا الساعة، ويقدم للناس فهم الإسلام في شتى ميادين الحياة.
খতিবের পাথেয়:একজন সফল খতিবকে অবশ্যই এমন কিছু পাথেয় সংগ্রহ করতে হবে যা তার পেশার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। খতিব যা কিছু সংগ্রহ করবেন তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিম্নরূপ:-
১- আল-কুরআনুল কারীম: খতিবের উচিত কুরআনের সাথে নিবিড় সম্পর্ক রাখা, অধিক পরিমাণে তিলাওয়াত করা, তাজউইদ আদায়ে পারদর্শী হওয়া এবং তা হিফজ করার ক্ষেত্রে সচেষ্ট হওয়া।
২- হাদিস শরিফ: খতিবকে হাদিস শরিফের কিতাবসমূহের একনিষ্ঠ পাঠক হতে হবে এবং হাদিসের অধিকাংশ অধ্যায় সম্পর্কে অবগত হতে হবে। তদ্রূপ তাকে হাদিসের একটি বড় অংশ মুখস্থ করতে হবে, যা তাকে বিভিন্ন উপলক্ষে এবং নানাবিধ ক্ষেত্রে সৃষ্টিজগতের সরদারের সুন্নাহ (سنة) থেকে দলিল পেশ করতে সক্ষম করবে।
৩- সিরাত ও ইতিহাস: খতিবের উচিত আম্বিয়া কিরামের কাহিনীর প্রতি গুরুত্বারোপ করা এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সিরাত বিভিন্ন আঙ্গিক ও নানাবিধ উৎস থেকে বিশেষভাবে অধ্যয়ন করা।
৪- ফিকহি বিধান (الأحكام الفقهية): খতিবের উচিত ফিকহের নানাবিধ বিধিবিধান সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান রাখা; যাতে তিনি মানুষকে ইসলামি শরয়ি বিধান থেকে ব্যবহারিক সমাধান প্রদান করতে পারেন।
৫- প্রজ্ঞা ও প্রবাদ-প্রবচন: অন্যতম প্রভাবশালী পদ্ধতি হলো প্রজ্ঞা ও প্রবাদ-প্রবচন। এগুলো মূলত সংক্ষিপ্ত বাক্য, যা অর্থের নির্যাস এবং অভিজ্ঞতার ফসলকে ধারণ করে এবং অন্তরে গভীর প্রভাব ফেলে। আর সফল খতিব তিনিই যিনি অধিক পরিমাণে প্রজ্ঞা ও প্রবাদ-প্রবচন মুখস্থ রাখার ব্যাপারে সচেষ্ট হন, যাতে তিনি যথাস্থানে সেগুলো উদ্ধৃত করতে পারেন।
৬- রাজনীতি ও বুদ্ধিবৃত্তিক মতাদর্শ: খতিবকে অবশ্যই সমসাময়িক ঘটনাবলি ও বর্তমান প্রেক্ষাপট সম্পর্কে অবগত হতে হবে এবং জীবনের নানাবিধ ক্ষেত্রে ইসলামের সঠিক বুঝ মানুষের সামনে তুলে ধরতে হবে।
(খণ্ড: ১)
আল-খুতাবাতুল ইসলামিয়া
(পৃষ্ঠা: ১৮)
التنسيق:هو تنظيم أجزاء الخطبة، وإحكام تركيبها، وربط بعضها ببعض، ووضع أدلتها في شكل منتج؛ فالتنسيق هو بناء الخطبة، ونظام عقدها، وللخطبة ثلاث مراحل:
1- المقدمة.
2- الإثبات.
3- الخاتمة.
أولا: المقدمة
هي ما يجعلها الخطيب صدر خطبته؛ ليثير الفكر إليها، وليعطى السامعين صورة إجمالية لها، وليحصر لهم معانيه وأفكاره في نطاق لا يعدوه، ولا يتجاوزه وتشتمل المقدمة على ما يأتى:-
أ- حسن الافتتاح:
بالحمد لله والثناء عليه والصلاة على رسول الله صلى الله عليه وسلم إلخ. كما يجب أن يعنى الخطيب بافتتاح خطبته حتى يهيئ الأسماع لتتقبله بقبول حسن، ويشترط أن تحتوي المقدمة على حمد الله والثناء عليه وتوحيده وتنزيهه، وكذا ذكر الشهادتين؛ وللخطباء مذاهب شتى في افتتاحهم، وسنذكر بعضها على سبيل المثال، لا الحصر:
1- فمن الخطباء من يفتتح خطبته بما يشير إلى موضوعها، ويلوح بالقصد منها.
2- ومن الخطباء من يبتدئ خطبته بحكمة أو مثل سائر، أو بعض أقوال المتقدمين، أو آية قرآنية، أو حديث شريف يناسب المقام، ويكون حجة في الاستدلال، كخطيب يبتدئ خطبته في تعاون الجماعة في إصلاح حالها، وتقويم الفاسد من أمرها بتلاوة قوله تعالى: {وَلْتَكُنْ مِنْكُمْ أُمَّة
সমন্বয়:এটি হলো খুতবার অংশগুলোর বিন্যাস, এর গাঠনিক সুসংহতি, একটি অংশের সাথে অন্য অংশের সংযোগ স্থাপন এবং এর দলিলসমূহকে একটি ফলপ্রসূ অবয়বে উপস্থাপন করা; সুতরাং সমন্বয় হলো খুতবার অবকাঠামো এবং এর গাঁথুনির পদ্ধতি। আর খুতবার তিনটি পর্যায় রয়েছে:
1- ভূমিকা।
2- প্রমাণ উপস্থাপন (إثبات)।
3- উপসংহার।
প্রথমত: ভূমিকা
এটি হলো এমন বিষয় যা খতিব তাঁর খুতবার প্রারম্ভে রাখেন; যেন তা খুতবার প্রতি চিন্তাকে জাগ্রত করে এবং শ্রোতাদের কাছে এর একটি সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরে, আর তাদের কাছে খুতবার অর্থ ও ভাবনাগুলোকে এমন এক গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ করে যা সে অতিক্রম করবে না। ভূমিকা নিচের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে:-
ক- চমৎকার প্রারম্ভিকা:
আল্লাহর প্রশংসা ও তাঁর গুণগান এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর দরুদ পাঠ ইত্যাদির মাধ্যমে। অনুরূপভাবে খতিবের উচিত তাঁর খুতবার প্রারম্ভিকার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া যাতে শ্রোতাদের শ্রবণেন্দ্রিয় তা সুন্দরভাবে গ্রহণ করার জন্য প্রস্তুত হয়। শর্ত হলো ভূমিকায় আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান, তাঁর একত্ববাদ ও পবিত্রতা বর্ণনা এবং সেই সাথে শাহাদাতাইন (দুই সাক্ষ্যবাণী) উল্লেখ থাকতে হবে। খুতবা শুরুর ক্ষেত্রে খতিবদের বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে; আমরা উদাহরণ হিসেবে তার কয়েকটি উল্লেখ করব, তবে তা সীমাবদ্ধ নয়:
1- খতিবদের মধ্যে কেউ কেউ তাঁদের খুতবা এমন বিষয় দিয়ে শুরু করেন যা এর বিষবস্তুর প্রতি ইঙ্গিত করে এবং এর উদ্দেশ্যকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে।
2- আবার কোনো কোনো খতিব তাঁদের খুতবা শুরু করেন প্রবাদ-প্রবচন বা লোকপ্রিয় কোনো উপমা দিয়ে, অথবা পূর্ববর্তীদের কোনো উক্তি, অথবা কুরআনের কোনো আয়াত কিংবা প্রেক্ষাপটের সাথে মানানসই কোনো হাদিস শরিফ দিয়ে, যা দলিল উপস্থাপনের (استدلال) ক্ষেত্রে প্রমাণ (حجة) হিসেবে কাজ করবে। যেমন কোনো খতিব সমাজের পারস্পরিক সহযোগিতা, তাদের অবস্থার সংশোধন এবং ত্রুটিপূর্ণ বিষয়গুলো সংশোধনের বিষয়ে আল্লাহ তাআলার এই বাণী পাঠ করে খুতবা শুরু করেন: {তোমাদের মধ্য থেকে এমন একটি দল থাকা উচিত...
(খণ্ড: ১)
আল-খুতাবাতুল ইসলামিয়া
(পৃষ্ঠা: ১৯)
يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} .
3- ومن الخطباء من يفتتح خطبته بإحياء آراء قديمة للجماعة، يبنى عليها ما يدعوهم إليه من جديد، كما فعل الرسول صلى الله عليه وسلم عندما أنذر عشيرته الأقربين؛ إذ سألهم عن صدق صدقه حديثه فقال صلى الله عليه وسلم: "أرأيتم لو أخبرتكم أن خيلا بالوادى تريد أن تغير عليكم، أكنتم مصدقيَّ؟ فقالوا: نعم، ما جربنا عليك كذبا"، فألقى عليه الصلاة والسلام خطبته.
4- يستحسن أن تبدأ الخطبة بحمد الله، وببعض الآيات القرآنية، والأحاديث النبوية الشريفة التى تناسب المقام الديني الذي يتكلم فيه، ويجب أن يكون الافتتاح قصيرا موجزا، موافقا للموضوع.
ب- المقصد:
أن يذكر الخطيب في صدر كلامه الموضوع الذي سيتناوله إجمالا، من غير تفصيل؛ ليهيئ الأذهان لتلقيه، ولا بد عند ذكر المقصد من ملاحظة ثلاثة أمور:
أحدها: أن يذكره في قضية عامة، لا يبنيها على مقدمات، فإذا كان يريد أن يخطب جمعا يحثهم على إحياء القرآن الكريم بحفظه والعمل به، يقول مثلا: في القرآن نبأ ما قبلكم، وخبر ما بعدكم، وحكم ما بينكم، وهكذا نرى الموضوع قد ذكر في قضية عامة.
وثانيها: أن يكون واضحا في الدلالة على الموضوع.
وثالثها: أن يلقَى في جملة تثير خيال النفس، وتهزها، فتنشط إلى سماع ما يقال، وتهتز أوتار القلب بكل ما يجيء به الخطيب من معانٍ وعبارات جيدة محكمة.
{তারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করে, সৎকাজের আদেশ দেয় এবং অসৎকাজ (منكر) থেকে নিষেধ করে; আর তারাই সফলকাম।} .
৩- এবং বক্তাদের মধ্যে এমন কেউ কেউ আছেন যারা সম্প্রদায়ের পুরনো ধ্যান-ধারণা পুনরুজ্জীবিত করার মাধ্যমে তাদের ভাষণ শুরু করেন, যার ওপর ভিত্তি করে তিনি তাদের নতুন কোনো বিষয়ের দিকে আহ্বান করেন; যেমনটি করেছিলেন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন তিনি তাঁর নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করেছিলেন। তখন তিনি তাদের কাছে তাঁর কথার সত্যতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "তোমরা কি মনে করো, যদি আমি তোমাদের সংবাদ দিই যে উপত্যকায় একটি অশ্বারোহী বাহিনী তোমাদের ওপর আক্রমণ করতে উদ্যত, তবে কি তোমরা আমাকে বিশ্বাস করবে?" তারা বলল: "হ্যাঁ, আমরা আপনার ক্ষেত্রে কখনো মিথ্যার (كذب) অভিজ্ঞতা লাভ করিনি।" এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর ভাষণ প্রদান করেন।
৪- আল্লাহর প্রশংসা, কুরআনের কিছু আয়াত এবং সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হাদিসের মাধ্যমে ভাষণ শুরু করা উত্তম। ভাষণের প্রারম্ভিকা সংক্ষিপ্ত ও সারগর্ভ হওয়া উচিত এবং তা মূল বিষয়ের সাথে সংগতিপূর্ণ হওয়া আবশ্যক।
খ- উদ্দেশ্য:
বক্তা তাঁর বক্তব্যের শুরুতেই বিস্তারিত বর্ণনা না করে সংক্ষেপে সেই বিষয়টি উল্লেখ করবেন যা তিনি আলোচনা করতে যাচ্ছেন; যাতে শ্রোতাদের মন তা গ্রহণের জন্য প্রস্তুত হয়। উদ্দেশ্য বর্ণনার ক্ষেত্রে তিনটি বিষয় লক্ষ্য রাখা আবশ্যক:
এক: বিষয়টি একটি সাধারণ প্রসঙ্গের মাধ্যমে উল্লেখ করা, কোনো মুখবন্ধের ওপর ভিত্তি না করে। যেমন—যদি তিনি কোনো সমাবেশে পবিত্র কুরআন মুখস্থ করা ও সে অনুযায়ী আমল করার মাধ্যমে কুরআনকে পুনরুজ্জীবিত করার আহ্বান জানাতে চান, তবে তিনি বলতে পারেন: "কুরআনে রয়েছে তোমাদের পূর্ববর্তীদের সংবাদ, তোমাদের পরবর্তীদের খবর এবং তোমাদের মধ্যকার বিষয়ের ফয়সালা।" এভাবেই আমরা দেখি যে বিষয়টি একটি সাধারণ প্রসঙ্গের মাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুই: বিষয়ের নির্দেশনায় এটি স্পষ্ট হতে হবে।
তিন: এমন বাক্যের মাধ্যমে তা উপস্থাপন করা যা মনের কল্পনাকে জাগ্রত করে এবং তা আন্দোলিত করে, ফলে যা বলা হচ্ছে তা শোনার জন্য শ্রোতা উদ্যমী হয় এবং বক্তা যেসব চমৎকার অর্থ ও সুদৃঢ় (محكم) বাক্য নিয়ে আসেন তাতে হৃদয়ের তন্ত্রীগুলো স্পন্দিত হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-খুতাবাতুল ইসলামিয়া
(পৃষ্ঠা: ২০)
جـ- تقسيم الخطاب:
إذا كانت الخطبة واسعة الأطراف، مترامية النواحى، كثيرة الشعب، كان عمل الخطيب أن يجمع أشتاتها، ويضبط أجزاءها، ويقسمها تقسيما جامعا لأطرافها وحواشيها.
ثانيا: الإثبات
هو موضوع الخطبة وغرضها، وهو الذي يستغرق معظم وقتها، وأفكارها، فينبغي على الخطيب مراعاة ما يلي:-
أ- أن تكون الأفكار منظمة، ومسلسلة، ومترابطة ووافية.
ب- أن يحسن الاستشهاد على كل فكرة في موضعها.
جـ- أن يتجنب الاستطراد الذي يخرجه عن الموضوع إلى موضوع آخر فآخر.
د- أن يحرص على ربط الموضوع بالواقع ودنيا الناس وآثاره في الحياة التي نعيشها.
ثالثا: الخاتمة
وهى آخر ما يلقى في ذهن المستمع، وآخر ما يتعلق بباله، وللخواتيم أهميتها العظمى في تحقيق أهداف الخطبة لذلك ينبغي على الخطيب أن يراعي ما يلي:-
1- أن تتضمن تلخيصا للموضوع يكون جامعا مركزا يجمع أطرافه التى استغرقت معظم الوقت ليضعها أمام المستمع في كلمات مختصرة.
2- أن تشتمل على النتائج التى يريد الخطيب استخلاصها والتوصل إليها.
গ- বক্তব্যের বিভাজন:
যদি খুতবাটি দীর্ঘ ও বিস্তৃত হয়, এর পরিধি সুদূরপ্রসারী হয় এবং এর শাখা-প্রশাখা অনেক বেশি হয়, তবে খতিবের কাজ হলো এর বিক্ষিপ্ত অংশগুলোকে একত্রিত করা, এর প্রতিটি অংশকে সুসংহত করা এবং একে এমন এক পূর্ণাঙ্গ রূপে বিভাজন করা যা এর সকল দিক ও প্রান্তকে অন্তর্ভুক্ত করে।
দ্বিতীয়: বিষয়বস্তুর উপস্থাপনা ও প্রমাণিকরণ
এটি খুতবার মূল বিষয় ও লক্ষ্য, যা খুতবার অধিকাংশ সময় ও চিন্তাকে পরিব্যাপ্ত করে। সুতরাং খতিবের জন্য নিম্নলিখিত বিষয়গুলো লক্ষ্য রাখা আবশ্যক:-
ক- চিন্তাধারাগুলো যেন সুশৃঙ্খল, ধারাবাহিক, সুসংগত এবং পরিপূর্ণ হয়।
খ- প্রতিটি বিষয়ের সপক্ষে সঠিক স্থানে যথাযথভাবে দলিল বা উদ্ধৃতি উপস্থাপন করা।
গ- এমন অপ্রাসঙ্গিক দীর্ঘ আলোচনা এড়িয়ে চলা যা তাকে মূল বিষয় থেকে বিচ্যুত করে একের পর এক ভিন্ন বিষয়ের দিকে নিয়ে যায়।
ঘ- বিষয়বস্তুকে বাস্তব জগত ও মানুষের জীবনের সাথে সম্পৃক্ত করতে এবং আমাদের যাপিত জীবনে এর প্রভাব ফুটিয়ে তুলতে সচেষ্ট হওয়া।
তৃতীয়: উপসংহার
এটি শ্রোতার মস্তিষ্কে পৌঁছানো সর্বশেষ কথা এবং তার স্মৃতিতে গেঁথে থাকা শেষ অংশ। খুতবার লক্ষ্য অর্জনে উপসংহারের গুরুত্ব অপরিসীম, তাই খতিবের উচিত নিম্নোক্ত বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখা:-
১- এতে বিষয়বস্তুর এমন একটি সারসংক্ষেপ থাকা উচিত যা হবে পূর্ণাঙ্গ ও সংহত, যা দীর্ঘ সময় ধরে আলোচিত দিকগুলোকে একত্রিত করবে এবং শ্রোতার সামনে তা সংক্ষিপ্ত শব্দে উপস্থাপন করবে।
২- এতে এমন সব ফলাফল ও নির্যাস অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে যা খতিব খুতবা থেকে বের করতে বা যে সিদ্ধান্তে উপনীত হতে চেয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-খুতাবাতুল ইসলামিয়া
(পৃষ্ঠা: ২১)
3- أن تشتمل على توصيات، ودعوة للعمل، والسير نحو خطوة جديدة إلى الأمام.
4- الدعاء يستحب أن يكون مرتبطا بموضوع الخطبة ومعانيها.
التعبير:
1- يجب على الخطيب أن يعطي المعنى حقه واللفظ حقه، وأن يعتني بهما، وعليه أن يعرف أن تحسين اللفظ يجب أن يكون بجوار إحكام المعنى، وأنه لا غنى له عن المعنى المحكم؛ لأنه عمود الكلام والمقصد الاسمى، ولا عن اللفظ؛ لأنه بهاء القول وزينته، وعليه ألا يتكلف في اختيار اللفظ بل يجب أن يكون كلامه منسجما، متآخي النبرات، لا تنبو ألفاظه، ولا تتجافى عباراته، ولا يلجا في أسلوبه إلى العامية.
2- إن لكلمات الخطيب أثرا في أذن السامع، ولجرسها وقع في نفسه؛ فالسامع للخطيب يذوق، ويسمع ويفهم ويلاحظ النطق، ولذلك يجب أن تكون ألفاظ الخطبة سهلة النطق، لا يتعثر اللسان في إبرازها، ولا تتزاحم حروفها، وأن تكون ذات رنين خاص يهز أوتار النفس ويثير الشعور، ويجب أن تكون مقاطع الخطبة ذات وقع مؤثر، يلذ السمع، ويجمل الكلام.
الألفاظ:
نريد بالألفاظ الكلمات المفردة، وأهم خصائص مفردات الخطابة هي:-
1- أن يكون اللفظ واضحا مكشوفا وقريبا معروفا، من السهل إدراك معناه، والوصول إلى مرماه، لا يبعد عن مألوف السامعين.
2- ألا تكون الألفاظ مبتذلة أو عامية.
3- এতে সুপারিশমালা, কর্মের আহ্বান এবং সামনের দিকে নতুন পদক্ষেপ গ্রহণের দিকনির্দেশনা অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।
4- দোয়া খুতবার বিষয়বস্তু ও তার মর্মার্থের সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়া মুস্তাহাব (مستحب)।
প্রকাশভঙ্গি:
1- খতিবের উচিত অর্থ ও শব্দ—উভয়টিরই যথাযথ হক আদায় করা এবং এগুলোর প্রতি বিশেষ যত্নবান হওয়া। তাকে জানতে হবে যে, শব্দের সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি অর্থের দৃঢ়তা নিশ্চিত করা আবশ্যক। তিনি অকাট্য (محكم) অর্থের প্রয়োজনীয়তা এড়িয়ে যেতে পারেন না; কেননা তা-ই হলো আলোচনার মূল ভিত্তি ও সর্বোচ্চ উদ্দেশ্য। তেমনি শব্দের প্রয়োজনীয়তাও অনস্বীকার্য; কারণ তা বাণীর শ্রী ও সৌন্দর্য। শব্দ চয়নে তাকে কৃত্রিমতা পরিহার করতে হবে, বরং তার বক্তব্য হতে হবে সুসংহত ও সুসমন্বিত। শব্দগুলো যেন শ্রুতিকটু না হয়, বাক্যগুলো যেন অসংলগ্ন না হয় এবং তার প্রকাশভঙ্গিতে যেন কোনোভাবেই আঞ্চলিকতার আশ্রয় নেওয়া না হয়।
2- খতিবের প্রতিটি শব্দের শ্রোতার কানে একটি বিশেষ প্রভাব থাকে এবং এর ঝংকারের একটি আবেদন হৃদয়ে তৈরি হয়। কেননা খতিবের কথা শোনার সময় শ্রোতা তা আস্বাদন করে, শোনে, বোঝে এবং উচ্চারণ প্রত্যক্ষ করে। তাই খুতবার শব্দগুলো উচ্চারণ করা সহজ হতে হবে, যেন তা প্রকাশে জিহ্বা আড়ষ্ট না হয় এবং বর্ণগুলোর বিন্যাস জটিল না হয়। সেগুলোর মাঝে একটি বিশেষ ঝংকার থাকতে হবে যা হৃদয়ের তন্ত্রীতে নাড়া দেয় এবং অনুভূতিকে জাগ্রত করে। খুতবার অনুচ্ছেদগুলো এমন প্রভাব বিস্তারকারী হওয়া আবশ্যক যা শ্রবণে প্রশান্তি দেয় এবং বক্তব্যকে সুন্দর করে তোলে।
শব্দাবলি:
শব্দাবলি বলতে আমরা একক শব্দগুলোকে বোঝাচ্ছি। বাগ্মিতার ক্ষেত্রে শব্দাবলির প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:-
1- শব্দটি হতে হবে স্পষ্ট, উন্মুক্ত, সহজবোধ্য ও পরিচিত। এর অর্থ অনুধাবন করা এবং মূল উদ্দেশ্য পর্যন্ত পৌঁছানো যেন সহজ হয়, আর তা যেন শ্রোতাদের পরিচিত শব্দের গণ্ডির বাইরে না হয়।
2- শব্দগুলো যেন তুচ্ছ কিংবা আঞ্চলিক না হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-খুতাবাতুল ইসলামিয়া
(পৃষ্ঠা: ২২)
3- أن تكون في الخطبة ألفاظ مناسبة مثيرة لخيال الجماعة، ملائمة لما يريد، فإذا كان يخطب جماعة في الحث على أداء فريضة الحج، ذكر الحرم الشريف، ومقام إبراهيم، وزمزم، وإذا كان يخطب في الحث على الصوم ذكر قرب الصائم من ربه، والتجرد من ملاذ الحياة، ومشارفة نفس الصائم للمعانى القدسية.
الأسلوب:
1- التصرف في فنون القول، بأن تتعاقب على معنى ضروب مختلفة من التعابير، من تقرير، إلى تعجب، إلى تهكم، إلى نفي؛ لكي يكسب كلامه حدة، ولئلا يذهب نشاط السامعين، ويعتريهم السأم والملال.
2- حسن التآلف بين الكلمات، وتآخي النغم، بحيث تتحدر الكلمات على اللسان في يسر وسهولة، ويحسن وقعها في الأسماع، فلا تكون منها نابية عن أخواتها، أو ساكنة في غير مستقرها، فتكون قلقة في النطق، وثقيلة على السمع.
المقاطع:
يجب أن يختار الخطيب المقاطع التى يقف عليها، بحيث يكون وقوفه عند نهاية جزء تام من المعنى الذي يريده، وبأن يكون المقطع ذا رنين قوي، يملأ النفس، ويوجهها نحو الغرض الذى يريده الخطيب.
طرق تحضير الخطبة:
1- من الخطباء من يكتفي في تحضيره بدراسة الموضوع دراسة تامة، ثم يجمع عناصره في خاطره، وترتيبها بينه وبين نفسه، ويستحضر الألفاظ اللائقة بالمقام، والعبارات الجديرة بالموضوع، وهذه الطريقة لا يتبعها إلا المتمرن على المواقف الخطابية الذى اندرج في سلك الخطباء.
3- খুতবায় এমন উপযুক্ত শব্দ চয়ন করতে হবে যা শ্রোতামণ্ডলীর কল্পনাকে উদ্দীপ্ত করে এবং খতিবের উদ্দিষ্ট বিষয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। উদাহরণস্বরূপ, যদি তিনি কোনো জনসমাবেশে হজের আবশ্যিক বিধান (فريضة) পালনে উদ্বুদ্ধ করতে খুতবা প্রদান করেন, তবে তিনি হারাম শরিফ, মাকামে ইব্রাহিম ও জমজমের কথা উল্লেখ করবেন। আর যদি তিনি রোজা পালনে উদ্বুদ্ধ করতে খুতবা প্রদান করেন, তবে তিনি প্রতিপালকের সাথে রোজাদারের নৈকট্য, জীবনের স্বাদ-আহ্লাদ থেকে বিমুক্ত হওয়া এবং রোজাদারের আত্মার পবিত্র ভাবার্থসমূহের সন্নিকটে উপনীত হওয়া সম্পর্কে আলোচনা করবেন।
শৈলী:
1- কথা বলার শিল্পনৈপুণ্যে বৈচিত্র্য আনা; অর্থাৎ একটি বিষয়ের বর্ণনায় বিভিন্ন প্রকারের প্রকাশভঙ্গি পর্যায়ক্রমে ব্যবহার করা—যেমন বিবৃতিমূলক বর্ণনা হতে বিস্ময়সূচক, বিদ্রূপাত্মক কিংবা নেতিবাচক ভঙ্গিতে রূপান্তর; যেন খতিবের বক্তব্যে তীক্ষ্ণতা তৈরি হয় এবং শ্রোতাদের উদ্দীপনা হারিয়ে না যায় এবং তাঁদের মাঝে একঘেয়েমি ও ক্লান্তি দানা না বাঁধে।
2- শব্দসমূহের মধ্যে সুন্দর সুসমন্বয় এবং ধ্বনিমাধুর্যের সামঞ্জস্য রাখা, যেন শব্দগুলো জিহ্বা থেকে অত্যন্ত সাবলীল ও সহজভাবে নিঃসৃত হয় এবং শ্রবণেন্দ্রিয়কে তৃপ্ত করে। কোনো শব্দ যেন তার পার্শ্ববর্তী শব্দগুলোর সাথে বিসদৃশ না হয় কিংবা অনুপযুক্ত স্থানে স্থাপিত না হয়; অন্যথায় তা উচ্চারণে জড়তা সৃষ্টি করবে এবং শ্রবণে শ্রুতিকটু মনে হবে।
বিরতিসমূহ:
খতিবকে তাঁর বক্তব্যের বিরতি প্রদানের স্থানগুলো (المقاطع) এমনভাবে নির্বাচন করতে হবে, যেন তাঁর বিরতিটি উদ্দিষ্ট বিষয়ের একটি পূর্ণাঙ্গ অংশের শেষে হয়। সেই সাথে বিরতিটি এমন শক্তিশালী অনুরণন সৃষ্টি করবে যা শ্রোতার অন্তরে প্রভাব বিস্তার করবে এবং তাঁকে খতিবের অভীষ্ট লক্ষ্যের দিকে পরিচালিত করবে।
খুতবা প্রস্তুতির পদ্ধতিসমূহ:
1- খতিবদের মধ্যে কেউ কেউ প্রস্তুতির ক্ষেত্রে কেবল বিষয়বস্তুটি পরিপূর্ণভাবে অধ্যয়ন করার ওপর নির্ভর করেন। অতঃপর তিনি নিজের চিন্তায় এর উপাদানগুলো সংগৃহীত করেন এবং তা নিজের মনে বিন্যস্ত করেন। এরপর তিনি পরিস্থিতির উপযোগী উপযুক্ত শব্দাবলি এবং বিষয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বাক্যসমূহ উপস্থিত করেন। এই পদ্ধতিটি কেবল তারাই অনুসরণ করেন যারা ভাষণ দানে অত্যন্ত দক্ষ এবং যারা অভিজ্ঞ খতিবদের তালিকাভুক্ত হয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-খুতাবাতুল ইসলামিয়া
(পৃষ্ঠা: ২৩)
2- ومن الخطباء من يدرس الموضوع ويهيىء معانى الخطبة، ويرتبها ترتيبا محكما، ثم يكتب عناصرها وأجزاءها في مذكرة يستصحبها عند الخطبة؛ لتكون مرجعا له وضابطا، وليحفظ المعانى والأفكار من أن تضيع بضلال الذاكرة.
3- ومن الخطباء من يطَّلِع على الموضوع، ويدرسه بعناية، ثم يتكلم فيه بينه وبين نفسه بصوت مرتفع في غرفة قد انفرد فيها، أو في مكان خلوي، أو يتكلم على بعض الناس.
4- ومن الخطباء من يكتب الخطبة، ويتحرى في الكتابة أبلغ الاساليب التى توصله إلى غايته، وتؤدي به إلى ما يريده، ويحكم معانيها، ويحملها كل ما يبغي من وسائل التأثير، وطرق الإقناع التى يصوبها نحو هدفه، ويرمي بها إلى غرضه، وبعد الكتابة يقرأ ما كتب مرارا وينقحه في كل مرة. وبهذه القراءة التى يتحرى بها جودة الإلقاء وحسن النطق، تعلق معانى الخطبة مرتبة الترتيب التام بذاكرته، ويحفظ كثيرا من ألفاظها وعباراتها.
5- ومن الخطباء من يكتبون خطبهم، ويحسنون تحبيرها، ثم يحفظونها حفظا تاما، ومنهم من يتحلل أحيانا مما حفظ، إن وجد المقام يدفعه إلى غيره.
والطريقة المثلى لطالب الخطابة:
أن يبتدئ بكتابة الخطبة وحفظها وإلقائها كما حفظ ثم يأخذ بنفسه بالتغيير شيئا فشيئا فيما حفظ حتى إذا شب في الخطابة، وتقدم في المران عليها، كتب الخطبة وعني بأن تعلق كل معانيها بقلبه، وأكثر ألفاظها بذاكرته ثم يتقدم لإلقائها وقد تحصن بذلك التحضير، فإذا صارت له الخطابة ملكة،
2- কিছু খতিব এমন রয়েছেন যারা বিষয়বস্তুটি অধ্যয়ন করেন এবং খুতবার মর্মার্থসমূহ প্রস্তুত করেন ও তা অত্যন্ত সুনিপুণভাবে বিন্যস্ত করেন। অতঃপর তিনি এর উপাদান ও অংশসমূহ একটি নোটবুক বা ডায়েরিতে লিখে রাখেন যা খুতবা প্রদানের সময় সঙ্গে রাখেন; যাতে তা তাঁর জন্য একটি তথ্যসূত্র ও নিয়ন্ত্রক (ضابط) হিসেবে কাজ করে এবং স্মৃতিবিভ্রমের কারণে যাতে অর্থ ও চিন্তাগুলো হারিয়ে না যায়।
3- আবার কিছু খতিব এমন রয়েছেন যারা বিষয়বস্তুটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও গুরুত্বের সাথে অধ্যয়ন করেন। অতঃপর নির্জন কক্ষে অথবা কোনো নিরালা স্থানে কিংবা কিছু মানুষের সামনে উচ্চস্বরে খুতবার বিষয়বস্তু নিয়ে কথা বলেন।
4- খতিবদের মধ্যে কেউ কেউ খুতবাটি লিখে নেন এবং লিখার ক্ষেত্রে এমন সব প্রাঞ্জল পদ্ধতি অন্বেষণ করেন যা তাকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করবে এবং তাঁর উদ্দেশ্য পূরণ করবে। তিনি এর অর্থসমূহ সুসংহত করেন এবং এতে প্রভাব বিস্তারের সকল মাধ্যম ও প্ররোচিত করার সকল পন্থা যুক্ত করেন যা তিনি তাঁর লক্ষ্য অর্জনের জন্য নিবদ্ধ করেন। লিখার পর তিনি যা লিখেছেন তা বারবার পাঠ করেন এবং প্রতিবার তা পরিমার্জন করেন। এই পাঠের মাধ্যমে—যাতে তিনি উপস্থাপনার উৎকর্ষ এবং উচ্চারণের বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করেন—খুতবার অর্থসমূহ পূর্ণ বিন্যাসসহ তাঁর স্মৃতিতে গেঁথে যায় এবং তিনি এর অধিকাংশ শব্দ ও বাক্য মুখস্থ করে ফেলেন।
5- খতিবদের এক দল আছেন যারা তাদের খুতবা লিখেন এবং তা চমৎকারভাবে অলঙ্কৃত করেন, অতঃপর তা পূর্ণাঙ্গভাবে মুখস্থ করেন। আবার তাদের কেউ কেউ ক্ষেত্রবিশেষে মুখস্থ অংশ থেকে বিচ্যুত হন যদি পরিস্থিতি তাঁকে অন্য কোনো প্রসঙ্গের দিকে ধাবিত করে।
বাগ্মিতা তথা খুতবা শিক্ষার শিক্ষার্থীর জন্য আদর্শ পদ্ধতি হলো:
প্রথমে খুতবা লেখা, তা মুখস্থ করা এবং যেভাবে মুখস্থ করা হয়েছে ঠিক সেভাবেই তা উপস্থাপন করার মাধ্যমে শুরু করা। অতঃপর ধীরে ধীরে মুখস্থ করা অংশে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করা, যতক্ষণ না তিনি খুতবা প্রদানে পারদর্শী হয়ে ওঠেন এবং এর অনুশীলনে অগ্রসর হন। তখন তিনি খুতবা লিখবেন এবং এর সকল অর্থ অন্তরে ধারণ করতে সচেষ্ট হবেন এবং অধিকাংশ শব্দ স্মৃতিতে গেঁথে নেবেন। অতঃপর তিনি সেই প্রস্তুতির দ্বারা নিজেকে সমৃদ্ধ করে উপস্থাপনার জন্য অগ্রসর হবেন। এভাবে খুতবা প্রদান যখন তাঁর একটি মজ্জাগত দক্ষতা (ملكة) হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে,
(খণ্ড: ১)
আল-খুতাবাতুল ইসলামিয়া
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وعد في صفوف الخطباء، اكتفى بدراسة الموضوع دراسة وافية، ثم كتب العناصر، أو لم يكتبها إن أسعفته ذاكرة قوية، أو كانت الخطبة قصيرة، لا عناصر لها، وألقى الخطبة مكتفيا بذلك التحضير الذى يقل أنواعه كلفة؛ ولا يكتفي به إلا أعظم الخطباء قدرة.
الارتجال:
لا يعد الخطيب خطيبا إلا إذا كان قادرا على الارتحال، وقد يخطب فيعترض عليه بعض الناس في خطبته، فإن لم تكن له بديهة حاضرة ترد الاعتراض وتقرعه بالحجة القوية، ذهبت الخطبة وآثارها.
النطق:
النطق الحسن هو الدعامة الأولى للإلقاء الجيد، وإذا اعترى النطق ما يفسده ضاع الإلقاء فضاعت معه الخطبة وأثرها.
العناصر التي يحتاج إليها النطق الجيد:
1- تجويد النطق:
بأن يخرج الحروف من مخارجها الصحيحة في يسر ورفق وسهولة.
2- مجانبة اللحن وتحري عدم الوقوع فيه:
يجب أن يعنى الخطيب بتصحيح الكلام الذي ينطق به، وملاحظته في مفرداته وعباراته فيلاحظ بنية الكلمات ملاحظة تامة، وما توجيه قواعد النحو في آخر الكلمات؛ فإن ذلك يفسد المعنى، وقد يقلبه.
3- تصوير النطق للمعاني تصويرًا صادقًا:
بأن يعطي كل كلمة وكل عبارة حقها، ويظهرها بشكل تتميز به عن سواها، فالجملة المؤكدة ينطقها بشكل يدل على التوكيد في النغم كما دل، والجمل الاستفهامية ينطق بها بشكل يتبين منه الاستفهام والمراد منه عن طريق النطق، كما دل عليه بالأداة الدالة على الاستفهام.
বাগ্মীদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য তিনি বিষয়ের পর্যাপ্ত অধ্যয়নকেই যথেষ্ট মনে করেন, এরপর মূল উপাদানগুলো লিখে নেন, অথবা স্মৃতিশক্তি প্রখর হলে কিংবা ভাষণটি সংক্ষিপ্ত ও উপাদানবিহীন হলে তা লেখেন না; তিনি এই স্বল্প-পরিশ্রমী প্রস্তুতির মাধ্যমেই ভাষণ প্রদান করেন, আর কেবল অত্যন্ত পারদর্শী বাগ্মীরাই এতে সন্তুষ্ট থাকতে পারেন।
তাৎক্ষণিক ভাষণ (الارتجال):
একজন বাগ্মীকে ততক্ষণ প্রকৃত বাগ্মী হিসেবে গণ্য করা হয় না, যতক্ষণ না তিনি তাৎক্ষণিক ভাষণে (الارتجال) সক্ষম হন। কখনো তিনি ভাষণ দিতে পারেন এবং উপস্থিত কেউ তাতে আপত্তি উত্থাপন করতে পারে; এমতাবস্থায় যদি তাঁর উপস্থিত বুদ্ধি (بديهة) না থাকে যা সেই আপত্তির জবাব দেবে এবং শক্তিশালী যুক্তির মাধ্যমে তাকে খণ্ডন করবে, তবে ভাষণ ও তার প্রভাব নিষ্ফল হয়ে যাবে।
উচ্চারণ (النطق):
সুন্দর উচ্চারণ (النطق) হলো উত্তম উপস্থাপনার প্রধান স্তম্ভ। যদি উচ্চারণে এমন কোনো ত্রুটি দেখা দেয় যা একে নষ্ট করে দেয়, তবে উপস্থাপনা ব্যাহত হয় এবং সেই সাথে ভাষণ ও তার প্রভাবও বিলুপ্ত হয়।
উত্তম উচ্চারণের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদানসমূহ:
১- উচ্চারণের বিশুদ্ধতা (تجويد النطق):
অর্থাৎ বর্ণসমূহকে তাদের সঠিক মাখরাজ (مخارج) থেকে সহজ ও সাবলীলভাবে উচ্চারণ করা।
২- ভাষাগত ভুল (اللحن) পরিহার করা এবং তাতে নিপতিত না হওয়ার ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করা:
বাগ্মীর উচিত তাঁর উচ্চারিত শব্দাবলি শুদ্ধ করার প্রতি মনোযোগী হওয়া এবং শব্দ ও বাক্যাংশের প্রতি লক্ষ্য রাখা। তিনি শব্দের গঠন সম্পূর্ণরূপে পর্যবেক্ষণ করবেন এবং শব্দের শেষে ব্যাকরণগত (نحو) নিয়মাবলির প্রয়োগের দিকে খেয়াল রাখবেন; কেননা ভুল উচ্চারণ অর্থকে বিকৃত করে দেয়, এমনকি কখনো তা সম্পূর্ণ বদলে দেয়।
৩- উচ্চারণের মাধ্যমে অর্থের যথার্থ চিত্রায়ণ:
অর্থাৎ প্রতিটি শব্দ ও বাক্যকে তার যথার্থ হক প্রদান করা এবং একে এমনভাবে প্রকাশ করা যাতে তা অন্যদের থেকে স্বতন্ত্র হয়। অতএব, দৃঢ়তাজ্ঞাপক বাক্যকে (الجملة المؤكدة) এমন সুরে উচ্চারণ করা উচিত যা তার গুরুত্ব ফুটিয়ে তোলে, এবং প্রশ্নবোধক বাক্যসমূহ (الجمل الاستفهامية) এমন ভঙ্গিতে উচ্চারণ করা উচিত যাতে উচ্চারণের মাধ্যমেই প্রশ্ন এবং তার উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়, যেমনটি প্রশ্নবোধক অব্যয় দ্বারা নির্দেশিত হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-খুতাবাতুল ইসলামিয়া
(পৃষ্ঠা: ২৫)
4- التمهل في الإلقاء:
وهو إلزام الأمور للخطيب، فالتمهل يجعل الصوت يسري إلى السامعين جميعًا بأيسر مجهود متناسب مع المكان والعدد، بينما الإسراع يجعل الكلمات تحتاج إلى مجهود صوتي أكبر؛ ليصل الكلام إلى الآذان.
الصوت:
يستحب للخطيب أن يروض نفسه على تصوير المعاني، وأن يجعل من نغمات صوته، وارتفاعه وانخفاضه دلالات أخرى فوق دلالة الألفاظ، وليعمل على أن يكون صوته ناقلا صادق النقل لمشاعر نفسه، وليمرنه التمرين الكافي على أن يكون حاكيا صادق الحكاية لمعاني الوجدان، وخواطر الجنان، وليعلم أن لا شيء كالصوت يعطي الألفاظ قوة حياة، وأنه إذا أحسن استخدامه خلق به جوًّا عاطفيا يظل السامعين، وبه يستولي عليهم.
الإشارات:
إن الإشارات هي المخاطبة الصامتة، أو هي لغة التفاهم العامة، وهي في كثير من الأحيان صوت الشعور، وعبارة الوجدان، فالغاضب يعبس وجهه، ويقبض أصابعه، والإشارات بعضها شعوري اندفاعي لا يكون بالإرادة بل بدافع الإحساس الوقتي للخطيب الذي يثيره موقفه الخطابي، وبعضها إرادي قصدي يعمد إليه الخطيب للتأثير.
وسواء أكانت الإشارات إرادية أم شعورية، فهي ذات أثر في تأكيد الكلام في نفس السامع وتقويته.
৪- উপস্থাপনায় ধীরস্থিরতা:
এটি খতিবের জন্য একটি আবশ্যকীয় বিষয়; কেননা ধীরস্থিরতা স্থান ও শ্রোতার সংখ্যার সাথে সামঞ্জস্য রেখে ন্যূনতম পরিশ্রমে কণ্ঠস্বরকে সকল শ্রোতার নিকট পৌঁছে দেয়, যেখানে দ্রুততা শব্দগুলোকে কর্ণকুহরে পৌঁছানোর জন্য অধিকতর কণ্ঠশ্রমের মুখাপেক্ষী করে তোলে।
কণ্ঠস্বর:
খতিবের জন্য এটি পছন্দনীয় (مستحب) যে তিনি বিষয়বস্তুর চিত্রায়নে নিজেকে দক্ষ করে তুলবেন এবং তার কণ্ঠের ঝংকার ও এর উত্থান-পতনকে শব্দের শাব্দিক অর্থের অতিরিক্ত অন্য ব্যঞ্জনার অধিকারী করবেন। তিনি যেন স্বীয় কণ্ঠস্বরকে নিজের অনুভূতির এক সত্যনিষ্ঠ বর্ণনাকারী (ناقل) এবং বিশ্বস্ত বর্ণনায় (النقل) পরিণত করার চেষ্টা করেন। এছাড়া তিনি কণ্ঠস্বরকে পর্যাপ্ত অনুশীলনের মাধ্যমে হৃদয়ের গহীনের অনুভূতি ও মনের সংকল্পসমূহের এক সত্যনিষ্ঠ বর্ণনাকারীতে (حاكيا) রূপান্তর করবেন। তিনি যেন জেনে রাখেন যে, কণ্ঠস্বরের ন্যায় অন্য কোনো কিছুই শব্দের মাঝে প্রাণের সঞ্চার করতে পারে না। আর কণ্ঠস্বরের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে তিনি এমন এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারেন যা শ্রোতাদের আচ্ছন্ন করে ফেলে এবং এর মাধ্যমে তিনি তাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হন।
অঙ্গভঙ্গি:
নিশ্চয়ই অঙ্গভঙ্গি হলো নীরব সম্বোধন অথবা ভাব বিনিময়ের একটি বৈশ্বিক ভাষা। এটি অনেক ক্ষেত্রে অনুভূতির কণ্ঠস্বর এবং হৃদয়ের অভিব্যক্তি। যেমন ক্রুদ্ধ ব্যক্তির মুখমণ্ডল সংকুচিত হয় এবং সে তার মুষ্টিবদ্ধ হাত ব্যবহার করে। অঙ্গভঙ্গির কিছু অংশ স্বতঃস্ফূর্ত ও অনুভূতিজাত যা ইচ্ছাধীন নয়, বরং খতিবের তাৎক্ষণিক অনুভূতির প্রভাবে ঘটে থাকে যা তার বক্তৃতার পরিস্থিতি দ্বারা জাগ্রত হয়। আবার কিছু অঙ্গভঙ্গি হলো ইচ্ছাকৃত ও উদ্দেশ্যমূলক যা খতিব প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যে করে থাকেন।
অঙ্গভঙ্গি ইচ্ছাকৃত হোক বা স্বতঃস্ফূর্ত, শ্রোতার অন্তরে বক্তব্যকে সুদৃঢ় ও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে এর অনস্বীকার্য প্রভাব রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-খুতাবাতুল ইসলামিয়া
(পৃষ্ঠা: ২৬)
فنون الخطابة الإسلامية:خطب الوعظ الديني
تمهيد:
الوعظ الديني هو الأمر بالمعروف في الدين والنهي عن المنكر فيه، وقد أجمعت عليه الشرائع، وهو القطب الأعظم في الدين، والأدلة على لزوم الأمر بالمعروف، والنهي عن المذكر كثيرة في الشريعة الإسلامية؛ حتى لقد عُدَّتْ -بحق- شريعة التواصي بالحق، والتناهي عن المنكر؛ فقد قال تعالى: {وَالْعَصْرِ، إِنَّ الْإِنْسَانَ لَفِي خُسْرٍ، إِلَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَتَوَاصَوْا بِالْحَقِّ وَتَوَاصَوْا بِالصَّبْرِ} [سورة العصر] ، وقال تعالى: {وَلْتَكُنْ مِنْكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} [سورة آل عمران] . وقال جل شأنه: {كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ} .
أقسام الوعظ:
تتشعب الخطابة الوعظية إلى أربع شعب وهي:
أ- خطب الدعوة إلى الإسلام أو الدفاع عنه:
يجب على من يتصدى لهذا النوع من الوعظ أن يكون مرنا على الجدل، قوى الحجة، ناهض الدليل، خبيرا بشئون الجماعات ملما بالملل والنحل والعقائد القديمة والحديثة؛ ليستطيع الموازنة بين صحيح العقائد وسقيمها، وحقها وأكلمها، فإذا دعا أو جادل كان على بينة من أمره، وعند دعاية قوم إلى الإسلام يبين لهم من مبادئه ما يكون أحب لقلوبهم، والإسلام غني بالمبادئ التى تألفها الجماعات وتحبها؛ إذ هو دين الفطرة التي فطر
ইসলামি বাগ্মিতা শিল্প:ধর্মীয় নসিহতমূলক খুতবা
প্রারম্ভিকা:
ধর্মীয় নসিহত হলো দ্বীনের মধ্যে সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজ হতে নিষেধ করা। সকল আসমানি বিধান এ বিষয়ে একমত হয়েছে এবং এটিই দ্বীনের মহান কেন্দ্রবিন্দু। ইসলামি শরিয়তে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধের আবশ্যকতা সম্পর্কে অসংখ্য দলিল (دليل) বিদ্যমান; এমনকি সঙ্গত কারণেই একে পারস্পরিক সত্যের উপদেশ এবং মন্দ থেকে বিরত থাকার শরিয়ত হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন: {সময়ের শপথ, নিশ্চয় মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত, কিন্তু তারা ব্যতীত যারা ঈমান এনেছে, সৎ কাজ করেছে এবং একে অপরকে সত্যের উপদেশ দিয়েছে ও ধৈর্যের উপদেশ দিয়েছে} [সুরা আল-আসর]। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {আর তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল থাকা উচিত যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে এবং সৎ কাজের আদেশ দিবে ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করবে। আর তারাই হলো সফলকাম} [সুরা আলে ইমরান]। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {তোমরা হলে শ্রেষ্ঠ উম্মত, যাদের মানবজাতির জন্য বের করা হয়েছে; তোমরা সৎ কাজের আদেশ দাও এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করো এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখো}।
নসিহতের প্রকারভেদ:
নসিহতমূলক বাগ্মিতা চারটি শাখায় বিভক্ত, যথা:
ক- ইসলামের দাওয়াত বা ইসলাম রক্ষার খুতবা:
যিনি এই ধরনের নসিহতের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন, তাকে যুক্তিতর্কে নমনীয়, শক্তিশালী প্রমাণ (حجة) ও অকাট্য দলিলের (دليل) অধিকারী এবং জনসমষ্টির অবস্থা সম্পর্কে অভিজ্ঞ হতে হবে। তাকে বিভিন্ন ধর্ম, উপদল এবং প্রাচীন ও আধুনিক আকিদা (عقيدة) সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান রাখতে হবে; যাতে তিনি সঠিক (صحيح) ও ত্রুটিপূর্ণ (سقيم) আকিদা এবং সত্য ও পূর্ণাঙ্গ আকিদার মধ্যে তুলনা করতে পারেন। সুতরাং তিনি যখন দাওয়াত দিবেন বা বিতর্ক করবেন, তখন যেন স্বীয় বিষয়ের ওপর সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে তা করেন। যখন কোনো জাতিকে ইসলামের দিকে দাওয়াত দিবেন, তখন তাদের সামনে ইসলামের সেই নীতিগুলো তুলে ধরবেন যা তাদের হৃদয়ের কাছে অধিক প্রিয়। আর ইসলাম এমন সব নীতিতে সমৃদ্ধ যা জনসমষ্টি আপন করে নেয় এবং ভালোবাসে; কেননা এটি হলো ফিতরাত (فطرة) বা সেই স্বভাবজাত দ্বীন যা...
(খণ্ড: ১)
আল-খুতাবাতুল ইসলামিয়া
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الناس عليها، ففيه مبادئ الحرية، وفيه مبادئ الشورى، وفيه مبادئ المساواة، وفيه مبادئ التعاون، وفيه مبادئ السلام، وفيه مبادئ الرحمة والعطف الإنساني، وكل جماعة ترضى ذلك وتألفه، فليقتبس الداعي إلى الإسلام قبسة من ذلك النور يتخذ منها مصباح دعوته؛ ليستضيء به في دياجير الضلال.
وإذا آنس الداعي ممن يدعوهم إلفا ورغبة في التعرف بعد ذلك، بين لهم حقائق الإسلام كما بينها النبي صلى الله عليه وسلم، وعرفهم أسرارها وحكمها وصلاحها، وتاريخ الذين أقاموها. وإذا اعترض معترض على الإسلام فهاجمه في إحدى شرائعه أو مبادئه، وأراد الواعظ أن يرد عليه اعتصم بالمنطق في أشكاله وأقيسته فإنها هي التي تبين ما في الكلام من باطل.
وعليه أن يوازن بين الإسلام وبين غيره من العقائد وخصوصا عقيدة الشخص الذي يدعوه أو يناقشه، وليكن ذكر الواعظ لما يعتقد غيره من غير سب، ولا لعن، حتى لا يحنق خصمه، فيندفع في الطعن في الإسلام، وتنتقل المجادلة من مناقشة عقلية إلى سب للعقائد ومعتنقيها، وليعتبر بقوله تعالى: {وَلا تَسُبُّوا الَّذِينَ يَدْعُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ فَيَسُبُّوا اللَّهَ عَدْوًا بِغَيْرِ عِلْمٍ} ، وبقوله تعالى: {وَلا تُجَادِلُوا أَهْلَ الْكِتَابِ إِلَّا بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ} .
وفي هذه الخطب الجدلية التي تشتمل على دعوى إلى الهداية المحمدية يتحرى الخطيب أن يتكلم بلغة من يدعمهم؛ ليستطيع أن يضع أفكاره في الألفاظ التى تدل عليها دلالة محكمة من غير احتمال لغيرها؛ ولتكن عباراته واضحة القصد بينة المقصد؛ لا التباس ولا غموض ولا إبهام، ولتكن بأسلوب رائق جذاب، وألفاظ تثير الخيال وتجتذب النفس.
ب- خطب التعليم الديني للعامة:
هذا النوع من الخطب دروس دينية يلقيها الواعظ على العامة، يعرفهم فيها أصول دينهم والأحكام الشرعية العملية التي يدعو إليها،
মানুষের জন্য এতে স্বাধীনতার মূলনীতি, শুরার মূলনীতি, সাম্যের মূলনীতি, সহযোগিতার মূলনীতি, শান্তির মূলনীতি এবং রহমত ও মানবিক সহমর্মিতার মূলনীতি নিহিত রয়েছে। প্রতিটি গোষ্ঠীই এটি পছন্দ করে এবং এর প্রতি অনুরাগী হয়। সুতরাং ইসলামের দিকে আহ্বানকারীর উচিত সেই নূর থেকে এক ঝলক গ্রহণ করা, যা তিনি তার দাওয়াতের প্রদীপ হিসেবে গ্রহণ করবেন; যাতে গোমরাহীর অন্ধকারে তিনি এর মাধ্যমে আলো পেতে পারেন।
অতঃপর দাওয়াত প্রদানকারী যখন যাদের দাওয়াত দিচ্ছেন তাদের মাঝে পরিচিতি লাভের অনুরাগ ও আকাঙ্ক্ষা লক্ষ্য করবেন, তখন তিনি তাদের সামনে ইসলামের হাকিকতসমূহ বর্ণনা করবেন ঠিক যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেছেন। তিনি তাদের ইসলামের রহস্য, হিকমত, কল্যাণ এবং যারা এটি প্রতিষ্ঠা করেছেন তাদের ইতিহাস সম্পর্কে অবহিত করবেন। আর যদি কোনো প্রতিবাদকারী ইসলামের ওপর আপত্তি তোলে এবং এর কোনো বিধান বা মূলনীতির ওপর আক্রমণ করে, আর উপদেশদাতা যদি তার উত্তর দিতে চান, তবে তিনি যুক্তির বিভিন্ন রূপ ও কিয়াসের (قياس) আশ্রয় নেবেন; কারণ এগুলোই কথার মধ্যকার অসারতা (باطل) ফুটিয়ে তোলে।
তার উচিত ইসলাম এবং অন্যান্য আকিদার মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ তুলনা করা, বিশেষ করে যে ব্যক্তির সাথে তিনি আলোচনা বা বিতর্ক করছেন তার আকিদার সাথে। উপদেশদাতার উচিত অন্যদের বিশ্বাস সম্পর্কে আলোচনার সময় গালিগালাজ বা অভিশাপ বর্জন করা, যাতে প্রতিপক্ষ রাগান্বিত না হয় এবং ইসলামের বিরুদ্ধে অপবাদে লিপ্ত না হয়। অন্যথায় বিতর্কটি বুদ্ধিভিত্তিক আলোচনা থেকে আকিদা ও অনুসারীদের গালিগালাজের দিকে মোড় নেবে। তার উচিত আল্লাহ তাআলার এই বাণী থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা: {আর আল্লাহকে ছেড়ে তারা যাদের ডাকে, তোমরা তাদের গালি দিও না, পাছে তারা অজ্ঞতাবশত সীমালঙ্ঘন করে আল্লাহকে গালি দিয়ে বসে}, এবং আল্লাহর এই বাণী: {তোমরা উত্তম পন্থা ছাড়া আহলে কিতাবদের সাথে বিতর্ক করো না}।
মুহাম্মাদী হেদায়েতের দিকে আহ্বানের এই বিতর্কমূলক খুতবাগুলোতে খতিবের উচিত তাদের ভাষায় কথা বলা যাদের তিনি সম্বোধন করছেন; যাতে তিনি তার চিন্তাগুলোকে এমন শব্দে বিন্যস্ত করতে পারেন যা অন্য কোনো সম্ভাবনা ছাড়াই সুসংহত (محكم) অর্থ প্রকাশ করে। তার বাক্যগুলো যেন স্পষ্ট উদ্দেশ্য ও পরিচ্ছন্ন লক্ষ্যের অধিকারী হয়; তাতে যেন কোনো অস্পষ্টতা বা রহস্য না থাকে। আর তার উপস্থাপনা শৈলী যেন মনোরম ও আকর্ষণীয় হয় এবং শব্দগুলো যেন কল্পনাকে উদ্দীপিত করে ও মনকে জয় করে।
খ- সাধারণ মানুষের জন্য ধর্মীয় শিক্ষা বিষয়ক খুতবা:
এই প্রকারের খুতবাগুলো হলো ধর্মীয় পাঠ যা একজন উপদেশদাতা সাধারণ মানুষের সামনে প্রদান করেন। এর মাধ্যমে তিনি তাদের দ্বীনের মূলনীতি এবং প্রায়োগিক শরয়ি বিধানসমূহ সম্পর্কে অবহিত করেন যার দিকে তিনি আহ্বান জানান।
(খণ্ড: ১)
আল-খুতাবাতুল ইসলামিয়া
(পৃষ্ঠা: ২৮)
والفضائل الخلقية التي يحث عليها، ويجعلها أساسا لقيام الجماعة الإسلامية الفاضلة، وهذه الدروس إما بيان العقائد، وإما بيان الأحكام والفضائل، وعليه في بيان العقائد وإثباتها أن يبتعد كل الابتعاد عن الشروح الفلسفية، وأن يبتعد عن مواضع الخلاف ما استطاع إلى ذلك سبيلا، وليعول كل التعويل على الكتاب؛ فليبين لهم أوصاف الله كما ذكرها القرآن الكريم لا يتعداه، ولا يتجاوزه، وليذكر أوصاف النبيين كما وصفهم الله الأنبياء.
وإذا كان الواعظ يعلِّم الناس أحكام دينهم وفضائله، فعليه أن يعمد إلى توضيح ذلك كل التوضيح. وفي هذه الخطب التعليمية يتحرى الخطيب أن تكون عباراته واضحة الصور في أذهان الناس من غير أي تنميق أو تحسين، فمقصده الأول أن تنتقل معانيه إلى أخيلتهم، فيتصوروها كما تصورها هو، وإن اضطر في سبيل ذلك إلى أن يكون درسه كله بالعامية فليفعل؛ لأن الغرض من هذا النوع من الخطب التفهيم لا التأثير، وتوضيح الفكرة لا تزيينها وإن كان أولى أن يعود نفسه على النطق باللغة العربية.
جـ- خطب تثبيت الإيمان وتقويته:
يتجه الخطيب إلى هذا النوع من الخطب؛ ليقوِّي اليقين في قلوب المؤمنين، ويثب دعائم الإيمان في قلوب المهتدين، ويلقي في نفوسهم الحماسة لدينهم. وليجعل الخطيب قوام خطبته الأمور الآتية:
1- فضائل الإسلام:
فيبين لهم فضائله. وكيف كان طريق المجد والعلو في الدنيا والآخرة، ويبين لهم أنه عصمة للجماعات، وحفاظ لوحدتها، وأنه مربي الوجدان، وموقظ الضمائر، وأنه العاطف على المسكين وابن السبيل، والداعي إلى
এবং চারিত্রিক মহত্ত্ব (فضائل) যার প্রতি তিনি উৎসাহিত করেন এবং যাকে তিনি একটি আদর্শ ইসলামী সমাজ গঠনের ভিত্তি হিসেবে গণ্য করেন। এই পাঠসমূহ হয় আকায়েদ (عقائد) বর্ণনা সংক্রান্ত, নতুবা আহকাম (أحكام) ও ফাযায়েল (فضائل) বর্ণনা সংক্রান্ত। আকায়েদ (عقائد) বর্ণনা ও তা প্রমাণের ক্ষেত্রে তার উচিত হবে দার্শনিক ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ থেকে সম্পূর্ণরূপে দূরে থাকা এবং যথাসম্ভব মতপার্থক্যের বিষয়গুলো এড়িয়ে চলা। তিনি যেন পূর্ণমাত্রায় কিতাবুল্লাহর ওপর নির্ভর করেন; সুতরাং তিনি তাদের সামনে আল্লাহর গুণাবলি সেভাবেই বর্ণনা করবেন যেভাবে পবিত্র কুরআন বর্ণনা করেছে, এর কোনো ব্যতিক্রম করবেন না এবং একে ছাড়িয়ে যাবেন না। আর তিনি নবীদের বৈশিষ্ট্যসমূহ সেভাবেই উল্লেখ করবেন যেভাবে আল্লাহ নবীদের বর্ণনা দিয়েছেন।
ওয়ায়েজ যখন মানুষকে তাদের দীনের আহকাম (أحكام) ও এর ফাযায়েল (فضائل) শিক্ষা দেবেন, তখন তার কর্তব্য হলো তা পূর্ণরূপে স্পষ্ট করা। এই শিক্ষামূলক খুতবাগুলোতে খতিবের লক্ষ্য রাখা উচিত যেন তার বাক্যগুলো মানুষের হৃদয়ে কোনো প্রকার কৃত্রিম অলঙ্কার বা চাকচিক্য ছাড়াই সুস্পষ্ট চিত্র ফুটিয়ে তোলে। কারণ তার প্রধান উদ্দেশ্য হলো তার বক্তব্যগুলোর মর্মার্থ শ্রোতাদের কল্পনায় এমনভাবে স্থানান্তরিত করা, যাতে তারা তা সেভাবেই উপলব্ধি করতে পারে যেভাবে তিনি নিজে করেছেন। যদি এই উদ্দেশ্যে তাকে তার পুরো পাঠটি সাধারণ ভাষায় (عامية) প্রদান করতে হয়, তবে তিনি যেন তাই করেন; কেননা এ জাতীয় খুতবার উদ্দেশ্য হলো বোধগম্য করা, নিছক প্রভাব বিস্তার করা নয়; এবং চিন্তাধারাকে স্পষ্ট করা, একে অলঙ্কৃত করা নয়; যদিও নিজেকে আরবি ভাষায় কথা বলায় অভ্যস্ত করা অধিকতর উত্তম।
গ- ঈমান (إيمان) সুদৃঢ় ও শক্তিশালী করার খুতবা:
খতিব এ ধরনের খুতবার দিকে মনোনিবেশ করেন যাতে মুমিনদের হৃদয়ে ইয়াকিন (يقين) শক্তিশালী হয়, হেদায়েতপ্রাপ্তদের অন্তরে ঈমান (إيمان)-এর স্তম্ভসমূহ সুদৃঢ় হয় এবং তাদের মনে স্বীয় দীনের প্রতি উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়। খতিব যেন তার খুতবার ভিত্তি নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর ওপর স্থাপন করেন:
1- ইসলামের ফাযায়েল (فضائل):
তিনি তাদের কাছে ইসলামের ফাযায়েল (فضائل) বর্ণনা করবেন; এবং দেখাবেন কীভাবে এটি দুনিয়া ও আখেরাতে মর্যাদা ও উচ্চ শিখরে আরোহণের পথ। তিনি তাদের সামনে এটিও স্পষ্ট করবেন যে, ইসলাম হলো সমাজ রক্ষা ও সংহতি বজায় রাখার মূল রক্ষাকবচ। এটি অন্তরাত্মার লালনকারী, বিবেকের জাগ্রতকারী এবং এটিই মিসকিন ও মুসাফিরদের প্রতি দয়া প্রদর্শন এবং এর প্রতি আহ্বানকারী।
(খণ্ড: ১)
আল-খুতাবাতুল ইসলামিয়া
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الإخاء والحرية والمساواة، وأنه المشتمل على الشرائع التي تكون ممن يأخذون بها جماعة فاضلة، أسست على تقوى من الله ورضوان.
2- الكتاب:
فيشرح بعض آيات الكتاب الحكيم المبينة حقيقة الإيمان الذاكرة أوصاف المؤمنين، وما يكون لهم يوم القيامة من منزلة، وما لهم في الدنيا من مكانة. فالقرآن بما حفَّ من جلال، وبما اشتمل عليه من إعجاز وبلاغة، وبما له من حلاوة، وما عليه من طلاوة يهز الإحساس، ويقوي الإيمان وفيه هدى للمتقين.
وفي هذه الخطب تُختار الألفاظ القوية الرنانة التى تثير في النفس المعاني القدسية الروحية، وتذهب بها في مجال المعنويات، وتحلق بها في سماء الحقيقة.
د- خطب الإصلاح ومحاربة المنكرات:
يتجه الواعظ في هذه الخطب إلى إصلاح العيوب الشائعة الضارة بالمجتمع، الهادمة لبناء الأخلاق فيه، فقوام هذه الخطب محاربة المنكرات، ومنع الفواحش من أن تشيع في الذين آمنوا، ولكي يصل الخطيب إلى هدفه لا بد أن يجعل الخطبة متصدية لعيب واحد، وليبدأ الواعظ في خطبته بأكثر المعاصي خطرا، وأشدها هدما للدين، وفي وعظ الناس بالنهي عن المنكر يبين لهم الخطيب مضار المنكر التي تنزل بمرتكبه، الحائقة به، ثم يبين لهم مضاره بالمجتمع، ويستشهد بآيات القرآن الكريم وما فيه من دلالة على قبح ذلك المنكر، والآيات الواردة في الترهيب منه، والترغيب في نقيضه، وبمثل ذلك يستعين بحديث رسول الله صلى الله عليه وسلم وبالمأثور رغبة، ويبين هديه عليه الصلاة والسلام وفي هذه الخطب ينوع الخطيب عباراته، فتارة يختار الألفاظ القوية
ভ্রাতৃত্ব, স্বাধীনতা ও সাম্য; এবং এটি এমন সব শরয়ি বিধানকে অন্তর্ভুক্ত করে যা একে গ্রহণকারীদের একটি পুণ্যবান জনসমষ্টি হিসেবে গড়ে তোলে, যার ভিত্তি স্থাপিত হয়েছে আল্লাহর তাকওয়া (تقوى) এবং সন্তুষ্টির ওপর।
২- কিতাব (আল-কুরআন):
এটি মহিমান্বিত কিতাবের এমন কিছু আয়াতের ব্যাখ্যা করে যা ঈমানের (إيمان) প্রকৃত স্বরূপ উন্মোচন করে, মুমিনদের (مؤمنين) গুণাবলি বর্ণনা করে এবং কিয়ামত দিবসে তাদের সুউচ্চ মর্যাদা ও দুনিয়াতে তাদের অবস্থানের কথা উল্লেখ করে। কারণ কুরআন তার গাম্ভীর্য, অলৌকিকত্ব (إعجاز), অলঙ্কারশাস্ত্রীয় উৎকর্ষ (بلاغة), মাধুর্য ও লাবণ্য দ্বারা মানুষের অনুভূতিকে নাড়া দেয় এবং ঈমানকে (إيمان) শক্তিশালী করে; আর এতে রয়েছে মুত্তাকিদের (متقين) জন্য হেদায়েত (هدى)।
এই খুতবাগুলোতে (خطب) এমন শক্তিশালী ও ঝঙ্কারপূর্ণ শব্দাবলি চয়ন করা হয়, যা অন্তরে পবিত্র আধ্যাত্মিক ভাবধারা জাগ্রত করে, আত্মাকে আধ্যাত্মিক জগতে নিয়ে যায় এবং সত্যের আকাশে বিচরণ করায়।
ঘ- সংস্কারমূলক এবং অপকর্ম (منكرات) প্রতিরোধের খুতবা (خطب):
উপদেশদাতা (واعظ) এই খুতবাগুলোতে (خطب) সমাজের প্রচলিত ও ক্ষতিকারক দোষত্রুটি সংশোধন এবং নৈতিক ভিত্তি ধ্বংসকারী বিষয়সমূহ দূর করার দিকে মনোনিবেশ করেন। এই খুতবাগুলোর (خطب) মূল ভিত্তি হলো অপকর্মের (منكرات) বিরুদ্ধে লড়াই করা এবং মুমিনদের (مؤمنين) মধ্যে অশ্লীলতা (فواحش) ছড়িয়ে পড়া রোধ করা। আর খতিব (خطيب) যাতে তার লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেন, সেজন্য খুতবাকে (خطبة) সুনির্দিষ্ট কোনো একটি দোষের ওপর আলোকপাতকারী হতে হবে। উপদেশদাতা (واعظ) যেন তাঁর খুতবায় (خطبة) এমন সব পাপাচার (معاصي) দিয়ে আলোচনা শুরু করেন যা সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক এবং দ্বীনকে (دين) ধ্বংস করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠোর। মানুষকে মন্দ কাজে বাধা প্রদানের (نهي عن المنكر) নসিহত করার সময় খতিব (خطيب) তাদের সামনে সেই অপকর্মের (منكر) অপকারিতাগুলো তুলে ধরবেন যা তার সম্পাদনকারীর ওপর আপতিত হয় এবং তাকে পরিবেষ্টন করে ফেলে; এরপর তিনি সমাজের ওপর এর কুপ্রভাবগুলো বর্ণনা করবেন। তিনি পবিত্র কুরআনের আয়াত থেকে দলিল পেশ করবেন এবং উক্ত অপকর্মের (منكر) কদর্যতার ওপর এর প্রমাণসমূহ বর্ণনা করবেন; সেই সঙ্গে এর ভীতি প্রদর্শনকারী (ترهيب) এবং এর বিপরীত তথা নেক কাজের প্রতি উৎসাহিতকরণ (ترغيب) সংক্রান্ত আয়াতসমূহ উল্লেখ করবেন। একইভাবে তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস এবং পূর্বসূরিদের থেকে বর্ণিত (مأثور) বাণীসমূহ অত্যন্ত আগ্রহের সাথে সহায়তা হিসেবে গ্রহণ করবেন এবং তাঁর (সা.) নির্দেশিত আদর্শ (هدي) বর্ণনা করবেন। এই খুতবাগুলোতে (خطب) খতিব (خطيب) তাঁর বাক্যশৈলীতে বৈচিত্র্য আনবেন; কখনো তিনি শক্তিশালী শব্দাবলি চয়ন করবেন।
(খণ্ড: ১)
আল-খুতাবাতুল ইসলামিয়া
(পৃষ্ঠা: ৩০)
التي تهز الحس حسًا عنيفًا إن أراد تحذيرهم بالترهيب من سوء العاقبة، وتارة يختار الألفاظ السهلة اللينة الرقيقة إن أراد اجتذابهم إلى اليسير فيما فيه حسن المآل.
যা সংবেদনকে প্রবলভাবে আলোড়িত করে যখন তিনি অশুভ পরিণতির ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে তাদের সতর্ক করতে চান; আবার কখনো তিনি সহজ, কোমল ও স্নিগ্ধ শব্দাবলি চয়ন করেন যখন তিনি তাদের সেই সহজ বিষয়ের প্রতি আকৃষ্ট করতে চান যাতে রয়েছে কল্যাণকর পরিণতি।
(খণ্ড: ১)
আল-খুতাবাতুল ইসলামিয়া
(পৃষ্ঠা: ৩১)
الخطابة في صدر الإسلام:إن الإسلام نهضة عامة شاملة، لم يعهد لها من قبل في العالم مثيل، وكانت الخطابة عماد هذه النهضة وأداة فعالة من أدواتها، وكانت هذه النهضة دينية في روحها وأساسها، والدين فيض من النور الإلهي والرحمة الربانية، يمتد من السماء إلى الأرض، يضيء ظلماتها، ويبدد غياهب الجهالة فيها، ويؤدي رسالته الأولى في إصلاح المجتمع البشري، وتحقيق أسباب السعادة له في حياته، وليس الإسلام دين جمود، فيقف عند المطالب الأخروية، بل جاوزها إلى تحقيق المصالح الدنيوية فكان لا بد له من أن يتعرض لكل ما به صلاح أمور البشرية، في العقيدة والتشريع والمعاملات والحكم والسياسة والاجتماع والأخلاق والفكر، ولم يدع مجتمعا إلا حض عليه، وأقام من شأنه، وطلب فيه من القول ما هو ضروري له، كخطبة الجمعة والعيدين وموقف عرفات وغيرها، ولذلك كان صاحب هذه الدعوة يمثل الإمام الهادي، والفيلسوف المشرع، والحاكم العادل، والزعيم السياسي، والقائد الحربي، والمصلح الاجتماعي، والرائد الفكري، وكذلك كان خلفاؤه من بعده.
وقد جالت خطابة هذا العصر في هذه الميادين جميعا، وإن كانت وجهتها الرئيسية وجهة دينية، وكان غرضها الأساس إقامة عمود الدين، ورفع منار الإسلام، فكانت هناك خطب دينية، شملت العقائد والدعوة إلى الإسلام، والتشريع بما فيه من تبين الحدود وإقامة معالم الحلال والحرام، والوعظ والإرشاد بما فيه من أمر بالمعروف ونهي عن المنكر، وحث على مكارم الأخلاق، وتبشير وإنذار
ইসলামের প্রারম্ভিক যুগে বাগ্মিতা:নিশ্চয়ই ইসলাম একটি ব্যাপক ও সর্বাত্মক জাগরণ, যার সদৃশ ইতিপূর্বে পৃথিবীতে আর কখনো দেখা যায়নি। বাগ্মিতা ছিল এই জাগরণের মূল স্তম্ভ এবং এর অন্যতম কার্যকর হাতিয়ার। এই জাগরণ তার চেতনা ও মূলে ছিল ধর্মীয়; আর ধর্ম হলো খোদায়ী নূর ও রব্বানি রহমতের এক প্রবহমান ধারা, যা আকাশ থেকে জমিন পর্যন্ত বিস্তৃত, জগতের অন্ধকারকে আলোকিত করে, মূর্খতার তিমির দূর করে এবং মানবসমাজে সংস্কার সাধন ও পার্থিব জীবনে সুখের উপকরণসমূহ অর্জনের মাধ্যমে তার প্রাথমিক লক্ষ্য পূরণ করে। ইসলাম কোনো স্থবির ধর্ম নয় যে এটি কেবল পরকালীন চাহিদাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে; বরং এটি তা অতিক্রম করে পার্থিব কল্যাণ সাধনেও ব্যাপৃত হয়েছে। ফলে মানবজাতির কল্যাণের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়ে—আকীদা (العقيدة), শরীয়াহ প্রণয়ন (التشريع), লেনদেন (المعاملات), শাসন ব্যবস্থা, রাজনীতি, সমাজব্যবস্থা, নৈতিকতা ও চিন্তাধারার ক্ষেত্রে—দৃষ্টিপাত করা এর জন্য অপরিহার্য ছিল। ইসলাম এমন কোনো সমাবেশের সুযোগ রাখেনি যেখানে এটি উৎসাহিত করেনি, তার মর্যাদাকে সমুন্নত করেনি এবং সেখানে প্রয়োজনীয় কথা বলার নির্দেশ দেয়নি; যেমন জুমার খুতবা, দুই ঈদের খুতবা, আরাফাতের ময়দানে অবস্থান এবং অন্যান্য। এ কারণেই এই দাওয়াতের প্রবর্তক একাধারে পথপ্রদর্শক ইমাম, শরীয়ত প্রদানকারী দার্শনিক, ন্যায়পরায়ণ শাসক, রাজনৈতিক নেতা, সমরনায়ক, সমাজ সংস্কারক এবং বুদ্ধিবৃত্তিক অগ্রদূত হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন; এবং তাঁর পরবর্তী খলিফাগণও তদ্রূপ ছিলেন।
এই যুগের বাগ্মিতা এই সমস্ত ক্ষেত্রেই বিচরণ করেছে, যদিও এর প্রধান দিকটি ছিল ধর্মীয়। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল দ্বীনের স্তম্ভ প্রতিষ্ঠা করা এবং ইসলামের মিনারকে সমুন্নত রাখা। ফলে সেখানে এমন সব ধর্মীয় ভাষণ ছিল যাতে অন্তর্ভুক্ত ছিল আকীদা (العقائد) ও ইসলামের প্রতি আহ্বান, শরীয়াহ প্রণয়ন (التشريع) যার মধ্যে রয়েছে শরীয়ত নির্ধারিত দণ্ড (الحدود) স্পষ্ট করা এবং হালাল (الحلال) ও হারামের (الحرام) নিদর্শনসমূহ প্রতিষ্ঠা করা। এছাড়া ওয়াজ ও নসিহতের মাধ্যমে সৎকাজের আদেশ (الأمر بالمعروف) ও অসৎকাজের নিষেধ (النهي عن المنكر), উন্নত চরিত্রের প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং সুসংবাদ ও সতর্কবাণী প্রচার করা হতো।
(খণ্ড: ১)
আল-খুতাবাতুল ইসলামিয়া
(পৃষ্ঠা: ৩২)
الطابع العام للخطابة في صدر الإسلام:
1- ظهور الطابع الديني: من دعوة إلى الإسلام، ودفاع عنه، وبيان للعقائد، كوجود الله ووحدانيته وقدرته وخلقه الكائنات، والإيمان به وبملائكته وكتبه ورسله واليوم الآخر، وسائر الغيبيات، وسن الشرائع والأحكام المفيدة للناس، المنظمة للحياة الشخصية وللمعاملات بين الناس، المبينة للفرائض، الموضحة للحلال والحرام، ووعظ للعامة، وحث لهم على التزام حدود الشرع الحنيف، وقصص فيه عبرة وزجر.
2- اختيار خطب ذات أهداف إنسانية عامة، وغايات كريمة سامية، من تحرير النفوس والعقول والأرواح من قيود الشرك والضلالة، وإخراجها من ظلمات الوثنية والجهالة.
3- اتساع مجال الخطابة الاجتماعية، فقد أخذت دائرتها تتسع، وتتجه في نواحي الحياة العامة وجهات مختلفة نافعة، وتعرضت من التعاليم والآداب والشئون العامة إلى ما لا غنى عنه للناس في مجتمع يتحضر.
4- اتساع دائرة الخطابة، والخروج بها إلى مجال التعبير عن الأغراض السامية والفكر الراقي، في الكون وقيامه، والوجود ونظامه، والمجتمع وعوامل بقائه وارتقائه، وما ينبغي أن يقوم عليه من أسباب، ويسوده من آداب، والبعد بها عن الإسفاف بالانحصار في مطالب العيش الرخيصة، فكان انقلابا كبيرا أن ترتفع الخطابة لتعبر عن الحياة الإنسانية في صراعها الأدبي والعقلي والعاطفي المحتدم حول المبادئ والمعتقدات والآراء، ولا تسف لتصور الحياة الحيوانية، في صراعها الدموي حول لقمة العيش وتنازع البقاء، وإن تسعى سعيها؛ ليقوم الحق والخير والبر والفضيلة مقام الباطل والشر والإثم والرذيلة.
ইসলামের সূচনালগ্নে বাগ্মিতার সাধারণ বৈশিষ্ট্যসমূহ:
1- ধর্মীয় বৈশিষ্ট্যের উন্মেষ: যেমন ইসলামের দিকে দাওয়াত প্রদান, এর সপক্ষে প্রতিরক্ষা এবং আকিদাহ বা বিশ্বাসের বিষয়সমূহ স্পষ্ট করা; যেমন আল্লাহর অস্তিত্ব, তাঁর একত্ববাদ, কুদরত বা ক্ষমতা এবং তাঁর মাখলুকাত বা সৃষ্টির বর্ণনা; তাঁর প্রতি ঈমান, তাঁর ফেরেশতাগণ, কিতাবসমূহ, রাসুলগণ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস এবং অন্যান্য যাবতীয় অদৃশ্যের (غيب) বিষয়ের প্রতি ঈমান আনয়ন। মানুষের জন্য কল্যাণকর শরিয়ত ও বিধিবিধানসমূহ (أحكام) প্রণয়ন করা, যা ব্যক্তিগত জীবন ও মানুষের পারস্পরিক লেনদেনকে সুশৃঙ্খল করে; ফরজসমূহ (فرائض) বর্ণনা করা, হালাল ও হারাম স্পষ্ট করা, সাধারণ জনগণকে উপদেশ প্রদান, পবিত্র শরিয়তের নির্ধারিত সীমারেখা মেনে চলার প্রতি উৎসাহিত করা এবং শিক্ষণীয় ও সতর্কতামূলক ঘটনাবলী বর্ণনা করা।
2- সাধারণ মানবিক লক্ষ্য ও সুউচ্চ মহৎ উদ্দেশ্যসম্পন্ন ভাষণসমূহ নির্বাচন করা; যেমন নফস বা আত্মা, মস্তিষ্ক ও রুহকে শিরক এবং গোমরাহির (ضلالة) শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করা এবং মূর্তিপূজা ও মূর্খতার অন্ধকার থেকে বের করে আনা।
3- সামাজিক বাগ্মিতার পরিধি বিস্তৃত হওয়া: সামাজিক বক্তৃতার পরিধি ক্রমাগত বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং তা জনজীবনের বিভিন্ন উপকারী ও বহুমুখী প্রসঙ্গের দিকে ধাবিত হয়। এটি এমন সব শিক্ষা, আদব বা শিষ্টাচার এবং জনকল্যাণমূলক বিষয়গুলো উপস্থাপন করে, যা একটি ক্রমবিকাশমান বা সভ্য সমাজের মানুষের জন্য অপরিহার্য।
4- বাগ্মিতার পরিধি প্রসারিত হওয়া এবং উচ্চতর উদ্দেশ্য ও উন্নত চিন্তাধারার বহিঃপ্রকাশের মাধ্যম হিসেবে একে গ্রহণ করা; যেমন মহাবিশ্ব ও এর সৃষ্টিতত্ত্ব, অস্তিত্ব ও এর নিয়মশৃঙ্খল, সমাজ এবং এর টিকে থাকা ও উন্নতির প্রভাবকসমূহ, সমাজ যে ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হওয়া উচিত এবং যে শিষ্টাচারের প্রচলন থাকা আবশ্যক—সেসব বিষয়ে আলোকপাত করা। একে পার্থিব জীবনের তুচ্ছ ও সস্তা চাহিদার সংকীর্ণতা থেকে রক্ষা করা। এটি ছিল এক বিশাল বিপ্লব, যার মাধ্যমে বাগ্মিতা উচ্চমার্গে আসীন হয়ে মানুষের আদর্শিক, বুদ্ধিবৃত্তিক এবং আবেগপূর্ণ সংগ্রামের কথা ব্যক্ত করে, যা মৌলিক নীতি, বিশ্বাস ও মতামতের ওপর ভিত্তি করে আবর্তিত হয়। এটি জীবন ধারণের তুচ্ছ লড়াই বা অস্তিত্ব রক্ষার পাশবিক হীন মানসিকতার স্তরে নেমে আসে না; বরং সত্য, কল্যাণ, পুণ্য ও মহত্ত্বকে বাতিল, অকল্যাণ, পাপ ও নীচতার স্থলাভিষিক্ত করতে সচেষ্ট থাকে।
(খণ্ড: ১)
আল-খুতাবাতুল ইসলামিয়া
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
خطابة الرسول صلى الله عليه وسلم:
إن محمدا صلى الله عليه وسلم قبل كل شيء جاء؛ ليبلغ رسالات ربه، فمهمته الأولى هي الرسالة والتبليغ، وما هذه المهام الكثيرة التي تولاها إلا فروع لتلك المهمة الكبرى، ومعينة عليها، نبتت على حواشيها، ونشأت في خدمتها، والرسالة والتبليغ لا يتم إلا ببلاغة وبيان؛ لأن البلاغ والتبليغ إيصال الكلام للسامعين على أحسن صورة، وبما به يكون الإفهام وإلإقناع، فلكل كلام وزن، وكل قول بمقدار، قال تعالى: {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ رَسُولٍ إِلَّا بِلِسَانِ قَوْمِهِ لِيُبَيِّنَ لَهُمْ فَيُضِلُّ اللَّهُ مَنْ يَشَاءُ وَيَهْدِي مَنْ يَشَاءُ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ} 1، وقال سبحانه عن نبيه داود: {وَآتَيْنَاهُ الْحِكْمَةَ وَفَصْلَ الْخِطَابِ} 2، ولهذا قال موسى لربه: {وَأَخِي هَارُونُ هُوَ أَفْصَحُ مِنِّي لِسَانًا فَأَرْسِلْهُ مَعِيَ رِدْءًا يُصَدِّقُنِي إِنِّي أَخَافُ أَنْ يُكَذِّبُونِ} 3، فإذا كانت الفصاحة والبلاغة مطلوبة في دعوة موسى وغيره من الأنبياء، فرسالة محمد صلى الله عليه وسلم أولى وأوجب، ودعوته أعم وأرحب، وقومه فرسان البيان، وأئمة القول.
لهذا كان من أبرز صفات الرسول صلى الله عليه وسلم وأجلى آيات عظمته البلاغة البليغة، وأنه في الذروة العليا من البيان وفصاحة اللسان، وأن التبليغ البليغ كان السمة المشتركة بين أفانين قوله كله، وما كان لنا أن نقول في هذا المقام بعد أن قال تعالى عنه ما قال، وقال هو عن نفسه: "أعطيت جوامع الكلم" نشأ الرسول صلى الله عليه وسلم نشأة قرشية بدوية خالصة، واسترضع من بني سعد بن بكر، فاجتمعت له فصاحة اللسان واللغة، واللهجة الجميلة الوقع، يستريح لها
--------------------------------------------
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাগ্মিতা:
নিশ্চয়ই মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বাগ্রে তাঁর প্রতিপালকের রিসালাত পৌঁছানোর জন্য আবির্ভূত হয়েছেন; তাঁর প্রথম এবং প্রধান কাজ হলো রিসালাত ও তাবলিগ (প্রচার)। তিনি যে বহুমুখী দায়িত্ব পালন করেছেন, তা মূলত এই মহান কর্তব্যেরই বিভিন্ন শাখা এবং এর সহায়ক, যা দাওয়াতের অনুষঙ্গ হিসেবেই বিকাশ লাভ করেছে এবং তার সেবায় নিয়োজিত থেকেছে। রিসালাত ও তাবলিগের কাজ বাগ্মিতা (بلاغة) এবং সুস্পষ্ট বর্ণনা (بيان) ব্যতীত সম্পন্ন হওয়া সম্ভব নয়; কারণ প্রচার বা তাবলিগ মানে হলো শ্রোতাদের কাছে সর্বোত্তম পদ্ধতিতে কথা পৌঁছে দেওয়া, যার মাধ্যমে সঠিক বোধোদয় ও প্রত্যয় নিশ্চিত হয়। প্রতিটি কথারই একটি ওজন আছে এবং প্রতিটি বাণীর একটি পরিমাপ রয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আমি প্রত্যেক রাসূলকেই তাঁর স্বজাতির ভাষাভাষী করে পাঠিয়েছি যাতে তিনি তাদের কাছে পরিষ্কারভাবে বর্ণনা করতে পারেন। এরপর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা বিভ্রান্ত করেন এবং যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করেন। আর তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়} ১, এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর নবী দাউদ আলাইহিস সালাম সম্পর্কে বলেছেন: {আমি তাকে প্রজ্ঞা ও ফয়সালাকারী বাগ্মিতা (فصل الخطاب) দান করেছি} ২, একারণেই মূসা আলাইহিস সালাম তাঁর প্রতিপালকের সমীপে আরজি পেশ করেছিলেন: {আমার ভাই হারুন, সে আমার অপেক্ষা অধিকতর প্রাঞ্জলভাষী (أفصح لسانا)؛ অতএব তাকে আমার সাথে সাহায্যকারী হিসেবে প্রেরণ করুন যাতে সে আমাকে সত্যায়ন করে; আমি আশঙ্কা করছি যে তারা আমাকে মিথ্যাবাদী প্রতিপন্ন করবে} ৩। সুতরাং যদি মূসা আলাইহিস সালাম এবং অন্যান্য নবীদের দাওয়াতের ক্ষেত্রে ভাষাগত প্রাঞ্জলতা ও বাগ্মিতা বাঞ্ছনীয় হয়, তবে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রিসালাতের ক্ষেত্রে তা অধিকতর বাঞ্ছনীয় ও অপরিহার্য। কেননা তাঁর দাওয়াত অধিকতর ব্যাপক ও বিস্তৃত এবং তাঁর জাতি ছিল ভাষাগত প্রাঞ্জলতার অশ্বারোহী এবং বক্তব্যের ইমাম।
এ কারণেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য এবং তাঁর মহত্ত্বের অত্যুজ্জ্বল নিদর্শন ছিল তাঁর গভীর বাগ্মিতা (بلاغة)। তিনি বর্ণনা ও ভাষাগত প্রাঞ্জলতার সর্বোচ্চ শিখরে আসীন ছিলেন। তাঁর সকল প্রকার বাণীর সাধারণ বৈশিষ্ট্য ছিল অত্যন্ত সাবলীল ও বাগ্মিতাপূর্ণ প্রচার। আল্লাহ তাআলা তাঁর সম্পর্কে যা বর্ণনা করেছেন এবং তিনি স্বয়ং নিজের সম্পর্কে যা বলেছেন তার চেয়ে অধিক কিছু আমাদের বলার সাধ্য নেই; তিনি বলেছেন: "আমাকে ব্যাপক অর্থবোধক সংক্ষিপ্ত বাক্য (جوامع الكلم) প্রদান করা হয়েছে।" রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরাইশদের বিশুদ্ধ পল্লী পরিবেশে লালিত-পালিত হয়েছেন এবং বনু সাদ বিন বকর গোত্রে দুগ্ধপান করেছেন। ফলে তাঁর মধ্যে ভাষার প্রাঞ্জলতা, বিশুদ্ধতা এবং অত্যন্ত মনোরম বাচনভঙ্গির সমন্বয় ঘটেছিল যা হৃদয়গ্রাহী...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-খুতাবাতুল ইসলামিয়া
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
السمع، والمنطق العذب المفصل، تجد النفوس حلاوته. كما اجتمعت له القدرة على تأليف القلوب، وتحصيل الثقة، إلى قوة الإيمان بدعوته، وغيرته البالغة عليها، وحرصه الشديد على نجاحها، فاجتمع له بذلك كل أسباب البلاغ للرسول، والنجاح للخطيب، وثقة القوم بصدق الداعي أو الخطيب أساس إجابته، وشرط لنجاح دعوته، وقد كان رسول الله صلى الله عليه وسلم في قومه مثلا للأمانة والصدق، حتى لقبوه فيما بينهم "الصادق الأمين".
هذه هي الخطوط الأساسية العريضة البارزة التي تشير إلى شخصية الرسول صلى الله عليه وسلم وتومئ إلى نزعاته، وقد بقي أن تصل بينها وبين خطابته، وتنظر آثارها فيها.
শ্রবণেন্দ্রীয় ও সুমিষ্ট বিস্তারিত বাকপটুতায় এমন এক বৈশিষ্ট্য ছিল যার মাধুর্য আত্মাসমূহ অনুভব করে। ঠিক তেমনিভাবে তাঁর মধ্যে হৃদয়ের মেলবন্ধন তৈরি এবং নির্ভরযোগ্যতা (الثقة) অর্জনের সক্ষমতা পুঞ্জীভূত হয়েছিল; সেই সাথে যুক্ত হয়েছিল তাঁর দাওয়াতের প্রতি ঈমানের দৃঢ়তা, এর প্রতি গভীর মমতা ও এর সফলতার বিষয়ে ঐকান্তিক আগ্রহ। এর ফলে তাঁর মাঝে একজন রাসুলের বাণী পৌঁছানোর এবং একজন খতিবের সফল হওয়ার যাবতীয় উপকরণ ও কারণসমূহ বিদ্যমান ছিল। মূলত আহ্বানকারী বা খতিবের সত্যবাদিতার (صدق) ওপর জনগণের আস্থা বা নির্ভরযোগ্যতা (ثقة) হলো তাঁর আহ্বানে সাড়া প্রদানের মূল ভিত্তি এবং তাঁর দাওয়াতের সফলতার অপরিহার্য শর্ত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কওমের মাঝে আমানতদারিতা ও সত্যবাদিতার (الصدق) এক জীবন্ত আদর্শ ছিলেন, এমনকি তারা তাঁকে নিজেদের মাঝে "আস-সাদিকুল আমিন" উপাধিতে ভূষিত করেছিল।
এগুলোই হলো সেই মৌলিক ও সুস্পষ্ট বৈশিষ্ট্যসমূহ যা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মহান ব্যক্তিত্বকে ফুটিয়ে তোলে এবং তাঁর প্রবণতাগুলোর দিকে ইঙ্গিত করে। এখন প্রয়োজন হলো এই বৈশিষ্ট্যগুলোর সাথে তাঁর বাগ্মিতার যোগসূত্র স্থাপন করা এবং তাঁর বক্তৃতায় এগুলোর প্রভাবসমূহ নিরূপণ করা।