(খণ্ড: ১)
ইলমু উসূলিল ফিকহি - ত মাকতাবাতুদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: -)
علم أصول الفقه ط مكتبة الدعوة (عبد الوهاب خلاف)
القسم: أصول الفقه
الكتاب :علم أصول الفقه
المؤلف : عبد الوهاب خلاف (المتوفى : 1375هـ)
الناشر : مكتبة الدعوة - شباب الأزهر (عن الطبعة الثامنة لدار القلم)
الطبعة : عن الطبعة الثامنة لدار القلم
عدد الصفحات: 232
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইলম উসুল আল-ফিকহ, মাকতাবাতুদ দাওয়াহ সংস্করণ (আব্দুল ওয়াহহাব খাল্লাফ)
বিভাগ: উসুল আল-ফিকহ
বই :ইলম উসুল আল-ফিকহ
লেখক : আব্দুল ওয়াহহাব খাল্লাফ (মৃত্যু : ১৩৭৫ হিজরি)
প্রকাশক : মাকতাবাতুদ দাওয়াহ - শাবাবুল আজহার (দারুল কলম-এর অষ্টম সংস্করণ থেকে গৃহীত)
সংস্করণ : দারুল কলম-এর অষ্টম সংস্করণ থেকে
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৩২
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
ইলমু উসূলিল ফিকহি - ত মাকতাবাতুদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১)
ـ[علم أصول الفقه]ـالمؤلف: عبد الوهاب خلاف (المتوفى: 1375هـ)الناشر: مكتبة الدعوة - شباب الأزهر (عن الطبعة الثامنة لدار القلم)الطبعة: الثامنةعدد الأجزاء: 1[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
--------------------------------------------
نسقه وقام بفهرسته الباحث في القرآن والسنة: علي بن نايف الشحود
[ইলম উসুলুল ফিকহ]লেখক: আব্দুল ওয়াহহাব খাল্লাফ (মৃত্যু: ১৩৭৫ হিজরি)প্রকাশক: মাকতাবাতুদ দাওয়াহ - শাবাবুল আজহার (দারুল কলম-এর অষ্টম সংস্করণ হতে গৃহীত)সংস্করণ: অষ্টমখণ্ড সংখ্যা: ১[বইটির সংখ্যায়ন মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
--------------------------------------------
এটি বিন্যাস ও নির্ঘণ্ট তৈরি করেছেন কুরআন ও সুন্নাহর গবেষক: আলী বিন নায়েফ আশ-শুহুদ
(খণ্ড: ১)
ইলমু উসূলিল ফিকহি - ত মাকতাবাতুদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
لمحة عن حياة المؤلف- ولد الفقيد في شهر مارس سنة 1888 ببلدة كفر الزيات.- التحق بالأزهر الشريف سنة 1900م بعد أن حفظ القرآن الكريم في أحد ((كتاتيب)) البلدة.- انتظم في سلك طلبة مدرسة القضاء الشرعي إثر افتتاحها وتخرج فيها عام 1915م وعين مدرساً بها في نفس السنة.- اشترك في ثورة 1919م فبرزت خلالها مواهبه الخطابية والكتابية وترك المدرسة أو أجبر على تركها فانتقل إلى القضاء الشرعي.- عين قاضياً بالمحاكم الشرعية سنة1920م ثم نقل مديراً للمساجد بوزارة الأوقاف سنة 1924م وبقي بها حتى عين مفتشاً بالمحاكم الشرعية في منتصف سنة1931م.- انتدبته كلية حقوق جامعة القاهرة مدرساً بها في أوائل سنة 1934م وبقي أستاذاً لكرسي الشريعة الإسلامية حتى أحالته إلى المعاش سنة 1948م وقد ظلت تمد مدة خدمته حتى بداية عام 1955-1956م حيث أقعده المرض عن إلقاء المحاضرات.- زار كثيراً من دول الوطن العربي للاطلاع على المخطوطات النادرة وإلقاء المحاضرات، فكان سفيراً ناجحاً لمصر في كل مكان.
লেখকের জীবনীর ওপর সংক্ষিপ্ত আলোকপাত- মরহুম ১৮৮৮ সালের মার্চ মাসে কাফর আল-যায়্যাত শহরে জন্মগ্রহণ করেন।- গ্রামের একটি ‘মক্তবে’ পবিত্র কুরআন হিফজ করার পর ১৯০০ খ্রিস্টাব্দে তিনি আল-আযহার আল-শরীফে ভর্তি হন।- ‘মাদরাসাতুল কাজাউশ শরয়ী’ (শরীয়ত বিচার বিভাগীয় বিদ্যালয়) উদ্বোধনের পর তিনি সেখানে শিক্ষার্থী হিসেবে ভর্তি হন এবং ১৯১৫ সালে সেখান থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। একই বছর তিনি সেখানে শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হন।- ১৯১৯ সালের বিপ্লবে তিনি অংশগ্রহণ করেন, যে সময়ে তাঁর বাগ্মিতা এবং লেখনী প্রতিভা বিকশিত হয়। তিনি উক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ত্যাগ করেন অথবা ত্যাগে বাধ্য হন এবং শরীয়ত বিচার বিভাগে যোগদান করেন।- ১৯২০ সালে তিনি শরীয়ত আদালতের বিচারক হিসেবে নিযুক্ত হন। এরপর ১৯২৪ সালে আওকাফ মন্ত্রণালয়ের মসজিদ পরিচালক হিসেবে স্থানান্তরিত হন এবং ১৯৩১ সালের মাঝামাঝি সময়ে শরীয়ত আদালতের পরিদর্শক নিযুক্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত সেখানেই কর্মরত ছিলেন।- ১৯৩৪ সালের শুরুর দিকে কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদ তাঁকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয় এবং ১৯৪৮ সালে অবসর গ্রহণের পূর্ব পর্যন্ত তিনি ইসলামি শরীয়াহ বিভাগের অধ্যাপক পদে আসীন ছিলেন। তাঁর চাকরির মেয়াদ ১৯৫৫-১৯৫৬ সালের শুরু পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছিল; তবে অসুস্থতার কারণে তিনি আর বক্তৃতা প্রদান করতে পারছিলেন না।- দুর্লভ পাণ্ডুলিপি পর্যবেক্ষণ এবং বক্তৃতা প্রদানের উদ্দেশ্যে তিনি আরব বিশ্বের অনেক দেশ সফর করেছেন। তিনি সব জায়গাতেই মিশরের একজন সফল প্রতিনিধি হিসেবে গণ্য হতেন।
(খণ্ড: ১)
ইলমু উসূলিল ফিকহি - ত মাকতাবাতুদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
- انتخب عضواً بمجمع اللغة العربية فأشرف على وضع معجم القرآن.- ترك للشريعة الإسلامية ثروة من المؤلفات امتازت بوضوح العبارة وجلاء الأحكام، فله كتاب ((أصول الفقه)) ، وكتاب ((أحكام الأحوال الشخصية)) ، وشرح واف لقانوني ((الوقف والمواريث)) ، وكتاب فريد عن ((السياسة الشرعية)) ، أو السلطات الثلاث في الإسلام، وكتيب في تفسير القرآن الكريم بعنوان ((نور من الإسلام)) ، وهذا عدا ما دبجه من بحوث ومقالات كثيرة نشرها في مجلة القضاء الشرعي ومجلة الأحكام ومجلة لواء الإسلام ومجلتي الثقافة والرسالة.- ألقى مجموعة من الأحاديث من منبر الإذاعة المصرية في مختلف الموضوعات العلمية والدينية والاجتماعية وأخصها ((من قصص القرآن)) .- ألقى مجموعة من المحاضرات في المناسبات الدينية والاجتماعية، كما ألقى سلسلة محاضرات في تفسير القرآن الكريم لعدة سنوات بدار الحكمة.وأخيراً طواه الموت وشيع جثمانه الطاهر إلى مقره الأخير بمقابر الغفير صباح الجمعة 20/1/1956م، وتغمده الله برحمته.
- তিনি আরবি ভাষা একাডেমির (মাজমাউল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ) সদস্য নির্বাচিত হন এবং কুরআনের অভিধান প্রণয়নে তদারকি করেন।- তিনি ইসলামি শরীয়তের জন্য রচনার এক বিশাল সম্পদ রেখে গেছেন, যা প্রাঞ্জল ভাষা ও বিধানের স্পষ্টতার জন্য অনন্য। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে: 'উসুলুল ফিকহ' (ইসলামি আইনশাস্ত্রের মূলনীতি), 'আহকামুল আহওয়ালিশ শাখসিয়্যাহ' (ব্যক্তিগত আইন), 'ওয়াকফ ও উত্তরাধিকার' আইনের একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যাগ্রন্থ, 'আস-সিয়াসাতুশ শারইয়্যাহ' (শরীয়াহ ভিত্তিক রাজনীতি) বা ইসলামে তিন শক্তির শাসন ব্যবস্থা সংক্রান্ত একটি অনন্য গ্রন্থ, এবং 'নুরুন মিনাল ইসলাম' (ইসলামের জ্যোতি) শিরোনামে পবিত্র কুরআনের তাফসিরের একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা। এ ছাড়াও তিনি অসংখ্য গবেষণা ও প্রবন্ধ রচনা করেছেন যা 'মাজাল্লাতুল কাজাউশ শারয়ী', 'মাজাল্লাতুল আহকাম', 'মাজাল্লাতু লিওয়াইল ইসলাম' এবং 'আস-সাকাফাহ' ও 'আর-রিসালাহ' সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।- তিনি মিশরীয় রেডিওর মিম্বর থেকে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক, ধর্মীয় ও সামাজিক বিষয়ের ওপর একগুচ্ছ আলোচনা পেশ করেন, যার মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো 'কুরআনের গল্পসমূহ'।- তিনি বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে বহু বক্তৃতা প্রদান করেন এবং 'দারুল হিকমাহ'-তে বেশ কয়েক বছর ধরে পবিত্র কুরআনের তাফসিরের ওপর ধারাবাহিক আলোচনা পেশ করেন।অবশেষে মৃত্যু তাকে গ্রাস করে এবং ১৯৫৬ সালের ২০ জানুয়ারি শুক্রবার সকালে আল-গাফির কবরস্থানে তাঁর পবিত্র দেহ দাফন করা হয়। আল্লাহ তাঁকে তাঁর রহমতে সিক্ত করুন।
(খণ্ড: ১)
ইলমু উসূলিল ফিকহি - ত মাকতাবাতুদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
افتتاحية الطبعة السابعةللشيخ محمد أبو زهرةالحمد لله رب العالمين القائل في كتابه الكريم: "تبارك الذي بيده الملك وهو على كل شيء قدير * الذي خلق الموت والحياة ليبلوكم أيكم أحسن عملا وهو العزيز الغفور" (الملك: 1، 2) ، والصلاة والسلام على سيدنا محمد الذي بعث بالشريعة السمحة رحمة للعالمين وعلى آله وصحبه أجمعين.أما بعد، فهذا كتاب "علم أصول الفقه" للمرحوم الأستاذ الجليل الشيخ عبد الوهاب خلاف، نقدم أول طبعة له بعد أن انتقل رحمه الله إلى الرفيق الأعلى، ولقد ورد في الأثر النبوي الصحيح أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "إذا مات ابن آدم انقطع عمله إلا من ثلاث: صدقة جارية، وعلم ينتفع به، وولد صالح يدعوا له " وإن كتاب أصول الفقه الذي نقدمه لتلاميذه هو بلا ريب علم ينتفع به، فهو عمل مستمر له ثوابه إلى يوم القيامة.ولقد كنت قد اعتزمتُ أن أكتب كتابا في الأصول لطلبة الكلية ألتزم فيه المنهاج الذي رسمته لنفسي، ولكن ما إن أخذت الأهبة وبدأت أكتب حتى ساورتني فكرة، وهي أن أترك القلم لنعيد طبع كتاب المرحوم أستاذنا خلاف، وألحت علىّ هذه الفكرة فذاكرت فيها الصديقين الكريمين الأستاذ عبد الفتاح القاضي، والأستاذ على الخفيف، فاتفق ثلاثتنا على أن نعيد الطبع إحياء لذكرى الراحل الكريم.وها هي ذي طبعة الذكرى نقدمها لتلاميذ الفقيد الكريم، ولمحبي علمه، ولقد رأينا نحن الثلاثة أيضا أن تكون هذه الطبعة صورة صادقة لتفكير كاتب الكتاب فتكون الذكرى كاملة، ولذلك لم نتزيد على الكتاب بزيادة، ولم ننقص منه عبارة، ولم نعدل فيه رأيا ليقرأ القارئ في هذه الطبعة ما كتبه الأستاذ كما قرأه في
সপ্তম সংস্করণের ভূমিকাশায়খ মুহাম্মদ আবু জাহরা-এর পক্ষ থেকেসকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর পবিত্র কিতাবে বলেছেন: "বরকতময় তিনি যাঁর হাতে রয়েছে রাজত্ব, আর তিনি সর্ববিষয়ে ক্ষমতাশীল। যিনি মৃত্যু ও জীবন সৃষ্টি করেছেন তোমাদের পরীক্ষা করার জন্য যে, কর্মে তোমাদের মধ্যে কে সর্বোত্তম; আর তিনি মহা পরাক্রমশালী, অত্যন্ত ক্ষমাশীল" (আল-মূলক: ১, ২)। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি, যাঁকে জগতসমূহের জন্য রহমতস্বরূপ উদার শরিয়তসহ প্রেরণ করা হয়েছে এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর প্রতি।অতঃপর, এটি মরহুম সম্মানিত উস্তাদ শায়খ আব্দুল ওয়াহহাব খাল্লাফ-এর "ইলমে উসূলে ফিকহ" গ্রন্থ। তিনি মহান রফিকের সান্নিধ্যে (ইন্তেকাল) চলে যাওয়ার পর আমরা এর প্রথম সংস্করণটি পেশ করছি। সহিহ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সা.) বলেছেন: "যখন আদম সন্তান মৃত্যুবরণ করে, তখন তিনটি মাধ্যম ছাড়া তার আমল বন্ধ হয়ে যায়: সদকায়ে জারিয়া, এমন জ্ঞান যা দ্বারা উপকৃত হওয়া যায় এবং নেক সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে।" আমরা তাঁর ছাত্রদের উদ্দেশ্যে উসূলে ফিকহ-এর যে গ্রন্থটি পেশ করছি, তা নিঃসন্দেহে এমন জ্ঞান যা দ্বারা উপকৃত হওয়া যায়। সুতরাং এটি এমন একটি চলমান আমল যার সওয়াব কিয়ামত পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।আমি কলেজের ছাত্রদের জন্য উসূলে ফিকহ বিষয়ে একটি কিতাব রচনার সংকল্প করেছিলাম, যাতে আমি নিজের জন্য নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু যখনই আমি প্রস্তুতি গ্রহণ করে লিখতে শুরু করলাম, তখন আমার মনে এক ভাবনার উদয় হলো—তা হলো লেখা বন্ধ রাখা এবং আমাদের মরহুম উস্তাদ খাল্লাফ-এর কিতাবটি পুনরায় মুদ্রণ করা। এই চিন্তাটি আমার মনে বারবার আসতে লাগল, তাই আমি আমার দুই সম্মানিত বন্ধু উস্তাদ আব্দুল ফাত্তাহ আল-কাজী এবং উস্তাদ আলী আল-খাফিফ-এর সাথে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করলাম। আমরা তিনজনেই এই সিদ্ধান্তে উপনীত হলাম যে, মহান মরহুমের স্মৃতিকে জীবন্ত রাখতে আমরা এটি পুনরায় মুদ্রণ করব।আর এই সেই স্মরণিকা সংস্করণ যা আমরা মরহুমের ছাত্রদের এবং তাঁর ইলমের অনুরাগীদের জন্য পেশ করছি। আমরা তিনজনে এই সিদ্ধান্তও নিয়েছি যে, এই সংস্করণটি যেন লেখকের চিন্তাধারার এক সত্যনিষ্ঠ প্রতিচ্ছবি হয়, যাতে তাঁর স্মৃতি পূর্ণতা পায়। এই কারণে আমরা বইটিতে কোনো কিছু যোগ করিনি, কোনো বাক্য বাদ দিইনি এবং কোনো মত পরিবর্তন করিনি, যাতে পাঠক এই সংস্করণে উস্তাদ যা লিখেছিলেন তা ঠিক সেভাবেই পড়তে পারেন যেভাবে তিনি পড়েছিলেন।
(খণ্ড: ১)
ইলমু উসূলিল ফিকহি - ত মাকতাবাতুদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
الطبعات السابقة فلا تتغير إلا فيما عساه يكون من تصحيف جرى في الطبع في النسخ السابقة.وإننا نحن الذين زاملنا الأستاذ وعاشرناه أكثر من عشرين سنة نحس أن فراغاً هائلاً قد تركه، وهكذا كل رجالات العلم الذين لهم كيان فكري مستقل قد اختصوا به، ومنهاج علمي لم يكونوا فيه مقلدين قد التزموه.رحمه الله وأثابه وجزاه عن العلم والأخلاق خيراً.محمد أبو زهرة8 صفر سنة 1376 هـ -13 سبتمبر سنة 1959م
পূর্ববর্তী সংস্করণগুলোতে কোনো পরিবর্তন করা হয়নি, কেবল পূর্বের প্রতিলিপিগুলোতে মুদ্রণজনিত যেসব ভুলত্রুটি হতে পারে তা সংশোধন করা হয়েছে।আমরা যারা বিশ বছরেরও অধিক সময় ধরে এই উস্তাযের সহকর্মী ছিলাম এবং তাঁর সান্নিধ্যে অতিবাহিত করেছি, আমরা অনুভব করি যে তিনি এক বিশাল শূন্যতা রেখে গেছেন। ইলমের জগতের সেই সকল ব্যক্তিত্বই এমন হন, যাদের একটি স্বতন্ত্র চিন্তাগত সত্তা থাকে যা কেবল তাদেরই বৈশিষ্ট্য এবং এমন একটি জ্ঞানতাত্ত্বিক পদ্ধতি থাকে যাতে তারা অন্ধ অনুসারী ছিলেন না, বরং তারা তা নিষ্ঠার সাথে পালন করতেন।আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন, তাঁকে সওয়াব দান করুন এবং ইলম ও আখলাকের খেদমতের জন্য তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন।মুহাম্মাদ আবু যাহরা৮ সফর ১৩৭৬ হিজরি - ১৩ সেপ্টেম্বর ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
ইলমু উসূলিল ফিকহি - ত মাকতাবাতুদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
فاتحة طبعة سنة 1947 م للمؤلفالحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على خاتم الأنبياء والمرسلين وعلى رسل الله أجمعين ومن اعتصموا بحبلهم المتين.أما بعد..فإن علم أصول الفقه لا يستغني عنه مجتهد في تبيينه النصوص وتفنينه فيما لا نص فيه، ولا قاض في فهمه مواد القانون حق فهمها، وتطبيقها التطبيق الذين يحقق العدل وما قصده الشارع بها، ولا فقيه في بحثه ودرسه وتحليله ومقارنته ومقابلته بين المذاهب والآراء.وأحمد الله الذي أمدني بمعونته وهدايته، فأخرجت كتابا في هذا العلم ذلل صعبه وقرب متناوله، ووفقني إلى أن أصوغ مسائله في قواعد كلية، وأن أورد أمثلتها التطبيقية من النصوص الشعرية ومن مواد القوانين الوضعية، وأن أقارن بين كثير من بحوثه وما يقابلها من بحوث علم أصول القوانين.وقد لقي كتابي والحمد لله من حسن القبول والتقدير مما شجعني على أن أعيد طبعه بعد أن أضفت إليه بحوثا جديدة، وزدته تهذيبا وتنقيحا وإيضاحا، وأسأل الله أن ينفع به، وأن يجعله خالصا لوجهه.القاهرة في: رجب سنة 1366 هـ -يوليو سنة 1947م
লেখকের ১৯৪৭ সালের সংস্করণের ভূমিকাসকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক নবী ও রাসূলগণের মোহর এবং আল্লাহর সকল রাসূলের ওপর এবং তাঁদের ওপর যারা তাঁদের মজবুত রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরেছেন।অতঃপর...নিশ্চয়ই উসূলুল ফিকহ এমন এক বিদ্যা যা থেকে কোনো মুজতাহিদ অমুখাপেক্ষী হতে পারেন না—শরয়ী দলিলের ব্যাখ্যা প্রদানের ক্ষেত্রে এবং যেখানে কোনো স্পষ্ট দলিল নেই সেখানে উদ্ভাবন করার ক্ষেত্রে; তেমনিভাবে কোনো বিচারকের পক্ষেও আইনের ধারাগুলো যথাযথভাবে অনুধাবন করা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও শরীয়ত প্রণেতার উদ্দেশ্য অর্জনে সেগুলোর সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটি অপরিহার্য; আর কোনো ফকীহ বা আইনবিদের পক্ষেও তাঁর গবেষণা, পাঠদান, বিশ্লেষণ এবং বিভিন্ন মাযহাব ও মতামতের মধ্যে তুলনা ও পর্যালোচনার ক্ষেত্রে এটি ছাড়া চলা সম্ভব নয়।আমি আল্লাহর প্রশংসা করছি যিনি আমাকে তাঁর সাহায্য ও হেদায়েত দান করেছেন, ফলে আমি এই বিদ্যার ওপর এমন একটি কিতাব প্রকাশ করেছি যা এর কঠিন বিষয়গুলোকে সহজ এবং নাগালে নিয়ে এসেছে। তিনি আমাকে এর মাসয়ালাগুলোকে সর্বজনীন মূলনীতির আলোকে বিন্যস্ত করার এবং শরয়ী দলিল ও মানব রচিত আইনের ধারা হতে সেগুলোর প্রায়োগিক উদাহরণ পেশ করার তাওফিক দান করেছেন, আর এর অনেক গবেষণাকে আইনবিজ্ঞানের সংশ্লিষ্ট গবেষণার সাথে তুলনা করারও সুযোগ দিয়েছেন।আল্লাহর প্রশংসায়, আমার এই কিতাবটি উত্তম গ্রহণযোগ্যতা ও কদর লাভ করেছে, যা আমাকে নতুন নতুন গবেষণা সংযোজন করে এবং একে আরও পরিমার্জিত, সংশোধিত ও স্পষ্ট করে পুনরায় মুদ্রণে উৎসাহিত করেছে। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি এর দ্বারা উপকার সাধন করেন এবং একে একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন।কায়রো: রজব ১৩৬৬ হিজরি - জুলাই ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
ইলমু উসূলিল ফিকহি - ত মাকতাবাতুদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
فاتحة طبعة سنة 1942 مالحمد لله الذي هدانا لهذا، وما كنا لنهتدي لولا أن هدانا اللهوالصلاة والسلام على رسول الله محمد بن عبد الله الذين بعثه الله بشريعة محكمة حنيفية سمحة، أساسها اليسر بالناس ورفع الحرج عنهم، وغايتها تحقيق مصالحهم والعدل بينهم، وعلى آله وصحبه الذين خلفوه في حراسة شريعته، وهداية أمته، وكانوا تماما لنوره، ودعاة إلى هداه.أما بعد.. فإن المجتهدين من أئمة المسلمين بذلوا أقصى جهودهم العقلية في استمداد الأحكام الشرعية من مصادرها، واستخرجوا من النصوص الشرعية وروحها ومعقولها كنوزاً تشريعية ثمينة، كفلت مصالح المسلمين على اختلاف أجناسهم وأقطارهم ونظمهم ومعاملاتهم، ولم تضق بحاجة من حاجاتهم، بل كان فيها تشريع لأقضيه لم تحدث، ووقائع فرضية، وهذه موسوعات الفقه آيات تنطق بما بذلوه من جهد وما كان حليفهم من توفيق.ولم يكتفوا بما استمدوه من أحكام، وما سنوه من قوانين، بل عنوا بوضع قواعد للاستمداد، وقوانين للاستنباط، وكونوا من مجموعة هذه القواعد علم أصول الفقه، وكأنهم رحمهم الله بصنيعهم هذا أشاروا إلى خلفهم إلى أن لا يركنوا إلى اجتهادهم، وأن يجتهدوا كما اجتهدوا، ويبنوا كما بنوا، فإن الأقضية تحدث والمصالح تتغير، ومصادر الشريعة معين لا ينضب، ومنهل عذب لك وارد، وفضل الله يؤتيه من يشاء.وهذا كتابي في علم أصول الفقه قصدت به إحياء هذا العلم، وإلقاء الضوء على بحوثه، وراعيت في عبارته الإيجاز والإيضاح، وفي بحوثه وموضوعاته
১৯৪২ সালের সংস্করণের ভূমিকাসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাদের এর প্রতি পথপ্রদর্শন করেছেন, আল্লাহ আমাদের পথপ্রদর্শন না করলে আমরা হেদায়াত পেতাম না।দরুদ ও সালাম আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহর প্রতি, যাকে আল্লাহ সুদৃঢ়, একনিষ্ঠ ও সহজ জীবনবিধান (শরীয়ত) দিয়ে পাঠিয়েছেন, যার ভিত্তি হলো মানুষের জন্য সহজতা এবং তাদের থেকে সংকীর্ণতা দূর করা, আর যার লক্ষ্য হলো তাদের কল্যাণ সাধন এবং তাদের মধ্যে ইনসাফ কায়েম করা। আরও সালাম তাঁর পরিবার ও সঙ্গী-সাথীদের প্রতি, যারা তাঁর শরীয়ত রক্ষায় এবং তাঁর উম্মতকে পথপ্রদর্শনে তাঁর উত্তরসূরি ছিলেন, আর তারা ছিলেন তাঁর নূরের পূর্ণতা দানকারী এবং তাঁর হেদায়াতের দিকে আহ্বানকারী।অতঃপর... মুসলিম ইমামগণের মধ্য থেকে মুজতাহিদগণ তাদের উৎস থেকে শরয়ী বিধানসমূহ আহরণে তাদের সর্বোচ্চ মেধা ব্যয় করেছেন। তারা শরয়ী মূলপাঠ (নসুস), এর মর্মার্থ ও যৌক্তিকতা থেকে মূল্যবান আইনি সম্পদ আহরণ করেছেন, যা মুসলমানদের ভিন্ন ভিন্ন জাতি, ভূখণ্ড, ব্যবস্থা ও লেনদেনের বৈচিত্র্য সত্ত্বেও তাদের স্বার্থ সংরক্ষণ করেছে। এটি তাদের কোনো প্রয়োজনেই সংকীর্ণ হয়নি, বরং এতে এমন বিচারকার্যের বিধানও ছিল যা তখনো ঘটেনি এবং কাল্পনিক বিষয়েরও সমাধান ছিল। ফিকহ শাস্ত্রের এই বিশাল বিশ্বকোষসমূহ তাদের প্রচেষ্টার সাক্ষ্য দেয় এবং তাদের যে আল্লাহর পক্ষ থেকে তাওফিক ছিল তা স্পষ্ট করে।তারা কেবল বিধান আহরণ এবং আইন প্রণয়নের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং তারা বিধান আহরণের মূলনীতি এবং বিধান উদ্ভাবনের (ইস্তিনবাত) নিয়মসমূহ নির্ধারণের ব্যাপারেও যত্নবান ছিলেন। এই মূলনীতিসমূহের সমষ্টি থেকেই তারা 'উসুলুল ফিকহ' শাস্ত্র গঠন করেছেন। আল্লাহ তাদের প্রতি রহম করুন; মনে হয় তারা তাদের এই কর্মের মাধ্যমে তাদের উত্তরসূরিদের প্রতি এই ইঙ্গিত দিয়েছেন যেন তারা কেবল তাদের (পূর্বসূরিদের) ইজতিহাদের ওপরই নির্ভর না করে, বরং তারাও যেন তেমনি ইজতিহাদ করে যেমন তারা করেছিলেন, এবং তারাও যেন তেমনি নির্মাণ করে যেমন তারা নির্মাণ করেছিলেন। কেননা নিত্যনতুন বিচার্য বিষয় উদ্ভূত হয় এবং মানুষের স্বার্থ পরিবর্তিত হয়, আর শরীয়তের উৎসসমূহ এমন এক অফুরন্ত প্রস্রবণ যা কখনো শেষ হয় না এবং প্রত্যেক আগন্তুকের জন্য এটি একটি সুপেয় ঝরনা। আল্লাহর এই অনুগ্রহ তিনি যাকে ইচ্ছা দান করেন।আর এটি উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রের ওপর আমার কিতাব, যার মাধ্যমে আমি এই শাস্ত্রকে পুনর্জীবিত করার এবং এর গবেষণার ওপর আলোকপাত করার ইচ্ছা করেছি। এর ভাষা প্রয়োগের ক্ষেত্রে আমি সংক্ষিপ্ততা ও স্পষ্টতার দিকে খেয়াল রেখেছি এবং এর গবেষণা ও বিষয়বস্তুর ক্ষেত্রে...
(খণ্ড: ১)
ইলমু উসূলিল ফিকহি - ত মাকতাবাতুদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
الاقتصار على ما تمس إليه الحاجة في استمداد الأحكام الشرعية من مصادرها وفهم الأحكام القانونية من موادها، وعنيت بأن تكون الأمثلة التطبيقية للقواعد الأصولية من نصوص الشريعة ومن مواد القوانين الوضعية، وأشرت في كثير من المواضيع إلى المقارنة بين أصول التقنين الشرعي وأصول التقنين الوضعي، وقسمته إلى مقدمة وأربعة أقسام:فالمقدمة: في مقارنة عامة بين علم الفقه وعلم أصول الفقه يتبين منها التعريف بهما، وموضوعهما والغاية من دارستهما، ونشأة كل منهما وتطوره ليكون الشروع في علم أصول الفقه على بصيرة به.والقسم الأول: في الأدلة التي تستمد منها الأحكام الشرعية، وفي هذا القسم تتجلى سعة المصادر التشريعية في الشريعة الإسلامية ومرونتها وخصوبتها وصلاحيتها للتقنين في كل عصر ولكل أمة.والقسم الثاني: في مباحث الأحكام الشرعية الأربعة، وفي هذا القسم تظهر أنواع ما شرع في الإسلام من الأحكام، ويتجلى عدل الله ورحمته في رفع الحرج عن المكلفين وإرادة اليسر بهم.والقسم الثالث: في القواعد الأصولية اللغوية التي تطبق في فهم الأحكام من نصوصها، وفي هذا القسم تظهر دقة اللغة العربية في دلالتها على المعاني ومهارة علماء التشريع الإسلامي في استثمارهم الأحكام من النصوص، وسبلهم القويمة في إزالة خفائها وفي تفسيرها وتأويلها.والقسم الرابع: في القواعد الأصولية التشريعية التي تطبق في فهم الأحكام من نصوصها، وفي الاستنباط فيما لا نص فيه، وهذا هو لب العلم وروحه، وفيه يتجلى مقصد الشارع العام من تشريع الأحكام، وما أنعم الله به على عباده من رعاية مصالحهم.
শরয়ী বিধানসমূহকে তাদের উৎস হতে আহরণ এবং আইনি বিধানসমূহকে তাদের সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ থেকে অনুধাবনের ক্ষেত্রে যতটুকু প্রয়োজন, আলোচনাকে কেবল তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। আমি উসূলী নীতিমালার প্রয়োগিক উদাহরণগুলো শরীয়তের নস (মূলপাঠ) এবং মানবীয় আইনের অনুচ্ছেদসমূহ থেকে চয়ন করার ব্যাপারে সচেষ্ট হয়েছি। অনেক ক্ষেত্রে আমি শরয়ী আইন প্রণয়ন নীতি এবং মানবীয় আইন প্রণয়ন নীতির মধ্যে তুলনামূলক আলোচনার ইঙ্গিত দিয়েছি। আমি গ্রন্থটিকে একটি ভূমিকা এবং চারটি অংশে বিভক্ত করেছি:
ভূমিকা: এতে ফিকহ শাস্ত্র ও উসূলুল ফিকহ শাস্ত্রের মধ্যে একটি সাধারণ তুলনা করা হয়েছে, যার মাধ্যমে উভয়ের সংজ্ঞা, আলোচ্য বিষয়, অধ্যয়নের উদ্দেশ্য এবং উভয়ের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ স্পষ্ট হবে; যেন উসূলুল ফিকহ শাস্ত্রের চর্চা পূর্ণ দূরদর্শিতার সাথে শুরু করা যায়।
প্রথম অংশ: ঐ সকল দলীল প্রসঙ্গে যেখান থেকে শরয়ী বিধানসমূহ গৃহীত হয়। এই অংশে ইসলামী শরীয়তের আইনি উৎসসমূহের ব্যাপকতা, নমনীয়তা, প্রাচুর্য এবং সর্বকালের সর্বজাতির জন্য আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে এর যোগ্যতা স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
দ্বিতীয় অংশ: শরয়ী বিধানের চারটি আলোচ্য বিষয় প্রসঙ্গে। এই অংশে ইসলামে প্রবর্তিত বিধানসমূহের প্রকারভেদ প্রতীয়মান হয় এবং দায়িত্বপ্রাপ্তদের (মুকাল্লাফ) কষ্ট লাঘব ও তাদের জন্য সহজতা কামনার ক্ষেত্রে আল্লাহর ন্যায়বিচার ও করুণা প্রকাশিত হয়।
তৃতীয় অংশ: ভাষাগত উসূলী নীতিমালা প্রসঙ্গে যা নস থেকে বিধান উপলব্ধিতে প্রয়োগ করা হয়। এই অংশে অর্থ প্রকাশের ক্ষেত্রে আরবী ভাষার সূক্ষ্মতা এবং নস থেকে বিধান আহরণে ইসলামী আইনবিদগণের দক্ষতা এবং অস্পষ্টতা নিরসন ও ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণে তাঁদের সঠিক পদ্ধতিসমূহ ফুটে উঠেছে।
চতুর্থ অংশ: আইনগত উসূলী নীতিমালা প্রসঙ্গে যা নস থেকে বিধান বুঝতে এবং যে ক্ষেত্রে নস নেই সেখানে গবেষণালব্ধ বিধান উদঘাটনে প্রয়োগ করা হয়। এটাই হলো এই শাস্ত্রের মজ্জা ও প্রাণ। এতে বিধান প্রণয়নের ক্ষেত্রে শরীয়তদাতার সাধারণ উদ্দেশ্য এবং বান্দাদের স্বার্থ সংরক্ষণের মাধ্যমে আল্লাহ তাদের প্রতি যে অনুগ্রহ করেছেন তা প্রতিভাত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
ইলমু উসূলিল ফিকহি - ত মাকতাবাতুদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
وأسأل الله أن يتقبل كتابي هذا بقبول حسن، وأن يجعله خالصا لوجهه.عبد الوهاب خلافالقاهرة في:10 رمضان سنة 1361 هـ21 سبتمبر سنة 1942م
আর আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমার এই গ্রন্থটি উত্তমরূপে কবুল করেন এবং একে একান্তই তাঁর চেহারার জন্য একনিষ্ঠ করেন।আব্দুল ওয়াহহাব খাল্লাফকায়রো, তারিখ:১০ রমজান ১৩৬১ হিজরি২১ সেপ্টেম্বর ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
ইলমু উসূলিল ফিকহি - ত মাকতাবাতুদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
مقدمة(الفرق بين الفقه وعلم أصول الفقه)في موازنة عامة بين علم الفقه وعلم أصول الفقه من حيث التعريف بكل منهما، وبيان موضوعه، وغايته، ونشأته، وتطوره.التعريف:من المتفق عليه بين علماء المسلمين على اختلاف مذاهبهم أن كل ما يصدر عن الإنسان من أقوال وأفعال سواء أكان من العبادات أم المعاملات أم الجرائم أم الأحوال الشخصية أم من أي نوع من أنواع العقود أو التصرفات له في الشريعة الإسلامية حكم، وهذه الأحكام بعضها بينتها نصوص وَرَدت في القرآن والسنة، وبعضها لم تبينها نصوص في القرآن أو السنة، ولكن أقامت الشريعة دلائل عليها ونصبت أمارات لها بحيث يستطيع المجتهد بواسطة تلك الدلائل والأمارات أن يصل إليها ويتبينها.ومن مجموعة الأحكام الشرعية المتعلقة بما يصدر عن الإنسان من أقوال وأفعال، المستفادة من النصوص فيما وردت فيه نصوص، والمستنبطة من الدلائل الشرعية الأخرى فيما لم ترد فيه نصوص تكون الفقه.فعلم الفقه في الاصطلاح الشرعي:هو العلم بالأحكام الشرعية العلمية المكتسب من أدلتها التفصيلية، أو هو مجموعة الأحكام الشرعية العملية المستفادة من أدلتها التفصيلية.
ভূমিকা(ফিকহ এবং উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রের মধ্যকার পার্থক্য)ফিকহ শাস্ত্র এবং উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রের সংজ্ঞা, বিষয়বস্তু, উদ্দেশ্য, উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশের আলোকে উভয়ের মাঝে একটি সাধারণ তুলনামূলক আলোচনা।সংজ্ঞা:মুসলিম উলামায়ে কেরামের মাঝে তাঁদের বিভিন্ন মাযহাব থাকা সত্ত্বেও এই বিষয়ে ঐকমত্য রয়েছে যে, মানুষের পক্ষ থেকে প্রকাশ পাওয়া প্রতিটি কথা ও কাজ—তা ইবাদত, লেনদেন, অপরাধ, ব্যক্তিগত বিষয় অথবা যেকোনো ধরনের চুক্তি বা কর্মকাণ্ডই হোক না কেন—ইসলামি শরিয়তে তার জন্য একটি নির্দিষ্ট বিধান রয়েছে। এই বিধানগুলোর কিছু অংশ কুরআন ও সুন্নাহর সরাসরি ভাষ্য দ্বারা স্পষ্ট করা হয়েছে, আর কিছু অংশ কুরআন বা সুন্নাহর সরাসরি ভাষ্য দ্বারা স্পষ্ট করা হয়নি। তবে শরিয়ত সেগুলোর ওপর বিভিন্ন প্রমাণাদি এবং চিহ্ন স্থাপন করেছে, যাতে একজন মুজতাহিদ সেই সব প্রমাণ ও চিহ্নের মাধ্যমে সেই বিধানগুলোতে উপনীত হতে এবং তা স্পষ্ট করতে পারেন।মানুষের কথা ও কাজ সংশ্লিষ্ট শরয়ি বিধানাবলির সমষ্টি—যা সরাসরি ভাষ্য বিদ্যমান থাকা বিষয়গুলো থেকে সংগৃহীত এবং সরাসরি ভাষ্য না থাকা বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে অন্যান্য শরয়ি দলিল থেকে উদ্ভাবিত—তার মাধ্যমেই ফিকহ গঠিত হয়।শরয়ি পরিভাষায় ফিকহ শাস্ত্র:এটি হলো বিস্তারিত দলিল-প্রমাণ থেকে অর্জিত ব্যবহারিক শরয়ি বিধানাবলির জ্ঞান, অথবা এটি হলো বিস্তারিত দলিল-প্রমাণ থেকে সংগৃহীত ব্যবহারিক শরয়ি বিধানাবলির সমষ্টি।
(খণ্ড: ১)
ইলমু উসূলিল ফিকহি - ত মাকতাবাতুদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
وقد ثبت للعلماء بالاستقراء أن الأدلة التي تستفاد منها الأحكام الشرعية للعملية ترجع إلى أربعة: القرآن والسنة والإجماع والقياس وأن أساس هذه الأدلة والمصدر الأول منها هو القرآن، ثم السنَّة التي فسّرت مجمله، وخصصت عامه، وقيدت مطلقه، وكانت تبياناً له وتماماً.ولهذا بحثوا في كل دليل من هذه الأدلة وفي البرهان على أنه حجة على الناس ومصدر تشريعي يلزمهم اتباع أحكامه، وفي شروط الاستدلال به وفي أنواعه الكلية، وفيما يدل على كل نوع منها من الأحكام الشرعية الكلية.وبحثوا أيضاً في الأحكام الشرعية الكلية التي تستفاد من تلك الأدلة وفيما يتوصل به إلى فهمها من النصوص، وإلى استنباطها من غير النصوص من قواعد لغوية وتشريعية.وبحثوا أيضاً فيمن يتوصل إلى استمداد الأحكام من أدلتها وهو المجتهد، فبينوا الاجتهاد وشروطه والتقليد وحكمه.ومن مجموعة هذه القواعد والبحوث المتعلقة بالأدلة الشرعية من حيث دلالتها على الأحكام، وبالأحكام من حيث استفادتها من أدلتها ومما يتعلق بهذين من اللواحق والمتممات تكونت أصول الفقه.فعلم أصول الفقه في الاصطلاح الشرعي:هو العلم بالقواعد والبحوث التي يتوصل بها إلى استفادة الأحكام الشرعية العملية من أدلتها التفصيلية، أوهي مجموعة القواعد والبحوث التي يتوصل بها إلى استفادة الأحكام الشرعية العملية من أدلتها التفصيلية.الموضوع:موضوع البحث في علم الفقه: هو فعل المكلف من حيث ما يثبت له من الأحكام الشرعية، فالفقيه يبحث في بيع المكلف وإجارته ورهنه وتوكيله وصلاته وصومه وحجّه وقتله وقذفه وسرقته وإقراره ووقفه لمعرفة الحكم الشرعي في كل فعل من هذه الأفعال.وأما موضوع البحث في علم أصول الفقه:فهو الدليل الشرعي الكلي من حيث
আলেমদের নিকট পর্যালোচনার মাধ্যমে এটি সাব্যস্ত হয়েছে যে, ব্যবহারিক শরয়ী বিধানাবলি যে দলিলসমূহ থেকে গৃহীত হয় তা চারটির দিকে প্রত্যাবর্তন করে: কুরআন, সুন্নাহ, ইজমা এবং কিয়াস। আর এই দলিলসমূহের ভিত্তি এবং প্রথম উৎস হলো কুরআন, অতঃপর সুন্নাহ যা কুরআনের সংক্ষিপ্ততাকে ব্যাখ্যা করেছে, সাধারণকে বিশেষ করেছে, শর্তহীনকে শর্তযুক্ত করেছে এবং কুরআনের জন্য সুস্পষ্টকারী ও পরিপূরক হয়েছে।আর এ কারণেই তাঁরা এই প্রতিটি দলিল এবং মানুষের ওপর এটি যে একটি অকাট্য প্রমাণ ও বিধানিক উৎস যা অনুসরণ করা তাদের জন্য আবশ্যক—সে বিষয়ে এবং এর দ্বারা দলিল পেশ করার শর্তাবলি, এর সামষ্টিক প্রকারভেদ এবং প্রতিটি প্রকার থেকে প্রাপ্ত সামষ্টিক শরয়ী বিধানসমূহ নিয়ে আলোচনা করেছেন।তাঁরা সেই সামষ্টিক শরয়ী বিধানাবলি নিয়েও আলোচনা করেছেন যা ওই সকল দলিল থেকে আহরণ করা হয়, এবং নস (মূল পাঠ) থেকে তা বোঝার উপায় এবং নস বহির্ভূত ভাষাগত ও বিধানিক নীতিমালার আলোকে বিধান উদ্ভাবনের পদ্ধতিসমূহ নিয়েও আলোচনা করেছেন।তাঁরা ওই ব্যক্তি সম্পর্কেও আলোচনা করেছেন যিনি দলিলসমূহ থেকে বিধান আহরণ করেন, আর তিনি হলেন মুজতাহিদ। ফলে তাঁরা ইজতিহাদ ও এর শর্তাবলি এবং তাকলিদ ও এর বিধান স্পষ্ট করেছেন।শরয়ী দলিলসমূহের বিধানের ওপর নির্দেশক হওয়ার দিক থেকে এবং বিধানসমূহ দলিল থেকে আহৃত হওয়ার দিক থেকে এই দলিল সংশ্লিষ্ট নিয়মাবলি ও গবেষণার সমষ্টি এবং এই দুইয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট আনুষঙ্গিক ও পরিপূরক বিষয়সমূহ নিয়ে উসূলে ফিকহ শাস্ত্র গঠিত হয়েছে।সুতরাং শরয়ী পরিভাষায় উসূলে ফিকহ শাস্ত্র হলো:এটি এমন সব নিয়ম ও গবেষণার জ্ঞান যার মাধ্যমে বিস্তারিত দলিলসমূহ থেকে ব্যবহারিক শরয়ী বিধানাবলি আহরণ করা যায়, অথবা এটি এমন কিছু নিয়ম ও গবেষণার সমষ্টি যার মাধ্যমে বিস্তারিত দলিলসমূহ থেকে ব্যবহারিক শরয়ী বিধানাবলি আহরণ করা যায়।বিষয়বস্তু:ফিকহ শাস্ত্রের আলোচনার বিষয়বস্তু হলো: শরয়ী বিধান সাব্যস্ত হওয়ার দিক থেকে মুকাল্লাফ (শরীয়তের বিধান পালনে দায়বদ্ধ ব্যক্তি)-এর কর্ম। সুতরাং ফকিহ একজন মুকাল্লাফের ক্রয়-বিক্রয়, ইজারা, বন্ধক, প্রতিনিধি নিয়োগ, সালাত, সাওম, হজ, হত্যা, অপবাদ প্রদান, চুরি, স্বীকৃতি এবং ওয়াকফ নিয়ে আলোচনা করেন যাতে করে এই প্রতিটি কাজের শরয়ী বিধান জানা যায়।পক্ষান্তরে উসূলে ফিকহ শাস্ত্রের আলোচনার বিষয়বস্তু হলো:সামষ্টিক শরয়ী দলিলসমূহ এই দিক থেকে যে—
(খণ্ড: ১)
ইলমু উসূলিল ফিকহি - ত মাকতাবাতুদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
ما يثبت به من الأحكام الكلية، فالأصولي يبحث في القياس وحجيته، والعام وما يقيده، والأمر وما يدل عليه وهكذا..وإيضاحاً لهذا أضرب المثل الآتي:القرآن هو الدليل الشرعي الأول على الأحكام، ونصوصه التشريعية لم ترد على حال واحدة، بل منها ما ورد بصيغة الأمر، ومنها ما ورد بصيغة النهي، ومنها ما ورد بصيغة العموم أو بصيغة الإطلاق، فصيغة الأمر، وصيغة النهي، وصيغة العموم، وصيغة الإطلاق، أنواع كلية من أنواع الدليل الشرعي العام، وهو القرآن.فالأصولي يبحث في كل نوع من هذه الأنواع ليتوصل إلى نوع الحكم الكلي الذي يدل عليه مستعيناً في بحثه باستقراء الأساليب العربية والاستعمالات الشرعية، فإذا وصل ببحثه إلى أن صيغة الأمر تدل على الإيجاب وصيغة النهي تدل على التحريم وصيغة العموم تدل على شمول جميع أفراد العام قطعاً، وصيغة الإطلاق تدل على ثبوت الحكم مطلقاً، وضع القواعد الآتية: الأمر للإيجاب، النهي للتحريم، العام ينتظم جميع أفراده قطعاً المطلق يدل على الفرد الشائع بغير قيد.وهذه القواعد الكلية وغيرها مما يتوصل الأصولي ببحثه إلى وضعها يأخذها الفقيه قواعد مُسَلَّمَة ويطبقها على جزيئات الدليل الكلي ليتوصّل بها إلى الحكم الشرعي العملي التفصيلي، فيطبق قاعدة: الأمر للإيجاب على قوله تعالى: {يا أيها الذين آمنوا أوفوا بالعقود} (المائدة:1) ويحكم على الإيفاء بالعقود بأنه واجب. ويطبق قاعدة: النهي للتحريم، على قوله تعالى: {يا أيها الذين آمنوا لا يسخر قوم من قوم} (الحجرات:11) . ويحكم بأن سخرية قوم من قوم محرمة. ويطبق قاعدة: العام ينتظم جميع أفراده قطعاً: على قوله تعالى: {حرمت عليكم أمهاتكم} (النساء: 23) ويحكم بأن كل أمّ مُحرّمة. ويطبق قاعدة: المطلق يدل على أي فرد على قوله تعالى في كفارة الظهار: {فتحرير رقبة} (المجادلة:3) ، ويحكم بأنه يجزئ في التفكير تحرير أية رقبة مسلمة أو غير مسلمة.ومن هذا يتبين الفرق بين الدليل الكلي والدليل الجزئي، وبين الحكم الكلي والحكم الجزئي.فالدليل الكلي هو النوع العام من الأدلة الذي تندرج فيه عدة جزيئات مثل
যা দ্বারা সামগ্রিক বিধানসমূহ সাব্যস্ত হয়; সুতরাং উসুলি (মূলনীতিবিদ) কিয়াস ও তার প্রামাণিকতা, সাধারণ শব্দ ও যা তাকে সীমাবদ্ধ করে, এবং নির্দেশ ও তা যা নির্দেশ করে—ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা করেন।বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য আমি নিম্নোক্ত উদাহরণটি পেশ করছি:বিধানসমূহের ক্ষেত্রে কুরআন হলো প্রথম শরয়ি দলিল এবং এর আইনগত পাঠ্যসমূহ (নসুস) কেবল একভাবে আসেনি। বরং এর কোনটি নির্দেশের রূপে এসেছে, কোনটি নিষেধের রূপে এসেছে, আবার কোনটি ব্যাপকতা (উমুম) কিংবা নিঃশর্ত (ইতলাক) রূপে এসেছে। সুতরাং নির্দেশের রূপ, নিষেধের রূপ, ব্যাপকতার রূপ এবং নিঃশর্ত রূপ হলো সাধারণ শরয়ি দলিল তথা কুরআনের অন্তর্ভুক্ত কতগুলো সামগ্রিক প্রকার।অতএব, উসুলি এই প্রকারগুলোর প্রতিটি নিয়ে গবেষণা করেন যেন তিনি তা যে সামগ্রিক বিধানের নির্দেশ দেয় তাতে উপনীত হতে পারেন। এ ক্ষেত্রে তিনি তার গবেষণায় আরবি ভাষার শৈলী এবং শরয়ি প্রয়োগসমূহের পর্যালোচনার (ইস্তিকরা) সাহায্য গ্রহণ করেন। যখন তিনি তার গবেষণার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে, নির্দেশের রূপ 'ওয়াজিব' হওয়া নির্দেশ করে, নিষেধের রূপ 'হারাম' হওয়া নির্দেশ করে, সাধারণ শব্দ নিশ্চিতভাবে তার অন্তর্ভুক্ত সকল ব্যক্তি বা বস্তুকে শামিল করার নির্দেশ দেয় এবং নিঃশর্ত শব্দ সাধারণভাবে বিধানটি সাব্যস্ত হওয়ার নির্দেশ দেয়, তখন তিনি নিম্নোক্ত নীতিগুলো প্রণয়ন করেন: নির্দেশ ওয়াজিব হওয়ার জন্য, নিষেধ হারামের জন্য, সাধারণ শব্দ নিশ্চিতভাবে তার সকল ব্যক্তি বা বস্তুকে অন্তর্ভুক্ত করে এবং নিঃশর্ত শব্দ কোনো নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা ছাড়াই সাধারণ কোনো ব্যক্তিকে নির্দেশ করে।এই সামগ্রিক নীতিসমূহ এবং উসুলি তার গবেষণার মাধ্যমে যা কিছু প্রণয়ন করেন, ফকিহ সেগুলোকে স্বীকৃত মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করেন এবং সেগুলোকে সামগ্রিক দলিলের শাখা-প্রশাখাগুলোর ওপর প্রয়োগ করেন যাতে এর মাধ্যমে বিস্তারিত আমলি শরয়ি বিধানে পৌঁছানো সম্ভব হয়। ফলে তিনি ‘নির্দেশ ওয়াজিব হওয়ার জন্য’—এই নীতিটি আল্লাহ তাআলার বাণী: {হে মুমিনগণ, তোমরা অঙ্গীকারসমূহ পূর্ণ করো} (আল-মায়িদাহ: ১)-এর ওপর প্রয়োগ করেন এবং ফয়সালা দেন যে অঙ্গীকার পূর্ণ করা ওয়াজিব। তিনি ‘নিষেধ হারামের জন্য’—এই নীতিটি আল্লাহ তাআলার বাণী: {হে মুমিনগণ, কোনো কওম যেন অন্য কোনো কওমকে উপহাস না করে} (আল-হুজুরাত: ১১)-এর ওপর প্রয়োগ করেন এবং রায় দেন যে এক কওম কর্তৃক অন্য কওমকে উপহাস করা হারাম। তিনি ‘সাধারণ শব্দ নিশ্চিতভাবে তার সকল ব্যক্তি বা বস্তুকে অন্তর্ভুক্ত করে’—এই নীতিটি আল্লাহ তাআলার বাণী: {তোমাদের ওপর তোমাদের মাতাদের হারাম করা হয়েছে} (আন-নিসা: ২৩)-এর ওপর প্রয়োগ করেন এবং ফয়সালা দেন যে প্রত্যেক মা-ই (বিবাহের জন্য) হারাম। তিনি ‘নিঃশর্ত শব্দ যেকোনো ব্যক্তিকে নির্দেশ করে’—এই নীতিটি যিহারের কাফফারা সম্পর্কে আল্লাহ তাআলার বাণী: {অতঃপর একজন দাস মুক্তি করা} (আল-মুজাদালাহ: ৩)-এর ওপর প্রয়োগ করেন এবং বিধান দেন যে, কাফফারার ক্ষেত্রে যেকোনো দাস মুক্তি করলেই তা যথেষ্ট হবে, চাই সে মুসলিম হোক বা অমুসলিম।এর মাধ্যমে সামগ্রিক দলিল ও আংশিক (শাখা) দলিলের মধ্যে এবং সামগ্রিক বিধান ও আংশিক বিধানের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে যায়।সামগ্রিক দলিল হলো দলিলের সেই সাধারণ প্রকার যার অধীনে অনেকগুলো আংশিক বা শাখা বিষয় অন্তর্ভুক্ত হয়, যেমন-
(খণ্ড: ১)
ইলমু উসূলিল ফিকহি - ত মাকতাবাতুদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الأمر والنهي والعام والمطلق والإجماع الصريح والإجماع السكوتي، والقياس المنصوص على علته والقياس المستنبطة علته، فالأمر كلي يندرج تحته جميع الصيغ التي وردت بصيغة النهي وهكذا، فالأمر دليل كلي، والنص الذي ورد على صيغة الأمر دليل جزئي، والنهي دليل كلي، والنص الذي ورد على صيغة النهي دليل جزئي.وأما الحكم الكلي فهو النوع العام من الأحكام الذي تندرج فيه عدة جزيئات مثل الإيجاب والتحريم والصحة والبطلان، فالإيجاب حكم كلي يندرج فيه إيجاب الوفاء بالعقود وإيجاب الشهود في الزواج وإيجاب أي واجب، والتحريم حكم كلي يندرج فيه تحريم الزنى والسرقة وتحريم أي محرم، وهكذا الصحة والبطلان، فالإيجاب حكم كلي، وإيجاب فعل معين حكم جزئي.والأصولي لا يبحث في الأدلة الجزئية، ولا فيما تدل عليه الأحكام الجزئية، وإنما يبحث في الدليل الكلي وما يدل عليه من حكم كلي ليضع قواعد كلية لدلالة الأدلة كي يطبقها الفقيه على جزيئات الأدلة لاستثمار الحكم التفصيلي منها.والفقيه لا يبحث في الأدلة الكلية ولا فيما تدل عليه من أحكام كلية وإنما يبحث في الدليل الجزئي وما يدل عليه من حكم جزئي.الغاية المقصودة بهما:الغاية المقصودة من علم الفقه:هي تطبيق الأحكام الشرعية على أفعال الناس وأقوالهم، فالفقه هو المرجع القاضي في قضائه، والمفتي في فتواه، ومرجع كل مكلف لمعرفة الحكم الشرعي فيما يصدر عنه من أقوال وأفعال، وهذه هي الغاية المقصودة من كل القوانين في أيّة أمّة، فإنها لا يقصد منها إلا تطبيق موادها وأحكامها على أفعال الناس وأقوالهم وتعريف كل مكلف بما يجب عليه وما يحرم عليه.وأما الغاية المقصودة من علم أصول الفقه:فهي تطبيق قواعده ونظرياته على الأدلة التفصيلية للتوصل إلى الأحكام الشرعية التي تدل عليها. فبقواعده وبحوثه تفهم النصوص الشرعية ويعرف ما تدل عليه من الأحكام ويعرف ما يزال به من خفاء الخَفي منها، وما يرجح منها عند تعارض بعضها ببعض. وبقواعده وبحوثه يستنبط الحكم بالقياس أو الاستحسان أو الاستصحاب أو
আদেশ, নিষেধ, সাধারণ, নিরঙ্কুশ, স্পষ্ট ইজমা (ঐকমত্য), মৌন ইজমা এবং এমন কিয়াস (অনুমান) যার কারণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং এমন কিয়াস যার কারণ উদ্ভাবন করা হয়েছে। সুতরাং আদেশ হলো একটি সামষ্টিক বিষয়, যার অধীনে নিষেধের রূপে আসা সকল শব্দরূপ অন্তর্ভুক্ত হয় এবং একইভাবে; অতএব আদেশ হলো একটি সামষ্টিক দলিল, আর আদেশের রূপে আসা পাঠ্য (নস) হলো একটি বিশেষ দলিল। আর নিষেধ হলো একটি সামষ্টিক দলিল, এবং নিষেধের রূপে আসা পাঠ্য হলো একটি বিশেষ দলিল।আর সামষ্টিক বিধান হলো বিধানের সেই সাধারণ প্রকার যাতে বেশ কিছু বিশেষ বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকে, যেমন: ওয়াজিব করা (ইيجাব), হারাম করা (তাহরিম), সঠিক হওয়া (সিহহাত) এবং বাতিল হওয়া (বুতলান)। সুতরাং ওয়াজিব করা হলো একটি সামষ্টিক বিধান, যার অধীনে চুক্তির শর্তাবলি পূরণ করার আবশ্যকতা, বিয়েতে সাক্ষীদের উপস্থিতির আবশ্যকতা এবং যেকোনো ওয়াজিবের আবশ্যকতা অন্তর্ভুক্ত। আর হারাম করা হলো একটি সামষ্টিক বিধান, যার অধীনে ব্যভিচার ও চুরি হারাম হওয়া এবং যেকোনো হারামের নিষেধাজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত। একইভাবে সঠিক হওয়া ও বাতিল হওয়ার বিষয়টিও। অতএব ওয়াজিব করা একটি সামষ্টিক বিধান, আর কোনো নির্দিষ্ট কাজের আবশ্যকতা একটি বিশেষ বিধান।একজন উসুলি (মূলনীতিবিদ) বিশেষ দলিলসমূহ নিয়ে আলোচনা করেন না, এবং বিশেষ বিধানসমূহ যা নির্দেশ করে তা নিয়েও গবেষণা করেন না। বরং তিনি সামষ্টিক দলিল এবং তা থেকে নির্দেশিত সামষ্টিক বিধান নিয়ে আলোচনা করেন, যাতে তিনি দলিলের নির্দেশনার জন্য সামষ্টিক নিয়মাবলী প্রণয়ন করতে পারেন, যেন একজন ফকিহ (আইনজ্ঞ) সেই নিয়মগুলো দলিলের বিশেষ ক্ষেত্রে প্রয়োগ করে তা থেকে বিস্তারিত বিধান আহরণ করতে পারেন।আর একজন ফকিহ সামষ্টিক দলিলসমূহ এবং তার নির্দেশিত সামষ্টিক বিধানসমূহ নিয়ে আলোচনা করেন না, বরং তিনি বিশেষ দলিল এবং তা থেকে নির্দেশিত বিশেষ বিধান নিয়ে আলোচনা করেন।উভয় শাস্ত্রের উদ্দেশ্য:ফিকহ শাস্ত্রের উদ্দেশ্য হলো:মানুষের কথা ও কাজের ওপর শরয়ি বিধানসমূহ প্রয়োগ করা। সুতরাং ফিকহ হলো বিচারকের বিচারকার্য পরিচালনা করার, মুফতির ফতোয়া প্রদানের এবং প্রতিটি মুকাল্লাফের (শরয়ি দায়বদ্ধ ব্যক্তি) তার কথা ও কাজ থেকে উদ্ভূত বিধান জানার মূল উৎস। যেকোনো জাতির যেকোনো আইনের উদ্দেশ্যই এটি; কেননা আইনের উদ্দেশ্য কেবল মানুষের কথা ও কাজের ওপর এর ধারা ও বিধানগুলো প্রয়োগ করা এবং প্রতিটি দায়বদ্ধ ব্যক্তিকে তার ওপর যা ওয়াজিব ও যা হারাম তা জানিয়ে দেওয়া।আর উসুলে ফিকহ বা ফিকহ শাস্ত্রের মূলনীতির উদ্দেশ্য হলো:বিস্তারিত দলিলসমূহ থেকে শরয়ি বিধান বের করার লক্ষ্যে এ শাস্ত্রের নিয়ম ও তত্ত্বগুলো সেগুলোর ওপর প্রয়োগ করা। সুতরাং উসুলের নিয়ম ও গবেষণার মাধ্যমে শরয়ি নস বা পাঠ্যসমূহ বোঝা যায়, সেগুলো থেকে প্রমাণিত বিধান জানা যায়, সেগুলোর মধ্যকার অস্পষ্টতা দূর করার পদ্ধতি জানা যায় এবং দলিলের মাঝে পারস্পরিক বৈপরীত্য দেখা দিলে অগ্রাধিকার দেওয়ার পদ্ধতি অবগত হওয়া যায়। এ শাস্ত্রের নিয়ম ও গবেষণার মাধ্যমেই কিয়াস (অনুমান), ইস্তিহসান (পছন্দনীয়তা), ইস্তিসহাব (পূর্বাবস্থা বজায় রাখা) বা অন্য কোনো উপায়ে বিধান আহরণ করা হয়।
(খণ্ড: ১)
ইলমু উসূলিল ফিকহি - ত মাকতাবাতুদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
غيرها في الواقعة التي لم يرد نص بحكمها. وبقواعده وبحوثه يفهم ما استنبطه الأئمة المجتهدون حق فهمه، ويوازن بين مذاهبهم المختلفة في حكم الواقعة الواحدة، لأن فهم الحكم على وجهه والموازنة بين حكمين مختلفين لا يكون إلا بالوقوف على دليل الحكم ووجه استمداد الحكم من دليله، ولا يكون هذا إلا بعلم أصول الفقه فهو عماد الفقه المقارن.نشأة كل منها وتطوّره:نشأت أحكام الفقه مع نشأة الإسلام، لأن الإسلام هو مجموعة من العقائد والأخلاق والأحكام العملية، وقد كانت هذه الأحكام العملية في عهد الرسول صلى الله عليه وسلم مكونة من الأحكام التي وردت في القرآن، ومن الأحكام التي صدرت من الرسول صلى الله عليه وسلم فتوى في واقعة، أو قضاء في خصومة، أو جواباً عن سؤال. فكانت مجموعة الأحكام الفقهية في طورها الأول مكونة من أحكام الله ورسوله صلى الله عليه وسلم ومصدرها القرآن والسنة.وفي عهد الصحابة واجهتهم وقائع وطرأت لهم طوارئ لم تواجه المسلمين ولم تطرأ لهم في عهد الرسول صلى الله عليه وسلم، فاجتهد فيها أهل الاجتهاد منهم وقضوا وأفتوا وشرعوا وأضافوا إلى المجموعة الأولى عدة أحكام استنبطوها باجتهادهم. فكانت مجموعة الأحكام الفقهية في طورها الثاني مكونة من أحكام الله ورسوله صلى الله عليه وسلم وفتاوى الصحابة وأقضيتهم، ومصادرها القرآن والسنة واجتهاد الصحابة. وفي هذين الطورين لم تدوّن هذه الأحكام ولم تشرع أحكام لوقائع فرضية بل كان التشريع فيهما لما حدث فعلاً من الواقع وما وقع من الحوادث، ولم تأخذ هذه الأحكام صبغة علمية بل كانت مجرد حلول جزئية لوقائع فعلية ولم تُسَم هذه المجموعة علم الفقه ولم يسم رجالها من الصحابة الفقهاء.وفي عهد التابعين وتابعي التابعين والأئمة المجتهدين وهو بالتقريب القرنان الهجريان الثاني والثالث اتسعت الدولة الإسلامية ودخل في الإسلام كثيرون من غير العرب، وواجهت المسلمين طوارئ ومشاكل وبحوث ونظريات وحركة عمرانية وعقلية حملت المجتهدين على السعة في الاجتهاد والتشريع لكثير من الوقائع، وفتحت لهم أبواباً من البحث والنظر، فاتسع ميدان التشريع للأحكام الفقهية
অন্যান্য ক্ষেত্রে এমনসব বাস্তব ঘটনায় যার হুকুম বা বিধান সম্পর্কে কোনো টেক্সট বর্ণিত হয়নি। এর নিয়মাবলী ও গবেষণার মাধ্যমে মুজতাহিদ ইমামগণ যা উদ্ভাবন করেছেন তা যথাযথভাবে বোঝা সম্ভব হয় এবং কোনো একটি নির্দিষ্ট ঘটনার হুকুমের ক্ষেত্রে তাঁদের ভিন্ন ভিন্ন মাযহাবের মধ্যে তুলনা করা যায়। কেননা কোনো হুকুমকে তার প্রকৃত রূপে বোঝা এবং দুটি ভিন্ন হুকুমের মধ্যে তুলনা করা কেবল তখনই সম্ভব হয় যখন হুকুমের দলিল এবং দলিল থেকে হুকুম গ্রহণের পদ্ধতি সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান থাকে। আর এটি কেবল উসূলে ফিকহ শাস্ত্রের মাধ্যমেই সম্ভব; তাই এটিই হলো তুলনামূলক ফিকহ শাস্ত্রের প্রধান ভিত্তি।এগুলোর প্রতিটির উদ্ভব ও বিকাশ:ইসলামের সূচনালগ্নেই ফিকহী বিধানের উদ্ভব হয়েছে। কারণ ইসলাম হলো আকীদা, নৈতিকতা এবং ব্যবহারিক বিধানের সমষ্টি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে এই ব্যবহারিক বিধানসমূহ গঠিত ছিল কুরআনে বর্ণিত হুকুম এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে কোনো বাস্তব ঘটনায় প্রদত্ত ফতোয়া, কোনো বিরোধের মিমাংসা কিংবা কোনো প্রশ্নের উত্তরের মাধ্যমে জারিকৃত বিধানের সমন্বয়ে। সুতরাং ফিকহী বিধানমালার সমষ্টি তার প্রথম পর্যায়ে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হুকুম দ্বারা গঠিত ছিল এবং এর উৎস ছিল কুরআন ও সুন্নাহ।সাহাবায়ে কিরামের যুগে তাঁদের সামনে এমন কিছু বাস্তব ঘটনা ও জরুরি পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটে যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে মুসলমানদের সামনে আসেনি। ফলে তাঁদের মধ্য থেকে ইজতিহাদ করার যোগ্য ব্যক্তিগণ সেসব বিষয়ে ইজতিহাদ করেন এবং ফয়সালা প্রদান, ফতোয়া দান ও বিধান প্রণয়ন করেন। এভাবে তাঁরা পূর্ববর্তী বিধানমালার সাথে নিজেদের ইজতিহাদের মাধ্যমে উদ্ভাবিত আরও কিছু বিধান যুক্ত করেন। সুতরাং ফিকহী বিধানের সমষ্টি তার দ্বিতীয় পর্যায়ে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হুকুম এবং সাহাবায়ে কিরামের ফতোয়া ও ফয়সালার সমন্বয়ে গঠিত ছিল; আর এর উৎস ছিল কুরআন, সুন্নাহ এবং সাহাবায়ে কিরামের ইজতিহাদ। এই দুই পর্যায়ে এই বিধানসমূহ সংকলিত হয়নি এবং কোনো কাল্পনিক ঘটনার জন্য বিধান প্রণয়ন করা হয়নি। বরং এই পর্যায়ে বিধান প্রণয়ন কেবল বাস্তবে ঘটে যাওয়া ঘটনা ও পরিস্থিতির জন্যই সীমাবদ্ধ ছিল। এই বিধানসমূহ তখনো কোনো শাস্ত্রীয় রূপ লাভ করেনি, বরং এগুলো ছিল বাস্তব ঘটনার নিছক আংশিক সমাধান মাত্র। তখন পর্যন্ত এই সমষ্টিকে 'ইলমুল ফিকহ' নামে অভিহিত করা হয়নি এবং সাহাবীদের মধ্য থেকে এ কাজে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের 'ফকীহ' নামেও ডাকা হয়নি।তাবেয়ী, তাবে-তাবেয়ী এবং মুজতাহিদ ইমামগণের যুগে—যা মোটামুটি হিজরি দ্বিতীয় ও তৃতীয় শতাব্দী—ইসলামী রাষ্ট্র সম্প্রসারিত হয় এবং অনারবদের একটি বিশাল অংশ ইসলামে দাখিল হয়। তখন মুসলমানদের সামনে নতুন নতুন জরুরি পরিস্থিতি, সমস্যা, গবেষণা, তত্ত্ব এবং তামাদ্দুনিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলনের উদ্ভব ঘটে, যা মুজতাহিদগণকে অনেক ঘটনার ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে ইজতিহাদ ও বিধান প্রণয়ন করতে উদ্বুদ্ধ করে। এটি তাঁদের জন্য গবেষণা ও পর্যালোচনার নতুন দ্বার উন্মোচন করে দেয়, ফলে ফিকহী বিধান প্রণয়নের ক্ষেত্রটি প্রশস্ত হয়ে ওঠে।
(খণ্ড: ১)
ইলমু উসূলিল ফিকহি - ত মাকতাবাতুদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وشرعت أحكام كثيرة لوقائع فرضية، وأضيفت إلى المجموعتين السابقتين أحكام كثيرة، فكانت مجموعة الأحكام الفقهية في طورها الثالث مكونة من أحكام الله ورسوله، وفتاوى الصحابة وأقضيتهم، وفتاوى المجتهدين واستنباطهم، ومصادرها القرآن والسنة واجتهاد الصحابة والأئمة المجتهدين.وفي هذا العهد بُدئ بتدوين هذه الأحكام مع البدء بتدوين السنة، واصطبغت الأحكام بالصبغة العلمية لأنها ذكرت معها أدلتها وعللها والأصول العامة التي تتفرغ عنها، وسمي رجالها الفقهاء وسمي العلم علم الفقه، ومن أول ما دون فيها فيما وصل إلينا موطأ مالك بن أنس رضي الله عنه، فإنه جمع فيه بناء على طلب الخليفة المنصور ما صح عنده من السنة ومن فتاوى للصحابة والتابعين وتابعيهم، فكان كتاب حديث وفقه وهو أساس فقه الحجازيين، ثم دون الإمام أبو يوسف صاحب أبي حنيفة عدة كتب في الفقه هي أساس فقه العراقيين، ودون الإمام محمد بن الحسن صاحب أبي حنيفة كتب ظاهر الرواية الستة التي جمعها الحاكم الشهيد في كتابه الكافي وشرحه السرخسي في كتابه المبسوط وهي مرجع فقه المذهب الحنفي، وأملى الإمام محمد بن إدريس الشافعي بمصر كتابه (الأم) وهو عماد فقه المذهب الشافعي.أما علم أصول الفقه فلم ينشأ إلا في القرن الثاني الهجري، لأنه في القرن الهجري الأول لم تدع حاجة إليه، فالرسول كان يفتي ويقضي بما يوحى به إليه ربه من القرآن، ولما يلهم به من السنن، وبما يؤديه إليه اجتهاده الفطري من غير حاجة إلى أصول وقواعد يتوصل بها إلى الاستنباط والاجتهاد. وأصحابه كانوا يفتون ويقضون بالنصوص التي يفهمونها بملكتهم العربية السليمة من غير حاجة إلى قواعد لغوية يهتدون بها على فهم النصوص، ويستنبطون فيما لا نص فيه بملكتهم التشريعية التي ركزت في نفوسهم من صحبتهم الرسول صلى الله عليه وسلم، ووقوفهم على أسباب نزول الآيات وورود الأحاديث، وفهمهم مقاصد الشارع ومبادئ التشريع. ولكن لما اتسعت الفتوح الإسلامية واختلط العرب بغيرهم وتشافهوا وتكاتبوا ودخل في العربية كثير من المفردات والأساليب غير العربية، ولم تبق المَلَكَة اللّسانية على سلامتها، وكثرت الاشتباهات والاحتمالات في فهم النصوص دعت الحاجة إلى وضع ضوابط وقواعد لغوية يقتدر بها على فهم النصوص كما
কাল্পনিক বা সম্ভাব্য ঘটনাবলীর জন্য অনেক বিধান প্রণয়ন করা হয়েছিল এবং পূর্ববর্তী দুই শ্রেণির সাথে আরও অনেক বিধান যুক্ত করা হয়েছিল। ফলে ফিকহী বিধানের সংকলন তার তৃতীয় পর্যায়ে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিধানসমূহ, সাহাবায়ে কিরামের ফাতাওয়া ও বিচারিক সিদ্ধান্তসমূহ এবং মুজতাহিদগণের ফাতাওয়া ও ইস্তিন্বাত (বিধান উদ্ঘাটন) দ্বারা গঠিত হয়েছিল। এর উৎসসমূহ ছিল কুরআন, সুন্নাহ এবং সাহাবা ও মুজতাহিদ ইমামগণের ইজতিহাদ।এই যুগে সুন্নাহ সংকলনের পাশাপাশি এই বিধানসমূহ সংকলনের কাজ শুরু হয়। বিধানগুলো একটি বৈজ্ঞানিক রূপ লাভ করে, কারণ সেগুলোর সাথে তাদের দলীল, কারণ ও সাধারণ মূলনীতিসমূহ উল্লেখ করা হয়েছিল যা থেকে শাখা মাসআলাগুলো নির্গত হয়। এই শাস্ত্রের পণ্ডিতগণকে ফকীহ এবং শাস্ত্রটিকে ইলমুল ফিকহ নামে অভিহিত করা হয়। আমাদের কাছে পৌঁছেছে এমন সংকলনসমূহের মধ্যে সর্বপ্রথম হলো মালিক ইবনে আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর মুয়াত্তা। খলীফা মনসুরের অনুরোধে তিনি এতে তাঁর নিকট সহীহ সাব্যস্ত হওয়া সুন্নাহ এবং সাহাবী, তাবিঈ ও তাবে-তাবিঈগণের ফাতাওয়াগুলো সংকলন করেন। এটি ছিল একইসাথে হাদীস ও ফিকহের কিতাব এবং এটি হিজাজবাসীদের ফিকহের ভিত্তি। অতঃপর ইমাম আবু হানীফার সহচর ইমাম আবু ইউসুফ ফিকহের ওপর কয়েকটি কিতাব সংকলন করেন যা ইরাকবাসীদের ফিকহের ভিত্তি। আর ইমাম আবু হানীফার সহচর ইমাম মুহাম্মদ বিন হাসান যাহিরুর রিওয়াহ-এর ছয়টি কিতাব সংকলন করেন, যা হাকিম আশ-শহীদ তাঁর আল-কাফী গ্রন্থে একত্রিত করেছেন এবং সারাখসী তাঁর আল-মাবসূত গ্রন্থে এর ব্যাখ্যা করেছেন; এটি হানাফী মাযহাবের ফিকহের মূল উৎস। আর ইমাম মুহাম্মদ বিন ইদরীস আশ-শাফিঈ মিসরে তাঁর কিতাব আল-উম্ম শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে লিপিবদ্ধ করান, যা শাফিঈ মাযহাবের ফিকহের প্রধান স্তম্ভ।পক্ষান্তরে ইলমুল উসূলে ফিকহ দ্বিতীয় হিজরী শতাব্দীর আগে উদ্ভূত হয়নি। কেননা প্রথম হিজরী শতাব্দীতে এর কোনো প্রয়োজন ছিল না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফাতাওয়া দিতেন এবং ফয়সালা করতেন তাঁর রবের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ কুরআনের ওহী, ইলহামকৃত সুন্নাহ এবং তাঁর সহজাত ইজতিহাদের মাধ্যমে; ইস্তিন্বাত ও ইজতিহাদের জন্য কোনো উসূল বা নিয়মনীতির তাঁর প্রয়োজন ছিল না। তাঁর সাহাবীগণও ফাতাওয়া দিতেন এবং বিচারিক ফয়সালা করতেন তাঁদের সহজাত ও বিশুদ্ধ আরবী ভাষাজ্ঞানের সাহায্যে বুঝা যায় এমন নصوص (মূল পাঠ বা দলীল) অনুযায়ী; দলীলসমূহ বুঝার জন্য তাঁদের কোনো ভাষাগত নিয়মনীতির প্রয়োজন হতো না। আর যেসব বিষয়ে কোনো স্পষ্ট দলীল ছিল না, সেক্ষেত্রে তাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহচর্য, আয়াত নাযিল হওয়ার প্রেক্ষাপট ও হাদীস অবতীর্ণ হওয়ার কারণসমূহ সম্পর্কে সম্যক অবগতি এবং শরীয়তদাতার উদ্দেশ্য ও বিধান প্রণয়নের মূলনীতিসমূহ সম্পর্কে তাঁদের হৃদয়ে প্রোথিত আইনী প্রজ্ঞার মাধ্যমে বিধান উদ্ঘাটন করতেন। কিন্তু যখন ইসলামী বিজয় ব্যাপকতা লাভ করল এবং আরবগণ অনারবদের সাথে মেলামেশা, কথোপকথন ও চিঠিপত্র আদান-প্রদান শুরু করল এবং আরবী ভাষায় অনেক অনারব শব্দ ও শৈলী প্রবেশ করল, তখন ভাষাগত সেই সহজাত যোগ্যতা আর অটুট থাকল না। দলীলের অর্থ বুঝার ক্ষেত্রে সংশয় ও একাধিক সম্ভাবনার সৃষ্টি হলো, ফলে দলীলাদি যথাযথভাবে অনুধাবন করার জন্য কিছু ভাষাগত মানদণ্ড ও নিয়মনীতি নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিল যেভাবে
(খণ্ড: ১)
ইলমু উসূলিল ফিকহি - ত মাকতাবাতুদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
يفهمها العربي الذي وردت النصوص بلغته، كما دعت إلى وضع قواعد نحوية يقتدر بها على صحة النطق.وكذلك لما بعد العهد بفجر التشريع، واحتدم الجدال بين أهل الحديث وأهل الرأي، واجترأ بعض ذوي الأهواء على الاحتجاج بما لا يحتج به، وإنكار بعض ما يحتج به، دعا كل هذا إلى وضع ضوابط وبحوث في الأدلة الشرعية وشروط الاستدلال بها وكيفية الاستدلال بها، ومن مجموعة هذه البحوث الاستدلالية وتلك الضوابط اللغوية تَكوّن علم أصول الفقه.ولكنه بدأ صغيرا كما يوجد كل مولود أول نشأته ثم تدرج في النمو حتى بلغت أسفاره المئتين. بدأ منثورا مفرقا في خلال أحكام الفقه لأن كل مجتهد من الأئمة الأربعة وغيرهم كان يشير إلى دليل حكمه ووجه استدلاله به، وكل مخالف كان يحتج على مخالفة بوجوه من الحجج، وكل هذه الاستدلالات والاحتجاجات تنطوي على ضوابط أصولية.وأول من جمع هذه المتفرقات مجموعة مستقلة في سِفْر على حدة، الإمام أبو يوسف صاحب أبي حنيفة كما ذكر ابن النديم في الفهرست ولكن لم يصل إلينا ما كتبه.وأول من دون من قواعد هذا العلم وبحوثه مجموعة مستقلة مرتبة مؤيدا كل ضابط منها بالبرهان ووجهة النظر فيه الإمام محمد بن إدريس الشافعي المتوفى سنة 204 للهجرة، فقد كتب فيه رسالته الأصولية التي رواها عند عنه صاحبه الربيع المرادي، وهي أول مدوّن في العلم وصل إلينا فيما نعلم، ولهذا اشتهر على ألسنة العلماء أنّ واضع أصول علم الفقه الإمام الشافعي رضي الله عنه.وتتابع العلماء على التأليف في هذا العلم بين إسهاب وإيجاز.
একজন আরব ব্যক্তি, যাঁর ভাষায় এই পাঠ্যসমূহ অবতীর্ণ হয়েছে, তিনি তা বুঝতে সক্ষম হন; ঠিক তেমনিভাবে এটি এমন কিছু নাহব বা ব্যাকরণিক নিয়ম প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা তৈরি করেছে, যার মাধ্যমে সঠিক উচ্চারণে সক্ষম হওয়া যায়।একইভাবে আইন প্রণয়নের (তাশরি') শুরুর যুগ থেকে সময় অতিবাহিত হওয়ার সাথে সাথে আহলে হাদিস এবং আহলে রায়ের মধ্যে বিতর্ক তীব্রতর হয়। প্রবৃত্তি অনুসারী কিছু লোক এমন সব বিষয়কে দলিল হিসেবে পেশ করার ধৃষ্টতা দেখায় যা দলিলযোগ্য নয় এবং এমন কিছু দলিল অস্বীকার করে যা গ্রহণযোগ্য। এই সব কিছুই শরয়ি দলিলসমূহের ক্ষেত্রে কিছু মূলনীতি ও গবেষণার প্রয়োজনীয়তা তৈরি করে, যা দলিলের শর্তাবলি এবং তা থেকে মাসআলা উদ্ভাবনের পদ্ধতি নির্ধারণ করে। এই গবেষণামূলক অনুসন্ধান এবং ভাষাগত মূলনীতিসমূহের সমন্বয়েই ‘উসুলুল ফিকহ’ শাস্ত্র গঠিত হয়েছে।তবে প্রতিটি নবজাতকের জন্মের সূচনালগ্নের মতো এটিও ক্ষুদ্রাকারে শুরু হয়েছিল, অতঃপর ধাপে ধাপে এটি বৃদ্ধি পেয়ে দুই শত খণ্ডে পৌঁছেছে। এটি ফিকহি হুকুম-আহকামের মধ্যে বিক্ষিপ্তভাবে শুরু হয়েছিল, কারণ চার ইমাম এবং তাঁদের পরবর্তী প্রত্যেক মুজতাহিদ তাঁদের নির্দেশিত হুকুমের দলিল এবং তা থেকে প্রমাণ আহরণের পদ্ধতির দিকে ইঙ্গিত করতেন। আর প্রত্যেক ভিন্নমত পোষণকারী নিজ মতের পক্ষে বিভিন্ন প্রকার যুক্তি পেশ করতেন। এই সমস্ত ইস্তিদলাল (প্রমাণ আহরণ) এবং যুক্তিপ্রদর্শনের মধ্যে উসুলের বা মূলনীতির কিছু নিয়ম নিহিত ছিল।এই বিক্ষিপ্ত বিষয়গুলোকে সর্বপ্রথম স্বতন্ত্র একটি গ্রন্থে সংকলন করেন ইমাম আবু হানিফার সাথী ইমাম আবু ইউসুফ, যেমনটি ইবনুন নাদিম তাঁর ‘আল-ফিহরিস্ত’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। তবে তাঁর লিখিত সেই কাজ আমাদের পর্যন্ত পৌঁছায়নি।আর এই শাস্ত্রের নিয়মাবলি ও গবেষণাসমূহকে একটি স্বতন্ত্র ও সুবিন্যস্ত সংকলন হিসেবে সর্বপ্রথম যিনি লিপিবদ্ধ করেছেন, যেখানে প্রতিটি নিয়মকে অকাট্য দলিল ও দৃষ্টিভঙ্গি দ্বারা সমর্থন করা হয়েছে, তিনি হলেন ইমাম মুহাম্মদ ইবন ইদরিস আশ-শাফিঈ (মৃ. ২০৪ হিজরি)। তিনি এই বিষয়ে তাঁর উসুলের কিতাব ‘আর-রিসালা’ লিখেছেন, যা তাঁর নিকট থেকে তাঁর সঙ্গী রাবি' আল-মুরাদি বর্ণনা করেছেন। আমাদের জানামতে এই শাস্ত্রের এটিই প্রথম লিখিত গ্রন্থ যা আমাদের কাছে পৌঁছেছে। এ কারণেই আলেমদের মুখে এটি প্রসিদ্ধ হয়ে গিয়েছে যে, উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রের প্রবর্তক হলেন ইমাম শাফিঈ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)।এরপর আলেমগণ ধারাবাহিকভাবে এই শাস্ত্রে সংক্ষিপ্ত ও বিস্তারিত উভয় পদ্ধতিতে গ্রন্থ রচনা করে গিয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
ইলমু উসূলিল ফিকহি - ত মাকতাবাতুদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وقد سلك علماء الكلام طريقا في التأليف في هذا العلم، وسلك علماء الحنفية طريقا آخر في التأليف فيه.فأما علماء الكلام فتمتاز طريقتهم بأنهم حققوا قواعد هذا العلم وبحوثه تحقيقا منطقيا نظريا وأثبتوا ما أيده البرهان، ولم يجعلوا وجهتهم انطباق هذه القواعد على ما استنبطه الأئمة المجتهدون من الأحكام ولا ربطها بتلك الفروع، فما أيده العقل وقام عليه البرهان فهو الأصل الشرعي سواء أوافق الفروع المذهبية أم خالفها، ومن هؤلاء أكثر الأصوليين من الشافعية والمالكية.ومن أشهر الكتب الأصولية التي ألفت على هذه الطريقة كتاب "المستصفى" لأبي حامد الغزالي الشافعي المتوفى سنة 505هـ، وكتاب "الأحكام" لأبي حسن الآمدي الشافعي سنة 631هـ، وكتاب "المنهاج" للبيضاوي الشافعي المتوفى سنة 685هـ، وأحسن شروحه شرح الإسنوي.وأما علماء الحنفية فتمتاز طريقتهم بأنهم وضعوا القواعد والبحوث الأصولية التي رأوا أن أئمتهم بنوا عليها اجتهادهم، فهم لا يثبتون قواعد وبحوثا نظرية، وإنما يثبتون قواعد عملية عنها أحكام أئمتهم، ورائدهم في تحقيق هذه القواعد والأحكام التي استنبطها أئمتهم بناء عليها لا مجرد البرهان النظري، ولهذا أكثروا في كتبهم من ذكر الفروع، وصاغوا في بعض الأحيان القواعد الأصولية على ما يتفق وهذه الفروع، فكانت وجهتهم استمداد أصول فقه أئمتهم من فروعهم.ومن أشهر الكتب الأصولية التي ألفت على هذه الطريق أصول أبي زيد الدبوسي المتوفى سنة 430 هـ، وأصول فخر الإسلام البزدوي المتوفى سنة 483هـ، وكتاب المنار للحفاظ النسفي المتوفى سنة 790هـ، وأحسن شروحه: "مشكاة الأنوار".وقد سلك بعض العلماء في التأليف في هذا العلم طريقا جامعا بين الطريقتين السابقتين فعنى بتحقيق القواعد الأصولية وإقامة البراهين عليها، وعني كذلك بتطبيقها على الفروع الفقهية وربطها بها. ومن أشهر الكتب الأصولية التي ألفت على الطريقة المزدوجة كتاب
কালাম শাস্ত্রবিদগণ এই ইলম সংকলনে একটি পথ অনুসরণ করেছেন এবং হানাফী উলামাগণ এতে সংকলনের আরেকটি পথ অনুসরণ করেছেন।কালাম শাস্ত্রবিদদের কথা বলতে গেলে, তাঁদের পদ্ধতির বৈশিষ্ট্য হলো তাঁরা এই শাস্ত্রের মূলনীতি ও গবেষণাগুলো যৌক্তিক ও তাত্ত্বিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে যাচাই করেছেন এবং যেগুলোকে প্রমাণ সমর্থন করেছে তা সাব্যস্ত করেছেন। তাঁরা তাঁদের লক্ষ্য এই মূলনীতিগুলোকে মুজতাহিদ ইমামদের উদ্ভাবিত বিধানসমূহের সাথে মেলানো বা সেগুলোর শাখা-প্রশাখার (ফুরু) সাথে সংশ্লিষ্ট করাকে নির্ধারণ করেননি। বরং যা বিবেক সমর্থন করে এবং যার ওপর প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত, তা-ই শরয়ী মূলনীতি (আসল) হিসেবে গণ্য হয়েছে—তা মাযহাবের শাখা মাসআলাগুলোর সাথে মিলুক বা না মিলুক। এঁদের মধ্যে অধিকাংশ শাফেয়ী ও মালেকী উসূলবিদ অন্তর্ভুক্ত।এই পদ্ধতিতে রচিত বিখ্যাত উসূলের কিতাবসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো: আবু হামিদ আল-গাজালী আশ-শাফেয়ী (মৃত্যু ৫০৫ হিজরী)-এর রচিত "আল-মুস্তাসফা", আবু হাসান আল-আমিদী আশ-শাফেয়ী (মৃত্যু ৬৩১ হিজরী)-এর "আল-ইহকাম" এবং বায়যাভী আশ-শাফেয়ী (মৃত্যু ৬৮৫ হিজরী)-এর "আল-মিনহাজ"। এর শ্রেষ্ঠ ব্যাখ্যাগ্রন্থ হলো ইসনাভীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ।আর হানাফী উলামাগণের পদ্ধতির বৈশিষ্ট্য হলো যে, তাঁরা সেই সকল মূলনীতি ও উসূলী গবেষণা নির্ধারণ করেছেন যেগুলোর ওপর তাঁদের ইমামগণ ইজতিহাদ করেছেন বলে তাঁরা মনে করেছেন। তাঁরা কেবল তাত্ত্বিক মূলনীতি বা গবেষণা সাব্যস্ত করেন না, বরং এমন ব্যবহারিক মূলনীতি সাব্যস্ত করেন যা থেকে তাঁদের ইমামদের বিধানসমূহ উৎসারিত। এই মূলনীতিগুলো নির্ধারণে তাঁদের চালিকাশক্তি ছিল তাঁদের ইমামদের উদ্ভাবিত বিধানসমূহ, শুধু তাত্ত্বিক প্রমাণ নয়। একারণেই তাঁরা তাঁদের কিতাবসমূহে শাখা মাসআলা (ফুরু) অধিক বর্ণনা করেছেন এবং কখনো কখনো উসূলী মূলনীতিগুলোকে এমনভাবে সাজিয়েছেন যা এই শাখা মাসআলাগুলোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। ফলে তাঁদের মূল লক্ষ্য ছিল তাঁদের ইমামদের ফিকহী মূলনীতিগুলোকে তাঁদের শাখা মাসআলাসমূহ থেকে আহরণ করা।এই পদ্ধতিতে রচিত প্রসিদ্ধ উসূলের কিতাবসমূহের মধ্যে রয়েছে: আবু যায়েদ আদ-দাবূসী (মৃত্যু ৪৩০ হিজরী)-এর "উসূল", ফখরুল ইসলাম আল-বাযদাবী (মৃত্যু ৪৮৩ হিজরী)-এর "উসূল" এবং হাফেয আন-নাসাফী (মৃত্যু ৭৯০ হিজরী)-এর "আল-মানার"। এর শ্রেষ্ঠ ব্যাখ্যাগ্রন্থ হলো: "মিশকাতুল আনওয়ার"।আবার কোনো কোনো আলেম এই ইলম সংকলনে পূর্বোক্ত দুই পদ্ধতির সমন্বিত একটি পথ অনুসরণ করেছেন। তাঁরা উসূলী মূলনীতি যাচাই করা ও সেগুলোর স্বপক্ষে দলিল উপস্থাপনের প্রতি যেমন গুরুত্ব দিয়েছেন, তেমনি সেগুলোকে ফিকহী শাখা মাসআলার ওপর প্রয়োগ করা এবং সেগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট করার প্রতিও নজর দিয়েছেন। এই দ্বৈত পদ্ধতিতে রচিত প্রসিদ্ধ উসূলের কিতাবসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো...
(খণ্ড: ১)
ইলমু উসূলিল ফিকহি - ত মাকতাবাতুদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
"بديع النظام" الجامع بين البزدوي والأحكام لمظفر الدين البغدادي الحنفي المتوفى سنة 694هـ، وكتاب "التوضيح " لصدر الشريعة، و"التحرير" للكمال بن الهمام، "وجمع الجوامع" لابن السبكي.ومن المؤلفات الحديثة الموجزة المفيدة في هذا العلم:كتاب " إرشاد الفحول إلى تحقيق الحق من علم الأصول" للإمام الشوكاني المتوفى سنة 1250هـ.وكتاب "أصول الفقه" للمرحوم الشيخ محمد الخضري بك، المتوفى سنة 1927م.وكتاب "تسهيل الوصول إلى علم الأصول" للمرحوم الشيخ محمد عبد الرحمن عيد المحلاوي المتوفى سنة 1920م.ونحمد الله الذي وفقنا إلى الإطلاع على الكثير من هذه الكتب وهدانا إلى هذه الخلاصة الوافية التي بينّا فيها مصادر التشريع الإسلامي أجلى بيان وكشفنا عن مرونتها وخصوبتها وسعتها، وبينّا فيها مباحث الأحكام بيانا قرب فهمها وجلى حكمة الشارع فيما شرعه، وصِغنا فيها البحوث اللغوية والتشريعية بصيغة القواعد ليسهل فهمها وتطبيقها، وراعينا في الأمثلة التطبيقية أن تكون من النصوص الشرعية ومن قوانيننا الوضعية ليعرف كيف ينتفع عملاً بهذا العلم، وأشرنا في كثير من المواضيع إلى المقارنة بين أصول الأحكام الشرعية وأصول القوانين الوضعية ليتبين أن مقصد الاثنين واحد وهو الوصول إلى فهم الأحكام من نصوصها فهما صحيحا، وتحقيق مقاصد الشارع مما شرعه، وتأمين نصوص القوانين من العبث بها.وأهم ما ألفت النظر إليه أن بحوث علم أصول الفقه وقواعده ليست بحوثا وقواعد تعبدية وإنما هي أدوات ووسائل يستعين بها المشرع على مراعاة المصلحة العامة والوقوف عند الحد الإلهي في تشريعه، ويستعين بها القاضي في تحري العدل في قضائه وتطبيق القانون على وجهه، فهي ليست خاصة بالنصوص الشرعية والأحكام الشرعية.
৬৯৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী মুজাফফরুদ্দীন আল-বাগদাদী আল-হানাফী রচিত ‘বাদিউন নিযাম’ (যা আল-বাজদাবী ও আল-আহকাম গ্রন্থের সংকলন), সদরুশ শারীআহ রচিত ‘আত-তাওদীহ’, কামাল ইবনুল হুমাম রচিত ‘আত-তাহরীর’ এবং ইবনুস সুবকী রচিত ‘জামউল জাওয়ামি’।এই শাস্ত্রে আধুনিক যুগের সংক্ষিপ্ত অথচ উপকারী গ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছে:১২৫০ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী ইমাম আশ-শাওকানী রচিত ‘ইরশাদুল ফুহুল ইলা তাহকীকিল হাক্কি মিন ইলমিল উসুল’।১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণকারী মরহুম শেখ মুহাম্মদ আল-খুদরী বেক রচিত ‘উসুলুল ফিকহ’।১৯২০ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণকারী মরহুম শেখ মুহাম্মদ আব্দুর রহমান ঈদ আল-মাহাল্লাবী রচিত ‘তাসহীলুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল’।আমরা সেই আল্লাহর প্রশংসা করছি যিনি আমাদের এই গ্রন্থসমূহের অনেকগুলো অধ্যয়ন করার তাওফীক দিয়েছেন এবং আমাদের এই পর্যাপ্ত সারসংক্ষেপ রচনার দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, যেখানে আমরা ইসলামি শরীয়তের উৎসসমূহ অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছি এবং এর নমনীয়তা, সমৃদ্ধি ও ব্যাপকতা উন্মোচন করেছি। এতে আমরা বিধান সংক্রান্ত বিষয়সমূহ এমনভাবে বর্ণনা করেছি যা বোধগম্য এবং শরীয়ত প্রণেতা যা প্রবর্তন করেছেন তার হিকমত বা প্রজ্ঞা স্পষ্ট করে। আমরা ভাষাগত ও আইনি গবেষণাসমূহকে মূলনীতির আকারে রূপ দিয়েছি যাতে সেগুলো বোঝা ও প্রয়োগ করা সহজ হয়। আমরা প্রয়োগিক উদাহরণগুলোর ক্ষেত্রে লক্ষ্য রেখেছি যেন সেগুলো শরীয়তের মূল পাঠ (নস) ও আমাদের প্রচলিত মানবীয় আইনসমূহ থেকে হয়, যাতে এই শাস্ত্রটি বাস্তব ক্ষেত্রে কীভাবে প্রয়োগ করা যায় তা জানা যায়। অনেক ক্ষেত্রে আমরা শরীয়তের বিধানের মূলনীতি এবং প্রচলিত আইনের মূলনীতির মধ্যে তুলনা করেছি, যাতে স্পষ্ট হয় যে উভয়ের উদ্দেশ্য এক; আর তা হলো পাঠ্য থেকে বিধানগুলো সঠিকভাবে বোঝা, শরীয়ত প্রণেতার উদ্দেশ্যসমূহ বাস্তবায়ন করা এবং আইনের পাঠ্যসমূহকে অনর্থক হস্তক্ষেপ থেকে রক্ষা করা।সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়ের দিকে আমি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই তা হলো, উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রের গবেষণা ও নিয়মাবলী কেবল নিছক ইবাদত-কেন্দ্রিক কোনো বিষয় নয়, বরং এগুলো এমন কিছু উপকরণ ও মাধ্যম যার সাহায্যে আইন প্রণেতা জনস্বার্থ রক্ষা করতে এবং আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে খোদায়ী সীমার মধ্যে অবস্থান করতে সক্ষম হন। বিচারক তার বিচারকার্যে ন্যায়বিচার বজায় রাখতে এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ করতে এর সাহায্য গ্রহণ করেন। সুতরাং এটি কেবল শরয়ী পাঠ বা শরয়ী বিধানের সাথে সীমাবদ্ধ নয়।
(খণ্ড: ১)
ইলমু উসূলিল ফিকহি - ত মাকতাবাতুদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
تنبيه: تعريف العلم، وموضوعه، وغايته، ومنشؤه، ونسبته إلى سائر العلوم، وواضعه وحكم الشرع فيه، ومسائله، هذه كلها تسمى مبادئ العلم.وهي تكون للعلم صورة إجمالية تجعل من يشرع في دراسته ملمّاً به، ولهذا اعتاد المؤلفون أن يقدموا مؤلفهم في العلم بمقدمة في بيان مبادئه.وقد ألف كثير من العلماء رسائل خاصة في مبادئ العلوم ومنها رسالة مطبوعة صغيرة الحجم كبيرة الفائدة للمرحوم الشيخ على رجب الصالحي اسمها "تحقيق مبادئ العلوم الإحدى عشر".وابن خلدون في المقدمة كتب في القسم الأخير منها فصولا ممتعة في العلوم الشرعية واللغوية والعقلية، بين فيها تعريف كل علم ونشأته وتطوره. القسم الأول: في الأدلة الشرعيةتعريف الدليل: الدليل معناه في اللغة العربية: الهادي إلى أي شيء حسي أو معنوي، خير أو شر، وأما معناه في اصطلاح الأصوليين فهو: ما يستدل بالنظر الصحيح فيه على حكم شرعي عملي على سبيل القطع أو الظن. وأدلة الأحكام، وأصول الأحكام، والمصادر التشريعية للأحكام، ألفاظ مترادفة معناها واحد.وبعض الأصوليين عرّف الدليل بأنه: ما يستفاد منه حكم شرعي عملي على سبيل القطع، وأما ما يستفاد منه حم شرعي على سبيل الظن، فهو أمارة لا دليل.ولكن المشهور في اصطلاح الأصوليين أن الدليل هو ما يستفاد منه حكم
সতর্কবার্তা: ইলমের সংজ্ঞা, এর আলোচ্য বিষয়, এর লক্ষ্য-উদ্দেশ্য, এর উৎস, অন্যান্য শাস্ত্রের সাথে এর সম্বন্ধ, এর প্রণেতা, এ বিষয়ে শরয়ি বিধান এবং এর মাসআলাসমূহ—এই সবগুলোকে ইলমের মূলনীতি বলা হয়।এগুলো কোনো ইলম বা শাস্ত্রের একটি সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরে, যা পাঠ শুরুকারীকে সংশ্লিষ্ট বিষয়টি সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা প্রদান করে। এ কারণেই লেখকরা সাধারণত কোনো শাস্ত্রীয় গ্রন্থ রচনার শুরুতে সেই শাস্ত্রের মূলনীতিসমূহ বর্ণনার মাধ্যমে ভূমিকা প্রদানের রীতি অনুসরণ করেন।অনেক আলেম ইলমের মূলনীতিসমূহের ওপর বিশেষ পুস্তিকা রচনা করেছেন। তার মধ্যে মরহুম শেখ আলি রজব আল-সালিহির রচিত "এগারোটি শাস্ত্রের মূলনীতির বিশ্লেষণ" নামক মুদ্রিত পুস্তিকাটি আকারে ছোট হলেও অত্যন্ত ফায়দাজনক।ইবনে খালদুন তার মুকাদ্দিমার শেষাংশে শরয়ি, ভাষাগত এবং বুদ্ধিবৃত্তিক শাস্ত্রগুলোর ওপর বেশ কিছু চমৎকার অধ্যায় রচনা করেছেন, যেখানে তিনি প্রতিটি ইলমের সংজ্ঞা, উদ্ভব এবং ক্রমবিকাশ বর্ণনা করেছেন। প্রথম অংশ: শরয়ি দলিলসমূহ প্রসঙ্গেদলিলের সংজ্ঞা: আরবি ভাষায় দলিলের অর্থ হলো: এমন পথপ্রদর্শক যা কোনো ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বা ভাবগত বিষয়ের দিকে পরিচালিত করে, তা ভালো হোক বা মন্দ। আর উসুলবিদদের পরিভাষায় এর অর্থ হলো: সঠিক চিন্তা ও গবেষণার মাধ্যমে যা থেকে অকাট্য বা প্রবল ধারণার ভিত্তিতে কোনো ব্যবহারিক শরয়ি বিধান লাভ করা যায়। আহকামের দলিল (আদিল্লাতুল আহকাম), আহকামের মূল ভিত্তি (উসুলুল আহকাম) এবং আহকামের আইনি উৎস (আল-মাসাদিরুত তাশরিয়্যাহ)—এই শব্দগুলো পরস্পর সমার্থক এবং এগুলোর অর্থ অভিন্ন।কোনো কোনো উসুলবিদ দলিলের সংজ্ঞা দিয়েছেন এভাবে: যা থেকে অকাট্যভাবে কোনো ব্যবহারিক শরয়ি বিধান লাভ করা যায়। আর যা থেকে প্রবল ধারণার ভিত্তিতে কোনো শরয়ি বিধান লাভ করা যায়, তা হলো আলামত (নিদর্শন), দলিল নয়।তবে উসুলবিদদের পরিভাষায় প্রসিদ্ধ মত হলো, দলিল হলো তা-ই যা থেকে কোনো বিধান লাভ করা যায়...
(খণ্ড: ১)
ইলমু উসূলিল ফিকহি - ত মাকতাবাতুদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
شرعي عملي مطلقا، أي سواء أكان على سبيل القطع أم علي سبيل الظن، ولهذا قسّموا الدليل إلى قطعي الدلالة، وإلى ظني الدلالة.الأدلة الشرعية بالإجمال: ثبت بالاستقراء أن الأدلة الشرعية التي تستفاد منها الأحكام العملية ترجع إلى أربعة: القرآن والسنة والإجماع والقياس، وهذه الأدلة الأربعة اتفق جمهور المسلمين على الاستدلال بها، واتفقوا أيضاً على أنها مرتبة في الاستدلال بها هذا الترتيب: القرآن، فالسنة، فالإجماع، فالقياس.أي أنه إذا عرضت واقعة، نظر أولا في القرآن، فإن وجد فيه حكمها أمضى، وإن لم يوجد فيها حكمها، نظر في السنة، فإن وجد فيها حكمها أمضى، وإن لم يوجد فيها حكمها نظر هل أجمع المجتهدون في عصر من العصور علي حكم فيها؟ فإن وجد أمضى، وإن لم يوجد اجتهد في الوصول إلى حكمها بقياسها على ما ورد النص بحكمه.أما البرهان على الاستدلال بها: فهو قوله تعالى في سورة النساء: (يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ أَطِيعُواْ اللهَ وَأَطِيعُواْ الرَّسُولَ وَأُوْلِي الأَمْرِ مِنكُمْ فَإِن تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللهِ وَالرَّسُولِ إِن كُنتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلاً) [النساء: 59]فالأمر بإطاعة الله وإطاعة رسوله، أمر باتباع القرآن والسنة، والأمر بإطاعة أولي الأمر من المسلمين أمرٌ باتباع ما اتفقت عليه كلمة المجتهدين من الأحكام لأنهم أولو الأمر التشريعي من المسلمين، والأمر برد الوقائع المتنازع فيها إلى الله والرسول أمر باتباع القياس حيث لا نص ولا إجماع، لأن القياس فيه رد المتنازع فيه إلى الله وإلى الرسول لأنه إلحاق واقعة لم يرد نص بحكمها بواقعة ورد النص بحكمها في الحكم الذي ورد به النص لتساوي الواقعتين في علة الحكم، فالآية تدل على اتباع هذه الأربعة.وأما الدليل على ترتيبها في الاستدلال بها هذا الترتيب: فهو ما رواه البغوي عن معاذ بن جبل أن رسول الله صلى الله عليه وسلم لما بعثه إلى اليمن قال: "كيف
শরয়ী আমলী বিধান নিরঙ্কুশভাবে, অর্থাৎ তা অকাট্য হোক বা ধারণাপ্রসূত হোক, এই কারণেই তাঁরা দলীলকে অকাট্য নির্দেশক এবং ধারণাপ্রসূত নির্দেশক হিসেবে বিভক্ত করেছেন।শরয়ী দলীলসমূহের সংক্ষিপ্ত বিবরণ: পর্যালোচনার মাধ্যমে এটি সাব্যস্ত হয়েছে যে, যে সকল শরয়ী দলীল থেকে ব্যবহারিক বিধানসমূহ আহরণ করা হয় তা চারটি উৎসের দিকে ফিরে যায়: কুরআন, সুন্নাহ, ইজমা এবং কিয়াস। জমহুর মুসলিম এই চারটি দলীলের মাধ্যমে প্রমাণ পেশ করার ব্যাপারে একমত পোষণ করেছেন এবং তাঁরা এ বিষয়েও একমত হয়েছেন যে, দলীল হিসেবে ব্যবহারের ক্ষেত্রে এগুলোর ক্রম হবে এরূপ: কুরআন, তারপর সুন্নাহ, তারপর ইজমা, তারপর কিয়াস।অর্থাৎ যখন কোনো ঘটনার উদ্ভব হয়, তখন প্রথমে কুরআনে দেখা হবে। যদি সেখানে তার বিধান পাওয়া যায় তবে তা কার্যকর করা হবে। আর যদি তাতে তার বিধান না পাওয়া যায়, তবে সুন্নাহর দিকে লক্ষ্য করা হবে। যদি তাতে তার বিধান পাওয়া যায় তবে তা কার্যকর করা হবে। আর যদি সেখানেও তার বিধান না পাওয়া যায়, তবে দেখতে হবে কোনো এক যুগের মুজতাহিদগণ কি সেই বিষয়ে কোনো বিধানের ওপর ঐক্যমত পোষণ করেছেন? যদি পাওয়া যায় তবে তা কার্যকর করা হবে। আর যদি না পাওয়া যায়, তবে যে বিষয়ের বিধান নস (সুস্পষ্ট পাঠ) দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে, তার সাথে তুলনা করার মাধ্যমে উক্ত বিষয়ের বিধানে পৌঁছানোর প্রচেষ্টা করা হবে।এগুলোর মাধ্যমে দলীল গ্রহণের প্রমাণ হলো সূরা নিসায় আল্লাহ তাআলার বাণী: (হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো ও তোমাদের মধ্যকার উলুল আমরের। অতঃপর যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও, যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান রাখো। এটিই কল্যাণকর এবং পরিণামে অতি উত্তম।) [নিসা: ৫৯]সুতরাং আল্লাহর আনুগত্য ও তাঁর রাসূলের আনুগত্যের নির্দেশ হলো কুরআন ও সুন্নাহ অনুসরণের নির্দেশ। আর মুসলিমদের মধ্য থেকে উলুল আমরের আনুগত্যের নির্দেশ হলো মুজতাহিদগণের ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত বিধানসমূহ অনুসরণের নির্দেশ, কারণ তাঁরা হলেন মুসলিমদের মধ্য থেকে শরয়ী বিধান সংক্রান্ত উলুল আমর। আর বিবাদপূর্ণ বিষয়সমূহ আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ হলো কিয়াস অনুসরণের নির্দেশ—যেখানে কোনো নস বা ইজমা নেই। কারণ কিয়াসের মধ্যে বিবাদপূর্ণ বিষয়কে আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়, কেননা এটি এমন একটি ঘটনা যার বিধান নস-এ নেই তাকে এমন একটি ঘটনার সাথে যুক্ত করে যার বিধান নস-এ বিদ্যমান, এবং বিধানের কারণ উভয় ক্ষেত্রে সমান হওয়ার কারণে নস-এ বর্ণিত বিধানটি প্রয়োগ করা হয়। অতএব আয়াতটি এই চারটি উৎস অনুসরণের প্রমাণ বহন করে।আর দলীল গ্রহণের ক্ষেত্রে এগুলোর এই ক্রমবিন্যাসের প্রমাণ হলো মুয়াজ ইবনে জাবাল থেকে আল-বাগাওয়ী কর্তৃক বর্ণিত হাদীস, যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাঁকে ইয়ামেনে প্রেরণ করলেন তখন বললেন: "কিভাবে"
(খণ্ড: ১)
ইলমু উসূলিল ফিকহি - ত মাকতাবাতুদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
تقضي إذا عرض لك قضاء؟ " قال: أقضي بكتاب الله، قال: "فإن لم تجد في كتاب الله؟ " قال: فبسنة رسول الله، قال: "فإن لم تجد في سنة رسول الله؟ " قال: أجتهد رأي ولا آلو، (أي لا أقصر في اجتهادي) ، قال: فضرب رسول الله على صدره، وقال: "الحمد لله الذي وفق رسول رسول الله لما يرضي رسول الله"، وما رواه البغوي عن ميمون بن مهران قال: كان أبو بكر إذا ورد عليه الخصوم نظر في كتاب الله، فإن وجد فيه ما يقضى بينهم فقضي به، وإن لم يكن في الكتاب وعلم عن رسول الله في ذلك الأمر سنة قضي بها، فإن أعياه أن يجد في سنة رسول الله جمع رؤوس الناس وخيارهم فاستشارهم، فإن أجمع رأيهم على أمر قضى به، وكذلك كان يفعل عمر، وأقرّهما على هذا كبار الصحابة ورؤوس المسلمين ولم يعرف بينهم مخالف في هذا الترتيب.وتوجد أدلة أخرى عدا هذه الأدلة والأربعة لم يتفق جمهور المسلمين علي الاستدلال بها، بل منهم من استدل بها على الحكم الشرعي، ومنهم من أنكر الاستدلال بها، وأشهر هذه الأدلة المختلف في الاستدلال بها ستة: الاستحسان، والمصلحة المرسلة والاستصحاب، والعرف، ومذهب الصحابي وشرع من قبلنا.فجملة الأدلة الشرعية عشرة: أربعة متفق من جمهور المسلمين على الاستدلال بها، وستة مختلف في الاستدلال بها، وهذا تفصيل البحث فيها جميعها.
"যদি আপনার সামনে কোনো বিচার্য বিষয় উপস্থিত হয়, তবে আপনি কীভাবে ফয়সালা করবেন?" তিনি বললেন: "আমি আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী ফয়সালা করব।" তিনি বললেন: "যদি আল্লাহর কিতাবে তা না পান?" তিনি বললেন: "তবে আল্লাহর রাসূলের সুন্নাহ অনুযায়ী।" তিনি বললেন: "যদি আল্লাহর রাসূলের সুন্নাহতেও না পান?" তিনি বললেন: "আমি আমার বিচারবুদ্ধি দিয়ে ইজতিহাদ করব এবং এতে কোনো ত্রুটি করব না।" (অর্থাৎ আমি আমার ইজতিহাদে কোনো শিথিলতা করব না)। বর্ণনাকারী বলেন: তখন আল্লাহর রাসূল তাঁর বুকে হাত চাপড়ালেন এবং বললেন: "সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য, যিনি আল্লাহর রাসূলের প্রতিনিধিকে এমন বিষয়ের তাওফিক দিয়েছেন যা আল্লাহর রাসূলকে সন্তুষ্ট করে।" আর ইমাম বাগাবী মাইমুন ইবনে মিহরান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু বকর যখন বিবাদমান পক্ষসমূহের সম্মুখীন হতেন, তখন তিনি আল্লাহর কিতাব পর্যবেক্ষণ করতেন। যদি তাতে এমন কিছু পেতেন যা দিয়ে তাদের মধ্যে ফয়সালা করা যায়, তবে তিনি তা দিয়ে ফয়সালা করতেন। আর যদি কিতাবে তা না থাকত এবং সেই বিষয়ে আল্লাহর রাসূলের কোনো সুন্নাহ তাঁর জানা থাকত, তবে তিনি তা দিয়ে ফয়সালা করতেন। আর যদি আল্লাহর রাসূলের সুন্নাহতেও তা খুঁজে পেতে তিনি অক্ষম হতেন, তবে তিনি জনগণের নেতৃস্থানীয় ও শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের একত্রিত করতেন এবং তাদের সাথে পরামর্শ করতেন। অতঃপর যদি কোনো বিষয়ে তাদের রায় ঐক্যমতে পৌঁছাত, তবে তিনি তা দিয়ে ফয়সালা করতেন। ওমরও তদ্রূপ করতেন। প্রবীণ সাহাবীগণ এবং মুসলিমদের নেতৃবৃন্দ এই কর্মপদ্ধতির ওপর তাঁদের সমর্থন ব্যক্ত করেছেন এবং এই বিন্যাসের বা ক্রমের ব্যাপারে তাঁদের মধ্যে কোনো ভিন্নমত জানা যায়নি।এই চারটি দলিল ছাড়াও আরও কিছু দলিল রয়েছে যেগুলোর মাধ্যমে শরয়ি প্রমাণ হিসেবে গ্রহণের বিষয়ে জমহুর মুসলিমগণ একমত হননি। বরং তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ এগুলো দ্বারা শরয়ি বিধানের ক্ষেত্রে দলিল পেশ করেছেন, আবার কেউ কেউ এগুলোকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছেন। দলিল হিসেবে ব্যবহারের ক্ষেত্রে মতভেদপূর্ণ এই দলিলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হলো ছয়টি: ইসতিহসান, মাসলাহাতে মুরসালাহ, ইসতিসহাব, উরফ, সাহাবীর মাজহাব এবং আমাদের পূর্ববর্তীদের শরিয়ত।সুতরাং মোট শরয়ি দলিল হলো দশটি: চারটি এমন যার মাধ্যমে দলিল পেশ করার বিষয়ে জমহুর মুসলিমগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন, এবং ছয়টি এমন যেগুলোর মাধ্যমে দলিল পেশ করার বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। আর এটি হলো সেগুলোর সবকটির বিস্তারিত আলোচনা।
(খণ্ড: ১)
ইলমু উসূলিল ফিকহি - ত মাকতাবাতুদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
مصادر التشريع الإسلامي الدليل الأولالقرآن…خواصه:القرآن هو كلام الله الذي نزل به الروح الأمين على قلب رسول الله صلى الله عليه وسلم محمد بن عبد الله بألفاظه العربية ومعانيه الحقة، ليكون حجة للرسول على أنه رسول الله ودستورا للناس يهتدون بهداه، وقربة يتعبدون بتلاوته، وهو المدون بين دفتي المصحف، المبدوء بسورة الفاتحة، المختوم بسورة الناس، المنقول إلينا بالتواتر كتابة ومشافهة جيلا عن جيل، محفوظا من أي تغيير أو تبديل، مصداق قول الله سبحانه فيه: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} [الحجر: 9] .فمن خواص القرآن أن ألفاظه ومعانيه من عند الله، وأن ألفاظه العربية هي التي أنزلها الله على قلب رسوله، والرسول ما كان إلا تالياً لها ومبلغاً إياها، ويتفرع عن هذا ما يأتي:أما ألهم الله به رسوله من المعاني ولم ينزل عليه ألفاظها بل عبر الرسول بألفاظ من عنده عمّا ألهم به لا يعد من القرآن ولاتثبت له أحكام القرآن، وإنما هو من أحاديث الرسول، وكذلك الأحاديث القدسية وهي الأحاديث التي قالها الرسول فيما يرويه عن ربه لا تعد من القرآن ولا تثبت لها أحكام القرآن فلا تكون في مرتبته في الحجية، ولا تصح الصلاة بها، ولا يتعبد بتلاوتها.ب تفسير سورة أو آية بألفاظ عربية مرادفة لألفاظ القرآن دالة على ما دلّت عليه ألفاظه لا يعد قرآناً مهما كان مطابقاً للمفسر في دلالته لأن القرآن ألفاظ عربية خاصة أنزلت من عند الله.ت ترجمة سورة أو آية بلغة أجنبية غير عربية لا تعد قرآناً مهما روعي من دقة الترجمة وتمام مطابقتها للمترجم في دلالته، لأن القرآن ألفاظ عربية خاصة أنزلت من عند الله. نعم لو كان تفسير القرآن أو ترجمته يتم بواسطة من يوثق بدينه وعلمه وأمانته وحذقه يسوغ أن يعتبر هذا التفسير أو هذه الترجمة بياناً لما دل عليه القرآن ومرجعاً لما جاء به، ولكن لا يعتبر هو القرآن ولا تثبت له أحكامه، فلا يحتج بصيغة عبارته وعموم لفظه وإطلاقه لأن ألفاظه وعباراته ليست ألفاظ القرآن ولا عباراته، ولا تصح الصلاة به ولا يتعبد بتلاوته.
ইসলামী শরীয়তের উৎসসমূহ প্রথম দলীলকুরআন...এর বৈশিষ্ট্যসমূহ:কুরআন হলো আল্লাহর কালাম, যা রূহুল আমীন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহর অন্তরে এর আরবী শব্দাবলী ও সত্য অর্থসহ নাযিল করেছেন, যাতে এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত রাসূলের সপক্ষে প্রমাণ হয় এবং মানুষের জন্য হিদায়াত লাভের জীবনবিধান হয়, আর এর তিলাওয়াত ইবাদত ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম হয়। এটি মুসহাফের দুই মলাটের মাঝে লিপিবদ্ধ, যা সূরা ফাতিহা দিয়ে শুরু এবং সূরা নাস দিয়ে শেষ হয়েছে। এটি লিখনী ও বাচনিকভাবে যুগ যুগ ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে আমাদের কাছে পৌঁছেছে এবং যেকোনো পরিবর্তন বা পরিমার্জন থেকে সংরক্ষিত। এর সপক্ষে মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই আমি এই উপদেশ নাযিল করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষক} [আল-হিজর: ৯]।কুরআনের বৈশিষ্ট্যসমূহের মধ্যে একটি হলো এর শব্দ ও অর্থ উভয়ই আল্লাহর পক্ষ থেকে। এর আরবী শব্দাবলীই আল্লাহ তাঁর রাসূলের অন্তরে নাযিল করেছেন, আর রাসূলুল্লাহ কেবল এর তিলাওয়াতকারী ও প্রচারকারী ছিলেন। এ থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো উদ্ভূত হয়:ক) আল্লাহ তাঁর রাসূলকে যে সব অর্থ ইলহাম করেছেন কিন্তু শব্দ নাযিল করেননি, বরং রাসূলুল্লাহ তাঁর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত ইলহামের ভাবধারা নিজ শব্দে প্রকাশ করেছেন, তা কুরআনের অন্তর্ভুক্ত নয় এবং এর জন্য কুরআনের হুকুম প্রযোজ্য হবে না; বরং তা রাসূলের হাদীসের অন্তর্ভুক্ত। অনুরূপভাবে হাদীসে কুদসী—যা রাসূলুল্লাহ তাঁর রবের পক্ষ থেকে বর্ণনা করেছেন—সেগুলোও কুরআনের অন্তর্ভুক্ত নয় এবং কুরআনের হুকুম এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। সুতরাং তা দলীল হিসেবে কুরআনের সমমর্যাদার হবে না, তা দিয়ে সালাত শুদ্ধ হবে না এবং তার তিলাওয়াত ইবাদত হিসেবে গণ্য হবে না।খ) কুরআনের কোনো সূরা বা আয়াতকে আরবী প্রতিশব্দ দিয়ে ব্যাখ্যা করা যা মূল শব্দের অর্থ প্রকাশ করে, তা কুরআন হিসেবে গণ্য হবে না—তা ব্যাখ্যাকৃত বিষয়ের অর্থের সাথে যতই সামঞ্জস্যপূর্ণ হোক না কেন। কারণ কুরআন হলো সুনির্দিষ্ট আরবী শব্দাবলী যা আল্লাহর পক্ষ থেকে নাযিল হয়েছে।গ) কুরআন বা এর কোনো আয়াতকে আরবী ছাড়া অন্য কোনো বিদেশী ভাষায় অনুবাদ করাকে কুরআন বলা যাবে না—তা অনুবাদে যতই সূক্ষ্মতা অবলম্বন করা হোক বা মূলের অর্থের সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ হোক না কেন। কারণ কুরআন হলো সুনির্দিষ্ট আরবী শব্দাবলী যা আল্লাহর পক্ষ থেকে নাযিল হয়েছে। তবে যদি কুরআনের ব্যাখ্যা বা অনুবাদ এমন ব্যক্তি দ্বারা সম্পন্ন হয় যার দ্বীনদারিতা, জ্ঞান, আমানতদারি ও দক্ষতায় বিশ্বাস রাখা যায়, তবে সেই ব্যাখ্যা বা অনুবাদকে কুরআনের অর্থের বর্ণনা এবং এতে যা বর্ণিত হয়েছে তার রেফারেন্স হিসেবে গ্রহণ করা বৈধ। কিন্তু একে 'কুরআন' বলা যাবে না এবং এর ওপর কুরআনের বিধানাবলী কার্যকর হবে না। সুতরাং এর বাক্য গঠন, শব্দের ব্যাপকতা বা নিঃশর্ত ব্যবহারের ভিত্তিতে দলীল দেওয়া যাবে না, কারণ এর শব্দ ও বাক্যগুলো কুরআনের মূল শব্দ বা বাক্য নয়। আর তা দিয়ে সালাত আদায় করা শুদ্ধ হবে না এবং এর পাঠ ইবাদত হিসেবে গণ্য হবে না।
(খণ্ড: ১)
ইলমু উসূলিল ফিকহি - ত মাকতাবাতুদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
ومن خواصه أنه منقول بالتواتر أي بطريق النقل الذي يفيد العلم والقطع بصحة الرواية، ويتفرع عن هذا بعض القراءات التي تروى بغير طريق التواتر كما يقال: (وقرأ بعض الصحابة كذا) لا تعد من القرآن ولا تثبت لها أحكامه.حجيته:البرهان على أن القرآن حجة على الناس وأن أحكامه قانون واجب عليهم اتّباعه أنه من عند الله وأنه نقل إليهم عن الله بطريق قطعي لا ريب في صحته.أما البرهان على أنه من عند الله فهو إعجازه الناس عن أن يأتوا بمثله.
এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এটি মুতাওয়াতির পদ্ধতিতে বর্ণিত, অর্থাৎ এমন বর্ণনার মাধ্যমে যা বর্ণনার বিশুদ্ধতা সম্পর্কে জ্ঞান ও সুনিশ্চিত বিশ্বাস প্রদান করে। এর থেকে এমন কিছু কিরাত নির্গত হয় যা মুতাওয়াতির পদ্ধতি ব্যতীত অন্যভাবে বর্ণিত হয়েছে, যেমন বলা হয়: (জনৈক সাহাবী এভাবে পাঠ করেছেন), সেগুলোকে কুরআন হিসেবে গণ্য করা হয় না এবং সেগুলোর ক্ষেত্রে কুরআনের বিধানাবলী প্রযোজ্য হয় না।এর প্রামাণ্যতা:কুরআন যে মানুষের জন্য একটি প্রমাণ এবং এর বিধানাবলী যে তাদের জন্য অনুসরণীয় একটি আবশ্যক আইন, তার প্রমাণ হলো—এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে তা মানুষের নিকট এমন এক সুনিশ্চিত উপায়ে পৌঁছেছে যার বিশুদ্ধতায় কোনো সন্দেহ নেই।আর এটি যে আল্লাহর পক্ষ থেকে—তার প্রমাণ হলো এর অনুরূপ কিছু নিয়ে আসতে মানুষের অক্ষমতা বা এর অলৌকিকত্ব।
(খণ্ড: ১)
ইলমু উসূলিল ফিকহি - ত মাকতাবাতুদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
معنى الإعجاز وأركانه: الإعجاز: معناه في اللغة العربية نسبة العجز إلى الغير وإثباته له، يقال أعجز الرجل أخاه إذا أثبت عجزه عن شيء.. وأعجز القرآن الناس أثبت عجزهم عن أن يأتوا بمثله.ولا يتحقق الإعجاز أي إثبات العجز للغير إلا إذا توافرت أمور ثلاثة:الأول: التحدي، أي طلب المباراة والمنازلة والمعارضة.والثاني: أن يوجد المقتضي الذي يدفع المتحدي إلى المباراة والمنازلة والمعارضة.والثالث: أن ينتفي المانع الذي يمنعه من هذه المباراة.فإذا ادعى رياضي أنه بطل نوع من أنواع الرياضة وأنكر عليه دعواه رياضي آخر، فتحدى مدعي البطولة من أنكر عليه وطلب منه أن يباريه أو أن يأتي بمن يباريه، وهذا المنكر مع شدة حرصه على إبطال دعوى هذا المدعي، ومع أنه ليس به أي مرض ولا له أي عذر يمنعه عن مباراته وعن الإتيان بمن يباريه لم يتقدم لمباراته ولم يأت بمن يباريه، فإن هذا اعتراف منه بالعجز وتسليم بالدعوى.والقرآن الكريم توافر فيه التحدي به، ووجد المقتضي لمن تحدوا به أن يعارضوه، وانتفى المانع لهم، ومع هذا لم يعارضوه ولم يأتوا بمثله.أما التحدي فإن الرسول صلى الله عليه وسلم قال للناس إني رسول الله، وبرهاني على إني رسول الله، هذا القرآن الذي أتلوه عليكم لأنه أوحي إلى به من عند الله، فلما أنكروا عليه دعواه، قال لهم: إن كنتم في ريب من أنه من عند الله وتبادر إلى عقولكم أنه من صنع البشر فأتوا بمثله، أو بعشر سور مثله، أو بسورة من مثله، وتحداهم وطلب منهم هذه المعارضة بلهجات واخزة وألفاظ قارعة وعبارات تهكمية تستفز العزيمة وتدعو إلى المباراة، وأقسم أنهم لا يأتون بمثله ولن يفعلوا، ولن يستجيبوا، ولن يأتوا بمثله.قال تعالى في سورة القصص: {قُُلْ فَأْتُوا بِكِتَابٍ مِّنْ عِندِ اللَّهِ هُوَ أَهْدَى مِنْهُمَا
ইজাজ (অলৌকিকত্ব)-এর অর্থ এবং এর মূল স্তম্ভসমূহ: ইজাজ: আরবি ভাষায় এর অর্থ হলো অন্যকে অক্ষম সাব্যস্ত করা এবং তার অক্ষমতা প্রমাণ করা। বলা হয়, এক ব্যক্তি তার ভাইকে 'অক্ষম করেছে' (আ'জাজা) যখন সে কোনো বিষয়ে তার অক্ষমতা প্রমাণ করে। আর কুরআন মানুষকে অক্ষম করেছে এর অর্থ হলো, সে তাদের এই বিষয়ে অক্ষম সাব্যস্ত করেছে যে তারা এর মতো কিছু নিয়ে আসতে পারবে।অন্যের অক্ষমতা প্রমাণ হওয়া তথা ইজাজ কেবল তিনটি বিষয় উপস্থিত থাকলেই পূর্ণতা পায়:প্রথমত: চ্যালেঞ্জ করা, অর্থাৎ মোকাবিলা, প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং বিরোধিতার আহ্বান জানানো।দ্বিতীয়ত: এমন কোনো প্রেক্ষাপট বা কারণ বিদ্যমান থাকা যা চ্যালেঞ্জকৃত পক্ষকে মোকাবিলা, প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও বিরোধিতায় উদ্বুদ্ধ করে।তৃতীয়ত: এমন কোনো বাধার অনুপস্থিতি যা তাকে এই মোকাবিলা থেকে বিরত রাখে।যদি কোনো ক্রীড়াবিদ দাবি করে যে সে কোনো বিশেষ ক্রীড়ায় শ্রেষ্ঠ এবং অন্য একজন ক্রীড়াবিদ তার এই দাবি অস্বীকার করে, তখন শ্রেষ্ঠত্বের দাবিদার ব্যক্তি অস্বীকারকারীকে চ্যালেঞ্জ করে এবং তার সাথে মোকাবিলা করার জন্য অথবা মোকাবিলা করতে পারে এমন কাউকে নিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানায়। এমতাবস্থায় এই অস্বীকারকারী ব্যক্তি উক্ত দাবিদারের দাবি নস্যাৎ করার তীব্র আকাঙ্ক্ষা থাকা সত্ত্বেও এবং কোনো ব্যাধি বা ওজর না থাকা সত্ত্বেও যদি মোকাবিলায় এগিয়ে না আসে কিংবা মোকাবিলা করার মতো কাউকে নিয়ে না আসে, তবে এটিই তার অক্ষমতার স্বীকৃতি এবং দাবির সত্যতা মেনে নেওয়া।কুরআনুল কারীমের মাধ্যমেও এই চ্যালেঞ্জ প্রদান করা হয়েছে, আর যাদেরকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছিল তাদের জন্য এর বিরোধিতা করার যথেষ্ট কারণও বিদ্যমান ছিল এবং তাদের সামনে কোনো বাধাও ছিল না; তবুও তারা এর বিরোধিতা করতে পারেনি এবং এর মতো কিছু নিয়ে আসতে সক্ষম হয়নি।চ্যালেঞ্জের বিষয়টি হলো, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মানুষকে বলেছিলেন যে আমি আল্লাহর রাসূল, আর আমি আল্লাহর রাসূল হওয়ার প্রমাণ হলো এই কুরআন যা আমি তোমাদের কাছে পাঠ করি, কারণ এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে আমার কাছে ওহী হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছে। যখন তারা তাঁর এই দাবিকে অস্বীকার করল, তখন তিনি তাদের বললেন: এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হওয়ার বিষয়ে যদি তোমরা সন্দেহে থাকো এবং তোমাদের মনে যদি এই ধারণার উদয় হয় যে এটি মানুষের তৈরি, তবে তোমরা এর মতো কিছু নিয়ে এসো, অথবা এর মতো দশটি সূরা নিয়ে এসো, কিংবা এর মতো অন্তত একটি সূরা নিয়ে এসো। তিনি তীক্ষ্ণ ভাষা, জোরালো শব্দ এবং বিদ্রূপাত্মক বাক্য ব্যবহারের মাধ্যমে তাদের চ্যালেঞ্জ করেছিলেন যা সংকল্পকে উদ্দীপিত করে এবং মোকাবিলার আহ্বান জানায়। তিনি ঘোষণা করেছিলেন যে তারা এর মতো কিছু আনতে পারবে না, কখনও তা করতে পারবে না, কোনো সাড়া দিতে পারবে না এবং এর মতো কিছু আনতেও সক্ষম হবে না।মহান আল্লাহ সূরা আল-কাসাস-এ ইরশাদ করেছেন: "বলুন, তবে তোমরা আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন কোনো কিতাব নিয়ে এসো যা এই উভয়টি থেকে অধিক পথপ্রদর্শক..."
(খণ্ড: ১)
ইলমু উসূলিল ফিকহি - ত মাকতাবাতুদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
أَتَّبِعْهُ إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ * فَإِن لَّمْ يَسْتَجِيبُوا لَكَ فَاعْلَمْ أَنَّمَا يَتَّبِعُونَ أَهْوَاءهُمْ} [القصص: 51،50] وقال تعالى في سورة الإسراء: {قُل لَّئِنِ اجْتَمَعَتِ الإِنسُ وَالْجِنُّ عَلَى أَن يَأْتُواْ بِمِثْلِ هَذَا الْقُرْآنِ لَا يَأْتُونَ بِمِثْلِهِ وَلَوْ كَانَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ ظَهِيراً} [الإسراء: 88] وقال سبحانه في سورة هود: {أَمْ يَقُولُونَ افْتَرَاهُ قُلْ فَأْتُواْ بِعَشْرِ سُوَرٍ مِّثْلِهِ مُفْتَرَيَاتٍ وَادْعُواْ مَنِ اسْتَطَعْتُم مِّن دُونِ اللهِ إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ} [هود:13] وقال في سورة البقرة: {وَإِن كُنتُمْ فِي رَيْبٍ مِّمَّا نَزَّلْنَا عَلَى عَبْدِنَا فَأْتُواْ بِسُورَةٍ مِّن مِّثْلِهِ وَادْعُواْ شُهَدَاءكُم مِّن دُونِ اللهِ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ * فَإِن لَّمْ تَفْعَلُواْ وَلَن تَفْعَلُواْ فَاتَّقُواْ النَّارَ الَّتِي وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ أُعِدَّتْ لِلْكَافِرِينَ} [البقرة: 24،23] وقال في سورة الطور: {أَمْ يَقُولُونَ تَقَوَّلَهُ بَل لَّا يُؤْمِنُونَ * فَلْيَأْتُوا بِحَدِيثٍ مِّثْلِهِ إِن كَانُوا صَادِقِينَ} [الطور: 34،33] .وأما وجود المقتضى للمباراة والمعارضة عند من تحداهم فهذا أظهر من أن يحتاج إلى بيان لأن الرسول صلى الله عليه وسلم ادّعى أنه رسول الله وجاءهم بدين يبطل دينهم، وما وجدوا عليه آباءهم وسفه عقولهم وسخر من أوثانهم، واحتج على دعواه بأن القرآن من عند الله، وتحداهم أن يأتوا بمثله، فما كان أحوجهم وأشد حرصهم على أن يأتوا بمثله، كله أو بعضه ليبطلوا أنه من عند الله وليدحضوا حجة محمد على أنه رسول الله، وبهذا ينصرون آلهتهم ويدافعون عن دينهم ويجتنبون ويلات الحروب.وأما انتفاء ما يمنعهم من معارضته، فلأن القرآن بلسان عربي، وألفاظه من أحرف العرب الهجائية، وعباراته على أسلوب العرب، وهم أهل البيان وفيهم ملوك الفصاحة، وقادة البلاغة، وميدان سباقهم مملوء بالشعراء والخطباء والفصحاء في مختلف فنون القول، هذا من الناحية اللفظية، وأما من الناحية المعنوية فقد نطقت أشعارهم وخطبهم وحكمهم ومناظرتهم بأنهم ناضجو العقول، ذوو بصر بالأمور وخبرة بالتجاريب، وقد دعاهم القرآن في تحديه لهم أن يستعينوا بمن شاءوا ليستكملوا ما ينقصهم ويتموا عدتهم وفيهم الكهان وأهل الكتاب. وأما من الناحية الزمنية، فالقرآن لم ينزل جملة واحدة حتى يحتجوا بأن زمنهم لا يتسع للمعارضة بل مفرقاً في ثلاث وعشرين سنة، بين كل مجموعة وأخرى زمن فيه متسع للمعارضة والإتيان بمثلها لو كان في مقدورهم.
"...আমি সেটির অনুসরণ করব, যদি তোমরা সত্যবাদী হও। অতঃপর যদি তারা তোমার আহ্বানে সাড়া না দেয়, তবে জেনে রাখো যে, তারা কেবল নিজেদের খেয়াল-খুশিরই অনুসরণ করে।" [আল-কাসাস: ৫০, ৫১] এবং আল্লাহ তা‘আলা সূরা আল-ইসরা-তে বলেছেন: "বলুন, যদি মানুষ ও জিন এই কুরআনের অনুরূপ কিছু নিয়ে আসার জন্য সমবেত হয়, তবুও তারা এর অনুরূপ কিছু আনতে পারবে না, যদিও তারা একে অপরের সাহায্যকারী হয়।" [আল-ইসরা: ৮৮] এবং তিনি সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা সূরা হুদ-এ বলেছেন: "নাকি তারা বলে যে, সে এটি নিজে রচনা করেছে? বলুন, তবে তোমরা এর অনুরূপ দশটি স্বরচিত সূরা নিয়ে এসো এবং আল্লাহ ছাড়া যাকে পারো (সাহায্যের জন্য) ডেকে নাও, যদি তোমরা সত্যবাদী হও।" [হুদ: ১৩] এবং তিনি সূরা আল-বাকারাহ-তে বলেছেন: "আর আমি আমার বান্দার প্রতি যা অবতীর্ণ করেছি, সে সম্পর্কে যদি তোমরা সন্দেহে থাকো, তবে এর অনুরূপ একটি সূরা নিয়ে এসো এবং আল্লাহ ছাড়া তোমাদের সাক্ষীদের (সাহায্যকারীদের) ডেকে নাও, যদি তোমরা সত্যবাদী হও। আর যদি তোমরা তা করতে না পারো—এবং তোমরা কখনোই তা করতে পারবে না—তবে সেই আগুনকে ভয় করো, যার জ্বালানি হবে মানুষ ও পাথর, যা কাফেরদের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।" [আল-বাকারাহ: ২৩, ২৪] এবং তিনি সূরা আত-তুরে বলেছেন: "নাকি তারা বলে যে, সে এটি বানিয়ে বলেছে? বরং তারা ঈমান আনবে না। অতএব তারা যদি সত্যবাদী হয়, তবে এর মতো কোনো বাণী নিয়ে আসুক।" [আত-তুর: ৩৩, ৩৪]।আর যাদেরকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এই প্রতিযোগিতার ও বিরোধিতার প্রয়োজনীয়তা থাকা বিষয়টি ব্যাখ্যার অপেক্ষা রাখে না। কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাবি করেছিলেন যে তিনি আল্লাহর রাসূল এবং তিনি তাদের কাছে এমন এক দ্বীন নিয়ে এসেছিলেন যা তাদের ধর্ম এবং তাদের পূর্বপুরুষরা যার ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল তাকে বাতিল করে দেয়, তাদের বুদ্ধিকে নির্বুদ্ধিতা বলে গণ্য করে এবং তাদের মূর্তিদের বিদ্রূপ করে। তিনি তাঁর দাবির সপক্ষে দলিল হিসেবে পেশ করেছিলেন যে এই কুরআন আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ এবং তাদেরকে এর অনুরূপ কিছু নিয়ে আসার চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলেন। এমতাবস্থায় কুরআনের সম্পূর্ণ বা আংশিক অনুরূপ কিছু নিয়ে আসার প্রয়োজনীয়তা ও আকাঙ্ক্ষা তাদের জন্য অত্যন্ত তীব্র ছিল, যাতে তারা প্রমাণ করতে পারে যে এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে নয় এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রাসূল হওয়ার দলিলকে খণ্ডন করতে পারে। এর মাধ্যমেই তারা তাদের উপাস্যদের সাহায্য করতে পারত, নিজেদের ধর্ম রক্ষা করতে পারত এবং যুদ্ধের বিভীষিকা এড়াতে পারত।আর তাদের পক্ষ থেকে বিরোধিতা করার পথে কোনো বাধা না থাকার বিষয়টি হলো—কুরআন আরবি ভাষায় অবতীর্ণ, এর শব্দগুলো আরবি বর্ণমালার অন্তর্ভুক্ত এবং এর প্রকাশভঙ্গিও আরবদের রীতি অনুযায়ী। তারা ছিল অলংকার শাস্ত্রের অধিকারী, তাদের মধ্যে ছিল সাবলীলতার সম্রাট এবং বাগ্মিতার নেতা। তাদের প্রতিযোগিতার ময়দান কাব্য, ভাষণ এবং বিভিন্ন শিল্পকলায় পারদর্শী কবি ও বাগ্মীদের দ্বারা পূর্ণ ছিল। এটি ছিল শাব্দিক দিক থেকে। আর অর্থগত দিক থেকে, তাদের কবিতা, ভাষণ, প্রজ্ঞা এবং বিতর্ক সাক্ষ্য দেয় যে তারা ছিল পরিপক্ক বুদ্ধির অধিকারী, বিষয়ের অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন এবং অভিজ্ঞতাসমৃদ্ধ। কুরআন তার চ্যালেঞ্জে তাদের আহ্বান জানিয়েছিল তারা যেন তাদের অপূর্ণতা দূর করতে এবং প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে যাকে ইচ্ছা সাহায্যকারী হিসেবে গ্রহণ করে; অথচ তাদের মধ্যে গণক এবং আহলে কিতাবরাও উপস্থিত ছিল। সময়ের দিক থেকে দেখলে, কুরআন একবারে অবতীর্ণ হয়নি যে তারা অজুহাত দেবে যে বিরোধিতার জন্য তাদের হাতে পর্যাপ্ত সময় নেই; বরং এটি দীর্ঘ তেইশ বছর ধরে খণ্ড খণ্ড ভাবে অবতীর্ণ হয়েছে। প্রতিটি অংশের অবতীর্ণ হওয়ার মধ্যবর্তী সময়ে এতটাই দীর্ঘ অবকাশ ছিল যে, তারা চাইলে এর বিরোধিতা করতে পারত এবং এর অনুরূপ কিছু নিয়ে আসতে পারত, যদি তা তাদের সামর্থ্যের মধ্যে থাকত।
(খণ্ড: ১)
ইলমু উসূলিল ফিকহি - ত মাকতাবাতুদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
فلا ريب أن الله سبحانه بلسان رسوله في كثير من الآيات تحدى الناس أن يأتوا بمثل القرآن، وأنهم مع شدة حرصهم وتوافر دواعيهم إلى أن يأتوا بمثله، وانتفاء ما يمنعهم لم يأتوا بمثله، ولو جاءوا بمثله وعارضوه لنصروا آلهتهم، وأبطلوا حجة من سخر منهم وكفوا أنفسهم شر القتال والنضال والغزوات عدة سنين.فالتجاؤهم إلى المحاربة بدل المعارضة، وائتمارهم على قتل الرسول بدل ائتمارهم على الإتيان بمثل قرآنه اعتراف منهم بعجزهم عن معارضته، وتسليم أن هذا القرآن فوق مستوى البشر، ودليل على أنه من عند الله.وجوه إعجاز القرآن: ولكن لماذا عجزوا؟ وما وجوه الإعجاز؟اتفقت كلمة العلماء على أن القرآن لم يعجز الناس عن أن يأتوا بمثله من ناحية واحدة معينة وإنما أعجزهم من نواح متعددة، لفظية ومعنوية وروحية، تساندت وتجمعت فأعجزت الناس أن يعارضوه، واتفقت كلمتهم أيضاً على أن العقول لم تصل حتى الآن إلى إدراك نواحي الإعجاز كلها وحصرها في وجوه معدودات. وأنه كلما زاد التدبر في آيات القرآن، وكشف البحث العلمي عن أسرار الكون وسننه، وأظهر كر السنين عجائب الكائنات الحية وغير الحية تجلّت نواح من نواحي إعجازه، وقام البرهان على أنه من عند الله.وهذا ذكر بعض ما وصلت إليه العقول من نواحي الإعجاز:أولها: اتساق عباراته ومعانيه وأحكامه ونظرياته:تكوّن القرآن من ستة آلاف آية، وعبر عما قصد إلى التعبير عنه بعبارات متنوعة وأساليب شتى، وطرق موضوعات متعددة اعتقادية وخلقية وتشريعية،
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাঁর রাসূলের জবানে বহু আয়াতে মানুষকে কুরআনের মতো কিছু নিয়ে আসার চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন। তারা এর সমতুল্য কিছু নিয়ে আসার জন্য অত্যন্ত উদগ্রীব হওয়া এবং তাদের জন্য যাবতীয় উপকরণ বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও, এবং তাদের পথে কোনো বাধা না থাকা সত্ত্বেও তারা এর মতো কিছু নিয়ে আসতে পারেনি। যদি তারা এর মতো কিছু নিয়ে আসতে পারত এবং এর মোকাবিলা করতে পারত, তবে তারা অবশ্যই তাদের উপাস্যদের সাহায্য করতে পারত এবং যারা তাদের বিদ্রূপ করেছিল তাদের দলিল বাতিল করে দিতে পারত; আর দীর্ঘ কয়েক বছরের লড়াই, সংগ্রাম ও যুদ্ধের কষ্ট থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারত।সুতরাং ইলমি মোকাবিলার পরিবর্তে যুদ্ধের পথ বেছে নেওয়া এবং কুরআনের সমতুল্য কিছু আনার ষড়যন্ত্র করার পরিবর্তে রাসূলকে হত্যা করার ষড়যন্ত্র করা ছিল এর মোকাবিলায় তাদের অক্ষমতারই এক স্বীকৃতি। এটি একটি আত্মসমর্পণ যে এই কুরআন মানবীয় পর্যায়ের ঊর্ধ্বে এবং এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হওয়ার এক অকাট্য প্রমাণ।কুরআনের অলৌকিকত্বের দিকসমূহ: কিন্তু কেন তারা অক্ষম হলো? আর এই অলৌকিকত্বের দিকগুলোই বা কী?আলেমগণ একমত হয়েছেন যে, কুরআন কেবল একটি নির্দিষ্ট দিক থেকেই মানুষকে এর সমতুল্য কিছু আনতে অক্ষম করেনি, বরং এটি শাব্দিক, অর্থগত এবং আধ্যাত্মিক—এমন বিভিন্ন দিক থেকে তাদের অক্ষম করেছে যা সম্মিলিতভাবে মানুষকে এর মোকাবিলা করতে ব্যর্থ করে দিয়েছে। তারা আরও একমত হয়েছেন যে, মানুষের বুদ্ধি-বিবেক এখনো পর্যন্ত এই অলৌকিকত্বের সমস্ত দিক অনুধাবন করতে এবং তা নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ করতে সক্ষম হয়নি। কুরআনের আয়াতসমূহ নিয়ে যতই চিন্তা-গবেষণা বৃদ্ধি পায় এবং বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান মহাবিশ্বের রহস্য ও এর নিয়মাবলি উন্মোচিত করে, আর বছরের পর বছর অতিবাহিত হওয়ার সাথে সাথে জীবন্ত ও জড় জগতের বিস্ময়কর সব দিক প্রকাশিত হতে থাকে, ততই এর অলৌকিকত্বের নতুন নতুন দিক উন্মোচিত হয় এবং এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হওয়ার প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়।মানুষের বুদ্ধি-বিবেচনা অলৌকিকত্বের যে দিকগুলো উপলব্ধি করতে পেরেছে, তার কয়েকটির উল্লেখ নিচে দেওয়া হলো:প্রথমত: এর শব্দশৈলী, অর্থ, বিধান এবং তত্ত্বসমূহের সুসংগতি:কুরআন ছয় হাজারেরও বেশি আয়াতের সমন্বয়ে গঠিত। এতে যা কিছু ব্যক্ত করার ইচ্ছা করা হয়েছে, তা বৈচিত্র্যময় শব্দশৈলী ও বিভিন্ন পদ্ধতিতে বর্ণনা করা হয়েছে। এটি আকিদাহ, আখলাক এবং শরিয়তের বিধান সংক্রান্ত বহুবিধ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছে।
(খণ্ড: ১)
ইলমু উসূলিল ফিকহি - ত মাকতাবাতুদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وقرر نظريات كثيرة، كونية واجتماعية ووجدانية، ولا تجد في عباراته اختلافاً بين بعضها وبعض، فليس أسلوب هذه الآية بليغاً وأسلوب الأخرى غير بليغ، وليس هذا اللفظ فصيحاً، وذاك اللفظ غير فصيح، ولا تجد عبارة أرقى مستوى في بلاغتها من عبارة، بل كل عبارة مطابقة لمقتضى الحال الذي وردت من اجله، وكل لفظ في موضعه الذي ينبغي أن يكون فيه.كما لا تجد معنى من معانيه يعارض معنى، أو حكماً يناقض حكماً، أو مبدأ يهدم مبدأ، أو غرضاً لا يتفق وآخر، فكما أنه لا اختلاف بين عباراته وألفاظه، لا اختلاف بين معانيه وأحكامه، ولا بين مبادئه ونظرياته، ولو كان صادراً من عند غير الله أفراداً أو جماعات ما سلم من اختلاف بعض عباراته وبعض، أو اختلاف بعض معانيه وبعض، لأن العقل الإنساني مهما نضج وكمل لا يمكنه أن يكون ستة آلاف آية في ثلاث وعشرين سنة لا تختلف آية منها عن أخرى في مستوى بلاغتها، ولا تعارض آية منها آية أخرى فيما اشتملت عليه. وإلى هذا الوجه من وجوه الإعجاز أرشد الله سبحانه وتعالى بقوله في سورة النساء: {أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ وَلَوْ كَانَ مِنْ عِندِ غَيْرِ اللهِ لَوَجَدُواْ فِيهِ اخْتِلَافاً كَثِيراً} [النساء:82] .وما يوجد من اختلاف في الأسلوب بين بعض الآيات وبعض، أو اختلاف أسلوب الآيات في مستوى البلاغة فليس منشؤه اختلاف أسلوب الآيات في مستوى البلاغة وإنما منشؤه اختلاف موضوع الآيات، فإذا كان الموضوع تقنينا وتبيينا لعدّة المطلّقة أو نصيب الوارث من الإرث، أو مَصْرف الصدقات، أو غيرها من الأحكام فهذا لا مجال فيه للأسلوب الخطابي المؤثر، والذي يطابقه هو الألفاظ الدقيقة المحدودة، وإذا كان مجال فيه للأسلوب الخطابي المؤثر، والذي يطابقه هو الألفاظ الدقيقة المحدودة، وإذا كان الموضوع تسفيها لعبادة الأوثان أو بيانا لفيضان الطوفان أو استدلالا على قدرة الله، أو تذكيراً بنعمه على عباده، أو تخويفا بشدائد اليوم الآخر، فهذه فيها مجال للأسلوب الخطابي ليس من البلاغة، لأن البلاغة هي مطابقة الكلام لمقتضى الحال ولكل مقام مقال.وما يوجد من تعارض ظاهري بين ما دلت عليه بعض الآيات وما دلت عليه
এবং এটি বহু মহাজাগতিক, সামাজিক ও আধ্যাত্মিক তত্ত্ব সাব্যস্ত করেছে; আপনি এর বাচনভঙ্গিতে একটির সাথে অন্যটির কোনো ভিন্নতা পাবেন না। এমন নয় যে, এই আয়াতের শৈলী অলংকারপূর্ণ আর অন্যটির শৈলী অলংকারহীন, অথবা এই শব্দটি প্রাঞ্জল আর অন্য শব্দটি প্রাঞ্জল নয়। আপনি এর অলংকারশাস্ত্রের মানে একটি বাচনের চেয়ে অন্যটি উচ্চতর পাবেন না, বরং প্রতিটি বাচনই সেই প্রেক্ষিতের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ যার জন্য তা অবতীর্ণ হয়েছে, এবং প্রতিটি শব্দই তার যথাযোগ্য স্থানে বিন্যস্ত রয়েছে।তেমনিভাবে আপনি এর কোনো অর্থের বিপরীতে অন্য কোনো অর্থ পাবেন না, অথবা একটি বিধানের সাথে অন্যটির বিরোধ, বা একটি মূলনীতির সাথে অন্যটি সাংঘর্ষিক কিংবা একটি উদ্দেশ্যের সাথে অন্যটি অসমঞ্জস—এমনটিও পাবেন না। সুতরাং, এর বাচনভঙ্গি ও শব্দাবলির মধ্যে যেমন কোনো ভিন্নতা নেই, তেমনি এর অর্থ ও বিধানসমূহের মধ্যেও কোনো ভিন্নতা নেই, এমনকি এর মূলনীতি ও তত্ত্বসমূহের মধ্যেও নয়। যদি এটি আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে আসত, তবে এর বাচনভঙ্গি বা অর্থের মধ্যে কোনো না কোনো অসঙ্গতি অবশ্যই থাকত। কারণ মানবীয় বুদ্ধি যতই পরিপক্ক ও পূর্ণ হোক না কেন, তেইশ বছরে ছয় হাজার আয়াত এমনভাবে তৈরি করা তার পক্ষে সম্ভব নয়, যার একটির অলংকারিক মান অন্যটি থেকে কম হবে না এবং এর অন্তর্ভুক্ত বিষয়াবলির মধ্যে একটি আয়াত অন্য আয়াতের বিরোধী হবে না। মুজিজার এই দিকের প্রতি ইঙ্গিত করে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সূরা আন-নিসায় ইরশাদ করেছেন: {তবে কি তারা কুরআন নিয়ে গবেষণা করে না? যদি তা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো পক্ষ থেকে হতো, তবে তারা এতে প্রচুর অসঙ্গতি পেত।} [নিসা: ৮২]।আর আয়াতের শৈলীর মধ্যে যে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়, অথবা অলংকারিক মানের যে পার্থক্য দেখা যায়, তার উৎস অলংকারিক মানের তারতম্য নয়; বরং তার উৎস হলো আয়াতের বিষয়ের ভিন্নতা। যদি বিষয়টি তালাকপ্রাপ্তার ইদ্দত, উত্তরাধিকারীর অংশ বা সদকার খাত নির্ধারণ অথবা এই জাতীয় কোনো আইনি বিধান সম্পর্কিত হয়, তবে সেখানে আবেগপূর্ণ অলংকারিক শৈলীর অবকাশ নেই; বরং সেখানে সুনির্দিষ্ট ও সুসংহত শব্দাবলিই উপযুক্ত। আর যদি বিষয়টি মূর্তিপূজার অসারতা প্রমাণ, মহাপ্লাবনের বর্ণনা, আল্লাহর কুদরতের দলিল উপস্থাপন, বান্দাদের ওপর তাঁর নেয়ামতসমূহের স্মরণ করিয়ে দেওয়া কিংবা কিয়ামত দিবসের ভয়াবহতার মাধ্যমে ভীতি প্রদর্শন সম্পর্কিত হয়, তবে সেগুলোতে আবেগপূর্ণ বাচনভঙ্গির অবকাশ রয়েছে। এটি অলংকারিক মানের কোনো ঘাটতি নয়, কারণ অলংকারশাস্ত্র (বালাগাত) হলো পরিস্থিতি অনুযায়ী বাচনভঙ্গি নির্ধারণ করা এবং প্রতিটি প্রেক্ষিতের জন্য উপযুক্ত কথা বলা।আর কিছু আয়াতের নির্দেশের মধ্যে বাহ্যিক যে বিরোধ পরিলক্ষিত হয় এবং অন্য যা নির্দেশ করে...
(খণ্ড: ১)
ইলমু উসূলিল ফিকহি - ত মাকতাবাতুদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
أخرى فقد بين المفسرون أنه ليس تعارضا إلا فيما يظهر لغير المتأمل، وعند التأمل يتبين أنه لا تعارض، ومن أمثلة هذا قوله تعالى: {مَّا أَصَابَكَ مِنْ حَسَنَةٍ فَمِنَ اللهِ وَمَا أَصَابَكَ مِن سَيِّئَةٍ فَمِن نَّفْسِكَ} [النساء: 79] ، مع قوله سبحانه: {قُلْ كُلًّ مِّنْ عِندِ اللهِ} [النساء: 78] ، وقوله تعالى: {وَإِذَا أَرَدْنَا أَن نُّهْلِكَ قَرْيَةً أَمَرْنَا مُتْرَفِيهَا فَفَسَقُواْ فِيهَا فَحَقَّ عَلَيْهَا الْقَوْلُ فَدَمَّرْنَاهَا تَدْمِيراً} [الإسراء: 16] ، مع الآيات الدالة على أن الله لا يأمر بالسوء والفحشاء، فكل ما ظاهرة التعارض من آيات القرآن فهو بعد البحث متفق متسق لا اختلاف فيه ولو كان من عند غير الله لوجدوا فيه اختلافا كثيرا.وثانيها: انطباق آياته على ما يكتشفه العلم من نظريات علمية:القرآن أنزلها الله على رسول ليكون حجة له ودستوراً للناس، ليس من مقاصده الأصلية أن يقرر نظريات علمية في خلق السموات والأرض وخلق الإنسان وحركات الكواكب وغيرها من الكائنات، ولكنه في مقام الاستدلال على وجود الله ووحدانيته وتذكير الناس بآلائه ونعمه، ونحو هذا من الأغراض، جاء بآيات تفهم منها سنن كونية ونواميس طبيعية كشف العلم الحديث في كل عصر براهينها، ودل على أن الآيات التي لفتت إليها من عند الله لأن الناس ما كان لهم بها من علم، وما وصلوا إلى حقائقها وإنما كان استدلالهم بظواهرها، فكلما كشف البحث العلمي سنة كونية وظهر أن آية في القرآن أشارت إلى هذه السنة قام برهان جديد على أن القرآن من عند الله، وإلى هذا الوجه من وجوه الإعجاز أرشد الله سبحانه بقوله في سورة فصلت: {قُلْ أَرَأَيْتُمْ إِن كَانَ مِنْ عِندِ اللَّهِ ثُمَّ كَفَرْتُم بِهِ مَنْ أَضَلُّ مِمَّنْ هُوَ فِي شِقَاقٍ بَعِيدٍ * سَنُرِيهِمْ آيَاتِنَا فِي الْآفَاقِ وَفِي أَنفُسِهِمْ حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُ الْحَقُّ أَوَلَمْ يَكْفِ بِرَبِّكَ أَنَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ شَهِيدٌ} [فصلت: 53،52] .ومن هذه الآيات قوله تعالى في سورة النمل في مقام الاستدلال على قدرته ولفت النظر إلى آثاره: {وَتَرَى الْجِبَالَ تَحْسَبُهَا جَامِدَةً وَهِيَ تَمُرُّ مَرَّ السَّحَابِ صُنْعَ اللَّهِ الَّذِي أَتْقَنَ كُلَّ شَيْءٍ} [النمل: 88] وقوله تعالى: {وَأَرْسَلْنَا الرِّيَاحَ لَوَاقِحَ} [الحجر: 22] ، وقوله: {أَوَلَمْ يَرَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَنَّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ كَانَتَا رَتْقاً فَفَتَقْنَاهُمَا وَجَعَلْنَا مِنَ الْمَاء
অন্যথা, মুফাসসিরগণ স্পষ্ট করেছেন যে, এটি কোনো বৈপরীত্য নয় কেবল সেই ব্যক্তির নিকট ছাড়া যে গভীরভাবে চিন্তা করে না। আর গভীরভাবে চিন্তা করলে প্রতীয়মান হয় যে, কোনো বৈপরীত্য নেই। এর উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: "তোমার যে কল্যাণ হয় তা আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর তোমার যে অকল্যাণ হয় তা তোমার নিজের পক্ষ থেকে" [আন-নিসা: ৭৯], এর সাথে মহান আল্লাহর অপর বাণী: "বল, সবকিছুই আল্লাহর পক্ষ থেকে" [আন-নিসা: ৭৮]। এবং মহান আল্লাহর বাণী: "যখন আমি কোনো জনপদ ধ্বংস করতে চাই, তখন তার বিলাসপ্রিয়দের নির্দেশ দিই, অতঃপর তারা সেখানে পাপাচার করে। ফলে তার উপর দণ্ডাদেশ অবধারিত হয় এবং আমি তাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিই" [আল-ইসরা: ১৬], এর সাথে সেই সমস্ত আয়াত যা প্রমাণ করে যে আল্লাহ মন্দ ও অশ্লীল কাজের আদেশ দেন না। সুতরাং কুরআনের আয়াতের মধ্যে যা কিছু আপাত বৈপরীত্য মনে হয়, তা অনুসন্ধানের পর সংগতিপূর্ণ ও সুসামঞ্জস্যপূর্ণ প্রতীয়মান হয়, যাতে কোনো বিভেদ নেই। আর যদি তা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো পক্ষ থেকে হতো, তবে তারা এতে অনেক বৈপরীত্য পেত।দ্বিতীয়ত: বিজ্ঞানের আবিষ্কৃত বৈজ্ঞানিক তত্ত্বসমূহের সাথে এর আয়াতসমূহের সামঞ্জস্য:আল্লাহ কুরআন অবতীর্ণ করেছেন তাঁর রাসূলের নিকট তাঁর স্বপক্ষে প্রমাণস্বরূপ এবং মানুষের জন্য জীবনবিধান হিসেবে। আসমান ও জমিন সৃষ্টি, মানুষ সৃষ্টি, গ্রহ-নক্ষত্রের গতিবিধি এবং অন্যান্য সৃষ্টিজগত সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব প্রদান করা এর মূল উদ্দেশ্য নয়। কিন্তু আল্লাহর অস্তিত্ব ও একত্ববাদের প্রমাণ পেশ করার ক্ষেত্রে এবং মানুষকে তাঁর অনুগ্রহ ও নেয়ামতসমূহ স্মরণ করিয়ে দেওয়ার মতো উদ্দেশ্যগুলোতে এমন সব আয়াত এসেছে, যা থেকে মহাজাগতিক নিয়ম ও প্রাকৃতিক নিয়মাবলি বোঝা যায়, আধুনিক বিজ্ঞান যার প্রমাণাদি প্রতিটি যুগে উন্মোচন করেছে। এবং এটি প্রমাণ করে যে, যেসব আয়াত এদিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে। কারণ মানুষের এ বিষয়ে কোনো জ্ঞান ছিল না এবং তারা এগুলোর প্রকৃত তত্ত্বে পৌঁছাতে পারেনি; বরং তাদের প্রমাণ পেশ ছিল কেবল বাহ্যিক বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে। সুতরাং যখনই বৈজ্ঞানিক গবেষণা কোনো মহাজাগতিক নিয়ম উন্মোচন করে এবং প্রতীয়মান হয় যে কুরআনের কোনো আয়াত এই নিয়মের দিকে ইঙ্গিত করেছে, তখন কুরআন যে আল্লাহর পক্ষ থেকে তার এক নতুন প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়। অলৌকিকত্বের এই দিকের প্রতি মহান আল্লাহ সূরা ফুসসিলাতে তাঁর বাণীর মাধ্যমে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন: "বল, তোমরা ভেবে দেখেছ কি, যদি এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে হয় আর তোমরা এতে কুফরি করো, তবে যে ব্যক্তি ঘোর বিরোধিতায় লিপ্ত তার চেয়ে বড় পথভ্রষ্ট আর কে? অচিরেই আমি তাদেরকে দিগন্তসমূহে এবং তাদের নিজেদের মধ্যে আমার নিদর্শনাবলি দেখাব, যতক্ষণ না তাদের কাছে স্পষ্ট হয় যে এটি সত্য। তোমার রবের জন্য কি এটিই যথেষ্ট নয় যে, তিনি সর্ববিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী?" [ফুসসিলাত: ৫২-৫৩]।এই আয়াতসমূহের মধ্যে রয়েছে সূরা আন-নামলে আল্লাহর ক্ষমতার প্রমাণ এবং তাঁর নিদর্শনের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করার ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর বাণী: "আর তুমি পাহাড়গুলোকে দেখছ, মনে করছ সেগুলো স্থির, অথচ সেগুলো মেঘমালার মতো চলে যাবে। এটি আল্লাহরই কারিগরি, যিনি সবকিছুকে সুনিপুণ করেছেন" [আন-নামল: ৮৮]। এবং মহান আল্লাহর বাণী: "আমি বায়ু প্রেরণ করি গর্ভসঞ্চারকরূপে" [আল-হিজর: ২২], এবং তাঁর বাণী: "কাফেররা কি দেখে না যে, আসমানসমূহ ও জমিন মিশে ছিল, অতঃপর আমি উভয়কে পৃথক করে দিলাম এবং পানি হতে সব কিছু তৈরি করলাম..."
(খণ্ড: ১)
ইলমু উসূলিল ফিকহি - ত মাকতাবাতুদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
كُلَّ شَيْءٍ حَيٍّ} [الأنبياء:30] ، وقوله: {مَرَجَ الْبَحْرَيْنِ يَلْتَقِيَانِ * بَيْنَهُمَا بَرْزَخٌ لَّا يَبْغِيَانِ} [الرحمن: 20،19] ، وقوله: {وَلَقَدْ خَلَقْنَا الْإِنسَانَ مِن سُلَالَةٍ مِّن طِينٍ * ثُمَّ جَعَلْنَاهُ نُطْفَةً فِي قَرَارٍ مَّكِينٍ* ثُمَّ خَلَقْنَا النُّطْفَةَ عَلَقَةً فَخَلَقْنَا الْعَلَقَةَ مُضْغَةً فَخَلَقْنَا الْمُضْغَةَ عِظَاماً فَكَسَوْنَا الْعِظَامَ لَحْماً ثُمَّ أَنشَأْنَاهُ خَلْقاً آخَرَ فَتَبَارَكَ اللَّهُ أَحْسَنُ الْخَالِقِينَ} [الأنبياء: 14:12] .وبعض الباحثين لا يرتضون الاتجاه إلى تفسير آيات القرآن بما يقرره العلم من نظريات ونواميس، وحجتهم أن آيات القرآن لها مدلولات ثابتة مستقرة لا تتبدل، والنظريات العلمية قد تتغير وتتبدل، وقد يكشف البحث الجديد خطأ نظريات قديمة، ولكني لا أرى هذا الرأي لأن تفسير آية قرآنية بما كشفه العلم من سنن كونية ما هو إلا فهم للآية بوجه من وجوه الدلالة على ضوء العلم، وليس معنى هذا أن الآية لا تفهم إلا بهذا الوجه من الوجوه، فإذا ظهر خطأ النظرية ظهر خطأ فهم النظرية على ذلك الوجه لا خطأ الآية نفسها، كما يفهم حكم من آية ويتبين خطأ فهمه بظهور دليل على هذا الخطأ.وثالثها: إخباره بوقائع لا يعلمها إلا علام الغيوب:أخبر القرآن عن وقوع حوادث في المستقبل لا علم لأحد من الناس بها، كقوله تعالى: {الم* غُلِبَتِ الرُّومُ* فِي أَدْنَى الْأَرْضِ وَهُم مِّن بَعْدِ غَلَبِهِمْ سَيَغْلِبُونَ* فِي بِضْعِ سِنِينَ لِلَّهِ} [الروم: 1: 4] وقوله سبحانه: {لَتَدْخُلُنَّ الْمَسْجِدَ الْحَرَامَ إِن شَاء اللَّهُ آمِنِينَ} [الفتح: 27] .وقص بالقرآن قصص أمم بائدة ليست لها آثار ولا معالم تدل على أخبارها،
"...প্রতিটি জীবন্ত বস্তু।" [আল-আম্বিয়া: ৩০], এবং তাঁর বাণী: "তিনি দুই সমুদ্রকে প্রবাহিত করেছেন যারা পরস্পর মিলিত হয়। তাদের উভয়ের মাঝে রয়েছে এক অন্তরাল যা তারা অতিক্রম করতে পারে না।" [আর-রাহমান: ১৯-২০], এবং তাঁর বাণী: "আর অবশ্যই আমি মানুষকে মাটির নির্যাস থেকে সৃষ্টি করেছি। অতঃপর আমি তাকে শুক্রবিন্দু হিসেবে এক নিরাপদ আধারে স্থাপন করেছি। তারপর আমি শুক্রবিন্দুকে জমাট রক্তে পরিণত করেছি, এরপর জমাট রক্তকে পিণ্ডে পরিণত করেছি, অতঃপর মাংসপিণ্ডকে অস্থিতে পরিণত করেছি এবং অস্থিসমূহকে গোশত দ্বারা ঢেকে দিয়েছি; শেষে আমি তাকে অন্য এক সৃষ্টিরূপে গড়ে তুলেছি। অতএব আল্লাহ কতই না বরকতময়, যিনি সর্বোত্তম স্রষ্টা।" [আল-আম্বিয়া: ১২-১৪]।কিছু গবেষক কুরআনের আয়াতসমূহকে বিজ্ঞানের স্থিরকৃত তত্ত্ব ও নিয়মের আলোকে ব্যাখ্যা করার প্রবণতা পছন্দ করেন না। তাদের যুক্তি হলো, কুরআনের আয়াতসমূহের অর্থ সুনিশ্চিত ও স্থিতিশীল যা পরিবর্তিত হয় না, পক্ষান্তরে বৈজ্ঞানিক তত্ত্বসমূহ পরিবর্তিত ও রূপান্তরিত হতে পারে। এমনকি নতুন গবেষণায় অনেক সময় পুরনো তত্ত্বের ভুল ধরা পড়ে। কিন্তু আমি এই মতের অনুসারী নই; কারণ বিজ্ঞানের আবিষ্কৃত প্রাকৃতিক নিয়মের আলোকে কুরআনের আয়াতের ব্যাখ্যা করা কেবল বিজ্ঞানের আলোতে আয়াতের কোনো একটি অর্থ অনুধাবন করা মাত্র। এর মানে এই নয় যে, আয়াতটি কেবল ঐ নির্দিষ্ট অর্থেই সীমাবদ্ধ। সুতরাং যদি কোনো তত্ত্বের ভুল প্রমাণিত হয়, তবে সেই তত্ত্বের নিরিখে আয়াতের ঐ বুঝের ভুল প্রমাণিত হবে, খোদ আয়াতের কোনো ভুল নয়। এটি ঠিক তেমন, যেমন কোনো আয়াত থেকে একটি বিধান বোঝা হলো এবং পরবর্তীতে সেই বুঝের ভুল স্পষ্ট করার মতো কোনো দলিল প্রকাশিত হলো।তৃতীয়ত: এমন সব ঘটনার সংবাদ প্রদান যা অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না:কুরআন ভবিষ্যতে ঘটবে এমন সব ঘটনার সংবাদ দিয়েছে যার সম্পর্কে মানুষের কোনো জ্ঞান ছিল না। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "আলিফ-লাম-মীম। রোমানরা পরাজিত হয়েছে, নিকটবর্তী এলাকায়। এবং তারা তাদের পরাজয়ের পর শীঘ্রই বিজয়ী হবে, কয়েক বছরের মধ্যে। সকল সিদ্ধান্ত আল্লাহরই।" [আর-রূম: ১-৪] এবং মহান আল্লাহর বাণী: "আল্লাহ চাহেন তো তোমরা অবশ্যই মসজিদে হারামে প্রবেশ করবে নিরাপদে।" [আল-ফাতহ: ২৭]।কুরআনে এমন সব বিলুপ্ত জাতির কাহিনী বর্ণনা করা হয়েছে যাদের কোনো চিহ্ন বা নিদর্শন তাদের সংবাদ জানার জন্য অবশিষ্ট নেই,