(খণ্ড: ১)
নূরুল লুমআ ফি খাসায়িসিল জুমুআ
(পৃষ্ঠা: -)
نور اللمعة في خصائص الجمعة القسم: مسائل فقهية
الكتاب: اللمعة في خصائص الجمعة
المؤلف: عبد الرحمن بن أبي بكر، جلال الدين السيوطي (ت 911هـ)
الناشر: دار الكتب العلمية
الطبعة: الطبعة الثانية 1407هـ - 1987م
عدد الصفحات: 192
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
নূরুল লুমআহ ফী খাসাইসিল জুমুআহ বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
গ্রন্থ: আল-লুমআহ ফী খাসাইসিল জুমুআহ
লেখক: আবদুর রহমান বিন আবু বকর، জালালুদ্দিন আস-সুয়ূতী (মৃত্যু ৯১১ হিজরী)
প্রকাশক: দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ
সংস্করণ: দ্বিতীয় সংস্করণ ১৪০৭ হিজরী - ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৯২
[গ্রন্থের নম্বরবিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
নূরুল লুমআ ফি খাসায়িসিল জুমুআ
(পৃষ্ঠা: ৫)
مقدمة…بسم الله الرحمن الرحيم:
الحمد لله الذي خص هذه الأمة المحمدية، بما ادخر لها من الفضائل السنية، والصلاة والسلام على سيدنا محمد خير البرية.
وبعد.
فقد ذكر الأستاذ شمس الدين ابن القيم في كتاب الهدي ليوم الجمعة خصوصيات بضعا وعشرين1، خصوصية. وفاته أضعاف ما ذكر، وقد رأيت استيعابها في هذه الكراسة منبها على أدلتها على سبيل الإيجاز، وتتبعتها فتحصلت منها على مائة خصوصية، والله الموفق.
--------------------------------------------
ভূমিকা…পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে:
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি এই উম্মতে মুহাম্মদীকে তাঁর নিকট গচ্ছিত সুউচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন শ্রেষ্ঠত্বসমূহ দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন; এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা সৃষ্টির সেরা মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর।
অতঃপর—
উস্তাদ শামসুদ্দিন ইবনুল কাইয়্যুম জুমার দিনের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে তাঁর 'হাদই' গ্রন্থে বিশের অধিক১ বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করেছেন। তিনি যা উল্লেখ করেছেন, প্রকৃতপক্ষে তার বাইরেও আরও বহু গুণ বৈশিষ্ট্য রয়েছে। আমি সংক্ষিপ্তভাবে সেগুলোর দলিলসমূহ (أدلتها) নির্দেশ করার মাধ্যমে এই পুস্তিকায় সেগুলোকে পূর্ণাঙ্গভাবে সংকলন করার ইচ্ছা পোষণ করেছি। আমি সেগুলো অনুসন্ধান করেছি এবং তা থেকে একশতটি বৈশিষ্ট্য লাভ করেছি; আর আল্লাহই তাওফিকদাতা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নূরুল লুমআ ফি খাসায়িসিল জুমুআ
(পৃষ্ঠা: ৭)
الخصوصية الأولى: أنه عيد هذه الأمة1- أخرج ابن ماجه عن ابن عباس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إن هذا يوم عيد، جعله الله للمسلمين، فمن جاء إلى الجمعة فليغتسل، وإن كان طيب فليمس منه، وعليكم بالسواك".
2- وأخرج الطبراني في الأوسط عن أبي هريرة أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال في جمعة من الجمع: "معاشر المسلمين إن هذا يوم جعله الله لكم عيدا، فاغتسلوا وعليكم بالسواك".
--------------------------------------------
প্রথম বৈশিষ্ট্য: এটি এই উম্মতের জন্য ঈদের দিন১- ইবনে মাজাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: "নিশ্চয় এটি ঈদের দিন, আল্লাহ তাআলা এটি মুসলিমদের জন্য নির্ধারণ করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি জুমার সালাতে আসবে সে যেন গোসল করে, আর যদি সুগন্ধি থাকে তবে যেন তা থেকে মাখে এবং তোমাদের জন্য মিসওয়াক করা আবশ্যক।"
২- তাবারানি আল-আওসাতে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) জুমার দিনসমূহের কোনো এক জুমায় ইরশাদ করেছেন: "হে মুসলিম সম্প্রদায়, নিশ্চয় এটি এমন একটি দিন যা আল্লাহ তোমাদের জন্য ঈদ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, সুতরাং তোমরা গোসল করো এবং তোমাদের জন্য মিসওয়াক করা আবশ্যক।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নূরুল লুমআ ফি খাসায়িসিল জুমুআ
(পৃষ্ঠা: ৮)
الخصوصية الثانية: أنه يكره صومه منفردا3- لحديث الشيخين، عن أبي هريرة رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم، قال:
--------------------------------------------
দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য: এটি (জুমার দিন) এককভাবে রোজা রাখা মাকরূহ (يكره)৩- শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এর বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নূরুল লুমআ ফি খাসায়িসিল জুমুআ
(পৃষ্ঠা: ৯)
"لا يصومن أحدكم يوم الجمعة إلا أن يصوم قبله أو بعده".
4- وأخرجا عن جابر قال: نهى النبي صلى الله عليه وسلم عن صوم يوم الجمعة.
5- وأخرج البخاري عن جويرية أم المؤمنين رضي الله عنها أن
--------------------------------------------
"তোমাদের কেউ যেন কেবল জুমার দিনে রোজা না রাখে, যদি না সে তার আগের দিন বা পরের দিন রোজা রাখে।"
৪- এবং তাঁরা (বুখারি ও মুসলিম) জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমার দিনে রোজা রাখতে নিষেধ করেছেন।
৫- এবং ইমাম বুখারি উম্মুল মুমিনিন জুওয়াইরিয়া (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নূরুল লুমআ ফি খাসায়িসিল জুমুআ
(পৃষ্ঠা: ১০)
..............................................................................
--------------------------------------------
..............................................................................
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নূরুল লুমআ ফি খাসায়িসিল জুমুআ
(পৃষ্ঠা: ১১)
النبي صلى الله عليه وسلم دخل عليها يوم الجمعة وهي صائمة، فقال: "أصمت، فقالت: لا، قال: أتريدين أن تصومي غدا؟ قالت: لا. قال: فافطري".
6- وأخرج الحاكم عن جنادة بن أبي أمية الأزدي، قال: دخلت على رسول الله صلى الله عليه وسلم في نفر من الأزد يوم الجمعة، فدعانا إلى طعام بين يديه فقلنا: إنا صيام، قال: "أصمتم أمس قلنا: لا، قال: أفتصومون غدا قلنا: لا، قال: فافطروا ثم قال: لا تصوموا يوم الجمعة منفردا".
7- وأخرج مسلم عن أبي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم، قال: "لا تخصوا ليلة الجمعة بقيام من بين الليالي، ولا تخصوا يوم الجمعة بصيام من بين الأيام، إلا أن يكون في صوم يصومه أحدكم".
--------------------------------------------
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জুমার দিনে তাঁর (জুয়াইরিয়া রা.) নিকট প্রবেশ করলেন, তখন তিনি রোজা ছিলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "তুমি কি গতকাল রোজা রেখেছিলে?" তিনি বললেন: "না।" তিনি বললেন: "তুমি কি আগামীকাল রোজা রাখার ইচ্ছা রাখো?" তিনি বললেন: "না।" তিনি বললেন: "তাহলে তুমি রোজা ভেঙে ফেলো।"
৬- এবং হাকিম জুনাহদা ইবনে আবি উমাইয়া আল-আজদি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আজদ গোত্রের একদল লোকের সাথে জুমার দিনে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট প্রবেশ করলাম। তিনি আমাদের তাঁর সামনে থাকা খাবারের প্রতি আহ্বান জানালেন। আমরা বললাম: আমরা রোজা রেখেছি। তিনি বললেন: "তোমরা কি গতকাল রোজা রেখেছিলে?" আমরা বললাম: না। তিনি বললেন: "তোমরা কি আগামীকাল রোজা রাখবে?" আমরা বললাম: না। তিনি বললেন: "তাহলে তোমরা রোজা ভেঙে ফেলো।" অতঃপর তিনি বললেন: "তোমরা এককভাবে জুমার দিনে রোজা রেখো না।"
৭- এবং মুসলিম আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: "তোমরা অন্য রাতগুলোর মধ্য থেকে জুমার রাতকে ইবাদতের জন্য নির্দিষ্ট করো না এবং অন্য দিনগুলোর মধ্য থেকে জুমার দিনকে রোজার জন্য নির্দিষ্ট করো না, তবে তোমাদের কারো অভ্যস্ত রোজার মধ্যে পড়লে তা ভিন্ন কথা।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নূরুল লুমআ ফি খাসায়িসিল জুমুআ
(পৃষ্ঠা: ১২)
قال النووي: الصحيح من مذهبنا وبه قطع الجمهور كراهة صوم يوم الجمعة منفردا، وفي وجه أنه لا يكره إلا لمن لو صامه منعه من العبادة وأضعفه لحديث:
8- أحمد والترمذي والنسائي وغيرهم عن ابن مسعود أن النبي صلى الله عليه وسلم قلما كان يفطر يوم الجمعة.
وأجاب الأول عنه بأنه صلى الله عليه وسلم كان يصوم الخميس، فوصل الجمعة به.
واختلف في الحكمة التي كره الصوم لأجلها، والصحيح كما قال النووي أنه كره؛ لأنه يوم شرع فيه عبادات كثيرة من الذكر والدعاء والقراءة والصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم، فاستحب فطره ليكون أعون على أداء هذه الوظائف بنشاط من غير ملل ولا سآمة، وهو نظير الحاج بعرفات، فإن الأولى له الفطر لهذه الحكمة.
قال: فإن قيل لو كان كذلك لم تزل الكراهة بصوم قبله أو بعده لبقاء المعنى المذكور، فالجواب أنه يحصل له بفضيلة الصوم الذي قبله أو بعده ما يجبر ما قد يحصل من فتور، أو تقصير في وظائف يوم الجمعة بسبب صومه.
وقيل الحكمة خوف المبالغة في تعظيمه بحيث يفتتن به كما افتتن بالسبت، قال: وهذا باطل منتقض بصلاة الجمعة، وسائر ما شرع فيه من أنواع الشعائر، والتعظيم مما ليس في غيره.
وقيل الحكمة خوف اعتقاد وجوبه. قال: وهذا منتقض بغيره من الأيام التي ندب صومها، وهذا ما ذكره النووي، وحكى غيره قولا آخر أن علته كونه عيدا، والعيد لا يصام.
--------------------------------------------
ইমাম নববী বলেছেন: আমাদের মাজহাবের সঠিক (الصحيح) এবং জমহুর (الجمهور) ওলামায়ে কেরাম কর্তৃক সুনিশ্চিত মত হলো, এককভাবে জুমার দিনে রোজা রাখা মাকরুহ (كراهة)। একটি মত এমনও আছে যে, এটি কেবল তখনই মাকরুহ (كراهة) হবে যখন রোজা তাকে ইবাদত থেকে বাধাগ্রস্ত করে এবং দুর্বল করে দেয়। এর সপক্ষে দলিল হলো সেই হাদিস:
৮- আহমাদ, তিরমিজি, নাসাঈ এবং অন্যান্যরা ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সা.) জুমার দিনে খুব কমই রোজা ভঙ্গ করতেন।
প্রথম পক্ষ (যারা মাকরুহ বলেন) এর জবাবে বলেছেন যে, নবী (সা.) বৃহস্পতিবার রোজা রাখতেন, ফলে তিনি এর সাথে জুমার দিনকেও মিলিয়ে নিতেন।
যে হিকমতের (الحكمة) কারণে এই রোজা মাকরুহ (كراهة) করা হয়েছে সে বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। ইমাম নববী যেমনটি বলেছেন, সঠিক (الصحيح) কথা হলো এটি মাকরুহ (كراهة) হওয়ার কারণ হলো—এটি এমন এক দিন যাতে জিকির, দোয়া, তিলাওয়াত এবং নবী (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠের মতো অনেক ইবাদত বিধিবদ্ধ করা হয়েছে। তাই এই দিনে রোজা না রাখা মুস্তাহাব (استحب), যাতে কোনো প্রকার ক্লান্তি বা অবসাদ ছাড়াই প্রফুল্লতার সাথে এই আমলগুলো পালন করতে অধিকতর সহায়ক হয়। এটি আরাফাতের ময়দানে অবস্থানকারী হাজি সাহেবের সদৃশ, যার জন্য এই হিকমতের (الحكمة) কারণেই রোজা না রাখা উত্তম।
তিনি বলেন: যদি প্রশ্ন করা হয় যে, বিষয়টি যদি এমনই হয় তবে আগের বা পরের দিন রোজা রাখলেও তো মাকরুহ (كراهة) ভাব দূর হওয়ার কথা নয়, কারণ উল্লিখিত কারণটি বিদ্যমান থাকে। এর উত্তর হলো, আগের বা পরের দিন রোজা রাখার ফজিলতের কারণে জুমার দিনের আমলসমূহে রোজার ফলে যে ক্লান্তি বা ত্রুটি দেখা দিতে পারে, তার ক্ষতিপূরণ হয়ে যায়।
কেউ কেউ বলেন, এর হিকমত (الحكمة) হলো এই দিনটিকে সম্মান প্রদর্শনে অতিরঞ্জনের ভয়, যাতে মানুষ এতে ফেতনায় পড়ে না যায় যেমনটি শনিবারকে নিয়ে অতিরঞ্জন করা হয়েছিল। তিনি (নববী) বলেন: এই মতটি বাতিল (باطل) এবং জুমার নামাজ ও অন্যান্য বিধিবদ্ধ নিদর্শন ও সম্মান প্রদর্শনের বিধানের মাধ্যমে এটি খন্ডিত হয়ে যায়, যা অন্য কোনো দিনে নেই।
আবার বলা হয়েছে যে, এর হিকমত (الحكمة) হলো এই রোজা ওয়াজিব (وجوبه) হওয়ার বিশ্বাসের আশঙ্কা। তিনি (নববী) বলেন: এটি অন্যান্য দিনের রোজা দ্বারা খন্ডিত হয়ে যায় যে দিনগুলোতে রোজা রাখা মুস্তাহাব (ندب)। এটিই ইমাম নববী উল্লেখ করেছেন। তবে অন্যরা ভিন্ন একটি মত বর্ণনা করেছেন যে, এর কারণ হলো দিনটি একটি ঈদ (عيدا), আর ঈদের দিনে রোজা রাখা যায় না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নূরুল লুমআ ফি খাসায়িসিল জুমুআ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
9- واختاره ابن حجر وأيده بحديث الحاكم:
عن أبي هريرة مرفوعا، يوم الجمعة يوم عيد، فلا تجعلوا يوم عيدكم يوم صيامكم إلا أن تصوموا قبله أو بعده.
10- وروى ابن أبي شيبة عن علي قال: من كان منكم متطوعا من الشهر، فليصم يوم الخميس ولا يصوم يوم الجمعة، فإنه يوم طعام وشراب وذكر.
وقال آخرون: بل الحكمة مخالفة اليهود، فإنهم يصومون يوم عيدهم، أي يفردونه بالصوم، فنهى عن التشبه بهم، كما خولفوا في يوم عاشوراء، بصيام يوم قبله أو بعده، وهذا القول هو المختار عندي؛ لأنه لا ينتقض بشيء.
--------------------------------------------
9- ইবনে হাজার এটিকেই পছন্দ করেছেন এবং হাকিমের একটি হাদিস দ্বারা একে সমর্থন করেছেন:
আবু হুরায়রা থেকে মারফু (مرفوع) সূত্রে বর্ণিত, জুমার দিন হলো ঈদের দিন, সুতরাং তোমরা তোমাদের ঈদের দিনকে রোযার দিনে পরিণত করো না; তবে যদি তার আগে বা পরে রোযা রাখো (তবে ভিন্ন কথা)।
10- ইবনে আবি শাইবা আলি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি মাসে নফল রোযা রাখতে ইচ্ছুক, সে যেন বৃহস্পতিবার রোযা রাখে এবং জুমার দিন রোযা না রাখে; কেননা তা হলো পানাহার ও জিকিরের দিন।
অন্যান্য আলিমগণ বলেছেন: বরং এর অন্তর্নিহিত হিকমত হলো ইহুদিদের বিরোধিতা করা, কারণ তারা তাদের উৎসবের দিনে রোযা রাখে, অর্থাৎ তারা কেবল সেই দিনটিকেই রোযার জন্য নির্দিষ্ট করে নেয়; ফলে তাদের সাদৃশ্য অবলম্বন করতে নিষেধ করা হয়েছে, যেমনটি আশুরার দিনে তাদের বিরোধিতা করা হয়েছে তার আগে বা পরে একদিন রোযা রাখার মাধ্যমে। আর এই মতটিই আমার নিকট অগ্রগণ্য; কারণ এটি কোনো কিছুর দ্বারা খণ্ডিত হয় না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নূরুল লুমআ ফি খাসায়িসিল জুমুআ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الخصوصية الثالثة: أنه يكره تخصيص ليلته بالقيام11- للحديث السابق، لكن أخرج الخطيب في الرواية عن مالك من طريق إسماعيل بن أبي أويس عن زوجته بنت مالك بن أنس أن أباها مالكا كان يحيي ليلة الجمعة.
--------------------------------------------
তৃতীয় বৈশিষ্ট্য: জুমার রাতকে ইবাদতের (قيام) জন্য নির্দিষ্ট করা অপছন্দীয় (يكره)১১- পূর্বোক্ত হাদিসের কারণে; তবে খতিব আল-বাগদাদি মালেক থেকে বর্ণিত বর্ণনায় ইসমাইল ইবনে আবি উওয়াইসের সূত্রে তার স্ত্রী বিনতে মালেক ইবনে আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তার পিতা মালেক জুমার রাত জেগে ইবাদত করতেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নূরুল লুমআ ফি খাসায়িসিল জুমুআ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
الخصوصية الرابعة: قراءة ألم تنزيل وهل أتى على الإنسان في صبحها12- أخرج الشيخان عن أبي هريرة، قال: كان النبي صلى الله عليه وسلم يقرأ يوم الجمعة في صلاة الفجر ألم تنزيل السجدة، وهل أتى على الإنسان.
--------------------------------------------
চতুর্থ বৈশিষ্ট্য: জুমার দিন ফজরের সালাতে সূরা আস-সাজদাহ এবং সূরা আল-ইনসান পাঠ করা১২- শাইখাইন আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী (সা.) জুমার দিন ফজরের সালাতে ‘আলিফ-লাম-মীম তানজিল’ (সূরা আস-সাজদাহ) এবং ‘হাল আতা আলাল ইনসান’ (সূরা আল-ইনসান) পাঠ করতেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নূরুল লুমআ ফি খাসায়িসিল জুমুআ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
........................................................................................
--------------------------------------------
........................................................................................
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নূরুল লুমআ ফি খাসায়িসিল জুমুআ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
13- وفي الباب عن ابن عباس، وابن مسعود وعلي وغيرهم ولفظ ابن مسعود عند الطبراني يديم ذلك.
قيل: والحكمة من قراءتهما الإشارة على ما فيهما من ذكر خلق آدم، وأحوال يوم القيامة؛ لأن ذلك كان ويقع يوم الجمعة ذكره ابن دحية، وقال غيره بل قصد السجود الزائد.
14- وأخرج ابن أبي شيبة عن ابراهيم النخعي أنه قال: يستحب أن يقرأ في صبح يوم الجمعة بسورة فيها سجدة.
15- وأخرج أيضا عنه أنه قرأ سورة مريم.
16- وأخرج ابن عون قال: كانوا يقرأون في الصبح يوم الجمعة بسورة فيها سجدة.
--------------------------------------------
১৩- এবং এ বিষয়ে ইবনে আব্বাস, ইবনে মাসউদ, আলী ও অন্যদের থেকে বর্ণনা রয়েছে। তাবারানির নিকট ইবনে মাসউদের বর্ণিত শব্দ হলো: তিনি তা সর্বদা পালন করতেন।
বলা হয়েছে: এই সূরা দুটি পাঠ করার হিকমত হলো এতে আদমের সৃষ্টি এবং কিয়ামত দিবসের অবস্থার যে আলোচনা রয়েছে তার প্রতি ইঙ্গিত করা; কারণ তা জুমার দিনেই সংঘটিত হয়েছিল এবং হবে। এটি ইবনে দাহইয়া উল্লেখ করেছেন। অন্য গবেষকগণ বলেছেন, বরং অতিরিক্ত সিজদা (سجدة) করাই এর উদ্দেশ্য।
১৪- ইবনে আবি শাইবাহ ইবরাহিম নাখয়ি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: জুমার দিনের ফজরের নামাজে এমন একটি সূরা পাঠ করা মুস্তাহাব (مستحب) যাতে সিজদা (سجدة) রয়েছে।
১৫- তাঁর থেকেই আরও বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি সূরা মারয়াম পাঠ করেছিলেন।
১৬- ইবনে আউন বর্ণনা করেছেন, তাঁরা জুমার দিনের ফজরের নামাজে এমন সূরা পাঠ করতেন যাতে সিজদা (سجدة) রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নূরুল লুমআ ফি খাসায়িসিল জুমুআ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
الخصوصية الخامسة: أن صلاة أفضل الصلوات عند الله…الخصوصية الخامسة: أن صلاة الصبح أفضل الصلوات عند الله
17- أخرج سعيد بن منصور في سننه عن ابن عمر أنه قعد جمران في صلاة الصبح، فلما جاء قال: ما شغلك عن هذه الصلاة أما علمت أن أوجه الصلاة عند الله غداة الجمعة من يوم الجمعة في جماعة المسلمين.
18- وأخرجه البيهقي في الشعب مصرحا برفعه بلفظ: أن أفضل الصلاة عند الله صلاة الصبح يوم الجمعة في جماعة.
--------------------------------------------
পঞ্চম বৈশিষ্ট্য: এটি আল্লাহর নিকট শ্রেষ্ঠ নামাজ…পঞ্চম বৈশিষ্ট্য: ফজর নামাজ আল্লাহর নিকট শ্রেষ্ঠ নামাজ।
17- সাঈদ ইবনে মানসুর তাঁর সুনান গ্রন্থে ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি ফজরের নামাজের সময় জমরান নামক স্থানে (অথবা জমরান অবস্থায়) বসে ছিলেন। যখন তিনি আসলেন, তখন (ইবনে উমর) বললেন: আপনাকে এই নামাজ থেকে কিসে বিরত রাখল? আপনি কি জানেন না যে, আল্লাহর নিকট সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ নামাজ হলো জুমার দিনের ফজরের নামাজ, যা মুসলিমদের জামাতের (جماعة) সাথে আদায় করা হয়।
18- এবং ইমাম বায়হাকি শুআবুল ঈমান গ্রন্থে এটি স্পষ্টভাবে নবীজির সাথে সম্পর্কিত (مرفوع) হওয়ার বিষয় উল্লেখ করে এই পাঠে বর্ণনা করেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট শ্রেষ্ঠ নামাজ হলো জুমার দিনের ফজর নামাজ জামাতের (جماعة) সাথে আদায় করা।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নূরুল লুমআ ফি খাসায়িসিল জুমুআ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
19- وأخرج البزار والطبراني عن أبي عبيدة ابن الجراح، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "ما من الصلوات صلاة أفضل من صلاة الفجر يوم الجمعة في الجماعة، وما أحسب من شهدها منكم إلا مغفورا له".
--------------------------------------------
১৯- আল-বাজার এবং আত-তাবারানি আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "সালাতসমূহের মধ্যে জুমার দিনে জামাতের সাথে ফজরের সালাতের চেয়ে অধিক শ্রেষ্ঠ কোনো সালাত নেই এবং আমি মনে করি তোমাদের মধ্যে যারা এতে উপস্থিত হবে, তারা ক্ষমা লাভ করবে।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নূরুল লুমআ ফি খাসায়িসিল জুমুআ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الخصوصية السادسة: سادة الجمعة…الخصوصية السادسة: صلاة الجمعة
واختصاصها بركعتين، وهي في سائر الأيام أربع.
ষষ্ঠ বৈশিষ্ট্য: জুমার শ্রেষ্ঠত্ব…ষষ্ঠ বৈশিষ্ট্য: জুমার নামাজ
এবং একে দুই রাকাতের জন্য সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে, যেখানে অন্যান্য দিনগুলোতে (জোহরের নামাজ) চার রাকাত।
(খণ্ড: ১)
নূরুল লুমআ ফি খাসায়িসিল জুমুআ
(পৃষ্ঠা: ২০)
الخصوصية السابعة: أنها تعدل حجة20- أخرج حميد بن زنجويه في فضائل الأعمال، والحافظ ابن أبي أسامة في مسنده عن ابن عباس، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "الجمعة حج المساكين".
21- وأخرج ابن زنجويه عن سعيد بن المسيب، قال: "للجمعة أحب إلي من حجة تطوع".
--------------------------------------------
সপ্তম বৈশিষ্ট্য: এটি হজের সমতুল্য২০- হুমাইদ ইবনে জানজুয়াহ ফাদায়িলুল আমাল গ্রন্থে এবং হাফেজ ইবনে আবি উসামা তার মুসনাদ-এ ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "জুমুআ হলো অভাবগ্রস্তদের হজ।"
২১- ইবনে জানজুয়াহ সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "জুমুআর নামাজ আমার কাছে একটি নফল হজের চেয়েও অধিক প্রিয়।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নূরুল লুমআ ফি খাসায়িসিল জুমুআ
(পৃষ্ঠা: ২০)
الخصوصية الثامنة: الجهر فيهاوصلوات النهار سرية.
অষ্টম বৈশিষ্ট্য: এতে উচ্চস্বরে কিরাত পাঠ (الجهر) করাএবং দিনের বেলাকার নামাজসমূহ নিঃশব্দে পাঠকৃত (سرية)।
(খণ্ড: ১)
নূরুল লুমআ ফি খাসায়িসিল জুমুআ
(পৃষ্ঠা: ২০)
الخصوصية التاسعة: قراءة الجمعة والمنافقين فيها22- أخرج مسلم عن أبي هريرة، قال: سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقرأ في الجمعة بسورة الجمعة، وإذا جاءك المنافقون.
23- وأخرجه الطبراني في الأوسط بلفظ بالجمعة يحرض بها المؤمنين، وفي الثانية بسورة المنافقين يفزع بها المنافقين.
--------------------------------------------
নবম বৈশিষ্ট্য: জুমার নামাজে সূরা আল-জুমুআ এবং সূরা আল-মুনাফিকুন পাঠ করা২২- ইমাম মুসলিম আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জুমার নামাজে সূরা আল-জুমুআ এবং ‘ইজা জাআকাল মুনাফিকুন’ (সূরা আল-মুনাফিকুন) পাঠ করতে শুনেছি।
২৩- ইমাম তাবারানি ‘আল-আওসাত’ গ্রন্থে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন যে, জুমার প্রথম রাকাতে সূরা আল-জুমুআ পাঠ করতেন যার মাধ্যমে মুমিনদের উৎসাহিত করতেন এবং দ্বিতীয় রাকাতে সূরা আল-মুনাফিকুন পাঠ করতেন যার মাধ্যমে মুনাফিকদের আতঙ্কিত বা সতর্ক করতেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নূরুল লুমআ ফি খাসায়িসিল জুমুআ
(পৃষ্ঠা: ২১)
الخصوصية العاشرة والحادية عشرة والثانية عشرة والثالثة عشرة اختصاصها بالجماعة، وبأربعين وبمكان واحد من البلد، وبإذن السلطان أو اشتراطا كما هو مقرر في كتب الفقه:24- وأقوى ما رأيته للاختصاص بأربعين ما أخرجه الدارقطني في سننه عن جابر بن عبد الله رضي الله عنه، قال: قضت السنة أن في كل أربعين فما فوق ذلك جمعة.
--------------------------------------------
দশম, একাদশ, দ্বাদশ এবং ত্রয়োদশ বৈশিষ্ট্য: এটি (জুমা) জামাতের সাথে হওয়া, চল্লিশ জন হওয়া, শহরের নির্দিষ্ট একটি স্থানে হওয়া এবং সুলতানের অনুমতি বা শর্ত সাপেক্ষে হওয়া, যেমনটি ফিকহ শাস্ত্রের কিতাবসমূহে সুনির্ধারিত হয়েছে:২৪- চল্লিশ জনের শর্তের সপক্ষে আমি যা দেখেছি তার মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী হলো যা ইমাম দারা কুতনী তার সুনান গ্রন্থে জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: সুন্নাহ সাব্যস্ত করেছে যে, প্রতি চল্লিশ জন বা তার অধিক লোকের উপস্থিতিতে জুমা অনুষ্ঠিত হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নূরুল লুমআ ফি খাসায়িসিল জুমুআ
(পৃষ্ঠা: ২২)
الخصوصية الرابعة عشرة: اختصاصها بارادة تحريق من مختلف عنها…الخصوصية الرابعة عشرة: اختصاصها بإرادة تحريق من تخلف عنها
25- أخرج الحاكم، وقال: صحيح على شرط الشيخين عن ابن مسعود رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم، قال لقوم يتخلفون عن الجمعة: "لقد هممت أن آمر رجلا يصلي بالناس، ثم أحرق على قوم يتخلفون عن الجمعة بيوتهم".
--------------------------------------------
চতুর্দশ বৈশিষ্ট্য: যারা জুমা থেকে পেছনে পড়ে থাকে (অনুপস্থিত থাকে) তাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করার মাধ্যমে একে বিশেষায়িত করা হয়েছে...চতুর্দশ বৈশিষ্ট্য: যারা এটি থেকে পেছনে পড়ে থাকে তাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করার মাধ্যমে একে বিশেষায়িত করা হয়েছে।
২৫- আল-হাকিম বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: এটি দুই শাইখের শর্ত (شرط) অনুযায়ী সহিহ (صحيح)। ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সা.) জুমার নামাজ থেকে যারা পেছনে পড়ে থাকে তাদের সম্পর্কে বলেছেন: "আমি মনস্থ করেছি যে কোনো ব্যক্তিকে নির্দেশ দিই যেন সে লোকদের নামাজ পড়ায়, এরপর যারা জুমা থেকে পেছনে পড়ে থাকে তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিই।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নূরুল লুমআ ফি খাসায়িসিল জুমুআ
(পৃষ্ঠা: ২২)
الخصوصية الخامسة عشرة: الطبع على قلب من تركها26- أخرج مسلم عن ابن عمر وأبي هريرة، قالا: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "لينتهين أقوام عن ودعهم الجمعات، أو ليختمن الله على قلوبهم ثم ليكونن من الغافلين".
--------------------------------------------
পঞ্চদশ বৈশিষ্ট্য: যারা জুমা ত্যাগ করে তাদের অন্তরে মোহর (الطبع) মেরে দেওয়া২৬- মুসলিম ইবনে উমর এবং আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "লোকদের অবশ্যই জুমার সালাত বর্জন করা থেকে বিরত থাকতে হবে, অন্যথায় আল্লাহ অবশ্যই তাদের অন্তরে মোহর মেরে দেবেন, অতঃপর তারা অবশ্যই গাফেলদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নূরুল লুমআ ফি খাসায়িসিল জুমুআ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
27- وأخرج أبو داود والترمذي، وحسنه والحاكم وصححه، وابن ماجه عن أبي الجعد الضمري أن رسول الله صلى الله عليه وسلم، قال: "من ترك ثلاث جمع تهاونا بها طبع الله على قلبه".
28- وأخرج الحاكم وابن ماجه، عن جابر بن عبد الله أن رسول الله صلى الله عليه وسلم، قال: "من ترك الجمعة ثلاثا من غير ضرورة طبع الله على قلبه".
--------------------------------------------
২৭- আবু দাউদ ও তিরমিজি বর্ণনা করেছেন—এবং তিনি এটিকে উত্তম (حسن) বলেছেন—এবং আল-হাকিম বর্ণনা করেছেন ও একে বিশুদ্ধ (صححه) বলেছেন, আর ইবনে মাজাহ আবুল জাদ আদ-দামরি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি অবহেলা বশত তিনটি জুমার নামাজ পরিত্যাগ করবে, আল্লাহ তার অন্তরে মোহর মেরে দেবেন।"
২৮- আল-হাকিম ও ইবনে মাজাহ জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো অনিবার্য কারণ ছাড়াই তিনবার জুমার নামাজ পরিত্যাগ করবে, আল্লাহ তার অন্তরে মোহর মেরে দেবেন।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নূরুল লুমআ ফি খাসায়িসিল জুমুআ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
29- وأخرج سعيد بن منصور عن أبي هريرة، قال: من ترك ثلاث جمع من غير علة طبع الله على قلبه، وهو منافق.
30- وأخرج عن ابن عمر قال: من ترك ثلاث جمع متعمدا من غير علة ختم الله على قلبه بخاتم النفاق.
31- وأخرج الأصبهاني في الترغيب عن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "من ترك الجمعة من غير عذر لم يكن لها كفارة دون يوم القيامة".
32- وأخرج عن سمرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "احضروا لجمعة وادانوا من الإمام، فإن الرجل يتخلف عن الجمعة، فيتخلف عن الجنة وأنه لمن أهلها".
--------------------------------------------
29- সাঈদ ইবনে মনসুর আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যে ব্যক্তি কোনো ওজর ব্যতীত তিন জুমুআ বর্জন করবে, আল্লাহ তার অন্তরে মোহর মেরে দেবেন এবং সে মুনাফিক হিসেবে গণ্য হবে।
30- তিনি ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যে ব্যক্তি কোনো ওজর ব্যতীত ইচ্ছাকৃতভাবে তিন জুমুআ বর্জন করবে, আল্লাহ নিফাকের মোহর দ্বারা তার অন্তরে মোহর মেরে দেবেন।
31- আল-আসবাহানি ‘আত-তারগিব’-এ আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো ওজর ব্যতীত জুমুআ বর্জন করবে, কিয়ামত দিবস ছাড়া এর কোনো কাফফারা নেই।"
32- তিনি সামুরা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "তোমরা জুমুআয় উপস্থিত হও এবং ইমামের নিকটবর্তী হও। কেননা কোনো ব্যক্তি জুমুআ থেকে পিছিয়ে পড়লে জান্নাত থেকেও পিছিয়ে পড়ে, যদিও সে জান্নাতবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হয়।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নূরুল লুমআ ফি খাসায়িসিল জুমুআ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الخصوصية السادسة عشرة: مشروعية الكفارة لمن تركها33- أخرج أحمد وأبو داود والنسائي والحاكم، وابن ماجه عن سعيد بن جبير، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "من ترك الجمعة من غير عذر، فليتصدق بدينار، فإن لم يجد فبنصف دينار".
34- وأخرج أبو داود عن قدامة بن وبرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "من فاتته الجمعة من غير عذر، فليتصدق بدرهم أو نصف درهم، أو صاع حنطة أو نصف صاع".
--------------------------------------------
ষোড়শ বৈশিষ্ট্য: জুমা বর্জনকারীর জন্য কাফফারার বিধান৩৩- আহমাদ, আবু দাউদ, নাসাঈ, হাকেম এবং ইবনে মাজাহ সাঈদ ইবনে জুবায়েরের সূত্রে নবী (সা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "যে ব্যক্তি কোনো ওজর ব্যতীত জুমার সালাত বর্জন করে, সে যেন এক দিনার সদকা করে; যদি তা না পায়, তবে অর্ধেক দিনার সদকা করে।"
৩৪- আবু দাউদ কুদামা ইবনে ওয়াবরাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যার জুমার সালাত কোনো ওজর ছাড়া ছুটে যায়, সে যেন এক দিরহাম বা অর্ধেক দিরহাম, অথবা এক সা’ গম বা অর্ধেক সা’ গম সদকা করে।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নূরুল লুমআ ফি খাসায়িসিল জুমুআ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
الخصوصية السابعة عشرة: الخطبة - الخصوصية الثامنة عشرة: الإنصات35- روى الشيخان عن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم "إذا
--------------------------------------------
সপ্তদশ বৈশিষ্ট্য: খুতবা - অষ্টাদশ বৈশিষ্ট্য: মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করা৩৫- শায়খাইন (ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিম) আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন, "যখন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নূরুল লুমআ ফি খাসায়িসিল জুমুআ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
قلت لصاحبك: أنصت يوم الجمعة والإمام يخطب، فقد لغوت".
36- وأخرج مسلم عن أبي هريرة، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "من توضأ يوم الجمعة فأحسن الوضوء، ثم أتى المعة فاستمع وأنصت غفر له ما بينه وبين الجمعة، وزيادة ثلاثة أيام، ومن مس الحصى فقد لغا".
--------------------------------------------
"তুমি তোমার সঙ্গীকে বললে: জুমার দিন ইমামের খুতবা প্রদানের সময় 'চুপ থাকো', তবে তুমি অনর্থক কাজ করলে।"
৩৬- ইমাম মুসলিম আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি জুমার দিন ওজু করল এবং উত্তমরূপে ওজু সম্পাদন করল, অতঃপর জুমায় উপস্থিত হয়ে মনোযোগ দিয়ে শুনল (الاستماع) এবং নিশ্চুপ থাকল (الإنصات), তার এই জুমা ও পরবর্তী জুমার মধ্যবর্তী সময় এবং অতিরিক্ত আরও তিন দিনের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। আর যে ব্যক্তি কঙ্কর স্পর্শ করল, সে অনর্থক কাজ করল।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নূরুল লুমআ ফি খাসায়িসিল জুমুআ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
37- وأخرج أبو داود عن عبد الله بن عمرو، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال:
"من اغتسل يوم الجمعة ومس من طيب امرأته إن كان لها، ولبس من صالح ثيابه، ثم لم يتخط رقاب الناس، ولم يلغ عند الموعظة كانت كفارة لما بينهما، ومن لغا وتخطا رقاب الناس كانت له ظهرا".
--------------------------------------------
৩৭- আবু দাউদ আবদুল্লাহ বিন আমর থেকে বর্ণনা করেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেছেন:
"যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করল এবং তার স্ত্রীর সুগন্ধি থাকলে তা ব্যবহার করল, আর তার উত্তম পোশাক পরিধান করল, অতঃপর মানুষের ঘাড় ডিঙিয়ে সামনে অগ্রসর হলো না এবং খুতবার সময় অনর্থক কোনো কাজ (لغو) করল না, তবে তা দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহের কাফফারা হবে। আর যে ব্যক্তি অনর্থক কাজ (لغا) করল এবং মানুষের ঘাড় ডিঙিয়ে গেল, তা তার জন্য জোহরের (নামাজ) হিসেবে গণ্য হবে।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নূরুল লুমআ ফি খাসায়িসিল জুমুআ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
38- وأخرج ابن ماجه، وسعيد بن منصور عن أبي بن كعب أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قرأ يوم الجمعة سورة براءة، وهو قائم يذكر بأيام الله، وأبو الدرداء، وأبو ذر يغمرني، فقال: متى أنزلت هذه السورة إني لم أسمعها إلا الآن، فأشار إليه أن أسكت، فلما انصرفوا قال: سألتك متى أنزلت هذه السورة فلم تخبرني، فقال أبي: ليس لك من صلاتك اليوم إلا ما لغوت.
فذهب إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، فذكر ذلك له وأخبره بالذي قال أبي، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "صدق أبي".
39- وأخرج سعيد بن منصور عن أبي هريرة، قال: لا تقل سبحان الله، والإمام يخطب يوم الجمعة.
--------------------------------------------
৩৮- ইবনে মাজাহ এবং সাঈদ বিন মনসুর উবাই ইবনে কাব থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমার দিনে দাঁড়িয়ে 'আল্লাহর দিনসমূহ' স্মরণ করিয়ে দেওয়ার সময় সূরা আল-বারাআহ তিলাওয়াত করেছিলেন। এমতাবস্থায় আবু আদ-দারদা এবং আবু যার আমাকে ইশারা দিচ্ছিলেন এবং বলছিলেন: এই সূরাটি কখন অবতীর্ণ হয়েছে? আমি তো এটি এখন ছাড়া আগে কখনো শুনিনি। তিনি (উবাই) তাদের চুপ থাকার ইশারা করলেন। যখন তারা নামাজ শেষ করে ফিরে যাচ্ছিলেন, তিনি (আবু আদ-দারদা) বললেন: আমি আপনাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম এই সূরাটি কখন অবতীর্ণ হয়েছে কিন্তু আপনি আমাকে উত্তর দেননি। তখন উবাই বললেন: আজকের নামাজ থেকে তোমার কেবল অনর্থক (لغو) অংশটুকুই পাওনা হয়েছে।
অতঃপর তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট গেলেন এবং বিষয়টি উল্লেখ করলেন ও উবাই যা বলেছিলেন তা জানালেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "উবাই সত্য বলেছে।"
৩৯- সাঈদ বিন মনসুর আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: ইমাম যখন জুমার খুতবা দেন, তখন তোমরা 'সুবহানাল্লাহ' বলো না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নূরুল লুমআ ফি খাসায়িসিল জুমুআ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
40- وأخرج عن ابن عباس، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "من تكلم يوم الجمعة والإمام يخطب، فهو كالحمار يحمل أسفارا، والذي يقول له: أنصت ليس له جمعة".
--------------------------------------------
40- ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি জুমার দিন ইমাম খুতবা দেওয়ার সময় কথা বলে, সে ঐ গাধার ন্যায় যে কিতাব বহন করে। আর যে ব্যক্তি তাকে বলে: 'চুপ করো', তার জুমার সওয়াব নেই।"
--------------------------------------------