(খণ্ড: ১) নূরুল লুমআ ফি খাসায়িসিল জুমুআ (পৃষ্ঠা: -)
نور اللمعة في خصائص الجمعة   (الجلال السيوطي)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: اللمعة في خصائص الجمعة

المؤلف: عبد الرحمن بن أبي بكر، جلال الدين السيوطي (ت 911هـ)

الناشر: دار الكتب العلمية

الطبعة: الطبعة الثانية 1407هـ - 1987م

عدد الصفحات: 192

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

নূরুল লুমআহ ফী খাসাইসিল জুমুআহ   (আল-জালাল আস-সুয়ূতী)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ


গ্রন্থ: আল-লুমআহ ফী খাসাইসিল জুমুআহ

লেখক: আবদুর রহমান বিন আবু বকর، জালালুদ্দিন আস-সুয়ূতী (মৃত্যু ৯১১ হিজরী)

প্রকাশক: দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ

সংস্করণ: দ্বিতীয় সংস্করণ ১৪০৭ হিজরী - ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৯২

[গ্রন্থের নম্বরবিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) নূরুল লুমআ ফি খাসায়িসিল জুমুআ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌مقدمة

…

بسم الله الرحمن الرحيم:

الحمد لله الذي خص هذه الأمة المحمدية، بما ادخر لها من الفضائل السنية، والصلاة والسلام على سيدنا محمد خير البرية.

وبعد.

فقد ذكر الأستاذ شمس الدين ابن القيم في كتاب الهدي ليوم الجمعة خصوصيات بضعا وعشرين1، خصوصية. وفاته أضعاف ما ذكر، وقد رأيت استيعابها في هذه الكراسة منبها على أدلتها على سبيل الإيجاز، وتتبعتها فتحصلت منها على مائة خصوصية، والله الموفق.

--------------------------------------------

1 الخصوصيات التي كرها ابن القيم رحمه الله ثلاثا وثلاثين انظر زاد المعاد 1/ 100-115، وسنذكر كلام ابن القيم في آخر الكتاب لتتم الفائدة إن شاء الله تعالى.
ভূমিকা

…

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে:

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি এই উম্মতে মুহাম্মদীকে তাঁর নিকট গচ্ছিত সুউচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন শ্রেষ্ঠত্বসমূহ দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন; এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা সৃষ্টির সেরা মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর।

অতঃপর—

উস্তাদ শামসুদ্দিন ইবনুল কাইয়্যুম জুমার দিনের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে তাঁর 'হাদই' গ্রন্থে বিশের অধিক১ বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করেছেন। তিনি যা উল্লেখ করেছেন, প্রকৃতপক্ষে তার বাইরেও আরও বহু গুণ বৈশিষ্ট্য রয়েছে। আমি সংক্ষিপ্তভাবে সেগুলোর দলিলসমূহ (أدلتها) নির্দেশ করার মাধ্যমে এই পুস্তিকায় সেগুলোকে পূর্ণাঙ্গভাবে সংকলন করার ইচ্ছা পোষণ করেছি। আমি সেগুলো অনুসন্ধান করেছি এবং তা থেকে একশতটি বৈশিষ্ট্য লাভ করেছি; আর আল্লাহই তাওফিকদাতা।

--------------------------------------------

১. ইবনুল কাইয়্যুম (রহ.) যে বৈশিষ্ট্যগুলো উল্লেখ করেছেন তা হলো তেত্রিশটি; দেখুন: জাদুল মাআদ ১/ ১০০-১১৫। উপকারের পূর্ণতার জন্য ইনশাআল্লাহ আমরা কিতাবের শেষে ইবনুল কাইয়্যুমের বক্তব্যটি উল্লেখ করব।
(খণ্ড: ১) নূরুল লুমআ ফি খাসায়িসিল জুমুআ (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌الخصوصية الأولى: أنه عيد هذه الأمة

1- أخرج ابن ماجه عن ابن عباس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إن هذا يوم عيد، جعله الله للمسلمين، فمن جاء إلى الجمعة فليغتسل، وإن كان طيب فليمس منه، وعليكم بالسواك".

2- وأخرج الطبراني في الأوسط عن أبي هريرة أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال في جمعة من الجمع: "معاشر المسلمين إن هذا يوم جعله الله لكم عيدا، فاغتسلوا وعليكم بالسواك".

--------------------------------------------

1- ابن ماجه 1098 -الترغيب والترهيب 1/ 498- المطالب العالية 610 -كنز العمال 21265- الطبراني في الصغير 1/ 269- فتح الباري 2/ 387 إتحاف السادة المتقين 3/ 252.

وفي زوائد البوصيري قال: في إسناده صالح بن أبي الأخضر. لينه الجمهور وباقي رجاله ثقات.

وقال ابن حجر في الفتح 2/ 387، "واحتج بعض الحنابلة بهذا الحديث، وقال: فلما سماه عيدا" -أي يوم الجمعة- جازت فيه الصلاة وقت العيد كالفطر والأضحى، وتعقب بأنه لا يلزم من تسمية الجمع عيدا أن يشتمل على جميع أحكام العيد بدليل أن يوم العيد يحرم صومه مطلقا سواء صام قبله أو بعده بخلاف يوم الجمعة باتفاقهم.

2- السنن الكبرى للبيهقي 2/ 243 عن أبي هريرة رضي الله عنه، وقال البيهقي: مرسل وقد روي موصولا، ولا يصح وصله.

وفي البيهقي 1/ 299 ذكر الحديث عن أبي هريرة رضي الله عنه، وقال: هكذا رواه مسلم عن هذا الشيخ -يعني أبو خالد يزيد بن سعيد الإسكندراني- عن مالك، ورواه جماعة عن مالك عن الزهري عن ابن السباق، عن النبي صلى الله عليه وسلم مرسلًا.
প্রথম বৈশিষ্ট্য: এটি এই উম্মতের জন্য ঈদের দিন

১- ইবনে মাজাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: "নিশ্চয় এটি ঈদের দিন, আল্লাহ তাআলা এটি মুসলিমদের জন্য নির্ধারণ করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি জুমার সালাতে আসবে সে যেন গোসল করে, আর যদি সুগন্ধি থাকে তবে যেন তা থেকে মাখে এবং তোমাদের জন্য মিসওয়াক করা আবশ্যক।"

২- তাবারানি আল-আওসাতে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) জুমার দিনসমূহের কোনো এক জুমায় ইরশাদ করেছেন: "হে মুসলিম সম্প্রদায়, নিশ্চয় এটি এমন একটি দিন যা আল্লাহ তোমাদের জন্য ঈদ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, সুতরাং তোমরা গোসল করো এবং তোমাদের জন্য মিসওয়াক করা আবশ্যক।"

--------------------------------------------

১- ইবনে মাজাহ ১০৯৮ - আত-তারগিব ওয়াত-তারহিব ১/৪৯৮ - আল-মাতালিবুল আলিয়া ৬১০ - কানজুল উম্মাল ২১২৬৫ - তাবারানি আস-সগির ১/২৬৯ - ফাতহুল বারি ২/৩৮৭ - ইতহাফুস সাদাতিল মুত্তাকিন ৩/২৫২।

এবং যাওয়ায়েদ আল-বুসিরিতে তিনি বলেছেন: এর সনদে (إسناد) সালিহ বিন আবু আখদার রয়েছেন। জমহুর (অধিকাংশ আলেম) তাকে দুর্বল (لين) বলেছেন এবং তার অবশিষ্ট বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات)।

এবং ইবনে হাজার ফাতহুল বারিতে ২/৩৮৭-এ বলেছেন, "কতিপয় হাম্বলি এই হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন এবং বলেছেন: যেহেতু তিনি একে ঈদ বলে নামকরণ করেছেন - অর্থাৎ জুমার দিন - সেহেতু এতে ঈদের ন্যায় ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার সময় নামাজ বৈধ হবে। তবে এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, জুমাকে ঈদ নাম দেওয়ার কারণে ঈদের সমস্ত বিধান এতে অন্তর্ভুক্ত হওয়া আবশ্যক নয়; এর প্রমাণ হলো যে, ঈদের দিনে রোজা রাখা সর্বাবস্থায় হারাম, চাই তার আগে রোজা রাখা হোক বা পরে, যা তাদের সর্বসম্মত মতে জুমার দিনের বিধানের বিপরীত।"

২- বায়হাকির আস-সুনানুল কুবরা ২/২৪৩, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, এবং বায়হাকি বলেছেন: এটি বিচ্ছিন্ন (مرسل) এবং এটি সংযুক্ত (موصولا) ভাবেও বর্ণিত হয়েছে, তবে এর সংযুক্ত হওয়াটি (وصله) সহিহ নয়।

এবং বায়হাকির ১/২৯৯-এ আবু হুরায়রা (রা.) থেকে হাদিসটি উল্লেখ করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে: ইমাম মুসলিম এই শায়খ থেকে - অর্থাৎ আবু খালিদ ইয়াজিদ বিন সাঈদ আল-ইসকান্দারানি - ইমাম মালিকের সূত্রে এভাবেই বর্ণনা করেছেন। আর একদল বর্ণনাকারী ইমাম মালিক থেকে, তিনি যুহরি থেকে, তিনি ইবনে সাব্বাক থেকে নবী (সা.) এর সূত্রে বিচ্ছিন্নভাবে (مرسلًا) বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) নূরুল লুমআ ফি খাসায়িসিল জুমুআ (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌الخصوصية الثانية: أنه يكره صومه منفردا

3- لحديث الشيخين، عن أبي هريرة رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم، قال:

--------------------------------------------

3- البخاري 3/ 54 مسلم الصيام 147- أبو داود 2420- ابن ماجه 1723- الترمذي 743، ونسبه المنذري للنسائي أيضا -البيهقي 4/ 302- شرح السنة 6/ 359، وقال البغوي رحمه الله: هذا حديث متفق على صحته أخرجه محمد عن عمر بن حفص، وعن أبيه وأخرجه مسلم عن يحيى بن يحيى، عن أبي معاوية كلاهما عن الأعمش.

وفي الهامش قال المحقق: رواية لا يصوم بلفظ النفي والمراد به النهي، وفي رواية الكسميهني "لا يصومن" بلفظ النهي المؤكد، وأخرجه أحمد 2/ 394 من طريق عوف، عن ابن سيرين بلفظ نهي أن يقرر يوم الجمعة بصوم.

وقال ابن حجر في فتح الباري 4/ 233: قول: "إلا يوما قبله أو بعده" تقديره إلا أن يصوم يوما قبله؛ لأن يوما لا يصح استثناؤه من يوم الجمعة، وقال الكرماني يجوز أن يكون منصوبا بنزع الخافض تقديره إلا بيوم قبله، وتكون الباء للمصاحبة، وفي رواية الإسماعيلي من طريق محمد بن أشكاب عن عمر بن حفص شيخ البخاري فيه: "إلا أن تصوموا قبله أو بعده"، ولمسلم من طريق أبي معاوية عن الأعمش: "لا يصم أحدكم يوم الجمعة إلا أن يصوم قبله، أو يصوم بعده".

وللنسائي من هذا الوجه إلا أن يصوم قبله يوما، أو يصوم بعده يوما ولمسلم من طريق هشام، عن ابن سيرين عن أبي هريرة لا تخصوا يوم الجمعة بقيام من بين الليالي، ولا تخصوا يوم الجمعة بصيام من بين الأيام، إلا أن يكون في صوم يصومه أحدكم وقال: ويؤخذ من الاستثناء جوازه لمن صام قبله، أو بعده أو اتفق وقوعه في أيام له عادة بصومها كمن يصوم أيام البيض، أو من له عادة بصوم يوم معين كيوم عرفة، فوافق يوم الجمعة، ويؤخذ منه جواز صومه لمن نذر يوم قدوم زيد مثلًا أو يوم شفاء فلان.
দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য: এটি (জুমার দিন) এককভাবে রোজা রাখা মাকরূহ (يكره)

৩- শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এর বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

--------------------------------------------

৩- বুখারি ৩/৫৪, মুসলিম আস-সিয়াম ১৪৭, আবু দাউদ ২৪২০, ইবনে মাজাহ ১৭২৩, তিরমিজি ৭৪৩; আল-মুনজিরি একে নাসায়ি-এর দিকেও সম্বন্ধ করেছেন; বায়হাকি ৪/৩০২; শারহুস সুন্নাহ ৬/৩৫৯। ইমাম বাগভী (রহ.) বলেন: এটি একটি সর্বসম্মতভাবে সহিহ (متفق على صحته) হাদিস। মুহাম্মদ এটি উমর ইবনে হাফস থেকে, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা (أخرجه) করেছেন; আর মুসলিম এটি ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া থেকে, তিনি আবু মুয়াবিয়া থেকে এবং তারা উভয়ই আমাশ থেকে বর্ণনা (أخرجه) করেছেন।

টীকায় গবেষক (المحقق) বলেছেন: "রোজা রাখে না" বর্ণনাটি (رواية) নেতিবাচক শব্দ (لفظ النفي) হিসেবে এসেছে, তবে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো নিষেধাজ্ঞা (النهي)। কুশমিহানির বর্ণনায় (رواية) জোরালো নিষেধাজ্ঞা (النهي المؤكد) সূচক শব্দ "অবশ্যই রোজা রাখবে না" এসেছে। আহমদ (২/৩৯৪) আউফ-এর সূত্রে (طريق) ইবনে সিরিন থেকে জুমার দিনকে রোজার জন্য নির্দিষ্ট করতে নিষেধ (نهي) করা সংক্রান্ত শব্দে বর্ণনা (أخرجه) করেছেন।

ইবনে হাজার ফাতহুল বারিতে (৪/২৩৩) বলেন: "তার আগের বা পরের একদিন ব্যতীত" কথাটির ব্যাখ্যা হলো—তার আগের একদিন রোজা রাখা ব্যতীত; কারণ 'একদিন' শব্দটিকে জুমার দিন থেকে সরাসরি ব্যতিক্রম (استثناء) করা ব্যাকরণগতভাবে সঠিক নয়। কিরমানি বলেছেন, এটি হরফে জার উহ্য থাকার কারণে মানসুব হতে পারে, যার অর্থ দাঁড়ায় 'তার আগের একদিনের সাথে যুক্ত করা ব্যতীত', এবং এখানে 'বা' বর্ণটি সাহচর্য অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। ইসমাইলির বর্ণনায় (رواية) বুখারির উস্তাদ উমর ইবনে হাফসের সূত্রে (طريق) মুহাম্মদ ইবনে আশকাব থেকে এসেছে: "তোমাদের তার আগে বা পরে রোজা রাখা ব্যতীত।" মুসলিমের বর্ণনায় (رواية) আমাশের সূত্রে (طريق) আবু মুয়াবিয়া থেকে এসেছে: "তোমাদের কেউ যেন জুমার দিন রোজা না রাখে, যদি না সে তার আগে বা পরে রোজা রাখে।"

নাসায়িতে এই দিক (وجه) থেকে বর্ণিত হয়েছে: "তার আগে একদিন বা পরে একদিন রোজা রাখা ব্যতীত।" মুসলিমে হিশামের সূত্রে (طريق) ইবনে সিরিন থেকে আবু হুরায়রা (রা.)-এর বর্ণনায় (رواية) এসেছে: "তোমরা রাতগুলোর মধ্য থেকে কেবল জুমার রাতকে কিয়াম বা ইবাদতের জন্য নির্দিষ্ট করো না এবং দিনগুলোর মধ্য থেকে কেবল জুমার দিনকে রোজার জন্য নির্দিষ্ট করো না, তবে তোমাদের কারো নিয়মিত রোজার অন্তর্ভুক্ত হলে ভিন্ন কথা।" তিনি বলেন: এই ব্যতিক্রম (الاستثناء) থেকে জুমার দিনের আগের বা পরের দিন রোজা রাখা ব্যক্তির জন্য এর বৈধতা জানা যায়, অথবা যার নির্দিষ্ট দিনে রোজা রাখার অভ্যাস (عادة) রয়েছে এবং তা জুমার দিনে পড়ে যায়, যেমন—আইয়ামে বিজের রোজা, অথবা কারো নির্দিষ্ট দিনে রোজা রাখার অভ্যাস (عادة) আছে যেমন আরাফার দিন এবং তা জুমার দিনে পড়ল। এছাড়াও এর দ্বারা ওই ব্যক্তির জন্য রোজা রাখা বৈধ প্রমাণিত হয়, যে ব্যক্তি নির্দিষ্ট দিনে (যেমন যায়েদের আগমনের দিন বা অমুকের আরোগ্যের দিন) রোজা রাখার মানত (نذر) করেছে।
(খণ্ড: ১) নূরুল লুমআ ফি খাসায়িসিল জুমুআ (পৃষ্ঠা: ৯)
"لا يصومن أحدكم يوم الجمعة إلا أن يصوم قبله أو بعده".

4- وأخرجا عن جابر قال: نهى النبي صلى الله عليه وسلم عن صوم يوم الجمعة.

5- وأخرج البخاري عن جويرية أم المؤمنين رضي الله عنها أن

--------------------------------------------

4- مسلم الصيام 146.

فتح الباري 4/ 232، وقال ابن حجر: وفي رواية ابن عيينة عن عبد الحميد عن مسلم وأحمد وغيرهما سألت جابر بن عبد الله، وهو يطوف بالبيت وزادوا أيضا في آخره قال: نعم ورب هذا البيت وفي رواية النسائي، ورب الكعبة وعزاها صاحب العمدة لمسلم فوهم، وفيه جواز الحلف من غير استحلاف لتأكيد الأمر، وإضافة الربوبية إلى المخلوقات المعظمة تنويها بتعظيمها، وفيه الاكتفاء في الجواب بنعم من غير ذكر الأمر المفسر بها.

5- فتح الباري 4/ 232 فقال ابن حجر: ليس لجويرية زوج النبي صلى الله عليه وسلم في البخاري من روايتها سوى هذا الحديث، وله شاهد من حديث جنادة بن أبي أمية عند النسائي بإسناد صحيح بمعنى حديث جويرية، واتفق شعبة وهمام عن قتادة على هذا الإسناد وخالفهما سعيد بن أبي عروبة، فقال: عن قتادة عن سعيد بن المسيب عن عبد الله بن عمرو بن العاص أن النبي صلى الله

عليه وسلم دخل على جويرية، فذكره أخرجه النسائي، وصححه ابن حبان.

وقال ابن حجر، واختلف في النهي عن إفراده على أقول.

أحدها لكونه يوم عيد والعيد لا يصام، واستشكل لك مع الإذن بصيامه مع غيره، وأجاب ابن القيم وغيره بأن شبهة العيد لا يستلزم استواءه من كل جهة، ومن صام معه غيره انتفت عنه صورة التحري بالصوم.

ثانيها لئلا يضعف عن العبادة، وهذا اختاره النووي، وتعقب ببقاء المعنى المذكور مع صوم غيره معه، وأجاب بأنه يحصل بفضيلة اليوم الذي قبله أو بعده =
"তোমাদের কেউ যেন কেবল জুমার দিনে রোজা না রাখে, যদি না সে তার আগের দিন বা পরের দিন রোজা রাখে।"

৪- এবং তাঁরা (বুখারি ও মুসলিম) জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমার দিনে রোজা রাখতে নিষেধ করেছেন।

৫- এবং ইমাম বুখারি উম্মুল মুমিনিন জুওয়াইরিয়া (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে...

--------------------------------------------

৪- মুসলিম, আস-সিয়াম ১৪৬।

ফাতহুল বারি ৪/২৩২; ইবনে হাজার (রহ.) বলেন: ইবনে উয়াইনার বর্ণনায় আব্দুল হামিদ থেকে, তিনি মুসলিম, আহমদ এবং অন্যদের সূত্রে বর্ণনা করেছেন, ‘আমি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহকে জিজ্ঞাসা করলাম যখন তিনি বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করছিলেন।’ তাঁরা বর্ণনার শেষে আরও বর্ধিত করেছেন যে, তিনি বললেন: ‘হ্যাঁ, এই ঘরের রবের কসম।’ আর নাসায়ীর বর্ণনায় রয়েছে, ‘কাবার রবের কসম।’ উমদাহ গ্রন্থের লেখক একে মুসলিমের দিকে সম্বন্ধ করেছেন, যা ছিল একটি বিভ্রম (وهم)। এতে বিষয়টি জোরালো করার জন্য শপথ না চাইতেই শপথ করার বৈধতা প্রমাণিত হয়। এছাড়াও সম্মানিত সৃষ্টির সাথে রুবুবিয়্যাত বা প্রভুত্বকে সম্পর্কিত করা তাদের সম্মানের প্রতি ইঙ্গিত স্বরূপ। আর এতে ব্যাখ্যাত বিষয়টি পুনরায় উল্লেখ না করে কেবল ‘হ্যাঁ’ বলে উত্তর দেওয়ার পর্যাপ্ততাও প্রমাণিত হয়।

৫- ফাতহুল বারি ৪/২৩২; ইবনে হাজার (রহ.) বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রী জুওয়াইরিয়া (রা.)-এর বর্ণিত কোনো হাদিস এই হাদিসটি ছাড়া বুখারিতে নেই। নাসায়ীতে জুনাহ ইবনে আবু উমাইয়া বর্ণিত এর একটি সমর্থনকারী বর্ণনা (شاهد) রয়েছে যা সহিহ (صحيح) সনদে (إسناد) বর্ণিত এবং এটি জুওয়াইরিয়া (রা.)-এর হাদিসের অর্থ প্রকাশ করে। শু’বাহ ও হাম্মাম কাতাদাহ থেকে এই সনদে (إسناد) বর্ণনায় একমত পোষণ করেছেন। তবে সাঈদ ইবনে আবি আরুবাহ তাঁদের বিরোধিতা (خالفهما) করেছেন এবং বলেছেন: কাতাদাহ থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুওয়াইরিয়া (রা.)-এর নিকট প্রবেশ করলেন... এবং পূর্ণ হাদিসটি উল্লেখ করেন। এটি নাসায়ী বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে হিব্বান একে সঠিক (صححه) বলে গণ্য করেছেন।

ইবনে হাজার বলেন, (জুমার দিন) এককভাবে রোজা রাখার নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে বিভিন্ন মতভেদ (اختلف) রয়েছে।

প্রথমত: এই দিনটি ঈদের দিন হওয়ার কারণে, আর ঈদের দিনে রোজা রাখা যায় না। তবে অন্য দিনের সাথে মিলিয়ে রোজা রাখার অনুমতির কারণে এই যুক্তিতে জটিলতা তৈরি হয়। ইবনে কাইয়িম এবং অন্যরা উত্তর দিয়েছেন যে, ঈদের সদৃশ হওয়ার অর্থ এই নয় যে এটি সব দিক থেকে সমান হবে; আর যে ব্যক্তি এর সাথে অন্য দিন মিলিয়ে রোজা রাখল, তার থেকে কেবল এই দিনটিকে বেছে নেওয়ার বিষয়টি দূরীভূত হলো।

দ্বিতীয়ত: ইবাদতে যাতে দুর্বলতা না আসে; ইমাম নববী এই মতটি গ্রহণ করেছেন। তবে এর উপর আপত্তি (تعقب) উত্থাপিত হয়েছে যে, অন্য দিন মিলিয়ে রোজা রাখলেও উক্ত কারণটি বিদ্যমান থাকে। তিনি এর উত্তরে বলেছেন যে, এর আগের বা পরের দিনের ফজিলাত অর্জনের মাধ্যমে এটি পূর্ণতা পায়। =
(খণ্ড: ১) নূরুল লুমআ ফি খাসায়িসিল জুমুআ (পৃষ্ঠা: ১০)
..............................................................................

--------------------------------------------

= جبر ما يحصل يوم صومه من فتور أو تقصير وفيه نظر، فإن الجبران لا ينحصر في الصوم بل يحصل بجميع أفعال الخير، فيلزم منه جواز إفراده لمن عمل فيه خيرا كثيرا يقوم مقام صيام يوم قبله أو بعده، كمن أعتق فيه رقبة مثلا، ولا قائل بذلك.

وأيضا، فكان النهي يختص بمن يخشى عليه الضعف لا من يتحقق القوة.

ويمكن الجواب عن هذا بأن المظنة أقيمت مقام المئنة كما في جواز الفطر من السفر لمن يشق عليه.

ثالثها خوف المبالغة في تعظيمه، فيفتتن به كما افتتن اليهود بالسبت، وهو منتقض بثبوت تعظيمه بغير الصيام، وأيضا فاليهود لا يعظمون السبت بصيام، فلو كان الملحظوظ ترك موافقتهم لتحتم صومه؛ لأنهم يوصومونه وقد روى أبو داود والنسائي وصححه، وابن حبان من حديث أم سلمة أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يصوم من الأيام السبت والأحد، وكان يقول: "إنهما يوم عيد للمشركين، فأحب أن أخالفهم".

رابعها: خوف اعتقاد وجوبه، وهو منتقض بصوم الاثنين والخميس.

خامسها: خشية أن يفرض عليهم كما خشي صلى الله عليه وسلم من قيامهم الليل ذلك.

قال المهلب وهو منتقض بإجازة صومه مع غيره، وبأنه لو كان كذلك لجاز بعده صلى الله عليه وسلم لارتفاع السبب.

سادسا: مخالفة النصارى؛ لأنه يجب عليهم صومه ونحن مأمورون بمخالفتهم نقله القمولي وهو ضعيف.

وأقوى الأقوال وأولاها بالصواب أولها وورد فيه صريحا حديثان:

أحدهما رواه الحاكم وغيره من طريق عامر بن لدين عن أبي هريرة مرفوعا "يوم الجمعة يوم عيد، فلا تجعلوا يوم عيدكم يوم صومكم إلا أن تصوموا قبله أو بعده".

والثاني رواه ابن أبي شيبة بإسناد حسن عن علي وقال: "من كان منكم متطوعا من الشهر، فليصم يوم الخميس ولا يصم يوم الجمعة، فإنه يوم طعام وشراب وذكر".

انتهى كلام ابن حجر رحمه الله.

وقال البغوي رحمه الله في شرح السنة 6/ 360 بعد أن ذكر حديث جويرية أم المؤمنين رضي الله عنها قال: والعمل على هذا عند أهل العلم كرهوا تخصيص يوم الجمعة بالصوم إلا أن يصوم قبله أو بعده، ولم يكرهه مالك، وقال: رأيت بعض

أهل العلم يصومه ويتحراه، انظر الموطأ 1/ 311.
..............................................................................

--------------------------------------------

= (এর অর্থ) সেই দিনে রোজা রাখার ফলে যে অবসাদ বা ত্রুটি দেখা দেয় তার ক্ষতিপূরণ করা। তবে এই মতটি পর্যালোচনার অবকাশ রাখে, কারণ ক্ষতিপূরণ কেবল রোজার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা সমস্ত নেক আমলের মাধ্যমেই অর্জিত হয়। ফলে এর দ্বারা এমন ব্যক্তির জন্য এককভাবে এই দিনে রোজা রাখা বৈধ হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে, যে ব্যক্তি সেই দিনে প্রচুর নেক আমল করেছে যা তার আগের বা পরের দিনের রোজার স্থলাভিষিক্ত হয়, যেমন উদাহরণস্বরূপ কেউ সেই দিনে একজন দাস মুক্ত করল; অথচ এমন কথা কেউ বলেননি।

এছাড়া, এই নিষেধাজ্ঞা কেবল তাদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট হওয়া উচিত ছিল যাদের দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে, তাদের জন্য নয় যাদের সক্ষমতা সুনিশ্চিত।

এর উত্তর এভাবে দেওয়া সম্ভব যে, প্রবল ধারণাকে নিশ্চিত বিষয়ের স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে, যেমন সফরের সময় কষ্টের আশঙ্কায় রোজা ভঙ্গের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

তৃতীয়ত: এই দিনটিকে সম্মান প্রদর্শনের ক্ষেত্রে অতিরঞ্জনের ভয়, যাতে সে এর মাধ্যমে ফিতনায় পতিত না হয় যেমন ইহুদিরা শনিবারকে নিয়ে ফিতনায় পড়েছিল। তবে রোজা ছাড়াও অন্যান্য মাধ্যমে এই দিনের সম্মান প্রদর্শনের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় এই যুক্তিটি খণ্ডিত হয়। তাছাড়া, ইহুদিরা শনিবারকে রোজা রাখার মাধ্যমে সম্মান করে না। যদি তাদের বিরোধিতা করাই লক্ষ্য হতো, তবে এই দিনে রোজা রাখা আবশ্যক হয়ে পড়ত; কারণ তারা ওই দিনে রোজা রাখে না। অথচ আবু দাউদ ও নাসাঈ বর্ণনা করেছেন এবং একে সহীহ (صحيح) বলেছেন, এবং ইবনে হিব্বান উম্মে সালামাহ থেকে বর্ণিত হাদিস উল্লেখ করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দিনগুলোর মধ্যে শনিবার ও রবিবার রোজা রাখতেন এবং বলতেন: "এ দুটি দিন মুশরিকদের ঈদের দিন, তাই আমি তাদের বিরোধিতা করা পছন্দ করি।"

চতুর্থত: একে ওয়াজিব মনে করার আশঙ্কা। এই যুক্তিটি সোমবার ও বৃহস্পতিবারের রোজা দ্বারা খণ্ডিত হয়।

পঞ্চমত: এটি তাদের উপর ফরজ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা, যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের তাহাজ্জুদের সালাতের ক্ষেত্রে আশঙ্কা করেছিলেন।

মুহাল্লাব বলেন, এটি অন্য দিনের সাথে মিলিয়ে রোজা রাখার অনুমতির মাধ্যমে খণ্ডিত হয় এবং এই কারণেও যে, যদি বিষয়টি এমনই হতো তবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তেকালের পর এই কারণটি দূরীভূত হওয়ায় এটি বৈধ হয়ে যেত।

ষষ্ঠত: নাসারাদের বিরোধিতা করা; কারণ তাদের উপর এই দিনে রোজা রাখা আবশ্যক এবং আমাদের তাদের বিরোধিতা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কামুলী এটি বর্ণনা করেছেন তবে তা দুর্বল (ضعيف)।

মতগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী এবং সঠিকের সবচেয়ে নিকটবর্তী হলো প্রথমটি এবং এ বিষয়ে স্পষ্টভাবে দুটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে:

প্রথমটি হাকেম ও অন্যান্যরা আমের ইবনে লুদাইন-এর সূত্রে আবু হুরায়রা থেকে মারফূ (مرفوع) হিসেবে বর্ণনা করেছেন: "জুমার দিন তোমাদের ঈদের দিন, সুতরাং তোমাদের ঈদের দিনকে তোমাদের রোজার দিনে পরিণত করো না, তবে তার আগে বা পরে রোজা রাখলে ভিন্ন কথা।"

দ্বিতীয়টি ইবনে আবি শাইবাহ হাসান (حسن) সনদে আলী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি মাসে নফল রোজা রাখতে চায়, সে যেন বৃহস্পতিবার রোজা রাখে এবং জুমার দিন রোজা না রাখে; কারণ এটি খাওয়া, পান করা এবং জিকিরের দিন।"

ইবনে হাজার রহমতুল্লাহি আলাইহির বক্তব্য সমাপ্ত।

ইমাম বাগাভী রহমতুল্লাহি আলাইহি শারহুস সুন্নাহ-এর ৬/৩৬০ পৃষ্ঠায় উম্মুল মুমিনীন জুওয়াইরিয়াহ রাদিয়াল্লাহু আনহার হাদিস উল্লেখ করার পর বলেন: আলেমগণের নিকট আমল এরই উপর। তারা জুমার দিনকে রোজার জন্য নির্দিষ্ট করাকে অপছন্দ করেছেন, তবে তার আগে বা পরে রোজা রাখলে ভিন্ন কথা। ইমাম মালিক একে অপছন্দ করেননি এবং তিনি বলেছেন: আমি অনেক আলেমকে দেখেছি যারা এই দিনে রোজা রাখতেন এবং এর অন্বেষণ করতেন। দেখুন: মুয়াত্তা ১/৩১১।
(খণ্ড: ১) নূরুল লুমআ ফি খাসায়িসিল জুমুআ (পৃষ্ঠা: ১১)
النبي صلى الله عليه وسلم دخل عليها يوم الجمعة وهي صائمة، فقال: "أصمت، فقالت: لا، قال: أتريدين أن تصومي غدا؟ قالت: لا. قال: فافطري".

6- وأخرج الحاكم عن جنادة بن أبي أمية الأزدي، قال: دخلت على رسول الله صلى الله عليه وسلم في نفر من الأزد يوم الجمعة، فدعانا إلى طعام بين يديه فقلنا: إنا صيام، قال: "أصمتم أمس قلنا: لا، قال: أفتصومون غدا قلنا: لا، قال: فافطروا ثم قال: لا تصوموا يوم الجمعة منفردا".

7- وأخرج مسلم عن أبي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم، قال: "لا تخصوا ليلة الجمعة بقيام من بين الليالي، ولا تخصوا يوم الجمعة بصيام من بين الأيام، إلا أن يكون في صوم يصومه أحدكم".

--------------------------------------------

6- المستدرك 3/ 608، وقال الحاكم: هذا حديث صحيح على شرط مسلم، ولم يخرجاه ووافق الذهبي.

7- مسلم الصيام 148 وقال النووي رحمه الله قال العلماء: والحكمة في النهي عنه أن يوم الجمعة يوم دعاء وذكر وعبادة من الغسل، والتبكير إلى الصلاة وانتظارا واستماع الخطب، وإكثار الذكر بعدها لقول الله تعالى: {فَإِذَا قُضِيَتِ الصَّلاةُ فَانْتَشِرُوا فِي الْأَرْضِ وَابْتَغُوا مِنْ فَضْلِ اللَّهِ وَاذْكُرُوا اللَّهَ كَثِيرًا} "الجمعة/ 10"، وغير ذلك من العبادات في يومها، فاستحب الفطر فيه فيكون أعون له على هذه الوظائف، وأدائها بنشاط وانشراح لها، والتذاذ بها من غير ملل، ولا سآمة وهو نظير الحاج يوم عرفة بعرفة، فإن السنة له الفطر.

ثم قال: وفي هذا الحديث النهي الصريح عن تخصيص ليلة الجمعة بصلاة من بين الليالي، ويومها بصوم كما تقدم، وهذا متفق على كراهيته.

واحتج به العلماء على كراهة هذه الصلاة المبتدعة التي تسمى الرغائب -قاتل الله واضعها ومخترعها- فإنها بدعة منكرة من البدع التي هي ضلالة وجهالة، وفيها منكرات ظاهرة، وقد صنف جماعة من الأئمة مصنفات نفيسة في تقبيحها وتضليل مصليها ومبتدعها، ودلائل قبحها وبطلانها.
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জুমার দিনে তাঁর (জুয়াইরিয়া রা.) নিকট প্রবেশ করলেন, তখন তিনি রোজা ছিলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "তুমি কি গতকাল রোজা রেখেছিলে?" তিনি বললেন: "না।" তিনি বললেন: "তুমি কি আগামীকাল রোজা রাখার ইচ্ছা রাখো?" তিনি বললেন: "না।" তিনি বললেন: "তাহলে তুমি রোজা ভেঙে ফেলো।"

৬- এবং হাকিম জুনাহদা ইবনে আবি উমাইয়া আল-আজদি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আজদ গোত্রের একদল লোকের সাথে জুমার দিনে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট প্রবেশ করলাম। তিনি আমাদের তাঁর সামনে থাকা খাবারের প্রতি আহ্বান জানালেন। আমরা বললাম: আমরা রোজা রেখেছি। তিনি বললেন: "তোমরা কি গতকাল রোজা রেখেছিলে?" আমরা বললাম: না। তিনি বললেন: "তোমরা কি আগামীকাল রোজা রাখবে?" আমরা বললাম: না। তিনি বললেন: "তাহলে তোমরা রোজা ভেঙে ফেলো।" অতঃপর তিনি বললেন: "তোমরা এককভাবে জুমার দিনে রোজা রেখো না।"

৭- এবং মুসলিম আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: "তোমরা অন্য রাতগুলোর মধ্য থেকে জুমার রাতকে ইবাদতের জন্য নির্দিষ্ট করো না এবং অন্য দিনগুলোর মধ্য থেকে জুমার দিনকে রোজার জন্য নির্দিষ্ট করো না, তবে তোমাদের কারো অভ্যস্ত রোজার মধ্যে পড়লে তা ভিন্ন কথা।"

--------------------------------------------

৬- আল-মুস্তাদরাক ৩/ ৬০৮, এবং হাকিম বলেছেন: এই হাদিসটি মুসলিমের শর্তানুযায়ী সঠিক (صحيح), কিন্তু তাঁরা এটি বর্ণনা করেননি। আর আজ-জাহাবি এর সাথে একমত পোষণ করেছেন।

৭- মুসলিম, আস-সিয়াম ১৪৮ এবং আন-নববী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, উলামায়ে কিরাম বলেন: এটি নিষেধ করার হিকমত হলো, জুমার দিন হলো দোয়া, জিকির এবং ইবাদতের দিন, যেমন—গোসল করা, সালাতে আগেভাগে যাওয়া, সালাতের অপেক্ষা করা, খুতবা শোনা এবং এরপর অধিক পরিমাণে জিকির করা; মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {অতঃপর সালাত শেষ হলে তোমরা জমিনে ছড়িয়ে পড়ো এবং আল্লাহর অনুগ্রহ তালাশ করো এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করো} "জুমুআ/ ১০", এবং এই দিনের অন্যান্য ইবাদতসমূহ। তাই এই দিনে রোজা না রাখা মুস্তাহাব যেন তা তাকে এই কাজগুলো পালনে সহায়তা করে এবং কোনো প্রকার ক্লান্তি বা বিরক্তি ছাড়াই প্রফুল্লতা ও স্বাচ্ছন্দ্যের সাথে তা সম্পাদন করা যায়। এটি আরাফাতের দিনে আরাফায় অবস্থানকারী হাজির মতো, কারণ তাঁর জন্য সুন্নাত হলো রোজা না রাখা।

অতঃপর তিনি বলেছেন: এই হাদিসে রাতগুলোর মধ্যে জুমার রাতকে সালাতের জন্য এবং দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিনকে রোজার জন্য নির্দিষ্ট করার ব্যাপারে সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা রয়েছে যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে এবং এটি অপছন্দনীয় (مكروه) হওয়ার ব্যাপারে সকলে একমত।

এবং উলামায়ে কিরাম একে সেই উদ্ভাবিত (مبتدعة) সালাত অপছন্দনীয় (كراهة) হওয়ার দলিল হিসেবে গ্রহণ করেছেন যাকে 'রাগায়েব' বলা হয়—আল্লাহ একে প্রবর্তনকারী ও উদ্ভাবনকারীকে ধ্বংস করুন—কেননা এটি একটি নিন্দনীয় বিদআত (بدعة منكرة), যা ভ্রষ্টতা (ضلالة) ও অজ্ঞতা (جهالة)। এতে সুস্পষ্ট অনেক গর্হিত বিষয় রয়েছে। আইম্মায়ে কিরামের একটি দল একে কুরুচিপূর্ণ সাব্যস্ত করে এবং এর আদায়কারী ও উদ্ভাবনকারীকে পথভ্রষ্ট হিসেবে আখ্যা দিয়ে এবং এর কুরুচি ও অসারতার প্রমাণাদি উল্লেখ করে অনেক মূল্যবান কিতাব রচনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) নূরুল লুমআ ফি খাসায়িসিল জুমুআ (পৃষ্ঠা: ১২)
قال النووي: الصحيح من مذهبنا وبه قطع الجمهور كراهة صوم يوم الجمعة منفردا، وفي وجه أنه لا يكره إلا لمن لو صامه منعه من العبادة وأضعفه لحديث:

8- أحمد والترمذي والنسائي وغيرهم عن ابن مسعود أن النبي صلى الله عليه وسلم قلما كان يفطر يوم الجمعة.

وأجاب الأول عنه بأنه صلى الله عليه وسلم كان يصوم الخميس، فوصل الجمعة به.

واختلف في الحكمة التي كره الصوم لأجلها، والصحيح كما قال النووي أنه كره؛ لأنه يوم شرع فيه عبادات كثيرة من الذكر والدعاء والقراءة والصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم، فاستحب فطره ليكون أعون على أداء هذه الوظائف بنشاط من غير ملل ولا سآمة، وهو نظير الحاج بعرفات، فإن الأولى له الفطر لهذه الحكمة.

قال: فإن قيل لو كان كذلك لم تزل الكراهة بصوم قبله أو بعده لبقاء المعنى المذكور، فالجواب أنه يحصل له بفضيلة الصوم الذي قبله أو بعده ما يجبر ما قد يحصل من فتور، أو تقصير في وظائف يوم الجمعة بسبب صومه.

وقيل الحكمة خوف المبالغة في تعظيمه بحيث يفتتن به كما افتتن بالسبت، قال: وهذا باطل منتقض بصلاة الجمعة، وسائر ما شرع فيه من أنواع الشعائر، والتعظيم مما ليس في غيره.

وقيل الحكمة خوف اعتقاد وجوبه. قال: وهذا منتقض بغيره من الأيام التي ندب صومها، وهذا ما ذكره النووي، وحكى غيره قولا آخر أن علته كونه عيدا، والعيد لا يصام.

--------------------------------------------

8 انظر مسلم بشرح النووي 3/ 197، 198 "ط/ الشعب".
ইমাম নববী বলেছেন: আমাদের মাজহাবের সঠিক (الصحيح) এবং জমহুর (الجمهور) ওলামায়ে কেরাম কর্তৃক সুনিশ্চিত মত হলো, এককভাবে জুমার দিনে রোজা রাখা মাকরুহ (كراهة)। একটি মত এমনও আছে যে, এটি কেবল তখনই মাকরুহ (كراهة) হবে যখন রোজা তাকে ইবাদত থেকে বাধাগ্রস্ত করে এবং দুর্বল করে দেয়। এর সপক্ষে দলিল হলো সেই হাদিস:

৮- আহমাদ, তিরমিজি, নাসাঈ এবং অন্যান্যরা ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সা.) জুমার দিনে খুব কমই রোজা ভঙ্গ করতেন।

প্রথম পক্ষ (যারা মাকরুহ বলেন) এর জবাবে বলেছেন যে, নবী (সা.) বৃহস্পতিবার রোজা রাখতেন, ফলে তিনি এর সাথে জুমার দিনকেও মিলিয়ে নিতেন।

যে হিকমতের (الحكمة) কারণে এই রোজা মাকরুহ (كراهة) করা হয়েছে সে বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। ইমাম নববী যেমনটি বলেছেন, সঠিক (الصحيح) কথা হলো এটি মাকরুহ (كراهة) হওয়ার কারণ হলো—এটি এমন এক দিন যাতে জিকির, দোয়া, তিলাওয়াত এবং নবী (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠের মতো অনেক ইবাদত বিধিবদ্ধ করা হয়েছে। তাই এই দিনে রোজা না রাখা মুস্তাহাব (استحب), যাতে কোনো প্রকার ক্লান্তি বা অবসাদ ছাড়াই প্রফুল্লতার সাথে এই আমলগুলো পালন করতে অধিকতর সহায়ক হয়। এটি আরাফাতের ময়দানে অবস্থানকারী হাজি সাহেবের সদৃশ, যার জন্য এই হিকমতের (الحكمة) কারণেই রোজা না রাখা উত্তম।

তিনি বলেন: যদি প্রশ্ন করা হয় যে, বিষয়টি যদি এমনই হয় তবে আগের বা পরের দিন রোজা রাখলেও তো মাকরুহ (كراهة) ভাব দূর হওয়ার কথা নয়, কারণ উল্লিখিত কারণটি বিদ্যমান থাকে। এর উত্তর হলো, আগের বা পরের দিন রোজা রাখার ফজিলতের কারণে জুমার দিনের আমলসমূহে রোজার ফলে যে ক্লান্তি বা ত্রুটি দেখা দিতে পারে, তার ক্ষতিপূরণ হয়ে যায়।

কেউ কেউ বলেন, এর হিকমত (الحكمة) হলো এই দিনটিকে সম্মান প্রদর্শনে অতিরঞ্জনের ভয়, যাতে মানুষ এতে ফেতনায় পড়ে না যায় যেমনটি শনিবারকে নিয়ে অতিরঞ্জন করা হয়েছিল। তিনি (নববী) বলেন: এই মতটি বাতিল (باطل) এবং জুমার নামাজ ও অন্যান্য বিধিবদ্ধ নিদর্শন ও সম্মান প্রদর্শনের বিধানের মাধ্যমে এটি খন্ডিত হয়ে যায়, যা অন্য কোনো দিনে নেই।

আবার বলা হয়েছে যে, এর হিকমত (الحكمة) হলো এই রোজা ওয়াজিব (وجوبه) হওয়ার বিশ্বাসের আশঙ্কা। তিনি (নববী) বলেন: এটি অন্যান্য দিনের রোজা দ্বারা খন্ডিত হয়ে যায় যে দিনগুলোতে রোজা রাখা মুস্তাহাব (ندب)। এটিই ইমাম নববী উল্লেখ করেছেন। তবে অন্যরা ভিন্ন একটি মত বর্ণনা করেছেন যে, এর কারণ হলো দিনটি একটি ঈদ (عيدا), আর ঈদের দিনে রোজা রাখা যায় না।

--------------------------------------------

৮. দেখুন: মুসলিম বিশারহু নববী ৩/ ১৯৭, ১৯৮ "তবা/ আশ-শা'ব"।
(খণ্ড: ১) নূরুল লুমআ ফি খাসায়িসিল জুমুআ (পৃষ্ঠা: ১৩)
9- واختاره ابن حجر وأيده بحديث الحاكم:

عن أبي هريرة مرفوعا، يوم الجمعة يوم عيد، فلا تجعلوا يوم عيدكم يوم صيامكم إلا أن تصوموا قبله أو بعده.

10- وروى ابن أبي شيبة عن علي قال: من كان منكم متطوعا من الشهر، فليصم يوم الخميس ولا يصوم يوم الجمعة، فإنه يوم طعام وشراب وذكر.

وقال آخرون: بل الحكمة مخالفة اليهود، فإنهم يصومون يوم عيدهم، أي يفردونه بالصوم، فنهى عن التشبه بهم، كما خولفوا في يوم عاشوراء، بصيام يوم قبله أو بعده، وهذا القول هو المختار عندي؛ لأنه لا ينتقض بشيء.

--------------------------------------------

9- فتح الباري 4/ 235 وقال: رواه الحاكم وغيره وانظر المستدرك 1/ 437.

10- فتح الباري 4/ 235 وقال: بإسناد حسن.
9- ইবনে হাজার এটিকেই পছন্দ করেছেন এবং হাকিমের একটি হাদিস দ্বারা একে সমর্থন করেছেন:

আবু হুরায়রা থেকে মারফু (مرفوع) সূত্রে বর্ণিত, জুমার দিন হলো ঈদের দিন, সুতরাং তোমরা তোমাদের ঈদের দিনকে রোযার দিনে পরিণত করো না; তবে যদি তার আগে বা পরে রোযা রাখো (তবে ভিন্ন কথা)।

10- ইবনে আবি শাইবা আলি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি মাসে নফল রোযা রাখতে ইচ্ছুক, সে যেন বৃহস্পতিবার রোযা রাখে এবং জুমার দিন রোযা না রাখে; কেননা তা হলো পানাহার ও জিকিরের দিন।

অন্যান্য আলিমগণ বলেছেন: বরং এর অন্তর্নিহিত হিকমত হলো ইহুদিদের বিরোধিতা করা, কারণ তারা তাদের উৎসবের দিনে রোযা রাখে, অর্থাৎ তারা কেবল সেই দিনটিকেই রোযার জন্য নির্দিষ্ট করে নেয়; ফলে তাদের সাদৃশ্য অবলম্বন করতে নিষেধ করা হয়েছে, যেমনটি আশুরার দিনে তাদের বিরোধিতা করা হয়েছে তার আগে বা পরে একদিন রোযা রাখার মাধ্যমে। আর এই মতটিই আমার নিকট অগ্রগণ্য; কারণ এটি কোনো কিছুর দ্বারা খণ্ডিত হয় না।

--------------------------------------------

৯- ফাতহুল বারি ৪/ ২৩৫ এবং তিনি বলেছেন: এটি হাকিম ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন। দেখুন: মুসতাদরাক ১/ ৪৩৭।

10- ফাতহুল বারি ৪/ ২৩৫ এবং তিনি বলেছেন: হাসান (حسن) সনদে (إسناد)।
(খণ্ড: ১) নূরুল লুমআ ফি খাসায়িসিল জুমুআ (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌الخصوصية الثالثة: أنه يكره تخصيص ليلته بالقيام

11- للحديث السابق، لكن أخرج الخطيب في الرواية عن مالك من طريق إسماعيل بن أبي أويس عن زوجته بنت مالك بن أنس أن أباها مالكا كان يحيي ليلة الجمعة.

--------------------------------------------

11- يشير للحديث السابق برقم 7 الذي أخرجه مسلم عن أبي هريرة رضي الله تعالى عنه الذي أوله: "لا تخصوا ليلة الجمعة بقيام من بين الليالي".

وقال الإمام النووي في شرح مسلم 3/ 197: وأما قول مالك في الموطأ 1/ 311 لم أسمع أحدا من أهل العلم والفقه، ومن يقتدى به نهي عن صيام يوم الجمعة وصيامه حسن، وقد رأيت بعض أهل العلم يصومه، وأراه كان يتحراه، فهذا الذي قاله هو الذي رآه وقد رأى غيره خلاف ما رأى هو والسنة مقدمة على ما رآه هو وغيره، وقد ثبت النهي عن صوم يوم الجمعة، فيتعين القول به ومالك معذور، فإنه لم يبلغه.

قال الداودي من أصحاب مالك: لم يبلغ مالكا هذا الحديث ولو بلغة لم يخالفه.

قلت: وعلي فإنه يبلغه رحمه الله أن رسول الله صلى الله عليه وسلم نهى أن نخص ليلة الجمعة بقيام، ولو بلغه لم يخالفه.
তৃতীয় বৈশিষ্ট্য: জুমার রাতকে ইবাদতের (قيام) জন্য নির্দিষ্ট করা অপছন্দীয় (يكره)

১১- পূর্বোক্ত হাদিসের কারণে; তবে খতিব আল-বাগদাদি মালেক থেকে বর্ণিত বর্ণনায় ইসমাইল ইবনে আবি উওয়াইসের সূত্রে তার স্ত্রী বিনতে মালেক ইবনে আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তার পিতা মালেক জুমার রাত জেগে ইবাদত করতেন।

--------------------------------------------

১১- এটি ৭ নম্বর পূর্ববর্তী হাদিসের দিকে ইঙ্গিত করছে যা মুসলিম আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, যার প্রারম্ভিক অংশ হলো: "তোমরা অন্যান্য রাতের মধ্য থেকে কেবল জুমার রাতকে ইবাদতের (قيام) জন্য নির্দিষ্ট করো না।"

ইমাম নববী শরহে মুসলিম ৩/১৯৭-এ বলেছেন: আর মুয়াত্তা ১/৩১১-এ মালেকের উক্তি সম্পর্কে— "আমি ইলম ও ফিকহের অধিকারী এবং যাদের অনুসরণ করা হয় এমন কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে জুমার দিনের রোজা সম্পর্কে কোনো নিষেধাজ্ঞা (نهي) শুনিনি, বরং এর রোজা রাখা উত্তম (حسن)। আমি কিছু আলিমকে এই রোজা রাখতে দেখেছি এবং আমার মনে হয় তিনি এটি পালনের ব্যাপারে সচেষ্ট ছিলেন"—তবে তিনি যা বলেছেন তা কেবল তাঁর নিজস্ব পর্যবেক্ষণ, অথচ অন্যরা তাঁর পর্যবেক্ষণের বিপরীতটি দেখেছেন। আর সুন্নাহ তাঁর এবং অন্যদের মতামতের চেয়ে অগ্রগণ্য। যেহেতু জুমার দিন রোজা রাখার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা (نهي) প্রমাণিত (ثبت), তাই সেটিই গ্রহণ করা আবশ্যক। মালেক (রহ.) এক্ষেত্রে ওজরপ্রাপ্ত (معذور), কেননা হাদিসটি তাঁর কাছে পৌঁছেনি।

মালেকি পণ্ডিতদের অন্তর্ভুক্ত আদ-দাউদি বলেছেন: ইমাম মালেকের কাছে এই হাদিস পৌঁছেনি; যদি পৌঁছাত, তবে তিনি এর বিরোধিতা করতেন না।

আমি বলি: এটি তাঁর (রহ.) কাছেও পৌঁছেনি যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) জুমার রাতকে ইবাদতের (قيام) জন্য নির্দিষ্ট করতে নিষেধ (نهى) করেছেন; যদি তাঁর কাছে এই তথ্য পৌঁছাত, তবে তিনি এর বিরোধিতা করতেন না।
(খণ্ড: ১) নূরুল লুমআ ফি খাসায়িসিল জুমুআ (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌الخصوصية الرابعة: قراءة ألم تنزيل وهل أتى على الإنسان في صبحها

12- أخرج الشيخان عن أبي هريرة، قال: كان النبي صلى الله عليه وسلم يقرأ يوم الجمعة في صلاة الفجر ألم تنزيل السجدة، وهل أتى على الإنسان.

--------------------------------------------

12- البخاري 2/ 5.

- مسلم الجمعة 64، 65.

قال ابن حجر في فتح الباري 2/ 318، وفيه دليل على استحباب قراءة هاتين السورتين في هذه الصلاة من هذا اليوم لما تشعر الصيغة به من مواظبته صلى الله عليه وسلم على ذلك، أو إكثاره منه.

بل ورد حديث ابن مسعود التصريح بمداومته صلى الله عليه وسلم على ذلك أخرجه الطبراني، ولفظه يديم ذلك، وأصله في ابن ماجه بدون هذه الزيادة ورجاله ثقات لكن صوب أبو حاتم إرساله.

وكأن ابن دقيق العيد لم يقف عليه، فقال في الكلام على حديث الباب: ليس في الحديث ما يقتضي فعل ذلك دائما اقتضاء قويا.

وهو كما قال بالنسبة لحديث الباب، فإن الصيغة ليست نصا في المداومة لكن الزيادة التي ذكرناها نص في ذلك، وقد أشار أبو الوليد الباجي في رجال البخاري إلى الطعن في سعد بن إبراهيم لروايته هذا الحديث، وأن مالكا امتنع من الرواية عنه لأجله، وأن الناس تركوا العمل به لا سيما أهل المدينة. ا. هـ.

وليس كما قال، فإن سعدا لم ينفرد به مطلقا، فقد أخرجه مسلم من طريق سعيد بن جبير عن ابن عباس مثله، وكذا ابن ماجه والطبراني من حديث ابن مسعود وابن ماجه من حديث سعد بن أبي وقاص، والطبراني في الأوسط من حديث علي.

وأما دعواه أن الناس تركوا العمل به فباطلة؛ لأن أكثر أهل العلم من الصحابة والتابعين قد قالوا به، كما نقله ابن المنذر وغيره، حتى إنه ثابت عن إبراهيم بن عبد الرحمن بن عوف، والد سعد وهو من كبار التابعين من أهل المدينة أنه أم الناس بالمدينة بهما في الفجر يوم الجمعة أخرجه ابن أبي شيبة بإسناد صحيح، وكلام ابن العربي يشعر بأن ترك ذلك أمر طرأ على أهل المدينة؛ لأنه قال: وهو أمر لا يعلم بالمدينة، فالله أعلم بمن قطعه كما قطع غيره.

وقد اختلف تعليل المالكية بكراهة قراءة السجدة في الصلاة، فقيل: لكونها تشتمل على زيادة سجود في الفرض.

قال القرطبي: وهو تعليل فاسد بشهادة هذا الحديث.

وقيل: لخشية التخليط على المصلين ومن ثم فرق بعضهم بين الجهرية والسرية؛ لأن الجهرية يؤمن معها التخليط.

لكن صح من حديث ابن عمر أنه صلى الله عليه وسلم قرأ سورة فيها سجدة في صلاة الظهر، فسجد بها أخرجه أبو داود والحاكم، فبطلت التفرقة.

قلت: وفي تصحيح هذا الحديث نظر، حيث قال المحقق في فتح الباري ما نصه: والصواب أنه ضعيف؛ لأن في إسناده عند أبي داود رجلا مجهولا يدعى أمية كما نص على ذلك أبو داود في رواية الرملي عنه، ونبه عليه الشوكاني في نيل الأوطار، والله أعلم. =
চতুর্থ বৈশিষ্ট্য: জুমার দিন ফজরের সালাতে সূরা আস-সাজদাহ এবং সূরা আল-ইনসান পাঠ করা

১২- শাইখাইন আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী (সা.) জুমার দিন ফজরের সালাতে ‘আলিফ-লাম-মীম তানজিল’ (সূরা আস-সাজদাহ) এবং ‘হাল আতা আলাল ইনসান’ (সূরা আল-ইনসান) পাঠ করতেন।

--------------------------------------------

১২- বুখারি ২/৫।

- মুসলিম, জুমা ৬৪, ৬৫।

ইবনে হাজার ফাতহুল বারিতে (২/৩১৮) বলেন, এতে এই দিনের এই সালাতে এই সূরা দুটি পাঠ করা মুস্তাহাব হওয়ার প্রমাণ রয়েছে। কেননা শব্দবিন্যাস দ্বারা নবী (সা.)-এর পক্ষ থেকে এর ওপর নিয়মিত আমল করা অথবা অধিকবার পাঠ করার বিষয়টি অনুভূত হয়।

বরং ইবনে মাসউদের হাদিসে এর ওপর নবী (সা.)-এর নিয়মিত আমলের সুস্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। তাবারানি এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর শব্দ হলো, ‘তিনি এটি নিয়মিত করতেন’। এর মূল বর্ণনা ইবনে মাজাহ-তে এই অতিরিক্ত অংশটুকু ছাড়াই বিদ্যমান। এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات), তবে আবু হাতিম এর বিচ্ছিন্নতা (إرسال)-কেই সঠিক বলেছেন।

মনে হয় ইবনে দাকীক আল-ঈদ এর সন্ধান পাননি, তাই তিনি আলোচ্য হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেছেন: হাদিসটিতে এমন কিছু নেই যা দৃঢ়ভাবে এই আমলটি সর্বদা করার দাবি রাখে।

আলোচ্য হাদিসটির ক্ষেত্রে বিষয়টি তেমনই যেমনটি তিনি বলেছেন; কেননা শব্দবিন্যাসটি নিয়মিত আমলের ব্যাপারে সুনিশ্চিত পাঠ নয়। তবে আমরা যে অতিরিক্ত অংশটি উল্লেখ করেছি, তা এ বিষয়ে স্পষ্ট প্রমাণ। আবুল ওয়ালিদ আল-বাজি 'রিজালুল বুখারি'-তে এই হাদিসটি বর্ণনা করার কারণে সা’দ ইবনে ইব্রাহিমের সমালোচনা করার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ইমাম মালিক এই কারণেই তাঁর থেকে বর্ণনা করা থেকে বিরত থেকেছেন এবং মানুষ এর ওপর আমল করা ছেড়ে দিয়েছে, বিশেষ করে মদিনাবাসী। সমাপ্ত।

তবে বিষয়টি তেমন নয় যেমনটি তিনি বলেছেন। কেননা সা’দ এটি বর্ণনায় মোটেও একক নন। মুসলিম সাঈদ ইবনে জুবায়েরের সূত্রে ইবনে আব্বাস থেকে অনুরূপ হাদিস বর্ণনা করেছেন। তদ্রূপ ইবনে মাজাহ ও তাবারানি ইবনে মাসউদের হাদিস থেকে, ইবনে মাজাহ সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাসের হাদিস থেকে এবং তাবারানি আল-আওসাত-এ আলীর হাদিস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

আর তাঁর এই দাবি যে মানুষ এর ওপর আমল করা ছেড়ে দিয়েছে—তা ভিত্তিহীন। কারণ সাহাবী ও তাবেয়ীদের অধিকাংশ আলেম এর পক্ষে মত দিয়েছেন, যেমনটি ইবনে মুনজির ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন। এমনকি মদিনার অন্যতম বড় তাবেয়ী সা’দের পিতা ইব্রাহিম ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আউফ সম্পর্কে এটি প্রমাণিত যে, তিনি মদিনায় জুমার দিন ফজরে এই দুটি সূরা দিয়ে ইমামতি করতেন। ইবনে আবি শায়বাহ এটি একটি সহিহ সনদ (إسناد صحيح) সহকারে বর্ণনা করেছেন। ইবনুল আরাবীর বক্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে, এটি ছেড়ে দেওয়া মদিনাবাসীদের জন্য একটি নতুন বিষয় ছিল। কারণ তিনি বলেছেন: ‘এটি এমন একটি বিষয় যা মদিনায় পরিচিত নয়। আল্লাহই ভালো জানেন কে এটি বন্ধ করেছে, যেমনভাবে অন্যান্য আমল বন্ধ করা হয়েছে।’

সালাতে সাজদাহ পাঠ করা মাকরুহ হওয়ার ব্যাপারে মালিকি মাজহাবের কারণ দর্শানোর ক্ষেত্রে মতভেদ রয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন: যেহেতু এতে ফরজ সালাতে অতিরিক্ত একটি সাজদাহ শামিল হয়।

কুরতুবি বলেন: এই হাদিসের সাক্ষ্য অনুযায়ী এটি একটি অসার যুক্তি।

আবার কেউ বলেছেন: মুসল্লিদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টির আশঙ্কায় এটি বর্জনীয়। এ কারণে তাঁদের কেউ কেউ সশব্দে (জাহরি) এবং নিঃশব্দে (সিররি) পাঠ করা সালাতের মধ্যে পার্থক্য করেছেন; কেননা সশব্দ সালাতে বিভ্রান্তির আশঙ্কা থাকে না।

কিন্তু ইবনে উমরের হাদিস থেকে প্রমাণিত যে, নবী (সা.) জোহরের সালাতে এমন একটি সূরা পাঠ করেছিলেন যাতে সাজদাহ ছিল এবং তিনি তাতে সাজদাহ দিয়েছিলেন। এটি আবু দাউদ ও হাকেম বর্ণনা করেছেন, ফলে এই পার্থক্যের বিষয়টি বাতিল হয়ে যায়।

আমি বলছি: এই হাদিসটি সহিহ সাব্যস্ত করার বিষয়ে সংশয় রয়েছে। ফাতহুল বারির মুহাক্কিক যা বলেছেন তার শব্দরূপ হলো: ‘সঠিক কথা হলো এটি দুর্বল (ضعيف); কারণ আবু দাউদের বর্ণনায় এর সনদে উমাইয়্যাহ নামক একজন অপরিচিত (مجهول) ব্যক্তি রয়েছে, যেমনটি আবু দাউদ তাঁর বর্ণনায় রামলির সূত্রে স্পষ্ট করেছেন। শাওকানি নীলুল আওতার-এ এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।’ =
(খণ্ড: ১) নূরুল লুমআ ফি খাসায়িসিল জুমুআ (পৃষ্ঠা: ১৬)
........................................................................................

--------------------------------------------

= قال ابن حجر: ومنهم من علل الكراهة بخشية اعتقاد العوام أنه فرض، قال ابن رقيق العيد: أما القول بالكراهة مطلقا، فيأباه الحديث لكن إذا انتهى الحال إلى وقوع هذه المفسدة، فينبغي أن تترك أحيانا لتندفع، فإن المستحب قد يترك لدفع المفسدة المتوقعة، وهو يحصل بالترك في بعض الأوقات.

وإلى ذلك أشار ابن العربي بقوله: ينبغي أن يفعل ذلك في الأغلب للقدوة.

ويقطع أحيانا لئلا تظنه العامة سنة. ا. هـ.

هذا على قاعدتهم في التفرقة بين السنة والمستحب، وقال صاحب المحيط من الحنفية.

يستحب قراءة هاتين السورتين من صبح يوم الجمعة بشرط أن يقرأ غير ذلك أحيانا؛ لئلا يظن الجاهل أنه لا يجزئ غيره.

وأما صاحب الهداية من الأحناف، فذكر أن علة الكراهة هجران الباقي، وإيهام التفضيل.

وقول الطحاوي يناسب قول صاحب المحيط، فإنه خص الكراهة بمن يراه حتما لا يجزئ غيره، أو يرى القراءة بغيره مكروهة فائدتان.

الأولى لم أر في شيء من الطرق التصريح بأنه صلى الله عليه وسلم سجد لما قرأ سورة تنزيل السجدة في هذا المحل، إلا في كتاب الشريعة لابن أبي داود من طريق أخرى عن سعيد بن جبير، عن ابن عباس قال: "قدمت على رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم الجمعة في صلاة الفجر، فقرأ سورة فيها سجدة، فسجد الحديث، وفي إسناده من ينتظر في حاله".

وللطبراني في الصغير من حديث علي أن النبي صلى الله عليه وسلم سجد في صلاة الصبح في تنزيل السجدة لكن في إسناده ضعف.

الثانية قيل الحكمة في اختصاص يوم الجمعة بقراءة سورة السجدة، قصد السجود الزائد حتى إنه يستحب لمن لم يقرأ هذه السورة بعينها أن يقرأ سورة غيرها فيها سجدة قد عاب ذلك على فاعله غير واحد من العلماء، ونسبهم صاحب الهدى إلى قلة العلم، ونقص المعرفة لكن عند ابن أبي شيبة بإسناد قوي =
........................................................................................

--------------------------------------------

= ইবনে হাজার বলেন: তাদের মধ্যে কেউ কেউ অপছন্দনীয় (كراهة) হওয়ার কারণ হিসেবে সাধারণ মানুষের একে ফরজ (فرض) মনে করার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করেছেন। ইবনে দাকীকুল ঈদ বলেন: তবে ঢালাওভাবে অপছন্দনীয় (كراهة) হওয়ার বিষয়টি হাদিস অস্বীকার করে। কিন্তু যখন পরিস্থিতি এমন অনিষ্টের (مفسدة) পর্যায়ে পৌঁছায়, তখন তা নিরসনের জন্য মাঝে মাঝে এটি বর্জন করা উচিত। কারণ সম্ভাব্য অনিষ্ট (مفسدة) এড়ানোর জন্য মুস্তাহাব (مستحب) আমল মাঝে মাঝে ছেড়ে দেওয়া যেতে পারে, আর এটি মাঝে মাঝে বর্জনের মাধ্যমেই অর্জিত হয়।

ইবনুল আরাবিও সেদিকে ইঙ্গিত করে তাঁর বক্তব্যে বলেছেন: অনুসরণের লক্ষ্যে এটি অধিকাংশ সময় আমল করা উচিত।

এবং মাঝে মাঝে ছেড়ে দিতে হবে যাতে সাধারণ মানুষ একে সুন্নাত (سنة) মনে না করে। (সমাপ্ত)

এটি সুন্নাত (سنة) ও মুস্তাহাব (مستحب)-এর মধ্যে পার্থক্যের বিষয়ে তাদের মূলনীতির ভিত্তিতে। আর হানাফিদের মধ্যে আল-মুহিত গ্রন্থের লেখক বলেছেন:

জুমার দিনের ফজর নামাজে এই দুই সূরা তিলাওয়াত করা মুস্তাহাব (مستحب), তবে শর্ত হলো মাঝে মাঝে অন্য সূরা পড়তে হবে; যাতে অজ্ঞ ব্যক্তি এমন ধারণা না করে যে অন্য সূরা পড়লে তা যথেষ্ট (جزئ) হবে না।

আর হানাফিদের মধ্যে হিদায়া গ্রন্থের লেখক উল্লেখ করেছেন যে, অপছন্দনীয় (كراهة) হওয়ার কারণ হলো কুরআনের অবশিষ্ট অংশ পরিত্যক্ত হওয়া এবং শ্রেষ্ঠত্বের বিভ্রান্তি তৈরি করা।

ইমাম তহাবির বক্তব্য আল-মুহিত গ্রন্থের লেখকের বক্তব্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ; কারণ তিনি অপছন্দনীয় (كراهة) হওয়ার বিষয়টি কেবল তাদের জন্যই নির্দিষ্ট করেছেন যারা এটিকে অবধারিত মনে করে এবং অন্য কিছু দ্বারা তা যথেষ্ট হবে না বলে বিশ্বাস করে, অথবা অন্য সূরা তিলাওয়াত করাকে অপছন্দনীয় (مكروهة) মনে করে। এখানে দুটি শিক্ষা রয়েছে:

প্রথমত: আমি কোনো সূত্রের (طرق) বর্ণনায় এটি স্পষ্ট উল্লেখ করতে দেখিনি যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই স্থানে সূরা আস-সাজদাহ তিলাওয়াত করার সময় সিজদা করেছিলেন। তবে ইবনে আবু দাউদের কিতাবুশ শারিয়াহ গ্রন্থে সাঈদ ইবনে জুবায়েরের সূত্রে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত অন্য একটি সূত্রে (طريق) পাওয়া যায় যে তিনি বলেন: "আমি জুমার দিন ফজরের নামাজে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলাম। তিনি একটি সূরা পাঠ করলেন যাতে সিজদা ছিল এবং তিনি সিজদা করলেন।" (হাদিস)। তবে এর সনদে (إسناد) এমন বর্ণনাকারী আছেন যার অবস্থা পর্যালোচনার অপেক্ষায় রয়েছে।

তাবারানির আল-মুজামুস সাগির গ্রন্থে আলীর একটি হাদিস রয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের নামাজে সূরা আস-সাজদাহ তিলাওয়াতের সময় সিজদা করেছেন, তবে এর সনদে (إسناد) দুর্বলতা (ضعف) রয়েছে।

দ্বিতীয়ত: বলা হয়েছে যে জুমার দিনে সূরা আস-সাজদাহ তিলাওয়াতের হিকমত হলো অতিরিক্ত সিজদা করার উদ্দেশ্য; এমনকি যদি কেউ নির্দিষ্টভাবে এই সূরাটি তিলাওয়াত না-ও করে, তবে অন্য কোনো সূরা তিলাওয়াত করা তার জন্য মুস্তাহাব (مستحب) যাতে সিজদা রয়েছে। একাধিক আলিম এ ধরণের আমলকারীর সমালোচনা করেছেন। যাদুল মাআদ (হাদুল হুদা) গ্রন্থের লেখক তাদের জ্ঞানের স্বল্পতা ও মারেফাতের অভাবের দিকে নিসবত করেছেন। তবে ইবনে আবি শায়বার নিকট একটি শক্তিশালী (قوي) সনদে (إسناد) বর্ণিত হয়েছে =
(খণ্ড: ১) নূরুল লুমআ ফি খাসায়িসিল জুমুআ (পৃষ্ঠা: ১৭)
13- وفي الباب عن ابن عباس، وابن مسعود وعلي وغيرهم ولفظ ابن مسعود عند الطبراني يديم ذلك.

قيل: والحكمة من قراءتهما الإشارة على ما فيهما من ذكر خلق آدم، وأحوال يوم القيامة؛ لأن ذلك كان ويقع يوم الجمعة ذكره ابن دحية، وقال غيره بل قصد السجود الزائد.

14- وأخرج ابن أبي شيبة عن ابراهيم النخعي أنه قال: يستحب أن يقرأ في صبح يوم الجمعة بسورة فيها سجدة.

15- وأخرج أيضا عنه أنه قرأ سورة مريم.

16- وأخرج ابن عون قال: كانوا يقرأون في الصبح يوم الجمعة بسورة فيها سجدة.

--------------------------------------------

= عن إبراهيم النخعي أنه قال: يستحب أن يقرأ في الصبح يوم الجمعة بسورة فيها سجدة، وعنده من طريقه أيضا أنه فعل ذلك، فقرأ سورة مريم.

ومن طريق ابن عون قال: كانوا يقرأون في الصبح يوم الجمعة بسورة فيها سجدة.

وعنده من طريقه أيضا قال: وسألت محمدا يعني ابن سيرين عنه فقال: لا أعلم به بأسًا.

وقال النووي مقياس مذهبنا أنه يكره في الصلاة إذا قصده، وقد أفتى ابن عبد السلام قبله بالمنع، وببطلان الصلاة بقصد ذلك.

قال صاحب المهمات: مقتضى كلام القاضي حسين الجواز.

وقال الفاروقي في فوائد المهذب: لا تستحب قراءة سجدة غير تنزيل، فإن ضاق الوقت عن قراءتها قرأ بما أمكن منها ولو بآية السجدة منها.

ووافقه ابن أبي عصرون في كتاب الانتصار وفيه نظر.

وانظر كذلك ألفاظ الحديث المختلفة، والتعليق عليها في الترمذي رقم 520 والبيهقي 3/ 201 -النسائي الجمعة باب 37- عبد الرزاق رقم 2731 و5706، 5236.

- ابن كثير 6/ 360 -القرطبي 14/ 84- مسند أحمد 1/ 340.

- الحلية 7/ 183.

- مجمع الزوائد 2/ 169.
১৩- এবং এ বিষয়ে ইবনে আব্বাস, ইবনে মাসউদ, আলী ও অন্যদের থেকে বর্ণনা রয়েছে। তাবারানির নিকট ইবনে মাসউদের বর্ণিত শব্দ হলো: তিনি তা সর্বদা পালন করতেন।

বলা হয়েছে: এই সূরা দুটি পাঠ করার হিকমত হলো এতে আদমের সৃষ্টি এবং কিয়ামত দিবসের অবস্থার যে আলোচনা রয়েছে তার প্রতি ইঙ্গিত করা; কারণ তা জুমার দিনেই সংঘটিত হয়েছিল এবং হবে। এটি ইবনে দাহইয়া উল্লেখ করেছেন। অন্য গবেষকগণ বলেছেন, বরং অতিরিক্ত সিজদা (سجدة) করাই এর উদ্দেশ্য।

১৪- ইবনে আবি শাইবাহ ইবরাহিম নাখয়ি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: জুমার দিনের ফজরের নামাজে এমন একটি সূরা পাঠ করা মুস্তাহাব (مستحب) যাতে সিজদা (سجدة) রয়েছে।

১৫- তাঁর থেকেই আরও বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি সূরা মারয়াম পাঠ করেছিলেন।

১৬- ইবনে আউন বর্ণনা করেছেন, তাঁরা জুমার দিনের ফজরের নামাজে এমন সূরা পাঠ করতেন যাতে সিজদা (سجدة) রয়েছে।

--------------------------------------------

= ইবরাহিম নাখয়ি থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: জুমার দিনের ফজরের নামাজে এমন সূরা পাঠ করা মুস্তাহাব (مستحب) যাতে সিজদা (سجدة) রয়েছে। তাঁর সূত্রেই আরও বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি নিজে এমনটি করেছেন এবং সূরা মারয়াম পাঠ করেছেন।

ইবনে আউনের সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন: তাঁরা জুমার দিনের ফজরের নামাজে এমন সূরা পাঠ করতেন যাতে সিজদা (سجدة) রয়েছে।

তাঁর সূত্রেই আরও বর্ণিত হয়েছে যে, আমি মুহাম্মদ অর্থাৎ ইবনে সিরিনকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: এতে আমি কোনো সমস্যা (بأس) দেখি না।

ইমাম নববী বলেছেন: আমাদের মাযহাবের মানদণ্ড হলো নামাজে যদি শুধু সিজদার উদ্দেশ্যেই তা করা হয় তবে তা মাকরূহ (مكروه)। এর আগে ইবনে আব্দুস সালাম এটি নিষিদ্ধ (منع) হওয়ার এবং কেবল সেই উদ্দেশ্যে করলে নামাজ বাতিল হওয়ার ফতোয়া দিয়েছিলেন।

'আল-মুহিম্মাত' গ্রন্থের লেখক বলেন: কাজী হুসাইনের বক্তব্য অনুযায়ী এটি জায়েজ (جواز)।

ফারুকি 'ফাওয়াইদ আল-মুহাজ্জাব' গ্রন্থে বলেন: 'তানজিল' (সূরা সাজদাহ) ছাড়া অন্য কোনো সূরার মাধ্যমে সিজদা করা মুস্তাহাব (مستحب) নয়। যদি তা পাঠ করার মতো সময় সংকীর্ণ হয়, তবে যতটুকু সম্ভব পাঠ করবে, এমনকি যদি তা কেবল সিজদার আয়াতও হয়।

ইবনে আবি আসরুন 'আল-ইনতিসার' গ্রন্থে তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন, তবে এ বিষয়ে পর্যালোচনার অবকাশ (نظر) রয়েছে।

হাদিসের বিভিন্ন শব্দ এবং এর ওপর টীকা দেখার জন্য দেখুন: তিরমিজি নম্বর ৫২০, বায়হাকি ৩/২০১, নাসায়ি জুমুআ অধ্যায় ৩৭, আবদুর রাজ্জাক নম্বর ২৭৩১ ও ৫৭০৬, ৫২৩৬।

- ইবনে কাসির ৬/৩৬০ - কুরতুবি ১৪/৮৪ - মুসনাদে আহমদ ১/৩৪০।

- আল-হিলয়াহ ৭/১৮৩।

- মাজমাউজ জাওয়াইদ ২/১৬৯।
(খণ্ড: ১) নূরুল লুমআ ফি খাসায়িসিল জুমুআ (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌الخصوصية الخامسة: أن صلاة أفضل الصلوات عند الله

…

الخصوصية الخامسة: أن صلاة الصبح أفضل الصلوات عند الله

17- أخرج سعيد بن منصور في سننه عن ابن عمر أنه قعد جمران في صلاة الصبح، فلما جاء قال: ما شغلك عن هذه الصلاة أما علمت أن أوجه الصلاة عند الله غداة الجمعة من يوم الجمعة في جماعة المسلمين.

18- وأخرجه البيهقي في الشعب مصرحا برفعه بلفظ: أن أفضل الصلاة عند الله صلاة الصبح يوم الجمعة في جماعة.

--------------------------------------------

18- حديث ابن عمر رضي الله عنهما روي بألفاظ متقاربة.

اللفظ الأول روى الطبراني في الكبير بلفظ أن أفضل الصلاة عند الله صلاة الصبح يوم الجمعة في جماعة، انظر كنز العمال رقم 19307.

اللفظ الثاني رواه الديلمي بلفظ أفضل الأعمال عند الله صلاة الصبح يوم الجمعة في جماعة انظر كنز العمال رقم 19308.

اللفظ الثالث رواه أبو نعيم في الحلية، والبيهقي في الشعب بلفظ أفضل الصلوات عند الله تعالى صلاة الصبح يوم الجمعة في جماعة انظر كنز العمال رقم 19299.
‌পঞ্চম বৈশিষ্ট্য: এটি আল্লাহর নিকট শ্রেষ্ঠ নামাজ

…

পঞ্চম বৈশিষ্ট্য: ফজর নামাজ আল্লাহর নিকট শ্রেষ্ঠ নামাজ।

17- সাঈদ ইবনে মানসুর তাঁর সুনান গ্রন্থে ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি ফজরের নামাজের সময় জমরান নামক স্থানে (অথবা জমরান অবস্থায়) বসে ছিলেন। যখন তিনি আসলেন, তখন (ইবনে উমর) বললেন: আপনাকে এই নামাজ থেকে কিসে বিরত রাখল? আপনি কি জানেন না যে, আল্লাহর নিকট সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ নামাজ হলো জুমার দিনের ফজরের নামাজ, যা মুসলিমদের জামাতের (جماعة) সাথে আদায় করা হয়।

18- এবং ইমাম বায়হাকি শুআবুল ঈমান গ্রন্থে এটি স্পষ্টভাবে নবীজির সাথে সম্পর্কিত (مرفوع) হওয়ার বিষয় উল্লেখ করে এই পাঠে বর্ণনা করেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট শ্রেষ্ঠ নামাজ হলো জুমার দিনের ফজর নামাজ জামাতের (جماعة) সাথে আদায় করা।"

--------------------------------------------

18- ইবনে উমর (রা.)-এর হাদিসটি কাছাকাছি বিভিন্ন শব্দে বর্ণিত (روي) হয়েছে।

প্রথম শব্দবিন্যাস: তাবারানি আল-কাবীর গ্রন্থে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন যে, নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট শ্রেষ্ঠ নামাজ হলো জুমার দিনের ফজর নামাজ জামাতের (جماعة) সাথে আদায় করা; দেখুন কানযুল উম্মাল, নম্বর ১৯৩০৭।

দ্বিতীয় শব্দবিন্যাস: দাইলামি এই শব্দে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর নিকট শ্রেষ্ঠ আমল হলো জুমার দিনের ফজর নামাজ জামাতের (جماعة) সাথে আদায় করা; দেখুন কানযুল উম্মাল, নম্বর ১৯৩০৮।

তৃতীয় শব্দবিন্যাস: আবু নুআইম আল-হিলয়া গ্রন্থে এবং ইমাম বায়হাকি শুআবুল ঈমান গ্রন্থে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহ তাআলার নিকট শ্রেষ্ঠ নামাজসমূহ হলো জুমার দিনের ফজর নামাজ জামাতের (جماعة) সাথে আদায় করা; দেখুন কানযুল উম্মাল, নম্বর ১৯২৯৯।
(খণ্ড: ১) নূরুল লুমআ ফি খাসায়িসিল জুমুআ (পৃষ্ঠা: ১৯)
19- وأخرج البزار والطبراني عن أبي عبيدة ابن الجراح، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "ما من الصلوات صلاة أفضل من صلاة الفجر يوم الجمعة في الجماعة، وما أحسب من شهدها منكم إلا مغفورا له".

--------------------------------------------

19- قال البزار: حدثنا عبد الله بن أحمد بن شبوية، وأحمد بن منصور قالا: ثنا سعيد بن الحكم ثنا يحيى بن أيوب عن عبيد الله بن خزعلة علي بن يزيد عن القاسم، عن أبي أمامة عن أبي عبيدة بين الجراح، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "إن أفضل الصلوات صلاة الصبح يوم الجمعة في جماعة، وما أحسب من شهدها منكم إلا مغفورا له" قال البزار: تفرد به أبو عبيدة فيما أعلم انظر كشف الأستار 1/ 298، وقال الهيثمي في مجمع الزوائد 2/ 168: رواه البزار والطبراني في الكبير والأوسط كلهم من رواية عبيد الله بن زهر عن علي بن يزيد، وهما ضعيفان.

انظر ميزان الاعتدال 3/ 6 ترجمة عبيد الله بن زحر.
১৯- আল-বাজার এবং আত-তাবারানি আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "সালাতসমূহের মধ্যে জুমার দিনে জামাতের সাথে ফজরের সালাতের চেয়ে অধিক শ্রেষ্ঠ কোনো সালাত নেই এবং আমি মনে করি তোমাদের মধ্যে যারা এতে উপস্থিত হবে, তারা ক্ষমা লাভ করবে।"

--------------------------------------------

১৯- আল-বাজার বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে শাবওয়াইহ এবং আহমাদ ইবনে মনসুর, তাঁরা বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাঈদ ইবনুল হাকাম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে আইয়ুব, তিনি উবায়দুল্লাহ ইবনে যাহর থেকে, তিনি আলি ইবনে ইয়াজিদ থেকে, তিনি কাসিম থেকে, তিনি আবু উমামা থেকে, তিনি আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই শ্রেষ্ঠ সালাতসমূহের একটি হলো জুমার দিনে জামাতের সাথে ফজরের সালাত এবং আমি মনে করি তোমাদের মধ্যে যে এতে উপস্থিত হবে তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে।" আল-বাজার বলেন: আমার জানামতে আবু উবাইদা এটি এককভাবে (تفرد) বর্ণনা করেছেন। দেখুন: কাশফুল আস্তার ১/২৯৮ এবং হাইসামি মাজমাউয যাওয়াইদ ২/১৬৮-এ বলেছেন: আল-বাজার এবং আত-তাবারানি আল-কাবীর ও আল-আওসাত গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন। তাঁরা সকলে উবায়দুল্লাহ ইবনে যাহর-এর সূত্রে আলি ইবনে ইয়াজিদ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন, আর তাঁরা উভয়েই দুর্বল (ضعيفان)।

দেখুন: মিজানুল ইতিদাল ৩/৬, উবায়দুল্লাহ ইবনে যাহর-এর জীবনী।
(খণ্ড: ১) নূরুল লুমআ ফি খাসায়িসিল জুমুআ (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌الخصوصية السادسة: سادة الجمعة

…

الخصوصية السادسة: صلاة الجمعة

واختصاصها بركعتين، وهي في سائر الأيام أربع.
ষষ্ঠ বৈশিষ্ট্য: জুমার শ্রেষ্ঠত্ব

…

ষষ্ঠ বৈশিষ্ট্য: জুমার নামাজ

এবং একে দুই রাকাতের জন্য সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে, যেখানে অন্যান্য দিনগুলোতে (জোহরের নামাজ) চার রাকাত।
(খণ্ড: ১) নূরুল লুমআ ফি খাসায়িসিল জুমুআ (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌الخصوصية السابعة: أنها تعدل حجة

20- أخرج حميد بن زنجويه في فضائل الأعمال، والحافظ ابن أبي أسامة في مسنده عن ابن عباس، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "الجمعة حج المساكين".

21- وأخرج ابن زنجويه عن سعيد بن المسيب، قال: "للجمعة أحب إلي من حجة تطوع".

--------------------------------------------

20- كشف الخفاء 1/ 400- الفوائد المجموعة ص437- تذكرة 114- كنز العمال 21032، 21031- إتحاف السادة المتقين 9/ 152- الأحياء 4/ 133

قال العجلوني: رواه القضاعي عن ابن عباس رضي الله عنهما، ورفعه وفي لفظ الفقراء بدل المساكين وفي سنده مقاتل ضعيف، وعزاه في الدرر لابن أبي أسامة في مسنده، وقال الصغاني: موضوع وروى الديلمي عن ابن عمر رفعه "الدجاج غنم فقراء أمتي والجمعة حج فقرائها وفي كنز العمال رقم 21031 بلفظ الجمعة حج المساكين، وعزاه لابن زنجويه في ترغيبه، والقضاعي وبرقم 21032 بلفظ الجمعة حج الفقراء، وعزاه للقضاعي وابن عساكر، وقال الشوكاني: لا أصل له.
সপ্তম বৈশিষ্ট্য: এটি হজের সমতুল্য

২০- হুমাইদ ইবনে জানজুয়াহ ফাদায়িলুল আমাল গ্রন্থে এবং হাফেজ ইবনে আবি উসামা তার মুসনাদ-এ ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "জুমুআ হলো অভাবগ্রস্তদের হজ।"

২১- ইবনে জানজুয়াহ সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "জুমুআর নামাজ আমার কাছে একটি নফল হজের চেয়েও অধিক প্রিয়।"

--------------------------------------------

২০- কাশফুল খাফা ১/৪০০; আল-ফাওয়ায়িদুল মাজমুআ পৃষ্ঠা ৪৩৭; তাযকিরাহ ১১৪; কানযুল উম্মাল ২১০৩২, ২১০৩১; ইতহাফুস সাদাতিল মুত্তাকিন ৯/১৫২; ইহয়া ৪/১৩৩।

আল-আজলুনি বলেন: আল-কুদায়ি এটি ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেছেন এবং একে মারফু (مرفوع) হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এর একটি পাঠে 'মাসাকিন' (অভাবগ্রস্ত) শব্দের স্থলে 'ফুকারা' (দরিদ্র) শব্দ এসেছে। এর সনদ (سند)-এ মুকাতিল নামক একজন বর্ণনাকারী রয়েছেন যিনি দুর্বল (ضعيف)। আদ-দুরার গ্রন্থে একে ইবনে আবি উসামার মুসনাদ-এর দিকে নিসবত করা হয়েছে এবং আস-সাগানি একে জাল (موضوع) বলেছেন। আদ-দাইলামি ইবনে উমর (রাযি.) থেকে মারফু (مرفوع) হিসেবে বর্ণনা করেছেন: "মুরগি হলো আমার উম্মতের দরিদ্রদের বকরি, আর জুমুআ হলো তাদের জন্য হজ।" কানযুল উম্মাল-এর ২১০৩১ নম্বরে "জুমুআ হলো অভাবগ্রস্তদের হজ" শব্দে বর্ণিত হয়েছে এবং একে ইবনে জানজুয়াহর তারগিব ও আল-কুদায়ির দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে। আর ২১০৩২ নম্বরে "জুমুআ হলো দরিদ্রদের হজ" শব্দে বর্ণিত হয়েছে এবং একে আল-কুদায়ি ও ইবনে আসাকিরের দিকে নিসবত করা হয়েছে। আশ-শাওকানি বলেছেন: এর কোনো ভিত্তি নেই (لا أصل له)।
(খণ্ড: ১) নূরুল লুমআ ফি খাসায়িসিল জুমুআ (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌الخصوصية الثامنة: الجهر فيها

وصلوات النهار سرية.
অষ্টম বৈশিষ্ট্য: এতে উচ্চস্বরে কিরাত পাঠ (الجهر) করা

এবং দিনের বেলাকার নামাজসমূহ নিঃশব্দে পাঠকৃত (سرية)।
(খণ্ড: ১) নূরুল লুমআ ফি খাসায়িসিল জুমুআ (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌الخصوصية التاسعة: قراءة الجمعة والمنافقين فيها

22- أخرج مسلم عن أبي هريرة، قال: سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقرأ في الجمعة بسورة الجمعة، وإذا جاءك المنافقون.

23- وأخرجه الطبراني في الأوسط بلفظ بالجمعة يحرض بها المؤمنين، وفي الثانية بسورة المنافقين يفزع بها المنافقين.

--------------------------------------------

22- قال النووي في شرح مسلم 2/ 529 "ط/ الشعب"، فيه استحباب قراءتها بكمالها فيها، وهو مذهبنا ومذهب آخرين.

قال العلماء: الحكمة في قراءة الجمعة اشتمالها على وجوب الجمعة، وغير ذلك من أحكامها، وغير ذلك مما فيها من القواعد، والحث على التوكل والذكر وغير ذلك.

وقراءة سورة المنافقين لتوبيخ حاضريها منهم، وتنبيههم على التوبة وغير ذلك مما فيها من القواعد؛ لأنهم ما كانوا يجتمعون في مجلس أكثر من اجتماعهم فيها.

23- مجمع الزوائد 2/ 191، عن أبي هريرة رضي الله عنه، قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم ما يقرأ في صلاة الجمعة بالجمعة، فيحرض به المؤمنين وفي الثانية بسورة المنافقين، فيقرع به المؤمنين قال الهيثمي: رواه الطبراني في الأوسط وإسناده حسن، ومحمد بن عمار هو الوازعي، وهو وشيخه عبد الصمد من أهل الرأي، وثقهما ابن حبان.
নবম বৈশিষ্ট্য: জুমার নামাজে সূরা আল-জুমুআ এবং সূরা আল-মুনাফিকুন পাঠ করা

২২- ইমাম মুসলিম আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জুমার নামাজে সূরা আল-জুমুআ এবং ‘ইজা জাআকাল মুনাফিকুন’ (সূরা আল-মুনাফিকুন) পাঠ করতে শুনেছি।

২৩- ইমাম তাবারানি ‘আল-আওসাত’ গ্রন্থে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন যে, জুমার প্রথম রাকাতে সূরা আল-জুমুআ পাঠ করতেন যার মাধ্যমে মুমিনদের উৎসাহিত করতেন এবং দ্বিতীয় রাকাতে সূরা আল-মুনাফিকুন পাঠ করতেন যার মাধ্যমে মুনাফিকদের আতঙ্কিত বা সতর্ক করতেন।

--------------------------------------------

২২- ইমাম নববী ‘শরহে মুসলিম’ (২/৫২৯, “তবা/আশ-শা’ব” সংস্করণ) গ্রন্থে বলেছেন, এতে পুরো সূরাটি পাঠ করার মুস্তাহাব হওয়ার প্রমাণ রয়েছে, আর এটিই আমাদের এবং অন্যদের মাযহাব।

ওলামায়ে কেরাম বলেছেন: সূরা আল-জুমুআ পাঠ করার হিকমত বা রহস্য হলো এতে জুমার আবশ্যকতা এবং এর অন্যান্য বিধান ও মূলনীতিসমূহ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, এছাড়াও এটি আল্লাহর ওপর ভরসা ও জিকিরের প্রতি উৎসাহিত করে।

আর সূরা আল-মুনাফিকুন পাঠ করার উদ্দেশ্য হলো সেখানে উপস্থিত মুনাফিকদের তিরস্কার করা এবং তাদের তওবা করার প্রতি সচেতন করা, এছাড়াও এতে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি রয়েছে; কারণ তারা জুমার দিনের মতো এত বিপুল সংখ্যায় অন্য কোনো সমাবেশে সমবেত হতো না।

২৩- ‘মাজমাউজ জাওয়াইদ’ (২/১৯১), আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমার নামাজে সূরা আল-জুমুআ পাঠ করতেন এবং এর মাধ্যমে মুমিনদের উদ্বুদ্ধ করতেন, আর দ্বিতীয় রাকাতে সূরা আল-মুনাফিকুন পাঠ করে মুমিনদের সজাগ করতেন। ইমাম হাইসামি বলেছেন: তাবারানি এটি ‘আল-আওসাত’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ (إسناد) উত্তম (حسن)। মুহাম্মদ ইবনে আম্মার হলেন আল-ওয়াজি’য়ি, তিনি এবং তার উস্তাদ আবদুস সামাদ আহলুর রা’য়-এর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, ইমাম ইবনে হিব্বান তাদের নির্ভরযোগ্য (وثقهما) বলে অভিহিত করেছেন।
(খণ্ড: ১) নূরুল লুমআ ফি খাসায়িসিল জুমুআ (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌الخصوصية العاشرة والحادية عشرة والثانية عشرة والثالثة عشرة اختصاصها بالجماعة، وبأربعين وبمكان واحد من البلد، وبإذن السلطان أو اشتراطا كما هو مقرر في كتب الفقه:

24- وأقوى ما رأيته للاختصاص بأربعين ما أخرجه الدارقطني في سننه عن جابر بن عبد الله رضي الله عنه، قال: قضت السنة أن في كل أربعين فما فوق ذلك جمعة.

--------------------------------------------

24- الدارقطني 2/ 3، 4، والحديث أخرجه أيضا البيهقي، وفيه عبد العزيز بن عبد الرحمن قال أحمد: اضرب على حديثه، فإنها كذب أو موضوعة.

وقال النسائي ليس بثقة، وقال الدارقطني: منكر الحديث وقال ابن حبان: لا يجوز الاحتجاج، وقال البيهقي: هذا الحديث لا يحتج بمثله.

وقال عبد الحق في أحكامه: لا يصح في عدد الجمعة شيء.

وقال الحافظ ابن حجر: وقد وردت عدة أحاديث تدل على الاكتفاء بأقل من أربعين.

وكذلك قال السيوطي: لم يثبت في شيء من الأحاديث تعيين عدد مخصوص.

انظر تلخيص الحبير 2/ 55، وذهب الراية 2/ 197.
দশম, একাদশ, দ্বাদশ এবং ত্রয়োদশ বৈশিষ্ট্য: এটি (জুমা) জামাতের সাথে হওয়া, চল্লিশ জন হওয়া, শহরের নির্দিষ্ট একটি স্থানে হওয়া এবং সুলতানের অনুমতি বা শর্ত সাপেক্ষে হওয়া, যেমনটি ফিকহ শাস্ত্রের কিতাবসমূহে সুনির্ধারিত হয়েছে:

২৪- চল্লিশ জনের শর্তের সপক্ষে আমি যা দেখেছি তার মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী হলো যা ইমাম দারা কুতনী তার সুনান গ্রন্থে জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: সুন্নাহ সাব্যস্ত করেছে যে, প্রতি চল্লিশ জন বা তার অধিক লোকের উপস্থিতিতে জুমা অনুষ্ঠিত হবে।

--------------------------------------------

২৪- দারা কুতনী ২/৩, ৪; হাদিসটি বায়হাকীও বর্ণনা করেছেন। এতে আব্দুল আজিজ ইবনে আব্দুর রহমান নামক এক বর্ণনাকারী রয়েছেন, যার সম্পর্কে ইমাম আহমাদ বলেছেন: তার হাদিস বর্জন করো, কারণ তা মিথ্যা (كذب) অথবা জাল (موضوعة)।

ইমাম নাসাঈ বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য নন (ليس بثقة)। ইমাম দারা কুতনী বলেছেন: তিনি মুনকারুল হাদিস বা অগ্রহণযোগ্য বর্ণনাকারী (منكر الحديث)। ইবনে হিব্বান বলেছেন: তাকে দলিল হিসেবে গ্রহণ (الاحتجاج) করা বৈধ নয়। ইমাম বায়হাকী বলেছেন: এই ধরণের হাদিস দ্বারা দলিল পেশ (يحتج) করা যায় না।

আব্দুল হক তার আহকাম গ্রন্থে বলেছেন: জুমার জামাতের সংখ্যার বিষয়ে কোনো কিছুই সহিহ বা বিশুদ্ধ (يصح) নয়।

হাফিজ ইবনে হাজার বলেছেন: বেশ কিছু হাদিস বর্ণিত হয়েছে যা চল্লিশের কম সংখ্যায় যথেষ্ট হওয়ার প্রতি ইঙ্গিত করে।

অনুরূপভাবে ইমাম সুয়ূতী বলেছেন: হাদিসসমূহের কোনোটিতেই নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা সুনির্ধারিতভাবে প্রমাণিত (لم يثبت) হয়নি।

দেখুন: তালখিস আল-হাবির ২/৫৫ এবং নাসবুর রায়াহ ২/১৯৭।
(খণ্ড: ১) নূরুল লুমআ ফি খাসায়িসিল জুমুআ (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌الخصوصية الرابعة عشرة: اختصاصها بارادة تحريق من مختلف عنها

…

الخصوصية الرابعة عشرة: اختصاصها بإرادة تحريق من تخلف عنها

25- أخرج الحاكم، وقال: صحيح على شرط الشيخين عن ابن مسعود رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم، قال لقوم يتخلفون عن الجمعة: "لقد هممت أن آمر رجلا يصلي بالناس، ثم أحرق على قوم يتخلفون عن الجمعة بيوتهم".

--------------------------------------------

25- مستدرك الحاكم 1/ 292.

والحديث في البيهقي 3/ 172، وعزاه لمسلم، وهو كما قال فقد رواه مسلم في صحيحه في كتاب المساجد ومواضع الصلاة باب "42" فضل صلاة الجماعة، وبيان التشديد في التخلف عنها حديث رقم 254، ولفظه عن عبد الله بن مسعود أن النبي صلى الله عليه وسلم، قال لقوم يتخلفون عن الجمعة: "لقد هممت أن آمر رجلا يصلي بالناس، ثم أحرمه على رجال يتخلفون عن الجمعة في بيوتهم".

وقال النووي رحمه الله 2/ 297 و268 "ط/ الشعب" في هذا الحديث أن الإمام إذا عرض له شغل ليستخلف من يصلي بالناس، وإنما باتيانهم بعد إقامة الصلاة؛ لأنه بذلك؟؟؟ يتحقق مخالفتهم وتخلفهم، فيتوجه باللوم عليهم وفيه جواز الانصراف بعد إقامة الصلاة لعذر.
চতুর্দশ বৈশিষ্ট্য: যারা জুমা থেকে পেছনে পড়ে থাকে (অনুপস্থিত থাকে) তাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করার মাধ্যমে একে বিশেষায়িত করা হয়েছে

...

চতুর্দশ বৈশিষ্ট্য: যারা এটি থেকে পেছনে পড়ে থাকে তাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করার মাধ্যমে একে বিশেষায়িত করা হয়েছে।

২৫- আল-হাকিম বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: এটি দুই শাইখের শর্ত (شرط) অনুযায়ী সহিহ (صحيح)। ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সা.) জুমার নামাজ থেকে যারা পেছনে পড়ে থাকে তাদের সম্পর্কে বলেছেন: "আমি মনস্থ করেছি যে কোনো ব্যক্তিকে নির্দেশ দিই যেন সে লোকদের নামাজ পড়ায়, এরপর যারা জুমা থেকে পেছনে পড়ে থাকে তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিই।"

--------------------------------------------

২৫- মুস্তাদরাক আল-হাকিম ১/২৯২।

হাদিসটি আল-বায়হাকি ৩/১৭২-এ বর্ণিত হয়েছে এবং তিনি একে মুসলিমের দিকে সম্বন্ধ করেছেন। বিষয়টি তেমনই যেমনটি তিনি বলেছেন, কারণ ইমাম মুসলিম তার সহিহ গ্রন্থের ‘মসজিদসমূহ ও নামাজের স্থানসমূহ’ কিতাবের ৪২ নম্বর পরিচ্ছেদ: "জামাতে নামাজের ফজিলত এবং তা বর্জন করার ব্যাপারে কঠোরতা"-তে হাদিস নং ২৫৪ হিসেবে এটি বর্ণনা করেছেন। ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসটির শব্দগুলো হলো: নবী (সা.) জুমার নামাজ থেকে পেছনে পড়ে থাকা একদল লোক সম্পর্কে বলেছেন: "আমি ইচ্ছা করেছি যে কোনো ব্যক্তিকে নির্দেশ দিই যেন সে লোকদের নামাজ পড়ায়, এরপর যারা জুমা থেকে পেছনে পড়ে থাকে তাদের ঘরে তাদের পুড়িয়ে দিই।"

ইমাম নববী (রহ.) ২/২৯৭ এবং ২৬৮ (আশ-শা'ব সংস্করণ) এ এই হাদিস প্রসঙ্গে বলেছেন যে, ইমামের যদি কোনো কাজ পড়ে যায় তবে তিনি অন্য কাউকে নামাজ পড়ানোর দায়িত্ব অর্পণ করতে পারেন। আর এটি নামাজ শুরু হওয়ার পরেই হবে; কারণ তখনই তাদের বিরোধিতা এবং অনুপস্থিতি প্রমাণিত হবে এবং তাদের প্রতি নিন্দা জ্ঞাপন করা সংগত হবে। এতে ওজরের কারণে নামাজ শুরু হওয়ার পর চলে যাওয়ার বৈধতাও রয়েছে।
(খণ্ড: ১) নূরুল লুমআ ফি খাসায়িসিল জুমুআ (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌الخصوصية الخامسة عشرة: الطبع على قلب من تركها

26- أخرج مسلم عن ابن عمر وأبي هريرة، قالا: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "لينتهين أقوام عن ودعهم الجمعات، أو ليختمن الله على قلوبهم ثم ليكونن من الغافلين".

--------------------------------------------

26- مسلم بشرح النووي 2/ 516، وقال النووي: قوله ودعهم أي تركهم وفيه أن الجمعة فرض عليهم، ومعنى الختم الطبع والتغطية قالوا في قوله تعالى: {خَتَمَ اللَّهُ عَلَى قُلُوبِهِمْ} ، أي طبعه ومثله "الرين"، فقيل: الرين اليسير من الطبع والطبع اليسير من الإقفال، والإقفال أشدها.

قال القاضي: اختلف المتكلمون في هذا اختلافا كثيرا، فقيل: هو إعدام اللطف وأسباب الخير.

وقيل: هو خلق الكفر في صدورهم، وهو قول أكثر متكلمي أهل السنة.

وقال غيرهم: هو الشهادة عليهم، وقيل: هو علامة جعلها الله تعالى في قلوبهم لتعرف بها الملائكة من يمدح ومن يذم.
পঞ্চদশ বৈশিষ্ট্য: যারা জুমা ত্যাগ করে তাদের অন্তরে মোহর (الطبع) মেরে দেওয়া

২৬- মুসলিম ইবনে উমর এবং আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "লোকদের অবশ্যই জুমার সালাত বর্জন করা থেকে বিরত থাকতে হবে, অন্যথায় আল্লাহ অবশ্যই তাদের অন্তরে মোহর মেরে দেবেন, অতঃপর তারা অবশ্যই গাফেলদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।"

--------------------------------------------

২৬- শারহে নববীসহ মুসলিম ২/ ৫১৬; ইমাম নববী বলেন: তাঁর বাণী 'ওয়াদআহুম' অর্থাৎ তাদের বর্জন করা, এবং এর মধ্যে দলিল রয়েছে যে জুমা তাদের ওপর ফরজ (فرض)। আর 'খাতম' শব্দের অর্থ হলো মোহর মারা (الطبع) এবং আবৃত করা। তাঁরা মহান আল্লাহর বাণী: "আল্লাহ তাদের অন্তরে মোহর মেরে দিয়েছেন" এর ব্যাখ্যায় বলেন: অর্থাৎ মোহর মারা (الطبع), আর এরই অনুরূপ হলো "রাইন" (الرين)। বলা হয়েছে: "রাইন" হলো মোহর মারার (الطبع) প্রাথমিক পর্যায়, আর মোহর মারা (الطبع) হলো তালাবদ্ধ করার (الإقفال) প্রাথমিক পর্যায়, আর তালাবদ্ধ করা (الإقفال) হলো এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কঠোর।

কাজী আইয়াজ বলেন: ইলমুল কালাম শাস্ত্রবিদগণ এ বিষয়ে অনেক মতভেদ করেছেন; কেউ বলেছেন: এটি হলো ঐশী অনুগ্রহ এবং কল্যাণের উপকরণসমূহ বিলুপ্ত করে দেওয়া।

আবার কেউ বলেছেন: এটি হলো তাদের বক্ষে কুফর (الكفر) সৃষ্টি করা, আর এটিই অধিকাংশ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের ইলমুল কালাম শাস্ত্রবিদদের অভিমত।

অন্যরা বলেছেন: এটি হলো তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়া। আবার বলা হয়েছে: এটি এমন একটি চিহ্ন যা মহান আল্লাহ তাদের অন্তরে স্থাপন করেছেন যার মাধ্যমে ফেরেশতারা জানতে পারে কাকে প্রশংসা করা হবে এবং কাকে নিন্দা করা হবে।
(খণ্ড: ১) নূরুল লুমআ ফি খাসায়িসিল জুমুআ (পৃষ্ঠা: ২৩)
27- وأخرج أبو داود والترمذي، وحسنه والحاكم وصححه، وابن ماجه عن أبي الجعد الضمري أن رسول الله صلى الله عليه وسلم، قال: "من ترك ثلاث جمع تهاونا بها طبع الله على قلبه".

28- وأخرج الحاكم وابن ماجه، عن جابر بن عبد الله أن رسول الله صلى الله عليه وسلم، قال: "من ترك الجمعة ثلاثا من غير ضرورة طبع الله على قلبه".

--------------------------------------------

27- الترمذي 500- ابن ماجه 1125- البيهقي 3/ 172 و247 و248 موارد الظمآن رقم 554- الدولابي 1/ 22- شرح السنة 4/ 213- القرطبي 18/ 105، 106- المستدرك 2/ 488- مسند أحمد 3/ 332- مجمع الزوائد 2/ 192- مشكل الآثار 4/ 230.

وقال الترمذي: حديث أبي الجعد حديث حسن، وقال ابن حجر في التلخيص 2/ 52: وصححه ابن السكن من هذا الوجه.

- أبو داود رقم 1052.

28- ابن ماجه 1126- المستدرك 1/ 280- مشكل الآثار 4/ 230

وقال ابن حجر في التلخيص: حديث جابر رضي الله عنه رواه النسائي، وابن ماجه وابن خزيمة والحاكم، وقال الدارقطني: أنه أصح من حديث أبي الجعد.
২৭- আবু দাউদ ও তিরমিজি বর্ণনা করেছেন—এবং তিনি এটিকে উত্তম (حسن) বলেছেন—এবং আল-হাকিম বর্ণনা করেছেন ও একে বিশুদ্ধ (صححه) বলেছেন, আর ইবনে মাজাহ আবুল জাদ আদ-দামরি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি অবহেলা বশত তিনটি জুমার নামাজ পরিত্যাগ করবে, আল্লাহ তার অন্তরে মোহর মেরে দেবেন।"

২৮- আল-হাকিম ও ইবনে মাজাহ জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো অনিবার্য কারণ ছাড়াই তিনবার জুমার নামাজ পরিত্যাগ করবে, আল্লাহ তার অন্তরে মোহর মেরে দেবেন।"

--------------------------------------------

২৭- তিরমিজি ৫০০, ইবনে মাজাহ ১১২৫, বায়হাকি ৩/ ১৭২ এবং ২৪৭ ও ২৪৮, মাওয়ারিদুজ জামআন নম্বর ৫৫৪, আদ-দুলাবি ১/ ২২, শারহুস সুন্নাহ ৪/ ২১৩, কুরতুবি ১৮/ ১০৫, ১০৬, আল-মুস্তাদরাক ২/ ৪৮৮, মুসনাদে আহমাদ ৩/ ৩৩২, মাজমাউজ জাওয়ায়েদ ২/ ১৯২, মুশকিলুল আসার ৪/ ২৩০।

ইমাম তিরমিজি বলেন: আবুল জাদ-এর হাদিসটি একটি উত্তম (حسن) হাদিস। ইবনে হাজার আল-তালখিস গ্রন্থে (২/ ৫২) বলেন: ইবনে আস-সাকান এই সূত্রের মাধ্যমে হাদিসটিকে বিশুদ্ধ (صححه) বলে অভিহিত করেছেন।

- আবু দাউদ নম্বর ১০৫২।

২৮- ইবনে মাজাহ ১১২৬, আল-মুস্তাদরাক ১/ ২৮০, মুশকিলুল আসার ৪/ ২৩০

ইবনে হাজার আল-তালখিস গ্রন্থে বলেন: জাবির (রা.)-এর হাদিসটি আন-নাসায়ি, ইবনে মাজাহ, ইবনে খুজায়মাহ ও আল-হাকিম বর্ণনা করেছেন; এবং আদ-দারাকুতনি বলেছেন যে: এটি আবুল জাদ-এর হাদিস অপেক্ষা অধিকতর বিশুদ্ধ (أصح)।
(খণ্ড: ১) নূরুল লুমআ ফি খাসায়িসিল জুমুআ (পৃষ্ঠা: ২৪)
29- وأخرج سعيد بن منصور عن أبي هريرة، قال: من ترك ثلاث جمع من غير علة طبع الله على قلبه، وهو منافق.

30- وأخرج عن ابن عمر قال: من ترك ثلاث جمع متعمدا من غير علة ختم الله على قلبه بخاتم النفاق.

31- وأخرج الأصبهاني في الترغيب عن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "من ترك الجمعة من غير عذر لم يكن لها كفارة دون يوم القيامة".

32- وأخرج عن سمرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "احضروا لجمعة وادانوا من الإمام، فإن الرجل يتخلف عن الجمعة، فيتخلف عن الجنة وأنه لمن أهلها".

--------------------------------------------

30- حديث ابن عمر رضي الله عنهما عزاه ابن حجر في التلخيص 2/ 53 للطبراني في الأوسط انظر مجمع الزوائد 2/ 193، وقال الهيثمي: رواه الطبراني في

الأوسط، وفيه جماعة لم أجد من ترجمهم ولفظه: "ألا هل عسى أحد منكم أن

يتخذ الصبة من الغنم على رأس ميلين، أو ثلاثة تأتي الجمعة، فلا يشهدها ثلاثا، فيطبع الله على قلبه".

32- البيهقي 3/ 238- الطبراني في الكبير 7/ 249- مجمع الزوائد 2/ 177 وقال الهيثمي: رواه الطبراني في الصغير 1/ 125، وفيه الحكم بن عبد الملك وهو

ضعيف.

- الترغيب والترهيب 1/ 503.

- مسند أحمد 5/ 10.

- المطالب العالية رقم 591.

- علل الحديث رقم 587.

والحديث رواه أبو داود 1108 عن سمرة رضي الله عنه بلفظ: احضروا الذكر وادنوا من الإمام، فإن الرجل لا يزال يتباعد حتى يؤخر في الجنة، وإن دخلها.

وفي الهامش قال المحقق: وفي إسناده انقطاع، ولكن الحديث حسنه الألباني في سلسلة الأحاديث الصحيحة حديث رقم 365، وانظر المستدرك 1/ 289.
29- সাঈদ ইবনে মনসুর আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যে ব্যক্তি কোনো ওজর ব্যতীত তিন জুমুআ বর্জন করবে, আল্লাহ তার অন্তরে মোহর মেরে দেবেন এবং সে মুনাফিক হিসেবে গণ্য হবে।

30- তিনি ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যে ব্যক্তি কোনো ওজর ব্যতীত ইচ্ছাকৃতভাবে তিন জুমুআ বর্জন করবে, আল্লাহ নিফাকের মোহর দ্বারা তার অন্তরে মোহর মেরে দেবেন।

31- আল-আসবাহানি ‘আত-তারগিব’-এ আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো ওজর ব্যতীত জুমুআ বর্জন করবে, কিয়ামত দিবস ছাড়া এর কোনো কাফফারা নেই।"

32- তিনি সামুরা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "তোমরা জুমুআয় উপস্থিত হও এবং ইমামের নিকটবর্তী হও। কেননা কোনো ব্যক্তি জুমুআ থেকে পিছিয়ে পড়লে জান্নাত থেকেও পিছিয়ে পড়ে, যদিও সে জান্নাতবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হয়।"

--------------------------------------------

30- ইবনে ওমর (রা.)-এর হাদিসটি ইবনে হাজার ‘আত-তালখিস’ (২/৫৩)-এ আত-তাবারানির ‘আল-আওসাত’-এর দিকে নিসবত করেছেন। দেখুন মাজমাউজ জাওয়ায়েদ (২/১৯৩)। হাইসামি বলেছেন: আত-তাবারানি এটি ‘আল-আওসাত’-এ বর্ণনা করেছেন এবং এতে একদল বর্ণনাকারী রয়েছেন যাদের জীবনী (ترجمة) আমি খুঁজে পাইনি। এর শব্দগুলো হলো: "সাবধান! তোমাদের কেউ কি এক বা দুই মাইল দূরত্বে ছাগলের পাল নিয়ে থাকতে পছন্দ করবে যে জুমুআ আসবে অথচ সে তিনবার তাতে উপস্থিত হবে না, ফলে আল্লাহ তার অন্তরে মোহর মেরে দেবেন।"

32- আল-বায়হাকি ৩/২৩৮, আত-তাবারানি ফিল কাবির ৭/২৪৯, মাজমাউজ জাওয়ায়েদ ২/১৭৭। হাইসামি বলেছেন: আত-তাবারানি ‘আস-সগির’ (১/১২৫)-এ এটি বর্ণনা করেছেন এবং এতে হাকাম বিন আব্দুল মালিক রয়েছেন, যিনি দুর্বল (ضعيف)।

- আত-তারগিব ওয়াত-তারহিব ১/৫০৩।

- মুসনাদে আহমাদ ৫/১০।

- আল-মাতালিবুল আলিয়া ৫৯১।

- ইলালুল হাদিস ৫৮৭।

হাদিসটি আবু দাউদ (১১০৮) সামুরা (রা.) থেকে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "তোমরা জিকিরে (খুতবায়) উপস্থিত হও এবং ইমামের নিকটবর্তী হও। কেননা মানুষ যখন ক্রমাগত পিছিয়ে পড়ে, তখন জান্নাতে প্রবেশের ক্ষেত্রেও সে পিছিয়ে পড়ে যদিও সে তাতে প্রবেশ করবে।"

এবং টীকায় মুহাক্কিক বলেছেন: এর সনদে (إسناد) বিচ্ছিন্নতা (انقطاع) রয়েছে, তবে আলবানি হাদিসটিকে ‘সিলসিলাতুল আহাদিসিস সহিহাহ’-তে হাসান (حسن) বলেছেন (হাদিস নং ৩৬৫), এবং দেখুন আল-মুস্তাদরাক ১/২৮৯।
(খণ্ড: ১) নূরুল লুমআ ফি খাসায়িসিল জুমুআ (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌الخصوصية السادسة عشرة: مشروعية الكفارة لمن تركها

33- أخرج أحمد وأبو داود والنسائي والحاكم، وابن ماجه عن سعيد بن جبير، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "من ترك الجمعة من غير عذر، فليتصدق بدينار، فإن لم يجد فبنصف دينار".

34- وأخرج أبو داود عن قدامة بن وبرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "من فاتته الجمعة من غير عذر، فليتصدق بدرهم أو نصف درهم، أو صاع حنطة أو نصف صاع".

--------------------------------------------

33- الحديث رواه أبو داود حديث رقم 1053 ومسند أحمد 815، 14 والنسائي 3/ 89 والحاكم 1/ 280 وابن ماجه 1135 عن عنترة بن جندب رضي الله عنه، وليس عن سعيد بن جبير كما في حديث الباب ويبدو أنه تصحيف.

والحديث رواه البغوي كذلك في شرح السنة 4/ 316.

34- أبو داود رقم 1054.
ষোড়শ বৈশিষ্ট্য: জুমা বর্জনকারীর জন্য কাফফারার বিধান

৩৩- আহমাদ, আবু দাউদ, নাসাঈ, হাকেম এবং ইবনে মাজাহ সাঈদ ইবনে জুবায়েরের সূত্রে নবী (সা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "যে ব্যক্তি কোনো ওজর ব্যতীত জুমার সালাত বর্জন করে, সে যেন এক দিনার সদকা করে; যদি তা না পায়, তবে অর্ধেক দিনার সদকা করে।"

৩৪- আবু দাউদ কুদামা ইবনে ওয়াবরাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যার জুমার সালাত কোনো ওজর ছাড়া ছুটে যায়, সে যেন এক দিরহাম বা অর্ধেক দিরহাম, অথবা এক সা’ গম বা অর্ধেক সা’ গম সদকা করে।"

--------------------------------------------

৩৩- হাদিসটি আবু দাউদ (হাদিস নং ১০৫৩), মুসনাদে আহমাদ (১৪/৮১৫), নাসাঈ (৩/৮৯), হাকেম (১/২৮০) এবং ইবনে মাজাহ (১১৩৫) আনতারা ইবনে জুনদুব (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন; আলোচ্য পরিচ্ছেদের ন্যায় সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে নয়। প্রতীয়মান হয় যে এটি বর্ণনালিপি বিভ্রাট (تصحيف)। হাদিসটি ইমাম বগভী শারহুস সুন্নাহ (৪/৩১৬) গ্রন্থেও বর্ণনা করেছেন।

৩৪- আবু দাউদ নং ১০৫৪।
(খণ্ড: ১) নূরুল লুমআ ফি খাসায়িসিল জুমুআ (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌الخصوصية السابعة عشرة: الخطبة - الخصوصية الثامنة عشرة: الإنصات

35- روى الشيخان عن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم "إذا

--------------------------------------------

35- الحديث في شرح السنة 4/ 258، وقال البغوي: هذا حديث متفق على صحته، وقال: اتفق أهل العلم على كراهية الكلام، والإمام يخطب وإن تكلم غيره، فلا ينكر إلا بالإشارة.

وقال ابن شهاب: خروج الإمام يقطع الصلاة وكلامه يقطع الكلام، ومعناه أن أحدا لا يبتدئ الصلاة ممن هو في المسجد بعد خروج الإمام حتى لا يفوته أول الخطبة، ولا بأس بالكلام ما لم يبتدئ الإمام الخطبة.

والحديث في الموطأ 1/ 103.

وفي البخاري فتح الباري 2/ 414، 415.

وفي ابن حجر قال ابن خزيمة: المراد بالإنصات السكوت عن مكالمة الناس دون ذكر الله، وتعقب بأنه يلزم منه جواز القراءة، والذكر حال الخطبة، فالظاهر أن المراد السكوت مطلقا، ومن فرق احتاج إلى دليل، ولا يلزم من تجويز التحية لدليلها الخاص جواز الذكر مطلقا.

ونقل صاحب المغني الاتفاق على أن الكلام الذي يجوز في الصلاة يجوز في الخطبة كتحذير الضرير من البئر، وعبارة الإمام الشافعي رحمه الله، وإذا خاف على أحد لم أر بأسا إذا لم يفهم عنه بالإيماء أن يتكلم.

وقد استثنى من الإنصات في الخطبة ما إذا انتهى الخطيب إلى كل ما يشرع مثل الدعاء للسلطان مثلًا.

بل جزم صاحب التهذيب بأن الدعاء للسلطان مكروه، وقال النووي: محله ما إذا جازف، وإلا فالدعاء لولاة الأمور مطلوب، ومحل الترك إذا لم يخف الضرر، وإلا فيباح للخطيب إذا خشي على نفسه، والله أعلم.

وقال النووي في شرح مسلم 2/ 502 في الحديث النهي عن جميع أنواع الكلام حال الخطبة، ونبه بهذا على ما سواه؛ لأنه إذا قال: أنصت وهو في الأصل أمر بمعروف، وسماه لغوا فيسيره من الكلام أولى، وإنما طريقه إذا أراد النهي عن غيره عن الكلام أن يشير إليه بالسكوت إن فهمه، فإن تعذر فهمه فلينهه بكلام مختصر، ولا يزيد على أقل ممكن.

واختلف العلماء في الكلام هل هو حرام، أو مكروه كراهة تنزيه؟ =
‌‌সপ্তদশ বৈশিষ্ট্য: খুতবা - অষ্টাদশ বৈশিষ্ট্য: মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করা

৩৫- শায়খাইন (ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিম) আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন, "যখন...

--------------------------------------------

৩৫- হাদিসটি শারহুস সুন্নাহ ৪/২৫৮-এ বর্ণিত হয়েছে। ইমাম বাগভী বলেছেন: এই হাদিসটির বিশুদ্ধতার (صحة) ব্যাপারে ঐকমত্য (متفق) রয়েছে। তিনি আরও বলেন: ইমাম খুতবা প্রদানরত অবস্থায় কথা বলা অপছন্দনীয় (كراهية) হওয়ার ব্যাপারে আলেমগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন। যদি অন্য কেউ কথা বলে, তবে ইশারা ব্যতীত তাকে নিষেধ করা যাবে না।

ইবনে শিহাব বলেছেন: ইমামের (মিম্বরে) আগমন নামাজকে বিচ্ছিন্ন করে এবং তাঁর কথা বলা কথাকে বিচ্ছিন্ন করে। এর অর্থ হলো, ইমামের আগমনের পর মসজিদে উপস্থিত কেউ নতুন করে নামাজ শুরু করবে না যাতে সে খুতবার প্রারম্ভিক অংশ না হারায়। আর ইমাম খুতবা শুরু না করা পর্যন্ত কথা বলায় কোনো অসুবিধা নেই।

হাদিসটি মুয়াত্তা ১/১০৩-এ রয়েছে।

এবং বুখারি ফাতহুল বারী ২/৪১৪, ৪১৫-এ রয়েছে।

ইবনে হাজার (রহি.)-এর বর্ণনায় ইবনে খুজাইমা বলেছেন: মনোযোগ সহকারে শ্রবণ (إنصات) বলতে আল্লাহর জিকির ব্যতীত মানুষের সাথে কথোপকথন থেকে বিরত থাকা বোঝায়। তবে এর বিপরীতে বলা হয়েছে যে, এর ফলে খুতবা চলাকালীন তিলাওয়াত ও জিকির বৈধ হওয়া আবশ্যক হয়ে যায়; অথচ জাহির বা প্রকাশ্য অর্থ হলো—সব ধরণের কথা থেকে সাধারণভাবে নীরব থাকা। আর যারা পার্থক্য করেন তাদের দলিলের প্রয়োজন। বিশেষ দলিলের ভিত্তিতে তাহিয়্যাতুল মাসজিদ বৈধ হওয়া থেকে সাধারণভাবে জিকির বৈধ হওয়া প্রমাণিত হয় না।

মুগনি গ্রন্থের লেখক এই মর্মে ঐকমত্য (اتفاق) বর্ণনা করেছেন যে, যে সকল কথা নামাজে বৈধ তা খুতবার সময়ও বৈধ; যেমন অন্ধ ব্যক্তিকে কূয়োর বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করা। ইমাম শাফিঈ (রহি.)-এর বক্তব্য হলো: "যদি কেউ অন্যের বিপদের আশঙ্কা করে, তবে আমি কথা বলায় কোনো সমস্যা দেখি না যদি ইশারার মাধ্যমে সে বুঝতে না পারে।"

খুতবায় মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করার বিধান থেকে এমন বিষয়কে ব্যতিক্রম করা হয়েছে যা শরিয়তসম্মত, যেমন শাসকের জন্য দোয়া করা।

বরং তাহজিব গ্রন্থের লেখক দৃঢ়তার সাথে বলেছেন যে, শাসকের জন্য দোয়া করা অপছন্দনীয় (مكروه)। ইমাম নববী বলেছেন: এটি তখন প্রযোজ্য যখন সীমালঙ্ঘন করা হয়, অন্যথায় রাষ্ট্রপ্রধানদের জন্য দোয়া করা কাম্য। আর বর্জন করার বিষয়টি তখন যখন ক্ষতির আশঙ্কা থাকে না, অন্যথায় খুতবা প্রদানকারীর নিজের প্রাণের আশঙ্কা থাকলে এটি বৈধ। আল্লাহই ভালো জানেন।

ইমাম নববী শারহু মুসলিম ২/৫০২-এ বলেছেন: এই হাদিসে খুতবা চলাকালীন সব ধরণের কথা বলা থেকে নিষেধ করা হয়েছে এবং এর মাধ্যমে অন্যান্য বিষয়ের প্রতিও সতর্ক করা হয়েছে। কারণ কেউ যদি বলে "চুপ থাকো"—যা মূলত একটি সৎ কাজের আদেশ—এবং সেটিকে যদি অনর্থক (لغو) বলা হয়, তবে অন্যান্য সাধারণ কথা তো আরও বেশি অনর্থক হবে। কথা বলা থেকে নিষেধ করার পদ্ধতি হলো—ইশারার মাধ্যমে চুপ থাকতে বলা যদি সে বুঝতে পারে। আর বুঝতে না পারলে সংক্ষিপ্ত কথার মাধ্যমে নিষেধ করবে এবং যতটুকু সম্ভব কম কথা বলবে।

আলেমগণ কথা বলা কি হারাম (حرام) নাকি অপছন্দনীয় (مكروه كراهة تنزيه) সে বিষয়ে মতভেদ করেছেন। =
(খণ্ড: ১) নূরুল লুমআ ফি খাসায়িসিল জুমুআ (পৃষ্ঠা: ২৭)
قلت لصاحبك: أنصت يوم الجمعة والإمام يخطب، فقد لغوت".

36- وأخرج مسلم عن أبي هريرة، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "من توضأ يوم الجمعة فأحسن الوضوء، ثم أتى المعة فاستمع وأنصت غفر له ما بينه وبين الجمعة، وزيادة ثلاثة أيام، ومن مس الحصى فقد لغا".

--------------------------------------------

= وهما قولان للشافعي:

قال القاضي: قال مالك: وأبو حنيفة والشافعي، وعامة العلماء يجب الإنصات للخطبة.

وحكى عن النخعي والشعبي، وبعض السلف أنه لا يجب إلا إذا تلي فيها القرآن.

ونقل ابن حجر في الفتح 2/ 415 أن ابن عبد البر، وروى عن الشعبي وناس قليل أنهم كانوا يتكلمون إلا من حين قراءة الإمام في الخطبة خاصة، قال ابن عبد البر: وفعلهم في ذلك مردود عند أهل العلم، وأحسن أحوالهم أن يقال: إنه لم يبلغهم الحديث.

قال النووي: واختلفوا إذا لم يسمع الإمام هل يلزمه الإنصات كما لو سمعه؟ فقال الجمهور: يلزمه.

وقال النخعي وأحمد وأحد قول الشافعي: لا يلزمه.

وقوله صلى الله عليه وسلم: "والإمام يخطب" دليل على أن وجوب الإنصات، والنهي عن الكلام إنما هو في حال الخطبة، وهذا مذهبنا ومذهب الجمهور ومالك، وقال أبو حنيفة: يجب الإنصات بخروج الإمام.

36- مسلم النووي 2/ 510، 511.

قال النووي: قوله صلى الله عليه وسلم: "فاستمع وأنصت"، هما شيئان متمايزان، وقد يجتمعان فالاستماع الإصغاء، والإنصات السكوت، ولهذا قال تعالى: {وَإِذَا قُرِئَ الْقُرْآنُ فَاسْتَمِعُوا لَهُ وَأَنْصِتُوا} [الأعراف: 204] .

وقوله صلى الله عليه وسلم: "وزيادة ثلاثة أيام"، هو بنصب زيادة على الظرف. =
"তুমি তোমার সঙ্গীকে বললে: জুমার দিন ইমামের খুতবা প্রদানের সময় 'চুপ থাকো', তবে তুমি অনর্থক কাজ করলে।"

৩৬- ইমাম মুসলিম আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি জুমার দিন ওজু করল এবং উত্তমরূপে ওজু সম্পাদন করল, অতঃপর জুমায় উপস্থিত হয়ে মনোযোগ দিয়ে শুনল (الاستماع) এবং নিশ্চুপ থাকল (الإنصات), তার এই জুমা ও পরবর্তী জুমার মধ্যবর্তী সময় এবং অতিরিক্ত আরও তিন দিনের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। আর যে ব্যক্তি কঙ্কর স্পর্শ করল, সে অনর্থক কাজ করল।"

--------------------------------------------

= এগুলি ইমাম শাফেয়ীর দুটি অভিমত (قولان):

কাযী (আইয়াদ) বলেছেন: ইমাম মালেক, আবু হানিফা, শাফেয়ী এবং সাধারণ আলেমগণের মতে খুতবার সময় নিশ্চুপ থাকা (الإنصات) আবশ্যক (واجب)।

ইমাম নাখয়ী, শাবী এবং কতিপয় পূর্বসূরি (السلف) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, খুতবায় কুরআন তিলাওয়াত করা ছাড়া নিশ্চুপ থাকা আবশ্যক (واجب) নয়।

ইবনে হাজার ফাতহুল বারীর ২/৪১৫ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন যে, ইবনে আবদিল বার বর্ণনা করেছেন যে, ইমাম শাবী এবং স্বল্প সংখ্যক লোক ইমামের খুতবায় বিশেষ করে তিলাওয়াতের সময়টুকু ছাড়া অন্য সময় কথা বলতেন। ইবনে আবদিল বার বলেন: তাদের এই কাজ ইলম অর্জনকারীদের নিকট বর্জিত (مردود), এবং তাদের অবস্থা সম্পর্কে সবচেয়ে ভালো যা বলা যেতে পারে তা হলো—নিশ্চয়ই তাদের নিকট হাদিসটি পৌঁছেনি।

ইমাম নববী বলেছেন: ইমামের কথা শুনতে না পেলে কি নিশ্চুপ থাকা (الإنصات) আবশ্যক (واجب), যেমনটা শোনার ক্ষেত্রে হয়ে থাকে? এ বিষয়ে তারা মতভেদ করেছেন। অধিকাংশ (الجمهور) আলেম বলেছেন: তার ওপর নিশ্চুপ থাকা আবশ্যক (واجب)।

ইমাম নাখয়ী, আহমাদ এবং ইমাম শাফেয়ীর একটি অভিমত (قول) হলো: তার ওপর তা আবশ্যক (واجب) নয়।

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: "যখন ইমাম খুতবা দিচ্ছেন" এটি প্রমাণ যে, নিশ্চুপ থাকা (الإنصات) আবশ্যক (واجب) হওয়া এবং কথা বলা নিষিদ্ধ হওয়া কেবল খুতবা চলাকালীন সময়ের জন্য। এটিই আমাদের মাযহাব (مذهب), অধিকাংশ (الجمهور) আলেমের মাযহাব এবং ইমাম মালেকের মাযহাব। ইমাম আবু হানিফা বলেছেন: ইমামের বের হওয়ার সময় থেকেই নিশ্চুপ থাকা আবশ্যক (واجب)।

৩৬- মুসলিম শরহে নববী ২/৫১০, ৫১১।

ইমাম নববী বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: "মনোযোগ দিয়ে শুনল এবং নিশ্চুপ থাকল", এ দুটি ভিন্ন বিষয়, যা কখনো কখনো একত্রে পাওয়া যায়। মনোযোগ দিয়ে শোনা (الاستماع) হলো শ্রবণ করা, আর নিশ্চুপ থাকা (الإنصات) হলো নীরবতা অবলম্বন করা। এজন্যই আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর যখন কুরআন পাঠ করা হয়, তখন তোমরা তা মনোযোগ দিয়ে শোনো এবং নিশ্চুপ থাকো} [আল-আরাফ: ২০৪]।

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: "এবং অতিরিক্ত তিন দিন", এখানে অতিরিক্ত (زيادة) শব্দটি যরফ (ظرف) হিসেবে নসব (نصب) অবস্থায় রয়েছে। =
(খণ্ড: ১) নূরুল লুমআ ফি খাসায়িসিল জুমুআ (পৃষ্ঠা: ২৮)
37- وأخرج أبو داود عن عبد الله بن عمرو، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال:

"من اغتسل يوم الجمعة ومس من طيب امرأته إن كان لها، ولبس من صالح ثيابه، ثم لم يتخط رقاب الناس، ولم يلغ عند الموعظة كانت كفارة لما بينهما، ومن لغا وتخطا رقاب الناس كانت له ظهرا".

--------------------------------------------

= قال العلماء: معنى المغفرة له ما بين الجمعتين، وثلاثة أيام أن الحسنة بعشر أمثالها، وصار يوم الجمعة الذي فعل فيه هذه الأفعال الجميلة من معنى الحسنة التي تجعل بعشر أمثالها، قال بعض أصحابنا: والمراد بما بين الجمعتين من صلاة الجمعة، وخطبتها إلى مثل الوقت من الجمعة الثانية حتى تكون سبعة أيام بلا زيادة ولا نقصان، ويضم إليها ثلاثة فتصير عشرة.

قوله صلى الله عليه وسلم: "ومن مس الحصا لغا"، فيه النهي عن مس الحصا وغير من أنواع العبث في حالة الخطبة.

وفيه إشارة إلى إقبال القلب والجوارح على الخطبة.

والمراد باللغو هنا الباطل المذموم المردود.

وقال البغوي رحمه الله في شرح السنة 4/ 260.

واختلفوا في رد السلام، وتشميت العاطس حالة الخطبة فرخص فيه بعضهم وهو قول أحمد وإسحاق وأحد قولي الشافعي، وكره بعضهم من التابعين وغيرهم، وهو قول سعيد بن المسيب.

37- أبو داود رقم 347 كتاب الطهارة باب الغسل يوم الجمعة.

والحديث رواه ابن خزيمة في صحيحه رقم 1810، وفي الهامش إسناده حسن.

وقال ابن خزيمة: إن في هذا الحديث دليل على أن اللغو والإمام يخطب إنما يبطل فضيلة الجمعة لا؛ لأنه يبطل الصلاة نفسها إبطالا يجب إعادتها.
৩৭- আবু দাউদ আবদুল্লাহ বিন আমর থেকে বর্ণনা করেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেছেন:

"যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করল এবং তার স্ত্রীর সুগন্ধি থাকলে তা ব্যবহার করল, আর তার উত্তম পোশাক পরিধান করল, অতঃপর মানুষের ঘাড় ডিঙিয়ে সামনে অগ্রসর হলো না এবং খুতবার সময় অনর্থক কোনো কাজ (لغو) করল না, তবে তা দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহের কাফফারা হবে। আর যে ব্যক্তি অনর্থক কাজ (لغا) করল এবং মানুষের ঘাড় ডিঙিয়ে গেল, তা তার জন্য জোহরের (নামাজ) হিসেবে গণ্য হবে।"

--------------------------------------------

= উলামায়ে কেরাম বলেছেন: তার জন্য দুই জুমার মধ্যবর্তী সময় এবং অতিরিক্ত তিন দিনের ক্ষমা লাভের অর্থ হলো—নেক আমলের সওয়াব দশ গুণ বৃদ্ধি পায়। আর জুমার দিনটিতে সে যে সকল উত্তম আমল সম্পাদন করেছে, তা এমন নেক আমল হিসেবে গণ্য হয় যার সওয়াব দশ গুণ বৃদ্ধি করা হয়। আমাদের একদল আলেম বলেছেন: দুই জুমার মধ্যবর্তী সময় বলতে জুমার নামাজ ও খুতবা থেকে পরবর্তী জুমার ঠিক সেই সময় পর্যন্ত উদ্দেশ্য, যাতে কোনো কমবেশি ছাড়াই সাত দিন পূর্ণ হয় এবং এর সাথে আরও তিন দিন যোগ করা হয়, ফলে তা দশ দিন পূর্ণ হয়।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "আর যে ব্যক্তি পাথরকুচি স্পর্শ করল, সে অনর্থক কাজ (لغا) করল।" এতে খুতবা চলাকালীন পাথরকুচি স্পর্শ করা বা অন্য যেকোনো ধরনের বৃথা কাজে লিপ্ত হওয়া থেকে নিষেধ করা হয়েছে।

এতে খুতবার দিকে অন্তর ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নিবিষ্ট রাখার প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে।

এখানে অনর্থক কাজ (لغو) বলতে নিন্দনীয় ও প্রত্যাখ্যাত বাতিল কাজ উদ্দেশ্য।

ইমাম বাগাউয়ী (রহিমাহুল্লাহ) শারহুস সুন্নাহ-এর ৪/২৬০ পৃষ্ঠায় বলেছেন:

আলেমগণ খুতবা চলাকালীন সালামের উত্তর দেওয়া এবং হাঁচিদাতার জন্য দোয়ার (তাশমিত) ব্যাপারে মতভেদ করেছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ এর অনুমতি দিয়েছেন, যা ইমাম আহমাদ, ইসহাক এবং ইমাম শাফেয়ীর দুটি মতের একটি। আবার তাবেয়ীদের মধ্য থেকে কেউ কেউ এবং অন্যান্যগণ একে অপছন্দ করেছেন, যা সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিবের অভিমত।

৩৭- আবু দাউদ, হাদিস নং ৩৪৭, কিতাবুত তাহারাহ, অধ্যায়: জুমার দিন গোসল।

হাদিসটি ইবনে খুজাইমা তার সহীহ ইবনে খুজাইমায় বর্ণনা করেছেন, হাদিস নং ১৮১০; আর টীকায় এর সনদকে (إسناده) হাসান (حسن) বলা হয়েছে।

ইবনে খুজাইমা বলেছেন: এই হাদিসটি এর প্রমাণ যে, ইমাম খুতবা দেওয়ার সময় অনর্থক কাজ (لغو) করা জুমার ফজিলতকে বিনষ্ট করে দেয়; তবে এটি মূল নামাজকে এমনভাবে বাতিল করে দেয় না যে নামাজ পুনরায় আদায় করা ওয়াজিব হবে।
(খণ্ড: ১) নূরুল লুমআ ফি খাসায়িসিল জুমুআ (পৃষ্ঠা: ২৯)
38- وأخرج ابن ماجه، وسعيد بن منصور عن أبي بن كعب أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قرأ يوم الجمعة سورة براءة، وهو قائم يذكر بأيام الله، وأبو الدرداء، وأبو ذر يغمرني، فقال: متى أنزلت هذه السورة إني لم أسمعها إلا الآن، فأشار إليه أن أسكت، فلما انصرفوا قال: سألتك متى أنزلت هذه السورة فلم تخبرني، فقال أبي: ليس لك من صلاتك اليوم إلا ما لغوت.

فذهب إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، فذكر ذلك له وأخبره بالذي قال أبي، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "صدق أبي".

39- وأخرج سعيد بن منصور عن أبي هريرة، قال: لا تقل سبحان الله، والإمام يخطب يوم الجمعة.

--------------------------------------------

38- ابن ماجه 1111، وفيه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قرأ يوم الجمعة تبارك، وهو قائم … الحديث.

وفي الزوائد إسناده صحيح، ورجاله ثقات.

وحديث الباب في صحيح ابن خزيمة الحديث رقم 1807.

وفي الهامش إسناده صحيح لغيره، والحديث في مسند أحمد 5/ 143.

- البيهقي 3/ 220- مجمع الزوائد 2/ 185، 186، وقال الهيثمي: رواه أحمد والطبراني في الكبير، ورجال أحمد موثقون.

والحديث في الفتح الرباني 6/ 99، 100، وعزاه لابن ماجه وقال الشيخ الساعاتي رحمه الله: فيه جواز نهي المتكلم بالإشارة لا بالكلام.

وقال الغزالي رحمه الله في الإحياء 1/ 184، 185: الإسكات ينبغي أن يكون بإشارة أو رمي حصاة -وقال: وإن كان بعيدا عن الإمام، فلا ينبغي أن يتكلم في العلم وغيره بل يسكت؛ لأن ذلك يتسلسل، ويفضي إلى هينمة حتى ينتهي إلى المستمعين، ولا بجلس في حلقة من يتكلم، فمن عجز عن الاستماع بالبعد، فلينصت فهو المستحب، وإذا كانت تكره الصلاة في وقت خطبة الإمام، فالكلام أولى بالكراهية.
৩৮- ইবনে মাজাহ এবং সাঈদ বিন মনসুর উবাই ইবনে কাব থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমার দিনে দাঁড়িয়ে 'আল্লাহর দিনসমূহ' স্মরণ করিয়ে দেওয়ার সময় সূরা আল-বারাআহ তিলাওয়াত করেছিলেন। এমতাবস্থায় আবু আদ-দারদা এবং আবু যার আমাকে ইশারা দিচ্ছিলেন এবং বলছিলেন: এই সূরাটি কখন অবতীর্ণ হয়েছে? আমি তো এটি এখন ছাড়া আগে কখনো শুনিনি। তিনি (উবাই) তাদের চুপ থাকার ইশারা করলেন। যখন তারা নামাজ শেষ করে ফিরে যাচ্ছিলেন, তিনি (আবু আদ-দারদা) বললেন: আমি আপনাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম এই সূরাটি কখন অবতীর্ণ হয়েছে কিন্তু আপনি আমাকে উত্তর দেননি। তখন উবাই বললেন: আজকের নামাজ থেকে তোমার কেবল অনর্থক (لغو) অংশটুকুই পাওনা হয়েছে।

অতঃপর তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট গেলেন এবং বিষয়টি উল্লেখ করলেন ও উবাই যা বলেছিলেন তা জানালেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "উবাই সত্য বলেছে।"

৩৯- সাঈদ বিন মনসুর আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: ইমাম যখন জুমার খুতবা দেন, তখন তোমরা 'সুবহানাল্লাহ' বলো না।

--------------------------------------------

৩৮- ইবনে মাজাহ ১১১১, এতে উল্লেখ আছে যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমার দিনে দাঁড়িয়ে সূরা তাবারক তিলাওয়াত করেছিলেন... (পুরো হাদিস)।

যাওয়ায়েদ গ্রন্থে বলা হয়েছে এর সনদ সহিহ (صحيح), এবং বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات)।

এই পরিচ্ছেদের হাদিসটি সহিহ ইবনে খুজায়মাহ-এর ১৮০৭ নম্বর হাদিস।

পাদটীকায় রয়েছে, এর সনদ অন্য সূত্রের কারণে সহিহ (صحيح لغيره), এবং হাদিসটি মুসনাদে আহমাদ ৫/১৪৩-এ রয়েছে।

- বায়হাকি ৩/২২০- মাজমাউজ যাওয়ায়েদ ২/১৮৫, ১৮৬, এবং হাইসামি বলেছেন: এটি আহমাদ ও তাবারানি আল-কবির গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং আহমাদের বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য বিবেচিত (موثقون)।

হাদিসটি আল-ফাতহুর রব্বানি ৬/৯৯, ১০০-তে রয়েছে এবং তিনি এটিকে ইবনে মাজাহ-এর দিকে নিসবত করেছেন। শেখ আস-সাআতি (রহ.) বলেছেন: এতে কথার মাধ্যমে নয় বরং ইশারার মাধ্যমে কথা বলতে নিষেধ করার বৈধতা রয়েছে।

ইমাম গাজালি (রহ.) এহয়াউ উলুমিদ্দিন ১/১৮৪, ১৮৫-এ বলেছেন: নীরব করানো উচিত ইশারার মাধ্যমে অথবা কঙ্কর নিক্ষেপের মাধ্যমে - এবং তিনি বলেছেন: যদি কেউ ইমাম থেকে দূরেও থাকে, তবুও ইলমি বা অন্য কোনো বিষয়ে কথা বলা উচিত নয় বরং চুপ থাকবে; কারণ এটি ধারাবাহিকতা তৈরি করে এবং গুঞ্জনের সৃষ্টি করে যা শ্রবণকারীদের কান পর্যন্ত পৌঁছে যায়। কেউ কথা বলছে এমন মজলিসে বসবে না। সুতরাং যে ব্যক্তি দূরত্বের কারণে শুনতে অক্ষম হয়, সে যেন নীরব থাকে, এটিই মুস্তাহাব। আর ইমামের খুতবা চলাকালীন যদি নামাজ আদায় করা অপছন্দনীয় হয়, তবে কথা বলা অপছন্দনীয় হওয়ার ক্ষেত্রে অধিকতর অগ্রাধিকার রাখে।
(খণ্ড: ১) নূরুল লুমআ ফি খাসায়িসিল জুমুআ (পৃষ্ঠা: ৩০)
40- وأخرج عن ابن عباس، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "من تكلم يوم الجمعة والإمام يخطب، فهو كالحمار يحمل أسفارا، والذي يقول له: أنصت ليس له جمعة".

--------------------------------------------

40- الحديث عزاه السيوطي رحمه الله لسعيد بن منصور، وهو في مسند أحمد 1/ 230، وقال الهيثمي في مجمع الزوائد 2/ 184، رواه أحمد والبزار والطبراني في الكبير، وفيه مجالد بن سعيد وقد ضعفه الناس، ووثقه النسائي في رواية، والحديث رواه الدولابي في الكنى 1/ 99.

والحديث ذكره ابن حجر في الفتح 2/ 414، وعزاه لأحمد والبزار، وقال: وله شاهد قوي في جامع حماد بن سلمة، عن ابن عمر.

قال العلماء: معناه لا جمعة له كاملة للإجماع على إسقاط فرض الوقت عنه.

وقال الشيخ الساعاتي رحمه الله في الفتح الرباني 6/ 98 بعد أن ذكر الحديث قال: شبه من لم يمسك عن الكلام بالحمار الحامل للأسفار يجامع عدم الانتفاع.

وظاهر قوله من تكلم يوم الجمعة المنع من جميع أنواع الكلام من غير فرق بين ما لا فائدة فيه وغيره، وقال: والحديث أورده الحافظ في بلوغ المرام أيضا، وقال رواه أحمد بإسناد لا بأس به قال: وهو يفسر حديث أبي هريرة في الصحيحين مرفوعا: "إذا قلت لصاحبك أنصت يوم الجمعة، والإمام يخطب فقد لغوت".

والحديث في الترغيب والترهيب 1/ 505.

والحاوي للفتاوى 1/ 406.

وتفسير ابن كثير 8/ 143، وعزاه لأحمد.

- وإتحاف السادة المتقين 3/ 268.

- كنز العمال 21213- المشكاة 1397 عزاه لأحمد.

وقال الألباني في الهامش: بإسناد ضعيف فيه مجالد، وهو ابن سعيد قال الحافظ في التقريب: ليس بالقوي وقد تغير بآخر عمره، ولذلك إشارة المنذري في الترغيب 1/ 505 إلى تضعيف الحديث.
40- ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি জুমার দিন ইমাম খুতবা দেওয়ার সময় কথা বলে, সে ঐ গাধার ন্যায় যে কিতাব বহন করে। আর যে ব্যক্তি তাকে বলে: 'চুপ করো', তার জুমার সওয়াব নেই।"

--------------------------------------------

40- হাদিসটি সুয়ূতী (রহ.) সাঈদ বিন মানসূরের দিকে নিসবত করেছেন। এটি মুসনাদে আহমদ ১/২৩০-এ রয়েছে। হাইসামী মাজমাউয যাওয়াইদ ২/১৮৪-এ বলেছেন, এটি আহমদ, বাযযার এবং তাবারানী আল-কাবীর-এ বর্ণনা করেছেন। এর সনদে মুজালিদ বিন সাঈদ রয়েছেন, যাকে মুহাদ্দিসগণ দুর্বল (ضعيف) বলেছেন, তবে এক বর্ণনায় নাসায়ী তাকে নির্ভরযোগ্য (ثقة) বলেছেন। হাদিসটি দূলাবী আল-কুনা ১/৯৯-এ বর্ণনা করেছেন।

হাদিসটি ইবনে হাজার ফাতহুল বারী ২/৪১৪-এ উল্লেখ করেছেন এবং আহমদ ও বাযযারের দিকে নিসবত করেছেন। তিনি বলেছেন: ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত হাম্মাদ বিন সালামার জামে' গ্রন্থে এর একটি শক্তিশালী সমর্থক বর্ণনা (شاهد) রয়েছে।

উলামায়ে কেরাম বলেছেন: এর অর্থ হলো তার জুমা পূর্ণাঙ্গ হয়নি, কারণ সময়ের ফরজ আদায় হয়ে যাওয়ার ব্যাপারে ইজমা বা সর্বসম্মত ঐক্য রয়েছে।

শায়খ সাআতি (রহ.) আল-ফাতহুর রব্বানী ৬/৯৮-এ হাদিসটি উল্লেখ করার পর বলেছেন: যে ব্যক্তি কথা বলা থেকে বিরত থাকে না, তাকে কিতাব বহনকারী গাধার সাথে তুলনা করা হয়েছে কোনো উপকার লাভ না করার সাদৃশ্যের কারণে।

জুমার দিন যে ব্যক্তি কথা বলে—এই বাণীর বাহ্যিক অর্থ হলো সকল প্রকার কথা নিষিদ্ধ হওয়া, চাই তা অনর্থক হোক বা অন্য কিছু। তিনি আরও বলেছেন: হাফেজ (ইবনে হাজার) বুলুগুল মারাম-এও হাদিসটি উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন যে আহমদ এটি এমন একটি সনদে (إسناد) বর্ণনা করেছেন যাতে কোনো সমস্যা নেই (لا بأس به)। তিনি বলেন: এটি সহীহাইন-এ মারফু (مرفوع) হিসেবে বর্ণিত আবু হুরায়রা (রা.)-এর হাদিসটির ব্যাখ্যা প্রদান করে: "জুমার দিন ইমাম যখন খুতবা দেন, তখন যদি তুমি তোমার সাথীকে বলো 'চুপ করো', তবে তুমি অনর্থক কাজ করলে।"

হাদিসটি তারগীব ওয়াত তারহীব ১/৫০৫, আল-হাভী লিল ফাতাওয়া ১/৪০৬ এবং তাফসীরে ইবনে কাসীর ৮/১৪৩-এ বর্ণিত হয়েছে এবং আহমদ-এর দিকে নিসবত করা হয়েছে।

- এবং ইত্তিহাফুস সাদাতিল মুত্তাকীন ৩/২৬৮।

- কানযুল উম্মাল ২১২১৩ - মিশকাত ১৩৯৭, আহমদ-এর দিকে নিসবত করা হয়েছে।

আলবানী পাদটিককায় বলেছেন: এটি একটি দুর্বল (ضعيف) সনদে (إسناد) বর্ণিত, যাতে মুজালিদ রয়েছেন, যিনি ইবনে সাঈদ। হাফেজ (ইবনে হাজার) আত-তাকরীব-এ বলেছেন: তিনি শক্তিশালী নন (ليس بالقوي), জীবনের শেষভাগে তার স্মৃতিশক্তির পরিবর্তন ঘটেছিল। এই কারণেই মুনযিরী আল-তারগীব ১/৫০৫-এ হাদিসটিকে দুর্বল (تضعيف) সাব্যস্ত করার দিকে ইঙ্গিত করেছেন।