(খণ্ড: ১)
সহীহুল জামিইস সাগীর ওয়া যিয়াদাতুহু
(পৃষ্ঠা: -)
صحيح الجامع الصغير وزيادته القسم: كتب السنة
الكتاب: صحيح الجامع الصغير وزياداته
المؤلف: أبو عبد الرحمن محمد ناصر الدين، بن الحاج نوح بن نجاتي بن آدم، الأشقودري الألباني (ت 1420هـ)
الناشر: المكتب الإسلامي
عدد الأجزاء: 2
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
সহীহ আল-জামি আস-সাগীর ওয়া যিয়াদাতুহু বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: সহীহ আল-জামি আস-সাগীর ওয়া যিয়াদাতুহু
লেখক: আবু আব্দুর রহমান মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন, বিন আল-হাজ্জ নূহ বিন নাজাতী বিন আদম, আল-আশকুদারী আল-আলবানী (মৃ. ১৪২০ হিজরী)
প্রকাশক: আল-মাকতাব আল-ইসলামী
খণ্ড সংখ্যা: ২
[কিতাবটির নম্বরকরণ মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলার প্রকাশনার তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
সহীহুল জামিইস সাগীর ওয়া যিয়াদাতুহু
(পৃষ্ঠা: ৬৩)
المجلد الأول
حرف الألف
1 - «آتى باب الجنة يوم القيامة فأستفتح فيقول الخازن: من أنت؟ فأقول: محمد، فيقول: بك أمرت أن لا أفتح لأحد قبلك» .
(صحيح)
… [حم م] عن أنس. الصحيحة 774.
2 - «آخر ما أدرك الناس من كلام النبوة الأولى: إذا لم تستح فاصنع ما شئت» .
(صحيح)
… [ابن عساكر فى تاريخ دمشق] من حديث أبى مسعود البدري. الصحيحة 684.
3 - «آخر من يحشر راعيان من مزينة يريدان المدينة ينعقان بغنمهما فيجدانها وحشا حتى إذا بلغا ثنية الوداع خرا على وجوههما» .
(صحيح)
… [ك] عن أبي هريرة. الصحيحة 683.
4 - 1 - 1 "آخر من يدخل الجنة رجل يمشي على الصراط فهو يمشي مرة ويكبو مرة وتسفعه النار مرة، فإذا جاوزها التفت إليها فقال: تبارك الذي نجاني منك، لقد أعطاني الله شيئا ما أعطاه أحدا من الأولين والآخرين! فترفع له شجرة فيقول أي رب أدنني من هذه الشجرة فلأستظل بظلها وأشرب من مائها فيقول الله يا ابن آدم لعلي إن أعطيتكها سألتني غيرها؟ فيقول: لا يا رب ويعاهده أن لا يسأله غيرها وربه يعذره؛ لأنه يرى ما لا صبر له عليه فيدنيه منها فيستظل بظلها ويشرب من مائها، ثم ترفع له شجرة أخرى هي أحسن من الأولى،
--------------------------------------------
প্রথম খণ্ড
আলিফ বর্ণ
১ -
«কিয়ামতের দিন আমি জান্নাতের দরজায় এসে তা খোলার অনুরোধ করব। তখন দ্বাররক্ষী জিজ্ঞেস করবেন: আপনি কে? আমি বলব: মুহাম্মদ। তখন তিনি বলবেন: আপনার ব্যাপারেই আমাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, আপনার পূর্বে যেন আমি কারো জন্য দ্বার না খুলি।»
(সহিহ)
[আহমাদ ও মুসলিম] আনাস (রা.) হতে বর্ণিত। আস-সহিহাহ ৭৭৪।
২ -
«পূর্ববর্তী নবুওয়াতের বাণীসমূহের মধ্য থেকে মানুষ যা প্রাপ্ত হয়েছে তার সর্বশেষ হলো: যদি তোমার লজ্জা না থাকে, তবে যা ইচ্ছা তাই করো।»
(সহিহ)
[ইবনে আসাকির তাঁর তারিখু দিমাস্ক গ্রন্থে] আবু মাসউদ আল-বাদরি (রা.) হতে বর্ণিত হাদিস। আস-সহিহাহ ৬৮৪।
৩ -
«সর্বশেষে যাদের হাশর করা হবে তারা হলো মুজাইনা গোত্রের দুইজন মেষপালক, যারা মদিনায় যাওয়ার ইচ্ছা করবে এবং তাদের বকরিগুলোকে হাঁকিয়ে নিয়ে যাবে। এরপর তারা মদিনাকে জনমানবহীন বন্য অবস্থায় দেখতে পাবে। পরিশেষে যখন তারা সানিয়াতুল বিদা নামক স্থানে পৌঁছাবে, তখন তারা উপুড় হয়ে পড়ে যাবে।»
(সহিহ)
[হাকেম] আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত। আস-সহিহাহ ৬৮৩।
৪ -
১ - ১ "জান্নাতে প্রবেশকারী সর্বশেষ ব্যক্তি হবে এমন এক ব্যক্তি, যে পুলসিরাতের উপর দিয়ে চলবে। সে কখনো হাঁটবে, কখনো হোঁচট খেয়ে পড়ে যাবে এবং কখনো জাহান্নামের আগুন তাকে ঝলসে দেবে। অতঃপর যখন সে তা অতিক্রম করে যাবে, তখন সেটির দিকে ফিরে তাকিয়ে বলবে: বরকতময় সেই সত্তা, যিনি আমাকে তোমার থেকে মুক্তি দিয়েছেন। আল্লাহ আমাকে এমন কিছু দান করেছেন, যা তিনি পূর্ববর্তী ও পরবর্তীগণের মধ্যে কাউকেই দান করেননি! এরপর তার সামনে একটি গাছ উন্মোচিত করা হবে, তখন সে বলবে: হে আমার প্রতিপালক! আমাকে এই গাছটির নিকটবর্তী করে দিন যেন আমি এর ছায়ায় আশ্রয় নিতে পারি এবং এর পানি পান করতে পারি। আল্লাহ বলবেন: হে আদম সন্তান! সম্ভবত আমি যদি তোমাকে এটি দান করি, তবে তুমি আমার কাছে অন্য কিছু প্রার্থনা করবে? সে বলবে: না, হে আমার প্রতিপালক! এবং সে তাঁর সাথে অঙ্গীকার করবে যে, সে অন্য কিছু চাইবে না। আর তার প্রতিপালক তার ওজর কবুল করবেন; কারণ তিনি দেখছেন যে, সেটি দেখে ধৈর্য ধারণ করার সাধ্য তার নেই। অতঃপর তিনি তাকে সেই গাছের নিকটবর্তী করবেন, ফলে সে তার ছায়ায় আশ্রয় নেবে এবং তার পানি পান করবে। এরপর তার সামনে অন্য একটি গাছ উন্মোচিত করা হবে যা প্রথমটির চেয়েও অধিক সুন্দর,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহুল জামিইস সাগীর ওয়া যিয়াদাতুহু
(পৃষ্ঠা: ৬৪)
فيقول: أي رب أدنني من هذه لأشرب من مائها وأستظل بظلها لا أسألك غيرها، فيقول يا ابن آدم ألم تعاهدني ألا تسألني غيرها؟ فيقول لعلي إن أدنيتك منها تسألني غيرها؟ فيعاهده أن لا يسأله غيرها وربه يعذره لأنه يرى ما لا صبر له عليه فيدنيه منها فيستظل بظلها ويشرب من مائها، ثم ترفع له شجرة عند باب الجنة وهي أحسن من الأوليين، فيقول أي رب أدنني من هذه فلأستظل بظلها وأشرب من مائها لا أسألك غيرها فيقول: يا ابن آدم ألم تعاهدني أن لا تسألني غيرها؟ قال: بلى يا رب أدنني من هذه لا أسألك غيرها وربه يعذره لأنه يرى ما لا صبر له عليه فيدنيه منها فإذا أدناه منها سمع أصوات أهل الجنة فيقول: أي رب أدخلنيها فيقول: يا ابن آدم ما يعريني منك؟ 1 أيرضيك أن أعطيك الدنيا ومثلها معها؟ فيقول: أي رب أتستهزئ مني وأنت رب العالمين؟ فيقول: إني لا أستهزئ منك ولكني على ما أشاء قادر".
(صحيح)
… [حم م] عن ابن مسعود. مختصر مسلم 88.
5 - 2 - «آكل الربا وموكله وكاتبه وشاهداه إذا علموا ذلك والواشمة والموشومة للحسن ولاوي الصدقة والمرتد أعرابيا بعد الهجرة ملعونون على لسان محمد يوم القيامة» .
(صحيح)
… [ن] عن ابن مسعود. تخريج الترغيب 3/49: ابن ماجه، ك.
6 - 3 - «آكل كما يأكل العبد فوا الذي نفسي بيده لو كانت الدنيا تزن عند الله جناح بعوضة ما سقى منها كافرا كأسا» .
(صحيح)
… [هناد] الزهد عن عمرو بن مرة مرسلا. الأحاديث الصحيحة 544 و686.
--------------------------------------------
তখন সে বলবে: হে আমার প্রতিপালক! আমাকে এর নিকটে নিয়ে যান যাতে আমি এর পানি পান করতে পারি এবং এর ছায়াতলে আশ্রয় নিতে পারি, আমি আপনার কাছে এছাড়া আর কিছু চাইব না। তখন তিনি বলবেন: হে আদম সন্তান! তুমি কি আমার সাথে অঙ্গীকার করোনি যে, তুমি আমাকে এছাড়া আর কিছু চাইবে না? তিনি বলবেন: সম্ভবত আমি যদি তোমাকে এর কাছে নিয়ে যাই তবে তুমি অন্য কিছু চাইবে? তখন সে তাঁর সাথে অঙ্গীকার করবে যে সে এছাড়া আর কিছু চাইবে না। তার প্রতিপালক তাকে ক্ষমা করবেন, কারণ তিনি দেখছেন যে সেটির ওপর তার ধৈর্য ধরার ক্ষমতা নেই। অতঃপর তিনি তাকে তার নিকটবর্তী করবেন, ফলে সে তার ছায়াতলে আশ্রয় নেবে এবং তার পানি পান করবে। এরপর জান্নাতের দরজার কাছে তার সামনে আরেকটি গাছ উন্মোচন করা হবে যা প্রথম দুটির চেয়েও সুন্দর। সে বলবে: হে আমার প্রতিপালক! আমাকে এর নিকটবর্তী করুন যাতে আমি এর ছায়াতলে আশ্রয় নিতে পারি এবং এর পানি পান করতে পারি, আমি আপনার কাছে এছাড়া আর কিছু চাইব না। তিনি বলবেন: হে আদম সন্তান! তুমি কি আমার সাথে অঙ্গীকার করোনি যে, তুমি এছাড়া আর কিছুই চাইবে না? সে বলবে: হ্যাঁ, হে আমার প্রতিপালক! আমাকে এর কাছে নিয়ে যান, আমি এছাড়া আর কিছু চাইব না। তার প্রতিপালক তাকে ক্ষমা করবেন, কারণ তিনি দেখছেন যে সেটির ওপর তার ধৈর্য ধরার ক্ষমতা নেই। অতঃপর যখন তিনি তাকে তার কাছে নিয়ে যাবেন, তখন সে জান্নাতবাসীদের শব্দ শুনতে পাবে। সে বলবে: হে আমার প্রতিপালক! আমাকে এতে প্রবেশ করিয়ে দিন। তিনি বলবেন: হে আদম সন্তান! তোমার চাওয়া কবে শেষ হবে? তুমি কি এতে সন্তুষ্ট হবে যে, আমি তোমাকে পৃথিবী এবং তার সাথে তার সমপরিমাণ আরও দান করি? সে বলবে: হে আমার প্রতিপালক! আপনি কি আমার সাথে উপহাস করছেন অথচ আপনি বিশ্বজগতের প্রতিপালক? তিনি বলবেন: আমি তোমার সাথে উপহাস করছি না, বরং আমি যা ইচ্ছা তা করতে সক্ষম।
(সহীহ)
হাদিসটি
[আহমাদ ও মুসলিম] ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন। মুখতাসার মুসলিম ৮৮।
৫ -
২ - "সুদখোর, সুদ প্রদানকারী, সুদের লেখক এবং তার দুই সাক্ষী—যখন তারা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত থাকে—এবং সৌন্দর্যের জন্য উল্কি অঙ্কনকারী নারী ও যে নারী উল্কি করায়, সদকা প্রদানে গড়িমসি করা ব্যক্তি এবং হিজরতের পর পুনরায় মরুবাসী জীবনে ফিরে যাওয়া ব্যক্তি—কিয়ামতের দিন মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জবানে তারা অভিশপ্ত।"
(সহীহ)
হাদিসটি
[নাসাঈ] ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন। তাখরিজুত তারগিব ৩/৪৯: ইবনে মাজাহ, হাকেম।
৬ -
৩ - «আমি আহার করি যেভাবে একজন দাস আহার করে। সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ, যদি দুনিয়া আল্লাহর নিকট মশার একটি ডানার ওজনের সমান হতো, তবে তিনি এখান থেকে কোনো কাফিরকে এক পেয়ালা পানিও পান করাতেন না।»
(সহিহ)
[হান্নাদ] আমর ইবনে মুররা থেকে মুরসাল সূত্রে 'আজ-জুহদ' গ্রন্থে। আল-আহাদিস আস-সহিহা ৫৪৪ ও ৬৮৬।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহুল জামিইস সাগীর ওয়া যিয়াদাতুহু
(পৃষ্ঠা: ৬৫)
7 - «آكل كما يأكل العبد وأجلس كما يجلس العبد» .
(صحيح)
… [ابن سعد ع حب] عن عائشة. الصحيحة 544.
8 - «آكل كما يأكل العبد وأجلس كما يجلس العبد فإنما أنا عبد» .
(صحيح)
… [ابن سعد هب] عن يحيى بن أبي كثير مرسلا. الصحيحة 441.
9 - 4 - «آالفقر تخافون؟ والذي نفسي بيده لتصبن عليكم الدنيا صبا حتى لا يزيغ قلب أحدكم إن أزاغه إلا هي، وأيم الله لقد تركتكم على مثل البيضاء ليلها ونهارها سواء» .
(حسن)
… [هـ] عن أبي الدرداء. الصحيحة 688.
10 - 5 - «آمركم بأربع وأنهاكم عن أربع آمركم بالإيمان بالله وحده أتدرون ما الإيمان بالله وحده؟ شهادة أن لا إله إلا الله وأن محمدا رسول الله وإقام الصلاة وإيتاء الزكاة وصيام رمضان وأن تؤدوا خمس ما غنمتم وأنهاكم عن الدباء والنقير والحنتم والمزفت احفظوهن وأخبروا بهن من وراءكم» .
()
… [ق، 3] عن ابن عباس.
11 - «آمركم بأربع وأنهاكم عن أربع اعبدوا الله ولا تشركوا به شيئا وأقيموا الصلاة وآتوا الزكاة وصوموا رمضان وأعطوا الخمس من الغنائم وأنهاكم عن أربع: عن الدباء والحنتم والمزفت والنقير»
… [حم، م] عن أبي سعيد.
--------------------------------------------
৭ -
«আমি আহার করি যেভাবে একজন দাস আহার করে এবং আমি বসি যেভাবে একজন দাস বসে।’
(সহীহ)
[ইবনে সাদ, আবু ইয়ালা ও ইবনে হিব্বান সূত্রে] আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। আস-সহীহাহ ৫৪৪।
৮ -
«আমি আহার করি যেভাবে একজন দাস আহার করে এবং আমি বসি যেভাবে একজন দাস বসে; কেননা আমি একজন দাস বৈ নই।’
(সহীহ)
[ইবনে সাদ ও বায়হাকী সূত্রে] ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসীর থেকে মুরসাল হিসেবে বর্ণিত। আস-সহীহাহ ৪৪১।
৯ -
৪ - «তোমরা কি দারিদ্র্যের ভয় পাচ্ছ? সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ! তোমাদের ওপর দুনিয়াকে প্রচুর পরিমাণে ঢেলে দেওয়া হবে, এমনকি তোমাদের কারো অন্তর যদি সত্যপথ থেকে বিচ্যুত হয় তবে তা দুনিয়ার মোহের কারণেই হবে। আল্লাহর শপথ! আমি তোমাদেরকে এমন এক শুভ্র উজ্জ্বল পথের ওপর রেখে যাচ্ছি যার রাত এবং দিন সমান উজ্জ্বল ও স্পষ্ট।’
(হাসান)
[ইবনে মাজাহ সূত্রে] আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। আস-সহীহাহ ৬৮৮।
১০ -
৫ - «আমি তোমাদের চারটি বিষয়ের নির্দেশ দিচ্ছি এবং চারটি বিষয়ে নিষেধ করছি: আমি তোমাদেরকে এক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার নির্দেশ দিচ্ছি। তোমরা কি জানো এক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা কী? তা হলো এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, সালাত কায়েম করা, যাকাত প্রদান করা, রমজানের সিয়াম পালন করা এবং তোমাদের অর্জিত গনিমতের মালের এক-পঞ্চমাংশ আদায় করা। আর আমি তোমাদেরকে দুবা, নাকীর, হানতাম ও মুজাফফাত (মাদক তৈরির পাত্রসমূহ) ব্যবহার করতে নিষেধ করছি। তোমরা এই নির্দেশগুলো মনে রেখো এবং তোমাদের পেছনে যারা রয়েছে তাদের নিকট এগুলো পৌঁছে দাও।’
(সহীহ)
[বুখারী, মুসলিম এবং তিন সুনান গ্রন্থ সূত্রে] ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত।
১১ -
«আমি তোমাদের চারটি বিষয়ের আদেশ করছি এবং চারটি বিষয় থেকে নিষেধ করছি: তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করো না, সালাত কায়েম করো, জাকাত প্রদান করো, রমজানের সিয়াম পালন করো এবং গনিমতের মালের এক-পঞ্চমাংশ প্রদান করো। আর আমি তোমাদের চারটি বিষয় থেকে নিষেধ করছি: শুকনো লাউয়ের খোল, সবুজ মাটির পাত্র, আলকাতরা মাখানো পাত্র এবং খেজুর গাছের কাণ্ড খোদাই করা পাত্র ব্যবহার করা থেকে।»
।
[আহমাদ, মুসলিম] আবু সাঈদ থেকে বর্ণিত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহুল জামিইস সাগীর ওয়া যিয়াদাতুহু
(পৃষ্ঠা: ৬৬)
12 - «آمركم بثلاث وأنهاكم عن ثلاث آمركم أن تعبدوا الله ولا تشركوا به شيئا وأن تعتصموا بحبل الله جميعا ولا تفرقوا وتسمعوا وتطيعوا لمن ولاه الله أمركم وأنهاكم عن قيل وقال وكثرة السؤال وإضاعة المال» .
(صحيح)
… [حل] عن أبى هريرة. الصحيحة 685.
13 - «آمروا النساء في أنفسهن فإن الثيب تعرب عن نفسها وإذن البكر صمتها» .
(صحيح)
… [طب، هق] عن العرس بن عميرة. الإرواء 1836.
14 - 6 - «آمروا اليتيمة في نفسها وإذنها صماتها» .
(صحيح)
… [طب] عن أبي موسى1. الصحيحة 656.
15 - «آية الإيمان حب الأنصار وآية النفاق بغض الأنصار» .
(صحيح)
… [حم ق ن] عن أنس. الصحيحة 668.
16 - «آية المنافق ثلاث: إذا حدث كذب وإذا وعد أخلف وإذا ائتمن خان» .
(صحيح)
… [ق ت ن] عن أبى هريرة.
17 - «ائت حرثك أنى شئت وأطعمها إذا طعمت واكسها إذا اكتسيت ولا تقبح الوجه ولا تضرب» .
(حسن)
… [د] عن بهز بن حكيم عن أبيه عن جده. الصحيحة 687.
18 - «ائتدموا بالزيت وادهنوا به فإنه يخرج من شجرة مباركة» .
(حسن)
… [هـ ك هب] عن ابن عمر. الصحيحة 379.
--------------------------------------------
১২ -
«আমি তোমাদের তিনটি বিষয়ের আদেশ দিচ্ছি এবং তিনটি বিষয় থেকে নিষেধ করছি। আমি তোমাদের আদেশ দিচ্ছি যে, তোমরা একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবে না, আল্লাহর রজ্জুকে সকলে মিলে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরবে এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হবে না, আর আল্লাহ যাকে তোমাদের বিষয়ের দায়িত্বশীল করেছেন তার কথা শুনবে ও আনুগত্য করবে। আর আমি তোমাদের নিষেধ করছি বৃথা আলাপ-আলোচনা (কিল-ও-কাল), অধিক প্রশ্ন করা এবং সম্পদ নষ্ট করা থেকে।»
(সহিহ)
…
[হিলইয়াহ] আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত। আস-সহিহাহ ৬৮৫।
১৩ -
«নারীদের বিয়ের ব্যাপারে তাদের নিজেদের সাথে পরামর্শ করো। কারণ, ইতিপূর্বে বিবাহিতা নারী তার নিজের ইচ্ছার কথা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করবে, আর কুমারী মেয়ের নীরবতাই তার অনুমতি হিসেবে গণ্য হবে।»
(সহিহ)
…
[তাবারানি, বায়হাকি] উরস ইবনে আমিরাহ থেকে বর্ণিত। আল-ইরওয়া ১৮৩৬।
১৪ -
৬ - «এতিম মেয়ের বিয়ের ব্যাপারে তার পরামর্শ গ্রহণ করো এবং তার নীরবতাই তার অনুমতি।’
(সহিহ)
…
[তাবারানি] আবু মুসা থেকে বর্ণিত। আস-সহিহাহ ৬৫৬।
১৫ -
«আনসারদের ভালোবাসা ঈমানের নিদর্শন এবং আনসারদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা মুনাফেকির নিদর্শন।»
(সহিহ)
…
[আহমাদ, বুখারি, মুসলিম, নাসায়ি] আনাস থেকে বর্ণিত। আস-সহিহাহ ৬৬৮।
১৬ -
«মুনাফিকের নিদর্শন তিনটি: যখন কথা বলে মিথ্যা বলে, যখন ওয়াদা করে তা ভঙ্গ করে এবং যখন তার কাছে কোনো আমানত রাখা হয় সে তাতে খিয়ানত করে।»
(সহিহ)
…
[বুখারি, মুসলিম, তিরমিজি, নাসায়ি] আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত।
১৭ -
«তোমার শস্যক্ষেত্রে (স্ত্রীর কাছে) যেভাবে ইচ্ছা গমন করো, তুমি যখন আহার করবে তাকেও আহার করাবে, তুমি যখন পরিধান করবে তাকেও পরিধান করাবে, তার চেহারার নিন্দা (গালিগালাজ) করবে না এবং তাকে প্রহার করবে না।»
(হাসান)
... [আবু দাউদ] বাহজ ইবনে হাকিম থেকে, তিনি তার পিতা থেকে এবং তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন। আস-সহীহাহ ৬৮৭।
১৮ -
«তোমরা যয়তুনের তেল দিয়ে সালন খাও এবং তা শরীরে মাখো, কেননা এটি একটি বরকতময় গাছ থেকে উৎপন্ন হয়»।
(হাসান)
... [ইবনে মাজাহ, হাকেম, বায়হাকী] ইবনে উমর থেকে বর্ণিত। আস-সহীহাহ ৩৭৯।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহুল জামিইস সাগীর ওয়া যিয়াদাতুহু
(পৃষ্ঠা: ৬৭)
19 - «ائتدموا من هذه الشجرة - يعني الزيت - ومن عرض عليه طيب فليصب منه» .
(حسن)
… [طس] عن ابن عباس. الصحيحة 379.
20 - «ائتوا الدعوة إذا دعيتم» .
(صحيح1)
… [م] عن ابن عمر. صحيح مسلم 4/152.
21 - «ائذنوا للنساء أن يصلين بالليل في المسجد» .
(صحيح)
… [الطيالسى] عن ابن عمر. صحيح السنن* 577.
22 - «ائذنوا للنساء بالليل إلى المساجد» .
(صحيح)
… [حم م د ت] عن ابن عمر. السنن 577.
23 - «أبى الله أن يجعل لقاتل المؤمن توبة» .
(صحيح)
… [طب الضياء في المختارة] عن أنس. الصحيحة 689.
24 - 5 - «أبى الله والمؤمنون أن يختلف عليك يا أبا بكر» .
(صحيح)
… [حم] عن عائشة. الصحيحة 690.
25 - 7 - «أبايعك على أن تعبد الله لا تشرك به شيئا وتقيم الصلاة المكتوبة وتؤتي الزكاة وتنصح لكل مسلم وتبرأ من الشرك» .
(صحيح)
… [حم ن] عن جرير. الإرواء 1207.
26 - 8 - "أبايعكم على أن لا تشركوا بالله شيئا ولا تسرقوا ولا تزنوا ولا تقتلوا أولادكم ولا تأتوا ببهتان تفترونه بين أيديكم وأرجلكم ولا تعصوني في معروف فمن وفى منكم فأجره على الله ومن أصاب من ذلك شيئا فأخذ به في الدنيا فهو له كفارة وطهور ومن ستره الله فذلك
--------------------------------------------
১৯ -
«তোমরা এই বৃক্ষ—অর্থাৎ জয়তুন—থেকে তেল গ্রহণ করো এবং যাকে সুগন্ধি পেশ করা হয় সে যেন তা ব্যবহার করে।»
(হাসান)
[তবারানি আল-আওসাত] ইবনে আব্বাস থেকে। আস-সহীহাহ ৩৭৯।
২০ -
«যখন তোমাদের দাওয়াত দেওয়া হয়, তখন তোমরা সেই দাওয়াতে উপস্থিত হও।»
(সহীহ)
[মুসলিম] ইবনে উমর থেকে। সহীহ মুসলিম ৪/১৫২।
২১ -
«তোমরা নারীদেরকে রাতে মসজিদে গিয়ে সালাত আদায়ের অনুমতি দাও।»
(সহীহ)
[তিয়ালিসি] ইবনে উমর থেকে। সহীহ আস-সুনান ৫৭৭।
২২ -
«তোমরা নারীদেরকে রাতে মসজিদের দিকে যাওয়ার অনুমতি দাও।»
(সহীহ)
[আহমাদ, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী] ইবনে উমর থেকে। আস-সুনান ৫৭৭।
২৩ -
«আল্লাহ তাআলা মুমিনের হত্যাকারীর জন্য তওবা কবুল করা অস্বীকার করেছেন।»
(সহীহ)
[তবারানি আল-কাবীর, জিয়া আল-মাকদিসি আল-মুখতারা গ্রন্থে] আনাস থেকে। আস-সহীহাহ ৬৮৯।
২৪ -
৫ - «হে আবু বকর! আল্লাহ এবং মুমিনগণ তোমার ব্যাপারে মতভেদ করতে অস্বীকার করেন।»
(সহীহ)
[আহমাদ] আয়েশা থেকে। আস-সহীহাহ ৬৯০।
২৫ -
৭ - «আমি তোমার নিকট এই শর্তে বায়আত নিচ্ছি যে, তুমি আল্লাহর ইবাদত করবে, তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবে না, ফরয সালাত কায়েম করবে, যাকাত প্রদান করবে, প্রত্যেক মুসলিমের কল্যাণ কামনা করবে এবং শিরক থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করবে»।
(সহীহ)
[আহমাদ ও নাসায়ি] জারীর থেকে বর্ণিত। আল-ইরওয়া ১২০৭।
২৬ -
৮ - "আমি তোমাদের নিকট বায়আত নিচ্ছি এই শর্তে যে, তোমরা আল্লাহর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবে না, চুরি করবে না, ব্যভিচার করবে না, তোমাদের সন্তানদের হত্যা করবে না, তোমরা জেনে-শুনে নিজেদের হাত ও পায়ের মাঝে কোনো অপবাদ রটনা করবে না এবং কোনো সৎ কাজে আমার অবাধ্য হবে না। তোমাদের মধ্যে যে তা পূর্ণ করবে, তার প্রতিদান আল্লাহর জিম্মায়। আর যে ব্যক্তি এর কোনোটিতে লিপ্ত হবে এবং দুনিয়াতে তাকে তার জন্য শাস্তি প্রদান করা হবে, তবে তা হবে তার জন্য কাফফারা ও পবিত্রতা। আর আল্লাহ যার বিষয়টি গোপন রাখবেন, তার বিষয়টি"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহুল জামিইস সাগীর ওয়া যিয়াদাতুহু
(পৃষ্ঠা: ৬৮)
إلى الله عز وجل إن شاء عذبه وإن شاء غفر له".
(صحيح)
… [حم ق ت ن] عن عبادة بن الصامت.
27 - «ابدأ بمن تعول» .
(صحيح)
… [طب] عن حكيم بن حزام. مختصر البخاري 714، خ: زكاة.
28 - «ابدأ بنفسك فتصدق عليها فإن فضل شيء فلأهلك فإن فضل شيء عن أهلك فلذي قرابتك فإن فضل عن ذي قرابتك شيء فهكذا وهكذا»
(صحيح)
… [ن] عن جابر. الإرواء 833 مختصر مسلم 883.
29 - «أبردوا بالظهر» .
(صحيح)
… [هـ] عن ابن عمر [طب] عن عبد الرحمن بن حارثة.
30 - «أبردوا بالظهر فإن شدة الحر من فيح جهنم» .
(صحيح)
… [خ هـ] عن أبي سعيد [حم ك] عن صفوان بن مخرمة [ن] عن أبى موسى [طب] عن ابن مسعود [عد] عن جابر [هـ] عن المغيرة بن شعبة.
31 - «أبشر عمار! تقتلك الفئة الباغية» .
(صحيح)
… [ت] عن أبى هريرة. الصحيحة 710.
32 - «أبشر فإن الله تعالى يقول: هي ناري أسلطها على عبدي المؤمن في الدنيا لتكون حظه من النار يوم القيامة» .
(صحيح)
… [حم هـ ك] عن أبى هريرة. الصحيحة 557.
33 - «أبشروا إن من نعمة الله عليكم أنه ليس أحد من الناس يصلي هذه الساعة غيركم» .
(صحيح)
… [خ] عن أبى موسى. خ: مواقيت، م: مساجد.
তা মহান আল্লাহর ইচ্ছাধীন, তিনি চাইলে তাকে শাস্তি দেবেন এবং চাইলে তাকে ক্ষমা করবেন।
(সহীহ)
[আহমাদ, বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী ও নাসাঈ] উবাদাহ ইবনুন সামিত থেকে বর্ণিত।
২৭ -
«যাদের ভরণপোষণের দায়িত্ব তোমার ওপর তাদের দিয়ে শুরু করো»।
(সহীহ)
[তাবরানী কাবীর] হাকিম ইবনে হিযাম থেকে বর্ণিত। মুখতাসারুল বুখারী ৭১৪, বুখারী: যাকাত অধ্যায়।
২৮ -
«নিজেকে দিয়ে শুরু করো এবং নিজের জন্য ব্যয় করো, এরপর যদি কিছু অতিরিক্ত থাকে তবে তোমার পরিবারের জন্য, আর তোমার পরিবারের প্রয়োজন মিটিয়ে যদি কিছু অবশিষ্ট থাকে তবে তোমার নিকটাত্মীয়দের জন্য। আর তোমার নিকটাত্মীয়দের প্রয়োজন মিটিয়ে যদি কিছু অবশিষ্ট থাকে তবে এভাবে ও এভাবে (ডানে ও বামে দান করো)»।
(সহীহ)
[নাসাঈ] জাবির থেকে বর্ণিত। আল-ইরওয়া ৮৩৩, মুখতাসার মুসলিম ৮৮৩।
২৯ -
«যোহরের সালাত ঠান্ডা করে (বিলম্ব করে) আদায় করো»।
(সহীহ)
[ইবনে মাজাহ] ইবনে উমর থেকে বর্ণিত এবং [তাবরানী কাবীর] আবদুর রহমান ইবনে হারিসাহ থেকে বর্ণিত।
৩০ -
«যোহরের সালাত ঠান্ডা করে আদায় করো, কারণ প্রচণ্ড গরম জাহান্নামের উত্তাপের বহিঃপ্রকাশ»।
(সহীহ)
[বুখারী ও ইবনে মাজাহ] আবু সাঈদ থেকে বর্ণিত, [আহমাদ ও হাকেম] সাফওয়ান ইবনে মাখরামাহ থেকে বর্ণিত, [নাসাঈ] আবু মুসা থেকে বর্ণিত, [তাবরানী কাবীর] ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত, [ইবনুল আদী] জাবির থেকে বর্ণিত এবং [ইবনে মাজাহ] মুগীরাহ ইবনে শু'বাহ থেকে বর্ণিত।
৩১ -
«সুসংবাদ গ্রহণ করো হে আম্মার! তোমাকে এক বিদ্রোহী দল হত্যা করবে»।
(সহীহ)
[তিরমিযী] আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত। আস-সহীহাহ ৭১০।
৩২ -
«সুসংবাদ গ্রহণ করুন, কেননা মহান আল্লাহ তাআলা বলেন: এটি আমার আগুন, যা আমি দুনিয়াতে আমার মুমিন বান্দার ওপর চাপিয়ে দেই যাতে তা কিয়ামতের দিন তার জাহান্নামের আগুনের নির্ধারিত অংশ হয়ে যায়।»
(সহিহ)
[আহমাদ, ইবনে মাজাহ, হাকেম] আবু হুরায়রা হতে বর্ণিত। আস-সহিহাহ ৫৫৭।
৩৩ -
«তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ করো, নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতি আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বিশেষ অনুগ্রহ এই যে, এই সময়ে তোমরা ব্যতীত অন্য কোনো মানুষ সালাত আদায় করছে না।»
(সহিহ)
[বুখারি] আবু মুসা হতে বর্ণিত। বুখারি: সালাতের ওয়াক্তসমূহ, মুসলিম: মসজিদসমূহ।
(খণ্ড: ১)
সহীহুল জামিইস সাগীর ওয়া যিয়াদাতুহু
(পৃষ্ঠা: ৬৯)
34 - 12 - «أبشروا فإن هذا القرآن طرفه بيد الله وطرفه بأيديكم فتمسكوا به فإنكم لن تهلكوا ولن تضلوا بعده أبدا» .
(صحيح)
… [طب] عن جبير. الصحيحة 713.
35 - «أبشروا وبشروا من وراءكم أنه من شهد أن لا إله إلا الله صادقا بها دخل الجنة»
(صحيح)
… [حم، طب] عن أبى موسى". الصحيحة 712.
36 - 13 - «أبشروا هذا ربكم قد فتح بابا من أبواب السماء يباهي بكم الملائكة يقول: انظروا إلى عبادي قد قضوا فريضة وهم ينظرون أخرى» .
صحيح
… [حم هـ] عن ابن عمرو. الصحيحة 661.
37 - 14 - «أبشري يا أم العلاء فإن مرض المسلم يذهب خطاياه كما تذهب النار خبث الحديد» .
(صحيح)
… [طب] عن أم العلاء. الصحيحة 714.
38 - 15 - «أبشري يا عائشة! أما الله فقد برأك» .
(صحيح)
… [ق] عن عائشة. خ: تفسير، م 8/117.
39 - «أبغض الرجال إلى الله: الألد الخصم» .
صحيح
… [ق، حم، ت، ن] عن عائشة.
40 - «أبغض الناس إلى الله ثلاثة: ملحد في الحرم ومبتغ في الإسلام سنة الجاهلية ومطلب دم امرئ بغير حق ليهريق دمه» .
(صحيح)
… [خ] عن ابن عباس. الصحيحة 778.
41 - «ابغوني الضعفاء فإنما ترزقون وتنصرون بضعفائكم» .
(صحيح)
… [حم م حب خد ك] عن أبي الدرداء. الصحيحة 779: د، ن.
--------------------------------------------
৩৪ -
১২ - «সুসংবাদ গ্রহণ করো, কেননা এই কুরআনের এক প্রান্ত আল্লাহর হাতে এবং অপর প্রান্ত তোমাদের হাতে। অতএব তোমরা এটি মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরো। নিশ্চয়ই তোমরা এরপর কখনও ধ্বংস হবে না এবং কখনও পথভ্রষ্ট হবে না।»
(সহীহ) [তাবারানি] জুবায়ের থেকে বর্ণিত। আস-সহীহাহ ৭১৩।
৩৫ -
«সুসংবাদ গ্রহণ করো এবং তোমাদের পেছনে যারা রয়েছে তাদের সুসংবাদ দাও যে, যে ব্যক্তি একনিষ্ঠভাবে সাক্ষ্য দেবে যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।»
(সহীহ) [আহমাদ ও তাবারানি] আবু মুসা থেকে বর্ণিত। আস-সহীহাহ ৭১২।
৩৬ -
১৩ - «সুসংবাদ গ্রহণ করো, এই তোমাদের রব আকাশের একটি দরজা খুলে দিয়েছেন এবং তোমাদের নিয়ে ফেরেশতাদের সামনে গর্ব করছেন। তিনি বলছেন: আমার বান্দাদের দিকে তাকাও, তারা একটি ফরজ দায়িত্ব সম্পন্ন করেছে এবং অপরটির জন্য অপেক্ষা করছে।»
সহীহ [আহমাদ ও ইবনে মাজাহ] ইবনে আমর থেকে বর্ণিত। আস-সহীহাহ ৬৬১।
৩৭ -
১৪ - «হে উম্মুল আলা! সুসংবাদ গ্রহণ করো, কেননা মুসলমানের অসুস্থতা তার পাপসমূহকে এমনভাবে মিটিয়ে দেয় যেভাবে আগুন লোহার মরিচা দূর করে দেয়।»
(সহীহ) [তাবারানি] উম্মুল আলা থেকে বর্ণিত। আস-সহীহাহ ৭১৪।
৩৮ -
১৫ - «হে আয়েশা! সুসংবাদ গ্রহণ করো, আল্লাহ তোমাকে অপবাদমুক্ত ও পবিত্র ঘোষণা করেছেন।»
(সহীহ) [বুখারি ও মুসলিম] আয়েশা থেকে বর্ণিত। বুখারি: তাফসির অধ্যায়, মুসলিম ৮/১১৭।
৩৯ -
«আল্লাহর নিকট সবচাইতে ঘৃণিত ব্যক্তি হলো অতিমাত্রায় ঝগড়াটে বিবাদকারী।»
সহীহ
[বুখারী ও মুসলিম, আহমাদ, তিরমিযী, নাসাঈ] আয়িশাহ থেকে বর্ণিত।
৪০ -
«আল্লাহর নিকট মানুষের মধ্যে সর্বাধিক ঘৃণিত ব্যক্তি তিনজন: হারামের পবিত্র সীমানায় ধর্মদ্রোহী বা সীমালঙ্ঘনকারী, ইসলামে জাহেলিয়াতের রীতিনীতির অন্বেষণকারী এবং অন্যায়ভাবে কোনো ব্যক্তির রক্ত প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে তাকে তালাশকারী।’
(সহীহ)
সহীহ সনদে বর্ণিত
[বুখারী] ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত। আস-সহীহাহ ৭৭৮।
৪১ -
«তোমরা আমাকে দুর্বলদের মাঝে তালাশ করো, কারণ তোমাদেরকে রিযিক প্রদান করা হয় এবং সাহায্য করা হয় তোমাদের দুর্বলদের অছিলাতেই।’
(সহীহ)
সহীহ সনদে বর্ণিত
[আহমাদ, মুসলিম, ইবনে হিব্বান, বুখারীর আল-আদাবুল মুফরাদ, হাকিম] আবু দারদা থেকে বর্ণিত। আস-সহীহাহ ৭৭৯: আবু দাউদ, নাসাঈ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহুল জামিইস সাগীর ওয়া যিয়াদাতুহু
(পৃষ্ঠা: ৭০)
42 - 16 - «ابن آدم ستون وثلاثمائة مفصل على كل واحد منها في كل يوم صدقة فالكلمة الطيبة يتكلم بها الرجل صدقة وعون الرجل أخاه على الشيء صدقة والشربة من الماء يسقيها صدقة وإماطة الأذى عن الطريق صدقة» .
(صحيح)
… [طب] عن ابن عباس. الإرواء 461.
43 - «ابن أخت القوم منهم» .
(صحيح)
… [حم ق ت ن] عن أنس [د] عن أبى موسى [طب] عن جبير بن مطعم وعن ابن عباس وعن أبى مالك الأشعرى. الروض 961، الصحيحة 776.
44 - «ابن السبيل أول شارب يعني من زمزم» .
(صحيح)
… [طص] عن أبى هريرة. الروض 1033.
45 - «ابنا العاص مؤمنان: هشام وعمرو» .
صحيح
… [ابن سعد حم ك طب] عن أبي هريرة. الصحيحة 156.
46 - «أبن القدح عن فيك ثم تنفس» .
(صحيح)
… [سمويه في فوائده هب] عن أبى سعيد. الصحيحة 384: مالك، ت، الحاكم.
47 - «ابناي هذان: الحسن والحسين: سيدا شباب أهل الجنة وأبوهما خير منهما» .
(صحيح)
… [ابن عساكر] عن علي وعن ابن عمر. الصحيحة 796: ك.
48 - 19 - «ابن سمية ما عرض عليه أمران قط إلا اختار الأرشد منهما» .
(صحيح)
… [حم، ك] عن ابن مسعود. الصحيحة 835.
৪২ -
১৬ - «আদম সন্তানের তিনশত ষাটটি জোড়া রয়েছে। প্রতিদিন এগুলোর প্রত্যেকটির পক্ষ থেকে সদকা করা আবশ্যক। সুতরাং কোনো ব্যক্তির বলা উত্তম কথা একটি সদকা, কোনো ব্যক্তির তার ভাইকে কোনো কাজে সাহায্য করা একটি সদকা, কাউকে পানি পান করানো একটি সদকা এবং পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলা একটি সদকা»।
(সহীহ)
সংগৃহীত:
[তবারানি] ইবনে আব্বাস থেকে। ইরওয়া ৪৬১।
৪৩ -
«কোনো কওমের ভাগ্নে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত»।
(সহীহ)
সংগৃহীত:
[আহমদ, বুখারি, মুসলিম, তিরমিজি, নাসায়ি] আনাস থেকে; [আবু দাউদ] আবু মুসা থেকে; [তবারানি] জুবাইর ইবনে মুতয়িম, ইবনে আব্বাস ও আবু মালিক আল-আশআরি থেকে। আর-রওদ ৯৬১, আস-সহীহাহ ৭৭৬।
৪৪ -
«মুসাফির হলো প্রথম পানকারী—অর্থাৎ জমজমের পানি»।
(সহীহ)
সংগৃহীত:
[তবারানি আওসাত] আবু হুরাইরা থেকে। আর-রওদ ১০৩৩।
৪৫ -
«আস-এর দুই পুত্রই মুমিন: হিশাম এবং আমর»।
সহীহ
সংগৃহীত:
[ইবনে সাদ, আহমদ, হাকেম, তবারানি] আবু হুরাইরা থেকে। আস-সহীহাহ ১৫৬।
৪৬ -
«তোমার মুখ থেকে পানপাত্রটি সরিয়ে নাও, তারপর শ্বাস গ্রহণ করো»।
(সহীহ)
সংগৃহীত:
[সামুওয়াইহ তার ফাওয়াইদ গ্রন্থে, বায়হাকি] আবু সাঈদ থেকে। আস-সহীহাহ ৩৮৪: মালিক, তিরমিজি, হাকেম।
৪৭ -
«আমার এই দুই পুত্র: হাসান ও হুসাইন হলো জান্নাতবাসী যুবকদের সরদার, আর তাদের পিতা তাদের চেয়েও শ্রেষ্ঠ»।
(সহিহ)
[ইবনে আসাকির] আলী (রা.) ও ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত। আস-সহিহাহ ৭৯৬: কাফ।
৪৮ -
১৯ - "ইবনে সুমাইয়ার নিকট যখনই দুটি বিষয় পেশ করা হয়েছে, তিনি সর্বদা সে দুটির মধ্যে যেটি অধিকতর সঠিক ও হেদায়েতপূর্ণ, সেটিই গ্রহণ করেছেন।"
(সহিহ)
[আহমাদ ও হাকেম] ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত। আস-সহিহাহ ৮৩৫।
(খণ্ড: ১)
সহীহুল জামিইস সাগীর ওয়া যিয়াদাতুহু
(পৃষ্ঠা: ৭১)
49 - 20 - «أبني! لا ترموا جمرة العقبة حتى تطلع الشمس» .
صحيح
… [حم 4] عن ابن عباس1. المشكاة 2613، الإرواء 1076.
50 - «أبو بكر في الجنة وعمر في الجنة وعثمان في الجنة وعلي في الجنة وطلحة في الجنة والزبير في الجنة وعبد الرحمن بن عوف في الجنة وسعد بن أبي وقاص في الجنة وسعيد بن زيد في الجنة وأبو عبيدة بن الجراح في الجنة» .
(صحيح)
… [حم الضياء] عن سعيد بن زيد [ت] عن عبد الرحمن بن عوف. شرح العقيدة الطحاوية 727.
51 - «أبو بكر وعمر: سيدا كهول أهل الجنة من الأولين والآخرين إلا النبيين والمرسلين» .
(صحيح)
… [حم ت هـ] عن علي [هـ] عن أبي جحيفة [ع الضياء في المختارة] عن أنس [طص] عن جابر وعن أبي سعيد. الصحيحة 820.
52 - 21 - «أبو سفيان بن الحارث خير أهلي» .
(حسن)
… [طب، ك] عن أبي حبة البدري. الصحيحة 820.
53 - 22 - «أتاكم أهل اليمن هم أرق أفئدة وألين قلوبا الإيمان يمان والحكمة يمانية والفخر والخيلاء في أصحاب الإبل والسكينة والوقار في أهل الغنم» .
(صحيح)
… [ق] عن أبي هريرة.
54 - «أتاكم أهل اليمن هم أضعف قلوبا وأرق أفئدة الفقه يمان والحكمة يمانية» .
(صحيح)
… [ق ت] عن أبي هريرة. الروض 1034.
--------------------------------------------
৪৯ -
২০ - «হে আমার পুত্রগণ! সূর্য উদিত হওয়ার পূর্বে তোমরা জামরাতুল আকাবায় পাথর নিক্ষেপ করো না»।
সহীহ
[আহমাদ ৪] ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত। আল-মিশকাত ২৬১৩, আল-ইরওয়া ১০৭৬।
৫০ -
«আবু বকর জান্নাতি, উমর জান্নাতি, উসমান জান্নাতি, আলী জান্নাতি, তালহা জান্নাতি, যুবাইর জান্নাতি, আব্দুর রহমান বিন আউফ জান্নাতি, সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস জান্নাতি, সাঈদ বিন যায়েদ জান্নাতি এবং আবু উবাইদাহ বিন জাররাহ জান্নাতি»।
(সহীহ)
[আহমাদ, দিয়া] সাঈদ বিন যায়েদ থেকে, [তিরমিযী] আব্দুর রহমান বিন আউফ থেকে বর্ণিত। শরহুল আকিদাহ আত-তাহাবিয়্যাহ ৭২৭।
৫১ -
«আবু বকর এবং উমর নবী ও রাসূলগণ ব্যতীত পূর্ববর্তী ও পরবর্তী জান্নাতবাসী প্রৌঢ়দের সর্দার»।
(সহীহ)
[আহমাদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ] আলী থেকে, [ইবনে মাজাহ] আবু জুহাইফা থেকে, [আবু ইয়ালা, দিয়া আল-মুখতারাতে] আনাস থেকে, [তবারানি আস-সাগীর] জাবির ও আবু সাঈদ থেকে বর্ণিত। আস-সহীহাহ ৮২০।
৫২ -
২১ - «আবু সুফিয়ান বিন হারিস আমার পরিবারের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি»।
(হাসান)
[তবারানি আল-কাবীর, হাকিম] আবু হাব্বা আল-বাদরি থেকে বর্ণিত। আস-সহীহাহ ৮২০।
৫৩ -
২২ - «তোমাদের নিকট ইয়ামানিরা এসেছে, তারা অতি কোমল অন্তরের অধিকারী এবং তাদের হৃদয় অত্যন্ত নরম। ইমান হলো ইয়ামানি এবং হিকমত হলো ইয়ামানি। আর অহংকার ও দম্ভ উট পালনকারীদের মধ্যে, এবং প্রশান্তি ও গাম্ভীর্য বকরি পালনকারীদের মধ্যে রয়েছে।» .
(সহিহ)
বুখারি ও মুসলিম
আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত।
৫৪ -
«তোমাদের নিকট ইয়ামানিরা এসেছে, তারা অত্যন্ত নরম হৃদয়ের অধিকারী এবং তাদের অন্তর অতি কোমল। ফিকহ হলো ইয়ামানি এবং হিকমত হলো ইয়ামানি।» .
(সহিহ)
বুখারি ও তিরমিজি
আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত। আর-রওদ ১০৩৪।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহুল জামিইস সাগীর ওয়া যিয়াদাতুহু
(পৃষ্ঠা: ৭২)
55 - 23 - «أتاكم شهر رمضان شهر مبارك فرض الله عليكم صيامه تفتح فيه أبواب الجنة وتغلق فيه أبواب الجحيم وتغل فيه مردة الشياطين وفيه ليلة هي خير من ألف شهر من حرم خيرها فقد حرم»
(صحيح)
… [حم، ن، هب] عن أبي هريرة. المشكاة 1962.
56 - «أتاني آت من عند ربي فخيرني بين أن يدخل نصف أمتي الجنة وبين الشفاعة فاخترت الشفاعة وهي لمن مات لا يشرك بالله شيئا» .
(صحيح)
… [حم] عن أبي موسى [ت1، حب] عن عوف بن مالك الأشجعي. الروض 1019، المشكاة 5600.
57 - «أتاني آت من عند ربي عز وجل فقال: من صلى عليك من أمتك صلاة كتب الله له بها عشر حسنات ومحا عنه عشر سيئات ورفع له عشر درجات ورد عليه مثلها» .
صحيح
… [حم] عن أبي طلحة. الترغيب 2/279: ن.
58 - «أتاني الليلة آت من عند ربي فقال: صل في هذا الوادي المبارك - يعني العقيق - وقل عمرة في حجة» .
(صحيح)
… [حم، خ، د،] عن عمر. الإرواء 1005.
59 - "أتاني الليلة ربي تبارك وتعالى في أحسن صورة فقال: يا محمد هل تدري فيم يختصم الملأ الأعلى؟ قلت لا فوضع يده بين كتفي حتى وجدت بردها بين ثديي فعلمت ما في السموات وما في الأرض فقال: يا محمد هل تدري فيم يختصم الملأ الأعلى؟ قلت: نعم في الكفارات والدرجات والكفارات: المكث في المساجد بعد الصلوات والمشي على الأقدام إلى الجماعات وإسباغ الوضوء في المكاره قال:
--------------------------------------------
৫৫ -
২৩ - «তোমাদের নিকট বরকতময় মাস রমজান এসেছে। আল্লাহ তোমাদের ওপর এর রোজা ফরজ করেছেন। এতে জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং অবাধ্য শয়তানদের শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়। এতে এমন একটি রাত রয়েছে যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। যে ব্যক্তি এর কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হলো, সে প্রকৃতপক্ষেই বঞ্চিত হলো»
(সহিহ)
।
[আহমাদ, নাসায়ি, বায়হাকি - শুআবুল ঈমান] আবু হুরায়রা থেকে। মিশকাত ১৯৬২।
৫৬ -
«আমার রবের পক্ষ থেকে একজন আগন্তুক আমার কাছে আসলেন এবং আমাকে এই এখতিয়ার দিলেন যে, হয় আমার অর্ধেক উম্মত জান্নাতে প্রবেশ করবে অথবা আমি সুপারিশ করার অধিকার লাভ করব। আমি সুপারিশকেই গ্রহণ করেছি। আর এই সুপারিশ তাদের জন্য যারা আল্লাহর সাথে কোনোকিছুকে শরিক না করে মৃত্যুবরণ করেছে»।
(সহিহ)
।
[আহমাদ] আবু মুসা থেকে [তিরমিজি, ইবনে হিব্বান] আউফ বিন মালিক আল-আশজায়ি থেকে। আর-রওদ ১০১৯, মিশকাত ৫৬০০।
৫৭ -
«আমার মহা মহিমান্বিত রবের পক্ষ থেকে একজন আগন্তুক আমার কাছে এসে বললেন: আপনার উম্মতের মধ্যে যে ব্যক্তি আপনার ওপর একবার দরুদ পাঠ করবে, আল্লাহ তার জন্য এর বিনিময়ে দশটি নেকি লিখে দেবেন, তার থেকে দশটি গুনাহ মুছে দেবেন, তার দশটি মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন এবং তার অনুরূপ জবাবও তাকে দেবেন»।
সহিহ
।
[আহমাদ] আবু তালহা থেকে। আত-তারগিব ২/২৭৯: নাসায়ি।
৫৮ -
«আজ রাতে আমার রবের পক্ষ থেকে একজন আগন্তুক আমার কাছে এসে বললেন: এই বরকতময় উপত্যকায়—অর্থাৎ আকিক উপত্যকায়—সালাত আদায় করুন এবং বলুন, হজের সাথে উমরাহ»।
(সহিহ)
।
[আহমাদ, বুখারি, আবু দাউদ] উমর থেকে। আল-ইরওয়া ১০০৫।
৫৯ -
আজ রাতে আমার বরকতময় ও সুমহান প্রতিপালক আমার কাছে সর্বোত্তমরূপে আসলেন এবং বললেন: হে মুহাম্মদ! আপনি কি জানেন উচ্চতর পরিষদের ফেরেশতারা কী বিষয়ে বিতর্ক করছে? আমি বললাম: না। তখন তিনি তাঁর হাত আমার দুই কাঁধের মাঝে রাখলেন, এমনকি আমি আমার বক্ষস্থলে তাঁর শীতলতা অনুভব করলাম। ফলে আসমানসমূহ ও জমিনে যা কিছু আছে তা আমি জেনে নিলাম। এরপর তিনি বললেন: হে মুহাম্মদ! আপনি কি জানেন উচ্চতর পরিষদের ফেরেশতারা কী বিষয়ে বিতর্ক করছে? আমি বললাম: হ্যাঁ, কাফফারা (পাপ মোচনকারী আমল) এবং উচ্চ মর্যাদা সম্পর্কে। আর কাফফারা হলো: নামাজের পর মসজিদে অবস্থান করা, পায়ে হেঁটে জামাতে গমন করা এবং কষ্টকর পরিস্থিতিতেও পূর্ণরূপে অজু করা। তিনি বললেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহুল জামিইস সাগীর ওয়া যিয়াদাতুহু
(পৃষ্ঠা: ৭৩)
صدقت يا محمد! ومن فعل ذلك عاش بخير ومات بخير وكان من خطيئته كيوم ولدته أمه وقال: يا محمد إذا صليت فقل اللهم إني أسألك فعل الخيرات وترك المنكرات وحب المساكين وأن تغفر لي وترحمني وتتوب علي وإذا أردت بعبادك فتنة فاقبضني إليك غير مفتون والدرجات: إفشاء السلام وإطعام الطعام والصلاة بالليل والناس نيام".
(صحيح)
… [عب، حم، وعبد بن حميد، ت] عن ابن عباس. صحيح الترغيب رقم 405 و *451.
60 - «أتاني جبريل بالحمى والطاعون فأمسكت الحمى في المدينة وأرسلت الطاعون إلى الشام فالطاعون شهادة لأمتي ورحمة لهم ورجس على الكافرين» .
(صحيح) . حم، ابن سعد" عن أبي عسيب. الصحيحة 761.
61 - 26 - «أتاني جبريل فأخبرني أن أمتي ستقتل ابني هذا - يعني الحسين - وأتاني بتربة من تربتة حمراء» .
(صحيح)
… [ك] عن أم الفضل بنت الحارث. الصحيحة 821.
62 - «أتاني جبريل فأمرني أن آمر أصحابي ومن معي أن يرفعوا أصواتهم بالتلبية» .
(صحيح)
… [حم، 4، حب، ك، هق] عن السائب بن خلاد. المشكاة 2549.
63 - «أتاني جبريل فبشرني أن الحسن والحسين: سيدا شباب أهل الجنة» .
(صحيح)
… [ابن سعد] عن حذيفة. الصحيحة 796: حم.
--------------------------------------------
হে মুহাম্মদ, আপনি সত্য বলেছেন! আর যে ব্যক্তি তা করবে সে কল্যাণের সাথে জীবন যাপন করবে এবং কল্যাণের সাথে মৃত্যুবরণ করবে আর সে তার গুনাহসমূহ থেকে এমনভাবে পবিত্র হবে যেমন তার মা তাকে জন্ম দিয়েছিল। তিনি আরও বললেন: হে মুহাম্মদ, যখন আপনি সালাত আদায় করবেন তখন বলুন— হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট সৎকাজ করার, অসৎকাজ বর্জন করার এবং মিসকিনদের ভালোবাসার তাওফিক প্রার্থনা করছি। আর প্রার্থনা করছি আপনি যেন আমাকে ক্ষমা করেন, আমার প্রতি দয়া করেন এবং আমার তাওবা কবুল করেন। আর যখন আপনি আপনার বান্দাদের মাঝে কোনো ফিতনা বা বিপর্যয় সৃষ্টির ইচ্ছা করেন, তখন আমাকে ফিতনামুক্ত অবস্থায় আপনার নিকট উঠিয়ে নিন। আর উচ্চ মর্যাদা লাভের মাধ্যমগুলো হলো: সালামের প্রচার করা, খাদ্য দান করা এবং রাতে যখন মানুষ ঘুমিয়ে থাকে তখন সালাত আদায় করা।
(সহীহ) [আবদুর রাজ্জাক, আহমাদ, ইবনে হুমাইদ এবং তিরমিযী] ইবনে আব্বাস হতে বর্ণিত। সহীহুত তারগীব নম্বর ৪০৫ এবং ৪৫১।
৬০ -
«জিবরাঈল আমার নিকট জ্বর এবং প্লেগ নিয়ে আসলেন। আমি জ্বরকে মদিনায় আটকে রাখলাম এবং প্লেগকে শামে পাঠিয়ে দিলাম। সুতরাং প্লেগ আমার উম্মতের জন্য শাহাদাত ও তাদের জন্য রহমত, আর কাফিরদের জন্য তা শাস্তি স্বরূপ»।
(সহীহ)। আহমাদ এবং ইবনে সাদ আবু আসীব থেকে বর্ণনা করেছেন। আস-সহীহাহ ৭৬১।
৬১ -
২৬ - «জিবরাঈল আমার নিকট আসলেন এবং আমাকে সংবাদ দিলেন যে, আমার উম্মত অচিরেই আমার এই সন্তানকে—অর্থাৎ হুসাইনকে—হত্যা করবে। আর তিনি আমার নিকট তার সমাধিস্থলের লাল মাটি থেকে কিছু মাটি নিয়ে আসলেন»।
(সহীহ) [হাকিম] উম্মুল ফাযল বিনতে হারিস থেকে বর্ণনা করেছেন। আস-সহীহাহ ৮২১।
৬২ -
«জিবরাঈল আমার নিকট আসলেন এবং আমাকে নির্দেশ দিলেন যেন আমি আমার সাহাবীদের এবং আমার সাথে যারা আছে তাদের নির্দেশ দিই, তারা যেন তালবিয়া পাঠ করার সময় তাদের কণ্ঠস্বর উচ্চ করে»।
(সহীহ) [আহমাদ, চার সুনান গ্রন্থকার, ইবনে হিব্বান, হাকিম এবং বায়হাকী] সায়িব বিন খাল্লাদ হতে বর্ণিত। আল-মিশকাত ২৫৪৯।
৬৩ -
“জিবরীল আমার নিকট আসলেন এবং আমাকে সুসংবাদ দিলেন যে, হাসান ও হুসাইন জান্নাতবাসীদের যুবকদের সরদার।”
(সহীহ)
[ইবনে সাদ] হুযাইফা হতে বর্ণনা করেছেন। আস-সহীহাহ ৭৯৬: আহমাদ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহুল জামিইস সাগীর ওয়া যিয়াদাতুহু
(পৃষ্ঠা: ৭৪)
64 - «أتاني جبريل فبشرني أنه من مات من أمتك لا يشرك بالله شيئا دخل الجنة فقلت: وإن زنى وإن سرق؟ فقال: وإن زنى وإن سرق» .
(صحيح)
… [ق] عن أبي ذر. الصحيحة 826.
65 - 27 - «أتاني جبريل فقال: إن الله يأمرك أن تقرئ أمتك القرآن على حرف فقلت: أسأل الله معافاته ومغفرته فإن أمتي لا تطيق ذلك ثم أتاني الثانية فقال: إن الله يأمرك أن تقرئ أمتك القرآن على حرفين فقلت: أسأل الله معافاته ومغفرته إن أمتي لا تطيق ذلك ثم جاءني الثالثة فقال: إن الله يأمرك أن تقرئ أمتك القرآن على ثلاثة أحرف فقلت: أسأل الله معافاته ومغفرته وإن أمتي لا تطيق ذلك ثم جاءني الرابعة فقال: إن الله عز وجل يأمرك أن تقرئ أمتك القرآن على سبعة أحرف فأيما حرف قرءوا عليه فقد أصابوا» .
(صحيح)
… [م، د، ن] عن أبي بن كعب.
66 - «أتاني جبريل فقال: بشر أمتك أنه من مات لا يشرك بالله شيئا دخل الجنة قلت: يا جبريل وإن سرق وإن زنى؟ قال: نعم قلت: وإن سرق وإن زنى؟ قال: نعم قلت: وإن سرق وإن زنى؟ قال: نعم وإن شرب الخمر» .
(صحيح)
… [حم، ت، ن، حب] عن أبي ذر. الصحيحة 826.
67 - «أتاني جبريل فقال لي: إن الله يأمرك أن تأمر أصحابك أن يرفعوا أصواتهم بالتلبية فإنها من شعائر الحج» .
(صحيح)
… [حم، هـ، حب، ك] عن زيد بن خالد. الصحيحة 830.
68 - 28 - "أتاني جبريل فقال: إني كنت أتيتك البارحة فلم يمنعني أن أكون دخلت عليك البيت الذي كنت فيه إلا أنه كان على الباب
৬৪ -
«আমার নিকট জিবরীল আসলেন এবং আমাকে সুসংবাদ দিলেন যে, আপনার উম্মতের মধ্যে যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোনো কিছুকে শরীক না করে মৃত্যুবরণ করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আমি বললাম: যদিও সে ব্যভিচার করে এবং যদিও সে চুরি করে? তিনি বললেন: যদিও সে ব্যভিচার করে এবং যদিও সে চুরি করে»।
(সহীহ) [বুখারী ও মুসলিম] আবু যার থেকে বর্ণিত। আস-সাহীহাহ ৮২৬।
৬৫ -
২৭ - «আমার নিকট জিবরীল আসলেন এবং বললেন: আল্লাহ আপনাকে নির্দেশ দিচ্ছেন যেন আপনি আপনার উম্মতকে এক হরফে কুরআন পড়ান। আমি বললাম: আমি আল্লাহর নিকট তাঁর ক্ষমা ও মার্জনা প্রার্থনা করছি, কেননা আমার উম্মত তাতে সক্ষম হবে না। অতপর তিনি দ্বিতীয়বার আমার নিকট আসলেন এবং বললেন: আল্লাহ আপনাকে নির্দেশ দিচ্ছেন যেন আপনি আপনার উম্মতকে দুই হরফে কুরআন পড়ান। আমি বললাম: আমি আল্লাহর নিকট তাঁর ক্ষমা ও মার্জনা প্রার্থনা করছি, নিশ্চয়ই আমার উম্মত তাতে সক্ষম হবে না। অতপর তিনি তৃতীয়বার আসলেন এবং বললেন: আল্লাহ আপনাকে নির্দেশ দিচ্ছেন যেন আপনি আপনার উম্মতকে তিন হরফে কুরআন পড়ান। আমি বললাম: আমি আল্লাহর নিকট তাঁর ক্ষমা ও মার্জনা প্রার্থনা করছি, আর নিশ্চয়ই আমার উম্মত তাতে সক্ষম হবে না। এরপর তিনি চতুর্থবার আসলেন এবং বললেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা আপনাকে নির্দেশ দিচ্ছেন যেন আপনি আপনার উম্মতকে সাত হরফে কুরআন পড়ান; সুতরাং তারা এর যে হরফেই পাঠ করুক না কেন, তারা সঠিক পাঠ করবে»।
(সহীহ) [মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ] উবাই বিন কাব থেকে বর্ণিত।
৬৬ -
«আমার নিকট জিবরীল আসলেন এবং বললেন: আপনার উম্মতকে সুসংবাদ দিন যে, যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোনো কিছু শরীক না করে মৃত্যুবরণ করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আমি বললাম: হে জিবরীল! যদিও সে চুরি করে এবং যদিও সে ব্যভিচার করে? তিনি বললেন: হ্যাঁ। আমি বললাম: যদিও সে চুরি করে এবং যদিও সে ব্যভিচার করে? তিনি বললেন: হ্যাঁ। আমি বললাম: যদিও সে চুরি করে এবং যদিও সে ব্যভিচার করে? তিনি বললেন: হ্যাঁ, এমনকি সে যদি মদ পান করে তবুও»।
(সহীহ) [আহমাদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে হিব্বান] আবু যার থেকে বর্ণিত। আস-সাহীহাহ ৮২৬।
৬৭ -
"জিবরীল আমার কাছে এসে আমাকে বললেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ আপনাকে নির্দেশ দিচ্ছেন যেন আপনি আপনার সাথীদের তালবিয়া পাঠের সময় তাদের কণ্ঠস্বর উচ্চ করার আদেশ প্রদান করেন, কেননা তা হজের নিদর্শন সমূহের অন্তর্ভুক্ত।"
(সহিহ)
[আহমাদ, ইবনে মাজাহ, ইবনে হিব্বান, হাকিম] যা যায়েদ ইবনে খালিদ থেকে বর্ণিত। আস-সহিহাহ ৮৩০।
৬৮ -
২৮ - "জিবরীল আমার নিকট আসলেন এবং বললেন: নিশ্চয়ই আমি গত রাতে আপনার নিকট এসেছিলাম, কিন্তু আপনি যে ঘরে ছিলেন সেখানে প্রবেশ করতে আমাকে কেবল এটিই বাধা দিয়েছিল যে, দরজার ওপর ছিল..."
(খণ্ড: ১)
সহীহুল জামিইস সাগীর ওয়া যিয়াদাতুহু
(পৃষ্ঠা: ৭৫)
تماثيل وكان في البيت قرام ستر فيه تماثيل وكان في البيت كلب فمر برأس التمثال الذي في البيت فليقطع فيصير كهيئة الشجرة ومر بالستر فليقطع فيجعل وسادتين منبذتين توطئان ومر بالكلب فليخرج".
(صحيح)
… [حم، د، ت، هق] عن أبي هريرة. آداب الزفاف 76، 98*.
69 - 29 - «أتاني جبريل فقال: يا رسول الله هذه خديجة قد أتتك معها إناء فيه إدام أو طعام أو شراب فإذا هي قد أتتك فاقرأ عليها السلام من ربها ومني وبشرها ببيت في الجنة من قصب لا صخب فيها ولا نصب» .
(صحيح)
… [م] عن أبي هريرة.
70 - 30 - «أتاني جبريل، فقال: يا محمد! اشتكيت؟ قلت: نعم، قال: بسم الله أرقيك، من كل شيء يؤذيك، من شر كل نفس، وعين حاسد، بسم الله أرقيك، والله يشفيك» .
(صحيح) . حم، م، ت، هـ، أبي سعيد [حم، هـ، حب، ك] عن عبادة بن الصامت.
71 - 31 - «أتاني جبريل فقال: يا محمد! أما يرضيك أن ربك عز وجل يقول: إنه لا يصلي عليك من أمتك أحد صلاة إلا صليت عليه بها عشر ولا يسلم عليك أحد من أمتك تسليمة إلا سلمت عليه عشرا فقلت: بلى أي رب!» .
(صحيح)
… [حم ن حب ك الضياء] عن أبي طلحة.
72 - 32 - «أتاني جبريل فقال: يا محمد! إن الله عز وجل لعن الخمر وعاصرها ومعتصرها وشاربها وحاملها والمحمولة إليه وبائعها ومبتاعها وساقيها ومسقيها» .
(صحيح)
… [طب، ك، هب، الضياء] عن ابن عباس. الصحيحة 839: حم.
--------------------------------------------
প্রতিমূর্তি। আর ঘরের মধ্যে নকশা করা পর্দা ছিল যাতে প্রতিমূর্তি ছিল এবং ঘরে একটি কুকুর ছিল। অতএব আপনি প্রতিমূর্তির মাথাটি কেটে ফেলার নির্দেশ দিন, যাতে তা একটি গাছের আকৃতির মতো হয়ে যায়। আর পর্দাটি ছিঁড়ে ফেলে দুটি বালিশ তৈরি করতে বলুন যা পদদলিত হবে এবং কুকুরটিকে বের করে দিতে বলুন।
(সহীহ)
[আহমাদ, আবু দাউদ, তিরমিযী, বায়হাকী] আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত। আদাবুয যিফাফ ৭৬, ৯৮।
৬৯ -
২৯ - ‘জিবরীল আমার নিকট এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! এই যে খাদিজা আপনার নিকট আসছেন, তাঁর সাথে একটি পাত্র রয়েছে যাতে তরকারি অথবা খাবার অথবা পানীয় আছে। যখন তিনি আপনার কাছে পৌঁছাবেন, তখন তাঁকে তাঁর রবের পক্ষ থেকে এবং আমার পক্ষ থেকে সালাম জানাবেন। আর তাঁকে জান্নাতে মণি-মুক্তার তৈরি একটি প্রাসাদের সুসংবাদ দিন, যেখানে কোনো শোরগোল নেই এবং কোনো কষ্টও নেই।’
(সহীহ)
[মুসলিম] আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত।
৭০ -
৩০ - ‘জিবরীল আমার নিকট এসে বললেন: হে মুহাম্মদ! আপনি কি অসুস্থ বোধ করছেন? আমি বললাম: হ্যাঁ। তিনি বললেন: আল্লাহর নামে আমি আপনাকে ঝাড়ফুঁক করছি এমন প্রতিটি বিষয় থেকে যা আপনাকে কষ্ট দেয়, প্রতিটি প্রাণের অনিষ্ট থেকে এবং হিংসুকের বদনজর থেকে; আল্লাহর নামে আমি আপনাকে ঝাড়ফুঁক করছি, আল্লাহ আপনাকে আরোগ্য দান করবেন।’
(সহীহ)। আহমাদ, মুসলিম, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, আবু সাঈদ [আহমাদ, ইবনে মাজাহ, ইবনে হিব্বান, হাকেম] উবাদাহ বিন সামিত থেকে বর্ণিত।
৭১ -
৩১ - ‘জিবরীল আমার নিকট এসে বললেন: হে মুহাম্মদ! আপনার রব আজ্জা ওয়া জাল্লা যা বলেন তাতে কি আপনি সন্তুষ্ট নন? তিনি বলেন: আপনার উম্মতের কেউ যখন আপনার ওপর একবার দরূদ পাঠ করবে, আমি তার বিনিময়ে তার ওপর দশবার রহমত বর্ষণ করব; আর আপনার উম্মতের কেউ যখন আপনাকে একবার সালাম দেবে, আমি তার ওপর দশবার শান্তি বর্ষণ করব। তখন আমি বললাম: অবশ্যই হে আমার রব!’
(সহীহ)
[আহমাদ, নাসাঈ, ইবনে হিব্বান, হাকেম, যিয়া আল-মাকদিসী] আবু তালহা থেকে বর্ণিত।
৭২ -
৩২ - «জিবরীল আমার নিকট এসে বললেন: হে মুহাম্মদ! নিশ্চয়ই আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা মদকে লানত (অভিসম্পাত) করেছেন এবং অভিশাপ দিয়েছেন যে তা নিংড়ায়, যার জন্য নিংড়ানো হয়, যে তা পান করে, যে তা বহন করে, যার নিকট তা বহন করে নিয়ে যাওয়া হয়, যে তা বিক্রি করে, যে তা ক্রয় করে, যে তা পরিবেশন করে এবং যাকে পরিবেশন করা হয়।»।
(সহীহ)
[তাবারানি, হাকেম, বায়হাকি, আদ-দিয়া] ইবনে আব্বাস হতে বর্ণিত। আস-সহীহাহ ৮৩৯: আহমাদ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহুল জামিইস সাগীর ওয়া যিয়াদাতুহু
(পৃষ্ঠা: ৭৬)
73 - «أتاني جبريل فقال: يا محمد! عش ما شئت فإنك ميت وأحبب من شئت فإنك مفارقه واعمل ما شئت فإنك مجزي به واعلم أن شرف المؤمن قيامه بالليل وعزه استغناؤه عن الناس» .
(حسن)
… [الشيرازي في الألقاب، ك، هب] عن سهل بن سعد [هب] عن جابر، [حل] عن علي. الصحيحة831.
74 - 33 - «أتاني جبريل فقال: يا محمد! قل قلت: وما أقول؟ قال: قل أعوذ بكلمات الله التامات التي لا يجاوزهن بر ولا فاجر من شر ما خلق وذرأ وبرأ ومن شر ما ينزل من السماء ومن شر ما يعرج فيها ومن شر ما ذرأ في الأرض وبرأ ومن شر ما يخرج منها ومن شر فتن الليل والنهار ومن شر كل طارق يطرق إلا طارقا يطرق بخير يا رحمن» .
(صحيح)
… [حم، طب] عن عبد الرحمن بن خنبش1. الصحيحة 840.
75 - 34 - «أتاني جبريل فقال: يا محمد! من أدرك أحد والديه فمات فدخل النار فأبعده الله قل: آمين فقلت: آمين قال: يا محمد من أدرك شهر رمضان فمات فلم يغفر له فأدخل النار فأبعده الله قل: آمين فقلت: آمين قال: ومن ذكرت عنده فلم يصل عليك فمات فدخل النار فأبعده الله قل: آمين فقلت: آمين» .
(صحيح)
… [طب] عن جابر بن سمرة. تخريج الترغيب 3/216: حب.
76 - "أتاني جبريل في أول ما أوحي إلي فعلمني الوضوء
--------------------------------------------
৭৩ -
«জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) আমার নিকট আসলেন এবং বললেন: হে মুহাম্মদ! আপনি যতদিন ইচ্ছা বেঁচে থাকুন, নিশ্চয়ই আপনি মৃত্যুবরণ করবেন। যাকে ইচ্ছা ভালোবাসুন, নিশ্চয়ই আপনি তার থেকে বিচ্ছিন্ন হবেন। আর যা ইচ্ছা আমল করুন, নিশ্চয়ই আপনি তার প্রতিদান পাবেন। জেনে রাখুন যে, মুমিনের মর্যাদা হলো রাতে সালাত আদায় করার মধ্যে এবং তার সম্মান হলো মানুষের নিকট থেকে অমুখাপেক্ষী থাকার মধ্যে।’
(হাসান)
।
[আশ-শিরাজী ‘আল-আলকাব’ গ্রন্থে, হাকেম, বায়হাকী ‘শুআবুল ঈমান’ গ্রন্থে] সাহল ইবনে সা'দ থেকে। [বায়হাকী] জাবির থেকে। [আবু নুআইম ‘হিলইয়াতুল আউলিয়া’ গ্রন্থে] আলী থেকে। আস-সহীহাহ ৮৩১।
৭৪ -
৩৩ - «জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) আমার নিকট আসলেন এবং বললেন: হে মুহাম্মদ! বলুন। আমি বললাম: আমি কী বলব? তিনি বললেন: বলুন, ‘আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি আল্লাহর সেই সকল পরিপূর্ণ কালেমাসমূহের মাধ্যমে যা কোনো নেককার বা পাপাচারী ব্যক্তি অতিক্রম করতে পারে না—তিনি যা সৃষ্টি করেছেন, অংকুরিত করেছেন এবং অস্তিত্ব দান করেছেন তার অনিষ্ট হতে; আকাশ থেকে যা অবতীর্ণ হয় তার অনিষ্ট হতে এবং যা আকাশে আরোহণ করে তার অনিষ্ট হতে; জমিনে যা তিনি অংকুরিত করেছেন এবং অস্তিত্ব দান করেছেন তার অনিষ্ট হতে এবং যা জমিন থেকে নির্গত হয় তার অনিষ্ট হতে; রাত ও দিনের ফিতনাসমূহের অনিষ্ট হতে এবং রাতে আগমনকারী প্রত্যেকের অনিষ্ট হতে—তবে কল্যাণ নিয়ে আগমনকারী ব্যতীত, হে পরম দয়াময় (রাহমান)!’»
(সহীহ)
।
[আহমাদ, তাবারানী] আবদুর রহমান ইবনে খানবাশ থেকে। আস-সহীহাহ ৮৪০।
৭৫ -
৩৪ - «জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) আমার নিকট আসলেন এবং বললেন: হে মুহাম্মদ! যে ব্যক্তি তার পিতা-মাতার কোনো একজনকে পেল, অতঃপর সে মারা গেল এবং জাহান্নামে প্রবেশ করল, আল্লাহ তাকে তাঁর রহমত থেকে দূর করে দিন। আপনি বলুন: আমীন। তখন আমি বললাম: আমীন। তিনি বললেন: হে মুহাম্মদ! যে ব্যক্তি রমজান মাস পেল, অতঃপর সে মারা গেল কিন্তু তাকে ক্ষমা করা হলো না এবং সে জাহান্নামে প্রবেশ করল, আল্লাহ তাকে তাঁর রহমত থেকে দূর করে দিন। আপনি বলুন: আমীন। তখন আমি বললাম: আমীন। তিনি বললেন: আর যার নিকট আপনার আলোচনা করা হলো অথচ সে আপনার প্রতি দরূদ পাঠ করল না, অতঃপর সে মারা গেল এবং জাহান্নামে প্রবেশ করল, আল্লাহ তাকে তাঁর রহমত থেকে দূর করে দিন। আপনি বলুন: আমীন। তখন আমি বললাম: আমীন।’»
(সহীহ)
।
[তাবারানী] জাবির ইবনে সামুরা থেকে। তাখরীজুত তারগীব ৩/২১৬: ইবনে হিব্বান।
৭৬ -
"আমার প্রতি ওহী নাযিলের প্রারম্ভে জিবরীল আমার নিকট আসলেন এবং আমাকে ওযু শিক্ষা দিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহুল জামিইস সাগীর ওয়া যিয়াদাতুহু
(পৃষ্ঠা: ৭৭)
والصلاة فلما فرغ [من] 1 الوضوء أخذ غرفة من الماء فنضح بها فرجه".
(صحيح)
… [حم، قط، ك] عن أسامة عن أبيه زيد بن حارثة. الصحيحة 841: هـ، وهق.
77 - 35 - «أتاني جبريل من عند الله تبارك وتعالى فقال: يا محمد! إن الله عز وجل يقول: إني قد فرضت على أمتك خمس صلوات فمن وافى بهن على وضوئهن ومواقيتهن وركوعهن وسجودهن كان له عندي بهن عهد أن ادخله بهن الجنة ومن لقيني قد انتقص من ذلك شيئا فليس له عندي عهد إن شئت عذبته وإن شئت رحمته» .
(صحيح)
… [الطيالسي محمد بن نصر في كتاب الصلاة طب الضياء في المختارة] عن عبادة بن الصامت. الصحيحة 842.
78 - 36 - «أتاني جبريل وميكائيل فقعد جبريل عن يميني وميكائيل عن يساري فقال جبريل: يا محمد اقرأ القرآن على حرف فقال ميكائيل: استزده فقلت: زدني فقال: اقرأه على ثلاثة أحرف فقال ميكائيل: استزده فقلت: زدني كذلك حتى بلغ سبعة أحرف فقال: اقرأه على سبعة أحرف كلها شاف كاف» .
(صحيح)
… [حم، عبد بن حميد، ن] عن أبي بن كعب [حم، طب] عن أبي بكرة [ابن الضريس] عن عبادة بن الصامت. الصحيحة 843.
79 - «أتاني ملك فسلم علي نزل من السماء لم ينزل قبلها فبشرني أن الحسن والحسين: سيدا شباب أهل الجنة وأن فاطمة سيدة نساء أهل الجنة» .
(صحيح)
… [ابن عساكر] عن حذيفة. الصحيحة 843.حم
--------------------------------------------
এবং সালাত; অতঃপর যখন তিনি ওযু সম্পন্ন করলেন, তখন এক আঁজলা পানি নিলেন এবং তা দিয়ে স্বীয় লজ্জাস্থানে ছিটিয়ে দিলেন।
(সহীহ)
[আহমাদ, দারা কুতনী, হাকেম] উসামা হতে, তিনি তাঁর পিতা যায়দ ইবনে হারিসা হতে বর্ণনা করেছেন। আস-সহীহা ৮৪১: হাকেম, বায়হাকী।
৭৭ -
৩৫ - «আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার পক্ষ থেকে জিবরাঈল আমার নিকট আসলেন এবং বললেন: হে মুহাম্মদ! নিশ্চয়ই আল্লাহ আযযা ওয়া জাল বলেন: আমি আপনার উম্মতের ওপর পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরয করেছি। সুতরাং যে ব্যক্তি সেগুলোর ওযু, সঠিক সময়, রুকু এবং সাজদাহ যথাযথভাবে পালন করে উপস্থিত হবে, তার জন্য আমার নিকট এই অঙ্গীকার রয়েছে যে আমি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাব। আর যে ব্যক্তি আমার সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করবে যে সে এর থেকে কোনো কিছুতে ত্রুটি করেছে, তার জন্য আমার নিকট কোনো অঙ্গীকার নেই; আমি চাইলে তাকে শাস্তি দেব এবং চাইলে তাকে দয়া করব।»
(সহীহ)
[তায়ালিসি, মুহাম্মদ ইবনে নাসর ‘কিতাবুস সালাত’-এ, তাবারানি, যিয়া আল-মাকদিসি ‘আল-মুখতারা’-তে] উবাদাহ ইবনে সামিত হতে বর্ণিত। আস-সহীহা ৮৪২।
৭৮ -
৩৬ - «আমার নিকট জিবরাঈল ও মিকাঈল আসলেন। জিবরাঈল আমার ডান পাশে এবং মিকাঈল আমার বাম পাশে বসলেন। জিবরাঈল বললেন: হে মুহাম্মদ! কুরআন এক হরফে (রীতিতে) পাঠ করুন। তখন মিকাঈল বললেন: আরও বৃদ্ধির আবেদন করুন। আমি বললাম: আমার জন্য বৃদ্ধি করুন। তিনি বললেন: তবে তিন হরফে পাঠ করুন। মিকাঈল বললেন: আরও বৃদ্ধির আবেদন করুন। আমি বললাম: আমার জন্য বৃদ্ধি করুন। এভাবে সাত হরফ পর্যন্ত পৌঁছাল। অতঃপর তিনি বললেন: এটি সাত হরফে পাঠ করুন, যার প্রতিটিই পর্যাপ্ত ও আরোগ্যদানকারী।»
(সহীহ)
[আহমাদ, আবদ ইবনে হুমাইদ, নাসাঈ] উবাই ইবনে কাব হতে, [আহমাদ, তাবারানি] আবু বাকরা হতে, [ইবনুদ দারিস] উবাদাহ ইবনে সামিত হতে বর্ণিত। আস-সহীহা ৮৪৩।
৭৯ -
«আমার কাছে একজন ফেরেশতা আসলেন এবং আমাকে সালাম দিলেন; তিনি আসমান থেকে অবতরণ করেছেন যিনি এর আগে কখনো অবতরণ করেননি। অতঃপর তিনি আমাকে সুসংবাদ দিলেন যে, হাসান এবং হুসাইন জান্নাতবাসী যুবকদের সর্দার এবং ফাতেমা জান্নাতবাসী নারীদের নেত্রী।»
(সহীহ)
[ইবনে আসাকির] হুজায়ফা থেকে বর্ণিত। আস-সহীহাহ ৮৪৩। আহমাদ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহুল জামিইস সাগীর ওয়া যিয়াদাতুহু
(পৃষ্ঠা: ৭৮)
80 - «أتحب أن يلين قلبك وتدرك حاجتك؟ ارحم اليتيم وامسح رأسه وأطعمه من طعامك يلن قلبك وتدرك حاجتك» .
(صحيح)
… [طب] عن أبي الدرداء. الصحيحة 854.
81 - 37 - «أتحبون أيها الناس أن تجتهدوا في الدعاء؟ قولوا: اللهم أعنا على شكرك وذكرك وحسن عبادتك» .
(صحيح)
… [ك، حل] عن أبي هريرة. الصحيحة 844.
82 - «اتخذوا الغنم فإنها بركة» .
(صحيح)
… [طب، خط] عن أم هانئ ورواه [هـ] بلفظ: [اتخذي غنما فإنها بركة] . الأحاديث الصحيحة 773.
83 - 38 - «اتخذي غنما فإنها تروح بخير وتغدوا بخير» .
حسن
… [حم] عن أم هانئ. الصحيحة 773.
84 - 39 - «أتدرون أين تذهب هذه الشمس؟ إن هذه تجري حتى تنتهي إلى مستقرها تحت العرش فتخر ساجدة فلا تزال كذلك حتى يقال لها: ارتفعي ارجعي من حيث جئت فترجع فتصبح طالعة من مطلعها ثم تجري حتى تنتهي إلى مستقرها تحت العرش فتخر ساجدة فلا تزال كذلك حتى يقال لها: ارتفعي ارجعي من حيث جئت فترجع فتصبح طالعة من مطلعها ثم تجري لا يستنكر الناس منها شيئا حتى تنتهي إلى مستقرها ذاك تحت العرش فيقال لها: ارتفعي أصبحي طالعة من مغربك فتصبح طالعة من مغربها أتدرون متى ذاكم؟ حين {لَا يَنْفَعُ نَفْساً إِيمَانُهَا لَمْ تَكُنْ آمَنَتْ مِنْ قَبْلُ أَوْ كَسَبَتْ فِي إِيمَانِهَا خَيْراً} 1» .
(صحيح)
… [م] عن أبي ذر. مختصر مسلم 2138.
--------------------------------------------
৮০ -
«তুমি কি চাও যে তোমার অন্তর কোমল হোক এবং তোমার প্রয়োজন পূরণ হোক? এতিমের প্রতি দয়া করো, তার মাথায় হাত বুলিয়ে দাও এবং তাকে তোমার খাদ্য থেকে আহার করাও; তবেই তোমার অন্তর কোমল হবে এবং তোমার প্রয়োজন পূর্ণ হবে।’
(সহীহ)
[তাবারানি] আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত। আস-সহীহাহ ৮৫৪।
৮১ -
৩৭ - «হে লোকসকল! তোমরা কি চাও যে তোমরা দোয়ার ক্ষেত্রে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা ব্যয় করো? তোমরা বলো: হে আল্লাহ! আপনার শুকরিয়া আদায় করতে, আপনাকে স্মরণ করতে এবং আপনার উত্তম ইবাদত করতে আমাদের সাহায্য করুন।’
(সহীহ)
[হাকিম, আবু নুআইম ‘হিলইয়াতুল আউলিয়া’] আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। আস-সহীহাহ ৮৪৪।
৮২ -
«তোমরা বকরি পালন করো, কেননা এতে বরকত রয়েছে।’
(সহীহ)
[তাবারানি, খতিব বাগদাদি] উম্মেহানি (রা.) থেকে বর্ণিত। এবং ইবনে মাজাহ এটি বর্ণনা করেছেন এই শব্দে: [তুমি বকরি পালন করো, কেননা এতে বরকত রয়েছে]। আল-আহাদিস আস-সহীহাহ ৭৭৩।
৮৩ -
৩৮ - «তুমি বকরি পালন করো, কেননা তা কল্যাণের সাথে সন্ধ্যায় ফিরে আসে এবং কল্যাণের সাথে সকালে বের হয়।’
হাসান
[আহমাদ] উম্মেহানি (রা.) থেকে বর্ণিত। আস-সহীহাহ ৭৭৩।
৮৪ -
৩৯ - «তোমরা কি জানো এই সূর্য কোথায় যায়? নিশ্চয়ই এটি চলতে থাকে যতক্ষণ না আরশের নিচে তার নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছায়, তখন সে সেজদাবনত হয়ে লুটিয়ে পড়ে। সে এভাবেই থাকে যতক্ষণ না তাকে বলা হয়: ‘ওঠো, যেখান থেকে এসেছ সেখানেই ফিরে যাও’। তখন সে ফিরে আসে এবং তার উদয়স্থল থেকে উদিত হয়। তারপর সে চলতে থাকে যতক্ষণ না আরশের নিচে তার নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছায়, তখন সে সেজদাবনত হয়ে লুটিয়ে পড়ে। সে এভাবেই থাকে যতক্ষণ না তাকে বলা হয়: ‘ওঠো, যেখান থেকে এসেছ সেখানেই ফিরে যাও’। তখন সে ফিরে আসে এবং তার উদয়স্থল থেকে উদিত হয়। তারপর সে আবার চলতে থাকে এবং মানুষ তার মধ্যে ভিন্ন কিছু দেখে না, অবশেষে যখন সে আরশের নিচে তার সেই নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছায়, তখন তাকে বলা হয়: ‘ওঠো, তোমার অস্তাচল (পশ্চিম দিক) থেকে উদিত হও’। তখন সে পশ্চিম দিক থেকেই উদিত হবে। তোমরা কি জানো এটা কখন হবে? সেই সময়ে যখন {কোনো ব্যক্তির ঈমান তার উপকারে আসবে না যে ইতিপূর্বে ঈমান আনেনি অথবা যে ব্যক্তি তার ঈমানের মাধ্যমে কোনো কল্যাণ অর্জন করেনি} ১।»
(সহীহ)
হাদিসটি বর্ণিত হয়েছে
আবু যার থেকে। [মুসলিম]। মুখতাসার মুসলিম ২১৩৮।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহুল জামিইস সাগীর ওয়া যিয়াদাতুহু
(পৃষ্ঠা: ৭৯)
85 - «أتدرون ما العضه؟ نقل الحديث من بعض الناس إلى بعض ليفسدوا بينهم» .
(صحيح)
… [خد، هق] عن أنس. الصحيحة 845.
86 - «أتدرون ما الغيبة؟ ذكرك أخاك بما يكره إن كان فيه ما تقول فقد اغتبته وإن لم يكن فيه فقد بهته» .
(صحيح)
… [حم، م، د، ت] عن أبي هريرة. نقد الكتاني 36م مختصر مسلم 1806.
87 -[40] 1 -[أتدرون ما المفلس؟ إن المفلس من أمتي من يأتي يوم القيامة بصلاة وصيام وزكاة ويأتي قد شتم هذا وقذف هذا وأكل مال هذا وسفك دم هذا وضرب هذا فيعطى هذا من حسناته وهذا من حسناته فإن فنيت حسناته قبل أن يقضى ما عليه أخذ من خطاياهم فطرحت عليه ثم طرح في النار] .
(صحيح)
… [حم، ت] عن أبي هريرة. الصحيحة 847، ومختصر مسلم 1836.
88 - 41 - "أتدرون ما هذان الكتابان؟ فقال للذي في يده اليمنى: هذا كتاب من رب العالمين فيه أسماء أهل الجنة وأسماء آبائهم وقبائلهم ثم أجمل على آخرهم2 فلا يزاد فيهم ولا ينقص منهم أبدا ثم قال للذي في شماله3: هذا كتاب من رب العالمين فيه أسماء أهل النار وأسماء آبائهم وقبائلهم ثم أجمل على آخرهم فلا يزاد فيهم ولا ينقص منهم أبدا سددوا وقاربوا فإن صاحب الجنة يختم له بعمل أهل الجنة وإن عمل أي عمل وإن صاحب النار يختم له بعمل أهل النار وإن عمل أي عمل فرغ ربكم من العباد {فَرِيقٌ فِي الْجَنَّةِ وَفَرِيقٌ
--------------------------------------------
৮৫ -
«তোমরা কি জানো ‘আল-আযহ’ কী? তা হলো মানুষের মাঝে বিবাদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে একজনের কথা অন্যজনের কাছে পৌঁছে দেওয়া (চোগলখুরি করা)।’
(সহিহ)
গ্রন্থসূত্র:
[বুখারি (আল-আদাবুল মুফরাদ), বায়হাক্বি] আনাস থেকে বর্ণিত। আস-সহিহাহ ৮৪৫।
৮৬ -
«তোমরা কি জানো গিবত (পরনিন্দা) কী? তোমার ভাই সম্পর্কে তোমার এমন কিছু আলোচনা করা যা সে অপছন্দ করে। যদি তার মধ্যে সেই দোষ বিদ্যমান থাকে যা তুমি বলছো, তবে তুমি তার গিবত করলে; আর যদি তার মধ্যে তা না থাকে, তবে তুমি তার ওপর অপবাদ আরোপ করলে।’
(সহিহ)
গ্রন্থসূত্র:
[আহমাদ, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিজি] আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত। নাক্বদুল কাত্তানি ৩৬ম, মুখতাসার মুসলিম ১৮০৬।
৮৭ -
[৪০] ১ -[তোমরা কি জানো নিঃস্ব কে? প্রকৃতপক্ষে আমার উম্মতের মধ্যে সেই ব্যক্তিই নিঃস্ব, যে কিয়ামতের দিন সালাত, সিয়াম ও জাকাত নিয়ে উপস্থিত হবে; অথচ সে কাউকে গালি দিয়েছে, কারও ওপর অপবাদ দিয়েছে, কারও সম্পদ আত্মসাৎ করেছে, কারও রক্তপাত করেছে এবং কাউকে প্রহার করেছে। ফলে তার নেকিগুলো থেকে এদের (পাওনাদারদের) দিয়ে দেওয়া হবে। যদি তার ওপর পাওনা পরিশোধের পূর্বেই তার নেকি শেষ হয়ে যায়, তবে তাদের গুনাহসমূহ নিয়ে তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে এবং এরপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।]
(সহিহ)
গ্রন্থসূত্র:
[আহমাদ, তিরমিজি] আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত। আস-সহিহাহ ৮৪৭, এবং মুখতাসার মুসলিম ১৮৩৬।
৮৮ -
৪১ - "তোমরা কি জানো এই কিতাব দুটি কী? এরপর তিনি তাঁর ডান হাতে থাকা কিতাবটি সম্পর্কে বললেন: এটি বিশ্বজগতের রবের পক্ষ থেকে একটি কিতাব, এতে জান্নাতবাসীদের নাম এবং তাদের পিতাদের ও গোত্রগুলোর নাম রয়েছে। এরপর তাদের সর্বশেষ ব্যক্তি পর্যন্ত পূর্ণ করা হয়েছে; সুতরাং তাদের মধ্যে কখনও কোনো সংখ্যা বাড়ানো হবে না এবং কমানোও হবে না। এরপর তিনি তাঁর বাম হাতে থাকা কিতাবটি সম্পর্কে বললেন: এটি বিশ্বজগতের রবের পক্ষ থেকে একটি কিতাব, এতে জাহান্নামবাসীদের নাম এবং তাদের পিতাদের ও গোত্রগুলোর নাম রয়েছে। এরপর তাদের সর্বশেষ ব্যক্তি পর্যন্ত পূর্ণ করা হয়েছে; সুতরাং তাদের মধ্যে কখনও কোনো সংখ্যা বাড়ানো হবে না এবং কমানোও হবে না। তোমরা সঠিক পথে অবিচল থাকো এবং রবের নৈকট্য লাভের চেষ্টা করো; কেননা জান্নাতবাসীর শেষ পরিণাম জান্নাতবাসীদের আমলের মাধ্যমেই নির্ধারিত হয়, যদিও সে যা-ই আমল করুক না কেন। আর জাহান্নামবাসীর শেষ পরিণাম জাহান্নামবাসীদের আমলের মাধ্যমেই নির্ধারিত হয়, যদিও সে যা-ই আমল করুক না কেন। তোমাদের রব বান্দাদের ফয়সালা সম্পন্ন করেছেন। {একদল জান্নাতে এবং একদল (জাহান্নামে)...}"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহুল জামিইস সাগীর ওয়া যিয়াদাতুহু
(পৃষ্ঠা: ৮০)
فِي السَّعِيرِ} 1".
(صحيح)
… [حم، ت2، ن] عن ابن عمرو. الصحيحة 848.
89 - 42 - «أترضون أن تكونوا ربع أهل الجنة؟ أترضون أن تكونوا ثلث أهل الجنة؟ أترضون أن تكونوا شطر أهل الجنة؟ إن الجنة لا يدخلها إلا نفس مسلمة وما أنتم في الشرك إلا كالشعرة البيضاء في جلد الثور الأسود أو كالشعرة السوداء في جلد الثور الأحمر» .
(صحيح)
… [حم، ت، هـ] عن ابن مسعود. الصحيحة 849: ق، ورياض الصالحين 436.
90 - «اتركوا الحبشة ما تركوكم فإنه لا يستخرج كنز الكعبة إلا ذو السويقتين من الحبشة» .
(حسن)
… [د ك] عن ابن عمر. الصحيحة 772: حم، عد، خط. د - رجل من الصحابة.
91 - 43 - «اتركوني ما تركتكم فإذا حدثتكم فخذوا عني فإنما هلك من كان قبلكم بكثرة سؤالهم واختلافهم على أنبيائهم» .
صحيح
… [ت] عن أبي هريرة. الصحيحة 850.
92 - «أتريد أن تكون فتانا يا معاذ؟ إذا صليت بالناس فاقرأ ب {َالشَّمْسِ وَضُحَاهَا} و {سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَى} و {َاللَّيْلِ إِذَا يَغْشَى} و {اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ} » .
(صحيح)
… [هـ] عن جابر. صفة الصلاة: 98، 87 نحوه ون، والإرواء: ق.
93 - «أتريد أن تميتها موتات؟ هلا حددت شفرتك قبل أن تضجعها» .
(صحيح)
… [ك] عن ابن عباس. الصحيحة 24.
--------------------------------------------
প্রজ্বলিত অগ্নিতে} ১"।
(সহীহ)
হাদিসটি বর্ণিত হয়েছে
[আহমাদ, তিরমিযী ২, নাসাঈ] ইবনে আমর থেকে। আস-সহীহাহ ৮৪৮।
৮৯ -
৪২ - «তোমরা কি জান্নাতবাসীদের এক-চতুর্থাংশ হতে পেরে সন্তুষ্ট নও? তোমরা কি জান্নাতবাসীদের এক-তৃতীয়াংশ হতে পেরে সন্তুষ্ট নও? তোমরা কি জান্নাতবাসীদের অর্ধেক হতে পেরে সন্তুষ্ট নও? নিশ্চয়ই মুসলিম আত্মা ব্যতীত অন্য কেউ জান্নাতে প্রবেশ করবে না। আর মুশরিকদের তুলনায় তোমরা কালো ষাঁড়ের চামড়ায় একটি সাদা পশম অথবা লাল ষাঁড়ের চামড়ায় একটি কালো পশমের মতো সমতুল্য মাত্র»।
(সহীহ)
হাদিসটি বর্ণিত হয়েছে
[আহমাদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ] ইবনে মাসউদ থেকে। আস-সহীহাহ ৮৪৯: বুখারী ও মুসলিম, এবং রিয়াদুস সলেহীন ৪৩৬।
৯০ -
«হাবশীরা (আবিসিনিয়াবাসী) যতক্ষণ তোমাদের ছেড়ে রাখে তোমরাও তাদের ছেড়ে দাও; কেননা হাবশার চিকন দুই নলাবিশিষ্ট ব্যক্তি (যু-সুওয়াইকাতাইন) ব্যতীত আর কেউ কাবার গুপ্তধন বের করবে না»।
(হাসান)
হাদিসটি বর্ণিত হয়েছে
[আবু দাউদ, আল-হাকিম] ইবনে উমর থেকে। আস-সহীহাহ ৭৭২: আহমাদ, ইবনে আদী, খতীব। আবু দাউদ - জনৈক সাহাবী থেকে।
৯১ -
৪৩ - «আমি যতক্ষণ তোমাদের কিছু না বলি তোমরা আমাকে সেভাবেই ছেড়ে দাও। যখন আমি তোমাদের নিকট কিছু বর্ণনা করি তখন তোমরা তা গ্রহণ করো। কেননা তোমাদের পূর্ববর্তীগণ তাদের নবীদের অধিক প্রশ্ন করা এবং তাদের সাথে মতবিরোধ করার কারণেই ধ্বংস হয়ে গিয়েছে»।
সহীহ
হাদিসটি বর্ণিত হয়েছে
[তিরমিযী] আবু হুরায়রা থেকে। আস-সহীহাহ ৮৫০।
৯২ -
«তুমি কি মানুষকে ফিতনায় ফেলতে চাও হে মুয়াজ? তুমি যখন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করবে তখন ‘আশ-শামসু ওয়া দুহাহা’, ‘সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল আ’লা’, ‘ওয়াল্লাইলি ইযা ইয়াগশা’ এবং ‘ইকরা বিসমি রাব্বিকা’ (সুরাসমূহ) পাঠ করবে।»
(সহিহ)
।
[ইবনে মাজাহ] জাবির থেকে বর্ণিত। সিফাতুস সালাত: ৯৮, ৮৭ এবং এর অনুরূপ নাসাঈতে রয়েছে, এবং ইরওয়াউল গালীল: বুখারি ও মুসলিম।
৯৩ -
«তুমি কি তাকে কয়েকবার মৃত্যু দিতে চাও? কেন তুমি তাকে শোয়ানোর আগেই তোমার ছুরি ধার করে নিলে না?»
(সহিহ)
।
[হাকেম] ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত। আস-সহীহাহ: ২৪।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহুল জামিইস সাগীর ওয়া যিয়াদাতুহু
(পৃষ্ঠা: ৮১)
94 - 45 - «أتزعمون أني من آخركم وفاة؟ ألا وإني من أولكم وفاة وتتبعوني أفنادا يقتل بعضكم بعضا» .
(صحيح)
… [حم] عن واثلة. الصحيحة 851.
95 - 46 - «أتسمعون ما أسمع؟ إني لأسمع أطيط السماء وما تلام أن تئط وما فيها موضع شبر إلا وعليه ملك ساجد أو قائم» .
(صحيح)
… [طب الضياء] عن حكيم بن حزام. الصحيحة 852.
96 - 47 - «أتعلم؟ أول زمرة تدخل الجنة من أمتي فقراء المهاجرين يأتون يوم القيامة إلى باب الجنة ويستفتحون فيقول لهم الخزنة: أو قد حوسبتم؟ قالوا: بأي شيء نحاسب وإنما كانت أسيافنا على عواتقنا في سبيل الله حتى متنا على ذلك؟ فيفتح لهم فيقيلون فيها أربعين عاما قبل أن يدخلها الناس» .
(صحيح)
… [ك، هب] عن ابن عمرو. الصحيحة 853.
97 - «اتق الله حيثما كنت وأتبع السيئة الحسنة تمحها وخالق الناس بخلق حسن» .
حسن
… [د، حم، ت، ك، هب] عن أبي ذر، [حم، ت، هب] عن معاذ، [ابن عساكر] عن أنس". الروض النضير 855.
98 - «اتق الله ولا تحقرن من المعروف شيئا ولو أن تفرغ من دلوك في إناء المستسقي وأن تلقى أخاك ووجهك إليه منبسط وإياك وإسبال الإزار فإن إسبال الإزار من المخيلة ولا يحبها الله وإن امرؤ شتمك وعيرك بأمر ليس هو فيك فلا تعيره بأمر هو فيه ودعه يكون وباله عليه وأجره لك ولا تسبن أحدا» .
(صحيح)
… [الطيالسي، حب] عن جابر بن سليم الهجيمي. الصحيحة 770.
৯৪ -
৪৫ - «তোমরা কি ধারণা কর যে, তোমাদের মধ্যে সবার শেষে আমার মৃত্যু হবে? জেনে রেখো, নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে সবার আগে আমার মৃত্যু হবে এবং তোমরা বিচ্ছিন্ন দলে দলে আমাকে অনুসরণ করবে, এমতাবস্থায় যে তোমাদের একে অপরকে হত্যা করবে»।
(সহীহ)
[আহমাদ] ওয়াছিলাহ থেকে। সহীহাহ ৮৫১।
৯৫ -
৪৬ - «আমি যা শুনি তোমরা কি তা শুনতে পাও? নিশ্চয়ই আমি আসমানের মড়মড় শব্দ শুনতে পাচ্ছি, আর তার পক্ষে এই শব্দ করা অস্বাভাবিক নয়; কারণ তাতে এক বিঘত পরিমাণ জায়গাও খালি নেই যেখানে একজন ফেরেশতা সিজদাবনত অথবা দণ্ডায়মান অবস্থায় নেই»।
(সহীহ)
[তাবরানী, যিয়া] হাকিম বিন হিজাম থেকে। সহীহাহ ৮৫২।
৯৬ -
৪৭ - «তুমি কি জানো? আমার উম্মতের মধ্যে সর্বপ্রথম যে দলটি জান্নাতে প্রবেশ করবে তারা হলো দরিদ্র মুহাজিরগণ। তারা কিয়ামতের দিন জান্নাতের দরজায় আসবে এবং তা খোলার আবেদন করবে। তখন জান্নাতের প্রহরীরা তাদের বলবে: তোমাদের কি হিসাব গ্রহণ করা হয়েছে? তারা বলবে: আমরা কিসের ভিত্তিতে হিসাব দেব? আমাদের তরবারিগুলো তো আল্লাহর পথে আমাদের কাঁধের ওপরই ছিল যতক্ষণ না আমরা সেই অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছি। তখন তাদের জন্য দরজা খুলে দেওয়া হবে এবং তারা অন্য মানুষের প্রবেশের চল্লিশ বছর পূর্বেই সেখানে বিশ্রাম নেবে»।
(সহীহ)
[হাকিম, বাইহাকী] ইবনে আমর থেকে। সহীহাহ ৮৫৩।
৯৭ -
«তুমি যেখানেই থাকো না কেন আল্লাহকে ভয় করো এবং মন্দের পর ভালো কাজ করো, যা মন্দকে মিটিয়ে দেবে; আর মানুষের সাথে উত্তম চরিত্রের মাধ্যমে মেলামেশা করো»।
হাসান
[আবু দাউদ, আহমাদ, তিরমিযী, হাকিম, বাইহাকী] আবু যার থেকে, [আহমাদ, তিরমিযী, বাইহাকী] মুআয থেকে, [ইবনে আসাকির] আনাস থেকে। আর-রওযুন নাযীর ৮৫৫।
৯৮ -
«আল্লাহকে ভয় করো এবং ভালো কাজের কোনো কিছুকেই তুচ্ছ জ্ঞান করো না, এমনকি তোমার বালতি থেকে পানি যাঞ্চাকারীর পাত্রে পানি ঢেলে দেওয়া হলেও। আর যখন তোমার ভাইয়ের সাথে সাক্ষাৎ করবে, তখন হাসিমুখে সাক্ষাৎ করবে। টাখনুর নিচে কাপড় ঝুলিয়ে পরা থেকে বেঁচে থাকো, কারণ কাপড় ঝুলিয়ে পরা অহংকারের অন্তর্ভুক্ত এবং আল্লাহ তা পছন্দ করেন না। যদি কোনো ব্যক্তি তোমাকে গালি দেয় এবং তোমার এমন কোনো দোষ নিয়ে বিদ্রূপ করে যা তোমার মধ্যে নেই, তবে তুমি তাকে তার সেই দোষ নিয়ে বিদ্রূপ করো না যা তার মধ্যে বিদ্যমান। তাকে ছেড়ে দাও, এর অশুভ পরিণতি তার ওপরই বর্তাবে এবং এর সওয়াব তোমার জন্য থাকবে। আর কখনো কাউকে গালি দিও না।’
(সহিহ)
।
[তায়ালিসি, ইবনে হিব্বান] জাবির বিন সুলাইম আল-হুজাইমি থেকে বর্ণিত। আস-সহিহাহ ৭৭০।
(খণ্ড: ১)
সহীহুল জামিইস সাগীর ওয়া যিয়াদাতুহু
(পৃষ্ঠা: ৮২)
99 - «اتق الله يا أبا الوليد لا تأتي يوم القيامة ببعير تحمله وله رغاء أو بقرة لها خوار أو شاة لها ثؤاج»
(صحيح)
… [طب] عن عبادة بن الصامت. الصحيحة 857: هق.
100 - «اتق المحارم تكن أعبد الناس وارض بما قسم الله لك تكن أغنى الناس وأحسن إلى جارك تكن مؤمنا وأحب للناس ما تحب لنفسك تكن مسلما ولا تكثر الضحك فإن كثرة الضحك تميت القلب» .
(حسن)
… [حم، ت، هب] عن أبي هريرة. تخريج مشكلة الفقر 17، الصحيحة 930.
101 - «اتقوا الظلم فإن الظلم ظلمات يوم القيامة» .
(صحيح)
… [حم، طب، هب] عن ابن عمر. الصحيحة 858.
102 - «اتقوا الظلم فإن الظلم ظلمات يوم القيامة واتقوا الشح فإن الشح أهلك من كان قبلكم وحملهم على أن سفكوا دماءهم واستحلوا محارمهم» .
(صحيح)
… [حم، خد، م] عن جابر. الصحيحة 858، مختصر مسلم 1829.
103 - «اتقوا الله فإن أخونكم عندنا من طلب العمل» .
حسن
… [طب] عن أبي موسى. فيض القدير.
104 - «اتقوا الله في البهائم المعجمة فاركبوها صالحة وكلوها صالحة» .
(صحيح)
… [حم، د1، ابن خزيمة، حب] عن سهل بن الحنظلية. رياض الصاحين 973 الصحيحة 33.
--------------------------------------------
৯৯ -
«হে আবু ওয়ালিদ! তুমি আল্লাহকে ভয় করো। কিয়ামতের দিন তুমি যেন এমন কোনো উট পিঠে বহন করে না আস যা চিৎকার করছে, অথবা এমন গাভী যা হাম্বা-রব করছে, কিংবা এমন ছাগল যা ভ্যা-ভ্যা করছে»
(সহীহ)
[তাবারানি] উবাদাহ ইবনে সামিত থেকে বর্ণিত। আস-সহীহাহ ৮৫৭: বায়হাকী।
১০০ -
«হারাম বিষয়সমূহ থেকে বেঁচে থাকো, তবেই তুমি হবে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বড় ইবাদতকারী। আল্লাহ তোমার জন্য যা বন্টন করেছেন তাতে সন্তুষ্ট থাকো, তবেই তুমি হবে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে ধনী। তোমার প্রতিবেশীর প্রতি ইহসান করো, তবেই তুমি মুমিন হতে পারবে। মানুষের জন্য তা-ই পছন্দ করো যা নিজের জন্য পছন্দ করো, তবেই তুমি মুসলিম হতে পারবে। আর অধিক হেসো না, কেননা অতিরিক্ত হাসি অন্তরকে মৃত করে দেয়»।
(হাসান)
[আহমাদ, তিরমিজি, বায়হাকী] আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত। তাখরিজ মুশকিলাতুল ফাকর ১৭, আস-সহীহাহ ৯৩০।
১০১ -
«তোমরা জুলুম পরিহার করো, কেননা জুলুম কিয়ামতের দিন ঘোর অন্ধকার হয়ে দেখা দেবে»।
(সহীহ)
[আহমাদ, তাবারানি, বায়হাকী] ইবনে উমর থেকে বর্ণিত। আস-সহীহাহ ৮৫৮।
১০২ -
«তোমরা জুলুম থেকে বেঁচে থাকো, কারণ জুলুম কিয়ামতের দিন অন্ধকার হয়ে দেখা দেবে। আর তোমরা কৃপণতা ও লালসা থেকে বেঁচে থাকো, কারণ কৃপণতা তোমাদের পূর্ববর্তীদের ধ্বংস করেছে এবং তাদেরকে রক্তপাত ঘটাতে ও হারাম কাজসমূহকে হালাল করে নিতে প্ররোচিত করেছে»।
(সহীহ)
[আহমাদ, বুখারী - আদাবুল মুফরাদ, মুসলিম] জাবির থেকে বর্ণিত। আস-সহীহাহ ৮৫৮, মুখতাসার মুসলিম ১৮২৯।
১০৩ -
«তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, কেননা আমাদের কাছে তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি সবচেয়ে বড় খিয়ানতকারী যে পদ বা দায়িত্ব প্রার্থনা করে»।
হাসান
[তাবারানি] আবু মুসা থেকে বর্ণিত। ফয়জুল কাদির।
১০৪ -
«এই নির্বাক চতুষ্পদ জন্তুগুলোর ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো। সুতরাং সেগুলোতে আরোহণ করো সুস্থ অবস্থায় এবং সেগুলো আহার করো সুস্থ অবস্থায়।»
(সহিহ)
[আহমাদ, আবু দাউদ, ইবনে খুজাইমাহ, ইবনে হিব্বান] সাহল ইবনুল হানজালিয়া থেকে বর্ণিত। রিয়াদুস সালিহীন ৯৭৩, আস-সহিহাহ ৩৩।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহুল জামিইস সাগীর ওয়া যিয়াদাতুহু
(পৃষ্ঠা: ৮৩)
105 - «اتقوا الله في الصلاة وما ملكت أيمانكم» .
(صحيح)
… [خط] عن أم سلمة. الصحيحة 868.
106 - «اتقوا الله فيما ملكت أيمانكم» .
(صحيح)
… [خد] عن علي. الإرواء 2178.
107 - «اتقوا الله واعدلوا في أولادكم» .
(صحيح)
… [ق] عن النعمان بن بشير. غية المرام 272 و275، الإرواء 1598: حم، مختصر مسلم 990.
108 - «اتقوا الله وصلوا أرحامكم» .
حسن. ابن عساكر عن ابن مسعود. الصحيحة 869.
109 - «اتقوا الله وصلوا خمسكم وصوموا شهركم وأدوا زكاة أموالكم طيبة بها أنفسكم وأطيعوا ذا أمركم تدخلوا جنة ربكم» .
(صحيح)
… [ت، حب، ك] عن أبي أمامة. الصحيحة 865: حم رياض الصالحين 74/867.1
110 - «اتقوا اللاعنين: الذي يتخلى في طريق الناس أو في ظلهم» .
(صحيح)
… [حم، م، د] عن أبي هريرة. صحيح السنن 20، الإرواء 62، مختصر مسلم 106 رياض الصالحين 1780.
111 - «اتقوا المجذوم كما يتقى الأسد» .
(صحيح)
… [تخ] عن أبي هريرة. الصحيحة 780.
112 - «اتقوا الملاعن الثلاث: البراز في الموارد وقارعة الطريق والظل» .
(حسن)
… [د، هـ، ك، هق] عن معاذ. صحيح السنن 11/2، الإرواء 62. المشكاة 355.
১০৫ -
«নামাযের ব্যাপারে এবং তোমাদের অধিকারভুক্ত দাস-দাসীদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো» ।
(সহীহ)
-
[খাতীব] উম্মে সালামাহ থেকে বর্ণিত। আস-সাহীহাহ ৮৬৮।
১০৬ -
«তোমাদের অধিকারভুক্ত দাস-দাসীদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো» ।
(সহীহ)
-
[বুখারী ‘আল-আদাবুল মুফরাদ’ গ্রন্থে] আলী থেকে বর্ণিত। আল-ইরওয়া ২১৭৮।
১০৭ -
«তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং তোমাদের সন্তানদের মাঝে ইনসাফ করো» ।
(সহীহ)
-
[মুত্তাফাকুন আলাইহি] নুমান বিন বাশির থেকে বর্ণিত। গায়াতুল মারাম ২৭২ ও ২৭৫, আল-ইরওয়া ১৫৯৮: আহমাদ, মুখতাসার মুসলিম ৯৯০।
১০৮ -
«তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখো» ।
হাসান। ইবনে আসাকির ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন। আস-সাহীহাহ ৮৬৯।
১০৯ -
«তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, তোমাদের পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করো, তোমাদের নির্ধারিত মাসের (রমযানের) রোজা পালন করো, সন্তুষ্টচিত্তে তোমাদের সম্পদের যাকাত প্রদান করো এবং তোমাদের কর্তৃপক্ষের আনুগত্য করো; তাহলে তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের জান্নাতে প্রবেশ করবে» ।
(সহীহ)
-
[তিরমিযী, ইবনে হিব্বান, হাকিম] আবু উমামাহ থেকে বর্ণিত। আস-সাহীহাহ ৮৬৫: আহমাদ, রিয়াদুস সালিহীন ৭৪/৮৬৭.১।
১১০ -
«তোমরা অভিশাপ বয়ে আনা দুটি কাজ থেকে বেঁচে থাকো: যে ব্যক্তি মানুষের চলার পথে অথবা তাদের বিশ্রামের ছায়ায় মলমূত্র ত্যাগ করে» ।
(সহীহ)
-
[আহমাদ, মুসলিম, আবু দাউদ] আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত। সহীহ আস-সুনান ২০, আল-ইরওয়া ৬২, মুখতাসার মুসলিম ১০৬, রিয়াদুস সালিহীন ১৭৮০।
১১১ -
«তোমরা কুষ্ঠরোগী থেকে দূরে থাকো যেমনিভাবে সিংহ থেকে দূরে থাকা হয়»।
(সহীহ)
[তখ] আবু হুরায়রা থেকে। আস-সহীহাহ ৭৮০।
১১২ -
«তোমরা অভিশাপ বয়ে আনা তিনটি কাজ থেকে বেঁচে থাকো: পানির ঘাটে, রাস্তার মাঝখানে এবং (মানুষের বিশ্রামের) ছায়াযুক্ত স্থানে মলত্যাগ করা»।
(হাসান)
[দ, হ, ক, হক] মুয়াজ থেকে। সহীহ আস-সুনান ২/১১, আল-ইরওয়া ৬২। আল-মিশকাত ৩৫৫।
(খণ্ড: ১)
সহীহুল জামিইস সাগীর ওয়া যিয়াদাতুহু
(পৃষ্ঠা: ৮৪)
113 - «اتقوا الملاعن الثلاث: أن يقعد أحدكم في ظل يستظل فيه أو في طريق أو في نقع ماء» .
(حسن)
… [حم] عن ابن عباس. الإرواء 62، المشكاة 355.
114 - «اتقوا النار ولو بشق تمرة» .
(صحيح)
… [ق، ن] عن عدي بن حاتم [حم] عن عائشة [طس الضياء] عن أنس، [البزار] عن النعمان بن بشير، وعن أبي هريرة [طب] عن ابن عباس وعن أبي أمامة.
115 - «اتقوا النار ولو بشق تمرة فإن لم تجدوا فبكلمة طيبة» .
(صحيح)
… [حم، ق] عن عدي. مختصر مسلم 535.
116 - «اتقوا بيتا يقال له الحمام فمن دخله فليستتر» .
(صحيح)
… [طب، ك، هب] عن ابن عباس. الكلم ص 128، الإرواء 2582.
117 - «اتقوا دعوة المظلوم فإنها تحمل على الغمام يقول الله: وعزتي وجلالي لأنصرنك ولو بعد حين» .
(صحيح)
… [طب الضياء] عن خزيمة بن ثابت. الصحيحة 868.
118 - «اتقوا دعوة المظلوم فإنها تصعد إلى السماء كأنها شرارة» .
(صحيح)
… [ك] عن ابن عمر. الصحيحة 871.
119 - «اتقوا دعوة المظلوم وإن كان كافرا فإنه ليس دونها حجاب» .
(حسن)
… [حم، ع، الضياء] عن أنس. الصحيحة 767.
১১৩ -
«তোমরা অভিশাপের তিনটি কারণ থেকে বেঁচে থাকো: তোমাদের কারো এমন ছায়ায় বসা যেখানে মানুষ ছায়া গ্রহণ করে, অথবা চলাচলের পথে, অথবা পানির ঘাটে (যেখানে মানুষ অবতরণ করে)»।
(হাসান)
[আহমাদ] ইবনে আব্বাস থেকে। ইরওয়া ৬২, মিশকাত ৩৫৫।
১১৪ -
«তোমরা জাহান্নামের আগুন থেকে বেঁচে থাকো, যদিও তা একটি খেজুরের অর্ধাংশের বিনিময়ে হয়»।
(সহিহ)
[বুখারি, নাসাঈ] আদি বিন হাতিম থেকে, [আহমাদ] আয়িশা থেকে, [তাবারানি আস-সাগির, আদ-দিয়া] আনাস থেকে, [বাযযার] নুমান বিন বশির ও আবু হুরায়রা থেকে, [তাবারানি আল-কাবির] ইবনে আব্বাস ও আবু উমামা থেকে।
১১৫ -
«তোমরা জাহান্নামের আগুন থেকে বেঁচে থাকো, যদিও তা একটি খেজুরের অর্ধাংশের বিনিময়ে হয়; আর যদি তা না পাও, তবে উত্তম কথার মাধ্যমে»।
(সহিহ)
[আহমাদ, বুখারি ও মুসলিম] আদি থেকে। মুখতাসার মুসলিম ৫৩৫।
১১৬ -
«তোমরা গোসলখানা (জনসাধারণের হাম্মাম) নামক ঘরটি থেকে বেঁচে থাকো; সুতরাং যে তাতে প্রবেশ করবে, সে যেন অবশ্যই পর্দা অবলম্বন করে»।
(সহিহ)
[তাবারানি আল-কাবির, হাকিম, বায়হাকি] ইবনে আব্বাস থেকে। আল-কালিম ১২৮ পৃষ্ঠা, ইরওয়া ২৫৮২।
১১৭ -
«তোমরা মজলুমের বদদোয়া থেকে বেঁচে থাকো; কারণ তা মেঘমালার ওপর বহন করে নিয়ে যাওয়া হয়। আল্লাহ বলেন: আমার মর্যাদা ও প্রতাপের শপথ! আমি অবশ্যই তোমাকে সাহায্য করব, যদিও তা কিছুকাল পরে হয়»।
(সহিহ)
[তাবারানি আল-কাবির, আদ-দিয়া] খুযায়মা বিন সাবিত থেকে। আস-সহিহাহ ৮৬৮।
১১৮ -
«তোমরা মজলুমের বদদোয়া থেকে বেঁচে থাকো; কারণ তা আগুনের স্ফুলিঙ্গের ন্যায় আসমানের দিকে উঠে যায়»।
(সহীহ)
[হাকিম] ইবনে উমর হতে বর্ণিত। আস-সহীহাহ ৮৭১।
১১৯ -
“তোমরা মজলুমের বদদোয়া থেকে বেঁচে থাকো, যদিও সে কাফের হয়; কেননা এর সামনে কোনো অন্তরায় নেই।”
(হাসান)
[আহমাদ, আবু ইয়ালা, আদ-দিয়া] আনাস হতে বর্ণিত। আস-সহীহাহ ৭৬৭।
(খণ্ড: ১)
সহীহুল জামিইস সাগীর ওয়া যিয়াদাতুহু
(পৃষ্ঠা: ৮৫)
120 - «اتقوا هذه المذابح» - يعني المحاريب - 1.
(صحيح)
… [طب، هق] عن ابن عمرو. الضعيفة 448.
121 - «أتموا الركوع والسجود فوالذي نفسي بيده إني لأراكم من وراء ظهري إذا ركعتم وإذا سجدتم» .
(صحيح)
… [حم، ق، ن] عن أنس. صفة الصلاة 111ومعناه في الترغيب 1/211.
122 - «أتموا الصف المقدم ثم الذي يليه فما كان من نقص فليكن من الصف المؤخر» .
(صحيح)
… [حم، د، ن، حب، ابن خزيمة، الضياء] عن أنس. المشكاة 1094، صحيح الترغيب675، رياض الصالحين 1100.
123 - «أتموا الصفوف فإني أراكم خلف ظهري» .
(صحيح)
… [م] عن أنس. صحيح الترغيب 498 وزاد البخاري.
124 - «أتموا الوضوء ويل للأعقاب من النار» .
(صحيح)
… [هـ] عن خالد بن الوليد ويزيد بن أبي سفيان وشرحبيل بن حسنة وعمرو ابن العاص. الصحيحة 872.
125 - «أتي الله عز وجل بعبد من عباده آتاه الله مالا فقال له: ماذا عملت في الدنيا؟ فقال: ما عملت من شيء يا رب إلا أنك آتيتني مالا فكنت أبايع الناس وكان من خلقي أن أيسر على الموسر وأنظر المعسر. قال الله تعالى: أنا أحق بذلك منك تجاوزوا عن عبدي» .
(صحيح)
… [ك] عن حذيفة وعقبة بن عامر وأبي مسعود الأنصاري. أحاديث البيوع.
--------------------------------------------
১২০ -
«তোমরা এই কসাইখানাগুলো থেকে বেঁচে থাকো» - অর্থাৎ মেহরাবসমূহ থেকে।
(সহীহ) [তাবারানি, বাইহাকি] ইবনে আমর থেকে বর্ণিত। আদ-দাঈফাহ ৪৪৮।
১২১ -
«তোমরা রুকু ও সিজদা পূর্ণ করো; সেই সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ, নিশ্চয়ই তোমরা যখন রুকু করো এবং সিজদা করো, তখন আমি তোমাদেরকে আমার পিছন থেকেও দেখতে পাই।»
(সহীহ) [আহমাদ, বুখারি ও মুসলিম, নাসায়ি] আনাস থেকে বর্ণিত। সিফাতুস সালাত ১১১ এবং এর সমার্থবোধক বর্ণনা আত-তারগিব ১/২১১ তে রয়েছে।
১২২ -
«তোমরা প্রথম কাতার পূর্ণ করো, তারপর তার পরেরটি। যদি কোনো ঘাটতি থাকে তবে তা যেন শেষ কাতারে থাকে।»
(সহীহ) [আহমাদ, আবু দাউদ, নাসায়ি, ইবনে হিব্বান, ইবনে খুজাইমা, আদ-দিয়া আল-মাকদিসি] আনাস থেকে বর্ণিত। মিশকাত ১০৯৪, সহীহ আত-তারগিব ৬৭৫, রিয়াদুস সালিহীন ১১০০।
১২৩ -
«তোমরা কাতারসমূহ পূর্ণ করো, কেননা আমি তোমাদেরকে আমার পিছন থেকে দেখতে পাই।»
(সহীহ) [মুসলিম] আনাস থেকে বর্ণিত। সহীহ আত-তারগিব ৪৯৮ এবং ইমাম বুখারি এটি অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন।
১২৪ -
«তোমরা ওজু পূর্ণ করো; (অজুর সময় শুকনো থেকে যাওয়া) গোড়ালিগুলোর জন্য জাহান্নামের আগুনের দুর্ভোগ রয়েছে।»
(সহীহ) [ইবনে মাজাহ] খালিদ বিন ওয়ালিদ, ইয়াজিদ বিন আবু সুফিয়ান, শুরাহবিল বিন হাসানা এবং আমর ইবনুল আস থেকে বর্ণিত। আস-সহীহাহ ৮৭২।
১২৫ -
«মহান ও প্রতাপশালী আল্লাহর নিকট তাঁর বান্দাদের মধ্য হতে এমন এক বান্দাকে উপস্থিত করা হলো যাকে আল্লাহ সম্পদ দান করেছিলেন। অতঃপর আল্লাহ তাকে জিজ্ঞেস করলেন: তুমি দুনিয়াতে কী আমল করেছ? সে বলল: হে আমার প্রতিপালক, আমি উল্লেখযোগ্য কোনো আমলই করিনি, তবে আপনি আমাকে ধন-সম্পদ দিয়েছিলেন এবং আমি মানুষের সাথে ব্যবসা-বাণিজ্য করতাম। আমার স্বভাব ছিল যে, আমি স্বচ্ছল ব্যক্তির জন্য লেনদেন সহজ করতাম এবং অসচ্ছল ব্যক্তিকে অবকাশ দিতাম। তখন আল্লাহ তাআলা বললেন: আমি তোমার চেয়ে এই গুণের (ক্ষমা করার) অধিক হকদার; তোমরা আমার বান্দাকে মার্জনা করে দাও।»
(সহিহ)
হাদিসটি উদ্ধৃত করেছেন
[হাকিম] হুজায়ফা, উকবা বিন আমের এবং আবু মাসউদ আল-আনসারী থেকে। ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায়ের হাদিসসমূহ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহুল জামিইস সাগীর ওয়া যিয়াদাতুহু
(পৃষ্ঠা: ৮৬)
126 - «إتيان النساء في أدبارهن حرام» .
(صحيح)
… [ن] عن خزيمة بن ثابت. الصحيحة 873.
127 - "أتيت بالبراق وهو دابة أبيض طويل فوق الحمار ودون البغل يضع حافره عند منتهى طرفه فركبته حتى أتيت بيت المقدس فربطته بالحلقة التي تربط بها الأنبياء، ثم دخلت المسجد فصليت فيه ركعتين، ثم خرجت فجاءني جبريل بإناء من خمر وإناء من لبن فاخترت اللبن فقال جبريل: اخترت الفطرة، ثم عرج بنا إلى السماء فاستفتح جبريل فقيل: من أنت؟ قال: جبريل قيل: ومن معك؟ قال: محمد قيل: وقد بعث إليه؟ قال: قد بعث إليه ففتح لنا فإذا أنا بآدم فرحب بي ودعا لي بخير; ثم عرج بنا إلى السماء الثانية فاستفتح جبريل فقيل: من أنت؟ قال: جبريل قيل: ومن معك؟ قال: محمد قيل: وقد بعث إليه؟ قال: قد بعث إليه ففتح لنا فإذا أنا بابني الخالة: عيسى بن مريم ويحيى بن زكريا فرحبا بي ودعوا لي بخير، ثم عرج بنا إلى السماء الثالثة فاستفتح جبريل فقيل: من أنت؟ قال: جبريل قيل: ومن معك؟ قال: محمد قيل: وقد بعث إليه؟ قال: قد بعث إليه ففتح لنا فإذا أنا بيوسف وإذا هو قد أعطي شطر الحسن فرحب بي ودعا لي بخير، ثم عرج بنا إلى السماء الرابعة فاستفتح جبريل فقيل: من هذا؟ قال: جبريل قيل: ومن معك؟ قال: محمد قيل: وقد بعث إليه؟ قال: قد بعث إليه ففتح لنا فإذا أنا بإدريس فرحب بي ودعا لي بخير قال الله تعالى: {وَرَفَعْنَاهُ مَكَاناً عَلِيّاً} ،
১২৬ - «নারীদের মলদ্বারে মৈথুন করা হারাম।» .
(সহীহ) [নাসাঈ] খুজাইমাহ ইবনে সাবিত থেকে বর্ণিত। আস-সহীহাহ ৮৭৩।
১২৭ -
আমার নিকট বুরাক আনা হলো, যা একটি সাদা রঙের দীর্ঘকায় পশু, গাধার চেয়ে বড় এবং খচ্চরের চেয়ে ছোট। এটি তার দৃষ্টির শেষ সীমানায় খুর রাখছিল। আমি এতে আরোহণ করলাম এবং বাইতুল মাকদিস পর্যন্ত পৌঁছালাম। তারপর আমি সেটিকে সেই কড়ার সাথে বাঁধলাম যার সাথে নবীগণ (তাঁদের বাহন) বাঁধতেন। অতঃপর আমি মসজিদে প্রবেশ করলাম এবং সেখানে দুই রাকাত সালাত আদায় করলাম। তারপর আমি বের হলাম, তখন জিবরীল আমার নিকট একটি শরাবের পাত্র এবং একটি দুধের পাত্র নিয়ে আসলেন। আমি দুধ বেছে নিলাম। তখন জিবরীল বললেন: আপনি ফিতরাত (সহজাত প্রকৃতি) বেছে নিয়েছেন। অতঃপর আমাদের নিয়ে আসমানে আরোহণ করা হলো। জিবরীল দরজা খোলার জন্য বললেন। জিজ্ঞাসা করা হলো: আপনি কে? তিনি বললেন: জিবরীল। জিজ্ঞাসা করা হলো: আপনার সাথে কে? তিনি বললেন: মুহাম্মাদ। জিজ্ঞাসা করা হলো: তাঁকে কি ডাকা হয়েছে? তিনি বললেন: হ্যাঁ, তাঁকে ডাকা হয়েছে। তখন আমাদের জন্য দরজা খুলে দেয়া হলো। সেখানে আমি আদমের দেখা পেলাম। তিনি আমাকে স্বাগত জানালেন এবং আমার কল্যাণের জন্য দুআ করলেন। অতঃপর আমাদের নিয়ে দ্বিতীয় আসমানে আরোহণ করা হলো। জিবরীল দরজা খোলার জন্য বললেন। জিজ্ঞাসা করা হলো: আপনি কে? তিনি বললেন: জিবরীল। জিজ্ঞাসা করা হলো: আপনার সাথে কে? তিনি বললেন: মুহাম্মাদ। জিজ্ঞাসা করা হলো: তাঁকে কি ডাকা হয়েছে? তিনি বললেন: হ্যাঁ, তাঁকে ডাকা হয়েছে। তখন আমাদের জন্য দরজা খুলে দেয়া হলো। সেখানে আমি দুই খালাতো ভাই ঈসা ইবনে মারইয়াম এবং ইয়াহইয়া ইবনে যাকারিয়ার দেখা পেলাম। তাঁরা আমাকে স্বাগত জানালেন এবং আমার কল্যাণের জন্য দুআ করলেন। অতঃপর আমাদের নিয়ে তৃতীয় আসমানে আরোহণ করা হলো। জিবরীল দরজা খোলার জন্য বললেন। জিজ্ঞাসা করা হলো: আপনি কে? তিনি বললেন: জিবরীল। জিজ্ঞাসা করা হলো: আপনার সাথে কে? তিনি বললেন: মুহাম্মাদ। জিজ্ঞাসা করা হলো: তাঁকে কি ডাকা হয়েছে? তিনি বললেন: হ্যাঁ, তাঁকে ডাকা হয়েছে। তখন আমাদের জন্য দরজা খুলে দেয়া হলো। সেখানে আমি ইউসুফের দেখা পেলাম এবং তাঁকে সৌন্দর্যের অর্ধেক দেয়া হয়েছে। তিনি আমাকে স্বাগত জানালেন এবং আমার কল্যাণের জন্য দুআ করলেন। অতঃপর আমাদের নিয়ে চতুর্থ আসমানে আরোহণ করা হলো। জিবরীল দরজা খোলার জন্য বললেন। জিজ্ঞাসা করা হলো: এ কে? তিনি বললেন: জিবরীল। জিজ্ঞাসা করা হলো: আপনার সাথে কে? তিনি বললেন: মুহাম্মাদ। জিজ্ঞাসা করা হলো: তাঁকে কি ডাকা হয়েছে? তিনি বললেন: হ্যাঁ, তাঁকে ডাকা হয়েছে। তখন আমাদের জন্য দরজা খুলে দেয়া হলো। সেখানে আমি ইদরীসের দেখা পেলাম। তিনি আমাকে স্বাগত জানালেন এবং আমার কল্যাণের জন্য দুআ করলেন। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: "আর আমি তাকে এক উচ্চ স্থানে উন্নীত করেছি।"
(খণ্ড: ১)
সহীহুল জামিইস সাগীর ওয়া যিয়াদাতুহু
(পৃষ্ঠা: ৮৭)
ثم عرج بنا إلى السماء الخامسة فاستفتح جبريل فقيل: من هذا؟ قال: جبريل قيل: ومن معك؟ قال: محمد قيل: وقد بعث إليه؟ قال: قد بعث إليه ففتح لنا فإذا أنا بهارون فرحب بي ودعا لي بخير; ثم عرج بنا إلى السماء السادسة فاستفتح جبريل فقيل: من هذا؟ قال: جبريل قيل: ومن معك؟ قال: محمد قيل: وقد بعث إليه؟ قال: قد بعث إليه ففتح لنا فإذا أنا بموسى فرحب بي ودعا لي بخير، ثم عرج بنا إلى السماء السابعة فاستفتح جبريل فقيل: من هذا؟ قال: جبريل قيل: ومن معك؟ قال: محمد قيل: وقد بعث إليه؟ قال: قد بعث إليه ففتح لنا فإذا أنا بإبراهيم مسندا ظهره إلى البيت المعمور وإذا هو يدخله كل يوم سبعون ألف ملك لا يعودون إليه، ثم ذهب بي إلى سدرة المنتهى وإذا ورقها كآذان الفيلة وإذا ثمرها كالقلال فلما غشيها من أمر الله ما غشي تغيرت فما أحد من خلق الله يستطيع أن ينعتها من حسنها، فأوحى الله إلي ما أوحى ففرض علي خمسين صلاة في كل يوم وليلة;
فنزلت إلى موسى فقال: ما فرض ربك على أمتك قلت: خمسين صلاة قال: ارجع إلى ربك فسله التخفيف فإن أمتك لا تطيق ذلك فإني قد بلوت بني إسرائيل وخبرتهم فرجعت إلى ربي فقلت: يا رب خفف عن أمتي فحط عني خمسا;
فرجعت إلى موسى فقلت: حط عني خمسا قال: إن أمتك لا يطيقون ذلك فارجع إلى ربك فسله التخفيف،
فلم أزل أرجع بين ربي وبين موسى حتى قال: يا محمد إنهن خمس
অতঃপর আমাদের পঞ্চম আসমানে নিয়ে যাওয়া হলো। জিবরীল (আ.) দরজা খোলার আবেদন জানালেন। জিজ্ঞেস করা হলো: ইনি কে? তিনি বললেন: জিবরীল। জিজ্ঞেস করা হলো: আপনার সাথে কে? তিনি বললেন: মুহাম্মাদ। জিজ্ঞেস করা হলো: তাঁকে কি পাঠানো হয়েছে? তিনি বললেন: তাঁকে পাঠানো হয়েছে। তখন আমাদের জন্য দ্বার উন্মুক্ত করা হলো। সেখানে আমি হারুন (আ.)-এর সাক্ষাৎ পেলাম। তিনি আমাকে মারহাবা জানালেন এবং আমার জন্য কল্যাণের দোয়া করলেন। এরপর আমাদের ষষ্ঠ আসমানে নিয়ে যাওয়া হলো। জিবরীল (আ.) দরজা খোলার আবেদন জানালেন। জিজ্ঞেস করা হলো: ইনি কে? তিনি বললেন: জিবরীল। জিজ্ঞেস করা হলো: আপনার সাথে কে? তিনি বললেন: মুহাম্মাদ। জিজ্ঞেস করা হলো: তাঁকে কি পাঠানো হয়েছে? তিনি বললেন: তাঁকে পাঠানো হয়েছে। তখন আমাদের জন্য দ্বার উন্মুক্ত করা হলো। সেখানে আমি মূসা (আ.)-এর সাক্ষাৎ পেলাম। তিনি আমাকে মারহাবা জানালেন এবং আমার জন্য কল্যাণের দোয়া করলেন। এরপর আমাদের সপ্তম আসমানে নিয়ে যাওয়া হলো। জিবরীল (আ.) দরজা খোলার আবেদন জানালেন। জিজ্ঞেস করা হলো: ইনি কে? তিনি বললেন: জিবরীল। জিজ্ঞেস করা হলো: আপনার সাথে কে? তিনি বললেন: মুহাম্মাদ। জিজ্ঞেস করা হলো: তাঁকে কি পাঠানো হয়েছে? তিনি বললেন: তাঁকে পাঠানো হয়েছে। তখন আমাদের জন্য দ্বার উন্মুক্ত করা হলো। সেখানে আমি ইব্রাহীম (আ.)-কে বায়তুল মামুরে পিঠ হেলান দিয়ে বসা অবস্থায় পেলাম। সেই ঘরে প্রতিদিন সত্তর হাজার ফেরেশতা প্রবেশ করেন, যারা আর কখনো সেখানে ফিরে আসার সুযোগ পান না। অতঃপর আমাকে সিদরাতুল মুনতাহায় নিয়ে যাওয়া হলো। এর পাতাগুলো ছিল হাতির কানের মতো এবং ফলগুলো ছিল বড় কলসির মতো। আল্লাহর পক্ষ থেকে যা দ্বারা তা আবৃত হওয়ার কথা ছিল, তা যখন তাকে আবৃত করল, তখন তা পরিবর্তিত হয়ে গেল। আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে এমন কেউ নেই যে তার সৌন্দর্যের বর্ণনা দিতে সক্ষম হবে। এরপর আল্লাহ আমার প্রতি যা ওহী করার তা ওহী করলেন এবং আমার ওপর দিন ও রাতে পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করলেন।
অতঃপর আমি মূসা (আ.)-এর কাছে নেমে আসলাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: আপনার প্রতিপালক আপনার উম্মতের ওপর কী ফরজ করেছেন? আমি বললাম: পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত। তিনি বললেন: আপনার প্রতিপালকের কাছে ফিরে যান এবং তা হ্রাস করার অনুরোধ করুন, কারণ আপনার উম্মত এটি পালন করতে সক্ষম হবে না। আমি বনী ইসরাঈলকে পরীক্ষা করেছি এবং তাদের বিষয়ে অভিজ্ঞ। সুতরাং আমি আমার প্রতিপালকের নিকট ফিরে গেলাম এবং বললাম: হে আমার রব! আমার উম্মতের জন্য এটি সহজ করে দিন। তখন তিনি আমার থেকে পাঁচটি হ্রাস করলেন।
আমি মূসা (আ.)-এর নিকট ফিরে এসে বললাম: পাঁচটি হ্রাস করা হয়েছে। তিনি বললেন: আপনার উম্মত এটিও পালন করতে পারবে না, সুতরাং আপনার প্রতিপালকের কাছে ফিরে যান এবং আরও হ্রাস করার আবেদন করুন।
এভাবে আমি আমার প্রতিপালক এবং মূসা (আ.)-এর মধ্যে বারবার যাতায়াত করতে থাকলাম, শেষ পর্যন্ত আল্লাহ বললেন: হে মুহাম্মাদ! এগুলো হচ্ছে পাঁচ (ওয়াক্ত সালাত)।
(খণ্ড: ১)
সহীহুল জামিইস সাগীর ওয়া যিয়াদাতুহু
(পৃষ্ঠা: ৮৮)
صلوات كل يوم وليلة لكل صلاة عشر فذلك خمسون صلاة ومن هم بحسنة فلم يعلمها كتبت له حسنة فإن عملها كتبت له عشرا، ومن هم بسيئة فلم يعملها لم تكتب شيئا فإن عملها كتبت سيئة واحدة; فنزلت حتى انتهيت إلى موسى فأخبرته فقال: ارجع إلى ربك فسله التخفيف فقلت: قد رجعت إلى ربي حتى استحييت منه".
(صحيح)
… [حم، م] عن أنس. الصحيحة 873.
128 - 51 - «أتيت بالبراق وهو دابة أبيض طويل يضع حافره عند منتهى طرفه فلم نزايل ظهره أنا وجبريل حتى أتيت بيت المقدس، ففتحت لي أبواب السماء ورأيت الجنة والنار» .
(حسن)
… [حم، ع، حب، ك، الضياء] عن حذيفة. الصحيحة 874.
129 - 52 - «أتيت ليلة أسري بي على قوم تقرض شفاههم بمقاريض من نار كلما قرضت وفت1، فقلت: يا جبريل من هؤلاء؟ قال: خطباء أمتك الذين يقولون ما لا يفعلون ويقرءون كتاب الله ولا يعملون بت» .
(حسن)
… [هب] عن أنس. الاقتضاء 111.
130 - 53 - «أتيت ليلة أسري بي فانطلق بي إلى زمزم فشرح عن صدري ثم غسل بماء زمزم ثم أنزل» .
(صحيح)
… [م] عن أنس.
131 - 54 - «اثبت أحد! فإنما عليك نبي وصديق وشهيدان» .
--------------------------------------------
প্রত্যেক দিন ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, প্রতিটি সালাতের বিনিময়ে দশটির সওয়াব, ফলে তা পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাতের সমান। আর যে ব্যক্তি কোনো নেক কাজের সংকল্প করল কিন্তু তা আমল করল না, তার জন্য একটি নেকি লেখা হয়; আর যদি সে তা আমল করে তবে তার জন্য দশটি নেকি লেখা হয়। আর যে ব্যক্তি কোনো মন্দ কাজের সংকল্প করল কিন্তু তা করল না, তার জন্য কিছুই লেখা হয় না; আর যদি সে তা করে ফেলে তবে একটিমাত্র গুনাহ লেখা হয়। অতঃপর আমি নেমে আসলাম যতক্ষণ না মুসার কাছে পৌঁছালাম এবং তাঁকে এ সংবাদ দিলাম। তিনি বললেন: আপনার রবের কাছে ফিরে যান এবং তা লাঘব করার আবেদন করুন। আমি বললাম: আমি আমার রবের কাছে বারবার ফিরে গিয়েছি, এমনকি এখন আমি তাঁর কাছে লজ্জাবোধ করছি।
(সহিহ)
।
[আহমাদ, মুসলিম] আনাস থেকে বর্ণিত। আস-সহিহাহ ৮৭৩।
১২৮ -
৫১ - "আমার কাছে বুরাক নিয়ে আসা হলো, সেটি একটি সাদা রঙের দীর্ঘকায় জন্তু, যা তার দৃষ্টির শেষ সীমায় নিজের খুর রাখে। আমি এবং জিবরাইল তার পিঠ থেকে আলাদা হইনি যতক্ষণ না আমি বাইতুল মাকদিসে পৌঁছালাম। অতঃপর আমার জন্য আসমানের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হলো এবং আমি জান্নাত ও জাহান্নাম দেখলাম।"
(হাসান)
।
[আহমাদ, আবু ইয়ালা, ইবনে হিব্বান, হাকিম, আদ-দিয়া] হুজাইফা থেকে বর্ণিত। আস-সহিহাহ ৮৭৪।
১২৯ -
৫২ - "মিরাজের রাতে আমাকে এমন এক সম্প্রদায়ের পাশ দিয়ে নিয়ে যাওয়া হলো যাদের ঠোঁট আগুনের কাঁচি দিয়ে কাটা হচ্ছিল। যখনই তা কাটা হতো, তখনই তা আবার পূর্বাবস্থায় ফিরে আসত। আমি জিজ্ঞেস করলাম: হে জিবরাইল, এরা কারা? তিনি বললেন: এরা আপনার উম্মতের সেই সকল বক্তা যারা যা বলে তা নিজেরা করে না এবং তারা আল্লাহর কিতাব পাঠ করে কিন্তু সে অনুযায়ী আমল করে না।"
(হাসান)
।
[বায়হাকি] আনাস থেকে বর্ণিত। আল-ইকতিদা ১১১।
১৩০ -
৫৩ - "মিরাজের রাতে আমাকে নিয়ে আসা হলো, অতঃপর আমাকে জমজমের কাছে নিয়ে যাওয়া হলো। এরপর আমার বুক বিদীর্ণ করা হলো এবং তা জমজমের পানি দিয়ে ধৌত করা হলো, তারপর তা যথাস্থানে স্থাপন করা হলো।"
(সহিহ)
।
[মুসলিম] আনাস থেকে বর্ণিত।
১৩১ -
৫৪ - «হে উহুদ, স্থির হও! কেননা তোমার ওপর রয়েছেন একজন নবী, একজন সিদ্দিক এবং দুইজন শহীদ»।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহুল জামিইস সাগীর ওয়া যিয়াদাতুহু
(পৃষ্ঠা: ৮৯)
(صحيح) [خ، م، ت] عن أنس [ت] عن عثمان1 [حم، ع2، حب] عن سهل ابن سعد.
132 - «اثبت حراء! فإنما عليك نبي أو صديق أو شهيد» .
(صحيح)
… [حم، د، ت، هـ] عن سعيد بن زيد [حم] عن أنس وعن بريدة [طب] عن ابن عباس. الصحيحة 857.
133 - 56 - «أثقل الصلاة على المنافقين صلاة العشاء وصلاة الفجر ولو يعلمون ما فيهما لأتوهما ولو حبوا، ولقد هممت أن آمر بالصلاة فتقام ثم آمر رجلا فيصلي بالناس ثم أنطلق معي برجال معهم حزم من حطب إلى قوم لا يشهدون الصلاة فأحرق عليهم بيوتهم بالنار» .
(صحيح)
… [حم، ق، د، هـ] عن أبي هريرة. إرواء الغليل 486.
134 - 57 - «أثقل شيء في الميزان الخلق الحسن» .
(صحيح)
… [حب] عن أبي الدرداء. الصحيحة 876.
135 - 58 - «أثقل شيء في ميزان المؤمن خلق حسن إن الله يبغض الفاحش المتفحش البذي» .
(صحيح)
… [هق] عن أبي الدرداء. الصحيحة 876: خد، ت، حب.
136 - 59 - «اثنان لا تجاوز صلاتهما رءوسهما: عبد آبق من مواليه حتى يرجع وامرأة عصت زوجها حتى ترجع» .
(صحيح)
… [ك] عن ابن عمر. الروض 480، الصحيحة 288.
--------------------------------------------
(সহীহ) [বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী] আনাস (রা.) থেকে [তিরমিযী] উসমান (রা.) থেকে [আহমাদ, আবু ইয়ালা, ইবনে হিব্বান] সাহল ইবনে সা'দ (রা.) থেকে।
১৩২ -
«হে হেরা (পাহাড়), স্থির হও! কারণ তোমার উপরে একজন নবী অথবা একজন সিদ্দিক অথবা একজন শহীদ অবস্থান করছেন»।
(সহীহ) [আহমাদ, আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ] সাঈদ ইবনে যায়েদ (রা.) থেকে [আহমাদ] আনাস ও বুরাইদাহ (রা.) থেকে [তাবারানী] ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে। আস-সহীহাহ ৮৫৭।
১৩৩ -
৫৬ - «মুনাফিকদের জন্য এশা ও ফজরের সালাত অপেক্ষা অধিক ভারী আর কোনো সালাত নেই। তারা যদি জানত এই দুই সালাতে কী (পুরস্কার) রয়েছে, তবে তারা হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তাতে উপস্থিত হতো। আমি সংকল্প করেছিলাম যে, সালাত শুরুর নির্দেশ দিই এবং তা প্রতিষ্ঠিত হোক, তারপর এক ব্যক্তিকে নির্দেশ দিই যাতে সে মানুষের ইমামতি করে। এরপর আমি একদল লোক সাথে নিয়ে বের হই যাদের কাছে কাঠের বোঝা থাকবে, এবং সেই সব লোকেদের কাছে যাই যারা সালাতে উপস্থিত হয়নি এবং তাদের ঘরবাড়ি আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিই»।
(সহীহ) [আহমাদ, বুখারী ও মুসলিম, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ] আবু হুরায়রা (রা.) থেকে। ইরওয়াউল গালীল ৪৮৬।
১৩৪ -
৫৭ - «মিযানে (আমল পাল্লায়) সবচেয়ে ভারী বস্তু হলো উত্তম চরিত্র»।
(সহীহ) [ইবনে হিব্বান] আবু দারদা (রা.) থেকে। আস-সহীহাহ ৮৭৬।
১৩৫ -
৫৮ - «মুমিনের মিযানে সবচেয়ে ভারী বস্তু হলো উত্তম চরিত্র। নিশ্চয়ই আল্লাহ অশ্লীল ও কটুভাষীকে ঘৃণা করেন»।
(সহীহ) [বায়হাকী] আবু দারদা (রা.) থেকে। আস-সহীহাহ ৮৭৬: আদাবুল মুফরাদ, তিরমিযী, ইবনে হিব্বান।
১৩৬ -
59 - «দুই প্রকার ব্যক্তি এমন যাদের সালাত তাদের মাথার উপরে অতিক্রম করে না: এক পলাতক দাস যতক্ষণ না সে তার মনিবদের কাছে ফিরে আসে, এবং সেই নারী যে তার স্বামীর অবাধ্য হয়েছে যতক্ষণ না সে আনুগত্যে ফিরে আসে»।
(সহীহ)
[হাকিম] ইবনে উমর থেকে বর্ণিত। আর-রওদ ৪৮০, আস-সহীহাহ ২৮৮।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহুল জামিইস সাগীর ওয়া যিয়াদাতুহু
(পৃষ্ঠা: ৯০)
137 - «اثنان يعجلهما الله في الدنيا: البغي وعقوق الوالدين» .
(صحيح)
… [تخ، طب] عن أبي بكرة. الصحيحة 1120.
138 - «اثنتان في الناس هما بهم كفر: الطعن في الأنساب والنياحة على الميت» .
صحيح
… [حم، م] عن أبي هريرة. شرح الطحاوية 377 مختصر مسلم55.
139 - «اثنتان يكرههما ابن آدم: يكره الموت والموت خير له من الفتنة، ويكره قلة المال وقلة المال أقل للحساب» .
(صحيح)
… [ص، حم] عن محمود بن لبيد. الصحيحة 813.
140 - «اثنتان تدخلان الجنة: من حفظ ما بين لحييه ورجليه دخل الجنة» .
صحيح [
… ] الخرائطي في مكارم الأخلاق" عن عائشة. الصحيحة
…
141 - 161 - "اجتمع إحدى عشرة امرأة في الجاهلية فتعاقدن أن يتصادقن بينهن ولا يكتمن من أخبار أزواجهن شيئا. فقالت الأولى: زوجي لحم جمل غث على رأس جبل، وعر لا سهل فيرتقى ولا سمين فينتقل. قالت الثانية: زوجي لا أبث خبره إني أخاف أن لا أذره إن أذكره أذكر عجره وبجره. قالت الثالثة: زوجي العشنق إن أنطق أطلق وإن أسكت أعلق. قالت الرابعة: زوجي إن أكل لف وإن شرب اشتف وإن اضطجع التف ولا يولج الكف ليعلم البث.
--------------------------------------------
১৩৭ -
«দুটি অপরাধ এমন যার শাস্তি আল্লাহ দুনিয়াতেই ত্বরান্বিত করেন: জুলুম এবং পিতা-মাতার অবাধ্যতা»।
(সহিহ)
[বুখারি ‘আত-তারিখ’, তাবারানি] আবু বকরা থেকে বর্ণিত। আস-সহিহাহ ১১২০।
১৩৮ -
«মানুষের মধ্যে বিদ্যমান দুটি বিষয় কুফরি হিসেবে গণ্য: বংশমর্যাদা নিয়ে খোটা দেওয়া এবং মৃতের জন্য বিলাপ করা»।
সহিহ
[আহমাদ, মুসলিম] আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত। শারহুত তাহাবিয়্যাহ ৩৭৭, মুখতাসার মুসলিম ৫৫।
১৩৯ -
«আদম সন্তান দুটি বিষয় অপছন্দ করে: সে মৃত্যুকে অপছন্দ করে অথচ ফিতনা অপেক্ষা মৃত্যু তার জন্য উত্তম; এবং সে সম্পদের স্বল্পতাকে অপছন্দ করে অথচ সম্পদের স্বল্পতা হিসাবের জন্য অধিক সহজতর»।
(সহিহ)
[সাঈদ ইবনে মানসুর, আহমাদ] মাহমুদ ইবনে লাবিদ থেকে বর্ণিত। আস-সহিহাহ ৮১৩।
১৪০ -
«দুটি বিষয় জান্নাতে প্রবেশের কারণ: যে ব্যক্তি তার দুই চোয়ালের মধ্যবর্তী অংশ এবং দুই পায়ের মধ্যবর্তী অংশের হেফাজত করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে»।
সহিহ [ আল-খারাইতি ‘মাকারিমুল আখলাক’ গ্রন্থে ] আয়েশা থেকে বর্ণনা করেছেন। আস-সহিহাহ।
১৪১ -
১৬১ - "জাহেলি যুগে এগারোজন নারী একত্রিত হলো। তারা একে অপরের সাথে সত্যবাদিতার সাথে আচরণ করার এবং তাদের স্বামীদের খবরের কোনো কিছুই গোপন না করার অঙ্গীকার করল। প্রথমজন বলল: আমার স্বামী একটি দুর্গম পাহাড়ের চূড়ায় রাখা রোগা উটের গোশতের মতো; যা এমন রুক্ষ যে সেখানে আরোহণ করা সহজ নয়, আর না সেই গোশত চর্বিযুক্ত যে তা কেউ বহন করে নিয়ে আসবে। দ্বিতীয়জন বলল: আমার স্বামীর খবর আমি প্রচার করব না। আমি ভয় পাচ্ছি যে, আমি তা শেষ করতে পারব না। আমি যদি তার কথা উল্লেখ করি, তবে তার ছোট-বড় সকল দোষই আমাকে উল্লেখ করতে হবে। তৃতীয়জন বলল: আমার স্বামী অতি দীর্ঘদেহী; আমি যদি (তার দোষ নিয়ে) কথা বলি তবে তালাকপ্রাপ্তা হব, আর যদি চুপ থাকি তবে (স্ত্রী হিসেবে মর্যাদা না পেয়ে) ঝুলন্ত অবস্থায় পড়ে থাকব। চতুর্থজন বলল: আমার স্বামী যখন আহার করে তখন সব সাবাড় করে দেয়, যখন পান করে তখন পাত্রের শেষ বিন্দু পর্যন্ত শেষ করে ফেলে, আর যখন শোয় তখন নিজে কাপড় জড়িয়ে একা শুয়ে পড়ে; সে আমার দুঃখ-বেদনা জানার জন্য সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দেয় না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহুল জামিইস সাগীর ওয়া যিয়াদাতুহু
(পৃষ্ঠা: ৯১)
قالت الخامسة: زوجي عياياء، طباقاء، كل داء له داء، شجك أو فلك، أو جمع كلا لك.
وقالت السادسة: زوجي كليل تهامة لا حر ولا قر، ولا مخافة ولا سآمة.
وقالت السابعة: زوجي إن دخل فهد وإن خرج أسد ولا يسأل عما عهد.
وقالت الثامنة: زوجي المس مس أرنب والريح ريح زرنب، وأنا أغلبه والناس يغلب.
قالت التاسعة: زوجي رفيع العماد طويل النجاد عظيم الرماد قريب البيت من الناد.
قالت العاشرة: زوجي مالك وما مالك؟ مالك خير من ذلك، له إبل قليلات المسارح كثيرات المبارك، إذا سمعن صوت المزاهر أيقن أنهن هوالك.
قالت الحادية عشرة: زوجي أبو زرع وما أبو زرع؟ أناس من حلي أذني وملأ من شحم عضدي وبجحني فبجحت إلي نفسي، وجدني في أهل غنيمة بشق، فجعلني في أهل صهيل وأطيط ودائس ومنق فعنده أقول فلا أقبح وأرقد فأتصبح، وأشرب فأتقمح أم أبي زرع وما أم أبي زرع؟ عكومها رداح وبيتها فساح، ابن أبي زرع وما ابن أبي زرع؟ مضجعه كمسل شطبة وتشبعه ذراع الجفرة، بنت أبي زرع وما بنت أبي زرع؟ طوع أبيها وطوع أمها وملء كسائها وعطف ردائها وزين أهلها وغيظ جارتها، جارية أبي زرع وما جارية أبي زرع؟ لا تبث حديثنا تبثيثا ولا تنقث ميرتنا تنقيثا ولا تملأ بيتنا تعثيثا، خرج أبو زرع والأوطاب تمخض فمر بامرأة معها ابنان لها كالفهدين يلعبان من تحت خصرها برمانتين، فطلقني ونكحها، فنكحت بعده
পঞ্চম মহিলা বলল: আমার স্বামী অক্ষম এবং নির্বোধ, দুনিয়ার যাবতীয় রোগ তার মধ্যে বিদ্যমান; সে হয় তোমার মাথা ফাটিয়ে দেবে, না হয় হাড় ভেঙে দেবে, অথবা তোমার সাথে উভয়টিই করবে।
ষষ্ঠ মহিলা বলল: আমার স্বামী তিহামার রাতের মতো; না অতি গরম, না অতি ঠাণ্ডা, তার মাঝে কোনো ভয় নেই এবং কোনো বিরক্তিও নেই।
সপ্তম মহিলা বলল: আমার স্বামী ঘরে প্রবেশ করলে চিতার মতো (শান্তভাবে ঘুমিয়ে থাকে) আর বাইরে বের হলে সিংহের মতো (বিক্রমী), আর সে ঘরে যা রেখে যায় সে সম্পর্কে কোনো জিজ্ঞাসাবাদ করে না।
অষ্টম মহিলা বলল: আমার স্বামীর স্পর্শ খরগোশের স্পর্শের মতো নরম এবং তার সুঘ্রাণ যরনব (সুগন্ধি উদ্ভিদ) এর ঘ্রাণের মতো; আমি তার ওপর প্রভাব বিস্তার করি আর সে অন্য মানুষের ওপর প্রভাব বিস্তার করে।
নবম মহিলা বলল: আমার স্বামীর স্তম্ভ সুউচ্চ (মর্যাদাবান), তার তলোয়ারের বেল্ট দীর্ঘ (দীর্ঘদেহী), তার ছাইয়ের স্তূপ বিশাল (অধিক মেহমানদারি ও রান্নার কারণে) এবং তার ঘর মজলিসের খুব নিকটে।
দশম মহিলা বলল: আমার স্বামী মালিক, আর মালিক কে? মালিক এসব প্রশংসার চেয়েও শ্রেষ্ঠ। তার এমন অনেক উট রয়েছে যেগুলো বাড়িতেই বেশি অবস্থান করে এবং চারণভূমিতে কম যায়। যখন উটগুলো বাদ্যযন্ত্রের আওয়াজ শোনে, তখন তারা নিশ্চিত হয়ে যায় যে মেহমান আপ্যায়নের জন্য তারা জবাই হতে যাচ্ছে।
একাদশ মহিলা বলল: আমার স্বামী আবু যার, আর আবু যার কে? সে আমার কানকে অলঙ্কারে সজ্জিত করেছে এবং আমার বাহু চর্বিতে হৃষ্টপুষ্ট করেছে। সে আমাকে আনন্দিত করেছে ফলে আমি নিজেও আনন্দিত হয়েছি। সে আমাকে একটি সংকীর্ণ পাহাড়ি এলাকায় সামান্য বকরির পালের মধ্যে পেয়েছিল, তারপর সে আমাকে ঘোড়া ও উটের মালিক, শস্য মাড়াইকারী ও ঝাড়াইকারী উচ্চবিত্তদের অন্তর্ভুক্ত করেছে। তার কাছে আমি কথা বললে আমাকে মন্দ বলা হয় না, আমি ভোর পর্যন্ত নিশ্চিন্তে ঘুমাই এবং তৃপ্তি সহকারে পান করি। আবু যারের মা সম্পর্কে কী বলব? তার খাদ্যভাণ্ডার বা বস্তাগুলো বিশাল এবং ঘর অতি প্রশস্ত। আবু যারের ছেলে সম্পর্কে কী বলব? তার শয্যা খাপ থেকে বের করা সরু ডাল বা তলোয়ারের মতো এবং একটি মেষশাবকের পা তার ক্ষুধা নিবারণ করে। আবু যারের মেয়ে সম্পর্কে কী বলব? সে তার বাবার অনুগত এবং মায়ের বাধ্য, সে তার পোশাকে পরিপূর্ণ (সুশ্রী) এবং তার সতিনের জন্য ঈর্ষার কারণ। আবু যারের দাসী সম্পর্কে কী বলব? সে আমাদের গোপনীয় কথা ছড়িয়ে দেয় না, আমাদের খাবার তছরুপ করে নষ্ট করে না এবং আমাদের ঘর ময়লা-আবর্জনা দিয়ে পূর্ণ করে না। একদিন আবু যার বের হলেন যখন পাত্রে দুধ মন্থন করা হচ্ছিল, পথে তিনি এক মহিলার দেখা পেলেন যার সাথে চিতার মতো তার দুই সন্তান ছিল, যারা তার কোমরের নিচ দিয়ে দুটি ডালিমের মতো (স্তন) নিয়ে খেলা করছিল। এরপর আবু যার আমাকে তালাক দিয়ে তাকে বিয়ে করলেন। এরপর আমি অন্য একজনকে বিয়ে করলাম।