(খণ্ড: ১) হাদিরুল আলামিল ইসলামি (পৃষ্ঠা: -)
حاضر العالم الإسلامي   (علي جريشة)

القسم: كتب عامة


الكتاب: حاضر العالم الإسلامي

المؤلف: على جريشه ومحمود محمد سالم

الناشر: مطاب الدجوي -القاهرة- عابدين

الطبعة: -

عدد الصفحات: 240

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মুসলিম বিশ্বের বর্তমান অবস্থা   (আলী জুরাইশাহ)

বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ


গ্রন্থ: মুসলিম বিশ্বের বর্তমান অবস্থা

লেখক: আলী জুরাইশাহ এবং মাহমুদ মুহাম্মদ সালেম

প্রকাশক: মাতাবি' আদ-দাজউয়ি -কায়রো- আবিদিন

সংস্করণ: -

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৪০

[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মূল মুদ্রণের সাথে মিল রয়েছে]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) হাদিরুল আলামিল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌مقدمة

…

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد الله، والصلاة والسلام على رسول الله، وآله وصحبه ومن والاه.

أما بعد:

فهذه الكلمات نخطها عن حاضر العالم الإسلامي.. مما رأينا بأعيننا، أو لمسنا بأيدينا، أو رجعنا إليه في مصادره ومظانِّه وإحصاءاته.

على أننا قد استعنا بتقارير مَنْ نثق في صدقهم من أمثال: رجال تحرير جبهة مورو، ورجال تحرير فطاني، وبعض مجاهدي فلسطين، وآخرين لم يشاءوا أن نكشف عنهم، وقد قبلنا تقارير هؤلاء.. كما يقبل القاضي شهادة الشهود بعد تمحصيها والثقة في صدقها، واضطررنا إلى البينة لما عزت المصادر الرسمية، أو شككنا في صدقها.

ونحسب أن هذه الكلمات هي المرجع الأوّل الحالي حول حاضر العالم الإسلامي، فلم نجد -فيما نعلم- شيئًا كُتِبَ بعد ما كتبه الكاتب الأمريكي "لوثروب ستوارد"، وترجمه إلى العربية الأستاذ عجاج نويهض، وعلق عليه الأمير شكيب أرسلان.

وهي وإن حاولنا فيها مسح العالم الإسلامي كله، إلّا أن ذلك كان في شأن الخطوط العامَّة حول الواقع الفكري، أو الواقع السياسي، أو الواقع الاجتماعي، أو الواقع الاقتصادي. لكن ذلك لم يمنعنا من إفراد بحوث خاصَّة للقضايا الإسلامية الراهنة مثل: قضية فلسطين كقضية وطن إسلامي سليب، ومثل قضية الفلبين كقضية وطن إسلامي مجاهد، ومثل قضايا الأقليات وغيرها.
ভূমিকা

…

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং যারা তাঁকে অনুসরণ করেন তাদের ওপর।

অতঃপর:

বর্তমান মুসলিম বিশ্বের সমসাময়িক পরিস্থিতি নিয়ে আমরা এই পঙ্ক্তিগুলো লিপিবদ্ধ করছি... যা আমরা স্বচক্ষে দেখেছি, অথবা নিজ হাতে অনুভব করেছি, কিংবা যা আমরা এর মূল উৎস, তথ্যের সম্ভাব্য উৎসস্থল এবং পরিসংখ্যান থেকে সংগ্রহ করেছি।

তবে এক্ষেত্রে আমরা এমন ব্যক্তিদের প্রতিবেদনের সহায়তা নিয়েছি যাদের সত্যবাদিতার ব্যাপারে আমরা আস্থাশীল ও নির্ভরযোগ্য (ثقة) মনে করি, যেমন: মরো লিবারেশন ফ্রন্টের সদস্যগণ, পাত্তানি লিবারেশন ফ্রন্টের সদস্যগণ, ফিলিস্তিনের কতিপয় মুজাহিদ এবং অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ যারা তাদের পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি। আমরা তাদের এই প্রতিবেদনসমূহ গ্রহণ করেছি... ঠিক যেমন একজন বিচারক সাক্ষীদের সাক্ষ্য পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই এবং তাদের সত্যবাদিতার ওপর নির্ভরযোগ্যতা (ثقة) অর্জনের পর তা গ্রহণ করেন। যখন সরকারি উৎসসমূহ দুষ্প্রাপ্য হয়ে পড়ে কিংবা আমরা সেগুলোর সত্যতার ব্যাপারে সন্দিহান হয়েছি, তখন আমরা প্রমাণের মুখাপেক্ষী হতে বাধ্য হয়েছি।

আমরা মনে করি যে, বর্তমান মুসলিম বিশ্বের সমসাময়িক পরিস্থিতির ওপর এই লেখাগুলোই বর্তমান সময়ের প্রধান তথ্যসূত্র। কারণ আমেরিকান লেখক "লোথ্রপ স্টোডার্ড" যা লিখেছিলেন—যা পরবর্তীতে উস্তাদ আজজাজ নুওয়াইহিদ আরবিতে অনুবাদ করেন এবং আমির শাকিব আরসালান যার ওপর টীকা প্রদান করেন—তার পরে আমাদের জানামতে এ বিষয়ে আর তেমন কিছু লেখা হয়নি।

যদিও আমরা এখানে সমগ্র মুসলিম বিশ্বকে পর্যালোচনার আওতায় আনার চেষ্টা করেছি, তবে তা ছিল মূলত বৌদ্ধিক বাস্তবতা, রাজনৈতিক বাস্তবতা, সামাজিক বাস্তবতা কিংবা অর্থনৈতিক বাস্তবতার সাধারণ রূপরেখার ক্ষেত্রে। তবে এটি আমাদের বর্তমান সময়ের গুরুত্বপূর্ণ ইসলামি বিষয়াবলির ওপর বিশেষ গবেষণা নিবেদিত করা থেকে বিরত রাখেনি; যেমন: একটি অপহৃত ইসলামি ভূখণ্ড হিসেবে ফিলিস্তিন ইস্যু, একটি সংগ্রামী ইসলামি ভূখণ্ড হিসেবে ফিলিপাইন ইস্যু এবং মুসলিম সংখ্যালঘু ও অন্যান্য সমস্যাবলি।
(খণ্ড: ১) হাদিরুল আলামিল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ৪)
وقد اتسمت دراستنا -بفضل الله- سواء في خطوطها العامَّة، أو في تفصيلاتها، بمناسبة دراسة القضايا الخاصة، اتسمت بفضل الله وحده بالموضوعية والتعمق، بعدًا عن التجريح الشخصي، ثم بلوغًا إلى جذور القضية، وصولًا إلى حلٍّ لها.

ولقد كلَّفنا ذلك أن نرفع الأسماء حتى من المصادر التي نقلنا عنها، إيمانًا منَّا بأنَّ الموضوعية أصلح منهج لبلوغ الإصلاح، فوق أنها اتباع لسنة رسول الله صلى الله عليه وسلم الذي كان ييتعد عن كل تجريح شخصي، فيرقى المنبر ليقول: ما بال أقوام يفعلون كذا وكذا، وأخيرًا إيمانًا بأنَّ التطبيق على الأشخاص لا يكون إلّا عند عقد المحاكمات، وليس المجال مجال محاكمة ولا الأوان أوانها.

بيد أننا نؤمن في الوقت ذاته أن أولئك الذين خانوا الأمانة، وشاركوا في طعن قضايا العالم الإسلامي، أولئك لن يفلتوا.

فالأمّة الإسلامية بدأت يقظتها، ولن تعود إلى النوم الذي استغلّوا فيه غفلتها، والتاريخ يكتب ويسطر، وما غطَّاه ظلام الأمس سوف يكشفه نهار للغد.

والله سبحانه من قبل هؤلاء ومن بعدهم يسمع ويرى {أَوَلَمْ يَرَوْا أَنَّ اللَّهَ الَّذِي خَلَقَهُمْ هُوَ أَشَدُّ مِنْهُمْ قُوَّةً … } .

ونحن نؤمن بعد ذلك أنَّا بإذن الله ورثة هذا العالم، وأننا الأمة الوسط التي جعلها الله على الناس شاهدًا.

{وَلَقَدْ سَبَقَتْ كَلِمَتُنَا لِعِبَادِنَا الْمُرْسَلِينَ، إِنَّهُمْ لَهُمُ الْمَنْصُورُونَ، وَإِنَّ جُنْدَنَا لَهُمُ الْغَالِبُون} . [الصافات 171-173] .

{وَمَنْ يَتَوَلَّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَالَّذِينَ آمَنُوا فَإِنَّ حِزْبَ اللَّهِ هُمُ الْغَالِبُونَ} [المائدة 56] .
আল্লাহর অনুগ্রহে আমাদের এই অধ্যয়ন—চাই তা সাধারণ রূপরেখা হোক কিংবা বিশেষ বিষয়গুলোর বিস্তারিত পর্যালোচনা—উভয় ক্ষেত্রেই কেবল আল্লাহর একক অনুগ্রহে বস্তুনিষ্ঠতা ও গভীরতা দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছে; যা ব্যক্তিগত সমালোচনা (تجريح) থেকে দূরে থেকে বিষয়ের মূলে পৌঁছাতে এবং শেষ পর্যন্ত তার সমাধানে উপনীত হতে সচেষ্ট হয়েছে।

এর ফলে আমরা এমনকি যেসব উৎস থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছি, সেগুলো থেকেও নামগুলো বাদ দিতে বাধ্য হয়েছি। এটি আমাদের এই বিশ্বাসের বহিঃপ্রকাশ যে, সংস্কার সাধনের জন্য বস্তুনিষ্ঠতাই সর্বোত্তম পন্থা। তাছাড়াও এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর অনুসরণ, যিনি সর্বদা ব্যক্তিগত সমালোচনা (تجريح) থেকে দূরে থাকতেন। তিনি মিম্বারে আরোহণ করে বলতেন: "লোকদের কী হয়েছে যে তারা এমন এমন কাজ করে?" পরিশেষে, আমাদের বিশ্বাস এই যে, ব্যক্তিদের ওপর কোনো বিষয়ের প্রয়োগ কেবল বিচার প্রক্রিয়ার সময়ই হওয়া উচিত; আর এই ক্ষেত্রটি বিচারের ক্ষেত্র নয় এবং বর্তমান সময়টিও তার উপযুক্ত সময় নয়।

তবে একই সাথে আমরা বিশ্বাস করি যে, যারা আমানতের খিয়ানত করেছে এবং মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন ইস্যুকে বিদ্ধ (طعن) করার কাজে শরিক হয়েছে, তারা পার পাবে না।

কেননা মুসলিম উম্মাহর জাগরণ শুরু হয়েছে, তারা আর সেই ঘুমে ফিরে যাবে না যার সুযোগ নিয়ে তাদের অসতর্কতাকে কাজে লাগানো হয়েছিল। ইতিহাস সবকিছু লিপিবদ্ধ করছে এবং গতকালের অন্ধকার যা কিছু ঢেকে রেখেছিল, আগামীর দিন তা উন্মোচিত করবে।

আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এদের আগে ও পরে সব কিছুই শোনেন এবং দেখেন— {তারা কি দেখে না যে, আল্লাহ যিনি তাদের সৃষ্টি করেছেন, তিনি তাদের চেয়েও অধিক শক্তিশালী … }।

এরপরে আমরা বিশ্বাস করি যে, আল্লাহর ইচ্ছায় আমরাই এই বিশ্বের উত্তরাধিকারী এবং আমরাই সেই মধ্যপন্থী জাতি যাদের আল্লাহ মানুষের ওপর সাক্ষী হিসেবে নিযুক্ত করেছেন।

{আর আমার রাসূল বান্দাদের প্রতি আমার এই কথা পূর্বেই স্থির হয়েছে যে, অবশ্যই তারা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে, আর আমার বাহিনীই হবে বিজয়ী}। [আস-সাফফাত ১৭১-১৭৩] ।

{আর যারা আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও ঈমানদারদের সাথে বন্ধুত্ব করে, তবে আল্লাহর দলই বিজয়ী হবে} [আল-মায়িদাহ ৫৬] ।
(খণ্ড: ১) হাদিরুল আলামিল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ৫)
{وَلَقَدْ كَتَبْنَا فِي الزَّبُورِ مِنْ بَعْدِ الذِّكْرِ أَنَّ الْأَرْضَ يَرِثُهَا عِبَادِيَ الصَّالِحُونَ، إِنَّ فِي هَذَا لَبَلاغًا لِقَوْمٍ عَابِدِينَ} [الأنبياء 105-106] .

{وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَيَسْتَخْلِفَنَّهُمْ فِي الْأَرْضِ كَمَا اسْتَخْلَفَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ وَلَيُمَكِّنَنَّ لَهُمْ دِينَهُمُ الَّذِي ارْتَضَى لَهُمْ وَلَيُبَدِّلَنَّهُمْ مِنْ بَعْدِ خَوْفِهِمْ أَمْنًا} [النور: 55] .

والله المستعان وعليه التكلان، ولا حول ولا قوة إلّا بالله العلي العظيم.
{আর আমি অবশ্যই যবূরে উপদেশের পর লিখে দিয়েছি যে, আমার সৎকর্মশীল বান্দারাই যমীনের উত্তরাধিকারী হবে। নিশ্চয়ই এতে ইবাদতকারী সম্প্রদায়ের জন্য এক বিশেষ বার্তা রয়েছে।} [আল-আম্বিয়া ১০৫-১০৬] .

{তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে, আল্লাহ তাদের সাথে ওয়াদা করেছেন যে, তিনি অবশ্যই তাদেরকে পৃথিবীতে প্রতিনিধিত্ব দান করবেন যেমন তিনি তাদের পূর্ববর্তীদের প্রতিনিধিত্ব দান করেছিলেন এবং তিনি তাদের জন্য তাদের সেই দ্বীনকে সুদৃঢ় করবেন যা তিনি তাদের জন্য মনোনীত করেছেন এবং তাদের ভয়ের অবস্থার পর অবশ্যই তাদেরকে নিরাপত্তা দান করবেন।} [আন-নূর: ৫৫] .

আর আল্লাহই একমাত্র সাহায্যস্থল এবং তাঁরই ওপর পূর্ণ ভরসা; সুউচ্চ ও মহান আল্লাহ ছাড়া আর কোনো উপায় ও শক্তি নেই।
(খণ্ড: ১) হাদিরুল আলামিল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌الباب التمهيدي: وضع العالم الإسلامي وموقعه

‌‌العالم الإسلامي جغرافيًا

‌‌الموقع

…

الباب التمهيدي:

1- العالم الإسلامي جغرافيًّا:

1- الموقع:

ليس العالم الإسلامي كما يصوره الجغرافيون الأجانب نطاقًا صحراويًّا فقيرًا في موارده، متخلفًا في سكانه1.

- بل إنه يقع في "صرة العالم" ممسكًا بأطرافه، متحكمًا في محيطاته وبحاره وخطوط ملاحته، زاخرًا بأهمّ الأنهار، وأخصب الأراضي، وأعظم الثروات.

ومدخلا المحيط الهندي في أرض إسلامية "مضيق ملقا في الشرق بين الملايو وسومطرة، ومضيق باب المندب في الغرب"، وبذا يمكن التحكُّم في الملاحة الدولية بين الشرق والغرب، ومدخلا البحر المتوسط في أرض إسلامية "شرقًا قناة السويس، وغربًا مضيق جبل طارق".

والبحر الأبيض كان يومًا كله بحيرة إسلامية، ولا تزال شواطئه الشرقية والجنوبية كذلك، والبحر الأسود والبحر الميت، والبحر الأحمر كذلك بحيرة إسلامية لولا إسرائيل.

وأنهار النيل ودجلة والفرات ونهر السند ونهر النيجر وغيرها تجري في بلاد إسلامية.

- ويبدأ غربًا عند محيط الطول 18 غربًا "بالساحل الإفريقي المطلّ على المحيط الأطلنطي".

--------------------------------------------

1 Boivman mohamadan world. the ceographical Revew ،J، 1944. p. p. 64 - 65
প্রারম্ভিক অধ্যায়: মুসলিম বিশ্বের অবস্থা ও অবস্থান

ভৌগোলিক প্রেক্ষাপটে মুসলিম বিশ্ব

অবস্থান

...

প্রারম্ভিক অধ্যায়:

১- ভৌগোলিক প্রেক্ষাপটে মুসলিম বিশ্ব:

১- অবস্থান:

মুসলিম বিশ্ব বিদেশী ভৌগোলিকদের বর্ণনানুযায়ী এমন কোনো সম্পদহীন মরু অঞ্চল নয় যা তার সম্পদে দরিদ্র এবং জনসংখ্যার দিক থেকে অনগ্রসর।১

- বরং এটি "বিশ্বের কেন্দ্রস্থলে" (صرة العالم) অবস্থিত, যা এর প্রান্তসমূহকে আঁকড়ে ধরে আছে এবং এর মহাসাগর, সমুদ্র ও নৌপথগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করছে। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নদ-নদী, উর্বর ভূমি এবং মহান সম্পদে পরিপূর্ণ।

ভারত মহাসাগরের প্রবেশপথ দুটি মুসলিম ভূখণ্ডে অবস্থিত (পূর্বে মালয় ও সুমাত্রার মধ্যবর্তী মালাক্কা প্রণালী এবং পশ্চিমে বাব আল-মান্দাব প্রণালী), ফলে এর মাধ্যমে পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যকার আন্তর্জাতিক নৌপথ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তদ্রূপ ভূমধ্যসাগরের প্রবেশপথ দুটিও মুসলিম ভূখণ্ডে অবস্থিত (পূর্বে সুয়েজ খাল এবং পশ্চিমে জিব্রাল্টার প্রণালী)।

ভূমধ্যসাগর একসময় সম্পূর্ণ একটি মুসলিম হ্রদ ছিল এবং এর পূর্ব ও দক্ষিণ উপকূল আজও তেমনি রয়েছে। এছাড়া কৃষ্ণসাগর, মৃত সাগর এবং লোহিত সাগরও মুসলিম হ্রদ হতো, যদি না ইসরায়েলের অস্তিত্ব থাকতো।

নীল নদ, দজলা, ফোরাত, সিন্ধু নদ এবং নাইজার নদসহ অন্যান্য নদীসমূহ মুসলিম দেশগুলোর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়।

- এটি পশ্চিমে ১৮ ডিগ্রি পশ্চিম দ্রাঘিমাংশ থেকে শুরু হয়েছে (আটলান্টিক মহাসাগরের উপকূলবর্তী আফ্রিকান উপকূল থেকে)।

--------------------------------------------

১ বোইম্যান, মোহামাডান ওয়ার্ল্ড; দ্য জিওগ্রাফিক্যাল রিভিউ, জে, ১৯৪৪, পৃ. ৬৪-৬৫।
(খণ্ড: ১) হাদিরুল আলামিল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ১০)
ويمتد شرقًا إلى حدود إقليم سينكيانج أو التركستان الصينية وباكستان الغربية عند خط الطول 90، أي أنه يمتد 108 درجة طولية.

- أمَّا عرضًا فيمتد ما بين خط العرض 50 شمالًا "إقليم تركستان" إلى خط العرض 10 جنوب خط الاستواء "الجزر الإندونيسية في آسيا"، أمَّا إفريقيا فيمتد إلى جنوب خط الاستواء حتى حدود الصومال.

ويكفي ما انتهى إليه أحد العلماء، من أنَّ مركز العالم كله -إذا أريد رسم دائرة -جغرافيًّا- أن نقول: إن الأمة الإسلامية أمّة وسط في موقعها، وأمثل الشيء أوسطه في كل شيء.

ومن ثَمَّ فإن العالم الإسلامي جغرافيًّا واستراتيجيًّا يتفوق في موقعه على أيّ بقعة في العالم كله.

2- الموارد الطبيعية:

يقصد بالموارد الطبيعية.

الموارد التي يتكوَّن منها الغلاف الصخري أو القشرة الأرضية الصلبة.

والمواد التي يتكون منها الغطاء النباتي أو الحيواني.

والمواد التي يتألَّف منها الغلاف المائي والغلاف الهوائي.

أمَّا الغلاف الصخري فيشمل:

الثروة المعدنية، والتربة، والمياه الجوفية.

أمَّا الغطاء النباتي والحيواني فيشمل:

الثروة النباتية طبيعية كانت أو زراعية، وما يوجد على سطح الأرض من حيوان.

أما الغلاف المائي فيشمل:

الكائنات البحرية الحية ومنها الأسماك، وكذلك الأملاح المعدنية التي يستخلص منها بعض المعادن.
এটি পূর্ব দিকে সিনকিয়াং অঞ্চল বা চীনা তুর্কিস্তান এবং পশ্চিম পাকিস্তানের সীমানা পর্যন্ত ৯০ ডিগ্রি দ্রাঘিমাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত, অর্থাৎ এটি ১০৮ দ্রাঘিমাংশ ডিগ্রি পর্যন্ত প্রসারিত।

- আর অক্ষাংশের ক্ষেত্রে এটি উত্তরে ৫০ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ "তুর্কিস্তান অঞ্চল" থেকে বিষুবরেখার দক্ষিণে ১০ ডিগ্রি অক্ষাংশ "এশিয়ার ইন্দোনেশীয় দ্বীপপুঞ্জ" পর্যন্ত বিস্তৃত; আর আফ্রিকার ক্ষেত্রে এটি বিষুবরেখার দক্ষিণে সোমালিয়ার সীমানা পর্যন্ত বিস্তৃত।

একজন আলেম যে সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন তা-ই যথেষ্ট যে, সমগ্র বিশ্বের কেন্দ্র—যদি ভৌগোলিকভাবে একটি বৃত্ত অঙ্কন করতে চাওয়া হয়—তবে আমরা বলতে পারি: ইসলামি উম্মাহ তার অবস্থানের দিক থেকে একটি মধ্যপন্থী জাতি, আর কোনো বিষয়ের মধ্যম ভাগই হলো তার শ্রেষ্ঠ রূপ।

ফলে ভৌগোলিক ও কৌশলগতভাবে মুসলিম বিশ্বের অবস্থান বিশ্বের অন্য যেকোনো ভূখণ্ডের চেয়ে শ্রেষ্ঠ।

২- প্রাকৃতিক সম্পদ:

প্রাকৃতিক সম্পদ বলতে বোঝানো হয়:

শিলামণ্ডল বা পৃথিবীর শক্ত ভূত্বক গঠনকারী সম্পদসমূহ।

এবং উদ্ভিদ বা প্রাণীজ আবরণ গঠনকারী উপাদানসমূহ।

এবং বারিমণ্ডল ও বায়ুমণ্ডল গঠনকারী উপাদানসমূহ।

শিলামণ্ডলের অন্তর্ভুক্ত হলো:

খনিজ সম্পদ, মৃত্তিকা এবং ভূগর্ভস্থ পানি।

আর উদ্ভিদ ও প্রাণীজ আবরণের অন্তর্ভুক্ত হলো:

প্রাকৃতিক বা কৃষিভিত্তিক উদ্ভিদ সম্পদ এবং ভূপৃষ্ঠে বিদ্যমান প্রাণিকুল।

আর বারিমণ্ডলের অন্তর্ভুক্ত হলো:

মাছসহ সামুদ্রিক জীবন্ত প্রাণিসমূহ, সেইসাথে খনিজ লবণ যেখান থেকে কিছু ধাতু আহরণ করা হয়।
(খণ্ড: ১) হাদিরুল আলামিল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ১১)
أمَّا الغلاف الجوي يقصد به:

عناصر المناخ اللازمة للإنتاج مثل:

الحرارة والضوء والأمطار1.

ولا تعتبر هذه الموارد اقتصادية حتى تستغلّ، أو يعرف الإنسان كيف يستغلّها؛ فالفحم، والبترول، والطاقة الشمسية، وغير ذلك، كلٌّ منها لم يكن موردًا اقتصاديًّا أو موردًا للثروة قبل أن يكتشف كيفية استغلاله.

ويمكن تقسيم الموارد الطبيعية إلى:

1- موارد غير قابلة للنَّفاد مثل: الرماد والصلصال.

2- موارد متجددة مثل: الغطاء النباتي.

3- موارد سريعة النفاد مثل: البترول والمعادن.

أما الموارد غير القابلة للنفاد:

فيملك العالم الإسلامي منها الكثير:

إن الأرض الخصبة الواسعة الممتدة في السودان، وفي ليبيا، وفي العراق، وفي غيرها من بلاد الإسلام، والصحاري الشاسعة الممتدة في جزيرة العرب، ومصر وغيرها من بلاد الإسلام، تعطي قدرة العالم الإسلامي وامتلاكه للموارد غير القابلة للنفاد.

أما الموارد المتجددة، والخاصة بالغطاء النباتي:

فإن ما يعيشه العالم الإسلامي من فقر وفاقة واحتياج للقمح وغيره من موادِّ الغذاء، كل ذلك مصطنع ومفروض، وإلّا فالعالم الإسلامي الذي يملك أنهار العالم وأغناها بالخصب والنماء "نهر النيل، ودجلة، والفرات، والسند.. إلخ" لا يمكن ولا يتصوّر أن يكون بحاجة إلى نبات يستورده من شرق أو غرب.

--------------------------------------------

1 جغرافية العالم الإسلامي، محمود طه أبو العلا، الطبعة الثانية 1966، ص121، 122.
আর বায়ুমণ্ডল বলতে বোঝায়:

উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় জলবায়ুর উপাদানসমূহ যেমন:

তাপ, আলো এবং বৃষ্টিপাত১।

আর এই সম্পদগুলো ততক্ষণ পর্যন্ত অর্থনৈতিক সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হয় না যতক্ষণ না সেগুলো ব্যবহার করা হয়, অথবা মানুষ জানে কীভাবে সেগুলো ব্যবহার করতে হয়; সুতরাং কয়লা, পেট্রোলিয়াম, সৌরশক্তি ইত্যাদি—এগুলোর কোনটিই এর ব্যবহারের পদ্ধতি আবিষ্কৃত হওয়ার আগে অর্থনৈতিক সম্পদ বা সম্পদের উৎস ছিল না।

প্রাকৃতিক সম্পদসমূহকে এভাবে ভাগ করা যেতে পারে:

১- অক্ষয় বা অফুরন্ত সম্পদ যেমন: ছাই এবং কাদামাটি।

২- নবায়নযোগ্য সম্পদ যেমন: বনজ সম্পদ (উদ্ভিদ আচ্ছাদন)।

৩- দ্রুত নিঃশেষযোগ্য সম্পদ যেমন: পেট্রোলিয়াম এবং খনিজ পদার্থ।

আর অক্ষয় সম্পদ প্রসঙ্গে বলা যায়:

মুসলিম বিশ্বে এর প্রচুর ভাণ্ডার রয়েছে:

সুদান, লিবিয়া, ইরাক এবং অন্যান্য ইসলামি দেশগুলোতে বিস্তৃত বিশাল উর্বর ভূমি, এবং আরব উপদ্বীপ, মিশর ও অন্যান্য ইসলামি দেশগুলোতে বিস্তৃত সুবিশাল মরুভূমি মুসলিম বিশ্বের সক্ষমতা এবং এর অক্ষয় সম্পদের মালিকানাকেই প্রকাশ করে।

আর নবায়নযোগ্য সম্পদ, বিশেষ করে বনজ ও উদ্ভিদ সম্পদের ক্ষেত্রে:

মুসলিম বিশ্ব বর্তমানে গম এবং অন্যান্য খাদ্যসামগ্রীর যে দারিদ্র্য, অভাব ও সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তার সবই কৃত্রিম ও চাপিয়ে দেওয়া; অন্যথায় মুসলিম বিশ্ব—যা বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ ও উর্বর নদীসমূহের (নীলনদ, দজলা, ফোরাত, সিন্ধু ইত্যাদি) অধিকারী—তা পূর্ব বা পশ্চিমের দেশগুলো থেকে আমদানিকৃত উদ্ভিজ্জ বা কৃষিপণ্যের মুখাপেক্ষী হতে পারে বলে কল্পনাও করা যায় না।

--------------------------------------------

১ যুগরাফিয়াতুল আলম আল-ইসলামি, মাহমুদ ত্বহা আবু আল-উলা, দ্বিতীয় সংস্করণ ১৯৬৬, পৃ. ১২১, ১২২।
(খণ্ড: ১) হাদিরুল আলামিল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ১২)
إن مساحات من الأفدنة تصل إلى الملايين في السودان والعراق وليبيا وباكستان، بل وفي مصر والجزيرة العربية، وهي صالحة وخصبة تمامًا لا تحتاج غير اليد العاملة، أو أنها كانت كذلك وقصرت الهمم والجهود والعقول عن مدِّها بالماء وإعادتها خصبة كما كانت، ويكفي أن نعلم أنَّ مصر كانت تزرع في عهد الرومان أكثر من 90% من أراضيها، وهو أمر ثابت تاريخيًّا، ظلت تنقرض حتى بلغت في العصر الحديث إلى 5% من أراضيها، وتسعون في المائة معطَّل لا يعمل، ولا ينتج!

أما الموارد سريعة النفاد:

مثل البترول والمعادن.

فيكفي أن نعرف هذه الحقائق:

أ- إن البترول وهو المصدر الأول للطاقة اليوم تنتج منه البلاد الإسلامية 30.6% من جملة الإنتاج العالمي، تليها الولايات المتحدة "29.6%".

أما احتياطي العالم الإسلامي فهو 69.3 من جملة الاحتياطي العالم1، فلو أضفنا إلى ما تصر الشركات الأمريكية والأجنبية على عدم كشفه إلّا في الوقت المناسب -لها طبعًا- لارتفع إنتاج البلاد الإسلامية، ولارتفع احتياطها كذلك.

ويكتفي أن نصرِّح -على مسئوليتنا- في هذا المكان أنَّ مصر تسبح في بحيرة من البترول، حيث يوجد البترول على يمينها وعلى شمالها، لولا إصرار الشركات الأمريكية والأجنبية الآخذة امتياز التنقيب عن البترول -لولا إصرار هذه الشركات على عدم الكشف عنه إلا بقدر!

ب- المعادن الأخرى:

وفي مقدمتها أهمها في الصناعات: الحديد والصلب، يوجد في البلاد الإسلامية في اتحاد ماليزيا، والجزائر والمغرب، وتونس، وتركيا، ومصر.

ويوجد في بلاد أخرى من بلاد المسلمين نعرفها بكميات أضخم تصر القوى العالمية المحتكرة على عدم الكشف عنها احتفاظًا لنفسها بالسرِّ أو بالثروة!

--------------------------------------------

1 المرجع السابق ص665، 266 وذلك وفقًا لإحصاء 1961، ونعتقد أنه زاد.
সুদান, ইরাক, লিবিয়া ও পাকিস্তানে, এমনকি মিশর ও আরব উপদ্বীপে লক্ষ লক্ষ একর জমি রয়েছে, যা সম্পূর্ণ উপযোগী এবং অত্যন্ত উর্বর; যার জন্য কেবল শ্রমজীবী মানুষের প্রয়োজন। অথবা জমিগুলো এমনই ছিল, কিন্তু উদ্যম, প্রচেষ্টা এবং মেধার অভাবে এগুলোতে পানি সরবরাহ করা এবং সেগুলোকে আগের মতো উর্বর অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। এটি জানাই যথেষ্ট যে, রোমান যুগে মিশর তার ভূখণ্ডের ৯০ শতাংশেরও বেশি জমিতে চাষাবাদ করত, যা ঐতিহাসিকভাবে একটি প্রমাণিত (ثابت) বিষয়। আধুনিক যুগে এটি কমতে কমতে ৫ শতাংশে নেমে এসেছে এবং নব্বই শতাংশ ভূমিই এখন অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে, যা কোনো কাজ বা উৎপাদনে আসছে না!

আর দ্রুত নিঃশেষ হয়ে যাওয়া সম্পদসমূহ:

যেমন পেট্রোলিয়াম এবং খনিজ দ্রব্য।

আমাদের জন্য এই তথ্যগুলো জানাই যথেষ্ট:

ক- পেট্রোলিয়াম, যা বর্তমানে শক্তির প্রধান উৎস; বিশ্বের মোট উৎপাদনের ৩০.৬ শতাংশ উৎপন্ন হয় ইসলামি দেশসমূহ থেকে, যার পরেই রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (২৯.৬ শতাংশ)।

আর মুসলিম বিশ্বের তেলের মজুদ হলো বিশ্বের মোট মজুদের ৬৯.৩ শতাংশ। মার্কিন এবং বিদেশি কোম্পানিগুলো তাদের নিজেদের সুবিধামতো সঠিক সময়ে প্রকাশের জন্য যেসব তথ্য গোপন করার ব্যাপারে অনড় থাকে, সেগুলো যদি এর সাথে যুক্ত করা হয়, তবে ইসলামি দেশগুলোর উৎপাদন ও মজুদের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পাবে।

আমরা আমাদের নিজ দায়িত্বে এখানে এটি ঘোষণা করছি যে, মিশর তেলের এক বিশাল সমুদ্রের ওপর ভাসছে; কেননা এর ডানে ও বামে তেল বিদ্যমান। কেবল পেট্রোলিয়াম অনুসন্ধানের স্বত্বাধিকারী মার্কিন ও বিদেশি কোম্পানিগুলোর একগুঁয়েমির কারণেই এটি নির্দিষ্ট পরিমাণের বাইরে প্রকাশ বা উত্তোলন করা হচ্ছে না!

খ- অন্যান্য খনিজ দ্রব্য:

শিল্পের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো লোহা ও ইস্পাত; যা ইসলামি দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়া ফেডারেশন, আলজেরিয়া, মরক্কো, তিউনিসিয়া, তুরস্ক এবং মিশরে পাওয়া যায়।

মুসলিম বিশ্বের আরও অনেক দেশে আমরা জানি যে এগুলো বিপুল পরিমাণে বিদ্যমান, যা বিশ্বমঞ্চের একচেটিয়া আধিপত্যবাদী শক্তিগুলো নিজেদের স্বার্থে এবং গোপনীয়তা বা সম্পদ কুক্ষিগত করার উদ্দেশ্যে প্রকাশ না করার ব্যাপারে অনড় থাকে!

--------------------------------------------

১ পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ৬৬৫, ২৬৬; এবং এটি ১৯৬১ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী। আমরা বিশ্বাস করি যে বর্তমানে এটি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
(খণ্ড: ১) হাদিরুল আলামিল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ১৩)
أما أنفس المعادن مثل الذهب والماس واليورانيوم.

فيوجد منه الكثير في بلاد الإسلام، لولا أنَّا لا نريد أن نصرِّح بما أبت هذه البلاد أن تصرِّح به!

أما الطاقات غير البترول:

فتوجد لدينا مساقط المياه التي تتولّد منها الكهرباء، ولدينا الزيت، والغاز الطبيعي، وتوجد في بلاد الإسلام طاقة لم تستغل بعد، وليس للعالم منها إلّا القليل وهي الطاقة الشمسية، وتدل أبحاث جادَّة وجديدة على أنه يمكن أن تتحوّل إلى أهم الطاقات لو أحسن استغلالها1.

أ- القدرة الإنتاجية:

هي تعتمد على ثلاثة عناصر:

1- العنصر البشري.

2- الخامات.

3- رأس المال.

فإذا قدر العالم الإسلامي أن يسقط -ولو مرة واحدة- الحدود المصطنعة فيما بين بلاده ودوله ودويلاته، فإنه يصير أكبر قوة اقتصادية في العالم كله.

فنحن نملك:

أ- من العنصر البشري: ألف مليون مسلم2 لا يتوافر عددهم لأي دولة في العالم، فإذا أضفت إلى هذا العنصر عنصر الإخلاص الذي يتطلَّبه

--------------------------------------------

1 رسالة دكتوراه للأخ محمد عبد الجواد في ألمانيا الغربية.

2 نشير إلى أنَّ الشعوب الإسلامية من الناحية "الأنتروبولوجية "أي الجنسية" ينتمون إلى ثلاثة أجناس رئيسية: الجنس القوقازي، والجنس الزنجي، والجنس المغولي، كما تمثّل الشعوب الإسلامية الأقسام الفرعية والسلالات الثانوية لهذه الأجناس -ولكن كما قال رب العالمين: {وَأَلَّفَ بَيْنَ قُلُوبِهِمْ لَوْ أَنْفَقْتَ مَا فِي الْأَرْضِ جَمِيعاً مَا أَلَّفْتَ بَيْنَ قُلُوبِهِمْ وَلَكِنَّ اللَّهَ أَلَّفَ بَيْنَهُمْ} .
সবচেয়ে মূল্যবান খনিজ পদার্থ, যেমন স্বর্ণ, হীরা এবং ইউরেনিয়ামের কথা বললে।

মুসলিম দেশগুলোতে এগুলোর বিপুল ভাণ্ডার রয়েছে, যদি না আমরা সেই তথ্য প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক হতাম যা এই দেশগুলো প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে!

পেট্রোলিয়াম ব্যতীত অন্যান্য শক্তির কথা বললে:

আমাদের জলপ্রপাত রয়েছে যা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়, আমাদের তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাস রয়েছে। মুসলিম দেশগুলোতে এমন এক শক্তি রয়েছে যা এখনও ব্যবহার করা হয়নি, অথচ সমগ্র বিশ্বের নিকট এর খুব সামান্যই রয়েছে—তা হলো সৌরশক্তি। আধুনিক ও গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাগুলো নির্দেশ করে যে, যদি এর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা যায় তবে এটি অন্যতম প্রধান শক্তিতে রূপান্তরিত হতে পারে।১

ক- উৎপাদন ক্ষমতা:

এটি তিনটি উপাদানের ওপর নির্ভরশীল:

১- মানব সম্পদ।

২- কাঁচামাল।

৩- মূলধন।

যদি মুসলিম বিশ্ব অন্তত একবারের জন্যও তাদের দেশ, রাষ্ট্র এবং ক্ষুদ্র রাজ্যগুলোর মধ্যবর্তী এই কৃত্রিম সীমানাগুলো মিটিয়ে দিতে সক্ষম হয়, তবে এটি সমগ্র বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হবে।

কেননা আমাদের রয়েছে:

ক- মানব সম্পদের ক্ষেত্রে: একশ কোটি (এক হাজার মিলিয়ন) মুসলিম২, যে সংখ্যা বিশ্বের অন্য কোনো একক রাষ্ট্রের নেই। এই উপাদানের সাথে যদি আপনি একনিষ্ঠতার গুণটি যোগ করেন যা এর দাবি...

--------------------------------------------

১ পশ্চিম জার্মানিতে ভাই মুহাম্মাদ আব্দুল জাওয়াদ-এর পিএইচডি থিসিস।

২ আমরা উল্লেখ করতে চাই যে, মুসলিম জাতিগোষ্ঠীসমূহ নৃতাত্ত্বিক (Anthropological) বা জাতিগত দিক থেকে তিনটি প্রধান বংশধারার অন্তর্ভুক্ত: ককেসীয়, নিগ্রো এবং মঙ্গোলীয়। একইভাবে মুসলিম জাতিসমূহ এই বংশগুলোর উপ-বিভাগ এবং গৌণ ধারাগুলোরও প্রতিনিধিত্ব করে—কিন্তু যেমনটি রাব্বুল আলামীন বলেছেন: "আর তিনি তাদের অন্তরে প্রীতি স্থাপন করেছেন; যদি আপনি পৃথিবীর সমস্ত সম্পদও ব্যয় করতেন, তবুও তাদের অন্তরে প্রীতি স্থাপন করতে পারতেন না, কিন্তু আল্লাহ তাদের মধ্যে প্রীতি স্থাপন করেছেন।"
(খণ্ড: ১) হাদিরুল আলামিল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ১৪)
الإسلام من أبنائه، وعنصر الإتقان كذلك، لكانت هذه الثروة البشرية هي أوّل وأكبر ثروات العالم الإسلامي.

ب- الخامات:

وقد قدمنا الحديث عنها، ونزيد أنه لا يوجد في العالم كله مكان تتوافر فيه كل المعادن، وكل الطاقات، وكل الخامات إلّا العالم الإسلامي.

ج- رأس المال:

والمنطقة الإسلامية الآن أغنى مناطق العالم برأس المال، لولا أنَّها تودعه في بنوك أمريكية وانجلترا، وتدعم بذلك اقتصاد هذه الدول من حيث تدري أو لا تدري.

وفي كل يجري خفض بعض العملات الأجنبية -عمدًا- لتتحقق الخسارة في جانب المسلمين المودعين أموالهم في تلك البنوك، وليتحقق الكسب لأصحاب هذه العملات!

وفي إحصاءٍ أخير تقدَّمت إحدى البلاد الإسلامية من حيث الدخل القومي على الولايات المتحدة الأمريكية التي كانت حتى عهد قريب أغنى دول العالم!

فإذا أضفنا إلى ذلك وجود الأسواق الاستهلاكية ووفرة طرق الملاحة البرية والجوية والبحرية، وتوسط بلاد العالم الإسلامي بين العالم كله شرقه وغربه؛ لعرفنا كيف يمكن أن نكون أكبر قوة اقتصادية في العالم كله.

ولكن متى ينتبه المسلمون، ويملكون أمورهم في أيديهم؟ 1

--------------------------------------------

1 لا نغض بعد ذلك قيمة "التكنولوجيا الحديثة"، وهي التطبيق العلمي لأحدث النظريات، وذلك لازم في مجال الإنتاج لتحسينه كيفًا، وزيادته كمًّا، مع التوفير في التكاليف، وهو ما نندب إليه الأمة الإسلامية ونعتبره فرض كفاية تأثم الأمَّة كلها إن لم تنفر منها طائفة كافية لكفاية حاجة هذه الأمة.

لكننا في الوقت نفسه نشير إلى أن تحصيل أمر "التكنولوجيا" صار سهلًا بفضل الله أولًا ثم بترابط العالم، وبتخطيه-إلى حدٍّ ما- حواجز العصبية في كتمان العلم.
ইসলাম তার সন্তানদের থেকে এবং একইভাবে নিপুণতার (إتقان) উপাদান, তবে এই মানবসম্পদই হতো মুসলিম বিশ্বের প্রথম এবং বৃহত্তম সম্পদ।

খ- কাঁচামাল:

আমরা ইতোমধ্যেই এ সম্পর্কে আলোচনা পেশ করেছি। আমরা আরও যোগ করতে চাই যে, সমগ্র বিশ্বে এমন কোনো স্থান নেই যেখানে সব ধরনের খনিজ, শক্তি এবং কাঁচামাল বিদ্যমান, একমাত্র মুসলিম বিশ্ব ব্যতীত।

গ- মূলধন:

আর ইসলামি অঞ্চল বর্তমানে মূলধনের দিক থেকে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী অঞ্চল, যদি না তারা তা আমেরিকা ও ইংল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে জমা রাখত এবং এর মাধ্যমে জেনে বা না জেনে এই দেশগুলোর অর্থনীতিকে শক্তিশালী করত।

আর প্রতিনিয়ত কিছু বৈদেশিক মুদ্রার মান—ইচ্ছাকৃতভাবে—কমানো হচ্ছে যাতে সেই ব্যাংকগুলোতে অর্থ আমানতকারী মুসলিমদের ক্ষতি হয় এবং এই মুদ্রাগুলোর মালিকদের লাভ নিশ্চিত হয়!

সাম্প্রতিক এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, জাতীয় আয়ের দিক থেকে একটি মুসলিম দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকেও ছাড়িয়ে গেছে, যা কিছুদিন আগেও বিশ্বের সবচেয়ে ধনী দেশ ছিল!

এর সাথে যদি আমরা ভোক্তা বাজারের উপস্থিতি এবং স্থল, আকাশ ও সমুদ্রপথের পর্যাপ্ততা এবং পূর্ব ও পশ্চিমের সমগ্র বিশ্বের মাঝে মুসলিম বিশ্বের অবস্থানকে যুক্ত করি; তবে আমরা বুঝতে পারতাম কীভাবে আমরা সমগ্র বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হতে পারি।

কিন্তু মুসলিমরা কবে সচেতন হবে এবং তাদের নিজেদের বিষয়াবলী নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেবে? ১

--------------------------------------------

১ আমরা এর পরে "আধুনিক প্রযুক্তি"-র গুরুত্বকে খাটো করে দেখি না, যা হলো আধুনিকতম তত্ত্বগুলোর বৈজ্ঞানিক প্রয়োগ। উৎপাদনের ক্ষেত্রে গুণগত মান উন্নয়ন ও পরিমাণগত বৃদ্ধি এবং ব্যয় সাশ্রয়ের জন্য এটি অপরিহার্য। আমরা মুসলিম উম্মাহকে এরই আহ্বান জানাই এবং একে ফরজে কিফায়া (فرض كفاية) হিসেবে গণ্য করি, যার ফলে যদি উম্মাহর প্রয়োজন মেটানোর মতো পর্যাপ্ত একটি দল এতে নিয়োজিত না হয়, তবে পুরো উম্মাহ গুনাহগার হবে।

তবে একই সাথে আমরা ইঙ্গিত করছি যে, প্রযুক্তির বিষয়টি অর্জন করা সহজ হয়ে গেছে; প্রথমত আল্লাহর অনুগ্রহে এবং তারপর বিশ্বব্যাপী আন্তঃযোগাযোগের ফলে এবং জ্ঞান গোপন করার ক্ষেত্রে সংকীর্ণ গোঁড়ামির (العصبية) বাধাগুলো—কিছুটা হলেও—অতিক্রম করার কারণে।
(খণ্ড: ১) হাদিরুল আলামিল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ১৫)
2-‌‌ العالم الإسلامي فقهيًّا:

يقسِّم الفقهاء1 العالم إلى دار حرب ودار إسلام.

فالعالم الإسلامي -فقهيًّا- هو دار الإسلام، لكن ما هي دار الإسلام؟

يتفق الفقهاء على أن كل بلد يحكم بالإسلام فهو دار إسلام، لكن ما هو حكم الإسلام حتى لا نختلف في التطبيق؟

لا شكَّ أن شروطًا ثلاثة -مأخوذة من الكتاب والسنة- تلزم الشرعية على حكمٍ ما، للقول بأن الحكم فيه حكم الشريعة أو حكم الإسلام.

وهذه هي الشروط:

1- أن يكون لله الشرع ابتداء:

فذاك خالص حق الله، {شَرَعَ لَكُمْ مِنَ الدِّينِ مَا وَصَّى بِهِ نُوحًا وَالَّذِي أَوْحَيْنَا إِلَيْك} ، {أَلا لَهُ الْخَلْقُ وَالْأَمْرُ تَبَارَكَ اللَّهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ} .

{أَمْ لَهُمْ شُرَكَاءُ شَرَعُوا لَهُمْ مِنَ الدِّينِ مَا لَمْ يَأْذَنْ بِهِ اللَّه} .

بيد أن مع دائرة شرع الله، دائرة أخرى، قال فيها رب العالمين:

{وَلَوْ رَدُّوهُ إِلَى الرَّسُولِ وَإِلَى أُولِي الْأَمْرِ مِنْهُمْ لَعَلِمَهُ الَّذِينَ يَسْتَنْبِطُونَهُ مِنْهُم} ومن ثَمَّ فقد تركت هذه الدائرة لاجتهاد العلماء المجتهدين.

وبهذا يتحقق للتشريع الإسلامي الأصالة الربانية، كما تتحقق له المرونة والقدرة على مواجهة للقضايا، والحاجات المتجددة.

--------------------------------------------

1 راجع بدائع الصنائع جـ7، ص120 وما بعدها، والجريمة للإمام أبي زهرة، ص356 وما بعدها.
2-‌‌ ফিকহি (فقهي) দৃষ্টিকোণ থেকে ইসলামি বিশ্ব:

ফকিহগণ (فقهاء) বিশ্বকে দারুল হারব (دار حرب) এবং দারুল ইসলাম (دار إسلام)- এই দুই ভাগে বিভক্ত করেন।

সুতরাং ফিকহি (فقهي) পরিভাষায় ইসলামি বিশ্ব হলো দারুল ইসলাম (دار إسلام); কিন্তু দারুল ইসলাম (دار إسلام) বলতে আসলে কী বোঝায়?

ফকিহগণ (فقهاء) এই বিষয়ে একমত যে, প্রতিটি দেশ যা ইসলামের বিধান (حكم) অনুযায়ী পরিচালিত হয়, তা-ই দারুল ইসলাম (دار إسلام)। তবে প্রয়োগের ক্ষেত্রে যেন আমাদের মধ্যে মতভেদ না হয়, সেজন্য ইসলামের শাসন বা বিধান (حكم) বলতে কী বোঝায়?

নিঃসন্দেহে তিনটি শর্ত—যা কিতাব (الكتاب) ও সুন্নাহ (السنة) থেকে সংগৃহীত—কোনো শাসনের শরয়ি বৈধতা (الشرعية) নিশ্চিত করে, যার ভিত্তিতে বলা যায় যে সেখানে শরিয়াহর বিধান (حكم الشريعة) বা ইসলামের বিধান (حكم الإسلام) কার্যকর রয়েছে।

শর্তগুলো নিম্নরূপ:

1- বিধান প্রদানের (الشرع) নিরঙ্কুশ অধিকার প্রাথমিকভাবে আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত হওয়া:

কেননা তা মহান আল্লাহর একান্ত অধিকার। আল্লাহ তাআলা বলেন: “তিনি তোমাদের জন্য দ্বীনের সেই বিধানই নির্ধারিত করেছেন যার নির্দেশ তিনি দিয়েছিলেন নূহকে এবং যা আমি ওহি করেছি আপনার প্রতি...”, “জেনে রেখো, সৃষ্টি এবং নির্দেশ (الأمر) প্রদান কেবল তাঁরই কাজ। জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহ অত্যন্ত বরকতময়।”

“নাকি তাদের এমন কিছু শরিক আছে যারা তাদের জন্য দ্বীনের এমন বিধান প্রণয়ন (شرعوا) করেছে যার অনুমতি আল্লাহ দেননি?”

তবে আল্লাহর নির্ধারিত বিধানের গণ্ডির পাশাপাশি আরেকটি ক্ষেত্র বা গণ্ডিও রয়েছে, যে সম্পর্কে রাব্বুল আলামিন বলেছেন:

“আর তারা যদি তা রাসুলের এবং তাদের মধ্যকার উলুল আমর (কর্তৃত্বশীল)-দের নিকট পেশ করত, তবে তাদের মধ্যে যারা তা থেকে রহস্য উদঘাটন (يستنبطونه) করতে সক্ষম, তারা বিষয়টি অবশ্যই অবগত হতো।” ফলশ্রুতিতে, এই ক্ষেত্রটি মুজতাহিদ (المجتهدين) আলেমদের ইজতিহাদ (اجتهاد)-এর জন্য রাখা হয়েছে।

এভাবে ইসলামি বিধান প্রণয়ন (التشريع) প্রক্রিয়ায় যেমন রব্বানি বা খোদায়ী মৌলিকতা (الأصالة الربانية) নিশ্চিত হয়, তেমনি সমসাময়িক বিভিন্ন সমস্যা ও নতুন নতুন প্রয়োজন মোকাবেলার সক্ষমতা ও নমনীয়তাও অর্জিত হয়।

--------------------------------------------

১ দেখুন: বাদায়েউস সানায়ে, খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা ১২০ এবং পরবর্তী অংশ; এবং ইমাম আবু জাহরা রচিত আল-জারিমাহ, পৃষ্ঠা ৩৫৬ এবং পরবর্তী অংশ।
(খণ্ড: ১) হাদিরুল আলামিল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ১৬)
2- أن تكون شريعة الله هي العليا:

فلا ترفع إليها شريعة، ولا تعلو عليها شريعة.

فإذا ذكر ان الشريعة الإسلامية مصدر رئيسي، فإن ذلك يعني: إمكان قيام مصادر أخرى إلى جوارها، ومن ثَمَّ فقد ارتفعت هذه المصادر إلى مستواها.

وإذا ذكر أن الشريعة الإسلامية مصدر ثالث، فإن ذلك يعني أن تعلو على شريعة الله شرائع أخرى، وكلا الأمرين خروج على شرط أن تكون شريعة الله هي العليا، ودليله قول الله سبحانه: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تُقَدِّمُوا بَيْنَ يَدَيِ اللَّهِ وَرَسُولِهِ} ، أي: لا يكن لكم رأي ولا شرع فوق قول الله ورسوله.

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تَرْفَعُوا أَصْوَاتَكُمْ فَوْقَ صَوْتِ النَّبِيِّ} .

ولا يتصور أن يحرم رفع صوت فوق صوت النبي وأن يحل رفع شرع أو قانون فوق شرع الله ورسوله.

وأخيرًا قول رسول الله صلى الله عليه وسلم: "من قاتل لتكون كلمة الله هي العليا فهو في سبيل الله".

وكلمة الله اسم جامع لكلماته، وبكلماته نزلت شرائعه!

فدون أن تكون شريعة الله هي العليا قتل وقتال هو في سبيل الله!

3- أن تطبق شريعة الله كاملة غير مجزأة:

في مجالاتها المختلفة: عقيدة، وأخلاقًا، وشعائر ومعاملات.

فإن خلاف مجال من هذه المجالات عمدًا، فليست شريعة الله هي الحاكمة، ووجب القتال ليكون الدين كله لله {وَقَاتِلُوهُمْ حَتَّى لا تَكُونَ فِتْنَةٌ وَيَكُونَ الدِّينُ لِلَّهِ} .

ودليل هذا الشرط قوله سبحانه: {وَاحْذَرْهُمْ أَنْ يَفْتِنُوكَ عَنْ بَعْضِ مَا أَنْزَلَ اللَّهُ إِلَيْكَ} ، وتسميته بعد ذلك بالجاهلية.

{أَفَحُكْمَ الْجَاهِلِيَّةِ يَبْغُونَ وَمَنْ أَحْسَنُ مِنَ اللَّهِ حُكْماً لِقَوْمٍ يُوقِنُونَ} .
2- আল্লাহর শরীয়ত যেন সর্বোচ্চ হয়:

সুতরাং এর সমপর্যায়ে অন্য কোনো বিধানকে উন্নীত করা যাবে না এবং অন্য কোনো আইন এর ওপর প্রাধান্য পাবে না।

যদি উল্লেখ করা হয় যে, ইসলামী শরীয়ত একটি প্রধান উৎস, তবে এর অর্থ দাঁড়ায়: এর পাশাপাশি অন্যান্য উৎসের অবস্থান সম্ভব, এবং ফলশ্রুতিতে সেই উৎসগুলো এর সমপর্যায়ে উন্নীত হয়।

আর যদি উল্লেখ করা হয় যে, ইসলামী শরীয়ত তৃতীয় একটি উৎস, তবে এর অর্থ হলো আল্লাহর শরীয়তের ওপর অন্য বিধানসমূহ প্রাধান্য পাচ্ছে। এই উভয় বিষয়ই 'আল্লাহর শরীয়ত সর্বোচ্চ হবে'—এই শর্তের পরিপন্থী। এর দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অগ্রবর্তী হয়ো না}, অর্থাৎ: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বাণীর ঊর্ধ্বে তোমাদের কোনো মতামত বা আইন থাকবে না।

{হে মুমিনগণ, তোমরা নবীর কণ্ঠস্বরের ওপর তোমাদের কণ্ঠস্বর উঁচু করো না}।

নবীর কণ্ঠস্বরের ওপর কণ্ঠস্বর উঁচু করা যেখানে হারাম, সেখানে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের শরীয়তের ওপর অন্য কোনো বিধান বা আইনকে উচ্চ করা বৈধ হবে—এমনটা কল্পনাও করা যায় না।

সবশেষে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "যে ব্যক্তি আল্লাহর কালিমা (বাণী) সর্বোচ্চ করার লক্ষ্যে যুদ্ধ করে, সে-ই আল্লাহর পথে রয়েছে"।

আর 'আল্লাহর কালিমা' শব্দটি তাঁর সকল বাণীর একটি সামষ্টিক নাম, এবং তাঁর এই বাণীর মাধ্যমেই তাঁর শরীয়তসমূহ অবতীর্ণ হয়েছে!

সুতরাং আল্লাহর শরীয়ত সর্বোচ্চ হওয়া ব্যতীত কোনো হত্যা ও যুদ্ধ আল্লাহর পথে হতে পারে না!

3- আল্লাহর শরীয়তকে পূর্ণাঙ্গভাবে প্রয়োগ করা, খণ্ডিতভাবে নয়:

এর বিভিন্ন ক্ষেত্রে: আকীদা, নৈতিকতা, ইবাদত ও লেনদেন।

যদি এই ক্ষেত্রগুলোর কোনো একটির ক্ষেত্রেও ইচ্ছাকৃতভাবে বিরোধিতা করা হয়, তবে আল্লাহর শরীয়ত আর শাসনকারী হিসেবে থাকে না, বরং তখন যুদ্ধ করা আবশ্যক হয়ে পড়ে যাতে দ্বীন পরিপূর্ণভাবে আল্লাহর জন্য নিবেদিত হয়: {আর তোমরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো যতক্ষণ না ফেতনা দূরীভূত হয় এবং দ্বীন আল্লাহর জন্য হয়ে যায়}।

এই শর্তের দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আর তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন যেন তারা আল্লাহ আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ করেছেন তার কিছু অংশ থেকে আপনাকে বিচ্যুত করতে না পারে}, এবং এরপর আল্লাহ বিষয়টিকে জাহিলিয়াত হিসেবে অভিহিত করেছেন।

{তবে কি তারা জাহিলিয়াতের বিধান প্রত্যাশা করে? আর নিশ্চিত বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য বিধান দানে আল্লাহর চেয়ে শ্রেষ্ঠ আর কে হতে পারে?}
(খণ্ড: ১) হাদিরুল আলামিল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ১৭)
وتسميته في تعطيل حكم واحد حرب الله ورسوله {فَإِنْ لَمْ تَفْعَلُوا فَأْذَنُوا بِحَرْبٍ مِنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ} .

وتسميته مضادة ومحادَّة لله ورسوله "من حالت شفاعته دون حدٍّ من حدود الله فقد ضادَّ الله في حكمه" 1.

فإذا لم تسد الشريعة بلدًا فهو دار حرب -في رأي الفقهاء إلّا أبا حنيفة.

أمًَّا أبوحنيفة فهو يرى أنها دار الإسلام إن توافر لها شرطان:

شرط الأمان للمسلمين.

وشرط المتاخمة لغيره من بلاد المسلمين.

والبعض يقسِّم دار الإسلام إلى:

1- دار عدل: إذا سادها حكم الشريعة، وحكمها خليفة.

ومن ثَمَّ وجبت الهجرة إليها -على رأي الغالبية.

2- دار بغي: وهي التي غلب عليها البغاة الخارجون على الخليفة الشرعي، ولا تزال كذلك حتى تستنقذ من أيديهم، ووجبت نصرة الخليفة الشرعي.

3- دار بدعة: وهي التي غلب فيها حكم البدع، واختفى فيهاحكم السنة، وواجب المسلمين محابة البدعة ليكون الحكم لله.

4- دار مسلوبة: وهي التي كانت بيد المسلمين تحكم بالإسلام، ثم غلب عليها الكفارة فسلبوها.

--------------------------------------------

1 رواه الترمذي.
একটি মাত্র বিধানকে অকার্যকর করার ক্ষেত্রে একে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে: {অতঃপর যদি তোমরা তা না করো, তবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা গ্রহণ করো}।

এবং একে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি বৈরিতা ও শত্রুতা হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে; "যার সুপারিশ আল্লাহর নির্ধারিত দণ্ডসমূহের (حدود) মধ্য হতে কোনো নির্ধারিত দণ্ড (حد) কার্যকর করার পথে অন্তরায় হয়, সে মূলত আল্লাহর বিধানের বিরোধিতা (ضاد) করল" ১।

সুতরাং যখন কোনো ভূখণ্ডে শরীয়াহর প্রাধান্য না থাকে, তখন তা যুদ্ধাবস্থার ভূখণ্ড (دار حرب) হিসেবে গণ্য— ইমাম আবু হানিফা ব্যতীত ফকিহগণের (فقهاء) অভিমত অনুযায়ী এটিই সিদ্ধান্ত।

পক্ষান্তরে ইমাম আবু হানিফার মতে, দুটি শর্ত পূরণ হলে তা ইসলামের ভূখণ্ড (دار الإسلام) হিসেবে গণ্য হবে:

মুসলমানদের জন্য নিরাপত্তার শর্ত।

এবং অন্যান্য মুসলিম ভূখণ্ডের সাথে সংলগ্ন হওয়ার শর্ত।

কেউ কেউ ইসলামের ভূখণ্ডকে (دار الإسلام) নিম্নোক্ত ভাগে বিভক্ত করেন:

১- ইনসাফের ভূখণ্ড (دار عدل): যদি সেখানে শরীয়াহর শাসন প্রতিষ্ঠিত থাকে এবং কোনো খলিফা তা শাসন করেন।

ফলে অধিকাংশের মতে সেখানে হিজরত (هجرة) করা ওয়াজিব।

২- বিদ্রোহের ভূখণ্ড (دار بغي): এটি এমন ভূখণ্ড যা বৈধ খলিফার অবাধ্য বিদ্রোহীগণ (بغاة) দখল করে নিয়েছে এবং তাদের হাত থেকে মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত এটি এভাবেই গণ্য হবে; আর এমতাবস্থায় বৈধ খলিফাকে সাহায্য করা ওয়াজিব।

৩- বিদআতের ভূখণ্ড (دار بدعة): যেখানে বিদআতের (بدعة) বিধান প্রবল থাকে এবং সুন্নাহর (سنة) বিধান বিলুপ্ত হয়ে যায়; এমতাবস্থায় আল্লাহর বিধান প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিদআতের (بدعة) বিরুদ্ধে লড়াই করা মুসলমানদের ওপর আবশ্যক।

৪- ছিনিয়ে নেওয়া ভূখণ্ড (دار مسلوبة): এটি এমন ভূখণ্ড যা আগে মুসলমানদের অধিকারে ছিল এবং সেখানে ইসলামের শাসন চলত, অতঃপর কাফেররা তার ওপর জয়লাভ করে তা ছিনিয়ে নিয়েছে।

--------------------------------------------

১ তিরমিজি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) হাদিরুল আলামিল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ১৮)
وفرض الجهاد لاسترجاعها.

ويقسِّم البعض دار الحرب إلى:

1- دار كفر: وهي التي يسود فيها حكم الكفار.

2- دار عهد: وهي التي بيننا -نحن المسلمين- وبينهم ميثاق1.

ولكل تقسيم حكمه مما يبحث عادة في مجال أحكام السلم والحرب، أو بالعبارة الحديثة في مجال القانون الدولي!

--------------------------------------------

1 راجع الأخ الأستاذ سعيد حوي: الإسلام، جـ2، والمراجع المشار إليها.
এবং তা পুনরুদ্ধারের জন্য জিহাদ (جهاد) ফরজ (فرض) করা হয়েছে।

কেউ কেউ দারুল হারবকে (دار الحرب) নিম্নোক্ত ভাগে বিভক্ত করেন:

১- দারুল কুফর (دار كفر): এটি এমন ভূখণ্ড যেখানে কাফেরদের শাসন কর্তৃত্বশীল থাকে।

২- দারুল আহদ (دار عهد): এটি এমন ভূখণ্ড যার সাথে আমাদের—আমরা মুসলিমদের—একটি অঙ্গীকার (ميثاق) রয়েছে১।

প্রতিটি বিভাগের নিজস্ব বিধান রয়েছে, যা সাধারণত শান্তি ও যুদ্ধ বিষয়ক বিধানাবলির ক্ষেত্রে অথবা আধুনিক পরিভাষায় আন্তর্জাতিক আইনের ক্ষেত্রে আলোচনা করা হয়!

--------------------------------------------

১. দেখুন শ্রদ্ধেয় উস্তাদ সাঈদ হাওয়া: আল-ইসলাম, ২য় খণ্ড এবং সেখানে উল্লিখিত উৎসসমূহ।
(খণ্ড: ১) হাদিরুল আলামিল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ১৯)
3-‌‌ العالم الإسلامي بين غيره من العوالم:

عرفنا موقع العالم الإسلامي جغرافيًّا.

وعرفنا تقسيم العالم فقهيًّا.

والآن نبحث في تقسيم العالم سياسيًّا:

يتنازع السلطة السياسية على العالم معسكران:

"أ" المعسكر الرأسمالي:

ولئن كانت الرأسمالية مذهبًا اقتصاديًّا، فهو يجد الحماية السياسية؛ بحيث صار علمًا على معسكر بعينه، تسوده الرأسمالية مذهبًا اقتصاديًّا، وتسوده الديمقراطية من الناحية السياسية، وتسوده الوجودية ومذاهب التحرر من الناحية الاجتماعية.

وإلى منتصف هذا القرن -تقريبًا- كانت المملكة المتحدة تتربَّع على عرش الزعامة لهذا المعسكر، لكنها منذ ذلك الحين، وبناءً على رغبتها، طلبت من الولايات المتحدة الأمريكية أن ترث نفوذها في الشرق الأدنى، ومن ثَمَّ قامت الولايات المتحدة بإرث ما سمحت به بريطانيا، وكذلك ما لم تسمح به، وورثت في النهاية زعامة هذا المعسكر.

وقد ناصرت الولايات المتحدة الأمريكية في الظاهر حركات التحرُّر، وأخفت بذلك تسللها إلى هذه المناطق، تفرض عليها الاستعمار الجديد الذي راحت تفرضه في مناطق كثيرة عن طريق "صناعة الزعماء"، وصناعة الانقلابات، وصناعة الشعارات.

وبذا امتد نفوذ C.I.A "المخابرات المركزية الأمريكية"، ومعها البنتاجون "مبنى وزارة الدفاع الأمريكية"، وأخيرًا البيت الأبيض الأمريكي. امتدَّ
3-‌‌ অন্যান্য জগতের মাঝে ইসলামি বিশ্ব:

আমরা ভৌগোলিকভাবে ইসলামি বিশ্বের অবস্থান সম্পর্কে জেনেছি।

এবং আমরা ফিকহগতভাবে (فقهاً) বিশ্বের বিভাজন সম্পর্কে জেনেছি।

এখন আমরা রাজনৈতিকভাবে বিশ্বের বিভাজন নিয়ে আলোচনা করব:

বিশ্বের রাজনৈতিক ক্ষমতার জন্য দুটি শিবির পরস্পর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে:

"ক" পুঁজিবাদী শিবির:

যদিও পুঁজিবাদ একটি অর্থনৈতিক মতবাদ, তবুও এটি রাজনৈতিক সুরক্ষা পায়; ফলে এটি একটি নির্দিষ্ট শিবিরের প্রতীকে পরিণত হয়েছে, যেখানে অর্থনৈতিক মতবাদ হিসেবে পুঁজিবাদ, রাজনৈতিক দিক থেকে গণতন্ত্র এবং সামাজিক দিক থেকে অস্তিত্ববাদ ও ব্যক্তিস্বাধীনতার মতবাদসমূহ প্রাধান্য পায়।

এই শতাব্দীর প্রায় মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত যুক্তরাজ্য এই শিবিরের নেতৃত্বের সিংহাসনে আসীন ছিল। কিন্তু এরপর থেকে, নিজেদের ইচ্ছানুযায়ী তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে নিকট প্রাচ্যে তাদের প্রভাবের উত্তরাধিকারী হওয়ার অনুরোধ জানায়। ফলস্বরূপ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ব্রিটেনের অনুমতি দেওয়া এবং অনুমতি না দেওয়া—উভয় ক্ষেত্রেই উত্তরাধিকার লাভ করে এবং শেষ পর্যন্ত এই শিবিরের নেতৃত্ব গ্রহণ করে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাহ্যিকভাবে স্বাধীনতা আন্দোলনগুলোকে সমর্থন করলেও এর আড়ালে অঞ্চলগুলোতে নিজেদের অনুপ্রবেশ গোপন রেখেছিল। তারা সেখানে নব্য উপনিবেশবাদ চাপিয়ে দিচ্ছিল, যা তারা অনেক অঞ্চলে "নেতা তৈরি", "অভ্যুত্থান সৃষ্টি" এবং "স্লোগান তৈরির" মাধ্যমে কার্যকর করেছিল।

এভাবেই সিআইএ "মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা", সেই সাথে পেন্টাগন "মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ভবন" এবং পরিশেষে মার্কিন হোয়াইট হাউসের প্রভাব বিস্তৃত হয়। বিস্তৃত হয়...
(খণ্ড: ১) হাদিরুল আলামিল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ২০)
إلى مساحات واسعة خارج ما يُسَمَّى بالمعسكر الرأسمالي، ومن التناقض "الظاهري" أنَّ بعض هذه المساحات ترفع شعار الاشتراكية، وأن تتبع سياسيًّا المعسكر الرأسمالي بزعامة الولايات المتحدة الأمريكية.

ب- المعسكر الاشتراكي:

ونعني بذلك المعسكر الذي يتَّحذ الاشتراكية العلمية منهجًا اقتصايًّا، وقد صار هذا الشعار الاقتصادي رمزًا لهذا المعسكر مميزًا له عن المعسكر الأول.

وهو يتخذ دكتاتورية البروليتاريا "شعارًا سياسيًّا"، كما يتخذ التحلل الأخلاقي والأسري شعارًا اجتماعيًّا.

- وهو وإن بدا متناقضًا مع المعسكر الأول، إلّا أن الحقيقة غير ذلك.

فالمسيطرون على المعسكر الأول من اليهود، هم كذلك المسيطرون على الثاني -كما سنشير بإذن لله-

هذا من ناحية الحقيقة.

وحتى من ناحية الظاهر، فإن المعسكرين يقتريان؛ فالمعسكر الرأسمالي يطَعِّم رأسماليته الآن بشيء كبير من الاشتراكية، مثل تأميم الصناعات الكبيرة، وقوانين حماية العمال، وتحديد ساعات العمل.

والمعسكر الاشتراكي يطعّم اشتراكيته بشيء كبير من الرأسمالية مثل: إدخال نظام الحوافز، والسماح بالملكيات الصغيرة، والسماح بالنظام الأسري … إلخ.

هذا من الناحية الاقتصادية.

ومن ناحية السياسية الخارجية، فمنذ أزمة كوبا سنة 1962 بدأت سياسة
তথাকথিত পুঁজিবাদী শিবিরের বাইরের বিশাল এলাকা পর্যন্ত, এবং "দৃশ্যত" বৈপরীত্য হলো যে, এই এলাকাগুলোর কিছু অংশ সমাজতন্ত্রের স্লোগান দেয়, অথচ তারা রাজনৈতিকভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পুঁজিবাদী শিবিরের অনুসারী হয়।

খ- সমাজতান্ত্রিক শিবির:

এর দ্বারা আমরা সেই শিবিরকে বোঝাই যা বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রকে একটি অর্থনৈতিক পদ্ধতি হিসেবে গ্রহণ করেছে, এবং এই অর্থনৈতিক স্লোগানটি এই শিবিরের প্রতীকে পরিণত হয়েছে যা একে প্রথম শিবির থেকে পৃথক করে।

এটি সর্বহারা শ্রেণির একনায়কতন্ত্রকে "রাজনৈতিক স্লোগান" হিসেবে গ্রহণ করে, তেমনি এটি নৈতিক ও পারিবারিক অবক্ষয়কে সামাজিক স্লোগান হিসেবে গ্রহণ করে।

- এটি যদিও প্রথম শিবিরের সাথে আপাতবিরোধী বলে মনে হয়, তবে বাস্তবতা এর ভিন্ন।

কেননা প্রথম শিবিরের নিয়ন্ত্রণকারী ইহুদিরাই একইভাবে দ্বিতীয় শিবিরেরও নিয়ন্ত্রণকারী - যেমনটি আমরা আল্লাহর ইচ্ছায় ইঙ্গিত করব -

এটি হলো বাস্তবতার দিক থেকে।

এমনকি দৃশ্যত দিক থেকেও উভয় শিবির পরস্পরের নিকটবর্তী হচ্ছে; পুঁজিবাদী শিবির এখন তার পুঁজিবাদের সাথে সমাজতন্ত্রের উল্লেখযোগ্য অংশ মিশ্রিত করছে, যেমন বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জাতীয়করণ, শ্রমিক সুরক্ষা আইন এবং কর্মঘণ্টা নির্ধারণ।

আর সমাজতান্ত্রিক শিবির তার সমাজতন্ত্রের সাথে পুঁজিবাদের অনেক উপাদান মিশ্রিত করছে যেমন: প্রণোদনা ব্যবস্থা প্রবর্তন, ক্ষুদ্র মালিকানার অনুমতি প্রদান এবং পারিবারিক ব্যবস্থার অনুমতি প্রদান … ইত্যাদি।

এটি হলো অর্থনৈতিক দিক থেকে।

আর বৈদেশিক রাজনীতির দিক থেকে, ১৯৬২ সালের কিউবা সংকটের পর থেকে নীতি শুরু হয়েছে...
(খণ্ড: ১) হাদিরুল আলামিল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ২১)
الوفاق، وهي شبيهة بما اتفقت عليه انجلترا وفرنسا سنة 1904 من اتفاق ودي، ونعتقد أنه وفقًا لسياسة الوفاق تَمَّ توزيع النفوذ بين القوتين العظميين.

كذلك تَمَّ التقارب بين الولايات المتحدة والمارد الشيوعي الجديد "الصين"، بقدر ما تَمَّ التباعد بين الأخيرة وبين الاتحاد السوفيتي.

ولا شكَّ أن الشيوعية تعيش هذه الأيام شبابها فلم يمض عليها غير خمسين عامًا، وهي مدة بسيطة في عمر الأمم، بينما تعيش الرأسمالية شيخوختها، وهو ما يمكن أن نستنتج منه أن الشيوعية هي الوريث الطبيعي للرأسمالية -ما لم ينهض أصحاب المعسكر الثالث- وهو ما بدا من اتساع رقعة الشيوعية يومًا بعد يوم، والتهامها لفيتنام ولاوس، وكمبوديا، واستمرارها في الالتهام.

ج- المعسكر الإسلامي:

ونحن نضعه معسكرًا ثالثًا إلى جوار المعسكر العظيميين.

باعتبار ما سيكون وهو قريب بإذن الله.

وباعتبار ما كان وهو قريب كذلك، لم يمض عليه إلّا قرابة نصف قرن.

لقد كان العالم الإسلامي يومًا هو المعسكر الوحيد الذي لا يناطحه معسكر آخر، ولسوف يكون كذلك بإذن الله.

وهو بمقتضى عدده، وموقعه، وطاقاته، وخبراته، يمكن، بل ينبغي أن يأخذ المقام الأول.

وما يعتريه اليوم من ضعف وتفكك هو وليد مؤامرات المعسكرين ومن وراءهما، وهو بحول الله تعالى وقوته، ثم يقظة أبنائه، ثم بمتضى سنن الله في كونه، سوف ينهض وسوف يعود.

وعلى أعداء الإسلام أن يختارو لأنفسهم ليوم قريب:

إما أن يكفوا عن حربنا في ديننا، وعن إخراجنا من ديارنا؛ ليكونوا
এন্টেন্টে (Entente) বা মৈত্রী, যা ১৯০৪ সালে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের মধ্যে সম্পাদিত বন্ধুত্বপূর্ণ চুক্তির সদৃশ। আমরা বিশ্বাস করি যে, এই মৈত্রী নীতির আলোকেই দুই মহাশক্তির মধ্যে প্রভাব-প্রতিপত্তি বণ্টিত হয়েছে।

অনুরূপভাবে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং নতুন কমিউনিস্ট দানব "চীন"-এর মধ্যে যতটা ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছে, ঠিক ততটাই চীন ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, কমিউনিজম বর্তমানে তার যৌবনকাল অতিবাহিত করছে; এর বয়স মাত্র পঞ্চাশ বছর পেরিয়েছে, যা জাতিসমূহের জীবনে একটি অতি সামান্য সময়। অন্যদিকে পুঁজিবাদ তার বার্ধক্যে উপনীত হয়েছে। এ থেকে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি যে, কমিউনিজমই পুঁজিবাদের স্বাভাবিক উত্তরাধিকারী—যদি না তৃতীয় শিবিরের অনুসারীরা জেগে ওঠে। দিন দিন কমিউনিজমের বিস্তৃতি এবং ভিয়েতনাম, লাওস ও কম্বোডিয়াকে গ্রাস করা এবং এই গ্রাস প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকা থেকে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

গ- ইসলামী শিবির:

আমরা একে দুই মহান শিবিরের পাশে তৃতীয় এক শিবির হিসেবে গণ্য করি।

ভবিষ্যতে যা হতে যাচ্ছে সেই বিবেচনায়, আর আল্লাহর ইচ্ছায় তা অতি সন্নিকটে।

এবং অতীতে যা ছিল সেই বিবেচনায়, যা একইভাবে নিকটবর্তী; এর ওপর দিয়ে মাত্র প্রায় অর্ধশতাব্দীকাল অতিবাহিত হয়েছে।

একদা মুসলিম বিশ্বই ছিল একমাত্র শক্তিশালী শিবির যার মোকাবিলা করার মতো অন্য কোনো শক্তি ছিল না, আর আল্লাহর ইচ্ছায় অচিরেই তা আবারও সেরকমই হবে।

জনসংখ্যা, ভৌগোলিক অবস্থান, সম্ভাবনা ও অভিজ্ঞতার নিরিখে এই শিবির প্রথম স্থান অধিকার করতে পারে, বরং এটিই তার জন্য বাঞ্ছনীয়।

বর্তমানে এই উম্মাহর ওপর যে দুর্বলতা ও বিচ্ছিন্নতা পরিলক্ষিত হচ্ছে, তা মূলত দুই শিবিরের এবং তাদের নেপথ্য শক্তিদের ষড়যন্ত্রের ফসল। আল্লাহর শক্তি ও সামর্থ্যে, অতঃপর মুসলিম সন্তানদের জাগরণে এবং মহাবিশ্বে আল্লাহর অমোঘ বিধানের পরিক্রমায় এটি আবারও জেগে উঠবে এবং নিজের হারানো গৌরব ফিরে পাবে।

আর ইসলামের শত্রুদের অদূর ভবিষ্যতের জন্য নিজেদের পথ বেছে নিতে হবে:

হয় তারা আমাদের দ্বীনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা এবং আমাদের ঘরবাড়ি থেকে বিতাড়িত করা থেকে বিরত থাকবে; যাতে তারা...
(খণ্ড: ১) হাদিরুল আলামিল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ২২)
في مقام الأصدقاء، وإلا فليختاروا لأنفسهم موقع الأعداء، ويومئذ سوف ننفذ فيهم قول الله تعالى:

{وَلَكُمْ فِي الْقِصَاصِ حَيَاةٌ يَا أُولِي الْأَلْبَابِ} .

ويشير البعض بعد ذلك إلى معسكر أو مجتمع وثني1.

لكننا لا نجد له وجودًا سياسيًّا، وما دام التقسيم أساسه سياسيًّا فلا ينبغي أن يكون المجتمع الوثني معسكرًا مستقلًّا، والله أعلم.

--------------------------------------------

1 الأستاذ محي الدين القغماني في مذكرة "حاضر العالم الإسلامي" وضع تحته الديانات الهندوسية والبوذية والسيخ والكنفوشية والطوطمية.
বন্ধুদের অবস্থানে, অন্যথায় তারা যেন নিজেদের জন্য শত্রুদের অবস্থান বেছে নেয়; আর সেদিন আমরা তাদের ওপর মহান আল্লাহর এই বাণী কার্যকর করব:

{হে প্রজ্ঞাবানগণ, কিসাসের মধ্যেই তোমাদের জন্য জীবন রয়েছে।}

এরপর কেউ কেউ একটি পৌত্তলিক (وثني) শিবির বা সমাজের১ দিকে ইঙ্গিত করেন।

কিন্তু আমরা এর কোনো রাজনৈতিক অস্তিত্ব খুঁজে পাই না; আর যতক্ষণ পর্যন্ত বিভাজনের ভিত্তি রাজনৈতিক হবে, ততক্ষণ পৌত্তলিক (وثني) সমাজ একটি স্বতন্ত্র (مستقل) শিবির হওয়া সমীচীন নয়। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

--------------------------------------------

১ অধ্যাপক মুহিউদ্দিন আল-কাগমানি "হাজিরুল আলমিল ইসলামি" শীর্ষক স্মারকলিপিতে এর অধীনে হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ, কনফুসীয় এবং টোটেম ধর্মগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১) হাদিরুল আলামিল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌الباب الأول: واقع العالم الإسلامي

‌‌الفصل الأول: الواقع الفكري للعالم اللإسلامي

‌‌مدخل

…

الباب الأول: واقع العالم الإسلامي

الفصل الأول: الواقع الفكري للعالم الإسلامي

تقدمة:

قد يتداخل الحديثي عن الواقع الفكري مع الحديث عن الواقع الاجتماعي والسياسي والاقتصادي، باعتبار تفاعل هذه العناصر وتأثيرها المتبادل، لكننا نحاول بقدر الإمكان أن نستخلص هذا العنصر من بين تلك العناصر، محيلين إليها عند لزوم التفصيل إن شاء الله.

بيد أننا نقدِّم هذا العنصر على غيره من العناصر باعتبار أن أهمية الفكر من الأمة كأهمية الرأس من الجسد.

ولئن كانت العقيدة مكان القلب من الجسد، فإن السبيل الرئيسي إليها هو الفكر، ولذا كان عنصرا الإيمان: العلم والعمل، علم القلب وعمله، والعلم سبيله الفكر.

ولسوف تؤخر الحديث عن العقيدة إلى الحديث عن الواقع الاجتماعي باعتبار التناسق وليس الأهمية.

والنظرة المتعمقة إلى الواقع الفكري للأمة الإسلامية تؤدي إلى القول بأنَّ الأمة التي كان فكرها مستمدًّا ومصطبغًا بعقيدة التوحيد وشريعة القرآن، لم يعد فكرها كذلك.

والنظرة المتعمقة كذلك تؤدي إلى القول بأن الأفعى اليهودية التي أحنت أو أخفت رأسها حينًا، قد عادت فأطلَّت برأسها شيئًا فشيئًا، ثم راحت تنفث سمومها، سموم الفساد، وتشعل أو تؤجج نيران الفتن، ولا تزال تفعل حتى اليوم.
‌প্রথম ভাগ: মুসলিম বিশ্বের বাস্তবতা

‌‌প্রথম পরিচ্ছেদ: মুসলিম বিশ্বের বুদ্ধিবৃত্তিক বাস্তবতা

‌‌ভূমিকা

…

প্রথম ভাগ: মুসলিম বিশ্বের বাস্তবতা

প্রথম পরিচ্ছেদ: মুসলিম বিশ্বের বুদ্ধিবৃত্তিক বাস্তবতা

উপস্থাপনা:

বুদ্ধিবৃত্তিক বাস্তবতা নিয়ে আলোচনা সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার আলোচনার সাথে মিশে যেতে পারে, এই উপাদানগুলোর পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া ও পারস্পরিক প্রভাবের কারণে। তবে আমরা যথাসম্ভব অন্যান্য উপাদানগুলো থেকে এই উপাদানটিকে পৃথক করার চেষ্টা করব এবং বিস্তারিত বিবরণের প্রয়োজন হলে ইনশাআল্লাহ সেগুলোর দিকে ইঙ্গিত করব।

তবে আমরা এই উপাদানটিকে অন্যান্য উপাদানের তুলনায় অগ্রাধিকার দিচ্ছি, কারণ উম্মাহর নিকট চিন্তার গুরুত্ব দেহের নিকট মাথার গুরুত্বের ন্যায়।

যদিও আকিদাহ (العقيدة) দেহের হৃদপিণ্ডতুল্য, তবুও সেখানে পৌঁছানোর প্রধান পথ হলো চিন্তা। আর এ কারণেই ঈমানের দুটি উপাদান হলো: জ্ঞান ও কর্ম; হৃদয়ের জ্ঞান ও হৃদয়ের কর্ম, আর জ্ঞানের পথ হলো চিন্তা।

সমন্বয়ের খাতিরে আকিদাহ (العقيدة) সংক্রান্ত আলোচনাকে সামাজিক বাস্তবতার আলোচনার সময় পর্যন্ত স্থগিত রাখা হবে, গুরুত্বের বিচারে নয়।

মুসলিম উম্মাহর বুদ্ধিবৃত্তিক বাস্তবতার প্রতি গভীর দৃষ্টিপাত করলে এ কথাই বলতে হয় যে, যে উম্মাহর চিন্তা তাওহীদের আকিদাহ (العقيدة) ও কুরআনের শরিয়াহ (الشريعة) থেকে উৎসারিত ও রঞ্জিত ছিল, তাদের চিন্তা এখন আর তেমনটি নেই।

অনুরূপভাবে গভীর দৃষ্টিপাত করলে এ কথাই বলতে হয় যে, ইহুদি রূপী সর্পটি যা একদা নিজের মাথা নিচু করেছিল বা লুকিয়ে রেখেছিল, তা পুনরায় ধীরে ধীরে মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে। এরপর সে তার বিষ—পাপাচারের বিষ ছড়াতে শুরু করেছে এবং ফিতনার (الفتن) আগুন জ্বালাচ্ছে বা উসকে দিচ্ছে, আর আজ অবধি তা করে যাচ্ছে।
(খণ্ড: ১) হাদিরুল আলামিল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ২৬)
وشرب الغرب المسيحي سموم الأفعى اليهودية، وتلوَّى كما تلوَّت، وتلوَّن كما تلونث، وتظهر كذلك في شكل نظريات وفلسفات.

وشرب الشرق الشيوعي من السموم أكثر، ونفث بالتالي من الحقد ما هو أشد.

وكان كل ذلك على حساب الإسلام، بعد أن ضاعت أو ضيعت المسيحية في غمضة عين.

ووقف الإسلام، عقيدةً وفكرًا شامخًا؛ لأنه من عند الله الذي قطع العهد على نفسه أن يحفظه، لكن أهل الإسلام اصابهم -فكرًا- ما أصابهم، فإن يعودوا بعد إليهم ما ضاع، وأن يتولوا يستبدل الله بهم قومًا غيرهم ثم لا يكونوا أمثالهم.

ونتحدث بإذن الله على التوالي حول:

1- الأفعى اليهودية تنفث سمومها.

2- الفكر الغربي الصليبي في الشرق الإسلامي.

3- الفكر الماركسي اليهودي في الشرق الإسلامي.

والله المستعان، وعليه التكلان، ولا حول ولا قوة إلّا بالله العلي العظيم.
খ্রিস্টান পশ্চিমা বিশ্ব ইহুদি সাপের বিষ পান করেছে এবং সেটির মতোই কুটিল গতি অবলম্বন করেছে ও রঙ পরিবর্তন করেছে; আর এটি একইভাবে বিভিন্ন মতবাদ ও দর্শনের রূপেও আত্মপ্রকাশ করে।

সাম্যবাদী প্রাচ্য সেই বিষ আরও বেশি পান করেছে এবং ফলস্বরূপ আরও তীব্র বিদ্বেষ উগরে দিয়েছে।

আর এই সবকিছুই ইসলামের বিনিময়ে (ক্ষতি সাধন করে) ঘটেছে, যখন চোখের পলকে খ্রিস্টধর্ম বিলুপ্ত হয়েছে বা বিলুপ্ত করা হয়েছে।

তবে ইসলাম তার আকিদা ও চিন্তাধারায় সুউচ্চ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে; কারণ এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ, যিনি এটি সংরক্ষণের অঙ্গীকার করেছেন। কিন্তু মুসলিমরা চিন্তাগতভাবে বিপর্যয়ের শিকার হয়েছে; যদি তারা পুনরায় সত্যের দিকে ফিরে আসে তবে যা হারিয়েছে তা ফিরে পাবে, আর যদি তারা বিমুখ হয় তবে আল্লাহ তাদের পরিবর্তে অন্য কোনো জাতিকে নিয়ে আসবেন, যারা তাদের মতো হবে না।

আমরা আল্লাহর ইচ্ছায় ধারাবাহিকভাবে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করব:

১- ইহুদি সাপ তার বিষ উগরে দিচ্ছে।

২- মুসলিম প্রাচ্যে পশ্চিমা ক্রুসেডার চিন্তাধারা।

৩- মুসলিম প্রাচ্যে ইহুদি মার্ক্সবাদী চিন্তাধারা।

আল্লাহই একমাত্র সাহায্যকারী, তাঁরই ওপর আমাদের নির্ভরতা এবং মহান ও সুউচ্চ আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো শক্তি বা সামর্থ্য নেই।
(খণ্ড: ১) হাদিরুল আলামিল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌الأفعى اليهودية تنفث سمومها:

لا نريد أن نقع فريسة التهويل، كما لا نودّ أن نقع فريسة التهوين؛ فكلاهما إفراط وتفريط، بل نكون بين ذلك قوامًا، هو الوسط الأمثل الذي اخترناه منهاجًا لكتاباتنا، كما هو بإذن الله منهاج حياتنا.

وانطلاقًا من ذلك نقول بعون الله:

ليس صحيحًا أنه منذ مؤتمر "بال" 1897 بدأت الأفعى اليهودية تنفث سمومها.

وليس صحيحًا كذلك أن الأمر بدأ قبل ذلك بقرنين، حين دعا الحاخام ليفا "1520-1609م" إلى اتخاذ فلسطين وطنًا قوميًّا لليهود.

لكن الأمر أبعد من ذلك بكثير،

إنه منذ بزوغ فجر الإسلام منذ أربعة عشر قرنًا حين كانوا يستفتحون على الذين كفروا، فلما جاءؤهم ما عرفوا كفروا به.

وإنه من قبل الإسلام منذ بزوغ فجر المسيحية حين ناصبوا المسيح عبد الله ورسوله العداء.

فمنذ ألفي عام "عشرين قرنًا" سجَّل التاريخ قيام الجمعية الخفية التي ناصبت المسيح العداء، واستمرَّت حتى جاء الإسلام فناصبته العداء، حتى تسمَّت في القرن السابع عشر "1717" باسم "الماسونية"، ومارست دورها حقدًا على الأديان، وتحطيمًا لكل البشر من الجوييم "غير اليهود".

ثم سلخت جلدها وتلوَّنت بأسماء جديدة لما تكشف أمرها:

بناي برث/ شود يهوه/ المشرق التوراني/ الليونز/ الروتاري/ الكك
‌‌ইহুদি সর্প তার বিষ উগরে দিচ্ছে:

আমরা অতিরঞ্জনের শিকার হতে চাই না, আবার বিষয়টিকে তুচ্ছজ্ঞান করার শিকারেও পরিণত হতে চাই না; কেননা উভয়ই হলো বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ি। বরং আমরা এই দুইয়ের মাঝে একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানে থাকব, যা আমরা আমাদের লেখনীর পদ্ধতি হিসেবে বেছে নিয়েছি, যেমনটি আল্লাহর ইচ্ছায় আমাদের জীবনেরও পাথেয়।

সেই প্রেক্ষাপট থেকেই আল্লাহর সাহায্যে আমরা বলছি:

এটি সঠিক (صحيح) নয় যে, ১৮৯৭ সালের "বাসেল" সম্মেলনের সময় থেকেই ইহুদি সর্প তার বিষ উগরে দেওয়া শুরু করেছে।

তেমনিভাবে এটিও সঠিক (صحيح) নয় যে, বিষয়টি এর দুই শতাব্দী আগে শুরু হয়েছিল যখন রাব্বি লিভা (১৫২০-১৬০৯ খ্রি.) ফিলিস্তিনকে ইহুদিদের জন্য একটি জাতীয় আবাসভূমি হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

বরং বিষয়টি এর চেয়েও অনেক বেশি প্রাচীন ও সুদূরপ্রসারী,

এটি চৌদ্দ শতাব্দী আগে ইসলামের সূচনালগ্ন থেকেই বিদ্যমান, যখন তারা কাফিরদের বিরুদ্ধে বিজয় প্রার্থনা করত; কিন্তু যখন তাদের কাছে সেই সত্য আসলো যা তারা চিনত, তখন তারা তা অস্বীকার করল।

এমনকি ইসলামের আগে খ্রিস্টধর্মের সূচনালগ্ন থেকেই, যখন তারা আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল মসীহের চরম বিরোধিতা ও শত্রুতা শুরু করেছিল।

অতঃপর দুই হাজার বছর ("বিশ শতাব্দী") পূর্বে ইতিহাস সেই গোপন সংগঠনের উত্থান লিপিবদ্ধ করে রেখেছে যা মসীহের প্রতি শত্রুতা পোষণ করেছিল এবং ইসলামের আগমন পর্যন্ত সেই শত্রুতা অব্যাহত রেখেছিল। এমনকি সপ্তদশ শতাব্দীতে (১৭১৭ সালে) তারা "ফ্রিম্যাসনারি" নামে পরিচিত হয় এবং বিভিন্ন ধর্মের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ ও 'গোয়িম' (অ-ইহুদি) অর্থাৎ সমগ্র মানবজাতিকে ধ্বংস করার ক্ষেত্রে নিজেদের ভূমিকা পালন করতে থাকে।

অতঃপর যখন তাদের আসল রূপ উন্মোচিত হয়ে গেল, তখন তারা নিজেদের খোলস পাল্টে ফেলে এবং নতুন নতুন নামে আত্মপ্রকাশ করল:

বনাই বার্থ / শোদ ইয়াহভাহ / আল-মাশরিক আত-তাওরানি / লায়ন্স / রোটারি / আল-কাক
(খণ্ড: ১) হাদিরুল আলামিল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ২৮)
ونتحدث في اختصار عن مراحل الأفعى اليهودية بالنسبة للإسلام، لكنَّا قبل ذلك نحاول الكشف عن كنهها أو صفاتها.

أولًا: صفات الأفعى اليهودية:

1- ونحن نتلمّسها من أصدق كتاب، من القرآن الكريم، الذي لا يأتيه الباطل من بين يديه ولا من خلفه.

1- وقاحة:

{وَقَالَتِ الْيَهُودُ يَدُ اللَّهِ مَغْلُولَةٌ غُلَّتْ أَيْدِيهِمْ وَلُعِنُوا بِمَا قَالُوا} 1

{وَقَالَتِ الْيَهُودُ عُزَيْرٌ ابْنُ اللَّهِ … } 2

{قَالُوا أُوذِينَا مِنْ قَبْلِ أَنْ تَأْتِيَنَا وَمِنْ بَعْدِ مَا جِئْتَنَا} 3

{فَاذْهَبْ أَنْتَ وَرَبُّكَ فَقَاتِلا إِنَّا هَاهُنَا قَاعِدُونَ} 4

2- فتن وفساد:

{كُلَّمَا أَوْقَدُوا نَاراً لِلْحَرْبِ أَطْفَأَهَا اللَّهُ وَيَسْعَوْنَ فِي الْأَرْضِ فَسَاداً وَاللَّهُ لا يُحِبُّ الْمُفْسِدِينَ} 5

3- قتل وغدر وتحريف:

- {فَبِمَا نَقْضِهِمْ مِيثَاقَهُمْ وَكُفْرِهِمْ بِآيَاتِ اللَّهِ وَقَتْلِهِمُ الْأَنْبِيَاءَ بِغَيْرِ حَقٍّ وَقَوْلِهِمْ قُلُوبُنَا غُلْفٌ بَلْ طَبَعَ اللَّهُ عَلَيْهَا بِكُفْرِهِمْ فَلا يُؤْمِنُونَ إِلَّا قَلِيلاً} 6

--------------------------------------------

1 المائدة: 64.

2 التوبة: 30.

3 الأعراف: 129.

4 المائدة: 24.

5 المائدة: 64.

6 النساء: 155.
আমরা ইসলামের প্রেক্ষিতে ইহুদি বিষধর সর্পের পর্যায়সমূহ সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করব, তবে তার আগে আমরা এর সারসত্তা বা বৈশিষ্ট্যসমূহ উন্মোচনের চেষ্টা করব।

প্রথমত: ইহুদি বিষধর সর্পের বৈশিষ্ট্যসমূহ:

১- আমরা এই বৈশিষ্ট্যগুলো অন্বেষণ করব সর্বাপেক্ষা সত্য কিতাব আল-কুরআনুল কারীম থেকে, যার সামনে বা পেছন থেকে কোনো মিথ্যা বা বাতিল আসার সুযোগ নেই।

১- ধৃষ্টতা (وقاحة):

{আর ইহুদিরা বলে, আল্লাহর হাত রুদ্ধ হয়ে গেছে; তাদের হাতই রুদ্ধ হোক এবং তারা যা বলেছে সেজন্য তারা অভিশপ্ত হয়েছে} ১

{আর ইহুদিরা বলে, উযাইর আল্লাহর পুত্র...} ২

{তারা বলল, আপনি আমাদের কাছে আসার পূর্বেও আমরা নির্যাতিত হয়েছি এবং আপনি আমাদের নিকট আসার পরেও} ৩

{অতএব আপনি ও আপনার রব যান এবং লড়াই করুন, আমরা এখানেই বসে রইলাম} ৪

২- ফিতনা (فتنة) ও বিপর্যয় (فساد):

{তারা যখনই যুদ্ধের আগুন প্রজ্জ্বলিত করে, আল্লাহ তা নির্বাপিত করে দেন। আর তারা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করে বেড়ায় এবং আল্লাহ বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের (المفسدين) ভালোবাসেন না} ৫

৩- হত্যা, বিশ্বাসঘাতকতা ও বিকৃতি (تحريف):

- {সুতরাং তাদের অঙ্গীকার ভঙ্গ করা, আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করা, অন্যায়ভাবে নবিদের হত্যা করা এবং তাদের এই উক্তির কারণে যে, ‘আমাদের অন্তরসমূহ আবৃত’; বরং তাদের কুফরির (كفر) কারণে আল্লাহ তাতে মোহর মেরে দিয়েছেন, ফলে তাদের অল্পসংখ্যকই ঈমান আনে} ৬

--------------------------------------------

১ আল-মায়িদাহ: ৬৪।

২ আত-তাওবাহ: ৩০।

৩ আল-আ’রাফ: ১২৯।

৪ আল-মায়িদাহ: ২৪।

৫ আল-মায়িদাহ: ৬৪।

৬ আন-নিসা: ১৫৫।
(খণ্ড: ১) হাদিরুল আলামিল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ২৯)
{إِنَّ الَّذِينَ يَكْفُرُونَ بآيَاتِ اللَّهِ وَيَقْتُلُونَ النَّبِيِّينَ بِغَيْرِ حَقٍّ وَيَقْتُلُونَ الَّذِينَ يَأْمُرُونَ بِالْقِسْطِ مِنَ النَّاسِ فَبَشِّرْهُمْ بِعَذَابٍ أَلِيمٍ} 1

- {فَبِمَا نَقْضِهِمْ مِيثَاقَهُمْ لَعَنَّاهُمْ وَجَعَلْنَا قُلُوبَهُمْ قَاسِيَةً يُحَرِّفُونَ الْكَلِمَ عَنْ مَوَاضِعِهِ وَنَسُوا حَظّاً مِمَّا ذُكِّرُوا بِهِ وَلا تَزَالُ تَطَّلِعُ عَلَى خَائِنَةٍ مِنْهُمْ إِلَّا قَلِيلاً مِنْهُمْ} 2، {الَّذِينَ عَاهَدْتَ مِنْهُمْ ثُمَّ يَنْقُضُونَ عَهْدَهُمْ فِي كُلِّ مَرَّةٍ وَهُمْ لا يَتَّقُونَ} 3.

{أَوَكُلَّمَا عَاهَدُوا عَهْداً نَبَذَهُ فَرِيقٌ مِنْهُمْ بَلْ أَكْثَرُهُمْ لا يُؤْمِنُونَ} 4.

4- جبن وقسوة وغرور:

- {قَالُوا يَا مُوسَى إِنَّ فِيهَا قَوْماً جَبَّارِينَ وَإِنَّا لَنْ نَدْخُلَهَا حَتَّى يَخْرُجُوا مِنْهَا … } 5.

{لَأَنْتُمْ أَشَدُّ رَهْبَةً فِي صُدُورِهِمْ مِنَ اللَّهِ … } 6.

{لا يُقَاتِلُونَكُمْ جَمِيعاً إِلَّا فِي قُرىً مُحَصَّنَةٍ أَوْ مِنْ وَرَاءِ جُدُرٍ … } 7.

{ثُمَّ قَسَتْ قُلُوبُكُمْ مِنْ بَعْدِ ذَلِكَ فَهِيَ كَالْحِجَارَةِ أَوْ أَشَدُّ قَسْوَةً} 8.

{وَقَالُوا لَنْ تَمَسَّنَا النَّارُ إِلَّا أَيَّاماً مَعْدُودَةً} 9.

{أَفَكُلَّمَا جَاءَكُمْ رَسُولٌ بِمَا لا تَهْوَى أَنْفُسُكُمُ اسْتَكْبَرْتُمْ فَفَرِيقاً كَذَّبْتُمْ وَفَرِيقاً تَقْتُلُونَ} 10.

--------------------------------------------

1 آل عمران: 21.

2 المائدة: 13.

3 الأنفال: 56.

4 البقرة: 100.

5 المائدة: 24.

6، 7 الحشر 13، 14.

8 البقرة: 74.

9 البقرة: 80.

10 البقرة: 87.
{নিশ্চয় যারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করে এবং অন্যায়ভাবে নবীগণকে হত্যা করে এবং মানুষের মধ্যে যারা ন্যায়বিচারের নির্দেশ দেয় তাদেরকে হত্যা করে, আপনি তাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সুসংবাদ দিন।} ১

- {অতঃপর তাদের অঙ্গীকার ভঙ্গের কারণে আমি তাদেরকে অভিসম্পাত করেছি এবং তাদের অন্তরকে কঠোর করে দিয়েছি। তারা শব্দগুলোকে তাদের স্বস্থান থেকে পরিবর্তন করে এবং তাদেরকে যে উপদেশ দেওয়া হয়েছিল তার একটি অংশ তারা ভুলে গিয়েছে। আর আপনি সর্বদাই তাদের অল্প সংখ্যক ব্যতীত অন্যদের বিশ্বাসঘাতকতা সম্পর্কে অবগত হতে থাকেন।} ২, {যাদের সাথে আপনি চুক্তি করেছেন, অতঃপর তারা প্রতিবারই তাদের চুক্তি ভঙ্গ করে এবং তারা আল্লাহকে ভয় করে না।} ৩।

{তবে কি যখনই তারা কোনো অঙ্গীকারে আবদ্ধ হয়েছে, তখনই তাদের কোনো এক দল তা নিক্ষেপ (ভঙ্গ) করেছে? বরং তাদের অধিকাংশই বিশ্বাস করে না।} ৪।

৪- ভীরুতা, কঠোরতা এবং অহংকার:

- {তারা বলল, হে মূসা! নিশ্চয় সেখানে এক শক্তিশালী ও প্রতাপশালী জাতি রয়েছে এবং তারা সেখান থেকে বের না হওয়া পর্যন্ত আমরা কখনোই সেখানে প্রবেশ করব না...} ৫।

{নিশ্চয় তাদের অন্তরে আল্লাহর চেয়ে তোমাদের ভয়ই অধিক...} ৬।

{তারা সংঘবদ্ধভাবে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে না, কেবল সুরক্ষিত জনপদ অথবা প্রাচীরের আড়াল থেকে ব্যতীত...} ৭।

{অতঃপর এর পরেও তোমাদের অন্তর কঠোর হয়ে গেল, ফলে তা পাথরের মতো কিংবা তার চেয়েও বেশি কঠোর।} ৮।

{এবং তারা বলে, গুটিকয়েক দিন ছাড়া আগুন কখনোই আমাদের স্পর্শ করবে না।} ৯।

{তবে কি যখনই তোমাদের কাছে কোনো রাসূল এমন কিছু নিয়ে এসেছে যা তোমাদের মনঃপূত নয়, তখনই তোমরা অহংকার করেছ? অতঃপর একদলকে তোমরা মিথ্যাবাদী বলেছ এবং একদলকে হত্যা করেছ।} ১০।

--------------------------------------------

১ আলে ইমরান: ২১।

২ আল-মায়িদাহ: ১৩।

৩ আল-আনফাল: ৫৬।

৪ আল-বাকারাহ: ১০০।

৫ আল-মায়িদাহ: ২৪।

৬, ৭ আল-হাশর ১৩, ১৪।

৮ আল-বাকারাহ: ৭৪।

৯ আল-বাকারাহ: ৮০।

১০ আল-বাকারাহ: ৮৭।
(খণ্ড: ১) হাদিরুল আলামিল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ৩০)
{وَقَالُوا لَنْ يَدْخُلَ الْجَنَّةَ إِلَّا مَنْ كَانَ هُوداً أَوْ نَصَارَى تِلْكَ أَمَانِيُّهُمْ قُلْ هَاتُوا بُرْهَانَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ} 1.

5- جحدوا فكتبت عليهم الذلة:

- {سَلْ بَنِي إِسْرائيلَ كَمْ آتَيْنَاهُمْ مِنْ آيَةٍ بَيِّنَةٍ وَمَنْ يُبَدِّلْ نِعْمَةَ اللَّهِ مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَتْهُ فَإِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ} 2.

{وَإِذْ وَاعَدْنَا مُوسَى أَرْبَعِينَ لَيْلَةً ثُمَّ اتَّخَذْتُمُ الْعِجْلَ مِنْ بَعْدِهِ وَأَنْتُمْ ظَالِمُونَ} 3.

- {ضُرِبَتْ عَلَيْهِمُ الذِّلَّةُ أَيْنَ مَا ثُقِفُوا إِلَّا بِحَبْلٍ مِنَ اللَّهِ وَحَبْلٍ مِنَ النَّاسِ وَبَاءُوا بِغَضَبٍ مِنَ اللَّهِ وَضُرِبَتْ عَلَيْهِمُ الْمَسْكَنَةُ} 4.

ثانيًا: مراحل الأفعى اليهودية:

ونحن نبدأ مع الإسلام فهو ما يعينينا في هذا المقام، وإن كان لنا أن نسجِّل أن الأفعى فعلت مع المسيح عليه السلام ودعوته الكثير.

وعندما جاء محمد عليه الصلاة والسلام برسالته، وكانوا من قَبْلُ يظنون أنَّ النبي المرسَل من بعد عيسى سيكون منهم، وكانوا يستفتحون على خصومهم بذلك، فلمَّا جاء من نسل إسماعيل لا إسحق أنكروه وكفروا به، وحاولوا في البداية التخلُّص منه بأكثر من طريق، وفي مقدمتها الاغتيال.

فحاولوا قتله بالسم مرة، لكن الله سبحانه أوحى إليه فتوقَّى الأكل من الشاة المسمومة، وحاولوا قتله بإلقاء الحجر عليه وهو جالس مرتكن إلى الحائط، لكن الله سبحانه كذلك أوحى إليه فتوقَّى القتل مرة أخرى.

ثم حاولوا تجميع الأعداء عليه وتأليبهم، حتى كانت غزوة الأحزاب التي زلزل المؤمنون فيها زلزالًا شديدًا، {إِذْ جَاءُوكُمْ مِنْ فَوْقِكُمْ وَمِنْ أَسْفَلَ مِنْكُمْ وَإِذْ زَاغَتِ الْأَبْصَارُ وَبَلَغَتِ الْقُلُوبُ الْحَنَاجِرَ وَتَظُنُّونَ بِاللَّهِ الظُّنُونَا

--------------------------------------------

1 البقرة 11.

2 البقرة 211.

3 البقرة 51.

4 آل عمران 112.
{এবং তারা বলে, ‘ইয়াহুদি অথবা খ্রিষ্টান ছাড়া আর কেউ জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ এটা তাদের অলীক আকাঙ্ক্ষা। আপনি বলুন, ‘তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে তোমাদের প্রমাণ পেশ করো’} ১.

৫- তারা সত্য অস্বীকার করেছিল, ফলে তাদের ওপর লাঞ্ছনা লিখে দেয়া হয়েছে:

- {বনী ইসরাঈলকে জিজ্ঞেস করুন, আমি তাদের কত সুস্পষ্ট নিদর্শন দান করেছি। আর আল্লাহর নিয়ামত আসার পর কেউ তা পরিবর্তন করলে আল্লাহ তো শাস্তি দানে অত্যন্ত কঠোর} ২.

{এবং স্মরণ করো, যখন আমি মূসার জন্য চল্লিশ রাত নির্ধারিত করেছিলাম, অতঃপর তোমরা তার অনুপস্থিতিতে গো-বৎসকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করেছিলে এবং তোমরা ছিলে জালিম} ৩.

- {তারা যেখানেই থাকুক না কেন, তাদের ওপর লাঞ্ছনা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে; আল্লাহর পক্ষ হতে কোনো প্রতিশ্রুতি এবং মানুষের পক্ষ হতে কোনো প্রতিশ্রুতি ছাড়া। তারা আল্লাহর ক্রোধের পাত্র হয়েছে এবং তাদের ওপর দারিদ্র্য চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে} ৪.

দ্বিতীয়ত: ইয়াহুদি বিষধর সর্পের বিভিন্ন পর্যায়:

আমরা ইসলাম থেকে আলোচনা শুরু করছি, কারণ এই প্রেক্ষাপটে এটিই আমাদের মূল বিবেচ্য বিষয়। যদিও আমাদের এটি উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, এই বিষধর সর্পটি ঈসা (আলাইহিস সালাম) এবং তাঁর দাওয়াতের সাথেও অনেক ষড়যন্ত্র করেছিল।

আর যখন মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর রিসালাত নিয়ে আগমন করলেন, তখন তারা ইতিপূর্বে ধারণা করত যে ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর পর প্রেরিত নবী তাদের মধ্য থেকেই হবেন এবং তারা এর মাধ্যমে তাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে বিজয় প্রার্থনা করত। কিন্তু যখন তিনি ইসহাক (আলাইহিস সালাম)-এর বংশধারার পরিবর্তে ইসমাঈল (আলাইহিস সালাম)-এর বংশধারা থেকে আসলেন, তখন তারা তাঁকে অস্বীকার করল এবং তাঁর প্রতি কুফরি করল। শুরুতে তারা বিভিন্ন উপায়ে তাঁর থেকে মুক্তি পাওয়ার চেষ্টা করেছিল, যার শীর্ষে ছিল গুপ্তহত্যা।

তারা একবার তাঁকে বিষ প্রয়োগে হত্যার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর প্রতি ওহি নাজিল করেন, ফলে তিনি বিষযুক্ত বকরির গোশত খাওয়া থেকে বিরত থেকে রক্ষা পান। তারা তাঁকে হত্যার আরও চেষ্টা করেছিল যখন তিনি দেয়ালের পাশে হেলান দিয়ে বসেছিলেন তখন তাঁর ওপর পাথর নিক্ষেপ করার মাধ্যমে, কিন্তু আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা একইভাবে তাঁর প্রতি ওহি নাজিল করেন এবং তিনি পুনরায় সেই হত্যা প্রচেষ্টা থেকে রক্ষা পান।

অতঃপর তারা তাঁর বিরুদ্ধে শত্রুদের একত্রিত করতে এবং উস্কানি দিতে সচেষ্ট হয়, এমনকি খন্দকের যুদ্ধ (আহযাব) সংঘটিত হয় যাতে মুমিনগণ প্রচণ্ডভাবে প্রকম্পিত হয়েছিলেন, {যখন তারা তোমাদের ওপরের দিক থেকে এবং নিচের দিক থেকে এসেছিল, যখন চোখগুলো স্থির হয়ে গিয়েছিল, প্রাণ কণ্ঠাগত হয়েছিল এবং তোমরা আল্লাহ সম্বন্ধে নানা ধারণা পোষণ করছিলে।}

--------------------------------------------

১ আল-বাকারা ১১।

২ আল-বাকারা ২১১।

৩ আল-বাকারা ৫১।

৪ আলে ইমরান ১১২।
(খণ্ড: ১) হাদিরুল আলামিল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ৩১)
هُنَالِكَ ابْتُلِيَ الْمُؤْمِنُونَ وَزُلْزِلُوا زِلْزَالًا شَدِيداً} 1.

ومن ثَمَّ كان إجلاؤهم:

1- بنو قينقاع.. لما غدروا، وكشفوا سوأة المرأة المسلمة، وقتلوا مَنْ دافع عنها.

2- وبنو النضير.. لما غدروا كذلك، وحاولوا إلقاء الحجر على الرسول وهو مسند ظهره إلى حائطهم.

3- وبنو قريظة.. أخيرًا لما تحالفوا مع الأحزاب، فعاد إليهم رسول الله صلى الله عليهوسلم بعد أن أجلى الله الكفَّار من حول الخندق، عاد إليهم وهو يقول للمسلمين: $"من كان يؤمن بالله واليوم الآخر فلا يصلينَّ العصر إلّا في بني قريظة" وقتل الرجال، وسبى النساء والذرية2.

وأنزل الله فيهم قوله:

{وَأَنْزَلَ الَّذِينَ ظَاهَرُوهُمْ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ مِنْ صَيَاصِيهِمْ وَقَذَفَ فِي قُلُوبِهِمُ الرُّعْبَ فَرِيقاً تَقْتُلُونَ وَتَأْسِرُونَ فَرِيقاً، وَأَوْرَثَكُمْ أَرْضَهُمْ وَدِيَارَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ وَأَرْضاً لَمْ تَطَأُوهَا وَكَانَ اللَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيراً} .

وطهَّر الله منهم أرض الجزيرة على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم.

وكان تصريح رسول الله صلى الله عليه وسلم عشيَّة انتقاله إلى الرفيق الأعلى: "لا يجتمع في الجزيرة دينان".

وحملوا الحقد في نفوسهم، وأخفت الأفعى اليهودية رأسها حينًا، حتى أطلَّت على عهد عثمان بن عفان رضي الله عنه تنفث سمومها، حتى بلغ الأمر حدَّ التآمر على حياته، فقُتِلَ ذو النورين وهو صائم يتلو القرآن.

ثم زاد نفث السموم على عهد عليّ رضي الله عنه حتى تأجَّجت نار

--------------------------------------------

1 الأحزاب10، 11.

2 انظر سيرة النبي لابن هشام، وزاد المعاد لابن قم الجوزية.

3 الأحزاب 26-27.
{সেখানেই মুমিনগণ পরীক্ষিত হয়েছিল এবং তারা ভীষণভাবে প্রকম্পিত হয়েছিল} ১।

আর এ কারণেই তাদের বহিষ্কার করা হয়েছিল:

১- বনু কাইনুকা.. যখন তারা বিশ্বাসঘাতকতা করল এবং একজন মুসলিম মহিলার আব্রু উন্মোচন করল এবং তাকে রক্ষাকারীকে হত্যা করল।

২- এবং বনু নাযীর.. যখন তারা একইভাবে বিশ্বাসঘাতকতা করল এবং রাসূলুল্লাহর ওপর পাথর নিক্ষেপ করার চেষ্টা করল যখন তিনি তাদের দেয়ালের সাথে পিঠ ঠেকিয়ে বসেছিলেন।

৩- এবং বনু কুরাইজা.. পরিশেষে যখন তারা সম্মিলিত বাহিনীর সাথে মিত্রতা করল। ফলে আল্লাহ খন্দকের চারপাশ থেকে কাফেরদের হটিয়ে দেওয়ার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের কাছে ফিরে আসলেন। তিনি মুসলিমদের বলছিলেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন বনু কুরাইজায় না পৌঁছে আসরের সালাত আদায় না করে।" তিনি তাদের পুরুষদের হত্যা করলেন এবং নারী ও শিশুদের বন্দী করলেন ২।

আর আল্লাহ তাদের সম্পর্কে তাঁর এই বাণী অবতীর্ণ করলেন:

{আর আহলে কিতাবদের মধ্যে যারা তাদের সাহায্য করেছিল, আল্লাহ তাদেরকে তাদের দুর্গ থেকে নামিয়ে আনলেন এবং তাদের অন্তরে ভীতি সঞ্চার করলেন। তোমরা তাদের এক দলকে হত্যা করছ এবং এক দলকে বন্দী করছ। আর তিনি তোমাদেরকে তাদের ভূমি, ঘরবাড়ি ও ধন-সম্পদের এবং এমন এক ভূমির মালিক করে দিলেন যেখানে তোমরা ইতিপূর্বে পদার্পণ করোনি। আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান}।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে আল্লাহ তাদের থেকে আরব উপদ্বীপকে পবিত্র করলেন।

আর রফীকে আ'লার সান্নিধ্যে চলে যাওয়ার আগের সন্ধ্যায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঘোষণা ছিল: "আরব উপদ্বীপে দুই ধর্ম একত্রে থাকবে না।"

তারা তাদের অন্তরে বিদ্বেষ পোষণ করে রেখেছিল এবং ইহুদি সাপটি কিছু সময়ের জন্য তার মাথা লুকিয়ে রেখেছিল, যতক্ষণ না উসমান ইবন আফফান রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর যুগে তা তার বিষ উদগীরণ করতে বের হলো। এমনকি বিষয়টি তাঁর জীবননাশের ষড়যন্ত্র পর্যন্ত পৌঁছাল এবং যুন-নুরাইন রোজা অবস্থায় কুরআন তিলাওয়াতরত অবস্থায় শহীদ হলেন।

অতঃপর আলী রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর যুগে বিষ উদগীরণ আরও বৃদ্ধি পেল এমনকি আগুন জ্বলে উঠল...

--------------------------------------------

১. আল-আহজাব: ১০, ১১।

২. ইবনে হিশাম রচিত সীরাতুন নবী এবং ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ রচিত যাদুল মা'আদ দ্রষ্টব্য।

৩. আল-আহজাব: ২৬-২৭।
(খণ্ড: ১) হাদিরুল আলামিল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ৩২)
الفتنة بين علي ومعاوية رضي الله عنهما، ثم تأجَّجت ضد علي نفسه بما أعلنه الخوارج من كفر علي والذين معه، ومعاوية والذين معه، ثم بظهور الشيعة يعتنقون بعض مبادئ اليهود من رجعة علي، ومن تأليهٍ له، كما ألَّهوا من قبل المسيح ابن مريم.

وزادت الفرق، وزادت محاولات التفرقة الفكرية والعقائدية بين صفوف المسلمين.

وفي القرن الحادي عشر الهجري "السابع عشر الميلادي" تشكَّلت محافل الماسونية تحمل شعار "الإخاء - العدالة - المساواة"، وتحمل في الحقيقة حقد اليهود على كل مَنْ عداهم من البشر "الجويجم"، ويعتبرونهم حميرًا كلما نفق حمار ركبوا آخر بدلًا منه.

وفي درجات المبتدئين الأولى يكتفون ببث السموم دون الكشف عن حقيقة هدفهم، حتى إذا بلغ العضو "البناء" الدرجة الثالثة والثلاثين، صار التكريس معه على النحو التالي:

س: على أي شيء أقسمت؟

س: على التوراة.

س: هل علمت بكتاب سواه؟

س: نعم، هناك إنجيل وقرآن، وهذه الشرذمة خارجة عن الإيمان والبشرية.

س: هل تؤمن بهما؟

جـ: كلّا أؤمن بالتوارة فقط، الكتاب الصحيح الذي أنزل على موسى.

س: ما رأيك بالدينين المسيحي والإسلامي؟

جـ- المسيحي أخذ تعاليمه من التوراة، والإسلامي أخذ تعاليمه من التوراة والإنجيل.

س: هل الأصل أفضل أم الفرع؟
আলী ও মুয়াবিয়া (রা.)-এর মধ্যকার ফিতনা, এরপর তা খোদ আলীর বিরুদ্ধে আরও প্রবল রূপ নেয় যখন খারেজিরা আলী ও তাঁর অনুসারীদের এবং মুয়াবিয়া ও তাঁর অনুসারীদের কুফর (كفر) বলে ঘোষণা করে। এরপর শিয়াদের আবির্ভাব ঘটে, যারা আলীর প্রত্যাবর্তন (رجعة) এবং তাঁকে উপাস্য হিসেবে সাব্যস্ত করার মতো কিছু ইহুদি মূলনীতি গ্রহণ করে, ঠিক যেমন তারা ইতিপূর্বে মারইয়াম-পুত্র মসিহকে উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করেছিল।

ফিরকা বা দল-উপদলগুলো সংখ্যায় বৃদ্ধি পেল এবং মুসলিমদের কাতারগুলোর মধ্যে বুদ্ধিভিত্তিক ও আকিদাগত (عقائدية) বিভেদ সৃষ্টির প্রচেষ্টা বেড়ে চলল।

হিজরি একাদশ শতাব্দীতে (খ্রিস্টীয় সপ্তদশ শতাব্দীতে) ফ্রিম্যাসনরির আস্তানাগুলো গড়ে ওঠে, যা "ভ্রাতৃত্ব-ন্যায়বিচার-সাম্য" স্লোগান বহন করত। কিন্তু বাস্তবে তা ছিল তারা ব্যতীত অন্য সকল মানুষের ("গোয়িম") প্রতি ইহুদিদের চরম বিদ্বেষের বহিঃপ্রকাশ; তারা অন্যদের গাধা মনে করে, যখনই একটি গাধা মারা যায়, তখন তারা তার পরিবর্তে অন্য একটিতে আরোহণ করে।

প্রাথমিক স্তরের নতুন সদস্যদের ক্ষেত্রে তারা তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য প্রকাশ না করে কেবল বিষবাষ্প ছড়ানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। এমনকি যখন কোনো সদস্য "ম্যাসন" (بناء) তেত্রিশতম ডিগ্রিতে পৌঁছায়, তখন তার দীক্ষাদান নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে সম্পন্ন হয়:

প্রশ্ন: আপনি কিসের ওপর শপথ করেছেন?

উত্তর: তাওরাতের ওপর।

প্রশ্ন: আপনি কি এ ছাড়া অন্য কোনো কিতাব সম্পর্কে জানেন?

উত্তর: হ্যাঁ, সেখানে ইঞ্জিল ও কুরআন আছে, আর এই গোষ্ঠীগুলো ঈমান (إيمان) ও মানবতার বহির্ভূত।

প্রশ্ন: আপনি কি সে দুটির ওপর বিশ্বাস রাখেন?

উত্তর: মোটেও না, আমি কেবল তাওরাতের ওপর বিশ্বাস রাখি, যা মুসা (আ.)-এর ওপর অবতীর্ণ হওয়া বিশুদ্ধ (صحيح) কিতাব।

প্রশ্ন: খ্রিস্টধর্ম ও ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে আপনার মতামত কী?

উত্তর: খ্রিস্টধর্ম তার শিক্ষা তাওরাত থেকে গ্রহণ করেছে, আর ইসলাম তার শিক্ষা তাওরাত ও ইঞ্জিল থেকে গ্রহণ করেছে।

প্রশ্ন: মূল কি শ্রেষ্ঠ নাকি শাখা?
(খণ্ড: ১) হাদিরুল আলামিল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ৩৩)
جـ: لا شكَّ أن الأصل أفضل! 1.

وتنهض الماسونية بأعبائها الخبيثة لتجنِّد في مجال الفكر أساطينه، تشكيكًا للناس في قيمتهم ومثلهم، ومحاولة لتهويدهم فكرًا أو اقترابهم منه.

وينضمّ لها أمثال: روسو وفولتير، ليمهدا للثورة الفرنسية ويشعلاها، وأمثال كارل مردخاي ماركس، واسحق مونيمر وثبشو وليفي دارون وشيف؛ ليخطط الأول دستور الشيوعية، وليقول الآخرون وكلهم يهود، ثم ليمتطي صهوتها بعد ذلك اليهودي أولياتوف "الملقب بلينين"2.

وأمثال مدحت باشا ومصطفى كمال الشهير بأتاتورك مع حزب الاتحاد والترقي ليمهدوا، ثم ليقضوا على دولة الخلافة الإسلامية؛ لتجد الأفعى اليهودية طريقها إلى فلسطين عبر القسطنطينية؟

وتنفث الماسونية سمومها في مجال الفنون هبوطًا بالناس إلى مستوى حيواني حقير، وإغراقًا لهم في مستنقع الغرائز، حتى ليصير كشف الناس لعوراتهم أداءً للون من الفنون، وممارسة الغريزة الجنسية على الشاشة وعلى خشبة المسرح لونًا مستساغًا كذلك3.

--------------------------------------------

1 حقيقة الماسونية: د. محمد علي الزغبي، مارس 1974، دار العربية للطباعة والنشر والتوزيع، ص42، 43.

2 ويكفي لإدراك نفوذ اليهود الحالي في الاتحاد السوفيتي أن نعلم أنَّهم رغم أنَّهم يمثلون أقل من نصف في المائة من تعداد السكان "مليونان من 255 مليون تعداد الاتحاد السوفيتي".

فقد ذكر نكيتا خروشوف في مجال الدفاع عن نفسه أن للواحد في المائة هذه النسب:

4ر 1/ من مجموع المحامين، 14% من مجموع الكُتَّاب، 23% من مجموع المؤلِّفين والموسيقيين،

63% من الفنانين.

7647 يحتلون أكبر المناصب في الدولة.

447000 عالم اقتصادي متخصِّص.

3 في مجلة الدعوة السعودية، العدد رقم 633، الاثنين 3 من محرم سنة 1398، تحت عنوان: وا إسلاماه، بقلم ع. ع. جامعة الرياض، نداءً جاء فيه: أنقذوا الشباب من دمار الأخلاق وانتشار =
উ: কোনো সন্দেহ নেই যে উৎসই শ্রেষ্ঠ! ১.

ফ্রিম্যাসনরি তার জঘন্য পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নে সচেষ্ট হয়েছে যাতে চিন্তাজগতে এর নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের সমবেত করা যায়, মানুষের মাঝে তাদের মূল্যবোধ ও আদর্শ সম্পর্কে সংশয় সৃষ্টি করা যায় এবং তাদেরকে বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে ইহুদিবাদে দীক্ষিত করার অথবা তার কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা যায়।

তাদের সাথে রুশো ও ভলতেয়ারের মতো ব্যক্তিরা যুক্ত হন, যাতে তারা ফরাসি বিপ্লবের পথ সুগম করতে পারেন এবং তা প্রজ্বলিত করতে পারেন। এছাড়াও কার্ল মরডেকাই মার্কস, আইজ্যাক মুনিমার, থাবশু, লেভি ডারউইন ও শিফের মতো ব্যক্তিরা রয়েছেন; যাতে প্রথমজন কমিউনিজমের ইশতেহার প্রণয়ন করেন এবং অন্যরা—যাদের সবাই ইহুদি—নিজেদের পরিকল্পনা ব্যক্ত করেন। এরপর এই ঘোড়ার পিঠে সওয়ার হন ইহুদি উলিয়ানভ (যিনি 'লেনিন' নামে পরিচিত)।২.

মিদহাত পাশা ও মোস্তফা কামালের মতো ব্যক্তিরা, যিনি 'আতাতুর্ক' নামে পরিচিত, 'ইত্তিহাদ ওয়া তারাক্কি' (ঐক্য ও প্রগতি) দলের সাথে মিলে প্রথমে পথ তৈরি করেন এবং এরপর ইসলামি খিলাফত রাষ্ট্রকে নির্মূল করেন; যাতে ইহুদি রূপী সর্পটি কনস্টান্টিনোপল হয়ে ফিলিস্তিনে যাওয়ার পথ খুঁজে পায়।

ফ্রিম্যাসনরি শিল্পকলার ক্ষেত্রেও তাদের বিষ নিঃসরণ করে মানুষকে একটি হীন পশুর স্তরে নামিয়ে আনে এবং তাদেরকে প্রবৃত্তি ও লালসার পঙ্কিলতায় ডুবিয়ে দেয়। এমনকি মানুষের লজ্জাস্থান উন্মোচন করাও শিল্পকলার একটি ধরণ হিসেবে গণ্য হতে শুরু করে এবং পর্দায় ও নাট্যমঞ্চে যৌন প্রবৃত্তির চর্চাও একইভাবে গ্রহণযোগ্য বিষয়ে পরিণত হয়।৩.

--------------------------------------------

১. হাকিকাত আল-মাসুনিয়্যাহ (ফ্রিম্যাসনরির বাস্তবতা): ড. মুহাম্মদ আলী আল-জুগবি, মার্চ ১৯৭৪, দারুল আরাবিয়্যাহ লিত-তিবা'আ ওয়ান-নাশর ওয়াত-তাওজি, পৃষ্ঠা ৪২, ৪৩।

২. সোভিয়েত ইউনিয়নে বর্তমান ইহুদি প্রভাব উপলব্ধি করার জন্য এটুকু জানাই যথেষ্ট যে, যদিও তারা মোট জনসংখ্যার অর্ধেকেরও কম (সোভিয়েত ইউনিয়নের ২৫.৫ কোটি জনসংখ্যার মধ্যে ২০ লক্ষ)।

নিকিতা ক্রুশ্চেভ নিজের আত্মপক্ষ সমর্থনে উল্লেখ করেছেন যে, এই এক শতাংশের নিম্নোক্ত অনুপাত রয়েছে:

আইনজীবীদের মোট সংখ্যার ১৪%, লেখকদের মোট সংখ্যার ১৪%, গ্রন্থকার ও সঙ্গীতজ্ঞদের মোট সংখ্যার ২৩%,

শিল্পীদের ৬৩%।

৭৬৪৭ জন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে অধিষ্ঠিত।

৪৪৭,০০০ জন বিশেষজ্ঞ অর্থনীতিবিদ।

৩. সৌদি আরবের আদ-দাওয়া ম্যাগাজিন, সংখ্যা নং ৬৩৩, সোমবার ৩রা মহররম ১৩৯৮ হিজরি, 'ওয়া ইসলামাহ' (হায় ইসলাম) শিরোনামের অধীনে; রিয়াদ বিশ্ববিদ্যালয়ের 'আ. আ.' এর কলমে একটি আহ্বান এসেছে যাতে বলা হয়েছে: যুবসমাজকে নৈতিক অবক্ষয় এবং ধ্বংসের বিস্তার থেকে রক্ষা করুন...
(খণ্ড: ১) হাদিরুল আলামিল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ৩৫)
وفي مجال النصارى حقَّقت الماسونية كسبًا؛ إذ صدر قرار بتبرئة اليهود من دم المسيح، ثم أعلنت الكنيسة الكاثوليكية سماحها بالانتساب إلى المحافل الماسونية، الأمر الذي كان يمنعه من قبل. 1

--------------------------------------------

ب- السيد طه مخلوف أستاذ الماسون.

تحية طيبة وبعد:

فأشكر لك أجزل الشكر تهنئتك القلبية وثقتك الغالية بالدستور الجديد الذي استلهم من روحك وبكلمتك!

وبفضل إيمانك يعلو وتصبح موادّه المرجع والغاية.

والله أسأل أن يوفقنا جميعًا لما فيه خير بلادنا العزيزة، والله أكبر والعزة لمصر.

ج- ونشرت مجلة المجتمع الكويتية "العدد 419، الثلاثاء 7 ذي الحجة، الموافق 7 نوفمبر 1978" أنَّ إذاعة العدو الإسرائيلي إذاعت اليوم، الجمعة 25 القعدة 1398، الموافق 27/ 10/ 78، خبرًا جاء فيه أنه سيعقد في مطلع ديسمبر المقبل في كل من القدس والقاهرة مؤتمر باشتراك رؤساء نوادي الروتاري في مصر وإسرائيل والمغرب وتونس والجزائر والبحرين والكويت وقبرص، وأنه سيبحث في معاهدة السلام بين إسرائيل ومصر، وفي التعاون بين نوادي الروتاري في الشرق الأوسط.

1 راجع المخططات التلمودية الصهيونية، للأستاذ أنور الجندي، دار الاعتصام، في غزو الفكر الإسلامي، الطبعة الثانية، سنة 1397هـ 1977م.
وفي مجال النصارى حقَّقت الماسونية كسبًا؛ إذ صدر قرار بتبرئة اليهود من دم المسيح، ثم أعلنت الكنيسة الكاثوليكية سماحها بالانتساب إلى المحافل الماسونية، الأمر الذي كان يمنعه من قبل. 1

--------------------------------------------

খ- জনাব ত্বহা মাখলুফ, ফ্রিম্যাসনদের উস্তাদ।

সালাম ও শুভেচ্ছা রইল:

আমি আপনার আন্তরিক অভিনন্দন এবং নতুন সংবিধানের প্রতি আপনার অমূল্য আস্থার (ثقة) জন্য আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ জানাই, যা আপনার প্রেরণা ও বাণী থেকে অনুপ্রাণিত!

আপনার বিশ্বাসের বরকতে এটি সমুন্নত হবে এবং এর ধারাগুলোই হবে প্রধান অবলম্বন ও লক্ষ্য।

আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের সকলকে আমাদের প্রিয় দেশের মঙ্গলের জন্য তাওফিক দান করেন। আল্লাহ মহান এবং মিশরের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকুক।

গ- কুয়েতি ম্যাগাজিন 'আল-মুজতামা' (সংখ্যা ৪১৯, মঙ্গলবার ৭ যিলহজ্জ, মোতাবেক ৭ নভেম্বর ১৯৭৮) প্রকাশ করেছে যে, ইসরায়েলি শত্রু রেডিও আজ, শুক্রবার ২৫ যিলকদ ১৩৯৮, মোতাবেক ২৭/১০/৭৮ তারিখে একটি সংবাদ প্রচার করেছে যে, আগামী ডিসেম্বরের শুরুতে জেরুজালেম এবং কায়রো উভয় স্থানেই মিশর, ইসরায়েল, মরক্কো, তিউনিসিয়া, আলজেরিয়া, বাহরাইন, কুয়েত এবং সাইপ্রাসের রোটারি ক্লাবের প্রধানদের অংশগ্রহণে একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এতে ইসরায়েল ও মিশরের মধ্যে শান্তি চুক্তি এবং মধ্যপ্রাচ্যের রোটারি ক্লাবগুলোর মধ্যে সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করা হবে।

১. দেখুন: আলমাসাতিতুত তালমুদিয়্যাহ আস-সাহইয়ুনিয়্যাহ, উস্তাদ আনোয়ার আল-জুন্দি, দারুল ইতিসাম, ফী গাযওয়িল ফিকরিল ইসলামী, দ্বিতীয় সংস্করণ, ১৩৯৭ হিজরি, ১৯৭৭ খ্রিস্টাব্দ।
(খণ্ড: ১) হাদিরুল আলামিল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ৩৬)
2-‌‌ الفكر الغربي الصليبي في الشرق الإسلامي:

لا جرم أنَّ انتشار الإسلام قد هدَّد نفوذ المسيحية، بل بدَّد سلطانها في كثير من الأماكن، وتساطقت الإمبراطورية الرومانية أمام الزحف الإسلامي، وسقطت القسطنطينية، ومن بعدها معاقل كثيرة، حتى طرقت جيوش الفتح الإسلامي أبواب فينا في قلب أوربا، وحمل ذلك الغرب على الحقد على الإسلام، وأجَّجت اليهودية ومؤسساتها ونواديها الحقد بين النصارى والمسلمين، حتى اندلعت الحروب الصليبية.

وبدأ مع الحروب الصليبية الغزو الفكري للشرق الإسلامي؛ فقام المستشرقون بحملات التشكيك في العقيدة الإسلامية، وفي المصادر الإسلامية الأولى: القرآن والسنة، زاعمين أنها من وضع محمد عليه الصلاة والسلام، فعلوا ذلك إمَّا عن سوء نية نيلًا من الإسلام، أو عن جهل بلإسلام راجع إلى عدم القدرة على فهم لغة القرآن واستيعاب مصطلحات العلوم الشرعية.

ونشرت كتب المستشرقين في الشرق الإسلامي مترجمة، وحملها تلاميذهم الذين تلقَّوا على أيديهم السموم في أوربا خلال البعثات التعليمية، حملوها في عقولهم لينقلوها إلى الشرق الإسلامي على أنَّها حقائق علمية يضمِّنونها محاضراتهم وكتبهم وأحاديثهم.

وحمل التبشير بعد الاستشراق ومع الاستشراق سموم الحقد على الإسلام؛ ليحاول كذلك تشكيك المسلمين في عقائدهم هدمًا لها، ونقلًا لأصحابها من الإسلام إلى المسيحية.

ثم في مرحلة متأخرة إخراجًا للمسلمين من الإسلام دون إدخالهم إلى المسيحية، فهو يؤدي نفس النتيجة المرجوَّة. 1

--------------------------------------------

1 في خطاب زعيم المبشرين زويمر في القدس الشريف قال: =
২-‌‌ মুসলিম প্রাচ্যে পশ্চিমা ক্রুসেডার চিন্তাধারা:

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ইসলামের প্রসার খ্রিস্টধর্মের প্রভাবকে হুমকির মুখে ফেলেছিল, বরং অনেক স্থানেই এর আধিপত্যকে ধূলিসাৎ করে দিয়েছিল। ইসলামের অগ্রযাত্রার সামনে রোমান সাম্রাজ্যের পতন ঘটে, কনস্টান্টিনোপল বিজিত হয় এবং এর পর একে একে অনেক শক্তিশালী দুর্গগুলোর পতন ঘটে। এমনকি ইসলামের বিজয়ী বাহিনী ইউরোপের প্রাণকেন্দ্র ভিয়েনার দ্বারে করাঘাত করেছিল। এই ঘটনা পশ্চিমাবিশ্বকে ইসলামের প্রতি বিদ্বেষী করে তোলে। আর ইহুদিবাদ এবং তাদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনগুলো খ্রিস্টান ও মুসলমানদের মধ্যে এই বিদ্বেষকে আরও উসকে দেয়, যার ফলশ্রুতিতে ক্রুসেড যুদ্ধ শুরু হয়।

ক্রুসেড যুদ্ধের সাথেই মুসলিম প্রাচ্যে শুরু হয় বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসন (الغزو الفكري); প্রাচ্যবিদরা (المستشرقون) ইসলামী আকিদা এবং ইসলামের মৌলিক উৎস—কুরআন ও সুন্নাহ—সম্পর্কে সংশয় সৃষ্টির প্রচারণা শুরু করে। তারা দাবি করে যে, এগুলো মুহাম্মদ (সা.)-এর স্বরচিত। তারা এটি করেছে হয় ইসলামকে হেয় করার অসৎ উদ্দেশ্যে, অথবা ইসলাম সম্পর্কে তাদের অজ্ঞতার কারণে, যা মূলত কুরআনের ভাষা বুঝতে পারার অক্ষমতা এবং শরয়ি বিজ্ঞানের পরিভাষাগুলো (مصطلحات العلوم الشرعية) আত্মস্থ করতে না পারার ফল।

প্রাচ্যবিদদের বইগুলো অনূদিত হয়ে মুসলিম প্রাচ্যে প্রকাশিত হয়। আর তাদের সেই শিষ্যরা এগুলো বহন করে নিয়ে আসে যারা শিক্ষা সফরের মাধ্যমে ইউরোপে অবস্থানকালে তাদের কাছ থেকে এই বিষ গ্রহণ করেছিল। তারা সেই বিষাক্ত চিন্তাধারাকে নিজেদের মস্তিস্কে ধারণ করে মুসলিম প্রাচ্যে নিয়ে আসে এবং সেগুলোকে বৈজ্ঞানিক সত্য হিসেবে উপস্থাপন করে তাদের বিভিন্ন বক্তৃতা, বই ও আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করে।

প্রাচ্যতত্ত্বের (الاستشراق) পরে এবং এর সাথে সাথে মিশনারি কার্যক্রমও (التبشير) ইসলামের প্রতি বিদ্বেষের বিষ বহন করে আনে; যাতে একইভাবে মুসলমানদের আকিদা-বিশ্বাসে ফাটল ধরিয়ে তা ধ্বংস করা যায় এবং মুসলিমদের ইসলাম থেকে খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত করা যায়।

পরবর্তীতে এক পর্যায়ে এর লক্ষ্য হয় মুসলমানদের ইসলাম থেকে বের করে দেওয়া, যদিও তাদের খ্রিস্টধর্মে প্রবেশ করানো না যায়; কারণ এটিও তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফলই বয়ে আনে। ১

--------------------------------------------

১. জেরুজালেমে মিশনারি নেতা জুইমারের এক ভাষণে তিনি বলেছিলেন: =
(খণ্ড: ১) হাদিরুল আলামিল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ৩৭)
وفي المرحلة الأخيرة يتهذّب الإخراج من الإسلام إلى الإبعاد عن الإسلام، ثم يتهذَّب الأخير تحت أسماء "التمدين" و"التحضُّر" والتغيير الاجتماعي.

ولئن كانت الصيغة التي يمارسها الفكر الصليبي الآن في منطقة الإسلام تهذّب وتنظيم وتتستُّر بشعارات عديدة، تحمل معاني التحضر والتمدن والتغيير الاجتماعي، فإن ذلك هو الأغلب الأعم.

لكن ذلك لم يمنع من استمرار ممارسة التبشير؛ كإخراجٍ من الإسلام وإدخالٍ في المسيحية، ولا تزال مناطق إسلامية تعاني ضراوة التبشير الذي يتَّخذ أسلحة العلم كلها مسخّرة في خدمة تحطيم العقيدة الإسلامية، ونقل المسلمين إلى النصرانية، كما يستخدم فيها أسلحة المال، يجري بغير حساب إغراءً لضعاف النفوس، واستغلالًا للفقر والفاقة التي مُنِيَت بها بعض مناطق المسلمين1.

كذلك وعلى ما سنشير، فإن أنظمة الحكم القائمة في أكثر البلاد الإسلامية متواطئة مع الصهيونية الصليبية في حلفها الجديد، مسخرة أجهزة الحكم -ثمنًا لما تجلس عليه من كراسي- لخدمة أغراض التهويد والتنصير، أو للتمهيد لها.

كذلك فإن الجيوش الوطنية تقوم بدور الحارس لتلك الأنظمة، فيما تنفذ

--------------------------------------------

= "ولكن مهمة التبشير التي ندبتكم دول المسيحية للقيام بها في البلاد المحمدية، ليست في إدخال المسلمين في المسيحية، فإن في هذا هداية لهم وتكريمًا "! "، وإنما مهمتكم أن تخرجوا المسلم من الإسلام ليصبح مخلوقًا لا صلة له بالله، وفي النهاية قال:

"إنكم أعددتم نشئًا في ديار المسلمين لا يعرف الصلة بالله، ولا يريد أن يعرفها، وأخرجتم المسلم من الإسلام، ولم تدخلوه في المسيحية، وبالتالي جاء النشئ الإسلامي طبقًا لما أراده الاستعمار المسيحي؛ لا يهتم بالعظائم، ويحب الراحة والكسل، ولا يعرف همه في دنياه إلّا في الشهوات!.

"راجع أساليب الغزو الفكري، هامش ص34، ص35".

1 مأساة الإسلام في إندونيسيا أعظم من أن يشار إليها في هذا الهامش، فقد تمكنت الصليبية باستخدام وسائل التبشير المختلفة معضَّدة بسلاح المال من أن يرتدَّ عن الإسلام عشرة ملايين مسلم!

وفي عالم الإسلام مناطق يجري فيها المال جريان الأنهار، ولا ندري لم لا يستخدم المال الإسلامي في نصرة المسلمين، ودفع الأخطار عنهم؟!

"راجع القسم الثاني من حاضر العالم الإسلامي، إندونيسيا".
সর্বশেষ পর্যায়ে ইসলাম থেকে বের করে দেওয়ার বিষয়টি ইসলাম থেকে দূরত্ব তৈরির মাধ্যমে মার্জিত রূপ পায়; অতঃপর এই বিচ্যুতি 'নগরায়ন', 'সভ্যতা' এবং 'সামাজিক পরিবর্তন'-এর আড়ালে মার্জিত রূপ লাভ করে।

যদিও বর্তমানে মুসলিম ভূখণ্ডে ক্রুসেডার চিন্তাধারা যে রূপটি চর্চা করছে তা পরিমার্জিত ও সুশৃঙ্খল এবং তা সভ্যতা, নগরায়ন ও সামাজিক পরিবর্তনের বহু শ্লোগানের আড়ালে ছদ্মবেশ ধারণ করে আছে; আর এটিই হচ্ছে বর্তমানের সবচাইতে প্রবল ও সাধারণ চিত্র।

তবে এটি মিশনারি কার্যক্রম বা ইসলাম থেকে বের করে খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখাকে বাধাগ্রস্ত করেনি। মুসলিম অঞ্চলগুলো এখনও তীব্র মিশনারি তৎপরতার যাতনা সইছে, যারা ইসলামি আকিদাকে ধ্বংস করার এবং মুসলিমদের খ্রিস্টধর্মে স্থানান্তরের উদ্দেশ্যে বিজ্ঞানের সকল অস্ত্রকে নিয়োজিত করেছে। পাশাপাশি এতে অর্থের অস্ত্রও ব্যবহার করা হচ্ছে, যা দুর্বল চিত্তের মানুষদের প্রলুব্ধ করতে এবং কিছু মুসলিম অঞ্চলের দারিদ্র্য ও অভাব-অনটনকে কাজে লাগাতে হিসাবহীনভাবে বিলিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

অনুরূপভাবে, আমরা যেমনটি ইঙ্গিত করব, অধিকাংশ মুসলিম দেশে বিদ্যমান শাসনব্যবস্থাসমূহ তাদের নতুন জোটে ইহুদিবাদী-ক্রুসেডার শক্তির সাথে যোগসাজশ করে চলছে। তারা তাদের ক্ষমতার মসনদ টিকিয়ে রাখার বিনিময়ে শাসনযন্ত্রকে ইহুদিকরণ ও খ্রিস্টানিকরণের স্বার্থে অথবা তার পথ প্রশস্ত করার কাজে নিয়োজিত করেছে।

তেমনিভাবে জাতীয় সেনাবাহিনীগুলো সেই শাসনব্যবস্থাগুলোর প্রহরীর ভূমিকা পালন করছে, যেখানে তারা বাস্তবায়ন করে...

--------------------------------------------

= "কিন্তু মিশনারি কাজের যে দায়িত্ব খ্রিস্টান রাষ্ট্রগুলো তোমাদেরকে মুহাম্মদী দেশগুলোতে পালন করার জন্য সঁপে দিয়েছে, তা মুসলিমদের খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত করা নয়; কারণ এতে তো তাদের পথপ্রদর্শন ও সম্মানই নিহিত!" বরং তোমাদের কাজ হলো মুসলিমকে ইসলাম থেকে বের করে দেওয়া, যাতে সে এমন এক জীবে পরিণত হয় যার সাথে আল্লাহর কোনো সম্পর্ক নেই। পরিশেষে তিনি বলেন:

"তোমরা মুসলিমদের জনপদে এমন এক প্রজন্ম তৈরি করেছো যারা আল্লাহর সাথে কোনো সম্পর্ক চেনে না এবং চিনতেও চায় না। তোমরা মুসলিমকে ইসলাম থেকে বের করেছো ঠিকই, কিন্তু তাকে খ্রিস্টধর্মে প্রবেশ করাওনি। ফলস্বরূপ, এই মুসলিম প্রজন্ম খ্রিস্টান সাম্রাজ্যবাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী গড়ে উঠেছে; তারা মহৎ কোনো বিষয় নিয়ে ভাবে না, বরং আরাম-আয়েশ ও অলসতা পছন্দ করে এবং দুনিয়াতে প্রবৃত্তির লালসা চরিতার্থ করা ছাড়া তাদের অন্য কোনো লক্ষ্য নেই!

"দেখুন: আসালিবুল গযওয়িল ফিকরি, পৃ. ৩৪, ৩৫ এর টীকা।"

১. ইন্দোনেশিয়ায় ইসলামের ট্র্যাজেডি এই টীকাতে উল্লেখ করার চেয়েও বহুগুণ ভয়াবহ। বিভিন্ন মিশনারি প্রচারমাধ্যমকে অর্থের শক্তির সাথে যুক্ত করে এক কোটি মুসলিমকে ধর্মত্যাগী করতে সক্ষম হয়েছে!

আর মুসলিম বিশ্বে এমন সব অঞ্চল রয়েছে যেখানে অর্থ নদীর মতো প্রবাহিত হয়, অথচ আমরা জানি না কেন সেই ইসলামি অর্থ মুসলিমদের সাহায্যে এবং তাদের থেকে বিপদ দূর করতে ব্যয় হয় না?!

"দেখুন: হাযিরুল আলম আল-ইসলামি, দ্বিতীয় খণ্ড, ইন্দোনেশিয়া।"