(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদুন ফিত তাওরাতি ওয়াল ইনজীলি ওয়াল কুরআন
(পৃষ্ঠা: -)
محمد في التوراة والإنجيل والقرآن القسم: كتب عامة
الكتاب: محمد في التوراة والإنجيل والقرآن
المؤلف: إبراهيم خليل أحمد (من كبار علماء النصارى مَنَّ الله عليه بالإسلام)
الناشر: دار المنار
عام النشر: 1409 هـ - 1989 م
عدد الصفحات: 219
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
جَزَى اللَّهُ كَاتِبَهُ وَمَنْ تَحَمَّلَ نَفَقَةَ الْكِتَابَةِ خَيرَ الجَزَاءِ وَأَوفَاهُ.
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
তাওরাত, ইঞ্জিল ও কুরআনে মুহাম্মদ (সা.) বিভাগ: সাধারণ গ্রন্থাবলি
গ্রন্থ: তাওরাত, ইঞ্জিল ও কুরআনে মুহাম্মদ (সা.)
লেখক: ইব্রাহিম খলিল আহমদ (খ্রিস্টানদের অন্যতম প্রথিতযশা আলেম, আল্লাহ যাকে ইসলাম গ্রহণের অনুগ্রহ দান করেছেন)
প্রকাশক: দার আল-মানার
প্রকাশকাল: ১৪০৯ হিজরি - ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২১৯
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
আল্লাহ তাআলা এই গ্রন্থের লেখক এবং যিনি এর লিখন বা মুদ্রণ ব্যয়ভার বহন করেছেন তাকে সর্বোত্তম ও পূর্ণাঙ্গ প্রতিদান দান করুন।
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদুন ফিত তাওরাতি ওয়াল ইনজীলি ওয়াল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৮)
بسم الله الرحمن الرحيم
الكتاب: محمد في التوراة والإنجيل والقرآن
المؤلف: الشيخ / إبراهيم خليل أحمد
(من كبار علماء النصارى مَنَّ الله عليه بالإسلام)
الناشر: دار المنار - 1409 هـ - 1989 م
عدد الأجزاء: 1
تنبيه:
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
جَزَى اللَّهُ كَاتِبَهُ وَمَنْ تَحَمَّلَ نَفَقَةَ الْكِتَابَةِ خَيرَ الجَزَاءِ وَأَوفَاهُ.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
গ্রন্থ: তাওরাত, ইনজিল ও কুরআনে মুহাম্মদ
লেখক: শায়খ / ইব্রাহিম খলিল আহমদ
(খ্রিস্টানদের শীর্ষস্থানীয় আলেমদের একজন, যাঁকে আল্লাহ ইসলাম গ্রহণের মাধ্যমে ধন্য করেছেন)
প্রকাশক: দার আল-মানার - ১৪০৯ হিজরি - ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ১
সতর্কবার্তা:
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
আল্লাহ তাআলা এর লেখককে এবং যিনি এর অনুলিখনের ব্যয়ভার বহন করেছেন তাকে সর্বোত্তম ও পূর্ণাঙ্গ প্রতিদান দান করুন।
(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদুন ফিত তাওরাতি ওয়াল ইনজীলি ওয়াল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৯)
تقديم للمؤلفالحمد لله الذي هداني للإسلام ديناً قيماً ملة إبراهيم حنيفاً، والصلاة والصلام على سدينا محمد وعلى آل بيته أجمعين
… أما بعد:
فقد نشأت نشأة دينية، وكان طبيعياً أن خصصت حياتي وجهادي ومالي في سبيل الله مخلصاً متفانياً ابتغاء مرضاته.
والله سبحانه وتعالى قد خلق الإنسان وفضله على سائر خلقه بما حباه وكمله بنعمة العقل والقدرة على التعقل والإدراك، وكان لهذا حقاً لله سبحانه أن يخاطب الإنسان على ما يفعله إن كان خيراً فخير، وإن شراًَ فشر.
والله سبحانه وتعالى تمكيناً للإنسان من العزة وبالعقل لم يفرض كيانه فرضاً سواء أرضى أو لم يرض، بل توخى هبته للإنسان من العقل، ومن العقل أراد أن يدخل إلى قلب الإنسان بالإيمان، لهذا قيل في الإنجيل للباحثين عن الحق: "وتعرفون الحق والحق يحرركم".
وفي هذا المعنى يقول رسول الله صلى الله عليه وسلم: "رفع القلم عن ثلاثة: عن المجنون حتى يفيق، وعن النائم حتى يستيقظ، وعن الصبي حتى يحتلم"
[رواه أحمد وابو داود والترمذي]
ويقول تعالى: سَنُرِيهِمْ آيَاتِنَا فِي الْآفَاقِ وَفِي أَنْفُسِهِمْ حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُ الْحَقُّ} بَلْ يتجه الله جل شلأنه إلى أُلئك الذين لم ينهموا بنعمة البصر فيستلهمهم البصيرة بقوله تعالى: {وَفِي أَنْفُسِكُمْ أَفَلَا تُبْصِرُونَ} .
وهكذا يهدي الله الإنسان إلى الطاقات العظمى لنعمة العقل لتكون أساس الإيمان.
والتاريخ شاهد صدق كل رجال من كبار اللهوتيين الذين نشدوا الحق واستبسلوا له، فهذا آريوس في القرن الثالث الميلادي الذي استبسل لعقيدته عن المسيح عليه السلام بما يتقارب مع عقيدة المسلم عنه.
وذاك لوثيروس الذي نادى بالإصلاح الديني وحمل لواء الإصلاح في عزم وتصميم
লেখকের ভূমিকাসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাকে সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন হিসেবে ইসলামের দিকে এবং ইব্রাহিমের একনিষ্ঠ মিল্লাতের দিকে হেদায়েত করেছেন। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারের সকলের ওপর
… অতপর:
আমি এক ধর্মীয় পরিবেশে লালিত-পালিত হয়েছি, এবং এটিই স্বাভাবিক ছিল যে আমি আমার জীবন, সংগ্রাম এবং সম্পদ আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে একনিষ্ঠভাবে ও নিবেদিতপ্রাণ হয়ে আল্লাহর পথে উৎসর্গ করব।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর অন্যান্য সৃষ্টির ওপর তাকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। তিনি তাকে বুদ্ধি এবং বিচারবুদ্ধি ও উপলব্ধির ক্ষমতা দিয়ে পূর্ণতা দান করেছেন। এজন্য মানুষের কৃতকর্ম সম্পর্কে তাকে সম্বোধন করা আল্লাহর প্রাপ্য অধিকার; যদি তা ভালো হয় তবে প্রতিদান ভালো হবে, আর যদি মন্দ হয় তবে মন্দ প্রতিদান মিলবে।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা মানুষকে মর্যাদা প্রদানের লক্ষ্যে এবং বিবেকের স্বাধীনতার কারণে তাঁর সত্তাকে (আনুগত্যকে) জোরপূর্বক চাপিয়ে দেননি, সে তাতে সন্তুষ্ট হোক বা না হোক। বরং তিনি মানুষের বিবেকের কাছে তাঁর দানকে উপস্থাপন করেছেন এবং বিবেকের মাধ্যমেই ঈমানের সাথে মানুষের অন্তরে প্রবেশ করতে চেয়েছেন। একারণেই সত্য অন্বেষণকারীদের জন্য ইনজিলে বলা হয়েছে: "তোমরা সত্যকে জানবে এবং সত্যই তোমাদেরকে মুক্ত করবে।"
এই অর্থেই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তিন শ্রেণির ব্যক্তির ওপর থেকে কলম উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে: পাগল যতক্ষণ না সে সুস্থ হয়, ঘুমন্ত ব্যক্তি যতক্ষণ না সে জাগ্রত হয় এবং শিশু যতক্ষণ না সে প্রাপ্তবয়স্ক হয়।"
[বর্ণিত (رواه) আহমদ, আবু দাউদ এবং তিরমিযী]
আল্লাহ তাআলা বলেন: {আমি অচিরেই তাদেরকে আমার নিদর্শনসমূহ দিগন্তবলয়ে এবং তাদের নিজেদের মধ্যে দেখাব, যতক্ষণ না তাদের কাছে স্পষ্ট হয় যে এটিই সত্য}। এমনকি আল্লাহ জাল্লা শানুহু ঐ সকল ব্যক্তিদের দিকেও দৃষ্টিপাত করেন যারা চাক্ষুষ দৃষ্টির নেয়ামত পাননি, তিনি তাদেরকে অন্তর্দৃষ্টির প্রতি উৎসাহিত করে বলেন: {এবং তোমাদের নিজেদের মধ্যেও (নিদর্শন রয়েছে), তবে কি তোমরা দেখবে না?}।
এভাবেই আল্লাহ মানুষকে বিবেকের নেয়ামতের মহত্তম শক্তির দিকে পথপ্রদর্শন করেন যাতে তা ঈমানের ভিত্তি হতে পারে।
ইতিহাস সেই সকল মহান ধর্মতত্ত্ববিদদের সত্যনিষ্ঠার সাক্ষী যারা সত্যের অন্বেষণ করেছেন এবং তার জন্য বীরত্ব প্রদর্শন করেছেন। যেমন খ্রিষ্টীয় তৃতীয় শতাব্দীর আরিয়াস, যিনি ঈসা (আলাইহিস সালাম) সম্পর্কে নিজের আকিদার পক্ষে বীরত্বের সাথে লড়েছিলেন, যা তাঁর সম্পর্কে মুসলিমদের আকিদার অত্যন্ত নিকটবর্তী।
আর ঐ লুথার, যিনি ধর্মীয় সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছিলেন এবং অত্যন্ত দৃঢ়তা ও সংকল্পের সাথে সংস্কারের ঝাণ্ডা বহন করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদুন ফিত তাওরাতি ওয়াল ইনজীলি ওয়াল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১০)
ونادى بأن الله وحده هو الغفور الرحيم وأن البشر جميعهم سواسية أمامه لا فضل لكاهن على مواطن بالتقوى.
وفي هذا يقول نبي الله داود عليه السلام: "باركي يا نفسي الرب ولا تنسي كل حسناته، الذي يغفر جميع ذنوبك، الذي يشفي كل أمراضك"
بل يؤكد أن الغفران لله جل شأنه وحده فيقول: " عند كثرة همومي في داخلي تغرياتك تلذذ نفسي".
وبهذا يخلص إلى الحقيقة التي يؤمن بها المسلم والتي يوضحها قول داود عليه السلام: "كنت تراقب الآثام يارب يا سيد فمن يقف. لأنه عندك المغفرة لكي يخاف منك".
إذن الطريق إلى الله واضح العالم، والوصول إليه رائده المنطق والعقل، والرسالات السماوية جميعها تناشد الإنسانية ما قاله المسيح عليه السلام:
"الله روح والذين يسجدون له فبالروح والحق ينبغي أن يسجدوا"
وفي هذا المعنى يقول سبحانه وتعالى:
{فَأَيْنَمَا تُوَلُّوا فَثَمَّ وَجْهُ اللَّهِ}
والذي حفزني إلى البحث بغية النفع العام هو ما تنبأ به المسيح عليه السلام عن الرسول الكريم سيدنا محمد صلى الله عليه وسلم بقوله: "الحجر الذي رفضه البناءون هو قد صار رأس الزاوية من قبل الرب كان هذا وهو عجيب في أعيننا. لذلك أقول لكم إن ملكوت الله ينزع منكم ويعطى لأمة تعمل أثماره"
ومن دواعي الاطمئنان واليقين، أن هذا السند يرتبط ارتباطاً وثيقاً بقوله تعالى:
{الرَّسُولَ النَّبِيَّ الْأُمِّيَّ الَّذِي يَجِدُونَهُ مَكْتُوبًا عِنْدَهُمْ فِي التَّوْرَاةِ وَالْإِنْجِيلِ}
من هنا بدأت في اطمئنان ويقين تام أبحث عن هذا الرسول النبي الأمي الذي تنبأ عنه المسيح عليه السلام وأشار إليه بقوله، "المسيا المنتظر"
তিনি ঘোষণা করেছেন যে, আল্লাহ একাই ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু এবং সমস্ত মানুষ তাঁর সামনে সমান; তাকওয়া (تقوى) ব্যতীত কোনো ধর্মগুরুর সাধারণ নাগরিকের ওপর কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই।
আর এই বিষয়ে আল্লাহর নবী দাউদ (আলাইহিস সালাম) বলেন: "হে আমার আত্মা, রবের প্রশংসা করো এবং তাঁর সকল অনুগ্রহ ভুলে যেয়ো না, যিনি তোমার সকল পাপ ক্ষমা করেন, যিনি তোমার সকল রোগ নিরাময় করেন।"
বরং তিনি নিশ্চিত করেন যে, ক্ষমা কেবল মহান আল্লাহর জন্য, তাই তিনি বলেন: "যখন আমার অন্তরে দুশ্চিন্তার আধিক্য ঘটে, তখন আপনার সান্ত্বনা আমার আত্মাকে আনন্দিত করে।"
এর মাধ্যমেই তিনি সেই সত্যে উপনীত হন যার ওপর একজন মুসলিম বিশ্বাস স্থাপন করে এবং যা দাউদ (আলাইহিস সালাম)-এর বাণীর মাধ্যমে স্পষ্ট হয়: "হে প্রতিপালক, হে প্রভু, আপনি যদি পাপের হিসাব রাখতেন তবে কে টিকে থাকত? কেননা আপনার কাছেই ক্ষমা রয়েছে যেন আপনাকে ভয় করা হয়।"
সুতরাং আল্লাহর পথ বিশ্ববাসীর কাছে স্পষ্ট, আর তাঁর কাছে পৌঁছানোর মূলমন্ত্র হলো যুক্তি ও বুদ্ধি। সকল আসমানি বার্তা মানবতার কাছে সেই আহ্বানই জানায় যা ঈসা (আলাইহিস সালাম) বলেছিলেন:
"আল্লাহ আত্মা, আর যারা তাঁর ইবাদত করে তাদের আত্মা ও সত্যের সাথে ইবাদত করা উচিত।"
এই অর্থেই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেন:
{তোমরা যেদিকেই মুখ ফেরাও না কেন, সেদিকেই আল্লাহর সত্তা বিদ্যমান}
যা আমাকে জনকল্যাণের উদ্দেশ্যে গবেষণায় উদ্বুদ্ধ করেছে তা হলো আমাদের প্রিয় রাসূল মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সম্পর্কে ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর সেই ভবিষ্যদ্বাণী, যেখানে তিনি বলেছিলেন: "নির্মাণকারীরা যে পাথরটি প্রত্যাখ্যান করেছিল, সেটিই এখন প্রধান কোণের পাথর হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি রবের পক্ষ থেকে হয়েছে এবং আমাদের চোখে বিস্ময়কর। তাই আমি তোমাদের বলছি যে, আল্লাহর রাজত্ব তোমাদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হবে এবং এমন এক জাতিকে দেওয়া হবে যারা তাঁর ফল উৎপন্ন করবে।"
প্রশান্তি ও দৃঢ় বিশ্বাসের অন্যতম কারণ হলো এই সনদ (سند) মহান আল্লাহর বাণীর সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত:
{সেই রাসূল, যিনি উম্মী নবী, যার কথা তারা তাদের কাছে থাকা তাওরাত ও ইঞ্জিলে লিখিত পায়}
এখান থেকেই আমি পূর্ণ প্রশান্তি ও দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে সেই উম্মী নবী ও রাসূলের সন্ধান শুরু করি, যার সম্পর্কে ঈসা (আলাইহিস সালাম) ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন এবং যার প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেছিলেন, "প্রতীক্ষিত মসীহ"
(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদুন ফিত তাওরাতি ওয়াল ইনজীলি ওয়াল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১১)
ومن هنا بدأت أربط بين رأي آريوس في القرن الثالث الميلادي، وآراء لوثيروس في القرون الوسطى، والنبوءات العديدة في التوراة والإنجيل، والأنبياء والمزامير عن الرسول المصطفى حتى مكنني الله من إخراج هذا المؤلف الطيب لأمة خيرة.
وكان ما استرعى نظري عن الإعداد لهذا البحث العناصر الآتية:
1 - الوحدانية.
2 - الغفران.
3 - المبادئ وتقويمها بالأشخاص.
4 - الرسالات السماوية.
1 - الوحدانية.
{قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ (1) اللَّهُ الصَّمَدُ (2) لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ (3) وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ}
وأخذت أتامل الوحدانية في القرآن الكريم، الأمر الذي يستطيع العالم وغير العالم فهمه واستيعابه وإدراكه والإيمان بما يتضمنه من المعاني، من غير إجهاد الفكر، أو عناء الدرس والتحصيل.
وقارنتها بالوحدانية التر وردت في إنجيل متى في الباب الأول والعدد الأخير: الآب والابن والروح القدس "إله واحد آمين" وعند دراستي النص الأصلي علمت أن هذه العبارة لم ترد في الأصل اليوناني.
هذا بالإضافة إلى بلبلة أفكار عامة الناس وحيرة جهابذة العلماء في الدفاع عن هذه العقيدة السقيمة التي كشف التاريخ عنها القناع. وأكد العلامة جارسلاف كرينى أستاذ الحفريات من جامعة أكسفورد في كتابه "ديانة قدماء المصريين" أن عقيدة التثليث مستمدة من الوثنية الفرعونية.
2 - الغفران:
قرأت بتأمل وتقكر قوله تعالى:
এখান থেকেই আমি খ্রিস্টীয় তৃতীয় শতাব্দীতে আরিউসের মতামত, মধ্যযুগে লুথারের মতামত এবং তাওরাত, ইঞ্জিল, নবীদের কিতাব ও জবুর শরিফে রাসূল মোস্তফা সম্পর্কে আসা অসংখ্য ভবিষ্যদ্বাণীর মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন করতে শুরু করি; অবশেষে মহান আল্লাহ আমাকে এই শ্রেষ্ঠ উম্মতের জন্য এই উত্তম গ্রন্থটি প্রকাশের সামর্থ্য দান করেছেন।
এই গবেষণার প্রস্তুতির সময় যা আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল তা হলো নিম্নোক্ত বিষয়সমূহ:
১ - একত্ববাদ (الوحدانية)।
২ - ক্ষমা।
৩ - আদর্শ এবং ব্যক্তিদের মাধ্যমে সেগুলোর মূল্যায়ন।
৪ - আসমানি রিসালাত বা খোদায়ী বার্তা (الرسالات)।
১ - একত্ববাদ (الوحدانية)।
{বলুন, তিনিই আল্লাহ, একক। আল্লাহ অমুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাঁকে জন্ম দেননি। এবং তাঁর সমতুল্য কেউ নেই।}
আমি পবিত্র কুরআনে বর্ণিত একত্ববাদ (الوحدانية) নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করতে শুরু করলাম, যা আলিম বা সাধারণ মানুষ নির্বিশেষে যে কেউ চিন্তা-ভাবনা বা গভীর জ্ঞান অর্জনের ক্লান্তি ছাড়াই এর অন্তর্ভুক্ত অর্থসমূহ অনুধাবন ও উপলব্ধি করতে এবং সে অনুযায়ী বিশ্বাস স্থাপন করতে সক্ষম।
এবং আমি এর সাথে মথি লিখিত সুসমাচারের (ইঞ্জিল) প্রথম অধ্যায়ের শেষ শ্লোকে বর্ণিত একত্ববাদের তুলনা করলাম: পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মা "এক ঈশ্বর, আমীন"। কিন্তু মূল পাঠ অধ্যয়নের সময় আমি জানতে পারলাম যে, এই বাক্যটি মূল গ্রিক পাণ্ডুলিপিতে ছিল না।
এর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের চিন্তার বিভ্রান্তি এবং বিজ্ঞ শাস্ত্রজ্ঞ পণ্ডিতদের এই ত্রুটিপূর্ণ (السقيمة) বিশ্বাস (عقيدة) রক্ষার ক্ষেত্রে কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থা বিদ্যমান, যার রহস্য ইতিহাস উন্মোচন করেছে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক আল্লামা জারোস্লাভ চেরনি তাঁর "প্রাচীন মিশরীয়দের ধর্ম" গ্রন্থে নিশ্চিত করেছেন যে, ত্রিত্ববাদ (التثليث) ফারাওদের পৌত্তলিকতা থেকে উদ্ভূত।
২ - ক্ষমা:
আমি মহান আল্লাহর এই বাণীর ওপর গভীর অভিনিবেশ ও চিন্তার সাথে পাঠ করলাম:
(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদুন ফিত তাওরাতি ওয়াল ইনজীলি ওয়াল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১২)
{قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَى أَنْفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِنْ رَحْمَةِ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ}
وقارنت بين هذه الآية وما ورد في الإنجيل عن الغفران: "بدون سفط دم لا تحصل مغفرة"، وبالقول: "هكذا أحب الله حتى بذل ابنه الحبيب لكيلا يهلك كل من يؤمن به، بل تكون له الحياة الأبدية".
قارنت بين العقيدتين:
الأولى: أن رحمة الله ومغفرته تكون لعباده دون قيد أو شرط مادي.
الثانية: أنها مقيدة بقيود من جانب الله ببذل ابنه الحبيب حسبما يعتقدون، ومن جانب المرء بضرورة الإيمان بهذا الابن.
ومن هذه العقيدة نشأت فريضة كنسية تعرف بسر الأفخار ستبا، أو سر الشكر، وفيخا يؤمن المسيحي باستحالة الخبز إلى جسد المسيح، واستحالة الخمر إلى دم المسيح حقيقة، وبتناولهما تصير في حياة أبدية.
ومن هذه العقيدة نشأت صكوك الغفران، وما أدراك ما صكوك الغفران! إنها بدعة وخروج عن الحق الإلهي، وكم ندد بها زعماء الإصلاح في القرن الخامس عشر وعلى رأسهم لوثيروس الألماني ثك زوينجلي ثم كلفن وغيرهم.
فحمدت الله على رحمته الواسعة ومغفرته اليقينة بدون قيد ولا شرط مادي، بل بتوبة صادقة وعزم على الحياة الطاهرة:
{إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا} [صدق الله العظيم]
3 - المبادئ وتقويمها بالأشخاص:
قرأت قول الله تعالى {إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ}
وقرأت ما جاء بالإنجيل: "إذن لسنا أولاد جارية، بل أولاد حرة".
وزال عني العجب للتفرقة العنصرية عند الأمرييكن في أيامنا هذه بين البيض
{বলুন, হে আমার বান্দাগণ যারা নিজেদের ওপর সীমালঙ্ঘন করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সমস্ত পাপ ক্ষমা করে দেন। নিশ্চয়ই তিনি পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।}
এবং আমি এই আয়াতের সাথে ইঞ্জিলে ক্ষমা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তার তুলনা করেছি: "রক্তপাত ছাড়া ক্ষমা লাভ হয় না", এবং এই বক্তব্যের সাথে: "আল্লাহ জগতকে এমন ভালোবাসলেন যে, তিনি তাঁর প্রিয় পুত্রকে দান করলেন, যাতে যে কেউ তাঁর ওপর বিশ্বাস স্থাপন করে সে বিনষ্ট না হয়, বরং অনন্ত জীবন লাভ করে।"
আমি এই দুই আকিদার মধ্যে তুলনা করেছি:
প্রথমটি: আল্লাহর রহমত এবং তাঁর ক্ষমা বান্দাদের জন্য কোনো বস্তুগত সীমা বা শর্ত ছাড়াই হয়ে থাকে।
দ্বিতীয়টি: তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী, এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর প্রিয় পুত্রকে বিসর্জন দেওয়ার মাধ্যমে এবং ব্যক্তির পক্ষ থেকে এই পুত্রের প্রতি ঈমান আনার প্রয়োজনীয়তার দ্বারা সীমাবদ্ধ।
আর এই আকিদা থেকেই গির্জার একটি ধর্মীয় বিধানের উৎপত্তি হয়েছে যা 'ইউক্যারিস্ট' বা 'ধন্যবাদ জ্ঞাপনের রহস্য' নামে পরিচিত। এতে খ্রিস্টানরা বিশ্বাস করে যে, রুটি প্রকৃতপক্ষে মসিহের দেহে এবং আঙুররস বা মদ প্রকৃতপক্ষে মসিহের রক্তে রূপান্তরিত হয়, আর এই দুটি গ্রহণের মাধ্যমে অনন্ত জীবন লাভ করা যায়।
আর এই আকিদা থেকেই ক্ষমাপত্র প্রথার উদ্ভব হয়েছে। আর আপনি কি জানেন ক্ষমাপত্র কী! এটি একটি বিদআত (بدعة) এবং ঐশ্বরিক সত্য থেকে বিচ্যুতি। পনেরো শতকের সংস্কারবাদী নেতৃবৃন্দ এর কঠোর নিন্দা করেছেন, যাদের শীর্ষে ছিলেন জার্মান লুথার, এরপর জুইংলি, ক্যালভিন এবং আরও অনেকে।
তাই আমি আল্লাহর প্রশস্ত রহমত এবং নিশ্চিত ক্ষমার জন্য তাঁর প্রশংসা করলাম, যা কোনো বস্তুগত বাধা বা শর্ত ছাড়াই অর্জিত হয়; বরং তা একনিষ্ঠ তওবা এবং পবিত্র জীবন যাপনের সংকল্পের মাধ্যমে লাভ করা যায়:
{নিশ্চয়ই আল্লাহ সমস্ত পাপ ক্ষমা করে দেন} [মহান আল্লাহ সত্য বলেছেন]
৩ - নীতিসমূহ এবং ব্যক্তিদের মাধ্যমে সেগুলোর মূল্যায়ন:
আমি মহান আল্লাহর বাণী পাঠ করেছি: {নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই অধিক সম্মানিত, যে তোমাদের মধ্যে অধিক মুত্তাকি}
আর ইঞ্জিলে যা এসেছে তাও আমি পাঠ করেছি: "অতএব আমরা দাসীর সন্তান নই, বরং স্বাধীন নারীর সন্তান।"
আর বর্তমান সময়ে আমেরিকানদের মধ্যে শ্বেতাঙ্গদের মাঝে যে বর্ণবাদী বৈষম্য বিদ্যমান, তা দেখে আমার যে বিস্ময় ছিল তা দূর হয়ে গেল...
(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদুন ফিত তাওরাতি ওয়াল ইনজীলি ওয়াল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১৩)
والسود، وزاد إعجابي وإجلالي للمسلمين أن سيد القوم يقف بجانب المواطن العامل والمزارع والتاجر والموظف، كالبنيان المرصوص يشد بعضه بعضاً، راكعين، ساجدين يخشون ربهم ويرجونه الرضا والعفو، فأيقنت أن مجد الإسلام والمسلمين في هذا التساند الجميل، والتآخي الحبيب، "لا فضل لعربي على أعجمي ولا لأعجمي على عربي، ولا لأحمر على أسود، ولا لأسود على أحمر إلا بالتقوى".
4 - الرسالات السماوية:
قرأت قول المسيح عليه السلام، ومثاله: "خرج الزارع ليزرع وفيما هو يزرع سقط بعض على الطريق" وقرأت كتابة بولس. ومثاله: "فإني أسر بناموس الله بحسب الإنسان الباطن ولكني أرى قاموساً آخر في أعضائي يحارب ناموس ذهني ويسبيني إلى ناموس الخطية الكائن في أعشائي، ويحى أنا الشقي من ينقذني من جسد الموت هذا؟! ".
قولان: أحدهما للمسيح يمتاز بالبساطة ووضوح التعبير، وثانيهما يمتاز بعمق وغور المعاني، وكلاهما ينسب إلى الله جل شأنه.
وقرأت في القرآن الكريم قوله تعالى: {الم (1) ذَلِكَ الْكِتَابُ لَا رَيْبَ فِيهِ هُدًى لِلْمُتَّقِينَ
… } . وما قبل فاتحة القرآن الكريم إلى قوله تعالى: {قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ (1) مَلِكِ النَّاسِ (2) إِلَهِ النَّاسِ} إلخ السورة، وتأملت وتدبرت، وإذا بالله العزيز الحكيم يحسم الأمر بقوله: {أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ وَلَوْ كَانَ مِنْ عِنْدِ غَيْرِ اللَّهِ لَوَجَدُوا فِيهِ اخْتِلَافًا كَثِيرًا} ثم يتحدى الله خلقه بقوله: {قُلْ لَئِنِ اجْتَمَعَتِ الْإِنْسُ وَالْجِنُّ عَلَى أَنْ يَأْتُوا بِمِثْلِ هَذَا الْقُرْآنِ لَا يَأْتُونَ بِمِثْلِهِ وَلَوْ كَانَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ ظَهِيرًا} .
فازددت إيماناً ورسوخاً، وقرتت قراراً، واعتزلت الخدمة الدينية وظيفة، وانتهجت نهج الأعمال الحرة. فعملت بشركة استندر ستيشيزي بالقاهرة من سنة 1955 إلى سنة 1959 لكسب عيشي بالحق والأمانة، ومازالت تربطني بالكنيسة روابط كثيرة.
ويشاء الله أن يهيدني إليه، أليس هو القائل: {فَمَنْ يُرِدِ اللَّهُ أَنْ يَهْدِيَهُ يَشْرَحْ صَدْرَهُ لِلْإِسْلَامِ} ، {أَفَمَنْ شَرَحَ اللَّهُ صَدْرَهُ لِلْإِسْلَامِ فَهُوَ عَلَى نُورٍ مِنْ رَبِّهِ} .
...এবং কৃষ্ণাঙ্গদের। মুসলমানদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা ও মুগ্ধতা আরও বেড়ে গেল যখন দেখলাম যে, সমাজের নেতা সাধারণ শ্রমিক, কৃষক, ব্যবসায়ী ও কর্মচারীর পাশে সারিবদ্ধ সুদৃঢ় প্রাচীরের মতো দাঁড়িয়ে আছেন, যেখানে একে অপরকে শক্তিশালী করে; তারা রুকু ও সিজদাবনত অবস্থায় তাদের পালনকর্তাকে ভয় করে এবং তাঁর সন্তুষ্টি ও ক্ষমা প্রার্থনা করে। আমি নিশ্চিত হলাম যে, ইসলাম ও মুসলমানদের গৌরব এই সুন্দর সংহতি ও ভ্রাতৃত্বের মাঝে নিহিত। "তাকওয়া বা খোদাভীতি ছাড়া কোনো আরবের ওপর অনারবের কিংবা অনারবের ওপর আরবের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই; তেমনি শ্বেতাঙ্গের ওপর কৃষ্ণাঙ্গের বা কৃষ্ণাঙ্গের ওপর শ্বেতাঙ্গের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই।"
৪ - আসমানি কিতাবসমূহ:
আমি মসীহ (আলাইহিস সালাম)-এর বাণী পড়েছি, যেমন: "একজন বীজবপনকারী বীজ বুনতে বের হলেন এবং বীজ বোনার সময় কিছু বীজ রাস্তার ধারে পড়ল।" আমি পৌলের লেখাও পড়েছি, যেমন: "আমি আমার অন্তরে আল্লাহর বিধানে আনন্দিত হই, কিন্তু আমার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে ভিন্ন এক বিধান দেখতে পাই যা আমার বিবেকের বিধানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং আমাকে পাপের সেই বিধানের বন্দি করে ফেলে যা আমার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে বিদ্যমান। হায়, আমি কতই না দুর্ভাগা! কে আমাকে এই মৃত্যু-দেহ থেকে রক্ষা করবে?"
দুটি উক্তি: এর মধ্যে একটি মসীহ-এর, যা ভাষার সারল্য ও স্পষ্টতার জন্য অনন্য; অন্যটি অর্থের গভীরতা ও গাম্ভীর্যের জন্য পরিচিত। অথচ উভয়টিকেই মহান আল্লাহর বাণী বলে দাবি করা হয়।
আমি পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহর বাণী পড়েছি: {আলিফ, লাম, মীম। (১) এটি সেই কিতাব, যাতে কোনো সন্দেহ নেই; এটি মুত্তাকিদের জন্য পথপ্রদর্শক...}। এবং কোরআনের শুরু থেকে আল্লাহর এই বাণী পর্যন্ত: {বলুন, আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি মানুষের রবের কাছে, (১) মানুষের অধিপতির কাছে, (২) মানুষের ইলাহ্-র কাছে} সূরার শেষ পর্যন্ত। আমি এগুলো নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা ও গবেষণা করলাম। অতঃপর মহাপরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময় আল্লাহ এই বাণীর মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করে দিলেন: {তবে কি তারা কোরআন নিয়ে গবেষণা করে না? যদি এটি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো পক্ষ থেকে হতো, তবে তারা এতে অনেক অসংগতি দেখতে পেত।} এরপর আল্লাহ তাঁর সৃষ্টিজগতকে চ্যালেঞ্জ করে বলেন: {বলুন, যদি এই কোরআনের মতো কিছু আনার জন্য মানুষ ও জিন সমবেত হয়, তবুও তারা এর মতো কিছু আনতে পারবে না, যদিও তারা একে অপরের সাহায্যকারী হয়।}
এতে আমার বিশ্বাস ও দৃঢ়তা আরও বৃদ্ধি পেল। আমি একটি সিদ্ধান্ত নিলাম এবং ধর্মীয় পেশা থেকে অবসর গ্রহণ করে স্বাধীন ব্যবসায় মনোনিবেশ করলাম। ১৯৫৫ থেকে ১৯৫৯ সাল পর্যন্ত আমি কায়রোর স্ট্যান্ডার্ড স্টেশনারি কোম্পানিতে সততা ও নিষ্ঠার সাথে জীবিকা অর্জনের জন্য কাজ করেছি। তবে গির্জার সাথে আমার অনেক সম্পর্ক তখনও অটুট ছিল।
আল্লাহ চাইলেন আমাকে তাঁর পথে পরিচালিত করতে। তিনিই কি বলেননি: {অতঃপর আল্লাহ যাকে হেদায়েত দিতে চান, তার বক্ষকে ইসলামের জন্য উন্মুক্ত করে দেন}, {আল্লাহ যার বক্ষকে ইসলামের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছেন, সে কি তার রবের পক্ষ থেকে আসা আলোর ওপর নেই?}
(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদুন ফিত তাওরাতি ওয়াল ইনজীলি ওয়াল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১৪)
ويشاء الله أن يعقد بيني وبينه حباً ووداً قائماً، فيهدي إلى سيادة الدكتور محمد عبد المنعم الجمال حيث تلاقينا على تفسير القرآن الكريم، فوسعني في قلبه حباً، وإعجاباً، ووسعني بمنزلة منزلة وكرامة في دراسة وتفسير للقرآن الكريم، وآليت على نفسي أن أعلنها صراحة بقبول الإسلام ديناً، وبراءتي من كل دين يغاير ويخالف دين الإسلام.
ودخلت وأبنائي الأربعة إلى دين الله أفواجاً، نسبح بحمده وتمت كل الإجراءات القانونية من تغيير شهادات الميلاد بموجب قرار وزاري صادر من وزارة الصحة قسم المواليد بتاريخ 30/5/1960 م.
وبهذا انتهيت من الجهاد لاعتناق الإسلام حيث بدأت الجهاد في سبيل الله ورسوله الكريم بحياة إسلامية مضيئة مشرقة نقية طاهرة، وبالدعوة القوية المفعمة بالحب والإخلاص للقرآن الكريم والإسلام الحنيف.
وفقنا الله لما يريد، والعزة لله ولرسوله وللمؤمنين.
إبراهيم خليل أحمد
سابقاً: القس إبراهيم خليل فيلبس
* * *
এবং আল্লাহর অভিপ্রায় ছিল যে, তিনি আমার ও তাঁর মধ্যে এক অটল প্রীতি ও সৌহার্দ্য স্থাপন করবেন। ফলে তিনি আমাকে শ্রদ্ধেয় ডক্টর মুহাম্মদ আব্দুল মোনয়েম আল-জামালের নিকট পথনির্দেশ করেন, যেখানে আমরা পবিত্র কুরআনের তাফসিরের বিষয়ে মিলিত হই। তিনি আমাকে অত্যন্ত ভালোবাসা ও মুগ্ধতার সাথে হৃদয়ে স্থান দিয়েছেন এবং পবিত্র কুরআনের অধ্যয়ন ও তাফসিরের ক্ষেত্রে আমাকে উচ্চমর্যাদা ও সম্মান দান করেছেন। আমি মনেপ্রাণে সংকল্প করেছি যে, আমি ইসলামকে দ্বীন হিসেবে গ্রহণের কথা এবং ইসলাম ধর্মের পরিপন্থী ও বিরোধী সকল ধর্ম হতে আমার সম্পর্কচ্ছেদের কথা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করব।
আমি এবং আমার চার সন্তান দলে দলে আল্লাহর দ্বীনে দাখিল হয়েছি; আমরা তাঁর প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করছি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জন্ম শাখা হতে ৩০/০৫/১৯৬০ খ্রিষ্টাব্দ তারিখে জারিকৃত একটি বিভাগীয় আদেশের ভিত্তিতে জন্মসনদ পরিবর্তনসহ যাবতীয় আইনি কার্যধারা সম্পন্ন হয়েছে।
এর মাধ্যমে ইসলাম গ্রহণের সংগ্রাম সমাপ্ত হলো এবং আল্লাহ ও তাঁর মহিমান্বিত রাসূলের পথে এক আলোকিত, উজ্জ্বল, পরিচ্ছন্ন ও পবিত্র ইসলামী জীবন যাপনের মধ্য দিয়ে এবং পবিত্র কুরআন ও সত্যনিষ্ঠ ইসলামের প্রতি ভালোবাসা ও নিষ্ঠায় পূর্ণ বলিষ্ঠ দাওয়াতের মাধ্যমে জিহাদ শুরু হলো।
আল্লাহ আমাদের তাঁর অভিপ্রায় অনুযায়ী তাওফিক দান করুন। সকল মর্যাদা কেবল আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং মুমিনদের জন্য।
ইব্রাহিম খলিল আহমদ
পূর্বে: যাজক ইব্রাহিম খলিল ফিলিপস
* * *
(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদুন ফিত তাওরাতি ওয়াল ইনজীলি ওয়াল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১৫)
تقريظ للمغفور له الأستاذ علي حسب اللهالأستاذ بكلية دار العلوم بجامعة القاهرة (سابقاً)
{إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الْإِسْلَامُ}
الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على سيدنا محمد خاتم النبيين، وإمام المتقين، أرسله الله بالهدي ودين الحق ليظهره على الدين كله، ففتح به قلوباً غلفاً، وأعيناً عمياً، وارتفع شأنه وعلا ذكره بأولئك الطيبين الطاهرين، الذين سبقوا إلى الإيمان به، ونصروا الرسول بأموالهم وأنفسهم، فسجل الله ذكرهم في كتابه الكريم.
{وَالسَّابِقُونَ الْأَوَّلُونَ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُمْ بِإِحْسَانٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ وَأَعَدَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي تَحْتَهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ}
{سَّابِقُونَ السَّابِقُونَ (10) أُولَئِكَ الْمُقَرَّبُونَ (11) فِي جَنَّاتِ النَّعِيمِ}
لقد أرسل الله محمداً صلى الله عليه وسلم بقواعد الحق، ومبادئ الفطرة السليمة، التي تصلح بها أمور الناس في الدنيا والآخرة، والتي يتقبلها العقل البشري بقبوب حسن إذا بعد التأثر برواسب الجهل، وبواعث الانحراف والضلال، ومن تقليد الآباء، والاعجاب بمظاهر دنيوية لا تمت إلى الحق والخير بصلة، وإذا أراد الله بعبد من عباده الخير والهداية بصره بما في الحق من جمال وانسجام، وبما في تلك العوامل والبواعث من انحراف عن الصراط المستقيم، واتجاه إلى سوء المصير، فسلك إلى الحق طريقه، وبعد عن طريق الهلاك:
মরহুম উস্তাদ আলী হাসাবাল্লাহ-এর একটি প্রশংসামূলক পর্যালোচনা (تقريظ)কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের দারুল উলুম অনুষদের (সাবেক) অধ্যাপক
{নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট একমাত্র মনোনীত দ্বীন হলো ইসলাম}
সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা, নবীকূলের মোহর (خاتم النبيين) এবং মুত্তাকীদের ইমাম মুহাম্মদ-এর ওপর। আল্লাহ তাঁকে হেদায়েত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন যাতে তিনি তাকে সকল ধর্মের ওপর বিজয়ী করেন। তাঁর মাধ্যমে তিনি মোহরবদ্ধ অন্তরসমূহ এবং অন্ধ চক্ষুসমূহ উন্মুক্ত করেছেন। তাঁর মর্যাদা সুউচ্চ হয়েছে এবং তাঁর মহিমা বৃদ্ধি পেয়েছে সেই সকল পবিত্র ও শুদ্ধাত্মা ব্যক্তিদের দ্বারা, যারা তাঁর প্রতি ঈমান আনয়নে অগ্রগামী হয়েছিলেন এবং নিজেদের সম্পদ ও জীবন দিয়ে রাসূলকে সাহায্য করেছিলেন। ফলে আল্লাহ তাঁর সম্মানিত কিতাবে তাদের কথা লিপিবদ্ধ করেছেন।
{আর মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা প্রথম অগ্রগামী (السابقون الأولون) এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসরণ করেছে, আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে। তিনি তাদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছেন জান্নাত, যার তলদেশ দিয়ে নদী প্রবাহিত, যেখানে তারা চিরকাল থাকবে। এটাই মহাসাফল্য।}
{আর যারা অগ্রগামী তারা তো অগ্রগামীই। তারাই তো নৈকট্যপ্রাপ্ত (مقربون), নেয়ামতপূর্ণ জান্নাতসমূহে।}
নিশ্চয়ই আল্লাহ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সত্যের মূলনীতি এবং সুস্থ স্বভাবজাত আদর্শসহ প্রেরণ করেছেন, যার মাধ্যমে দুনিয়া ও আখেরাতে মানুষের কার্যাবলি সংশোধিত হয়। মানব বিবেক একে সুন্দরভাবে গ্রহণ করে, যদি তা জাহেলিয়াতের কলুষতা, বিচ্যুতি ও গোমরাহির কারণসমূহ, পূর্বপুরুষদের অন্ধ অনুকরণ এবং সত্য ও কল্যাণের সাথে সম্পর্কহীন পার্থিব চাকচিক্যের মোহ থেকে মুক্ত থাকে। আল্লাহ যখন তাঁর কোনো বান্দার কল্যাণ ও হেদায়েত চান, তখন তিনি তাকে সত্যের সৌন্দর্য ও সামঞ্জস্য এবং সরল পথ (صراط مستقيم) থেকে বিচ্যুতি ও অশুভ পরিণতির দিকে ধাবিতকারী প্রভাবক ও কারণসমূহ সম্পর্কে অন্তর্দৃষ্টি দান করেন। ফলে সে সত্যের পথে পরিচালিত হয় এবং ধ্বংসের পথ থেকে দূরে থাকে।
(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদুন ফিত তাওরাতি ওয়াল ইনজীলি ওয়াল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১৬)
{فَمَنْ يُرِدِ اللَّهُ أَنْ يَهْدِيَهُ يَشْرَحْ صَدْرَهُ لِلْإِسْلَامِ وَمَنْ يُرِدْ أَنْ يُضِلَّهُ يَجْعَلْ صَدْرَهُ ضَيِّقًا حَرَجًا كَأَنَّمَا يَصَّعَّدُ فِي السَّمَاءِ كَذَلِكَ يَجْعَلُ اللَّهُ الرِّجْسَ عَلَى الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ}
والأخ السيد "إبراهيم خليل أحمد" من المثل الطيبة للتحول من الضلال إلى الهدى بتوفيق من الله تعالى، وبدارسة عاقلة بصيرة، وهو من الأدلة الصادقة على أن توجه إلى الله قبله، ومن تقرب إليه شبراً تقرب الله منه ذراعاً، ومن تقرب إليه ذراعاً تقرب منه باعاً.
لقد أثار العليم الخبير وجدانه بآية سمعها من كتابه الكريم:
قُلْ أُوحِيَ إِلَيَّ أَنَّهُ اسْتَمَعَ نَفَرٌ مِنَ الْجِنِّ فَقَالُوا إِنَّا سَمِعْنَا قُرْآنًا عَجَبًا (1) يَهْدِي إِلَى الرُّشْدِ فَآمَنَّا بِهِ وَلَنْ نُشْرِكَ بِرَبِّنَا أَحَدًا}
فكانت مصباحاً أضاء جوانب قلبه، ووجهه إلى البحث عن الحقيقة، فأخذ يصارع - بإرادة قوية، وعقل واع، ونية طيبة - عقيدة قديمة، تغلقت بقلبه منذ وجد عليها الآباء وقد بوأته متعباً وجاها، وأغدقت عليه رزقاً حسناً، واستمر في ضالة العقلي والنفسي دون أن يلويه عن غرضه منصب أو جاه، أو يفكر فيما هو فيه من سعة الرزق، وما يمكن أن يصير إليه من حاجة. حتى شرح الله صدره وهداه إلى دين الحق أغناه عن كل ما كان فيه:
{إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الْإِسْلَامُ}
لقد رأى من أول الواجبات عليه أن يضع تحت سمع الناس وبصرهم ما وفقه الله إليه من دلائل الحق ومعالم الهدى، فقد يهدي الله به رجلاً واحداً فيكون خيراً له من الدنيا وما فيها، فجعل باكورة عمله في الإسلام ذلك الكتيب، الصغير في حجمه، والكبير في قيمته: "محمد صلى الله عليه وسلم في التوراة والإنجيل" لينبه به الغافلين، ويحفز إلى التفكير همم العاقلين.
{সুতরাং আল্লাহ যাকে হেদায়াত দান করতে চান, ইসলামের জন্য তার বক্ষকে প্রশস্ত করে দেন; আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করতে চান, তার বক্ষকে সংকীর্ণ ও অত্যন্ত সংকুচিত করে দেন, যেন সে আকাশে আরোহণ করছে। এভাবেই যারা ঈমান আনে না, আল্লাহ তাদের ওপর অপবিত্রতা অবধারিত করেন।}
আর জনাব ভাই ‘ইব্রাহিম খলিল আহমদ’ মহান আল্লাহর তাওফিক এবং প্রাজ্ঞ ও দূরদর্শী পর্যালোচনার মাধ্যমে ভ্রষ্টতা থেকে হেদায়াতের দিকে প্রত্যাবর্তনের এক উত্তম দৃষ্টান্ত। তিনি এই সত্যের একনিষ্ঠ প্রমাণ যে, যে ব্যক্তি আল্লাহর দিকে ধাবিত হয়, তিনি তাকে গ্রহণ করেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর দিকে এক বিঘত এগিয়ে আসে, আল্লাহ তার দিকে এক হাত এগিয়ে যান; আর যে এক হাত এগিয়ে আসে, আল্লাহ তার দিকে দুই হাত (প্রসারিত দুই হাতের দূরত্ব) এগিয়ে যান।
মহাজ্ঞানী ও সর্ববিষয়ে সম্যক অবহিত সত্তা তাঁর মহাগ্রন্থের একটি আয়াতের মাধ্যমে তাঁর বিবেককে জাগ্রত করেছেন, যা তিনি শুনেছিলেন:
{বলুন, আমার প্রতি ওহি অবতীর্ণ হয়েছে যে, জিনদের একটি দল মনোযোগ দিয়ে কুরআন শ্রবণ করেছে এবং বলেছে: আমরা এক বিস্ময়কর কুরআন শুনেছি। যা সঠিক পথের দিশা দেয়, ফলে আমরা তাতে ঈমান এনেছি এবং আমরা আমাদের রবের সাথে কাউকেও শরিক করব না।}
এই আয়াতটি তাঁর হৃদয়ের প্রতিটি কোণকে আলোকিত করার প্রদীপ হয়ে উঠেছিল এবং তাঁকে সত্য অনুসন্ধানের পথে পরিচালিত করেছিল। অতঃপর তিনি দৃঢ় সংকল্প, সচেতন বিচারবুদ্ধি এবং নেক নিয়তের সাথে সেই প্রাচীন আকিদাহ বা বিশ্বাসের বিরুদ্ধে সংগ্রাম শুরু করেন, যা তাঁর হৃদয়ে শিকড় গেড়েছিল পিতৃপুরুষদের অনুসরণে। এই আকিদাহ তাঁকে উচ্চ পদমর্যাদা ও সামাজিক প্রতিপত্তি দান করেছিল এবং অঢেল উত্তম রিজিকের ব্যবস্থা করেছিল। তিনি তাঁর বুদ্ধিবৃত্তিক ও মানসিক লড়াই চালিয়ে যান; কোনো পদ বা মর্যাদা তাঁকে তাঁর লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি, আর না তিনি তাঁর বর্তমান সচ্ছলতা কিংবা ভবিষ্যতের সম্ভাব্য অভাবের কথা চিন্তা করেছেন। অবশেষে আল্লাহ তাঁর বক্ষকে প্রশস্ত করে দিলেন এবং তাঁকে সত্য দ্বীনের দিকে হেদায়াত দান করলেন, যা তাঁকে পূর্বের সব কিছু থেকে অমুখাপেক্ষী করে দিল:
{নিশ্চয় আল্লাহর নিকট একমাত্র মনোনীত দ্বীন হলো ইসলাম।}
তিনি এটাকে তাঁর অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হিসেবে গণ্য করলেন যে, আল্লাহ তাঁকে সত্যের যে সব প্রমাণ ও হেদায়াতের নিদর্শন দান করেছেন, তা মানুষের সামনে তুলে ধরবেন। কারণ আল্লাহ যদি তাঁর মাধ্যমে একজন ব্যক্তিকেও হেদায়াত দান করেন, তবে তা তাঁর জন্য দুনিয়া ও এর মধ্যকার সব কিছুর চেয়ে উত্তম হবে। তাই তিনি ইসলাম গ্রহণের পর তাঁর প্রথম কাজ হিসেবে এই পুস্তিকাটি রচনা করেন, যা আকারে ছোট হলেও গুরুত্বে অত্যন্ত মহৎ: "তাওরাত ও ইঞ্জিলে মুহাম্মদ (সা.)"; যাতে এর মাধ্যমে তিনি গাফেল বা অসচেতনদের সতর্ক করতে পারেন এবং বিবেকবানদের সংকল্পকে শাণিত করতে পারেন।
(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদুন ফিত তাওরাতি ওয়াল ইনজীলি ওয়াল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وكان من أظهر ما وجه إليه الأذهان في هذا الكتيب أمور تعتبر في الدين من أصول العقيدة والسلوك المستقيم، وهي من الوضوح بحيث لا ينبغي أن يماري فيها عقل الإنسان، ومن هذه الأمور:
1 - وحدة الإله:
إن وجود هذا الكون - بما فيه من نظام محكم، وتناسق دقيق - يقتضي عقلاً وجود موجد متصف لكل صفات الكمال التي تلائم دقة نظامه وأحكام تناسقه، وهذه قضية سهلة لا التواء فيها، ومن زعم أن الكون لا خالق له، فهو مكابر، يعترف بالأثر وينكر المؤثر. ومن زعم أن له أكثر من خالق فعليه الدليل، ولن يجد دليلاً على وجود معدوم، وإذا لم نكن مطالبين بإقامة الدليل على نفي التعدد، لأن المطالب بالدليل هو المثبت لا النافي - فقد تفضل العليم الحكيم على المنحرفين القائلين بالتعدد بالتنبيه على ما في مقالتهم من فساد بقوله سبحانه:
{لَوْ كَانَ فِيهِمَا آلِهَةٌ إِلَّا اللَّهُ لَفَسَدَتَا}
وبهذا يتقرر في العقل ما قرره القرآن الكريم في قوله سبحانه:
{قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ (1) اللَّهُ الصَّمَدُ (2) لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ (3) وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ}
ويقابل هذه العقيدة السهلة السمحة في الإسلام - عقيدة التثليث المعقدة في المسيحية، التي تنزل الله من عليائه ليحل في بعض خلقه، أو ترفع بعض المخلوقين إلى منزلة الخالق، مما يبلبل أفكار عامة الناس، ويحير جهابذة العلماء.
وقد بين السيد إبراهيم في بحثه أن هذه العقيدة دخيلة على المسيحية، وليس لها وجود في الأصل اليوناني للإنجيل، بل هي مأخوذة من الوثنية الفرعونية، والمبادئ البابلية التي وجدت في لوحة أثرية عثر عليها في بابل، ويرجع تاريخها إلى سنة 1200 ق. م ولم تقرر هذه العقيدة عند المسيحيين إلا في مجمع نيقية المنعقدة سنة 325 م م بدعوة من الإمبراطور قسطنطين بسبب الخلاف بين الأسقف آريوس والشماس أثناسيوس الإسكندريين.
قال الأسقف: إن المسيح مخلوق لله، ومتصف بكل الصفات الإنسانية وتعتريه كل العواطف البشرية، من نوم ويقظة، وفرح وحزن، وغير ذلك، فلا يكون إلهاً بحال.
এই ক্ষুদ্র পুস্তিকাটিতে মানুষের চিন্তাজগতকে যেসব বিষয়ের প্রতি সবচেয়ে স্পষ্টভাবে ধাবিত করা হয়েছে, তার মধ্যে এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা দ্বীনের আকিদার মূলনীতি (أصول العقيدة) এবং সঠিক আচরণের অন্তর্ভুক্ত। এই বিষয়গুলো এতটাই সুস্পষ্ট যে কোনো মানুষের বিবেকের পক্ষে এতে বিতর্ক করা সমীচীন নয়। সেই বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে:
১ - উপাস্যের একত্ব:
এই মহাবিশ্বের অস্তিত্ব—তার সুসংহত ব্যবস্থা এবং সূক্ষ্ম সামঞ্জস্যসহ—বিবেকের দাবি অনুযায়ী এমন একজন অস্তিত্বদাতার প্রয়োজনীয়তা প্রমাণ করে, যিনি এমন সব পূর্ণ গুণাবলীতে গুণান্বিত যা এই মহাবিশ্বের ব্যবস্থার সূক্ষ্মতা ও সামঞ্জস্যের সাথে সংগতিপূর্ণ। এটি একটি সহজ বিষয় যাতে কোনো বক্রতা নেই। আর যে ব্যক্তি দাবি করে যে মহাবিশ্বের কোনো স্রষ্টা নেই, সে মূলত একগুঁয়ে সত্য অস্বীকারকারী; সে প্রভাব বা ফলাফলকে স্বীকার করে কিন্তু প্রভাব বিস্তারকারী বা কারণকে অস্বীকার করে। আর যে দাবি করে যে মহাবিশ্বের একাধিক স্রষ্টা রয়েছে, তাকে প্রমাণ পেশ করতে হবে; আর অস্তিত্বহীন কোনো কিছুর অস্তিত্বের ব্যাপারে সে কখনোই কোনো প্রমাণ পাবে না। যেহেতু আমাদের ওপর বহুত্ববাদের অসারতা প্রমাণের কোনো দায়ভার নেই—কারণ প্রমাণের দাবি তার কাছেই করা হয় যে কোনো কিছু সাব্যস্ত করে, তার কাছে নয় যে তা অস্বীকার করে—তাই সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময় আল্লাহ সেই বিচ্যুত (منحرف) বহুত্ববাদীদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন এবং তাদের বক্তব্যের অসারতা সম্পর্কে এই বাণীর মাধ্যমে সতর্ক করেছেন:
{যদি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে আল্লাহ ব্যতীত আরও উপাস্য থাকত, তবে উভয়ই বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ত।}
এর মাধ্যমে বিবেকের নিকট তা-ই সুপ্রতিষ্ঠিত হয় যা পবিত্র কুরআন মহান আল্লাহর এই বাণীতে সাব্যস্ত করেছে:
{বলুন, তিনিই আল্লাহ, এক। (১) আল্লাহ অমুখাপেক্ষী। (২) তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও জন্ম দেওয়া হয়নি। (৩) আর তাঁর সমতুল্য কেউ নেই। (৪)}
ইসলামের এই সহজ ও উদার আকিদার বিপরীতে রয়েছে খ্রিস্টধর্মের জটিল ত্রিত্ববাদ (تثليث), যা আল্লাহকে তাঁর সুউচ্চ মর্যাদা থেকে নামিয়ে তাঁর কোনো সৃষ্টির মধ্যে বিলীন করে দেয়, অথবা কোনো সৃষ্টিকে স্রষ্টার মর্যাদায় উন্নীত করে। এটি সাধারণ মানুষের চিন্তাধারাকে বিভ্রান্ত করে এবং বিজ্ঞ পণ্ডিতদেরও কিংকর্তব্যবিমূঢ় করে দেয়।
সায়্যিদ ইব্রাহিম তাঁর গবেষণায় স্পষ্ট করেছেন যে, এই আকিদাটি খ্রিস্টধর্মে অনুপ্রবেশকারী (دخيل), এবং ইঞ্জিলের মূল গ্রিক পাণ্ডুলিপিতে এর কোনো অস্তিত্ব নেই। বরং এটি ফারাওদের পৌত্তলিকতা এবং ব্যবিলনীয় নীতিমালা থেকে সংগৃহীত, যা ব্যবিলনে আবিষ্কৃত একটি প্রাচীন ফলকে পাওয়া গেছে, যার ইতিহাস ১২০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের। খ্রিস্টানদের মাঝে এই আকিদাটি ৩২৫ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট কনস্টানটাইনের আহ্বানে অনুষ্ঠিত নিসিয়া কাউন্সিলে গৃহীত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সাব্যস্ত ছিল না। আলেকজান্দ্রিয়ার বিশপ আরিউস এবং ডিকন অ্যাথানাসিয়াসের মধ্যকার বিরোধের কারণে এই কাউন্সিলটি আহ্বান করা হয়েছিল।
বিশপ বলেছিলেন: নিশ্চয়ই মসীহ আল্লাহর একজন সৃষ্টি (مخلوق), এবং তিনি সমস্ত মানবিক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। তাঁর মাঝে ঘুম ও জাগরণ, আনন্দ ও দুঃখের মতো সকল মানবিক আবেগ-অনুভূতি পরিলক্ষিত হয়; সুতরাং তিনি কোনোভাবেই ইলাহ বা উপাস্য হতে পারেন না।
(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদুন ফিত তাওরাতি ওয়াল ইনজীলি ওয়াল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وقال الشماس: إن المسيح ابن الله، والابن لابد أن يكون مساوياً للأب، لأنهما من عنصر واحد، فلابد أن يكون المسيح إلهاً مثل أبيه.
وقد صدر قرار بإدانة الأسقف، لأن فكرته تقلل من شأن المسيح، كأن المسيح لا يرتفع شأنه - وهو بشر - إلا إذا وضع - برغم أنف العقل والنصوص الدينية - في مصاف الآلهة.
وفي سنة 334 دعا الإمبراطور قسطنطين إلى مجمع صور، الذي قرر إلغاء قرارات مجمع نيقية، وعفا عن الأسقف، وقبل تعاليمه.
ثم مازالت المجامع تنعقد، وتقرر القرارات المختلفة - مما يدل على اضطراب العقيدة وعدم اعتمادها على أساس - حتى انقسم المسيحيون بسبب قرارات مجمع القسطنطينية الرابع سنة 869 م - قسمين، وأصبح لهم كنيستان: شرقية أرثوذكسية بالقسطنطينية، وغربية كاثوليكية بروما، ثم كانت حركة مارتن لوثر سنة 1517م التي نشأت بسسها كنيسة ثالثة بروتستانتية بألمانيا، انتقلت بعد إلى انجلبترا والولايات المتحدة.
وقد اكتشفت حديثاً فوق هضبة بجوار البحر الميت - مخطوطات يرجع تاريخها إلى سنة 100 ق. فيها معلومات تصحح الفكرة الخاطئة عن ألوهية المسيح عليه السلام، وقد أرسل الدكتور تريفور صورة منها إلى الدكتور و. ف. ألبرايث - وهو حجة في علم آثار الإنجيل فهنأه على هذا الكشف، وقال: إنه " لا يشك أحد في العالم في صحة هذه المخطوطات التي ستحدث ثورة في فكرتنا عن المسيحية".
ويؤخذ من هذه المخطوطات أن عيسى عليه السلام ابن الإنسان وليس ابن الله كما ادعى أتباعه من قبل.
2 - غفران الذنوب:
يقول الله تعالى في القرآن الكريم: {إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ}
শয়মাস (ডিকন) বলেন: মসীহ আল্লাহর পুত্র, আর পুত্রের জন্য পিতার সমতুল্য হওয়া আবশ্যক, কারণ তারা উভয়ই একই উপাদানের অন্তর্ভুক্ত; সুতরাং মসীহের জন্য তাঁর পিতার মতো ইলাহ (উপাস্য) হওয়া আবশ্যক।
বিশপকে নিন্দা জানিয়ে একটি সিদ্ধান্ত জারি করা হয়েছিল, কারণ তাঁর মতবাদ মসীহের মর্যাদাকে সংকুচিত করে। যেন মসীহ—যিনি একজন মানুষ—তাঁর মর্যাদা ততক্ষণ পর্যন্ত উচ্চ হয় না, যতক্ষণ না তাকে—বিবেচনা ও ধর্মীয় পাঠের বিপরীতে—উপাস্যদের কাতারে শামিল করা হয়।
৩৩৪ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট কনস্টানটাইন টায়ার কাউন্সিল আহ্বান করেন, যা নাইসিয়া কাউন্সিলের সিদ্ধান্তগুলো বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয়। তিনি বিশপকে ক্ষমা করে দেন এবং তাঁর শিক্ষা গ্রহণ করেন।
এরপর থেকে কাউন্সিলগুলো ক্রমাগত বসতে থাকে এবং বিভিন্ন ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে থাকে—যা আকিদাহ বা বিশ্বাসের অস্থিরতা এবং কোনো সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর এটি প্রতিষ্ঠিত না হওয়ার প্রমাণ দেয়। এমনকি ৮৬৯ খ্রিস্টাব্দে চতুর্থ কনস্টান্টিনোপল কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের কারণে খ্রিস্টানরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে এবং তাদের দুটি গির্জা তৈরি হয়: কনস্টান্টিনোপলে পূর্ব অর্থোডক্স এবং রোমে পশ্চিম ক্যাথলিক। এরপর ১৫১৭ খ্রিস্টাব্দে মার্টিন লুথারের আন্দোলন শুরু হয়, যার ফলে জার্মানিতে তৃতীয় একটি গির্জা প্রোটেস্ট্যান্টের উদ্ভব ঘটে, যা পরবর্তীতে ইংল্যান্ড ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ছড়িয়ে পড়ে।
সম্প্রতি মৃত সাগরের নিকটবর্তী এক মালভূমিতে এমন কিছু পাণ্ডুলিপি আবিষ্কৃত হয়েছে যার ইতিহাস ১০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের। এতে এমন কিছু তথ্য রয়েছে যা মসীহ (আলাইহিস সালাম)-এর উপাসত্ব সম্পর্কে ভুল ধারণাকে সংশোধন করে। ডক্টর ট্রেভর এর একটি অনুলিপি ডক্টর ডব্লিউ. এফ. অলব্রাইটের নিকট প্রেরণ করেন—যিনি বাইবেলের প্রত্নতত্ত্বের ক্ষেত্রে একজন প্রামাণ্য (حجة) ব্যক্তিত্ব—তিনি এই আবিষ্কারের জন্য তাকে অভিনন্দন জানান এবং বলেন: "বিশ্বের কেউ এই পাণ্ডুলিপিগুলোর বিশুদ্ধতা (صحة) নিয়ে সন্দেহ করবে না, যা খ্রিস্টধর্ম সম্পর্কে আমাদের ধারণায় এক বিপ্লব ঘটাবে।"
এই পাণ্ডুলিপিগুলো থেকে এটিই প্রমাণিত হয় যে, ঈসা (আলাইহিস সালাম) ছিলেন মানুষের সন্তান, আল্লাহর পুত্র নন—যেমনটি তাঁর অনুসারীরা ইতিপূর্বে দাবি করেছিল।
২ - পাপ মোচন:
মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শিরক করাকে ক্ষমা করেন না এবং এছাড়া অন্য সব কিছু যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন।"
(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদুন ফিত তাওরাতি ওয়াল ইনজীলি ওয়াল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১৯)
ويقول سبحانه وتعالى: {قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَى أَنْفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِنْ رَحْمَةِ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ (53) وَأَنِيبُوا إِلَى رَبِّكُمْ وَأَسْلِمُوا لَهُ مِنْ قَبْلِ أَنْ يَأْتِيَكُمُ الْعَذَابُ ثُمَّ لَا تُنْصَرُونَ}
ويقول الله تعالى: {فَمَنْ تَابَ مِنْ بَعْدِ ظُلْمِهِ وَأَصْلَحَ فَإِنَّ اللَّهَ يَتُوبُ عَلَيْهِ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ}
وفي الحديث القدسي أن رب العزة جل جلاله يقول: "يا عبادي، إنكم تخطئون بالليل والنهار، وأنا أغفر الذنوب جميعاً، فاستغفروني أغفر لكم، وبهذا كان باب التوبة في الإسلام مفتوحاً لكل من يطرقه من بني الإنسان، وتقبل توبة التائب - بندمه على ما فرط منه، ومعاهدته ربه على عدم العودة إلى ما يغضبه، ولا تتوقف على شيء من غيره.
أما في المسيحية "بدون سفك دم لا تحصل مغفرة" و"أحب الله العالم حتى بذل ابنه الحبيب لكيلا يهلك كل من يؤمن به، بل تكون له الحياة الأبدية"، وهو كلا تظهر عليه مسحه الوضع البشري، لاستهواء أفئدة العامة، وحملهم على حب المسيح، والإيمان به. ولا يدري عاقل كيف يصل العجز بالإله إلى الحد الذي لا يستطيع معه أن يغفر للبشر إلا بتقديم ابنه الحبيب قرباناً، فإلى من يتقرب؟ وإلى من يتقدم بالرجاء؟ وكيف تغفر ذنوب السابقين واللاحقين بتقديم ابنه قرباناً؟ وهل هذا إلا فتح لباب المعصية في المستقبل اعتماداً على هذا الغفران؟
وقد نقل إلينا إبراهيم في هذا الموضع كلام العلامة روى ديسكون سميث في كتابه "ضوء جديد على البعث" إذ قال: "لا يوجد متدين مهما كان مذهبه أو فرقته يعتقد أن الله العظيم قد أرسل ابنه الوحيد إلى هذه البشرية التي لا تساوي - في مجموعها منذ بدء الخلق إلى نهايته - كوكباً من الكواكب المتناهية في الصغر، لكي يعاني موتاً وحشياً على الصليب، لترضيه النقمة الإلهية على البشر، ولكي يساعد جلالته على أن يغفر للبشرية على شرط أن تعلن البشرية اعترافها بهذا العمل الهمجي - ألا وهو الفداء - الذي لا يستسيغه عقل
… ولماذا لا نقول: إن الله العالم بما سيكون سمح بتضحية رسوله لا ليغفر للبشرية جرائمها، بل لتكون هذه الحادثة سبباً في انتشار الإنجيل".
এবং মহান আল্লাহ তাআলা বলেন: {বলুন, হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজেদের ওপর বাড়াবাড়ি করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেন। তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (৫৩) আর তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের অভিমুখী হও এবং তাঁর কাছে আত্মসমর্পণ করো তোমাদের কাছে আযাব আসার পূর্বেই; এরপর তোমাদের সাহায্য করা হবে না।}
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {অতঃপর যে ব্যক্তি তার জুলুমের পর তওবা করে এবং নিজেকে সংশোধন করে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তার তওবা কবুল করবেন। নিঃসন্দেহে আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।}
এবং হাদিসে কুদসিতে এসেছে যে, ইজ্জতের মালিক মহান রব বলেন: "হে আমার বান্দাগণ, তোমরা দিনরাত গুনাহ করো, আর আমি সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করি। সুতরাং তোমরা আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো, আমি তোমাদের ক্ষমা করে দেবো।" এভাবেই ইসলামে তওবার দরজা প্রত্যেক মানুষের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। তওবাকারীর তওবা কবুল করা হয়—তার কৃতকর্মের জন্য অনুশোচনা এবং তার রবের সাথে এই অঙ্গীকারের মাধ্যমে যে, সে আর এমন কাজে লিপ্ত হবে না যা তাঁকে রাগান্বিত করে; আর এটি অন্য কোনো কিছুর ওপর নির্ভর করে না।
পক্ষান্তরে খ্রিস্টধর্মে "রক্তপাত ছাড়া পাপমোচন হয় না" এবং "ঈশ্বর জগৎকে এতই ভালোবাসলেন যে তাঁর একমাত্র পুত্রকে দান করলেন, যাতে যে কেউ তাঁর ওপর বিশ্বাস করে সে যেন বিনষ্ট না হয়, বরং অনন্ত জীবন পায়।" এটি এমন এক বক্তব্য যার ওপর মানবীয় জালিয়াতির (وضع) ছাপ স্পষ্ট, যা সাধারণ মানুষের হৃদয় জয় করার জন্য এবং মসিহের প্রতি ভালোবাসা ও তাঁর ওপর বিশ্বাস স্থাপনে উদ্বুদ্ধ করার জন্য রচিত। কোনো বিবেকবান ব্যক্তি বুঝতে পারেন না যে, স্রষ্টার অক্ষমতা কীভাবে এই পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে যে তিনি তাঁর প্রিয় পুত্রকে উৎসর্গ করা ছাড়া মানুষকে ক্ষমা করতে পারেন না! তিনি কার নৈকট্য লাভ করতে চান? কার কাছে তিনি বিনতি নিবেদন করেন? আর পুত্রকে উৎসর্গ করার মাধ্যমে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের গুনাহ কীভাবে মাফ হয়ে যায়? এটি কি এই ক্ষমার ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতে পাপাচারের পথ উন্মুক্ত করে দেওয়া নয়?
ইব্রাহিম এই স্থানে প্রখ্যাত পণ্ডিত রয় ডিকসন স্মিথের তাঁর "নিউ লাইট অন দ্য রিসারেকশন" গ্রন্থে প্রদত্ত বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন যেখানে তিনি বলেছেন: "এমন কোনো ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি নেই, তার মতাদর্শ বা দল যা-ই হোক না কেন, যিনি বিশ্বাস করবেন যে মহান ঈশ্বর তাঁর একমাত্র পুত্রকে এই মানবজাতির কাছে পাঠিয়েছেন—যারা সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একত্রিত করলেও মহাকাশের অতি ক্ষুদ্র গ্রহগুলোর একটির সমানও নয়—যাতে তিনি ক্রুশের ওপর নির্মম মৃত্যু বরণ করেন এবং এর মাধ্যমে মানুষের প্রতি ঐশ্বরিক ক্রোধ প্রশমিত হয়। আর এটি মহিমান্বিত স্রষ্টাকে মানবজাতিকে ক্ষমা করতে এই শর্তে সাহায্য করে যে, মানবজাতিকে এই বর্বর কাজ—অর্থাৎ প্রায়শ্চিত্ত—স্বীকার করতে হবে, যা কোনো সুস্থ বিবেক গ্রহণ করে না
… আমরা কেন বলি না যে, ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অবগত আল্লাহ তাঁর রাসূলের আত্মত্যাগকে অনুমতি দিয়েছেন মানবজাতির অপরাধ ক্ষমা করার জন্য নয়, বরং এই ঘটনাকে ইঞ্জিল প্রচারের একটি কারণ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।"
(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদুন ফিত তাওরাতি ওয়াল ইনজীলি ওয়াল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২০)
وقد ذكر السيد إبراهيم أن الصليب اتخذ شعاراً منذ آلاف السنين قبل المسيح عليه السلام، وجاء في إنجيل برنابا - أن المسيح عليه السلام لم يقتل ولم يصلب، وإنما وقع القتل والصلب بشبيه به، وأن محمداً صلى الله عليه وسلم متى جاء سيكشف هذا الخداع للذين يؤمنون بشريعة الله، وقد نفى القرآن الكريم ذلك حقاً في قوله تعالى:
{وَقَوْلِهِمْ إِنَّا قَتَلْنَا الْمَسِيحَ عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ رَسُولَ اللَّهِ وَمَا قَتَلُوهُ وَمَا صَلَبُوهُ وَلَكِنْ شُبِّهَ لَهُمْ}
3 - المساواة بين الناس:
يقول الله تعالى في كتابه الكريم: {يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُمْ مِنْ ذَكَرٍ وَأُنْثَى وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ}
ويقول الرسول الكريم محمد صلى الله عليه وسلم: "أيها الناس، إن ربكم واحد، وإن أباكم واحد، كلكم لآدم، وآدم من تراب، أكرمكم عند الله أتقاكم".
ويقول صلى الله عليه وسلم: "لا فصل لعربي على عجمي، ولا لعجمي على عربي، ولا لأسود على أحمر، ولا لأحمر على أسود - إلا بالتقوى"
فالقياس الذي يتفاضل به الناس عند الله هو التقوى والعمل الصالح، أما الجنس واللون فلا أثر لشيء منهما في رفعة شأنهم أو ضعته.
أما الأناجيل الموضوعة فقد ورد فيها تفاخرهم بأنهم أولاد حرة لا أولاد أمة: "إذن لسنا أولاد جارية، بل أولاد حرة". ولا يزال لهذا المعنى رواسب في نفوس القوم إلى اليوم، يظهر أثرها في التفرقة العنصرية في أمريكا وجنوب أفريقيا.
4 - البشارة بمحمد صلى الله عليه وسلم:
قال الله تعالى: {وَإِذْ قَالَ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ يَا بَنِي إِسْرَائِيلَ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ مُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَيَّ مِنَ التَّوْرَاةِ وَمُبَشِّرًا بِرَسُولٍ يَأْتِي مِنْ بَعْدِي اسْمُهُ أَحْمَدُ}
وقد بين السيد إبراهيم أن هذه البشارة وردت في التوراة والإنجيل.
وردت في التوراة في قوله: "أقيم لهم نبياً من وسط إخوتهم مثلك، لأجعل كلامي
জনাব ইব্রাহিম উল্লেখ করেছেন যে, ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর হাজার বছর আগে থেকেই ক্রুশকে প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছিল। বার্নাবাসের ইনজিলে এসেছে যে—ঈসা (আলাইহিস সালাম) নিহত হননি এবং তাকে ক্রুশবিদ্ধও করা হয়নি; বরং তাঁর সদৃশ অন্য কাউকে হত্যা ও ক্রুশবিদ্ধ করা হয়েছিল। আর মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন আসবেন, তখন তিনি আল্লাহর শরিয়তে বিশ্বাসীদের কাছে এই প্রতারণা উন্মোচন করবেন। কুরআন মজিদ মহান আল্লাহর বাণীতে এটি সত্যভাবেই অস্বীকার করেছে:
“এবং তাদের এই কথা বলার কারণে যে, আমরা আল্লাহর রাসূল মারয়াম-তনয় ঈসা মসীহকে হত্যা করেছি; অথচ তারা তাকে হত্যা করেনি এবং ক্রুশবিদ্ধও করেনি, বরং তাদের কাছে তাকে সদৃশ করে দেওয়া হয়েছিল।”
৩ - মানুষের মাঝে সমতা:
মহান আল্লাহ তাঁর পবিত্র গ্রন্থে বলেন: “হে মানুষ, আমি তোমাদেরকে এক পুরুষ ও এক নারী থেকে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি যাতে তোমরা একে অপরের সাথে পরিচিত হতে পারো। তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সেই সবচেয়ে বেশি মর্যাদাবান, যে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মুত্তাকি।”
এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন: “হে লোকসকল! তোমাদের রব একজন এবং তোমাদের পিতাও একজন। তোমরা সবাই আদমের সন্তান, আর আদম মাটি থেকে সৃষ্টি। আল্লাহর কাছে তোমাদের মধ্যে সেই সবচেয়ে বেশি সম্মানিত, যে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মুত্তাকি।”
তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরও বলেন: “অনারবের ওপর আরবের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই, আরবের ওপর অনারবের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই, কালোর ওপর লালের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই এবং লালের ওপর কালোর কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই—তাকওয়া (পরহেজগারিতা) ব্যতীত।”
সুতরাং আল্লাহর কাছে মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব বিচার করার মানদণ্ড হলো তাকওয়া ও নেক আমল। বংশমর্যাদা বা বর্ণের কোনো প্রভাব তাদের উচ্চ মর্যাদা বা হীনতার ক্ষেত্রে নেই।
অন্যদিকে জাল (الموضوعة) ইনজিলসমূহে তাদের অহংকার প্রকাশ পেয়েছে এই বলে যে, তারা স্বাধীন নারীর সন্তান, দাসীর সন্তান নয়: “সুতরাং আমরা দাসীর সন্তান নই, বরং স্বাধীন নারীর সন্তান।” এই ধারণার অবশিষ্টাংশ আজও এই জাতির মনে বিদ্যমান রয়েছে, যার প্রভাব আমেরিকা ও দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবৈষম্যের মধ্যে ফুটে ওঠে।
৪ - মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুসংবাদ:
মহান আল্লাহ বলেন: “আর যখন মারয়াম-তনয় ঈসা বলল, হে বনী ইসরাঈল! আমি তোমাদের কাছে আল্লাহর প্রেরিত রাসূল, আমার পূর্ববর্তী তাওরাতের সত্যায়নকারী এবং এমন এক রাসূলের সুসংবাদদাতা যিনি আমার পরে আসবেন, যাঁর নাম হবে আহমদ।”
জনাব ইব্রাহিম স্পষ্ট করেছেন যে, এই সুসংবাদ তাওরাত ও ইনজিলে বর্ণিত হয়েছে।
এটি তাওরাতে এই বাণীতে এসেছে: “আমি তাদের জন্য তাদের ভাইদের মধ্য থেকে তোমার মতো একজন নবী পাঠাবো, যাতে আমার বাণী অর্পণ করব...”
(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদুন ফিত তাওরাতি ওয়াল ইনজীলি ওয়াল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২১)
في فمه، فيكلمهم بكل ما أوصيه به" وهي عبارة مجملة، فسرها اليهود بمجئ رسول منهم، لا من ولد إسماعيل، وكأن الله تعالى جعل هذه العبارة مجملة، وألهمهم هذا التفسير حفظاً لهذه البشارة، لأنهم لو عرفوا أن الرسول المبشر به سيكون من ولد إسماعيل لأخفوها أو محوها وقد أثبتت الأيام أن الرسول المبشر به هو محمد صلى الله عليه وسلم.
ورد في الإنجيل ما يدل على انتقال النبوة من ولد إسحاق إلي ولد إسماعيل في قوله: "الحجر الذي رفضه البناءون قد صار رأس الزاوية، من قبل الرب كان هذا، وهو عحيب في أعيننا، كذلك اقول لكم: إن ملكوت الله ينزع منكم، ويعطي لأمة تعمل أثماره".
والحجر الذي رفضه البناءون كناية عن إسماعيل عليه السلام جد محمد صلى الله عليه وسلم الذي قال: "مثلي ومثل الأنبياء من قبلي كمثل رجل بنى بنياناً فأحسنه وأجمله إلا موضع لبنة في زاوية من زواياه، فجعل الناس يطوفون به، ويعجبهم البناء فيقولون: ألا وضعت ها هنا لبنة ليتم البناء؟ فأنا اللبنة جئت فختمت الأنبياء".
وقال المسيح عليه السلام للحواريين: "إن لي أموراً كثيرة أيضاً لأقول لكم، ولكن لا تستطيعون الآن أن تحتملوا وأما مت جاء ذاك - روح الحق - فهو يرشدكم إلى جميع الحق، لأنه لا يتكلم من نفسه، بل كل ما يسمع يتكلم به، ويخبركم بأمور آيته".
ويؤخذ من المخطوطات التي عثر عليها بجوار البحر الميت كذلك أن عيسى كان مسيا المسيحيين وأن هناك مسيا آخر سيأتي بعده، وقد قال عنه المسيح: "ومتى جاء المعزى - البار قليط - فهو يشهد لي". ومحمد صلى الله عليه وسلم هو الذي جاء بعده، فشهد له وأنصفه، ودافع عنه وعن العقيدة الصحيحة التي جاء بها.
وقد جاء في إنجيل برنابا - الذي استبعدته الكنيسة في عهدها الأول، وحرم البا جلاسيوس قراءته سنة 492 م - ما يؤيد هذه المخطوطات ما فيها من إجمال قال: "فلما كان الناس قد دعوني الله، وابن الله - على أني كنت بريئاً في العالم - أراد الله أن يهزأ الناس في هذا العالم بموت يهوذا معتقدين أنني أنا الذي مت على الصليب لكيلا تهزأ الشياطين بي في يوم الدينونة وسيبقى هذا إلى أن يأتي محمد رسول الله،
"...তার মুখে, আর আমি তাকে যা আদেশ করব সে তাদের কাছে তা-ই ব্যক্ত করবে।" এটি একটি সংক্ষিপ্ত (مجمل) বাক্য, যা ইহুদিরা তাদের নিজেদের মধ্য থেকে একজন রাসূলের আগমনের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেছে, ইসমাইল (আ.)-এর বংশধর থেকে নয়। মনে হয় আল্লাহ তাআলা এই সুসংবাদটি রক্ষার নিমিত্তে এই বাক্যটিকে সংক্ষিপ্ত (مجمل) রেখেছেন এবং তাদের অন্তরে এই ব্যাখ্যার উদয় ঘটিয়েছেন। কারণ তারা যদি জানতে পারত যে, সুসংবাদ প্রদানকৃত সেই রাসূল ইসমাইল (আ.)-এর বংশ থেকে আসবেন, তবে তারা তা গোপন করত অথবা মুছে ফেলত। আর মহাকাল প্রমাণ করেছে যে, সুসংবাদ প্রদানকৃত সেই রাসূল হলেন মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)।
ইঞ্জিলে এমন কিছু বর্ণিত হয়েছে যা ইসহাক (আ.)-এর বংশধর থেকে ইসমাইল (আ.)-এর বংশধরে নবুওয়াত স্থানান্তরের প্রমাণ দেয়। সেখানে বলা হয়েছে: "যে পাথরটিকে নির্মাতারা প্রত্যাখ্যান করেছিল, সেটিই কোণের প্রধান পাথরে পরিণত হয়েছে। এটি রবের পক্ষ থেকে হয়েছে এবং আমাদের দৃষ্টিতে এটি এক বিস্ময়কর বিষয়। একইভাবে আমি তোমাদের বলছি: আল্লাহর রাজত্ব তোমাদের থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হবে এবং এমন এক জাতিকে দেওয়া হবে যারা তার ফল দান করবে।"
আর নির্মাতাদের দ্বারা প্রত্যাখ্যাত সেই পাথরটি হলো মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পূর্বপুরুষ ইসমাইল (আ.)-এর প্রতি একটি রূপক (كناية)। মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমার এবং আমার পূর্ববর্তী নবীদের উদাহরণ সেই ব্যক্তির মতো, যে একটি দালান নির্মাণ করল এবং তাকে অত্যন্ত সুন্দর ও সুশোভিত করল, কিন্তু তার এক কোণে একটি ইটের জায়গা খালি রেখে দিল। মানুষ তার চারপাশ দিয়ে ঘুরে দেখতে লাগল এবং দালানটি দেখে বিমুগ্ধ হয়ে বলতে লাগল, 'এখানে কেন একটি ইট রাখা হলো না যাতে নির্মাণটি পূর্ণতা পেত?' আমিই সেই ইট এবং আমিই নবীগণের সমাপ্তি দানকারী।"
ঈসা (আ.) তাঁর শিষ্যদের (حواريين) বলেছিলেন: "তোমাদের বলার মতো আমার আরও অনেক কথা আছে, কিন্তু তোমরা এখন তা সহ্য করতে পারবে না। তবে যখন সেই 'সত্যের আত্মা' আসবে, তিনি তোমাদের পূর্ণ সত্যের দিকে পরিচালিত করবেন। কেননা তিনি নিজের পক্ষ থেকে কিছু বলবেন না, বরং যা শুনবেন তা-ই বলবেন এবং তিনি তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শনের বিষয়াদি সম্পর্কে অবহিত করবেন।"
মৃত সাগরের সন্নিকটে পাওয়া পাণ্ডুলিপিগুলো থেকেও একইভাবে জানা যায় যে, ঈসা (আ.) ছিলেন খ্রিস্টানদের মসিহ এবং তাঁর পরে অন্য একজন মসিহ আসবেন। তাঁর সম্পর্কে ঈসা (আ.) বলেছেন: "যখন সেই সান্ত্বনাদানকারী (পারাক্লিত) আসবে, সে আমার পক্ষে সাক্ষ্য দেবে।" আর মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-ই সেই ব্যক্তি যিনি তাঁর পরে এসেছেন, তাঁর পক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছেন, তাঁর প্রতি ইনসাফ করেছেন এবং তিনি ও তাঁর আনীত সঠিক আকিদাহ (العقيدة) রক্ষা করেছেন।
বার্নাবাসের ইঞ্জিলে—যাকে গির্জা তার প্রাথমিক যুগে বর্জন করেছিল এবং পোপ জেলাসিয়াস ৪৯২ খ্রিস্টাব্দে যার পাঠ নিষিদ্ধ করেছিলেন—এমন কিছু তথ্য রয়েছে যা এই পাণ্ডুলিপিগুলোর বিষয়বস্তুকে সমর্থন করে। সেখানে সংক্ষিপ্তভাবে (إجمال) বলা হয়েছে: "মানুষ যখন আমাকে ঈশ্বর ও ঈশ্বরের পুত্র বলে ডাকতে শুরু করল—অথচ আমি পৃথিবীতে এ থেকে পবিত্র ছিলাম—তখন আল্লাহ চাইলেন যে, ইহুদার মৃত্যুর মাধ্যমে এই দুনিয়ার মানুষকে উপহাসের পাত্র বানাতে, যেন তারা বিশ্বাস করে যে আমিই ক্রুশে মৃত্যুবরণ করেছি। এটি করা হয়েছে যাতে কিয়ামতের দিন শয়তানরা আমাকে নিয়ে উপহাস করতে না পারে। আর এই অবস্থা ততক্ষণ বজায় থাকবে যতক্ষণ না আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ আসবেন..."
(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদুন ফিত তাওরাতি ওয়াল ইনজীলি ওয়াল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২২)
الذي متى جاء كشف هذا الخداع للذين يؤمونون بشريعة الله".
وبهذا تكون البشارة في الإنجيل المختلفة مطابقة للبشارة في التوارة، فللبشرية نبي كموسى، من وسط إخوتهم، وينزل عليه كتاب يكلم الناس بما فيه، وهو روح الحق، لا يتكلم من نفسه، بل بما يوحى به إليه، وصدق الله العظيم في قوله تعالى:
{وَالنَّجْمِ إِذَا هَوَى (1) مَا ضَلَّ صَاحِبُكُمْ وَمَا غَوَى (2) وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى (3) إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى (4) عَلَّمَهُ شَدِيدُ الْقُوَى}
ومهما أخفى القوم من الأناجيل الصحيحة فإن القرآن الكريم قد تكفل ببيان ما لابد من بيانه مما أخفوا، قال تعالى:
{يَا أَهْلَ الْكِتَابِ قَدْ جَاءَكُمْ رَسُولُنَا يُبَيِّنُ لَكُمْ كَثِيرًا مِمَّا كُنْتُمْ تُخْفُونَ مِنَ الْكِتَابِ وَيَعْفُو عَنْ كَثِيرٍ قَدْ جَاءَكُمْ مِنَ اللَّهِ نُورٌ وَكِتَابٌ مُبِينٌ (15) يَهْدِي بِهِ اللَّهُ مَنِ اتَّبَعَ رِضْوَانَهُ سُبُلَ السَّلَامِ وَيُخْرِجُهُمْ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ بِإِذْنِهِ وَيَهْدِيهِمْ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ}
وهكذا يسلط السيد إبراهيم خليل الأضواء على أشهر مواضع الخلاف بين الديانتين المسيحية والإسلامية بخبرته السابقة، ويستخلص الحق فيما وقع فيه الخلاف، مؤيداً ما اهتدى إليه بالعقل والنقل، ومبيناً منشأ ما عليه القوم من انحراف في العقيدة، وأن الحكام وبعض رجال الدين أرادوا بتضليلهم الولاية على الشعب واستغلاله.
والله ولي التوفيق، وهو حسبنا ونعم الوكيل.
علي حسب الله.
"যিনি যখন আসবেন, তখন আল্লাহর শরিয়তে বিশ্বাসীদের কাছে এই প্রতারণা উন্মোচিত করে দেবেন।"
এর মাধ্যমে ইঞ্জিলের বিভিন্ন সুসংবাদ তওরাতের সুসংবাদের সাথে সংগতিপূর্ণ হয়; মানবজাতির জন্য মূসার ন্যায় একজন নবী তাদের ভাইদের মধ্য থেকে আবির্ভূত হবেন, যাঁর ওপর একটি কিতাব অবতীর্ণ হবে এবং তিনি তাতে যা আছে তা মানুষের কাছে ব্যক্ত করবেন। তিনি সত্যের আত্মা, তিনি নিজের থেকে কিছু বলেন না, বরং তাঁর প্রতি যা ওহি (وحي) করা হয় তাই বলেন। মহান আল্লাহ তাঁর বাণীতে সত্য বলেছেন:
{শপথ নক্ষত্রের, যখন তা অস্তমিত হয় (১) তোমাদের সঙ্গী পথভ্রষ্ট হননি এবং বিভ্রান্তও হননি (২) আর তিনি নিজ প্রবৃত্তি থেকে কথা বলেন না (৩) এটি তো কেবল ওহি (وحي), যা তাঁর প্রতি প্রত্যাদেশ করা হয় (৪) তাঁকে শিক্ষা দিয়েছেন প্রবল শক্তিশালী এক সত্তা (৫)}
তারা সহিহ (صحيح) ইঞ্জিলসমূহের যা কিছুই গোপন করুক না কেন, পবিত্র কুরআন তাদের গোপন করা বিষয়গুলোর মধ্য থেকে যা বর্ণনা করা অপরিহার্য তার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। মহান আল্লাহ বলেন:
{হে আহলে কিতাব! তোমাদের কাছে আমার রাসূল এসেছেন, তোমরা কিতাবের যা গোপন করতে তিনি তার অনেক কিছুই তোমাদের কাছে প্রকাশ করছেন এবং অনেক কিছুই এড়িয়ে যাচ্ছেন। তোমাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি নূর ও স্পষ্ট কিতাব এসেছে (১৫) এর মাধ্যমে আল্লাহ যারা তাঁর সন্তুষ্টির অনুসরণ করে তাদের শান্তির পথে পরিচালিত করেন এবং নিজ ইচ্ছায় তাদের অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন এবং তাদের সরল পথের দিশা দেন (১৬)}
এভাবেই জনাব ইব্রাহিম খলিল তাঁর পূর্ব অভিজ্ঞতা দিয়ে খ্রিস্টধর্ম ও ইসলামের মধ্যকার সর্বাধিক পরিচিত মতভেদপূর্ণ বিষয়গুলোর ওপর আলোকপাত করেছেন। তিনি বিতর্কের বিষয়গুলো থেকে সত্য উদ্ঘাটন করেছেন এবং যুক্তি ও বর্ণনাগত দলিলের (النقل) নিরিখে তিনি যা লাভ করেছেন তাকে সমর্থন করেছেন। সেই সাথে তিনি ওই জাতির আকিদাগত বিচ্যুতির উৎস এবং কীভাবে শাসক ও কিছু ধর্মযাজক জনগণকে বিভ্রান্ত করে তাদের ওপর কর্তৃত্ব ও শোষণের উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে চেয়েছিল তা স্পষ্ট করেছেন।
আল্লাহই তাওফিকদাতা, তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।
আলী হাসাবুল্লাহ।
(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদুন ফিত তাওরাতি ওয়াল ইনজীলি ওয়াল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৩)
تقريظ للمغفور له الشيخ عبد الحليم محمود علي شيخ الجامع الأزهر السابق:الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على سيدنا محمد خاتم النبيين وآله وصحبه والتابعين، وبعد:
فقد طوف بنا الأخ الفاضل الأستاذ إبراهيم خليل أحمد، على مراحل التحريف للدين المسيحي مستنداً لها بأسانيد تاريخية ودينية في عرض مقارن.
وخلص من كل ذلك إلى دين الحق الذي يقص على بني إسرائيل أكثر الذي هم فيه يختلفون، وليحق الحق، ويبطل الباطل ولو كره الكافرون.
ولقد تحدث سيادته عن دخوله في الإسلام بعد أن تداركته عناية الله، إذ سمع قوله تعالى:
{قُلْ أُوحِيَ إِلَيَّ أَنَّهُ اسْتَمَعَ نَفَرٌ مِنَ الْجِنِّ فَقَالُوا إِنَّا سَمِعْنَا قُرْآنًا عَجَبًا (1) يَهْدِي إِلَى الرُّشْدِ فَآمَنَّا بِهِ وَلَنْ نُشْرِكَ بِرَبِّنَا أَحَدًا}
فشرح الله صدره للإسلام، وأخذ يبحث في قضايا الوحدانية، والغفران وتقييم المبادئ بالأشخاص، والرسالات السماوية في عرض مقارن.
وهو في هذا العرض التاريخي الدقيق المستند إلى النصوص والوثائق الصحيحة والمنطق العقلي يؤيد الإسلام تاريخياً فيما أتى به القرآن وحياً من السماء.
وممن أثبت هذا من علماء الغرب بصورة واضحة سافرة، الأستاذ (شارل جنيبير) أكبر أستاذ لتاريخ الأديان في فرنسا، مع أنه من أسرة مسيحية، وكتبه مشهورة معروفة، ومكانته العلمية ذائغة شائعة.
আল-আযহারের সাবেক প্রধান শাইখ মরহুম শাইখ আব্দুল হালীম মাহমুদ আলীর প্রশংসা বাণী:সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং দুরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মদ—যিনি শেষ নবী—তাঁর পরিবারবর্গ, সঙ্গী-সাথী ও অনুসারীদের উপর। অতঃপর:
শ্রদ্ধেয় ভাই উস্তাদ ইব্রাহীম খলিল আহমদ আমাদেরকে খ্রিস্টধর্মের বিকৃতির বিভিন্ন পর্যায় পরিভ্রমণ করিয়েছেন, যেখানে তিনি একটি তুলনামূলক আলোচনার মাধ্যমে ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় প্রামাণ্য সূত্রসমূহের (أسانيد) ওপর নির্ভর করেছেন।
এবং তিনি এই সবকিছুর মধ্য দিয়ে সত্য দ্বীনের সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন, যা বনী ইসরাঈল যেসব বিষয়ে মতভেদ করত তার অধিকাংশ তাদের নিকট বর্ণনা করে। আর যেন তিনি সত্যকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন এবং মিথ্যাকে বিলুপ্ত করেন, যদিও কাফিররা তা অপছন্দ করে।
তিনি ইসলামে দীক্ষিত হওয়ার ঘটনা ব্যক্ত করেছেন, যখন আল্লাহর অনুগ্রহ তাঁকে বেষ্টন করেছিল এবং তিনি মহান আল্লাহর এই বাণী শ্রবণ করেছিলেন:
{বলুন, আমার প্রতি ওহী নাযিল করা হয়েছে যে, জিনদের একটি দল কুরআন শ্রবণ করেছে এবং বলেছে—আমরা এক বিস্ময়কর কুরআন শুনেছি, যা সঠিক পথের দিশা দেয়; ফলে আমরা তাতে ঈমান এনেছি এবং আমরা কখনও আমাদের রবের সাথে কাউকে শরিক করব না।}
অতঃপর আল্লাহ ইসলামের জন্য তাঁর বক্ষ প্রশস্ত করে দিলেন এবং তিনি একটি তুলনামূলক উপস্থাপনায় তাওহীদ (একত্ববাদ), ক্ষমা এবং ব্যক্তিদের মাধ্যমে আদর্শের মূল্যায়ন ও আসমানী রিসালাতসমূহের বিষয়াবলি নিয়ে গবেষণা শুরু করলেন।
তিনি এই সূক্ষ্ম ঐতিহাসিক উপস্থাপনায়, যা সঠিক (صحيحة) মূলপাঠসমূহ (نصوص) ও দলিলাদির ওপর ভিত্তি করে রচিত এবং যা যৌক্তিক বিচারবুদ্ধিসম্মত, সেখানে ইতিহাসের আলোকে ইসলামের সেই সত্যতা সমর্থন করেন যা কুরআন আসমানী ওহী হিসেবে নিয়ে এসেছে।
পাশ্চাত্য পণ্ডিতদের মধ্য থেকে যারা এই বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করেছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন উস্তাদ (শার্ল জিনিবার), যিনি ফ্রান্সের ধর্মতত্ত্বের ইতিহাসের শ্রেষ্ঠতম অধ্যাপক। যদিও তিনি একটি খ্রিস্টান পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছেন, তথাপি তাঁর গ্রন্থসমূহ সুবিখ্যাত (مشهورة) ও সুপরিচিত (معروفة) এবং তাঁর বৈজ্ঞানিক মর্যাদা সর্বজনস্বীকৃত ও ব্যাপক।
(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদুন ফিত তাওরাতি ওয়াল ইনজীলি ওয়াল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وإننا أمام هذه الرسالة القيمة، لنشكر الأستاذ إبراهيم خليل أحمد، فلقد وفق كل التوفيق في إخراجها للناس إحقاقاً للحق وإبطالاً للباطل في حيدة تامة، لك يكن مدفوعاً بدوافع عاطفية أو مادية، وإنما كان من عشاق الحق لذاته، غير مبال بما يصيبه في سبيله.
ونرجو الله تعالى أن يديم له التوفيق والرشاد.
وقد بين أن التثليث دخيل على المسيحية الحقة، وأنه مستورد من الوثنية الفرعونية، كما صرح بذلك الأستاذ (جارسلاف كرينى) أستاذ الحفريات بجامعة (أكسفورد) في كتابه (ديانة قدماء المصريين) وأن هذا التثليث لم يوجد في الأصل اليوناني.
وصكوك الغفران، واستحالة الخبز إلى جسد المسيح عليه السلام، خروج عن الحق الإلهي، كما صرح بذلك زعماء الإصلاح في القرن الخامس عشر، وعلى رأسهم: (لوثيروس الألماني)
وبشرت التوراة بالرسول محمد صلى الله عليه وسلم. ففي سفر التثنية 33: 3 "جاء الرب من سيناء، اشرق لهم من سعير، تلألأ من جبل فاران".
وتلك هي الرسلات الثلاث: لموسى وللمسيح، ولمحمد عليهم جميعاً أفضل الصلاة والتسليم.
وهذا مصداق قوله تعالى في القرآن الكريم:
{وَالتِّينِ وَالزَّيْتُونِ (1) وَطُورِ سِينِينَ (2) وَهَذَا الْبَلَدِ الْأَمِينِ} .
لأن منبت التين والزيتون مهجر إبراهيم. ومولد عيسى عليهما السلام، وطور سيناء مكان مناجاة الله تعالى لموسى عليه السلام، وفاران في مكة: مولد الرسول محمد صلى الله عليه وسلم.
وجاء في أسفار الأنبياء عليهم الصلاة: أنه صلى الله عليه وسلم روح الحق، والفارقليط، والمعزى، وأنه لا يتكلم إلا بما سمع من الله تعالى، وأنه اساس الحق ورأس زاويته، وهو البار الذي تنبأت به زوجة الوالي الروماني.
والمخطوطات والآثار القديمة، تثبت بشرية المسيح ووحدانية الله، ومجئ محمد عليه وعلى سائر الأنبياء أفضل الصلاة وأتم التسليم، وقد صرح إنجيل برنابا بذلك كله.
এই মূল্যবান গবেষণাপত্রটির প্রেক্ষাপটে আমরা জনাব ইব্রাহিম খলিল আহমদকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। কেননা তিনি সত্য প্রতিষ্ঠা ও মিথ্যাকে বিলুপ্ত করার লক্ষ্যে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে এটি প্রকাশ করতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি কোনো আবেগীয় বা জাগতিক স্বার্থ দ্বারা প্রভাবিত হননি, বরং তিনি ছিলেন স্বয়ং সত্যের একনিষ্ঠ অনুরাগী এবং এই পথে আসা কোনো প্রতিকূলতার পরোয়া তিনি করেননি।
আমরা মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি তাকে সর্বদা তৌফিক ও হেদায়েতের ওপর অটল রাখেন।
তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ত্রিত্ববাদ প্রকৃত খ্রিস্টধর্মের জন্য একটি অনুপ্রবিষ্ট (دخيل) বিষয় এবং এটি প্রাচীন মিশরীয় পৌত্তলিকতা থেকে আমদানিকৃত। যেমনটি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক জনাব জারোস্লাভ চের্নি তার 'প্রাচীন মিশরীয়দের ধর্ম' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, এই ত্রিত্ববাদের অস্তিত্ব মূল গ্রিক পাণ্ডুলিপিতে ছিল না।
পাপমোচনপত্র এবং রুটি মাসিহ (আলাইহিস সালাম)-এর দেহে রূপান্তরিত হওয়ার বিশ্বাস হলো খোদায়ী সত্য থেকে বিচ্যুতি; পঞ্চদশ শতাব্দীর সংস্কারবাদী নেতৃবৃন্দ—যাদের শীর্ষে ছিলেন জার্মানির লুথার—একথা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন।
তাওরাত রাসুল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আগমনের সুসংবাদ প্রদান করেছে। দ্বিতীয় বিবরণ ৩৩:৩-এ বলা হয়েছে: "প্রভু সিনাই থেকে এসেছেন, সেয়ীর থেকে তাদের উপরে উদিত হয়েছেন এবং ফারান পর্বত থেকে তিনি দীপ্তি ছড়িয়েছেন।"
আর এগুলোই হলো সেই তিনটি রিসালাত: মুসা, মাসিহ এবং মুহাম্মদ—তাদের সকলের ওপর সর্বোত্তম দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।
এটি পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহর বাণীরই সত্যতা প্রমাণ করে:
{শপথ তীন ও যয়তুনের, এবং সিনাই পর্বতের, এবং এই নিরাপদ নগরীর।}
কেননা তীন ও যয়তুনের উৎপত্তিস্থল হলো ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর হিজরতভূমি ও ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর জন্মস্থান; সিনাই পর্বত হলো মহান আল্লাহর সাথে মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর কথোপকথনের স্থান; আর মক্কার ফারান হলো রাসুল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্মস্থান।
নবীগণের কিতাবসমূহে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হলেন সত্যের আত্মা, পারাক্লিত এবং সান্ত্বনাদাতা; তিনি মহান আল্লাহর নিকট থেকে যা শোনেন তা ব্যতীত অন্য কিছু বলেন না; তিনি সত্যের মূল ভিত্তি ও এর প্রধান আধার এবং তিনিই সেই পুণ্যবান ব্যক্তি যার সম্পর্কে রোমান গভর্নরের স্ত্রী ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন।
প্রাচীন পাণ্ডুলিপি ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনসমূহ মাসিহ-এর মানবতা, আল্লাহর একত্ববাদ এবং মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও অপরাপর সকল নবীর আগমনের বিষয়টিকে প্রমাণ করে; আর ইঞ্জিলে বার্নাবাস এই সবকিছুরই সুস্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছে।
(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদুন ফিত তাওরাতি ওয়াল ইনজীলি ওয়াল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وكلمة (مسيا) آرامية معناها (رسول)
وعند مجئ الرسول علية الصلاة والسلام يسجد العالم شكراً وسيجعل كل سنة هذا اليوبيل بدل كل مائة سنة، وهذا الذي قاله برنابا معناه: الحج في الإسلام وهو الركن الخامس منه.
وكلمة (إنجيل) معناها: بشرى، لأن المسيح عليه السلام جاء مبشراً بقدوم محمد عليه السلام.
وتعاليم المسيح عليه السلام تهدم التعصب الطائفي والعنصري كما جاء في قصة الكاهن الذي مر عليه وتركه، ولقد صرح الأسقف الإسكندري (آريوس) بأن المسيحية قد حرفت بما دخل عيلها من المبادئ الفلسفية المستوردة من الهند والصين وفارس، ومصر، فلم يبة إذ غير الرجوع للحق ولدين الحق الذي تكفل الله بحفظه:
{إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ}
ولي أجمل من هذا ولا أحسن:
{وَمَنْ أَحْسَنُ دِينًا مِمَّنْ أَسْلَمَ وَجْهَهُ لِلَّهِ وَهُوَ مُحْسِنٌ وَاتَّبَعَ مِلَّةَ إِبْرَاهِيمَ حَنِيفًا وَاتَّخَذَ اللَّهُ إِبْرَاهِيمَ خَلِيلًا} . وبالله التوفيق.
عبد الحليم محمود علي
* * *
এবং 'মসীহ' শব্দটি আরামীয়, যার অর্থ হলো 'রাসূল'।
রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আগমনে বিশ্ব কৃতজ্ঞতাস্বরূপ সিজদাবনত হবে এবং প্রতি একশত বছরের পরিবর্তে প্রতি বছর এই জুবিলি (উৎসব) পালিত হবে। বার্নাবাস যা বলেছেন তার অর্থ হলো: ইসলামে হজ, যা এর পঞ্চম স্তম্ভ।
এবং 'ইঞ্জিল' শব্দের অর্থ হলো: সুসংবাদ, কেননা মসীহ (আলাইহিস সালাম) মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আগমনের সুসংবাদদাতা হিসেবে এসেছিলেন।
মসীহ (আলাইহিস সালাম)-এর শিক্ষা সাম্প্রদায়িক এবং বর্ণবাদী গোঁড়ামিকে ধূলিসাৎ করে দেয়, যেমনটি সেই যাজকের কাহিনীতে বর্ণিত হয়েছে যিনি তাঁকে অতিক্রম করেছিলেন এবং তিনি তাকে বর্জন করেছিলেন। আলেকজান্দ্রিয়ার বিশপ (আরিউস) স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছিলেন যে, ভারত, চীন, পারস্য এবং মিশর থেকে আমদানিকৃত দার্শনিক মতবাদসমূহ প্রবেশের মাধ্যমে খ্রিস্টধর্ম বিকৃত হয়েছে। ফলে সত্যের পথে এবং সত্যের সেই দ্বীনের দিকে ফিরে আসা ছাড়া আর কোনো গত্যন্তর ছিল না, যার সংরক্ষণের দায়িত্ব আল্লাহ স্বয়ং গ্রহণ করেছেন:
“নিশ্চয়ই আমি উপদেশ (আল-কুরআন) অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষক।”
এর চেয়ে চমৎকার ও উত্তম আর কিছুই হতে পারে না:
“আর তার চেয়ে কার দ্বীন উত্তম, যে সৎকর্মপরায়ণ হয়ে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করে এবং একনিষ্ঠভাবে ইব্রাহিমের আদর্শ অনুসরণ করে? আর আল্লাহ ইব্রাহিমকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করেছেন।” আর আল্লাহর মাধ্যমেই সাফল্য অর্জিত হয়।
আবদুল হালিম মাহমুদ আলী
* * *
(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদুন ফিত তাওরাতি ওয়াল ইনজীলি ওয়াল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৭)
تقريظ لفضيلة الشيخ محمد الغزالي السقامدير الدعوة بوزارة الأوقاف "سابقاً"
دراسة الملل والنحل جزء مهم من ثقافتنا الدينية القديمة
… ودراسة النصرانية خاصة وكتبها المقدسة لديها موضوع احتذب انتباه العلماء المسلمين وكثرت فيه مؤلفاتهم.
ولا عجيب، فإن العلاقات بين الإسلام والنصرانية ظلت متشابكة ومعقدة منذ أمد طويل.
ومن المحزن أن تسفك فيها دماء كثيرة. وكان أولى بالفريقين أن يقبل كل على ما لدى الآخر يدرسه بعناية وتمحيص ثم يدع للفكر المجرد أن يصدر حكمة، وللرغبة الخالصة أن تأخذ وجهتها.
ونحن - المسلمين - غير مسئولين عن الطريقة الدامية التي سارت فيها العلاقات العالمية بين الإسلام والصليبية. إن الحقد التقليدي جزء من السياسة الأجنبية نحو الإسلام.
أما الإسلام فهو يقول لأتباعه: {وَلَا تُجَادِلُوا أَهْلَ الْكِتَابِ إِلَّا بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ إِلَّا الَّذِينَ ظَلَمُوا مِنْهُمْ وَقُولُوا آمَنَّا بِالَّذِي أُنْزِلَ إِلَيْنَا وَأُنْزِلَ إِلَيْكُمْ وَإِلَهُنَا وَإِلَهُكُمْ وَاحِدٌ وَنَحْنُ لَهُ مُسْلِمُونَ}
لكن ما الذي أنزل إلى أهل الكتب الأولى؟
أن المواريث السماوية بين أيدى القوم تحتاج إلى تأمل وطول نظر ففيها كلام حسن عن الله الواحد، وعن وصاياه للعالمين بالاستقامة والتقوى.
মর্যাদাবান শায়খ মুহাম্মাদ আল-গাযালী আস-সাক্কা-এর প্রশংসামূলক অভিমতওয়াকফ মন্ত্রণালয়ের দাওয়াহ (ধর্মপ্রচার) বিভাগের "প্রাক্তন" পরিচালক
বিভিন্ন ধর্মাদর্শ ও উপদলের ইতিহাস অধ্যয়ন আমাদের প্রাচীন ধর্মীয় সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ
… বিশেষ করে খ্রিস্টধর্ম এবং তাদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থসমূহ নিয়ে গবেষণা এমন একটি বিষয় যা মুসলিম পণ্ডিতদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে এবং এ বিষয়ে তাঁদের রচিত গ্রন্থের সংখ্যাও প্রচুর।
এতে বিস্ময়ের কিছু নেই, কেননা ইসলাম ও খ্রিস্টধর্মের পারস্পরিক সম্পর্ক সুদীর্ঘকাল যাবৎ অত্যন্ত নিবিড় ও জটিলভাবে জড়িয়ে আছে।
এটি অত্যন্ত দুঃখজনক যে, এই সম্পর্কের ইতিহাসে প্রচুর রক্তপাত হয়েছে। উভয় পক্ষের জন্যই এটি অধিকতর সমীচীন ছিল যে, তারা একে অপরের নিকট যা আছে তা গভীর মনোযোগ ও সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের সাথে পর্যালোচনা করবে, অতঃপর নিরপেক্ষ চিন্তাশক্তিকে তার সিদ্ধান্ত প্রদানের সুযোগ দেবে এবং একনিষ্ঠ আকাঙ্ক্ষাকে তার সঠিক গন্তব্য খুঁজে নিতে দেবে।
আমরা—মুসলিমরা—ইসলাম ও ক্রুসেডারদের মধ্যকার আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সেই রক্তক্ষয়ী পথপরিক্রমার জন্য দায়ী নই। মূলত ইসলামের প্রতি এই চিরাচরিত বিদ্বেষ ছিল ইসলামের বিরুদ্ধে পরিচালিত বৈদেশিক রাজনীতিরই একটি অংশ।
পক্ষান্তরে ইসলাম তার অনুসারীদের বলে: "তোমরা কিতাবধারীদের সাথে উত্তম পন্থা অবলম্বন ছাড়া বিতর্ক করো না; তবে তাদের মধ্যে যারা সীমালঙ্ঘন করেছে তাদের কথা ভিন্ন। আর তোমরা বলো, আমরা তাতে ঈমান এনেছি যা আমাদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে এবং যা তোমাদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে; আমাদের ইলাহ ও তোমাদের ইলাহ তো এক এবং আমরা তাঁরই প্রতি আত্মসমর্পণকারী।"
কিন্তু পূর্ববর্তী কিতাবধারীদের প্রতি আসলে কী অবতীর্ণ হয়েছিল?
সেই জনগোষ্ঠীর হাতে বর্তমানে বিদ্যমান আসমানী উত্তরাধিকারগুলোর জন্য গভীর চিন্তা ও দীর্ঘ পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে; কেননা তাতে অদ্বিতীয় আল্লাহ সম্পর্কে এবং বিশ্ববাসীর জন্য সততা ও খোদাভীতি অবলম্বনের নির্দেশনাবলী সম্পর্কে চমৎকার বর্ণনা রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদুন ফিত তাওরাতি ওয়াল ইনজীলি ওয়াল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وهذا الكلام يستحق القبول والعناية.
بيد أن هناك كلاماً آخر يشعر الإنسان الحصيف بقلق عندما يتلوه، ذاك الذي ينسب إلى الله الكبير صفات تتنزه عنها ذاته العليا
… ثم ذاك الذي يؤرخ لأنبياء الله وهم قمم الإنسانية من أزلها إلى أبدها - فيبرزهم وكأنهم خريجو حانات وأحلاس شهوات.
وشيء آخر لا يعود إلى هذه الكتب قدر ما يعود إلى أصحابها وهو تراطؤهم على جحد العروبة ونبيها الخاتم لما سبق، صاحب الرسالة التي قدر الله أن تصحب العالم في مراحل وجوده حتى الحصاد الأخير للنشاط الإنساني فوق الأرض.
إن إنكاره نبوة محمد صلوات الله عليه وتناسى دلائلها الثابتة في الكتب المقدسة عند القوم شيء مستغرب.
ومن حق الباحث المسلم أن يجلو غوامضه.
وقد وفق الله الأخ المخلص السيد إبراهيم خليل أحمد إلى تأليف هذه الرسالة في هذا الموضوع، وسيادته خبير به، بل خبير بالعهد القديم والعهد الجديد.
وعندي أن صحاب الدراسات الإسلامية لا يستكملون ثقافتهم حتى يطلعوا على أمثال هذه الرسائل ويتعرفوا منه ما لدى الآخرين من ثراث يقترب منا أو يبتعد عنا.
وفق الله المؤلف الفاضل إلى خدمة الحق وأجزل مثوبته.
3/11/1963
محمد الغزالي
এই কথাগুলো গ্রহণ ও বিশেষ মনোযোগের দাবি রাখে।
কিন্তু সেখানে এমন কিছু বক্তব্যও রয়েছে যা পাঠ করলে একজন বিচক্ষণ ব্যক্তি উদ্বিগ্ন বোধ করেন; তা হলো সেই সব বিষয় যা মহান আল্লাহর প্রতি এমন সব গুণাবলী আরোপ করে যা থেকে তাঁর সুউচ্চ সত্তা পবিত্র
… অতঃপর সেই সব ইতিহাস যা আল্লাহর নবীগণের—যাঁরা অনাদিকাল থেকে অনন্তকাল পর্যন্ত মানবজাতির শ্রেষ্ঠতম শিখর—তাঁদের এমনভাবে চিত্রায়িত করে যেন তাঁরা মদ্যপায়ী অথবা লালসার দাস।
আর অন্য একটি বিষয় যা এই কিতাবসমূহের চেয়ে বরং তাদের রচয়িতাদের মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ, তা হলো আরব সত্তা এবং পূর্ববর্তী নবীগণের সিলমোহর বা সর্বশেষ (الخاتم) নবীর নবুওয়াত অস্বীকার করার ক্ষেত্রে তাদের পারস্পরিক যোগসাজশ। তিনি সেই রিসালাতের অধিকারী যা মহান আল্লাহ পৃথিবীর বুকে মানবজাতির কর্মকাণ্ডের চূড়ান্ত ফসল আহরণ পর্যন্ত বিশ্বের সহযাত্রী হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।
তাদের নিকটস্থ পবিত্র কিতাবসমূহে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নবুওয়াত অস্বীকার করা এবং এর সুসাব্যস্ত (ثابتة) প্রমাণাদি বিস্মৃত হওয়া সত্যিই এক আশ্চর্যজনক বিষয়।
আর এর রহস্য উন্মোচন করা একজন মুসলিম গবেষকের অন্যতম দায়িত্ব।
মহান আল্লাহ নিষ্ঠাবান ভাই জনাব ইবরাহিম খলিল আহমদকে এই বিষয়ের ওপর এই পুস্তিকাটি রচনার তাওফিক দান করেছেন। তিনি এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ, বরং ওল্ড টেস্টামেন্ট এবং নিউ টেস্টামেন্ট সম্পর্কে তিনি সম্যক অভিজ্ঞ।
আমার মতে, ইসলামি জ্ঞানচর্চায় নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ তাদের জ্ঞানকে পূর্ণতা দিতে পারবেন না যতক্ষণ না তাঁরা এই ধরণের পুস্তিকাগুলো পাঠ করবেন এবং এর মাধ্যমে অন্যদের সেই সব ঐতিহ্য (تراث) সম্পর্কে জানতে পারবেন যা আমাদের ঐতিহ্যের নিকটবর্তী বা আমাদের থেকে দূরবর্তী।
মহান আল্লাহ এই গুণী লেখককে সত্যের সেবায় নিয়োজিত রাখুন এবং তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।
৩/১১/১৯৬৩
মুহাম্মদ আল-গাজালি
(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদুন ফিত তাওরাতি ওয়াল ইনজীলি ওয়াল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৯)
رؤية مستنيرة لأسرار إسلاميبقلم / إبراهيم خليل أحمد
القس إبراهيم خليل فيلبس/ سابقاً
في ذروة العمل الديني كقسيس راعي الكنيسة الإنجيلية، وأستاذ العقائد واللاهوت بكلية اللاهوت الكندية بأسيوط، وزميل للمراسلين الأمريكيين والسويسرسسن والألمانيين بمصر، وكضالع معهم في الحركة التبشرية. من قمة هذا العمل بدأت دراسة مقارنة للإسلام مع المسيحية من عام 1955 حتى 25/12/1959 عندما أعلنت إسلامي للمرسلية الأمريكية بمصر ثم اتخذت الإجراءات القانونية لإشهار الإسلام وكان عمري وقتئذ 40 سنة واليوم قد بلغت: 13/8/1982 - 13/1/1919 = 63 سنة، وسبعة شهور.
يسعدني أن اقدم كتابي محمد صلى الله عليه وسلم في التوراة والإنجيل والقرآن، في طبعته الخامسة وأقرر من قمة هذا العمر أن الآيات الكريمة في سورة الأعراف في قوله سبحانه وتعالى: {
… الَّذِينَ يَتَّبِعُونَ الرَّسُولَ النَّبِيَّ الْأُمِّيَّ الَّذِي يَجِدُونَهُ مَكْتُوبًا عِنْدَهُمْ فِي التَّوْرَاةِ وَالْإِنْجِيلِ} [الأعراف: 157] كانت مشجعاً لي لدراسات مقارنة بدأتها في صمت في خلال خمس سنوات، حتى أتاني اليقين فدخلت وأبنائي وكريمتي في دين الله نسبح بحمده، ونستغفره على ما تقدم وما تأخر من ذنوبنا.
وأقرر أن اللقاء الإسلامي المسيحي بالخرطوم عام 1980م/ 1401 هـ جعلني أتفرغ لدراسات مقارنة لأقدم للإسلام وزاداً ينفع كل داعية إسلامي على بصيرة في الدعوة الإسلامية.
وتقديمي لكتابي (محمد صلى الله عليه وسلم) إنما هو خلاصة الكتاب في ملزمة واحدة، بل هو رؤية لأسرار إسلامي. فأقول ويقول كبار اللاهوتيين المعاصرين - بالرغم من
আমার ইসলাম গ্রহণের রহস্যের একটি আলোকিত রূপরেখালিখেছেন / ইবরাহিম খলিল আহমদ
প্রাক্তন যাজক ইবরাহিম খলিল ফিলিপস
ইভানজেলিকাল চার্চের একজন যাজক ও পাস্টর, আসিওতের কানাডিয়ান কলেজ অব থিওলজিতে আকিদা ও ধর্মতত্ত্বের অধ্যাপক এবং মিশরে আমেরিকান, সুইস ও জার্মান সংবাদদাতাদের সহযোগী ও মিশনারি কার্যক্রমে তাদের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত থাকাকালীন আমার ধর্মীয় কর্মজীবনের সেই চরম শিখর থেকে ১৯৫৫ সাল থেকে ২৫/১২/১৯৫৯ পর্যন্ত আমি খ্রিস্টধর্মের সাথে ইসলামের একটি তুলনামূলক অধ্যয়ন শুরু করি। এরপর আমি মিশরে আমেরিকান মিশনারি সোসাইটির কাছে আমার ইসলাম গ্রহণের কথা ঘোষণা করি এবং ইসলাম প্রকাশের আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করি। তখন আমার বয়স ছিল ৪০ বছর এবং আজ ১৩/০৮/১৯৮২ তারিখে আমার বয়স হয়েছে: ১৩/০৮/১৯৮২ - ১৩/০১/১৯১৯ = ৬৩ বছর ৭ মাস।
আমার ‘তাওরাত, ইঞ্জিল ও কুরআনে মুহাম্মদ (সা.)’ বইটির পঞ্চম সংস্করণ পেশ করতে পেরে আমি আনন্দিত। জীবনের এই পরিণত পর্যায়ে পৌঁছে আমি ঘোষণা করছি যে, সূরা আল-আ'রাফের সেই মহান বাণী: {
… যারা অনুসরণ করে সেই রাসূলের, যিনি উম্মী নবী, যার কথা তারা তাদের কাছে রক্ষিত তাওরাত ও ইঞ্জিলে লিখিত পায়} [আল-আ'রাফ: ১৫৭]—আমার সেই পাঁচ বছরব্যাপী নিরব গবেষণার অনুপ্রেরণা ছিল। অবশেষে যখন আমার নিকট ধ্রুব সত্য উপনীত হলো, তখন আমি ও আমার সন্তানেরা আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করলাম; আমরা তাঁর সপ্রশংস পবিত্রতা ঘোষণা করছি এবং আমাদের অতীত ও ভবিষ্যতের গুনাহসমূহের জন্য তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
আমি আরও উল্লেখ করছি যে, ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দ/১৪০১ হিজরিতে খার্তুমে অনুষ্ঠিত ইসলামি-খ্রিস্টীয় সম্মেলন আমাকে তুলনামূলক অধ্যয়নে পূর্ণ আত্মনিয়োগ করতে উদ্বুদ্ধ করেছে, যাতে আমি ইসলামের জন্য এমন কিছু রসদ তৈরি করতে পারি যা প্রত্যেক ইসলামি দাঈর জন্য সঠিক অন্তর্দৃষ্টির সাথে দাওয়াতের ময়দানে ফলপ্রসূ হয়।
আমার ‘মুহাম্মদ (সা.)’ বইটির এই ভূমিকা মূলত এক মলাটে বইটির সারসংক্ষেপ, বরং এটি আমার ইসলাম গ্রহণের অন্তর্নিহিত রহস্যের একটি আলোকপাত। আমি বলছি এবং সমসাময়িক শীর্ষস্থানীয় ধর্মতত্ত্ববিদরাও বলছেন—তা সত্ত্বেও...
(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদুন ফিত তাওরাতি ওয়াল ইনজীলি ওয়াল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৩০)
البصمات البشرية الفادحة من زيادة وحذف، ومن تغيير وتبديل، ومن إسقاط وإقحام في أسفار الكتاب المقدس (التوراة والإنجيل) فإنه لازالت أجزاء برمتها على حالتها الأولى فلم تصب ببصمات بشرية على الإطلاق، ظلت أصلية برهان ساطع على قطع من التوراة الأصلية، وقطع من مقالات المسيح عيسى ابن مريم الأصلية وهي الإنجيل الأصلي.
نعم فالكتاب المقدس المتداول الآن على اختلاف الترجمات في عصرنا هذا، وأمامي نسخة للترجمة العربية البيروتية/ الطبعة الثامنة - عام 1936 بمعرفة جمعية التوراة الأمريكية المنشأة عام 1816 بنيويورك، لا زال يشمل أجزاء هامة ووحيدة للتوراة والإنجيل الحقيقيين، وهي كثرة والحمد لله، حتى أن كل من يؤمن بالله وبرسوله المسيح عيسى ابن مريم، ويتبع الكتاب المقدس تماماً في حالته الراهنة، فإن الكتاب المقدس بما يشمله من أجزاء أصلية سيقوده إلى الإسلام ولا ريب. كما قال الله سبحانه:
{الَّذِينَ آتَيْنَاهُمُ الْكِتَابَ يَتْلُونَهُ حَقَّ تِلَاوَتِهِ أُولَئِكَ يُؤْمِنُونَ بِهِ}
[البقرة: 121]
إن أولئك الذي يتبعون تعاليم موسى تماماً، وأولئك الذين يتبعون تعاليم عيسى تماماً عليهما السلام، حتى في حالتهما المتداولة إنما يقادون بفضل الله ونعمته إلى إنجاز وإيقاء ما يطلبه الله منهم.
ولا ريب أن هذا الاختيار الروحي قد مارسه ذوو العقول المتحررة، والقلوب المتعطشة، إلى معرفة الحق، ولا غزو أن أقدم ذاتي مثالاً حياً حتى بعد أن جاوزت الثلاثة والستين سنة من العمر أن الله شرح صدري للإسلام فأخذت طريقي إليه هجرة لله ولرسوله.
يحتوي الكتاب المقدس على نصوص شديدة الوضوح حول رسالة وشخصية الرسول النبي الأمي محمد صلى الله عليه وسلم. وضوحاً بيناً لا لبس فيه. حتى إن كثيراً من اليهود والنصارى الغيورين ليسعدون بقبول محمد رسولاً نبياً عند ظهوره.
ولكن القرون اللاحقة للمنازعات اللاهوتية، والتي انعقد لأجلها العديد من المجامع المسكونية، شهدت موجة رهيبة ومحمومة لتدوين المخطوطات المقدسة، وما أصابها من تحوير وتنقيح وزيادة ونقص، وحذف وإقحام، كانت هذه البصمات البشرية في تدوين الكتاب المقدس غشاوة سميكة تخفي الحقيقة. وفي هذه القرون، ولد قانون الإيمان".
পবিত্র কিতাবসমূহে (তৌরাত ও ইঞ্জিল) সংযোজন ও বিয়োজন, পরিবর্তন ও পরিমার্জন এবং বিলোপ ও অনুপ্রবেশের মতো যে মারাত্মক মানবীয় হস্তক্ষেপ ঘটেছে, তা সত্ত্বেও এখনও এর অনেক অংশ তার আদি অবস্থায় অবিকল রয়ে গেছে; যা মোটেই মানবীয় স্পর্শে কলুষিত হয়নি। এগুলো মূল তৌরাতের কিছু অংশ এবং মসিহ ঈসা ইবনে মারিয়ামের মূল বক্তব্যের অংশবিশেষ—যা মূলত আদি ইঞ্জিল—এর সপক্ষে এক উজ্জ্বল প্রমাণ হিসেবে টিকে আছে।
হ্যাঁ, বর্তমানে প্রচলিত পবিত্র বাইবেল—আমাদের যুগে বিদ্যমান এর বিভিন্ন অনুবাদসহ, যেমন আমার সম্মুখে বৈরুত থেকে প্রকাশিত আরবি অনুবাদের একটি কপি রয়েছে (অষ্টম সংস্করণ, ১৯৩৬ খ্রিষ্টাব্দ), যা ১৮১৬ সালে নিউইয়র্কে প্রতিষ্ঠিত 'আমেরিকান বাইবেল সোসাইটি' কর্তৃক সম্পাদিত—তাতে এখনও প্রকৃত তৌরাত ও ইঞ্জিলের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও অনন্য অংশ বিদ্যমান। আলহামদুলিল্লাহ, এগুলোর সংখ্যা অনেক। এমনকি যে ব্যক্তি আল্লাহ এবং তাঁর রাসুল মসিহ ঈসা ইবনে মারিয়ামের ওপর ঈমান রাখে এবং বর্তমান অবস্থায় প্রচলিত বাইবেলকে যথাযথভাবে অনুসরণ করে, তবে বাইবেলের অন্তর্ভুক্ত সেই মৌলিক অংশগুলো তাকে নিঃসন্দেহে ইসলামের দিকে পরিচালিত করবে। যেমনটি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ইরশাদ করেছেন:
{যাদেরকে আমি কিতাব দান করেছি, তারা তা যথাযথভাবে পাঠ করে; তারাই এর ওপর ঈমান আনে}
[আল-বাকারা: ১২১]
নিশ্চয়ই যারা মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর শিক্ষা এবং যারা ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর শিক্ষা পূর্ণাঙ্গভাবে অনুসরণ করে, এমনকি তাদের বর্তমান প্রচলিত রূপের মধ্যেও, তারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়ায় আল্লাহ তাদের কাছে যা প্রত্যাশা করেন তা সম্পন্ন ও বাস্তবায়নের পথে পরিচালিত হন।
নিঃসন্দেহে এই আধ্যাত্মিক পথ বেছে নেয়ার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন সেই সকল ব্যক্তি, যারা মুক্তমনা এবং সত্য উপলব্ধির জন্য তৃষ্ণার্ত। এতে আশ্চর্যের কিছু নেই যে, আমি নিজেকেই এর একটি জীবন্ত উদাহরণ হিসেবে পেশ করছি—এমনকি তেষট্টি বছর বয়স অতিক্রম করার পর আল্লাহ ইসলামের জন্য আমার বক্ষ উন্মুক্ত করে দিলেন, ফলে আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে হিজরত করে ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় নিলাম।
পবিত্র বাইবেলে উম্মি নবী ও রাসুল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর রিসালাত ও ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে অত্যন্ত সুস্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে—এমন স্পষ্টতা যাতে কোনো প্রকার অস্পষ্টতা নেই। এমনকি অনেক একনিষ্ঠ ইহুদি ও খ্রিস্টান তাঁর আবির্ভাবের সময় তাঁকে রাসুল ও নবী হিসেবে গ্রহণ করতে পেরে আনন্দিত হতেন।
কিন্তু পরবর্তী শতাব্দীগুলোতে ধর্মতাত্ত্বিক বিবাদ—যার জন্য অনেকগুলো বিশ্ব সম্মেলন (Ecumenical Councils) আহ্বান করা হয়েছিল—পবিত্র পাণ্ডুলিপিগুলো লিপিবদ্ধ করার ক্ষেত্রে এক ভয়াবহ ও উন্মত্ত প্রবণতা প্রত্যক্ষ করেছিল। তাতে যে পরিবর্তন, পরিমার্জন, সংযোজন, বিয়োজন, বিলোপ ও অনুপ্রবেশ ঘটেছিল, বাইবেল লিপিবদ্ধকরণের এই মানবীয় হস্তক্ষেপগুলো সত্যকে আড়াল করার জন্য এক ঘন আবরণে পরিণত হয়েছিল। আর এই শতাব্দীগুলোতেই 'ধর্মবিশ্বাস বিধি' (Creed)-এর উদ্ভব ঘটে।
(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদুন ফিত তাওরাতি ওয়াল ইনজীলি ওয়াল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৩১)
وغشى بشروحات مذهبية، فإذا ما نحيث هذه وتلك فإن الحقيقة ستظهر في جلاء ووضوح، ومن ثم يستطع العلماء الباحثون أن يهتدوا بهذه الخيوط الربانية.
دور الكتابة في الهداية:
نحن معشر المسلمين نؤمن أن التوراة الصلية والإنجيل الأصلي موحى بهما من الله على عبديه ورسوليه موسى وعيسى عليهما السلام، ونحن معشر المسلمين نعلم أن المسيح عيسى ابن مريم بعثه ربه رسولاً إلى بني إسرائيل، فلما ابتدأ رسالته الجهارية بينهم، وجد أن توراة موسى قد تعرضت لبصمات بشرية. فلقد فقدت في عهد مملكة يهوذا، واكتشفت في أيام يوشيا ملك يهوذا، ثم تعرضت للضياع حتى الغزو البابلي في عهد نبوخذ نصر ملك بابل، ثم أعيد تدوينها بعد عودة اليهود المسبيين في بابل إلى أرض فلسطين في عهد كورش ملك الفرس، من ثم تعرضت التوراة إلى عوامل تغيير جسيمة وخطيرة للغاية.
لقد تعرضت في إعادة التدوين إلى اللامبالاة، وإضافات توحي بمذاهب وعقائد المحررين والنساخ، من هذا فإن المسيح رأى فيها أجزاء مازالت على أصلها من وحي الله دون أن تمسه يد ولا فكر بشري، لهذا جاهر بقوله لليهود المتعنتين وغيرهم: "ولا تظنوا أني جئت لأنقض الناموس أو الأنبياء. ما جئت لأنقض بل لأكمل. فإني الحق أقول لكم إلى أن تزول السماء والأرض لا يزول حرف واحد أو نقطة واحدة من الناموس حتى يكون الكل".
(إنجيل متى 5: 17، 18)
وبهذا التصريح فإن المسيح عيسى ابن مريم يصادق على جوهر التوارة، ولقد تعرض إنجيل المسيح عبر ستمائة سنة مثلما عانت التوراة من البصمات البشرية، فضلاً عن رداءة الخط في التدوين والنسخ، بالإضافة إلى المخطوطات العبرية والآرامية واليونانية التي أعد بها كتاب العهد الجديد.
ظهر رسول الله صلى الله عليه وسلم في عام 610 م برسالة التوحيد، وتلقى من ربه قرآناً كريماً حيث يقول الله سبحانه: وَإِنَّهُ لَتَنْزِيلُ رَبِّ الْعَالَمِينَ (192) نَزَلَ بِهِ الرُّوحُ الْأَمِينُ (193) عَلَى قَلْبِكَ لِتَكُونَ مِنَ الْمُنْذِرِينَ (194) بِلِسَانٍ عَرَبِيٍّ مُبِينٍ} [الشعراء 192 - 195] وحفظه الله مصداقاً لقوله: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} [الحجر: 9] هذا القرآن نزل مصدقاً للتوراة والإنجيل اللذين نزلا على موسى وعيسى عليهما السلام، فضلاً عن
এবং মাযহাবী ব্যাখ্যার আবরণে ঢাকা পড়ে গেছে; যদি এগুলো সরিয়ে ফেলা হয়, তবে সত্য সুস্পষ্ট ও উজ্জ্বল হয়ে প্রকাশিত হবে। ফলে গবেষক আলেমগণ এই খোদায়ী সূত্রগুলোর মাধ্যমে সঠিক পথের দিশা পেতে সক্ষম হবেন।
হিদায়াতের ক্ষেত্রে লেখনীর ভূমিকা:
আমরা মুসলিম সম্প্রদায় বিশ্বাস করি যে, মূল তাওরাত এবং মূল ইঞ্জিল আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর দুই বান্দা ও রাসূল মূসা ও ঈসা আলাইহিমাস সালামের ওপর অবতীর্ণ হয়েছিল। আমরা মুসলিম জাতি জানি যে, মাসীহ ঈসা ইবনে মারিয়ামকে তাঁর রব বনী ইসরাঈলের কাছে রাসূল হিসেবে প্রেরণ করেছিলেন। যখন তিনি তাদের মাঝে তাঁর প্রকাশ্য দাওয়াতি মিশন শুরু করলেন, তখন তিনি দেখতে পেলেন যে, মূসার তাওরাত মানুষের হাতের ছোঁয়ায় বিকৃত হয়েছে। এটি ইয়াহুদা রাজত্বের আমলে হারিয়ে গিয়েছিল এবং ইয়াহুদার রাজা ইয়োশিয়ার সময় তা আবিষ্কৃত হয়েছিল। এরপর বাবিলীয় আক্রমণের সময় রাজা নেবুচাদনেজারের আমলে তা পুনরায় নিখোঁজ হয়। পরবর্তীতে পারস্য সম্রাট সাইরাসের যুগে বাবিলে বন্দি ইহুদিরা ফিলিস্তিনে ফিরে আসার পর এটি পুনরায় সংকলন (تدوين) করা হয়। ফলে তাওরাত অত্যন্ত গুরুতর ও ভয়াবহ পরিবর্তনের শিকার হয়।
পুনরায় সংকলন (تدوين) করার সময় এটি চরম অবহেলা এবং সংকলক ও অনুলিপিকারীদের নিজস্ব মাযহাব ও আকীদা-নির্ভর প্রক্ষিপ্ত বিষয়ের শিকারে পরিণত হয়েছিল। একারণেই মাসীহ (আ.) এতে এমন কিছু অংশ দেখতে পেয়েছিলেন যা তখনো মানুষের হাত বা চিন্তার স্পর্শমুক্ত থেকে আল্লাহর ওহীর মূল রূপ ধারণ করে ছিল। এই কারণেই তিনি একগুঁয়ে ইহুদি ও অন্যদের সামনে উচ্চকণ্ঠে বলেছিলেন: "তোমরা মনে করো না যে আমি শরীয়ত (নামুস) কিংবা নবীদের কিতাব বাতিল করতে এসেছি। আমি বাতিল করতে আসিনি, বরং পূর্ণ করতে এসেছি। আমি তোমাদের সত্য বলছি, আসমান ও জমিন বিলুপ্ত না হওয়া পর্যন্ত শরীয়তের একটি অক্ষর বা একটি বিন্দুও বিলুপ্ত হবে না, যতক্ষণ না সব কিছু পূর্ণ হয়।"
(মথি লিখিত সুসমাচার ৫: ১৭, ১৮)
এই ঘোষণার মাধ্যমে মাসীহ ঈসা ইবনে মারিয়াম তাওরাতের মূল নির্যাসকে সত্যায়ন করেন। পরবর্তী ছয়শ বছর তাওরাতের ন্যায় মাসীহের ইঞ্জিলও মানুষের হাতের বিকৃতির শিকার হয়। তদুপরি, সংকলন (تدوين) ও অনুলিপি (نسخ) করার ক্ষেত্রে হস্তাক্ষরের অস্পষ্টতা এবং হিব্রু, আরামীয় ও গ্রীক পাণ্ডুলিপিগুলোতে ত্রুটি দেখা দেয়, যার ভিত্তিতে নতুন নিয়ম (নিউ টেস্টামেন্ট) প্রস্তুত করা হয়েছিল।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ৬১০ খ্রিস্টাব্দে তাওহীদের বাণী নিয়ে আবির্ভূত হন এবং তাঁর রবের পক্ষ থেকে মহাগ্রন্থ কুরআন লাভ করেন। যেখানে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন: "নিশ্চয়ই এটি বিশ্বজাহানের রবের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। অত্যন্ত বিশ্বস্ত আত্মা এটি নিয়ে অবতরণ করেছেন—আপনার হৃদয়ে, যাতে আপনি সতর্ককারীদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন। সুস্পষ্ট আরবি ভাষায়।" [আশ-শুআরা: ১৯২-১৯৫]। এবং আল্লাহ তাআলা এটি সংরক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছেন তাঁর এই বাণীর সত্যতা স্বরূপ: "নিশ্চয়ই আমিই এ উপদেশ অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর রক্ষক।" [আল-হিজর: ৯]। এই কুরআন মূসা ও ঈসা আলাইহিমাস সালামের ওপর নাযিলকৃত তাওরাত ও ইঞ্জিলের সত্যায়নকারী হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছে, অধিকন্তু...
(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদুন ফিত তাওরাতি ওয়াল ইনজীলি ওয়াল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৩২)
أنه مهين عليهما، وفي هذا قال الله سبحانه كما في المائدة: 44 - 48.
يقول كيرت "إن الكتاب المقدس المتداول حالياً لا يحتوي على التوراة والإنجيل المنزلين من الله، ولقد اعترف علماء باحثين أنفسهم باللمسات البشرية في إعداد هذا الكتاب المقدس".
ويقول جيمس هيستنج: "ومع هذا فإننا نتوقع أن نجد خلال صفحات الكتاب المقدس بعض الأجزاء من التوراة والإنجيل الأصليين مما يتحتم معه دراسة جادة، لكي تجعل مضمون الكتاب المقدس مفهوماً".
إن ما يتميز به الكتاب المقدس حتى في حالته الراهنة. هو أنه يشير إلى أن التنزيل الألهي إنما يتوالى على من اصطفاهم الله لحمل رسالته من الأنبياء والمرسلين، وسيكمل التنزيل بالنبي الخاتم، نبي وحيد واحد مميز، ورسالته ستكون مستوعبة ومهيمنة، ونبوته ستكون عالمية حتى إنه لن يكون هناك حاجة لرسول بعده.
وتقرر التوراة أنها تنزيل من رب العالمين:
ودعا الله موسى إلى رأس الجبل فصعد موسى (خروج 19: 20) ، ثم تكلم الله بجميع هذه الكلمات (خروج 20: 1) وكتب موسى هذه التوراة وسلمها للكهنة بني لاوى حاملي تابوت عهد الرب، ولجميع شيوخ إسرائيل (تثنية 31: 9) .
ويقرر المسيح عيسى ابن مريم قائلاً: فإني الحق أقول لكم إلى أن تزول السماء والأرض لا يزول حرف واحد أو نقطة واحدة من الناموس حتى يكون الكل (إنجيل متى 5: 18) .
ويقول لتلاميذه: ومتى قدموكم إلى المجامع والرؤساء والسلاطين فلا تهتموا كيف أو بما تحتجون، أو بما تقولون، لأن الروح القدس يعلمكم في تلك الساعة ما يجب أن تقولوه (إنجيل لوقا 12: 11، 12) .
এটি তাদের উভয়ের ওপর রক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, আর এ বিষয়ে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সূরা আল-মায়িদার ৪৪-৪৮ আয়াতে বর্ণনা করেছেন।
কার্ট বলেন, "বর্তমানে প্রচলিত বাইবেলে আল্লাহ কর্তৃক অবতীর্ণ তাওরাত ও ইঞ্জিল নেই। এমনকি গবেষক আলেমরা নিজেরাই এই বাইবেল সংকলনের ক্ষেত্রে মানুষের হস্তক্ষেপের কথা স্বীকার করেছেন।"
জেমস হেস্টিংস বলেন: "এতদসত্ত্বেও আমরা আশা করি যে, বাইবেলের পাতায় মূল তাওরাত ও ইঞ্জিলের কিছু অংশ খুঁজে পাওয়া যাবে, যা বাইবেলের বিষয়বস্তু বোঝার জন্য গুরুত্বের সাথে অধ্যয়ন করা আবশ্যক করে তোলে।"
বাইবেল তার বর্তমান অবস্থায়ও যে বিশেষ বৈশিষ্ট্যে উজ্জ্বল, তা হলো এটি নির্দেশ করে যে, ঐশী প্রত্যাদেশ ধারাবাহিকভাবে তাঁদের ওপর অবতীর্ণ হয় যাঁদের আল্লাহ তাঁর বাণী বহনের জন্য নবী ও রাসূল হিসেবে মনোনীত করেছেন। আর এই প্রত্যাদেশের ধারা পূর্ণতা লাভ করবে সর্বশেষ নবীর মাধ্যমে—যিনি হবেন অনন্য ও স্বতন্ত্র, তাঁর আনীত বিধান হবে সর্বব্যাপী ও প্রভাব বিস্তারকারী এবং তাঁর নবুওয়াত হবে বিশ্বজনীন; এমনকি তাঁর পরে আর কোনো রাসূলের প্রয়োজন থাকবে না।
তাওরাত একথাই সুনিশ্চিত করে যে, এটি রাব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ:
আল্লাহ মূসাকে পাহাড়ের চূড়ায় আহ্বান করলেন এবং মূসা সেখানে আরোহণ করলেন (যাত্রাপুস্তক ১৯: ২০), অতঃপর আল্লাহ এই সকল কথা ব্যক্ত করলেন (যাত্রাপুস্তক ২০: ১) এবং মূসা এই তাওরাত লিখলেন এবং তা প্রভুর চুক্তির সিন্দুক বহনকারী লেবীয় যাজকদের নিকট এবং ইস্রায়েলের সকল প্রাচীনবর্গের নিকট হস্তান্তর করলেন (দ্বিতীয় বিবরণ ৩১: ৯)।
মসীহ ঈসা ইবনে মারইয়াম ঘোষণা করে বলেন: "আমি তোমাদের সত্য বলছি, আকাশ ও পৃথিবী বিলুপ্ত না হওয়া পর্যন্ত শরিয়তের একটি অক্ষর বা একটি বিন্দুও বিলুপ্ত হবে না, যতক্ষণ না সবকিছু পূর্ণ হয়" (মথি ৫: ১৮)।
তিনি তাঁর শিষ্যদের বলেন: "যখন তারা তোমাদের বিভিন্ন উপাসনালয়, শাসক ও রাজন্যবর্গের সামনে উপস্থিত করবে, তখন তোমরা কীভাবে বা কী দিয়ে আত্মপক্ষ সমর্থন করবে অথবা কী বলবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তা করো না। কারণ পবিত্র আত্মা সেই মুহূর্তেই তোমাদের শিখিয়ে দেবেন যা তোমাদের বলা প্রয়োজন" (লূক ১২: ১১, ১২)।
(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদুন ফিত তাওরাতি ওয়াল ইনজীলি ওয়াল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
ويقرر بطرس في رسالته الثانية قائلاً: لأنه لم تأت نبوة قط بمشيئة إنسان بل تكلم أناس الله القديسون مسوقين بالروح القدس (رسالة بطرس الثانية 1: 21)
ويقرر بولس في رسالته إلى تلميذه تيموثاوس قائلاًَ: كل الكتاب هو موحي به من الله، ونافع للتعليم والتوبيخ للتقويم والتأديب الذي في البر، لكي يكون إنسان الله كاملاً متأهباً لكل عمل صالح (2 تي 3: 16)
إنه من الميسور على الله سبحانه وتعالى أن يتكلم في وضوح وجلاء، عن أشياء قبل حدوثها بآلاف السنين مما تعدون، وبالحرى فإنه من المستحيل استحالة قطعية أن يفعل هذا الإنسان. من هذه الأحداث في امتداد التاريخ مجازاة الله سبحانه لإبراهيم عليه السلام، إيمانه وأمانته وصلاحه وإخلاصه كافأه الله بأن جعله أبا للمؤمنين، وجعل في ذريته النبوة والكتاب والملك، فضلاً عن أن الله قطع على نفسه ميثاقاً لإبراهيم ونسله قائلاً:
"وقال بذاتي أقمست يقول الرب إني من أجل أنك فعلت هذا الأمر، ولم تمسك ابنك وحيدك أباركك مباركة، وأكثر نسلك تكثيراً، كنجوم السماء وكالرمل الذي على شاطئ البحر، ويرث نسلك باب أعدائه في نسلك جميع أمم الأرض من أجل أنك سمعت لقولي" (تكوين 22: 16 - 18)
পিতর তাঁর দ্বিতীয় পত্রে সিদ্ধান্ত ব্যক্ত করে বলেন: কেননা কোনো নবুয়ত (نبوة) কখনও মানুষের ইচ্ছায় আসেনি, বরং পবিত্র আত্মার দ্বারা চালিত হয়ে আল্লাহর পবিত্র ব্যক্তিগণ কথা বলেছেন (পিতরের দ্বিতীয় পত্র ১: ২১)
পল তাঁর শিষ্য তীমথিয়ের কাছে প্রেরিত পত্রে সিদ্ধান্ত ব্যক্ত করে বলেন: প্রত্যেক কিতাবই আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহী (وحي) প্রাপ্ত এবং তা শিক্ষা, তিরস্কার, সংশোধন ও ধার্মিকতার প্রশিক্ষণের জন্য উপকারী; যাতে আল্লাহর মানুষ পূর্ণাঙ্গ ও প্রতিটি নেক আমলের জন্য প্রস্তুত হতে পারে (২ তীমথিয় ৩: ১৬)
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার জন্য এটি অত্যন্ত সহজ যে, তিনি আপনাদের গণনানুসারে কোনো বিষয় সংঘটিত হওয়ার হাজার বছর পূর্বে সে সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও স্বচ্ছভাবে বর্ণনা করবেন। পক্ষান্তরে কোনো মানুষের পক্ষে এটি করা সুনিশ্চিত (قطعي) ভাবে অসম্ভব (مستحيل)। ইতিহাসের পরিক্রমায় এসব ঘটনার মধ্যে রয়েছে ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের প্রতি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার প্রতিদান; তাঁর ঈমান, আমানতদারি, তাকওয়া ও একনিষ্ঠতার পুরস্কারস্বরূপ আল্লাহ তাঁকে মুমিনদের পিতা বানিয়েছেন এবং তাঁর বংশধরের মধ্যে নবুয়ত (نبوة), কিতাব ও রাজত্ব দান করেছেন। তদুপরি আল্লাহ ইব্রাহিম ও তাঁর বংশধরের জন্য নিজের ওপর একটি অঙ্গীকার (ميثاق) গ্রহণ করে বলেছেন:
"আর প্রভু বলেন, আমি আমার নিজ সত্তার শপথ করে বলছি, যেহেতু তুমি এই কাজটি করেছ এবং তোমার একমাত্র পুত্রকে আটকে রাখনি, তাই আমি তোমাকে অবশ্যই প্রভূত বরকত দান করব এবং তোমার বংশধরকে আকাশের নক্ষত্ররাজির মতো ও সমুদ্রতীরের বালুকণার মতো বহুগুণ বৃদ্ধি করব। আর তোমার বংশধরেরা তাদের শত্রুদের নগরদ্বার জয় করবে এবং তোমার বংশধরের মাধ্যমে পৃথিবীর সকল জাতি কল্যাণপ্রাপ্ত হবে; কারণ তুমি আমার নির্দেশ পালন করেছ" (আদিপুস্তক ২২: ১৬-১৮)
(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদুন ফিত তাওরাতি ওয়াল ইনজীলি ওয়াল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
وفي (سفر التكوين 17: 23 - 26) يقول: فأخذ إبراهيم إسماعيل ابنه وجمع ولدان بيته وجميع المبتاعين نفضته، كل ذكر من أهل بيت إبراهيم، وختن لحم غرلتهم في ذلك اليوم عينه كما كلمه الله، وكان إبراهيم ابن تسع وتسعين سنة حين ختن في لحم غرلته، وكان إسماعيل ابنه ابن ثلاث عشرة سنة حين ختن في لحم غرلته. في ذلك اليوم عينه ختن إبراهيم وإسماعيل ابنه.
وفي (سفر التكوين 25/9) يقول: وأسلم إبراهيم روحه ومات بشيبة صالحة شيخاً وشبعان أياماً، وانضم إلى قومه. ودفنه إسحاق وإسماعيل ابناه في مغارة المكفيلة في
এবং (আদিপুস্তক ১৭: ২৩ - ২৬)-এ বলা হয়েছে: অতঃপর ইব্রাহিম তাঁর পুত্র ইসমাইলকে গ্রহণ করলেন এবং তাঁর গৃহজাত সকল সন্তান ও তাঁর অর্থ দ্বারা ক্রীত সকল ব্যক্তিকে—ইব্রাহিমের গৃহের প্রতিটি পুরুষকে—একত্রিত করলেন এবং সেই দিনেই আল্লাহ তাঁকে যেভাবে বলেছিলেন, তাদের লিঙ্গাগ্রচর্মের খতনা করলেন। আর ইব্রাহিমের যখন খতনা করা হয় তখন তাঁর বয়স ছিল নিরানব্বই বছর, এবং তাঁর পুত্র ইসমাইলের যখন খতনা করা হয় তখন তাঁর বয়স ছিল তেরো বছর। সেই একই দিনে ইব্রাহিম এবং তাঁর পুত্র ইসমাইলের খতনা সম্পন্ন করা হয়েছিল।
এবং (আদিপুস্তক ২৫/৯)-এ বলা হয়েছে: আর ইব্রাহিম শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন এবং উত্তম বার্ধক্যে বৃদ্ধ ও পূর্ণ আয়ু লাভ করে মৃত্যুবরণ করলেন এবং স্বীয় লোকান্তরের সাথে মিলিত হলেন। আর তাঁর দুই পুত্র ইসহাক ও ইসমাইল তাঁকে মকফিলা গুহায় সমাহিত করলেন...
(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদুন ফিত তাওরাতি ওয়াল ইনজীলি ওয়াল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
حقل عفرون بن صوحو الحثى الذي أمام ممرا. الحقل الذي اشتراه إبراهيم من بني حث، هناك دفن إبراهيم وساره امرأته (تك 25: 8 - 10) .
إن الكتاب المقدس على بينة بأن في تشل إسماعيل بن إبراهيم عليهما السلام النبي الخاتم، ومن ثم فإن الكتاب المقدس يحمل كل الدلالات على بنوة إسماعيل الحقيقية، فضلاً عن كونه بكر إبراهيم، ولم يكن ولن يكون بأي ذريعة يتذرع بها أحبار اليهود ابناً غير شرعي.
ومن هذا فإن الكتاب المقدس بالنسبة لليهود هو السجل الأساسي لمفاضلاً الله لإسحاق الابن الثاني لإبراهيم، ومن سلالته تسلسل الأنبياء، ومنهم موسى كليم الله، وعيسى كلمة الله عليهما السلام، ولكن ماذا عن الابن الأول لإبراهيم الذي هو إسماعيل؟
إن سفر التكوين يروى لنا بكل الأسى قصة انقلاب سارة على إسماعيل وأمه هاجر جاريتها المصرية: تعود إلى طنوح سارة في تحقيق الميراث لابنها إسحاق، ذلك الميراث الكائن في الميثاق: "لنسلك أعطى هذه الأرض من نهر مصر إلى النهر الكبير نهر الفرات" (تكوين 15: 18) فتعار من هاجر التي ولدت إبراهيم ابنه البكر إسماعيل، وأن هذه الأثرة الموغلة في القدم تدل على الولع بالانتماء إلى الجنس السامي العبراني، هذه الأثرة مليئة بعناصر متناقضة.
E. A. Speiser، Genesis
(New York، 1964) The Anchor Bible، Vol. I، P. P 156، 157
وقد جاءت هذه الرواية في سفر التكوين هكذا.
"وأما ساراى امرأة أبرام فلم تلد له، وكانت لها جارية مصرية اسمها هاجر، فقالت ساراى لأبرام: هو ذا الرب قد أمسكني عن الولادة، أدخل على جاريتي لعلى أرزق منها بنين، فسمع أبرام لقول ساراى، فأخذت ساراى امرأة أبرام هاجر المصرية جاريتها من بعد عشر سنين لإقامة أبرام في أرض كنعان، وأعطتها لأبرام رجلها زوجة له فدخل على هاجر فحبلت، ولما رأت أنها حبلت صغرت مولاتها في عينيها. فقالت ساراى لأبرام ظلمي عليك. أنا دفعت جاريتي إلى حضنك، فلما رأت أنها حبلت صغرت في عينيها. يقضي الرب بيني وبينك، فقال أبرام لساراى هو ذا جاريتك في يدك افعلي
মামরের বিপরীতে অবস্থিত হিত্তীয় এফ্রোণ বিন সোহোহ্র ক্ষেত্র। যে ক্ষেত্রটি ইব্রাহিম হিত্তীয়দের নিকট হতে ক্রয় করেছিলেন, সেখানে ইব্রাহিম এবং তাঁর স্ত্রী সারাকে দাফন করা হয় (আদিপুস্তক ২৫: ৮-১০)।
পবিত্র বাইবেল এই বিষয়ে স্পষ্ট যে, ইব্রাহিম (আলাইহিমাস সালাম)-এর পুত্র ইসমাইলের বংশধারায় সর্বশেষ নবীর আগমন ঘটবে। ফলশ্রুতিতে পবিত্র বাইবেল ইসমাইলের প্রকৃত পুত্রত্বের সকল প্রমাণ বহন করে, তদুপরি তিনি ছিলেন ইব্রাহিমের প্রথমজাত পুত্র। ইহুদি পণ্ডিতরা যে অজুহাতই দাঁড় করাক না কেন, তিনি কখনোই অবৈধ সন্তান ছিলেন না এবং হতে পারেন না।
এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, ইহুদিদের নিকট পবিত্র বাইবেল হলো ইব্রাহিমের দ্বিতীয় পুত্র ইসহাককে আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব প্রদানের মূল দলিল, এবং তাঁরই বংশধারা হতে নবীদের পরম্পরাগত আগমন ঘটেছে, যাঁদের মধ্যে আল্লাহর সাথে সরাসরি কথোপকথনকারী মূসা এবং আল্লাহর কালিমা ঈসা (আলাইহিমাস সালাম) অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু ইব্রাহিমের প্রথম পুত্র ইসমাইলের বিষয়টি কী?
আদিপুস্তক অত্যন্ত পরিতাপের সাথে আমাদের নিকট সারা কর্তৃক ইসমাইল এবং তাঁর মা মিশরীয় দাসী হাজেরার বিরুদ্ধে বিরোধিতার বৃত্তান্ত বর্ণনা (رواية) করে: এর মূলে ছিল তাঁর পুত্র ইসহাকের জন্য সেই উত্তরাধিকার নিশ্চিত করার সারার আকাঙ্ক্ষা, যে উত্তরাধিকারের অঙ্গীকার চুক্তিতে ব্যক্ত হয়েছে: "তোমার বংশধরদের আমি এই ভূমি দান করলাম, মিসরের নদী হতে মহানদী ফুরাত পর্যন্ত" (আদিপুস্তক ১৫: ১৮)। ফলে তিনি হাজেরার প্রতি ঈর্ষান্বিত হন, যিনি ইব্রাহিমের প্রথমজাত পুত্র ইসমাইলকে জন্ম দিয়েছিলেন। সুপ্রাচীন কালের এই স্বার্থপরতা হিব্রু সেমেটিক বংশধারার প্রতি অতিশয় আসক্তিকে নির্দেশ করে; এই স্বার্থপরতা নানা স্ববিরোধী উপাদানে পরিপূর্ণ।
E. A. Speiser, Genesis
(New York, 1964) The Anchor Bible, Vol. I, P. P 156, 157
আদিপুস্তকে এই বর্ণনা (رواية) এভাবে এসেছে।
"আব্রামের স্ত্রী সারয় তাঁর জন্য কোনো সন্তান জন্ম দেননি। হাজেরা নামে তাঁর এক মিশরীয় দাসী ছিল। সারয় আব্রামকে বললেন: 'দেখুন, প্রভু আমাকে সন্তান ধারণ থেকে বঞ্চিত রেখেছেন। আপনি আমার দাসীর নিকট গমন করুন, হয়তো আমি তার মাধ্যমে সন্তান লাভ করব।' আব্রাম সারয়ের কথা মেনে নিলেন। আব্রাম কনান দেশে দশ বছর বসবাসের পর, তাঁর স্ত্রী সারয় তাঁর মিশরীয় দাসী হাজেরাকে গ্রহণ করলেন এবং তাকে তাঁর স্বামী আব্রামের নিকট স্ত্রী হিসেবে দান করলেন। অতঃপর তিনি হাজেরার নিকট গেলেন এবং সে গর্ভবতী হলো। যখন সে দেখল যে সে গর্ভবতী হয়েছে, তখন তার দৃষ্টিতে তার কর্ত্রী তুচ্ছ হয়ে পড়ল। তখন সারয় আব্রামকে বললেন: 'আমার ওপর এই অন্যায়ের দায় আপনার। আমিই আমার দাসীকে আপনার কোলে তুলে দিয়েছি, অথচ সে গর্ভবতী হওয়ার পর আমি তার দৃষ্টিতে তুচ্ছ হয়ে গেছি। প্রভু আমার ও আপনার মাঝে বিচার করুন।' আব্রাম সারয়কে বললেন: 'দেখুন, আপনার দাসী আপনার হাতেই রয়েছে, আপনি যা শ্রেয় মনে করেন তাই করুন...'"
(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদুন ফিত তাওরাতি ওয়াল ইনজীলি ওয়াল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
بها ما يحسن في عينيك. فأذلتها ساراى فهربت من وجهها" (تكوين 16: 1 - 6) .
وحاصل ذلك فإن سفر التكوين أغلق الباب دون إسماعيل، وأمه هاجر زوجة أبيه إبراهيم، منذئذ فصاعداً إلا إسحاق وسارة أمه أصبحا ذا شأن "وأقيم عهدي معه عهداً أبدياً لنسله من بعده" (تكوين 17: 19) "ولكن عهدي أقيمه مع إسحاق الذي تلده لك ساره في هذا الوقت في السنة الآتية" (تكوين 17: 21) ومن المفارقات أن ميثاق الله لإبراهيم لم يتحرف إطلاقاً، ذلك عندما أراد الله مجازاة إبراهيم لأمانته بأن أخذ على نفسه ميثقاً لتوريث إبراهيم ونسله أرض الميعاد، لم يكن إسحاق في الصورة بعد فيقول سفر التكوين:
"وقال أبرام أيضاً إنك لم تعطني نسلاً وهوذا ابن بيتي وارث لي، فإذا كلام الرب إليه قائلاً لا يرثك هذا، بل الذي يخرج من أحشائك هو يرثك" (تكوين 15: 3، 4) وهذا هو الميثاق بنصه الكامل: "في ذلك اليوم قطع الرب مع أبرام ميثاقاً قائلاًَ: لنسلك أعطى هذه الأرض من نهر مصر إلى النهر الكبير نهر الفرات" (تكوين 15: 18) وحدد الميثاق الأماكن التي ينتزعها من سكاناه لذنوبهم وهي:
"القينيين والقنزيين والقدمونيين والحثيين والفرزيين والرفائيين والأموريين والكنعانيين والجرجاشيين والببوسيين" (تكوين 15: 19، 20) وفي هذه الفترة يقول سفر التكوين: "وأما ساراى امرأة أبرام فلم تلد له" (تكوين 16: 1) بل كان إسماعيل هو الابن الوحيد لإبراهيم من هاجر جارية سارة، وكان إسماعيل قرة عين أبويه فقال إبراهيم لله: ليت إسماعيل يعيش أمامك (تكوين 17: 18) فاستجاب له ربه قائلاً: "وأما إسماعيل فقد سمعت لك فيه ها أنا أباركه وأثمره وأكثره كثيراً جداً. اثنى عشر رئيساً يلد وأجعله أمة كبيرة" (تكوين 17: 20) .
ولقد جعل الله الختان لكل ذكر لإبراهيم ونسله فريضة ابدية، وعلامة عهد مع الله فيقول سفر التكوين: "وتكلم الله معه قائلاً: أما أنا فهوذا عهدي معك، وتكون أباً لجمهور من الأمم، وأثمرك كثيراً جداً، وأجعلك أمماً وملوك يخرجون، وأقيم عهدي بيني وبينك، وبين نسلك من بعدك في أجيالهم عهداً أبدياً، لأكون إلهاً لك ولنسلك من بعدك، وأعطي لك ولنسلك من بعدك أرض غربتك كل أرض كنعان ملكاً أبدياً. وأكون الهمهم" (تكوين 17: 3 - 8) فما هو العهد إذن؟ يقول سفر التكوين: "وقال الله لإبراهيم: وأما أنت فتحفظ عهدي، أنت ونسلك من بعدك في أجيالهم، هذا
"তার সাথে তোমার যা ভালো মনে হয় করো। তখন সারাই তাকে লাঞ্ছিত করল এবং সে তার সামনে থেকে পালিয়ে গেল।" (আদিপুস্তক ১৬: ১ - ৬) .
এর সারসংক্ষেপ এই যে, আদিপুস্তক ইসমাইল এবং তার মা হাজেরা—যিনি তার পিতা ইব্রাহিমের স্ত্রী—তাদের জন্য সকল দ্বার রুদ্ধ করে দিয়েছে; এরপর থেকে কেবল ইসহাক এবং তার মা সারা গুরুত্ববহ হয়ে ওঠেন: "আমি তার সাথে আমার চুক্তি এক চিরস্থায়ী চুক্তিরূপে তার পরবর্তী বংশধরদের জন্য প্রতিষ্ঠিত করব" (আদিপুস্তক ১৭: ১৯), "কিন্তু আমি আমার চুক্তি ইসহাকের সাথে প্রতিষ্ঠিত করব, যাকে সারা আগামী বছরের এই নির্দিষ্ট সময়ে তোমার জন্য জন্ম দেবে" (আদিপুস্তক ১৭: ২১)। একটি বিড়ম্বনা এই যে, ইব্রাহিমের প্রতি আল্লাহর প্রতিশ্রুতি মোটেও পরিবর্তিত হয়নি; যখন আল্লাহ ইব্রাহিমের বিশ্বস্ততার প্রতিদান স্বরূপ ইব্রাহিম ও তার বংশধরদের প্রতিশ্রুত ভূমি উত্তরাধিকার সূত্রে প্রদানের অঙ্গীকার করেছিলেন, তখনো ইসহাক দৃশ্যপটে ছিলেন না। আদিপুস্তকে বলা হয়েছে:
"আব্রাম আরও বললেন, ‘দেখুন, আপনি আমাকে কোনো বংশধর দেননি, তাই আমার গৃহের এই দাসই আমার উত্তরাধিকারী হতে যাচ্ছে।’ তখন রবের বাণী তাঁর কাছে এল এই বলে যে, ‘এই ব্যক্তি তোমার উত্তরাধিকারী হবে না, বরং যে তোমার নিজের দেহ থেকে নির্গত হবে সেই তোমার উত্তরাধিকারী হবে।’" (আদিপুস্তক ১৫: ৩, ৪)। আর এটিই হলো চুক্তির পূর্ণ বিবরণ: "সেদিন রব আব্রামের সাথে একটি চুক্তি সম্পাদন করে বললেন: ‘তোমার বংশধরদের আমি এই ভূমি দান করলাম, মিসরের নদী থেকে শুরু করে মহানদী ফোরাত পর্যন্ত’" (আদিপুস্তক ১৫: ১৮)। সেই চুক্তিতে ঐ সকল অঞ্চলও সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে যা তিনি তাদের অধিবাসীদের পাপের কারণে তাদের নিকট থেকে ছিনিয়ে নেবেন, আর সেগুলো হলো:
"কেনীয়, কনিসীয়, কদমোনীয়, হিত্তীয়, পরিষীয়, রফায়ীয়, আমোরীয়, কনানীয়, গির্গাশীয় এবং যিবূষীয়" (আদিপুস্তক ১৫: ১৯, ২০)। এই সময়কাল সম্পর্কে আদিপুস্তক বলছে: "আব্রামের স্ত্রী সারাই তার জন্য কোনো সন্তান জন্ম দেননি" (আদিপুস্তক ১৬: ১)। বরং সারার দাসী হাজেরার গর্ভে জন্ম নেওয়া ইসমাইলই ছিলেন ইব্রাহিমের একমাত্র পুত্র এবং ইসমাইল ছিলেন তাঁর পিতামাতার নয়নমণি। তাই ইব্রাহিম আল্লাহর নিকট ফরিয়াদ জানিয়েছিলেন: ‘হায়, ইসমাইল যেন আপনার সামনে জীবিত থাকে!’ (আদিপুস্তক ১৭: ১৮)। তখন তাঁর রব তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে বললেন: "আর ইসমাইলের বিষয়ে আমি তোমার কথা শুনেছি; দেখ, আমি তাকে বরকত দান করব, তাকে ফলবান করব এবং তাকে সংখ্যায় অত্যন্ত বৃদ্ধি করব। সে বারোজন নেতার জন্ম দেবে এবং আমি তাকে এক মহান জাতিতে পরিণত করব" (আদিপুস্তক ১৭: ২০) .
আল্লাহ ইব্রাহিম ও তাঁর বংশধরদের প্রত্যেক পুরুষ সদস্যের জন্য খাতনাকে একটি চিরস্থায়ী বিধান এবং আল্লাহর সাথে চুক্তির নিদর্শন হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। আদিপুস্তক বলছে: "আল্লাহ তাঁর সাথে কথা বললেন এবং বললেন: ‘আমার পক্ষ থেকে এই যে তোমার সাথে আমার চুক্তি, তুমি বহু জাতির পিতা হবে। আমি তোমাকে অত্যন্ত ফলবান করব এবং আমি তোমাকে বহু জাতিতে পরিণত করব এবং তোমার থেকে রাজন্যবর্গ নির্গত হবেন। আমি আমার এবং তোমার মধ্যে এবং তোমার পরবর্তী বংশধরদের মধ্যে তাদের পুরুষানুক্রমে এক চিরস্থায়ী চুক্তি স্থাপন করব, যেন আমি তোমার এবং তোমার পরবর্তী বংশধরদের ইলাহ হই। তুমি যেখানে প্রবাসী হিসেবে আছো, সেই সমগ্র কনান ভূমি আমি তোমাকে এবং তোমার পরবর্তী বংশধরদের চিরস্থায়ী অধিকারে দান করব এবং আমি তাদের ইলাহ হব’" (আদিপুস্তক ১৭: ৩ - ৮)। তাহলে এই চুক্তিটি কী? আদিপুস্তক বলছে: "আর আল্লাহ ইব্রাহিমকে বললেন: ‘আর তুমি আমার চুক্তি রক্ষা করবে, তুমি এবং তোমার পরে তোমার বংশধরেরা তাদের পুরুষানুক্রমে; এটিই...’
(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদুন ফিত তাওরাতি ওয়াল ইনজীলি ওয়াল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
هو عهدي الذي تحفظونه بيني وبينكم وبين نسلك من بعدك، يختن منكم كل ذكر، فتختنون في لحم غرلتكم، فيكون علامة عهد بيني وبينكم، ابن ثمانية أيام يختن منكم كل ذكر في أجيالكم، وليد البيت والمبتاع بفضة من كل ابن غريب ليس من نسلك يختن ختاناً وليد بيتك والمبتاع بفضة، فيكون عهدي في لحمكم عهداً أبدياً، وأما الذكر الأغلف الذي لا يختن في لحم غرلته فتقطع تلك النفس من شعبها. إنه قد نكث عهدي" (تكوين 17: 9 - 14) واستجاب إبراهيم لأمر ربه فيقول سفر التكوين: "فأخذ إبراهيم إسماعيل ابنه، وجميع ولدان بيته وجميع المبتاعين بفضته، كل ذكر من أهل بيت إبراهيم، وختن لحم غرلتهم في ذلك اليوم عينه، كما كلمه، وكان إبراهيم ابن تسع وتسعين سنة حين ختن في لحم غرلته، وكان إسماعيل ابن ثلاث عشرة سنة حين ختن في لحم غرلته، في ذلك اليوم عينه ختن إبراهيم وإسماعيل ابنه" (تكوين 17: 23 - 25) .
استحقاق نسل إسماعيل لحقوق البكورية:يدافع جيمس هيستنج عن حق البكورية إسماعيل فيقول: لقد جانب التوفيق كتاب سفر التكوين. أولئك الذين حاولوا أن يجعلوا نسل إسماعيل واستحقاقه لحقوق البكورية أقل مرتبه زعماً أن انتهاؤه لأمه هاجر جارية إسماعيل يفقده حق البكورية، فهم يزعمون أن هاجر جارية سارة، وأن سارة هي الحرة، ومن ثم فإن البكورية لإسحاق ابن سارة الزوجة الحرة، وبهذا الصنيع فإنهم يغفلون قانون الأسرة الواضح والصريح المنصوص في التوارة في سفر التثنية، ووفقاً لهذا القانون فإن حقوق الابن البكر لا يمكن إسقاطه بسبب الوضع الإجتماعي للأم، هذا الحق الشرعي قج بينه الناموس بالنسبة للرجل الذي يجمع في معيشته أكثر من زوجة، وحالة إبراهيم تنطبق عليها الشريعة إن هوى النفس والأثرة لا تحرم الابن البكر حقه، ولا تحتم خطوة الله للزوجة الحرة فيجعل الله عهده مع ابنها والشريعة صريحة.
نص شريعة حق البكورية"إذا كان لرجل امرأتان إحداهما محبوبة والأخرى مكروهة، فولدتا له بنين المحبوبة والمكروهة، فإن كان الابن البكر للمكروهة فيوم يقسم لبنيه ما كان له لا يحل له أن يقدم ابن المحبوبة بكراً على ابن المكروهة البكر، بل بعرف ابن
"এটিই আমার সেই অঙ্গীকার যা তোমরা আমার ও তোমাদের এবং তোমার পরবর্তী বংশধরদের মাঝে রক্ষা করবে: তোমাদের প্রত্যেক পুরুষ খৎনা প্রাপ্ত হবে। তোমরা তোমাদের লিঙ্গাগ্রের ত্বক খৎনা করবে, যা আমার ও তোমাদের মধ্যে অঙ্গীকারের চিহ্ন হিসেবে গণ্য হবে। তোমাদের বংশপরম্পরায় আট দিন বয়সের প্রত্যেক পুরুষ শিশু খৎনা প্রাপ্ত হবে; তা সে তোমার নিজ গৃহে জন্ম নেওয়া দাস হোক কিংবা কোনো বিদেশির কাছ থেকে রুপার বিনিময়ে কেনা কেউ হোক—যে তোমার বংশজাত নয়। তোমার গৃহে জন্ম নেওয়া এবং তোমার রুপায় কেনা দাসকে অবশ্যই খৎনা করতে হবে। এভাবে আমার অঙ্গীকার তোমাদের দেহে একটি চিরন্তন অঙ্গীকার হিসেবে অক্ষয় থাকবে। আর যে পুরুষ খৎনাবিহীন থাকবে, তাকে তার স্বজাতি থেকে বিচ্ছিন্ন করা হবে; কারণ সে আমার অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছে।" (আদিপুস্তক ১৭: ৯-১৪)। এবং ইব্রাহিম তার রবের আদেশের অনুগত হলেন; আদিপুস্তক গ্রন্থে বলা হয়েছে: "অতঃপর ইব্রাহিম তার পুত্র ইসমাইলকে, তার গৃহের সকল দাসকে এবং রুপার বিনিময়ে কেনা সকল ব্যক্তিকে অর্থাৎ ইব্রাহিমের গৃহের সকল পুরুষকে নিলেন এবং সেই দিনই তাদের লিঙ্গাগ্রের ত্বক খৎনা করলেন, যেভাবে আল্লাহ তাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। যখন ইব্রাহিমের খৎনা করা হয় তখন তার বয়স ছিল নিরানব্বই বছর। আর তার পুত্র ইসমাইলের খৎনা করার সময় তার বয়স ছিল তেরো বছর। একই দিনে ইব্রাহিম ও তার পুত্র ইসমাইল খৎনা প্রাপ্ত হলেন।" (আদিপুস্তক ১৭: ২৩-২৫)।
ইসমাইলের বংশধরদের জ্যেষ্ঠাধিকারের অধিকার লাভ:জেমস হেস্টিংস ইসমাইলের জ্যেষ্ঠাধিকারের সপক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন: আদিপুস্তক গ্রন্থের লেখকরা সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারেননি। যারা ইসমাইলের বংশধর এবং তার জ্যেষ্ঠাধিকারের যোগ্যতাকে এই দাবি করে খাটো করার চেষ্টা করেছেন যে, দাসী হাজেরার সন্তান হওয়ার কারণে ইসমাইল জ্যেষ্ঠাধিকার হারিয়েছেন; তারা মূলত দাবি করেন যে হাজেরা ছিলেন সারাহর দাসী এবং সারাহ ছিলেন স্বাধীন নারী, ফলে জ্যেষ্ঠাধিকার কেবল স্বাধীন স্ত্রী সারাহর পুত্র ইসহাকের প্রাপ্য। এই কাজের মাধ্যমে তারা তাওরাতের 'দ্বিতীয় বিবরণ' (Deuteronomy) গ্রন্থে বর্ণিত পরিবারের সুস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন আইনকে উপেক্ষা করেছেন। এই আইন অনুযায়ী, মাতার সামাজিক অবস্থানের কারণে জ্যেষ্ঠ পুত্রের অধিকার খর্ব করা যায় না। একাধিক স্ত্রী সম্পন্ন ব্যক্তির ক্ষেত্রে এই আইনি অধিকার শরিয়ত (شريعة) দ্বারা নির্ধারিত। ইব্রাহিমের ক্ষেত্রেও এই বিধান কার্যকর; কেননা মানুষের খেয়ালখুশি বা পক্ষপাতিত্ব জ্যেষ্ঠ পুত্রকে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারে না এবং আল্লাহ কেবল স্বাধীন স্ত্রীর পুত্রের সাথেই তার অঙ্গীকার সীমাবদ্ধ রাখবেন এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই, কারণ এ বিষয়ে শরিয়ত (شريعة) অত্যন্ত স্পষ্ট।
জ্যেষ্ঠাধিকার সংক্রান্ত শরিয়তের বিধানের পাঠ"যদি কোনো ব্যক্তির দুই স্ত্রী থাকে, যাদের একজন তার প্রিয় এবং অন্যজন অপ্রিয়, এবং তারা উভয়েই তার সন্তান জন্ম দেয়, আর যদি জ্যেষ্ঠ পুত্রটি সেই অপ্রিয় স্ত্রীর গর্ভজাত হয়; তবে যেদিন সে তার সন্তানদের মধ্যে তার সম্পদ বণ্টন করবে, সেদিন সে তার প্রিয় স্ত্রীর পুত্রকে সেই অপ্রিয় স্ত্রীর জ্যেষ্ঠ পুত্রের ওপর জ্যেষ্ঠাধিকার প্রদান করতে পারবে না। বরং সে তার সেই পুত্রের জ্যেষ্ঠত্ব স্বীকার করে..."