(খণ্ড: ১)
শারহুল আকিদাতিত তাহাবিয়্যাহ - ত আল-আওকাফ আস-সাউদিয়্যাহ - বিতালিকতি আহমাদ শাকির
(পৃষ্ঠা: -)
شرح العقيدة الطحاوية - ط الأوقاف السعودية - بتعليقات أحمد شاكر القسم: العقيدة
الكتاب: شرح العقيدة الطحاوية
المؤلف: صدر الدين عليّ بن علي بن محمد بن أبي العز الحنفي (731 - 792 هـ)
تحقيق: أحمد محمد شاكر
الناشر: وزارة الشؤون الإسلامية - السعودية
عام النشر: 1418 هـ
عدد الصفحات: 546
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 21 شعبان 1432
শারহুল আকিদাহ আত-তাহাবিয়্যাহ - সৌদি আওকাফ প্রকাশনী - আহমাদ শাকিরের টীকা সম্বলিত বিভাগ: আকিদাহ
কিতাব: শারহুল আকিদাহ আত-তাহাবিয়্যাহ
লেখক: সদরুদ্দিন আলী বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন আবিল ইজ্জ আল-হানাফি (৭৩১ - ৭৯২ হিজরি)
সম্পাদনা: আহমাদ মুহাম্মদ শাকির
প্রকাশক: ইসলামি বিষয়ক মন্ত্রণালয় - সৌদি আরব
প্রকাশের বছর: ১৪১৮ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৪৬
[কিতাবটির নম্বরবিন্যাস মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২১ শাবান ১৪৩২
(খণ্ড: ১)
শারহুল আকিদাতিত তাহাবিয়্যাহ - ত আল-আওকাফ আস-সাউদিয়্যাহ - বিতালিকতি আহমাদ শাকির
(পৃষ্ঠা: -)
ـ[شرح العقيدة الطحاوية]ـ
المؤلف: علي بن علي بن محمد بن أبي العز الحنفي (المتوفى: 792هـ)
تحقيق: أحمد شاكر
الناشر: وزارة الشؤون الإسلامية، والأوقاف والدعوة والإرشاد - 1418 هـ
عدد الأجزاء: 1
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع، وهو مذيل بتعليقات أحمد شاكر رحمه الله]
--------------------------------------------
-[শরহে আকিদাহ আত-তহাবীয়া]-
লেখক: আলী বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন আবিল ইজ্জ আল-হানাফী (মৃত্যু: ৭৯২ হিজরি)
সম্পাদনা ও তাহকীক: আহমাদ শাকির
প্রকাশক: ইসলাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, ওয়াকফ, দাওয়াহ ও ইরশাদ - ১৪১৮ হিজরি
খণ্ড সংখ্যা: ১
[বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল ছাপার অনুরূপ, এবং এটি আহমাদ শাকির (রহিমাহুল্লাহ)-এর পাদটীকা সম্বলিত]
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল আকিদাতিত তাহাবিয়্যাহ - ত আল-আওকাফ আস-সাউদিয়্যাহ - বিতালিকতি আহমাদ শাকির
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم.
مقدمة: الرئاسة العامة لإدارات البحوث العلمية والإفتاء والدعوة والإرشاد.
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي لَمْ يَتَّخِذْ وَلَدًا وَلَمْ يَكُنْ لَهُ شَرِيكٌ فِي الْمُلْكِ وَلَمْ يَكُنْ له وليٌّ من الذل وكبره تكبيرًا.
وَأَشْهَدُ أَنَّ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لا شريك له. وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله صلى الله عليه وسلم تسليمًا كثيرًا. أما بعد:
فلقد خلق الله الخلق لغاية شريفة سامية وهي عبادته وحده لا شريك له، قَالَ تَعَالَى: {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ} (1). وإذا كانت الغاية من إيجاد البشرية هي عبادة الله وحده، وبما أن التوحيد هو رأس العبادات وأساسها - فإن أوجب ما يجب على العبد معرفته والتسليم له والإيمان به هو توحيد الله بأسمائه وصفاته وأفعاله، والتصديق بما يستلزم ذلك من إيمانٍ بملائكته ورسله وكتبه واليوم الآخر .... ولأجل تحقيق ذلك في حياة البشرية فقد أخذ الله عليها العهد والميثاق على أن تؤمن به، قَالَ تَعَالَى: {وَإِذْ أَخَذَ رَبُّكَ مِنْ بَنِي آدَمَ مِنْ ظُهُورِهِمْ ذُرِّيَّتَهُمْ وَأَشْهَدَهُمْ عَلَى أَنْفُسِهِمْ أَلَسْتُ بِرَبِّكُمْ قَالُوا بَلَى شَهِدْنَا أَنْ تَقُولُوا يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِنَّا كُنَّا عَنْ هَذَا غَافِلِينَ} (2).
وحتى لا يكون للناس على الله حجة فقد أرسل رسله وأنزل كتبه، قَالَ تَعَالَى: {وَرُسُلًا قَدْ قَصَصْنَاهُمْ عَلَيْكَ مِنْ قَبْلُ وَرُسُلًا لَمْ نَقْصُصْهُمْ عَلَيْكَ وَكَلَّمَ اللَّهُ مُوسَى تَكْلِيمًا} {رُسُلًا مُبَشِّرِينَ وَمُنْذِرِينَ لِئَلَّا يَكُونَ لِلنَّاسِ عَلَى اللَّهِ حُجَّةٌ بَعْدَ الرُّسُلِ وَكَانَ اللَّهُ عَزِيزًا حَكِيمًا} (3).
--------------------------------------------
দয়াময়, পরম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকা: বৈজ্ঞানিক গবেষণা, ইফতা, দাওয়াহ ও ইরশাদ বিষয়ক সাধারণ প্রেসিডেন্সি।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি, রাজত্বে যার কোনো শরিক নেই এবং যিনি অপদস্থতা থেকে বাঁচার জন্য কোনো সাহায্যকারীর মুখাপেক্ষী নন; আর আপনি তাঁর মহিমা ঘোষণা করুন যথাযথভাবে।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, তাঁর ওপর আল্লাহর অনেক অনেক দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক। অতঃপর:
নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা সৃষ্টিজগতকে এক মহৎ ও সুউচ্চ লক্ষ্য অর্জনের জন্য সৃষ্টি করেছেন, আর তা হলো শরিকহীনভাবে একমাত্র তাঁরই ইবাদত করা। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর আমি জিন ও মানবজাতিকে কেবল আমারই ইবাদত করার জন্য সৃষ্টি করেছি} (১)। মানবজাতি সৃষ্টির মূল লক্ষ্য যেহেতু একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা, আর তাওহীদ যেহেতু সকল ইবাদতের মূল ও ভিত্তি—সেহেতু একজন বান্দার ওপর যা জানা, যা মেনে নেওয়া এবং যার ওপর ঈমান আনা সর্বাধিক ওয়াজিব, তা হলো আল্লাহর নামসমূহ, গুণাবলি ও কার্যাবলির তাওহীদ এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ যেমন—তাঁর ফেরেশতাগণ, রাসূলগণ, কিতাবসমূহ এবং পরকালের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা... আর মানবজীবনে এটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আল্লাহ তাদের কাছ থেকে তাঁর প্রতি ঈমান আনার অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর যখন আপনার রব বনী আদমের পৃষ্ঠদেশ থেকে তাদের সন্তানদের বের করে আনলেন এবং তাদের নিজেদের ওপর সাক্ষ্য রাখলেন যে, ‘আমি কি তোমাদের রব নই?’ তারা বলল, ‘হ্যাঁ, আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি’। যেন কিয়ামতের দিন তোমরা বলতে না পার যে, ‘আমরা তো এ বিষয়ে অসতর্ক ছিলাম’} (২)।
আর মানুষের জন্য আল্লাহর বিরুদ্ধে যেন কোনো অজুহাত না থাকে, সেজন্য তিনি তাঁর রাসূলগণকে পাঠিয়েছেন এবং কিতাবসমূহ নাজিল করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর আমি এমন অনেক রাসূল পাঠিয়েছি যাদের ইতিবৃত্ত আমি আপনাকে আগে শুনিয়েছি এবং এমন অনেক রাসূল পাঠিয়েছি যাদের কথা আপনাকে শুনাইনি; আর আল্লাহ মূসার সাথে সরাসরি কথা বলেছিলেন} {রাসূলগণকে সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে পাঠিয়েছি, যাতে রাসূল আসার পর আল্লাহর বিরুদ্ধে মানুষের কোনো অজুহাত না থাকে; আর আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়} (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল আকিদাতিত তাহাবিয়্যাহ - ত আল-আওকাফ আস-সাউদিয়্যাহ - বিতালিকতি আহমাদ শাকির
(পৃষ্ঠা: ৪)
وبعد ذهاب الرسل وانطماس السبل
… تختلف الغايات وتفسد التصورات وتتعدد الرايات ولا نجاة ولا مخرج من هذا الاختلاف والفساد والتفرق إلا باتباع الكتاب والسنة واقتفاء أثر سلف هذه الأمة.
ومن أجل المساهمة في تحقيق ذلك في حياة الأمة، فقد أولت الرئاسة العامة لإدارات البحوث العلمية والإفتاء والدعوة والإرشاد الكتاب الإسلامي جل عنايتها ترجمةً وتحقيقًا ونشرًا لتبصير المسلمين بالعقيدة الصحيحة وبيان العقائد الباطلة والانحرافات الشركية التي انتشرت في كثير من بلاد المسلمين.
وهذا الكتاب الذي نقدمه اليوم للقارئ المسلم - (شرح العقيدة الطحاوية) لابن أبي العز الحنفي رحمه الله من خير ما يحقق ذلك؛ إذ موضوعه من أشرف الموضوعات وهو علم العقيدة.
وقد تضافر على تأليفه إمامان جليلان هما: الإمام الطحاوي رحمه الله مؤلف المتن، وابن أبي العز رحمه الله مؤلف الشرح.
وقد قامت الرئاسة ممثلة في وكالة الطباعة والترجمة بتصحيح الكتاب وتنقيحه من الأخطاء، وفق الأمور التالية:
1 - جعلت طبعة أحمد محمد شاكر رحمه الله أصلًا يُطبع منه.
2 - حين يوجد عبارة مشكلة في نسخة أحمد شاكر يتم الرجوع إلى طبعة عام 1349 هـ في المطبعة السلفية بمكة المكرمة، حيث إن طبعة مكة هذه أصلًا لطبعة أحمد شاكر.
3 - إذا لم يوجد تصحيح للمشكل في المطبوعتين السابقتين يكون الرجوع إلى النسخ المطبوعة التالية:
أ- الطبعة الأولى للمكتب الإسلامي عام 1392هـ، وقد استفدنا منها إضافة إلى ذلك ترجمة الإمام الطحاوي رحمه الله.
রসূলদের প্রস্থান এবং পথসমূহ বিলুপ্ত হওয়ার পর
... লক্ষ্যসমূহ ভিন্ন হয়ে যায়, চিন্তাধারা কলুষিত হয় এবং পতাকাসমূহ বহুধা বিভক্ত হয়। আর এই মতভেদ, বিপর্যয় এবং বিভক্তি থেকে মুক্তি পাওয়ার এবং বের হওয়ার কোনো পথ নেই কিতাব ও সুন্নাহর অনুসরণ এবং এই উম্মতের সালাফদের পদাঙ্ক অনুসরণ করা ছাড়া।
আর উম্মতের জীবনে তা বাস্তবায়নে অবদান রাখার উদ্দেশ্যে, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, ফতোয়া, দাওয়াত ও দিকনির্দেশনা বিষয়ক সাধারণ প্রেসিডেন্সি ইসলামী কিতাবসমূহের অনুবাদ, সম্পাদনা ও প্রকাশের প্রতি তাদের পূর্ণ মনোযোগ নিবদ্ধ করেছে, যাতে মুসলমানদের সঠিক আকীদা সম্পর্কে সচেতন করা যায় এবং অনেক মুসলিম দেশে ছড়িয়ে পড়া বাতিল আকীদা ও শিরকি বিচ্যুতিসমূহ স্পষ্ট করা যায়।
আর আজ আমরা মুসলিম পাঠকদের কাছে যে বইটি পেশ করছি—ইবনে আবিল ইয আল-হানাফী (রাহিমাহুল্লাহ) রচিত (শারহুল আকীদা আত-তাহাবিয়্যাহ)—তা এই লক্ষ্য অর্জনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মাধ্যম; কারণ এর বিষয়বস্তু হলো সর্বাপেক্ষা মর্যাদাপূর্ণ বিষয়, যা হলো আকীদা শাস্ত্র।
এটি রচনায় দুজন মহান ইমামের প্রচেষ্টা সম্মিলিত হয়েছে: ইমাম তাহাবী (রাহিমাহুল্লাহ) যিনি মূল পাঠের রচয়িতা এবং ইবনে আবিল ইয (রাহিমাহুল্লাহ) যিনি ব্যাখ্যার রচয়িতা।
প্রেসিডেন্সি তাদের মুদ্রণ ও অনুবাদ সংস্থার মাধ্যমে নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর আলোকে বইটি সংশোধন ও ভুলভ্রান্তি থেকে পরিমার্জন করেছে:
১ - আহমাদ মুহাম্মদ শাকের (রাহিমাহুল্লাহ)-এর সংস্করণটিকে মুদ্রণের মূল ভিত্তি হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
২ - যখন আহমাদ শাকেরের কপিতে কোনো জটিল পাঠ পাওয়া গেছে, তখন মক্কাতুল মোকাররমার আস-সালাফিয়্যাহ প্রেসের ১৩৪৯ হিজরীর সংস্করণের সাহায্য নেওয়া হয়েছে; কারণ মক্কার এই সংস্করণটিই ছিল আহমাদ শাকেরের সংস্করণের মূল উৎস।
৩ - যদি পূর্বোক্ত দুই সংস্করণে জটিলতার সমাধান না পাওয়া যায়, তবে পরবর্তী মুদ্রিত সংস্করণগুলোর সাহায্য নেওয়া হয়েছে:
ক- ১৩৯২ হিজরীতে আল-মাকতাবুল ইসলামী থেকে প্রকাশিত প্রথম সংস্করণ। এটি ছাড়াও আমরা এটি থেকে ইমাম তাহাবী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর জীবনী গ্রহণ করে উপকৃত হয়েছি।
(খণ্ড: ১)
শারহুল আকিদাতিত তাহাবিয়্যাহ - ত আল-আওকাফ আস-সাউদিয়্যাহ - বিতালিকতি আহমাদ শাকির
(পৃষ্ঠা: ৫)
ب- طبعة مؤسسة الرسالة التي حققها وعلق عليها وخرج أحاديثها الدكتور: عبد الله بن عبد المحسن التركي، والأستاذ: شعيب الإرناؤوط. الطبعة الثالثة 1412هـ.
جـ - طبعة مكتبة دار البيان، الطبعة الأولى 1401هـ. تحقيق وتخريج: شعيب الإرناؤوط.
فإن اتفقت النسخ كلها أو أكثرها على عبارة معينة أثبت الصحيح بين القوسين هكذا []، وعلق عليها بما يفيد أن في هذا الأصل كذا، وأن ما أثبت هو من سائر النسخ أو أكثرها أو إحداها أو نحو ذلك. ثم يختم التعليق بالحرف (ن) ليدل على أن هذا التعليق من قبل الناشر وهو الرئاسة.
أما إذا وجد عبارة بين قوسين هكذا [] ولم يعلق عليه بشيء - فهو من فعل أحمد شاكر رحمه الله.
4 - إذا كان النص المشكل منقولًا من كتب أحد العلماء يكون التصحيح من الكتاب الذي نقل منه المؤلف مع الإشارة إلى ذلك، إذا وجد النص، أما إذا لم نعثر على هذا النص فيكون التصحيح من سائر النسخ الخطية لهذا الشرح.
نسأل الله أن ينفع بهذا العمل وأن يجزل الأجر والثواب لمؤلفيه ومن قام بتصحيحه وتنقيحه ولكل من ساهم في طبعه ونشره وتوزيعه.
والله الموفق والهادي إلى سواء السبيل. والحمد لله رب العالمين وصلى الله على نبينا محمد وعلى آله وصحبه.
وكالة الطباعة والترجمة
في الرئاسة العامة لإدارات البحوث
العلمية والإفتاء والدعوة والإرشاد
খ- মুআসসাসাতুর রিসালাহ সংস্করণ, যা ডক্টর আবদুল্লাহ বিন আবদুল মুহসিন আত-তুর্কি এবং উস্তাদ শুআইব আল-আরনাউত কর্তৃক সম্পাদিত, টীকাযুক্ত এবং যার হাদিসসমূহ বিশ্লেষণ করা হয়েছে। তৃতীয় সংস্করণ ১৪১২ হিজরি।
গ- মাকতাবাতু দারিল বয়ান সংস্করণ, প্রথম সংস্করণ ১৪০১ হিজরি। সম্পাদনা ও হাদিস বিশ্লেষণ: শুআইব আল-আরনাউত।
যদি সকল বা অধিকাংশ পাণ্ডুলিপি কোনো নির্দিষ্ট পাঠের বিষয়ে একমত হয়, তবে সঠিক পাঠটি বন্ধনীর [] মধ্যে স্থাপন করা হয়েছে এবং টীকায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, মূল কপিতে বিষয়টি এমন ছিল, আর যা সাব্যস্ত করা হয়েছে তা অন্যান্য পাণ্ডুলিপি বা অধিকাংশ বা কোনো একটি পাণ্ডুলিপি থেকে নেওয়া হয়েছে। অতঃপর টীকাটি (ন) অক্ষর দিয়ে শেষ করা হয়েছে যাতে বোঝা যায় যে এই টীকাটি প্রকাশকের পক্ষ থেকে, যা হলো আল-রিয়াসাহ।
আর যদি কোনো বাক্য বন্ধনীর [] মধ্যে পাওয়া যায় এবং তার ওপর কোনো টীকা না থাকে, তবে তা আহমাদ শাকির (রাহিমাহুল্লাহ)-এর কাজ।
৪ - যদি সমস্যাযুক্ত পাঠটি কোনো আলেমের গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃত হয়ে থাকে, তবে লেখক যে মূল গ্রন্থ থেকে তা উদ্ধৃত করেছেন সেই গ্রন্থ থেকেই সংশোধন করা হয়েছে এবং তার প্রতি নির্দেশ করা হয়েছে, যদি সেই পাঠটি খুঁজে পাওয়া যায়। কিন্তু যদি সেই পাঠটি খুঁজে পাওয়া না যায়, তবে এই ব্যাখ্যার অন্যান্য পাণ্ডুলিপি থেকে তা সংশোধন করা হয়েছে।
আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি এই কাজের দ্বারা উপকৃত করেন এবং এর লেখকগণ ও যারা এর সংশোধন ও পরিমার্জন করেছেন এবং যারা এর মুদ্রণ, প্রকাশ ও বিতরণে অবদান রেখেছেন তাদের সকলকে যেন মহৎ প্রতিদান ও সওয়াব দান করেন।
আল্লাহই তাওফিকদাতা এবং সরল পথের দিশারী। সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং আমাদের নবী মুহাম্মদ ও তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সাহাবীর ওপর রহমত বর্ষিত হোক।
মুদ্রণ ও অনুবাদ সংস্থা
বৈজ্ঞানিক গবেষণা বিভাগসমূহের জেনারেল প্রেসিডেন্সি
ইফতা, দাওয়াহ ও ইরশাদ।
(খণ্ড: ১)
শারহুল আকিদাতিত তাহাবিয়্যাহ - ত আল-আওকাফ আস-সাউদিয়্যাহ - বিতালিকতি আহমাদ শাকির
(পৃষ্ঠা: ৭)
مقدمة: أحمد محمد شاكربسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العالمين. وصلى الله على أشرف المرسلين، وسيد الخلق أجمعين، محمد عبد الله ورسوله الهادي الأمين، وعلى آله وصحبه وتابعيهم بإحسان إلى يوم الدين.
هذا شرح نفيس، للعقيدة السلفية التي كتبها"الطحاوي"الإمام العلامة الحافظ، صاحب التصانيف البديعة: أَبُو جَعْفَرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَلَامَةَ الأزدي المصري الحنفي، وهو إمام ثقة جليل. وهو ابن أخت المزني صاحب الإمام الشافعي.
قال ابن يونس: كان ثقة ثبتًا فقيهًا عاقلًا، لم يخلَّف مثله.
ولد بمصر سنة 239هـ. ومات بها في مستهل ذو القعدة سنة 321هـ. رحمه الله (1).
ومخطوطة الشرح التي وجدت، كانت غُفْلًا من اسم المؤلف، فلم يعرف إذْ ذاك من هو؟ وكانت نسخة سقيمة كثيرة الغلط والتحريف. ولما توجد منه مخطوطة صحيحة بعدُ.
ولكن الشرح نفيس، وأبحاثه دقيقة عميقة، وتحقيقاته بديعة متقنة. وقد طبع للمرة الأولى سنة 1349هـ، بمكة المكرمة، في المطبعة السلفية، وكان لها فرع هناك إذ ذاك.
--------------------------------------------
ভূমিকা: আহমদ মুহাম্মদ শাকিরপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূলদের মধ্যে সবচেয়ে সম্মানিত এবং সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ নেতা, আল্লাহর বান্দা ও তাঁর বিশ্বস্ত পথপ্রদর্শক রাসূল মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি, এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীবর্গ এবং কিয়ামত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণকারীদের প্রতি।
এটি সালাফি আকিদার একটি মূল্যবান ব্যাখ্যাগ্রন্থ, যা লিখেছেন ইমাম, আল্লামা, হাফিজ এবং চমৎকার সব গ্রন্থের রচয়িতা: আবু জাফর আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সালামা আল-আজদি আল-মিসরি আল-হানাফি। তিনি একজন অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ও মহান ইমাম। তিনি ইমাম শাফিঈর ছাত্র আল-মুজানির ভাগ্নে ছিলেন।
ইবনে ইউনুস বলেন: তিনি নির্ভরযোগ্য, সুদৃঢ়, ফকিহ ও বুদ্ধিমান ছিলেন; তাঁর মতো আর কেউ উত্তরসূরি হিসেবে থাকেনি।
তিনি ২৩৯ হিজরিতে মিশরে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৩২১ হিজরির জিলকদ মাসের শুরুতে সেখানেই ইন্তেকাল করেন। আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন (১)।
ব্যাখ্যাগ্রন্থটির যে পাণ্ডুলিপি পাওয়া গিয়েছিল, তাতে লেখকের নাম ছিল না। ফলে তখন জানা যায়নি তিনি কে ছিলেন। সেই পাণ্ডুলিপিটি ছিল ত্রুটিপূর্ণ এবং ভুল ও বিকৃতিতে ভরা। এখন পর্যন্ত এর কোনো বিশুদ্ধ পাণ্ডুলিপি পাওয়া যায়নি।
তবে এই ব্যাখ্যাটি অত্যন্ত মূল্যবান, এর আলোচনা অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও গভীর এবং এর বিশ্লেষণসমূহ চমৎকার ও সুনিপুণ। এটি প্রথমবারের মতো ১৩৪৯ হিজরিতে মক্কা মুকাররমায় 'আস-সালাফিয়্যাহ' ছাপাখানায় মুদ্রিত হয়; তখন সেখানে এর একটি শাখা ছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল আকিদাতিত তাহাবিয়্যাহ - ত আল-আওকাফ আস-সাউদিয়্যাহ - বিতালিকতি আহমাদ শাকির
(পৃষ্ঠা: ৮)
وعني بتصحيحه والإشراف على طبعه لجنة من المشايخ والعلماء، برئاسة العلامة الكبير، الشيخ عبد الله بن حسن بن حسين آل الشيخ، رئيس القضاة في الحجاز (حالا). فبذلوا جهدًا عظيمًا في تصحيحه، ولكنه لم يخل من أغلاط كثيرة، وكل عمل في أوله عسير. وهم مشكورون على ما أتقنوا من تصحيح، مأجورون - إن شاء الله - على ما اجتهدوا.
وقد قرأت الكتاب عند ظهوره قراءة عابرة، فلم أتقن معرفته، ولم أتعمق في دراسته.
ثم كان من فضل الله عليّ، حين كنت بمدينة (الرياض) في شهر جمادى الأولى من هذا العام، سنة 1373هـ - أن كلفني الأستاذ المفتي الأكبر العالم العلامة الجليل، الشيخ محمد بن إبراهيم آل الشيخ، وشقيقه الأخ الفاضل، الأستاذ الكبير، الشيخ عبد اللطيف بن إبراهيم، مدير المعهد العلمي بالرياض - أن أعيد طبع هذا الشرح النفيس في مصر، وأن أُعنى بتصحيحه ما استطعت.
فما أن شرعت في قراءته، والتحقق منه، حتى وجدت بين يديّ كتابًا يندر أن يؤلف مثله، في دقته وعمقه، وتحقيقه وبيانه، والتزامه مذهب السلف الصالح، من غير حيدة عنه، ولا تأول ولا تمحل.
ووجدتني حُمِّلت عبئًا عظيمًا من تحقيقه، إذ لم أجد منه مخطوطة معتمدة، بل لم أجد المخطوط الأصلي الذي طبع عنه الطبعة السالفة.
فاجتهدت في تصحيح كلام الشارح ما استطعت، وعدت إلى الأحاديث والآثار والنصوص التي ينقلها - فيما أجد من أصولها عندي.
ولعلي- بهذا- أكون قد أدّيت الأمانة في حدود مقدوري واستطاعتي، ولكني لا أزال أرى هذه الطبعة مؤقتة أيضًا، حتى يوفقنا الله إلى أصل محفوظ للشرح صحيح، يكون عمدة في التصحيح. فنعيد طبعه، ونتقنه، ونخرجه إخراجًا
এর সংশোধন এবং মুদ্রণ তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব পালন করেছেন একদল শাইখ ও উলামা, যার নেতৃত্বে ছিলেন প্রখ্যাত আলেম, শাইখ আবদুল্লাহ বিন হাসান বিন হুসাইন আলুশ শাইখ, যিনি বর্তমানে হিজাজের প্রধান বিচারপতি। তাঁরা এর সংশোধনে মহৎ প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন, তবে এটি অনেক ভুল থেকে মুক্ত ছিল না, আর প্রতিটি কাজই শুরুর দিকে কঠিন হয়ে থাকে। তাঁরা যে সংশোধনগুলো নির্ভুলভাবে করেছেন সেজন্য তাঁরা কৃতজ্ঞতাভাজন এবং আল্লাহ চাহেন তো তাঁদের এই ইজতিহাদের জন্য তাঁরা প্রতিদানপ্রাপ্ত হবেন।
গ্রন্থটি যখন প্রথম প্রকাশিত হয় তখন আমি তা সাধারণভাবে পাঠ করেছিলাম, ফলে আমি এটি উত্তমরূপে বুঝতে পারিনি এবং এর অধ্যয়নে গভীরভাবে নিমগ্ন হইনি।
অতঃপর আল্লাহর অনুগ্রহে আমি যখন এই বছরের ১৩৭৩ হিজরির জুমাদাল উলা মাসে রিয়াদ শহরে ছিলাম—তখন মহান মুফতি, প্রাজ্ঞ আলেম, শাইখ মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম আলুশ শাইখ এবং তাঁর সহোদর সম্মানিত ভাই, বিশিষ্ট উস্তাদ ও রিয়াদের ইলমি ইনস্টিটিউটের পরিচালক শাইখ আবদুল লতিফ বিন ইব্রাহিম আমাকে মিশরে এই মূল্যবান শরাহটি পুনরায় মুদ্রণের এবং যথাসম্ভব গুরুত্বসহকারে এর সংশোধনের দায়িত্ব অর্পণ করেন।
যখনই আমি এটি পাঠ এবং যাচাই-বাছাই করা শুরু করলাম, তখনই আমি এমন এক কিতাবের দেখা পেলাম যার মতো কিতাব রচনা বিরল; এর সূক্ষ্মতা, গভীরতা, গবেষণা ও বর্ণনার সাবলীলতা এবং সলফে সালেহীনদের মানহাজের প্রতি অবিচল থাকার ক্ষেত্রে, যা থেকে এটি বিন্দুমাত্র বিচ্যুত হয়নি এবং কোনো রূপ অপব্যাখ্যা বা কৃত্রিমতার আশ্রয় নেয়নি।
আমি অনুভব করলাম যে এর তাহকীকের ক্ষেত্রে এক বিশাল দায়িত্ব আমার কাঁধে অর্পিত হয়েছে, কারণ আমি এর কোনো নির্ভরযোগ্য পাণ্ডুলিপি খুঁজে পাইনি, এমনকি সেই মূল পাণ্ডুলিপিটিও পাইনি যা থেকে পূর্ববর্তী সংস্করণটি মুদ্রিত হয়েছিল।
তাই আমি ব্যাখ্যাকারকের বক্তব্য যথাসম্ভব সংশোধনে সচেষ্ট হয়েছি এবং আমার কাছে বিদ্যমান মূল উৎসগুলোর সাহায্যে তিনি যেসব হাদিস, আসার ও উদ্ধৃতি উল্লেখ করেছেন সেগুলোর দিকে প্রত্যাবর্তন করেছি।
সম্ভবত এর মাধ্যমে আমি আমার সামর্থ্য ও ক্ষমতার সীমার মধ্যে আমানত আদায় করতে পেরেছি, তবে আমি এখনও এই সংস্করণটিকে সাময়িক মনে করি, যতক্ষণ না আল্লাহ আমাদের এই শরাহের কোনো সংরক্ষিত ও নির্ভুল মূল পাণ্ডুলিপি অর্জনে তৌফিক দান করেন, যা সংশোধনের ক্ষেত্রে প্রধান ভিত্তি হবে। তখন আমরা এটি পুনরায় মুদ্রণ করব, নিখুঁত করব এবং তা প্রকাশ করব।
(খণ্ড: ১)
শারহুল আকিদাতিত তাহাবিয়্যাহ - ত আল-আওকাফ আস-সাউদিয়্যাহ - বিতালিকতি আহমাদ শাকির
(পৃষ্ঠা: ৯)
سليمًا إن شاء الله ذلك ويسَّره، وكان في العمر بقية.
وقبيل الطبع أرشدني الأخ الجليل النبيل صاحب السعادة الشيخ محمد بن حسين نصيف إلى أن السيد مرتضى الزبيدي ذكر هذا الشارح، وسماه باسمه، ونقل عنه قطعة كبيرة في شرح الإحياء. فرجعت إلى الموضع الذي أشار إليه من شرح الإحياء، وهو 2: 146، فوجدته بعد أن شرح استدلال الغزالي في مسألة الكلام، بقول الشاعر:
إِنَّ الْكَلَامَ لَفِي الْفُؤَادِ وَإِنَّمَا
… جُعل اللِّسَانُ على الفؤاد دليلًا
- قال ما نصه:
"وقد استرسل بعض علمائنا، من الذين لهم تقدم ووجاهة، وهو: علي بن علي بن محمد الغزي [كذا] الحنفي. فقال في شرح عقيدة الإمام أبي جعفر الطحاوي، ما نصه: وَأَمَّا مَنْ قَالَ إِنَّهُ مَعْنًى وَاحِدٌ، وَاسْتَدَلَّ بقول الأخطل المذكور - فَاسْتِدْلَالٌ فَاسِدٌ، وَلَوِ اسْتَدَلَّ مُسْتَدِلٌّ بِحَدِيثٍ فِي الصحيحين لقالوا
… ".
فنقل قول الشارح في هذا الشرح - ابتداء من السطر الأول من (ص: 148) إلى بعض السطر السادس عشر من نفس الصفحة من طبعتنا هذه. ثم قال السيد مرتضى الزبيدي ردًّا عليه وتعقيبًا: "ولما تأملته حق التأمل؛ وجدته كلامًا مخالفًا لأصول مذهب إمامه!! وهو في الحقيقة كالرد على أئمة السنة، كأنه تكلم بلسان المخالفين، وجازف وتجاوز عن الحدود، حتى شبه قول أهل السنة بقول النصارى! فليتنبه لذلك".
فهذه القطعة التي نقلها الزبيدي، وهي تزيد على 14 سطرًا - تدل دلالة قاطعة على أنه ينقل عن هذا الشرح نفسه، خصوصًا وأنها من الكلام الاستقلالي العالي، الذي يكتبه الرجل عن ذات نفسه، لا ينقله عن غيره، ولا يقلد فيه غيره. كما هو بين لا شك فيه.
ইনশাআল্লাহ আল্লাহ যদি তা চান এবং সহজ করেন এবং জীবনে যদি আরও সময় অবশিষ্ট থাকে, তবে সুস্থভাবেই হবে।
মুদ্রণের কিছুকাল আগে মহৎ ও মহানুভব ভাই মহামান্য শায়খ মুহাম্মদ ইবনে হুসাইন নাসিফ আমাকে অবহিত করেন যে, সাইয়্যিদ মুরতাজা আল-জাবিদি এই ব্যাখ্যাকারকে উল্লেখ করেছেন, তাঁর নামও বলেছেন এবং ইহয়াই উলুমিদ্দিন-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে তাঁর থেকে একটি বড় অংশ উদ্ধৃত করেছেন। সুতরাং আমি ইহয়াই উলুমিদ্দিন-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থের সেই নির্দিষ্ট স্থানের দিকে ফিরে গেলাম যেটির দিকে তিনি ইঙ্গিত করেছিলেন, আর তা হলো ২: ১৪৬। সেখানে আমি দেখলাম ইমাম গাজ্জালির কালাম সংক্রান্ত মাসআলায় কবির পঙক্তির মাধ্যমে দেওয়া দলিলের ব্যাখ্যার পর তিনি লিখেছেন:
নিশ্চয়ই কথা তো অন্তরেই থাকে, আর জিহ্বাকে তো কেবল
… অন্তরের পরিচায়ক হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
- তিনি যা লিখেছেন তার মূল পাঠ হলো:
"আমাদের কিছু উলামা, যারা অগ্রগণ্য ও মর্যাদাবান, দীর্ঘ আলোচনা করেছেন। তিনি হলেন: আলি ইবনে আলি ইবনে মুহাম্মদ আল-গাজ্জি [অনুরূপ] হানাফি। তিনি ইমাম আবু জাফর আত-তহাবি-এর আকিদার ব্যাখ্যায় যা লিখেছেন তার মূল পাঠ হলো: আর যারা বলে যে এটি একটি একক অর্থ এবং উল্লেখিত আখতালের পঙক্তি দ্বারা দলিল পেশ করে—তবে তা একটি ভ্রান্ত দলিল গ্রহণ। আর যদি কোনো দলিল পেশকারী সহিহাইন থেকে কোনো হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করত তবে তারা বলত
… "।
অতঃপর তিনি এই ব্যাখ্যামূলক গ্রন্থে ব্যাখ্যাকারীর বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন—যা আমাদের এই মুদ্রণের (পৃষ্ঠা: ১৪৮) এর প্রথম লাইন থেকে শুরু করে একই পৃষ্ঠার ষোড়শ লাইনের কিছু অংশ পর্যন্ত। অতঃপর সাইয়্যিদ মুরতাজা আল-জাবিদি এর প্রতিবাদ ও পর্যালোচনা হিসেবে বলেছেন: "আমি যখন এটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলাম, তখন একে তাঁর ইমামের মাযহাবের মূলনীতির পরিপন্থী কথা হিসেবে পেলাম!! প্রকৃতপক্ষে এটি যেন সুন্নাহর ইমামদের বক্তব্যেরই প্রতিবাদ, মনে হয় যেন তিনি বিরোধীদের ভাষায় কথা বলছেন এবং তিনি হঠকারিতা করেছেন ও সীমা লঙ্ঘন করেছেন, এমনকি আহলুস সুন্নাহর বক্তব্যকে নাসারাদের বক্তব্যের সাথে তুলনা করেছেন! সুতরাং এ বিষয়ে সতর্ক হওয়া উচিত।"
সুতরাং জাবিদি যে অংশটি উদ্ধৃত করেছেন এবং যা ১৪ লাইনেরও বেশি—তা অকাট্যভাবে প্রমাণ করে যে তিনি এই ব্যাখ্যাগ্রন্থ থেকেই উদ্ধৃতি দিচ্ছেন। বিশেষ করে এটি উচ্চতর স্বতন্ত্র আলোচনার অন্তর্ভুক্ত, যা কোনো ব্যক্তি নিজ থেকেই লিখে থাকেন, অন্যের থেকে তা উদ্ধৃত করেন না এবং এতে অন্য কারো অনুসরণও করেন না। যেমনটি কোনো সন্দেহ ছাড়াই সুস্পষ্ট।
(খণ্ড: ১)
শারহুল আকিদাতিত তাহাবিয়্যাহ - ত আল-আওকাফ আস-সাউদিয়্যাহ - বিতালিকতি আহমাদ শাকির
(পৃষ্ঠা: ১০)
ولكنا نلاحظ أنه أخطأ في نسبة المؤلف، فقال: "الغزي"! وصوابه: "علي بن علي بن محمد بن أبي العز الحنفي"، كما في ترجمته في الدرر الكامنة 3: 87، وقد وصفه بأنه"قاضي القضاة بدمشق ثم بالديار المصرية، ثم بدمشق"وذكر أنه ولد سنة 731، ومات سنة 792.
والحمد لله على ما وفقنا إليه أولًا وآخرًا.
القاهرة يوم السبت 11 شوال سنة 1373هـ.
كتبه
أحمد محمد شاكر
عفا الله عنه بمنّه.
কিন্তু আমরা লক্ষ্য করছি যে, তিনি লেখকের নামকরণের ক্ষেত্রে ভুল করেছেন এবং বলেছেন: "আল-গাজ্জি"! অথচ এর সঠিক রূপ হলো: "আলী ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবিল ইয আল-হানাফী", যেমনটি তাঁর জীবনীতে 'আদ-দুরার আল-কামিনাহ' ৩: ৮৭-এ বর্ণিত হয়েছে। তিনি তাঁকে "দামেস্কের প্রধান বিচারপতি, অতপর মিশর ভূখণ্ডের এবং পুনরায় দামেস্কের" হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে তিনি ৭৩১ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৭৯২ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।
শুরু ও শেষে সকল বিষয়ের তাওফীক দানের জন্য আল্লাহরই যাবতীয় প্রশংসা।
কায়রো, শনিবার ১১ শাওয়াল, ১৩৭৩ হিজরি।
এটি লিখেছেন
আহমদ মুহাম্মদ শাকের
আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহে তাঁকে ক্ষমা করুন।
(খণ্ড: ১)
শারহুল আকিদাতিত তাহাবিয়্যাহ - ত আল-আওকাফ আস-সাউদিয়্যাহ - বিতালিকতি আহমাদ শাকির
(পৃষ্ঠা: ১১)
ترجمة الإمام الطحاوي صاحب العقيدة:هو أَبُو جَعْفَرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَلَامَةَ بن سلمة بن عبد الملك بن سلمة بن سليم بن سليمان بن جواب الأزدي الطحاوي - نسبة إلى قرية بصعيد مصر- الإمام المحدث الفقيه الحافظ.
ولد رحمه الله سنة تسع وثلاثين ومائتين، وعندما بلغ سن الإدراك تحول إلى مصر لطلب العلم، وأخذ يتلقى العلم على خاله إسماعيل بن يحيى المزني أفقه أصحاب الإمام الشافعي. وكان كلما اتسعت دائرة أُفقه يجد نفسه حائرًا أمام كثير من المسائل الفقهية، ولم يكن ليجد عند خاله ما يشفي غليله عنها، فأخذ يترقب ما يصنعه خاله عندما تعترضه تلك المسائل، فإذا هو كثير التعريج على كتب أصحاب أبي حنيفة، وإذا هو يختار ما ذهب إليه أبو حنيفة في كثير منها، وقد أودع هذه الاختيارات في كتابه"مختصر المزني".
فلم يسعه بعد ذلك إلا أن ينظر في كتب أصحاب أبي حنيفة ويطلع على منهجهم في التأصيل والتفريع حتى إذا اكتملت معرفته بمذهب الإمام أبي حنيفة تحول إليه واقتدى به وأصبح من أتباعه. ولم يمنعه ذلك من مخالفته لبعض أقوال الإمام وترجيح ما ذهب إليه غيره من الأئمة؛ لأنه- رحمه الله لم يكن مقلدًا لأبي حنيفة، إنما كان يرى أن منهجه في التفقه أمثل المناهج في نظره فكان يسير عليه، ويأتم به، ولذلك تجده في كتابه"معاني الآثار"يرجح ما لم يقل به إمامه. ومما يؤيد ما ذكرناه ما قاله ابن زولاق: سمعت أبا الحسن علي بن أبي جعفر الطحاوي يقول سمعت أبي يقول وذكر فضل أبي عبيد حربويه وفقهه فقال: كان يذاكرني في المسائل، فأجبته يومًا في مسألة فقال لي: ما هذا قول أبي حنيفة، فقلت له: أيها
আকিদাহ শাস্ত্রের রচয়িতা ইমাম তাহাবীর জীবনী:তিনি হলেন আবু জাফর আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সালামাহ ইবনে সালামাহ ইবনে আব্দুল মালিক ইবনে সালামাহ ইবনে সালিম ইবনে সুলাইমান ইবনে জওয়াব আল-আজদী আত-তাহাবী। তিনি উচ্চ মিসরের একটি গ্রামের দিকে সম্পৃক্ত। তিনি একজন ইমাম, মুহাদ্দিস, ফকিহ এবং হাফেজ ছিলেন।
তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) দুইশত উনচল্লিশ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন। যখন তিনি বোধসম্পন্ন বয়সে উপনীত হলেন, তখন জ্ঞান অর্জনের জন্য মিসরে চলে যান। তিনি তাঁর মামা ইসমাইল ইবনে ইয়াহইয়া আল-মুযানী—যিনি ইমাম শাফেয়ীর অনুসারীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ফকিহ ছিলেন—তাঁর নিকট জ্ঞান অর্জন করতে শুরু করেন। তাঁর জ্ঞানের পরিধি যত বিস্তৃত হচ্ছিল, তিনি অনেক ফিকহী মাসআলার ক্ষেত্রে নিজেকে কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থায় পাচ্ছিলেন। সে সম্পর্কে তাঁর মামার কাছে তিনি তৃপ্তিদায়ক কোনো উত্তর পাচ্ছিলেন না। ফলে তিনি লক্ষ্য করতে শুরু করলেন যে, তাঁর মামা যখনই এ ধরনের মাসআলাগুলোর সম্মুখীন হতেন, তখন তিনি কী করতেন। তিনি দেখলেন যে, তাঁর মামা প্রায়শই ইমাম আবু হানিফার অনুসারীদের কিতাবসমূহের শরণাপন্ন হচ্ছেন এবং তাদের মধ্যে অনেক ক্ষেত্রেই ইমাম আবু হানিফা যে মত গ্রহণ করেছেন তা-ই বেছে নিচ্ছেন। তিনি এই পছন্দসমূহকে তাঁর ‘মুখতাসার আল-মুযানী’ গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করেছেন।
এরপর তাঁর কাছে ইমাম আবু হানিফার অনুসারীদের কিতাবসমূহ পর্যালোচনার এবং মূলনীতি ও শাখা-প্রশাখা নির্ধারণে তাঁদের পদ্ধতি সম্পর্কে অবগত হওয়া ছাড়া কোনো উপায় ছিল না। পরিশেষে ইমাম আবু হানিফার মাযহাব সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান যখন পূর্ণতা লাভ করল, তখন তিনি সেই মাযহাবে স্থানান্তরিত হলেন, তাঁকে অনুসরণ করলেন এবং তাঁর অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত হলেন। এটি তাঁকে ইমামের কিছু মতের বিরোধিতা করতে এবং অন্যান্য ইমামদের মতকে প্রাধান্য দিতে বাধা দেয়নি; কারণ তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) আবু হানিফার অন্ধ অনুসারী ছিলেন না। বরং তিনি মনে করতেন যে, ফিকহ চর্চায় তাঁর পদ্ধতিই ছিল তাঁর দৃষ্টিতে সর্বোত্তম পদ্ধতি, তাই তিনি সেই পথেই চলতেন এবং তাঁকে অনুসরণ করতেন। এই কারণেই আপনি তাঁর ‘মাআনিউল আসার’ গ্রন্থে দেখতে পাবেন যে, তিনি এমন অনেক মতকে প্রাধান্য দিয়েছেন যা তাঁর ইমাম বলেননি। আমরা যা উল্লেখ করেছি তার সমর্থনে ইবনে যুলাক যা বলেছেন তা হলো: আমি আবুল হাসান আলী ইবনে আবু জাফর আত-তাহাবীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন যে, আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি—এমতাবস্থায় যে তিনি আবু উবায়েদ হারবুয়াহ-এর শ্রেষ্ঠত্ব ও ফিকহী পাণ্ডিত্যের কথা উল্লেখ করছিলেন—তিনি বললেন: তিনি আমার সাথে বিভিন্ন মাসআলা নিয়ে আলোচনা করতেন। একদিন আমি একটি মাসআলার উত্তর দিলে তিনি আমাকে বললেন: “এটি তো আবু হানিফার কথা নয়।” তখন আমি তাঁকে বললাম: হে...
(খণ্ড: ১)
শারহুল আকিদাতিত তাহাবিয়্যাহ - ত আল-আওকাফ আস-সাউদিয়্যাহ - বিতালিকতি আহমাদ শাকির
(পৃষ্ঠা: ১২)
القاضي: أوكل ما قاله أبو حنيفة أقول به؟ فقال: ما ظننتك إلا مقلدًا. فقلت له: وهل يقلد إلا عصبي. فقال لي: أو غبي. قال: فطارت هذه بمصر حتى صارت مثلًا وحفظها الناس (1).
وقد تخرج على كثير من الشيوخ، وأخذ عنهم، وأفاد منهم، وقد أربى عددهم على ثلاثمائة شيخ، وكان شديد الملازمة لكل قادم إلى مصر من أهل العلم من شتى الأقطار، حتى جمع إلى علمه ما عندهم من العلوم، وهذا يدلك على مبلغ عنايته في الاستفادة، وحرصه الأكيد على العلم. وقد أثنى عليه غير واحد من أهل العلم، ووصفوه بأنه ثقة ثبت فقيه عاقل حافظ دين، له اليد الطولى في الفقه والحديث.
قال ابن يونس: كان الطحاوي ثقة ثبتًا فقيهًا عاقلًا لم يخلف مثله.
وقال الذهبي في"تاريخه الكبير": الفقيه المحدث الحافظ أحد الأعلام، وكان ثقة ثبتًا فقيهًا عاقلًا.
وقال ابن كثير في"البداية والنهاية": هو أحد الثقات الأثبات والحفاظ الجهابذة.
وأما تصانيفه رحمه الله فهي غاية في التحقيق والجمع وكثرة الفوائد وحسن العرض.
فمن مصنفاته: "العقيدة الطحاوية"وهي التي نقدمها مع شرحها في طبعتها الأنيقة للقراء، وهي على صغر حجمها غزيرة النفع سلفية المنهج، تجمع بين دفتيها كل ما يحتاج إليه المسلم في عقيدته. ومنها كتاب"معاني الآثار"وهو كتاب يعرض فيه الأبحاث الفقهية مقرونة بدليلها، ويذكر في غضون بحثه المسائل الخلافية، ويسرد أدلتها ويناقشها، ثم يرجح ما استبان له الصواب منها، وهذا الكتاب
--------------------------------------------
বিচারক: আবু হানিফা যা বলেছেন তার সবই কি আমি বলি? তিনি বললেন: আমি তো আপনাকে কেবল একজন মুকাল্লিদ (অনুগামী) মনে করেছিলাম। তখন আমি তাঁকে বললাম: গোঁড়া ব্যক্তি ছাড়া কি কেউ অন্ধ অনুসরণ করে? তিনি আমাকে বললেন: অথবা নির্বোধ। তিনি বলেন: এই কথাটি মিশরে এমনভাবে ছড়িয়ে পড়ে যে তা প্রবাদে পরিণত হয় এবং মানুষ তা মুখস্থ করে ফেলে (১)।
তিনি বহু শায়খের নিকট শিক্ষা লাভ করেছেন, তাঁদের থেকে জ্ঞান গ্রহণ করেছেন এবং উপকৃত হয়েছেন। তাঁদের সংখ্যা তিনশতেরও অধিক ছিল। বিভিন্ন দেশ থেকে মিশরে আগত প্রত্যেক জ্ঞানীর সাহচর্যে তিনি নিবিড়ভাবে থাকতেন, যতক্ষণ না তিনি নিজের জ্ঞানের সাথে তাঁদের জ্ঞানভাণ্ডারকে যুক্ত করতেন। এটি জ্ঞান আহরণে তাঁর গভীর অভিনিবেশ এবং জ্ঞানের প্রতি তাঁর সুনিশ্চিত আগ্রহের পরিচয় দেয়। একাধিক আলেম তাঁর প্রশংসা করেছেন এবং তাঁকে নির্ভরযোগ্য, সুদৃঢ়, ফকিহ, বুদ্ধিমান, হাফেজ ও ধর্মপ্রাণ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ফিকহ ও হাদিসশাস্ত্রে তাঁর অসামান্য পাণ্ডিত্য ছিল।
ইবনে ইউনুস বলেছেন: তহাবি ছিলেন নির্ভরযোগ্য, সুদৃঢ়, ফকিহ এবং বুদ্ধিমান; তাঁর স্থলাভিষিক্ত হওয়ার মতো কেউ ছিল না।
আয-যাহাবি তাঁর "তারিখে কাবীর" গ্রন্থে বলেছেন: তিনি ফকিহ, মুহাদ্দিস, হাফেজ এবং অন্যতম প্রখ্যাত ইমাম; তিনি ছিলেন নির্ভরযোগ্য, সুদৃঢ়, ফকিহ ও বুদ্ধিমান।
ইবনে কাসির তাঁর "আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ" গ্রন্থে বলেন: তিনি নির্ভরযোগ্য ও সুদৃঢ় ব্যক্তিত্ব এবং প্রাজ্ঞ হাফেজদের অন্যতম।
আর তাঁর (রহিমাহুল্লাহ) রচনাবলি তাহকিক, সংকলন, উপকারিতার প্রাচুর্য এবং চমৎকার উপস্থাপনার দিক থেকে চূড়ান্ত পর্যায়ের।
তাঁর রচনাবলির মধ্যে রয়েছে: "আকিদাহ আত-তহাবিইয়াহ", যা আমরা পাঠকদের জন্য এর ব্যাখ্যাসহ একটি সুদৃশ্য সংস্করণে পেশ করছি। এটি আকারে ছোট হওয়া সত্ত্বেও অত্যন্ত উপকারী এবং সালাফি মানহাজ অনুসারী, যা এর দুই মলাটের মাঝে একজন মুসলিমের আকিদার জন্য প্রয়োজনীয় সব বিষয়কে একত্র করেছে। তাঁর অন্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে "মাআনি আল-আসার", যা এমন একটি কিতাব যেখানে তিনি ফিকহি আলোচনাগুলো দলিলের সাথে উপস্থাপন করেছেন এবং আলোচনার স্তরে স্তরে মতপার্থক্যপূর্ণ মাসআলাগুলো উল্লেখ করে সেগুলোর দলিল বর্ণনা ও পর্যালোচনা করেছেন, অতঃপর তাঁর নিকট যা সঠিক মনে হয়েছে সেটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন। আর এই কিতাবটি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল আকিদাতিত তাহাবিয়্যাহ - ত আল-আওকাফ আস-সাউদিয়্যাহ - বিতালিকতি আহমাদ শাকির
(পৃষ্ঠা: ১৩)
يدرب طالب العلم على التفقه، ويطلعه على وجوه الخلاف. ويربي فيه ملكة الاستنباط، ويكون له شخصية مستقلة.
ومنها كتاب"مشكل الآثار" (1) في نفي التضاد واستخراج الأحكام منها، ومنها"أحكام القرآن"و"المختصر"و"شرح الجامع الكبير"و"شرح الجامع الصغير"وكتاب"الشروط"و"النوادر الفقهية"و"الرد على أبي عبيد"و"الرد على عيسى بن أبان"وغير ذلك من التصانيف الجليلة المعتبرة.
تُوفي رحمه الله سنة إحدى وعشرين وثلاثمائة ليلة الخميس مستهل ذي القعدة بمصر، ودفن بالقرافة.
--------------------------------------------
এটি ইলম অন্বেষণকারীকে ফিকহী গভীরতা অর্জনে প্রশিক্ষণ দেয় এবং তাকে মতভেদের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে অবহিত করে। এটি তার মধ্যে ইস্তিনবাত বা বিধান আহরণের যোগ্যতা তৈরি করে এবং তার জন্য একটি স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্ব গঠন করে।
তাঁর রচনাবলীর মধ্যে রয়েছে "মুশকিলুল আসার" (১), যা বৈপরীত্য নিরসন এবং হাদিস থেকে বিধান আহরণের বিষয়ে রচিত। আরও রয়েছে "আহকামুল কুরআন", "আল-মুখতাসার", "শারহু জামিউল কাবীর", "শারহু জামিউস সগীর", "কিতাবুশ শুরূত", "আন-নাওয়াদিরুল ফিকহিয়্যাহ", "আর-রাদ্দু আলা আবি উবাইদ", "আর-রাদ্দু আলা ঈসা ইবনে আবান" এবং এছাড়া আরও অনেক মহান ও নির্ভরযোগ্য গ্রন্থাবলী।
তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) ৩২১ হিজরী সনের জিলকদ মাসের শুরুতে বৃহস্পতিবার রাতে মিসরে ইন্তেকাল করেন এবং তাঁকে কারাফায় দাফন করা হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল আকিদাতিত তাহাবিয়্যাহ - ত আল-আওকাফ আস-সাউদিয়্যাহ - বিতালিকতি আহমাদ শাকির
(পৃষ্ঠা: ১৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة النشر في الطبعة الأولى- بالمطبعة السلفية، بمكة المكرمة:الحمد لله عالم السر والخفيات، المطلع على الضمائر والنيات.
(أما بعد) فحيث إن مؤلف هذا الشرح الحافل الجليل، وجامع هذا السفر العديم المثيل، لم يجعل لكتابه المذكور اسمًا، ولم يذكر اسم نفسه، كما هو عادة غالب الشراح والمؤلفين، إما تواضعًا منه رحمه الله وهضمًا لحقوق نفسه، وإما لغير ذلك من المقاصد الحسنة. وقد نسب الشرح المذكور في عنوان النسخة الخطية التي بأيدينا إلى أحد تلامذة ابن كثير صاحب التفسير، بلا تعيين، اعتمادًا على ما صرح به الشارح نفسه في موضعين أو ثلاثة من شرحه حيث يقول: قال شيخنا العماد ابن كثير.
فحرصًا على الوقوف على حقيقة الشارح، وخدمة للعلم، وقيامًا بواجبه، راجعنا ما في أيدينا من كتب التراجم والفنون، فلم نجد ما يمكننا معه الجزم بنسبته لشخص بعينه. وإنا نثبت هنا أسماء شارحي هذه العقيدة الذين عدهم صاحب"كشف الظنون"وهم سبعة من علماء الأحناف في مختلف الأزمان.
منهم: محمود بن أحمد الحنفي القونوي المتوفى سنة 770هـ، صدر شرحه بقوله: حمدًا لله المتوحد بكمال صمديته.
ومنهم: المولى أبو عبد الله محمود بن محمد بن أبي إسحاق الفقيه الحنفي، صدر شرحه بقوله: الحمد لله الذي هدانا لهذا.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
মক্কা মুকাররমার আস-সালাফিয়্যাহ ছাপাখানায় প্রকাশিত প্রথম সংস্করণের প্রকাশনা ভূমিকা:সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি গোপন ও অপ্রকাশ্য বিষয়াবলি সম্পর্কে পরিজ্ঞাত এবং যিনি অন্তরের সংকল্প ও নিয়তসমূহ সম্পর্কে সম্যক অবগত।
(অতঃপর) যেহেতু এই ব্যাপক ও মহিমান্বিত ভাষ্যের রচয়িতা এবং এই অতুলনীয় গ্রন্থের সংকলক তাঁর উক্ত কিতাবের কোনো নাম দেননি এবং নিজের নামও উল্লেখ করেননি—যেটি অধিকাংশ ভাষ্যকার ও লেখকবৃন্দের রীতি—হয়তো এটি তাঁর (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বিনয় ও আত্মনিবেদনের কারণে অথবা অন্য কোনো মহৎ উদ্দেশ্যে। আমাদের হাতে থাকা পাণ্ডুলিপির শিরোনামে উক্ত ভাষ্যটিকে নির্দিষ্ট কোনো নাম উল্লেখ ছাড়াই তাফসীরপ্রণেতা ইবনে কাসীরের জনৈক ছাত্রের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে। এটি স্বয়ং ভাষ্যকারের বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে, যেখানে তিনি তাঁর ভাষ্যের দুই বা তিন স্থানে স্পষ্টভাবে বলেছেন: আমাদের শাইখ আল-ইমাদ ইবনে কাসীর বলেছেন।
তাই ভাষ্যকারের প্রকৃত পরিচয় উদ্ঘাটনের আগ্রহে, ইলমের খিদমতে এবং অর্পিত দায়িত্ব পালনের লক্ষ্যে আমরা আমাদের নিকট সংরক্ষিত জীবনী ও বিভিন্ন শাস্ত্রীয় গ্রন্থাবলি পর্যালোচনা করেছি, কিন্তু এমন কোনো তথ্য পাইনি যার ভিত্তিতে আমরা নিশ্চিতভাবে একে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির দিকে সম্বন্ধযুক্ত করতে পারি। তবে আমরা এখানে এই আকিদার সেই সব ভাষ্যকারদের নাম লিপিবদ্ধ করছি যাদেরকে ‘কাশফুয যুনুন’-এর লেখক গণনা করেছেন এবং তাঁরা বিভিন্ন সময়ের সাতজন হানাফী আলেম।
তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: মাহমুদ বিন আহমদ আল-হানাফী আল-কুনাবী (মৃত্যু: ৭৭০ হিজরি), তিনি তাঁর ভাষ্য শুরু করেছেন এই বলে: সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর পূর্ণাঙ্গ অমুখাপেক্ষিতার (সামাদিয়্যাত) বৈশিষ্ট্যে অদ্বিতীয়।
তাঁদের মধ্যে আরও রয়েছেন: আল-মাওলা আবু আবদুল্লাহ মাহমুদ বিন মুহাম্মদ বিন আবি ইসহাক আল-ফকীহ আল-হানাফী, তিনি তাঁর ভাষ্য শুরু করেছেন এই বলে: সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের এই পথে পরিচালিত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
শারহুল আকিদাতিত তাহাবিয়্যাহ - ত আল-আওকাফ আস-সাউদিয়্যাহ - বিতালিকতি আহমাদ শাকির
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وهاتان الخطبتان مغايرتان لخطبة الشارح.
ومنهم: شجاع الدين هبة الله التركستاني المتوفى سنة 736هـ.
ومنهم: نجم الدين بكبرس التركي المتوفى سنة 952هـ.
والقاضي: سراج الدين عمر بن إسحاق الهندي الحنفي المتوفى سنة 773هـ. ورتب الأصل على مقدمة، ومهمات، وتتمة وفي مقدمته عشر تنبيهات.
ومنهم: المولى كافي الحسن البسنوي الاقحصاري المتوفى سنة 1025هـ.
وكل هؤلاء كما ترى لا يغلب الظن على أحد منهم بأنه صاحب هذا الشرح لتباين ما بينهم وبين الشيخ ابن كثير في الزمن والوطن. ولمغايرة صنيعهم في شروحهم لصنيع صاحب الشرح.
ومنهم: صدر الدين علي بن محمد بن أبي العز الأذرعي الدمشقي الحنفي المتوفى سنة 746هـ، (1)
، وهو الذي يترجح الظن أنه الشارح، لاتفاقه مع الشيخ ابن كثير في الوقت والبلد، والله أعلم.
ولما كانت النسخة الخطية لشرح"العقيدة الطحاوية"التي جرى عليها الطبع كثيرة الغلط والتحريف، حيث إنها لم تصحح، ولم يوجد لها أصل صحيح للمقابلة عليه. فقد اعتنى صاحب الفضيلة الأستاذ الشيخ"عبد الله بن حسن بن حسين آل الشيخ"بتصحيحها: فشكل لجنة من المشايخ وطلبة العلم النجديين والحجازيين، لا يقل عددهم عن العشرة، فقُرئت على فضيلته بمسمع من المذكورين وصححت بقدر الطاقة والاجتهاد، لتتم الفائدة، ويعم النفع بها للمسلمين.
--------------------------------------------
আর এই দুই ভূমিকা ব্যাখ্যাকারীর ভূমিকা থেকে ভিন্ন।
তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: শুজাউদ্দীন হিবাতুল্লাহ আত-তুর্কিস্তানি, যিনি ৭৩৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেছেন।
তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: নাজমুদ্দীন বাইবারস আত-তুর্কি, যিনি ৯৫২ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেছেন।
এবং বিচারক: সিরাজুদ্দীন উমর ইবন ইসহাক আল-হিন্দি আল-হানাফি, যিনি ৭৭৩ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি মূল গ্রন্থটিকে একটি ভূমিকা, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলি এবং একটি পরিশিষ্টের ওপর বিন্যস্ত করেছেন এবং তাঁর ভূমিকায় দশটি সতর্কতা রয়েছে।
তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: আল-মাওলা কাফি হাসান আল-বাসনাভি আল-আকহিসারি, যিনি ১০২৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেছেন।
আপনি যেমন দেখছেন, এঁদের কারও ব্যাপারে এমন প্রবল ধারণা হয় না যে তিনি এই ব্যাখ্যার লেখক, কারণ সময় ও বাসস্থানের দিক থেকে তাঁদের এবং শেখ ইবন কাসিরের মধ্যে বিস্তর ব্যবধান রয়েছে। তাছাড়া তাঁদের ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহের রচনারীতি এই ব্যাখ্যাকারীর রচনারীতি থেকে ভিন্ন।
তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: সদরুদ্দীন আলি ইবন মুহাম্মাদ ইবন আবিল ইয আল-আযরয়ি আদ-দিমাশকি আল-হানাফি, যিনি ৭৪৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেছেন, (১)
। তাঁর ব্যাপারেই এই প্রবল ধারণা হয় যে তিনিই ব্যাখ্যাকারী, কারণ সময় এবং স্থানের দিক থেকে শেখ ইবন কাসিরের সাথে তাঁর মিল রয়েছে, আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
যেহেতু "আকিদাহ আত-তাহাবিয়্যাহ"-এর ব্যাখ্যার যে পাণ্ডুলিপি অনুযায়ী ইতিপূর্বে মুদ্রণ করা হয়েছিল তাতে অনেক ভুল ও বিকৃতি ছিল, কারণ সেটি সংশোধন করা হয়নি এবং মিলিয়ে দেখার জন্য কোনো নির্ভুল মূল কপি পাওয়া যায়নি। তাই মাননীয় উস্তাদ শেখ "আবদুল্লাহ ইবন হাসান ইবন হুসাইন আল শেখ" এটি সংশোধনের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন: তিনি নজদ ও হিজাজের আলেম এবং জ্ঞানপিপাসুদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করেন, যাদের সংখ্যা দশের কম ছিল না। এরপর উল্লিখিত ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এটি তাঁর সামনে পাঠ করা হয় এবং সাধ্য ও প্রচেষ্টা অনুযায়ী সংশোধন করা হয়, যাতে এর উপকারিতা পূর্ণ হয় এবং মুসলিমদের মাঝে এর কল্যাণ ব্যাপক হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল আকিদাতিত তাহাবিয়্যাহ - ত আল-আওকাফ আস-সাউদিয়্যাহ - বিতালিকতি আহমাদ শাকির
(পৃষ্ঠা: ১৭)
مقدمة الشارحبِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ وبه أستعين
الْحَمْدُ لِلَّهِ نَسْتَعِينُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ، وَنَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ شُرُورِ أَنْفُسِنَا وَمِنْ سَيِّئَاتِ أَعْمَالِنَا. مَنْ يَهْدِهِ اللَّهُ فَلَا مُضِلَّ لَهُ، وَمَنْ يُضْلِلْ فَلَا هَادِيَ لَهُ، وَنشْهَدُ أَنْ لا إله إلا الله وحده لا شريك له ونشهد أَنَّ سَيِّدَنَا مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَصَحْبِهِ وَسَلَّمَ تَسْلِيمًا كَثِيرًا.
(أَمَّا بَعْدُ) فَإِنَّهُ لَمَّا كَانَ عِلْمُ أُصُولِ الدِّينِ أَشْرَفَ الْعُلُومِ، إِذْ شَرَفُ الْعِلْمِ بِشَرَفِ الْمَعْلُومِ. وَهُوَ الْفِقْهُ الْأَكْبَرُ بِالنِّسْبَةِ إِلَى فِقْهِ الْفُرُوعِ، وَلِهَذَا سَمَّى الْإِمَامُ أَبُو حَنِيفَةَ - رَحْمَةُ الله تعالى - مَا قَالَهُ وَجَمَعَهُ فِي أَوْرَاقٍ مِنْ أُصُولِ الدِّينِ"الْفِقْهَ الْأَكْبَرَ"وَحَاجَةُ الْعِبَادِ إِلَيْهِ فَوْقَ كُلِّ حَاجَةٍ، وَضَرُورَتُهُمْ إِلَيْهِ فَوْقَ كُلِّ ضَرُورَةٍ؛ لِأَنَّهُ لَا حَيَاةَ لِلْقُلُوبِ، وَلَا نَعِيمَ وَلَا طُمَأْنِينَةَ، إِلَّا بِأَنْ تَعْرِفَ رَبَّهَا وَمَعْبُودَهَا وَفَاطِرَهَا، بِأَسْمَائِهِ وَصِفَاتِهِ وَأَفْعَالِهِ، وَيَكُون مَعَ ذَلِكَ كُلِّهِ أَحَبَّ إِلَيْهَا مِمَّا سِوَاهُ، وَيَكُون سَعْيُهَا فِيمَا يُقَرِّبُهَا إِلَيْهِ دُونَ غَيْرِهِ مِنْ سَائِرِ خَلْقِهِ.
وَمِنَ الْمُحَالِ أَنْ تَسْتَقِلَّ الْعُقُولُ بِمَعْرِفَةِ ذَلِكَ وَإِدْرَاكِهِ عَلَى التَّفْصِيلِ، فَاقْتَضَتْ رَحْمَةُ الْعَزِيزِ الرَّحِيمِ أَنْ بَعَثَ الرُّسُلَ بِهِ مُعَرِّفِينَ، وَإِلَيْهِ دَاعِينَ، وَلِمَنْ أَجَابَهُمْ مُبَشِّرِينَ، وَلِمَنْ خَالَفَهُمْ مُنْذِرِينَ، وَجَعَلَ مِفْتَاحَ دَعْوَتِهِمْ، وَزُبْدَةَ رِسَالَتِهِمْ، مَعْرِفَةَ الْمَعْبُودِ سُبْحَانَهُ (1) بِأَسْمَائِهِ وَصِفَاتِهِ وَأَفْعَالِهِ، إِذْ عَلَى هَذِهِ الْمَعْرِفَةِ تُبْنَى مَطَالِبُ الرِّسَالَةِ كُلِّهَا مِنْ أَوَّلِهَا إِلَى آخِرِهَا.
ثُمَّ يَتْبَعُ ذَلِكَ أَصْلَانِ عَظِيمَانِ:
أَحَدُهُمَا: تَعْرِيفُ الطَّرِيقِ الْمُوَصِّلِ إِلَيْهِ، وَهِيَ شَرِيعَتُهُ الْمُتَضَمِّنَةُ لِأَمْرِهِ وَنَهْيِهِ.
--------------------------------------------
শারহকারীর ভূমিকাপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে এবং তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছি।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই; আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমরা আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সাহাবীগণের ওপর অগণিত দরূদ ও সালাম বর্ষণ করুন।
(অতঃপর) যেহেতু দ্বীনের মূলনীতি সংক্রান্ত জ্ঞান (উসূলে দ্বীন) জ্ঞানসমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম, কারণ বিষয়ের শ্রেষ্ঠত্বের ওপরই জ্ঞানের শ্রেষ্ঠত্ব নির্ভর করে। আর শাখা-প্রশাখা সংক্রান্ত ফিকহের তুলনায় এটিই হলো ‘ফিকহুল আকবার’ (সর্বশ্রেষ্ঠ ফিকহ)। এই কারণেই ইমাম আবু হানিফা -আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন- দ্বীনের মূলনীতি সম্পর্কে যা কিছু বলেছেন এবং নথিপত্রে সংকলন করেছেন, তার নাম দিয়েছেন ‘আল-ফিকহুল আকবার’। বান্দার জন্য এর প্রয়োজনীয়তা অন্য যেকোনো প্রয়োজনের ঊর্ধ্বে এবং এর আবশ্যকতা অন্য যেকোনো আবশ্যকতার চেয়ে বেশি। কারণ, অন্তরসমূহের জন্য কোনো জীবন নেই, কোনো নেয়ামত বা প্রশান্তি নেই, যতক্ষণ না তারা তাদের রব, তাদের মাবুদ এবং তাদের স্রষ্টাকে তাঁর নামসমূহ, গুণাবলী এবং কার্যাবলীর মাধ্যমে চিনতে পারে। আর সেই সাথে তিনি যেন তাদের নিকট অন্য সকল কিছুর চেয়ে অধিক প্রিয় হন এবং তাদের সকল প্রচেষ্টা যেন অন্য কোনো সৃষ্টির পরিবর্তে কেবল তাঁর নৈকট্য অর্জনের জন্যই নিবেদিত হয়।
আর কেবল বুদ্ধিবৃত্তিক উপায়ে বিস্তারিতভাবে এসব বিষয় জানা ও অনুধাবন করা অসম্ভব। তাই পরাক্রমশালী পরম দয়ালু আল্লাহর রহমতের দাবি ছিল যে, তিনি এসব বিষয়ে পরিচয়দানকারী ও এর দিকে আহ্বানকারী হিসেবে রাসূলদের প্রেরণ করেছেন; যারা অনুসারীদের জন্য সুসংবাদদাতা এবং বিরোধীদের জন্য সতর্ককারী। তিনি তাঁদের দাওয়াতের চাবিকাঠি এবং তাঁদের রিসালাতের সারকথা হিসেবে নির্ধারণ করেছেন মহান পবিত্র মাবুদকে (১) তাঁর নামসমূহ, গুণাবলী এবং কার্যাবলীর মাধ্যমে জানাকে। কেননা, এই মারেফাত বা পরিচয়ের ওপরই রিসালাতের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যাবতীয় বিষয়াবলী প্রতিষ্ঠিত।
এরপর এর অনুগামী হিসেবে দুটি মহান মূলনীতি রয়েছে:
প্রথমটি হলো: তাঁর কাছে পৌঁছানোর পথের পরিচয় দান, আর তা হলো তাঁর শরীয়ত, যা তাঁর আদেশ ও নিষেধকে অন্তর্ভুক্ত করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল আকিদাতিত তাহাবিয়্যাহ - ত আল-আওকাফ আস-সাউদিয়্যাহ - বিতালিকতি আহমাদ শাকির
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وَالثَّانِي: تَعْرِيفُ السَّالِكِينَ مَا لَهُمْ بَعْدَ الْوُصُولِ إِلَيْهِ مِنَ النَّعِيمِ الْمُقِيمِ.
فَأَعْرَفُ النَّاسِ بِاللَّهِ عز وجل أَتْبَعُهُمْ لِلطَّرِيقِ الْمُوَصِّلِ إِلَيْهِ، وَأَعْرَفُهُمْ بِحَالِ السَّالِكِينَ عِنْدَ الْقُدُومِ عَلَيْهِ. وَلِهَذَا سَمَّى اللَّهُ مَا أَنْزَلَهُ عَلَى رَسُولِهِ رُوحًا، لِتَوَقُّفِ الْحَيَاةِ الْحَقِيقِيَّةِ عَلَيْهِ، وَنُورًا لِتَوَقُّفِ الْهِدَايَةِ عَلَيْهِ. فَقَالَ الله تَعَالَى: {يُلْقِي الرُّوحَ مِنْ أَمْرِهِ عَلَى مَنْ يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ} (1)، وَقَالَ تَعَالَى: {وَكَذَلِكَ أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ رُوحًا مِنْ أَمْرِنَا مَا كُنْتَ تَدْرِي مَا الْكِتَابُ وَلَا الْإِيمَانُ وَلَكِنْ جَعَلْنَاهُ نُورًا نَهْدِي بِهِ مَنْ نَشَاءُ مِنْ عِبَادِنَا وَإِنَّكَ لَتَهْدِي إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ} {صِرَاطِ اللَّهِ الَّذِي لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ أَلَا إِلَى اللَّهِ تَصِيرُ الْأُمُورُ} (2)، وَلَا رُوحَ إِلَّا فِيمَا جَاءَ بِهِ الرَّسُولُ، وَلَا نُورَ إِلَّا فِي الِاسْتِضَاءَةِ بِهِ، وَهُوَ الشِّفَاءُ، كَمَا قَالَ تَعَالَى: {قُلْ هُوَ لِلَّذِينَ آمَنُوا هُدًى وَشِفَاءٌ} (3)، فَهُوَ وَإِنْ كَانَ هُدًى، وَشِفَاءً مُطْلَقًا، لَكِنْ لَمَّا كَانَ الْمُنْتَفِعُ بِذَلِكَ هُمُ الْمُؤْمِنِينَ (4)، خُصُّوا بِالذِّكْرِ.
وَاللَّهُ تَعَالَى أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَى وَدِينِ الْحَقِّ، فَلَا هُدَى إِلَّا فِيمَا جَاءَ بِهِ.
وَلَا رَيْبَ أَنَّهُ يَجِبُ عَلَى كُلِّ أَحَدٍ أَنْ يُؤْمِنَ بِمَا جَاءَ بِهِ الرَّسُولُ إِيمَانًا عَامًّا مُجْمَلًا، وَلَا رَيْبَ أَنَّ مَعْرِفَةَ مَا جَاءَ بِهِ الرَّسُولُ عَلَى التَّفْصِيلِ فَرْضٌ عَلَى الْكِفَايَةِ، فَإِنَّ ذَلِكَ دَاخِلٌ فِي تَبْلِيغِ مَا بَعَثَ اللَّهُ بِهِ رَسُولَهُ، وَدَاخِلٌ فِي تَدَبُّرِ الْقُرْآنِ وَعَقْلِهِ وَفَهْمِهِ، وَعِلْمِ الْكِتَابِ وَالْحِكْمَةِ، وَحِفْظِ الذِّكْرِ، وَالدُّعَاءِ إِلَى الْخَيْرِ، وَالْأَمْرِ بِالْمَعْرُوفِ، وَالنَّهْيِ عَنِ الْمُنْكَرِ، وإِلَى سَبِيلِ الرَّبِّ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ، وَالْمُجَادَلَةِ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ، وَنَحْو ذَلِكَ مِمَّا أَوْجَبَهُ اللَّهُ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ، فَهُوَ وَاجِبٌ عَلَى الْكِفَايَةِ مِنْهُمْ.
--------------------------------------------
এবং দ্বিতীয়টি হলো: যারা পথ চলছেন তাদেরকে তাঁর কাছে পৌঁছানোর পর যে চিরস্থায়ী নেয়ামত রয়েছে তা জানানো।
সুতরাং মানুষের মধ্যে মহান আল্লাহ সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি পরিজ্ঞাত সেই ব্যক্তি, যে তাঁর কাছে পৌঁছে দেয় এমন পথের সবচেয়ে বেশি অনুসরণকারী এবং তাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি অধিক পরিজ্ঞাত যে তাঁর কাছে উপস্থিত হওয়ার সময় পথিকদের অবস্থা সম্পর্কে অধিক অবগত। এ কারণেই আল্লাহ তাঁর রাসূলের প্রতি যা অবতীর্ণ করেছেন তাকে 'রূহ' (জীবনপ্রদায়ী আত্মা) হিসেবে নামকরণ করেছেন, কারণ প্রকৃত জীবনের স্থায়িত্ব এর ওপর নির্ভরশীল; এবং তাকে 'নূর' (আলো) বলেছেন, কারণ হিদায়াত পাওয়া এর ওপর নির্ভরশীল। মহান আল্লাহ বলেছেন: {তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার প্রতি ইচ্ছা তাঁর নির্দেশে রূহ (ওহী) প্রেরণ করেন} (১), এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {এবং এভাবেই আমি আপনার প্রতি আমার নির্দেশে রূহ (ওহী) অবতীর্ণ করেছি। আপনি জানতেন না কিতাব কী এবং ঈমান কী। কিন্তু আমি একে আলো বানিয়েছি, যার মাধ্যমে আমি আমার বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা পথ প্রদর্শন করি। আর নিশ্চয়ই আপনি সরল পথের দিকে পথ প্রদর্শন করছেন} {আল্লাহর পথ, আসমান ও যমীনে যা কিছু আছে সব তাঁরই। জেনে রেখো, সকল বিষয় আল্লাহর দিকেই ফিরে যায়} (২)। রাসূল যা নিয়ে এসেছেন তা ব্যতীত প্রকৃত কোনো জীবন নেই এবং তাঁর থেকে আলো গ্রহণ করা ব্যতীত কোনো নূর নেই। আর এটিই হলো আরোগ্য, যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {বলুন, এটি মুমিনদের জন্য হিদায়াত ও আরোগ্য} (৩)। সুতরাং যদিও এটি নিরঙ্কুশভাবে হিদায়াত ও আরোগ্য, তবে যেহেতু এর দ্বারা প্রকৃত উপকারভোগী হলো মুমিনগণ, তাই বিশেষভাবে তাদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূলকে হিদায়াত ও সত্য দীনসহ প্রেরণ করেছেন, সুতরাং তিনি যা নিয়ে এসেছেন তা ছাড়া প্রকৃত কোনো হিদায়াত নেই।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, রাসূল যা নিয়ে এসেছেন তার ওপর সাধারণভাবে ও সংক্ষেপে ঈমান আনা প্রত্যেকের জন্য আবশ্যক। আর রাসূল যা নিয়ে এসেছেন তা বিস্তারিতভাবে জানা ফরযে কিফায়া; কারণ এটি আল্লাহ যা দিয়ে রাসূলকে পাঠিয়েছেন তা পৌঁছে দেওয়ার অন্তর্ভুক্ত, এবং কুরআনের গবেষণা, বুদ্ধি দিয়ে তা অনুধাবন ও উপলব্ধি করা, কিতাব ও হিকমতের জ্ঞান লাভ করা, ওহীকে সংরক্ষণ করা, কল্যাণের দিকে আহ্বান জানানো, সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করা এবং প্রজ্ঞা ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে রবের পথের দিকে ডাকা এবং সর্বোত্তম পন্থায় বিতর্ক করা—আল্লাহ মুমিনদের ওপর যা যা আবশ্যক করেছেন এটি তার অন্তর্ভুক্ত; সুতরাং এটি তাদের ওপর ফরযে কিফায়া।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল আকিদাতিত তাহাবিয়্যাহ - ত আল-আওকাফ আস-সাউদিয়্যাহ - বিতালিকতি আহমাদ শাকির
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وَأَمَّا مَا يَجِبُ عَلَى أَعْيَانِهِمْ: فَهَذَا يَتَنَوَّعُ بِتَنَوُّعِ قُدَرِهِمْ (1) وَحَاجَاتِهِمْ وَمَعْرِفَتِهِمْ، وَمَا أُمِرَ بِهِ أَعْيَانُهُمْ، وَلَا يَجِبُ عَلَى الْعَاجِزِ عَنْ سَمَاعِ بَعْضِ الْعِلْمِ أَوْ عَنْ فَهْمِ دَقِيقِهِ مَا يَجِبُ عَلَى الْقَادِرِ عَلَى ذَلِكَ. وَيَجِبُ عَلَى مَنْ سَمِعَ النُّصُوصَ، وَفَهِمَهَا مِنْ عِلْمِ التَّفْصِيلِ مَا لَا يَجِبُ عَلَى مَنْ لَمْ يَسْمَعْهَا، وَيَجِبُ عَلَى الْمُفْتِي الْمُحَدِّثِ وَالْحَاكِمِ مَا لَا يَجِبُ عَلَى مَنْ لَيْسَ كَذَلِكَ.
وَيَنْبَغِي أَنْ يُعْرَفَ أَنَّ عَامَّةَ مَنْ ضَلَّ فِي هَذَا الْبَابِ أَوْ عَجَزَ فِيهِ عَنْ مَعْرِفَةِ الْحَقِّ، فَإِنَّمَا هُوَ لِتَفْرِيطِهِ فِي اتِّبَاعِ مَا جَاءَ بِهِ الرَّسُولُ، وَتَرْكِ النَّظَرِ وَالِاسْتِدْلَالِ الْمُوَصِّلِ إِلَى مَعْرِفَتِهِ. فَلَمَّا أَعْرَضُوا عَنْ كِتَابِ اللَّهِ ضَلُّوا، كَمَا قَالَ تَعَالَى: {فَإِمَّا يَأْتِيَنَّكُمْ مِنِّي هُدًى فَمَنِ اتَّبَعَ هُدَايَ فَلَا يَضِلُّ وَلَا يَشْقَى} {وَمَنْ أَعْرَضَ عَنْ ذِكْرِي فَإِنَّ لَهُ مَعِيشَةً ضَنْكًا وَنَحْشُرُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَعْمَى} {قَالَ رَبِّ لِمَ حَشَرْتَنِي أَعْمَى وَقَدْ كُنْتُ بَصِيرًا} {قَالَ كَذَلِكَ أَتَتْكَ آيَاتُنَا فَنَسِيتَهَا وَكَذَلِكَ الْيَوْمَ تُنْسَى} (2).
قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ رضي الله عنه: تَكَفَّلَ اللَّهُ لِمَنْ قَرَأَ الْقُرْآنَ وَعَمِلَ بِمَا فِيهِ، أَنْ لَا يَضِلَّ فِي الدُّنْيَا، وَلَا يَشْقَى فِي الْآخِرَةِ، ثُمَّ قَرَأَ هَذِهِ الْآيَةَ، كَمَا فِي الْحَدِيثِ الَّذِي رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَغَيْرُهُ عَنْ عَلِيٍّ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "إِنَّهَا سَتَكُونُ فِتَنٌ"، قُلْتُ: فَمَا الْمَخْرَجُ مِنْهَا يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: كِتَابُ اللَّهِ، فِيهِ نَبَأُ مَا قَبْلَكُمْ، وَخَبَرُ مَا بَعْدَكُمْ، وَحُكْمُ مَا بَيْنَكُمْ، هُوَ الْفَصْلُ، لَيْسَ بِالْهَزْلِ، مَنْ تَرَكَهُ مِنْ جَبَّارٍ قَصَمَهُ اللَّهُ، وَمَنِ ابْتَغَى الْهُدَى من غَيْرِهِ أَضَلَّهُ اللَّهُ، وَهُوَ حَبْلُ اللَّهِ الْمَتِينُ، وَهُوَ الذِّكْرُ الْحَكِيمُ، وَهُوَ الصِّرَاطُ الْمُسْتَقِيمُ، وَهُوَ الَّذِي لَا تَزِيغُ بِهِ الْأَهْوَاءُ، وَلَا تَلْتَبِسُ بِهِ الْأَلْسُنُ، وَلَا تَنْقَضِي عَجَائِبُهُ، وَلَا تشْبَعُ مِنْهُ الْعُلَمَاءُ، مَنْ قَالَ بِهِ صَدَقَ، وَمَنْ عَمِلَ بِهِ أُجِرَ، وَمَنْ
--------------------------------------------
আর যা তাদের প্রত্যেকের ওপর ব্যক্তিগতভাবে ওয়াজিব: তা তাদের সক্ষমতা, প্রয়োজন ও জ্ঞানের ভিন্নতা অনুসারে ভিন্ন ভিন্ন হয়। এবং যেসব বিষয়ে তাদের ব্যক্তিগতভাবে আদেশ করা হয়েছে তাও ভিন্ন ভিন্ন। কোনো জ্ঞান শুনতে বা তার সূক্ষ্ম বিষয় বুঝতে অক্ষম ব্যক্তির ওপর তা ওয়াজিব নয়, যা সক্ষম ব্যক্তির ওপর ওয়াজিব। যে ব্যক্তি (শরয়ি) বাণীসমূহ শুনেছে এবং তার বিস্তারিত জ্ঞান লাভ করেছে, তার ওপর এমন কিছু ওয়াজিব যা সেই ব্যক্তির ওপর ওয়াজিব নয় যে তা শোনেনি। আর মুফতি, মুহাদ্দিস এবং বিচারকের ওপর এমন কিছু দায়িত্ব আবশ্যক যা অন্যদের ওপর আবশ্যক নয়।
এটি জানা উচিত যে, এই অধ্যায়ে যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে অথবা সত্য জানতে অক্ষম হয়েছে, তা মূলত রাসূল যা নিয়ে এসেছেন তা অনুসরণে তাদের অবহেলা এবং সত্য পর্যন্ত পৌঁছে দেয় এমন গভীর চিন্তা ও দলিল অন্বেষণ বর্জন করার কারণেই হয়েছে। যখন তারা আল্লাহর কিতাব থেকে বিমুখ হলো, তখন তারা পথভ্রষ্ট হলো। যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {অতঃপর তোমাদের নিকট যখন আমার পক্ষ থেকে হিদায়াত আসবে, তখন যারা আমার হিদায়াত অনুসরণ করবে তারা পথভ্রষ্ট হবে না এবং দুর্ভাগাও হবে না} {আর যে ব্যক্তি আমার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তার জীবন হবে অত্যন্ত সংকীর্ণ এবং কিয়ামতের দিন তাকে আমি অন্ধ অবস্থায় উত্থিত করব} {সে বলবে: হে আমার রব! কেন আমাকে অন্ধ অবস্থায় পুনরুত্থিত করলেন? আমি তো চক্ষুমান ছিলাম} {তিনি বলবেন: এভাবেই তোমার কাছে আমার আয়াতসমূহ এসেছিল, কিন্তু তুমি তা ভুলে গিয়েছিলে; তদ্রূপ আজ তোমাকে বিস্মৃত করে রাখা হবে}।
ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করবে এবং তদানুযায়ী আমল করবে, আল্লাহ তার জন্য এই মর্মে জিম্মাদার হয়েছেন যে, সে দুনিয়াতে পথভ্রষ্ট হবে না এবং আখিরাতে দুর্ভাগা হবে না। অতঃপর তিনি এই আয়াতটি পাঠ করেন। যেমন তিরমিযী ও অন্যান্যদের বর্ণিত একটি হাদিসে আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "অচিরেই নানাবিধ ফিতনা প্রকাশ পাবে।" আমি জিজ্ঞেস করলাম: হে আল্লাহর রাসূল! তা থেকে মুক্তির উপায় কী? তিনি বললেন: "আল্লাহর কিতাব। এতে তোমাদের পূর্ববর্তীদের সংবাদ এবং তোমাদের পরবর্তীদের খবর রয়েছে, আর তোমাদের মধ্যকার বিষয়াদির মীমাংসা রয়েছে। এটি (সত্য ও মিথ্যার মাঝে) চূড়ান্ত ফয়সালাকারী, কোনো কৌতুক নয়। যে কোনো স্বৈরাচারী অহংকারবশত একে ত্যাগ করবে, আল্লাহ তাকে চূর্ণ করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি একে ছাড়া অন্য কোথাও হিদায়াত খুঁজবে, আল্লাহ তাকে পথভ্রষ্ট করবেন। এটি আল্লাহর মজবুত রশি, এটিই প্রজ্ঞাপূর্ণ উপদেশ এবং এটিই সরল সঠিক পথ। এর মাধ্যমে প্রবৃত্তিগুলো সত্য পথ থেকে বিচ্যুত হয় না, এর কারণে ভাষাসমূহ অস্পষ্ট হয় না, এর বিস্ময়কর দিকগুলো কখনো শেষ হবে না এবং আলিমগণ এটি অধ্যয়ন করে কখনো তৃপ্ত হয় না। যে এর দ্বারা কথা বলবে সে সত্য বলবে, যে এর ওপর আমল করবে সে নেকি লাভ করবে, আর যে..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল আকিদাতিত তাহাবিয়্যাহ - ত আল-আওকাফ আস-সাউদিয়্যাহ - বিতালিকতি আহমাদ শাকির
(পৃষ্ঠা: ২০)
حَكَمَ بِهِ عَدَلَ، وَمَنْ دَعَا إِلَيْهِ هُدِيَ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ»، إِلَى غَيْرِ ذَلِكَ مِنَ الْآيَاتِ وَالْأَحَادِيثِ الدَّالَّةِ عَلَى مِثْلِ هَذَا الْمَعْنَى.
وَلَا يَقْبَلُ اللَّهُ مِنَ الْأَوَّلِينَ وَالْآخِرِينَ دِينًا يَدِينُونَ به، إِلَّا أَنْ يَكُونَ مُوَافِقًا لِدِينِهِ الَّذِي شَرَعَهُ عَلَى أَلْسِنَةِ رُسُلِهِ.
وَقَدْ نَزَّهَ اللَّهُ - تَعَالَى - نَفْسَهُ عَمَّا يَصِفُهُ بِهِ الْعِبَادُ، إِلَّا مَا وَصَفَهُ بِهِ الْمُرْسَلُونَ، بِقَوْلِهِ سُبْحَانَهُ: {سُبْحَانَ رَبِّكَ رَبِّ الْعِزَّةِ عَمَّا يَصِفُونَ} {وَسَلَامٌ عَلَى الْمُرْسَلِينَ} {وَالْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} (1)، فَنَزَّهَ نَفْسَهُ سُبْحَانَهُ عَمَّا يَصِفُهُ بِهِ الْكَافِرُونَ، ثُمَّ سَلَّمَ عَلَى الْمُرْسَلِينَ، لِسَلَامَةِ مَا وَصَفُوهُ بِهِ مِنَ النَّقَائِصِ وَالْعُيُوبِ، ثُمَّ حَمِدَ نَفْسَهُ عَلَى تَفَرُّدِهِ بِالْأَوْصَافِ الَّتِي يَسْتَحِقُّ عَلَيْهَا كَمَالَ الْحَمْدِ.
وَمَضَى عَلَى مَا كَانَ عَلَيْهِ الرَّسُولُ صلى الله عليه وسلم خَيْرُ الْقُرُونِ، وَهُمُ الصَّحَابَةُ وَالتَّابِعُونَ لَهُمْ بِإِحْسَانٍ، يُوصِي بِهِ الْأَوَّلُ الْآخِرَ (2) وَيَقْتَدِي فِيهِ اللَّاحِقُ بِالسَّابِقِ. وَهُمْ فِي ذَلِكَ كُلِّهِ بِنَبِيِّهِمْ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم مُقْتَدُونَ، وَعَلَى مِنْهَاجِهِ سَالِكُونَ، كَمَا قَالَ تَعَالَى فِي كِتَابِهِ الْعَزِيزِ: {قُلْ هَذِهِ سَبِيلِي أَدْعُو إِلَى اللَّهِ عَلَى بَصِيرَةٍ أَنَا وَمَنِ اتَّبَعَنِي} (3). فَإِنْ كَانَ قَوْلُهُ: {وَمَنِ اتَّبَعَنِي} مَعْطُوفًا عَلَى الضَّمِيرِ فِي {أَدْعُو}، فَهُوَ دَلِيلٌ عَلَى أَنَّ أَتْبَاعَهُ هُمُ الدُّعَاةُ إِلَى اللَّهِ، وَإِنْ كَانَ مَعْطُوفًا عَلَى الضَّمِيرِ الْمُنْفَصِلِ، فَهُوَ صَرِيحٌ أَنَّ أَتْبَاعَهُ هُمْ أَهْلُ الْبَصِيرَةِ فِيمَا جَاءَ بِهِ دُونَ غَيْرِهِمْ، وَكِلَا الْمَعْنَيَيْنِ حَقٌّ.
وَقَدْ بَلَّغَ الرَّسُولُ صلى الله عليه وسلم الْبَلَاغَ الْمُبِينَ، وَأَوْضَحَ الْحُجَّةَ لِلْمُسْتَبْصِرِينَ، وَسَلَكَ سَبِيلَهُ خَيْرُ الْقُرُونِ.
ثُمَّ خَلَفَ مِنْ بَعْدِهِمْ خَلْفٌ اتَّبَعُوا أَهْوَاءَهُمْ، وَافْتَرَقُوا، فَأَقَامَ اللَّهُ لِهَذِهِ
--------------------------------------------
"যে এর দ্বারা বিচার করে সে ইনসাফ করে, এবং যে এর দিকে আহ্বান জানায় সে সরল পথের দিশা পায়", এই মর্মে আরও অনেক আয়াত ও হাদীস রয়েছে।
আল্লাহ পূর্ববর্তী ও পরবর্তী কারোর কাছ থেকেই এমন কোনো দ্বীন গ্রহণ করবেন না যা তারা পালন করে, যদি না তা তাঁর সেই দ্বীনের অনুকূলে হয় যা তিনি তাঁর রাসূলদের মুখে বিধিবদ্ধ করেছেন।
আর মহান আল্লাহ নিজেকে বান্দাদের সেসব বর্ণনা থেকে পবিত্র ঘোষণা করেছেন যা তারা তাঁর প্রতি আরোপ করে, কেবল যা তাঁর প্রেরিত রাসূলগণ বর্ণনা করেছেন তা ব্যতিরেকে। তাঁর সুমহান বাণী: {আপনার প্রতিপালক, যিনি ইজ্জতের মালিক, তারা যা বর্ণনা করে তা থেকে তিনি পবিত্র} {আর সালাম বর্ষিত হোক রাসূলদের প্রতি} {এবং সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য} (১)। সুতরাং মহান আল্লাহ নিজেকে কাফিরদের আরোপিত গুণাবলী থেকে পবিত্র ঘোষণা করেছেন, অতঃপর রাসূলদের প্রতি সালাম জানিয়েছেন, কারণ তাঁর প্রতি তাঁরা যে গুণের বর্ণনা দিয়েছেন তা সকল প্রকার ত্রুটি ও খুঁত থেকে মুক্ত। অতঃপর তিনি নিজের প্রশংসা করেছেন সেই সব অনন্য গুণাবলীর জন্য যার কারণে তিনি পূর্ণ প্রশংসার যোগ্য।
আর সর্বোত্তম প্রজন্ম রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে আদর্শের ওপর ছিলেন তার ওপর অতিবাহিত হয়েছেন। তাঁরা হলেন সাহাবী এবং নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণকারী তাবিঈগণ। তাঁদের পূর্ববর্তীরা পরবর্তীদের এর অসিয়ত করতেন (২) এবং পরবর্তীরা পূর্ববর্তীদের অনুসরণ করতেন। তাঁরা এ সমস্ত বিষয়ে তাঁদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসারী ছিলেন এবং তাঁরই মানহাজের (পদ্ধতির) ওপর চলতেন। যেমন মহান আল্লাহ তাঁর সম্মানিত কিতাবে বলেছেন: {বলুন, এটিই আমার পথ, আমি এবং যারা আমার অনুসরণ করেছে তাঁরা পূর্ণ প্রজ্ঞার সাথে আল্লাহর দিকে আহ্বান জানাই} (৩)। যদি তাঁর বাণী: {এবং যারা আমার অনুসরণ করেছে} অংশটি {আহ্বান জানাই} ক্রিয়ার মধ্যে নিহিত সর্বনামের সাথে সংযুক্ত হয়, তবে তা প্রমাণ করে যে তাঁর অনুসারীরাই আল্লাহর দিকে আহ্বানকারী। আর যদি এটি পৃথক সর্বনামের সাথে সংযুক্ত হয়, তবে তা স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেয় যে কেবল তাঁর অনুসারীরাই তাঁর আনীত দ্বীনের ব্যাপারে প্রজ্ঞার অধিকারী, অন্য কেউ নয়। আর উভয় অর্থই সত্য।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুস্পষ্টভাবে বাণী পৌঁছে দিয়েছেন এবং সত্য অন্বেষণকারীদের জন্য প্রমাণাদি স্পষ্ট করেছেন, আর সর্বোত্তম প্রজন্মসমূহ তাঁর পথে চলেছেন।
অতঃপর তাঁদের পরে এমন সব উত্তরসূরির আগমন ঘটে যারা তাদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করে এবং মতভেদে লিপ্ত হয়। তখন আল্লাহ এই...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল আকিদাতিত তাহাবিয়্যাহ - ত আল-আওকাফ আস-সাউদিয়্যাহ - বিতালিকতি আহমাদ শাকির
(পৃষ্ঠা: ২১)
الْأُمَّةِ مَنْ يَحْفَظُ عَلَيْهَا أُصُولَ دِينِهَا، كَمَا أَخْبَرَ الصَّادِقُ صلى الله عليه وسلم: «لَا تَزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِي ظَاهِرِينَ عَلَى الْحَقِّ، لَا يَضُرُّهُمْ مَنْ خَذَلَهُمْ».
وَمِمَّنْ قَامَ بِهَذَا الْحَقِّ مِنْ عُلَمَاءِ الْمُسْلِمِينَ: الْإِمَامُ أَبُو جَعْفَرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَلَامَةَ الْأَزْدِيُّ الطَّحَاوِيُّ، تَغَمَّدَهُ اللَّهُ بِرَحْمَتِهِ، بَعْدَ الْمِائَتَيْنِ، فَإِنَّ مَوْلِدَهُ سَنَةَ تِسْعٍ وَثَلَاثِينَ وَمِائَتَيْنِ، وَوَفَاتَهُ سَنَةَ إِحْدَى وَعِشْرِينَ وَثَلَاثِمِائَةٍ (1).
فَأَخْبَرَ رحمه الله عَمَّا كَانَ عَلَيْهِ السَّلَفُ، وَنَقَلَ عَنِ الْإِمَامِ أَبِي حَنِيفَةَ النُّعْمَانِ بْنِ ثَابِتٍ الْكُوفِيِّ، وَصَاحِبَيْهِ أَبِي يُوسُفَ يَعْقُوبَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الْحِمْيَرِيِّ الْأَنْصَارِيِّ، وَمُحَمَّدِ بْنِ الْحَسَنِ الشَّيْبَانِيِّ رضي الله عنهم مَا كَانُوا يَعْتَقِدُونَ مِنْ أُصُولِ الدِّينِ، وَيَدِينُونَ بِهِ رَبَّ الْعَالَمِينَ.
وَكُلَّمَا (2) بَعُدَ الْعَهْدُ، ظَهَرَتِ الْبِدَعُ، وَكَثُرَ التَّحْرِيفُ الَّذِي سَمَّاهُ أَهْلُهُ تَأْوِيلًا لِيُقْبَلَ، وَقَلَّ مَنْ يَهْتَدِي إِلَى الْفَرْقِ بَيْنَ التَّحْرِيفِ وَالتَّأْوِيلِ. إِذْ قَدْ يُسَمَّى صَرْفُ الْكَلَامِ عَنْ ظَاهِرِهِ إِلَى مَعْنًى آخَرَ يَحْتَمِلُهُ اللَّفْظُ فِي الْجُمْلَةِ تَأْوِيلًا، وَإِنْ لَمْ يَكُنْ ثَمَّ قَرِينَةٌ تُوجِبُ ذَلِكَ، وَمِنْ هُنَا حَصَلَ الْفَسَادُ. فَإِذَا سَمَّوْهُ تَأْوِيلًا قُبِلَ وَرَاجَ عَلَى مَنْ لَا يَهْتَدِي إِلَى الْفَرْقِ بَيْنَهُمَا.
فَاحْتَاجَ الْمُؤْمِنُونَ بَعْدَ ذَلِكَ إِلَى إِيضَاحِ الْأَدِلَّةِ، وَدَفْعِ الشُّبَهِ الْوَارِدَةِ عَلَيْهَا، وَكَثُرَ الْكَلَامُ وَالشَّغَبُ، وَسَبَبُ ذَلِكَ إِصْغَاؤُهُمْ إِلَى شُبَهِ الْمُبْطِلِينَ، وَخَوْضُهُمْ فِي الْكَلَامِ الْمَذْمُومِ، الَّذِي عَابَهُ السَّلَفُ، وَنَهَوْا عَنِ النَّظَرِ فِيهِ وَالِاشْتِغَالِ بِهِ
--------------------------------------------
উম্মতের মধ্যে এমন লোক রয়েছেন যারা এর দ্বীনের মূলনীতিসমূহকে সংরক্ষণ করেন, যেমনটি সত্যবাদী (রাসূলুল্লাহ) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন: “আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা সত্যের ওপর বিজয়ী থাকবে; যারা তাদের পরিত্যাগ করবে তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।”
মুসলিম আলেমদের মধ্যে যারা এই হকের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন তারা হলেন: ইমাম আবু জাফর আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সালামাহ আল-আযদি আত-তহাবি, আল্লাহ তাকে তার রহমত দিয়ে আবৃত করুন। তিনি দুইশত হিজরির পরে ছিলেন, কেননা তার জন্ম দুইশত উনচল্লিশ হিজরিতে এবং তার মৃত্যু তিনশত একুশ হিজরিতে (১)।
তিনি (আল্লাহ তার ওপর রহম করুন) সালাফরা যে বিষয়ের ওপর ছিলেন তা বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম আবু হানিফা নুমান ইবনে সাবিত আল-কুফি এবং তার দুই সাথী আবু ইউসুফ ইয়াকুব ইবনে ইব্রাহিম আল-হিময়ারি আল-আনসারি ও মুহাম্মদ ইবনে হাসান আশ-শায়বানি (আল্লাহ তাদের সবার ওপর সন্তুষ্ট হোন) থেকে দ্বীনের যে মূলনীতিসমূহ তারা বিশ্বাস করতেন এবং যে বিষয়ের মাধ্যমে তারা রাব্বুল আলামীনের ইবাদত করতেন তা বর্ণনা করেছেন।
এবং যখনই (২) সময় অতিক্রান্ত হয়েছে, তখনই বিদআত প্রকাশ পেয়েছে এবং তাহরিফ (বিকৃতি) বৃদ্ধি পেয়েছে যাকে তার প্রবক্তারা গ্রহণযোগ্য করার জন্য ‘তাউয়িল’ (ব্যাখ্যা) নাম দিয়েছে। আর যারা তাহরিফ এবং তাউয়িলের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে পারে তাদের সংখ্যা কমে গিয়েছে। কেননা বাক্যের বাহ্যিক অর্থ থেকে সরিয়ে অন্য এমন একটি অর্থের দিকে নিয়ে যাওয়া যা শব্দগতভাবে সম্ভব, তাকে অনেক সময় ‘তাউয়িল’ বলা হয়, যদিও সেখানে এমন কোনো প্রমাণ নেই যা তা আবশ্যক করে। আর এখান থেকেই অনিষ্টের সৃষ্টি হয়েছে। তারা যখন একে তাউয়িল নাম দেয়, তখন তা গ্রহণযোগ্য হয়ে যায় এবং তাদের কাছে প্রচলিত হয়ে পড়ে যারা উভয়ের মধ্যে পার্থক্য করার পথ পায় না।
এর ফলে মুমিনদের জন্য দলীলসমূহের ব্যাখ্যা প্রদান এবং সেগুলোর ওপর আসা সংশয় নিরসনের প্রয়োজন দেখা দেয়। কালাম (তর্কবিদ্যা) এবং হট্টগোল বৃদ্ধি পায়, আর এর কারণ হলো বাতিলপন্থীদের সংশয়ের দিকে তাদের কান দেওয়া এবং সেই নিন্দিত কালামশাস্ত্রে নিমগ্ন হওয়া যেটিকে সালাফগণ দোষারোপ করেছেন এবং তাতে দৃষ্টি দেওয়া ও লিপ্ত হওয়া থেকে নিষেধ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল আকিদাতিত তাহাবিয়্যাহ - ত আল-আওকাফ আস-সাউদিয়্যাহ - বিতালিকতি আহমাদ শাকির
(পৃষ্ঠা: ২২)
وَالْإِصْغَاءِ إِلَيْهِ، امْتِثَالًا لِأَمْرِ رَبِّهِمْ، حَيْثُ قَالَ: {وَإِذَا رَأَيْتَ الَّذِينَ يَخُوضُونَ فِي آيَاتِنَا فَأَعْرِضْ عَنْهُمْ حَتَّى يَخُوضُوا فِي حَدِيثٍ غَيْرِهِ} (1)، فَإِنَّ مَعْنَى الْآيَةِ يَشْمَلُهُمْ.
وَكُلٌّ مِنَ التَّحْرِيفِ وَالِانْحِرَافِ عَلَى مَرَاتِبَ: فَقَدْ يَكُونُ كُفْرًا، وَقَدْ يَكُونُ فِسْقًا، وَقَدْ يَكُونُ مَعْصِيَةً، وَقَدْ يَكُونُ خَطَأً.
فَالْوَاجِبُ اتِّبَاعُ الْمُرْسَلِينَ، وَاتِّبَاعُ مَا أَنْزَلَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ. وَقَدْ خَتَمَهُمُ اللَّهُ بِمُحَمَّدٍ، صلى الله عليه وسلم، فَجَعَلَهُ آخِرَ الْأَنْبِيَاءِ، وَجَعَلَ كِتَابَهُ مُهَيْمِنًا عَلَى مَا بَيْنَ يَدَيْهِ مِنْ كُتُبِ السَّمَاءِ، وَأَنْزَلَ عَلَيْهِ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ، وَجَعَلَ دَعْوَتَهُ عَامَّةً لِجَمِيعِ الثَّقَلَيْنِ، الْجِنِّ وَالْإِنْسِ، بَاقِيَةً إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ، وَانْقَطَعَتْ بِهِ حُجَّةُ الْعِبَادِ عَلَى اللَّهِ.
وَقَدْ بَيَّنَ اللَّهُ بِهِ كُلَّ شَيْءٍ، وَأَكْمَلَ لَهُ وَلِأُمَّتِهِ الدِّينَ خَبَرًا وَأَمْرًا (2)، وَجَعَلَ طَاعَتَهُ طَاعَةً لَهُ، وَمَعْصِيَتَهُ مَعْصِيَةً لَهُ، وَأَقْسَمَ بِنَفْسِهِ أَنَّهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوهُ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ، وَأَخْبَرَ أَنَّ الْمُنَافِقِينَ يُرِيدُونَ أَنْ يَتَحَاكَمُوا إِلَى غَيْرِهِ، وَأَنَّهُمْ إِذَا دُعُوا إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ - وَهُوَ الدُّعَاءُ إِلَى كِتَابِ اللَّهِ وَسُنَّةِ رَسُولِهِ - صَدُّوا صُدُودًا، وَأَنَّهُمْ يَزْعُمُونَ أَنَّهُمْ إِنَّمَا أَرَادُوا إِحْسَانًا وَتَوْفِيقًا، كَمَا يَقُولُهُ كَثِيرٌ مِنَ الْمُتَكَلِّمَةِ وَالْمُتَفَلْسِفَةِ وَغَيْرِهِمْ: إِنَّمَا نُرِيدُ أَنْ نُحِسَّ (3) الْأَشْيَاءَ بِحَقِيقَتِهَا، أَيْ: نُدْرِكَهَا وَنَعْرِفَهَا، وَنُرِيدُ التَّوْفِيقَ بَيْنَ الدَّلَائِلِ الَّتِي يُسَمُّونَهَا"الْعَقْلِيَّاتِ"، وَهِيَ فِي الْحَقِيقَةِ: جَهْلِيَّاتٌ! وَبَيْنَ الدَّلَائِلِ النَّقْلِيَّةِ الْمَنْقُولَةِ عَنِ الرَّسُولِ، أَوْ نُرِيدُ التَّوْفِيقَ بَيْنَ الشَّرِيعَةِ وَالْفَلْسَفَةِ. وَكَمَا يَقُولُهُ كَثِيرٌ مِنَ الْمُبْتَدِعَةِ، مِنَ الْمُتَنَسِّكَةِ وَالْمُتَصَوِّفَةِ: إِنَّمَا نُرِيدُ الْأَعْمَالَ بِالْعَمَلِ الْحَسَنِ، وَالتَّوْفِيقَ بَيْنَ الشَّرِيعَةِ وَبَيْنَ مَا يَدَّعُونَهُ مِنَ الْبَاطِلِ، الَّذِي يُسَمُّونَهُ
--------------------------------------------
এবং তাঁর প্রতি কর্ণপাত করা, তাদের রবের নির্দেশের আনুগত্য স্বরূপ, যেখানে তিনি বলেছেন: {আর যখন আপনি তাদের দেখেন যারা আমাদের আয়াতসমূহ নিয়ে উপহাসমূলক আলোচনায় মগ্ন হয়, তখন আপনি তাদের থেকে বিমুখ থাকুন যতক্ষণ না তারা অন্য কোনো আলোচনায় প্রবৃত্ত হয়} (১), কেননা এই আয়াতের মর্মার্থ তাদেরকেও অন্তর্ভুক্ত করে।
তাহরিফ (বিকৃতি) এবং ইনহিরাফ (বিচ্যুতি) উভয়েরই বিভিন্ন স্তর রয়েছে: কখনো তা কুফর হতে পারে, কখনো তা ফিসক হতে পারে, কখনো তা গুনাহ হতে পারে, আবার কখনো তা ভুল হতে পারে।
সুতরাং ওয়াজিব হলো রাসূলগণের অনুসরণ করা এবং আল্লাহ তাঁদের ওপর যা নাজিল করেছেন তার অনুসরণ করা। আল্লাহ তাঁদেরকে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মাধ্যমে সমাপ্ত করেছেন এবং তাঁকে সর্বশেষ নবী করেছেন। তাঁর কিতাবকে পূর্ববর্তী আসমানি কিতাবসমূহের ওপর রক্ষক ও নিয়ন্ত্রণকারী করেছেন। তাঁর ওপর কিতাব ও হিকমত নাজিল করেছেন। তাঁর দাওয়াতকে জিন ও মানুষ—উভয় সম্প্রদায়ের জন্য ব্যাপক করেছেন যা কিয়ামত পর্যন্ত অবশিষ্ট থাকবে। আর তাঁর মাধ্যমেই আল্লাহর বিরুদ্ধে বান্দাদের পেশ করার মতো সকল দলীল ও ওজর সমাপ্ত হয়ে গেছে।
আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে প্রতিটি বিষয় স্পষ্ট করেছেন এবং তাঁর ও তাঁর উম্মতের জন্য দ্বীনকে সংবাদ ও বিধানের (২) দিক থেকে পূর্ণতা দিয়েছেন। তাঁর আনুগত্যকে আল্লাহর আনুগত্য এবং তাঁর অবাধ্যতাকে আল্লাহর অবাধ্যতা সাব্যস্ত করেছেন। তিনি স্বয়ং নিজের শপথ করে বলেছেন যে, তারা ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না তাদের মধ্যকার বিবাদপূর্ণ বিষয়ে তাঁকে বিচারক হিসেবে মেনে নেয়। তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, মুনাফিকরা তিনি ছাড়া অন্য কারো কাছে বিচার নিয়ে যেতে চায়; আর যখন তাদেরকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে—অর্থাৎ আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহর দিকে—আহ্বান জানানো হয়, তখন তারা পুরোপুরি বিমুখ হয়ে যায়। তারা দাবি করে যে, তারা কেবল কল্যাণ ও সদ্ভাব চেয়েছে। যেমনটি অনেক কালামবিদ, দার্শনিক ও অন্যরা বলে থাকে: আমরা তো কেবল বিষয়সমূহকে তাদের প্রকৃত রূপে উপলব্ধি (৩) করতে চাই, অর্থাৎ তা অনুধাবন করতে ও জানতে চাই। আর আমরা সেই সব প্রমাণের মধ্যে সমন্বয় করতে চাই যেগুলোকে তারা "যৌক্তিক প্রমাণ" বলে থাকে—অথচ বাস্তবে সেগুলো হলো "অজ্ঞতা"!—এবং রাসূল থেকে বর্ণিত দলীলের মধ্যে সমন্বয় করতে চাই; অথবা আমরা শরীয়ত ও দর্শনের মধ্যে সমন্বয় করতে চাই। আবার অনেক বিদআতী লোক, ইবাদতকারী ও সূফীদের মধ্যে যারা আছে তারা যেমন বলে থাকে: আমরা তো কেবল আমলকে উত্তম পন্থায় করতে চাই এবং শরীয়ত ও সেই বাতিলের মধ্যে সমন্বয় করতে চাই যাকে তারা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল আকিদাতিত তাহাবিয়্যাহ - ত আল-আওকাফ আস-সাউদিয়্যাহ - বিতালিকতি আহমাদ শাকির
(পৃষ্ঠা: ২৩)
"حَقَائِقَ"وَهِيَ جَهْلٌ وَضَلَالٌ. وَكَمَا يَقُولُهُ كَثِيرٌ مِنَ الْمُتَمَلِّكَةِ وَالْمُتَأَمِّرَةِ: إِنَّمَا نُرِيدُ الْإِحْسَانَ بِالسِّيَاسَةِ الْحَسَنَةِ، وَالتَّوْفِيقَ بَيْنَهَا وَبَيْنَ الشَّرِيعَةِ، وَنَحْوَ ذَلِكَ.
فَكُلُّ مَنْ طَلَبَ أَنْ يُحَكِّمَ فِي شَيْءٍ مِنْ أَمْرِ الدِّينِ غَيْرَ مَا جَاءَ بِهِ الرَّسُولُ، وَيَظُنُّ أَنَّ ذَلِكَ حَسَنٌ، وَأَنَّ ذَلِكَ جَمْعٌ بَيْنَ مَا جَاءَ بِهِ الرَّسُولُ وَبَيْنَ مَا يُخَالِفُهُ - فَلَهُ نَصِيبٌ مِنْ ذَلِكَ، بَلْ مَا جَاءَ بِهِ الرَّسُولُ كَافٍ كَامِلٌ، يَدْخُلُ فِيهِ كُلُّ حَقٍّ.
وَإِنَّمَا وَقَعَ التَّقْصِيرُ مِنْ كَثِيرٍ مِنَ الْمُنْتَسِبِينَ إِلَيْهِ، فَلَمْ يَعْلَمْ مَا جَاءَ بِهِ الرَّسُولُ فِي كَثِيرٍ مِنَ الْأُمُورِ الْكَلَامِيَّةِ الِاعْتِقَادِيَّةِ، وَلَا فِي كَثِيرٍ مِنَ الْأَحْوَالِ الْعِبَادِيَّةِ، وَلَا فِي كَثِيرٍ مِنَ الْإِمَارَةِ السِّيَاسِيَّةِ، أَوْ نَسَبُوا إِلَى شَرِيعَةِ الرَّسُولِ، بِظَنِّهِمْ وَتَقْلِيدِهِمْ مَا لَيْسَ مِنْهَا، وَأَخْرَجُوا عَنْهَا كَثِيرًا مِمَّا هُوَ مِنْهَا.
فَبِسَبَبِ جَهْلِ هَؤُلَاءِ وَضَلَالِهِمْ وَتَفْرِيطِهِمْ، وَلَبْس عُدْوَانِ أُولَئِكَ وَجَهْلِهِمْ وَنِفَاقِهِمْ، كَثُرَ النِّفَاقُ، وَدَرَسَ كَثِيرٌ مِنْ عِلْمِ الرِّسَالَةِ.
بَلِ إنما يكون الْبَحْثُ التَّامُّ، وَالنَّظَرُ الْقَوِيُّ، وَالِاجْتِهَادُ الْكَامِلُ، فِيمَا جَاءَ بِهِ الرَّسُولُ، صلى الله عليه وسلم، لِيُعْلَمَ وَيُعْتَقَدَ، وَيُعْمَلَ بِهِ ظَاهِرًا وَبَاطِنًا، فَيَكُونَ قَدْ تُلِيَ حَقَّ تِلَاوَتِهِ، وَأَنْ لَا يُهْمَلَ مِنْهُ شَيْءٌ.
وَإِنْ كَانَ الْعَبْدُ عَاجِزًا عَنْ مَعْرِفَةِ بَعْضِ ذَلِكَ، أَوِ الْعَمَلِ بِهِ، فَلَا يَنْهَى عَمَّا عَجَزَ عَنْهُ مِمَّا جَاءَ بِهِ الرَّسُولُ، بَلْ حَسْبُهُ أَنْ يَسْقُطَ عَنْهُ اللَّوْمُ لِعَجْزِهِ، لَكِنْ عَلَيْهِ أَنْ يَفْرَحَ بِقِيَامِ غَيْرِهِ بِهِ، وَيَرْضَى بِذَلِكَ، وَيَوَدَّ أَنْ يَكُونَ قَائِمًا بِهِ، وَأَنْ لَا يُؤْمِنَ بِبَعْضِهِ وَيَتْرُكَ بَعْضَهُ، بَلْ يُؤْمِنُ بِالْكِتَابِ كُلِّهِ، وَأَنْ يُصَانَ عَنْ أَنْ يُدْخِلَ فِيهِ مَا لَيْسَ مِنْهُ، مِنْ رِوَايَةٍ أَوْ رَأْيٍ، أَوْ يَتَّبِعَ مَا لَيْسَ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ، اعْتِقَادًا أَوْ عَمَلًا، كَمَا قَالَ تَعَالَى: {وَلَا تَلْبِسُوا الْحَقَّ بِالْبَاطِلِ وَتَكْتُمُوا الْحَقَّ وَأَنْتُمْ تَعْلَمُونَ} (1).
--------------------------------------------
"প্রকৃত সত্য", অথচ তা অজ্ঞতা ও পথভ্রষ্টতা। যেমনটি অনেক শাসক ও রাজন্যবর্গ বলে থাকে: "আমরা কেবল উত্তম রাজনীতির মাধ্যমে কল্যাণ সাধন করতে চাই এবং এর সাথে শরিয়তের সমন্বয় ঘটাতে চাই" এবং এই জাতীয় কথাবার্তা।
সুতরাং দ্বীনের কোনো বিষয়ে রাসূল যা নিয়ে এসেছেন তা ব্যতীত অন্য কিছুর মাধ্যমে ফয়সালা করতে চায় এবং মনে করে যে তা উত্তম, কিংবা মনে করে যে এর মাধ্যমে রাসূলের আনীত বিষয় এবং এর বিরোধী বিষয়ের মধ্যে সমন্বয় সাধিত হবে - তবে তার মধ্যে এর (মুনাফিকির) একটি অংশ রয়েছে। বরং রাসূল যা নিয়ে এসেছেন তা-ই যথেষ্ট ও স্বয়ংসম্পূর্ণ, এর মধ্যেই সকল সত্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বস্তুত তাঁর (রাসূলের) অনুসারী বলে দাবিদার অনেকের পক্ষ থেকেই ত্রুটি বিচ্যুতি ঘটেছে; তারা কালামশাস্ত্রীয় আকিদাগত অনেক বিষয়ে, অনেক ইবাদতগত অবস্থায় এবং অনেক রাজনৈতিক ও শাসনতান্ত্রিক বিষয়ে রাসূল যা নিয়ে এসেছেন তা জানতে পারেনি। অথবা তারা তাদের ধারণা ও অন্ধ অনুকরণের বশবর্তী হয়ে এমন কিছুকে রাসূলের শরিয়তের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছে যা তার অন্তর্ভুক্ত নয়, আবার শরিয়তভুক্ত অনেক বিষয়কে তা থেকে বের করে দিয়েছে।
ফলে এদের অজ্ঞতা, পথভ্রষ্টতা ও অবহেলার কারণে এবং ওদের সীমালঙ্ঘন, মূর্খতা ও মুনাফিকির আবরণের সংমিশ্রণে নিফাক বা কপটতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং রিসালাতের ইলমের বিরাট একটি অংশ বিলুপ্ত হয়ে গেছে।
বরং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা নিয়ে এসেছেন, তার মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ গবেষণা, গভীর পর্যবেক্ষণ এবং পরিপূর্ণ ইজতিহাদ নিহিত থাকা উচিত; যেন তা জানা যায়, বিশ্বাস করা যায় এবং প্রকাশ্যে ও গোপনে তদনুযায়ী আমল করা যায়। এভাবে যেন তা যথাযথভাবে অনুসৃত হয় এবং এর কোনো কিছুই যেন উপেক্ষিত না থাকে।
বান্দা যদি এর কোনো কিছু জানতে বা তদনুযায়ী আমল করতে অক্ষম হয়, তবে রাসূল যা নিয়ে এসেছেন তার মধ্য থেকে যেটুকুতে সে অক্ষম সেটিকে যেন সে নিষেধ না করে। বরং তার অক্ষমতার কারণে তার উপর থেকে তিরস্কার উঠে যাওয়াই তার জন্য যথেষ্ট। তবে তার কর্তব্য হলো অন্য কেউ তা পালন করলে তাতে আনন্দিত হওয়া, তাতে সন্তুষ্ট থাকা এবং নিজে তা পালন করতে পারার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করা। সে যেন কিতাবের কিছু অংশের প্রতি ঈমান না আনে এবং কিছু অংশ বর্জন না করে; বরং সমগ্র কিতাবের প্রতিই ঈমান আনবে। আর কিতাবকে যেন এমন কিছু প্রবেশ করানো থেকে রক্ষা করা হয় যা তার অন্তর্ভুক্ত নয় - চাই তা কোনো বর্ণনা হোক বা কোনো ব্যক্তিগত রায় - এবং বিশ্বাস কিংবা আমলের ক্ষেত্রে যা আল্লাহর পক্ষ থেকে নয় তা অনুসরণ করা থেকে বেঁচে থাকে। যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: "তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশ্রিত করো না এবং জেনে-বুঝে সত্যকে গোপন করো না" (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল আকিদাতিত তাহাবিয়্যাহ - ত আল-আওকাফ আস-সাউদিয়্যাহ - বিতালিকতি আহমাদ শাকির
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وَهَذِهِ كَانَتْ طَرِيقَةَ السَّابِقِينَ الْأَوَّلِينَ، وَهِيَ طَرِيقَةُ التَّابِعِينَ لَهُمْ بِإِحْسَانٍ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ. وَأَوَّلُهُمُ السَّلَفُ الْقَدِيمُ مِنَ التَّابِعِينَ الْأَوَّلِينَ، ثُمَّ مَنْ بَعْدَهُمْ. وَمِنْ هَؤُلَاءِ أَئِمَّةُ الدِّينِ الْمَشْهُودُ لَهُمْ عِنْدَ الْأُمَّةِ الْوَسَطِ بِالْإِمَامَةِ.
فَعَنْ أَبِي يُوسُفَ رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى أَنَّهُ قَالَ لِبِشْرٍ الْمِرِّيسِيِّ: الْعِلْمُ بِالْكَلَامِ هُوَ الْجَهْلُ، وَالْجَهْلُ بِالْكَلَامِ هُوَ الْعِلْمُ، وَإِذَا صَارَ الرَّجُلُ رَأْسًا فِي الْكَلَامِ قِيلَ: زِنْدِيقٌ، أَوْ رُمِيَ بِالزَّنْدَقَةِ، أَرَادَ بِالْجَهْلِ بِهِ اعْتِقَادَ عَدَمِ صِحَّتِهِ، فَإِنَّ ذَلِكَ عِلْمٌ نَافِعٌ، أَوْ أَرَادَ بِهِ الْإِعْرَاضَ عَنْهُ أَوْ تَرْكَ الِالْتِفَاتِ إِلَى اعْتِبَارِهِ، فَإِنَّ ذَلِكَ يَصُونُ عِلْمَ الرَّجُلِ وَعَقْلَهُ، فَيَكُونُ عِلْمًا بِهَذَا الِاعْتِبَارِ. وَاللَّهُ أَعْلَمُ.
وَعَنْهُ أَيْضًا أَنَّهُ قَالَ: مَنْ طَلَبَ الْعِلْمَ بِالْكَلَامِ تَزَنْدَقَ، وَمَنْ طَلَبَ الْمَالَ بِالْكِيمْيَاءِ أَفْلَسَ، وَمَنْ طَلَبَ غَرِيبَ الْحَدِيثِ كَذَبَ.
وَقَالَ الْإِمَامُ الشَّافِعِيُّ رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى: حُكْمِي فِي أَهْلِ الْكَلَامِ أَنْ يُضْرَبُوا بِالْجَرِيدِ وَالنِّعَالِ، وَيُطَافَ بِهِمْ فِي الْعَشَائِرِ وَالْقَبَائِلِ، وَيُقَالُ: هَذَا جَزَاءُ مَنْ تَرَكَ الْكِتَابَ وَالسُّنَّةَ وَأَقْبَلَ عَلَى الْكَلَامِ.
وَقَالَ أَيْضًا رحمه الله تَعَالَى - شِعْرًا:
كُلُّ الْعُلُومِ سِوَى الْقُرْآنِ مَشْغَلَةٌ
… إِلَّا الْحَدِيثَ وَإِلَّا الْفِقْهَ فِي الدِّينِ
الْعِلْمُ مَا كَانَ فِيهِ قَالَ حَدَّثَنَا
… وَمَا سِوَى ذَاكَ وَسْوَاسُ الشَّيَاطِينِ
وَذَكَرَ الْأَصْحَابُ فِي الْفَتَاوَى: أَنَّهُ لَوْ أَوْصَى لِعُلَمَاءِ بَلَدِهِ: لَا يَدْخُلُ الْمُتَكَلِّمُونَ، وَأَوْصَى إِنْسَانٌ أَنْ يُوقَفَ مِنْ كُتُبِهِ مَا هُوَ مِنْ كُتُبِ الْعِلْمِ، فَأَفْتَى السَّلَفُ أَنْ يُبَاعَ مَا فِيهَا مِنْ كُتُبِ الْكَلَامِ. ذُكِرَ ذَلِكَ بِمَعْنَاهُ فِي الْفَتَاوَى الظَّهِيرِيَّةِ.
فَكَيْفَ يُرَامُ الْوُصُولُ إِلَى عِلْمِ الْأُصُولِ، بِغَيْرِ اتِّبَاعِ مَا جَاءَ بِهِ الرَّسُولُ؟!
এটিই ছিল পূর্ববর্তী অগ্রগামীদের পথ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসরণ করবেন তাদেরও এটিই পথ। তাদের মধ্যে প্রথম হলেন প্রাচীন সালাফগণ যারা প্রথম স্তরের তাবেয়ীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং যারা তাদের পরে এসেছেন। আর এঁদের মধ্যে রয়েছেন দ্বীনের সেই সকল ইমামগণ, মধ্যমপন্থী উম্মাহর নিকট যাদের ইমামত সর্বজনবিদিত।
ইমাম আবু ইউসুফ (রাহিমাহুল্লাহ তাআলা) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বিশর আল-মাররিসিকে বলেছিলেন: ইলমুল কালাম (তর্কবিদ্যা) সংক্রান্ত জ্ঞানই হলো অজ্ঞতা, আর ইলমুল কালামে অজ্ঞ থাকাই হলো প্রকৃত জ্ঞান। আর যখন কোনো ব্যক্তি ইলমুল কালামে শীর্ষস্থানী হয়ে ওঠে, তখন তাকে জিন্দিক (ধর্মত্যাগী) বলা হয় অথবা তার ওপর জিন্দিক হওয়ার অপবাদ দেওয়া হয়। তিনি ইলমুল কালামে অজ্ঞতা বলতে এর অসারতার বিশ্বাসকে বুঝিয়েছেন, কারণ এটিই হলো উপকারী জ্ঞান। অথবা তিনি এর দ্বারা এর থেকে বিমুখ থাকা এবং এর প্রতি গুরুত্ব দেওয়া বর্জন করাকে বুঝিয়েছেন, কারণ তা একজন ব্যক্তির জ্ঞান ও বুদ্ধিকে রক্ষা করে। সুতরাং এই বিবেচনায় এটিই হলো প্রকৃত জ্ঞান। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
তাঁর থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: যে ব্যক্তি ইলমুল কালামের মাধ্যমে জ্ঞান অন্বেষণ করবে সে জিন্দিক হয়ে যাবে; যে ব্যক্তি কিমিয়া (পরশ পাথর) এর মাধ্যমে সম্পদ অন্বেষণ করবে সে দেউলিয়া হবে; আর যে ব্যক্তি বিরল হাদিসের পিছনে ছুটবে সে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত হবে।
ইমাম শাফেয়ী (রাহিমাহুল্লাহ তাআলা) বলেছেন: ইলমুল কালাম চর্চাকারীদের ব্যাপারে আমার ফয়সালা হলো—তাদেরকে খেজুরের ডাল ও জুতো দিয়ে পেটানো হবে এবং গোত্র ও বংশগুলোর মধ্যে ঘুরানো হবে। আর ঘোষণা করা হবে: এটিই সেই ব্যক্তির শাস্তি যে কিতাব ও সুন্নাহ বর্জন করেছে এবং ইলমুল কালামের দিকে ঝুঁকে পড়েছে।
তিনি (রাহিমাহুল্লাহ তাআলা) কবিতার ছন্দে আরও বলেছেন:
কুরআন ছাড়া অন্য সব জ্ঞান কেবলই ব্যস্ততা
… কেবল হাদিস এবং দ্বীনের ফিকহ ব্যতীত
প্রকৃত জ্ঞান তাই যেখানে 'তিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন' রয়েছে
… আর যা এর বাইরে তা শয়তানের কুমন্ত্রণা মাত্র
ফাতাওয়া গ্রন্থসমূহে ইমামের সহচরগণ উল্লেখ করেছেন যে: যদি কেউ তার শহরের আলেমদের জন্য অসিয়ত করে, তবে তাতে ইলমুল কালাম চর্চাকারীরা অন্তর্ভুক্ত হবে না। আর যদি কোনো ব্যক্তি তার কিতাবসমূহ থেকে ইলমি বা জ্ঞানগর্ভ কিতাবগুলো ওয়াকফ করার অসিয়ত করে, তবে সালাফগণ ফতোয়া দিয়েছেন যে, তার সংগ্রহে থাকা ইলমুল কালামের কিতাবগুলো যেন বিক্রি করে দেওয়া হয়। আল-ফাতাওয়া আল-জহিরিয়্যাহ গ্রন্থে মর্মার্থসহ এটি উল্লেখ করা হয়েছে।
অতএব, রাসূল যা নিয়ে এসেছেন তার অনুসরণ ছাড়া দ্বীনের মৌলিক জ্ঞান (ইলমুল উসুল) অর্জন করা কীভাবে সম্ভব?!
(খণ্ড: ১)
শারহুল আকিদাতিত তাহাবিয়্যাহ - ত আল-আওকাফ আস-সাউদিয়্যাহ - বিতালিকতি আহমাদ শাকির
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وَلَقَدْ أَحْسَنَ الْقَائِلُ:
أَيُّهَا الْمُغْتَدِي لِيَطْلُبَ عِلْمًا
… كُلُّ عِلْمٍ عَبْدٌ لِعِلْمِ الرَّسُولِ
تَطْلُبُ الْفَرْعَ كَيْ تُصَحِّحَ أَصْلًا
… كَيْفَ أَغْفَلْتَ عِلْمَ أَصْلِ الْأُصُولِ
وَنَبِيُّنَا صلى الله عليه وسلم أُوتِيَ فَوَاتِحَ الْكَلِمِ وَخَوَاتِمَهُ وَجَوَامِعَهُ، فَبُعِثَ بِالْعُلُومِ الْكُلِّيَّةِ وَالْعُلُومِ الْأَوَّلِيَّةِ وَالأخْرَوِيَّةِ عَلَى أَتَمِّ الْوُجُوهِ، وَلَكِنْ كُلَّمَا ابْتَدَعَ شَخْصٌ بِدْعَةً اتَّسَعُوا فِي جَوَابِهَا، فَلِذَلِكَ صَارَ كَلَامُ الْمُتَأَخِّرِينَ كَثِيرًا، قَلِيلَ الْبَرَكَةِ، بِخِلَافِ كَلَامِ الْمُتَقَدِّمِينَ، فَإِنَّهُ قَلِيلٌ، كَثِيرُ الْبَرَكَةِ، لَا كَمَا يَقُولُهُ ضُلَّالُ الْمُتَكَلِّمِينَ وَجَهَلَتُهُمْ: إِنَّ طَرِيقَةَ الْقَوْمِ أَسْلَمُ، وَإِنَّ طَرِيقَتَنَا أَحْكَمُ وَأَعْلَمُ! وَلا كَمَا يَقُولُهُ مَنْ لَمْ يُقَدِّرْهُمْ مِنَ الْمُنْتَسِبِينَ إِلَى الْفِقْهِ: إِنَّهُمْ لَمْ يَتَفَرَّغُوا لِاسْتِنْبَاطِ الفقه وَضَبْطِ قَوَاعِدِهِ وَأَحْكَامِهِ اشْتِغَالًا مِنْهُمْ بِغَيْرِهِ! وَالْمُتَأَخِّرُونَ تَفَرَّغُوا لِذَلِكَ، فَهُمْ أَفْقَهُ!!
فَكُلُّ هَؤُلَاءِ مَحْجُوبُونَ عَنْ مَعْرِفَةِ مَقَادِيرِ السَّلَفِ، وَعُمْقِ عُلُومِهِمْ، وَقِلَّةِ تَكَلُّفِهِمْ، وَكَمَالِ بَصَائِرِهِمْ. وَتَاللَّهِ مَا امْتَازَ عَنْهُمُ الْمُتَأَخِّرُونَ إِلَّا بِالتَّكَلُّفِ وَالِاشْتِغَالِ بِالْأَطْرَافِ الَّتِي كَانَتْ هِمَّةُ الْقَوْمِ مُرَاعَاةَ أُصُولِهَا، وَضَبْطَ قَوَاعِدِهَا، وَشَدَّ مَعَاقِدِهَا، وَهِمَمُهُمْ مُشَمَّرَةً إِلَى الْمَطَالِبِ الْعَالِيَةِ فِي كُلِّ شَيْءٍ. فَالْمُتَأَخِّرُونَ فِي شَأْنٍ، وَالْقَوْمُ فِي شَأْنٍ آخَرَ، وَقَدْ جَعَلَ اللَّهُ لِكُلِّ شَيْءٍ قَدْرًا.
وَقَدْ شَرَحَ هَذِهِ الْعَقِيدَةَ غَيْرُ وَاحِدٍ مِنَ الْعُلَمَاءِ، وَلَكِنْ رَأَيْتُ بَعْضَ الشَّارِحِينَ قَدْ أَصْغَى إِلَى أَهْلِ الْكَلَامِ الْمَذْمُومِ، وَاسْتَمَدَّ مِنْهُمْ، وَتَكَلَّمَ بِعِبَارَاتِهِمْ.
وَالسَّلَفُ لَمْ يَكْرَهُوا التَّكَلُّمَ بِالْجَوْهَرِ وَالْجِسْمِ وَالْعَرَضِ وَنَحْوِ ذَلِكَ لِمُجَرَّدِ كَوْنِهِ اصْطِلَاحًا جَدِيدًا عَلَى مَعَانٍ صَحِيحَةٍ، كَالِاصْطِلَاحِ عَلَى أَلْفَاظِ الْعُلُومِ الصَحِيحَةِ، وَلَا كَرِهُوا أَيْضًا الدَّلَالَةَ عَلَى الْحَقِّ وَالْمُحَاجَّةِ لِأَهْلِ الْبَاطِلِ.
আর বর্ণনাকারী কতই না চমৎকার বলেছেন:
হে জ্ঞান অন্বেষণে ক্ষিপ্র ধাবমান ব্যক্তি
… সকল জ্ঞানই রাসূলের জ্ঞানের নিকট দাসতুল্য।
তুমি শাখা অন্বেষণ করছ মূলকে সঠিক করার তরে
… তবে কীভাবে তুমি মূলের মূলের জ্ঞান সম্পর্কে উদাসীন হলে?
আর আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে দান করা হয়েছে কথার প্রারম্ভ, সমাপ্তি ও সংক্ষিপ্ত অথচ ব্যাপক অর্থবোধক শব্দাবলী। সুতরাং তাঁকে পরিপূর্ণরূপে ব্যাপক জ্ঞানসমূহ, আদি জ্ঞানসমূহ এবং পরকালীন জ্ঞানসমূহ দিয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। কিন্তু যখনই কোনো ব্যক্তি কোনো বিদআত উদ্ভাবন করেছে, তারা তার জবাবে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন। একারণেই পরবর্তীকালের লোকেদের কথা অধিক হয়েছে অথচ বরকত কমে গেছে; পক্ষান্তরে পূর্ববর্তীদের কথা ছিল অল্প, কিন্তু বরকত ছিল অনেক। পথভ্রষ্ট মুতাকাল্লিম ও তাদের মূর্খরা যা বলে বিষয়টি তেমন নয় যে: "পূর্ববর্তীদের পথ অধিক নিরাপদ, আর আমাদের পথ অধিক প্রজ্ঞাপূর্ণ ও জ্ঞানগর্ভ!" আবার ফিকহ শাস্ত্রের সাথে সম্পৃক্ত যারা তাঁদের যথাযোগ্য মূল্যায়ন করেনি তাদের উক্তির মতোও নয় যে: "তাঁরা অন্যান্য কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে ফিকহ উদ্ভাবন এবং এর মূলনীতি ও বিধানসমূহ সুবিন্যস্ত করার জন্য অবসর পাননি! আর পরবর্তীরা এর জন্য অবসর পেয়েছেন, তাই তাঁরা অধিক ফকীহ!!"
এদের সকলেই সালাফদের মর্যাদা, তাঁদের ইলমের গভীরতা, তাঁদের কৃত্রিমতাহীনতা এবং তাঁদের অন্তর্দৃষ্টির পূর্ণতা অনুধাবন করা থেকে বঞ্চিত। আল্লাহর শপথ, পরবর্তীরা তাঁদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করতে পারেনি কেবল কৃত্রিমতা এবং খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে ব্যস্ত হওয়া ছাড়া; অথচ সালাফদের লক্ষ্য ছিল মূল বিষয়গুলোর প্রতি খেয়াল রাখা, সেগুলোর মূলনীতি সুবিন্যস্ত করা এবং সেগুলোর ভিত্তি সুদৃঢ় করা। আর তাঁদের সংকল্প ছিল প্রতিটি বিষয়ের উচ্চতর লক্ষ্যপানে ধাবিত। সুতরাং পরবর্তীরা এক অবস্থায় রয়েছে আর সালাফগণ ছিলেন অন্য এক অবস্থায়। আর আল্লাহ প্রত্যেক বিষয়ের জন্য একটি পরিমাণ নির্ধারণ করে রেখেছেন।
একাধিক আলেম এই আকিদার ব্যাখ্যা করেছেন, তবে আমি দেখেছি যে কিছু ব্যাখ্যাকারী নিন্দিত ইলমুল কালামপন্থীদের প্রতি ঝুঁকে পড়েছেন, তাঁদের থেকে সাহায্য নিয়েছেন এবং তাঁদের পরিভাষা ব্যবহার করে কথা বলেছেন।
আর সালাফগণ জাওহার (সত্তা), জিসম (দেহ), আরয (আকস্মিক গুণাবলী) এবং এই জাতীয় শব্দ ব্যবহারের কেবল একারণে বিরোধিতা করেননি যে এগুলো সঠিক অর্থের জন্য নতুন পরিভাষা ছিল—যেমন অন্যান্য সঠিক বিজ্ঞানের পরিভাষাসমূহ রয়েছে। আর তাঁরা সত্যের পথ দেখানো এবং বাতিলপন্থীদের সাথে বিতর্ক করাকেও অপছন্দ করেননি।
(খণ্ড: ১)
শারহুল আকিদাতিত তাহাবিয়্যাহ - ত আল-আওকাফ আস-সাউদিয়্যাহ - বিতালিকতি আহমাদ শাকির
(পৃষ্ঠা: ২৬)
بَلْ كَرِهُوهُ لِاشْتِمَالِهِ عَلَى أُمُورٍ كَاذِبَةٍ مُخَالِفَةٍ لِلْحَقِّ، وَمِنْ ذَلِكَ مُخَالَفَتُهَا لِلْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ، وَلِهَذَا لَا تَجِدُ عِنْدَ أَهْلِهَا مِنَ الْيَقِينِ وَالْمَعْرِفَةِ مَا عِنْدَ عَوَامِّ الْمُؤْمِنِينَ، فَضْلًا عَنْ عُلَمَائِهِمْ، وَلِاشْتِمَالِ مُقَدِّمَاتِهِمْ عَلَى الْحَقِّ وَالْبَاطِلِ، كَثُرَ الكلام، وَانْتَشَرَ الْقِيلُ وَالْقَالُ، وَتَوَلَّدَ لَهُمْ عَنْهَا مِنَ الْأَقْوَالِ الْمُخَالِفَةِ لِلشَّرْعِ الصَّحِيحِ وَالْعَقْلِ الصَّرِيحِ مَا يَضِيقُ عَنْهُ الْمَجَالُ. وَسَيَأْتِي لِذَلِكَ الكلام زِيَادَةُ بَيَانٍ عِنْدَ قَوْلِهِ: "فَمَنْ رَامَ عِلْمَ مَا حُظِرَ عَنْهُ عِلْمُهُ".
وَقَدْ أَحْبَبْتُ أَنْ أَشْرَحَهَا سَالِكًا طَرِيقَ السَّلَفِ فِي عِبَارَاتِهِمْ، وَأَنْسُجَ عَلَى مِنْوَالِهِمْ، مُتَطَفِّلًا عَلَيْهِمْ، لَعَلِّي أَنْ أُنْظَمَ فِي سِلْكِهِمْ، وَأُدْخَلَ فِي عِدَادِهِمْ، وَأُحْشَرَ فِي زُمْرَتِهِمْ {مَعَ الَّذِينَ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ مِنَ النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصَّالِحِينَ وَحَسُنَ أُولَئِكَ رَفِيقًا} (1).
وَلَمَّا رَأَيْتُ النُّفُوسَ مَائِلَةً إِلَى الِاخْتِصَارِ، آثَرْتُهُ عَلَى التَّطْوِيلِ وَالْإِسْهَابِ. (وَمَا تَوْفِيقِي إِلَّا بِاللَّهِ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْهِ أُنِيبُ). وَهُوَ حَسْبُنَا وَنِعْمَ الْوَكِيلُ.
قَوْلُهُ: (نَقُولُ فِي تَوْحِيدِ اللَّهِ مُعْتَقِدِينَ بِتَوْفِيقِ اللَّهِ: إِنَّ اللَّهَ وَاحِدٌ لَا شَرِيكَ لَهُ).
اعْلَمْ أَنَّ التَّوْحِيدَ أَوَّلُ دَعْوَةِ الرُّسُلِ، وَأَوَّلُ مَنَازِلِ الطَّرِيقِ، وَأَوَّلُ مَقَامٍ يَقُومُ فِيهِ السَّالِكُ إِلَى اللَّهِ. قَالَ تَعَالَى: {لَقَدْ أَرْسَلْنَا نُوحًا إِلَى قَوْمِهِ فَقَالَ يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ} (2)، وَقَالَ هُودٌ عليه السلام لِقَوْمِهِ: {اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ} (3)، وَقَالَ صَالِحٌ عليه السلام لِقَوْمِهِ: {اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ} (4)، وَقَالَ شُعَيْبٌ عليه السلام لِقَوْمِهِ: {اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ} (5)، وَقَالَ تَعَالَى: {وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولًا أَنِ اُعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ} (6)، وَقَالَ تَعَالَى:
--------------------------------------------
বরং তারা এটিকে অপছন্দ করেছেন কারণ এটি সত্যবিরোধী মিথ্যা বিষয়াবলিকে অন্তর্ভুক্ত করে। যার মধ্যে রয়েছে কিতাব ও সুন্নাহর বিরোধিতা। এই কারণেই এর অনুসারীদের নিকট সাধারণ মুমিনদের মতোও দৃঢ় বিশ্বাস ও মারিফাত পাওয়া যায় না, তাদের আলেমদের কথা তো বহুদূরে। যেহেতু তাদের ভূমিকাগুলোর মধ্যে সত্য ও মিথ্যা মিশ্রিত রয়েছে, তাই সেখানে কথার আধিক্য ঘটেছে, তর্ক-বিতর্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং এর ফলে তাদের জন্য সঠিক শরিয়ত ও স্বচ্ছ বিবেকের বিরোধী এমন সব বক্তব্য জন্ম নিয়েছে যার বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া দুঃসাধ্য। এ সংক্রান্ত আলোচনার আরও ব্যাখ্যা সামনে আসবে যখন তিনি বলবেন: "সুতরাং যে এমন জ্ঞান অনুসন্ধানের ইচ্ছা করবে যা তার থেকে গোপন রাখা হয়েছে।"
আর আমি সলফদের বর্ণনার রীতি অনুসরণ করে এটি ব্যাখ্যা করতে চেয়েছি এবং তাদের পদ্ধতিতে এটি সাজাতে চেয়েছি। আমি তাদের উপর নির্ভর করে আশা করছি যে, যেন আমিও তাদের সুতোয় গাঁথা হতে পারি, তাদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারি এবং তাদের দলের সাথেই হাশরের ময়দানে উপস্থিত হতে পারি {যাদের ওপর আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন—অর্থাৎ নবীগণ, সত্যবাদীগণ, শহীদগণ এবং সৎকর্মশীলগণ। আর সঙ্গী হিসেবে তারা কতই না উত্তম} (১)।
আমি যখন দেখলাম যে মানুষের মন সংক্ষেপ করার প্রতি অনুরাগী, তখন দীর্ঘ ও বিস্তৃত আলোচনার চেয়ে সংক্ষেপ করাকেই প্রাধান্য দিলাম। (আমার সাফল্য কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই, তাঁর ওপরই আমি ভরসা করি এবং তাঁর দিকেই আমি প্রত্যাবর্তন করি)। তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।
তাঁর কথা: (আমরা আল্লাহর তাওফিকে বিশ্বাস রেখে আল্লাহর তাওহিদ সম্পর্কে বলি: নিশ্চয়ই আল্লাহ এক, তাঁর কোনো শরিক নেই).
জেনে রাখুন যে, তাওহিদ হলো রাসুলদের দাওয়াতের প্রথম বিষয়, এই পথের প্রথম মনজিল এবং আল্লাহর দিকে অগ্রসরমান ব্যক্তির প্রথম অবস্থান। আল্লাহ তাআলা বলেন: {নিশ্চয়ই আমি নুহকে তার কওমের নিকট পাঠিয়েছি, অতপর সে বলল, হে আমার কওম! তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোনো ইলাহ নেই} (২)। হুদ আলাইহিস সালাম তার কওমকে বলেছিলেন: {তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোনো ইলাহ নেই} (৩)। সালেহ আলাইহিস সালাম তার কওমকে বলেছিলেন: {তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোনো ইলাহ নেই} (৪)। শুয়াইব আলাইহিস সালাম তার কওমকে বলেছিলেন: {তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোনো ইলাহ নেই} (৫)। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {নিশ্চয়ই আমি প্রত্যেক উম্মতের মধ্যে একজন রাসুল পাঠিয়েছি এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগুত বর্জন করো} (৬)। আর আল্লাহ তাআলা বলেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল আকিদাতিত তাহাবিয়্যাহ - ত আল-আওকাফ আস-সাউদিয়্যাহ - বিতালিকতি আহমাদ শাকির
(পৃষ্ঠা: ২৭)
{وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَسُولٍ إِلَّا نُوحِي إِلَيْهِ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدُونِ} (1).
وَقَالَ صلى الله عليه وسلم: «أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَشْهَدُوا أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ». وَلِهَذَا كَانَ الصَّحِيحُ أَنَّ أَوَّلَ وَاجِبٍ يَجِبُ عَلَى الْمُكَلَّفِ شَهَادَةُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، لَا النَّظَرُ، وَلَا الْقَصْدُ إِلَى النَّظَرِ، وَلَا الشَّكُّ، كَمَا هِيَ أَقْوَالٌ لِأَرْبَابِ الْكَلَامِ الْمَذْمُومِ. بَلْ أَئِمَّةُ السَّلَفِ كُلُّهُمْ مُتَّفِقُونَ عَلَى أَنَّ أَوَّلَ مَا يُؤْمَرُ بِهِ الْعَبْدُ الشَّهَادَتَانِ، وَمُتَّفِقُونَ عَلَى أَنَّ مَنْ فَعَلَ ذَلِكَ قَبْلَ الْبُلُوغِ لَمْ يُؤْمَرْ بِتَجْدِيدِ ذَلِكَ عَقِيبَ بُلُوغِهِ، بَلْ يُؤْمَرُ بِالطَّهَارَةِ وَالصَّلَاةِ إِذَا بَلَغَ أَوْ مَيَّزَ عِنْدَ مَنْ يَرَى ذَلِكَ، وَلَمْ يُوجِبْ أَحَدٌ مِنْهُمْ عَلَى وَلِيِّهِ أَنْ يُخَاطِبَهُ حِينَئِذٍ بِتَجْدِيدِ الشَّهَادَتَيْنِ، وَإِنْ كَانَ الْإِقْرَارُ بِالشَّهَادَتَيْنِ وَاجِبًا بِاتِّفَاقِ الْمُسْلِمِينَ، وَوُجُوبُهُ يَسْبِقُ وُجُوبَ الصَّلَاةِ، لَكِنْ هُوَ أَدَّى هَذَا الْوَاجِبَ قَبْلَ ذَلِكَ.
وَهُنَا مَسَائِلُ تَكَلَّمَ فِيهَا الْفُقَهَاءُ؛ كَمَنْ صَلَّى وَلَمْ يَتَكَلَّمْ بِالشَّهَادَتَيْنِ، أَوْ أَتَى بِغَيْرِ ذَلِكَ مِنْ خَصَائِصِ الْإِسْلَامِ، وَلَمْ يَتَكَلَّمْ بِهَا - هَلْ يَصِيرُ مُسْلِمًا أَمْ لَا؟ فَالصَّحِيحُ أَنَّهُ يَصِيرُ مُسْلِمًا بِكُلِّ مَا هُوَ مِنْ خَصَائِصِ الْإِسْلَامِ. فَالتَّوْحِيدُ أَوَّلُ مَا يُدْخِلُ فِي الْإِسْلَامِ، وَآخِرُ مَا يُخْرَجُ بِهِ مِنَ الدُّنْيَا، كَمَا قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ كَانَ آخِرُ كَلَامِهِ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ دَخَلَ الْجَنَّةَ». وَهُوَ أَوَّلُ وَاجِبٍ وَآخِرُ وَاجِبٍ.
فَالتَّوْحِيدُ أَوَّلُ الْأَمْرِ وَآخِرُهُ، أَعْنِي تَوْحِيدَ الْإِلَهِيَّةِ.
فإن التَّوْحِيدَ يَتَضَمَّنُ ثَلَاثَةَ أَنْوَاعٍ:
أَحَدُهَا: الْكَلَامُ فِي الصِّفَاتِ. وَالثَّانِي: تَوْحِيدُ الرُّبُوبِيَّةِ، وَبَيَانُ أَنَّ اللَّهَ وَحْدَهُ خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ. وَالثَّالِثُ: تَوْحِيدُ الْإِلَهِيَّةِ، وَهُوَ اسْتِحْقَاقُهُ سبحانه وتعالى أَنْ يُعْبَدَ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ.
--------------------------------------------
{আর আমি আপনার পূর্বে এমন কোনো রাসূল প্রেরণ করিনি যার প্রতি এই ওহী নাযিল করিনি যে, আমি ব্যতীত অন্য কোনো সত্য উপাস্য নেই; সুতরাং কেবল আমারই ইবাদত করো।} (১)।
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমি মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল।" একারণেই সঠিক মত হলো, মুকাল্লাফ (শরীয়তের বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তি)-এর ওপর প্রথম ওয়াজিব বা আবশ্যিক কর্তব্য হলো এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। এটি যৌক্তিক বিচার-বিশ্লেষণ (নাযার), বিচার-বিশ্লেষণের সংকল্প (কাসদ ইলা নাযার), কিংবা কোনো প্রকার সন্দেহ (শাক্ক) পোষণ করা নয়; যেমনটি নিন্দিত ইলমুল কালামের পণ্ডিতগণ বলে থাকেন। বরং পূর্বসূরী সালাফ ইমামগণ সকলেই একমত যে, বান্দাকে সর্বপ্রথম যে জিনিসের আদেশ দেওয়া হবে তা হলো শাহাদাতাইন (দুইটি সাক্ষ্যবাণী)। তারা এ ব্যাপারেও একমত যে, কেউ যদি সাবালক হওয়ার আগেই তা সম্পাদন করে, তবে সাবালক হওয়ার পর তাকে তা পুনরায় নবায়ন করার নির্দেশ দেওয়া হবে না। বরং সে যখন সাবালক হবে বা বিচারবুদ্ধি সম্পন্ন (তাময়ীয) স্তরে পৌঁছাবে (যাদের মতে এটি ধর্তব্য), তখন তাকে পবিত্রতা ও সালাত আদায় করার নির্দেশ দেওয়া হবে। তাদের কেউ অভিভাবকের ওপর এটি ওয়াজিব করেননি যে সেই সময়ে তাকে শাহাদাতাইন নবায়ন করতে বলতে হবে, যদিও শাহাদাতাইনের স্বীকৃতি দেওয়া সকল মুসলিমের ঐকমত্যে ওয়াজিব এবং এর আবশ্যকতা সালাতের আবশ্যকতার পূর্বেই আসে। তবে সে তো আগেই এই ওয়াজিব পালন করে ফেলেছে।
এখানে এমন কিছু মাসআলা রয়েছে যা নিয়ে ফকীহগণ আলোচনা করেছেন; যেমন কোনো ব্যক্তি শাহাদাতাইন উচ্চারণ না করেই সালাত আদায় করল, অথবা ইসলামের অন্য কোনো বৈশিষ্ট্যমূলক আমল করল কিন্তু শাহাদাতাইন উচ্চারণ করল না—সে কি মুসলিম হবে কি না? সঠিক মত হলো, ইসলামের যে কোনো বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমেই সে মুসলিম হিসেবে গণ্য হবে। সুতরাং তাওহীদই হলো প্রথম বিষয় যা দ্বারা ইসলামে প্রবেশ করা হয় এবং শেষ বিষয় যা নিয়ে দুনিয়া থেকে প্রস্থান করা হয়। যেমনটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যার শেষ কথা হবে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' (আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই), সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।" আর এটিই হলো প্রথম ওয়াজিব এবং শেষ ওয়াজিব।
অতএব তাওহীদই হলো প্রথম ও শেষ বিষয়, আমি এখানে তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ (ইবাদতের তাওহীদ) বোঝাচ্ছি।
কেননা তাওহীদ তিনটি প্রকারকে অন্তর্ভুক্ত করে:
প্রথমটি: সিফাত বা গুণাবলী সংক্রান্ত আলোচনা। দ্বিতীয়টি: তাওহীদুর রুবুবিয়্যাহ, অর্থাৎ এই বর্ণনা যে আল্লাহ একাই সবকিছুর স্রষ্টা। এবং তৃতীয়টি: তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ, আর তা হলো মহান আল্লাহ এককভাবে এবং তাঁর কোনো অংশীদার ছাড়াই ইবাদত পাওয়ার যোগ্য হওয়া।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল আকিদাতিত তাহাবিয়্যাহ - ত আল-আওকাফ আস-সাউদিয়্যাহ - বিতালিকতি আহমাদ শাকির
(পৃষ্ঠা: ২৮)
أَمَّا الْأَوَّلُ: فَإِنَّ نُفَاةَ الصِّفَاتِ أَدْخَلُوا نَفْيَ الصِّفَاتِ فِي مُسَمَّى التَّوْحِيدِ، كَالْجَهْمِ بْنِ صَفْوَانَ وَمَنْ وَافَقَهُ، فَإِنَّهُمْ قَالُوا: إِثْبَاتُ الصِّفَاتِ يَسْتَلْزِمُ تَعَدُّدَ الْوَاجِبِ! وَهَذَا الْقَوْلُ مَعْلُومُ الْفَسَادِ بِالضَّرُورَةِ، فَإِنَّ إِثْبَاتَ ذَاتٍ مُجَرَّدَةٍ عَنْ جَمِيعِ الصِّفَاتِ لَا يُتَصَوَّرُ لَهَا وُجُودٌ فِي الْخَارِجِ، وَإِنَّمَا الذِّهْنُ قَدْ يَفْرِضُ الْمُحَالَ وَيَتَخَيَّلُهُ، وَهَذَا غَايَةُ التَّعْطِيلِ. وَهَذَا الْقَوْلُ قَدْ أَفْضَى بِقَوْمٍ إِلَى الْقَوْلِ بِالْحُلُولِ وَالِاتِّحَادِ، وَهُوَ أَقْبَحُ مِنْ كُفْرِ النَّصَارَى، فَإِنَّ النَّصَارَى خَصُّوهُ بِالْمَسِيحِ، وَهَؤُلَاءِ عَمُّوا جَمِيعَ الْمَخْلُوقَاتِ.
وَمِنْ فُرُوعِ هَذَا التَّوْحِيدِ: أَنَّ فِرْعَوْنَ وَقَوْمَهُ كَامِلُو الْإِيمَانِ، عَارِفُونَ بِاللَّهِ عَلَى الْحَقِيقَةِ!
وَمِنْ فُرُوعِهِ: أَنَّ عُبَّادَ الْأَصْنَامِ عَلَى الْحَقِّ وَالصَّوَابِ، وَأَنَّهُمْ إِنَّمَا عَبَدُوا اللَّهَ لَا غَيْرَهُ! وَمِنْ فُرُوعِهِ: أَنَّهُ لَا فَرْقَ فِي التَّحْرِيمِ وَالتَّحْلِيلِ بَيْنَ الْأُمِّ وَالْأُخْتِ وَالْأَجْنَبِيَّةِ، وَلَا فَرْقَ بَيْنَ الْمَاءِ وَالْخَمْرِ وَالزِّنَى وَالنِّكَاحِ، الْكُلُّ مِنْ عَيْنٍ وَاحِدَةٍ، لَا بَلْ هُوَ الْعَيْنُ الْوَاحِدَةُ.
وَمِنْ فُرُوعِهِ: أَنَّ الْأَنْبِيَاءَ ضَيَّقُوا عَلَى النَّاسِ.
تَعَالَى اللَّهُ عَمَّا يَقُولُونَ عُلُوًّا كَبِيرًا.
وَأَمَّا الثَّانِي: وَهُوَ تَوْحِيدُ الرُّبُوبِيَّةِ، كَالْإِقْرَارِ بِأَنَّهُ خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ، وَأَنَّهُ لَيْسَ لِلْعَالَمِ صَانِعَانِ مُتَكَافِئَانِ فِي الصِّفَاتِ وَالْأَفْعَالِ، وَهَذَا التَّوْحِيدُ حَقٌّ لَا رَيْبَ فِيهِ، وَهُوَ الْغَايَةُ عِنْدَ كَثِيرٍ مِنْ أَهْلِ النَّظَرِ وَالْكَلَامِ وَطَائِفَةٍ مِنَ الصُّوفِيَّةِ. وَهَذَا التَّوْحِيدُ لَمْ يَذْهَبْ إِلَى نَقِيضِهِ طَائِفَةٌ مَعْرُوفَةٌ مِنْ بَنِي آدَمَ، بَلِ الْقُلُوبُ مَفْطُورَةٌ عَلَى الْإِقْرَارِ بِهِ أَعْظَمَ مِنْ كَوْنِهَا مَفْطُورَةً عَلَى الْإِقْرَارِ بِغَيْرِهِ مِنَ الْمَوْجُودَاتِ، كَمَا قَالَتِ الرُّسُلُ فِيمَا حَكَى اللَّهُ عَنْهُمْ: {قَالَتْ رُسُلُهُمْ أَفِي اللَّهِ شَكٌّ فَاطِرِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ} (1).
--------------------------------------------
প্রথমটি হলো: গুণাবলি অস্বীকারকারীরা তাওহীদের সংজ্ঞার মধ্যে গুণাবলি অস্বীকার করাকে অন্তর্ভুক্ত করেছে, যেমন জাহম বিন সাফওয়ান ও তার অনুসারীরা। তারা বলেছে: গুণাবলি সাব্যস্ত করলে আবশ্যকীয় সত্তার বহুত্ব অনিবার্য হয়ে পড়ে! আর এই বক্তব্যটির অসারতা অকাট্যভাবে সুনিশ্চিত। কারণ, সকল গুণাবলি থেকে মুক্ত একটি নিছক সত্তার অস্তিত্ব বাস্তব জগতে কল্পনা করা যায় না। বরং মন কেবল অসম্ভব বিষয়কে অনুমান ও কল্পনা করতে পারে, আর এটি হলো চূড়ান্ত পর্যায়ের অসারকরণ (তা'তিল)। এই মতবাদটি একদল লোককে হুলুল (সত্তায় অনুপ্রবেশ) এবং ইত্তিহাদ (সত্তায় একীভূত হওয়া)-এর দিকে নিয়ে গেছে, যা খ্রিস্টানদের কুফর অপেক্ষা নিকৃষ্ট। কেননা খ্রিস্টানরা একে কেবল মসীহের সাথে সুনির্দিষ্ট করেছে, আর এরা একে সমস্ত সৃষ্টির জন্য ব্যাপক করে দিয়েছে।
এই তাওহীদের একটি শাখা হলো: ফেরাউন এবং তার সম্প্রদায় পূর্ণ ঈমানদার ছিল এবং তারা আল্লাহকে প্রকৃতপক্ষে চিনত!
এর আরেকটি শাখা হলো: মূর্তিপূজকরা সত্য ও সঠিক পথের ওপর ছিল, এবং তারা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করেনি! এর আরও শাখা হলো: হারাম ও হালালের ক্ষেত্রে মা, বোন ও পরনারীর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই; এবং পানি, মদ, ব্যভিচার ও বিবাহের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। সবকিছুই এক মূল উৎস থেকে, বরং তা একই সত্তা।
এর আরেকটি শাখা হলো: নবীগণ মানুষের ওপর জীবনকে সংকীর্ণ করে দিয়েছেন।
তারা যা বলে তা থেকে আল্লাহ অতি উচ্চ এবং অতি মহান।
আর দ্বিতীয়টি হলো: তাওহীদুর রুবুবিয়্যাহ, যেমন- এই স্বীকৃতি দেওয়া যে তিনি সবকিছুর স্রষ্টা এবং এই মহাবিশ্বের গুণাবলি ও কার্যাবলিতে সমপর্যায়ের দুজন স্রষ্টা নেই। এই তাওহীদ এমন এক সত্য যাতে কোনো সন্দেহ নেই। এটিই অনেক দার্শনিক, কালাম শাস্ত্রবিদ এবং সূফীদের একটি দলের নিকট চূড়ান্ত লক্ষ্য। বনী আদমের কোনো সুপরিচিত দল এই তাওহীদের বিপরীত পথ অবলম্বন করেনি। বরং অন্যান্য বিদ্যমান বস্তুর স্বীকৃতির তুলনায় মানুষের অন্তর এই তাওহীদের স্বীকৃতির ওপর অধিকতর স্বভাবজাতভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে। যেমন আল্লাহ তায়ালা রাসূলদের সম্পর্কে যা বর্ণনা করেছেন তাতে তাঁরা বলেছিলেন: {তাঁদের রাসূলগণ বলেছিলেন: আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর স্রষ্টা আল্লাহ সম্পর্কে কি কোনো সন্দেহ আছে?} (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল আকিদাতিত তাহাবিয়্যাহ - ত আল-আওকাফ আস-সাউদিয়্যাহ - বিতালিকতি আহমাদ শাকির
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وَأَشْهَرُ مَنْ عُرِفَ تَجَاهُلُهُ وَتَظَاهُرُهُ بِإِنْكَارِ الصَّانِعِ: فِرْعَوْنُ، وَقَدْ كَانَ مُسْتَيْقِنًا بِهِ فِي الْبَاطِنِ، كَمَا قَالَ مُوسَى: {لَقَدْ عَلِمْتَ مَا أَنْزَلَ هَؤُلَاءِ إِلَّا رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ بَصَائِرَ} (1).
وَقَالَ تَعَالَى عَنْهُ وَعَنْ قَوْمِهِ: {وَجَحَدُوا بِهَا وَاسْتَيْقَنَتْهَا أَنْفُسُهُمْ ظُلْمًا وَعُلُوًّا} (2). وَلِهَذَا [لما] قَالَ: وَمَا رَبُّ الْعَالَمِينَ؟ عَلَى وَجْهِ الْإِنْكَارِ لَهُ تَجَاهُلَ الْعَارِفِ - قَالَ لَهُ مُوسَى: {رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا إِنْ كُنْتُمْ مُوقِنِينَ} {قَالَ لِمَنْ حَوْلَهُ أَلَا تَسْتَمِعُونَ} {قَالَ رَبُّكُمْ وَرَبُّ آبَائِكُمُ الْأَوَّلِينَ} {قَالَ إِنَّ رَسُولَكُمُ الَّذِي أُرْسِلَ إِلَيْكُمْ لَمَجْنُونٌ} {قَالَ رَبُّ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ وَمَا بَيْنَهُمَا إِنْ كُنْتُمْ تَعْقِلُونَ} (3).
وَقَدْ زَعَمَ طَائِفَةٌ أَنَّ فِرْعَوْنَ سَأَلَ مُوسَى مُسْتَفْهِمًا عَنِ الْمَاهِيَّةِ، وَأَنَّ الْمَسْئولَ عَنْهُ لَمَّا لَمْ يكُنْ لَهُ مَاهِيَّةٌ، عَجَزَ مُوسَى عَنِ الْجَوَابِ! وَهَذَا غَلَطٌ. وَإِنَّمَا هَذَا اسْتِفْهَامُ إِنْكَارٍ وَجَحْدٍ، كَمَا دَلَّ سَائِرُ آيَاتِ الْقُرْآنِ عَلَى أَنَّ فِرْعَوْنَ كَانَ جَاحِدًا لِلَّهِ، نَافِيًا لَهُ، لَمْ يَكُنْ مُثْبِتًا لَهُ طَالِبًا لِلْعِلْمِ بِمَاهِيَّتِهِ. فَلِهَذَا بَيَّنَ لَهُمْ مُوسَى أَنَّهُ مَعْرُوفٌ، وَأَنَّ آيَاتِهِ وَدَلَائِلَ رُبُوبِيَّتِهِ أَظْهَرُ وَأَشْهَرُ مِنْ أَنْ يُسْأَلَ عَنْهُ بِمَا هُوَ؟ بَلْ [إنه] أَعْرَفُ وَأَظْهَرُ وَأَبْيَنُ مِنْ أَنْ يُجْهَلَ، بَلْ مَعْرِفَتُهُ مُسْتَقِرَّةٌ فِي الْفِطَرِ أَعْظَمَ مِنْ مَعْرِفَةِ كُلِّ مَعْرُوفٍ.
وَلَمْ يُعْرَفْ عَنْ أَحَدٍ مِنَ الطَّوَائِفِ أَنَّهُ قَالَ: إِنَّ الْعَالَمَ لَهُ صَانِعَانِ مُتَمَاثِلَانِ فِي الصِّفَاتِ وَالْأَفْعَالِ.
فَإِنَّ الثَّنَوِيَّةَ مِنَ الْمَجُوسِ، وَالْمَانَوِيَّةَ الْقَائِلِينَ بِالْأَصْلَيْنِ النُّورِ وَالظُّلْمَةِ، وَأَنَّ الْعَالَمَ صَدَرَ عَنْهُمَا -: مُتَّفِقُونَ عَلَى أَنَّ النُّورَ خَيْرٌ مِنَ الظُّلْمَةِ، وَهُوَ الْإِلَهُ الْمَحْمُودُ، وَأَنَّ الظُّلْمَةَ شِرِّيرَةٌ مَذْمُومَةٌ، وَهُمْ مُتَنَازِعُونَ فِي الظُّلْمَةِ، هَلْ هِيَ قَدِيمَةٌ أَوْ
--------------------------------------------
সৃষ্টিকর্তাকে অস্বীকার করার ভান করা এবং জেনেও না জানার অভিনয় করার ক্ষেত্রে সবচাইতে পরিচিত ব্যক্তি হলো ফিরআউন। অথচ সে অন্তরে এ ব্যাপারে সুনিশ্চিত ছিল, যেমনটা মুসা বলেছিলেন: "তুমি অবশ্যই জানো যে, আসমান ও জমিনের রবই এই নিদর্শনগুলো অবতীর্ণ করেছেন চাক্ষুষ প্রমাণ হিসেবে" (১)।
আল্লাহ তাআলা তার ও তার কওম সম্পর্কে বলেছেন: "তারা অন্যায় ও ঔদ্ধত্যবশত এগুলোকে অস্বীকার করল, যদিও তাদের অন্তর এগুলোকে নিশ্চিতভাবে সত্য বলে গ্রহণ করেছিল" (২)। এই কারণেই, যখন সে অস্বীকারকারীর বেশে এবং জেনেও না জানার ভান করে বলেছিল: "আর জগতসমূহের রব আবার কী?" - তখন মুসা তাকে বলেছিলেন: "তিনি আসমানসমূহ, জমিন এবং এই দুইয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর রব, যদি তোমরা নিশ্চিত বিশ্বাসী হও।" সে (ফিরআউন) তার চারপাশের লোকদের বলল: " তোমরা কি শুনছ না?" তিনি (মুসা) বললেন: "তিনি তোমাদের রব এবং তোমাদের পূর্বপুরুষদেরও রব।" সে বলল: "তোমাদের কাছে প্রেরিত এই রসূল তো অবশ্যই একজন পাগল।" তিনি বললেন: "তিনি পূর্ব ও পশ্চিম এবং এই দুইয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর রব, যদি তোমরা জ্ঞানবুদ্ধি রাখো" (৩)।
একদল লোক ধারণা করেছে যে, ফিরআউন মুসাকে (আল্লাহর) স্বরূপ সম্পর্কে প্রশ্ন করেছিল, আর যেহেতু আল্লাহ তাআলার কোনো (সৃষ্টির ন্যায়) স্বরূপ নেই, তাই মুসা উত্তর দিতে অক্ষম হয়েছিলেন! এটি একটি ভুল ধারণা। বরং এটি ছিল অস্বীকার ও প্রত্যাখ্যানমূলক প্রশ্ন, যেমনটি কুরআনের অন্যান্য আয়াত নির্দেশ করে যে, ফিরআউন ছিল আল্লাহর অস্তিত্ব অস্বীকারকারী ও রদকারী; সে আল্লাহর অস্তিত্ব স্বীকার করে তাঁর স্বরূপ সম্পর্কে জ্ঞান অন্বেষণকারী ছিল না। এই কারণেই মুসা তাদের কাছে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, আল্লাহ সুপরিচিত এবং তাঁর রুবুবিয়াতের (প্রভুত্বের) নিদর্শন ও প্রমাণাদি এর চেয়েও অধিক সুস্পষ্ট ও প্রসিদ্ধ যে তাঁর সম্পর্কে 'তিনি কী?' বলে প্রশ্ন করা হবে। বরং তিনি অজ্ঞাত হওয়ার চেয়ে অনেক বেশি পরিচিত, সুস্পষ্ট ও প্রকাশ্য। প্রকৃতপক্ষে তাঁর পরিচয় মানুষের ফিতরাত বা সহজাত প্রকৃতিতে যেকোনো পরিচিত বস্তুর পরিচয়ের চেয়েও বেশি দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত।
কোনো সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকেই এমনটি জানা যায় না যে, তারা বলেছে: এই জগতের এমন দুইজন সৃষ্টিকর্তা আছেন যারা গুণাবলি ও কর্মে হুবহু সমান।
কেননা মজুসিদের (অগ্নিউপাসক) মধ্য থেকে যারা দ্বৈতবাদী এবং মানুবী সম্প্রদায়—যারা আলো ও অন্ধকার এই দুই মূল সত্তার প্রবক্তা এবং মনে করে যে জগত এই দুই থেকেই উদ্ভূত হয়েছে—তারাও একমত যে, অন্ধকার অপেক্ষা আলো উত্তম এবং তা-ই প্রশংসিত ইলাহ বা উপাস্য। আর অন্ধকার হলো মন্দ ও নিন্দনীয়। তারা অন্ধকার নিয়ে বিতর্কে লিপ্ত যে, তা কি অনাদি নাকি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল আকিদাতিত তাহাবিয়্যাহ - ত আল-আওকাফ আস-সাউদিয়্যাহ - বিতালিকতি আহমাদ শাকির
(পৃষ্ঠা: ৩০)
مُحْدَثَةٌ؟ فَلَمْ يُثْبِتُوا رَبَّيْنِ مُتَمَاثِلَيْنِ.
وَأَمَّا النَّصَارَى الْقَائِلُونَ بِالتَّثْلِيثِ، فَإِنِّهَمْ لَمْ يُثْبِتُوا لِلْعَالَمِ ثَلَاثَةَ أَرْبَابٍ يَنْفَصِلُ بَعْضُهُمْ عَنْ بَعْضٍ، بَلْ مُتَّفِقُونَ عَلَى أَنَّ صَانِعَ الْعَالَمِ وَاحِدٌ، وَيَقُولُونَ: بِاسْمِ الْأَبِ وَالِابْنِ وَرُوحِ الْقُدُسِ إِلَهٌ وَاحِدٌ. وَقَوْلُهُمْ فِي التَّثْلِيثِ مُتَنَاقِضٌ فِي نَفْسِهِ، وَقَوْلُهُمْ فِي الْحُلُولِ أَفْسَدُ مِنْهُ. وَلِهَذَا كَانُوا مُضْطَرِبِينَ فِي فَهْمِهِ، وَفِي التَّعْبِيرِ عَنْهُ، لَا يَكَادُ وَاحِدٌ مِنْهُمْ يُعَبِّرُ عَنْهُ بِمَعْنًى مَعْقُولٍ، وَلَا يَكَادُ اثْنَانِ يَتَّفِقَانِ عَلَى مَعْنًى وَاحِدٍ، فَإِنَّهُمْ يَقُولُونَ: هُوَ وَاحِدٌ بِالذَّاتِ، ثَلَاثَةٌ بِالْأُقْنُومِ! وَالْأَقَانِيمُ يُفَسِّرُونَهَا تَارَةً بِالْخَوَاصِّ، وَتَارَةً بِالصِّفَاتِ، وَتَارَةً بِالْأَشْخَاصِ. وَقَدْ فَطَرَ اللَّهُ الْعِبَادَ عَلَى فَسَادِ هَذِهِ الْأَقْوَالِ بَعْدَ التَّصَوُّرِ التَّامِّ. وَبالْجُمْلَةِ فَهُمْ لَا يَقُولُونَ بِإِثْبَاتِ خَالِقَيْنِ مُتَمَاثِلَيْنِ.
وَالْمَقْصُودُ هُنَا: أَنَّهُ لَيْسَ فِي الطَّوَائِفِ مَنْ يُثْبِتُ لِلْعَالَمِ صَانِعَيْنِ مُتَمَاثِلَيْنِ، مَعَ أَنَّ كَثِيرًا مِنْ أَهْلِ الْكَلَامِ وَالنَّظَرِ وَالْفَلْسَفَةِ تَعِبُوا فِي إِثْبَاتِ هَذَا الْمَطْلُوبِ وَتَقْرِيرِهِ، وَمِنْهُمْ مَنِ اعْتَرَفَ بِالْعَجْزِ عَنْ تَقْرِيرِ هَذَا بِالْعَقْلِ، وَزَعَمَ أَنَّهُ يُتَلَقَّى (1) مِنَ السَّمْعِ.
وَالْمَشْهُورُ عِنْدَ أَهْلِ النَّظَرِ إِثْبَاتُهُ بِدَلِيلِ التَّمَانُعِ، وَهُوَ: أَنَّهُ لَوْ كَانَ لِلْعَالَمِ صَانِعَانِ فَعِنْدَ اخْتِلَافِهِمَا مِثْلَ أَنْ يُرِيدَ أَحَدُهُمَا تَحْرِيكَ جِسْمٍ وَآخَرُ تَسْكِينَهُ، أَوْ يُرِيدَ أَحَدُهُمَا إِحْيَاءَهُ وَالْآخَرُ إِمَاتَتَهُ: فَإِمَّا أَنْ يَحْصُلَ مُرَادُهُمَا، أَوْ مُرَادُ أَحَدِهِمَا، أَوْ لَا يَحْصُلُ مُرَادُ وَاحِدٍ مِنْهُمَا. وَالْأَوَّلُ مُمْتَنَعٌ؛ لِأَنَّهُ يَسْتَلْزِمُ الْجَمْعَ بَيْنَ الضِّدَّيْنِ، وَالثَّالِثُ مُمْتَنَعٌ؛ لِأَنَّهُ يَلْزَمُ خُلُوُّ الْجِسْمِ عَنِ الْحَرَكَةِ وَالسُّكُونِ، وَهُوَ مُمْتَنَعٌ، وَيَسْتَلْزِمُ أَيْضًا عَجْزَ كُلٍّ مِنْهُمَا، وَالْعَاجِزُ لَا يَكُونُ إِلَهًا، وَإِذَا حَصَلَ مُرَادُ أَحَدِهِمَا دُونَ الْآخَرِ، كَانَ هَذَا هُوَ الْإِلَهَ الْقَادِرَ، وَالْآخَرُ عَاجِزًا لَا يَصْلُحُ لِلْإِلَهِيَّةِ، وَتَمَامُ الْكَلَامِ عَلَى هَذَا الْأَصْلِ مَعْرُوفٌ فِي مَوْضِعِهِ.
--------------------------------------------
অভিনব কোনো কিছু? সুতরাং তারা দুই সমতুল্য প্রতিপালক সাব্যস্ত করেনি।
আর যারা ত্রিত্ববাদে বিশ্বাসী খ্রিস্টান, তারা জগতের জন্য এমন তিনটি স্বতন্ত্র প্রতিপালক সাব্যস্ত করে না যারা একে অপর থেকে বিচ্ছিন্ন। বরং তারা এ বিষয়ে একমত যে, জগতের কারিগর একজনই। তারা বলে: পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে একই ঈশ্বর। ত্রিত্ববাদ সম্পর্কে তাদের বক্তব্য মূলত স্ববিরোধী, এবং তাদের অনুপ্রবেশবাদ (হুলুল) সংক্রান্ত বক্তব্য তার চেয়েও অধিক ভ্রান্ত। এ কারণেই তারা এটি বুঝতে এবং তা প্রকাশ করতে দ্বিধাগ্রস্ত। তাদের কেউই এটিকে কোনো যৌক্তিক অর্থে প্রকাশ করতে পারে না এবং দুজনের মতও একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে এক হয় না। তারা বলে: সত্তাগতভাবে তিনি এক, কিন্তু অকনুমের দিক থেকে তিন! তারা অকনুম শব্দটিকে কখনো বৈশিষ্ট্য, কখনো গুণাবলি আবার কখনো স্বতন্ত্র ব্যক্তি হিসেবে ব্যাখ্যা করে। অথচ আল্লাহ বান্দাদের স্বভাবজাতভাবে এমন বোধ দিয়েছেন যে, বিষয়টি পূর্ণরূপে অনুধাবন করার পর এই বক্তব্যগুলোর অসারতা ধরা পড়ে। মোটকথা, তারাও দুই সমতুল্য স্রষ্টা সাব্যস্ত করার কথা বলে না।
এখানে উদ্দেশ্য হলো: বিভিন্ন দল-উপদলের মধ্যে এমন কেউ নেই যারা জগতের জন্য দুজন সমতুল্য কারিগর সাব্যস্ত করে। যদিও ইলমে কালাম, যুক্তিশাস্ত্র ও দর্শনের পণ্ডিতদের অনেকে এই বিষয়টি প্রমাণ ও প্রতিষ্ঠিত করার জন্য অনেক পরিশ্রম করেছেন। তাদের কেউ কেউ বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে এটি প্রমাণ করতে অক্ষমতা স্বীকার করেছেন এবং ধারণা করেছেন যে এটি কেবল শ্রুতির (১) মাধ্যমেই গ্রহণ করা সম্ভব।
আর যুক্তিবাদীদের নিকট এটি প্রমাণের প্রসিদ্ধ মাধ্যম হলো 'পরস্পর বাধা' (তামানুর) দলিল। তা হলো: যদি জগতের জন্য দুজন কারিগর থাকতেন, তবে তাদের মতভেদের সময়—যেমন একজন কোনো বস্তুকে গতিশীল করতে চাইলেন আর অন্যজন চাইলেন তাকে স্থির রাখতে, অথবা একজন কাউকে জীবিত করতে চাইলেন আর অন্যজন মৃত করতে—তখন হয় উভয়ের ইচ্ছা পূরণ হবে, অথবা যে কোনো একজনের ইচ্ছা পূরণ হবে, অথবা কারোরই ইচ্ছা পূরণ হবে না। প্রথমটি অসম্ভব; কারণ এতে দুটি বিপরীত বিষয়ের একত্র হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে। তৃতীয়টিও অসম্ভব; কারণ এতে কোনো বস্তু গতি ও স্থিতি উভয়টি থেকেই শূন্য হওয়া আবশ্যক হয়, যা অসম্ভব। এছাড়া এটি উভয়েরই অক্ষমতা প্রমাণ করে, আর অক্ষম কেউ ইলাহ হতে পারে না। আর যদি অন্যজনের বিপরীতে কেবল একজনের ইচ্ছা বাস্তবায়িত হয়, তবে তিনিই হবেন সামর্থ্যবান ইলাহ এবং অন্যজন হবেন অক্ষম, যিনি ইলাহ হওয়ার অযোগ্য। এই মূলনীতির ওপর বিস্তারিত আলোচনা স্বস্থানে সুবিদিত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল আকিদাতিত তাহাবিয়্যাহ - ত আল-আওকাফ আস-সাউদিয়্যাহ - বিতালিকতি আহমাদ শাকির
(পৃষ্ঠা: ৩১)
وَكَثِيرٌ مِنْ أَهْلِ النَّظَرِ يَزْعُمُونَ أَنَّ دَلِيلَ التَّمَانُعِ هُوَ مَعْنَى قَوْلِهِ تَعَالَى: {لَوْ كَانَ فِيهِمَا آلِهَةٌ إِلَّا اللَّهُ لَفَسَدَتَا} (1)؛ لِاعْتِقَادِهِمْ أَنَّ تَوْحِيدَ الرُّبُوبِيَّةِ الَّذِي قَرَّرُوهُ هُوَ تَوْحِيدُ الْإِلَهِيَّةِ الَّذِي بَيَّنَهُ الْقُرْآنُ، وَدَعَتْ إِلَيْهِ الرُّسُلُ عليهم السلام، وَلَيْسَ الْأَمْرُ كَذَلِكَ، بَلِ التَّوْحِيدُ الَّذِي دَعَتْ إِلَيْهِ الرُّسُلُ، وَنَزَلَتْ بِهِ الْكُتُبُ، هُوَ تَوْحِيدُ الْإِلَهِيَّةِ الْمُتَضَمِّنُ تَوْحِيدَ الرُّبُوبِيَّةِ، وَهُوَ عِبَادَةُ اللَّهِ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، فَإِنَّ الْمُشْرِكِينَ مِنَ الْعَرَبِ كَانُوا يُقِرُّونَ بِتَوْحِيدِ الرُّبُوبِيَّةِ، وَأَنَّ خَالِقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَاحِدٌ، كَمَا أَخْبَرَ تَعَالَى عَنْهُمْ بِقَوْلِهِ: {وَلَئِنْ سَأَلْتَهُمْ مَنْ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ لَيَقُولُنَّ اللَّهُ} (2). {قُلْ لِمَنِ الْأَرْضُ وَمَنْ فِيهَا إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ} {سَيَقُولُونَ لِلَّهِ قُلْ أَفَلَا تَذَكَّرُونَ} (3).
وَمِثْلُ هَذَا كَثِيرٌ فِي الْقُرْآنِ، وَلَمْ يَكُونُوا يَعْتَقِدُونَ فِي الْأَصْنَامِ أَنَّهَا مُشَارِكَةٌ لِلَّهِ فِي خَلْقِ الْعَالَمِ، بَلْ كَانَ حَالُهُمْ فِيهَا كَحَالِ أَمْثَالِهِمْ مِنْ مُشْرِكِي الْأُمَمِ مِنَ الْهِنْدِ وَالتُّرْكِ وَالْبَرْبَرِ وَغَيْرِهِمْ، تَارَةً يَعْتَقِدُونَ أَنَّ هَذِهِ تَمَاثِيلُ قَوْمٍ صَالِحِينَ مِنَ الْأَنْبِيَاءِ وَالصَّالِحِينَ، وَيَتَّخِذُونَهُمْ شُفَعَاءَ، وَيَتَوَسَّلُونَ بِهِمْ إِلَى اللَّهِ، وَهَذَا كَانَ أَصْلَ شِرْكِ الْعَرَبِ، قَالَ تَعَالَى حِكَايَةً عَنْ قَوْمِ نُوحٍ: {وَقَالُوا لَا تَذَرُنَّ آلِهَتَكُمْ وَلَا تَذَرُنَّ وَدًّا وَلَا سُوَاعًا وَلَا يَغُوثَ وَيَعُوقَ وَنَسْرًا} (4). وَقَدْ ثَبَتَ فِي صَحِيحِ الْبُخَارِيِّ، وَكُتُبِ التَّفْسِيرِ، وَقَصَصِ الْأَنْبِيَاءِ وَغَيْرِهَا، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما، وَغَيْرِهِ مِنَ السَّلَفِ، أَنَّ هَذِهِ أَسْمَاءُ قَوْمٍ صَالِحِينَ فِي قَوْمِ نُوحٍ، فَلَمَّا مَاتُوا عَكَفُوا عَلَى قُبُورِهِمْ، ثُمَّ صَوَّرُوا تَمَاثِيلَهُمْ، ثُمَّ طَالَ عَلَيْهِمُ الْأَمَدُ فَعَبَدُوهُمْ، وَأَنَّ هَذِهِ الْأَصْنَامَ بِعَيْنِهَا صَارَتْ إِلَى قَبَائِلِ الْعَرَبِ، ذَكَرَهَا ابْنُ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما
--------------------------------------------
অনেক যুক্তিবাদী (আহলুন নাযার) মনে করেন যে, পারস্পরিক বাধার প্রমাণ (দালিলে তামানূ) হলো মহান আল্লাহর এই বাণীর অর্থ: {যদি আসমান ও জমিনে আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো ইলাহ থাকত, তবে উভয়ই বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ত} (১); কারণ তাদের বিশ্বাস হলো যে, তাওহীদে রুবূবিয়্যাতের যে বিষয়টি তারা সাব্যস্ত করেছে, সেটিই হলো সেই তাওহীদে উলূহিয়্যাত যা কুরআন বর্ণনা করেছে এবং যার দিকে রাসূলগণ (আলাইহিমুস সালাম) দাওয়াত দিয়েছেন। কিন্তু বিষয়টি তেমন নয়; বরং সেই তাওহীদ যার দিকে রাসূলগণ দাওয়াত দিয়েছেন এবং যার ভিত্তিতে কিতাবসমূহ অবতীর্ণ হয়েছে, তা হলো তাওহীদে উলূহিয়্যাত—যা তাওহীদে রুবূবিয়্যাতকেও অন্তর্ভুক্ত করে। আর তা হলো কোনো শরিক ছাড়া একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা। কেননা আরবের মুশরিকরা তাওহীদে রুবূবিয়্যাতকে স্বীকার করত এবং বিশ্বাস করত যে, আসমান ও জমিনের স্রষ্টা একজনই; যেমনটি মহান আল্লাহ তাদের সম্পর্কে সংবাদ দিয়ে বলেছেন: {আর যদি আপনি তাদের জিজ্ঞেস করেন, কে আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছে? তারা অবশ্যই বলবে, আল্লাহ} (২)। {বলুন, এই পৃথিবী এবং এতে যা কিছু আছে তা কার, যদি তোমরা জানো?} {তারা বলবে, আল্লাহর। বলুন, তবে কি তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করবে না?} (৩)।
কুরআনে এই ধরণের উদাহরণ প্রচুর রয়েছে। তারা প্রতিমাগুলোর ব্যাপারে এমন বিশ্বাস করত না যে, এগুলো জগত সৃষ্টিতে আল্লাহর অংশীদার; বরং তাদের অবস্থা ছিল তাদের সমগোত্রীয় হিন্দুস্তানি, তুর্কি, বারবার ও অন্যান্য জাতির মুশরিকদের মতো। তারা কখনো কখনো বিশ্বাস করত যে, এগুলো নবী ও সৎকর্মশীল ব্যক্তিদের প্রতিকৃতি, আর তারা তাদেরকে সুপারিশকারী হিসেবে গ্রহণ করত এবং তাদের মাধ্যমে আল্লাহর নিকট ওসিলা প্রার্থনা করত। আর এটিই ছিল আরবের শিরকের মূল উৎস। মহান আল্লাহ নূহের কওমের কথা বর্ণনা করে বলেন: {আর তারা বলেছিল, তোমরা তোমাদের উপাস্যদের পরিত্যাগ করো না এবং পরিত্যাগ করো না ওয়াদ্দ, সুওয়া‘, ইয়াগূস, ইয়া‘ঊক ও নাসরকে} (৪)। সহীহ বুখারী, তাফসীরের গ্রন্থসমূহ, নবীদের কাহিনী এবং অন্যান্য কিতাবে ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) এবং অন্যান্য সালাফ থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে, এগুলো ছিল নূহের কওমের কিছু সৎকর্মশীল ব্যক্তির নাম। যখন তারা মৃত্যুবরণ করল, তখন তারা তাদের কবরে ভিড় জমাতে লাগল, তারপর তাদের প্রতিকৃতি তৈরি করল, অতঃপর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পর তারা তাদের ইবাদত করতে শুরু করল। আর এই মূর্তিগুলোই হুবহু আরবের গোত্রগুলোর কাছে চলে এসেছিল—ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) এটি উল্লেখ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল আকিদাতিত তাহাবিয়্যাহ - ত আল-আওকাফ আস-সাউদিয়্যাহ - বিতালিকতি আহমাদ শাকির
(পৃষ্ঠা: ৩২)
قَبِيلَةً قَبِيلَةً. وَقَدْ ثَبَتَ فِي صَحِيحِ مُسْلِمٍ عَنْ أَبِي الْهَيَّاجِ الْأَسَدِيِّ، قَالَ: قَالَ لِي عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنه: أَلَا أَبْعَثُكَ عَلَى مَا بَعَثَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم؟ «أَمَرَنِي أَنْ لَا أَدَعَ قَبْرًا مُشْرِفًا إِلَّا سَوَّيْتُهُ، وَلَا تِمْثَالًا إِلَّا طَمَسْتُهُ». وَفِي"الصَّحِيحَيْنِ"عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ فِي مَرَضِ مَوْتِهِ: «لَعَنَ اللَّهُ الْيَهُودَ وَالنَّصَارَى، اتَّخَذُوا قُبُورَ أَنْبِيَائِهِمْ مَسَاجِدَ»، يُحَذِّرُ مَا فَعَلُوا، قَالَتْ عَائِشَةُ رضي الله عنها: وَلَوْلَا ذَلِكَ لَأُبْرِزَ قَبْرُهُ، وَلَكِنْ كُرِهَ أَنْ يُتَّخَذَ مَسْجِدًا، وَفِي"الصَّحِيحَيْنِ"أَنَّهُ ذُكِرَ فِي مَرَضِ مَوْتِهِ كَنِيسَةٌ بِأَرْضِ الْحَبَشَةِ، وَذُكِرَ لَهُ مِنْ حُسْنِهَا وَتَصَاوِيرَ فِيهَا، فَقَالَ: «إِنَّ أُولَئِكَ إِذَا مَاتَ فِيهِمُ الرَّجُلُ الصَّالِحُ بَنَوْا عَلَى قَبْرِهِ مَسْجِدًا، وَصَوَّرُوا فِيهِ تِلْكَ التَّصَاوِيرَ، أُولَئِكَ شِرَارُ الْخَلْقِ عِنْدَ اللَّهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ». وَفِي"صَحِيحِ مُسْلِمٍ"عَنْهُ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ قَبْلَ أَنْ يَمُوتَ بِخَمْسٍ: «إِنَّ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ كَانُوا يَتَّخِذُونَ قُبُورَ أَنْبِيَائِهِمْ وَصَالِحِيهِمْ مَسَاجِدَ، أَلَا فَلَا تَتَّخِذُوا الْقُبُورَ مَسَاجِدَ، فَإِنِّي أَنْهَاكُمْ عَنْ ذَلِكَ».
وَمِنْ أَسْبَابِ الشِّرْكِ عِبَادَةُ الْكَوَاكِبِ، وَاتِّخَاذُ الْأَصْنَامِ بِحَسَبِ مَا يُظَنُّ أَنَّهُ مُنَاسِبٌ لِلْكَوَاكِبِ مِنْ طِبَاعِهَا.
وَشِرْكُ قَوْمِ إِبْرَاهِيمَ عليه السلام كَانَ - فِيمَا يُقَالُ - مِنْ هَذَا الْبَابِ. وَكَذَلِكَ الشِّرْكُ بِالْمَلَائِكَةِ وَالْجِنِّ، وَاتِّخَاذُ الْأَصْنَامِ لَهُمْ.
وَهَؤُلَاءِ كَانُوا مُقِرِّينَ بِالصَّانِعِ، وَأَنَّهُ لَيْسَ لِلْعَالَمِ صَانِعَانِ، وَلَكِنِ اتَّخَذُوا هَؤُلَاءِ شُفَعَاءَ، كَمَا أَخْبَرَ عَنْهُمْ تَعَالَى بِقَوْلِهِ: {وَالَّذِينَ اتَّخَذُوا مِنْ دُونِهِ أَوْلِيَاءَ مَا نَعْبُدُهُمْ إِلَّا لِيُقَرِّبُونَا إِلَى اللَّهِ زُلْفَى} (1). {وَيَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ}
--------------------------------------------
গোত্র গোত্র করে। সহীহ মুসলিমে আবুল হাইয়াজ আল-আসাদী থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: আলী ইবনে আবু তালিব (রা.) আমাকে বললেন: আমি কি তোমাকে এমন কোনো কাজে পাঠাব না যার জন্য আল্লাহর রাসূল (সা.) আমাকে পাঠিয়েছিলেন? তিনি আমাকে আদেশ করেছিলেন যে, আমি যেন কোনো উঁচু কবরকে সমান না করে না ছাড়ি এবং কোনো প্রতিকৃতিকে না মুছে ফেলি। এবং ‘সহীহাইন’-এ নবী (সা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি তাঁর মৃত্যুশয্যায় বলেছিলেন: «আল্লাহ ইহুদি ও নাসারাদের লানত করুন, তারা তাদের নবীদের কবরসমূহকে মসজিদে পরিণত করেছে», তারা যা করত সে বিষয়ে তিনি সতর্ক করছিলেন। আয়েশা (রা.) বলেন: যদি এই ভয় না থাকত, তবে তাঁর কবর উন্মুক্ত রাখা হতো, কিন্তু তিনি অপছন্দ করেছিলেন যে সেটিকে যেন মসজিদে পরিণত করা না হয়। এবং ‘সহীহাইন’-এ বর্ণিত আছে যে, তাঁর মৃত্যুশয্যায় হাবশা (আবিসিনিয়া) অঞ্চলের একটি গির্জার কথা এবং তার সৌন্দর্য ও তাতে থাকা চিত্রকর্মের কথা উল্লেখ করা হলে তিনি বলেছিলেন: «তাদের মধ্যে যখন কোনো নেককার লোক মারা যেত, তারা তার কবরের ওপর মসজিদ নির্মাণ করত এবং সেখানে ঐসব চিত্র অঙ্কন করত। কিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট তারাই সৃষ্টির মধ্যে নিকৃষ্টতম সৃষ্টির অন্তর্ভুক্ত হবে»। এবং ‘সহীহ মুসলিমে’ তাঁর (সা.) থেকে বর্ণিত যে, তিনি ইন্তেকালের পাঁচ দিন পূর্বে বলেছিলেন: «তোমাদের পূর্ববর্তীরা তাদের নবী ও নেককার ব্যক্তিদের কবরকে মসজিদে পরিণত করত। সাবধান! তোমরা কবরসমূহকে মসজিদে পরিণত করো না, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের তা থেকে নিষেধ করছি»।
আর শিরকের অন্যতম কারণ হলো গ্রহ-নক্ষত্রের পূজা এবং গ্রহ-নক্ষত্রের স্বভাব-প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে করে প্রতিমা বা মূর্তি গ্রহণ করা।
ইব্রাহিম (আ.)-এর সম্প্রদায়ের শিরক ছিল—যা বলা হয়ে থাকে—এই পর্যায়ভুক্ত। অনুরূপভাবে ফেরেশতা ও জিনের সাথে শিরক করা এবং তাদের উদ্দেশ্যে প্রতিমা গ্রহণ করা।
এরা স্রষ্টাকে স্বীকার করত এবং এটিও স্বীকার করত যে জগতের দুইজন স্রষ্টা নেই, কিন্তু তারা এদেরকে সুপারিশকারী হিসেবে গ্রহণ করেছিল। যেমনটি মহান আল্লাহ তাদের সম্পর্কে সংবাদ দিয়ে বলেছেন: {যারা আল্লাহ ছাড়া অন্যকে অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করেছে (তারা বলে), আমরা এদের ইবাদত কেবল এজন্যই করি যেন এরা আমাদের আল্লাহর অতি নিকটবর্তী করে দেয়।} (১)। {এবং তারা আল্লাহ ছাড়া ইবাদত করে...}
--------------------------------------------