(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল মুসলিমিন মিনাল ফিতানি ফী দাউই হাদীছি আবদিল্লাহ বিন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা
(পৃষ্ঠা: -)
موقف المسلم من الفتن في ضوء حديث عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما القسم: كتب عامة
الكتاب: موقف المسلم من الفتن في ضوء حديث عبد الله بن عمرو - رضي الله عنه -
المؤلف: نوال بنت عبد العزيز العيد
الناشر: دار الحضارة للنشر والتوزيع
الطبعة: الأولى، 1434 هـ - 2013 م
عدد الصفحات: 82
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 27 ربيع الأول 1444
আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদিসের আলোকে ফিতনার সময় মুসলিমের অবস্থান বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ
বই: আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিসের আলোকে ফিতনার সময় মুসলিমের অবস্থান
লেখক: নাওয়াল বিনতে আব্দুল আজিজ আল-ঈদ
প্রকাশক: দারুল হাজারা লিন-নাশর ওয়াত-তাওজি
সংস্করণ: প্রথম، ১৪৩৪ হিজরি - ২০১৩ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮২
[বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল মুসলিমিন মিনাল ফিতানি ফী দাউই হাদীছি আবদিল্লাহ বিন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা
(পৃষ্ঠা: ৫)
مقدمةالحمد لله الذي فضَّل هذه الأمةَ على سائر الأمم، وأنزل إليها خير الكتب، وأرسل إليها خير الرسل، والصلاة والسلام على النبي الأمين، الذي ما ترك خيرة إلا ودل أمته عليه، وما ترك شرا إلا وحذر أمته منه؛ صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم تسليمًا كثيرًا.
أما بعد:
فإن المتأمل الأحوال الزمان يقف عيانا على خبر رسول الله صلى الله عليه وسلم بما يحدث وما سيحدث من تغيرات على كافة الأصعدة والمجالات الشرعية والاقتصادية والاجتماعية والأمنية والكونية وغيرها، ولأن أجل ما يحفظ وأثمن ما يعتني به دين العبد الذي به نجاته وفلاحه في الدنيا والآخرة، جاءت النصوص الشرعية لتبين خطر الفتن وموقف المسلم منها، لأنه إذا لم يرع حالها، ولم ينظر إلى نتائجها، ويبين له الموقف الشرعي في التعامل معها، أضحى دينه عرضة للأخطار، وصار ضحية للشبهات والشهوات، وتحولت الفتن من فتن خاصة صغيرة تستهدف الأفراد إلى عامة كبيرة تستهدف المجتمعات، وما كان لرسول الله صلى الله عليه وسلم والحال كذلك أن يترك أتباعه دون
ভূমিকা (مقدمة)সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি এই উম্মতকে অপরাপর সকল উম্মতের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন, তাদের প্রতি সর্বশ্রেষ্ঠ কিতাব অবতীর্ণ করেছেন এবং তাদের নিকট সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল প্রেরণ করেছেন। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সেই আমানতদার নবীর ওপর, যিনি তাঁর উম্মতের জন্য কল্যাণকর এমন কোনো বিষয় নেই যার দিকনির্দেশনা তিনি প্রদান করেননি এবং অকল্যাণকর এমন কোনো বিষয় নেই যা থেকে তিনি তাঁর উম্মতকে সতর্ক করেননি; তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর অজস্র ধারায় সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই যিনি সময়ের পরিস্থিতির ওপর নিবিষ্ট মনে চিন্তা করবেন, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক শরয়ি (شرعية), অর্থনৈতিক, সামাজিক, নিরাপত্তা ও মহাজাগতিকসহ সকল স্তরে ও ক্ষেত্রে যা ঘটছে এবং ভবিষ্যতে ঘটবে সে সম্পর্কে প্রদত্ত সংবাদের চাক্ষুষ বাস্তবতা দেখতে পাবেন। যেহেতু একজন বান্দার দ্বীনই তার সবচেয়ে মহান ও মূল্যবান সম্পদ যার যত্ন নেওয়া আবশ্যক এবং যার মাধ্যমেই ইহকাল ও পরকালে তার মুক্তি ও সফলতা নিহিত, তাই ফিতনার (الفتن) ভয়াবহতা এবং সে বিষয়ে একজন মুসলিমের অবস্থান স্পষ্ট করার জন্য শরয়ি দলীলসমূহ (النصوص) এসেছে। কারণ, যদি সে এই পরিস্থিতির অবস্থাকে উপলব্ধি না করে, এর পরিণতির দিকে লক্ষ্য না রাখে এবং এর সাথে মোকাবিলার শরয়ি (شرعي) পদ্ধতি তার নিকট স্পষ্ট না হয়, তবে তার দ্বীন ঝুঁকির সম্মুখীন হবে এবং সে সংশয় (الشبهات) ও কুপ্রবৃত্তির (الشهوات) শিকারে পরিণত হবে। আর ফিতনাগুলো (الفتن) ব্যক্তিকেন্দ্রিক ছোট ফিতনা (فتن) থেকে এমন ব্যাপক ও বড় ফিতনায় রূপান্তরিত হয়েছে যা গোটা সমাজকে লক্ষ্যবস্তু বানায়। এমতাবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষে এমনটি হওয়া সম্ভব ছিল না যে, তিনি তাঁর অনুসারীদের কোনো [দিকনির্দেশনা] ব্যতিরেকে...
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল মুসলিমিন মিনাল ফিতানি ফী দাউই হাদীছি আবদিল্লাহ বিন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা
(পৃষ্ঠা: ৬)
تهيئة نفوسهم لما سيستقبلون، وكيف يتعاملون، ليسيروا على نور وبصيرة تقيهم الضلال والزيغ والاضطراب والشك، فيصمدون والناس يتساقطون، ويفقهون والناس يجهلون، ويمسكون والخائضون يخوضون، فتأتي أعمالهم وأقوالهم مبنية على العلم الذي تلقاه رسول الله صلى الله عليه وسلم عن ربه لا عن عقل قاصر، أو هوى متبع، أو جهل يودي بصاحبه.
ولذا حرص سلف الأمة على جمع أحاديث الفتن واستشراحها والتفقه فيها، وأفردوا لها أبوابا خاصة في كتبهم، بل إن من أوائل الأبواب التي أفردت بالتصنيف عند المحدثين "باب الفتن" الذي صنف فيه نعيم بن حماد
الخزاعي (ت 228) كتابا قد طبع، (ثم سار على آثارهم الموفقون من أشياعهم واقفين مع الحجة والاستدلال يسيرون مع الحق أين سارت ركائبه، ويستقلون مع الصواب حيث استقلت مضاربه، إذا بدا لهم الدليل بأخذته طاروا إليه زرافات ووحدانا، وإذا دعاهم الرسول صلى الله عليه وسلم إلى أمر انتدبوا إليه، ولا يسألونه عما قال برهانا، ونصوصه أجل في صدورهم وأعظم في نفوسهم من أن يقدموا عليها قول أحد من الناس أو يعارضوها برأي أو قياس)
(1).
--------------------------------------------
তাদের অন্তরকে ভবিষ্যতের মুখোমুখি হওয়ার জন্য এবং সে পরিস্থিতিতে তারা কীভাবে আচরণ করবে সেটির জন্য প্রস্তুত করা, যাতে তারা এমন এক নূর ও অন্তর্দৃষ্টির ওপর চলতে পারে যা তাদেরকে পথভ্রষ্টতা, বিচ্যুতি, অস্থিরতা ও সংশয় থেকে রক্ষা করবে। ফলে যখন মানুষ ঝরে পড়বে তখন তারা অটল থাকবে, যখন মানুষ অজ্ঞতায় নিমজ্জিত থাকবে তখন তারা প্রাজ্ঞ হবে এবং যখন অনর্থক চর্চাকারীরা তাতে লিপ্ত হবে তখন তারা তা থেকে বিরত থাকবে। সুতরাং তাদের কথা ও কাজ সেই ইলমের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠবে যা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর রবের নিকট থেকে প্রাপ্ত হয়েছেন; কোনো অপূর্ণ বুদ্ধি, অনুসরিত প্রবৃত্তি কিংবা ধ্বংসাত্মক অজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে নয় যা তার অধিকারীকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়।
আর এ কারণেই উম্মতের সালাফগণ ফিতনা (فتنة) সংক্রান্ত হাদিসগুলো সংগ্রহ করতে, সেগুলোর ব্যাখ্যা প্রদান করতে এবং তাতে গভীর পাণ্ডিত্য অর্জনে সচেষ্ট ছিলেন। তাঁরা তাঁদের গ্রন্থগুলোতে এ বিষয়ে বিশেষ অনুচ্ছেদ নির্দিষ্ট করেছেন। এমনকি মুহাদ্দিসগণের (محدثون) নিকট স্বতন্ত্র শ্রেণীবিন্যাসের ক্ষেত্রে প্রাথমিক অধ্যায়গুলোর অন্যতম ছিল ‘বাবুল ফিতান’, যে বিষয়ে নুআইম বিন হাম্মাদ
আল-খুযায়ি (মৃত্যু ২২৮ হি.) একটি কিতাব সংকলন করেছেন যা মুদ্রিত হয়েছে। (অতঃপর তাঁদের অনুসারীদের মধ্যে যারা তাওফীকপ্রাপ্ত, তারা তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন; তারা প্রমাণ (حجة) ও দলীল প্রয়োগের (استدلال) ওপর অটল থেকে সত্য যেদিকেই ধাবিত হয় তারা সেদিকেই চলেন এবং সঠিক বিষয়ের সাথেই তারা অবস্থান করেন। যখনই তাঁদের সামনে কোনো দলীল (دليل) স্পষ্ট হয়, তারা দলবদ্ধভাবে বা একাকী সেদিকে ছুটে যান। আর যখনই রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁদের কোনো বিষয়ের দিকে আহ্বান জানান, তাঁরা দ্রুত সেদিকে অগ্রসর হন; তাঁরা তাঁর বাণীর কোনো প্রমাণ দাবি করেন না। তাঁদের নিকট নসসমূহ (نصوص) অন্তরের অন্তঃস্থলে এতোটাই মর্যাদাপূর্ণ ও মহিমান্বিত যে, তার ওপর তাঁরা অন্য কোনো মানুষের কথাকে প্রাধান্য দেন না অথবা রায় (رأي) বা কিয়াস (قياس) দিয়ে তার বিরোধিতা করেন না।)
(1).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল মুসলিমিন মিনাল ফিতানি ফী দাউই হাদীছি আবদিল্লাহ বিন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা
(পৃষ্ঠা: ৭)
ونحن في هذا الزمان - زمان الفتن بألوانها - بحاجة لتأمل الآيات والأحاديث الواردة في الفتن، وأخذ العبر والعظات والأحكام، والخروج بفقه ما ينبغي عمله عند الفتن في ضوء كتاب الله وصحيح سنة رسوله صلى الله عليه وسلم على فهم السلف الصالح، ومن الأحاديث التي حوت قواعد مهمة في موقف المسلم من الفتنة الحديث الذي يرويه الصحابي الجليل عبد الله بن عمرو بن العاص رضي الله عنه الذي قال له الرسول فيه «الزم بيتك، وأملك عليك لسانك ودع عنك .... »
وفي ضوء ما تقدم أحببت أن أضرب بسهمي في هذا الموضوع بالإضافة إلى ما يأتي:
1/ حاجة الناس الماسة في مثل هذه الأزمنة إلى طرح موضوع الفتن وبيان سبل النجاة منها.
2/ اضطراب مواقف الناس عند الفتن لقلة علمهم وجهلهم.
3/ التجرؤ على الثوابت والمسلمات والخوض في دين الله بغير علم ومن أناس غير مؤهلين.
4/ خوض كثير من الناس في أمور عظام هي مزلة أفهام، ينبغي للمسلم الإمساك عنها.
বর্তমান সময়ে — যা নানাবিধ ফিতনা (الفتنة)-এর যুগ — আমাদের জন্য ফিতনা (الفتنة) সংক্রান্ত আয়াত ও হাদিসসমূহ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করা, শিক্ষা, উপদেশ ও বিধান গ্রহণ করা এবং আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিশুদ্ধ (صحيح) সুন্নাহর আলোকে সালাফে সালেহীন (السلف الصالح)-এর বুঝ অনুযায়ী ফিতনার (الفتنة) সময় কী করণীয় সেই সম্যক জ্ঞান বা ফিকহ (فقه) অর্জন করা একান্ত প্রয়োজন। ফিতনার (الفتنة) বিষয়ে একজন মুসলমানের অবস্থানের ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালা সংবলিত হাদিসসমূহের মধ্যে একটি হলো সেই হাদিসটি, যা মহান সাহাবী (الصحابي) আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) বর্ণনা করেছেন; যেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বলেছিলেন, «তুমি নিজের ঘরে অবস্থান করো, তোমার জিহবাকে সংযত রাখো এবং যা তোমার (সংশ্লিষ্ট) নয় তা বর্জন করো...»
উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষাপটে, আমি নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর পাশাপাশি এই বিষয়ে আমার ক্ষুদ্র অবদান রাখার ইচ্ছা পোষণ করেছি:
১/ বর্তমানের ন্যায় সংকটময় সময়ে মানুষের সামনে ফিতনা (الفتنة) সংক্রান্ত বিষয়টি উপস্থাপন করা এবং তা থেকে পরিত্রাণের পথ বর্ণনা করার তীব্র প্রয়োজনীয়তা।
২/ ইলমের স্বল্পতা ও অজ্ঞতার কারণে ফিতনার (الفتنة) সময় মানুষের অবস্থানের অস্থিরতা ও দ্বিধা-দ্বন্দ্ব।
৩/ দ্বীনের সুপ্রতিষ্ঠিত বিষয় ও অকাট্য (المسلمات) বিষয়গুলোর বিরুদ্ধে দুঃসাহস দেখানো এবং অযোগ্য ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে ইলম ছাড়াই আল্লাহর দ্বীন নিয়ে তর্কে লিপ্ত হওয়া।
৪/ অনেক মানুষের এমন সব গুরুতর বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা যা বুদ্ধিবৃত্তিক পদস্খলনের কারণ হতে পারে, অথচ একজন মুসলমানের জন্য তা থেকে বিরত থাকা (الإمساك) বা মৌনতা অবলম্বন করাই বাঞ্ছনীয়।
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল মুসলিমিন মিনাল ফিতানি ফী দাউই হাদীছি আবদিল্লাহ বিন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা
(পৃষ্ঠা: ৮)
5/ خدمة أحاديث رسول الله صلى الله عليه وسلم رواية ودراية.
6/ اشتمال حديث عبد الله بن عمرو) على توجيهات وقواعد جامعة مهمة لا يستغني عنها مسلم عند وقوع الفتن.
7/ بيان موقف أهل السنة والجماعة من الفتن وأحاديثها وأحداثها.
8/ الحاجة الماسة لمثل هذه الموضوعات المعاصرة والحية في ساحة اليوم، لتدل المسلم على الهدى، وتزوده بالخير والتقى، وتنير له الطريق، وتنجيه من كل مزلق عميق.
موضوعات البحث:قسمت البحث إلى مقدمة، وتمهيد، وثلاثة مباحث، وخاتمة.
المقدمة: وضمنتها: أهمية البحث، وخطة البحث.
التمهيد: وفيه تعريف الفتن.
المبحث الأول: أقسام الفتن.
المبحث الثاني: تخريج حديث عبد الله بن عمرو، ودراسة إسناده.
5/ রেওয়ায়েত (رواية) এবং দিরায়েত (دراية)-এর মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসসমূহের খিদমত করা।
6/ ফিতনা (الفتن) দেখা দেওয়ার সময় আবদুল্লাহ বিন আমর-এর বর্ণিত হাদিসটিতে এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা এবং ব্যাপক অর্থবোধক মূলনীতির সমাবেশ রয়েছে, যা কোনো মুসলিমের জন্য অপরিহার্য।
7/ ফিতনা (الفتن), এর সাথে সংশ্লিষ্ট হাদিস এবং ঘটনাবলির ব্যাপারে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের অবস্থান বর্ণনা করা।
8/ বর্তমান প্রেক্ষাপটে এ ধরনের সমসাময়িক এবং জীবন্ত বিষয়গুলোর তীব্র প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, যা মুসলিমকে সঠিক পথের দিশা দেবে, তাকে কল্যাণ ও তাকওয়া (التقى) দ্বারা সমৃদ্ধ করবে, তার পথকে আলোকিত করবে এবং তাকে প্রতিটি গভীর স্খলন থেকে রক্ষা করবে।
গবেষণার বিষয়বস্তু:আমি গবেষণাপত্রটিকে একটি ভূমিকা (مقدمة), একটি প্রস্তাবনা (تمهيد), তিনটি পরিচ্ছেদ এবং একটি উপসংহারে (خاتمة) বিভক্ত করেছি।
ভূমিকা (مقدمة): এতে গবেষণার গুরুত্ব এবং গবেষণার পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রস্তাবনা (تمهيد): এতে ফিতনা (الفتن)-এর সংজ্ঞা রয়েছে।
প্রথম পরিচ্ছেদ: ফিতনা (الفتن)-এর প্রকারভেদ।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আবদুল্লাহ বিন আমরের হাদিসটির তাখরিজ (تخريج) এবং এর সনদের (إسناده) পর্যালোচনা।
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল মুসলিমিন মিনাল ফিতানি ফী দাউই হাদীছি আবদিল্লাহ বিন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা
(পৃষ্ঠা: ৯)
المبحث الثالث: وفيه ثلاثة مطالب:
المطلب الأول: «الزم بيتك».
المطلب الثاني: «املك عليك لسانك».
المطلب الثالث: «ودع عنك أمر العامة، وعليك بأمر نفسك خاصة»
الخاتمة: وفيها أهم النتائج والتوصيات.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: এতে তিনটি উপ-বিভাগ রয়েছে:
প্রথম উপ-বিভাগ: "তোমার নিজ গৃহে অবস্থান করো।"
দ্বিতীয় উপ-বিভাগ: "তোমার জিহ্বা নিয়ন্ত্রণ করো।"
তৃতীয় উপ-বিভাগ: "সাধারণ মানুষের বিষয়াদি বর্জন করো এবং নিজের ব্যক্তিগত বিষয়ের প্রতি মনোযোগী হও।"
উপসংহার: এতে গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল ও সুপারিশসমূহ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল মুসলিমিন মিনাল ফিতানি ফী দাউই হাদীছি আবদিল্লাহ বিন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা
(পৃষ্ঠা: ১১)
التمهيدوفيه تعريف الفتن وبيان استعمالاتها:
تعريف الفتن:في اللغة: الفتن جمع ثنة، قال ابن فارس: «الفاء والتاء والنون، أصل صحيح يدل على الابتلاء والاختبار»
(1)، وأصلها مأخوذ من قولك: فتنت الفضة والذهب، إذا أذبتهما بالنار لتميز الرديء من الجيد
(2). قال الخليل: الف: الإحراق، يقال: ورق فتين أي فضة محرقة، ويقال للحرة فتين، كأن حجارتها محرقة
(3) ومنه قوله تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ فَتَنُوا الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ}
(4) أي أحرقوهم بالنار
(5).
وافتتن الرجل، وفتن فهو مفتون، إذا أصابته فتنة فذهب ماله أو عقله
(6)، والفتنة إعجابك بالشيء.
--------------------------------------------
ভূমিকা (التمهيد)এতে ফিতনার (الفتن) সংজ্ঞা এবং এর ব্যবহারসমূহের বর্ণনা রয়েছে:
ফিতনার (الفتن) সংজ্ঞা:আভিধানিক অর্থে: ফিতান (الفتن) শব্দটি ফিতনাহ (فتنة) এর বহুবচন। ইবনে ফারেস বলেছেন: «ফা, তা এবং নুন—এটি একটি সঠিক (صحيح) মূল যা পরীক্ষা (الابتلاء) এবং যাচাই (الاختبار) নির্দেশ করে»
(১)। এর মূল উৎস আপনার এই কথা থেকে গৃহীত: 'আমি রূপা ও সোনা গলিয়েছি (ফাতানতু)', যখন আপনি সেগুলোকে আগুন দিয়ে গলান যাতে মন্দ থেকে ভালোকে পৃথক করা যায়
(২)। আল-খলিল বলেছেন: আল-ফাতনু (الفتن) অর্থ দহন করা। বলা হয়ে থাকে 'ওয়ারাগুন ফাতিন' অর্থাৎ দগ্ধ রূপা। আর পাথুরে কৃষ্ণভূমিকে (আল-হাররাহ) 'ফাতিন' বলা হয়, যেন তার পাথরগুলো দগ্ধ
(৩)। আর এ থেকেই মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই যারা মুমিন নর ও নারীদেরকে পরীক্ষা করেছে/জ্বালিয়েছে (فَتَنُوا)}
(৪) অর্থাৎ তাদের আগুনে পুড়িয়েছে
(৫)।
যখন কোনো ব্যক্তি বিপর্যয়ে পতিত হয় এবং তার সম্পদ বা বিবেক হারিয়ে যায়, তখন বলা হয় 'সে ফিতনায় পড়েছে' অথবা 'সে বিভ্রান্ত হয়েছে', এমতাবস্থায় তাকে ফিতনাগ্রস্ত (مفتون) বলা হয়
(৬)। আর কোনো বিষয়ের প্রতি আপনার মুগ্ধ হওয়াকেও ফিতনা (الفتنة) বলা হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল মুসলিমিন মিনাল ফিতানি ফী দাউই হাদীছি আবদিল্লাহ বিন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা
(পৃষ্ঠা: ১২)
والفتنة الضلالة والإثم، والفاتن المضل عن الحق
(1).
والفنان الشيطان
(2)، وجاء في الحديث «المسلم أخو المسلم، يسعهما الماء والشجر، ويتعاونان على الفتان»
(3).
ويقال فَتَنَ الرجل، أي زال عما كان عليه
(4)، ومنه قوله: {وَإِنْ كَادُوا لَيَفْتِنُونَكَ عَنِ الَّذِي أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ}
(5).
والفتنة ما يقع بين الناس من القتال
(6)، ومن ذلك قول النبي صلى الله عليه وسلم: «إني أرى الفتن خلال بيوتكم»
(7). والفتنة القتل، ومنه قوله تعالى: {إِنْ خِفْتُمْ أَنْ يَفْتِنَكُمُ الَّذِينَ كَفَرُوا}
(8).
اصطلاحا: معنى الفتنة في الأصل: الاختبار والامتحان، ثم
--------------------------------------------
ফিতনা (الفتنة) হলো পথভ্রষ্টতা ও পাপ, আর ফাতিন (الفاتن) হলো সত্য থেকে বিচ্যুতকারী
(১)।
আর ফাত্তান (الفتان) হলো শয়তান
(২), এবং হাদিসে এসেছে: «এক মুসলিম অন্য মুসলিমের ভাই, পানি ও বৃক্ষরাজী তাদের উভয়ের জন্য যথেষ্ট হবে এবং তারা ফাত্তান (الفتان) বা শয়তানের বিরুদ্ধে একে অপরকে সহযোগিতা করবে»
(৩)।
বলা হয়ে থাকে যে, লোকটি পথভ্রষ্ট (فَتَنَ) হয়েছে, অর্থাৎ সে যে অবস্থায় ছিল তা থেকে বিচ্যুত হয়েছে
(৪), এর মধ্য থেকেই মহান আল্লাহর বাণী: {আর আপনার প্রতি আমি যা ওহি করেছি, তা থেকে তারা আপনাকে বিচ্যুত (لَيَفْتِنُونَكَ) করার জন্য প্রায় প্ররোচিত করেছিল}
(৫)।
আর মানুষের মধ্যে যে যুদ্ধবিগ্রহ সংঘটিত হয় তাও ফিতনা (الفتنة)
(৬), এর মধ্য থেকেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: «নিশ্চয়ই আমি তোমাদের ঘরবাড়ির মাঝে ফিতনা (الفتن) আপতিত হতে দেখছি»
(৭)। ফিতনা (الفتنة) অর্থ হত্যাও হয়, এর মধ্য থেকেই মহান আল্লাহর বাণী: {যদি তোমরা ভয় করো যে, কাফিররা তোমাদেরকে বিপদে (يَفْتِنَكُمُ) ফেলবে}
(৮)।
পারিভাষিক অর্থে: ফিতনা (الفتنة) শব্দের মূল অর্থ হলো: পরীক্ষা (الاختبار) ও যাচাই (الامتحان), অতঃপর...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল মুসলিমিন মিনাল ফিতানি ফী দাউই হাদীছি আবদিল্লাহ বিন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা
(পৃষ্ঠা: ১৩)
استعملت في كل أمر يكشفه الامتحان عن سوء وفيما أخرجته المحنة والاختبار إلى المكروه، ثم أطلقت على كل مكروه أو آيل إليه، كالكفر والإثم والتحريق والفضيحة والفجور والقتال عن جهل طلبأ للدنيا أو اتباعة للهوى، وغير ذلك
(1). قال الإمام أحمد: «الفتنة إذا لم يكن إمام يقوم بأمر الناس»
(2). وعرفها الزمخشري بقوله: «والفتنة: الامتحان بشدائد التكليف من مفارقة الأوطان ومجاهدة الأعداء وسائر الطاعات الشاقة، وهجر الشهوات والملاذ بالفقر والقحط وأنواع المصائب في الأنفس والأموال، وبمصابرة الكفار على أذاهم وكيدهم وضرارهم»
(3).
وخلاصة هذه التعريفات: أن الفتنة هي: ما يميز حال الناس من الخير أو الشر سواء كان التمييز بالعطايا والنعم أو بالبلايا والنقم.
العلاقة بين المدلول اللغوي والاصطلاح الشرعي للفتنة:إن العلاقة بين المدلول اللغوي والشرعي للفتنة تكمن في كون
--------------------------------------------
এটি এমন প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় যেখানে পরীক্ষার মাধ্যমে কোনো মন্দ দিক উন্মোচিত হয় এবং যে ক্ষেত্রে পরীক্ষা ও যাচাই কোনো অপছন্দনীয় (مكروه) পরিণতির দিকে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে এটি প্রতিটি অপছন্দনীয় (مكروه) বিষয় বা যা সেদিকে ধাবিত করে তার ওপর প্রয়োগ করা হয়েছে; যেমন- কুফর, পাপ, দহন, কলঙ্ক, পাপাচার এবং দুনিয়া অন্বেষণে বা প্রবৃত্তির অনুসরণে অজ্ঞতাবশত লড়াই করা ইত্যাদি
(1)। ইমাম আহমাদ বলেন: «ফিতনা হলো যখন মানুষের বিষয়াবলি পরিচালনার জন্য কোনো ইমাম (নেতা) না থাকেন»
(2)। যামাখশারী এর সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন: «আর ফিতনা হলো: স্বদেশ ত্যাগ করা, শত্রুদের বিরুদ্ধে জিহাদ করা এবং অন্যান্য কষ্টসাধ্য ইবাদতসমূহ পালনের ন্যায় শরয়ি বিধানের কঠোর পরীক্ষা; এবং দারিদ্র্য, দুর্ভিক্ষ এবং জীবন ও সম্পদের নানা বিপদের মাধ্যমে প্রবৃত্তির চাহিদা ও স্বাদ বর্জন করা এবং কাফিরদের কষ্ট প্রদান, ষড়যন্ত্র ও ক্ষতির মুখে ধৈর্য ধারণ করা»
(3)।
এই সংজ্ঞাসমূহের সারকথা হলো: ফিতনা হচ্ছে এমন বিষয় যা মানুষের ভালো বা মন্দের অবস্থাকে পৃথক করে দেয়, চাই সেই পার্থক্য নিরূপণ দান ও নিয়ামতের মাধ্যমে হোক অথবা পরীক্ষা ও শাস্তির মাধ্যমে হোক।
ফিতনার আভিধানিক অর্থ ও শরয়ি পরিভাষার মধ্যকার সম্পর্ক:নিশ্চয়ই ফিতনার আভিধানিক ও শরয়ি অর্থের মধ্যকার সম্পর্কটি এই বিষয়ের মাঝে নিহিত যে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল মুসলিমিন মিনাল ফিতানি ফী দাউই হাদীছি আবদিল্লাহ বিন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الفتنة تُظهر المؤمن الصادق من الدَّعِي، وتنبئ عن سوء طويَّة من لم يستقر الإيمان في قلبه، وتُخرج الدَّغْل من قلوب المؤمنين، فيخرجوا بعد البلاء بقلوب صافية، وأفئدة مؤمنة، كما يحصل عند إدخال الذهب أو الفضة في النار، فيذهب الخبث، ويبقى الجيد
(1)، والله أعلم.
--------------------------------------------
ফেতনা সত্যবাদী (الصادق) মুমিনকে মিথ্যা দাবিদার (الدَّعِي) থেকে পৃথক করে দেয় এবং যার অন্তরে ঈমান বদ্ধমূল হয়নি তার কুপ্রবৃত্তি সম্পর্কে সংবাদ দেয়। এটি মুমিনদের অন্তর থেকে কলুষতা বের করে আনে, ফলে তারা পরীক্ষার পর স্বচ্ছ অন্তর ও মুমিন হৃদয়ে এমনভাবে বেরিয়ে আসে, যেমনটি সোনা বা রূপাকে আগুনে দহন করার সময় ঘটে; তখন খাদ দূর হয়ে যায় এবং যা উৎকৃষ্ট তা অবশিষ্ট থাকে
(১), আর আল্লাহ-ই সর্বজ্ঞ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল মুসলিমিন মিনাল ফিতানি ফী দাউই হাদীছি আবদিল্লাহ বিন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা
(পৃষ্ঠা: ১৫)
المبحث الأول: أقسام الفتن*
الفتن من حيث نوعها:تنقسم الفتنة من حيث نوعها إلى قسمين: فتنة الشبهات، وفتنة الشهوات.
أ. فتنة الشبهات: وهي أعظمها وتتعلق بالعقول والقلوب كالتشكيك في الدين، والوقوع في الشرك أو البدع ونحوها.
سببها: ضعف البصيرة وقلة العلم لاسيما إذا اقترن ذلك بفساد القصد وحصول الهوى، فقل ما شئت في ضلال سيء القصد، الحاكم عليه الهوى لا الهدي مع ضعف بصيرته وقلة علمه.
فهو من الذين قال الله تعالى فيهم: {إِنْ يَتَّبِعُونَ إِلَّا الظَّنَّ وَمَا تَهْوَى الْأَنْفُسُ}
(1) وقد أخبر الله سبحانه أن اتباع الهوى يضل عن سبيل الله فقال: {يَادَاوُودُ إِنَّا جَعَلْنَاكَ خَلِيفَةً فِي الْأَرْضِ فَاحْكُمْ بَيْنَ النَّاسِ بِالْحَقِّ وَلَا تَتَّبِعِ الْهَوَى فَيُضِلَّكَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ إِنَّ الَّذِينَ يَضِلُّونَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ لَهُمْ عَذَابٌ شَدِيدٌ بِمَا نَسُوا يَوْمَ الْحِسَابِ}
(2).
خطرها: تكمن خطورتها في أن مآل صاحبها إلى الكفر والنفاق، فهي فتنة المنافقين وأهل البدع على حسب مراتب بدعهم حيث اشتبه
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: ফিতনার প্রকারভেদ*
প্রকারভেদের দিক থেকে ফিতনা:প্রকারভেদের দিক থেকে ফিতনা দুই ভাগে বিভক্ত: সংশয়ের ফিতনা (فتنة الشبهات) এবং প্রবৃত্তির ফিতনা (فتنة الشهوات)।
ক. সংশয়ের ফিতনা (فتنة الشبهات): এটি ফিতনাসমূহের মধ্যে ভয়াবহতম এবং এটি বুদ্ধি ও হৃদয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট; যেমন দ্বীন সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করা এবং শিরক (شرك) বা বিদআতে (بدع) লিপ্ত হওয়া ইত্যাদি।
এর কারণ: অন্তর্দৃষ্টির (بصيرة) দুর্বলতা এবং ইলম বা জ্ঞানের স্বল্পতা, বিশেষ করে যখন এর সাথে অসৎ উদ্দেশ্য এবং প্রবৃত্তির (هوى) তাড়না যুক্ত হয়। সুতরাং যার উদ্দেশ্য মন্দ এবং যার উপর হিদায়াতের (هدي) পরিবর্তে প্রবৃত্তি (هوى) কর্তৃত্ব করে, তার অন্তর্দৃষ্টির দুর্বলতা ও জ্ঞানের স্বল্পতার কারণে তার পথভ্রষ্টতা (ضلال) সম্পর্কে আপনি যা ইচ্ছা বলতে পারেন (অর্থাৎ সে চরম পথভ্রষ্ট)।
সে মূলত তাদের অন্তর্ভুক্ত যাদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তারা তো কেবল ধারণা এবং নিজেদের প্রবৃত্তিরই (هوى) অনুসরণ করে}
(১) আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা জানিয়েছেন যে, প্রবৃত্তির (هوى) অনুসরণ আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করে দেয়। তিনি বলেন: {হে দাউদ! আমি তোমাকে পৃথিবীতে প্রতিনিধি করেছি, অতএব তুমি মানুষের মধ্যে ন্যায়ের সাথে বিচার করো এবং প্রবৃত্তির (هوى) অনুসরণ করো না, কেননা তা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত (يضل) করে দেবে। নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত হয়, তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি; যেহেতু তারা হিসাব দিবসকে ভুলে গিয়েছে}
(২)।
এর ভয়াবহতা: এর ভয়াবহতা এখানে যে, এর অনুসারীর পরিণতি কুফর (كفر) ও নিফাক (نفاق) পর্যন্ত গড়ায়। এটি মূলত মুনাফিক (منافقين) এবং বিদআতিদের (أهل البدع) ফিতনা, যা তাদের বিদআতের স্তর অনুযায়ী হয়ে থাকে, যেখানে সত্য-মিথ্যা সংশয়যুক্ত (اشتبه) হয়ে যায়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল মুসলিমিন মিনাল ফিতানি ফী দাউই হাদীছি আবদিল্লাহ বিন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা
(পৃষ্ঠা: ১৬)
عليهم الحق بالباطل والهدى بالضلال والعياذ بالله ..
النجاة منها: تكون بتجريد اتباع الرسول صلى الله عليه وسلم، وتحكيم سنته، وذلك بتعلمها، فالهدي كله دائر على أقواله وأفعاله وكل ما خرج عنها فهو ضلال، فإذا عقد القلب على ذلك وأعرض عما سواه، بأن يزنه بما جاء به الرسول صلى الله عليه وسلم فإن وافقه قبله، وإن خالفه رده ولو قاله من قاله؛ فهذا الذي ينجو من فتنة الشبهات، وإن فاته شيء من ذلك أصابه من فتنتها بحسب ما فاته منه، وعن المقدام بن معدي كرب يقول: «حرم رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم خيبر أشياء ثم قال: يوشك أحدكم أن يكذبني وهو متكئ على أريكته، يحدث بحديثين فيقول: بيننا وبينكم كتاب الله، فما وجدنا فيه من حلال استحللناه، وما وجدنا فيه من حرام حرمناه، ألا وإن ما حرم رسول الله صلى الله عليه وسلم مثل ما حرم الله»
(1). وعن أبي رافع وغيره رفعه قال: «لا ألفين أحدكم متكئًا على
--------------------------------------------
তারা সত্যকে মিথ্যার সাথে এবং হিদায়াতকে ভ্রষ্টতার সাথে মিশ্রিত করে ফেলে, আল্লাহর কাছে এ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি...
তা থেকে মুক্তি: একমাত্র রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একনিষ্ঠ অনুসরণ এবং তাঁর সুন্নাহর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করার মাধ্যমেই সম্ভব; আর তা হচ্ছে সুন্নাহ শিক্ষার মাধ্যমে। কেননা সকল হিদায়াত তাঁর বাণী ও কর্মের ওপর আবর্তিত, আর এর বাইরে যা কিছু আছে তা-ই ভ্রষ্টতা। যখন অন্তর এর ওপর দৃঢ় হবে এবং এ ছাড়া অন্য সবকিছু থেকে বিমুখ হবে—এইভাবে যে, প্রতিটি বিষয়কে সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনীত মানদণ্ডের নিরিখে পরিমাপ করবে; যদি তা তাঁর সুন্নাহর অনুকূল হয় তবে তা গ্রহণ করবে, আর যদি পরিপন্থী হয় তবে তা বর্জন করবে, চাই তা যে কেউই বলুক না কেন। এই ব্যক্তিই সংশয়ের ফিতনা থেকে রক্ষা পাবে। আর যার কাছ থেকে এর যতটুকু বিচ্যুতি ঘটবে, সে সেই অনুপাতে ফিতনায় আক্রান্ত হবে। মিকদাম ইবনে মাদীকারিব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বারের দিন কিছু বিষয় নিষিদ্ধ করেছেন, অতঃপর তিনি বলেন: "অচিরেই তোমাদের কেউ তার সুসজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে বসে আমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করবে; তার কাছে আমার কোনো হাদিস বর্ণনা করা হলে সে বলবে: আমাদের ও তোমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাবই রয়েছে; তাতে আমরা যা হালাল পাবো তাকেই হালাল গণ্য করবো আর যা হারাম পাবো তাকেই হারাম গণ্য করবো। জেনে রেখো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা হারাম করেছেন তা আল্লাহর হারাম করার মতোই।"
(১) আর আবু রাফে (রা.) এবং অন্যান্যদের থেকে মারফু (مرفوع) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন: "আমি যেন তোমাদের কাউকে এমন অবস্থায় না পাই যে সে হেলান দিয়ে বসে আছে..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল মুসলিমিন মিনাল ফিতানি ফী দাউই হাদীছি আবদিল্লাহ বিন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা
(পৃষ্ঠা: ১৭)
أريكته يأتيه أمر مما أمرت به أو فيت عنه، فيقول: لا أدري ما وجدنا في كتاب الله اتبعناه»
(1).
ب. فتنة الشهوات: وهي الغالبة كالافتتان بالنساء، أو بالمال الحرام، أو بالمنصب ونحوها.
سببها: كثرة المعاصي، وفسق الأعمال، وسيطرة الدنيا على القلوب، أو الإسراف في الشهوات المباحة إلى اتباع الهوى، والغفلة عن الطاعة، ورفقة السوء، والاحتقار والاستهتار بما فعل من معاص، وعدم معرفة قدر الدنيا ..
خطرها: تُحدِث في الأرض أنواعًا من الفساد في المياه والهواء، والزرع والثمار والمساكن؛ قال تعالى: {ظَهَرَ الْفَسَادُ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ بِمَا كَسَبَتْ أَيْدِي النَّاسِ لِيُذِيقَهُمْ بَعْضَ الَّذِي عَمِلُوا لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ}
(2) وهي سببٌ لزوال النِّعم.
--------------------------------------------
...তার সুসজ্জিত আসনে (أريكة) হেলান দিয়ে থাকা অবস্থায় তার নিকট আমার পক্ষ থেকে কোনো আদেশ বা নিষেধ পৌঁছাবে, তখন সে বলবে: ‘আমি জানি না; আমরা আল্লাহর কিতাবে যা পেয়েছি শুধু তারই অনুসরণ করেছি’।
(১)
খ. কামনাবাসনার ফিতনা (فتنة الشهوات): এটিই সাধারণত অধিক প্রবল হয়ে থাকে, যেমন নারী, অবৈধ সম্পদ কিংবা পদমর্যাদা ইত্যাদির প্রতি আসক্তি।
এর কারণসমূহ: অধিক পরিমাণে পাপাচার, আমলের পঙ্কিলতা, অন্তরের ওপর দুনিয়ার আধিপত্য, কিংবা বৈধ লালসা মেটাতে গিয়ে সীমা অতিক্রম করে প্রবৃত্তির অনুসরণ করা, ইবাদত-বন্দেগিতে উদাসীনতা, কুসঙ্গ, কৃত অপরাধসমূহকে তুচ্ছজ্ঞান করা ও সেগুলোর প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করা এবং দুনিয়ার প্রকৃত মূল্য সম্পর্কে অজ্ঞতা...
এর ভয়াবহতা: এটি পৃথিবীতে পানি, বাতাস, শস্য, ফলমূল এবং বাসস্থানে বিভিন্ন ধরণের বিপর্যয় সৃষ্টি করে; মহান আল্লাহ বলেন: {মানুষের কৃতকর্মের দরুন স্থলে ও জলে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছে, যাতে তিনি তাদেরকে তাদের কোনো কোনো কর্মের শাস্তি আস্বাদন করান, যাতে তারা ফিরে আসে}
(২)। আর এটি নেয়ামত বিলুপ্ত হওয়ার কারণ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল মুসলিমিন মিনাল ফিতানি ফী দাউই হাদীছি আবদিল্লাহ বিন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা
(পৃষ্ঠা: ১৮)
النجاة منها: يكون باليقين بوعد الله ووعيده، بتذكر الآخرة وما فيها، وباستشعار عظمة الله تعالى ومعرفته حق المعرفة قال تعالى {وَمَا قَدَرُوا اللَّهَ حَقَّ قَدْرِهِ وَالْأَرْضُ جَمِيعًا قَبْضَتُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَالسَّمَاوَاتُ مَطْوِيَّاتٌ بِيَمِينِهِ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى عَمَّا يُشْرِكُونَ}
(1).
وقد ذكر في القرآن هذين القسمين في آية واحدة في قوله تعالى: {كَالَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ كَانُوا أَشَدَّ مِنْكُمْ قُوَّةً وَأَكْثَرَ أَمْوَالًا وَأَوْلَادًا فَاسْتَمْتَعُوا بِخَلَاقِهِمْ فَاسْتَمْتَعْتُمْ بِخَلَاقِكُمْ كَمَا اسْتَمْتَعَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ بِخَلَاقِهِمْ وَخُضْتُمْ كَالَّذِي خَاضُوا}
(2)، أي تمتعوا بنصيبهم من الدنيا وشهواتها، والخلاق: هو النصيب المقدر ثم قال: {وَخُضْتُمْ كَالَّذِي خَاضُوا} فهذا الحوض بالباطل وهو الشبهات.
فأشار سبحانه في هذه الآية إلى ما يحصل به فساد القلوب والأديان من الاستمتاع بالخلاق والخوض بالباطل، لأن فساد الدين إما أن يكون باعتقاد الباطل والتكلم به أو بالعمل بخلاف العلم الصحيح.
--------------------------------------------
তা থেকে পরিত্রাণ: আল্লাহর প্রতিশ্রুতি ও ধমকের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাসের মাধ্যমে, পরকাল ও সেখানে যা কিছু রয়েছে তা স্মরণের মাধ্যমে এবং মহান আল্লাহর মহিমা অনুধাবন ও তাঁকে যথাযথভাবে জানার মাধ্যমে সম্ভব। মহান আল্লাহ বলেন, {তারা আল্লাহকে যথাযথ মর্যাদা দেয়নি; কিয়ামতের দিন সমগ্র পৃথিবী থাকবে তাঁর হাতের মুঠোয় এবং আসমানসমূহ ভাঁজ করা থাকবে তাঁর ডান হাতে। তিনি পবিত্র এবং তারা যা শরিক করে তা থেকে তিনি অনেক উর্ধ্বে}
(১)।
কুরআনে এই দুটি প্রকারকে একটি আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে; মহান আল্লাহর বাণী: {তোমাদের পূর্ববর্তীদের মত; তারা তোমাদের চেয়ে শক্তিতে ছিল প্রবল এবং ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে ছিল অধিক। তারা তাদের অংশ ভোগ করে নিয়েছে, আর তোমরাও তোমাদের অংশ ভোগ করলে যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীরা তাদের অংশ ভোগ করেছিল। আর তোমরাও (অসত্যে) লিপ্ত হয়েছ যেমন তারা লিপ্ত হয়েছিল}
(২)। অর্থাৎ তারা দুনিয়া ও এর প্রবৃত্তির কামনা-বাসনা থেকে তাদের নির্ধারিত অংশ ভোগ করেছে। আর 'খালাক' হলো নির্ধারিত অংশ। এরপর তিনি বলেছেন: {আর তোমরাও লিপ্ত হয়েছ যেমন তারা লিপ্ত হয়েছিল}। এখানে লিপ্ত হওয়া বলতে বাতিল (الباطل) পথে চলাকে বোঝানো হয়েছে, আর তা হলো সংশয় (الشبهات)।
সুবহানাহু ওয়া তাআলা এই আয়াতে সে সকল বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করেছেন যা দ্বারা অন্তর ও দ্বীনের বিপর্যয় ঘটে, তা হলো পার্থিব অংশ ভোগ করা এবং বাতিল (الباطل) কাজে লিপ্ত হওয়া। কারণ দ্বীনের বিপর্যয় ঘটে হয় বাতিল (الباطل) আকিদা পোষণ ও তা বলার মাধ্যমে, অথবা সঠিক (الصحيح) জ্ঞানের পরিপন্থী আমল করার মাধ্যমে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল মুসলিমিন মিনাল ফিতানি ফী দাউই হাদীছি আবদিল্লাহ বিন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা
(পৃষ্ঠা: ১৯)
فالأول: هو البدع وما والاها وهو فساد من جهة الشبهات، والثاني: فسق الأعمال وهو فساد من جهة الشهوات.
ولهذا كان السلف يقولون: احذروا من الناس صنفين: صاحب هوى قد فتنه هواه، وصاحب دنيا أعمته دنياه. وكانوا يقولون: احذروا فتنة العالم الفاجر، والعابد الجاهل فإن فتنتهما فتنة لكل مفتون.
وأصل كل فتنة إنما هو من تقديم الرأي على الشرع والهوى على العقل
(1).
ففتنة الشبهات تدفع بالعلم واليقين، وفتنة الشهوات تدفع بالصبر واليقين بوعد الله ووعيده، واستشعار عظمته سبحانه، ولذلك جعل سبحانه إمامة الدين منوطة بهذين الأمرين فقال: {وَجَعَلْنَا مِنْهُمْ أَئِمَّةً يَهْدُونَ بِأَمْرِنَا لَمَّا صَبَرُوا وَكَانُوا بِآيَاتِنَا يُوقِنُونَ}
(2). فدل على أنه بالصبر واليقين تنال الإمامة في الدين.
وجمع بينهما أيضا في قوله: {وَتَوَاصَوْا بِالْحَقِّ وَتَوَاصَوْا بِالصَّبْرِ}
(3)--------------------------------------------
প্রথমটি হলো বিদআত (بدع) ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ, যা সংশয় (شبهات) থেকে উদ্ভূত এক প্রকার ফাসাদ বা বিপর্যয়। আর দ্বিতীয়টি হলো আমলের পাপাচার (فسق), যা প্রবৃত্তির লালসা (شهوات) থেকে উদ্ভূত এক প্রকার বিপর্যয়।
এজন্যই সালাফগণ (পূর্বসূরিগণ) বলতেন: "তোমরা দুই শ্রেণীর মানুষ থেকে সতর্ক থাকো: প্রবৃত্তিপূজারী (صاحب هوى), যাকে তার প্রবৃত্তি ফিতনায় ফেলেছে; এবং দুনিয়াদার ব্যক্তি, যাকে তার দুনিয়া অন্ধ করে দিয়েছে।" তারা আরও বলতেন: "তোমরা পাপাচারী (فاجر) আলেম এবং মূর্খ ইবাদতকারীর ফিতনা থেকে বেঁচে থাকো; কারণ তাদের উভয়ের ফিতনা প্রতিটি ফিতনাগ্রস্ত ব্যক্তির জন্য এক মহা পরীক্ষা।"
আর সকল ফিতনার মূল উৎস হলো শরয়ি বিধানের (شرع) ওপর ব্যক্তিগত অভিমতকে (رأي) প্রাধান্য দেওয়া এবং বিবেকের ওপর প্রবৃত্তিকে (هوى) স্থান দেওয়া
(১)।
সংশয়ের ফিতনা (فتنة الشبهات) জ্ঞান ও দৃঢ় বিশ্বাসের (يقين) মাধ্যমে প্রতিহত করা যায় এবং প্রবৃত্তির ফিতনা (فتنة الشهوات) ধৈর্য ও আল্লাহর প্রতিশ্রুতি ও হুমকির ওপর দৃঢ় বিশ্বাসের (يقين) মাধ্যমে এবং তাঁর মাহাত্ম্য অনুভবের মাধ্যমে দূর করা সম্ভব। এ কারণে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা দ্বীনের ইমামত বা নেতৃত্বকে (إمامة) এই দুটি বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত করেছেন। তিনি ইরশাদ করেছেন: "আর আমি তাদের মধ্য থেকে নেতা মনোনীত করেছিলাম, যারা আমার আদেশানুসারে পথপ্রদর্শন করত, যখন তারা ধৈর্য ধারণ করেছিল এবং তারা আমার আয়াতসমূহের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস (يقين) পোষণ করত"
(২)। এটি প্রমাণ করে যে, ধৈর্য এবং দৃঢ় বিশ্বাসের (يقين) মাধ্যমেই দ্বীনের ইমামত (إمامة) লাভ করা যায়।
তিনি তাঁর এই বাণীতেও উভয়কে একত্র করেছেন: "এবং তারা পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দেয় এবং পরস্পরকে ধৈর্যের উপদেশ দেয়"
(৩)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল মুসলিমিন মিনাল ফিতানি ফী দাউই হাদীছি আবদিল্লাহ বিন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা
(পৃষ্ঠা: ২০)
فتواصوا بالحق الذي يدفع الشبهات، وبالصبر الذي يكف عن الشهوات.
الفتن من حيث الزمن:تنقسم الفتن من حيث زمنها إلى: فتن الحياة، وفتن الممات.
والأصل في هذا التقسيم حديث عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَدْعُو فِي الصَّلَاةِ: اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَسِيْحِ الدَّجَّالِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ المَحْيَا، وَفِتْنَةِ الْمَمَاتِ، اللَّهُمْ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ الْمَأْثَمِ وَالْمَغْرَمِ، فَقَالَ لَهُ قَائِلٌ: مَا أَكْثَرَ مَا تَسْتَعِيذُ مِنْ الْمَغْرَمِ؟ فَقَالَ: «إِنَّ الرَّجُلَ إِذَا غَرِمَ حَدَّثَ فَكَذَبَ وَوَعَدَ فَأَخْلَفَ»
(1).
فالفتنة الأولى: فتنة (المحيا): بفتح الميم ما يعرض للمرء مدة حياته من الافتتان بالدنيا وشهواتها والجهالات، أو هي الابتلاء مع زوال الصبر
(2)، أو هي كل ما يعطاه الإنسان من خير أو شر؛ فإن كان خيرًا امتحن فيه، هل يؤدي شكر النعمة؟ وإن كان شرا؛ هل يصبر
--------------------------------------------
অতএব তোমরা একে অপরকে সেই সত্যের উপদেশ দাও যা সংশয়সমূহকে প্রতিহত করে, এবং সেই ধৈর্যের উপদেশ দাও যা প্রবৃত্তির কামনা থেকে বিরত রাখে।
সময়ের প্রেক্ষাপটে ফিতনাসমূহ:সময়ের প্রেক্ষাপটে ফিতনাসমূহকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: জীবনের ফিতনা এবং মৃত্যুর ফিতনা।
আর এই বিভাজনের মূল ভিত্তি হলো নবী (সা.)-এর স্ত্রী আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস: রাসূলুল্লাহ (সা.) সালাতে এই বলে দোয়া করতেন: "হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট কবরের আজাব থেকে আশ্রয় চাচ্ছি, এবং মসীহ দাজ্জালের ফিতনা থেকে আপনার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি। আর আমি আপনার নিকট জীবনের ফিতনা ও মৃত্যুর ফিতনা থেকে আশ্রয় চাচ্ছি। হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট গুনাহ ও ঋণ থেকে আশ্রয় চাচ্ছি।" জনৈক প্রশ্নকারী তাঁকে বললেন, "আপনি ঋণ থেকে কতই না অধিক আশ্রয় প্রার্থনা করেন!" তিনি উত্তর দিলেন: "নিশ্চয়ই মানুষ যখন ঋণগ্রস্ত হয়, তখন সে কথা বললে মিথ্যা বলে এবং ওয়াদা করলে তা ভঙ্গ করে।"
(১)।
প্রথম ফিতনা: (আল-মাহইয়া) তথা জীবনের ফিতনা: মিম বর্ণে ফাতহাহ (জবর) যোগে উচ্চারিত 'আল-মাহইয়া' হলো—মানুষের জীবদ্দশায় দুনিয়ার মোহ, প্রবৃত্তির তাড়না ও অজ্ঞতার কারণে সে যে ফিতনার সম্মুখীন হয়; অথবা এটি হলো ধৈর্যহীন অবস্থায় কোনো পরীক্ষায় পতিত হওয়া; কিংবা এটি হলো মানুষকে প্রদত্ত সকল কল্যাণ বা অকল্যাণ। কারণ যদি তা কল্যাণ হয় তবে তাকে পরীক্ষা করা হয় যে সে নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করে কি না? আর যদি অকল্যাণ হয় তবে সে ধৈর্য ধারণ করে কি না?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল মুসলিমিন মিনাল ফিতানি ফী দাউই হাদীছি আবদিল্লাহ বিন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা
(পৃষ্ঠা: ২১)
عليه، وهي أكثر من أن تحصى.
والثانية: فتنة (الممات) وفي تفسيرها قولان:
أ/ ما يفتن به المرء عند الموت، وأضيفت له لقربها منه، ويكون المراد بفتنة المحيا على هذا ما قبل ذلك، وقد تسمى هذه الفتنة بفتنة الاحتضار لأن الشيطان قد يفتن الآدمي تارة بتشكيكه في خالقه وفي معاده، وتارة بالتسخط على الأقدار، وتارة بإعراضه عن التهيؤ للقدوم إلى ربه بتوبة من زلة واستدراك لهفوة إلى غير ذلك
(1).
ب/ أو المراد بفتنة الممات: فتنة القبر أي سؤال الملكين، وقد صح في حديث أسماء «إنكم تفتنون في قبوركم مثل أو قريبا من فتنة الدجال»
(2) ولا يكون مع هذا الوجه متكررا مع قوله «عذاب القبر» لأن العذاب مرتب عن الفتنة والسبب غير المسبب.
قال النووي: وأما الجمع بين فتنة المحيا والممات وفتنة المسيح الدجال وعذاب القبر فهو من باب ذكر الخاص بعد العام ونظائره كثيرة
(3).
--------------------------------------------
এর ওপর, এবং তা গণনার অতীত।
দ্বিতীয়টি হলো: মৃত্যুর ফিতনা (فتنة الممات) এবং এর ব্যাখ্যায় দুটি অভিমত রয়েছে:
ক/ মৃত্যুর সময় মানুষ যে পরীক্ষার সম্মুখীন হয়; আর মৃত্যুর নিকটবর্তী হওয়ার কারণে একে মৃত্যুর ফিতনা বলা হয়। এই ব্যাখ্যানুযায়ী জীবনের ফিতনা (فتنة المحيا) বলতে এর পূর্ববর্তী সময়কে বোঝানো হবে। এই ফিতনাকে মুমূর্ষু অবস্থার ফিতনাও বলা হয়, কারণ শয়তান কখনো কখনো মানুষকে তার স্রষ্টা এবং পরকাল সম্পর্কে সংশয়ে ফেলে বিভ্রান্ত করে, কখনো তাকদিরের ওপর অসন্তুষ্টি প্রকাশের মাধ্যমে, আবার কখনো ভুল-ত্রুটি থেকে তওবা এবং বিচ্যুতি সংশোধনের মাধ্যমে তার রবের নিকট উপস্থিত হওয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ থেকে বিমুখ রাখার মাধ্যমে, ইত্যাদি উপায়ে তাকে ফিতনায় লিপ্ত করে
(১)।
খ/ অথবা মৃত্যুর ফিতনা (فتنة الممات) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: কবরের ফিতনা অর্থাৎ দুই ফেরেশতার সওয়াল-জওয়াব। আসমা (রা.) বর্ণিত হাদিসে বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত (صح) হয়েছে যে, "তোমরা তোমাদের কবরে দাজ্জালের ফিতনার সমতুল্য বা তার কাছাকাছি পরীক্ষার সম্মুখীন হবে"
(২)। আর এই ব্যাখ্যানুযায়ী এটি "কবরের আজাব" বাক্যাংশের সাথে পুনরাবৃত্তি হবে না, কারণ আজাব হলো ফিতনার পরবর্তী ধাপ, আর কারণ (ফিতনা) ও ফলাফল (আজাব) এক নয়।
ইমাম নববী বলেন: জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা, মাসিহ দাজ্জালের ফিতনা এবং কবরের আজাব—এই সবগুলোকে একত্রে উল্লেখ করা মূলত সাধারণ বিষয়ের পর বিশেষ বিষয় উল্লেখ করার অন্তর্ভুক্ত এবং এর দৃষ্টান্ত অনেক রয়েছে
(৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল মুসলিমিন মিনাল ফিতানি ফী দাউই হাদীছি আবদিল্লাহ বিন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা
(পৃষ্ঠা: ২২)
الفتن من حيث حجمها:تنقسم الفتن من حيث حجمها: إلى فتن صغار وفتن كبار عظيمة.
ودليل هذا التقسيم ما جاء عن حُذَيْفَةُ بنُ اليَمَانِ أنه قال: وَاللَّهِ إنِّي لأَعْلَمُ النَّاسِ بكُلِّ فِتْنَةٍ هي كَائِنَةٌ، فِيما بَيْنِي وبيْنَ السَّاعَةِ، وَما بي إلَّا أَنْ يَكونَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَسَرَّ إلَيَّ في ذلكَ شيئًا، لَمْ يُحَدِّثْهُ غيرِي، وَلَكِنْ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم، قالَ: وَهو يُحَدِّثُ مَجْلِسًا أَنَا فيه عَنِ الفِتَنِ، فَقالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: وَهو يَعُدُّ الفِتَنَ: منهنَّ ثَلَاثٌ لا يَكَدْنَ يَذَرْنَ شيئًا، وَمِنْهُنَّ فِتَنٌ كَرِيَاحِ الصَّيْفِ منها صِغَارٌ وَمنها كِبَارٌ». قَالَ حُذّيْفَةُ فَذَهَبَ أُولَئِكَ الرَّهْطُ كُلُّهُمْ غَيْرِي»
(1)(2).
وقوله (ومنهن فتن كرياح الصيف) أي فيها بعض الشدة وإنما خص الصيف لأن رياح الشتاء أقوى. وقيل: أي فيها شيء من الشدة، ولكنها شدة تنقضي وليست كرياح الشتاء
(3).
--------------------------------------------
ফিতনার আকার ও ব্যাপকতা:ফিতনা (বিপর্যয়) সেগুলোর আকারের দিক থেকে দুই ভাগে বিভক্ত: ক্ষুদ্র ফিতনা এবং বড় ও ভয়াবহ ফিতনা।
এই বিভক্তির দলিল হলো হুজায়ফা ইবনুল ইয়ামান (রাযি.) থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: "আল্লাহর কসম! আমার ও কিয়ামতের মধ্যবর্তী সময়ে সংঘটিতব্য প্রতিটি ফিতনা সম্পর্কে আমি মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অবগত। তবে বিষয়টি এমন নয় যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে এ বিষয়ে গোপনে এমন কিছু বলেছিলেন যা তিনি অন্য কাউকে বলেননি; বরং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একটি মজলিসে ফিতনা সম্পর্কে আলোচনা করছিলেন যেখানে আমিও উপস্থিত ছিলাম। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফিতনাগুলোর বর্ণনা দেওয়ার সময় বলেছিলেন: 'সেগুলোর মধ্যে তিনটি এমন যে, যা প্রায় কিছুই বাকি রাখবে না। আর সেগুলোর মধ্যে এমন কিছু ফিতনা আছে যা গ্রীষ্মকালীন বাতাসের মতো; যার কিছু ক্ষুদ্র এবং কিছু বৃহৎ'।" হুজায়ফা (রাযি.) বলেন, "আমি ব্যতীত সেই দলের সবাই চলে গেছেন।"
(১)(২)।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উক্তি: "আর সেগুলোর মধ্যে কিছু ফিতনা গ্রীষ্মকালীন বাতাসের মতো"—অর্থাৎ এতে কিছুটা তীব্রতা থাকবে। এখানে গ্রীষ্মকালকে সুনির্দিষ্ট করার কারণ হলো শীতকালীন বাতাস অধিক শক্তিশালী হয়ে থাকে। আবার বলা হয়েছে: এর অর্থ হলো এতে কিছুটা তীব্রতা থাকলেও তা দ্রুত শেষ হয়ে যায়, শীতকালীন বাতাসের মতো দীর্ঘস্থায়ী নয়
(৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল মুসলিমিন মিনাল ফিতানি ফী দাউই হাদীছি আবদিল্লাহ বিন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وجاء عن عُمَرَ بنَ الخَطَّابِ رضي الله عنه، قالَ: أَيُّكُمْ يَحْفَظُ قَوْلَ رَسولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم في الفِتْنَةِ؟ فَقالَ حُذَيْفَةُ: أَنَا أَحْفَظُ كما قالَ، قالَ: هَاتِ، إنَّكَ لَجَرِيءٌ، قالَ رَسولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: فِتْنَةُ الرَّجُلِ في أَهْلِهِ ومَالِهِ وجَارِهِ، تُكَفِّرُهَا الصَّلَاةُ، والصَّدَقَةُ، والأمْرُ بالمَعروفِ، والنَّهْيُ عَنِ المُنْكَرِ، قالَ: ليسَتْ هذِه، ولَكِنِ الَّتي تَمُوجُ كَمَوْجِ البَحْرِ. قالَ: يا أَمِيرَ المُؤْمِنِينَ، لا بَأْسَ عَلَيْكَ منها، إنَّ بيْنَكَ وبيْنَهَا بَابًا مُغْلَقًا
(1).
فدل الحديث على: أن الفتن منها ما هو خاص لكل فرد لا ينفك عنه، ومنها ما هو عام على الجميع وهي التي سأل عنها عمر رضي الله عنه.
قال ابن رجب: «والفتنة نوعان: أحدهما: خاصة تختص بالرجل في نفسه. والثاني: عامة تعم الناس.
فالفتنة الخاصة: ابتلاء الرجل في خاصة نفسه بأهله وماله وولده وجاره، وقد قال تعالى: {إِنَّمَا أَمْوَالُكُمْ وَأَوْلَادُكُمْ فِتْنَةٌ}
(2)، فإن ذلك غالبا يلهي عن طلب
--------------------------------------------
উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: তোমাদের মধ্যে কে ফিতনা সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী মুখস্থ রেখেছ? হুযাইফা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: তিনি যেভাবে বলেছেন আমি সেভাবেই তা মুখস্থ রেখেছি। উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: বলো দেখি, তুমি তো বেশ সাহসী! হুযাইফা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: পরিবার, সম্পদ ও প্রতিবেশী নিয়ে মানুষের যে ফিতনা, নামাজ, সদকা, সৎ কাজের আদেশ এবং মন্দ কাজের নিষেধ তা মিটিয়ে দেয়। উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: আমি এটার কথা বলছি না, বরং আমি সেই ফিতনা সম্পর্কে জানতে চাচ্ছি যা সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো আন্দোলিত হবে। হুযাইফা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: হে আমিরুল মুমিনিন, আপনার ওপর এর কোনো প্রভাব পড়বে না; কেননা আপনার এবং সেই ফিতনার মাঝখানে একটি বন্ধ দরজা রয়েছে
(১)।
সুতরাং হাদিসটি এ কথার প্রমাণ দেয় যে: ফিতনা সমূহের মধ্যে কিছু রয়েছে যা প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য সুনির্দিষ্ট যা থেকে সে মুক্ত থাকতে পারে না এবং কিছু রয়েছে যা সবার জন্য সাধারণ; আর এটিই সেই ফিতনা যা সম্পর্কে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) জিজ্ঞাসা করেছিলেন।
ইবনে রজব (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: «ফিতনা দুই প্রকার: প্রথমটি হলো ব্যক্তিগত, যা বিশেষ করে কোনো ব্যক্তির নিজের সাথে সংশ্লিষ্ট। দ্বিতীয়টি হলো সাধারণ, যা সমস্ত মানুষকে পরিবেষ্টন করে।
ব্যক্তিগত ফিতনা হলো: পরিবার, সম্পদ, সন্তান ও প্রতিবেশীর মাধ্যমে ব্যক্তির নিজস্ব পরীক্ষা; মহান আল্লাহ বলেছেন: {তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি তো কেবল এক পরীক্ষা}
(২), কেননা এগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রেই [আল্লাহর] অন্বেষণ থেকে উদাসীন করে দেয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল মুসলিমিন মিনাল ফিতানি ফী দাউই হাদীছি আবদিল্লাহ বিন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الآخرة والاستعداد لها، ويشغل عن ذلك .... فظهر بهذا: أن الإنسان يبتلى بماله وولده وأهله وبحاره المجاور له، ويفتتن بذلك، فتارة يلهيه الاشتغال به عما ينفعه في آخرته، وتارة تحمله محبته على أن يفعل لأجله بعض ما لا يحبه الله، وتارة يقصر في حقه الواجب عليه، وتارة يظلمه ويأتي إليه ما يكرهه الله من قول أو فعل، فيسأل عنه ويطالب به، فإذا حصل للإنسان شيء من هذه الفتن الخاصة، ثم صلي أو صام أو تصدق أو أمر بمعروف أو نهى عن منكر كان ذلك كفارةً له، وإذا كان الإنسان تسوؤه سيئته، ويعمل لأجلها عملا صالحا كان ذلك دليلا على إيمانه.
وأما الفتن العامة: فهي التي تموج موج البحر، وتضطرب، ويتبع بعضها بعضا كأمواج البحر، فكان أولهما فتنة قتل عثمان رضي الله عنه، وما نشأ منها من افتراق قلوب المسلمين، وتشعب أهوائهم وتكفير بعضهم بعضا، وسفك بعضهم دماء بعض، وكان الباب المغلق الذي بين الناس وبين الفتن عمر رضي الله عنه، وكان قتل عمر كسرة لذلك الباب، فلذلك لم يغلق ذلك الباب بعده أبدًا.
وكان حذيفة أكثر الناس سؤالا للنبي صلى الله عليه وسلم عن الفتن، وأكثر الناس علمأ بها، فكان عنده عن النبي صلى الله عليه وسلم علم بالفتن العامة والخاصة، وقد
পরকাল এবং তার জন্য প্রস্তুতি থেকে তা বিমুখ করে রাখে... এর দ্বারা স্পষ্ট হয় যে: মানুষ তার সম্পদ, সন্তান, পরিবার এবং প্রতিবেশীর মাধ্যমে পরীক্ষার (يبتلى) সম্মুখীন হয় এবং এর দ্বারা ফিতনায় (يفتتن) পতিত হয়। কখনো এই ব্যস্ততা তাকে পরকালের কল্যাণকর কাজ থেকে বিচ্যুত করে দেয়, কখনো তাদের প্রতি ভালোবাসা তাকে এমন কাজ করতে প্ররোচিত করে যা আল্লাহ পছন্দ করেন না, কখনো সে তাদের প্রাপ্য হকের ব্যাপারে শিথিলতা প্রদর্শন করে, আবার কখনো সে তাদের প্রতি জুলুম করে এবং এমন কথা বা কাজ করে যা আল্লাহ পছন্দ করেন না; ফলে এ বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করা হবে এবং সে দায়বদ্ধ হবে। সুতরাং মানুষের যখন এই ধরণের ব্যক্তিগত ফিতনার (الفتن الخاصة) সম্মুখীন হয়, এরপর সে যদি সালাত আদায় করে, সিয়াম পালন করে, সদকা দেয় কিংবা সৎ কাজের আদেশ দেয় অথবা অসৎ কাজের নিষেধ করে, তবে তা তার জন্য কাফফারা (كفارة) হয়ে যায়। আর যদি কোনো মানুষের নিজের মন্দ কাজ তাকে ব্যথিত করে এবং সে জন্য সে নেক আমল করে, তবে তা তার ঈমানের প্রমাণ স্বরূপ।
আর সাধারণ ফিতনা (الفتن العامة) হলো: যা সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো উত্তাল হয়, অস্থিরতা সৃষ্টি করে এবং একটির পর একটি সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো আসতে থাকে। এগুলোর মধ্যে প্রথমটি ছিল উসমান (রা.)-এর শাহাদাতের ফিতনা (فتنة), এবং এর ফলে মুসলিমদের হৃদয়ে যে বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়েছিল, তাদের খেয়াল-খুশির বহুমুখিতা, একে অপরকে কাফির সাব্যস্ত (تكفير) করা এবং একে অপরের রক্তপাত ঘটানো। মানুষের মাঝে এবং ফিতনার (الفتن) মাঝে উমর (রা.) ছিলেন একটি রুদ্ধদ্বার স্বরূপ। আর উমর (রা.)-এর শাহাদাত ছিল সেই দ্বার ভেঙে ফেলার শামিল, ফলে তাঁর পর থেকে সেই দরজা আর কখনও বন্ধ হয়নি।
হুজাইফা (রা.) ফিতনা (الفتن) সম্পর্কে নবী (সা.)-কে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন করতেন এবং মানুষের মধ্যে তিনি এ বিষয়ে অধিক জ্ঞানী ছিলেন। ফলে তাঁর কাছে নবী (সা.)-এর পক্ষ থেকে সাধারণ ফিতনা (الفتن العامة) ও ব্যক্তিগত ফিতনা (الفتن الخاصة) সম্পর্কে জ্ঞান ছিল, আর...
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল মুসলিমিন মিনাল ফিতানি ফী দাউই হাদীছি আবদিল্লাহ বিন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা
(পৃষ্ঠা: ২৫)
حدث عمر بتفاصيل الفتن العامة، وبالباب الذي بين الناس وبينها، وأنه هو عمر، ولهذا قال: إني حدثته حديثًا ليس بالأغاليط، والأغاليط: جمع أغلوطة، وهي التي يغالط بها
… وهذا مما يستدل به على أن رواية مثل حذيفة يحصل بها لمن سمعها العلم اليقيني الذي لا شك فيه؛ فإن حذيفة ذكر أن عمر علم ذلك وتيقنه كما تيقن أن دون غد الليلة، لما حدثه به من الحديث الذي لا يحتمل غير الحق والصدق. وقد كانت الصحابة تعرف في زمان عمر أن بقاء عمر أمان للناس من الفتن
(1).
وفي تشبيهه صلى الله عليه وسلم الفتن بأنها تموج كموج البحر إشارة واضحة إلى قوتها وشدتها، ثم إلى تتابعها، وإلى أنه لا يمكن لأحد الوقوف أمامها؛ لأنه لا يمكن لأحد أنْ يقف أمام موج البحر، وأن الناس أمام هذه الفتن ستضطرب حركتهم، ويختل توازهم، وتضيق صدورهم، وينقطع نفسهم، وهذه حال من يصارع الموج.
وإذا علمنا أنّ أمواج البحر تتكاثر وتتعاظم، مع شدة الريح وانتشار السحاب؛ فإن لنا أن نتصور جو الفتن بأنه جو مظلم، فالذي
--------------------------------------------
উমর (রা.)-কে ফিতনা (الفتن) সমূহের বিস্তারিত বিবরণ এবং মানুষ ও ফিতনার মাঝখানের দরজাটি সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছিল; আর সেই দরজাটি স্বয়ং উমর (রা.)-ই ছিলেন। এ কারণেই তিনি (হুযাইফা) বলেছিলেন: "আমি তাঁকে এমন একটি হাদিস শুনিয়েছি যা কোনো বিভ্রান্তিকর কথা (الأغاليط) নয়।" 'আগালিত' (الأغاليط) হলো 'উগলুতাহ' শব্দের বহুবচন, যার দ্বারা মানুষকে বিভ্রান্ত করা হয়
… এটি থেকে প্রমাণ পাওয়া যায় যে, হুযাইফা (রা.)-এর মতো ব্যক্তির বর্ণনা (رواية) দ্বারা শ্রোতার মনে এমন নিশ্চিত জ্ঞান (العلم اليقيني) অর্জিত হয় যাতে কোনো সন্দেহ থাকে না। কেননা হুযাইফা (রা.) উল্লেখ করেছেন যে, উমর (রা.) বিষয়টি সম্পর্কে জানতেন এবং সে সম্পর্কে তেমন নিশ্চিত ছিলেন যেমনটি নিশ্চিত হওয়া যায় যে আগামীকালের আগে রাত আসবে; কারণ তিনি তাঁকে এমন হাদিস শুনিয়েছিলেন যা সত্য ও সততা ব্যতীত অন্য কিছু হওয়ার অবকাশ রাখে না। উমর (রা.)-এর যুগে সাহাবীগণ (الصحابة) জানতেন যে, উমর (রা.)-এর বেঁচে থাকা ফিতনা (الفتن) থেকে মানুষের জন্য এক প্রকার নিরাপত্তা।
(1).
রাসূলুল্লাহ (সা.) ফিতনা (الفتن)-কে সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো উত্তাল হওয়ার সাথে যে তুলনা করেছেন, তাতে এর শক্তি ও তীব্রতার স্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে, অতঃপর এর ধারাবাহিকতা এবং এর সামনে কারও দাঁড়িয়ে থাকা অসম্ভব হওয়ার প্রতিও ইঙ্গিত রয়েছে; কারণ সমুদ্রের ঢেউয়ের সামনে কেউ টিকে থাকতে পারে না। এই ফিতনা (الفتن)-এর সামনে মানুষের বিচরণ অস্থির হয়ে পড়বে, তাদের ভারসাম্য নষ্ট হবে, তাদের অন্তর সংকীর্ণ হয়ে আসবে এবং তাদের দম ফুরিয়ে যাবে—আর এটিই হলো সেই ব্যক্তির অবস্থা যে উত্তাল ঢেউয়ের সাথে লড়াই করে।
আর যদি আমরা জানি যে, বাতাসের তীব্রতা ও মেঘের বিস্তারের সাথে সাথে সমুদ্রের ঢেউ বহুগুণ বৃদ্ধি পায় ও শক্তিশালী হয়; তবে আমরা ফিতনা (الفتن)-এর পরিবেশকে একটি অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবেশ হিসেবে কল্পনা করতে পারি। ফলে যা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল মুসলিমিন মিনাল ফিতানি ফী দাউই হাদীছি আবদিল্লাহ বিন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা
(পৃষ্ঠা: ২৬)
يشاهد موج البحر العاتي فتبدو أمامه زرقة البحر مع ظلمة السحاب وكثرته، مع شدة هبوب الرياح وقوها؛ فكذلك الذي يواجه هذه الفتن، تحيط به الظلمات والأعاصير، فهو مهموم مغموم ظاهرًا وباطنًا، وللموج صوت وأي صوت؟ ولهذه الفتن صوت، لا يسمع الواقف فيها صوت ما عداها، وإنما تطبق عليه، فهي كالصاخة، فيظل الواقف فيها حيرانة خائفة قلقًا، يتطلع إلى الأمان ولا يجده، وهل ينجو من البحر وشدة موجه إلا من بعد عنه، والناس حين يواجهون أمواج البحر مجتمعين، في أية حال من حالاته، فإنه يسمع لهم صراخ وعويل وتهارش وتخاصم، لا يسمع الواحد منهم الآخر، وكل يريد أن ينجو بنفسه، وقد يغرق الواحد منهم غيره لينجو هو
(1).
وقد تبلغ شدة الفتن إلى أن تخرج المسلم عن دينه، ففي حديث أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «بادروا بالأعمال فتن كقطع الليل المظلم، يصبح المرء مؤمنة، ويمسي كافرة، ويمسي مؤمنة ويصبح كافرة، يبيع أحدكم دينه بعرض قليل من الدنيا»
(2).
وقد يبلغ ثقل هذه الفتن وشدتها على المسلم أن يتمنى الموت
--------------------------------------------
কেউ সমুদ্রের উত্তাল তরঙ্গ অবলোকন করলে তার সামনে মেঘের ঘন অন্ধকার ও আধিক্যের সাথে সমুদ্রের নীলিমা দৃশ্যমান হয়, সাথে থাকে প্রবল ও শক্তিশালী বায়ুপ্রবাহ। ঠিক তেমনি যে ব্যক্তি এসব ফিতনা (فتنة) এর সম্মুখীন হয়, তাকে অন্ধকার ও ঘূর্ণিঝড় চারদিক থেকে পরিবেষ্টন করে ফেলে। ফলে সে বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণভাবে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ও বিষণ্ণ হয়ে পড়ে। ঢেউয়ের একটি শব্দ আছে, আর তা কতই না ভয়াবহ শব্দ! তেমনি এই ফিতনা (فتنة) সমূহেরও শব্দ আছে; এতে নিমজ্জিত ব্যক্তি অন্য কোনো শব্দ শুনতে পায় না, বরং এটি তাকে আচ্ছন্ন করে ফেলে। এটি যেন এক বিকট আওয়াজ (الصاخة), যার ফলে সেখানে অবস্থানকারী ব্যক্তি কিংকর্তব্যবিমূঢ়, ভীত ও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। সে নিরাপত্তার অন্বেষণ করে কিন্তু তা পায় না। সমুদ্র ও তার ঢেউয়ের প্রচণ্ডতা থেকে কি সে ব্যক্তি ছাড়া আর কেউ রক্ষা পায় যে তা থেকে দূরে থাকে? মানুষ যখন সম্মিলিতভাবে সমুদ্রের ঢেউয়ের মুখোমুখি হয়, তখন যেকোনো অবস্থাতেই তাদের আর্তনাদ, হাহাকার, বিশৃঙ্খলা ও বিবাদ পরিলক্ষিত হয়। তাদের কেউ অন্য কারো কথা শুনতে পায় না এবং প্রত্যেকেই নিজে বাঁচতে চায়। এমনকি কেউ নিজেকে বাঁচাতে অন্যকে ডুবিয়ে দিতেও দ্বিধাবোধ করে না
(১).
ফিতনা (فتنة) এর তীব্রতা কখনো কখনো এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে যে তা একজন মুসলিমকে তার দ্বীন থেকে বিচ্যুত করে দেয়। আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমরা অন্ধকার রাতের টুকরোর মতো ধেয়ে আসা ফিতনা (فتنة) সমূহের পূর্বেই নেক আমলের দিকে ধাবিত হও। (তখন) একজন মানুষ সকালে মুমিন থাকে এবং সন্ধ্যায় কাফির হয়ে যায়, আবার সন্ধ্যায় মুমিন থাকে এবং সকালে কাফির হয়ে যায়। তোমাদের কেউ দুনিয়ার সামান্য সম্পদের বিনিময়ে তার দ্বীন বিক্রি করে দেয়»
(২).
একজন মুসলিমের ওপর এই ফিতনা (فتنة) সমূহের ভার ও তীব্রতা কখনো এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে যে সে মৃত্যু কামনা করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল মুসলিমিন মিনাল ফিতানি ফী দাউই হাদীছি আবদিল্লাহ বিন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা
(পৃষ্ঠা: ২৭)
ويرجوه كي يتخلص من البلاء، فعن أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «لا تقوم الساعة حتى يحمر الرجل بقبر الرجل، فيقول: يا ليتني كنت مكانه»
(1).
--------------------------------------------
এবং বিপদ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য সে এর (মৃত্যুর) আকাঙ্ক্ষা করবে। আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন: «ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ না কোনো ব্যক্তি অপর কোনো ব্যক্তির কবরের পাশ দিয়ে অতিক্রম করবে এবং বলবে: হায়! আমি যদি তার জায়গায় হতাম!»
(১).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল মুসলিমিন মিনাল ফিতানি ফী দাউই হাদীছি আবদিল্লাহ বিন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা
(পৃষ্ঠা: ২৮)
المبحث الثاني: حديث عبدالله بن عمرو تخريجاً ودراسةًالأحاديث في باب الفتن، وسبل النجاة منها، وما يجب على المسلم فعله حين تحيط به كثيرة، و منها حديث عبد الله بن عمرو الذي ذكر صفة الفتنة، والضوابط الشرعية لمن ابتلي بها، وحديث عبد الله أخرجه الإمام أحمد في «مسنده»
(1) قال:
حَدَّثَنَا أبو نُعَيمٍ، حدثنا يُونُسُ. يعني: ابْنَ أَبِي إِسحاقَ. عَنْ هِلالِ بنِ خَبَّابٍ أَبي العلاءِ، قَالَ: حَدَّثَنِي عِكْرِمَةُ، حَدَّثَنِي عَبْدُاللهِ بنُ عَمْرٍو قَالَ: بَينَمَا نَحنُ حَولَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذْ ذَكَروا الفِتنةَ - أو ذُكِرت عندَهُ قالَ: (إذا رأيتَ النَّاسَ قد مرَجَت عُهودُهُم وخفَّت أماناتُهُم وَكانوا هَكَذا وشبَّكَ بينَ أصابعِهِ) قالَ: فقمتُ إليهِ فقلتُ لَهُ كيفَ أفعلُ عندَ ذلِكَ جعَلَني اللَّهُ فداكَ قالَ: (الزَم بيتَكَ واملِكْ عليكَ لسانَكَ وخذ ما تعرفُ ودع ما تُنكرُ وعليكَ بأمرِ خاصَّةِ نَفسِكَ ودَع عنكَ أمرَ العامَّةِ)
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আবদুল্লাহ বিন আমরের হাদিস - তাখরিজ (تخريج) ও পর্যালোচনা (دراسة)ফিতনা (فتنة) বা বিপর্যয় অধ্যায়ে, তা থেকে পরিত্রাণের উপায় এবং যখন কোনো মুসলিমকে বিপর্যয় ঘিরে ফেলে তখন তার করণীয় সম্পর্কে অসংখ্য হাদিস বর্ণিত হয়েছে। এর মধ্যে আবদুল্লাহ বিন আমরের হাদিসটি অন্যতম, যাতে ফিতনার (فتنة) স্বরূপ এবং যারা এতে আক্রান্ত হবে তাদের জন্য শরিয়তসম্মত নীতিমালা উল্লেখ করা হয়েছে। আবদুল্লাহর হাদিসটি ইমাম আহমদ তাঁর 'মুসনাদ'-এ সংকলন (أخرجه) করেছেন। তিনি বলেন:
আমাদের নিকট আবু নুআইম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইউনুস—অর্থাৎ ইবনে আবি ইসহাক—বর্ণনা করেছেন, তিনি হিলাল বিন খাব্বাব আবুল আ’লা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমার নিকট ইকরিমাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট আবদুল্লাহ বিন আমর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: একদা আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আশেপাশে ছিলাম, তখন তাঁরা ফিতনার (فتنة) কথা আলোচনা করছিলেন—অথবা তাঁর নিকট তা আলোচিত হচ্ছিল। তিনি বললেন: "যখন দেখবে যে মানুষের অঙ্গীকারসমূহ বিশৃঙ্খল হয়ে পড়েছে, তাদের আমানতদারি হ্রাস পেয়েছে এবং তারা এমন হয়ে গেছে"—এই বলে তিনি নিজের আঙুলসমূহ একে অপরের ভেতর প্রবেশ করিয়ে (আঙুলের জটলা পাকিয়ে) দেখালেন। বর্ণনাকারী বলেন: তখন আমি তাঁর নিকট দাঁড়িয়ে বললাম, আল্লাহ আমাকে আপনার জন্য উৎসর্গ করুন! এমতাবস্থায় আমি কী করব? তিনি বললেন: "তুমি নিজ ঘরে অবস্থান করো, নিজের জিহ্বাকে নিয়ন্ত্রণে রাখো, যা তোমার কাছে পরিচিত তা গ্রহণ করো এবং যা তোমার কাছে অপরিচিত তা বর্জন করো। তুমি নিজের বিশেষ বিষয়ের (ব্যক্তিগত আমল) প্রতি মনোযোগী হও এবং সাধারণ মানুষের বিষয়গুলো বর্জন করো।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল মুসলিমিন মিনাল ফিতানি ফী দাউই হাদীছি আবদিল্লাহ বিন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা
(পৃষ্ঠা: ২৯)
تخريج الحديث:أخرجه أبو داود 4/ 217 (4342)، وابن أبي شيبة في «مصنفه» 15/ 9 (38270)، والطحاوي في «مشكل الآثار» 3/ 217 (1181)، والطبراني في «الدعاء» 1/ 546 (1963)، والخطابي في «العزلة» 1/ 10، وأبو نعيم في "الحلية" 3/ 1723 من طريق أبي نعيم به نحوه.
- وأخرجه النسائي في «الكبرى» 6/ 59 (9962)، وفي «عمل اليوم والليلة» 1/ 230 (205)، وأبو عمرو الداني في «السنن الواردة في الفتن» 2/ 363، وابن المبارك في «مسنده» 1/ 159 (257)، وابن السني في «عمل اليوم والليلة» 2/ 337 (438)، والحاكم في «مستدركه» 4/ 282 (7758) - 4/ 524 (8600) من طرق عن يونس بن أبي إسحاق به نحوه.
وتوبع عكرمة:
فأخرجه أبو داود 4/ 216 (4344)، وأحمد 11/ 634 (7063)، والطحاوي في «مشكل الآثار» 3/ 217 (1176)، والحاكم في «مستدركهـ» 2/ 171 (2671) - 4/ 1481 (8340) من طرق عن عمارة بن عمرو بن حزم.
হাদিসের উৎসনির্দেশ (تخريج الحديث):এটি উদ্ধৃত করেছেন (أخرجه) আবু দাউদ ৪/ ২১৭ (৪৩৪২), ইবনে আবি শায়বাহ তাঁর «মুসান্নাফ» গ্রন্থে ১৫/ ৯ (৩৮২৭০), তহাবি «মুশকিলুল আসার» গ্রন্থে ৩/ ২১৭ (১১৮১), তাবারানি «আদ-দুআ» গ্রন্থে ১/ ৫৪৬ (১৯৬৩), খাত্তাবি «আল-উযলাহ» গ্রন্থে ১/ ১০ এবং আবু নুআইম «আল-হিলইয়াহ» গ্রন্থে ৩/ ১৭২৩-এ আবু নুআইমের সূত্র (طريق) ধরে অনুরূপ (نحوه) বর্ণনা করেছেন।
- এটি আরও উদ্ধৃত করেছেন (أخرجه) নাসায়ি «আল-কুবরা» গ্রন্থে ৬/ ৫৯ (৯৯৬২), এবং «আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ» গ্রন্থে ১/ ২৩০ (২০৫), আবু আমর আদ-দানি «আস-সুনানুল ওয়ারিদাহ ফিল ফিতান» গ্রন্থে ২/ ৩৬৩, ইবনুল মুবারক তাঁর «মুসনাদ» গ্রন্থে ১/ ১৫৯ (২৫৭), ইবনুস সুন্নি «আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ» গ্রন্থে ২/ ৩৩৭ (৪৩৮) এবং হাকেম তাঁর «মুস্তাদরাক» গ্রন্থে ৪/ ২৮২ (৭৭৫৮) - ৪/ ৫২৪ (৮৬০০)-এ ইউনুস বিন আবি ইসহাকের বিভিন্ন সূত্র (طرق) থেকে অনুরূপ (نحوه) বর্ণনা করেছেন।
ইকরিমাহর অনুসরণ (توبع) করা হয়েছে:
এটি উদ্ধৃত করেছেন (أخرجه) আবু দাউদ ৪/ ২১৬ (৪৩৪৪), আহমদ ১১/ ৬৩৪ (৭০৬৩), তহাবি «মুশকিলুল আসার» গ্রন্থে ৩/ ২১৭ (১১৭৬) এবং হাকেম তাঁর «মুস্তাদরাক» গ্রন্থে ২/ ১৭১ (২৬৭১) - ৪/ ১৪৮১ (৮৩৪০)-এ উমারা বিন আমর বিন হাযমের বিভিন্ন সূত্র (طرق) থেকে।
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল মুসলিমিন মিনাল ফিতানি ফী দাউই হাদীছি আবদিল্লাহ বিন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা
(পৃষ্ঠা: ৩০)
- وأخرجه البزار في «مسنده» 6/ 447 (2484) من طريق سعيد بن زربي، و (2485) من طريق عقبة بن أوس
(1).
- وأخرجه أحمد 11/ 626 (7049) من طريق عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده.
- وأخرجه أبو عمرو الداني 2/ 365، وأحمد 11/ 54 (6508)، من طريق الحسن مع خلاف في سماعه من عبد الله بن عمرو بن العاص.
كلهم: عكرمة، وسعيد بن زربي، وعقبة بن أوس، وعمرو بن شعيب عن أبيه، وعمارة بن عمرو، والحسن عن عبد الله بن عمرو بن العاص به، غير أن رواية يونس بن أبي إسحاق عن هلال بن خباب عن عكرمة عن عبد الله بن عمرو قد تفردت بلفظ «الزم بيتك، وأمسك عليك لسانك» ولم يتابعه عليها أحد، حتى أن شاهد هذا الحديث
--------------------------------------------
আর আল-বাজজার এটি তাঁর ‘মুসনাদ’-এ ৬/৪৪৭ (২৪৮৪) নম্বর হাদিসে সাঈদ ইবনে জারবি-এর সূত্র (طريق) থেকে এবং (২৪৮৫) নম্বর হাদিসে উকবা ইবনে আউস-এর সূত্র (طريق) থেকে বর্ণনা করেছেন
(১)।
- আর ইমাম আহমাদ এটি ১১/৬২৬ (৭০৪৯) নম্বর হাদিসে আমর ইবনে শুআইব-এর সূত্র (طريق) থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন।
- আর আবু আমর আদ-দানি ২/৩৬৫ এবং ইমাম আহমাদ ১১/৫৪ (৬৫০৮) নম্বর হাদিসে আল-হাসান-এর সূত্র (طريق) থেকে বর্ণনা করেছেন, যদিও আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস থেকে তাঁর শ্রবণের (سماع) ব্যাপারে মতভেদ (خلاف) রয়েছে।
তাঁরা সকলেই: ইকরিমাহ, সাঈদ ইবনে জারবি, উকবা ইবনে আউস, আমর ইবনে শুআইব তাঁর পিতা থেকে, উমারা ইবনে আমর এবং আল-হাসান—সকলে আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। তবে হিলাল ইবনে খাব্বাব-এর মাধ্যমে ইউনুস ইবনে আবি ইসহাক-এর বর্ণনাটি, যা ইকরিমাহ থেকে এবং তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণনা করেছেন, তা "তুমি তোমার ঘরে অবস্থান করো এবং তোমার জিহ্বাকে সংযত রাখো" শব্দ (لفظ) সহকারে এককভাবে (تفرد) বর্ণিত হয়েছে এবং কেউ এই বিষয়ে তাঁকে অনুসরণ (متابعة) করেননি, এমনকি এই হাদিসটির সাক্ষী (شاهد) পর্যন্ত...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল মুসলিমিন মিনাল ফিতানি ফী দাউই হাদীছি আবদিল্লাহ বিন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা
(পৃষ্ঠা: ৩১)
من حديث أبي هريرة رضي الله عنه
(1) وغيره
(2) لم تأت فيه هذه
--------------------------------------------
আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)
(১) এবং অন্যান্যদের
(২) বর্ণিত হাদিসে এই অংশটুকু আসেনি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল মুসলিমিন মিনাল ফিতানি ফী দাউই হাদীছি আবদিল্লাহ বিন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা
(পৃষ্ঠা: ৩২)
الزيادة، وهلال بت خباب.
كما ذكره ابن حجر: صدوق تغير بأخرة
(1)، وذكره ابن حبان في الثقات، وقال: يخطئ ويخالف
(2).
--------------------------------------------
অতিরিক্ত (الزيادة), এবং হিলাল বিন খাব্বাব।
যেমনটি ইবনে হাজার উল্লেখ করেছেন: তিনি সত্যবাদী (صدوق), শেষ বয়সে তাঁর স্মৃতিবিভ্রম ঘটেছিল (تغير بأخرة)
(১); এবং ইবনে হিব্বান তাঁকে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীগণের (الثقات) তালিকায় উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: তিনি ভুল করতেন (يخطئ) ও বিরোধিতা করতেন (يخالف)
(২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল মুসলিমিন মিনাল ফিতানি ফী দাউই হাদীছি আবদিল্লাহ বিন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
دراسة الإسناد والحكم على الحديث:قال الألباني في السلسلة الصحيحة
(1): «قال الحاكم: «صحيح الإسناد» ووافقه الذهبي. قال المنذري والعراقي: «سنده حسن» نقله المناوي في «الفيض»، و أقرهما و هو كما قالا، فإن هلالا هذا فيه كلام يسير لا ينزل حديثه عن رتبة الحسن إلا إذا خولف، و قد توبع على أصل الحديث
… (ثم ساق ثلاثة طرق ليس فيها زيادة الزم بيتك، وأمسك عليك لسانك)
… وقال: مما يلاحظ أن هذه الطرق الثلاث، ليس فيها الزيادة التي في الطريق التي قبل هذه «الزم بيتك و املك عليك لسانك» فالقلب يميل إلى أنها زيادة شاذة، لأن الذي تفرد بها وهو هلال بن خباب وفيه كلام كما سبق، فلا يحتج به إذا خالف الثقات».
وأصل هذا الحديث علقه البخاري (480) بلفظ: «يا عبد الله بن عمرو، كيف بك إذا بقيت في لحثالة من الناس بهذا» ووصله إبراهيم الحربي في «غريب الحديث»، وحنبل بن إسحاق في «الفتن» كما في الفتح 1/ 566، 13/ 39، وفي تغليق التعليق 2/ 245.
--------------------------------------------
সনদ পর্যালোচনা এবং হাদিসের ওপর হুকুম প্রদান:আলবানি সিলসিলাহ সাহিহাহ গ্রন্থে বলেছেন
(1): «হাকিম বলেছেন: ‘সনদটি সহিহ (صحيح الإسناد)’ এবং যাহাবি তাঁর সাথে একমত হয়েছেন। মুনজিরি এবং ইরাকি বলেছেন: ‘এর সনদটি হাসান (حسن)’—যা মুনাওয়ি ‘ফায়দ’ গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন এবং তিনি তাঁদের উভয়ের বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন; আর বিষয়টি তেমনই যেমনটি তাঁরা বলেছেন। কারণ এই হিলাল নামক বর্ণনাকারী সম্পর্কে সামান্য সমালোচনা রয়েছে যা তাঁর বর্ণিত হাদিসকে হাসান (الحسن) এর স্তর থেকে নিচে নামিয়ে দেয় না, যদি না তাঁর বর্ণনার বিরোধিতা করা হয়। আর হাদিসের মূল বক্তব্যের স্বপক্ষে সমর্থনকারী বর্ণনা (متابع) পাওয়া গেছে
… (অতঃপর তিনি তিনটি সূত্র উল্লেখ করেন যেগুলোতে ‘তুমি তোমার ঘরে অবস্থান করো এবং তোমার জিহ্বা সংযত রাখো’—এই অতিরিক্ত অংশটি নেই)
… এবং তিনি বলেন: যা লক্ষণীয় তা হলো এই তিনটি সূত্রে সেই অতিরিক্ত অংশটি নেই যা এর পূর্ববর্তী সূত্রে ছিল—‘তুমি তোমার ঘরে অবস্থান করো এবং তোমার জিহ্বা সংযত রাখো’; তাই মন এ দিকেই সায় দেয় যে এটি একটি শায (شاذة) বা বিচ্যুৎ অতিরিক্ত অংশ। কারণ যিনি এটি এককভাবে বর্ণনা (تفرد) করেছেন তিনি হলেন হিলাল বিন খাব্বাব, যাঁর সম্পর্কে পূর্বে বর্ণিত সমালোচনা রয়েছে; সুতরাং তিনি যখন নির্ভরযোগ্য (الثقات) বর্ণনাকারীদের বিরোধিতা করেন, তখন তাঁর বর্ণনা দলিলযোগ্য হবে না (لا يحتج به)»।
আর এই হাদিসের মূল অংশটি বুখারি (৪৮০) মুআল্লাক (علقه) হিসেবে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: «হে আবদুল্লাহ বিন আমর, তোমার অবস্থা কেমন হবে যখন তুমি মানুষের আবর্জনার (অযোগ্যদের) মধ্যে অবশিষ্ট থাকবে...» এবং ইব্রাহিম হারবি ‘গারিবুল হাদিস’ গ্রন্থে এবং হানবাল বিন ইসহাক ‘আল-ফিতান’ গ্রন্থে এটি সংযুক্ত সনদে (وصله) বর্ণনা করেছেন, যেমনটি ফাতহুল বারি ১/৫৬৬, ১৩/৩৯ এবং তাগলিকুত তালিদ ২/২৪৫-এ উল্লেখ করা হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাওকিফুল মুসলিমিন মিনাল ফিতানি ফী দাউই হাদীছি আবদিল্লাহ বিন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
والحديث صححه الحاكم 4/ 315 فقال: هذا حديث صحيح الإسناد ولم يخرجاه، ووافقه الذهبي، وحسنه المنذري في «الترغيب والترهيب» 3/ 443، والعراقي في «تخريج الإحياء» 2/ 232، وأورده الألباني في سلسلة الأحاديث الصحيحة (205) وقال: «وهو كما قالا أي أن الحديث حسن - فإن هلالا هذا فيه كلام يسير لا ينزل حديثه عن رتبة الحسن إلا إذا خولف، وقد توبع على أصل الحديث» وصححه شعيب الأرنؤوط.
فالذي يظهر من خلال هذا أن أصل الحديث صحيح، وزيادة هلال شاذة في حديث عبد الله بن عمرو كما قال الألباني رحمه الله، وقد صحت من حديث غيره والله أعلم.
شواهد لهذه الزيادة:صحت هذه الزيادة من أحاديث أخر، فللحديث شاهد من حديث عقبة، وثوبان، وأبي موسى الأشعري
رضي الله عنه. قال الألباني في الصحيحة (1/ 416) 206: «لكن قد ثبتت هذه الزيادة: «الزم بيتك
… » في أحاديث أخرى».
أما حديث عقبة بن عامر فقد أخرجه الترمذي 4/ 605 عَنْ
ইমাম আল-হাকিম (৪/৩১৫) হাদিসটিকে সহীহ সাব্যস্ত করেছেন (صححه) এবং বলেছেন: "এটি একটি সহীহ সনদবিশিষ্ট (صحيح الإسناد) হাদিস, যদিও তারা (বুখারি ও মুসলিম) এটি বর্ণনা করেননি (لم يخرجاه)।" হাফেজ আয-যাহাবি তার সাথে একমত পোষণ করেছেন (وافقه)। আল-মুনযিরি 'আত-তারগিব ওয়াত তারহিব' (৩/৪৪৩)-এ এবং আল-ইরাকি 'তাখরিজুল ইহয়া' (২/২৩২)-এ হাদিসটিকে হাসান বলেছেন (حسنه)। আলবানী একে সিলসিলাতুল আহাদিস আস-সহীহা (২০৫)-তে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: "বিষয়টি তেমনই যেমন তারা উভয়ে বলেছেন, অর্থাৎ হাদিসটি হাসান (حسن)। কারণ এই হিলাল নামক রাবির ব্যাপারে সামান্য সমালোচনা (كلام) রয়েছে যা তার হাদিসকে হাসানের (الحسن) স্তর থেকে নিচে নামায় না, যতক্ষণ না তার বিরোধিতা করা হয় (خولف)। আর হাদিসের মূল বিষয়ের ক্ষেত্রে তাকে অনুসরণ করা হয়েছে (توبع)।" শুয়াইব আল-আরনাউতও একে সহীহ সাব্যস্ত করেছেন (صححه)।
এর থেকে এটিই স্পষ্ট হয় যে, হাদিসের মূল অংশটি সহীহ (صحيح); তবে হিলালের বর্ণিত অতিরিক্ত অংশটি (زيادة) আবদুল্লাহ ইবনে আমর-এর হাদিসে শায (شاذة), যেমনটি আলবানী (রহ.) বলেছেন। তবে এটি অন্য রাবির হাদিস থেকে সহীহ বলে প্রমাণিত (صحت) হয়েছে। আল্লাহই ভালো জানেন।
এই অতিরিক্ত অংশের স্বপক্ষে সমর্থনকারী বর্ণনা (شواهد):এই অতিরিক্ত অংশটি অন্যান্য হাদিস দ্বারা সহীহ বলে প্রমাণিত (صحت) হয়েছে। উকবা, সাওবান এবং আবু মুসা আল-আশআরি (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর বর্ণিত হাদিসে এর স্বপক্ষে সমর্থনকারী বর্ণনা (شاهد) রয়েছে।
আলবানী সিলসিলাতুল আহাদিস আস-সহীহা (১/৪১৬, ২০৬)-তে বলেছেন: "তবে এই অতিরিক্ত অংশটি: 'তুমি তোমার ঘরে অবস্থান করো
… ' অন্যান্য হাদিসে প্রমাণিত হয়েছে (ثبتت)।"
উকবা ইবনে আমির বর্ণিত হাদিসটি তিরমিযি (৪/৬০৫) বর্ণনা করেছেন... থেকে।