(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল (পৃষ্ঠা: -)
فقه النوازل   (بكر أبو زيد)

القسم: مسائل فقهية

الكتاب : فقه النوازل

المؤلف : بكر بن عبد الله أبو زيد بن محمد بن عبد الله بن بكر بن عثمان بن يحيى بن غيهب بن محمد (المتوفى : 1429هـ)

الناشر : مؤسسة الرسالة

الطبعة : الأولى - 1416 هـ ، 1996 م

عدد الأجزاء : 2

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ফিকহুন নাওয়াযিল (সমসাময়িক মাসআলাসমূহের ফিকহ)   (বকর আবু যাইদ)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ

বই : ফিকহুন নাওয়াযিল

লেখক : বকর বিন আব্দুল্লাহ আবু যাইদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন বকর বিন উসমান বিন ইয়াহইয়া বিন গাইহাব বিন মুহাম্মদ (মৃত্যু : ১৪২৯ হিজরি)

প্রকাশক : মুআসসাসাতুর রিসালাহ

সংস্করণ : প্রথম - ১৪১৬ হিজরি ، ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা : ২

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১ হিজরি

(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল (পৃষ্ঠা: -)
-[فقه النوازل]ـ

المؤلف: بكر بن عبد الله أبو زيد بن محمد بن عبد الله بن بكر بن عثمان بن يحيى بن غيهب بن محمد (المتوفى: 1429هـ)

الناشر: مؤسسة الرسالة

الطبعة: الأولى - 1416 هـ، 1996 م

عدد الأجزاء: 2

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
[ফিকহুন নাওয়াযিল]

লেখক: বকর বিন আব্দুল্লাহ আবু যায়েদ বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন বকর বিন উসমান বিন ইয়াহইয়া বিন গাইহাব বিন মুহাম্মাদ (মৃত্যু: ১৪২৯ হিজরী)

প্রকাশক: মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ

সংস্করণ: প্রথম - ১৪১৬ হিজরী, ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ২

[বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল (পৃষ্ঠা: ৫)
هذا المجلد يحتوي على خمس رسائل

في دراسة النوازل الآتية:

‌‌1- التقنين والإلزام.

‌‌2- المواضعة في الاصطلاح.

‌‌3- خطاب الضمان البنكي.

‌‌4- جهاز الإنعاش وعلامة الوفاة.

‌‌5 - طرق الإنجاب في الطب الحديث - طفل الأنابيب.
এই খণ্ডটিতে পাঁচটি গবেষণাপত্র অন্তর্ভুক্ত রয়েছে

নিম্নোক্ত সমসাময়িক সমস্যাবলি (নাওয়াযিল) পর্যালোচনায়:

‌‌১- আইনি রূপদান এবং বাধ্যবাধকতা।

‌‌২- পরিভাষা নির্ধারণ।

‌‌৩- ব্যাংক গ্যারান্টি পত্র।

‌‌৪- কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস যন্ত্র এবং মৃত্যুর লক্ষণ।

‌‌৫ - আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে প্রজনন পদ্ধতিসমূহ - টেস্ট টিউব বেবি।
(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল (পৃষ্ঠা: ৭)
" 1 "

‌‌التقنين والإلزام

عرض ومناقشة
১

আইন প্রণয়ন ও বাধ্যতামূলককরণ

উপস্থাপনা ও আলোচনা
(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল (পৃষ্ঠা: ৯)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله وبعد: فلما كانت نازلة

إلزام القضاة بقولٍ مقنن أو مذهب معين من النوازل* التي تستدعي بحثاً

وتوجب اهتماماً؛ لأسباب متكاثرة يجمعها أمران:

أولهما: لأنه على القضاء تدور المحافظة على حقوق العباد، ورعاية

حرماتهم، ورد الظلامات بينهم، وعمران مدنيتهم؛ متى ما سار التقاضي

على وحي السماء، وهدي الشريعة الغراء، الكامن في الوحيين الشريفين:

كتاب الله تعالى وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم.

إذْ أن حياة الأمة مرتبطة ثباتاً ونمواً وارتقاءاً، بقدر ما تحييه من العمل

بالوحيين الشريفين. ويكون نقصها واختلال موازين الحياة فيها بقدر الفوت

من ذلك.

ثانيهما: ولأن فلكة التقاضي وفصل الخصام بعد فهم الواقع

للخصومات، واستقطاب النظر فيها هو فهم الواجب في الواقع، وهو كامن

في تطبيق أحكام الشريعة المطهرة على ذلكم الواقع في كل قضية بعينها.

--------------------------------------------

(*) يراد بالنوازل: الوقائع والمسائل المستجدة والحادثة المشهورة بلسان العصر

باسم: النظريات، والظواهر. وفي مقدمة كتاب " فقه النوازل " صنعت مقدمة رحيبة

الجناب واسعة الأطراف كشفت فيها عن مسالك البحث العلمي في نوازل الأقضية

والأحكام وأبنت سبب العدول عن لفظ " نظرية " ونحوها إلى لفظ " النوازل " وستتم

طباعتها بإذن الله تعالى بعد تكامل حلقات الجزء الأول من هذا المشروع المبارك

وبالله التوفيق.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর। অতপর: যেহেতু বিচারকদেরকে কোনো বিধিবদ্ধ আইন বা নির্দিষ্ট মাযহাব অনুসরণে বাধ্য করা এমন একটি সমসাময়িক বিষয় (নাযিলাহ)* যা গবেষণার দাবি রাখে

এবং গুরুত্বারোপের আবশ্যকতা তৈরি করে; এর পেছনে বহুবিধ কারণ রয়েছে, যেগুলোকে দুটি প্রধান বিষয়ে সারসংক্ষেপ করা যায়:

প্রথমত: কারণ বিচারব্যবস্থার ওপরই বান্দাদের অধিকার সংরক্ষণ, তাদের

মর্যাদার সুরক্ষা, পারস্পরিক জুলুমের প্রতিকার এবং তাদের নাগরিক সভ্যতার সমৃদ্ধি আবর্তিত হয়; যতক্ষণ পর্যন্ত বিচারিক প্রক্রিয়া

আসমানি ওহি এবং উজ্জ্বল শরিয়তের হিদায়াতের ওপর পরিচালিত হয়, যা মহান আল্লাহর কিতাব

এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ—এই দুই সম্মানিত ওহির মধ্যে নিহিত।

কেননা উম্মতের জীবনের স্থায়িত্ব, প্রবৃদ্ধি ও অগ্রগতি ততটুকুই এই দুই সম্মানিত ওহি অনুযায়ী আমলের সাথে সম্পৃক্ত, যতটুকু সে তা কার্যকর করে। আর এতে যতটুকু বিচ্যুতি ঘটে, উম্মতের জীবনে ততটুকুই ঘাটতি

এবং জীবনের ভারসাম্যে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।

দ্বিতীয়ত: কারণ বিবাদের বাস্তব অবস্থা অনুধাবনের পর বিচারিক কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু ও বিরোধ নিষ্পত্তির মূল ভিত্তি হলো

বাস্তব ক্ষেত্রে যা করণীয় তা অনুধাবন করা, যা প্রতিটি সুনির্দিষ্ট মামলার ক্ষেত্রে

সেই বাস্তবতার ওপর পবিত্র শরিয়তের বিধানসমূহ প্রয়োগের মধ্যেই নিহিত।

--------------------------------------------

(*) নাওয়াযিল (সমসাময়িক বিষয়) বলতে বুঝায়: সেই সকল ঘটনা এবং উদ্ভাবিত বা নতুন সৃষ্ট বিষয়াদি, যা বর্তমান যুগে

‘তত্ত্ব’ (Theories) ও ‘প্রপঞ্চ’ (Phenomena) নামে পরিচিত। "ফিকহুন নাওয়াযিল" গ্রন্থের ভূমিকায় আমি একটি সুবিস্তৃত ও তাত্ত্বিক

ভূমিকা রচনা করেছি, যেখানে বিচারিক ও আইনি নাওয়াযিলসমূহের ওপর বৈজ্ঞানিক গবেষণার পদ্ধতিসমূহ উন্মোচন করেছি।

এবং কেন আমি ‘তত্ত্ব’ বা এই জাতীয় শব্দ পরিহার করে ‘নাওয়াযিল’ শব্দটি গ্রহণ করেছি, তার কারণ স্পষ্ট করেছি। আল্লাহ তাআলা চাইলে

এই বরকতময় প্রকল্পের প্রথম খণ্ডের পর্যায়গুলো সম্পন্ন হওয়ার পর তা মুদ্রিত হবে।

আর আল্লাহর কাছেই তাওফিক প্রার্থনা করছি।
(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল (পৃষ্ঠা: ১০)
وهذا من معاقد الإسلام؛ والحاكم بنقيضه أي على خلاف ما أنزل الرحمن

موصوف بالفسق، والظلم، والكفران فلا تستقر لعبدٍ إذاً قدم في الإسلام

إلا إذا عقد قلبه على تحكيم شرع الله ودينه في كل شئونه وعلاقاته.

وما أحسن ما قاله الإمام شمس الدين ابن قيم الجوزية رحمه الله تعالى

في فاتحة كتابه " الصواعق المنزلة على الجهمية والمعطلة " إذ يقول: (1)

(واعلم أنه لا يستقر للعبد قدم في الإسلام حتى يعقد قلبه على أن

الدين كله لله، وأن الهدى هدى الله وأن الحق دائر مع الرسول وجوداً

وعدماً، وأنه لا مطاع سواه، ولا متبوع غيره، وأن كلام غيره يعرض على

كلامه؛ فإن وافقه قبلناه، لا لأنه قاله. بل لأنه أخبر به عن الله ورسوله،

وإن خالفه رددناه، ولا يعرض كلامه صلى الله عليه وسلم على آراء القياسيين، ولا على

عقول الفلاسفة والمتكلمين، ولا أذواق المتزهدين، بل تعرض هذه كلها

على ما جاء به، عرض الدراهم المجهولة على أخبر الناقدين، فما حكم

بصحته فهو منها المقبول، وما حكم برده فهو المردود) .

فلما كانت هذه النازلة من الأهمية بهذه المنزلة لهجت ألسنة العلماء

في بحثها، وتناولتها أقلام الكاتبين بين القبول والرد؛ باحثين: هل يجوز

الإلزام بمذهب معين أو قول مقنن لمن يتولى القضاء الشرعي، أو بلسان

العصر: لمن يتولى منصب الحاكمية؟؟ .

وقد تكاثرت البحوث فيها تبعاً واستقلالاً، وقوةً وضعفاً. غير أنه قد

صار من الضغث على إبالة؛ أن بعض الأبحاث المعاصرة في هذه النازلة

إضافة إلى ضعف مادتها، أجرى عرض الخلاف على وجه ليس محلاً

للخلاف: بمعنى هل يجوز التقنين أو لا يجوز؟ .

--------------------------------------------

(1) انظر: مختصر الصواعق 1 / 33 المطبوع بمصر بمطبعة الإمام.
এটি ইসলামের অন্যতম মূল ভিত্তি; আর এর বিপরীতে অর্থাৎ দয়াময় আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তার পরিপন্থী ফয়সালা প্রদানকারী ব্যক্তি পাপাচার, জুলুম এবং কুফরের বিশেষণে বিশেষিত। সুতরাং ইসলামের পথে কোনো বান্দার পা ততক্ষণ পর্যন্ত দৃঢ় হতে পারে না

যতক্ষণ না সে তার জীবনের সকল বিষয় ও সম্পর্কের ক্ষেত্রে আল্লাহর শরিয়ত ও তাঁর দ্বীনের শাসনের ওপর নিজ অন্তরকে দৃঢ়ভাবে সংকল্পবদ্ধ করে।

ইমাম শামসুদ্দিন ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওযিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ তাআলা) তাঁর রচিত "আস-সওয়াউল মুনযালাহ আলাল জাহমিয়্যাহ ওয়াল মুয়াত্তিলা" কিতাবের শুরুতে কতই না চমৎকার কথা বলেছেন!

সেখানে তিনি বলেন: (১)

(জেনে রাখুন যে, ইসলামের পথে কোনো বান্দার পা ততক্ষণ পর্যন্ত স্থির হতে পারে না যতক্ষণ না সে নিজের অন্তরকে এই সংকল্পে আবদ্ধ করে যে,

দ্বীন পূর্ণাঙ্গভাবে আল্লাহর জন্য, হিদায়াত কেবল আল্লাহরই হিদায়াত এবং সত্য রাসুলের সাথেই আবর্তিত হয়—চাই তা বিদ্যমান থাকুক বা না থাকুক।

তিনি ব্যতীত অন্য কেউ আনুগত্যের যোগ্য নয় এবং তিনি ছাড়া অন্য কেউ অনুসরণের উপযুক্ত নয়। অন্য যে কারও কথা তাঁর কথার কষ্টিপাথরে যাচাই করা হবে;

যদি তা তাঁর কথার অনুকূলে হয় তবে আমরা তা গ্রহণ করব—একথা হওয়ার কারণে নয় যে অমুক ব্যক্তি তা বলেছেন, বরং এজন্য যে তিনি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের পক্ষ থেকে সেই সংবাদ দিয়েছেন।

আর যদি তা তাঁর কথার বিরোধী হয় তবে আমরা তা প্রত্যাখ্যান করব। রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কথাকে কিয়াসপন্থীদের রায়, দার্শনিক ও কালামশাস্ত্রবিদদের যুক্তি কিংবা কৃচ্ছ্রসাধনকারীদের রুচির ওপর পেশ করা হবে না;

বরং এসব কিছুকেই তাঁর আনীত দ্বীনের ওপর পেশ করা হবে, ঠিক যেভাবে অজ্ঞাত মুদ্রাসমূহকে সুদক্ষ মুদ্রা পরীক্ষকের নিকট পেশ করা হয়। অতঃপর তিনি যা সহিহ বলে রায় দিবেন তা-ই গ্রহণযোগ্য,

আর যা প্রত্যাখ্যান করার রায় দিবেন তা-ই প্রত্যাখ্যাত।)

যেহেতু এই উদ্ভূত সমস্যাটি গুরুত্বের এমন স্তরে পৌঁছেছে, তাই আলেমদের জিহ্বা এটি নিয়ে আলোচনায় মুখর হয়েছে

এবং লেখকদের কলম এটি গ্রহণ ও বর্জনের মধ্যে আবর্তিত হয়েছে। তারা গবেষণা করছেন: শরিয়তের বিচারকার্য পরিচালনাকারীদের জন্য—

কিংবা বর্তমানের পরিভাষায়: যারা শাসনক্ষমতায় অধিষ্ঠিত তাদের জন্য—কোনো নির্দিষ্ট মাজহাব বা বিধিবদ্ধ কোনো আইন মেনে চলতে বাধ্য করা কি জায়েজ??

এ বিষয়ে প্রাসঙ্গিক ও স্বতন্ত্রভাবে এবং সবল ও দুর্বল নানা আঙ্গিকে প্রচুর গবেষণা হয়েছে। তবে বিষাদময় বিষয় হলো,

এই উদ্ভূত সমস্যা নিয়ে সমসাময়িক কিছু গবেষণার উপাত্ত দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি সেখানে মতবিরোধপূর্ণ বিষয়টিকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যা আসলে মতবিরোধের জায়গা নয়:

অর্থাৎ আইন প্রণয়ন বা বিধিবদ্ধ করা কি জায়েজ নাকি জায়েজ নয়?

--------------------------------------------

(১) দেখুন: মুখতাসারুস সওয়াআক্ব ১ / ৩৩, ইমাম প্রেস, মিসর থেকে মুদ্রিত।
(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল (পৃষ্ঠা: ১১)
وهذا خطأ صرف، وعدم وقوف على حقائق مسائل العلم، ومواطن

الخلاف. فإن التقنين حقيقته تأليف، والغلط وقع في النزوع عن

مصطلحات الشريعة، إذ أطلق هذا اللفظ عليه، فصار من آثاره السالبة مع

ذلك إبعاد الأفهام عن المعهود من الحقائق والمضامين في علوم الشريعة

وأحكامها.

ومهما كانت التسمية تقنيناً، أو تدويناً، أو تأليفاً، فإن هذا عَرْضٌ

مغلوط، ودائرة الخلاف إنما هي منحصرة في الإلزام جوازاً أو منعاً.

لهذا فقد رأيت بحثها وتقرير ما توصلت إليه فيها لتكون على طرف

الثمام أمام أهل الإسلام مشاركة مني في النصيحة لله ولرسوله صلى الله عليه وسلم ولأئمة

المسلمين، وعامتهم.

وقد أجريت الكلام فيما حررته مرتباً له في مطالب ثلاثة:

المطلب الأول: وفيه عرض لتاريخ نشوء هذه الفكرة؛ وهي حمل

القضاة على مذهب معين.

المطلب الثاني: في بيان أوجه القول بها مع بيان المصالح المترتبة

عليها، ثم إتباعها بمناقشتها.

المطلب الثالث: في بيان وجوه المنع منها مع بيان المضار المترتبة

على القول بها.

ولعل في ترتيب القول في هذه النازلة على هذا النمط والسياق تقريباً

للأفهام، ومزيداً من الوقوف بوضوح على القول الحق فيها.

وهذه هي الطريقة التي سلكها شيخا الإسلام ابن تيميه وابن القيم

رحمهما الله تعالى وأرشدا إليها، وبها أخذ أنصار الكتاب والسنة
এটি একটি চরম ভুল এবং ইলমের মাসআলাসমূহের হাকিকত ও মতপার্থক্যের ক্ষেত্রগুলো সম্পর্কে

অজ্ঞতা। মূলত আইন প্রণয়ন (তাকনীন) হলো একটি সংকলন মাত্র; আর ভুলটি ঘটেছে শরয়ি পরিভাষা থেকে বিমুখ হওয়ার কারণে

যেহেতু এর ওপর এই শব্দটি প্রয়োগ করা হয়েছে। ফলে এর নেতিবাচক প্রভাব হিসেবে সেই

সাথে শরয়ি ইলম ও তার বিধানসমূহের পরিচিত হাকিকত ও বিষয়বস্তু থেকে মানুষের বুঝকে দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এর নাম আইন প্রণয়ন, নথিভুক্তকরণ বা সংকলন—যাই হোক না কেন, এটি একটি ত্রুটিপূর্ণ উপস্থাপনা

এবং মতপার্থক্যের ক্ষেত্রটি কেবল একে বাধ্যবাধকতামূলক করার বৈধতা বা অবৈধতার মধ্যে সীমাবদ্ধ।

এজন্য আমি এ বিষয়ে গবেষণা করার এবং আমার প্রাপ্ত সিদ্ধান্তগুলো বর্ণনা করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছি, যাতে এটি মুসলিম উম্মাহর সামনে অত্যন্ত

সহজলভ্য হয়। এটি আল্লাহ, তাঁর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), মুসলিমদের নেতৃবৃন্দ

এবং সাধারণ মুসলিমদের প্রতি আমার কল্যাণকামিতার অংশ।

আমি আমার লিখিত আলোচনায় বক্তব্যকে তিনটি অনুচ্ছেদে বিন্যস্ত করেছি:

প্রথম অনুচ্ছেদ: এতে এই ভাবনার উদ্ভব ও ইতিহাসের বর্ণনা রয়েছে; যা হলো বিচারকদের একটি নির্দিষ্ট মাযহাব অনুসরণে বাধ্য

করা।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: এর স্বপক্ষের মতামতগুলোর বর্ণনা এবং এর ফলে অর্জিত মাসলাহাত বা কল্যাণসমূহের

বিবরণ, অতঃপর এর পর্যালোচনার মাধ্যমে।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: এর নিষেধাজ্ঞার দিকগুলোর বর্ণনা এবং এই মত গ্রহণের ফলে উদ্ভূত

ক্ষতিসমূহের বিবরণ।

সম্ভবত এই সমসাময়িক মাসআলা বা নাযিলাহ বিষয়ে আলোচনার এই বিন্যাস ও ধারা বিষয়টিকে সহজবোধ্য

করার লক্ষ্যে এবং এ ব্যাপারে সঠিক মতটি স্পষ্টভাবে অনুধাবনে সহায়ক হবে।

এটিই সেই পদ্ধতি যা দুই শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ এবং ইবনুল কাইয়্যিম

(আল্লাহ তাআলা তাঁদের উভয়ের প্রতি রহম করুন) অবলম্বন করেছেন এবং এর প্রতি দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, আর কিতাব ও সুন্নাহর একনিষ্ঠ অনুসারীগণ এটিই গ্রহণ করেছেন।
(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল (পৃষ্ঠা: ১২)
المستضيؤون بنورهما إلى يومنا هذا.

ومنه قول ابن تيميه في ذلك ما يلي (1) :

(يجب أن يكون الخطاب في المسائل المشكلة بطريق ذكر كل قول،

ومعارضة الآخر له، حتى يتبين الحق بطريقه لمن يريد الله هدايته، فإن

الكلام بالتدريج مقاماً بعد مقام هو الذي يحصل به المقصود، وإلا فإذا

هجم على القلب الجزم بمقالات لم تحكم أدلتها وطرقها، والجواب عما

يعارضها كان إلى دفعها والتكذيب بها أقرب منه إلى التصديق بها) .

ويتحدث ابن القيم رحمه الله تعالى بإنعام الله عليه في هذه الطريقة

فيقول (2) :

" … ونحن نذكر مأخذ هذه الأقوال وما لكل قول وما عليه، وما هو

الصواب من ذلك الذي دل عليه الكتاب والسنة، على طريقتنا التي منَّ

الله بها وهو مرجو الإعانة والتوفيق ".

وأسأل الله تعالى التوفيق والإعانة والسداد. آمين.

المؤلف

بكر بن عبد الله أبو زيد

تحريراً في مدينة النبي صلى الله عليه وسلم عام 1392 هـ، وأنا بها مجاور ثم تم

تبييضه في مدينة الرياض عام 1401 هـ. وأنا بها نزيل.

--------------------------------------------

(1) بواسطة طريق الوصول ص / 170 للشيخ عبد الرحمن السعدي.

‌‌(2) كتاب الروح ص / 93.
যারা অদ্যবধি তাঁদের উভয়ের আলোতে আলোকিত হচ্ছেন।

এই বিষয়ে ইবনে তাইমিয়াহর বক্তব্য নিম্নরূপ (১):

(জটিল মাসআলাগুলোতে আলোচনার পদ্ধতি হওয়া উচিত প্রতিটি মত উল্লেখ করা এবং একের বিপরীতে অন্যের যুক্তি তুলে ধরা, যাতে আল্লাহ যাকে হিদায়াত দিতে চান তার কাছে সত্য তার নিজস্ব পথে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কারণ পর্যায়ক্রমে ধাপ অনুসারে আলোচনা করাই হলো সেই পদ্ধতি যার মাধ্যমে উদ্দেশ্য হাসিল হয়। অন্যথায়, যদি অন্তরে এমন সব বক্তব্যের দৃঢ় বিশ্বাস হুট করে চেপে বসে যেগুলোর দলিল ও পদ্ধতিসমূহ সুসংহত নয় এবং বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলোর উত্তর জানা নেই, তবে তা সত্য বলে মেনে নেওয়ার চেয়ে প্রত্যাখ্যান ও অস্বীকার করারই অধিক নিকটবর্তী হয়)।

ইবনে আল-কাইয়্যিম (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) এই পদ্ধতির ক্ষেত্রে তাঁর ওপর আল্লাহর নিআমত সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন (২):

" … আর আমরা এই মতগুলোর উৎস এবং প্রতিটি মতের পক্ষে ও বিপক্ষে কী রয়েছে তা উল্লেখ করব, এবং কিতাব ও সুন্নাহ যে সঠিক বিষয়ের দিকনির্দেশনা দিয়েছে তা আমাদের সেই পদ্ধতিতে বর্ণনা করব যা আল্লাহ অনুগ্রহ করে দান করেছেন। আর তাঁর কাছেই সাহায্য ও তাওফীক প্রত্যাশিত। "

আমি মহান আল্লাহর কাছে তাওফীক, সাহায্য ও সঠিক পথের প্রার্থনা করছি। আমীন।

লেখক

বকর ইবনে আব্দুল্লাহ আবু যায়দ

এটি লিখিত হয়েছে নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শহরে ১৩৯২ হিজরি সনে, যখন আমি সেখানে অবস্থান করছিলাম। অতঃপর ১৪০১ হিজরি সনে রিয়াদ শহরে এর চূড়ান্ত অনুলিপি সম্পন্ন করা হয়েছে যখন আমি সেখানে বসবাসরত ছিলাম।

--------------------------------------------

(১) শেখ আব্দুর রহমান আস-সাদীর 'তারীকুল উসুল' এর মাধ্যমে, পৃষ্ঠা ১৭০।

‌‌(২) কিতাবুর রূহ, পৃষ্ঠা ৯৩।
(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌إيقاظ

وإنه قبل الأخذ بهذا تنبغي الإشارة مقدماً إلى محل التجاذب في بيان

من هو القاضي الذي يُلْزَم وما هي الأحكام التي يُلْزَم بها. وذلك ونظيره

منحصر في الأقسام الآتية:

‌‌1- إن الحكم الثابت بنص قطعي الثبوت والدلالة من كتاب أو سنة

أو إجماع؛ هو ملزم بنفسه ولا يحتاج إلى أمر خارج عنه.

‌‌2- إن القاضي المجتهد الذي توفرت فيه أدوات الاجتهاد ليس محل

خلاف في أنه لا يجوز إلزامه في التقليد لأحكام مناطها الاجتهاد (لأن

التقليد لا يصح للمجتهد فيما يرى خلافه بإجماع) كما حكاه ابن

فرحون (1) .

‌‌3- إذاً فإن محل التجاذب في الإلزام بالأحكام المقننة هي الأحكام

الاجتهادية التي تجاذبتها الأدلة الشرعية أو الإرجاع إلى قاعدة من القواعد

المرعية.

‌‌4- وإن محل التجاذب في الشخص المُلْزَم: هو القاضي المقلِّد الذي

لم تتوفر فيه أدوات الاجتهاد.

--------------------------------------------

(1) تبصرة الحكام 1 / 57.
সতর্কীকরণ

এবং এটি গ্রহণ করার পূর্বে অগ্রিম সেই বিষয়টি নির্দেশ করা প্রয়োজন যে, যাকে বাধ্য করা হবে সেই বিচারকের পরিচয় এবং যেসব বিধানের ক্ষেত্রে তাঁকে বাধ্য করা হবে, সেগুলোর ব্যাপারে মতভেদের প্রেক্ষিত কোনটি। আর এটি ও এর অনুরূপ বিষয়সমূহ নিম্নোক্ত বিভাগসমূহে সীমাবদ্ধ:

‌‌১- কিতাব, সুন্নাহ অথবা ইজমা থেকে অকাট্য বর্ণনা ও অকাট্য অর্থের মাধ্যমে প্রমাণিত বিধান নিজেই বাধ্যতামূলক এবং এটি কার্যকর হওয়ার জন্য বাইরের অন্য কোনো নির্দেশের মুখাপেক্ষী নয়।

‌‌২- যে মুজতাহিদ বিচারকের মধ্যে ইজতিহাদের যাবতীয় সরঞ্জাম বা যোগ্যতা বিদ্যমান, তাঁর ক্ষেত্রে এই বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই যে, তাঁকে ইজতিহাদ-নির্ভর বিধানসমূহের ক্ষেত্রে তাকলিদ বা অনুসরণে বাধ্য করা জায়েজ নয়। কারণ, ইজমা অনুযায়ী মুজতাহিদের জন্য এমন বিষয়ে তাকলিদ করা সঠিক নয় যা তাঁর গবেষণার বিপরীত হয়, যেমনটি ইবনে ফারহুন (১) বর্ণনা করেছেন।

‌‌৩- সুতরাং, সংবিধিবদ্ধ বিধানসমূহ পালনে বাধ্য করার ক্ষেত্রে মতভেদের জায়গাটি হলো সেই সকল ইজতিহাদি বিধান, যেগুলোর স্বপক্ষে বিভিন্ন শরয়ি দলিল বিদ্যমান অথবা যেগুলোকে কোনো স্বীকৃত মূলনীতির দিকে প্রত্যাবর্তন করানো হয়।

‌‌৪- আর যাকে বাধ্য করা হবে সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রে মতভেদের জায়গাটি হলো: সেই মুকাল্লিদ বিচারক যার মধ্যে ইজতিহাদের প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি বা যোগ্যতা বিদ্যমান নেই।

--------------------------------------------

(১) তাবসিরাতুল হুক্কাম ১ / ৫৭।
(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল (পৃষ্ঠা: ১৫)
المطْلَبُ الأول: عَرْضُ تاريخِ نُشُوء هذِه الفِكْرَة
প্রথম পরিচ্ছেদ: এই চিন্তাধারার উদ্ভবের ইতিহাসের বর্ণনা।
(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌المطْلَبُ الأوّل: عرَضُ تاريخِ نُشُوء هذه الفكرة

وهي جمع القضاة على مذهب معين

ومراحل العرض لتاريخ هذه الفكرة في هذا المطلب حسب الاستقراء

والتتبع على ما يلي:

‌‌1- يرى بعض الباحثين أن مُبدي فكرة جمع الإمام الناس على رأي

واحد في القضاء.. هو ابن المقفع.

وابن المقفع: هو عبد الله بن المقفع الأديب المشهور. ترجمه جماعةٌ

منهم: الحافظان؛ ابن كثير في تاريخه (1) ، وابن حجر في: " اللسان " (2) .

ولم يذكرا في ترجمته ما يوحي بعدالته. بل قال ابن حجر: ونقل عن ابن

مهدي أنه قال … (ما رأيت كتاباً في زندقة إلا هو أصله) أي: ابن

المقفع.

وقال ابن حجر أيضاً (3) : في ترجمة صالح بن عبد القدوس صاحب

الفلسفة والزندقة كما وصفه الحافظ ابن حجر بذلك: … وقال الشريف أبو

القاسم المراغي في كتاب " غريب الفوائد " كان كحماد الراوية وعَدَّ جماعةً

--------------------------------------------

(1) البداية والنهاية 10 / 96.

‌‌(2) لسان الميزان 3 / 366. (3) لسان الميزان 3 / 173.
‌‌প্রথম পরিচ্ছেদ: এই ভাবনার উদ্ভবের ইতিহাসের উপস্থাপনা

আর তা হলো বিচারপতিদের একটি নির্দিষ্ট মাযহাবের ওপর ঐক্যবদ্ধ করা

অনুসন্ধান ও পর্যালোচনার ভিত্তিতে এই পরিচ্ছেদে এই ভাবনার ইতিহাসের উপস্থাপনার ধাপগুলো

নিম্নরূপ:

‌‌১- কোনো কোনো গবেষক মনে করেন যে, বিচারকার্যে জনগণের জন্য ইমামের একটি মত

নির্ধারণ করে দেওয়ার ধারণার সূচনাকারী... হলেন ইবনুল মুকাফফা।

ইবনুল মুকাফফা হলেন: আবদুল্লাহ ইবনুল মুকাফফা, যিনি একজন প্রখ্যাত সাহিত্যিক। একদল আলেম তাঁর

জীবনী বর্ণনা করেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: দুই হাফেজ; ইবনে কাসীর তাঁর ইতিহাসে (১), এবং ইবনে হাজার তাঁর "আল-লিসান" গ্রন্থে (২)।

তাঁরা তাঁর জীবনীতে এমন কোনো কিছু উল্লেখ করেননি যা তাঁর ন্যায়পরায়ণতার প্রমাণ দেয়। বরং ইবনে হাজার বলেছেন: ইবনে

মাহদী থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন … (আমি যিন্দিকতন্ত্রের ওপর এমন কোনো কিতাব দেখিনি যার মূল ভিত্তি তিনি নন) অর্থাৎ: ইবনুল

মুকাফফা।

ইবনে হাজার আরও বলেছেন (৩): দর্শন ও যিন্দিকতন্ত্রের অনুসারী সালেহ বিন আবদুল কুদ্দুসের জীবনীতে—

যেমনটি হাফেজ ইবনে হাজার তাঁকে সেভাবেই বর্ণনা করেছেন: … শরীফ আবুল

কাসিম আল-মারাগী "গারীবুল ফাওয়ায়িদ" গ্রন্থে বলেছেন যে, তিনি হাম্মাদ আল-রাবিয়াহর মতো ছিলেন এবং তিনি এমন একদলকে গণ্য করেছেন

--------------------------------------------

(১) আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১০ / ৯৬।

‌‌(২) লিসানুল মীযান ৩ / ৩৬৬। (৩) লিসানুল মীযান ৩ / ১৭৩।
(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল (পৃষ্ঠা: ১৮)
منهم: ابن المقفع.. قال: (مشهورين بالزندقة والتهاون بأمر الدين) .

انتهى.

ثم قال الحافظ: (قلت وليس لهؤلاء رواية فيما أعلم) .

وفكرته هذه هي في كلامه الذي وجهه إلى أمير المؤمنين المدوَّنِ في

رسالته المعروفة باسم: " رسالة الصحابة " (1) .

وهذه الرسالة بطولها في كتاب: " جمهرة رسائل العرب " (2) نقلاً منه لها

عن كتاب " المنظوم والمنثور " لابن طيفور.

وفيها ابتداءً من ص / 36 قول ابن المقفع: (ومما ينظر أمير المؤمنين

من أمر هذين المصرين وغيرهما من الأمصار، والنواحي: اختلاف هذه

الأحكام المتناقضة التي قد بلغ اختلافها أمراً عظيماً في الدماء والفروج

والأموال؛ فيستحل الدم والفرج بالحيرة، وهما يحرمان بالكوفة.. إلى أن

قال: فلو رأى أمير المؤمنين أن يأمر بهذه الأقضية والسنن المختلفة فترفع

إليه في كتاب، ويرفع معها ما يحتج به كل قوم من سنة أو قياس ثم نظر

أمير المؤمنين في ذلك، وأمضى في كل قضية أمره الذي يلهمه الله ويعزم

عليه، ويَنْهى عن القضاء بخلافه، وكتب بذلك كتاباً جامعاً عزماً؛ لرجونا

أن يجعل الله هذه الأحكام المختلفة الصوابَ بالخطأ: حكماً واحداً

وصواباً. ورجونا أن يكون اجتماع السير قربة لإجماع الأمر برأي أمير

--------------------------------------------

(1) المقصود بالصحابة هنا: صحابة الولاة والخلفاء لا صحابة الرسول صلى الله عليه وسلم كما هو

شائع، واستعمال الكلمة بهذا المعنى معروف إذ ذاك نسبة إلى المتصلين بهؤلاء

(انظر كتاب: عبد الله بن المقفع لجورج غريب ص: 58) .

‌‌(2) جمهرة رسائل العرب 3 / 25 مؤلفه: محمد زكي صفوت.
তাদের মধ্যে রয়েছেন: ইবনুল মুকাফ্ফা... তিনি বলেন: (তারা যিন্দিকী এবং দ্বীনের ব্যাপারে শিথিলতার জন্য পরিচিত)।

সমাপ্ত।

অত:পর হাফেয (ইবনে হাজার) বলেন: (আমি বলছি, আমার জানামতে তাদের কোনো বর্ণনা নেই)।

আর তার এই চিন্তাটি আমীরুল মুমিনীনকে উদ্দেশ্য করে বলা তার সেই বক্তব্যে রয়েছে, যা তার

সুপ্রসিদ্ধ রিসালা "রিসালাতুস সাহাবাহ" (১)-তে লিপিবদ্ধ রয়েছে।

আর এই রিসালাটি পূর্ণাঙ্গভাবে "জামহারাতু রাসায়িলিল আরব" (২) নামক গ্রন্থে রয়েছে, যা সেখানে

ইবনে তাইফুরের "আল-মানযুম ওয়াল মানসুর" কিতাব থেকে উদ্ধৃত করা হয়েছে।

এতে ৩৬ নং পৃষ্ঠা থেকে ইবনুল মুকাফ্ফার কথা শুরু হয়েছে: (আমীরুল মুমিনীন এই

দুই শহর এবং অন্যান্য শহর ও জনপদের যে বিষয়গুলোর দিকে লক্ষ্য করবেন তা হলো: এই

পরস্পরবিরোধী বিধিবিধানের পার্থক্য, যার মতভেদ রক্ত, লজ্জাস্থান এবং সম্পদের ক্ষেত্রে

এক বিশাল পর্যায়ে পৌঁছেছে; ফলে হীরাতে যা হালাল করা হচ্ছে রক্ত ও লজ্জাস্থানের ক্ষেত্রে,

কুফায় আবার সেগুলোই হারাম করা হচ্ছে... শেষ পর্যন্ত তিনি

বলেন: আমীরুল মুমিনীন যদি সমীচীন মনে করেন যে, তিনি এই বিভিন্নমুখী বিচারিক ফয়সালা এবং রীতিসমূহ (সুনান) একত্রিত করার আদেশ দেবেন, যা তাঁর নিকট একটি কিতাব আকারে পেশ করা হবে এবং এর সাথে প্রতিটি দল সুন্নাহ বা কিয়াস থেকে যা দিয়ে দলিল পেশ করে তাও উপস্থাপন করা হবে। অতঃপর আমীরুল মুমিনীন তাতে দৃষ্টি দেবেন এবং আল্লাহ তাঁকে যে বিষয়ের ইলহাম বা দিকনির্দেশনা প্রদান করবেন ও তিনি যা সংকল্প করবেন, প্রতিটি বিচারিক বিষয়ে তিনি সেই আদেশই জারি করবেন এবং এর বিপরীতে বিচার করতে নিষেধ করবেন। আর এই বিষয়ে তিনি একটি সুদৃঢ় ও সমন্বিত কিতাব লিখে দেবেন; তাহলে আমরা আশা করতে পারি যে, আল্লাহ এই ভুল ও সঠিক মিশ্রিত ভিন্ন ভিন্ন বিধানসমূহকে একটি একক এবং সঠিক বিধানে পরিণত করবেন। আর আমরা আশা করি যে, কর্মপন্থার এই সমন্বয় আমীরুল মুমিনীনের মতামতের ভিত্তিতে আদেশের ঐক্যমত্যের একটি মাধ্যম হবে।

--------------------------------------------

(১) এখানে 'সাহাবাহ' বলতে শাসক ও খলীফাদের সহচরদের বুঝানো হয়েছে, বর্তমানে প্রচলিত অর্থে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের নয়।

এই অর্থে শব্দটির ব্যবহার সে সময়ে পরিচিত ছিল, যা মূলত তাঁদের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বুঝাত

(দেখুন: জর্জ গারীব রচিত 'আবদুল্লাহ ইবনুল মুকাফ্ফা' গ্রন্থ, পৃষ্ঠা: ৫৮)।

‌‌(২) জামহারাতু রাসায়িলিল আরব ৩/২৫, এর লেখক: মুহাম্মদ যাকি সাফওয়াত।
(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল (পৃষ্ঠা: ১৯)
المؤمنين، وعلى لسانه، ثم يكون ذلك من إمام آخر آخر الدهر إن شاء

الله) . انتهى.

‌‌2- كما يروى في ذلك ما كان من الحوار، بين أبي جعفر المنصور

المتوفى سنة 158 هـ وبين الإمام مالك بن أنس المتوفى سنة 179 هـ.

كما ذكرها مسندة الحافظان: ابن عساكر (1) ، وابن عبد البر (2) .

وأسانيدها لا تخلوا من مقال؛ ففي بعضها الواقدي صاحب المغازي

محمد بن عمر بن واقد الأسلمي وهو متروك الحديث (3) ، حتى مال ابن

جرير إلى كون القصة وقعت بين المهدي والإمام مالك لا مع أبي جعفر.

ولما أراد أبو جعفر حمل الناس على رأي واحد قال له مالك كما في رواية

ابن عساكر: (لا تفعل هذا فإن الناس قد سبقت إليهم أقاويل، وسمعوا

أحاديث وروايات وأخذ كل قوم منهم بما سبق إليهم وعملوا به ودانوا به،

من اختلاف الناس وغيرهم، وإن ردهم عما اعتقدوه شديد، فدع الناس

وما هم عليه، وما اختار أهل كل بلد منهم لأنفسهم، فقال: لعمري لو

طاوعني على ذلك لأمرت به) . انتهى.

وفي الرواية الثانية من طريق خالد بن نزار أن مالكاً قال: ( … فقلت

يا أمير المؤمنين إن أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم تفرقوا في البلدان واتبعهم

الناس فرأى كل فريق أن أتبع متبعاً) . انتهى.

--------------------------------------------

(1) كشف المغطا ص / 47.

‌‌(2) الانتقاء ص / 41. وانظر ص / 38 - 39 من عمدة التحقيق في التقليد والتلفيق

للباني.

‌‌(3) كشف المغطا ص / 47.
মুমিনগণের এবং তাঁর যবানে, অতঃপর আল্লাহ চাইলে মহাকালের শেষভাগে অন্য একজন ইমামের পক্ষ থেকে এটি হবে

)। সমাপ্ত।

‌‌২- অনুরূপভাবে এ বিষয়ে ১৫৮ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী আবু জাফর আল-মনসুর

এবং ১৭৯ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী ইমাম মালিক ইবনে আনাসের মধ্যকার কথোপকথনটিও বর্ণিত হয়।

যা হাফেজ ইবনে আসাকির (১) এবং ইবনে আব্দুল বার (২) সনদসহ উল্লেখ করেছেন।

তবে এর সনদসমূহ সমালোচনা মুক্ত নয়; কারণ এর কোনো কোনোটির সনদে 'মাগাযী' রচয়িতা মুহাম্মদ

ইবনে উমর ইবনে ওয়াকিদ আল-আসলামী আল-ওয়াকিদী রয়েছেন, যিনি মাতরুকুল হাদিস (৩)। এমনকি ইবনে

জারীর এই মতের দিকে ঝুঁকেছেন যে, ঘটনাটি আল-মাহদী এবং ইমাম মালিকের মধ্যে ঘটেছিল, আবু জাফরের সাথে নয়।

যখন আবু জাফর লোকজনকে একটি মাত্র মতের ওপর বাধ্য করতে চাইলেন, তখন মালিক ইবনে আসাকিরের বর্ণনা অনুযায়ী

তাঁকে বললেন: (আপনি এমনটি করবেন না; কেননা মানুষের কাছে ইতিপূর্বেই নানা মত পৌঁছেছে, তারা

হাদিস ও বর্ণনা শুনেছে এবং প্রত্যেক দল তাদের কাছে যা পৌঁছেছে তা গ্রহণ করেছে, সে অনুযায়ী আমল করেছে এবং তাকেই দীন হিসেবে মেনে নিয়েছে—

মানুষের মধ্যকার মতপার্থক্য ও অন্যান্য কারণে। আর তারা যা বিশ্বাস করে নিয়েছে তা থেকে তাদের ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত কঠিন। সুতরাং মানুষকে

তাদের অবস্থার ওপর এবং প্রত্যেক ভূখণ্ডের অধিবাসীরা নিজেদের জন্য যা পছন্দ করে নিয়েছে তার ওপর ছেড়ে দিন। তখন তিনি বললেন: আমার জীবনের কসম! যদি

তিনি এ বিষয়ে আমার অনুগামী হতেন, তবে আমি অবশ্যই এর নির্দেশ দিতাম)। সমাপ্ত।

খালিদ ইবনে নিজারের সূত্রে বর্ণিত দ্বিতীয় বর্ণনায় এসেছে যে, মালিক বলেছেন: ( … অতঃপর আমি বললাম

হে আমিরুল মুমিনিন! আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছিলেন এবং মানুষ

তাঁদের অনুসরণ করেছে। ফলে প্রত্যেক দলই মনে করেছে যে, তারা সঠিক পথেরই অনুসরণ করছে)। সমাপ্ত।

--------------------------------------------

(১) কাশফুল মুগাত্তা, পৃষ্ঠা ৪৭।

‌‌(২) আল-ইনতিকা, পৃষ্ঠা ৪১। আরও দেখুন: আল-বানীর 'উমদাতুত তাহকীক ফিত তাকলীদ ওয়াত তালফীক', পৃষ্ঠা ৩৮-৩৯।

‌‌(৩) কাশফুল মুগাত্তা, পৃষ্ঠা ৪৭।
(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল (পৃষ্ঠা: ২০)
وفي رواية ابن عبد البر أن مالكاً قال: (.. يا أمير المؤمنين قد رسخ

في قلوب أهل كل بلد ما اعتقدوه وعملوا به، ورد العامة عن مثل هذا

عسير) . انتهى.

وفي اختصار علوم الحديث لابن كثير (1) ، قال: (وقد طلب المنصور

الإمام مالك أن يجمع الناس على كتابه فلم يجبه إلى ذلك، وذلك من

تمام علمه، واتصافه بالإنصاف. وقال: إن الناس قد جمعوا واطلعوا على

أشياء لم نطلع عليها) . انتهى.

‌‌3- ثم إنه نحواً من ذلك ما وقع بين المهدي محمد بن أبي جعفر

المنصور المتوفى سنة 169 هـ وبين مالك رحمه الله. كما رواها الحافظ

ابن عساكر في " كشف المغطا " (2) والحافظ ابن عبد البر في " الانتقاء " (3) .

‌‌4- ويروى أيضاً أن هارون الرشيد بن المهدي بن المنصور المتوفى

سنة 193 هـ وقع له مع الإمام مالك مثل ما وقع لأبيه وجده مع مالك

رحمه الله تعالى كما رواها أبو نعيم في " الحلية " (4) وفيها:

(قال مالك شاورني هارون الرشيد في ثلاث - ذكرها - ومنها: في أن

يعلق الموطأ في الكعبة، ويحمل الناس على ما فيه، وفي أن ينقض منبر

النبي صلى الله عليه وسلم ويجعله من جوهر وفضة.. فقال مالك: أما تعليق الموطأ في

--------------------------------------------

(1) ص: 30 من اختصار علوم الحديث مع شرحه الباعث الحثيث للشيخ أحمد

شاكر.

‌‌(2) ص: 48.

‌‌(3) ص: 40.

‌‌(4) حلية الأولياء 6 / 332.
ইবনে আব্দুল বার-এর বর্ণনায় এসেছে যে, মালিক বলেছেন: (.. হে আমিরুল মুমিনীন! প্রত্যেক শহরের অধিবাসীদের অন্তরে তারা যা বিশ্বাস করেছে এবং আমল করেছে তা বদ্ধমূল

হয়ে গেছে, আর সাধারণ মানুষকে এ জাতীয় বিষয় থেকে ফিরিয়ে আনা

কঠিন)। সমাপ্ত।

এবং ইবনে কাসীরের ইখতিসার উলুমিল হাদিস (১)-এ রয়েছে, তিনি বলেছেন: (মানসুর ইমাম

মালিকের নিকট আবেদন করেছিলেন যেন তিনি মানুষকে তাঁর কিতাবের ওপর ঐক্যবদ্ধ করেন, কিন্তু তিনি তাতে সাড়া দেননি। আর এটি ছিল তাঁর

পরিপূর্ণ জ্ঞান এবং ইনসাফের বহিঃপ্রকাশ। তিনি বলেছিলেন: মানুষ এমন অনেক কিছু সংগ্রহ করেছে এবং অবগত হয়েছে

যা আমরা হইনি)। সমাপ্ত।

‌‌৩- অতঃপর অনুরূপ ঘটনা ১৬৯ হিজরিতে ইন্তেকালকারী মাহদী মুহাম্মদ বিন আবি জাফর

মানসুর এবং মালিক (রাহিমাহুল্লাহ)-এর মাঝেও ঘটেছিল। যেমনটি হাফেজ

ইবনে আসাকির ‘কাশফুল মুগাত্তা’ (২) এবং হাফেজ ইবনে আব্দুল বার ‘আল-ইনতিকা’ (৩) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

‌‌৪- আরও বর্ণিত আছে যে, ১৯৩ হিজরিতে ইন্তেকালকারী মাহদী বিন মানসুরের পুত্র হারুনুর রশীদ এবং ইমাম মালিকের মাঝেও এমনটি ঘটেছিল যা তাঁর পিতা ও পিতামহের সাথে মালিক

(রাহিমাহুল্লাহ তাআলা)-এর ঘটেছিল। যেমনটি আবু নুআইম ‘আল-হিলইয়া’ (৪) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং তাতে রয়েছে:

(মালিক বলেন: হারুনুর রশীদ তিনটি বিষয়ে আমার পরামর্শ চেয়েছিলেন -তিনি সেগুলো উল্লেখ করেছেন- তার মধ্যে ছিল: যেন মুয়াত্তা কাবা শরীফে

ঝুলিয়ে রাখা হয় এবং মানুষকে এর মধ্যে যা আছে তার ওপর পরিচালিত করা হয়, আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মিম্বরটি

ভেঙে তা মণি-মুক্তা ও রূপা দ্বারা তৈরি করা হয়... তখন মালিক বললেন: মুয়াত্তা ঝুলিয়ে রাখার বিষয়ে...

--------------------------------------------

(১) শেখ আহমাদ শাকিরের ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘আল-বাআসুল হাসিস’ সহ ‘ইখতিসার উলুমিল হাদিস’-এর ৩০ পৃষ্ঠা।

‌‌(২) পৃষ্ঠা: ৪৮।

‌‌(৩) পৃষ্ঠা: ৪০।

‌‌(৪) হিলইয়াতুল আউলিয়া ৬ / ৩৩২।
(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল (পৃষ্ঠা: ২১)
الكعبة، فإن أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم اختلفوا في الفروع، وتفرقوا في الآفاق

وكل عند نفسه مصيب..) إلخ.

وفي إسنادها عند أبو نعيم: المقدام بن داود بن عيسى بن تليد

الرعيني، أبو عمر البصري، قال فيه النسائي: ليس بثقة (1) . لكن قال

الشوكاني في " القول المفيد " (2) : وقد تواترت الرواية عن الإمام مالك أن

الرشيد قال له: (إنه يريد أن يحمل الناس على مذهبه، فنهاه عن ذلك.

وهذا موجود في كل كتاب فيه ترجمة الإمام مالك، ولا يخلوا من ذلك إلا

نادراً) . انتهى.

وممن أشار إلى وقوع هذه القصة لمالك مع الرشيد: ابن القيم رحمه

الله تعالى كما في كتابيه: " إعلام الموقعين " (3) ، و " الروح " (4) .

‌‌5- ثم يرى بعض الباحثين المعاصرين (5) ، أن هذه الفكرة بقيت معطلة

بعيدة عن التنفيذ حتى اتجهت الحكومة العثمانية في أواخر القرن الثالث

عشر الهجري قبل انقراضها بإخراج قانون للمعاملات يتلائم وروح العصر،

مقيداً بالمذهب الحنفي دون التقيد بالرأي الراجح من المذهب الحنفي،

فصدرت بذلك " مجلة الأحكام العدلية " متضمنةً جملةً من أحكام:

البيوع، والدعاوى، والقضاء … (وكان تاريخ صدور هذه المجلة في عام

1869 م) (6) .

--------------------------------------------

(1) انظر: ميزان الاعتدال للذهبي 4 / 175، ولسان الميزان لابن حجر 6 / 84.

‌‌(2) القول المفيد في أدلة الاجتهاد والتقليد ص: 17.

‌‌(3) 2 / 363 - 364. (4) ص: 266 - 267.

‌‌(5) منهم: الأستاذ محمد سلام مدكور في كتابه: القضاء في الإسلام ص: 111.

‌‌(6) انظر: تاريخ القانون لزهدي يكن ص: 286.
কাবা, কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ গৌণ বিষয়াবলীতে (ফুরু) মতভেদ করেছেন এবং বিভিন্ন দিগন্তে ছড়িয়ে পড়েছেন এবং প্রত্যেকেই নিজের কাছে সঠিক ছিলেন...) ইত্যাদি।

এবং আবু নুআইমের বর্ণিত এর সনদে রয়েছে: মিকদাম বিন দাউদ বিন ঈসা বিন তালিদ

আল-রুআইনি, আবু ওমর আল-বাসরি; নাসাঈ তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য নন (১)। তবে

শাওকানী "আল-কাউলুল মুফিদ" (২)-এ বলেছেন: ইমাম মালিক থেকে এই বর্ণনাটি মুতাওয়াতির (নিরবচ্ছিন্নভাবে বর্ণিত) যে

রশিদ তাঁকে বলেছিলেন: (তিনি মানুষকে তাঁর মাযহাবের ওপর বাধ্য করতে চান, ফলে তিনি তাঁকে তা থেকে নিষেধ করেছিলেন।

আর এটি ইমাম মালিকের জীবনী সম্বলিত প্রতিটি কিতাবেই বিদ্যমান, এবং বিরল ক্ষেত্র ছাড়া এটি বাদ পড়ে না)। সমাপ্ত।

এবং মালিকের সাথে রশিদের এই ঘটনাটি ঘটার বিষয়ে যারা ইঙ্গিত করেছেন তাদের মধ্যে: ইবনুল কাইয়্যিম রাহিমাহুল্লাহ

তায়ালা অন্যতম, যেমনটি তাঁর দুটি কিতাবে রয়েছে: "ইলামুল মুওয়াক্কিঈন" (৩) এবং "আর-রূহ" (৪)।

‌‌৫- অতঃপর কিছু সমকালীন গবেষক (৫) মনে করেন যে, এই ধারণাটি বাস্তবায়ন থেকে দূরে পরিত্যক্ত

অবস্থায় ছিল, যতক্ষণ না ওসমানীয় সরকার হিজরি ত্রয়োদশ শতাব্দীর শেষভাগে

তাদের বিলুপ্তির আগে সমসাময়িক সময়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ লেনদেনের একটি আইন প্রণয়নের দিকে অগ্রসর হয়,

যা হানাফি মাযহাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, তবে হানাফি মাযহাবের কেবল রাজেহ (অধিকতর বিশুদ্ধ) মতের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে।

ফলে এভাবেই "মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়্যাহ" প্রকাশিত হয়, যাতে অন্তর্ভুক্ত ছিল একগুচ্ছ বিধান:

ক্রয়-বিক্রয়, মামলা এবং বিচার সংক্রান্ত … (এবং এই মাজাল্লা প্রকাশের তারিখ ছিল ১৮৬৯ খ্রিস্টাব্দে) (৬)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আয-যাহাবীর মিযানুল ইতিদাল ৪/১৭৫, এবং ইবনে হাজারের লিসানুল মিযান ৬/৮৪।

‌‌(২) আল-কাউলুল মুফিদ ফি আদিল্লাতিল ইজতিহাদ ওয়াত তাকলিদ, পৃষ্ঠা: ১৭।

‌‌(৩) ২/৩৬৩-৩৬৪। (৪) পৃষ্ঠা: ২৬৬-২৬৭।

‌‌(৫) তাদের মধ্যে রয়েছেন: অধ্যাপক মুহাম্মদ সালাম মাদিকুর তাঁর কিতাব: আল-কাদা ফিল ইসলাম, পৃষ্ঠা: ১১১।

‌‌(৬) দেখুন: জুহদি ইয়াকানের তারিখুল কানুন, পৃষ্ঠা: ২৮৬।
(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল (পৃষ্ঠা: ২২)
ثم ظهر بعد ذلك قانون مستمد من المذهب الحنفي وغيره من مسائل

النكاح والفُرَق.

ثم إن الخديوي إسماعيل رفض الأخذ بها على ما أشار به عليه

مستشاره الفرنسي.. (وفعلاً فقد تطلع الخديوي إلى القوانين الغربية، ولما

حدث هذا بدأ الإستياء على رجال الدين (1) ، وظهر أثره في نفوس طوائف

الشعب، فقام الفقيه: قدري باشا بعمل مجموعة من القوانين من المذهب

الحنفي، ولكن هذه القوانين لم يقدر لها أن تصبغ بصبغة رسمية) (2) .

‌‌6- ثم إنه في هذا القرن اتجهت بعض الحكومات التي تحكم

الأنظمة الوضعية إلى وضع قانون للأحوال الشخصية (3) ، مستمد من

المذاهب الأربعة وبعضها مستمد من المذهب الحنفي، ولم تثبت تلك

على الوتيرة المختارة، بل بين كل حين وآخر يصدر لها مذكرة تفسيرية

وأخرى إلغائية واستبدالها برأي آخر وهكذا.

‌‌7- والخلاصة من هذا العرض وغيره للمراحل التي مرت بها هذه

الفكرة هي ما يلي:

--------------------------------------------

(1) ليس في الإسلام طائفة تسمى برجال الدين، فهذا اصطلاح كنائسي. ولو عبر

الكاتب برجال العلم لكان أولى. وقد حررت هذا في كتابي (معجم المناهي

اللفظية) .

‌‌(2) القضاء في الإسلام: يراد بهذا الاصطلاح أحكام النكاح وتوابعه.. وهو اصطلاح

مرفوض شرعاً، وله سوالبه الكثيرة. وقد بسطته في كتابي (معجم المناهي اللفظية) .

‌‌(3) الأحوال الشخصية: يراد بهذا الاصطلاح أحكام النكاح وتوابعه.. وهو اصطلاح

مرفوض شرعاً، وله سوالبه الكثيرة. وقد بسطته في كتابي (معجم المناهي اللفظية) .
এরপর হানাফি মাযহাব এবং অন্যান্য মাসয়ালা থেকে উদ্ভূত একটি আইন আত্মপ্রকাশ করে যা

বিবাহ ও বিচ্ছেদ সংক্রান্ত মাসয়ালার অন্তর্ভুক্ত ছিল।

এরপর খেদিভ ইসমাইল তাঁর ফরাসি উপদেষ্টার পরামর্শ অনুযায়ী সেগুলো গ্রহণ করতে

অস্বীকৃতি জানান... (এবং প্রকৃতপক্ষে খেদিভ পাশ্চাত্য আইনের প্রতি আগ্রহী হয়ে পড়েছিলেন, আর যখন

এটি ঘটল তখন ধর্মীয় ব্যক্তিবর্গের (১) মধ্যে অসন্তোষ দানা বাঁধতে শুরু করল, এবং জনগণের বিভিন্ন শ্রেণির

মনে এর প্রভাব দৃশ্যমান হলো। তখন ফকিহ কাদরি পাশা হানাফি মাযহাব থেকে একগুচ্ছ

আইন তৈরি করেন, কিন্তু এই আইনগুলোর ভাগ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক রূপ লাভ করা সম্ভব হয়নি) (২)।

‌‌৬- এরপর এই শতাব্দীতে মানবরচিত ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত কিছু

সরকার ব্যক্তিগত আইন (৩) প্রণয়নের দিকে ধাবিত হয়, যা চারটি

মাযহাব থেকে এবং কিছু হানাফি মাযহাব থেকে সংগৃহীত। কিন্তু সেগুলো

নির্বাচিত পদ্ধতির ওপর অটল থাকেনি, বরং সময়ে সময়ে সেগুলোর জন্য ব্যাখ্যামূলক নোট

আবার কখনও বাতিলকরণ নোট জারি করা হতো এবং সেগুলোকে অন্য মতামতের দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হতো, আর এভাবেই চলতে থাকত।

‌‌৭- এই উপস্থাপনা এবং এই ধারণাটি যেসব পর্যায়ের মধ্য দিয়ে অতিক্রান্ত হয়েছে তার

সারাংশ হলো নিম্নরূপ:

--------------------------------------------

(১) ইসলামে 'ধর্মীয় ব্যক্তিবর্গ' নামে অভিহিত কোনো গোষ্ঠী নেই, এটি মূলত গির্জার একটি পরিভাষা। যদি

লেখক 'জ্ঞানী ব্যক্তিবর্গ' (আলেম সমাজ) শব্দ ব্যবহার করতেন তবে তা অধিক উপযোগী হতো। আমি আমার (মুজামুল মানাহি

আল-লাফযিয়্যাহ) গ্রন্থে এটি বিস্তারিত আলোচনা করেছি।

‌‌(২) ইসলামে বিচারব্যবস্থা: এই পরিভাষা দ্বারা বিবাহ ও এর আনুষঙ্গিক বিধিবিধান উদ্দেশ্য... এটি শরীয়তের দৃষ্টিতে

একটি বর্জনীয় পরিভাষা এবং এর অনেক নেতিবাচক দিক রয়েছে। আমি আমার (মুজামুল মানাহি আল-লাফযিয়্যাহ) গ্রন্থে এটি সবিস্তারে বর্ণনা করেছি।

‌‌(৩) ব্যক্তিগত আইন (আহওয়ালুশ শাখসিয়্যাহ): এই পরিভাষা দ্বারা বিবাহ ও এর আনুষঙ্গিক বিধিবিধান উদ্দেশ্য... এটি শরীয়তের দৃষ্টিতে

একটি বর্জনীয় পরিভাষা এবং এর অনেক নেতিবাচক দিক রয়েছে। আমি আমার (মুজামুল মানাহি আল-লাফযিয়্যাহ) গ্রন্থে এটি সবিস্তারে বর্ণনা করেছি।
(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল (পৃষ্ঠা: ২৩)
أ - إن هذه الفكرة لم تكن معهودة في صدر الخلافة الإسلامية حتى

عام 144 هـ.

ب - إن مبدى هذه الفكرة بعد هو عبد الله بن المقفع أحد الكتاب

الأدباء على ما تقدم بيانه وبيان حاله.

جـ - إن ثلاثة من خلفاء بني العباس وهم: أبو جعفر المنصور، وابنه

المهدي، وحفيده هارون الرشيد، طلب كل واحد منهم - على ما يروى -

من الإمام مالك تنفيذ هذه الفكرة فمانع إمامُ دار الهجرة كلَّ واحد منهم

في تنفيذها بحمل الناس عليها. قال ابن كثير رحمه الله تعالى: (فكان هذا

من تمام علمه واتصافه بالإنصاف) (1) .

د - إنه لا يعرف للإمام مالك رحمه الله تعالى منازع في عصره من

العلماء في رده ما دعاه إليه الخليفة.

هـ - إنه بدليل الاستقراء والتتبع، لا يعرف لهذه المسألة بين العلماء

والولاة ذكر ولا أثر منذ ذلك التاريخ حتى أواخر القرن الثالث عشر، وإلا

فمتعصبة المذاهب منتشرون من بعد انقراض القرون المفضلة على ما في

القول المفيد للشوكاني (2) .

غير أن برهان الدين بن فرحون المالكي المتوفى سنة 799 هـ قال

في: " تبصرة الحكام " (3) :

--------------------------------------------

(1) اختصار علوم الحديث، ص: 30.

‌‌(2) ص: 17.

‌‌(3) تبصرة الحكام بحاشية فتاوى عليش: 1 / 57.
ক - এই ধারণাটি হিজরি ১৪৪ সাল পর্যন্ত ইসলামী খিলাফতের প্রারম্ভিক যুগে পরিচিত ছিল না।

খ - পরবর্তীতে এই ধারণার প্রবর্তক ছিলেন আবদুল্লাহ ইবনুল মুকাফফা, যিনি একজন সাহিত্যিক লেখক ছিলেন, যেমনটি ইতিপূর্বে তাঁর অবস্থা ও বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

গ - বনু আব্বাসের তিনজন খলিফা, তাঁরা হলেন: আবু জাফর আল-মনসুর, তাঁর পুত্র আল-মাহদী এবং তাঁর পৌত্র হারুন আল-রশীদ; তাঁদের প্রত্যেকেই—বর্ণিত রেওয়ায়েত অনুযায়ী—ইমাম মালিকের কাছে এই ধারণাটি বাস্তবায়নের অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু ইমামে দারিল হিজরাহ (ইমাম মালিক) মানুষকে এর ওপর বাধ্য করার মাধ্যমে এটি কার্যকর করার বিষয়ে তাঁদের প্রত্যেকের বিরোধিতা করেছিলেন। ইবনে কাসীর (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: (এটি ছিল তাঁর জ্ঞানের পূর্ণতা এবং ইনসাফ বা ন্যায়নিষ্ঠার পরিচায়ক)। (১)

ঘ - খলিফা তাঁকে যে বিষয়ের আহ্বান জানিয়েছিলেন, তা প্রত্যাখ্যান করার ক্ষেত্রে ইমাম মালিক (রহিমাহুল্লাহ)-এর সমসাময়িক কোনো আলিমের পক্ষ থেকে কোনো বিরোধিতার কথা জানা যায় না।

ঙ - অনুসন্ধান ও পর্যালোচনার মাধ্যমে এটি প্রমাণিত যে, সেই সময় থেকে ত্রয়োদশ শতাব্দীর শেষভাগ পর্যন্ত আলিম এবং শাসকদের মধ্যে এই বিষয়ের কোনো উল্লেখ বা চিহ্নের কথা জানা যায় না। অন্যথায়, উত্তম যুগসমূহের অবসানের পর মাযহাবী গোঁড়ামিপন্থীরা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল, যেমনটি শাওকানির 'আল-কাওলুল মুফীদ'-এ বর্ণিত হয়েছে। (২)

তবে বুরহান উদ্দীন ইবনে ফারহুন আল-মালিকী (মৃত্যু ৭৯৯ হি.), 'তাবসিরাতুল হুক্কাম' (৩) গ্রন্থে বলেছেন:

--------------------------------------------

(১) ইখতিসার উলুম আল-হাদিস, পৃ: ৩০।

‌‌(২) পৃ: ১৭।

‌‌(৩) তাবসিরাতুল হুক্কাম, আলিশের ফাতাওয়ার টীকা সহ: ১/৫৭।
(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল (পৃষ্ঠা: ২৪)
(وقال أبو بكر الطرطوشي: أخبرني القاضي أبو الوليد الباجي، أن

الولاة كانوا بقرطبة إذا ولوا رجلاً شرطوا عليه في سجله ألا يخرج عن قول

ابن القاسم ما وجده. قال الشيخ أبو بكر: وهذا جهل عظيم منهم. يُريد

لأن الحق ليس في شيء معين، وإنما قال الشيخ أبو بكر هذا لوجود

المجتهدين وأهل النظر في قضاة ذلك الزمان - وعد جماعة منهم - ثم قال:

وهذا الذي ذكره الباجي ورد نحوه عن سحنون وذلك أنه ولى رجلاً القضاء،

وكان الرجل ممن سمع بعض كلام أهل العراق، فشرط عليه سحنون ألا

يقضي إلا بقول أهل المدينة ولا يتعدى ذلك. قال ابن راشد: وهذا يؤيد

ما ذكره الباجي ويؤيد ما قاله الشيخ أبو بكر. فكيف يقول ذلك، والمالكية

إذا تحاكموا فإنما يأتون ليحكم بينهم بمذهب مالك) . انتهى.

إيقاظ:

وأمام التعصب المذهبي، أخذ العلماء بتفنيد ذلك في تضاعيف

مؤلفاتهم، وفي مؤلفات مستقلة، منهم: ابن عبد البر في " جامعه "

والشاطبي في " الاعتصام " وابن القيم في " الإعلام " وشيخه في مواضع من

كتبه. وأبو شامة في كتابه " المؤمل في الرد إلى الأمر الأول " والشوكاني في

" القول المفيد " وشيخنا محمد الأمين الشنقيطي في كتابه " أضواء البيان في

إيضاح القرآن بالقرآن " والفلاني في " إيقاظ همم أولي الأبصار " وغيرها

كثير.

وإن هذه المؤلفات وما جرى مجراها هي في الجملة تفيد منع حمل

الناس على مذهب معين أو قول مقنن. والله أعلم.

و إنه لما صار التقنين في المجلة المذكورة صار دركةً أولى لحلول

القانون الفرنسي.
(আবু বকর আত-তর্তুশি বলেন: আমাকে কাজি আবুল ওয়ালিদ আল-বাজি অবহিত করেছেন যে, কর্ডোভার শাসকরা যখন কাউকে কাজি নিয়োগ দিতেন, তখন তার নিয়োগপত্রে এই শর্তারোপ করতেন যে, ইবনু কাসিমের বক্তব্য বিদ্যমান থাকা অবস্থায় তিনি যেন তা থেকে বিচ্যুত না হন। শাইখ আবু বকর বলেন: এটি তাদের পক্ষ থেকে এক চরম অজ্ঞতা। তিনি এর দ্বারা বুঝাতে চেয়েছেন যে, সত্য কোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শাইখ আবু বকর মূলত সেই যুগের কাজিদের মধ্যে মুজতাহিদ ও গভীর অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তিদের উপস্থিতির কারণেই এটি বলেছিলেন—তিনি তাদের একটি দলের নামও উল্লেখ করেছেন—অতঃপর তিনি বলেন: আল-বাজি যা উল্লেখ করেছেন, সুহনুন থেকেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। বিষয়টি হলো, তিনি এক ব্যক্তিকে বিচারকের পদে নিয়োগ দিয়েছিলেন; যেহেতু সেই ব্যক্তি ইরাকের আলিমদের কিছু কথা শুনেছিলেন, তাই সুহনুন তার ওপর শর্ত দিলেন যে, তিনি যেন মদিনাবাসীদের বক্তব্য ছাড়া অন্য কিছুর ভিত্তিতে ফয়সালা না করেন এবং তা অতিক্রম না করেন। ইবনু রাশিদ বলেন: এটি আল-বাজি যা উল্লেখ করেছেন এবং শাইখ আবু বকর যা বলেছেন তাকে সমর্থন করে। তিনি কীভাবে এমন কথা বলেন, অথচ মালিকি মাযহাবের অনুসারীরা যখন বিচারের জন্য আসতেন, তখন তাদের মধ্যে ইমাম মালিকের মাযহাব অনুযায়ী ফয়সালা করার উদ্দেশ্যেই আসতেন।) সমাপ্ত।

সতর্কবার্তা:

মাযহাবগত গোঁড়ামির বিপরীতে আলিমগণ তাদের রচনার বিভিন্ন স্থানে এবং স্বতন্ত্র গ্রন্থে এর অসারতা প্রমাণ করতে শুরু করেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন: ইবনু আবদিল বার তার "জামি" গ্রন্থে, আশ-শাতিবি তার "আল-ইতিসাম" গ্রন্থে, ইবনুল কায়্যিম তার "আল-ইলাম" গ্রন্থে এবং তার শাইখ তার কিতাবের বিভিন্ন স্থানে। এছাড়া আবু শামাহ তার "আল-মুআম্মাল ফির-রদ্দি ইলাল আমরিল আউয়াল" গ্রন্থে, আশ-শাওকানি তার "আল-কাউলুল মুফিদ" গ্রন্থে, আমাদের শাইখ মুহাম্মাদ আল-আমিন আশ-শানকিতি তার "আদওয়াউল বায়ান ফি ইদাহিল কুরআন বিল কুরআন" গ্রন্থে, আল-ফুলানি তার "ইকাজু হিমামি উলিল আবসার" গ্রন্থে এবং এ জাতীয় আরও অনেকে।

এই গ্রন্থসমূহ এবং এই ধারার অন্যান্য রচনাগুলো সামগ্রিকভাবে মানুষকে কোনো নির্দিষ্ট মাযহাব বা বিধিবদ্ধ মতবাদ অনুসরণে বাধ্য করা নিষিদ্ধ হওয়ার ফায়দা প্রদান করে। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

আর যখন উল্লিখিত 'মাজাল্লাহ'-তে আইন বিধিবদ্ধ করা হলো, তখন তা ফরাসি আইন প্রবর্তনের প্রথম ধাপে পরিণত হলো।
(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল (পৃষ্ঠা: ২৫)
ز - إنه لما صار تقنين الأحوال الشخصية - على حد اصطلاحهم - في

أوائل هذا القرن، لم يستقر على ما حصل عليه الاتفاق.

ح - إن موحد الجزيرة العربية بعد فرقتها إمام المسلمين الملك

عبد العزيز بن عبد الرحمن الفيصل آل سعود رحمه الله عرض أمر تلك

الفكرة شورى على علماء المملكة منذ نصف قرن تقريباً، فاجتمع رأيه مع

العلماء على ردها رحمة الله تعالى عليهم أجمعين (1) .

--------------------------------------------

(1) انظر بيان ذلك في رسالة الشيخ عبد الله بن عبد الرحمن بن بسام عضو هيئة التمييز

بالمنطقة الغربية - المسماة (تقنين الشريعة. أضراره ومفاسده) .
ঝ - যখন ব্যক্তিগত আইন সংকলন—তাদের পারিভাষিক শব্দ অনুযায়ী—শুরু হলো

এই শতাব্দীর শুরুতে, তখন তা ঐকমত্যের ভিত্তিতে কোনো সিদ্ধান্তে স্থির হতে পারেনি।

ঞ - আরব উপদ্বীপের বিভক্তির পর এর একত্রকারী, মুসলিমদের ইমাম বাদশাহ

আব্দুল আজিজ ইবনে আব্দুর রহমান আল ফয়সাল আল সৌদ (রাহিমাহুল্লাহ) সেই

ধারণাটি প্রায় আধা শতাব্দী আগে রাজ্যের আলেমদের কাছে পরামর্শের জন্য পেশ করেছিলেন। ফলে তাঁর এবং

আলেমদের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত এটি প্রত্যাখ্যান করার ওপর স্থির হয়েছিল। আল্লাহ তাআলা তাঁদের সকলের ওপর রহমত বর্ষণ করুন। (১)।

--------------------------------------------

(১) পশ্চিম অঞ্চলের তামিয (আপিল) বোর্ডের সদস্য শেখ আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে বাসসামের রিসালাহ (পুস্তিকা)—

যার নাম (তাকনীনুশ শারিয়াহ: আদরা্রুহু ওয়া মাফাসিদুহু)—তাতে এর বিস্তারিত বিবরণ দেখুন।
(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌المطْلَبُ الثاني:

في بَيَان أوجُه القول بالإلزام مَع بيَان المصالح

المترتّبة عَليْه ثمَّ اتباعِها بمُناقشتها

وإيضاح المطلب في فصولٍ ثلاثة
দ্বিতীয় প্রসঙ্গ:

বাধ্যতামূলক করার অভিমতের দিকসমূহ এবং এর ফলে উদ্ভূত জনকল্যাণসমূহের বর্ণনা

এবং অতঃপর সেগুলোর পর্যালোচনার অনুসরণে

তিনটি পরিচ্ছেদে এই প্রসঙ্গের স্পষ্টীকরণ
(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌الفصل الأول

في أوجه القول بالإلزام

وجه القائلون بالإلزام قولهم به بطائفة من الأدلة أهمها ما يلي:

‌‌1- استدلوا بقول الله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا

الرَّسُولَ وَأُوْلِي الأَمْرِ مِنْكُمْ} (1) الآية.

قالوا: فإن ولي الأمر إذا أمر بما ليس فيه معصية، ولا يتعارض مع

أحكام الشريعة، وجبت طاعته لهذه الآية، والإلزام بالتقنين ليس فيه معصية

لا ظاهراً ولا ضمناً، ولا يتعارض مع الشريعة بوجه وهو مصلحة رآها الوالي

فيجب الالتزام بما ألزم به.

‌‌2- والتقنين قد وجد ما يدل له من فعل السلف؛ حيث جمع عثمان

رضي الله عنه الناس على مصحف واحد، وقراءة واحدة، وأحرق ما عداه

من المصاحف، وفيها القراءات الشاذة والمتواترة. وذلك سداً منه لباب

الخلاف فكذلك هنا.

‌‌3- قالوا: الأصل في الشريعة كما ذكره علماء الأصول: أن تكون

معلومة أو في حكم المعلومة، لتكون ملزمة، أي فينبغي أن يكون ما هنا

كذلك.

--------------------------------------------

(1) الآية رقم 59 من سورة النساء.
‌প্রথম পরিচ্ছেদ

বাধ্যতামূলক করার স্বপক্ষে মতামতের দিকসমূহ

যারা (আইন) বাধ্যতামূলক করার পক্ষে মত দিয়েছেন, তারা তাদের বক্তব্যের স্বপক্ষে একগুচ্ছ দলিলের মাধ্যমে যুক্তি পেশ করেছেন, যার মধ্যে প্রধান হলো নিম্নরূপ:

‌‌১- তারা মহান আল্লাহর এই বাণী দ্বারা দলিল পেশ করেছেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো আর তোমাদের মধ্য থেকে যারা উলিল আমুর (কর্তৃত্বের অধিকারী) তাদের।} (১) - আয়াত।

তারা বলেন: যখন উলিল আমুর (কর্তৃত্বের অধিকারী) এমন কোনো নির্দেশ দেন যাতে কোনো পাপ নেই এবং যা শরীয়তের বিধানের সাথে সাংঘর্ষিক নয়, তখন এই আয়াতের ভিত্তিতে তার আনুগত্য করা আবশ্যক হয়ে যায়। আর আইন বিধিবদ্ধকরণের মাধ্যমে বাধ্যতামূলক করার মধ্যে প্রকাশ্য বা প্রচ্ছন্ন কোনো পাপ নেই এবং এটি কোনোভাবেই শরীয়তের সাথে সাংঘর্ষিক নয়; বরং এটি একটি জনকল্যাণমূলক কাজ যা শাসক সমীচীন মনে করেছেন, তাই তিনি যা বাধ্যতামূলক করেছেন তা মেনে চলা ওয়াজিব বা আবশ্যক।

‌‌২- আইন বিধিবদ্ধকরণের সপক্ষে সালাফদের কর্মপন্থার মধ্যেও দলিল খুঁজে পাওয়া যায়; কেননা উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) মানুষকে একটি মাত্র মাসহাফ এবং একটি মাত্র কিরাআতের ওপর ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন এবং তা ব্যতীত অন্যান্য মাসহাফগুলো জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন, যার মধ্যে শায এবং মুতাওয়াতির উভয় প্রকার কিরাআত বিদ্যমান ছিল। তিনি এটি করেছিলেন মতভেদের পথ রুদ্ধ করার জন্য; এখানেও বিষয়টি তদ্রূপ।

‌‌৩- তারা বলেন: শরীয়তের মূলনীতি হলো—যেমনটি উসুলবিদগণ উল্লেখ করেছেন—আইন বাধ্যতামূলক হওয়ার জন্য তা পরিজ্ঞাত বা পরিজ্ঞাত হওয়ার পর্যায়ভুক্ত হওয়া আবশ্যক; অর্থাৎ এখানেও বিষয়টি তেমন হওয়া উচিত।

--------------------------------------------

(১) সূরা আন-নিসা, আয়াত নম্বর ৫৯।
(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌4- ثم إن التقنين يكون باختيار جماعة من علماء العصر والإجماع

ينعقد بقول الأكثر من أهل العصر في قول الجمهور والمخالفة شذوذ فهي

مطروحة. إذاً فينبغي الإلزام به.

‌‌5- قالوا: ومع هذا فليس هناك دليل يقضي برده، فهو من المصالح

المرسلة. وقد رآه المسلمون حسناً فهو عند الله حسن.

ومنها ما يأتي في الفصل بعده:
৪- তারপর আইন প্রণয়ন এই যুগের একদল আলেমদের নির্বাচনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয় এবং ইজমা

জমহুর ওলামাদের মতে সমসাময়িক যুগের অধিকাংশ আলেমদের মতামতের ভিত্তিতেই সাব্যস্ত হয়, আর এর বিরোধিতা করা হচ্ছে বিচ্যুতি, তাই তা

বর্জনীয়। সুতরাং, এটি বাধ্যতামূলক করা সমীচীন।

৫- তাঁরা বলেছেন: তা সত্ত্বেও এমন কোনো দলিল নেই যা একে প্রত্যাখ্যানের দাবি রাখে, সুতরাং এটি মাসালিহে

মুরসালা-এর অন্তর্ভুক্ত। আর মুসলিমরা যাকে উত্তম মনে করে আল্লাহর কাছেও তা উত্তম।

এর অন্তর্ভুক্ত কিছু পরবর্তী পরিচ্ছেদে আসবে:
(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌الفصل الثاني

فيما يترتب على الإلزام من مصَالح

ويندفع به من مفاسد

‌‌6- وإنه يترتب على الإلزام بالأحكام المقننة مصالح ويندفع مفاسد

والشريعة مبنية على جلب المصالح وتكثيرها ودفع المفاسد وتقليلها ومن

ترتبات هذا الفصل ما يلي:

أ - بالتقنين الملزم به تكون الأحكام الواجبة التطبيق محددة مبينةً

معروفةً للقاضي والمتقاضي. وذلك أدعى إلى تحقيق العدالة والتيسير على

الناس، وأكفل لتحقيق المساواة بينهم، وطمأنة نفوسهم بالنسبة للقضاة،

فلم يكن بدٌّ من وضع الأحكام الشرعية القضائية على هذا المنوال.

ب - إن عدم التدوين كان سبباً لتهرب بعض المدعين من المحاكم

الشرعية إلى محاكم فرنسا، وأن أولئك المدعين قالوا: " إن العدل غير

مضمون في تحكيم الشريعة الإسلامية ".

ففي هذا تشويه لسمعة البلاد التي تحكم الشريعة، فيتعين إذاً التدوين

الملزم لدفع هذه المفسدة. إذ المدعين لعدم ضمان العدل في المحاكم

الشرعية عللوا ذلك بعدم وجود نصوص مدونة ومعروفة مسبقاً لدى الأطراف

ليلتزموا بها على نحو ما هو معهود في جميع قوانين العالم.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

বাধ্যবাধকতার ফলে অর্জিত কল্যাণ

এবং এর মাধ্যমে দূরীভূত অকল্যাণ প্রসঙ্গে

৬- এবং সংবিধিবদ্ধ বিধানাবলি পালনে বাধ্যবাধকতার ফলে বিভিন্ন কল্যাণ অর্জিত হয় এবং নানাবিধ অকল্যাণ বিদূরিত হয়।

আর শরীয়ত কল্যাণ অর্জন ও তা বৃদ্ধি করা এবং অকল্যাণ প্রতিহত করা ও তা হ্রাস করার ওপর প্রতিষ্ঠিত। আর

এই পরিচ্ছেদের ফলাফলগুলো নিম্নরূপ:

ক - বাধ্যতামূলত সংবিধিবদ্ধকরণের মাধ্যমে প্রয়োগযোগ্য বিধানাবলি সুনির্দিষ্ট ও সুস্পষ্টভাবে

বিচারক ও বিচারপ্রার্থী উভয়ের কাছে পরিচিত থাকে। আর এটি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের জন্য সহজসাধ্য করার ক্ষেত্রে অধিক সহায়ক,

এবং তাদের মধ্যে সমতা নিশ্চিত করতে এবং বিচারকদের ব্যাপারে তাদের মনে প্রশান্তি আনয়নে অধিকতর কার্যকর।

সুতরাং বিচারিক শরীয়াহ বিধানসমূহ এই পদ্ধতিতে প্রণয়ন করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প ছিল না।

খ - সংকলনের অভাব কিছু কিছু বাদীর শরীয়াহ আদালত থেকে

ফ্রান্সের আদালতের দিকে পালিয়ে যাওয়ার কারণ ছিল; এবং ঐ সকল বাদী বলেছিল: "নিশ্চয়ই ন্যায়বিচার

ইসলামি শরীয়াহর বিচারের মাধ্যমে নিশ্চিত নয়।"

এতে শরীয়াহ দ্বারা শাসিত দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়, সুতরাং এই অকল্যাণ রোধে বাধ্যতামূলক সংকলন

অপরিহার্য। কেননা শরীয়াহ আদালতে ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা নেই বলে দাবিদাররা

এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন যে, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর নিকট আগে থেকে পরিচিত কোনো সংকলিত ও লিপিবদ্ধ বিধান বিদ্যমান নেই

যাতে তারা সে অনুযায়ী চলতে পারে, যেমনটি বিশ্বের সকল আইনের ক্ষেত্রে প্রচলিত রয়েছে।
(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল (পৃষ্ঠা: ৩২)
جـ - إن استباط الأحكام الفقهية لتطبيق الحكم منها على واقع

القضية يحتاج إلى مهارة علمية، وملكة قوية، ودراية تامة بالكتب ومنزلتها

وتمييز قوي الروايات من ضعيفها، وهذه المرتبة وإن توفرت في البعض إلا

أنه يقصر عن بلوغها الأكثر.

د - ثم من المعلوم أن أكثر الفقهيات فيها خلاف لا بين المذاهب الدائرة

فحسب، بل خلاف حتى في المذهب نفسه، فيكون هناك مجال للحكم في

قضية على أحد القولين أو الأقوال، والحكم بقضية أخرى على القول الثاني

أو أحد الأقوال، ومعنى هذا أن الحكم قد يكون بالتشهي وفي الإلزام بأحكام

معينة دفع لذلك.

هـ - إنَّهُ يكون قضيتان متماثلتان هذه عند قاضي بلد، والثانية عند

قاضي بلد آخر، فيختلفان في الحكم فيها فينتج من هذا التباين، تظلم

ووقيعة في عرض القاضي والقضاء.

و إنه يقع تجاذب بين حاكم القضية ومدقق الحكم لا من حيث واقع

القضية ولكن من حيث تطبيق الحكم الشرعي على واقعها. ففي هذا من

الإضرار كما في سابقه.

فسداً لباب التقول، وإشغال الجهات بالملاحاة والمراجعات إلى غير

ذلك من دفع المفاسد وجلب المصالح يجب تقنين الأحكام والإلزام

بالقضاء بها بحيث لا يجوز تخطيها ولا الحكم على خلاف موادها.
গ - কোনো বিষয়ের বাস্তব প্রেক্ষাপটে প্রয়োগের নিমিত্তে ফিকহী বিধানসমূহ আহরণ করার জন্য বৈজ্ঞানিক দক্ষতা, শক্তিশালী প্রজ্ঞা এবং কিতাবসমূহ ও সেগুলোর মর্যাদা সম্পর্কে পূর্ণ ব্যুৎপত্তি থাকা প্রয়োজন। সেই সাথে বর্ণনাসমূহের সবল ও দুর্বলের মধ্যে পার্থক্য করার সুদৃঢ় পারদর্শিতা থাকা আবশ্যক। আর এই স্তরটি যদিও কিছু ব্যক্তির মাঝে বিদ্যমান, তবে অধিকাংশ মানুষই তা অর্জনে সক্ষম হয় না।

ঘ - অতঃপর এটি সর্বজনবিদিত যে, অধিকাংশ ফিকহী মাসআলায় মতভেদ রয়েছে; কেবল প্রচলিত মাযহাবসমূহের মধ্যেই নয়, বরং একই মাযহাবের অভ্যন্তরেও মতপার্থক্য বিদ্যমান। ফলে কোনো একটি ঘটনায় বিদ্যমান দুই বা ততোধিক মতের যেকোনো একটির ভিত্তিতে ফয়সালা প্রদান এবং অন্য আরেকটি ঘটনায় দ্বিতীয় কোনো মত বা অন্য কোনো মতের ভিত্তিতে ফয়সালা প্রদানের অবকাশ তৈরি হয়। এর অর্থ হলো, বিচারকার্য কখনো কখনো প্রবৃত্তি বা খেয়াল-খুশি অনুযায়ী হতে পারে। নির্দিষ্ট কিছু বিধান পালনে বাধ্যবাধকতা আরোপের মাধ্যমে এই সমস্যার অপনোদন সম্ভব।

ঙ - একই ধরনের দু'টি মামলা হতে পারে যার একটি কোনো এক শহরের বিচারকের নিকট এবং অন্যটি অন্য কোনো শহরের বিচারকের নিকট পেশ করা হয়েছে। তখন তারা উক্ত মামলার রায়ে পরস্পর ভিন্নমত পোষণ করেন। ফলে এই বৈষম্য থেকে জুলুমের অভিযোগ এবং বিচারক ও বিচারব্যবস্থার মানহানি ঘটে।

চ - এছাড়া মামলার বিচারক এবং রায়ের নিরীক্ষকের মধ্যে টানাপড়েন সৃষ্টি হয়; যা মামলার বাস্তব পরিস্থিতির কারণে নয় বরং সেই পরিস্থিতির ওপর শরঈ বিধান প্রয়োগের পদ্ধতিকে কেন্দ্র করে। এর ফলে পূর্বের ন্যায় ক্ষতির সৃষ্টি হয়।

অতঃপর ভিত্তিহীন অপবাদ ও গীবতের পথ রুদ্ধ করতে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে বিবাদ ও পর্যালোচনার গোলকধাঁধায় লিপ্ত রাখা পরিহারসহ অন্যান্য অনিষ্ট দূরীকরণ এবং জনকল্যাণ সাধনের নিমিত্তে বিধানসমূহকে বিধিবদ্ধ করা এবং সে অনুযায়ী বিচার করা বাধ্যতামূলক করা আবশ্যক। যাতে করে উক্ত বিধানসমূহ লঙ্ঘন করা অথবা এর ধারাসমূহের পরিপন্থী ফয়সালা প্রদান করা বৈধ না থাকে।
(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌الفصل الثالث

في مناقشة أوجه الإِلزام على لسان الممانع

هذا وللمانعين من الإلزام مناقشات وإيرادات على هذه الأوجه،

وتبيانها على ما يلي:

أولاً: أما الاستدلال بالآية فإنه لا يتجه لما يلي: وهو أن الله سبحانه

أمر بطاعته وطاعة رسوله صلى الله عليه وسلم، وحذف الفعل في طاعة أولي الأمر، لأن

طاعتهم إنما تكون فيما فيه طاعة لله ولرسوله صلى الله عليه وسلم قاله غير واحد من علماء

التفسير. وكما أن مرد التنازع في الأمر هو إلى الله وإلى رسوله صلى الله عليه وسلم كما

في أخر هذه الآية، فكذلك الطاعة. وقد جاءت السنة المطهرة تحدد ذلك

وتبينه من أن الطاعة لولي الأمر إنما تكون بالمعروف وفيما فيه معروف،

وهو ما جاءت به الشريعة لا غير. ففي الصحيحين أنه صلى الله عليه وسلم قال: " على

المرء المسلم السمع والطاعة فيما أحب وكره إلا أن يؤمر بمعصية فإن أمر

بمعصية فلا سمع ولا طاعة ".

وهذه الجمل الشريفة من معتقد أهل السنة والجماعة كما عقدها

الطحاوي في العقيدة فقال: (1)

(ولا نرى الخروج على أئمتنا وولاة أمورنا وأن جاروا، ولا ندعوا عليهم

--------------------------------------------

(1) الطحاوية مع شرحها ص: 428.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ

বিরোধিতাকারীদের ভাষ্যে বাধ্যবাধকতার দিকগুলো নিয়ে আলোচনা

এদিকে, যারা এই বাধ্যবাধকতাকে অস্বীকার করেন, তাদের এই বিষয়গুলোর ওপর কিছু আলোচনা ও আপত্তি রয়েছে,

এবং সেগুলোর স্পষ্টীকরণ নিম্নরূপ:

প্রথমত: আয়াতটি দিয়ে দলিল পেশ করার বিষয়টি নিম্নোক্ত কারণে যথাযথ নয়: সেটি হলো, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা

তাঁর আনুগত্য এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্যের নির্দেশ দিয়েছেন, কিন্তু উলুল আমরের (কর্তৃপক্ষ) আনুগত্যের ক্ষেত্রে ক্রিয়াটি বাদ দিয়েছেন, কারণ

তাদের আনুগত্য কেবল সেই বিষয়েই হবে যে বিষয়ে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য বিদ্যমান। তাফসীর শাস্ত্রের একাধিক

আলিম এ কথা বলেছেন। আর এই আয়াতের শেষে যেমনটি বলা হয়েছে যে, কোনো বিষয়ে বিরোধ দেখা দিলে তার সমাধান আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে ফিরিয়ে দিতে হবে,

আনুগত্যের বিষয়টিও ঠিক তদ্রূপ। আর পবিত্র সুন্নাহ এটিকে সুনির্দিষ্ট

ও সুস্পষ্ট করেছে যে, শাসক বা কর্তৃপক্ষের আনুগত্য কেবল মারূফ বা সৎ কাজের ক্ষেত্রে এবং সেই বিষয়েই হবে যাতে কল্যাণ রয়েছে,

যা শরিয়ত নির্দেশিত বিষয় ছাড়া অন্য কিছু নয়। সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "একজন

মুসলিম ব্যক্তির জন্য শোনা ও আনুগত্য করা আবশ্যক, সে যা পছন্দ করে বা অপছন্দ করে—উভয় ক্ষেত্রে; যতক্ষণ না তাকে কোনো পাপাচারের নির্দেশ দেওয়া হয়। যদি তাকে

পাপাচারের নির্দেশ দেওয়া হয়, তবে আর কোনো শোনা বা আনুগত্য নেই।"

এই মহান বাক্যগুলো আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদার অন্তর্ভুক্ত, যেমনটি

ইমাম তহাবী তাঁর আকিদা গ্রন্থে বিধৃত করে বলেছেন: (১)

(আমরা আমাদের ইমাম বা শাসকদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা বৈধ মনে করি না, যদিও তারা অন্যায় করেন; এবং আমরা তাদের বিরুদ্ধে বদদোয়া করি না

--------------------------------------------

(১) শারহসহ আত-তহাবিইয়াহ, পৃষ্ঠা: ৪২৮।
(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল (পৃষ্ঠা: ৩৪)
ولا ننزع يداً من طاعتهم. ونرى طاعتهم من طاعة الله عز وجل فريضةً ما

لم يأمروا بمعصية. وندعو لهم بالصلاح والمعافاة) . انتهى.

لهذا فإن ولي الأمر إذا أمر وألزم بما فيه طاعة لله ولرسوله صلى الله عليه وسلم كجباية

الزكوات مثلاً - وجبت طاعته ولم تجز مخالفته إذ هذا معروف تجب

طاعته فيه - ولو فرض أن ثمة تنازعاً لوجب رد أمر ذلك التنازع إلى أمر

الله وأمر رسوله صلى الله عليه وسلم فما وافقهما فهو الطاعة في المعروف لا يجوز خلافه.

وفي موضع بحثنا هذا لو أمر الإمام وأوجب على القضاة الحكم بأحد

القولين أو الأقوال في أحكام مناطها الاجتهاد. وذلك المأمور المتأهل يعتقد

ديناً وشرعاً متحرياً الصواب أن الصحيح مقابل ما أُلزِمَ به. فهل يجوز فيمن

سبيله كذلك الحكم بما أُلزم به وترك ما يعتقده؟

قال محمد بني إدريس الشافعي رحمه الله تعالى: (أجمع الناس على

أنه من استبانت له سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم فليس له أن يدعها لقول غيره) .

انتهى.

وسيأتي إن شاء الله تعالى زيادة بيان لهذا عند ذكر احتجاج المانعين

بهذه الآية. والله أعلم.

ثانياً: أما أن عثمان رضي الله عنه جمع الناس على قراءة واحدة

وأحرق باقي القراءات … إلخ، فلا بد أولاً من تصحيح الدليل، ثم يكون

الدفع، فمن المعلوم أن القرآن كان مكتوباً على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم، لكنه

كان مفرقاً في العسب واللخاف. ثم إن أبا بكر رضي الله عنه جمعه في

صحف، هذا أمر مشهورة أخباره في الصحاح وغيرها.
আমরা তাদের আনুগত্য থেকে হাত প্রত্যাহার করব না। আমরা তাদের আনুগত্যকে মহান আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লার আনুগত্যেরই অংশ হিসেবে একটি ফরজ মনে করি, যতক্ষণ

না তারা কোনো পাপের আদেশ দেন। আর আমরা তাদের সংশোধন এবং সুস্থতার জন্য দোয়া করি। সমাপ্ত।

এই কারণে, শাসনকর্তা যখন এমন কোনো কিছুর আদেশ দেন বা বাধ্য করেন যাতে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আনুগত্য রয়েছে—যেমন আদায় করা

যাকাত, উদাহরণস্বরূপ—তখন তার আনুগত্য করা ওয়াজিব হয়ে যায় এবং তার বিরোধিতা করা বৈধ হয় না। কারণ এটি একটি সৎকাজ (মারুফ), যাতে

আনুগত্য করা আবশ্যক—আর যদি ধরে নেওয়া হয় যে সেখানে কোনো বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে, তবে সেই বিরোধপূর্ণ বিষয়টি ফিরিয়ে দেওয়া ওয়াজিব

আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নির্দেশের দিকে। অতঃপর যা এই দুটির অনুকূলে হবে, সেটিই সৎকাজে আনুগত্য হিসেবে গণ্য হবে এবং তার বিরোধিতা করা জায়েয হবে না।

আর আমাদের এই আলোচনার ক্ষেত্রে, যদি ইমাম (শাসক) বিচারকদের জন্য এমন কোনো বিষয়ে দুটি বা একাধিক মতের মধ্য থেকে কোনো একটির ভিত্তিতে ফয়সালা করা বাধ্যতামূলক করে দেন

যে বিষয়গুলো ইজতিহাদের ওপর নির্ভরশীল; এমতাবস্থায় সেই যোগ্য আদিষ্ট ব্যক্তি যদি এই বিশ্বাস পোষণ করেন

যে, দ্বীন ও শরীয়তের বিচারে সঠিক মতটি অন্বেষণ করে যা সাব্যস্ত হয়েছে তার বিপরীতে তাকে যে বিষয়ের ওপর বাধ্য করা হয়েছে তা সঠিক নয়। তবে কি এমন ব্যক্তির জন্য

জায়েজ হবে যার অবস্থা এমন, যে বিষয়ে তাকে বাধ্য করা হয়েছে তার ওপর ফয়সালা করা এবং নিজের বিশ্বাস বর্জন করা?

মুহাম্মদ বিন ইদ্রিস আশ-শাফিঈ (রাহিমাহুল্লাহ তায়ালা) বলেছেন: (মানুষ এই বিষয়ে একমত হয়েছে যে,

যার কাছে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহ স্পষ্ট হয়ে গেছে, তার জন্য অন্য কারো কথার কারণে তা বর্জন করা জায়েয নয়।)

সমাপ্ত।

ইনশাআল্লাহ তায়ালা, নিষেধকারীদের এই আয়াতের মাধ্যমে দলিল প্রদানের আলোচনার সময় এ বিষয়ে আরও

বিস্তারিত বর্ণনা আসবে। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

দ্বিতীয়ত: উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) যে মানুষকে একটি কিরাআতের ওপর একত্রিত করেছিলেন

এবং বাকি কিরাআতগুলো পুড়িয়ে দিয়েছিলেন … ইত্যাদি বিষয়ে—প্রথমেই দলিলটি সংশোধন করা প্রয়োজন, এরপর হবে

এর নিরসন। এটি সুপরিচিত যে, কুরআন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে লিখিত ছিল, তবে তা

খেজুরের ডাল ও পাতলা পাথরের টুকরোয় বিক্ষিপ্ত ছিল। অতঃপর আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তা একত্রিত করেন

সহীফাসমূহে; এটি এমন একটি বিষয় যার সংবাদসমূহ সিহাহ এবং অন্যান্য গ্রন্থে প্রসিদ্ধ।
(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল (পৃষ্ঠা: ৩৫)
وقد ذكر الطحاوي في العقيدة (1) ، أن مذهب أهل السنة عدم الجدال

في القرآن وذكر الشارح من معانيه … إنا لا نحاول في القراءة الثابتة، بل

نقرؤه بكل ما ثبت وصح، وذكر حديث ابن مسعود رضي الله عنه عند

البخاري في قصة رجل قرأ آية كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يقرأ خلافها وفيه قال

ابن مسعود فأخذت بيده فانطلقت به إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فذكرت فعرفت في

وجهه الكراهية وقال: " كلاكما محسن لا تختلفوا فإن من كان قبلكم

اختلفوا فهلكوا " قال الشارح: فنهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الاختلاف الذي فيه

جحد كل واحد من المختلفين ما مع صاحبه من الحق.. ولهذا قال حذيفة

رضي الله عنه لعثمان رضي الله عنه:

أدرك هذه الأمة لا تختلف كما اختلفت الأمم قبلهم، فجمع الناس

على حرف واحد اجتماعاً سائغا وهم معصومون أن يجتمعوا على ضلالة

ولم يكن في ذلك ترك لواجب، إذ كانت قراءة القران على سبعة أحرف

جائزة لا واجبة رخصةً من الله تعالى وقد جعل الاختيار إليهم في أي حرف

اختاروه) . انتهى.

فتبين من هذا أن عثمان رضي الله عن إنما جمع الناس على حرف

واحد لا على قراءة واحدة، والإجماع منعقد على جواز الأخذ بالقراءة بكل

قناعة سبعية كما هو معلوم.

قال أبو شامة (2) ظن قوم أن القراءات السبع الموجودة الآن هي التي

أريدت في الحديث وهو خلاف إجماع أهل العلم قاطبة.

--------------------------------------------

(1) ص: 290.

‌‌(2) انظر: فتح الباري لابن حجر:

9 /30.
ইমাম তাহাবী ‘আল-আকীদাহ’ (১) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, আহলুস সুন্নাহর মাযহাব হলো বিতর্ক না করা

কুরআনের বিষয়ে। এবং ব্যাখ্যাকারক এর অর্থসমূহ থেকে উল্লেখ করেছেন যে … আমরা প্রমাণিত কিরাআতের ক্ষেত্রে কোনো তর্কে লিপ্ত হই না, বরং

আমরা তা পাঠ করি যা কিছু প্রমাণিত ও সহীহ হয়েছে তার সবটুকু দিয়ে। আর তিনি ইবনে মাসউদ (রা.)-এর একটি হাদীস উল্লেখ করেছেন যা আছে

বুখারীতে, এক ব্যক্তির ঘটনা সম্পর্কে যে এমন এক আয়াত পাঠ করেছিল যা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ভিন্নভাবে পাঠ করতেন। তাতে বলা হয়েছে যে,

ইবনে মাসউদ বলেন: অতঃপর আমি তার হাত ধরলাম এবং তাকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে নিয়ে গেলাম। এরপর আমি বিষয়টি উল্লেখ করলে আমি চিনতে পারলাম তাঁর

চেহারায় অপছন্দনীয়তার ছাপ। তিনি বললেন: "তোমরা উভয়েই নেক আমলকারী; তোমরা মতবিরোধ করো না, কারণ তোমাদের পূর্বে যারা ছিল

তারা মতবিরোধ করেছিল এবং ধ্বংস হয়েছিল।" ব্যাখ্যাকারক বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এমন মতবিরোধ থেকে নিষেধ করেছেন যাতে

রয়েছে মতবিরোধকারীদের প্রত্যেকের পক্ষ থেকে তার সঙ্গীর কাছে থাকা সত্যকে অস্বীকার করা... এই কারণেই হুযায়ফা

রাযিয়াল্লাহু আনহু উসমান রাযিয়াল্লাহু আনহুকে বলেছিলেন:

এই উম্মতকে রক্ষা করুন যাতে তারা তাদের পূর্ববর্তী উম্মতদের মতো মতবিরোধে লিপ্ত না হয়। অতঃপর তিনি মানুষকে একত্রিত করেন

একটি হারফের ওপর বিধিসম্মতভাবে, আর তারা ভ্রষ্টতার ওপর ঐক্যবদ্ধ হওয়া থেকে সুরক্ষিত;

আর এর মধ্যে কোনো ওয়াজিব বর্জন করা হয়নি, কেননা কুরআনের সাত হারফে পাঠ করা ছিল

বৈধ, ওয়াজিব নয়; যা আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে একটি ছাড় ছিল। আর তারা কোন হারফটি

চয়ন করবেন, সেই ইখতিয়ার তাদের ওপরই ন্যস্ত করা হয়েছিল)। সমাপ্ত।

এ থেকে স্পষ্ট হয় যে, উসমান (রা.) মানুষকে কেবল একটি হারফের ওপর

একত্রিত করেছিলেন, কোনো একটি নির্দিষ্ট কিরাআতের ওপর নয়। আর প্রত্যেকটি

সাত কিরাআতের যেকোনোটি গ্রহণ করার বৈধতার ওপর ইজমা বা সর্বসম্মত ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যেমনটি সুবিদিত।

আবু শামা (২) বলেন: একদল লোক মনে করে যে, বর্তমানে বিদ্যমান সাতটি কিরাআতই হলো সেগুলো যা

হাদীসে উদ্দিষ্ট হয়েছে; অথচ এটি সমস্ত আলেমদের ইজমার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

--------------------------------------------

(১) পৃষ্ঠা: ২৯০।

‌‌(২) দেখুন: ইবনে হাজারের ফাতহুল বারী:

৯/৩০।
(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল (পৃষ্ঠা: ৩৬)
وقال بعض المحققين: المراد بكون عثمان رضي الله عنه جمع الناس

على حرف واحد هي وحدة جنسية لا نوعية، أي لا أنه أخذ حرفاً واحداً

وترك بقية الحروف والله أعلم.

وأما إحراق عثمان رضي الله عنه بقية المصاحف فقد قال الزركشي (1) :

وفي الجملة: إنه أي عثمان رضي الله عنه إمام عدل غير معاند ولا

طاعن في التنزيل، ولم يحرق إلا ما يجب إحراقه، ولهذا لم ينكر عليه أحد

ذلك، بل رضوه وعدوه من مناقبه، حتى قال علي رضي الله عنه: لَوْ وَليت

ما ولى عثمان لعملت بالمصاحف ما عمل. انتهى.

ومن هذا العرض الموجز لجمع عثمان رضي الله عنه … يتبين

التصحيح لما عمله عثمان رضي الله عنه، أما الاستدلال به فهو قياس مع

وجود عدة فوارق منها ما يلي:

‌‌1- إن هذا الجمع الذي جمعه عثمان رضي الله عنه أجمع الصحابة

رضي الله عنهم عليه فأمضوه، وأما الإلزام برأي أو مذهب معين فعامة

أقوالهم وما وقع لهم من الحوادث والاختلاف فيها تفيد منع ذلك. وسيأتي

بيان طرف من أقوالهم إن شاء الله تعالى في مقام أدلة المنع.

‌‌2- إن عامة القراءات الصحيحة التي لم تنسخ لا خلاف في وجوب

العمل بها كالقراءة المعتبرة في المصحف، أما التقنين أو التدوين للأحكام

الملزم بها - فلا يجوز عند من ألزم بها العمل بما عدا هذا القول الملزم

به، والإجماع على خلاف ذلك. قال الخطيب البغدادي (2) :

--------------------------------------------

(1) البرهان في علوم القرآن 1 / 240.

‌‌(2) الفقيه والمتفقه 1 / 173.
এবং জনৈক গবেষক (মুহাক্কিক) বলেছেন: উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) মানুষকে এক হারফের (উপভাষার বা পাঠপদ্ধতির) ওপর একত্রিত করেছেন—একথা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো জাতিগত ঐক্য, শ্রেণিগত নয়; অর্থাৎ এমন নয় যে তিনি কেবল একটি হারফ গ্রহণ করেছেন

এবং বাকি হারফগুলো বর্জন করেছেন, আল্লাহই ভালো জানেন।

আর উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) কর্তৃক অন্যান্য পাণ্ডুলিপি পুড়িয়ে ফেলার ব্যাপারে যারকাশী (১) বলেছেন:

মোটকথা: তিনি অর্থাৎ উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) একজন ন্যায়পরায়ণ ইমাম ছিলেন, তিনি হঠকারী ছিলেন না এবং

ওহী অবতরণের বিষয়ে কোনো অপবাদকারীও ছিলেন না। যা পুড়িয়ে ফেলা আবশ্যক ছিল, তিনি কেবল তা-ই পুড়িয়েছেন। একারণে কেউই তাঁর এই কাজের

প্রতিবাদ করেননি, বরং তাঁরা এতে সন্তুষ্ট ছিলেন এবং একে তাঁর বিশেষ গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য করেছেন। এমনকি আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: উসমান যে বিষয়ের দায়িত্বশীল হয়েছিলেন,

আমি যদি সেই বিষয়ের দায়িত্বশীল হতাম, তবে পাণ্ডুলিপিগুলোর ক্ষেত্রে তিনিও যা করেছেন আমিও তা-ই করতাম। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।

উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর কুরআন সংকলনের এই সংক্ষিপ্ত বর্ণনা থেকে

উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) যা করেছেন তার সঠিকতা স্পষ্ট হয়। তবে একে দলিল হিসেবে পেশ করার বিষয়টি কয়েকটি পার্থক্যের উপস্থিতিতে একটি কিয়াস (অনুমান), যার মধ্যে রয়েছে:

‌‌১- উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) যে সংকলনটি করেছিলেন, সে বিষয়ে সাহাবীগণ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)

ঐকমত্য পোষণ করেছিলেন এবং তা কার্যকর করেছিলেন। পক্ষান্তরে, কোনো নির্দিষ্ট রায় (মত) বা মাযহাব অনুসরণে বাধ্য করার ব্যাপারে তাঁদের

সাধারণ বক্তব্য এবং তাঁদের মধ্যে সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনা ও মতভেদ এটি নিষিদ্ধ হওয়ারই প্রমাণ দেয়। ইনশাআল্লাহ

নিষেধাজ্ঞার দলিলের স্থলে তাঁদের বক্তব্যের একাংশ সামনে আলোচিত হবে।

‌‌২- রহিত হয়নি এমন সকল সহীহ কিরাআত (পাঠপদ্ধতি) অনুযায়ী আমল করা ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে কোনো

মতভেদ নেই, যেমনটি পাণ্ডুলিপির নির্ভরযোগ্য কিরাআতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কিন্তু বিধানাবলিকে বাধ্যতামূলক হিসেবে আইনবদ্ধ বা সংকলন করার ক্ষেত্রে—

যারা এটি আবশ্যক করেন তাদের নিকট সেই নির্ধারিত অভিমত ব্যতীত অন্য কিছুর ওপর আমল করা বৈধ নয়,

অথচ ইজমা (ঐকমত্য) এর পরিপন্থী। আল-খতীব আল-বাগদাদী (২) বলেছেন:

--------------------------------------------

(১) আল-বুরহান ফী উলূমিল কুরআন ১/২৪০।

‌‌(২) আল-ফকীহ ওয়াল মুতাফাক্কিহ ১/১৭৩।
(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল (পৃষ্ঠা: ৩৭)
(باب القول في أنه يجب اتباع ما سنه أئمة السلف من الإجماع

والخلاف وأنه لا يجوز الخروج عنه.. إذا اختلف الصحابة رضي الله عنهم

في مسألة على قولين، وانقرض العصر عليه لم يجز للتابعين أن يتفقوا على

أحد القولين، فإن فعلوا ذلك لم يترك خلاف الصحابة. والدليل عليه: أن

الصحابة أجمعت على جواز الأخذ بكل واحد من القولين، وعلى بطلان

ما عدا ذلك، فإذا صار التابعون إلى القول بتحريم أحدهما لم يجز ذلك

وكان خرقاً للإجماع) . انتهى.

‌‌3- إن المصحف الذي جمع عثمان الناس عليه هو صواب 100%

لا خطأ فيه وحق لا شك فيه فمن أنكره أو شيئاً منه فهو كافر بإجماع

المسلمين، وأما الأحكام الاجتهادية الملزم بها فلا شك في وجود خطأ فيها

لأنها من اجتهاد غير معصوم والخطأ فيها متحتم كما هو معلوم.

‌‌4- إن هذا الذي جمع عثمان الناس عليه هو من جنس خصال الكفارة

من أن الإنسان مخير في واحدة منها فاقتصر على قراءة بحرف واحد كمن

اقتصر فيمن لزمه كفارة على خصلة واحدة منها. وهذا خلاف الإلزام هنا

فهو في أحد القولين أو الأقوال في مسألة الحق فيها في أحد القولين أو

الأقوال. وقد أفصح عن ذلك الحافظ ابن حجر فقال (1) :

(والحق أن الذي جمع في المصحف هو المتفق على إنزاله المقطوع

به المكتوب بأمر النبي صلى الله عليه وسلم.. وما عدا ذلك من القراءات فمما كانت القراءة

جوزت به توسعة على الناس وتسهيلاً عليهم فلما آل الحال إلى ما وقع من

الاختلاف في زمن عثمان رضي الله عنه، وكفر بعضهم بعضاً، اختاروا

--------------------------------------------

(1) فتح الباري 9 / 30.
(পূর্বসূরি ইমামগণ ইজমা এবং মতপার্থক্যের ক্ষেত্রে যা সুন্নাত হিসেবে নির্ধারণ করেছেন তা অনুসরণ করা ওয়াজিব এবং তা থেকে বের হওয়া জায়েজ নয় সেই বিষয়ক পরিচ্ছেদ

যদি সাহাবীগণ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) কোনো বিষয়ে দুটি মতে বিভক্ত হন এবং সেই যুগের সমাপ্তি ঘটে, তবে তাবিঈদের জন্য সেই দুটি মতের কোনো

একটির ওপর ঐক্যবদ্ধ হওয়া জায়েজ নয়। যদি তারা তা করেন, তবে সাহাবীদের মতপার্থক্য পরিত্যক্ত হবে না। এর দলিল হলো: সাহাবীগণ

উভয় মতের যেকোনোটি গ্রহণ করার বৈধতার ওপর এবং তদ্ব্যতীত অন্য সবকিছুর অসারতার ওপর ইজমা পোষণ করেছেন। সুতরাং যদি তাবিঈগণ

এর যেকোনো একটিকে হারাম বলার দিকে যান, তবে তা জায়েজ হবে না এবং তা ইজমা পরিপন্থী হবে)। সমাপ্ত।

‌‌৩- নিশ্চয়ই উসমান (রা.) মানুষকে যে মুসহাফের ওপর একত্রিত করেছেন তা ১০০% সঠিক,

এতে কোনো ভুল নেই এবং এটি নিঃসন্দেহে সত্য। সুতরাং যে ব্যক্তি একে বা এর কোনো অংশকে অস্বীকার করবে, সে মুসলিমদের ইজমা অনুযায়ী কাফির।

আর আবশ্যকীয় ইজতিহাদী বিধানসমূহের ক্ষেত্রে তাতে ভুল থাকার বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই, কারণ সেগুলো মাসুম (নিষ্পাপ) নন এমন ব্যক্তিদের

ইজতিহাদ থেকে এসেছে এবং এতে ভুল হওয়া অবধারিত, যেমনটি জানা রয়েছে।

‌‌৪- উসমান (রা.) যা মানুষকে একত্রিত করেছেন তা কাফফারা বা প্রায়শ্চিত্তের বিধানের প্রকৃতির মতো,

যেখানে মানুষের সামনে একাধিক বিকল্প থেকে একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকে। তাই তিনি একটি মাত্র পাঠরীতির ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছেন, যেমনটি

সেই ব্যক্তি করে যার ওপর কাফফারা ওয়াজিব হয়েছে এবং সে তার একটির ওপর সীমাবদ্ধ থাকে। আর এটি এখানে আবশ্যকীয়তার পরিপন্থী;

কেননা তা এমন কোনো বিষয়ের দুটি বা ততোধিক মতের একটির অন্তর্ভুক্ত যেখানে সত্য সেই মতগুলোর কোনো একটির মধ্যে নিহিত।

হাফেজ ইবনে হাজার (রহ.) এ বিষয়ে স্পষ্টভাবে বলেছেন (১):

(আর সত্য হলো, মুসহাফে যা জমা করা হয়েছে তা অবতীর্ণ হওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্যপূর্ণ এবং অকাট্য,

যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নির্দেশে লেখা হয়েছিল... এছাড়া অন্যান্য পাঠরীতিগুলোর ক্ষেত্রে মানুষের জন্য প্রশস্ততা

এবং সহজ করার উদ্দেশ্যে পড়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। অতঃপর যখন পরিস্থিতি উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সময়ের

মতপার্থক্যের দিকে গড়াল এবং একে অপরকে কাফির বলতে শুরু করল, তখন তারা বেছে নিলেন

--------------------------------------------

(১) ফাতহুল বারী ৯ / ৩০।
(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল (পৃষ্ঠা: ৩৮)
الاقتصار على اللفظ المأذون في كتابته وتركوا الباقي. قال الطبري: وصار

ما اتفق عليه الصحابة من الاقتصار كمن اقتصر مما خُير فيه على خصلة

واحدة.. وقد قرر ذلك الطبري وأطنب فيه وَوَهَّى من خالفه) . انتهى.

ثالثاً: أما أن الأصل في الشريعة أن تكون معلومة لتكون ملزمة..

إلخ. فإن صاحب " أضواء البيان " شيخنا محمد الأمين رحمه الله تعالى أورد

ذلك في مذكرة له فقال في الجواب عنه:

(هذا فيه إجمال مانع من فهم المراد منه، فيقال: ما هو المراد بهذا

العلم؟ الأصل في الشريعة أن تكون معلومة به لتكون ملزمة عند

علماء الأصول، فإن كان المراد به ما هو مشهور عندهم: من أن المطلوب

بالتكليف قصد إيقاع الفعل المأمور به على وجه الامتثال. وأن ذلك يتوقف

على العلم بما هو مكلف به، ودون العلم به لا يكون ملزماً به، لأن

التكليف بالمجهول لا يصح، فهذا صحيح، ولكن لا علاقة بينه وبين

موضوع البحث، لأن المكلف بالقضاء الحاكم وهو عالم أو في حكم

العالم بما هو مكلف به من القضاء.

وإن كان المراد أن الخصوم لا يلزمهم حكم الحاكم حتى يعلموا ما

كلفهم به الحاكم بعد الحكم عليهم، فهذا صحيح أيضاً، ولكنه أجنبي

من الموضوع.

وإن كان المراد أن حكم الحاكم بالشريعة يشترط في إلزامه أن يكون

ما يحكم به الحاكم معلوماً عند جميع الخصوم قبل التحاكم، فهذا من

موضوع البحث ولكنا لم نفهم وجهه، ولم نسمع به عند أحد من أهل

الأصل ولا غيرهم، ولذلك احتجنا لإيضاح المراد به، لأن اشتراط علم

السواد الأعظم بتفاصيل الأحكام التي يحكم لهم وعليهم بها قبل التحاكم
লিখিত রূপ দেওয়ার জন্য অনুমোদিত শব্দের ওপর সীমাবদ্ধ থাকা এবং বাকিগুলো বর্জন করা। তাবারি বলেছেন: সীমাবদ্ধ থাকার বিষয়ে সাহাবীগণ যে একমত হয়েছেন, তা ঐ ব্যক্তির ন্যায় যাকে একাধিক বিষয়ের ইখতিয়ার দেওয়া হয়েছিল এবং সে কেবল একটি বৈশিষ্ট্যের ওপর সীমাবদ্ধ থাকল। তাবারি এটি সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন, এর ওপর বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এবং যারা এর বিরোধিতা করেছে তাদের মতকে দুর্বল সাব্যস্ত করেছেন। সমাপ্ত।

তৃতীয়ত: শরীয়তের মূলনীতি হলো তা পরিজ্ঞাত হতে হবে যাতে তা পালন করা বাধ্যতামূলক হয়... ইত্যাদি। 'আদওয়াউল বায়ান' এর রচয়িতা আমাদের শাইখ মুহাম্মদ আল-আমিন (রাহিমাহুল্লাহ) তার একটি স্মারকলিপিতে এটি উল্লেখ করেছেন এবং এর উত্তরে বলেছেন:

(এর মধ্যে এমন অস্পষ্টতা রয়েছে যা এর উদ্দেশ্য বুঝতে বাধা দেয়। এমতাবস্থায় বলা যায়: এই জ্ঞান দ্বারা উদ্দেশ্য কী? উসূলবিদদের নিকট শরীয়তের মূলনীতি হলো তা পরিজ্ঞাত হতে হবে যাতে তা পালনীয় হিসেবে গণ্য হয়। যদি এর দ্বারা তাদের নিকট প্রসিদ্ধ বিষয়টি উদ্দেশ্য হয় যে: দায়িত্বারোপের (তাকলিফ) দাবি হলো আনুগত্যের সাথে আদিষ্ট কাজটি সম্পাদন করার সংকল্প করা। এবং এটি সেই বিষয়ের জ্ঞানের ওপর নির্ভরশীল যার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে; আর সেই জ্ঞান ব্যতীত তা বাধ্যতামূলক হয় না, কারণ অজ্ঞাত বিষয়ের দায়িত্বারোপ শুদ্ধ নয়—তবে এটি সঠিক, কিন্তু আলোচ্য প্রসঙ্গের সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই। কেননা বিচারকার্য সম্পাদনের দায়িত্বপ্রাপ্ত হলেন বিচারক, আর তিনি যা বিচার করছেন সে বিষয়ে তিনি জ্ঞানী অথবা জ্ঞানীর পর্যায়ভুক্ত।

আর যদি উদ্দেশ্য হয় যে, বিবাদীদের ওপর বিচারকের রায় কার্যকর হবে না যতক্ষণ না তারা রায়ের পর বিচারক তাদের ওপর কী দায়িত্ব আরোপ করেছেন তা জানতে পারে, তবে এটিও সঠিক, কিন্তু এটিও এই প্রসঙ্গের জন্য অসংগতিপূর্ণ।

আর যদি উদ্দেশ্য হয় যে, বিচারকের শরয়ী ফায়সালা কার্যকর হওয়ার জন্য শর্ত হলো বিচারের পূর্বেই সমস্ত বিবাদীদের নিকট বিচারকের রায়ের বিষয়টি পরিজ্ঞাত হতে হবে, তবে এটি আলোচ্য বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু আমরা এর কোনো যৌক্তিক ভিত্তি বুঝতে পারিনি এবং উসূলবিদ বা অন্য কারও কাছ থেকেও এমন কথা শুনিনি। তাই এর উদ্দেশ্য স্পষ্ট করার প্রয়োজন হয়েছে। কেননা বিচারপ্রার্থনার পূর্বে সাধারণ জনগণের জন্য তাদের পক্ষে বা বিপক্ষে প্রদত্ত রায়ের বিস্তারিত বিধান জানা থাকার শর্ত করা...